(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: -)
الشمائل المحمدية للترمذي - ط إحياء التراث القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الشمائل المحمدية
المؤلف: أبو عيسى محمد بن سورة الترمذي (ت 279 هـ)
إخراج وتعليق: محمد أحمد حلاق
الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت - لبنان
عدد الصفحات: 254
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তিরমিযী রচিত আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - ইহয়াউত তুরাছ সংস্করণ বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ
গ্রন্থকার: আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে সূরাহ আত-তিরমিযী (মৃত্যু: ২৭৯ হিজরী)
সম্পাদনা ও টীকা: মুহাম্মাদ আহমাদ হাল্লাক
প্রকাশক: দার ইহয়াউত তুরাছ আল-আরাবি, বৈরুত - লেবানন
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৪
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ যুলহাজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ৭)
تقديم فضيلة الشيخ محمد المنتقى الكشناوىالحمد لله العزيز القهار، العالم بالاسرار الذي اصطفى سيد البشر سيدنا محمد بن عبد الله بنبوته، ورسالته، وحذر جميع خلقه مخالفته فقال عز من قائل فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيما شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً وصلوات الله وسلامه عليه وآله وصحبه وأزواجه وذريته أجمعين.
أما بعد: فاعلم أن علم الحديث ومن جملته علم السيرة النبوية أجل العلوم قدرا وأكملها مزية، من حازه فقد حاز فضلا كثيرا، ومن أوتيه فقد أوتي خيرا كثيرا. فقد روي عن سفيان الثوري رحمه الله كما ذكره ابن الصلاح في مقدمة علوم الحديث له قال: «ما أعلم عملا أفضل من طلب الحديث لمن أراد به الله عز وجل» . قال ابن الصلاح: وروينا نحوه عن ابن المبارك أهـ.
قاله العلامة أبو الفيض مولانا جعفر الحسني الادريسي الشهير الكتاني رحمه الله تعالى وإيانا في مقدمة كتابه «نظم المتناثر من الحديث المتواتر» .
ثم كما قال بعض الصالحين رضوان الله تعالى علينا وعليهم: إن معرفة عبادة الله تعالى والعمل بدينه الذي أنزله لصلاح شؤون العباد في الدنيا والآخرة متوقفة على معرفة هدى رسول الله صلى الله عليه وسلم وطريقته العملية التي بين فيما شرع الله تعالى أول ما نزل عليه الوحي إلى أن أكمل الله تعالى هذا الدين وقد وعت كتب السنة والمغازي والتاريخ والشمائل أقوال النبي صلى الله عليه وسلم، وأفعاله، وصفاته من أول نشأته إلى أن اختاره الله تعالى إلى جواره، لا سيما الفترة التي أدّى فيها الرسالة ولم تدع أمرا من أموره ولا شيئا من شؤونه دقّ أو جل إلا أحصته حتى
শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাম্মাদ আল-মুনতাকা আল-কাশনাভী-র ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মহাপরাক্রমশালী ও দমনকারী, গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত, যিনি মানবজাতির নেতা আমাদের সর্দার মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহকে তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা করা থেকে সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সতর্ক করেছেন। পরাক্রমশালী বক্তা (আল্লাহ) বলেন: "অতএব আপনার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে তাদের বিবাদমান বিষয়ে বিচারক নিয়োগ করবে, অতঃপর আপনার দেয়া ফয়সালার ব্যাপারে তারা নিজেদের অন্তরে কোনো দ্বিধাবোধ করবে না এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে।" আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর সকল বংশধরদের ওপর বর্ষিত হোক।
অতঃপর: জেনে রাখুন যে, ইলমে হাদীস এবং এরই অন্তর্ভুক্ত ইলমে সীরাত হলো মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান। যে ব্যক্তি এটি অর্জন করল সে প্রভূত মর্যাদা অর্জন করল এবং যাকে এটি দান করা হলো তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হলো। সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি ইবনে আস-সালাহ তাঁর ইলমে হাদীসের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে মহামহিম আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করে, তার জন্য হাদীস অন্বেষণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো কাজ আমার জানা নেই।" ইবনে আস-সালাহ বলেন: আমরা ইবনুল মুবারক থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছি।
এটি আল্লামা আবুল ফয়জ মাওলানা জাফর আল-হাসানী আল-ইদ্রিসী—যিনি আল-কাত্তানী নামে পরিচিত (আল্লাহ তাআলা তাঁর ও আমাদের প্রতি রহম করুন)—তাঁর "নাজমুল মুতানাসির মিনাল হাদীসিল মুতাওয়াতির" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।
অতঃপর যেমনটি কোনো কোনো নেককার ব্যক্তি (আল্লাহ তাআলা আমাদের ও তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: মহান আল্লাহর ইবাদত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং তাঁর সেই দ্বীন অনুযায়ী আমল করা যা তিনি ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের কল্যাণের জন্য নাজিল করেছেন, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়াত এবং তাঁর ব্যবহারিক পদ্ধতির জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর প্রথম ওহী নাজিল হওয়া থেকে শুরু করে এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করা পর্যন্ত যা কিছু শরীয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ তা বর্ণনা করেছেন। সুন্নাহ, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), ইতিহাস এবং শামায়েলের কিতাবসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শৈশব থেকে শুরু করে আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর সান্নিধ্যে তুলে নেওয়া পর্যন্ত তাঁর কথা, কাজ এবং গুণাবলীকে সংরক্ষিত করেছে; বিশেষ করে সেই সময়কালকে যখন তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা তাঁর জীবনের ক্ষুদ্র বা বৃহৎ কোনো বিষয় বা অবস্থার কোনো কিছুই বাদ দেয়নি বরং সবকিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিপিবদ্ধ করেছে, এমনকি
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ৮)
انك لتجد فيها صفة ثيابه وجلوسه ونهوضه من نومه وهيئته في ضحكه وابتسامه ومشيته وعبادته في ليله ونهاره، وكيف كان يفعل إذا اغتسل وإذا أكل وكيف كان يشرب وماذا كان يلبس وكيف كان يتحدث للناس إذا لقيهم. وما كان يحب من الألوان وما هي حليته وشمائله.
ولسنا نعدو الحقيقة إذا قلنا: إنه ليس في الدنيا إنسان كامل يتحدث التاريخ عن سيرته على التفصيل كما تحدث عن تفاصيل حياة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين. وأن من أوفى كتاب في هذا الموضوع هو كتاب الشمائل المحمدية للإمام الحافظ المحقق محمد بن عيسى الترمذي نفعنا الله تعالى به وأعاد علينا من بركاته آمين.
وقد استوعب رحمه الله تعالى في كتابه هذا هديه صلى الله عليه وسلم في صفاته، وقد كان من حسن الحظ أن نتعرف على فضيلة الأخ الكبير الشيخ محمد عفيف الزعبي رحمه الله تعالى وإيانا والمؤمنين بدار العلم للطباعة والنشر، جدة وقد عرض علينا فضيلته نسخة من تحقيقه للكتاب فأرادنا أن نشاركه في الأجر بتقديم الكتاب للقراء راجيا من المولى الكريم أن يجازيه بأحسن الجزاء على هذا العمل العظيم ولكل من ساعد وساهم في إخراج هذا الكتاب الجليل، وأن ينفع به الطلاب، والمسلمين آمين. والحمد لله رب العالمين وصلى الله تعالى وسلم على سيدنا محمد وآله وصحبه.
محمد المنتقى الكشناوى
নিশ্চয়ই আপনি এতে তাঁর পোশাকের বৈশিষ্ট্য, তাঁর উপবেশন, ঘুম থেকে তাঁর জাগ্রত হওয়া, তাঁর হাসি ও মৃদু হাসির অবস্থা, তাঁর হাঁটার ভঙ্গি এবং দিন ও রাতে তাঁর ইবাদতের বর্ণনা পাবেন। আরও পাবেন তিনি যখন গোসল করতেন ও আহার করতেন তখন কী করতেন, কীভাবে পান করতেন, কী পরিধান করতেন এবং মানুষের সাথে সাক্ষাৎ হলে কীভাবে কথা বলতেন। তিনি কোন রঙ পছন্দ করতেন এবং তাঁর অবয়ব ও গুণাবলি কেমন ছিল।
আমরা যদি বলি যে পৃথিবীতে এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ মানুষ নেই যাঁর জীবনী সম্পর্কে ইতিহাস এতোটা বিস্তারিত আলোচনা করেছে যতটা আমাদের নবী, সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করেছে, তবে আমরা সত্য থেকে বিচ্যুত হব না। আর এই বিষয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হলো ইমাম, হাফেজ ও গবেষক মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযী রচিত 'আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ'। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর মাধ্যমে উপকৃত করুন এবং তাঁর বরকত আমাদের ওপর পুনরায় বর্ষিত করুন, আমীন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর এই গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলি সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় ছিল যে, জেদ্দার 'দারুল ইলম' প্রকাশনীতে শ্রদ্ধেয় বড় ভাই শায়খ মুহাম্মদ আফিফ আয-যু'বী (আল্লাহ তাঁর ওপর, আমাদের ওপর এবং মুমিনদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর সাথে আমাদের পরিচয় হয়। তিনি তাঁর সম্পাদিত পাণ্ডুলিপিটি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন এবং পাঠকদের সামনে বইটি উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদেরও সওয়াবের অংশীদার করতে চান। তিনি মহান রবের কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন তিনি এই মহৎ কাজের জন্য তাঁকে এবং যারা এই মহান গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং ছাত্র ও মুসলিমদের এর মাধ্যমে উপকৃত করেন, আমীন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ তাআলার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গীগণের ওপর।
মুহাম্মদ আল-মুনতাকা আল-কাশনাভী
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ৯)
ترجمة: الامام الترمذى
نسبه:هو أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة بن موسى بن الضحاك السلمي «1»
ولادته ووفاته:ولد الامام الحافظ أبو عيسى في قرية بوغ في سنة (209 هـ) ثم انتقل منها إلى مدينة ترمذ «2» إلى أن توفاه الله تعالى فيها سنة (279 هـ) وله سبعون سنة.
شيوخه وتلاميذه:يعتبر المؤرخون عصر الترمذي العصر الذهبي لعلم الحديث حيث كان رائد بعثه وازدهاره الامام محمد بن إدريس الشافعي المطلبي ناصر السنة.
حيث علم الناس عامة وأهل العراق ثم مصر خاصة معنى الاحتجاج بالسنة
--------------------------------------------
জীবনী: ইমাম তিরমিযী তাঁর বংশপরিচয়:তিনি হলেন আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ ইবনে মূসা ইবনে আদ-দাহহাক আস-সুলামী «১»
তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:ইমাম হাফেজ আবু ঈসা ২০৯ হিজরি সনে বুগ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে তিরমিয শহরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানেই ২৭৯ হিজরি সনে সত্তর বছর বয়সে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর মৃত্যু ঘটান।
তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ:ঐতিহাসিকগণ তিরমিযীর যুগকে হাদিস শাস্ত্রের স্বর্ণযুগ বলে গণ্য করেন, যেখানে এর পুনর্জাগরণ ও সমৃদ্ধির পথিকৃৎ ছিলেন সুন্নাহর সাহায্যকারী ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিঈ আল-মুত্তালিবী।
যিনি সাধারণ মানুষকে এবং বিশেষ করে ইরাক ও পরবর্তীতে মিশরের অধিবাসীদের সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণের তাৎপর্য শিক্ষা দিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১০)
ومعنى العمل بها مع القرآن، وحدد أصول ذلك وحررها، وأقام الحجة على مناظريه بوجوب الأخذ بالحديث وأفحمهم. من ذلك نرى أن الأئمة الأعلام أصحاب كتب السنة نبغوا في الطبقة التالية لعصر الشافعي مباشرة، وان لم يدركوه رؤية وسماعا لتقدم وفاته، ولكنهم أدركوا اقرانه ومعاصريه ومناظريه وكبار تلاميذه.
وبسرد بسيط لتواريخ ولادتهم ووفاتهم تظهر المقارنة واضحة
1- فالبخاري/ محمد بن اسماعيل ابو عبد الله ولد في شوال سنة 194 هـ ومات يوم السبت غرة شوال من سنة 256 هـ.
2- ومسلم بن الحجاج القشيري أبو الحسن ولد في سنة 209 هـ ومات في 25 رجب سنة 256 هـ.
3- والامام الحافظ الترمذي ولد سنة 209 هـ ومات في 13 رجب سنة 279 هـ.
4- وأبو داوود سليمان بن الأشعث السجستاني ولد سنة 202 هـ ومات في 16 شوال سنة 257 هـ.
5- والنسائي أحمد بن شعيب أبو عبد الرحمن ولد سنة 215 هـ ومات في 13 صفر 303 هـ.
6- وابن ماجه محمد بن يزيد بن ماجه أبو عبد الله ولد سنة 209 هـ ومات في 22 رمضان سنة 273 هـ.
7- وقد روى هؤلاء الأئمة الستة عن شيوخ كثيرين متفرد بعضهم بالرواية عن بعض الشيوخ واشترك بعضهم مع غيره في الرواية عن آخرين، واشتركوا جميعا في الرواية عن تسعة شيوخ فقط وهم:
এবং কুরআনের পাশাপাশি এর ওপর আমল করার অর্থ কী, তা তিনি সুনির্দিষ্ট করেছেন। তিনি এর মূলনীতিগুলো নির্ধারণ ও সুসংহত করেছেন এবং হাদিস গ্রহণ করার অপরিহার্যতা সম্পর্কে তাঁর বিরোধীদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণাদি পেশ করে তাঁদের নিরুত্তর করেছেন। এ থেকে আমরা দেখতে পাই যে, সুন্নাহ গ্রন্থসমূহের সংকলক প্রথিতযশা ইমামগণ ইমাম শাফিঈর পরবর্তী প্রজন্মের সমসাময়িক ছিলেন। যদিও শাফিঈর মৃত্যু আগে হওয়ায় তাঁরা তাঁকে স্বচক্ষে দেখা বা তাঁর থেকে সরাসরি শোনার সুযোগ পাননি, তবে তাঁরা তাঁর সমসাময়িক, প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বড় বড় ছাত্রদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।
তাঁদের জন্ম ও মৃত্যু তারিখের একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমেই এই তুলনাটি সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে:
১- আল-বুখারি/ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আবু আব্দুল্লাহ ১৯৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরি সনের ১লা শাওয়াল শনিবার ইন্তেকাল করেন।
২- এবং মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরি আবু আল-হাসান ২০৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরি সনের ২৫শে রজব ইন্তেকাল করেন।
৩- এবং ইমাম আল-হাফিজ আত-তিরমিজি ২০৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৯ হিজরি সনের ১৩ই রজব ইন্তেকাল করেন।
৪- এবং আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি ২০২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৭ হিজরি সনের ১৬ই শাওয়াল ইন্তেকাল করেন।
৫- এবং আন-নাসায়ি আহমদ বিন শুআইব আবু আব্দুর রহমান ২১৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩০৩ হিজরি সনের ১৩ই সফর ইন্তেকাল করেন।
৬- এবং ইবনে মাজাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন মাজাহ আবু আব্দুল্লাহ ২০৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৩ হিজরি সনের ২২শে রমজান ইন্তেকাল করেন।
৭- এই ছয়জন ইমাম অসংখ্য শায়খের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু শায়খের থেকে বর্ণনায় অনন্য ছিলেন, আবার কেউ কেউ অন্যদের সাথে একই শায়খের থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁরা সকলে সম্মিলিতভাবে কেবল নয়জন শায়খের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা হলেন:
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقد أدرك أبو عيسى الترمذي شيوخا أقدم من هؤلاء وسمع منهم وروى عنهم. قال الذهبي في تذكرة الحفاظ: سمع قتيبة بن سعيد «1» وأبا مصعب «2» وإبراهيم بن عبد الله الهروي «3» ، وإسماعيل بن موسى السدي «4» ، وسويد بن نصر «5» ، وعلي بن صخر «6» .
والترمذي تلميذ البخاري وخريجه، وعنه أخذ علم الحديث وتفقه فيه ومرن بين يديه، وسأله واستفاد منه، وناظره فوافقه وخالفه، كعادة هؤلاء العلماء، في اتباع الحق حيث كان. وقد طاف ابو عيسى البلاد، وسمع خلقا من الخراسانيين والعراقيين والحجازيين.
--------------------------------------------
আবু ঈসা আত-তিরমিজি এঁদের চেয়েও বয়োজ্যেষ্ঠ শায়খদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন, তাঁদের নিকট থেকে শুনেছেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবি ‘তাযকিরাতুল হুফফাজ’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি কুতাইবা বিন সাঈদ (১), আবু মুসআব (২), ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-হারাবি (৩), ইসমাইল বিন মুসা আস-সুদ্দি (৪), সুওয়াইদ বিন নাসর (৫) এবং আলি বিন সাখর (৬) থেকে শুনেছেন।
আর তিরমিজি হলেন বুখারির ছাত্র এবং তাঁরই বিশেষ শিষ্য; তাঁর নিকট থেকেই তিনি হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেছেন, এতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন। তিনি তাঁকে প্রশ্ন করতেন ও তাঁর থেকে উপকৃত হতেন এবং তাঁর সাথে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করতেন; কখনো তাঁর সাথে একমত হতেন আবার কখনো ভিন্নমত পোষণ করতেন—সত্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা অনুসরণের ক্ষেত্রে এই আলেমগণের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী। আবু ঈসা বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং অসংখ্য খোরাসানি, ইরাকি ও হিজাজি বর্ণনাকারীদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১২)
شهادة العلماء فيه وفي كتبه:قال الحافظ أبو الفضل محمد بن طاهر المقدسي (أخبرنا الحسن بن أحمد أبو محمد السمرقندي مناولة أخبرنا أبو بشر عبد الله بن محمد بن محمد بن عمرو، حدثنا أبو سعيد عبد الرحمن بن محمد الادريسي الحافظ قال: محمد بن عيسى بن سورة الترمذي الحافظ الضرير، أحد الأئمة الذين يقتدى بهم في علم الحديث.
صنف كتاب الجامع والتواريخ والعلل، تصنيف رجل عالم متقن، كان يضرب به المثل في الحفظ.
وقال عنه السمعاني في الانساب بأنه «إمام عصره بلا مدافعة، صاحب التصانيف» ، وبأنه «أحد الائمة الذين يقتدى بهم في علم الحديث» .
ونقل الذهبي في تذكرة الحفاظ والصفدي في نكت الهميان، والمزي في التهذيب أن ابن حبان ذكره في الثقات وقال: «كان ممن جمع وصنف وحفظ وذاكر» .
ووصفه المزي في التهذيب بأنه «الحافظ صاحب الجامع وغيره من المصنفات، أحد الائمة الحفاظ المبرزين، وممن نفع الله به المسلمين» .
وقال الذهبي في الميزان «الحافظ العلم، صاحب الجامع، ثقة مجمع عليه، ولا التفات إلى قول أبي محمد بن حزم فيه في الفرائض من كتاب الأيصال: إنه مجهول، فإنه ما عرف ولا درى بوجود الجامع ولا العلل له» .
وقال ابن العماد الحنبلي في شذرات الذهب «كان مبرزا على الاقران، آية في الحفظ والاتقان» .
ونقل الحاكم أبو أحمد عن أحد شيوخه قال «مات محمد بن إسماعيل البخاري ولم يخلف بخرسان مثل أبي عيسى في العلم والحفظ والورع والزهد، بكى حتى عمي، وبقي ضريرا سنين» .
وفي التهذيب: قال أبو الفضل البيلماني: سمعت نصر بن محمد الشبركوهي يقول: سمعت محمد بن عيسى الترمذي يقول: قال لي محمد بن إسماعيل- يعني
তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর কিতাবসমূহ সম্পর্কে আলেমগণের সাক্ষ্য:হাফিজ আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন তাহের আল-মাকদিসি বলেন (হাসান বিন আহমাদ আবু মুহাম্মদ আস-সামারকান্দি আমাদের নিকট হস্তান্তরের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু বিশর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফিজ আবু সাঈদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-ইদরিসি, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ আত-তিরমিজি ছিলেন দৃষ্টিহীন হাফিজ, হাদিসশাস্ত্রে অনুসরণযোগ্য ইমামগণের অন্যতম।
তিনি আল-জামি, আত-তাওয়ারিখ এবং আল-ইলাল গ্রন্থগুলো সংকলন করেছেন; যা একজন প্রাজ্ঞ ও সুদক্ষ আলিমের সংকলন। মুখস্থশক্তির ক্ষেত্রে তাঁর উদাহরণ দেওয়া হতো।
আস-সামআনি 'আল-আনসাব' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ছিলেন "বিনা বিতর্কে তাঁর যুগের ইমাম এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা" এবং তিনি "হাদিসশাস্ত্রে অনুসরণযোগ্য ইমামগণের অন্যতম।"
আয-যাহাবি 'তাযকিরাতুল হুফফাজ'-এ, আস-সাফাদি 'নুখাতুল হিমইয়ান'-এ এবং আল-মিযযি 'আত-তাহযিব'-এ উদ্ধৃত করেছেন যে, ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (আছ-ছিকাত) অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যারা সংগ্রহ, সংকলন, মুখস্থ এবং হাদিস নিয়ে আলোচনা করতেন।"
আল-মিযযি 'আত-তাহযিব'-এ তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি "হাফিজ, জামি ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা, প্রথিতযশা হাফিজ ইমামগণের অন্যতম এবং এমন ব্যক্তিদের একজন যাদের মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমদের উপকৃত করেছেন।"
আয-যাহাবি 'আল-মিযান' গ্রন্থে বলেছেন, "তিনি প্রখ্যাত হাফিজ, জামি গ্রন্থের রচয়িতা, সর্বসম্মতভাবে নির্ভরযোগ্য। তাঁর সম্পর্কে 'কিতাবুল ঈসাল'-এর ফরায়েজ (উত্তরাধিকার) অধ্যায়ে আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের এই কথার প্রতি কর্ণপাত করা যাবে না যে— 'তিনি অজ্ঞাত (মাজহুল)', কারণ তিনি তাঁর 'জামি' কিংবা 'ইলাল' গ্রন্থ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং এগুলোর অস্তিত্বের কথাও জানতেন না।"
ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে বলেছেন, "তিনি সমসাময়িকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন এবং মুখস্থশক্তি ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন।"
আল-হাকিম আবু আহমাদ তাঁর একজন উস্তাদ থেকে উদ্ধৃত করেন যে, তিনি বলেছেন, "মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি খুরাসানে ইলম, হিফজ, তাকওয়া এবং যুদ-এর ক্ষেত্রে আবু ঈসার মতো কাউকে রেখে যাননি। তিনি কান্নাকাটি করতে করতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং বেশ কয়েক বছর দৃষ্টিহীন অবস্থায় ছিলেন।"
এবং 'আত-তাহযিব'-এ আছে: আবু ফজল আল-বাইলামানি বলেন: আমি নাসর বিন মুহাম্মদ আশ-শাবারকুহিকে বলতে শুনেছি যে, আমি মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তিরমিজিকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল—অর্থাৎ—
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
البخاري- ما انتفعت بك أكثر مما انتفعت بي» .
وقال ابن الأثير في تاريخه «كان إماما حافظا، له تصانيف حسنة منها الجامع الكبير وهو أحسن الكتب» .
وقال أبو علي منصور بن عبد الله الخالدي عن الترمذي أنه قال في شأن كتابه (الجامع) صنفت هذا الكتاب فعرضته على علماء الحجاز والعراق وخراسان فرضوا به ومن كان في بيته هذا الكتاب فكأنما في بيته نبي يتكلم.
قول العلماء في كتاب الشمائل:
يقول علي بن سلطان محمد القاري:
ومن أحسن ما صنف في شمائله وأخلاقه صلى الله عليه وسلم كتاب الترمذي المختصر الجامع في سيره على الوجه الأتم بحيث أن مطالع هذا الكتاب، كأنه يطالع طلعة ذلك الجناب، ويرى محاسنه الشريفة في كل باب.
وقال محمد بن محمد الجزري رحمه الله تعالى:
أخلاي إن شط الحبيب وربعه
… وعز تلاقيه وناءت منازله
وفاتكم أن تبصروه بعينكم
… فما فاتكم بالعين فهذي شمائله
وللأديب محي الدين عبد القادر الزركشي في وصف كتاب الشمائل:
يا أشرف مرسلا كريما
… ما ألطف هذي الشمايل
من يسمع وصفها تراه
… كالغصن مع النسيم مايل
وقال الشيخ عبد الرؤوف المناوي:
«فإن كتاب الشمائل لعلم الرواية وعلم الدراية للامام الترمذي جعل الله قبره روضة عرفها أطيب من المسك الشذي كتاب وحيد في بابه فريد في ترتيبه واستيعابه، لم يأت له أحد بمماثل ولا بمشابه، سلك فيه منهاجا بديعا ورصعه بعيون الاخبار وفنون الآثار ترصيعا حتى عد ذلك الكتاب من المواهب وطار في المشارق والمغارب.
বুখারি— আপনি আমার থেকে যতটা উপকৃত হয়েছেন, আমি আপনার থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি।
ইবনুল আসির তাঁর ইতিহাসে বলেছেন, “তিনি ছিলেন একজন হাফেজ ইমাম, তাঁর চমৎকার সব রচনা রয়েছে যার মধ্যে আল-জামি আল-কাবির অন্যতম এবং এটি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থসমূহের একটি।”
আবু আলী মনসুর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খালিদি ইমাম তিরমিজি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর গ্রন্থ (আল-জামি) সম্পর্কে বলেছেন: “আমি এই গ্রন্থটি সংকলন করার পর হিজাজ, ইরাক ও খুরাসানের আলেমদের সামনে পেশ করেছি এবং তাঁরা এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। যার ঘরে এই গ্রন্থটি রয়েছে, তার ঘরে যেন একজন কথা বলা নবি রয়েছেন।”
শামায়েল গ্রন্থ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের উক্তি:
আলী ইবনে সুলতান মুহাম্মদ আল-কারী বলেন:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শামায়েল (শারীরিক গঠন ও স্বভাব-চরিত্র) এবং তাঁর উন্নত চরিত্রের বিষয়ে সংকলিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো তিরমিজির এই সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থটি। এটি তাঁর জীবনীকে এতো পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যে, এই গ্রন্থটির পাঠক যেন সেই মহান সত্তার পবিত্র অবয়বই প্রত্যক্ষ করে এবং প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁর মহান সৌন্দর্য দেখতে পায়।
মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-জাযারি রাহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেন:
হে আমার বন্ধুরা, প্রিয়তম এবং তাঁর বাসস্থান যদি দূরে চলে যায়
… তাঁর সাথে সাক্ষাৎ যদি কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাঁর আবাসস্থল যদি দূরবর্তী হয়
তবে তোমরা তো তাঁকে স্বচক্ষে দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছো
… কিন্তু চোখের দৃষ্টি দিয়ে যা তোমরা হারিয়েছো, এই হলো তাঁর শামায়েল (যা সেই অভাব পূরণ করবে)
শামায়েল গ্রন্থের বর্ণনায় সাহিত্যিক মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির আজ-যারকাশি বলেছেন:
হে সর্বাধিক সম্মানিত ও মহান রাসুল
… কতই না মনোরম এই শামায়েল!
যে ব্যক্তি এর বর্ণনা শ্রবণ করে, আপনি তাকে দেখবেন
… বসন্তের বাতাসের দোলায় গাছের শাখার মতো আন্দোলিত হতে
শায়খ আব্দুর রউফ আল-মুনাউই বলেন:
“ইমাম তিরমিজির রেওয়ায়েত ও দেরায়েত শাস্ত্রের এই ‘শামায়েল’ গ্রন্থটি—আল্লাহ তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগানে পরিণত করুন এবং এর সুবাসকে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও পবিত্র করুন—এটি নিজ বিষয়ের অনন্য একটি গ্রন্থ এবং বিন্যাস ও তথ্যবহুলতার দিক থেকে এটি অদ্বিতীয়। কেউ এর সমতুল্য বা সদৃশ কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি এতে এক চমৎকার পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং একে নির্বাচিত সংবাদ ও বিভিন্ন প্রকার বর্ণনার মাধ্যমে সুশোভিত করেছেন। এমনকি এই গ্রন্থটি আল্লাহর বিশেষ দান হিসেবে পরিগণিত হয়েছে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সর্বত্র এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وكان ممن تصدى لشرحه أفضل المدققين وأحد المحققين مولانا عصام الدين الاسفرايني الشافعي.
وتلاه العالم النحرير الفقيه الشهير الشهاب بن حجر نزيل مكة فأطال وأطاب.
قال أبي الفداء اسماعيل:
ومن أحسن من جمع في ذلك فأجاد وأفاد الامام أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي رحمه الله تعالى أفرد في هذا المعنى كتابه المشهور بالشمائل المحمدية، ولنا به سماع متصل إليه.
এর ব্যাখ্যা করার কাজে যারা ব্রতী হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শ্রেষ্ঠ সূক্ষ্মদর্শী এবং অন্যতম গবেষক মাওলানা ইসামুদ্দিন আল-ইসফরাইনি আশ-শাফেয়ি।
অতঃপর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেম ও প্রখ্যাত ফকিহ শিহাব বিন হাজার মক্কী, তিনি বিস্তারিত ও চমৎকার আলোচনা করেছেন।
আবুল ফিদা ইসমাইল বলেন:
এই বিষয়ে যারা সর্বোত্তম সংকলন করে শ্রেষ্ঠত্ব ও কল্যাণ সাধন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা আত-তিরমিজি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তিনি এই বিষয়ের জন্য তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়া’কে সুনির্দিষ্টভাবে রচনা করেছেন এবং তাঁর পর্যন্ত আমাদের নিরবচ্ছিন্ন শ্রবণ-পরম্পরা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال الحافظ «1» أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي «2» :
1- باب ما جاء في خلق «3» رسول الله صلى الله عليه وسلم1- حدثنا «4» أبو رجاء قتيبة بن سعيد «5» عن مالك بن أنس «6» عن ربيعة بن أبي عبد الرحمن «7» عن أنس بن مالك «8» أنه سمعه يقول:
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بالطويل البائن «9» ولا بالقصير، ولا بالأبيض
--------------------------------------------
হাফেজ (১) আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিযী (২) বলেন:
১- পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠন (৩) প্রসঙ্গে১- আমাদের নিকট আবু রাজা কুতায়বা ইবনে সাঈদ (৫) বর্ণনা করেছেন (৪), তিনি মালিক ইবনে আনাস (৬) থেকে, তিনি রবীআ ইবনে আবি আবদুর রহমান (৭) থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (৮) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন:
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরিক্ত দীর্ঘকায় (৯) ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না, আর তিনি অতি শুভ্র-সাদা ছিলেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الأمهق، ولا بالآدم «1» ولا بالجعد القطط ولا بالسّبط «2» ، بعثه الله تعالى على رأس أربعين سنة، فأقام بمكة عشر سنين «3» وبالمدينة عشر سنين، وتوفاه الله على رأس ستين سنة «4» وليس في رأسه ولحيته عشرون شعرة بيضاء» «5» .
2- حدثنا حميد بن مسعدة البصريّ «6» . حدثنا «7» عبد الوهاب الثقفي «8» عن حميد «9» عن أنس بن مالك قال:
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ربعة «10» ليس بالطويل ولا بالقصير، حسن الجسم،
--------------------------------------------
চুনকাম করা অতিরিক্ত ফ্যাকাশেও ছিলেন না, আবার ঘোর কৃষ্ণবর্ণও ছিলেন না। তাঁর চুল অতি কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারেই সোজা বা মসৃণও ছিল না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত দিয়ে প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। ষাট বছর বয়সে আল্লাহ তাঁকে ওফাত দান করেন। সে সময় তাঁর মাথা ও দাড়িতে বিশটি চুলও সাদা ছিল না।
২- হুমায়দ বিন মাসআদাহ আল-বাসরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝারি গড়নের ছিলেন, তিনি খুব বেশি লম্বাও ছিলেন না, আবার বেঁটেও ছিলেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুঠাম দেহের অধিকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وكان شعره ليس بجعد ولا سبط أسمر اللون، إذا مشى يتكفأ «1» » «2» .
3- حدثنا محمد بن بشار «3» «يعني العبدي» «4» . حدثنا محمد بن جعفر «5» .
حدثنا شعبة «6» عن أبي إسحق «7» قال: سمعت البراء بن عازب «8» يقول:
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا مربوعا، بعيد ما بين المنكبين، عظيم
--------------------------------------------
তাঁর চুল খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারে সোজা ও মসৃণও ছিল না। তাঁর গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল শ্যামল। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন সামনের দিকে ঝুঁকে কিছুটা দ্রুতগতিতে চলতেন।
৩- মুহাম্মাদ ইবনে বাশার (অর্থাৎ আল-আবদী) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন।
শু'বাহ আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বারা ইবনে আযিব-কে বলতে শুনেছি:
«আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মাঝারি গড়নের মানুষ, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত, তিনি ছিলেন দীর্ঘ অবয়ব সম্পন্ন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الجمة «1» ، إلى شحمة أذنيه، عليه حلة حمراء «2» ما رأيت شيئا قطّ أحسن «3» منه»
4- حدثنا محمود بن غيلان «4» . حدثنا وكيع «5» . حدثنا سفيان «6» عن أبي اسحاق عن البراء بن عازب قال:
«ما رأيت من ذي لمة «7» في حلّة حمراء أحسن من رسول الله صلى الله عليه وسلم، له شعر يضرب منكبيه، بعيد ما بين المنكبين، لم يكن بالقصير ولا بالطويل» «8» .
--------------------------------------------
জুম্মা [১], যা তাঁর কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছেছিল; তাঁর পরনে ছিল একটি লাল পোশাক [২]। আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কোনো কিছুই কখনো দেখিনি [৩]।
৪- আমাদের কাছে মাহমুদ ইবনে গায়লান [৪] বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে ওয়াকি' [৫] বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে সুফিয়ান [৬] আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:
«আমি লাল পোশাক পরিহিত কানের লতি পর্যন্ত চুলবিশিষ্ট [৭] কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অধিক সুন্দর দেখিনি। তাঁর চুল তাঁর কাঁধ পর্যন্ত স্পর্শ করত, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত, তিনি অধিক লম্বাও ছিলেন না এবং অধিক খাটোও ছিলেন না» [৮]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
5- حدثنا محمد بن اسماعيل «1» . حدثنا أبو نعيم «2» . حدثنا المسعودي «3» عن عثمان بن مسلم بن هرمز «4» عن نافع بن جبير بن مطعم «5» عن علي بن أبي طالب قال:
لم يكن النّبيّ صلى الله عليه وسلم بالطويل ولا بالقصير، شثن «6» الكفين والقدمين، ضخم الرأس ضخم الكراديس «7» ، طويل المسربة «8» ، إذا مشى تكفأ تكفؤا كأنما «9» ينحط من صبب «10» ، لم أر قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم » «11» .
6- حدثنا أحمد بن عبدة الضبي البصري «12» وعلي بن حجر «13» ، وأبو جعفر
--------------------------------------------
৫- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাসউদী, তিনি উসমান বিন মুসলিম বিন হুরমুজ থেকে, তিনি নাফি বিন জুবাইর বিন মুতয়িম থেকে, তিনি আলী বিন আবু তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক দীর্ঘকায় ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না। তাঁর হাত ও পায়ের তালু ছিল পুরু ও মাংসল, মাথা ছিল বড়, হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড় ও মজবুত, বুকের পশমের রেখা ছিল দীর্ঘ। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন সামনে ঝুঁকে দ্রুতবেগে হাঁটতেন যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা থেকে নিচে নামছেন। আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবদাহ আদ-দাব্বি আল-বাসরি এবং আলী বিন হুজর, এবং আবু জাফর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২০)
محمد بن الحسين «1» وهو ابن أبي حليمة والمعنى واحد. قالوا. حدثنا عيسى بن يونس «2» عن عمر بن عبد الله مولى غفرة «3» قال حدثني ابراهيم بن محمد «4» من ولد علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال كان علي إذا وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
«لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم بالطويل الممغط «5» ، ولا بالقصير المتردد، وكان ربعة من القوم، لم يكن بالجعد القطط ولا بالسبط، كان جعدا رجلا، ولم يكن بالمطهّم ولا بالمكلثم، وكان في وجهه تدوير، أبيض، مشرب، أدعج العينين، أهدب الأشفار، جليل المشاش والكتد، أجرد ذو مسربة، شثن الكفين والقدمين إذا مشى تقلع كأنما ينحط في صبب، وإذا التفت التفت معا، بين كتفيه خاتم النبوة، وهو خاتم النبيين، أجود الناس صدرا، وأصدق الناس لهجة، وألينهم عريكة، وأكرمهم (عشرة) «6» ، من رآه بديهة هابه، ومن
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন (১) আর তিনি ইবনে আবি হালিমা নামেও পরিচিত, উভয়ে একই ব্যক্তি। তারা বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস (২), তিনি উমর ইবনে আবদুল্লাহ মাওলা গাফরা (৩) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আলীবিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ (৪) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন:
«আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যধিক দীর্ঘকায় ছিলেন না এবং অতিশয় খর্বকায়ও ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন লোকদের মধ্যে মধ্যমাকৃতির। তাঁর চুল অত্যধিক কোঁকড়ানো ছিল না আবার একেবারে সোজাও ছিল না, বরং তা ছিল কিছুটা কোঁকড়ানো। তিনি অত্যধিক স্থূলকায় ছিলেন না এবং তাঁর চেহারা একেবারে গোল ছিল না, তবে তাঁর চেহারায় কিছুটা গোলভাব ছিল। তাঁর গায়ের রঙ ছিল লালচে সাদা। তাঁর চোখের মণি ছিল অত্যন্ত কালো এবং চোখের পলক ছিল দীর্ঘ। তাঁর হাড়ের জোড়াগুলো এবং দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল বড় ও প্রশস্ত। তাঁর শরীরে (অতিরিক্ত) লোম ছিল না, তবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত একটি চিকণ লোমশ রেখা ছিল। তাঁর হাতের তালু এবং পায়ের পাতা ছিল মাংসল ও পুরু। যখন তিনি হাঁটতেন, তখন পূর্ণ শক্তিতে পা উঠিয়ে হাঁটতেন যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা দিয়ে নিচের দিকে নামছেন। যখন তিনি কারো দিকে ফিরে তাকাতেন, তখন পূর্ণ শরীর ঘুরিয়ে তাকাতেন। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়তের মোহর ছিল এবং তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উদারমনা, সবচেয়ে সত্যবাদী, সবচেয়ে বিনম্র স্বভাবের এবং জীবনযাপনে সবচেয়ে সম্মানিত সাহচর্যের অধিকারী। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত, সে ভীত ও অভিভূত হতো, আর যে ব্যক্তি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২১)
خالطه معرفة أحبه، يقول ناعته: لم أر قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم» «1» .
قال أبو عيسى «2» سمعت (أبا جعفر محمد بن الحسين يقول: سمعت الأصمعي يقول: في تفسير صفة النبي صلى الله عليه وسلم: الممغط الذاهب طولا. وقال سمعت أعرابيا يقول في كلامه: تمغط في نشابته أي مدها مدا شديدا. والمتردد:
الداخل بعضه في بعض قصرا، وأما القطط: فالشديد الجعودة، والرجل الذي في شعره حجونة؛ أي تثن قليل، وأما المطهم: فالبادن الكثير اللحم، والمكلثم:
المدور الوجه، والمشرب: الذي في بياضه حمرة، والأدعج: الشديد سواد العين.
والأهدب: الطويل الأشفار.
7- حدثنا سفيان بن وكيع قال حدثنا جميع بن عمير «3» بن عبد الرحمن العجلي/ إملاء علينا من كتابه/ قال أخبرني رجل من بني تميم من ولد أبي هالة زوج خديجة، يكنى أبا عبد الله «4» عن ابن لأبي هالة «5» عن الحسن بن علي رضي
--------------------------------------------
যে ব্যক্তি ঘনিষ্ঠভাবে তাঁর সংস্পর্শে আসত সে তাঁকে ভালোবেসে ফেলত। তাঁর গুণাবলী বর্ণনাকারী বলতেন: আমি তাঁর পূর্বে এবং তাঁর পরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
আবু ঈসা বলেন, আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুল হোসেনকে বলতে শুনেছি যে, আমি আসমাঈকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি: 'মুম্মাগাত' অর্থ হলো অতি দীর্ঘাকৃতি। তিনি আরও বলেন, আমি এক বেদুইনকে কথা বলার সময় বলতে শুনেছি: সে তার ধনুককে 'তামাগগাতা' করেছে, অর্থাৎ সেটিকে খুব জোরে টেনেছে। 'মুতারাদ্দিদ' হলো:
সেই ব্যক্তি যার শরীরের একাংশ অন্য অংশের ভেতর ঢুকে গেছে অর্থাৎ খর্বাকৃতি। আর 'কাতাত' হলো অতি কোঁকড়ানো চুল। 'রাজুল' হলো সেই ব্যক্তি যার চুলে সামান্য ঢেউ বা বাঁক রয়েছে। 'মুতাহহাম' হলো স্থূলকায় এবং অধিক মাংসল ব্যক্তি। 'মুকালসাম' হলো:
গোল মুখমণ্ডল বিশিষ্ট। 'মুশরাব' হলো সেই বর্ণ যাতে শুভ্রতার মাঝে লালিমা মিশে আছে। 'আদআজ' হলো যাঁর চোখের মণি অত্যন্ত কালো।
'আহদাব' হলো দীর্ঘ চোখের পাপড়ি বিশিষ্ট।
৭- সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে জামি ইবনে উমাইর ইবনে আবদুর রহমান আল-ইজলি তাঁর কিতাব থেকে লিখিয়ে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে বনু তামীম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি খাদিজার স্বামী আবু হালার বংশধর এবং যাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ, তিনি আবু হালার এক পুত্র থেকে, তিনি হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২২)
الله عنهما قال: سألت خالي هند بن أبي هالة «1» ، وكان وصافا عن حلية النبي صلى الله عليه وسلم، وأنا أشتهي أن يصف لي منها شيئا أتعلق به فقال:
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم فخما مفخّما، يتلألأ وجهه تلألؤ القمر ليلة البدر، أطول من المربوع، وأقصر من المشذّب «2» ، عظيم الهامة، رجل الشعر، ان انفرقت عقيقته «3» فرقها، والا فلا يجاوز شعره شحمة أذنيه، إذا هو وفّره، أزهر اللون، واسع الجبين، أزج «4» الحواجب سوابغ في غير قرن «5» بينهما عرق يدره الغضب «6» ؛ أقنى العرنين «7» ، له نور يعلوه يحسبه من لم يتأمله أشم، كث اللحية، سهل الخدين، ضليع الفم «8» مفلج الأسنان «9» دقيق المسربة كأن عنقه جيد دمية في صفاء الفضة «10» ، معتدل الخلق، بادن متماسك «11» ، سواء البطن والصدر، عريض الصدر، بعيد ما بين المنكبين، ضخم الكراديس، أنور المتجرد، موصول ما بين اللّبة «12» والسرة بشعر
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেন: আমি আমার মামা হিন্দ বিন আবি হালা-কে জিজ্ঞেস করলাম—আর তিনি ছিলেন গুণাবলি বর্ণনায় পারদর্শী—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক অবয়ব সম্পর্কে। আমি মনে-প্রাণে কামনা করছিলাম যে, তিনি আমার জন্য তাঁর গুণাবলির এমন কিছু বর্ণনা করবেন যা আমি ধারণ করতে পারি। অতঃপর তিনি বললেন:
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মহিমান্বিত ও মর্যাদাবান। তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বলতা ছড়াত। তিনি মধ্যম গড়নের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন, কিন্তু লিকলিকে লম্বা ছিলেন না। তাঁর মস্তক ছিল সুসংহত বড়। তাঁর চুল ছিল ঈষৎ ঢেউখেলানো। যদি তাঁর চুল স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত, তবে তিনি মাঝখানে সিঁথি করতেন; অন্যথায় তাঁর চুল কানের লতি অতিক্রম করত না যখন তিনি তা প্রচুর রাখতেন। তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল। তাঁর কপাল ছিল প্রশস্ত। তাঁর ভ্রুদ্বয় ছিল ধনুকের ন্যায় বাঁকানো এবং ঘন, যা একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো ছিল না। তাঁর ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে একটি রগ ছিল যা রাগান্বিত হলে ফুলে উঠত। তাঁর নাক ছিল দীর্ঘ এবং উপরিভাগ কিছুটা উন্নত। তাতে এক প্রকার নূর বা আভা ছিল, যা গভীরভাবে না পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তি নাকটি অনেক উঁচু মনে করত। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন। গাল ছিল মসৃণ ও মাংসল নয়। তাঁর মুখগহ্বর ছিল প্রশস্ত। তাঁর দাঁতগুলো ছিল সুবিন্যস্ত ও ফাঁকা ফাঁকা। তাঁর কণ্ঠনালি থেকে নাভি পর্যন্ত একটি চিকন পশমের রেখা ছিল। তাঁর গর্দান যেন রূপার স্বচ্ছতায় কোনো মূর্তির ন্যায় নিখুঁত ও সুঠাম। তাঁর শারীরিক গঠন ছিল সুষম। তিনি ছিলেন হৃষ্টপুষ্ট ও সুসংহত দেহের অধিকারী। তাঁর পেট ও বুক ছিল সমান। তাঁর বুক ছিল প্রশস্ত। দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল বিস্তৃত। তাঁর হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড়। শরীরের যে অংশ পোশাকে আবৃত থাকত না, তা ছিল নূরময় ও উজ্জ্বল। তাঁর কণ্ঠের নিম্নদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত চিকন পশমের রেখা প্রলম্বিত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يجري كالخط، عاري الثديين والبطن مما سوى ذلك، أشعر الذراعين والمنكبين وأعالي الصدر، طويل الزندين رحب الراحة شثن الكفين والقدمين، سائل الأطراف، أو قال شائل الأطراف «1» خمصان الأخمصين «2» مسيح القدمين «3» ينبو عنهما الماء، إذا زال زال قلعا، يخطو تكفيا «4» ويمشي هونا؛ ذريع المشية إذا مشى كأنما ينحط من صبب «5» ؛ وإذا التفت التفت جميعا؛ خافض الطرف؛ نظره إلى الأرض أطول من نظره إلى السماء؛ جل نظره الملاحظة. يسوق أصحابه «6» ؛ ويبدر «7» من لقي بالسلام «8» .
8- حدثنا أبو موسى محمد بن المثنى «9» . حدثنا محمد بن جعفر. حدثنا شعبة عن سماك بن حرب «10» قال: سمعت جابر بن سمرة «11» يقول:
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ضليع الفم؛ أشكل العين، منهوس العقب، قال شعبة: قلت لسماك: ما ضليع الفم؟
قال: عظيم الفم. قلت:
--------------------------------------------
(চুল ও পশম) রেখার ন্যায় প্রলম্বিত ছিল, স্তনদ্বয় ও পেট ছিল (পশম থেকে) খালি, তবে বাহুদ্বয়, কাঁধদ্বয় এবং বুকের উপরিভাগে পশম ছিল। তাঁর কব্জিদ্বয় ছিল দীর্ঘ, হাতের তালু ছিল প্রশস্ত, হাত ও পায়ের তালু ছিল মাংসল। তাঁর হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো ছিল লম্বা (অথবা তিনি বলেছেন সুঠাম) «১» তাঁর পদতলের মধ্যভাগ ছিল অধিক ফাঁকা «২» পদদ্বয় ছিল মসৃণ «৩» যার ওপর পানি স্থির থাকতো না; যখন তিনি স্থান ত্যাগ করতেন তখন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পা তুলে হাঁটতেন; তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে পথ চলতেন «৪»; তাঁর চলার গতি ছিল দ্রুত, যখন তিনি হাঁটতেন মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন «৫»; তিনি যখন কারো দিকে ফিরে তাকাতেন তখন পূর্ণ অবয়বে ফিরে তাকাতেন; তাঁর দৃষ্টি থাকতো অবনত; আকাশের দিকে তাকানোর চেয়ে জমিনের দিকে তাকিয়ে থাকাই ছিল তাঁর দীর্ঘ অভ্যাস; তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল পর্যবেক্ষণের। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিজের আগে চালিয়ে নিয়ে যেতেন «৬»; এবং যাঁর সাথে দেখা হতো তাঁকে আগে সালাম দিতেন «৭» «৮»।
৮- আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না «৯» আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। শু'বাহ সিমাক ইবনে হারব «১০» থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে সামুরাহ «১১»-কে বলতে শুনেছি:
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশস্ত মুখগহ্বর বিশিষ্ট ছিলেন; তাঁর চোখের সাদা অংশে লাল আভা ছিল এবং তাঁর গোড়ালিতে মাংস কম ছিল। শু'বাহ বলেন: আমি সিমাককে জিজ্ঞাসা করলাম, 'দালিউল ফাম' (প্রশস্ত মুখ) এর অর্থ কী?
তিনি বললেন: বড় মুখ। আমি বললাম:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ما أشكل العين؟ قال طويل شق العين، قلت: ما منهوس العقب؟ قال قليل لحم العقب» «1» .
9- حدثنا هناد بن السري «2» . حدثنا عبثر بن القاسم «3» عن أشعث «4» يعني ابن سوار عن أبي اسحاق عن جابر بن سمرة قال:
«رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في ليلة إضحيان «5» ، وعليه حلّة حمراء، فجعلت أنظر إليه وإلى القمر، فلهو عندي أحسن من القمر» «6» .
10- حدثنا سفيان بن وكيع. حدثننا حميد بن عبد الحميد الرؤاسي «7» عن زهير «8» عن أبي إسحاق قال: سأل رجل البراء بن عازب:
«أكان وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل السيف؟ قال لا، بل مثل القمر» «9» .
11- حدثنا أبو داود المصاحفي/ سليمان بن سلم/ «10» حدثنا النضر بن
--------------------------------------------
'আশকালুল আইন' অর্থ কী? তিনি বললেন: চোখের প্রান্ত লম্বা হওয়া। আমি বললাম: 'মানহুসুল আকিব' অর্থ কী? তিনি বললেন: গোড়ালিতে গোশত কম থাকা। (১)
৯- হান্নাদ ইবনাস সাররি (২) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবসার ইবনুল কাসিম (৩) আমাদের নিকট আশ'আস (৪) অর্থাৎ ইবনে সাওয়ার থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«আমি এক জ্যোৎস্নালোকিত রাতে (৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তাঁর গায়ে লাল রঙের পোশাক ছিল। আমি একবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলাম আর একবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার কাছে তিনি চাঁদের চেয়েও বেশি সুন্দর ছিলেন (৬) ।»
১০- সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আর-রুয়াসি (৭) আমাদের নিকট যুহাইর (৮) থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বারা ইবনে আযিব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন:
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারক কি তরবারির মতো (চকচকে) ছিল? তিনি বললেন: না, বরং চাঁদের মতো (উজ্জ্বল ও গোল) ছিল (৯) ।»
১১- আবু দাউদ আল-মুসাহাফি সুলাইমান ইবনে সালাম (১০) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আন্-নাযর ইবনে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
شميل «1» عن صالح بن أبي الأخضر «2» عن ابن شهاب «3» عن أبي سلمة «4» عن أبي هريرة «5» رضي الله عنه قال:
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أبيض كأنّما صيغ من فضة، رجل الشعر» «6» .
12- حدثنا قتيبة بن سعيد «7» قال أخبرني الليث بن سعد «8» عن أبي الزبير عن جابر بن عبد الله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
«عرض عليّ الأنبياء، فإذا موسى عليه السلام ضرب من الرجال كأنّه من رجال شنوءة «9» ، ورأيت عيسى بن مريم عليه السلام فإذا أقرب من رأيت به شبها عروة بن مسعود «10» ، ورأيت ابراهيم عليه السلام فإذا أقرب من رأيت به
--------------------------------------------
শুমাইল (১) সালিহ বিন আবু আল-আখদার (২) থেকে, তিনি ইবনে শিহাব (৩) থেকে, তিনি আবু সালামাহ (৪) থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (৫) (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:
“রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উজ্জ্বল শ্বেত বর্ণের ছিলেন, যেন তাঁকে রূপা দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে, তাঁর চুল ছিল সামান্য ঢেউখেলানো।” (৬) ।
১২- কুতাইবা বিন সাঈদ (৭) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, লাইস বিন সা’দ (৮) আবু যুবাইর থেকে এবং তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“আমার সামনে নবীগণকে উপস্থাপন করা হলো। আমি মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলাম, তিনি ছিলেন দোহারা গড়নের দীর্ঘদেহী পুরুষ, যেন তিনি শানুয়াহ (৯) গোত্রের একজন লোক। আমি ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলাম, আমি যত মানুষকে দেখেছি তাদের মধ্যে উরওয়াহ বিন মাসঊদ (১০) তাঁর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলাম, আমি যত মানুষকে দেখেছি তাদের মধ্যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
شبها دحية «1» » «2» .
13- حدثنا سفيان بن وكيع ومحمد بن بشار/ المعنى واحد/ قالا أخبر يزيد بن هارون «3» عن سعيد الجريري «4» قال سمعت أبا الطفيل «5» يقول:
«رأيت النّبي صلى الله عليه وسلم وما بقي على وجه الأرض أحد رآه غيري. قلت: صفه لي. قال: كان أبيض؛ مليحا مقصّدا» «6» .
14- حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن «7» . حدثنا إبراهيم بن المنذر الحزاميّ «8»
--------------------------------------------
দিহইয়া-এর সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। «১» » «২»।
১৩- সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি এবং মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উভয়ের বর্ণিত হাদীসের অর্থ অভিন্ন। তাঁরা বলেন, ইয়াযীদ ইবনে হারুন «৩» আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সাঈদ আল-জুরাইরী «৪» থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবু তুফাইল «৫»-কে বলতে শুনেছি:
“আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি এবং বর্তমানে ভূপৃষ্ঠে আমি ছাড়া এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যে তাঁকে দেখেছে। আমি বললাম: আপনি আমার নিকট তাঁর দৈহিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিন। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন শ্বেতবর্ণ, অত্যন্ত সুন্দর এবং সুঠাম দেহের অধিকারী।” «৬»।
১৪- আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান «৭» আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইব্রাহীম ইবনে মুনযির আল-হিযামী «৮» আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
حدثنا عبد العزيز بن ثابت الزّهريّ «1» . حدثني إسماعيل بن إبراهيم «2» / ابن أخي موسى بن عقبة/ عن موسى بن عقبة «3» عن كريب «4» عن ابن عباس «5» قال:
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أفلج الثّنيّتين «6» . إذا تكلم رؤي كالنور يخرج من بين ثناياه» «7» .
--------------------------------------------
আব্দুল আজিজ ইবনে সাবিত আল-জুহরী (১) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার নিকট ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম (২) / মুসা ইবনে উকবাহ-এর ভ্রাতুষ্পুত্র / মুসা ইবনে উকবাহ (৩) থেকে, তিনি কুরাইব (৪) থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (৫) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনের দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা ছিল (৬)। যখন তিনি কথা বলতেন, তখন তাঁর সামনের দাঁতগুলোর মাঝখান থেকে নূরের মতো আভা বের হতে দেখা যেত» (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2- باب ما جاء في خاتم النّبوة15- حدثنا قتيبة بن سعيد «1» . حدثنا حاتم بن اسماعيل «2» عن الجعد بن عبد الرحمن قال «3» : سمعت السائب بن يزيد «4» يقول:
«ذهبت بي خالتي إلى النّبي صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله انّ ابن أختي وجع «5» فمسح صلى الله عليه وسلم رأسي، ودعا لي بالبركة، وتوضأ فشربت من وضوئه، وقمت خلف ظهره؛ فنظرت إلى الخاتم بين كتفيه فإذا هو مثل رز الحجة» .
16- حدثنا سعيد بن يعقوب الطالقاني «6» . حدثنا أيوب بن جابر «7» عن سماك بن حرب عن جابر بن سمرة قال:
--------------------------------------------
২- নবুওয়াতের মোহর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে১৫- কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাতিম ইবনে ইসমাঈল আল-জা'দ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সায়িব ইবনে ইয়াযীদকে বলতে শুনেছি:
«আমার খালা আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আমার ভাগ্নে অসুস্থ। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বরকতের দুআ করলেন। অতঃপর তিনি ওযু করলেন এবং আমি তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম। এরপর আমি তাঁর পিঠের পেছনে দাঁড়ালাম এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে মোহরটির দিকে তাকালাম; দেখা গেল তা পালঙ্কের বোতামের মতো (কিংবা কবুতরের ডিমের মতো) ছিল।»
১৬- সাঈদ ইবনে ইয়াকুব আত-তালকানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আইয়ুব ইবনে জাবির সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
«رأيت الخاتم بين كتفي رسول الله صلى الله عليه وسلم غدة حمراء مثل بيضة الحمامة» «1» .
17- حدثنا أبو مصعب المديني «2» . يوسف بن الماجشون عن أبيه «3» عن عاصم بن عمر «4» بن قتادة عن جدته رميثة «5» قالت:
«سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم (ولو أشاء ان أقبّل الخاتم الذي بين كتفيه من قربه لفعلت) ، يقول لسعد بن معاذ يوم مات:
اهتزّ له عرش الرّحمن» «6» .
18- حدثنا أحمد بن عبدة الضّبّيّ وعلي بن حجر وغير واحد. قالوا: حدثنا عيسى بن يونس عن عمر بن عبد الله مولى غفرة قال: حدثني ابراهيم بن محمد من ولد علي بن أبي طالب قال:
كان علي إذا وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث بطوله وقال: بين كتفيه خاتم النبوة، وهو خاتم النّبيين» «7» .
--------------------------------------------
«আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়তের মোহরটি কবুতরের ডিমের মতো লাল বর্ণের একটি মাংসপিণ্ড হিসেবে দেখেছি।» «১»।
১৭- আমাদের কাছে আবু মুসআব আল-মাদিনী বর্ণনা করেছেন। ইউসুফ ইবনুল মাজিশুন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ থেকে, তিনি তাঁর দাদী রুমাইসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি (যদি আমি চাইতাম তাঁর এত নিকটবর্তী হওয়াতে তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে থাকা মোহরটিতে চুমু খেতে পারতাম, তবে আমি অবশ্যই তা করতাম), তিনি সাদ ইবনে মুয়াজের ইন্তেকালের দিন বলেছিলেন:
তাঁর জন্য রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে।» «৬»।
১৮- আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে আবদাহ আদ-দব্বী, আলী ইবনে হুজর এবং আরও একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে ঈসা ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আব্দুল্লাহ মাওলা গুফরাহ থেকে, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিবের বংশধর ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আলী (রা.) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক বিবরণ দিতেন, তখন তিনি দীর্ঘ হাদীসটি উল্লেখ করতেন এবং বলতেন: তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়তের মোহর ছিল, আর তিনি হলেন নবীগণের মোহর (সর্বশেষ নবী)।» «৭»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
19- حدثنا محمد بن بشار. حدثنا أبو عاصم «1» . حدثنا عزرة بن ثابت «2» قال: حدثني علباء بن أحمر اليشكري «3» قال: حدثني أبو زيد عمرو بن أخطب الأنصاري «4» قال:
«قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا أبا زيد ادن مني فامسح ظهري، فمسحت ظهره، فوقعت أصابعي على الخاتم. قلت «5» : وما الخاتم؟
قال: شعرات مجتمعات» «6» .
20- حدثنا أبو عمار بن حريث الخزاعي «7» ، حدثنا علي بن «8» حسين بن واقد. حدثني عبد الله بن بريدة «9» قال: سمعت أبي بريدة «10» يقول:
--------------------------------------------
১৯- মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আজরাহ ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইলবা ইবনে আহমার আল-ইয়াশকারি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যায়েদ আমর ইবনে আখতাব আল-আনসারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: হে আবু যায়েদ, আমার কাছে এসো এবং আমার পিঠ মুছে দাও। ফলে আমি তাঁর পিঠ মুছে দিলাম, আর আমার আঙুলগুলো মোহরের ওপর পড়ল। আমি বললাম: মোহরটি কী?
তিনি বললেন: কতগুলো একত্রিত চুল»।
২০- আবু আম্মার ইবনে হুরাইস আল-খুজায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা বুরাইদাহকে বলতে শুনেছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
«جاء سلمان الفارسي «1» إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم. حين قدم المدينة بمائدة عليها رطب فوضعت بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا سلمان ما هذا؟ فقال صدقة عليك وعلى أصحابك، فقال: إرفعها فإنا لا نأكل الصدقة. قال:
فرفعها فجاء الغد بمثله، فوضعه بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ما هذا يا سلمان؟ فقال: هدية لك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه ابسطوا. ثم نظر إلى الخاتم على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فآمن به، وكان لليهود فاشتراه رسول الله صلى الله عليه وسلم بكذا وكذا درهما على أن يغرس لهم نخلا «2» فيعمل سلمان فيه حتى تطعم فغرس رسول الله صلى الله عليه وسلم النخيل إلا نخلة واحدة غرسها عمر، فحملت النخل من عامها، ولم تحمل النخلة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شأن هذه النخلة فقال عمر يا رسول الله أنا غرستها فنزعها رسول الله صلى الله عليه وسلم فغرسها فحملت من عامها.
--------------------------------------------
সালমান আল-ফারিসি (১) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন যখন তিনি মদিনায় আগমন করেছেন। তিনি একটি তশতরি নিয়ে আসলেন যাতে তাজা খেজুর ছিল এবং সেটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে রাখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "হে সালমান, এটি কী?" তিনি বললেন, "এটি আপনার এবং আপনার সাথীদের জন্য সদকা।" তিনি বললেন, "এটি নিয়ে যাও, কারণ আমরা সদকা খাই না।"
তিনি সেটি নিয়ে গেলেন এবং পরের দিন অনুরূপ কিছু নিয়ে আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে রাখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "হে সালমান, এটি কী?" তিনি বললেন, "আপনার জন্য হাদিয়া (উপহার)।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, "তোমরা শুরু করো (খাও)।" এরপর তিনি (সালমান) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিঠে নবুওয়াতের মোহরের দিকে তাকালেন এবং তাঁর ওপর ঈমান আনলেন। তিনি তখন ইহুদিদের দাস ছিলেন, তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দিরহামের বিনিময়ে এই শর্তে মুক্ত করার জন্য কিনে নিলেন যে, তিনি তাদের জন্য খেজুর গাছ রোপণ করবেন এবং সালমান তাতে ফল আসা পর্যন্ত কাজ করবেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুর গাছ ব্যতিত সব গাছ নিজ হাতে রোপণ করলেন; সেই একটি গাছ উমর রোপণ করেছিলেন। সেই বছরই সব খেজুর গাছ ফল দান করল, কিন্তু সেই একটি গাছ ফল দিল না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এই গাছটির কী হলো?" উমর বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, এটি আমি রোপণ করেছিলাম।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি উপড়ে ফেললেন এবং পুনরায় রোপণ করলেন, ফলে সেটিও সেই বছরই ফল দান করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
21- حدثنا محمد بن بشار. حدثنا بشر بن الوضاح «1» حدثنا أبو عقيل الدورقي «2» . عن أبي نضرة العوفي «3» قال:
«سألت أبا سعيد الخدري عن خاتم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «كان في ظهره بضعة ناشزة» «4» .
22- حدثنا أحمد بن المقدام أبو الأشعث العجلي البصري «5» . أخبرنا حماد بن زيد «6» عن عاصم الأحول «7» عن عبد الله بن سرجس «8» قال:
«أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في ناس «9» من أصحابه فدرت هكذا من خلفه فعرف الذي أريد، فألقى الرداء عن ظهره، فرأيت موضع الخاتم على
--------------------------------------------
২১- মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। বিশর ইবনুল ওয়াদদাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু আকিল আদ-দাওরাকি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু নাদরাহ আল-আউফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
«আমি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোহর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "তাঁর পিঠে একটি উঁচু গোশতখণ্ড ছিল।"»
২২- আহমাদ ইবনুল মিকদাম আবু আল-আশআদ আল-ইজলি আল-বাসরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি তাঁর একদল সাহাবীর মাঝে ছিলেন। আমি তাঁর পিছন দিক থেকে এভাবে ঘুরলাম। তিনি বুঝতে পারলেন আমি কী চাচ্ছি, তখন তিনি তাঁর পিঠ থেকে চাদর সরিয়ে দিলেন। ফলে আমি মোহরের স্থানটি দেখতে পেলাম...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
كتفيه مثل الجمع «1» حولها خيلان «2» كأنها ثآليل «3» فرجعت حتى استقبلته فقلت غفر الله لك يا رسول الله. فقال ولك فقال القوم استغفر لك رسول الله صلى الله عليه وسلم . فقال نعم. ولكم ثم تلا هذه الآية وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِناتِ «4» » «5» .
--------------------------------------------
তাঁর কাঁধদ্বয়ের নিকটে তা (মোহরে নবুওয়াত) ছিল মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো «১», যার চারপাশে ছিল তিলসমূহ «২», যা দেখতে আঁচিলের মতো মনে হচ্ছিল «৩»। অতঃপর আমি ফিরে তাঁর সামনে আসলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন। তিনি বললেন: এবং তোমাকেও। তখন লোকেরা বলল: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের জন্যও। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: “এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ত্রুটির জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য” «৪» «৫»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
3- باب ما جاء في شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم23- حدثنا علي بن حجر. أخبرنا اسماعيل بن ابراهيم عن حميد. عن أنس بن مالك قال:
«كان شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى نصف أذنيه «1» » «2» .
24- حدثنا هناد بن السري. أخبرنا عبد الرحمن بن أبي الزناد «3» عن هشام بن عروة «4» . عن أبيه. عن عائشة «5» قالت:
«كنت أغتسل أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم من إناء واحد، وكان له شعر فوق الجمة، ودون الوفرة» «6» .
--------------------------------------------
৩- পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল মুবারক সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে২৩- আলী ইবনে হুজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল মুবারক তাঁর দুই কানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছাত।»
২৪- হান্নাদ ইবনে সারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। তাঁর চুল ছিল 'জুম্মাহ'র উপরে এবং 'ওয়াফরাহ'র নিচে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
25- حدثنا أحمد بن منيع «1» : حدثنا أبو قطن «2» حدثنا شعبة عن أبي إسحاق عن البراء بن عازب قال:
«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مربوعا، بعيد ما بين المنكبين وكانت جمّته تضرب شحمة أذنيه» «3» .
26- حدثنا محمد بن بشار. حدثنا وهب بن جرير بن حازم «4» قال: حدثني أبي عن قتادة «5» قال: قلت لأنس: كيف كان شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال:
«لم يكن بالجعد ولا بالسبط، كان يبلغ شعره شحمة أذنيه» «6» .
--------------------------------------------
২৫- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মানী‘ : আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কাতান, তিনি বর্ণনা করেছেন শু‘বাহ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা বিন আযিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝারি গড়নের ছিলেন, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত এবং তাঁর মাথার চুল কানের লতি পর্যন্ত স্পর্শ করত।»
২৬- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বাশার। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব বিন জারীর বিন হাযিম, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল কেমন ছিল? তিনি বললেন:
«তা খুব কোঁকড়ানোও ছিল না, আবার একদম সোজাও ছিল না; তাঁর চুল কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাত।»
--------------------------------------------