(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: -)
الطب النبوي لابن القيم   (ابن القيم)

القسم: الطب


الكتاب: الطب النبوي (جزء من كتاب زاد المعاد لابن القيم)

المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751هـ)

الناشر: دار الهلال - بيروت

الطبعة: -

عدد الصفحات: 320

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনুল কাইয়্যিম বিরচিত তিব্বে নববী   (ইবনুল কাইয়্যিম)

বিভাগ: চিকিৎসা


গ্রন্থ: তিব্বে নববী (ইবনুল কাইয়্যিম বিরচিত যাদুল মাআদ গ্রন্থের অংশবিশেষ)

লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আইয়ুব ইবনে সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল হিলাল - বৈরুত

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌[مقدمة المحقق]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي فتح أبواب الخير بما فتح على العالمين من أبواب السنة، وهدى الناس إلى الصراط المستقيم بكلام نبيه محمد سيد الأولين والآخرين. اللهم صل على سيدنا محمد وعلى آله وعلى من سار على هديه وأخذ نفسه بسنته والتزم طريقته وعلى أصحابه الأجلة ومن تبعهم بإحسان أما بعد فهذه تعليقات مختصرة تتعلق بتخريج أحاديث شريفة استشهد بها شمس الدين محمد بن أبي بكر أيوب الزرعي الدمشقي ابن قيم الجوزية في كتابه الطب النبوي الذي لا تخفى قيمته، ولا يخفت نوره، ولا تبيده فوائده.

والمؤلف يعرفه القاصي والداني، ولا تغيب شمسه عن كل من أخذ قلما وطرسا.

ولد رحمه الله بدمشق سنة إحدى وتسعين وستمائة (691 هـ) ونشأ على العلم والفهم والصلاح والتقوى والجد والدأب والبحث.

وكتابه الطب النبوي جزء من كتابه «زاد المعاد بهدى خير العباد» غير أن الطب النبوي فيه ذو قيمة مستقلة، وبحوث قيمة، في علم مستقل يتخصص الباحثون فيه اليوم، بل يتخصصون في كل جزء من أجزائه، ففي طب القلب مختصون، وفي جهاز الهضم مختصون وهكذا.

فرأى الكثير من الباحثين إفراد هذا الجزء المتعلق بالطب عن بقية أجزاء الكتاب، وأن يطبع مستقلا فكان في ذلك النفع العظيم، والفوائد الجمة، فطبع طبعات مختلفة كثيرة وكلها راجت وفقدت، مما يدل على أن المسلمين يحبون الاستشفاء بشفاء رسول الله صلى الله عليه وسلم، ويحبون أن يقرؤا وأن يطلبوا على هذا النموذج العظيم سواء تعلقه بطب علاجي حسي، أو تعلقه بطب معنوي من آيات أو أحاديث أو تعوذات أو تعويذات أو أدعية.
[সম্পাদকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুন্নাহর দ্বারসমূহ উন্মোচন করে বিশ্ববাসীর জন্য কল্যাণের পথ খুলে দিয়েছেন এবং তাঁর নবী, পূর্বাপর সকলের শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর মাধ্যমে মানুষকে সরল পথের দিশা দিয়েছেন। হে আল্লাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গের ওপর, এবং যারা তাঁর প্রদর্শিত পথে চলেছেন, তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছেন ও তাঁর আদর্শকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছেন তাঁদের ওপর। আরও রহমত বর্ষণ করুন তাঁর মহান সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী হয়েছেন তাঁদের ওপর। অতঃপর: এগুলো হলো শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আইয়ুব আয-যারয়ি আদ-দিমাশকি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ তাঁর ‘আত-তিববুন নববী’ (নবীজি সা.-এর চিকিৎসা পদ্ধতি) নামক গ্রন্থে যে হাদিসসমূহ উদ্ধৃত করেছেন, সেগুলোর সূত্র নির্দেশ (তাখরিজ) সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত কিছু টীকা। গ্রন্থটির গুরুত্ব সুবিদিত, এর জ্যোতি অম্লান এবং এর উপকারিতা চিরস্থায়ী।

গ্রন্থকারকে নিকট ও দূরের সকলেই চেনেন; যারা জ্ঞানচর্চায় ব্রতী হয়েছেন, তাদের কাছে তাঁর পরিচিতি সূর্যের মতো দেদীপ্যমান।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৬৯১ হিজরি সনে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নেক আমল, খোদাভীতি, অধ্যবসায় ও গবেষণার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন।

তাঁর এই ‘আত-তিববুন নববী’ গ্রন্থটি মূলত ‘যাদুল মা’আদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ’ নামক কিতাবের একটি অংশ। তবে চিকিৎসা শাস্ত্রের এই অংশটি স্বতন্ত্র মর্যাদার অধিকারী এবং এটি একটি বিশেষায়িত জ্ঞানভাণ্ডার, যেখানে বর্তমানকালের গবেষকগণ ব্যুৎপত্তি অর্জন করছেন; বরং তাঁরা এর প্রতিটি শাখায় বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠছেন। যেমন—হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি।

এ কারণে অনেক গবেষক কিতাবটির অন্যান্য অংশ থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত এই অংশটিকে পৃথক করা এবং স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। এতে অশেষ কল্যাণ ও ব্যাপক উপকার সাধিত হয়েছে। গ্রন্থটি বিভিন্ন সময়ে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং প্রতিটি সংস্করণই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা প্রমাণ করে যে মুসলমানরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর নির্দেশিত পদ্ধতিতে আরোগ্য লাভ করতে উন্মুখ। তাঁরা এই মহান আদর্শ সম্পর্কে পাঠ ও জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী, চাই তা ভেষজ বা বাহ্যিক চিকিৎসা হোক অথবা পবিত্র কুরআনের আয়াত, হাদিস, আশ্রয় প্রার্থনার দোয়া (তাআউউয), রক্ষাকবচ বা প্রার্থনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক চিকিৎসা হোক।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٤)
والشيخ رحمه الله حجة في كل ما ينقل، وما أخذ إلا ويرى للشيخ الفضل عليه ولكن تخريج الأحاديث شيء درج عليه، وفيه النفع الكثير وبه تطمئن القلوب لصحة الحديث إذا كان صحيحا، ويعرف من هو الذي خرجه ورواه والمؤلف رحمه الله أراد أن يبين في كتابه هذا أن سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم شفاء لما في الصدور بهذا الإيمان، فهذا الإسلام وهذه السنة، هو شفاء لهذه الجسوم أيضا بما أوتي من معرفة طبية، وأن الله سبحانه قد علمه الطبين الروحي والجسمي، فكان هداية من كل نواحي الهداية، وكان رحمة للعالمين من وجه، وإن كان إنما بعث للشفاء الروحي بهذا القرآن العظيم وهذه السنة المطهرة.

توفي رحمه الله سنة إحدى وخمسين وسبعمائة (751 هـ) عن عمر بلغ ستين سنة ولكنه عاش وما زال يعيش طيلة الدهر بهذه المؤلفات التي نشر الله له فيها ذكرا ونرجوا أن يضاعف له فيها أجرا.

دمشق في 1/ 2/ 1983

محمد كريم راجح

عفا الله عنه
শাইখ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার সব কিছুতেই তিনি একজন প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (হুজ্জাহ)। তিনি যা কিছু গ্রহণ করেছেন তাতে তিনি তাঁর শিক্ষকের শ্রেষ্ঠত্ব ও অবদান স্বীকার করেছেন। তবে হাদীসের উৎস নির্দেশ করা (তাখরীজ) এমন একটি বিষয় যা তিনি নিয়মিত অনুসরণ করতেন; এতে প্রচুর উপকার রয়েছে এবং এর মাধ্যমে হাদীসটি বিশুদ্ধ হলে তার সত্যতা সম্পর্কে অন্তর প্রশান্ত হয়। এছাড়া হাদীসটি কে সংকলন ও বর্ণনা করেছেন তাও এর মাধ্যমে জানা যায়। লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর এই কিতাবে এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) এই ঈমানের মাধ্যমে অন্তরের ব্যাধির জন্য যেমন আরোগ্যস্বরূপ, তেমনি এই ইসলাম ও সুন্নাহ—তাঁকে প্রদত্ত চিকিৎসা বিষয়ক জ্ঞানের মাধ্যমে—এই দেহের জন্যও আরোগ্যস্বরূপ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে আত্মিক ও শারীরিক উভয় প্রকার চিকিৎসা শিক্ষা দিয়েছেন। ফলে তিনি হেদায়াতের সকল দিক থেকেই ছিলেন এক অনন্য দিশারি এবং একদিক থেকে তিনি বিশ্বজগতের জন্য রহমত ছিলেন; যদিও তিনি মূলত এই মহান কুরআন এবং এই পবিত্র সুন্নাহর মাধ্যমে আত্মিক মুক্তির জন্যই প্রেরিত হয়েছিলেন।

তিনি সাতশ একান্ন হিজরীতে (৭৫১ হিজরী) ষাট বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। কিন্তু তিনি তাঁর এই রচনাবলীর মাধ্যমে যুগ যুগ ধরে বেঁচে আছেন এবং বেঁচে থাকবেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং আমরা আশা করি আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁর প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন।

দামেস্ক, ১/ ২/ ১৯৮৩

মুহাম্মদ করীম রাজেহ

আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٥)
الطبّ النّبويّ

 

‌‌فصول نافعة فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم فِي الطِّبِّ الَّذِي تَطَبَّبَ بِهِ وَوَصَفَهُ لِغَيْرِهِ.

وَنُبَيِّنُ مَا فِيهِ مِنَ الْحِكْمَةِ الَّتِي تَعْجِزُ عُقُولُ أَكْثَرِ الْأَطِبَّاءِ عَنِ الْوُصُولِ إِلَيْهَا، وَأَنَّ نِسْبَةَ طِبِّهِمْ إِلَيْهَا كَنِسْبَةِ طِبِّ الْعَجَائِزِ إِلَى طِبِّهِمْ فَنَقُولُ وَبِاَللِّهِ الْمُسْتَعَانُ وَمِنْهُ نَسْتَمِدُّ الْحَوْلَ وَالْقُوَّةَ:

الْمَرَضُ: نَوْعَانِ مَرَضُ الْقُلُوبِ، وَمَرَضُ الْأَبَدَانِ، وَهُمَا مَذْكُورَانِ فِي الْقُرْآنِ.

وَمَرَضُ الْقُلُوبِ: نَوْعَانِ: مَرَضُ شُبْهَةٍ وَشَكٍّ، وَمَرَضُ شَهْوَةٍ وَغَيٍّ، وَكِلَاهُمَا فِي الْقُرْآنِ. قَالَ تَعَالَى فِي مَرَضِ الشُّبْهَةِ: فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ فَزادَهُمُ اللَّهُ مَرَضاً «1» .

وَقَالَ تَعَالَى: وَلِيَقُولَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ وَالْكافِرُونَ ماذا أَرادَ اللَّهُ بِهذا مَثَلًا «2» وَقَالَ تَعَالَى فِي حَقِّ مَنْ دُعِيَ إِلَى تَحْكِيمِ الْقُرْآنِ وَالسُّنَّةِ، فَأَبَى وَأَعْرَضَ:

وَإِذا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذا فَرِيقٌ مِنْهُمْ مُعْرِضُونَ، وَإِنْ يَكُنْ لَهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ أَفِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَمِ ارْتابُوا، أَمْ يَخافُونَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ بَلْ أُولئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ «3» ، فهذا مرض الشبهات والشكوك.
(1) البقرة- 10- والمعنى أن قلوبهم ضعيفة بما فيها من الشك والنفاق فزادها الله ضعيفة بما انزل من القرآن. قَالَ تَعَالَى وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَساراً.

(2) المدثر- 31- والمعنى أنا جعلنا الموكلين على النار ملائكة وجعلنا عدتهم تسعة عشر ليستيقن الذين اوتوا الكتاب ويزداد الذين آمنوا إيمانا ولكي لا تقع الريبة في قلوب الذين أوتوا الكتاب وفي قلوب المؤمنين، وليقول الكفرة والمنافقون من ذوي أمراض القلوب معترضين: ماذا أراد الله بهذا مثلا؟ وسموه مثلا لغرابته.

(3) النور- 48- 49- 50 والمعنى وإذا دعي المنافقون مرض القلوب إلى كتاب ليحكم هم رسول الله بما فيه من الاحكام بدا ما يخفون في قلوبهم من كذب وشك، وظهر ذلك على وجوههم وألسنتهم، فإذا هم يعرضون عن الحكم لكتاب الله، وعن المجيء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وذلك أنهم يعلمون أن الحكم في الاسلام
নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চিকিৎসাপদ্ধতি

 

‌‌নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সে সকল চিকিৎসা পদ্ধতি ও পথনির্দেশনা—যা তিনি নিজে গ্রহণ করেছেন অথবা অন্যদের প্রদান করেছেন—সে বিষয়ে কতিপয় উপকারী পরিচ্ছেদ।.

এবং আমরা এর মধ্যে নিহিত এমন সব হিকমত বা প্রজ্ঞা বর্ণনা করব, যা অনুধাবন করতে অধিকাংশ চিকিৎসকের মেধা অক্ষম। তাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাথে এর তুলনা হলো চিকিৎসাবিদ্যায় অভিজ্ঞতাহীন বৃদ্ধাদের টোটকা চিকিৎসার সাথে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের তুলনার ন্যায়। আমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট থেকেই সামর্থ্য ও শক্তি কামনা করছি:

রোগ দুই প্রকার: অন্তরের ব্যাধি এবং দেহের ব্যাধি; আর উভয় প্রকারের ব্যাধির কথাই কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তরের ব্যাধি দুই প্রকার: সংশয় ও সন্দেহের ব্যাধি এবং কুপ্রবৃত্তি ও পথভ্রষ্টতার ব্যাধি; আর উভয় প্রকারেরই বর্ণনা কুরআনে রয়েছে। মহান আল্লাহ সংশয়ের ব্যাধি সম্পর্কে বলেন: "তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বাড়িয়ে দিয়েছেন।" (১)

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "এবং যাতে যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা এবং কাফিররা বলতে পারে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কী উদাহরণ পেশ করতে চেয়েছেন?" (২) মহান আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও বর্ণনা করেছেন যাকে কুরআন ও সুন্নাহর বিধান মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে কিন্তু সে তা অস্বীকার করেছে এবং বিমুখ হয়েছে:

"আর যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যেন তিনি তাদের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করেন, তখন তাদের একটি দল মুখ ফিরিয়ে নেয়। তবে সত্য যদি তাদের অনুকূলে হয়, তবে তারা অত্যন্ত বিনীত হয়ে তাঁর কাছে ছুটে আসে। তাদের অন্তরে কি ব্যাধি রয়েছে, নাকি তারা সংশয়ে লিপ্ত? নাকি তারা ভয় পায় যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি অবিচার করবেন? বরং তারাই তো প্রকৃত যালিম।" (৩) সুতরাং এটি হলো সংশয় ও সন্দেহের ব্যাধি।
(১) সূরা আল-বাকারাহ: ১০; এর অর্থ হলো, তাদের অন্তরে বিদ্যমান নিফাক (কপটতা) ও সন্দেহের কারণে তাদের অন্তর দুর্বল, ফলে আল্লাহ কুরআন নাযিল করার মাধ্যমে তাদের সেই দুর্বলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি কুরআন নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু যালিমদের জন্য তা কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।"

(২) সূরা আল-মুদ্দাসসির: ৩১; এর অর্থ হলো, আমি জাহান্নামের পাহারাদার হিসেবে ফেরেশতাদের নিযুক্ত করেছি এবং তাদের সংখ্যা ঊনিশ নির্ধারণ করেছি যেন কিতাবধারীরা দৃঢ় বিশ্বাসী হয় এবং মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, আর কিতাবধারী ও মুমিনদের মনে যেন কোনো সংশয় না থাকে। আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সেইসব কাফির ও মুনাফিকরা যেন আপত্তি জানিয়ে বলতে পারে: "আল্লাহ এ দ্বারা কী উদাহরণ পেশ করতে চেয়েছেন?" তারা একে এর অদ্ভুত হওয়ার কারণে উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

(৩) সূরা আন-নূর: ৪৮, ৪৯, ৫০; এর অর্থ হলো, যখন অন্তরে ব্যাধিগ্রস্ত মুনাফিকদের আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকা হয় যেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই কিতাবের বিধান অনুযায়ী তাদের মাঝে বিচার করেন, তখন তাদের অন্তরে গোপন রাখা মিথ্যা ও সন্দেহ প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং তা তাদের চেহারায় ও জিহ্বায় ফুটে ওঠে। ফলে তারা আল্লাহর কিতাবের বিধান এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগমন থেকে বিমুখ হয়। এর কারণ হলো তারা জানে যে ইসলামে বিচার হলো...
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٦)
وأما مرض الشهوات، فقال تعالى يا نِساءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّساءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ «1» . فَهَذَا مَرَضُ شَهْوَةِ الزِّنَى، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌فصل

وَأَمَّا مَرَضُ الْأَبَدَانِ، فَقَالَ تَعَالَى لَيْسَ عَلَى الْأَعْمى حَرَجٌ وَلا عَلَى الْأَعْرَجِ حَرَجٌ وَلا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ «2» . وَذَكَرَ مَرَضَ الْبَدَنِ فِي الْحَجِّ وَالصَّوْمِ وَالْوُضُوءِ لِسِرٍّ بَدِيعٍ يُبَيِّنُ لَكَ عَظَمَةَ الْقُرْآنِ، وَالِاسْتِغْنَاءَ بِهِ لِمَنْ فَهِمَهُ وَعَقَلَهُ عَنْ سِوَاهُ، وَذَلِكَ أَنَّ قَوَاعِدَ طِبِّ الْأَبْدَانِ ثَلَاثَةٌ حِفْظُ الصِّحَّةِ، وَالْحِمْيَةُ عَنِ الْمُؤْذِي، وَاسْتِفْرَاغُ الْمَوَادِّ الْفَاسِدَةِ، فَذَكَرَ سُبْحَانَهُ هَذِهِ الْأُصُولَ الثَّلَاثَةَ فِي هَذِهِ الْمَوَاضِعِ الثَّلَاثَةِ.

فَقَالَ فِي آيَةِ الصَّوْمِ: فَمَنْ كانَ مِنْكُمْ مَرِيضاً أَوْ عَلى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ «3» ، فَأَبَاحَ الْفِطْرَ لِلْمَرِيضِ لِعُذْرِ الْمَرَضِ، وَلِلْمُسَافِرِ طَلَبًا لِحِفْظِ صِحَّتِهِ وَقُوَّتِهِ لِئَلَّا يُذْهِبَهَا الصَّوْمُ فِي السَّفَرِ لِاجْتِمَاعِ شِدَّةِ الْحَرَكَةِ، وَمَا يُوجِبُهُ مِنَ التَّحْلِيلِ، وَعَدَمِ الْغِذَاءِ الَّذِي يُخْلِفُ مَا تَحَلَّلَ فَتَخُورُ الْقُوَّةُ، وَتَضْعُفُ، فَأَبَاحَ لِلْمُسَافِرِ الْفِطْرَ حِفْظًا لِصِحَّتِهِ وَقُوَّتِهِ عَمَّا يُضْعِفُهَا

وَقَالَ فِي آيَةِ الْحَجِّ فَمَنْ كانَ مِنْكُمْ مَرِيضاً أَوْ بِهِ أَذىً مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ
لا رشوة فيه ولا تدجيل، وأنه يتبع الحق، لذلك إذا كانوا مبطلين أعرضوا عن كتاب الله، وإذا كانوا ذوي حق رضوا بالتحاكم إليه لأنهم يعرفون حق المعرفة أنه سينصفهم، لأنه لا معدل فيه عن الحق. فهل في قلوبهم مرض أم هم مرتابون في الحكم، أم يخافون ألاينصفهم القرآن؟ لا إنهم يعرفون الحقيقة ولكنهم هم الظالمون.

(1) الأحزاب- 32- هذا نداء لنساء النبي صلى الله عليه وسلم لما شرفهن الله سبحانه بأنهن أمهات المؤمنين، وبأنهن قدوة النساء الآخريات ولسن كبقية النساء فعليهن أن يكن في غاية التقوى والصلاح وحسن الأسوة والقدوة، فمن التقوى ألايلنّ في الأقوال إذا اضطررن أن يخاطبن الرجال الأجانب، بل عليهن أن يكون كلامهن من غير خضوع ولا لين، فذلك أقرب إلى مركزهن ويتناسب مع قيمتهن وحتى لا يطمع الرجال الذين في قلوبهم أغراض سافلة غير رفيعة.

(2) النور- 61- الفتح- 17- هؤلاء ذو والعلل معذورون في ترك الجهاد، فليس عليهم إثم إذا حضر الجهاد أن لا يجاهدوا.

(3) البقرة- 184.
আর কুপ্রবৃত্তির ব্যাধির ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে নবী-পত্নীগণ! তোমরা অন্য কোনো সাধারণ নারীর মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তোমরা কথা বলায় কোমলতা অবলম্বন করো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়।" (১)। এটি হলো ব্যভিচারের আকাঙ্ক্ষার ব্যাধি, আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

আর শারীরিক ব্যাধির ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন: "অন্ধের জন্য কোনো দোষ নেই, খঞ্জের জন্য কোনো দোষ নেই এবং রুগ্ণ ব্যক্তির জন্যও কোনো দোষ নেই।" (২)। মহান আল্লাহ হজ, রোজা ও ওজুর বিধানে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন এক চমৎকার রহস্যের কারণে, যা আপনার কাছে কুরআনের মহিমা এবং যারা এটি বোঝে ও অনুধাবন করে, তাদের জন্য এটি ছাড়া অন্য কিছুর মুখাপেক্ষীহীনতা স্পষ্ট করে দেয়। আর তা হলো, শারীরিক চিকিৎসার মূলনীতি তিনটি: স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ক্ষতিকর বস্তু থেকে বেঁচে থাকা (পরহেজ) এবং দেহ থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেওয়া (নিষ্কাশন)। মহান আল্লাহ এই তিনটি স্থানে এই তিনটি মূলনীতি উল্লেখ করেছেন।

তিনি রোজার আয়াতে বলেছেন: "তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তাকে অন্য দিনগুলোতে সেই সংখ্যা পূরণ করতে হবে।" (৩)। এখানে তিনি অসুস্থ ব্যক্তিকে অসুস্থতার ওজরের কারণে এবং মুসাফিরকে তার স্বাস্থ্য ও শক্তি সুরক্ষার নিমিত্তে রোজা ভঙ্গের অনুমতি দিয়েছেন; যাতে সফরের সময় অধিক পরিশ্রম ও এর ফলে উদ্ভূত শারীরিক উপাদানের বিশ্লেষণ (ক্ষয়) এবং এই ক্ষয় পূরণে খাদ্যের অভাব—যা শক্তিকে নিঃশেষ ও দুর্বল করে দেয়—তার ফলে যেন শক্তি হারিয়ে না যায়। অতএব, তিনি মুসাফিরের শক্তি ও স্বাস্থ্যকে দুর্বলকারী বিষয় থেকে সুরক্ষার জন্য তাকে রোজা না রাখার অনুমতি দিয়েছেন।

আর হজের আয়াতে তিনি বলেছেন: "অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ অথবা যার মাথায় কোনো কষ্টদায়ক ব্যাধি থাকে, তবে তার পরিবর্তে ফিদইয়া স্বরূপ..."
এতে কোনো উৎকোচ বা প্রতারণা নেই এবং এটি সত্যের অনুসারী। এই কারণেই যখন তারা বাতিলপন্থী ছিল, তখন আল্লাহর কিতাব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল; আর যখন তাদের কোনো প্রাপ্য অধিকার থাকত, তখন তারা এর মাধ্যমে ফয়সালা গ্রহণে সন্তুষ্ট হতো। কারণ তারা ভালো করেই জানত যে, এটি তাদের সাথে ইনসাফ করবে, যেহেতু এতে সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তবে কি তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, নাকি তারা ফয়সালার ব্যাপারে সন্দিহান, নাকি তারা ভয় পায় যে কুরআন তাদের প্রতি অবিচার করবে? না, তারা সত্য জানে, কিন্তু তারাই জালেম (অত্যাচারী)।

(১) আল-আহজাব- ৩২- এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্নীগণের প্রতি এক সম্বোধন, যখন মহান আল্লাহ তাঁদের মুমিনদের জননী হওয়ার মর্যাদায় ভূষিত করেছেন এবং যেহেতু তাঁরা অন্য নারীদের জন্য আদর্শ, তাই তাঁরা অন্য সাধারণ নারীদের মতো নন। সুতরাং তাঁদের জন্য চরম তাকওয়া, নেক আমল এবং সর্বোত্তম আদর্শ হওয়া আবশ্যক। তাকওয়ার একটি দাবি হলো, পরপুরুষের সাথে কথা বলতে বাধ্য হলে কথায় কোমলতা না আনা; বরং তাঁদের কথা হতে হবে বিনম্রতা ও কোমলতামুক্ত। এটি তাঁদের মর্যাদার জন্য অধিকতর উপযুক্ত এবং তাঁদের সম্মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; যাতে যেসব পুরুষের অন্তরে নীচ ও নিকৃষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে তারা কোনো লালসা না করে।

(২) আন-নূর- ৬১, আল-ফাতহ- ১৭- এই শারীরিক ত্রুটিযুক্ত ব্যক্তিরা জিহাদ বর্জনের ক্ষেত্রে ক্ষমাপ্রাপ্ত। সুতরাং জিহাদের সময় উপস্থিত হলে তাদের জিহাদে অংশগ্রহণ না করায় কোনো পাপ নেই।

(৩) আল-বাকারাহ- ১৮৪।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٧)
صِيامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ «1» ، فَأَبَاحَ لِلْمَرِيضِ، وَمَنْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ، من قمل، أَوْ غَيْرِهِمَا، أَنْ يَحْلِقَ رَأْسَهُ فِي الْإِحْرَامِ اسْتِفْرَاغًا لِمَادَّةِ الْأَبْخِرَةِ الرَّدِيئَةِ الَّتِي أَوْجَبَتْ لَهُ الْأَذَى فِي رَأْسِهِ بِاحْتِقَانِهَا تَحْتَ الشَّعْرِ، فَإِذَا حَلَقَ رَأْسَهُ تَفَتَّحَتِ الْمَسَامُّ، فَخَرَجَتْ تِلْكَ الْأَبْخِرَةُ مِنْهَا، فَهَذَا الِاسْتِفْرَاغُ يُقَاسُ عَلَيْهِ كُلُّ اسْتِفْرَاغٍ يُؤْذِي انْحِبَاسُهُ، وَالْأَشْيَاءُ الَّتِي يُؤْذِي انْحِبَاسُهَا وَمُدَافَعَتُهَا عَشَرَةٌ: الدَّمُ إِذَا هَاجَ، وَالْمَنِيُّ إِذَا تَبَيَّغَ، وَالْبَوْلُ، وَالْغَائِطُ، وَالرِّيحُ، وَالْقَيْءُ، وَالْعُطَاسُ، وَالنَّوْمُ، وَالْجُوعُ، وَالْعَطَشُ. وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْ هَذِهِ الْعَشَرَةِ يُوجِبُ حَبْسُهُ دَاءً مِنَ الْأَدْوَاءِ بِحَسْبِهِ.

وَقَدْ نَبَّهَ سُبْحَانَهُ بِاسْتِفْرَاغِ أَدْنَاهَا، وَهُوَ الْبُخَارُ الْمُحْتَقَنُ فِي الرَّأْسِ عَلَى اسْتِفْرَاغِ مَا هُوَ أَصْعَبُ مِنْهُ، كَمَا هِيَ طَرِيقَةُ الْقُرْآنِ التَّنْبِيهُ بِالْأَدْنَى عَلَى الْأَعْلَى.

وَأَمَّا الْحِمْيَةُ: فَقَالَ تَعَالَى فِي آيَةِ الْوُضُوءِ: وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضى أَوْ عَلى سَفَرٍ أَوْ جاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغائِطِ، أَوْ لامَسْتُمُ النِّساءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيداً طَيِّباً «2» ، فَأَبَاحَ لِلْمَرِيضِ الْعُدُولَ عَنِ الْمَاءِ إِلَى التُّرَابِ حِمْيَةً لَهُ أَنْ يُصِيبَ جَسَدَهُ مَا يُؤْذِيهِ، وَهَذَا تَنْبِيهٌ عَلَى الْحِمْيَةِ عَنْ كُلِّ مُؤْذٍ لَهُ مِنْ دَاخِلٍ أَوْ خَارِجٍ فَقَدْ أَرْشَدَ- سُبْحَانَهُ عِبَادَهُ إِلَى أُصُولِ الطِّبِّ وَمَجَامِعِ قَوَاعِدِهِ، وَنَحْنُ نَذْكُرُ هَدْيَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ، وَنُبَيِّنُ أَنَّ هَدْيَهُ فِيهِ أَكْمَلُ هَدْيٍ.

فَأَمَّا طِبُّ الْقُلُوبِ، فَمُسَلَّمٌ إِلَى الرُّسُلِ صَلَوَاتُ اللَّهِ وَسَلَامُهُ عَلَيْهِمْ، وَلَا سَبِيلَ إِلَى حُصُولِهِ إِلَّا مِنْ جِهَتِهِمْ وَعَلَى أَيْدِيهِمْ، فَإِنَّ صَلَاحَ الْقُلُوبِ أَنْ تَكُونَ عَارِفَةً بِرَبِّهَا، وَفَاطِرِهَا، وَبِأَسْمَائِهِ، وَصِفَاتِهِ، وَأَفْعَالِهِ، وَأَحْكَامِهِ، وَأَنْ تَكُونَ مُؤْثِرَةً لِمَرْضَاتِهِ وَمُحَابِّهِ، مُتَجَنِّبَةً لِمَنَاهِيهِ وَمَسَاخِطِهِ، وَلَا صِحَّةَ لَهَا وَلَا حَيَاةَ الْبَتَّةَ إِلَّا بِذَلِكَ، وَلَا سَبِيلَ إِلَى تَلَقِّيهِ إِلَّا مِنْ جِهَةِ الرُّسُلِ وَمَا يُظَنُّ مِنْ حُصُولِ صِحَّةِ الْقَلْبِ بِدُونِ اتِّبَاعِهِمْ، فَغَلَطٌ مِمَّنْ يَظُنُّ ذَلِكَ، وَإِنِّمَا ذَلِكَ حَيَاةُ نَفْسِهِ الْبَهِيمِيَّةِ الشَّهْوَانِيَّةِ، وَصِحَّتُهَا وَقُوَّتُهَا، وَحَيَاةُ قَلْبِهِ وَصِحَّتُهُ، وَقُوَّتُهُ عَنْ ذَلِكَ بِمَعْزِلٍ وَمَنْ لَمْ يُمَيِّزْ بَيْنَ هَذَا وَهَذَا، فَلْيَبْكِ عَلَى حَيَاةِ قَلْبِهِ، فَإِنَّهُ مِنَ الْأَمْوَاتِ، وَعَلَى نُورِهِ، فَإِنَّهُ مُنْغَمِسٌ فِي بِحَارِ الظُّلُمَاتِ.
(1) البقرة- 196

(2) النساء- 43- المائدة- 6- والمعنى أنه ليس عليكم حرج إذا كنتم محدثين وأردتم القيام للصلاة أن تتطهروا بالماء ويعفى من ذلك المرضى مرضا يضر معه الماء والمسافرون الذين لا يجدون الماء بعد طلبه فإنه يكفيهم أن يتيمموا بالتراب فيمسحوا بوجوهم وأيديهم.
রোজা রাখা অথবা সদকা করা অথবা কোরবানি করা (১), আল্লাহ অসুস্থ ব্যক্তি এবং যার মাথায় উঁকুন বা অন্য কোনো কারণে কষ্ট হচ্ছে, তাকে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানোর অনুমতি দিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হলো সেই দূষিত বাষ্প নির্গত করা (ইস্তিফরাঘ) যা চুলের নিচে আটকে থেকে মাথায় কষ্টের সৃষ্টি করেছিল। যখন সে মাথা কামায়, লোমকূপগুলো খুলে যায় এবং সেই বাষ্পগুলো বের হয়ে যায়। এই নির্গমন প্রক্রিয়ার (ইস্তিফরাঘ) ওপর ভিত্তি করে এমন প্রতিটি বিষয়ের নির্গমনকে অনুমান (কিয়াস) করা হবে যার আটকে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এমন দশটি বিষয় রয়েছে যা আটকে থাকলে কষ্ট হয়: রক্ত যখন উথলে ওঠে, বীর্য যখন প্রবল হয়, প্রস্রাব, মল, বায়ু, বমি, হাঁচি, ঘুম, ক্ষুধা এবং তৃষ্ণা। এই দশটির প্রত্যেকটি আটকে থাকার ফলে শরীরভেদে ভিন্ন ভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।

মহান আল্লাহ সবচেয়ে সামান্য বিষয়—মাথায় আটকে থাকা বাষ্প—নির্গমনের মাধ্যমে এর চেয়েও কঠিন বিষয়গুলোর নির্গমন সম্পর্কে সচেতন করেছেন। এটি কুরআনের একটি পদ্ধতি যে, সামান্য বিষয়ের মাধ্যমে উচ্চতর বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা।

আর সুরক্ষা ব্যবস্থা (হিময়াহ) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ওজুর আয়াতে বলেছেন: "আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো, আর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো" (২)। এখানে আল্লাহ অসুস্থ ব্যক্তিকে পানির বদলে মাটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন যেন তার শরীরের কোনো ক্ষতি না হয়। এটি শরীরের ভেতর বা বাইরে থেকে ক্ষতি করতে পারে এমন সব বিষয় থেকে বেঁচে থাকার বা সুরক্ষা অবলম্বনের একটি দিকনির্দেশনা। মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের চিকিৎসার মূলনীতি ও এর মৌলিক নিয়মাবলি শিক্ষা দিয়েছেন। আমরা এখন এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ বর্ণনা করব এবং দেখাব যে, এ ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শই হলো পূর্ণাঙ্গতম আদর্শ।

অন্তরের চিকিৎসার বিষয়টি রাসূলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ওপর ন্যস্ত। তাঁদের মাধ্যম ও তাঁদের হাত ছাড়া এটি অর্জনের কোনো পথ নেই। কারণ অন্তরের সংশোধন নির্ভর করে তার রব ও স্রষ্টাকে চেনা, তাঁর নাম, গুণাবলি, কার্যাবলি ও বিধানসমূহ জানার ওপর। এছাড়া তাঁর সন্তুষ্টি ও প্রিয় বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া এবং তাঁর নিষিদ্ধ ও অসন্তোষের বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকার ওপর এটি নির্ভরশীল। এগুলো ছাড়া অন্তরের কোনো সুস্থতা ও জীবন নেই। আর রাসূলগণের মাধ্যম ছাড়া এগুলো লাভ করার কোনো উপায় নেই। রাসূলগণের অনুসরণ ছাড়া অন্তরের সুস্থতা অর্জিত হওয়ার ধারণা একটি ভুল ধারণা। এটি মূলত পাশবিক ও কামনালিপ্সু নফসের জীবন এবং তার শক্তি ও সামর্থ্য মাত্র; অন্তরের জীবন, সুস্থতা ও শক্তির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যে ব্যক্তি এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, তার উচিত তার মৃতপ্রায় অন্তরের জন্য বিলাপ করা, কারণ সে মূলত মৃতদের অন্তর্ভুক্ত; এবং তার উচিত তার আলোর অভাবের জন্য আক্ষেপ করা, কারণ সে অন্ধকারের সাগরে নিমজ্জিত।
(১) আল-বাকারা- ১৯৬

(২) আন-নিসা- ৪৩, আল-মায়িদাহ- ৬। এর অর্থ হলো, যখন তোমরা অপবিত্র হও এবং সালাত আদায়ের ইচ্ছা করো, তখন তোমাদের জন্য পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনে কোনো বাধা নেই। তবে যে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য পানি ব্যবহার ক্ষতিকর অথবা যে মুসাফির পানি তালাশ করার পরও তা পায়নি, তাদের জন্য এটি শিথিলযোগ্য। তাদের জন্য পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করাই যথেষ্ট, যাতে তারা তাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করে নেয়।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌فَصْلٌ

وَأَمَّا طِبُّ الْأَبْدَانِ: فَإِنَّهُ نَوْعَانِ:

نَوْعٌ قَدْ فَطَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْحَيَوَانَ نَاطِقَهُ وَبَهِيمَهُ، فَهَذَا لَا يُحْتَاجُ فِيهِ إِلَى مُعَالَجَةِ طَبِيبٍ، كَطِبِّ الْجُوعِ، وَالْعَطَشِ وَالْبَرْدِ، وَالتَّعَبِ بِأَضْدَادِهَا وَمَا يُزِيلُهَا.

وَالثَّانِي: مَا يَحْتَاجُ إِلَى فِكْرٍ وَتَأَمُّلٍ، كَدَفْعِ الْأَمْرَاضِ الْمُتَشَابِهَةِ الْحَادِثَةِ فِي الْمِزَاجِ، بِحَيْثُ يَخْرُجُ بِهَا عَنِ الِاعْتِدَالِ، إِمَّا إِلَى حَرَارَةٍ، أَوْ بُرُودَةٍ، أَوْ يُبُوسَةٍ، أَوْ رُطُوبَةٍ، أَوْ مَا يَتَرَكَّبُ مِنَ اثْنَيْنِ مِنْهَا، وَهِيَ نَوْعَانِ: إِمَّا مَادِّيَّةٌ، وَإِمَّا كَيْفِيَّةٌ، أَعْنِي إِمَّا أَنْ يَكُونَ بِانْصِبَابِ مَادَّةٍ، أَوْ بِحُدُوثِ كَيْفِيَّةٍ، وَالْفَرْقُ بَيْنَهُمَا أَنَّ أَمْرَاضَ الْكَيْفِيَّةِ تَكُونُ بَعْدَ زَوَالِ الْمَوَادِّ الَّتِي أَوْجَبَتْهَا، فَتَزُولُ مَوَادُّهَا، وَيَبْقَى أَثَرُهَا كَيْفِيَّةً فِي الْمِزَاجِ.

وَأَمْرَاضُ الْمَادَّةِ أَسْبَابُهَا مَعَهَا تَمُدُّهَا، وَإِذَا كَانَ سَبَبُ الْمَرَضِ مَعَهُ، فَالنَّظَرُ فِي السَّبَبِ يَنْبَغِي أَنْ يَقَعَ أَوَّلًا، ثُمَّ فِي الْمَرَضِ ثَانِيًا، ثُمَّ فِي الدَّوَاءِ ثَالِثًا. أَوِ الْأَمْرَاضُ الْآلِيَّةُ وَهِيَ الَّتِي تُخْرِجُ الْعُضْوَ عَنْ هَيْئَتِهِ، إِمَّا فِي شَكْلٍ، أَوْ تَجْوِيفٍ، أَوْ مَجْرًى، أَوْ خُشُونَةٍ، أَوْ مَلَاسَةٍ، أَوْ عَدَدٍ، أَوْ عَظْمٍ، أَوْ وَضْعٍ، فَإِنَّ هَذِهِ الْأَعْضَاءَ إِذَا تَأَلَّفَتْ وَكَانَ مِنْهَا الْبَدَنُ سُمِّيَ تَأَلُّفُهَا اتِّصَالًا، وَالْخُرُوجُ عَنِ الِاعْتِدَالِ فِيهِ يُسَمَّى تَفَرَّقَ الِاتِّصَالِ، أَوِ الْأَمْرَاضُ الْعَامَّةُ الَّتِي تَعُمُّ المتشابهة رالآلية.

وَالْأَمْرَاضُ الْمُتَشَابِهَةُ: هِيَ الَّتِي يَخْرُجُ بِهَا الْمِزَاجُ عَنِ الِاعْتِدَالِ، وَهَذَا الْخُرُوجُ يُسَمَّى مَرَضًا بَعْدَ أَنْ يَضُرَّ بِالْفِعْلِ إِضْرَارًا مَحْسُوسًا.

وَهِيَ عَلَى ثَمَانِيَةِ أَضْرُبٍ: أَرْبَعَةٌ بَسِيطَةٌ، وَأَرْبَعَةٌ مُرَكَّبَةٌ، فَالْبَسِيطَةُ: الْبَارِدُ، وَالْحَارُّ، وَالرَّطْبُ، وَالْيَابِسُ، وَالْمُرَكَّبَةُ الْحَارُّ الرَّطْبُ، وَالْحَارُّ الْيَابِسُ، وَالْبَارِدُ الرَّطْبُ، وَالْبَارِدُ الْيَابِسُ، وَهِيَ إِمَّا أَنْ تَكُونَ بِانْصِبَابِ مَادَّةٍ، أَوْ بِغَيْرِ انْصِبَابِ مَادَّةٍ، وَإِنْ لَمْ يَضُرَّ الْمَرَضُ بِالْفِعْلِ يُسَمَّى خُرُوجًا عَنِ الِاعْتِدَالِ صِحَّةً.

وَلِلْبَدَنِ ثَلَاثَةُ أحوال: حال طبيعية، وحار خَارِجَةٌ عَنِ الطَّبِيعِيَّةِ، وَحَالٌ مُتَوَسِّطَةٌ بَيْنَ الْأَمْرَيْنِ، فَالْأُولَى: بِهَا يَكُونُ الْبَدَنُ صَحِيحًا، وَالثَّانِيَةُ: بِهَا يَكُونُ مَرِيضًا، وَالْحَالُ الثَّالِثَةُ هِيَ مُتَوَسِّطَةٌ بَيْنَ الْحَالَتَيْنِ، فَإِنَّ الضِّدَّ لَا يَنْتَقِلُ إِلَى ضِدِّهِ إِلَّا بِمُتَوَسِّطٍ، وَسَبَبُ خُرُوجِ الْبَدَنِ عَنْ طَبِيعَتِهِ، إِمَّا مِنْ دَاخِلِهِ، لِأَنَّهُ مُرَكَّبٌ مِنَ الْحَارِّ
‌পরিচ্ছেদ

দেহের চিকিৎসা দুই প্রকার:

এক প্রকার এমন, যার ওপর আল্লাহ তাআলা জীবজন্তুকে—হোক তা বাকশক্তিসম্পন্ন (মানুষ) কিংবা নির্বাক (পশু)—সৃষ্টিগতভাবে স্বভাবজাত করেছেন। এতে কোনো চিকিৎসকের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। যেমন: ক্ষুধা, তৃষ্ণা, শীত ও ক্লান্তির চিকিৎসা এর বিপরীত বিষয়সমূহ এবং যা একে দূরীভূত করে তার মাধ্যমে করা।

দ্বিতীয় প্রকার: যা চিন্তা ও গবেষণার দাবি রাখে; যেমন মেজাজের (শারীরিক প্রকৃতি) মধ্যে সৃষ্ট সমজাতীয় রোগসমূহ দূর করা, যার মাধ্যমে তা ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়—হয় উষ্ণতা, না হয় শীতলতা, শুষ্কতা অথবা আর্দ্রতার দিকে, কিংবা এইগুলোর মধ্য থেকে যে কোনো দুটির সমন্বয়ে গঠিত বিষয়ের দিকে। এটি আবার দুই প্রকার: হয় বস্তুগত (মাদদিয়্যাহ), না হয় গুণগত (কাইফিয়্যাহ)। অর্থাৎ হয় কোনো বস্তুর (উপাদান) অনুপ্রবেশের কারণে অথবা কোনো গুণের আকস্মিক আবির্ভাবের কারণে। এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, গুণগত রোগসমূহ সেই সকল বস্তু দূর হওয়ার পর সৃষ্টি হয় যা তার কারণ ছিল; ফলে তার মূল উপাদান বা বস্তু দূরীভূত হয়ে গেলেও মেজাজে গুণগত প্রভাব অবশিষ্ট থেকে যায়।

আর বস্তুগত রোগসমূহের কারণগুলো তার সাথেই বিদ্যমান থাকে এবং তাকে পুষ্ট করে। রোগের কারণ যখন রোগের সাথেই অবস্থান করে, তখন প্রথমে কারণের ওপর দৃষ্টিপাত করা উচিত, দ্বিতীয়ত রোগের ওপর এবং তৃতীয়ত ঔষধের ওপর। অথবা যান্ত্রিক বা কাঠামোগত রোগসমূহ (আল-আমরাজ আল-আলিয়্যাহ); যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে তার স্বাভাবিক অবস্থা থেকে বিচ্যুত করে দেয়—হয় তার আকৃতিতে, অথবা গহ্বরে, কিংবা গতিপথে, অথবা রুক্ষতা ও মসৃণতায়, কিংবা সংখ্যায়, বিশালত্বে অথবা অবস্থানে। কারণ এই অঙ্গগুলো যখন সুবিন্যস্ত হয় এবং তা থেকে দেহ গঠিত হয়, তখন এই বিন্যাসকে বলা হয় সংযোগ (ইত্তিসাল)। আর এতে ভারসাম্যের বিচ্যুতিকে বলা হয় সংযোগ বিচ্ছিন্নতা (তাফাররুকুল ইত্তিসাল)। অথবা সাধারণ রোগসমূহ যা সমজাতীয় ও কাঠামোগত উভয় রোগকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

সমজাতীয় রোগসমূহ হলো: যার মাধ্যমে মেজাজ বা শারীরিক প্রকৃতি ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত হয়। ক্রিয়াকলাপে দৃশ্যমান ক্ষতি সাধনের পর এই বিচ্যুতিকে 'রোগ' বলা হয়।

এটি আট প্রকার: চারটি সরল এবং চারটি যৌগিক। সরলগুলো হলো: শীতল, উষ্ণ, আর্দ্র এবং শুষ্ক। আর যৌগিকগুলো হলো: উষ্ণ-আর্দ্র, উষ্ণ-শুষ্ক, শীতল-আর্দ্র এবং শীতল-শুষ্ক। এগুলো হয় কোনো বস্তুর অনুপ্রবেশের কারণে অথবা অনুপ্রবেশ ছাড়াই হবে। আর যদি বিচ্যুতিটি ক্রিয়াকলাপে কোনো ক্ষতি সাধন না করে, তবে তাকে স্বাস্থ্যের ভারসাম্য থেকে বিচ্যুতি বলা হয়।

দেহের অবস্থা তিনটি: স্বাভাবিক অবস্থা, অস্বাভাবিক অবস্থা এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী অবস্থা। প্রথমটির মাধ্যমে শরীর সুস্থ থাকে, দ্বিতীয়টির মাধ্যমে শরীর অসুস্থ হয়। আর তৃতীয় অবস্থাটি হলো এই দুই অবস্থার মধ্যবর্তী অবস্থা; কেননা কোনো বিপরীত অবস্থা তার অন্য বিপরীত অবস্থায় স্থানান্তরিত হয় না মধ্যবর্তী কোনো অবস্থা ছাড়া। আর দেহের নিজ প্রকৃতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণ হয় তার অভ্যন্তরীণ বিষয় থেকে, কেননা দেহ উষ্ণ উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত...
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٩)
وَالْبَارِدِ، وَالرَّطْبِ وَالْيَابِسِ، وَإِمَّا مِنْ خَارِجٍ، فَلِأَنَّ مَا يَلْقَاهُ قَدْ يَكُونُ مُوَافِقًا، وَقَدْ يَكُونُ غَيْرَ مُوَافِقٍ، وَالضَّرَرُ الَّذِي يَلْحَقُ الْإِنْسَانَ قَدْ يَكُونُ مِنْ سُوءِ الْمِزَاجِ بِخُرُوجِهِ عَنِ الِاعْتِدَالِ، وَقَدْ يَكُونُ مِنْ فَسَادٍ فِي الْعُضْوِ، وَقَدْ يَكُونُ مِنْ ضَعْفٍ فِي الْقُوَى، أَوِ الْأَرْوَاحِ الْحَامِلَةِ لَهَا، وَيَرْجِعُ ذَلِكَ إِلَى زِيَادَةِ مَا الِاعْتِدَالُ فِي عَدَمِ زِيَادَتِهِ، أَوْ نُقْصَانِ مَا الِاعْتِدَالُ فِي عَدَمِ نُقْصَانِهِ، أَوْ تَفَرُّقِ مَا الِاعْتِدَالُ فِي اتِّصَالِهِ، أَوِ اتِّصَالِ مَا الِاعْتِدَالُ في تفرقه، او امتاد مَا الِاعْتِدَالُ فِي انْقِبَاضِهِ، أَوْ خُرُوجِ ذِي وَضْعٍ وَشَكْلٍ عَنْ وَضْعِهِ وَشَكْلِهِ بِحَيْثُ يُخْرِجُهُ عَنِ اعْتِدَالِهِ.

فَالطَّبِيبُ: هُوَ الَّذِي يُفَرِّقُ مَا يَضُرُّ بِالْإِنْسَانِ جَمْعُهُ، أَوْ يَجْمَعُ فِيهِ مَا يضره تفرقه، وينقص مِنْهُ مَا يَضُرُّهُ زِيَادَتُهُ، أَوْ يَزِيدُ فِيهِ مَا يَضُرُّهُ نَقْصُهُ، فَيَجْلِبُ الصِّحَّةَ الْمَفْقُودَةَ، أَوْ يَحْفَظُهَا بِالشَّكْلِ وَالشَّبَهِ، وَيَدْفَعُ الْعِلَّةَ الْمَوْجُودَةَ بِالضِّدِّ وَالنَّقِيضِ، وَيُخْرِجُهَا، أَوْ يَدْفَعُهَا بِمَا يَمْنَعُ مِنْ حُصُولِهَا بِالْحِمْيَةِ، وَسَتَرَى هَذَا كُلَّهُ فِي هَدْيِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَافِيًا كَافِيًا بِحَوَلِ اللَّهِ وَقُوَّتِهِ، وَفَضْلِهِ وَمَعُونَتِهِ.

 

‌‌فصل

فَكَانَ مِنْ هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم فِعْلُ التَّدَاوِي فِي نَفْسِهِ، وَالْأَمْرُ بِهِ لِمَنْ أَصَابَهُ مَرَضٌ مِنْ أَهْلِهِ وَأَصْحَابِهِ، وَلَكِنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ هَدْيِهِ وَلَا هَدْيِ أَصْحَابِهِ اسْتِعْمَالُ هَذِهِ الْأَدْوِيَةِ الْمُرَكَّبَةِ الَّتِي تُسَمَّى أَقْرَبَاذِينَ، بَلْ كَانَ غَالِبُ أَدْوِيَتِهِمْ بِالْمُفْرَدَاتِ، وَرُبَّمَا أَضَافُوا إِلَى الْمُفْرَدِ مَا يُعَاوِنُهُ، أَوْ يَكْسِرُ سَوْرَتَهُ، وَهَذَا غَالِبُ طِبِّ الْأُمَمِ عَلَى اخْتِلَافِ أَجْنَاسِهَا مِنَ الْعَرَبِ وَالتُّرْكِ، وَأَهْلِ الْبَوَادِي قَاطِبَةً، وَإِنَّمَا عُنِيَ بِالْمُرَكَّبَاتِ الرُّومُ وَالْيُونَانِيُّونَ، وَأَكْثَرُ طِبِّ الْهِنْدِ بِالْمُفْرَدَاتِ.

وَقَدِ اتَّفَقَ الْأَطِبَّاءُ عَلَى أَنَّهُ مَتَى أَمْكَنَ التَّدَاوِي بِالْغِذَاءِ لَا يُعْدَلُ عَنْهُ إِلَى الدَّوَاءِ، وَمَتَى أَمْكَنَ بِالْبَسِيطِ لَا يُعْدَلُ عَنْهُ إِلَى الْمُرَكَّبِ.

قَالُوا وَكُلُّ دَاءٍ قُدِرَ عَلَى دَفْعِهِ بِالْأَغْذِيَةِ وَالْحِمْيَةِ، لَمْ يُحَاوَلْ دَفْعُهُ بِالْأَدْوِيَةِ.

قَالُوا وَلَا يَنْبَغِي لِلطَّبِيبِ أَنْ يَوْلَعَ بِسَقْيِ الْأَدْوِيَةِ، فَإِنَّ الدَّوَاءَ إِذَا لَمْ يَجِدْ فِي الْبَدَنِ دَاءً يُحَلِّلُهُ، أَوْ وَجَدَ دَاءً لَا يُوَافِقُهُ، أَوْ وَجَدَ مَا يُوَافِقُهُ فَزَادَتْ كَمِّيَّتُهُ عَلَيْهِ، أو كيفيته،
এবং শীতল, আর্দ্র ও শুষ্ক (উপাদানসমূহের ভারসাম্যহীনতা থেকে)। আর বাহ্যিক কারণ এই যে, মানুষ যার সংস্পর্শে আসে তা কখনও তার প্রকৃতির অনুকূল হয়, আবার কখনও প্রতিকূল হয়। মানুষের যে ক্ষতি সাধিত হয় তা কখনও মেজাজের বৈকল্যের (সুই-উল-মিজাজ) কারণে ঘটে যখন তা স্বাভাবিক ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত হয়। আবার কখনও কোনো অঙ্গের ত্রুটির কারণে, কখনও শারীরিক শক্তি বা সেই শক্তি বহনকারী রুহসমূহের (প্রাণশক্তির) দুর্বলতার কারণে ঘটে। এই বিষয়গুলো মূলত এমন কিছুর বৃদ্ধি ঘটার দিকে ফিরে যায় যার ভারসাম্য রক্ষিত হয় তা বৃদ্ধি না পাওয়ার মাধ্যমে, অথবা এমন কিছুর ঘাটতির দিকে যার ভারসাম্য রক্ষিত হয় তা না কমার মাধ্যমে, অথবা এমন কিছুর বিযুক্তির ফলে যার ভারসাম্য ছিল সংযুক্ত থাকায়, অথবা এমন কিছুর সংযোগের ফলে যার ভারসাম্য ছিল বিযুক্ত থাকায়, কিংবা এমন কিছুর প্রসারণের ফলে যার ভারসাম্য ছিল সংকোচনে, অথবা কোনো অঙ্গের অবস্থান বা আকৃতির এমন পরিবর্তন যা তাকে তার স্বাভাবিক গঠন ও ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত করে দেয়।

অতএব, চিকিৎসক হলেন তিনি, যিনি মানুষের শরীরের সেই সব বস্তুকে পৃথক করেন যা একত্রিত থাকা ক্ষতিকর, অথবা এমন বিষয়গুলোকে একত্রিত করেন যা বিযুক্ত থাকা ক্ষতিকর। তিনি সেই অতিরিক্ত অংশ কমিয়ে দেন যার আধিক্য ক্ষতিকর, অথবা সেই ঘাটতি পূরণ করেন যার অভাব ক্ষতিকর। এভাবে তিনি হৃত স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনেন অথবা সমজাতীয় পন্থায় তা সংরক্ষণ করেন। আর বিদ্যমান রোগকে তার বিপরীত বা প্রতিষেধক দ্বারা প্রতিহত করেন এবং তা শরীর থেকে বের করে দেন অথবা এমন পথ্য বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা (হিময়াহ) দ্বারা প্রতিরোধ করেন যা রোগ সৃষ্টি হতে বাধা দেয়। আপনি এই সবকিছুরই পর্যাপ্ত ও নিরাময়যোগ্য প্রতিফলন আল্লাহর শক্তি, সামর্থ্য, অনুগ্রহ ও সাহায্যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত পদ্ধতির মধ্যে দেখতে পাবেন।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ ছিল এই যে, তিনি নিজে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতেন এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের মধ্যে যারা অসুস্থ হতেন তাদেরও চিকিৎসার নির্দেশ দিতেন। তবে তাঁর বা তাঁর সাহাবীগণের পদ্ধতি এমন ছিল না যে, তাঁরা এসব যৌগিক ওষুধ ব্যবহার করবেন যেগুলোকে ‘আকরাবাদিন’ (ফার্মাকোপিয়া) বলা হয়। বরং তাঁদের অধিকাংশ ওষুধ ছিল একক ভেষজ উপাদানভিত্তিক (মুফরাদ)। কখনও কখনও তাঁরা একক উপাদানের সাথে এমন কিছু যুক্ত করতেন যা তাকে সহায়তা করে অথবা তার তীব্রতা কমিয়ে দেয়। এটিই ছিল আরব, তুর্কি এবং সামগ্রিকভাবে মরুবাসী সকল জাতির চিকিৎসার সাধারণ পদ্ধতি। যৌগিক বা মিশ্র ওষুধের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল রোমান ও গ্রিকরা। অপরদিকে ভারতের অধিকাংশ চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল একক ভেষজ নির্ভর।

চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যতক্ষণ খাদ্যের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব, ততক্ষণ ওষুধের দিকে যাওয়া উচিত নয়। আর যতক্ষণ সাধারণ বা সরল ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব, ততক্ষণ জটিল বা যৌগিক ওষুধের দিকে যাওয়া উচিত নয়।

তাঁরা বলেন: যে রোগ খাদ্য ও সঠিক পথ্যের (হিময়াহ) মাধ্যমে দূর করা সম্ভব, তা ওষুধের মাধ্যমে দূর করার চেষ্টা করা উচিত নয়।

তাঁরা আরও বলেন: চিকিৎসকের জন্য উচিত নয় রোগীকে ওষুধ সেবনে অভ্যস্ত করে তোলা। কারণ ওষুধ যখন শরীরে এমন কোনো রোগ খুঁজে পায় না যা সে বিশ্লিষ্ট করবে, অথবা এমন রোগ পায় যার সাথে সে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কিংবা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও যদি ওষুধের পরিমাণ বা গুণাগুণ রোগের তুলনায় বেশি হয়ে যায়, তবে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١٠)
نشبت؟؟؟ بِالصِّحَّةِ، وَعَبَثَ بِهَا. وَأَرْبَابُ التَّجَارِبِ مِنَ الْأَطِبَّاءِ طِبُّهُمْ بِالْمُفْرَدَاتِ غَالِبًا، وَهُمْ أَحَدُ فِرَقِ الطِّبِّ الثَّلَاثِ.

وَالتَّحْقِيقُ فِي ذَلِكَ أَنَّ الْأَدْوِيَةَ مِنْ جِنْسِ الْأَغْذِيَةِ، فَالْأُمَّةُ وَالطَّائِفَةُ الَّتِي غَالِبُ أَغْذِيَتِهَا الْمُفْرَدَاتُ، أَمْرَاضُهَا قَلِيلَةٌ جِدًّا، وَطِبُّهَا بِالْمُفْرَدَاتِ، وَأَهْلُ الْمُدُنِ الَّذِينَ غَلَبَتْ عَلَيْهِمُ الْأَغْذِيَةُ الْمُرَكَّبَةُ يَحْتَاجُونَ إِلَى الْأَدْوِيَةِ الْمُرَكَّبَةِ، وَسَبَبُ ذَلِكَ أَنَّ أَمْرَاضَهُمْ فِي الْغَالِبِ مُرَكَّبَةٌ، فَالْأَدْوِيَةُ الْمُرَكَّبَةُ أَنْفَعُ لَهَا، وَأَمْرَاضُ أَهْلِ الْبَوَادِي وَالصَّحَارِي مُفْرَدَةٌ، فَيَكْفِي فِي مُدَاوَاتِهَا الْأَدْوِيَةُ الْمُفْرَدَةُ، فَهَذَا بُرْهَانٌ بِحَسْبِ الصِّنَاعَةِ الطبية.

ونحن نقول: إن ها هنا أَمْرًا آخَرَ، نِسْبَةُ طِبِّ الْأَطِبَّاءِ إِلَيْهِ كَنِسْبَةِ طِبِّ الطَّرْقِيَّةِ وَالْعَجَائِزِ إِلَى طِبِّهِمْ، وَقَدِ اعْتَرَفَ بِهِ حُذَّاقُهُمْ وَأَئِمَّتُهُمْ، فَإِنَّ مَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعِلْمِ بِالطِّبِّ مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: هُوَ قِيَاسٌ وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ هُوَ تَجْرِبَةٌ. وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ هُوَ إِلْهَامَاتٌ، وَمَنَامَاتٌ، وَحَدْسٌ صَائِبٌ. وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ: أُخِذَ كَثِيرٌ مِنْهُ مِنَ الْحَيَوَانَاتِ الْبَهِيمِيَّةِ، كَمَا نُشَاهِدُ السَّنَانِيرَ إِذَا أَكَلَتْ ذَوَاتِ السُّمُومِ تَعْمِدُ إِلَى السِّرَاجِ، فَتَلَغُ فِي الزَّيْتِ تتداوى به، وكما رؤيت الْحَيَّاتُ إِذَا خَرَجَتْ مِنْ بُطُونِ الْأَرْضِ، وَقَدْ عَشِيَتْ أَبْصَارُهَا تَأْتِي إِلَى وَرَقِ الرَّازِيَانِجِ، فَتُمِرُّ عُيُونَهَا عَلَيْهَا. وَكَمَا عُهِدَ مِنَ الطَّيْرِ الَّذِي يَحْتَقِنُ بِمَاءِ الْبَحْرِ عِنْدَ انْحِبَاسِ طَبْعِهِ، وَأَمْثَالُ ذلك مما ذكر في مبادىء الطِّبِّ.

وَأَيْنَ يَقَعُ هَذَا وَأَمْثَالُهُ مِنَ الْوَحْيِ الَّذِي يُوحِيهِ اللَّهُ إِلَى رَسُولِهِ بِمَا يَنْفَعُهُ وَيَضُرُّهُ، فَنِسْبَةُ مَا عِنْدَهُمْ مِنَ الطِّبِّ إِلَى هَذَا الْوَحْيِ كَنِسْبَةِ مَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْعُلُومِ إلى ما جاءت به الأنبياء، بل ها هنا مِنَ الْأَدْوِيَةِ الَّتِي تَشْفِي مِنَ الْأَمْرَاضِ مَا لم يتهد إِلَيْهَا عُقُولُ أَكَابِرِ الْأَطِبَّاءِ، وَلَمْ تَصِلْ إِلَيْهَا علومهم وتجاربهم، و؟؟؟ ن الْأَدْوِيَةِ الْقَلْبِيَّةِ، وَالرُّوحَانِيَّةِ، وَقُوَّةِ الْقَلْبِ، وَاعْتِمَادِهِ عَلَى اللَّهِ، وَالتَّوَكُّلِ عَلَيْهِ، وَالِالْتِجَاءِ إلَيْهِ، وَالِانْطِرَاحِ وَالِانْكِسَارِ بين يديه، والتذلل له، والصدقئة، وَالدُّعَاءِ، وَالتَّوْبَةِ، وَالِاسْتِغْفَارِ، وَالْإِحْسَانِ إِلَى الْخَلْقِ، وَإِغَاثَةِ الْمَلْهُوفِ، وَالتَّفْرِيجِ عَنِ الْمَكْرُوبِ، فَإِنَّ هَذِهِ الْأَدْوِيَةَ قَدْ جَرَّبَتْهَا الْأُمَمُ عَلَى اخْتِلَافِ أَدْيَانِهَا وَمِلَلِهَا، فوجودا لَهَا مِنَ التَّأْثِيرِ فِي الشِّفَاءِ مَا لَا يَصِلُ إِلَيْهِ عِلْمُ أَعْلَمِ الْأَطِبَّاءِ، وَلَا تَجْرِبَتُهُ، وَلَا قِيَاسُهُ.

وَقَدْ جَرَّبْنَا نَحْنُ وَغَيْرُنَا مِنْ هَذَا أُمُورًا كَثِيرَةً، وَرَأَيْنَاهَا تَفْعَلُ مَا لَا تفعل الأدوية
স্বাস্থ্যের ক্ষতি সাধন করে এবং একে বিপর্যস্ত করে তোলে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসা পদ্ধতি সাধারণত একক ভেষজ (মুফরাদাত) নির্ভর হয়ে থাকে এবং তারা চিকিৎসকদের তিনটি প্রধান দলের অন্যতম একটির অন্তর্ভুক্ত।

এ বিষয়ে সূক্ষ্ম পর্যালোচনা হলো—ঔষধ মূলত খাদ্যেরই একটি প্রকার। সুতরাং যে জাতি বা সম্প্রদায়ের প্রধান খাদ্য সাধারণত একক উপাদানে সীমাবদ্ধ, তাদের রোগব্যাধিও অত্যন্ত কম হয়ে থাকে এবং তাদের চিকিৎসাও একক ভেষজ দ্বারা সম্পন্ন হয়। পক্ষান্তরে নগরের অধিবাসী, যাদের খাদ্যাভ্যাসে মিশ্র ও জটিল উপাদানের প্রাধান্য বেশি, তাদের মিশ্র ঔষধেরই প্রয়োজন হয়। এর কারণ হলো, তাদের রোগসমূহও সাধারণত জটিল ও মিশ্র প্রকৃতির হয়ে থাকে; ফলে মিশ্র ঔষধই তাদের জন্য অধিকতর ফলপ্রসূ। আর গ্রাম ও মরুচারীদের রোগসমূহ সরল ও একক প্রকৃতির হওয়ায় তাদের আরোগ্যের জন্য একক ভেষজই যথেষ্ট। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী এটিই হলো অকাট্য প্রমাণ।

আমরা বলি: এখানে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যার বিপরীতে চিকিৎসকদের চিকিৎসা বিদ্যার অবস্থান ঠিক তেমনই, যেমন তাদের কাছে হাতুড়ে চিকিৎসক বা বৃদ্ধাদের চিকিৎসার অবস্থান। তাদের বিজ্ঞ চিকিৎসক ও ইমামগণও এ কথা স্বীকার করেছেন। কেননা তাদের নিকট চিকিৎসা সংক্রান্ত যে জ্ঞান রয়েছে, সে সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন—এটি নিছক যুক্তি-নির্ভর অনুমান (কিয়াস), কেউ বলেন—এটি অভিজ্ঞতা (তাজরিবা)। আবার কারও মতে এটি হলো ঐশী সংকেত (ইলহাম), স্বপ্ন অথবা সঠিক অন্তর্দৃষ্টি। কেউ কেউ আবার বলেন যে, এর অনেকটা অংশ গৃহীত হয়েছে ইতর প্রাণীদের পর্যবেক্ষণ থেকে। যেমন আমরা দেখি বিড়াল যখন বিষাক্ত কিছু ভক্ষণ করে, তখন সে প্রদীপের দিকে যায় এবং এর তেল চেটে খেয়ে নিজের চিকিৎসা করে। একইভাবে লক্ষ্য করা গেছে যে, সাপ যখন গর্ত থেকে বের হয় এবং তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে পড়ে, তখন সে মৌরি (রাজিয়ানাজ) পাতার কাছে যায় এবং তাতে নিজের চোখ ঘষতে থাকে। আরও জানা যায় যে, কোনো পাখির কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে সে সমুদ্রের পানি দিয়ে নিজের পেট পরিষ্কার (এনিমা) করে নেয়। চিকিৎসা শাস্ত্রের সূচনালগ্নের ইতিহাসে এ জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ বর্ণিত হয়েছে।

কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের প্রতি তাঁর কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কিত যে ওহী নাযিল করেছেন, তার সামনে এসকল বিষয়ের স্থান কোথায়? সুতরাং ওহীর বিপরীতে তাদের এই চিকিৎসা বিজ্ঞানের অনুপাত ঠিক তেমনই, যেমন নবীদের আনীত জ্ঞানের বিপরীতে তাদের সাধারণ জাগতিক জ্ঞানের অনুপাত। বরং এখানে এমন সব নিরাময়কারী ঔষধ রয়েছে, যেখানে বড় বড় চিকিৎসকদের মেধা পৌঁছাতে পারেনি এবং তাদের বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতাও সেখানে ব্যর্থ হয়েছে। আর এগুলো হলো হৃদরোগের ঔষধ ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসা; যেমন—অন্তরের দৃঢ়তা, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা (তাওয়াক্কুল), তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন, তাঁর সমীপে নিজেকে বিলীন ও নিবেদন করা, তাঁর সামনে বিনয়াবনত হওয়া, দান-সদকা, প্রার্থনা (দোয়া), তওবা, ক্ষমা প্রার্থনা (استغفار - ইস্তিগফার), সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ, বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা এবং আর্তমানবতার সেবা করা। পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্ম ও মতাবলম্বী জাতিসমূহ এই ঔষধগুলো পরীক্ষা করে দেখেছে এবং তারা আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে এমন অলৌকিক প্রভাব খুঁজে পেয়েছে যা শ্রেষ্ঠ চিকিৎসকদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা যুক্তির মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়।

আমরা এবং অন্যরা এ জাতীয় অসংখ্য বিষয় পরীক্ষা করে দেখেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে, এগুলো এমন কাজ করে যা সাধারণ ভৌত ঔষধসমূহ করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١١)
الْحِسِّيَّةُ، بَلْ تَصِيرُ الْأَدْوِيَةُ الْحِسِّيَّةُ عِنْدَهَا بِمَنْزِلَةِ أَدْوِيَةِ الطَّرْقِيَّةِ عِنْدَ الْأَطِبَّاءِ، وَهَذَا جَارٍ عَلَى قَانُونِ الْحِكْمَةِ الْإِلَهِيَّةِ لَيْسَ خَارِجًا عَنْهَا، وَلَكِنَّ الْأَسْبَابَ مُتَنَوِّعَةٌ، فَإِنَّ الْقَلْبَ مَتَى اتَّصَلَ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ، وَخَالِقِ الدَّاءِ وَالدَّوَاءِ، وَمُدَبِّرِ الطَّبِيعَةِ وَمُصَرِّفِهَا عَلَى مَا يَشَاءُ كَانَتْ لَهُ أَدْوِيَةٌ أُخْرَى غَيْرُ الْأَدْوِيَةِ الَّتِي يُعَانِيهَا الْقَلْبُ الْبَعِيدُ مِنْهُ الْمُعْرِضُ عَنْهُ، وَقَدْ عُلِمَ أَنَّ الْأَرْوَاحَ مَتَى قَوِيَتْ، وَقَوِيَتِ النَّفْسُ وَالطَّبِيعَةُ تَعَاوَنَا عَلَى دَفْعِ الدَّاءِ وَقَهْرِهِ، فَكَيْفَ يُنْكَرُ لِمَنْ قَوِيَتْ طَبِيعَتُهُ ونفسه، وفرحت بقربها من بارئها، وأنسهابه، وَحُبِّهَا لَهُ، وَتَنَعُّمِهَا بِذِكْرِهِ، وَانْصِرَافِ قُوَاهَا كُلِّهَا إلَيْهِ، وَجَمْعِهَا عَلَيْهِ، وَاسْتِعَانَتِهَا بِهِ، وَتَوَكُّلِهَا عَلَيْهِ، أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ لَهَا مِنْ أَكْبَرِ الْأَدْوِيَةِ، وَأَنْ تُوجِبَ لَهَا هَذِهِ الْقُوَّةُ دَفْعَ الْأَلَمِ بِالْكُلِّيَّةِ، وَلَا يُنْكِرُ هَذَا إِلَّا أَجْهَلُ النَّاسِ، وَأَغْلَظُهُمْ حِجَابًا، وَأَكْثَفُهُمْ نَفْسًا، وَأَبْعَدُهُمْ عَنِ اللَّهِ وَعَنْ حَقِيقَةِ الْإِنْسَانِيَّةِ، وَسَنَذْكُرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ السَّبَبَ الَّذِي بِهِ أَزَالَتْ قِرَاءَةُ الْفَاتِحَةِ دَاءَ اللَّدْغَةِ عَنِ اللَّدِيغِ الَّتِي رُقِيَ بِهَا، فَقَامَ حَتَّى كَأَنَّ مَا بِهِ قَلَبَةٌ «1» .

فَهَذَانِ نَوْعَانِ مِنَ الطِّبِّ النَّبَوِيِّ نَحْنُ بِحَوْلِ اللَّهِ نَتَكَلَّمُ عَلَيْهِمَا بِحَسْبِ الْجَهْدِ وَالطَّاقَةِ، وَمَبْلَغِ عُلُومِنَا الْقَاصِرَةِ، وَمَعَارِفِنَا الْمُتَلَاشِيَةِ جِدًّا، وَبِضَاعَتِنَا الْمُزْجَاةِ «2» ، وَلَكِنَّا نَسْتَوْهِبُ مَنْ بِيَدِهِ الْخَيْرُ كُلُّهُ، وَنَسْتَمِدُّ مِنْ فَضْلِهِ، فإنه العزيز الوهّاب.

 

‌‌فَصْلٌ

رَوَى مسلم فِي «صَحِيحِهِ» : مِنْ حَدِيثِ أَبِي الزبير، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ «لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ، فَإِذَا أُصِيبَ دَوَاءُ الدَّاءِ، بَرَأَ بِإِذْنِ اللَّهِ عز وجل» «3» .

وَفِي «الصَّحِيحَيْنِ» عَنْ عطاء، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ دَاءٍ إِلَّا أَنْزَلَ له شفاء» «4» .
(1) قلبة (بزنة سبلة) الداء أو الألم الذي يتقلب منه صاحبه

(2) بضاعة مزجاة: قليلة أو لم يتم إصلاحها

(3) أخرجه مسلم في كتاب الطب عن جابر، والإمام أحمد، ولم يخرجه البخاري واستدركه الحاكم فوهم

(4) أخرجه ابن ماجه. والبخاري في الطب. ورواه مسلم بلفظ «ما أنزل الله داء إلا أنزل له دواء، فإذا أصيب دواء الداء برىء بإذن الله
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ওষুধসমূহ বরং তখন চিকিৎসকদের নিকট সামান্য টোটকা ওষুধের মতো হয়ে পড়ে। এটি ঐশী প্রজ্ঞার (হিকমাহ ইলাহিয়্যাহ) নিয়মের অন্তর্ভুক্ত, এর বাইরে কিছু নয়। তবে রোগ মুক্তির কারণসমূহ নানাবিধ হয়ে থাকে। কেননা অন্তর যখন বিশ্বজাহানের প্রতিপালক, ব্যাধি ও প্রতিকারের স্রষ্টা এবং প্রকৃতির পরিচালক ও তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তা পরিবর্তনকারীর সাথে সংযুক্ত হয়, তখন তার জন্য এমন কিছু ভিন্নধর্মী প্রতিষেধক তৈরি হয় যা আল্লাহ থেকে বিমুখ ও গাফেল হৃদয়ের চিকিৎসার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি সুনিশ্চিত যে, যখন আত্মা শক্তিশালী হয় এবং নফস ও প্রকৃতি সবল হয়, তখন তারা রোগ প্রতিরোধ ও দমনে একে অপরকে সহযোগিতা করে। সুতরাং যার প্রকৃতি ও আত্মা শক্তিশালী হয়েছে, আপন স্রষ্টার নৈকট্যে যে আনন্দিত, তাঁর প্রতি যে অনুগত ও ভালোবাসা পোষণকারী, তাঁর স্মরণে যে তৃপ্ত, যার সমস্ত শক্তি তাঁর দিকেই নিবদ্ধ এবং যিনি তাঁরই ওপর ভরসা ও সাহায্য প্রার্থনা করেন—এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই আধ্যাত্মিক শক্তিই যে সর্বশ্রেষ্ঠ মহৌষধ হবে এবং এই শক্তি যে যাতনা সম্পূর্ণভাবে দূর করে দিবে, তাতে বিস্ময়ের কী আছে? কেবল মূর্খতম ব্যক্তি, যার হৃদয়ে পুরু পর্দা পড়ে আছে, যার আত্মা স্থূল এবং যে আল্লাহ ও মানবপ্রকৃতির প্রকৃত হাকিকত থেকে বহুদূরে অবস্থান করছে, সেই কেবল একে অস্বীকার করতে পারে। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা অচিরেই সেই কারণ ব্যাখ্যা করব যার ফলে সূরা ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে দংশিত ব্যক্তির বিষক্রিয়া দূর হয়েছিল, যার ফলে সে এমনভাবে সুস্থ হয়ে দাঁড়িয়েছিল যেন তার কোনো কষ্টই ছিল না (১)।

এগুলো হলো নববী চিকিৎসার (তিব্বুন নববী) দুটি প্রকার। আমরা আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে ভরসা করে আমাদের যথাসাধ্য প্রচেষ্টা, আমাদের সীমিত জ্ঞান ও অতি সামান্য অভিজ্ঞতা এবং আমাদের অতি নগণ্য পুঁজি (২) দিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করব। তবে আমরা তাঁরই নিকট প্রার্থনা করছি যাঁর হাতে সকল কল্যাণ এবং তাঁর করুণার সাহায্য কামনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি মহাপরাক্রমশালী ও পরম দাতা।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে আবু যুবাইর সূত্রে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “প্রত্যেক রোগের প্রতিকার রয়েছে। যখন রোগের সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, তখন আল্লাহর নির্দেশে রোগী আরোগ্য লাভ করে (৩)।”

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আতা সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার প্রতিষেধক তিনি অবতীর্ণ করেননি (৪)।”
(১) কালবাহ: এমন রোগ বা যন্ত্রণা যার কারণে রোগী ছটফট করে।

(২) সামান্য বা নগণ্য পুঁজি: যা অল্প বা যথাযথভাবে প্রস্তুত নয়।

(৩) ইমাম মুসলিম কিতাবুত তিব্ব-এ জাবির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, এবং ইমাম আহমাদও। ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেননি, হাকেম এটিকে বর্ণনা করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন।

(৪) ইবনে মাজাহ এবং বুখারী তিব্ব অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিম এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন যে, ‘আল্লাহ এমন কোনো রোগ নাযিল করেননি যার ওষুধ নাযিল করেননি, সুতরাং যখন সঠিক ওষুধটি প্রয়োগ করা হয় আল্লাহর হুকুমে আরোগ্য লাভ হয়’।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١٢)
وَفِي «مُسْنَدِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ» : مِنْ حَدِيثِ زِيَادِ بْنِ عِلَاقَةَ، عَنْ أسامة بن شريك، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَجَاءَتِ الْأَعْرَابُ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَنَتَدَاوَى؟

فَقَالَ: «نَعَمْ يَا عِبَادَ اللَّهِ تَدَاوَوْا، فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمْ يَضَعْ دَاءً إِلَّا وَضَعَ لَهُ شِفَاءً غَيْرَ دَاءٍ وَاحِدٍ» ، قَالُوا مَا هُوَ؟ قَالَ: «الْهَرَمُ» «1»

وَفِي لَفْظٍ: «إِنَّ الله لم ينزل داء إلّا أنزل شِفَاءً، عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ» «2»

وَفِي «الْمُسْنَدِ» : مِنْ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ يَرْفَعُهُ: «إِنَّ اللَّهَ عز وجل لَمْ يُنْزِلْ دَاءً إِلَّا أَنْزَلَ لَهُ شِفَاءً، عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ، وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ» .

وَفِي «الْمُسْنَدِ» وَ «السُّنَنِ» «3» عَنْ أبي خزامة، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَرَأَيْتَ رُقًى نَسْتَرْقِيهَا، وَدَوَاءً نَتَدَاوَى بِهِ، وَتُقَاةً نَتَّقِيهَا، هَلْ تَرُدُّ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ شَيْئًا؟ فَقَالَ «هِيَ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ» «4» .

فَقَدْ تَضَمَّنَتْ هَذِهِ الْأَحَادِيثُ إثْبَاتَ الْأَسْبَابِ وَالْمُسَبَّبَاتِ. وَإِبْطَالَ قَوْلِ مَنْ أَنْكَرَهَا، وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ قَوْلُهُ: «لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ» ، عَلَى عُمُومِهِ حَتَّى يَتَنَاوَلَ الْأَدْوَاءَ الْقَاتِلَةَ، وَالْأَدْوَاءَ الَّتِي لَا يُمْكِنُ لِطَبِيبٍ أَنْ يُبْرِئَهَا، وَيَكُونُ اللَّهُ عز وجل قَدْ جَعَلَ لَهَا أَدْوِيَةً تُبْرِئُهَا، وَلَكِنْ طَوَى عِلْمَهَا عَنِ الْبَشَرِ، وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُمْ إِلَيْهِ سَبِيلًا، لِأَنَّهُ لَا عِلْمَ لِلْخَلْقِ إِلَّا مَا عَلَّمَهُمُ اللَّهُ، وَلِهَذَا عَلَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الشّفاء على مصادفة الدواء للداء،
(1) أخرجه أبو داود والترمذي والإمام أحمد وابن ماجه كلهم في كتاب الطب وأخرجه ابن حبان في صحيحه والحاكم من حديث زياد بن علاقة، وقال الترمذي حس صحيح والحاكم صحيح. ومعنى الحديث: أي تداووا ولا تعتمدوا في الشفاء على التداوي بل كونوا عباد الله متوكلين عليه. ومن تداوى عليه أن يعتقد حقا ويؤمن يقينا بأن الدواء لا يحدث شفاء ولا يولده، كما أن الداء لا يحدث سقما ولا يولده، ولكن المولى جلت قدرته يخلق الموجودات واحدا عقب آخر على ترتيب هو أعلم بحكمته و «داء الهرم» أي الكبر جعل داء تشبيها به لأن الموت يعقبه كالداء

(2) رواه الحاكم. ونحوه للنسائي وابن ماجه، وصحيحه ابن حبان

(3) هي سنن الترمذي

(4) أخرجه ابن ماجه والحاكم في صحيحه، والترمذي وقال: حسن صحيح
‘মুসনাদে ইমাম আহমাদ’-এ জিয়াদ ইবনে ইলাকার বর্ণনায় উসামা ইবনে শারিক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় কিছু পল্লীবাসী আরব আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি চিকিৎসা গ্রহণ করব?

তিনি বললেন: “হ্যাঁ, হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কেননা মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার নিরাময় (শিফা) তিনি তৈরি করেননি, কেবল একটি রোগ ব্যতীত।” তারা জিজ্ঞেস করলেন, সেটি কী? তিনি বললেন: “বার্ধক্য (হারাম)।”

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: “নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার প্রতিষেধক তিনি অবতীর্ণ করেননি; যে তা জানার সে তা জেনেছে, আর যে তা জানে না সে তা জানে না।”

‘মুসনাদ’-এ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত মারফূ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে এমন) সূত্রে রয়েছে: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ অবতীর্ণ করেননি যার জন্য তিনি প্রতিষেধক অবতীর্ণ করেননি; যে তা জানার সে তা জেনেছে এবং যে তা জানে না সে তা জানে না।”

‘মুসনাদ’ ও ‘সুনান’ গ্রন্থে আবু খুজামা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যে ঝাড়ফুঁক (রুকইয়াহ) গ্রহণ করি, যে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করি এবং যে সব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করি, সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? এগুলো কি আল্লাহর তাকদিরের কিছু পরিবর্তন করতে পারে? তিনি বললেন: “এগুলোও আল্লাহর তাকদিরের অন্তর্ভুক্ত।”

এই হাদিসগুলো কার্যকারণ (আসবাব) ও ফলাফলের (মুসাব্বাবাত) বাস্তবতাকে প্রমাণ করে এবং যারা এগুলোকে অস্বীকার করে তাদের মতবাদকে বাতিল করে দেয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: “প্রত্যেক রোগেরই ওষুধ রয়েছে”—এটি এর ব্যাপকতার ওপর ভিত্তি করে হওয়া সম্ভব, যা এমনকি প্রাণঘাতী রোগ এবং এমন সব ব্যাধিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যা কোনো চিকিৎসকের পক্ষে নিরাময় করা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ সেগুলোর জন্য এমন ওষুধ সৃষ্টি করেছেন যা সেগুলো নিরাময় করবে, কিন্তু মানবজাতির নিকট থেকে তার জ্ঞান গোপন রেখেছেন এবং তাদের জন্য সে পথ উন্মুক্ত করেননি। কেননা সৃষ্টির কোনো জ্ঞান নেই কেবল তা ব্যতীত যা আল্লাহ তাদের শিখিয়েছেন। এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিরাময় বা আরোগ্য লাভকে রোগের সাথে ওষুধের সঠিক মিল বা সমন্বয় হওয়ার ওপর নির্ভরশীল করেছেন।
(১) আবু দাউদ, তিরমিজি, ইমাম আহমাদ এবং ইবনে মাজাহ প্রত্যেকেই তাঁদের ‘চিকিৎসা অধ্যায়ে’ (কিতাবুত তিব) এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে এবং হাকেম জিয়াদ ইবনে ইলাকার হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি একে ‘হাসান-সহিহ’ এবং হাকেম একে ‘সহিহ’ বলেছেন। হাদিসের মর্মার্থ হলো: তোমরা চিকিৎসা করো এবং কেবল চিকিৎসার ওপর নিরাময়ের ভরসা করো না, বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে তাঁর ওপর একান্ত নির্ভরশীল (তাওয়াক্কুলকারী) হও। যে ব্যক্তি চিকিৎসা গ্রহণ করবে, তার উচিত এটি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা যে, ওষুধ নিজে কোনো নিরাময় সৃষ্টি করে না, যেমনভাবে রোগ নিজে কোনো অসুস্থতা তৈরি করে না। বরং মহান প্রতিপালক তাঁর প্রজ্ঞা অনুযায়ী একটির পর একটি বিষয় সৃষ্টি করেন। ‘বার্ধক্যের রোগ’ বলতে বার্ধক্যকে রোগের সাথে তুলনা করা হয়েছে কারণ রোগের মতো বার্ধক্যের পরেই মৃত্যু আসে।

(২) হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন। এর অনুরূপ বর্ণনা নাসাঈ ও ইবনে মাজাহতেও রয়েছে এবং ইবনে হিব্বান একে সহিহ বলেছেন।

(৩) এটি হলো সুনানে তিরমিজি।

(৪) ইবনে মাজাহ এবং হাকেম তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি একে ‘হাসান-সহিহ’ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١٣)
فَإِنَّهُ لَا شَيْءَ مِنَ الْمَخْلُوقَاتِ إِلَّا لَهُ ضِدٌّ، وَكُلُّ دَاءٍ لَهُ ضِدٌّ مِنَ الدَّوَاءِ يُعَالَجُ بِضِدِّهِ، فَعَلَّقَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْبُرْءَ بِمُوَافَقَةِ الدَّاءِ لِلدَّوَاءِ، وَهَذَا قَدْرٌ زَائِدٌ عَلَى مُجَرَّدِ وَجُودِهِ، فَإِنَّ الدَّوَاءَ مَتَى جَاوَزَ دَرَجَةَ الدَّاءِ فِي الْكَيْفِيَّةِ، أَوْ زَادَ فِي الْكَمِّيَّةِ عَلَى مَا يَنْبَغِي، نَقَلَهُ إِلَى دَاءٍ آخَرَ، وَمَتَى قَصَرَ عَنْهَا لَمْ يَفِ بِمُقَاوَمَتِهِ، وَكَانَ الْعِلَاجُ قَاصِرًا، وَمَتَى لَمْ يَقَعِ الْمُدَاوِي عَلَى الدَّوَاءِ، أَوْ لَمْ يَقَعِ الدَّوَاءُ عَلَى الدَّاءِ، لَمْ يَحْصُلِ الشِّفَاءُ، وَمَتَى لَمْ يَكُنِ الزَّمَانُ صَالِحًا لِذَلِكَ الدَّوَاءِ، لَمْ يَنْفَعْ، وَمَتَى كَانَ الْبَدَنُ غَيْرَ قَابِلٍ لَهُ، أَوِ الْقُوَّةُ عَاجِزَةً عَنْ حَمْلِهِ، أَوْ ثَمَّ مَانِعٌ يَمْنَعُ مِنْ تَأْثِيرِهِ، لَمْ يَحْصُلِ الْبُرْءُ لِعَدَمِ الْمُصَادَفَةِ، وَمَتَى تَمَّتِ الْمُصَادَفَةُ حَصَلَ الْبُرْءُ بِإِذْنِ الله ولابد، وَهَذَا أَحْسَنُ الْمَحْمِلَيْنِ فِي الْحَدِيثِ.

وَالثَّانِي: أَنْ يَكُونَ مِنَ الْعَامِّ الْمُرَادِ بِهِ الْخَاصُّ، لَا سِيَّمَا وَالدَّاخِلُ فِي اللَّفْظِ أَضْعَافُ أَضْعَافِ الْخَارِجِ مِنْهُ، وَهَذَا يُسْتَعْمَلُ فِي كُلِّ لِسَانٍ، وَيَكُونُ الْمُرَادُ أَنَّ اللَّهَ لَمْ يَضَعْ دَاءً يَقْبَلُ الدَّوَاءَ إِلَّا وَضَعَ لَهُ دَوَاءً، فَلَا يَدْخُلُ فِي هَذَا الْأَدْوَاءُ الَّتِي لَا تَقْبَلُ الدَّوَاءَ، وَهَذَا كَقَوْلِهِ تَعَالَى فِي الرِّيحِ الَّتِي سَلَّطَهَا عَلَى قَوْمِ عَادٍ تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ بِأَمْرِ رَبِّها «1» أَيْ كُلُّ شَيْءٍ يَقْبَلُ التَّدْمِيرَ، وَمِنْ شَأْنِ الرِّيحِ أَنْ تُدَمِّرَهُ، وَنَظَائِرُهُ كَثِيرَةٌ.

وَمَنْ تَأَمَّلَ خَلْقَ الْأَضْدَادِ فِي هَذَا الْعَالَمِ، وَمُقَاوَمَةَ بَعْضِهَا لِبَعْضٍ، وَدَفْعَ بَعْضِهَا بِبَعْضٍ وَتَسْلِيطَ بَعْضِهَا عَلَى بَعْضٍ، تَبَيَّنَ لَهُ كَمَالُ قُدْرَةِ الرَّبِّ تَعَالَى، وَحِكْمَتُهُ، وَإِتْقَانُهُ مَا صَنَعَهُ، وَتَفَرُّدُهُ بِالرُّبُوبِيَّةِ، وَالْوَحْدَانِيَّةِ، وَالْقَهْرِ، وَأَنَّ كُلَّ مَا سِوَاهُ فَلَهُ مَا يُضَادُّهُ وَيُمَانِعُهُ، كَمَا أَنَّهُ الْغَنِيُّ بِذَاتِهِ، وَكُلُّ مَا سِوَاهُ مُحْتَاجٌ بِذَاتِهِ.

وَفِي الْأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ الْأَمْرُ بِالتَّدَاوِي، وَأَنَّهُ لَا يُنَافِي التَّوَكُّلَ، كَمَا لَا يُنَافِيهِ دَفْعُ دَاءِ الْجَوْعِ، وَالْعَطَشِ، وَالْحَرِّ، وَالْبَرْدِ بِأَضْدَادِهَا، بَلْ لَا تَتِمُّ حَقِيقَةُ التَّوْحِيدِ إِلَّا بِمُبَاشَرَةِ الْأَسْبَابِ الَّتِي نَصَبَهَا اللَّهُ مُقْتَضَيَاتٍ لِمُسَبَّبَاتِهَا قَدَرًا وَشَرْعًا، وَأَنَّ تَعْطِيلَهَا يَقْدَحُ فِي نَفْسِ التَّوَكُّلِ، كَمَا يَقْدَحُ فِي الْأَمْرِ وَالْحِكْمَةِ، وَيُضْعِفُهُ مِنْ حَيْثُ يَظُنُّ مُعَطِّلُهَا أَنَّ تَرْكَهَا أَقْوَى فِي التَّوَكُّلِ، فَإِنَّ تَرْكَهَا عَجْزًا يُنَافِي التوكل الذي حقيقته اعتماد
(1) الأحقاف- 25- وهي الريح العاصفة التي دمر الله بها عادا قوم هود، وكان ذلك بإرادة الله سبحانه، فأهلكتهم رجالا ونساء وصغارا وكبارا، وأهلكت أموالهم. وبقي هود ومن آمن معه.

বস্তুত প্রতিটি সৃষ্টিরই বিপরীত রয়েছে এবং প্রতিটি রোগেরই নিরাময় হিসেবে বিপরীত ওষধি রয়েছে যা দ্বারা তার চিকিৎসা করা হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরোগ্য লাভের বিষয়টি রোগের সাথে ওষধের সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার ওপর নির্ভরশীল করেছেন। আর এটি কেবল ওষধ বিদ্যমান থাকার চেয়েও অতিরিক্ত একটি বিষয়। কেননা ওষধ যখন গুণগত মানের দিক থেকে রোগের মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায় অথবা পরিমাণগত দিক থেকে প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে বৃদ্ধি পায়, তখন তা শরীরকে অন্য রোগে আক্রান্ত করে। আবার যখন তা রোগের মাত্রা অপেক্ষা কম হয়, তখন তা রোগ প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত হয় না এবং চিকিৎসা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যখন চিকিৎসক সঠিক ওষধ নির্বাচন করতে পারেন না অথবা ওষধটি রোগের উপযুক্ত হয় না, তখন আরোগ্য লাভ হয় না। আবার যখন সময়টি সেই ওষধের জন্য উপযুক্ত না হয়, তখন তা কোনো উপকার দেয় না। আর যখন শরীর ওষধটি গ্রহণ করার অবস্থায় থাকে না অথবা শারীরিক শক্তি তা সহ্য করার ক্ষমতা হারায়, কিংবা সেখানে এমন কোনো প্রতিবন্ধক থাকে যা ওষধের ক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, তখন সামঞ্জস্য না হওয়ার কারণে নিরাময় অর্জিত হয় না। আর যখনই এই সামঞ্জস্য পূর্ণতা পায়, তখনই আল্লাহর ইচ্ছায় নিশ্চিতভাবে আরোগ্য অর্জিত হয়। হাদিসের দুটি ব্যাখ্যার মধ্যে এটিই সর্বোত্তম।

দ্বিতীয়ত: এটি এমন এক সাধারণ শব্দ যা দ্বারা বিশেষ অর্থ বুঝানো হয়েছে (আল-আম্ম আল-মুরাদু বিহি আল-খাস), বিশেষত যখন শব্দের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো বহির্ভূত বিষয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি হয়। এটি প্রতিটি ভাষাতেই প্রচলিত। এখানে উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহ এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যা চিকিৎসা গ্রহণযোগ্য অথচ তার ওষধি সৃষ্টি করেননি। সুতরাং যেসব রোগ চিকিৎসার উপযোগী নয় (যেমন বার্ধক্য বা মৃত্যু) সেগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। এটি মহান আল্লাহর সেই বাণীর মতো যা তিনি আদ জাতির ওপর প্রেরিত প্রবল বায়ু সম্পর্কে বলেছেন: "যা তার পালনকর্তার আদেশে সবকিছু ধ্বংস করে দেবে" (সূরা আল-আহকাফ: ২৫), অর্থাৎ এমন সবকিছু যা ধ্বংস হওয়া সম্ভব এবং বায়ু যা ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। এর দৃষ্টান্ত আরও অনেক রয়েছে।

আর যে ব্যক্তি এই মহাবিশ্বে বিপরীতধর্মী সৃষ্টিসমূহ, তাদের একে অপরের প্রতিরোধ, একটির মাধ্যমে অন্যটির বিচ্ছুরণ এবং একটির ওপর অন্যটির আধিপত্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, তার নিকট মহান রবের ক্ষমতার পূর্ণতা, তাঁর প্রজ্ঞা, সৃষ্টির সুনিপুণতা এবং তাঁর প্রভুত্ব, একত্ব ও পরাক্রমশালিতার অনন্যতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। আর এটিও স্পষ্ট হবে যে, তিনি ছাড়া যা কিছু আছে তার প্রত্যেকেরই এমন কিছু আছে যা তার বিপরীত ও প্রতিরোধক। যেমনভাবে তিনি স্বীয় সত্তাগতভাবেই অভাবমুক্ত, তেমনি তিনি ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা স্বীয় সত্তাগতভাবেই মুখাপেক্ষী।

সহিহ হাদিসসমূহে চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ এসেছে এবং এটি আল্লাহর ওপর ভরসা করার (তাওয়াক্কুল) পরিপন্থী নয়। যেমন ক্ষুধা, তৃষ্ণা, গরম ও শীতের কষ্টকে তাদের বিপরীত জিনিসের মাধ্যমে দূর করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। বরং সেই উপকরণসমূহ (আসবাব) ব্যবহার ব্যতীত তাওহিদের প্রকৃত স্বরূপ পূর্ণ হয় না, যা আল্লাহ তাআলা তাকদির ও শরিয়তের বিধানে ফলাফলের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই উপকরণসমূহকে অকেজো রাখা স্বয়ং তাওয়াক্কুলের মধ্যেই ত্রুটি সৃষ্টি করে, যেমনটি তা আল্লাহর নির্দেশ ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রেও ত্রুটিস্বরূপ। যে ব্যক্তি উপকরণ বর্জন করাকে তাওয়াক্কুলের জন্য অধিক শক্তিশালী মনে করে, সে মূলত তাওয়াক্কুলকে দুর্বল করে দেয়। কারণ অক্ষমতাবশত উপকরণ বর্জন করা সেই তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী যার প্রকৃত নির্যাস হলো আল্লাহর ওপর নির্ভরতা...
(১) আল-আহকাফ- ২৫- এটি সেই ঝঞ্ঝাবায়ু যা দ্বারা আল্লাহ হুদ আলাইহিস সালামের কওম 'আদ'কে ধ্বংস করেছিলেন। আর এটি ছিল মহান আল্লাহর ইচ্ছায়; ফলে তা তাদের পুরুষ, নারী, ছোট ও বড় সবাইকে এবং তাদের ধন-সম্পদকেও ধ্বংস করে দিয়েছিল। কেবল হুদ আলাইহিস সালাম এবং তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছিলেন তারা রক্ষা পেয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١٤)
الْقَلْبِ عَلَى اللَّهِ فِي حُصُولِ مَا يَنْفَعُ الْعَبْدَ فِي دِينِهِ وَدُنْيَاهُ، وَدَفْعِ مَا يَضُرُّهُ فِي دِينِهِ وَدُنْيَاهُ، وَلَا بُدَّ مَعَ هَذَا الِاعْتِمَادِ مِنْ مُبَاشَرَةِ الْأَسْبَابِ، وَإِلَّا كَانَ مُعَطِّلًا لِلْحِكْمَةِ وَالشَّرْعِ، فَلَا يَجْعَلُ الْعَبْدُ عَجْزَهُ تَوَكُّلًا، وَلَا تَوَكُّلَهُ عَجْزًا.

وَفِيهَا رَدٌّ عَلَى مَنْ أَنْكَرَ التَّدَاوِي، وَقَالَ: إِنْ كَانَ الشِّفَاءُ قَدْ قُدِّرَ، فَالتَّدَاوِي لَا يُفِيدُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ قَدْ قُدِّرَ، فَكَذَلِكَ وَأَيْضًا، فَإِنَّ الْمَرَضَ حَصَلَ بِقَدَرِ اللَّهِ، وَقَدَرُ اللَّهِ لَا يُدْفَعُ وَلَا يُرَدُّ، وَهَذَا السُّؤَالُ هُوَ الَّذِي أَوْرَدَهُ الْأَعْرَابُ على رسول الله صلى الله عليه وسلم. وَأَمَّا أَفَاضِلُ الصِّحَابَةِ، فَأَعْلَمُ بِاَللَّهِ وَحِكْمَتِهِ وَصِفَاتِهِ مِنْ أَنْ يُورِدُوا مِثْلَ هَذَا، وَقَدْ أَجَابَهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَا شَفَى وَكَفَى، فَقَالَ: هَذِهِ الْأَدْوِيَةُ وَالرُّقَى وَالتُّقَى هِيَ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ، فَمَا خَرَجَ شَيْءٌ عَنْ قَدَرِهِ، بَلْ يُرَدُّ قَدَرُهُ بِقَدَرِهِ، وَهَذَا الرَّدُّ مِنْ قَدَرِهِ، فَلَا سَبِيلَ إِلَى الْخُرُوجِ عَنْ قَدَرِهِ بِوَجْهٍ مَا، وَهَذَا كَرَدِّ قَدَرِ الْجُوعِ، وَالْعَطَشِ وَالْحَرِّ، وَالْبَرْدِ بِأَضْدَادِهَا، وَكَرَدِّ قَدَرِ الْعَدُوِّ بِالْجِهَادِ، وَكُلٌّ مِنْ قَدَرِ اللَّهِ الدَّافِعُ وَالْمَدْفُوعُ وَالدَّفْعُ.

وَيُقَالُ لِمُورِدِ هَذَا السُّؤَالِ «هَذَا يُوجِبُ عليك ألاتباشر سَبَبًا مِنَ الْأَسْبَابِ الَّتِي تَجْلِبُ بِهَا مَنْفَعَةً، أَوْ تَدْفَعُ بِهَا مَضَرَّةً، لِأَنَّ الْمَنْفَعَةَ وَالْمَضَرَّةَ إِنْ قُدِّرَتَا، لَمْ يَكُنْ بُدٌّ مِنْ وُقُوعِهِمَا، وَإِنْ لَمْ تُقَدَّرَا لَمْ يَكُنْ سَبِيلٌ إِلَى وُقُوعِهِمَا، وَفِي ذَلِكَ خَرَابُ الدِّينِ وَالدُّنْيَا، وَفَسَادُ الْعَالَمِ، وَهَذَا لَا يَقُولُهُ إِلَّا دَافِعٌ لِلْحَقِّ، مُعَانِدٌ لَهُ، فَيَذْكُرُ الْقَدَرَ لِيَدْفَعَ حُجَّةَ الْمُحِقِّ عَلَيْهِ، كَالْمُشْرِكِينَ الَّذِينَ قَالُوا: لَوْ شاءَ اللَّهُ ما أَشْرَكْنا وَلا آباؤُنا «1» ، ولَوْ شاءَ اللَّهُ مَا عَبَدْنا مِنْ دُونِهِ مِنْ شَيْءٍ نَحْنُ وَلا آباؤُنا «2» . فَهَذَا قَالُوهُ دَفْعًا لِحُجَّةِ اللَّهِ عَلَيْهِمْ بِالرُّسُلِ.

وَجَوَابُ هَذَا السَّائِلِ أَنْ يُقَالَ: بَقِيَ قِسْمٌ ثَالِثٌ لَمْ تَذْكُرْهُ، وَهُوَ أَنَّ اللَّهَ قَدَّرَ كَذَا وَكَذَا بِهَذَا السَّبَبِ. فَإِنْ أَتَيْتَ بِالسَّبَبِ حَصَلَ الْمُسَبَّبُ، وَإِلَّا فَلَا. فَإِنْ قَالَ: إِنْ كَانَ قَدَّرَ لِي السَّبَبَ، فَعَلْتُهُ، وَإِنْ لَمْ يقدّره لي لم أتمكن من فعله.
(1) الانعام- 148- والمعنى أن المشركين يريدون أن يقولوا: إن الله راض بإشراكنا وتحريمنا للبحيرة والسائبة وغيرهما. ورد الله عليهم بقوله «قل هل عندكم من علم فتخرجوه لنا»

(2) النحل- 35- والمعنى أن قائل هذا القول أهل مكة وأحزابهم في الشرك فرد عليهم بأنهم يتبعون الذين كانوا من قبلهم فهم مقلدون لاحظ لهم من النظر «كذلك قال الذين من قبلهم فهل على الرسل إلا البلاغ المبين»
দ্বীন ও দুনিয়াতে বান্দার জন্য যা কল্যাণকর তা লাভ করতে এবং যা ক্ষতিকর তা প্রতিহত করতে আল্লাহর ওপর অন্তরের অটল নির্ভরতা রাখা; তবে এই নির্ভরতার পাশাপাশি উপায়-উপকরণ (আসবাব) গ্রহণ করা অপরিহার্য। অন্যথায় তা আল্লাহর প্রজ্ঞা ও শরীয়তকে অকার্যকর করার নামান্তর হবে। অতএব, বান্দা যেন তার অক্ষমতাকে তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা) মনে না করে এবং তার তাওয়াক্কুলকে অক্ষমতায় পর্যবসিত না করে।

এতে তাদের প্রতি উত্তর রয়েছে যারা চিকিৎসা গ্রহণ করাকে অস্বীকার করে এবং বলে: "যদি আরোগ্য নির্ধারিত থাকে তবে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই, আর যদি নির্ধারিত না থাকে তবে চিকিৎসা কোনো কাজে আসবে না।" তারা আরও বলে: "রোগব্যাধি আল্লাহর তকদিরেই হয়েছে, আর আল্লাহর তকদিরকে তো প্রতিহত করা বা ফেরানো যায় না।" এই একই প্রশ্ন বেদুইনরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট পেশ করেছিল। তবে শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ আল্লাহ, তাঁর প্রজ্ঞা ও গুণাবলি সম্পর্কে এতটাই অবগত ছিলেন যে এই ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করা থেকে তারা বিরত ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের এমন উত্তর দিয়েছিলেন যা ছিল পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক। তিনি বলেছিলেন: "এই ঔষধ, ঝাড়ফুঁক ও আত্মরক্ষা—সবই আল্লাহর তকদিরের অন্তর্ভুক্ত।" সুতরাং কোনো কিছুই তাঁর তকদিরের বাইরে নয়, বরং তকদির দিয়েই তকদিরকে প্রতিহত করা হয়। আর এই প্রতিহত করার প্রক্রিয়াটিও তকদিরের অংশ। কোনোভাবেই তাঁর তকদির থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো পথ নেই। এটি ঠিক ক্ষুধা, পিপাসা, গরম ও শীতের তকদিরকে সেগুলোর বিপরীত জিনিসের মাধ্যমে প্রতিহত করার মতো; এবং শত্রুর তকদিরকে জিহাদের মাধ্যমে প্রতিহত করার মতো। প্রতিহতকারী, যাকে প্রতিহত করা হচ্ছে এবং খোদ প্রতিহত করার কাজ—সবই আল্লাহর তকদিরের অন্তর্ভুক্ত।

এই প্রশ্ন উত্থাপনকারীকে বলা হবে: "তোমার এই যুক্তি অনুযায়ী তো তোমার এমন কোনো উপায় (আসবাব) অবলম্বন করা উচিত নয় যার মাধ্যমে কোনো উপকার লাভ করা যায় বা ক্ষতি দূর করা যায়। কারণ উপকার বা ক্ষতি যদি নির্ধারিত থাকে তবে তা অবশ্যই ঘটবে, আর যদি নির্ধারিত না থাকে তবে তা ঘটার কোনো পথ নেই।" এমনটি মেনে নিলে দ্বীন ও দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাবে এবং জগতের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে। সত্যকে অস্বীকারকারী ও হঠকারী ছাড়া কেউ এমন কথা বলে না। তারা মূলত ন্যায়পন্থীদের অকাট্য প্রমাণকে খণ্ডন করার জন্য তকদিরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, যেমনটি মুশরিকরা বলেছিল: "যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা শিরক করতাম না" (১), এবং "যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতাম না" (২)। তারা রাসূলদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত আল্লাহর অকাট্য প্রমাণকে নস্যাৎ করার জন্যই এই উক্তি করেছিল।

এই প্রশ্নকারীর উত্তর হলো তাকে বলা হবে: "এখানে তৃতীয় একটি বিষয় রয়ে গেছে যা তুমি উল্লেখ করোনি; আর তা হলো—আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্ট বিষয়কে নির্দিষ্ট উপায়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং তুমি যদি সেই উপায়টি অবলম্বন করো তবে ফলাফল অর্জিত হবে, অন্যথায় নয়।" যদি সে বলে: "যদি আমার জন্য সেই উপায়টি গ্রহণ করা নির্ধারিত থাকে তবেই আমি তা করব, আর যদি তা নির্ধারিত না থাকে তবে আমার পক্ষে তা করা সম্ভব হবে না..."
(১) সূরা আল-আনআম: ১৪৮—এর অর্থ হলো মুশরিকরা এটা বোঝাতে চেয়েছিল যে, তাদের শিরক এবং বাহীরাহ ও সায়িবা (মূর্তির নামে উৎসর্গকৃত পশু) ইত্যাদি হারাম করার বিষয়ে আল্লাহ সন্তুষ্ট। আল্লাহ তাদের প্রতিবাদে বলেছেন: "বলো, তোমাদের কাছে কি কোনো জ্ঞান আছে যা তোমরা আমাদের নিকট প্রকাশ করবে?"

(২) সূরা আন-নাহল: ৩৫—এর অর্থ হলো এই উক্তিটি মক্কাবাসী ও শিরককাজে লিপ্ত তাদের দলভুক্ত লোকদের। তাদের উত্তরে বলা হয়েছে যে তারা তাদের পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। তারা নিছক অন্ধ অনুসারী, চিন্তাভাবনা ও পর্যালোচনার কোনো যোগ্যতা তাদের নেই। "তাদের পূর্ববর্তীরাও এমনটি বলেছিল। সুতরাং রাসূলদের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে (বাণী) পৌঁছে দেওয়া।"
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١٥)
قِيلَ: فَهَلْ تَقْبَلُ هَذَا الِاحْتِجَاجَ مِنْ عَبْدِكَ، وَوَلَدِكَ، وَأَجِيرِكَ إِذَا احْتَجَّ بِهِ عَلَيْكَ فِيمَا أَمَرْتَهُ بِهِ، وَنَهَيْتَهُ عَنْهُ فَخَالَفَكَ؟ فَإِنْ قَبِلْتَهُ، فَلَا تَلُمْ مَنْ عَصَاكَ، وَأَخَذَ مَالَكَ، وَقَذَفَ عِرْضَكَ، وَضَيَّعَ حُقُوقَكَ. وَإِنْ لَمْ تَقْبَلْهُ، فَكَيْفَ يَكُونُ مَقْبُولًا مِنْكَ فِي دَفْعِ حُقُوقِ اللَّهِ عَلَيْكَ. وَقَدْ رُوِيَ فِي أَثَرٍ إسْرَائِيلِيٍّ: أَنَّ إبْرَاهِيمَ الْخَلِيلَ قَالَ؛ يَا رَبِّ مِمَّنِ الدَّاءُ؟ قَالَ: «مِنِّي» . قَالَ: «فَمِمَّنِ الدَّوَاءُ؟» ؟ قَالَ: «مِنِّي» . قَالَ:

فَمَا بَالُ الطَّبِيبِ؟، قَالَ: «رَجُلٌ أُرْسِلُ الدَّوَاءَ عَلَى يَدَيْهِ» .

وَفِي قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «لِكُلِّ دَاءٍ دَوَاءٌ» ، تَقْوِيَةٌ لِنَفْسِ الْمَرِيضِ وَالطَّبِيبِ، وَحَثٌّ عَلَى طَلَبِ ذَلِكَ الدَّوَاءِ وَالتَّفْتِيشِ عَلَيْهِ، فَإِنَّ الْمَرِيضَ إِذَا اسْتَشْعَرَتْ نَفْسُهُ أَنَّ لِدَائِهِ دَوَاءً يُزِيلُهُ، تَعَلَّقَ قَلْبُهُ بِرُوحِ الرِّجَاءِ، وَبَرَدَتْ عِنْدَهُ حَرَارَةُ الْيَأْسِ، وَانْفَتَحَ لَهُ باب الرجاء، متى قَوِيَتْ نَفْسُهُ انْبَعَثَتْ حَرَارَتُهُ الْغَرِيزِيَّةُ، وَكَانَ ذَلِكَ سَبَبًا لِقُوَّةِ الْأَرْوَاحِ الْحَيَوَانِيَّةِ وَالنَّفْسَانِيَّةِ وَالطَّبِيعِيَّةِ، وَمَتَى قَوِيَتْ هَذِهِ الْأَرْوَاحُ، قَوِيَتِ الْقُوَى الَّتِي هِيَ حَامِلَةٌ لَهَا، فَقَهَرَتِ الْمَرَضَ وَدَفَعَتْهُ.

وَكَذَلِكَ الطَّبِيبُ إِذَا عَلِمَ أَنَّ لِهَذَا الدَّاءِ دَوَاءً أَمْكَنَهُ طَلَبُهُ وَالتَّفْتِيشُ عَلَيْهِ.

وَأَمْرَاضُ الْأَبْدَانِ عَلَى وِزَانِ أَمْرَاضِ الْقُلُوبِ، وَمَا جَعَلَ اللَّهُ لِلْقَلْبِ مَرَضًا إِلَّا جَعَلَ لَهُ شِفَاءً بِضَدِّهِ، فَإِنْ عَلِمَهُ صَاحِبُ الدَّاءِ وَاسْتَعْمَلَهُ، وَصَادَفَ دَاءَ قَلْبِهِ، أَبْرَأَهُ بإذن الله تعالى.

فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم فِي الِاحْتِمَاءِ مِنَ التَّخَمِ

، وَالزِّيَادَةِ فِي الْأَكْلِ عَلَى قَدْرِ الْحَاجَةِ، وَالْقَانُونِ الَّذِي يَنْبَغِي مُرَاعَاتُهُ فِي الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ.

فِي «الْمُسْنَدِ» وَغَيْرِهِ: عَنْهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: «مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ، بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ لُقَيْمَاتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ، فَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ فَاعِلًا، فَثُلُثٌ لِطَعَامِهِ، وَثُلُثٌ لِشَرَابِهِ، وثلث لنفسه» «1» .
(1) أخرجه الإمام أحمد والنسائي في كتاب الزهد، وابن ماجه في الأطعمة والحاكم في الأطعمة عن المقدام بن معد يكرب. قال الحاكم هو صحيح. وقال ابن حجر في فتح الباري: حديث حسن.
বলা হয়েছে: আপনি কি আপনার দাস, আপনার সন্তান এবং আপনার কর্মচারীর পক্ষ থেকে এই যুক্তি গ্রহণ করবেন, যখন তারা আপনার আদেশের বিপরীতে গিয়ে আপনার অবাধ্য হয়ে আপনার বিরুদ্ধে এই যুক্তি পেশ করে? যদি আপনি তা গ্রহণ করেন, তবে যে আপনার অবাধ্য হয়েছে, আপনার সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, আপনার সম্মানহানি করেছে এবং আপনার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে, তাকে আপনি নিন্দা করবেন না। আর যদি আপনি তা গ্রহণ না করেন, তবে আপনার ওপর অর্পিত আল্লাহর অধিকারসমূহ অবহেলার ক্ষেত্রে আপনার পক্ষ থেকে এই যুক্তি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? ইসরাঈলি বর্ণনায় (আছার) বর্ণিত আছে যে: ইব্রাহিম খলীল (আলাইহিস সালাম) জিজ্ঞেস করেছিলেন: হে প্রতিপালক, রোগ ব্যাধি কার পক্ষ থেকে আসে? তিনি বললেন: ‘আমার পক্ষ থেকে’। তিনি বললেন: তাহলে ঔষধ কার পক্ষ থেকে আসে? তিনি বললেন: ‘আমার পক্ষ থেকে’। তিনি জিজ্ঞেস করলেন:

তাহলে চিকিৎসকের কাজ কী? তিনি বললেন: ‘সে এমন এক ব্যক্তি, যার হাতে আমি আরোগ্য লাভের উপকরণ (ঔষধ) পাঠিয়ে দিই’।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “প্রত্যেক রোগেরই ঔষধ রয়েছে”, এটি রোগী এবং চিকিৎসকের মনের জন্য বলকারক এবং সেই ঔষধ অনুসন্ধান ও অন্বেষণ করার প্রতি উৎসাহ প্রদানকারী। কেননা রোগী যখন অনুভব করে যে তার রোগের এমন একটি ঔষধ রয়েছে যা তা নিরাময় করবে, তখন তার অন্তর আশার আলোতে উদ্দীপ্ত হয়, হতাশার দহন প্রশমিত হয় এবং তার জন্য প্রত্যাশার দ্বার উন্মোচিত হয়। যখন তার মন শক্তিশালী হয়, তখন তার সহজাত তাপশক্তি (হারারাতুল গারিজিয়্যাহ) জাগ্রত হয়। আর এটিই জৈবিক, মানসিক এবং প্রাকৃতিক প্রাণশক্তির (আরওয়াহ) সবলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর যখন এই প্রাণশক্তিগুলো শক্তিশালী হয়, তখন সেগুলোকে ধারণকারী দৈহিক শক্তিগুলোও প্রবল হয়ে ওঠে, যা রোগকে পরাস্ত ও প্রতিহত করে।

অনুরূপভাবে, চিকিৎসক যখন জানতে পারেন যে এই রোগের ঔষধ রয়েছে, তখন তার পক্ষে তা অনুসন্ধান ও গবেষণার পথ প্রশস্ত হয়।

আর দেহের রোগসমূহ হলো অন্তরের রোগের অনুরূপ। আল্লাহ অন্তরের জন্য এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক হিসেবে তার বিপরীত কোনো নিরাময় দান করেননি। যদি রোগী তা জানতে পারে এবং তা ব্যবহার করে, আর সেটি যদি তার অন্তরের রোগের মোক্ষম প্রতিষেধক হয়, তবে মহান আল্লাহর হুকুমে সে আরোগ্য লাভ করবে।

পরিচ্ছেদ: বদহজম থেকে সতর্ক থাকা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার পরিহার করা এবং পানাহারের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নীতিমালা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকনির্দেশনা।

‘মুসনাদ’ ও অন্যান্য গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: “আদম সন্তান তার পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মানুষের জন্য কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট যা তার মেরুদণ্ড সোজা রাখবে। তবে যদি একান্তই বেশি খেতে হয়, তবে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ তার শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখা উচিত।” (১)
(১) এটি ইমাম আহমাদ এবং আন-নাসায়ী 'কিতাবুয যুহদ'-এ, ইবনে মাজাহ এবং হাকিম 'খাদ্য' অধ্যায়ে মিকদাম বিন মাদি কারিব থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেছেন এটি সহীহ। ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে বলেছেন: এটি হাসান হাদীস।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١٦)
الْأَمْرَاضُ نَوْعَانِ: أَمْرَاضٌ مَادِّيَّةٌ تَكُونُ عَنْ زِيَادَةِ مَادَّةٍ أَفْرَطَتْ فِي الْبَدَنِ حَتَّى أَضَرَّتْ بِأَفْعَالِهِ الطَّبِيعِيَّةِ، وَهِيَ الْأَمْرَاضُ الْأَكْثَرِيَّةُ، وَسَبَبُهَا إدْخَالُ الطَّعَامِ عَلَى الْبَدَنِ قَبْلَ هَضْمِ الْأَوَّلِ، وَالزِّيَادَةُ فِي الْقَدْرِ الَّذِي يَحْتَاجُ إِلَيْهِ الْبَدَنُ وَتَنَاوُلُ، الْأَغْذِيَةِ الْقَلِيلَةِ النَّفْعِ، الْبَطِيئَةِ الْهَضْمِ، وَالْإِكْثَارُ مِنَ الْأَغْذِيَةِ الْمُخْتَلِفَةِ التَّرَاكِيبِ الْمُتَنَوِّعَةِ، فَإِذَا مَلَأَ الْآدَمِيُّ بَطْنَهُ مِنْ هَذِهِ الْأَغْذِيَةِ، وَاعْتَادَ ذَلِكَ، أَوْرَثَتْهُ أَمْرَاضًا مُتَنَوِّعَةً، مِنْهَا بَطِيءُ الزَّوَالِ وَسَرِيعُهُ، فَإِذَا تَوَسَّطَ فِي الْغِذَاءِ، وَتَنَاوَلَ مِنْهُ قَدْرَ الْحَاجَةِ، وَكَانَ مُعْتَدِلًا فِي كَمِّيَّتِهِ وَكَيْفِيَّتِهِ، كَانَ انْتِفَاعُ الْبَدَنِ بِهِ أَكْثَرَ مِنَ انْتِفَاعِهِ بِالْغِذَاءِ الْكَثِيرِ.

وَمَرَاتِبُ الْغِذَاءِ ثَلَاثَةٌ: أَحَدُهَا: مَرْتَبَةُ الْحَاجَةِ. وَالثَّانِيَةُ: مَرْتَبَةُ الْكِفَايَةِ.

وَالثَّالِثَةُ: مَرْتَبَةُ الْفَضْلَةِ. فَأَخْبَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: أَنَّهُ يَكْفِيهِ لُقَيْمَاتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ، فَلَا تَسْقُطُ قُوَّتُهُ، وَلَا تَضْعُفُ مَعَهَا، فَإِنْ تَجَاوَزَهَا، فَلْيَأْكُلْ فِي ثُلُثِ بَطْنِهِ، وَيَدَعِ الثُّلُثَ الْآخَرَ لِلْمَاءِ، وَالثَّالِثَ لِلنَّفَسِ، وَهَذَا مِنْ أَنْفَعِ مَا لِلْبَدَنِ وَالْقَلْبِ، فَإِنَّ الْبَطْنَ إِذَا امْتَلَأَ مِنَ الطَّعَامِ ضَاقَ عَنِ الشَّرَابِ، فَإِذَا وَرَدَ عَلَيْهِ الشَّرَابُ ضَاقَ عَنِ النَّفَسِ، وَعَرَضَ لَهُ الْكَرْبُ وَالتَّعَبُ بِحَمْلِهِ بِمَنْزِلَةِ حَامِلِ الْحِمْلِ الثَّقِيلِ، هَذَا إِلَى مَا يَلْزَمُ ذَلِكَ مِنْ فساد القلب، وكسل الجوارح عن الئاعات، وَتَحَرُّكِهَا فِي الشَّهَوَاتِ الَّتِي يَسْتَلْزِمُهَا الشِّبَعُ. فَامْتِلَاءُ الْبَطْنِ مِنَ الطَّعَامِ مُضِرٌّ لِلْقَلْبِ وَالْبَدَنِ.

هَذَا إِذَا كَانَ دَائِمًا أَوْ أَكْثَرِيَّا. وَأَمَّا إِذَا كَانَ فِي الْأَحْيَانِ، فَلَا بَأْسَ بِهِ، فَقَدْ شَرِبَ أَبُو هُرَيْرَةَ بِحَضْرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّبَنِ، حَتَّى قَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لَا أَجِدُ لَهُ مَسْلَكًا «1» وَأَكَلَ الصِّحَابَةُ بِحَضْرَتِهِ مِرَارًا حَتَّى شَبِعُوا.

وَالشِّبَعُ الْمُفْرِطُ يُضْعِفُ الْقُوَى وَالْبَدَنَ، وَإِنْ أَخْصَبَهُ، وَإِنِّمَا يَقْوَى الْبَدَنُ بِحَسْبِ مَا يَقْبَلُ مِنَ الْغِذَاءِ، لَا بِحَسْبِ كَثْرَتِهِ.

وَلَمَّا كَانَ فِي الْإِنْسَانِ جُزْءٌ أَرْضِيٌّ، وَجُزْءٌ هَوَائِيٌّ، وَجُزْءٌ مَائِيٌّ، قَسَمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَنَفَسَهُ عَلَى الْأَجْزَاءِ الثَّلَاثَةِ.

فَإِنْ قِيلَ «فَأَيْنَ حَظُّ الْجُزْءِ النَّارِيِّ؟.

قِيلَ: هَذِهِ مَسْأَلَةٌ تَكَلَّمَ فِيهَا الأطباء، وقالوا: إن في البدن جزء ناريا بالفعل، وهو أحد أركانه وأسطقساته» «2» .
(1) أخرجه البخاري في الرقاق: باب كيف كان عيش النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وتخليهم عن الدنيا

(2) لفظ يوناني أي أصوله جمع «اسطقس» بمعنى الأصل
রোগ দুই প্রকার: শারীরিক (মাদদিয়্যাহ) রোগ, যা দেহে কোনো উপাদানের আধিক্যের কারণে ঘটে, যা দেহের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। অধিকাংশ রোগই এই প্রকৃতির। এর মূল কারণ হলো পূর্বের খাবার হজম হওয়ার আগেই পুনরায় দেহে খাবার প্রবেশ করানো, দেহের প্রয়োজন অপেক্ষা অতিরিক্ত আহার গ্রহণ করা, স্বল্প উপকারী ও দুষ্পাচ্য খাবার গ্রহণ করা এবং বিভিন্ন উপাদানে তৈরি বৈচিত্র্যময় খাবারের আধিক্য। মানুষ যখন এই সব খাবারে তার পেট পূর্ণ করে এবং তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন তা বিবিধ রোগের জন্ম দেয়; যার কিছু বিলম্বে নিরাময়যোগ্য এবং কিছু দ্রুত নিরাময়যোগ্য। অতএব, যখন খাদ্যের ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণ ও গুণগত মানসম্পন্ন খাবার গ্রহণ করা হবে, তখন সেই খাবার দেহের জন্য অধিকতর উপকারী হবে।

আহারের স্তর তিনটি: প্রথমটি হলো প্রয়োজন (হাজাহ) এবং দ্বিতীয়টি হলো পর্যাপ্ততা (কিফায়াহ)।

এবং তৃতীয়টি হলো আধিক্য (ফাদলাহ)। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, মানুষের জন্য গুটিকয়েক লোকমা (গ্রাস) যথেষ্ট যা তার মেরুদণ্ডকে সোজা রাখবে, ফলে তার শক্তি হ্রাস পাবে না এবং সে দুর্বলও হবে না। আর যদি তাকে সেই সীমা অতিক্রম করতেই হয়, তবে সে যেন তার পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য রাখে, অন্য এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখে। এটি শরীর ও অন্তরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। কারণ পেট যখন খাবারে পূর্ণ হয়ে যায়, তখন পানীয়র জন্য জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়; আবার যখন তাতে পানীয় প্রবেশ করে, তখন শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ সংকুচিত হয়ে আসে। এর ফলে কষ্ট ও ক্লান্তি দেখা দেয় এবং তা বহন করা ভারী বোঝা বহন করার মতো হয়ে দাঁড়ায়। এর সাথে সাথে আরও যা প্রকাশ পায় তা হলো অন্তরের কলুষতা, ইবাদত-বন্দেগিতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অলসতা এবং কুপ্রবৃত্তির তাড়না যা উদরপূর্তির অনিবার্য ফল। সুতরাং খাবার দিয়ে পেট পূর্ণ করা অন্তর ও শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

এটি তখনই প্রযোজ্য যখন এই অভ্যাস স্থায়ী বা অধিকাংশ সময়ের জন্য হয়। তবে যদি মাঝেমধ্যে এমন হয়, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। আবু হুরায়রা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে দুধ পান করেছিলেন, এমনকি তিনি বলেছিলেন: "যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর কসম! আমি এর জন্য আর কোনো পথ (জায়গা) খুঁজে পাচ্ছি না।" সাহাবায়ে কেরামও তাঁর উপস্থিতিতে বহুবার পেট ভরে আহার করেছেন।

অতিরিক্ত উদরপূর্তি শারীরিক শক্তি ও শরীরকে দুর্বল করে দেয়, যদিও তা দেহকে স্থূল করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে শরীরের শক্তি খাবারের পরিমাণের ওপর নয়, বরং শরীর যতটুকু খাদ্য গ্রহণ বা হজম করতে সক্ষম তার ওপর নির্ভর করে।

যেহেতু মানুষের মাঝে পার্থিব অংশ, বায়বীয় অংশ এবং জলীয় অংশ রয়েছে, তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার খাদ্য, পানীয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসকে এই তিন অংশে বিভক্ত করেছেন।

যদি প্রশ্ন করা হয়, "তবে আগুনের উপাদানের অংশ কোথায়?"

উত্তর হলো: এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে চিকিৎসাবিদগণ আলোচনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন: "দেহে প্রকৃতপক্ষে আগুনের একটি উপাদান রয়েছে, যা এর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং মৌল উপাদান।"
(১) ইমাম বুখারি এটি 'আর্-রিকাক' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: অনুচ্ছেদ- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীদের জীবন এবং দুনিয়াত্যাগের ধরন।

(২) এটি একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ 'মূলসমূহ'। এটি 'উসতুকুস' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ ভিত্তি বা মূল।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١٧)
وَنَازَعَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ مِنَ الْعُقَلَاءِ مِنَ الْأَطِبَّاءِ وَغَيْرِهِمْ، وَقَالُوا: لَيْسَ فِي الْبَدَنِ جُزْءٌ نَارِيٌّ بِالْفِعْلِ، وَاسْتَدَلَّوا بِوُجُوهٍ:

أَحَدُهَا: أَنَّ ذَلِكَ الْجُزْءَ النَّارِيَّ إِمَّا أَنْ يُدَّعَى أَنَّهُ نَزَلَ عَنِ الْأَثِيرِ، وَاخْتَلَطَ بِهَذِهِ الْأَجْزَاءِ الْمَائِيَّةِ وَالْأَرْضِيَّةِ، أَوْ يُقَالُ: إنَّهُ تَوَلَّدَ فِيهَا وَتَكَوَّنَ، وَالْأَوَّلُ مُسْتَبْعَدٌ لِوَجْهَيْنِ، أَحَدُهُمَا: أَنَّ النَّارَ بِالطَّبْعِ صَاعِدَةٌ، فَلَوْ نَزَلَتْ، لَكَانَتْ بِقَاسِرٍ مِنْ مَرْكَزِهَا إِلَى هَذَا الْعَالَمِ. الثَّانِي: أَنَّ تِلْكَ الْأَجْزَاءَ النَّارِيَّةَ لابدّ فِي نُزُولِهَا أَنْ تَعْبُرَ عَلَى كُرَةِ الزَّمْهَرِيرِ الَّتِي هِيَ فِي غَايَةِ الْبَرْدِ، وَنَحْنُ نُشَاهِدُ في هذا العالم أن النار العظيمة تنطفىء بِالْمَاءِ الْقَلِيلِ، فَتِلْكَ الْأَجْزَاءُ الصَّغِيرَةُ عِنْدَ مُرُورِهَا بِكُرَةِ الزَّمْهَرِيرِ الَّتِي هِيَ فِي غَايَةِ الْبَرْدِ، وَنِهَايَةِ الْعِظَمِ أَوْلَى بِالِانْطِفَاءِ.

وَأَمَّا الثَّانِي- وَهُوَ أن يقال: إنها تكونت ها هنا- فَهُوَ أَبْعَدُ وَأَبْعَدُ، لِأَنَّ الْجِسْمَ الَّذِي صَارَ نَارًا بَعْدَ أَنْ لَمْ يَكُنْ كَذَلِكَ، قَدْ كَانَ قَبْلَ صَيْرُورَتِهِ إِمَّا أَرْضًا، وَإِمَّا مَاءً، وَإِمَّا هَوَاءً لِانْحِصَارِ الْأَرْكَانِ فِي هَذِهِ الْأَرْبَعَةِ، وَهَذَا الَّذِي قَدْ صَارَ نَارًا أَوَّلًا، كَانَ مُخْتَلِطًا بِأَحَدِ هَذِهِ الْأَجْسَامِ، وَمُتَّصِلًا بِهَا، وَالْجِسْمُ الَّذِي لَا يَكُونُ نَارًا إِذَا اخْتَلَطَ بِأَجْسَامٍ عَظِيمَةٍ لَيْسَتْ بِنَارٍ وَلَا وَاحِدٍ مِنْهَا، لَا يَكُونُ مُسْتَعِدًّا لِأَنْ يَنْقَلِبَ نَارًا لِأَنَّهُ فِي نَفْسِهِ لَيْسَ بِنَارٍ، وَالْأَجْسَامُ الْمُخْتَلِطَةُ بَارِدَةٌ، فَكَيْفَ يَكُونُ مُسْتَعِدًّا لِانْقِلَابِهِ نَارًا؟

فَإِنْ قُلْتُمْ: لِمَ لَا تَكُونُ هُنَاكَ أَجْزَاءٌ نَارِيَّةٌ تَقْلِبُ هَذِهِ الْأَجْسَامَ، وَتَجْعَلُهَا نَارًا بِسَبَبِ مُخَالَطَتِهَا إيَّاهَا؟

قُلْنَا: الْكَلَامُ فِي حُصُولِ تِلْكَ الْأَجْزَاءِ النَّارِيَّةِ كَالْكَلَامِ فِي الْأَوَّلِ، فَإِنْ قُلْتُمْ:

إنَّا نَرَى مِنْ رَشِّ الْمَاءِ عَلَى النَّوْرَةِ «1» الْمُطْفَأَةِ تَنْفَصِلُ مِنْهَا نارا، وَإِذَا وَقَعَ شُعَاعُ الشَّمْسِ عَلَى الْبَلُّورَةِ، ظَهَرَتِ النَّارُ مِنْهَا، وَإِذَا ضَرَبْنَا الْحَجَرَ عَلَى الْحَدِيدِ، ظَهَرَتِ النَّارُ، وَكُلُّ هَذِهِ النَّارِيَّةِ حَدَثَتْ عِنْدَ الِاخْتِلَاطِ، وَذَلِكَ يُبْطِلُ مَا قَرَّرْتُمُوهُ فِي الْقِسْمِ الْأَوَّلِ أَيْضًا.

قَالَ الْمُنْكِرُونَ: نَحْنُ لَا نُنْكِرُ أن تكون المصاكّة [2] لشديدة مُحْدِثَةً لِلنَّارِ، كَمَا فِي ضَرْبِ الْحِجَارَةِ عَلَى الْحَدِيدِ، أَوْ تَكُونُ قُوَّةُ تَسْخِينِ الشَّمْسِ مُحْدِثَةً لِلنَّارِ، كَمَا فِي الْبَلُّورَةِ، لَكِنَّا نَسْتَبْعِدُ ذَلِكَ جِدًّا فِي أَجْرَامِ النَّبَاتِ وَالْحَيَوَانِ، إذْ لَيْسَ في أجرامها
(1) تطلعه النّورة على حجر الكلس، ثم غلب هذا اللفظ على مواد تضاف إلى الكلس من زرنيخ وغيره.
চিকিৎসাবিদ এবং অন্যান্য প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের একটি দল এ বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করেছেন। তারা বলেছেন: দেহে প্রকৃতপক্ষে (বিল-ফিয়াল) কোনো আগ্নেয় অংশ বিদ্যমান নেই। তারা এর সপক্ষে বেশ কিছু যুক্তি পেশ করেছেন:

প্রথমত: উক্ত আগ্নেয় অংশ সম্পর্কে দাবি করা হতে পারে যে, তা ঊর্ধ্বলোক (আসির) থেকে নেমে এসে এই জলীয় ও পার্থিব অংশগুলোর সাথে মিশ্রিত হয়েছে; অথবা বলা হতে পারে যে, তা এগুলোর মধ্যেই উৎপন্ন ও গঠিত হয়েছে। প্রথম সম্ভাবনাটি দুটি কারণে সুদূরপরাহত মনে হয়: ১. আগুনের প্রকৃতি হলো ঊর্ধ্বগামী হওয়া। সুতরাং এটি যদি নিচে নেমে আসে, তবে তা তার কেন্দ্র থেকে এই জগতে কোনো বাহ্যিক জবরদস্তিকারী (কাসির) শক্তির মাধ্যমেই সম্ভব হতো। ২. সেই আগ্নেয় অংশগুলো নামার সময় অবশ্যই অত্যন্ত শীতল 'যামহারির' (অতি শীতল বায়ুমণ্ডলীয় স্তর) মণ্ডলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করতে হবে। অথচ আমরা এই জগতে দেখি যে, সামান্য পানিতেই বিশাল আগুন নিভে যায়। সুতরাং সেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আগ্নেয় অংশগুলো যখন পরম শীতল এবং অত্যন্ত বিশাল সেই যামহারির মণ্ডলের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন তা নিভে যাওয়াই অধিক যুক্তিসঙ্গত।

আর দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি—অর্থাৎ এটি এখানেই উৎপন্ন হয়েছে বলা—তা আরও বেশি অসম্ভব। কারণ কোনো বস্তু যা আগে আগুন ছিল না কিন্তু পরে আগুন হয়েছে, তা আগুন হওয়ার পূর্বে হয় মাটি, পানি নতুবা বায়ু ছিল; কেননা মৌলিক উপাদানসমূহ (আরকান) এই চারটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যে বস্তুটি প্রথমে আগুন হয়েছে, সেটি এই দেহগুলোর কোনো একটির সাথে মিশ্রিত বা সংযুক্ত ছিল। আর যে দেহটি নিজে আগুন নয়, তা যখন এমন বিশাল সব দেহের সাথে মিশ্রিত থাকে যেগুলোর কোনোটিই আগুন নয়, তখন সেটি আগুনে রূপান্তরিত হওয়ার উপযুক্ত হতে পারে না; কারণ সে নিজে আগুন নয় এবং মিশ্রিত দেহগুলোও শীতল। এমতাবস্থায় তা কীভাবে আগুনে রূপান্তরিত হওয়ার যোগ্যতা রাখতে পারে?

যদি আপনারা বলেন: সেখানে এমন কোনো আগ্নেয় অংশ কেন থাকতে পারে না যা এই দেহগুলোকে রূপান্তরিত করে এবং এগুলোর সাথে মিশ্রিত হয়ে সেগুলোকে আগুনে পরিণত করে?

আমরা বলব: সেই আগ্নেয় অংশগুলো অর্জিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও প্রথম আলোচনার মতোই। আর যদি আপনারা বলেন:

আমরা দেখতে পাই যে, নির্বাপিত চুনাপাথরের (নুরাহ) «১» ওপর পানি ছিটালে তা থেকে আগুন পৃথক হয়। সূর্যের রশ্মি যখন স্ফটিকের (বিললুর) ওপর পড়ে, তখন তা থেকে আগুন প্রকাশ পায়। আবার পাথরে লোহা আঘাত করলে আগুন উৎপন্ন হয়। এই সমস্ত আগ্নেয় ধর্ম মিশ্রণের সময়ই সৃষ্টি হয়েছে। এটি আপনাদের প্রথম অংশে উপস্থাপিত যুক্তিকেও বাতিল করে দেয়।

অস্বীকারকারীরা বললেন: আমরা অস্বীকার করি না যে প্রবল ঘর্ষণ [২] আগুন উৎপাদন করতে পারে, যেমনটি লোহার ওপর পাথর আঘাত করার ক্ষেত্রে হয়; অথবা সূর্যের উত্তপ্ত করার শক্তি আগুন উৎপন্ন করতে পারে, যেমনটি স্ফটিকের ক্ষেত্রে হয়। কিন্তু আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের ক্ষেত্রে এটিকে অত্যন্ত অসম্ভব মনে করি, কারণ তাদের দেহের মাঝে
(১) 'নুরাহ' শব্দটি প্রথমে চুনাপাথরের ওপর প্রয়োগ করা হতো, পরবর্তীতে চুনের সাথে আর্সেনিক বা অন্যান্য মিশ্রিত উপাদানের ক্ষেত্রেও এই শব্দটি প্রাধান্য পায়।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١٨)
مِنَ الِاصْطِكَاكِ مَا يُوجِبُ حُدُوثَ النَّارِ، وَلَا فِيهَا مِنَ الصَّفَاءِ وَالصِّقَالِ مَا يَبْلُغُ إِلَى حَدِّ الْبَلُّورَةِ، كَيْفَ وَشُعَاعُ الشَّمْسِ يَقَعُ عَلَى ظَاهِرِهَا، فَلَا تَتَوَلَّدُ النَّارُ الْبَتَّةَ، فَالشُّعَاعُ الَّذِي يَصِلُ إِلَى بَاطِنِهَا كَيْفَ يُوَلِّدُ النَّارَ؟.

الْوَجْهُ الثَّانِي: فِي أَصْلِ الْمَسْأَلَةِ: أَنَّ الْأَطِبَّاءَ مُجْمِعُونَ عَلَى أَنَّ الشَّرَابَ الْعَتِيقَ فِي غَايَةِ السُّخُونَةِ بِالطَّبْعِ، فَلَوْ كَانَتْ تِلْكَ السُّخُونَةُ بِسَبَبِ الْأَجْزَاءِ النَّارِيَّةِ، لَكَانَتْ مُحَالًا إذْ تِلْكَ الْأَجْزَاءُ النَّارِيَّةُ مَعَ حَقَارَتِهَا كَيْفَ يُعْقَلُ بَقَاؤُهَا فِي الْأَجْزَاءِ المائية الغالبة دهرا طويلا، بحيث لا تنطفىء مَعَ أَنَّا نَرَى النَّارَ الْعَظِيمَةَ تُطْفَأُ بِالْمَاءِ الْقَلِيلِ.

الْوَجْهُ الثَّالِثُ: أَنَّهُ لَوْ كَانَ فِي الْحَيَوَانِ وَالنَّبَاتِ جُزْءٌ نَارِيٌّ بِالْفِعْلِ، لَكَانَ مَغْلُوبًا بِالْجُزْءِ الْمَائِيِّ الَّذِي فِيهِ، وَكَانَ الْجُزْءُ النَّارِيُّ مَقْهُورًا بِهِ، وَغَلَبَةُ بَعْضِ الطَّبَائِعِ وَالْعَنَاصِرِ عَلَى بَعْضٍ يَقْتَضِي انْقِلَابَ طَبِيعَةِ الْمَغْلُوبِ إِلَى طَبِيعَةِ الغالب، فكان يلزم بالضرورة انقلاؤب تِلْكَ الْأَجْزَاءِ النَّارِيَّةِ الْقَلِيلَةِ جِدًّا إِلَى طَبِيعَةِ الْمَاءِ الَّذِي هُوَ ضِدُّ النَّارِ.

الْوَجْهُ الرَّابِعُ: أَنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى ذَكَرَ خَلْقَ الْإِنْسَانِ فِي كِتَابِهِ فِي مَوَاضِعَ مُتَعَدِّدَةٍ، يُخْبِرُ فِي بَعْضِهَا أَنَّهُ خَلَقَهُ مِنْ مَاءٍ، وَفِي بَعْضِهَا أَنَّهُ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ، وَفِي بَعْضِهَا أَنَّهُ خَلَقَهُ مِنَ الْمُرَكَّبِ مِنْهُمَا وَهُوَ الطِّينُ، وَفِي بَعْضِهَا أَنَّهُ خَلَقَهُ مِنْ صَلْصَالٍ كَالْفَخَّارِ، وَهُوَ الطِّينُ الَّذِي ضَرَبَتْهُ الشَّمْسُ وَالرِّيحُ حَتَّى صَارَ صَلْصَالًا كَالْفَخَّارِ، وَلَمْ يُخْبِرْ فِي مَوْضِعٍ وَاحِدٍ أَنَّهُ خَلَقَهُ مِنْ نَارٍ، بَلْ جَعَلَ ذَلِكَ خَاصِّيَّةَ إبْلِيسَ. وَثَبَتَ فِي «صَحِيحِ مسلم» : عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ» خُلِقَتِ الْمَلَائِكَةُ مِنْ نُورٍ، وَخُلِقَ الْجَانُّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ، وَخُلِقَ آدَمُ مِمَّا وُصِفَ لَكُمْ» «1» . وَهَذَا صَرِيحٌ فِي أَنَّهُ خُلِقَ مِمَّا وَصَفَهُ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ فَقَطْ، وَلَمْ يَصِفْ لَنَا سُبْحَانَهُ أَنَّهُ خَلَقَهُ مِنْ نَارٍ، وَلَا أَنَّ فِي مَادَّتِهِ شَيْئًا مِنَ النَّارِ.

الْوَجْهُ الْخَامِسُ: أَنَّ غَايَةَ مَا يَسْتَدِلِّونَ بِهِ مَا يُشَاهِدُونَ مِنَ الْحَرَارَةِ فِي أَبْدَانِ الْحَيَوَانِ، وَهِيَ دَلِيلٌ عَلَى الْأَجْزَاءِ النَّارِيَّةِ، وَهَذَا لَا يَدُلُّ، فَإِنَّ أَسْبَابَ الْحَرَارَةِ أَعَمُّ مِنَ النَّارِ، فَإِنِّهَا تَكُونُ عَنِ النَّارِ تَارَةً، وَعَنِ الْحَرَكَةِ أُخْرَى، وَعَنِ انْعِكَاسِ الْأَشِعَّةِ، وَعَنْ سُخُونَةِ الْهَوَاءِ، وَعَنْ مُجَاوَرَةِ النَّارِ، وَذَلِكَ بِوَاسِطَةِ سُخُونَةِ الْهَوَاءِ أَيْضًا، وَتَكُونُ عَنْ أَسْبَابٍ أُخَرَ، فَلَا يَلْزَمُ مِنَ الْحَرَارَةِ النار.
(1) لم يخرجه البخاري. وقد رواه الإمام أحمد والإمام مسلم في آخر صحيحه عن عائشة.
ঘর্ষণ থেকে এমন কিছু উৎপন্ন হয় না যা অগ্নি সৃষ্টি করতে পারে; এমনকি এতে স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছতা বা মসৃণতাও নেই যা স্ফটিকের স্তরে পৌঁছাতে পারে। সূর্যের আলো যখন এর বহির্ভাগে পড়ে, তখন সেখানে মোটেও আগুন সৃষ্টি হয় না। তাহলে এর অভ্যন্তরে পৌঁছানো রশ্মি কীভাবে আগুন উৎপন্ন করবে?

দ্বিতীয় দিক (মূল বিষয়ের ওপর): চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা একমত যে, পুরাতন মদ্য প্রকৃতিগতভাবে অত্যন্ত উষ্ণ। যদি এই উষ্ণতা অগ্নিকণা (অংশ) সমূহের কারণে হতো, তবে তা অসম্ভব হতো। কারণ দীর্ঘকাল ধরে প্রভাবশালী জলীয় অংশগুলোর মধ্যে সেই সামান্য অগ্নিকণাগুলো নির্বাপিত না হয়ে কীভাবে টিকে থাকা সম্ভব বলে বুদ্ধিগ্রাহ্য হতে পারে? অথচ আমরা দেখি যে, সামান্য পানি দিয়ে বিশাল আগুন নিভিয়ে ফেলা যায়।

তৃতীয় দিক: যদি প্রাণী ও উদ্ভিদের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে আগুনের কোনো অংশ থাকত, তবে তা এর মধ্যে বিদ্যমান জলীয় অংশের নিকট পরাজিত হয়ে থাকত এবং অগ্নিকণা তার দ্বারা পরাভূত হতো। আর এক প্রকৃতির বা উপাদানের অপরটির ওপর আধিপত্য বিস্তার করলে বিজিত বস্তুর প্রকৃতি বিজয়ী বস্তুর প্রকৃতিতে রূপান্তরিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। ফলে সেই অতি সামান্য অগ্নিকণাগুলো অনিবার্যভাবে পানির প্রকৃতিতে রূপান্তরিত হতো, যা আগুনের বিপরীত।

চতুর্থ দিক: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে মানুষের সৃষ্টির কথা একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন। কোনো স্থানে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন; কোনো স্থানে মাটি থেকে; কোনো স্থানে উভয়ের মিশ্রণ অর্থাৎ কাদা (ত্বীন) থেকে; আবার কোনো স্থানে পোড়ামাটির ন্যায় শুষ্ক মাটি (সালসাল) থেকে—যা রোদ ও বাতাসের প্রভাবে পোড়ামাটির মতো হয়ে গেছে। কিন্তু তিনি একটি স্থানেও সংবাদ দেননি যে, তিনি তাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন; বরং তিনি বিষয়টিকে ইবলিসের বৈশিষ্ট্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ‘সহীহ মুসলিম’-এ প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ফেরেশতাদের নূর (আলো) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, জিনদের আগুনের শিখা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আদমকে তা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে যা তোমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে।” এটি একটি স্পষ্ট প্রমাণ যে, আদম কেবল তা থেকেই সৃষ্টি হয়েছেন যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন। সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের নিকট এমন কোনো বর্ণনা দেননি যে, তিনি তাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন অথবা তাঁর মূল উপাদানে আগুনের কোনো অংশ ছিল।

পঞ্চম দিক: তারা সর্বোচ্চ যা দিয়ে দলিল পেশ করে তা হলো প্রাণীদের দেহে পরিলক্ষিত হওয়া উষ্ণতা, যা তারা অগ্নিকণা থাকার প্রমাণ হিসেবে ধরে নেয়। অথচ এটি কোনো অকাট্য প্রমাণ নয়। কেননা উষ্ণতার কারণসমূহ আগুনের চেয়েও ব্যাপক। কখনো উষ্ণতা আগুনের কারণে হয়, কখনো গতির কারণে, কখনো রশ্মির প্রতিফলনের কারণে, কখনো উত্তপ্ত বাতাসের কারণে এবং কখনো আগুনের নৈকট্যের কারণে—যা উত্তপ্ত বাতাসের মাধ্যমেই ঘটে থাকে। এছাড়াও আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। সুতরাং উষ্ণতা থাকলেই যে সেখানে আগুনের অস্তিত্ব থাকতে হবে, এমনটি জরুরি নয়।
(১) এটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেননি। ইমাম আহমাদ এবং ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের শেষে আয়েশা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ١٩)
قَالَ أَصْحَابُ النَّارِ: مِنَ الْمَعْلُومِ أَنَّ التُّرَابَ وَالْمَاءَ إِذَا اخْتَلَطَا فَلَا بُدَّ لَهُمَا مِنْ حَرَارَةٍ تَقْتَضِي طَبْخَهُمَا وَامْتِزَاجَهُمَا، وَإِلَّا كَانَ كُلٌّ مِنْهُمَا غَيْرَ مُمَازِجٍ لِلْآخَرِ، وَلَا مُتَّحِدًا بِهِ، وَكَذَلِكَ إِذَا أَلْقَيْنَا الْبَذْرَ فِي الطِّينِ بِحَيْثُ لَا يَصِلُ إِلَيْهِ الْهَوَاءُ وَلَا الشَّمْسُ فَسَدَ، فَلَا يَخْلُو، إِمَّا أَنْ يَحْصُلَ فِي الْمُرَكَّبِ جِسْمٌ مُنْضِجٌ طَابِخٌ بِالطَّبْعِ أَوْ لَا، فَإِنْ حَصَلَ، فَهُوَ الْجُزْءُ النَّارِيُّ، وَإِنْ لَمْ يَحْصُلْ، لم يكن المركب مسخنا بطبعه، بل بَلْ إِنْ سَخَّنَ كَانَ التَّسْخِينُ عَرَضِيَّا، فَإِذَا زَالَ التَّسْخِينُ الْعَرَضِيُّ، لَمْ يَكُنِ الشَّيْءُ حَارًّا فِي طَبْعِهِ، وَلَا فِي كَيْفِيَّتِهِ، وَكَانَ بَارِدًا مُطْلَقًا، لَكِنْ مِنَ الْأَغْذِيَةِ وَالْأَدْوِيَةِ مَا يَكُونُ حارا بالطبع، فعل أَنَّ حَرَارَتَهَا إِنَّمَا كَانَتْ، لِأَنَّ فِيهَا جَوْهَرًا نَارِيًّا.

وَأَيْضًا فَلَوْ لَمْ يَكُنْ فِي الْبَدَنِ جُزْءٌ مُسَخِّنٌ لَوَجَبَ أَنْ يَكُونَ فِي نِهَايَةِ الْبَرْدِ، لِأَنَّ الطَّبِيعَةَ إِذَا كَانَتْ مُقْتَضِيَةً لِلْبَرْدِ، وَكَانَتْ خَالِيَةً عَنِ الْمُعَاوِنِ وَالْمُعَارِضِ، وَجَبَ انْتِهَاءُ الْبَرْدِ إِلَى أَقْصَى الْغَايَةِ، وَلَوْ كَانَ كَذَلِكَ لَمَا حَصَلَ لَهَا الْإِحْسَاسُ بِالْبَرْدِ، لِأَنَّ الْبَرْدَ الْوَاصِلَ إِلَيْهِ إِذَا كَانَ فِي الْغَايَةِ كَانَ مِثْلَهُ، وَالشَّيْءُ لَا يَنْفَعِلُ عَنْ مِثْلِهِ، وَإِذَا لَمْ يَنْفَعِلْ عَنْهُ لَمْ يَحُسَّ بِهِ، وَإِذَا لَمْ يَحُسَّ بِهِ لَمْ يَتَأَلَّمْ عَنْهُ، وَإِنْ كَانَ دُونَهُ فَعَدَمُ الِانْفِعَالِ يَكُونُ أَوْلَى، فَلَوْ لَمْ يَكُنْ فِي الْبَدَنِ جُزْءٌ مُسَخِّنٌ بِالطَّبْعِ لَمَا انْفَعَلَ عَنِ الْبَرْدِ، وَلَا تَأَلَّمَ بِهِ. قَالُوا: وَأَدِلَّتُكُمْ إِنَّمَا تُبْطِلُ قَوْلَ مَنْ يَقُولُ: الْأَجْزَاءُ النَّارِيَّةُ بَاقِيَةٌ فِي هَذِهِ الْمُرَكَّبَاتِ عَلَى حَالِهَا، وَطَبِيعَتِهَا النَّارِيَّةِ، وَنَحْنُ لَا نَقُولُ بِذَلِكَ، بَلْ نَقُولُ: إِنَّ صُورَتَهَا النَّوْعِيَّةَ تَفْسُدُ عِنْدَ الِامْتِزَاجِ.

قَالَ الْآخَرُونَ «لِمَ لَا يَجُوزُ أَنْ يُقَالَ: إِنَّ الْأَرْضَ وَالْمَاءَ وَالْهَوَاءَ إِذَا اخْتَلَطَتْ، فَالْحَرَارَةُ الْمُنْضِجَةُ الطَّابِخَةُ لَهَا هِيَ حَرَارَةُ الشَّمْسِ وَسَائِرِ الْكَوَاكِبِ، ثُمَّ ذَلِكَ الْمُرَكَّبُ عِنْدَ كَمَالِ نضجه مستعد لقبور الْهَيْئَةِ التَّرْكِيبِيَّةِ بِوَاسِطَةِ السُّخُونَةِ نَبَاتًا كَانَ أَوْ حَيَوَانًا أَوْ مَعْدِنًا، وَمَا الْمَانِعُ أَنَّ تِلْكَ السُّخُونَةَ وَالْحَرَارَةَ الَّتِي فِي الْمُرَكَّبَاتِ هِيَ بِسَبَبِ خَوَاصَّ وَقُوًى يُحْدِثُهَا اللَّهُ تَعَالَى عِنْدَ ذَلِكَ الِامْتِزَاجِ لَا مِنْ أَجْزَاءٍ نَارِيَّةٍ بِالْفِعْلِ؟ وَلَا سَبِيلَ لَكُمْ إِلَى إِبْطَالِ هَذَا الْإِمْكَانِ الْبَتَّةَ، وَقَدِ اعْتَرَفَ جَمَاعَةٌ مِنْ فُضَلَاءِ الْأَطِبَّاءِ بِذَلِكَ.

وَأَمَّا حَدِيثُ إِحْسَاسِ الْبَدَنِ بِالْبَرْدِ، فَنَقُولُ: هَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ فِي الْبَدَنِ حَرَارَةً وَتَسْخِينًا، وَمَنْ يُنْكِرُ ذَلِكَ؟ لَكِنْ مَا الدَّلِيلُ عَلَى انْحِصَارِ الْمُسَخِّنِ فِي النَّارِ، فَإِنَّهُ وَإِنْ
অগ্নি তত্ত্বের প্রবক্তাগণ বলেন: এটি সুবিদিত যে, মাটি ও পানি যখন মিশ্রিত হয়, তখন তাদের পরিপক্বতা ও সংমিশ্রণের জন্য অবশ্যই তাপের প্রয়োজন হয়। অন্যথায়, তাদের একটি অপরটির সাথে মিশ্রিত বা একীভূত হতে পারত না। একইভাবে, আমরা যদি কাদার মধ্যে বীজ রোপণ করি যেখানে বাতাস বা সূর্যের আলো পৌঁছায় না, তবে তা নষ্ট হয়ে যায়। অতএব, কোনো যৌগিক পদার্থের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে পরিপক্ককারী বা রন্ধনকারী কোনো সত্তা থাকবে কি না, তা থেকে বিষয়টি খালি নয়। যদি থাকে, তবে সেটিই হলো অগ্নি-উপাদান (জুজউনারি)। আর যদি না থাকে, তবে সেই যৌগটি স্বভাবজাতভাবে উষ্ণ হবে না; বরং যদি তা উষ্ণ হয়ও, তবে সেই উষ্ণতা হবে আপতিক (আরজি)। যখন সেই আপতিক উষ্ণতা দূর হয়ে যাবে, তখন বস্তুটি তার প্রকৃতি বা গুণাগুণের দিক থেকে আর উষ্ণ থাকবে না এবং তা নিরঙ্কুশভাবে শীতল হয়ে যাবে। কিন্তু খাদ্য ও ওষুধের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা প্রকৃতিগতভাবেই উষ্ণ; আর এটি প্রমাণ করে যে, সেগুলোর উষ্ণতা মূলত এ কারণে যে, তাতে একটি অগ্নি-সত্তা (জাওহার নারি) বিদ্যমান।

এছাড়া, যদি শরীরের মধ্যে তাপ উৎপাদনকারী কোনো অংশ না থাকত, তবে শরীর চরম শীতলতায় পৌঁছানো অনিবার্য হতো। কারণ প্রকৃতি যখন শীতলতার দাবিদার হয় এবং সেখানে কোনো সাহায্যকারী বা বাধাদানকারী না থাকে, তখন সেই শীতলতা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছানো আবশ্যক। আর যদি বিষয়টি তেমনই হতো, তবে শরীর আর শীতলতা অনুভব করত না। কারণ যে শীতলতা শরীরে পৌঁছাচ্ছে, তা যদি চরম মাত্রায় পৌঁছানো শরীরের অনুরূপ হয়, তবে একটি বস্তু তার সদৃশ বস্তু দ্বারা প্রভাবিত হয় না। আর যখন শরীর তার দ্বারা প্রভাবিত হবে না, তখন সে তা অনুভবও করবে না; আর যখন অনুভব করবে না, তখন সে তদ্বারা কষ্টও পাবে না। এমনকি যদি আগত শীতলতা শরীরের শীতলতার চেয়ে কমও হয়, তবে প্রভাবিত না হওয়াটাই অধিক যুক্তিযুক্ত। অতএব, যদি শরীরে প্রকৃতিগতভাবে উষ্ণকারী কোনো অংশ না থাকত, তবে তা শীতলতা দ্বারা প্রভাবিত হতো না এবং তার কারণে কষ্টও পেত না। তারা বলেন: আপনাদের প্রমাণাদি কেবল তাদের বক্তব্যকেই অসার প্রতিপন্ন করে যারা বলে যে, অগ্নি-উপাদানসমূহ এই যৌগিক পদার্থগুলোর মধ্যে তাদের নিজস্ব অবস্থা ও অগ্নি-প্রকৃতিতেই বিদ্যমান থাকে। কিন্তু আমরা তা বলি না; বরং আমরা বলি যে, সংমিশ্রণের সময় তাদের প্রকারগত রূপ (সুরাহ নাও’ইয়্যাহ) বিলুপ্ত হয়ে যায়।

পক্ষান্তরে অন্যরা বলেন: কেন এমনটি বলা বৈধ হবে না যে—মাটি, পানি ও বাতাস যখন মিশ্রিত হয়, তখন তাদের পরিপক্ককারী ও রন্ধনকারী তাপ মূলত সূর্য এবং অন্যান্য নক্ষত্রের তাপ? অতঃপর সেই যৌগিক পদার্থটি তার পূর্ণ পরিপক্বতার সময় উষ্ণতার মাধ্যমে গঠনগত রূপ—তা উদ্ভিদ, প্রাণী কিংবা খনিজ যা-ই হোক না কেন—গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়। সেই উষ্ণতা ও তাপ যা যৌগিক পদার্থসমূহে বিদ্যমান, তা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সেই সংমিশ্রণের সময় সৃজিত বিশেষ গুণাবলী ও শক্তির কারণে হতে বাধা কোথায়, যা মূলত বাস্তব কোনো অগ্নি-উপাদান থেকে উদ্ভূত নয়? আপনাদের পক্ষে এই সম্ভাবনাকে বাতিল করার কোনো পথই নেই এবং প্রথিতযশা চিকিৎসকদের একটি দলও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

আর শরীরের শীতলতা অনুভবের প্রসঙ্গের উত্তরে আমরা বলি: এটি প্রমাণ করে যে শরীরে তাপ ও উষ্ণতা বিদ্যমান, আর কে-ই বা তা অস্বীকার করে? কিন্তু উষ্ণকারী বিষয় যে কেবল আগুনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তার প্রমাণ কী? কারণ এটি যদিও...
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢٠)
كَانَ كُلُّ نَارٍ مُسَخِّنًا، فَإِنَّ هَذِهِ الْقَضِيَّةَ لَا تَنْعَكِسُ كُلِّيَّةً، بَلْ عَكْسُهَا الصَّادِقُ بَعْضُ الْمُسَخِّنِ نَارٌ.

وَأَمَّا قَوْلُكُمْ بِفَسَادِ صُورَةِ النَّارِ النَّوْعِيَّةِ، فَأَكْثَرُ الْأَطِبَّاءِ عَلَى بَقَاءِ صُورَتِهَا، النَّوْعِيَّةِ، وَالْقَوْلُ بِفَسَادِهَا قَوْلٌ فَاسِدٌ قَدِ اعْتَرَفَ بِفَسَادِهِ أفضل متأخريكم «1» في كتابه المسمى بالشفاء، وَبَرْهَنَ عَلَى بَقَاءِ الْأَرْكَانِ أَجْمَعَ عَلَى طَبَائِعِهَا في المركبات. وبالله التوفيق.

فصل: في علاجه ص للمرض

وَكَانَ عِلَاجُهُ صلى الله عليه وسلم لِلْمَرَضِ ثَلَاثَةَ أَنْوَاعٍ:

أَحَدُهَا: بِالْأَدْوِيَةِ الطَّبِيعِيَّةِ.

وَالثَّانِي: بِالْأَدْوِيَةِ الْإِلَهِيَّةِ.

وَالثَّالِثُ: بِالْمُرَكَّبِ مِنَ الْأَمْرَيْنِ.

وَنَحْنُ نَذْكُرُ الْأَنْوَاعَ الثَّلَاثَةَ مِنْ هَدْيِهِ صلى الله عليه وسلم، فَنَبْدَأُ بِذِكْرِ الْأَدْوِيَةِ الطَّبِيعِيَّةِ الَّتِي وَصَفَهَا وَاسْتَعْمَلَهَا، ثُمَّ نَذْكُرُ الْأَدْوِيَةَ الْإِلَهِيَّةَ، ثُمَّ الْمُرَكَّبَةَ.

وَهَذَا إِنِّمَا نُشِيرُ إِلَيْهِ إِشَارَةً، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّمَا بُعِثَ هَادِيًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ، وَإِلَى جَنَّتِهِ، وَمُعَرِّفًا بِاَللَّهِ، وَمُبَيِّنًا لِلْأُمَّةِ مَوَاقِعَ رِضَاهُ وَآمِرًا لَهُمْ بِهَا، وَمَوَاقِعَ سَخَطِهِ وَنَاهِيًا لَهُمْ عَنْهَا، وَمُخْبِرَهُمْ أَخْبَارَ الْأَنْبِيَاءِ وَالرُّسُلِ وَأَحْوَالَهُمْ مَعَ أُمَمِهِمْ، وَأَخْبَارَ تَخْلِيقِ الْعَالَمِ، وَأَمْرَ الْمَبْدَأِ وَالْمَعَادِ، وَكَيْفِيَّةَ شَقَاوَةِ النُّفُوسِ وَسَعَادَتِهَا، وَأَسْبَابَ ذَلِكَ.

وَأَمَّا طِبُّ الْأَبْدَانِ «فَجَاءَ مِنْ تَكْمِيلِ شَرِيعَتِهِ، وَمَقْصُودًا لِغَيْرِهِ، بِحَيْثُ إِنَّمَا يُسْتَعْمَلُ عِنْدَ الْحَاجَةِ إِلَيْهِ، فَإِذَا قَدَرَ عَلَى الِاسْتِغْنَاءِ عَنْهُ، كَانَ صَرْفُ الْهِمَمِ وَالْقُوَى إِلَى عِلَاجِ الْقُلُوبِ وَالْأَرْوَاحِ، وَحِفْظِ صِحَّتِهَا، وَدَفْعِ أَسْقَامِهَا، وَحِمْيَتِهَا مِمَّا يُفْسِدُهَا هُوَ الْمَقْصُودَ بِالْقَصْدِ الْأَوَّلِ، وَإِصْلَاحُ الْبَدَنِ بِدُونِ إِصْلَاحِ الْقَلْبِ لَا يَنْفَعُ، وَفَسَادُ الْبَدَنِ مَعَ إِصْلَاحِ الْقَلْبِ مَضَرَّتُهُ يَسِيرَةٌ جِدًّا، وَهِيَ مَضَرَّةٌ زَائِلَةٌ تَعْقُبُهَا الْمَنْفَعَةُ الدائمة التامة، وبالله التوفيق.
(1) أي الشيخ الرئيس أبو علي الحسين بن عبد الله بن سينا توفي عام 428 هـ.
প্রতিটি অগ্নিই উত্তাপ দানকারী; তবে এই প্রতিজ্ঞাটি সামগ্রিকভাবে আবর্তনযোগ্য নয়, বরং এর সঠিক বিপরীত রূপটি হলো: কিছু উত্তাপ দানকারী বস্তু হলো অগ্নি।

আর আগুনের প্রজাতিগত রূপ (সুরাহ নাওঈয়্যাহ) বিনষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্কে আপনাদের যে অভিমত, অধিকাংশ চিকিৎসকই এর প্রজাতিগত রূপ অবশিষ্ট থাকার পক্ষে। এই রূপ বিনষ্ট হওয়ার দাবিটি একটি ভ্রান্ত মত, যার অসারতা আপনাদের পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষী (১) তাঁর 'আশ-শিফা' নামক গ্রন্থে স্বীকার করেছেন। তিনি যৌগিক পদার্থের মধ্যে মৌলিক উপাদানসমূহ (আরকান) তাদের নিজস্ব প্রকৃতিতে অটুট থাকার সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। আর আল্লাহর সাহায্যেই যাবতীয় সাফল্য অর্জিত হয়।

পরিচ্ছেদ: অসুস্থতার চিকিৎসায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদ্ধতি

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রোগ নিরাময় পদ্ধতি ছিল তিন প্রকার:

প্রথমত: প্রাকৃতিক ঔষধের মাধ্যমে।

দ্বিতীয়ত: খোদায়ী (রূহানী) ঔষধের মাধ্যমে।

তৃতীয়ত: উভয় প্রকারের সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে।

আমরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশিত এই তিন প্রকার পদ্ধতিই উল্লেখ করব। প্রথমে আমরা তাঁর বর্ণিত ও ব্যবহৃত প্রাকৃতিক ঔষধগুলো আলোচনা করব, অতঃপর খোদায়ী ঔষধসমূহ এবং পরিশেষে সমন্বিত ঔষধসমূহ বর্ণনা করব।

আমরা এ বিষয়ে কেবল সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত প্রদান করব। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূলত প্রেরিত হয়েছিলেন পথপ্রদর্শক হিসেবে, আল্লাহর দিকে ও তাঁর জান্নাতের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে। তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন আল্লাহর পরিচয় প্রদান করতে, উম্মতের সামনে তাঁর সন্তুষ্টির ক্ষেত্রসমূহ স্পষ্ট করতে ও তা পালনের নির্দেশ দিতে, এবং তাঁর অসন্তুষ্টির বিষয়গুলো বর্ণনা করে তা থেকে নিষেধ করতে। এছাড়াও তিনি নবীদের ও রাসূলদের সংবাদ এবং তাঁদের উম্মতদের সাথে তাঁদের অবস্থা, বিশ্ব সৃষ্টির ইতিহাস, সৃষ্টিতত্ত্ব ও পরকাল সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং আত্মার দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্যের স্বরূপ ও তার কারণসমূহ বর্ণনা করার জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন।

আর শারীরিক চিকিৎসা পদ্ধতি তাঁর শরীয়তের পূর্ণতা দানকারী আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে এসেছে এবং তা অন্য একটি মহৎ উদ্দেশ্যের সহায়ক মাত্র, যা কেবল প্রয়োজনের সময়ই ব্যবহৃত হয়। যখন এ থেকে বিমুখ থাকা সম্ভব হয়, তখন মেধা ও শক্তিকে অন্তর ও আত্মার চিকিৎসায় ব্যয় করা, তাদের সুস্থতা রক্ষা করা, তাদের রোগ-ব্যাধি দূর করা এবং যা কিছু আত্মাকে কলুষিত করে তা থেকে সুরক্ষা প্রদান করাই মূল উদ্দেশ্য। কেননা অন্তরের সংশোধন ব্যতীত দেহের সংশোধন কোনো উপকারে আসে না। পক্ষান্তরে অন্তরের সংশোধনের সাথে দেহের কোনো ক্ষতি হলে তা অতি সামান্য; এবং তা ক্ষণস্থায়ী ক্ষতি যার পর রয়েছে চিরস্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ। আর আল্লাহর নিকট থেকেই তৌফিক অর্জিত হয়।
(১) অর্থাৎ শায়খুর রইস আবু আলী আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ ইবনে সিনা, যিনি ৪২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌ذِكْرُ الْقِسْمِ الْأَوَّلِ وَهُوَ الْعِلَاجُ بِالْأَدْوِيَةِ الطَّبِيعِيَّةِ

 

‌‌فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ فِي عِلَاجِ الْحُمَّى

ثَبَتَ فِي «الصَّحِيحَيْنِ» : عَنْ نافع، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

«إنّما الحمىّ أو شدّة مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ، فَأَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ» «1» .

وَقَدْ أَشْكَلَ هَذَا الْحَدِيثُ عَلَى كَثِيرٍ مِنْ جَهَلَةِ الْأَطِبَّاءِ، وَرَأَوْهُ مُنَافِيًا لِدَوَاءِ الْحُمَّى وَعِلَاجِهَا، وَنَحْنُ نُبَيِّنُ بِحَوْلِ اللَّهِ وَقُوَّتِهِ وَجْهَهُ وَفِقْهَهُ، فَنَقُولُ: «خِطَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَوْعَانِ: عَامٌّ لِأَهْلِ الْأَرْضِ، وَخَاصٌّ بِبَعْضِهِمْ، فَالْأَوَّلُ «كَعَامَّةِ خِطَابِهِ، وَالثَّانِي: كَقَوْلِهِ: «لَا تَسْتَقْبِلُوا الْقِبْلَةَ بِغَائِطٍ» . وَلَا بول، ولا تسدبروها، وَلَكِنْ شَرِّقُوا، أَوْ غَرِّبُوا» «2» ، فَهَذَا لَيْسَ بِخِطَابٍ لِأَهْلِ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَا الْعِرَاقِ، وَلَكِنْ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَمَا عَلَى سَمْتِهَا، كَالشَّامِ وَغَيْرِهَا. وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ: «مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ قِبْلَةٌ» » .

وَإِذَا عُرِفَ هَذَا، فَخِطَابُهُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ خَاصٌّ بأهل الحجاز، وما وَالَاهُمْ، إِذْ كَانَ أَكْثَرُ الْحُمِّيَّاتِ الَّتِي تَعْرِضُ لَهُمْ مِنْ نَوْعِ الْحُمَّى الْيَوْمِيَّةِ الْعَرَضِيَّةِ الْحَادِثَةِ عَنْ شِدَّةِ حَرَارَةِ الشَّمْسِ، وَهَذِهِ يَنْفَعُهَا الْمَاءُ الْبَارِدُ شُرْبًا وَاغْتِسَالًا، فَإِنَّ الْحُمَّى حَرَارَةٌ غَرِيبَةٌ تَشْتَعِلُ فِي الْقَلْبِ، وَتَنْبَثُّ مِنْهُ بِتَوَسُّطِ الرُّوحِ وَالدَّمِ فِي الشَّرَايِينِ وَالْعُرُوقِ إِلَى جَمِيعِ الْبَدَنِ، فَتَشْتَعِلُ فِيهِ اشْتِعَالًا يُضِرُّ بِالْأَفْعَالِ الطَّبِيعِيَّةِ، وَهِيَ تَنْقَسِمُ إِلَى قِسْمَيْنِ: عَرَضِيَّةٌ: وَهِيَ الْحَادِثَةُ إِمَّا عَنِ الْوَرَمِ، أَوِ الْحَرَكَةِ، أَوْ إِصَابَةِ حَرَارَةِ الشمس، أو القيظ الشديد، ونحو ذلك.
(1) أخرجه الإمام أحمد، والبخاري عن ابن عباس في الطب- ورواه مسلم في السلام: باب لكل داء دواء

(2) أخرجه البخاري في القبلة. ومسلم في الطهارة. قال البغوي: هذا خطاب لأهل المدينة، ولمن كانت قبلته على ذلك السمت. فأما من كانت جهته إلى المشرق والمغرب فإنه ينحرف إلى الجنوب أو الشمال.

(3) أخرجه الترمذي وابن ماجه والحاكم في الصلاة عن أبي هريرة. قال الترمذي- حسن صحيح. وقال الحاكم صحيح على شرطهما. أي البخاري ومسلم. وأقره الذهبي وقال النسائي منكر. وأقره عليه الحافظ العراقي.
প্রথম অংশের আলোচনা: প্রাকৃতিক ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা

 

‌জ্বরের চিকিৎসায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

‘সহীহাইন’ (বুখারী ও মুসলিম)-এ সাব্যস্ত হয়েছে: নাফে’ হতে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

“নিশ্চয়ই জ্বর বা জ্বরের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ হতে আগত; সুতরাং তোমরা পানি দিয়ে তা শীতল করো।” «১» ।

এই হাদীসটি অনেক মূর্খ চিকিৎসকের নিকট জটিল প্রতীয়মান হয়েছে এবং তারা একে জ্বরের ওষুধ ও চিকিৎসার পরিপন্থী বলে মনে করেছেন। আমরা আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে এর প্রকৃত রূপ ও তত্ত্ব (ফিকহ) বর্ণনা করছি। আমরা বলি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্বোধন দুই প্রকার: একটি পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য সাধারণ এবং অন্যটি বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট। প্রথম প্রকারটি তাঁর সাধারণ বাণীর মতো। দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো তাঁর এই বাণী: “তোমরা মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হয়ে বসবে না এবং কিবলাকে পেছনেও দেবে না; বরং তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিকে মুখ করো।” «২» । এটি পূর্ব-পশ্চিমের অধিবাসী বা ইরাকবাসীর জন্য উদ্দেশ্য নয়; বরং এটি মদিনাবাসী এবং মদিনার সমান্তরালে অবস্থিত সিরিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রযোজ্য। অনুরূপভাবে তাঁর এই বাণী: “পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানই হলো কিবলা।” «৩» ।

যখন এটি জানা হলো, তখন স্পষ্ট হয় যে—এই হাদীসের সম্বোধনটি হিজাযবাসী এবং তাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর জন্য নির্দিষ্ট। কারণ তাদের যে সকল জ্বর অনুভূত হয়, তার অধিকাংশই ‘ইউমিয়্যাহ’ (দৈনিক বা ক্ষণস্থায়ী) প্রকৃতির, যা সূর্যের প্রচণ্ড তাপের কারণে সৃষ্টি হয়। এ জাতীয় জ্বরে পানি পান করা এবং গোসল করা অত্যন্ত উপকারী। কেননা জ্বর হলো একটি বহিরাগত তাপ যা হৃদপিণ্ডে প্রজ্বলিত হয় এবং সেখান থেকে রুহ (প্রাণশক্তি) ও রক্তের মাধ্যমে ধমনী ও শিরা-উপশিরা হয়ে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এটি শরীরের স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপে বিঘ্ন ঘটায়। জ্বর প্রধানত দুই প্রকার: একটি হলো আকস্মিক (আরজিয়্যাহ), যা কোনো প্রদাহ (ওরয়াম), অধিক পরিশ্রম, রৌদ্রের তাপ বা প্রচণ্ড গ্রীষ্মের উত্তাপ ইত্যাদির কারণে সৃষ্টি হয়।
(১) ইমাম আহমাদ ও বুখারী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে চিকিৎসা অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিম এটি সালাম অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: ‘প্রত্যেক রোগেরই ওষুধ রয়েছে’ পরিচ্ছেদে।

(২) বুখারী এটি কিবলা অধ্যায়ে এবং মুসলিম পবিত্রতা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। বাগাবী বলেন: এটি মদিনাবাসী এবং যাদের কিবলা ওই বরাবর তাদের জন্য সম্বোধন। আর যাদের দিক পূর্ব বা পশ্চিমে, তারা দক্ষিণ বা উত্তর দিকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

(৩) তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং হাকেম এটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নামায অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন—এটি হাসান সহীহ। হাকেম বলেন—এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ এবং আয-যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। আন-নাসায়ী একে মুনকার বলেছেন এবং হাফেজ আল-ইরাকী তা সমর্থন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وَمَرَضِيَّةٌ: وَهِيَ ثَلَاثَةُ أَنْوَاعٍ، وَهِيَ لَا تَكُونُ إِلَّا فِي مَادَّةٍ أُولَى، ثُمَّ مِنْهَا يُسَخَّنُ جَمِيعُ الْبَدَنِ، فَإِنْ كَانَ مَبْدَأُ تَعَلُّقِهَا بِالرُّوحِ سُمِّيَتْ حُمَّى يَوْمٍ، لِأَنَّهَا فِي الْغَالِبِ تَزُولُ فِي يَوْمٍ، وَنِهَايَتُهَا ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ، وَإِنْ كَانَ مَبْدَأُ تَعَلُّقِهَا بِالْأَخْلَاطِ سُمِّيَتْ عَفَنِيَّةً، وَهِيَ أَرْبَعَةُ أصناف: صفراوية، وسوداوية، بلغمية، وَدَمَوِيَّةٌ. وَإِنْ كَانَ مَبْدَأُ تَعَلُّقِهَا بِالْأَعْضَاءِ الصُّلْبَةِ الْأَصْلِيَّةِ، سُمِّيَتْ حُمَّى دِقٍّ، وَتَحْتَ هَذِهِ الْأَنْوَاعِ أَصْنَافٌ كَثِيرَةٌ.

وَقَدْ يَنْتَفِعُ الْبَدَنُ بِالْحُمَّى انْتِفَاعًا عَظِيمًا لَا يَبْلُغُهُ الدَّوَاءُ، وَكَثِيرًا مَا يَكُونُ حُمَّى يَوْمٍ، وَحُمَّى الْعَفَنِ سَبَبًا لِإِنْضَاجِ مَوَادَّ غَلِيظَةٍ لَمْ تَكُنْ تَنْضَجُ بِدُونِهَا، وَسَبَبًا لِتَفَتُّحِ سُدَدٍ لَمْ يَكُنْ تَصِلُ إِلَيْهَا الْأَدْوِيَةُ الْمُفَتِّحَةُ.

وأما الرمد الحديث والمتقادم، فإنها تبرىء أكثر أنواعه برآ عَجِيبًا سَرِيعًا، وَتَنْفَعُ مِنَ الْفَالِجِ، وَاللِّقْوَةِ «1» ، وَالتَّشَنُّجِ الأمتلائي، وكثيرا مِنَ الْأَمْرَاضِ الْحَادِثَةِ عَنِ الْفُضُولِ الْغَلِيظَةِ.

وَقَالَ لِي بَعْضُ فُضَلَاءِ الْأَطِبَّاءِ: إِنَّ كَثِيرًا مِنَ الْأَمْرَاضِ نَسْتَبْشِرُ فِيهَا بِالْحُمَّى، كَمَا يَسْتَبْشِرُ الْمَرِيضُ بِالْعَافِيَةِ، فَتَكُونُ الْحُمَّى فِيهِ أَنْفَعَ مِنْ شُرْبِ الدَّوَاءِ بِكَثِيرٍ، فَإِنَّهَا تُنْضِجُ مِنَ الْأَخْلَاطِ وَالْمَوَادِّ الْفَاسِدَةِ مَا يَضُرُّ بِالْبَدَنِ، فَإِذَا أَنْضَجَتْهَا صَادَفَهَا الدَّوَاءُ مُتَهَيِّئَةً لِلْخُرُوجِ بِنِضَاجِهَا، فَأَخْرَجَهَا، فَكَانَتْ سَبَبًا لِلشِّفَاءِ.

وَإِذَا عُرِفَ هَذَا، فَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مُرَادُ الْحَدِيثِ مِنْ أَقْسَامِ الْحُمِّيَاتِ الْعَرَضِيَّةِ، فَإِنِّهَا تَسْكُنُ عَلَى الْمَكَانِ بِالِانْغِمَاسِ فِي الْمَاءِ الْبَارِدِ، وَسَقْيِ الْمَاءِ الْبَارِدِ الْمَثْلُوجِ، وَلَا يَحْتَاجُ صَاحِبُهَا مَعَ ذَلِكَ إِلَى عِلَاجٍ آخَرَ، فَإِنِّهَا مُجَرَّدُ كَيْفِيَّةٍ حَارَّةٍ مُتَعَلِّقَةٍ بِالرُّوحِ، فَيَكْفِي فِي زَوَالِهَا مُجَرَّدُ وُصُولِ كَيْفِيَّةٍ بَارِدَةٍ تُسَكِّنُهَا، وَتُخْمِدُ لَهَبَهَا مِنْ غَيْرِ حَاجَةٍ إِلَى اسْتِفْرَاغِ مَادَّةٍ، أَوِ انْتِظَارِ نُضْجٍ.

وَيَجُوزُ أَنْ يُرَادَ بِهِ جَمِيعُ أَنْوَاعِ الْحُمِّيَاتِ، وَقَدِ اعْتَرَفَ فَاضِلُ الْأَطِبَّاءِ جالينوس: بِأَنَّ الْمَاءَ الْبَارِدَ يَنْفَعُ فِيهَا، قَالَ فِي الْمَقَالَةِ الْعَاشِرَةِ مِنْ كِتَابِ «حِيلَةِ الْبُرْءِ» : وَلَوْ أَنَّ رَجُلًا شَابَّا حَسَنَ اللَّحْمِ، خِصْبَ الْبَدَنِ فِي وَقْتِ الْقَيْظِ، وَفِي وَقْتِ مُنْتَهَى الْحُمَّى، وَلَيْسَ فِي أَحْشَائِهِ وَرَمٌ، اسْتَحَمَّ بِمَاءٍ بَارِدٍ، أو سبح فيه، لا نتفع بذلك. قال: ونحن نأمر بذلك بلا توقف.
(1) داء يكون في الوجه يعوج منه الشدق

রোগজনিত জ্বর: এটি তিন প্রকার এবং তা কেবল মৌলিক উপাদানসমূহের মধ্যেই হয়ে থাকে, যা থেকে পরবর্তীতে সমস্ত শরীর উত্তপ্ত হয়ে যায়। যদি এই জ্বরের উৎপত্তিস্থল জীবনীশক্তির (রুহ) সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে তাকে একাহিক জ্বর (হুম্মা ইয়াওম) বলা হয়; কারণ সাধারণত এটি একদিনের মধ্যেই দূরীভূত হয় এবং এর সর্বোচ্চ সময়সীমা তিন দিন। আর যদি এর উৎপত্তিস্থল শারীরবৃত্তীয় ধাতুরসগুলোর (আখলাত) সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে তাকে পচনশীল জ্বর (আফানিয়্যাহ) বলা হয়। এটি চার প্রকার: পিত্তঘটিত, কৃষ্ণপিত্তঘটিত, কফঘটিত এবং রক্তঘটিত। আর যদি এর উৎপত্তিস্থল শরীরের মৌলিক শক্ত অঙ্গসমূহের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে তাকে ক্ষয়কারী জ্বর (হুম্মা দিক্ক) বলা হয়। এই প্রকারগুলোর অধীনে আরও অনেক উপবিভাগ রয়েছে।

কখনো কখনো শরীর জ্বর দ্বারা এমন মহৎ উপকার লাভ করে যা ওষুধ দ্বারাও সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে একাহিক জ্বর এবং পচনশীল জ্বর সেই সব ঘন ও জমাটবদ্ধ উপাদানগুলোকে পরিপক্ব করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা জ্বর ছাড়া পরিপক্ব হওয়া সম্ভব ছিল না। এছাড়া এটি শরীরের এমন সব রুদ্ধ পথ বা প্রতিবন্ধকতা (সুদাদ) খুলে দেয় যেখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা নিরোধক ওষুধ পৌঁছাতে সক্ষম হয় না।

চোখের নতুন ও পুরাতন প্রদাহের (রমাদ্) ক্ষেত্রে এটি অধিকাংশ প্রকারকে আশ্চর্যজনক ও দ্রুততার সাথে নিরাময় করে। এছাড়া এটি পক্ষাঘাত (ফালিজ), মুখমণ্ডলের পক্ষাঘাত (লিকওয়া), শারীরিক আধিক্যজনিত খিঁচুনি এবং গাঢ় বর্জ্য পদার্থ থেকে সৃষ্ট অনেক রোগে বিশেষ উপকার দেয়।

জনৈক বিজ্ঞ চিকিৎসক আমাকে বলেছেন: অনেক রোগের ক্ষেত্রে আমরা জ্বরের উপস্থিতিতে ঠিক তেমনি আনন্দিত হই যেমন একজন রোগী সুস্থতার সুসংবাদে আশান্বিত হয়। তাই সেই ক্ষেত্রে জ্বর হওয়া ওষুধ সেবনের চেয়েও অনেক বেশি উপকারী। কেননা এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর ধাতুরস ও দূষিত উপাদানগুলোকে পরিপক্ব করে দেয়। যখন জ্বর সেগুলোকে পরিপক্ব করে তোলে, তখন ওষুধ প্রয়োগ করলে তা নির্গমনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় পায় এবং শরীর থেকে বের করে দেয়, যা আরোগ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যখন বিষয়টি অবগত হওয়া গেল, তখন হাদীসের উদ্দেশ্য আকস্মিক বা বাহ্যিক জ্বরও হতে পারে। কেননা শীতল পানিতে অবগাহন করলে এবং বরফশীতল পানি পান করলে তৎক্ষণাৎ তা প্রশমিত হয়ে যায়। এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তির অন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। কারণ এটি কেবল জীবনীশক্তির (রুহ) সাথে সম্পৃক্ত একটি উষ্ণ অবস্থা মাত্র, তাই কোনো বর্জ্য নিষ্কাশন বা পরিপক্ব হওয়ার অপেক্ষা না করেই কেবল শীতলতা পৌঁছানোর মাধ্যমেই এর উত্তাপ নিভিয়ে দেওয়া এবং উপশম করা সম্ভব।

আবার এর দ্বারা সকল প্রকার জ্বরও উদ্দেশ্য হতে পারে। প্রখ্যাত চিকিৎসক গ্যালেন (জালিনুস) স্বীকার করেছেন যে, শীতল পানি জ্বরের ক্ষেত্রে ফলদায়ক। তিনি তাঁর ‘আরোগ্যের কৌশল’ (হিলাতুল বুর্) গ্রন্থের দশম অধ্যায়ে বলেছেন: গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড জ্বরের সময় যদি কোনো সুঠাম দেহের অধিকারী শক্তিশালী যুবক—যার অভ্যন্তরীণ অঙ্গে কোনো শোথ বা প্রদাহ নেই—শীতল পানিতে গোসল করে বা সাতার কাটে, তবে সে অবশ্যই এর দ্বারা উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন: আমরা কোনো দ্বিধা ছাড়াই এর নির্দেশ দিয়ে থাকি।


(১) এটি মুখমণ্ডলের একটি রোগ যার ফলে মুখের এক পাশ বেঁকে যায়।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وَقَالَ الرازي فِي كِتَابِهِ الْكَبِيرِ: إِذَا كَانَتِ الْقُوَّةُ قَوِيَّةً، وَالْحُمَّى حَادَّةً جِدًّا، وَالنُّضْجُ بَيِّنٌ وَلَا وَرَمَ فِي الْجَوْفِ، وَلَا فَتْقَ، يَنْفَعُ الْمَاءُ الْبَارِدُ شُرْبًا، وَإِنْ كَانَ الْعَلِيلُ خِصْبَ الْبَدَنِ وَالزَّمَانُ حَارٌّ، وَكَانَ مُعْتَادًا لِاسْتِعْمَالِ الْمَاءِ الْبَارِدِ مِنْ خَارِجٍ، فَلْيُؤْذَنْ فِيهِ.

وَقَوْلُهُ: «الْحُمَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ» ، هُوَ شِدَّةُ لَهَبِهَا، وَانْتِشَارِهَا، وَنَظِيرُهُ:

«قَوْلُهُ: شِدَّةُ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ» . وَفِيهِ وَجْهَانِ: أَحَدُهُمَا: أَنَّ ذَلِكَ أُنْمُوذَجٌ وَرَقِيقَةٌ اُشْتُقَّتْ مِنْ جَهَنَّمَ لِيَسْتَدِلَّ بِهَا الْعِبَادُ عَلَيْهَا، وَيَعْتَبِرُوا بِهَا، ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ قَدَّرَ ظُهُورَهَا بِأَسْبَابٍ تَقْتَضِيهَا،؛ كَمَا أَنَّ الرُّوحَ وَالْفَرَحَ وَالسُّرُورَ وَاللَّذَّةَ مِنْ نَعِيمِ الْجَنَّةِ أَظْهَرَهَا اللَّهُ فِي هَذِهِ الدَّارِ عِبْرَةً وَدَلَالَةً، وَقَدَّرَ ظُهُورَهَا بِأَسْبَابٍ تُوجِبُهَا.

وَالثَّانِي: أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ التَّشْبِيهَ، فَشَبَّهَ شِدَّةَ الْحُمَّى وَلَهَبَهَا بِفَيْحِ جَهَنَّمَ، وَشَبَّهَ شِدَّةَ الْحَرِّ بِهِ أَيْضًا تَنْبِيهًا لِلنُّفُوسِ عَلَى شِدَّةِ عَذَابِ النَّارِ، وَأَنَّ هَذِهِ الْحَرَارَةَ الْعَظِيمَةَ مُشَبَّهَةٌ بِفَيْحِهَا، وَهُوَ مَا يُصِيبُ مَنْ قَرُبَ مِنْهَا مِنْ حَرِّهَا.

وَقَوْلُهُ: «فَأَبْرِدُوهَا» ، رُوِيَ بِوَجْهَيْنِ: بِقَطْعِ الْهَمْزَةِ وَفَتْحِهَا، رُبَاعِيٌّ: مِنْ أَبْرَدَ الشَّيْءَ: إِذَا صَيَّرَهُ بَارِدًا، مِثْلَ أَسْخَنَهُ: إِذَا صَيَّرَهُ سَخِنًا.

وَالثَّانِي: بِهَمْزَةِ الْوَصْلِ مَضْمُومَةً مِنْ بَرَّدَ الشَّيْءَ يُبَرِّدُهُ، وَهُوَ أَفْصَحُ لُغَةً وَاسْتِعْمَالًا، وَالرُّبَاعِيُّ لُغَةٌ رَدِيئَةٌ عِنْدَهُمْ قَالَ:

إِذَا وَجَدْتُ لَهِيبَ الْحُبِّ فِي كَبِدِي … أَقْبَلْتُ نَحْوَ سِقَاءِ الْقَوْمِ أَبْتَرِدُ

هَبْنِي بَرَدْتُ بِبَرْدِ الْمَاءِ ظَاهِرَهُ … فَمَنْ لِنَارٍ عَلَى الْأَحْشَاءِ تَتَّقِدُ

وَقَوْلُهُ: «بِالْمَاءِ» فِيهِ قَوْلَانِ: أَحَدُهُمَا: أَنَّهُ كُلُّ مَاءٍ وَهُوَ الصَّحِيحُ.

وَالثَّانِي: أَنَّهُ مَاءُ زَمْزَمَ، وَاحْتَجَّ أَصْحَابُ هَذَا الْقَوْلِ بِمَا رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي «صَحِيحِهِ» ، عَنْ أبي جمرة نصر بن عمران الضبعي، قَالَ: كُنْتُ أُجَالِسُ ابْنَ عَبَّاسٍ بِمَكَّةَ، فَأَخَذَتْنِي الْحُمَّى، فَقَالَ: أَبْرِدْهَا عَنْكَ بِمَاءِ زَمْزَمَ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আর রাযী তাঁর 'আল-কিতাব আল-কাবীর' গ্রন্থে বলেছেন: যখন দৈহিক শক্তি সবল থাকে, জ্বর অত্যন্ত তীব্র হয় এবং পরিপক্বতার (নদজ) লক্ষণ সুস্পষ্ট হয়, আর শরীরের অভ্যন্তরে কোনো ফোলা (ওরাম) বা বিদারণ (ফাতক) না থাকে, তবে পানীয় হিসেবে শীতল জল পান করা উপকারী। আর যদি রোগীর শরীর পুষ্ট হয়, সময়টি গ্রীষ্মকাল হয় এবং সে বাহ্যিকভাবে শীতল জল ব্যবহারে অভ্যস্ত থাকে, তবে তাকে তা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত।

আর তাঁর বাণী: "জ্বর হলো জাহান্নামের উত্তাপ (ফায়হ) হতে উদ্ভূত", এর অর্থ হলো জাহান্নামের শিখার তীব্রতা ও তার বিস্তৃতি। এর অনুরূপ হলো:

তাঁর এই বাণী: "তীব্র গরম জাহান্নামের উত্তাপ হতে উদ্ভূত"। এর দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে: প্রথমটি হলো, এটি জাহান্নামের একটি নমুনা ও ক্ষুদ্র অংশ যা সেখান থেকে বিচ্ছুরিত হয়েছে, যাতে বান্দারা এর মাধ্যমে জাহান্নামের অস্তিত্বের প্রমাণ পায় এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নির্দিষ্ট কিছু কারণের মাধ্যমে এর প্রকাশ ঘটিয়েছেন; যেমনভাবে প্রশান্তি, আনন্দ, হর্ষ ও তৃপ্তি হলো জান্নাতের নিয়ামতের অংশ, যা আল্লাহ এই নশ্বর পৃথিবীতে শিক্ষা ও নিদর্শনস্বরূপ প্রকাশ করেছেন এবং নির্দিষ্ট কারণের মাধ্যমে সেগুলোর উপস্থিতির ব্যবস্থা করেছেন।

দ্বিতীয়ত: এর দ্বারা উপমা বা সাদৃশ্য বোঝানো উদ্দেশ্য হতে পারে। ফলে জ্বরের তীব্রতা ও তার দহনকে জাহান্নামের উত্তাপের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং তীব্র গরমকেও তার সাথে তুলনা করা হয়েছে, যাতে মানুষের আত্মা আগুনের কঠোর আজাব সম্পর্কে সচেতন হয়। আর এই প্রচণ্ড উত্তাপ জাহান্নামের সেই উষ্ণতার সদৃশ, যা তার নিকটে থাকা ব্যক্তিকে স্পর্শ করে।

আর তাঁর বাণী: "সুতরাং তোমরা তা শীতল করো", এটি দুটি পাঠরীতিতে বর্ণিত হয়েছে: প্রথমত 'হামজায়ে কাতয়ি' এবং জবরযোগে (আবরিদুহা), যা চতুর্াক্ষরিক ক্রিয়া (রুবায়ি): এটি কোনো কিছুকে 'শীতল করা' (আবরাদা) অর্থ থেকে এসেছে, যেমন কোনো কিছুকে 'উত্তপ্ত করা' (আসখানা) বলা হয়।

দ্বিতীয়ত: পেশযুক্ত 'হামজায়ে ওয়াসল' যোগে (উবরুদুহা), যা কোনো কিছু শীতল করা (বাররাদা) অর্থে ব্যবহৃত হয়। ভাষাগত অলঙ্কার ও ব্যবহারের দিক থেকে এটিই অধিকতর বিশুদ্ধ, আর চার অক্ষরের রূপটি (রুবায়ি) তাদের নিকট ভাষাগতভাবে দুর্বল। কবি বলেছেন:

যখন আমি আমার কলিজায় প্রেমের শিখা অনুভব করি … তখন আমি লোকজনের মশকের দিকে এগিয়ে যাই শীতল হওয়ার আশায়

ধরো আমি জলের শীতলতা দিয়ে আমার দেহের উপরিভাগ শীতল করলাম … কিন্তু শরীরের অভ্যন্তরে প্রজ্জ্বলিত আগুনের প্রতিকার কে করবে?

আর তাঁর বাণী: "পানি দ্বারা", এ প্রসঙ্গে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমত, এর দ্বারা যেকোনো পানি উদ্দেশ্য, আর এটিই সঠিক মত।

দ্বিতীয়ত: এর দ্বারা যমযমের পানি উদ্দেশ্য। এই মতের প্রবক্তারা ইমাম বুখারী তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে আবু জামরা নাসর ইবনে ইমরান আদ-দুবায়ী থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন। তিনি বলেন: আমি মক্কায় ইবনে আব্বাসের মজলিসে বসতাম, একবার আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। তখন তিনি বললেন: যমযমের পানি দিয়ে তোমার জ্বর শীতল করো, কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢٤)
قَالَ: «إِنَّ الْحُمَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ، أَوْ قَالَ: بِمَاءِ زَمْزَمَ» «1» . وَرَاوِي هَذَا قَدْ شَكَّ فِيهِ، وَلَوْ جَزَمَ بِهِ لَكَانَ أَمْرًا لِأَهْلِ مَكَّةَ بِمَاءِ زَمْزَمَ، إذْ هُوَ مُتَيَسِّرٌ عِنْدَهُمْ، وَلِغَيْرِهِمْ بِمَا عِنْدَهُمْ مِنَ الْمَاءِ.

ثُمَّ اخْتَلَفَ مَنْ قَالَ: إنَّهُ عَلَى عُمُومِهِ، هَلِ الْمُرَادُ بِهِ الصَّدَقَةُ بِالْمَاءِ، أَوِ اسْتِعْمَالُهُ؟ عَلَى قَوْلَيْنِ. وَالصَّحِيحُ أَنَّهُ اسْتِعْمَالٌ، وَأَظُنُّ أَنَّ الَّذِي حَمَلَ مَنْ قَالَ:

الْمُرَادُ الصَّدَقَةُ بِهِ أَنَّهُ أَشْكَلَ عَلَيْهِ اسْتِعْمَالُ الْمَاءِ الْبَارِدِ فِي الْحُمَّى، وَلَمْ يَفْهَمْ وَجْهَهُ مَعَ أَنَّ لِقَوْلِهِ وَجْهًا حَسَنًا، وَهُوَ أَنَّ الْجَزَاءَ مِنْ جِنْسِ الْعَمَلِ، فَكَمَا أَخْمَدَ لَهِيبَ الْعَطَشِ عَنِ الظَّمْآنِ بِالْمَاءِ الْبَارِدِ، أَخْمَدَ اللَّهُ لَهِيبَ الْحُمَّى عَنْهُ جَزَاءً وِفَاقًا، وَلَكِنَّ هَذَا يُؤْخَذُ مِنْ فِقْهِ الْحَدِيثِ وَإِشَارَتِهِ، وَأَمَّا الْمُرَادُ بِهِ فَاسْتِعْمَالُهُ.

وَقَدْ ذَكَرَ أبو نعيم وَغَيْرُهُ مِنْ حَدِيثِ أنس يَرْفَعُهُ: «إِذَا حُمَّ أَحَدُكُمْ، فَلْيَرُشَّ عَلَيْهِ الْمَاءَ الْبَارِدَ ثَلَاثَ لَيَالٍ مِنَ السَّحَرِ «2» .

وَفِي «سُنَنِ ابْنِ مَاجَهْ» عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَرْفَعُهُ: «الْحُمَّى كِيرٌ مِنْ كِيرِ جَهَنَّمَ، فَنَحُّوهَا عَنْكُمْ بِالْمَاءِ الْبَارِدِ» «3» .

وَفِي «الْمُسْنَدِ» وَغَيْرِهِ، مِنْ حَدِيثِ الحسن، عَنْ سمرة يَرْفَعُهُ: «الْحُمَّى قِطْعَةٌ مِنَ النَّارِ، فَأَبْرِدُوهَا عَنْكُمْ بِالْمَاءِ الْبَارِدِ» ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا حُمَّ دَعَا بِقِرْبَةٍ مِنْ مَاءٍ، فَأَفْرَغَهَا عَلَى رَأْسِهِ فَاغْتَسَلَ «4» .
(1) أخرجه البخاري في بدء الخلق، والنسائي وابن ماجه ومالك وأحمد: ومعنى الحديث: أن الحمى من شدة حر الطبيعة وهو يشبه نار جهنم في كونها معذبة ومذيبة للجسد، والمراد أنها أنموذج ودقيقة اشتقت من جهنم يستدل بها العباد ويعتبرون بها، كما أظهر الفرح واللذة ليدل على نعيم الجة. «فأبردوها بالماء» أي أسكنوا حرارتها بالماء، بأن تغسلوا أطراف المحموم منه، وتسقوه إياه ليقع به التبرد.

(2) أخرجه النسائي والحاكم في المستدرك، والطبراني في الأوسط، ورجاله ثقات

(3) خرجه ابن ماجه، ورجاله ثقات

(4) رواه الطبراني في الكبير والحاكم في الطب، وكذا البرار عن سمرة بن جندب. قال الحاكم: صحيح، وأقره عليه الذهبي. لكن قال ابن حجر في فتح الباري بعد ما عزاه للبزار والحاكم وأنه صححه في سنده راو ضعيف، وقال الهيثمي بعد ما عزاه للطبراني: فيه اسماعيل بن مسلم، وهو متروك. و «إذا حمّ أحدكم» أي أخذته الحمى التي هي حرارة بين الجلد واللحم.
তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই জ্বর জাহান্নামের উত্তাপের অংশ, তাই তোমরা তা পানি দিয়ে ঠান্ডা করো," অথবা তিনি বলেছেন: "জমজমের পানি দিয়ে।" (১)। এই হাদিসের বর্ণনাকারী এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন। যদি তিনি এটি দৃঢ়ভাবে বলতেন, তবে তা মক্কাবাসীদের জন্য জমজমের পানির নির্দেশ হতো, যেহেতু তা তাদের কাছে সহজলভ্য। আর অন্যদের জন্য তা তাদের নিকট থাকা সাধারণ পানি দ্বারা ঠান্ডা করার নির্দেশ হতো।

অতঃপর যারা মনে করেন যে এটি একটি সাধারণ নির্দেশ, তাদের মধ্যে মতভেদ হয়েছে যে, এর দ্বারা কি পানি দান (সদকা) করা উদ্দেশ্য নাকি পানির সরাসরি ব্যবহার উদ্দেশ্য? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। সঠিক মত হলো এটি পানির ব্যবহার। আমার ধারণা, যারা পানি দান উদ্দেশ্য বলেছেন, তাদের কাছে জ্বরের ক্ষেত্রে ঠান্ডা পানি ব্যবহারের বিষয়টি জটিল মনে হয়েছে এবং তারা এর তাৎপর্য বুঝতে পারেননি। যদিও তাদের মতের একটি সুন্দর দিক রয়েছে, আর তা হলো—প্রতিদান আমলের ধরন অনুযায়ী হয়। সুতরাং, কেউ যদি তৃষ্ণার্ত ব্যক্তির তৃষ্ণার জ্বালা ঠান্ডা পানি দিয়ে নিভিয়ে দেয়, তবে আল্লাহ তাআলা তার জ্বরের উত্তাপও নিভিয়ে দেবেন উপযুক্ত প্রতিদান হিসেবে। তবে এটি হাদিসের ফিকহ (গভীর অর্থ) ও ইঙ্গিত থেকে গ্রহণ করা যায়, কিন্তু মূলত যা উদ্দেশ্য তা হলো পানির ব্যবহার।

আবু নুআয়ম ও অন্যান্যরা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত একটি মারফু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছানো) হাদিস উল্লেখ করেছেন: "তোমাদের কেউ যখন জ্বরে আক্রান্ত হয়, তখন সে যেন শেষ রাতে টানা তিন রাত তার শরীরে ঠান্ডা পানি ছিটায়।" (২)।

এবং 'সুনানে ইবনে মাজাহ'-তে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "জ্বর হলো জাহান্নামের হাপরের আগুনের একটি অংশ, সুতরাং তোমরা তা ঠান্ডা পানি দিয়ে নিজেদের থেকে দূর করো।" (৩)।

এবং 'মুসনাদ' ও অন্যান্য গ্রন্থে হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে, তিনি সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "জ্বর হলো আগুনের একটি অংশ, তাই তোমরা ঠান্ডা পানি দিয়ে তা শীতল করো।" আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জ্বরে আক্রান্ত হতেন, তখন তিনি একটি পানির মশক আনাতেন এবং তা মাথায় ঢেলে গোসল করতেন। (৪)।
(১) বুখারি 'বাদউল খালক' অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন, এছাড়াও নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মালিক এবং আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন। হাদিসটির অর্থ হলো: জ্বর হলো শরীরের প্রকৃতির তীব্র উত্তাপ, যা শরীরকে কষ্ট দেওয়া এবং গলিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে জাহান্নামের আগুনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এর উদ্দেশ্য হলো, এটি জাহান্নাম থেকে উৎসারিত একটি নমুনা ও সূক্ষ্ম অংশ, যা দেখে বান্দারা শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং সতর্ক হবে; ঠিক যেমন আল্লাহ আনন্দ ও স্বাদ প্রকাশ করেছেন জান্নাতের নিয়ামতের নির্দশন হিসেবে। "তা পানি দিয়ে ঠান্ডা করো" অর্থাৎ পানি দিয়ে এর উত্তাপ প্রশমিত করো, এভাবে যে—রোগীর শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পানি দিয়ে ধুয়ে দেবে এবং তাকে পানি পান করাবে যাতে শীতলতা অর্জিত হয়।

(২) নাসাঈ এবং হাকেম 'মুস্তাদরাক'-এ এটি বর্ণনা করেছেন, তাবারানি এটি 'আল-আওসাত'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।

(৩) ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।

(৪) তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ এবং হাকেম 'আত-তিব্ব' অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন, তেমনিভাবে বাযযার সামুরা ইবনে জুনদুব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন: হাদিসটি সহিহ এবং হাফেজ যাহাবি এটি সমর্থন করেছেন। তবে ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি'-তে বাযযার ও হাকেমের উদ্ধৃতি দিয়ে এবং হাকেম একে সহিহ বলার পর উল্লেখ করেছেন যে, এর সনদে একজন দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে। আর হাইসামি তাবারানির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: এতে ইসমাইল ইবনে মুসলিম রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)। "যখন তোমাদের কেউ জ্বরে আক্রান্ত হয়" অর্থাৎ যখন তাকে জ্বর স্পর্শ করে, যা মূলত চামড়া ও মাংসের মধ্যবর্তী এক প্রকার উত্তাপ।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وَفِي «السُّنَنِ» : مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: ذُكِرَتِ الْحُمَّى عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَبَّهَا رَجُلٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَسُبَّهَا فَإِنَّهَا تَنْفِي الذُّنُوبَ، كَمَا تَنْفِي النَّارُ خَبَثَ الْحَدِيدِ» «1» .

لِمَا كَانَتِ الْحُمَّى يَتْبَعُهَا حِمْيَةٌ عَنِ الْأَغْذِيَةِ الرَّدِيئَةِ، وَتَنَاوُلِ الْأَغْذِيَةِ وَالْأَدْوِيَةِ النَّافِعَةِ، وَفِي ذَلِكَ إعانة على تنقية البدن، ونفي أخبائثه وَفُضُولِهِ، وَتَصْفِيَتِهِ مِنْ مَوَادِّهِ الرَّدِيئَةِ، وَتَفْعَلُ فِيهِ كَمَا تَفْعَلُ النَّارُ فِي الْحَدِيدِ فِي نَفْيِ خَبَثِهِ، وَتَصْفِيَةِ جَوْهَرِهِ، كَانَتْ أَشْبَهَ الْأَشْيَاءِ بِنَارِ الْكِيرِ الَّتِي تُصَفِّي جَوْهَرَ الْحَدِيدِ، وَهَذَا الْقَدْرُ هُوَ الْمَعْلُومُ عِنْدَ أَطِبَّاءِ الْأَبْدَانِ.

وَأَمَّا تَصْفِيَتُهَا الْقَلْبَ مِنْ وَسَخِهِ وَدَرَنِهِ، وَإِخْرَاجَهَا خَبَائِثَهُ، فَأَمْرٌ يَعْلَمُهُ أَطِبَّاءُ الْقُلُوبِ، وَيَجِدُونَهُ كَمَا أَخْبَرَهُمْ بِهِ نَبِيُّهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَكِنْ مَرَضُ الْقَلْبِ إِذَا صَارَ مَأْيُوسًا مِنْ بُرْئِهِ، لَمْ يَنْفَعْ فِيهِ هَذَا الْعِلَاجُ.

فَالْحُمَّى تَنْفَعُ الْبَدَنَ وَالْقَلْبَ، وَمَا كَانَ بِهَذِهِ الْمَثَابَةِ فَسَبُّهُ ظُلْمٌ وَعُدْوَانٌ، وَذَكَرْتُ مَرَّةً وَأَنَا مَحْمُومٌ قول بعض الشعراء يسبّها:

زارت مكفّارة الذُّنُوبِ وَوَدَّعَتْ … تَبًّا لَهَا مِنْ زَائِرٍ وَمُوَدِّعِ

قَالَتْ وَقَدْ عَزَمَتْ عَلَى تَرْحَالِهَا … مَاذَا تُرِيدُ فقلت ألاترجعي

فَقُلْتُ: تَبًّا لَهُ إذْ سَبَّ مَا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عن سبه، ولو قال:

زارت مكفّارة الذُّنُوبِ لِصَبِّهَا … أَهْلًا بِهَا مِنْ زَائِرٍ وَمُوَدِّعِ

قَالَتْ وَقَدْ عَزَمَتْ عَلَى تَرْحَالِهَا … مَاذَا تُرِيدُ فقلت: ألاتقلعي

لَكَانَ أَوْلَى بِهِ، وَلَأَقْلَعَتْ عَنْهُ، فَأَقْلَعَتْ عَنِّي سَرِيعًا. وَقَدْ رُوِيَ فِي أَثَرٍ لَا أَعْرِفُ حَالَهُ «حُمَّى يَوْمٍ كَفَّارَةُ سَنَةٍ» . وَفِيهِ قَوْلَانِ، أحدهما: أن الحمّى تدخل في
(1) أخرجه مسلم في الأدب عن جابر بن عبد الله قال: قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم على أم السائب فقال: مالك تزقزقين؟ «ترتعدين» قالت: الحمى لا بارك الله فيها فقال لا تسبي الحمى فإنها تذهب خطايا بني آدم كما يذهب الكبير خبث الحديد والحديث المذكور في الكتاب أخرجه ابن ماجه وفي سنده موسى بن عبيدة وهو ضعيف. و «الكير» هو منفاخ من زق أو جلد غليظ ذو حافات: والكلام على التشبيه.
এবং ‘সুনান’-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট জ্বরের কথা উল্লেখ করা হলে এক ব্যক্তি একে গালি দিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: “একে গালি দিও না; কারণ এটি গুনাহসমূহকে সেভাবেই দূর করে দেয়, যেভাবে আগুন লোহার মরিচা (বা অপবিত্রতা) দূর করে দেয়।” (১)

যেহেতু জ্বরের অনুগামী হিসেবে ক্ষতিকর খাদ্য থেকে परहेज (হিময়াহ) এবং উপকারী খাদ্য ও ওষুধ গ্রহণ করতে হয়, আর এর মধ্যে শরীরকে পরিচ্ছন্ন করার, এর দূষিত পদার্থ ও উচ্ছিষ্ট দূর করার এবং মন্দ উপাদানগুলো থেকে একে নির্মল করার ক্ষেত্রে সহায়তা রয়েছে; এবং এটি শরীরের অভ্যন্তরে তেমন কাজই করে যেমনটি আগুন লোহার মরিচা দূর করতে এবং এর মূল সত্তাকে পরিশোধিত করতে কাজ করে; তাই এটি কামারের হাপরের আগুনের সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ যা লোহার সারবস্তুকে বিশুদ্ধ করে। আর এই বিষয়টি শারীরিক চিকিৎসকদের নিকট সুপরিচিত।

আর হৃদয়ের কলুষতা ও ময়লা থেকে একে মুক্ত করা এবং এর মধ্যকার অপবিত্রতা বের করে দেওয়ার বিষয়টি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞগণ (আধ্যাত্মিক চিকিৎসক) জানেন এবং তারা এটি সেভাবেই অনুভব করেন যেভাবে তাদের নবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের অবহিত করেছেন। তবে হৃদরোগ যখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে তার আর আরোগ্যের আশা থাকে না, তখন এই চিকিৎসা সেখানে কোনো উপকারে আসে না।

সুতরাং জ্বর শরীর ও হৃদয়ের জন্য উপকারী। এমতাবস্থায় যা এই গুণের অধিকারী, তাকে গালি দেওয়া জুলুম ও সীমালঙ্ঘন। একবার আমি যখন জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম, তখন কোনো এক কবির কথা স্মরণ করলাম যে একে গালি দিয়ে বলেছিল:

গুনাহ মোচনকারী (জ্বর) সাক্ষাত করতে এলো এবং বিদায় নিল... দুর্ভোগ সেই সাক্ষাৎকারী ও বিদায় গ্রহণকারীর জন্য।

সে যখন প্রস্থানের সংকল্প করল তখন বলল: তুমি কী চাও? আমি বললাম: তুমি যেন আর ফিরে না আসো।

আমি বললাম: তার জন্য ধ্বংস! কেননা সে সেই জিনিসকে গালি দিয়েছে যা গালি দিতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষেধ করেছেন। সে যদি এমনটি বলত:

গুনাহ মোচনকারী (জ্বর) তার প্রেমিকের সান্নিধ্যে এলো... স্বাগতম সেই সাক্ষাৎকারী ও বিদায় গ্রহণকারীকে।

সে যখন প্রস্থানের সংকল্প করল তখন বলল: তুমি কী চাও? আমি বললাম: যেন তুমি ছেড়ে না যাও (পুরোপুরি সুস্থ না করা পর্যন্ত)।

তবে এটিই তার জন্য অধিকতর সমীচীন হতো এবং তা তাকে ছেড়ে চলে যেত; আর এটি দ্রুত আমাকেও ছেড়ে চলে গেল। একটি বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে—যার নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই—যে, “একদিনের জ্বর এক বছরের কাফফারা (গুনাহ মোচনকারী)।” এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে, যার একটি হলো: জ্বর শরীরে প্রবেশ করে...
(১) ইমাম মুসলিম ‘শিষ্টাচার’ (আদব) অধ্যায়ে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মে সায়িবের নিকট প্রবেশ করে বললেন: তোমার কী হয়েছে যে তুমি কাঁপছ? তিনি বললেন: জ্বর, আল্লাহ এতে বরকত না দিন। তখন তিনি বললেন: জ্বরকে গালি দিও না, কারণ এটি বনী আদমের গুনাহসমূহ এমনভাবে দূর করে দেয় যেমন কামারের হাপর লোহার মরিচা দূর করে। আর কিতাবে উল্লিখিত হাদিসটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে মুসা ইবনে উবাইদাহ নামক একজন রাবী রয়েছেন যিনি দুর্বল। আর ‘আল-কীর’ হলো চামড়ার তৈরি হাপর যা দিয়ে আগুন ফুঁকানো হয়। এখানে উপমা হিসেবে কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢٦)
كُلِّ الْأَعْضَاءِ وَالْمَفَاصِلِ، وَعِدَّتُهَا ثَلَاثُمِائَةٍ وَسِتُّونَ مَفْصِلًا، فَتُكَفِّرُ عَنْهُ- بِعَدَدِ كُلِّ مَفْصِلٍ- ذُنُوبَ يَوْمٍ. وَالثَّانِي: أَنَّهَا تُؤَثِّرُ فِي الْبَدَنِ تَأْثِيرًا لَا يَزُولُ بِالْكُلِّيَّةِ إِلَى سَنَةٍ، كَمَا قِيلَ فِي قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ شَرِبَ الْخَمْرَ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلَاةٌ أَرْبَعِينَ يَوْمًا» «1» . إِنَّ أَثَرَ الْخَمْرِ يَبْقَى فِي جَوْفِ الْعَبْدِ، وَعُرُوقِهِ، وَأَعْضَائِهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

قَالَ أبو هريرة: ما من مرض يصيا بني أَحَبَّ إلَيَّ مِنَ الْحُمَّى، لِأَنَّهَا تَدْخُلُ فِي كُلِّ عُضْوٍ مِنِّي، وَإِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ يُعْطِي كُلَّ عُضْوٍ حَظَّهُ مِنَ الْأَجْرِ.

وَقَدْ رَوَى الترمذي فِي «جَامِعِهِ» مِنْ حَدِيثِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ يَرْفَعُهُ: «إِذَا أَصَابَتْ أَحَدَكُمُ الْحُمَّى- وَإِنَّ الْحُمَّى قِطْعَةٌ مِنَ النَّارِ فَلْيُطْفِئْهَا بِالْمَاءِ الْبَارِدِ، وَيَسْتَقْبِلْ نَهَرًا جَارِيًا، فَلْيَسْتَقْبِلْ جَرْيَةَ الْمَاءِ بَعْدَ الْفَجْرِ وَقَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ، وَلْيَقُلْ: بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ، وَصَدِّقْ رَسُولَكَ، وَيَنْغَمِسُ فِيهِ ثلاث غمسات ثلاثة أيام، فإن برىء، وَإِلَّا فَفِي خَمْسٍ، فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي خَمْسٍ، فَسَبْعٌ، فَإِنْ لَمْ يَبْرَأْ فِي سَبْعٍ فَتِسْعٌ، فَإِنَّهَا لَا تَكَادُ تُجَاوِزُ تِسْعًا بِإِذْنِ اللَّهِ» «2» .

قُلْتُ: وَهُوَ يَنْفَعُ فِعْلُهُ فِي فَصْلِ الصَّيْفِ فِي الْبِلَادِ الْحَارَّةِ عَلَى الشَّرَائِطِ الَّتِي تَقَدَّمَتْ، فَإِنَّ الْمَاءَ فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ أَبْرَدُ مَا يَكُونُ لِبُعْدِهِ عَنْ مُلَاقَاةِ الشَّمْسِ، وَوُفُورِ الْقُوَى فِي ذَلِكَ الْوَقْتِ لَمَّا أَفَادَهَا النَّوْمُ، وَالسُّكُونُ، وَبَرْدُ الْهَوَاءِ، فَتَجْتَمِعُ فِيهِ قُوَّةُ الْقُوَى، وَقُوَّةُ الدَّوَاءِ، وَهُوَ الْمَاءُ الْبَارِدُ عَلَى حَرَارَةِ الْحُمَّى الْعَرَضِيَّةِ، أَوِ الْغِبِّ الْخَالِصَةِ، أَعْنِي الَّتِي لَا وَرَمَ مَعَهَا، وَلَا شَيْءَ مِنَ الْأَعْرَاضِ الرَّدِيئَةِ وَالْمَوَادِّ الْفَاسِدَةِ، فَيُطْفِئُهَا بِإِذْنِ اللَّهِ، لَا سِيِّمَا فِي أَحَدِ الْأَيَّامِ الْمَذْكُورَةِ فِي الْحَدِيثِ، وَهِيَ الْأَيَّامُ الَّتِي يَقَعُ فِيهَا بُحْرَانُ الْأَمْرَاضِ الْحَادَّةِ كَثِيرًا، سِيِّمَا فِي الْبِلَادِ الْمَذْكُورَةِ لِرِقَّةِ أَخْلَاطِ سُكَّانِهَا، وَسُرْعَةِ انْفِعَالِهِمْ عَنِ الدِّوَاءِ النَّافِعِ.
(1) أخرجه الترمذي والنسائي وابن ماجه من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص وإساده صحيح وصححه الحاكم ووافقه الذهبي على ذلك.

(2) أخرجه الترمذي من حديث ثوبان وليس من حديث رافع بن بخديج كما ذكره المصنف وأخرجه الإمام أحمد.
সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং জোড়সমূহ, আর এর সংখ্যা হলো তিনশত ষাটটি জোড়। ফলে এটি তার পক্ষ থেকে—প্রতিটি জোড়ের সংখ্যা অনুযায়ী—একদিনের গুনাহ মোচন করে দেয়। দ্বিতীয়ত: এটি শরীরের ওপর এমন প্রভাব ফেলে যা এক বছর পর্যন্ত পুরোপুরি দূরীভূত হয় না; যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী সম্পর্কে বলা হয়েছে: "যে ব্যক্তি মদ পান করবে, তার চল্লিশ দিনের সালাত কবুল হবে না" [১]। নিশ্চয়ই মদের প্রভাব বান্দার পেট, শিরা-উপশিরা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে চল্লিশ দিন পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমার কাছে জ্বরের চেয়ে প্রিয় কোনো রোগ নেই, কারণ এটি আমার প্রতিটি অঙ্গে প্রবেশ করে, আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রতিটি অঙ্গকে তার প্রাপ্য সওয়াব দান করেন।

ইমাম তিরমিযী তার 'জামে' গ্রন্থে রাফে ইবনে খাদীজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের কারো যখন জ্বর হয়—আর জ্বর হলো জাহান্নামের আগুনের একটি অংশ—সে যেন শীতল পানির মাধ্যমে তা নির্বাপিত করে। সে যেন কোনো প্রবাহিত নদীর অভিমুখী হয় এবং ফজরের পর ও সূর্যোদয়ের আগে পানির প্রবাহের দিকে মুখ করে দাঁড়ায়। আর সে যেন বলে: 'আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আপনার বান্দাকে আরোগ্য দান করুন এবং আপনার রাসূলকে সত্যয়ন করুন।' এরপর সে যেন তাতে তিন দিন তিনবার ডুব দেয়। যদি সে সুস্থ হয়ে যায় তবে ভালো, অন্যথায় পাঁচ দিন। যদি পাঁচ দিনে সুস্থ না হয়, তবে সাত দিন। আর যদি সাত দিনেও সুস্থ না হয়, তবে নয় দিন। কেননা আল্লাহর ইচ্ছায় এটি সাধারণত নয় দিনের বেশি অতিবাহিত হয় না" [২]।

আমি বলি: উল্লিখিত শর্তাবলি সাপেক্ষে গ্রীষ্মকালে উষ্ণ দেশগুলোতে এই আমলটি করা উপকারী। কারণ সেই সময়ে পানি সূর্যের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকার কারণে সবচেয়ে বেশি শীতল থাকে। এছাড়া ঘুম, প্রশান্তি এবং শীতল বাতাসের কারণে সেই সময়ে শারীরিক শক্তিও পর্যাপ্ত থাকে। ফলে সেখানে শারীরিক শক্তি এবং ওষুধের শক্তি—যা হলো শীতল পানি—একীভূত হয়ে আকস্মিক জ্বর বা বিশুদ্ধ পর্যায়ক্রমিক জ্বরের (হুম্মা আল-গিব) উত্তাপের বিরুদ্ধে কাজ করে। অর্থাৎ যে জ্বরের সাথে কোনো ফোলা বা মন্দ উপসর্গ এবং দূষিত পদার্থ থাকে না। ফলে আল্লাহর হুকুমে এটি নিভে যায়, বিশেষ করে হাদীসে উল্লিখিত দিনগুলোতে। আর এগুলি এমন দিন যখন তীব্র রোগব্যাধির সংকটকাল (বুহরান) প্রায়ই দেখা দেয়, বিশেষ করে উল্লিখিত দেশগুলোতে, কারণ সেখানকার বাসিন্দাদের শারীরিক উপাদানসমূহ (আখলাত) পাতলা হয়ে থাকে এবং উপকারী ওষুধের প্রতি তাদের দ্রুত প্রতিক্রিয়া ঘটে।
(১) তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদ সহীহ এবং হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।

(২) তিরমিযী এটি সাওবান-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, রাফে ইবনে খাদীজ-এর হাদীস থেকে নয়, যেমনটি লেখক উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ইমাম আহমদও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ فِي عِلَاجِ اسْتِطْلَاقِ الْبَطْنِ

فِي «الصَّحِيحَيْنِ» : مِنْ حَدِيثِ أبي المتوكل، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: إِنَّ أَخِي يَشْتَكِي بَطْنَهُ، وَفِي رِوَايَةٍ: اسْتَطْلَقَ بَطْنُهُ، فَقَالَ: «اسْقِهِ عَسَلًا» ، فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ، فَقَالَ: قَدْ سَقَيْتُهُ، فَلَمْ يُغْنِ عَنْهُ شَيْئًا. وَفِي لَفْظٍ: فَلَمْ يَزِدْهُ إِلَّا اسْتِطْلَاقًا مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، كُلُّ ذَلِكَ يَقُولُ لَهُ:

«اسْقِهِ عَسَلًا» ، فَقَالَ لَهُ فِي الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ: «صَدَقَ اللَّهُ، وَكَذَبَ بَطْنُ أَخِيكَ» «1» .

وَفِي «صَحِيحِ مسلم» فِي لَفْظٍ لَهُ: «إِنَّ أَخِي عَرِبَ بَطْنُهُ» ، أَيْ فَسَدَ هَضْمُهُ، وَاعْتَلَّتْ مَعِدَتُهُ، وَالِاسْمُ الْعَرَبُ بِفَتْحِ الرَّاءِ، وَالذَّرَبُ أَيْضًا.

وَالْعَسَلُ فِيهِ مَنَافِعُ عَظِيمَةٌ، فَإِنَّهُ جَلَاءٌ لِلْأَوْسَاخِ الَّتِي فِي الْعُرُوقِ وَالْأَمْعَاءِ وَغَيْرِهَا، مُحَلِّلٌ لِلرُّطُوبَاتِ أَكْلًا وَطِلَاءً، نَافِعٌ لِلْمَشَايِخِ وَأَصْحَابِ الْبَلْغَمِ، وَمَنْ كَانَ مِزَاجُهُ بَارِدًا رَطْبًا، وَهُوَ مُغَذٍّ مُلَيِّنٌ لِلطَّبِيعَةِ، حَافِظٌ لِقُوَى الْمَعَاجِينِ وَلِمَا اسْتُودِعَ فِيهِ، مُذْهِبٌ لِكَيْفِيَّاتِ الْأَدْوِيَةِ الْكَرِيهَةِ، مُنَقٍّ لِلْكَبِدِ وَالصَّدْرِ، مُدِرٌّ لِلْبَوْلِ، مُوَافِقٌ لِلسُّعَالِ الْكَائِنِ عَنِ الْبَلْغَمِ، وَإِذَا شُرِبَ حَارًّا بِدُهْنِ الْوَرْدِ، نَفَعَ مِنْ نَهْشِ الْهَوَامِّ، وَشُرْبِ الْأَفْيُونِ، وَإِنْ شُرِبَ وَحْدَهُ مَمْزُوجًا بِمَاءٍ نَفَعَ مِنْ عَضَّةِ الْكَلْبِ الْكَلِبِ، وَأَكْلِ الْفِطْرِ» «2» الْقَتَّالِ، وَإِذَا جُعِلَ فِيهِ اللَّحْمُ الطَّرِيُّ، حَفِظَ طَرَاوَتَهُ ثَلَاثَةَ أَشْهُرٍ، وَكَذَلِكَ إِنْ جُعِلَ فِيهِ الْقِثَّاءُ، وَالْخِيَارُ، وَالْقَرْعُ، وَالْبَاذِنْجَانُ، وَيَحْفَظُ كَثِيرًا مِنَ الْفَاكِهَةِ سِتَّةَ أَشْهُرٍ، وَيَحْفَظُ جُثَّةَ الْمَوْتَى، وَيُسَمَّى الْحَافِظَ الْأَمِينَ. وَإِذَا لُطِّخَ بِهِ الْبَدَنُ الْمُقَمِّلُ وَالشَّعْرُ، قَتَلَ قَمْلَهُ وَصِئْبَانَهُ، وَطَوَّلَ الشَّعْرَ، وَحَسَّنَهُ، وَنَعَّمَهُ، وَإِنِ اكْتُحِلَ بِهِ، جَلَا ظُلْمَةَ الْبَصَرِ، وَإِنِ اسْتُنَّ بِهِ، بَيَّضَ الْأَسْنَانَ وَصَقَلَهَا، وَحَفِظَ صِحَّتَهَا، وَصِحَّةَ اللَّثَةِ، وَيَفْتَحُ أَفْوَاهَ الْعُرُوقِ، وَيُدِرُّ الطَّمْثَ، وَلَعْقُهُ على الريق
(1) أخرجه البخاري في الطب ومسلم في السلام.

(2) «الفطر» ضرب من الكمشأة قتّال. قاموس.
উদরাময় নিরাময়ে নবী করীম (সা.)-এর নির্দেশিকা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

'সহীহাইন' (বুখারী ও মুসলিম)-এ আবু মুতাওয়াক্কিল থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর নিকট এসে বললেন: "আমার ভাই পেটের পীড়ায় ভুগছেন।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "তার পেট নির্গত হচ্ছে (অর্থাৎ ডায়রিয়া হয়েছে)।" তখন তিনি (সা.) বললেন: "তাকে মধু পান করাও।" অতঃপর লোকটি চলে গেল এবং পুনরায় ফিরে এসে বলল: "আমি তাকে মধু পান করিয়েছি, কিন্তু তাতে কোনো উপকার হয়নি।" অন্য শব্দে বর্ণিত আছে: "এতে তার উদরাময় কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে।" এভাবে দুই বা তিনবার ঘটল এবং প্রতিবারই তিনি (সা.) তাকে বলছিলেন:

"তাকে মধু পান করাও।" অতঃপর তৃতীয় বা চতুর্থবার তিনি (সা.) তাকে বললেন: "আল্লাহ সত্য বলেছেন, আর তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলেছে।" (১)

'সহীহ মুসলিম'-এর এক বর্ণনায় রয়েছে: "আমার ভাইয়ের পরিপাকতন্ত্র বিকল (আরিবাত) হয়ে পড়েছে," অর্থাৎ তার হজমক্রিয়া নষ্ট হয়ে গেছে এবং পাকস্থলী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। (আরবিতে) 'রা' বর্ণে ফাতহাহ দিয়ে একে 'আরাব' (Arab) এবং 'যারাব' (Zarab)-ও বলা হয়।

মধুর মধ্যে রয়েছে প্রভূত উপকারিতা। এটি শিরা-উপশিরা, অন্ত্র এবং শরীরের অন্যান্য অংশে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে। এটি আহার হিসেবে গ্রহণ করলে বা প্রলেপ হিসেবে ব্যবহার করলে আর্দ্রতা (দূষিত পদার্থ) দূর করে। এটি বৃদ্ধদের জন্য এবং যাদের শরীরে শ্লেষ্মার (বলগম) আধিক্য রয়েছে কিংবা যাদের মেজাজ শীতল ও আর্দ্র প্রকৃতির, তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মধু পুষ্টিকর এবং প্রাকৃতিকভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূরকারী। এটি বিভিন্ন ভেষজ মন্ড (মা'জুন) এবং এর ভেতর সংরক্ষিত বস্তুসমূহের কার্যকারিতা অক্ষুণ্ণ রাখে। এটি ওষুধের কটু স্বাদ ও গুণাগুণ দূর করে। এটি যকৃৎ (লিভার) ও বুক পরিষ্কার করে, মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং শ্লেষ্মাজনিত কাশির জন্য অত্যন্ত উপযোগী। যখন এটি গোলাপ তেলের সাথে মিশিয়ে গরম অবস্থায় পান করা হয়, তখন তা বিষাক্ত পোকামাকড়ের কামড় এবং আফিম পানের বিষক্রিয়ায় উপকার দেয়। আর যদি এটি পানির সাথে মিশিয়ে একা পান করা হয়, তবে তা জলাতঙ্ক কুকুরের কামড় এবং বিষাক্ত মাশরুম (ফিত্র) ভক্ষণের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। (২) যখন মধুতে কাঁচা মাংস রাখা হয়, তখন তা তিন মাস পর্যন্ত সতেজ থাকে। একইভাবে এটি কাঁকুড়, শসা, লাউ ও বেগুনকেও সতেজ রাখে। এটি অনেক ফলমূল ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষিত রাখতে পারে এবং এমনকি মৃতদেহকেও পচন থেকে রক্ষা করে; একারণে একে 'নির্ভরযোগ্য সংরক্ষক' (আল-হাফিজ আল-আমিন) বলা হয়। উকুনে আক্রান্ত শরীর বা চুলে মধু মাখলে তা উকুন ও এর ডিম ধ্বংস করে, চুল লম্বা করে এবং একে সুন্দর ও মসৃণ করে। সুরমা হিসেবে চোখে লাগালে এটি দৃষ্টিশক্তির অস্পষ্টতা দূর করে। এটি দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত সাদা ও উজ্জ্বল হয়, দাঁত ও মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা পায়। এটি রক্তনালীর মুখ উন্মুক্ত করে এবং ঋতুস্রাব প্রবাহিত করে। খালি পেটে মধু সেবন করা...
(১) ইমাম বুখারী 'চিকিৎসা' অধ্যায়ে এবং মুসলিম 'সালাম' অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) 'ফিত্র' হলো এক ধরনের বিষাক্ত মাশরুম। (কামুস)।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
يُذْهِبُ الْبَلْغَمَ، وَيَغْسِلُ خَمْلَ الْمَعِدَةِ، وَيَدْفَعُ الْفَضَلَاتِ عَنْهَا، وَيُسَخِّنُهَا تَسْخِينًا مُعْتَدِلًا، وَيَفْتَحُ سُدَدَهَا، وَيَفْعَلُ ذَلِكَ بِالْكَبِدِ وَالْكُلَى وَالْمَثَانَةِ، وَهُوَ أَقَلُّ ضَرَرًا لِسُدَدِ الْكَبِدِ وَالطِّحَالِ مِنْ كُلِّ حُلْوٍ.

وَهُوَ مَعَ هَذَا كُلِّهِ مَأْمُونُ الْغَائِلَةِ، قَلِيلُ الْمَضَارِّ، مُضِرٌّ بِالْعَرَضِ لِلصَّفْرَاوِيِّينَ، وَدَفْعُهَا بِالْخَلِّ وَنَحْوِهِ، فَيَعُودُ حِينَئِذٍ نَافِعًا لَهُ جِدًّا.

وَهُوَ غِذَاءٌ مَعَ الْأَغْذِيَةِ، وَدَوَاءٌ مَعَ الْأَدْوِيَةِ، وَشَرَابٌ مَعَ الْأَشْرِبَةِ، وَحُلْوٌ مَعَ الْحَلْوَى، وَطِلَاءٌ مَعَ الْأطْلِيَةِ، وَمُفَرِّحٌ مع المفرّحات، فما خلق شَيْءٌ فِي مَعْنَاهُ أَفْضَلُ مِنْهُ، وَلَا مِثْلُهُ، ولا قريبا مِنْهُ، وَلَمْ يَكُنْ مُعَوَّلُ الْقُدَمَاءِ إِلَّا عَلَيْهِ، وَأَكْثَرُ كُتُبِ الْقُدَمَاءِ لَا ذِكْرَ فِيهَا لِلسُّكَّرِ الْبَتَّةَ، وَلَا يَعْرِفُونَهُ، فَإِنَّهُ حَدِيثُ الْعَهْدِ حَدَثَ قَرِيبًا، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يشر به بِالْمَاءِ عَلَى الرِّيقِ، وَفِي ذَلِكَ سِرٌّ بَدِيعٌ فِي حِفْظِ الصِّحَّةِ لَا يُدْرِكُهُ إِلَّا الْفَطِنُ الْفَاضِلُ، وَسَنَذْكُرُ ذَلِكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ عِنْدَ ذِكْرِ هَدْيِهِ فِي حِفْظِ الصِّحَّةِ.

وَفِي «سُنَنِ ابْنِ مَاجَهْ» مَرْفُوعًا مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ: «مَنْ لَعِقَ الْعَسَلَ ثَلَاثَ غَدَوَاتٍ كُلَّ شَهْرٍ، لَمْ يُصِبْهُ عَظِيمٌ مِنَ الْبَلَاءِ» «1» ، وَفِي أَثَرٍ آخَرَ: «عَلَيْكُمْ بِالشِّفَاءَيْنِ: الْعَسَلِ وَالْقُرْآنِ» «2» . فَجَمَعَ بَيْنَ الطِّبِّ الْبَشَرِيِّ وَالْإِلَهِيِّ، وَبَيْنَ طِبِّ الْأَبْدَانِ، وَطِبِّ الْأَرْوَاحِ، وَبَيْنَ الدَّوَاءِ الْأَرْضِيِّ وَالدَّوَاءِ السَّمَائِيِّ.

إذَا عُرِفَ هَذَا، فَهَذَا الَّذِي وَصَفَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْعَسَلَ، كَانَ اسْتِطْلَاقُ بَطْنِهِ عَنْ تُخَمَةٍ أَصَابَتْهُ عَنِ امْتِلَاءٍ، فَأَمَرَهُ بِشُرْبِ الْعَسَلِ لِدَفْعِ الْفُضُولِ الْمُجْتَمِعَةِ فِي نَوَاحِي الْمَعِدَةِ وَالْأَمْعَاءِ، فَإِنَّ الْعَسَلَ فِيهِ جِلَاءٌ، وَدَفْعٌ لِلْفُضُولِ، وَكَانَ قَدْ أَصَابَ الْمَعِدَةَ أَخْلَاطٌ لَزِجَةٌ، تَمْنَعُ اسْتِقْرَارَ الْغِذَاءِ فِيهَا لِلُزُوجَتِهَا، فَإِنَّ الْمَعِدَةَ لَهَا خَمْلٌ كَخَمْلِ الْقَطِيفَةِ، فَإِذَا عَلِقَتْ بِهَا الْأَخْلَاطُ اللَّزِجَةُ، أَفْسَدَتْهَا وَأَفْسَدَتِ الْغِذَاءَ، فَدَوَاؤُهَا بِمَا يَجْلُوهَا مِنْ تِلْكَ الْأَخْلَاطِ، وَالْعَسَلُ جِلَاءٌ، وَالْعَسَلُ مِنْ أَحْسَنِ مَا عُولِجَ بِهِ هَذَا الدَّاءُ، لا سيما إن مزج بالماء الحار.
(1) «من لعق العسل» وتخصيص الثلاث لسر علمه الشارع. والعسل يذكر ويؤنث، وأسماؤه تزيد على المائة. وأخرج الحديث ابن ماجه عن أبي هريرة. وأورده ابن الجوزي في الموضوعات. وقال العقيلي: ليس لهذا الحديث أصل.

(2) أخرجه ابن ماجه والحاكم في الطب عن ابن مسعود. قال الحاكم: صحيح على شرطهما أي البخاري ومسلم. وقال البيهقي في الشعب: صحيح موقوف على ابن مسعود
এটি কফ (বলগাম) দূর করে, পাকস্থলীর প্রলেপ ধৌত করে, এর বর্জ্য অপসারণ করে এবং একে পরিমিতভাবে উষ্ণ করে। এটি পাকস্থলীর প্রতিবন্ধকতাগুলো খুলে দেয় এবং যকৃৎ, কিডনি ও মূত্রথলির ক্ষেত্রেও অনুরূপ কাজ করে। যকৃৎ ও প্লীহার প্রতিবন্ধকতা দূর করার ক্ষেত্রে এটি যে কোনো মিষ্টিজাতীয় দ্রব্যের তুলনায় কম ক্ষতিকর।

এতসব গুণ থাকা সত্ত্বেও এটি বিপদমুক্ত ও এর অপকারিতা অতি সামান্য। পিত্তপ্রধান (সাফরাওয়ি) ব্যক্তিদের জন্য এটি পরোক্ষভাবে কিছুটা ক্ষতিকর হতে পারে, তবে সিরকা বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে সেই ক্ষতি দূর করা যায়; তখন এটি তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়ে ওঠে।

এটি খাদ্যের সাথে খাদ্য, ওষুধের সাথে ওষুধ, পানীয়ের সাথে পানীয়, মিষ্টান্নের সাথে মিষ্টান্ন, প্রলেপের সাথে প্রলেপ এবং প্রশান্তিদায়কের সাথে প্রশান্তিদায়ক হিসেবে গণ্য। এর সমগুণসম্পন্ন কিংবা এর কাছাকাছি উপকারী আর কোনো কিছুই সৃষ্টি করা হয়নি। প্রাচীন চিকিৎসকদের প্রধান নির্ভরতা ছিল কেবল এরই ওপর। প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্রের অধিকাংশ কিতাবে চিনির কোনো উল্লেখই পাওয়া যায় না এবং তারা এটি চিনতেনও না; কেননা চিনি একটি আধুনিক উদ্ভাবন। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খালি পেটে পানির সাথে মধু মিশিয়ে পান করতেন। স্বাস্থ্য রক্ষায় এর মাঝে এক অনন্য রহস্য নিহিত রয়েছে যা কেবল প্রজ্ঞাবান ও গুণী ব্যক্তিরাই অনুধাবন করতে পারেন। সুস্বাস্থ্য রক্ষায় নববী নির্দেশনা আলোচনার সময় ইনশাআল্লাহ আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করব।

'সুনানে ইবনে মাজাহ'-তে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি প্রতি মাসে তিন দিন সকালে মধু চাটবে, তাকে কোনো বড় ধরনের ব্যাধি স্পর্শ করবে না।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "তোমরা দুটি আরোগ্যকারী মাধ্যমকে গ্রহণ করো: মধু এবং কুরআন।" এভাবে এখানে মানবীয় ও ঐশী চিকিৎসা, শারীরিক ও আত্মিক চিকিৎসা এবং পার্থিব ও আসমানি ওষুধের সমন্বয় ঘটেছে।

বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর বোঝা যায় যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যার জন্য মধুর ব্যবস্থাপত্র দিয়েছিলেন, তার উদরাময় বা পেটের অসুখ হয়েছিল অতিভোজনজনিত বদহজমের কারণে। তাই তিনি পাকস্থলী ও অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য তাকে মধু পানের নির্দেশ দেন। কেননা মধুর মধ্যে পরিষ্কার করার ও বর্জ্য দূর করার ক্ষমতা রয়েছে। তখন সেই ব্যক্তির পাকস্থলীতে কিছু আঠালো উপাদান (আখলাত) জমা হয়েছিল, যা আঠালো হওয়ার কারণে সেখানে খাবার স্থির হতে দিচ্ছিল না। পাকস্থলীর অভ্যন্তরে ভেলভেটের মতো সূক্ষ্ম রোমশ স্তর থাকে; যখন সেখানে আঠালো উপাদানগুলো লেগে যায়, তখন তা পাকস্থলী ও খাদ্য উভয়কেই বিকৃত করে দেয়। এর প্রতিকার হলো এমন কিছু যা ওই আঠালো উপাদানগুলোকে পরিষ্কার করে দেবে। মধু একটি চমৎকার পরিষ্কারক এবং এই রোগের চিকিৎসায় এটি সর্বোত্তম উপাদান, বিশেষ করে যখন তা গরম পানির সাথে মিশ্রিত হয়।
(১) "যে ব্যক্তি মধু চাটবে" - তিনবার নির্দিষ্ট করার পেছনে এমন রহস্য রয়েছে যা শরিয়ত প্রণেতাই ভালো জানেন। মধু শব্দটি পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয় এবং এর নাম একশ’রও অধিক। ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আল-জাওজি একে জাল (মাওজু) হাদিসসমূহের কিতাবে উল্লেখ করেছেন। উকাইলি বলেছেন: এই হাদিসের কোনো ভিত্তি নেই।

(২) ইবনে মাজাহ এবং হাকেম চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যায়ে ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন: এটি বুখারি ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ। বায়হাকি 'শুআব' গ্রন্থে বলেছেন: এটি ইবনে মাসউদ (রা.)-এর ওপর মওকুফ হিসেবে সহিহ।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وَفِي تَكْرَارِ سَقْيِهِ الْعَسَلَ مَعْنًى طِبِّيٌّ بَدِيعٌ، وَهُوَ أَنَّ الدِّوَاءَ يَجِبُ أَنْ يَكُونَ لَهُ مِقْدَارٌ، وَكَمِّيَّةٌ بِحَسْبِ حَالِ الدَّاءِ، إِنْ قَصَرَ عَنْهُ، لَمْ يُزِلْهُ بِالْكُلِّيَّةِ، وَإِنْ جَاوَزَهُ، أَوْهَى الْقُوَى، فَأَحْدَثَ ضَرَرًا آخَرَ، فَلَمَّا أَمَرَهُ أَنْ يَسْقِيَهُ الْعَسَلَ، سَقَاهُ مِقْدَارًا لَا يَفِي بِمُقَاوَمَةِ الدَّاءِ، وَلَا يَبْلُغُ الْغَرَضَ، فَلَمَّا أَخْبَرَهُ، عَلِمَ أَنَّ الَّذِي سَقَاهُ لَا يَبْلُغُ مِقْدَارَ الْحَاجَةِ، فَلَمَّا تَكَرَّرَ تَرْدَادُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؛ أَكَّدَ عَلَيْهِ الْمُعَاوَدَةَ لِيَصِلَ إِلَى الْمِقْدَارِ الْمُقَاوِمِ لِلدَّاءِ، فَلَمَّا تَكَرَّرَتِ الشَّرَبَاتُ بِحَسْبِ مَادَّةِ الدَّاءِ، بَرَأَ، بِإِذْنِ اللَّهِ، وَاعْتِبَارُ مَقَادِيرِ الأدوية، وكيفياتها، ومقدار قوة المرض والمريض مِنْ أَكْبَرِ قَوَاعِدِ الطِّبِّ.

وَفِي قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «صَدَقَ اللَّهُ وَكَذَبَ بَطْنُ أَخِيكَ» ، إشَارَةٌ إِلَى تَحْقِيقِ نَفْعِ هَذَا الدَّوَاءِ، وَأَنَّ بَقَاءَ الدَّاءِ لَيْسَ لِقُصُورِ الدَّوَاءِ فِي نَفْسِهِ، وَلَكِنْ لِكَذِبِ الْبَطْنِ، وَكَثْرَةِ الْمَادَّةِ الْفَاسِدَةِ فِيهِ، فَأَمَرَهُ بِتَكْرَارِ الدَّوَاءِ لِكَثْرَةِ الْمَادَّةِ.

وَلَيْسَ طبّه صلى الله عليه وسلم كطبّ الأباء، فَإِنَّ طِبَّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُتَيَقَّنٌ قَطْعِيٌّ إلَهِيٌّ، صَادِرٌ عَنِ الْوَحْيِ، وَمِشْكَاةِ النُّبُوَّةِ، وَكَمَالِ الْعَقْلِ. وَطِبُّ غَيْرِهِ، أَكْثَرُهُ حَدْسٌ وَظُنُونٌ، وَتَجَارِبُ، وَلَا يُنْكَرُ عَدَمُ انْتِفَاعِ كَثِيرٍ مِنَ الْمَرْضَى بِطِبِّ النُّبُوَّةِ، فَإِنَّهُ إِنِّمَا يَنْتَفِعُ بِهِ مَنْ تَلَقَّاهُ بِالْقَبُولِ، وَاعْتِقَادِ الشِّفَاءِ بِهِ، وَكَمَالُ التَّلَقِّي لَهُ بِالْإِيمَانِ وَالْإِذْعَانِ، فَهَذَا الْقُرْآنُ الَّذِي هُوَ شِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ- إِنْ لَمْ يُتَلَقَّ هَذَا التَّلَقِّيَ- لَمْ يَحْصُلْ بِهِ شِفَاءُ الصُّدُورِ مِنْ أَدْوَائِهَا، بَلْ لَا يَزِيدُ الْمُنَافِقِينَ إِلَّا رِجْسًا إِلَى رِجْسِهِمْ، وَمَرَضًا إِلَى مَرَضِهِمْ، وَأَيْنَ يَقَعُ طِبُّ الْأَبْدَانِ مِنْهُ، فَطِبُّ النُّبُوَّةِ لَا يُنَاسِبُ إِلَّا الْأَبْدَانَ الطَّيِّبَةَ، كَمَا أَنَّ شِفَاءَ الْقُرْآنِ لَا يُنَاسِبُ إِلَّا الْأَرْوَاحَ الطَّيِّبَةَ وَالْقُلُوبَ الْحَيَّةَ، فَإِعْرَاضُ النَّاسِ عَنْ طِبِّ النُّبُوَّةِ كَإِعْرَاضِهِمْ عَنِ الِاسْتِشْفَاءِ بِالْقُرْآنِ الَّذِي هُوَ الشِّفَاءُ النَّافِعُ، وَلَيْسَ ذَلِكَ لِقُصُورٍ فِي الدَّوَاءِ، وَلَكِنْ لِخُبْثِ الطَّبِيعَةِ، وَفَسَادِ الْمَحَلِّ، وَعَدَمِ قَبُولِهِ، والله الموفق.

 

‌‌فَصْلٌ

وَقَدِ اخْتَلَفَ النَّاسُ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِها شَرابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوانُهُ
তাকে বারবার মধু পান করানোর মধ্যে একটি চমৎকার চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক রহস্য নিহিত রয়েছে। তা হলো, রোগের অবস্থা অনুযায়ী ওষুধের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা ও পরিমাণ থাকা আবশ্যক। যদি মাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে কম হয়, তবে তা রোগকে পুরোপুরি নির্মূল করতে পারে না। আর যদি তা সীমা অতিক্রম করে যায়, তবে তা শরীরের শক্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং ভিন্ন কোনো ক্ষতির সৃষ্টি করে। নবিজি যখন তাকে মধু পান করানোর নির্দেশ দিলেন, তখন সে এমন পরিমাণে পান করিয়েছিল যা রোগের প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না এবং উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। যখন সে এসে নবিজিকে সংবাদ দিল, তখন তিনি বুঝতে পারলেন যে, যতটুকু পান করানো হয়েছে তা প্রয়োজনের মাত্রায় পৌঁছায়নি। তাই যখন সেই ব্যক্তি বারবার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসতে লাগল, তখন নবিজি তাকে পুনরায় মধু পান করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করলেন যাতে সেটি রোগ প্রতিরোধের প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছায়। যখন রোগের উপাদান অনুযায়ী পানীয়ের মাত্রা বারবার গ্রহণ করা হলো, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় রোগী আরোগ্য লাভ করল। ওষুধের মাত্রা ও গুণাগুণ এবং রোগের তীব্রতা ও রোগীর শারীরিক শক্তি বিবেচনা করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান মূলনীতি।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলেছে"—এর মধ্যে এই ওষুধের কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, রোগের স্থায়িত্ব ওষুধের কোনো ত্রুটির কারণে নয়, বরং পেটের "মিথ্যাচার" অর্থাৎ তার ভেতরে বিদ্যমান দূষিত উপাদানের আধিক্যের কারণে। তাই উপাদানের আধিক্যের কারণে তিনি ওষুধটি বারবার ব্যবহারের নির্দেশ দিলেন।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা পদ্ধতি সাধারণ চিকিৎসকদের চিকিৎসার মতো নয়। কারণ, নবিজির চিকিৎসা হলো সুনিশ্চিত, অকাট্য এবং ঐশী জ্ঞানলব্ধ; যা ওহি, নবুওয়াতের উৎস এবং বুদ্ধিবৃত্তিক পূর্ণতা থেকে উৎসারিত। অন্যদিকে অন্যদের চিকিৎসা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুমান, ধারণা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। অনেক রোগী যে নবুওয়াতের চিকিৎসা দ্বারা উপকৃত হয় না, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কারণ, এ থেকে কেবল তারাই উপকৃত হয় যারা একে পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা, আরোগ্য লাভের দৃঢ় বিশ্বাস এবং ঈমান ও আনুগত্যের সাথে গ্রহণ করে। এই কুরআন যা অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য—যদি একে যথাযথভাবে গ্রহণ করা না হয়, তবে এর মাধ্যমে অন্তরের রোগসমূহ থেকে মুক্তি মেলে না; বরং তা মুনাফিকদের অপবিত্রতার সাথে আরও অপবিত্রতা এবং অসুস্থতার সাথে আরও অসুস্থতা বৃদ্ধি করে। কুরআনের তুলনায় শারীরিক চিকিৎসার অবস্থান তো আরও নিচের স্তরে। সুতরাং নবুওয়াতের চিকিৎসা কেবল পবিত্র দেহের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন কুরআনের আরোগ্য কেবল পবিত্র আত্মা ও জীবন্ত হৃদয়ের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। মানুষের নবুওয়াতের চিকিৎসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ঠিক তেমনি, যেমন কল্যাণকর আরোগ্যদাতা কুরআন থেকে তাদের বিমুখ হওয়া। এটি ওষুধের কোনো অসারতার কারণে নয়, বরং মানুষের স্বভাবের কলুষতা, গ্রহণের অযোগ্যতা এবং আধারের অপবিত্রতার কারণে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের উদর থেকে বিভিন্ন বর্ণের পানীয় নির্গত হয়"—এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞগণ মতভেদ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
فِيهِ شِفاءٌ لِلنَّاسِ «1» ، هَلِ الضَّمِيرُ فِي «فِيهِ» رَاجِعٌ إِلَى الشَّرَابِ، أَوْ رَاجِعٌ إِلَى الْقُرْآنِ؟ عَلَى قَوْلَيْنِ: الصَّحِيحُ: رُجُوعُهُ إِلَى الشَّرَابِ، وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَابْنِ عَبَّاسٍ، والحسن، وقتادة، وَالْأَكْثَرِينَ، فَإِنَّهُ هُوَ الْمَذْكُورُ، وَالْكَلَامُ سِيقَ لِأَجْلِهِ، وَلَا ذِكْرَ لِلْقُرْآنِ فِي الْآيَةِ، وَهَذَا الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ وَهُوَ قَوْلُهُ: «صَدَقَ اللَّهُ» كَالصَّرِيحِ فِيهِ، وَاَللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ.

 

‌‌فَصْلٌ فِي هَدْيِهِ فِي الطَّاعُونِ، وَعِلَاجِهِ، وَالِاحْتِرَازِ مِنْهُ

فِي «الصَّحِيحَيْنِ» عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَسْأَلُ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ: مَاذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم في الطَّاعُونِ؟ فَقَالَ أسامة:

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الطَّاعُونُ رِجْزٌ أُرْسِلَ عَلَى طَائِفَةٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ، وَعَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، فَإِذَا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ، فَلَا تَدْخُلُوا عَلَيْهِ، وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضٍ وَأَنْتُمْ بِهَا، فَلَا تَخْرُجُوا مِنْهَا فِرَارًا مِنْهُ» . «2»

وَفِي «الصَّحِيحَيْنِ» أَيْضًا: عن حفصة بنت سيزين، قَالَتْ: قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الطَّاعُونُ شَهَادَةٌ لِكُلِّ مُسْلِمٍ» «3» .

الطَّاعُونُ- مِنْ حَيْثُ اللُّغَةُ-: نَوْعٌ مِنَ الْوَبَاءِ، قَالَهُ صَاحِبُ «الصِّحَاحِ» ، وَهُوَ عِنْدَ أَهْلِ الطِّبِّ: وَرَمٌ رَدِيءٌ قَتَّالٌ يَخْرُجُ مَعَهُ تَلَهُّبٌ شَدِيدٌ مُؤْلِمٌ جِدًّا يَتَجَاوَزُ الْمِقْدَارَ فِي ذَلِكَ، وَيَصِيرُ مَا حَوْلَهُ فِي الْأَكْثَرِ أَسْوَدَ أو أخضر، أو أكمد، ويؤول أَمْرُهُ إِلَى التَّقَرُّحِ سَرِيعًا. وَفِي الْأَكْثَرِ، يَحْدُثُ فِي ثَلَاثَةِ مَوَاضِعَ: فِي الْإِبِطِ، وَخَلْفَ الْأُذُنِ، والأرنبة، وفي اللحوم الرخوة.
(1) النحل- 69.

(2) أخرجه البخاري في الأنبياء، وأخرجه مسلم أيضا و «من بني إسرائيل» هم الذي أمرهم الله أن يدخلوا الباب سجدا، فخالفوا فأرسل عليهم الطاعون فمات منهم في ساعة سبعون ألفا. وهذا الذي جاء في الحديث هو ما يطلق عليه في أيامنا هذه بالحجر الصحي، وقد أمر بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قبل زهاء ألف وأربعمائة سنة، مما يدل على أن هذا الإسلام من عند الله «لا يأتيه الباطل من يديه ولا من خلفه» .

(3) أخرجه الإمام أحمد والبخاري ومسلم: ومعنى الحديث أي أن الطاعون سبب لكون الميت منه شهيدا في حكم الآخرة. وظاهره يشمل الفاسق فيكون شهيدا.
তাতে মানুষের জন্য আরোগ্য রয়েছে (১)। এখানে ‘তাতে’ (ফীহি) সর্বনামটি কি পানীয়ের (মধুর) দিকে ফিরেছে, নাকি কুরআনের দিকে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: সঠিক মত হলো এটি পানীয়ের (মধুর) দিকে ফিরেছে। এটি ইবনে মাসউদ, ইবনে আব্বাস, হাসান, কাতাদাহ এবং অধিকাংশ আলেমদের অভিমত। কেননা মধু এখানে উল্লিখিত বিষয় এবং প্রসঙ্গটি তার উদ্দেশ্যেই চালিত হয়েছে, আর আয়াতে কুরআনের কোনো উল্লেখ নেই। আর এই সহীহ হাদিসটি—যাতে আল্লাহর রাসূল বলেছেন: ‘আল্লাহ সত্য বলেছেন’—তা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দলিল। আল্লাহ তাআলাই সম্যক অবগত।

 

‌‌প্লেগ (তউন) মহামারী সম্পর্কে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশনা, এর চিকিৎসা এবং এ থেকে সতর্কতা অবলম্বন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

‘সহীহাইন’ (বুখারী ও মুসলিম)-এ আমির ইবনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে (পিতাকে) উসামা ইবনে যায়েদকে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছেন: আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে প্লেগ (তউন) সম্পর্কে কী শুনেছেন? তখন উসামা বললেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘প্লেগ (তউন) হলো একটি আযাব বা শাস্তি, যা বনী ইসরাঈলের এক সম্প্রদায়ের ওপর এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর পাঠানো হয়েছিল। সুতরাং যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে এর প্রাদুর্ভাবের কথা শুনবে, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোনো ভূখণ্ডে তোমাদের অবস্থানকালীন এর প্রাদুর্ভাব ঘটে, তবে তা থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে সেখান থেকে বের হয়ো না’ (২)।

সহীহাইন-এ আরও বর্ণিত হয়েছে হাফসা বিনতে সিরিন থেকে, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‘প্লেগ (তউন) প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শাহাদাতস্বরূপ’ (৩)।

শাব্দিক দিক থেকে প্লেগ (তউন) এক প্রকার মহামারী (ওয়াবা)। এটি ‘আস-সিহাহ’ গ্রন্থের লেখক বলেছেন। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে: এটি একটি মারাত্মক ও প্রাণঘাতী স্ফীতি বা টিউমার যা অত্যন্ত তীব্র জ্বালাপোড়া ও যন্ত্রণার সাথে সৃষ্টি হয় এবং স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এর চারপাশ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কালো, সবুজ অথবা ধূসর বর্ণ ধারণ করে এবং দ্রুতই তা ক্ষতবিক্ষত ঘায়ে পরিণত হয়। সাধারণত এটি শরীরের তিনটি স্থানে দেখা দেয়: বগলে, কানের পেছনে এবং নাকের অগ্রভাগে অথবা নরম মাংসে।
(১) সুরা আন-নাহল: ৬৯।

(২) এটি ইমাম বুখারী আম্বিয়া অধ্যায়ে এবং ইমাম মুসলিমও বর্ণনা করেছেন। ‘বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকে’ বলতে তাদের বোঝানো হয়েছে যাদের আল্লাহ সিজদাবনত হয়ে প্রবেশ করার আদেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা অবাধ্য হয়েছিল। ফলে তাদের ওপর প্লেগ (তউন) পাঠানো হয়েছিল এবং এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সত্তর হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। হাদিসে যা এসেছে তা বর্তমান যুগে যাকে ‘কোয়ারেন্টাইন’ (স্বাস্থ্যবিধিগত অবরুদ্ধকরণ) বলা হয়। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে এর নির্দেশ দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে ইসলাম আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত। ‘বাতিল এর সামনে বা পেছন—কোনো দিক থেকেই আসতে পারে না’।

(৩) এটি ইমাম আহমদ, বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। হাদিসের অর্থ হলো: প্লেগে মৃত্যুবরণ করা পরকালীন বিচারে শহীদ হওয়ার কারণ। বাহ্যিকভাবে এটি পাপাচারী (ফাসিক) ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে সেও শহীদ হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আত-তিব্বুন নববী লিবনিল কাইয়্যিম (পৃষ্ঠা: ٣١)
وَفِي أَثَرٍ عَنْ عائشة أَنَّهَا قَالَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «الطَّعْنُ قَدْ عَرَفْنَاهُ، فَمَا الطَّاعُونُ؟

قَالَ: «غُدَّةٌ «1» كَغُدَّةِ الْبَعِيرِ يَخْرُجُ فِي الْمَرَاقِّ وَالْإِبْطِ» «2» .

قَالَ الْأَطِبَّاءُ: إِذَا وَقَعَ الْخُرَّاجُ فِي اللُّحُومِ الرِّخْوَةِ، وَالْمَغَابِنِ، وَخَلْفَ الْأُذُنِ وَالْأَرْنَبَةِ، وَكَانَ مِنْ جِنْسٍ فَاسِدٍ، سُمِّيَ طَاعُونًا، وَسَبَبُهُ دَمٌ رَدِيءٌ مَائِلٌ إِلَى الْعُفُونَةِ وَالْفَسَادِ، مُسْتَحِيلٌ إِلَى جَوْهَرٍ سُمِّيٍّ، يُفْسِدُ الْعُضْوَ وَيُغَيِّرُ مَا يَلِيهِ، وَرُبَّمَا رَشَحَ دَمًا وَصَدِيدًا، وَيُؤَدِّي إِلَى الْقَلْبِ كَيْفِيَّةً رَدِيئَةً، فَيَحْدُثُ الْقَيْءُ وَالْخَفَقَانُ وَالْغَشْيُ، وَهَذَا الِاسْمُ وَإِنْ كَانَ يَعُمُّ كُلَّ وَرَمٍ يُؤَدِّي إِلَى الْقَلْبِ كَيْفِيَّةً رَدِيئَةً حَتَّى يَصِيرَ لِذَلِكَ قَتَّالًا، فَإِنَّهُ يَخْتَصُّ بِهِ الْحَادِثُ فِي اللَّحْمِ الْغُدَدِيِّ، لِأَنَّهُ لِرَدَاءَتِهِ لَا يَقْبَلُهُ مِنَ الْأَعْضَاءِ إِلَّا مَا كَانَ أَضْعَفَ بِالطَّبْعِ، وَأَرْدَؤُهُ مَا حَدَثَ فِي الْإِبِطِ وَخَلْفَ الْأُذُنِ لِقُرْبِهِمَا مِنَ الْأَعْضَاءِ الَّتِي هِيَ أَرْأَسُ، وَأَسْلَمُهُ الْأَحْمَرُ، ثُمَّ الْأَصْفَرُ. وَاَلَّذِي إِلَى السَّوَادِ، فَلَا يَفْلِتُ مِنْهُ أَحَدٌ.

وَلَمَّا كَانَ الطَّاعُونُ يَكْثُرُ فِي الْوَبَاءِ، وَفِي الْبِلَادِ الْوَبِيئَةِ، عُبِّرَ عَنْهُ بِالْوَبَاءِ، كَمَا قَالَ الخليل: الْوَبَاءُ: الطَّاعُونُ. وَقِيلَ: هُوَ كُلُّ مَرَضٍ يَعُمُّ، وَالتَّحْقِيقُ أَنَّ بَيْنَ الْوَبَاءِ وَالطَّاعُونِ عُمُومًا وَخُصُوصًا، فَكُلُّ طَاعُونٍ وَبَاءٌ، وَلَيْسَ كُلُّ وَبَاءٍ طَاعُونًا، وَكَذَلِكَ الْأَمْرَاضُ الْعَامَّةُ أَعَمُّ مِنَ الطَّاعُونِ، فَإِنَّهُ وَاحِدٌ مِنْهَا، وَالطَّوَاعِينُ خُرَّاجَاتٌ وَقُرُوحٌ وَأَوْرَامٌ رَدِيئَةٌ حَادِثَةٌ فِي الْمَوَاضِعِ الْمُتَقَدِّمِ ذِكْرُهَا.

قُلْتُ: هَذِهِ الْقُرُوحُ، وَالْأَوْرَامُ، وَالْجِرَاحَاتُ، هِيَ آثَارُ الطَّاعُونِ، وَلَيْسَتْ نَفْسَهُ، وَلَكِنَّ الْأَطِبَّاءَ لَمَّا لَمْ تُدْرِكْ مِنْهُ إِلَّا الْأَثَرَ الظَّاهِرَ، جَعَلُوهُ نَفْسَ الطَّاعُونِ.

وَالطَّاعُونُ يُعَبَّرُ بِهِ عَنْ ثَلَاثَةِ أُمُورٍ:

أَحَدُهَا: هَذَا الْأَثَرُ الظَّاهِرُ، وَهُوَ الَّذِي ذَكَرَهُ الْأَطِبَّاءُ.

وَالثَّانِي: الْمَوْتُ الْحَادِثُ عَنْهُ، وَهُوَ الْمُرَادُ بِالْحَدِيثِ الصَّحِيحِ فِي قَوْلِهِ:

«الطَّاعُونُ شهادة لكل مسلم» .
(1) «غده كغدة البعير … » الغدة: كل غده في الجسد أطاف بها شحم، وكل قطعة صلبة بين العصب- قاموس- «في المراقّ» مراقّ البطن بفتح الميم وتشديد القاف: ما رقّ منه ولا جمع مرقّ أولا واحد له- قاموس- أخرجه الإمام أحمد. وقد جاء بلفظ: «الطاعون غدة كفدة البعير، المقيم بها كالشهيد، والفار منها كالفار من الزحف:

(2) قال الهيثمي: رجاله ثقات.
আইশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি আছারে রয়েছে যে, তিনি নবী করীম (সা.)-কে বললেন: «বর্শার আঘাত (তআন) তো আমরা জেনেছি, কিন্তু প্লেগ (তাউন) কী?»

তিনি বললেন: «এটি উটের গলার মাংসগ্রন্থির (ঘুদদাহ) মতো একটি গ্রন্থি যা কুঁচকি ও বগলে প্রকাশ পায়»।

চিকিৎসকদের মতে: যখন শরীরের নরম মাংসল অংশে, কুঁচকিতে, কানের পিছনে এবং নাসিকাগ্রে কোনো বিষফোঁড়া দেখা দেয় এবং তা যদি মন্দ প্রকৃতির হয়, তবে তাকে প্লেগ (তাউন) বলা হয়। এর কারণ হলো পচন ও বিকৃতির দিকে ধাবিত মন্দ রক্ত, যা একটি বিষাক্ত উপাদানে রূপান্তরিত হয়ে অঙ্গকে কলুষিত করে এবং এর চারপাশকে পরিবর্তিত করে দেয়। কখনো কখনো এটি রক্ত ও পুঁজ নিঃসরণ করে এবং হৃদপিণ্ডে মন্দ প্রভাব ফেলে, যার ফলে বমি, বুক ধড়ফড়ানি ও মূর্চ্ছা যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। যদিও এই নামটি এমন প্রতিটি টিউমারকে অন্তর্ভুক্ত করে যা হৃদপিণ্ডে মন্দ প্রভাব ফেলে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে, তবুও এটি বিশেষভাবে গ্রন্থিময় মাংসে উৎপন্ন হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। কারণ এর মন্দ প্রকৃতির কারণে শরীরের প্রাকৃতিক দুর্বল অঙ্গগুলো ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ এটি গ্রহণ করে না। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হলো যা বগলে ও কানের পিছনে উৎপন্ন হয়, কারণ এই স্থানগুলো শরীরের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহের অতি নিকটবর্তী। আর এর মধ্যে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হলো লাল রঙের প্লেগ, এরপর হলুদ রঙের। আর যা কালো রঙের হয়, তা থেকে কেউই রেহাই পায় না।

যেহেতু প্লেগ মহামারীর (ওয়াবা) সময় এবং মহামারী আক্রান্ত জনপদে অধিক হারে দেখা যায়, তাই একে মহামারী হিসেবেও অভিহিত করা হয়। যেমন খলিল বলেছেন: মহামারী (ওয়াবা) মানেই হলো প্লেগ (তাউন)। আবার কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো প্রতিটি রোগ যা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রকৃত অনুসন্ধান হলো এই যে, মহামারী (ওয়াবা) এবং প্লেগের (তাউন) মধ্যে সাধারণ ও বিশেষের (আম ও খাস) সম্পর্ক বিদ্যমান। সুতরাং প্রত্যেক প্লেগই মহামারী, কিন্তু প্রত্যেক মহামারীই প্লেগ নয়। একইভাবে সাধারণ রোগসমূহ প্লেগের তুলনায় অধিকতর ব্যাপক, কারণ প্লেগ হলো সেগুলোর একটি প্রকার মাত্র। প্লেগ হলো মূলত পূর্বে বর্ণিত স্থানসমূহে উৎপন্ন ক্ষতিকর বিষফোঁড়া, ক্ষত এবং টিউমার।

আমি (গ্রন্থকার) বলি: এই ক্ষত, টিউমার এবং জখমসমূহ হলো প্লেগের লক্ষণ বা প্রভাব মাত্র, তা মূল প্লেগ নয়। কিন্তু চিকিৎসকরা প্লেগের কেবল প্রকাশ্য প্রভাব বা লক্ষণসমূহ উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলে তারা একেই মূল প্লেগ হিসেবে গণ্য করেছেন।

প্লেগ (তাউন) শব্দটি তিনটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমত: এই প্রকাশ্য প্রভাব বা লক্ষণ, যা চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: এর ফলে সংঘটিত মৃত্যু। সহীহ হাদিসের নিম্নোক্ত বাণীতে এটাই উদ্দেশ্য:

«প্লেগ হলো প্রত্যেক মুসলিমের জন্য শাহাদাত (শহীদি মর্যাদা)»।
(১) «উটের গলার মাংসগ্রন্থির ন্যায়...» গ্রন্থি (ঘুদদাহ): শরীরের এমন প্রতিটি মাংসপিণ্ড যার চারপাশে চর্বি থাকে এবং স্নায়ুর মাঝখানে থাকা প্রতিটি শক্ত অংশ—কামুস— «আল-মারাক্ক»: পেটের চামড়ার নরম অংশসমূহ—কামুস— ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। এটি এই শব্দেও বর্ণিত হয়েছে: «প্লেগ হলো উটের গলার মাংসগ্রন্থির মতো একটি গ্রন্থি; এতে অবস্থানকারী শহীদের সমতুল্য এবং এ থেকে পলায়নকারী রণক্ষেত্র থেকে পলায়নকারীর ন্যায়:

(২) হায়সামী বলেছেন: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।