(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: -)
غزوات النبي القسم: السيرة النبوية
الكتاب: غزوات النبي صلى الله عليه وآله وسلم
المؤلف: السيد الجميلى
الناشر: دار ومكتبة الهلال - بيروت
تاريخ النشر: 1416 هـ
عدد الصفحات: 153
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবীর যুদ্ধসমূহ বিভাগ: সীরাতুন নবী
গ্রন্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের যুদ্ধসমূহ
লেখক: আস-সাইয়্যিদ আল-জুমায়লী
প্রকাশক: দার ওয়া মাকতাবাতুল হিলাল - বৈরুত
প্রকাশের তারিখ: ১৪১৬ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৩
[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৫)
[المدخل]
بسم الله الرحمن الرحيم
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صالِحاً وَقالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ
فصلت 3
3
[প্রবেশিকা]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আর তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, ‘নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’
ফুসসিলাত ৩
৩
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৭)
إهداء
إلى أبي بعد أبي، وأستاذي فوق أستاذتي، مؤرخ الإسلام البحاثة الكبير الذي أعطاني دائما، ولم يأخذ أبدا
… الذي طالما غمرني ببره ولطفه وحدبه، أبا وأستاذا وعالما موسوعيا.
أسأل الله تعالى أن يتولى عني مكافأته وجزاءه لقاء ما أعطى وبذل، وكفاء ما قدم في إخلاص وجد متصل
… إلى الفهامة العملاق الأستاذ الدكتور حسين مؤنس تحية تقدير وعرفان وشكر وامتنان، أدام الله بقاءك لابنك وتلميذك المخلص حتى آخر العمر:
السيد الجميلي
উৎসর্গ
আমার পিতার পর আমার পিতার প্রতি, এবং আমার শিক্ষকদের ঊর্ধ্বে আমার শিক্ষকের প্রতি, ইসলামের ইতিহাসবিদ ও সেই মহান গবেষকের প্রতি, যিনি আমাকে সর্বদা দান করেছেন এবং কখনো কিছু গ্রহণ করেননি
… যিনি দীর্ঘকাল ধরে তাঁর সদাচার, দয়া এবং মমতা দিয়ে আমাকে সিক্ত করেছেন—পিতা, শিক্ষক এবং এক বিশ্বকোষীয় আলিম হিসেবে।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন তাঁর দান ও ত্যাগের বিনিময়ে এবং তাঁর আন্তরিকতা ও নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের যথাযথ প্রতিদান হিসেবে আমার পক্ষ থেকে তাঁকে পুরস্কৃত করার ভার গ্রহণ করেন
… বিচক্ষণ মহীরুহ প্রফেসর ডক্টর হুসাইন মুনিসের প্রতি শ্রদ্ধা, স্বীকৃতি, শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতার সালাম; আল্লাহ যেন আপনার পুত্র ও একনিষ্ঠ ছাত্রের জন্য জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপনাকে দীর্ঘজীবী করেন:
আস-সায়্যিদ আল-জুমাইলি
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৯)
ملحوظة لا بد منها
الخرائط الواردة بهذا الكتاب مقتبسة فكرتها من «أطلس تاريخ الإسلام» «1» الذي أهداني أستاذي الدكتور حسين مؤنس نسخة منه، مع بعض التصرف وكثير من الاختصار، ولذلك وجب التنويه.
السيد الجميلي
--------------------------------------------
একটি অনিবার্য টীকা
এই বইটিতে অন্তর্ভুক্ত মানচিত্রসমূহের মূল ধারণা গৃহীত হয়েছে «ইসলামের ইতিহাসের অ্যাটলাস» (১) থেকে, যার একটি কপি আমার শিক্ষক ডক্টর হুসাইন মুনিস আমাকে উপহার দিয়েছিলেন। এতে কিছু পরিমার্জন এবং বহুলাংশে সংক্ষেপণ করা হয়েছে; তাই এই বিষয়টি উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করছি।
সাইয়্যিদ আল-জুমাইলি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتد، ومن يضلل فلا هادي له، أما بعد
…فإن الله تعالى لما أراد أن يخلّص البشرية وينقذها من غياهب الشرك والكفر والضلال ليخرجها من الظلمات إلى النور- أرسل رسوله محمدا صلى الله عليه وسلم داعيا إليه مبشرا ونذيرا، مبشرا بجنات ورضوان، وروح وريحان، ونذيرا من عذاب جهنم وبئس المصير.
جاء صلى الله عليه وسلم لينصر الحق، وليبطل الباطل ليخرج الناس من ذل المعصية، وحمأة الشك والارتياب إلى عز الطاعة، ونور اليقين والتوحيد.
وكان أمرا محتوما وبدهيا أن يكون نداء الخير مرفوضا معدولا عنه، من أولئك المنتفعين من الوثنية الصارخة فانبروا إليها شرسين أقوياء، لا لشيء إلا لأن الإسلام ضرب وثنيتهم من مقتل، فزلزل أوضاعهم، وقلب أحوالهم، وكشف عوارهم، وأبان فساد شركهم وكفرهم، وأزال دولتهم لذلك فقد استشعروا لأول وهلة خطورة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, সে-ই সঠিক পথপ্রাপ্ত হয়; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। অতঃপর...
…নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা যখন মানবজাতিকে শিরক, কুফর ও গোমরাহীর ঘোর অন্ধকার থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার ইচ্ছা করলেন—তখন তিনি তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠালেন। তিনি জান্নাত ও (আল্লাহর) সন্তুষ্টির এবং সুখ ও সুগন্ধির সুসংবাদদাতা এবং জাহান্নামের আযাব ও নিকৃষ্ট পরিণাম থেকে সতর্ককারী হিসেবে প্রেরিত হলেন।
তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যকে বিজয়ী করতে এবং মিথ্যাকে বাতিল করতে এসেছেন, যাতে মানুষকে নাফরমানির লাঞ্ছনা এবং সন্দেহ-সংশয়ের পঙ্কিলতা থেকে আনুগত্যের সম্মান এবং ইয়াকীন ও তাওহীদের নূরের দিকে বের করে আনেন।
আর এটি একটি অনিবার্য ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয় ছিল যে, কল্যাণের এই আহ্বান সেই সকল লোকদের নিকট প্রত্যাখ্যাত ও উপেক্ষিত হবে যারা প্রকাশ্য মূর্তিপূজা থেকে ফায়দা হাসিল করত। ফলে তারা এর বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও উগ্রভাবে রুখে দাঁড়াল; তা অন্য কোনো কারণে নয়, বরং এজন্য যে ইসলাম তাদের মূর্তিপূজার মূলে আঘাত হেনেছিল, তাদের ভিত্তিকে প্রকম্পিত করে দিয়েছিল, তাদের অবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়েছিল, তাদের দোষ-ত্রুটি উন্মোচিত করেছিল, তাদের শিরক ও কুফরের অসারতা স্পষ্ট করেছিল এবং তাদের আধিপত্য বিলুপ্ত করেছিল। এ কারণেই তারা প্রথম মুহূর্ত থেকেই এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পেরেছিল।
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ১২)
هذا الدين، لأن الباطل دائما يخشى أن يفوته نعيم الدنيا الزائف لأن في الباطل والفساد ترتع الأهواء والنزوات، فإذا ما انجلى الريب، وزال الشك، وانحسرت غيوم الفساد والتردي انقلبت أوضاع أهل الضلال لينقلبوا صاغرين مدحورين، مغلولين
…لذلك فقد وقف المعاندون صفا كثيفا ضد الإسلام وانبروا له واهمين أنهم في مقدورهم ان ينالوا منه شيئا وخاب ظنهم، وتشعب صدعهم، وتفرقت قواهم، فقد قلّم الإسلام أظفارهم، ونحت أثلتهم، وأباد خضراءهم، واستأصل شأفتهم وقص صاجهم فدلكت شمس غرورهم، وشتت الله شملهم وأبادهم أيادي سبأ، وقد أتى الإسلام بنيانهم من القواعد.
كان رجال الإسلام ليوث غاب، وأسود شرى، لا تنبو سيوفهم عن ضريبة، ولا تكل لهم عزيمة، ولم تفتر لهم همة رجال صدقوا ما عاهدوا الله عليه، فمنهم من قضى نحبه ومنهم من ينتظر وما بدلوا تبديلا.
قال تعالى: وَقاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ «1» وهذه دعوة صريحة، وأمر مباشر للقتال في سبيل الله.
ومهما لاقى المسلم في سبيل الجهاد في سبيل الله فإن عليه ألايهون، وأن لا يحزن، وألايستسلم، لأنه موعود بنصر الله، فهو ظافر رابح غانم على كل حال فإن هو استشهد فاز بجنات النعيم، وإن صبر على حر اللقاء والطعان والضراب كان منصورا بعون الله وتمكينه.
قال تعالى: وَلا تَهِنُوا وَلا تَحْزَنُوا وَأَنْتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ «2» ثم يقول:
إِنْ يَمْسَسْكُمْ قَرْحٌ فَقَدْ مَسَّ الْقَوْمَ قَرْحٌ مِثْلُهُ وَتِلْكَ الْأَيَّامُ نُداوِلُها بَيْنَ النَّاسِ «3» .
لكن ولماذا الجهاد والغزو، والحرب وما فيها من هلاك ودمار وإتيان على
--------------------------------------------
এই দ্বীন, কারণ বাতিল সর্বদা এই আশঙ্কায় থাকে যে দুনিয়ার মিথ্যা নেয়ামত তার হাতছাড়া হয়ে যাবে; কেননা বাতিল ও ফাসাদের মধ্যেই প্রবৃত্তি ও লালসা বিচরণ করে। যখন সন্দেহ দূর হয়, সংশয় অপসারিত হয় এবং ফাসাদ ও অধঃপতনের মেঘ কেটে যায়, তখন পথভ্রষ্টদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং তারা লাঞ্ছিত, বিতাড়িত ও শৃঙ্খলিত অবস্থায় পর্যুদস্ত হয়
...এ কারণেই বিরুদ্ধবাদীরা ইসলামের বিরুদ্ধে এক সংহত সারিতে দাঁড়িয়েছিল এবং এই ভ্রান্ত ধারণায় তার মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয়েছিল যে, তারা ইসলামের কোনো ক্ষতি করতে পারবে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা ব্যর্থ হয়েছে, তাদের ফাটল বিস্তৃত হয়েছে এবং তাদের শক্তি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইসলাম তাদের নখ ছেঁটে দিয়েছে, তাদের ভিত্তি উপড়ে ফেলেছে, তাদের জৌলুস বিনাশ করেছে, তাদের মূলোৎপাটন করেছে এবং তাদের দাপট চূর্ণ করেছে; ফলে তাদের দম্ভের সূর্য অস্তমিত হয়েছে। আল্লাহ তাদের সংহতিকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন এবং তাদেরকে সাবা গোত্রের মতো তছনছ করে দিয়েছেন। আর ইসলাম তাদের অট্টালিকার ভিত্তি থেকে উপড়ে ফেলেছে।
ইসলামের বীরপুরুষগণ ছিলেন অরণ্যের শার্দূল এবং যুদ্ধের ময়দানের সিংহ, যাদের তলোয়ার লক্ষ্যভ্রষ্ট হতো না, যাদের সংকল্প শিথিল হতো না এবং যাদের হিম্মত দমে যেত না। তারা এমন পুরুষ যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে; তাদের কেউ তার মানত পূর্ণ করেছে (শহীদ হয়েছে) এবং কেউ প্রতীক্ষায় রয়েছে, আর তারা তাদের প্রতিজ্ঞায় বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আনেনি।
আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা আল্লাহর পথে লড়াই করো এবং জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।” (১)। এটি আল্লাহর পথে লড়াই করার জন্য এক স্পষ্ট আহ্বান এবং সরাসরি আদেশ।
আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে একজন মুসলিম যা কিছুরই সম্মুখীন হোক না কেন, তার উচিত হবে না হীনবল হওয়া, দুশ্চিন্তা করা কিংবা আত্মসমর্পণ করা; কারণ তার প্রতি আল্লাহর সাহায্যের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সে সর্বাবস্থায় বিজয়ী, লাভবান ও সফলকাম। যদি সে শাহাদাত বরণ করে, তবে জান্নাতুন নাঈম লাভ করে ধন্য হবে। আর যদি সে যুদ্ধের ভয়াবহতা, আঘাত ও সংঘাতের ময়দানে ধৈর্য ধারণ করে, তবে আল্লাহর সাহায্য ও সামর্থ্যে সে হবে জয়যুক্ত।
আল্লাহ তাআলা বলেন: “তোমরা হীনবল হয়ো না এবং চিন্তিত হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা মুমিন হও।” (২)। অতঃপর তিনি বলেন:
“যদি তোমাদেরকে কোনো আঘাত স্পর্শ করে থাকে, তবে অপর পক্ষকেও অনুরূপ আঘাত স্পর্শ করেছে। আর এই দিনগুলোকে আমি মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আবর্তন করি।” (৩)।
কিন্তু কেন এই জিহাদ, অভিযান এবং যুদ্ধ—যার মধ্যে রয়েছে ধ্বংস, বিনাশ এবং বিনাশ সাধন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأنفس والأرواح؟؟ وكان في الامكان أن ينصر الله تعالى رجاله المسلمين وهم قاعدون من غير مشقة ولا مناوأة مع أعداء الله
… لكن هناك حكمة في ذلك وهي الإبتلاء والتمحيص والاختبار حتى يعلم الله المجاهدين والصابرين من غير المجاهدين وغير الصابرين، فتكون الجنة ونعيمها مال الأولين، والنار وسعيرها مصير المقصرين.
قال تعالى: أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جاهَدُوا مِنْكُمْ وَيَعْلَمَ الصَّابِرِينَ «1» .
وقال أيضا: وَكَأَيِّنْ مِنْ نَبِيٍّ قاتَلَ مَعَهُ رِبِّيُّونَ كَثِيرٌ فَما وَهَنُوا لِما أَصابَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَما ضَعُفُوا وَمَا اسْتَكانُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الصَّابِرِينَ «2» .
ثم إن قتال المشركين فيه حسم وقطع لدابر الفتنة. قال تعالى: وَقاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ «3» .
ومن ثم فإن الأمر واضح وصريح في مجاهدة الكفار والتشديد عليهم، وعدم الشفقة بهم؛ لأنهم أعداء الله وأعداء رسوله قال تعالى: يا أَيُّهَا النَّبِيُّ جاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ وَمَأْواهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ «4» .
--------------------------------------------
প্রাণ ও আত্মা?? এটা সম্ভব ছিল যে, মহান আল্লাহ তাঁর মুসলিম অনুসারীদেরকে কোনো কষ্ট বা আল্লাহর শত্রুদের সাথে কোনো প্রকার বিরোধিতা ছাড়াই বসে থাকা অবস্থায় সাহায্য করতে পারতেন
… কিন্তু এতে একটি হিকমত (প্রজ্ঞা) রয়েছে, আর তা হলো পরীক্ষা, পরিশোধন এবং যাচাই, যাতে আল্লাহ মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে অ-মুজাহিদ ও ধৈর্যহীনদের থেকে পৃথক করে জেনে নিতে পারেন; ফলে জান্নাত ও এর নেয়ামত হবে প্রথমোক্তদের প্রাপ্য, আর জাহান্নাম ও এর প্রজ্জ্বলিত আগুন হবে অবহেলাকারীদের শেষ পরিণতি।
মহান আল্লাহ বলেন: তোমরা কি মনে করেছ যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ এখনো আল্লাহ তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে তা জেনে নেননি এবং কারা ধৈর্যশীল তাও জেনে নেননি? «১» ।
তিনি আরও বলেন: আর কত নবী ছিলেন যাদের সাথে মিলে বহু আল্লাহওয়ালা লড়াই করেছেন; আল্লাহর পথে তাদের ওপর যে বিপদ এসেছে তাতে তারা ভেঙে পড়েননি, তারা দুর্বল হননি এবং তারা নতি স্বীকার করেননি। আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। «২» ।
অতঃপর মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের মধ্যে ফিতনার অবসান ও মূলৎপাটন নিহিত রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফিতনা খতম হয়ে যায় এবং দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়ে যায়। «৩» ।
সুতরাং, কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা, তাদের প্রতি কঠোর হওয়া এবং তাদের প্রতি দয়া না দেখানোর বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন; কেননা তারা আল্লাহর শত্রু এবং তাঁর রাসূলের শত্রু। মহান আল্লাহ বলেন: হে নবী! আপনি কাফের ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করুন এবং তাদের প্রতি কঠোর হোন। তাদের আশ্রয়স্থল হলো জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য! «৪» ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لذلك كان الإسلام قويا صلبا إزاء أعداء الحق وأعداء التوحيد، وعلى صخرته القعساء «1» تهشم وتحطم بطلان الباطلين وفساد المفسدين وإشراك المشركين.
وبدأ المسلمون في النشاط العسكري بعد نزول الإذن بالقتال، وقاموا بحركات عسكرية أشبه ما تكون بالدوريات الإستطلاعية «2» .
كان على هذه الدوريات الإستطلاعية، استكشاف الطرق، ودراسة مداخل ومخارج المدينة لرصد تحركات العدو من أي من السبل المتصلة بالمدينة.
بلغ جيش المسلمين غاية القوة والمنعة وهم قليل بسبب قوة العزيمة، والثقة بنصر الله، والرغبة في رضوانه من جنات النعيم من دار المقامة، وكانوا نتيجة تحقيرهم شأن الدنيا موزعين ومولعين بنعيم الآخر، فكانوا لذلك مسارعين للطاعات، مقبلين على الجهاد بالنفوس والنفائس.
إن الذي تهون عليه نفسه، وينافح عن عقيدة، ويذب عن قضية يعتقدها لا يصرفه توجس، ولا يفت في ساعده شكيمة خصم مماري، أو متلدد مداري.
وكان جميع ما غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم بنفسه سبعا وعشرين غزوة، قاتل منها في تسع غزوات.
كما كانت بعوثه وسراياه ثمانية وثلاثين من بعث وسرية، وكان آخر بعث بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث أسامة بن زيد إلى الشام.
باستعراض هذه الغزوات المتلاحقة، والمواقع الشرسة والملاحم الدامية تنجلي وتتبلور الصورة في أسمى وأجلى معانيها من البذل والفداء وكسب المذخور، واجتناب المحظور، ونقض الباطل ودحض الضلال وطرح الفساد وتطويح الوثنية.
--------------------------------------------
এজন্যই ইসলামের ভিত্তি ছিল সত্যের শত্রু ও তাওহীদের শত্রুদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও শক্তিশালী, আর এর অটল পাথরের গায়ে আছড়ে পড়ে বাতিলপন্থীদের বাতিল প্রতিপন্নতা, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অনাচার এবং মুশরিকদের শিরক চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
যুদ্ধের অনুমতি অবতীর্ণ হওয়ার পর মুসলিমগণ সামরিক তৎপরতা শুরু করেন এবং তাঁরা এমন সব সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন যা অনেকটা গোয়েন্দা টহলের মতো ছিল।
এই গোয়েন্দা টহলগুলোর কাজ ছিল পথসমূহ পর্যবেক্ষণ করা এবং মদীনার সাথে সংযুক্ত যেকোনো পথ দিয়ে শত্রুর গতিবিধি নজরদারি করার জন্য মদীনার প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলো পরীক্ষা করা।
মুসলিম বাহিনী সংখ্যায় অল্প হওয়া সত্ত্বেও সংকল্পের দৃঢ়তা, আল্লাহর সাহায্যের ওপর আস্থা এবং চিরস্থায়ী জান্নাতের নেয়ামতপূর্ণ উদ্যানে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষার কারণে শক্তি ও দুর্ভেদ্যতার চরম শিখরে পৌঁছেছিল। দুনিয়ার বিষয়াবলিকে তুচ্ছ জ্ঞান করার ফলে তাঁরা পরকালের নেয়ামতের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ও একাগ্র ছিলেন; ফলে তাঁরা আনুগত্যের কাজে ক্ষিপ্র এবং জান ও মাল দিয়ে জিহাদে আত্মনিয়োগকারী ছিলেন।
যে ব্যক্তি নিজের জীবনকে তুচ্ছ করতে পারে, আকিদার স্বপক্ষে লড়াই করে এবং নিজের বিশ্বাসকৃত আদর্শকে রক্ষা করে, কোনো আশঙ্কাই তাকে বিচ্যুত করতে পারে না এবং কোনো বিতর্ককারী বা জেদি প্রতিপক্ষের দাপট তার মনোবল ভেঙে দিতে পারে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সশরীরে মোট সাতাশটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যার মধ্যে নয়টিতে তিনি সরাসরি যুদ্ধ করেছেন।
আর তাঁর প্রেরিত দল এবং সারিয়্যাহ (অভিযান)-এর সংখ্যা ছিল আটত্রিশটি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেরিত সর্বশেষ বাহিনী ছিল সিরিয়ার উদ্দেশ্যে প্রেরিত উসামা ইবনে যায়িদের বাহিনী।
এই ধারাবাহিক যুদ্ধ, তীব্র সংঘর্ষ এবং রক্তক্ষয়ী লড়াইগুলো পর্যালোচনা করলে ত্যাগ, উৎসর্গ, পুণ্য অর্জন, নিষিদ্ধ বর্জন, বাতিলকে খণ্ডন, গোমরাহিকে পরাভূত করা, ফাসাদ দূর করা এবং মূর্তিপূজাকে নির্মূল করার এক সুমহান ও উজ্জ্বল চিত্র ফুটে ওঠে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وليس هناك كالصبر مطية النجاة، مهما طال المدى، وبعدت الشقة فمن كان الصبر مطيته، والجلد حليته، وركب ليل الأهوال حجلا لمراميه، خليق أن ينال بمراده ويهنأ بمقصوده.
إن الدنيا رخيصة هينة عند أرباب البصائر المشحوذة والهمم العالية، فإنهم يدركون حقيقتها المجردة، وهي دار ظعن وارتحال، وتحول ومزايلة، إلى الأبدية الدائمة غير المشكوك فيها.
هذه الدنيا من الدنية، من أضرب عنها وقعد عنها أتته راغمة، ومن أبصر إليها أعمته، ومن بصر بها وتأبى عليها نجا وفاز. ومن زحزح عن النار وأدخل الجنة فقد فاز.
بنصر الله ويقينه وتمام نعمته، وكمال أمره يكون النصر والظهور والفلج والغلبة لأوليائه وأحبابه، والهوان والمذلة والتوهين لأعدائه الموتورين، وقد ضاقت عليهم الأرض بما رحبت وقد أصبحوا جزرا لسيوف الحق الأبلج، مسوقين للموقف المحتوم وقد شربوا كئوسا روية وقد عللوا ونهلوا منها خابطين في الفتن الهوج المدمرة التي تأكل اليابس والأخضر.
وبدراسة هذه الغزوات والوقائع والمجالدات الصارمة مع أعداء الإسلام ندرك مدى معاناة الحق والصدق من أهل اللجاجة والباطل، لكن رحمة الله قريب من المحسنين، ولينصرن الله من ينصره، ومن يجمعه الله لا يفرقه إنسان ولا بد أن ينتصر المظلوم وينتصف من الظالم مهما طال المدى، مهما اصفر ورق الأمل، ومهما كان اغورار الماء، أو الإياس من الثمر.
هذا والخير أردت، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم.
السيد الجميلي المعادي- القاهرة- مصر رمضان المعظم 1414 هـ/ مارس 1993 م.
ধৈর্যের মতো নাজাত বা মুক্তির কোনো বাহন নেই, সময় যতই দীর্ঘ হোক আর দূরত্ব যতই বেশি হোক না কেন। সুতরাং ধৈর্য যার বাহন, সহনশীলতা যার ভূষণ এবং যে তার লক্ষ্যের পানে ভয়াবহতার অন্ধকার রাত পাড়ি দেয়, সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে এবং উদ্দেশ্য সফল হওয়ায় আনন্দিত হওয়ার যোগ্য।
প্রখর অন্তর্দৃষ্টি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার অধিকারীদের নিকট দুনিয়া অত্যন্ত তুচ্ছ ও নগণ্য; কারণ তারা এর প্রকৃত বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেন। আর তা হলো, এটি চিরস্থায়ী ও অবিসংবাদিত অনন্তকালের পথে যাত্রা, প্রস্থান, পরিবর্তন ও বিচ্ছেদের এক ক্ষণস্থায়ী আবাসস্থল।
এই ‘দুনিয়া’ শব্দটি মূলত হীনতা ও তুচ্ছতা থেকে উদ্ভূত। যে ব্যক্তি তা থেকে বিমুখ থাকে এবং তা বর্জন করে, দুনিয়া তার নিকট লাঞ্ছিত হয়ে (অধীন হয়ে) উপস্থিত হয়। আর যে এর দিকে প্রলুব্ধ হয়ে দৃষ্টিপাত করে, এটি তাকে অন্ধ করে দেয়। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি এর অন্তঃসারশূন্যতা প্রত্যক্ষ করে এর প্রতি বিরাগভাজন হয়, সে-ই মুক্তি ও সফলতা লাভ করে। আর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হলো এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো, সে-ই প্রকৃত সফলকাম।
আল্লাহর সাহায্য, ইয়াকিন, তাঁর নেয়ামতের পূর্ণতা এবং তাঁর নির্দেশের পরিপূর্ণতার মাধ্যমেই তাঁর অলি ও প্রিয়জনদের জন্য বিজয়, প্রকাশ্য শ্রেষ্ঠত্ব, সাফল্য ও আধিপত্য নির্ধারিত হয়। আর লাঞ্ছনা, অপমান ও দুর্বলতা নির্ধারিত হয় তাঁর সেই শত্রুদের জন্য যারা প্রতিহিংসায় জর্জরিত। প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং তারা সুস্পষ্ট সত্যের তরবারির শিকারে পরিণত হয়েছে। তাদেরকে অবধারিত গন্তব্যের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হয়েছে; তারা পানে তৃপ্ত হওয়ার পেয়ালা থেকে পান করেছে এবং বারবার তা পান করানো হয়েছে, ফলে তারা এমন প্রলয়ঙ্কারী ধ্বংসাত্মক ফিতনার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে যা শুষ্ক ও সজীব সবকিছুকেই ভস্মীভূত করে দেয়।
ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এই সকল যুদ্ধ, ঘটনাবলি এবং কঠোর সংগ্রামের অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, হঠকারী ও বাতিলপন্থীদের পক্ষ থেকে সত্য ও সত্যানুসারীদের কতটুকু কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তবে আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের অতি সন্নিকটে। আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করেন, যে তাঁর (দীনের) সাহায্য করে। আল্লাহ যাকে ঐক্যবদ্ধ করেন, কোনো মানুষ তাকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। সময় যতই দীর্ঘ হোক, আশার পাতা যতই বিবর্ণ হোক, পানির স্তর যতই নিচে নেমে যাক কিংবা ফল লাভের বিষয়ে যতই হতাশা আসুক না কেন—মজলুমের বিজয় এবং জালেমের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ অনিবার্য।
আমি কেবল কল্যাণই কামনা করেছি। আর আমার তাওফিক তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হয়েছি। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।
আস-সাইয়্যিদ আল-জুমাইলি, আল-মাআদি, কায়রো, মিশর। রমজানুল মুআজ্জাম ১৪১৪ হিজরি/ মার্চ ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الإذن للنبي صلى الله عليه وسلم بالقتال
عاش المسلمون في المدينة يحدق بهم الخطر من كل جانب، ويعتورهم الظلم والبغي والعدوان، يسومهم المشركون والكفار العذاب من كل صوب ومن كل ناحية لذلك أذن لهم عندئذ بالقتال.
روي عن أبي بن كعب- رضي الله عنه قال: لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه المدينة وآوتهم الأنصار رمتهم العرب عن قوس واحدة، وكانوا لا يبيتون إلا بالسلاح ولا يصبحون إلا فيه.
قال تعالى: أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا، وَإِنَّ اللَّهَ عَلى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ «1» . ولم يكن الإذن بالقتال إلا لدفع الظلم، وردع الفساد، وإقامة شعائر الله تعالى.
وقال تعالى: الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ «2» .
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যুদ্ধের অনুমতি প্রদান
মদিনায় বসবাসকারী মুসলিমগণ চারদিক থেকে বিপদের সম্মুখীন ছিলেন এবং তাদের ওপর জুলুম, অবাধ্যতা ও অন্যায় আপতিত হচ্ছিল। মুশরিক ও কাফিররা তাদের ওপর সব দিক থেকে ও সব অঞ্চল থেকে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিল, তাই সে সময় তাদের যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়।
উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ মদিনায় আসলেন এবং আনসারগণ তাঁদের আশ্রয় দিলেন, তখন আরবরা তাদের লক্ষ্য করে এক ধনুক থেকে তীর নিক্ষেপ করেছিল (অর্থাৎ তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শত্রুতা করেছিল)। তারা কেবল অস্ত্র সজ্জিত অবস্থাতেই রাত অতিবাহিত করতেন এবং সেভাবেই ভোরে উপনীত হতেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে (যুদ্ধের) অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে পূর্ণ সক্ষম।" (১)। যুদ্ধের অনুমতি কেবল জুলুম প্রতিহত করতে, ফাসাদ দমন করতে এবং আল্লাহর নিদর্শনাদি প্রতিষ্ঠা করার জন্যই ছিল।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
خريطة رقم (1)
طريق الهجرة
طريق الهجرة
الجادة المعتدلة
মানচিত্র নম্বর (১)
হিজরতের পথ
হিজরতের পথ
স্বাভাবিক প্রধান পথ
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
মানচিত্র নং (২)
মক্কা আল-মুকাররমা
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
إن الثابت الراجح نزول هذا الإذن بالقتال بالمدينة بعد الهجرة وليس بمكة.
ولعل السبب المباشر وراء البعوث والغزوات، والسرايا إنما هو إثبات قوة المسلمين، وصلابة شوكتهم، وقوة عارضتهم، وأنهم لم يصبحوا ضعفاء. وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند الرمل: «رحم الله امرآ أراهم اليوم من نفسه قوة» . لذلك فقد كان أهم مقصود الغزوات والسرايا إثبات عزة المسلمين، وقوتهم ورفعة شأنهم.
لقد بدأ المسلمون نشاطهم العسكري ليدفعوا آثار الضعف والوهن والإستخذاء، وحتى يكف المشركون أيضا عن إنزال الأذى بالمسلمين الذين في مكة.
سرية حمزة إلى سيف البحركان أول لواء في شهر رمضان للسنة الأولى من الهجرة الشريفة على صاحبها أفضل الصلاة والسلام وبالتحديد على رأس سبعة أشهر في مارس 623 م سنة ثلاث عشرة وستمائة بعد ميلاد المسيح. أمّر رسول الله صلى الله عليه وسلم على هذه السرية حمزة بن عبد المطلب «1» ، ومعه حليفه أبو مرتد كناز الفنوي الذي حمل اللواء الأبيض.
كان قوام هذا اللواء ثلاثا وثلاثين ولكن الصحيح أنهم ثلاثون رجلا من المهاجرين، وقد انطلقوا ليعترضوا عيرا قادمة من الشام لقريش، وكان فيهم أبو جهل بن هشام.
كانت قوة العير ثلاثمائة رجل، أي عشرة أضعاف قوة المسلمين وما أن بلغوا
--------------------------------------------
সুনিশ্চিত ও অগ্রাধিকারযোগ্য মত হলো, যুদ্ধের এই অনুমতি হিজরতের পর মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে, মক্কায় নয়।
সম্ভবত এই সকল বাহিনী প্রেরণ, যুদ্ধ এবং ছোট অভিযানের পেছনে প্রত্যক্ষ কারণ ছিল মুসলিমদের শক্তি, তাদের প্রভাবের দৃঢ়তা এবং তাদের প্রতিরোধের সক্ষমতা প্রমাণ করা এবং এটি বুঝিয়ে দেওয়া যে তারা আর দুর্বল নেই। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমল (দ্রুত চলা) করার সময় বলেছিলেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে আজ তাদের নিজের পক্ষ থেকে শক্তি প্রদর্শন করে»। তাই যুদ্ধ এবং অভিযানগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের মর্যাদা, শক্তি এবং তাদের উচ্চমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।
মুসলিমগণ তাদের সামরিক তৎপরতা শুরু করেছিলেন দুর্বলতা, হীনম্মন্যতা এবং অবমাননার ছাপ দূর করার জন্য এবং যাতে মুশরিকরা মক্কায় অবস্থানরত মুসলিমদের উপর নির্যাতন চালানো থেকেও বিরত থাকে।
সাইফ আল-বাহরের দিকে হামযাহর অভিযান (সারিয়া)এটি ছিল হিজরি প্রথম সনের রমজান মাসে প্রথম যুদ্ধের পতাকা, যার অধিকারীর (রাসুলুল্লাহর) প্রতি সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক; সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে হিজরতের সাত মাস পূর্ণ হওয়ার মাথায়, ৬২৩ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই অভিযানের জন্য হামযাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবকে «১» সেনাপতি নিযুক্ত করেন এবং তার সাথে ছিলেন তার মিত্র আবু মারসাদ কাননায আল-গানাবি, যিনি সাদা পতাকা বহন করেছিলেন।
এই বাহিনীর সংখ্যা ছিল তেত্রিশ জন, তবে সঠিক মতানুসারে তারা মুহাজিরদের মধ্য থেকে ত্রিশ জন লোক ছিলেন। তারা সিরিয়া থেকে আগত কুরাইশদের একটি কাফেলার গতিরোধ করার জন্য যাত্রা করেছিলেন, যাতে আবু জেহেল ইবনে হিশামও ছিল।
কাফেলার শক্তি ছিল তিনশ লোক, অর্থাৎ মুসলিম বাহিনীর দশ গুণ। যখন তারা পৌঁছালেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
سيف البحر من ناحية العيص «1» ، حتى اصطف كل فريق متأهبين للقتال.
لكن مجدي بن عمرو الجهني الذي كان حليفا لكلا الفريقين قد مشى بين كليهما حتى حال بين المصادمة فانصرف الفريقان ولم يقتتلوا «2» .
سرية عبيدة بن الحارثثم بعث عليه الصلاة والسلام بسرية إلى بطن «رابغ» «3» تحت قيادة عبيدة بن الحارث بن المطلب، في أربعة أيام خلون من شوال على رأس ثمانية أشهر من العام الأول للهجرة المشرفة، وكان قوام تلك السرية ستين راكبا من المهاجرين، ولم يكن من بينهم أنصاري واحد، فالتقى المهاجرون بأبي سفيان بن حرب في مائتين شاكين السلاح مكفرين في لئامهم «4» .
كان اللواء الأبيض للمهاجرين معقودا بيد مسطح بن أثاثة بن عبد المطلب بن بن عبد مناف.
تقابل الفريقان، وترامى كل منهما الآخر لكن لم يصطفا لقتال، ولم ينتصفوا «5»
--------------------------------------------
আল-ঈসের সমুদ্র উপকূল অভিমুখে [১], এমনকি প্রতিটি দল যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে সারিবদ্ধ হলো।
কিন্তু মাজদি বিন আমর আল-জুহানি, যিনি উভয় পক্ষের মিত্র ছিলেন, তিনি উভয় দলের মাঝে মধ্যস্থতা করলেন যাতে সংঘর্ষ এড়ানো যায়; ফলে উভয় দল ফিরে গেল এবং তারা একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করল না [২]।
উবায়দাহ বিন আল-হারিসের অভিযানঅতঃপর রাসুলুল্লাহ (সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরতের প্রথম বর্ষের অষ্টম মাসের শুরুতে শাওয়াল মাসের চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পর উবায়দাহ বিন আল-হারিস বিন আল-মুত্তালিবের নেতৃত্বে 'রাবিগ' [৩] উপত্যকায় একটি অভিযান প্রেরণ করেন। এই অভিযানে ষাটজন মুহাজির আরোহী ছিলেন এবং তাদের মধ্যে কোনো আনসার ছিলেন না। মুহাজিররা আবু সুফিয়ান বিন হারবের মুখোমুখি হন, যার সাথে ছিল দুইশ সশস্ত্র যোদ্ধা যারা তাদের যুদ্ধসাজে সজ্জিত ছিল [৪]।
মুহাজিরদের সাদা পতাকাটি মিসতাহ বিন উসাসাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন আব্দ মানাফের হাতে নিবদ্ধ ছিল।
উভয় দল মুখোমুখি হলো এবং একে অপরের প্রতি তীর নিক্ষেপ করল, কিন্তু তারা যুদ্ধের জন্য সারিবদ্ধ হয়নি এবং তারা তলোয়ার কোষমুক্ত করেনি [৫]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
السيوف، وإنما لم يتعد الأمر مجرد مناوشة وكان ثمة سعد بن أبي وقاص في المهاجرين، وكان أول من رمى بسهم في سبيل الله.
وانتهى الموقف بانصراف الفريقين على حاميتهم «1» .
سرية سعد بن أبي وقاص «2» إلى الخرّار «3»
في ثمانية رهط من المهاجرين، وعقد له لواء أبيض حمله المقداد بن عمرو، قيل إنهم كانوا عشرين راكبا، ثم اعترضوا عيرا لقريش، ولما أن بلغ الخرار من أرض الحجاز يكمنون بالنهار، ويسيرون بالليل، حتى صبحوا المكان صبيحة خمس، فوجدوا العير قد مرت بالأمس «4»
ونقل عن ابن هشام أن من أهل العلم من ذكر أن بعث سعد هذا كان بعد حمزة «5» .
غزوة الأبواء «6» (غزوة ودّان)
وهي أول غزوة غزاها رسول الله صلى الله عليه وسلم بنفسه، وكانت في صفر على رأس اثنى
--------------------------------------------
তরবারিগুলো, তবে বিষয়টি কেবল সামান্য সংঘর্ষের বেশি কিছু ছিল না। সেখানে মুহাজিরদের মধ্যে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস উপস্থিত ছিলেন, আর তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছিলেন।
উভয় পক্ষ তাদের নিজেদের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতির অবসান ঘটে «১»।
আল-খাররারে «৩» সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের «২» সারিয়া (অভিযান)
মুহাজিরদের আট সদস্যের একটি দল নিয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তাদের জন্য একটি সাদা পতাকা তৈরি করা হয়েছিল যা মিকদাদ ইবনে আমর বহন করেছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, তারা বিশ জন আরোহী ছিলেন। অতঃপর তারা কুরাইশদের একটি বাণিজ্যিক কাফেলার গতিরোধ করতে চাইলেন। যখন তারা হিজাজ ভূমির খাররারে পৌঁছালেন, তখন তারা দিনে আত্মগোপন করতেন এবং রাতে পথ চলতেন। অবশেষে পঞ্চম দিন সকালে তারা সেই স্থানে পৌঁছান, কিন্তু দেখতে পান যে কাফেলাটি আগের দিনই সেখান দিয়ে চলে গেছে «৪»।
ইবনে হিশাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে সাদের এই অভিযানটি হামজার অভিযানের পরে হয়েছিল «৫»।
আবওয়া যুদ্ধ «৬» (ওয়াদ্দান যুদ্ধ)
এটিই প্রথম যুদ্ধ যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এটি হিজরতের বারো মাসের মাথায় সফর মাসে সংঘটিত হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عشر شهرا من مهاجره، وحمل لواءه حمزة بن عبد المطلب، وكان أبيض، واستخلف على المدينة سعد بن عبادة، وخرج في المهاجرين ليس فيهم أنصاري واحد ليعترض عيرا لقريش، وكان ذلك لا ثنتى عشرة ليلة خلت من شهر ربيع الأول حتى بلغ (ودّان) «1» يريد قريشا وبني ضمرة، ثم إنه لما بلغ الأبواء لم يلق كيدا.
وكان الذي وادعه منهم عليهم سيدهم في زمانه فخشي ابن عمرو الضمري، على ألا يغزو بني ضمرة، ولا يغزوه، ولا يكثروا عليه جمعا ولا يعينوا عدوا، وكتب بينه وبينهم كتابا. وكانت غيبته خمس عشرة ليلة «2» .
غزوة بواطثم كانت غزوة بواط في شهر ربيع الأول على رأس ثلاثة عشر شهرا من مهاجره، وحمل لواءه سعد بن أبي وقاص، وكان أبيض، واستخلف على المدينة سعد بن معاذ، ثم خرج في مائتين من أصحابه يعترض عيرا لقريش فيها أمية بن خلف الجمحي، ومائة رجل من قريش، والفان وخمسمائة بعير، فبلغ (بواطا) «3» . وبين المدينة وبواط نحو أربعة برد فلم يلق صلى الله عليه وسلم كيدا فرجع إلى المدينة «4» .
--------------------------------------------
হিজরতের বারো মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর। তাঁর পতাকাবাহী ছিলেন হামযা ইবন আবদিল মুত্তালিব, আর পতাকাটি ছিল সাদা। মদিনায় তিনি সা'দ ইবন উবাদাকে স্থলাভিষিক্ত করেন। তিনি কুরাইশদের একটি কাফেলার গতিরোধ করার জন্য মুহাজিরদের সাথে বের হন, তাঁদের মধ্যে একজন আনসারও ছিলেন না। এটি ছিল রবিউল আউয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর, যতক্ষণ না তিনি (ওদ্দান) «১» পৌঁছান; তিনি কুরাইশ এবং বনু দামরাহ গোত্রের সংঘাতের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি যখন আল-আবওয়া পৌঁছান, তখন কোনো যুদ্ধের সম্মুখীন হননি।
তাদের মধ্য থেকে যিনি তাঁর সাথে সন্ধি করেছিলেন তিনি ছিলেন সে সময়ের তাদের নেতা মাখশি ইবন আমর আদ-দামরি। চুক্তিটি ছিল এই যে, তিনি বনু দামরাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন না এবং তারাও তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না; তারা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো সৈন্য সমাবেশ করবে না এবং কোনো শত্রুকে সাহায্য করবে না। তিনি নিজের ও তাদের মাঝে একটি চুক্তিপত্র লিখে দিলেন। তাঁর অনুপস্থিতির সময়কাল ছিল পনেরো রাত «২» ।
বুওয়াত যুদ্ধঅতঃপর হিজরতের তেরো মাসের মাথায় রবিউল আউয়াল মাসে বুওয়াত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। তাঁর পতাকা বহন করেন সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস এবং সেটি ছিল সাদা। মদিনায় তিনি সা'দ ইবন মু’আযকে স্থলাভিষিক্ত করেন। এরপর তিনি তাঁর দুইশ সাহাবীর সাথে কুরাইশদের একটি কাফেলার গতিরোধ করতে বের হন, যে কাফেলায় উমাইয়া ইবন খালাফ আল-জুমাহি এবং কুরাইশদের একশ জন লোক ও দুই হাজার পাঁচশ উট ছিল। তিনি (বুওয়াত) «৩» পর্যন্ত পৌঁছান। মদিনা ও বুওয়াতের দূরত্ব প্রায় চার বারিদ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে কোনো যুদ্ধের সম্মুখীন হননি, ফলে তিনি মদিনায় ফিরে আসেন «৪» ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
غزوة كرز بن جابر الفهريثم غزا رسول الله صلى الله عليه وسلم غزوته هذه لطلب كرز بن جابر الفهري، في شهر ربيع الأول على رأس ثلاثة عشر شهرا من مهاجره، وكان حمل لواءه علي بن أبي طالب، رضي الله عنه وكان لواء أبيض، واستخلف على المدينة زيد بن حارثة، وكان كرز بن جابر قد أغار على سرح المدينة فاستاقه، وكان يرعى بالحمى «1» وقد طلبه رسول الله صلى الله عليه وسلم، حتى بلغ واديا يقال له (سفوان) «2» من ناحية بدر، وفاته كرز؛ فلم يلحقه، فرجع لى المدينة.
غزوة العشيرة «3»
ثم غزا صلى الله عليه وسلم قريشا، فاستعمل على المدينة أبا سلمة بن عبد الأسد المخزومي، وكان ذلك في جمادي الآخرة على رأس ستة عشر شهرا من مهاجره، وكان حمل لواءه حمزة بن عبد المطلب، وكان لواء أبيض، وخرج في خمسين ومائة، وقيل: في مائتين من المهاجرين، ممن انتدب، ولم يكره أحدا على الخروج، وخرجوا على ثلاثين بعيرا يعتقبونها؛ يعترضون عيرا لقريش ذاهبة إلى الشام وكان قد جاء الخبر بفصولها من مكة فيها أموال قريش، فبلغ ذا العشيرة «4» ، وهي لبني مدلج بناحية ينبع «5» ، فوجد
--------------------------------------------
কুরজ বিন জাবির আল-ফিহরীর অভিযানএরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হিজরতের তেরো মাসের মাথায় রবিউল আউয়াল মাসে কুরজ বিন জাবির আল-ফিহরীর অনুসন্ধানে এই অভিযানে বের হন। তাঁর পতাকা বহন করেছিলেন আলী বিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং সেটি ছিল একটি সাদা পতাকা। মদীনায় তিনি জায়েদ বিন হারিসাকে স্থলাভিষিক্ত করেন। কুরজ বিন জাবির মদীনার পশুচারণভূমিতে অতর্কিত আক্রমণ করে গবাদিপশু হাঁকিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সেগুলো 'হিমা' নামক স্থানে চড়ছিল «১»। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে তাড়া করেন এবং বদরের পার্শ্ববর্তী 'সাফওয়ান' «২» নামক একটি উপত্যকা পর্যন্ত পৌঁছান। কিন্তু কুরজ তাঁর নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি তাকে ধরতে পারেননি এবং মদীনায় ফিরে আসেন।
উশাইরার অভিযান «৩»
এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরাইশদের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হন এবং মদীনার দায়িত্বে আবু সালামা বিন আবদুল আসাদ আল-মাখজুমীকে নিযুক্ত করেন। এটি ছিল হিজরতের ষোলো মাসের মাথায় জমাদিউল আখিরা মাসে। তাঁর পতাকা বহন করেছিলেন হামযা বিন আবদুল মুত্তালিব এবং সেটি ছিল একটি সাদা পতাকা। তিনি দেড়শ জন, মতান্তরে দুইশ জন মুহাজির নিয়ে বের হন যারা এই অভিযানে যোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন; তিনি কাউকে বের হতে বাধ্য করেননি। তারা ত্রিশটি উটের পিঠে পালাক্রমে আরোহণ করে যাত্রা করেছিলেন। তারা সিরিয়াগামী কুরাইশদের একটি কাফেলার গতিরোধ করতে চেয়েছিলেন। মক্কা থেকে সেই কাফেলাটি রওনা হওয়ার খবর এসেছিল যাতে কুরাইশদের ধন-সম্পদ ছিল। এরপর তিনি ইয়ানবু «৫» অঞ্চলের বনু মুদলিয গোত্রের এলাকা 'যুল উশাইরা' «৪» নামক স্থানে পৌঁছান এবং দেখতে পান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
العير قد فاتته بأيام، وهذه هي العير التي خرج في طلبها أيضا حين رجعت من الشام فساحلت على البحر، وبلغ قريشا خبرها فخرجوا يمنعونها، فلقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ببدر فواقعهم وقتل منهم من قتل. وهي ذات الشوكة التي وعده الله إياها، ووفى له بوعده. وبذى العشيرة كنى رسول الله صلى الله عليه وسلم علي بن أبي طالب أبا تراب «1» .
سرية عبد الله بن جحش الأسديثم بعث سرية عبد الله بن جحش الأسدي إلى نخلة في شهر رجب على رأس سبعة عشر شهرا من مهاجرة صلى الله عليه وسلم، وكان بعثه في اثني عشر رجلا من المهاجرين، كل اثنين يعتقبان بعيرا إلى بطن نخلة، يرصدون عيرا لقريش فوردت عليه، فها بهم أهل العير، وأنكروا أمرهم.
وفي هذه السرية سمى عبد الله بن جحش أمير المؤمنين وكان النبي صلى الله عليه وسلم كتب له كتابا، وأمره ألاينظر فيه إلا بعد أن يسير يومين، ثم ينظر فيه، ولما فتح الكتاب وجد فيه: - «إذا نظرت في كتابي هذا، فامض حتى تنزل نخلة بين مكة والطائف، فترصّد بها قريشا، وتعلم لنا من أخبارهم» فقال: سمعا وطاعة، وأخبر أصحابه بذلك، وبأنه لا يستكرههم، فمن أحب الشهادة فلينهض، ومن كره الموت، فليرجع، فمضوا كلهم.
--------------------------------------------
কাফেলাটি কয়েক দিন আগেই তাঁকে ছাড়িয়ে চলে গিয়েছিল। আর এটিই ছিল সেই কাফেলা যার অনুসন্ধানে তিনি পুনরায় বের হয়েছিলেন যখন সেটি সিরিয়া থেকে ফিরছিল এবং সমুদ্র উপকূল দিয়ে পথ চলছিল। কুরাইশরা যখন এর খবর পেল, তখন তারা এটি রক্ষা করার জন্য বের হলো। অতঃপর তারা বদর প্রান্তরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্মুখপানে মিলিত হলো। ফলে তিনি তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন এবং তাদের মধ্যে যারা নিহত হওয়ার ছিল তারা নিহত হলো। এটিই ছিল সেই অস্ত্রধারী দল যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তাঁকে দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর নিকট ওয়াদা পূর্ণ করেছিলেন। আর যুল-উশায়রাতেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী বিন আবি তালিবকে 'আবু তুরাব' উপনামে ভূষিত করেছিলেন (১)।
আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ আল-আসাদীর সারিয়াঅতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরতের সতের মাস পূর্ণ হওয়ার সময় রজব মাসে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশ আল-আসাদীর নেতৃত্বে নাখলা অভিমুখে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন। তিনি তাঁকে বারোজন মুহাজির ব্যক্তির সাথে পাঠিয়েছিলেন, যেখানে প্রতি দু'জন পালাক্রমে একটি উট ব্যবহার করছিলেন। তাঁরা নাখলার মধ্যবর্তী উপত্যকা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন কুরাইশদের একটি কাফেলার ওপর নজর রাখার জন্য। অতঃপর কাফেলাটি তাঁদের সামনে উপস্থিত হলে কাফেলাবাসীরা তাঁদের দেখে ভীত হলো এবং তাঁদের বিষয়টি নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ল।
এই অভিযানেই আবদুল্লাহ ইবনে জাহাশকে 'আমীরুল মুমিনীন' হিসেবে অভিহিত করা হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য একটি পত্র লিখে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন দুই দিন পথ চলার আগে তিনি তাতে দৃষ্টিপাত না করেন, অতঃপর যেন তা দেখেন। যখন তিনি পত্রটি খুললেন, তাতে পেলেন: "যখন তুমি আমার এই পত্রটি দেখবে, তখন মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী নাখলা নামক স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত যাত্রা অব্যাহত রাখবে। সেখানে কুরাইশদের জন্য ওত পেতে থাকবে এবং আমাদের কাছে তাদের খবরাখবর জানাবে।" তখন তিনি বললেন: "শুনলাম ও আনুগত্য করলাম।" অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গীদের বিষয়টি অবহিত করলেন এবং বললেন যে, তিনি তাঁদের কাউকে বাধ্য করবেন না। সুতরাং যে শাহাদাত পছন্দ করে সে যেন অগ্রসর হয়, আর যে মৃত্যুকে অপছন্দ করে সে যেন ফিরে যায়। তখন তাঁরা সকলেই যাত্রা শুরু করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فلما كان أثناء الطريق،! ضل سعد بن أبي وقاص، وعتبة بن غزوان بعيرا لهما كانا يعتقبانه، فتخلفا في طلبه، وبعد عبد الله بن جحش حتى نزل بنخلة، فمرت به عير لقريش تحمل زبيبا وأدما وتجارة فيها عمرو بن الحضرمي، وعثمان ونوفل: ابنا عبد الله بن المغيرة، والحاكم بن كيسان مولى بني المغيرة، فتشاور المسلمون وقالوا:
نحن في آخر يوم من رجب الشهر الحرام، فإن قاتلناهم، انتهكنا الشهر الحرام، وإن تركناهم الليلة دخلوا الحرم، ثم أجمعوا على ملاقاتهم، فرمى أحدهم عمرو بن الحضرمي فقتله، وأسروا عثمان والحكم، وأفلت نوفل، ثم قدموا بالعير والأسيرين، وقد عزلوا من ذلك الخمس، وهو أول خمس كان في الإسلام، وأول قتيل في الإسلام، وأول أسيرين في الإسلام.
وأنكر عليهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ما فعلوا «1» ، واشتد تعنت قريش واستنكارهم لذلك، وزعموا أنهم قد وجدوا مقالا؛ فقالوا: قد أحل محمد الشهر الحرام. واشتد على المسلمين ذلك حتى أنزل الله تعالى: - يَسْئَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرامِ قِتالٍ فِيهِ؟
قُلْ قِتالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ، وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرامِ وَإِخْراجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِنْدَ اللَّهِ وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ «2» .
يقول الحق تبارك وتعالى: هذا الذي أنكرتموه عليهم، وإن كان كبيرا، فما ارتكبتموه أنتم من الكفر بالله، والصد عن سبيله، وعن بيته، وإخراج المسلمين الذين هم أهله منه، والشرك الذي أنتم عليه، والفتنة التي حصلت منكم به أكبر
--------------------------------------------
অতঃপর পথিমধ্যে সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস এবং উতবাহ বিন গাজওয়ান তাদের একটি উট হারিয়ে ফেললেন যা তারা পালাক্রমে ব্যবহার করতেন। তারা সেটির খোঁজে পিছিয়ে পড়লেন। আর আব্দুল্লাহ বিন জাহশ অগ্রসর হয়ে 'নাখলা' নামক স্থানে অবতরণ করলেন। তখন কুরাইশদের একটি কাফেলা তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল, যাতে কিসমিস, চামড়া এবং ব্যবসার মালামাল ছিল। সেই কাফেলায় আমর ইবনুল হাদরামি, উসমান ও নাওফাল (আব্দুল্লাহ বিন মুগিরার দুই ছেলে) এবং বনু মুগিরার আযাদকৃত দাস হাকাম বিন কায়সান ছিল। তখন মুসলমানরা পরামর্শ করলেন এবং বললেন:
আমরা সম্মানিত মাস রজবের শেষ দিনে রয়েছি। যদি আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করি, তবে সম্মানিত মাসের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হবে। আর যদি আজ রাতে তাদের ছেড়ে দেই, তবে তারা হারামে (মক্কায়) প্রবেশ করবে। এরপর তারা তাদের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে একমত হলেন। তখন তাদের একজন আমর ইবনুল হাদরামিকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে তাকে হত্যা করলেন এবং উসমান ও হাকামকে বন্দী করলেন। আর নাওফাল পালিয়ে গেল। এরপর তারা কাফেলা ও দুই বন্দীকে নিয়ে উপস্থিত হলেন। তারা সেই সম্পদ থেকে এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস) আলাদা করে রাখলেন। ইসলামে এটাই ছিল প্রথম খুমুস, প্রথম নিহত ব্যক্তি এবং প্রথম দুইজন বন্দী।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এই কাজের সমালোচনা করলেন। এদিকে কুরাইশদের হঠকারিতা এবং এই ঘটনার নিন্দা তীব্র হয়ে উঠল। তারা মনে করল যে তারা কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। তারা বলল: মুহাম্মদ সম্মানিত মাসকে হালাল করে নিয়েছে। বিষয়টি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াল, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: "তারা আপনাকে সম্মানিত মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে..."
বলুন, "তাতে যুদ্ধ করা বড় অপরাধ। কিন্তু আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া, তাঁকে অস্বীকার করা, মসজিদে হারামে বাধা দেওয়া এবং তার বাসিন্দাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর নিকট আরও বড় অপরাধ। আর ফিতনা (শিরক) হত্যার চেয়েও গুরুতর।"
সত্যের মালিক মহান আল্লাহ বলছেন: তোমরা যে বিষয়টি তাদের জন্য অপছন্দ করছ, তা যদিও বড় অপরাধ, কিন্তু তোমরা আল্লাহর প্রতি কুফরি, তাঁর পথ ও তাঁর ঘর থেকে বাধা দান, মুসলমানদের যারা সেখানকার যোগ্য বাসিন্দা তাদেরকে বের করে দেওয়া, তোমাদের শিরক এবং তোমাদের পক্ষ থেকে সৃষ্ট ফিতনা তার চেয়েও বড়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عند الله من قتالهم في الشهر الحرام. وذلك كقوله تعالى: وَقاتِلُوهُمْ حَتَّى لا تَكُونَ فِتْنَةٌ «1» وقوله تعالى أيضا: ثُمَّ لَمْ تَكُنْ فِتْنَتُهُمْ إِلَّا أَنْ قالُوا وَاللَّهِ رَبِّنا ما كُنَّا مُشْرِكِينَ «2» .
أي إن مال شركهم، وعاقبته وآخر أمرهم، إلا أن أنكروه وتبرؤوا منه «3» .
قال ابن اسحاق: وقد ذكر بعض آل عبد الله بن جحش: أن الله عز وجل قسّم الفيء حين أحله، فجعل أربعة أخماس لمن أفاءه الله، وخمسا إلى الله ورسوله، فوقع على ما كان عبد الله بن جحش صنع من تلك العير.
قال ابن هشام: وهي أول غنيمة غنمها المسلمون، وعمرو بن الحضرمي أول من قتله المسلمون، وعثمان بن عبد الله والحكم بن كيسان أول من أسر المسلمون.
وقال ابن اسحاق: ويقال صرفت القبلة في شعبان على رأس ثمانية عشر شهرا من مقدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة.
--------------------------------------------
আল্লাহর নিকট পবিত্র মাসে তাদের সাথে যুদ্ধের চেয়ে। আর তা মহান আল্লাহর বাণীর মতোই: "এবং তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় (১)" এবং মহান আল্লাহর এই বাণীও: "অতঃপর তাদের ফেতনার পরিণাম এছাড়া আর কিছু ছিল না যে, তারা বলেছিল: আমাদের রব আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না (২)।"
অর্থাৎ তাদের শিরকের পরিণতি, এর শেষ ফল এবং তাদের বিষয়ের শেষাংশ এটাই ছিল যে, তারা একে অস্বীকার করেছিল এবং এ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল (৩)।
ইবনে ইসহাক বলেন: আবদুল্লাহ বিন জাহশ-এর পরিবারের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, মহান আল্লাহ যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (ফাই) হালাল করেন, তখন তা বণ্টন করে দেন। ফলে তিনি এর চার-পঞ্চমাংশ তাদের জন্য নির্ধারণ করেন যাদের আল্লাহ তা দান করেছেন এবং এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য রাখেন। ফলে আবদুল্লাহ বিন জাহশ সেই কাফেলার ক্ষেত্রে যা করেছিলেন, তার সাথে এটি মিলে যায়।
ইবনে হিশাম বলেন: এটিই ছিল মুসলমানদের অর্জিত প্রথম গনিমত (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ), আর আমর বিন আল-হাদরামি ছিল প্রথম ব্যক্তি যাকে মুসলমানরা হত্যা করেছিল, এবং উসমান বিন আবদুল্লাহ ও আল-হাকাম বিন কায়সান ছিল প্রথম যুদ্ধবন্দী যাদের মুসলমানরা বন্দী করেছিল।
ইবনে ইসহাক বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় আসার আঠারো মাস পূর্ণ হওয়ার পর শাবান মাসে কিবলা পরিবর্তন করা হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
غزوة بدر الكبرى «1»
لما كان من أمر انصراف عير قريش من الشام في رمضان من تلك السنة، وقد بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم من أمر هذه العير، بصبحة أبي سفيان بن حرب، وهي العير التي خرجوا في طلبها لما خرجت من مكة، وكانوا أربعين رجلا، وهي حافلة بأموال كثيرة لقريش.
ندب النبي صلى الله عليه وسلم الناس للخروج إلى هذه العير وأمر من كان ظهره حاضرا بالخروج والنهوض فورا، ولم يحتفل لها احتفالا بليغا، لأنه خرج مسرعا من ثلاثمائة وبضعة عشر رجلا، ولم يكن معهم من الخيل إلا فرسان: فرس للزبير بن العوام، وفرس للمقداد بن الأسود الكندي، وكان معهم سبعون بعيرا يعتقب الرجلان والثلاثة على البعير الواحد، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعلي ومرتد ابن أبي مرتد الفنوي يعتقبون بعيرا، وزيد بن حارثة، وابنه، وكبشة موالى رسول الله صلى الله عليه وسلم يعتقبون بعيرا، وأبو بكر وعمر، وعبد الرحمن بن عوف يعتقبون بعيرا، واستخلف على المدينة وعلى الصلاة ابن أم مكتوم فلما كان بالروحاء «2» رد أبا لبابة بن عبد المنذر، واستعمله على المدينة، ودفع اللواء إلى مصعب بن عمير، والراية الواحدة إلى علي بن أبي طالب، والآخرى التي للأنصار إلى سعد بن معاذ وجعل على الساقة قيس بن أبي صعصعة، وسار، فلما قرب من الصفراء، بعث بسيس بن عمرو الجهني، وعدي ابن أبي الزغباء إلى بدر يتجسسان أخبار العير، وأما أبو سفيان «3» ، فإنه بلغه مخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم،
--------------------------------------------
মহা বদর যুদ্ধ «১»
সেই বছরের রমজান মাসে সিরিয়া থেকে কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলা ফেরার উপক্রম হলে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের নেতৃত্বে থাকা এই কাফেলার খবর পেলে—এটি সেই কাফেলা যার সন্ধানে তারা মক্কা থেকে বের হওয়ার সময়ও বের হয়েছিলেন। এতে চল্লিশজন লোক ছিল এবং এটি কুরাইশদের বিপুল ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কাফেলার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার জন্য লোকদের উৎসাহিত করলেন এবং যাদের বাহন প্রস্তুত ছিল তাদের অবিলম্বে বের হওয়ার ও যাত্রা করার নির্দেশ দিলেন। তবে তিনি এর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেননি, কারণ তিনি তিনশ’ দশের অধিক লোক নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে পড়েছিলেন। তাদের সাথে মাত্র দুটি ঘোড়া ছিল: একটি জুবাইর ইবনুল আওয়ামের এবং অন্যটি মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ আল-কিনদীর। তাদের সাথে সত্তরটি উট ছিল, যার প্রতিটিতে দুজন বা তিনজন করে পর্যায়ক্রমে আরোহণ করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আলী এবং মারসাদ ইবনে আবি মারসাদ আল-গানভী একটি উটে পর্যায়ক্রমে আরোহণ করতেন। জায়েদ ইবনে হারিসা, তাঁর পুত্র এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস কাবশাহ একটি উটে পর্যায়ক্রমে আরোহণ করতেন। আবু বকর, উমর এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফ একটি উটে পর্যায়ক্রমে আরোহণ করতেন। তিনি মদীনা এবং সালাতের ইমামতির দায়িত্ব দিয়ে ইবনে উম্মে মাকতুমকে রেখে যান। যখন তিনি রাউহা নামক স্থানে পৌঁছান «২», তখন আবু লুবাবাহ ইবনে আব্দুল মুনজিরকে ফেরত পাঠান এবং তাকে মদীনার দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি প্রধান ঝাণ্ডাটি মুসআব ইবনে উমাইরের হাতে দেন এবং একটি পতাকা আলী ইবনে আবি তালিবকে এবং আনসারদের অন্য পতাকাটি সাদ ইবনে মুয়াজকে প্রদান করেন। পেছনের সেনাদলের দায়িত্বে কায়স ইবনে আবি সা’সাআহকে নিযুক্ত করেন এবং পথ চলতে থাকেন। যখন তিনি সাফরার নিকটবর্তী হলেন, তখন কাফেলার খবরাখবর সংগ্রহের জন্য বাসাস ইবনে আমর আল-জুহানী এবং আদী ইবনে আবিয যাগবাকে বদরের দিকে প্রেরণ করেন। এদিকে আবু সুফিয়ানের «৩» কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বের হওয়ার খবর পৌঁছে গিয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
মানচিত্র নং (৩)
বদরের যুদ্ধ
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقصده إياه، فاستأجر ضمضم بن عمرو الغفاري إلى مكة، مستصرخا قريش بالنفير إلى عيرهم؛ ليمنعوه من محمد وأصحابه، وبلغ الصريخ أهل مكة؛ فنهضوا مسرعين وأوعبوا «1» في الخروج لم يتخلف منهم أحد، انسابوا مهروعين من بطون قريش إلا بني عدي، حيث لم يخرج منهم أحد، وخرجوا من ديارهم كما قال الله تعالى: بَطَراً وَرِئاءَ النَّاسِ، وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ «2» وأقبلوا كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بحدهم وحديدهم، تحادّه وتحاد رسوله» ، ولما رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم انثيال القرشيين عليه قال:
«اللهم هذه قريش قد أقبلت بخيلائها وفخرها؛ تجادل وتكذب رسولك، اللهم فنصرك الذي وعدتني، اللهم أحنهم الغداة» .
جاؤوا على حرد قادرين، وعلى حمية وغضب وحنق على رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه لما يريدون من أخذ غيرهم وقتل من فيها، وقد أصابوا بالأمس عمرو بن الحضرمي، والعير التي كانت معه، فجمعهم الله على غير ميعاد، كما قال الله تعالى: وَلَوْ تَواعَدْتُمْ لَاخْتَلَفْتُمْ فِي الْمِيعادِ، وَلكِنْ لِيَقْضِيَ اللَّهُ أَمْراً كانَ مَفْعُولًا «3» .
لما بلغ رسول الله صلى الله عليه وسلم خروج قريش استشار أصحابه فتكلم المهاجرون فأحسنوا، ثم استشارهم ثانيا، فتكلم المهاجرون فأحسنوا، ثم استشارهم ثالثا، ففهمت الأنصار أنه يعنيهم، فبادر سعد بن معاذ فقال: يا رسول الله! كأنك تعرض بنا؟ وكان إنما يعنيهم؛ لأنهم بايعوه على أن يمنعوه من الأحمر والأسود «4» في ديارهم، فلما عزم على الخروج استشارهم ليعلم ما عندهم.
فقال سعد بن معاذ: لعلك تخشى أن تكون الأنصار ترى حقا عليها أن لا
--------------------------------------------
এবং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সেটিই। তিনি জমজম ইবনে আমর আল-গিফারিকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মক্কায় প্রেরণ করলেন, যাতে তিনি কুরাইশদেরকে তাদের কাফেলার সুরক্ষায় যুদ্ধের জন্য বের হওয়ার আর্তচিৎকার দিয়ে আহ্বান জানান; যেন তারা তাকে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাথীদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। মক্কাবাসীদের কাছে সেই আর্তনাদ পৌঁছাল; ফলে তারা দ্রুত প্রস্তুত হলো এবং যুদ্ধে বের হওয়ার জন্য পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করল। তাদের কেউ পিছিয়ে থাকেনি; বনু আদি ব্যতীত কুরাইশদের সকল শাখা গোত্র থেকে তারা স্রোতের মতো ধেয়ে এল, বনু আদির কেউ বের হয়নি। তারা তাদের ঘর থেকে বের হয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অহংকারবশত, লোক দেখানোর জন্য এবং আল্লাহর পথে বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে।" তারা সেভাবেই অগ্রসর হলো যেভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তাদের পূর্ণ দাপট ও রণসজ্জা নিয়ে, যারা আল্লাহর সাথে এবং তাঁর রাসূলের সাথে শত্রুতা পোষণ করে।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কুরাইশদের তাঁর দিকে ধেয়ে আসতে দেখলেন, তখন বললেন:
"হে আল্লাহ! এই কুরাইশরা তাদের দম্ভ ও অহংকার নিয়ে এগিয়ে এসেছে; তারা বিতর্ক করছে এবং তোমার রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে। হে আল্লাহ! তোমার সেই সাহায্য (প্রদান করো) যার প্রতিশ্রুতি তুমি আমাকে দিয়েছ। হে আল্লাহ! আজ সকালেই তাদের পর্যুদস্ত করো।"
তারা চূড়ান্ত সংকল্প নিয়ে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাথীদের প্রতি চরম ক্ষোভ ও আক্রোশ নিয়ে উপস্থিত হলো—যেহেতু মুসলিমরা তাদের কাফেলা পাকড়াও করতে এবং তাতে যারা ছিল তাদের হত্যা করতে চেয়েছিল। ইতোপূর্বে তারা আমর ইবনুল হাদরামি এবং তার সাথে থাকা কাফেলাকে আক্রমণ করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে কোনো পূর্ব নির্ধারিত সময় ছাড়াই একত্রিত করলেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি তোমরা একে অপরের সাথে সময় নির্ধারণ করতে, তবে অবশ্যই সেই সময় নির্ধারণ নিয়ে তোমরা মতভেদ করতে; কিন্তু আল্লাহ এমন এক কাজ সম্পন্ন করতে চাইলেন যা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।"
কুরাইশদের বের হওয়ার সংবাদ যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছাল, তিনি তাঁর সাথীদের সাথে পরামর্শ করলেন। মুহাজিরগণ কথা বললেন এবং চমৎকার বললেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার তাদের পরামর্শ চাইলেন, মুহাজিরগণ কথা বললেন এবং চমৎকার বললেন। এরপর তিনি তৃতীয়বার পরামর্শ চাইলেন, তখন আনসারগণ বুঝতে পারলেন যে তিনি তাদেরই উদ্দেশ্য করছেন। ফলে সাদ ইবনে মুআজ দ্রুত বলে উঠলেন: হে আল্লাহর রাসূল! সম্ভবত আপনি আমাদের প্রতি ইঙ্গিত করছেন? প্রকৃতপক্ষে তিনি তাদেরই উদ্দেশ্য করছিলেন; কারণ তারা তাঁর হাতে এই মর্মে বায়আত বা অঙ্গীকার করেছিল যে, তারা তাদের নিজ ভূখণ্ডে অবস্থানকালে তাঁকে লাল ও কালো (অর্থাৎ সকল শত্রু) থেকে রক্ষা করবে। তাই যখন তিনি মদিনা থেকে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তাদের মনোভাব জানার জন্য পরামর্শ চাইলেন।
সাদ ইবনে মুআজ বললেন: সম্ভবত আপনি আশঙ্কা করছেন যে, আনসাররা হয়তো তাদের ওপর এটি আবশ্যক মনে করছে না যে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ينصروك إلا في ديارها، وإني أقول عن الأنصار، وأجيب عنهم: فاظعن «1» حيث شئت، وصل حبل من شئت، واقطع حبل من شئت، وخذ من أموالنا ما شئت، وأعطنا ما شئت، وما أخذت منا كان أحب إلينا مما تركت، وما أمرت فيه من أمر فأمرنا تبع لأمرك، فوالله لئن سرت حتى تبلغ البرك من غمدان، لنسيرن معك، ووالله لئن استعرضت بنا هذا البحر خضناه معك.
وقال له المقداد: لا نقول لك كما قال قوم موسى لموسى: إذهب أنت وربك فقاتلا، إنا هاهنا قاعدون، وكلنا نقاتل عن يمينك، وعن شمالك، ومن بين يديك ومن خلفك، فأشرق وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم وسرّ بما سمع من أصحابه، وقال:
«سيروا وأبشروا، فإن الله قد وعدني إحدى الطائفتين، وإني قد رأيت مصارع القوم» .
فسار رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى بدر، وخفض أبو سفيان فلحق بساحل البحر، ولما أنه قد نجا، وأحرز العير كتب إل قريش: أن ارجعوا، فإنكم إنما خرجتم لتحرزوا عيركم، فأتاهم الخبر، وهم بالجحفة، فهموا بالرجوع، فقال أبو جهل: والله لا نرجع حتى نقدم بدرا، فنقيم بها، ونطعم من حضرنا من العرب، وتخافنا العرب بعد ذلك، فأشار الأخنس بن شريق عليهم بالرجوع، فعصوه، فرجع هو وبنو زهرة، فلم يشهد بدرا زهرى، فاغتبطت بنو زهرة بعد برأي الأخنس، فلم يزل فيهم مطاعا معظما، وأرادت بنو هاشم الرجوع، فاشتد عليهم أبو جهل، وقال: لا تفارقنا هذه العصابة حتى نرجع فساروا، وسار رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى نزل عشيا أدنى ماء من مياه بدر، فقال: «اشيروا عليّ من المنزل» فقال الحباب بن المنذر: يا رسول الله، أنا عالم بها وبقلبها، إن رأيت أن نسير إلى قلب قد عرفناها، فهي كثيرة الماء، عذبة، فننزل عليها ونسبق القوم إليها، ونغوّر ما سواها من المياه.
وسار المشركون سراعا يريدون المياه، وبعث عليا، وسعدا والزبير إلى بدر يلتمسون الخبر، فقدموا بعبدين لقريش، ورسول الله صلى الله عليه وسلم قائم يصلي، فسألهما
--------------------------------------------
তারা আপনার ঘরবাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও আপনাকে সাহায্য করবে না; এমতাবস্থায় আমি আনসারদের পক্ষ থেকে বলছি এবং তাদের পক্ষ থেকে উত্তর দিচ্ছি: আপনি যেখানে ইচ্ছা যাত্রা করুন, যার সাথে ইচ্ছা সম্পর্ক যুক্ত করুন, যার সাথে ইচ্ছা সম্পর্ক ছিন্ন করুন, আমাদের সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করুন এবং যা ইচ্ছা আমাদের দান করুন। আপনি আমাদের থেকে যা গ্রহণ করবেন তা আমাদের কাছে আপনার রেখে যাওয়া সম্পদের চেয়ে বেশি প্রিয়। আপনি যে বিষয়েই আদেশ করবেন, আমাদের প্রতিটি কাজ আপনার আদেশের অনুগামী হবে। আল্লাহর কসম! আপনি যদি যাত্রা করে 'বারকুল গিমদান' পর্যন্তও পৌঁছে যান, তবে আমরা অবশ্যই আপনার সাথে যাত্রা করব। আল্লাহর কসম! আপনি যদি আমাদের নিয়ে এই সমুদ্রে ঝাঁপ দেন, তবে আমরা আপনার সাথেই তাতে অবগাহন করব।
মিকদাদ তাঁকে বললেন: মূসার কওম মূসাকে যেমন বলেছিল আমরা আপনাকে তেমন বলব না যে: "আপনি এবং আপনার প্রতিপালক যান এবং যুদ্ধ করুন, আমরা এখানে বসে রইলাম।" বরং আমরা সবাই আপনার ডান দিক থেকে, বাম দিক থেকে, আপনার সম্মুখ হতে এবং আপনার পেছন থেকে যুদ্ধ করব। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং তিনি তাঁর সাহাবীদের থেকে যা শুনলেন তাতে আনন্দিত হলেন। তিনি বললেন:
«তোমরা এগিয়ে যাও এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো, কারণ আল্লাহ আমাকে দুটি দলের যেকোনো একটির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আমি অবশ্যই এ সম্প্রদায়ের ধরাশায়ী হওয়ার স্থানগুলো দেখতে পাচ্ছি।»
অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিকে যাত্রা করলেন। আর আবু সুফিয়ান পথ পরিবর্তন করে সমুদ্র উপকূল ধরে চলল। যখন সে মুক্তি পেল এবং কাফেলা নিরাপদ করল, তখন সে কুরাইশদের কাছে লিখে পাঠাল: তোমরা ফিরে যাও, কারণ তোমরা তোমাদের কাফেলা রক্ষা করতেই বের হয়েছিলে। তারা যখন জুহফায় অবস্থান করছিল তখন তাদের কাছে এ খবর পৌঁছাল। তারা ফিরে যাওয়ার সংকল্প করল। কিন্তু আবু জাহল বলল: আল্লাহর কসম, আমরা বদরে না পৌঁছানো পর্যন্ত ফিরে যাব না। সেখানে আমরা অবস্থান করব, আমাদের কাছে উপস্থিত আরবদের খাওয়াব এবং এরপর আরবরা আমাদের ভয় পাবে। আল-আখনাস ইবনে শারীক তাদের ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন, কিন্তু তারা তার অবাধ্য হলো। ফলে সে এবং বনু জুহরা ফিরে গেল। তাই কোনো জুহরী বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিল না। পরবর্তীতে বনু জুহরা আখনাসের সিদ্ধান্তের জন্য আনন্দিত হয়েছিল এবং সে তাদের মধ্যে মান্যবর ও সম্মানিত হয়ে রইল। বনু হাশিমও ফিরে যেতে চাইল, কিন্তু আবু জাহল তাদের ওপর কঠোরতা করল এবং বলল: আমরা ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত এই দলটি আমাদের ছেড়ে যাবে না। ফলে তারা যাত্রা করল। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও যাত্রা করলেন এবং সন্ধ্যায় বদরের নিকটতম পানির আধারের কাছে অবতরণ করলেন। তিনি বললেন: «অবতরণের স্থান সম্পর্কে আমাকে পরামর্শ দাও»। হুবাব ইবনে মুনজির বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি এই জায়গা এবং এর কুয়াগুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ। আপনি যদি সঙ্গত মনে করেন তবে আমরা এমন এক কুয়ার দিকে এগিয়ে যাব যা আমাদের পরিচিত এবং যেখানে প্রচুর মিষ্টি পানি আছে। আমরা সেখানে অবতরণ করব এবং অন্যদের আগে সেখানে পৌঁছে যাব, আর বাকি সব পানির আধার বন্ধ করে দেব।
আর মুশরিকরা পানির সন্ধানে দ্রুত গতিতে এগিয়ে এল। তিনি আলী, সাদ ও জুবায়েরকে সংবাদের তালাশে বদরে পাঠালেন। তারা কুরাইশদের দুইজন ক্রীতদাস নিয়ে এল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছিলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أصحابه: من أنتما؟ قالا: نحن سقاة لقريش، فكره ذلك أصحابه، وودوا لو كانا لعير أبي سفيان، فلما سلّم رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لهما: أخبراني، أين قريش؟ قالا:
وراء هذا الكثيب. فقال: كم القوم؟ فقالا: لا علم لنا، فقال: كم ينحرون كل يوم؟ فقالا: يوما عشرا، ويوما تسعا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: القوم ما بين تسعمائة إلى الألف. فأنزل الله عز وجل من تلك الليلة مطرا واحدا، فكان على المشركين وابلا شديدا منعهم من التقدم، وكان على المسلمين طلّا طهرهم به، وأذهب عنهم رجس الشيطان، ووطّأ به الأرض، وصلّب به الرمل، وثبت الأقدام، ومهد به المنزل، وربط على قلوبهم، فسبق رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه إلى الماء، فنزلوا عليه شطر الليل، وصنعوا الحياض، ثم غوّروا ما عداها من المياه، ونزل رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه على الحياض.
وبنى لرسول الله صلى الله عليه وسلم عريشا يكون فيها تل يشرف على المعركة، ومشى في موضع المعركة، وجعل يشير بيده، هذا مصرع فلان، وهذا مصرع فلان، وهذا مصرع فلان فما تعدى أحد منهم موضع إشارته «1» .
فلما طلع المشركون، وتراءى الجمعان، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: - «اللهم هذه قريش جاءت بخيلائها وفخرها جاءت تحادك، وتكذب رسولك» ثم قام ورفع يديه، واستنصر ربه وقال: - «اللهم أنجز لي ما وعدتني، اللهم إني أنشدك عهدك ووعدك» فالتزمه الصديق من ورائه، وقال: يا رسول الله، أبشر، فو الذي نفسي بيده، لينجزن الله لك ما وعدك» «2» .
وقد أخرج البخاري «3» في صحيحه من حديث ابن عباس- رضي الله عنهما
--------------------------------------------
তাঁর সাথীরা জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা দুজন কে? তারা বলল: আমরা কুরাইশদের জন্য পানি সংগ্রহকারী। তাঁর সাথীরা বিষয়টি অপছন্দ করলেন এবং তারা চাইলেন যদি লোক দুজন আবু সুফিয়ানের কাফেলার হতো। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ শেষ করলেন, তিনি তাদের বললেন: আমাকে বলো, কুরাইশরা কোথায়? তারা বলল:
এই বালুর ঢিবির পেছনে। তিনি বললেন: তাদের সংখ্যা কত? তারা বলল: আমাদের জানা নেই। তিনি বললেন: তারা প্রতিদিন কয়টি উট জবেহ করে? তারা বলল: একদিন দশটি এবং একদিন নয়টি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাদের সংখ্যা নয়শ থেকে এক হাজারের মধ্যে। অতপর আল্লাহ তাআলা সেই রাতে বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। মুশরিকদের ওপর তা ছিল প্রবল বর্ষণ যা তাদের অগ্রসর হতে বাধা দিল, আর মুসলিমদের ওপর তা ছিল হালকা বৃষ্টি যার মাধ্যমে আল্লাহ তাদের পবিত্র করলেন, তাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করলেন, জমিনকে সমতল করলেন, বালুকে শক্ত করলেন, পা সুদৃঢ় করলেন, মঞ্জিল সুগম করলেন এবং তাদের অন্তরসমূহকে শক্তিশালী করলেন। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীরা পানির দিকে অগ্রগামী হলেন এবং মধ্যরাতে সেখানে অবতরণ করলেন। তারা জলাধার তৈরি করলেন, এরপর অবশিষ্ট কূপগুলো ভরাট করে দিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীরা জলাধারের নিকট অবস্থান নিলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি তাবু তৈরি করা হলো যা যুদ্ধের ময়দান পর্যবেক্ষণ করার মতো একটি টিলার ওপর ছিল। তিনি যুদ্ধের ময়দানে বিচরণ করলেন এবং তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে বলতে লাগলেন, "এটি অমুকের পতনস্থল, এটি অমুকের পতনস্থল এবং এটি অমুকের পতনস্থল"। তাঁর ইশারা করা স্থানের বাইরে তাদের কেউ মারা যায়নি।
যখন মুশরিকরা উপস্থিত হলো এবং উভয় দল একে অপরকে দেখতে পেল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে আল্লাহ, এই যে কুরাইশরা তাদের দম্ভ ও অহংকার নিয়ে আপনার বিরোধিতা করতে এবং আপনার রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এসেছে।" তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর হাত উত্তোলন করে তাঁর রবের সাহায্য চাইলেন। তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, আপনি আমার সাথে যে ওয়াদা করেছেন তা পূর্ণ করুন। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আপনার অঙ্গীকার ও ওয়াদা প্রার্থনা করছি।" তখন আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তাঁর পেছন থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, সুসংবাদ গ্রহণ করুন। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আল্লাহ অবশ্যই আপনার সাথে করা ওয়াদা পূর্ণ করবেন।"
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم بدر: - «اللهم إني أنشدك عهدك ووعدك، اللهم إن شئت لم تعبد» فأخذ أبو بكر بيده، فقال: حسبك. فخرج وهو يقول: - «سيهزم الجمع ويولون الدبر» .
استنصر المسلمون الله تعالى واستغاثوه..
وأخلطوا له، وتضرعوا إليه، فأوحى الله إلى ملائكته: - «أني معكم فثبتوا الذين آمنوا، سألقي في قلوب الذين كفروا الرعب» «1» .
وكان الحق سبحانه وتعالى أوحى إلى رسوله صلى الله عليه وسلم: - أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُرْدِفِينَ «2» . فقيل: إن المعنى أنهم ردف لكم، وقيل يردف بعضهم بعضا أرسالا، لم يأتوا دفعة واحدة.
قال الإمام ابن قيم الجوزية «3» : -
فإن قيل: ها هنا ذكر أنه أمدهم بألف، ومن سورة آل عمران قال: إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلاثَةِ آلافٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُنْزَلِينَ، بَلى إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ هذا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ آلافٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُسَوِّمِينَ «4» . فكيف الجمع بينهما؟؟؟
قيل إنه قد اختلف من هذا الإمداد الذي بثلاثة آلاف، والذي بخمسة الآلاف على قولين: -
--------------------------------------------
তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের দিন বলেছিলেন: - "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অঙ্গীকার ও ওয়াদার প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি যদি চান তবে আপনার ইবাদত করা হবে না।" তখন আবু বকর তাঁর হাত ধরলেন এবং বললেন: আপনার জন্য এটাই যথেষ্ট। এরপর তিনি বের হলেন এই বলতে বলতে: - "শীঘ্রই এই দল পরাজিত হবে এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়ে যাবে।"
মুসলমানগণ মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলেন এবং তাঁর কাছে ফরিয়াদ জানালেন...
তাঁরা তাঁর জন্য একনিষ্ঠ হলেন এবং তাঁর কাছে বিনয়াবনত হলেন। তখন আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি ওহী পাঠালেন: - "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং তোমরা মুমিনদের অবিচল রাখো। অচিরেই আমি কাফেরদের হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করব।"
আর পরম সত্য মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহী প্রেরণ করেছিলেন: - "আমি তোমাদের এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব যারা একের পর এক আসবে।" বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো তারা তোমাদের অনুগামী হবে। আবার বলা হয়েছে যে তারা একের পর এক দলে দলে আসবে, তারা একবারে আসেনি।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়া বলেছেন: -
যদি বলা হয়: এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি তাদের এক হাজার দিয়ে সাহায্য করেছেন, আর সূরা আলে ইমরানে বলা হয়েছে: "যখন আপনি মুমিনদের বলছিলেন, তোমাদের জন্য কি এটি যথেষ্ট নয় যে তোমাদের রব তোমাদের তিন হাজার অবতীর্ণ ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন? হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা যদি এই মুহূর্তেই তোমাদের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমাদের রব পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন।" তবে এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে???
বলা হয়েছে যে, এই তিন হাজার এবং পাঁচ হাজারের সাহায্যের ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে: -
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أحدهما: أنه كان يوم أحد، وكان إمدادا معلقا على شرط، فلما فات شرطه، فات الإمداد «1» .
ثانيهما: أنه كان يوم بدر «2» . والقائلون بهذا حجتهم أن السياق يدل على ذلك؛ فإنه سبحانه وتعالى قال: - وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ، فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ إِذْ تَقُولُ لِلْمُؤْمِنِينَ أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلاثَةِ آلافٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُنْزَلِينَ، بَلى إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا «3» .
ثم قال عز من قائل: - وَما جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرى لَكُمْ، وَلِتَطْمَئِنَّ قُلُوبُكُمْ بِهِ قال هؤلاء: فلما استغاثوا أمدهم بتمام ثلاثة آلاف، ثم أمدهم بتمام خمسة آلاف، لما صبروا واتقوا، فكان التدريج، ومتابعة الإمداد أحسن موقعا، وأقوى لنفوسهم، وأسر لها من أن يأتي به مرة واحدة وهو بمنزلة متابعة الوحي ونزوله مرة بعد مرة.
قالت الفرقة الأولى: المقصة في سياق أحد، وإنما أدخل ذكر بدر اعتراضا في أثنائها، فإنه سبحانه قال: وَإِذْ غَدَوْتَ مِنْ أَهْلِكَ تُبَوِّئُ الْمُؤْمِنِينَ مَقاعِدَ لِلْقِتالِ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ إِذْ هَمَّتْ طائِفَتانِ مِنْكُمْ أَنْ تَفْشَلا وَاللَّهُ وَلِيُّهُما وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ «4» .
كذلك قوله: وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ «5» . ثم يقول بعدها: فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ فذكرهم نعمته عليهم لما نصرهم يوم بدر، وهم أذلة،
--------------------------------------------
এর একটি হলো: এটি ছিল উহুদ যুদ্ধের দিনে এবং এটি ছিল একটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল সাহায্য; যখন সেই শর্ত পূরণ হয়নি, তখন সাহায্যও আসেনি «১» ।
দ্বিতীয়টি হলো: এটি ছিল বদর যুদ্ধের দিনে «২» । যারা এই মত পোষণ করেন তাদের দলিল হলো যে, প্রসঙ্গের ধারা একথাই নির্দেশ করে; কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: - আর আল্লাহ তো তোমাদের বদর যুদ্ধে সাহায্য করেছেন যখন তোমরা ছিলে হীনবল। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো। স্মরণ করো, যখন তুমি মুমিনদের বলছিলে, তোমাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে প্রেরিত তিন হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন? হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো «৩» ।
অতঃপর পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: - আর আল্লাহ তো একে তোমাদের জন্য কেবল সুসংবাদ করেছেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়। তারা বলেন: সুতরাং যখন তারা ফরিয়াদ করল, তখন তিনি তাদের পূর্ণ তিন হাজার দ্বারা সাহায্য করলেন, অতঃপর যখন তারা ধৈর্য ধরল ও তাকওয়া অবলম্বন করল, তখন তিনি তাদের পূর্ণ পাঁচ হাজার দিয়ে সাহায্য করলেন। সুতরাং এই পর্যায়ক্রমিক ধারা এবং সাহায্যের ধারাবাহিকতা তাদের মনের ওপর অধিক কার্যকর, অধিক শক্তিশালী এবং এককভাবে একবারে সাহায্য আসার চেয়ে অধিক আনন্দদায়ক ছিল; যা অনেকটা ওহীর ধারাবাহিকতা এবং একের পর এক নাযিল হওয়ার মতো।
প্রথম পক্ষ বলেছেন: মূল আলোচনাটি উহুদ যুদ্ধের প্রসঙ্গের সাথে যুক্ত, আর বদর যুদ্ধের উল্লেখ এর মাঝে প্রাসঙ্গিকভাবে আনা হয়েছে। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: স্মরণ করো, যখন তুমি সকালে তোমার পরিজনের নিকট থেকে বের হয়ে মুমিনদের যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন অবস্থানে বিন্যস্ত করছিলে। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। যখন তোমাদের মধ্য থেকে দুটি দল সাহস হারানোর সংকল্প করেছিল, অথচ আল্লাহই ছিলেন তাদের অভিভাবক। আর মুমিনদের উচিত আল্লাহর ওপরই তাওয়াক্কুল করা «৪» ।
তেমনিভাবে তাঁর বাণী: আর আল্লাহ তো তোমাদের বদর যুদ্ধে সাহায্য করেছেন যখন তোমরা ছিলে হীনবল «৫» । এরপরেই তিনি বলছেন: সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো। অতএব, তিনি যখন তাদের বদর যুদ্ধে সাহায্য করেছিলেন তখন তারা হীনবল থাকা অবস্থায় তাদের ওপর তাঁর নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ثم عاد إلى قصة أحد، وقد أخبرهم عن قول رسوله لهم: أَلَنْ يَكْفِيَكُمْ أَنْ يُمِدَّكُمْ رَبُّكُمْ بِثَلاثَةِ آلافٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُنْزَلِينَ.
ثم وعدهم أنهم إن صبروا واتقوا أمدهم بخمسة آلاف، فهذا من قول رسوله، والإمداد الذي ببدر من قوله تعالى: وهذا بخمسة آلاف، وإمداد بدر بألف وهذا معلق على شرط، وذلك مطلق.
والقصة في سورة آل عمران هي قصة أحد مستوفاة مطولة، وفيها ذكرت بدر اعتراضا. والقصة مذكورة مستوفاة مطولة في سورة الأنفال، ولذلك سميت سورة الأنفال ب (سورة بدر) عند بعض العلماء.
فالسياق في (آل عمران) غير السياق في الأنفال، ويوضح هذا أن قوله تعالى: وَيَأْتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ هذا «1» .
وقد قال مجاهد: إنه يوم أحد، وهذا يستلزم أن يكون الإمداد المذكور فيه، فلا يصح قوله إن الإمداد بهذا العدد كان يوم بدر، وإتيانهم من فورهم هذا يوم أحد.
والله تعالى أعلم.
وبات رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي إلى جذع شجرة هناك، وكانت ليلة الجمعة السابع عشر من رمضان من السنة الثانية، فلما أصبحوا، أقبلت قريش في كتائبها، واصطف الفريقان، فمشى حكيم بن حزام، وعتبة بن ربيعة في قريش، أن يرجعوا ولا يقاتلوا فأبى ذلك أبو جهل، وجرى بينه وبين عتبة كلام أحفظه «2» ، وأمر أبو جهل أخا عمرو بن الحضرمي أن يطلب دم أخيه عمرو، فكشف عن إسته «3» ، وصرخ واعمراه، فحمي القوم ونشبت الحرب، وعدّل رسول صلى الله عليه وسلم الصفوف، ثم رجع
--------------------------------------------
এরপর তিনি উহুদ যুদ্ধের ঘটনায় ফিরে গেলেন এবং তাঁর রাসূল তাদের যা বলেছিলেন সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করলেন: "তোমাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, তোমাদের রব তোমাদেরকে প্রেরিত তিন হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন?"
অতঃপর তিনি তাদের ওয়াদা করলেন যে, যদি তারা ধৈর্য ধারণ করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে, তবে তিনি তাদের পাঁচ হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করবেন। সুতরাং এটি ছিল তাঁর রাসূলের কথা। আর বদরের যুদ্ধের সাহায্য ছিল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে: আর এটি ছিল পাঁচ হাজার ফেরেশতা দ্বারা, পক্ষান্তরে বদরের সাহায্য ছিল এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা। আর এটি (উহুদ সংক্রান্ত সাহায্য) ছিল একটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল, আর সেটি (বদর সংক্রান্ত সাহায্য) ছিল নিঃশর্ত।
সূরা আল ইমরানের ঘটনাটি হলো উহুদ যুদ্ধের বিস্তারিত ও দীর্ঘ বর্ণনা, আর এতে বদর যুদ্ধের কথা প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে। আর এই ঘটনাটি বিস্তারিত ও দীর্ঘভাবে সূরা আনফালে বর্ণিত হয়েছে, এই কারণে কোনো কোনো আলেমের নিকট সূরা আনফালকে 'সূরা বদর' নামে অভিহিত করা হয়।
অতএব সূরা আল ইমরানের প্রেক্ষাপট সূরা আনফালের প্রেক্ষাপট থেকে ভিন্ন। মহান আল্লাহর এই বাণীটি এটিই স্পষ্ট করে: "এবং তারা যখন অতর্কিতে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে।"
মুজাহিদ (রহ.) বলেছেন: এটি ছিল উহুদ যুদ্ধের দিনে। আর এর দাবি হলো যে, এতে উল্লিখিত সাহায্যটি সেই দিনেরই হতে হবে। সুতরাং এই কথা সঠিক নয় যে, এই সংখ্যার সাহায্যটি বদরের দিনে ছিল এবং তাদের অতর্কিতে আসাটা উহুদের দিনে ছিল।
আর মহান আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে একটি গাছের গুঁড়ির দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে রাত অতিবাহিত করলেন। সেটি ছিল দ্বিতীয় হিজরীর সতেরো রমজান জুমার রাত। যখন ভোর হলো, কুরাইশরা তাদের সেনাদল নিয়ে এগিয়ে এল এবং উভয় পক্ষ সারিবদ্ধ হলো। তখন হাকিম ইবনে হিজাম এবং উতবাহ ইবনে রাবিআ কুরাইশদের নিকট এই মর্মে গেলেন যে, তারা যেন ফিরে যায় এবং যুদ্ধ না করে। কিন্তু আবু জাহল তা অস্বীকার করল। তার ও উতবাহর মধ্যে এমন কথা বিনিময় হলো যা তাকে রাগান্বিত করে তুলল। এরপর আবু জাহল আমর ইবনুল হাদরামীর ভাইকে নির্দেশ দিল যেন সে তার ভাই আমরের রক্তের বদলা চায়। তখন সে তার পশ্চাদ্দেশ উন্মুক্ত করল এবং চিৎকার করে বলতে লাগল: "হায় আমর!"। এতে লোকগুলো উত্তেজিত হয়ে উঠল এবং যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাতারগুলো সোজা করলেন, এরপর তিনি ফিরে আসলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
إلى العريش هو وأبو بكر- رضي الله عنه خاصة وقام سعد بن معاذ في قوم من الأنصار على باب العريش يحمون رسول صلى الله عليه وسلم.
وخرج عتبة وشيبة ابنا ربيعة والوليد بن عتبة يطلبون المبارزة، فخرج إليهم ثلاثة من الأنصار، عبد الله بن رواحة، وعوف، ومعوذ ابنا عفراء، فقالوا لهم: من أنتم؟ فقالوا: من الأنصار قالوا: أكفاء كرام، وإنما نريد بني عمنا، فبرز إليهم علي، وعبيدة بن الحارث وحمزة، فقتل علي قرنه الوليد، وقتل حمزة قرنه عتبة، وقيل شيبة، واختلف عبيدة وقرنه ضربتين، فكرّ عليّ وحمزة على قرن عبيدة فقتلاه، واحتملا عبيدة، وقد قطعت رجله فلم يزل ضمنا حتى مات بالصفراء.
وكان علي يقسم بالله لنزلت هذه الآية فيهم: هذانِ خَصْمانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ «1» .
ثم حمي الوطيس، واستدارت رحى الحرب، واشتد القتال وأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم في الدعاء والإبتهال ومناشدة ربه عز وجل حتى سقط رداؤه عن منكبيه، فرده عليه الصديق، وقال: بعض مناشدتك ربك فإنه منجز لك ما وعدك.
فأغفى رسول الله صلى الله عليه وسلم إغفاءة واحدة، وأخذ القوم النعاس في حال الحرب، ثم رفع رسول الله صلى الله عليه وسلم رأسه فقال: أبشر يا أبا بكر، هذا جبريل على ثناياه النقع» .
وجاء النصر، وأنزل الله جنده وأيد الله رسوله والمؤمنين ومنحهم أكتاف المشركين أسرى وقتلى، فقتلوا منهم سبعين، وأسروا سبعين.
ولما عزموا على الخروج، ذكروا ما بينهم وبين بني كنانة من الحرب، فتبدى لهم إبليس في صورة سراقة المدلجي (سراقة ابن مالك) وكان من أشراف بني كنانة، فقال لهم: لا غالب لكم اليوم من الناس، وإني جار لكم من أن تأتيكم كنانة بشيء تكرهونه، فخرجوا، والشيطان جار لهم، لا يفارقهم، فلما تعبأوا للقتال، ورأى
--------------------------------------------
তিনি এবং বিশেষভাবে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেই কুঁড়েঘরের (আরীশ) দিকে গেলেন এবং সাদ বিন মুয়াজ আনসারদের একটি দল নিয়ে কুঁড়েঘরের দরজায় অবস্থান নিলেন যাতে তাঁরা আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রক্ষা করতে পারেন।
অতঃপর রবীআর দুই ছেলে উতবা ও শায়বা এবং উতবার ছেলে ওয়ালিদ দ্বৈরথের আহ্বান জানিয়ে বের হলো। তখন তাদের মুকাবিলায় আনসারদের মধ্য থেকে তিনজন—আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা এবং আফরার দুই ছেলে আওফ ও মুআউয়াজ—এগিয়ে এলেন। তারা (কুরাইশরা) জিজ্ঞেস করল: তোমরা কে? তারা উত্তর দিল: আমরা আনসার। তারা বলল: তোমরা সম্মানিত সমকক্ষ, কিন্তু আমরা আমাদের চাচাতো ভাইদের (কুরাইশদের) চাই। তখন আলী, উবাইদাহ ইবনুল হারিস এবং হামজা তাদের মুকাবিলায় বেরিয়ে এলেন। আলী তাঁর প্রতিপক্ষ ওয়ালিদকে হত্যা করলেন এবং হামজা তাঁর প্রতিপক্ষ উতবাকে (মতান্তরে শায়বাকে) হত্যা করলেন। উবাইদাহ এবং তাঁর প্রতিপক্ষ একে অপরকে দুটি আঘাত করলেন। এরপর আলী ও হামজা উবাইদাহর প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে হত্যা করলেন এবং উবাইদাহকে বহন করে নিয়ে এলেন। উবাইদাহর পা কেটে গিয়েছিল এবং তিনি অসুস্থ অবস্থায় সাফরা নামক স্থানে মৃত্যু পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর নামে শপথ করে বলতেন যে, এই আয়াতটি তাঁদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয়েছিল: "এই দুই পক্ষ যারা তাদের প্রতিপালকের বিষয়ে বিতর্ক করে।" (১)
এরপর যুদ্ধের ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠল, যুদ্ধের চাকা ঘুরতে শুরু করল এবং লড়াই তীব্রতর হলো। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মহামহিম প্রতিপালকের কাছে অত্যন্ত বিনয় ও আকুতির সাথে দুআ ও প্রার্থনা শুরু করলেন, এমনকি তাঁর কাঁধ থেকে চাদর পড়ে গেল। তখন সিদ্দীক (আবু বকর) সেটি তুলে তাঁর গায়ে জড়িয়ে দিলেন এবং বললেন: আপনার প্রতিপালকের কাছে আপনার প্রার্থনা যথেষ্ট হয়েছে, নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন।
এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুটা সময়ের জন্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেন এবং যুদ্ধের সেই পরিস্থিতিতে সাহাবীগণের ওপরও তন্দ্রাচ্ছন্নতা ছেয়ে গেল। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মাথা তুললেন এবং বললেন: "হে আবু বকর, সুসংবাদ গ্রহণ করো! এই যে জিবরাঈল, যাঁর সামনের দাঁতগুলোতে যুদ্ধের ধুলো লেগে আছে।"
অবশেষে বিজয় এলো এবং আল্লাহ তাঁর সেনাবাহিনী প্রেরণ করলেন। আল্লাহ তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সাহায্য করলেন এবং মুশরিকদের পরাজিত করে তাদের হত্যা ও বন্দী করার সুযোগ দিলেন। ফলে তাঁরা (মুমিনরা) সত্তরজনকে হত্যা করলেন এবং সত্তরজনকে বন্দী করলেন।
যখন তারা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সংকল্প করল, তখন বনু কিনানার সাথে তাদের পূর্ববর্তী যুদ্ধের কথা স্মরণ হলো। তখন ইবলিস তাদের সামনে সুরাকা বিন মালিক আল-মাদলাজির আকৃতিতে উপস্থিত হলো, যে ছিল বনু কিনানার একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। সে তাদের বলল: আজ মানুষের মধ্যে তোমাদের ওপর জয়ী হওয়ার কেউ নেই এবং আমি তোমাদের আশ্রয়দাতা যাতে কিনানা গোত্র তোমাদের অপছন্দনীয় কোনো ক্ষতি করতে না পারে। ফলে তারা বের হলো এবং শয়তান তাদের সঙ্গী হলো, সে তাদের ছেড়ে গেল না। যখন তারা যুদ্ধের জন্য কাতারবদ্ধ হলো এবং সে (শয়তান) দেখল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গাযওয়াতুন নবী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
عدو الله جند الله قد نزلت من السماء، فرّ ونكص على عقبيه، فقالوا: إلى أين يا سراقة؟ ألم تكن قلت: إنك جار لنا لا تفارقنا؟، فقال: إني أرى ما لا ترون. إني أخاف الله والله شديد العقاب. وصدق في قوله: «إني أرى ما لا ترون» وكذب في قوله: «إني أخاف الله» وقيل: كان خوفه على نفسه أن يهلك معه، وهذا أظهر.
ولما رأى المنافقون، ومن في قلبه مرض قلة حزب الله، وكثرة أعدائه ظنوا أن الغلبة إنما هي بالكثرة، وقالوا: «غَرَّ هؤُلاءِ دِينُهُمْ» «1» فأخبر سبحانه وتعالى أن النصر بالتوكل عليه، لا بالكثرة ولا بالعدد، والله عزيز لا يغالب، حكيم ينصر من يستحق النصر، وإن كان ضعيفا فعزته وحكمته أوجبت نصر الفئة المتوكلة عليه.
ولما دنا العدو، وتواجه القوم، قام رسول الله صلى الله عليه وسلم في الناس فوعظهم، وذكرهم بما لهم في الصبر والثبات من النصر، والظفر العاجل، وثواب الله الآجل وأخبرهم أن الله قد أوجب الجنة لمن استشهد في سبيله فقام عمير بن الحمام فقال: يا رسول الله، جنة عرضها السموات والأرض؟ قال نعم، بخ بخ «2» ؟ قال: لا، والله يا رسول الله، إلا رجاء أن أكون من أهلها، قال: - «فإنك من أهلها» قال: فأخرج ثمرات «3» من قرنه فجعل يأكل منهن، ثم قال: لئن حييت حتى آكل من تمراتي هذه، إنها لحياة طويلة، فرمى بما كان معه من التمر، ثم قاتل حتى قتل، فكان أول قتيل.
وأخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم ملء كفيه من الحصباء فرمى به وجوه العدو «4» ، فلم تترك
--------------------------------------------
আল্লাহর শত্রু যখন আল্লাহর বাহিনীকে আকাশ থেকে নামতে দেখল, সে পিছু হটে গেল এবং নিজের গোড়ালির ওপর ভর করে ফিরে গেল। তখন তারা বলল: হে সুরাকা, তুমি কোথায় যাচ্ছ? তুমি কি বলনি যে তুমি আমাদের প্রতিবেশী এবং আমাদের ছেড়ে যাবে না? সে বলল: আমি তা দেখতে পাচ্ছি যা তোমরা দেখছ না। আমি আল্লাহকে ভয় করি এবং আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। তার এই কথায় সে সত্যবাদী ছিল যে "আমি তা দেখতে পাচ্ছি যা তোমরা দেখছ না", কিন্তু তার এই কথায় সে মিথ্যাবাদী ছিল যে "আমি আল্লাহকে ভয় করি"। বলা হয় যে, তার ভয় ছিল নিজের জীবনের ওপর যে সে হয়তো তাদের সাথে ধ্বংস হয়ে যাবে, আর এটাই অধিক স্পষ্ট।
যখন মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল তারা আল্লাহর দলের স্বল্পতা এবং তাদের শত্রুদের আধিক্য দেখল, তারা ধারণা করল যে বিজয় কেবল সংখ্যাধিক্যের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। তারা বলল: "তাদের ধর্ম এদেরকে ধোঁকায় ফেলেছে" (১)। তখন মহান আল্লাহ সংবাদ দিলেন যে, সাহায্য আসে কেবল তাঁর ওপর ভরসা করার মাধ্যমে, সংখ্যাধিক্য বা সংখ্যার আধিক্যের মাধ্যমে নয়। আল্লাহ পরাক্রমশালী, যাকে পরাজিত করা যায় না, এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, যিনি তাকেই সাহায্য করেন যে সাহায্যের যোগ্য, যদিও সে দুর্বল হয়। তাঁর মর্যাদা ও প্রজ্ঞা তাঁর ওপর ভরসাকারী দলটিকে সাহায্য করা আবশ্যক করে দিয়েছে।
যখন শত্রু নিকটবর্তী হলো এবং উভয় দল মুখোমুখি হলো, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের মাঝে দাঁড়ালেন এবং তাদের উপদেশ দিলেন। তিনি ধৈর্য ও অটল থাকার বিনিময়ে যে বিজয়, তাৎক্ষণিক সফলতা এবং আল্লাহর পরকালীন পুরস্কার রয়েছে তা তাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি তাদের সংবাদ দিলেন যে, যারা আল্লাহর পথে শহীদ হবে তাদের জন্য আল্লাহ জান্নাত আবশ্যক করেছেন। তখন উমায়ের ইবনুল হুমাম দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এমন জান্নাত যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: চমৎকার, চমৎকার (২)! তিনি বললেন: কেন চমৎকার বললে? সে বলল: না, আল্লাহর শপথ হে আল্লাহর রাসূল, কেবল এই আশায় যে আমি যেন এর অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি এর অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত"। বর্ণনাকারী বলেন: তখন সে তার তীরের তূণ (৩) থেকে কয়েকটি খেজুর বের করল এবং তা থেকে খেতে লাগল। তারপর সে বলল: আমি যদি এই খেজুরগুলো শেষ করা পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তবে তা হবে এক দীর্ঘ জীবন। এরপর সে তার সাথে থাকা খেজুরগুলো ফেলে দিল এবং যুদ্ধ করতে লাগল যতক্ষণ না সে শহীদ হলো। সে ছিল প্রথম শহীদ।
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দুই হাতের মুষ্টি ভরে কঙ্কর নিলেন এবং শত্রুদের চেহারার দিকে তা ছুড়ে মারলেন (৪)। ফলে তা কাউকেই বাদ রাখল না...
--------------------------------------------