(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ألفية السيرة النبوية - نظم الدرر السنية الزكية   (العراقي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: ألفية السيرة النبوية - نظم الدرر السنية الزكية

المؤلف: أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم العراقي (ت 806هـ)

الناشر: دار المنهاج - بيروت

الطبعة: الأولى- 1426 هـ

عدد الصفحات: 175

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাতে নববীর আলফিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাহ আয-যাকিয়্যাহ   (আল-ইরাকী)

বিভাগ: সীরাতে নববী


বই: সীরাতে নববীর আলফিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাহ আয-যাকিয়্যাহ

লেখক: আবু আল-ফদল যাইনুদ্দিন আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইবরাহীম আল-ইরাকী (মৃ. ৮০৬ হিজরী)

প্রকাশক: দারুল মিনহাজ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম- ১৪২৬ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
[الفية السيرة النبوية]

بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌بين يدي الكتاب

الحمد لله الّذي نضّر وجوه أهل الحديث، وجعل منهم حفّاظا للسّنّة بسعيهم الحثيث، فاضت السّنّة عذبة المورد، دانية الجنى، باهرة السّنا.

والصّلاة والسّلام على سيّد ولد عدنان، الّذي أمر بالبيان، فكانت سنّته مفصّلة لما أجمل في القرآن، وعلى آله الغرّ المطهّرين، وصحابته والتّابعين.

 

‌‌أمّا بعد:

فإنّ السّيرة النّبويّة مما تواردت الأقلام على تحريرها، والأفكار على الاستنباط منها، والموفّقون على اقتفاء توجيهاتها، والتّأسّي بأفضل الخلق على الإطلاق صلى الله عليه وآله وسلم؛ لأنّه الإمام المتّبع، والمصطفى المشفّع، ولقد تفنّن أولو العلم في استجلاء تلك الطّلعة البهيّة، والاغتراف من الشّمائل المصطفويّة.

وأهل العلم ما بين ناظم وناثر، ومتوسّع ومختصر، وشارح ومحشّ، والهدف واحد، وإن تنوّعت الأساليب، ألا وهو عرض سيرة المصطفى صلى الله عليه وآله وسلم، وتبيان ما كان عليه من الخلق العظيم، والرّحمة للعالمين.

رحمة كلّه وحزم وعزم … ووقار وهيبة وحياء

ما سوى خلقه النّسيم ولا غي … ر محيّاه الرّوضة الغنّاء

والإعلام بما كان عليه أصحابه من الجدّ والاجتهاد، في مرضاة ربّ العباد، حتّى قدّموا أرواحهم رخيصة في سبيل إعلاء كلمة الله، هذا وإنّ ممّن أدلى فيها بدلوه، وألّف فيها بنظمه: الحافظ زين الدّين عبد الرّحيم بن الحسين العراقيّ الّذي كان شيوخ عصره يشهدون له بالمعرفة؛ ويثنون عليه؛ كالسّبكيّ والعلائيّ
[সীরাতে নববী আলফিয়্যাহ]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আহলে হাদীসদের চেহারাগুলোকে উজ্জ্বল করেছেন এবং তাঁদের অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তাঁদেরকে সুন্নাহর হাফেজ বানিয়েছেন। ফলে সুন্নাহর ঝর্ণাধারা সুমিষ্ট হয়েছে, এর ফলসমূহ নাগালে এসেছে এবং এর আলোকচ্ছটা ভাস্বর হয়েছে।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আদনান-সন্তানদের সরদারের প্রতি, যাঁকে (দ্বীন) বর্ণনা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে; ফলে তাঁর সুন্নাহ কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানকারী হয়েছে। আরও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবী ও তাবেয়ীগণের প্রতি।

 

‌‌অতঃপর:

নিশ্চয়ই সীরাতে নববী এমন এক বিষয়, যা সংকলনে কলমসমূহ অবিরাম সচল থেকেছে, তা থেকে শিক্ষা আহরণে চিন্তাশীলরা নিমগ্ন হয়েছেন, এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীকপ্রাপ্তগণ এর দিকনির্দেশনা অনুসরণ করেছেন এবং সৃষ্টির সেরা সত্তার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; কারণ তিনিই হলেন অনুসরণীয় ইমাম এবং সুপারিশকারী মনোনীত রাসূল। জ্ঞানবান ব্যক্তিরা সেই দীপ্তিময় অবয়ব উন্মোচনে এবং মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলী আহরণে নিপুণতা প্রদর্শন করেছেন।

আলেমগণ কেউ কাব্যাকারে, কেউ গদ্যাকারে, কেউ বিস্তারিতভাবে, কেউ সংক্ষেপে, কেউ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে আবার কেউ টীকা আকারে এটি পরিবেশন করেছেন। যদিও পদ্ধতি ভিন্ন ভিন্ন, কিন্তু উদ্দেশ্য একই; আর তা হলো মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত উপস্থাপন করা এবং তাঁর মহান চরিত্র ও বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ হওয়ার দিকটি ফুটিয়ে তোলা।

তিনি আপাদমস্তক রহমত, দৃঢ়তা ও সংকল্প … এবং গাম্ভীর্য, প্রভাব ও লজ্জায় পূর্ণ

সুশীতল বাতাস তাঁর চরিত্র ছাড়া আর কিছু নয় … আর সুশোভিত কানন তাঁর আনন্দোজ্জ্বল চেহারা বৈ কিছু নয়

এবং তাঁর সাহাবীগণ সৃষ্টির রবের সন্তুষ্টি অর্জনে যে কঠোর পরিশ্রম ও সাধনা করেছেন তা জানানো, এমনকি তাঁরা আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার পথে নিজেদের প্রাণকে তুচ্ছ জ্ঞান করে বিলিয়ে দিয়েছেন। এই বিষয়ে যাঁরা অবদান রেখেছেন এবং কাব্যাকারে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন হাফেজ যয়নুদ্দীন আবদুর রহীম বিন হুসাইন আল-ইরাকী, যাঁর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য তাঁর সমসাময়িক শায়খগণ দিয়েছেন এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন; যেমন সুবকী এবং আলায়ী।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وابن كثير وغيرهم، حتّى إنّ الإسنويّ وصفه بقوله: (حافظ العصر) ؛ إذ له مؤلفات بديعة في الحديث وعلومه، منها: «الألفية» الّتي اشتهرت في الآفاق، وشرحها جمع من أهل العلم، وتخريج أحاديث «الإحياء» الموسوم ب «المغني عن حمل الأسفار في الأسفار» وغيرهما.

ومن ذلك: «ألفيّة رجزيّة في السّيرة النّبويّة» ، وهي من مهمّات المتون، وبدائع الفنون؛ لما تمّيزت به من ضبط محرر للأحداث، ودقّة في تواريخ الغزوات والسّرايا، لا سيّما والنّاظم قد أملاها في الرّوضة النّبويّة الشّريفة على فئة من محدثي عصره، وجماعة من المعنيّين بهذه الفنون، فهي بحقّ من الإتحافات السّنيّة، والمتون الرّجزيّة المفيدة، لذلك فهي قمنة بالاقتناء، جديرة بالاعتناء.

وفي أثناء كتابة هذه الأحرف وبينما الكتاب ماثل للطبع.. انتقل إلى جوار ربّه الإمام العلم الّذي تناقلت الأقطار مناقبه وآثاره، وأشارت أكفّ الفضل إليه؛ السّيّد محّمد بن علويّ بن عبّاس المالكيّ، فكان من ترتيب الأقدار لهذا الكتاب المبارك: أن يكون تحقيقه والتّعليق عليه آخر أعمال الإمام المالكيّ العلميّة، والّتي طرّزت بها أنامله هذا السّفر المبارك، فبارك الله تعالى في هذه «الألفيّة» ، وعمّ بها النّفع، إنّه سميع مجيب.

وقد جرّدت دار المنهاج عزمها لإخراج «ألفيّة السّيرة» في أجمل إهاب، وأحسن جلباب، وتفنّنت في إخراجها بالشّكل المرضيّ، وذهبت في ذلك إلى الشّأو القصيّ، بحيث يسرّ العيون منظرها، ويبهج الأفكار مخبرها، لا سيّما وقد التقى على صفحات هذا السّفر علمان محدّثان، قديم ومعاصر، والله تعالى ينفع به.

النّاشر

جدة في (21) رمضان (1425 هـ)

(4) تشرين 2 (2004 م)
ইবনে কাসীর এবং অন্যান্যরা, এমনকি আল-ইসনাবী তাকে এই বলে বর্ণনা করেছেন যে: (তিনি যুগের হাফিজ বা শ্রেষ্ঠ হাদীস বিশারদ); কারণ হাদীস এবং এর শাস্ত্রসমূহে তার অনন্য সাধারণ সব রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: ‘আল-আলফিয়া’ যা বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং উলামায়ে কিরামের এক বিশাল জামাত এর ব্যাখ্যা লিখেছেন, এছাড়া ‘আল-ইহয়া’র হাদীসসমূহের তাখরীজ (সূত্রায়ন) যা ‘আল-মুগনী আন হামলিল আসফার ফিল আসফার’ নামে পরিচিত এবং আরও অনেক গ্রন্থ।

তন্মধ্যে একটি হলো: ‘আলফিয়্যাহ রাজজিয়্যাহ ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ’ (রাজাজ ছন্দে সীরাত বিষয়ক আলফিয়া), যা গুরুত্বপূর্ণ মূলপাঠ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক অনন্য শিল্পকর্ম; কারণ এটি সীরাতের ঘটনাবলির নিখুঁত বিন্যাস এবং বিভিন্ন যুদ্ধ ও ছোট সামরিক অভিযানের (গাজওয়াত ও সারায়া) তারিখের সূক্ষ্মতার কারণে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। বিশেষ করে যেহেতু এর রচয়িতা এটি মসজিদে নববীর রওজা শরীফে বসে তাঁর সমসাময়িক একদল মুহাদ্দিস এবং এই বিদ্যায় অভিজ্ঞদের সামনে মুখে মুখে পাঠ করে লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন। তাই এটি প্রকৃতপক্ষে এক মহান উপহার এবং ছন্দবদ্ধ অত্যন্ত উপকারী মূলপাঠ; যার কারণে এটি সংগ্রহ করা ও যত্ন সহকারে পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি।

যখন এই বাক্যগুলো লেখা হচ্ছিল এবং বইটি যখন মুদ্রণের অপেক্ষায় ছিল... ঠিক তখনই সেই মহান ইমাম আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যান, যাঁর মর্যাদা ও কীর্তি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শ্রেষ্ঠত্বের সকল নিদর্শন যাঁর প্রতি ইঙ্গিত করে; তিনি হলেন সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন আলাউই বিন আব্বাস আল-মালিকী। এই বরকতময় কিতাবের ক্ষেত্রে এটি তাকদীরের এক অপূর্ব ফয়সালা ছিল যে, এর সম্পাদনা (তাহকীক) ও টীকা প্রদান (তালীক) ইমাম মালিকীর জীবনের সর্বশেষ ইলমী কাজ হিসেবে গণ্য হয়েছে, যার মাধ্যমে তাঁর আঙ্গুলসমূহ এই মোবারক গ্রন্থটিকে অলঙ্কৃত করেছে। মহান আল্লাহ এই ‘আলফিয়া’তে বরকত দান করুন এবং এর দ্বারা ব্যাপক উপকার পৌঁছে দিন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী।

দারুল মিনহাজ এই ‘সীরাত আলফিয়া’ গ্রন্থটিকে অত্যন্ত সুন্দর অবয়বে ও সর্বোত্তম সাজে প্রকাশের সংকল্প গ্রহণ করেছে। তারা এটিকে সন্তোষজনক রূপে প্রকাশে সর্বোচ্চ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে এবং এক্ষেত্রে চরম উৎকর্ষতা অর্জন করেছে, যাতে এর দৃশ্যপট চক্ষুসমূহকে শীতল করে এবং এর অভ্যন্তরীণ জ্ঞান চিন্তা ও চেতনাকে আনন্দিত করে। বিশেষ করে যেহেতু এই গ্রন্থের পাতায় দুই জন শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসের মিলন ঘটেছে—একজন প্রাচীন এবং অপরজন সমকালীন। মহান আল্লাহ এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করুন।

প্রকাশক

জেদ্দা, (২১) রমজান (১৪২৫ হিজরি)

(৪) নভেম্বর (২০০৪ খ্রিস্টাব্দ)
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم

بقلم السيد أحمد بن محمد بن علوي المالكي الحسني

الحمد لله ربّ العالمين، والصلاة والسلام الأكملان على سيد الأولين والآخرين، سيدنا وشفيعنا وقائدنا محمد بن عبد الله، وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

‌‌أما بعد:

فإن مما نحمد الله عليه، ونشكره ونثني عليه الخير كله، أن جعل ميراثنا خير ميراث ورّثه لنا آباؤنا وهو العلم، فنشأنا بحمد الله وعظيم فضله في أحضانه، وبين أربابه وطلابه، فنهلنا من معين صاف مورده، وربينا على حبّ وعشق لمصدره.

لقد ربّانا والدنا وقدوتنا سيدي الوالد العلامة المحدث السيد محمد بن علوي المالكي رحمه الله رحمة واسعة، وأعلى مقامه في عليين، وجمعنا وإياه مع سيد المرسلين، سيدنا محمد وآله وصحبه، وجميع أنبيائه وأوليائه في الفردوس الأعلى، آمين يا رب العالمين، أقول: ربّانا رحمه الله تعالى على العيش على منهج وسيرة سيد المرسلين، وشغل أوقاتنا وأفكارنا مع أرواحنا في سيرة هذا النبي العظيم، الرؤوف الرحيم، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين، لتكون النبراس الذي لا يغيب عن أعيننا وأرواحنا، فتعيش سيرته العطرة في أحشائنا، وتسري محبته في عروقنا؛ لتغذي جميع جوارحنا، فتغدو موئل عزّنا، ومنار فخرنا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌উপস্থাপনা

আস-সাইয়্যেদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলাউই আল-মালিকি আল-হাসানির কলমে

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর পূর্ণাঙ্গ সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্বাপর সকলের সরদার, আমাদের নেতা, সুপারিশকারী ও পথপ্রদর্শক মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

 

‌‌অতঃপর:

আল্লাহর নিকট আমরা যে বিষয়ে প্রশংসা করি, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং তাঁরই যাবতীয় কল্যাণের গুণগান করি, তা হলো—তিনি আমাদের উত্তরাধিকারকে এমন শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার বানিয়েছেন যা আমাদের পিতৃপুরুষগণ আমাদের জন্য রেখে গেছেন, আর তা হলো ইলম বা জ্ঞান। ফলে আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সুমহান অনুগ্রহে আমরা এরই কোলে এবং এর পণ্ডিত ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বেড়ে উঠেছি। আমরা এর স্বচ্ছ প্রস্রবণ থেকে পান করেছি এবং এর উৎসের প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগের ওপর লালিত-পালিত হয়েছি।

আমাদের পিতা ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতা আল্লামা মুহাদ্দিস আস-সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ ইবনে আলাউই আল-মালিকি—আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন, ইল্লিয়্যিনে তাঁর মর্যাদাকে উন্নত করুন এবং আমাদের ও তাঁকে রাসূলগণের সরদার আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং তাঁর সকল নবী ও ওলীদের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসে একত্রিত করুন, কবুল করুন হে জগৎসমূহের প্রতিপালক—আমি বলছি: তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমাদের রাসূলগণের সরদারের আদর্শ ও জীবনী অনুযায়ী জীবন অতিবাহিত করার ওপর গড়ে তুলেছেন। তিনি আমাদের সময়, চিন্তা ও আত্মাকে এই মহান, অতিশয় দয়ালু ও পরম করুণাময় নবীর (তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) সীরাত বা জীবনীর সাথে ব্যাপৃত রেখেছেন, যাতে এটি এমন এক প্রদীপ হয় যা আমাদের চোখ ও আত্মা থেকে কখনো আড়াল না হয়। ফলে তাঁর সুগন্ধিময় সীরাত আমাদের অন্তরে জীবন্ত থাকে এবং তাঁর ভালোবাসা আমাদের ধমনীতে প্রবাহিত হয়; যা আমাদের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পুষ্ট করে এবং আমাদের সম্মানের আশ্রয়স্থল ও গর্বের বাতিঘরে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
لقد كان رحمه الله تعالى مشتغلا دوما بعرض سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم في كل أوقاته، ومؤلفاته، ومحاضراته، ومحاوراته، ومناقشاته مع محبّيه ومخالفيه، ومما ختم الله له به آخر أعماله، اشتغاله بالتعليق على منظومة الإمام الزين العراقي المتوفّى سنة (806 هـ) المسمّاة ب: «الدّرر السنية في نظم السير الزكية» ، والتي اصطلح على تسميتها ب: «ألفية الإمام العراقي في السيرة» ، تمييزا لها عن ألفيته في علوم الحديث.

لقد كانت آخر ما كتبه بخطه الشريف تعليقا على بعض مواضع في هذه المنظومة، قبل وفاته رحمه الله تعالى بيوم واحد فقط، فوجدنا أنه من البرّ به، وتحقيقا لأمنيته في إبراز هذه المنظومة لطلبة العلم، ومحبي سيرة المصطفى ص أن تخرج هذه الطبعة بما يليق بها، وتتحقق بذلك بغية والدنا السيد الإمام رحمه الله تعالى، وسعيت في المشاركة في ثواب نشر العلم، وبرّ الوالد السيد الإمام رحمه الله تعالى أن أكتب ما تعلق في خاطري من معين دروس وكلام السيد الوالد، مع التماس العذر في عدم الاستيفاء في ذلك؛ لتكدر الخاطر وانشغاله، والله المعين على ذلك.

فأقول: إنّ مما سمعته منه رحمه الله تعالى في أحد دروسه التي تكلم فيها على عظم تعلم سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم، ومعايشة أحوال تلك السيرة، أنها تهذب النفوس، وتبين الطريق الواضح المبين للمعاملات بين الناس، سواء الدينية أو الدنيوية، فمنها نتعلم كيف نعامل من خالفنا، وكيف نحكم تصرفاتنا، وكيف يعلم بعضنا بعضا، وكيف يرشده وينصحه، وكيف نتعلم أمور ديننا، وكيف نقيم الحدود ونأمر بالمعروف وننهى عن المنكر، ونعرف حقوق بعضنا، والأمور التي تحكم سير المجتمع، وكيف نعالجه، إلى غير ذلك من مقومات المجتمع الإسلامي.

لقد صادف حديثه ذلك حدوث بعض ما يؤلم في بعض المجتمعات الإسلامية
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি সর্বদা তাঁর সকল সময়ে, তাঁর গ্রন্থাবলিতে, তাঁর বক্তৃতা, কথোপকথন এবং তাঁর অনুরাগী ও বিরোধীদের সাথে বিতর্কের মাঝে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত উপস্থাপনে মগ্ন থাকতেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর জীবনের সর্বশেষ কাজ হিসেবে যা সমাপ্ত করিয়েছেন তা হলো—ইমাম যাইনুল ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরী) রচিত ‘আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফি নাযমিস সিয়ারিয যাকিয়্যাহ’ নামক কাব্যগ্রন্থের ওপর তাঁর টীকা রচনার কাজ, যা হাদীস শাস্ত্রের তাঁর রচিত আলফিয়্যাহ থেকে পৃথক করার জন্য ‘সীরাত বিষয়ে ইমাম ইরাকির আলফিয়্যাহ’ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর ইন্তেকালের মাত্র একদিন আগে এই কাব্যগ্রন্থের কিছু নির্দিষ্ট স্থানে তাঁর পবিত্র হাতে লিখিত টীকাটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ রচনা। তাই আমরা তাঁর প্রতি সদাচরণ স্বরূপ এবং ইলম অন্বেষী ও মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত অনুরাগীদের সামনে এই কাব্যগ্রন্থটি ফুটিয়ে তোলার যে আকাঙ্ক্ষা তাঁর ছিল তা পূরণকল্পে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই সংস্করণটি যেন তার যথাযথ মর্যাদায় প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে আমাদের পিতা সাইয়্যেদ ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে। আমি ইলম প্রচারের সওয়াবে অংশগ্রহণ এবং পিতা সাইয়্যেদ ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি সদাচরণের লক্ষে সাইয়্যেদ পিতার অমূল্য দরস ও কথা থেকে আমার স্মৃতিতে যা সঞ্চিত আছে তা লেখার প্রয়াস পেয়েছি। তবে মনের অস্থিরতা ও ব্যস্ততার কারণে সবটুকু পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে না পারায় ক্ষমা চাচ্ছি; আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী।

আমি বলছি: আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর কোনো এক দরসে আমি তাঁকে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত শিক্ষার মাহাত্ম্য এবং সেই সীরাতের আদর্শে জীবন গড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছিলাম। তিনি বলতেন যে, এটি নফসকে পরিশুদ্ধ করে এবং মানুষের মধ্যকার ধর্মীয় ও পার্থিব যাবতীয় লেনদেন ও আচরণের স্পষ্ট পথ বাতলে দেয়। সীরাত থেকেই আমরা শিখি যে আমাদের বিরোধীদের সাথে কেমন ব্যবহার করতে হয়, কীভাবে আমাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, কীভাবে আমরা একে অপরকে শিক্ষা দেব, কীভাবে সৎপথ প্রদর্শন ও নসিহত করব, কীভাবে আমরা আমাদের দ্বীনি বিষয়াদি শিখব, কীভাবে দণ্ডবিধি (হুদুদ) কায়েম করব, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করব, একে অপরের অধিকার চিহ্নিত করব এবং সেই সব বিষয় অবগত হব যা সমাজের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে ও তার সমস্যার সমাধান দেয়। এভাবেই ইসলামি সমাজের যাবতীয় ভিত্তি আমরা সীরাত থেকে অর্জন করি।

তাঁর এই আলোচনার সময়টি কিছু মুসলিম সমাজে ঘটে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক কিছু ঘটনার সাথে মিলে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
من تعد وفتن؛ فكانت مناسبة لبيان مفرزات البعد عن معرفة وفهم سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم.

ومن ذلك أيضا: تكراره رحمة الله عليه على جميع محبّيه ومن يسمع حديثه، أو يتابع دروسه: أن يشتغل بتدبر ومعرفة دقائق ومواقف سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم، لتربية النفس وردعها عن ما قد لا يرضاه الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، فقد كان عندما يقوم أحد بسؤاله عن فعل شيء أو تركه يربطه بقوله له: هل يرضى هذا حبيبك المصطفى صلى الله عليه وسلم؟!

كان رحمه الله تعالى يحث على تنشئة الصغار على معرفة سيرة المصطفى ص ومحبته، وشغل الوقت بقراءة ما يتصل بذلك، وعمل في ذلك كتابه «تاريخ الحوادث والأحوال النبوية» ضمن سلسلة (العلم والمعرفة للشباب) فصاغه بأسلوبه الماتع الشيق في سيرة مختصرة رزقت القبول لدى الصغار والكبار، بجميع فئاتهم وتوجهاتهم.

إنّ تعلم السيرة النبوية وفهم مجريات أحداثها وأحوالها أعظم طريق لبناء مجتمع إسلامي يعرف هدفه ومسؤوليته، ويسلك المنهج الأسمى مستضيئا بها، لأنها معين لا ينضب، وشمس لا تغرب، ومعرفة تقصر الهمم عن إدراك منتهاها، سيرة تحمل جميع معطيات الأمن والأمان، والتهذيب والعرفان، وتغني عن جميع غيرها من السير القاصرة في معطياتها، القاحلة من مكارم الأخلاق.

فشكر الله سعي والدي الإمام السيد محمد بن علوي المالكي، وأثابه من فضله وسعة منّه جزاء ما عمل على غرسه والعمل على جني ثمره، حبّا وتعظيما لجناب الشفيع المشفّع صلى الله عليه وسلم، وأنالنا من فضل جوده وكرمه ما يجعلنا قرّة عين لحبيبنا المصطفى صلى الله عليه وسلم.

ختاما.. أسأل العلي القدير أن يبارك في بيت آل المالكي وعقبهم جميعا، ويجعل سره فينا إلى يوم نلقاه، آمين.
সীমা লঙ্ঘন ও ফিতনার সেই সময়ে; যা মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত জানা ও বোঝার দূরত্ব থেকে উদ্ভূত বিষয়গুলো স্পষ্ট করার একটি উপযুক্ত উপলক্ষ ছিল।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সকল অনুরাগী এবং যারা তাঁর কথা শোনেন বা তাঁর পাঠ অনুসরণ করেন, তাদের প্রতি তাঁর বারবার এই নসিহত করা: মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের সূক্ষ্ম বিষয় ও ঘটনাবলি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা ও তা জানার কাজে আত্মনিয়োগ করা, যাতে নফসকে সংশোধন করা যায় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা অপছন্দ করেন তা থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রাখা যায়। যখনই কেউ তাঁকে কোনো কাজ করা বা বর্জনের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করত, তিনি তাকে এই বলে সম্পৃক্ত করতেন: "তোমার প্রিয়তম মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এতে সন্তুষ্ট হবেন?!"

তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ছোটদের মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত শিক্ষা ও তাঁর প্রতি ভালোবাসার ওপর গড়ে তোলার প্রতি উৎসাহ দিতেন এবং এ সংক্রান্ত পড়াশোনায় সময় ব্যয় করার তাগিদ দিতেন। এ লক্ষ্যেই তিনি (তরুণদের জন্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞা) সিরিজের অন্তর্ভুক্ত তাঁর 'তারিখুল হাওয়াদিস ওয়াল আহওয়ালিন নববিয়্যাহ' (নবী জীবনের ঘটনাবলি ও অবস্থার ইতিহাস) বইটি রচনা করেন। তিনি এটি তাঁর সাবলীল ও আকর্ষণীয় শৈলীতে একটি সংক্ষিপ্ত সীরাত হিসেবে সংকলন করেছেন, যা সকল শ্রেণি ও মতাদর্শের ছোট-বড় সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

নিশ্চয়ই সীরাতুন্নবী শিক্ষা করা এবং এর ঘটনাবলি ও অবস্থাসমূহ অনুধাবন করা একটি ইসলামি সমাজ গঠনের মহত্তম পথ, যা নিজের লক্ষ্য ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং এর আলোয় আলোকিত হয়ে সর্বোত্তম পথ অনুসরণ করে। কারণ, এটি এক অফুরন্ত প্রস্রবণ, এক উদিত সূর্য যা কখনও অস্ত যায় না এবং এমন এক জ্ঞান যার শেষ সীমায় পৌঁছাতে মানবীয় সংকল্পও হার মানে। এটি এমন এক সীরাত যা শান্তি, নিরাপত্তা, শিষ্টাচার ও আধ্যাত্মিকতার যাবতীয় উপাদান বহন করে এবং এটি অন্য সকল অসম্পূর্ণ ও চারিত্রিক মাধুর্যহীন জীবনীর প্রয়োজনীয়তা দূর করে।

অতএব, আল্লাহ তাআলা আমার পিতা ইমাম সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন আলাভী আল-মালিকীর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও অবারিত করুণা থেকে তাঁকে সেই প্রতিদান দান করুন যা তিনি রোপণ করেছেন এবং যার ফল আহরণে সচেষ্ট ছিলেন; যা ছিল সুপারিশকারী ও মাকবুল শাফায়াতকারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। আর আল্লাহ আমাদের তাঁর দান ও বদান্যতা দ্বারা সিক্ত করুন যা আমাদের প্রিয়তম মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নয়ন জুড়ানো করে তুলবে।

পরিশেষে... আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি আল-মালিকী পরিবার এবং তাদের সকল উত্তরসূরির ওপর বরকত নাযিল করুন এবং আমাদের মাঝে তাঁর বিশেষ অনুগ্রহকে তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত অব্যাহত রাখুন। আমিন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌اعتناء العلماء ب «ألفية السيرة»

تظهر أهميّة هذا النظم الجليل بكثرة اعتناء أهل العلم به، فقد قام علماء أجلّة بالعناية به شرحا وتحشية؛ لإظهار فوائده، وإيضاح فرائده، وتزيين قلائده، وممّن قام بذلك:

1- الشّيخ محبّ الدّين محمّد بن أحمد بن محمّد بن الهائم (ت 798 هـ) ، «الغرر المضيّة في شرح نظم الدّرر السّنيّة» ، مخطوط «1» .

2- الإمام العلّامة شهاب الدين أحمد بن حسين بن حسن بن علي ابن أرسلان الرملي الشافعي (ت 844 هـ) ، «شرح ألفية العراقي في السيرة» «2» .

3- العلّامة المحدّث عبد الرؤوف بن تاج الدّين علي المناوي (ت 1031 هـ) ، «الفتوحات السّبحانية في شرح نظم الدّرّة السّنيّة» ، طبع بعنوان «العجالة السّنيّة على ألفيّة السّيرة النّبويّة» ، وهو أشهر شروح «الدّرر السّنيّة» .

4- شيخ المالكيّة الإمام نور الدّين علي بن محمّد بن عبد الرّحمن الأجهوري (ت 1066 هـ) ، «شرح الدّور السّنيّة في نظم السّيرة النّبويّة» ، مطبوع في مصر «3» .

5- الفقيه الشّيخ ياسين بن محمّد الخليلي، المعروف بابن غرس (ت 1086 هـ) ، «الفوائد البهيّة على الدّرر السّنيّةُ في نظم السّيرة الزّكيّة» ، مخطوط «4» .

--------------------------------------------

(1) الأعلام (5/ 329) .

(2) الضوء اللامع (1/ 285) .

(3) بعناية وإشراف الدكتور علي جمعة محمد مفتي الديار المصرية.

(4) قائمة بالمخطوطات العربية في مكتبة جامعة برنستون (ص 213) .
‘আলফিয়াতুস সিরাহ’-এর প্রতি আলেমদের গুরুত্বারোপ

এই মহান কাব্যগ্রন্থের গুরুত্ব প্রকাশ পায় এর প্রতি জ্ঞানীদের (আলেমদের) অধিক গুরুত্বারোপের মাধ্যমে। প্রথিতযশা আলেমগণ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারাহ) এবং পাদটীকা (হাশিয়া) রচনার মাধ্যমে এর যত্ন নিয়েছেন; যেন এর উপকারিতাগুলো ফুটিয়ে তোলা যায়, এর অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট করা যায় এবং এর বিষয়বস্তুকে সুশোভিত করা যায়। আর যারা এই কাজ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১- শায়খ মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাইম (মৃত্যু: ৭৯৮ হি.), ‘আল-গুরারুল মুদিয়্যাহ ফি শারহি নাজমিল দুরারিস সুন্নিয়্যাহ’, পাণ্ডুলিপি «১»।

২- ইমাম আল্লামা শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবনে হুসাইন ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আরসালান আর-রামলি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু: ৮৪৪ হি.), ‘শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি ফিস সিরাহ’ «২»।

৩- আল্লামা মুহাদ্দিস আবদুর রউফ ইবনে তাজউদ্দীন আলী আল-মুনাভি (মৃত্যু: ১০৩১ হি.), ‘আল-ফুতুহতুস সুবহানিয়্যাহ ফি শারহি নাজমিদ দুররাতিস সুন্নিয়্যাহ’, এটি ‘আল-উজ্যালাতুস সুন্নিয়্যাহ আলা আলফিয়াতিল সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ’ শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি ‘আদ-দুরারুস সুন্নিয়্যাহ’-এর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৪- মালিকি মাজহাবের শায়খ ইমাম নূরুদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আজহুরি (মৃত্যু: ১০৬৬ হি.), ‘শারহুদ দুরারিস সুন্নিয়্যাহ ফি নাজমিস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ’, মিশরে মুদ্রিত «৩»।

৫- ফকিহ শায়খ ইয়াসিন ইবনে মুহাম্মদ আল-খলিলি, যিনি ইবনে গারস নামে পরিচিত (মৃত্যু: ১০৮৬ হি.), ‘আল-ফাওয়াইদুল বাহিয়্যাহ আলাদ দুরারিস সুন্নিয়্যাহ ফি নাজমিস সিরাতিয যাকিয়্যাহ’, পাণ্ডুলিপি «৪»।

--------------------------------------------

(১) আল-আলাম (৫/৩২৯)।

(২) আদ-দাউল লামে (১/২৮৫)।

(৩) মিশরের মুফতি ডক্টর আলী জুমা মুহাম্মাদের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায়।

(৪) প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আরবি পাণ্ডুলিপির তালিকা (পৃষ্ঠা: ২১৩)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
6- الشّيخ محمّد بن أحمد البرلّسي المالكي (ت 1097 هـ) ، «البدر المنير في شرح سيرة البشير النّذير» ، مخطوط «1» .

7- الشّيخ أبو إسحاق إبراهيم بن مرعي بن عطية الشّبرخيتي المالكي (ت 1106 هـ) ، «شرح ألفيّة العراقي في السّيرة» ، مخطوط «2» .

8- العلّامة أبو الصّفاء إبراهيم بن مصطفى الحلبي، عرف بالمداري (ت 1190 هـ) ، «شرح نظم السّيرة النّبويّة» ، مخطوط.

9- الشّيخ أبو عبد الله محمّد الطّيّب بن عبد المجيد بن عبد السّلام بن كيران (ت 1227 هـ) ، «شرح ألفيّة العراقي في السّيرة» ، مخطوط «3» .

10- الشّيخ علي بن الحسين السعاوي، كان حيّا سنة (1292 هـ) ، «الغرر العليّة في شرح الدّرر السّنيّة في نظم السيرة النبوية» ، مخطوط «4» .

11- العالم عبد الله بن إيبيه الديماني (ت 1328 هـ) ، «جامع السّيرة في شرح ألفيّة العراقي» .

12- الشّيخ أحمد بن محمّد بن أحمد الحسني الشّنقيطي (القرن الرابع عشر) ، «شرح ألفيّة زين الدّين العراقي في السّيرة» .

--------------------------------------------

(1) فهرس الكتب الموجودة بالمكتبة الأزهرية (8/ 258) .

(2) هدية العارفين (1/ 36) .

(3) فهرس الخزانة العلمية الصبيحية بسلا- المغرب (ص 83) .

(4) فهرس المخطوطات العربية في مكتبة الأوقاف العامة في بغداد (1/ 354) .
৬- শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-বুরুল্লুসি আল-মালিকি (মৃত্যু ১০৯৭ হিজরি), «আল-বাদরুল মুনির ফি শারহি সিরাতিল বাশিরিন নাজির», পাণ্ডুলিপি «১»।

৭- শাইখ আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মারয়ি ইবনে আতিয়্যাহ আশ-শুবরাখিতি আল-মালিকি (মৃত্যু ১১০৬ হিজরি), «শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি ফিস সিরাহ», পাণ্ডুলিপি «২»।

৮- আল্লামা আবুস সাফা ইবরাহিম ইবনে মুস্তফা আল-হালাবি, যিনি আল-মাদারি নামে পরিচিত (মৃত্যু ১১৯০ হিজরি), «শারহু নাজমিস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ», পাণ্ডুলিপি।

৯- শাইখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আত-তাইয়্যিব ইবনে আব্দুল মাজিদ ইবনে আব্দুল সালাম ইবনে কিরান (মৃত্যু ১২২৭ হিজরি), «শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকি ফিস সিরাহ», পাণ্ডুলিপি «৩»।

১০- শাইখ আলি ইবনে আল-হুসাইন আস-সাআবি, ১২৯২ হিজরি সনে জীবিত ছিলেন, «আল-গুরারুল আলিয়্যাহ ফি শারহিদ দুরারিস সানিয়্যাহ ফি নাজমিত সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ», পাণ্ডুলিপি «৪»।

১১- আলিম আবদুল্লাহ ইবনে আইবিহ আদ-দাইমানি (মৃত্যু ১৩২৮ হিজরি), «জামি'উস সিরাহ ফি শারহি আলফিয়্যাতিল ইরাকি»।

১২- শাইখ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-হাসানি আশ-শিনকিতি (চতুর্দশ শতাব্দী), «শারহু আলফিয়্যাতি জয়নুদ্দিন আল-ইরাকি ফিস সিরাহ»।

--------------------------------------------

(১) আল-আজহার লাইব্রেরিতে বিদ্যমান বইসমূহের ক্যাটালগ (৮/ ২৫৮)।

(২) হাদিয়াতুল আরিফিন (১/ ৩৬)।

(৩) মরক্কোর সলা-তে অবস্থিত আস-সাবিহিয়্যাহ ইলমি লাইব্রেরির ক্যাটালগ (পৃ. ৮৩)।

(৪) বাগদাদের সাধারণ ওয়াকফ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আরবি পাণ্ডুলিপিসমূহের ক্যাটালগ (১/ ৩৫৪)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ترجمة الحافظ العراقيّ رحمه الله تعالى

 

‌‌اسمه ونسبه

هو الإمام العلّامة الحافظ الكبير زين الدّين أبو الفضل عبد الرّحيم بن الحسين بن عبد الرّحمن، العراقيّ الأصل، المهرانيّ المولد، المصري، الشّافعيّ.

 

‌‌مولده ونشأته

ولد في الحادي والعشرين من جمادى الأولى سنة خمس وعشرين وسبع مئة بمنشيّة المهراني على شاطىء النّيل، من أبوين صالحين عابدين، وتوفي والده وهو في الثّالثة من عمره.

حفظ القرآن الكريم وهو ابن ثمان، و «التّنبيه» ، وأكثر «الحاوي» ، و «الإلمام» ، وكان أوّل اشتغاله في علم القراآت، ونظر في الفقه وأصوله، وتقدّم فيهما بحيث كان الإسنوي يثني على فهمه، ويستحسن كلامه ويصغي لمباحثه.

ثمّ أقبل على علم الحديث بإشارة من العزّ ابن جماعة، فأخذ عن علماء بلده، ثمّ سافر لطلب الحديث في بلاد الشّام وغيرها. وكان كثير الحجّ والمجاورة بمكّة المكرّمة، واجتهد ونسه وقرأ وسمع حتّى صار حافظ الوقت كما قال عنه أقرانه.

 

‌‌شيوخه

وهم خلق كثير، منهم:

- العلّامة المقرىء محمّد بن أبي الحسن بن عبد الملك بن سمعون.
হাফিজ আল-ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী

 

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়

তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, হাফিজে কাবীর জয়নুদ্দিন আবুল ফজল আবদুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান। তিনি বংশগতভাবে ইরাকি, জন্মসূত্রে মেহরানি, মিশরীয় এবং শাফেয়ী।

 

তাঁর জন্ম ও লালন-পালন

তিনি ৭২৫ হিজরি সনের ২১শে জুমাদাল উলা মাসে নীল নদের তীরে মানশিয়াতুল মেহরানিতে এক পুণ্যবান ও ইবাদতগুজার পিতা-মাতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বয়স যখন মাত্র তিন বছর তখন তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন।

তিনি আট বছর বয়সে পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। এরপর তিনি ‘আত-তানবিহ’, ‘আল-হাবি’-এর অধিকাংশ এবং ‘আল-ইলমাম’ মুখস্থ করেন। শুরুতে তিনি কিরাত শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, এরপর ফিকহ এবং উসুলে ফিকহ নিয়ে গবেষণা করেন। এই দুই শাস্ত্রে তিনি এমন ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন যে, আল-ইসনাবি তাঁর বোধশক্তির প্রশংসা করতেন, তাঁর কথাকে পছন্দ করতেন এবং তাঁর গবেষণালব্ধ আলোচনার প্রতি মনোযোগী হতেন।

অতঃপর ইয ইবনে জামাআ-এর ইশারায় তিনি ইলমে হাদিসের প্রতি মনোনিবেশ করেন। তিনি তাঁর নিজ শহরের আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন, এরপর হাদিস সংগ্রহের জন্য শাম ও অন্যান্য দেশ সফর করেন। তিনি প্রচুর হজ পালন করতেন এবং মক্কা মুকাররমায় অবস্থান করতেন। তিনি কঠোর পরিশ্রম করেন, অনুলিপি তৈরি করেন, পাঠ করেন এবং শ্রবণ করেন, শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর সমসাময়িকদের বর্ণনা অনুযায়ী সমকালীন শ্রেষ্ঠ হাফিজে হাদিসে পরিণত হন।

 

তাঁর শিক্ষকগণ

তাঁরা অসংখ্য, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

- আল্লামা মুকরি মুহাম্মাদ বিন আবিল হাসান বিন আব্দুল মালিক বিন সামউন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
- العلّامة الأصولي محمّد بن إسحاق بن محمّد البلبيسي.

- العلّامة الأصولي عبد الرّحيم بن الحسن بن علي الإسنوي.

- العلّامة الأصولي محمّد بن أحمد بن عبد المؤمن المصري، المعروف بابن اللّبّان.

- العلّامة المحدّث عبد الرّحيم بن عبد الله بن يوسف، المعروف بابن شاهد الجيش.

- العلّامة المحدّث محمّد بن محمّد بن إبراهيم الميدومي.

- العلّامة المحدّث محمّد بن محمّد بن محمّد ابن سيّد النّاس.

- العلّامة المحدّث محمّد بن إسماعيل بن عبد العزيز.

- الأمير سنجر بن عبد الله الجاولي.

- العلّامة الفقيه عليّ بن أحمد بن عبد المحسن ابن الرّفعة.

- العلّامة المحدّث عبد الرّحمن بن محمّد بن عبد الهادي المقدسي.

- العلّامة المحدّث عليّ بن عبد الكافي السّبكيّ.

- العلّامة المحدّث خليل بن كيكلدي العلائي.

- العلّامة المحدّث عبد الله بن أحمد بن محمّد الطّبريّ.

- العلّامة المحدّث يحيى بن عبد الله بن مروان الفارقي.

- العلّامة المحدّث أحمد بن عبد الرّحمن بن محمّد المرداوي.

وغيرهم كثير.

 

‌‌تلاميذه

وهم خلق كثير أيضا، منهم:

- ولده العلّامة أبو زرعة أحمد بن عبد الرحيم.

- الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني.

- الحافظ علي بن أبي بكر الهيثمي.
- বিজ্ঞ উসূলবিদ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-বালবিসি।

- বিজ্ঞ উসূলবিদ আব্দুর রহীম ইবনুল হাসান ইবনে আলী আল-ইসনাবি।

- বিজ্ঞ উসূলবিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল মুমিন আল-মিসরি, যিনি ইবনুল লাব্বান নামে পরিচিত।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস আব্দুর রহীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, যিনি ইবনে শাহিদ আল-জাইশ নামে পরিচিত।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-মাইদুমি।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাইয়্যিদুন নাস।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আব্দুল আজিজ।

- আমির সাঞ্জার ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জাওলি।

- বিজ্ঞ ফকিহ আলী ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল মুহসিন ইবনুর রিফআহ।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস আলী ইবনে আব্দুল কাফি আস-সুবকি।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস খলীল ইবনে কাইকালদি আল-আলাঈ।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তাবারী।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মারওয়ান আল-ফারিকি।

- বিজ্ঞ মুহাদ্দিস আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মারদাউই।

এবং আরও অনেকে।

 

‌‌তাঁর ছাত্রগণ

তাঁরাও সংখ্যায় অনেক, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

- তাঁর পুত্র বিজ্ঞ আলেম আবু জুরআ আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম।

- হাফেজ আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি।

- হাফেজ আলী ইবনে আবু বকর আল-হাইসামি।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
- العلّامة الفقيه محمّد بن موسى الدّميريّ.

- العلّامة المحدّث إبراهيم بن حجاج الأبناسي.

- العلّامة علي بن أحمد بن إسماعيل القلقشندي.

- العلّامة أبو بكر بن حسين بن عمر المراغي.

- العلّامة محمّد بن ظهيرة الشّافعي.

- العلّامة المحدّث إبراهيم بن محمد بن خليل المعروف بسبط ابن العجمي.

وغيرهم كثير.

 

‌‌صفته

كان معتدل القامة للطّول أقرب، مليح الوجه، منوّر الشّيبة، كثّ اللّحية، كثير السّكون، طارحا للتّكلّف، شديد الحياء، غزير العلم، سخي النّفس، خفيف الرّوح، لطيف الطّبع، كثير الحياء، ظاهر الوضاءة كأن وجهه مصباح.

 

‌‌ثناء العلماء عليه

قال الحافظ ابن حجر رحمه الله: صار المنظور إليه في هذا الفن من زمن الشّيخ جمال الدّين الإسنوي وهلمّ جرا، ولم نر في هذا الفن أتقن منه، وعليه تخرّج غالب أهل عصره.

وقال السّخاوي رحمه الله: وصار المشار إليه بالدّيار المصريّة وغيرها بالحفظ والإتقان والمعرفة مع الدّين والصّيانة والورع والعفاف والتّواضع والمروءة والعبادة.

وقال ابن تغري بردي: كان شديد الحياء، غزير العلم، مقداما كريما، وكان لا يهاب سلطانا في قول الحقّ.

 

‌‌وفاته

توفّي رحمه الله في ثامن شعبان سنة ستّ وثمان مئة، وله إحدى وثمانون سنة، ورثاه تلميذه الحافظ ابن حجر بقصيدة مطلعها:
- আল্লামা ফকিহ মুহাম্মদ বিন মুসা আদ-দামিরি।

- আল্লামা মুহাদ্দিস ইব্রাহিম বিন হাজ্জাজ আল-আবনাসি।

- আল্লামা আলী বিন আহমদ বিন ইসমাইল আল-কালকাশান্দি।

- আল্লামা আবু বকর বিন হুসাইন বিন উমর আল-মারাগি।

- আল্লামা মুহাম্মদ বিন জাহিরা আশ-শাফিঈ।

- আল্লামা মুহাদ্দিস ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন খলিল, যিনি সিবত ইবনুল আজমি নামে পরিচিত।

এবং আরও অনেকে।

 

‌‌তাঁর বৈশিষ্ট্য

তিনি মাঝারি গড়নের ছিলেন তবে দীর্ঘকায় হওয়ার কাছাকাছি, সুন্দর চেহারার অধিকারী, বার্ধক্যের শুভ্রতা নূরানি আভা ছড়াত, দাড়ি ছিল ঘন, অত্যন্ত ধীরস্থির স্বভাবের, লৌকিকতা বর্জিত, অত্যন্ত লাজুক, অগাধ ইলমের অধিকারী, দানশীল, প্রফুল্লচিত্ত, কোমল স্বভাবের, অত্যন্ত লজ্জাশীল এবং তাঁর চেহারার উজ্জ্বলতা ছিল প্রকাশ্য, যেন তাঁর চেহারা একটি প্রদীপ।

 

‌‌তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা

হাফিজ ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: শাইখ জামালুদ্দিন আল-ইসনাভির যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই শাস্ত্রে তিনিই সকলের দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন এবং এই শাস্ত্রে আমরা তাঁর চেয়ে অধিক দক্ষ কাউকে দেখিনি। তাঁর নিকটই সমকালীন অধিকাংশ আলেম জ্ঞান অর্জন করেছেন।

আস-সাখাবি রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: তিনি মিসর ও অন্যান্য ভূখণ্ডে ইলম হিফজ করা, দক্ষতা ও জ্ঞানের পাশাপাশি দ্বীনদারি, চারিত্রিক পবিত্রতা, পরহেজগারিতা, বিনয়, বীরত্ব ও ইবাদতের ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।

ইবনে তাগরি বারদি বলেছেন: তিনি অত্যন্ত লাজুক, অগাধ ইলমের অধিকারী, সাহসী ও দয়ালু ছিলেন। সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে তিনি কোনো সুলতানকে ভয় পেতেন না।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু

তিনি রাহিমাহুল্লাহ ৮০৬ হিজরি সনের আটই শাবান মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স হয়েছিল একাশি বছর। তাঁর ছাত্র হাফিজ ইবনে হাজার একটি শোকগাথা কবিতার মাধ্যমে তাঁর বিয়োগগাথা রচনা করেন, যার শুরু ছিল এভাবে:
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
مصاب لم ينفّس للخناق … أصار الدمع جارا للماقي

فروض العلم بعد الزهو ذاو … وروح الفضل قد بلغ التراقي

 

‌‌مصنفاته

للحافظ العراقي رحمه الله عشرات المصنفات، منها ما كمل، ومنها ما لم يكمل، وهذه بعضها:

- إخبار الأحياء بأخبار الإحياء، وهو تخريجه الكبير لكتاب «إحياء علوم الدين» ، ولم يخرج عن المسودة.

- المغني عن حمل الأسفار في تخريج ما في الإحياء من الأخبار.

- تقريب الأسانيد وترتيب المسانيد.

- التّبصرة والتّذكرة، وهي ألفيّة الحديث.

- التّقييد والإيضاح لما أطلق وأغلق في كتاب ابن الصّلاح.

- الدّرر السّنيّة في نظم السّير الزّكيّة، وهو كتابنا هذا.

- منظومة في غريب القرآن العزيز.

- النّجم الوهّاج في نظم المنهاج، يعني «المنهاج في الأصول» للبيضاوي.

- المستخرج على المستدرك.

- تكملة شرح جامع الترمذي لابن سيّد النّاس.

- تخريج أحاديث منهاج البيضاوي.
এমন এক বিপদ যা শ্বাসরোধকারী বেদনাকে প্রশমিত করেনি … বরং অশ্রুকে চোখের কোণের স্থায়ী প্রতিবেশী বানিয়ে দিয়েছে।

জ্ঞানের উদ্যানগুলো সতেজতার পর ম্লান হয়ে গেছে … আর শ্রেষ্ঠত্বের আত্মা কণ্ঠনালীতে পৌঁছে গেছে।

 

‌‌তাঁর রচনাবলী

হাফিজ ইরাকি রহিমাহুল্লাহ-এর দশর্কোধিক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে কিছু পূর্ণতা পেয়েছে আর কিছু অপূর্ণ রয়ে গেছে। নিচে তাঁর কয়েকটি গ্রন্থের উল্লেখ করা হলো:

- ইখবারুল আহইয়া বি-আখবারিল ইহইয়া, এটি ইমাম গাজালীর 'ইহইয়াউ উলুমিদ দীন' গ্রন্থের ওপর তাঁর বৃহৎ তাখরিজ (হাদিস যাচাইকরণ) কর্ম, যা পাণ্ডুলিপি পর্যায়ের বাইরে যেতে পারেনি।

- আল-মুগনি আন হামলিল আসফার ফি তাখরিজি মা ফিল ইহয়াই মিনাল আখবার।

- তাকরিবুল আসানিদ ওয়া তারতিবুল মাসানিদ।

- আত-তাবসিরাহ ওয়াত-তাযকিরাহ, যা 'আলফিয়্যাতুল হাদিস' নামে পরিচিত।

- আত-তাকয়িদ ওয়াল-ইদাহ লিমা উতিলাকা ওয়া উগ্লিকা ফি কিতাবি ইবনিস সালাহ।

- আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফি নাযমিস সিয়ারিজ জাকিয়্যাহ, আর এটিই আমাদের বর্তমান আলোচ্য গ্রন্থ।

- মানযুমাহ ফি গারিবিল কুরআনিল আযিয।

- আন-নাজমুল ওয়াহহাজ ফি নাযমিল মিনহাজ, অর্থাৎ এটি বায়দাবীর 'আল-মিনহাজ ফিল উসুল' গ্রন্থের ছন্দোবদ্ধ রূপ।

- আল-মুস্তাখরাজ আলাল মুস্তাদরাক।

- ইবনু সায়্যিদুন নাস রচিত জামি তিরমিযির শারহ-এর পরিশিষ্ট।

- তাখরিজু আহাদিসি মিনহাজিল বায়দাবী।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌وصف النّسخ الخطّيّة

اعتمدنا في إخراج هذا الكتاب على أربع نسخ خطّيّة:

 

‌‌الأولى:

نسخة محفوظة في مكتبة جامعة برنستون في الولايات المتّحدة الأمريكية، وهي الأصل الذّي اعتمدناه، وهي بخطّ المصنّف، وعليها تعليقاته، وفي آخرها إجازاته لمن قرأها عليه.

تتألّف من أربعين ورقة، في كلّ ورقة ستّ وعشرون بيتا، كتبت بخطّ نسخي مقروء، ضبط المصنّف أكثر كلماتها بالشّكل.

ورمزنا لها ب (أ) .

 

‌‌الثّانية:

نسخة مكتبة شهيد علي في تركية، ناسخها العلّامة الإمام إبراهيم بن محمّد بن خليل المعروف بسبط ابن العجمي الحلبي الشّافعي سنة (811 هـ) ، وعليها تعليقات مفيدة بخطّ العلّامة الإمام محمّد بن أبي الوليد بن الشّحنة الحنفي، علّقها سنة (826 هـ) عند قراءته لها على سبط ابن العجمي.

وهي نسخة نفيسة مقابلة على نسخة المؤلّف رحمه الله تعالى، مكتوبة بخطّ نسخي مقروء، ومضبوطة بالشّكل، تتألّف من ثلاثين ورقة، كلّ ورقة أربعون بيتا.

ورمزنا لها ب (ب) .

 

‌‌الثّالثة:

نسخة مكتبة الحرم المكّيّ، غير معروفة النّاسخ، عليها تعليقات، كتب في الصّحيفة الأولى أنّها من «شرح الأجهوري» على المنظومة، نسخت في سنة (1335 هـ) ، مكتوبة بخطّ نسخي جيّد، ضبط فيها بعض الكلمات بالشّكل، تتألّف من عشرين ورقة، في كلّ ورقة أربعة وخمسون بيتا.

ورمزنا لها ب (ج) .
পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ

এই গ্রন্থটি সম্পাদনায় আমরা চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

 

প্রথমটি:

এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি। এটিই আমাদের মূল ভিত্তি এবং এটি গ্রন্থকারের স্বহস্তে লিখিত। এতে তাঁর নিজস্ব টীকা রয়েছে এবং এর শেষে তাঁর কাছে যারা পাঠ করেছেন তাদের জন্য তাঁর প্রদত্ত অনুমতিপত্রসমূহ (ইজাযত) রয়েছে।

এটি চল্লিশটি পাতা নিয়ে গঠিত, প্রতিটি পাতায় ছাব্বিশটি পঙক্তি রয়েছে। এটি সুপাঠ্য নাসখ লিপিতে লেখা এবং গ্রন্থকার এর অধিকাংশ শব্দে হরকত প্রদান করেছেন।

আমরা এটিকে (আলিফ) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

 

দ্বিতীয়টি:

এটি তুরস্কের শহীদ আলী লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি। এর অনুলিপিকারক হলেন আল্লামা ইমাম ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন খলিল, যিনি সিবত ইবনুল আজামী আল-হালাবি আল-শাফিঈ নামে পরিচিত; তিনি ৮১১ হিজরিতে এটি অনুলিপি করেছেন। এতে আল্লামা ইমাম মুহাম্মাদ বিন আবিল ওয়ালিদ বিন আল-শিহনা আল-হানাফির হস্তাক্ষরে কিছু উপকারী টীকা রয়েছে, যা তিনি ৮২৬ হিজরিতে সিবত ইবনুল আজামীর কাছে এটি পাঠ করার সময় লিপিবদ্ধ করেছিলেন।

এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান অনুলিপি যা লেখকের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। এটি সুপাঠ্য নাসখ লিপিতে লিখিত এবং হরকতযুক্ত। এটি ত্রিশটি পাতা নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি পাতায় চল্লিশটি পঙক্তি রয়েছে।

আমরা এটিকে (বা) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

 

তৃতীয়টি:

এটি মক্কার হারাম লাইব্রেরির একটি পাণ্ডুলিপি। এর অনুলিপিকারক অজ্ঞাত। এতে টীকা রয়েছে এবং এর প্রথম পাতায় লেখা আছে যে, এটি এই কাব্যগ্রন্থের ওপর ‘শারহুল আজহুরি’ থেকে গৃহীত। এটি ১৩৩৫ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছে। এটি সুন্দর নাসখ লিপিতে লিখিত এবং এর কিছু শব্দে হরকত প্রদান করা হয়েছে। এটি বিশটি পাতা নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি পাতায় চুয়ান্নটি পঙক্তি রয়েছে।

আমরা এটিকে (জিম) সংকেত দিয়ে চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الرّابعة:

نسخة ثانية في مكتبة الحرم المكّيّ، ناسخها محمّد المنوي الفراتي، وفي آخرها أنّه فرغ منها سنة (1326 هـ) ، كتبت بخط مغربي مقروء، ضبط فيها بعض الكلمات بالشّكل، تتألّف من عشرين ورقة، في كلّ ورقة ثلاثون بيتا.

ورمزنا لها ب (د) . «1»

--------------------------------------------

(1) كتب على ظهر هذا المخطوط ما نصه: (أروي هذه الألفية عن شيخنا العلامة السيد أحمد البرزنجي، عن والده السيد إسماعيل البرزنجي، عن الشيخ صالح الفلاني العمري، عن محمد بن سنّة عن مولاي الشريف محمد بن عبد الله الولاتي، عن الشيخ محمد بن أركماش الحنفي، عن الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني، عن مؤلفها الحافظ الإمام جمال الحفاظ الفخام زين الدين عبد الرحيم بن الشيخ الإمام الزاهد القدوة المسلّك حسين بدر الدين بن أبي بكر بن إبراهيم الكردي الرازناني الأصل ثم المصري الشافعي، المعروف بالزين العراقي، نسبة إلى عراق العرب قال: … ) ثم سرد «الألفية» .
চতুর্থ:

মাকতাবাতুল হারাম আল-মাক্কিতে সংরক্ষিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি। এর অনুলিপিকার হলেন মুহাম্মদ আল-মানুয়ি আল-ফুরাতি। এর শেষে উল্লেখ আছে যে, তিনি ১৩২৬ হিজরি সনে এটি সম্পন্ন করেছেন। এটি পঠনযোগ্য মাগরিবি হস্তলিপিতে লিখিত। এতে কিছু শব্দের হরকত প্রদান করা হয়েছে। এটি বিশটি পৃষ্ঠা নিয়ে গঠিত এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় ত্রিশটি পঙ্ক্তি রয়েছে।

আমরা একে (দাল) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। (১)

--------------------------------------------

(১) এই পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠদেশে যা লিখিত আছে তার পাঠ নিম্নরূপ: (আমি এই আলফিয়্যাহ বর্ণনা করছি আমাদের শাইখ আল্লামা সাইয়্যেদ আহমাদ আল-বারজানজি থেকে, তিনি তাঁর পিতা সাইয়্যেদ ইসমাঈল আল-বারজানজি থেকে, তিনি শাইখ সালিহ আল-ফুলানি আল-উমরি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনু সুন্নাহ থেকে, তিনি আমার নেতা শরীফ মুহাম্মদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-ওয়ালাতি থেকে, তিনি শাইখ মুহাম্মদ ইবনু আরকামাশ আল-হানাফি থেকে, তিনি হাফিয আহমাদ ইবনু আলী ইবনু হাজার আল-আসকালানি থেকে, তিনি এর গ্রন্থকার হাফিয ইমাম, মহান হাফিযদের অলঙ্কার যাইনুদ্দীন আবদুর রহীম ইবনু আশ-শাইখ আল-ইমাম আল-যাহিদ আল-কুদওয়াহ আল-মুসাল্লিক হুসাইন বদরুদ্দীন ইবনু আবি বকর ইবনু ইবরাহিম আল-কুর্দি—মূলত রাযনানি এরপর মিশরীয় শাফিয়ি, যিনি যাইন আল-ইরাকি নামে পরিচিত, ইরাকে আরবের দিকে সম্বন্ধ করে—তিনি বলেন: … ) অতঃপর তিনি ‘আলফিয়্যাহ’ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌منهج العمل في الكتاب

- قابلنا المخطوطة الأصل والّتي بخطّ المصنّف على النّسخ الآخرى، وأثبتنا الفروقات المهمّة.

- ضبطنا النّصّ بالشّكل الكامل ضبطا دقيقا، معتمدين في ذلك على نسخة الأصل؛ لأنّ العراقيّ رحمه الله تعالى شكل معظمها، وكذلك على المصادر والمراجع لتوثيق ضبط الأعلام والأماكن.

وما كان له أكثر من ضبط ضبطناه بالاثنين معا قدر الاستطاعة.

- وضعنا علامات التّرقيم بشكل دقيق يساعد على فهم النّصّ.

- شرحنا بعض المفردات الغريبة.

- علّقنا على بعض المواضع التي رأينا أنّها بحاجة لذلك، وقد قصدنا الاختصار في التّعليقات؛ لأنّ مرادنا إخراج النّصّ بأفضل شكل ممكن، وليس إخراج شرح له.

- رقمنا الأبيات ليسهل على الطلبة حفظها.
গ্রন্থের কর্মপদ্ধতি

- আমরা মূল পাণ্ডুলিপিটি, যা লেখকের নিজ হাতের লেখা, অন্য কপিগুলোর সাথে মিলিয়েছি এবং গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো লিপিবদ্ধ করেছি।

- আমরা মূল পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যটিকে সূক্ষ্মভাবে পূর্ণাঙ্গ হরকত (তাকশিল) প্রদান করেছি; কারণ ইরাকি (রাহিমাহুল্লাহ) এর অধিকাংশতেই হরকত প্রদান করেছিলেন। এছাড়া ব্যক্তি ও স্থানের নামের সঠিক উচ্চারণ নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন উৎস ও রেফারেন্সের ওপর নির্ভর করেছি।

যেসব শব্দের একাধিক উচ্চারণ (হরকত) রয়েছে, আমরা সাধ্যানুযায়ী উভয়টিই উল্লেখ করেছি।

- পাঠ্যটি বুঝতে সহায়ক হয় এমনভাবে আমরা যথাযথ বিরামচিহ্ন বসিয়েছি।

- আমরা কিছু দুর্লভ ও কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

- আমরা এমন কিছু স্থানে টীকা যুক্ত করেছি যেগুলোকে আমরা প্রয়োজনীয় মনে করেছি; তবে আমরা টীকাগুলোকে সংক্ষিপ্ত রাখার চেষ্টা করেছি, কারণ আমাদের উদ্দেশ্য হলো মূল পাঠ্যটিকে সর্বোত্তম রূপে উপস্থাপন করা, এর কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) তৈরি করা নয়।

- শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করার সুবিধার্থে আমরা কবিতা বা শ্লোকগুলো নম্বরযুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌صور المخطوطات المستعان بها
সহায়তা গ্রহণকৃত পাণ্ডুলিপিসমূহের চিত্রসমূহ
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
راموز ورقة العنوان للنسخة (أ)

راموز الورقة الأولى للنسخة (أ)
পাণ্ডুলিপি (ক)-এর শিরোনাম পাতার সংকেত

পাণ্ডুলিপি (ক)-এর প্রথম পাতার সংকেত
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
راموز الورقة قبل الأخيرة للنسخة (أ)

راموز الورقة الأخيرة للنسخة (أ)
পাণ্ডুলিপি (ক)-এর শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী পত্রের সংকেত

পাণ্ডুলিপি (ক)-এর শেষ পত্রের সংকেত
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
راموز ورقة العنوان للنسخة (ب)

راموز الورقة الأولى للنسخة (ب)
পাণ্ডুলিপি (খ)-এর শিরোনাম পাতার সংকেত চিহ্ন

পাণ্ডুলিপি (খ)-এর প্রথম পাতার সংকেত চিহ্ন
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
راموز الورقة الأخيرة للنسخة (ب)

راموز ورقة العنوان للنسخة (ج)
পাণ্ডুলিপি (খ)-এর শেষ পৃষ্ঠার সংকেত

পাণ্ডুলিপি (গ)-এর শিরোনাম পৃষ্ঠার সংকেত
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
راموز الورقة الأولى للنسخة (ج)

راموز الورقة الأخيرة للنسخة (ج)
পাণ্ডুলিপি (জ)-এর প্রথম পত্রের প্রতীক

পাণ্ডুলিপি (জ)-এর শেষ পত্রের প্রতীক
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
راموز ورقة العنوان للنسخة (د)

راموز الورقة الأولى والأخيرة للنسخة (د)
(দ) পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পত্রের প্রতীক

(দ) পাণ্ডুলিপির প্রথম ও শেষ পত্রের প্রতীক
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الفيّة السّيرة النّبويّة المسمّاة نظم الدّرر السّنيّة في السّير الزّكيّة نظمها بالمدينة الشّريفة الإمام الكبير الحافظ المجدّد زين الدّين عبد الرّحيم بن الحسين العراقي رحمه الله تعالى
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বিষয়ক আলফিয়্যাহ, যা ‘পবিত্র সীরাত বিষয়ক উজ্জ্বল মুক্তামালার পদ্য’ নামে অভিহিত। এটি মদিনা শরিফে রচনা করেছেন মহান ইমাম, হাফিজ, মুজাদ্দিদ যাইনুদ্দীন আবদুর রহীম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرّحمن الرّحيم اللهمّ صلّ على سيّدنا محمّد وآله وصحبه وسلّم

 

‌‌[مقدمة المؤلف]

يقولُ رَاجي مَن إليهِ المَهرَبُ … عبدُ الرحيمِ بنُ الحسينِ المُذنبُ:

أحمدُ ربّي بأتمّ الحَمدِ … وللصّلاة والسّلام أُهدِي

إلى نبيّهِ وأَرجو الله … في نُجْحِ ما سئلتُهُ «1» شِفَاها

مِنْ نظمِ سيرةِ النَبيّ الأمْجَدِ … ألفيةً «2» حاويةً للمَقصِدِ «3»

وليعلمِ الطالبُ أنَّ السّيَرَا … تَجمَعُ ما صحَّ وما قدْ أُنْكرَا «4»

والقصدُ ذكرُ ما أتى أهلُ السّيَرْ … بهِ، وإنْ إسنادُهُ لمْ يُعْتَبَرْ

فإنْ يكنْ قدْ صحَّ غيرُ ما ذُكِرْ … ذكرتُ ما قد صحّ منه واستطر «5»

--------------------------------------------

(1) في (د) : (ما سألته) .

(2) قوله: (ألفيّة) أي: ألف بيت، وهي غير «ألفيته» التي صنّفها في مصطلح الحديث وعلومه.

(3) في هامش (ب) : (وجد بخط النووي: مقصد بكسر الصاد بالقلم، ولم أره لا في «الصحاح» ولا في غيره من كتب اللغة) .

(4) أي: يتسامح في السيرة في نقل الأخبار فيما يدور بين الصحة والضعف، لكن لا يصل الحال إلى الموضوع والمختلق.

(5) في (د) : (واشتهر) . واستطر- بالبناء للمفعول-: كتب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

 

‌‌[লেখকের ভূমিকা]

যাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা হয় তাঁর নিকট আশাবাদী পাপী বান্দা আবদুর রহীম ইবনুল হুসাইন বলছেন:

আমি আমার রবের প্রশংসা করছি পূর্ণাঙ্গ প্রশংসার সাথে, আর সালাত ও সালাম উপহার দিচ্ছি—

তাঁর নবীর প্রতি। আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি মৌখিকভাবে আমার নিকট যা চাওয়া হয়েছে তা সফল করার সামর্থ্য দান করেন—

শ্রেষ্ঠ নবীর সীরাত কাব্যিক আকারে রচনা করার ক্ষেত্রে; যা হবে একটি 'আলফিয়্যাহ' (সহস্রপদী কাব্য), যা মূল উদ্দেশ্যকে শামিল করবে।

আর শিক্ষার্থী যেন জেনে রাখে যে, সীরাত গ্রন্থসমূহ সহীহ (বিশুদ্ধ) এবং মুনকার (অস্বীকৃত) উভয় প্রকার বর্ণনাকেই একত্রিত করে।

উদ্দেশ্য হলো সীরাত বিশেষজ্ঞদের বর্ণিত বিষয়গুলো উল্লেখ করা, যদিও তার সনদ (সূত্র) নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য না হয়।

যদি উল্লিখিত বর্ণনার বাইরে অন্য কোনো বিশুদ্ধ বর্ণনা থেকে থাকে, তবে আমি তা-ও উল্লেখ করেছি যা বিশুদ্ধ এবং লিপিবদ্ধ হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (যা আমি চেয়েছি)।

(২) তাঁর কথা: (আলফিয়্যাহ) অর্থাৎ: এক হাজার পঙ্ক্তি। এটি তাঁর সেই 'আলফিয়্যাহ' থেকে ভিন্ন যা তিনি হাদীসের পরিভাষা ও এর শাখা-প্রশাখা বিষয়ক শাস্ত্রে রচনা করেছেন।

(৩) 'বা' পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: (ইমাম নববীর হস্তাক্ষরে 'মাকসিদ' শব্দটি সোয়াদ বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে লেখা পাওয়া গেছে, তবে আমি তা 'সিহাহ' বা অন্য কোনো অভিধানে খুঁজে পাইনি)।

(৪) অর্থাৎ: সীরাতের ক্ষেত্রে সহীহ এবং যয়ীফ বর্ণনার মাঝামাঝি সংবাদগুলোর বর্ণনার ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা অবলম্বন করা হয়, তবে তা জাল বা বানোয়াট বর্ণনার পর্যায়ে পৌঁছায় না।

(৫) 'দাল' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (এবং প্রসিদ্ধ হয়েছে)। আর 'উসতুতীরা' শব্দটি কর্মবাচ্যে ব্যবহৃত, যার অর্থ: লেখা হয়েছে বা লিপিবদ্ধ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌أسماؤه الشّريفة صلى الله عليه وسلم

محمدٌ، معَ المُقفّي، أحمَدا … الحاشرُ، العَاقِبُ، والمَاحي الرّدى

وهْوَ المسمَّى بنبيّ الرَّحمةِ … في «مُسلمٍ» ، وبنبيّ التوبةِ «1»

وفيهِ أيْضًا: بنبيّ المَلْحَمَهْ «2» … وفي رِوايةٍ: نبيّ المرحمه «3»

طه، وياسين، مَعَ الرَّسولِ … كذاكَ عبدُ الله في التَّنْزيلِ

والمُتَوَكّلُ، النبيُّ الأمّي … والرَّؤُفُ، الرَّحيمُ أيُّ رُحْمِ

وشاهِدًا، مُبَشّرًا، نَذيرَا … كذا سِرَاجًا، صِلْ بِهِ منيرا

كذا به المزّمّل، المدّثّر … وداعيا لله، والمذكّر

ورَحْمَةً، ونِعْمَةً، وهادي … وغَيْرَها تَجِلُّ عن تَعدادِ

وقدْ وعَى ابنُ العربيّ «4» سَبعهْ … مِنْ بعدِ ستّين، وقيل: تسعه

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (2355/ 126) .

(2) في النسخة المطبوعة من «صحيح مسلم» : (نبي الرحمة) ، ولم نجد «نبي الملحمة» فيه، وقد ذكرها المزي في «تحفة الأشراف» (6/ 472) وعزاها لمسلم، وهذه الرواية أخرجها الحاكم (2/ 604) ، وابن حبان (6314) ، وأحمد (4/ 395) ، وغيرهم.

(3) ذكرها النووي في «شرح مسلم» (14/ 106) ، والمناوي في «فيض القدير» (3/ 45) حيث قال: (بميم أوله بخط المصنف) .

(4) هو الإمام القاضي أبو بكر محمد بن العربي المالكي، ذكر ذلك في «عارضة الأحوذي» .
তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সম্মানিত নামসমূহ

মুহাম্মদ, আল-মুকাফফির সাথে আহমদ … আল-হাশির, আল-আকিব এবং অনিষ্ট বিনাশকারী (আল-মাহি)

তিনি রহমতের নবী (নবীউর রাহমাহ) হিসেবে অভিহিত … «মুসলিম» গ্রন্থে, এবং তওবার নবী (নবীউত তাওবাহ) হিসেবেও

তাতে আরও রয়েছে: যুদ্ধের নবী (নবীউল মালহামাহ) … এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: দয়ার নবী (নবীউল মারহামাহ)

ত্ব-হা, ইয়া-সীন এবং রাসূল … তেমনিভাবে অবতীর্ণ কিতাবে তিনি আল্লাহর বান্দা (আবদুল্লাহ)

এবং আল-মুতাওয়াক্কিল, উম্মী নবী … আর তিনি অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু, তিনি কতই না দয়াবান!

সাক্ষ্যদাতা (শাহিদ), সুসংবাদদাতা (মুবাশশির) ও সতর্ককারী (নাযীর) … তেমনি প্রদীপ (সিরাজ) এবং এর সাথে উজ্জ্বল (মুনীর)

তেমনিভাবে তিনি আল-মুয্যাম্মিল, আল-মুদদাসসির … এবং আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী ও উপদেশদাতা

তিনি রহমত, নিয়ামত ও পথপ্রদর্শক … এছাড়াও তাঁর এমন আরও নাম রয়েছে যা গণনার ঊর্ধ্বে

ইবনে আরাবি সাতষট্টিটি নাম সংরক্ষণ করেছেন … আবার কেউ বলেছেন উনসত্তুরটি

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৩৫৫/ ১২৬)।

(২) «সহীহ মুসলিম»-এর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: (রহমতের নবী), আমরা তাতে «যুদ্ধের নবী» শব্দটি পাইনি। তবে আল-মিযযি «তুহফাতুল আশরাফ» (৬/ ৪৭২) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং মুসলিমের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। এই বর্ণনাটি আল-হাকিম (২/ ৬০৪), ইবনে হিব্বান (৬৩১৪), আহমাদ (৪/ ৩৯৫) এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইমাম নববী এটি «শারহে মুসলিম» (১৪/ ১০৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং আল-মুনাওয়ি «ফায়যুল ক্বাদীর» (৩/ ৪৫) গ্রন্থে বলেছেন: (লেখকের হস্তলিপিতে শব্দটির শুরুতে 'মীম' বর্ণ রয়েছে)।

(৪) তিনি হলেন ইমাম কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল আরাবি আল-মালিকি, তিনি এটি «আরিজাতুল আহওয়াযী» গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
مِنْ بعدِ تسعينَ ولابنِ دِحْيةِ «1» … الفَحْصَ يُوفِيها ثلاث مئة

وكونها ألفا ففي «العارضة» «2» … ذكره عن بعض ذي الصّوفيّة «3»

--------------------------------------------

(1) هو العلامة المحدث أبو الخطاب عمر بن حسن بن محمد الكلبي الداني المتوفى سنة (632 هـ) .

(2) وهو كتاب «عارضة الأحوذي» .

(3) كل هذه الكثرة في الأسماء ليست بغريبة إذا كان التوسع فيها على سبيل الصفة.
নব্বইয়ের অধিক এবং ইবনে দিহিয়ার নিকট «১» … অনুসন্ধানে তা তিনশ পূর্ণ হয়

আর তা এক হাজার হওয়া সম্পর্কে ‘আল-আরিজাহ’ «২» গ্রন্থে উল্লেখ আছে … তিনি তা জনৈক সুফির বরাতে উল্লেখ করেছেন «৩»

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আল্লামা মুহাদ্দিস আবু আল-খাত্তাব উমর বিন হাসান বিন মুহাম্মদ আল-কালবি আদ-দানি, যিনি (৬৩২ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) এটি হলো ‘আরিজাতুল আহওয়াযি’ নামক গ্রন্থ।

(৩) নামের ক্ষেত্রে এই আধিক্য মোটেও বিস্ময়কর নয় যদি গুণের বিচারে এর বিস্তার ঘটে থাকে।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌ذكر نسبه الزّكيّ الطّيّب الطّاهر صلى الله عليه وسلم

وهْو ابنُ عبدِ الله، عبدُ المطلبْ … أبوهُ، وهْوَ: شَيبَةَ الحَمْدِ نُسِبْ «1»

أبُوهُ عمرٌو هاشِمٌ، والجدُّ … عبدُ مَنافِ بنُ قُصَيّ زَيْدُ «2»

ابنُ كِلابٍ «3» ؛ أي: حكيمٍ يا أُخَيْ … وهْوَ ابنُ مُرَّةَ بنِ كعْبِ بنِ لُؤَيْ

وهْوَ ابنُ غالبٍ؛ أي: ابنِ فِهْرِ «4» … وهْوَ ابنُ مالكٍ؛ أي: ابنِ النضْرِ

وأبُهُ «5» كِنانةٌ ما أبْرَكَهْ … والده خزيمة بن مدركه

--------------------------------------------

(1) في (ب) وهامش (أ) : (نسخة:

وهو ابن عبد الله والأب انتسب … لشيبة الحمد اسم عبد المطّلب)

وبعض أجداده الكرام يعرف باسمين، ولعل أحدهما اسم، والثاني لقب؛ كعبد المطلب؛ فإنه يقال له: شيبة الحمد.

(2) عمرو: هو الجد الثاني للنبي صلى الله عليه وسلم، وهاشم لقب له، ولقّب بذلك لأنه كان يهشم الثريد للضيف. وعبد مناف: والد هاشم، اسمه المغيرة، وعبد مناف لقب له. وقصي: والد عبد مناف، اسمه زيد. وانظر في ذلك «سبل الهدى والرشاد» للعلامة الصالحي، و «الصرح الممرد» للعلامة عمر بن علوي الكاف رحمه الله؛ فإنهما من أجمع ما كتب في أجداد النبي صلى الله عليه وآله وسلم.

(3) كلاب: لقب لحكيم، وهو والد قصي، ولقب بذلك لمحبته الاصطياد بالكلاب، وقيل: لمكالبته الأعداء في الحرب.

(4) الفهر: حجر طويل ناعم صلب، يسحق به الصيدليّ الأدوية، ولقّب بذلك لشبهه به من حيث الطول والصلابة، واسمه قريش، وهو الجد الجامع لهم على الأصح، انظر «الصرح الممرد» (ص 108) .

(5) أبه: أبوه على لغة النقص، كقول رؤبة بن العجاج:

بأبه اقتدى عديّ في الكرم … ومن يشابه أبه فما ظلم
তাঁর পবিত্র, পরিচ্ছন্ন ও মহান বংশপরম্পরার বর্ণনা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)

তিনি আব্দুল্লাহর পুত্র, আব্দুল মুত্তালিব হলো তাঁর … পিতা, আর তিনি শায়বাতুল হামদ নামে পরিচিত ছিলেন। «১»

তাঁর (আব্দুল মুত্তালিবের) পিতা আমর হাশেম, আর প্রপিতামহ হলেন … আব্দু মানাফ ইবনে কুসাই যায়দ। «২»

কিলাবের পুত্র; অর্থাৎ হে ভ্রাতা, তিনি হাকিম; … আর তিনি মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই-এর পুত্র।

তিনি গালিবের পুত্র; অর্থাৎ ফাহরের সন্তান; … আর তিনি মালিকের পুত্র; অর্থাৎ আন-নাদরের সন্তান।

আর তাঁর পিতা হলেন কিনানাহ, তিনি কতই না বরকতময়; … তাঁর পিতা হলেন খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ।

--------------------------------------------

(১) (খ) পাণ্ডুলিপিতে এবং (ক) এর পার্শ্বটীকায় রয়েছে: (অনুলিপি:

তিনি আব্দুল্লাহর পুত্র আর তাঁর পিতা শায়বাতুল হামদ নামে আব্দুল মুত্তালিবের বংশীয় পরিচয়ে পরিচিত)

তাঁর কোনো কোনো সম্মানিত পূর্বপুরুষ দুটি নামে পরিচিত ছিলেন, সম্ভবত একটি নাম এবং অন্যটি উপাধি; যেমন আব্দুল মুত্তালিব; তাঁকে শায়বাতুল হামদও বলা হতো।

(২) আমর: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বিতীয় ঊর্ধ্বতন পিতামহ, আর হাশেম হলো তাঁর উপাধি। তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি হাজীদের জন্য রুটি ভেঙে সুরুয়া (থারিদ) তৈরি করতেন। আব্দু মানাফ: হাশেমের পিতা, তাঁর নাম ছিল আল-মুগীরাহ, আর আব্দু মানাফ ছিল তাঁর উপাধি। কুসাই: আব্দু মানাফের পিতা, তাঁর নাম যায়দ। এই বিষয়ে আল্লামা সালিহী রহ.-এর ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ’ এবং আল্লামা উমর ইবনে আলাভী আল-কাফ রহ.-এর ‘আস-সারহুল মুমাররাদ’ গ্রন্থ দুটি দেখুন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পবিত্র পরিবারের পূর্বপুরুষদের বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এই দুটি অত্যন্ত তথ্যসমৃদ্ধ।

(৩) কিলাব: এটি হাকিমের উপাধি, তিনি কুসাই-এর পিতা। শিকারি কুকুরের (কিলাব) সাহায্যে শিকার পছন্দ করার কারণে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেন: যুদ্ধে শত্রুদের ওপর প্রবলভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার (মুকলাবাহ) কারণে এই নামকরণ করা হয়েছে।

(৪) আল-ফাহর: এটি একটি দীর্ঘ, মসৃণ ও শক্ত পাথরকে বোঝায়, যা দিয়ে ওষুধ প্রস্তুতকারকরা (ফার্মাসিস্ট) ওষুধ পেষণ করেন। তাঁর দীর্ঘদেহী ও দৃঢ়তার কারণে এই পাথরের সাথে সাদৃশ্য রেখে তাঁকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আসল নাম কুরাইশ, আর বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনিই তাঁদের (কুরাইশ বংশের) মূল পুরুষ। দেখুন ‘আস-সারহুল মুমাররাদ’ (পৃষ্ঠা ১০৮)।

(৫) 'আবুহু' (أبه): এটি আরবি ভাষার একটি ব্যাকরণিক রীতি (নাকস) অনুযায়ী 'আবুহু' (أبوه), যেমন রুবা ইবনুল আজজাজ-এর কবিতায় এসেছে:

আদী তার পিতার বদান্যতা অনুসরণ করেছে … আর যে তার পিতার সদৃশ হয় সে কোনো অন্যায় করেনি।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وهْوَ ابنُ إلْياسَ؛ أيِ: ابْنِ مُضَرا … إبنِ نزارِ بْنِ مَعَدٍّ لا مِرا «1»

وهو ابن عدنانَ، وأهلُ النسبِ … قدْ أجْمعوا إلى هُنا في الكتُبِ

وبعدَهُ خُلْفٌ كثيرٌ جَمُّ … أصحُّهُ حواه هذا النّظم

عدنان في القول الأصحّ ابنُ أُدَدْ … وبعضُهُمْ يزيدُ أُدًّا في العَدَدْ

بَينَهُما، وأُدَدٌ والدُهُ … مُقَوَّمٌ، ناحورُ بعدُ جَدُّهُ

وهْوَ ابنُ تَيْرَحٍ؛ أيِ: ابنِ يَعْرُبا … وأنَّ يعربا هوَ ابنُ يَشجُبَا

وهْو ابنُ نابِتٍ، وإسماعيلُ … أب له، وجدّه الخليل

إبراهيم بن تارح؛ أي: آزر … وهو ابن ناحور، وهذا آخر «2»

وهو ابن شاروح بنِ أرْغو، فالَخْ … أبٌ له، ابنُ عَيْبرَ بنِ شالَخْ «3»

وهْو ابنُ أرْفَخْشَذْ، أبوهُ سامُ … أبوه نوح صائم قوّام

--------------------------------------------

(1) لامرا: لا شك، فإن نسبه الشريف إلى عدنان مجمع عليه بين أهل النسب، وأخرج ابن سعد في «الطبقات» (1/ 56) بسنده: (أن النبي ص كان إذا انتسب.. لم يجاوز في نسبه معد بن عدنان بن أدد، ثم يمسك ويقول: «كذب النسابون، قال الله عز وجل: وَقُرُوناً بَيْنَ ذلِكَ كَثِيراً) .

(2) قوله: (تارح؛ أي: آزر) أي: أن تارح هو نفسه آزر، وهو قول ابن إسحاق كما نقل ابن هشام (1/ 2) . وقوله: (وهذا آخر) أي: غير ناحور المتقدم.

(3) في هامش (ب) : (شالخ: قيده بعض مشايخي فقال: كهاجر وغالب؛ لما رأيت في النسخة التي قرئت على مؤلف هذه: فالخ مكسور اللام، بالقلم، وإذا كان كذلك.. فشالخ مكسور اللام أيضا عنده، والله أعلم. وقد رأيت عن ابن بري في حواشي «المقرب» في الكلام على «لام» فالخ، قال: وهو على وزن أفعل أو فاعل مثل شالخ، فهذا صريح في أن لامه مفتوحة، والله أعلم) .
তিনি ইলিয়াসের পুত্র; অর্থাৎ: মুদারের পুত্র … নিযার ইবনে মা'আদ-এর পুত্র, এতে কোনো সন্দেহ নেই «১»

তিনি আদনানের পুত্র, আর বংশতত্ত্ববিদগণ … কিতাবসমূহে এই পর্যন্ত ঐকমত্য পোষণ করেছেন

আর এরপর অনেক অধিক মতভেদ রয়েছে … যার মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধটি এই কবিতায় সংকলিত হয়েছে

সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী আদনান হলেন উদাদের পুত্র … আর তাদের কেউ কেউ গণনায় একজন 'উদ' বৃদ্ধি করেন

তাদের দুজনের মাঝে, আর উদাদ হলেন তাঁর পিতা … মুকাওওয়াম, এরপর নাহুর হলেন তাঁর পিতামহ

তিনি তায়রাহের পুত্র; অর্থাৎ: ইয়ারুবের পুত্র … আর ইয়ারুব হলেন ইয়াশজুবের পুত্র

তিনি নাবিতের পুত্র, আর ইসমাইল … তাঁর পিতা, এবং তাঁর পিতামহ হলেন খলিল

ইব্রাহিম ইবনে তিরাহ; অর্থাৎ: আজর … তিনি নাহুরের পুত্র, আর ইনি অন্যজন «২»

তিনি শারুহ ইবনে আরগুর পুত্র, ফালাখ … তাঁর পিতা, তিনি আয়বার ইবনে শালাখের পুত্র «৩»

তিনি আরফাখশাদ-এর পুত্র, তাঁর পিতা সাম … যাঁর পিতা নূহ, যিনি ছিলেন রোজা পালনকারী ও ইবাদতে দণ্ডায়মান

--------------------------------------------

(১) লা-মিরা: কোনো সন্দেহ নেই। কেননা আদনান পর্যন্ত তাঁর সম্মানিত বংশধারা বংশতত্ত্ববিদদের নিকট সর্বসম্মত। ইবনে সাদ 'তাবাকাত' (১/৫৬)-এ তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজের বংশ বর্ণনা করতেন... তখন তিনি মা'আদ ইবনে আদনান ইবনে উদাদের ঊর্ধ্বে যেতেন না, এরপর থেমে যেতেন এবং বলতেন: 'বংশতত্ত্ববিদরা মিথ্যা বলেছে, মহান আল্লাহ বলেছেন: এবং এর মধ্যবর্তী বহু প্রজন্মকে।')।

(২) তাঁর উক্তি: (তিরাহ; অর্থাৎ: আজর) অর্থাৎ তিরাহ নিজেই আজর। এটি ইবনে ইসহাকের মত যেমনটি ইবনে হিশাম (১/২) উদ্ধৃত করেছেন। আর তাঁর উক্তি: (আর ইনি অন্যজন) অর্থাৎ পূর্বে উল্লেখিত নাহুর ব্যতীত অন্যজন।

(৩) (খ) পাণ্ডুলিপির টীকায়: (শালাখ: আমার কোনো কোনো উস্তাদ একে নির্দিষ্ট করেছেন এবং বলেছেন: এটি হাজার ও গালিবের মতো; যেহেতু আমি এই কিতাবের লেখকের সামনে পাঠ করা পাণ্ডুলিপিতে দেখেছি: ফালাখ-এর 'লাম' বর্ণটি কলম দিয়ে জের (কাসরা) যুক্ত করা হয়েছে। যদি তাই হয়... তবে শালাখ-এর 'লাম' বর্ণটিও তাঁর নিকট জের যুক্ত হবে, আল্লাহই ভালো জানেন। আমি ইবনে বাররি থেকে 'আল-মুকাররাব'-এর টীকায় 'ফালাখ'-এর 'লাম' বর্ণের আলোচনায় দেখেছি, তিনি বলেছেন: এটি আফ'আল বা ফা'ইল ওজনে, যেমন শালাখ। এটি স্পষ্ট যে এর 'লাম' জবর (ফাতহা) যুক্ত হবে, আল্লাহই ভালো জানেন)।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وهو ابن لامك بن متّوشلخا … إبن خنوخ، وهْو فيما وُرِّخا «1»

إدريسُ- فيما زعموا- يَرْدٌ أبُهْ … وهو ابنُ مَهْليلَ بنِ قَيْنن يَعْقِبُهْ

يانش شيث أبه ابن آدما … صلَّى عليه ربُّنا وسلَّما

أمَّا قريشٌ.. فالأصحُّ فهر «2» … جماعها، والأكثرون: النّضر «3»

وأمّه آمنة، والدُها … وَهْبٌ، يَلي عبدُ منافٍ جَدُّها

وهْوَ ابنُ زُهْرةَ يلي كِلابُ … وفيهِ مَعْ أبيهِ الانتساب

--------------------------------------------

(1) ورّخا: تسهيل من أرّخا، من التأريخ.

(2) في هامش (ب) : (بني عليه قولان: الأول: وهو أن قريشا هو إلياس. والثاني: أنه مضر تتمة أربعة فيه، والله أعلم. وحكي في المسألة قول شاذ، رواه بعض مشايخي في «شرح المنهاج» أو «الغنية» أو هما، وقد ذكرته في تعليقي عليه) .

(3) في (ب) : (جماعها، وقيل: ذاك النضر) . وكون قريش جماعها- أي: الجامع لها- هو الأصح كما قال البيهقي وعزاه للجلّة، كذا نقل المناوي في «العجالة السنية» (ص 39) ، وقصد بالأكثرين الإمام الشافعي وأكثر الفقهاء- كما نقل ذلك صاحب «الصرح الممرد» (ص 108) والله أعلم.
তিনি হলেন লামিক ইবনে মাতুশাল্লাখ-এর পুত্র … ইবনে খানুখ (ইদ্রিস), যেমনটি ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে

ইদ্রিস—যেমনটি তারা ধারণা করেছেন—ইয়ারদ তাঁর পিতা … এবং তিনি মাহলাইল ইবনে কাইনান-এর পুত্র, যিনি তাঁর অনুগামী ছিলেন

আনুশ, শিস ছিলেন তাঁর পিতা, যিনি আদমের পুত্র … আমাদের রব তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন

আর কুরাইশ সম্পর্কে... বিশুদ্ধতম মত হলো যে ফিহর … তাদের মূল সমন্বয়কারী, তবে অধিকাংশের মতে তিনি হলেন নাযর

তাঁর মাতা হলেন আমিনা, তাঁর পিতা হলেন … ওয়াহাব, তাঁর দাদা আবদে মানাফ এর পরে

তিনি হলেন যুহরাহ-এর পুত্র, তারপর কিলাব … আর তাঁর (কিলাবের) মাধ্যমেই পিতার সাথে বংশধারা মিলিত হয়

--------------------------------------------

(১) ওয়াররাখা (ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে): এটি আররাখা শব্দের সহজরূপ, যা তারিখ (ইতিহাস) থেকে আগত।

(২) (খ) পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: (এর ওপর ভিত্তি করে দুটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো, কুরাইশ হলেন ইলিয়াস। দ্বিতীয়টি হলো, তিনি মুযার, এভাবে এ বিষয়ে চারটি মত পূর্ণ হয়, আর আল্লাহই ভালো জানেন। এ বিষয়ে একটি বিচ্ছিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে, যা আমার জনৈক উস্তাদ ‘শরহুল মিনহাজ’ বা ‘আল-গুনইয়াহ’ অথবা উভয় কিতাবে বর্ণনা করেছেন, এবং আমি আমার টীকায় তা উল্লেখ করেছি)।

(৩) (খ) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (তাদের সমন্বয়কারী, আর বলা হয়েছে: তিনি হলেন নাযর)। আর কুরাইশ তাদের সমন্বয়কারী—অর্থাৎ: তাদের একত্রকারী—হওয়াই বিশুদ্ধতম মত, যেমনটি ইমাম বায়হাকী বলেছেন এবং একে বিশিষ্ট আলেমদের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে আল-মুনাবি ‘আল-উজলাত আস-সানিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা ৩৯) গ্রন্থে এটি নকল করেছেন। আর ‘অধিকাংশ’ বলতে তিনি ইমাম শাফেয়ী এবং অধিকাংশ ফকিহকে বুঝিয়েছেন—যেমনটি ‘আস-সারহুল মুমাররাদ’ (পৃষ্ঠা ১০৮) গ্রন্থের লেখক বর্ণনা করেছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আলফিয়াতুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ - নাযমুদ দুরারিস সানিয়্যাতিয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌ذكر مولده وإرضاعه صلى الله عليه وسلم

وَوُلِدَ النبيُّ عامَ الفيلِ … أيْ في ربيعِ الأولِ الفَضيلِ

ليومِ الاثنينِ مُباركًا أتى … لليلتينِ مِنْ ربيعٍ خَلتا

وقيلَ: بل ذاكَ لثنتيْ عَشْرَهْ … وقيلَ: بعدَ الفيلِ ذا بفترهْ

بأربعينَ أو ثلاثينَ سنهْ … ورُدَّ ذا الخُلْفُ وبعضٌ وهَّنَهْ «1»

وقَدْ رَأتْ إذ وَضَعَتْهُ نورا … خرَجَ منها، رأت القُصورا

قصورَ بُصْرَى قَدْ أضاءتْ، ووُضِعْ … بَصرُهُ إلى السماءِ مُرْتَفِعْ

ماتَ أبوهُ ولهُ عامانِ … وثلُثٌ، وقيلَ بالنقصَانِ

عنْ قَدرِ ذا؛ بلْ صحَّ كانَ حَمْلا «2» … وأرْضعَتْهُ حينَ كان طِفلا

معْ عمّهِ حمزةَ ليثِ القَومِ … ومَعْ أبي سلمة المخزومي «3»

--------------------------------------------

(1) قال المناوي في «العجالة السنية» (ص 41) : (ردّ ابن الجزار على هذا الخلاف وحكى الإجماع على أنه ولد عام الفيل) . وكونه في عام الفيل.. قال الحافظ ابن كثير: (هو المشهور عند الجمهور) ، وقال إبراهيم بن المنذر شيخ البخاري رحمهما الله: (لا يشك فيه أحد من العلماء، ونقل غير واحد فيه الإجماع) . انظر «السيرة الحلبية» (1/ 59) . وانظر الأقوال في «طبقات ابن سعد» (1/ 100) ، و «المنتظم» (1/ 245) ، و «سبل الهدى والرشاد» (1/ 401) .

(2) أخرج ذلك الحاكم (2/ 600) وصححه، ووافقه الذهبي.

(3) وهو عبد الله بن عبد الأسد المخزومي، من السابقين الأولين إلى الإسلام، كان من المهاجرين إلى الحبشة ثم إلى المدينة، شهد بدرا وأحدا ومات سنة أربع للهجرة من جرح أصابه يوم
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্ম ও দুগ্ধপানকালীন সময়ের আলোচনা

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন … অর্থাৎ মহিমান্বিত রবিউল আউয়াল মাসে।

তিনি বরকতময় সোমবার দিনে আগমন করেছেন … যখন রবিউল আউয়াল মাসের দুই রাত অতিবাহিত হয়েছিল।

বলা হয়েছে: বরং তা ছিল বারো তারিখে … আবার বলা হয়েছে: হস্তিবর্ষের বেশ কিছুকাল পরে।

চল্লিশ বা ত্রিশ বছর পরে … তবে এই মতভেদটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং কেউ কেউ একে দুর্বল বলেছেন «১»

তাকে প্রসব করার সময় তিনি (তাঁর মাতা) একটি নূর দেখেছিলেন … যা তাঁর থেকে নির্গত হয়েছিল, তিনি প্রাসাদসমূহ দেখেছিলেন।

বুসরার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে উঠেছিল, আর তাঁকে যখন ভূমিষ্ঠ করা হয়েছিল … তাঁর দৃষ্টি ছিল আকাশের দিকে উত্তোলিত।

তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর বয়স ছিল দুই বছর … এবং এক-তৃতীয়াংশ, আবার এর চেয়ে কমও বলা হয়েছে।

এই পরিমাণের চেয়ে কম; বরং বিশুদ্ধ মত হলো তিনি তখন মাতৃগর্ভে ছিলেন «২» … এবং তাঁকে দুগ্ধপান করানো হয়েছিল যখন তিনি শিশু ছিলেন।

তাঁর চাচা হামযাহ—যিনি ছিলেন কওমের সিংহ—এর সাথে … এবং আবু সালামাহ আল-মাখযুমীর সাথে «৩»

--------------------------------------------

(১) আল-মুনাভী ‘আল-উজাল্যাত আস-সানিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা ৪১) গ্রন্থে বলেছেন: (ইবনুল জায্যার এই মতভেদের প্রতিবাদ করেছেন এবং তিনি হস্তিবর্ষে তাঁর জন্ম হওয়ার ব্যাপারে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন)। আর হস্তিবর্ষে জন্ম হওয়ার বিষয়টি... হাফিজ ইবনে কাসীর বলেন: (এটিই জমহুর বা সংখ্যাধিক্য উলামায়ে কেরামের নিকট প্রসিদ্ধ), এবং ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইব্রাহিম ইবনুল মুনযির (রহিমাহুমাল্লাহ) বলেছেন: (আলেমদের মধ্যে কেউ এ ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেন না, এবং একাধিক ব্যক্তি এ বিষয়ে ইজমা বা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন)। দেখুন ‘আস-সিরাত আল-হালাবিয়্যাহ’ (১/৫৯)। আরও দেখুন বিভিন্ন অভিমত ‘তাবাকাত ইবনে সাদ’ (১/১০০), ‘আল-মুনতাযাম’ (১/২৪৫) এবং ‘সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ’ (১/৪০১) গ্রন্থে।

(২) ইমাম হাকীম এটি বর্ণনা করেছেন (২/৬০০) এবং একে সহীহ বলেছেন, আর ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

(৩) তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল আসাদ আল-মাখযুমী, ইসলামের দিকে অগ্রগামী প্রথম সারির ব্যক্তিবর্গের অন্যতম। তিনি আবিসিনিয়ায় এবং পরবর্তীতে মদীনায় হিজরতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং হিজরি চতুর্থ সনে ইন্তেকাল করেন সেই জখমের কারণে যা তিনি এক যুদ্ধে প্রাপ্ত হয়েছিলেন।