(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: -)
الشمائل المحمدية للترمذي - ط إحياء التراث   (الترمذي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الشمائل المحمدية

المؤلف: أبو عيسى محمد بن سورة الترمذي (ت 279 هـ)

إخراج وتعليق: محمد أحمد حلاق

الناشر: دار إحياء التراث العربي، بيروت - لبنان

عدد الصفحات: 254

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তিরমিযী রচিত আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ - ইহয়াউত তুরাছ সংস্করণ   (তিরমিযী)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ

গ্রন্থকার: আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে সূরাহ আত-তিরমিযী (মৃত্যু: ২৭৯ হিজরী)

সম্পাদনা ও টীকা: মুহাম্মাদ আহমাদ হাল্লাক

প্রকাশক: দার ইহয়াউত তুরাছ আল-আরাবি, বৈরুত - লেবানন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৪

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রণ সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ যুলহাজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تقديم فضيلة الشيخ محمد المنتقى الكشناوى

الحمد لله العزيز القهار، العالم بالاسرار الذي اصطفى سيد البشر سيدنا محمد بن عبد الله بنبوته، ورسالته، وحذر جميع خلقه مخالفته فقال عز من قائل فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيما شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً وصلوات الله وسلامه عليه وآله وصحبه وأزواجه وذريته أجمعين.

أما بعد: فاعلم أن علم الحديث ومن جملته علم السيرة النبوية أجل العلوم قدرا وأكملها مزية، من حازه فقد حاز فضلا كثيرا، ومن أوتيه فقد أوتي خيرا كثيرا. فقد روي عن سفيان الثوري رحمه الله كما ذكره ابن الصلاح في مقدمة علوم الحديث له قال: «ما أعلم عملا أفضل من طلب الحديث لمن أراد به الله عز وجل» . قال ابن الصلاح: وروينا نحوه عن ابن المبارك أهـ.

قاله العلامة أبو الفيض مولانا جعفر الحسني الادريسي الشهير الكتاني رحمه الله تعالى وإيانا في مقدمة كتابه «نظم المتناثر من الحديث المتواتر» .

ثم كما قال بعض الصالحين رضوان الله تعالى علينا وعليهم: إن معرفة عبادة الله تعالى والعمل بدينه الذي أنزله لصلاح شؤون العباد في الدنيا والآخرة متوقفة على معرفة هدى رسول الله صلى الله عليه وسلم وطريقته العملية التي بين فيما شرع الله تعالى أول ما نزل عليه الوحي إلى أن أكمل الله تعالى هذا الدين وقد وعت كتب السنة والمغازي والتاريخ والشمائل أقوال النبي صلى الله عليه وسلم، وأفعاله، وصفاته من أول نشأته إلى أن اختاره الله تعالى إلى جواره، لا سيما الفترة التي أدّى فيها الرسالة ولم تدع أمرا من أموره ولا شيئا من شؤونه دقّ أو جل إلا أحصته حتى
শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাম্মাদ আল-মুনতাকা আল-কাশনাভী-র ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মহাপরাক্রমশালী ও দমনকারী, গোপন রহস্য সম্পর্কে অবগত, যিনি মানবজাতির নেতা আমাদের সর্দার মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহকে তাঁর নবুওয়াত ও রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা করা থেকে সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সতর্ক করেছেন। পরাক্রমশালী বক্তা (আল্লাহ) বলেন: "অতএব আপনার রবের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে তাদের বিবাদমান বিষয়ে বিচারক নিয়োগ করবে, অতঃপর আপনার দেয়া ফয়সালার ব্যাপারে তারা নিজেদের অন্তরে কোনো দ্বিধাবোধ করবে না এবং তা পূর্ণরূপে মেনে নেবে।" আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তাঁর সকল বংশধরদের ওপর বর্ষিত হোক।

অতঃপর: জেনে রাখুন যে, ইলমে হাদীস এবং এরই অন্তর্ভুক্ত ইলমে সীরাত হলো মর্যাদার দিক দিয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান। যে ব্যক্তি এটি অর্জন করল সে প্রভূত মর্যাদা অর্জন করল এবং যাকে এটি দান করা হলো তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হলো। সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি ইবনে আস-সালাহ তাঁর ইলমে হাদীসের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে মহামহিম আল্লাহর সন্তুষ্টির ইচ্ছা করে, তার জন্য হাদীস অন্বেষণের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো কাজ আমার জানা নেই।" ইবনে আস-সালাহ বলেন: আমরা ইবনুল মুবারক থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছি।

এটি আল্লামা আবুল ফয়জ মাওলানা জাফর আল-হাসানী আল-ইদ্রিসী—যিনি আল-কাত্তানী নামে পরিচিত (আল্লাহ তাআলা তাঁর ও আমাদের প্রতি রহম করুন)—তাঁর "নাজমুল মুতানাসির মিনাল হাদীসিল মুতাওয়াতির" গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর যেমনটি কোনো কোনো নেককার ব্যক্তি (আল্লাহ তাআলা আমাদের ও তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: মহান আল্লাহর ইবাদত সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং তাঁর সেই দ্বীন অনুযায়ী আমল করা যা তিনি ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের কল্যাণের জন্য নাজিল করেছেন, তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়াত এবং তাঁর ব্যবহারিক পদ্ধতির জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর প্রথম ওহী নাজিল হওয়া থেকে শুরু করে এই দ্বীনকে পূর্ণতা দান করা পর্যন্ত যা কিছু শরীয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ তা বর্ণনা করেছেন। সুন্নাহ, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), ইতিহাস এবং শামায়েলের কিতাবসমূহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শৈশব থেকে শুরু করে আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর সান্নিধ্যে তুলে নেওয়া পর্যন্ত তাঁর কথা, কাজ এবং গুণাবলীকে সংরক্ষিত করেছে; বিশেষ করে সেই সময়কালকে যখন তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা তাঁর জীবনের ক্ষুদ্র বা বৃহৎ কোনো বিষয় বা অবস্থার কোনো কিছুই বাদ দেয়নি বরং সবকিছুই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লিপিবদ্ধ করেছে, এমনকি
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ৮)
انك لتجد فيها صفة ثيابه وجلوسه ونهوضه من نومه وهيئته في ضحكه وابتسامه ومشيته وعبادته في ليله ونهاره، وكيف كان يفعل إذا اغتسل وإذا أكل وكيف كان يشرب وماذا كان يلبس وكيف كان يتحدث للناس إذا لقيهم. وما كان يحب من الألوان وما هي حليته وشمائله.

ولسنا نعدو الحقيقة إذا قلنا: إنه ليس في الدنيا إنسان كامل يتحدث التاريخ عن سيرته على التفصيل كما تحدث عن تفاصيل حياة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين. وأن من أوفى كتاب في هذا الموضوع هو كتاب الشمائل المحمدية للإمام الحافظ المحقق محمد بن عيسى الترمذي نفعنا الله تعالى به وأعاد علينا من بركاته آمين.

وقد استوعب رحمه الله تعالى في كتابه هذا هديه صلى الله عليه وسلم في صفاته، وقد كان من حسن الحظ أن نتعرف على فضيلة الأخ الكبير الشيخ محمد عفيف الزعبي رحمه الله تعالى وإيانا والمؤمنين بدار العلم للطباعة والنشر، جدة وقد عرض علينا فضيلته نسخة من تحقيقه للكتاب فأرادنا أن نشاركه في الأجر بتقديم الكتاب للقراء راجيا من المولى الكريم أن يجازيه بأحسن الجزاء على هذا العمل العظيم ولكل من ساعد وساهم في إخراج هذا الكتاب الجليل، وأن ينفع به الطلاب، والمسلمين آمين. والحمد لله رب العالمين وصلى الله تعالى وسلم على سيدنا محمد وآله وصحبه.

محمد المنتقى الكشناوى
নিশ্চয়ই আপনি এতে তাঁর পোশাকের বৈশিষ্ট্য, তাঁর উপবেশন, ঘুম থেকে তাঁর জাগ্রত হওয়া, তাঁর হাসি ও মৃদু হাসির অবস্থা, তাঁর হাঁটার ভঙ্গি এবং দিন ও রাতে তাঁর ইবাদতের বর্ণনা পাবেন। আরও পাবেন তিনি যখন গোসল করতেন ও আহার করতেন তখন কী করতেন, কীভাবে পান করতেন, কী পরিধান করতেন এবং মানুষের সাথে সাক্ষাৎ হলে কীভাবে কথা বলতেন। তিনি কোন রঙ পছন্দ করতেন এবং তাঁর অবয়ব ও গুণাবলি কেমন ছিল।

আমরা যদি বলি যে পৃথিবীতে এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ মানুষ নেই যাঁর জীবনী সম্পর্কে ইতিহাস এতোটা বিস্তারিত আলোচনা করেছে যতটা আমাদের নবী, সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবনের খুঁটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করেছে, তবে আমরা সত্য থেকে বিচ্যুত হব না। আর এই বিষয়ে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হলো ইমাম, হাফেজ ও গবেষক মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত-তিরমিযী রচিত 'আশ-শামাইলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ'। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর মাধ্যমে উপকৃত করুন এবং তাঁর বরকত আমাদের ওপর পুনরায় বর্ষিত করুন, আমীন।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর এই গ্রন্থে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলি সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ ব্যাপকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয় ছিল যে, জেদ্দার 'দারুল ইলম' প্রকাশনীতে শ্রদ্ধেয় বড় ভাই শায়খ মুহাম্মদ আফিফ আয-যু'বী (আল্লাহ তাঁর ওপর, আমাদের ওপর এবং মুমিনদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর সাথে আমাদের পরিচয় হয়। তিনি তাঁর সম্পাদিত পাণ্ডুলিপিটি আমাদের সামনে উপস্থাপন করেন এবং পাঠকদের সামনে বইটি উপস্থাপনের মাধ্যমে আমাদেরও সওয়াবের অংশীদার করতে চান। তিনি মহান রবের কাছে প্রার্থনা করেছেন যেন তিনি এই মহৎ কাজের জন্য তাঁকে এবং যারা এই মহান গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং ছাত্র ও মুসলিমদের এর মাধ্যমে উপকৃত করেন, আমীন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ তাআলার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গীগণের ওপর।

মুহাম্মদ আল-মুনতাকা আল-কাশনাভী
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌ترجمة: الامام الترمذى

 

‌‌نسبه:

هو أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة بن موسى بن الضحاك السلمي «1»

 

‌‌ولادته ووفاته:

ولد الامام الحافظ أبو عيسى في قرية بوغ في سنة (209 هـ) ثم انتقل منها إلى مدينة ترمذ «2» إلى أن توفاه الله تعالى فيها سنة (279 هـ) وله سبعون سنة.

 

‌‌شيوخه وتلاميذه:

يعتبر المؤرخون عصر الترمذي العصر الذهبي لعلم الحديث حيث كان رائد بعثه وازدهاره الامام محمد بن إدريس الشافعي المطلبي ناصر السنة.

حيث علم الناس عامة وأهل العراق ثم مصر خاصة معنى الاحتجاج بالسنة

--------------------------------------------

(1) بضم السين منسوب الى بنى سليم بالتصغير قبيلة من غيلان/ كذا ذكره ابن عساكر وقال السمعاني ابن شداد بدل ابن الضحاك. وأبو عيسى كنيته ومحمد اسمه وعيسى اسم أبيه وسورة اسم جده كما في القاموس ومعنى السورة في الأصل الحدة.

(2) قال صاحب القاموس ترمذ بكسر التاء وهي مدينة قديمة على طرف نهر بلخ من جهة شاطئه الشرقي ويقال لها مدينة الرجال. وقال الشيخ ابراهيم الباجوري فيها ثلاث لغات كسر التاء والميم وهو الأشهر وضمها وهو ما يقوله المتقنون وأهل المعرفة وفتح التاء وكسر الميم وثانية ساكن في الوجوه الثلاثة.
জীবনী: ইমাম তিরমিযী

 

তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাহ ইবনে মূসা ইবনে আদ-দাহহাক আস-সুলামী «১»

 

তাঁর জন্ম ও মৃত্যু:

ইমাম হাফেজ আবু ঈসা ২০৯ হিজরি সনে বুগ নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে তিরমিয শহরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানেই ২৭৯ হিজরি সনে সত্তর বছর বয়সে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর মৃত্যু ঘটান।

 

তাঁর শিক্ষক ও ছাত্রগণ:

ঐতিহাসিকগণ তিরমিযীর যুগকে হাদিস শাস্ত্রের স্বর্ণযুগ বলে গণ্য করেন, যেখানে এর পুনর্জাগরণ ও সমৃদ্ধির পথিকৃৎ ছিলেন সুন্নাহর সাহায্যকারী ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিঈ আল-মুত্তালিবী।

যিনি সাধারণ মানুষকে এবং বিশেষ করে ইরাক ও পরবর্তীতে মিশরের অধিবাসীদের সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণের তাৎপর্য শিক্ষা দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সীন বর্ণে পেশ যোগে উচ্চারিত; এটি বনী সুলাইম গোত্রের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা গায়লান গোত্রের একটি ক্ষুদ্র শাখা। ইবনে আসাকির এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন। আস-সামআনী বলেছেন, ইবনে দাহহাকের স্থলে ইবনে শাদ্দাদ হবে। আবু ঈসা হলো তাঁর উপনাম, মুহাম্মদ তাঁর নাম, ঈসা তাঁর পিতার নাম এবং সাওরাহ তাঁর দাদার নাম, যেমনটি কামুস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর মূলত সাওরাহ শব্দের অর্থ হলো তীব্রতা।

(২) কামুস প্রণেতা বলেন: তিরমিয—তা বর্ণে কাসরা (জের) সহ; এটি বলখ নদীর তীরে পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত একটি প্রাচীন শহর এবং একে ‘পুরুষদের শহর’ বলা হয়। শায়খ ইব্রাহিম আল-বাজুরী বলেন, এর উচ্চারণে তিনটি রূপ আছে: তা এবং মিম উভয়টিতে কাসরা, যা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ; উভয়টিতে যাম্মা (পেশ), যা পারদর্শী ও বিজ্ঞজনদের অভিমত; এবং তা বর্ণে ফাতহা (যবর) ও মিম বর্ণে কাসরা হওয়া। আর তিন পদ্ধতিতেই দ্বিতীয় বর্ণটি সাকিন (স্থির) হবে।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১০)
ومعنى العمل بها مع القرآن، وحدد أصول ذلك وحررها، وأقام الحجة على مناظريه بوجوب الأخذ بالحديث وأفحمهم. من ذلك نرى أن الأئمة الأعلام أصحاب كتب السنة نبغوا في الطبقة التالية لعصر الشافعي مباشرة، وان لم يدركوه رؤية وسماعا لتقدم وفاته، ولكنهم أدركوا اقرانه ومعاصريه ومناظريه وكبار تلاميذه.

وبسرد بسيط لتواريخ ولادتهم ووفاتهم تظهر المقارنة واضحة

1- فالبخاري/ محمد بن اسماعيل ابو عبد الله ولد في شوال سنة 194 هـ ومات يوم السبت غرة شوال من سنة 256 هـ.

2- ومسلم بن الحجاج القشيري أبو الحسن ولد في سنة 209 هـ ومات في 25 رجب سنة 256 هـ.

3- والامام الحافظ الترمذي ولد سنة 209 هـ ومات في 13 رجب سنة 279 هـ.

4- وأبو داوود سليمان بن الأشعث السجستاني ولد سنة 202 هـ ومات في 16 شوال سنة 257 هـ.

5- والنسائي أحمد بن شعيب أبو عبد الرحمن ولد سنة 215 هـ ومات في 13 صفر 303 هـ.

6- وابن ماجه محمد بن يزيد بن ماجه أبو عبد الله ولد سنة 209 هـ ومات في 22 رمضان سنة 273 هـ.

7- وقد روى هؤلاء الأئمة الستة عن شيوخ كثيرين متفرد بعضهم بالرواية عن بعض الشيوخ واشترك بعضهم مع غيره في الرواية عن آخرين، واشتركوا جميعا في الرواية عن تسعة شيوخ فقط وهم:
এবং কুরআনের পাশাপাশি এর ওপর আমল করার অর্থ কী, তা তিনি সুনির্দিষ্ট করেছেন। তিনি এর মূলনীতিগুলো নির্ধারণ ও সুসংহত করেছেন এবং হাদিস গ্রহণ করার অপরিহার্যতা সম্পর্কে তাঁর বিরোধীদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণাদি পেশ করে তাঁদের নিরুত্তর করেছেন। এ থেকে আমরা দেখতে পাই যে, সুন্নাহ গ্রন্থসমূহের সংকলক প্রথিতযশা ইমামগণ ইমাম শাফিঈর পরবর্তী প্রজন্মের সমসাময়িক ছিলেন। যদিও শাফিঈর মৃত্যু আগে হওয়ায় তাঁরা তাঁকে স্বচক্ষে দেখা বা তাঁর থেকে সরাসরি শোনার সুযোগ পাননি, তবে তাঁরা তাঁর সমসাময়িক, প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বড় বড় ছাত্রদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

তাঁদের জন্ম ও মৃত্যু তারিখের একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমেই এই তুলনাটি সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে:

১- আল-বুখারি/ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আবু আব্দুল্লাহ ১৯৪ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরি সনের ১লা শাওয়াল শনিবার ইন্তেকাল করেন।

২- এবং মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরি আবু আল-হাসান ২০৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরি সনের ২৫শে রজব ইন্তেকাল করেন।

৩- এবং ইমাম আল-হাফিজ আত-তিরমিজি ২০৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৯ হিজরি সনের ১৩ই রজব ইন্তেকাল করেন।

৪- এবং আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি ২০২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৭ হিজরি সনের ১৬ই শাওয়াল ইন্তেকাল করেন।

৫- এবং আন-নাসায়ি আহমদ বিন শুআইব আবু আব্দুর রহমান ২১৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩০৩ হিজরি সনের ১৩ই সফর ইন্তেকাল করেন।

৬- এবং ইবনে মাজাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন মাজাহ আবু আব্দুল্লাহ ২০৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৩ হিজরি সনের ২২শে রমজান ইন্তেকাল করেন।

৭- এই ছয়জন ইমাম অসংখ্য শায়খের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু শায়খের থেকে বর্ণনায় অনন্য ছিলেন, আবার কেউ কেউ অন্যদের সাথে একই শায়খের থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁরা সকলে সম্মিলিতভাবে কেবল নয়জন শায়খের থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা হলেন:
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد أدرك أبو عيسى الترمذي شيوخا أقدم من هؤلاء وسمع منهم وروى عنهم. قال الذهبي في تذكرة الحفاظ: سمع قتيبة بن سعيد «1» وأبا مصعب «2» وإبراهيم بن عبد الله الهروي «3» ، وإسماعيل بن موسى السدي «4» ، وسويد بن نصر «5» ، وعلي بن صخر «6» .

والترمذي تلميذ البخاري وخريجه، وعنه أخذ علم الحديث وتفقه فيه ومرن بين يديه، وسأله واستفاد منه، وناظره فوافقه وخالفه، كعادة هؤلاء العلماء، في اتباع الحق حيث كان. وقد طاف ابو عيسى البلاد، وسمع خلقا من الخراسانيين والعراقيين والحجازيين.

--------------------------------------------

(1) قتيبة بن سعيد الثقفي أبو رجاء ولد سنة 150 هـ ومات سنة 240 هـ.

(2) أبو مصعب: أحمد بن أبي بكر الزهري المدني ولد سنة 150 هـ ومات سنة 242 هـ.

(3) ابراهيم بن عبد الله بن حاتم الزهري ولد سنة 178 هـ ومات سنة 244 هـ.

(4) إسماعيل بن موسى الفزاري السدي مات سنة 245 هـ.

(5) سويد بن نصر بن سويد المروزي السدى مات سنة 240 هـ وعمره 91 سنة.

(6) علي بن حجر المروزي مات سنة 244 هـ وقد قارب المائة.
আবু ঈসা আত-তিরমিজি এঁদের চেয়েও বয়োজ্যেষ্ঠ শায়খদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন, তাঁদের নিকট থেকে শুনেছেন এবং তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবি ‘তাযকিরাতুল হুফফাজ’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি কুতাইবা বিন সাঈদ (১), আবু মুসআব (২), ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-হারাবি (৩), ইসমাইল বিন মুসা আস-সুদ্দি (৪), সুওয়াইদ বিন নাসর (৫) এবং আলি বিন সাখর (৬) থেকে শুনেছেন।

আর তিরমিজি হলেন বুখারির ছাত্র এবং তাঁরই বিশেষ শিষ্য; তাঁর নিকট থেকেই তিনি হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেছেন, এতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন এবং তাঁর তত্ত্বাবধানে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন। তিনি তাঁকে প্রশ্ন করতেন ও তাঁর থেকে উপকৃত হতেন এবং তাঁর সাথে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করতেন; কখনো তাঁর সাথে একমত হতেন আবার কখনো ভিন্নমত পোষণ করতেন—সত্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা অনুসরণের ক্ষেত্রে এই আলেমগণের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী। আবু ঈসা বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং অসংখ্য খোরাসানি, ইরাকি ও হিজাজি বর্ণনাকারীদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) কুতাইবা বিন সাঈদ আস-সাকাফি আবু রাজা, তিনি ১৫০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) আবু মুসআব: আহমাদ বিন আবু বকর আজ-জুহরি আল-মাদানি, জন্ম ১৫০ হিজরি এবং মৃত্যু ২৪২ হিজরি।

(৩) ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন হাতিম আজ-জুহরি, জন্ম ১৭৮ হিজরি এবং মৃত্যু ২৪৪ হিজরি।

(৪) ইসমাইল বিন মুসা আল-ফাজারি আস-সুদ্দি, মৃত্যু ২৪৫ হিজরি।

(৫) সুওয়াইদ বিন নাসর বিন সুওয়াইদ আল-মারওয়াযি আস-সুদ্দি, মৃত্যু ২৪০ হিজরি এবং তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

(৬) আলি বিন হুজর আল-মারওয়াযি, মৃত্যু ২৪৪ হিজরি এবং তিনি শতবর্ষের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌شهادة العلماء فيه وفي كتبه:

قال الحافظ أبو الفضل محمد بن طاهر المقدسي (أخبرنا الحسن بن أحمد أبو محمد السمرقندي مناولة أخبرنا أبو بشر عبد الله بن محمد بن محمد بن عمرو، حدثنا أبو سعيد عبد الرحمن بن محمد الادريسي الحافظ قال: محمد بن عيسى بن سورة الترمذي الحافظ الضرير، أحد الأئمة الذين يقتدى بهم في علم الحديث.

صنف كتاب الجامع والتواريخ والعلل، تصنيف رجل عالم متقن، كان يضرب به المثل في الحفظ.

وقال عنه السمعاني في الانساب بأنه «إمام عصره بلا مدافعة، صاحب التصانيف» ، وبأنه «أحد الائمة الذين يقتدى بهم في علم الحديث» .

ونقل الذهبي في تذكرة الحفاظ والصفدي في نكت الهميان، والمزي في التهذيب أن ابن حبان ذكره في الثقات وقال: «كان ممن جمع وصنف وحفظ وذاكر» .

ووصفه المزي في التهذيب بأنه «الحافظ صاحب الجامع وغيره من المصنفات، أحد الائمة الحفاظ المبرزين، وممن نفع الله به المسلمين» .

وقال الذهبي في الميزان «الحافظ العلم، صاحب الجامع، ثقة مجمع عليه، ولا التفات إلى قول أبي محمد بن حزم فيه في الفرائض من كتاب الأيصال: إنه مجهول، فإنه ما عرف ولا درى بوجود الجامع ولا العلل له» .

وقال ابن العماد الحنبلي في شذرات الذهب «كان مبرزا على الاقران، آية في الحفظ والاتقان» .

ونقل الحاكم أبو أحمد عن أحد شيوخه قال «مات محمد بن إسماعيل البخاري ولم يخلف بخرسان مثل أبي عيسى في العلم والحفظ والورع والزهد، بكى حتى عمي، وبقي ضريرا سنين» .

وفي التهذيب: قال أبو الفضل البيلماني: سمعت نصر بن محمد الشبركوهي يقول: سمعت محمد بن عيسى الترمذي يقول: قال لي محمد بن إسماعيل- يعني
তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর কিতাবসমূহ সম্পর্কে আলেমগণের সাক্ষ্য:

হাফিজ আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন তাহের আল-মাকদিসি বলেন (হাসান বিন আহমাদ আবু মুহাম্মদ আস-সামারকান্দি আমাদের নিকট হস্তান্তরের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু বিশর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আমর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফিজ আবু সাঈদ আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-ইদরিসি, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ আত-তিরমিজি ছিলেন দৃষ্টিহীন হাফিজ, হাদিসশাস্ত্রে অনুসরণযোগ্য ইমামগণের অন্যতম।

তিনি আল-জামি, আত-তাওয়ারিখ এবং আল-ইলাল গ্রন্থগুলো সংকলন করেছেন; যা একজন প্রাজ্ঞ ও সুদক্ষ আলিমের সংকলন। মুখস্থশক্তির ক্ষেত্রে তাঁর উদাহরণ দেওয়া হতো।

আস-সামআনি 'আল-আনসাব' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ছিলেন "বিনা বিতর্কে তাঁর যুগের ইমাম এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা" এবং তিনি "হাদিসশাস্ত্রে অনুসরণযোগ্য ইমামগণের অন্যতম।"

আয-যাহাবি 'তাযকিরাতুল হুফফাজ'-এ, আস-সাফাদি 'নুখাতুল হিমইয়ান'-এ এবং আল-মিযযি 'আত-তাহযিব'-এ উদ্ধৃত করেছেন যে, ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (আছ-ছিকাত) অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি ছিলেন তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যারা সংগ্রহ, সংকলন, মুখস্থ এবং হাদিস নিয়ে আলোচনা করতেন।"

আল-মিযযি 'আত-তাহযিব'-এ তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি "হাফিজ, জামি ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা, প্রথিতযশা হাফিজ ইমামগণের অন্যতম এবং এমন ব্যক্তিদের একজন যাদের মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমদের উপকৃত করেছেন।"

আয-যাহাবি 'আল-মিযান' গ্রন্থে বলেছেন, "তিনি প্রখ্যাত হাফিজ, জামি গ্রন্থের রচয়িতা, সর্বসম্মতভাবে নির্ভরযোগ্য। তাঁর সম্পর্কে 'কিতাবুল ঈসাল'-এর ফরায়েজ (উত্তরাধিকার) অধ্যায়ে আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের এই কথার প্রতি কর্ণপাত করা যাবে না যে— 'তিনি অজ্ঞাত (মাজহুল)', কারণ তিনি তাঁর 'জামি' কিংবা 'ইলাল' গ্রন্থ সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং এগুলোর অস্তিত্বের কথাও জানতেন না।"

ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে বলেছেন, "তিনি সমসাময়িকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন এবং মুখস্থশক্তি ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন।"

আল-হাকিম আবু আহমাদ তাঁর একজন উস্তাদ থেকে উদ্ধৃত করেন যে, তিনি বলেছেন, "মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি খুরাসানে ইলম, হিফজ, তাকওয়া এবং যুদ-এর ক্ষেত্রে আবু ঈসার মতো কাউকে রেখে যাননি। তিনি কান্নাকাটি করতে করতে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং বেশ কয়েক বছর দৃষ্টিহীন অবস্থায় ছিলেন।"

এবং 'আত-তাহযিব'-এ আছে: আবু ফজল আল-বাইলামানি বলেন: আমি নাসর বিন মুহাম্মদ আশ-শাবারকুহিকে বলতে শুনেছি যে, আমি মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তিরমিজিকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল—অর্থাৎ—
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
البخاري- ما انتفعت بك أكثر مما انتفعت بي» .

وقال ابن الأثير في تاريخه «كان إماما حافظا، له تصانيف حسنة منها الجامع الكبير وهو أحسن الكتب» .

وقال أبو علي منصور بن عبد الله الخالدي عن الترمذي أنه قال في شأن كتابه (الجامع) صنفت هذا الكتاب فعرضته على علماء الحجاز والعراق وخراسان فرضوا به ومن كان في بيته هذا الكتاب فكأنما في بيته نبي يتكلم.

قول العلماء في كتاب الشمائل:

يقول علي بن سلطان محمد القاري:

ومن أحسن ما صنف في شمائله وأخلاقه صلى الله عليه وسلم كتاب الترمذي المختصر الجامع في سيره على الوجه الأتم بحيث أن مطالع هذا الكتاب، كأنه يطالع طلعة ذلك الجناب، ويرى محاسنه الشريفة في كل باب.

وقال محمد بن محمد الجزري رحمه الله تعالى:

أخلاي إن شط الحبيب وربعه … وعز تلاقيه وناءت منازله

وفاتكم أن تبصروه بعينكم … فما فاتكم بالعين فهذي شمائله

وللأديب محي الدين عبد القادر الزركشي في وصف كتاب الشمائل:

يا أشرف مرسلا كريما … ما ألطف هذي الشمايل

من يسمع وصفها تراه … كالغصن مع النسيم مايل

وقال الشيخ عبد الرؤوف المناوي:

«فإن كتاب الشمائل لعلم الرواية وعلم الدراية للامام الترمذي جعل الله قبره روضة عرفها أطيب من المسك الشذي كتاب وحيد في بابه فريد في ترتيبه واستيعابه، لم يأت له أحد بمماثل ولا بمشابه، سلك فيه منهاجا بديعا ورصعه بعيون الاخبار وفنون الآثار ترصيعا حتى عد ذلك الكتاب من المواهب وطار في المشارق والمغارب.
বুখারি— আপনি আমার থেকে যতটা উপকৃত হয়েছেন, আমি আপনার থেকে তার চেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি।

ইবনুল আসির তাঁর ইতিহাসে বলেছেন, “তিনি ছিলেন একজন হাফেজ ইমাম, তাঁর চমৎকার সব রচনা রয়েছে যার মধ্যে আল-জামি আল-কাবির অন্যতম এবং এটি শ্রেষ্ঠ গ্রন্থসমূহের একটি।”

আবু আলী মনসুর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খালিদি ইমাম তিরমিজি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর গ্রন্থ (আল-জামি) সম্পর্কে বলেছেন: “আমি এই গ্রন্থটি সংকলন করার পর হিজাজ, ইরাক ও খুরাসানের আলেমদের সামনে পেশ করেছি এবং তাঁরা এতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। যার ঘরে এই গ্রন্থটি রয়েছে, তার ঘরে যেন একজন কথা বলা নবি রয়েছেন।”

শামায়েল গ্রন্থ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের উক্তি:

আলী ইবনে সুলতান মুহাম্মদ আল-কারী বলেন:

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শামায়েল (শারীরিক গঠন ও স্বভাব-চরিত্র) এবং তাঁর উন্নত চরিত্রের বিষয়ে সংকলিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি হলো তিরমিজির এই সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থটি। এটি তাঁর জীবনীকে এতো পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটিয়ে তুলেছে যে, এই গ্রন্থটির পাঠক যেন সেই মহান সত্তার পবিত্র অবয়বই প্রত্যক্ষ করে এবং প্রতিটি অধ্যায়ে তাঁর মহান সৌন্দর্য দেখতে পায়।

মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-জাযারি রাহিমাহুল্লাহ তাআলা বলেন:

হে আমার বন্ধুরা, প্রিয়তম এবং তাঁর বাসস্থান যদি দূরে চলে যায় … তাঁর সাথে সাক্ষাৎ যদি কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাঁর আবাসস্থল যদি দূরবর্তী হয়

তবে তোমরা তো তাঁকে স্বচক্ষে দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছো … কিন্তু চোখের দৃষ্টি দিয়ে যা তোমরা হারিয়েছো, এই হলো তাঁর শামায়েল (যা সেই অভাব পূরণ করবে)

শামায়েল গ্রন্থের বর্ণনায় সাহিত্যিক মুহিউদ্দিন আব্দুল কাদির আজ-যারকাশি বলেছেন:

হে সর্বাধিক সম্মানিত ও মহান রাসুল … কতই না মনোরম এই শামায়েল!

যে ব্যক্তি এর বর্ণনা শ্রবণ করে, আপনি তাকে দেখবেন … বসন্তের বাতাসের দোলায় গাছের শাখার মতো আন্দোলিত হতে

শায়খ আব্দুর রউফ আল-মুনাউই বলেন:

“ইমাম তিরমিজির রেওয়ায়েত ও দেরায়েত শাস্ত্রের এই ‘শামায়েল’ গ্রন্থটি—আল্লাহ তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগানে পরিণত করুন এবং এর সুবাসকে কস্তুরীর সুগন্ধির চেয়েও পবিত্র করুন—এটি নিজ বিষয়ের অনন্য একটি গ্রন্থ এবং বিন্যাস ও তথ্যবহুলতার দিক থেকে এটি অদ্বিতীয়। কেউ এর সমতুল্য বা সদৃশ কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি এতে এক চমৎকার পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং একে নির্বাচিত সংবাদ ও বিভিন্ন প্রকার বর্ণনার মাধ্যমে সুশোভিত করেছেন। এমনকি এই গ্রন্থটি আল্লাহর বিশেষ দান হিসেবে পরিগণিত হয়েছে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সর্বত্র এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكان ممن تصدى لشرحه أفضل المدققين وأحد المحققين مولانا عصام الدين الاسفرايني الشافعي.

وتلاه العالم النحرير الفقيه الشهير الشهاب بن حجر نزيل مكة فأطال وأطاب.

قال أبي الفداء اسماعيل:

ومن أحسن من جمع في ذلك فأجاد وأفاد الامام أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي رحمه الله تعالى أفرد في هذا المعنى كتابه المشهور بالشمائل المحمدية، ولنا به سماع متصل إليه.
এর ব্যাখ্যা করার কাজে যারা ব্রতী হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শ্রেষ্ঠ সূক্ষ্মদর্শী এবং অন্যতম গবেষক মাওলানা ইসামুদ্দিন আল-ইসফরাইনি আশ-শাফেয়ি।

অতঃপর তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী আলেম ও প্রখ্যাত ফকিহ শিহাব বিন হাজার মক্কী, তিনি বিস্তারিত ও চমৎকার আলোচনা করেছেন।

আবুল ফিদা ইসমাইল বলেন:

এই বিষয়ে যারা সর্বোত্তম সংকলন করে শ্রেষ্ঠত্ব ও কল্যাণ সাধন করেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা আত-তিরমিজি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তিনি এই বিষয়ের জন্য তাঁর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়া’কে সুনির্দিষ্টভাবে রচনা করেছেন এবং তাঁর পর্যন্ত আমাদের নিরবচ্ছিন্ন শ্রবণ-পরম্পরা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال الحافظ «1» أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي «2» :

 

‌‌1- باب ما جاء في خلق «3» رسول الله صلى الله عليه وسلم

1- حدثنا «4» أبو رجاء قتيبة بن سعيد «5» عن مالك بن أنس «6» عن ربيعة بن أبي عبد الرحمن «7» عن أنس بن مالك «8» أنه سمعه يقول:

«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بالطويل البائن «9» ولا بالقصير، ولا بالأبيض

--------------------------------------------

(1) الحافظ في اصطلاح المحدثين: من أحاط علمه بمائة ألف حديث متنا واسنادا.

(2) ترمذ: علم لبلدة قديمة، تقع على نهر «بلخ» المعروف بنهر جيحون، شمالي إيران، وهي بكسر التاء والميم ويجوز ضمهما. اليها نسب الامام الترمذي، وتوفي فيها سنة تسع وسبعين ومائتين وله سبعون سنة.

(3) الخلق: بفتح الخاء وسكون اللام. والمراد به هنا صورته وشكله صلى الله عليه وسلم. والخلق بضمتين: ما تحلى به صلى الله عليه وسلم من صفاته الباطنة؛ كالحلم والعلم. والشمائل: جمع شمال بمعنى الطبع والسجية. وأحاديث الشمائل تبلغ [400] حديثا وأبوابه [56] بابا.

(4) وفي نسخة (أخبرنا) .

(5) اسمه (يحيى) ، ولقبه (قتيبة) ؛ وقيل اسمه (علي) . رحل الى العراق والمدينة ومكة والشام ومصر، وسمع مالك بن أنس وخلقا كثيرا من الاعلام، وروى عنه البخاري والترمذي وخلق كثير من الائمة. ولد سنة ثمان واربعين ومائة وتوفي سنة أربعين ومائتين. وكان ثقة ثبتا.

(6) الامام المشهور من الائمة الاربعة، وهو من كبار أتباع التابعين، أخذ عن نافع مولى ابن عمر وعن الزهري وغيرهما، وقيل بلغ مشايخه تسعمائة، وأخذ عنه الشافعي ومحمد بن الحسن الشيباني وأمثالهما. ولد سنة 95 هـ، وتوفي سنة 179 هـ.

(7) فقيه المدينة ابو عثمان القرشي المدني المعروف بربيعة الرأي، حافظ فقيه ثبت مجتهد بصير الرأي، توفي بالأنبار أو بالمدينة سنة 136 هـ. قال مالك: ذهبت حلاوة الفقه بموته.

(8) هو أبو النضر أنس بن مالك الانصاري البخاري الخزرجي، خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم عشر سنين، وهو آخر من مات بالبصرة من الصحابة سنة 71 هـ.

(9) البائن: الظاهر.
হাফেজ (১) আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিযী (২) বলেন:

 

‌‌১- পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠন (৩) প্রসঙ্গে

১- আমাদের নিকট আবু রাজা কুতায়বা ইবনে সাঈদ (৫) বর্ণনা করেছেন (৪), তিনি মালিক ইবনে আনাস (৬) থেকে, তিনি রবীআ ইবনে আবি আবদুর রহমান (৭) থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (৮) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন:

«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতিরিক্ত দীর্ঘকায় (৯) ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না, আর তিনি অতি শুভ্র-সাদা ছিলেন না...

--------------------------------------------

(১) মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় হাফেজ: যার জ্ঞান মতন (মূল পাঠ) এবং সনদসহ এক লক্ষ হাদীসকে পরিবেষ্টন করেছে।

(২) তিরমিয: একটি প্রাচীন শহরের নাম, যা 'বলখ' নদীর তীরে অবস্থিত, যা জাইহুন নদী নামে পরিচিত, উত্তর ইরানে অবস্থিত। এর দিকেই ইমাম তিরমিযী সম্বন্ধযুক্ত, এবং তিনি সেখানে ২৭৯ হিজরীতে সত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

(৩) আল-খালক: খ-এর ওপর জবর এবং লাম-এর ওপর সাকিন সহযোগে। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শারীরিক অবয়ব ও আকৃতি। আর 'আল-খুলুক' (উভয় বর্ণে পেশ যোগে): এর অর্থ হলো তাঁর অভ্যন্তরীণ গুণাবলী যা দ্বারা তিনি ভূষিত ছিলেন; যেমন সহনশীলতা ও জ্ঞান। আর 'শামায়েল' হলো 'শিমাল'-এর বহুবচন যার অর্থ স্বভাব ও প্রকৃতি। শামায়েল বিষয়ক হাদীস সংখ্যা ৪০০ এবং এর অধ্যায় ৫৬টি।

(৪) অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) শব্দ রয়েছে।

(৫) তাঁর নাম (ইয়াহইয়া), এবং উপাধি (কুতায়বা); কেউ কেউ বলেন তাঁর নাম (আলী)। তিনি ইরাক, মদিনা, মক্কা, সিরিয়া ও মিসরে ভ্রমণ করেছেন এবং মালিক ইবনে আনাস ও বহু প্রখ্যাত ইমামের নিকট থেকে হাদীস শুনেছেন। তাঁর নিকট থেকে বুখারী, তিরমিযী এবং বহু ইমাম বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৪৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী ছিলেন।

(৬) চার ইমামের অন্যতম প্রসিদ্ধ ইমাম। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান তাবে-তাবেয়ী ছিলেন। তিনি ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে' এবং জুহরীসহ অনেকের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। বলা হয় তাঁর উস্তাদের সংখ্যা নয়শ। তাঁর নিকট থেকে শাফেয়ী এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী প্রমুখ জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ৯৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৭) মদিনার ফকীহ আবু উসমান আল-কুরাশী আল-মাদানী, যিনি 'রবীআতুত রায়' নামে পরিচিত। তিনি একজন হাফেজ, ফকীহ, নির্ভরযোগ্য মুজতাহিদ এবং বিচক্ষণ মত প্রদানের অধিকারী ছিলেন। তিনি হিজরী ১৩৬ সনে আনবার অথবা মদিনায় ইন্তেকাল করেন। ইমাম মালিক বলেন: তাঁর মৃত্যুর সাথে ফিকহশাস্ত্রের মাধুর্য চলে গেছে।

(৮) তিনি হলেন আবু নাযর আনাস ইবনে মালিক আল-আনসারী আল-বুখারী আল-খাযরাজী। তিনি দশ বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম ছিলেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে বসরায় ইন্তেকালকারী সর্বশেষ ব্যক্তি, যিনি ৭১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৯) আল-বায়িন: যা সুস্পষ্ট বা প্রকট (এখানে অতিরিক্ত দীর্ঘ বুঝানো হয়েছে)।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১৬)
الأمهق، ولا بالآدم «1» ولا بالجعد القطط ولا بالسّبط «2» ، بعثه الله تعالى على رأس أربعين سنة، فأقام بمكة عشر سنين «3» وبالمدينة عشر سنين، وتوفاه الله على رأس ستين سنة «4» وليس في رأسه ولحيته عشرون شعرة بيضاء» «5» .

2- حدثنا حميد بن مسعدة البصريّ «6» . حدثنا «7» عبد الوهاب الثقفي «8» عن حميد «9» عن أنس بن مالك قال:

«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ربعة «10» ليس بالطويل ولا بالقصير، حسن الجسم،

--------------------------------------------

(1) الأمهق: الشديد، والآدم: الأسمر.

(2) الجعد: بفتح وسكون الشعر فيه التواء وانقباض. والقطط بفتحتين: على الأشهر ويجوز كسر ثانيه وهو شعر الزنجي الجعودة والسبط بفتح فكسر: الشعر المسترسل، الذي ليس فيه تعقد ولا نتوء أصلا.

(3) وفي رواية أقام بها ثلاث عشرة فتحمل رواية العشر على أن الراوي حذف الكسر الزائد عن العشرة.

(4) وفي رواية وهو ابن ثلاث وستين وهي أشهر واصح وتحمل رواية الستين على ان الراوي حذف الزائد على العشرات.

(5) والحديث أخرجه البخاري في صفة النبيّ صلى الله عليه وسلم وفي اللباس ومسلم في الفضائل والترمذي في سننه في اللباس والمناقب ومالك في الجامع.

(6) هو أبو علي السامي من بني سامة بن لؤي، واسع الرواية كثير الحديث، روى عنه مسلم وأبو داود والترمذي والنسائي وغيرهم، سمع أيوب ويحيى بن سعيد الأنصاري وغيرهما. توفي سنة «224» هـ. والبصري: نسبة الى البصرة البلد المشهور، وهو مثلث الباء والفتح فيه أفصح ولم يسمع الضم في النسبة.

(7) وفي نسخة «قال حدثنا عبد الوهاب الثقفي» .

(8) الحافظ أبو محمد أحد أشراف البصرة، ثقة جليل القدر، روى عنه الشافعي وأحمد بن حنبل وابن راهويه، وخرج له الجماعة. ولد سنة «108» هـ وتوفي سنة «194» هـ.

(9) أبو عبيدة الخزاعي البصري، اختلفوا في اسم أبيه فقيل: تير وقيل تيرويه وقيل غير ذلك ويقال له حميد الطويل. روى عن أنس بن مالك. قالوا عنه: ثقة مدلس. وعابه زائدة لدخوله في شيء من أمر الأمراء وهو من صغار التابعين. توفي سنة «142» أو «143» هـ.

(10) ربعة بفتح الراء وسكون الباء أي كان متوسطا بين الطول والقصر.
চুনকাম করা অতিরিক্ত ফ্যাকাশেও ছিলেন না, আবার ঘোর কৃষ্ণবর্ণও ছিলেন না। তাঁর চুল অতি কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারেই সোজা বা মসৃণও ছিল না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে চল্লিশ বছর বয়সে নবুওয়াত দিয়ে প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন। ষাট বছর বয়সে আল্লাহ তাঁকে ওফাত দান করেন। সে সময় তাঁর মাথা ও দাড়িতে বিশটি চুলও সাদা ছিল না।

২- হুমায়দ বিন মাসআদাহ আল-বাসরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি হুমায়দ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝারি গড়নের ছিলেন, তিনি খুব বেশি লম্বাও ছিলেন না, আবার বেঁটেও ছিলেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুঠাম দেহের অধিকারী।

--------------------------------------------

(১) আল-আমহাক: অত্যন্ত ফ্যাকাশে সাদা; আর আল-আদম: শ্যামল বা তামাটে বর্ণ।

(২) আল-জা’দ: চুলের মধ্যে সামান্য ভাজ বা কোঁকড়ানো ভাব থাকা। আল-কাতাত: অত্যন্ত কোঁকড়ানো চুল, যা সাধারণত কৃষ্ণাঙ্গদের হয়ে থাকে। আল-সাবাত: একেবারেই সোজা চুল, যাতে কোনো প্রকার ভাজ বা মারপ্যাঁচ নেই।

(৩) অন্য এক বর্ণনায় মক্কায় তের বছর অবস্থানের কথা এসেছে; সেক্ষেত্রে দশ বছরের বর্ণনার ব্যাখ্যা হলো—বর্ণনাকারী দশের অতিরিক্ত ভগ্নাংশ সংখ্যাটি উল্লেখ করেননি।

(৪) অন্য এক বর্ণনায় তেষট্টি বছরের কথা এসেছে, যা অধিক প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধ। এক্ষেত্রে ষাট বছরের বর্ণনাটির ব্যাখ্যা হলো—বর্ণনাকারী দশের ঘরের অতিরিক্ত সংখ্যাটি বাদ দিয়েছেন।

(৫) হাদীসটি ইমাম বুখারী ‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য’ ও ‘পোশাক’ অধ্যায়ে, ইমাম মুসলিম ‘ফজিলত’ অধ্যায়ে, ইমাম তিরমিযী তাঁর সুনান গ্রন্থের ‘পোশাক’ ও ‘মানাকিব’ অধ্যায়ে এবং ইমাম মালিক তাঁর ‘মুয়াত্তা’ গ্রন্থের ‘জামে’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

(৬) তিনি হলেন আবু আলী আস-সামি, বনু সামাহ বিন লুয়াই গোত্রের লোক। তিনি প্রশস্ত বর্ণনার অধিকারী এবং অনেক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইমাম মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি আইয়ুব ও ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আনসারি প্রমুখ থেকে হাদীস শুনেছেন। তিনি ২২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আল-বাসরি: এটি বিখ্যাত শহর বসরার দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ। ব-এ যবর হওয়াই অধিক শুদ্ধ এবং সম্বন্ধের ক্ষেত্রে পেশ সহযোগে উচ্চারিত হতে শোনা যায়নি।

(৭) কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফি আমাদের বলেছেন’।

(৮) হাফিয আবু মুহাম্মদ, বসরার অন্যতম অভিজাত ব্যক্তি এবং অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ রাবী। তাঁর থেকে ইমাম শাফিঈ, আহমাদ বিন হাম্বল ও ইবনে রাহওয়াইহ বর্ণনা করেছেন। জামা’আত (সিহাহ সিত্তার সংকলকগণ) তাঁর হাদীস গ্রহণ করেছেন। তিনি ১০৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৯) আবু উবায়দাহ আল-খুযাঈ আল-বাসরি। তাঁর পিতার নাম নিয়ে মতভেদ আছে; কেউ বলেছেন তীর, কেউ বলেছেন তীরওয়াইহ, আবার কেউ অন্য কিছু বলেছেন। তাঁকে ‘হুমায়দ আত-তবিল’ বলা হয়। তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। মুহাদ্দিসগণ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বললেও ‘মুদাল্লিস’ বলেছেন। শাসকবর্গের কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে যায়িদাহ তাঁর সমালোচনা করেছেন। তিনি ছোট তাবেঈদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ১৪২ বা ১৪৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(১০) রাব’আহ: অর্থাৎ তিনি লম্বা ও খাটোর মাঝামাঝি উচ্চতার ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১৭)
وكان شعره ليس بجعد ولا سبط أسمر اللون، إذا مشى يتكفأ «1» » «2» .

3- حدثنا محمد بن بشار «3» «يعني العبدي» «4» . حدثنا محمد بن جعفر «5» .

حدثنا شعبة «6» عن أبي إسحق «7» قال: سمعت البراء بن عازب «8» يقول:

«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا مربوعا، بعيد ما بين المنكبين، عظيم

--------------------------------------------

(1) يتكفأ: أي يسرع في مشيه. وفي نسخ يتوكأ.

(2) أخرجه البخاري في صفة النبي صلى الله عليه وسلم وفي اللباس ومسلم في الفضائل باب صفة شعر النبي صلى الله عليه وسلم ك 43 ب 26 ح 2338 والترمذي في سننه في اللباس حديث رقم 1754 وفي المناقب برقم 3627 والنسائي في الزينة ومالك في الجامع.

(3) محمد بن بشار بن عثمان البصري، المعروف ببندار الحافظ، أحد الثقات المشاهير. قال الحافظ ابن حجر: هو شيخ الأئمة الستة. قال أبو داود: كتبت عنه خمسين ألف حديث. سمع محمد بن جعفر وخلقا، وهو من كبار الآخذين عن تبع التابعين. والعبدي: نسبة الى عبد قيس وكان مولى لهم. توفي سنة «252» هـ.

(4) قوله «يعني العبدي» بصيغة الغائب: إن كان من كلام المصنف فهو التفات، والأرجح انها إدراج من بعض تلامذته الذين نقلوا عنه الكتاب، والله أعلم.

(5) أبو عبد الله محمد بن جعفر البصري الهذلي مولاهم المعروف بغندر أخرج حديثه الأئمة الستة في صحاحهم. روى عن شعبة بن الحجاج، وجالسه نحوا من عشرين سنة. وروى عنه أحمد ابن حنبل ويحيى بن معين. لقب بغندر كقنفذ لاكثاره السؤال في مجلس ابن جريج فقال: ما تريد يا غندر فجرى عليه. توفي سنة «193» هـ ومعناه في اللغة محرك الشر.

(6) شعبة بن حجاج بن بسطام العتكي مولاهم. الحافظ الثبت، كان الثوري يقول: هو أمير المؤمنين في الحديث، كان إماما من أئمة المسلمين وركنا من أركان الدين به حفظ الله أكثر الحديث، قال الشافعي: لولا شعبة ما عرف الحديث بالعراق. سمع الحسن والثوري وخلقا كثيرا. وهو من كبار أتباع التابعين. توفي سنة «160» هـ.

(7) أبي إسحاق عمرو بن عبد الله السبيعي الهمداني الكوفي، أحد الأعلام تابعي كبير مكثر، له ثلاثمائة شيخ، عابد غزا مرات. ولد لسنتين بقيتا من خلافة عثمان، وتوفي سنة «127» أو «129» هـ.

(8) البراء بن عازب: صحابي. جليل، كنيته: أبو عمارة، أول مشهد شهده في الخندق وافتتح الرّيّ توفي بالكوفة أيام مصعب بن الزبير.
তাঁর চুল খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারে সোজা ও মসৃণও ছিল না। তাঁর গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল শ্যামল। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন সামনের দিকে ঝুঁকে কিছুটা দ্রুতগতিতে চলতেন।

৩- মুহাম্মাদ ইবনে বাশার (অর্থাৎ আল-আবদী) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন।

শু'বাহ আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বারা ইবনে আযিব-কে বলতে শুনেছি:

«আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন মাঝারি গড়নের মানুষ, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত, তিনি ছিলেন দীর্ঘ অবয়ব সম্পন্ন...

--------------------------------------------

(১) ইয়াতাকাফ্ফা: অর্থাৎ তিনি তাঁর হাঁটার সময় দ্রুত গতিতে চলতেন। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'ইয়াতাওয়াক্কা' শব্দটিও এসেছে।

(২) ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন 'নবী (সা.)-এর গুণাবলী' ও 'পোশাক' অধ্যায়ে; ইমাম মুসলিম 'ফাযায়েল' অধ্যায়ে, নবী (সা.)-এর চুলের বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, ৪৩তম কিতাব, ২৬তম পরিচ্ছেদ, হাদীস নং ২৩৩৮; তিরমিযী তাঁর 'সুনান'-এ 'পোশাক' অধ্যায়ে হাদীস নং ১৭৫৪ এবং 'মানাকিব' অধ্যায়ে ৩৬২৭ নং হাদীস; নাসাঈ 'যীনাত' অধ্যায়ে এবং ইমাম মালিক 'আল-জামি' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৩) মুহাম্মাদ ইবনে বাশার ইবনে উসমান আল-বাসরী, তিনি 'বুন্দার আল-হাফিয' নামে পরিচিত এবং অন্যতম প্রখ্যাত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। হাফিয ইবনে হাজার বলেন: তিনি কুতুবে সিত্তাহর ছয় ইমামেরই শিক্ষক। আবু দাউদ বলেন: আমি তাঁর নিকট থেকে পঞ্চাশ হাজার হাদীস লিখেছি। তিনি মুহাম্মাদ ইবনে জাফর ও আরও অনেকের কাছ থেকে হাদীস শুনেছেন। তিনি প্রবীণ তাবে-তাবেঈনদের অন্তর্ভুক্ত। 'আল-আবদী' হলো 'আব্দ কায়স' গোত্রের সাথে সম্পর্কের কারণে, তিনি তাদের মুক্তদাস ছিলেন। তিনি ২৫২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৪) তাঁর উক্তি "অর্থাৎ আল-আবদী" নাম পুরুষে ব্যবহৃত হয়েছে: যদি এটি লেখকের কথা হয় তবে তা ইলতিফাত বা শৈল্পিক সম্বোধন পরিবর্তন। তবে অধিকতর সঠিক হলো এটি তাঁর কোনো শিষ্যের সংযোজন যারা তাঁর থেকে কিতাবটি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

(৫) আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল-বাসরী আল-হুযালী, তাঁদের মুক্তদাস এবং 'গুন্দার' নামে সুপরিচিত। কুতুবে সিত্তাহর ইমামগণ তাঁদের সহীহ গ্রন্থে তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং প্রায় বিশ বছর তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল ও ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁকে 'গুন্দার' উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি ইবনে জুরাইজের মজলিসে প্রচুর প্রশ্ন করতেন। একদা তিনি (ইবনে জুরাইজ) বললেন: "হে গুন্দার, তুমি কী চাও?" এরপর থেকে এই নামেই তিনি পরিচিত হন। তিনি ১৯৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আভিধানিক অর্থে এর অর্থ হলো ঝগড়া বা গোলযোগ সৃষ্টিকারী।

(৬) শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে বিসতাম আল-আতাকী, তাঁদের মুক্তদাস। তিনি একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হাফিয। সুফিয়ান আস-সাওরী তাঁর সম্পর্কে বলতেন: তিনি হাদীস শাস্ত্রের 'আমীরুল মু'মিনীন'। তিনি মুসলিমদের অন্যতম ইমাম এবং দ্বীনের এক মজবুত স্তম্ভ ছিলেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা অধিকাংশ হাদীস রক্ষা করেছেন। ইমাম শাফেয়ী বলেন: যদি শু'বাহ না থাকতেন, তবে ইরাকে হাদীস পরিচিতি পেত না। তিনি হাসান, আস-সাওরী এবং আরও অনেকের নিকট থেকে হাদীস শুনেছেন। তিনি প্রবীণ তাবে-তাবেঈনদের অন্যতম ছিলেন। তিনি ১৬০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৭) আবু ইসহাক আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাবিঈ আল-হামদানী আল-কুফী। তিনি অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব এবং বিপুল সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী বড় মাপের তাবেয়ী। তাঁর তিনশত শিক্ষক ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ছিলেন এবং কয়েকবার জিহাদে অংশ নিয়েছেন। উসমান (রা.)-এর খিলাফতের দুই বছর বাকি থাকতে তাঁর জন্ম এবং ১২৭ অথবা ১২৯ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

(৮) বারা ইবনে আযিব: তিনি একজন প্রখ্যাত সাহাবী। তাঁর উপনাম আবু আম্মারা। তিনি প্রথম খন্দকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং 'রাই' শহর বিজয় করেছিলেন। মুসআব ইবনে যুবায়েরের শাসনামলে কুফায় তাঁর মৃত্যু হয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১৮)
الجمة «1» ، إلى شحمة أذنيه، عليه حلة حمراء «2» ما رأيت شيئا قطّ أحسن «3» منه»

4- حدثنا محمود بن غيلان «4» . حدثنا وكيع «5» . حدثنا سفيان «6» عن أبي اسحاق عن البراء بن عازب قال:

«ما رأيت من ذي لمة «7» في حلّة حمراء أحسن من رسول الله صلى الله عليه وسلم، له شعر يضرب منكبيه، بعيد ما بين المنكبين، لم يكن بالقصير ولا بالطويل» «8» .

--------------------------------------------

(1) رجلا: بكسر الجيم الشعر بين السبوطة والجعودة. وقع في بعض النسخ: (بعيد) بصيغة التصغير وهو تصغير ترخيم قال الحافظ ابن حجر: «وقيل بالتصغير وهو غريب بل في صحته نظر» . والجمة: بضم الجيم وتشديد الميم، وهي ما سقط من شعر الرأس ووصل الى المنكبين واللمة ما جاوز شحمة الأذن.

(2) الحلة: ثوبان أو ثوب له بطانة.

(3) والحديث أخرجه البخاري ومسلم في الفضائل برقم 2337 وأبو داود في اللباس برقم 4072 والنسائي وابن ماجه برقم 3699 والترمذي في سننه في اللباس برقم 1724.

(4) الحافظ أبو أحمد محمود بن غيلان، سمع الفضل بن موسى وغيره. ثقة من كبار الآخذين عن تبع التابعين. توفي سنة «239» هـ. خرج له الشيخان والمصنف.

(5) الحافظ أبو سفيان وكيع بن الجراح الرؤاسي الكوفي، من كبار الطبقة السابعة. سمع سفيان الثوري وخلقا وروى عنه قتيبة وخلق كثير. وهو من مشايخ الحديث الثقات المعمول بحديثهم المرجوع الى قولهم. كان يفتي بقول أبي حنيفة وقد سمع منه توفي سنة «197» هـ.

(6) سفيان مثلث السين والأشهر الضم. وهو الثوري جزم بذلك ميرك شاه، كما صرح به المؤلف في جامعه في هذا الحديث بعينه، فبطل قول بعض الشراح في أنه ابن عيينة. والثوري: نسبة الى أحد أجداده.

(7) اللمة- بكسر اللام وتشديد الميم المفتوحة شعر الرأس المجاوز شحمة الأذن.

(8) انظر تخريج الحديث السابق.
জুম্মা [১], যা তাঁর কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছেছিল; তাঁর পরনে ছিল একটি লাল পোশাক [২]। আমি তাঁর চেয়ে সুন্দর কোনো কিছুই কখনো দেখিনি [৩]।

৪- আমাদের কাছে মাহমুদ ইবনে গায়লান [৪] বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে ওয়াকি' [৫] বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে সুফিয়ান [৬] আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

«আমি লাল পোশাক পরিহিত কানের লতি পর্যন্ত চুলবিশিষ্ট [৭] কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অধিক সুন্দর দেখিনি। তাঁর চুল তাঁর কাঁধ পর্যন্ত স্পর্শ করত, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত, তিনি অধিক লম্বাও ছিলেন না এবং অধিক খাটোও ছিলেন না» [৮]।

--------------------------------------------

(১) রাজিলান: জীম বর্ণে কাসরা সহ, এর অর্থ হলো সোজা এবং কোঁকড়া চুলের মাঝামাঝি ধরনের চুল। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'বুআইদ' ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দে এসেছে যা তাসগীরে তারখীম। হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "বলা হয়ে থাকে এটি ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দে এসেছে, তবে এটি বিরল বরং এর বিশুদ্ধতার বিষয়ে সংশয় রয়েছে।" আর জুম্মাহ: জীম বর্ণে দ্বম্মাহ (পেশ) এবং মীম বর্ণে তাশদীদ সহ; এটি হলো মাথার সেই চুল যা কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। আর লিম্মাহ হলো সেই চুল যা কানের লতি অতিক্রম করে।

(২) হুল্লাহ: দুই প্রস্থ বিশিষ্ট কাপড় অথবা আস্তরযুক্ত কাপড়।

(৩) হাদিসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম 'ফাদাইল' অধ্যায়ে ২৩৩৭ নম্বরে, আবু দাউদ 'লিবাস' অধ্যায়ে ৪০৭২ নম্বরে, নাসায়ী এবং ইবনে মাজাহ ৩৬৯৯ নম্বরে এবং তিরমিজি তাঁর সুনানে 'লিবাস' অধ্যায়ে ১৭২৪ নম্বরে বর্ণনা করেছেন।

(৪) হাফেজ আবু আহমাদ মাহমুদ ইবনে গায়লান, তিনি ফাদল ইবনে মুসা ও অন্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি তাবি-তাবিঈনদের নিকট থেকে গ্রহণকারী নির্ভরযোগ্য মহান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ২৩৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং গ্রন্থকার তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(৫) হাফেজ আবু সুফিয়ান ওয়াকি' ইবনে আল-জাররাহ আল-রুয়াসী আল-কুফী, তিনি সপ্তম স্তরের মহান ব্যক্তিদের অন্যতম। তিনি সুফিয়ান সাওরী ও বহু সংখ্যক আলেম থেকে শ্রবণ করেছেন এবং কুতাইবা ও অনেক লোক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের হাদিস আমলযোগ্য এবং যাঁদের বাণীর দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়। তিনি আবু হানিফার মতানুসারে ফতোয়া দিতেন এবং তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ১৯৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(৬) সুফিয়ান: সীন বর্ণে তিন প্রকার হরকতই পড়া সম্ভব তবে দ্বম্মাহ (পেশ) হওয়াই সর্বাধিক প্রসিদ্ধ। তিনি হলেন সুফিয়ান সাওরী, মীরক শাহ এটি নিশ্চিত করেছেন, যেমনটি গ্রন্থকার স্বয়ং তাঁর 'জামে' গ্রন্থে এই হাদিসটির ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ফলে কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারীর এটি ইবনে উইয়াইনাহ হওয়ার উক্তিটি অসার হয়ে যায়। আর সাওরী তাঁর জনৈক পূর্বপুরুষের দিকে নিসবত।

(৭) লিম্মাহ: লাম বর্ণে কাসরা (জের) এবং মীম বর্ণে ফাতহা (জবর) ও তাশদীদ সহ; এর অর্থ হলো মাথার চুল যা কানের লতি অতিক্রম করে।

(৮) পূর্ববর্তী হাদিসের উৎস নির্দেশিকা দেখুন।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ১৯)
5- حدثنا محمد بن اسماعيل «1» . حدثنا أبو نعيم «2» . حدثنا المسعودي «3» عن عثمان بن مسلم بن هرمز «4» عن نافع بن جبير بن مطعم «5» عن علي بن أبي طالب قال:

لم يكن النّبيّ صلى الله عليه وسلم بالطويل ولا بالقصير، شثن «6» الكفين والقدمين، ضخم الرأس ضخم الكراديس «7» ، طويل المسربة «8» ، إذا مشى تكفأ تكفؤا كأنما «9» ينحط من صبب «10» ، لم أر قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم » «11» .

6- حدثنا أحمد بن عبدة الضبي البصري «12» وعلي بن حجر «13» ، وأبو جعفر

--------------------------------------------

(1) محمد بن إسماعيل البخاري، صاحب الصحيح، إمام المحدثين، جبل الحفظ، روي أنه رؤي في البصرة قبل أن تطلع لحيته وخلفه ألوف من طلبة الحديث، وروي عنه أنه قال: أحفظ مائة ألف حديث صحيح ومائتي ألف حديث غير صحيح، توفي سنة «256» هـ.

(2) أبو نعيم الفضل بن دكين، من كبار شيوخ البخاري، كان غاية الاتقان والحفظ، وهو حجة. قال الرافعي في تاريخ قزوين: رمي بالتشيع لذلك تكلم الناس فيه، لكن احتج به الجماعة. توفي سنة «219» هـ.

(3) عبد الرحمن بن عتبة بن عبد الله بن مسعود الكوفي المسعودي. قال العصام صدوق اختلط قبل موته. توفي سنة «160» هـ.

(4) عثمان بن مسلم بن هرمز، وفي نسخة منصرف، وهو نسائي، فيه لين.

(5) نافع بن جبير بن مطعم، تابعي جليل سمع عليا وعدة من الأصحاب. توفي سنة «99» هـ. وأبوه من كبار الصحابة.

(6) بفتح الشين وسكون الثاء أي غليظ الأصابع والراحة. من غير خشونة وهي صفة مستحبة في الرجال، مكروهة في النساء.

(7) وهي رؤوس العظام، واحدتها كردس.

(8) المسربة: بفتح الميم وسكون السين الشعر الدقيق الذي يبدأ من الصدر وينتهي بالسرة.

(9) وفي نسخ «كأنه» .

(10) الصبب ما انحدر من الأرض.

(11) وأخرجه الترمذي في سننه في المناقب برقم 3641 وأنه تفرد به بين أصحاب الكتب الستة.

(12) أحمد بن عبدة الضبي البصري: ثقة حجة رمى بالنصب (أي بكونه من الخوارج) ، وهو عربي من بني ضبة. توفي سنة «245» هـ.

(13) الحافظ علي بن حجر السعدي: مأمون ثقة، سمع كثيرا من أئمة الحديث. توفي سنة «244» هـ.
৫- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম। তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাসউদী, তিনি উসমান বিন মুসলিম বিন হুরমুজ থেকে, তিনি নাফি বিন জুবাইর বিন মুতয়িম থেকে, তিনি আলী বিন আবু তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক দীর্ঘকায় ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না। তাঁর হাত ও পায়ের তালু ছিল পুরু ও মাংসল, মাথা ছিল বড়, হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড় ও মজবুত, বুকের পশমের রেখা ছিল দীর্ঘ। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন সামনে ঝুঁকে দ্রুতবেগে হাঁটতেন যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা থেকে নিচে নামছেন। আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

৬- আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আবদাহ আদ-দাব্বি আল-বাসরি এবং আলী বিন হুজর, এবং আবু জাফর

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী, 'সহীহ' গ্রন্থের সংকলক, মুহাদ্দিসগণের ইমাম, হিফযের বা মুখস্থ শক্তির পাহাড়। বর্ণিত আছে যে, দাড়ি গজানোর পূর্বেই তাঁকে বসরায় দেখা গিয়েছিল এবং তাঁর পেছনে হাজার হাজার হাদীস অন্বেষণকারী অনুগামী হতো। তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: "আমার এক লক্ষ সহীহ হাদীস এবং দুই লক্ষ অ-সহীহ হাদীস মুখস্থ আছে।" তিনি ২৫৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(২) আবু নুআইম আল-ফদল বিন দুকাইন, তিনি বুখারীর প্রধান শায়খদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি হিফয ও নিপুণতার চূড়ান্ত স্তরে ছিলেন এবং তিনি একজন প্রামাণ্য ব্যক্তি। আর-রাফিয়ী 'তারীখে কাযভীন' গ্রন্থে বলেন: তাঁর ওপর শিয়া মতবাদের অপবাদ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে কিছু মানুষ তাঁর সমালোচনা করেছেন, তবে জামাত (অধিকাংশ মুহাদ্দিস) তাঁর থেকে দলীল গ্রহণ করেছেন। তিনি ২১৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৩) আবদুর রহমান বিন উতবাহ বিন আবদুল্লাহ বিন মাসউদ আল-কুফি আল-মাসউদী। আল-ইসাম বলেন, তিনি সত্যবাদী ছিলেন তবে মৃত্যুর আগে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল। তিনি ১৬০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৪) উসমান বিন মুসলিম বিন হুরমুজ, কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'মুনসারিফ' উল্লেখ আছে, তিনি নাসায়ী বংশোদ্ভূত, তাঁর বর্ণনায় কিছুটা শিথিলতা রয়েছে।

(৫) নাফি বিন জুবাইর বিন মুতয়িম, একজন মর্যাদাবান তাবেয়ী, তিনি আলী এবং বেশ কয়েকজন সাহাবী থেকে হাদীস শুনেছেন। তিনি ৯৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতা প্রবীণ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

(৬) 'শিন' বর্ণে ফাতহা এবং 'সা' বর্ণে সুকুন যোগে; অর্থাৎ আঙ্গুল ও হাতের তালু পুরু হওয়া, তবে তা কর্কশ নয়। এটি পুরুষদের জন্য একটি প্রশংসনীয় গুণ এবং নারীদের জন্য অপছন্দনীয়।

(৭) এটি হলো হাড়ের অগ্রভাগ বা জোড়াগুলো, এর একবচন হলো 'কুরদুস'।

(৮) আল-মাসরুবাহ: মিম বর্ণে ফাতহা এবং সিন বর্ণে সুকুন যোগে; এটি হলো সেই সূক্ষ্ম পশম যা বুক থেকে শুরু হয়ে নাভি পর্যন্ত প্রলম্বিত।

(৯) কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'কাআন্নাহু' (যেন তিনি) শব্দ এসেছে।

(১০) 'সসাবাব' হলো ভূমির ঢালু অংশ।

(১১) তিরমিযী তাঁর সুনান গ্রন্থের 'মানাকিব' অধ্যায়ে ৩৬৪১ নম্বরে এটি বর্ণনা করেছেন এবং কুতুবে সিত্তাহর সংকলকদের মধ্যে কেবল তিনিই এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

(১২) আহমদ বিন আবদাহ আদ-দাব্বি আল-বাসরি: বিশ্বস্ত ও প্রামাণ্য রাবী, তাঁর ওপর 'নাসব' (অর্থাৎ খারিজী হওয়ার) অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তিনি বনু দাব্বাহ গোত্রের একজন আরব। তিনি ২৪৫ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(১৩) হাফিয আলী বিন হুজর আস-সা'দী: নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত, তিনি অনেক হাদীস ইমাম থেকে বর্ণনা শুনেছেন। তিনি ২৪৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২০)
محمد بن الحسين «1» وهو ابن أبي حليمة والمعنى واحد. قالوا. حدثنا عيسى بن يونس «2» عن عمر بن عبد الله مولى غفرة «3» قال حدثني ابراهيم بن محمد «4» من ولد علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال كان علي إذا وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

«لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم بالطويل الممغط «5» ، ولا بالقصير المتردد، وكان ربعة من القوم، لم يكن بالجعد القطط ولا بالسبط، كان جعدا رجلا، ولم يكن بالمطهّم ولا بالمكلثم، وكان في وجهه تدوير، أبيض، مشرب، أدعج العينين، أهدب الأشفار، جليل المشاش والكتد، أجرد ذو مسربة، شثن الكفين والقدمين إذا مشى تقلع كأنما ينحط في صبب، وإذا التفت التفت معا، بين كتفيه خاتم النبوة، وهو خاتم النبيين، أجود الناس صدرا، وأصدق الناس لهجة، وألينهم عريكة، وأكرمهم (عشرة) «6» ، من رآه بديهة هابه، ومن

--------------------------------------------

(1) أبو جعفر محمد بن الحسين بن أبي حليمة البصري: مقبول لكن لم يخرج له إلا المصنف؛ ولعدم اشتهاره بينه بقوله: (هو ابن أبي حليمة) ، وفي نسخ بالواو والضمير «هو» لمحمد؛ إذ لو كان للحسين لقال: الحسين بن أبي حليمة.

(2) عيسى بن يونس: ثقة مأمون رأى جده أبا إسحاق السبيعي وسمع منه، وروى عن مالك بن أنس والأوزاعي وغيرهما. وروى عنه أبوه يونس وإسحاق وابن راهويه، سكن الشام، وكان علما في العلم والعمل، كان يغزو سنة ويحج سنة. توفي سنة «264» هـ.

(3) عمر بن عبد الله مولى غفرة: مدني مسن وثقه ابن مسعود، وضعفه ابن معين. قال أحمد كثير الارسال. توفي سنة «145» هـ. وغفرة: بضم الغين: هي بنت رباح أخت بلال المؤذن.

(4) إبراهيم بن محمد: بن الحنفية صدوق من الطبقة الخامسة. وقول المصنف: «من ولد علي بن أبي طالب» صفة له. و «الولد» بفتحتين: اسم جنس، أو بضم فسكون: اسم جمع. والأول هو الرواية.

(5) الممغط: بضم الميم الأولى وتشديد الثانية بعدها غين مكسورة وهو اسم فاعل من الانمغاط ورواه بعض المحدثين بضم الميم الأولى وفتح الميم الثانية وفتح الغين المشددة، وهو اسم مفعول من التغميط. وأكثر المحققين على الأول.

(6) في نسخة عشيرة.
মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন (১) আর তিনি ইবনে আবি হালিমা নামেও পরিচিত, উভয়ে একই ব্যক্তি। তারা বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে ইউনুস (২), তিনি উমর ইবনে আবদুল্লাহ মাওলা গাফরা (৩) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আলীবিন আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বংশধর ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ (৪) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন:

«আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যধিক দীর্ঘকায় ছিলেন না এবং অতিশয় খর্বকায়ও ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন লোকদের মধ্যে মধ্যমাকৃতির। তাঁর চুল অত্যধিক কোঁকড়ানো ছিল না আবার একেবারে সোজাও ছিল না, বরং তা ছিল কিছুটা কোঁকড়ানো। তিনি অত্যধিক স্থূলকায় ছিলেন না এবং তাঁর চেহারা একেবারে গোল ছিল না, তবে তাঁর চেহারায় কিছুটা গোলভাব ছিল। তাঁর গায়ের রঙ ছিল লালচে সাদা। তাঁর চোখের মণি ছিল অত্যন্ত কালো এবং চোখের পলক ছিল দীর্ঘ। তাঁর হাড়ের জোড়াগুলো এবং দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল বড় ও প্রশস্ত। তাঁর শরীরে (অতিরিক্ত) লোম ছিল না, তবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত একটি চিকণ লোমশ রেখা ছিল। তাঁর হাতের তালু এবং পায়ের পাতা ছিল মাংসল ও পুরু। যখন তিনি হাঁটতেন, তখন পূর্ণ শক্তিতে পা উঠিয়ে হাঁটতেন যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা দিয়ে নিচের দিকে নামছেন। যখন তিনি কারো দিকে ফিরে তাকাতেন, তখন পূর্ণ শরীর ঘুরিয়ে তাকাতেন। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়তের মোহর ছিল এবং তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে উদারমনা, সবচেয়ে সত্যবাদী, সবচেয়ে বিনম্র স্বভাবের এবং জীবনযাপনে সবচেয়ে সম্মানিত সাহচর্যের অধিকারী। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত, সে ভীত ও অভিভূত হতো, আর যে ব্যক্তি

--------------------------------------------

(১) আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আবি হালিমা আল-বাসরি: তিনি গ্রহণযোগ্য, তবে গ্রন্থকার ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেননি; তিনি খুব বেশি প্রসিদ্ধ না হওয়ায় গ্রন্থকার তাঁর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন: (তিনি ইবনে আবি হালিমা), আর কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘ওয়াও’ সহ এসেছে এবং ‘হুয়া’ (তিনি) সর্বনামটি মুহাম্মদের দিকে ফিরেছে; কারণ যদি এটি হুসাইনের জন্য হতো তবে তিনি বলতেন: হুসাইন ইবনে আবি হালিমা।

(২) ঈসা ইবনে ইউনুস: তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত। তিনি তাঁর দাদা আবু ইসহাক আস-সাবিঈকে দেখেছেন এবং তাঁর থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি মালিক ইবনে আনাস, আওযাঈ এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা ইউনুস, ইসহাক এবং ইবনে রাহওয়াইহ। তিনি সিরিয়ায় বসবাস করতেন এবং জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন। তিনি এক বছর জিহাদ করতেন এবং এক বছর হজ করতেন। তিনি ২৬৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৩) উমর ইবনে আবদুল্লাহ মাওলা গাফরা: তিনি মদিনার বাসিন্দা এবং দীর্ঘজীবী ছিলেন। ইবনে মাসউদ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে মঈন তাঁকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বলেছেন, তিনি অনেক মুরসাল বর্ণনা করতেন। তিনি ১৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ‘গাফরা’ শব্দটি গাইন অক্ষরে পেশ সহযোগে: তিনি বিলাল মুয়াজ্জিনের বোন রাবাহ-এর কন্যা।

(৪) ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ: ইবনে আল-হানাফিয়্যাহ, তিনি পঞ্চম স্তরের একজন সত্যবাদী বর্ণনাকারী। গ্রন্থকারের উক্তি: “আলী ইবনে আবি তালিবের বংশধর” তাঁরই গুণবাচক পরিচয়। ‘আল-ওয়ালাদ’ শব্দটিতে দুটি জবর থাকলে এটি জাতিবাচক নাম, আর ওয়াও-তে পেশ ও লাম-এ সাকিন হলে এটি সমষ্টিবাচক নাম। প্রথমোক্তটিই বর্ণনায় এসেছে।

(৫) আল-মুম্মাগিত: প্রথম মিমে পেশ এবং দ্বিতীয় মিমে তাশদিদ সহ পরের গাইনে জের। এটি ‘ইনমিগাত’ থেকে ইসমে ফায়েল। কোনো কোনো মুহাদ্দিস এটি বর্ণনা করেছেন প্রথম মিমে পেশ, দ্বিতীয় মিমে জবর এবং তাশদিদযুক্ত গাইনে জবর সহযোগে, তখন এটি ‘তাগমীত’ থেকে ইসমে মাফউল হবে। অধিকাংশ গবেষক প্রথমটির উপর একমত।

(৬) একটি পাণ্ডুলিপিতে ‘আশিরাহ’ শব্দ এসেছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২১)
خالطه معرفة أحبه، يقول ناعته: لم أر قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم» «1» .

قال أبو عيسى «2» سمعت (أبا جعفر محمد بن الحسين يقول: سمعت الأصمعي يقول: في تفسير صفة النبي صلى الله عليه وسلم: الممغط الذاهب طولا. وقال سمعت أعرابيا يقول في كلامه: تمغط في نشابته أي مدها مدا شديدا. والمتردد:

الداخل بعضه في بعض قصرا، وأما القطط: فالشديد الجعودة، والرجل الذي في شعره حجونة؛ أي تثن قليل، وأما المطهم: فالبادن الكثير اللحم، والمكلثم:

المدور الوجه، والمشرب: الذي في بياضه حمرة، والأدعج: الشديد سواد العين.

والأهدب: الطويل الأشفار.

7- حدثنا سفيان بن وكيع قال حدثنا جميع بن عمير «3» بن عبد الرحمن العجلي/ إملاء علينا من كتابه/ قال أخبرني رجل من بني تميم من ولد أبي هالة زوج خديجة، يكنى أبا عبد الله «4» عن ابن لأبي هالة «5» عن الحسن بن علي رضي

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي في سننه في المناقب برقم 3642.

(2) كذا في الأصول المصححة، ولم يوجد في بعض النسخ لفظ (أبو عيسى) . وقال بعضهم: يريد نفسه إذ هذه كنيته. والأرجح أنه إدراج من بعض الرواة الذين نقلوا الكتاب عنه. والكتد: مجتمع الكتفين وهو الكاهل. والمسربة: هو الشعر الدقيق الذي كأنه قضيب من الصدر الى السرة. والشثن: الغليظ الأصابع من الكفين والقدمين والتقلع: أن يمشي بقوة. والصبب: الحدور، يقال انحدرنا في صبوب وصبب، وقوله جليل. المشاش: يريد رؤوس المناكب. والعشرة: الصحبة. والعشير: الصاحب. والبديهة: المفاجأة، يقال بدهته بأمر: أي فجأته.

(3) جميع بن عمر: كذا في نسخ الشمائل، وهو ما أورده المزني في التهذيب، وتبعه الذهبي في الميزان، وفي بعض الروايات (عمير) مصغرا، واختاره الحافظ ابن حجر في التقريب. والعجلي: بكسر العين وسكون الجيم: نسبة الى قبيلة عجل. وجميع هذا وثقه ابن حبان، وضعفه غيره، قال ابن حجر العسقلاني: جميع ضعيف رافضي.

(4) أبو عبد الله قيل اسمه يزيد بن عمرو أو عمر أو عمير. مجهول من الطبقة السادسة لم يخرج حديثه أحد من الأئمة أصحاب الصحاح إلا المصنف.

(5) واختلف في اسم أبي هالة فقيل اسمه النباش وقيل مالك وقيل زرارة وقيل هند وأبو هالة تزوج خديجة في الجاهلية فولدت له ذكرين، هندا وهالة. وتزوجها أيضا عتيق بن خالد المخزومي، فولدت له عبد الله، وبنتا. ثم تزوجها رسول الله صلى الله عليه وسلم وجميع أولاده صلى الله عليه وسلم منها إلا ابراهيم فمن مارية القبطية.
যে ব্যক্তি ঘনিষ্ঠভাবে তাঁর সংস্পর্শে আসত সে তাঁকে ভালোবেসে ফেলত। তাঁর গুণাবলী বর্ণনাকারী বলতেন: আমি তাঁর পূর্বে এবং তাঁর পরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

আবু ঈসা বলেন, আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুল হোসেনকে বলতে শুনেছি যে, আমি আসমাঈকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি: 'মুম্মাগাত' অর্থ হলো অতি দীর্ঘাকৃতি। তিনি আরও বলেন, আমি এক বেদুইনকে কথা বলার সময় বলতে শুনেছি: সে তার ধনুককে 'তামাগগাতা' করেছে, অর্থাৎ সেটিকে খুব জোরে টেনেছে। 'মুতারাদ্দিদ' হলো:

সেই ব্যক্তি যার শরীরের একাংশ অন্য অংশের ভেতর ঢুকে গেছে অর্থাৎ খর্বাকৃতি। আর 'কাতাত' হলো অতি কোঁকড়ানো চুল। 'রাজুল' হলো সেই ব্যক্তি যার চুলে সামান্য ঢেউ বা বাঁক রয়েছে। 'মুতাহহাম' হলো স্থূলকায় এবং অধিক মাংসল ব্যক্তি। 'মুকালসাম' হলো:

গোল মুখমণ্ডল বিশিষ্ট। 'মুশরাব' হলো সেই বর্ণ যাতে শুভ্রতার মাঝে লালিমা মিশে আছে। 'আদআজ' হলো যাঁর চোখের মণি অত্যন্ত কালো।

'আহদাব' হলো দীর্ঘ চোখের পাপড়ি বিশিষ্ট।

৭- সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে জামি ইবনে উমাইর ইবনে আবদুর রহমান আল-ইজলি তাঁর কিতাব থেকে লিখিয়ে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাকে বনু তামীম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি খাদিজার স্বামী আবু হালার বংশধর এবং যাঁর উপনাম আবু আবদুল্লাহ, তিনি আবু হালার এক পুত্র থেকে, তিনি হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) ইমাম তিরমিযী এটি তাঁর সুনান গ্রন্থের মানাকিব অধ্যায়ে ৩৬৪২ নম্বরে বর্ণনা করেছেন।

(২) সংশোধিত মূল পাণ্ডুলিপিসমূহে এভাবেই আছে, তবে কোনো কোনো কপিতে 'আবু ঈসা' শব্দটুকু পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি এর দ্বারা নিজেকেই বুঝিয়েছেন কারণ এটি তাঁর উপনাম। তবে অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো এটি কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে সংযোজন যারা তাঁর থেকে কিতাবটি বর্ণনা করেছেন। 'কাতাদ' হলো দুই কাঁধের মিলনস্থল তথা ঘাড়ের নিচের অংশ। 'মাসরাবাহ' হলো বুক থেকে নাভি পর্যন্ত লম্বা চিকন লোম যা অনেকটা লাঠির রেখার মতো দেখায়। 'শাশন' হলো হাত ও পায়ের মোটা আঙ্গুল বিশিষ্ট হওয়া। 'তাক্কাল্লু' হলো অত্যন্ত শক্তির সাথে পা ফেলে হাঁটা। 'সাবাব' হলো ঢালু স্থান, বলা হয় আমরা ঢালু পথে নিচে নামলাম। তাঁর কথা 'জালীলুল মুশাশ' অর্থ হলো কাঁধের অগ্রভাগ। 'উশরাহ' হলো সাহচর্য বা মেলামেশা। 'উশাইর' হলো সঙ্গী। 'বাদিহাহ' হলো আকস্মিকতা, বলা হয় আমি তাকে কোনো কিছুর আকস্মিক সম্মুখীন করলাম অর্থাৎ হঠাৎ চমকে দিলাম।

(৩) জামি ইবনে উমর: শামায়েলের কপিগুলোতে এভাবেই আছে, যা মুযানী 'তাহযীব' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং যাহাবী 'মিযান' গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ করেছেন। কোনো কোনো বর্ণনায় 'উমাইর' (ছোট করা অর্থে) এসেছে এবং হাফেজ ইবনে হাজার 'তাক্বরীব' গ্রন্থে এটিই গ্রহণ করেছেন। 'আল-ইজলি' হলো ইজল গোত্রের দিকে সম্পর্কযুক্ত। ইবনে হিব্বান এই জামি-কে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে অন্যরা তাঁকে দুর্বল বলেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী বলেছেন: জামি দুর্বল এবং রাফেযী মতাদলম্বী ছিল।

(৪) আবু আবদুল্লাহ সম্পর্কে বলা হয় যে তাঁর নাম ইয়াজিদ ইবনে আমর বা উমর বা উমাইর। তিনি ষষ্ঠ স্তরের একজন অপরিচিত বর্ণনাকারী, যাঁর হাদিস সিহাহ সিত্তাহর কোনো ইমাম বর্ণনা করেননি কেবল গ্রন্থকার (তিরমিযী) ব্যতীত।

(৫) আবু হালার নাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয় তাঁর নাম নাব্বাশ, কেউ বলেন মালিক, কেউ বলেন যুরারা, আবার কেউ বলেন হিন্দ। আবু হালা জাহেলী যুগে খাদিজাকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁদের হিন্দ ও হালা নামক দুই পুত্র সন্তান ছিল। আতিক ইবনে খালিদ মাখযুমীও তাঁকে বিয়ে করেছিলেন, যাঁর ঘরে আবদুল্লাহ ও এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বিয়ে করেন এবং ইব্রাহিম ব্যতীত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সকল সন্তান তাঁর গর্ভজাত, আর ইব্রাহিম ছিলেন মারিয়া কিবতিয়ার গর্ভজাত।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২২)
الله عنهما قال: سألت خالي هند بن أبي هالة «1» ، وكان وصافا عن حلية النبي صلى الله عليه وسلم، وأنا أشتهي أن يصف لي منها شيئا أتعلق به فقال:

«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم فخما مفخّما، يتلألأ وجهه تلألؤ القمر ليلة البدر، أطول من المربوع، وأقصر من المشذّب «2» ، عظيم الهامة، رجل الشعر، ان انفرقت عقيقته «3» فرقها، والا فلا يجاوز شعره شحمة أذنيه، إذا هو وفّره، أزهر اللون، واسع الجبين، أزج «4» الحواجب سوابغ في غير قرن «5» بينهما عرق يدره الغضب «6» ؛ أقنى العرنين «7» ، له نور يعلوه يحسبه من لم يتأمله أشم، كث اللحية، سهل الخدين، ضليع الفم «8» مفلج الأسنان «9» دقيق المسربة كأن عنقه جيد دمية في صفاء الفضة «10» ، معتدل الخلق، بادن متماسك «11» ، سواء البطن والصدر، عريض الصدر، بعيد ما بين المنكبين، ضخم الكراديس، أنور المتجرد، موصول ما بين اللّبة «12» والسرة بشعر

--------------------------------------------

(1) وانما كان هند هذا خالا للحسن لأنه أخو أمه من أمها، فانه ابن خديجة التي هي أم فاطمة التي هي أمه. قتل هند هذا مع علي يوم الجمل.

(2) المشذب: الطويل البائن الطول مع نقص في لحمه، وأصله من النخلة التي شذب عنها جريدها.

(3) والمراد بالعقيقة: شعر رأسه الذي على الناصية، أي جعلها فرقتين.

(4) أزج: أي مقوس الحاجين.

(5) سوابغ: أي كاملان وهو منصوب على المدح ويصح رفعه على أنه خبر لمبتدأ محذوف. والقرن (بالتحريك) اقتران الحاجبين بحيث يلتقي طرفاهما.

(6) بينهما عرق يدره الغضب: أي يصيره الغضب ممتلئا دما.

(7) أي طويل الأنف مع دقة أرنبته. والعرنين بكسر العين قيل ما صلب من الأنف وقيل الأنف كله.

(8) الضليع: الواسع والعرب تمدح ذلك لأن سعته دليل على الفصاحة.

(9) الفلج انفراج ما بين الأسنان.

(10) الجيد: العنق، والدمية: الصورة المتخذة من عاج أو غيره والمراد هو في اعتدال وحسن هيئة وكمال واشراق.

(11) البادن: السمين المعتدل السمن بدليل لم يكن بالمطهم.

(12) أي نير العضو المتجرد عن الشعر أو عن الثوب. واللبة: بفتح اللام موضع الثغرة فوق الصدر.
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেন: আমি আমার মামা হিন্দ বিন আবি হালা-কে জিজ্ঞেস করলাম—আর তিনি ছিলেন গুণাবলি বর্ণনায় পারদর্শী—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শারীরিক অবয়ব সম্পর্কে। আমি মনে-প্রাণে কামনা করছিলাম যে, তিনি আমার জন্য তাঁর গুণাবলির এমন কিছু বর্ণনা করবেন যা আমি ধারণ করতে পারি। অতঃপর তিনি বললেন:

“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মহিমান্বিত ও মর্যাদাবান। তাঁর চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বলতা ছড়াত। তিনি মধ্যম গড়নের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন, কিন্তু লিকলিকে লম্বা ছিলেন না। তাঁর মস্তক ছিল সুসংহত বড়। তাঁর চুল ছিল ঈষৎ ঢেউখেলানো। যদি তাঁর চুল স্বতঃস্ফূর্তভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যেত, তবে তিনি মাঝখানে সিঁথি করতেন; অন্যথায় তাঁর চুল কানের লতি অতিক্রম করত না যখন তিনি তা প্রচুর রাখতেন। তাঁর গায়ের রং ছিল উজ্জ্বল। তাঁর কপাল ছিল প্রশস্ত। তাঁর ভ্রুদ্বয় ছিল ধনুকের ন্যায় বাঁকানো এবং ঘন, যা একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো ছিল না। তাঁর ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে একটি রগ ছিল যা রাগান্বিত হলে ফুলে উঠত। তাঁর নাক ছিল দীর্ঘ এবং উপরিভাগ কিছুটা উন্নত। তাতে এক প্রকার নূর বা আভা ছিল, যা গভীরভাবে না পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তি নাকটি অনেক উঁচু মনে করত। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন। গাল ছিল মসৃণ ও মাংসল নয়। তাঁর মুখগহ্বর ছিল প্রশস্ত। তাঁর দাঁতগুলো ছিল সুবিন্যস্ত ও ফাঁকা ফাঁকা। তাঁর কণ্ঠনালি থেকে নাভি পর্যন্ত একটি চিকন পশমের রেখা ছিল। তাঁর গর্দান যেন রূপার স্বচ্ছতায় কোনো মূর্তির ন্যায় নিখুঁত ও সুঠাম। তাঁর শারীরিক গঠন ছিল সুষম। তিনি ছিলেন হৃষ্টপুষ্ট ও সুসংহত দেহের অধিকারী। তাঁর পেট ও বুক ছিল সমান। তাঁর বুক ছিল প্রশস্ত। দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল বিস্তৃত। তাঁর হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড়। শরীরের যে অংশ পোশাকে আবৃত থাকত না, তা ছিল নূরময় ও উজ্জ্বল। তাঁর কণ্ঠের নিম্নদেশ থেকে নাভি পর্যন্ত চিকন পশমের রেখা প্রলম্বিত ছিল।

--------------------------------------------

(১) এই হিন্দ হাসানের মামা ছিলেন কারণ তিনি তাঁর মায়ের সহোদর ভাই ছিলেন, কেননা তিনি খাদিজার পুত্র ছিলেন, যিনি ফাতিমার মা এবং ফাতিমা হাসানের মা। এই হিন্দ আলীর সাথে উটের যুদ্ধে (জামাল) শাহাদাত বরণ করেন।

(২) আল-মুশাজ্জাব: অত্যন্ত দীর্ঘ ব্যক্তি যার শরীরে মাংস কম, এর মূল শব্দটি খেজুর গাছ থেকে নেওয়া হয়েছে যার ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

(৩) আক্বীক্বাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মাথার চুল যা কপালে থাকে, অর্থাৎ তিনি সেটাকে দুই ভাগে বিভক্ত করতেন।

(৪) আজাজ: অর্থাৎ ধনুকের ন্যায় বাঁকানো ভ্রু।

(৫) সাওয়া বিগ: অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ভ্রুদ্বয়। আর আল-ক্বারান (হরকতের সাথে) হলো দুই ভ্রুর সংযোগস্থল যাতে তাদের প্রান্তদ্বয় মিলে যায়।

(৬) তাদের মাঝখানে একটি রগ রয়েছে যা রাগ হলে রক্তে পূর্ণ হয়ে যায়: অর্থাৎ রাগের সময় তা পূর্ণ ও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

(৭) অর্থাৎ নাকের অগ্রভাগ চিকন হওয়া সহ নাক দীর্ঘ হওয়া। ‘আরনীন’ আইন বর্ণে কাসরা সহকারে; বলা হয়েছে এটি নাকের শক্ত অংশ, আবার বলা হয়েছে এটি পূর্ণ নাক।

(৮) আদ-দালীয়: প্রশস্ত মুখ; আর আরবরা এর প্রশংসা করত কারণ এর প্রশস্ততা বাগ্মিতার প্রমাণ।

(৯) আল-ফালাজ: দাঁতগুলোর মধ্যবর্তী ফাঁকা বা বিচ্ছেদ।

(১০) আল-জীদ: ঘাড় বা গর্দান। আদ-দুমইয়াহ: হাতির দাঁত বা অন্য কিছু দিয়ে তৈরি প্রতিকৃতি। এখানে উদ্দেশ্য হলো দেহের ভারসাম্য, সুষমা ও উজ্জ্বলতা।

(১১) আল-বাদিন: মাংসল ও সুষম স্থূলতা, যার প্রমাণ হলো তিনি লিকলিকে বা অতিরিক্ত স্থূল ছিলেন না।

(১২) অর্থাৎ পশমমুক্ত বা পোশাকহীন অঙ্গের উজ্জ্বলতা। আল-লাব্বাহ: লাম বর্ণের ফাতহা সহকারে, বুকের উপরিভাগের গর্ত সদৃশ স্থান।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২৩)
يجري كالخط، عاري الثديين والبطن مما سوى ذلك، أشعر الذراعين والمنكبين وأعالي الصدر، طويل الزندين رحب الراحة شثن الكفين والقدمين، سائل الأطراف، أو قال شائل الأطراف «1» خمصان الأخمصين «2» مسيح القدمين «3» ينبو عنهما الماء، إذا زال زال قلعا، يخطو تكفيا «4» ويمشي هونا؛ ذريع المشية إذا مشى كأنما ينحط من صبب «5» ؛ وإذا التفت التفت جميعا؛ خافض الطرف؛ نظره إلى الأرض أطول من نظره إلى السماء؛ جل نظره الملاحظة. يسوق أصحابه «6» ؛ ويبدر «7» من لقي بالسلام «8» .

8- حدثنا أبو موسى محمد بن المثنى «9» . حدثنا محمد بن جعفر. حدثنا شعبة عن سماك بن حرب «10» قال: سمعت جابر بن سمرة «11» يقول:

«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ضليع الفم؛ أشكل العين، منهوس العقب، قال شعبة: قلت لسماك: ما ضليع الفم؟

قال: عظيم الفم. قلت:

--------------------------------------------

(1) شك من الراوي والسائل الطويل، والشائل مثلها.

(2) أخمص القدم هو الموضع الذي لا يمس الأرض عند الوطء من وسط القدم. وخمصان، كعثمان. والمراد أنه شديد تجافيهما عن الأرض.

(3) أي أملسهما ومستويهما.

(4) أي اذا مشى رفع رجليه بقوة وفي نسخة تكفؤا وهي تأكيد لما قبلها.

(5) ذريع أي واسع والصبب الأرض المنحدرة.

(6) أي يقدم أصحابه بين يديه ويمشي خلفهم.

(7) وفي نسخة يبدأ.

(8) تفرد به الترمذي في الشمائل والطبراني والبيهقي.

(9) أبو موسى محمد بن المثنى العنزي البصري: المعروف بالزمن، ثقة ورع، روى عن ابن عيينه وغندر «محمد بن جعفر البصري» وخرج له الجماعة. توفي سنة «252» هـ.

(10) سماك بن حرب: تابعي أدرك ثمانين من الصحابة. ثقة، ساء حفظه توفي سنة 123 هـ.

(11) جابر بن سمرة العامري السوائي: وهما صحابيان، خرج لأبيه البخاري ومسلم وأبو داود والنسائي، وله الجماعة. توفيا في خلافة عبد الملك بن مروان.
(চুল ও পশম) রেখার ন্যায় প্রলম্বিত ছিল, স্তনদ্বয় ও পেট ছিল (পশম থেকে) খালি, তবে বাহুদ্বয়, কাঁধদ্বয় এবং বুকের উপরিভাগে পশম ছিল। তাঁর কব্জিদ্বয় ছিল দীর্ঘ, হাতের তালু ছিল প্রশস্ত, হাত ও পায়ের তালু ছিল মাংসল। তাঁর হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো ছিল লম্বা (অথবা তিনি বলেছেন সুঠাম) «১» তাঁর পদতলের মধ্যভাগ ছিল অধিক ফাঁকা «২» পদদ্বয় ছিল মসৃণ «৩» যার ওপর পানি স্থির থাকতো না; যখন তিনি স্থান ত্যাগ করতেন তখন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পা তুলে হাঁটতেন; তিনি অত্যন্ত সাবলীলভাবে পথ চলতেন «৪»; তাঁর চলার গতি ছিল দ্রুত, যখন তিনি হাঁটতেন মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন «৫»; তিনি যখন কারো দিকে ফিরে তাকাতেন তখন পূর্ণ অবয়বে ফিরে তাকাতেন; তাঁর দৃষ্টি থাকতো অবনত; আকাশের দিকে তাকানোর চেয়ে জমিনের দিকে তাকিয়ে থাকাই ছিল তাঁর দীর্ঘ অভ্যাস; তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল পর্যবেক্ষণের। তিনি তাঁর সাহাবীদের নিজের আগে চালিয়ে নিয়ে যেতেন «৬»; এবং যাঁর সাথে দেখা হতো তাঁকে আগে সালাম দিতেন «৭» «৮»।

৮- আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না «৯» আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। শু'বাহ সিমাক ইবনে হারব «১০» থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জাবির ইবনে সামুরাহ «১১»-কে বলতে শুনেছি:

«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশস্ত মুখগহ্বর বিশিষ্ট ছিলেন; তাঁর চোখের সাদা অংশে লাল আভা ছিল এবং তাঁর গোড়ালিতে মাংস কম ছিল। শু'বাহ বলেন: আমি সিমাককে জিজ্ঞাসা করলাম, 'দালিউল ফাম' (প্রশস্ত মুখ) এর অর্থ কী?

তিনি বললেন: বড় মুখ। আমি বললাম:

--------------------------------------------

(১) এটি রাবীর পক্ষ থেকে সন্দেহ; সায়িল অর্থ দীর্ঘ, আর শায়িল অর্থও তদ্রূপ।

(২) পায়ের 'আখমাস' হলো পদতলের সেই মধ্যবর্তী স্থান যা হাঁটার সময় মাটি স্পর্শ করে না। খামসান শব্দটি উসমানের ওজনে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পদতলের সেই স্থানটি মাটি থেকে অধিক ফাঁকা থাকা।

(৩) অর্থাৎ পদদ্বয় মসৃণ ও সমান।

(৪) অর্থাৎ যখন তিনি হাঁটতেন, তখন শক্তি দিয়ে পা উঠাতেন। এক পাণ্ডুলিপিতে 'তাকাফ্ফুআ' শব্দ এসেছে যা পূর্ববর্তী কথারই তাকিদ বা গুরুত্ব প্রকাশ করে।

(৫) যারীউ অর্থ প্রশস্ত পদক্ষেপ এবং সাবাব অর্থ ঢালু ভূমি।

(৬) অর্থাৎ তিনি তাঁর সাহাবীদের নিজের সামনে অগ্রসর করে দিতেন এবং নিজে তাঁদের পেছনে হাঁটতেন।

(৭) কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'ইবদাউ' শব্দ এসেছে।

(৮) ইমাম তিরমিযী এককভাবে এটি শামাইল গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এছাড়া তাবারানি ও বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন।

(৯) আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আল-আনাযী আল-বাসরী: তিনি 'আয-যামান' নামে পরিচিত, তিনি বিশ্বস্ত ও পরহেযগার ছিলেন। তিনি ইবনে উয়াইনা ও গুন্দার (মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-বাসরী) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সিহাহ সিত্তার সকল ইমামগণ তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তিনি ২৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(১০) সিমাক ইবনে হারব: তিনি একজন তাবিঈ, তিনি আশি জন সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন। তিনি বিশ্বস্ত, তবে শেষ বয়সে তাঁর মুখস্থ শক্তিতে কিছুটা দুর্বলতা দেখা দিয়েছিল। তিনি ১২৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(১১) জাবির ইবনে সামুরাহ আল-আমেরী আস-সুওয়ায়ী: তিনি এবং তাঁর পিতা উভয়েই সাহাবী ছিলেন। তাঁর পিতা থেকে বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈ হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং জাবির থেকে জামা'আত (সকল ইমামগণ) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়েই আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফতকালে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২৪)
ما أشكل العين؟ قال طويل شق العين، قلت: ما منهوس العقب؟ قال قليل لحم العقب» «1» .

9- حدثنا هناد بن السري «2» . حدثنا عبثر بن القاسم «3» عن أشعث «4» يعني ابن سوار عن أبي اسحاق عن جابر بن سمرة قال:

«رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم في ليلة إضحيان «5» ، وعليه حلّة حمراء، فجعلت أنظر إليه وإلى القمر، فلهو عندي أحسن من القمر» «6» .

10- حدثنا سفيان بن وكيع. حدثننا حميد بن عبد الحميد الرؤاسي «7» عن زهير «8» عن أبي إسحاق قال: سأل رجل البراء بن عازب:

«أكان وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل السيف؟ قال لا، بل مثل القمر» «9» .

11- حدثنا أبو داود المصاحفي/ سليمان بن سلم/ «10» حدثنا النضر بن

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه مسلم في الفضائل برقم 2339 وأخرجه الترمذي في سننه في المناقب برقم 3649.

(2) هناد بن السري: الكوفي التميمي الدارمي، الزاهد الحافظ، كان يقال له راهب الكوفة لزهده. خرج له مسلم والأربعة توفي سنة «223» هـ.

(3) عبثر بن القاسم الزبيري: نسبة الى الزبير بالتصغير، كوفي، ثقة، خرج له الجماعة.

(4) أشعث بن سوار الكندي: بتشديد الواو، روى له مسلم والنسائي والمصنف وابن ماجه. توفي سنة «130» هـ.

(5) أي مقمرة.

(6) أخرجه الترمذي في كتاب أدب الحديث رقم 2812.

(7) حميد بن عبد الرحمن الرؤاسي: نسبة الى رواس، كوفي روى عن ابن إسحاق وعطية وروى عنه سفيان وابن المبارك وغيرهما. توفي سنة «190» هـ.

(8) زهير بن معاوية بن خديج: أبو خيثمة الجعفي، ثقة حافظ، خرج له الجماعة. توفي سنة «173» هـ.

(9) أخرجه البخاري في صفة النبي صلى الله عليه وسلم والترمذي في المناقب برقم 3640.

(10) أبو داود المصاحفي سليمان بن سلم: البلخي، ثبت ثقة، روى عن أبي مطيع، وروى عنه أبو داود. توفي سنة «238» هـ.
'আশকালুল আইন' অর্থ কী? তিনি বললেন: চোখের প্রান্ত লম্বা হওয়া। আমি বললাম: 'মানহুসুল আকিব' অর্থ কী? তিনি বললেন: গোড়ালিতে গোশত কম থাকা। (১)

৯- হান্নাদ ইবনাস সাররি (২) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবসার ইবনুল কাসিম (৩) আমাদের নিকট আশ'আস (৪) অর্থাৎ ইবনে সাওয়ার থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

«আমি এক জ্যোৎস্নালোকিত রাতে (৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি। তাঁর গায়ে লাল রঙের পোশাক ছিল। আমি একবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিলাম আর একবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। আমার কাছে তিনি চাঁদের চেয়েও বেশি সুন্দর ছিলেন (৬) ।»

১০- সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি' আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আর-রুয়াসি (৭) আমাদের নিকট যুহাইর (৮) থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বারা ইবনে আযিব (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন:

«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারক কি তরবারির মতো (চকচকে) ছিল? তিনি বললেন: না, বরং চাঁদের মতো (উজ্জ্বল ও গোল) ছিল (৯) ।»

১১- আবু দাউদ আল-মুসাহাফি সুলাইমান ইবনে সালাম (১০) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আন্-নাযর ইবনে...

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি ইমাম মুসলিম 'ফাদায়িল' অধ্যায়ে ২৩৩৯ নম্বর এবং ইমাম তিরমিযী তাঁর সুনানে 'মানাকিব' অধ্যায়ে ৩৬৪৯ নম্বরে বর্ণনা করেছেন।

(২) হান্নাদ ইবনাস সাররি: আল-কুফি আত-তামিমি আদ-দারিমি, তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ ও হাফিয। তাঁর যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতার কারণে তাঁকে 'কুফার রাহিব' (সন্ন্যাসী) বলা হতো। ইমাম মুসলিম ও চার সুনান গ্রন্থকার তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ২২৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৩) আবসার ইবনুল কাসিম আজ-যুবাইরি: যুবাইর শব্দের সাথে সম্পর্কিত, কুফি, নির্ভরযোগ্য। জামা'আত (প্রধান হাদীস গ্রন্থকারগণ) তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

(৪) আশ'আস ইবনে সাওয়ার আল-কিন্দি: ইমাম মুসলিম, নাসায়ি, তিরমিযী এবং ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৩০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(৫) অর্থাৎ জ্যোৎস্নালোকিত।

(৬) ইমাম তিরমিযী এটি তাঁর 'আদাবুল হাদীস' অধ্যায়ে ২৮১২ নম্বরে বর্ণনা করেছেন।

(৭) হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান আর-রুয়াসি: রুয়াস গোত্রের সাথে সম্পর্কিত, কুফি। তিনি ইবনে ইসহাক ও আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে সুফিয়ান, ইবনুল মুবারক ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৯০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(৮) যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে খাদিজ: আবু খাইসামা আল-জু'ফি, নির্ভরযোগ্য ও হাফিয। জামা'আত তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৭৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(৯) ইমাম বুখারি 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য' অধ্যায়ে এবং তিরমিযী 'মানাকিব' অধ্যায়ে ৩৬৪০ নম্বরে এটি বর্ণনা করেছেন।

(১০) আবু দাউদ আল-মুসাহাফি সুলাইমান ইবনে সালাম: আল-বালখি, অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সিকাহ। তিনি আবু মুতি' থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৩৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২৫)
شميل «1» عن صالح بن أبي الأخضر «2» عن ابن شهاب «3» عن أبي سلمة «4» عن أبي هريرة «5» رضي الله عنه قال:

«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أبيض كأنّما صيغ من فضة، رجل الشعر» «6» .

12- حدثنا قتيبة بن سعيد «7» قال أخبرني الليث بن سعد «8» عن أبي الزبير عن جابر بن عبد الله أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

«عرض عليّ الأنبياء، فإذا موسى عليه السلام ضرب من الرجال كأنّه من رجال شنوءة «9» ، ورأيت عيسى بن مريم عليه السلام فإذا أقرب من رأيت به شبها عروة بن مسعود «10» ، ورأيت ابراهيم عليه السلام فإذا أقرب من رأيت به

--------------------------------------------

(1) النضر بن شميل: أبو الحسن المازني النحوي البصري، ثقة إمام، خرج له الجماعة.

(2) صالح بن أبي الأخضر: اليماني مولى بني أمية، كان خادما للزهري، وثقه البخاري، وضعفه المصنف والنسائي، قال الذهبي: صالح الحديث، خرج له الأربعة.

(3) ابن شهاب: أبو بكر محمد بن أسلم الزهري المنسوب إلى زهرة بن كلاب، الفقيه الحافظ، تابعي صغير، متفق على جلالته واتقانه. توفي سنة «124» أو «125» هـ.

(4) أبو سلمة: اسمه عبد الله أو إسماعيل بن عبد الرحمن بن عوف المدني، وهو قرشي زهري وفي موته أقوال قيل سنة «94» هـ وقيل غير ذلك.

(5) أبي هريرة: اسمه على الأصح عبد الرحمن الدوسي، حافظ الصحابة ومكثرهم. قال الشافعي: أحفظ من روى الحديث في دهره أبو هريرة. كان فقيها مفتيا ورعا، ولي أمر المدينة، توفي سنة «57» هـ أو «59» هـ ودفن في البقيع.

(6) تفرد به الترمذي.

(7) في بعض النسخ (ابن سعد) .

(8) الليث بن سعد العرنمي عالم أهل مصر. قال الشافعي الليث أفقه من مالك، لكن ضيعه أصحابه وما فاتني أحد، فأسفت عليه مثله، توفي سنة «175» هـ.

(9) بفتح الشين قبيلة من اليمن، ورجال هذه القبيلة متوسطون بين الخفة والسمن والشنوءة في الأصل التباعد.

(10) عروة بن مسعود الثقفي، وهو الذي أرسلته قريش للنبي صلى الله عليه وسلم يوم الحديبية، وقد أسلم سنة تسع من الهجرة. وهو أحد الرجلين اللذين قالت قريش فيهما لَوْلا نُزِّلَ هذَا الْقُرْآنُ عَلى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ 31 الزخرف.
শুমাইল (১) সালিহ বিন আবু আল-আখদার (২) থেকে, তিনি ইবনে শিহাব (৩) থেকে, তিনি আবু সালামাহ (৪) থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (৫) (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

“রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উজ্জ্বল শ্বেত বর্ণের ছিলেন, যেন তাঁকে রূপা দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে, তাঁর চুল ছিল সামান্য ঢেউখেলানো।” (৬) ।

১২- কুতাইবা বিন সাঈদ (৭) আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, লাইস বিন সা’দ (৮) আবু যুবাইর থেকে এবং তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

“আমার সামনে নবীগণকে উপস্থাপন করা হলো। আমি মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলাম, তিনি ছিলেন দোহারা গড়নের দীর্ঘদেহী পুরুষ, যেন তিনি শানুয়াহ (৯) গোত্রের একজন লোক। আমি ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলাম, আমি যত মানুষকে দেখেছি তাদের মধ্যে উরওয়াহ বিন মাসঊদ (১০) তাঁর সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলাম, আমি যত মানুষকে দেখেছি তাদের মধ্যে...

--------------------------------------------

(১) আন-নাদর বিন শুমাইল: আবু আল-হাসান আল-মাযিনী আন-নাহবী আল-বাসরী, তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম, জামাআত (প্রধান হাদীস বিশারদগণ) তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

(২) সালিহ বিন আবু আল-আখদার: আল-ইয়ামানি, বনু উমাইয়াদের মুক্তদাস, তিনি যুহরীর খাদেম ছিলেন। বুখারী তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, তবে গ্রন্থকার (তিরমিযী) এবং নাসাঈ তাঁকে দুর্বল বলেছেন। আয-যাহাবী বলেন: তাঁর হাদীস গ্রহণযোগ্য, চারজন ইমাম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইবনে শিহাব: আবু বকর মুহাম্মদ বিন আসলাম আয-যুহরী, যিনি যুহরা বিন কিলাবের বংশধর। তিনি একজন ফকীহ ও হাফিজ এবং ছোট তাবেয়ী। তাঁর মর্যাদা ও মুখস্থ শক্তির বিষয়ে সকলে একমত। তিনি ১২৪ বা ১২৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৪) আবু সালামাহ: তাঁর নাম আবদুল্লাহ অথবা ইসমাইল বিন আবদুর রহমান বিন আউফ আল-মাদানী। তিনি কুরাইশ বংশের যুহরী শাখার অন্তর্ভুক্ত। তাঁর মৃত্যু সম্পর্কে বিভিন্ন মত রয়েছে, কেউ বলেছেন ৯৪ হিজরীতে, আবার অন্য মতও রয়েছে।

(৫) আবু হুরাইরা: তাঁর নাম সর্বাধিক সঠিক মতানুসারে আবদুর রহমান আদ-দাওসী। তিনি সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হাফিজ এবং সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী। ইমাম শাফিঈ বলেন: আবু হুরাইরা তাঁর সমসাময়িক হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বাধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ছিলেন। তিনি ফকীহ, মুফতী ও পরহেজগার ছিলেন। তিনি মদীনার শাসনকর্তা ছিলেন। তিনি ৫৭ বা ৫৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল বাকীতে দাফন করা হয়।

(৬) এটি কেবল তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

(৭) কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে (ইবনে সা’দ) রয়েছে।

(৮) লাইস বিন সা’দ আল-ফাহমি, মিসরীয়দের আলেম। ইমাম শাফিঈ বলেন: লাইস ইমাম মালিকের চেয়েও বড় ফকীহ ছিলেন, কিন্তু তাঁর ছাত্ররা তাঁর জ্ঞানকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেনি। আমি কোনো ব্যক্তিকে হারিয়ে এতোটা আক্ষেপ করিনি যতটা তাঁর জন্য করেছি। তিনি ১৭৫ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৯) শিন বর্ণে ফাতহা যোগে উচ্চারিত ইয়েমেনের একটি গোত্র। এই গোত্রের লোকেরা অতিরিক্ত হালকা এবং অতিরিক্ত স্থূল দেহের মাঝামাঝি গড়নের হয়ে থাকে। শানুয়াহ শব্দের মূল অর্থ হলো দূরত্ব।

(১০) উরওয়াহ বিন মাসঊদ আস-সাকাফী। তিনি সেই ব্যক্তি যাকে কুরাইশরা হুদায়বিয়ার দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পাঠিয়েছিল। তিনি নবম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি সেই দুই ব্যক্তির একজন যাদের সম্পর্কে কুরাইশরা বলেছিল: "কেন এই কুরআন দুই জনপদের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ হলো না?" (সূরা যুখরুফ, আয়াত ৩১)।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২৬)
شبها دحية «1» » «2» .

13- حدثنا سفيان بن وكيع ومحمد بن بشار/ المعنى واحد/ قالا أخبر يزيد بن هارون «3» عن سعيد الجريري «4» قال سمعت أبا الطفيل «5» يقول:

«رأيت النّبي صلى الله عليه وسلم وما بقي على وجه الأرض أحد رآه غيري. قلت: صفه لي. قال: كان أبيض؛ مليحا مقصّدا» «6» .

14- حدثنا عبد الله بن عبد الرحمن «7» . حدثنا إبراهيم بن المنذر الحزاميّ «8»

--------------------------------------------

(1) دحية الكلبي الصحابي شهد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم المشاهد بعد بدر وبايع تحت الشجرة، وكان جبريل يأتي للنبي صلى الله عليه وسلم غالبا على صورته نزل الشام وبقي فيها واستوطن المزة بجانبها حتى مات بزمن معاوية، وكان رسول النبي صلى الله عليه وسلم الى هرقل فلقيه بحمص..

(2) والحديث أخرجه مسلم في الايمان باب الاسراء حديث رقم 167 والترمذي في سننه في المناقب برقم 3651.

(3) يزيد بن هارون: السلمي مولاهم، كنيته أبو خالد، الحافظ المتقن، العابد، أحد الأعلام، قيل كان يحضر مجلسه ببغداد نحو سبعين ألفا، خرج له الجماعة، توفي سنة «220» هـ وقيل سنة «226» هـ.

(4) سعيد الجريري: نسبة الى أحد أبائه واسمه (جرير) ، ثقه ثبت، من الطبقة الخامسة، اختلط قبل موته، خرج له الجماعة توفي سنة «144» هـ.

(5) أبا الطفيل: عامر بن واثلة الليثي الكناني، ولد عام الهجرة، أو عام أحد. صحابي، من محبي علي وشيعته. وهو آخر من مات من الصحابة. توفي سنة «110» هـ على الصحيح.

(6) والحديث أخرجه أيضا مسلم في الفضائل حديث رقم 2340. والمقصد: هو الذي ليس بجسيم ولا نحيف ولا طويل ولا قصير. وملح الشيء، من باب ظرف أي حسن فهو مليح.

(7) عبد الله بن عبد الرحمن: بن الفضل الدارمي السمرقندي، الحافظ الكبير وعالم سمرقند، روى عن إبراهيم بن المنذر والنضر بن شميل ويزيد بن هارون والحجاج بن منهال وخلف، وروى عنه مسلم والنسائي والمصنف والبخاري في غير الصحيح. قال أبو حاتم: إمام أهل زمانه. ثقة ثبت توفي سنة «255» هـ.

(8) ابراهيم بن المنذر الحزاميّ: أحد علماء المدينة، من كبار العلماء، صدوق، تكلّم فيه أحمد لأجل القرآن توفي سنة 236 هـ والحزاميّ: نسبة الى أحد أجداده، فإنه ابراهيم بن المنذر بن عبد الله بن المنذر بن المغيرة بن عبد الله بن خالد بن حزام القرشي.
দিহইয়া-এর সাদৃশ্যপূর্ণ ছিলেন। «১» » «২»।

১৩- সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি এবং মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উভয়ের বর্ণিত হাদীসের অর্থ অভিন্ন। তাঁরা বলেন, ইয়াযীদ ইবনে হারুন «৩» আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সাঈদ আল-জুরাইরী «৪» থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবু তুফাইল «৫»-কে বলতে শুনেছি:

“আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছি এবং বর্তমানে ভূপৃষ্ঠে আমি ছাড়া এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যে তাঁকে দেখেছে। আমি বললাম: আপনি আমার নিকট তাঁর দৈহিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিন। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন শ্বেতবর্ণ, অত্যন্ত সুন্দর এবং সুঠাম দেহের অধিকারী।” «৬»।

১৪- আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান «৭» আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইব্রাহীম ইবনে মুনযির আল-হিযামী «৮» আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) দিহইয়া আল-কালবী: তিনি একজন সাহাবী, বদর যুদ্ধের পরবর্তী সকল যুদ্ধে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বৃক্ষের নিচে (বাইআতুর রিদওয়ান) শপথ গ্রহণ করেছিলেন। জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অধিকাংশ সময় তাঁর আকৃতিতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসতেন। তিনি সিরিয়ায় গমন করেন এবং মুয়াবিয়া (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর সময়কাল পর্যন্ত এর সন্নিকটে 'মিযযাহ' নামক স্থানে বসবাস করে সেখানেই ইন্তেকাল করেন। তিনি হিরাক্লিয়াসের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রেরিত দূত ছিলেন এবং হিমসে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

(২) হাদীসটি ইমাম মুসলিম 'ঈমান' অধ্যায়ের 'ইসরা' পরিচ্ছেদে হাদীস নং ১৬৭ এবং তিরমিযী তাঁর সুনানে 'মানাকিব' (মর্যাদা) অধ্যায়ে হাদীস নং ৩৬৫১-তে বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইয়াযীদ ইবনে হারুন: আস-সুলামী (তাঁদের আযাদকৃত দাস), তাঁর উপনাম আবু খালিদ। তিনি অত্যন্ত সুদৃঢ় হাফেয, আবিদ এবং অন্যতম ইমাম ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, বাগদাদে তাঁর মজলিসে প্রায় সত্তর হাজার মানুষ উপস্থিত হতো। জামাআত (প্রধান হাদীস সংকলকগণ) তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ২২০ হিজরী অথবা মতান্তরে ২২৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৪) সাঈদ আল-জুরাইরী: তাঁর জনৈক পূর্বপুরুষ 'জুরাইর'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী ছিলেন, তিনি পঞ্চম স্তরের রাবী। মৃত্যুর পূর্বে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল। জামাআত তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৪৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৫) আবু তুফাইল: আমের ইবনে ওয়াসিলা আল-লায়সী আল-কিনানী। তিনি হিজরী সনে অথবা ওহুদ যুদ্ধের বছর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন সাহাবী ছিলেন এবং আলী (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর অনুরাগী ও তাঁর দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি সাহাবীদের মধ্যে সর্বশেষ ইন্তেকালকারী ব্যক্তি। বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী তিনি ১১০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৬) হাদীসটি ইমাম মুসলিম 'ফাযায়েল' (মর্যাদা) অধ্যায়ে হাদীস নং ২৩৪০-তেও বর্ণনা করেছেন। 'মুকাসসাদ' বলতে সেই ব্যক্তিকে বোঝায় যে খুব স্থূল নয়, আবার খুব কৃশও নয় এবং খুব দীর্ঘও নয়, আবার খুব খর্বাকৃতিও নয়। আর কোনো জিনিসের শ্রী বা সৌন্দর্য প্রকাশে 'মালাহা' শব্দ ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর।

(৭) আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান: ইবনে ফাদল আদ-দারিমি আস-সামারকান্দি। তিনি একজন প্রখ্যাত হাফেয এবং সামারকান্দের আলেম ছিলেন। তিনি ইব্রাহীম ইবনে মুনযির, নাদর ইবনে শুমাইল, ইয়াযীদ ইবনে হারুন, হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল এবং খালাফ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইমাম মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী এবং বুখারী (তাঁর সহীহ ছাড়া অন্যান্য গ্রন্থে) হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম বলেছেন: তিনি তাঁর যুগের ইমাম ছিলেন। তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী ছিলেন। তিনি ২৫৫ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৮) ইব্রাহীম ইবনে মুনযির আল-হিযামী: মদীনার অন্যতম আলেম এবং বিজ্ঞ মনীষীদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সত্যবাদী ছিলেন। কুরআন (সৃষ্টি হওয়া না হওয়া) সংক্রান্ত মাসআলার কারণে ইমাম আহমদ তাঁর সমালোচনা করেছিলেন। তিনি ২৩৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। 'আল-হিযামী' তাঁর জনৈক পূর্বপুরুষের সাথে সম্বন্ধযুক্ত, কেননা তাঁর পূর্ণ নাম হলো ইব্রাহীম ইবনে মুনযির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুনযির ইবনে মুগীরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে খালিদ ইবনে হিযাম আল-কুরাশী।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২৭)
حدثنا عبد العزيز بن ثابت الزّهريّ «1» . حدثني إسماعيل بن إبراهيم «2» / ابن أخي موسى بن عقبة/ عن موسى بن عقبة «3» عن كريب «4» عن ابن عباس «5» قال:

«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أفلج الثّنيّتين «6» . إذا تكلم رؤي كالنور يخرج من بين ثناياه» «7» .

--------------------------------------------

(1) عبد العزيز بن ثابت الزّهريّ: نسبة لبني زهرة، متروك حدّث من حفظه لاحتراق كتبه، فكثر غلطه. قال الذهبي: لا يتابع في حديثه. خرّج له المصنف. قال ميرك: كذا وقع أصل سماعنا وكثير من النسخ، والصواب ابن أبي ثابت كما حققه المحققون من علماء أسماء الرجال.

(2) إسماعيل بن إبراهيم: الأسدي مولاهم، ثقة، روى عنه البخاري والنسائي والمصنف. توفي سنة «169» هـ.

(3) موسى بن عقبة: الأسدي مولى آل الزبير. أحد علماء المدينة، فقيه، إمام في المغازي، روى عنه عروة، وروى عنه السفيانان، وخرّج له الجماعة. توفي سنة «141» هـ.

(4) كريب: مصغر ابن أبي مسلم المدني، كنيته أبو رشيد، مولى ابن غياث، ثبت، روى عن مولاه وعن عائشة وجماعة، وروى عنه ابناه وخلف. ثقة خرّج له الجماعة. توفي بالمدينة سنة «98» هـ.

(5) حبر الأمة، وترجمان القرآن، وابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبي الخلفاء، عبد الله بن عباس المشهور بالفضل والسخاء والكرم والعلم، مات في الطائف سنة «78» هـ أو سنة «68» وقد كفّ بصره وصلى عليه ابن الحنفية. وقال: مات رباني هذه الأمة، وهو أحد الستة المكثري الرواية، ومناقبه أكثر من أن تذكر، وهو أحد العبادلة الأربعة. وكان عمره حين مات المصطفى ثلاثة عشرة.

(6) بتشديد الياء، تثنية «ثنية» والفلج فرجة بين الثنايا والرباعيات.

(7) أخرجه الطبراني والبيهقي/ الجامع الصغير/.
আব্দুল আজিজ ইবনে সাবিত আল-জুহরী (১) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার নিকট ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম (২) / মুসা ইবনে উকবাহ-এর ভ্রাতুষ্পুত্র / মুসা ইবনে উকবাহ (৩) থেকে, তিনি কুরাইব (৪) থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (৫) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনের দুই দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা ছিল (৬)। যখন তিনি কথা বলতেন, তখন তাঁর সামনের দাঁতগুলোর মাঝখান থেকে নূরের মতো আভা বের হতে দেখা যেত» (৭)।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল আজিজ ইবনে সাবিত আল-জুহরী: বনু জুহরার দিকে সম্বন্ধযুক্ত, তিনি বর্জনীয় (মাতরুক), তাঁর কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়ায় তিনি মুখস্থ বর্ণনা করতেন, ফলে তাঁর ভুল বেশি হতো। ইমাম জাহাবী বলেছেন: তাঁর হাদিসের অনুসরণ করা হয় না। গ্রন্থকার তাঁর থেকে হাদিস উদ্ধৃত করেছেন। মীরাক বলেছেন: আমাদের শ্রবণকৃত মূল কপিতে এবং অনেক পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে, তবে সঠিক হলো ইবনে আবি সাবিত, যেমনটি রিজাল শাস্ত্রের গবেষকগণ সুনিশ্চিত করেছেন।

(২) ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম: আল-আসাদী তাদের মুক্তদাস, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তাঁর থেকে বুখারী, নাসাঈ এবং গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৬৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৩) মুসা ইবনে উকবাহ: আল-আসাদী, আল-জুবায়ের পরিবারের মুক্তদাস। মদিনার অন্যতম আলেম, ফকিহ, মাগাজী (যুদ্ধাভিযান) শাস্ত্রের ইমাম। তাঁর থেকে উরওয়াহ এবং দুই সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন এবং জামাআত (ছয় প্রধান হাদিস গ্রন্থকার) তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তিনি ১৪১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৪) কুরাইব: ইবনে আবি মুসলিম আল-মাদানী-এর ক্ষুদ্রার্থ রূপ, তাঁর উপনাম আবু রাশিদ, ইবনে গিয়াস-এর মুক্তদাস, সুদৃঢ় বর্ণনাকারী, তিনি তাঁর মুনিব, আয়েশা এবং একটি জামাআত থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর দুই পুত্র এবং খালাফ বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য, জামাআত তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। তিনি ৯৮ হিজরিতে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন।

(৫) উম্মতের বিদগ্ধ পণ্ডিত, কুরআনের ভাষ্যকার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই এবং খলিফাদের পিতা, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস; যিনি শ্রেষ্ঠত্ব, দানশীলতা, উদারতা ও জ্ঞানের জন্য প্রসিদ্ধ। তিনি ৭৮ হিজরি বা ৬৮ হিজরিতে তায়েফে ইন্তেকাল করেন। সে সময় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন এবং মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া তাঁর জানাজা পড়ান। তিনি বলেছিলেন: আজ এই উম্মতের রব্বানী (প্রজ্ঞাবান আলেম) মৃত্যুবরণ করলেন। তিনি অধিক হাদিস বর্ণনাকারী ছয়জন সাহাবীর একজন এবং তাঁর গুণাবলি বর্ণনাতীত। তিনি চার আব্দুল্লাহর (আবাদিলাহ) অন্যতম। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের সময় তাঁর বয়স ছিল তেরো বছর।

(৬) ‘ইয়া’ অক্ষরে তাশদীদ সহকারে, এটি ‘সানিয়্যাহ’ শব্দের দ্বিবচন। ‘ফালাজ’ হলো সামনের দাঁত ও পার্শ্ববর্তী দাঁতগুলোর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান।

(৭) তাবারানী এবং বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন /আল-জামি আস-সাগীর/।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌2- باب ما جاء في خاتم النّبوة

15- حدثنا قتيبة بن سعيد «1» . حدثنا حاتم بن اسماعيل «2» عن الجعد بن عبد الرحمن قال «3» : سمعت السائب بن يزيد «4» يقول:

«ذهبت بي خالتي إلى النّبي صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله انّ ابن أختي وجع «5» فمسح صلى الله عليه وسلم رأسي، ودعا لي بالبركة، وتوضأ فشربت من وضوئه، وقمت خلف ظهره؛ فنظرت إلى الخاتم بين كتفيه فإذا هو مثل رز الحجة» .

16- حدثنا سعيد بن يعقوب الطالقاني «6» . حدثنا أيوب بن جابر «7» عن سماك بن حرب عن جابر بن سمرة قال:

--------------------------------------------

(1) وفي نسخة: أبو الرجاء.

(2) حاتم بن اسماعيل المدني الحارثي مولاهم، أصله من الكوفة، مولى بني عبد الدار، ثقة، ولكنه اتهم. توفي سنة «187» هـ. خرّج له الجماعة.

(3) الجعد بن عبد الرحمن: بن أوس الكندي ويقال التميمي المدني، وقد نسب إلى جده، روى عن السائب وعائشة بنت سعد والدوسي وغيرهم، وروى عنه يحيى القطان والقاسم المدني وخلف، ثقة خرج له الشيخان والنسائي وأبو داود.

(4) السائب بن يزيد: الكندي، ولد في السنة الثانية من الهجرة، حضر حجة الوداع مع أبيه، توفي سنة «80» هـ.

(5) أي مريض.

(6) سعيد بن يعقوب الطالقاني: بكسر اللام وتفتح أحيانا، نسبة لبلد عند قزوين. ثقة، قال ابن حبان: ربما أخطأ، خرج له المصنف وأبو داود والنسائي. توفي سنة «244» هـ.

(7) أيوب بن جابر: اليمامي ثم الكوفي، روى عن سماك وبلال بن المنذر وخلف، وروى عنه قتيبة بن سعيد وابن أبي ليلى وغيرهما. قال أبو زرعة وغيره. ضعيف من الطبقة السابعة، خرج له أبو داود والمصنف.
২- নবুওয়াতের মোহর সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

১৫- কুতায়বা ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। হাতিম ইবনে ইসমাঈল আল-জা'দ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি সায়িব ইবনে ইয়াযীদকে বলতে শুনেছি:

«আমার খালা আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আমার ভাগ্নে অসুস্থ। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বরকতের দুআ করলেন। অতঃপর তিনি ওযু করলেন এবং আমি তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি পান করলাম। এরপর আমি তাঁর পিঠের পেছনে দাঁড়ালাম এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে মোহরটির দিকে তাকালাম; দেখা গেল তা পালঙ্কের বোতামের মতো (কিংবা কবুতরের ডিমের মতো) ছিল।»

১৬- সাঈদ ইবনে ইয়াকুব আত-তালকানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আইয়ুব ইবনে জাবির সিমাক ইবনে হারব থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন:

--------------------------------------------

(১) একটি পাণ্ডুলিপিতে আছে: আবু রাজা।

(২) হাতিম ইবনে ইসমাঈল আল-মাদানী আল-হারিসী তাদের মুক্তদাস, তাঁর মূল নিবাস কুফা, বনু আবদুদ দারের মুক্তদাস, তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে তাঁর ব্যাপারে কিছুটা সমালোচনা আছে। তিনি ১৮৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। জামায়াতুল মুহাদ্দিসীন তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন।

(৩) আল-জা'দ ইবনে আবদুর রহমান: ইবনে আওস আল-কিন্দি, তাকে আত-তামিমী আল-মাদানীও বলা হয়, তাকে তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। তিনি সায়িব, আয়িশা বিনতে সাদ, আদ-দাওসী এবং অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, আল-কাসিম আল-মাদানী এবং খালাফ বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য, বুখারী ও মুসলিম (শাইখাইন), নাসায়ী ও আবু দাউদ তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন।

(৪) সায়িব ইবনে ইয়াযীদ: আল-কিন্দি, হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর পিতার সাথে বিদায় হজে উপস্থিত ছিলেন, ৮০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(৫) অর্থাৎ অসুস্থ।

(৬) সাঈদ ইবনে ইয়াকুব আত-তালকানী: 'লাম' বর্ণে কাসরাহ (ই-কার) যোগে এবং কখনো ফাতহাও (আ-কার) পড়া হয়, এটি কাজভিনের নিকটবর্তী একটি শহরের নামানুসারে। তিনি নির্ভরযোগ্য। ইবনে হিব্বান বলেছেন: কখনো কখনো তিনি ভুল করতেন। গ্রন্থকার (তিরমিযী), আবু দাউদ ও নাসায়ী তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৪৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

(৭) আইয়ুব ইবনে জাবির: আল-ইয়ামামী অতঃপর আল-কুফী, তিনি সিমাক, বিলাল ইবনুল মুনযির ও খালাফ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও ইবনে আবি লায়লা সহ অন্যরা বর্ণনা করেছেন। আবু যুরআ ও অন্যরা তাকে দুর্বল বলেছেন, তিনি সপ্তম স্তরের বর্ণনাকারী। আবু দাউদ ও গ্রন্থকার (তিরমিযী) তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ২৯)
«رأيت الخاتم بين كتفي رسول الله صلى الله عليه وسلم غدة حمراء مثل بيضة الحمامة» «1» .

17- حدثنا أبو مصعب المديني «2» . يوسف بن الماجشون عن أبيه «3» عن عاصم بن عمر «4» بن قتادة عن جدته رميثة «5» قالت:

«سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم (ولو أشاء ان أقبّل الخاتم الذي بين كتفيه من قربه لفعلت) ، يقول لسعد بن معاذ يوم مات:

اهتزّ له عرش الرّحمن» «6» .

18- حدثنا أحمد بن عبدة الضّبّيّ وعلي بن حجر وغير واحد. قالوا: حدثنا عيسى بن يونس عن عمر بن عبد الله مولى غفرة قال: حدثني ابراهيم بن محمد من ولد علي بن أبي طالب قال:

كان علي إذا وصف رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث بطوله وقال: بين كتفيه خاتم النبوة، وهو خاتم النّبيين» «7» .

--------------------------------------------

(1) الحديث أخرجه الترمذي في سننه في المناقب برقم 3647 وهو مما تفرد به، والغدة، قطعة اللحمة المرتفعة والمراد أنه شبيه بها وأخرجه مسلم عن جابر بن سمرة في الفضائل برقم 2344. وهذا لا ينافي ما جاء في رواية مسلم أنه كان على لون جسده. والتشبيه ببيضة الحمامة في المقدار، وقيل في الصورة واللون!

(2) أبو مصعب المدني: وفي نسخ «المديني» والذي أثبتناه هو القياس في النسبة. هو مطرف بن عبد الله الهمداني ثم اليساري الأصم، من كبار الفقهاء.

(3) يوسف بن الماجشون: بكسر الجيم وضم الشين، وضبطه صاحب القاموس بضم الجيم، ومعناه بالفارسية: المورد، سمي بذلك لحمرة خديه. وهو أبو سلمة المدني التميمي مولى المنكدر، روى عن أبيه والزهري والمقبري، وروى عنه أحمد. ثقة توفي سنة «285» هـ خرج له الشيخان والمصنف وابن ماجه.

(4) عاصم بن عمر بن قتادة: مدني أوسي أنصاري ثقة عالم بالمغازي أخرج حديثه الأئمة الستة. قال الذهبي: وثق وكان كثير الحديث علامة بالمغازي توفي سنة «1120» هـ.

(5) رميثة: بنت عمر بن هشام بن عبد المطلب بن عبد مناف بن أم حكيم والدة القعقاع، صحابية صغيرة خرج لها النسائي والمصنف.

(6) وأخرجه الترمذي في سننه عن جابر في المناقب والشيخان وابن ماجه. وسعد بن معاذ سيد الأوس أسلم بالمدينة على يد مصعب بن عمير بين العقبة الأولى والثانية وأسلم باسلامه بنو عبد الأشهل وكان مطواعا في قومه شهد بدرا وأحدا ورمي في الخندق فمات من جرحه بعد شهر واهتزاز العرش كناية عن سرور حملته من الملائكة بتلقي روحه رضي الله عنه.

(7) وأخرجه الترمذي في سننه في المناقب برقم 3642 وهو مما تفرد به.
«আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়তের মোহরটি কবুতরের ডিমের মতো লাল বর্ণের একটি মাংসপিণ্ড হিসেবে দেখেছি।» «১»।

১৭- আমাদের কাছে আবু মুসআব আল-মাদিনী বর্ণনা করেছেন। ইউসুফ ইবনুল মাজিশুন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ থেকে, তিনি তাঁর দাদী রুমাইসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

«আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি (যদি আমি চাইতাম তাঁর এত নিকটবর্তী হওয়াতে তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে থাকা মোহরটিতে চুমু খেতে পারতাম, তবে আমি অবশ্যই তা করতাম), তিনি সাদ ইবনে মুয়াজের ইন্তেকালের দিন বলেছিলেন:

তাঁর জন্য রহমানের আরশ কেঁপে উঠেছে।» «৬»।

১৮- আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে আবদাহ আদ-দব্বী, আলী ইবনে হুজর এবং আরও একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে ঈসা ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আব্দুল্লাহ মাওলা গুফরাহ থেকে, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিবের বংশধর ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মাদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আলী (রা.) যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক বিবরণ দিতেন, তখন তিনি দীর্ঘ হাদীসটি উল্লেখ করতেন এবং বলতেন: তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়তের মোহর ছিল, আর তিনি হলেন নবীগণের মোহর (সর্বশেষ নবী)।» «৭»।

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি তিরমিযী তাঁর সুনানে আল-মানাকিব অধ্যায়ে ৩৬৪৭ নম্বরে বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর একক বর্ণনা। 'গুদ্দাহ' (غدة) হলো উঁচু হয়ে থাকা গোশতের টুকরো, এখানে উদ্দেশ্য হলো এটি তার সদৃশ ছিল। মুসলিমও জাবির ইবনে সামুরাহ থেকে আল-ফাদায়িল অধ্যায়ে ২৩৪৪ নম্বরে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি মুসলিমের সেই বর্ণনার বিরোধী নয় যেখানে বলা হয়েছে যে এটি তাঁর শরীরের রঙের মতো ছিল। আর কবুতরের ডিমের সাথে তুলনা পরিমাণের ক্ষেত্রে করা হয়েছে, কেউ কেউ বলেছেন এটি আকৃতি ও রঙের ক্ষেত্রেও।

(২) আবু মুসআব আল-মাদানি: কোনো কোনো অনুলিপিতে 'আল-মাদিনি' এসেছে এবং আমি যা উল্লেখ করেছি সেটিই ব্যাকরণগতভাবে সঠিক। তিনি হলেন মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হামদানি আল-ইয়াসারি আল-আসাম্ম, বড় ফকীহদের একজন।

(৩) ইউসুফ ইবনুল মাজিশুন: 'জিম' অক্ষরে কাসরা এবং 'শীন' অক্ষরে দম্মা সহযোগে। কামুস রচয়িতা 'জিম' অক্ষরে দম্মা দিয়েছেন। ফারসি ভাষায় এর অর্থ: গোলাপের পানি; তাঁর গাল দুটির লালিমা থাকার কারণে তাঁকে এই নামে ডাকা হতো। তিনি হলেন আবু সালামা আল-মাদানি আত-তামিমি মাওলা আল-মুনকাদির। তিনি তাঁর পিতা, যুহরী এবং আল-মাকবুরি থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আহমাদ বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য, ২৮৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। বুখারী-মুসলিম, লেখক (তিরমিযী) এবং ইবনে মাজাহ তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।

(৪) আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ: মাদানি, আউসি, আনসারী। তিনি নির্ভরযোগ্য এবং মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাস) শাস্ত্রে বিজ্ঞ ছিলেন। ছয়টি হাদীসগ্রন্থের ইমামগণ তাঁর বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। আয-যাহাবী বলেন: তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলা হয়েছে, তিনি প্রচুর হাদীস জানতেন এবং মাগাযী শাস্ত্রে অত্যন্ত জ্ঞানী ছিলেন। তিনি ১২০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৫) রুমাইসা: উমর ইবনে হিশাম ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে উম্মে হাকিম এর কন্যা, আল-কাক্কা’র মা। তিনি একজন ছোট (বয়সে) সাহাবিয়া। নাসাঈ এবং লেখক (তিরমিযী) তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।

(৬) তিরমিযী তাঁর সুনানে জাবির থেকে আল-মানাকিব অধ্যায়ে এবং বুখারী-মুসলিম ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন। সাদ ইবনে মুয়াজ আল-আউস গোত্রের নেতা ছিলেন। তিনি মুসআব ইবনে উমাইরের মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় আাকাবার মধ্যবর্তী সময়ে মদিনায় ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের ফলে বনু আব্দুল আশহাল ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর কওমের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও আনুগত্যভাজন ছিলেন। তিনি বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশ নেন এবং খন্দকের যুদ্ধে আহত হয়ে এক মাস পর শাহাদাত বরণ করেন। আরশের প্রকম্পিত হওয়া তাঁর রূহকে বরণ করে নেওয়ার সময় আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের আনন্দের একটি রূপক প্রকাশ (রাজিয়াল্লাহু আনহু)।

(৭) তিরমিযী এটি তাঁর সুনানে আল-মানাকিব অধ্যায়ে ৩৬৪২ নম্বরে বর্ণনা করেছেন এবং এটি তাঁর একক বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ৩০)
19- حدثنا محمد بن بشار. حدثنا أبو عاصم «1» . حدثنا عزرة بن ثابت «2» قال: حدثني علباء بن أحمر اليشكري «3» قال: حدثني أبو زيد عمرو بن أخطب الأنصاري «4» قال:

«قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا أبا زيد ادن مني فامسح ظهري، فمسحت ظهره، فوقعت أصابعي على الخاتم. قلت «5» : وما الخاتم؟

قال: شعرات مجتمعات» «6» .

20- حدثنا أبو عمار بن حريث الخزاعي «7» ، حدثنا علي بن «8» حسين بن واقد. حدثني عبد الله بن بريدة «9» قال: سمعت أبي بريدة «10» يقول:

--------------------------------------------

(1) أبو عاصم: الضحاك بن مخلد الشيباني، النبيل، البصري الحافظ، شيخ البخاري، ثقة من الطبقة التاسعة، صاحب مناقب وفضائل، خرج له الجماعة. توفي سنة «212» هـ.

(2) عزرة بن ثابت: بن أبي زيد الأنصاري البصري، ثقة من الطبقة السابعة، روى عن عمرو بن دينار وطائفة، وروى عنه وكيع وابن مهدي، توفي سنة «214» أو «215» هـ.

(3) علباء بن أحمر اليشكري: صدوق من الطبقة الرابعة، روى عن عكرمه وغيره وعن ابن واقد، بصريّ وثقه ابن معين. خرّج له مسلم والمصنف وابن ماجه والنسائي.

(4) أبو زيد عمرو بن أخطب الأنصاريّ: البدريّ الحضرميّ، صحابيّ جليل. قال الذهبي: وهو جد عزرة بن ثابت. خرج له مسلم والأربعة.

(5) القائل علباء لأبي زيد، لا أبو زيد للنبي صلى الله عليه وسلم.

(6) لعله أدخل يده في جيب رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو لم ير الخاتم وإنما تحسّس الشعرات التي حوله بيده.

(7) أبو عمار الحسين بن حريث الخزاعي: مولاهم، المروزيّ، من الطبقة العاشرة، ثقة، حدث عن سفيان بن عيينه والفضيل بن عياض ووكيع وخلف، وخرج له البخاري ومسلم والمصنف والنسائي. توفي سنة 244 هـ.

(8) علي بن حسين بن واقد: القرشي مولاهم المروزي، صدوق، قال أبو حاتم: ضعيف، وقال النسائي: لا بأس به. روى عن المبارك وغيره، وروى عنه ابن راهويه وغيره. توفي سنة «210» هـ. أبوه حسين بن واقد: روى عن عكرمه وثابت البناني، وروى عنه شقيق وخلف، وثقه ابن معين وغيره، ولم يرتضيه أحمد وقال: له مناكير. توفي سنة «157» أو «159» هـ.

(9) عبد الله بن بريدة: الأسلمي، المروزي، كان قاضيا، من ثقات التابعين، وثقه أبو حاتم وغيره، وخرج له الجماعة.

(10) بريدة: صحابي، أسلم قبل بدر، ولم يشهدها، سكن المدينة والبصرة فمرض بها ومات سنة «62» أو «63» هـ.
১৯- মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আবু আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আজরাহ ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইলবা ইবনে আহমার আল-ইয়াশকারি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যায়েদ আমর ইবনে আখতাব আল-আনসারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: হে আবু যায়েদ, আমার কাছে এসো এবং আমার পিঠ মুছে দাও। ফলে আমি তাঁর পিঠ মুছে দিলাম, আর আমার আঙুলগুলো মোহরের ওপর পড়ল। আমি বললাম: মোহরটি কী?

তিনি বললেন: কতগুলো একত্রিত চুল»।

২০- আবু আম্মার ইবনে হুরাইস আল-খুজায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা বুরাইদাহকে বলতে শুনেছি:

--------------------------------------------

(১) আবু আসিম: আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ আশ-শাইবানী, আন-নাবিল, আল-বাসরি আল-হাফিজ, ইমাম বুখারীর উস্তাদ, নবম স্তরের নির্ভরযোগ্য রাবী, তিনি বহু মর্যাদা ও গুণের অধিকারী, জামাআত (ছয়টি প্রধান হাদীস গ্রন্থ সংকলকগণ) তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তিনি ২১২ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

(২) আজরাহ ইবনে সাবিত: ইবনে আবু যায়েদ আল-আনসারী আল-বাসরি, সপ্তম স্তরের নির্ভরযোগ্য রাবী, তিনি আমর ইবনে দীনার ও একদল রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর থেকে ওয়াকি ও ইবনে মাহদী বর্ণনা করেছেন। তিনি ২১৪ বা ২১৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৩) ইলবা ইবনে আহমার আল-ইয়াশকারি: চতুর্থ স্তরের সত্যবাদী রাবী, তিনি ইকরিমাহ ও অন্যান্যদের থেকে এবং ইবনে ওয়াকিদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বসরার অধিবাসী এবং ইবনে মাইন তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইমাম মুসলিম, গ্রন্থকার (তিরমিযী), ইবনে মাজাহ ও নাসাঈ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৪) আবু যায়েদ আমর ইবনে আখতাব আল-আনসারী: বদরী ও হাদরামী, তিনি একজন মহান সাহাবী। ইমাম যাহাবী বলেন: তিনি আজরাহ ইবনে সাবিতের দাদা। ইমাম মুসলিম ও চার সুনান সংকলকগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৫) প্রশ্নকারী হলেন ইলবা (তিনি আবু যায়েদকে জিজ্ঞেস করেছিলেন), আবু যায়েদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেননি।

(৬) সম্ভবত তিনি তাঁর হাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামার পকেটে (গলার দিক দিয়ে) প্রবেশ করিয়েছিলেন, তাই তিনি মোহরটি দেখতে পাননি বরং এর চারপাশের চুলগুলো হাত দিয়ে অনুভব করেছিলেন।

(৭) আবু আম্মার আল-হুসাইন ইবনে হুরাইস আল-খুজায়ী: তাদের মুক্তদাস, আল-মারওয়াযী, দশম স্তরের নির্ভরযোগ্য রাবী। তিনি সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ, ফুদাইল ইবনে ইয়াদ, ওয়াকি ও খালাফ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী, মুসলিম, গ্রন্থকার (তিরমিযী) ও নাসাঈ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৪৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৮) আলী ইবনে হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ: কুরাশী, তাদের মুক্তদাস, আল-মারওয়াযী, সত্যবাদী। আবু হাতিম বলেন: দুর্বল। নাসাঈ বলেন: এতে কোনো সমস্যা নেই। তিনি মুবারক ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে রাহওয়ায়হ ও অন্যান্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২১০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পিতা হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ: তিনি ইকরিমাহ ও সাবিত আল-বুনানী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে শাকীক ও খালাফ বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাইন ও অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, কিন্তু ইমাম আহমাদ সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং বলেছেন: তাঁর বর্ণনায় মুনকার (অস্বাভাবিকতা) রয়েছে। তিনি ১৫৭ বা ১৫৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৯) আব্দুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ: আল-আসলামী, আল-মারওয়াযী, তিনি বিচারক ছিলেন। তিনি নির্ভরযোগ্য তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। আবু হাতিম ও অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং জামাআত (ছয় গ্রন্থকার) তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।

(১০) বুরাইদাহ: একজন সাহাবী, বদর যুদ্ধের আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কিন্তু তাতে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি মদিনা ও বসরায় বসবাস করেছেন, সেখানে অসুস্থ হন এবং ৬২ বা ৬৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ৩১)
«جاء سلمان الفارسي «1» إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم. حين قدم المدينة بمائدة عليها رطب فوضعت بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا سلمان ما هذا؟ فقال صدقة عليك وعلى أصحابك، فقال: إرفعها فإنا لا نأكل الصدقة. قال:

فرفعها فجاء الغد بمثله، فوضعه بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ما هذا يا سلمان؟ فقال: هدية لك فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه ابسطوا. ثم نظر إلى الخاتم على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم فآمن به، وكان لليهود فاشتراه رسول الله صلى الله عليه وسلم بكذا وكذا درهما على أن يغرس لهم نخلا «2» فيعمل سلمان فيه حتى تطعم فغرس رسول الله صلى الله عليه وسلم النخيل إلا نخلة واحدة غرسها عمر، فحملت النخل من عامها، ولم تحمل النخلة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما شأن هذه النخلة فقال عمر يا رسول الله أنا غرستها فنزعها رسول الله صلى الله عليه وسلم فغرسها فحملت من عامها.

--------------------------------------------

(1) نسبة لفارس، وهو صحابي جليل وهو واحد ممن اشتاقت لهم الجنة، وكان أخبره بعض الرهبان بظهور النبي في الحجاز ووصف له فيه علامات وهي عدم قبول الصدقة وقبول الهدية، وخاتم النبوة فأحب الفحص عنها. وفي الأسماء واللغات للنووي 1/ 226 وسبب اسلامه أنه هرب من أبيه وكان مجوسيا. فلحق براهب ثم بجماعة من الرهبان فدله واحد منهم على الذهاب الى الحجاز وأخبره بظهور النبي فقصده مع عرب فغدروا به وباعوه في وادي القرى ليهودي، ثم اشتراه منه يهودي من قريظة فقدم به المدينة فأقام بها مدة حتى قدمها رسول الله صلى الله عليه وسلم فأتاه بصدقه فلم يقبلها ثم بعد مدة أتاه بهدية فقبلها ورأى خاتم النبوة فتأكد من خبر الراهب قال سلمان فرأيت الخاتم فقبلته وبكيت فأجلسني رسول الله صلى الله عليه وسلم بين يديه فحدثني بشأني كله وفاتني معه بدر وأحد بسبب الرق فقال لي يا سلمان كاتب عن نفسك فكاتبته على أن أغرس ثلاثمائة نخلة وعلي أربعين أوقية ذهب فقال صلى الله عليه وسلم أعينوا صاحبكم بالنخل وكان صلى الله عليه وسلم هو الذي يغرسها، ثم جاءه أحد الصحابة بالذهب. وأول مشاهده الخندق، وآخى رسول الله بينه وبين أبي الدرداء، وقد أشار على رسول الله بحفر الخندق توفي بالمدائن سنة 36 هـ وخرج الترمذي في سننه في مناقب سلمان قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الجنة لتشتاق إلى ثلاثة علي وعمار وسلمان» .

(2) وفي نسخ نخيلا.
সালমান আল-ফারিসি (১) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন যখন তিনি মদিনায় আগমন করেছেন। তিনি একটি তশতরি নিয়ে আসলেন যাতে তাজা খেজুর ছিল এবং সেটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে রাখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "হে সালমান, এটি কী?" তিনি বললেন, "এটি আপনার এবং আপনার সাথীদের জন্য সদকা।" তিনি বললেন, "এটি নিয়ে যাও, কারণ আমরা সদকা খাই না।"

তিনি সেটি নিয়ে গেলেন এবং পরের দিন অনুরূপ কিছু নিয়ে আসলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে রাখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "হে সালমান, এটি কী?" তিনি বললেন, "আপনার জন্য হাদিয়া (উপহার)।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন, "তোমরা শুরু করো (খাও)।" এরপর তিনি (সালমান) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিঠে নবুওয়াতের মোহরের দিকে তাকালেন এবং তাঁর ওপর ঈমান আনলেন। তিনি তখন ইহুদিদের দাস ছিলেন, তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দিরহামের বিনিময়ে এই শর্তে মুক্ত করার জন্য কিনে নিলেন যে, তিনি তাদের জন্য খেজুর গাছ রোপণ করবেন এবং সালমান তাতে ফল আসা পর্যন্ত কাজ করবেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খেজুর গাছ ব্যতিত সব গাছ নিজ হাতে রোপণ করলেন; সেই একটি গাছ উমর রোপণ করেছিলেন। সেই বছরই সব খেজুর গাছ ফল দান করল, কিন্তু সেই একটি গাছ ফল দিল না। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এই গাছটির কী হলো?" উমর বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল, এটি আমি রোপণ করেছিলাম।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি উপড়ে ফেললেন এবং পুনরায় রোপণ করলেন, ফলে সেটিও সেই বছরই ফল দান করল।

--------------------------------------------

(১) এটি ফারসের (পারস্যের) দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তিনি একজন মহান সাহাবী এবং তাদের একজন যাদের জন্য জান্নাত আকাঙ্ক্ষা করে। জনৈক পাদ্রি তাঁকে হিজাজে নবীর আবির্ভাব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছিলেন এবং তাঁর কিছু নিদর্শনের বর্ণনা দিয়েছিলেন, যা হলো: তিনি সদকা গ্রহণ করবেন না, কিন্তু হাদিয়া গ্রহণ করবেন এবং তাঁর দেহে নবুওয়াতের মোহর থাকবে। তাই তিনি তা পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। ইমাম নববীর 'আল-আসমা ওয়াল লুগাত' (১/২২৬)-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিল তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে পালিয়ে এসেছিলেন, যিনি ছিলেন অগ্নিপূজক। এরপর তিনি এক পাদ্রির সাথে এবং পরবর্তীতে একদল পাদ্রির সাথে মিলিত হন। তাঁদের একজন তাঁকে হিজাজে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং নবীর আবির্ভাব সম্পর্কে সংবাদ দেন। তিনি একদল আরবের সাথে হিজাজের উদ্দেশ্যে রওনা হন, কিন্তু তারা তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং তাঁকে 'ওয়াদিউল কুরা' নামক স্থানে এক ইহুদির নিকট বিক্রি করে দেয়। এরপর কুরাইজা গোত্রের এক ইহুদি তাঁকে কিনে নিয়ে মদিনায় আসে এবং তিনি সেখানেই অবস্থান করতে থাকেন যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করেন। সালমান তাঁর নিকট সদকা নিয়ে আসলেন কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না। কিছু সময় পর তিনি হাদিয়া নিয়ে আসলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। তিনি নবুওয়াতের মোহরও প্রত্যক্ষ করলেন এবং পাদ্রির সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করলেন। সালমান বলেন, আমি মোহরটি দেখলাম, সেটিতে চুম্বন করলাম এবং কাঁদতে লাগলাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর সামনে বসালেন এবং আমি তাঁকে আমার পুরো ঘটনা শুনালাম। দাসত্বের কারণে আমার থেকে বদর ও ওহুদের যুদ্ধ ছুটে গিয়েছিল। তিনি আমাকে বললেন, "হে সালমান, তোমার মুক্তির জন্য চুক্তিবদ্ধ (মুকাতাবা) হও।" আমি তাঁর (মালিকের) সাথে তিনশত খেজুর গাছ রোপণ এবং চল্লিশ ওকিয়া স্বর্ণ প্রদানের শর্তে চুক্তিবদ্ধ হলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা তোমাদের ভাইকে খেজুর গাছ দিয়ে সাহায্য করো।" রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। এরপর জনৈক সাহাবী কিছু স্বর্ণ নিয়ে আসলেন। তাঁর প্রথম যুদ্ধ ছিল খন্দক। আল্লাহর রাসূল তাঁর এবং আবু দারদার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন। খন্দক খননের পরামর্শ তিনিই দিয়েছিলেন। তিনি ৩৬ হিজরিতে মাদায়েনে ইন্তেকাল করেন। তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে সালমানের মর্যাদা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী বর্ণনা করেছেন: "জান্নাত তিন ব্যক্তির জন্য আকাঙ্ক্ষা করে: আলী, আম্মার এবং সালমান।"

(২) কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'নাখীলান' (খেজুর বাগান) শব্দ এসেছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ৩২)
21- حدثنا محمد بن بشار. حدثنا بشر بن الوضاح «1» حدثنا أبو عقيل الدورقي «2» . عن أبي نضرة العوفي «3» قال:

«سألت أبا سعيد الخدري عن خاتم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «كان في ظهره بضعة ناشزة» «4» .

22- حدثنا أحمد بن المقدام أبو الأشعث العجلي البصري «5» . أخبرنا حماد بن زيد «6» عن عاصم الأحول «7» عن عبد الله بن سرجس «8» قال:

«أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في ناس «9» من أصحابه فدرت هكذا من خلفه فعرف الذي أريد، فألقى الرداء عن ظهره، فرأيت موضع الخاتم على

--------------------------------------------

(1) بشر بن وضاح: أبو الهيثم البصري، صدوق، وثقه ابن حبان، روى عن أبي عقيل وغيره، وروى عنه بندار وغيره.

(2) أبو عقيل الدورقي: هو بشير بن عقبة، ويقال له: الناجي الشامي ويقال له: البصري، روى عن أبي المتوكل الناجي والعبدي، وروى عنه بهز وغيره، ثقة، خرج له الشيخان والمصنف.

(3) أبو نضرة العوفي: اسمه المنذر بن مالك بن قطعة العبدي العوفي، من أجلاء التابعين، فلج في آخر عمره، توفي سنة «108» أو «109» هـ. وخرج له الجماعة.

(4) تفرد به الترمذي في الشمائل. أي كان الخاتم في ظهره الشريف قطعة لحم ظاهرة، والناشزة: أي المرتفعة.

(5) أحمد بن المقدام أبو الأشعث العجلي البصري: صدوق، أحد الأثبات المسندين. قال ابن خذعة: كيس صاحب حديث، وقال أبو حاتم: صالح الحديث. روى عن بشر بن المفضل وغيره. وخرج له البخاري والنسائي، وترك أبو داود الرواية عنه لمزاح فيه، توفي سنة «253» هـ.

(6) حماد بن زيد: بن درهم الأزدي، الجهضمي، البصري، الأزرق، مولى آل جرير بن حازم، كان ضريرا، قال ابن مهدي: ما رأيت بالبصرة أفقه منه، ولا أعلم بالسنة منه. توفي سنة «179» هـ. وخرج له الجماعة.

(7) عاصم الأحول: هو عاصم بن سليمان أبو عبد الرحمن البصري، الحافظ، قاضي المدائن، ثقة، لم يتكلم به الا ابن القطان لدخوله في عمل السلطان. قال سفيان: حفاظ البصرة أربعة، فذكره منهم. توفي سنة «142» هـ. وخرّج له الستة.

(8) عبد الله بن سرجس: المزني وقيل المخزومي، صحابي سكن البصرة خرج له مسلم والأربعة.

(9) وفي نسخة «أناس» .
২১- মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। বিশর ইবনুল ওয়াদদাহ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু আকিল আদ-দাওরাকি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু নাদরাহ আল-আউফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

«আমি আবু সাঈদ আল-খুদরিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মোহর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "তাঁর পিঠে একটি উঁচু গোশতখণ্ড ছিল।"»

২২- আহমাদ ইবনুল মিকদাম আবু আল-আশআদ আল-ইজলি আল-বাসরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

«আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম যখন তিনি তাঁর একদল সাহাবীর মাঝে ছিলেন। আমি তাঁর পিছন দিক থেকে এভাবে ঘুরলাম। তিনি বুঝতে পারলেন আমি কী চাচ্ছি, তখন তিনি তাঁর পিঠ থেকে চাদর সরিয়ে দিলেন। ফলে আমি মোহরের স্থানটি দেখতে পেলাম...»

--------------------------------------------

(১) বিশর ইবনুল ওয়াদদাহ: আবু আল-হাইসাম আল-বাসরি, সত্যবাদী, ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি আবু আকিল ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে বুন্দার ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

(২) আবু আকিল আদ-দাওরাকি: তিনি হলেন বশীর ইবনে উকবা, তাঁকে আন-নাজি আশ-শামি ও আল-বাসরিও বলা হয়। তিনি আবু আল-মুতাওয়াক্কিল আন-নাজি ও আল-আবদি থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বাহয ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য। শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং গ্রন্থকার তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(৩) আবু নাদরাহ আল-আউফি: তাঁর নাম মুনজির ইবনে মালিক ইবনে কিতাআ আল-আবদি আল-আউফি। তিনি প্রবীণ তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। জীবনের শেষ দিকে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন। তিনি ১০৮ বা ১০৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। জামাআত (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থের সংকলকগণ) তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(৪) তিরমিযী এটি এককভাবে শামাইলে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ তাঁর সম্মানিত পিঠে মোহরটি ছিল একটি দৃশ্যমান গোশতখণ্ড। আর 'নাশিযাহ' অর্থ হলো যা উঁচু বা উত্থিত।

(৫) আহমাদ ইবনুল মিকদাম আবু আল-আশআদ আল-ইজলি আল-বাসরি: সত্যবাদী, অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও সনদপ্রাপ্ত বর্ণনাকারী ইমাম। ইবনে খুযাআ বলেন: তিনি বিচক্ষণ ও হাদিস বিশারদ। আবু হাতিম বলেন: তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। তিনি বিশর ইবনুল মুফাদ্দাল ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। বুখারী ও নাসাঈ তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ তাঁর কৌতুকপূর্ণ স্বভাবের কারণে তাঁর থেকে বর্ণনা বর্জন করেছেন। তিনি ২৫৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

(৬) হাম্মাদ ইবনে যাইদ: ইবনে দিরহাম আল-আজদি, আল-জাহদামি, আল-বাসরি, আল-আজরাক, আল-জারীর ইবনে হাযিমের পরিবারের মুক্তদাস। তিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন। ইবনে মাহদী বলেন: আমি বসরার মাঝে তাঁর চেয়ে বড় ফকীহ এবং সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি। তিনি ১৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। জামাআত তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(৭) আসিম আল-আহওয়াল: তিনি হলেন আসিম ইবনে সুলাইমান আবু আবদুর রহমান আল-বাসরি, হাফিয, মাদায়েনের বিচারক, নির্ভরযোগ্য। ইবনুল কাত্তান ছাড়া অন্য কেউ তাঁর সমালোচনা করেননি, আর সেটি ছিল সুলতানের অধীনে প্রশাসনিক কার্যে অংশগ্রহণের কারণে। সুফিয়ান বলেন: বসরার হাফিয চারজন, তিনি তাঁদের মধ্যে একজনকে উল্লেখ করেছেন। তিনি ১৪২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং ছয়জন ইমামই তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(৮) আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস: আল-মুযানি, কেউ কেউ বলেছেন আল-মাখযুমি। তিনি একজন সাহাবী, বসরায় বসবাস করতেন। মুসলিম ও চারজন (সুনান সংকলক) তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(৯) কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'উনাস' (মানুষজন) শব্দ এসেছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ৩৩)
كتفيه مثل الجمع «1» حولها خيلان «2» كأنها ثآليل «3» فرجعت حتى استقبلته فقلت غفر الله لك يا رسول الله. فقال ولك فقال القوم استغفر لك رسول الله صلى الله عليه وسلم . فقال نعم. ولكم ثم تلا هذه الآية وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِناتِ «4» » «5» .

--------------------------------------------

(1) الجمع: بضم الجيم أي مثل جمع الكف وهو هيأته بعد جمع الأصابع.

(2) جمع خال وهو نقطة تضرب الى السواد تسمى شامة.

(3) ثآليل كمصابيح وهو جمع ثؤلول كعصفور وهو خراج صغير كالحمصة يظهر على الجسد له نتوء واستدارة.

(4) الآية 19 من سورة محمد صلى الله عليه وسلم.

(5) الحديث أخرجه مسلم في كتاب الفضائل ك 43 ب 30 ح 2346.
তাঁর কাঁধদ্বয়ের নিকটে তা (মোহরে নবুওয়াত) ছিল মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো «১», যার চারপাশে ছিল তিলসমূহ «২», যা দেখতে আঁচিলের মতো মনে হচ্ছিল «৩»। অতঃপর আমি ফিরে তাঁর সামনে আসলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিন। তিনি বললেন: এবং তোমাকেও। তখন লোকেরা বলল: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি আপনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং তোমাদের জন্যও। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: “এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ত্রুটির জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের জন্য” «৪» «৫»।

--------------------------------------------

(১) আল-জুমু: জিম বর্ণে পেশ যোগে, অর্থাৎ হাতের তালু মুষ্টিবদ্ধ করার মতো; যা আঙুলগুলো একত্রিত করার পর গঠিত রূপ।

(২) এটি ‘খাল’ শব্দের বহুবচন, যা কালো রঙের বিন্দুর মতো, যাকে তিল বলা হয়।

(৩) সাআলীল: এটি ‘সু’লুল’ শব্দের বহুবচন। এটি শরীরে প্রকাশ পাওয়া ছোলার মতো ছোট ফোঁড়া বা আঁচিল, যা কিছুটা উঁচু ও গোলাকার হয়।

(৪) এটি সূরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ১৯ নম্বর আয়াত।

(৫) হাদিসটি ইমাম মুসলিম তাঁর ‘কিতাবুল ফাদায়েল’-এ বর্ণনা করেছেন, ৪৩ নম্বর কিতাব, ৩০ নম্বর অধ্যায়, হাদিস নম্বর ২৩৪৬।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌3- باب ما جاء في شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم

23- حدثنا علي بن حجر. أخبرنا اسماعيل بن ابراهيم عن حميد. عن أنس بن مالك قال:

«كان شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى نصف أذنيه «1» » «2» .

24- حدثنا هناد بن السري. أخبرنا عبد الرحمن بن أبي الزناد «3» عن هشام بن عروة «4» . عن أبيه. عن عائشة «5» قالت:

«كنت أغتسل أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم من إناء واحد، وكان له شعر فوق الجمة، ودون الوفرة» «6» .

--------------------------------------------

(1) وفي نسخة «أذنه» بالافراد.

(2) أخرجه مسلم عن أنس في الفضائل حديث رقم 2338 «وكان شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أذنيه وعاتقه» بأطول مما هنا.

(3) عبد الرحمن بن أبي الزناد: اسمه عبد الله بن ذكوان المدني، مولى قريش، صدوق، وثقه مالك. وقال أحمد: مضطرب الحديث. وقال صاحب الميزان: له مناكير، وكان يفتي ببغداد. توفي سنة «174» هـ. وخرج له الستة.

(4) هشام بن عروة: أحد الأعلام حجة إمام، تناقص حفظه في الكبر، توفي سنة «147» هـ. وأبيه: عروة بن الزبير، كان ثقة فقيها ثبتا مأمونا، يصوم الدهر. وهو أحد فقهاء المدينة السبعة.

(5) عائشة: الصديقة بنت الصديق، المبرأة من كل عيب، الفقيهة العالمة حبيبة المصطفى، ولدت سنة أربع من النبوءة، وتوفيت سنة ست أو سبع أو ثمان وخمسين، ومناقبها كثيرة.

(6) وأخرج ابن ماجه في الطهارة عن عائشة القسم المتعلق بالغسل حديث رقم «604» وأخرج ابن ماجه أيضا القسم المتعلق بالشعر في كتاب اللباس حديث رقم 3635 والجمة: الشعر النازل الى المنكبين، والوفرة ما بلغ شحمة الاذن.
৩- পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল মুবারক সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

২৩- আলী ইবনে হুজর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। ইসমাঈল ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল মুবারক তাঁর দুই কানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছাত।»

২৪- হান্নাদ ইবনে সারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আবদুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

«আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। তাঁর চুল ছিল 'জুম্মাহ'র উপরে এবং 'ওয়াফরাহ'র নিচে।»

--------------------------------------------

(১) একটি পাণ্ডুলিপিতে একবচন শব্দে 'তাঁর কান' উল্লেখ রয়েছে।

(২) ইমাম মুসলিম আনাস (রা.) থেকে 'ফাযায়েল' অধ্যায়ে ২৩৩৮ নং হাদীসে এটি বর্ণনা করেছেন; সেখানে "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল তাঁর দুই কান ও কাঁধের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছিল" - এই পাঠে এখানে বর্ণিত পাঠের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ বর্ণনা এসেছে।

(৩) আবদুর রহমান ইবনে আবিয যিনাদ: তাঁর নাম আবদুল্লাহ ইবনে জাকওয়ান আল-মাদানী, কুরাইশদের আযাদকৃত গোলাম, তিনি সত্যবাদী, ইমাম মালিক তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। ইমাম আহমদ বলেন: তাঁর বর্ণিত হাদীসে ইযতিরাব (অসংগতি) রয়েছে। 'মিযান' গ্রন্থের প্রণেতা বলেন: তাঁর কিছু মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনা রয়েছে। তিনি বাগদাদে ফতোয়া দিতেন। তিনি ১৭৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং কুতুবে সিত্তার সংকলকগণ তাঁর থেকে হাদীস গ্রহণ করেছেন।

(৪) হিশাম ইবনে উরওয়াহ: প্রখ্যাত ইমাম ও হুজ্জাত; বার্ধক্যে তাঁর স্মৃতিশক্তি কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। তিনি ১৪৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর পিতা উরওয়াহ ইবনে যুবায়ের: তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ফকীহ ও সুদৃঢ় আমানতদার ছিলেন। তিনি আজীবন রোজা রাখতেন এবং মদীনার সাতজন প্রসিদ্ধ ফকীহর অন্যতম ছিলেন।

(৫) আয়িশা: সিদ্দীকা বিনতে সিদ্দীক, সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র ঘোষিত, বিদুষী ফকীহ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়তমা স্ত্রী। তিনি নবুওয়াতের চতুর্থ বর্ষে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাতান্ন বা আটান্ন (মতান্তরে ছাপ্পান্ন) হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মর্যাদা ও গুণাবলী অসংখ্য।

(৬) ইবনে মাজাহ 'তাহারাত' অধ্যায়ে আয়িশা (রা.) থেকে গোসল সংক্রান্ত অংশটি ৬০৪ নং হাদীসে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহ 'লিবাস' (পোশাক) অধ্যায়ে চুল সংক্রান্ত অংশটিও ৩৬৩৫ নং হাদীসে বর্ণনা করেছেন। 'জুম্মাহ' হলো সেই চুল যা কাঁধ পর্যন্ত ঝুলে থাকে এবং 'ওয়াফরাহ' হলো সেই চুল যা কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছায়।
(খণ্ড: ১) আশ-শামায়েলুল মুহাম্মাদিয়্যাহ লিত-তিরমিযী - ত ইহইয়াইত তুরাস (পৃষ্ঠা: ৩৫)
25- حدثنا أحمد بن منيع «1» : حدثنا أبو قطن «2» حدثنا شعبة عن أبي إسحاق عن البراء بن عازب قال:

«كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مربوعا، بعيد ما بين المنكبين وكانت جمّته تضرب شحمة أذنيه» «3» .

26- حدثنا محمد بن بشار. حدثنا وهب بن جرير بن حازم «4» قال: حدثني أبي عن قتادة «5» قال: قلت لأنس: كيف كان شعر رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال:

«لم يكن بالجعد ولا بالسبط، كان يبلغ شعره شحمة أذنيه» «6» .

--------------------------------------------

(1) أحمد بن منيع: أبو جعفر الأصم، ثقة حافظ المشهور، صاحب المسند. روى عن هشيم وعباد وخلف، وروى عنه الجماعة توفي سنة «244» هـ. وخرج له الستة. قدري ولكنه صدوق.

(2) أبو قطن: اسمه عمرو بن الهيثم بن قطن البصري، قدري إلا أنه صدوق، ثقة، أخرج حديثه الأئمة الستة.

(3) وعن البراء عند مسلم في الفضائل برقم 2337 (عظيم الجمة الى شحمة أذنيه) وأخرجه أبو داود في كتاب الترجل حديث رقم 4184 والبخاري في المناقب باب صفة النبي صلى الله عليه وسلم، وعند الترمذي عن البراء برقم 3639 (له شعر يضرب منكبيه) .

(4) وهب بن جرير بن حازم: الأزدي البصري الجهضمي، الحافظ المشهور، وثقه ابن معين والعجلي، وقال النسائي: لا بأس به. وتكلم فيه عفان. روى عن هشام بن حسان وابن عوف، وروى عنه أحمد. قتل على مرحلة من دمشق راجعا من الحج، سنة «206» هـ وخرج له الستة. وأبوه: جرير بن حازم، أبو النصر، وفي حديثه عن قتادة ضعف، وله أوهام إذا حدّث من حفظه، ومع هذا روى حديثه الأئمة الستة في صحاحهم. توفي سنة «207» هـ.

(5) قتادة: ابن دعامة السدوسي، أبو الخطاب البصري، تابعي ثقة ثبت، ولد أكمه سنة «60» هـ، وتوفي سنة «127» هـ.

(6) وعن أنس عند أبي داود برقم 4185 بلفظ (كان شعر رسول صلى الله عليه وسلم الى انصاف أذنيه) والنسائي.
২৫- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মানী‘ : আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কাতান, তিনি বর্ণনা করেছেন শু‘বাহ থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা বিন আযিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝারি গড়নের ছিলেন, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত এবং তাঁর মাথার চুল কানের লতি পর্যন্ত স্পর্শ করত।»

২৬- আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন বাশার। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ওয়াহাব বিন জারীর বিন হাযিম, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল কেমন ছিল? তিনি বললেন:

«তা খুব কোঁকড়ানোও ছিল না, আবার একদম সোজাও ছিল না; তাঁর চুল কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাত।»

--------------------------------------------

(১) আহমদ বিন মানী‘: আবু জাফর আল-আসাম, নির্ভরযোগ্য এবং সুপ্রসিদ্ধ হাফিজ, আল-মুসনাদ গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি হুশাইম, আব্বাদ এবং খালাফ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং জামাআত (প্রধান হাদীস বিশারদগণ) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৪৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। ছয়জন ইমামই তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি কাদারী মতাদলম্বী ছিলেন তবে সত্যবাদী।

(২) আবু কাতান: তাঁর নাম আমর বিন আল-হাইসাম বিন কাতান আল-বাসরী। তিনি কাদারী হওয়া সত্ত্বেও সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য। ছয়জন ইমামই তাঁর হাদীস গ্রহণ করেছেন।

(৩) বারা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসটি মুসলিমের ফাদায়েল অধ্যায়ে ২৩৩৭ নম্বরে (বিশাল চুল যা কানের লতি পর্যন্ত পৌঁছাত) রয়েছে। আবু দাউদ তাঁর কিতাবুত তারাজ্জুল-এ ৪১৮৪ নম্বরে এবং বুখারী মানাকিব অধ্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্যের পরিচ্ছেদে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযীতে বারা (রা.) থেকে ৩৬৩৯ নম্বরে (তাঁর এমন চুল ছিল যা তাঁর কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাত) বর্ণিত হয়েছে।

(৪) ওয়াহাব বিন জারীর বিন হাযিম: আল-আযদী আল-বাসরী আল-জাহদামী। সুপ্রসিদ্ধ হাফিজ। ইবনে মাঈন এবং আল-ইজলী তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আন-নাসায়ী বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই। আফফান তাঁর সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। তিনি হিশাম বিন হাসসান এবং ইবনে আউফ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আহমদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। হজ্জ থেকে ফেরার পথে দামেস্কের এক মঞ্জিল দূরত্বে ২০৬ হিজরীতে তিনি নিহত হন। ছয়জন ইমামই তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর পিতা: জারীর বিন হাযিম, আবু আন-নাসর। কাতাদাহ থেকে তাঁর বর্ণনায় দুর্বলতা রয়েছে এবং মুখস্থ বর্ণনা করলে তাঁর কিছু ভ্রম হতো। তা সত্ত্বেও ছয়জন ইমামই তাঁদের সহীহ গ্রন্থসমূহে তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। ২০৭ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

(৫) কাতাদাহ: ইবনে দি‘আমাহ আস-সাদুসী, আবু আল-খাত্তাব আল-বাসরী। নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় তাবিঈ। তিনি ৬০ হিজরীতে জন্মান্ধ অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৭ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

(৬) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসটি আবু দাউদে ৪১৮৫ নম্বরে এই শব্দে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল তাঁর কানের অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছাত) এবং আন-নাসায়ী বর্ণনা করেছেন।