(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: -)
العمدة في إعراب البردة قصيدة البوصيري القسم: النحو والصرف
الكتاب: العمدة في إعراب البردة قصيدة البوصيري
المؤلف: مؤلف (العمدة في إعراب البردة) - مجهول (لعله من القرن التاسع)
تحقيق: عبد الله أحمد جاجة
تقديم: محمد علي سلطاني
الناشر: دار اليمامة للطباعة والنشر- دمشق
الطبعة: الأولى - 1423 هـ
عدد الصفحات: 224
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-উমদাহ ফি ই'রাব আল-বুরদাহ কাসিদা আল-বুসিরি বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: আল-উমদাহ ফি ই'রাব আল-বুরদাহ কাসিদা আল-বুসিরি
লেখক: (আল-উমদাহ ফি ই'রাব আল-বুরদাহ)-এর লেখক - অজ্ঞাত (مجهول) (সম্ভবত নবম হিজরি শতকের)
তাহকিক: আবদুল্লাহ আহমদ জাজাহ
উপস্থাপনা: মুহাম্মদ আলি সুলতানি
প্রকাশক: দার আল-ইয়ামামাহ লিত-তিবাআ ওয়ান-নাশর - দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম - ১৪২৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديمبسم الله الرحمن الرحيم
تعدّ حركة إحياء التراث في حياة الأمم والشعوب تعبيرا حيا مصمّما للحفاظ على قيم الجماعة وفكرها، وتأكيد أصالتها واستمرار وجودها.
وقد عرف التراث العربي مثل هذه الحركة الحية غير مرة في تاريخه الطويل، كان آخرها ما يشهده العالم في هذا منذ نحو قرن من الزمان.
ومن عجب أن هذا المدّ الزاخر من إقبال الأجيال المتلاحقة على تحقيق نصوص التراث العربي والإسلامي لم تهدأ فورته، ولم تخمد شعلته
… بل زادها تعاقب الأعوام وعقودها قوة وصلابة ونضجا، وغدا أبناؤها يقبلون عليها بوعي كامل، وإيمان عميق بأن كل نص تراثي يخرج إلى النور إنما يؤدي غرضا متعدد الجوانب
… إذ يكشف عن جانب متفوق فيما غبر من حضارة الأمة من جهة، ويشكل لبنة قوية تأخذ مكانها في صرح هذه الحضارة الشامخ فتسهم بدورها في سموه ورسوخه من جهة أخرى، كما تعد شعاعا ساطعا يضيء للأجيال طريق المستقبل المتصل الحلقات بالماضي العريق بعد ذلك.
ومما يسعد النفس ويبقي على نضارة الامال؛ أن نجد هذا الميدان التراثي الأصيل تمور في جنباته همم عليمة شابة، وكان المظنون لدى بعض أهل العلم أنه قاصر على علم الشيوخ في طول صبرهم ومعاناتهم.
উপস্থাপনাবিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
জাতি ও গোষ্ঠীর জীবনে ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ আন্দোলন হলো তাদের মূল্যবোধ ও চিন্তাধারাকে রক্ষা করার এবং তাদের মৌলিকত্ব ও অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সুপরিকল্পিত জীবন্ত অভিব্যক্তি।
আরবি ঐতিহ্য তার দীর্ঘ ইতিহাসে একাধিকবার এই ধরনের প্রাণবন্ত আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছে, যার সর্বশেষটি বিশ্ব গত প্রায় এক শতাব্দী ধরে প্রত্যক্ষ করছে।
আশ্চর্যের বিষয় এই যে, আরবি ও ইসলামি ঐতিহ্যের পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق)-এর প্রতি পরবর্তী প্রজন্মের এই যে প্রবল আগ্রহের জোয়ার, তার বেগ যেমন কমেনি, তেমনি তার শিখাও নির্বাপিত হয়নি
… বরং বছরের পর বছর এবং দশকের পর দশক অতিক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে এর শক্তি, দৃঢ়তা ও পরিপক্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ এ প্রজন্মের সন্তানেরা পূর্ণ সচেতনতা এবং এই গভীর বিশ্বাস নিয়ে এর দিকে অগ্রসর হচ্ছে যে, আলোর মুখ দেখা প্রতিটি মূল পাঠ (نص) বহুমুখী উদ্দেশ্য সাধন করে
… কারণ একদিকে এটি উম্মাহর বিগত সভ্যতার এক শ্রেষ্ঠত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে, আর অন্যদিকে এটি এই সভ্যতার সুউচ্চ প্রাসাদে একটি শক্তিশালী ইটের ন্যায় স্থান করে নেয়, যা এর উচ্চতা ও স্থায়িত্বে অবদান রাখে। তদুপরি, এটি একটি উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুদূর অতীতের সাথে যুক্ত ভবিষ্যতের পথকে আলোকিত করে।
যা আত্মাকে আনন্দিত করে এবং আশাকে সজীব রাখে তা হলো, ঐতিহ্যের এই মৌলিক ময়দানে আমরা তরুণ জ্ঞানপিপাসুদের হিম্মত বা সংকল্পের জোয়ার দেখতে পাচ্ছি; অথচ কিছু বিদগ্ধ পণ্ডিতের ধারণা ছিল যে, এটি কেবল দীর্ঘ ধৈর্য ও কঠোর সাধনার অধিকারী শায়খ (شيوخ)-দের জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৬)
غير أن الأمر تجاوز هذا التصور المحدود، وأقبلت جموع الشباب المتخصص على هذه التركة الجليلة من أسفار التراث العربي الإسلامي، بعلومه المتنوعة، وفنونه المتشعبة، تنتخب من أصداغها الدرر الثمينة وتنشرها على العالم باهرة متقدمة، لتكون الأساس المتين الذي يرتفع عليه بناء الأمة المجيد وحضارتها التليدة المتجددة.
وقد نهضت أقسام الدراسات العليا ورسائلها لنيل الدرجات العلمية بقسط وافر من هذه المهمة الدقيقة الشاقة
… غير أن الذين أقدموا على هذا العمل من غير هذه الفئة كثيرون، يحدوهم إلى هذا إيمان صادق بجلال الطريق وسمو المقصد
… فجعلوا التوغل في شعاب التحقيق شغلهم في أوقات الراحة، وراحتهم عند الكلال والعناء
… فهم يستعذبون من هذا العناء ما تسمو به هممهم وعقولهم، وتنتشي بالإسهام به مشاعرهم وأرواحهم إذ يقدّمون إلى الأجيال الصاعدة جرعة سائغة من جهود أجيال البناء السالفين.
وممن يعدّ في هؤلاء العاملين المخلصين؛ محقق هذا الأثر النفيس عبد الله الجاجة بعد تخرجه في قسم اللغة العربية بجامعة حلب؛ فقد هداه ميله الغلاب إلى النحو والصرف إلى اختيار مخطوط «العمدة في إعراب البردة» .
وما الإعراب سوى شرح للمعنى بمصطلحات نحوية، بل إنه تتبع للطائف المعاني متوسلا بشعاع الإعراب النحوي.
أما المتن محور عناية الإعراب؛ فهو أثر شعري باهر من تراث القرن السابع الهجري، إنه بردة البوصيري ذات الشهرة الذائعة والمعارضات الكثيرة عبر العصور، حتى لم يخل عصر من إمام يعارض قصيدة البردة هذه
…فالأثر نفيس في متنه، وشرحه، ومعارضاته وإعرابه.
وأما صاحب الإعراب؛ فالراجح أنه أحد أبرز أعلام القرن الثامن أو التاسع الهجري، ولا يضيره أن يسقط اسمه من يد الزمان فقد عوّض من ذلك هذا
তবে বিষয়টি কেবল এই সীমাবদ্ধ ধারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বিশেষজ্ঞ যুবসমাজের এক বিশাল অংশ আরবি-ইসলামি ঐতিহ্যের এই মহান উত্তরাধিকারের প্রতি ধাবিত হয়েছে, যার জ্ঞান ও শাখা-প্রশাখা বৈচিত্র্যময়। তারা এই ভাণ্ডার থেকে মূল্যবান মণি-মুক্তা আহরণ করে বিশ্ববাসীর সামনে উজ্জ্বল ও অগ্রগামী রূপে উপস্থাপন করছে, যাতে এটি সেই সুদৃঢ় ভিত্তি হতে পারে যার ওপর উম্মাহর গৌরবময় সৌধ এবং তার প্রাচীন ও নবায়নযোগ্য সভ্যতা গড়ে উঠবে।
উচ্চশিক্ষা বিভাগসমূহ এবং ডিগ্রি অর্জনের জন্য লিখিত অভিসন্দর্ভগুলো এই সূক্ষ্ম ও শ্রমসাধ্য কাজের একটি বড় অংশ সম্পন্ন করেছে
… তবে এই শ্রেণির বাইরে থেকেও যারা এ কাজে এগিয়ে এসেছেন তাদের সংখ্যা অনেক। এই পথের মহিমা এবং লক্ষ্যের উচ্চতার প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাসই তাদের এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে
… ফলে তারা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (تحقيق) জটিল পথ অনুসন্ধান করাকেই তাদের অবসরের কাজ এবং ক্লান্তিতে প্রশান্তির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন
… তারা এই পরিশ্রমের মধ্যে এমন মিষ্টতা অনুভব করেন যা তাদের সংকল্প ও প্রজ্ঞাকে উন্নত করে এবং এর মাধ্যমে তাদের অনুভূতি ও আত্মা তৃপ্ত হয়, যখন তারা আগামী প্রজন্মের সামনে পূর্ববর্তী নির্মাতা প্রজন্মের প্রচেষ্টার এক সাবলীল নির্যাস তুলে ধরেন।
এই একনিষ্ঠ কর্মীদের মধ্যে অন্যতম হলেন এই মূল্যবান নিদর্শনের সম্পাদক (محقق) আবদুল্লাহ আল-জাজাহ। আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর নাহু ও সরফের প্রতি তার প্রবল ঝোঁক তাকে 'আল-উমদাহ ফি ইরাবিল বুরদাহ' নামক পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) নির্বাচন করতে অনুপ্রাণিত করে।
ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) মূলত ব্যাকরণিক পরিভাষার মাধ্যমে অর্থের ব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়; বরং এটি ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) আলোকচ্ছটার সাহায্যে অর্থের সূক্ষ্ম গূঢ় রহস্যসমূহ অন্বেষণ করা।
আর মূল পাঠ (متن), যা এই বিশ্লেষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু; তা হলো হিজরি সপ্তম শতাব্দীর ঐতিহ্যের এক চমৎকার কাব্যিক নিদর্শন। এটি বুসিরির বুরদাহ, যা বিশ্বজুড়ে সুপ্রসিদ্ধ এবং যুগ যুগ ধরে এর অসংখ্য অনুকরণধর্মী কবিতা (معارضات) রচিত হয়েছে। এমনকি এমন কোনো যুগ অতিবাহিত হয়নি যেখানে কোনো ইমাম এই বুরদাহ কাসিদার অনুকরণে কোনো কবিতা রচনা করেননি
…সুতরাং এই নিদর্শনটি তার মূল পাঠ (متن), এর ব্যাখ্যা, এর অনুকরণধর্মী রচনা (معارضات) এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) দিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান।
আর এই ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) রচয়িতা সম্পর্কে অধিকতর সঠিক (الراجح) তথ্য হলো, তিনি হিজরি অষ্টম বা নবম শতাব্দীর অন্যতম প্রখ্যাত মনীষী ছিলেন। কালের প্রবাহে তার নাম হারিয়ে যাওয়া তার কোনো ক্ষতি করে না, কারণ তার এই অনন্য কর্মই সেই অভাব পূর্ণ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৭)
العمل نفسه في غزارة علمه، وسداد منهجه، وعموم نفعه، وامتداد تأثيره
… فكان ممن تأثر به العلامة بدر الدين الغزي 904- 984 هـ.
والعلامة الباجوري ت (1276) هـ صاحب (حاشية الباجوري على البردة) وأحد أعلام القرن الثالث عشر الهجري.
فقد احتذى عالمنا معرب البردة في جملة ما صنع وكثير من تفصيله، إذ عمد إلى شرح البردة وإعرابها مقتبسا مواقف من الشرح، ووجوها كثيرة من الإعراب، مما تتبدّى الإشارة إليه في حواشي التحقيق.. وفي ذلك شهادة من أحد أعيان العلماء على رفعة ما قدمه ذلك الجندي «المجهول» في عمله الذي يقدمه المحقق لقراء العربية وعارفي مكانة النحو، عسى الله أن ينفع به.
والحمد لله رب العالمين.
اد. محمد علي سلطاني
এই কর্মটি তার ইলমের গভীরতা, কর্মপদ্ধতির সঠিকতা, উপযোগিতার ব্যাপকতা এবং প্রভাবের দীর্ঘস্থায়িত্বের সাক্ষ্য দেয়
… যারা এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহাপন্ডিত (علامة) বদরুদ্দীন আল-গাজ্জী (৯০৪-৯৮৪ হিজরী)।
এবং মহাপন্ডিত (علامة) আল-বাজুরী (মৃত্যু ১২৭৬ হিজরী), যিনি (হাশিয়া আল-বাজুরী আলা আল-বুরদাহ) এর রচয়িতা এবং হিজরী ত্রয়োদশ শতাব্দীর অন্যতম বরণীয় ব্যক্তিত্ব (أعلام)।
বুরদাহ-এর বাক্যতাত্ত্বিক বিশ্লেষণকারী (معرب) আমাদের এই আলেম তার সামগ্রিক কর্মতৎপরতা ও বিস্তারিত বর্ণনার অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন; কেননা তিনি বুরদাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) এবং বাক্যতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের (إعراب) দিকে মনোনিবেশ করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি মূল ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি এবং বাক্যতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের (إعراب) বিবিধ দিক গ্রহণ করেছেন, যা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق)-এর টীকাগুলোতে (حواشي) স্পষ্টভাবে নির্দেশিত হয়েছে। এটি প্রথিতযশা আলেমদের পক্ষ থেকে সেই «অজ্ঞাত» সৈনিকের কাজের শ্রেষ্ঠত্বের এক সাক্ষ্য, যা পাণ্ডুলিপি সম্পাদক (محقق) বর্তমানে আরবি ভাষার পাঠক এবং নাহু শাস্ত্রের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের সামনে উপস্থাপন করছেন। আশা করা যায় আল্লাহ এর মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করবেন।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলী সুলতানি
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةإنّ تراث الأمة جزء أصيل من كيانها ووجودها، وبإحيائه وابتعاثه تتسامى في مشارف المجد والحضارة، ونحن العرب نملك من التراث في صنوف العلم والمعرفة تركة كبيرة خلّفها لنا آباؤنا وعلماؤنا الأوائل، وتشتد حاجتنا إلى إحياء هذا التراث محققا على أسس علمية قويمة لتعم به الفائدة الكبيرة التي تعود على أيدي الطلاب الدارسين والباحثين بالمنفعة العظيمة.
ومن أهم العلوم العربية التي اهتم بها العرب والمسلمون على مر العصور، علم النحو والصرف، لما له من الأثر العظيم في تقويم اللسان، وصيانة اللغة، وفهم معاني الشعر، وتوجيه معاني القرآن الكريم ومعرفة الحديث الشريف، فيكون استنباط الأحكام منهما على نحو سديد.
وهذا العلم ينمو ويتزايد، وتتشعب فيه الاراء وتختلف المذاهب، وتعقد له المناظرات في الكوفة والبصرة وبغداد وفي الشام ومصر والقيروان وبلاد الأندلس وغيرها من العواصم العربية.
وإن للشعر العربي دورا كبيرا في إعطاء صورة واضحة عن حياة العرب والمسلمين منذ الجاهلية حتى يومنا هذا؟
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
ভূমিকাউম্মাহর ঐতিহ্য তার সত্তা ও অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একে পুনরুজ্জীবিত ও বিকশিত করার মাধ্যমেই একটি জাতি গৌরব ও সভ্যতার উচ্চশিখরে আরোহণ করে। আমরা আরব জাতি, জ্ঞান ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আমাদের পূর্বসূরি ও আদি আলিমগণের রেখে যাওয়া এক বিশাল ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। সুদৃঢ় বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর এই ঐতিহ্যকে সম্পাদিত ও পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তা আজ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মাধ্যমে এর ব্যাপক সুফল ও মহান উপকার সাধিত হয়।
যুগ যুগ ধরে আরব ও মুসলিমদের নিকট গুরুত্ব পাওয়া অন্যতম প্রধান আরবি বিজ্ঞান হলো নাহু ও সরফ বিজ্ঞান। জিহ্বাকে ত্রুটিমুক্ত রাখা, ভাষা সংরক্ষণ করা, কবিতার অর্থ অনুধাবন করা এবং কুরআন মাজিদের অর্থের সঠিক দিকনির্দেশনা ও হাদিস অনুধাবনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অপরিসীম। এর মাধ্যমেই উক্ত দুই উৎস থেকে সঠিক পদ্ধতিতে বিধানসমূহ (أحكام) আহরণ করা সম্ভব হয়।
এই বিজ্ঞান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি ও বিকশিত হচ্ছে, এতে বিভিন্ন মতের বিস্তার ঘটছে এবং মাযহাবসমূহ (المذاهب) ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিচ্ছে। কুফা, বসরা, বাগদাদ, সিরিয়া, মিশর, কাইরোয়ান এবং আন্দালুসসহ অন্যান্য আরব রাজধানীগুলোতে এ বিষয়ে তাত্ত্বিক বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
জাহেলি যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আরব ও মুসলিমদের জীবনধারা সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে আরবি কবিতার এক বিশাল ভূমিকা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৯)
ومن أجل الدراسات القرآنية والشعرية تعددت المناظرات، واحتدم النقاش وكثر الجدل، وفاضت كتب النحو بمعين لا ينضب من هذه المناظرات والمناقشات، وقصيدة «البردة» للبوصيري من أهم القصائد الشعرية في المديح النبوي، فهي مصدر وحي لكثير من القصائد التي أنشئت بعد البوصيري في مدح الرسول، ومن جوانب الأهمية في قصيدة البردة شراحها من علماء العربية البارزين وفي شروحهم من الفوائد النحوية، والصرفية، والبلاغية، واللغوية، والأدبية والتاريخية، الشيء الكثير.
وإنني أشكر أستاذنا الدكتور محمد علي سلطاني على جهده في مراجعته لمتن المخطوط وتقديمه له وقد عملت بتعاليمه وإرشاداته، فله مني جزيل الشكر.
وترجع صلتي بموضوع هذه الرسالة بعدما تخرجت في جامعة حلب عام 1979. وكنت أنوي متابعة الدراسات العليا في جامعة دمشق، وفي عام 1982 سافرت خارج القطر إلى الكويت للتدريس في مدارسها.
دمشق- الكسوة
কুরআনিক ও কাব্যিক গবেষণার উদ্দেশ্যে বহু বিতর্ক সংঘটিত হয়েছে, আলোচনা গভীর হয়েছে এবং বাদানুবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ এই সকল বিতর্ক ও পর্যালোচনার এক অক্ষয় ফল্গুধারায় সিক্ত। আল-বুসিরি রচিত ‘আল-বুরদাহ’ কাসিদাটি নবি স্তুতির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান কাব্য। এটি আল-বুসিরির পরবর্তী সময়ে রাসুলুল্লাহর প্রশংসায় রচিত বহু কাসিদার অনুপ্রেরণার উৎস। আল-বুরদাহ কাসিদার গুরুত্বের অন্যতম দিক হলো এর বিশিষ্ট আরবি ভাষাবিদ ব্যাখ্যাকারগণ; তাঁদের সংকলিত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে প্রচুর পরিমাণে নাহু, সরফ, বালাগাত, ভাষাতাত্ত্বিক, সাহিত্যিক এবং ঐতিহাসিক বহুবিধ ফায়দা বিদ্যমান।
পাণ্ডুলিপির মূল পাঠ (متن) পর্যালোচনা এবং এর উপস্থাপনায় আমাদের উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ আলী সুলতানির পরিশ্রমের জন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি তাঁর শিক্ষা ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছি; তাঁর প্রতি আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুকরিয়া।
এই অভিসন্দর্ভের বিষয়ের সাথে আমার সম্পৃক্ততা ১৯৭৯ সালে আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পরবর্তী সময়ের। আমি দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম এবং ১৯৮২ সালে দেশের বাইরে কুয়েতে শিক্ষকতার উদ্দেশ্যে গমন করি।
দামেস্ক - আল-কিসওয়াহ
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ১০)
المخطوطقمت بتصوير المخطوط من المكتبة الظاهرية بدمشق، وعدد أوراقه سبع وعشرون ورقة. تحت (8453) .
وصف مخطوط العمدة في إعراب البردة. كما جاء في فهرس مخطوطات دار الكتب الظاهرية علوم اللغة العربية (النحو) «1» .
حاول مؤلفها المجهول أن يعرب جميع أبيات البردة التي نظمها الشاعر:
(شرف الدين أبو عبد الله البوصيري) 696/ هـ في مدح الرسول صلى الله عليه وسلم، ويبين غريب ما تيسر من لغاتها، ويضبط ما أشكل من ألفاظها ليسهل تناولها على حفاظها.
أول المخطوط بعد البسملة: «الحمد لله الذي رفع قدر من اختاره من عباده واصطفاه، ونصب الدليل على وحدانيته فليس لنا إلاه
… الخ» .
وآخره قوله: «
… بالنغم، بفتح النون والغين المعجمة: جار ومجرور متعلق بأطرب والباء للاستعانة» يلي ذلك تاريخ الفراغ من النسخ الاثنين 11 ذي القعدة سنة 1179 هـ، فاسم الناسخ: عبد الله الغبيط الشافعي» ولم يذكر مكان النسخ.
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপিআমি দামেস্কের আল-মাকতাবাতুজ জাহিরিয়া থেকে পাণ্ডুলিপিটি সংগ্রহ (ফটোকপি) করেছি, যার পত্রসংখ্যা সাতাশটি। এটি (৮৪৫৩) নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত।
'আল-উমদাহ ফি ই'রাবিল বুরদাহ' পাণ্ডুলিপিটির বিবরণ; যেমনটি দারুল কুতুব আল-জাহিরিয়ার পাণ্ডুলিপি ক্যাটালগ, আরবি ভাষাবিজ্ঞান (ব্যাকরণ) '১'-এ বর্ণিত হয়েছে।
এর অজ্ঞাত (مجهول) লেখক কবি কর্তৃক রচিত বুরদাহ-র সকল পঙক্তির ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ই'রাব) করার প্রয়াস পেয়েছেন, যা কবি:
(শরাফ উদ্দিন আবু আবদুল্লাহ আল-বুসিরি) মৃত্যু ৬৯৬ হিজরি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় রচনা করেছেন। লেখক এতে পাণ্ডুলিপির ভাষার সহজলভ্য অপরিচিত (غريب) বিষয়াবলি ব্যাখ্যা করেছেন এবং অস্পষ্ট শব্দগুলোর উচ্চারণ সঠিক করে দিয়েছেন যাতে মুখস্থকারীদের জন্য তা গ্রহণ করা সহজ হয়।
বিসমিল্লাহর পর পাণ্ডুলিপির প্রারম্ভিক অংশ: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে মনোনীত করেছেন ও পছন্দ করেছেন তার মর্যাদা সমুন্নত করেছেন এবং তাঁর একত্ববাদের ওপর প্রমাণাদি স্থাপন করেছেন, সুতরাং তিনি ব্যতীত আমাদের কোনো উপাস্য নেই... ইত্যাদি।"
আর এর শেষাংশ হলো: "... 'বিন-নাগাম', নুন এবং মু'জামাহ গাইন (বিন্দুযুক্ত গাইন)-এ জবরসহ: এটি জার ও মাজরুর যা 'আতরাবা' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এখানে 'বা' বর্ণটি সাহায্যের (ইস্তিয়ানাত) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।" এরপর অনুলিপি সম্পন্ন হওয়ার তারিখ উল্লেখ আছে: সোমবার, ১১ যিলকদ, ১১৭৯ হিজরি। অনুলিপিকারীর নাম: আবদুল্লাহ আল-গাবিত আল-শাফিঈ; তবে অনুলিপি করার স্থানটি উল্লেখ করা হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ১১)
تقع النسخة في (27) ورقة، كتبت بالسواد بخط معتاد معجم خال من الشكل مقروء، عبارات الأصل بالحمرة، ترك لها هامش بعرض (4 سم) عليه تصويبات.
على الورقة الأولى قيد تملك باسم محمود بن عبد المحسن الحسيني الموقع في (14) شعبان سنة 1281 هـ.
27 ق 27 س 5 21* 16 سم
الرقم 8453
--------------------------------------------
পাণ্ডুলিপিটি (২৭)টি পত্র সম্বলিত, যা কালো কালিতে সাধারণ ও পাঠযোগ্য নুকতাহযুক্ত লিপিতে লিখিত এবং এটি স্বরচিহ্নহীন। মূল পাঠের বাক্যগুলো লাল কালিতে এবং পার্শ্বটীকায় ৪ সেমি প্রশস্ত জায়গা রাখা হয়েছে যেখানে সংশোধনীসমূহ লিপিবদ্ধ আছে।
প্রথম পৃষ্ঠায় মাহমুদ ইবনে আব্দুল মুহসিন আল-হুসাইনির নামে একটি মালিকানা স্বত্বলিপি রয়েছে, যা ১৪ই শাবান ১২৮১ হিজরিতে স্বাক্ষরিত।
২৭ পত্র, ২৭ সারি, ২১*১৬ সেমি।
নম্বর ৮৪৫৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدراسة
গবেষণা
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ترجمة البوصيريالبوصيري: هو محمد بن سعيد بن حماد بن عبد الله بن صنهاج، كان أحد أبويه من (أبو صير) والاخر من (دلاص) من قرى بني سويف، فركبت له منهما نسبه، وقيل: (الدلاصيري) لكنه اشتهر بالبوصيري، وكان يعاني صناعة الكتابة والتصرف، ويباشر الشرقية ببلبيس «1» ودرس العلوم الدينية، وشيئا من النحو والصرف والعروض والسيرة النبوية، ودرس التصوف وآدابه.
والبوصيري شاعر مصري ظريف من شعراء القرن السابع الهجري، تجري في شعره النكت المستملحة، وله في شكوى حاله والتذمر من الموظفين قصائد لا تخلو من ذكاء، وفي شعره وصف للحالة الاجتماعية في عصره، وأحسبه من الصادقين، فهو يذكر أن الموظفين كانوا يسرقون الغلال، وأنهم لولا ذلك ما لبسوا الحرير، ولا شربوا الخمور، وأن من الكتاب طائفة تنسكت وعدت من الزهاد مع أنها تملأ بطونها بالسحت، وتأكل مال الأيتام، ويذكر أن القضاة خانوا الأمانة، وبرروا خيانتهم بتأويل القرآن والحديث، ويذكر أن المسلمين والأقباط كانوا مختلفين، فكان المسلمون يقولون: لنا بمصر حقوق، ونحن أولى الاخذين، وكان القبط يقولون: نحن ملوك مصر، ومن سوانا هم الغاصبون، وكان اليهود يستحلون مال الطوائف أجمعين.
--------------------------------------------
বুসিরির জীবনীবুসিরি: তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সিনহাজ। তাঁর পিতামাতার একজন ছিলেন (আবু সির) এবং অন্যজন বনি সুওয়াইফের গ্রামসমূহের অন্যতম (দালাস)-এর বাসিন্দা ছিলেন। এই উভয় স্থানের নাম মিলিয়ে তাঁর বংশনাম গঠিত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে: (আদ-দালাসিরি), তবে তিনি বুসিরি নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি লিখনশিল্প ও দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং বিলবাইসের শারকিয়া অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি ধর্মীয় জ্ঞান এবং নাহু, সরফ, আরুজ ও সীরাতুন নবী অধ্যয়ন করেছিলেন এবং তাসাউফ ও এর আদবসমূহ শিক্ষা করেন।
বুসিরি ছিলেন হিজরি সপ্তম শতাব্দীর একজন রসিক মিশরীয় কবি। তাঁর কবিতায় চমৎকার হাস্যরস ফুটে উঠত। নিজের অবস্থার অভিযোগ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে রচিত তাঁর কবিতাগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ। তাঁর কবিতায় তৎকালীন যুগের সামাজিক পরিস্থিতির বর্ণনা পাওয়া যায়। আমি তাঁকে সত্যবাদী (صادق) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কর্মকর্তারা শস্য চুরি করত; যদি তারা তা না করত তবে রেশমি পোশাক পরিধান করতে পারত না এবং মদ পান করতে পারত না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, লেখকদের একটি দল দুনিয়াবিমুখতার বেশ ধরত এবং তাদের দুনিয়াবিমুখ (زاهد) হিসেবে গণ্য করা হতো, অথচ তারা হারাম মাল দ্বারা নিজেদের উদরপূর্তি করত এবং এতিমদের সম্পদ ভক্ষণ করত। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিচারকগণ আমানতের খেয়ানত করেছেন এবং কুরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যার (تأويل) মাধ্যমে নিজেদের খেয়ানতকে বৈধতা দান করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মুসলিম ও কিবতিরা পরস্পর বিবাদে লিপ্ত ছিল। মুসলিমরা বলত: মিশরে আমাদের অধিকার রয়েছে এবং আমরাই তা গ্রহণের অধিক হকদার। আর কিবতিরা বলত: আমরাই মিশরের রাজা এবং আমরা ব্যতীত অন্যরা জবরদখলকারী। অন্যদিকে ইয়াহুদিরা সকল সম্প্রদায়ের সম্পদ ভোগ করাকে বৈধ মনে করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فدعاه ذلك إلى دراسة الإنجيل والتوراة دراسة دقيقة، كما درس تاريخ ظهور المسيحية ثم أخذ يرد على أصحاب هذه الديانات «1» .
ويقول في إحدى قصائدة ينتقد الموظفين «2» :
نقدت طوائف المستخدمينا
… فلم أر فيهمو حرّا أمينا
فكم سرقوا الغلال وما عرفنا
… بهم فكأنهم سرقوا العيونا
ولولا ذاك ما لبسوا حريرا
… ولا شربوا خمور الأندرينا
تنسك معشر منهم وعدّوا
… من الزّهّاد والمتورّعينا
ويقول في الطوائف:
يقول المسلمون لنا حقوق
… بها ولنحن أولى الاخذينا
وقال القبط نحن ملوك مصر
… وإن سواهمو هم غاصبونا
وحلّلت اليهود بحفظ سبت
… لهم مال الطوائف أجمعينا
* ويرجع شهرة هذه القصيدة إلى ما فيها من التنديد بالموظفين، والناس يبغضون الموظفين حين يعرفون بالطمع والاستبداد، ولها قيمة تاريخية، فيه شاهد على اختلاف الطوائف في مصر، وهي شاهد على عيوب الإدارة في ذلك الحين.
* ومن شعر البوصيري فيما يجري مجرى الدعابة قوله في الحديث عن جارية راودها عن نفسها فأنكرت عليه الشيب والضعف.
كيف أعصي الهوى وطينة قلبي
… بالهوى قبل آدم معجونه
سلبته الرقاد بيضة خدر
… ذات حسن كالدرة المكنونه
قلت لا بدّ أن تسيري إلى الدا
… ر فقالت عسى: أنا مجنونه
* وعن سبب وضعه للبردة قال: «كنت قد نظمت قصائد في مدح
--------------------------------------------
এটি তাকে ইনজিল ও তাওরাত সূক্ষ্মভাবে অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যেমন তিনি খ্রিস্টধর্মের উৎপত্তির ইতিহাস অধ্যয়ন করেছিলেন, অতঃপর তিনি এসব ধর্মের অনুসারীদের খণ্ডন করতে শুরু করেন «১»।
তিনি তার একটি কবিতায় কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে বলেন «২» :
আমি চাকুরিজীবীদের বিভিন্ন দলকে যাচাই করেছি
… কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো স্বাধীন ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি দেখিনি।
তারা কত যে শস্য চুরি করেছে অথচ আমরা টেরই পাইনি
… যেন তারা আমাদের চোখগুলোই চুরি করে নিয়েছে।
আর যদি তা না হতো, তবে তারা রেশম পরিধান করত না
… এবং আন্দরিনের মদও পান করত না।
তাদের একদল ইবাদতে মগ্ন হয়েছে এবং তারা
… দুনিয়াত্যাগী ও মুত্তাকিদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হয়েছে।
বিভিন্ন সম্প্রদায় সম্পর্কে তিনি বলেন:
মুসলমানরা বলে আমাদের অধিকার রয়েছে
… এতে, এবং আমরাই তা গ্রহণ করার অধিক যোগ্য।
কিবতিরা (কপটিক) বলে আমরাই মিশরের রাজা
… আর অন্য যারা আছে তারা কেবল দখলদার।
আর ইহুদিরা শনিবারের মর্যাদা রক্ষার উসিলায়
… সকল সম্প্রদায়ের সম্পদ নিজেদের জন্য বৈধ করে নিয়েছে।
* এই কবিতার প্রসিদ্ধির কারণ হলো এতে কর্মকর্তাদের প্রতি যে নিন্দা জানানো হয়েছে তা; আর মানুষ কর্মকর্তাদের তখনই ঘৃণা করে যখন তারা লোভ ও স্বৈরাচারের জন্য পরিচিত হয়। এর একটি ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে, কারণ এটি মিশরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পার্থক্যের একটি প্রমাণ এবং তৎকালীন প্রশাসনিক ত্রুটির সাক্ষ্য দেয়।
* আল-বুসিরির কৌতুকরসাশ্রয়ী কবিতার মধ্যে রয়েছে এক দাসীর বর্ণনায় তার উক্তি, যাকে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সে তার বার্ধক্য ও দুর্বলতার কারণে তা অস্বীকার করেছিল।
আমি কীভাবে প্রবৃত্তির অবাধ্য হব, যেখানে আমার হৃদয়ের মাটি
… আদমের সৃষ্টির পূর্বেই প্রবৃত্তির সাথে মাখানো হয়েছে।
তার ঘুম কেড়ে নিয়েছে পর্দানশীন এক রূপসী
… যার সৌন্দর্য যেন সুরক্ষিত মুক্তার মতো।
আমি বললাম: তোমাকে অবশ্যই আমার গৃহে আসতে হবে
… সে বলল: হতে পারে আমি কি পাগল?
* আর বুরদাহ রচনার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন: «আমি প্রশংসামূলক অনেক কবিতা রচনা করেছিলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رسول الله صلى الله عليه وسلم منها ما كان اقترحه علي (الصاحب زين الدين يعقوب بن الزبير) ، ثم اتفق بعد ذلك أن صاحبني فالج أبطل نصفي، ففكرت في عمل قصيدتي هذه فعملتها، واستشفعت بها إلى الله تعالى في أن يعافيني، وكررت إنشادها، ودعوت، وتوسلت، ونمت، فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم، فمسح وجهي بيده المباركة وألقى عليّ بردة. فانتبهت ووجدت فيّ نهضة فقمت وخرجت من بيتي، ولم أكن أعلمت بذلك أحدا فلقيني بعض الفقراء، فقال لي: أريد أن تعطيني القصيدة التي مدحت بها رسول الله فقلت: أيّها؟ فقال التي أنشأتها في مرضك، وذكر أولها وقال: والله لقد سمعتها البارحة وهي تنشد بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم، ورأيت رسول الله يتمايل وأعجبته، وألقى على من أنشدها بردة، فأعطيته إياها، وذكر الفقير ذلك وشاع المنام» .
* وفي هذه القطعة دلالة على عقلية البوصيري: فهو رجل فيه طيبة وسذاجة كأكثر الصوفية، فليس من المعقول أن يبرأ مريض من مرضه لاية يتلوها أو قصيدة ينشدها كما برىء البوصيري بقصيدته، ولو مرض مفتي الديار المصرية- لا سمح الله- ما استغنى بالبردة عن الطبيب.
ولعل حكاية البوصيري هذه هي سبب ما سار بجانب البردة من الخرافات، فقد ذكر بعض الشراح، لكل بيت من أبياتها فائدة: فبعضها أمان من الفقر، وبعضها أمان من الطاعون! وهذا النوع من الغافلة قديم «1» فقد كان الزمخشري يذكر شيئا من مثل هذا عن سور القرآن، ونلاحظ كذلك «صلى الله عليه وسلم» خمس مرات في هذه الفقرة القصيرة وتكرار الصلاة على النبي كلما ذكر اسمه من وساوس المتأخرين.
وقد زاد البوصيري على ذلك في القصيدة «المضرية» فهو يدعو الله أن يصلي على النبيّ وشيعته وصحبه عدد الحصى والثرى والمدر، وعدد نجم السماء،
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসায় রচিত এই কাসিদাটির কিছু অংশ (সাহিব যাইনুদ্দিন ইয়াকুব ইবনুল জুবাইর) আমার কাছে প্রস্তাব করেছিলেন। এরপর এমনটি ঘটল যে, আমি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হলাম এবং আমার শরীরের অর্ধেক অংশ অবশ হয়ে গেল। তখন আমি এই কাসিদাটি রচনার কথা চিন্তা করলাম এবং তা সম্পন্ন করলাম। এর মাধ্যমে আমি মহান আল্লাহর কাছে আরোগ্যের জন্য সুপারিশ প্রার্থনা করলাম। আমি এটি বারবার আবৃত্তি করতাম, প্রার্থনা করতাম এবং উসিলা গ্রহণ করতাম। একদা আমি ঘুমিয়ে পড়লে স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেলাম। তিনি তাঁর বরকতময় হাত দিয়ে আমার মুখ মুছে দিলেন এবং আমার ওপর একটি চাদর (বুরদাহ) বিছিয়ে দিলেন। এরপর আমি জাগ্রত হলাম এবং নিজের মধ্যে চাঞ্চল্য ও শক্তি অনুভব করলাম। আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং ঘর থেকে বের হলাম। আমি এ বিষয়ে কাউকে কিছু জানাইনি। তখন এক দরবেশের সাথে আমার দেখা হলো। তিনি আমাকে বললেন: আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসায় যে কাসিদাটি লিখেছেন সেটি আমাকে দিন। আমি বললাম: কোনটি? তিনি বললেন: যেটি আপনি আপনার অসুস্থ থাকাকালীন রচনা করেছেন। এরপর তিনি সেটির শুরুর অংশ উল্লেখ করলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আমি গত রাতে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে পঠিত হতে শুনেছি এবং আমি দেখেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুলছিলেন এবং এটি তাঁর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় হয়েছে, এমনকি তিনি আবৃত্তিকারীকে একটি চাদরও প্রদান করেছেন। তখন আমি তাকে সেটি প্রদান করলাম। সেই দরবেশ বিষয়টি বর্ণনা করলেন এবং স্বপ্নটি চারদিকে জানাজানি হয়ে গেল।
* এই অংশটিতে বুসিরির মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়: তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যার মধ্যে অনেক সুফিদের মতো সরলতা ও অকৃত্রিমতা বিদ্যমান ছিল। কেননা এটি যুক্তিসঙ্গত নয় যে, কোনো রোগী কেবল কোনো আয়াত পাঠ করে বা কাসিদা আবৃত্তি করে রোগমুক্ত হয়ে যাবে, যেভাবে বুসিরি তার কাসিদার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করেছিলেন। মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি—আল্লাহ না করুন—যদি অসুস্থ হন, তবে তিনি এই বুরদাহ-এর ওপর নির্ভর করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া ত্যাগ করবেন না।
সম্ভবত বুসিরির এই কাহিনীই বুরদাহ-কে কেন্দ্র করে প্রচলিত কুসংস্কারগুলোর মূল কারণ। কিছু ব্যাখ্যাকারী এই কাসিদার প্রতিটি পঙ্ক্তির জন্য বিশেষ উপযোগিতা বা ফায়দা উল্লেখ করেছেন: কোনোটি দারিদ্র্য থেকে মুক্তির উপায়, আবার কোনোটি প্লেগ থেকে রক্ষার কবচ! এই ধরনের অসতর্কতা বা গাফিলতি অনেক পুরনো। যামাখশারী কুরআনের সূরাগুলোর ফযিলত সম্পর্কেও এই জাতীয় কিছু বিষয় উল্লেখ করতেন। আমরা আরও লক্ষ্য করি যে, এই সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে পাঁচবার "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম" ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতিবার নাম উচ্চারণের সাথে সাথে দরুদ পাঠের এই পুনরাবৃত্তি পরবর্তী যুগের লোকদের এক প্রকার অতি-সতর্কতা বা সংশয়প্রসূত অভ্যাসের ফল।
বুসিরি "মুদারিয়া" কাসিদায় এর চাইতেও বেশি বাড়াবাড়ি করেছেন। সেখানে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তিনি নবী, তাঁর অনুসারী ও সাহাবীদের ওপর কঙ্কর, মাটি, ধূলিকণা এবং আকাশের নক্ষত্ররাজির সংখ্যার সমান দরুদ বর্ষণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ونبات الأرض، وعدد وزن مثاقيل الجبال، وقطر جميع الماء والمطر، وما حوت الأشجار من ورق وعدد الجن والأنس، والأفلاك وعدد الذر والنمل والحبوب، والشعر والصوف والريش والوبر.
وعدد ما أحاط به العلم المحيط، وما جرى به القلم والقدر، وعدد نعم الله على الخلائق مذ كانوا، ومذ حشروا، وعدد ما كان في الأكوان، وما يكون إلى يوم البعث وتكون هذه الصلاة بهذا التحديد.
في كلّ طرفة عين يطرفون بها
… أهل السموات والأرضين أو يذروا
ملء السموات والأرضين مع جبل
… والفرش والعرش والكرسي وما حصروا
ما أعدم الله موجودا وأوجد معدو
… ما صلاة دواما ليس تنحصر
تستغرق العدّ مع جمع الدهور كما
… تحيط بالحد لا تبقي ولا تذر
* وهذا النمط من الصلاة على النبي لم يكن معروفا في صدر الإسلام، وإنما هو تصرف من غلاة الصوفية أمثال صاحب «دلائل الخيرات» «1» .
* ومنام البوصيري كانت له أطياف في ذهن الصوفية، فقد استحبوا أن يقرأ المرء هذا البيت.
مولاي صلّ وسلم دائما أبدا
… على حبيبك خير الخلق كلهم
بعد كل بيت من أبيات البردة.
وذكروا أن الغزنوي كان يقرؤها في كل ليلة ليرى النبي في منامه، فلم تتيسر له الرؤيا، فشكا ذلك إلى شيخ كامل فقال له: لعلك لا تراعي شرائطها؟
فقال: لا، بل أراعيها، فراقبه الشيخ ثم قال له: إنك لا تصلي بالصلاة التي كان يصلي بها الإمام (البوصيري) على النبي صلى الله عليه وسلم وهي قوله: مولاي صل وسلم.....
قالوا: وحكمة اختياره هذا البيت دون غيره أنه رحمه الله لما أنشأ هذه
--------------------------------------------
এবং জমিনের উদ্ভিদ, পাহাড়ের ওজনের পরিমাণ, সমস্ত পানি ও বৃষ্টির ফোঁটা, গাছপালার ধারণকৃত পাতা, জিন ও মানুষের সংখ্যা, আকাশমন্ডলী এবং অণু, পিঁপড়া ও শস্যদানা, চুল, পশম, পালক ও লোমের সংখ্যার সমান।
এবং সেই বেষ্টনকারী জ্ঞানের পরিব্যপ্ত জিনিসের সংখ্যা, কলম ও তাকদির যা লিখেছে, সৃষ্টিজগতের ওপর তাদের সৃষ্টির সূচনা থেকে হাশর পর্যন্ত আল্লাহর নিয়ামতের সংখ্যা, মহাবিশ্বে যা কিছু ছিল এবং পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত যা কিছু হবে তার সংখ্যা এবং এই দুরুদ (صلاة) যেন এই সুনির্দিষ্ট পরিমাণ অনুযায়ী হয়।
আকাশমন্ডলী ও জমিনবাসীর প্রতিটি চোখের পলক ফেলা
… বা তা বর্জন করার সংখ্যা সমপরিমাণ।
আকাশমন্ডলী ও জমিনসমূহ পূর্ণ করে এবং পাহাড়
… জমিন, আরশ ও কুরসি এবং যা কিছু তারা বেষ্টন করেছে।
আল্লাহ যা কিছু অস্তিত্বহীন থেকে অস্তিত্বশীল করেছেন বা অস্তিত্বশীলকে অস্তিত্বহীন
… করেছেন, এমন এক নিরবচ্ছিন্ন দুরুদ (صلاة) যা সীমাবদ্ধ নয়।
যা যুগযুগান্তরের গণনাকে গ্রাস করে এবং
… সীমানাকে এমনভাবে পরিবেষ্টন করে যা কিছুই অবশিষ্ট রাখে না।
* নবিজির ওপর দুরুদ (صلاة) পাঠের এই পদ্ধতি ইসলামের প্রাথমিক যুগে পরিচিত ছিল না; বরং এটি ‘দালাইলুল খাইরাত’ গ্রন্থের লেখকের মতো চরমপন্থী (غلاة) সুফিদের একটি উদ্ভাবন।
* আর বুসিরির স্বপ্ন সুফিদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল, তাই তারা এই পঙক্তিটি পাঠ করা পছন্দনীয় (مستحب) মনে করতেন।
হে আমার মওলা! সর্বদা ও নিরন্তর দুরুদ (صلاة) ও সালাম বর্ষণ করুন
… আপনার হাবিবের ওপর, যিনি সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম।
বুর্দার প্রতিটি পঙক্তির পর।
তারা উল্লেখ করেছেন যে, গজনভি নবিজিকে স্বপ্নে দেখার জন্য প্রতি রাতে এটি পাঠ করতেন, কিন্তু তার পক্ষে এই দর্শন লাভ সম্ভব হচ্ছিল না। তিনি একজন কামেল শায়খ (شيخ كامل)-এর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তিনি বললেন: সম্ভবত তুমি এর শর্তাবলি পরিপালন করছ না?
তিনি বললেন: না, বরং আমি সেগুলো পালন করি। তখন শায়খ তাকে পর্যবেক্ষণ করলেন এবং বললেন: তুমি সেই দুরুদ (صلاة) পাঠ করছ না যা ইমাম (বুসিরি) নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর পাঠ করতেন, আর তা হলো তার এই কথা: মওলায় ছল্লি ও সাল্লিম.....
তারা বলেন: অন্য পঙক্তি বাদ দিয়ে এই পঙক্তিটি বেছে নেওয়ার রহস্য হলো এই যে, তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) যখন এটি রচনা করেছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
القصيدة رأى النبي في المنام، فأنشدها بين يديه، فكان يتمايل طربا كتمايل الأغصان، فلما انتهى إلى قوله:
«فمبلغ العلم فيه أنه بشر..» .
لم يقدر على تكميل البيت، فقال له عليه الصلاة والسلام: اقرأ، فقال إني لم أوفق للمصراع الثاني يا رسول الله فقال له الرسول قل: «وإنه خير خلق الله كلهم» .
فأدرج البوصيري هذا المصراع الذي قاله النبي في البيت المتقدم، وجعله صلاة مكررة بعد كل بيت حرصا على لفظ النبي عليه السلام.
وهذه المنامات تعليلها سهل، فحب البوصيري للرسول خلق منه قيثارة نبوية وإيمان الصوفية بعظمة البوصيري بالإضافة إلى قصيدته، وجّه أحلامهم إلى تصور الرسول في المنام بفضل الإكثار من تلاوة البردة مصحوبة بتلك الصلاة.
والبردة لا تمكن كل إنسان من الكرامات، وإنما تنفعل النفس بما تؤمن به في صدق وإخلاص، فتمثل الغرائب والأعاجيب.
وكذلك كانت البردة عند بعض الناس مفتاحا للمثول بين يدي الرسول، ورؤيا النبي حق: عند الصوفية، وعند الفقهاء.
তিনি স্বপ্নে নবী (সা.)-কে দেখে তাঁর সম্মুখে এই কাসিদাটি আবৃত্তি করেছিলেন। তখন নবী (সা.) প্রশান্তিতে গাছের শাখার মতো দুলছিলেন। যখন কবি তাঁর এই বাণীতে পৌঁছালেন:
«তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানের চূড়ান্ত সীমা এই যে, তিনি একজন মানুষ..» ।
তিনি পঙক্তিটি পূর্ণ করতে পারছিলেন না। তখন নবী (সা.) তাঁকে বললেন: পড়ো। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি দ্বিতীয় চরণের জন্য সামর্থ্য পাচ্ছিলাম না। তখন রাসূল (সা.) তাকে বললেন: বলো, «এবং নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ»।
অতঃপর আল-বুসিরি নবী (সা.)-এর বলা এই চরণটিকে পূর্ববর্তী পঙক্তির অন্তর্ভুক্ত করে দেন এবং নবী (সা.)-এর পবিত্র বাণীর বরকত লাভের আশায় একে প্রতিটি পঙক্তির পর একটি পুনরাবৃত্ত দরুদ হিসেবে নির্ধারণ করেন।
এই স্বপ্নগুলোর ব্যাখ্যা অত্যন্ত সহজ; রাসূল (সা.)-এর প্রতি বুসিরির ভালোবাসা তাঁকে একটি নববী বীণায় পরিণত করেছিল। আর বুসিরির কাসিদার পাশাপাশি তাঁর মহত্ত্বের প্রতি সুফিদের বিশ্বাস এবং এই দরুদসহ বুরদাহ অধিক পাঠের কারণে তাঁদের স্বপ্নগুলো স্বপ্নে রাসূল (সা.)-এর অবয়ব দর্শনের দিকে ধাবিত হয়।
বুরদাহ কেবল পাঠ করলেই প্রত্যেক মানুষ অলৌকিকতা বা কারামত (كرامات) লাভ করতে পারে না; বরং আত্মা যখন সততা ও নিষ্ঠার সাথে কোনো বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তখনই তা থেকে বিভিন্ন অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বিষয় প্রকাশ পায়।
তেমনিভাবে বুরদাহ কিছু মানুষের নিকট রাসূল (সা.)-এর সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার চাবিকাঠি স্বরূপ ছিল। আর নবী (সা.)-কে স্বপ্নে দেখা সুফি এবং ফকিহ (فقهاء) উভয়ের নিকটই সত্য।
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২০)
عناصر البردة1- قصيدة البردة من القصائد الطوال، وأغلب الظن عندي أن البوصيري استأنس عند نظمها بميمية (ابن الفارض) . ودليل ذلك تشابه المطلعين، فإن مطلع قصيدة ابن الفارض «1» :
هل نار ليلى بدت ليلا بذي سلم
… أم بارق لاح في الزّوراء فالعلم
أرواح نعمان هلّا نسمة سحرا
… وماء وجرة هلّا نهلة بفم
ومطلع قصيدة البوصيري:
أمن تذكّر جيران بذي سلم
… مزجت دمعا جرى من مقلة بدم
أم هبّت الرّيح من تلقاء كاظمة
… وأومض البرق في الظّلماء من إضم
فذو سلم، وهبوب الريح، وإيماض البرق: مما اشترك فيه الشاعران مع وحدة الوزن والقافية، يضاف إلى ذلك أن ابن الفارض قال:
يا لائما لامني في حبّهم سفها
… كفّ الملام فلو أحببت لم تلم
فتابعه البوصيري فقال:
يا لائمي في الهوى العذري معذرة
… مني إليك ولو أنصفت لم تلم
كما تابع شوقي البوصيري حين قال:
يا لائمي في هواه والهوى قدر
… لو مسك الشوق لم تعذل ولم تلم
--------------------------------------------
বুরদাহর উপাদানসমূহ১- কাসিদাহ আল-বুরদাহ দীর্ঘ কাসিদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমার প্রবল ধারণা এই যে, আল-বুসিরি এটি রচনার সময় ইবনুল ফারিদের 'মিমিয়্যাহ' (মীম বর্ণ দিয়ে শেষ হওয়া কবিতা) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। এর প্রমাণ হলো উভয় কবিতার সূচনার মিল। ইবনুল ফারিদের কাসিদাহর সূচনা হলো «১» :
লাইলার আগুন কি রাতে যি-সালামে দৃশ্যমান হলো
… নাকি যি-সাওরা ও আল-আলামে বিদ্যুৎ চমকালো?
নুমানের প্রাণবায়ু! শেষ রাতে কি একটু মৃদু হাওয়া বইবে না
… আর ওয়াজরাহর পানি! এক ঢোক কি মুখে পৌঁছাবে না?
আর আল-বুসিরির কাসিদাহর সূচনা হলো:
যি-সালামের প্রতিবেশীদের স্মরণে কি
… তুমি চোখের আঁখি হতে প্রবাহিত অশ্রুকে রক্তের সাথে মিশিয়ে দিলে?
নাকি কাজিমাহর দিক থেকে বাতাস বয়ে গেল
… আর ইযামের অন্ধকারে বিদ্যুৎ চমকালো?
যি-সালাম, বাতাসের প্রবাহ এবং বিদ্যুতের চমক—এই বিষয়গুলোতে উভয় কবি একই ছন্দ ও অন্ত্যমিলের পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এর সাথে যোগ করা যায় যে, ইবনুল ফারিদ বলেছিলেন:
হে নিন্দুক! যে নির্বুদ্ধিতাবশত তাদের ভালোবাসার কারণে আমাকে নিন্দা করছো
… তোমার নিন্দা বন্ধ করো, যদি তুমি ভালোবাসতে তবে তুমি নিন্দা করতে না।
অতঃপর আল-বুসিরি তাকে অনুসরণ করে বলেছেন:
হে উযরি প্রেমে আমার নিন্দুক! তোমার নিকট আমার ওজর পেশ করছি
… যদি তুমি ইনসাফ করতে তবে নিন্দা করতে না।
তেমনিভাবে শাওকিও আল-বুসিরিকে অনুসরণ করেছেন যখন তিনি বলেন:
তার প্রেমে আমার নিন্দুক! আর প্রেম তো তাকদীর
… যদি বিরহ-ব্যথা তোমাকে স্পর্শ করত, তবে তুমি ভর্ৎসনা করতে না এবং নিন্দাও করতে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال ابن الفارض:
طوعا لقاض أتى في حكمه عجبا
… أفتى بسفك دمي في الحل والحرم
أصم لم يسمع الشكوى وأبكم لم
… يحر جوابا وعن حال المشوق عمي
فدار البوصيري حول هذا المعنى إذ قال:
عدتك حالي لا سري بمستتر
… عن الوشاة ولا دائي بمنجسم
محضتني النصح لكن لست أسمعه
… إن المحب عن العذال في صمم
2- وتشمل البردة على عدة عناصر:
1- ففي صدرها النسيب.
2- ويليه التحذير من هوى النفس.
3- ثم مدح الرسول.
4- والكلام عن مولده ومعجزاته.
5- ثم القرآن.
6- الإسراء والمعراج.
7- والجهاد.
8- ثم التوسل والمناجاة.
* وأما أثرها في التأليف، فيظهر فيما وضع لها من الشروح «1» ، فقد شرحها ابن الصائغ المتوفى سنة 776 وشرحها علي بن محمد القلصايّ- بفتحات- المتوفى سنة 891، وشرحها شهاب الدين بن العماد المتوفى سنة 808 وشرحها الشيخ خالد الأزهري المتوفى سنة 905، وشرحها علاء الدين البسطامي المتوفى سنة 875 وشرحها يوسف بن أبي اللطف القدسي المتوفى بعد الألف للهجرة. وشرحها يوسف البسطامي من علماء القرن التاسع،
--------------------------------------------
ইবনুল ফারিদ বলেন:
স্বেচ্ছায় সেই বিচারকের অনুগত, যিনি তাঁর রায়ে বিস্ময়কর কিছু নিয়ে এসেছেন
… তিনি হারাম ও হালাল (পবিত্র ও সাধারণ) উভয় ভূমিতেই আমার রক্ত ঝরানোর ফতোয়া দিয়েছেন।
তিনি বধির, অভিযোগ শোনেন না এবং নির্বাক, কোনো উত্তর দেন না
… আর বিরহকাতরের অবস্থা সম্পর্কে তিনি অন্ধ।
আল-বুসিরি এই একই ভাবার্থকে কেন্দ্র করে বলেছেন:
আমার অবস্থা তোমার নিকট স্পষ্ট, আমার গোপন কথা
… চোগলখোরদের নিকট লুকানো নেই এবং আমার রোগও প্রশমিত হওয়ার নয়।
তুমি আমাকে নিরেট উপদেশ দিয়েছ, কিন্তু আমি তা শুনছি না
… কেননা প্রেমাসক্ত ব্যক্তি তিরস্কারকারীদের কথায় বধির হয়ে থাকে।
2- আল-বুরদা বেশ কিছু বিষয়ের (عناصر) ওপর ভিত্তি করে রচিত:
1- এর প্রারম্ভে রয়েছে প্রেমগীতি (النسيب)।
2- এরপর রয়েছে কুপ্রবৃত্তি (هوى النفس) থেকে সতর্কবাণী।
3- অতঃপর রাসূলের প্রশংসা।
4- তাঁর জন্ম ও অলৌকিক ঘটনাবলী (معجزات) সংক্রান্ত আলোচনা।
5- অতঃপর কুরআন।
6- ইসরা ও মিরাজ।
7- জিহাদ।
8- এরপর অসিলা অন্বেষণ ও মুনাজাত।
* গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয় এর ওপর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (شروح) «১» এর মাধ্যমে; ৭৭৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী (المتوفى) ইবনে সায়িগ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) লিখেছেন, ৮৯১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-কালসাদি—সবগুলো বর্ণে ফাতাহ বা জবর সহ (بفتحات)—এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন, ৮০৮ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শিহাবুদ্দিন বিন আল-ইমাদ এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন, ৯০৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শেখ খালিদ আল-আজহারি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন, ৮৭৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আলাউদ্দিন আল-বিস্তামি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন এবং ১০০০ হিজরির পরে ইন্তেকালকারী ইউসুফ বিন আবি আল-লুতফ আল-কুদসি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। এছাড়া নবম শতাব্দীর আলেমদের মধ্য হতে ইউসুফ আল-বিস্তামিও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وشرحها ملّا علي المتوفى سنة 1014 وشرحها شيخ زاده محي الدين.
ولكن أقدم نسخة من شرحه يرجع تاريخها إلى سنة 949 وشرحها جلال الدين المحلى المتوفى سنة 864، وشرحها محمد بن أحمد المرزوقي المتوفى سنة 881. وشرحها عبد الحق بن عبد الفتاح من علماء القرن الثاني عشر وشرحها زكريا الأنصاري المتوفي سنة 926 وشرحها عمر الخرنوبي من علماء القرن الثالث عشر. وشرحها القسطلاني المتوفي سنة 923 وهو شارح البخاري وشرحها محمد بن مصطفى المدني من علماء القرن الثاني عشر.
د وشرحها محد عثمان المير غني من علماء القرن الثالث عشر، وشرحها الشيخ حسن العدوي الحمزاوي المتوفى سنة 1313.
وشرحها الباجوري المتوفى سنة 1276.
وفي دار الكتب المصرية شروح أخر لم يعرف مؤلفوها.
ولأكثر هذه الشروح أسماء شعرية، والبردة نفسها سماها المؤلف «الكواكب الدرية في مدح خير البرية» .
وعند النظر في هذه الشروح نراها مجموعات نفيسة تزخر بالفقرات اللغوية والأدبية والتاريخية، وشغل هؤلاء الشراح بالأدب واللغة والتاريخ ويرجع الفضل فيه إلى تصوف ذلك الشاعر المجيد.
* وأما أثرها في الدرس، فيتمثل في تلك العناية التي كان يوجهها العلماء الأزهريون إلى عقد الدروس في يومي الخميس والجمعة لدراسة «حاشية الباجوري على البردة» .
وهي دروس كانت تتلقاها جماهير من الطلاب، ويتخيرون لها أوقات الفراغ.
* وأما أثر البردة في الشعر والشعراء، فعظيم جدا، فقد ضمنوها، وشطروها، وخمسوها، وسبعوها، وعشروها، وعارضوها.
এর ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন ১০১৪ হিজরিতে ইন্তেকালকারী মোল্লা আলী এবং শেখ জাদাহ মহিউদ্দিন।
তবে তার ব্যাখ্যার (شرح) প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিটি ৯৪৯ হিজরির। এছাড়া ৮৬৪ হিজরিতে ইন্তেকালকারী জালালুদ্দিন আল-মহল্লি এবং ৮৮১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মারজুকিও এর ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন। আরও ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন দ্বাদশ শতাব্দীর আলেম আব্দুল হক বিন আব্দুল ফাত্তাহ, ৯২৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী জাকারিয়া আল-আনসারী এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর আলেম ওমর আল-খারনুবি। সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাকার (شارح) ইমাম কাসতালানি (ইন্তেকাল ৯২৩ হিজরি) এবং দ্বাদশ শতাব্দীর আলেম মুহাম্মদ বিন মুস্তাফা আল-মাদানিও এর ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন।
ত্রয়োদশ শতাব্দীর আলেম মুহাম্মদ উসমান আল-মিরগানি এবং ১৩১৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শেখ হাসান আল-আদাওয়ি আল-হামজাভিও এর ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন।
১২৭৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আল-বাজুরিও এর ব্যাখ্যা (شرح) লিখেছেন।
দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে আরও কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شروح) রয়েছে যাদের লেখকদের পরিচয় জানা যায়নি।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর (شروح) অধিকাংশেরই কাব্যিক নাম রয়েছে। আর স্বয়ং রচয়িতা ‘বুরদাহ’ কাব্যটির নামকরণ করেছিলেন ‘আল-কাওয়াকিব আদ-দুররিয়াহ ফি মাদহি খাইরিল বারিয়্যাহ’।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো (شروح) পর্যালোচনা করলে আমরা সেগুলোকে ভাষাতাত্ত্বিক, সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক তত্ত্বে সমৃদ্ধ এক একটি মূল্যবান সংকলন হিসেবে দেখতে পাই। এই ব্যাখ্যাকারদের (شراح) সাহিত্য, ভাষা ও ইতিহাসের প্রতি এই নিবিষ্টতার কৃতিত্ব সেই মহান কবির আধ্যাত্মিকতার (تصوف) প্রতিই বর্তায়।
* শিক্ষা ক্ষেত্রে এর প্রভাবের বিষয়টি ফুটে ওঠে আল-আজহারের আলেমদের সেই বিশেষ গুরুত্বারোপের মাধ্যমে, যা তারা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ‘হাশিয়াহ (حاشية) আল-বাজুরি আলাল বুরদাহ’ অধ্যয়নের জন্য পাঠদানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে করতেন।
এই পাঠদানগুলোতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করত এবং তারা এর জন্য তাদের অবসরের সময়গুলোকে বেছে নিত।
* কবিতা ও কবিদের ওপর বুরদাহর প্রভাব অত্যন্ত সুগভীর; কবিগণ এর পঙ্ক্তি ধারণ (تضمين) করেছেন, এর ওপর ভিত্তি করে দ্বিপদী (تشطير), পঞ্চপদী (تخميس), সপ্তপদী (تسبيع) ও দশপদী (تعشير) কবিতা রচনা করেছেন এবং এর কাব্যিক অনুকরণ (معارضة) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن الذين ضمنوها الشيخ قاسم (ولم نقف له على ترجمة) :
أمن تذكّر أوطان على علم
… أم من تفقّد جيران بذي سلم
مزجت دمعا جرى كالقطر منهمرا
… يجري على وجنة من مقلة بدم
ومن الذين شطروها- أحمد بن شرقاوي الخلفي- نسبة إلى قرية يقال لها:
الخليفة ملاصقة لمدينة جرجا، وبها توفي في سحر ليلة الجمعة التاسع عشر من شهر ذي القعدة سنة 1250 وأول التشطير.
أمن تذكّر جيران بذي سلم
… أصبحت ذا خلد بالوجد مصطلم
أم من تفتّت قلب في الحشا شغفا
… مزجت دمعا جرى من مقلة بدم
وأحمد بن عبد الوهاب الجرجاوي المتوفي سنة 1254 وأول التشطير:
أمن تذكر جيران بذي سلم
… تصبّب الدمع يجري حاكي الدّيم
وأحمد بن عثمان العوامي المدفون بجرجا (ولم يعلم تاريخ وفاته) وأول التشطير:
أمن تذكر جيران بذي سلم
… جزمت أنك مقصور على الألم
وعند ما هاجت الذكرى ولوعتها
… مزجت دمعا جرى من مقلة بدم
ورمضان حلاوة، من علماء آخر القرن الثالث عشر، وأوائل الرابع عشر، وأول تشطيره:
أمن تذكر جيران بذي سلم
… لبست ثوبا من الأشواق والألم
أم من عيون ظباء بالعقيق بدت
… مزجت دمعا جرى من مقلة بدم
وأبو الهدى الصيادي، وأحمد الحفظي، وعبد الرحيم الجرجاوي، ومحمد فرغلي الطهطاوي، وشطرها أخيرا سعادة عبد العزيز بك محمد.
ومطلع تشطيره:
أمن تذكر جيران بذي سلم
… فاضت شؤونك ملتاعا لبينهم
أم من فؤادك مكلوما لوحشتهم
… مزجت دمعا جرى من مقلة بدم
এবং যারা একে (তাদমীন বা কাব্যিক অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে) যুক্ত করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়খ কাসিম (তার কোনো জীবনবৃত্তান্ত (ترجمة) আমাদের হস্তগত হয়নি):
আলাম পাহাড়ের নিকটবর্তী স্বদেশভূমির স্মরণে...
… নাকি ‘যী-সালাম’ প্রান্তরের প্রতিবেশীদের খোঁজে?
আপনি বৃষ্টির ন্যায় প্রবলভাবে প্রবাহিত অশ্রু বিসর্জন দিয়েছেন...
… যা চোখের মণি থেকে গাল বেয়ে রক্ত হয়ে ঝরছে।
আর যারা একে ‘তাশতির’ (কাব্যিক দ্বিখণ্ডন) করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন—আহমদ ইবনে শারকাউই আল-খালাফি—এটি একটি গ্রামের সম্বন্ধসূচক নাম, যাকে বলা হয়:
আল-খলিফা; যা জিরজা শহরের সন্নিকটে অবস্থিত, এবং সেখানে ১২৫০ হিজরি সালের ১৯ জিলকদ শুক্রবার দিবাগত শেষ রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার ‘তাশতির’-এর প্রারম্ভিক অংশ:
‘যী-সালাম’ প্রান্তরের প্রতিবেশীদের স্মরণে কি...
… আপনি বিরহ-বেদনায় দগ্ধ হৃদয়ের অধিকারী হয়েছেন?
নাকি অনুরাগের আতিশয্যে পাঁজরের ভেতরে চূর্ণ-বিচূর্ণ হৃদয়ের ব্যথায়...
… আপনি চোখের মণি থেকে প্রবহমান অশ্রুর সাথে রক্ত মিশিয়েছেন?
এবং আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-জিরজাউই, যিনি ১২৫৪ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। তার ‘তাশতির’-এর প্রারম্ভিক অংশ:
‘যী-সালাম’ প্রান্তরের প্রতিবেশীদের স্মরণে কি...
… অশ্রু ঝরে পড়ছে, যেন বিরামহীন বৃষ্টির অনুকরণ করছে।
এবং আহমদ ইবনে উসমান আল-আওয়ামি, যাকে জিরজা শহরে দাফন করা হয়েছে (তার মৃত্যু তারিখ জানা যায়নি)। তার ‘তাশতির’-এর প্রারম্ভিক অংশ:
‘যী-সালাম’ প্রান্তরের প্রতিবেশীদের স্মরণে কি...
… আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, আপনি কেবল যন্ত্রণার মাঝেই বন্দি।
আর যখন স্মৃতি এবং তার দহন তীব্র হয়ে উঠল...
… আপনি চোখের মণি থেকে প্রবহমান অশ্রুর সাথে রক্ত মিশিয়েছেন।
এবং রমজান হালাওয়া, যিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগ ও চতুর্দশ শতাব্দীর শুরুর দিকের অন্যতম আলেম ছিলেন। তার ‘তাশতির’-এর প্রারম্ভিক অংশ:
‘যী-সালাম’ প্রান্তরের প্রতিবেশীদের স্মরণে কি...
… আপনি অনুরাগ ও যন্ত্রণার পোশাক পরিধান করেছেন?
নাকি আকিক প্রান্তরে দৃশ্যমান হওয়া হরিণ-আখি রূপসীদের স্মরণে...
… আপনি চোখের মণি থেকে প্রবহমান অশ্রুর সাথে রক্ত মিশিয়েছেন।
আরও রয়েছেন আবুল হুদা আল-সাইয়্যাদি, আহমদ আল-হিফজি, আব্দুর রহিম আল-জিরজাউই, মুহাম্মদ ফারগালি আল-তাহতাউই এবং সর্বশেষ একে ‘তাশতির’ করেছেন মহামান্য আব্দুল আজিজ বেগ মুহাম্মদ।
তার ‘তাশতির’-এর প্রারম্ভিক চরণ:
‘যী-সালাম’ প্রান্তরের প্রতিবেশীদের স্মরণে কি...
… তাদের বিচ্ছেদে ব্যথিত হয়ে আপনার অশ্রুধারা উপচে পড়ছে?
নাকি তাদের একাকীত্বের বিরহে আপনার আহত হৃদয়ের কারণে...
… আপনি চোখের মণি থেকে প্রবহমান অশ্রুর সাথে রক্ত মিশিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد نالته بركتها فعين وزيرا للأوقاف «1» ، ولعله يخمسها فيعين رئيسا للوزراء.
وأما الذين خمسوها فهم كثيرون، وفي دار الكتب المصرية مجموعة في تخاميس البردة تشتمل على تسعة وستين تخميسا، ومن أمثلة ذلك قول ناصر الدين الفيومي:
ما بال قلبك لا ينفك ذا ألم
… مذبان أهل الحمى والبان والعلم
وانحل مدمعك القاني بمنسجم
… أمن تذكر جيران بذي سلم
مزجت دمعا جرى من مقلة بدم
ولكن لا بد من التنبيه إلى أن الذين خمسوا البردة لم يكونوا جميعا مصريين ففيهم رجال من المغرب والشام والعراق، وفي هذا ما يدل على أنها شغلت الشعراء في أكثر الأقطار العربية.
* ومن الذين سبعوها: شهاب الدين أحمد بن عبد الله المكي، وقد التزام في كل تسبيع لبيت من أبيات البردة أن يذكر لفظ الجلالة، وأول التسبيع:
الله يعلم كم في القلب من ألم
… ومن غرام بأحشائي ومن سقم
على فراق فريق حلّ في الحرم
… فقلت لما همى دمعي بمنسجم
على العقيق عقيقا غير منسجم
… أمن تذكر جيران بذي سلم
وسبعها: محمد المصري، وهو من شرّاح البردة، والتزام في التسبيع أن يذكره أوّلا مصدّرا بلفظ (محمد) . كقوله في المطلع.
محمد جاء بالايات والحكم
… مبشرا ونذيرا جملة الأمم
وهو معارضة (للمكي) الذي التزام لفظ الجلالة في أول تسبيع لكل بيت.
* وأما الذين عارضوا البردة، فيعدون بالعشرات، وإن جميع المدائح النبوية التي جاءت بعد البوصيري على الوزن والقافية كان أصحابها مسوقين
--------------------------------------------
এর বরকত তাকে স্পর্শ করেছিল, যার ফলে তিনি আওকাফ মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন «১»; সম্ভবত তিনি যদি এটিকে পঞ্চপদীকরণ করেন তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হবেন।
আর যারা একে পঞ্চপদীকরণ করেছেন তারা সংখ্যায় অনেক; 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া'-তে বুরদাহ-এর পঞ্চপদীকরণসমূহের একটি সংকলন রয়েছে যা ঊনসত্তরটি পঞ্চপদীকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর একটি উদাহরণ হলো নাসিরুদ্দিন আল-ফাইউমির উক্তি:
তোমার হৃদয়ের কী হলো যে তা ব্যথা হতে মুক্ত হচ্ছে না
… যখন থেকে আশ্রিত জনপদ এবং 'বান' ও 'আলাম' বৃক্ষের অধিবাসীরা বিদায় নিয়েছে।
আর তোমার রক্তিম অশ্রু অঝোরে ঝরতে ঝরতে বিগলিত হয়েছে
… তবে কি 'জি-সালাম'-এর প্রতিবেশীদের স্মরণের কারণে—
তুমি নয়নমণি থেকে প্রবাহিত অশ্রুকে রক্তের সাথে মিশ্রিত করেছ?
তবে এটি লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, যারা বুরদাহ-এর পঞ্চপদীকরণ করেছেন তারা সকলেই মিশরীয় ছিলেন না; বরং তাদের মধ্যে মাগরিব, শাম এবং ইরাকের ব্যক্তিরাও ছিলেন। এটি নির্দেশ করে যে, এই কাব্যটি অধিকাংশ আরব ভূখণ্ডের কবিদের ব্যাপৃত রেখেছিল।
* আর যারা একে সপ্তপদীকরণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-মাক্কি। তিনি বুরদাহ-এর প্রতিটি পংক্তির সপ্তপদীকরণে 'লফজুল জালালাহ' (আল্লাহ শব্দ) উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রক্ষা করেছেন। সপ্তপদীকরণের প্রারম্ভিক অংশ:
আল্লাহ জানেন হৃদয়ে কত ব্যথা
… এবং আমার অন্তরে কত প্রেম ও জরা রয়েছে।
হারামে অবস্থানকারী এক দলের বিচ্ছেদের কারণে
… তাই যখন আমার অশ্রু অঝোরে ঝরছিল, আমি বললাম:
আকিক উপত্যকায় রক্তাভ অশ্রুর ন্যায় যা অঝোরে ঝরছে না
… তবে কি 'জি-সালাম'-এর প্রতিবেশীদের স্মরণের কারণে (এই রোদন)?
এবং মুহাম্মদ আল-মিসরি একে সপ্তপদীকরণ করেছেন; তিনি বুরদাহ-এর অন্যতম ভাষ্যকার। তিনি সপ্তপদীকরণে প্রতিটি পংক্তির শুরুতে 'মুহাম্মদ' শব্দ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রক্ষা করেছেন। যেমনটি তিনি প্রারম্ভিক অংশে বলেছেন:
মুহাম্মদ আয়াত ও প্রজ্ঞাসহ আগমন করেছেন
… সকল জাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে।
এটি (আল-মাক্কি)-র কাব্যানুসরণ, যিনি প্রতিটি পংক্তির সপ্তপদীকরণের শুরুতে লফজুল জালালাহ-এর ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রক্ষা করেছিলেন।
* আর যারা বুরদাহ-এর কাব্যানুসরণ করেছেন, তাদের সংখ্যা কয়েক দশকে গণ্য হয়। আল-বুসিরির পর একই ছন্দ ও অন্ত্যমিলে যত নাত-এ-রাসূল রচিত হয়েছে, সেগুলোর রচয়িতারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بالروح البوصيرية، وأشهر من عارضها أخيرا الشاعر محمود سامي البارودي الذي سمى قصيدته: «كشف الغمة في مدح سيد الأمة» وعدد أبياتها 447 بيتا.
والمطلع:
يا رائد البرق يممّ دارة العلم
… واحد الغمام إلى حيّ بذي سلم
وعارضها: الشاعر: أحمد شوقي، وسمى قصيدته (نهج البردة) وقد نظمها في 1327 هـ ومطلعها.
ريم على القاع بين البان والعلم
… أحلّ سفك دمي في الأشهر الحرم
* مات البوصيري سنة 696 هـ. وبعد موته بسنتين ولد أبو عبد الله محمد بن أحمد المعروف بابن جابر الأندلسي. وكان ضريرا، ورحل إلى المشرق، فدخل مصر والشام، واستوطن حلب ثم رجع إلى الأندلس، فتوفي في البيرة في جمادى الآخرة سنة 780 هـ «1» .
وقد افتتن ابن جابر بقصيدة البردة وظهر أثرها في شعره.
وشغل نفسه بمعارضتها، ولكن أيّ معارضة؟ لقد ابتكر فنا جديدا هو «البديعيات» وذلك أن تكون القصيدة في مدح الرسول، ولكن كل بيت من أبياتها يشير إلى فن من فنون البديع» «2» .
ومطلع هذه البديعية:
بطيبة انزل ويممّ سيّد الأمم
… وانشر له المدح وانثر أطيب الكلم
ووضع (صفي الدين الحلي) المتوفي سنة (750 هـ) بديعته (الكافية البديعية في المدائح النبوية) على بحر البسيط وعلى روي الميم المكسورة ومطلعها.
--------------------------------------------
আল-বুসিরির ভাবধারা অনুসরণ করে, এবং সাম্প্রতিককালে তাঁর এই কবিতার অনুকরণে কবিতা রচয়িতাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন কবি মাহমুদ সামি আল-বারুদি, যিনি তাঁর কবিতার নাম দিয়েছেন: ‘কাশফুল গুম্মাহ ফি মাদহি সাইয়্যিদিল উম্মাহ’ এবং এর শ্লোক সংখ্যা ৪৪৭টি।
এবং এর প্রারম্ভিক চরণ:
হে বিজলি সঞ্চালক, তুমি জ্ঞানের আবাসের দিকে অগ্রসর হও
… এবং মেঘমালাকে যি-সালাম জনপদের দিকে চালিত করো।
এবং এর অনুকরণে কবি আহমদ শওকি তাঁর কবিতা রচনা করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন (নাহজুল বুরদাহ)। তিনি এটি ১৩২৭ হিজরিতে রচনা করেন এবং এর প্রারম্ভিক চরণ হলো:
বানের গাছ ও পাহাড়ের মধ্যবর্তী সমতলে বিচরণকারী এক হরিণ
… যে পবিত্র মাসসমূহে আমার রক্ত ঝরানোকে বৈধ করে নিয়েছে।
* আল-বুসিরি ৬৯৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর দুই বছর পর আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ জন্মগ্রহণ করেন, যিনি ইবনে জাবির আল-আন্দালুসি নামে পরিচিত। তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন এবং প্রাচ্যের অভিমুখে সফর করেন। তিনি মিসর ও শামে প্রবেশ করেন এবং আলেপ্পোতে বসতি স্থাপন করেন, এরপর আন্দালুসে ফিরে আসেন এবং ৭৮০ হিজরির জমাদিউল আখিরা মাসে আল-বীরা নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন «১»।
ইবনে জাবির কাসিদায়ে বুরদাহ-র প্রতি অত্যন্ত বিমোহিত ছিলেন এবং তাঁর কাব্যচর্চায় এর প্রভাব স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়।
তিনি এর অনুকরণে কাব্য রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু সেটি কেমন অনুকরণ? তিনি এক নতুন শিল্পকলা উদ্ভাবন করেন যার নাম অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কবিতা (البديعيات)। এর বৈশিষ্ট্য হলো যে, কবিতাটি হবে রাসূলের প্রশংসামূলক, তবে এর প্রতিটি চরণে অলঙ্কারশাস্ত্রের (البديع) কোনো না কোনো কৌশলের দিকে ইঙ্গিত থাকবে «২»।
এই অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কবিতার (البديعية) প্রারম্ভিক চরণ হলো:
তায়িবাতে (মদিনায়) অবতরণ করো এবং সকল উম্মতের সরদারের অভিমুখে চলো
… এবং তাঁর প্রশংসা ছড়িয়ে দাও এবং সর্বোত্তম কথাগুলো নিবেদন করো।
এবং সাফিউদ্দিন আল-হিল্লি (মৃত্যু: ৭৫০ হি.) তাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় কবিতা (بديعته) (আল-কাফিয়াতুল বাদিইয়্যাহ ফিল মাদাইহিন নাবাওয়িয়্যাহ) রচনা করেছেন বাহরে বাসিত ছন্দে এবং জেরযুক্ত 'মিম' অক্ষরের অন্ত্যমিলে, যার প্রারম্ভিক চরণ হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إن جئت سلعا فسل عن جيرة العلم
… واقر السّلام على عرب بذي سلم «1»
وأنشأ (عز الدين الموصلي) المتوفي سنة 789 قصيدة بديعية لمعارضة (الحلي) أسماها «التوصل بالبديع، إلى التوسل بالشفيع» .
وجاء العلامة: تقي الدين أبو بكر ابن حجة الحموي. المتوفى سنة 837 هـ وصرح بمعارضة، صفي الدين الحلي، وعز الدين الموصلي معا «2» ، ووضع شرحا مطولا لبديعيته، أسماه «خزانة الأدب وغاية الأرب» .
وجاء (ابن المقري) المتوفى سنة 837 هـ فأنشأ بديعية سماها: «الجواهر اللامعة في تجنيس الفرائد الجامعة للمعاني الرائعة» .
وجاء «السيوطي» فعارض «ابن حجة الحموي» ببديعية سماها: «نظم البديع في مدح خير شفيع» .
واندفع الناس في هذا الفن فللسيدة «الباعونية» بديعيتان، و «لأبي الوفاء بن عمر الفرضي» بديعية. وللسيد عبد الهادي الأبياري بديعية، وللشيخ «طاهر الجزائري» بديعية.
ولابن «خير الله الخطيب العمري» بديعية، ولعبد الغني النابلسي، بديعيتان، و «لقاسم بن محمد الحلبي» بديعية، «لصدر الدين الحسيني» بديعية، و «لشعبان الاثاري» بديعية «3» .
ولأكثر هذه البديعيات شروح فيها الوسيط والوجيز والمبسوط «4» ، وأكثر هؤلاء الشراح من المتفوقين في العلوم العربية، وفي شروحهم من الفوائد
--------------------------------------------
আপনি যদি সালায় পৌঁছান তবে ইলমের প্রতিবেশী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন
… এবং যী সালামের আরবদের প্রতি সালাম পৌঁছে দিন। «১»
এবং ইজ্জুদ্দিন আল-মাওসিলি (মৃত্যু ৭৮৯ হি.) আল-হিল্লির অনুকরণ (معارضة) করে একটি বাদিয়্যাহ (بديعية) রচনা করেন, যার নাম তিনি দেন ‘আত-তাওয়াসসুল বিল বাদি, ইলাত তাওয়াসসুল বিশ শাফি’।
অতঃপর আল্লামা তাক্বিউদ্দিন আবু বকর ইবনু হিজ্জাহ আল-হামাভী (মৃত্যু ৮৩৭ হি.) আগমন করেন এবং তিনি সাফীউদ্দিন আল-হিল্লি ও ইজ্জুদ্দিন আল-মাওসিলি উভয়কেই অনুকরণের (معارضة) কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন «২», এবং তিনি তাঁর বাদিয়্যাহর একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন, যার নাম দেন ‘খিজানাতুল আদাব ওয়া গায়াতুল আরাব’।
এরপর ইবনুল মুক্বরী (মৃত্যু ৮৩৭ হি.) আসেন এবং তিনি একটি বাদিয়্যাহ (بديعية) রচনা করেন যার নাম দেন: ‘আল-জাওয়াহিরুল লামিআহ ফী তাজনিসিল ফারায়েদিল জামিআহ লিল মা’আনীর রাইআহ’।
অতঃপর সুয়ূতী আগমন করেন এবং তিনি ইবনু হিজ্জাহ আল-হামাভীর অনুকরণে (معارضة) একটি বাদিয়্যাহ (بديعية) রচনা করেন যার নাম দেন: ‘নাজমুল বাদি ফী মাদহি খাইরি শাফি’।
এরপর মানুষ এই শিল্পের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে; ফলে সায়্যিদাহ আল-বাউনিয়্যাহর দুটি বাদিয়্যাহ (بديعية) রয়েছে, আর আবু ওয়াফা বিন উমর আল-ফারদীর একটি বাদিয়্যাহ (بديعية) রয়েছে। সায়্যিদ আব্দুল হাদী আল-আবইয়ারীর একটি বাদিয়্যাহ (بديعية) রয়েছে এবং শাইখ তাহের আল-জাজাইরীর একটি বাদিয়্যাহ (بديعية) রয়েছে।
এবং ইবনু খাইরুল্লাহ আল-খাতীব আল-উমারীর একটি বাদিয়্যাহ (بديعية) রয়েছে, আব্দুল গনি আন-নাবলুসির দুটি বাদিয়্যাহ (بديعية), কাসেম বিন মুহাম্মদ আল-হালাবীর একটি বাদিয়্যাহ (بديعية), সদরুদ্দিন আল-হুসাইনীর একটি বাদিয়্যাহ (بديعية) এবং শা’বান আল-আসারীর একটি বাদিয়্যাহ (بديعية) রয়েছে «৩»।
এই বাদিয়্যাহগুলোর অধিকাংশেরই ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে মধ্যম মানের (الوسيط), সংক্ষিপ্ত (الوجيز) এবং বিস্তারিত (المبسوط) ব্যাখ্যা রয়েছে «৪»। এই ব্যাখ্যাকারীদের অধিকাংশ ছিলেন আরবি ভাষাতত্ত্বে পারদর্শী এবং তাঁদের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
النحوية والصرفية، والبلاغية، واللغوية والأدبية، والتاريخية. فنون أكثرها من المستملح المستطاب.
ونلاحظ كيف أثرت قصيدة «البردة» في اللغة العربية وكيف ساد سلطانها بين العوام والخاص؟
إن الإخلاص هو الذي مكن البوصيري من ناحية المجد الأدبي، وهو الذي رفعه إلى منزلة الخلود.
ব্যাকরণিক, শব্দতাত্ত্বিক, অলঙ্কারশাস্ত্রীয়, ভাষাতাত্ত্বিক, সাহিত্যিক এবং ঐতিহাসিক বিষয়সমূহ। এই শিল্পগুলোর অধিকাংশই অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক ও উপাদেয়।
আমরা লক্ষ্য করি যে, ‘আল-বুরদাহ’ কাসিদাটি আরবি ভাষার ওপর কেমন প্রভাব বিস্তার করেছে এবং সাধারণ ও বিশিষ্ট—উভয় শ্রেণির মানুষের মাঝে এর আধিপত্য কীভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
নিশ্চয়ই নিষ্ঠাই আল-বুসিরিকে সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে এবং এটিই তাকে অমরত্বের মর্যাদায় উন্নীত করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المدائح النبويةالمدائح النبوية من فنون الشعر التي أذاعها التصوف، فهي لون من التعبير عن العواطف الدينية الصادقة، وباب من الأدب الرفيع لأنها لا تصدر إلا عن قلوب مفعمة بالصدق والإخلاص.
وأكثر المدائح النبوية قيل بعد وفاة الرسول، وما يقال بعد الوفاة يسمى رثاء، ولكنه في الرسول يسمى مدحا.
كأنهم لحظوا أن الرسول صلى الله عليه وسلم موصول الحياة، وأنهم يخاطبونه كما يخاطبون الأحياء، ويمكن القول بأن الثناء على الميت لا يسمى رثاء إلا إذا قيل في أعقاب الموت، ولذلك نراهم يقولون: «قال حسان يرثي»
النبي صلى الله عليه وسلم» ليفرقوا بين حالين من الثناء: ما كان في حياة الرسول، وما كان بعد موت الرسول، بخلاف ما يقع من شاعر ولد بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم، فإن ثناءه عليه مديح لا رثاء، لأن الرثاء يقصد به إعلان التحزن والتفجع، على حين لا يراد بالمدائح النبوية إلا التقرب إلى الله بنشر محاسن الدين والثناء على شمائل الرسول.
والمديح النبوي فن نشأ في البيئات الصوفية، ولأن الذين أجادوا لم يكونوا في الأغلب من فحول الشعراء.
--------------------------------------------
নবী-প্রশস্তি (المدائح النبوية)নবী-প্রশস্তি (المدائح النبوية) কাব্যশিল্পের এমন এক শাখা যা সূফিবাদ (التصوف) কর্তৃক প্রচারিত হয়েছে। এটি মূলত অকৃত্রিম ধর্মীয় আবেগ প্রকাশের একটি ধরণ এবং উচ্চমার্গের সাহিত্যের একটি অধ্যায়; কারণ তা সত্যবাদিতা ও একনিষ্ঠতায় পরিপূর্ণ হৃদয় ছাড়া অন্য কোথাও থেকে উৎসারিত হয় না।
অধিকাংশ নবী-প্রশস্তি রাসূলের ইন্তেকালের পরে রচিত হয়েছে। ইন্তেকালের পরে যা বলা হয় তাকে সাধারণত শোকগাথা (رثاء) বলা হয়, তবে রাসূলের ক্ষেত্রে একে স্তুতি (مدح) বলা হয়।
যেন তারা লক্ষ্য করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এক নিরবচ্ছিন্ন জীবনের অধিকারী এবং তারা তাঁকে সেভাবেই সম্বোধন করেন যেভাবে জীবিতদের সম্বোধন করা হয়। এটি বলা সম্ভব যে, মৃত ব্যক্তির প্রশংসা কেবল তখনই শোকগাথা (رثاء) হিসেবে গণ্য হয় যখন তা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে ব্যক্ত করা হয়। একারণেই আমরা তাদের বলতে দেখি: «হাসসান নবী (সা.)-এর শোকগাথা (يرثي) বর্ণনা করেছেন»—
যাতে তারা প্রশংসার দুটি অবস্থার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে পারেন: যা রাসূলের জীবদ্দশায় ছিল এবং যা রাসূলের ইন্তেকালের পর হয়েছে। এর বিপরীতে যে কবির জন্ম নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পরে হয়েছে, তার প্রশংসা মূলত স্তুতি (مديح), শোকগাথা (رثاء) নয়। কারণ শোকগাথার (الرثاء) উদ্দেশ্য হলো বিলাপ ও শোক প্রকাশ করা, যেখানে নবী-প্রশস্তির (المدائح النبوية) মাধ্যমে কেবল দ্বীনের সৌন্দর্য প্রচার এবং রাসূলের চারিত্রিক গুণাবলির (شمائل) স্তুতির দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভই কাম্য থাকে।
নবী-স্তুতি (المديح النبوي) সূফি পরিবেশে উদ্ভূত একটি শিল্প; আর যারা এতে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন তারা সাধারণত প্রথিতযশা কবিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن أقدم ما مدح به الرسول صلى الله عليه وسلم قصيدة الأعشى التي يقول فيها «1» :
ألم تغتمض عيناك ليلة أرمدا
… وعادك ما عاد السليم المسّهدا
وما ذاك من عشق النّساء وإنّما
… تناسيت قبل اليوم خلّة مهددا «2»
ولكن أرى الدّهر الذي هو خاتر
… إذا أصلحت كفّاي عاد فأفسدا
نبيّ يرى ما لا ترون وذكره
… أغار لعمري في البلاد وأنجدا
له صدقات ما تغبّ ونائل
… وليس عطاء اليوم مانعه غدا
إذا أنت لم ترحل بزاد من التّقى
… ولاقيت بعد الموت من قد تزوّدا
ندمت على ألاتكون كمثله
… وأنك لم ترصد لما كان أرصدا
ولا تقربن جارة إن سرها
… عليك حرام فانكحن «3» أو تأبّدا «4»
والقصيدة مروية في كثير من كتب الأدب (الأغاني- والسيرة- وخزانة الأدب) ولكن العجيب من أمرها أن القسم الثاني منها الذي خص فيه النبي بالمدح، أضعف بكثير من القسم الأول، ويبلغ الضعف في أبياته حد الركاكة والتفاهة. ثم هو متأثر ببعض آيات القرآن في معناها أو في ألفاظها، وقد ألم بتعاليم الإسلام إلماما حسنا. بما يناقض زعم الرواة أنه عاد حين علم أن الإسلام يحرم الخمر «5» .
وذهب الدكتور زكي مبارك إلى أن الأعشى لم يقل هذا الشعر وهو صادق النية في مدح الرسول وإنما كانت محاولة أراد بها التقرب من نبي الإسلام، وآية ذلك أنه انصرف حين صرفته قريش، ولو كان صادقا ما تحول «6»
…--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রশংসায় রচিত প্রাচীনতম কাব্যগুলোর অন্যতম হলো আল-আ'শার কাসিদা, যাতে তিনি বলেছেন:
অক্ষিরোগাক্রান্তের মতো তোমার চোখ দুটিতে কি সারারাত ঘুম আসেনি? আবার কি তোমার কাছে সেই বিনিদ্র অবস্থা ফিরে এসেছে যা বিষদষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটে থাকে?
… আর এটি নারীদের প্রতি আসক্তির কারণে নয়, বরং আজ আমি সেই 'মাহদাদা'র বন্ধুত্ব বিস্মৃত হয়েছি।
… কিন্তু আমি দেখছি এই কালপ্রবাহকে যা প্রবঞ্চক; আমার দুহাত যখনই কিছু সংশোধন করে, সে পুনরায় এসে তা ধ্বংস করে দেয়।
… তিনি এমন এক নবী যিনি এমন সব দেখেন যা তোমরা দেখ না; আমার জীবনের কসম, তার সুখ্যাতি শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে।
… তার দান-সদকা অবিরাম এবং তার অনুগ্রহ প্রাপ্তি নিশ্চিত; আজকের দান তাকে আগামীকালের দানে বিরত রাখে না।
… তুমি যদি তাকওয়ার পাথেয় সঙ্গে না নিয়ে যাত্রা করো এবং মৃত্যুর পরে এমন ব্যক্তির সাক্ষাৎ পাও যে পাথেয় সংগ্রহ করেছিল—
… তবে তুমি অনুতপ্ত হবে কেন তার মতো হলে না এবং তিনি যা কিছুর জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন তুমি কেন তার জন্য প্রস্তুত হলে না।
… প্রতিবেশীর স্ত্রীর নিকটবর্তী হয়ো না, কেননা তা তোমার জন্য হারাম; বরং বিবাহ করো অথবা পবিত্রতা অবলম্বন করো।
… কাসিদাটি সাহিত্যের অনেক কিতাবে (আল-আঘানি, আস-সিরাহ এবং খিজানাতুল আদাব) বর্ণিত (مروية)। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর দ্বিতীয় অংশ—যাতে বিশেষভাবে নবীকে উদ্দেশ্য করে প্রশংসা করা হয়েছে—তা প্রথম অংশের তুলনায় অনেক বেশি দুর্বল (أضعف); এর পঙ্ক্তিগুলোর দুর্বলতা (ضعف) শিথিলতা ও তুচ্ছতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাছাড়া এটি এর ভাব কিংবা শব্দের দিক থেকে কুরআনের কিছু আয়াতের দ্বারা প্রভাবিত, আর এটি ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে বেশ ভালো জ্ঞান রাখে। যা বর্ণনাকারীদের (رواة) সেই দাবির পরিপন্থী যে, তিনি যখন জানতে পারেন ইসলাম মদ হারাম করেছে তখন তিনি ফিরে যান।
ডক্টর জাকি মুবারক এই মত পোষণ করেছেন যে, আল-আ'শা যখন এই কবিতাটি বলেছিলেন তখন রাসুলুল্লাহর প্রশংসায় তার নিয়ত অকৃত্রিম ছিল না; বরং এটি ছিল ইসলামের নবীর নৈকট্য লাভের একটি প্রচেষ্টা মাত্র। এর প্রমাণ হলো, কুরাইশরা যখন তাকে নিবৃত্ত করল তখন তিনি ফিরে গেলেন; যদি তিনি অকৃত্রিম হতেন তবে সত্য থেকে বিচ্যুত হতেন না।
…--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وكذلك الحال في قصيدة (بانت سعاد) «1» التي قالها كعب بن زهير بن أبي سلمى في مدح الرسول، ولم تنظم إلا في سبيل النجاة من القتل، وحديث ذلك.
أسلم (بجير بن زهير بن أبي سلمى المزنيّ) فاشتد عليه أهله وكان كعب بن زهير، وهو أخوه لأبيه وأمه، شديدا عليه، فلقي بجير النبي صلى الله عليه وسلم مهاجرا، فأرسل إليه كعب بن زهير «2» .
ألا أبلغا عني بجيرا رسالة
… فهل لك فيما قلت بالخيف هل لكا
شربت مع المأمون كأسا روية
… فأنهلك المأمون منها وعلّكا
وخالفت أسباب الهدى وتبعته
… على أيّ شيء ويب غيرك دلّكا
على خلق لم تلف أمّا ولا أبا
… عليه ولم تدرك عليه أخا لكا
فإن أنت لم تفعل فلست باسف
… ولا قائل إمّا عثرت لعالكا
فلما بلغت هذه الأبيات بجيرا أنشدها النبي صلى الله عليه وسلم، فقال صدق! أنا المأمون وإنه لكاذب قال أجل لم يلف عليه أباه ولا أمّه على الإسلام، فأجابه بجير:
من مبلغ كعبا فهل لك في التي
… تلوم عليها باطلا وهي أحزم
إلى الله لا العزّى ولا اللات وحده
… فتنجو إذا كان النجاء وتسلم
لدى يوم لا ينجو وليس بمفلت
… من النار إلا طاهر القلب مسلم
فدين زهير وهو لا شيء دينه
… ودين أبي سلمى عليّ محرّم
فلما أتاه كتاب (بجير) ضاقت به الأرض وأشفق على نفسه، وأرجف به من كان في حاضره، وقالوا: هو مقتول. ثم أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان النبي عليه السلام لا يعرفه، فجلس بين يديه ثم قال:
يا رسول الله. إن (كعب بن زهير) أتاك تائبا مسلما، فهل أنت قابل منه إن
--------------------------------------------
অনুরূপ অবস্থা (বান্ত সুআদ) কাসিদার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যা কাব বিন জুহাইর বিন আবি সুলমা রাসূলের প্রশংসায় রচনা করেছিলেন; আর এটি কেবল হত্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার পথ হিসেবেই রচিত হয়েছিল এবং এর হাদিস নিম্নরূপ।
(বুজাইর বিন জুহাইর বিন আবি সুলমা আল-মুজানি) ইসলাম গ্রহণ করলে তাঁর পরিবার তাঁর প্রতি অত্যন্ত কঠোর হয়। তাঁর সহোদর ভাই কাব বিন জুহাইর তাঁর প্রতি অত্যন্ত রূঢ় ছিল। অতঃপর বুজাইর হিজরতকারী হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেন; তখন কাব বিন জুহাইর তাঁর কাছে এই কবিতাটি লিখে পাঠান: «2» .
সাবধান! আমার পক্ষ থেকে বুজাইরের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে দাও
… তবে খাইফ প্রান্তরে আমি যা বলেছিলাম, সে বিষয়ে কি তোমার কোনো আগ্রহ আছে?
তুমি 'আল-মামুন' (বিশ্বস্ত)-এর সাথে তৃপ্তিদায়ক পানপাত্র থেকে পান করেছো
… সেই মামুন তোমাকে তা বারবার পান করিয়ে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।
তুমি হিদায়াতের পথ পরিহার করেছো এবং তাঁর অনুসারী হয়েছো
… তোমার দুর্ভাগ্য! সে তোমাকে কিসের দিকে ধাবিত করেছে?
এমন এক স্বভাবের দিকে যা তুমি তোমার মাতা বা পিতার মাঝে খুঁজে পাওনি
… এবং তোমার কোনো ভাইয়ের মাঝেও তা প্রত্যক্ষ করোনি।
যদি তুমি (পুরানো ধর্মে) ফিরে না আসো, তবে আমি অনুতপ্ত হবো না
… আর যদি তুমি পদস্খলিত হও, তবে আমি তোমার জন্য ‘ঈশ্বর তোমার সহায় হোন’ বলবো না।
যখন এই কবিতাগুলো বুজাইরের কাছে পৌঁছাল, তিনি তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠ করে শোনালেন। তখন তিনি বললেন, "সে সত্য বলেছে! আমিই আল-মামুন, আর সে হলো মিথ্যাবাদী (كاذب)!" তিনি আরও বললেন, "হ্যাঁ, সে ইসলামের ওপর তার পিতা বা মাতাকে পায়নি।" এরপর বুজাইর তাকে উত্তর দিলেন:
কে কাবের কাছে এই সংবাদ পৌঁছে দেবে—তোমার কি সেই বিষয়ের প্রতি আগ্রহ হবে
… যে বিষয়ে তুমি অহেতুক নিন্দা করছো, অথচ সেটিই সবচেয়ে সুদৃঢ় পথ?
কেবল আল্লাহর দিকে ফিরে এসো, উজ্জা বা লাতের দিকে নয়
… তবেই তুমি নাজাতের সময় মুক্তি পাবে এবং নিরাপদ থাকবে।
এমন একদিনে যখন পবিত্র হৃদয়ের মুসলিম ব্যতীত অন্য কেউ
… জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে না এবং মুক্তি পাবে না।
জুহাইরের ধর্ম—যার ধর্ম ছিল অসার—
… এবং আবি সুলমার ধর্ম আমার জন্য নিষিদ্ধ।
যখন (বুজাইর)-এর পত্রটি তাঁর কাছে পৌঁছাল, তখন জমিন তাঁর জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেল এবং তিনি নিজের প্রাণের ব্যাপারে শঙ্কিত হয়ে পড়লেন। তাঁর আশেপাশে যারা ছিল তারা তাঁর মনে ভয় ধরিয়ে দিল এবং বলল, "তাকে হত্যা করা হবে।" অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চিনতেন না। তিনি তাঁর সামনে বসলেন এবং বললেন:
হে আল্লাহর রাসূল! (কাব বিন জুহাইর) আপনার নিকট তওবাকারী ও মুসলিম হয়ে এসেছে; আপনি কি তার তওবা কবুল করবেন যদি সে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أنا جئتك به؟ قال نعم قال: فأنا كعب، فوثب رجل من الأنصار فقال: دعني أضرب عنقه، فكفه النبي صلى الله عليه وسلم عنه، ثم أنشده القصيدة.
وهذه الظروف ترينا أن كعب بن زهير، لم يقل لاميته وهو مأخوذ بعاطفة دينية قوية، تسمو به إلى روح التصوف، إنما هي قصيدة من قصائد المديح يقولها الشاعر حين يرجو أو يخاف وليست من المدائح النبوية في شيء.
تقع لامية «1» كعب في خمسة وخمسين بيتا، من الشعر المحكم الرصين.
وإن خلت من قوة الروح، وتجري على التقاليد الأدبية لشعراء الجاهلية، ومطلعها «2» .
بانت سعاد فقلبي اليوم متبول
… متيّم إثرها لم يجز مكبول
وما سعاد غداة البين إذ رحلوا
… إلا أغنّ غضيض الطرف مكحول
ويقول:
إن الرسول لسيف يستضاء به
… مهنّد من سيوف الله مسلول
في عصبة من قريش قال قائلهم
… ببطن مكة لما أسلموا زولوا
زالوا فما زال أنكاس ولا كشف
… عند اللقاء ولا ميل معازيل
شم العرانين أبطال لبوسهم
… من نسج داود في الهيجا سرابيل
بيض سوابع قد شكّت لها حلق
… كأنها حلق القفعاء مجدول
يمشون مشي الجمال الزهر يعصمهم
… ضرب إذا عرّد السود التنابيل
لا يقع الطعن إلا في نحورهم
… ما إن لهم عن حياض الموت تهليل
فهي قصيدة جاهلية تغلب عليها قوة السبك، ولكنها تكاد تخلو من روح الدين «3» ولا غرابة في ذلك، فإن كعب بن زهير، لم يمدح الرسول إلا لينجو
--------------------------------------------
"আমি কি তাকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "আমিই কা'ব।" তখন আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি লাফিয়ে উঠলেন এবং বললেন, "আমাকে তার গর্দান উড়িয়ে দিতে দিন।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নিবৃত্ত করলেন, এরপর তিনি তাঁকে কাসিদাটি পাঠ করে শোনালেন।
এই পরিস্থিতিগুলো আমাদের দেখায় যে, কা'ব ইবনে যুহাইর যখন তাঁর 'লামিয়্যাহ' (লাম-বর্ণের কাসিদা) রচনা করেছিলেন, তখন তিনি কোনো প্রবল ধর্মীয় আবেগের বশবর্তী ছিলেন না যা তাঁকে আধ্যাত্মিকতার স্তরে উন্নীত করতে পারত। বরং এটি ছিল সেই প্রশংসামূলক কাসিদাসমূহের একটি, যা কোনো কবি প্রত্যাশা বা ভয়ের সময় পাঠ করে থাকেন; এটি প্রচলিত নবি-বন্দনার অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয় নয়।
কা'বের 'লামিয়্যাহ' «১» অত্যন্ত সুসংহত ও শক্তিশালী কাব্যশৈলীর পঞ্চান্নটি পংক্তির সমন্বয়ে গঠিত।
যদিও এটি আধ্যাত্মিক শক্তিরহিত এবং জাহেলি যুগের কবিদের সাহিত্যিক প্রথা অনুসরণ করে রচিত। এর সূচনা «২» হলো:
সুয়াদ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, ফলে আজ আমার হৃদয় ব্যথিত
… তার বিরহে কাতর ও শৃঙ্খলিত, যার কোনো মুক্তি মেলেনি
বিচ্ছেদের প্রভাতে যখন তারা যাত্রা করল, তখন সুয়াদ তো ছিল কেবল সুমিষ্ট কণ্ঠস্বর আর সুরমা মাখা আনত নয়না এক নারী
তিনি বলেন:
নিশ্চয়ই রাসুল এমন এক আলোকবর্তিকা যা থেকে আলো গ্রহণ করা হয়
… আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্যে এক কোষমুক্ত ধারালো ভারতীয় তলোয়ার
কুরাইশদের এমন এক দলের মাঝে, মক্কার উপত্যকায় তারা যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিল তখন তাদের প্রবক্তা বলেছিল, "তোমরা হিজরত করো"
তারা হিজরত করেছে, কিন্তু তারা রণক্ষেত্রে দুর্বল বা অপ্রতিভ ছিল না
… যুদ্ধের মোকাবিলায় তারা অস্ত্রহীন বা ভীতুও ছিল না
তারা উন্নত নাসিকার অধিকারী বীর যোদ্ধা, রণক্ষেত্রে দাউদ (আ.)-এর তৈরি বর্মই তাদের পোশাক
উজ্জ্বল ও দীর্ঘ বর্ম, যার কড়াগুলো সুনিপুণভাবে বিন্যস্ত
… যেন লতার কুণ্ডলীর মতো পেঁচানো
তারা শুভ্র উটের ন্যায় ধীরপদে চলে, তাদের রক্ষা করে
… সেই তলোয়ারের আঘাত, যখন খর্বকায় কৃষ্ণাঙ্গরা পলায়ন করে
বর্শার আঘাত কেবল তাদের কণ্ঠদেশেই লাগে
… মৃত্যুর জলাধার (রণক্ষেত্র) থেকে পলায়নের কোনো ইচ্ছা তাদের নেই
সুতরাং এটি একটি জাহেলি কাসিদা যাতে রচনার দৃঢ়তা প্রবল, তবে এটি ধর্মীয় চেতনা থেকে প্রায় শূন্য «৩»। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ কা'ব ইবনে যুহাইর কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেই রাসুলের প্রশংসা করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
من الموت، ومن كان في مثل حاله لا ينتظر منه صدق الثناء «1» . وبعد الأعشى وكعب، حسان بن ثابت، وهذا الشاعر كان أكبر شعراء الرسول ويمتاز بالصدق والإخلاص فقد كان يمدح ويقارع خصومه على الطرائق الجاهلية، وكان الرسول أوصاه أن يتعلم الأنساب من (أبي بكر) ليكون شعره أوجع في الهجاء.
وأقوى قصيدة في مدائح حسان هي العينية، فهو يقارع الخصوم ويلاحيهم، ويتخذ مدح الرسول ومدح أهله سنادا لما عمد إليه من المقارعة والملاحاة، وفيها يقول «2» :
أكرم بقوم رسول الله شيعتهم
… إذا تفرقت الأهواء الشيع
أهدي لهم مدحي قلب يؤازره
… إن جدّ بالناس جدّ القول أو شمعوا
وهذه القصيدة تمجيد لأتباع الرسول صلى الله عليه وسلم، والشاعر مدفوع إليها بقوة العصبية وليس فيها روح الدين إلا إشارته إلى وحي القلب. ويظهر لنا أثر الشجاعة الصوفية عند الفرزدق حين مدح علي بن الحسين، في حضرة هشام بن عبد الملك، وقوله حين رفض العطية مدحته لله تعالى لا للعطاء.
قال الفرزدق «3» :
هذا الذي تعرف البطحاء وطأته
… والبيت يعرفه والحل والحرم
هذا ابن خير عباد الله كلّهم
… هذا التقيّ النقيّ الطاهر العلم
هذا ابن فاطمة إن كنت جاهله
… بجدّه أنبياء الله قد ختموا
ويقرن الشاعر شكر الله، بشكر آل البيت، ويرى أن حبهم دين، وبغضهم كفر والمدح لله هو عين التصوف.
--------------------------------------------
মৃত্যুর হাত থেকে [বাঁচার জন্য], আর যার অবস্থা এমন হয়, তার কাছ থেকে প্রশংসার সত্যতা (صدق) প্রত্যাশা করা যায় না «১»। আ'শা এবং কা'বের পরে হাসসান বিন সাবিত-এর নাম আসে। এই কবি ছিলেন রাসূলুল্লাহর সবচেয়ে বড় কবি এবং তিনি সত্যবাদিতা (صدق) ও একনিষ্ঠতার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন। তিনি জাহিলি পদ্ধতির অনুসরণে প্রশংসা করতেন এবং শত্রুদের মোকাবেলা করতেন। রাসূলুল্লাহ তাকে (আবু বকর)-এর নিকট থেকে বংশলতিকা শিক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে তাঁর ব্যাঙ্গাত্মক কবিতাগুলো আরও বেশি মর্মভেদী হয়।
হাসসানের প্রশস্তিমূলক কবিতাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো ‘আইনিয়াহ’ কাসিদাটি। এতে তিনি শত্রুদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন এবং তাদের প্রতিহত করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রশংসাকে তাঁর এই বিতর্ক ও মোকাবিলার অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাতে তিনি বলেন «২»:
সেই সম্প্রদায় কতই না সম্মানিত যাদের সমর্থক স্বয়ং রাসূলুল্লাহ... যখন প্রবৃত্তি ও দলসমূহ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
আমি তাদের প্রতি আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে প্রশংসা উৎসর্গ করি যা তাকে সমর্থন জোগায়... যখন মানুষের মাঝে কথার গুরুত্ব বেড়ে যায় অথবা তারা বিদ্রুপে লিপ্ত হয়।
এই কাসিদাটি মূলত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারীদের মহিমা বর্ণনা। কবি এখানে গোত্রীয় সংহতির প্রবল আবেগে তাড়িত হয়েছেন এবং এতে অন্তরের প্রেরণার ইঙ্গিত ছাড়া দ্বীনি রূহ বা আধ্যাত্মিক ভাবের তেমন উপস্থিতি নেই। হিশাম বিন আব্দুল মালিকের উপস্থিতিতে আলী বিন হুসাইনের প্রশংসা করার সময় আল-ফারাজদাকের মাঝে সুফিবাদী বীরত্বের প্রভাব আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়। আর হাদিয়া বা দান গ্রহণ করতে অস্বীকার করে তার বক্তব্য ছিল যে, তিনি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্যই এই প্রশংসা করেছেন, দানের আশায় নয়।
ফারাজদাক বলেন «৩»:
ইনি সেই ব্যক্তি যার পদচারণা বাতহা (মক্কার উপত্যকা) চেনে... বায়তুল্লাহ তাঁকে চেনে এবং চেনে হারাম ও হারামের বাইরের এলাকাও।
ইনি আল্লাহর সকল বান্দার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তির সন্তান... ইনিই সেই মুত্তাকী (تقي), পুত-পবিত্র, নিষ্কলুষ এবং প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব।
ইনি ফাতিমার পুত্র, যদি তুমি তাঁকে না চিনে থাকো... যাঁর নানার মাধ্যমেই আল্লাহর নবীগণের সিলসিলা সমাপ্ত হয়েছে।
কবি এখানে আল্লাহর শুকরিয়ার সাথে আহলে বাইতের শুকরিয়াকে যুক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন যে, তাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করা দ্বীন এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কুফর। আর আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রশংসাই হলো প্রকৃত তাসাউফ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ويمكن القول بأن مدح الفرزدق للنبي وأهله هو بداية الصدق في المدائح النبوية.
وهناك شعراء قضوا أعمارهم في الدفاع عن أهل البيت، ولقوا في ذلك من المحن والمكاره ما يدل على نصيبهم من صدق الوجدان: أمثال الكميت، ودعبل، وأبي الطفيل «1» ، وهناك شعراء لم يقفوا حياتهم على هذا الفن، ولكن كانت لهم فيه مواقف موصولة بصدق اليقين. أمثال الشريف الرضي، ومهيار.
وهناك شعراء أطالوا القول في مدح أهل البيت، وهم شعراء الدولة الفاطمية، ولكن هؤلاء صدقهم مشوب بروح النفع: لأن الفاطميين كانوا أقاموا ملكا عظيما في مصر والمغرب، وانتصارهم كاف لتشكيكنا في عواطف من مدحوهم من الشعراء.
وليس معنى ذلك أن مدح المنتصر يخلو من الصدق، لا. ولكن معناه أنه بعيد عن التصوف، لأنه متهم بحب النفع، وهيهات أن يقف مثل الشاعر ابن هانىء الأندلسي في صف شاعر مثل الكميت! وإن علامة التصوف هي الشجاعة والشجاعة لا يحتاج إليها إلا في مواطن الخوف، وهي عندئذ دليل على حفظ العهد، وصدق اليقين.
* درج معرب البردة على قوله (متعلق) بعد كل جار ومجرور، فجعلتها متعلقان، ويبدو أن المؤلف (المعرب) ينطلق في هذا من الأخذ بأن الجار والمجرور يشكلان شيئا واحدا فهما كالكلمة الواحدة.
* ما بين قوسين [
… ] زيادة ليست في الأصل وإنما ضرورة اقتضاها العمل في ذلك.
--------------------------------------------
বলা যেতে পারে যে, নবী (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি আল-ফারাজদাকের প্রশংসাই হলো নবী-স্তুতির ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা (صدق)-র সূচনা।
এমন অনেক কবি রয়েছেন যারা আহলে বাইতের প্রতিরক্ষায় তাদের জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং এর ফলে তারা এমন সব পরীক্ষা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন যা তাদের অনুভূতির সত্যতা (صدق)-র প্রমাণ দেয়; যেমন: আল-কুমাইত, দি’বিল এবং আবু তুফাইল (১)। আবার এমন কবিও রয়েছেন যারা এই শিল্পে তাদের জীবন উৎসর্গ করেননি, তবে এতে তাদের এমন কিছু অবস্থান ছিল যা দৃঢ় বিশ্বাসের সত্যতা (صدق)-র সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত; যেমন: আশ-শরিফ আল-রাযি এবং মাহইয়ার।
আবার এমন কিছু কবি রয়েছেন যারা আহলে বাইতের প্রশংসায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, তারা হলেন ফাতিমীয় রাষ্ট্রের কবি। কিন্তু তাদের এই সত্যবাদিতা (صدق) বৈষয়িক লাভের রেশ দ্বারা কলুষিত; কারণ ফাতিমীয়রা মিশর ও মরক্কোতে এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং তাদের এই বিজয় সেই কবিদের আবেগ নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ জাগানোর জন্য যথেষ্ট যারা তাদের প্রশংসা করেছিল।
এর অর্থ এই নয় যে, বিজয়ীর প্রশংসা সত্যতা (صدق) বর্জিত, না। বরং এর অর্থ হলো এটি সুফিবাদ থেকে দূরে, কারণ এটি স্বার্থান্বেষণের অভিযোগে অভিযুক্ত। ইবনে হানি আল-আন্দালুসির মতো কবির পক্ষে আল-কুমাইতের মতো কবির সমকক্ষ হওয়া সুদূরপরাহত! আর সুফিবাদের চিহ্ন হলো সাহসিকতা, আর সাহসিকতার প্রয়োজন কেবল ভয়ের স্থানেই পড়ে; এমতাবস্থায় তা অঙ্গীকার রক্ষা এবং দৃঢ় বিশ্বাসের সত্যতা (صدق)-র প্রমাণ।
* বুরদাহ-এর অনুবাদক প্রতিটি ‘জার’ ও ‘মাজরুর’-এর পরে ‘মুতাআল্লিক’ শব্দ ব্যবহারের রীতি অনুসরণ করেছেন, তাই আমি সেগুলোকে ‘মুতাআল্লিকান’ হিসেবে ব্যবহার করেছি। মনে হচ্ছে লেখক (অনুবাদক) এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটি করেছেন যে, জার এবং মাজরুর মিলে একটি একক বিষয় গঠন করে, যা একটি শব্দের মতো।
* বন্ধনীর ভেতরে থাকা [
... ] অংশটুকু মূল পাঠে নেই, বরং কাজের প্রয়োজনে তা যোগ করা অপরিহার্য ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
* كلمات كثيرة جعلها المعرب بالياء مثل النايب، القصايد، وساير بدلا من النائب والقصائد وسائر.
* ويعلق (كيف) أخذا بكلام سيبويه. في البيت السادس وفي البيت الثالث والثلاثين ونجد أن المعرب يأخذ برأي البصريين كما في البيت (20) .
* (وإن هي استحلت المرعى....) .
* অনেক শব্দকে অনুবাদক ‘ইয়া’ বিশিষ্ট করেছেন যেমন আন-নায়েব, আল-কাসায়েদ এবং সায়ের; যা মূলত আন-নায়িব, আল-কাসায়িদ এবং সায়ির-এর পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে।
* এবং তিনি সিবওয়াইহ-এর উক্তি গ্রহণ করে ‘কাইফা’ শব্দের ওপর টীকা প্রদান করেছেন। ষষ্ঠ এবং তেত্রিশতম চরণে আমরা লক্ষ্য করি যে, অনুবাদক বসরীয়দের মত গ্রহণ করেছেন, যেমনটি বিংশতম চরণে পরিলক্ষিত হয়।
* (এবং যদি সে চারণভূমিকে ব্যবহারের উপযোগী মনে করে....) ।
(খণ্ড: ১)
আল-উমদাহ ফী ইবরাবিল বুরদাহ কাসীদাতুল বূসীরী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
التأثر بإعراب البردةيبدو أن الأزهري أخذ من المؤلف (المعرب) لأننا نشاهد في كثير من الإعراب بأن الكلمات واحدة.
* في البيت الرابع يذهب معرب البردة (بين) منصوب على الظرفية ويقول الأزهري: منصوب على الظرفية المكانية ص 8.
ويقع الناسخ في الوهم حينما يقول: في البيت الخامس (وجملة لم ترق ومعوليها
… ) فالأصح (ومعولاها) وكذلك الأزهري ص 8.
* وفي البيت السادس نجد أن المعرب يعلق (كيف) وأيضا يذهب الأزهري إلى ذلك، بينما الباجوري لا يعلقها ص 10.
* ويقع الناسخ في الوهم حينما يقول:
في البيت الثامن والعشرين (سوى. مفعول أصل) وكذلك الأزهري.
والأصح مفعول (أصلي) ص 22.
* وفي البيت الثالث والثلاثين. يأخذ المعرب برأي سيبويه في إعراب (لولاه) والأزهري يأخذ بهذا الرأي أيضا ص 26.
* وفي البيت الأربعين (حدهم) كسر الميم والإشباع (الزبدة في شرح البردة) ص 67.
বুরদাহর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের প্রভাবপ্রতীয়মান হয় যে, আল-আযহারী মূল লেখক (ব্যাকরণবিদ) থেকে গ্রহণ করেছেন; কারণ আমরা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের অনেক ক্ষেত্রে দেখতে পাই যে শব্দসমূহ অভিন্ন।
* চতুর্থ চরণে বুরদাহর ব্যাকরণবিদ ‘বাইন’ শব্দটিকে ক্রিয়া বিশেষণীয় হিসেবে নসবযুক্ত গণ্য করেছেন এবং আল-আযহারী বলেন: এটি স্থানবাচক ক্রিয়া বিশেষণীয় হিসেবে নসবযুক্ত, পৃষ্ঠা ৮।
অনুলিপিকারক ভ্রমাত্মক ধারণার শিকার হন যখন তিনি বলেন: পঞ্চম চরণে (‘লাম তারা কা ওয়া মুআওয়ালিহা’
… ) অথচ অধিকতর সঠিক হলো ‘ওয়া মুআওয়ালাহা’, অনুরূপভাবে আল-আযহারীও তাই বলেছেন, পৃষ্ঠা ৮।
* ষষ্ঠ চরণে আমরা দেখতে পাই যে ব্যাকরণবিদ ‘কাইফা’ শব্দটিকে সংশ্লিষ্ট করেছেন এবং আল-আযহারীও সেই মত পোষণ করেছেন, যেখানে আল-বাজুরী একে সংশ্লিষ্ট করেননি, পৃষ্ঠা ১০।
* অনুলিপিকারক ভ্রমাত্মক ধারণার শিকার হন যখন তিনি বলেন:
আঠাশতম চরণে (‘সিওয়া’; আসলের কর্মপদ), আল-আযহারীও তদ্রূপ বলেছেন।
আর অধিকতর সঠিক হলো ‘আসাল্লী’-র কর্মপদ, পৃষ্ঠা ২২।
* তেত্রিশতম চরণে ব্যাখ্যাকার ‘লাওলাহু’-র ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে সিবওয়াইহর অভিমত গ্রহণ করেছেন এবং আল-আযহারীও এই অভিমতটি গ্রহণ করেছেন, পৃষ্ঠা ২৬।
* চল্লিশতম চরণে ‘হাদ্দাহুম’ শব্দে মীম বর্ণে কাসরা এবং ইশবা’ (স্বরধ্বনি দীর্ঘকরণ) সহকারে (আয-যুবদাহ ফী শারহিল বুরদাহ), পৃষ্ঠা ৬৭।