(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المستشرقون والسيرة النبوية   (عماد الدين خليل)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: المستشرقون والسيرة النبوية

المؤلف: عماد الدين خليل

الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع - دمشق، بيروت

الطبعة: الأولى - 1426 هـ

عدد الصفحات: 127

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

প্রাচ্যবিদগণ এবং সীরাতুন নবী (সা.)   (ইমাদ উদ্দীন খলীল)

বিভাগ: সীরাতুন নবী (সা.)


গ্রন্থ: প্রাচ্যবিদগণ এবং সীরাতুন নবী (সা.)

লেখক: ইমাদ উদ্দীন খলীল

প্রকাশক: দার ইবনে কাসীর মুদ্রণ, প্রকাশনা এবং বিতরণ - দামেস্ক, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৬ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৭

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[المستشرقون والسيرة النبوية]ـ

المؤلف: عماد الدين خليل

الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع - دمشق، بيروت

الطبعة: الأولى - 1426 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ[প্রাচ্যবিদগণ এবং সীরাতুন্নবী]ـ

লেখক: ইমাদ উদ্দিন খলীল

প্রকাশক: দার ইবনে কাসীর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা - দামেস্ক, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৬ হিজরী

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الكتاب: المستشرقون والسيرة النبوية

المؤلف: عماد الدين خليل

الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع - دمشق، بيروت

الطبعة: الأولى - 1426 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
গ্রন্থ: প্রাচ্যবিদগণ এবং সীরাতুন্নবী

লেখক: ইমাদ উদ্দিন খলিল

প্রকাশক: দার ইবনে কাসির মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ - দামেস্ক, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৬ হিজরী

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ملاحظات أساسية

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌1

يجب أن نلاحظ في البداية أنّ المسلم- مهما كانت درجة ثقافته- يتعامل مع معطيات السّيرة وفق ما يمكن اعتباره شبكة من البدهيات والمسلّمات.. وهي لم تأت إليه مباشرة عن طريق الأخبار والروايات التاريخية التي قد يكون بعضها ضعيفا وبعضها الآخر مشكوكا فيه.. بل إن بعض المسلمين لم يقرأ في حياته كتابا تاريخيا واحدا عن محمد عليه الصلاة والسلام.. إنما جاءته بطرق أكثر حيويّة كانت أشبه بالروافد المتدفّقة التي تتشكّل لكي تصير نهرا، من خلال تعامله مع القرآن والحديث، ومن خلال تجربته الإيمانيّة التي تحتّم عليه أن يكون على معرفة طيبة بسيرة رسوله صلى الله عليه وسلم من خلال عرف اجتماعيّ ثقافيّ عام، يقوم على خطوط عريضة وتفاصيل متفق عليها تماما بصدد أحداث السيرة.. من خلال تقليد زمنيّ؛ تتناقل بواسطته حقائق السيرة من جيل مسلم إلى آخر.. من خلال تعاطف وتقدير دينيّين إزاء كل ما يتعلّق بحياة الرسول عليه الصلاة والسلام..

وبالنسبة للمثقّف الأكثر تخصّصا، فإنّ توغّله في الحقائق التاريخيّة للسيرة يضيف رافدا آخر- ولا شك- إلى هذه الروافد جميعا.
মৌলিক পর্যবেক্ষণসমূহ

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

 

১

শুরুতেই আমাদের লক্ষ্য করা উচিত যে, একজন মুসলিম—তার সাংস্কৃতিক স্তর যাই হোক না কেন—সীরাতের (রাসূলের জীবনী) তথ্যাবলীর সাথে এমনভাবে কারবার করেন যাকে স্বতঃসিদ্ধ ও অবধারিত সত্যের একটি জাল হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এবং এগুলো সরাসরি তার কাছে কেবল ঐতিহাসিক সংবাদ ও বর্ণনার মাধ্যমে আসেনি, যার কিছু হয়তো দুর্বল এবং কিছু সন্দেহযুক্ত হতে পারে। বরং অনেক মুসলিম তাদের জীবনে মুহাম্মদ (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর সম্পর্কে একটিও ঐতিহাসিক গ্রন্থ পাঠ করেননি। প্রকৃতপক্ষে এই জ্ঞানগুলো তাঁর নিকট পৌঁছেছে আরও প্রাণবন্ত উপায়ে, যা ছিল প্রবহমান এমন কিছু উপনদীর মতো যা মিলিত হয়ে একটি নদী গঠন করে; আর তা অর্জিত হয়েছে কুরআন ও হাদীসের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এবং তাঁর ঈমানি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, যা তাকে তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর সীরাত সম্পর্কে একটি সাধারণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে উত্তম জ্ঞান লাভে বাধ্য করে। এই জ্ঞান সীরাতের ঘটনাবলীর স্থূল রূপরেখা এবং সম্পূর্ণ ঐকমত্যপূর্ণ বিস্তারিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এটি এমন একটি কালানুক্রমিক ধারা বা ঐতিহ্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যার ফলে সীরাতের প্রকৃত সত্যগুলো এক মুসলিম প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়। এটি রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক)-এর জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ের প্রতি ধর্মীয় সহানুভূতি ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আর অধিকতর বিশেষজ্ঞ শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে, সীরাতের ঐতিহাসিক সত্যগুলোর গভীরে প্রবেশ করা—নিঃসন্দেহে—এই সমস্ত স্রোতধারার সাথে আরও একটি নতুন ধারা যুক্ত করে।

(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
ولكنّ هذه الروافد كافة، ما تلبث أن تتجمّع لكي تجعل موقف المسلم من سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم واحدا. أيّا كان موقع هذا المسلم، اللهم إلّا في حالات استثنائية تقتصر على الخارجين على الإسلام بهذه الدّرجة أو تلك، وعلى بعض الدارسين الذين تلقّوا تأثيرات مضادة عن مصادر غير إسلامية.

إن هذا الموقف المتوحّد من السيرة الذي تتغلغل في نسيجه مشاعر الاحترام والتقدير والإعجاب والمحبة واليقين.. والذي يجد في السيرة تعبيرا متكاملا عن العقيدة التي ينتمي إليها، يجد في الدراسات الاستشراقية (الخارجية) عن السيرة تغرّبا عن مسلّماته وخروجا صريحا عن بداهاته، وما يمكن اعتباره محاولات متعدّدة لإصابة هذه المسلّمات والبداهات بالجروح والكسور.. وهي لن تفعل فعلها في يقينه، إلّا في حالات معينة بينما نجدها تدفعه في أغلب الحالات وأعمّها إلى الاشمئزاز والنّفور.

هذا مع أن معالجة واقعة تمتد جذورها إلى عالم الغيب، وترتبط أسبابها بالسماء، ويكون فيها (الوحي) همزة وصل مباشرة بين الله سبحانه ورسوله الكريم، ويتربّى في ظلالها المنتمون على عين الله ورسوله ليكونوا تعبيرا حيّا عن إيمانهم، وقدوة حسنة للقادمين من بعدهم.. واقعة كهذه لا يمكن بحال أن تعامل كما تعامل الجزئيات والذرّات والعناصر في مختبر للكيمياء.. أو كما تعامل الخطوط والزوايا في المساحات على تصاميم المهندسين، بل ولا كما تعامل الوقائع التاريخيّة التي لا ترتبط بأيّ بعد دينيّ أصيل..

إننا هنا بمواجهة تجربة من نوع خاص، وشبكة من العوامل والمؤثّرات تندّ عن حدود مملكة العقل، وتستعصي على التحليل المنطقيّ الاعتياديّ المألوف، ومن ثم فإنّ محاولة قسرها على الخضوع لمقولات العقل الصرف ومعطيات المنطق المتوارثة لا يقود إلى نتائج خاطئة حينا، ولا تستعصي عليه بعض الظواهر حينا آخر فحسب، بل إنه يقوم بما يمكن اعتباره جريمة
কিন্তু এই সকল প্রবাহ খুব শীঘ্রই একত্রিত হয় যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের প্রতি মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গিকে একীভূত করা যায়। সেই মুসলিম যে অবস্থানেই থাকুক না কেন, তবে সেই সব ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া যারা কোনো না কোনোভাবে ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং সেই সব গবেষক যারা অনৈসলামিক উৎস থেকে নেতিবাচক প্রভাব গ্রহণ করেছে।

সীরাতের প্রতি এই ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি, যার বুননে সম্মান, শ্রদ্ধা, মুগ্ধতা, ভালোবাসা এবং দৃঢ় বিশ্বাসের অনুভূতি মিশে আছে... যা সীরাতের মধ্যে নিজের লালিত আকিদার এক পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ খুঁজে পায়; তা সীরাত বিষয়ক প্রাচ্যবাদী (বহিরাগত) গবেষণায় নিজ বিশ্বাসের প্রতি এক বিজাতীয় মনোভাব এবং স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে প্রকাশ্য বিচ্যুতি দেখতে পায়। বিষয়টিকে সেই সব স্বতঃসিদ্ধ ও মৌলিক বিশ্বাসগুলোকে ক্ষতবিক্ষত এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ করার নানামুখী প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া এগুলো তার দৃঢ় বিশ্বাসে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগুলো তাকে ঘৃণা ও অরুচির দিকে ধাবিত করে।

এটি এই সত্য সত্ত্বেও যে, এমন এক বাস্তবতার বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে যার শিকড় গায়েবি জগতের গভীরে প্রোথিত এবং যার কারণসমূহ আসমানের সাথে সম্পৃক্ত। যেখানে (ওহী) হলো আল্লাহ সুবহানাহু ও তাঁর সম্মানিত রাসূলের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম। এর ছায়াতলে অনুসারীরা আল্লাহর চোখের সামনে এবং তাঁর রাসূলের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হয়, যাতে তারা তাদের ঈমানের জীবন্ত প্রকাশ এবং উত্তরসূরিদের জন্য উত্তম আদর্শ হতে পারে। এ জাতীয় বাস্তবতাকে কোনোভাবেই রসায়ন গবেষণাগারের অণু, পরমাণু বা মৌলিক পদার্থের মতো বিবেচনা করা যায় না, কিংবা প্রকৌশলীদের নকশার রেখা বা কোণের মতোও নয়; এমনকি সেই ঐতিহাসিক ঘটনার মতোও নয় যার সাথে কোনো মৌলিক ধর্মীয় দিক সম্পৃক্ত নেই।

আমরা এখানে এক বিশেষ ধরনের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন, এবং এমন এক প্রভাবক ও নিয়ামক সমষ্টির সামনে যা বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের সীমানা ছাড়িয়ে যায় এবং সাধারণ ও পরিচিত যৌক্তিক বিশ্লেষণের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে। অতএব, একে নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক বচন এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত যুক্তির তথ্যের অনুগত করতে বাধ্য করার প্রচেষ্টা কেবল মাঝেমধ্যে ভুল ফলাফলের দিকেই নিয়ে যায় না, কিংবা কিছু কিছু বিষয় তার কাছে কেবল দুর্বোধ্যই ঠেকে না; বরং এটি এমন কিছু সংঘটিত করে যাকে একটি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
قتل بشكل من الأشكال، أو محاولة تفحّص الجسد البشري كما لو كان في حالة سكون مطلق بعيدا عن تأثيرات الروح وتعقيدات الحياة..

إن الدين، والغيب، والروح، لهي عصب السيرة وسداها ولحمتها..

وليس بمقدور الحسّ أو العقل أن يدلي بكلمته فيها إلّا بمقدار.. وتبقى المساحات الأكثر عمقا وامتدادا، بعيدة عن حدود عمل الحواس وتحليلات العقل والمنطق..

إنّنا- ونحن نناقش هذا المستشرق أو ذاك في حقل السيرة النبوية- يجب أن ننتبه إلى هاتين النقطتين مهما كان المستشرق ملتزما بقواعد البحث التاريخيّ وأصوله.

إنه من خلال رؤيته الخارجية، وتغرّبه، يمارس نوعا من التكسير والتجريح في كيان السيرة ونسيجها، فيصدم الحسّ الديني، ويرتطم بالبداهات الثابتة.. وهو من خلال منظوريه العقليّ والوضعيّ يسعى إلى فصل الروح عن جسد السيرة ويعاملها كما لو كانت حقلا ماديا للتجارب والاستنتاجات، وإثبات القدرة على الجدل..

وهو في كلتا الحالتين لن يخدم الموقف الإسلاميّ الجاد من سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم.. أو يحتل موقفا جادا منها بوجه من الوجوه.

 

‌‌2

لنحاول أن نقرّب المسألة أكثر.. إنّ العمل المعماريّ الكبير إذا أقيم على أسس خاطئة فإنه سيفقد شرطين من شروطه الأساسية: التأثير الجمالي الذي يمكّنه من أداء وظيفته الوجدانية، والمقومات العلمية التي تمكّنه من أداء وظيفته الحيوية.

إن البحث في (السيرة) بوجه خاصّ، ليستلزم أكثر من أيّة مسألة أخرى في التاريخ البشري هذين الشرطين اللذين يمكن أن يوفّرهما منهج متماسك
এক প্রকার হত্যা, অথবা মানবদেহকে এমনভাবে পরীক্ষা করার চেষ্টা যেন তা আত্মার প্রভাব ও জীবনের জটিলতা থেকে দূরে এক চরম নিথর অবস্থায় রয়েছে।

নিশ্চয়ই দ্বীন, অদৃশ্যের জগত এবং আত্মা হলো সীরাতের স্নায়ু এবং এর মূল বুনন।

এ বিষয়ে ইন্দ্রিয় বা বুদ্ধিবৃত্তির পক্ষে কেবল একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্তই মন্তব্য করা সম্ভব... আর অধিকতর গভীর ও বিস্তৃত ক্ষেত্রগুলো ইন্দ্রিয়ের কার্যপরিধি এবং বুদ্ধি ও যুক্তির বিশ্লেষণের সীমানার বাইরে থেকে যায়।

সীরাত-উন্নবীর ময়দানে যখন আমরা এই বা ওই প্রাচ্যবিদের সাথে আলোচনা করি, তখন আমাদের এই দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক, চাই সেই প্রাচ্যবিদ ঐতিহাসিক গবেষণার নিয়ম ও মূলনীতিসমূহের প্রতি যতই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হোন না কেন।

তিনি তার বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিজাতীয় মানসিকতার মাধ্যমে সীরাতের অস্তিত্ব ও বুননের মাঝে এক ধরনের ভাঙ্গন ও আঘাত সৃষ্টি করেন, যা ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যথিত করে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত স্বতঃসিদ্ধ বিষয়গুলোর সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। তিনি তার যুক্তিবাদী ও প্রত্যক্ষবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সীরাতের দেহ থেকে আত্মাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেন এবং একে এমনভাবে বিবেচনা করেন যেন তা পরীক্ষণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিতর্ক করার পারদর্শিতা প্রমাণের জন্য কেবল একটি বস্তুগত ক্ষেত্র মাত্র।

আর তিনি উভয় অবস্থাতেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের প্রতি ইসলামের যে গুরুত্বর্পূণ অবস্থান রয়েছে, তার কোনো সেবা করবেন না, অথবা কোনোভাবেই এর প্রতি কোনো গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণ করতে পারবেন না।

 

‌‌২

আসুন আমরা বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার চেষ্টা করি। একটি বিশাল স্থাপত্য কর্ম যদি ভুল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা তার দুটি মৌলিক শর্ত হারিয়ে ফেলবে: নান্দনিক প্রভাব যা তাকে তার আবেগীয় দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে, এবং বৈজ্ঞানিক উপাদানসমূহ যা তাকে তার অত্যাবশ্যকীয় কার্য সম্পাদনে সক্ষম করে তোলে।

বিশেষ করে 'সীরাত' বিষয়ক গবেষণা মানব ইতিহাসের অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে এই দুটি শর্তকে অধিক দাবি করে, যা একটি সুসংহত গবেষণাপদ্ধতি নিশ্চিত করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
سليم يقوم على أسس علميّة موضوعيّة لا يخضع لتحزّب أو ميل أو هوى..

ويمتلك عناصر جماليّته الخاصّة التي تليق بمكانة الرسول المتفرّدة، ودوره الخطير في إعادة صياغة العالم بما يردّ إليه الوفاق المفقود مع نواميس الكون والحياة..

وقد كانت مناهج البحث الغربيّ (الاستشراقيّ) في السيرة تفتقر إلى أحد هذين الشرطين أو كليهما.. وكانت النتيجة أبحاثا تحمل اسم السيرة وتتحدث عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم وتحلّل حقائق الرسالة، ولكنها- يقينا- تحمل وجها وملامح وقسمات مستمدة من عجينة أخرى غير مادّة السيرة، وروح أخرى غير روح النبوّة.. ومواصفات أخرى غير مواصفات الرسالة.

إن نتائجها تنحرف عن العلم لأنها تصدر عن الهوى، وتفقد القدرة على مسامتة عصر الرسالة وشخصية الرسول صلى الله عليه وسلم، ونقل تأثيراتهما الجمالية بالمستوى العالي نفسه من التحقق التاريخي.. لأنها تسعى لأن تخضع حقائق السيرة لمقاييس عصر تنسخ كل ما هو جميل، وتزيّف كلّ ما هو أصيل، وتميل بالقيم المشعّة إلى أن تفقد إشعاعها وترتمي في الظلمة، أو تؤول إلى البشاعة!!.

 

‌‌3

يجب أن نلاحظ أن الفهم الجادّ للسيرة يقتضي منهجا يقوم على طبقات أو أدوار أو شروط ثلاثة، وإن افتقاد أو تهديم أيّ واحد منها يلحق ضررا فادحا في مهمة الفهم هذه..

فأمّا الطبقة الأولى الأساسية فهي الإيمان، أو على الأقلّ احترام المصدر الغيبيّ لرسالة محمد صلى الله عليه وسلم وحقيقة (الوحي) الذي تقوم عليه..
সঠিক পদ্ধতি যা বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা কোনো পক্ষপাতিত্ব, ঝোঁক বা প্রবৃত্তির বশীভূত নয়।

এবং এর নিজস্ব সৌন্দর্যের উপাদান রয়েছে যা রাসূলের অনন্য মর্যাদা এবং মহাবিশ্ব ও জীবনের নিয়মনীতির সাথে হারানো সামঞ্জস্য ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বিশ্বকে পুনর্গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার সাথে মানানসই।

সীরাত চর্চায় পশ্চিমা (প্রাচ্যবিদদের) গবেষণা পদ্ধতি এই দুটি শর্তের একটি অথবা উভয়েরই অভাবগ্রস্ত ছিল। এর ফলে এমন সব গবেষণা সামনে এসেছে যা সীরাতের নাম বহন করে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন নিয়ে আলোচনা করে ও রিসালাতের সত্যতা বিশ্লেষণ করে; কিন্তু সেগুলো নিশ্চিতভাবেই সীরাতের উপাদান ব্যতীত ভিন্ন কোনো উপাদান থেকে উদ্ভূত চেহারা, অবয়ব ও বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং নবুওয়তের রূহ ব্যতীত ভিন্ন কোনো রূহ ও রিসালাতের বৈশিষ্ট্য ব্যতীত ভিন্ন কোনো বৈশিষ্ট্য বহন করে।

এগুলোর ফলাফল বিজ্ঞান থেকে বিচ্যুত হয় কারণ সেগুলো প্রবৃত্তির তাড়না থেকে উদ্ভূত, এবং এগুলো রিসালাতের যুগ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিত্বের সমান্তরালে চলার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ঐতিহাসিক সত্যতার একই উচ্চমান বজায় রেখে সেগুলোর নান্দনিক প্রভাব ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়; কারণ এগুলো সীরাতের সত্যগুলোকে এমন এক যুগের মানদণ্ডের অনুগত করতে চায় যা সুন্দর সবকিছুকে রহিত করে, মৌলিক সবকিছুকে বিকৃত করে এবং উজ্জ্বল মূল্যবোধগুলোকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে সেগুলো তাদের জ্যোতি হারিয়ে অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত হয় অথবা কুৎসিত রূপ ধারণ করে!!

 

‌‌৩

আমাদের লক্ষ্য করা উচিত যে, সীরাতের গুরুত্ববহ উপলব্ধির জন্য এমন একটি পদ্ধতি প্রয়োজন যা তিনটি স্তর বা পর্যায় অথবা শর্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এর যেকোনো একটির অভাব বা বিলুপ্তি এই উপলব্ধির ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিসাধন করে।

প্রথম মৌলিক স্তরটি হলো ঈমান বা বিশ্বাস, অথবা অন্ততপক্ষে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতের অতীন্দ্রিয় উৎসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং যে ওহীর ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত তার সত্যতাকে মেনে নেওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وأما الطبقة الثانية فهي اعتماد موقف موضوعيّ بغير حكم مسبق، يتجاوز كل الإسقاطات التي من شأنها أن تعطّل عمليّة الفهم.

وأما الطبقة الثالثة فهي (تقنية) صرفة تقوم على ضرورة الإحاطة الجيّدة بأدوات البحث التاريخيّ: بدا باللغة وجمع المادّة الأوّلية، وانتهاء بطرائق المقارنة والموازنة والنقد والتركيب.. إلى آخره..

وإذا كان الغربيون قد بلغوا حد التمكن والإبداع في هذه الدائرة الأخيرة، فإنهم في نهاية الأمر لم يستطيعوا أن يقدّموا أعمالا علميّة بمعنى الكلمة لواقعة السيرة، ولا قدروا حتى على الاقتراب من حافّة الفهم، بسبب أنهم كان يعوزهم التعامل الأكثر علميّة مع الدائرتين الأوليين: احترام المصدر الغيبيّ، واعتماد الموقف الموضوعيّ.. بصدد النقطة الأولى فإنّه يصعب علينا أن نطلب من الغربيين النصارى والمادّيّين- وبخاصة الأخيرين منهم- التحقّق بإيمان كهذا.. بل إنه أمر يكاد يكون مستحيلا.. ولكن من ناحية علمية، بالمفهوم الشامل للعلم، فإنّه لا بدّ من هذا التحقق إذا أريد إدراك واقعة السيرة ومتابعة حبكة نسيجها ذي الخلفية الغيبية، باعتباره حركة دين سماويّ قادم من (فوق) وليس تجربة بشرية متخلّقة في تراب الأرض.

أما بصدد الدائرة الثانية، فإنّ مما يؤخذ على الباحث الغربيّ تجاوزه (الموضوعية) في مناهج تعامله مع السيرة.. فلو أنه حاول التزامها، وحرر عقله من عوامل الشد الزمنية والمكانيّة والمذهبيّة والنفسيّة، ولو أنه قدر على تجاوز النسبيّات وضغوط الإسقاطات المرحلية، فإنه كان سيتمكن من تقديم أعمال أنضج بكثير، وأقرب إلى روح الواقعة، وتركيبها، وإيقاعها..

إن منهج البحث في السيرة للمؤرخ الغربي أو المستشرق، يمثل بحد ذاته جدارا يصدّه عن الفهم الحقيقيّ لوقائع السيرة ونسيجها العام..
আর দ্বিতীয় স্তরটি হলো কোনো পূর্বধারণা ছাড়াই একটি বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণ করা, যা এমন সব প্রক্ষেপণকে অতিক্রম করে যা অনুধাবন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার ক্ষমতা রাখে।

আর তৃতীয় স্তরটি হলো বিশুদ্ধ (কারিগরী) বিষয় যা ঐতিহাসিক গবেষণার উপকরণসমূহের ওপর যথাযথ দখল অর্জনের আবশ্যিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত: ভাষা এবং প্রাথমিক উপাদান সংগ্রহের মাধ্যমে শুরু করে তুলনা, ভারসাম্য, সমালোচনা এবং সংশ্লেষণের পদ্ধতির মাধ্যমে সমাপ্তি পর্যন্ত.. ইত্যাদি..

পশ্চিমা জগত যদিও এই শেষোক্ত ক্ষেত্রে পারদর্শিতা ও সৃজনশীলতার চরম সীমায় পৌঁছেছে, কিন্তু পরিশেষে তারা সীরাতের ঘটনার ওপর যথাযথ অর্থে কোনো বৈজ্ঞানিক কাজ উপস্থাপন করতে পারেনি, এমনকি তারা সঠিক অনুধাবনের কিনারায় পৌঁছাতেও সক্ষম হয়নি। এর কারণ হলো প্রথম দুটি স্তরের সাথে অধিকতর বৈজ্ঞানিক আচরণের ক্ষেত্রে তাদের ঘাটতি ছিল: অদৃশ্যের উৎসের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বস্তুনিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণ.. প্রথম পয়েন্টটির ব্যাপারে বলা যায় যে, পশ্চিমা খ্রিষ্টান ও বস্তুবাদীদের কাছ থেকে—বিশেষ করে শেষোক্তদের কাছে—এরূপ ঈমানের বাস্তবায়ন আশা করা আমাদের জন্য কঠিন.. বরং এটি প্রায় অসম্ভব একটি বিষয়.. কিন্তু বৈজ্ঞানিক দিক থেকে, বিজ্ঞানের ব্যাপক অর্থ অনুযায়ী, সীরাতের ঘটনা অনুধাবন করা এবং অদৃশ্যের প্রেক্ষাপট সমৃদ্ধ এর বুননের বিন্যাস অনুসরণ করতে চাইলে এই সত্যটির উপলব্ধি অপরিহার্য। কারণ সীরাত হলো (উপর) থেকে আসা একটি আসমানি দ্বীনের আন্দোলন, যা এই জমিনের ধূলিকণায় তৈরি কোনো মানবীয় অভিজ্ঞতা নয়।

দ্বিতীয় স্তরের ক্ষেত্রে পশ্চিমা গবেষকদের বিরুদ্ধে যে আপত্তি তোলা যায় তা হলো সীরাতের সাথে আচরণের পদ্ধতিতে তাদের (বস্তুনিষ্ঠতা) পরিহার করা.. তারা যদি এটি মেনে চলার চেষ্টা করত এবং তাদের মনকে কালগত, স্থানগত, মতাদর্শগত ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখত, আর যদি তারা আপেক্ষিকতা ও সাময়িক প্রক্ষেপণের চাপ অতিক্রম করতে সক্ষম হতো, তবে তারা আরও অনেক বেশি পরিপক্ক এবং ঘটনার মূল চেতনা, কাঠামো ও ছন্দের নিকটবর্তী কাজ উপহার দিতে পারত..

পশ্চিমা ইতিহাসবিদ বা প্রাচ্যবিদদের কাছে সীরাত গবেষণার পদ্ধতিটি স্বয়ং একটি দেয়াল স্বরূপ, যা তাকে সীরাতের ঘটনাবলী এবং এর সামগ্রিক বুননের প্রকৃত অনুধাবন থেকে বাধা প্রদান করে..
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌4

إن مناقشة أيّ من المستشرقين الذين تناولوا السيرة، على مستوى التفاصيل والجزئيات التاريخيّة والعقديّة، لا تغني شيئا، لأنها ستكون بمثابة نقد موقوت يتحرّك على السطح، ويستهلك نفسه في الجزئيات؛ دون أن يبحث عن الجذور العميقة التي تظلّ تنبت الشوك والحسك.

والجذور العميقة هي المنهج الخاطئ الذي تقوم عليه أبحاث هؤلاء المستشرقين فإذا استطعنا أن نضع أيدينا على عيوب المنهج وشروخه استطعنا معرفة المنبع الذي يتمخّض عنه تيّار الأخطاء الموضوعيّة، وخلخلة الأسس التي آتت هذه الثمار المرّة واقتلاعها.. لكي تنظّف الأرضيّة ويمهد الطريق.. ويحين اليوم الذي تعالج فيه السيرة وفق منهج عدل يعرف كيف يتعامل مع سيرة نبيّ ليست كالسّير يقينا..

 

‌‌5

هنالك ملاحظة جديرة بالالتفات، بالرغم أنها على قدر كبير جدا من الوضوح، لكن الوضح الشديد قد يؤدّي إلى الخفاء كما يقول المثل المعروف..

إنّ بحث المستشرقين- بصفة عامة- في السيرة لا يحمل عناصر اكتماله منذ البداية، بل إنه ليشبه الاستحالة الحسابيّة المعروفة بجمع خمس برتقالات مثلا- مع ثلاثة أقلام.. إذ لا يمكن أن يكون الحاصل ثمانية.. إن هنالك خلافا نوعيا لا يمكّن الأرقام من أن تتجمع لكي تشكّل مقدارا موحدا..

إنّ المستشرقين- بعامة- يريدون أن يدرسوا سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وفق حالتين تجعلان من المستحيل تحقيق فهم صحيح لنسيج السيرة ونتائجها وأهدافها التي تحرّكت صوبها والغاية الأساسية التي تمحورت حولها..
‌৪

সীরাত (নবী-জীবনী) নিয়ে কাজ করেছেন এমন কোনো প্রাচ্যবিদের সাথে ঐতিহাসিক ও আকিদাগত খুঁটিনাটি এবং বিস্তারিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা কোনো কাজে আসে না; কারণ এটি হবে একটি সাময়িক সমালোচনার মতো যা কেবল উপরিভাগে বিচরণ করে এবং খুঁটিনাটি বিষয়েই নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়; অথচ এটি সেই গভীর মূলগুলোর সন্ধান করে না যা অনবরত কাঁটা এবং আগাছা উৎপন্ন করে চলেছে।

আর সেই গভীর মূলগুলো হলো ভুল পদ্ধতি, যার ওপর ভিত্তি করে এই প্রাচ্যবিদদের গবেষণা পরিচালিত হয়। সুতরাং আমরা যদি সেই পদ্ধতির ত্রুটি ও ফাটলগুলো চিহ্নিত করতে পারি, তবে আমরা সেই উৎসের সন্ধান পাব যেখান থেকে বস্তুগত ভুলভ্রান্তির স্রোত প্রবাহিত হয়। আর এর মাধ্যমেই সেই ভিত্তিগুলোকে নাড়িয়ে দেওয়া এবং উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে যা এই তিক্ত ফলগুলো প্রসব করেছে.. যাতে ভূমি পরিষ্কার হয় এবং পথ প্রশস্ত হয়.. এবং এমন একদিন আসে যখন সীরাতকে একটি ন্যায়নিষ্ঠ পদ্ধতির আলোকে বিচার করা হবে, যা জানে যে একজন নবীর সীরাতের সাথে কেমন আচরণ করতে হয়—যে সীরাত নিশ্চিতভাবেই অন্য কোনো সাধারণ জীবনীর মতো নয়..

 

‌‌৫

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষ করার মতো, যদিও এটি অত্যন্ত স্পষ্ট। তবে প্রবাদ আছে যে, অতিরিক্ত স্পষ্টতা অনেক সময় অস্পষ্টতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়..

সাধারণত সীরাত বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের গবেষণায় শুরু থেকেই পূর্ণতার উপাদানগুলো অনুপস্থিত থাকে। বরং এটি সেই গাণিতিক অসম্ভবতার মতো যেমন পাঁচটি কমলালেবুর সাথে তিনটি কলম যোগ করা—যেখানে ফলাফল কখনো আট হওয়া সম্ভব নয়.. এখানে গুণগত এমন পার্থক্য রয়েছে যা এই সংখ্যাগুলোকে একত্রিত হয়ে একটি অভিন্ন মানে পৌঁছাতে দেয় না..

প্রাচ্যবিদরা সাধারণত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতকে এমন দুটি অবস্থার নিরিখে অধ্যয়ন করতে চান, যা সীরাতের গঠনশৈলী, এর ফলাফল, এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং যে মূল লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে এটি আবর্তিত হয়েছে, সে সম্পর্কে সঠিক অনুধাবনকে অসম্ভব করে তোলে..
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
فالمستشرق بين أن يكون علمانيا، ماديا، لا يؤمن بالغيب، وبين أن يكون يهوديا أو نصرانيا لا يؤمن بصدق الرسالة التي أعقبت النصرانية..

وإذ كانت السيرة، في تفاصيلها وجزئياتها، تنفيذا تاريخيا لعقيدة الإسلام ذات المرتكزات الغيبية، بل ذات التداخل بين المغيّب والمنظور في السدى واللحمة، وإذ كانت بمثابة دعوة سماوية أخيرة، جاءت لكي توقف النصرانية المحرّفة عن العمل وتحلّ محلّها، بما تتضمّنه من عناصر الديمومة والحركية والاكتمال.. فإنّ ثمّة جدارا فاصلا يقف بين المستشرقين- سواء أكان من الصنف الأول، أم من الصنف الثاني- وبين فهم السيرة.

ومهما أعمل المستشرق قدراته العقليّة، ومهما اجتهد في تحليلاته المنطقيّة، ومهما استنفر إمكاناته التقنيّة وحاول الإفادة مما يسمى بالعلوم المساعدة أو الموصلة للحقيقة التاريخيّة، ومهما ادعى من حياد وموضوعيّة، فإنه غير واصل البتّة إلى تقديم صيغة أقرب إلى الكمال لسيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ولن يكون غريبا، أو يعد تجاوزا على الواقع، القول: إن أعمال المستشرقين في السيرة، على تألّق بعضها وعمقه وغنائه، لا يمكن أن ترقى بحال إلى المصاف الأول من الأبحاث الجادة، ولا يمكن إلّا أن تظلّ في الخطّ الثاني أو الثالث، وربما العاشر، إذا وجد المستشرق نفسه ينساق بفجاجة وراء تعصبه النصراني كما فعل لامانس، أو وراء تصوّره المادي للكون والعالم والحياة كما فعل بندلي جوزي.. إنها لا تغدو أبحاثا حين ذاك ولكن عبثا بمقدساتنا باسم العلم، وتحويلا للسيرة لكي تكون حقلا لتجارب العقل النقدي الغربي «1» ونحن يجب أن نرفض التعامل مع هذا العبث وأن نرفض حتى النظر فيه.

--------------------------------------------

(1) انظر على سبيل المثال: مونتغومري وات: محمد في مكة، الصفحات 166- 178، 183- 189، 233- 235.
একজন প্রাচ্যবিদ হয় একজন ধর্মনিরপেক্ষ, বস্তুবাদী, যিনি অদৃশ্যে বিশ্বাস করেন না, অথবা তিনি একজন ইহুদি বা খ্রিস্টান, যিনি খ্রিস্টধর্মের পরবর্তী সত্য বার্তার প্রতি বিশ্বাস রাখেন না...

যেহেতু সীরাত তার সকল খুঁটিনাটি ও সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দিকসহ ইসলামি আকিদার একটি ঐতিহাসিক বাস্তবায়ন যার ভিত্তি হলো অদৃশ্য বিষয়াদি, বরং যা অদৃশ্য ও দৃশ্যমানের এক অবিচ্ছেদ্য সমন্বয়; আর যেহেতু এটি এক চূড়ান্ত আসমানি দাওয়াত যা বিকৃত খ্রিস্টধর্মের কার্যকারিতা রহিত করতে এবং তার স্থলাভিষিক্ত হতে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে স্থায়িত্ব, গতিশীলতা ও পূর্ণতার উপাদানসমূহ... তাই প্রাচ্যবিদ—চাই তিনি প্রথম শ্রেণির হোন বা দ্বিতীয় শ্রেণির—এবং সীরাত বোঝার মাঝে একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর দাঁড়িয়ে আছে।

একজন প্রাচ্যবিদ তার বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে যতই প্রয়োগ করুন না কেন, তার যৌক্তিক বিশ্লেষণে যতই পরিশ্রম করুন না কেন, তার যান্ত্রিক সক্ষমতাকে যতই সচল করুন এবং তথাকথিত সহযোগী বিজ্ঞান বা ঐতিহাসিক সত্যে পৌঁছানোর মাধ্যমসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, আর তিনি নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতার যতই দাবি করুন না কেন, তিনি কখনোই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের একটি পূর্ণাঙ্গ বা পূর্ণতার নিকটবর্তী রূপ উপস্থাপন করতে সক্ষম হবেন না।

এটি বলা মোটেও অদ্ভুত হবে না বা বাস্তবের পরিপন্থী হবে না যে: সীরাত বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের কাজসমূহ, যদিও তাদের কোনো কোনোটির উজ্জ্বলতা, গভীরতা ও সমৃদ্ধি রয়েছে, তবুও তা কোনো অবস্থাতেই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার প্রথম সারিতে উন্নীত হতে পারে না। বরং তা দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারিতে, এমনকি দশম সারিতে থাকতে বাধ্য, যদি সেই প্রাচ্যবিদ নিজেকে অত্যন্ত স্থূলভাবে তার খ্রিস্টীয় গোঁড়ামির অনুসারী করেন—যেমনটি ল্যামেন্স করেছেন, অথবা মহাবিশ্ব, জগৎ ও জীবন সম্পর্কে তার বস্তুবাদী ধারণার বশবর্তী হন—যেমনটি বান্দালি জাওজি করেছেন। তখন এগুলি আর গবেষণা থাকে না বরং বিজ্ঞানের নামে আমাদের পবিত্র বিষয়াদি নিয়ে তামাশায় পরিণত হয় এবং সীরাতকে পশ্চিমা সমালোচনামূলক বুদ্ধিবৃত্তির পরীক্ষাগারে রূপান্তর করার অপচেষ্টায় পর্যবসিত হয়। আমাদের অবশ্যই এই তামাশার সাথে কোনো প্রকার লেনদেন করা এবং এমনকি এর দিকে দৃষ্টিপাত করাও বর্জন করা উচিত।

--------------------------------------------

(১) উদাহরণস্বরূপ দেখুন: মন্টগোমারি ওয়াট: মুহাম্মদ ইন মক্কা, পৃষ্ঠা ১৬৬-১৭৮, ১৮৩-১৮৯, ২৩৩-২৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
إنه يجب أن نضع هذه الحقيقة في الحسبان كي لا نسبح في بحر الجزئيات المتلاطمة دون أن نعرف الحدود النهائية، والملامح الأساسية، والصورة الشاملة (لوضع البحث الاستشراقي) إزاء سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم..

ولن يرضى مسلم جاد أن يبقي عقيدته مفتوحة لدخول الريح الصفراء..

 

‌‌6

بما أن وقائع السيرة هي بمثابة التشكّل التاريخي والواقعي لعقيدة الإسلام: قرآنا وسنّة ورصيدا تشريعيا، وبما أنها البيئة الزمنية والمكانية لفعالية محمد صلى الله عليه وسلم النبي المبعوث عن الله سبحانه للعالم جميعا، فإنّه يصعب من الوجهة الإسلامية اعتبارها مسألة تاريخية صرفة تخضع لأساليب النقد والتحليل التي تعامل بها مراحل التاريخ المختلفة، والمناهج البشريّة النسبيّة التي تحاول أن تجعل الواقعة التاريخية مسألة مختبرية، أو معملا للتشريح..

إن السيرة، إذا اعتبرت كذلك، قاد هذا الاعتبار إلى خطأين أساسيين:

أما أولهما: فهو استحالة فهمها ما دام أنها أكبر من المناهج النسبية وأكثر شمولا، وما دامت تستعصي على أساليب النقد والتحليل المحدودة القاصرة.

وأما ثانيهما: فهو فتح الطريق أمام خصوم الإسلام لتدمير الثقة بمنطلقاته الأساسية، وأيّ منطلق، بعد القرآن الكريم، أكثر ثقلا وأكبر أهميّة من السيرة: بيئة التخلّق الإسلامي على كل المستويات، وتشكّله واكتماله؟

لذا فإنه- من الناحية المبدئية- يجب على المثقف المسلم رفض القبول النهائيّ لنتائج بحوث المستشرقين في حقل السيرة.. لأنها مهما تكن على درجة من الحياديّة والنزاهة؛ فإنها لا بدّ وأن تسقط الخطأين آنفي الذكر:

القصور عن الفهم وتدمير الثقة بأسس هذا الدين.

ولكن ما دام أن بحوث المستشرقين أمر واقع، وهي تغطي مساحات في السيرة واسعة في مجال البحث التاريخي، وتفرض ثقلها في الدوائر
এটি আবশ্যক যে আমরা এই সত্যটি বিবেচনায় রাখি যাতে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের প্রতি (প্রাচ্যতত্ত্বীয় গবেষণার অবস্থানের) চূড়ান্ত সীমানা, মৌলিক বৈশিষ্ট্য এবং সামগ্রিক রূপচ্ছবি না জেনে খণ্ডিত তথ্যের উত্তাল সমুদ্রে দিশেহারা না হই।

কোনো নিষ্ঠাবান মুসলিম তার আকিদাকে দূষিত বাতাসের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত রাখতে সম্মত হবেন না।

 

‌‌৬

যেহেতু সীরাতের ঘটনাবলী ইসলামের আকিদার ঐতিহাসিক ও বাস্তব রূপ পরিগ্রহের সমতুল্য: যা কুরআন, সুন্নাহ এবং আইনি সম্পদের আধার; এবং যেহেতু এটি সমগ্র বিশ্বের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার পক্ষ থেকে প্রেরিত নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতি কার্যক্রমের কালানুক্রমিক ও স্থানিক প্রেক্ষাপট, তাই ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে একে নিছক একটি ঐতিহাসিক বিষয় হিসেবে গণ্য করা কঠিন যা ইতিহাসের বিভিন্ন স্তরে ব্যবহৃত সমালোচনা ও বিশ্লেষণের পদ্ধতি এবং আপেক্ষিক মানবীয় পদ্ধতিসমূহের অধীন হবে, যা ঐতিহাসিক ঘটনাকে একটি পরীক্ষাগারের বিষয় বা ব্যবচ্ছেদের গবেষণাগারে পরিণত করার প্রয়াস পায়।

সীরাতকে যদি সেভাবে বিবেচনা করা হয়, তবে এই বিবেচনা দুটি মৌলিক ভুলের দিকে নিয়ে যায়:

প্রথমটি হলো: একে উপলব্ধি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি আপেক্ষিক পদ্ধতিগুলোর চেয়ে বৃহত্তর ও অধিকতর ব্যাপক থাকে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না এটি সীমিত ও অপূর্ণ সমালোচনা ও বিশ্লেষণ পদ্ধতির ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।

আর দ্বিতীয়টি হলো: ইসলামের শত্রুদের জন্য এর মৌলিক নীতিগুলোর ওপর আস্থা ধ্বংস করার পথ উন্মুক্ত করে দেওয়া; আর পবিত্র কুরআনের পর সীরাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ববহ ও প্রভাবশালী ভিত্তি আর কোনটি হতে পারে, যা সকল স্তরে ইসলামী চরিত্রের বিকাশ এবং এর গঠন ও পূর্ণতার আধার?

তাই—নীতিগতভাবে—সীরাতের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদদের গবেষণার ফলাফলগুলো চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করা মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের জন্য বর্জনীয়। কারণ সেগুলো নিরপেক্ষতা ও সততার যতই উচ্চস্তরে থাকুক না কেন, তা অবশ্যই উল্লিখিত দুটি ভুলের মধ্যে নিপতিত হবে:

উপলব্ধির অক্ষমতা এবং এই দ্বীনের ভিত্তিমূলের প্রতি আস্থা ধ্বংস করা।

তবে যেহেতু প্রাচ্যবিদদের গবেষণা একটি বাস্তব সত্য এবং তা ঐতিহাসিক গবেষণার ক্ষেত্রে সীরাতের এক বিশাল ক্ষেত্র জুড়ে বিস্তৃত এবং বিভিন্ন মহলে এর প্রভাব বিদ্যমান...
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الأكاديميّة التخصصيّة بعامة، وما دام أن في بعض هذه البحوث لمحات منهجية وموضوعية قد تمنحنا المزيد من الإدراك لنسيج السيرة، وتعطينا المزيد من الأدوات المعينة على الفهم، فلا بأس أن نتعامل معها على هذا الأساس، وليس أبدا على اعتبار أنها صيغة مقبولة في التعامل الدراسي مع سيرة رسولنا عليه الصلاة والسلام.

ومن أجل ألّا يختلط الأسود بالأبيض، وتمرّر على العقل المسلم معطيات المستشرقين المنحرفة وأخطاؤهم المكشوفة أو المستترة، كان لا بدّ من تقديم العديد من الدراسات النقدية لهذه المعطيات، تكون بمثابة مصدر إنارة للمسلم في هذا الدرب المعتم الطويل..

 

‌‌7

«إن (مونتغمري وات) يحاول ما وسعه الجهد أن يكون الباحث (الجديد) الذي يتجاوز أخطاء أسلافه ومعاصريه، بل إنه ليخطو خطوة أخرى، لم يسبقه بها أحد من أقرانه، فيسعى إلى التحقق بقدر من الاحترام والحيادية إزاء الجذور الغيبيّة لحقائق السيرة ووقائعها، يقول في مقدمة كتابه (محمد في مكة) : «فيما يتعلق بالمسائل الفقهيّة التي أثيرت بين المسيحية والإسلام فقد جهدت في اتخاذ موقف محايد منها، وهكذا بصدد معرفة ما إذا كان القرآن الكريم كلام الله أو ليس كلامه امتنعت عن استعمال تعبير مثل: (قال تعالى) ، أو (قال محمد) في كل مرة أستشهد فيها بالقرآن، بل أقول بكل بساطة: (يقول القرآن) .... وأقول لقرائي المسلمين شيئا مماثلا، فقد ألزمت نفسي، برغم إخلاصي لمعطيات العلم التاريخي المكرّس في الغرب، ألاأقول أي شيء يمكن أن يتعارض مع معتقدات الإسلام الأساسية» «1» .

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، ص 5- 6.
সাধারণভাবে বিশেষায়িত একাডেমিগুলোর ক্ষেত্রে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত এই গবেষণাসমূহের মধ্যে এমন কিছু পদ্ধতিগত ও বস্তুনিষ্ঠ ইঙ্গিত রয়েছে যা আমাদের সীরাতের বুনন সম্পর্কে অধিকতর উপলব্ধি প্রদান করতে পারে এবং বুঝার ক্ষেত্রে সহায়ক আরও কিছু উপকরণ দিতে পারে, তবে সেগুলোকে এই ভিত্তিতে বিবেচনা করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কোনো অবস্থাতেই একে আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত বিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কোনো গ্রহণযোগ্য রূপ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

আর যাতে সাদার সাথে কালো মিশে না যায় এবং প্রাচ্যবিদদের বিচ্যুতিপূর্ণ তথ্য ও তাদের প্রকাশ্য বা গোপন ভুলগুলো মুসলিম মানসে জেঁকে বসতে না পারে, সেজন্য এই তথ্য ও উপাত্তগুলোর অনেকগুলো সমালোচনামূলক পর্যালোচনার উপস্থাপন অপরিহার্য ছিল, যা এই দীর্ঘ অন্ধকার পথে মুসলিমদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে..

 

‌‌৭

«নিশ্চয়ই (মন্টগোমারি ওয়াট) সাধ্যমতো চেষ্টা করেন যেন তিনি এমন একজন (নতুন) গবেষক হতে পারেন যিনি তাঁর পূর্বসূরি ও সমসাময়িকদের ভুলগুলো কাটিয়ে উঠবেন। এমনকি তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে যান, যা তাঁর সমকক্ষদের মধ্যে আর কেউ করতে পারেননি; তিনি সীরাতের প্রকৃত সত্য ও ঘটনাবলির গায়বি বা অতিপ্রাকৃত মূলভিত্তির প্রতি কিছুটা সম্মান ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন। তিনি তাঁর (মুহাম্মদ ইন মক্কা) বইয়ের ভূমিকায় বলেন: «খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যে উত্থাপিত তাত্ত্বিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আমি একটি নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছি। একইভাবে কুরআন মাজীদ আল্লাহর বাণী কি না, সে বিষয়ে জানার ক্ষেত্রে আমি প্রতিবার কুরআন থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার সময় (আল্লাহ তাআলা বলেছেন) বা (মুহাম্মদ বলেছেন)—এই জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা থেকে বিরত থেকেছি। বরং আমি খুব সহজভাবে বলি: (কুরআন বলছে).... আমি আমার মুসলিম পাঠকদেরও অনুরূপ কথা বলছি, পশ্চিমে প্রচলিত ঐতিহাসিক বিজ্ঞানের তথ্যাদির প্রতি একনিষ্ঠ থাকা সত্ত্বেও আমি নিজেকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে এমন কিছু আমি বলব না» «১» ।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৫- ৬।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
ويعلق المستشرق البريطاني المعروف (سير هاملتون جب) على الكتاب قائلا: بأنّه يجعل القارئ يشعر بأنه كتبه رجل عاش بالخيال تجربة محمد في مكة أكثر من أي كاتب سابق، يضاف إلى ذلك تنظيمه الدقيق لمواد البحث الذي يعد إضافة جديدة قيمة لدراسة أصول الإسلام. لقد اهتم الكتاب خاصة يقول جب- بالأرضية الاقتصاديّة والاجتماعيّة وعلاقاتها بنظريات القرآن الدينيّة. ولهذا يؤمّل أن يؤدّي إلى تقدير حق لهذا القائد العظيم أكثر في الغرب مما مضى «1» !!. من أجل هذا وقع الاختيار عليه، لأن الآخرين من المستشرقين الذين افتقدوا بعض شروط البحث الجادّ، قد نوقشوا كثيرا؛ فضلا عن أن بحوثهم لم تعد تستحق ذلك العناء الكبير الذي عوملت به في العقود السابقة بسبب وضوح تناقضاتها وإلحاحها في ملاحقة ما تتصوّره أخطاء والتشبّث بها، كالمغناطيس الذي يمسك بقطع الحديد المتناثرة..

ثم إن (الدفاع) عن الحقائق الإسلامية العقيدية والتاريخية إزاء أخطاء الآخرين وتحريفاتهم ليس أكثر أهمية من تقديم أعمال بنائيّة، وإنه ليجب التأكيد باستمرار على حقيقة أن العمل التاريخي الجادّ بحاجة إلى البناة، الذين يملكون الحسّ النقدي بطبيعة الحال، أكثر من النقاد، ذلك أن جوانب كثيرة من تاريخنا وحضارتنا لا تزال تنتظر من يكشف النقاب عنها، أو يعيد عرضها بالأسلوب الذي يقدمها كما تحققت فعلا، أما ملاحقة دراسات الآخرين كشفا عن خطأ فيها، ودفاعا عن قيمة ما في تاريخنا وفكرنا وعقيدتنا، فيبدو أمرا ثانويا يجب ألّا يحتلّ الخطّ الأماميّ إلّا بعد أن يتم القدر الأكبر من مساحات البناء وتكويناته.

ومع ذلك فإن العملية النقدية- ما دامت تتضمن قدرا من الإنجاز البنائي في جانب ما من جوانب العقيدة أو التاريخ- تغدو جديرة بالممارسة هي الآخرى، شرط ألّا تكون هدفا بحدّ ذاتها.

--------------------------------------------

(1) من تعليق جب الذي اعتمده الناشر على غلاف كتاب (محمد في مكة) .
সুপরিচিত ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ (স্যার হ্যামিল্টন গিব) গ্রন্থটির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: এটি পাঠককে এমন এক অনুভূতি দেয় যে, এটি এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা রচিত যিনি পূর্ববর্তী যে কোনো লেখকের তুলনায় মক্কায় মুহাম্মাদের অভিজ্ঞতাকে কল্পনায় বেশি অনুভব করেছেন। এর সাথে যোগ হয়েছে গবেষণার উপাদানসমূহের সূক্ষ্ম বিন্যাস, যা ইসলামের উৎস বিষয়ক গবেষণায় একটি নতুন ও মূল্যবান সংযোজন হিসেবে বিবেচিত। গিব বলেন— গ্রন্থটি বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং কুরআনের ধর্মীয় তত্ত্বসমূহের সাথে এর সম্পর্কের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এই কারণেই আশা করা যায় যে, এটি অতীতে যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে পাশ্চাত্যে এই মহান নেতার যথাযথ মূল্যায়নের পথ প্রশস্ত করবে «১» !! এই কারণেই এটি নির্বাচন করা হয়েছে, কারণ অন্যান্য প্রাচ্যবিদ যারা নিষ্ঠাপূর্ণ গবেষণার কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে; উপরন্তু তাদের গবেষণাগুলো এখন আর সেই বড় ধরনের মেহনত বা গুরুত্বের যোগ্য নয় যা বিগত দশকগুলোতে দেওয়া হয়েছিল। এর কারণ হলো তাদের গবেষণার বৈপরীত্যগুলোর স্পষ্টতা এবং কাল্পনিক ভুলগুলো খুঁজে বের করার ও সেগুলোকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে তাদের তীব্র জেদ, ঠিক সেই চুম্বকের মতো যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লোহার টুকরোগুলোকে আঁকড়ে ধরে..

তদুপরি অন্যদের ভুলভ্রান্তি ও বিকৃতির বিপরীতে ইসলামী আকীদাগত ও ঐতিহাসিক সত্যসমূহ 'রক্ষা করা' বা 'ডিফেন্ড করা' গঠনমূলক কাজ উপস্থাপনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর এই সত্যটির ওপর নিরন্তর গুরুত্বারোপ করা উচিত যে, নিষ্ঠাপূর্ণ ঐতিহাসিক কাজের জন্য সমালোচকদের চেয়ে নির্মাতা বা গঠনমূলক চিন্তাবিদদের বেশি প্রয়োজন, যাদের অবশ্যই একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে। কারণ আমাদের ইতিহাস ও সভ্যতার অনেক দিক এখনো এমন কারও অপেক্ষায় রয়েছে যে সেগুলোকে উন্মোচিত করবে অথবা এমনভাবে পুনরায় উপস্থাপন করবে যেভাবে সেগুলো বাস্তবে ঘটেছিল। আর অন্যদের গবেষণার ভুলগুলো উদঘাটন করে আমাদের ইতিহাস, চিন্তা ও বিশ্বাসের মূল্যবোধকে রক্ষা করার বিষয়টি একটি গৌণ বিষয় বলে মনে হয়; নির্মাণের বড় একটি অংশ ও তার কাঠামো পূর্ণ হওয়ার আগে একে অগ্রভাগে রাখা উচিত নয়।

তা সত্ত্বেও, সমালোচনামূলক প্রক্রিয়াটি—যতক্ষণ পর্যন্ত তা আকীদা বা ইতিহাসের কোনো এক দিক থেকে গঠনমূলক অর্জনের অংশ হয়ে থাকবে—ততক্ষণ সেটিও চর্চার যোগ্য হিসেবে গণ্য হবে, তবে শর্ত হলো এটি যেন নিজেই নিজের উদ্দেশ্য হয়ে না দাঁড়ায়।

--------------------------------------------

(১) গিব-এর মন্তব্য থেকে যা প্রকাশক ‘মুহাম্মাদ ইন মেক্কা’ (মক্কায় মুহাম্মাদ) বইয়ের মলাটে ব্যবহার করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
باختصار فإنّ التوجّه الأكثر أهميّة وجدوى يجب أن يتجاوز الدفاع المتشنّج إزاء كل ما طرحه الخصوم حول هذه النقطة وأن تكون في مجرى التاريخ والعقيدة الإسلامية صوب أبحاث في تكوين التاريخ والحضارة والعقيدة والشريعة، نظما وصيرورة وأعمالا بنائيّة، في هذا الجانب أو ذاك لتقدّم بذاتها القناعات الموضوعيّة التي تتهافت عندها مقولات الخصوم «1» .

ومن ثمّ، واستنادا إلى ذلك كله؛ وقع الاختيار على (وات) في واحد من كتابيه المعروفين عن محمد صلى الله عليه وسلم؛ وهو (محمد في مكة) .. ولم أشأ أن أتناول الكتابين معا لسببين: أولهما: أن حجم المادة سيتضاعف ولا شك، مما لا يسمح به مجال كهذا الذي أتاحه المجلد الخاص بالمستشرقين.

وثانيهما: إني سأضطر- حينذاك- لوضع القارئ أمام حشد كبير من الشواهد والنصوص قد تمثل في جوهرها تكرارا لمعان محدّدة.. فما دام أن المنهج في الكتابين واحد، وأن الخلل الذي يعانيه هذا المنهج واحد كذلك في الكتابين، فإن التعامل مع أحدهما سيغني بالضرورة عن التعامل مع الآخر.

فهل قدر الرجل على تنفيذ أمنيته التي طرحها في مقدمة بحثه؟

قبل الإجابة على هذا السؤال يجب أن نقوم بعرض مركّز للأدوار التي مرّت بها الحركة الاستشراقيّة في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، والملامح الأساسية في مناهجها، لكي نعرف على وجه التحديد موقع (مونتغمري وات) على خارطة الاستشراق، وبخاصة على مستوى (المنهج) .

--------------------------------------------

(1) انظر: كتاب (فصول في المنهج والتحليل) للمؤلف، فصل (حول تداول السلطة في العصر الراشدي) .
সংক্ষেপে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর দৃষ্টিভঙ্গিটি এমন হওয়া উচিত যা এই বিষয়ে প্রতিপক্ষদের উত্থাপিত সমস্ত প্রসঙ্গের বিপরীতে কেবল আবেগপ্রবণ রক্ষণাত্মক অবস্থানকে অতিক্রম করে যায়। বরং তা ইসলামী ইতিহাস ও আকিদার ধারায় ইতিহাস, সভ্যতা, আকিদা এবং শরীয়তের গঠন—পদ্ধতি, বিবর্তন এবং নির্মাণমূলক কার্যাবলি—সংক্রান্ত গবেষণার অভিমুখে হওয়া উচিত, যাতে তা নিজেই এমন বস্তুনিষ্ঠ বিশ্বাসযোগ্যতা উপস্থাপন করতে পারে যার সামনে প্রতিপক্ষের দাবিগুলো তুচ্ছ প্রমাণিত হয় «১» ।

এর ফলে, এবং এই সবকিছুর ভিত্তিতে; মুহাম্মাদ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সম্পর্কে (ওয়াট)-এর বিখ্যাত দুটি বইয়ের একটিকে নির্বাচন করা হয়েছে; আর তা হলো (মুহাম্মাদ ইন মক্কা)। আমি দুটি বই একসাথে আলোচনা করতে চাইনি দুটি কারণে: প্রথমত, এতে বিষয়ের পরিধি নিঃসন্দেহে দ্বিগুণ হয়ে যাবে, যা প্রাচ্যবিদদের জন্য নিবেদিত বিশেষ খণ্ডের ন্যায় পরিসরে সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, সেক্ষেত্রে আমি পাঠককে প্রচুর প্রমাণ এবং উদ্ধৃতির সামনে উপস্থিত করতে বাধ্য হতাম যা মূলত নির্দিষ্ট কিছু অর্থের পুনরাবৃত্তি মাত্র। যেহেতু উভয় বইয়ের পদ্ধতি এক এবং এই পদ্ধতির ত্রুটিগুলোও উভয় বইতে অভিন্ন, তাই একটির আলোচনা অন্যটির আলোচনার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে।

তবে এই ব্যক্তি কি তাঁর গবেষণার ভূমিকায় ব্যক্ত করা উদ্দেশ্য সফল করতে সক্ষম হয়েছেন?

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সীরাতের ক্ষেত্রে প্রাচ্যবাদী আন্দোলন যে পর্যায়গুলো অতিক্রম করেছে এবং এর পদ্ধতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া আবশ্যক, যাতে আমরা প্রাচ্যতত্ত্বের মানচিত্রে বিশেষ করে 'পদ্ধতিগত' ক্ষেত্রে (মন্টগোমারি ওয়াট)-এর অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করতে পারি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: লেখকের গ্রন্থ (ফাসুল ফিল মানহাজ ওয়াল তাহলিল), অধ্যায়: (রাশেদুন যুগে ক্ষমতার পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে)।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
تطوّر الموقف (الغربيّ) من السيرة
সীরাত-সংক্রান্ত (পাশ্চাত্য) দৃষ্টিভঙ্গির বিবর্তন
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌1

بدأ الموقف (الغربيّ) من رسول الإسلام صلى الله عليه وسلم يتشكّل في إطار دينيّ صرف، مترع بالتعصّب والتشنّج والانفعال، مليء بالحقد والغضب والكراهية، تحيطه جهالة عمياء متعمّدة حينا وغير متعمّدة أحيانا جعلت بين القوم وبين شخصية رسولنا عليه الصلاة والسلام سدّا يصعب اختراقه، والنتيجة ليست أبحاثا تاريخية علمية أو موضوعية بحال.. إنما ذلك السيل المنهمر من الشتائم والسباب مارسها رجال دين من قلب الكنيسة النصرانية باتجاهاتها كافة.. ومارسها رجال علمانيّون لا علاقة لهم بالكنيسة من قريب أو بعيد، وقد استمر هذا التيار حتى العصر الراهن.

ماذا كانوا يقولون عن رسولنا عليه الصلاة والسلام، وعن رسالته؟

يصعب على المرء أن يسرد ما قالوه حتى على سبيل الاستشهاد …

ولكن ما دام أن ناقل الكفر ليس بكافر، فلا بأس من الإشارة- بإيجاز- إلى بعض الشواهد، نتلقّاها عن أناس حديثي عهد بهذا العصر، بل إن بعضهم لا يزال حيا.

يقول المونيسنيور كولي في كتابه (البحث عن الدين الحق) : برز في الشرق عدو جديد؛ هو الإسلام الذي أسس على القوة وقام على أشد أنواع التعصّب، ولقد وضع محمد السيف في أيدي الذين تبعوه، وتساهل في أقدس قوانين الأخلاق، ثم سمح لأتباعه بالفجور والسلب. ووعد الذين يهلكون في القتال بالاستمتاع الدائم بالملذات في الجنة. وبعد قليل أصبحت آسية الصغرى وإفريقية وإسبانية فريسة له. حتى إيطالية هددها الخطر، وتناول الاجتياح نصف فرنسية لقد أصيبت المدنية؛ ولكن انظر!! ها هي النصرانية تضع بسيف شارل مارتل سدّا في وجه سير الإسلام المنتصر عند بواتييه (752 م) ، ثم تعمل الحروب الصليبية في مدى قرنين تقريبا
১

ইসলামের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি (পাশ্চাত্য) দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে শুরু করেছিল এক নিছক ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে, যা ছিল উগ্র গোঁড়ামি, উত্তেজনা এবং তীব্র আবেগে সিক্ত। এটি ছিল ঘৃণা, ক্রোধ এবং বিদ্বেষে পরিপূর্ণ এবং কখনো সচেতনভাবে আবার কখনো অবচেতনভাবে অন্ধ অজ্ঞতা দ্বারা পরিবেষ্টিত। এটি সেই জাতি এবং আমাদের রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ব্যক্তিত্বের মাঝে এমন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর তৈরি করেছিল যা অতিক্রম করা ছিল অত্যন্ত দুরুহ। আর এর ফলাফল কোনোভাবেই কোনো ঐতিহাসিক, বৈজ্ঞানিক বা বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা ছিল না... বরং তা ছিল গালিগালাজ এবং কটুকাটব্যের এক অবিরাম স্রোতধারা, যা খ্রিস্টান গির্জার অভ্যন্তর থেকে তার সকল মতাদর্শের ধর্মীয় নেতারা চর্চা করেছিলেন। এমনকি গির্জার সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পর্ক নেই এমন ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তিরাও এটি চর্চা করেছিলেন এবং এই ধারা বর্তমান যুগ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এবং তাঁর রিসালাত সম্পর্কে তারা কী বলত?

তারা যা বলেছে, তা এমনকি উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করাও একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন …

তবে যেহেতু কুফরি কথা বর্ণনাকারী কাফের নয়, তাই সংক্ষেপে কিছু নিদর্শনের দিকে ইঙ্গিত করতে কোনো বাধা নেই। আমরা এই তথ্যগুলো এই যুগের নিকটবর্তী ব্যক্তিদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছি, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো জীবিত।

মনসিনিয়র কুলি তাঁর (সত্য ধর্মের অনুসন্ধান) নামক গ্রন্থে বলেন: "প্রাচ্যে এক নতুন শত্রুর আবির্ভাব ঘটেছে; আর তা হলো ইসলাম, যা শক্তির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং চরমতম গোঁড়ামির ওপর দণ্ডায়মান। মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের হাতে তলোয়ার তুলে দিয়েছেন এবং নৈতিকতার পবিত্রতম বিধানগুলোর ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, এরপর তিনি তাঁর অনুসারীদের পাপাচার ও লুণ্ঠনের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি যুদ্ধে নিহতদের জান্নাতে চিরস্থায়ী ভোগবিলাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিছুকাল পরেই এশিয়া মাইনর, আফ্রিকা এবং স্পেন এর শিকারে পরিণত হয়। এমনকি ইতালিও হুমকির মুখে পড়ে এবং এই আগ্রাসন ফ্রান্সের অর্ধেক পর্যন্ত গ্রাস করে। ফলে সভ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল; কিন্তু দেখুন!! খ্রিস্টধর্ম চার্লস মার্টেলের তলোয়ারের মাধ্যমে পোয়াতিয়ে-তে (৭৫২ খ্রিষ্টাব্দ) বিজয়ী ইসলামের অগ্রযাত্রার মুখে এক প্রাচীর তৈরি করে দেয়, এরপর প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ চলতে থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
(1099- 1254 م) في سبيل الدين، فتدجّج أوربة بالسلاح وتنجي النصرانية، وهكذا تقهقرت قوة الهلال أمام راية الصليب، وانتصر الإنجيل على القرآن وعلى ما فيه من قوانين الأخلاق الساذجة «1» .

ويقول المسيو كيمون في كتابه (ميثولوجيا الإسلام) : «إن الديانة المحمّدية جذام فشا بين الناس وأخذ يفتك بهم فتكا ذريعا. بل هو مرض مروع وشلل عام وجنون ذهني يبعث الإنسان على الخمول والكسل، ولا يوقظه منهما إلا ليسفك الدماء ويدمن معاقرة الخمور (!!) ويجمح في القبائح. وما قبر محمد في مكة (!) إلّا عمود كهربائي يبعث الجنون في رؤوس المسلمين ويلجئهم إلى الإتيان بمظاهر الصرع (الهستريا) ، والذهول العقلي، وتكرار لفظة (الله الله) إلى ما لا نهاية، وتعود عادات تنقلب إلى طباع أصيلة؛ ككراهية لحم الخنزير والنبيذ والموسيقى، وترتيب ما يستنبط من أفكار القسوة، والفجور في الملذّات» «2» .

ويقول جويليان في كتابه (تاريخ فرنسة) : «إن محمدا، مؤسس دين المسلمين، قد أمر أتباعه أن يخضعوا العالم، وأن يبدّلوا جميع الأديان بدينه هو، ما أعظم الفرق بين هؤلاء الوثنيين والنصارى! إن هؤلاء العرب قد فرضوا دينهم بالقوة وقالوا للناس: أسلموا أو موتوا، بينما أتباع المسيح أراحوا النفوس ببرهم وإحسانهم. ماذا كانت حال العالم لو أن العرب انتصروا علينا؟ إذن لكنا مسلمين كالجزائريين والمراكشيين» «3» .

--------------------------------------------

(1) عن النصوص السابقة ولمزيد من التفاصيل انظر: د. محمد البهي: الفكر الاسلامي الحديث وصلته بالاستعمار الغربي، ص 507- 521، ليوبولد فايس (محمد أسد) : الإسلام على مفترق الطرق، ص 60 فما بعد، عمر فروخ ومصطفى الخالدي: التبشير والاستعمار في البلاد العربية، توفيق الحكيم: تحت شمس الفكر ص 18 فما بعد، مجلة البلاغ الكويتية، عدد 58 ص 12. مجلة البعث الإسلامي الهندية، عدد 9 السنة الثامنة.

(2) ينظر الهامش السابق.

(3) الهامش السابق.
(১০৯৯- ১২৫৪ খ্রি.) ধর্মের পথে, ইউরোপ অস্ত্রে সজ্জিত হয় এবং খ্রিস্টধর্মকে রক্ষা করে। এভাবেই ক্রুশের পতাকার সামনে অর্ধচন্দ্রের শক্তি পিছু হটে, এবং ইঞ্জিল বিজয়ী হয় কুরআনের ওপর এবং তাতে বিদ্যমান সরল নৈতিক বিধানগুলোর ওপর «১»।

মঁসিয়ে কিমন তার ‘ইসলামের পৌরাণিক কাহিনী’ (মিথোলজি অফ ইসলাম) গ্রন্থে বলেন: «মুহাম্মাদীয় ধর্ম একটি কুষ্ঠরোগ যা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের ভয়াবহভাবে ধ্বংস করতে শুরু করেছে। বরং এটি একটি আতঙ্কজনক ব্যাধি, সাধারণ পক্ষাঘাত এবং মানসিক উন্মাদনা যা মানুষকে স্থবিরতা ও অলসতার দিকে ঠেলে দেয়; আর রক্তপাত ঘটানো, মদ্যপানে আসক্ত হওয়া (!!) এবং অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়া ছাড়া আর কিছুর জন্যই তা তাদের জাগিয়ে তোলে না। মক্কায় (!) মুহাম্মাদের কবর তো কেবল একটি বৈদ্যুতিক স্তম্ভ যা মুসলমানদের মাথায় পাগলামি ছড়িয়ে দেয় এবং তাদের মৃগীরোগের (হিস্টেরিয়া) লক্ষণ প্রকাশ করতে, বুদ্ধিভ্রষ্ট হতে এবং অন্তহীনভাবে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ শব্দের পুনরাবৃত্তি করতে বাধ্য করে। আর শূকরের মাংস, মদ এবং সঙ্গীতের প্রতি ঘৃণার মতো অভ্যাসগুলো মৌলিক স্বভাবে পরিণত হয়; সেই সাথে নিষ্ঠুরতাপূর্ণ চিন্তাধারার বিন্যাস এবং ভোগবিলাসে পাপাচারও এতে অন্তর্ভুক্ত» «২»।

জুইলিয়ান তার ‘ফ্রান্সের ইতিহাস’ গ্রন্থে বলেন: «নিশ্চয়ই মুসলমানদের ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মাদ তার অনুসারীদের আদেশ দিয়েছেন বিশ্বকে বশীভূত করতে এবং সমস্ত ধর্মকে তার নিজের ধর্ম দ্বারা পরিবর্তিত করতে। এই পৌত্তলিকদের এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে কতই না ব্যবধান! এই আরবরা তাদের ধর্মকে শক্তির মাধ্যমে চাপিয়ে দিয়েছে এবং মানুষকে বলেছে: ইসলাম গ্রহণ করো অথবা মৃত্যুবরণ করো; অথচ মসীহের অনুসারীরা তাদের পুণ্য ও দয়া দ্বারা আত্মাকে প্রশান্তি দিয়েছে। আরবরা যদি আমাদের ওপর বিজয়ী হতো তবে বিশ্বের অবস্থা কী হতো? তবে আমরাও আলজেরীয় এবং মরক্কীয়দের মতো মুসলমান হতাম» «৩»।

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তী পাঠ্যসমূহ এবং অধিকতর বিবরণের জন্য দেখুন: ড. মুহাম্মাদ আল-বাহী: আধুনিক ইসলামী চিন্তা ও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের সাথে এর সম্পর্ক, পৃষ্ঠা ৫০৭- ৫২১; লিওপোল্ড ওয়াইস (মুহাম্মাদ আসাদ): ইসলাম সন্ধিক্ষণে, পৃষ্ঠা ৬০ এবং পরবর্তী; উমর ফাররুখ এবং মুস্তফা আল-খালিদি: আরব দেশগুলোতে মিশনারি তৎপরতা ও সাম্রাজ্যবাদ; তাওফিক আল-হাকিম: চিন্তার সূর্যতলে, পৃষ্ঠা ১৮ এবং পরবর্তী; কুয়েতি ‘আল-বালাগ’ সাময়িকী, সংখ্যা ৫৮, পৃষ্ঠা ১২; ভারতীয় ‘আল-বাসুল ইসলামি’ সাময়িকী, সংখ্যা ৯, অষ্টম বর্ষ।

(২) পূর্ববর্তী পাদটীকা দেখুন।

(৩) পূর্ববর্তী পাদটীকা।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وجاء في كتاب (تقدّم التبشير العالمي) الذي ألفه الدكتور غلوور ونشره في نيويورك سنة (1960 م) ، في نهاية الباب الرابع: «إن سيف محمد والقرآن أشد عدو وأكبر معاند للحضارة والحريّة والحق، ومن بين العوامل الهدّامة التي اطلع عليها العالم إلى الآن» «1» ، وقال: «القرآن خليط عجيب من الحقائق والخرافات، ومن الشرائع والأساطير، كما هو مزيج غريب للأغلاط التاريخيّة والأوهام الفاسدة، وفوق ذلك هو غامض جدا لا يمكن أن يفهمه أحد إلّا بتفكير خاص له.. والذي يعتقده المسلم أن المعبود هو الله الأحد الصمد الذي لم يلد ولم يولد، فالله ملك جبّار متسلّط، ليست له علاقة مع خلقه ورعاياه، برغم أن الإسلام يذكر الرابطة الموجودة بينهما» «2» .

ثم ينتقد غلوور شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم فيقول: «كان محمد حاكما مطلقا، وكان يعتقد أن من حق الملك على الشعب أن يتبع هواه ويعمل ما يشاء، وكان مجبولا على هذه الفكرة، فقد كان عازما على أن يقطع عنق كل من لا يوافقه في هواه. أما جيشه العربي فكان يتعطّش للتهديد والتغلّب، وقد أرشدهم رسولهم أن يقتلوا كل من يرفض اتباعهم ويبعد عن طريقهم» «3» .

ويعتقد سفاري الذي ترجم القرآن سنة (1752 م) «أن محمدا قد لجأ إلى السلطة الإلهية لكي يدفع الناس إلى قبول هذه العقيدة، ومن هنا طالب بالإيمان به كرسول لله، وقد كان هذا اعتقادا مزيّفا أملته الحاجة العقليّة … » «4» .

--------------------------------------------

(1) الهامش السابق.

(2) عن النصوص السابقة، ولمزيد من التفاصيل انظر: د. محمد البهي: الفكر الإسلامي الحديث وصلته بالاستعمار الغربي ص 507- 521، ليبولد فايس (محمد أسد) : الإسلام على مفترق الطرق ص 60 فما بعد، عمر فروخ ومصطفى الخالدي: التبشير والاستعمار في البلاد العربية، توفيق الحكيم تحت شمس الفكر ص 18 فما بعد، مجلّة البلاغ الكويتية، عدد 58 ص 12، مجلة البعث الإسلامي الهندية، عدد 9 السنة الثامنة.

(3) انظر الهامش السابق.

(4) انظر الهامش رقم 2.
ডক্টর গ্লোভার রচিত এবং ১৯৬০ সালে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাডভান্স অফ ওয়ার্ল্ড ইভানজেলিজম' নামক গ্রন্থের চতুর্থ অধ্যায়ের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে: «মুহাম্মাদের তলোয়ার এবং কুরআন সভ্যতা, স্বাধীনতা ও সত্যের সবচেয়ে চরম শত্রু এবং সবচেয়ে বড় বিরোধী, আর এটি এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রত্যক্ষ করা ধ্বংসাত্মক উপাদানগুলোর অন্যতম» «১», এবং তিনি বলেন: «কুরআন হলো সত্য ও রূপকথার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ, এবং শরীয়ত ও উপকথার সমাহার। এটি যেমন ঐতিহাসিক ভুল ও কলুষিত কল্পনার এক বিচিত্র মিশ্রণ, তদুপরি এটি অত্যন্ত অস্পষ্ট যে, বিশেষ চিন্তা-ভাবনা ছাড়া কেউ তা বুঝতে পারে না... আর মুসলিমরা যা বিশ্বাস করে তা হলো, উপাস্য হলেন আল্লাহ যিনি এক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি। সুতরাং আল্লাহ হলেন একজন প্রতাপশালী ও কর্তৃত্বপরায়ণ সম্রাট, যাঁর সাথে তাঁর সৃষ্টি ও প্রজাদের কোনো সম্পর্ক নেই, যদিও ইসলাম তাদের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে» «২»।

অতঃপর গ্লোভার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্বের সমালোচনা করে বলেন: «মুহাম্মাদ ছিলেন একজন একনায়ক শাসক, এবং তিনি বিশ্বাস করতেন যে জনগণের ওপর সম্রাটের অধিকার হলো তারা তাঁর ইচ্ছা অনুসরণ করবে এবং তিনি যা চান তা-ই করবেন। তিনি এই চিন্তাধারার ওপরই স্বভাবগতভাবে গড়ে উঠেছিলেন। তাই যে ব্যক্তিই তাঁর ইচ্ছার সাথে একমত হতো না, তার ঘাড় কেটে ফেলতে তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন। আর তাঁর আরব সেনাবাহিনী ভীতি প্রদর্শন ও বিজয়ের জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল। তাঁদের রাসূল তাঁদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যারা তাঁদের অনুসরণ করতে অস্বীকার করবে এবং তাঁদের পথ থেকে দূরে থাকবে, তাদের যেন তারা হত্যা করে» «৩»।

এবং ১৭৫২ সালে কুরআনের অনুবাদকারী স্যাভারি বিশ্বাস করেন যে, «মুহাম্মাদ মানুষকে এই আকিদা গ্রহণে প্ররোচিত করার জন্য ঐশ্বরিক ক্ষমতার আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখান থেকেই তিনি আল্লাহর রাসূল হিসেবে নিজের ওপর ঈমান আনার দাবি করেছিলেন, আর এটি ছিল একটি মিথ্যা বিশ্বাস যা বুদ্ধিগত প্রয়োজনের তাগিদে তৈরি করা হয়েছিল … » «৪»।

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তী টীকা।

(২) পূর্বোক্ত পাঠসমূহ থেকে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য দেখুন: ডক্টর মুহাম্মদ আল-বাহী: 'আল-ফিকর আল-ইসলামি আল-হাদিস ওয়া সিলাতুহু বিল-ইস্তিমার আল-গারবি', পৃষ্ঠা ৫০৭-৫২১; লিওপোল্ড ওয়েইস (মুহাম্মাদ আসাদ): 'ইসলাম অ্যাট দ্য ক্রসরোডস', পৃষ্ঠা ৬০ এবং পরবর্তী; উমর ফাররুখ ও মুস্তাফা আল-খালিদি: 'আত-তাবশির ওয়াল-ইস্তিমার ফিল-বিলাদ আল-আরাবিয়্যাহ'; তাওফিক আল-হাকিম: 'তাহতা শামসিল ফিকর', পৃষ্ঠা ১৮ এবং পরবর্তী; কুয়েতি 'আল-বালাগ' পত্রিকা, সংখ্যা ৫৮, পৃষ্ঠা ১২; ভারতীয় 'আল-বাস আল-ইসলামি' পত্রিকা, সংখ্যা ৯, অষ্টম বর্ষ।

(৩) পূর্ববর্তী টীকা দেখুন।

(৪) ২ নম্বর টীকা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وهذا يكفي. لقد جاءت هذه الأقوال إفرازا طبيعيا للصراع المحتدم بين الإسلام والصليبيّة. وقد كان للنتائج التي تمخّضت عنها الحروب الصليبيّة طعم مر في حلوق الغربيّين ما ذاقوه أبدا.. إن ليوبولد فايس «محمد أسد» يتحدث عن التجربة التي استحالت معضلة في مناهجهم يصعب تجاوزها فيقول: «فيما يتعلق بالإسلام، فإن الاحتقار التقليديّ أخذ يتسلّل في شكل تحزّب غير معقول إلى بحوثهم العلمية، وبقي هذا الخليج الذي حفره التاريخ بين أوربة والعالم الإسلامي (منذ الحروب الصليبيّة) غير معقود فوقه بجسر، ثم أصبح احتقار الإسلام جزآ أساسيا من التفكير الأوربي. والواقع أن المستشرقين الأوّلين في الأعصر الحديثة كانوا مبشّرين نصارى يعملون في البلاد الإسلامية، وكانت الصورة المشوّهة التي اصطنعوها من تعاليم الإسلام وتاريخه مدبّرة على أساس يضمن التأثير في موقف الأوربيّين من الوثنيّين. غير أن هذا الالتواء العقلي قد استمر مع أن علوم الاستشراق قد تحررت من نفوذ التبشير.. ولم يبق لعلوم الاستشراق هذه عذر من حميّة دينيّة جاهليّة تسيء توجيهها. أمّا تحامل المستشرقين على الإسلام فغريزة موروثة، وخاصة طبيعية تقوم على المؤثرات التي خلفتها الحروب الصليبية، بكل ما لها من ذيول، في عقول الأوربيّين «1» .

ليست الحروب الصليبيّة وحدها، لكنه الإسلام نفسه. إن الخطر الحقيقيّ، كما يقول لورنس براون في كتاب أصدره عام (1944 م) : «كامن في نظامه، وفي قدرته على التوسع والإخضاع، وفي حيويّته.. إنه الجدار الوحيد في وجه الاستعمار الأوربي» «2» .

ونقرأ في مجلة العالم الإسلامي (عدد حزيران سنة 1930 م) : «إن شيئا من الخوف يجب أن يسيطر على العالم الغربيّ. ولهذا الخوف أسباب؛

--------------------------------------------

(1) انظر الهامش رقم (2) في الصفحة السابقة.

(2) انظر الهامش رقم (2) في الصفحة السابقة.
এবং এটিই যথেষ্ট। এই উক্তিগুলো ইসলাম ও ক্রুসেডবাদের মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের একটি স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এসেছে। ক্রুসেড যুদ্ধের ফলাফলস্বরূপ যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তা পশ্চিমাদের কণ্ঠে এমন এক তিক্ত স্বাদ তৈরি করেছে যা তারা এর আগে কখনো আস্বাদন করেনি। লিওপোল্ড ওয়েইস "মুহাম্মদ আসাদ" সেই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলছেন যা তাদের গবেষণা পদ্ধতিগুলোতে এমন এক জটিলতায় পরিণত হয়েছে যা কাটিয়ে ওঠা কঠিন; তিনি বলেন: "ইসলামের ক্ষেত্রে, প্রথাগত অবজ্ঞা একটি অযৌক্তিক পক্ষপাতের রূপ নিয়ে তাদের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অনুপ্রবেশ করতে শুরু করেছে। ইতিহাসের মাধ্যমে ইউরোপ ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে (ক্রুসেড যুদ্ধের সময় থেকে) যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে, তার ওপর কোনো সেতুবন্ধন তৈরি করা হয়নি। অতঃপর ইসলামের প্রতি এই অবজ্ঞা ইউরোপীয় চিন্তাধারার একটি মৌলিক অংশে পরিণত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, আধুনিক যুগের প্রাথমিক প্রাচ্যবিদরা ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক যারা মুসলিম দেশগুলোতে কর্মরত ছিলেন। ইসলামের শিক্ষা ও ইতিহাস সম্পর্কে তারা যে বিকৃত চিত্র তৈরি করেছিলেন, তা এমন এক ভিত্তির ওপর সাজানো হয়েছিল যা পৌত্তলিকদের প্রতি ইউরোপীয়দের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করার নিশ্চয়তা দেয়। তবে প্রাচ্যবিদ্যা ধর্মপ্রচারের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই মানসিক বক্রতা অব্যাহত রয়েছে। এখন প্রাচ্যবিদ্যার কাছে এমন কোনো জাহেলি ধর্মীয় গোঁড়ামির অজুহাত নেই যা তাকে ভুল পথে পরিচালিত করবে। ইসলামের প্রতি প্রাচ্যবিদদের এই বিদ্বেষ মূলত একটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রবৃত্তি এবং একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, যা ইউরোপীয়দের মনে ক্রুসেড যুদ্ধের প্রভাব ও এর সকল অনুষঙ্গের ফলে তৈরি হয়েছে (১)।"

কেবল ক্রুসেড যুদ্ধই নয়, বরং স্বয়ং ইসলামই (তাদের আশঙ্কার কারণ)। লরেন্স ব্রাউন ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত তার একটি বইয়ে যেমনটি বলেছেন: "আসল বিপদ নিহিত রয়েছে ইসলামের নিজস্ব ব্যবস্থার মধ্যে, এর বিস্তার ও বশীভূত করার ক্ষমতার মধ্যে এবং এর প্রাণশক্তির মধ্যে। ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের সামনে এটিই একমাত্র প্রাচীর (২)।"

আমরা 'মুসলিম ওয়ার্ল্ড' সাময়িকীতে (জুন ১৯৩০ সংখ্যা) পড়ি: "পশ্চিমা বিশ্বের ওপর কিছুটা ভীতি আধিপত্য বিস্তার করা উচিত। আর এই ভয়ের পেছনে কিছু কারণ রয়েছে;

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার ২ নম্বর টীকা দেখুন।

(২) পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার ২ নম্বর টীকা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
منها: أن الإسلام منذ أن ظهر في مكة لم يضعف عدديا، بل كان دائما في ازدياد واتساع. ثم إن الإسلام ليس دينا فحسب، بل إن من أركانه الجهاد، ولم يتفق قط أن شعبا دخل في الإسلام ثم عاد نصرانيا» «1» .

والمستشرق الألماني بيكر يقولها بصراحة: «إن هناك عداء من النصرانيّة للإسلام بسبب أن الإسلام عندما انتشر في العصور الوسطى أقام سدا منيعا في وجه انتشار النصرانيّة، ثم امتد في البلاد التي كانت خاضعة لصولجانها» ‌‌«2» .

2

وفي موازاة هذا التيّار الكهنوتي المتعصّب الذي يفتقد أيّ قدر من الرغبة في التعرّف على حقيقة الإسلام وشخصيّة النبي عليه الصلاة والسلام، وفي أعقاب عصر الإصلاح الدينيّ، وفيما بعد خلال عصر التنوّر وانفصال الدين عن الدولة، وحتى القرن العشرين، توالت على المسرح أجيال من المعنيّين بالدراسات الإسلامية عامة، وسيرة رسولنا صلى الله عليه وسلم خاصّة، وقد عرف هؤلاء بالمستشرقين؛ كان بعضهم ينتمي إلى الكنيسة ويرتدي ملابس الكهنوت، ولكن كان أغلبهم مدنيا ولا تربطه بالكنيسة رابطة وظيفية.. وكان يتوقع أن تخف حملاتهم على رسولنا صلى الله عليه وسلم، وأن تتغيّر نظرتهم في تعاملهم مع شخصيته وتاريخه وتعاليمه..

نعم، لقد حدث شيء من هذا، ولكنه ما تعدى التشذيب والتهذيب، وتجاوز كلمات الفحش والسباب، أما المنهج فقد ظلّ هو المنهج: جهلا بتركيب السيرة، وتعصّبا في التعامل معها، وتحليلات واستنتاجات ما أنزل الله

--------------------------------------------

(1) انظر الهامش رقم (2) في الصفحة 21.

(2) انظر الهامش رقم (2) في الصفحة 21.
এর মধ্যে একটি হলো: ইসলাম যখন থেকে মক্কায় আবির্ভূত হয়েছে, তখন থেকেই এর সংখ্যা কখনও কমেনি, বরং এটি সর্বদা বৃদ্ধি এবং প্রসারের মধ্যেই ছিল। তদুপরি ইসলাম কেবল একটি ধর্মই নয়, বরং জিহাদ এর অন্যতম একটি স্তম্ভ; এবং এমনটি কখনও ঘটেনি যে কোনো জাতি ইসলামে প্রবেশ করার পর পুনরায় খ্রিষ্টধর্মে ফিরে গেছে। «১» .

আর জার্মান প্রাচ্যবিদ বেকার স্পষ্টভাবে বলেছেন: «ইসলামের প্রতি খ্রিষ্টধর্মের শত্রুতা রয়েছে, কারণ মধ্যযুগে যখন ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন তা খ্রিষ্টধর্মের প্রসারের পথে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর তৈরি করেছিল এবং এরপর এটি এমন সব দেশে বিস্তৃত হয়েছিল যা আগে খ্রিষ্টশক্তির আধিপত্যের অধীনে ছিল» ‌‌«২» .

২

এই গোঁড়া যাজকতান্ত্রিক ধারার সমান্তরালে—যাদের মধ্যে ইসলামের সত্যতা এবং নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না—ধর্মীয় সংস্কারের যুগের পরে, এবং পরবর্তীতে আলোকায়ন যুগ ও রাষ্ট্র থেকে ধর্ম পৃথকীকরণের সময়ে, এমনকি বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত, মঞ্চে একের পর এক এমন প্রজন্মের আগমন ঘটে যারা সাধারণ ইসলামি শিক্ষা এবং বিশেষভাবে আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত নিয়ে আগ্রহী ছিলেন। এরা প্রাচ্যবিদ হিসেবে পরিচিত। তাদের কেউ কেউ গির্জার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং যাজকীয় পোশাক পরতেন, তবে তাদের অধিকাংশই ছিলেন সাধারণ নাগরিক এবং গির্জার সাথে তাদের কোনো পেশাগত সম্পর্ক ছিল না। আশা করা হয়েছিল যে আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণগুলো কিছুটা প্রশমিত হবে এবং তাঁর ব্যক্তিত্ব, ইতিহাস ও শিক্ষার ব্যাপারে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে...

হ্যাঁ, এমন কিছু ঘটেছিল ঠিকই, কিন্তু তা কেবল মার্জিতকরণ ও সংস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল এবং অশ্লীল শব্দ ও গালিগালাজ পরিহার করার মধ্যেই তা সীমিত ছিল। কিন্তু কর্মপদ্ধতির ক্ষেত্রে তা আগের মতোই রয়ে গেছে: সীরাতের গঠন সম্পর্কে অজ্ঞতা, এটি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে গোঁড়ামি এবং এমন সব বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেননি...

--------------------------------------------

(১) ২১ নম্বর পৃষ্ঠার ২ নম্বর টীকা দেখুন।

(২) ২১ নম্বর পৃষ্ঠার ২ নম্বর টীকা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
بها من سلطان، يؤكدها الواحد منهم المرّة تلو المرّة، ويجتمع القوم عليها حتى لتكاد تغدو عندهم يقينا من اليقين على الرغم من أنها بنيت أساسا على الوهم الذي تستحيل معه رؤية الحقائق، بحجمها الطبيعي، وعلى الرغم من أنها انبثقت عن زاوية رؤية ضيّقة مترعة بالتعصّب، ونظر إليها عبر منظار قد دخّن عليه سلفا، وعلى الرغم من أنها في أحسن الأحوال، قد بنيت على شواهد تاريخية ولكنها ليست- بحال- الشواهد المتواترة ذات الثقل، وإنما هي الشاذ الغريب الذي يتشبثون به لكونه يشبع في نفوسهم وعقولهم حاجة.

وعموما فإننا نستطيع أن نضع أيدينا على عدد من الأخطاء والثغرات المنهجيّة لهذه البحوث الاستشراقيّة، ونشير هنا، على وجه التحديد، إلى ثلاث من هذه الثغرات:

 

‌‌أولا: المبالغة في الشكّ، والافتراض، والنفي الكيفيّ، واعتماد الضعيف الشاذّ:

يكاد يكون هذا الملمح الأساسيّ في مناهج المستشرقين قاسما مشتركا أعظم بينهم جميعا.. إنهم يمضون مع شكوكهم إلى المدى، ويطرحون افتراضات لا رصيد لها من الواقع التاريخيّ، بل إنهم ينفون العديد من الروايات، لهذا السبب أو ذاك؛ بينما نجدهم يتشبّثون- في المقابل- بكل ما هو ضعيف شاذ.. «لقد غالوا في كتاباتهم في السيرة النبويّة، وأجهدوا أنفسهم في إثارة الشكوك (في وقائعها) ، وقد أثاروا الشك حتى في اسم الرسول صلى الله عليه وسلم، ولو تمكّنوا لأثاروا الشك حتى في وجوده، ولكنهم مهما قالوا في نسبة التاريخ الصحيح في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم فإن سيرته هي أوضح وأطول سيرة نعرفها بين سير جميع الرسل والأنبياء» «1» .

ويشير درمنغهم إلى هذه المسألة فيقول: «من المؤسف حقا أن غالى بعض هؤلاء المتخصّصين- من أمثال: موير ومرغوليوث ونولدكه وشبرنجر

--------------------------------------------

(1) د. جواد علي: (تاريخ العرب في الإسلام) : جزء 1 ص 9- 11.
যার সপক্ষে কোনো শক্তিশালী প্রমাণ নেই, তাদের প্রত্যেকে এটি বারবার জোরালোভাবে ব্যক্ত করে এবং এই গোষ্ঠীর সবাই এর ওপর এমনভাবে একমত হয় যে, এটি তাদের কাছে একটি সুনিশ্চিত সত্যে পরিণত হতে থাকে; যদিও এর ভিত্তি মূলত এমন এক বিভ্রমের ওপর স্থাপিত যার মাধ্যমে প্রকৃত সত্যকে তার স্বাভাবিক অবয়বে দেখা অসম্ভব। তদুপরি এটি এমন এক সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উদ্ভূত যা গোঁড়ামিতে পরিপূর্ণ এবং একে দেখা হয়েছে এমন এক চশমা দিয়ে যা আগে থেকেই ধোঁয়াটে হয়ে আছে। সর্বাপেক্ষা ভালো অবস্থায় এগুলো কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলো কোনোভাবেই শক্তিশালী মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন জনশ্রুতিসম্পন্ন) কোনো প্রমাণ নয়, বরং এগুলো হলো কিছু বিরল ও অপরিচিত বর্ণনা যা তারা আঁকড়ে ধরে থাকে, কারণ এগুলো তাদের মনে ও মগজে কোনো বিশেষ চাহিদাকে চরিতার্থ করে।

সামগ্রিকভাবে আমরা এই প্রাচ্যবাদী গবেষণাসমূহের বেশ কিছু পদ্ধতিগত ভুল ও ত্রুটি চিহ্নিত করতে পারি। আমরা এখানে সুনির্দিষ্টভাবে এই ত্রুটিগুলোর মধ্য থেকে তিনটির উল্লেখ করছি:

 

‌‌প্রথমত: সন্দেহ, অনুমান ও খেয়ালখুশিমতো অস্বীকারের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন এবং দুর্বল ও বিরল বর্ণনার ওপর নির্ভরতা:

প্রাচ্যবিদদের কর্মপদ্ধতির এই মৌলিক বৈশিষ্ট্যটি সম্ভবত তাদের সবার মধ্যেই ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। তারা তাদের সন্দেহের পেছনে চূড়ান্ত সীমা পর্যন্ত ছুটে চলে এবং এমন সব কাল্পনিক অনুমান তুলে ধরে যার ঐতিহাসিক বাস্তবতার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। বরং আমরা দেখি যে, তারা নানা অজুহাতে অনেক বর্ণনাকে অস্বীকার করে, অথচ এর বিপরীতে তারা সকল দুর্বল ও বিরল বর্ণনাকে আঁকড়ে ধরে। "তারা রাসূলের সীরাত বিষয়ক লেখনিতে অতিরঞ্জন করেছে এবং সীরাতের ঘটনাবলীতে সন্দেহ সৃষ্টি করার জন্য নিজেদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়েছে। এমনকি তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম নিয়ে পর্যন্ত সন্দেহ পোষণ করেছে; আর যদি তারা সক্ষম হতো তবে তাঁর অস্তিত্ব নিয়েও সন্দেহ তুলত। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সيرةর সঠিক ইতিহাসের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে তারা যা-ই বলুক না কেন, তাঁর সীরাত হলো সমস্ত রাসূল ও নবীদের সীরাতের মধ্যে আমাদের জানামতে সবচেয়ে স্পষ্ট ও দীর্ঘ সيرة।" (১)

ডারমেনগাম এই প্রসঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন: "এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই বিশেষজ্ঞগণের মধ্যে কেউ কেউ—যেমন: মুইর, মারগোলিউথ, নোলডেক এবং স্প্রেঞ্জার—অতিরঞ্জন করেছেন..."

--------------------------------------------

(১) ড. জাওয়াদ আলী: (তারিখুল আরাব ফিল ইসলাম/ইসলামে আরবদের ইতিহাস): খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৯-১১।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ودوزي وكيتاني ومارسين وغريم وغولد زيهر وغود فروا وغيرهم- في النقد أحيانا، فلم تزل كتبهم عامل هدم على الخصوص، ولا تزال النتائج التي انتهى إليها المستشرقون سلبية ناقصة ولن تقوم سيرة على النفي، وليس من مقاصد كتابي أن يقوم على سلسلة من المجادلات المتناقضة.. ومن دواعي الأسف أن كان الأب لامانس- الذي هو من أفضل المستشرقين المعاصرين من أشدّهم تعصّبا، وإنه شوّه كتبه الرائعة الدقيقة وأفسدها بكرهه للإسلام ونبيّ الإسلام، فعند هذا العالم اليسوعي أنّ الحديث إذا وافق القرآن كان منقولا عن القرآن؛ فلا أدري كيف يمكن تأليف التاريخ إذا اقتضى تطابق الدليلين تهادمهما بحكم الضرورة، بدلا من أن يؤكّد أحدهما الآخر» «1» .

إنّ هذا يقودنا إلى موقف بعض المستشرقين من القرآن الكريم كمصدر أساسيّ من مصادر السيرة، وذلك أن اعتماد القرآن الكريم في هذا المجال يمكن أن يعدّ سلاحا ذا حدّين، ويتمثّل الحدّ السلبيّ بنفي الكثير من أحداث السيرة ما دامت لم ترد في القرآن الكريم، وكأن القرآن كتاب تاريخي خاص بتفاصيل حياة محمد صلى الله عليه وسلم. وهذا مكّنهم من عملية انتقاء مغرضة ذات طابع هدمي معاكس، وهي التشكيك، أو نفي كل رواية لم ترد مؤيداتها في القرآن، ولا سيّما إذا كان في هذه الرواية تمجيد للنبي صلى الله عليه وسلم، أو كان في نفيها تأكيد لإحدى وجهات النظر الاستشراقية، فمثلا نجد شبرنكر يرى أن اسم النبي صلى الله عليه وسلم ورد في أربع سور من القرآن؛ هي: آل عمران والأحزاب ومحمد والفتح، وكلها سور مدنيّة، ومن ثم فإن لفظة (محمد) لم تكن اسم علم للرسول قبل الهجرة، وإنما اتخذه بتأثير قراءته للإنجيل واتصاله بالنصارى «2» .

--------------------------------------------

(1) حياة محمد، المقدمة، ص 8- 11.

(2) انظر: جواد علي، تاريخ العرب: 1/ 78 وهوامشها.
দোজি, কায়তানি, মার্সিন, গ্রিম, গোল্ডজিহার, গডফ্রোয়া এবং অন্যদের মাঝে মাঝে সমালোচনার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তাদের বইগুলো বিশেষভাবে ধ্বংসাত্মক উপাদান হিসেবেই রয়ে গেছে। প্রাচ্যবিদরা যে সকল সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা নেতিবাচক ও অপূর্ণ এবং কোনো সীরাত অস্বীকারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আমার বইয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য এটি নয় যে, তা একগুচ্ছ পরস্পরবিরোধী বিতর্কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকুক। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো ফাদার ল্যামেন্স—যিনি সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ প্রাচ্যবিদদের একজন—ছিলেন অত্যন্ত গোঁড়া। তিনি তার চমৎকার ও সূক্ষ্ম গ্রন্থগুলোকে ইসলাম এবং ইসলামের নবীর প্রতি বিদ্বেষের দ্বারা বিকৃত ও কলুষিত করেছেন। এই জেসুইট পণ্ডিতের ধারণা হলো, যদি কোনো হাদিস কুরআনের সাথে মিলে যায়, তবে তা কুরআন থেকেই গৃহীত হয়েছে। আমি জানি না ইতিহাস রচনা করা কীভাবে সম্ভব যদি প্রমাণের সামঞ্জস্যতা তাদের একে অপরকে সমর্থনের পরিবর্তে অনিবার্যভাবে একে অপরকে নাকচ করে দেয়। (১)

এটি আমাদের সীরাতের মৌলিক উৎস হিসেবে পবিত্র কুরআনের প্রতি কিছু প্রাচ্যবিদের দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নিয়ে যায়। সীরাতের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের ওপর নির্ভর করাকে একটি দুধারী তলোয়ার হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এর নেতিবাচক দিকটি সীরাতের অনেক ঘটনাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে প্রকাশ পায় যেহেতু সেগুলো কুরআনে আসেনি; যেন কুরআন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনের খুঁটিনাটি বর্ণনার জন্য কোনো বিশেষ ইতিহাস গ্রন্থ। এটি তাদের একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ধ্বংসাত্মক বাছাই প্রক্রিয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, যা হলো সংশয় সৃষ্টি করা অথবা এমন প্রতিটি বর্ণনাকে অস্বীকার করা যার সপক্ষে কুরআনে কোনো সমর্থন নেই, বিশেষ করে যদি সেই বর্ণনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রশংসা থাকে অথবা তা অস্বীকার করার মাধ্যমে প্রাচ্যবিদদের কোনো একটি মতবাদের পুষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা দেখি স্প্রেঞ্জার মনে করেন যে, নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাম কুরআনের মাত্র চারটি সূরায় এসেছে; সেগুলো হলো: আল-ইমরান, আল-আহজাব, মুহাম্মদ এবং আল-ফাতহ। এগুলোর সবকটিই মাদানী সূরা। সুতরাং (মুহাম্মদ) শব্দটি হিজরতের পূর্বে রাসূলের নাম ছিল না, বরং তিনি ইঞ্জিল পাঠ এবং খ্রিস্টানদের সাথে সম্পর্কের প্রভাবে এটি গ্রহণ করেছিলেন। (২)

--------------------------------------------

(১) হায়াতে মুহাম্মদ, ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৮-১১।

(২) দেখুন: জাওয়াদ আলী, তারিখুল আরব: ১/ ৭৮ এবং এর টীকাগুলো।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقد يتوجب أن نسأل شبرنكر هنا: إذا كان النبي صلى الله عليه وسلم قد التقط اسم (محمد) من خلال قراآته لنبوآت الإنجيل، فأين ذهب- إذن- (محمد) الحقيقي الذي بشر به العهدان القديم والجديد؟!

هنالك مثل آخر: إن إسرائيل ولفنسون يشير، بصدد مهاجمة يهود بني النضير، إلى أنّ مؤرخي العرب يذكرون سببا آخر لإعلان الحرب على هذه الطائفة اليهودية، ذلك هو محاولتهم اغتيال الرسول صلى الله عليه وسلم، (لكن المستشرقين يقول ولفنسون- ينكرون صحة هذه الرواية، ويستدلون على كذبها بعدم وجود ذكر لها في سورة الحشر التي نزلت بعد إجلاء بني النضير) «1» .

إننا في مجال التشكيك والنفي الاعتباطي لا بدّ أن نذكر العبارة التي قالها (مونتغمري وات) - موضوع هذه الدراسة- بهذا الصدد: «إذا أردنا أن نصحّح الأغلاط المكتسبة من الماضي بصدد محمد، فيجب علينا في كل حالة من الأحوال التي لا يقوم الدليل القاطع على ضدها، أن نتمسّك بصلابة بصدقه، ويجب ألاننسى أيضا أن الدليل القاطع يتطلب لقبوله أكثر من كونه ممكنا، وأنه في مثل هذا الموضوع يصعب الحصول عليه «2» .

ونحن نستطيع أن نضع أيدينا على عشرات بل مئات من الشواهد على النفي الكيفي الذي مارسه المستشرقون، وبخاصة أجيالهم السابقة، إزاء وقائع السيرة؛ فبروكلمان- على سبيل المثال- لا يشير إلى دور اليهود في تأليب الأحزاب على المدينة، ولا إلى نقض بني قريظة عهدها مع الرسول صلى الله عليه وسلم في أشد ساعات محنته، لكنه يقول: «ثم هاجم المسلمون بني قريظة الذين كان سلوكهم غامضا على كل حال» «3» ، ويتغاضى إسرائيل ولفنسون عن دور نعيم بن مسعود في معركة الخندق كسبب في انعدام الثقة بين المشركين

--------------------------------------------

(1) تاريخ اليهود في بلاد العرب في الجاهلية وصدر الإسلام، ص 135- 137.

(2) محمد في مكة، ص 94.

(3) تاريخ الشعوب الإسلامية، ص 53- 54.
এবং এখানে আমাদের স্প্রেঙ্গারকে জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন হতে পারে: যদি নবী (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইঞ্জিলের ভবিষ্যদ্বাণী পাঠের মাধ্যমে 'মুহাম্মদ' নামটিকে গ্রহণ করে থাকেন, তবে সেই প্রকৃত 'মুহাম্মদ' কোথায় গেলেন—যার সুসংবাদ পুরাতন ও নতুন নিয়মে দেওয়া হয়েছিল?!

আরেকটি উদাহরণ রয়েছে: ইসরায়েল উলফেনসন বনু নাদির ইহুদিদের আক্রমণের প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন যে, আরব ঐতিহাসিকগণ এই ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার আরেকটি কারণ উল্লেখ করেন, তা হলো রাসূল (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হত্যার জন্য তাদের ষড়যন্ত্র। (তবে উলফেনসন বলেন—প্রাচ্যবিদগণ এই বর্ণনার সত্যতা অস্বীকার করেন এবং বনু নাদিরের বহিষ্কারের পর অবতীর্ণ সূরা আল-হাশরে এর কোনো উল্লেখ না থাকাকে এর মিথ্যা হওয়ার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন) «১»।

সন্দেহ ও যথেচ্ছ অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই মন্টগোমারি ওয়াট—যিনি এই পর্যালোচনার বিষয়বস্তু—তার এই প্রসঙ্গে বলা উক্তিটি উল্লেখ করতে হবে: “যদি আমরা মুহাম্মদ সম্পর্কে অতীত থেকে অর্জিত ভুলগুলো সংশোধন করতে চাই, তবে যে সকল ক্ষেত্রে বিপরীত কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই, সেখানে আমাদের অবশ্যই দৃঢ়ভাবে তাঁর সততাকে আঁকড়ে ধরতে হবে। আমাদের এটাও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, কোনো অকাট্য প্রমাণ গ্রহণের জন্য তা কেবল সম্ভাব্য হওয়ার চেয়েও বেশি কিছুর দাবি রাখে এবং এই ধরনের বিষয়ে তা লাভ করা কঠিন” «২»।

আমরা সীরাতের ঘটনাবলির প্রতি প্রাচ্যবিদদের—বিশেষ করে তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের—পক্ষপাতদুষ্ট অস্বীকৃতির দশ দশটি নয় বরং শত শত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, ব্রোকলম্যান মদিনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোত্রকে প্ররোচিত করার ক্ষেত্রে ইহুদিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেননি, এমনকি চরম সংকটের মুহূর্তে রাসূল (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বনু কুরাইজার চুক্তি ভঙ্গের কথাও উল্লেখ করেননি। বরং তিনি বলেন: “অতঃপর মুসলিমরা বনু কুরাইজাকে আক্রমণ করে, যাদের আচরণ সব অবস্থাতেই রহস্যজনক ছিল” «৩»। এবং ইসরায়েল উলফেনসন খন্দকের যুদ্ধে মুশরিকদের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টির কারণ হিসেবে নুয়াইম ইবনে মাসউদের ভূমিকাকে উপেক্ষা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) জাহেলিয়াত ও ইসলামের সূচনালগ্নে আরব ভূখণ্ডে ইহুদিদের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ১৩৫-১৩৭।

(২) মক্কায় মুহাম্মদ, পৃষ্ঠা ৯৪।

(৩) ইসলামি জাতিসমূহের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ৫৩-৫৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
واليهود «1» ، ولعله يريد أن يوحي بذلك أن اليهود لا يمكن أن يخدعوا!

ليس الشكّ والنفي الاعتباطيّ وحدهما، ولكنه الاعتماد على الروايات الضعيفة الشاذّة التي قد لا تصمد أمام النقد: «لقد أخذ المستشرقون- كما يقول الدكتور جواد علي- بالخبر الضعيف في بعض الأحيان وحكموا بموجبه، واستعانوا بالشاذ والغريب وقدموه على المعروف المشهور. استعانوا بالشاذ ولو كان متأخّرا، أو كان من النوع الذي استغربه النقدة وأشاروا إلى نشوزه، تعمدوا ذلك لأن هذا الشاذ هو الأداة الوحيدة في إثارة الشكّ» «2» .

 

‌‌ثانيا: إسقاط الرؤية الوضعية، العلمانيّة، والتأثيرات البيئيّة المعاصرة على الوقائع التاريخيّة:

إنه من المتعذّر بل من المستحيل، كما يؤكّد آتيين دينييه «أن يتجرد المستشرقون عن عواطفهم وبيئتهم ونزعاتهم المختلفة. وأنهم- لذلك- قد بلغ تحريفهم لسيرة النبي والصحابة مبلغا يخشى على صورتها الحقيقية من شدّة التحريف فيها، وبرغم ما يزعمون من اتّباعهم لأساليب النقد البريئة ولقوانين البحث العلمي الجاد؛ فإننا نجد- من خلال كتاباتهم- محمدا يتحدّث بلهجة ألمانيّة إذا كان المؤلف ألمانيا، وبلهجة إيطالية إذا كان الكاتب إيطاليا.. وهكذا تتغير صورة محمد بتغير جنسية الكاتب! وإذا بحثنا في هذه السيرة عن الصورة الصحيحة فإننا لا نكاد نجد لها من أثر.

إن المستشرقين يقدمون لنا صورا خيالية هي أبعد ما تكون عن الحقيقة، إنها أبعد عن الحقيقة من أشخاص القصص التاريخية التي يؤلفها أمثال (وولتر سكوت) و (إسكندر ديماس) ، وذلك أن هؤلاء يصوّرون أشخاصا من أبناء قومهم، فليس عليهم إلا أن يحسبوا حساب اختلاف الأزمنة، أمّا المستشرقون

--------------------------------------------

(1) تاريخ اليهود في بلاد العرب، ص 145- 146.

(2) تاريخ العرب في الإسلام: 1/ 8- 11.
এবং ইহুদিরা «১», সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন যে ইহুদিদের প্রতারিত করা সম্ভব নয়!

শুধুমাত্র সন্দেহ এবং খামখেয়ালি অস্বীকারই নয়, বরং এমন দুর্বল ও বিচ্যুত (শায) বর্ণনাগুলোর ওপর নির্ভর করা যা সমালোচনার সামনে টিকতে পারে না: «প্রাচ্যবিদরা—ডক্টর জাওয়াদ আলী যেমনটি বলেছেন—কখনও কখনও দুর্বল সংবাদের ওপর ভিত্তি করেছেন এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, এবং তারা বিচ্যুত ও অদ্ভুত বর্ণনার সাহায্য নিয়ে সেগুলোকে সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তারা বিচ্যুত বর্ণনার সাহায্য নিয়েছেন যদিও তা পরবর্তী সময়ের হয়, অথবা এমন ধরনের হয় যা সমালোচকগণ অদ্ভুত বলে গণ্য করেছেন এবং এর অসংলগ্নতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন; তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করেছেন কারণ এই বিচ্যুত বর্ণনাটিই সন্দেহ জাগিয়ে তোলার একমাত্র হাতিয়ার» «২»।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ওপর মানবসৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমসাময়িক পরিবেশগত প্রভাবের প্রতিফলন:

এটি অত্যন্ত দুষ্কর বরং অসম্ভব, যেমনটি এতিয়েন দিনিয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, «প্রাচ্যবিদদের পক্ষে তাদের আবেগ, পরিবেশ এবং বিভিন্ন ঝোঁক থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। এবং এ কারণেই—নবী ও সাহাবীদের জীবনীর ক্ষেত্রে তাদের বিকৃতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিকৃতির তীব্রতায় এর প্রকৃত রূপ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা নিরপেক্ষ সমালোচনা পদ্ধতি এবং কঠোর বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিয়ম অনুসরণ করার দাবি করলেও আমরা তাদের লেখার মাধ্যমে দেখতে পাই—লেখক যদি জার্মান হন তবে মুহাম্মদ জার্মান উচ্চারণে কথা বলেন, আর লেখক ইতালীয় হলে ইতালীয় উচ্চারণে... এভাবে লেখকের জাতীয়তা পরিবর্তনের সাথে সাথে মুহাম্মদের প্রতিচ্ছবিও বদলে যায়! যদি আমরা এই জীবনীর মধ্যে সঠিক চিত্রটি খুঁজি, তবে আমরা তার কোনো চিহ্নই খুঁজে পাই না।

নিশ্চয়ই প্রাচ্যবিদরা আমাদের সামনে এমন কিছু কাল্পনিক চিত্র তুলে ধরেন যা সত্য থেকে অনেক দূরে। এগুলো (ওয়াল্টার স্কট) এবং (আলেকজান্ডার ডুমাস)-এর মতো লেখকদের রচিত ঐতিহাসিক গল্পের চরিত্রগুলোর চেয়েও সত্য থেকে অধিক দূরে; কারণ তারা তাদের নিজ জাতির লোকদের চিত্রায়িত করেন, তাই তাদের কেবল সময়ের পার্থক্যের বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। কিন্তু প্রাচ্যবিদগণ...

--------------------------------------------

(১) আরব ভূখণ্ডে ইহুদিদের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ১৪৫-১৪৬।

(২) ইসলামে আরবদের ইতিহাস: ১/ ৮-১১।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فلم يمكنهم أن يلبسوا الصورة الحقيقيّة لأشخاص السيرة؛ فصوّروهم حسب منطقهم الغربي، وخيالهم العصري..» ، وما يلبث دينييه أن يضرب مثلا معاكسا فيقول: «ما رأي الأوربيين في عالم من أقصى الصين يتناول المتناقضات التي تكثر عند مؤرّخي الفرنسيين ويمحّصها بمنطقه الشرقي البعيد، ثم يهدم قصة (الكاردينال ريشليو) كما نعرفها ليعيد إلينا (ريشيليو) آخر له عقلية كاهن من كهنة بكين وسماته وطبعه؟ إن مستشرقي العصر الحاضر قد انتهوا إلى مثل هذه النتيجة فيما يتعلق بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم. ويخيّل إلينا أننا نسمع محمدا يتحدّث في مؤلّفاتهم إما باللهجة الألمانيّة أو الإنكليزيّة أو الفرنسية ولا نتمثّله قط، بهذه العقليّة والطباع التي ألصقت به، يحدّث عربا باللغة العربية» ، وينتهي المستشرق الفرنسي- الذي أعلن إسلامه- إلى القول: «إن صورة نبيّنا الجليلة التي خلّفها المنقول الإسلامي تبدو أجلّ وأسمى إذا قيست بهذه الصورة المصطنعة الضئيلة التي صيغت في ظلال المكاتب بجهد جهيد» «1» .

ويشير الدكتور جواد علي إلى أن كيتاني، وهو من كبار المستشرقين الأوائل الذين كتبوا عن حياة الرسول صلى الله عليه وسلم، كان يعتمد منهجا معكوسا في البحث يذكّرنا بكثير من المختصّين الجدد في حقل التاريخ الإسلامي، والذين يعملون وفق منهج خاطئ من أساسه، إذ إنهم يبيّتون فكرة مسبقة ثم يجيئون إلى وقائع التاريخ لكي يستلّوا منها ما يؤيّد فكرتهم ويستبعد ما دون ذلك، فلقد كان كيتاني (ذا رأي وفكرة) وضع رأيه وفكرته في السيرة قبل الشروع في تدوينها فإذا شرع بها استعان بكلّ خبر من الأخبار ظفر به، ضعيفها وقويّها، وتمسّك بها كلّها ولا سيّما ما يلائم رأيه، ولم يبال في الخبر الضعيف بل قوّاه وسنده وعدّه حجّة، وبنى حكمه عليه، ومن يدري فلعلّه كان يعلم بسلاسل الكذب المشهورة والمعروفة عند العلماء، ولكنه عفا عنها وغضّ نظره عن أقوال أولئك العلماء فيها؛ لأنه صاحب فكرة يريد إثباتها بأية طريقة

--------------------------------------------

(1) محمد رسول الله، المقدمة، ص 27- 28، 43- 44.
সুতরাং সীরাতের মহান ব্যক্তিত্বদের প্রকৃত অবয়ব ফুটিয়ে তোলা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি; তাই তারা তাঁদেরকে চিত্রিত করেছে তাদের নিজস্ব পশ্চিমা যুক্তি এবং আধুনিক কল্পনাশক্তির আলোকে...» শীঘ্রই দিনি একটি বিপরীত উদাহরণ পেশ করে বলেন: «ইউরোপীয়রা সুদূর চীন দেশের এমন একজন পণ্ডিত সম্পর্কে কী ভাববেন, যিনি ফরাসি ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিদ্যমান অসংগতিগুলো গ্রহণ করেন এবং নিজের সুদূর প্রাচ্য দেশীয় যুক্তি দিয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করেন, তারপর আমাদের পরিচিত (কার্ডিনাল রিশেলিও)-র কাহিনীকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে আমাদের সামনে এমন এক নতুন (রিশেলিও)-কে উপস্থাপন করেন যার মানসিকতা, বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব বেইজিংয়ের কোনো পুরোহিতের মতো? বর্তমান যুগের প্রাচ্যবিদগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের ব্যাপারে ঠিক এই ধরনের ফলাফলটিতেই উপনীত হয়েছেন। আমাদের মনে হয় যে, আমরা যেন তাদের রচিত গ্রন্থগুলোতে মুহাম্মদকে জার্মান বা ইংরেজি অথবা ফরাসি টানে কথা বলতে শুনছি; অথচ আমরা কখনোই কল্পনা করতে পারি না যে, তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই মানসিকতা ও স্বভাব নিয়ে তিনি আরবদের সাথে আরবি ভাষায় কথা বলছেন।» ইসলাম গ্রহণকারী সেই ফরাসি প্রাচ্যবিদ এই বলে শেষ করেন: «ইসলামি ঐতিহ্যে সংরক্ষিত আমাদের নবীর যে মহান ভাবমূর্তি রয়েছে, তা অনেক বেশি মহিমান্বিত ও উচ্চতর প্রতীয়মান হয়, যখন একে গবেষণাকক্ষের অন্তরালে কঠোর পরিশ্রমে তৈরি করা এই কৃত্রিম ও নগণ্য চিত্রের সাথে তুলনা করা হয়।» «১»।

ডক্টর জাওয়াদ আলী উল্লেখ করেছেন যে, কায়েতানি—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন নিয়ে লেখা আদি যুগের অন্যতম প্রধান প্রাচ্যবিদ ছিলেন—গবেষণার ক্ষেত্রে এমন এক বিপরীত পদ্ধতি অবলম্বন করতেন যা আমাদের ইসলামি ইতিহাসের অনেক নতুন বিশেষজ্ঞের কথা মনে করিয়ে দেয়, যারা শুরু থেকেই একটি ভুল পদ্ধতি অনুযায়ী কাজ করেন; কেননা তারা আগে থেকেই একটি পূর্বনির্ধারিত ধারণা পোষণ করেন এবং তারপর ইতিহাসের ঘটনাবলির কাছে আসেন যাতে সেখান থেকে কেবল তাদের ধারণার স্বপক্ষে যা আছে তা সংগ্রহ করতে পারেন এবং অন্য সবকিছু বর্জন করতে পারেন। কেননা কায়েতানি ছিলেন (এক বিশেষ মত ও চিন্তার অধিকারী), তিনি সীরাত লিপিবদ্ধ করার কাজ শুরু করার আগেই তাঁর নিজস্ব মত ও চিন্তা সেখানে স্থাপন করেছিলেন। যখন তিনি লেখা শুরু করলেন, তখন তিনি হাতের নাগালে পাওয়া প্রতিটি সংবাদের সাহায্য নিলেন, চাই তা দুর্বল হোক বা শক্তিশালী, এবং সেগুলোর সব আঁকড়ে ধরলেন, বিশেষ করে যা তাঁর মতের অনুকূলে যায়। দুর্বল সংবাদের ব্যাপারে তিনি মোটেই ভ্রুক্ষেপ করেননি, বরং সেটিকে শক্তিশালী করেছেন, সমর্থন যুগিয়েছেন এবং একে দলিল হিসেবে গণ্য করে তার ওপর ভিত্তি করে নিজের সিদ্ধান্ত গড়েছেন। কে জানে, হয়তো তিনি আলেমদের নিকট সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ মিথ্যা বর্ণনার ধারাগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন, কিন্তু তিনি সেগুলোকে এড়িয়ে গেছেন এবং সে সম্পর্কে আলেমদের বক্তব্যের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেননি; কারণ তিনি ছিলেন এমন এক ধারণার প্রবক্তা যা তিনি যেকোনো উপায়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ, ভূমিকা, পৃষ্ঠা ২৭-২৮, ৪৩-৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
كانت، وكيف يتمكن من إثباتها وإظهارها وتدوينها إذا ترك تلك الروايات وعالجها معالجة نقد وجرح وتعديل على أساليب البحث الحديث» ؟ «1» .

وترد في ختام كتاب آتيين دينييه (الشرق كما يراه الغرب) بعض الآراء حول هذا المنهج حيث يقول: «لقد أصاب الدكتور سنوك هيرغرنجه بقوله:

(إن سيرة محمد الحديثة تدل على أن البحوث التاريخية مقضيّ عليها بالعقم إذا سخّرت لآية نظرية أو رأي سابق) . هذه حقيقة يجمل بمستشرقي العصر جميعا أن يضعوها نصب أعينهم؛ فإنها تشفيهم من داء الأحكام السابقة التي تكلّفهم من الجهود ما يجاوز حد الطاقة فيصلون إلى نتائج لا شكّ خاطئة.

فقد يحتاجون في تأييد رأي من الآراء إلى هدم بعض الأخبار وليس هذا بالأمر الهيّن، ثم إلى بناء أخبار تقوم مقام ما هدموا وهذا أمر لا ريب مستحيل. إن العالم في القرن العشرين يحتاج إلى معرفة كثير من العوامل الجوهرية كالزمن والبيئة والإقليم والعادات والحاجات والمطامح والميول..

إلى آخره، ولا سيّما إدراك تلك القوى الباطنة التي لا تقع تحت مقاييس المعقول والتي يعمل بتأثيرها الأفراد والجماعات» «2» .

وفضلا عن هذا نجد أن الطابع العلمانيّ الوضعيّ، والرؤية المحدودة للمناهج الغربيّة في تعاملها مع تأريخنا، أوقع عددا من المستشرقين في خطأ آخر؛ مفاده: أن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يكن يخطو خطوة واحدة وهو يعلم مسبقا ما الذي يليها، أي أن نشاطه كانت توحي به الظروف الراهنة ومتطلباتها ولوازمها، وأبرز مثل في هذا المجال ما ذكره فلهاوزن وعدد من رفاقه حول إقليميّة الحركة الإسلامية في عصرها المكّيّ، وأنها لم تنتقل إلى المرحلة العالمية- في العصر المدني- إلّا بعد أن أتاحت لها الظروف ذلك، ولم يكن الرسول صلى الله عليه وسلم ليفكر بذلك من قبل.

--------------------------------------------

(1) تاريخ العرب في الإسلام: 1/ 95.

(2) محمد رسول الله، المقدمة، ص 43- 44.
ছিল, এবং তিনি কীভাবে তা প্রমাণ করতে, প্রকাশ করতে এবং লিপিবদ্ধ করতে সক্ষম হবেন যদি তিনি সেই বর্ণনাগুলো ত্যাগ করেন এবং আধুনিক গবেষণার পদ্ধতি অনুযায়ী সেগুলোকে সমালোচনা ও জেরা-তাদিলের মাধ্যমে মূল্যায়ন করেন?» (১)।

এতিয়েন দিনিয়ের বই 'পাশ্চাত্যের দৃষ্টিতে প্রাচ্য' (দ্য ইস্ট অ্যাজ সিন বাই দ্য ওয়েস্ট)-এর শেষে এই পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু মতামত এসেছে যেখানে তিনি বলেন: «ডক্টর স্নুক হুরগ্রোনজে তার এই বক্তব্যে সঠিক ছিলেন:

(মুহাম্মাদের আধুনিক জীবনী এটিই প্রমাণ করে যে, ঐতিহাসিক গবেষণাগুলো যদি কোনো তত্ত্ব বা পূর্বনির্ধারিত মতামতের অধীনে পরিচালিত হয়, তবে তা নিষ্ফল হতে বাধ্য)। এটি এমন একটি সত্য যা বর্তমান যুগের সকল প্রাচ্যবিশারদের উচিত নিজেদের চোখের সামনে রাখা; কেননা এটি তাদের সেই পূর্বধারণা নামক ব্যাধি থেকে মুক্তি দেবে, যা তাদের সাধ্যাতীত পরিশ্রমে বাধ্য করে এবং শেষ পর্যন্ত তারা নিঃসন্দেহে ভুল ফলাফলে উপনীত হয়।

ইত্যাদি, বিশেষ করে সেই সব অভ্যন্তরীণ শক্তির উপলব্ধি যা যুক্তির মানদণ্ডে পড়ে না, অথচ যার প্রভাবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো পরিচালিত হয়» (২)।

এ ছাড়াও আমরা দেখতে পাই যে, ধর্মনিরপেক্ষ বস্তুনিষ্ঠ স্বভাব এবং আমাদের ইতিহাসের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে পশ্চিমা পদ্ধতির সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি অনেক প্রাচ্যবিশারদকে অন্য একটি ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত করেছে; যার সারমর্ম হলো: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতিটি পদক্ষেপের পরবর্তী ফলাফল সম্পর্কে আগে থেকে অবহিত ছিলেন না, অর্থাৎ তাঁর কর্মকাণ্ড তৎকালীন পরিস্থিতি এবং তার চাহিদা ও আবশ্যকতা দ্বারা প্রভাবিত ছিল। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো যা ওয়েলহাউসেন এবং তাঁর বেশ কয়েকজন সঙ্গী মক্কী যুগে ইসলামী আন্দোলনের আঞ্চলিকতা সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন—যে এটি মাদানী যুগে বৈশ্বিক পর্যায়ে উন্নীত হয়নি যতক্ষণ না পরিস্থিতি তাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে, আর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আগে এমনটি চিন্তাই করেননি।

--------------------------------------------

(১) ইসলামে আরবদের ইতিহাস: ১/ ৯৫।

(২) মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৪৩- ৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
وما قالوه حول اعتماد الرسول صلى الله عليه وسلم أسلوب (اللاعنف) في العصر المكّي، وتحوّله إلى القوة بعد أن شكّل دولة في المدينة وتجمّع حوله المقاتلون: «لقد كان في وسع محمد (يقول فلهاوزن) - من طريق عقيدة تتجاوز دائرة معتنقيها الدائرة التي ترسمها رابطة الدم- أن يحطّم رابطة الدم هذه؛ لأنها لم تكن بريئة من العصبيّة وضيقها، ولا كانت ذات صيغة خارجيّة عارضة. هذا هو الذي جعلها لا تتّسع لقبول عنصر غريب عنها، ولكن محمدا لم يرد ذلك، ومن الجائز أيضا أنه لم يكن يستطيع أن يتصوّر إمكان رابطة دينيّة في حدود غير حدود رابطة الدم» «1» .

ويرفض سير توماس أرنولد في كتابه (الدعوة إلى الإسلام) هذه الرؤية الخاطئة فيقول: «من الغريب أن ينكر بعض المؤرّخين أن الإسلام قد قصد به مؤسّسه في بادئ الأمر أن يكون دينا عالميا برغم هذه الآيات البينات.. «2»

ومن بينهم السير وليم موير إذ يقول: إن فكرة عالمية الرسالة قد جاءت فيما بعد. وإن هذه الفكرة على الرغم من كثرة الآيات والأحاديث التي تؤيدها، لم يفكّر فيها محمد نفسه، وعلى فرض أنه فكّر فيها فقد كانت الفكرة غامضة؛ فإن عالمه الذي كان يفكر فيه، إنما كان بلاد العرب، كما أن هذا الدين الجديد لم يهيّأ إلّا لها. وأن محمدا لم يوجه دعوته منذ بعث إلى أن مات إلّا للعرب دون غيرهم، وهكذا نرى أن نواة عالمية الإسلام قد غرست، ولكنها إذا كانت قد اختمرت ونمت بعد ذلك فإنما يرجع ذلك إلى الظروف والأحوال أكثر منها إلى الخطط والمناهج» «3» .

ويجيب أرنولد: «لم تكن رسالة الإسلام مقصورة على بلاد العرب، بل

--------------------------------------------

(1) الدولة العربية وسقوطها، ص 4.

(2) يستشهد أرنولد بالآيات التالية: سورة 36 آية 69- 70، سورة 21 آية 107، سورة 25 آية 1، سورة 24 آية 7، سورة 61 آية 9.. إلى آخره.

the caliphate ،pp. 43 -44 (3) وكايتاني آخر من يؤيد هذا الرأي.annali dell islam ،v. 323 -423 عن أرنولد: الدعوة إلى الإسلام، هامش 2 ص 49- 50.
মক্কী যুগে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের 'অহিংস' নীতি অবলম্বন এবং মদিনায় রাষ্ট্র গঠনের পর যোদ্ধারা সমবেত হলে শক্তিতে রূপান্তর সম্পর্কে তারা যা বলেছেন: "মুহাম্মাদের পক্ষে সম্ভব ছিল (ওয়েলহাউসেন বলেন) — এমন এক আকিদার মাধ্যমে যা তার অনুসারীদের রক্তের সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায় — এই রক্তের বন্ধন ছিন্ন করা; কারণ এটি গোত্রপ্রীতি ও এর সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত ছিল না, কিংবা এটি কেবল বাহ্যিক কোনো আকস্মিক বিষয় ছিল না। এটাই ছিল এমন কারণ যার ফলে এটি কোনো বহিরাগত উপাদান গ্রহণের অবকাশ রাখত না। কিন্তু মুহাম্মদ তা চাননি এবং এটাও সম্ভব যে, তিনি রক্তের সম্পর্কের সীমানার বাইরে কোনো ধর্মীয় সম্পর্কের সম্ভাবনা কল্পনা করতে পারেননি।" (১)

স্যার থমাস আর্নল্ড তার 'দ্য প্রিচিং অব ইসলাম' (ইসলামের দাওয়াত) গ্রন্থে এই ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাখ্যান করে বলেন: "এটা আশ্চর্যজনক যে, কিছু ঐতিহাসিক অস্বীকার করেন যে ইসলামকে তার প্রবর্তক শুরু থেকেই একটি বিশ্বজনীন ধর্ম হিসেবে উদ্দেশ্য করেছিলেন, অথচ এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ বিদ্যমান রয়েছে..." (২)

তাদের মধ্যে রয়েছেন স্যার উইলিয়াম মুইর, তিনি বলেন: "রিসালাতের বিশ্বজনীনতার ধারণাটি পরবর্তীতে এসেছে। এই ধারণার সমর্থনে অসংখ্য আয়াত ও হাদিস থাকা সত্ত্বেও মুহাম্মদ স্বয়ং এটি নিয়ে ভাবেননি। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তিনি এটি নিয়ে ভেবেছিলেন, তবে সেই ধারণাটি ছিল অস্পষ্ট; কারণ তার চিন্তার জগত ছিল কেবল আরব ভূখণ্ড এবং এই নতুন ধর্মটি কেবল তাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। মুহাম্মদ নবুয়ত প্রাপ্তি থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কেবল আরবদের উদ্দেশ্যেই দাওয়াত দিয়েছিলেন, অন্য কারো জন্য নয়। এভাবেই আমরা দেখি যে ইসলামের বিশ্বজনীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, তবে এটি যদি পরবর্তীতে বিকশিত ও বর্ধিত হয়ে থাকে, তবে তা পরিকল্পনা ও পদ্ধতির চেয়ে বরং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও অবস্থার কারণেই হয়েছে।" (৩)

আর্নল্ড উত্তর দেন: "ইসলামের দাওয়াত কেবল আরবের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং...

--------------------------------------------

(১) আদ-দাওলাতুল আরাবিয়্যাহ ওয়া সুকুতুহা (আরব রাষ্ট্র ও তার পতন), পৃষ্ঠা ৪।

(২) আর্নল্ড নিম্নোক্ত আয়াতগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেন: সূরা ৩৬ আয়াত ৬৯-৭০, সূরা ২১ আয়াত ১০৭, সূরা ২৫ আয়াত ১, সূরা ২৪ আয়াত ৭, সূরা ৬১ আয়াত ৯.. ইত্যাদি।

(৩) দ্য খিলাফত (The Caliphate), পৃষ্ঠা ৪৩-৪৪। কাইটানি সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি এই মতটিকে সমর্থন করেছেন। আন্নালি ডেল ইসলাম (Annali dell’Islam), খণ্ড ৩, ৩২৩-৪২৩; আর্নল্ডের 'দ্য প্রিচিং অব ইসলাম' হতে সংকলিত, টীকা ২, পৃষ্ঠা ৪৯-৫০।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
للعالم أجمع نصيب فيها، ولم يكن هناك غير إله واحد، كذلك لا يكون هناك غير دين واحد يدعى إليه الناس كافّة» «1» .

ولم يقف أرنولد وحده بمواجهة هذا الخطأ الواضح؛ إنما هناك كولدزيهر ونولدكه وسخاو الذي يؤكد: «إن الرسالة الإلهية ليست مقصورة على العرب، بل إن إرادة الله تشمل جميع المخلوقات، ومعنى ذلك خضوع الإنسانية كلّها خضوعا مطلقا. وقد كان لمحمد بوصفه رسولا من الله حق المطالبة بهذه الطاعة، وقد كان عليه أن يطالب بها، وهذا ما ظهر في أوّل الأمر جزآ لا ينفصل من جملة ما أراد تحقيقه من مبادئ» «2» .

ويرفض آرنولد الخطأ الآخر الذي يرى: «أن محمدا قد تحوّل إلى القوة بمجرّد أن واتته الظروف، وهو رأي قد صرّح به نقلا عن فلهاوزن بعض الباحثين، ولا سيّما ميور لدى حديثه عن غزوة بني قريظة» «3» .

إلّا أن آرنولد لم ينج من الوقوع في الخطأ نفسه عندما يقول: «كانت رغبة محمد ترمي إلى تأسيس دين جديد، وقد نجح في هذا السبيل ولكنه في الوقت نفسه أقام نظاما سياسيا له صفة جديدة متميزة تميزا تاما، وكانت رغبته بادئ الأمر مقصورة على توجيه بني وطنه إلى الاعتقاد بوحدانية الله» «4» .

إن فهم السيرة لا يمكن أن يتمّ إلّا وفق نظرة شموليّة تدرس حركة الإسلام كخطوات في برنامج شامل مرسوم في علم الله، ومحدد في قرآنه، وأن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يكن سوى منفّذ لهذا البرنامج بأسلوب يعتمد على قدراته وأخلاقيّته وذكائه وإمكاناته الفذّة في التخطيط والتنفيذ. وبالرغم من أنّ القرآن الكريم نزل منجّما، وراحت آياته تنزل على مكث لكي تلامس

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق، ص 48.

(2) المرجع السابق نفسه، هامش 1 ص 48.

(3) المرجع السابق نفسه، هامش 1 ص 54.

(4) المرجع السابق نفسه، هامش 2 ص 52.
সমগ্র বিশ্বের এতে অংশ রয়েছে, এবং যেহেতু একজন মাত্র ইলাহ ছাড়া আর কেউ নেই, ঠিক তেমনি এমন একটি মাত্র দ্বীন ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না যার দিকে সকল মানুষকে আহ্বান করা হবে» «১»।

এই স্পষ্ট ভুলটির মোকাবিলায় কেবল আর্নল্ডই একা দাঁড়াননি; বরং গোল্ডজিহার, নোলডেকে এবং সাখাউও রয়েছেন যারা এই কথাটি নিশ্চিত করেন যে: «ঐশী বার্তা কেবল আরবদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আল্লাহর ইচ্ছা সমস্ত সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত এবং এর অর্থ হলো সমগ্র মানবতার পূর্ণ বশ্যতা। আল্লাহর রাসুল হিসেবে মুহাম্মাদের এই আনুগত্য দাবি করার অধিকার ছিল এবং তাঁকে তা দাবি করতেই হতো, আর এটিই প্রথম দিকে তাঁর বাস্তবায়িত করতে চাওয়া নীতিমালার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল» «২»।

আর্নল্ড অপর একটি ভুলকেও প্রত্যাখ্যান করেছেন যা মনে করে যে: «মুহাম্মাদ সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই শক্তির পথে ধাবিত হয়েছিলেন», আর এটি এমন একটি মত যা ভেলহাউজেন থেকে উদ্ধৃত করে কতিপয় গবেষক স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, বিশেষ করে বনু কুরাইজা যুদ্ধ সম্পর্কে আলোচনার সময় মুইর এটি উল্লেখ করেছেন «৩»।

তবে আর্নল্ড নিজেও সেই একই ভুলের মধ্যে পড়া থেকে বাঁচতে পারেননি যখন তিনি বলেন: «মুহাম্মাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নতুন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা, এবং তিনি এই পথে সফলও হয়েছেন, কিন্তু একই সাথে তিনি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা কায়েম করেছেন যার বৈশিষ্ট্য ছিল সম্পূর্ণ নতুন ও স্বতন্ত্র, এবং প্রথম দিকে তাঁর ইচ্ছা ছিল কেবল তাঁর স্বদেশবাসীদের আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসের দিকে পরিচালিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ» «৪»।

সীরাতের অনুধাবন কেবল একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই সম্ভব যা ইসলামের আন্দোলনকে আল্লাহর জ্ঞানে অঙ্কিত এবং তাঁর কুরআনে নির্ধারিত একটি বিস্তৃত কর্মসূচির পদক্ষেপ হিসেবে পর্যবেক্ষণ করে। আর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাঁর সক্ষমতা, নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা এবং অসাধারণ দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে এই কর্মসূচির একজন বাস্তবায়নকারী ছাড়া আর কিছুই ছিলেন না। যদিও আল-কুরআন কিস্তিতে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এর আয়াতসমূহ বিরতি দিয়ে নাযিল হতে শুরু করেছিল যাতে তা স্পর্শ করতে পারে...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৪৮।

(২) ঠিক পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৪৮-এর পাদটীকা ১।

(৩) ঠিক পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৫৪-এর পাদটীকা ১।

(৪) ঠিক পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৫২-এর পাদটীকা ২।
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
الأحداث وتعلّق عليها (بعد وقوعها) ، إلا أنه بمجموعه كمبدأ «أيديولوجيّة» لا يخرج عن نطاق كونه برنامجا إلهيا شاملا ترتبط ممارساته الجزئية بكليّات شاملة محددة سلفا في علم الله.. ومن ثم فإن (الظروف الراهنة) ليست هي الحتمية المؤقتة التي تحدد مسار الإسلام وخطا رسوله صلى الله عليه وسلم. إنما هناك (الهدف) الذي يفرض أحيانا (وقفة) ضد الأعراف والظروف (وتمرّدا) عليها، و (انقلابا) شاملا على مواضعاتها.

وهذا ما يبدو واضحا منذ أول لحظة في الشعار الحاسم الذي طرحه الرسول صلى الله عليه وسلم بوجه الجاهلية (لا إله إلا الله) ، فأيّ ظرف راهن موقوت، أوحى بهذا الشعار الانقلابي الشامل الذي جاء يدمر على الوجود الجاهلي جلّ قيمه وأهدافه ومعالمه ومفاهيمه وعاداته وتقاليده؟.

إن توماس أرنولد يشير إلى ذلك بوضوح عندما يقول: «لا يعزب عن البال كيف ظهر جليا أن الإسلام حركة حديثة العهد في بلاد العرب الوثنيّة، وكيف كانت تتعارض المثل العليا في هذين المجتمعين تعارضا تاما. ذلك أن دخول الإسلام في المجتمع العربي لم يدلّ على مجرّد القضاء على قليل من عادات بربرية وحشية فحسب، وإنما كان انقلابا كاملا لمثل الحياة التي كانت من قبل.. والواقع أن المبادئ الأساسية في دعوة محمد كانت تتعارض مع ما كان ينظر إليه العرب نظرة ملؤها التقدير والإجلال، حتى ذلك الحين، كما أنها كانت تعلم حديثي العهد بالإسلام بأن يعدّو من الفضائل صفات كانوا قبل إسلامهم ينظرون إليها نظرة الاحتقار» «1» .

إن القرآن الكريم كان قضية فوقية جاءت آياته لتقود الإنسان في كل زمان ومكان إلى عصر جديد، ولم يكن ينفعل انفعالا مؤقتا بالوضع السائد سلبا وإيجابا، كما يتصوّر معظم المستشرقين مسيحيّين وماديّين (كما سنرى) ،

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق نفسه، ص 21- 62؛ وانظر بالتفصيل: جولد زيهر في مؤلفه muhammedanishe stidien ،v.l ،1:
ঘটনাপ্রবাহ এবং এগুলোর উপর মন্তব্য (সেগুলো ঘটার পর), তবে সামগ্রিকভাবে একটি ‘আদর্শিক’ মূলনীতি হিসেবে এটি আল্লাহর ইলমে পূর্বনির্ধারিত সুনির্দিষ্ট সামগ্রিক বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত আংশিক চর্চা সম্বলিত একটি ব্যাপক ঐশী কর্মসূচির গণ্ডির বাইরে নয়। অতএব, (বর্তমান পরিস্থিতি) কোনো সাময়িক অনিবার্যতা নয় যা ইসলামের পথচলা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদক্ষেপ নির্ধারণ করে। বরং সেখানে রয়েছে (উদ্দেশ্য), যা মাঝে মাঝে প্রচলিত প্রথা ও পরিস্থিতির বিরুদ্ধে (থামা), সেগুলোর বিরুদ্ধে (বিদ্রোহ) এবং সেগুলোর প্রথাগত রীতিনীতির ওপর এক ব্যাপক (বিপ্লব) চাপিয়ে দেয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়াতের মোকাবিলায় যে চূড়ান্ত স্লোগান (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) পেশ করেছিলেন, তাতে প্রথম মুহূর্ত থেকেই এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। তাহলে কোন সাময়িক বর্তমান পরিস্থিতি এই ব্যাপক বিপ্লবী স্লোগানের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল, যা জাহেলী অস্তিত্বের অধিকাংশ মূল্যবোধ, লক্ষ্য, নিদর্শন, ধারণা, আচার ও ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে এসেছিল?

টমাস আর্নল্ড স্পষ্টভাবে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন যখন তিনি বলেন: "এটি ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, পৌত্তলিক আরব ভূখণ্ডে ইসলাম কীভাবে একটি নতুন আন্দোলন হিসেবে স্পষ্টভাবে আবির্ভূত হয়েছিল এবং কীভাবে এই দুই সমাজের আদর্শিক লক্ষ্যগুলো সম্পূর্ণভাবে একে অপরের বিপরীত ছিল। আর এর কারণ হলো আরব সমাজে ইসলামের প্রবেশ কেবল কিছু বর্বর ও পাশবিক অভ্যাস দূর করার প্রমাণ দেয় না, বরং এটি ছিল পূর্ববর্তী জীবনের আদর্শিক লক্ষ্যগুলোর ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব... প্রকৃতপক্ষে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাওয়াতের মৌলিক নীতিগুলো সেই সব বিষয়ের বিপরীত ছিল যা আরবরা সেই সময় পর্যন্ত শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখত। একইভাবে এটি ইসলামে নবাগতদের এমন সব গুণাবলিকে মহত্ত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে শিখিয়েছিল যেগুলোকে তারা ইসলাম গ্রহণের আগে অবজ্ঞার চোখে দেখত।" (১)।

নিশ্চয়ই কুরআন মাজিদ ছিল একটি উচ্চতর বিষয়, যার আয়াতসমূহ প্রতিটি কালে ও স্থানে মানুষকে এক নতুন যুগের দিকে পরিচালিত করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। অধিকাংশ খ্রিস্টান ও বস্তুবাদী প্রাচ্যবিদ যেমনটা ধারণা করেন (যা আমরা সামনে দেখব), এটি বিদ্যমান পরিস্থিতির দ্বারা নেতিবাচক বা ইতিবাচকভাবে সাময়িকভাবে প্রভাবিত হওয়ার মতো কিছু ছিল না।

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২১-৬২; এবং বিস্তারিত দেখুন: গোল্ডজিহার তাঁর ‘মুহামেডানিশ স্টাডিজ’ (Muhammedanische Studien) গ্রন্থে, খণ্ড ১, ১:
(খণ্ড: ১) আল-মুসতাশরিকূনা ওয়াস সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وإنما كان ينظر نظرة شمولية بعيدة كل البعد عن رد الفعل المباشر، وهذا هو الذي يفسر لنا الكثير من الأخطاء التي مارستها مناهج البحث الاستشراقية في كافة أجنحتها.

ونحن لا نطلب من الغربيّين هنا أن يؤمنوا أن القرآن الكريم منزل من السماء وأنّ محمدا رسول الله.. وإنما نطلب أن يكونوا أكثر تجرّدا وموضوعية فينظروا إلى سيرة الرسول محمد صلى الله عليه وسلم كوحدة عضوية متكاملة.

وإلى القرآن الكريم كبرنامج عقيديّ مترابط تعلو مكوناته على الظروف الموقوته زمانا ومكانا، بالرغم من ملامساتها اليومية المباشرة للوقائع الزمانية والمكانية، ولكنها الملامسة التي تنبثق عنها قيم ودلالات ذات طابع شمولي ما كان للمستشرقين أن يغافلوا عن أبعادها.

 

‌‌ثالثا: ردّ معطيات السيرة إلى أصول نصرانية أو يهودية:

إن هذا التصور (المسبق) يكاد يأخذ برقاب المستشرقين، ويضع بصماته العميقة على مناهجهم في التعامل مع وقائع السيرة وظاهرة النبوة.. ويحاول الدكتور جواد علي أن يبين الأسباب: «إن معظم المستشرقين النصارى هم من طبقة رجال الدين، أو من المتخرجين من كليات اللاهوت، وهم عندما يتطرّقون إلى الموضوعات الحساسة من الإسلام يحاولون جهد إمكانهم ردّها إلى أصل نصرانيّ، وطائفة المستشرقين من اليهود، وخاصة بعد تأسيس (إسرائيل) وتحكّم الصهيونية في غالبيتهم، يجهدون أنفسهم بردّ كل ما هو إسلامي وعربي لأصل يهودي، وكلتا الطائفتين في هذا الباب تبع لسلطان العواطف والأهواء» «1» .

ويلقي (طيباوي) مزيدا من الضوء على هذه العقدة المنهجية في العقل الاستشراقي وعلى دوافعها المذهبية، فيقول: «إن النظرة الأولى للإسلام

--------------------------------------------

(1) تاريخ العرب في الإسلام: 1/ 9- 11.
বরং তিনি একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতেন যা প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়ার চেয়ে অনেক দূরে ছিল। আর এটিই প্রাচ্যবিদদের গবেষণা পদ্ধতিসমূহের সমস্ত শাখায় সংঘটিত বহু ভুলত্রুটির ব্যাখ্যা দেয়।

আমরা এখানে পশ্চিমাদের কাছে এই দাবি করছি না যে, তারা বিশ্বাস করুক যে কুরআন কারীম আকাশ থেকে অবতীর্ণ এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। বরং আমরা কেবল চাই যে তারা আরও নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ হোক এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিভাজ্য একক হিসেবে বিবেচনা করুক।

এবং কুরআন কারীমকে একটি সুসংগত আকিদাগত কর্মসূচি হিসেবে দেখুক, যার উপাদানসমূহ কাল ও পাত্রের সীমাবদ্ধ পরিস্থিতির ঊর্ধ্বে, যদিও এর সাথে দৈনন্দিন জাগতিক ঘটনাবলির প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। তবে এটি এমন এক সংযোগ যা থেকে এমন এক সামগ্রিক মূল্যবোধ ও তাৎপর্য উৎসারিত হয় যার ব্যাপ্তি সম্পর্কে উদাসীন থাকা প্রাচ্যবিদদের জন্য উচিত ছিল না।

 

‌‌তৃতীয়: সীরাতের তথ্যাবলিকে খ্রিস্টীয় বা ইহুদি উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা:

এই (পূর্বনির্ধারিত) ধারণাটি প্রাচ্যবিদদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে এবং সীরাতের ঘটনাবলি ও নবুওয়াতের বিষয়াবলি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তাদের পদ্ধতিতে গভীর ছাপ ফেলেছে। ডক্টর জাওয়াদ আলী এর কারণসমূহ স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন: «অধিকাংশ খ্রিস্টান প্রাচ্যবিদ ধর্মযাজক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত অথবা তারা ধর্মতত্ত্ব কলেজসমূহ থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী। যখন তারা ইসলামের সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তারা যথাসম্ভব সেগুলোকে খ্রিস্টীয় উৎসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আর ইহুদি প্রাচ্যবিদদের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে (ইসরায়েল) প্রতিষ্ঠা এবং তাদের অধিকাংশের ওপর জায়নবাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর, ইসলামি ও আরবি সবকিছুকেই ইহুদি উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালায়। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই আবেগ ও প্রবৃত্তির অনুসারী» «১»।

তিব্বাওয়ি প্রাচ্যবিদদের মানসকাঠামোর এই পদ্ধতিগত জটিলতা এবং এর পেছনে ক্রিয়াশীল আদর্শিক উদ্দেশ্যের ওপর আরও আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন: «ইসলামের প্রতি প্রথম দৃষ্টিভঙ্গি...

--------------------------------------------

(১) ইসলামে আরবদের ইতিহাস: ১/ ৯- ১১।