(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: -)
محمد صلى الله عليه وآله وسلم في الكتب المقدسة   (سامى عامرى)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: محمد صلى الله عليه وآله وسلم في الكتب المقدسة

المؤلف: سامى عامرى

الناشر: مركز التنوير الإسلامي للخدمات المعرفية والنشر بالقاهرة

الطبعة: الأولى - 1426 هـ - 2006 م

عدد الصفحات: 483

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্র গ্রন্থসমূহে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)   (সামী আমেরী)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


বই: পবিত্র গ্রন্থসমূহে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)

লেখক: সামী আমেরী

প্রকাশক: মারকাযুত তানভীর আল-ইসলামী লি-খিদমাতিল মা'রিফিয়্যাহ ওয়ান-নাশর, কায়রো

সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৬ হিজরী - ২০০৬ ঈসায়ী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৩

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌[التصدير]

بسم الله الرّحمن الرّحيم قال صلى الله عليه وسلم:

" والذي نفس محمد بيده، لا يسمع بي أحد من هذه الأمة يهودي، ولا نصراني، ثم يموت ولم يؤمن بالذي أرسلت به، إلا كان من أصحاب النار" (صحيح مسلم)

قال الإمام ابن القيم:

" لو لم يظهر محمد بن عبد الله- صلى الله عليه وسلم لبطلت نبوة سائر الأنبياء، فظهور نبوته تصديق لنبواتهم وشهادة لها بالصدق، فإرساله من آيات الأنبياء قبله، وقد أشار سبحانه إلى هذا المعنى بعينه في قوله: " بل جاء بالحق وصدق المرسلين". "
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, এই উম্মতের যে কেউ—সে ইহুদি হোক বা খ্রিষ্টান—আমার কথা শুনবে, অতঃপর আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করবে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (সহীহ মুসলিম)

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:

"যদি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব না ঘটত, তবে অন্যান্য সকল নবীদের নবুওয়াত বাতিল হয়ে যেত। কেননা তাঁর নবুওয়াতের প্রকাশ তাঁদের নবুওয়াতের সত্যায়ন এবং তাঁদের সত্যতার সাক্ষ্যদানস্বরূপ। সুতরাং তাঁর প্রেরিত হওয়া তাঁর পূর্ববর্তী নবীদের নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এই নিগুঢ় অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করেই বলেছেন: "বরং তিনি সত্য নিয়ে এসেছেন এবং রাসূলগণকে সত্যায়ন করেছেন।""
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌الإهداء

إلى الإمام الغائب، الشاهد..

شيخ الإسلام.. مفتي الأنام بلسم السنة..

ناصر الملّة في زمن الذلّة..

ابن تيميّة..

رحمه الله رحمة واسعة، وأبقى ذكره الطيّب في العالمين!
উৎসর্গ

সেই অনুপস্থিত অথচ সাক্ষ্যদাতা ইমামের প্রতি..

শাইখুল ইসলাম.. সৃষ্টিজগতের মুফতী, সুন্নাহর শান্তিপ্রদ প্রলেপ..

লাঞ্ছনার যুগে মিল্লাতের সাহায্যকারী..

ইবনে তাইমিয়্যাহ..

আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমতে সিক্ত করুন এবং জগতসমূহে তাঁর উত্তম আলোচনাকে চিরস্থায়ী রাখুন!
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌توطئة

إنّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، القائل: " فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ فَهُمْ فِي رَوْضَةٍ يُحْبَرُونَ. وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآياتِنا وَلِقاءِ الْآخِرَةِ فَأُولئِكَ فِي الْعَذابِ مُحْضَرُونَ" (الروم 15- 16) ..

والصلاة والسلام على حبيبي وقرّة عيني، ومعلّمي الخير ودليلي إلى الفلاح: محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم حجة الله على الناس أجمعين، والمبشّر به على لسان الأنبياء الأوّلين.

صلّى عليه إلهه وخليله … مادامت الغبراء والخضراء

فهو الذي فاق الأنام كرامة … واستبشرت بقدومه الأنباء

أما بعد، فإن أمتنا تعيش في معترك حام، تحت سماء حمراء متوهجة، وفوق أرض صخرية متأججة، تملؤها سنابك خيل الدعاة البغاة المعجّجة، وتتخطفها الأيادي الآثمة، وتنخر أرضها الطاهرة تمددات سرطانية عابثة.

ولا شكّ أنّ هذه المرحلة الحاسمة من تاريخ الإنسانية تستحث المسلم لنثل سهام من كنانة الحق رغبة في إخماد وساوس الباطل وشقاشقه..

ولا شكّ أنّ حماية بيضة الدين وصيانة حوزة التوحيد هي أهم المهمات في زمن الملمات.

ومما لا يستريب فيه عاقل أنّ مرحلة التيه التي تتخبّط فيها طوائف مليونية وتحترق في أتونها يوميا، تستدعي من حاملي مشاعل النور أن يخرجوا إلى الذين قد سكنهم
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; যিনি বলেছেন: "অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে আনন্দিত ও সম্মানিত হবে। আর যারা কুফরি করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে, তাদের আজাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে" (আর-রুম ১৫-১৬) ..

আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমার প্রিয়তম, চোখের পুতলি, কল্যাণের শিক্ষক এবং সফলতার দিকে আমার পথপ্রদর্শক মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর; যিনি সমগ্র মানবজাতির ওপর আল্লাহর প্রমাণ এবং যাঁর আগমনের সুসংবাদ পূর্ববর্তী নবীদের মুখে উচ্চারিত হয়েছে।

তাঁর মাবুদ ও বন্ধু তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন … যতক্ষণ জমিন ও আসমান বিদ্যমান থাকবে

তিনিই সেই সত্তা যিনি মর্যাদায় সৃষ্টিজগতকে ছাড়িয়ে গেছেন … এবং যাঁর আগমনে সকল সংবাদ সুসংবাদ হয়ে এসেছে

অতঃপর, নিশ্চয়ই আমাদের উম্মাহ এক উত্তপ্ত রণক্ষেত্রে বসবাস করছে; এক প্রজ্জ্বলিত লাল আকাশের নিচে এবং এক প্রলয়ঙ্কারী পাথুরে জমিনের ওপর, যা সীমালঙ্ঘনকারী বিভ্রান্ত দাঈদের ঘোড়ার খুরের ধুলোয় আচ্ছন্ন। পাপিষ্ঠ হাতগুলো তাকে ছিনিয়ে নিচ্ছে এবং অশুভ ব্যাধির বিস্তার তার পবিত্র ভূমিকে কুরে কুরে খাচ্ছে।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানব ইতিহাসের এই চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ একজন মুসলিমকে সত্যের তূণ থেকে তীর বের করতে উদ্বুদ্ধ করে, যেন বাতিলের কুমন্ত্রণা ও তার আস্ফালনকে স্তব্ধ করা যায়..

নিশ্চয়ই মুসিবতের এই সময়ে দ্বীনের অস্তিত্ব রক্ষা এবং তাওহীদের সীমানা হেফাজত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আর কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এতে সন্দেহ করবেন না যে, বিভ্রান্তির এই পর্যায়—যাতে অগণিত মানুষ পথ হারিয়েছে এবং যার অগ্নিকুণ্ডে প্রতিদিন দগ্ধ হচ্ছে—তা আলোকবর্তিকা বাহকদের নিকট এই দাবি করে যে, তারা তাদের নিকট বেরিয়ে আসবে যারা সেখানে বসতি গেড়েছে...
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الضياع ليرشدوهم إلى معالم طريق الهدى وليأخذوا بأيديهم إلى أبواب السكينة.

لأجل كل ذلك يتحدث إليكم اليوم، أحد المسلمين عن البشارة بمحمد صلى الله عليه وسلم في الكتب المقدسة عند النصارى واليهود والهندوس والبوذيين والصابئة والمجوس..

وليس علينا إلا أن نبسط القول في كشف دلائل الحق، وتسليط الأنوار عليها، وقمع الظلام الذي يريد طمس روعة الهدى وإطفاء جذوته الحارة.. فإنّ أصرّ البغاة على أنفسهم وأشاحوا بالوجه عمّا جاءهم من الحقّ وغلّقوا العيون وسدّوا الآذان، قال قائلنا:

هذا بلاغي لكم والبعث موعدنا … وعند ذي العرش يدري الناس ما الخبر

وحديثنا المتواضع، يأتي بعد سلسلة من الكتب التي ألفها دعاة إلى الله في محاولة حثيثة إلى استقطاب النصارى واليهود والمجوس والبوذيين والهندوس إلى الإسلام. وقد جمعت تلك النخبة من الكتب الحجة القاطعة إلى الأسلوب الرائق دون تحريف الواقع أو التزييف الباقع..

وقد كان ردّ فعل الأقوام المدعية إلى جنة عرضها السماوات والأرض متباينا:

فمن مهرول إلى الحق راكع في محرابه.. ومتأنّ في مشيّه بطيء في حركته.. ومتلعثم متعثر قبل تخطي عتبة الباب.. ورافض مشتط في الغواية نصب سيف الحرب على الوحي ليستعلن بباطله المنتفش انتفاشه الزبد الرابي سريع الزوال!!

والمتابع لردود فعل أهل الديانات الأربع السابقة، منذ القرون الأولى، من إعلان النبي الخاتم صلى الله عليه وسلم بعثته المباركة، يلحظ بكلّ يسر أنّ أكثر ديانة وقفت بعقائدها ضد قرآن الإسلام في القرون الهجرية الأولى هي الديانة المجوسية التي بلغت درجة" متقدمة" من منطقة أصولها والدفاع عنها، ويظهر من كتاب" الفهرست" لابن النديم الوراق (؟ - ت 385 هجري) أنّ الردود الإسلامية على المجوسية المتمثلة في كتب
পথভ্রষ্টদের হেদায়েতের পথের নিদর্শনের দিকে পরিচালিত করতে এবং তাদের হাত ধরে প্রশান্তির দ্বারে নিয়ে যেতে।

এসব কারণেই আজ একজন মুসলিম আপনাদের নিকট খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ, সাবেয়ী ও অগ্নিপূজকদের পবিত্র গ্রন্থসমূহে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুসংবাদ সম্পর্কে আলোচনা করবেন।

আর আমাদের কর্তব্য কেবল সত্যের প্রমাণগুলো উন্মোচন করতে সবিস্তারে আলোচনা করা, সেগুলোর ওপর আলোকপাত করা এবং সেই অন্ধকারকে দমন করা, যা হেদায়েতের সৌন্দর্যকে মুছে দিতে এবং এর উত্তপ্ত শিখাকে নিভিয়ে দিতে চায়। এরপরও যদি সীমালঙ্ঘনকারীরা নিজেদের জেদে অটল থাকে, সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, চোখ বন্ধ করে রাখে এবং কান রুদ্ধ করে দেয়, তবে আমাদের বক্তা বলবেন:

এটিই তোমাদের প্রতি আমার বার্তা এবং পুনরুত্থানই আমাদের সাক্ষাতের সময় … আর আরশের অধিপতির নিকট মানুষ জানতে পারবে প্রকৃত সংবাদ কী।

আমাদের এই বিনীত আলোচনাটি আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের রচিত এক ধারাবাহিক কিতাবের পরে আসছে, যারা খ্রিস্টান, ইহুদি, অগ্নিপূজক, বৌদ্ধ ও হিন্দুদের ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। কিতাবসমূহের সেই সংকলনটি বাস্তবতার বিকৃতি বা জঘন্য মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে অকাট্য দলিলের সাথে চমৎকার শৈলীর সমন্বয় ঘটিয়েছে।

আর আকাশ ও পৃথিবী সমবিস্তৃত জান্নাতের দিকে আমন্ত্রিত জাতিগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন ভিন্ন:

কেউ সত্যের দিকে ছুটে এসে তার ইবাদতগাহে অবনত হয়েছে; কেউ ধীরলয়ে পথ চলেছে; কেউ দরজার চৌকাঠ পার হওয়ার আগেই ইতস্তত ও হোঁচট খেয়েছে; আবার কেউ গোমরাহিতে লিপ্ত হয়ে চরম অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং ওহীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের তলোয়ার ধারণ করেছে, যাতে তার অসার বাতিলকে জাহির করতে পারে—যা দ্রুত বিলীয়মান উদ্বেলিত ফেনার মতো ফুলেফেঁপে উঠেছিল!!

শেষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বরকতময় নবুয়ত ঘোষণার পর থেকে প্রথম শতাব্দীগুলোতে পূর্বোক্ত চারটি ধর্মের অনুসারীদের প্রতিক্রিয়ার প্রতি লক্ষ্য করলে খুব সহজেই দেখা যায় যে, হিজরি প্রথম শতাব্দীগুলোতে ইসলামের কুরআনের বিরুদ্ধে যে ধর্মটি তাদের আকিদা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিল, সেটি হলো অগ্নিপূজক ধর্ম। তারা তাদের মূলনীতি এবং তার প্রতিরক্ষায় এক "অগ্রসর" পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ইবনে নাদিম আল-ওয়াররাক (?-মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি) রচিত "আল-ফিহরিস্ত" গ্রন্থ থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, অগ্নিপূজকদের বিরুদ্ধে কিতাবসমূহের আকারে যে ইসলামি খণ্ডনগুলো এসেছে...
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
وردود مؤلفة في القرون الهجرية الأولى أكبر بكثير من الكتب التي ألفت في تلك الفترة في الحديث عن النصرانية وفي إبطالها، فقد تناول ابن النديم في المقالة التاسعة، الديانات الفارسية والهندية فيما يزيد عن خمسين صحيفة (من ص 441- 493) ، في حين أنه خصص للفرق النصرانية صحيفة واحدة (ص ص 33- 36) . وكانت هذه العاصفة الإسلامية على المجوسية التي عاشت لفترة هامة تحت حماية امبراطورية مترامية الأطراف وفي ظلّ تأييدها، سببا في اندثار المجوسية باعتناق أهلها الإسلام وانسلاخهم من دين التثنوية.

استمر دين الصابئة محصورا في فئة قليلة، وكان لظهور الإسلام على جميع الأديان في بلاد الشام والعراق والحجاز سدا قطع شرايين هذا الدين وآماله في الانتشار والتوسّع.

أما النصرانية واليهودية والبوذية والهندوسية فقد تقلّص حجم تمددها الأرضي والبشري لصالح الإسلام وإن لم تندثر عقائدها..

وقد كان لصدق دين الإسلام ووضوحه وكماله وسعته والجلد الذي أظهره من اعتنقوه، أثر غير مسبوق في انتشاره في قلوب الناس وتمكّنه من الصدور..

وقد شهد كبار الباحثين الغربيين لمعجزة سرعة انتشار الإسلام على حساب بقية العقائد والأديان، معربين عن عظيم دهشتهم من السرعة الفائقة التي اكتسح بها الإسلام الأراضي والنفوس.

فقال المؤرخ الهولندي دوزي: " إنّ هذه الظاهرة تبدو لأول وهلة لغزا غريبا، لا سيما متى علمنا أنّ الدين الجديد لم يفرض فرضا على أحد".

وقال ماركس مايرهوف في مؤلفه" العالم الإسلامي": " ويكاد يكون مستحيلا أن نفهم كيف أنّ أعرابا منقسمين إلى عشائر ليست عندهم العدد والعدة اللازمة يهزمون
হিজরি প্রথম শতকগুলোতে রচিত খণ্ডনমূলক লেখাগুলো সেই সময়ে খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে আলোচনা এবং তা বাতিলের বিষয়ে রচিত বইগুলোর তুলনায় সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। ইবনে নাদিম তার নবম প্রবন্ধে পারস্য ও ভারতীয় ধর্মগুলো সম্পর্কে পঞ্চাশটিরও বেশি পৃষ্ঠায় (পৃষ্ঠা ৪৪১-৪৯৩) আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি খ্রিস্টান দলগুলোর জন্য মাত্র একটি পৃষ্ঠা (পৃষ্ঠা ৩৩-৩৬) বরাদ্দ করেছেন। অগ্নিপূজকদের (মাজুসিয়াহ) ওপর এই ইসলামী ঝঞ্ঝা—যারা একটি বিশাল সাম্রাজ্যের সুরক্ষা ও সমর্থনে দীর্ঘ সময় টিকে ছিল—তাদের বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তাদের অনুসারীরা ইসলাম গ্রহণ করে এবং দ্বিত্ববাদী ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে আসে।

সাবিয়ি ধর্মটি একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং শাম, ইরাক ও হিজাজে সমস্ত ধর্মের ওপর ইসলামের বিজয়ী আবির্ভাব এই ধর্মের ধমনী এবং এর প্রসার ও বিস্তৃতির আশাকে রুদ্ধ করে দেয়।

অন্যদিকে খ্রিস্টধর্ম, ইহুদি ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম ও হিন্দুধর্মের ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাতাত্ত্বিক প্রসারের পরিধি ইসলামের অনুকূলে সংকুচিত হয়ে আসে, যদিও তাদের আকিদা-বিশ্বাস পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়নি।

ইসলাম ধর্মের সত্যতা, স্পষ্টতা, পূর্ণতা ও ব্যাপকতা এবং এর অনুসারীদের প্রদর্শিত ধৈর্য ও দৃঢ়তা মানুষের হৃদয়ে এর প্রসারে এবং অন্তরে তা বদ্ধমূল হওয়ার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলেছিল।

শীর্ষস্থানীয় পাশ্চাত্য গবেষকগণ অন্যান্য ধর্ম ও মতবাদের বিপরীতে ইসলামের দ্রুত প্রসারের অলৌকিকত্বের স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং ইসলাম যে অভাবনীয় গতিতে ভূখণ্ড ও মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল, তাতে তারা গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

ওলন্দাজ ঐতিহাসিক ডোজি বলেছেন: "এই ঘটনাটিকে প্রথম দৃষ্টিতে একটি অদ্ভুত রহস্য মনে হয়, বিশেষ করে যখন আমরা জানতে পারি যে, এই নতুন ধর্মটি কারও ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।"

ম্যাক্স মেয়ারহফ তার "ইসলামী বিশ্ব" গ্রন্থে বলেছেন: "এটি বোঝা প্রায় অসম্ভব যে, কীভাবে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামহীন বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত একদল মরুচারী আরব পরাজিত করে..."
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
في مثل هذا الوقت القصير جيوش الرومان والفرس الذين كانوا أكثر منهم مرارا في الأعداد والعتاد وكانوا يقاتلونهم وهم كتائب منظمة".

وقال لورد ستروب: " فكلما زدنا استقصاء، باحثين عن سر تقدم الإسلام زادنا ذلك العجب العجاب بهرا فارتددنا عنه بطرف كسير.. عرفنا أنّ سائر الأديان العظمى إنما نشأت تسير في سبيلها سيرا بطيئا متلافية كل صعب، حتى قيّض الله لكل دين من أراده من ملك ناصر وسلطان قاهر انتحل ذلك الدين ثم أخذ في تأييده والذب عنه حتى رسخت أركانه وضمت جوانبه. إنما ليس الأمر كذلك في الإسلام.. الإسلام الذي نشأ في بلاد صحراوية" …

وقد رجّت هذه الحركة التوسعية السريعة الوثّابة معاقل كثير من الأديان الوافرة الأتباع وجعلتها تتقلّب في مواقفها وتتلجلج في ردود أفعالها.. فقد بدأت في أوّل أمرها بالطعن الشديد والافتراء الفجّ والكذب السمج- واقرأ لزاما كتاب د. عبد الرحمن" دفاع عن القرآن ضد منتقديه" لترى العجب العجاب وما يضحك الثكلى التي فقدت الأولاد، من الأباطيل السخيفة المدعاة على القرآن-. وصار أقطابها اليوم يعلنون اعترافهم ب" ثورة" موج الإسلام وأنّه رقم صعب في معادلة العقائد.. لكنهم لم يقبلوا الهدى ولم يعبروا المدى، وإنّما غيّروا" التكتيك" في التعامل مع دين الله الحقّ.. فطفت على الساحة آراء جديدة ومناهج طريفة في الصدّ عن الضدّ بأسلوب لبق خفي، من ذلك إبطال الكنيسة الكاثوليكية في النصف الثاني من القرن العشرين ما سبق أن أعلنه أحد الرؤساء السابقين في نهاية القرن الحادي عشر، من اعتبار المسلمين كفارا (!؟) ، فهم لا كفار ولا مؤمنين- مترلة بين مترلتين-!!، وذلك في بحوثها التي عرضت في المجمع الثاني للفاتيكان، والذي عقد في فترة 1963- 1965.
"এত অল্প সময়ের মধ্যে রোমান ও পারস্যের সেনাবাহিনীসমূহকে [পরাস্ত করেছে], যারা সংখ্যা ও যুদ্ধসরঞ্জামে তাদের চেয়ে বহুগুণ বেশি ছিল এবং যারা সুসংগঠিত বাহিনী হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল।"

লর্ড স্ট্রব বলেছেন: "ইসলামের অগ্রগতির রহস্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমরা যতই তদন্ত বাড়িয়েছি, ততই এই বিস্ময়কর বিষয়টি আমাদের অভিভূত করেছে এবং আমরা নতদৃষ্টিতে তা থেকে ফিরে এসেছি... আমরা জেনেছি যে, অন্যান্য সকল প্রধান ধর্ম অত্যন্ত ধীরগতিতে পথ চলতে চলতে প্রতিটি প্রতিকূলতা এড়িয়ে বিকশিত হয়েছে, যতক্ষণ না আল্লাহ প্রতিটি ধর্মের জন্য এমন কোনো সাহায্যকারী রাজা বা প্রবল প্রতাপশালী সুলতানকে নিয়োজিত করেছেন, যিনি সেই ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং পরে তা সমর্থন ও রক্ষা করতে শুরু করেছেন, যতক্ষণ না তার ভিত্তি মজবুত হয়েছে এবং চতুর্দিক সুসংহত হয়েছে। কিন্তু ইসলামের বিষয়টি তেমন নয়... ইসলাম যা মরুভূমির দেশে উদ্ভূত হয়েছে" …

এই দ্রুত ও উল্লম্ফনশীল প্রসারণবাদী আন্দোলন বহু অনুসারীবিশিষ্ট অনেক ধর্মের দুর্গকে কাঁপিয়ে দিয়েছে এবং তাদেরকে তাদের অবস্থানে পরিবর্তন করতে ও প্রতিক্রিয়ায় দ্বিধাগ্রস্ত হতে বাধ্য করেছে। শুরুতে এটি কঠোর বিষোদগার, স্থূল অপবাদ এবং কুৎসিত মিথ্যাচারের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল—আর কুরআনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হাস্যকর ও অসার দাবিগুলো দেখে অবাক হতে এবং সন্তানহারা শোকাতুর মাকেও হাসিয়ে দেওয়ার মতো বিষয়গুলো জানতে অবশ্যই ড. আবদুর রহমানের 'সমালোচকদের বিরুদ্ধে কুরআনের প্রতিরক্ষা' বইটি পড়ুন। আর আজ এর কর্ণধাররা ইসলামের জোয়ারের 'বিপ্লব' এবং বিশ্বাসের সমীকরণে একে একটি কঠিন সংখ্যা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ঘোষণা দিতে শুরু করেছে। কিন্তু তারা হেদায়াত গ্রহণ করেনি এবং সীমানাও পার হয়নি, বরং তারা আল্লাহর সত্য দ্বীনের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাদের 'কৌশল' পরিবর্তন করেছে। ফলে সুকৌশলী ও প্রচ্ছন্ন পন্থায় বিরোধিতাকে প্রতিহত করার জন্য ময়দানে নতুন নতুন মত ও অভিনব পদ্ধতি ভেসে উঠেছে। এর মধ্যে একটি হলো বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় অর্ধে ক্যাথলিক চার্চ কর্তৃক একাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে তাদেরই একজন সাবেক প্রধানের পক্ষ থেকে মুসলিমদেরকে কাফের ঘোষণা করার পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তটি বাতিল করা (!?); এখন তাদের মতে মুসলিমরা কাফেরও নয়, আবার মুমিনও নয়—বরং দুই স্তরের মাঝামাঝি এক স্তর—!! আর এটি প্রকাশিত হয়েছে ভ্যাটিকানের দ্বিতীয় কাউন্সিলের গবেষণাপত্রে, যা ১৯৬৩-১৯৬৫ সময়কালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
فقد جاء في تلك الوثيقة: " إنّ كنيسة المسيح تعترف بأنّ مبادئ عقيدتها قد بنيت لدى الرسل والأنبياء طبقا لسر الخلاص الإلهي. فهي تعترف فعلا بأنّ جميع المؤمنين وهم أبناء إبراهيم- حسب العقيدة- داخلون في رسالة ذلك النبي.

وبدافع المحبة نحو إخواننا فلننظر بعين الاعتبار إلى الآراء والمذاهب، التي وإن تباينت كثيرا عن آرائنا ومذهبنا، فإنها تضم نواة من تلك الحقيقة التي تنير قلب كل إنسان يولد في هذا العالم..

ولنعانق أولا المسلمين الذين يعبدون إلها واحدا، والذين هم أقرب إلينا في المعنى الديني وفي علاقات ثقافية إنسانية واسعة".

ولنا نحن أن نعلن أنّه على الكنيسة الكاثوليكية أن تسير إلى الأمام خطوات أكبر، لتعلن بكل جرأة أنّ الحق كلّه هو في الإسلام فقط، أما بقية الأديان السماوية فهي لا تحمل غير" نواة من تلك الحقيقة"!!

إنّ ما أعلنته الكنيسة الكاثوليكية هو أحد علامات إحساس القوم بالزحف الإسلامي الحثيث إلى أرض النواقيس … حتى بلغ الأمر بالصحف الشهيرة في الغرب أن صرّحت أنّ الإسلام يشرق على العالم من جديد ولكنه يشرق هذه المرة من الغرب..

بل ها هي صحيفة" إيل جورنالي" الإيطالية تصرّح أنها تتوقع أن تتخذ المجتمعات الأوروبية الإسلام دينا لها بعد 200 سنة، وأنّ الإسلام قد نفذ اليوم إلى قلب أوروبا.

وقد أعلن الكثير من الباحثين ومراكز الإحصاء أنّ الإسلام هو أكثر الأديان انتشارا في العالم. جاء هذا الاعتراف في أحد دراسات مركز" رصد العقائد" في مدينة" برن" بسويسرا.. وقالت الباحثة الكهنوتية كارول أنوي: " الإسلام هو أسرع الأديان انتشارا في أمريكا الشمالية"، وأعلن الدتور هستون سميث أنّ: " الإسلام في هذا العصر كما في العصور السابقة أسرع الأديان إلى كسب الأتباع المصدّقين"!!
সেই দলিলে এসেছে: "খ্রিস্টীয় চার্চ স্বীকার করে যে, তাদের আকিদার মূলনীতিসমূহ ঐশ্বরিক পরিত্রাণের রহস্য অনুযায়ী রাসূল এবং নবীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি প্রকৃতপক্ষে স্বীকার করে যে, সকল বিশ্বাসী—যারা আকিদাগতভাবে ইব্রাহিমের সন্তান—সেই নবীর বার্তার অন্তর্ভুক্ত।

এবং আমাদের ভাইদের প্রতি ভালোবাসার তাগিদে, আসুন আমরা সেইসব মতবাদ ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মানের দৃষ্টিতে তাকাই, যা আমাদের মতবাদ থেকে অনেক ভিন্ন হলেও, সেগুলোর মধ্যে সেই সত্যের বীজ নিহিত রয়েছে যা এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে আলোকিত করে..

এবং আসুন আমরা সর্বপ্রথম সেই মুসলিমদের আলিঙ্গন করি, যারা এক ইলাহের ইবাদত করে এবং যারা ধর্মীয় অর্থে এবং ব্যাপক মানবিক সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ।"

আর আমাদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা উচিত যে, ক্যাথলিক চার্চের আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা সাহসের সাথে ঘোষণা করতে পারে যে পূর্ণ সত্য কেবল ইসলামেই নিহিত, আর অবশিষ্ট আসমানী ধর্মগুলো কেবল "সেই সত্যের বীজ" বহন করে মাত্র!!

ক্যাথলিক চার্চের এই ঘোষণাটি হচ্ছে গির্জার ঘণ্টা ধ্বনিত ভূমির দিকে ইসলামের দ্রুতবেগে ধাবমান অগ্রযাত্রা সম্পর্কে তাদের অনুভবের অন্যতম লক্ষণ … এমনকি অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে পাশ্চাত্যের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যমগুলোও বলছে যে ইসলাম আবারও বিশ্বজুড়ে উদিত হচ্ছে, তবে এবার তা পশ্চিম দিক থেকে উদিত হচ্ছে..

এমনকি ইতালীয় সংবাদপত্র "ইল জর্নালে" স্পষ্টভাবে বলছে যে, তারা আশা করছে ২০০ বছর পর ইউরোপীয় সমাজ ইসলামকে তাদের ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করবে এবং ইসলাম আজ ইউরোপের হৃদয়ে প্রবেশ করেছে।

অনেক গবেষক ও পরিসংখ্যান কেন্দ্র ঘোষণা করেছে যে, ইসলাম বিশ্বের সর্বাধিক বিস্তারলাভকারী ধর্ম। সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরের "আকিদা পর্যবেক্ষণ" কেন্দ্রের একটি গবেষণায় এই স্বীকৃতি এসেছে। যাজকীয় গবেষক ক্যারল অ্যানউই বলেছেন: "উত্তর আমেরিকায় ইসলাম সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম," এবং ডক্টর হাস্টন স্মিথ ঘোষণা করেছেন: "এই যুগেও পূর্ববর্তী যুগগুলোর মতোই ইসলাম সত্যনিষ্ঠ অনুসারী লাভে দ্রুততম ধর্ম"!!
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
إنّ الإسلام يعود إلى البروز من جديد.. ولكن لا تزال طبائع النفوس الحائدة عن الحق كما كانت، ما بين نفس متعطّشة للهداية في مسلاخ عامي جاهل.. ونفس رجل مترددة بين الظلمة والنور والظل والحرور.. وأخرى قد غلفها السواد واستوطنها الفساد فركبت الهوى، ومن ركب الهوى هوى، ومن رضي الهوان هان!

ولا زالت أصوات الدعاة إلى الحق تتردد في أجواء الكون أن أقبلوا على الله.. أن فرّوا إلى الله.. وأن لا ملجأ من الله إلا إلى الله.. ولكن عبّاد الآباء لا يكفون عن الافتئات على الدين الحق، والتمسّك بآثار الأوّلين ولو كانوا من عمّار السعير وحصب الجحيم.

ولا يزال النهج العملي الواقعي (لا الرسمي النظري) لرسل الكنائس في مكاتباتهم ومحاضراتهم هو السبّ والتجديع ورشّ السهام والتعنيف، وهو ولا شك، نهج الذين يعتزون إلى ما لا يحسنون ممن فاق ما أخطؤوا فيه ما يحسنون. وغاية أمرهم التلبيس والتدليس، ممّا لا يخفى عمّن خبر مواقفهم من الإسلام. فقد جاء مثلا في مؤتمر كولورادو- 1978 م- لتنصير المسلمين، تصريح المجتمعين أنّ الإسلام" هو الدين الوحيد الذي تناقض مصادره الأصلية أسس النصرانية، والنظام الإسلامي هو أكثر النظم الدينية المتناسقة اجتماعيا وسياسيا.. ونحن بحاجة إلى مئات المراكز، لفهم الإسلام، ولاخترقه في صدق ودهاء. "!!!

وعلى الضفة الأخرى، على ذرى المجد، وفي بؤرة النور، تنطلق في أجواء الكون صيحات عقلاء مبصرين، محّصوا العقائد الرائجة بين الخلق، فاختاروا منها ما وافق العقل ولامس شغاف الفطرة. صيحات تنادي أن أقبلوا على جنان الدنيا والآخرة.. على سعادة الدارين.

إنها دعوة من مسلم واع بما أوتيه من حقّ، إلى غيره من بني البشر من الذين لم ترشد عقولهم، ومن الذين ران الغبش على بصائرهم، أنّ هذا هو الدواء لعلّتكم وأنّ هذا هو الطريق إلى سعادتكم.
ইসলাম আবারও নবউদ্যমে আত্মপ্রকাশ করছে। কিন্তু সত্যচ্যুত আত্মাসমূহের প্রকৃতি আগের মতোই রয়ে গেছে; কেউ অজ্ঞ সাধারণ মানুষের আবরণে হেদায়েতের জন্য তৃষ্ণার্ত, কেউ অন্ধকার ও আলো এবং শীতল ছায়া ও প্রচণ্ড উত্তাপের মাঝে দোদুল্যমান। আবার অন্য কারও অন্তর কালিমাচ্ছন্ন ও কলুষতায় পূর্ণ হয়ে প্রবৃত্তির অনুগামী হয়েছে; আর যে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সে পথভ্রষ্ট হয়, আর যে লাঞ্ছনা মেনে নেয় সে তুচ্ছ হয়ে যায়।

সত্যের দিকে আহ্বানকারীদের কণ্ঠস্বর বিশ্বময় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে যে—তোমরা আল্লাহর অভিমুখী হও, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও; আর আল্লাহ ছাড়া আল্লাহর পাকড়াও থেকে বাঁচার কোনো আশ্রয় নেই। কিন্তু পিতৃপুরুষের পূজারীরা সত্য দ্বীনের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করা এবং পূর্বপুরুষদের পদাঙ্ক আঁকড়ে ধরে থাকা থেকে বিরত হয় না, যদিও তারা প্রজ্বলিত অগ্নির অধিবাসী এবং জাহান্নামের ইন্ধন হয়ে থাকে।

গির্জার প্রতিনিধিদের পত্রাবলি ও বক্তৃতায় তাদের বাস্তবসম্মত কর্মপন্থা (তাত্ত্বিক বা দাপ্তরিক নয়) আজও গালিগালাজ, কুৎসা রটনা, দোষারোপের তীর নিক্ষেপ এবং কঠোরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এটি নিঃসন্দেহে তাদেরই পথ যারা এমন বিষয়ে গর্ব করে যা তারা ভালো করে জানে না এবং যাদের ত্রুটিসমূহ তাদের সঠিক কাজের চেয়েও বেশি। তাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো সত্য গোপন ও প্রতারণা করা, যা ইসলামের প্রতি তাদের অবস্থান সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছে অস্পষ্ট নয়। উদাহরণস্বরূপ, মুসলিমদের খ্রিস্টান করার উদ্দেশ্যে ১৯৭৮ সালে অনুষ্ঠিত কলোরাডো কনফারেন্সে অংশগ্রহণকারীদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, "ইসলামই একমাত্র ধর্ম যার মূল উৎসসমূহ খ্রিস্টধর্মের মূল ভিত্তির পরিপন্থী এবং ইসলামি ব্যবস্থা হলো সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সর্বাপেক্ষা সুসংহত ধর্মীয় ব্যবস্থা... ইসলামকে বোঝার জন্য এবং বিশ্বস্ততা ও চতুরতার সাথে সেখানে অনুপ্রবেশ করার জন্য আমাদের শত শত কেন্দ্রের প্রয়োজন।"!!!

অন্যদিকে মর্যাদার শিখরে এবং আলোর কেন্দ্রবিন্দুতে সেই সব বিবেকবান ও দূরদর্শী মানুষের কণ্ঠস্বর বিশ্ব চরাচরে ছড়িয়ে পড়ছে, যারা মানুষের মাঝে প্রচলিত আকিদা ও বিশ্বাসসমূহকে সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেছেন এবং সেখান থেকে সেটিই গ্রহণ করেছেন যা বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবের মূলে করাঘাত করে। এ যেন সেই আহ্বান যা ঘোষণা করছে—দুনিয়া ও আখিরাতের জান্নাতের দিকে এগিয়ে এসো, উভয় জগতের সৌভাগ্যের পথে এসো।

প্রকৃতপক্ষে এটি সত্যপ্রাপ্ত এক সচেতন মুসলিমের পক্ষ থেকে মানবজাতির সেই সব মানুষের প্রতি এক আহ্বান, যাদের বিবেক এখনো সঠিক পথের দিশা পায়নি এবং যাদের অন্তর্দৃষ্টিতে ধোঁয়াশা জমেছে—নিশ্চয়ই এটিই তোমাদের ব্যাধির মহৌষধ এবং এটিই তোমাদের সুখ ও সৌভাগ্যের একমাত্র পথ।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
إنها دعوة إلى الاصغاء لنبضات القلب وهمساته.. لصرخاته المكبوتة في الصدر عند لحظة الميلاد. «1»

إنّها دعوة إلى مراجعة ما في القلب والتثبّت في ما انطبع عليه من ذكر" الله" سبحانه. «2»

--------------------------------------------

(1) إنّ نبضات القلب تبدأ بعد بداية الشهر الرابع، ويمكن سماعها، وتكون واضحة في الشهر الخامس، والقلب في أول نبضاته ينطق باسم الخالق العظيم كما هو مصرّح به في كتاب الله وسنة نبيّه الكريم محمد صلى الله عليه وسلم: " الله"، هذا ما ذكرته الدكتورة" فلك الجعفري عن أحد الأساتذة المصريين حين أراد تسجيل أول دقّة لقلب الجنين. (عن الشيخ خالد عبد الرحمن العك غاية حياة الإنسان ص 107) !!

(2) نقل الشيخ العك في كتابه السابق في نفس الصفحة أنّ أحد الدكاترة، واسمه خلوق نورياني، وهو متخصص في القلب قوله: " في أحد الأيام وأنا أتصفح كتابا علميا أخذتني الدهشة لمّا رأيت في صورة القلب اسم" الله" مكتوبا في وسطه. اعتقدت أنني تخيّلت ذلك. واقتربت من الصورة أكثر فتبين لي أنّ اسم" الله" مكتوب وكأنه خطّ بأنامل فنان ماهر، أسرعت إلى الطبق المعلّق على حائط الغرفة المكتوب وسطه" الله" وقارنته مع ما وجدته مكتوبا على القلب، فتبين لي أنه لم يكن مصادفة وإنما اسم" الله" كان مكتوبا على القلب دون نقصان!! وبدأت أبحث لسنوات … ما آمنت به من أنّ اسم" الله" الموجود في قلب الإنسان قد وجدته أيضا في أطلس طيي وضعه العلماء الغربيون بشكل دقيق وواضح، وبقيت أدقق في الأطلس لأجد جوابا على ما يدور في ذهني: هل يكون هذا الاسم الأعظم موجودا في هذه الصورة فقط؟ أم مكتوبا على كلّ قلب؟ لكن الجواب كان نعم حين التشريح!! وتأكد لي ذلك في عمليات التشريح، إذ أنّ قلب الإنسان عند الجميع مكتوب عليه اسم الخالق بلا استثناء بوضوح تام!! كما أنّ مكان اسم" الله" مدهش مما يوحي بالدقة الفائقة، لأنّ نسيج القلب من ألياف العضلات المنسوحة كالشيك، إلّا أنّ مكان اسم" الله" لا يوجد فيه نسيج عضلي، كأنّ هذه المنطقة خلقت هكذا ليكون وضع الاسم الأعظم فوقها واضحا!! وكأنّ هذه المنطقة المسماة طبيا" أوريكولا" المؤلفة من عضوين لم تتوضح حتى الآن المعلومات حولها، وربما كان كذلك حفاظا على السرية في هذه الناحية من القلب. "
এটি হৃদস্পন্দন ও তার গুঞ্জনের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার একটি আহ্বান.. জন্মমুহূর্তে বক্ষের মাঝে দমিত কান্নার প্রতি। «১»

এটি হৃদয়ে যা রয়েছে তা পর্যালোচনা করার এবং সুবহানাহু "আল্লাহর" যিকিরের যে ছাপ তাতে অঙ্কিত হয়েছে তা সুনিশ্চিত করার একটি আহ্বান। «২»

--------------------------------------------

(১) হৃদস্পন্দন চতুর্থ মাসের শুরুর পর শুরু হয়, এবং তা শোনা সম্ভব হয়, আর পঞ্চম মাসে তা স্পষ্ট হয়। হৃদপিণ্ড তার প্রথম স্পন্দনগুলোতে মহান স্রষ্টার নাম উচ্চারণ করে যেমনটি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর সম্মানিত নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ"। এটিই ডক্টর ফালাক আল-জাফারি জনৈক মিশরীয় অধ্যাপকের বরাতে উল্লেখ করেছেন, যখন তিনি ভ্রূণের হৃদপিণ্ডের প্রথম স্পন্দন রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন। (শেখ খালিদ আব্দুর রহমান আল-আক্ক এর 'গায়াতু হায়াতিল ইনসান', পৃষ্ঠা ১০৭ থেকে সংগৃহীত) !!

(২) শেখ আল-আক্ক তাঁর পূর্বোক্ত কিতাবের একই পৃষ্ঠায় জনৈক ডাক্তার, যাঁর নাম খালুক নুরিয়ানি এবং তিনি একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, তাঁর উক্তি উদ্ধৃত করেছেন: "একদিন আমি একটি বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়ছিলাম, তখন আমি হৃদপিণ্ডের একটি ছবিতে তার মাঝখানে 'আল্লাহ' নাম লেখা দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে পড়ি। আমি ভেবেছিলাম যে সম্ভবত এটি আমার কল্পনা। আমি ছবিটির আরও কাছে গেলাম এবং আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, 'আল্লাহ' নামটি এমনভাবে লেখা যেন কোনো দক্ষ শিল্পীর আঙুল দিয়ে আঁকা হয়েছে। আমি দ্রুত ঘরের দেওয়ালে ঝোলানো সেই থালার দিকে গেলাম যার মাঝখানে 'আল্লাহ' লেখা ছিল এবং হৃদপিণ্ডে যা লেখা পেয়েছিলাম তার সাথে তুলনা করলাম। আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না, বরং হৃদপিণ্ডের ওপর 'আল্লাহ' নামটি কোনো ত্রুটি ছাড়াই লেখা ছিল!! আমি বছরের পর বছর ধরে গবেষণা শুরু করি... আমি যা বিশ্বাস করেছিলাম যে মানুষের হৃদপিণ্ডে বিদ্যমান 'আল্লাহ' নামটি আমি পশ্চিমা বিজ্ঞানীদের তৈরি একটি মেডিকেল অ্যাটলাসেও অত্যন্ত নিখুঁত ও স্পষ্টভাবে খুঁজে পেয়েছি। আমি অ্যাটলাসটি বারবার পরীক্ষা করতে থাকলাম আমার মনে ঘুরপাক খাওয়া প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে: এই মহান নামটি কি কেবল এই ছবিতেই আছে? নাকি প্রতিটি হৃদপিণ্ডেই লেখা থাকে? কিন্তু ব্যবচ্ছেদের সময় উত্তরটি 'হ্যাঁ' হিসেবেই এলো!! ব্যবচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সময় আমার কাছে এটি নিশ্চিত হলো যে, প্রত্যেকের হৃদপিণ্ডেই কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই স্রষ্টার নাম অত্যন্ত স্পষ্টভাবে লেখা থাকে!! এছাড়া 'আল্লাহ' নামের স্থানটি বিস্ময়কর যা অত্যন্ত নিখুঁত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়, কারণ হৃদপিণ্ডের টিস্যু জালের মতো বোনা পেশি তন্তু দিয়ে গঠিত, কিন্তু 'আল্লাহ' নামের স্থানে কোনো পেশি টিস্যু নেই, যেন এই স্থানটি এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তার ওপর মহান নামের অবস্থান স্পষ্ট হয়!! যেন 'অরিকুলা' (Auricula) নামক এই স্থানটি যা দুটি অঙ্গ নিয়ে গঠিত, তার সম্পর্কে তথ্যগুলো এখনও স্পষ্ট নয়, আর সম্ভবত হৃদপিণ্ডের এই দিকের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্যই এটি এমন করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وها هو موضوع البشارة بمحمد صلى الله عليه وسلم في الكتب المقدسة لأشهر الأمم السابقة بين يديك، نعرضه في سياق سجالي، بعيدا عن النهج التلقيني أو العرض التمويهي، وإنما نسوق أمامك ما نراه حقيقة ونردّ على اعتراضات المخالفين وشبهات المكابرين، وبالذات النصارى، سواء أكانت اعتراضات عامة على فكرة وجود البشارة ذاتها في تلك الأسفار، أو كانت اعتراضات تفصيلية على بشارات بعينها.. وطريقتنا هي: استنطاق النصوص في ضوء ما يكشفه لفظها، والاستعانة بما نستنتجه من التراجم الحديثة والتعاليق التي جاءت في هوامشها وما انبثق من حقائق توصّل إليها غيرنا من الباحثين الذين لا نتحرّج من نقل الكثير من استنباطاتهم. علما أنّنا قد نشتد في العبارة ونظهر التصريح لا الإشارة، لا رغبة في التشفّي، ولكن حتى لا يقع الغرّ في الجبّ.

وقد أردنا لكتابنا، بعون الله وفضله، أن يكون أشبه بالدليل العملي للدعوة والمناظرة. ونرجوا أن نكون قد أضفنا لبنة جديدة صلبة في هذا الباب.

وهذا الكتاب هو أيضا يد نمدّها إلى الكنائس في بلاد العرب، رعاة ورعايا، أن تعالوا إلى ما يدفع الفتن عن بلاد المسلمين التي نسكن كلّنا أرضها، وأقبلوا لتدفع عنكم وعن أبنائكم كربات يوم القيامة وحسراته القاتلة فتلك والله الحالقة.. فالبدار البدار إلى صراط الجنان!!

وندعوا الله أن يكون الجهد المتواضع الذي بذلناه، خالصا لوجهه الكريم، وأن يغفر لنا حظ النفس فيه، وأن يهبه القبول في الدنيا بين من ينشدون الحق ويرغبون في النجاة في يوم لا يفلح فيه من فوّت على نفسه قارب النجاة إلى مرسى الجنّات: شهادة أن" لا إله إلّا الله، محمد رسول الله".

والله الموفق وهو الهادي إلى سواء السبيل..

ربّ اشرح لي صدري، ويسّر لي أمري، واحلل عقدة من لساني يفقهوا قولي!
আর এই যে আপনার সামনে পূর্ববর্তী প্রসিদ্ধ জাতিসমূহের পবিত্র গ্রন্থসমূহে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ সংক্রান্ত বিষয়টি উপস্থিত। আমরা একে উপস্থাপন করছি তর্কমূলক প্রেক্ষাপটে, যা গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা বা অস্পষ্ট উপস্থাপনা থেকে মুক্ত। বরং আমরা আপনার সামনে তা-ই পেশ করছি যা আমরা সত্য বলে মনে করি এবং আমরা বিরোধীদের আপত্তি ও হঠকারীদের সংশয়ের জবাব দিচ্ছি, বিশেষ করে নাসারাদের; চাই তা সেই কিতাবগুলোতে সুসংবাদের অস্তিত্বের ধারণার ওপর সাধারণ কোনো আপত্তি হোক, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো সুসংবাদের ওপর বিস্তারিত আপত্তি হোক। আমাদের পদ্ধতি হলো: পাঠ্যের শব্দ যা প্রকাশ করে তার আলোকে সেটিকে বিশ্লেষণ করা, এবং আধুনিক অনুবাদসমূহ ও সেগুলোর টীকাভাষ্য থেকে প্রাপ্ত নির্যাস এবং অন্যান্য গবেষকদের অর্জিত তথ্যের সহায়তা নেওয়া, যাদের গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো উদ্ধৃত করতে আমরা কোনো দ্বিধা বোধ করি না। জেনে রাখা আবশ্যক যে, আমরা আমাদের বক্তব্যে কঠোর হতে পারি এবং ইঙ্গিতের পরিবর্তে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারি; এটা কারও প্রতি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার ইচ্ছায় নয়, বরং এই জন্য যাতে কোনো অনভিজ্ঞ ব্যক্তি বিপদে না পড়ে যায়।

আমরা আমাদের এই কিতাবটিকে, আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহে, দাওয়াত ও বিতর্কের একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকার মতো করতে চেয়েছি। আমরা আশা করি যে, আমরা এই ক্ষেত্রে একটি নতুন ও সুদৃঢ় ভিত্তি যুক্ত করতে পেরেছি।

আর এই কিতাবটি একটি প্রসারিত হাত যা আমরা আরব দেশগুলোর গির্জাগুলোর প্রতি বাড়িয়ে দিচ্ছি—তাদের যাজক ও অনুসারী উভয়ের প্রতি; আহ্বান জানাচ্ছি সেই বিষয়ের দিকে যা মুসলিম দেশগুলো থেকে ফিতনা দূর করে, যার ভূমিতে আমরা সবাই বসবাস করি। এগিয়ে আসুন যাতে আপনারা নিজেদের ও আপনাদের সন্তানদের থেকে কিয়ামত দিবসের মহাবিপদ ও প্রাণঘাতী অনুশোচনা দূর করতে পারেন, কারণ আল্লাহর কসম, তা হবে সমূলে বিনাশকারী। সুতরাং জান্নাতের সরল পথের দিকে দ্রুত অগ্রসর হোন, দ্রুত অগ্রসর হোন!!

আর আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, আমাদের এই বিনম্র প্রচেষ্টা যেন একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য হয়। তিনি যেন এতে আমাদের নফসের কোনো অংশ থাকলে তা ক্ষমা করে দেন এবং দুনিয়াতে যারা সত্যের সন্ধানী এবং মুক্তিপ্রত্যাশী তাদের মাঝে এর গ্রহণযোগ্যতা দান করেন—সেই কঠিন দিনে যখন জান্নাতের বন্দরে পৌঁছানোর মুক্তির নৌকাটি যে নিজের হাতছাড়া করেছে সে সফল হবে না; আর সেই নৌকাটি হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল"।

আর আল্লাহই তাওফীকদাতা এবং তিনিই সঠিক পথের দিশারী।

হে আমার পালনকর্তা, আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন, আমার কাজ সহজ করে দিন এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে!
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌محمّد صلى الله عليه وسلم في أسفار النصارى واليهود
খ্রিস্টান ও ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থসমূহে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌مقدمة:

هى إجابة على سؤالين: * هل لا بدّ، للإقرار بنبوة محمد صلى الله عليه وسلم، أن تخبر به الكتب السابقة؟

* هل القرائن والأخبار العامة، بعيدا عن البحث التفصيلي في نصوص الأسفار المقدسة للنصارى واليهود تشهد لتنبئ هذه الكتب بخروج محمد صلى الله عليه وسلم نبي الإسلام؟

يجيب على السؤال الأول شيخ الإسلام، بحر العلوم، ابن تيمية، نوّر الله قبره، في كتابه" الجواب الصحيح لمن بدّل دين المسيح":

" والنصارى لهم سؤال مشهور بينهم، وهو أن فيهم من يقول محمد: " لم تبشر به النبوات، بخلاف المسيح فإنه بشرت به النبوات".

وزعموا أن من لم تبشر به فليس بنبي.

وهذا السؤال يورد على وجهين: أحدهما: أنه لا يكون نبيا حتى تبشر به.

والثاني: أن من بشرت به أفضل أو أكمل، ممن لم تبشر به، أو أن هذا طريق يعرف به نبوة المسيح، اختص به.

وأنتم قد قلتم: ما من طريق تثبت به نبوة نبي إلا ومحمد تثبت نبوته بمثل تلك الطريق وأفضل.

فأما هذا الثاني، فيستحق الجواب وأما الأول نجيبهم عنه أيضا لكن هل تجب الإجابة عنه؟ فيه قولان بناء على أصل وهو أنه هل من شرط النسخ الإشعار بالمنسوخ
ভূমিকা:

এটি দুটি প্রশ্নের উত্তর: * মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত স্বীকার করার জন্য কি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে তাঁর সম্পর্কে সংবাদ থাকা অপরিহার্য?

* খ্রিস্টান ও ইহুদিদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোর পাঠ্যসমূহের বিস্তারিত অনুসন্ধান ব্যতিরেকে সাধারণ নিদর্শন ও সংবাদসমূহ কি ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের ব্যাপারে এই কিতাবগুলোর ভবিষ্যৎবাণীর সাক্ষ্য দেয়?

প্রথম প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছেন শাইখুল ইসলাম, ইলমের সমুদ্র, ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর কবরকে আলোকিত করুন—তাঁর ‘আল-জাওয়াব আস-সহীহ লিমান বাদ্দলা দ্বীন আল-মাসীহ’ গ্রন্থে:

"খ্রিস্টানদের মাঝে একটি প্রসিদ্ধ প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘মুহাম্মাদ-এর ব্যাপারে পূর্ববর্তী নবীগণ কোনো সুসংবাদ দেননি, পক্ষান্তরে মাসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর ব্যাপারে নবীগণ সুসংবাদ দিয়েছেন’।"

তারা দাবি করে যে, যার ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়নি সে নবী নয়।

এই প্রশ্নটি দুইভাবে উত্থাপিত হয়: প্রথমত, যার ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয় না সে নবী হতে পারে না।

দ্বিতীয়ত, যার ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে সে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ বা অধিক পূর্ণাঙ্গ যার ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়নি; অথবা এটি এমন একটি পথ যার মাধ্যমে মাসীহ-এর নবুয়ত চেনা যায় এবং এটি তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

আর তোমরা তো বলেছ যে, এমন কোনো পথ নেই যার মাধ্যমে কোনো নবীর নবুয়ত প্রমাণিত হয় অথচ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুয়ত সেই একই পথে বা তার চেয়েও উত্তম উপায়ে প্রমাণিত হয়নি।

এই দ্বিতীয় বিষয়টি উত্তর পাওয়ার যোগ্য। আর প্রথমটির ব্যাপারেও আমরা তাদের উত্তর প্রদান করব, তবে তার উত্তর দেওয়া কি আবশ্যক? এই বিষয়ে একটি মূলনীতির ভিত্তিতে দুটি অভিমত রয়েছে; আর তা হলো: কোনো বিধান রহিতকরণের (নাসখ) জন্য কি রহিতকৃত (মানসুখ) বিধান সম্পর্কে অবহিত করা শর্ত?
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولنظّار المسلمين فيه قولان:

أحدهما: أنه لا بد إذا شرع حكما يريد أن ينسخه فلا بد أن يشعر المخاطبين بأنه سينسخه لئلا يظنوا دوامه فيكون ذلك تجهيلا لهم.

والثاني: لا يشترط ذلك.

وأيضا، فمن بعث بعد موسى بشريعة، هل يجب أن يكون مبشرا به؟ فيه قولان.

وبكل حال، فلا ريب عند علماء المسلمين أن المسيح عليه السلام بشّر بمحمد كما قال تعالى" وَإِذْ قالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يا بَنِي إِسْرائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْراةِ وَمُبَشِّراً بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ" (سورة الصف 6) .

قال تعالى: " الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوباً عِنْدَهُمْ فِي التَّوْراةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّباتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلالَ الَّتِي كانَتْ عَلَيْهِمْ" (الأعراف 157) .

وقال تعالى: " مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَماءُ بَيْنَهُمْ تَراهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً سِيماهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْراةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوى عَلى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً" (سورة الفتح 29)

وقال تعالى: " الَّذِينَ آتَيْناهُمُ الْكِتابَ يَعْرِفُونَهُ كَما يَعْرِفُونَ أَبْناءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقاً مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ" (البقرة 146) و (الأنعام 20) ( … )

وقال تعالى: " وَلَمَّا جاءَهُمْ كِتابٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِما مَعَهُمْ وَكانُوا مِنْ قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَمَّا جاءَهُمْ ما عَرَفُوا كَفَرُوا بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْكافِرِينَ" (سورة البقرة 89)
মুসলিম চিন্তাবিদগণের এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি হলো: যখন তিনি এমন কোনো বিধান প্রণয়ন করেন যা তিনি রহিত করতে চান, তখন অবশ্যই সম্বোধিত ব্যক্তিদের তা জানিয়ে দিতে হবে যে অচিরেই এটি রহিত করা হবে, যাতে তারা একে চিরস্থায়ী মনে না করে এবং এটি তাদের জন্য অজ্ঞতার কারণ না হয়।

দ্বিতীয়টি হলো: এটি শর্ত নয়।

আরও কথা হলো, মূসার পর যাকে শরীয়ত দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তার আগমনের সুসংবাদ থাকা কি আবশ্যক? এ বিষয়েও দুটি মত রয়েছে।

যাই হোক না কেন, মুসলিম আলেমগণের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মাসীহ আলাইহিস সালাম মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "এবং স্মরণ করো, যখন মারইয়াম-পুত্র ঈসা বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসবেন তার সুসংবাদদাতা।" (সূরা আস-সাফ: ৬)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের—যিনি উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; যিনি তাদের সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেন যা তাদের ওপর ছিল।" (সূরা আল-আরাফ: ১৫৭)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবে; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারাগাছের মতো, যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা শক্ত হয়, এরপর পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ায়, যা চাষিকে আনন্দ দেয়; যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।" (সূরা আল-ফাতহ: ২৯)

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে (রাসূলকে) চেনে যেমন করে তারা নিজেদের সন্তানদের চেনে। আর নিশ্চয়ই তাদের একটি দল জেনে-বুঝে সত্যকে গোপন করে।" (সূরা আল-বাকারা: ১৪৬ এবং সূরা আল-আনআম: ২০) ( … )

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর যখন তাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব আসলো, যা তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী, অথচ তারা এর আগে কাফিরদের বিরুদ্ধে (এই নবীর উসিলায়) বিজয় প্রার্থনা করতো; অতঃপর যখন তাদের নিকট তা আসলো যা তারা চিনতে পেরেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসলো। সুতরাং কাফিরদের ওপর আল্লাহর লানত।" (সূরা আল-বাকারা: ৮৯)
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال تعالى: " أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَماً وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتابَ مُفَصَّلًا وَالَّذِينَ آتَيْناهُمُ الْكِتابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ فَلا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ" (سورة الأنعام 114) ( … )

وإذا كان كذلك، فيقال: معلوم باتفاق أهل الملل، أنه ليس من شرط نبوة كل نبي أن يبشر به من قبله، إذ النبوة ثابتة بدون ذلك، لا سيما ونوح وإبراهيم وغيرهما لم يعلم أنه بشر بهما من قبلهما، وكذا عامة الأنبياء الذين قاموا في بني إسرائيل لم تتقدم بهم بشارات إذ كانوا لم يبعثوا بشريعة ناسخة كداود وأشعيا وغيرهما.

وإنما قد يدعى هذا فيمن جاء بنسخ شرع من قبله، كما جاء المسيح بنسخ بعض أحكام التوراة وكذلك محمد صلى الله عليه وسلم، ففي مثل هذا يتنازع المتنازعون من علماء المسلمين وغيرهم: هل يشترط أن يكون قد أخبر بذلك قبل النسخ؟ على قولين.

وحينئذ فالمسلمون يقولون: شريعة التوراة والإنجيل، لم تشرع شرعا مطلقا، بل مقيدا، إلى أن يأتي محمد. وهذا مثل الحكم المؤقت بغاية لا يعلم متى يكون، كقوله تعالى: " فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ" وقوله تعالى: " فَأَمْسِكُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ حَتَّى يَتَوَفَّاهُنَّ الْمَوْتُ أَوْ يَجْعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلًا" ومثل هذا جائز باتفاق أهل الملل.

وهل يسمى هذا نسخا؟ فيه قولان.

قيل لا يسمى نسخا، كالغاية المعلومة. كقوله تعالى: " وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيامَ إِلَى اللَّيْلِ" فإن ارتفاع وجوب الصيام بمجيء الليل، لا يسمى نسخا باتفاق الناس.

فقيل إن الغاية المجهولة، كالمعلومة.

وقيل: بل هذا يسمى نسخا، ولكن هذا النسخ جائز باتفاق أهل الملل، اليهود وغيرهم.
এবং মহান আল্লাহ বলেন: "তবে কি আমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন? আর যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা জানে যে, এটি তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তুমি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।" (সূরা আল-আনআম ১১৪) ( … )

আর বিষয়টি যখন এমনই, তখন বলা যায়: সকল ধর্মাবলম্বীদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এটি জানা কথা যে, প্রত্যেক নবীর নবুওয়াতের জন্য এটি শর্ত নয় যে, তাঁর পূর্ববর্তী কেউ তাঁর সম্পর্কে সুসংবাদ দেবেন। কেননা নবুওয়াত তা ছাড়াই সাব্যস্ত হয়। বিশেষ করে নূহ, ইব্রাহীম এবং অন্যদের ক্ষেত্রে এমনটি জানা যায়নি যে, তাঁদের পূর্ববর্তী কেউ তাঁদের ব্যাপারে সুসংবাদ দিয়েছিলেন। একইভাবে বনী ইসরাঈলের মাঝে আগত সাধারণ নবীগণের ক্ষেত্রেও কোনো পূর্ববর্তী সুসংবাদ ছিল না; কারণ তাঁরা কোনো রহিতকারী শরীয়ত নিয়ে প্রেরিত হননি, যেমন দাউদ, আশআইয়া এবং অন্যান্যরা।

আর এটি কেবল তাঁর ক্ষেত্রেই দাবি করা হতে পারে যিনি তাঁর পূর্ববর্তী শরীয়ত রহিত করার বিধান নিয়ে এসেছেন, যেমন মাসীহ তাওরাতের কিছু বিধান রহিত করার জন্য এসেছিলেন এবং অনুরূপভাবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। এই জাতীয় বিষয়ে মুসলিম আলেমগণ ও অন্যরা মতভেদ করেছেন: রহিত করার আগে কি সে সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া শর্ত? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

আর তখন মুসলিমরা বলেন: তাওরাত ও ইঞ্জিলের শরীয়ত কোনো নিঃশর্ত শরীয়ত হিসেবে প্রবর্তিত হয়নি, বরং তা মুহাম্মদ আসা পর্যন্ত শর্তযুক্ত বা সীমাবদ্ধ ছিল। এটি এমন এক সাময়িক বিধানের মতো যার সমাপ্তির সময়কাল জানা নেই, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "কাজেই তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর আদেশ নিয়ে আসেন।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তবে তোমরা তাদেরকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখো, যতক্ষণ না মৃত্যু তাদের মৃত্যু ঘটায় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোনো পথ বের করেন।" আর এই ধরনের বিষয় সকল ধর্মাবলম্বীদের ঐকমত্যে জায়েজ।

আর একে কি নাসখ বা রহিতকরণ বলা হবে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।

কেউ কেউ বলেন, একে নাসখ বলা হয় না, যেমনটি জানা নির্দিষ্ট সময়সীমার ক্ষেত্রে হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।" কেননা রাত আসার ফলে রোজা রাখার আবশ্যকতা শেষ হয়ে যাওয়াকে মানুষের ঐকমত্য অনুযায়ী নাসখ বলা হয় না।

তাই বলা হয়েছে যে, অজানা সময়সীমাটি জানা সময়সীমার মতোই।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: বরং একে নাসখ বলা হয়, তবে এই নাসখ ইহুদি ও অন্যান্য সকল ধর্মাবলম্বীদের ঐকমত্যে জায়েজ।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وعلى هذا، فثبوت نبوة المسيح ومحمد صلوات الله وسلامه عليهما، لا تتوقف على جواز النسخ المتنازع فيه، فإن ذلك إنما يكون في الحكم المطلق، والشرائع المتقدمة لم تشرع مطلقا. وسواء قيل: إن الإشعار بالناسخ واجب، أو قيل: إنه غير واجب، فعلى القولين قد أشعر أهل الشرع الأول، بأنه سينسخ ( … ) .

وإذا كان هذا هو الواقع، فنبوة المسيح محمد صلى الله عليهما وسلم، لا تتوقف على ثبوت النسخ المتنازع فيه.

وحينئذ فنقول: العلم بنبوة محمد ونبوة المسيح، لا تتوقف على العلم بأن من قبلهما بشر بهما، بل طرق العلم بالنبوة متعددة.

فإذا عرفت نبوته بطريق من الطرق، ثبتت نبوته عند من علم ذلك، وإن لم يعلم أن من قبله بشّر به.

لكن يقال: إذا كان الواجب أو الواقع أنه لا بد من إخبار من قبله بمجيئه، وأن الإشعار بنسخ شريعة من قبله واجب، أو واقع، صار ذلك شرطا في النبوة. ومن علم نبوته علم أن هذا قد وقع وإن لم ينقل إليه.

فإذا قال المعارض: عدم إخبار من قبله به يقدح في نبوته، وأنه إذا قدر أنه لم يخبر به من قبله، والإخبار شرط في النبوة، كان ذلك قدحا.

قيل: الجواب هنا من طريقين: أحدهما: أن يقال: إذا علمت نبوته بما قام عليها من أعلام النبوة، فإما أن يكون تبشير من قبله لازما لنبوته واجبا، أو واقعا، وإما أن لا يكون لازما.

فإن لم يكن لازما لم يجب وقوعه، وإن كان لازما علم أنه قد وقع، وإن كان ذلك لم ينقل إلينا، إذ ليس كل ما قالته الأنبياء المتقدمون علمناه ووصل إلينا. وليس كل ما أخبر به المسيح ومن قبله من الأنبياء وصل إلينا، وهذا مما يعلم بالاضطرار.
এর ওপর ভিত্তি করে, মসীহ এবং মুহাম্মাদ (তাদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর নবুওয়াত সাব্যস্ত হওয়া সেই বিতর্কিত নসখ বা রহিতকরণের বৈধতার ওপর নির্ভর করে না; কারণ এটি কেবলমাত্র নিরঙ্কুশ বিধানের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে, অথচ পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহ নিরঙ্কুশভাবে প্রবর্তিত হয়নি। আর নসখকারী বিধান সম্পর্কে অবহিত করা ওয়াজিব বলা হোক বা ওয়াজিব নয় বলা হোক—উভয় মত অনুসারেই প্রথম শরীয়তধারীদের অবহিত করা হয়েছিল যে, তা রহিত করা হবে ( … ) ।

আর বাস্তব পরিস্থিতি যখন এমন, তখন মসীহ ও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিমা ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াত সেই বিতর্কিত নসখ বা রহিতকরণ সাব্যস্ত হওয়ার ওপর নির্ভর করে না।

এমতাবস্থায় আমরা বলি: মুহাম্মাদ এবং মসীহের নবুওয়াত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া তাদের পূর্ববর্তীরা তাদের আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন কি না তা জানার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নবুওয়াত জানার পথগুলো বহুমুখী।

সুতরাং কোনো এক উপায়ে যদি তাঁর নবুওয়াত জানা যায়, তবে যে তা জেনেছে তার কাছে তাঁর নবুওয়াত সাব্যস্ত হয়ে যাবে, যদিও সে এটা না জানে যে পূর্ববর্তী কেউ তাঁর সুসংবাদ দিয়েছিলেন।

তবে বলা যেতে পারে: যদি এটি আবশ্যক বা বাস্তব হয় যে, পূর্ববর্তীদের পক্ষ থেকে তাঁর আগমনের সংবাদ দেওয়া অপরিহার্য, এবং পূর্ববর্তী শরীয়ত রহিত হওয়ার বিষয়টি অবহিত করা ওয়াজিব বা বাস্তবসম্মত হয়, তবে তা নবুওয়াতের জন্য একটি শর্ত হিসেবে গণ্য হবে। আর যিনি তাঁর নবুওয়াত সম্পর্কে অবগত হয়েছেন, তিনি জানবেন যে এটি অবশ্যই ঘটেছে, যদিও তা তাঁর কাছে বর্ণিত না হয়।

এখন যদি কোনো বিরোধী পক্ষ বলে: পূর্ববর্তীদের পক্ষ থেকে তাঁর সংবাদ না আসা তাঁর নবুওয়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করে; এবং যদি ধরে নেওয়া হয় যে পূর্ববর্তীরা তাঁর সংবাদ দেননি অথচ সংবাদ দেওয়া নবুওয়াতের শর্ত, তবে তা (নবুওয়াতের ওপর) আঘাত স্বরূপ হবে।

উত্তরে বলা হবে: এর জবাব দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, নবুওয়াতের যেসব নিদর্শন রয়েছে তার মাধ্যমে যখন তাঁর নবুওয়াত প্রমাণিত হয়, তখন হয় তাঁর পূর্ববর্তীদের পক্ষ থেকে সুসংবাদ দেওয়া নবুওয়াতের জন্য আবশ্যকীয় বা বাস্তবসম্মত বিষয় হবে, নতুবা তা আবশ্যকীয় হবে না।

যদি তা আবশ্যকীয় না হয়, তবে এর সংঘটনও জরুরি নয়। আর যদি তা আবশ্যকীয় হয়ে থাকে, তবে এটি নিশ্চিত যে তা অবশ্যই ঘটেছে, যদিও তা আমাদের কাছে বর্ণিত হয়নি; কারণ পূর্ববর্তী নবীগণ যা কিছু বলেছিলেন তার সবকিছুই যে আমরা জানতে পেরেছি বা আমাদের কাছে পৌঁছেছে—তা নয়। মসীহ এবং তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ যা যা সংবাদ দিয়েছিলেন তার সবকিছু আমাদের কাছে পৌঁছেনি, আর এটি অকাট্যভাবেই জানা যায়।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولو قدّر أن هذا ليس في الكتب الموجودة، لم يلزم أن المسيح ومن قبله لم يذكروه، بل يمكن أنهم ذكروه وما نقل، ويمكن أنه كان في كتب غير هذه، ويمكن أنه كان في نسخ غير هذه النسخ فأزيل من بعضها ونسخت هذه مما أزيل منه، وتكون تلك النسخ التي هو موجود فيها غير هذه، فكل هذا ممكن في العادة لا يمكن الجزم بنفيه.

فلو قدر أنه ليس في هذه الكتب الموجودة اليوم بأيدي أهل الكتاب، لم يقطع بأن الأنبياء لم يبشروا به، فإذا لم يمكن لليهود أن يقطعوا بأن المسيح لم يبشر به الأنبياء، ولا يمكن أهل الكتاب أن يقطعوا بأن محمدا لم يبشر به الأنبياء، لم يكن معهم علم بعدم ذلك، بل غاية ما يكون عند أحدهم ظن لكونه طلب ذلك فلم يجده.

ودلائل نبوة المسيح ومحمد قطعية يقينية لا يمكن القدح فيها بظن فإن الظن لا يدفع اليقين، لا سيما مع الآثار الكثيرة المخبرة بأن محمدا كان مكتوبا باسمه الصريح فيما هو منقول عن الأنبياء، كما في صحيح البخاري أنه قيل لعبد الله بن عمرو، أخبرنا ببعض صفة رسول الله في التوراة، فقال إنه لموصوف في التوراة ببعض صفته في القرآن: " يا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْناكَ شاهِداً وَمُبَشِّراً وَنَذِيراً وحرزا للأميين. أنت عبدي ورسولي. سميتك المتوكل. لست بفظ ولا غليظ ولا صخاب بالأسواق، ولا تجزي بالسيئة السيئة، ولكن تجزي بالسيئة الحسنة، وتعفو وتغفر. ولكن أقبضه حتى أقيم به الملة العوجاء، فأفتح به أعينا عميا، وآذانا صما، وقلوبا غلفا، بأن يقولوا لا إله إلا الله".

ولفظ التوراة والإنجيل والقرآن والزبور قد يراد به الكتب المعينة، ويراد به الجنس، فيعبر بلفظ القرآن عن الزبور وغيره، كما في الحديث الصحيح عن النبي، خفف على داود القرآن، فكان ما بين أن تسرج دابته إلى أن يركبها يقرأ القرآن.

والمراد به قرآنه، وهو الزبور، ليس المراد به القرآن الذي لم ينزل إلا على محمد.
এমনকি যদি ধরে নেওয়া হয় যে, এটি বিদ্যমান গ্রন্থগুলোতে নেই, তবে তা থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে, মসীহ এবং তাঁর পূর্ববর্তীগণ এটি উল্লেখ করেননি; বরং সম্ভব যে তাঁরা তা উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু তা বর্ণিত হয়নি। আর এটিও সম্ভব যে তা এগুলো ছাড়া অন্য কোনো গ্রন্থে ছিল, অথবা এটিও সম্ভব যে তা বর্তমান পাণ্ডুলিপিগুলো ছাড়া অন্য কোনো পাণ্ডুলিপিতে ছিল যা পরে কোনোটি থেকে মুছে ফেলা হয়েছে এবং এই পাণ্ডুলিপিগুলো এমন কিছু থেকে নকল করা হয়েছে যেখান থেকে তা মুছে ফেলা হয়েছিল। আর সেই পাণ্ডুলিপিগুলো—যাতে তা বিদ্যমান ছিল—তা এগুলো থেকে ভিন্ন হতে পারে। সুতরাং অভ্যাসবশত এই সবকিছুই সম্ভব এবং নিশ্চিতভাবে তা অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

সুতরাং যদি ধরে নেওয়া হয় যে, আহলে কিতাবদের হাতে আজ যে গ্রন্থগুলো বিদ্যমান তাতে এটি নেই, তবে নবীগণ যে তাঁর সুসংবাদ দেননি—তা অকাট্যভাবে বলা যায় না। যখন ইহুদিদের পক্ষে এটি অকাট্যভাবে বলা সম্ভব নয় যে, নবীগণ মসীহ সম্পর্কে সুসংবাদ দেননি, এবং আহলে কিতাবদের পক্ষে এটি অকাট্যভাবে বলা সম্ভব নয় যে, নবীগণ মুহাম্মদ সম্পর্কে সুসংবাদ দেননি, তখন এর অবিদ্যমানতা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো নিশ্চিত জ্ঞান নেই। বরং তাদের কারো কাছে যা আছে তা বড়জোর একটি ধারণা মাত্র, যেহেতু সে তা অনুসন্ধান করেছে কিন্তু খুঁজে পায়নি।

মসীহ এবং মুহাম্মদের নবুওয়তের প্রমাণাদি অকাট্য ও সুনিশ্চিত, যা কোনো ধারণার বশবর্তী হয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা সম্ভব নয়; কেননা ধারণা নিশ্চিত জ্ঞানকে প্রতিহত করতে পারে না। বিশেষ করে এমন অনেক বর্ণনা বিদ্যমান যাতে জানানো হয়েছে যে, মুহাম্মদের নাম স্পষ্টভাবে নবীগণ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে লেখা ছিল। যেমন সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলা হয়েছিল, 'আমাদেরকে তাওরাতে আল্লাহর রাসূলের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলুন।' তিনি বললেন, 'তাওরাতে তাঁর এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যা কুরআনেও বর্ণিত হয়েছে: "হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং নিরক্ষরদের জন্য আশ্রয় হিসেবে পাঠিয়েছি। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম দিয়েছি মুতাওয়াক্কিল (নির্ভরকারী)। তিনি রুক্ষ স্বভাবের নন, কঠোর হৃদয় নন এবং বাজারে চিৎকারকারী নন। তিনি মন্দের বদলে মন্দ করেন না, বরং মন্দের বদলে ভালো করেন এবং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। যতক্ষণ না আমি তাঁর মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে সোজা করি, ততক্ষণ আমি তাঁর মৃত্যু দেব না; যেন মানুষ বলে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—আর এর মাধ্যমে আমি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরবদ্ধ হৃদয়গুলো উন্মোচন করব।"'

তাওরাত, ইঞ্জিল, কুরআন এবং যাবুর শব্দগুলো দ্বারা কখনও নির্দিষ্ট গ্রন্থগুলো বোঝানো হয়, আবার কখনও এটি দ্বারা ওহীর ধরন বা পাঠ্য বোঝানো হয়। ফলে কুরআনের শব্দ দ্বারা যাবুর বা অন্য গ্রন্থকেও প্রকাশ করা হয়। যেমন নবী থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে যে, দাউদ-এর জন্য কুরআনকে সহজ করে দেওয়া হয়েছিল, এমনকি তাঁর সওয়ারির পিঠে জিন কষার সময় থেকে তাতে আরোহণ করা পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই তিনি কুরআন পাঠ করে নিতেন।

আর এখানে তা দ্বারা তাঁর নিজস্ব কুরআন বা পাঠ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা হলো যাবুর; এখানে সেই কুরআনকে বোঝানো হয়নি যা কেবল মুহাম্মদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وكذلك ما جاء في صفة أمة محمد، أناجيلهم في صدورهم، فسمى الكتب التي يقرؤونها وهي القرآن، أناجيل.

وكذلك في التوراة، إني سأقيم لبني إسرائيل نبيا من اخوتهم، أنزل عليه توراة مثل توراة موسى، فسمى الكتاب الثاني توراة.

فقوله أخبرني بصفة رسول الله في التوراة، قد يراد بها نفس الكتب المتقدمة كلها، وكلها تسمى توراة، ويكون هذا في بعضها.

وقد يراد به التوراة المعينة، وعلى هذا فيكون هذا في نسخة لم ينسخ منها هذه النسخ، فإن النسخ الموجودة بالتوراة التي وقفنا عليها ليس فيها هذا.

لكن هذا عندهم في نبوة أشعيا، قال فيها: " عبدي الذي سرت به نفسي، أنزل عليه وحيي، فيظهر في الأمم عدلي، ويوصيهم بالوصايا.

لا يضحك، ولا يسمع صوته في الأسواق. يفتح العيون العور، والآذان الصم، ويحيي القلوب الغلف. وما أعطيه لا أعطي أحدا. يحمد الله حمدا جديدا. يأتي من أقصى الأرض، وتفرح البرية وسكانها. يهللون الله على كل شرف، ويكبرونه على كل رابية. لا يضعف، ولا يغلب، ولا يميل إلى الهوى، مشقح. ولا يذل الصالحين الذين هم كالقصبة الضعيفة، بل يقوى الصديقين، وهو ركن المتواضعين، وهو نور الله الذي لا يطفى، أثر سلطانه على كتفيه".

وهذه صفات منطبقة على محمد صلى الله عليه وسلم وأمته، وهي من أجل بشارات الأنبياء المتقدمين به.

ولفظ التوراة، قد عرف أنه يراد به جنس الكتب التي يقرّ بها أهل الكتاب، فيدخل في ذلك الزبور، ونبوة أشعيا، وسائر النبوات غير الإنجيل.
একইভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে যা এসেছে যে, "তাদের ইঞ্জিলসমূহ তাদের বক্ষসমূহে।" ফলে তাঁরা যে কিতাব পাঠ করেন, অর্থাৎ কুরআনকে 'ইঞ্জিলসমূহ' নামে অভিহিত করা হয়েছে।

অনুরূপভাবে তাওরাতেও রয়েছে, "আমি বনী ইসরাঈলের জন্য তাদের ভাইদের মধ্য থেকে একজন নবী নিয়োগ করব, আমি তার ওপর মূসার তাওরাতের মতো একটি তাওরাত অবতীর্ণ করব।" এখানে দ্বিতীয় কিতাবটিকেও 'তাওরাত' বলা হয়েছে।

সুতরাং "আমাকে তাওরাতে আল্লাহর রাসূলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত করুন"—একথাটির দ্বারা পূর্ববর্তী সকল কিতাবকেই বোঝানো হতে পারে, যার সবকটিকেই 'তাওরাত' বলা হয় এবং এই বৈশিষ্ট্য তাদের কোনো কোনোটিতে বিদ্যমান।

আবার এর দ্বারা নির্দিষ্ট তাওরাতকেও বোঝানো হতে পারে। এই হিসেবে এটি এমন কোনো পাণ্ডুলিপিতে থাকতে পারে যা থেকে বর্তমানের এই কপিগুলো সংকলিত হয়নি। কেননা তাওরাতের যে কপিগুলো আমাদের নিকট বিদ্যমান রয়েছে তাতে এটি নেই।

তবে এটি তাদের নিকট ইশাইয়ার ভবিষ্যদ্বাণীতে রয়েছে, তাতে বলা হয়েছে: "আমার বান্দা, যাকে দেখে আমার প্রাণ আনন্দিত হয়েছে, আমি তার ওপর আমার ওহী অবতীর্ণ করব, ফলে জাতিসমূহের মধ্যে আমার ন্যায়বিচার প্রকাশ পাবে এবং সে তাদেরকে নির্দেশাবলি প্রদান করবে।

সে উচ্চস্বরে হাসে না এবং বাজারে তার কণ্ঠস্বর শোনা যায় না। সে অন্ধ চক্ষুসমূহ উন্মোচিত করে, বধির কানসমূহ খুলে দেয় এবং আচ্ছাদিত অন্তরসমূহকে পুনর্জীবিত করে। আমি তাকে যা দান করি, তা অন্য কাউকে দান করি না। সে আল্লাহর এক নতুন প্রশংসা করবে। সে পৃথিবীর দূরতম প্রান্ত থেকে আসবে এবং মরুভূমি ও তার অধিবাসীরা আনন্দিত হবে। তারা প্রতিটি উচ্চস্থানে আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করবে এবং প্রতিটি পাহাড়ে তাঁর তাকবীর ধ্বনি দিবে। সে দুর্বল হবে না, পরাজিত হবে না এবং প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকবে না। সে নেককারদের অপদস্থ করবে না যারা দুর্বল নলের মতো, বরং সে সত্যবাদীদের শক্তিশালী করবে। সে বিনয়ীদের স্তম্ভ এবং সে আল্লাহর এমন এক নূর যা নেভানো যায় না, তার কাঁধের ওপর তার কর্তৃত্বের চিহ্ন বিদ্যমান।"

আর এই গুণাবলি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মতের ওপর পূর্ণরূপে প্রযোজ্য। এটি তাঁর সম্পর্কে পূর্ববর্তী নবীদের দেওয়া অন্যতম মহান সুসংবাদ।

আর 'তাওরাত' শব্দটি সম্পর্কে এটি জানা গেছে যে, এর দ্বারা আহলে কিতাবগণ যে কিতাবসমূহ স্বীকার করে তার সামগ্রিক প্রকারকে বোঝানো হয়। ফলে এর মধ্যে যাবূর, ইশাইয়ার ভবিষ্যদ্বাণী এবং ইঞ্জিল ব্যতীত অন্যান্য সকল ভবিষ্যদ্বাণী অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فإن كان المراد بلفظ التوراة والإنجيل في القرآن هذا المعنى، فلا ريب أنّ ذكر النبي صلى الله عليه وسلم في التوراة بهذا الاعتبار، كثير متعدد ( … ) .

الطريق الثاني من الجواب: أن نبين أن الأنبياء قبله، بشروا به. وهذا هو دليل مستقل على نبوته وعلم عظيم من أعلام رسالته. وهذا أيضا يدل على نبوة ذلك النبي، إذ أخبر بأنباء من الغيب مع دعوى النبوة. ويدل على نبوة محمد لإخبار من تثبت نبوته بنبوته، هذا إذا وجد الخبر ممن لا نعلم نحن نبوته ولم يذكر في كتابنا.

وأما من ثبتت نبوته بطرق أخرى، كموسى والمسيح، فهذا مما تظاهر فيه الأدلة على المدلول الواحد، وهو أيضا يتضمن أن كل ما ثبتت به نبوة غيره، فإنه تثبت به نبوته، وهو جواب ثان، لمن يجعل ذلك شرطا لازما لنبوته. "

يجيب عن السؤال الثاني الإمام المجدد، شيخ الإسلام ابن القيم في كتابه الموسوم ب" هداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى" بقوله، تحت عنوان" إثنا عشر وجها تدلّ على أنه (محمد صلى الله عليه وسلم مذكور في الكتب المنزلة: "

العلم بأنه صلى الله عليه وسلم مذكور في الكتب المتقدمة يعرف من وجوه متعددة:

أحدها: أخبار من قد ثبتت نبوته قطعا بأنه مذكور عندهم في كتبهم فقد أخبر به من قام الدليل القطعي على صدقه فيجب تصديقه فيه إذ تكذيبه والحالة هذه ممتنع لذاته هذا لو لم يعلم ذلك إلا من مجرد خبرة فكيف إذا تطابقت الأدلة على صحة ما أخبر به.

الثاني: أنه جعل الإخبار به من أعظم أدلة صدقه وصحة نبوته وهذا يستحيل أن يصدر إلا من واثق كل الوثوق بذلك وأنه على يقين جازم به.
কুরআনে তাওরাত ও ইঞ্জিল শব্দ দ্বারা যদি এই অর্থই উদ্দেশ্য হয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিচারে তাওরাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখ বহু ও বহুমুখী ( … ) ।

উত্তরের দ্বিতীয় পদ্ধতি: আমরা এটা স্পষ্ট করব যে, তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ তাঁর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন। আর এটি তাঁর নবুওয়াতের স্বতন্ত্র একটি দলিল এবং তাঁর রিসালাতের নিদর্শনাবলির মাঝে এক মহান নিদর্শন। এটি সেই নবীর নবুওয়াতেরও প্রমাণ বহন করে, কেননা তিনি নবুওয়াতের দাবির সাথে সাথে অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান করেছেন। আর এটি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের ওপরও প্রমাণ দেয়, কারণ যাঁর নবুওয়াত প্রমাণিত তিনি তাঁর নবুওয়াত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। এটি সেই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন এমন কারো কাছ থেকে সংবাদ পাওয়া যায় যাঁর নবুওয়াত সম্পর্কে আমরা অবগত নই এবং আমাদের কিতাবে তাঁর কথা উল্লেখ নেই।

আর যাঁর নবুওয়াত অন্য উপায়ে প্রমাণিত, যেমন মুসা ও মাসীহ (আলাইহিস সালাম), এটি এমন বিষয় যেখানে একাধিক দলিল একই লক্ষ্যের ওপর একত্রিত হয়েছে। এটি এ বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যে, যার মাধ্যমে অন্যের নবুওয়াত প্রমাণিত হয়, তার মাধ্যমেই তাঁর নবুওয়াতও প্রমাণিত হয়। এটি ঐ ব্যক্তির জন্য দ্বিতীয় উত্তর, যে বিষয়টিকে তাঁর নবুওয়াতের জন্য একটি আবশ্যকীয় শর্ত সাব্যস্ত করে। "

ইমাম মুজাদ্দিদ, শাইখুল ইসলাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর "হিদায়াতুল হায়ারা ফি আজউইবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা" নামক কিতাবে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি 'বারোটি দিক যা প্রমাণ করে যে তিনি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসমানি কিতাবসমূহে উল্লিখিত হয়েছেন'—শীর্ষক শিরোনামের অধীনে বলেছেন: "

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে উল্লিখিত হয়েছেন, সেই জ্ঞান বিভিন্ন দিক থেকে অর্জন করা যায়:

প্রথমত: যাঁর নবুওয়াত অকাট্যভাবে প্রমাণিত, তাঁর এই সংবাদ প্রদান করা যে, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের নিকট তাঁদের কিতাবসমূহে উল্লিখিত আছেন। কেননা যাঁর সত্যবাদিতার ওপর অকাট্য দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তিনি এই সংবাদ দিয়েছেন; ফলে এ বিষয়ে তাঁকে সত্য বলে মেনে নেওয়া ওয়াজিব। কারণ এমতাবস্থায় তাঁকে মিথ্যা সাব্যস্ত করা যুক্তিগতভাবে অসম্ভব। এটি তো কেবল তাঁর সংবাদের ভিত্তিতেই প্রযোজ্য হতো, তাহলে যখন তাঁর দেওয়া সংবাদের সত্যতার ওপর অন্যান্য দলিলসমূহ একমত হয়েছে, তখন বিষয়টি কতই না জোরালো!

দ্বিতীয়ত: তিনি তাঁর সম্পর্কে দেওয়া এই সংবাদকে তাঁর সত্যবাদিতা ও নবুওয়াতের শুদ্ধতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আর এমনটি কেবল তাঁর পক্ষেই প্রকাশ করা সম্ভব, যিনি এ বিষয়ে পূর্ণ আস্থাশীল এবং যার এ ব্যাপারে সুদৃঢ় ও অকাট্য বিশ্বাস রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الثالث: أن المؤمنين به من الأحبار والرهبان الذين آثروا الحق على الباطل صدقوه في ذلك وشهدوا له بما قال.

الرابع: أن المكذبين والجاحدين لنبوته لم يمكنهم إنكار البشارة والأخبار بنبوة نبي عظيم الشأن صفته كذا وكذا وصفة أمته ومخرجه وشأنه لكن جحدوا أن يكون هو الذي وقعت به البشارة وأنه نبي آخر غيره وعلموا هم والمؤمنون به من قومهم أنهم ركبوا متن المكابرة وامتطوا غارب البهت.

الخامس: أن كثيرا منهم صرح لخاصته وبطانته بأنه هو هو بعينه وأنه عازم على عداوته ما بقي كما تقدم.

السادس: أن إخبار النبي صلى الله عليه وسلم بأنه مذكور في كتبهم هو فرد من أفراد اخباراته بما عندهم في كتبهم من شأن أنبيائهم وقومهم وما جرى لهم وقصص الأنبياء المتقدمين وأممهم وشأن المبدأ والمعاد وغير ذلك مما أخبرت به الأنبياء وكل ذلك مما يعلمون صدقه فيه ومطابقته لما عندهم وتلك الاخبارات أكثر من أن تحصى ولم يكذبوه يوما واحدا في شيء منها وكانوا أحرص شيء على أن يظفروا منه بكذبة واحدة أو غلطة أو سهو فينادون بها عليه ويجدون بها السبيل إلى تنفير الناس عنه فلم يقل أحد منهم يوما من الدهر انه أخبر بكذا وكذا في كتبنا وهو كاذب فيه بل كانوا يصدقونه في ذلك وهم مصرون على عدم إتباعه وهذا من أعظم الأدلة على صدقه فيما أخبر به لو لم يعلم إلا بمجرد خبره.

السابع: أنه أخبر بهذا لأعدائه من المشركين الذين لا كتاب عندهم وأخبر به لأعدائه من أهل الكتاب وأخبر به لأتباعه فلو كان هذا باطلا لا صحة له لكان ذلك تسليطا للمشركين أن يسألوا أهل الكتاب فينكرون ذلك وتسليطا لأهل الكتاب على الإنكار وتسليطا لاتبعاه على الرجوع عنه والتكذيب له بعد تصديقه وذلك ينقض الغرض المقصود بإخباره من كل وجه وهو بمنزلة رجل يخبر بما يشهد بكذبه ويجعل
তৃতীয়: আহবার (পণ্ডিত) ও রুহবানদের (সন্ন্যাসী) মধ্য থেকে যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছিলেন এবং বাতিলের চেয়ে সত্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, তাঁরা এ বিষয়ে তাঁকে সত্যয়ন করেছেন এবং তিনি যা বলেছেন সে ব্যাপারে তাঁর সত্যতার সাক্ষ্য দিয়েছেন।

চতুর্থ: তাঁর নবুওয়াতকে অস্বীকারকারী ও প্রত্যাখ্যানকারীদের পক্ষে এমন এক মহান শানসম্পন্ন নবীর নবুওয়াত সংক্রান্ত সুসংবাদ ও সংবাদসমূহকে অস্বীকার করা সম্ভব ছিল না, যাঁর গুণাবলি এমন এমন, যাঁর উম্মতের বৈশিষ্ট্য, যাঁর আবির্ভাবের স্থান ও শান (কিতাবসমূহে) বর্ণিত হয়েছে। তবে তারা এই বিষয়টি অস্বীকার করেছে যে, তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁর ব্যাপারে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে; বরং তারা দাবি করেছে যে তিনি অন্য কোনো নবী। অথচ তারা এবং তাদের কওমের মধ্য থেকে যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছিল, তারা সকলেই জানত যে তারা হঠকারিতার পথে সওয়ার হয়েছে এবং চরম মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।

পঞ্চম: তাদের মধ্যে অনেকে নিজের ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ ব্যক্তিদের নিকট স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছিল যে, তিনিই ঠিক সেই ব্যক্তি এবং যতদিন সে বেঁচে থাকবে ততদিন তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করার ব্যাপারে সে সংকল্পবদ্ধ, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

ষষ্ঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এই সংবাদ প্রদান করা যে তিনি তাদের কিতাবসমূহে উল্লেখিত আছেন, তা মূলত তাদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান তাদের নবীগণের অবস্থা, তাঁদের কওম, তাঁদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি, পূর্ববর্তী নবী ও উম্মতগণের কাহিনী, সৃষ্টিতত্ত্ব ও পরকাল সংক্রান্ত বিষয় এবং নবীগণ যেসব সংবাদ দিয়েছেন—সেসবের ন্যায় অসংখ্য সংবাদগুলোরই একটি অংশ। আর এই সমস্ত বিষয়েই তারা জানত যে তিনি সত্যবাদী এবং তাদের নিকট যা সংরক্ষিত আছে তার সাথে তাঁর সংবাদের পূর্ণ মিল রয়েছে। এই সংবাদগুলো সংখ্যায় এত অধিক যে তা গণনা করা সম্ভব নয়। তারা একটি দিনের জন্যও এর কোনোটিতে তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেনি। অথচ তারা এই সুযোগ পাওয়ার জন্য অত্যন্ত লালায়িত ছিল যে, তাঁর পক্ষ থেকে একটি মাত্র মিথ্যা, ভুল বা বিচ্যুতি খুঁজে পাবে, যা দিয়ে তারা তাঁর বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবে এবং এর মাধ্যমে মানুষকে তাঁর থেকে বিমুখ করার পথ খুঁজে পাবে। কিন্তু তাদের কেউই কোনোদিন একথা বলেনি যে, 'তিনি আমাদের কিতাবসমূহ থেকে অমুক অমুক বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন অথচ তিনি এতে মিথ্যা বলছেন।' বরং তারা এ সমস্ত বিষয়ে তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করত, যদিও তারা তাঁর আনুগত্য না করার ওপর অটল ছিল। এটি তাঁর বর্ণিত বিষয়ের সত্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দলিল, যদিও তা কেবল তাঁর খবরের মাধ্যমেই জানা যেত।

সপ্তম: তিনি এই সংবাদটি তাঁর মুশরিক শত্রুদের কাছে দিয়েছেন যাদের কাছে কোনো কিতাব নেই, আবার তাঁর আহলে কিতাব শত্রুদের কাছেও দিয়েছেন এবং তাঁর অনুসারীদের কাছেও দিয়েছেন। সুতরাং যদি এটি ভিত্তিহীন বা অসত্য হতো, তবে তা মুশরিকদের জন্য আহলে কিতাবদেরকে জিজ্ঞাসা করার এবং তাদের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করার সুযোগ করে দিত; আহলে কিতাবদের অস্বীকার করার পথ খুলে দিত; এমনকি তাঁর অনুসারীদের জন্য সত্যয়ন করার পর তা থেকে ফিরে আসা এবং তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করারও সুযোগ করে দিত। আর এটি তাঁর সংবাদ প্রদানের মূল উদ্দেশ্যকেই সকল দিক থেকে নস্যাৎ করে দিত। এটি সেই ব্যক্তির ন্যায় হতো যে এমন কিছুর সংবাদ দেয় যা তার মিথ্যা হওয়ার সাক্ষ্য দেয় এবং সে করে...
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أخباره دليلا على صدقه وهذا لا يصدر من عاقل ولا مجنون فهذه الوجوه يعلم بها صدق ما أخبر به وإن لم يعلم وجوده من غير جهة أخباره فكيف وقد علم وجود ما أخبر به.

الثامن: أنه لو قدر أنهم لم يعلموا بشارة الأنبياء به وأخبارهم بنعته وصفته لم يلزم أن لا يكونوا ذكروه وأخبروا به وبشروا بنبوته إذ ليس كل ما قاله الأنبياء المتقدمون وصل إلى المتأخرين وأحاطوا به علما وهذا مما يلعم بالاضطرار فكم من قول قد قاله موسى وعيسى ولا علم لليهود والنصارى به فإذا أخبر به من قام الدليل القطعي على صدقه لم يكن جهلهم به موجبا لرده وتكذيبه.

التاسع: أنه يمكن أن يكون في نسخ غير هذه النسخ التي بأيديهم فأزيل من بعضها ونسخت هذه مما أزيل منه ( … ) .

العاشر: أنه استشهد على صحة نبوته بعلماء أهل الكتاب وقد شهد له عدو لهم فلا يقدح جحد الكفرة الكاذبين المعاندين بعد ذلك قال تعالى: " وَيَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَسْتَ مُرْسَلًا قُلْ كَفى بِاللَّهِ شَهِيداً بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتابِ". وقال تعالى:

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كانَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَكَفَرْتُمْ بِهِ وَشَهِدَ شاهِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرائِيلَ عَلى مِثْلِهِ فَآمَنَ وَاسْتَكْبَرْتُمْ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ". وقال تعالى: " ذلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْباناً وَأَنَّهُمْ لا يَسْتَكْبِرُونَ. وَإِذا سَمِعُوا ما أُنْزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنا آمَنَّا فَاكْتُبْنا مَعَ الشَّاهِدِينَ"، وقال تعالى: " الَّذِينَ آتَيْناهُمُ الْكِتابَ مِنْ قَبْلِهِ هُمْ بِهِ يُؤْمِنُونَ. وَإِذا يُتْلى عَلَيْهِمْ قالُوا آمَنَّا بِهِ إِنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّنا إِنَّا كُنَّا مِنْ قَبْلِهِ مُسْلِمِينَ. أُولئِكَ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ بِما صَبَرُوا وَيَدْرَؤُنَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ وَمِمَّا رَزَقْناهُمْ يُنْفِقُونَ". وإذا شهد واحد من هؤلاء لم يوزن به ملء الأرض من الكفرة ولا تعارض شهادته بجحود ملء الأرض من الكفار كيف والشاهد له من علماء أهل الكتاب أضعاف أضعاف المكذبين له منهم وليس كل من
তাঁর সংবাদসমূহ তাঁর সত্যবাদিতার প্রমাণ, আর এমন কাজ কোনো বুদ্ধিমান বা পাগল কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। সুতরাং এই দিকগুলো দ্বারা তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তার সত্যতা জানা যায়, যদিও তাঁর সংবাদের বাইরে অন্য কোনো উৎস থেকে তার অস্তিত্ব জানা না যেত। তাহলে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে যখন জানা আছে তখন তা কেমন হবে?

অষ্টম: যদি ধরে নেওয়া হয় যে তারা তাঁর সম্পর্কে পূর্ববর্তী নবীদের সুসংবাদ এবং তাঁর গুণ ও বৈশিষ্ট্যের খবর জানত না, তবুও এটি অনিবার্য নয় যে তাঁরা তাঁর কথা উল্লেখ করেননি বা তাঁর সংবাদ দেননি কিংবা তাঁর নবুওয়াতের সুসংবাদ দেননি। কারণ পূর্ববর্তী নবীরা যা কিছু বলেছেন তার সবটুকুই পরবর্তীদের কাছে পৌঁছেনি এবং তারা তা পূর্ণরূপে অবগত হয়নি। এটি স্বতঃসিদ্ধভাবে জানা বিষয়। মূসা ও ঈসা কত কথাই না বলেছেন যা ইহুদি ও নাসারাদের জানা নেই। সুতরাং যখন এমন কেউ সে সংবাদ দেন যাঁর সত্যবাদিতার ওপর অকাট্য প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন তাদের অজ্ঞতা সেই সংবাদ প্রত্যাখ্যান বা অস্বীকার করার কারণ হতে পারে না।

নবম: হতে পারে এটি তাদের হাতে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলো ছাড়া অন্য কোনো পাণ্ডুলিপিতে ছিল, যা কোনো কোনো সংস্করণ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং বর্তমানগুলো সেই সরানো সংস্করণ থেকেই কপি করা হয়েছে ( … ) ।

দশম: তিনি তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার পক্ষে আহলে কিতাবদের আলেমদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছেন, আর তাদেরই এক শত্রু তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর মিথ্যাবাদী ও হঠকারী কাফেরদের অস্বীকার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর কাফেররা বলে, ‘তুমি প্রেরিত রাসূল নও’। বলো, ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং যার নিকট কিতাবের জ্ঞান আছে সেও’।" এবং আল্লাহ তাআলা বলেন:

"বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যদি এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় আর তোমরা এটি অস্বীকার করো, অথচ বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর অনুরূপ বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন করল, আর তোমরা অহংকার করলে? নিশ্চয় আল্লাহ যালিম কওমকে হিদায়াত দেন না।" এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "এটি এ কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক আলেম ও সন্ন্যাসী রয়েছে এবং তারা অহংকার করে না। আর যখন তারা রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ বাণী শ্রবণ করে, তখন আপনি তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হতে দেখবেন, কারণ তারা সত্য উপলব্ধি করতে পেরেছে। তারা বলে, হে আমাদের রব! আমরা ঈমান আনলাম, সুতরাং আপনি আমাদের সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন।" এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "যাদেরকে আমি এর পূর্বে কিতাব দিয়েছিলাম, তারা এতে বিশ্বাস করে। আর যখন তাদের নিকট এটি পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, ‘আমরা এতে ঈমান আনলাম, নিশ্চয় এটি আমাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য, আমরা তো এর পূর্বেই মুসলিম ছিলাম’। তাদের দুই বার পুরস্কার দেওয়া হবে যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছে এবং তারা ভালোর মাধ্যমে মন্দকে প্রতিহত করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।" আর যখন এদের মধ্য থেকে কেউ একজন সাক্ষ্য দেন, তখন তার মোকাবিলায় পৃথিবী পূর্ণ কাফেরদের কোনো ওজন থাকে না এবং পৃথিবী পূর্ণ কাফেরদের অস্বীকার তার সাক্ষ্যের সাথে কোনো বৈপরীত্য তৈরি করতে পারে না। আর যেখানে তাঁর পক্ষে আহলে কিতাবদের আলেমদের মধ্যে সাক্ষ্যদাতার সংখ্যা তাঁকে অস্বীকারকারীদের তুলনায় বহুগুণ বেশি! আর এমনটি নয় যে প্রত্যেক...
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
قال من أشباه الحمير من عباد الصليب وأمة الغضب أنه من علمائهم فهو كذلك وإذا كان أكثر من من يظن عوام المسلمين انه من علمائهم ليس كذلك فما الظن بغيرهم وعلماء أهل الكتاب إن لم يدخل فيهم من لم يعمل بعلمه فليس علماؤهم إلا من آمن به وصدقه وإن دخل فيهم من علم ولم يعمل كعلماء السوء لم يكن إنكارهم لنبوته قادحا في شهادة العلماء العاملين بعلمهم.

الحادي عشر: أنه لو قدر أنه لا ذكر لرسول الله صلى الله عليه وسلم بنعته ولا صفته ولا علامته في الكتب التي بأيدي أهل الكتاب اليوم لم يلزم من ذلك أن لا يكون مذكورا في الكتب التي كانت بأيدي أسلافهم وقت مبعثه ولا تكون اتصلت على وجهها إلى هؤلاء بل حرفها أولئك وبدلوا وكتموا وتواصوا وكتبوا ما أرادوا وقالوا هذا من عند الله ثم اشتهرت تلك الكتب وتناقلها خلفهم عن سلفهم فصارت المغيرة المبدلة هي المشهورة والصحيحة بينهم خفية جدا ولا سبيل إلى العلم باستحالة ذلك بل هو في غاية الامكان فهؤلاء السامرة غيروا مواضع من التوراة ثم اشتهرت النسخ المغيرة عند جميعهم فلا يعرفون سواها وهجرت بينهم النسخ الصحيحة بالكلية وكذلك التوراة التي بأيدي النصارى وهكذا تبدل الأديان والكتب ولولا أن الله سبحانه تولى حفظ القرآن بنفسه وضمن للأمة أن لا تجتمع على ضلالة لأصابه ما أصاب الكتب قبله قال تعالى" إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحافِظُونَ".

الثاني عشر: إنه من الممتنع أن تخلو الكتب المتقدمة عن الأخبار بهذا الأمر العظيم الذي لم يطرق العالم من حين خلق إلى قيام الساعة أمر أعظم منه ولا شأن أكبر منه فإنه قلب العالم وطبق مشارق الأرض ومغاربها واستمر على العالم على تعاقب القرون وإلى أن يرث الله الأرض ومن عليها ومثل هذا النبأ العظيم لابد أن تتطابق الرسل على الإخبار به وإذا كان الدجال رجل كاذب يخرج في آخر الزمان وبقاؤه في الأرض أربعين يوما قد تطابقت الرسل على الإخبار به وأنذر به كل نبي قومه من نوح إلى خاتم
ক্রুশ পূজারী এবং আল্লাহর ক্রোধে নিপতিত জাতির অন্তর্ভুক্ত গাধা সদৃশ ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে কেউ যদি বলে যে অমুক ব্যক্তি তাদের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, তবে বিষয়টি তেমনই। আর সাধারণ মুসলিমরা যাদের আলেম মনে করে, তাদের অধিকাংশের অবস্থাই যদি প্রকৃত আলেমের মতো না হয়, তবে অন্যদের সম্পর্কে কী ধারণা করা যায়? আহলে কিতাবদের আলেমদের মধ্যে যদি সেই সব ব্যক্তিদের গণ্য না করা হয় যারা তাদের জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেনি, তবে কেবল তারাই তাদের আলেম হিসেবে গণ্য হবে যারা ঈমান এনেছে এবং সত্যয়ন করেছে। আর যদি তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকে যারা জানত কিন্তু মন্দ আলেমদের ন্যায় আমল করেনি, তবে তাদের নবুওয়াত অস্বীকার করা সেই সকল আলেমদের সাক্ষ্যের কোনো ক্ষতি করবে না যারা তাদের ইলম অনুযায়ী আমল করেছেন।

একাদশ: যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয় যে, বর্তমানে আহলে কিতাবদের কাছে থাকা কিতাবসমূহে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাগুণ, বৈশিষ্ট্য বা কোনো চিহ্নের উল্লেখ নেই, তবে এটি আবশ্যক করে না যে তাঁর আগমনের সময় তাঁদের পূর্ববর্তীদের কাছে থাকা কিতাবসমূহেও এর উল্লেখ ছিল না। অথবা বিষয়টি অবিকৃত অবস্থায় বর্তমানদের কাছে পৌঁছেনি, বরং পূর্ববর্তীরা তা বিকৃত করেছে, পরিবর্তন করেছে এবং গোপন করেছে। তারা পরস্পরকে এ বিষয়ে প্ররোচিত করেছে এবং নিজ ইচ্ছামতো লিখে বলেছে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে। অতঃপর সেই কিতাবগুলো প্রসিদ্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীরা তাদের পূর্ববর্তীদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করে। ফলে সেই পরিবর্তিত ও বিকৃত সংস্করণগুলোই তাদের মাঝে সুপরিচিত হয়ে ওঠে এবং সঠিক কপিগুলো অত্যন্ত গোপন হয়ে পড়ে। এটি অসম্ভব হওয়ার কোনো পথ নেই, বরং এটি ঘটা খুবই সম্ভব। যেমন এই সামেরীরা তাওরাতের বহু স্থান পরিবর্তন করেছে এবং পরবর্তীতে সেই বিকৃত কপিগুলোই তাদের সবার মাঝে প্রসিদ্ধি পেয়েছে, ফলে তারা তারা সেগুলো ছাড়া অন্য কিছু জানে না এবং বিশুদ্ধ কপিগুলো তাদের মাঝ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। খ্রিষ্টানদের কাছে বিদ্যমান তাওরাতের অবস্থাও তদ্রূপ। এভাবেই ধর্ম ও কিতাবসমূহ পরিবর্তিত হয়ে যায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যদি স্বয়ং কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ না করতেন এবং এই উম্মতের জন্য এই নিশ্চয়তা না দিতেন যে তারা কোনো ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না, তবে পূর্ববর্তী কিতাবগুলোর সাথে যা হয়েছে এর সাথেও তাই হতো। মহান আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"

দ্বাদশ: এটি অসম্ভব যে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ এই মহান বিষয়ের সংবাদ থেকে শূন্য থাকবে, যার চেয়ে বড় কোনো বিষয় সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে আসেনি এবং এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। এটি তো জগতের প্রাণ এবং যা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত হয়েছে। এটি যুগের পর যুগ পৃথিবীতে অব্যাহত রয়েছে এবং ততক্ষণ থাকবে যতক্ষণ আল্লাহ পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হন। এমন এক মহান সংবাদ প্রদানের ব্যাপারে সকল রাসূলের ঐকমত্য থাকা আবশ্যক। দাজ্জাল একজন চরম মিথ্যাবাদী যে শেষ জামানায় আত্মপ্রকাশ করবে এবং পৃথিবীতে মাত্র চল্লিশ দিন অবস্থান করবে, তার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার ব্যাপারে যদি সকল রাসূল একমত হয়ে থাকেন এবং নূহ থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী পর্যন্ত প্রত্যেক নবী যদি নিজ জাতিকে তার সম্পর্কে সতর্ক করে থাকেন...
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الرسل فكيف تتطابق الكتب الإلهية من أولها إلى آخرها على السكوت عن الإخبار بهذا الأمر العظيم الذي لم يطرق العالم أمر أعظم منه ولا يطرقه أبدا هذا مالا يسوغه عقل عاقل وتأباه حكمة أحكم الحاكمين بل الأمر بضد ذلك وما بعث الله سبحانه نبيا إلا أخذ عليه الميثاق بالإيمان بمحمد وتصديقه كما قال تعالى: ": " وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثاقَ النَّبِيِّينَ لَما آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِما مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلى ذلِكُمْ إِصْرِي قالُوا أَقْرَرْنا قالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ". قال ابن عباس ما بعث الله من نبي إلا أخذ عليه الميثاق لئن بعث محمد وهو حي ليؤمنن به ولينصرنه وأمره أن يأخذ الميثاق على أمته لئن بعث محمد وهم أحياء ليؤمنن به وليتابعنه"
রাসুলগণ; সুতরাং কীভাবে আসমানি কিতাবসমূহ তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই মহান বিষয়টি সংবাদ দেওয়ার ব্যাপারে নীরব থাকার ওপর একমত হতে পারে, যার চেয়ে বড় কোনো বিষয় পৃথিবীতে কখনো আসেনি এবং আসবেও না? এটি এমন এক বিষয় যা কোনো বিবেকবান ব্যক্তির বুদ্ধি সমর্থন করে না এবং শ্রেষ্ঠ বিচারকের প্রজ্ঞা তা প্রত্যাখ্যান করে; বরং বিষয়টি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যার থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ঈমান আনা এবং তাঁকে সত্যায়ন করার অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, তারপর তোমাদের কাছে এমন একজন রাসুল আসেন যিনি তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী, তবে তোমরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করলে এবং এর ওপর আমার পক্ষ থেকে দেওয়া ভারী প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলে?’ তারা বলল, ‘আমরা স্বীকার করলাম।’ তিনি বললেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।’" ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যার থেকে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেননি যে, যদি তাঁর জীবদ্দশায় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হন, তবে তিনি অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবেন এবং তাঁকে সাহায্য করবেন। আর তিনি সেই নবীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি তাঁর উম্মতের থেকেও এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেন যে, যদি তাদের জীবদ্দশায় মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রেরিত হন, তবে তারা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁর অনুসরণ করবে।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌لماذا يبحث المسلم في موضوع البشارة بمحمد صلى الله عليه وسلم؟

يندفع المسلم إلى دراسة موضوع البشارة بمحمد صلى الله عليه وسلم في كتب السابقين بتحفيز مما جاء في وحي الله المنزّل على عبده محمد صلى الله عليه وسلم في القرآن والسنة.. وقد تواترت النصوص واستفاضت معانيها المتدفقة من عيونها العذبة تخبر عن ولادة النور من قلب جزيرة العرب، وهي لم تلق معارضة تذكر من اليهود والنصارى في زمن تنزّلها، مما يقطع عند أهل العقول أنها صادقة لم تفتر على الله الكذب وأنها تصف حقيقة لا يستريب فيها مبصر ولا يرتاب في أمرها منصف..

من هذه الآيات قول الحق سبحانه: " الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوباً عِنْدَهُمْ فِي التَّوْراةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّباتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلالَ الَّتِي كانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ" (الأعراف 157) .

يقول الإمام ابن كثير: " وهذه صفة محمّد صلى الله عليه وآله وسلم في كتب الأنبياء بشّروا أممهم ببعثه وأمروهم بمتابعته ولم تزل صفاته موجودة في كتبهم يعرفها علماؤهم وأحبارهم. كما روى الإمام أحمد حدّثنا إسماعيل عن الجريريّ عن أبي صخر العقيلي حدّثني رجل من الأعراب قال جلبت حلوبة إلى المدينة في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم فلمّا فرغت من بيعي قلت لألقينّ هذا الرّجل فلاسمعنّ منه قال فتلقّاني بين أبي بكر وعمر يمشون فتبعتهم حتّى أتوا على رجل من اليهود ناشر التّوراة يقرؤها يعزّي بها نفسه عن ابن له في الموت كأجمل الفتيان وأحسنها فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم" أنشدك يالّذي أنزل التّوراة هل
একজন মুসলিম কেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন?

একজন মুসলিম পূর্ববর্তী কিতাবগুলোতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ নিয়ে গবেষণা করতে উদ্বুদ্ধ হন মহান আল্লাহর সেই ওহীর প্রেরণা থেকে যা তিনি তাঁর বান্দা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে অবতীর্ণ করেছেন। এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো অবিচ্ছিন্ন ধারায় বর্ণিত হয়েছে এবং এর স্বচ্ছ উৎস থেকে প্রবাহিত অর্থসমূহ অত্যন্ত সমৃদ্ধ, যা আরব উপদ্বীপের কেন্দ্র থেকে সেই জ্যোতির আবির্ভাবের সংবাদ দেয়। আর এই সংবাদগুলো অবতীর্ণ হওয়ার সময় ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো বিরোধিতার সম্মুখীন হয়নি। এটি বুদ্ধিমানদের কাছে অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, এই সংবাদগুলো সত্য এবং আল্লাহর ওপর কোনো মিথ্যা আরোপ নয়, বরং এগুলো এমন এক বাস্তবতাকে বর্ণনা করে যেখানে কোনো চক্ষুষ্মান ব্যক্তির সন্দেহ থাকতে পারে না এবং কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি এটি নিয়ে সংশয়ে পতিত হতে পারে না।

এই আয়াতগুলোর মধ্যে মহাসত্য পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী হলো: "যারা সেই রাসূলের আনুগত্য করে, যিনি উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়; যিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে সেই বোঝার বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেন যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তাঁর ওপর ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং সেই আলোর অনুসরণ করে যা তাঁর সাথে অবতীর্ণ হয়েছে, তারাই সফলকাম।" (আল-আরাফ ১৫৭)।

ইমাম ইবনে কাসীর বলেন: "এটি হলো নবীগণের কিতাবসমূহে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য। তাঁরা তাঁদের উম্মতদেরকে তাঁর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর এই বৈশিষ্ট্যগুলো সবসময়ই তাঁদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান ছিল, যা তাঁদের আলিম ও পণ্ডিতরা জানতেন। যেমনটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন—আমাদের কাছে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন আল-জুরারি থেকে, তিনি আবু সাখর আল-উকাইলি থেকে, তিনি জনৈক গ্রাম্য আরব ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় মদিনায় একটি দুগ্ধবতী উট নিয়ে এসেছিলাম। যখন আমি আমার কেনাবেচা শেষ করলাম, আমি মনে মনে বললাম, আমি অবশ্যই এই লোকটির সাথে দেখা করব এবং তাঁর থেকে কিছু শুনব। তিনি বললেন: তখন আমি তাঁকে আবু বকর ও উমরের মাঝখানে হাঁটতে দেখলাম। আমি তাঁদের পিছু পিছু চললাম যতক্ষণ না তাঁরা জনৈক ইয়াহুদি ব্যক্তির কাছে পৌঁছালেন, যে তাওরাত মেলে ধরে তা পাঠ করছিল এবং এর মাধ্যমে সে তার মৃত্যুশয্যায় থাকা সবচেয়ে সুন্দর ও সুশ্রী এক যুবকের শোক ভুলতে সান্ত্বনা খুঁজছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: 'আমি তোমাকে সেই সত্তার কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি যিনি তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন, তুমি কি...
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
تجد في كتابك هذا صفتي ومخرجي؟ " فقال برأسه هكذا أي لا فقال ابنه إي والّذي أنزل التّوراة إنّا لنجد في كتابنا صفتك ومخرجك وإنّي أشهد أن لا إله إلّا الله وأشهد أنّك رسول الله فقال" أقيموا اليهوديّ عن أخيكم" ثمّ تولّى كفنه والصّلاة عليه"، هذا حديث جيّد قويّ له شاهد في الصّحيح عن أنس".

وجاء في سورة البقرة الآية 101: " وَلَمَّا جاءَهُمْ رَسُولٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِما مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتابَ كِتابَ اللَّهِ وَراءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لا يَعْلَمُونَ" يقول الإمام الطبري في تفسيره: " يعني جل ثناؤه بقوله: " ولمّا جاءهم" أحبار اليهود وعلماءها من بني إسرائيل.

" رسول" يعني بالرّسول محمّدا صلى الله عليه وسلم. ( … ) .

أمّا قوله: " مصدق لما معهم". إنّه يعني به أنّ محمّدا صلى الله عليه وسلم يصدّق التّوراة، والتّوراة تصدّقه في أنّه لله نبيّ مبعوث إلى خلقه.

وأمّا تأويل قوله: " لَمَّا جاءَهُمْ رَسُولٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِما مَعَهُمْ" فإنّه للّذي هو مع اليهود، وهو التّوراة. فأخبر الله جلّ ثناؤه أنّ اليهود لمّا جاءهم رسول الله صلى الله عليه وسلم من الله بتصديق ما في أيديهم من التّوراة أنّ محمّدا صلى الله عليه وسلم نبيّ الله.

" نبذ فريق"، يعني بذلك أنّهم جحدوه ورفضوه بعد أن كانوا به مقرّين حسدا منهم له وبغيا عليه.

وقوله: " من الّذين أوثوا الكتاب" وهم علماء اليهود الّذين أعطاهم الله العلم بالتّوراة وما فيها.

ويعني بقوله: " كتاب الله" التّوراة
"তুমি কি তোমার এই কিতাবে আমার গুণাবলি এবং আমার আবির্ভাবের বিবরণ পাও?" তখন সে তার মাথা দিয়ে এভাবে ইশারা করল অর্থাৎ 'না'। তখন তার পুত্র বলল, "হ্যাঁ, সেই সত্তার শপথ যিনি তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন, নিশ্চয়ই আমরা আমাদের কিতাবে আপনার গুণাবলি এবং আপনার আবির্ভাবের বিবরণ পাই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসুল।" তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ ﷺ) বললেন, "তোমাদের এই ভাইয়ের নিকট হতে ইহুদিকে সরিয়ে দাও।" অতঃপর তিনি তাঁর কাফন ও জানাজার দায়িত্ব পালন করলেন। এটি একটি উত্তম ও শক্তিশালী হাদিস, যার সমর্থক বর্ণনা সহিহ গ্রন্থে আনাস (রা.) হতে বর্ণিত রয়েছে।

সুরা আল-বাকারার ১০১ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: "আর যখন তাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে একজন রাসুল আসলেন, যিনি তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী, তখন যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের একদল আল্লাহর কিতাবকে তাদের পিঠের পিছনে নিক্ষেপ করল, যেন তারা কিছুই জানে না।" ইমাম তাবারী তাঁর তাফসির গ্রন্থে বলেন: "মহান আল্লাহ তাঁর বাণী: 'যখন তাদের নিকট আসলেন' এর মাধ্যমে ইহুদি পণ্ডিত এবং বনী ইসরাঈলের আলেমদের উদ্দেশ্য করেছেন।

'রাসুল' বলতে রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বুঝানো হয়েছে। ( … ) ।

আর তাঁর বাণী: 'তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী' এর অর্থ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওরাতকে সত্যায়ন করেন, আর তাওরাত তাঁকে সত্যায়ন করে যে, তিনি সৃষ্টির প্রতি প্রেরিত আল্লাহর একজন নবি।

আর আল্লাহর বাণী: 'যখন তাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ হতে একজন রাসুল আসলেন, যিনি তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী' এর ব্যাখ্যা হলো, যা ইহুদিদের নিকট রয়েছে অর্থাৎ তাওরাত। মহান আল্লাহ সংবাদ দিচ্ছেন যে, ইহুদিদের নিকট যখন আল্লাহর পক্ষ হতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট বিদ্যমান তাওরাতের সত্যায়নকারী হিসেবে আসলেন যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর নবি।

'একদল নিক্ষেপ করল' এর অর্থ হলো তারা তাঁকে অস্বীকার ও বর্জন করল, অথচ ইতিপূর্বে তারা তাঁর প্রতি স্বীকৃতি প্রদানকারী ছিল। তাদের এই আচরণ ছিল তাঁর প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষবশত।

আর তাঁর বাণী: 'যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল' তারা হলো ইহুদি আলেম সমাজ যাদেরকে আল্লাহ তাওরাত ও তন্মধ্যস্থ বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান দান করেছিলেন।

আর 'আল্লাহর কিতাব' বলতে তিনি তাওরাতকে বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقوله: " نبذوه وراء ظهورهم" حملوه وراء ظهورهم؛ وهذا مثل يقال لكلّ رافض أمرا كان منه على بال: قد جعل فلان هذا الأمر منه بظهر وجعله وراء ظهره، يعني به أعرض عنه وصدّ وانصرف … "

وقال الله سبحانه: " مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَماءُ بَيْنَهُمْ تَراهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً سِيماهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْراةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوى عَلى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً" (سورة الفتح 29)

قال سيد قطب في تفسيره: " إنها صورة عجيبة يرسمها القرآن الكريم بأسلوبه البديع.

صورة مؤلفة من عدة لقطات لأبرز حالات هذه الجماعة المختارة، حالاتها الظاهرة والمضمرة. فلقطة تصور حالتهم مع الكفار ومع أنفسهم: " أشدّاء على الكفّار رحماء بينهم" ولقطة تصور هيئتهم في عبادتهم: " تراهم ركعا سجدا". ولقطة تصور قلوبهم وما يشغلها ويجيش بها: " يبتغون فضلا من الله ورضوانا". ولقطة تصور أثر العبادة والتوجه إلى الله في سمتهم وسحنتهم وسماتهم: " سيماهم في وجوههم من أثر السجود".." ذلك مثلهم في التوراة". وهذه صفتهم فيها.. ولقطات متتابعة تصورهم كما هم في الإنجيل..

" كزرع أخرج شطأه"" فآزره".." فاستغلظ"" فاستوى على سوقه". " يعجب الزراع".." ليغيظ بهم الكفار".

وجاء في سورة البقرة الآية 146: " الَّذِينَ آتَيْناهُمُ الْكِتابَ يَعْرِفُونَهُ كَما يَعْرِفُونَ أَبْناءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقاً مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ".

ونقرأ في تفسير الجلالين- للإمامين جلال الدين المحلّى وجلال الدين السيوطي-: " الذين آتيناهم الكتاب يعرفونه أي محمدا كما يعرفون أبناءهم بنعته في كتبهم قال
এবং তাঁর বাণী: "তারা তা তাদের পিঠের পেছনে ফেলে দিয়েছে" এর অর্থ হলো তারা তা তাদের পিঠের পেছনে বহন করেছে; আর এটি এমন একটি প্রবাদ যা এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় যে কোনো বিষয়কে বর্জন করেছে যা তার স্মরণে ছিল: অমুক ব্যক্তি এই বিষয়টিকে পেছনে ফেলেছে এবং তার পিঠের পেছনে রেখে দিয়েছে, অর্থাৎ এর মাধ্যমে সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, বিমুখ হয়েছে এবং প্রস্থান করেছে ...

এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরম দয়ালু। আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন; তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে। তওরাতে তাদের উদাহরণ এরূপ এবং ইনজিলে তাদের উদাহরণ হলো একটি ফসলের মতো যা থেকে চারা বের হয়, অতঃপর তা শক্ত হয়, এরপর তা পুষ্ট হয় এবং পরে নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠে, যা কৃষকদের চমৎকৃত করে, যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।" (সূরা আল-ফাতহ ২৯)

সাইয়্যেদ কুতুব তাঁর তাফসীরে বলেছেন: "এটি একটি বিস্ময়কর চিত্র যা কুরআনুল কারীম তার অনুপম শৈলীতে অঙ্কন করেছে।

এটি এই মনোনীত দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল অবস্থার কয়েকটি খণ্ডচিত্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি চিত্র, তাদের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অবস্থা। একটি খণ্ডচিত্র কাফিরদের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে তাদের অবস্থাকে চিত্রিত করে: "কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে দয়ালু"; আরেকটি খণ্ডচিত্র তাদের ইবাদতের রূপ চিত্রিত করে: "আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন"; আরেকটি খণ্ডচিত্র তাদের অন্তর এবং যা তাদের অন্তরকে ব্যতিব্যস্ত ও আলোড়িত করে তাকে চিত্রিত করে: "তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে"; এবং একটি খণ্ডচিত্র তাদের আকার-আকৃতি, চেহারা এবং বৈশিষ্ট্যে ইবাদত ও আল্লাহর দিকে একাগ্রতার প্রভাবকে চিত্রিত করে: "তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে..." "তওরাতে এটিই তাদের উদাহরণ।" আর এটিই সেখানে তাদের গুণ... এবং পরবর্তী খণ্ডচিত্রসমূহ তাদেরকে ইনজিলে বর্ণিত অবস্থায় চিত্রিত করে...

"একটি ফসলের মতো যা থেকে চারা বের হয়", "অতঃপর তা শক্ত হয়", "এরপর তা পুষ্ট হয়", "পরে নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠে"। "যা কৃষকদের চমৎকৃত করে", "যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন।"

এবং সূরা আল-বাকারার ১৪৬ নম্বর আয়াতে এসেছে: "যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে (মুহাম্মাদকে) তেমনভাবেই চিনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চিনে। আর নিশ্চয়ই তাদের একটি দল সত্যকে গোপন করে অথচ তারা জানে।"

এবং আমরা তাফসীরে জালালাইন-এ—ইমাম জালালুদ্দিন আল-মহল্লী এবং ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী রচিত—পড়ি: "যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা তাকে চিনে অর্থাৎ মুহাম্মাদকে, যেমন তারা তাদের সন্তানদের চিনে—তাদের কিতাবসমূহে বর্ণিত তাঁর গুণের কারণে; তিনি বলেছেন
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ابن سلام: لقد عرفته حين رأيته كما أعرف ابني ومعرفتي لمحمد صلى الله عليه وسلم أشد وإن فريقا منهم ليكتمون الحق (نعته) وهم يعلمون هذا الذي أنت عليه. "

الآيات القرآنية كثيرة نقتصر منها على ما ذكرنا، وفيما يتعلق بالأحاديث الواردة عن الرسول صلى الله عليه وسلم والآثار عن الصحابة فنكتفي منها بما رواه أحمد في مسنده وابن حبان في صحيحه من أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «إنّي عند الله لخاتم النبيين، وإن آدم لمنجدل في طينته، وسأنبئكم بتأويل ذلك، دعوة أبي إبراهيم وبشارة عيسى قومه، ورؤيا أمي التي رأت حين وضعتني وقد خرج منها نور ساطع أضاءت منه قصور الشام".

ويزداد المسلم إمعانا في الحرص على دراسة موضوع البشارة بمحمد صلى الله عليه وسلم وتشوّفا لتلمّس ملامحه عندما يطّلع على ما كشفه الباحثون من المحققين من بشارات صريحة وضمنية عن مقدم" البشير النذير" صلى الله عليه وسلم.. وقد كتب في شأن هذه البشارات جمع كبير من أهل العلم، وأفضل من فصّل الحديث فيها طائفة من رجال الذين النصارى لبّوا دعوة التوحيد لمّا بزغ نور الهداية في الظلام الدامس الذي ران على قلوبهم، فكتب عبد الأحد داود (دافيد كلداني، سابقا) كتابه" محمد في الكتاب المقدس"، وكتب القسيس المدرّس في كليّة اللاهوت إبراهيم خليل أحمد- رحمه الله" محمد صلى الله عليه وسلم في التوراة والإنجيل والقرآن" وقد توفي منذ فترة قصيرة، وكتب القسيس دوراني: " محمد النبوءة الكتابية".. وغيرهم..

ويعلم النصارى وغيرهم حقيقة خبر محمد في أسفارهم لكنهم يزعمون غير ذلك" وَجَحَدُوا بِها وَاسْتَيْقَنَتْها أَنْفُسُهُمْ ظُلْماً وَعُلُوًّا فَانْظُرْ كَيْفَ كانَ عاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ" (النمل 14) .. وهذا الأمر معلوم مشهور تشهد له وقائع عديدة لا تستوعبها الأسفار الثقال، ولك منّي بعضها:

قال إسحاق هلال مسيحة، رئيس لجنة التنصير بإفريقيا وآسيا، بعد اهتدائه إلى الإسلام، وهو يروي قصة إسلامه: " … ثم عيّنت رئيسا لكنيسة المثال المسيحي بسوهاج، ورئيسا فخريا لجمعيات خلاص النفوس المصرية (وهي جمعية تنصيرية قوية
ইবনে সালাম বলেন: আমি তাকে দেখার সাথে সাথে চিনেছি যেভাবে আমি আমার পুত্রকে চিনি, বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে আমার জ্ঞান আরও সুদৃঢ়। তাদের একটি দল অবশ্যই সত্য (তাঁর গুণাবলি) গোপন করে, অথচ তারা জানে যে আপনি সত্যের ওপর আছেন।

কুরআনের আয়াত অনেক, আমরা যা উল্লেখ করেছি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছি। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস এবং সাহাবীগণের বর্ণনার ক্ষেত্রে আমরা ইমাম আহমাদ কর্তৃক তাঁর মুসনাদে এবং ইবনে হিব্বান কর্তৃক তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হাদিসটি যথেষ্ট মনে করছি, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর নিকট শেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম যখন আদম তাঁর মাটিতে লীন ছিলেন। আমি তোমাদেরকে এর তাৎপর্য জানাব: আমার পিতা ইব্রাহিমের দোয়া, ঈসার দেয়া তাঁর জাতির প্রতি সুসংবাদ এবং আমার মায়ের সেই স্বপ্ন যা তিনি আমাকে প্রসব করার সময় দেখেছিলেন যে, তাঁর থেকে একটি উজ্জ্বল আলো নির্গত হয়েছে যাতে শামের প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।"

একজন মুসলিম মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুসংবাদ সংক্রান্ত বিষয়টি অধ্যয়নে আরও বেশি যত্নশীল এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যাবলি অনুসন্ধানে আরও উৎসুক হয়ে ওঠেন যখন তিনি গবেষক ও পণ্ডিতদের উন্মোচিত সেইসব স্পষ্ট ও পরোক্ষ সুসংবাদ সম্পর্কে জানতে পারেন যা "সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আগমন সম্পর্কে দেওয়া হয়েছে। এই সুসংবাদসমূহের বিষয়ে আলেমদের একটি বড় দল লেখালেখি করেছেন। আর যারা এ বিষয়ে সবচেয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তারা হলেন খ্রিষ্টান ধর্মতাত্ত্বিকদের একটি দল যারা তাওহীদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন যখন তাদের হৃদয়ে ছেয়ে থাকা ঘোর অন্ধকারে হেদায়েতের আলো উদিত হয়েছিল। আব্দুল আহাদ দাউদ (সাবেক ডেভিড কালদানি) তাঁর "মুহাম্মাদ ইন দ্য বাইবেল" গ্রন্থটি রচনা করেন। থিওলজিক্যাল কলেজের শিক্ষক যাজক ইব্রাহিম খলিল আহমদ (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) "তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" গ্রন্থটি লিখেছেন এবং তিনি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেছেন। যাজক দুররানি লিখেছেন: "মুহাম্মাদ দ্য বাইবেল প্রফেসি"... এবং আরও অনেকে।

খ্রিষ্টান ও অন্যরা তাদের ধর্মগ্রন্থগুলোতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর খবরের সত্যতা জানে, কিন্তু তারা অন্যরকম দাবি করে। "তারা অন্যায় ও অহংকারবশত সেগুলো অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল। সুতরাং দেখুন বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল" (আন-নামল: ১৪)। এই বিষয়টি সুবিদিত ও বিখ্যাত যার সাক্ষী হিসেবে অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যা বিশাল গ্রন্থসমূহেও সংকুলান হবে না। আপনার জন্য আমি সেগুলোর কিছু উল্লেখ করছি:

আফ্রিকা ও এশিয়ায় খ্রিষ্টধর্ম প্রচার কমিটির প্রধান ইসহাক হিলাল মাসিহ ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর ইসলাম গ্রহণের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: " … অতঃপর আমি সোহাগের 'মিছাল المسيحي' চার্চের প্রধান এবং মিশরীয় 'আত্মার মুক্তি' সমিতির (যা একটি শক্তিশালী মিশনারি সংস্থা) অনারারি সভাপতি নিযুক্ত হলাম।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
جدا ولها جذور في كثير من البلدان العربية وبالأخص دول الخليج) . وكان البابا يغدق عليّ الأموال حتى لا أعود لمناقشة مثل تلك الأفكار، لكني مع هذا كنت حريصا على معرفة حقيقة الإسلام، ولم يخبو النور الإسلامي الذي أنار قلبي فرحا بمنصبي الجديد بل زاد، وبدأت علاقتي مع بعض المسلمين سرا. وبدأت أدرس وأقرأ عن الإسلام. وطلب منّي إعداد رسالة ماجستير حول مقارنة الأديان وأشرف على الرسالة أسقف البحث العلمي في مصر سنة 1975، واستغرقت في إعدادها أربع سنوات. وكان المشرف يعترض على ما جاء في الرسالة حول صدق نبوّة محمد صلى الله عليه وسلم وأميته وتبشير المسيح بمجيئه. وأخيرا تمّت مناقشة الرسالة في الكنيسة الإنكليكية بالقاهرة واستغرقت المناقشة تسع ساعات وتركزّت حول قضية النبوّة والنبي صلى الله عليه وسلم علما بأنّ الآيات صريحة في الإشارة إلى نبوّته وختم النبوّة به.

وفي النهاية قرّر البابا سحب الرسالة منّي وعدم الاعتراف بها … "!!!

أمّا الواقعة الثانية فقد كان بطلها الدكتور أحمد حجازي السقا، الباحث المعروف في النصرانية، بل أغزر الباحثين المسلمين العرب تأليفا، وتحقيقا للكتب القديمة حول النصرانية.

قال الدكتور في كتابه (أطروحته) " البشارة بنبيّ الإسلام في التوراة والإنجيل" ص 45- 46: " كنت أعدّ رسالة الدكتوراه في كليّة أصول الدين- جامعة الأزهر في موضوع" مجلّة الأزهر وأثرها في الدعوة الإسلامية" في سنّة 1973 م وذات يوم التقيت ب" قمص" نصراني ظنّ أنّي نصراني مثله، لأنّي كنت أقرأ في الكتاب المقدس وأحمل منه نسخة أخرى، لصديق لي.

فسألني قائلا: " أتعرف أنّ الإصحاح الثامن من سفر دانيال النبيّ يشير إلى معركة سنة 1967 م التي حدثت بين المسلمين وبين اليهود في أرض فلسطين؟ ".

قلت: " قد قرأت ذلك في كتاب" إظهار الحق" ولكنّي لم أدرس جيّدا! ".

قال: " أحبّ أن أطّلع عليه! ".

ونزلنا من القطار إلى منزل الشيخ حامد عبد الحميد إبراهيم قلبه، في محطة المطرية بمصر.
...অত্যন্ত এবং অনেক আরব দেশে এর শিকড় রয়েছে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে)। পোপ আমার ওপর অঢেল অর্থ ব্যয় করতেন যাতে আমি এই ধরণের চিন্তাভাবনা নিয়ে পুনরায় আলোচনা না করি, কিন্তু তা সত্ত্বেও আমি ইসলামের প্রকৃত সত্যতা জানার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। আমার নতুন পদমর্যাদার কারণে যে ইসলামি নূর আমার অন্তরকে আনন্দে আলোকিত করেছিল তা স্তিমিত হয়নি বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল, এবং আমি গোপনে কিছু মুসলিমের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলি। আমি ইসলাম সম্পর্কে পড়তে ও গবেষণা করতে শুরু করি। ১৯৭৫ সালে আমার কাছে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের ওপর একটি মাস্টার্স থিসিস তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং মিশরের বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিষয়ক বিশপ এই থিসিসের তত্ত্বাবধান করেন। এটি প্রস্তুত করতে আমার চার বছর সময় লেগেছিল। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের সত্যতা, তাঁর নিরক্ষরতা এবং মসীহ্ কর্তৃক তাঁর আগমনের সুসংবাদ সম্পর্কে থিসিসে যা উল্লেখ করা হয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক তাতে আপত্তি জানাচ্ছিলেন। অবশেষে কায়রোর অ্যাংলিকান চার্চে থিসিসটি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনা নয় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল এবং তা মূলত নবুওয়াত ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিষয়টি কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছিল; যদিও আয়াতসমূহ তাঁর নবুওয়াত এবং তাঁর মাধ্যমে নবুওয়াতের পরিসমাপ্তির ব্যাপারে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করে।

অবশেষে পোপ আমার কাছ থেকে থিসিসটি তুলে নেওয়ার এবং তা স্বীকৃতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন … "!!!

আর দ্বিতীয় ঘটনাটির নায়ক ছিলেন ডক্টর আহমদ হিজাজি আল-সাক্কা, যিনি খ্রিষ্টধর্ম বিষয়ে একজন সুপরিচিত গবেষক, বরং খ্রিষ্টধর্ম বিষয়ক প্রাচীন গ্রন্থগুলোর সংকলন ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে আরব মুসলিম গবেষকদের মধ্যে সর্বাধিক রচনাকারী।

ডক্টর তাঁর (গবেষণাপত্র) "তাওরাত ও ইঞ্জিলে ইসলামের নবীর সুসংবাদ" বইয়ের ৪৫-৪৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আমি ১৯৭৩ সালে আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ দ্বীন অনুষদে 'মাজাল্লাতুল আযহার এবং ইসলামি দাওয়াতে এর প্রভাব' বিষয়ে পিএইচডি থিসিস প্রস্তুত করছিলাম। একদিন আমার এক খ্রিষ্টান 'যাজক' (কোমস)-এর সাথে দেখা হলো, যিনি আমাকে তাঁর মতোই একজন খ্রিষ্টান মনে করেছিলেন; কারণ আমি তখন পবিত্র বাইবেল পড়ছিলাম এবং আমার কাছে আমার এক বন্ধুর জন্য এর আরেকটি কপি ছিল।

তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি জানেন যে, দানিয়েল নবীর পুস্তকের অষ্টম অধ্যায়টি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে যা ফিলিস্তিনের মাটিতে মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল?"

আমি বললাম: "আমি 'ইজহারুল হক' নামক কিতাবে এটি পড়েছি কিন্তু আমি বিষয়টি ভালোভাবে অধ্যয়ন করিনি!"

তিনি বললেন: "আমি এটি দেখতে আগ্রহী!"

অতঃপর আমরা ট্রেন থেকে নেমে মিশরের মাতারিয়া স্টেশনে শেখ হামিদ আব্দুল হামিদ ইব্রাহিম কালবাহ্-এর বাড়িতে গেলাম।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي الطريق سألته: " أمحمد نبيّ المسلمين لا يشير إليه الكتاب المقدّس؟ ".

قال: " يشير إليه في آيات كثيرة. "

ثم سرد لي كثيرا من هذه الآيات.

وفي منزل هذا الشيخ الذي كنت نازلا عليه ضيفا، قرأ ما أراد. ثم انصرف مندهشا لما عرف أنّي مسلم فيما بعد.

وكان بين الشيخ وبين أستاذنا صاحب الفضيلة الدكتور" الشيخ محمد بن محمد أبو شهبة" موعد آخر النهار، فاصطحبني معه. وقصصنا عليه ما حدث فتبسّم ضاحكا وقال: " يعرفونه كما يعرفون أبناءهم" وكررها كثيرا. ثم قال: " وددت لو يكتب أحد رسالة في موضوع: " البشارة بنبيّ الإسلام في التوراة والإنجيل" فشرح الله صدري للذي قال، وتنازلت عن الموضوع الأول. وأشرف هو عليه وساعدني فيه كثيرا.

ومن عجيب المصادفات أنّني التقيت بهذا القمص، واسمه" جرجس سلمون فيلمون" وكيل الدير المحرق في القوصية بأسيوط، في مسجد الجامع الأزهر بعد سنتين من الزمان في حجرة الأساتذة وذكر لي نصوصا أخرى. "

وقد تمّ نشر رسالة الدكتوراه تلك ونشر بعدها الدكتور السقا عدة أبحاث في موضوع البشارة وحده حتى أصبح المجال الأول لكتاباته.

وخذ ثالثة من يهودي..

ذكر الباحث قيس الكلبي في كتابه: " محمد خاتم الرسل في التوراة والإنجيل =Prophet Muhammad the Last Messenger in the Bible ="ص 37 الطبعة السابعة، أنه بينما كان يعدّ كتابه الطويل المليء بالوثائق، والذي أسلم بعد قراءته أكثر من 360 شخص، التقى بأحد مشاهير أحبار اليهود في أمريكا واسمه يعقوب، وناقشه في كلّ أعداد التوراة باللغة العبرية فيما يتعلّق بالبشارة بمحمد صلى الله عليه وسلم. وفي أثناء النقاش، انبثقت شرارة الصدق من اصطلام نار النور في صدر الحبر
পথে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: "মুহাম্মাদ কি মুসলিমদের সেই নবী নন যাঁর প্রতি পবিত্র কিতাব ইঙ্গিত করে না?"

তিনি বললেন: "এটি তাঁর দিকে অনেক আয়াতে ইঙ্গিত করে।"

অতঃপর তিনি আমার কাছে এই আয়াতগুলোর অনেকগুলো বর্ণনা করলেন।

এবং এই শাইখের বাড়িতে, যেখানে আমি মেহমান হিসেবে অবস্থান করছিলাম, তিনি যা চেয়েছিলেন তা পাঠ করলেন। অতঃপর তিনি যখন পরবর্তীতে জানতে পারলেন যে আমি একজন মুসলিম, তখন তিনি বিস্মিত হয়ে ফিরে গেলেন।

এবং দিনের শেষভাগে শাইখ ও আমাদের শিক্ষক সম্মানীয় ডক্টর "শাইখ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আবু শাহবাহ"-এর মধ্যে একটি সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত ছিল, তাই তিনি আমাকে তাঁর সাথে নিয়ে গেলেন। আমরা তাঁর কাছে যা ঘটেছিল তা বর্ণনা করলাম, তখন তিনি মুচকি হাসলেন এবং বললেন: "তারা তাকে চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে" এবং তিনি এটি অনেকবার পুনরাবৃত্তি করলেন। তারপর তিনি বললেন: "আমি চাই যদি কেউ এই বিষয়ে একটি থিসিস লিখে: 'তাওরাত ও ইনজিলে ইসলামের নবীর সুসংবাদ'", তখন আল্লাহ তাঁর কথার প্রতি আমার অন্তরকে প্রশস্ত করে দিলেন এবং আমি প্রথম বিষয়টি ছেড়ে দিলাম। তিনি এটি তত্ত্বাবধান করলেন এবং এতে আমাকে অনেক সাহায্য করলেন।

এক অদ্ভুত কাকতালীয় ব্যাপার হলো যে, আমি এই পাদ্রীর সাথে সাক্ষাৎ লাভ করি—যার নাম "জারজিস সালমান ফিলমুন", আসইউতের কুসিয়াহতে অবস্থিত দাইরুল মুহাররাকের প্রতিনিধি—দুই বছর পর জামে আল-আজহার মসজিদের শিক্ষকদের কক্ষে, এবং তিনি আমাকে আরও কিছু উদ্ধৃতি উল্লেখ করলেন।"

অতঃপর সেই ডক্টরেট থিসিসটি প্রকাশিত হয় এবং এরপর ডক্টর আস-সাক্কা শুধুমাত্র সুসংবাদ বিষয়ের ওপর বেশ কিছু গবেষণা প্রকাশ করেন, এমনকি এটিই তাঁর লেখালেখির প্রধান ক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এবং একজন ইহুদির কাছ থেকে তৃতীয় একটি উদাহরণ গ্রহণ করুন...

গবেষক কায়িস আল-কালবি তাঁর কিতাব: "তাওরাত ও ইনজিলে মুহাম্মাদ শেষ রসূল = Prophet Muhammad the Last Messenger in the Bible"-এর ৩৭ পৃষ্ঠায় (সপ্তম সংস্করণ) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখন তাঁর দলিলপত্রে ভরপুর দীর্ঘ গ্রন্থটি প্রস্তুত করছিলেন—যা পাঠ করার পর ৩৬০ জনেরও বেশি মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে—তখন তিনি আমেরিকায় ইহুদিদের একজন বিখ্যাত রাব্বি, যাঁর নাম ইয়াকুব, তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর সাথে হিব্রু ভাষায় তাওরাতের সমস্ত অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা করেন যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুসংবাদ সংশ্লিষ্ট। আলোচনার মাঝেই রাব্বির বক্ষে নূরের অগ্নিকাণ্ডের দহন থেকে সত্যের স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত হলো।
(খণ্ড: ১) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ফিল কুতুবিল মুকাদ্দাসাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فبكى وذرف الدمع الشحيح، وأقرّ أنه لا شكّ أنّ محمدا صلى الله عليه وسلم هو كموسى عليهما الصلاة والسلام نبي من عند الله..

ولكنّ الرجل لم يسلم!!؟؟

وبعد ذكر هذه الوقائع يحسن بنا أن نقدّم نموذجا آخر لثبوت علم أهل الكتاب ببشارة" الكتاب المقدس" ببعثة محمد صلى الله عليه وسلم، وهو اعتراف صدر من أبي الفتح بن أبي الحسن السامري الذي لم يسلم، بأنّ سلفه من اليهود السامريين* كانوا يعلمون أنّ محمدا صلى الله عليه وسلم هو حقا رسول الله، فقد قال في كتابه" التاريخ مما تقدّم عن الآباء" ص 172 إنّ ثلاثة رجال، أحدهم من اليهود السامريين في نابلس ويسمّى صرماصة، وثانيهم من اليهود العبرانيين في أورشليم ويلقّب بكعب

الأحبار، وثالثهم نصراني راهب ويسمّى عبد السلام. هؤلاء الثلاثة اجتمعوا معا وانطلقوا إلى مقابلة النبي صلى الله عليه وسلم. يقول ما نصّه (وترجمته العربية ركيكة) : " وجاءوا حتى وصلوا إلى المدينة التي هو فيها. وقالوا لبعضهم البعض: من يتقدم أولا؟ فقال كعب الأحبار: أنا. فتقدم إليه وسلّم عليه. فردّ عليه السلام.

وقال له: من أنت من أولاد اليهود؟ فقال له: أنا رجل من مقدمي اليهود، وجدت في توراتي أن يقوم ملك من نسل إسماعيل ويملك الدنيا ولا يقف بين يديه أحد. فتقدّم عبد السلام بعده وقال: هكذا وجدت في الإنجيل. وتقدم إليه صرماصة. وقال له: أنت تدين بدين وسيعة وتملك رقاب العالم".

ثم يقول بعد ذلك ما نصّه: " ومحمد ما أساء إلى أحد من أصحاب الشرائع، وسمعت من لفظ الحكيم وهو نقل عن كاتبه المنقول منه العلامة فاضل الوجود الشيخ نفيس الدين أبو الفرج بن كثار أنّه جاء في نقل السلف عن محمد وهو … الخ".

--------------------------------------------

(*) اليهود فرق عدّة من أشهرها فرقة اليهود السامريين، وهم يعيشون في أيامنا في نابلس في فلسطين. أهمّ مخالفاتهم لبقية اليهود هي أنهم يرفضون الاعتراف بقدسية ما عدا أسفار موسى الخمسة (لمزيد من التفصيل انظر د. عبد الجليل شلبي اليهود واليهودية ص ص 132- 133) .
অতঃপর তিনি কাঁদলেন এবং অঝোরে অশ্রু বিসর্জন দিলেন, আর স্বীকার করলেন যে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূসা আলাইহিস সালামের মতোই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন নবী...

কিন্তু লোকটি ইসলাম গ্রহণ করেনি!!??

এই ঘটনাগুলো উল্লেখ করার পর, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত সম্পর্কে "পবিত্র বাইবেলে" বর্ণিত সুসংবাদ বিষয়ে আহলে কিতাবদের জ্ঞানের সত্যতার অন্য একটি দৃষ্টান্ত পেশ করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে। আর তা হলো আবুল ফাতহ বিন আবিল হাসান আস-সামেরীর পক্ষ থেকে আসা একটি স্বীকৃতি, যিনি নিজেও ইসলাম গ্রহণ করেননি। তিনি স্বীকার করেছেন যে, তাঁর পূর্বপুরুষ সামেরী ইহুদিরা* জানত যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর রাসুল। তিনি তাঁর গ্রন্থ "আত-তারিখু মিম্মা তাকাদ্দামা আনিল আবাই" এর ১৭২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনজন লোক—তাদের একজন নাবলুসের সামেরী ইহুদিদের অন্তর্ভুক্ত যার নাম ছিল সারমাসা, দ্বিতীয়জন জেরুজালেমের হিব্রু ইহুদিদের অন্তর্ভুক্ত যার উপাধি ছিল কাব

আল-আহবার, এবং তৃতীয়জন ছিলেন একজন খ্রিস্টান পাদ্রি যার নাম ছিল আবদুস সালাম। এই তিনজন একত্রিত হলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতে রওনা হলেন। তিনি মূল বক্তব্যটি এভাবে উল্লেখ করেছেন (যার আরবি অনুবাদটি বেশ দুর্বল): "তারা সেই শহরে পৌঁছানো পর্যন্ত চলতে থাকলেন যেখানে তিনি অবস্থান করছিলেন। তারা একে অপরকে বললেন: কে প্রথমে সামনে এগিয়ে যাবে? কাব আল-আহবার বললেন: আমি। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁকে সালাম দিলেন। তিনি তাঁর সালামের উত্তর দিলেন।

তিনি তাঁকে বললেন: ইহুদি সন্তানদের মধ্যে তুমি কে? তিনি তাঁকে বললেন: আমি ইহুদিদের একজন প্রধান ব্যক্তি। আমি আমার তাওরাতে পেয়েছি যে, ইসমাইলের বংশধরদের মধ্য থেকে একজন সম্রাট আবির্ভূত হবেন এবং পুরো পৃথিবী শাসন করবেন, আর তাঁর সামনে কেউ দাঁড়াতে পারবে না। এরপর আবদুস সালাম এগিয়ে এলেন এবং বললেন: আমি ইঞ্জিলেও এমনটিই পেয়েছি। অতঃপর সারমাসা তাঁর কাছে এগিয়ে এলেন এবং তাঁকে বললেন: আপনি এক প্রশস্ত দ্বীন অনুসরণ করছেন এবং আপনি বিশ্বের অধিপতি হবেন।"

এরপর তিনি উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: "মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শরীয়তপন্থীদের কারো প্রতিই কোনো মন্দ আচরণ করেননি। আমি বিজ্ঞ ব্যক্তির মুখ থেকে শুনেছি—যা তাঁর লেখক থেকে বর্ণিত এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে জগতের বিদ্বান শেখ নাফিসুদ্দিন আবুল ফারাজ বিন কাত্তার কর্তৃক—যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে পূর্ববর্তীদের বর্ণনায় এসেছে যে তিনি হলেন … ইত্যাদি।"

--------------------------------------------

(*) ইহুদিদের বেশ কয়েকটি উপদল রয়েছে, যার মধ্যে সামেরী ইহুদিরা অন্যতম প্রসিদ্ধ। বর্তমানে তারা ফিলিস্তিনের নাবলুসে বসবাস করে। অন্যান্য ইহুদিদের সাথে তাদের প্রধান মতবিরোধ হলো, তারা মূসা আলাইহিস সালামের পাঁচটি কিতাব (তওরাত) ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবের পবিত্রতা স্বীকার করতে অস্বীকার করে (আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন— ড. আব্দুল জলীল শালবী, 'আল-ইয়াহুদ ওয়াল ইয়াহুদিয়্যাহ', পৃষ্ঠা: ১৩২-১৩৩)।