(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: -)
فقه السيرة النبوية مع موجز لتاريخ الخلافة الراشدة   (محمد سعيد البوطي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: فقه السيرة النبوية مع موجز لتاريخ الخلافة الراشدة

المؤلف: محّمد سَعيد رَمضان البوطي

الناشر: دار الفكر - دمشق

الطبعة: الخامسة والعشرون - 1426 هـ

عدد الصفحات: 400

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

খোলাফায়ে রাশেদীনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসসহ সীরাতুন নববীর ফিকহ   (মুহাম্মদ সাঈদ আল-বূতী)

বিভাগ: সীরাতুন নববী


গ্রন্থ: খোলাফায়ে রাশেদীনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসসহ সীরাতুন নববীর ফিকহ

লেখক: মুহাম্মদ সাঈদ রামাদান আল-বূতী

প্রকাশক: দারুল ফিকর - দামেস্ক

সংস্করণ: পঁচিশতম - ১৪২৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله حمدا يوافي نعمه ويكافئ مزيده، يا ربّنا لك الحمد كما ينبغي لجلال وجهك ولعظيم سلطانك، والصلاة والسلام على سيّدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وأسأل الله أن يهدينا سواء صراطه المستقيم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য—এমন প্রশংসা যা তাঁর নিআমতসমূহের সমতুল্য এবং তাঁর অতিরিক্ত অনুগ্রহের উপযুক্ত প্রতিদান। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা, যেমনটি আপনার চেহারার মহিমা এবং আপনার মহান রাজত্বের জন্য শোভনীয়। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরের ওপর। আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাঁর সঠিক ও সরল পথের দিশা প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة الطبعة الجديدة

قيّض الله لهذا الكتاب من الانتشار ومن إقبال الناس عليه، ما لم يقيضه لأيّ من الكتب الأخرى التي وفقني الله لتأليفها وإخراجها.

ومرد ذلك، في يقيني، إلى المنهج الذي سلكته في كتابة السيرة النّبوية، والذي تضمن تصحيحا للأخطاء، بل للانحرافات، التي وقع فيها كثير من الكتّاب العصريين، لا سيما أولئك الذين يتعاملون مع الشعار العصري المشبوه: (قراءة معاصرة) .

ولقد تحدثت عن هذه الأخطاء وعن العوامل الخفية والمصطنعة التي أدت إليها، كما تحدثت عن المنهج العلمي الذي يجب أن يتبع في كتابة السيرة النّبوية، مقارنا بالمدارس والمناهج الأخرى، وذلك في فصل أضفته، في إحدى الطبعات الأخيرة لهذا الكتاب، إلى المقدّمات الهامة التي افتتحته بها؛ وعنوانه (السّيرة النّبوية، كيف تطورت دراستها وكيف يجب فهمها اليوم) .

كثيرون هم الذين حلّلوا حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم في كتاباتهم، على أنها عظمة إنسانية مجردة، كالتي اتّصف بها كثير من القادة والرجال الذين خلوا من قبله وجاؤوا من بعده؛ وكثيرون هم الذين أصرّوا على أن يفهموا الناس أن الفتح الإسلامي الذي قاده رسول الله؛ إنما هو ثورة يسار اقتصادي ضدّ يمين متطرف! .. وكثيرون هم الذين أوهموا الناس، أو حاولوا أن يوهموهم، أن الدوافع الخفية التي قادت رسول الله ومن معه إلى ما صنع، إنما تتمثل في الرغبة الطامحة إلى نقل الزعامة والسيادة من أيدي الأعاجم إلى أيدي العرب. وجنّدت لهذه الأغراض أقلام، ونثرت ابتغاء تحقيق ذلك أعطيات وأموال؛ ورشح مؤلف هذا الكتاب ذاته في يوم من الأيام، لسلوك هذا الطريق وكتابة سيرة رسول الله بالطريقة التي تخدم هذه الأغراض، وطلب منه ذلك مباشرة وعلانية.

غير أن التّجربة أثبتت أن كلّا من الأسلوب أو المنهج أو حوك التصورات المصطنعة، لا يقوى على تحويل الحق إلى باطل أو الباطل إلى حق. فلقد انقشعت سحب هذه الكتابات كلها، على الرغم من كثافتها، وعادت شمس الحقيقة ساطعة من ورائها كما هي. وبقي الناس عامة والمثقفون خاصة، على يقين بأن عظمة رسول الله ثمرة من ثمار نبوته، قبل أن تكون من نسيج إنسانيته. وبأن الفتح الذي تمّ على يده، كان قياما بأمر الله، ولم يكن لحاقا وراء مال.. وبأن السيادة فوق هذه الأرض- فيما علّمنا إيّاه رسول الله- إنما هي للإنسان من حيث هو، فهو
নতুন সংস্করণের ভূমিকা

আল্লাহ তাআলা এই কিতাবটিকে এমন ব্যাপক প্রচার এবং মানুষের নিকট এমন গ্রহণযোগ্যতা দান করেছেন, যা তিনি আমার দ্বারা রচিত এবং প্রকাশিত অন্য কোনো কিতাবের ক্ষেত্রে দান করেননি।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস মতে এর কারণ হলো সীরাতুন্নবী রচনার ক্ষেত্রে আমি যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছি তা; যেখানে আধুনিক অনেক লেখকের ভুলভ্রান্তি, বরং বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা ‘সমকালীন পাঠ’ (মডার্ন রিডিং) নামক সন্দেহজনক আধুনিক স্লোগান নিয়ে কাজ করেন।

আমি এই ভুলগুলো এবং সেগুলোর পেছনে কার্যকর গোপন ও কৃত্রিম কারণগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি সীরাতুন্নবী রচনার ক্ষেত্রে যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক, অন্যান্য চিন্তাধারা ও পদ্ধতির সাথে তুলনা করে সে সম্পর্কেও আলোচনা করেছি। এই কিতাবের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাগুলোর সাথে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে আমি এটি যুক্ত করেছি, যার শিরোনাম হলো: ‘সীরাতুন্নবী: এর অধ্যয়ন কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে এবং আজ তা কীভাবে বোঝা উচিত?’।

এমন অনেকেই আছেন যারা তাদের লেখনিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকে নিছক মানবিক শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন, যেমনটি তাঁর পূর্ববর্তী বা পরবর্তী অনেক নেতা ও মহাপুরুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। আবার অনেকে মানুষকে এটি বোঝাতে জেদ ধরেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্বে পরিচালিত ইসলামী বিজয়গুলো ছিল মূলত কট্টর ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বামপন্থীদের এক বিপ্লব! অনেকে মানুষকে এমন ভ্রান্ত ধারণা দিয়েছেন বা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথীদের এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে গোপন উদ্দেশ্য ছিল অনারবদের হাত থেকে আরবদের হাতে নেতৃত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব ফিরিয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। এই লক্ষ্যগুলো হাসিলের জন্য বহু কলমকে নিয়োজিত করা হয়েছে এবং অঢেল ধন-সম্পদ ব্যয় করা হয়েছে। এমনকি এই কিতাবের লেখককেও কোনো এক সময় এই পথে চলার জন্য এবং এই উদ্দেশ্যগুলো চরিতার্থ হয় এমনভাবে রাসূলুল্লাহর সীরাত রচনার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল এবং সরাসরি ও প্রকাশ্যে তাঁর কাছে এমন প্রস্তাব করা হয়েছিল।

তবে অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, কোনো শৈলী, পদ্ধতি বা কৃত্রিম ধারণার বুনন সত্যকে মিথ্যায় কিংবা মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তর করতে সক্ষম নয়। এই জাতীয় সকল লেখার কালো মেঘ অত্যন্ত ঘন হওয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তা কেটে গেছে এবং সত্যের সূর্য তার পেছনে ঠিক তেমনই উজ্জ্বলভাবে পুনরায় উদিত হয়েছে। সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজ এই দৃঢ় বিশ্বাসে অটল রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহর মহত্ত্ব তাঁর মানবিক গুণাবলির আগে মূলত তাঁর নবুওয়াতেরই ফলশ্রুতি। আর তাঁর হাতে যে বিজয় সূচিত হয়েছিল, তা ছিল আল্লাহর নির্দেশ পালন মাত্র, সম্পদের পেছনে ছোটা নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা শিখিয়েছেন তা হলো—এই পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব কেবল মানুষের মর্যাদার ভিত্তিতে, কারণ সে...
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
المستخلف عن الله، وهو المكرّم بحكم الله؛ فإن تفاوت الناس وراء هذه السيادة، فإنما يتفاوتون بالتقوى والعمل الصالح، لا بأي من الامتيازات الأخرى التي قد يتباهى بها بعض الناس.

لا جرم أن شدة إقبال الناس على ما كتبته من تصحيح لتلك الأغلاط أو الانحرافات، تعود إلى سبب واحد لا ثاني له، هو تعلّق الفطرة الإنسانية الأصيلة بالحق أينما لاح وأيّا كان المنادي به؛ وثقل الباطل عليها واشمئزازها منه، مهما كانت المغريات التي أنيط بها أو الزينة التي غمس فيها.

ولعل هذا من بعض معنى قول الله عز وجل: يُرِيدُونَ لِيُطْفِؤُا نُورَ اللَّهِ بِأَفْواهِهِمْ، وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكافِرُونَ.

هذا، إلى جانب ما هو بيّن واضح، من أن عقول أكثر الناس تتجه اليوم إلى البحث عن الحقيقة.. الحقيقة الصافية عن الشوائب والمتحررة من سلطان الأغراض والأسبقيات، لا سيما بعد أن ظهر للعيان كيف مني الإنسان بالمصائب الفادحة من جراء التلاعب بالحقائق والسعي إلى إخضاعها لحكم الرعونات والمصالح والأهواء. ولعل هذا من بعض العوامل الكامنة وراء ما نشاهده جميعا من الصحوة الإسلامية، على سائر الأصعدة، وبين جميع الفئات.

*** أما هذه الطبعة، فإنها تمتاز- بعد العناية التي وفقنا الله لها في التّنضيد والإخراج- بقسم سابع يتضمن بيانا موجزا للخلافة الراشدة، وقد كان لا بدّ أن نسير في ذلك على المنهج المتّبع ذاته، فنتبع الحديث عن حياة كل خليفة وأهم الأحداث التي جرت في عهده بالعبر والعظات التي تؤخذ من ذلك.

وبهذا نكون قد وفقنا لجعل هذا الكتاب مصدرا وافيا لسيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم وخلفائه الراشدين، مع التحليل الذي يضع القارئ أمام فقه ذلك كله، ويصله بالمعاني والمبادئ التي تعدّ ثمرة هذه الدراسة، وأهم الأغراض التي ينبغي أن تقصد من ورائها.

والفضل أولا وآخرا في هذا التوفيق لله عز وجل وحده.

كل ما أرجوه من الله عز وجل، بعد أن أكرمني بهذا التوفيق، أن يزيد من إنعامه فيكرمني بالإخلاص لوجهه الكريم، ويطهّر قلبي عما دون ذلك من الدوافع والأغراض.

ويقيني الذي لا يدخله ريب، أن الأمر كله بيد الله، وأن لا حول ولا قوة إلا بالله.

دمشق 15 رمضان 1411 هـ 1 نيسان 1991 م محمد سعيد رمضان البوطي
আল্লাহর পক্ষ থেকে স্থলাভিষিক্ত এবং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সম্মানিত; এই সার্বভৌমত্বের পশ্চাতে মানুষের মধ্যে যদি কোনো তারতম্য থাকে, তবে তা কেবল তাকওয়া ও সৎকর্মের মাধ্যমেই হয়, অন্য কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে নয় যা নিয়ে কিছু মানুষ দম্ভ করতে পারে।

নিঃসন্দেহে আমার রচিত সেই ভুলভ্রান্তি বা বিচ্যুতি সংশোধনমূলক লেখাগুলোর প্রতি মানুষের এই প্রবল আগ্রহের মূলে একটিই কারণ বিদ্যমান; আর তা হলো মানুষের আদি ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি সত্যের প্রতি অনুরাগী হওয়া—সত্য যেখানেই উদ্ভাসিত হোক এবং তার আহ্বানকারী যেই হোক না কেন। তদ্রূপ মিথ্যার বোঝা বহন করা তার জন্য পীড়াদায়ক এবং মিথ্যার প্রতি তার চরম ঘৃণা কাজ করে, মিথ্যাকে যে প্রলোভনেই জড়ানো হোক বা যে ভূষণেই সজ্জিত করা হোক না কেন।

সম্ভবত এটি মহান আল্লাহর এই বাণীরই কিঞ্চিৎ মর্মার্থ: তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দানকারী, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।

এর পাশাপাশি বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, বর্তমানকালে অধিকাংশ মানুষের বুদ্ধি ও বিবেক সত্য অনুসন্ধানের দিকে ধাবিত হচ্ছে—এমন এক সত্য যা সব ধরনের কলুষতামুক্ত এবং ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ও পূর্বধারণার প্রভাব থেকে মুক্ত। বিশেষ করে যখন এটি মানুষের সামনে দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সত্য নিয়ে কারসাজি করা এবং সত্যকে মূর্খতা, সংকীর্ণ স্বার্থ ও প্রবৃত্তির অনুগত করার প্রচেষ্টার ফলে মানুষ কীভাবে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে। সম্ভবত এটিই সেই অন্তর্নিহিত কারণগুলোর একটি, যার ফলে আমরা জীবনের সকল স্তরে এবং সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে এক ইসলামি জাগরণ প্রত্যক্ষ করছি।

আর এই সংস্করণটি—আল্লাহর অনুগ্রহে বিন্যাস ও মুদ্রণশৈলীর যত্নের পাশাপাশি—একটি সপ্তম খণ্ডের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য লাভ করেছে যাতে খুলাফায়ে রাশিদীনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আলোচিত হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের পূর্বের অনুসৃত পদ্ধতিই অবলম্বন করতে হয়েছে; অর্থাৎ প্রত্যেক খলিফার জীবন ও তাঁর আমলের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি আলোচনার শেষে তা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয় ও উপদেশাবলিও বর্ণনা করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে আমরা এই গ্রন্থটিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের সীরাতের একটি প্রামাণ্য ও পর্যাপ্ত উৎসে পরিণত করতে সমর্থ হয়েছি। সেই সঙ্গে এতে এমন বিশ্লেষণ যুক্ত করা হয়েছে যা পাঠককে এই সবকিছুর অন্তর্নিহিত ফিকহ বা প্রজ্ঞার মুখোমুখি করবে এবং তাকে সেই সকল অর্থ ও মূলনীতির সাথে সংযুক্ত করবে যা এই অধ্যয়নের মূল নির্যাস এবং যা এই আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়।

আর এই তাওফিক বা সফলতার যাবতীয় অনুগ্রহ আদিতে ও অন্তে কেবল মহান আল্লাহরই প্রাপ্য।

আল্লাহ তাআলা আমাকে এই তাওফিক দিয়ে ধন্য করার পর তাঁর কাছে আমার একমাত্র আরজি এই যে, তিনি যেন তাঁর এই অনুগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির নিমিত্তে আমাকে একনিষ্ঠতা দান করেন, আর আমার অন্তরকে জাগতিক সকল হীন প্রেরণা ও উদ্দেশ্য থেকে পবিত্র করেন।

আমার এই দৃঢ় বিশ্বাসে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই যে, সকল বিষয় আল্লাহর হাতে এবং আল্লাহর শক্তি ও সাহায্য ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

দামেস্ক, ১৫ রমজান ১৪১১ হিজরি, ১ এপ্রিল ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ, মুহাম্মদ সাইদ রমজান আল-বুতি
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

1- هذه الطبعة الثانية لكتاب فقه السّيرة، أقدمها إلى الذين تعنيهم دراسة سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم، ويهمهم الوقوف على فقه السّيرة ودروسها وعظاتها، بعد أن زدت في كثير من أبحاثه، وعدت بالتهذيب والتنقيح إلى بعض فصوله، رجاء أن يزداد الكتاب بذلك قربا إلى الكمال، مع اليقين بأن الكمال المطلق غاية لا تدرك، والعصمة من الزلل مستوى لا يصار إليه، اللهم إلا ما أكرم الله به من ذلك أنبياءه المقربين، فتلك مزية لهم لم تعط لغيرهم، وإنما أكرمهم الله بها لكي يتضح للناس الفرق بين من يعمل عقله في المسائل تأملا واجتهادا، وبين من أرشده الله إلى الحق فيها وحيا وإلهاما، مع ما أولاهم من العقل الكامل والبصيرة النيرة الصافية.

2- وما كنت أتوقع، يوم ظهرت الطبعة الأولى من هذا الكتاب أن تنفد نسخها في هذه المدة اليسيرة، وأن تجد ما وجدته من الإقبال في مختلف البلاد العربية والإسلامية، وإن كنت أعلم أنني قد سلكت في كتابة السّيرة النّبوية والتعليق عليها مسلكا من شأنه أن يصحح أغلاط كثير ممن كتبوا فيها في هذا العصر، وأن يميط الغشاء عن المغالطات التي كانت ولا تزال تدسها أقلام كثير من الكاتبين والمستشرقين والمستغربين وهي أغلاط ومغالطات قامت لتغذيتها ورعايتها وترويجها مدرسة فكرية معينة نشأت في أواخر القرن التاسع عشر وراحت تمد من آثارها وظلالها، إلى أيامنا هذه.

3- ولقد أدركت، مما بلغني من حمد القراء للطريقة التي كتبت بها هذه الفصول، أن تلك المدرسة لم تعد تخدع إلا قلة من بقايا المفتونين باسمها واسم مؤسسيها ودعاتها، وأن الحقائق الناصعة في حياة المصطفى عليه الصلاة والسلام تظل هي المشرقة السائدة، ويظل العقل الحر نزاعا إليها موقنا بها غير مطمئن إلى أي تأويل أو تحليل يهدف إلى تحويرها أو التلاعب بها.

4- ولقد علم عامة الباحثين والمفكرين أن من أهم أسباب نشأة تلك المدرسة في حينها، ذلك الانبهار الذي أصيب به كثير من العقول العربية المسلمة من أنباء النهضة العلمية في أوربا. فقد راحت تلك العقول تتوهم- تحت تأثير ذلك الانبهار- أنه ليس بين المسلمين وبين أن ينهضوا مثل تلك النهضة إلا أن يفهموا الإسلام هنا كما فهمت أوربا النّصرانية هناك، وأن يضعوا حقائق الإسلام الغيبية من وراء اكتشافات العلوم المادية، فلا يؤمنوا بغيب لم يدركه علم، ولا يعرجوا على معجزة لم يؤيدها اكتشاف أو اختراع. فإذا فعلوا ذلك نهضوا نهضة أوربا في علومها ولحقوها في رقيها وفنونها.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

১- এটি 'ফিকহুস সীরাত' (সীরাততত্ত্ব) গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ। যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত অধ্যয়নে আগ্রহী এবং সীরাততত্ত্ব, এর শিক্ষা ও উপদেশাবলি সম্পর্কে অবগত হতে ইচ্ছুক, তাদের সামনে আমি এটি পেশ করছি। আমি এর অনেক গবেষণায় পরিমার্জন করেছি এবং কিছু অধ্যায় পুনরায় সংশোধন ও পরিমার্জন করেছি, এই আশায় যে এর মাধ্যমে বইটি পূর্ণতার আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে। যদিও আমি নিশ্চিত যে পরম পূর্ণতা এমন এক লক্ষ্য যা অর্জন করা অসম্ভব এবং ভুল-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা এমন এক স্তর যা সাধারণ মানুষের আয়ত্তে নয়। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত নবীদের যাকে এই বিশেষ সম্মান দান করেছেন তারা এর ব্যতিক্রম। এটি তাঁদের এমন এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য যা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি। আল্লাহ তাঁদের এই বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যাতে মানুষের কাছে সেই ব্যক্তির পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায় যে চিন্তা ও ইজতিহাদের মাধ্যমে কোনো বিষয়ে নিজ বুদ্ধিকে কাজে লাগায়, আর সেই ব্যক্তির পার্থক্য যাকে আল্লাহ ওহি ও ইলহামের মাধ্যমে সত্যের পথ দেখিয়েছেন। এর পাশাপাশি আল্লাহ তাঁদেরকে পূর্ণ জ্ঞান এবং উজ্জ্বল ও নির্মল অন্তর্দৃষ্টি দান করেছেন।

২- এই গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ যখন প্রকাশিত হয়েছিল, তখন আমি ভাবতেও পারিনি যে এত অল্প সময়ের মধ্যে এর কপিগুলো শেষ হয়ে যাবে এবং বিভিন্ন আরব ও মুসলিম দেশে এটি এতটা সমাদৃত হবে। যদিও আমি জানতাম যে, সীরাতে নববী রচনা ও এর ওপর পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমি এমন এক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি যা বর্তমান যুগের অনেক লেখকের ভুল সংশোধন করবে এবং সেই সব বিভ্রান্তির আবরণ উন্মোচন করবে যা অনেক লেখক, প্রাচ্যবিদ ও পশ্চিমাপন্থীরা দীর্ঘকাল ধরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এগুলো এমন সব ভুল ও বিভ্রান্তি যা উনিশ শতকের শেষভাগে জন্ম নেওয়া একটি বিশেষ চিন্তাধারার লালন ও প্রসারে বেড়ে উঠেছে এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত যার প্রভাব ও ছায়া বিস্তৃত হয়ে আছে।

৩- পাঠকদের প্রশংসা থেকে আমি যা বুঝতে পেরেছি তা হলো, এই অধ্যায়গুলো যে পদ্ধতিতে লেখা হয়েছে তার ফলে সেই চিন্তাধারা এখন খুব সামান্য কিছু লোককেই বিভ্রান্ত করতে পারছে, যারা এখনো সেই নাম এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রচারকদের মোহে আচ্ছন্ন। অন্যদিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের উজ্জ্বল সত্যগুলো সর্বদা দীপ্তিমান ও বিজয়ী হয়ে থাকবে। আর মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ সর্বদা সেই সত্যের দিকেই ধাবিত হবে এবং তাতে বিশ্বাসী হবে; তারা এমন কোনো ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণের প্রতি আশ্বস্ত হবে না যার উদ্দেশ্য হলো সত্যকে বিকৃত করা বা তা নিয়ে কারসাজি করা।

৪- গবেষক ও চিন্তাবিদগণ ভালো করেই জানেন যে, সেই সময়ে ওই চিন্তাধারার উত্থানের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ইউরোপের বৈজ্ঞানিক জাগরণের সংবাদ শুনে অনেক আরব ও মুসলিম বুদ্ধিজীবীর মোহগ্রস্ত হওয়া। সেই মোহের প্রভাবে তারা কল্পনা করতে শুরু করেছিল যে, ইউরোপ যেভাবে খ্রিস্টধর্মকে বুঝেছিল, মুসলমানরা যদি ইসলামকে ঠিক সেভাবে বুঝতে পারে, তবেই তাদের পক্ষে ইউরোপের মতো জাগরণ সম্ভব। তারা ইসলামের অদৃশ্যের (গায়েবি) সত্যগুলোকে বস্তুগত বিজ্ঞানের আবিষ্কারের পশ্চাতে রাখতে চেয়েছিল। ফলে বিজ্ঞান যে অদৃশ্য বিষয়কে উপলব্ধি করতে পারেনি তাতে তারা বিশ্বাস করবে না এবং এমন কোনো মোজেজার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না যা কোনো আবিষ্কার বা উদ্ভাবন দ্বারা সমর্থিত নয়। তারা মনে করেছিল, যদি তারা এমনটি করতে পারে, তবেই তারা বিজ্ঞানে ইউরোপের মতো উন্নতি করতে পারবে এবং তাদের অগ্রগতি ও শিল্পকলায় স্থলাভিষিক্ত হতে পারবে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ومن هنا أنشأ أقطاب تلك المدرسة ما زعموه (الإصلاح الديني) ، والدين الصحيح ما كان يوما ليفسد حتى يحتاج إلى مصلح أو إصلاح، وكان من مظاهر هذا (الإصلاح) ظهور أول تجربة تحاول تحليل حياة الرسول صلى الله عليه وسلم تحليلا يسير في خضوع منكسر وراء العقلية الأوربية وتحت لواء ما زعموه (العلم الحديث) . أجل فلقد كان كتاب (حياة محمد) لحسين هيكل التجربة الرائدة في هذا المضمار أعلن فيه الرجل أنه لا يريد أن يفهم حياة محمد عليه الصلاة والسلام إلا كما يأمر به (العلم) ، ولذلك فلا خوارق ولا معجزات في حياته عليه الصلاة والسلام؛ إنما هو القرآن، والقرآن فقط. وتذكر الكاتب أن يستشهد في هذا بقول البوصيري:

لم يمتحنا بما تعي العقول به … حرصا علينا فلم نرتب ولم نهم

ونسي أن يقف عند قوله في القصيدة ذاتها:

جاءت لدعوته الأشجار ساجدة … تمشي إليه على ساق بلا قدم

وانبرى الشيخ المراغي شيخ الأزهر إذ ذاك، يقرظ الكتاب ويبارك الخطوة الرائدة، وانطلق محمد فريد وجدي هو الآخر ينشر سلسلة مقالاته داعيا فيها إلى فهم الإسلام والسّيرة النّبوية عن طريق (العلم) ، ولو اقتضى ذلك الإعراض عن الخبر الصادق الذي ثبت في الكتاب أو السّنة، وإنما كان يقصد ب (طريق العلم) أن لا يستسلم العقل للغيبيات ولا الخوارق والمعجزات وإن جاء بها الخبر الصادق المتواتر، كأن العلم إنما يتحقق بإنكار كل ما لم يقع تحت حسك وشعورك!!

5- ومعلوم كيف استغل الاحتلال البريطاني في مصر إذ ذاك، هذا الفهم الجديد للإسلام عند طائفة من أقطاب الفكر وحملة القلم، استغله في إضعاف الوازع الديني في أفئدة المسلمين، (وأي وازع ديني يبقى في نفس من أنكر فكرة المعجزة من أساسها في الدين، وهل الدين شيء غير معجزة الوحي الإلهي إلى رسله وأنبيائه؟) فراحت التربية الاستعمارية تباعد بين المسلمين ومنهجهم الإسلامي، وتقيم بينهم وبينه منهجا آخر، كل ما فيه من المؤيدات أنه منهج أوربي عريق! ..

6- ثم مرت الأزمنة وتوالت السّنوات، فتبيّن لكل باحث منصف، أن تلك المدرسة لم تكن على شيء من التأمل الفكري الحر ولا من البحث العلمي النّزيه، وإنما كانت ردّ فعل أثاره الانبهار والشعور بالضعف لدى طائفة من المسلمين، تهيأ لها بسبب ظروف خاصة أحاطت بها، أن تطلع على الحياة الأوربية فتستهويها زخرفها وملذّاتها، فاتّخذوا من نزوات نفوسهم حاكما مسلطا على عقولهم واصطنعوا بذلك مدرسة فكرية ظاهرها (الإصلاح الديني) وباطنها الاستخذاء النفسي والانبهار الفكري بين يدي نهضة الغرب.
আর এখান থেকেই সেই ধারার কর্ণধারগণ তথাকথিত 'ধর্মীয় সংস্কার' এর সূচনা করেন। অথচ সঠিক দ্বীন কখনোই এমনভাবে কলুষিত হয় না যে তার জন্য কোনো সংস্কারক বা সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে। এই 'সংস্কার' এর অন্যতম বহিঃপ্রকাশ ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনীর এমন এক বিশ্লেষণের প্রথম অভিজ্ঞতা, যা ইউরোপীয় মানসিকতা এবং তথাকথিত 'আধুনিক বিজ্ঞান' এর পতাকাতলে এক হীন বশ্যতা স্বীকার করে চলেছিল। হ্যাঁ, হুসাইন হাইকলের ‘হায়াতে মুহাম্মদ’ (মুহাম্মদের জীবন) বইটি ছিল এই ময়দানের প্রথম অগ্রগামী অভিজ্ঞতা, যেখানে সেই ব্যক্তি ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি মুহাম্মদ আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকে কেবল ‘বিজ্ঞান’ যেভাবে নির্দেশ দেয় সেভাবেই বুঝতে চান। তাই তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম) জীবনে কোনো অলৌকিক ঘটনা বা মোজেজা নেই; আছে কেবল কুরআন, এবং শুধুই কুরআন। লেখক এক্ষেত্রে বুসিরির এই পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করার কথা মনে রেখেছেন:

তিনি আমাদের এমন কিছু দিয়ে পরীক্ষা করেননি যা বুদ্ধি অনুধাবন করতে অক্ষম... আমাদের প্রতি তাঁর মমত্ববোধের কারণে, ফলে আমরা কোনো সংশয়ে বা ভ্রান্তিতে পড়িনি।

কিন্তু তিনি একই কাসিদার এই পঙ্ক্তিতে এসে থামতে ভুলে গেছেন:

তাঁর আহ্বানে গাছগুলো সিজদাবনত হয়ে এসেছিল... সেগুলো তাঁর দিকে হেঁটে এসেছিল পা বিহীন কাণ্ডের ওপর ভর করে।

আর তৎকালীন আজহারের শাইখ, শাইখ আল-মারাগী বইটির প্রশংসা করতে এবং এই অগ্রগামী পদক্ষেপকে স্বাগত জানাতে এগিয়ে আসেন। মুহাম্মাদ ফরীদ ওয়াজদীও ‘বিজ্ঞান’ এর মাধ্যমে ইসলাম ও সীরাত বোঝার আহ্বান জানিয়ে ধারাবাহিকভাবে তাঁর প্রবন্ধসমূহ প্রকাশ করতে শুরু করেন, যদিও এর জন্য কিতাব বা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত সত্য সংবাদ (খবরে সাদেক) উপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে। ‘বিজ্ঞানের পথ’ বলতে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল যেন বুদ্ধি অদৃশ্যের বিষয় এবং অলৌকিক মোজেজার কাছে আত্মসমর্পণ না করে, যদিও তা সত্য ও মুতাওয়াতির সংবাদের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়; যেন বিজ্ঞান কেবল তখনই অর্জিত হয় যখন আপনি আপনার ইন্দ্রিয় ও অনুভূতির আওতার বাইরে থাকা সবকিছুকে অস্বীকার করেন!!

৫- এটা সবারই জানা যে, তৎকালীন মিশরে ব্রিটিশ দখলদারিত্ব একদল চিন্তাবিদ ও লেখকদের মাঝে ইসলামের এই নতুন ব্যাখ্যাকে কীভাবে ব্যবহার করেছিল। তারা এটি ব্যবহার করেছিল মুসলমানদের হৃদয়ে ধর্মীয় অনুভূতি ও নৈতিকতাকে দুর্বল করার কাজে। (আর যার মনে ধর্মের মূল ভিত্তি অর্থাৎ মোজেজার ধারণাই অস্বীকার করা হয়েছে, তার মধ্যে আর কোন ধর্মীয় অনুভূতি অবশিষ্ট থাকে? আর ধর্ম কি নবীদের প্রতি আল্লাহর ওহীর মোজেজা ছাড়া অন্য কিছু?) ফলে ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থা মুসলমানদেরকে তাদের ইসলামি আদর্শ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে এবং তাদের মাঝে অন্য একটি ব্যবস্থার প্রচলন করতে শুরু করে, যার সপক্ষে প্রধান যুক্তি ছিল যে এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ইউরোপীয় ব্যবস্থা! ..

৬- এরপর সময়ের আবর্তনে বছরের পর বছর কেটে গেল এবং প্রত্যেক নিরপেক্ষ গবেষকের কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সেই ধারাটি কোনো স্বাধীন চিন্তাশীলতা বা নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল না। বরং এটি ছিল মুসলমানদের একদলের মধ্যে হীনম্মন্যতা ও দুর্বলতাবোধ থেকে সৃষ্ট একটি প্রতিক্রিয়া। তাদের সামনে আসা বিশেষ কিছু পরিস্থিতির কারণে তাদের সামনে ইউরোপীয় জীবন ব্যবস্থা উন্মোচিত হয়েছিল এবং তার চাকচিক্য ও ভোগবিলাস তাদেরকে প্রলুব্ধ করেছিল। ফলে তারা তাদের প্রবৃত্তিকে নিজেদের বিবেকের ওপর শাসক হিসেবে চাপিয়ে দিয়েছিল এবং এর মাধ্যমে এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক ঘরানা তৈরি করেছিল যার প্রকাশ্য রূপ ছিল ‘ধর্মীয় সংস্কার’ কিন্তু তার অভ্যন্তরে ছিল পশ্চিমা নবজাগরণের সামনে মানসিক পরাজয় এবং বুদ্ধিবৃত্তিক মোহাচ্ছন্নতা।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وتبين لكل باحث أيضا أن تلك المدرسة لم تكسب أربابها ودعاتها أي نهضة علمية كالتي نهضتها أوربا كما كانوا يوهمون أو يتوهمون. كل ما جنته أيدي ذلك (الإصلاح الديني) فقدان الحقيقتين معا، فلاهم على حقيقتهم الدينية أبقوا ولا على النهضة العلمية عثروا «1» .

7- من أجل ذلك أردت أن يكون أهم عملي في هذا الكتاب هو الإقدام على إزالة بقية الأطلال القائمة لتلك المدرسة المذكورة.

إن المسلم لا ينبغي أن يحاول لحظة واحدة، فهم حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم على أنه عبقري عظيم أو قائد خطير أو داهية محنّك. فمثل هذه المحاولة ليست إلا معاندة أو معابثة للحقائق الكبرى التي تزخر بها حياة محمد عليه الصلاة والسلام. فلقد أثبتت هذه الحقائق الجلية الناصعة أن النّبي صلى الله عليه وسلم كان متّصفا بكل صفات السّمو والكمال الخلقي والعقلي والنفسي، ولكن كل ذلك كان ينبع من حقيقة واحدة كبرى في حياته عليه الصلاة والسلام، ألا وهي أنه نبي مرسل من قبل الله عز وجل. وإن من العبث الغريب أن نضع الفروع في موضع الأصل ثم نتجاهل وجود الأصل مطلقا!. ولا ريب أن الرّد على ذلك لا يكون إلا بلفت النظر إلى الأصل. بل إلى الأصل وحده.

كما أن المسلم لا ينبغي له أن يتصور أن المعجزة الوحيدة في حياته صلى الله عليه وسلم إنما هي القرآن، مادام أنه لا ينكر أن له عليه الصلاة والسلام سيرة يحاول أن يفهم حياته من خلالها. أما إن كان ينكر وجود هذه السّيرة فإن عليه أن ينكر معجزة القرآن أيضا. إذ لم تبلغنا معجزات رسول الله المختلفة إلا من حيث بلغتنا منه معجزة القرآن. والإقدام على تأويل هذا وتسليم ذاك طبق ما يستهوي النفس ويتفق مع الغرض، إسفاف غريب في تصنع البحث والفهم، لا يقدم عليه من كان كريما على نفسه معتزا بعقله.

8- وكان فيما رأيته من الرضا والحماس اللذين استقبل بهما القرّاء عملي هذا، أعظم دليل على أن كل هذا الذي أنفقه دعاة السوء ومحترفو الغزو الفكري من مستشرقين ومستغربين وأذناب وجهال، من وقت طويل وجهد عظيم وكتابات مستفيضة متلاحقة، لا يمكنه أن يتسبب في تحويل شيء من الحق إلى الباطل أو من الباطل إلى الحق، وعلى أن الحقيقة الفكرية لا يمكن أن تغتال، ولئن أمكن مخادعتها أو التلبيس عليها، فلن يكون ذلك إلا إلى أمد.. ثم ينحسر الخداع ويزول التلبيس وتشرق الحقيقة مرة أخرى من جديد. ويستفيد المتأملون والباحثون من ذلك عبرة تمدّ أفكارهم بمزيد من الحذر والوعي.

--------------------------------------------

(1) أفردت للحديث عن هذه المدرسة ونقدها وتفصيل القول فيها فصلا مستقلا في هذه الطبعة ستجده بين المقدمات التي جعلتها مدخلا لهذا الكتاب.
প্রত্যেক গবেষকের নিকট এটিও স্পষ্ট হয়েছে যে, সেই চিন্তাধারা তার ধারক ও প্রবক্তাদের এমন কোনো বৈজ্ঞানিক জাগরণ দান করেনি যেমনটি ইউরোপ অর্জন করেছিল, যা তারা ধারণা দিত বা ধারণা করত। সেই (ধর্মীয় সংস্কারের) হাত যা কিছু অর্জন করেছে তা হলো উভয় সত্যকে হারিয়ে ফেলা। তারা না তাদের ধর্মীয় সত্যের ওপর টিকে থাকতে পেরেছে, না তারা বৈজ্ঞানিক জাগরণের দেখা পেয়েছে «১» ।

৭- এ কারণেই আমি চেয়েছি যেন এই গ্রন্থে আমার প্রধান কাজ হয় উল্লিখিত সেই চিন্তাধারার বিদ্যমান ধ্বংসাবশেষের অবশিষ্টাংশ দূর করার পদক্ষেপ নেওয়া।

একজন মুসলমানের জন্য এক মুহূর্তের জন্যও এই চেষ্টা করা উচিত নয় যে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকে একজন মহান প্রতিভা, কোনো প্রভাবশালী নেতা বা একজন অভিজ্ঞ কৌশলী হিসেবে বুঝবেন। এ ধরনের প্রচেষ্টা মুহাম্মাদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর জীবনে সমৃদ্ধ সুমহান সত্যসমূহের সাথে কেবল হঠকারিতা বা উপহাস বৈ কিছু নয়। এই উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট সত্যসমূহ প্রমাণ করেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং আত্মিক উচ্চতা ও পূর্ণতার সকল গুণে গুণান্বিত ছিলেন, কিন্তু এর সবকিছুই তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) জীবনের একটি সুমহান সত্য হতে উৎসারিত ছিল, আর তা হলো—তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত একজন নবী। শাখা-প্রশাখাকে মূলের স্থানে বসানো এবং এরপর মূলের অস্তিত্বকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা এক অদ্ভুত নিরর্থক কাজ! এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর উত্তর কেবল মূলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার মাধ্যমেই হতে পারে; বরং কেবল মূলের দিকেই।

অনুরূপভাবে, একজন মুসলমানের জন্য এমনটি কল্পনা করাও উচিত নয় যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের একমাত্র মুজিযা কেবল কুরআন; যতক্ষণ না তিনি এটি অস্বীকার করছেন যে তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) একটি সীরাত বা জীবনচরিত রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর জীবনকে বোঝার চেষ্টা করেন। আর যদি তিনি এই সীরাতের অস্তিত্বকে অস্বীকার করেন, তবে তাকে কুরআনের মুজিযাকেও অস্বীকার করতে হবে। কেননা আল্লাহর রাসূলের বিভিন্ন মুজিযা আমাদের নিকট সেই সূত্রেই পৌঁছেছে যে সূত্রে কুরআনের মুজিযা পৌঁছেছে। নিজের প্রবৃত্তি ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী একটার অপব্যাখ্যা করা আর অন্যটাকে গ্রহণ করা গবেষণা ও উপলব্ধির ভান করার ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত হীনম্মন্যতা, যা এমন কোনো ব্যক্তি করতে পারে না যে নিজের মর্যাদা রক্ষা করে এবং নিজ বুদ্ধিবৃত্তিকে গুরুত্ব দেয়।

৮- পাঠকরা আমার এই কাজটিকে যেভাবে সন্তুষ্টি ও আগ্রহের সাথে গ্রহণ করেছেন, তা এই কথারই শ্রেষ্ঠ প্রমাণ যে, অশুভ প্রচারক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের পেশাদাররা—যাদের মধ্যে প্রাচ্যবিদ, পাশ্চাত্যঘেঁষা গোষ্ঠী, তাদের অনুসারী ও মূর্খরা রয়েছে—দীর্ঘ সময় ধরে যে শ্রম ব্যয় করেছে এবং যে ব্যাপক ও ধারাবাহিক লেখালেখি করেছে, তা সত্যকে মিথ্যায় বা মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করতে পারে না। বুদ্ধিবৃত্তিক সত্যকে কখনো হত্যা করা যায় না; আর যদিও বা তাকে প্রতারিত করার বা সত্য-মিথ্যা মিশ্রিত করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা কেবল সাময়িক সময়ের জন্যই। অতঃপর সেই প্রতারণা কেটে যায়, সত্য-মিথ্যার অস্পষ্টতা দূর হয় এবং সত্য পুনরায় নতুনভাবে উদ্ভাসিত হয়। এতে চিন্তাশীল ও গবেষকরা এমন শিক্ষা লাভ করেন যা তাঁদের চিন্তাধারাকে অধিকতর সতর্কতা ও সচেতনতা প্রদান করে।

--------------------------------------------

(১) এই চিন্তাধারা সম্পর্কে আলোচনা, এর সমালোচনা এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণের জন্য এই সংস্করণে আমি একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় নির্ধারণ করেছি, যা আপনি এই গ্রন্থের প্রবেশিকা হিসেবে প্রণীত ভূমিকাগুলোর মধ্যে পাবেন।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ومهما يكن صحيحا ما يقوله الناس من ابتعاد المسلمين عن منهجهم الإسلامي العظيم في هذه السنوات الأخيرة، فإن الذي أعتقده أن الناشئة المسلمة اليوم تملك من الوعي الإسلامي ودقة التأمل والملاحظة ما لم يكن يملكه المسلمون في أي عهد (قريب) مضى. ولن يمر زمن طويل حتى تجد أن هذا الوعي قد انقلب إلى حركة إيجابية عاملة، تصلح الانحراف، وتقوم الاعوجاج، وتعيد البناء الإسلامي من جديد.

9- ومن ناحية أخرى فقد فضلت أن أسير في كتابة هذه البحوث على المنهج المدرسي القائم على استنباط القواعد والأحكام، مبتعدا عن المنهج الأدبي التحليلي المجرد، وإن كان لكلّ مزيته وفائدته، ذلك لأن المجال الذي أقدم فيه الكتاب (وهو المجال الجامعي) إنما ينسجم ويتفق مع الطريقة الأولى. ولقد وجدت من رضا القرّاء عن هذا المنهج- على اختلافهم- ما دفعني إلى مزيد من التوسع في ذلك والدقة فيه. وإن كنت أعلم أنني لم أستوف البحث حقه ولم أعالج كل ما ينبغي معالجته. ومردّ ذلك: أولا، إلى عجزي وقصوري ولا شك. ثانيا، إلى أنني لا أريد أن أفيض في ذكر المسائل والأحكام ومتعلقاتها إلى الحد الذي يشق معه على القارئ أن يقرأ الكتاب كله لقاء جهد يسير. فإن الكتاب إذا تجاوز إلى هذا الحد، قلّت فائدته بنظري وأصبح مرجعا يستعان به عند المناسبات، بدلا من أن يكون كتابا سهلا سائغا يقتنى للقراءة والدرس في أعمّ الأحوال.

*** 10- غير أن هنالك فئة أخرى من الناس، لم يعجبها هذا الذي صنعت، بل ذهب بعض أفرادها في نقده مذهبا تسربل فيه بلباس الضغينة والحقد، بدلا من أن يظهر في مظهر البحث العلمي المتجرد.

ولوددت لو أنني نبهت إلى خطأ انحرفت إليه لدى البحث، أو غفلة أصابتني عند بيان حكم أو دليل من قبل أخ مخلص، لأشكر له تنبيهه وأدعو له بالمثوبة والأجر، ولكنني لم أقع بدلا من ذلك إلا على ما لا حصيلة له من القول المنبعث عن رغبة واضحة في الإساءة والتّشفي والانتصار للعصبة والعصبية.

11- فلقد وجدت- مثلا- في هدي رسول الله صلى الله عليه وسلم وعمل أصحابه ما أوضح بشكل لا خفاء فيه مشروعية التوسل برسول الله صلى الله عليه وسلم حيّا وميتا، فقررت ذلك بعد أن عرضت بين يديه ما لا يمكن ردّه من الأدلة والبراهين.

ووجدت في سيرته صلى الله عليه وسلم ما أوضح مشروعية القيام إكراما للقادم، فذكرت هذه الأدلة وأوضحت ما ذكره العلماء من الفرق بين القيام للقادم والقيام على الرجل الجالس، وما أوضحته
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলমানরা তাদের মহান ইসলামি আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে বলে মানুষ যা বলছে তা যদি সত্যও হয়, তবুও আমি বিশ্বাস করি যে আজকের মুসলিম তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এমন ইসলামি সচেতনতা, সূক্ষ্ম চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ শক্তি রয়েছে যা নিকট অতীতের কোনো সময়ের মুসলমানদের মধ্যে ছিল না। বেশি সময় পার হবে না যখন দেখা যাবে যে এই সচেতনতা একটি ইতিবাচক কর্মতৎপর আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে, যা বিচ্যুতি সংশোধন করছে, বক্রতা সোজা করছে এবং নতুন করে ইসলামি বুনিয়াদ পুনর্নির্মাণ করছে।

৯- অন্যদিকে, আমি এই গবেষণাপত্রগুলো লেখার ক্ষেত্রে নিছক সাহিত্যিক ও বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি পরিহার করে বিধি-বিধান ও উসুল উদঘাটনের ওপর ভিত্তি করে প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি অনুসরণ করাকে প্রাধান্য দিয়েছি; যদিও প্রত্যেক পদ্ধতিরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা রয়েছে। এর কারণ হলো, আমি যে ক্ষেত্রে এই বইটি উপস্থাপন করছি (অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়), তা প্রথম পদ্ধতির সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাঠকদের বিভিন্ন শ্রেণী থেকে এই পদ্ধতির প্রতি যে সন্তুষ্টি আমি লক্ষ্য করেছি, তা আমাকে এই বিষয়ে আরও বিস্তৃত ও নির্ভুল কাজ করতে উৎসাহিত করেছে। যদিও আমি জানি যে আমি এই গবেষণার হক পুরোপুরি আদায় করতে পারিনি এবং যেসব বিষয়ে আলোচনা করা উচিত ছিল তার সবটুকু সমাধান করতে পারিনি। এর কারণ হলো: প্রথমত, নিঃসন্দেহে আমার অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা। দ্বিতীয়ত, আমি মাসআলা-মাসায়েল ও তৎসংশ্লিষ্ট আহকামগুলোর বর্ণনায় এমন বিস্তারিত আলোচনা করতে চাইনি যা পাঠকের জন্য সামান্য প্রচেষ্টায় পুরো বইটি পড়া কষ্টসাধ্য করে তোলে। কারণ বই যদি এই সীমা অতিক্রম করে যায়, তবে আমার দৃষ্টিতে এর উপযোগিতা কমে যায় এবং এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে পঠন-পাঠনের জন্য সংগৃহীত সহজবোধ্য বই হওয়ার পরিবর্তে কেবল বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহারের রেফারেন্স গ্রন্থে পরিণত হয়।

*** ১০- তবে মানুষের মধ্যে অন্য এক শ্রেণি রয়েছে, যাদের কাছে আমার এই কাজ পছন্দ হয়নি; বরং তাদের কেউ কেউ এর সমালোচনায় এমন এক পথ বেছে নিয়েছে যা নিরপেক্ষ জ্ঞানতাত্ত্বিক গবেষণার রূপ ধারণ করার পরিবর্তে বিদ্বেষ ও ঘৃণার পোশাকে আবৃত ছিল।

আমি কামনা করতাম যদি কোনো একনিষ্ঠ ভাইয়ের পক্ষ থেকে গবেষণার ক্ষেত্রে আমার কোনো বিচ্যুতি কিংবা কোনো বিধান বা দলীল বর্ণনায় আমার কোনো অসতর্কতা সম্পর্কে আমাকে সতর্ক করা হতো, তবে আমি তার সতর্কীকরণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতাম এবং তার প্রতিদান ও সওয়াবের জন্য দোয়া করতাম। কিন্তু এর পরিবর্তে আমি এমন কিছু অসার কথাবার্তা ছাড়া আর কিছুই পাইনি যা কেবল অন্যকে হেয় করা, গায়ের জ্বালা মেটানো এবং দলীয় সংকীর্ণতা ও অন্ধ আনুগত্যের স্পষ্ট আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত।

১১- উদাহরণস্বরূপ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেদায়েত ও তাঁর সাহাবীদের আমলের মধ্যে এমন কিছু পেয়েছি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবিত ও ওফাত পরবর্তী উভয় অবস্থায় তাঁর মাধ্যমে উসিলা ধরার (তাওয়াসসুল) বৈধতাকে দ্ব্যর্থহীনভাবে স্পষ্ট করে। তাই আমি এ সংক্রান্ত অকাট্য দলীল ও প্রমাণাদি উপস্থাপনের পর বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি।

এবং আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতের মধ্যে আগন্তুকের সম্মানে দাঁড়ানোর বৈধতার স্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছি। তাই আমি এই দলীলগুলো উল্লেখ করেছি এবং আগন্তুকের সম্মানে দাঁড়ানো এবং উপবিষ্ট ব্যক্তির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার মধ্যে আলেমগণ যে পার্থক্য বর্ণনা করেছেন তা স্পষ্ট করেছি এবং যা আমি স্পষ্ট করেছি...
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
السّنة في ذلك، ثم قررت مشروعية هذا القيام إذا انضبط بشروطه وقيوده التي بينتها السّنة الصحيحة، وقواعد الأصول والأحكام.

ووجدت فيها ما أوضح مشروعية قضاء الصلاة الفائتة سواء فاتت بسهو أو عمد فعرضت الأدلة ثم قررت الحكم على ضوئها.

ولو وجدت الأدلة قاضية بغير الذي اعتمدته، لقلت غير ذلك، ولا تبعت ما يرشد إليه الأصل والدليل، ولكنني لا أستطيع بأي حال أن أغمض العين عن مدرك الأحكام وأدلتها، لأقلد فئة من الناس اليوم، طاب لها أن تتخذ من مخالفة الأئمة وجمهور العلماء مذهبا جديدا، وألا يتورع الكثير منها عن انتقاصهم، بل عن لعنهم على رؤوس الأشهاد.

ونعوذ بالله من أن ينقلب لدينا البحث العلمي في العقل، إلى مثل هذه العصبية المستحكمة في النفس! ..

12- ولوددت والله، لو أن هذه الفئة التي تظل تشغل أفكار الناس وأوقاتهم بآرائها واجتهاداتها الفرعية، حاولت أن تشتغل هي الأخرى بهذا الذي وقع الناس فيه من أمور ومشكلات جسيمة خطيرة تحتاج إلى بذل الطاقات الهائلة وحصر الجهود العظيمة في سبيل معالجتها وتخليص المسلمين من آفاتها. ولكنها تظل ويا للعجب متنكرة متجاهلة لكل هذا الذي يفور به الزمن من أحداث، ويحوم حول العقل من قوانص الدين والإيمان، لتضمن لنفسها العكوف الهادئ على هذا الذي تسعى لإثارته بين الناس من مسائل لا جديد فيها أكثر مما وقع من خلاف قديم، ولا فائدة ترجى من الخصومة فيها أكثر من إثارة الضغائن في النفوس.

ولقد كان بوسع هذه الفئة أيضا- لو أنها كانت مخلصة لوجه الله في دأبها هذا- أن تعتنق الرأي الذي تطمئن إليه، ثم تترك الآخرين لما اطمأنوا هم أيضا إليه من المذهب والرأي، وتقلع عن الاستمرار في محاولة بسط سلطانها على الناس بالخصومة والعنف وتسفيه الأفكار. فلقد ظل جمهور المسلمين من قبلنا يجتمعون على التمسك بالأمور القطعية من اعتقادية وعملية، ويضفرون الجهود للاهتمام بها والذود عنها، فإذا ما بحثوا بعد ذلك في الأمور الاجتهادية الظنية لم يبالوا أن يختلفوا في صدد كثير منها إلى مذاهب متعددة دون أن يندفع أحد فيهم إلى محاولة بسط سلطانه على الآخرين واستعبادهم لما انقدح في ذهنه من الرأي.

ولو أنهم رضي الله عنهم فعلوا شيئا من هذا، لقضي على الوحدة الإسلامية قبل أن تدرج من المهد، ولما عثرنا في تاريخنا الإسلامي على شيء مما نظل نزهى به اليوم من مظاهر القوة والحضارة والمجد.

13- وأنا إنما أدعو القارئ بصدد البحث في هذه المسائل التي خالفت فيها هذه الفئة المذكورة، والتقيت في فهمها بمذهب جمهور المسلمين إلى أن يمعن النظر في الدليل وسلامته وقوته،
এ বিষয়ে সুন্নাহ কী, অতঃপর আমি এই কিয়ামের বৈধতা সাব্যস্ত করেছি যখন তা সহিহ সুন্নাহ এবং উসুল ও আহকামের নিয়মাবলী দ্বারা বর্ণিত শর্ত ও সীমাবদ্ধতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে।

এবং আমি এতে ছুটে যাওয়া সালাত কাযা করার বৈধতার বিষয়টিও সুস্পষ্ট পেয়েছি, চাই তা ভুলবশত হোক বা ইচ্ছাকৃতভাবে; তাই আমি দলিলসমূহ উপস্থাপন করেছি এবং অতঃপর সেগুলোর আলোকে বিধানটি স্থির করেছি।

আর যদি আমি দলিলসমূহকে আমার গৃহীত মতের বিপরীত ফয়সালা দিতে দেখতাম, তবে আমি অন্যটিই বলতাম এবং মূলনীতি ও দলিল যা নির্দেশ করে আমি তারই অনুসরণ করতাম। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আমার পক্ষে আহকামের উৎস ও তাদের দলিলসমূহ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, বর্তমান সময়ের এমন একদল মানুষের অন্ধ অনুসরণ করার জন্য—যাদের কাছে ইমামগণ এবং জমহুর ওলামাদের বিরোধিতা করাটাই এক নতুন মাযহাবে পরিণত হয়েছে এবং যাদের অনেকেই তাঁদের খাটো করতে, এমনকি প্রকাশ্য জনসমক্ষে তাঁদের লানত দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।

এবং আমরা আল্লাহর কাছে পানাহ চাই যেন আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা মনের গভীরে প্রোথিত এমন গোঁড়ামিতে পরিণত না হয়! ..

১২- আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই আকাঙ্ক্ষা করতাম যে—এই দলটি যারা নিজেদের গৌণ মতামত এবং ইজতিহাদ দিয়ে মানুষের চিন্তা ও সময়কে আচ্ছন্ন করে রাখে, তারা যদি মানুষের ওপর আপতিত সেই সব গুরুতর ও ভয়াবহ বিষয় ও সমস্যাগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকত, যা মোকাবিলার জন্য এবং মুসলিমদের সেসব ব্যাধি থেকে মুক্ত করার জন্য বিশাল শক্তির ব্যয় ও মহান প্রচেষ্টার প্রয়োগ প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দলটি যুগের ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি এবং দ্বীন ও ঈমানের চতুর্দিকে ঘুরপাক খাওয়া ফিতনাগুলোকে সম্পূর্ণ অস্বীকার ও উপেক্ষা করে চলছে, যাতে তারা মানুষের মধ্যে এমন সব মাসয়ালা নিয়ে শান্তভাবে মগ্ন থাকতে পারে যার মধ্যে পুরনো মতপার্থক্য ছাড়া নতুন কিছু নেই এবং এসব নিয়ে শত্রুতা করার মধ্যে অন্তরে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কোনো ফায়দাও আশা করা যায় না।

এই দলটির পক্ষে এটিও সম্ভব ছিল—যদি তারা তাদের এই প্রচেষ্টায় আল্লাহর সন্তুষ্টির ব্যাপারে একনিষ্ঠ হতো—তবে তারা যে মতটিতে আশ্বস্ত হয়েছে সেটি গ্রহণ করত এবং অন্যদেরকেও তাদের মাযহাব ও মতের ওপর ছেড়ে দিত যাতে তারা আশ্বস্ত হয়েছে; এবং শত্রুতা, কঠোরতা ও অন্যের চিন্তাকে তুচ্ছজ্ঞান করার মাধ্যমে মানুষের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নিরন্তর প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকত। অথচ আমাদের পূর্বসূরি জমহুর মুসলিমগণ আকিদাগত ও আমলগত অকাট্য বিষয়গুলোকে আঁকড়ে ধরার ওপর ঐক্যবদ্ধ ছিলেন এবং সেগুলো গুরুত্বসহকারে পালন ও হেফাযত করার জন্য প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন। এরপর যখন তারা ইজতিহাদী ও ধারণাপ্রসূত (যন্নী) বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন, তখন তারা সেসবের অনেক ক্ষেত্রে একাধিক মাযহাবে বিভক্ত হওয়া নিয়ে বিচলিত হতেন না এবং তাদের কেউই নিজের চিন্তা থেকে উদ্ভূত মতের প্রতি অন্যদের বাধ্য করতে বা নিজেদের কর্তৃত্ব চাপিয়ে দিতে উদ্যত হতেন না।

যদি তাঁরা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এমন কিছু করতেন, তবে ইসলামী ঐক্য শৈশব থেকেই শেষ হয়ে যেত এবং আমরা আমাদের ইসলামী ইতিহাসে এমন কিছু খুঁজে পেতাম না যা নিয়ে আজ আমরা শক্তি, সভ্যতা ও গৌরবের নিদর্শন হিসেবে গর্ব করি।

১৩- আর আমি এই মাসয়ালাগুলো নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে পাঠকদের আহ্বান জানাচ্ছি—যেসব বিষয়ে এই উল্লিখিত দলটি বিরোধিতা করেছে এবং যেগুলোর উপলব্ধিতে আমি জমহুর মুসলিমদের মাযহাবের সাথে একমত হয়েছি—যাতে তারা দলিল এবং তার বিশুদ্ধতা ও শক্তির প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করেন,
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بعد أن يكون على بيّنة منه ومن طريقة الاستدلال به. ولا عليه بعد ذلك أن يركن إلى ما يطمئن إليه فكره وعقله، دون أن يجعل لأي تعصب فكري إلى نفسه من سبيل.

وإنما الخطورة كل الخطورة في أن يتحول الرأي في العقل إلى عصبية مستكنة في النفس، وليست الخطورة في أن يختلف اثنان حول مسألة انقدح لكل منهما فيها دليل مقنع.

وأسأل الله سبحانه أن يجمعنا على الحق ويهدينا سواء السبيل، وأن يجعل أعمالنا كلها خالصة لوجهه إنه سميع مجيب.

دمشق محمد سعيد بن ملا رمضان البوطي 17 جمادى الأولى 1388 10 أيلول 1968 م
যখন সে বিষয়টি এবং এর স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপনের পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করবে। এরপর তার চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তি যে বিষয়ের ওপর প্রশান্তি লাভ করে, তার ওপর নির্ভর করতে কোনো বাধা নেই; তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনো প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক গোঁড়ামি তার অন্তরে কোনোভাবেই স্থান না পায়।

আসল বিপদ হলো তখন, যখন বুদ্ধিবৃত্তিক কোনো মতামত অন্তরে সুপ্ত গোঁড়ামিতে রূপ নেয়। কোনো বিষয়ে দুই ব্যক্তির মধ্যে মতভিন্নতা সৃষ্টি হওয়া মোটেও বিপজ্জনক নয়, যদি উভয়ের নিকটই সে বিষয়ে সন্তোষজনক দলিল বর্তমান থাকে।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের হকের ওপর একত্রিত করেন এবং আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন; আর আমাদের সমস্ত আমল যেন কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও প্রার্থনা কবুলকারী।

দামেস্ক, মুহাম্মদ সাঈদ বিন মুল্লা রমজান আল-বুতি, ১৭ জুমাদাল উলা ১৩৮৮ হিজরি, ১০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌القسم الأوّل مقدّمات

 

‌‌أهميّة السّيرة النبويّة في فهم الإسلام

ليس الغرض من دراسة السيرة النبوية وفقهها، مجرد الوقوف على الوقائع التاريخية، ولا سرد ما طرف أو جمل من القصص والأحداث ولذا فلا ينبغي أن نعتبر دراسة فقه السيرة النبوية من جملة الدراسة التاريخية، شأنها كشأن الاطلاع على سيرة خليفة من الخلفاء أو عهد من العهود التاريخية الغابرة.

وإنما الغرض منها؛ أن يتصور المسلم الحقيقة الإسلامية في مجموعها متجسدة في حياته صلى الله عليه وسلم، بعد أن فهمها مبادئ وقواعد وأحكاما مجردة في الذهن.

أي إن دراسة السيرة النبوية، ليست سوى عمل تطبيقي يراد منه تجسيد الحقيقة الإسلامية كاملة، في مثلها الأعلى محمد صلى الله عليه وسلم.

وإذا أردنا أن نجرئ هذا الغرض ونصنّف أجزاءه، فإن من الممكن حصرها في الأهداف التفصيلية التالية:

1- فهم شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم (النبوية) من خلال حياته وظروفه التي عاش فيها، للتأكد من أن محمدا عليه الصلاة والسلام لم يكن مجرد عبقري سمت به عبقريته بين قومه، ولكنه قبل ذلك رسول أيّده الله بوحي من عنده وتوفيق من لدنه.

2- أن يجد الإنسان بين يديه صورة للمثل الأعلى في كل شأن من شؤون الحياة الفاضلة، كي يجعل منها دستورا يتمسك به ويسير عليه ولا ريب أن الإنسان مهما بحث عن مثل أعلى في ناحية من نواحي الحياة فإنه واجد كل ذلك في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم على أعظم ما يكون من الوضوح والكمال. ولذا جعله الله قدوة للإنسانية كلها إذ قال: لَقَدْ كانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ [الأحزاب 33/ 21] .
‌‌প্রথম অংশ: ভূমিকা

 

‌‌ইসলাম অনুধাবনে সিরাতে নববীর গুরুত্ব

সিরাতে নববী এবং এর নিগূঢ় তত্ত্ব (ফিকহুস সিরাহ) অধ্যয়নের উদ্দেশ্য কেবল ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত হওয়া কিংবা চমৎকার কিছু গল্প ও ঘটনার বর্ণনা করা নয়। তাই সিরাতে নববীর ফিকহ অধ্যয়নকে সাধারণ ঐতিহাসিক অধ্যয়নের অন্তর্ভুক্ত মনে করা উচিত নয়, যেমনটি কোনো খলিফার জীবনী বা অতীতের কোনো ঐতিহাসিক যুগের ইতিহাস পর্যালোচনার ক্ষেত্রে করা হয়।

বরং এর উদ্দেশ্য হলো; একজন মুসলিম যেন ইসলামের সামগ্রিক সত্যকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের মধ্যে মূর্ত অবস্থায় প্রত্যক্ষ করতে পারে, যা সে ইতিপূর্বে মনে মনে কেবল কিছু বিমূর্ত মূলনীতি, নিয়মকানুন ও বিধান হিসেবে অনুধাবন করেছিল।

অর্থাৎ সিরাতে নববী অধ্যয়ন হলো একটি প্রায়োগিক কাজ, যার লক্ষ্য হলো ইসলামের পূর্ণাঙ্গ সত্যকে তার সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনে বাস্তবায়িত রূপে প্রত্যক্ষ করা।

আমরা যদি এই উদ্দেশ্যকে বিশদভাবে বর্ণনা করতে চাই এবং এর অংশগুলোকে বিন্যস্ত করতে চাই, তবে সেগুলোকে নিম্নোক্ত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব:

১- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর (নবুওয়তি) ব্যক্তিত্বকে তাঁর জীবন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্য দিয়ে অনুধাবন করা; যাতে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল এমন একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি ছিলেন না যাঁর প্রতিভা তাঁকে তাঁর কওমের মধ্যে উচ্চমর্যাদায় আসীন করেছিল, বরং তিনি ছিলেন এর চেয়েও উর্ধ্বে একজন রাসুল, যাকে আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে ওহি এবং বিশেষ তাওফিকের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন।

২- মানুষ যেন তার সামনে পুণ্যময় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে একটি সর্বোত্তম আদর্শের চিত্র খুঁজে পায়, যাতে সেটিকে সে একটি জীবনবিধান হিসেবে আঁকড়ে ধরতে পারে এবং সে অনুযায়ী চলতে পারে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানুষ জীবনের যেকোনো দিকেই কোনো উচ্চতর আদর্শের সন্ধান করুক না কেন, সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের মধ্যে তার সবকিছুই অত্যন্ত স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গরূপে খুঁজে পাবে। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁকে সমগ্র মানবজাতির জন্য আদর্শ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যখন তিনি বলেছেন: তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। [আল-আহযাব ৩৩/২১]।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
3- أن يجد الإنسان في دراسة سيرته عليه الصلاة والسلام ما يعينه على فهم كتاب الله تعالى وتذوق روحه ومقاصده، إذ إن كثيرا من آيات القرآن إنما تفسرها وتجلّيها الأحداث التي مرت برسول الله صلى الله عليه وسلم ومواقفه منها.

4- أن يتجمع لدى المسلم من خلال دراسة سيرته صلى الله عليه وسلم، أكبر قدر من الثقافة والمعارف الإسلامية الصحيحة، سواء ما كان منها متعلقا بالعقيدة أو الأحكام أو الأخلاق، إذ لا ريب أن حياته عليه الصلاة والسلام إنما هي صورة مجسدة نيرة لمجموع مبادئ الإسلام وأحكامه.

5- أن يكون لدى المعلم والداعية الإسلامي نموذج حيّ عن طرائق التربية والتعليم، فلقد كان محمد صلى الله عليه وسلم معلما ناصحا ومربيا فاضلا لم يأل جهدا في تلمس أجدى الطرق الصالحة إلى كل من التربية والتعليم خلال مختلف مراحل دعوته.

وإن من أهم ما يجعل سيرته صلى الله عليه وسلم وافية بتحقيق هذه الأهداف كلها أن حياته عليه الصلاة والسلام شاملة لكل النواحي الإنسانية والاجتماعية التي توجد في الإنسان من حيث إنه فرد مستقل بذاته أو من حيث إنه عضو فعال في المجتمع.

فحياته عليه الصلاة والسلام تقدم إلينا نماذج سامية للشاب المستقيم في سلوكه، الأمين مع قومه وأصحابه، كما تقدم النموذج الرائع للإنسان الداعي إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة، الباذل منتهى الطاقة في سبيل إبلاغ رسالته، ولرئيس الدولة الذي يسوس الأمور بحذق وحكمة بالغة، وللزوج المثالي في حسن معاملته، وللأب في حنو عاطفته، مع تفريق دقيق بين الحقوق والواجبات لكل من الزوجة والأولاد، وللقائد الحربي الماهر والسياسي الصادق المحنك، وللمسلم الجامع- في دقة وعدل- بين واجب التعبد والتبتل لربه، والمعاشرة الفكهة اللطيفة مع أهله وأصحابه.

لا جرم إذن، أن دراسة سيرة النبي صلى الله عليه وسلم ليست إلا إبرازا لهذه الجوانب الإنسانية كلها مجسدة في أرفع نموذج وأتم صورة.
৩- মানুষ যেন তাঁর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সীরাত অধ্যয়নের মাধ্যমে এমন কিছু খুঁজে পায় যা তাকে মহান আল্লাহর কিতাব বুঝতে এবং এর চেতনা ও লক্ষ্যসমূহ উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। কেননা কুরআনের অনেক আয়াতই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের ঘটনাবলি এবং সেগুলোর প্রতি তাঁর অবস্থানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা ও সুস্পষ্ট হয়।

৪- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত অধ্যয়নের মাধ্যমে একজন মুসলমানের কাছে সঠিক ইসলামী সংস্কৃতি ও জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার অর্জিত হয়; চাই তা আকীদা, বিধান কিংবা আখলাক বা চরিত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) জীবন হলো ইসলামের সকল মূলনীতি ও বিধানের এক উজ্জ্বল ও মূর্ত প্রতীক।

৫- শিক্ষক ও ইসলামী দাওয়াতকর্মীর জন্য যেন শিক্ষা ও লালন-পালনের পদ্ধতির একটি জীবন্ত আদর্শ বিদ্যমান থাকে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন একজন হিতাকাঙ্ক্ষী শিক্ষক এবং গুণী পথপ্রদর্শক, যিনি তাঁর দাওয়াতের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষা ও দীক্ষার প্রতিটি কার্যকর পন্থা খুঁজে বের করতে কোনো ত্রুটি করেননি।

তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাতকে এই সমস্ত লক্ষ্য অর্জনে সার্থক করার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, তাঁর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) জীবন সমস্ত মানবিক ও সামাজিক দিককে পরিবেষ্টন করে আছে, যা একজন মানুষের মধ্যে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে অথবা সমাজের একজন কার্যকর সদস্য হিসেবে বিদ্যমান থাকে।

তাঁর (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) জীবন আমাদের সামনে আচার-আচরণে সুদৃঢ়, নিজের কওম ও সঙ্গীদের নিকট বিশ্বস্ত এক যুবকের মহান আদর্শ উপস্থাপন করে। অনুরূপভাবে, এটি প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী এমন এক ব্যক্তির চমৎকার দৃষ্টান্ত পেশ করে, যিনি তাঁর দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার পথে সর্বাত্মক শক্তি ব্যয় করেছেন। আরও উপস্থাপন করে এমন এক রাষ্ট্রপ্রধানের দৃষ্টান্ত, যিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও গভীর প্রজ্ঞার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন; সদাচরণের ক্ষেত্রে একজন আদর্শ স্বামী এবং বাৎসল্যে ভরপুর একজন পিতার দৃষ্টান্ত, যেখানে স্ত্রী ও সন্তানদের প্রত্যেকের অধিকার ও কর্তব্যের মাঝে নিখুঁত পার্থক্য বিদ্যমান। এছাড়াও একজন দক্ষ সমরনায়ক, সত্যবাদী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং একজন ভারসাম্যপূর্ণ মুসলিমের আদর্শ তুলে ধরে—যিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও ইনসাফের সাথে তাঁর রবের ইবাদত ও একনিষ্ঠতার দায়িত্ব পালন এবং নিজের পরিবার ও সঙ্গীদের সাথে আনন্দময় ও সদয় মেলামেশার মাঝে সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত অধ্যয়ন হলো এই সমস্ত মানবিক দিকগুলোকে এক সর্বোচ্চ আদর্শ ও পূর্ণাঙ্গরূপে ফুটিয়ে তোলা।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌السّيرة النبويّة كيف تطوّرت دراستها وكيف يجب فهمها اليوم

السيرة النبوية والتاريخ:

لا ريب أن سيرة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم تشكل الركيزة الأساسية لحركة التاريخ العظيم الذي يعتز به المسلمون على اختلاف لغاتهم وأقطارهم.

وانطلاقا من هذه السيرة دون المسلمون التاريخ … ذلك لأن أول ما دونه الكاتبون المسلمون من وقائع التاريخ وأحداثه، هو أحداث السيرة النبوية، ثم تلا ذلك تدوين الأحداث التي تسلسلت على أثرها إلى يومنا هذا.

حتى التاريخ الجاهلي الذي ينبسط منتشرا وراء سور الإسلام في الجزيرة العربية، إنما وعاه المسلمون من العرب وغيرهم، واتجهوا إلى رصده وتدوينه، على هدي الإسلام الذي جاء فحدد معنى الجاهلية، وعلى ضوء المعلمة التاريخية الكبرى التي تمثلت في مولد أفضل الورى سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وسيرة حياته.

إذن، فالسيرة النبوية تشكل المحور الذي تدور حوله حركة التدوين لتاريخ الإسلام في الجزيرة العربية. بل هي العامل الذي أثر في أحداث الجزيرة العربية أولا، ثم في أحداث سائر العالم الإسلامي ثانيا.

ولقد امتلك فن الرواية لأحداث التاريخ عند العرب والمسلمين منهجا علميا دقيقا لرصد الوقائع وتمييز الصحيح منها عن غيره، لم يملك مثله غيرهم. غير أنهم لم يكونوا ليكتشفوا هذا المنهج، ولم يكونوا لينجحوا في وضعه موضع التنفيذ في كتاباتهم التاريخية، لولا السيرة النبوية التي وجدوا أنفسهم أمام ضرورة دينية تحملهم على تدوينها تدوينا صحيحا، على نحو لا يشوبها وهم ولا يتسلل إليها خلط أو افتراء.. ذلك لأنهم علموا أن سيرة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وسنته هما المفتاح الأول لفهم كتاب الله تعالى. ثم هما النموذج الأسمى لكيفية تطبيقه والعمل به. فكان أن نهض بهم دافع اليقين بنبوة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبأن القرآن كلام الله تعالى، وبأنهم يحملون مسؤولية العمل بمقتضاه، وأن الله محاسبهم على ذلك حسابا دقيقا- نهض بهم اليقين بكل ذلك إلى تحمل أقسى الجهد في سبيل الوصول إلى منهج علمي تحصن فيه حقائق السيرة والسنة النبوية المطهرة.

وإنما أقصد بالمنهج العلمي قواعد مصطلح الحديث، وعلم الجرح والتعديل. فمن المعلوم أن
সীরাতুন্নবী: এর অধ্যয়নের বিবর্তন এবং বর্তমানে এটি যেভাবে বোঝা উচিত

সীরাতুন্নবী ও ইতিহাস:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত বা জীবনচরিত সেই মহান ইতিহাসের মূল ভিত্তি তৈরি করেছে, যা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা ও অঞ্চলের মুসলিমরা গর্ববোধ করেন।

এই সীরাতকে কেন্দ্র করেই মুসলিমরা ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন ... কারণ, মুসলিম ঐতিহাসিকগণ ইতিহাসের ঘটনাবলির মধ্যে সর্বপ্রথম যা লিপিবদ্ধ করেছেন, তা হলো সীরাতুন্নবীর ঘটনাবলি। এরপর এর ধারাবাহিকতায় আজ পর্যন্ত অন্যান্য ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলেছে।

এমনকি আরব উপদ্বীপে ইসলামের প্রাচীরের বাইরে বিস্তৃত জাহিলী যুগের যে ইতিহাস রয়েছে, আরব ও অনারব মুসলিমরা মূলত ইসলামের নির্দেশনার মাধ্যমেই তা অনুধাবন করেছেন এবং তা পর্যবেক্ষণ ও সংকলনে মনোনিবেশ করেছেন। ইসলাম এসেই জাহিলিয়াতের অর্থ সুনির্দিষ্ট করেছে এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম ও তাঁর জীবনচরিতের মতো মহান ঐতিহাসিক মানদণ্ডের আলোকে তা ব্যাখ্যা করেছে।

সুতরাং, সীরাতুন্নবীই হলো সেই কেন্দ্রবিন্দু যাকে ঘিরে আরব উপদ্বীপে ইসলামের ইতিহাস রচনার আন্দোলন আবর্তিত হয়। বরং এটিই সেই প্রভাবক উপাদান যা প্রথমে আরব উপদ্বীপের ঘটনাবলিকে এবং পরবর্তীতে সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ঘটনাবলিকে প্রভাবিত করেছে।

আরব ও মুসলিমদের নিকট ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন এক সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বিদ্যমান ছিল যা দিয়ে তারা বাস্তব ঘটনাবলি পর্যবেক্ষণ করতেন এবং সঠিক ও ভ্রান্তের মধ্যে পার্থক্য করতেন, যা অন্য কোনো জাতির ছিল না। তবে তারা এই পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারতেন না এবং তাদের ঐতিহাসিক লেখায় তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতেও সফল হতেন না, যদি সীরাতুন্নবী না থাকত। কারণ, তারা সীরাতকে নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে নিজেদের এক ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তার সম্মুখে দেখতে পেয়েছিলেন; যা তাদের এমনভাবে সীরাত সংকলনে উদ্বুদ্ধ করেছিল যেন তাতে কোনো ভ্রান্তি না থাকে এবং কোনো সংমিশ্রণ বা অপবাদ অনুপ্রবেশ করতে না পারে। এর কারণ হলো তারা জানতেন যে, আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত ও সুন্নাহ হলো আল্লাহর কিতাব বোঝার প্রধান চাবিকাঠি। অতঃপর এটিই হলো আল্লাহর কিতাব বাস্তবায়ন ও সে অনুযায়ী আমল করার সর্বোত্তম আদর্শ। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের প্রতি এবং কুরআন যে আল্লাহর বাণী—তার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, সেইসাথে কুরআনের বিধান অনুযায়ী চলার দায়িত্ব এবং এ জন্য আল্লাহর নিকট পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব প্রদানের অনুভূতির কারণেই তারা চরম পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। যাতে এমন এক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পৌঁছানো যায় যার মাধ্যমে পবিত্র সীরাত ও সুন্নাহর বাস্তবতাগুলো সুরক্ষিত থাকে।

আর আমি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলতে হাদীস শাস্ত্রের নীতিমালা এবং জারাহ-তাদীল (বর্ণনাকারী যাচাই পদ্ধতি) শাস্ত্রকে বোঝাচ্ছি। এটি সুপরিচিত যে...
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ذلك إنما وجد أولا لخدمة السنة المطهرة التي لا بد أن تكون السيرة النبوية العامة قاعدة لها. ثم إنه أصبح بعد ذلك منهجا لخدمة التاريخ عموما، وميزانا لتمييز حقائقه عن الأباطيل التي قد تعلق به.

يتبين لك من هذا أن كتابة السيرة النبوية، كانت البوابة العريضة الهامة التي دخل منها المسلمون إلى دراسة التاريخ وتدوينه عموما، وأن القواعد العلمية التي استعانوا بها لضبط الروايات والأخبار، هي ذاتها القواعد التي أبدعتها عقول المسلمين شعورا منهم بالحاجة الماسة إلى حفظ مصادر الإسلام وينابيعه الأولى من أن يصيبها أي دخيل يعكرها.

 

‌‌كيف بدأت ثم تطورت كتابة السيرة:

تأتي كتابة السيرة النبوية- من حيث الترتيب الزمني- في الدرجة الثانية بالنسبة لكتابة السنة النبوية. فلا جرم أن كتابة السنة، أي الحديث النبوي، كانت أسبق من كتابة السيرة النبوية عموما. إذ السنة بدأت كتابتها، كما هو معلوم، في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، بإذن، بل بأمر منه عليه الصلاة والسلام. وذلك بعد أن اطمأن إلى أن أصحابه قد تنبهوا للفارق الكبير بين أسلوبي القرآن المعجز والحديث النبوي البليغ، فلن يقعوا في لبس بينهما.

أما كتابة حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم ومغازيه بصورة عامة، فقد جاء ذلك متأخرا عن البدء بكتابة السنة، وإن كان الصحابة يهتمون بنقل سيرته ومغازيه شفاها..

ولعل أول من اهتم بكتابة السيرة النبوية عموما، هو عروة بن الزبير المتوفى 92 هـ ثم أبان بن عثمان المتوفى 105 هـ ثم وهب بن منبه المتوفى 110 هـ ثم شرحبيل بن سعد المتوفى 123 هـ ثم ابن شهاب الزهري المتوفى 124 هـ.

إن هؤلاء يعدون، ولا ريب، في مقدمة من اهتموا بكتابة السيرة النبوية، كما تعد كتاباتهم طليعة هذا العمل العلمي العظيم، بل تعد الخطوة الأولى- كما ألمحنا- إلى كتابة التاريخ والاهتمام به عموما، هذا بقطع النظر عن أن الكثير من أحداث السيرة منثور في كتاب الله تعالى، وفي بطون كتب السنة التي تهتم من سيرته صلى الله عليه وسلم بأقواله وأفعاله، لا سيما ما يتعلق منها بالتشريع.

غير أن جميع ما كتبه هؤلاء قد باد وتلف مع الزمن، فلم يصل إلينا منه شيء. ولم يبق منه إلا بقايا متناثرة، روى بعضها الطبري. ويقال إن بعضها الآخر- وهو جزء مما كتبه وهب بن منبه- محفوظ في مدينة هايدلبرج بألمانيا.

ولكن جاء في الطبقة التي تلي هؤلاء من تلقف كل ما كتبوه، فأثبتوا جلّه في مدوناتهم التي وصل إلينا معظمها بحمد الله وتوفيقه. ولقد كان في مقدمة هذه الطبقة محمد بن إسحاق المتوفى عام 152 هـ. وقد اتفق الباحثون على أن ما كتبه محمد بن إسحاق يعدّ من أوثق ما كتب في السيرة
এটি মূলত প্রথমত পবিত্র সুন্নাহর খিদমতের জন্য তৈরি হয়েছিল, যার জন্য সাধারণ সীরাতুন নবী একটি ভিত্তি হওয়া আবশ্যক ছিল। অতঃপর তা সাধারণভাবে ইতিহাস চর্চার একটি পদ্ধতি এবং সত্যকে মিথ্যা বা অসাড়তা থেকে পৃথক করার একটি মানদণ্ডে পরিণত হয়।

এখান থেকে আপনার নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সীরাতুন নবী লিখন ছিল সেই গুরুত্বপূর্ণ বিশাল প্রবেশদ্বার, যার মাধ্যমে মুসলিমরা সাধারণভাবে ইতিহাস অধ্যয়ন ও তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছিল। আর বর্ণনা ও সংবাদসমূহ যাচাই-বাছাই করার জন্য তারা যেসব বৈজ্ঞানিক নিয়মনীতির সহায়তা নিয়েছিল, সেগুলো সেই একই নিয়ম যা মুসলিমদের মেধা উদ্ভাবন করেছিল—ইসলামের উৎস এবং এর আদি ঝরনাধারাগুলোকে যে কোনো বহিরাগত আবিলতা থেকে রক্ষা করার তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

 

‌‌সীরাত লিখন যেভাবে শুরু ও বিকশিত হয়েছে:

সময়ক্রমের দিক থেকে সীরাতুন নবী লিখন সুন্নাহ লিখনের পরে দ্বিতীয় স্তরে আসে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুন্নাহ অর্থাৎ হাদীস লিখন সাধারণভাবে সীরাত লিখনের চেয়ে অগ্রবর্তী ছিল। কারণ সুন্নাহর সংকলন, যেমনটি জানা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশাতেই তাঁর অনুমতিতে, বরং তাঁরই নির্দেশে শুরু হয়েছিল। আর তা হয়েছিল যখন তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, তাঁর সাহাবীগণ মুজিজাসুলভ কুরআন এবং প্রাঞ্জল হাদীসের বাচনভঙ্গির মধ্যকার বিশাল পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন, ফলে এই দুটির মধ্যে তাদের কোনো বিভ্রান্তি ঘটবে না।

তবে সাধারণভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন চরিত ও যুদ্ধবিগ্রহ (মাগাযী) লিখন সুন্নাহ লিখনের চেয়ে পরে শুরু হয়েছে, যদিও সাহাবীগণ তাঁর সীরাত ও যুদ্ধবিগ্রহের কথা মৌখিকভাবে বর্ণনা করার বিষয়ে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন।

সম্ভবত সাধারণভাবে সীরাতুন নবী লিখনে যারা প্রথম গুরুত্ব দিয়েছিলেন তারা হলেন ৯২ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী উরওয়া বিন যুবাইর, অতঃপর ১০৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী আবান বিন উসমান, অতঃপর ১১০ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ, অতঃপর ১২৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী শারাহবিল বিন সাদ এবং ১২৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী ইবনে শিহাব যুহরী।

নিঃসন্দেহে এরাই সীরাত লিখনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী হিসেবে গণ্য হন এবং তাদের রচনাবলি এই মহান ইলমী কাজের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচিত হয়। বরং আমরা যেমনটি ইঙ্গিত দিয়েছি, এটি সাধারণভাবে ইতিহাস লিখন ও এর প্রতি গুরুত্বারোপের প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচিত। সীরাতের অনেক ঘটনা আল্লাহর কিতাব এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার বিষয়টি স্বতন্ত্র, যেখানে মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও কাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যা শরীআত প্রণয়নের সাথে সম্পর্কিত।

তবে তাদের রচিত এসব কিতাব সময়ের বিবর্তনে বিলুপ্ত ও নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে এর কোনো কিছুই আমাদের কাছে পৌঁছেনি। শুধু বিক্ষিপ্ত কিছু অংশ অবশিষ্ট রয়েছে যার কিছু তাবারী বর্ণনা করেছেন। বলা হয় যে, এর অন্য কিছু অংশ—যা ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহর লেখার অংশবিশেষ—জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরে সংরক্ষিত আছে।

তবে পরবর্তী প্রজন্মের এমন কিছু লোক এসেছিলেন যারা তাদের সকল লেখনি গ্রহণ করেছিলেন এবং সেগুলোর অধিকাংশ তাদের সংকলনে স্থান দিয়েছিলেন, যার সিংহভাগ আল্লাহর প্রশংসা ও তাওফীকে আমাদের নিকট পৌঁছেছে। এই স্তরের অগ্রভাগে ছিলেন ১৫২ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী মুহাম্মদ বিন ইসহাক। গবেষকগণ এ বিষয়ে একমত যে, মুহাম্মদ বিন ইসহাক যা লিখেছেন তা সীরাত বিষয়ে লিখিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলোর অন্যতম।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
النبوية في ذلك العهد «1» ولئن لم يصل إلينا كتابه (المغازي) بذاته، إلا أن أبا محمد عبد الملك المعروف بابن هشام قد جاء من بعده، فروى لنا كتابه هذا مهذبا منقحا، ولم يكن قد مضى على تأليف ابن إسحاق له أكثر من خمسين سنة.

يقول ابن خلكان: «وابن هشام هذا، هو الذي جمع سيرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، من المغازي والسير لابن إسحاق، وهذبها، ولخصها، وهي السيرة الموجودة بأيدي الناس والمعروفة بسيرة ابن هشام» «2» .

وعلى كل، فإن مصادر السيرة النبوية التي اعتمدها سائر الكتاب على اختلاف طبقاتهم محصورة في المصادر التالية:

أولا- كتاب الله تعالى. فهو المعتمد الأول في معرفة الملامح العامة لحياة النبي صلى الله عليه وسلم، وفي الاطلاع على المراحل الإجمالية لسيرته الشريفة، بقطع النظر عن أسلوب القرآن في بيان ذلك.

ثانيا- كتب السنة النبوية، وهي تلك التي كتبها أئمة الحديث المعروفون بصدقهم وأمانتهم، كالكتب الستة وموطأ الإمام مالك ومسند الإمام أحمد وغيره، وإن كانت عناية هذه الكتب الأولى إنما تنصرف إلى أقوال رسول الله وأفعاله من حيث إنها مصدر تشريع، لا من حيث هي تاريخ يدوّن. ولذلك رتبت أحاديث كثير من هذه الكتب على الأبواب الفقهية، ورتب بعضها على أسماء الصحابة الذين رووا هذه الأحاديث، ولم يراع فيها التتابع الزمني للأحداث.

ثالثا- الرواة الذين اهتموا بسيرة النبي صلى الله عليه وسلم وحياته عموما، وقد كان في الصحابة الكثير ممن اهتم بذلك، بل ما من صحابي كان مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في مشهد من مشاهد سيرته إلا ورواه لسائر الصحابة ولمن بعده أكثر من مرة. ولكن دون أن يهتم واحد منهم في بادئ الأمر بجمع هذه السيرة وتدوينها. وأحب أن ألفت النظر هنا إلى الفرق بين عموم ما يسمى كتابة وتقييدا، وخصوص ما يسمى تأليفا أو تدوينا. أما الأول فقد كان موجودا بالنسبة للسنة في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم كما ذكرنا آنفا، وأما الثاني، ويراد به الجمع والتنسيق بين دفتين، فقد ظهر فيما بعد، عندما ظهرت الحاجة إلى ذلك.

 

‌‌المنهج العلمي في رواية السيرة النبوية:

من المعلوم أن كتابة السيرة النبوية، تدخل في عموم ما يسمى تأريخا، وإن كانت السيرة النبوية، - كما أوضحنا- منطلقا للتأريخ وحافزا على رصد الوقائع والأحداث التي خلت قبلها والتي جاءت متسلسلة على أعقابها.

--------------------------------------------

(1) انظر ما كتبه ابن سيد الناس في مقدمة كتابه عيون الأثر عن ابن إسحاق وترجمته.

(2) وفيات الأعيان: 1/ 290 الطبعة الميمنية.
সেই যুগের নবীজীবনী সংক্রান্ত বর্ণনা «১» এবং যদিও তাঁর কিতাব (আল-মাগাযী) সরাসরি আমাদের নিকট পৌঁছায়নি, তবে পরবর্তীতে আবু মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক, যিনি ইবনে হিশাম নামে পরিচিত, তিনি এসেছেন এবং তাঁর এই কিতাবটি আমাদের নিকট পরিমার্জিত ও সংশোধিত আকারে বর্ণনা করেছেন। ইবনে ইসহাক কর্তৃক এটি সংকলনের পর পঞ্চাশ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি।

ইবনে খল্লিকান বলেন: «এই ইবনে হিশামই হলেন তিনি, যিনি ইবনে ইসহাকের আল-মাগাযী ও আস-সিয়ার থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সংকলন করেছেন এবং একে পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত করেছেন। এটিই সেই সীরাত যা মানুষের হাতে বিদ্যমান এবং 'সীরাতে ইবনে হিশাম' নামে পরিচিত» «২» ।

যাইহোক, সীরাতে নববীর উৎসসমূহ যা বিভিন্ন স্তরের সকল লেখক গ্রহণ করেছেন, তা নিম্নোক্ত উৎসগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ:

প্রথমত- মহান আল্লাহর কিতাব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো জানার জন্য এবং তাঁর পবিত্র সীরাতের সামগ্রিক পর্যায়গুলো অবগত হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই প্রথম নির্ভরযোগ্য উৎস, তা বর্ণনার ক্ষেত্রে কুরআনের শৈলী যেমনই হোক না কেন।

দ্বিতীয়ত- সুন্নাহর কিতাবসমূহ। এগুলো সেইসব কিতাব যা তাঁদের সততা ও বিশ্বস্ততার জন্য সুপরিচিত হাদীস বিশারদগণ লিখেছেন, যেমন: কুতুবে সিত্তা (ছয়টি প্রধান হাদীস গ্রন্থ), ইমাম মালিকের মুয়াত্তা, ইমাম আহমাদের মুসনাদ এবং অন্যান্য। যদিও এসব প্রাথমিক কিতাবগুলোর মূল মনোযোগ রাসূলুল্লাহর কথা ও কাজের দিকে নিবদ্ধ ছিল শরীয়তের উৎস হিসেবে, লিপিবদ্ধ ইতিহাস হিসেবে নয়। এই কারণে, এই কিতাবগুলোর অনেক হাদীস ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে এবং কিছু কিতাব ঐসব সাহাবীর নামে বিন্যস্ত করা হয়েছে যারা এই হাদীসগুলো বর্ণনা করেছেন, আর তাতে ঘটনাবলীর কালানুক্রমিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়নি।

তৃতীয়ত- সেই বর্ণনাকারীগণ যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং তাঁর সাধারণ জীবন সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করেছেন। সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যারা এর প্রতি যত্নশীল ছিলেন। বরং এমন কোনো সাহাবী ছিলেন না যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের কোনো একটি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন এবং তা অন্য সাহাবীদের কাছে বা তাঁর পরবর্তীদের কাছে একাধিকবার বর্ণনা করেননি। তবে তাঁদের মধ্যে কেউই প্রাথমিক পর্যায়ে এই সীরাত সংগ্রহ ও সংকলনের বিষয়ে গুরুত্ব দেননি। আমি এখানে সাধারণভাবে যাকে 'লিখন ও লিপিবদ্ধকরণ' বলা হয় এবং বিশেষভাবে যাকে 'রচনা বা সংকলন' বলা হয়, তার মধ্যে পার্থক্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। প্রথমটির ক্ষেত্রে বলা যায়, সুন্নাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশাতেই তা বিদ্যমান ছিল যেমন আমরা আগে উল্লেখ করেছি। আর দ্বিতীয়টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দুই মলাটের মাঝে একত্রিত ও সুবিন্যস্ত করা, যা পরবর্তীতে প্রয়োজন দেখা দেওয়ার পর প্রকাশ পেয়েছে।

 

‌‌সীরাতে নববী বর্ণনার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি:

এটি সুবিদিত যে, সীরাতে নববী লিপিবদ্ধকরণ সাধারণভাবে ইতিহাসের অন্তর্ভুক্ত, যদিও সীরাতে নববী — যেমনটি আমরা স্পষ্ট করেছি — ইতিহাসের একটি সূচনাবিন্দু এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণের একটি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে সায়্যিদুন নাস তাঁর কিতাব 'উয়ূনুল আসার'-এর ভূমিকায় ইবনে ইসহাক এবং তাঁর জীবনী সম্পর্কে যা লিখেছেন তা দেখুন।

(২) ওয়াফায়াতুল আইয়ান: ১/২৯০, মায়মানিয়া সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
ولكن على أيّ منهج اعتمد كتّاب السيرة في تاريخها وتدوينها؟

لقد كان منهجهم المعتمد في ذلك اتباع ما يسمى اليوم بالمذهب الموضوعي في كتابة التاريخ، طبق قواعد علمية سنشير إليها.

ومعنى هذا أن كتّاب السيرة النبوية وعلماءها، لم تكن وظيفتهم بصدد أحداث السيرة، إلا تثبيت ما هو ثابت منها، بمقياس علمي يتمثل في قواعد مصطلح الحديث المتعلقة بكل من السند والمتن، وفي قواعد الجرح والتعديل المتعلقة بالرواة وتراجمهم وأحوالهم.

فإذا انتهت بهم هذه القواعد العلمية إلى أخبار ووقائع، وقفوا عندها، ودونوها، دون أن يقحموا تصوراتهم الفكرية أو انطباعاتهم النفسية أو مألوفاتهم البيئية إلى شيء من تلك الوقائع بأي تلاعب أو تحوير.

لقد كانوا يرون أن الحادثة التاريخية التي يتم الوصول إلى معرفتها، ضمن نفق من هذه القواعد العلمية التي تتسم بمنتهى الدقة، حقيقة مقدسة، يجب أن تجلى أمام الأبصار والبصائر كما هي، كما كانوا يرون أن من الخيانة التي لا تغتفر أن ينصب من التحليلات الشخصية والرغبات النفسية التي هي في الغالب من انعكاسات البيئة ومن ثمار العصبية، حاكّم مسلّط يستبعد منها ما يشاء ويحوّر فيها كما يريد.

ضمن هذه الوقاية من القواعد العلمية، وعلى ذلك الأساس من النظرة الموضوعية للتاريخ، وصلت إلينا سيرة المصطفى صلى الله عليه وسلم بدءا من ولادته ونسبه، إلى طفولته، فصبوته اليافعة، إلى الإرهاصات الخارقة التي صاحبت مراحل طفولته وشبابه، إلى بعثته وظاهرة الوحي التي تجلت في حياته، إلى أخلاقه وصدقه وأمانته، إلى الخوارق والمعجزات التي أجراها الله تعالى على يده، إلى مراحل الدعوة التي سار فيها لتلبية أمر ربه؛ من سلم، فدفاع، فجهاد مطلق حيثما طاف بالدعوة إلى الله تعالى أيّ تهديد، إلى الأحكام والمبادئ الشرعية التي أوحي بها إليه، قرآنا معجزا يتلى، وأحاديث نبوية تشرح وتبين.

لقد كان العمل التاريخي إذن بالنسبة إلى هذه السلسلة من سيرته صلى الله عليه وسلم، ينحصر في نقلها إلينا محفوظة مكلوءة، ضمن تلك الوقاية العلمية التي من شأنها ضبط الرواية من حيث الإسناد واتصاله، ومن حيث الرجال وتراجمهم، ومن حيث المتن أو الحادثة وما قد يطوف بها من شذوذ ونحوه.

أما عملية استنباط النتائج والأحكام والمبادئ والمعاني من هذه الأخبار (بعد القبول التام لها) فعمل علمي آخر لا شأن له بالتاريخ، وما ينبغي أن يمزج به بحال من الأحوال.

إنه عمل علمي متميز، ومستقل بذاته، ينهض بدوره على منهج وقواعد أخرى، من شأنها أن
কিন্তু সীরাত রচয়িতাগণ এর ইতিহাস ও তা নথিবদ্ধকরণে কোন পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন?

এ ক্ষেত্রে তাদের অনুসৃত পদ্ধতি ছিল তাই, যাকে বর্তমানে ইতিহাস রচনার ‘বস্তুনিষ্ঠ ধারা’ বলা হয়, যা কিছু বৈজ্ঞানিক মূলনীতির আলোকে পরিচালিত, যা আমরা পরে উল্লেখ করব।

এর অর্থ হলো, সীরাত-ই-নববীর রচয়িতা ও আলিমগণের দায়িত্ব সীরাতের ঘটনাবলির ক্ষেত্রে কেবল সেটাই সুসাব্যস্ত করা ছিল যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত; আর তা ছিল এক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের মাধ্যমে, যা সনদ ও মতন সংশ্লিষ্ট হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী ও অবস্থা সম্পর্কিত ‘জারহ ও তাদীল’-এর নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

এই বৈজ্ঞানিক মূলনীতিগুলো যখন তাদের কোনো সংবাদ বা ঘটনার দ্বারে পৌঁছে দিত, তারা সেখানেই থেমে যেতেন এবং তা লিপিবদ্ধ করতেন; কোনো প্রকার কারচুপি বা পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই ঘটনাবলির মধ্যে তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণা, মানসিক প্রভাব কিংবা পারিপার্শ্বিক প্রথাকে অনুপ্রবেশ করাতেন না।

তারা মনে করতেন যে, অত্যন্ত সূক্ষ্ম এই বৈজ্ঞানিক মূলনীতিসমূহের আবহে যে ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পর্কে জানা যায়, তা এক পবিত্র সত্য; যা চাক্ষুষ দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টির সামনে ঠিক সেভাবেই উপস্থাপন করা উচিত যেমনটি তা বাস্তবে ছিল। তেমনি তারা মনে করতেন যে, ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও মনস্তাত্ত্বিক কামনা-বাসনা—যা মূলত পরিবেশের প্রভাব ও গোঁড়ামিরই ফসল—সেগুলোকে এমন এক কর্তৃত্বপরায়ণ বিচারক হিসেবে দাঁড় করানো এক ক্ষমার অযোগ্য খেয়ানত, যা নিজের খেয়ালখুশিমতো কোনো বিষয়কে বর্জন করে কিংবা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে পরিবর্তন করে ফেলে।

বৈজ্ঞানিক মূলনীতিসমূহের এই সুরক্ষা এবং ইতিহাসের প্রতি বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত আমাদের কাছে পৌঁছেছে; তাঁর জন্ম ও বংশপরিচয় থেকে শুরু করে তাঁর শৈশব, কৈশোর, তাঁর শৈশব ও যৌবনকালের সেই অলৌকিক নির্দশনাবলি যা তাঁর নবুওয়াতের পূর্বাভাস ছিল, তাঁর নবুওয়াত ও ওহীর ঐশী আলোকচ্ছটা যা তাঁর জীবনে প্রকাশিত হয়েছিল, তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য, সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততা, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর হাতে প্রকাশ পাওয়া অলৌকিক ঘটনা ও মুজিযাসমূহ, তাঁর রবের আদেশ পালনার্থে দাওয়াতের বিভিন্ন পর্যায়; যার মধ্যে ছিল শান্তি, আত্মরক্ষা এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে কোনো হুমকির সম্মুখীন হলে চূড়ান্ত জিহাদ, আর তাঁর ওপর অবতীর্ণ হওয়া শরীয়তের বিধান ও মূলনীতিসমূহ—যা তিলাওয়াতকৃত মুজিযাস্বরূপ কুরআন এবং এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণকারী নবীজীর হাদিসসমূহ হিসেবে বিদ্যমান।

সুতরাং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের এই ধারার ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক কাজ কেবল সেটিকে সংরক্ষিত ও সুরক্ষিত অবস্থায় আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; আর তা ছিল সেই বৈজ্ঞানিক সুরক্ষাবলয়ের অধীনে যার কাজ হলো ইসনাদ ও এর ধারাবাহিকতা, বর্ণনাকারীদের পরিচিতি এবং মতন বা ঘটনার বিষয়বস্তু ও এতে কোনো প্রকার বিচ্যুতি বা অনুরূপ কিছু আছে কি না তা যাচাইয়ের মাধ্যমে বর্ণনাকে নির্ভুলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

তবে এই সংবাদগুলো (পরিপূর্ণভাবে গ্রহণের পর) তা থেকে ফলাফল, হুকুম-আহকাম, মূলনীতি ও অর্থসমূহ উদ্ভাবন করার প্রক্রিয়াটি একটি ভিন্নতর বৈজ্ঞানিক কাজ, যার সাথে ইতিহাসের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই এবং কোনো অবস্থাতেই একে ইতিহাসের সাথে মিশ্রিত করা উচিত নয়।

এটি একটি স্বতন্ত্র ও সুনিশ্চিত বৈজ্ঞানিক কর্মতৎপরতা, যা নিজস্ব পদ্ধতিতে অন্যান্য মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যার কাজ হলো—
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
تضبط عملية استنباط النتائج والمبادئ من تلك الأحداث، ضمن قالب علمي يقصيها عن سلطان الوهم وشهوة الإرادة النفسية التي يعبر عنها أمثال وليم جيمس بإرادة الاعتقاد.

من هذه القواعد: القياس الاستقرائي، وقانون الالتزام بأنواعه المختلفة، والدلالات بأنواعها.. إلخ.

ولقد استنبطت من أحداث السيرة النبوية طبقا لهذه القواعد أحكام كثيرة، منها ما يتعلق بالاعتقاد واليقين، ومنها ما يتعلق بالتشريع والسلوك. والمهم في هذا الصدد أن نعلم بأنها جاءت منفصلة عن التأريخ وتدوينه، بعيدة عن معناه ومضمونه، وإنما كانت نتيجة معاناة علمية أخرى نهضت في حد وجودها على البنيان التاريخي الذي قام بدوره على القواعد العلمية التي ذكرناها.

 

‌‌السيرة النبوية على ضوء المذاهب الحديثة في كتابة التاريخ:

في القرن التاسع عشر ظهرت طرائق كثيرة متنوعة في كتابة التاريخ وتدوينه، إلى جانب الطريقة الموضوعية، أو ما يسمونه بالمذهب العلمي، وقد تلاقى معظم هذه المذاهب فيما أطلق عليه اسم المذهب الذاتي. ويعد (فرويد) من أكبر الدعاة إليه والمتحمسين له.

ولا يرى أقطاب هذا المذهب من ضير في أن يقحم المؤرخ نزعته الذاتية أو اتجاهه الفكري والديني أو السياسي، في تفسير الأحداث وتعليلها والحكم على أبطالها.. بل إنهم يرون أن هذا هو واجب المؤرخ، لا مجرد وصف الأخبار وتجميع الوقائع العارية.

وهذه الطريقة تجعل كتابة التاريخ وتدوينه عملا فنيا مجردا، ولا تسمح بعدّه نهوضا بعمل علمي دقيق.

ونحن، وإن كنا لسنا بصدد الحديث عن المذاهب التاريخية ونقدها، فإن علينا ألّا نخفي أسفنا من أن يجد هذا المذهب- في عصر العلم والاعتزاز به وبمنهجيته- دعاة إليه ومؤمنين به. ذلك لأن هذا المذهب كفيل أن يمزق جميع الحقائق والأحداث التي يحتضنها الزمن في هيكله القدسي القديم الماثل أمام الأجيال، بفعل سبحات من أخيلة التوسم وشهوة الذات وعصبية النفس والهوى.

وكم من حقيقة مسخت، وأحداث نكّست، وأمجاد دثرت، وبرءاء ظلموا، تحت سلطان هذه المحكمة الوهمية الجائرة.

فهل كان لهذا المذهب الجديد من تأثير على كتابة السيرة وطريقة تحليلها؟

والحقيقة أن هذا المذهب الجديد في كتابة التاريخ قد أصبح أساسا لمدرسة جديدة في دراسة السيرة النبوية وفهمها عند طائفة من الباحثين. فكيف نشأت هذه المدرسة؟ .. وما هي عوامل نشأتها؟ .. وما مصيرها اليوم؟ ..

تعود نشأة هذه المدرسة إلى أيام الاحتلال البريطاني لمصر، لقد كانت مصر آنذاك منبر العالم
সেই ঘটনাগুলো থেকে ফলাফল ও নীতিমালা আহরণের প্রক্রিয়াটি একটি বৈজ্ঞানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত হয়, যা একে অলীক কল্পনা এবং প্রবৃত্তির আকাঙ্ক্ষার প্রভাব থেকে মুক্ত রাখে, যাকে উইলিয়াম জেমসের মতো ব্যক্তিরা ‘বিশ্বাসের ইচ্ছা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এই নিয়মগুলোর মধ্যে রয়েছে: আরোহী অনুমান, বিভিন্ন প্রকারের সংশ্লিষ্টতার নিয়ম, এবং শব্দার্থতত্ত্বের বিভিন্ন প্রকার ইত্যাদি।

সীরাত-উন্নবীর ঘটনাবলী থেকে এই নিয়মসমূহ অনুযায়ী অনেক বিধান আহরিত হয়েছে, যার কিছু আকিদাহ ও নিশ্চিত বিশ্বাসের সাথে সম্পর্কিত, আবার কিছু শরিয়ত ও আচরণের সাথে সম্পর্কিত। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি জানা যে, এই বিধানগুলো ইতিহাস রচনা ও তার নথিবদ্ধকরণ থেকে স্বতন্ত্রভাবে এসেছে, যা ইতিহাসের শাব্দিক অর্থ ও বিষয়বস্তু থেকে দূরে। বরং এগুলো ছিল অন্য এক বৈজ্ঞানিক সাধনার ফল, যা অস্তিত্বের দিক থেকে সেই ঐতিহাসিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা আবার আমাদের উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক নিয়মগুলোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।

 

‌‌ইতিহাস রচনার আধুনিক মতবাদসমূহের আলোকে সীরাত-উন্নবী:

ঊনবিংশ শতাব্দীতে বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি বা যাকে বৈজ্ঞানিক মতবাদ বলা হয়, তার পাশাপাশি ইতিহাস রচনা ও তা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অনেক বৈচিত্র্যময় পদ্ধতি আবির্ভূত হয়েছে। এই মতবাদগুলোর অধিকাংশই ‘ব্যক্তিগত মতবাদ’ নামক একটি বিন্দুতে মিলিত হয়েছে। ফ্রয়েডকে এর অন্যতম প্রধান প্রবক্তা ও উৎসাহী সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হয়।

এই মতবাদের প্রবক্তারা ঘটনার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং তার কুশীলবদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকের নিজস্ব প্রবণতা বা তার বুদ্ধিবৃত্তিক, ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে অনুপ্রবেশ করানোর মধ্যে কোনো ক্ষতি দেখেন না। বরং তারা মনে করেন যে, এটিই ঐতিহাসিকের দায়িত্ব; কেবল সংবাদ বর্ণনা করা এবং নগ্ন তথ্যাদি সংগ্রহ করা নয়।

আর এই পদ্ধতি ইতিহাস রচনা ও তা লিপিবদ্ধ করাকে একটি নিছক শৈল্পিক কার্যে পরিণত করে এবং একে একটি সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক কর্ম হিসেবে গণ্য করার সুযোগ দেয় না।

যদিও আমরা ঐতিহাসিক মতবাদসমূহ এবং তাদের সমালোচনা নিয়ে আলোচনার পর্যায়ে নেই, তবুও বিজ্ঞানের প্রতি গর্ব ও তার পদ্ধতির এই যুগেও এই মতবাদের প্রবক্তা ও বিশ্বাসী পাওয়া যাচ্ছে দেখে আমরা আমাদের দুঃখ গোপন করতে পারছি না। কারণ, এই মতবাদ প্রজন্মের সামনে বিদ্যমান মহাকালের সুপ্রাচীন পবিত্র কাঠামোতে সংরক্ষিত সমস্ত সত্য ও ঘটনাকে নিছক অনুমাননির্ভর কল্পনা, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা এবং প্রবৃত্তির অন্ধ আসক্তির মাধ্যমে ছিন্নভিন্ন করে দিতে সক্ষম।

এই কাল্পনিক ও অন্যায্য আদালতের কর্তৃত্বের অধীনে কত সত্য বিকৃত হয়েছে, কত ঘটনা পাল্টে দেওয়া হয়েছে, কত গৌরব ধুলিসাৎ হয়েছে এবং কত নির্দোষ ব্যক্তি জুলুমের শিকার হয়েছে।

তবে কি এই নতুন মতবাদের প্রভাব সীরাত রচনা এবং তা বিশ্লেষণের পদ্ধতির ওপর পড়েছে?

প্রকৃত সত্য হলো, ইতিহাস রচনার এই নতুন মতবাদটি একদল গবেষকের কাছে সীরাত-উন্নবী অধ্যয়ন ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে একটি নতুন ঘরানার ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাহলে এই ঘরানা কীভাবে সৃষ্টি হলো? এর উৎপত্তির কারণগুলোই বা কী? এবং বর্তমানে এর পরিণতিই বা কী?

এই ঘরানার উৎপত্তি মিশরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সময়কালে। তৎকালীন মিশর ছিল বিশ্বের জ্ঞানপীঠ...
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الإسلامي كما نعلم، يعنو إليه بتفكيره وعقله كلما أراد أن يعلم عن الإسلام علما، كما يعنو إلى كعبة الله بوجهه كلما أراد حجا أو صلاة.

وكان في استمرار هذا الصوت العظيم من جانب، وفي استمرار إنصات العالم الإسلامي إليه من جانب آخر، ما لا يدع للاحتلال البريطاني فرصة هدوء أو استقرار. ومهما أخضعت بريطانيا لنفسها الوادي كله تحت سلطان من قوة الحديد والنار. فإنه خضوع موقوت لا يطمأن إليه، ما بقيت للأزهر هذه القيادة الحية.

لذا فقد كان لابد للاحتلال البريطاني من الإقدام على أحد علاجين لا ثالث لهما:

أولهما: أن يقطّع ما بين الأزهر والأمة، بحيث لا يبقى له عليها من سلطان.

ثانيهما: أن يتم التسلل إلى مركز العمليات القيادية في الأزهر ذاته، فتوجّه قيادته الوجهة التي ترضي مصالح الاحتلال وتهيئ له أسباب الطمأنينة والاستقرار.

ولم تتردد بريطانيا في اختيار العلاج الثاني، نظرا إلى أنه أقرب منالا وأبعد عن الملاحظة والانتباه «3» .

وكان السبيل الوحيد إلى هذا التسلل نحو القيادة العلمية والفكرية داخل الأزهر، الاعتماد على نقطة ضعف أليمة كانت تعاني منها مشاعر الأمة الإسلامية عامة، بما فيها مصر وغيرها. وهي إحساس المسلمين بما انتابهم من الضيعة والتخلف والشتات، إلى جانب ملاحظتهم للنهضة العجيبة التي نهضها الغرب في شتى المجالات الفكرية والعلمية والحضارية! .. لقد كان المسلمون يتطلعون ولا ريب إلى اليوم الذي يتحررون فيه من الأثقال التي خلفتهم إلى الوراء، ليشتركوا مع الآخرين في رحلة الحضارة والمدنية والعلم الحديث.

من هذا السبيل تسلل الهمس، بل الكيد الاستعماري إلى صدور بعض من قادة الفكر في مصر. ولقد كان مؤدى هذا الهمس أن الغرب لم يتحرر من أغلاله، إلا يوم أخضع الدين لمقاييس العلم … فالدين شيء والعلم شيء آخر، ولا يتم التوفيق بينهما إلا بإخضاع الأول للثاني. وإذا كان العالم الإسلامي حريصا حقا على مثل هذا التحرر فلا مناص له من أن يسلك الطريق ذاته، وأن يفهم الإسلام هنا، كما فهم الغرب النصرانية هناك. ولا يتحقق ذلك إلا بتخلص الفكر الإسلامي من سائر الغيبيات التي لا تفهم ولا تخضع لمقاييس العلم الحديث.

وسرعان ما خضع لهذا الهمس، أولئك الذين انبهرت أبصارهم بمظاهر النهضة الأوربية الحديثة. ممن لم تترسخ حقائق الإيمان بالله في قلوبهم، ولا تجلت حقائق العلم الحديث وضوابطه في

--------------------------------------------

(3) انظر مذكرات اللورد كرومر، والاتجاهات الوطنية في الأدب الحديث للدكتور محمد محمد حسين.
ইসলামী সমাজ, যেমনটি আমরা জানি, যখনই ইসলাম সম্পর্কে কোনো জ্ঞান আহরণ করতে চায়, তখনই তাদের চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অভিনিবেশ এর দিকে নিবদ্ধ করে; ঠিক যেমন হজ্জ বা সালাতের ইচ্ছায় তারা আল্লাহর কাবার দিকে মুখ ফিরায়।

একদিকে এই মহান কণ্ঠস্বরের ধারাবাহিকতা এবং অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের সেই কণ্ঠের প্রতি অবিরাম কর্ণপাত—এই পরিস্থিতি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির জন্য শান্তি বা স্থিতিশীলতার কোনো সুযোগ রাখেনি। ব্রিটেন লোহা ও আগুনের শক্তির জোরে পুরো উপত্যকাকে তার শাসনের অধীনে আনলেও, যতক্ষণ আল-আজহারের এই প্রাণবন্ত নেতৃত্ব বিদ্যমান ছিল, ততক্ষণ সেই বশ্যতা ছিল সাময়িক এবং আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছু ছিল না।

তাই ব্রিটিশ দখলদার বাহিনীর সামনে দুটি ছাড়া তৃতীয় কোনো পথ ছিল না:

প্রথমটি: আজহার এবং উম্মাহর মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন করা, যাতে জাতির ওপর আজহারের কোনো কর্তৃত্ব অবশিষ্ট না থাকে।

দ্বিতীয়টি: খোদ আজহারের নেতৃত্বদানকারী কেন্দ্রবিন্দুতে অনুপ্রবেশ করা এবং এর নেতৃত্বকে এমন এক পথে পরিচালিত করা যা দখলদারদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং তাদের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ তৈরি করে।

ব্রিটেন দ্বিতীয় পথটি বেছে নিতে দ্বিধা করেনি, কারণ এটি ছিল অধিকতর সহজলভ্য এবং সাধারণের দৃষ্টি ও মনোযোগ থেকে দূরে। «৩»

আজহারের অভ্যন্তরীণ জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বে এই অনুপ্রবেশের একমাত্র পথ ছিল একটি যন্ত্রণাদায়ক দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া, যা মিশরসহ সাধারণ মুসলিম উম্মাহর অনুভূতিতে বিরাজমান ছিল। তা হলো মুসলমানদের সেই রিক্ততা, পশ্চাৎপদতা এবং অনৈক্যের বোধ, পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিক, বৈজ্ঞানিক ও সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের বিস্ময়কর জাগরণ পর্যবেক্ষণ! .. মুসলমানরা নিঃসন্দেহে সেই দিনের প্রতীক্ষায় ছিল, যখন তারা তাদের পেছনে ফেলে রাখা বোঝাগুলো থেকে মুক্তি পাবে এবং অন্যদের সাথে সভ্যতা, নাগরিকতা ও আধুনিক বিজ্ঞানের যাত্রায় শরিক হতে পারবে।

এই পথ ধরেই মিশরের কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক নেতার অন্তরে ঔপনিবেশিক কুমন্ত্রণা, বরং ষড়যন্ত্র প্রবেশ করেছিল। এই কুমন্ত্রণার সারকথা ছিল—পাশ্চাত্য তার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে পারেনি যতক্ষণ না তারা ধর্মকে বিজ্ঞানের মানদণ্ডের অধীন করেছে... সুতরাং ধর্ম এক জিনিস আর বিজ্ঞান অন্য জিনিস, এবং এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সম্ভব নয় যতক্ষণ না প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির অনুগত করা হয়। যদি মুসলিম বিশ্ব সত্যিই এমন মুক্তি চায়, তবে তাদেরও একই পথ অবলম্বন করা ছাড়া উপায় নেই; এবং এখানে ইসলামকে সেভাবেই বুঝতে হবে যেভাবে সেখানে পাশ্চাত্য খ্রিষ্টধর্মকে বুঝেছে। আর এটি ততক্ষণ সম্ভব নয় যতক্ষণ না ইসলামি চিন্তাধারা সেই সকল অতীন্দ্রিয় বিষয় থেকে মুক্ত হয় যা আধুনিক বিজ্ঞানের মানদণ্ডে অনুধাবনযোগ্য নয় বা তার অধীন নয়।

শীঘ্রই সেই সকল ব্যক্তি এই কুমন্ত্রণার কাছে নতি স্বীকার করল, যাদের চোখ আধুনিক ইউরোপীয় জাগরণের বাহ্যিক চাকচিক্যে ধাঁধিয়ে গিয়েছিল; যাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমানের হাকিকত দৃঢ়মূল হয়নি এবং যাদের নিকট আধুনিক বিজ্ঞানের স্বরূপ ও নীতিমালা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি...

--------------------------------------------

(৩) দেখুন লর্ড ক্রোমারের স্মৃতিকথা, এবং ডক্টর মুহাম্মদ মুহাম্মদ হুসাইনের 'আল-ইত্তি জাহাতুল ওয়াতানিয়্যাহ ফিল আদাবিল হাদিস'।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عقولهم. فتنادوا فيما بينهم إلى التحرر من كل عقيدة غيبية لم تصل إليها اكتشافات العلم الحديث، ولم تدخل تحت سلطان التجربة والمشاهدة الإنسانية.

فكان أن قاموا بما أسمي فيما بعد بالإصلاح الديني. واقتضى منهم ذلك، أمورا عديدة، منها تطوير كتابة السيرة النبوية وفهمها، واعتماد منهج جديد في تحليلها، يتفق وما قصدوا إليه من الإعراض عن كل ما يدخل في نطاق الغيبيات والخوارق التي لا يقف العلم الحديث منها موقف فهم أو قبول.

ولقد كان لهم في الطريقة الذاتية في كتابة التاريخ خير ملجأ يعينهم على تحقيق ما قصدوا إليه.

وبدأت تظهر كتب وكتابات في السّيرة النّبوية، تستبدل بميزان الرواية والسند وقواعد التحديث وشروطه، طريقة الاستنتاج الشخصي، وميزان الرّضا النفسي، ومنهج التوسم الذي لا يضبطه شيء إلا دوافع الرغبة، وكوامن الأغراض والمذاهب التي يضمرها المؤلّف.

واعتمادا على هذه الطريقة أخذ يستبعد هؤلاء الكاتبون، كل ما قد يخالف المألوف، مما يدخل في باب المعجزات والخوارق، من سيرته صلى الله عليه وسلم. وراحوا يروجون له صفة العبقرية والعظمة والبطولة وما شاكلها، شغلا للقارئ بها عن صفات قد تجره إلى غير المألوف من النّبوة والوحي والرسالة ونحوها مما يشكل المقومات الأولى لشخصية النّبي صلى الله عليه وسلم.

ويعدّ كتاب (حياة محمد) لحسين هيكل أبرز نموذج لهذا الاتجاه في كتابة السّيرة النّبوية.

ويعبر مؤلّفه عن اتجاهه هذا بصراحة وفخر عندما يقول:

«إنني لم آخذ بما سجلته كتب السّيرة والحديث، لأنني فضلت أن أجري في هذا البحث على الطريقة العلمية» ! ..

ومن نماذج هذه الطريقة الحديثة في كتابة السّيرة وفهمها، تلك المقالات المتتابعة التي نشرها المرحوم محمد فريد وجدي في مجلة نور الإسلام تحت عنوان: (السّيرة المحمدية تحت ضوء العلم والفلسفة) والتي يقول في بعض منها:

«وقد لا حظ قرّاؤنا أننا نحرص فيما نكتبه في هذه السّيرة، على ألا نسرف في كل ناحية إلى ناحية الإعجاز، ما دام يمكن تعليلها بالأسباب العادية حتى ولو بشيء من التّكلف» .

ومن نماذج هذه الطريقة أيضا تلك الكتابات الكثيرة التي ظهرت لطائفة من المستشرقين عن حياة سيّدنا محمد صلى الله عليه وسلم، في نطاق أعمالهم وكتاباتهم التاريخية التي قامت على المنهج الذاتي الذي ألمحنا إليه آنفا.

إنك لتراهم يمجدون شخص محمد صلى الله عليه وسلم، وينوهون بعظمته وصفاته الحميدة، ولكن بعيدا عن
তাদের বিচারবুদ্ধি। তাই তারা নিজেদের মধ্যে এমন প্রতিটি অতীন্দ্রিয় আকিদা থেকে মুক্তির আহ্বান জানায়, যেখানে আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কারসমূহ পৌঁছাতে পারেনি এবং যা মানুষের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের সীমানায় প্রবেশ করেনি।

ফলে তারা এমন কিছু কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যা পরবর্তীতে ধর্মীয় সংস্কার নামে অভিহিত হয়। আর এর জন্য তাদের বেশ কিছু বিষয় আবশ্যক হয়ে পড়ে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল নবীজির সীরাত লিখন ও তা অনুধাবনের পদ্ধতির উন্নয়ন এবং এর বিশ্লেষণে এমন এক নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা, যা অতীন্দ্রিয় বিষয়াদি ও অলৌকিক ঘটনাবলি থেকে বিমুখ হওয়ার লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; যেসব বিষয়কে আধুনিক বিজ্ঞান বোঝা বা গ্রহণ করার অবস্থানে নেই।

ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ব্যক্তিনিষ্ঠ পদ্ধতি তাদের উদ্দেশ্য হাসিলে এক চমৎকার আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল।

নবীজির সীরাত নিয়ে এমন সব বই ও লেখা প্রকাশিত হতে শুরু করে, যা বর্ণনা, সনদ এবং হাদিস শাস্ত্রের নিয়ম ও শর্তাবলির মানদণ্ডের পরিবর্তে ব্যক্তিগত অনুমান, মানসিক তুষ্টির মাপকাঠি এবং ধারণাপ্রসূত এমন এক পদ্ধতি বেছে নেয় যা কেবল কামনা-বাসনা, সুপ্ত উদ্দেশ্য এবং লেখকের অন্তরে লালিত মতাদর্শ ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়।

এই পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে সেই লেখকরা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে মোজেজা ও অলৌকিক ঘটনার মতো প্রচলিত নিয়ম বহির্ভূত যাবতীয় বিষয় বর্জন করতে শুরু করেন। তারা তাঁর প্রতি প্রতিভা, মহত্ত্ব, বীরত্ব ও এই জাতীয় গুণাবলি আরোপ করে সেগুলোর প্রচারণা চালাতে থাকেন, যাতে পাঠক নবুওয়ত, ওহি ও রিসালাতের মতো বিষয়গুলো—যা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্বের মৌলিক উপাদান—তা থেকে বিমুখ হয়ে অলৌকিকতাহীন গুণাবলির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

সীরাত রচনার এই ধারায় হুসাইন হাইকলের ‘হায়াতে মুহাম্মাদ’ বইটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

এর লেখক তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট ও গর্বের সাথে প্রকাশ করেছেন যখন তিনি বলেন:

«আমি সীরাত ও হাদিসের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ বিষয়গুলো গ্রহণ করিনি, কারণ আমি এই গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করাকে শ্রেয় মনে করেছি»! ..

সীরাত রচনা ও তা উপলব্ধির এই আধুনিক পদ্ধতির অন্যতম উদাহরণ হলো সেই ধারাবাহিক প্রবন্ধসমূহ যা মরহুম মুহাম্মদ ফরিদ ওয়াজদি ‘নুরুল ইসলাম’ সাময়িকীতে ‘বিজ্ঞান ও দর্শনের আলোকে সীরাতে মুহাম্মদী’ শিরোনামে প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি এক স্থানে বলেন:

«আমাদের পাঠকরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, আমরা এই সীরাত রচনায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অলৌকিকতার দিকে অতিমাত্রায় ঝুঁকে না পড়ার বিষয়ে সচেষ্ট থেকেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তা সাধারণ কার্যকারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, যদিও সেই ব্যাখ্যা কিছুটা কষ্টকল্পিত হয় তবুও»।

এই পদ্ধতির আরও কিছু উদাহরণ হলো একদল প্রাচ্যবিদের সায়্যিদুনা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন নিয়ে রচিত অসংখ্য লেখা, যা তাদের সেই ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ড ও রচনার অন্তর্ভুক্ত যেগুলো মূলত সেই ব্যক্তিনিষ্ঠ পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যার দিকে আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি।

আপনি দেখবেন তারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্বের গুণগান গাইছে এবং তাঁর মহত্ত্ব ও প্রশংসনীয় গুণাবলির বর্ণনা দিচ্ছে, কিন্তু তা মূলত...
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
كل ما قد ينبّه القارئ إلى شيء من معنى النّبوة أو الوحي في حياته، وبعيدا عن الاهتمام بالأسانيد والروايات التي قد يضطرهم الأخذ بها إلى اليقين بأحداث ووقائع ليس من صالحهم اعتمادها أو الاهتمام بها.

وهكذا وجد أبطال هذه المدرسة الجديدة، في اتّباع المذهب الذاتي في كتابة التاريخ، الميدان الفسيح الذي يمكنهم من نبذ كل ما لا يعجبهم من حقائق السّيرة النّبوية مهما جاءت مدعومة بدلائل العلم واليقين، متّخذين من ميولهم النفسية، ورغباتهم الشخصية وأهدافهم البعيدة، حاكما مطلقا على حقائق التاريخ وتحليل ما وراءه من العوامل، وحكما مطلقا لقبول ما ينبغي قبوله ورفض ما يجب رفضه.

لقد رأينا- مثلا- أن كل خارقة مما قد جاء به متواتر السّنة، وربما صريح القرآن تؤول، ولو بتكلف وتمحل، بما يعيدها إلى الوفاق مع المألوف، وبما يجعلها تنسجم مع الغرض المطلوب.

فطير الأبابيل يؤول- على الرغم من أنف الآية الصريحة الواضحة- بداء الجدري.

والإسراء الذي جاء به صريح القرآن، يحمل على سياحة الروح وعالم الرؤى.

والملائكة الذين أمدّ الله المسلمين بهم في غزوة بدر يؤولون بالدّعم المعنوي الذي أكرمهم الله به! …

وآخر المضحكات العجيبة التي جاءت على هذا الطريق، تفسير النّبوة في حياة سيّدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وإيمان الصحابة به وعموم الفتح الإسلامي، بأن جميعه لم يكن إلا ثورة يسار ضد يمين، أثارتها النوازع الاقتصادية انتجاعا للرزق وطلبا للتوسع، وألهبتها ردود الفعل لدى الفقراء ضد الأغنياء وأصحاب الإقطاع! ..

وبعد، فقد كانت هذه الطريقة في دراسة السّيرة النّبوية خصوصا، والتاريخ الإسلامي عموما، مكيدة خطيرة عشيت عن رؤيتها أعين البسطاء من بعض المسلمين وصادفت هوى وقبولا حسنا عند طائفة أخرى من المنافقين وأصحاب الأهواء.

لقد غاب عن أعين أولئك البسطاء، أن ذلك الهمس الاستعماري الذي يدعو المسلمين إلى ما أسموه بثورة إصلاحية في شؤون العقيدة الإسلامية، إنما قصد في الحقيقة نسف هذه العقيدة من جذورها.

وغاب عنهم أن تفريغ الإسلام من حقائقه الغيبية، إنما يعني حشوه بمنجزات ناسفة تحيله أثرا بعد عين. ذلك لأن الوحي الإلهي- وهو ينبوع الإسلام ومصدره- يعدّ قمة الخوارق والحقائق الغيبية كلها. ولا ريب أن الذي يسرع إلى رفض ما قد جاء في السّيرة النّبوية من خوارق العادات، بحجة اختلافها عن مقتضى سنن الطبيعة ومدارك العلم الحديث، يكون أسرع إلى رفض
পাঠককে তাঁর জীবনে নবুওয়াত বা ওহীর অর্থের কোনো দিক সম্পর্কে সচেতন করতে পারে এমন সবকিছু, এবং সনদ ও বর্ণনাসমূহের প্রতি গুরুত্ব প্রদান থেকে দূরে থাকা যা গ্রহণ করলে তাঁরা এমন সব ঘটনা ও বাস্তবতার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে বাধ্য হতেন যা গ্রহণ করা বা যেগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া তাঁদের স্বার্থের অনুকূলে নয়।

এভাবেই এই নতুন মতাদর্শের প্রবক্তাগণ ইতিহাস রচনায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণের মাঝে এমন এক প্রশস্ত ক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছেন, যা তাঁদের সীরাতে নববীর এমন সব সত্যকে বর্জন করতে সক্ষম করে তোলে যা তাঁদের পছন্দ নয়, যদিও তা জ্ঞান ও নিশ্চিত প্রমাণের দ্বারা সমর্থিত হয়ে থাকে। তাঁরা তাঁদের মনস্তাত্ত্বিক ঝোঁক, ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা এবং সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যসমূহকে ইতিহাসের সত্যতা এবং এর পেছনের প্রভাবকসমূহ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক বানিয়ে নিয়েছেন, এবং যা গ্রহণ করা উচিত তা গ্রহণ করার ও যা বর্জন করা আবশ্যক তা বর্জন করার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিচারক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

আমরা উদাহরণস্বরূপ দেখেছি যে, মুতাওয়াতির সুন্নাহ এবং সম্ভবত কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত প্রতিটি অলৌকিক বিষয়কেই ব্যাখ্যা করা হয়—যদিও তা কৃত্রিমতা ও কষ্টকল্পনার মাধ্যমে হোক না কেন—যাতে সেগুলোকে পরিচিত অভ্যাসের অনুকূলে ফিরিয়ে আনা যায় এবং কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ করা যায়।

ফলে 'তায়রান আবাবিল' বা ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিকে—সুস্পষ্ট আয়াতের বাণী উপেক্ষা করে—বসন্ত রোগের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়।

আর কুরআনের স্পষ্ট বর্ণনায় আসা ইসরা বা নৈশভ্রমণকে কেবল আত্মার ভ্রমণ এবং স্বপ্নের জগতের বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়।

আর বদর যুদ্ধে আল্লাহ যে ফেরেশতাদের মাধ্যমে মুসলিমদের সাহায্য করেছিলেন, তাঁদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত কেবল এক প্রকার মানসিক সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়! …

এবং এই পথে আসা সর্বশেষ আশ্চর্যজনক হাস্যকর বিষয়টি হলো, আমাদের সায়্যিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে নবুওয়াত, তাঁর প্রতি সাহাবায়ে কেরামের ঈমান এবং সামগ্রিক ইসলামী বিজয়কে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যে, এর পুরোটাই ছিল ডানের বিরুদ্ধে বামের এক বিপ্লব, যা জীবিকার সন্ধান ও সাম্রাজ্য বিস্তারের অর্থনৈতিক তাড়নায় উদ্ভূত হয়েছিল এবং যা ধনী ও ভূস্বামীদের বিরুদ্ধে দরিদ্রদের প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজ্জ্বলিত হয়েছিল! ..

পরিশেষে, বিশেষভাবে সীরাতে নববী এবং সাধারণভাবে ইসলামী ইতিহাস পর্যালোচনার এই পদ্ধতিটি ছিল এক বিপজ্জনক ষড়যন্ত্র, যা উপলব্ধি করতে কিছু সাধারণ মুসলিমের চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং মুনাফিক ও প্রবৃত্তিপূজারীদের অন্য একটি দলের কাছে তা প্রবৃত্তি ও সুন্দর গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছিল।

সেই সব সাধারণ মানুষের দৃষ্টির অগোচরে রয়ে গিয়েছিল যে, ঔপনিবেশিকদের সেই ফিসফিসানি যা মুসলিমদেরকে ইসলামী আকীদার বিষয়ে তথাকথিত 'সংস্কারমূলক বিপ্লবের' দিকে আহ্বান করে, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল এই আকীদাকে এর মূল উৎপাটন করে ধ্বংস করে দেওয়া।

এবং তাঁদের অগোচরে রয়ে গিয়েছিল যে, ইসলামকে এর অতীন্দ্রিয় বা গায়েবী সত্যগুলো থেকে শূন্য করার অর্থ হলো এতে এমন সব বিধ্বংসী বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঘটানো যা একে অস্তিত্বহীন চিহ্নে পরিণত করবে। কারণ ঐশী ওহী—যা ইসলামের ঝরনাধারা ও উৎস—তা হলো সমস্ত অলৌকিকতা ও গায়েবী সত্যের শীর্ষবিন্দু। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রকৃতির নিয়মের পরিপন্থী ও আধুনিক বিজ্ঞানের উপলব্ধির ভিন্নতার অজুহাতে সীরাতে নববীতে বর্ণিত অলৌকিক বিষয়গুলো প্রত্যাখ্যান করতে যে ব্যক্তি ত্বরান্বিত হয়, সে ব্যক্তি আরও দ্রুত প্রত্যাখ্যান করবে...
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الوحي الإلهي كله بما يتبعه ويتضمنه من إخباراته عن النشور والحساب والجنة والنار بالحجة الطبيعية ذاتها.

كما غاب عنهم أن الدين الصالح في ذاته لا يحتاج في عصر ما إلى مصلح يتدارك شأنه، أو إصلاح يغيّر من جوهره.

غاب عن هؤلاء الناس هذا كله، مع أن إدراكهم له كان من أبسط مقتضيات العلم. لو كانوا يتمتعون بحقيقته وينسجمون مع منطقيته. لكن أعينهم عشيت في غمرة انبهارها بالنهضة الأوربية الحديثة وما قد حفّ بها من شعارات العلم وألفاظه، فلم تبصر من حقائق المنطق والعلم إلا عناوينها وشعاراتها، وقد كانوا بأمس الحاجة إلى فهم كامل لما وراء تلك العناوين وإلى هضم صحيح لمضمون تلك الشعارات. فلم يعد يستأثر بتفكيرهم إلا خيال نهضة (إصلاحية) تطور العقيدة الإسلامية هنا كما تطورت العقيدة النصرانية هناك.

وهكذا، فقد كان عماد هذه المدرسة الحديثة التي أشرنا إليها بإيجاز، هياجا في النفس، أكثر من أن يكون حقيقة علمية مدروسة استحوذت على العقل.

 

‌‌مصير هذه المدرسة اليوم:

والحقيقة أن الاهتمام بهذه المدرسة في كتابة السّيرة وفهمها، والحماسة التي ظهرت يوما ما لدى البعض في الأخذ بها- إنما كان منعطفا تاريخيا ومرّ.. وعذر أولئك الذين كتب عليهم أن يمروا بذلك المنعطف أو يمر هو بهم، أنهم كانوا- كما قلنا- يفتحون أعينهم إذ ذاك على خبر النهضة العلمية في أوربا، بعد طول غفلة وإغماض. وإنه لأمر طبيعي أن تنبهر العين عند أول لقياها مع الضياء، فلا تتبين حقائق الأشياء، ولا تتميز الأشباه عن بعضها. حتى إذا مرّ وقت، واستراحت العين إلى الضياء، أخذت الأشياء تتمايز وبدت الحقائق واضحة جلية لالبس فيها ولا غموض.

وهذا ما قد تمّ فعلا. فقد انجابت الغاشية، وصفت أسباب الرؤية السليمة أمام الأبصار؛ أبصار الجيل الواعي المثقف اليوم. فانطلق يتعامل مع حقيقة العلم وجوهره، بعد أولئك الذين أخذوا بألفاظه وانخدعوا بشعاراته، ثم عادوا وقد أيقنوا ببصيرة الباحث العليم والمفكر الحر، بأن شيئا مما يسمى بالخوارق والمعجزات لا يمكن أن يتنافى في جوهره مع حقائق العلم وموازينه.

ذلك لأن هذه الخوارق سميت كذلك لخرقها لما هو مألوف أمام الناس. وما كان للإلف أو العادة أن يكون مقياسا علميا لما هو ممكن وغير ممكن. وهيهات أن يقضي العلم يوما ما بأن كل ما استأنست إليه عين الإنسان مما هو مألوف هو وحده ممكن الوقوع، وأن كل ما استوحشت منه عين الإنسان مما هو غير مألوف له غير ممكن الوقوع.

ولقد علم كل باحث ومثقف اليوم بأن أحدث ما انتهت إليه مدارك العلماء في هذا الصدد،
সমস্ত ঐশী ওহি এবং এর অন্তর্ভুক্ত পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত ও জাহান্নাম সংক্রান্ত সংবাদসমূহ সেই একই স্বাভাবিক যুক্তির আওতাভুক্ত।

তেমনিভাবে তাদের নিকট এটিও অস্পষ্ট রয়ে গেছে যে, একটি যথার্থ ধর্ম স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কারণে কোনো যুগেই এমন কোনো সংস্কারকের প্রয়োজন বোধ করে না যে তার অবস্থা তদারকি করবে, অথবা এমন কোনো সংস্কারের প্রয়োজন হয় না যা তার মূল সত্তাকে পরিবর্তন করে দেবে।

এই সকল মানুষের নিকট এই সব কিছুই অস্পষ্ট রয়ে গেছে, যদিও তা অনুধাবন করা ছিল জ্ঞানের অন্যতম সহজ দাবি—যদি তারা এর প্রকৃত রূপ উপভোগ করত এবং এর যৌক্তিকতার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখত। কিন্তু আধুনিক ইউরোপীয় রেনেসাঁ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের স্লোগান ও শব্দমালার চাকচিক্যে তাদের চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল। ফলে তারা যুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রকৃত সত্যের কেবল শিরোনাম ও স্লোগানটুকুই দেখতে পেয়েছিল; অথচ সেই শিরোনামগুলোর অন্তরালে কী রয়েছে তা বোঝার এবং স্লোগানগুলোর বিষয়বস্তু সঠিকভাবে আত্মস্থ করার তীব্র প্রয়োজন তাদের ছিল। তাই তাদের চিন্তাজগতকে কেবল একটি (সংস্কারবাদী) জাগরণের কল্পনাই আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, যা এখানে ইসলামি আকীদাকে সেভাবেই বিবর্তিত করবে যেভাবে সেখানে খ্রিষ্টীয় আকীদা বিবর্তিত হয়েছিল।

এভাবে, আমরা সংক্ষেপে যে আধুনিক মতাদর্শের কথা উল্লেখ করেছি, তার ভিত্তি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক সুনিপুণ কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যের পরিবর্তে মনের এক প্রকার উত্তেজনা।

 

‌‌বর্তমানে এই মতাদর্শের পরিণতি:

বাস্তবতা হলো, সীরাত রচনা ও তা বোঝার ক্ষেত্রে এই মতাদর্শের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং এটি গ্রহণের ব্যাপারে কোনো এক সময় কারও কারও মাঝে যে উৎসাহ দেখা দিয়েছিল, তা ছিল কেবল একটি ঐতিহাসিক বাঁক যা অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। আর যাদের ভাগ্যে সেই বাঁকটি অতিক্রম করা নির্ধারিত ছিল কিংবা সেই বাঁকটিই যাদের ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়েছিল, তাদের অজুহাত ছিল এই যে—যেমনটি আমরা বলেছি—তারা দীর্ঘদিনের অসচেতনতা ও চোখ বন্ধ করে রাখার পর ইউরোপের বৈজ্ঞানিক জাগরণের সংবাদ শুনে কেবল চোখ মেলতে শুরু করেছিল। আর এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয় যে, আলোর সাথে প্রথম সাক্ষাতে চোখ ধাঁধিয়ে যায়, তখন জিনিসের প্রকৃত রূপ স্পষ্ট হয় না এবং সদৃশ বস্তুগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা যায় না। অতঃপর যখন কিছুটা সময় অতিবাহিত হলো এবং চোখ সেই আলোর সাথে মানিয়ে নিল, তখন বস্তুসমূহ পৃথক হতে শুরু করল এবং সত্যগুলো কোনো প্রকার সংশয় ও অস্পষ্টতা ছাড়াই স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলো।

আর প্রকৃতপক্ষে এটিই ঘটেছে। সেই কুয়াশা দূর হয়ে গেছে এবং বর্তমানের সচেতন শিক্ষিত প্রজন্মের চোখের সামনে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির উপকরণসমূহ স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। যারা বিজ্ঞানের কেবল শব্দমালা আঁকড়ে ধরেছিল এবং এর স্লোগান দ্বারা প্রতারিত হয়েছিল, তাদের পর বর্তমান প্রজন্ম বিজ্ঞানের প্রকৃত সত্য ও সারমর্ম নিয়ে কাজ শুরু করেছে। অতঃপর তারা একজন বিজ্ঞ গবেষক ও মুক্তচিন্তক মানুষের অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে ফিরে এসেছে এবং এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে যে, অলৌকিকতা বা মোজেজা বলে যা কিছু অভিহিত হয়, তার কোনো কিছুই মূলত বিজ্ঞানের সত্য ও মানদণ্ডের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে না।

কারণ, এই অলৌকিক বিষয়গুলোকে অলৌকিক বলা হয় মানুষের সামনে যা পরিচিত বা স্বাভাবিক তার প্রথা ভেঙে ফেলার কারণে। আর কোনো কিছু সম্ভব বা অসম্ভব হওয়ার ক্ষেত্রে স্রেফ অভ্যাস বা প্রথা কোনো বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড হতে পারে না। বিজ্ঞান কখনোই এই সিদ্ধান্ত দেবে না যে, মানুষের চোখ যা কিছু স্বাভাবিক বা পরিচিত হিসেবে দেখে অভ্যস্ত কেবল সেটিই ঘটা সম্ভব, আর মানুষের চোখ যা কিছু অপরিচিত হওয়ার কারণে শঙ্কা বোধ করে সেটি ঘটা অসম্ভব।

বর্তমানে প্রত্যেক গবেষক ও শিক্ষিত ব্যক্তি জানেন যে, এই বিষয়ে বিজ্ঞানীদের উপলব্ধির সর্বশেষ ফলাফল হলো,
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
هو أن العلاقة التي نراها بين الأسباب ومسبباتها، ليست إلا علاقة اقتران مطرد، اكتسبت تحليلا، ثم تعليلا، ثم استنبط منها القانون الذي هو تابع لظهور تلك العلاقة وليس العكس.

فإن رحت تسأل القانون العلمي عن رأيه في خارقة أو معجزة إلهية، قال لك بلسان الحال الذي يفقهه كل عالم بل كل متبصر بثقافة العصر: ليست الخوارق والمعجزات من موضوعات بحثي واختصاصي، فلا حكم لي عليها بشيء. ولكن إذا وقعت خارقة من ذلك أمامي فإنها تصبح في تلك الحال موضوعا جاهزا للنظر والتحليل، ثم الشرح والتعليل، ثم تغطي تلك الخارقة بقانونها التابع لها «4» .

وقد انقرض الزمن الذي كان بعض العلماء يظنون فيه أن أثر الأسباب الطبيعية في مسبباتها أثر حتمي يستعصي على التخلف والتغيير. وانتصر الحق الذي طالما نبّه إليه ودافع عنه علماء المسلمين عامة والإمام الغزالي خاصة، من أن علاقات الأسباب بمسبباتها ليست أكثر من رابطة اقتران مجردة. وما العلم في أحكامه وقوانينه إلا جدار ينهض فوق أساس هذا الاقتران وحده. أما سرّ هذا الاقتران فهو عند ذلك الإله العظيم الذي أعطى كل شيء خلقه ثم هدى.

ولقد رأينا العالم التجريبي (دافيد هيوم) كيف يجلّي هذه الحقيقة بأنصع بيان صارم.

نعم، لا بد أن يشترط كل إنسان عاقل يحترم العقل والحقيقة، لقبوله أيّ خبر، سواء تضمن أمرا خارقا أو مألوفا، شرطا واحدا، ألا وهو أن يصل ذلك الخبر إليه عن طريق علمي سليم ينهض على قواعد الرواية والإسناد ومقتضيات الجرح والتعديل، بحيث يورث الجزم واليقين، وتفصيل القول في هذه الموازين العلمية العظيمة يستلزم كلاما طويل الذيل لسنا بصدد شيء منه الآن.

إنّ رجل العلم اليوم. ليأخذ منه العجب كل مأخذ، عندما يقف أمام هذا الذي يقوله رجل مثل حسين هيكل في مقدمة كتابه (حياة محمد) :

«وإنني لم آخذ بما سجلته كتب السّيرة والحديث، لأنني فضلت أن أجري في هذا البحث على الطريقة العلمية» ! ..

أي أنه يطمئنك إلى أنه لم يأخذ حتى بما ثبت في صحيحي البخاري ومسلم، حفظا لكرامة العلم! .. إذن فإن ما يرويه الإمام البخاري ضمن قيود رائعة عجيبة من الحيطة العلمية النادرة في رواية الكلمة والخبر، انحراف عن جادة العلم.. على حين تكون طريقة الاستنتاج والحدس والتخمين وما يسمونه بمنهج التوسم، حفظا لكرامته والتزاما لميزانه وجادّته! ..

أليس هذا من أفجع الكوارث النازلة برأس العلم؟ ..

--------------------------------------------

(4) انظر تفصيل هذا البحث في كتاب كبرى اليقينيات الكونية لمؤلف هذا الكتاب: 329 وما بعد.
কারণ ও ফলাফলের মধ্যে আমরা যে সম্পর্কটি দেখতে পাই, তা নিরবচ্ছিন্ন সহাবস্থানের সম্পর্ক ছাড়া আর কিছু নয়। এটি প্রথমে বিশ্লেষণের মাধ্যমে লব্ধ হয়, তারপর এর কারণ নির্ণয় করা হয়, এরপর তা থেকে এমন আইন বা নীতি আহরণ করা হয় যা এই সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশের অনুগামী মাত্র, এর বিপরীত নয়।

আপনি যদি কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা বা ঐশ্বরিক মুজিজা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক আইনের মতামত জানতে চান, তবে বর্তমান যুগের প্রতিটি বিজ্ঞানী বা প্রাজ্ঞ ব্যক্তি যে ভাষায় কথা বলেন, সেই ভাষার মর্মার্থ অনুযায়ী সেটি আপনাকে বলবে: অতিপ্রাকৃত বিষয় বা মুজিজা আমার গবেষণা ও বিশেষত্বের আওতাভুক্ত নয়, তাই এ ব্যাপারে আমার কোনো রায় নেই। তবে যদি আমার সামনে এমন কোনো অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে, তবে তা তখন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য একটি প্রস্তুত বিষয়ে পরিণত হয়, অতঃপর এর ব্যাখ্যা ও কারণ দর্শানো হয় এবং পরিশেষে সেই অলৌকিক ঘটনাটি তার নিজস্ব অনুগামী আইনের আওতায় চলে আসে।

সেই সময় বিলীন হয়ে গেছে যখন কিছু বিজ্ঞানী মনে করতেন যে ফলাফলের ওপর প্রাকৃতিক কারণের প্রভাব একটি অনিবার্য বিষয়, যা পরিবর্তন বা ব্যত্যয় ঘটা অসম্ভব। সেই সত্যই জয়ী হয়েছে যার প্রতি সাধারণ মুসলিম আলেমগণ এবং বিশেষ করে ইমাম গাজালি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ও প্রতিরক্ষা করেছেন; আর তা হলো কারণ ও ফলাফলের মধ্যকার সম্পর্ক নিছক সহাবস্থানের একটি বন্ধন ছাড়া আর কিছু নয়। বিজ্ঞান তার সিদ্ধান্ত ও আইনকানুনসমূহের ক্ষেত্রে সেই দেয়াল মাত্র যা কেবল এই সহাবস্থানের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর এই সহাবস্থানের রহস্য সেই মহান ইলাহের নিকট নিহিত, যিনি প্রতিটি বস্তুকে তার সৃজন দান করেছেন এবং অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।

আমরা দেখেছি যে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানী ডেভিড হিউম কীভাবে এই সত্যকে অত্যন্ত স্পষ্ট ও অকাট্য বর্ণনার মাধ্যমে উন্মোচিত করেছেন।

হ্যাঁ, বিবেক ও সত্যকে সম্মানকারী প্রত্যেক বুদ্ধিমান মানুষের জন্য কোনো সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে—তা অলৌকিক হোক বা সাধারণ—একটি শর্তারোপ করা আবশ্যক; আর তা হলো সংবাদটি তার কাছে এমন একটি সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পৌঁছাতে হবে যা বর্ণনা ও সনদশাস্ত্রের মূলনীতি এবং জারহ ও তাদীলের মানদণ্ডের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যাতে তা সুদৃঢ় বিশ্বাস ও নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। এই মহান বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডগুলোর বিস্তারিত আলোচনা অনেক দীর্ঘ হবে, যা এই মুহূর্তে আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়।

আজকের যুগের একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে যান যখন তিনি হুসাইন হায়কলের মতো একজন ব্যক্তির বক্তব্যের সামনে দাঁড়ান, যা তিনি তার 'হায়াতু মুহাম্মদ' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন:

«আমি সিরাত ও হাদিসের কিতাবসমূহে যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তা গ্রহণ করিনি, কারণ আমি এই গবেষণায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি» ! ..

অর্থাৎ তিনি আপনাকে আশ্বস্ত করছেন যে, বিজ্ঞানের মর্যাদা রক্ষার্থে তিনি এমনকি সহিহ বুখারি ও মুসলিমে যা সাব্যস্ত হয়েছে তাও গ্রহণ করেননি! তাহলে ইমাম বুখারি শব্দ ও সংবাদ বর্ণনার ক্ষেত্রে বিরল বৈজ্ঞানিক সতর্কতা ও বিস্ময়কর নিয়মাবলির মাধ্যমে যা বর্ণনা করেছেন তা কি বিজ্ঞানের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতি? আর তার বিপরীতে অনুমান, ধারণা, আন্দাজ এবং তারা যাকে 'তাতাসসুম' বা অন্তর্দৃষ্টির পদ্ধতি বলে থাকে, তা-ই কি বিজ্ঞানের মর্যাদা রক্ষা এবং তার মানদণ্ড ও সঠিক পথের অনুসরণ?

এটি কি বিজ্ঞানের ওপর নেমে আসা অত্যন্ত মর্মান্তিক এক বিপর্যয় নয়?

--------------------------------------------

(৪) এই আলোচনার বিস্তারিত দেখুন এই লেখকেরই রচিত 'কুবরা আল-ইয়াকিনিয়াত আল-কাউনিয়্যাহ' গ্রন্থের ৩২৯ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌وأخيرا: كيف ندرس السّيرة النّبوية على ضوء ما قد ذكرناه:

من المعلوم أن محمدا صلى الله عليه وسلم، عندما ظهر في الجزيرة العربية، قدّم نفسه إلى العالم على أنه نبي مرسل من قبل الله عز وجل إلى الناس كافة، ليؤكد لهم الحقيقة التي بعث بها الأنبياء الذين خلوا من قبل، وليحمّلهم المسؤوليات ذاتها التي حمّلها الأنبياء السابقون أقوامهم، موضحا أنه آخر نبيّ مرسل في سلسلة الرّسل الذين تعاقبوا مع الزمن، ثم زاد نفسه تعريفا لهم فأوضح أنه ليس إلا بشرا من الناس يسري عليه جميع سمات البشرية وأحكامها، ولكن الله ائتمنه- بوساطة الوحي- على تبليغ الناس رسالة تعرفهم بهوياتهم الحقيقية، وتنبههم إلى موقع هذه الحياة الدنيا من خارطة المملكة الإلهية زمانا ومكانا، وإلى مصيرهم الذي سيلقونه حتما بعد الموت، كما تلفت نظرهم إلى ضرورة انسجامهم في سلوكهم الاختياري مع هوياتهم التي لا مفرّ منها، أي أن عليهم أن يكونوا عبيدا لله بيقينهم وسلوكهم الاختياري، كما تحققت فيهم هذه العبودية بالواقع الاضطراري. ثم أكّد لهم بكل مناسبة أنه لا يملك أن يزيد أو ينقص أو يبدل شيئا من مضمون هذه الرسالة التي حمّله الله مسؤولية إبلاغها إلى الناس جميعا، بل أكّد البيان الإلهي ذاته هذه الحقيقة قائلا:

وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنا بَعْضَ الْأَقاوِيلِ، لَأَخَذْنا مِنْهُ بِالْيَمِينِ، ثُمَّ لَقَطَعْنا مِنْهُ الْوَتِينَ، فَما مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حاجِزِينَ [سورة الحاقة 69/ 44- 47] .

وإذن، فإن محمدا صلى الله عليه وسلم لم يقدم نفسه إلى العالم زعيما سياسيا، أو قائدا وطنيا، أو رجل فكرة ومذهب، أو مصلحا اجتماعيا.. بل لم يتخذ لنفسه، خلال حياته كلها، أي سلوك قد يوحي بأنه يسعى سعيا ذاتيا إلى شيء من ذلك.

وإذا كان الأمر هكذا، فإن الذي يفرضه المنطق علينا، عندما نريد أن ندرس حياة رجل هذا شأنه، أن ندرس حياته العامة من خلال الهوية التي قدّم نفسه إلى العالم على أساسها، لنستجلي فيها دلائل الصدق أو عدمه على ما يقول! ..

وهذا يلزمنا، بلا ريب، أن ندرس جميع النواحي الشخصية والإنسانية في حياته، ولكن على أن نجعل من ذلك كله قبسا هاديا يكشف لنا ببرهان علمي وموضوعي عن حقيقة هذه الهوية التي قدّم نفسه إلى العالم على أساسها.

نعم، ربما كان مقبولا أن نزعم بأننا لسنا مضطرين أن نشغل أفكارنا وعقولنا بهذا الذي أراد محمد صلى الله عليه وسلم أن يشغل الناس به من معاني النّبوة والرّسالة في شخصه، لو أن الأمر لم يكن متعلقا بمصيرنا، ولم يكن له من شأن بحريتنا وسلوكنا.

أما وإن القضية متعلقة بذواتنا، وتكشف- إن صحّ الأمر- عن واجبات في المعرفة والسلوك إن لم نسع إلى تحقيقها، وقعنا من ذلك في مغبة شقاء عظيم وهلاك وبيل، إذن فالمسألة أخطر من أن نتصور أنها لا تعنينا، أو أن نمرّ عليها معرضين عابثين! ..
অবশেষে: আমরা যা উল্লেখ করেছি তার আলোকে কীভাবে সীরাতুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধ্যয়ন করব:

এটা সবার জানা যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আরব উপদ্বীপে আবির্ভূত হলেন, তখন তিনি নিজেকে বিশ্বের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল মানুষের নিকট প্রেরিত একজন নবী হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, যাতে তিনি তাদের নিকট সেই সত্যকে সুনিশ্চিত করতে পারেন যা তাঁর পূর্ববর্তী নবীগণ নিয়ে এসেছিলেন এবং তাদের ওপর সেই একই দায়িত্ব অর্পণ করতে পারেন যা পূর্ববর্তী নবীগণ তাঁদের কওমের ওপর অর্পণ করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, তিনি সময়ের আবর্তনে আগত রাসূলগণের ধারায় সর্বশেষ প্রেরিত নবী। এরপর তিনি তাঁদের কাছে নিজের পরিচয় আরও বিশদ করে স্পষ্ট করলেন যে, তিনি মানুষের মধ্য থেকে একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নন, যাঁর ওপর মানবীয় সকল বৈশিষ্ট্য ও বিধিবিধান কার্যকর হয়। কিন্তু আল্লাহ তাঁকে—ওহীর মাধ্যমে—মানুষের কাছে এমন এক বার্তা পৌঁছানোর জন্য আমানতদার মনোনীত করেছেন, যা তাদের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে অবগত করে এবং আল্লাহর রাজত্বের মানচিত্রে সময় ও স্থানের নিরিখে এই পার্থিব জীবনের অবস্থান এবং মৃত্যুর পর তাদের অনিবার্য পরিণতির বিষয়ে তাদের সতর্ক করে। তেমনিভাবে এটি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাতে তারা তাদের ঐচ্ছিক আচরণের ক্ষেত্রে তাদের সেই অমোঘ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখে যা থেকে পলায়নের কোনো পথ নেই। অর্থাৎ, তাদের উচিত তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ও ঐচ্ছিক আচরণের মাধ্যমে আল্লাহর বান্দা হওয়া, ঠিক যেমনটি বাধ্যতামূলক বাস্তবতায় তাদের মধ্যে এই দাসত্ব কার্যকর রয়েছে। এরপর তিনি প্রতিটি সুযোগে তাদের কাছে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে, আল্লাহ তাঁকে যে রিসালাতের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন, তার বিষয়বস্তুতে কোনো কিছু বাড়ানো, কমানো বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাঁর নেই। বরং খোদ ঐশী বাণীই এই সত্যটি নিশ্চিত করে বলেছে:

এবং সে যদি আমাদের নামে কোনো কথা রচনা করে চালিয়ে দিত, তবে আমরা অবশ্যই তাঁর ডান হাত ধরতাম, তারপর অবশ্যই আমরা তাঁর জীবনধমনী কেটে দিতাম, তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত না যে তাঁকে রক্ষা করতে পারত। [সূরা আল-হাক্কাহ ৬৯/ ৪৪-৪৭] ।

অতএব, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেকে বিশ্বের কাছে কোনো রাজনৈতিক নেতা, জাতীয় নেতা, কোনো মতাদর্শের প্রবক্তা বা সমাজ সংস্কারক হিসেবে উপস্থাপন করেননি। এমনকি তিনি তাঁর পুরো জীবনে এমন কোনো আচরণ করেননি যা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ জাতীয় কোনো কিছুর অন্বেষণ করছেন।

আর বিষয়টি যখন এইরকম, তখন যুক্তি আমাদের ওপর এই দাবি রাখে যে, যখন আমরা এই পর্যায়ের একজন মানুষের জীবন নিয়ে অধ্যয়ন করতে চাইব, তখন যেন তাঁর প্রকাশ্য জীবনকে সেই পরিচয়ের আলোকে অধ্যয়ন করি যার ভিত্তিতে তিনি নিজেকে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করেছেন, যাতে আমরা তাঁর বাণীর সত্যতা বা অসত্যতার প্রমাণগুলো সেখানে স্পষ্টভাবে দেখতে পাই! ..

আর এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আবশ্যক করে তোলে যে, আমরা তাঁর জীবনের সকল ব্যক্তিগত ও মানবিক দিকগুলো অধ্যয়ন করব; তবে শর্ত হলো এই সব কিছুকে একটি পথপ্রদর্শক আলো হিসেবে গ্রহণ করতে হবে যা বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের মাধ্যমে আমাদের কাছে সেই পরিচয়ের হাকিকত উন্মোচন করবে যার ভিত্তিতে তিনি নিজেকে বিশ্বের কাছে পেশ করেছিলেন।

হ্যাঁ, সম্ভবত এটি দাবি করা গ্রহণযোগ্য হতো যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সত্তার মধ্যে নবুওয়াত ও রিসালাতের যে অর্থগুলো দিয়ে মানুষকে ব্যাপৃত করতে চেয়েছিলেন, তা নিয়ে আমাদের চিন্তা ও বুদ্ধিকে ব্যতিব্যস্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই, যদি বিষয়টি আমাদের পরিণতির সাথে জড়িত না হতো এবং আমাদের স্বাধীনতা ও আচরণের সাথে তার কোনো সম্পর্ক না থাকত।

কিন্তু যেহেতু বিষয়টি আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত এবং এটি—যদি বিষয়টি সঠিক হয়ে থাকে—জ্ঞান ও আচরণের ক্ষেত্রে এমন কিছু কর্তব্যের কথা প্রকাশ করে যা অর্জনে সচেষ্ট না হলে আমরা মহা দুর্ভাগ্য ও ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পতিত হব, তাই বিষয়টি আমাদের ধারণা করার চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর যে এটি আমাদের কোনো বিষয় নয়, কিংবা আমরা এর পাশ দিয়ে বিমুখ হয়ে বা অবজ্ঞার সাথে এড়িয়ে যাব! ..
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
من العبث البيّن عندئذ أن نعرض عن دراسة هذه الهوية التي عرّف محمد صلى الله عليه وسلم العالم على نفسه من خلالها، ثم نتشاغل بالتأمل في جوانب أخرى من شخصه لا صلة لها بنا، وليس لها بتلك الهوية أي تعلق أو مساس.

أجل، وأي عبث أعبث من أن يقف أمامنا هذا الرجل: محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم، ليكشف لنا عن ذاته، ثم ليقول لنا محذرا بملء يقينه ومشاعره: «والله لتموتن كما تنامون، ولتبعثن كما تستيقظون، وو الله إنها لجنة أبدا، أو لنار أبدا» ثم لا يهمنا من شخصه وكلامه إلّا التأمل في عبقريته أو فصاحته وحكمته؟! ..

أليس هذا، كما لو أقبل إليك إنسان وأنت على مفترق طرق، يعرّفك منها على السبيل الموصل الهادي ويحذرك من المتاهات المهلكة، فلم تلتفت من كل ما يقوله لك إلا إلى مظهره ولون ثيابه وطريقة حديثه، ثم رحت تجعل من ذلك موضع درس وتحليل تستغرق فيه؟! ..

إن المنطق يقضي أن ندرس حياة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم من شتى جوانبها: نشأته وأخلاقه، وحياته الشخصية والبيتية، وصبره وكفاحه، وسلمه وحربه، وتعامله مع أصدقائه وأعدائه، وموقفه من الدنيا وأهوائها وزخرفها، دراسة موضوعية تتوخى الصدق والدقة بناء على المنهج العلمي الذي يقضي باتّباع قواعد الرواية والإسناد وشروط الصحة فيها.. أقول إن المنطق يقضي بأن ندرس ذلك كله، ولكن على أن نتخذ منه سلّما للوصول إلى نهاية من البحث والدرس نتأكد فيها من نبوته، ونتبين فيها حقيقة الوحي في حياته. حتى إذا تجلّى لنا ذلك بعد البحث الموضوعي المتجرد عن أيّ هوى أو عصبية، أدركنا أنه صلى الله عليه وسلم، لم يخترع لنا من عنده شرعة وأحكاما، وإنما كان أمينا على إبلاغها إيانا، قضاء مبرما من لدن ربّ العالمين، وعندئذ نتنبه إلى عظم مسؤولياتنا تجاه هذه الشرائع والأحكام رعاية وتنفيذا.

ثم إن كل من ألزم نفسه من دراسة السّيرة النّبوية بالجوانب الإنسانية المجردة، وراح يحللها بعيدا عن الهوية التي قدم النّبي صلى الله عليه وسلم نفسه للناس على أساسها، لا بدّ أن يحبس نفسه ضمن ألغاز مغلقة لا سبيل إلى الخروج منها بأي تحليل.

لا بدّ مثلا أن يقف ذاهلا حائرا أمام لغز الفتح الإسلامي الذي قضى بأن يكون لطائفة من السّيوف القديمة التي طالما أكل بعضها بعضا سلطان سحري في القضاء على حصن الحضارة الفارسية وجبروت البأس الروماني.

ولا بدّ مثلا أن يقف حائرا كل الحيرة أمام لغز القانون الذي تكامل في الجزيرة العربية قبل أن ينمو فيها نبت أي ثقافة، وقبل أن يمتد عليها رواق أي مدنية أو حضارة! .. تشريع متكامل توجت به الجزيرة العربية، وهي لا تزال في مرحلة المهد من سعيها إلى المعرفة والثقافة والحياة
এমতাবস্থায় এটি স্পষ্ট নিরর্থকতা যে, আমরা সেই পরিচয় নিয়ে গবেষণা করা থেকে বিমুখ থাকব যার মাধ্যমে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশ্ববাসীর কাছে নিজের পরিচয় দিয়েছেন, আর তাঁর ব্যক্তিত্বের এমন অন্যান্য দিক নিয়ে ভাবনায় মগ্ন থাকব যেগুলোর সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেই পরিচয়ের সাথে যার কোনো সংশ্লিষ্টতা বা সংস্পর্শ নেই।

হ্যাঁ, এর চেয়ে বড় নিরর্থকতা আর কী হতে পারে যে, এই ব্যক্তি—মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের স্বরূপ প্রকাশ করবেন, অতঃপর পূর্ণ দৃঢ়তা ও অনুভূতির সাথে আমাদের সতর্ক করে বলবেন: «আল্লাহর কসম, তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে যেভাবে তোমরা ঘুমাও, আর তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে যেভাবে তোমরা জাগ্রত হও; আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তা হয় চিরস্থায়ী জান্নাত, নতুবা চিরস্থায়ী জাহান্নাম», এরপরেও তাঁর ব্যক্তিত্ব ও বাণী থেকে তাঁর প্রতিভা, সাবলীলতা কিংবা প্রজ্ঞা নিয়ে চিন্তা করা ছাড়া আর কিছুই আমাদের কাছে গুরুত্ব পাবে না?! ..

এটি কি এমন নয়, যেন কোনো ব্যক্তি আপনার কাছে এল যখন আপনি রাস্তার এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন, সে আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছানোর সঠিক পথ চিনিয়ে দিচ্ছে এবং ধ্বংসাত্মক গোলকধাঁধা থেকে সতর্ক করছে, অথচ সে যা বলছে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে কেবল তার অবয়ব, পোশাকের রঙ এবং কথা বলার ধরন ছাড়া আর কোনো কিছুর প্রতি আপনি ভ্রুক্ষেপ করলেন না, অতঃপর আপনি সেগুলো নিয়েই পড়াশোনা ও বিশ্লেষণে মগ্ন হয়ে গেলেন?! ..

যুক্তি দাবি করে যে, আমরা আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনের বিভিন্ন দিক অধ্যয়ন করব: তাঁর বেড়ে ওঠা ও চরিত্র, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন, তাঁর ধৈর্য ও সংগ্রাম, সন্ধি ও যুদ্ধ, বন্ধু ও শত্রুদের সাথে তাঁর আচরণ এবং দুনিয়া ও এর কামনা-বাসনা ও চাকচিক্যের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি; এমন এক বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়ন যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তিতে সত্যনিষ্ঠতা ও সূক্ষ্মতা অনুসন্ধান করবে, যে পদ্ধতি বর্ণনা ও ইসনাদ রক্ষা এবং বিশুদ্ধতার শর্তাবলি মেনে চলার দাবি রাখে। আমি বলছি, যুক্তি দাবি করে যে আমরা এই সব কিছুই অধ্যয়ন করব, তবে তা যেন এমন এক গবেষণার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সোপান হয় যেখানে আমরা তাঁর নবুওয়াতের ব্যাপারে নিশ্চিত হব এবং তাঁর জীবনে ওহীর বাস্তবতা স্পষ্ট করে তুলব। অতঃপর যখন কোনো প্রবৃত্তি বা গোঁড়ামি মুক্ত বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার পর বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট হবে, তখন আমরা উপলব্ধি করব যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের পক্ষ থেকে কোনো বিধান বা আহকাম উদ্ভাবন করেননি, বরং তিনি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এক অমোঘ ফয়সালা হিসেবে তা আমাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমানতদার ছিলেন; আর তখনই আমরা এই সকল শরীয়ত ও বিধানের রক্ষণাবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের মহান দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হব।

তদুপরি, যে ব্যক্তি সীরাতে নববী অধ্যয়নের ক্ষেত্রে নিজেকে কেবল নিছক মানবিক দিকগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন তা থেকে দূরে সরিয়ে বিশ্লেষণ করবে, সে নিজেকে এমন সব বদ্ধ ধাঁধার মধ্যে বন্দি করে ফেলবে যেখান থেকে কোনো বিশ্লেষণের মাধ্যমেই বের হওয়ার পথ নেই।

উদাহরণস্বরূপ, তাকে অবশ্যই কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও বিভ্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে সেই ইসলামী বিজয়ের রহস্যের সামনে, যা নির্ধারণ করেছিল যে একদল পুরনো তলোয়ার—যা দীর্ঘকাল একে অপরকে গ্রাস করেছিল—পারস্য সভ্যতার দুর্গ এবং রোমান পরাক্রম ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এক জাদুকরী ক্ষমতার অধিকারী হবে।

আবার উদাহরণস্বরূপ, তাকে সেই আইনের রহস্যের সামনে চরম বিভ্রান্তিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে যা আরব উপদ্বীপে পূর্ণতা পেয়েছিল সেখানে কোনো সংস্কৃতির চারা গজানোর আগে এবং কোনো নগরজীবন বা সভ্যতার বিস্তার ঘটার আগেই! .. এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান যা দিয়ে আরব উপদ্বীপকে ভূষিত করা হয়েছিল, অথচ তখনও সেটি জ্ঞান, সংস্কৃতি ও জীবনের অন্বেষণে তার শৈশবকালেই ছিল।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الاجتماعية المعقدة، كيف يتفق ذلك مع ما هو بدهي عند علماء الاجتماع من أن نشأة القانون المتكامل في حياة الأمة ثمرة لنضجها الثقافي والحضاري، ونتيجة لتركيبها الاجتماعي المتطور؟! ..

ألغاز مقفلة، لا يمكن لمن لم يضع نبوة محمد صلى الله عليه وسلم في الحسبان، أن يجد لها أي حلّ في نطاق الأسباب والتعليلات المادية المألوفة. وكم رأينا من باحثين- من هذا القبيل- يتطوحون بأفكارهم ذات اليمين وذات الشمال بحثا عن مخرج من الحيرة، دون أن يعودوا من سعيهم بأي طائل.

ولكن سبيل المخرج من هذه الحيرة واضح مع ذلك.

فالسبيل هو أن نكون منطقيين وموضوعيين في دراسة السّيرة النّبوية، نجعل من الهوية التي عرّف محمد صلى الله عليه وسلم على نفسه من خلالها محورا لدراسة حياته العامة كما قلنا.

حتى إذا أسلمتنا هذه الدّراسة إلى اليقين بأنه نبي مرسل من قبل الله عز وجل، أسلمتنا نبوّته بدورها إلى المخرج من الحيرة والوقوف على السّر بالنسبة لهذه الألغاز، إن النّبي الصادق في نبوته لا بدّ أن يكون مؤيدا من قبل الإله الذي أرسله، ولا بدّ أن يكون القرآن وحي هذا الإله إليه.

فالقانون المتكامل إذن تنزيله وشرعته وليس من تأليف أمّة أميّة حتى يقع العجب وتطبق الحيرة.

وهذا الإله يقول للمؤمنين في محكم تبيانه: وَلا تَهِنُوا وَلا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ [سورة آل عمران 3/ 139] ، ويقول: وَنُرِيدُ أَنْ نَمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ.

وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوارِثِينَ [سورة القصص 28/ 5] ، ويقول: إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُرْدِفِينَ. وَما جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرى وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ [سورة الأنفال 8/ 9- 10] .

فقد اتّضح المبهم، وظهر الحلّ، وانجابت الغاشية، وعاد الأمر طبيعيا إذ ينصر خالق القوى والقدر عباده المؤمنين به الملتزمين بمنهجه ويحقق لهم الفوز على من يشاء.

بل الحيرة كل الحيرة كانت تقع لو أن الله التزم النصر لرسوله والتأييد لعباده المؤمنين، ثم لم تقع معجزة ذلك النصر والتأييد.
জটিল সামাজিক অবস্থা, সমাজবিজ্ঞানীদের কাছে যা স্বতঃসিদ্ধ—অর্থাৎ কোনো জাতির জীবনে একটি পূর্ণাঙ্গ আইনের উদ্ভব তাদের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার পরিপক্কতার ফল এবং তাদের উন্নত সামাজিক কাঠামোর বিবর্তনের ফলাফল—তার সাথে এটি কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে?!

এগুলো এক একটি বন্ধ রহস্য। যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়তকে বিবেচনায় রাখে না, তার পক্ষে পরিচিত জাগতিক কারণ ও ব্যাখ্যার পরিধিতে এর কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা এই শ্রেণির অনেক গবেষককে দেখেছি যারা বিভ্রান্তি থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে নিজেদের চিন্তাভাবনাকে ডানে ও বামে আছড়ে ফেলেছেন, অথচ শেষ পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা থেকে কোনো ফলই লাভ করতে পারেননি।

তবে এই বিভ্রান্তি থেকে উত্তরণের পথ তবুও স্পষ্ট।

সেই পথটি হলো সীরাত অধ্যয়নের ক্ষেত্রে আমাদের যৌক্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়া; মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের যে পরিচয় প্রদান করেছেন, সেটিকে কেন্দ্র করেই তাঁর সামগ্রিক জীবন অধ্যয়ন করা, যেমনটি আমরা পূর্বে বলেছি।

যখন এই অধ্যয়ন আমাদের এই দৃঢ় বিশ্বাসে উপনীত করবে যে তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন নবী, তখন তাঁর সেই নবুয়ত আমাদের বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি দেবে এবং এই রহস্যগুলোর গোপন রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করবে। যিনি তাঁর নবুয়তে সত্যবাদী নবী, তিনি অবশ্যই সেই ইলাহ কর্তৃক সাহায্যপ্রাপ্ত হবেন যিনি তাঁকে প্রেরণ করেছেন, আর কুরআন অবশ্যই তাঁর প্রতি সেই ইলাহ-এর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী হবে।

সুতরাং, এই পূর্ণাঙ্গ আইন হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তাঁর শরীয়ত; এটি কোনো নিরক্ষর জাতির রচিত নয় যে এতে বিস্ময়ের সৃষ্টি হবে বা বিভ্রান্তি জেঁকে বসবে।

সেই ইলাহ মুমিনদের উদ্দেশ্যে তাঁর সুদৃঢ় বর্ণনায় বলেন: "তোমরা হীনবল হয়ো না এবং দুঃখ করো না; তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।" [সূরা আল ইমরান ৩/১৩৯]। তিনি আরও বলেন: "আমি ইচ্ছা করলাম সে দেশে যাদেরকে হীনবল করা হয়েছিল তাদের ওপর অনুগ্রহ করতে।"

"তাদেরকে নেতা বানাতে এবং তাদেরকে উত্তরাধিকারী করতে।" [সূরা আল কাসাস ২৮/৫]। তিনি আরও বলেন: "যখন তোমরা তোমাদের রবের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করলেন যে, আমি তোমাদের সাহায্য করব এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে যারা একের পর এক আসবে। আল্লাহ এটি কেবল সুসংবাদ হিসেবে দান করলেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়। আর সাহায্য তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [সূরা আল আনফাল ৮/৯-১০]।

এখন অস্পষ্টতা দূর হয়েছে, সমাধান স্পষ্ট হয়েছে এবং অন্ধকার সরে গেছে। বিষয়টি স্বাভাবিক রূপ লাভ করেছে যখন সকল শক্তি ও ক্ষমতার স্রষ্টা তাঁর প্রতি বিশ্বাসী ও তাঁর পদ্ধতির অনুসারী বান্দাদের সাহায্য করেন এবং যাকে ইচ্ছা তার বিরুদ্ধে তাদের বিজয় দান করেন।

বরং চরম বিভ্রান্তি তখনই তৈরি হতো যদি আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সাহায্য করার এবং মুমিন বান্দাদের সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন, আর সেই সাহায্য ও সমর্থনের মুজিজা বাস্তবে সংঘটিত না হতো।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌سرّ اختيار الجزيرة العربيّة مهدا لنشأة الإسلام

ولا بدّ قبل أن ندخل في الحديث عن سيرته صلى الله عليه وسلم، وعن الجزيرة العربيّة التي نشأ فيها واختاره الله منها- من أن نستجلي الحكمة الإلهية التي اقتضت أن تكون بعثته عليه الصلاة والسلام في هذه البقعة من العالم دون غيرها، وأن تكون نشأة الدعوة الإسلامية على يد العرب قبل غيرهم.

ولبيان هذا ينبغي أولا أن نعلم خصائص العرب وطباعهم قبل الإسلام، وأن نتصور البقعة الجغرافية التي كانوا يعيشون فيها وموقعها مما حولها، وأن نتصور في مقابل ذلك ما كانت عليه الأمم الأخرى إذ ذاك؛ كالفرس والروم واليونان والهنود، من العادات والطباع والخصائص الحضارية.

ولنبدأ أولا بعرض موجز لما كانت عليه الأمم التي تعيش من حول الجزيرة العربيّة قبيل الإسلام.

كان يتصدر العالم إذ ذاك دولتان اثنتان، تتقاسمان العالم المتمدن هما: فارس والروم، ويأتي من ورائهما اليونان والهند.

أما فارس فقد كانت حقلا لوساوس دينية فلسفية متصارعة مختلفة، كان فيها الزرادشتية التي اعتنقها ذوو السلطة الحاكمون، وكان من فلسفتها تفضيل زواج الرجل بأمه أو ابنته أو أخته.

حتى إن يزدجرد الثاني الذي حكم في أواسط القرن الخامس الميلادي تزوج بابنته. هذا إلى جانب انحرافات خلقية مشينة مختلفة لا مجال لسردها هنا.

وكان فيها (المزدكية) التي قامت كما يقول الإمام الشهرستاني على فلسفة أخرى هي حلّ النساء وإباحة الأموال وجعل الناس شركة فيها كاشتراكهم في الماء والنار والكلأ، وقد حظيت هذه الدعوة باستجابة عظيمة لدى أصحاب الرعونات والأهواء وصادفت لديهم قبولا عظيما «5» .

وأما الرومان، فقد كانت تسيطر عليها الروح الاستعمارية، وكانت منهمكة في خلاف ديني بينها من جهة وبين نصارى الشام ومصر من جهة أخرى، وكانت تعتمد على قوتها العسكرية وطموحها الاستعماري في مغامرة عجيبة من أجل تطويرها للمسيحية والتلاعب بها حسبما توحي به مطامعها وأهواؤها المستشرية.

ولم تكن هذه الدولة في الوقت نفسه أقل انحلالا من دولة الفرس، فقد كانت تسودها حياة التبذل والانحطاط والظلم الاقتصادي من جراء كثرة الإتاوات، ومضاعفة الضرائب.

--------------------------------------------

(5) راجع الملل والنحل للشهرستاني: 2/ 86 و 87
ইসলামের উন্মেষের পাদপীঠ হিসেবে আরব উপদ্বীপকে বেছে নেওয়ার রহস্য

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সীরাত এবং যে আরব উপদ্বীপে তিনি বেড়ে উঠেছেন ও আল্লাহ তাঁকে যেখান থেকে নির্বাচন করেছেন, সে বিষয়ে আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে আমাদের সেই ঐশী প্রজ্ঞা স্পষ্ট করে নেওয়া প্রয়োজন, যার দাবি ছিল যে—বিশ্বের অন্য কোনো স্থানের পরিবর্তে কেন এই ভূখণ্ডেই তাঁর নবুওয়াত প্রদান করা হলো এবং কেন অন্য কোনো জাতির পরিবর্তে আরবদের হাতেই ইসলামি দাওয়াতের সূচনা হলো।

আর এটি স্পষ্ট করার জন্য প্রথমে আমাদের প্রাক-ইসলামী আরবদের বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব-প্রকৃতি সম্পর্কে জানা উচিত; এবং তারা যে ভৌগোলিক ভূখণ্ডে বাস করত তার অবস্থান ও পারিপার্শ্বিকতা সম্পর্কে ধারণা রাখা প্রয়োজন। এর বিপরীতে তৎকালীন অন্যান্য জাতি যেমন—পারস্য, রোম, গ্রিস ও ভারতের রীতি-নীতি, স্বভাব-প্রকৃতি এবং সভ্যতার বৈশিষ্ট্যগুলোও আমাদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রাক-ইসলামী যুগে আরব উপদ্বীপের চারপাশে বসবাসকারী জাতিগুলোর অবস্থা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনার মাধ্যমে আমরা শুরু করছি।

সে সময় দুটি রাষ্ট্র বিশ্বের নেতৃত্বে ছিল, যারা সভ্য বিশ্বকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল; তারা হলো: পারস্য ও রোম। তাদের পরেই ছিল গ্রিস ও ভারত।

পারস্যের কথা বললে, সেটি ছিল পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন ধর্মীয় ও দার্শনিক সংশয়ের চারণভূমি। সেখানে 'জরথুস্ট্রবাদ' বিদ্যমান ছিল যা শাসকগোষ্ঠী গ্রহণ করেছিল। এর দর্শনের অন্যতম বিষয় ছিল—নিজের মা, মেয়ে বা বোনকে বিবাহ করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া।

এমনকি পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে শাসনকারী দ্বিতীয় ইয়াজদগিরদ নিজের মেয়েকে বিবাহ করেছিলেন। এর পাশাপাশি সেখানে বিভিন্ন প্রকার জঘন্য নৈতিক বিচ্যুতিও ছিল যা এখানে বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশ নেই।

সেখানে 'মাজদাকবাদ'ও ছিল, যা ইমাম শাহরাস্তানির বর্ণনা অনুযায়ী এমন এক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল—যেটি নারীদের অবাধ ভোগ এবং সম্পদের মালিকানাকে সর্বজনীন করে দিয়েছিল। পানি, আগুন ও চারণভূমির মতো বিষয়ে মানুষের যেমন সাধারণ অংশীদারিত্ব থাকে, এসব বিষয়েও মানুষকে অংশীদার করে দিয়েছিল। এই মতবাদটি মূর্খ ও প্রবৃত্তি পূজারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল এবং তাদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছিল।

আর রোমানদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী চেতনা আধিপত্য বিস্তার করেছিল। তারা একদিকে নিজেদের মধ্যে এবং অন্যদিকে সিরিয়া ও মিশরের খ্রিষ্টানদের সাথে ধর্মীয় বিরোধে লিপ্ত ছিল। তারা তাদের সামরিক শক্তি এবং সাম্রাজ্যবাদী লালসার ওপর ভিত্তি করে খ্রিষ্টধর্মকে বিকৃত করা এবং নিজেদের ক্রমবর্ধমান লোভ ও প্রবৃত্তির আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী তা নিয়ে খেলা করার এক অদ্ভুত অভিযানে মত্ত ছিল।

একই সময়ে এই রাষ্ট্রটি পারস্য রাষ্ট্রের চেয়ে কোনো অংশেই কম বিচ্যুত ছিল না। মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক এবং দ্বিগুণ কর আরোপের ফলে সেখানে বিলাসিতা, নৈতিক পতন এবং অর্থনৈতিক অবিচার বিরাজমান ছিল।

--------------------------------------------

(৫) দ্রষ্টব্য: শাহরাস্তানি রচিত আল-মিলাল ওয়ান নিহাল: ২/ ৮৬ ও ৮৭
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
أما اليونان فقد كانت غارقة في هوسات من خرافاتها وأساطيرها الكلامية التي منيت بها دون أن ترقى منها إلى ثمرة أو نتيجة مفيدة.

وأما الهند، فقد كانت كما قال عنها الأستاذ أبو الحسن الندوي: إنه قد اتفقت كلمة المؤلفين في تاريخها أن أحط أدوارها ديانة وخلقا واجتماعا ذلك العهد الذي يبتدئ من مستهل القرن السادس عشر الميلادي، فقد ساهمت الهند مع جاراتها وشقيقاتها في التدهور الأخلاقي والاجتماعي «6» .

هذا، وينبغي أن نعلم أن القدر المشترك الذي أوقع هذه الأمم المختلفة فيما وقعت فيه من انحلال واضطراب وشقاء، إنما هو الحضارة والمدنية اللتان تقومان على أساس من القيم المادية وحدها دون أن يكون ثمة مثل أعلى يقود هذه الحضارة والمدينة في سبيلهما المستقيم الصحيح. ذلك أن الحضارة بمختلف مقوماتها ومظاهرها ليست سوى وسيلة وسبب.. فإن عدم أهلها التفكير الصائب والمثل الأعلى الصحيح استحالت الحضارة في أيديهم إلى وسيلة للنزول بها إلى درك الشقاء والاضطراب، أما إن أوتي أهلها مقياسا من العقل الرشيد الذي قلما يأتي إلا بواسطة الدين والوحي الإلهي. فإن القيم الحضارية والمدنية كلها تصبح وسائل جميلة سهلة إلى السعادة التامة في مختلف أنواعها ومظاهرها.

أما الجزيرة العربية فقد كانت هادئة، بعيدة بل منعزلة عن مظاهر هذه الاضطرابات كلها. فلم يكن لدى أهلها من الترف والمدنية الفارسية ما يجعلهم يتفننون في خلق وسائل الانحلال وفلسفة مظاهر الإباحية والانحطاط الخلقي ووضعها في قوالب من الدين. ولم يكن لديهم من الطغيان العسكري الروماني ما يبسطون به أيديهم بالتسلط على أي رقعة من حولهم، ولم يؤتوا من ترف الفلسفة والجدل اليوناني ما يصبحون به فريسة للأساطير والخرافات.

كانت طبائعهم أشبه ما تكون بالمادة (الخام) التي لم تنصهر بعد في أي بوتقة محوّلة، فكانت تتراآى فيها الفطرة الإنسانية السليمة، والنزعة القوية إلى الاتجاهات الإنسانية الحميدة، كالوفاء والنجدة والكرم والإباء والعفة. إلا أنه كانت تعوزهم المعرفة التي تكشف لهم الطريق إلى كل ذلك. إذ كانوا يعيشون في ظلمة من الجهالة البسيطة والحالة الفطرية الأولى، فكان يغلب عليهم- بسبب ذلك- أن يضلوا الطريق إلى تلك القيم الإنسانية فيقتلوا الأولاد بدافع الشرف والعفة، ويتلفوا الأموال الضرورية بدافع الكرم، ويثيروا فيما بينهم المعارك بدافع الإباء والنجدة.

وهذه الحالة هي التي عبر الله عز وجل عنها بالضلال حينما وصفهم بقوله: وَإِنْ كُنْتُمْ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الضَّالِّينَ [سورة البقرة 2/ 198] ، وهي صفة- إذا ما نسبت إلى حال الأمم الأخرى إذ ذاك-

--------------------------------------------

(6) ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين: 28
গ্রীস দেশ তাদের কাল্পনিক উপকথা এবং বাচনিক কুসংস্কারের মোহে নিমজ্জিত ছিল, যার মাধ্যমে তারা কোনো ফলপ্রসূ বা কার্যকর পরিণতি লাভ করতে পারেনি।

আর ভারতের ক্ষেত্রে যেমনটি উস্তাদ আবুল হাসান নদভী বলেছেন: এর ইতিহাসের লেখকদের মাঝে এই মর্মে ঐকমত্য রয়েছে যে, ধর্ম, নৈতিকতা ও সামাজিকতার দিক দিয়ে এর সবচেয়ে অধঃপতিত পর্যায়টি ছিল সেই যুগ যা খ্রিষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর শুরু থেকে আরম্ভ হয়। ভারত তার প্রতিবেশী ও সমমনা দেশগুলোর সাথে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ে সমানভাবে অংশ নিয়েছিল «৬»।

এখানে আমাদের জানা উচিত যে, এই ভিন্ন ভিন্ন জাতিসমূহকে যে সাধারণ কারণটি অবক্ষয়, বিশৃঙ্খলা ও দুর্দশার মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তা হলো এমন এক সভ্যতা ও সংস্কৃতি যা কেবল বৈষয়িক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেখানে এমন কোনো উচ্চতর আদর্শ বিদ্যমান ছিল না যা এই সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সঠিক ও সরল পথে পরিচালিত করবে। কেননা সভ্যতা তার বিভিন্ন উপাদান ও বহিঃপ্রকাশসহ কেবল একটি মাধ্যম ও উপকরণ মাত্র। যদি এর অধিকারীদের মাঝে সঠিক চিন্তা ও বিশুদ্ধ উচ্চতর আদর্শের অভাব থাকে, তবে তাদের হাতে সভ্যতা দুর্দশা ও অস্থিরতার অতল গহ্বরে পতনের একটি মাধ্যমে পরিণত হয়। পক্ষান্তরে, যদি এর অধিকারীদের সঠিক বুদ্ধিমত্তার মানদণ্ড দান করা হয়—যা সাধারণত ধর্ম ও ঐশী ওহী ব্যতীত লাভ করা সম্ভব নয়—তবে সমস্ত সভ্য ও নাগরিক মূল্যবোধ বিভিন্ন ধরণের পূর্ণ সুখ ও প্রশান্তি লাভের এক সুন্দর ও সহজ উপায়ে রূপান্তরিত হয়।

আর আরব উপদ্বীপ ছিল শান্ত, বরং এই সমস্ত অস্থিরতার পরিবেশ থেকে দূরে ও বিচ্ছিন্ন। তাদের মাঝে পারস্যের এমন বিলাসিতা বা নাগরিকতা ছিল না যা তাদের অবক্ষয়ের অভিনব পথ উদ্ভাবনে পারদর্শী করত কিংবা নৈতিক স্খলন ও অনাচারের বহিঃপ্রকাশগুলোকে দার্শনিক রূপ দিয়ে ধর্মের ছাঁচে ফেলার সুযোগ করে দিত। তাদের মাঝে রোমানদের মতো এমন সামরিক স্বৈরাচারও ছিল না যার মাধ্যমে তারা তাদের হাত প্রসারিত করে চারপাশের কোনো অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করবে। আবার তাদের মাঝে গ্রীকদের মতো দর্শন ও বিতর্কের বিলাসিতাও ছিল না যার ফলে তারা উপকথা ও কুসংস্কারের শিকারে পরিণত হবে।

তাদের স্বভাব ছিল অনেকটা অপরিশোধিত কাঁচামালের মতো, যা তখনও কোনো পরিবর্তনকারী পাত্রে বিগলিত হয়নি। ফলে তাদের মাঝে সুস্থ মানবীয় প্রকৃতি এবং প্রশংসনীয় মানবিক গুণাবলীর প্রতি প্রবল ঝোঁক পরিলক্ষিত হতো, যেমন—প্রতিশ্রুতি রক্ষা, আর্তমানবতার সেবা, মহানুভবতা, আত্মমর্যাদা ও চারিত্রিক পবিত্রতা। কিন্তু তাদের মাঝে সেই জ্ঞানের অভাব ছিল যা তাদের নিকট এই সবকিছুর পথ উন্মোচন করবে। যেহেতু তারা সরল মূর্খতা ও আদিম প্রাকৃতিক অবস্থার অন্ধকারের মাঝে বসবাস করছিল, তাই তাদের ওপর এটিই প্রবল ছিল যে, তারা সেই মানবিক মূল্যবোধের পথ হারিয়ে ফেলত; ফলে তারা সম্মান ও পবিত্রতার তাড়নায় সন্তানদের হত্যা করত, বদান্যতার আতিশয্যে প্রয়োজনীয় সম্পদ বিনষ্ট করত এবং আত্মমর্যাদা ও সাহসিকতার নেশায় নিজেদের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ উসকে দিত।

আর এই অবস্থাকেই মহান আল্লাহ 'পথভ্রষ্টতা' বলে অভিহিত করেছেন যখন তিনি তাদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "আর যদিও তোমরা এর পূর্বে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে" [সূরা আল-বাকারাহ ২/১৯৮]। এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য—যদি তৎকালীন অন্যান্য জাতির অবস্থার সাথে এর তুলনা করা হয়—

--------------------------------------------

(৬) মাযা খাসিরাল আলামু বি ইনহিতাতিল মুসলিমীন: ২৮
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
تدل على الاعتذار لهم أكثر من أن تدل على تسفيههم أو تعييرهم بها.

ذلك أن الأمم الأخرى كانت تستهدي لانحرافاتها العظيمة بمشاعل الحضارة والثقافة والمدنية.

فكانت تتقلب في حمأة الفساد عن تبصر وتخطيط وفكر.

ثم إن الجزيرة العربية تقع- بالنسبة لرقعتها الجغرافية- في نقطة الوسط بين هذه الأمم التي كانت تموج من حولها.

والناظر إليها اليوم يجد- كما يقول الأستاذ محمد المبارك- كيف أنها تقف في الوسط التام بين حضارتين جانحتين: إحداهما حضارة الغرب المادية التي قدمت عن الإنسان صورة بتراء لا تقع حتى على جانب جزئي من الحقيقة، وأخراهما الحضارة الروحية الخيالية في أقصى الشرق كتلك التي كانت تعيش في الهند والصين وما حولهما «7» .

فإذا تصورنا حالة العرب في جزيرتهم قبل الإسلام وحالة الأمم المختلفة الأخرى المحيطة بهم، سهل علينا أن نستجلي الحكمة الإلهية التي اقتضت أن تتشرف الجزيرة العربية دون غيرها بمولده وبعثته صلى الله عليه وسلم، وأن يكون العرب هم الطليعة الأولى التي تحمل إلى العالم مشعل الدعوة إلى الدين الإسلامي الذي تعبد الله به الجنس البشري كله من أقصى العالم إلى أقصاه.

وهي ليست، كما يظن البعض، أن أصحاب التدين الباطل والحضارات الزائفة يصعب فيهم العلاج والتوجيه لافتخارهم بما هم عليه من الفساد، لرؤيتهم إياه شيئا صالحا، أما الذين لا يزالون يعيشون في فترة البحث والتنقيب، لا ينكرون جهلهم ولا يدّعون ما لم يؤتوه من مدنية وعلم وحضارة، فهم أطوع للعلاج والتوجيه- نقول ليست هذه هي الحكمة، لأن مثل هذا التحليل يصدق بالنسبة لمن كانت قدرته محدودة وطاقته مخلوقة فهو يفرق بين ما هو سهل وصعب عليه، فيفضل الأول ويتهرب من الثاني طمعا في الراحة وكراهية للنصب.

ولو تعلقت إرادة الله تعالى بأن يجعل مشرق الدعوة الإسلامية من جهة ما في أرض فارس أو الروم أو الهند، لهيأ لنجاح الدعوة فيها من الوسائل ماهيأ لها في الجزيرة العربية، وكيف يعزّ ذلك عليه وهو خالق كل شيء ومبدع كل وسيلة وسبب.

ولكن الحكمة في هذا الاختيار، من نوع الحكمة التي اقتضت أن يكون الرسول أميّا لا يتلو من كتاب ولا يخطه بيمينه كما قال الله تعالى حتى لا يرتاب الناس في نبوته عليه الصلاة والسلام وحتى لا تتكاثر لديهم أسباب الشك في صدق دعوته.

إن من تتمة هذه الحكمة الإلهية أن تكون البيئة التي بعث فيها عليه الصلاة والسلام أيضا بيئة أميّة بالنسبة للأمم الأخرى التي من حولها، أي لم يتطرق إليها شيء من الحضارات المجاورة لها، ولم تتعقد مناهجها الفكرية بشيء من تلك الفلسفات التائهة من حولها.

--------------------------------------------

(7) الأمة العربية في معركة تحقيق الذات: 147
এটি তাদের পক্ষ থেকে ওজর পেশ করার প্রমাণ বহন করে, তাদের নির্বোধ সাব্যস্ত করা বা ভর্ৎসনা করার চেয়ে বেশি।

এর কারণ হলো অন্যান্য জাতিসমূহ তাদের বিশাল বিচ্যুতিগুলোর জন্য সভ্যতা, সংস্কৃতি ও নাগরিকত্বের মশাল থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করছিল।

ফলে তারা দূরদর্শিতা, পরিকল্পনা এবং চিন্তাভাবনার সাথেই দুর্নীতির পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত ছিল।

অধিকন্তু, আরব উপদ্বীপ—তার ভৌগোলিক আয়তনের দিক থেকে—সেই সকল জাতিগোষ্ঠীর মাঝে একটি কেন্দ্রীয় অবস্থানে অবস্থিত ছিল যা তার চারপাশে উত্তাল ছিল।

আর আজ যে ব্যক্তি এর দিকে দৃষ্টিপাত করবে—যেমনটি উস্তাদ মুহাম্মদ আল-মুবারক বলেছেন—সে দেখতে পাবে যে কীভাবে এটি দুটি বিচ্যুত সভ্যতার ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে: একটি হলো পশ্চিমা বস্তুগত সভ্যতা যা মানুষের এমন এক অসম্পূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করেছে যা সত্যের আংশিক দিকের সাথেও মেলে না, আর অন্যটি হলো সুদূর প্রাচ্যের কাল্পনিক আধ্যাত্মিক সভ্যতা, যেমনটি ভারত, চীন ও তার আশপাশের অঞ্চলে বিরাজমান ছিল (৭)।

অতএব আমরা যদি ইসলামের পূর্বে তাদের উপদ্বীপে আরবদের অবস্থা এবং তাদের চারপাশের অন্যান্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অবস্থা কল্পনা করি, তবে আমাদের কাছে সেই ঐশী প্রজ্ঞা স্পষ্ট হয়ে উঠবে যা দাবি করেছিল যে অন্য কোনো ভূখণ্ডের পরিবর্তে আরব উপদ্বীপই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্ম ও নবুওয়াত প্রাপ্তির মাধ্যমে সম্মানিত হবে, এবং আরবরাই হবে প্রথম অগ্রগামী দল যারা বিশ্বের কাছে ইসলামের দাওয়াতের মশাল বহন করে নিয়ে যাবে, যে দ্বীনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির ইবাদত নির্ধারণ করেছেন।

আর বিষয়টি এমন নয়, যা কেউ কেউ মনে করেন যে, ভ্রান্ত ধর্মীয় বিশ্বাস ও মেকি সভ্যতার অধিকারীদের চিকিৎসা ও পথপ্রদর্শন করা কঠিন কারণ তারা তাদের দুর্নীতির জন্য গর্ববোধ করে এবং একে কল্যাণকর মনে করে; পক্ষান্তরে যারা এখনও অনুসন্ধান ও গবেষণার স্তরে রয়েছে, তারা তাদের অজ্ঞতাকে অস্বীকার করে না এবং তাদের কাছে নেই এমন কোনো নাগরিকত্ব, জ্ঞান বা সভ্যতার দাবি করে না, তাই তারা চিকিৎসা ও নির্দেশনার জন্য অধিক অনুগত—আমরা বলছি এটি মূল প্রজ্ঞা নয়। কারণ এ ধরনের বিশ্লেষণ সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে খাটে যার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ এবং সামর্থ্য সৃষ্টি করা হয়েছে, ফলে সে তার কাছে যা সহজ আর যা কঠিন তার মধ্যে পার্থক্য করে, তাই সে আরামের আশায় প্রথমটিকে প্রাধান্য দেয় এবং কষ্ট ও পরিশ্রমের ভয়ে দ্বিতীয়টি এড়িয়ে চলে।

আর যদি আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা হতো যে ইসলামি দাওয়াতের উদয়স্থল পারস্য, রোম বা ভারতের কোনো একটি অঞ্চলে হোক, তবে তিনি সেখানে দাওয়াতের সফলতার জন্য সেই সকল উপায়-উপকরণ প্রস্তুত করে দিতেন যা তিনি আরব উপদ্বীপে করেছিলেন। এটি তাঁর জন্য কীভাবে কঠিন হতে পারে যখন তিনি সবকিছুর স্রষ্টা এবং প্রতিটি উপায় ও উপাদানের উদ্ভাবক?

কিন্তু এই নির্বাচনের প্রজ্ঞাটি সেই ধরনের প্রজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত যা দাবি করেছিল যে রাসূল হবেন উম্মী (নিরক্ষর), তিনি কোনো কিতাব পাঠ করবেন না এবং স্বহস্তে তা লিখবেন না—যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন—যাতে মানুষ তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নবুওয়াত নিয়ে সন্দেহ পোষণ না করে এবং তাঁর দাওয়াতের সত্যতা নিয়ে তাদের মনে সংশয়ের কারণগুলো বৃদ্ধি না পায়।

এই ঐশী প্রজ্ঞার পূর্ণতা হলো এই যে, যে পরিবেশে তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) প্রেরিত হয়েছেন সেটিও তার চারপাশের অন্যান্য জাতিগুলোর তুলনায় একটি উম্মী (মৌলিক বা অশিক্ষিত) পরিবেশ হবে, অর্থাৎ পার্শ্ববর্তী কোনো সভ্যতার কিছু সেখানে প্রবেশ করেনি এবং তার চারপাশের ভ্রান্ত দর্শনগুলোর কোনোটি দ্বারা তার চিন্তাগত ধারাগুলো জটিল হয়ে পড়েনি।

--------------------------------------------

(৭) আল-উম্মাহ আল-আরাবিয়্যাহ ফি মা’রাকাত তাহকীক আদ-জাত: ১৪৭
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ذلك أنه كما يخشى من دخول الريبة في صدور الناس إذا ما رأوا النّبي متعلّما مطّلعا على الكتب القديمة وتاريخ الأمم البائدة وحضارات الدول المجاورة- كذلك يخشى من دخول هذه الريبة في الصدور إذا ما ظهرت الدعوة الإسلامية بين أمة لها شأن في الحضارة والمدنية والفلسفة وتاريخ ذلك، كدولة الفرس أو اليونان أو الرومان، إذ ربّ مرتاب مبطل يزعم أنها سلسلة التجارب الحضارية والأفكار الفلسفية أبدعت أخيرا هذه الحضارة الفذة والتشريع المتكامل.

ولقد أوضح القرآن الكريم هذه الحكمة بصريح العبارة حينما قال: هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ [الجمعة 62/ 2] .

فلقد اقتضت إرادة الله تعالى أن يكون رسوله أميّا، وأن يكون القوم الذين ظهر فيهم هذا الرسول أميّين أيضا في غالبيتهم العظمى، حتى تكون معجزة النّبوة والشريعة الإسلامية واضحة في الأذهان لا لبس بينها وبين الدعوات البشرية المختلفة. وهذا ينطوي- كما هو واضح- على رحمة عظيمة بالعباد.

وهنالك حكم أخرى لا تخفى على الباحث نجملها فيما يلي:

1- من المعلوم أن الله عز وجل قد جعل البيت الحرام مثابة للناس وأمنا، وجعله أول بيت وضع للناس للعبادة وإقامة الشعائر الدينية، وحقق في ذلك الوادي دعوة أبي الأنبياء إبراهيم عليه الصلاة والسلام. ومن لوازم هذا كله ومتمماته أن تكون هذه البقعة المباركة نفسها مهدا للدعوة الإسلامية التي هي ملة أبينا إبراهيم وأن تكون بعثة خاتم الأنبياء ومولده فيها، كيف لا وهو من نسل إبراهيم عليه الصلاة والسلام.

2- البقعة الجغرافية للجزيرة العربية ترشحها للقيام بعبء مثل هذه الدعوة، بسبب أنها تقع- كما قلنا- في نقطة الوسط بين الأمم المختلفة التي من حولها.

وهذا مما يجعل إشعاعات الدعوة الإسلامية تنتشر بين جميع الشعوب والدول المحيطة بها في سهولة ويسر، وإذا أعدت النظر إلى سير الدعوة الإسلامية في صدر الإسلام وعصر الخلفاء الراشدين وجدت مصداق ذلك جليا واضحا.

3- اقتضت حكمة الله تعالى أن تكون اللغة العربية هي لغة الدعوة الإسلامية، وأن تكون هي الأداة المباشرة الأولى لترجمة كلام الله عز وجل وإبلاغه إيانا.

ولعلنا لو أمعنا في خصائص اللغات وقارّنا بينها، لوجدنا أن اللغة العربية تمتاز بكثير من الخصائص التي يعزّ وجودها في اللغات الأخرى. فأجدر بها أن تكون لغة المسلمين الأولى في مختلف ربوعهم وبلادهم.
বিষয়টি এমন যে, মানুষ যদি নবীকে শিক্ষিত এবং প্রাচীন কিতাবসমূহ, বিলুপ্ত জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস ও পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রসমূহের সভ্যতা সম্পর্কে অবগত দেখত, তবে তাদের অন্তরে যেমন সন্দেহের উদ্রেক হওয়ার আশঙ্কা থাকত—তেমনি এই দাওয়াত যদি পারস্য, গ্রিস বা রোমের মতো সভ্যতা, সংস্কৃতি, দর্শন ও ইতিহাসে প্রসিদ্ধ কোনো জাতির মধ্যে আত্মপ্রকাশ করত, তবে এই সন্দেহের উদ্রেক হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কারণ, কোনো কোনো বাতিলপন্থী সংশয়বাদী হয়তো দাবি করত যে, এটি আসলে সভ্যতা ও দার্শনিক চিন্তার অভিজ্ঞতারই একটি ধারাবাহিকতা, যা শেষ পর্যন্ত এই অনন্য সভ্যতা ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান উদ্ভাবন করেছে।

পবিত্র কুরআন এই হিকমত বা প্রজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করে বলেছে: তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে সুস্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিল। [জুমুআ ৬২/ ২]

মহান আল্লাহর ইচ্ছা এটাই ছিল যে, তাঁর রাসূল হবেন নিরক্ষর এবং যে জাতির মধ্যে এই রাসূলের আবির্ভাব হবে তারাও যেন সংখ্যাগুরু হিসেবে নিরক্ষর হয়; যাতে নবুওয়াত এবং ইসলামী শরীয়তের মুজিযা বা অলৌকিকতা মানুষের মনে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় এবং বিভিন্ন মানবীয় মতবাদের সাথে এর কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয় না থাকে। এর মধ্যে—যেমনটি স্পষ্ট—বান্দাদের জন্য এক মহান রহমত নিহিত রয়েছে।

এছাড়া আরও কিছু প্রজ্ঞা রয়েছে যা গবেষকদের নিকট গোপন নয়, আমরা সংক্ষেপে নিচে তা উল্লেখ করছি:

১- এটি সুবিদিত যে, মহান আল্লাহ বাইতুল হারামকে মানুষের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল ও নিরাপদ স্থান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং একে ইবাদত ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য মানুষের নিমিত্তে স্থাপিত প্রথম ঘর হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর সেই প্রান্তরেই তিনি আম্বিয়া কেরামের পিতা ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের দোয়া কবুল করেছেন। এসবের অনিবার্য দাবি ও পূর্ণতা ছিল এই যে, এই বরকতময় ভূখণ্ডটিই হবে ইসলামী দাওয়াতের সূতিকাগার, যা আমাদের পিতা ইব্রাহিমের ধর্মাদর্শ। আর সর্বশেষ নবীর নবুওয়াত প্রাপ্তি এবং তাঁর জন্মও যেন এখানেই হয়। কেনই বা তা হবে না, যেখানে তিনি স্বয়ং ইব্রাহিম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বংশধর।

২- আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান একে এই দাওয়াতের গুরুদায়িত্ব বহনের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে। এর কারণ—যেমনটি আমরা বলেছি—এটি তার চতুষ্পার্শ্বস্থ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

আর এটিই ইসলামী দাওয়াতের জ্যোতিকে অতি সহজে এবং স্বচ্ছন্দে চারপাশের সকল জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। আপনি যদি ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগের দাওয়াতের প্রসারের দিকে পুনরায় দৃষ্টিপাত করেন, তবে এর সত্যতা স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন।

৩- মহান আল্লাহর প্রজ্ঞা এটাই নির্ধারণ করেছে যে, আরবি ভাষা হবে ইসলামী দাওয়াতের ভাষা এবং এটি হবে মহান আল্লাহর কালামকে সরাসরি ব্যক্ত করার এবং তা আমাদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার প্রথম ও প্রত্যক্ষ মাধ্যম।

আমরা যদি বিভিন্ন ভাষার বৈশিষ্ট্যসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি এবং সেগুলোর মধ্যে তুলনা করি, তবে দেখতে পাব যে, আরবি ভাষা এমন অনেক বৈশিষ্ট্যে অলংকৃত যা অন্য ভাষাগুলোতে পাওয়া দুষ্কর। অতএব, বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিমদের প্রথম ভাষা হওয়ার জন্য এটিই সর্বাধিক উপযুক্ত।
(খণ্ড: ১) ফিকহুস সিরাতিল নাবাবিয়্যাহ মাআ মুজায লি-তারিখিল খিলাফাতির রাশিদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌محمد صلى الله عليه وسلم خاتم النّبيّين وعلاقة دعوته بالدّعوات السّماوية السّابقة

محمد عليه الصلاة والسلام خاتم الأنبياء، فلا نبي بعده. وهذا مما أجمع عليه المسلمون وعرف من الدين بالضرورة، قال عليه الصلاة والسلام: «مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بنيانا فأحسنه وأجمله إلا موضع لبنة من زاوية من زواياه، فجعل الناس يطوفون به ويعجبون له ويقولون هلا وضعت هذه اللبنة؟ فأنا اللبنة وأنا خاتم النّبيين» «8» .

أما دعوته صلى الله عليه وسلم وعلاقتها بدعوات الأنبياء السابقين، فقائمة على أساس التأكيد والتتميم، كما يدلّ عليه الحديث المذكور.

وبيان ذلك أن دعوة كل نبي تقوم على أساسين اثنين. الأول العقيدة والثاني التشريع والأخلاق. فأما العقيدة فلم يختلف مضمونها منذ بعثة آدم عليه السلام إلى بعثة خاتم النّبيين محمد صلى الله عليه وسلم. إنما هي الإيمان بوحدانية الله وتنزيهه عن كل ما لا يليق به من الصفات، والإيمان باليوم الآخر والحساب والجنة والنار. فكان كل نبي يدعو قومه إلى الإيمان بهذه الأمور. وكان كل منهم يأتي مصدقا لدعوة من قبله ومبشرا ببعثة من سيأتي بعده. وهكذا فقد تلاحقت بعثتهم إلى مختلف الأقوام والأمم ليؤكّد الجميع حقيقة واحدة أمروا بتبليغها وحمل الناس على الإذعان لها، ألا وهي الدينونة لله عز وجل وحده، وهذا ما بيّنه الله تعالى بقوله في كتابه الكريم:

شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ ما وَصَّى بِهِ نُوحاً وَالَّذِي أَوْحَيْنا إِلَيْكَ، وَما وَصَّيْنا بِهِ إِبْراهِيمَ وَمُوسى وَعِيسى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ [الشورى 42/ 13] .

بل إنه لا يتصور أن تختلف دعوات الأنبياء الصادقين في شأن العقيدة، لأن أمور العقيدة من نوع الإخبار، والإخبار عن شيء لا يمكن أن يختلف ما بين مخبر وآخر إذا فرضنا الصدق في خبر كل منهما، فمن غير المعقول أن يبعث أحد الأنبياء ليبلّغ الناس أن الله ثالث ثلاثة، سبحانه عما يقولون، ثم يبعث من بعده نبي آخر ليبلّغهم بأن الله واحد لا شريك له ويكون كل منهما صادقا فيما بلّغ عن الله تعالى.

هذا عن العقيدة، أما التشريع وهو سنّ الأحكام التي يتوخى منها تنظيم حياة المجتمع والفرد، فقد كان يختلف في الكيف والكم ما بين بعثة نبي وآخر صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين،

--------------------------------------------

(8) حديث متفق عليه واللفظ لمسلم.
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশেষ নবী এবং পূর্ববর্তী আসমানী দাওয়াতসমূহের সাথে তাঁর দাওয়াতের সম্পর্ক

মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সর্বশেষ নবী, তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। এটি এমন একটি বিষয় যার ওপর মুসলিমরা ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং এটি দ্বীনের একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় হিসেবে সুপরিচিত। তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: "আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে একটি দালান নির্মাণ করল এবং তাকে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশোভিত করল, তবে তার কোনো এক কোণায় একটি ইটের স্থান খালি রেখে দিল। অতঃপর মানুষ এর চারপাশে ঘুরে দেখতে লাগল এবং অবাক হয়ে বলতে লাগল, এই ইটটি কেন স্থাপন করা হলো না? আমিই হলাম সেই ইট এবং আমিই হলাম সর্বশেষ নবী।" (৮)।

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাওয়াত এবং পূর্ববর্তী নবীদের দাওয়াতের সাথে এর সম্পর্কের বিষয়টি তাকিদ (দৃঢ়করণ) এবং পূর্ণতা প্রদানের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেমনটি উল্লিখিত হাদিসটি নির্দেশ করে।

এর ব্যাখ্যা হলো, প্রত্যেক নবীর দাওয়াত দুটি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। প্রথমটি আকিদা এবং দ্বিতীয়টি শরিয়ত ও আখলাক। আকিদার ক্ষেত্রে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর প্রেরণ থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরণ পর্যন্ত এর বিষয়বস্তুর কোনো পরিবর্তন হয়নি। এটি কেবল আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস এবং তাঁর মর্যাদার সাথে অসংগতিপূর্ণ সকল গুণাবলি থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করার নামান্তর, এবং পরকাল, হিসাব-নিকাশ, জান্নাত ও জাহান্নামের ওপর ঈমান আনয়ন। ফলে প্রত্যেক নবী তাঁর কওমকে এসব বিষয়ের ওপর ঈমান আনার দাওয়াত দিতেন। তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁর পূর্ববর্তীদের দাওয়াতের সত্যায়নকারী এবং তাঁর পরবর্তীতে যিনি আসবেন তাঁর আগমনের সুসংবাদদাতা হিসেবে আগমন করতেন। এভাবেই বিভিন্ন কওম ও জাতির কাছে তাঁদের প্রেরণের ধারাবাহিকতা চলতে থাকে যাতে সবাই একটি একক সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, যা প্রচার করার এবং মানুষকে তার প্রতি আনুগত্যশীল করার আদেশ তাঁদের দেওয়া হয়েছিল; আর তা হলো একমাত্র মহান আল্লাহর উলুহিয়াত বা আনুগত্য স্বীকার করা। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর পবিত্র কিতাবে এটিই বর্ণনা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে:

তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই নির্ধারিত করেছেন যার আদেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি ওহী করেছি আপনার প্রতি, আর যার আদেশ দিয়েছিলাম ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং এতে দলাদলি করো না। [আশ-শুরা ৪২/১৩]।

বরং এটি কল্পনাও করা যায় না যে সত্যবাদী নবীদের দাওয়াত আকিদার বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন হবে, কেননা আকিদাগত বিষয়সমূহ হলো সংবাদ প্রদানের অন্তর্ভুক্ত। আর কোনো বিষয়ে সংবাদ প্রদানকারী দুজনেই যদি সত্যবাদী হন, তবে তাঁদের সংবাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকা অসম্ভব। সুতরাং এটি যুক্তিবিরুদ্ধ যে, কোনো একজন নবী প্রেরিত হবেন মানুষকে এই সংবাদ দিতে যে আল্লাহ তিনজনের একজন—তারা যা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র—আবার তাঁর পরে অন্য একজন নবী প্রেরিত হবেন তাঁদের এই সংবাদ দিতে যে আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, অথচ তাঁরা উভয়েই আল্লাহর পক্ষ থেকে যা প্রচার করছেন তাতে সত্যবাদী হবেন।

এটি আকিদার বিষয়, আর শরিয়ত—যা হলো ব্যক্তি ও সমাজের জীবন সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে বিধিবিধান প্রণয়ন—তা গুণগত ও পরিমাণগত দিক থেকে এক নবীর প্রেরণ থেকে অন্য নবীর প্রেরণের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতো, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

(৮) এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিস এবং শব্দবিন্যাস মুসলিমের।