(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
مختارات من أجمل الشعر في مدح الرسول   (محمد سعيد البوطي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: مختارات من أجمل الشعر في مدح الرسول

المؤلف: محّمد سَعيد رَمضان البوطي

الناشر: دار المعرفة - دمشق

الطبعة: الأولى - 1408 هـ

عدد الصفحات: 84

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রাসূলের প্রশংসায় সবচেয়ে সুন্দর কবিতার সংকলন   (মুহাম্মদ সাঈদ আল-বূতী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: রাসূলের প্রশংসায় সবচেয়ে সুন্দর কবিতার সংকলন

লেখক: মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বূতী

প্রকাশক: দারুল মা'রিফা - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম - ১৪০৮ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمات التحقيق]

 

‌‌الإهداء

إلى روح شاعر المناضلة والمنافحة، شهيد معركة «مؤتة» «عبد الله بن رواحة» ؛ القائل بالنبي العربي محمد صلى الله عليه وسلم:

إني تفرست فيك الخير أعرفه … فراسة خالفتهم في الذي نظروا

ولو سألت أو استنصرت بعضهم … في جل أمرك ما آووا وما نصروا

فثبت الله ما آتاك من حسن … تثبيت موسى ونصرا كالذي نصروا
[সম্পাদনার ভূমিকা]

 

উৎসর্গ

সংগ্রাম ও প্রতিরক্ষার কবি, ‘মুতা’ যুদ্ধের শহীদ ‘আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা’-এর আত্মার প্রতি; যিনি আরব নবী মুহাম্মদ (আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) সম্পর্কে বলেছিলেন:

আমি আপনার মাঝে মঙ্গলের লক্ষণ প্রত্যক্ষ করেছি যা আমি চিনি … এমন এক দূরদর্শিতা যা অন্যদের দেখা থেকে ভিন্ন ছিল

আর আপনি যদি তাদের কারো কাছে সাহায্য চাইতেন বা সাহায্য প্রার্থনা করতেন … আপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, তবে তারা আশ্রয় দিত না এবং সাহায্যও করত না

সুতরাং আল্লাহ আপনাকে যা কল্যাণ দান করেছেন তা সুদৃঢ় করুন … যেমন সুদৃঢ় করেছিলেন মূসাকে এবং তেমন সাহায্য করুন যেমন সাহায্য প্রাপ্তদের করা হয়েছিল
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৫)
-‌‌ تقديم- آفة الشعر عند ما يكون مدحا لغير رسول الله صلى الله عليه وسلم

كثيرون هم الذين مدحوا قديما على ألسنة الشعراء، من ملوك وخلفاء وأمراء وحكام. حتى غدا المدح موضوعا من أبرز موضوعات الشعر وأهمّ غرض من أغراضه.

غير أن فن المديح في الشعر، ظل ملازما لآفتين اثنتين، لم ينفكّ الشعر بسببهما عن اضطراب وضعف.

أولى الآفتين: الفجوة التي لا بدّ أن تظل قائمة تفصل بين طبيعة الشعر بحد ذاته، وواقع الممدوح أيا كان شأنه.. ذلك لأن طبيعة الشعر هي الغلوّ والافراط في كل ما يصفه ويعبّر عنه، وواقع الممدوح هو الاصطباغ بالنقص والضعف والأخطاء أيا كان، بحكم كونه إنسانا لا تنفك عنه سمة النقص والضعف. والشأن في ذلك أن يضعف من جدّية الشعر وتأثيره على النفس، ويفرغه من أكثر المضمون الذي يجمّله ويحببه.

الآفة الثانية: أنّ الدافع للشعراء إلى المديح، يتمثل في عوامل من الأطماع والآمال الخارجية أكثر من أن يتمثل في مشاعر صادقة من المحبة الداخلية. وإذا فرغ الشعر من صدق الشعور عاد صنعة كلامية وزخرفا لفظي. واقتصر طريقه إلى النفوس من هذه الزاوية وحدها

غير أن هاتين الآفتين لا يبدو لهما أي وجود، في الشعر الذي مدح به محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم. أيا كان الشاعر، وأيا كان واقعه وشأنه.

ذلك لأن الشعر الذي يمدح به رسول الله صلى الله عليه وسلم، يتحرك ويعلو في ساحة الوصف والبيان كما يشاء، دون أي غلوّ أو تكلف. ومهما أوغل الشاعر في الوصف وسما في المديح والاطراء، لا يحسّ أنه اصطدم بحدود، أو تجاوز الحقيقة إلى الخيال، أو بالغ في الثناء.

إن الشعر يغدو، إذ يمدح به رسول الله، كالثوب الذي يأتي على قدر لابسه.

لا تجد في شيء من ذيوله أو أطرافه أي زيادة أو فضول.
‌ভূমিকা- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো প্রশংসা করার ক্ষেত্রে কবিতার ত্রুটি

অতীতে কবিদের রসনায় রাজা, খলিফা, আমির ও শাসকদের অনেকেই প্রশংসিত হয়েছেন। এমনকি প্রশংসা বা স্তুতি কবিতার অন্যতম প্রধান বিষয় এবং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে।

তবে কাব্যসাহিত্যে প্রশংসা করার শিল্পটি দুটি ত্রুটির সাথে যুক্ত থেকে গেছে, যার ফলে কবিতা এই দুটি কারণে অস্থিতিশীলতা ও দুর্বলতা থেকে মুক্ত হতে পারেনি।

প্রথম ত্রুটিটি হলো: কবিতার নিজস্ব প্রকৃতি এবং যার প্রশংসা করা হচ্ছে তার বাস্তব অবস্থার মধ্যে একটি অনিবার্য ব্যবধান বিদ্যমান থাকা, তার মর্যাদা যাই হোক না কেন। এর কারণ হলো, কবিতার বৈশিষ্ট্যই হলো বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি করা; অন্যদিকে যার প্রশংসা করা হচ্ছে তার বাস্তবতা হলো ত্রুটি, দুর্বলতা ও ভুলে আচ্ছন্ন হওয়া, তিনি যেই হোন না কেন। কেননা মানুষ হিসেবে অপূর্ণতা ও দুর্বলতা তার অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য। এর ফলে কবিতার গাম্ভীর্য ও অন্তরে এর প্রভাব ক্ষুণ্ণ হয় এবং এটি সেই আধেয় বা উপাদান থেকে শূন্য হয়ে পড়ে যা একে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও প্রিয় করে তোলে।

দ্বিতীয় ত্রুটি: কবিদের প্রশংসামূলক কবিতা রচনার পেছনে আন্তরিক ভালোবাসা অপেক্ষা জাগতিক লোভ ও বাহ্যিক প্রত্যাশাই বেশি কার্যকর থাকে। আর কবিতা যখন অনুভূতির সত্যতা থেকে রিক্ত হয়, তখন তা কেবল শব্দশৈলী ও ভাষাগত অলংকারে পর্যবসিত হয়। ফলে হৃদয়ে পৌঁছানোর পথ কেবল এই সংকীর্ণ দিকটিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

কিন্তু আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় রচিত কবিতায় এই দুটি ত্রুটির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় না; কবি যেই হোন না কেন এবং তার অবস্থা বা মর্যাদা যেমনই হোক না কেন।

এর কারণ হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় রচিত কবিতা বর্ণনা ও অভিব্যক্তির ময়দানে আপন ইচ্ছামতো বিচরণ করতে পারে এবং উচ্চ শিখরে আরোহণ করতে পারে, কোনো প্রকার অতিরঞ্জন বা কৃত্রিমতা ছাড়াই। কবি বর্ণনায় যত গভীরেই প্রবেশ করুন না কেন এবং প্রশংসায় যত উচ্চতাতেই পৌঁছান না কেন, তিনি কখনো অনুভব করেন না যে তিনি কোনো সীমানায় আঘাত করেছেন, অথবা সত্যকে অতিক্রম করে কল্পনায় ডুবেছেন, কিংবা প্রশংসায় অতিশয়োক্তি করেছেন।

বস্তুত আল্লাহর রাসূলের প্রশংসায় নিবেদিত কবিতা এমন এক পোশাকের ন্যায় যা পরিধানকারীর শরীরের মাপে একেবারে যথাযথভাবে তৈরি করা হয়েছে।

এর কোনো প্রান্তে বা আঁচলে আপনি বিন্দুমাত্র বাড়তি বা অপ্রয়োজনীয় কিছু পাবেন না।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬)
وذلك أيضا، لأن الشاعر إذ يندفع إلى مدح محمد عليه الصلاة والسلام، لا يحمله على ذلك طمع في مغنم أو خوف من مغرم، مما كان يحمل الشعراء على طرق أبواب الأمراء والقيام بين أيديهم مثنين ومادحين.. وإنما يحدوه إلى ذلك شعور داخلي لاهب، وكثيرا ما يكون هذا الشعور نقدا ذاتيا من الشاعر لنفسه وأسى مريرا على العهود الغابرة من عمره، ورغبة ملحّة في الالتجاء الى ساحة النبوة، والانغماس- بعد الرحلة المضنية- في مغتسل طهور من الأنوار والرحمة المحمدية.

والنفس الانسانية ذات شأن عجيب! .. إنها قد توغل بصاحبها في أودية التيه او الضياع، ولكنها تظل في حين دائم إلى قمم النور وشطآن النجاة.. لا تعجب إن رأيت صاحب هذه النفس شاردا في سلوكه منحطّا في أفانين غيّه، ثم أصغيت منه مع ذلك إلى أنين يحنّ إلى الطهر، ولوعة تترامى على أعتاب الرحمة الإلهية، وتسفح الدمع سخيا أمام واسطة هذه الرحمة، محمد عليه الصلاة والسلام.

فإن أوتي مثل هذا الانسان، مع ذلك، بيانا من الشعر، كان له فيه أروع قيثار يستخرج صدق أحاسيسه النيرانية، بل النورانية اللاهبة، ويصوغها في شجو يأخذ اللب ويأسر النفس.

وإذا صحّ أنّ أعذب الشعر أكذبه، فلا ريب أن أحّر الشعر أصدقه! ..

وإنما عذوبة الشعر صنعة كلامية وصقل لألفاظ، أما حرارته فهي النبض الذي يبعث فيه الحياة التي تسري بالتأثير في قلوب الآخرين.. وقديما قالت العرب: ليست النائحة كالثكلى.

ولا أذكر أني قرأت قصيدة، لشاعر مجيد، يمدح فيها محمدا عليه الصلاة والسلام، إلا وتملّكني منها تأثير كبير، واستبدّت بي رقة تذيب النفس، أيا كان الشاعر ومهما كان شأنه.

وإنما مردّ ذلك، إلى ما قلت: الشعر الذي أخذ حظه، إذ تحرك في ميدان فسيح من الوصف والبيان والإطراء، دون أن تشمّ فيه رائحة غلو أو تكلف في القول.. والشاعر الذي أفرغ أحاسيس قلبه، لوعة وحبا وإجلالا، في واحة تلك العبارات والأوزان.
আর এটি একারণেও যে, কোনো কবি যখন মুহাম্মদ (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর প্রশংসায় প্রবৃত্ত হন, তখন কোনো জাগতিক লাভের লালসা কিংবা লোকসানের ভয় তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে না—যা সাধারণত কবিদেরকে আমির-উমারাদের দ্বারে করাঘাত করতে এবং তাদের সামনে দণ্ডায়মান হয়ে স্তুতি ও প্রশংসা গাইতে প্ররোচিত করে। বরং এক দহনকারী অভ্যন্তরীণ অনুভূতিই তাঁকে এর দিকে ধাবিত করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই অনুভূতিটি হয় কবির নিজের নফসের প্রতি এক প্রকার আত্ম-সমালোচনা, তাঁর অতিবাহিত জীবনের দিনগুলোর জন্য এক তিক্ত অনুশোচনা এবং নবুওয়াতের আঙিনায় আশ্রয় গ্রহণের এক তীব্র ব্যাকুলতা। আর এক ক্লান্তিকর সফরের পর মুহাম্মদী নূর ও রহমতের এক পবিত্র অবগাহনস্থলে নিমজ্জিত হওয়ার বাসনা।

মানুষের নফস বা প্রবৃত্তি এক অদ্ভুত বিষয়ের অধিকারী! এটি তার মালিককে কখনও পথভ্রষ্টতা ও গোলকধাঁধার উপত্যকায় অতল গহ্বরে নিয়ে যায়, কিন্তু তা সত্ত্বেও সে সর্বদা নূরের শিখর ও নাজাতের তীরের প্রতি লালায়িত থাকে। আপনি যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে দেখেন যার আচরণ লক্ষ্যহীন এবং যে তার গোমরাহীর নানা শাখায় নিমজ্জিত, তবে তাতে বিস্মিত হবেন না; যদি দেখেন যে, এতদসত্ত্বেও তার ভেতর থেকে পবিত্রতার জন্য এক আর্তনাদ ধ্বনিত হচ্ছে এবং এক ব্যাকুলতা তাকে ঐশী রহমতের চৌকাঠে আছড়ে ফেলছে, আর সে এই রহমতের মাধ্যম মুহাম্মদ (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সামনে অঝোরে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে।

এমন মানুষ যদি এর পাশাপাশি কাব্যিক অভিব্যক্তির অধিকারী হয়, তবে তা তার জন্য এক অপূর্ব বীণা হয়ে দাঁড়ায়, যা তার অগ্নিসম—বরং প্রজ্বলিত নূরের মতো—অনুভূতির সত্যতাকে বের করে আনে এবং একে এমন এক সুরম্য বিষাদে রূপ দেয় যা বুদ্ধি ও অন্তরকে মোহাবিষ্ট করে ফেলে।

আর যদি এটি সত্য হয় যে, সবচেয়ে মিষ্ট কবিতা হলো যাতে মিথ্যার (কল্পনার) আশ্রয় সবচেয়ে বেশি নেওয়া হয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সবচেয়ে দহনকারী ও প্রাণস্পর্শী কবিতা হলো যা সবচেয়ে বেশি সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত!

কবিতার মাধুর্য তো কেবল এক বাচনিক কারুকার্য এবং শব্দের অলংকরণ মাত্র। কিন্তু এর প্রাণের উত্তাপ হলো সেই স্পন্দন, যা তাতে এমন এক জীবন সঞ্চার করে যা অন্যের অন্তরে প্রভাব বিস্তার করে ধাবিত হয়। আরবদের প্রাচীন প্রবাদে আছে: "বিলাপকারিনী নারী আর সন্তানহারা জননী এক নয়।"

আমার স্মরণে নেই যে, আমি কোনো দক্ষ কবির এমন কোনো কাসিদা বা কবিতা পাঠ করেছি যেখানে মুহাম্মদ (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর প্রশংসা করা হয়েছে, অথচ তা আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেনি; বরং এক নমনীয়তা আমাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করেছে যা আত্মা বিগলিত করে দেয়—কবি যেই হোন না কেন এবং তাঁর মর্যাদা যেমনই হোক না কেন।

এর কারণ তো আমি যা বলেছি তা-ই; অর্থাৎ এমন কবিতা যা তার পূর্ণ হক আদায় করেছে, যেহেতু তা বর্ণনা, অলংকার ও প্রশংসার এক সুবিস্তৃত ময়দানে বিচরণ করে—যেখানে কোনো অতিরঞ্জন বা কৃত্রিমতার গন্ধ পাওয়া যায় না। আর এমন এক কবি, যিনি তাঁর হৃদয়ের ব্যাকুলতা, মুহাব্বত ও আজমতকে সেই শব্দমালা ও ছন্দের কাননে উজাড় করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭)
فإن كنت في شك مما أقول، فدونك فاستعرض قصائد هذا الكتاب، وإنما هي قطوف منوعة لشعراء مختلفين في المذهب والسلوك، متدرّجين في العصور والتاريخ، تجد مصداق ما أقول، وتشعرّ بزفرة الصدق في ثنايا كلام كل منهم.

ثم انظر إلى شعر البوصيري، على سبيل المثال، وقارن بينه إذ كان يمدح به أمراء عصره، طمعا في مغنم أو انتجاعا لرزق، وبينه إذ اتجه به إلى مدح رسول الله صلى الله عليه وسلم، تجد هناك التكلف الممجوج، والمعاني المفتعلة المصنّعة، وتجد هنا الرّفاء والرّصانة العجيبين، حتى لكأنّ شعره ينتشي ويطرب من ذاته، ثم تجد نفسك مأخوذا بمشاعر اللوعة الصادقة تسري في سائر جمله وكلماته! .. اصغ إليه وهو يقول:

يا رحيما بالمؤمنين إذا ما … ذهلت عن أبنائها الرّحماء

يا شفيعا في المذنبين إذا أش … فق من خوف ذنبه البرآء

جد لعاص، وما سواي هو العا … صي، ولكن تنكّري استحياء

كلّ يوم ذنوبه صاعدات … وعليها أنفاسه صعداء

أو ثقته من الذنوب ديون … شدّدت في اقتضائها الغرماء

ما له حيلة سوى حيلة المو … ثق إمّا توسل أو دعاء

راجيا أن تعود أعماله السّو … ء بغفران الله وهي هباء

أو ترى سيآته حسنات … فيقال استحالت الصّهباء

ولن أزيد عليك بعد هذه الأبيات وزخم المشاعر التي فيها، أي شيء. بل سأتركك مع واحة الشعر، تتنقّل من قصيد إلى قصيد، لترى مصداق ما أقول.

الدكتور محمد سعيد رمضان البوطي
আমি যা বলছি সে বিষয়ে যদি আপনার কোনো সংশয় থাকে, তবে এই গ্রন্থের কবিতাগুলো আপনার সামনে রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করুন। এগুলো মূলত বিভিন্ন মাযহাব ও কর্মপন্থার অনুসারী এবং বিভিন্ন যুগ ও ইতিহাসের ধারায় আগত কবিদের কবিতার বৈচিত্র্যময় চয়ন। আপনি এতে আমার কথার সত্যতা খুঁজে পাবেন এবং তাদের প্রত্যেকের বাণীর রন্ধ্রে রন্ধ্রে সত্যের আকুতি অনুভব করবেন।

অতঃপর উদাহরণস্বরূপ বুসিরীর কবিতার দিকে লক্ষ্য করুন এবং তুলনা করুন—যখন তিনি পুরস্কারের লোভে বা জীবিকার অন্বেষণে তাঁর সমকালীন আমিরদের প্রশংসা করতেন, আর যখন তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসায় নিবিষ্ট হয়েছিলেন। আপনি সেখানে পাবেন অরুচিকর কৃত্রিমতা এবং বানোয়াট ও অলঙ্কৃত ভাবার্থ; আর এখানে পাবেন এক বিস্ময়কর সুসংগতি ও গাম্ভীর্য, এমনকি মনে হবে তাঁর কবিতা যেন নিজ হতেই উদ্বেলিত ও মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। এরপর আপনি নিজেকে তাঁর প্রতিটি বাক্য ও শব্দের মধ্যে প্রবহমান অকৃত্রিম ব্যাকুলতার অনুভূতির কাছে আবিষ্ট হতে দেখবেন! .. শুনুন তিনি বলছেন:

হে মুমিনদের প্রতি দয়াবান! যখন মমতাময়ীরা … তাদের সন্তানদের কথা বিস্মৃত হবে।

হে পাপীদের সুপারিশকারী! যখন নিরপরাধীরাও … নিজ পাপের ভয়ে ভীত হবে।

এই পাপীর প্রতি সদয় হোন—আর আমি ছাড়া কেউ … পাপিষ্ঠ নয়, তবে আমার এই অস্বীকার কেবল লজ্জার কারণে।

প্রতিদিন তার গুনাহসমূহ উর্ধ্বগামী হচ্ছে … আর তার সাথে তার দীর্ঘশ্বাসগুলোও উপরে উঠছে।

গুনাহের ঋণে সে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে … যা আদায়ের দাবিতে পাওনাদাররা কঠোরতা করছে।

এক বন্দীর মিনতি বা প্রার্থনা ছাড়া … তার আর কোনো উপায় নেই।

সে এই আশা পোষণ করে যে, তার মন্দ আমলগুলো আল্লাহর ক্ষমায় … ধূলিকণার ন্যায় বিলীন হয়ে যাবে।

অথবা তার পাপগুলো পুণ্য হিসেবে দেখা হবে … তখন বলা হবে শরাব সিরকায় পরিণত হয়েছে।

এই পংক্তিমালা এবং এর ভেতরে নিহিত আবেগের প্রাবল্যের পর আমি আর কিছুই বলব না। বরং আমি আপনাকে কবিতার এই মরূদ্যানের মাঝে ছেড়ে দিচ্ছি, আপনি এক কবিতা থেকে অন্য কবিতায় বিচরণ করুন, যাতে আমার কথার সত্যতা দেখতে পান।

ডক্টর মুহাম্মদ সাঈদ রমজান আল-বুতি
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة

(محمد الرسول العربي الكريم مثل الله الأعلى للإنسان الكامل)

 

‌‌محمد الإنسان الكبير:

لا بد للباحث المنصف من الإعتراف بعظمة النبي العربي محمد صلى الله عليه وسلم؛ الذي حمل وبشّر برسالة الإسلام، وتحمّل ما تحمل في سبيل نشرها من تعذيب ومشقة من قريش وباقي القبائل العربية، التي رأت فيه مزاحما لها بالقيادة والزعامة، فجاهرته العداء وحاربته ولم يكن معه، آنذاك، إلا النذر اليسير من أصحابه وعلى رأسهم عمه أبو طالب الذي شجعه على المضي برسالته بعد أن رأى التصميم والإرادة القوية عند ابن أخيه «محمد» الذي قال له مقولته الخالدة: «يا عمّ، والله لو وضعوا الشمس في يميني والقمر في يساري على أن أترك هذا الأمر حتى يظهره الله أو أهلك فيه ما تركته» …
ভূমিকা

(আরবীয় সম্মানিত রসূল মুহাম্মদ হলেন পূর্ণমানবের জন্য আল্লাহর সর্বোচ্চ উপমা)

 

‌‌মুহাম্মদ: মহান মানব:

একজন ন্যায়নিষ্ঠ গবেষকের জন্য আরবীয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মহানুভবতা স্বীকার করা অপরিহার্য; যিনি ইসলামের বাণী বহন ও প্রচার করেছেন এবং তা প্রসারের পথে কুরাইশ ও অন্যান্য আরব গোত্রগুলোর পক্ষ থেকে আসা নির্যাতন ও ক্লেশ সহ্য করেছেন, যারা তাঁকে তাদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গণ্য করেছিল। ফলে তারা তাঁর সাথে প্রকাশ্য শত্রুতা পোষণ করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে; সে সময় তাঁর সাথে হাতেগোনা কয়েকজন সাহাবী ছাড়া আর কেউ ছিল না, যাঁদের শীর্ষে ছিলেন তাঁর চাচা আবু তালিব; যিনি তাঁকে তাঁর দাওয়াতের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছিলেন যখন তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র ‘মুহাম্মদ’-এর মাঝে সুদৃঢ় সংকল্প ও প্রবল ইচ্ছা লক্ষ্য করেছিলেন, যিনি তাঁকে সেই চিরন্তন কথাটি বলেছিলেন: “হে চাচা, আল্লাহর শপথ! যদি তারা আমার ডান হাতে সূর্য এবং বাম হাতে চাঁদ এনে দেয় যেন আমি এই আদর্শ ত্যাগ করি, তবে যতক্ষণ না আল্লাহ একে বিজয়ী করেন অথবা আমি এর পথে ধ্বংস হয়ে যাই, ততক্ষণ আমি তা ত্যাগ করব না।” …
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১০)
قال محمد هذا قول العظيم الواثق من صدق دعوته، المطمئن إلى بلوغ غايته.

فقال عمه: (اذهب يا ابن أخي، وقل ما شئت، فو الله لا أسلمك لشيء أبدا) .

ثم تجلت في الرسول العربي محمد صلى الله عليه وسلم «مواهب الكمال الإنساني فحشد للخصومة قوى النفس وقوى الحس، فجاهد بالصدق، وجالد بالصبر، وجادل بالمنطق، وصاول بالرأي، وأثر باللسان، فكان رسولا في الدين، وعلما في البلاغة، ودستورا في السياسة، وإماما في التشريع، وقائدا في الحرب، زد على ذلك خلقه الحسن كما وصفة ربه «وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ» .

إذن حامل هذه الرسالة السماوية السمحاء مؤهل لها قادر على تحمل مشاقها من جميع جوانبها المعنوية والجسمية والخلقية فهو المثل الأعلى للإنسان الكامل؛ ولله درّ شاعر الرسول حسان بن ثابت الأنصاري حينما وصف شخصية الرسول العربي محمد صلى الله عليه وسلم ببيتين من الشعر يدلان على كمال صاحبها إذ قال مادحا رسول الله صلى الله عليه وسلم:

وأحسن منك لم تر قط عيني … وأجمل منك لم تلد النساء

خلقت مبرّءا من كل عيب … كأنك قد خلقت كما تشاء

إذن فلا عجب وإذا رأينا صاحب هذه الرسالة يقلب المجتمع الجاهلي رأسا على عقب، ليكون منهم مجتمعا آخر يختلف عن المجتمع الأول الذي يقوم على العصبية، والأثرة والأنانية والثأر، إلى مجتمع جديد بفضل الرسول الكريم، الذي بعث رحمة للعالمين، إذ بعث الحرية من قبرها، وأطلق العقول من أسرها، وجعل التنافس في الخير، والتعاون على البر، والتفاضل بالتقوى، ثم وصل بين القلوب بالمؤاخاة، وعدل بين الحقوق بالمساواة، ثم محا الفروق بين أجناس الإنسان، وأزال الحدود بين مختلف الأوطان،
মুহাম্মদ বলেছেন, এটি সেই মহান ব্যক্তির কথা যিনি নিজের দাওয়াতের সত্যতার প্রতি আস্থাশীল এবং আপন লক্ষ্য অর্জনে সুনিশ্চিত।

অতঃপর তাঁর চাচা বললেন: (হে ভাতিজা, তুমি যাও এবং যা ইচ্ছা বলো; আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে কখনোই কোনো কিছুর বিনিময়ে সঁপে দেব না)।

এরপর আরব্য রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে মানবিক পূর্ণতার প্রতিভাসমূহ প্রস্ফুটিত হয়ে উঠল। তিনি বিরোধিতার মোকাবিলার জন্য আত্মিক ও অনুভবযোগ্য সকল শক্তিকে সংহত করলেন। তিনি সত্যের দ্বারা জিহাদ করলেন, ধৈর্যের সাথে সংগ্রাম করলেন, যুক্তি দিয়ে বিতর্ক করলেন, সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে মোকাবিলা করলেন এবং বাকশৈলী দ্বারা প্রভাব বিস্তার করলেন। ফলে তিনি ধর্মের ক্ষেত্রে একজন রাসূল, অলঙ্কারশাস্ত্রে এক অনন্য নিদর্শন, রাজনীতিতে একটি সংবিধান, আইন প্রণয়নে একজন ইমাম এবং যুদ্ধে একজন সেনাপতি হিসেবে পরিগণিত হলেন। তদুপরি যুক্ত হয়েছে তাঁর উত্তম চরিত্র, যেমনটি তাঁর প্রতিপালক বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।"

সুতরাং, এই উদার আসমানি বার্তার বাহক এর জন্য যোগ্যতম এবং এর সকল আধ্যাত্মিক, শারীরিক ও চারিত্রিক ক্লেশ সহ্য করতে সক্ষম। তিনি পূর্ণমানবের সর্বোত্তম আদর্শ। আর রাসূলের কবি হাসসান বিন সাবিত আনসারীর কী চমৎকার প্রশংসা, যখন তিনি আরব্য রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যক্তিত্বকে দুটি কাব্যচরণে বর্ণনা করেছেন যা তাঁর পূর্ণতা নির্দেশ করে। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছেন:

আপনার চেয়ে অধিক সুন্দর আমার চোখ কখনো দেখেনি … এবং আপনার চেয়ে অধিক রূপবান কোনো সন্তান নারী জাতি জন্ম দেয়নি

আপনি সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত হয়ে সৃজিত হয়েছেন … যেন আপনি ঠিক সেভাবেই সৃষ্টি হয়েছেন যেভাবে আপনি চেয়েছেন

অতএব এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যখন আমরা দেখি যে, এই বার্তার বাহক জাহেলি সমাজকে আমূল পাল্টে দিয়েছেন, যাতে তাদের মধ্য থেকে এমন এক নতুন সমাজ গড়ে ওঠে যা সেই পূর্ববর্তী সমাজ থেকে ভিন্নতর—যে সমাজ গোত্রপ্রীতি, স্বার্থপরতা, অহমিকা ও প্রতিশোধস্পৃহার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেই সম্মানিত রাসূলের বদৌলতে এক নতুন সমাজ গঠিত হলো, যাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে। তিনি স্বাধীনতাকে তার কবর থেকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন, বিবেককে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেছেন এবং প্রতিযোগিতাকে কল্যাণের পথে, সহযোগিতাকে সৎকার্যে ও শ্রেষ্ঠত্বকে তাকওয়ার ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছেন। অতঃপর তিনি ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে হৃদয়ে হৃদয়ে বন্ধন তৈরি করেছেন, সাম্যের মাধ্যমে অধিকারের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন, মানবজাতির বিভিন্ন বর্ণের মধ্যকার পার্থক্য ঘুচিয়ে দিয়েছেন এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী সীমানা বিলুপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১১)
فأصبح العالم كله أسرة متحدة، ليس فيها بين المرء والخليقة حجاب، ولا بين العبد وربه واسطة..

ثم جعل لهم من كتاب الله نورا … ومن سنته دستورا، ورمى بهم فساد الدنيا، فأصلحوا الأرض ومدنوا العالم، وهذبوا الناس.

«هذا ولا تقاس أهمية النبي محمد صلى الله عليه وسلم وعظمته بالانجازات التي تمت في عصره فقط، ولكن بما نتج عن هذه الإنجازات، وما تحقق بعده، بقيام الفتوحات الكبرى، وتأسيس دولة الإسلام العظمى الممتدة من داخل الصين وحتى خليج عمان، ومن شواطىء المتوسط في الشام حتى جنوب فرنسة ومشارف روما» «1» .

لكل ذلك أحبه الجميع وقدّر عمله وعظمته المستشرقون، وآمن برسالته الكثير من أبناء الديانات السماوية الأخرى، يقول «توماس كارلايل» مؤلف كتاب الأبطال عن النبي محمد صلى الله عليه وسلم:

«لقد كان رجلا عظيما بفطرته، لم تثقفه مدرسة، ولا هذبه معلم، فأدى عمله وحده في أعماق الصحراء» . كما يقول «توماس كارلايل» : إن الرسالة التي أداها الرسول محمد، ما زالت السراج المنير. ثم يأتي الدكتور «مايكل هارت» فيضعه على رأس قائمة بالمائة الأوائل من عظماء العالم، اعترافا بعظمة وعبقرية النبي العربي صلى الله عليه وسلم! ما معنى ذلك؟

ان هذا الرسول العربي عظيم «ولا يمكن أن نوفيه حقه من التكريم، ولو جعلنا ماء البحر مدادا لكلماتنا؛ … هذه الشخصية المعجزة التي استطاعت في سنوات معدودة، أن تتغلب على فوارق اجتماعية، وعصبيات قبلية» ومعتقدات دينية وثنية، واعراف وعادات متوارثة، ضربت جذورها جميعا في أعماق المجتمع القبلي الجاهلي منذ مئات السنين» «2» .

--------------------------------------------

(1) د. سهيل زكار، مائة أوائل من تراثنا ص 20.

(2) من مقدمة كتاب «رسالة الاسلام» الرسول العربي، العماد مصطفى طلاس ص 13- دار الشورى- بيروت.
ফলে সমগ্র বিশ্ব একটি ঐক্যবদ্ধ পরিবারে পরিণত হয়েছে, যেখানে মানুষ ও সৃষ্টির মধ্যে কোনো অন্তরায় নেই এবং বান্দা ও তার রবের মধ্যে কোনো মধ্যস্থতাকারী নেই।

অতঃপর তিনি তাদের জন্য আল্লাহর কিতাব থেকে একটি নূর (আলো) ... এবং তাঁর সুন্নাহ থেকে একটি জীবনবিধান নির্ধারণ করেছেন, আর তাদের মাধ্যমে দুনিয়ার ফাসাদ (বিপর্যয়) নির্মূল করেছেন; ফলে তারা পৃথিবীকে সংস্কার করেছেন, বিশ্বকে সুসভ্য করেছেন এবং মানুষকে পরিশীলিত করেছেন।

«এটি ছাড়াও, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুরুত্ব ও মহিমা কেবল তাঁর যুগে সম্পন্ন হওয়া সাফল্যগুলো দ্বারাই পরিমাপ করা হয় না, বরং সেই সাফল্যগুলোর ফলাফল এবং তাঁর পরবর্তীতে যা অর্জিত হয়েছে—অর্থাৎ বৃহৎ বিজয়সমূহ এবং চীনের অভ্যন্তর থেকে ওমান উপসাগর পর্যন্ত এবং সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল থেকে দক্ষিণ ফ্রান্স ও রোমের উপকণ্ঠ পর্যন্ত বিস্তৃত মহান ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা দ্বারাও তা পরিমাপ করা হয়» «১» ।

এসব কারণেই সকলে তাঁকে ভালোবেসেছেন এবং প্রাচ্যবিদরা তাঁর কাজ ও মহিমাকে মূল্যায়ন করেছেন। অন্যান্য আসমানী ধর্মের বহু অনুসারী তাঁর রিসালাতের প্রতি ঈমান এনেছেন। 'দ্য হিরোজ' (অশ্ববীর) গ্রন্থের লেখক 'টমাস কার্লাইল' নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন:

«তিনি স্বভাবজাতভাবেই একজন মহান ব্যক্তি ছিলেন; কোনো বিদ্যালয় তাঁকে শিক্ষিত করেনি, কোনো শিক্ষক তাঁকে পরিশীলিত করেননি, বরং তিনি মরুভূমির গভীরে একাকী তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন»। টমাস কার্লাইল আরও বলেন: নিশ্চয়ই রাসূল মুহাম্মদ যে বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, তা আজও প্রদীপ্ত চিরাগ (সিরাজুম মুনীর) হয়ে আছে। অতঃপর ডক্টর 'মাইকেল হার্ট' বিশ্বের প্রথম একশত জন মহামানবের তালিকার শীর্ষে তাঁকে স্থান দিয়েছেন, যা এই আরব নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহিমা ও প্রতিভার এক অনন্য স্বীকৃতি! এর অর্থ কী?

নিশ্চয়ই এই আরব রাসূল মহান «এবং আমরা তাঁকে যথাযথ সম্মান দিতে সক্ষম নই, এমনকি যদি সমুদ্রের পানিকে আমাদের শব্দের কালিতে পরিণত করি তবুও; … এই অলৌকিক ব্যক্তিত্ব যিনি অল্প কয়েক বছরের মধ্যে সামাজিক বৈষম্য, গোত্রীয় গোঁড়ামি, মূর্তিপূজার ধর্মীয় বিশ্বাস এবং উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রথা ও অভ্যাসগুলোকে জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন, যেগুলোর শিকড় শত শত বছর ধরে জাহিলী গোত্রীয় সমাজের গভীরে প্রোথিত ছিল» «২» ।

--------------------------------------------

(১) ড. সুহাইল জাক্কার, মাইআতু আওয়াইল মিন তুরাছিনা (আমাদের ঐতিহ্যের প্রথম একশত), পৃ. ২০।

(২) 'রিসালাতুল ইসলাম' (ইসলামের দাওয়াত) গ্রন্থের ভূমিকা থেকে, আল-রাসূলুল আরাবি, আল-ইমাদ মুস্তফা ত্বলাস, পৃ. ১৩ - দারুশ শূরা - বৈরুত।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌محمّد والشعر صلى الله عليه وسلم

وهذه القصائد المختارة لعدد من شعراء الأمة العربية على أختلاف مذاهبهم، ومشاربهم هي نبضات قلوب مفعمة بمحبة المصطفى صلى الله عليه وسلم، تدلّ على نبل أصحابها وسموهم ورفعتهم ولا عجب في ذلك فالشعراء كانوا وما زالوا سباقين لتقدير واكتشاف العظمة والعظماء، وذلك بفضل ما رزقهم الله تعالى من فيض الشاعرية التي تشع وتنبىء ومن ثم يأتي الإلهام …

ومن كالنبي محمد صلى الله عليه وسلم أجدر بالمدح والثناء واظهار عظمته وعبقريته؟ إنه مصدر ثرّ للإلهام …

وقد روى عنه محبته للشعر والشعراء، حيث أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم قوله:

إن من الشعر لحكمة، وإن من البيان لسحرا» كما ذكر الرواة أن الشاعر «النابغة الجعدي» حين وفد على النبي فأنشده قصيدته الرائية وبلغ منها قوله:

ولا خير في حلم إذا لم تكن له … بوادر تحمي صفوه أن يكدّرا

ولا خير في جهل إذا لم يكن له … حليم إذا ما أورد الأمر أصدرا

طرب النبي لهذا المعنى الكريم واستحسنه وقال للشاعر: «أحسنت يا أبا ليلى! لا يفضض الله فاك» . كذلك روي أن رسول الله قال: «الشعر كلام من كلام العرب جزل تتكلم به في بواديها، وتسل به الضغائن من بينها»

كذلك كان النبي صلى الله عليه وسلم يعرف قيمة الشعر وخطره وأثره في تأليف القلوب واستلال الأضغان، وإثارة الأشجان، فلقد كان يكثر من استنشاد شعر الخنساء في أخيها صخر، ويستعيدها ويستزيدها ويقول لها: «هيه يا خناس!» وكأنه وجد في صدق العاطفة ومواجد الحزن في شعر الخنساء ما تتمثل فيه مراحم القلوب، ومواجع الأكباد ثم ألم يكن النبي يتأثر لكلمة حق قالها شاعر مخضرم هو «لبيد بن ربيعة العامري، فيقول:

«أصدق كلمة قالها شاعر قول لبيد: «ألا كل شيء ما خلا الله باطل» .
মুহাম্মাদ এবং কবিতা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

আরব জাতির বিভিন্ন মতাদর্শ ও রুচির একদল কবির এই নির্বাচিত কাসিদাসমূহ হলো মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভালোবাসায় সিক্ত হৃদয়ের স্পন্দন, যা তাদের রচয়িতাদের আভিজাত্য, গাম্ভীর্য ও উচ্চমর্যাদার বহিঃপ্রকাশ। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ কবিরা মহানুভবতা ও মহৎ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন ও আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সর্বদা অগ্রগামী ছিলেন এবং আছেন। এটি সম্ভব হয়েছে মহান আল্লাহ তাদের কবিত্বশক্তির যে প্রাচুর্য দান করেছেন তার বদৌলতে, যা বিচ্ছুরিত হয় ও বার্তা প্রদান করে, আর সেখান থেকেই আসে অনুপ্রেরণা …

নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেয়ে অধিক প্রশংসা, স্তুতি এবং তাঁর মহানুভবতা ও অসাধারণ প্রতিভা প্রকাশের যোগ্য আর কে হতে পারে? তিনি অনুপ্রেরণার এক অফুরন্ত উৎস …

তাঁর পক্ষ থেকে কবিতা ও কবিদের প্রতি ভালোবাসার কথা বর্ণিত হয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তাঁর এই বাণীটি বর্ণিত হয়েছে যে:

“নিশ্চয়ই কোনো কোনো কবিতায় হিকমত (প্রজ্ঞা) রয়েছে এবং কোনো কোনো বাগ্মিতায় যাদু রয়েছে।” বর্ণনাকারীরা আরও উল্লেখ করেন যে, কবি ‘নাবিগাহ আল-জাদি’ যখন নবীর কাছে প্রতিনিধি হিসেবে আসলেন এবং তাঁকে তাঁর ‘রাইয়্যাহ’ কাসিদাটি পড়ে শোনালেন, তখন তিনি এই চরণে পৌঁছালেন:

“সেই সহনশীলতায় কোনো কল্যাণ নেই যার এমন কোনো তেজ নেই … যা তার নির্মলতাকে ঘোলাটে হওয়া থেকে রক্ষা করে।

আর সেই অজ্ঞতায় কোনো কল্যাণ নেই যার এমন কোনো … সহনশীল ব্যক্তি নেই যে কোনো কাজ শুরু করলে তা সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারে।”

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই মহান অর্থে বিমোহিত হলেন এবং একে পছন্দ করলেন। তিনি কবিকে বললেন: “হে আবু লায়লা! তুমি চমৎকার বলেছ। আল্লাহ তোমার মুখমণ্ডলকে (দাঁতসমূহকে) অক্ষত রাখুন।” একইভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল বলেছেন: “কবিতা হলো আরবদের বক্তব্যের একটি বিশেষ ধরণ, যা তারা তাদের মরুপ্রান্তরে বলে থাকে এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্য থেকে পারস্পরিক বিদ্বেষ দূর করে।”

অনুরূপভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবিতার মূল্য, এর গুরুত্ব এবং হৃদয় জয় করতে, বিদ্বেষ উপড়ে ফেলতে ও আবেগ জাগ্রত করতে এর প্রভাব সম্পর্কে জানতেন। তিনি খাসসার কাছে তাঁর ভাই সাখর সম্পর্কে রচিত কবিতা বারবার শুনতে চাইতেন এবং তাকে আরও বেশি শোনানোর অনুরোধ করতেন এবং বলতেন: “বলে যাও হে খানাস!” মনে হতো তিনি খাসসার কবিতার অকৃত্রিম আবেগ ও শোকাতুর অনুভূতির মাঝে হৃদয়ের কোমলতা ও কলিজার দহনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পেতেন। এছাড়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন প্রবীণ কবি লাবিদ বিন রাবিয়াহ আল-আমিরীর বলা সত্য বাণীর দ্বারা প্রভাবিত হতেন এবং বলতেন:

“কোনো কবির বলা সবচেয়ে সত্য কথা হলো লাবিদের এই কথাটি: ‘জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া আর সবকিছুই অসার’।”
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৩)
كما روي عن النبي محمد صلى الله عليه وسلم أنه كان كلما ارتاب بخبر تمثل بقول «طرفة بن العبد» : «ويأتيك بالأخبار من لم تزوّد» .

وإذا كان القرآن الكريم قد حكم على الشعراء بقوله: «والشعراء يتبعهم الغاوون، ألم تر أنهم في كل واد يهيمون، وأنهم يقولون ما لا يفعلون» ، فإن الحكم هنا لم يكن على عمومه، فقد اتبعه، بالاستثناء بقوله: «إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ وَذَكَرُوا اللَّهَ كَثِيراً … » وهؤلاء الشعراء هم الذين كان يعتمد الرسول عليهم للتصدي للمشركين مثل الشاعر حسان بن ثابت الأنصاري، وعبد الله بن رواحة، وكعب بن مالك وفيهم نزل الاستثناء المذكور.

من هذا المنطلق كانت هذه القصائد الرصينة بمدح الرسول العربي الكريم لبعض الشعراء قمنا بجمعها وانتقائها من بين عدد كبير منها. قيلت في أزمان متباعدة وعصور مختلفة، فمن قصائد الشعراء المخضرمين كالشاعرين الأعش، وكعب بن زهير إلى العصور اللاحقة مثل قصيدتي «البوصيري، وابن الساعاتي» إلى قصائد الشعراء المعاصرين مثل أحمد شوقي وخليل مطران، وبدوي الجبل، وعمر أبو ريشه، والشاعر القروي، ومحمد البزم، وسليم الزركلي، وأنور العطار، وجورج صيدح إلى باقي الشعراء أصحاب القصائد المنتقاة …
নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যখনই তিনি কোনো সংবাদের বিষয়ে সংশয় বোধ করতেন, তখনই তিনি ‘তারাফা ইবনে আল-আবদ’-এর এই চরণের উদাহরণ দিতেন: “যাকে তুমি পাথেয় প্রদান করোনি, সেই তোমার নিকট সংবাদ নিয়ে আসবে।”

পবিত্র কুরআন যদিও কবিদের সম্পর্কে এই হুকুম দিয়েছে যে: “আর কবিরা—তাদের অনুসরণ করে বিভ্রান্তরা। আপনি কি দেখেন না যে, তারা প্রতিটি উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়? এবং তারা যা বলে, তা নিজেরা করে না।” তবে এই বিধানটি ঢালাওভাবে সকলের জন্য নয়; বরং এর পরপরই ব্যতিক্রম উল্লেখ করে বলা হয়েছে: “তবে তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করেছে …” আর এই কবিগণই ছিলেন তারা, মুশরিকদের প্রতিহত করার জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাঁদের ওপর নির্ভর করতেন। যেমন কবি হাসসান বিন সাবিত আনসারী, আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা এবং কাব বিন মালিক; আর উল্লিখিত ব্যতিক্রমটি তাঁদের ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপট থেকেই সম্মানিত আরব রাসূলের প্রশংসায় কতিপয় কবির রচিত এই সুদৃঢ় কাসিদাগুলো আমরা এক বিশাল কাব্যভাণ্ডার থেকে সংগ্রহ ও চয়ন করেছি। এগুলো সুদীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এবং বিভিন্ন যুগে রচিত হয়েছে। মুখাদরাম কবি আল-আশা এবং কাব বিন যুহাইর-এর কাসিদা থেকে শুরু করে পরবর্তী যুগের আল-বুসিরি ও ইবনুল সাআতি-এর কাসিদা এবং সমসাময়িক কবি যেমন আহমদ শাওকি, খলিল মুতরান, বাদবি আল-জাবাল, উমর আবু রিশা, আশ-শা'য়ির আল-কারাভি, মুহাম্মদ আল-বাযম, সালিম আল-যারাকলি, আনোয়ার আল-আত্তার ও জর্জ সাইদাহসহ নির্বাচিত অন্যান্য কবিদের কাসিদা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে …
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌نبي يرى ما لا ترون

(الأعشى يمدح النبي محمدا صلى الله عليه وسلم

ألم تغتمض عيناك ليلة أرمدا … وعادك ما عاد السليم المسهّدا

أجدّت برجليها نجاء وراجعت … يداها خنافا لينا غير أحردا

فآليت لا أرثي لها من كلالة، … ولا من حفى حتى تزور محمّدا

متى ما تناخي عند باب ابن هاشم … تريحي وتلقي من فواضله يدا

نبي يرى ما لا ترون، وذكره … أغار، لعمري، في البلاد وأنجدا

له صدقات ما تغيب، ونائل … وليس عطاء اليوم مانعه غدا

أجدّك لم تسمع وصاة محمد، … نبي الإله، حين أوصى وأشهدا

إذا أنت لم ترحل بزاد من التقى، … ولاقيت بعد الموت من قد تزوّدا

ندمت على أن لا تكون كمثله، … وأنك لم ترصد لما كان أرصدا

فإيّاك والميتات، لا تأكلنّها، … ولا تأخذن سهما حديدا لتفصدا

وذا النّصب المنصوب لا تنسكنّه … ولا تعبد الأوثان، والله فاعبدا

وصلّ على حين العشيات والضحى، … ولا تحمد الشيطان، والله فاحمدا

ولا السائل المحروم لا تتركنّه … لعاقبة، ولا الأسير المقيّدا

ولا تسخرن من بائس ذي ضرارة … ولا تحسبنّ المرء يوما مخلّدا

ولا تقربنّ جارة، إنّ سرّها … عليك حرام، فأنكحنّ، أو تأبّدا
একজন নবী যিনি তা দেখেন যা তোমরা দেখ না

(আল-আ'শা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা করছেন)

তোমার চোখ কি চক্ষুুরোগাক্রান্ত ব্যক্তির রাতের মতো বন্ধ হয়নি … আর তোমার কাছে কি তা-ই ফিরে এসেছে যা দংশিত বিনিদ্র ব্যক্তির কাছে ফিরে আসে?

সে তার পা দিয়ে দ্রুত পলায়নের চেষ্টা করল এবং তার হাত দু'টি … সাবলীল ও নমনীয় গতিতে ফিরে এল যা আড়ষ্ট নয়।

আমি শপথ করেছি যে, ক্লান্তি বা পায়ের ক্ষতের কারণে আমি তার প্রতি করুণা করব না, … যতক্ষণ না সে মুহাম্মাদের সাক্ষাত লাভ করে।

যখনই তুমি হাশিমের বংশধরের দুয়ারে তাকে বসাবে, … তখনই তুমি বিশ্রাম পাবে এবং তাঁর অনুগ্রহের হাত থেকে দান লাভ করবে।

তিনি এমন একজন নবী যিনি তা দেখেন যা তোমরা দেখ না, আর তাঁর আলোচনা— … আমার জীবনের কসম—দেশ-বিদেশের নিম্নভূমি ও উচ্চভূমি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

তাঁর এমন দান-সদকা রয়েছে যা কখনও শেষ হয় না, আর এমন বদান্যতা … যে আজকের দান কালকের দানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

তুমি কি সত্যিই আল্লাহর নবী মুহাম্মাদের সেই নসীহত শোননি, … যখন তিনি উপদেশ দিচ্ছিলেন এবং সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন?

যদি তুমি তাকওয়ার পাথেয় নিয়ে যাত্রা না করো, … আর মৃত্যুর পর এমন ব্যক্তিদের সাথে তোমার সাক্ষাত হয় যারা পাথেয় সংগ্রহ করেছে;

তখন তুমি লজ্জিত হবে যে কেন তুমি তাঁর মতো হলে না, … এবং কেন তুমি সেই পাথেয় প্রস্তুত রাখলে না যা তিনি প্রস্তুত করেছিলেন।

সুতরাং মৃত পশুর মাংস থেকে বেঁচে থাকো, তা কক্ষনো খেয়ো না, … আর রক্ত বের করার জন্য কোনো লোহার তীর গ্রহণ করো না।

স্থাপিত মূর্তির উদ্দেশ্যে বলিদান করো না … এবং প্রতিমার উপাসনা করো না, বরং আল্লাহর ইবাদত করো।

আর সন্ধ্যা ও পূর্বাহ্নে সালাত আদায় করো, … শয়তানের প্রশংসা করো না বরং আল্লাহরই প্রশংসা করো।

বঞ্চিত যাঞ্চাকারী এবং শৃঙ্খলিত বন্দীকে … পরিণামের ভয়ে ত্যাগ করো না।

কোনো দুর্দশাগ্রস্ত অভাবী ব্যক্তিকে বিদ্রূপ করো না … আর কোনো মানুষকে কক্ষনো চিরস্থায়ী মনে করো না।

প্রতিবেশী মহিলার নিকটবর্তী হয়ো না, কেননা তার গোপন বিষয় … তোমার জন্য হারাম; সুতরাং বিবাহ করো অথবা চিরকাল বিরত থাকো।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌«بانت سعاد»

(كعب بن زهير) (قال كعب بن زهير مادحا الرسول العربي محمد صلى الله عليه وسلم:)

بانت سعاد فقلبي اليوم متبول … متيم إثرها لم يجز مكبول

وما سعاد غداة البين اذ رحلوا … إلا أغنّ غضيض الطرف مكحول

تجلو عوارض ذي ظلم إذا ابتسمت … كأنه منهل بالراح معلول

شجّت بذي شيم من ماء محنية … صاف بأبطح أضحى وهو مشمول

تجلو الرياح القذى عنه وأفرطه … من صوب سارية بيض يعاليل

يا ويحها خلة لو أنها صدقت … ما وعدت أولو أنّ النصح مقبول

لكنّها خلة قد سيط من دمها … فجع وولع وإخلاف وتبديل

فما تدوم على حال تكون بها … كما تلوّن في أثوابها الغول

وما تمسّك بالوصل الذي زعمت … الا كما تمسك الماء الغرابيل

كانت مواعيد عرقوب لها مثلا … وما مواعيدها إلا الأباطيل

أرجو وآمل أن يعجلن في أبد … وما لهنّ طوال الدهر تعجيل

فلا يغرنك ما منّت وما وعدت … إن الأماني والأحلام تضليل

أمست سعاد بأرض لا يبلغها … الا العتاق النجيبات المراسيل

ولن يبلّغها إلا عذافرة … فيها على الأين إرقال وتبغيل

من كلّ نضاخة الذفرى اذا عرفت … عرضتها طامس الأعلام مجهول

ترمي الغيوب بعيني مفرد لهق … اذا توقّدت الحزّان والميل

ضخم مقلّدها فعم مقيدها … في خلقها عن بنات الفحل تفضيل

حرف أخوها أبوها من مهجّنة … وعمّها خالها قوداء شمليل

تمرّ مثل عسيب النّخل ذا خصل … في غارز لم تخونه الأحاليل
«সুয়াদ পৃথক হয়েছে»

(কাব বিন জুহাইর) (কাব বিন জুহাইর আরবীয় রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসা করে বলেন:)

সুয়াদ পৃথক হয়েছে, ফলে আজ আমার অন্তর ব্যথিত; তার অনুগমনে মোহগ্রস্ত, যা দায়মুক্ত নয় এবং শৃঙ্খলিত। … সুয়াদ পৃথক হয়েছে, ফলে আজ আমার অন্তর ব্যথিত; তার অনুগমনে মোহগ্রস্ত, যা দায়মুক্ত নয় এবং শৃঙ্খলিত।

বিচ্ছেদের প্রভাতে যখন তারা প্রস্থান করল, তখন সুয়াদ ছিল এক সুমিষ্ট কণ্ঠী, অবনত নয়না ও সুরমা আঁখা হরিণীর ন্যায় বৈ কিছু নয়। … বিচ্ছেদের প্রভাতে যখন তারা প্রস্থান করল, তখন সুয়াদ ছিল এক সুমিষ্ট কণ্ঠী, অবনত নয়না ও সুরমা আঁখা হরিণীর ন্যায় বৈ কিছু নয়।

সে যখন হাসে তখন উজ্জ্বল শুভ্র দাঁত প্রকাশিত হয়, যেন তা সুরায় সিক্ত হওয়ার পর পুনরায় আপ্যায়িত হয়েছে। … সে যখন হাসে তখন উজ্জ্বল শুভ্র দাঁত প্রকাশিত হয়, যেন তা সুরায় সিক্ত হওয়ার পর পুনরায় আপ্যায়িত হয়েছে।

যা উপত্যকার বাঁকের শীতল পানির সাথে মিশ্রিত, বালুকাময় প্রান্তরের স্বচ্ছ পানি, যা উত্তর বায়ুর পরশে শীতল হয়েছে। … যা উপত্যকার বাঁকের শীতল পানির সাথে মিশ্রিত, বালুকাময় প্রান্তরের স্বচ্ছ পানি, যা উত্তর বায়ুর পরশে শীতল হয়েছে।

বাতাস যা থেকে ধূলিকণা দূর করে দেয় এবং রাতের শুভ্র ও বর্ষণমুখর মেঘ তাকে কানায় কানায় পূর্ণ করে দিয়েছে। … বাতাস যা থেকে ধূলিকণা দূর করে দেয় এবং রাতের শুভ্র ও বর্ষণমুখর মেঘ তাকে কানায় কানায় পূর্ণ করে দিয়েছে।

হায় তার বন্ধুত্ব! যদি সে তার প্রতিশ্রুতিতে সত্যবাদী হতো, কিংবা যদি উপদেশ গ্রহণ করা হতো। … হায় তার বন্ধুত্ব! যদি সে তার প্রতিশ্রুতিতে সত্যবাদী হতো, কিংবা যদি উপদেশ গ্রহণ করা হতো।

কিন্তু সে এমন এক বন্ধু যার রক্তে মিশে আছে বেদনা, আসক্তি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও পরিবর্তনশীলতা। … কিন্তু সে এমন এক বন্ধু যার রক্তে মিশে আছে বেদনা, আসক্তি, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও পরিবর্তনশীলতা।

সে কোনো এক অবস্থায় স্থির থাকে না, যেমন গোরখোদক জিন তার পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে। … সে কোনো এক অবস্থায় স্থির থাকে না, যেমন গোরখোদক জিন তার পোশাকের রঙ পরিবর্তন করে।

সে দাবিকৃত সম্পর্কের প্রতি অটল থাকে না, তবে ততটুকুই যতটুকু চালনি পানি ধরে রাখতে পারে। … সে দাবিকৃত সম্পর্কের প্রতি অটল থাকে না, তবে ততটুকুই যতটুকু চালনি পানি ধরে রাখতে পারে।

উরকুবের প্রতিশ্রুতি তার জন্য প্রবাদ হয়ে আছে, আর তার প্রতিশ্রুতিগুলো অসারতা বৈ কিছু নয়। … উরকুবের প্রতিশ্রুতি তার জন্য প্রবাদ হয়ে আছে, আর তার প্রতিশ্রুতিগুলো অসারতা বৈ কিছু নয়।

আমি আশা ও কামনা করি যে তারা দ্রুতই পূর্ণ হবে, অথচ দীর্ঘ কালেও তাদের কোনো পূর্ণতা নেই। … আমি আশা ও কামনা করি যে তারা দ্রুতই পূর্ণ হবে, অথচ দীর্ঘ কালেও তাদের কোনো পূর্ণতা নেই।

সুতরাং সে যা আশা দিয়েছে ও ওয়াদা করেছে তা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে; নিশ্চয়ই কামনা ও স্বপ্নসমূহ বিভ্রান্তি মাত্র। … সুতরাং সে যা আশা দিয়েছে ও ওয়াদা করেছে তা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে; নিশ্চয়ই কামনা ও স্বপ্নসমূহ বিভ্রান্তি মাত্র।

সুয়াদ এমন এক ভূমিতে উপনীত হয়েছে যেখানে সুজাত, শ্রেষ্ঠ ও দ্রুতগামী উষ্ট্রী ছাড়া পৌঁছানো সম্ভব নয়। … সুয়াদ এমন এক ভূমিতে উপনীত হয়েছে যেখানে সুজাত, শ্রেষ্ঠ ও দ্রুতগামী উষ্ট্রী ছাড়া পৌঁছানো সম্ভব নয়।

আর সেখানে শক্তিশালী উষ্ট্রী ছাড়া কেউ পৌঁছাতে পারবে না, যার মধ্যে ক্লান্তি সত্ত্বেও দ্রুত চলা ও দ্রুত কদম ফেলার ক্ষমতা রয়েছে। … আর সেখানে শক্তিশালী উষ্ট্রী ছাড়া কেউ পৌঁছাতে পারবে না, যার মধ্যে ক্লান্তি সত্ত্বেও দ্রুত চলা ও দ্রুত কদম ফেলার ক্ষমতা রয়েছে।

এমন প্রত্যেক উষ্ট্রী যার কানের পশ্চাৎভাগ থেকে ঘাম ঝরে, যখন সে চিহ্নহীন অজানা পথ অতিক্রম করে। … এমন প্রত্যেক উষ্ট্রী যার কানের পশ্চাৎভাগ থেকে ঘাম ঝরে, যখন সে চিহ্নহীন অজানা পথ অতিক্রম করে।

সে অজানার পানে দৃষ্টিপাত করে নির্জন প্রান্তরের শুভ্র বন্য ষাঁড়ের চোখের ন্যায়, যখন পাথুরে ভূমি ও পাহাড়সমূহ উত্তাপে প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে। … সে অজানার পানে দৃষ্টিপাত করে নির্জন প্রান্তরের শুভ্র বন্য ষাঁড়ের চোখের ন্যায়, যখন পাথুরে ভূমি ও পাহাড়সমূহ উত্তাপে প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠে।

তার ঘাড় স্থূল, পাগুলো মাংসল; তার শারীরিক গঠনে অন্য সাধারণ উষ্ট্রীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। … তার ঘাড় স্থূল, পাগুলো মাংসল; তার শারীরিক গঠনে অন্য সাধারণ উষ্ট্রীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে।

সে এক শক্তিশালী উষ্ট্রী, আভিজাত্য রক্ষায় যার বংশধারা অত্যন্ত নিবিড়, সে দীর্ঘ ঘাড় বিশিষ্ট ও ক্ষিপ্রগামী। … সে এক শক্তিশালী উষ্ট্রী, আভিজাত্য রক্ষায় যার বংশধারা অত্যন্ত নিবিড়, সে দীর্ঘ ঘাড় বিশিষ্ট ও ক্ষিপ্রগামী।

সে খেজুরের ডালসদৃশ চুলের গোছার মতো দ্রুত চলে, এমন লেজের সাহায্যে যা দোহনের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েনি। … সে খেজুরের ডালসদৃশ চুলের গোছার মতো দ্রুত চলে, এমন লেজের সাহায্যে যা দোহনের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েনি।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৭)
قنواء في حرّتيها للبصير بها … عتق مبين وفي الخدين تس؟؟؟

تخدي على يسرات وهي لاحقة … ذوابل وقعهنّ الأرض تحليل

سمر العجايات يتركن الحصى زيما … لم يقهنّ رءوس الأكم تنعيل

يوما يظلّ به الحرباء مصطخما … كأنّ ضاحيه؟؟؟ نار مملول

كأن أوب ذراعيها وقد عرقت … وقد تلفّع بالقو؟؟؟ العساقيل

وقال للقوم حاديهم وقد جعلت … ورق الجنادب يركضن ا؟؟؟ ى قيلوا

شدّ النّهار ذراعا عيطل نصف … قامت فجاوبها نكد م؟؟؟ اكيل

نوّاحة رخوة الضّبعين ليس لها … لما نعى بكرها الناعون معقول

تفري اللبان بكفّيها ومدرعها … مشقّق عن تراقيها رعابيل

يسعى الوشاة بجنبيها وقولهم … انك يا ابن أبي سلمى لمقتول

وقال كل خليل كنت آمله … لا ألفينك أني عنك مشغول

فقلت خلّوا طريقي لا أبالكم … فكل ما قدّر الرحمن مفعول

كل ابن انثى وإن طالت سلامته … يوما على آلة حد باء محمول

أنبئت أن رسول الله أوعدني … والعفو عند رسول الله مأمول

مهلا هداك الذي أعطاك نافلة ال … قرآن فيها مواعيظ وتفصيل

لا تأخذنّي بأقوال الوشاة ولم … أذنب ولو كثرت عني الأوقايل

لقد أقوم مقاما لو يقوم به … أرى واسمع ما لو يسمع الفيل

لظلّ يرعد إلّا أن يكون له … من الرسول بإذن الله تنويل

حتى وضعت يميني لا أنازعه … في كف ذي نقمات قيله القيل

لذاك أهيب عندي اذ أكلّمه … وقيل إنك مسبور ومسئول

من ضيغم من ضراء الأسد مخدره … ببطن عثر غيل دونه غيل

يغدو فيلحم ضرغامين عيشهما … لحم من القوم معفور خراذيل

اذا يساور قرنا لا يحلّ له … أن يترك القرن إلا وهو مفلول

منه تظلّ حمير الوحشي ضامزة … ولا تمشى بواديه الأراجيل

ولا يزال بواديه أخو ثقة … مطرّح البز والدرسان مأكول
তার কানের ছিদ্রে বাঁক রয়েছে যা পর্যবেক্ষণকারীর কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট … তা আভিজাত্যের বহিঃপ্রকাশ এবং তার গালদ্বয় মসৃণ।

সে তার সহজ পদক্ষেপে দ্রুতগতিতে চলে যখন তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো কৃশ … তার পদাঘাতে মাটি প্রকম্পিত ও বিদীর্ণ হয়।

তার পায়ের রগগুলো অত্যন্ত শক্ত যা নুড়ি পাথরকে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় … এমনকি পাহাড়ের চূড়ার কঠিন পাথরও তার খুরকে ক্ষয় করতে পারে না।

এমন এক দিন যখন গিরগিটি প্রচণ্ড রোদে পুড়তে থাকে … মনে হয় রোদেলা তপ্ত ভূমি যেন উত্তপ্ত অঙ্গারের মতো জ্বলছে।

মনে হয় যেন তার দুই বাহু দ্রুত সঞ্চালিত হচ্ছে যখন সে ঘর্মাক্ত হয় … আর মরুভূমির মরীচিকা যখন চারপাশ আবৃত করে ফেলে।

কাফেলার পরিচালক যখন সঙ্গীদের বলল—যখন ফড়িংগুলো তপ্ত বালুর ওপর লাফাচ্ছিল— … তোমরা দুপুরের বিশ্রাম গ্রহণ করো।

দিনের দ্বিপ্রহরে যখন দীর্ঘদেহী এক শোকাতুরা নারী … বিলাপ করতে দাঁড়িয়েছে এবং তার বিলাপের উত্তর দিচ্ছে অন্য এক সন্তানহারা নারী।

সেই বিলাপকারিণী যার বাহু শিথিল, যার কোনো হিতাহিত জ্ঞান অবশিষ্ট নেই … যখন সংবাদদাতারা তার প্রথম সন্তানের মৃত্যু সংবাদ নিয়ে এল।

সে তার দুই হাত দিয়ে নিজের বক্ষ বিদীর্ণ করছে এবং তার পরিধেয় বস্ত্র … তার কণ্ঠনালীর কাছ থেকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।

চোগলখোরেরা তার চারপাশ দিয়ে কুৎসা রটিয়ে বেড়াচ্ছে এবং বলছে— … হে আবু সুলমার পুত্র! তুমি নিশ্চয়ই নিহত হবে।

আমার প্রত্যেক বন্ধু যার কাছে আমি আশা পোষণ করতাম, সে বলল— … আমি তোমার কোনো উপকারে আসব না, আমি নিজের কাজে ব্যস্ত।

আমি বললাম, তোমরা আমার পথ ছেড়ে দাও, তোমাদের কোনো কল্যাণ হোক (বা পিতৃশূন্য হও) … কারণ রহমান যা নির্ধারণ করেছেন তা কার্যকর হবেই।

প্রত্যেক নারীজাত সন্তান (আদমসন্তান), যদিও সে দীর্ঘকাল নিরাপদে থাকে … একদিন তাকে সংকীর্ণ খাটিয়ার ওপর বহন করা হবেই।

আমাকে জানানো হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল আমাকে ভীতি প্রদর্শন করেছেন … অথচ আল্লাহর রাসূলের কাছে ক্ষমার আশা করা যায়।

ধৈর্য ধরুন! আপনাকে সেই সত্তা পথপ্রদর্শন করেছেন যিনি আপনাকে দান করেছেন … কুরআন, যাতে রয়েছে উপদেশ এবং বিস্তারিত বিবরণ।

চোগলখোরদের কথায় আমাকে পাকড়াও করবেন না, অথচ আমি কোনো অপরাধ করিনি … যদিও আমার বিরুদ্ধে অনেক কথা ছড়ানো হয়েছে।

আমি আজ এমন এক স্থানে দাঁড়িয়েছি যে স্থানে যদি হাতিও দাঁড়াত— … এবং আমি যা দেখছি ও শুনছি তা যদি সে দেখত ও শুনত—

তবে সে ভয়ে কাঁপতে থাকত, যদি না আল্লাহর পক্ষ থেকে … রাসূলের মাধ্যমে তার প্রতি কোনো অনুগ্রহ আসত।

অবশেষে আমি আমার ডান হাত আল্লাহর রাসূলের হাতের তালুর ওপর রাখলাম এবং কোনো বিতর্ক করলাম না … সেই মহান ব্যক্তির হাতে যাঁর কথা অমোঘ এবং যিনি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী।

যখন আমি তাঁর সাথে কথা বলি তখন তিনি আমার কাছে অত্যন্ত ভয়াল ও শ্রদ্ধেয় মনে হন … যখন বলা হলো যে তোমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি সেই সিংহের মতো যার আবাস গভীর অরণ্যের ঝোপঝাড়ের মধ্যে … 'আছারের' গভীর উপত্যকায় যার এক বনের পর অন্য বন অবস্থিত।

সে সকালে বের হয় এবং দুই শক্তিশালী সিংহকে তার শিকারে পরিণত করে … যাদের খাবার হলো মানুষের সেই মাংস যা ধুলোয় মিশে ছিন্নভিন্ন হয়ে থাকে।

সে যখন কোনো প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন তার পক্ষে সম্ভব হয় না … তাকে পরাস্ত ও পর্যুদস্ত না করে ছেড়ে দেওয়া।

তার ভয়ে বন্য গাধারা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে … আর সাধারণ মানুষ তার উপত্যকায় চলাফেরা করতে সাহস পায় না।

তার উপত্যকায় কোনো সাহসী ব্যক্তিও নিরাপদ নয় … যার অস্ত্র ও জীর্ণ পোশাক ছিন্নভিন্ন হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে এবং সে ভক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৮)
إن الرسول لسيف يستضاء به … مهند من سيوف الله مسلول

في عصبة من قريش قال قائلهم … ببطن مكّة لما أسلموا زولوا

زالوا فما زال انكاس ولا كشف … عند اللقاء ولا ميل معازيل

شمّ العرانين أبطال لبوسهم … من نسج داود في الهيجا سرابيل

بيض سوابغ قد شكّت لها حلق … كأنها حلق القفعاء مجدول

يمشون مشي الجمال الزهر يعصمهم … ضرب اذا عرّد السود التنابيل

لا يفرحون اذا نالت رماحهم … قوما وليسو مجازيعا إذا نيلوا

لا يقع الطّعن إلا في نحورهم … ما إن لهم عن حياض الموت تهليل
নিশ্চয়ই রাসূল হলেন এক জ্যোতি প্রদানকারী তলোয়ার … আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্যে এক কোষমুক্ত ধারালো তরবারি।

কুরাইশদের এমন এক দলের মাঝে যাদের মুখপাত্র বলেছিলেন … মক্কার অভ্যন্তরে যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করল, "তোমরা প্রস্থান করো।"

তারা প্রস্থান করল, অথচ তারা হীনবল বা ভীরু ছিল না … যুদ্ধের ময়দানে, আর না তারা ছিল দুর্বল ও নিরস্ত্র।

তারা উন্নত নাসিকা সম্পন্ন মর্যাদাবান বীর, যুদ্ধের ময়দানে যাদের পোশাক … দাউদ (আ.)-এর বুনন করা লৌহবর্ম।

উজ্জ্বল ও প্রশস্ত বর্ম, যার কড়াগুলো সুনিপুণভাবে গাঁথা হয়েছে … যেন তা ক্বাফআ উদ্ভিদের পেঁচানো বলয়।

তারা সাদা উটের ন্যায় গাম্ভীর্যের সাথে পথ চলে, তাদের রক্ষা করে … তাদের বীরত্বপূর্ণ আঘাত, যখন কুৎসিত ভীরুরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে।

তাদের বল্লম কোনো কওমকে আঘাত করলে তারা দম্ভভরে উল্লাসিত হয় না … আর নিজেরা আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তারা অস্থির বা কাতর হয় না।

বর্শার আঘাত কেবল তাদের কণ্ঠনালীতেই (সম্মুখভাগে) লাগে … মরণকূপ থেকে পিছু হটার কোনো স্বভাব তাদের নেই।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌أغر عليه خاتم النبوة

(حسان ابن ثابت الأنصاري)

أغرّ، عليه للنّبوّة خاتم … من الله مشهود يلوح ويشهد

وضمّ الإله اسم النّبي إلى اسمه، … إذ قال في الخمس المؤذّن أشهد

وشقّ له من اسمه كي يجلّه … فذو العرش محمود، وهذا محمّد

نبي أتانا بعد يأس وفترة … من الرّسل، والأوثان في الأرض تعبد

فأمسى سراجا مستنيرا وهاديا، … يلوح كما لاح الصّقيل المهنّد

وأنذرنا نارا، وبشّر جنة … وعلّمنا الإسلام، فالله نحمد

وأنت إله الخلق ربّي وخالقي … بذلك ما عمّرت في الناس أشهد

تعاليت ربّ الناس عن قول من دعا … سواك إلها، أنت أعلى وأمجد

لك الخلق والنّعماء، والأمر كلّه، … فإيّاك نستهدي، وإيّاك نعبد
তিনি উজ্জ্বল কপালধারী, তাঁর ওপর নবুওয়তের মোহর রয়েছে

(হাসসান ইবনে সাবিত আল-আনসারী)

তিনি জ্যোতির্ময়, তাঁর ওপর নবুওয়তের মোহর রয়েছে … যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুষ্পষ্ট, যা দীপ্তি ছড়ায় ও সাক্ষ্য দেয়।

ইলাহ নবীর নামকে নিজের নামের সাথে যুক্ত করেছেন, … যখন মুয়াজ্জিন পাঁচ ওয়াক্তে 'আশহাদু' (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি) বলেন।

তাঁকে সম্মানিত করার জন্য তিনি স্বীয় নাম থেকে তাঁর নাম নির্গত করেছেন, … সুতরাং আরশের অধিপতি হলেন 'মাহমুদ', আর ইনি হলেন 'মুহাম্মাদ'।

এমন এক নবী যিনি আমাদের কাছে এসেছেন নিরাশা এবং রাসূলগণের আগমনের দীর্ঘ বিরতির পর, … যখন পৃথিবীতে মূর্তিপূজা করা হচ্ছিল।

অতঃপর তিনি হলেন এক আলোকোজ্জ্বল প্রদীপ এবং পথপ্রদর্শক, … যা দীপ্তিমান হয় যেমন পালিশ করা উজ্জ্বল ভারতীয় তলোয়ার দীপ্তি দেয়।

তিনি আমাদের জাহান্নামের আগুন সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন … আর আমাদের ইসলাম শিক্ষা দিয়েছেন, তাই আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি।

আর আপনি সৃষ্টির ইলাহ, আমার রব এবং আমার স্রষ্টা … মানুষের মাঝে আমি যতদিন বেঁচে থাকব, আমি এরই সাক্ষ্য দেব।

হে মানুষের রব! আপনি সেই ব্যক্তির কথা থেকে সুউচ্চ, যে আপনার … পরিবর্তে অন্যকে ইলাহ হিসেবে ডাকে; আপনিই সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ মহিমান্বিত।

সৃষ্টি, নেয়ামত এবং সকল কর্তৃত্ব আপনারই, … অতএব আমরা আপনারই কাছে হেদায়েত চাই এবং আপনারই ইবাদত করি।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌البردة

(شرف الدين محمد البوصيري)

أمن تذكر جيران بذي سلم … مزجت دمعا جرى من مقلة بدم

أم هبّت الريح من تلقاء كاظمة … وأومض البرق في الظلماء من إضم

فما لعينيك إن قلت إكففا همتا … وما لقلبك إن قلت استفق يهم

أيحسب الصّبّ أنّ الحبّ منكتم … ما بين منسجم منه ومضطرم

لولا الهوى لم ترق دمعا على طلل … ولا أرقت لذكر البان والعلم

فكيف تنكر حبّا بعد ما شهدت … به عليك عدول الدّمع والسّقم

وأثبت الوجد خطّى عبرة وضنى … مثل البهار على خدّيك والعنم

نعم سرى طيف من أهوى فأرقّني … والحب يعترض اللّذات بالألم

يا لائمي في الهوى العذريّ معذرة … منّي إليك ولو أنصفت لم تلم

عدتك حالي لاسرّي بمستتر … عن الوشاة ولا دائي بمنحسم

محضتني النّصح لكن لست أسمعه … إنّ المحبّ عن العذّال في صمم

إنّي اتهمت نصيح الشّيب في عذل … والشّيب أبعد في نصح عن التّهم

فإنّ أمّارتي بالسّوء ما اتّعظت … من جهلها بنذير الشّيب والهرم

ولا أعدّت من الفعل الجميل قرى … ضيف ألّم برأسي غير محتشم

لو كنت أعلم أني ما أوقّره … كتمت سرّا بدا لي منه بالكتم

من لي بردّ جماح من غوايتها … كما يردّ جماح الخيل باللّجم

فلا ترم بالمعاصي كسر شهوتها … إنّ الطّعام يقوّي شهوة النّهم

والنّفس كالطّفل إن تهمله شبّ على … حبّ الرّضاع وإن تفطمه ينفطم

فاصرف هواها وحاذر أن تولّيه … إنّ الهوى ما تولّى يصم أو يصم
আল-বুরদাহ

(শরফুদ্দিন মুহাম্মদ আল-বুসিরি)

'যি-সালাম' নামক স্থানের প্রতিবেশীদের স্মরণের কারণেই কি তুমি আঁখি হতে প্রবাহিত অশ্রুকে রক্তের সাথে মিশ্রিত করেছ?

নাকি 'কাযিমাহ'র দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়েছে এবং 'ইযাম' পাহাড়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন দিক হতে বিদ্যুৎ চমকে উঠেছে?

তোমার দু'চোখের কী হলো যে, যখন তুমি তাদের থামতে বলো, তারা আরও প্রবলবেগে ঝরতে থাকে? আর তোমার অন্তরেরই বা কী হলো যে, যখন তুমি তাকে স্থির হতে বলো, সে আরও উদভ্রান্ত হয়ে পড়ে?

এই প্রেমিক কি মনে করে যে ভালোবাসা গোপন রাখা সম্ভব? অথচ তার অশ্রু প্রবহমান এবং অন্তর ব্যথিত।

যদি প্রেম না থাকতো, তবে তুমি কোনো ধ্বংসস্তূপের ওপর অশ্রু বিসর্জন দিতে না এবং 'বান' বৃক্ষ ও 'আলাম' পাহাড়ের স্মরণে নির্ঘুম রজনী কাটাতে না।

সুতরাং অশ্রু এবং অসুস্থতার মতো নির্ভরযোগ্য সাক্ষী তোমার বিপক্ষে সাক্ষ্য দেওয়ার পর তুমি কীভাবে প্রেমকে অস্বীকার করবে?

আর প্রেমের ব্যাকুলতা তোমার দু'গালে অশ্রু ও ক্লান্তির এমন রেখা অঙ্কিত করেছে যা অনেকটা হলুদ জুঁই ফুল এবং লাল ফলের ন্যায়।

হ্যাঁ, প্রিয়তমার স্বপ্নচ্ছায়া রাতে আমার নিকট এসেছে এবং আমাকে নির্ঘুম করেছে; আর প্রেম তো সুখ ও বিলাসিতাকে বেদনার দ্বারা বাধাগ্রস্ত করে।

হে উযরি (পবিত্র) প্রেমের জন্য আমাকে ভর্ৎসনাকারী! আমার পক্ষ থেকে তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি; তুমি যদি ইনসাফ করতে তবে আমাকে নিন্দা করতে না।

আমার অবস্থা তোমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে; আমার গোপন বিষয় তো চোগলখোরদের নিকট গোপন নেই এবং আমার এই ব্যাধিও নিরাময় হওয়ার নয়।

তুমি আমাকে অকৃত্রিম উপদেশ দিয়েছ, কিন্তু আমি তা শুনছি না; কারণ প্রেমিক তো নিন্দাকারীদের উপদেশের ব্যাপারে বধির হয়ে থাকে।

আমি বার্ধক্যের হিতোপদেশকেও সন্দেহের চোখে দেখেছি, অথচ বার্ধক্য উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সকল প্রকার অভিযোগ ও সন্দেহ থেকে মুক্ত।

কেননা আমার মন্দকর্মপ্রবণ প্রবৃত্তি তার অজ্ঞতার কারণে বার্ধক্য ও জরাগ্রস্ততার সতর্কবাণী থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি।

আর সে (প্রবৃত্তি) সেই মেহমানের (বার্ধক্য) মেহমানদারির জন্য কোনো উত্তম আমলও প্রস্তুত করেনি, যে নির্দ্বিধায় আমার মস্তকে এসে আস্তানা গেড়েছে।

যদি আমি জানতাম যে আমি তাকে (বার্ধক্যকে) সম্মান করতে পারব না, তবে আমি তার মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া রহস্যকে (পাকা চুলকে) রঞ্জক দ্বারা গোপন রাখতাম।

এই প্রবৃত্তির বিপথগামিতার অবাধ্যতাকে দমন করার জন্য কে আছে আমার? যেভাবে লাগাম দ্বারা অবাধ্য ঘোড়াকে দমন করা হয়।

সুতরাং পাপকাজের মাধ্যমে প্রবৃত্তির লালসা দমন করার চেষ্টা করো না; কেননা আহার যেমন পেটুকের ক্ষুধা আরও বাড়িয়ে দেয়, পাপও তেমনি প্রবৃত্তিকে আরও প্রলুব্ধ করে।

মানব প্রবৃত্তি হলো শিশুর মতো; যদি তাকে ছেড়ে দাও তবে সে দুগ্ধপানের আসক্তি নিয়েই বড় হবে, আর যদি তাকে দুগ্ধপান ছাড়িয়ে দাও তবে সে তা ছেড়ে দেবে।

অতএব প্রবৃত্তির কামনা থেকে বিমুখ থাকো এবং একে তোমার ওপর কর্তৃত্ব করতে দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকো; কেননা কুপ্রবৃত্তি যার ওপর কর্তৃত্ব করে, তাকে সে ধ্বংস করে ফেলে অথবা কলঙ্কিত করে।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২১)
وراعها وهي في الأعمال سائمة … وإن هي استحلت المرعى فلا تسم

كم حسّنت لذّة للمرء قاتلة … من حيث لم يدر أنّ السّمّ في الدّسم

واخش الدّسائس من جوع ومن شبع … فربّ مخمصة شر من التّخم

واستفرغ الدّمع من عين قد امتلأت … من المحارم والزم حمية النّدم

وخالف النّفس والشّيطان واعصهما … وإن هما محضّاك النّصح فاتّهم

ولا تطع منهما خصما ولا حكما … فأنت تعرف كيد الخصم والحكم

أستغفر الله من قول بلا عمل … لقد نسبت به نسلا لذي عقم

أمرتك الخير لكن ما ائتمرت به … وما استقمت في قولي لك استقم

ولا تزوّدت قبل الموت نافلة … ولم أصلّ سوى فرضي ولم أصم

ظلمت سنّة من أحيا الظّلام إلى … أن اشتكت قدماه الضّرّ من ورم

وشدّ من سغب أحشاءه وطوى … تحت الحجارة كشحا مترف الأدم

وراودته الجبال الشّمّ من ذهب … عن نفسه فأراها أيّما شمم

وأكّدت زهده فيها ضرورته … إنّ الضّرورة لا تعدو على العصم

وكيف تدعو إلى الدّنيا ضرورة من … لولاه لم تخرج الدّنيا من العدم

محمّد سيّد الكونين والثّقلين … والفريقين من عرب ومن عجم

هو الحبيب الذي ترجى شفاعته … لكلّ هول من الأهوال مقتحم

دعا إلى الله فالمستمسكون به … مستمسكون بحبل غير منفصم

فاق النّبيين في خلق وفي خلق … ولم يدانوه في علم ولا كرم

وكلّهم من رسول الله ملتمس … غرفا من البحر أو رشفا من الدّيم

وواقفون لديه عند حذّهم … من نقطة العلم أو من شكلة الحكم

فهو الذي ثمّ معناه وصورته … ثمّ اصطفاه حبيبا بارىء النّسم

منزّه عن شريك في محاسنه … فجوهر الحسن فيه غير منقسم

دع ما ادّعته النصارى في نبيّهم … واحكم بما شئت مدحا فيه واجتكم

وانسب إلى ذاته ما شئت من شرف … وانسب إلى قدره ما شئت من عظم
প্রবৃত্তিকে পর্যবেক্ষণ করো যখন সে কর্মের চারণভূমিতে বিচরণ করে … আর যদি সে সেই চারণভূমিকে সুস্বাদু মনে করে, তবে তাকে চড়তে দিও না।

প্রবৃত্তি মানুষের জন্য কতই না প্রাণঘাতী তৃপ্তিকে সুশোভিত করেছে … অথচ সে টেরই পায়নি যে চর্বিযুক্ত সুস্বাদু খাবারের মধ্যেই বিষ রয়েছে।

ক্ষুধা ও উদরপূর্তি—উভয় অবস্থার চক্রান্তকে ভয় করো … কারণ অনেক সময় ক্ষুধার যন্ত্রণা অতিভোজনের পরিণাম থেকেও মন্দতর হয়।

নিষিদ্ধ জিনিসে পূর্ণ হয়েছে যে চোখ, তা থেকে অশ্রু বিসর্জন করো … এবং অনুশোচনার কঠোর আত্মসংযম অবলম্বন করো।

প্রবৃত্তি ও শয়তানের বিরোধিতা করো এবং তাদের অবাধ্য হও … আর তারা যদি তোমাকে অকৃত্রিম উপদেশও দেয়, তবুও তাদের সন্দেহ করো।

বিবাদী হিসেবে হোক কিংবা বিচারক হিসেবে, তাদের কারো আনুগত্য করো না … কেননা বিবাদী ও বিচারকের চক্রান্ত তোমার জানা আছে।

কর্মহীন কথা থেকে আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি … কেননা এর মাধ্যমে আমি যেন এক বন্ধ্যা ব্যক্তির সন্তান লাভের বংশপরম্পরা দাবি করলাম।

আমি তোমাকে কল্যাণের আদেশ দিয়েছি কিন্তু নিজে তা পালন করিনি … আর তোমাকে ‘অটল থাকো’ বললেও আমি নিজে আমার কথায় অটল থাকিনি।

মৃত্যুর আগে আমি কোনো নফল ইবাদতের পাথেয় সংগ্রহ করিনি … আর ফরজ ব্যতীত আমি অতিরিক্ত কোনো নামাজ পড়িনি এবং রোজাও রাখিনি।

আমি তাঁর সুন্নতের প্রতি অবিচার করেছি যিনি রাতের আঁধারে জেগে ইবাদত করতেন … এমনকি তাঁর পা দুটি ফুলে যাওয়ার কষ্টে অভিযোগ করত।

তিনি ক্ষুধার তাড়নায় পেটে পাথর বেঁধেছিলেন … এবং তাঁর সুকোমল চামড়ার উদরকে পাথরের নিচে ভাঁজ করে রেখেছিলেন।

সুউচ্চ স্বর্ণের পাহাড়গুলো তাঁকে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিল … কিন্তু তিনি সেগুলোকে তাঁর সুউচ্চ হিম্মত ও অমুখাপেক্ষিতা প্রদর্শন করেছিলেন।

তাঁর চরম অভাব-অনটন দুনিয়ার প্রতি তাঁর বিরাগকেই সুদৃঢ় করেছে … নিশ্চয়ই অভাব-অনটন আল্লাহ কর্তৃক সংরক্ষিত ব্যক্তিদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে না।

যাঁকে সৃষ্টি না করলে এই পৃথিবী অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আসত না … পার্থিব অভাব কীভাবে তাঁকে দুনিয়ার দিকে প্রলুব্ধ করতে পারে?

মুহাম্মদ (সা.) হলেন উভয় জগৎ, উভয় ভারী সৃষ্টি (মানব ও জিন) … এবং আরব ও অনারব উভয় দলের নেতা।

তিনিই সেই প্রিয় ব্যক্তিত্ব যাঁর শাফায়াত প্রত্যাশা করা হয় … আপতিত সকল ভয়াবহ বিপদের মোকাবিলা করার জন্য।

তিনি আল্লাহর দিকে আহ্বান করেছেন, তাই যারা তাঁকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে … তারা এমন এক অবিচ্ছেদ্য রজ্জু ধারণ করে যা কখনো ছিন্ন হওয়ার নয়।

তিনি সৃষ্টিগত অবয়ব এবং চারিত্রিক মাধুর্যে সকল নবীকে ছাড়িয়ে গেছেন … জ্ঞান ও বদান্যতায় তাঁরা তাঁর সমকক্ষ হতে পারেননি।

আর তাঁরা সকলেই আল্লাহর রাসুলের নিকট হতে যাঞ্চা করেন … সমুদ্র থেকে এক অঞ্জলি পরিমাণ অথবা অবিরাম বর্ষণ থেকে এক চুমুক পরিমাণ প্রসাদের।

তাঁরা সকলে স্ব-স্ব অবস্থানে তাঁর সম্মুখে দণ্ডায়মান … যেন তাঁরা তাঁর মহাজ্ঞানের একটি বিন্দু কিংবা প্রজ্ঞার একটি নোকতা মাত্র।

তিনিই সেই সত্তা যাঁর বাহ্যিক অবয়ব ও অভ্যন্তরীণ ভাব পূর্ণতা লাভ করেছে … অতঃপর প্রাণের স্রষ্টা তাঁকে তাঁর প্রিয়তম হিসেবে মনোনীত করেছেন।

তিনি তাঁর গুণাবলীতে অংশীদারমুক্ত … তাঁর সৌন্দর্যের মূল জওহর বা নির্যাস অবিভাজ্য।

খ্রিস্টানরা তাদের নবীর ব্যাপারে যে অতিশয়োক্তি দাবি করে তা বর্জন করো … এরপর তাঁর প্রশংসায় তুমি যা ইচ্ছা বলো এবং প্রজ্ঞার সাথে ফয়সালা করো।

তাঁর পবিত্র সত্তার সাথে তুমি শ্রেষ্ঠত্বের যা ইচ্ছা সম্বন্ধ করো … এবং তাঁর মর্যাদার সাথে মহত্ত্বের যা ইচ্ছা সম্বন্ধ করো।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২২)
فإنّ فضل رسول الله ليس له … حد فيعرب عنه ناطق بفم

لو ناسبت قدره آياته عظما … أحيا اسمه حين يدعى دارس الرّمم

لم يمتحنّا بما تعيا العقول به … حرصا علينا فلم نرتب ولم نهم

أعيا الورى فهم معناه فليس يرى … في القرب والبعد فيه غير منفحم

كالشّمس تظهر للعينين من بعد … صغيرة وتكلّ الطّرف من أمم

وكيف يدرك في الدنيا حقيقته … قوم نيام تسلّوا عنه بالحلم

فمبلغ العلم فيه أنه بشر … وأنه خير خلق الله كلّهم

وكلّ آي أتى الرّسل الكرام بها … فإنما اتّصلت من نوره بهم

فإنه شمس فضل هم كواكبها … يظهرن أنوارها للناس في الظّلم

أكرم بخلق نبيّ زانه خلق … بالحسن مشتمل بالبشر متّسم

كالزّهر في ترف والبدر في شرف … والبحر في كرم والدّهر في همم

كأنه وهو فرد من جلالته … في عسكر حين تلقاه وفي حشم

كأنّما اللّؤلؤ المكنون في صدف … من معدني منطق منه ومبتسم

لا طيب يعدل تربا ضمّ أعظمه … طوبى لمنتشق منه وملتثم

أبان مولده عن طيب عنصره … يا طيب مبتدا منه ومختتم

يوم تفرّس فيه الفرس أنّهم … قد أنذروا بحلول البؤس والنّقم

وبات إيوان كسرى وهو منصدع … كشمل أصحاب كسرى غير ملتئم

والنار خامدة الأنفاس من أسف … عليه والنّهر ساهي العين من سدم

وساء ساوة أن غاضت بحيرتها … وردّ واردها بالغيظ حين ظمي

كأنّ بالنار ما بالماء من بلل … حزنا وبالماء ما بالنّار من ضرم

والجنّ تهتف والأنوار ساطعة … والحقّ يظهر من معنى ومن كلم

عموا وصمّوا فإعلان البشائر لم … تسمع وبارقة الإنذار لم تشم

من بعد ما أخبر الأقوام كاهنهم … بأنّ دينهم المعوّج لم يقم

وبعد ما عاينوا في الأفق من شهب … منقضّة وفق ما في الأرض من صنم
নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের শ্রেষ্ঠত্বের কোনো সীমা নেই … যা কোনো বক্তা তার মুখ দিয়ে ব্যক্ত করতে পারে।

যদি তাঁর মুজিজাসমূহ তাঁর মর্যাদার সমপরিমাণ মহান হতো … তবে তাঁর নাম উচ্চারণ করামাত্রই জীর্ণ কঙ্কালগুলোও জীবিত হয়ে উঠত।

আমাদের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কারণে তিনি আমাদের এমন কোনো পরীক্ষায় ফেলেননি যা বুদ্ধিবৃত্তির অতীত … ফলে আমরা সংশয়ে নিপতিত হইনি এবং পথভ্রষ্টও হইনি।

সৃষ্টিকুল তাঁর হাকিকত অনুধাবনে অক্ষম; ফলে নিকটে বা দূরে কাউকেই পাওয়া যায় না … যে তাঁর ব্যাপারে নির্বাক হওয়া ছাড়া অন্য কোনো অবস্থায় আছে।

তিনি সূর্যের ন্যায়, যা দূর থেকে চোখের নিকট ক্ষুদ্র মনে হয় … কিন্তু কাছ থেকে তাকালে তা দৃষ্টিশক্তিকে পরিশ্রান্ত করে দেয়।

এই নশ্বর পৃথিবীতে তাঁর প্রকৃত হাকিকত কীভাবে উপলব্ধি করবে … এমন এক কওম যারা নিদ্রামগ্ন এবং তাঁর সম্পর্কে কেবল স্বপ্নের ঘোরেই তুষ্ট রয়েছে?

তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানের দৌড় এতটুকুই যে, তিনি একজন মানুষ … আর তিনি আল্লাহর সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।

আর সম্মানিত রাসূলগণ যেসকল নিদর্শন নিয়ে এসেছেন … তা মূলত তাঁরই নূর থেকে তাঁদের কাছে পৌঁছেছে।

কারণ তিনি শ্রেষ্ঠত্বের সূর্য আর তাঁরা সেই সূর্যের গ্রহ-নক্ষত্র … তাঁরা অন্ধকারে মানুষের নিকট সেই সূর্যের আলোই প্রকাশ করেন।

কতই না সম্মানিত সেই নবীর অবয়ব যাকে তাঁর স্বভাব-চরিত্র সুশোভিত করেছে … তিনি সৌন্দর্যে পরিবেষ্টিত এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল চেহারার অধিকারী।

তিনি লাবণ্যে পুষ্পের ন্যায়, মর্যাদায় পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় … বদান্যতায় সমুদ্রের ন্যায় এবং সংকল্পে কালের ন্যায়।

তাঁর মহত্ত্বের কারণে তাঁকে একাকী থাকা অবস্থায় যখন আপনি দেখবেন … মনে হবে তিনি এক বিশাল বাহিনী ও লস্করের পরিবেষ্টনে রয়েছেন।

তাঁর বাচনভঙ্গি এবং হাস্যোজ্জ্বল মুখ যেন … ঝিনুকের মধ্যে লুকায়িত মুক্তোর আকর বা খনি।

কোনো সুগন্ধিই সেই পবিত্র মাটির সমতুল্য নয় যা তাঁর দেহ মোবারককে আগলে রেখেছে … সুসংবাদ তাঁর জন্য যিনি তা আঘ্রাণ করেন এবং চুম্বন করেন।

তাঁর জন্মলগ্নই তাঁর বংশীয় পবিত্রতা প্রকাশ করে দিয়েছে … আহা! কতই না পবিত্র তাঁর শুরু এবং তাঁর শেষ।

এমন এক দিন যাতে পারস্যবাসীরা বুঝতে পেরেছিল যে … তাদের ওপর বিপর্যয় ও শাস্তির বার্তা নেমে এসেছে।

পারস্য সম্রাটের রাজপ্রাসাদ ফাটল ধরা অবস্থায় রাত কাটিয়েছে … যেন পারস্য সম্রাটদের একতা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে যা আর জোড়া লাগার নয়।

দুঃখে পারস্যের অগ্নিকুণ্ড নিভে গিয়েছিল … এবং নদী পরিতাপে তার প্রবাহ হারিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়েছিল।

সাওয়া নগরীর জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের ছিল যে তার হ্রদটি শুকিয়ে গিয়েছিল … আর পিপাসার্ত পানি-সন্ধানীরা ব্যর্থ হয়ে ক্রোধান্বিত অবস্থায় ফিরে এসেছিল।

মনে হচ্ছিল শোকাতুর হয়ে আগুনের মধ্যে পানির শীতলতা চলে এসেছে … আর পানির মধ্যে আগুনের দহন ও উত্তাপ দেখা দিয়েছে।

জিনেরা উচ্চস্বরে ঘোষণা করছিল এবং নূরের বিচ্ছুরণ ঘটছিল … আর অর্থ ও বাণীর মাধ্যমে সত্য প্রকাশিত হচ্ছিল।

তারা অন্ধ ও বধির হয়ে গিয়েছিল, ফলে সুসংবাদের ঘোষণা তারা শুনতে পায়নি … এবং সতর্কবার্তার আলোকচ্ছটাও তাদের নজরে পড়েনি।

যদিও তাদের গণকরা আগেই জাতিগুলোকে সংবাদ দিয়েছিল … যে, তাদের বক্র ধর্ম আর টিকে থাকবে না।

আর আকাশে যখন তারা ধাবমান উল্কাপাত প্রত্যক্ষ করল … যা ছিল জমিনের মূর্তিদের পতনেরই অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৩)
حتى غدا عن طريق الوحي منهزم … من الشياطين يقفو إثر منهزم

كأنّهم هربا أبطال أبرهة … أو عسكر بالحصى من راحتيه رمي

نبذا به بعد تسبيح ببطنهما … نبذ المسبّح من أحشاء ملتقم

جاءت لدعوته الأشجار ساجدة … تمشي إليه على ساق بلا قدم

كأنّما سطرت سطرا لما كتبت … فروعها من بديع الخطّ، في اللّقم

مثل الغمامة أنّى سار سائرة … تقيه حرّ وطيس الهجير حمي

أقسمت بالقمر المنشقّ إنّ له … من قلبه نسبة مبرورة القسم

وما حوى الغار من خير ومن كرم … وكلّ طرف من الكفّار عنه عمي

فالصّدق في الغار والصّديق لم يرما … وهم يقولون ما بالغار من أرم

ظنّوا الحمام وظنّوا العنكبوت على … خير البريّة لم تنسج ولم تحم

وقاية الله أغنت عن مضاعفة … من الدّروع وعن عال من الأطم

ما سامني الدّهر ضيما واستجرت به … إلّا ونلت جوارا منه لم يضم

ولا التمست غنى الدّارين من يده … إلّا استلمت النّدى من خير مستلم

لا تنكر الوحي من رؤياه إنّ له … قلبا إذا نامت العينان لم ينم

وذاك حين بلوغ من نبوّته … فليس ينكر فيه حال محتلم

تبارك الله ما وحي بمكتسب … ولا نبي على غيب بمتّهم

كم أبرأت وصبا باللّمس راحته … وأطلقت أربا من ربقه اللّمم

وأحيت السّنة الشّهباء دعوته … حتى حكت غرّة في الأعصر الدّهم

بعارض جاد أو خلت البطاح بها … سيبا من اليمّ أو سيلا من العرم

دعني ووصفي آيات له ظهرت … ظهور نار القرى ليلا على علم

فالدّرّ يزداد حسنا وهو منتظم … وليس ينقص قدرا غير منتظم

فما تطاول آمال المديح إلى … ما فيه من كرم الأخلاق والشيم

آيات حق من الرحمن محدثة … قديمة صفة الموصوف بالقدم

لم تقترن بزمان وهي تخبرنا … عن المعاد وعن عاد وعن إرم

دامت لدينا ففاقت كلّ معجزة … من النّبيّين إذ جاءت ولم تدم
পরিশেষে ওহীর আগমনে শয়তানরা পরাজিত হয়ে পলায়ন করল, একে অন্যের পিছু নিয়ে তারা পিছু হটল।

মনে হচ্ছিল পলায়নের সময় তারা যেন আবরাহার পলায়নপর সৈন্যদল, অথবা তারা সেই বাহিনী যাদের দিকে তিনি নিজ হাতের তালু থেকে কঙ্কর নিক্ষেপ করেছিলেন।

তাঁর হাতের তালুতে তাসবিহ পাঠ করার পর কঙ্করগুলো নিক্ষিপ্ত হয়েছিল, যেমন তাসবিহ পাঠকারী (ইউনুস আ.) মাছের পেট থেকে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন।

তাঁর আহ্বানে বৃক্ষরাজি সিজদাবনত হয়ে উপস্থিত হলো, সেগুলো পা বিহীন কাণ্ডের ওপর ভর করে তাঁর দিকে হেঁটে এল।

যেন বৃক্ষগুলোর ডালপালা পথের মাঝে চমৎকার হস্তাক্ষরে কোনো লিপি লিখে সারি তৈরি করল।

মেঘখণ্ডের মতো যা তিনি যেখানেই যেতেন সেখানেই ছায়া দিত, দুপুরের প্রখর রোদের উত্তাপ থেকে তাঁকে রক্ষা করত।

আমি দ্বিখণ্ডিত চন্দ্রের শপথ করছি, নিশ্চয়ই তাঁর হৃদয়ের সাথে এর এক সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে যা শপথকে সত্যে পরিণত করে।

গুহা যা কিছু কল্যাণ ও সম্মান ধারণ করেছিল, আর কাফেরদের প্রতিটি দৃষ্টি তা থেকে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

সুতরাং মহাসত্য (রাসূল) এবং সত্যবাদী (আবু বকর) গুহার ভেতরে অবস্থান করছিলেন, অথচ কাফেররা বলছিল, "গুহার ভেতরে তো কেউ নেই।"

তারা ধারণা করেছিল যে কবুতর এবং মাকড়সা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের ওপর বাসা বাঁধেনি বা জাল বোনেনি।

আল্লাহর সুরক্ষা তাঁকে দ্বিগুণ বর্ম এবং সুউচ্চ দুর্গ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছিল।

কালচক্র যখনই আমাকে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত করেছে এবং আমি তাঁর আশ্রয় চেয়েছি, তখনই আমি তাঁর নিকট থেকে অজেয় নিরাপত্তা লাভ করেছি।

আমি যখনই তাঁর হাত থেকে উভয় জগতের প্রাচুর্য প্রার্থনা করেছি, তখনই আমি শ্রেষ্ঠ দাতার কাছ থেকে দান ও অনুকম্পা লাভ করেছি।

তাঁর স্বপ্নের ওহীকে অস্বীকার করো না, কারণ তাঁর এমন এক হৃদয় রয়েছে যা চক্ষুদ্বয় ঘুমালেও নিদ্রা যায় না।

আর তা ছিল তাঁর নবুওয়াতের পূর্ণতা প্রাপ্তির সময়, সুতরাং তাঁর ক্ষেত্রে কোনো স্বপ্নদ্রষ্টার অবস্থা অস্বীকার করা চলে না।

আল্লাহ বরকতময়, ওহী কোনো লব্ধ বিষয় নয়, আর কোনো নবী অদৃশ্যের বিষয়ে অভিযুক্ত নন।

তাঁর হাতের তালুর স্পর্শে কত রোগী আরোগ্য লাভ করেছে এবং কত অভাবী তার কষ্টের বন্ধন থেকে মুক্তি পেয়েছে।

তাঁর দোয়া দুর্ভিক্ষপীড়িত বছরকে পুনর্জীবিত করেছে, এমনকি তা অন্ধকার যুগের মাঝে এক উজ্জ্বল জ্যোতিতে পরিণত হয়েছে।

এমন এক সচ্ছল মেঘের মাধ্যমে যা প্রবলভাবে বর্ষিত হয়েছে, মনে হচ্ছিল উপত্যকাগুলো সমুদ্রের প্রবাহ বা আরিম বাঁধের প্লাবনে ভেসে যাচ্ছে।

আমাকে তাঁর প্রকাশিত নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করতে দাও, যা রাতের আঁধারে সুউচ্চ পাহাড়ের ওপর মেহমানদারির আগুনের মতো দৃশ্যমান।

মুক্তো যখন মালায় গাঁথা থাকে তখন তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, আর মালায় গাঁথা না থাকলেও তার মর্যাদা কমে না।

সুতরাং প্রশংসাকারীর উচ্চাশা তাঁর মহান চরিত্র ও স্বভাবের উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।

এগুলো পরম করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা সত্যের নিদর্শনসমূহ, যা অবতীর্ণ হওয়ার দিক থেকে নতুন কিন্তু আল্লাহর গুণ হিসেবে অনাদি।

এগুলো কোনো সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, অথচ এগুলো আমাদের কিয়ামত, আদ জাতি এবং ইরাম শহর সম্পর্কে সংবাদ দেয়।

এগুলো আমাদের মাঝে চিরস্থায়ী রয়েছে, যা পূর্ববর্তী নবীদের সকল মোজেজাকে অতিক্রম করে গেছে; কারণ সেই মোজেজাগুলো এসেছিল কিন্তু চিরস্থায়ী হয়নি।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৪)
محكّمات فما تبقين من شبه … لذي شقاق وما تبغين من حكم

ما حوربت قطّ إلّا عاد من حرب … أعدى الأعادي إليها ملقي السّلم

ردّت بلاغتها دعوى معارضها … ردّ الغيور يد الجاني عن الحرم

لها معان كموج البحر في مدد … وفوق جوهره في الحسن والقيم

فما تعدّ ولا تحصى عجائبها … ولا تسام على الإكثار بالسّأم

قرّت بها عين قاريها فقلت له … لقد ظفرت بحبل الله فاعتصم

إن تتلها خيفة من حرّ نار لظى … أطفأت حرّ لظى من وردها الشّبم

كأنها الحوض تبيضّ الوجوه به … من العصاة وقد جاؤوه كالحمم

وكالصّراط وكالميزان معدلة … فالقسط من غيرها في الناس لم يقم

لا تعجبن لحسود راح ينكرها … تجاهلا وهو عين الحاذق الفهم

قد تنكر العين ضوء الشمس من رمد … وينكر الفم طعم الماء من سقم

يا خير من يمّم العافون ساحته … سعيا وفوق متون الأينق الرّسم

ومن هو الآية الكبرى لمعتبر … ومن هو النّعمة العظمى لمغتنم

سريت من حرم ليلا إلى حرم … كما سرى البدر في داج من الظّلم

وبتّ ترقى إلى أن نلت منزلة … من قاب قوسين لم تدرك ولم ترم

وقدّمتك جميع الأنبياء بها … والرّسل تقديم مخدوم على خدم

وأنت تخترق السّبع الطّباق بهم … في موكب كنت فيه صاحب العلم

حتى إذا لم تدع شأوا لمستبق … من الدّنوّ ولا عرقى لمستنم

خفضت كلّ مقام بالإضافة إذ … نوديت بالرّفع مثل المفرد العلم

كيما تفوز بوصل أيّ مستتر … عن العيون وسرّ أيّ مكتثم

فحزت كلّ فخار غير مشترك … وجزت كلّ مقام غير مزدحم

وجلّ مقدار ما ولّيت من رتب … وعزّ إدراك ما أوليت من نعم

بشرى لنا معشر الإسلام إنّ لنا … من العناية ركنا غير منهدم

لما دعا الله داعينا لطاعته … بأكرم الرّسل كنّا أكرم الأمم
এগুলো সুষ্পষ্ট ও সুদৃঢ় আয়াত, যা কোনো বিরোধাকারীর জন্য সংশয় অবশিষ্ট রাখে না এবং এর বাইরে অন্য কোনো বিচারকের প্রয়োজন পড়ে না।

যখনই কেউ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, তখনই চরম শত্রুও সন্ধি করতে বাধ্য হয়ে অবনত মস্তকে ফিরে এসেছে।

এর অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনা বিরোধীদের দাবিকে সেভাবেই প্রতিহত করেছে, যেভাবে একজন আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তি অপরাধীর হাতকে পবিত্র হারাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

এর অর্থসমূহ প্রাচুর্যে সমুদ্রের ঢেউয়ের ন্যায় এবং সৌন্দর্য ও মূল্যে তা সমুদ্রের মুক্তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো গণনা করা বা শেষ করা সম্ভব নয়, আর বারবার পাঠ করলেও কখনো বিরক্তি আসে না।

এর দ্বারা পাঠকের চক্ষু শীতল হয়; তখন আমি তাকে বললাম, তুমি আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরতে পেরেছ, সুতরাং তা শক্তভাবে ধারণ করো।

যদি তুমি জাহান্নামের লেলিহান আগুনের ভয়ে এটি তিলাওয়াত করো, তবে এর শীতল সুধা সেই উত্তাপ নিভিয়ে দেবে।

এটি যেন সেই হাউজ (কাওসার), যার বরকতে পাপীদের চেহারাগুলো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, অথচ তারা আগুনের ন্যায় কালো হয়ে সেখানে এসেছিল।

এটি ইনসাফের ক্ষেত্রে পুলসিরাত ও মিজানের ন্যায় নিখুঁত; একে ছাড়া মানুষের মাঝে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

সেই হিংসুক ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হয়ো না যে বুঝেশুনেও তা অস্বীকার করে, অথচ সে অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও সমঝদার।

চক্ষু কখনো চক্ষুরোগের কারণে সূর্যের আলো অস্বীকার করে এবং অসুস্থতার কারণে মুখ মিষ্টি পানির স্বাদ অনুভব করতে পারে না।

হে শ্রেষ্ঠ সত্তা! যাঁর দরবারে অনুগ্রহপ্রার্থীরা পদব্রজে কিংবা দ্রুতগামী উটের পিঠে সওয়ার হয়ে আরজি নিয়ে ছুটে আসে।

এবং যিনি শিক্ষাগ্রহণকারীর জন্য মহান নিদর্শন এবং মহাসৌভাগ্য অন্বেষণকারীর জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামত।

আপনি এক হারাম থেকে অন্য হারামে রাত্রিকালীন ভ্রমণ করেছেন, যেমন পূর্ণিমার চাঁদ নিবিড় অন্ধকারে পথ চলে।

আপনি ক্রমাগত ঊর্ধ্বে আরোহণ করেছেন, শেষ পর্যন্ত আপনি 'ক্ববে ক্বাওসাইন' (ধনুকের দুই প্রান্তের ব্যবধান) সমমর্যাদায় পৌঁছেছেন, যা অন্য কেউ কখনো পায়নি এবং যার প্রত্যাশাও করতে পারেনি।

সেখানে সমস্ত নবী ও রাসূলগণ আপনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যেমন সেবকগণ তাঁদের মুনিবের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক তাঁকে আগে বাড়িয়ে দেন।

আপনি তাঁদের নিয়ে সপ্ত আকাশ পাড়ি দিয়েছেন এমন এক মিছিলে, যার পতাকাবাহী ও নেতা ছিলেন আপনি স্বয়ং।

পরিশেষে নৈকট্যের এমন স্তরে পৌঁছালেন যে, প্রতিযোগীদের জন্য কোনো লক্ষ্য বা অন্য কারো জন্য কোনো উচ্চতর ধাপ অবশিষ্ট থাকল না।

আপনার সুউচ্চ মর্যাদার তুলনায় আপনি অন্য সব সম্মানজনক স্থানকে ছাড়িয়ে গিয়েছেন, যখন আপনাকে বিশেষ সম্মানে উন্নীত করার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল।

যাতে আপনি এমন এক গোপন সান্নিধ্য লাভে ধন্য হন যা সাধারণের চোখের আড়ালে এবং এমন এক রহস্য যা সবার কাছে গুপ্ত।

অতঃপর আপনি এমন অনন্য গৌরব অর্জন করেছেন যাতে কারো অংশিদারিত্ব নেই এবং এমন সুউচ্চ মাকাম অতিক্রম করেছেন যেখানে অন্য কারো স্থান নেই।

আপনাকে যে সুউচ্চ পদমর্যাদা দান করা হয়েছে তার মান অতি মহান এবং আপনাকে যে নেয়ামতরাজি দেওয়া হয়েছে তা অনুধাবন করা অসম্ভব।

হে মুসলিম সম্প্রদায়! আমাদের জন্য সুসংবাদ যে, আমাদের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক সুদৃঢ় আশ্রয় ও স্তম্ভ রয়েছে যা কখনো ধ্বংস হবে না।

যখন আল্লাহ তা'আলা আমাদের দাওয়াতদানকারীকে (রাসূলুল্লাহ ﷺ) তাঁর আনুগত্যের জন্য শ্রেষ্ঠ রাসূল হিসেবে মনোনীত করলেন, তখন আমরাও শ্রেষ্ঠ উম্মতে পরিণত হলাম।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৫)
راعت قلوب العدا أنباء بعثته … كنبأة أجفلت غفلا من الغنم

ما زال يلقاهم في كلّ معترك … حتى حكوا بالقنا لحما على وضم

ودّوا الفرار فكادوا يغبطون به … أشلاء شالت مع العقبان والرّخم

تمضي الليالي ولا يدرون عدّتها … ما لم تكن من ليالي الأشهر الحرم

كأنّما الدّين ضيف حلّ ساحتهم … بكلّ قرم إلى لحم العدى قرم

يجرّ بحر خميس فوق سابحة … يرمي بموج من الأبطال ملتطم

من كلّ منتدب لله محتسب … يسطو بمستأصل للكفر مصطلم

حتّى غدت ملّة الإسلام وهي بهم … من بعد غربتها موصولة الرّحم

مكفولة أبدا منهم بخير أب … وخير بعل فلم تيتم ولم تئم

هم الجبال فسل عنهم مصادمهم … ماذا رأى منهم في كلّ مصطدم

وسل حنينا وسل بدرا وسل أحدا … فصول حتف لهم أدهى من الوخم

المصدري البيض حمرا بعد ما وردت … من العدا كلّ مسودّ من اللّمم

والكاتبين بسمر الخطّ ما تركت … أقلامهم حرف جسم غير منعجم

شاكي السلاح لهم سيما تميّزهم … والورد يمتاز بالسّيما عن السّلم

تهدي إليك رياح النّصر نشرهم … فتحسب الزّهر في الأكمام كلّ كمي

كأنّهم في ظهور الخيل نبت ربا … من شدّة الحزم لا من شدّة الحزم

طارت قلوب العدى من بأسهم فرقا … فما تفرّق بين البهم والبهم

ومن تكن برسول الله نصرته … إن تلقه الأسد في آجامها تجم

أحلّ أمّته في حرز ملّته … كاللّيث حلّ مع الأشبال في أجم

كم جدّلت كلمات الله من جدل … فيه وكم خصم البرهان من خصم

كفاك بالعلم في الأميّ معجزة … في الجاهلية والتأديب في اليتم

خدمته بمديح أستقيل به … ذنوب عمر مضى في الشّعر والخدم

اذ قلّداني ما تخشى عواقبه … كأنني بهما هدي من النّعم

أطعت غيّ الصّبا في الحالتين وما … حصلت إلّا على الآثام والنّدم

فيا خسارة نفس في تجارتها … لم تشتر الدّين بالدّنيا ولم تسم
তাঁর নবুওয়াতের সংবাদ শত্রুদের হৃদয়ে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি করল, যেমন বাঘের গর্জন অসতর্ক ভেড়ার পালকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে দেয়।

তিনি প্রতিটি রণক্ষেত্রে তাদের সাথে মুকাবিলা করতে থাকলেন, যতক্ষণ না তারা বর্শার আঘাতে কসাইয়ের তক্তার ওপর রাখা গোশতের টুকরোর মতো হয়ে গেল।

তারা পলায়ন করতে চাইল, এমনকি তারা সেই সব ছিন্নভিন্ন লাশের প্রতি ঈর্ষা করতে লাগল যাদের দেহগুলো ঈগল ও শকুনরা তুলে নিয়ে যাচ্ছিল।

রজনীগুলো অতিক্রান্ত হচ্ছিল অথচ তারা তার সংখ্যা জানত না, যতক্ষণ না তা পবিত্র মাসসমূহের রাত হিসেবে গণ্য হতো।

মনে হচ্ছিল যেন দ্বীন তাদের আঙ্গিনায় এক মেহমান হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে, যার সাথে ছিল এমন বীর সেনানী যারা শত্রুর রক্ত পানে লোলুপ ছিল।

তিনি ক্ষিপ্রগামী অশ্বপৃষ্ঠে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী পরিচালনা করছিলেন, যা বীর যোদ্ধাদের উত্তাল তরঙ্গের ন্যায় আছড়ে পড়ছিল।

আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়া প্রত্যেক একনিষ্ঠ মুজাহিদ কুফরের শিকড় উপড়ে ফেলার জন্য আক্রমণ চালাচ্ছিলেন।

অবশেষে ইসলামি মিল্লাত তাদের ত্যাগের বিনিময়ে প্রবাস জীবনের নিঃসঙ্গতা কাটিয়ে পুনরায় আত্মীয়তার বন্ধনের মতো সুদৃঢ় হলো।

তা চিরদিনের জন্য তাদের মাধ্যমে লাভ করল শ্রেষ্ঠ পিতা ও শ্রেষ্ঠ অভিভাবক, ফলে তা কখনো অনাথ বা সহায়হীন হয়নি।

তারা ছিল পাহাড়ের ন্যায় অটল; সুতরাং তাদের সম্পর্কে তাদের শত্রুদের জিজ্ঞেস করো, প্রতিটি সংঘর্ষে তারা তাদের থেকে কী ভয়াবহতা দেখেছিল।

হুনাইন, বদর ও ওহুদ যুদ্ধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো; সেগুলোর ধ্বংসলীলা তাদের জন্য মহামারীর চেয়েও ভয়ংকর ছিল।

তারা শ্বেতশুভ্র তলোয়ারগুলোকে রক্তে রাঙিয়ে লাল করে ফিরিয়ে আনত, যখন সেগুলো শত্রুদের মাথার ঘন কালো চুলে বিদ্ধ হতো।

আর তারা খাট্টি বর্শার কলম দিয়ে শত্রুর দেহে এমনভাবে লিখেছে যে, তাদের কলমগুলো শরীরের কোনো অংশকেই আঘাতহীন রাখেনি।

সুসজ্জিত অস্ত্রে তাদের এক বিশেষ আভিজাত্য ছিল যা তাদের আলাদা করত; যেমন গোলাপ তার বিশেষ চিহ্নের মাধ্যমে কণ্টকাকীর্ণ ঝোপ থেকে আলাদা হয়ে থাকে।

বিজয়ের বাতাস তোমার কাছে তাদের সৌরভ পৌঁছে দিচ্ছে, ফলে তুমি প্রতিটি বর্ম পরিহিত বীর যোদ্ধাকে তার বর্মের ভেতর প্রস্ফুটিত ফুল বলে মনে করবে।

ঘোড়ার পিঠে তাদের দেখে মনে হতো যেন পাহাড়ের চূড়ার উদ্ভিদ; এটা তাদের সুদৃঢ় সংকল্পের কারণে, জিন শক্ত করে বাঁধার কারণে নয়।

তাদের বীরত্বের ভয়ে শত্রুদের হৃদপিণ্ড এমনভাবে কেঁপে উঠেছিল যে, তারা বীর যোদ্ধা এবং মেষপালের মধ্যে পার্থক্য করতে পারছিল না।

যার সাহায্যকারী আল্লাহর রাসূল হন, বনের সিংহরা তার সামনে এলে ভয়ে নিস্তব্ধ হয়ে যায়।

তিনি তাঁর উম্মতকে তাঁর দ্বীনের দুর্গে এমনভাবে নিরাপদ করেছেন, যেমন সিংহ তার শাবকদের নিয়ে গভীর অরণ্যে নির্ভয়ে থাকে।

আল্লাহর বাণীসমূহ তাঁর ব্যাপারে কতই না বিবাদীর বিতর্ককে ধূলিসাৎ করেছে এবং কত অকাট্য প্রমাণ কত বিরোধীকে পরাস্ত করেছে!

জাহেলিয়াতের যুগে একজন উম্মী (নিরক্ষর) ব্যক্তির জ্ঞানপ্রাপ্তি এবং ইয়াতীম অবস্থায় তাঁর অনুপম শিষ্টাচার লাভই তোমার জন্য মুজিযা হিসেবে যথেষ্ট।

আমি প্রশংসাগীতির মাধ্যমে তাঁর খিদমত করেছি, যার অসিলায় আমি কবিতার পেছনে এবং পার্থিব সেবায় অতিবাহিত জীবনের গুনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

কেননা এই দুটি কর্ম আমার ঘাড়ে এমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিল যার পরিণাম ভয়াবহ; যেন আমি কুরবানির জন্য নিয়ে যাওয়া কোনো পশু।

আমি উভয় অবস্থায় যৌবনের বিভ্রান্তির অনুসরণ করেছি এবং পাপ ও অনুতাপ ছাড়া আর কিছুই অর্জন করিনি।

হায় সেই নফসের দুর্ভাগ্য! যে তার ব্যবসায়িক লেনদেনে দুনিয়ার বিনিময়ে দ্বীনকে ক্রয় করেনি এবং এর মূল্যও অনুধাবন করেনি।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن يبع آجلا منه بعاجله … يبن له الغبن في بيع وفي سلم

إن آت ذنبا فما عهدي بمنتقض … من النبيّ ولا حبلي بمنصرم

فإنّ لي ذمة منه بتسميتي … محمدا وهو أوفى الخلق بالذّمم

إن لم يكن في معادي آخذا بيدي … فضلا وإلّا فقل يا زلّة القدم

حاشاه أن يحرّم الرّاجي مكارمه … أو يرجع الجار منه غير محترم

ومنذ ألزمت أفكاري مدائحه … وجدته لخلاصي خير ملتزم

ولن يفوت الغنى منه يدا تربت … إنّ الحيا ينبت الأزهار في الأكم

ولم أرد زهرة الدّنيا التي اقتطفت … يدا زهير بما أثنى على هرم

يا أكرم الخلق مالي من ألوذ به … سواك عند حلول الحادث العمم

ولن يضيق رسول الله جاهك بي … إذا الكريم تجلّى باسم منتقم

فإنّ من جودك الدّنيا وضرّتها … ومن علومك علم اللّوح والقلم

يا نفس لا تقنطي من زلّة عظمت … إنّ الكبائر في الغفران كاللّمم

لعلّ رحمة ربي حين يقسمها … تأتي على حسب العصيان في القسم

يا ربّ واجعل دعائي غير منعكس … لديك واجعل حسابي غير منخرم

والطف بعبدك في الدارين أنّ له … صبرا متى تدعه الأهوال ينهزم

وائذن لسحب صلاة منك دائمة … على النبيّ بمنهلّ ومنسجم

ما رنّحت عذبات البان ريح صبا … وأطرب العيس حادي العيس بالنغم
যে ব্যক্তি ইহকালের বিনিময়ে পরকালকে বিক্রয় করে … ক্রয়-বিক্রয় ও অগ্রিম চুক্তিতে তার চরম লোকসান প্রকাশ পায়।

যদিও আমি পাপ করে ফেলেছি, তবুও নবীর সাথে আমার অঙ্গীকার ভঙ্গ হয়নি … এবং তাঁর সাথে আমার সম্পর্কের রশিও ছিন্ন হয়নি।

নিশ্চয়ই আমার নাম 'মুহাম্মাদ' হওয়ার কারণে তাঁর পক্ষ হতে আমার জন্য একটি নিরাপত্তা রয়েছে … আর তিনি তো সৃষ্টির মাঝে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সর্বাপেক্ষা বিশ্বস্ত।

পরকালে তিনি যদি অনুগ্রহ করে আমার হাত না ধরেন … তবে তুমি বলে দাও— হায়! আমার পদস্খলন হলো (আমি ধ্বংস হলাম)।

এটা অসম্ভব যে, তাঁর মহানুভবতার আশাকারী ব্যক্তি বঞ্চিত হবে … অথবা তাঁর আশ্রয়প্রার্থী অসম্মানিত অবস্থায় ফিরে যাবে।

যবে হতে আমি আমার চিন্তাধারাকে তাঁর প্রশংসাগীতিতে নিয়োজিত করেছি … তবে হতে আমি তাঁকে আমার নাজাতের সর্বোত্তম জিম্মাদার হিসেবে পেয়েছি।

কোনো রিক্ত হস্ত তাঁর নিকট হতে সম্পদ অর্জনে বঞ্চিত হবে না … কেননা বৃষ্টি তো পাহাড়ের টিলাতেও ফুল ফুটিয়ে থাকে।

আমি দুনিয়ার সেই চাকচিক্য কামনা করি না, যা কবি যুহাইর … হরম ইবনে সিনানের প্রশংসা করে লাভ করেছিলেন।

হে সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সম্মানিত! সর্বজনীন বিপদাপদ অবতীর্ণ হওয়ার সময় … আপনি ব্যতীত আমার আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই।

হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সুমহান মর্যাদা আমার কারণে সংকুচিত হবে না … যখন পরম দয়ালু আল্লাহ 'প্রতিশোধ গ্রহণকারী' নামে আত্মপ্রকাশ করবেন।

নিশ্চয়ই ইহকাল ও পরকাল আপনারই বদান্যতার অংশবিশেষ … এবং লাওহ ও কলমের জ্ঞান আপনারই জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।

হে নফস! গুরুতর পাপের কারণে তুমি নিরাশ হয়ো না … নিশ্চয়ই ক্ষমা ও মার্জনার ক্ষেত্রে কবিরা গুনাহসমূহ অতীব নগণ্য।

হতে পারে আমার প্রতিপালকের রহমত যখন বণ্টিত হবে … তখন অবাধ্যতার পরিমাণ অনুযায়ী তাঁর বণ্টন ত্বরান্বিত হবে।

হে আমার প্রতিপালক! আপনার দরবারে আমার প্রার্থনাকে বিফল করবেন না … এবং আমার হিসাবকে অসম্পূর্ণ রাখবেন না।

ইহকাল ও পরকাল উভয় জগতেই আপনার এই দাসের প্রতি অনুগ্রহ করুন; কেননা তার … ধৈর্য অত্যন্ত ক্ষীণ, যা বিপদের সম্মুখীন হওয়া মাত্রই পরাজয় বরণ করে।

আর আপনি আপনার পক্ষ হতে নবীর ওপর বর্ষণোন্মুখ ও অবিরাম … সালাত ও রহমতের মেঘমালা বর্ষণের অনুমতি দিন।

যতক্ষণ পর্যন্ত পুবালি বাতাস বনবৃক্ষের শাখাসমূহকে আন্দোলিত করবে … এবং উটের সারথি তার সুমিষ্ট গুঞ্জনের মাধ্যমে উটের কাফেলাকে মুগ্ধ করে রাখবে।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ابن الساعاتي

(مدح ابن الساعاتي الرسول الكريم بقصيدة طويلة، استهلها بوصف الديار فقال:

) وكيف أخمل في دنيا وآخرة … ومنطقي ورسول الله مأمول

هو البشير النذير، العدل شاهده … وللشهادة تجريح وتعديل

لولاه لم تك شمس لا ولا قمر … ولا الفرات وجاراها ولا النيل

ولم يجب آدم في حال دعوته … نعم، ولم يك قابيل وهابيل

مرتّل الوحي يتلوه ويدرسه … ولم يكن لكلام الله ترتيل

فسيّد الرسل حقا لا خفاء به … وشافع في جميع الناس مقبول

نبّت نبوّته الأخبار إذ نطقت … فحدّثت عنه توراة وانجيل

أضاء هديا وجنح الكفر معتكر … ووجه حق، وستر الشك مسدول

لم يثو في أهله أهل العباء ففا … ت القوم وحي مثواه وتنزيل

الخمسة الغرّ لم يقض اجتماعهم … إلّا وسادسهم في الجمع جبريل

فمنهم أخذ التنزيل أجمعه … في الكافرين وفي الباغين تأويل

فضيلتا شرف ما ناله بشر … أولى وأخرى بهم تردى الأضاليل
ইবনে আস-সাআতি

(ইবনে আস-সাআতি একটি দীর্ঘ কাসিদার মাধ্যমে মহান রাসুলের প্রশংসা করেছেন, যা তিনি গৃহের বর্ণনা দিয়ে শুরু করেন। অতঃপর তিনি বলেন:

) আমি দুনিয়া ও আখিরাতে কীভাবে বিস্মৃত হব … অথচ আমার বাক্যালাপ এবং আল্লাহর রাসুলই আমার আশা।

তিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, ন্যায়পরায়ণতা তাঁর সাক্ষী … আর সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে রয়েছে দোষারোপ ও সংশোধন (জারহ ও তাদিল)।

যদি তিনি না থাকতেন তবে সূর্যও হতো না, চাঁদও হতো না … ফুরাত নদ এবং তার পার্শ্ববর্তী নদী কিংবা নীল নদও সৃষ্টি হতো না।

আদমের দোয়ার সময় তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়া হতো না … হ্যাঁ, এমনকি কাবিল এবং হাবিলও সৃষ্টি হতো না।

ওহির তিলাওয়াতকারী, তিনি তা পাঠ ও অধ্যয়ন করেন … অথচ (এর আগে) আল্লাহর বাণীর জন্য কোনো তিলাওয়াত ছিল না।

তিনিই সত্যই রাসুলগণের সরদার, যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই … এবং সকল মানুষের জন্য তিনি এমন এক সুপারিশকারী যাঁর সুপারিশ কবুলযোগ্য।

সংবাদসমূহ যখন উচ্চারিত হলো তখন তা তাঁর নবুওয়াতের ঘোষণা দিল … ফলে তাওরাত ও ইঞ্জিল তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করল।

তিনি হিদায়াতের আলো ছড়িয়ে দিলেন যখন কুফরির আঁধার ছিল ঘনীভূত … তিনি সত্যের অবয়ব, যখন সন্দেহের আবরণ ছিল প্রলম্বিত।

চাদর পরিহিত ব্যক্তিগণ (আহলে কিসা) তাঁর পরিবারে অবস্থান করেননি অথচ … সেই জাতির নিকট তাঁর অবস্থানের ওহি ও অবতীর্ণ বাণীসমূহ পৌঁছে গিয়েছিল।

সেই মহিমান্বিত পাঁচজনের মিলনমেলা ততক্ষণ সমাপ্ত হতো না … যতক্ষণ না জিবরাঈল সেই সমাবেশে ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হতেন।

তাঁদের থেকেই পূর্ণ ওহি গ্রহণ করা হয়েছে … আর কাফির ও বিদ্রোহীদের ক্ষেত্রে রয়েছে তার ব্যাখ্যা (প্রয়োগ)।

মর্যাদার এমন দুটি শ্রেষ্ঠত্ব যা কোনো মানুষ লাভ করতে পারেনি … দুনিয়া ও আখিরাত—যাদের দ্বারা পথভ্রষ্টতাগুলো নিপতিত হয়।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الهمزية النبوية

(أحمد شوقي)

ولد الهدى، فالكائنات ضياء … وفم الزّمان تبسّم وثناء

الرّوح والملأ الملائك حوله … للدّين والدنيا به بشراء «1»

والعرش يزهو، والحظيرة تزدهى … والمنتهى، والسّدرة العصماء «2»

وحديقة الفرقان ضاحكة الربا … بالترجمان، شذيّة، غنّاء «3»

والوحى يقطر سلسلا من سلسل … واللوح والقلم البديع رواء «4»

نظمت أسامى الرّسل فهي صحيفة … في اللوح، واسم محمد طغراء «5»

اسم الجلالة في بديع حروفه … ألف هنالك، واسم (طه) الباء

يا خير من جاء الوجود، تحية … من مرسلين إلى الهدى بك جاءوا

بيت النبيّين الذي لا يلتقى … إلا الحنائف فيه والحنفاء «6»

خير الأبوة حازهم لك (آدم) … دون الأنام، وأحرزت حوّاء

هم أدركوا عزّ النبوّة وانتهت … فيها إليك العزّة القعساء «7»

خلقت لبيتك، وهو مخلوق لها … إن العظائم كفؤها العظماء

بك بشّر الله السماء فزيّنت … وتضوّعت مسكا بك الغبراء «8»

--------------------------------------------

(1) الروح الأمين: لقب جبريل. الملأ: الأشراف. الملائك: الملائكة. بشراء: جمع بشير-

(2) يزهو: يشرق. سدرة المنتهى: يقال أنها شجرة نبق على يمين العرش-

(3) الربا: جمع ربوة. وهي ما ارتفع من الأرض-

(4) الرواء ماء الوجه وحسن المنظر-

(5) الطغراء: ما يسميه العامة «طرة» وأصلها طغرى بالقصر، وهي التي تكتب بالقلم الغليظ في صدر الأوامر-

(6) الحنيف: الصحيح الميل الى الاسلام وكل من كان على دين ابراهيم عليه السلام، والجمع حنفاء، والمؤنث حنيفة، وجمعها حنائف-

(7) القعساء: المنيعة الثابتة-

(8) تضوع المسك: انتشرت رائحته. الغبراء: الأرض.
নববী হামজিয়া

(আহমদ শওকি)

হিদায়াতের জন্ম হয়েছে, ফলে সৃষ্টিজগত আলোকিত... আর কালের মুখ হাস্যোজ্জ্বল ও প্রশংসামুখর।

জিবরাঈল এবং ফেরেশতাকুল তাঁর চারপাশে... তাঁর মাধ্যমে দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য রয়েছে সুসংবাদ। «১»

আরশ জ্যোতি ছড়াচ্ছে, পবিত্র প্রাঙ্গণ উদ্ভাসিত হচ্ছে... এবং সিদরাতুল মুনতাহা ও সুরক্ষিত কুলবৃক্ষ। «২»

ফুরকানের উদ্যান যার টিলাগুলো হাসছে... ভাষ্যকারের মাধ্যমে, যা সুবাসিত ও গুঞ্জরিত। «৩»

ওহী প্রবহমান ঝরনার মতো ঝরছে... আর লওহ এবং অপূর্ব কলম অত্যন্ত সুশোভিত। «৪»

রাসূলগণের নামসমূহ বিন্যস্ত হয়েছে যা লওহ-এ একটি পাণ্ডুলিপি... আর মুহাম্মাদের নাম সেখানে রাজকীয় মোহরস্বরূপ। «৫»

আল্লাহর নাম তাঁর অপূর্ব অক্ষরসমূহে... সেখানে আলিফ বিদ্যমান, আর (ত্ব-হা) নামের মাঝে রয়েছে ‘বা’।

হে অস্তিত্বে আসা শ্রেষ্ঠ সত্তা, আপনার প্রতি সালাম... ঐসব রাসূলদের পক্ষ থেকে যারা আপনার মাধ্যমে হিদায়াত নিয়ে এসেছেন।

নবীদের সেই গৃহ যেখানে সাক্ষাৎ ঘটে না... একনিষ্ঠ মুমিনগণ ব্যতীত আর কারো। «৬»

শ্রেষ্ঠ পিতৃত্ব আপনার জন্য অর্জন করেছেন আদম... সকল সৃষ্টির মাঝে, আর তা লাভ করেছেন হাওয়া।

তাঁরা নবুওয়াতের মর্যাদা লাভ করেছেন এবং তাতে সমাপ্তি ঘটেছে... আপনার মাঝে এসে সুদৃঢ় ও অটল সেই মর্যাদা। «৭»

আপনি আপনার বংশের জন্য সৃষ্ট, আর তা আপনার জন্য সৃষ্ট... নিশ্চয়ই মহান বিষয়সমূহের যোগ্য হন কেবল মহান ব্যক্তিরাই।

আপনার আগমনে আল্লাহ আসমানকে সুসংবাদ দিয়েছেন ফলে তা সুশোভিত হয়েছে... আর পৃথিবী আপনার সুগন্ধে কস্তুরীর ন্যায় সুবাসিত হয়েছে। «৮»

--------------------------------------------

(১) রুহুল আমীন: জিবরাঈলের উপাধি। মালা: গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মালাইক: ফেরেশতাগণ। বুশারা: সুসংবাদদাতার বহুবচন।

(২) ইয়াযহু: আলোকিত হওয়া। সিদরাতুল মুনতাহা: বলা হয় এটি আরশের ডান দিকে অবস্থিত একটি কুলবৃক্ষ।

(৩) রুবা: রুবওয়াহ-এর বহুবচন। এটি ভূমির উঁচু স্থানকে বোঝায়।

(৪) রাওয়া: চেহারার লাবণ্য ও সুন্দর দৃশ্য।

(৫) তুগরা: সাধারণ মানুষ যাকে ‘তুরা’ বলে। এর মূল হলো তুগরা, যা আদেশের শুরুতে মোটা কলমে লেখা হয়।

(৬) হানিফ: ইসলামের দিকে সঠিকভাবে ধাবিত হওয়া এবং যে ব্যক্তি ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দ্বীনের ওপর অটল থাকে। এর বহুবচন হুনাফা, স্ত্রীলিঙ্গ হানিফাহ এবং তার বহুবচন হানাইফ।

(৭) কা'সা: সুদৃঢ় ও অটল।

(৮) তাদাউয়াল মিসক: সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়া। গাবরা: পৃথিবী।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ২৯)
وبدا محيّاك الذي قسماته … حق، وغرّته هدى وحياء «1»

وعليه من نور النّبوّة رونق … ومن الخليل وهديه سيماء «2»

أثنى (المسيح) عليه خلف سمائه … وتهلّلت واهتزّت (العذراء) «3»

يوم يتيه على الزمان صباحه … ومساؤه (بمحمد) وضّاء

الحقّ عالى الركن فيه، مظفّر … في الملك، لا يعلو عليه لواء

ذعرت عروش الظالمين، فزلزلت … وعلت على تيجانهم أصداء

والنار خاوية الجوانب حولهم … خمدت ذوائبها، وغاض الماء «4»

والآى تترى، والخوارق جمّة … (جبريل) روّاح بها غدّاء «5»

نعم اليتيم بدت مخايل فضله … واليتيم رزق بعضه وذكاء «6»

في المهد يستسقى الحيا برجائه … وبقصده تستدفع البأساء «7»

بسوى الأمانة في الصّبا والصدق لم … يعرفه أهل الصدق والأمناء

يا من له الأخلاق ما تهوى العلا … منها وما يتعشّق الكبراء

لو لم تقم دينا؛ لقامت وحدها … دينا تضىء بنوره الآناء

زانتك في الخلق العظيم شمائل … يغرى بهنّ ويولع الكرماء

أما الجمال؛ فأنت شمس سمائه … وملاحة (الصّدّيق) منك أياء «8»

والحسن من كرم الوجوه، وخيره … ما أوتى القوّاد والزعماء

فإذا سخوت بلغت بالجود المدى … وفعلت ما لا تفعل الأنواء «9»

وإذا عفوت فقادرا، ومقدّرا … لا يستهين بعفوك الجهلاء

وإذا رحمت فأنت أم، أو أب … هذان في الدنيا هما الرّحماء

--------------------------------------------

(1) القسمة ما بين الوجنتين والأنف، وجمعها قسمات-

(2) الخليل: ابراهيم عليه السلام

(3) العذراء: السيدة مريم-

(4) خمدت النار: سكن لهيبها. الذوائب: جمع ذؤابة، وهي أعلى كل شىء والمراد بالذوائب هنا ألسنة اللهيب-

(5) تترى: تتوالى رواح غداء: أي يروح ويغدو-

(6) المخيلة: المظنة-

(7) استسقى: طلب السقي. الحيا: المطر-

(8) أياء الشمس واياتها نورها وحسنها-

(9) النوء: المطر.
আর আপনার সেই বদনমণ্ডল প্রকাশ পেল যার প্রতিটি অবয়ব সত্য, এবং যার ললাট হলো হিদায়াত ও লজ্জাশীলতা … ১

তার ওপর নবুওয়াতের নূরের দীপ্তি বিদ্যমান … এবং ইব্রাহিম খলিল ও তাঁর আদর্শের ছাপ বিদ্যমান ২

ঈসা (মসিহ) তাঁর আকাশের ওপাশ থেকে তাঁর প্রশংসা করেছেন … এবং (কুমারী) মারইয়াম আনন্দিত ও বিমোহিত হয়েছেন ৩

এমন এক দিন যার সকাল কালের ওপর গর্ব করে … আর যার সন্ধ্যা (মুহাম্মাদের) মাধ্যমে অতি উজ্জ্বল

সত্য তাতে উচ্চস্তম্ভবিশিষ্ট ও বিজয়ী … রাজত্বে কোনো পতাকাই তার ওপরে স্থান পায় না

জালিমদের সিংহাসনসমূহ আতঙ্কিত হয়ে প্রকম্পিত হলো … আর তাদের মুকুটের ওপর প্রতিধ্বনি উত্থিত হলো

তাদের চতুষ্পার্শ্বের অগ্নি নিস্তেজ হয়ে পড়ল … তার শিখাসমূহ নির্বাপিত হলো এবং পানি শুকিয়ে গেল ৪

নিদর্শনাবলি একের পর এক আসতে থাকে এবং অলৌকিকতা অপরিসীম … (জিবরাঈল) তা নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা গমনাগমন করেন ৫

কতই না উত্তম সেই এতিম যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেয়েছে … আর এতিমকে তো রিযিক ও প্রজ্ঞা দান করা হয় ৬

দোলনা থাকা অবস্থাতেই তাঁর উসিলায় বৃষ্টির প্রার্থনা করা হয় … আর তাঁর অছিলায় বিপদ-আপদ দূর করা হয় ৭

বাল্যকাল থেকেই আমানতদারি ও সত্যবাদিতা ছাড়া সত্যবাদী … ও আমানতদারগণ তাঁকে অন্য কোনোভাবে চিনতেন না

হে এমন সত্তা, যাঁর চরিত্র মাধুর্য উচ্চ মর্যাদা আকাঙ্ক্ষা করে … এবং মহান ব্যক্তিরা যা অত্যন্ত ভালোবাসেন

আপনি যদি দ্বীন প্রতিষ্ঠা নাও করতেন, তবে আপনার চরিত্রই একাই … একটি দ্বীন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো, যার নূরে সময়সমূহ আলোকিত হতো

মহান চরিত্রের ওপর আপনাকে এমন সব গুণাবলি ভূষিত করেছে … যার প্রতি সম্মানিত ব্যক্তিরা আকৃষ্ট ও মুগ্ধ হয়

আর সৌন্দর্যের কথা যদি বলি, তবে আপনি তার আকাশের সূর্য … আর (সিদ্দীকের) লাবণ্য হলো আপনারই নূরের প্রতিফলন ৮

আর সৌন্দর্য হলো চেহারার আভিজাত্য থেকে, আর তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো … তা যা নেতা ও প্রধানদের দান করা হয়

যখন আপনি দান করেন, তখন বদান্যতার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে যান … এবং এমন কাজ করেন যা প্রবল বৃষ্টিও করতে পারে না ৯

আর যখন আপনি ক্ষমা করেন, তখন সামর্থ্য ও শক্তি থাকা অবস্থাতেই করেন … মূর্খরা যেন আপনার ক্ষমাশীলতাকে তুচ্ছজ্ঞান না করে

আর যখন আপনি দয়া করেন, তখন আপনি যেন মাতা কিংবা পিতা … দুনিয়াতে এই দুজনই তো পরম দয়ালু

--------------------------------------------

(১) কাসামাহ হলো গাল ও নাকের মধ্যবর্তী অংশ, এর বহুবচন হলো কাসামাত।

(২) খলিল: ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম।

(৩) আল-আজরা (কুমারী): সায়্যিদা মারইয়াম।

(৪) আগুন নিভে যাওয়া: তার শিখা শান্ত হওয়া। জাওয়াইব: জুয়াবাহ-এর বহুবচন, যার অর্থ প্রতিটি বস্তুর উপরিভাগ; এখানে জাওয়াইব দ্বারা আগুনের শিখাকে বোঝানো হয়েছে।

(৫) তাতরা: পর্যায়ক্রমিক। রাওয়াহ গাদা: অর্থাৎ সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াত করা।

(৬) আল-মাখিলাহ: সম্ভাবনা বা লক্ষণ।

(৭) ইস্তাসকা: পানি প্রার্থনা করা। আল-হায়া: বৃষ্টি।

(৮) আয়া-উশ শামস ও এর নিদর্শনসমূহ হলো তার আলো ও সৌন্দর্য।

(৯) আন-নাও: বৃষ্টি।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩০)
وإذا غضبت فإنما هي غضبة … في الحق، لا ضغن ولا بغضاء «1»

وإذا رضيت فذاك في مرضاته … ورضى الكثير تحلّم ورياء «2»

وإذا خطبت فللمنابر هزّة … تعرو النّدىّ، وللقلوب بكاء «3»

وإذا قضيت فلا ارتياب، كأنما … جاء الخصوم من السماء قضاء

وإذا حميت الماء لم يورد، ولو … أن القياصر والملوك ظماء

وإذا أجرت فأنت بيت الله، لم … يدخل عليه المستجير عداء

وإذا ملكت النفس قمت ببرّها … ولو أن ما ملكت يداك الشاء

وإذا بنيت فخير زوج عشرة … وإذا ابتنيت فدونك الآباء «4»

وإذا صحبت رأى الوفاء مجسّما … في بردك الأصحاب والخلطاء

وإذا أخذت العهد، أو أعطيته … فجميع عهدك ذمّة ووفاء

وإذا مشيت إلى العدا فغضنفر … وإذا جريت فإنك النكباء «5»

وتمدّ حلمك للسفيه مداريا … حتى يضيف بعرضك السفهاء

في كل نفس من سطاك مهابة … ولكل نفس في نداك رجاء «6»

والرأى لم ينض المهنّد دونه … كالسيف لم تضرب به الآراء «7»

يأيها الأمّى، حسبك رتبة … في العلم أن دانت بك العلماء «8»

--------------------------------------------

(1) الضغن: الحقد-

(2) التحلم: تكلف الحلم-

(3) الندى: النادي-

(4) بنى بأهله: زف اليهم، ابتنى: صار له بنون-

(5) غضنفر: أسد والنكباء: ريح بين ريحيت-

(6) سطا: جمع سطوة-

(7) نضا السيف من غمده: سله. المهند: السيف المطبوع من حديد-

(8) دان به: اتخذه دينا.
আর যখন আপনি রাগান্বিত হন, তখন তা কেবল সত্যের পক্ষেই হয় … তাতে কোনো বিদ্বেষ বা ঘৃণা থাকে না «১»

আর যখন আপনি সন্তুষ্ট হন, তখন তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয় … অথচ অনেকের সন্তুষ্টি হলো লৌকিক ধৈর্য ও লোকদেখানো বিষয় «২»

আর যখন আপনি ভাষণ দেন, তখন মিম্বরসমূহে কম্পন সৃষ্টি হয় … যা মজলিসকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং অন্তরসমূহ ক্রন্দন করে «৩»

আর যখন আপনি ফয়সালা করেন, তখন তাতে কোনো সন্দেহ থাকে না; যেন … বিবাদমান পক্ষগুলোর জন্য আসমান থেকে ফয়সালা অবতীর্ণ হয়েছে

আর যখন আপনি পানি সংরক্ষণ করেন, তখন কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারে না; যদিও … কায়সার এবং রাজন্যবর্গ তৃষ্ণার্ত থাকে

আর যখন আপনি আশ্রয় দান করেন, তখন আপনি যেন আল্লাহর ঘর; সেখানে … আশ্রয়প্রার্থীর ওপর কোনো শত্রুতা প্রবেশ করতে পারে না

আর যখন আপনি নফসকে নিয়ন্ত্রণ করেন, তখন আপনি তার সাথে পুণ্যময় আচরণ করেন … যদিও আপনার হাতের মালিকানায় কেবল দু-একটি মেষ থাকে

আর যখন আপনি বিবাহ করেন, তখন দাম্পত্য জীবনে আপনিই শ্রেষ্ঠ সঙ্গী … আর যখন আপনার সন্তান হয়, তখন আপনি সকল পিতার ঊর্ধ্বে «৪»

আর যখন আপনি সঙ্গ দান করেন, তখন আপনার বন্ধু ও সহচরগণ … আপনার অবয়বের মাঝে মূর্তমান বিশ্বস্ততা দেখতে পায়

আর যখন আপনি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেন অথবা প্রদান করেন … তখন আপনার সকল প্রতিশ্রুতিই হয় জিম্মাদারি ও বিশ্বস্ততাপূর্ণ

আর যখন আপনি শত্রুর দিকে অগ্রসর হন, তখন আপনি এক শক্তিশালী সিংহ … আর যখন আপনি ধাবিত হন, তখন আপনি প্রবল বায়ুপ্রবাহ «৫»

আপনি মূর্খদের প্রতি আপনার সহনশীলতা প্রসারিত করেন এবং তাদের সাথে সদয় আচরণ করেন … এমনকি আপনার মর্যাদার সামনে মূর্খরা লাজওয়াব হয়ে যায়

আপনার প্রতাপের কারণে প্রতিটি অন্তরে রয়েছে মহিমা … আর আপনার বদান্যতায় প্রতিটি হৃদয়ে রয়েছে প্রত্যাশা «৬»

সেই সুচিন্তিত রায় যার সুরক্ষায় তীক্ষ্ণ তলোয়ার উন্মুক্ত করা হয়নি … তা এমন এক তলোয়ারের ন্যায় যা দ্বারা কোনো লক্ষ্যভেদ করা হয়নি «৭»

হে নিরক্ষর নবী! আপনার জ্ঞানের উচ্চমর্যাদার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট … যে বড় বড় আলিমগণও আপনার আনুগত্য স্বীকার করেছে «৮»

--------------------------------------------

(১) যিগন: বিদ্বেষ।

(২) তাহাল্লুম: ধৈর্য ধারণের অভিনয় করা বা কষ্ট করে ধৈর্য ধরা।

(৩) নাদা: সভা বা মজলিস।

(৪) বানা বি আহলিহি: বিবাহ করা। ইবতানা: সন্তানসন্ততি হওয়া।

(৫) গাযানফার: সিংহ। নাকবা: দুই বায়ুর মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে প্রবাহিত বাতাস।

(৬) সাতওয়া: প্রতাপ বা ক্ষমতার বহুবচন।

(৭) নাদা আস-সাইফ: তলোয়ার কোষমুক্ত করা। মুহান্নাদ: ইস্পাত নির্মিত তলোয়ার।

(৮) দানা বিহি: ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা বা অনুগত হওয়া।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩১)
الذكر آية ربّك الكبرى التي … فيها لباغى المعجزات غناء «1»

صدر البيان له إذا التقت اللّغى … وتقدّم البلغاء والفصحاء «2»

نسخت به التوراة وهي وضيئة … وتخلّف الإنجيل وهو ذكاء «3»

لما تمشّى في (الحجاز) حكيمه … فضّت (عكاظ) به، وقام حراء «4»

أزرى بمنطق أهله وبيانهم … وحي يقصّر دونه البلغاء «5»

حسدوا، فقالوا: شاعر، أو ساحر … ومن الحسود يكون الاستهزاء

قد نال (بالهادى) الكريم و (بالهدى) … ما لم تنل من سؤدد سيناء

أمسى كأنك من جلالك أمّة … وكأنه من أنسه بيداء

يوحى إليك الفوز في ظلماته … متتابعا، تجلى به الظلماء

دين يشيّد آية في آية … لبناته السّورات والأضواء

الحقّ فيه هو الأساس، وكيف لا … والله جل جلاله البنّاء؟

أما حديثك في العقول فمشرع «6» … والعلم والحكم الغوالى الماء

هو صبغة الفرقان، نفحة قدسه … والسين من سوراته والراء «7»

جرت الفصاحة من ينابيع النّهى … من دوحه، وتفجّر الإنشاء «8»

في بحره للسابحين به على … أدب الحياة وعلمها إرساء

أتت الدّهور على سلافته، ولم … تفن السّلاف، ولا سلا النّدماء «9»

--------------------------------------------

(1) الباغي: الطالب الغناء: ما يغنى-

(2) اللغى: جمع لغة-

(3) ذكاء: من أسماء الشمس-

(4) حراء: الغار الذي كان يتعبد فيه النبي ونزل عليه فيه الوحي-

(5) ازرى به: عابه-

(6) مورد-

(7) الصبغة: النوع-

(8) الدوح: الشجر العظيم المتسع-

(9) السلاف والسلافة: أفضل الخمر.
যিকির (কুরআন) আপনার রবের সেই মহান নিদর্শন, যাতে … মুজিযা অন্বেষণকারীর জন্য রয়েছে যথেষ্ট উপকরণ «১»

বাগ্মিতার শ্রেষ্ঠত্ব তারই জন্য যখন বিভিন্ন ভাষা একত্রিত হয় … এবং বাগ্মী ও প্রাঞ্জলভাষীরা এগিয়ে আসে «২»

এর মাধ্যমে তাওরাত রহিত হয়েছে অথচ তা ছিল উজ্জ্বল, … আর ইঞ্জিল পিছনে পড়ে গেছে যদিও তা ছিল সূর্যের ন্যায় দীপ্তিময় «৩»

যখন হিজাজে এর প্রজ্ঞাময় বাণী বিচরণ করল, … তখন এর দ্বারা উকাজের মেলা বিলুপ্ত হলো এবং হিরা স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে রইল «৪»

এটি তার অধিবাসীদের যুক্তি ও বয়ানকে তুচ্ছ সাব্যস্ত করেছে; … এমন এক ওহী যার সামনে বাগ্মীরাও অক্ষম হয়ে যায় «৫»

তারা হিংসা করল, অতঃপর বলল: এ তো এক কবি, কিংবা জাদুকর; … আর হিংসুক থেকেই তো বিদ্রূপের সৃষ্টি হয়

সম্মানিত পথপ্রদর্শক এবং হিদায়াতের মাধ্যমে … এমন শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয়েছে যা সিনাই পর্বতও লাভ করেনি

আপনার গাম্ভীর্যের কারণে আপনি যেন এক উম্মত হয়ে গেছেন, … আর নির্জনতার কারণে হিরা যেন এক মরুপ্রান্তর

আপনার প্রতি এর অন্ধকারের মাঝে ক্রমাগত বিজয় অবতীর্ণ হয়, … যার মাধ্যমে অন্ধকার দূরীভূত হয়ে যায়

এমন এক দ্বীন যা আয়াতের পর আয়াত দিয়ে সুসংগঠিত, … এর সূরাসমূহ ও জ্যোতিসমূহ যেন একেকটি নির্মাণের ইঁট

সত্যই হলো এর মূল ভিত্তি, আর তা হবেই না কেন, … যখন মহান আল্লাহ স্বয়ং এর নির্মাতা?

বিবেকের মাঝে আপনার বাণী যেন এক স্বচ্ছ পানস্থল, «৬» … আর জ্ঞান ও মূল্যবান প্রজ্ঞাসমূহ হলো তার সুপেয় পানি

এটি হলো ফুরকানের রঞ্জক, তার পবিত্রতার সৌরভ, … আর এর সূরাসমূহের 'সীন' ও 'রা' বর্ণসমূহ «৭»

বিবেকের উৎস হতে এবং এর বিশাল বৃক্ষ থেকে প্রাঞ্জলতা প্রবাহিত হয়েছে, … আর রচনার ফল্গুধারা উৎসারিত হয়েছে «৮»

এর সমুদ্রে অবগাহনকারীদের জন্য জীবনের আদব … ও বিজ্ঞানের ওপর নোঙর ফেলার স্থান রয়েছে

যুগের পর যুগ এর শ্রেষ্ঠ সুধার ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু … সেই সুধা নিঃশেষ হয়নি এবং এর সঙ্গীরাও একে ভুলে যায়নি «৯»

--------------------------------------------

(১) আল-বাগী: অন্বেষণকারী। আল-গিনা: যা অভাবমুক্ত বা যথেষ্ট করে দেয়।

(২) আল-লুগা: ভাষার বহুবচন।

(৩) যুকা: সূর্যের নামসমূহের অন্যতম।

(৪) হিরা: সেই গুহা যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবাদত করতেন এবং সেখানে তাঁর নিকট ওহী অবতীর্ণ হয়েছিল।

(৫) আযরা বিহি: তাকে ত্রুটিযুক্ত বা তুচ্ছ সাব্যস্ত করেছে।

(৬) পানস্থল।

(৭) আস-সিবগাহ: ধরণ বা প্রকার।

(৮) আদ-দাওহ: বিশাল ও বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট বৃক্ষ।

(৯) আস-সুলাফ ও আস-সুলাফাহ: সর্বোত্তম সুধা বা পানীয়।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩২)
بك يا ابن عبد الله قامت سمحة … بالحقّ من ملل الهدى غرّاء «1»

بنيت على التوحيد، وهي حقيقة … نادى بها سقراط والقدماء

وجد الزّعاف من السّموم لأجلها … كالشّهد، ثم تتابع الشّهداء

ومشى على وجه الزمان بنورها … كهّان وادي النيل والعرفاء «2»

إيزيس ذات الملك حين توحّدت … أخذت قوام أمورها الأشياء «3»

لما دعوت الناس لبّى عاقل … وأصمّ منك الجاهلين نداء

أبوا الخروج إليك من أوهامهم … والناس في أوهامهم سجناء

ومن العقول جداول وجلامد … ومن النفوس حرائر وإماء «4»

داء الجماعة من أرسطاليس لم … يوصف له حتى أتيت دواء

فرسمت بعدك للعباد حكومة … لا سوقة فيها ولا أمراء

الله فوق الخلق فيها وحده … والناس تحت لوائها أكفاء

والدّين يسر، والخلافة بيعة … والأمر شورى، والحقوق قضاء

الإشتراكيون أنت إمامهم … لولا دعاوى القوم والغلواء «5»

دوايت متّئدا، وداووا ظفرة … وأخفّ من بعض الدواء الداء «6»

الحرب في حقّ لديك شريعة … ومن السّموم الناقعات دواء «7»

والبرّ عندك ذمّة وفريضة … لا منّة ممنونة وجباء «8»

جاءت فوحّدت الزكاة سبيله … حتى التقى الكرماء والبخلاء

--------------------------------------------

(1) السمحة: الملة التي ليس فيها ضيق-

(2) العراف: المنجم، والجمع عرفاء-

(3) ايزيس: من آلهة المصريين القدماء-

(4) الجدول: النهر الصغير، الجلمود: الصخر-

(5) الغلواء: الغلو-

(6) متئدا: متأنيا. ظفر: ونب-

(7) الناقعات: القاتلات-

(8) البر: الاحسان- ذمة: عهد. المنة: العطية، والممنونة: المتبوعة بالمن.
হে আব্দুল্লাহর পুত্র! আপনার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সত্যনিষ্ঠ … উজ্জ্বল ও উদার হেদায়াতের ধর্ম «১»

যা তাওহীদের ওপর নির্মিত, আর এটিই সেই ধ্রুব সত্য … যার ঘোষণা দিয়েছিলেন সক্রেটিস ও প্রাচীন মনীষীরা

এর খাতিরে তীব্র হলাহল বিষও অনুভূত হয়েছে … মধুর মতো, অতঃপর শহীদেরা একের পর এক আত্মদান করেছেন

আর এর আলোকবর্তিকা নিয়ে কালের পরিক্রমায় পথ চলেছেন … নীল উপত্যকার গণক ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা «২»

রাজত্বধারিণী আইসিস যখন একত্ববাদে শামিল হলো … তখন তার সকল বিষয় সুসংহত রূপ পেল «৩»

আপনি যখন মানুষকে আহ্বান করলেন, তখন বিবেকবানরা তাতে সাড়া দিল … আর আপনার সেই আহ্বান মূর্খদের বধির করে দিল

তারা তাদের কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আপনার কাছে আসতে অস্বীকার করল … অথচ মানুষ তাদের সেই কুসংস্কারের মাঝেই বন্দি ছিল

বুদ্ধিবৃত্তির মাঝে যেমন রয়েছে ক্ষুদ্র ঝরনা ও শক্ত পাথর … তেমনি আত্মার মাঝেও রয়েছে স্বাধীন ও অধীন প্রকৃতি «৪»

অ্যারিস্টটলের সময় থেকে চলে আসা সমাজের যে ব্যাধি … আপনি আসার আগে তার কোনো প্রতিকার বাতলে দেওয়া হয়নি

আপনি আপনার পরে বান্দাদের জন্য এমন এক শাসনব্যবস্থা অঙ্কন করেছেন … যেখানে সাধারণ প্রজা ও আমিরের মাঝে কোনো ভেদ নেই

সেখানে একমাত্র আল্লাহ সৃষ্টির উপরে রয়েছেন … আর মানুষ সেই পতাকাতলে সবাই সমান

দীন হলো সহজসাধ্য, খিলাফত হলো বায়আত বা অঙ্গীকার, … রাষ্ট্র পরিচালনা হলো পরামর্শভিত্তিক আর অধিকার হলো বিচার বিভাগীয় সুবিচার

সমাজতন্ত্রীরা—আপনিই হতেন তাদের ইমাম … যদি না সেই সম্প্রদায়ের বাড়াবাড়ি ও অলীক দাবি থাকত «৫»

আপনি ধীরস্থিরভাবে চিকিৎসা করেছেন, আর তারা করেছে তাড়াহুড়ো … অথচ কিছু ওষুধের চেয়ে রোগই অনেক সময় সহনীয় হয় «৬»

আপনার বিধানে সত্য রক্ষায় যুদ্ধ করা একটি শরিয়ত … যেমন প্রাণঘাতী বিষও অনেক সময় ঔষধ হয়ে দাঁড়ায় «৭»

আপনার নিকট পুণ্যকর্ম হলো একটি দায়বদ্ধতা ও ফরজ কাজ … এটি কোনো করুণা বা প্রতিদান পাওয়ার মাধ্যম নয় «৮»

যাকাত এসে সেই পথকে একীভূত করল … যার ফলে দাতা ও কৃপণরা এক কাতারে মিলিত হলো

--------------------------------------------

(১) সামহা: এমন ধর্ম যাতে কোনো সংকীর্ণতা বা কাঠিন্য নেই।

(২) আররাফ: জ্যোতিষী বা প্রাজ্ঞ, এর বহুবচন হলো উরাফা।

(৩) আইসিস: প্রাচীন মিশরীয়দের উপাস্যদের একজন।

(৪) জাদওয়াল: ছোট নদী; জালমুদ: পাথর।

(৫) গুলওয়া: অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি।

(৬) মুতাইদান: ধীরস্থিরভাবে। জোফার: লাফ দেওয়া বা ক্ষিপ্রতা।

(৭) নাক্বিআত: প্রাণঘাতী।

(৮) বির: পুণ্য বা ইহসান; জিম্মা: অঙ্গীকার; মান্নাহ: দান, আর মামনুনা: যা প্রদানের পর অনুগ্রহ প্রকাশ বা খোঁটা দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
أنصفت أهل الفقر من أهل الغنى … فالكلّ في حقّ الحياة سواء

فلو انّ إنسانا تخيّر ملّة … ما اختار إلا دينك الفقراء

يأيها المسرى به شرفا إلى … ما لا تنال الشمس والجوزاء «1»

يتساءلون- وأنت أطهر هيكل- … : بالروح أم بالهيكل الإسراء؟ «2»

بهما سموت مطهّرين، كلاهما … نور، وريحانيّة، وبهاء

فضل عليك لذى الجلال ومنّة … والله يفعل ما يرى ويشاء

تغشى الغيوب من العوالم، كلّما … طويت سماء قلّدتك سماء «3»

في كل منطقة حواشى نورها … نون، وأنت النقطة الزهراء

أنت الجمال، وأنت المجتلى … والكفّ، والمرآه، والحسناء

الله هيّأ من حظيرة قدسه … نزلا لذاتك لم يجزه علاء

العرش تحتك سدّة وقوائما … ومناكب الروح الأمين وطاء

والرّسل دون العرش لم يؤذن لهم … حاشا لغيرك موعد ولقاء

الخيل تأبى غير (أحمد) حاميا … وبها إذا ذكر اسمه خيلاء

شيخ الفوارس يعلمون مكانه … إن هيّجت آسادها الهيجاء

وإذا تصدّى للظّبى فمهنّد … أو للرّماح فصعدة سمراء «4»

وإذا رمى عن قوسه فيمينه … قدر، وما ترمى اليمين قضاء

--------------------------------------------

(1) الاسراء: السير ليلا-

(2) الهيكل: الجسم والصورة والشخص-

(3) غشى المكان يغشاه: أتاه-

(4) الظبى: جمع ظبية، وهي حد السيف- الصعدة: القناة المستوية.
আপনি ধনীদের থেকে দরিদ্রদের প্রতি ইনসাফ করেছেন … ফলে জীবনের অধিকারে সকলেই সমান।

যদি কোনো মানুষ কোনো ধর্ম বেছে নিতে পারত … তবে দরিদ্ররা আপনার ধর্ম ব্যতীত অন্য কিছু বেছে নিত না।

হে সেই সত্তা, যাকে সম্মানের সাথে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে … যেখানে সূর্য এবং জাওযা নক্ষত্রও পৌঁছাতে পারে না। «১»

তারা প্রশ্ন করে—অথচ আপনি পবিত্রতম দেহ— … যে, ইসরা কি রূহ (আত্মা) যোগে হয়েছিল নাকি শরীর যোগে? «২»

আপনি উভয়কে নিয়েই আরোহণ করেছেন যারা পবিত্র ছিল, উভয়ই ছিল … নূর, সৌরভ এবং দীপ্তি।

এটি মহিমান্বিত আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি এক শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহ … আর আল্লাহ যা সমীচীন মনে করেন এবং যা ইচ্ছা করেন, তা-ই সম্পাদন করেন।

আপনি জগতসমূহের অদৃশ্য রহস্যগুলো পরিভ্রমণ করছিলেন; যখনই … আপনি এক আসমান অতিক্রম করছিলেন, অন্য আসমান আপনাকে মাল্যদান করছিল। «৩»

প্রতিটি মণ্ডলের নূরের প্রান্তসমূহ ছিল … 'নূন' অক্ষরের ন্যায়, আর আপনি ছিলেন তার উজ্জ্বল বিন্দু।

আপনিই সৌন্দর্য, এবং আপনিই সেই জ্যোতির্ময় সত্তা … এবং হাত, দর্পণ ও অনিন্দ্য সুন্দর।

আল্লাহ তাঁর পবিত্র কুদরতগাহ থেকে … আপনার সত্তার জন্য এমন এক আবাসের ব্যবস্থা করেছিলেন, যার ঊর্ধ্বে কোনো উচ্চতা অতিক্রম করতে পারেনি।

আরশ আপনার নিচে পিঁড়ি ও খুঁটি হয়ে ছিল … এবং রূহুল আমীনের (জিবরাঈল আ.-এর) কাঁধসমূহ ছিল আপনার পদতলে বিছানা স্বরূপ।

আর আরশের নিচে অন্যান্য রাসুলগণকে অনুমতি দেওয়া হয়নি … আপনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য সেই নির্দিষ্ট সময় ও সাক্ষাৎ ছিল না।

ঘোড়াগুলো 'আহমদ' ব্যতীত অন্য কাউকে রক্ষাকর্তা হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে … আর তাঁর নাম উচ্চারিত হলে তারা গর্বে উদ্বেলিত হয়।

অশ্বারোহীদের প্রধান, তারা তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে অবগত … যখন যুদ্ধের ময়দান তার সিংহদের উত্তেজিত করে তোলে।

যখন তিনি তরবারির মোকাবিলা করেন তখন তিনি তীক্ষ্ণ তলোয়ার … আর যখন বল্লমের মোকাবিলা করেন তখন তিনি ঋজু দীর্ঘ বর্শা। «৪»

আর যখন তিনি আপন ধনুক থেকে তীর নিক্ষেপ করেন, তখন তাঁর ডান হাত … হলো তাকদির, আর সেই ডান হাত যা নিক্ষেপ করে তা হলো আল্লাহর ফয়সালা।

--------------------------------------------

(১) ইসরা: রাতে ভ্রমণ—

(২) হায়কাল: শরীর, আকৃতি এবং ব্যক্তি—

(৩) গাশা: কোনো স্থানে আসা বা পৌঁছানো—

(৪) যুবা: 'যুবইয়া' শব্দের বহুবচন, যা তরবারির ধার— সায়দা: সোজা বর্শা।
(খণ্ড: ১) মুখতারাত মিন আজমালিশ শিরি ফী মাদহির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
من كل داعى الحق همّة سيفه … فلسيفه في الراسيات مضاء «1»

ساقى الجريح ومطعم الأسرى. ومن … أمنت سنابك خيله الأشلاء

إن الشجاعة في الرجال غلاظة … ما لم تزنها رأفة وسخاء

والحرب من شرف الشعوب، فإن بغوا … فالمجد مما يدّعون براء

والحرب يبعثها القويّ تجبّرا … وينوء تحت بلائها الضعفاء

كم من غزاة للرسول كريمة … فيها رضى للحقّ أو إعلاء

كانت لجند الله فيها شدّة … في إثرها للعالمين رخاء

ضربوا الضلالة ضربة ذهبت بها … فعلى الجهالة والضلال عفاء

دعموا على الحرب السلام، وطالما … حقنت دماء في الزمان دماء

الحقّ عرض الله، كلّ أبيّة … بين النفوس حمى له ووقاء

هل كان حول محمد من قومه … إلا صبىّ واحد ونساء؟

فدعا، فلبّى في القبائل عصبة … مستضعفون، قلائل أنضاء «2»

ردّوا ببأس العزم عنه من الأذى … ما لا تردّ الصخرة الصماء

والحقّ والإيمان إن صبّا على … برد ففيه كتيبة خرساء «3»

نسفوا بناء الشّرك، فهو خرائب … واستأصلوا الأصنام، فهي هباء «4»

يمشون تغضى الأرض منهم هيبة … وبهم حيال نعيمها إعصاء

حتى إذا فتحت لهم أطرافها … لم يطغهم ترف ولا نعماء

يا من له عزّ الشفاعة وحده … وهو المنّزه، ما له شفعاء

عرش القيامة أنت تحت لوائه … والحوض أنت حياله السّقاء

--------------------------------------------

(1) مضى السيف مضاء: قطع-

(2) النضو: المهزول من الأبل وغيرها-

(3) الكتيبة الخرساء: التي لا يسمع فيها صوت-

(4) الهباء: الغبار.
সত্যের প্রতিটি আহ্বায়কের সংকল্প তাঁর তরবারির তেজ … সুদৃঢ় পাহাড়ের মাঝেও তাঁর তরবারির রয়েছে প্রখরতা। «১»

তিনি আহতের তৃষ্ণা নিবারণকারী এবং বন্দিদের অন্নদানকারী। এবং যাঁর... অশ্বক্ষুরের আঘাত থেকে মৃতদেহগুলোও নিরাপদ ছিল।

পুরুষদের মধ্যে সাহসিকতা কেবল রুক্ষতা মাত্র, … যদি না তা দয়া ও বদান্যতা দ্বারা সুশোভিত হয়।

যুদ্ধ জাতিসমূহের সম্মানের অংশ; তবে তারা যদি সীমালঙ্ঘন করে, … তবে গৌরব তাদের মিথ্যা দাবি থেকে মুক্ত।

শক্তিমানরা দম্ভবশত যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, … আর দুর্বলরা এর বিপদের নিচে ধুঁকতে থাকে।

রাসূলের কতই না মর্যাদাপূর্ণ যুদ্ধাভিযান ছিল, … যাতে সত্যের সন্তুষ্টি অথবা তার সমুন্নতি বিদ্যমান ছিল।

তাতে আল্লাহর বাহিনীর জন্য ছিল কঠোরতা, … যার অব্যবহিত পরে বিশ্ববাসীর জন্য এসেছিল স্বস্তি।

তারা গোমরাহীকে এমন এক আঘাত হেনেছিল যা তাকে মিটিয়ে দিয়েছিল; … ফলে অজ্ঞতা ও গোমরাহীর ওপর ধ্বংস ও বিস্মৃতি নেমে এল।

তারা যুদ্ধের ওপর শান্তিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন; আর দীর্ঘকাল ধরে … রক্তই যুগে যুগে রক্তকে প্রবাহিত হওয়া থেকে রক্ষা করেছে।

সত্য হলো আল্লাহর সম্মান; প্রতিটি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন প্রাণ … মানুষের মাঝে তাঁর জন্য এক অভয়ারণ্য ও সুরক্ষা।

মুহাম্মদের চারপাশে তাঁর স্বজাতির মধ্যে কি … কেবল একজন বালক ও মহিলারা ছাড়া আর কেউ ছিল?

অতঃপর তিনি ডাক দিলেন, আর গোত্রগুলোর মধ্য থেকে একদল সাড়া দিল— … যারা ছিল দুর্বল, স্বল্পসংখ্যক এবং কৃশকায়। «২»

তারা সুদৃঢ় সংকল্পের শক্তি দিয়ে তাঁর থেকে সেই কষ্টকে প্রতিহত করেছিল, … যা এক নিরেট পাথরও প্রতিহত করতে পারে না।

সত্য ও ঈমান যদি ঢেলে দেওয়া হয় … কোনো শীতল হৃদয়ে, তবে সেখানে এক নীরব সেনাদল তৈরি হয়। «৩»

তারা শিরকের অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল, ফলে তা এখন ধ্বংসস্তূপ; … এবং তারা মূর্তিগুলোকে সমূলে উৎপাটন করেছিল, ফলে সেগুলো এখন ধূলিকণা। «৪»

তারা এমনভাবে বিচরণ করেন যে ভয়ে পৃথিবী তার দৃষ্টি অবনত করে, … আর পার্থিব নিয়ামতের প্রতি তাদের ছিল নির্লিপ্ততা।

এমনকি যখন পৃথিবীর দিগন্তসমূহ তাদের জন্য উন্মুক্ত হলো, … তখন বিলাসিতা বা ঐশ্বর্য তাদের পথভ্রষ্ট করেনি।

হে সেই সত্তা, যাঁর জন্য এককভাবে শাফায়াতের মর্যাদা নির্ধারিত, … আর তিনি পবিত্র; তাঁর নিজের জন্য কোনো সুপারিশকারী নেই।

কিয়ামতের আরশের পতাকাতলে আপনি থাকবেন, … আর হাউজ-এ-কাউসারের পাশে আপনিই হবেন পানদানকারী।

--------------------------------------------

(১) তরবারির প্রখরতা: অর্থাৎ তা কর্তন করে।-

(২) নিদজু: উট বা অন্য প্রাণীর মধ্যে যা জীর্ণ ও কৃশকায়।-

(৩) নীরব সেনাদল: এমন এক দল যাতে কোনো উচ্চবাচ্য বা শোরগোল শোনা যায় না।-

(৪) হাবা: ধূলিকণা।