(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
شمائل الرسول صلى الله عليه وآله وسلم القسم: السيرة النبوية
الكتاب: شمائل الرسول صلى الله عليه وآله وسلم
المؤلف: أحمد بن عبد الفتاح زواوى
الناشر: دار القمة - الإسكندرية
الطبعة: -
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর শামায়েল বিভাগ: সীরাতুন্নবী
বই: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর শামায়েল
লেখক: আহমদ বিন আব্দুল ফাত্তাহ জাওয়াবি
প্রকাশক: দারুল কিম্মাহ - আলেকজান্দ্রিয়া
সংস্করণ: -
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
الجزء الأول
[مقدمات]
مقدمة الشيخ أحمد فريدإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألاإله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليما.
ثم أما بعد
…فإني قد تصفحت موسوعة أخي الحبيب الأخ أحمد الزواوي، التي سماها «فوائد التربوية من سيرة خير البرية» فألفيتها جامعة نافعة، وقد وفّق- حفظه الله- في اختيار الموضوع، فإن الكلام عن أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم ومعجزاته ونهجه ووجوب متابعته، وما يؤخذ من ذلك من فوائد تربوية جمّة، كلام حبيب إلى نفوس المؤمنين، لمحبتهم لشخصه الكريم صلى الله عليه وسلم، وذلك عقد من عقود الإيمان، فلا يكمل إيمان عبد حتى يحب رسول الله صلى الله عليه وسلم أكثر من محبته لأبيه وولده والناس أجمعين، بل حتى يكون أحب إليه من نفسه، وموضوع الكتاب مما يزيد هذه المحبة، ثم يكثر في موضوع الكتاب ذكر النبي صلى الله عليه وسلم، ويستلزم ذلك كثرة الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم، وأولى الناس بشفاعة النبي صلى الله عليه وسلم أكثرهم عليه صلاة، وقد بذل الباحث جهدا كبيرا في جمع مادته الطيبة من كتب السنة المعتبرة، وقد تحرى الصحيح المسند من أخبار النبي صلى الله عليه وسلم، مما ورد في الصحيحين أو أحدهما، ومن خاض غمار هذا البحث فقد وفق إلى دخول بستان فسيح، فيه الثمار اليانعة، والأزهار الفواحة، فهو ينتقل من شجرة إلى شجرة، ومن ثمرة إلى ثمرة، ومن زهرة إلى زهرة، فهنيئا للمسلمين هذا العسل المصفى، مما يزيدهم حبّا واتباعا وتعظيما وتوقيرا لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وأسأل الله- تعالى- أن يتقبل هذا العمل الصالح، والبحث العلمي من أخي الزواوي، وأن يجعله له ذخرا يوم الورود عليه، وأن ينفع به من انتهى إليه، وألايحرمنا معه من الثواب، فإن المصاب من حرم الثواب، وصلّى الله وسلم وبارك على المبعوث رحمة للعالمين، وقدوة للعالمين، وحجة للسالكين، وحجة على العباد أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
وكتبه أحمد فريد بالإسكندرية
প্রথম খণ্ড
[উপক্রমণিকা]
শায়খ আহমদ ফরিদের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীবৃন্দের ওপর অজস্র দরুদ ও শান্তি বর্ষণ করুন।
অতপর
...আমি আমার প্রিয় ভাই আহমদ আল-যাওয়াভীর বিশ্বকোষটি পর্যবেক্ষণ করেছি, যার নাম তিনি রেখেছেন «ফাওয়াইদুত তারবিয়্যাহ মিন সিরাতি খাইরিল বারিয়্যাহ» (সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার সীরাত থেকে অর্জিত শিক্ষণীয় শিক্ষা)। আমি এটিকে অত্যন্ত তথ্যবহুল ও উপকারী হিসেবে পেয়েছি। আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন, তিনি বিষয় নির্বাচনে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র, তাঁর মুজিযা, তাঁর কর্মপন্থা এবং তাঁর অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে আলোচনা এবং তা থেকে প্রাপ্ত প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ মুমিনদের হৃদয়ে অত্যন্ত প্রিয়; তাঁর পবিত্র সত্তার প্রতি তাদের ভালোবাসার কারণে। আর এটি ঈমানের অন্যতম একটি রুকন; কোনো বান্দার ঈমান পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার পিতা, সন্তান ও সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি ভালোবাসবে, এমনকি তিনি যেন তার নিজের জীবনের চেয়েও তাঁর নিকট প্রিয় হন। আর এই বইয়ের বিষয়বস্তু এই ভালোবাসাকে আরও বৃদ্ধি করবে। তদুপরি এই বইয়ের আলোচনার প্রেক্ষিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উল্লেখ বারবার আসবে, যা তাঁর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠের কারণ হবে। আর কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শাফায়াতের সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী সেই ব্যক্তি হবে, যে তাঁর ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পাঠ করে। গবেষক নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে এই চমৎকার উপাদানগুলো সংগ্রহে ব্যাপক পরিশ্রম করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংবাদের মধ্য থেকে বিশুদ্ধ ও মুসনাদ বর্ণনাগুলো অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন, যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে বর্ণিত হয়েছে। যে ব্যক্তি এই গবেষণার সাগরে অবগাহন করবে, সে যেন এক বিশাল উদ্যানে প্রবেশের তাওফীক পাবে, যেখানে রয়েছে পরিপক্ক ফল এবং সুগন্ধিময় ফুল। সে এক গাছ থেকে অন্য গাছে, এক ফল থেকে অন্য ফলে এবং এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বিচরণ করবে। মুসলমানদের জন্য এই পরিশোধিত মধুর মুবারকবাদ, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি তাদের ভালোবাসা, অনুসরণ, সম্মান ও মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দেবে। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই নেক আমল এবং আমার ভাই যাওয়াভীর এই ইলমী গবেষণাকে কবুল করেন এবং তাঁর কাছে ফিরে যাওয়ার দিনে এটিকে তাঁর জন্য সঞ্চিত সম্পদ হিসেবে রাখেন। আর এর মাধ্যমে তাকে উপকৃত করেন যার নিকট এটি পৌঁছাবে এবং আমাদেরকেও যেন এর সওয়াব থেকে বঞ্চিত না করেন; কারণ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তো সেই ব্যক্তি যে সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়। আর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক সেই সত্তার ওপর যিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমত, জগতবাসীর জন্য আদর্শ, সত্যপথযাত্রীদের জন্য দলিল এবং সমস্ত বান্দার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন: আহমদ ফরিদ, আলেকজান্দ্রিয়া।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
مقدمة الشيخ/ محمد حسين يعقوبالحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، رب يسر وأعن بخير يا كريم، قال الله تعالى: لَقَدْ كانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً [الأحزاب: 21] ، وقال سبحانه: وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعالَمِينَ [الأنبياء: 107] ، وقال جل شأنه: وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَما عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلاغُ الْمُبِينُ [النور: 54] ، أما بعد..
فرسول الله صلى الله عليه وسلم له علينا حق عظيم، ومهما قدمنا فلن نوفيه بعض حقه صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم، وكيف لا وكل خير من خيري الدنيا والآخرة أصبناه فسببه النّبيّ محمد صلى الله عليه وسلم، وإن بعض حقه علينا معرفة سيرته العطرة وتفاصيل حياته المباركة، ونشر ذلك وبثه وتعلمه وتعليمه، والمؤلفات في سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم مهما بلغت لن تؤدي شيئا من حقه، ومازلنا بحاجة إلى سد ثغرات تحتاج أن تجتنى لها فوائد من سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم. لذا جاء هذا الكتاب الذي دفعه إليّ صديق قديم وأخ حبيب هو الأستاذ/ عاطف أحمد شرف الدين، وهو صديق عمري ترجع مدة أخواتي له وعلاقتي به إلى أكثر من ثلاثين سنة، وهذا الكتاب الذي بين أيدينا لأحد إخوانه وأصفيائه وهو الأستاذ/ أحمد الزواوي أكرمه الله، وقد طوفت بأبواب الكتاب طوافا سريعا فوجدته كتابا قيما يعتمد طريقة السلف الصالح في التأليف وهي سرد النصوص من الكتاب والسنة مع التبويب والترجمة التي تستخرج الفوائد، ورأيته في بعض النصوص قد ذكر أكثر من عشرين فائدة، وفي بعض الفوائد ذكر عشر نقاط في الفائدة الواحدة، وهذه طريقة جليلة أسأل الله أن ينفع بها، ورأيته في بعض المواضع الآخرى قد استطرد استطرادات طويلة تناسب ما يحتاجه أهل عصرنا فجمع الكتاب الحسنيين:
الأصالة والمعاصرة. ولم يقع في يدي في هذه النظرة العجلى على الكتاب ما أنكره إلّا كلامه على سؤال الرسول صلى الله عليه وسلم في القبر، فإنه خلص في النهاية إلى أنه ينبغي السكوت عن هذه المسألة، فكان من الأولى عدم عرضها أصلا، ثم الكتاب في مجمله كتاب قيم جامع شامل أرجو أن يكون كذلك، أنصح باقتنائه، وأسأل الله أن ينفع به.
وأسأل الله عز وجل أن يجزي مؤلفه كل خير، وأن يجزي الأستاذ عاطف شرف الدين الذي عرفنا به كل خير، فالدال على الخير كفاعله، وأسأل الله جل وعلا أن يستعملنا لنصرة الدين، وأن يرزقنا الإخلاص في القول والعمل، وأن يعافينا من البلاء، وأن ينجينا من الفتن ما ظهر منها وما بطن، وأن يرزقنا حسن الخاتمة، والجنة بغير حساب إنه ولي ذلك والقادر عليه.
وكتب/ محمد بن حسين يعقوب
শায়খ মুহাম্মদ হুসাইন ইয়াকুবের ভূমিকাসকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর। হে দয়াময় প্রতিপালক! সহজ করে দিন এবং কল্যাণের সাথে সাহায্য করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।” [আল-আহযাব: ২১]। তিনি আরও বলেন: “আমি আপনাকে কেবল বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।” [আল-আম্বিয়া: ১০৭]। তিনি আরও মহিমান্বিতভাবে বলেন: “আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো, তবে তোমরা হিদায়াত পাবে; আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।” [আন-নূর: ৫৪]। অতঃপর...
আমাদের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এক মহান অধিকার রয়েছে। আমরা যা-ই পেশ করি না কেন, আমরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) হকের সামান্যতমও আদায় করতে পারব না। আর কেনই বা হবে না, যেখানে দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোনো কল্যাণ আমরা লাভ করেছি, তার মাধ্যম হলেন নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমাদের ওপর তাঁর অন্যতম অধিকার হলো তাঁর সুগন্ধিময় সীরাত ও তাঁর বরকতময় জীবনের বিস্তারিত ঘটনাবলি জানা, তা প্রচার ও প্রসার করা এবং তা শেখা ও শেখানো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলি সংখ্যায় যত বেশিই হোক না কেন, তা তাঁর হকের কিছুই আদায় করতে পারবে না। আমরা এখনও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাত থেকে অর্জিত হতে পারে এমন উপকারিতা লাভের মাধ্যমে শূন্যস্থানগুলো পূরণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। তাই এই কিতাবটি সামনে এসেছে, যা আমার হাতে তুলে দিয়েছেন আমার একজন পুরাতন বন্ধু এবং প্রিয় ভাই জনাব আতিফ আহমদ শরাফউদ্দীন। তাঁর সাথে আমার ভ্রাতৃত্ব ও সম্পর্কের বয়স ত্রিশ বছরেরও বেশি। আর আমাদের হাতে থাকা এই কিতাবটি তাঁর অন্যতম বন্ধু জনাব আহমদ আয-যাওয়াওয়ী (আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন)-এর লেখা। আমি কিতাবটির বিভিন্ন অধ্যায় দ্রুত দেখে নিয়েছি এবং এটিকে একটি মূল্যবান কিতাব হিসেবে পেয়েছি। এটি রচনার ক্ষেত্রে ‘সালাফে সালেহীন’-এর পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, যা হলো কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ বর্ণনা করা এবং সেই সাথে শিরোনাম ও অনুচ্ছেদ বিন্যাসের মাধ্যমে সেখান থেকে উপকারিতাগুলো বের করে আনা। আমি দেখেছি তিনি কিছু পাঠের ক্ষেত্রে বিশটিরও বেশি উপকারিতা উল্লেখ করেছেন, আবার কোনো কোনো উপকারিতার অধীনে দশটি করে পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন। এটি একটি অতি উত্তম পদ্ধতি, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। আমি আরও দেখেছি কিছু কিছু স্থানে তিনি যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, ফলে কিতাবটি দুটি সৌন্দর্যের সমন্বয় ঘটিয়েছে:
মৌলিকতা ও আধুনিকতা। কিতাবটির ওপর এই দ্রুত দৃষ্টিতে আমার কাছে আপত্তিকর মনে হয়েছে এমন কিছু চোখে পড়েনি, কেবল কবরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করা সংক্রান্ত তাঁর আলোচনাটি ছাড়া। তিনি পরিশেষে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এই বিষয়ে নীরব থাকা উচিত; অথচ বিষয়টি আদৌ উত্থাপন না করাই ছিল উত্তম। পরিশেষে, সামগ্রিকভাবে এই কিতাবটি একটি মূল্যবান, সারগর্ভ ও ব্যাপক বিষয় সংবলিত গ্রন্থ বলেই আমি আশা করি। আমি এটি সংগ্রহ করার পরামর্শ দিচ্ছি এবং আল্লাহর কাছে দুআ করি তিনি যেন এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং জনাব আতিফ শরাফউদ্দীনকে উত্তম প্রতিদান দান করেন যার মাধ্যমে আমরা এটি চিনতে পেরেছি; কারণ কল্যাণের পথপ্রদর্শক কল্যাণকারীর মতোই সওয়াব পায়। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের দ্বীনের সাহায্যের জন্য নিয়োজিত করেন, আমাদের কথা ও কাজে ইখলাস দান করেন, আমাদের বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল ফিতনা থেকে মুক্তি দেন এবং আমাদের উত্তম সমাপ্তি ও হিসাব ছাড়াই জান্নাত দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।
লিখছেন/ মুহাম্মদ বিন হুসাইন ইয়াকুব
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدّمةإن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألاإله إلّا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله. وبعد..
فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ [آل عمران:
102] . يا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ واحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْها زَوْجَها وَبَثَّ مِنْهُما رِجالًا كَثِيراً وَنِساءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسائَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحامَ إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً (1) [النساء: 1] . يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيداً (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً (71) [الأحزاب: 70، 71] .
ثم أما بعد.. فإن الله- تعالى- منّ على هذه الأمة بأكبر وأعظم منّة على الإطلاق تلك المنة التي غبطتنا عليها الأمم السابقة ويتمناها بعضهم، لكن حال بينهم وبينها الكبر تارة والعناد تارة أخرى، تلك المنة هي رسول الله محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين وسيد المرسلين وحبيب رب العالمين، وقد ذكر الله- تعالى- ذلك في كتابه صراحة حيث قال تعالى: لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ (164) [آل عمران: 164] .
ورغبة مني في خدمة ديننا الحنيف، فقد استخرت الله عز وجل أن أجمع وأرتب مصنفا يشتمل على فوائد تربوية مهمة، ولما كانت أحب الموضوعات وأكثرها تشويقا إلى قلوبنا جميعا تلك التي تتعلق بالنبي صلى الله عليه وسلم، فقد رأيت أن تكون موضوعات الكتاب شمائل وخصوصيات وصفات النبي صلى الله عليه وسلم، بالإضافة إلى دلائل نبوته ومكانته عند خالقه عز وجل، وحب الصحابة رضى الله عنهم لشخصه الكريم، وبذلك يتسنى للقارئ الحبيب معرفة قدر النّبيّ صلى الله عليه وسلم فيزداد حبا له واتباعا لسنته الشريفة، وتعظيما وإجلالا لقدره وهي أمور نحن في أمسّ الحاجة إليها، كما يقف القارئ من خلال فوائد الكتاب على أمور كثيرة من هديه صلى الله عليه وسلم وسنته الشريفة، وقد اقتصرت في الأدلة على آيات الذكر الحكيم، وما ورد في الصحيحين.
وأسأل الله العليّ القدير أن ينفع به كل من قرأه وعمل به وساهم في نشره وتوزيعه إنه وليّ ذلك والقادر عليه. وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর...
নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না [আল-ইমরান: ১০২]। হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের দুজন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন [আন-নিসা: ১]। হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর... নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ নিয়ামত দ্বারা ধন্য করেছেন। এটি এমন এক নিয়ামত যার কারণে পূর্ববর্তী জাতিসমূহ আমাদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করত এবং তাদের কেউ কেউ তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করত, কিন্তু কখনো অহংকার আবার কখনো হঠকারিতা তাদের এবং এই নিয়ামতের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই নিয়ামতটি হলো আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি শেষ নবী, রাসুলদের সরদার এবং বিশ্বজগতের পালনকর্তার প্রিয় বন্ধু। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মাঝে নিমজ্জিত ছিল [আল-ইমরান: ১৬৪]।
আমাদের এই পবিত্র দ্বীনের খেদমত করার আকাঙ্ক্ষা থেকে আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি যাতে একটি গ্রন্থ সংকলন ও বিন্যস্ত করতে পারি যা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করবে। যেহেতু আমাদের সবার হৃদয়ের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ও আকর্ষণীয় বিষয় হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, তাই আমি বইটির বিষয়বস্তু হিসেবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শামায়েল (আচরণ ও বৈশিষ্ট্য), বিশেষত্ব ও গুণাবলিকে নির্ধারণ করেছি। এর পাশাপাশি তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণাদি, তাঁর স্রষ্টা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর পবিত্র ব্যক্তিত্বের প্রতি সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ভালোবাসার বিষয়গুলোও যুক্ত করেছি। এর ফলে প্রিয় পাঠক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারবেন, যার ফলে তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে, তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ সুদৃঢ় হবে এবং তাঁর শান-মানকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করার প্রেরণা জাগবে—যা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও পাঠক এই বইয়ের শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হেদায়াত ও তাঁর পবিত্র সুন্নাহর অনেক বিষয় সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন। আমি দালিলিক প্রমাণের ক্ষেত্রে কেবল পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং বুখারী ও মুসলিমের সহীহ বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি।
আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর মাধ্যমে সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে উপকৃত করেন যে এটি পড়বে, সেই অনুযায়ী আমল করবে এবং এর প্রচার ও প্রসারে অংশগ্রহণ করবে। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আর আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
منهج البحثقسمت الكتاب إلى:
1- مقدمة.
2- تمهيد.
3- الباب الأول: أهمية السنة النبوية، ووجوب اتباعها.
4- الباب الثاني: إثبات نبوته صلى الله عليه وسلم بالدلائل والمعجزات.
5- الباب الثالث: في خصائص أفضل المخلوقين وسيد الأنبياء وخاتم المرسلين صلى الله عليه وسلم.
6- الباب الرابع: صفات وجوانب من شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم.
7- الباب الخامس: مكانة النبي صلى الله عليه وسلم عند خالقه سبحانه وتعالى
8- الباب السادس: مظاهر حب وإجلال الصحابة رضى الله عنهم للنبي صلى الله عليه وسلم.
9- الباب السابع: أيام من حياة النبي صلى الله عليه وسلم.
10- وضعت خاتمة مختصرة في نهاية الكتاب.
11- وضعت فهارس للكتاب تسهل البحث فيه بأسهل عبارة وطريقة:
فهرست كل ما يمكن أن يفهرس على النحو التالي:
1- فهرس للآيات الكريمة.
2- فهرس لأطراف الأحاديث.
3- فهرس للأشعار.
4- فهرس للفوائد.
5- فهرس للموضوعات.
وأسأل الله- تعالى- أن ينفع به كل من نظر فيه، أو قرأه أو استفاد به، إنه على ذلك قدير كتبه مؤلفه أبو محمد/ أحمد عبد الفتاح الزواوي بمحافظة الطائف
গবেষণার পদ্ধতিআমি গ্রন্থটিকে নিম্নোক্তভাবে বিভক্ত করেছি:
১- ভূমিকা।
২- প্রারম্ভিকা।
৩- প্রথম অধ্যায়: সুন্নাতে নববীর গুরুত্ব এবং তা অনুসরণের আবশ্যকতা।
৪- দ্বিতীয় অধ্যায়: নিদর্শন ও মুজিযাসমূহের মাধ্যমে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত প্রমাণ।
৫- তৃতীয় অধ্যায়: সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, আম্বিয়ায়ে কিরামের সরদার এবং সর্বশেষ রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রসঙ্গে।
৬- চতুর্থ অধ্যায়: রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যক্তিত্বের গুণাবলি ও বিভিন্ন দিক।
৭- পঞ্চম অধ্যায়: তাঁর স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মর্যাদা।
৮- ষষ্ঠ অধ্যায়: নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ।
৯- সপ্তম অধ্যায়: নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের কিছু দিন।
১০- গ্রন্থের শেষে আমি একটি সংক্ষিপ্ত উপসংহার যুক্ত করেছি।
১১- আমি গ্রন্থটির জন্য এমন কিছু নির্ঘণ্ট বা সূচি তৈরি করেছি যা সহজতম শব্দ ও পদ্ধতিতে অনুসন্ধান কাজকে সহজতর করবে:
নির্ঘণ্ট করা সম্ভব এমন প্রতিটি বিষয়ের নির্ঘণ্ট নিম্নোক্ত উপায়ে করা হয়েছে:
১- পবিত্র আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।
২- হাদিসসমূহের প্রথমাংশের (আত্বরাফ) নির্ঘণ্ট।
৩- কবিতাসমূহের নির্ঘণ্ট।
৪- শিক্ষণীয় ও বিশেষ জ্ঞাতব্য বিষয়সমূহের নির্ঘণ্ট।
৫- বিষয়সূচি।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর দ্বারা এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে উপকৃত করেন যারা এতে দৃষ্টিপাত করবেন, এটি পাঠ করবেন অথবা এটি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন। নিশ্চয়ই তিনি এর ওপর পূর্ণ সক্ষম। এটি লিখেছেন এর লেখক আবু মুহাম্মদ/ আহমদ আব্দুল ফাত্তাহ আল-যাওয়াওয়ী, তায়েফ প্রদেশ।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيدآثرت أن أضع بين يدي القارئ الكريم بعض الأصول والقواعد الهامة التي يدور عليها موضوع الكتاب وهي من المسلمات عند أهل الحق والأتباع فمن ذلك:
1- ذكر الآيات القرآنية في أمر النبوة والرسالة والشمائل على سبيل الإجمال
أولا: تسلية الله عز وجل للنبي صلى الله عليه وسلم:
أ- تسليته صلى الله عليه وسلم بذكر استهزاء الكفار لمن قبله من الرسل:وَإِنْ يُكَذِّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ وَإِلَى اللَّهِ تُرْجَعُ الْأُمُورُ [فاطر: 4] .
وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِنْ قَبْلِكَ فَحاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُمْ ما كانُوا بِهِ يَسْتَهْزِؤُنَ [الأنعام: 10] .
ب- تسليته صلى الله عليه وسلم بذكر أسباب تولي الكفار وتكذيبهم:قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ وَلكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآياتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ
ج- تسليته صلى الله عليه وسلم بتعذيب أعدائه والانتقام منهم:تَبَّتْ يَدا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ [المسد: 1] .
د- تسليته صلى الله عليه وسلم بالنصر على عدوه في الدنيا:سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ [القمر: 45] .
ثانيا: الشفقة عليه صلى الله عليه وسلم وتخفيف حزنه على عدم هداية الناسأَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَناً فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشاءُ فَلا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَراتٍ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِما يَصْنَعُونَ [فاطر: 8] .
وَاصْبِرْ وَما صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ وَلا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ [النحل:
127] .
ভূমিকাআমি সম্মানিত পাঠকের সামনে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ও নিয়মাবলি উপস্থাপন করতে পছন্দ করেছি, যার ওপর এই কিতাবের বিষয়টি আবর্তিত হয়েছে। আর এগুলো সত্যপন্থী ও অনুসারীদের নিকট সর্বজনস্বীকৃত বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। তার মধ্যে রয়েছে:
১- নবুওয়াত, রিসালাত এবং শামায়িল বা গুণাবলি প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত উল্লেখ
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তাআলার সান্ত্বনা প্রদান:
ক- পূর্ববর্তী রাসুলদের প্রতি কাফেরদের উপহাসের কথা উল্লেখ করে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সান্ত্বনা প্রদান:আর তারা যদি আপনার প্রতি মিথ্যারোপ করে, তবে আপনার পূর্ববর্তী রাসুলদের প্রতিও তো মিথ্যারোপ করা হয়েছে। আর সকল বিষয় আল্লাহর দিকেই ফিরে যাবে। [ফাতির: ৪]।
আর অবশ্যই আপনার পূর্ববর্তী রাসুলদের সঙ্গেও উপহাস করা হয়েছে; অতঃপর যারা তাদের বিদ্রূপ করেছিল, তারা যা নিয়ে উপহাস করত তাই তাদের পরিবেষ্টন করল। [আনআম: ১০]।
খ- কাফেরদের বিমুখ হওয়া এবং মিথ্যারোপের কারণসমূহ উল্লেখ করে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সান্ত্বনা প্রদান:আমরা জানি যে, তারা যা বলে তা আপনাকে নিশ্চয়ই ব্যথিত করে। আসলে তারা তো আপনাকে অস্বীকার করে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকেই অস্বীকার করে।
গ- তাঁর শত্রুদের আজাব প্রদান এবং তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সান্ত্বনা প্রদান:আবু লাহাবের হাত দুটি ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক। [মাসাদ: ১]।
ঘ- দুনিয়াতে শত্রুর ওপর বিজয় প্রদানের মাধ্যমে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সান্ত্বনা প্রদান:অচিরেই এই দল পরাজিত হবে এবং তারা পিঠ দেখিয়ে পলায়ন করবে। [কামার: ৪৫]।
দ্বিতীয়ত: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি দয়া প্রদর্শন এবং মানুষের হেদায়েত না পাওয়ার কারণে তাঁর দুঃখ লাঘব করাযাকে তার মন্দ কাজ শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে এবং সে তাকে উত্তম মনে করে, (সে কি তার সমান যে হেদায়েতপ্রাপ্ত?) নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন। সুতরাং তাদের জন্য আক্ষেপ করে আপনার প্রাণ যেন না যায়। নিশ্চয় তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। [ফাতির: ৮]।
আর আপনি ধৈর্য ধারণ করুন, আপনার ধৈর্য তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে। তাদের জন্য দুঃখ করবেন না এবং তারা যে ষড়যন্ত্র করে তার কারণে আপনি মনঃকষ্টে থাকবেন না। [নাহল: ১২৭]।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
ثالثا: أمره صلى الله عليه وسلم بأعظم شرائع الدين
أ- بإخلاص العبادة لله:إِنَّا أَنْزَلْنا إِلَيْكَ الْكِتابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصاً لَهُ الدِّينَ [الزمر: 2] .
ب- بإخلاص حياته ومماته صلى الله عليه وسلم وكل شأنه لله:قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيايَ وَمَماتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعالَمِينَ [الأنعام: 162] .
ج- بالتوكل على الله:فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لا إِلهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ [التوبة: 129] .
د- بشكر الله عز وجل على آلائه العظيمة:بَلِ اللَّهَ فَاعْبُدْ وَكُنْ مِنَ الشَّاكِرِينَ [الزمر: 66] .
هـ- بالاعتصام بالوحي:فَاسْتَمْسِكْ بِالَّذِي أُوحِيَ إِلَيْكَ إِنَّكَ عَلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ [الزخرف: 43] .
وبالاقتداء بأفضل خلقه:
أُولئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُداهُمُ اقْتَدِهْ قُلْ لا أَسْئَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْراً إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرى لِلْعالَمِينَ [الأنعام: 90] .
ز- بالصبر على الدعوة وأذى الأعداء:فَاصْبِرْ كَما صَبَرَ أُولُوا الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ وَلا تَسْتَعْجِلْ لَهُمْ كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ ما يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا ساعَةً مِنْ نَهارٍ بَلاغٌ فَهَلْ يُهْلَكُ إِلَّا الْقَوْمُ الْفاسِقُونَ [الأحقاف: 35] .
رابعا: تزكيته صلى الله عليه وسلم في نفسه وفي كل ما يخصه
أ- تزكيته صلى الله عليه وسلم بالصدق:وَالَّذِي جاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ أُولئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ [الزمر: 33] .
ب- تزكيته صلى الله عليه وسلم بعظيم حسن الخلق:وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ [القلم: 4] .
ج- تزكية من علمه صلى الله عليه وسلم:عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوى [النجم: 5] .
তৃতীয়ত: তাঁর প্রতি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীনের মহান বিধানসমূহের নির্দেশ ক- আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করার নির্দেশ:নিশ্চয় আমি আপনার নিকট সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি; অতএব আল্লাহর ইবাদত করুন তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। [যুমার: ২] ।
খ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবন, মরণ এবং সকল বিষয় আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করার নির্দেশ:বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য। [আন'আম: ১৬২] ।
গ- আল্লাহর ওপর ভরসা করার নির্দেশ:অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে বলুন, 'আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব।' [তাওবাহ: ১২৯] ।
ঘ- মহান আল্লাহর মহান নিআমতসমূহের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করার নির্দেশ:বরং আপনি আল্লাহরই ইবাদত করুন এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হোন। [যুমার: ৬৬] ।
ঙ- ওহীকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ:অতএব আপনার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন; নিশ্চয় আপনি সরল পথে রয়েছেন। [যুখরুফ: ৪৩] ।
এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠদের অনুসরণের নির্দেশ:
তারাই ঐ সকল লোক যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন, সুতরাং আপনি তাদের পথ অনুসরণ করুন। বলুন, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না। এটি তো বিশ্বজগতের জন্য কেবল এক উপদেশ। [আন'আম: ৯০] ।
জ- দাওয়াতের কাজে এবং শত্রুদের নির্যাতনে ধৈর্য ধারণের নির্দেশ:অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেভাবে দৃঢ়চেতা রাসূলগণ ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। আর তাদের জন্য তড়িঘড়ি করবেন না। যেদিন তারা তাদের প্রতিশ্রুত আযাব দেখতে পাবে, সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা দিনের এক মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি। এটি একটি পয়গাম। সুতরাং পাপাচারী কওম ছাড়া আর কাউকেও ধ্বংস করা হবে কি? [আহকাফ: ৩৫] ।
চতুর্থত: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্তার এবং তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কিছুর পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা ক- সত্যবাদিতার মাধ্যমে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা:আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে গ্রহণ করেছে, তারাই তো মুত্তাকী। [যুমার: ৩৩] ।
খ- মহান চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা:আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত। [কলম: ৪] ।
গ- তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যিনি শিক্ষা দিয়েছেন তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা:তাঁকে শিক্ষা দান করেন এক মহাশক্তিধর। [নাজম: ৫] ।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
د- تزكية من نزل عليه بالوحينَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ [الشعراء: 193] .
هـ- تزكية كتابه صلى الله عليه وسلم:إِنَّ هذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْراً كَبِيراً [الإسراء: 9] .
وتزكية سنته صلى الله عليه وسلم:
رَبَّنا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ [البقرة: 129] .
ز- تزكية قلبه صلى الله عليه وسلم:قُلْ مَنْ كانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللَّهِ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدىً وَبُشْرى لِلْمُؤْمِنِينَ [البقرة: 97] .
ح- تزكية لسانه صلى الله عليه وسلم:وَما يَنْطِقُ عَنِ الْهَوى [النجم: 3] .
ط- تزكية بصره صلى الله عليه وسلم:
ما زاغَ الْبَصَرُ وَما طَغى [النجم: 17] .
خامسا: نهيه صلى الله عليه وسلم عن سوء الأخلاق واتباع الأهواء:
أ- نهيه صلى الله عليه وسلم عن اتباع الهوى:فَلِذلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَما أُمِرْتَ وَلا تَتَّبِعْ أَهْواءَهُمْ وَقُلْ آمَنْتُ بِما أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتابٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ اللَّهُ رَبُّنا وَرَبُّكُمْ لَنا أَعْمالُنا وَلَكُمْ أَعْمالُكُمْ لا حُجَّةَ بَيْنَنا وَبَيْنَكُمُ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ [الشورى: 15] .
ب- نهيه صلى الله عليه وسلم عن سماع الباطل وحضوره:وَإِذا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آياتِنا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ، وَإِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطانُ فَلا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ [الأنعام: 68] .
سادسا: أمر المؤمنين بتعظيمه صلى الله عليه وسلم وحبه وإيثاره على كل من سواه
أ- بتوقيره وإجلاله صلى الله عليه وسلم:
ঘ- ওহী নিয়ে যিনি অবতীর্ণ হয়েছেন তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা:তা নিয়ে অবতরণ করেছেন বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল)। [আশ-শুআরা: ১৯৩] .
ঙ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিতাবের পবিত্রতা ঘোষণা:নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ দেয় যারা নেক আমল করে যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। [আল-ইসরা: ৯] .
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর পবিত্রতা ঘোষণা:
হে আমাদের রব! আপনি তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করুন যিনি তাদের নিকট আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [আল-বাকারা: ১২৯] .
চ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্তরের পবিত্রতা ঘোষণা:বলুন, যে ব্যক্তি জিবরাঈলের শত্রু হবে (সে জেনে রাখুক যে), তিনি আল্লাহর অনুমতিতে আপনার অন্তরে তা (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও সুসংবাদ। [আল-বাকারা: ৯৭] .
ছ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রসনার পবিত্রতা ঘোষণা:এবং তিনি খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না। [আন-নাজম: ৩] .
জ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দৃষ্টির পবিত্রতা ঘোষণা:
তাঁর দৃষ্টি বিভ্রান্ত হয়নি এবং লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি। [আন-নাজম: ১৭] .
পঞ্চম: মন্দ চরিত্র ও কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি নিষেধ:
ক- কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি নিষেধ:সুতরাং আপনি সেই দিকেই দাওয়াত দিন এবং আপনি যেভাবে আদিষ্ট হয়েছেন সেভাবে অবিচল থাকুন, আর তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আপনি বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং আমাকে আদেশ করা হয়েছে যেন আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করি। আল্লাহ আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব। আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোন বিবাদ-বিসংবাদ নেই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে একত্রে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। [আশ-শূরা: ১৫] .
খ- বাতিল কথা শোনা এবং সেখানে উপস্থিত থাকা সম্পর্কে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি নিষেধ:আর যখন আপনি তাদেরকে দেখেন যারা আমাদের আয়াতসমূহ নিয়ে উপহাসমূলক আলোচনায় মগ্ন হয়, তখন আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়। আর শয়তান যদি আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে মনে পড়ার পর আপনি আর যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসবেন না। [আল-আনআম: ৬৮] .
ষষ্ঠ: মুমিনদেরকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্মান করার, তাঁকে ভালোবাসার এবং অন্য সকলের ওপর তাঁকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ
ক- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন প্রসঙ্গে:
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
ذلِكَ وَمَنْ يُعَظِّمْ حُرُماتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ عِنْدَ رَبِّهِ [الحج: 30] ، لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا [الفتح: 9] .
ب- الوعيد لمن أحب شيئا من الدنيا أكثر منه صلى الله عليه وسلم:قُلْ إِنْ كانَ آباؤُكُمْ وَأَبْناؤُكُمْ وَإِخْوانُكُمْ وَأَزْواجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوالٌ اقْتَرَفْتُمُوها وَتِجارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسادَها وَمَساكِنُ تَرْضَوْنَها أَحَبَّ إِلَيْكُمْ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفاسِقِينَ [التوبة: 24] .
ج- إعلامهم أن إرضاءه صلى الله عليه وسلم مقدم على إرضاء الناس:يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَنْ يُرْضُوهُ إِنْ كانُوا مُؤْمِنِينَ [التوبة: 62] .
د- إلصاق أقبح الصفات بمن رغب بنفسه عنه صلى الله عليه وسلم:فَرِحَ الْمُخَلَّفُونَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلافَ رَسُولِ اللَّهِ وَكَرِهُوا أَنْ يُجاهِدُوا بِأَمْوالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقالُوا لا تَنْفِرُوا فِي الْحَرِّ قُلْ نارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا لَوْ كانُوا يَفْقَهُونَ [التوبة: 81] .
هـ- رفع الحرج عن ضعفاء المسلمين وفقرائهمشريطة النصح له صلى الله عليه وسلم:
لَيْسَ عَلَى الضُّعَفاءِ وَلا عَلَى الْمَرْضى وَلا عَلَى الَّذِينَ لا يَجِدُونَ ما يُنْفِقُونَ حَرَجٌ إِذا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ ما عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِنْ سَبِيلٍ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ [التوبة: 91] .
ز- إرشادهم أن ملازمته ونصرته صلى الله عليه وسلم سبب من أسباب توبة الله على العباد:لَقَدْ تابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهاجِرِينَ وَالْأَنْصارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي ساعَةِ الْعُسْرَةِ مِنْ بَعْدِ ما كادَ يَزِيغُ قُلُوبُ فَرِيقٍ مِنْهُمْ ثُمَّ تابَ عَلَيْهِمْ إِنَّهُ بِهِمْ رَؤُفٌ رَحِيمٌ [التوبة: 117] .
ح- تربية المسلمين على تقديمه صلى الله عليه وسلم على النفس:النَّبِيُّ أَوْلى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَأَزْواجُهُ أُمَّهاتُهُمْ وَأُولُوا الْأَرْحامِ بَعْضُهُمْ أَوْلى بِبَعْضٍ فِي كِتابِ اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُهاجِرِينَ إِلَّا أَنْ تَفْعَلُوا إِلى أَوْلِيائِكُمْ مَعْرُوفاً كانَ ذلِكَ فِي الْكِتابِ مَسْطُوراً [الأحزاب: 6] .
سابعا: تعظيم أمر طاعته صلى الله عليه وسلم وتغليظ العقوبة على مخالفته صلى الله عليه وسلم
أ- بجعلها طاعة لله عز وجل:مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَما أَرْسَلْناكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً [النساء: 80] .
এটাই (হলো বিধান), আর যে ব্যক্তি আল্লাহর পবিত্র বিষয়সমূহের সম্মান করে, তবে তার প্রতিপালকের নিকট তা তার জন্য অতি উত্তম [আল-হাজ্জ: ৩০]। যেন তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো এবং তাঁকে সাহায্য করো, তাঁকে সম্মান করো এবং সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করো [আল-ফাতহ: ৯]।
খ- রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেয়ে দুনিয়ার কোনো কিছুকে অধিক ভালোবাসার ক্ষেত্রে কঠোর হুঁশিয়ারি:আপনি বলুন, ‘তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের গোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা তোমরা করো এবং তোমাদের পছন্দনীয় বাসস্থান—যদি তোমাদের কাছে আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে তোমরা অপেক্ষা করো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর ফয়সালা নিয়ে আসেন। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না’ [আত-তাওবা: ২৪]।
গ- মানুষকে এই মর্মে অবগত করা যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সন্তুষ্ট করা মানুষের সন্তুষ্টির ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য:তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর শপথ করে যাতে তোমাদের সন্তুষ্ট করতে পারে; অথচ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সন্তুষ্ট করার অধিক হকদার, যদি তারা মুমিন হয়ে থাকে [আত-তাওবা: ৬২]।
ঘ- যারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গ ত্যাগ করে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চেয়েছিল, তাদের ওপর নিকৃষ্টতম বৈশিষ্ট্য আরোপ করা:পেছনে রয়ে যাওয়া লোকগুলো আল্লাহর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে বসে থাকতে পেরে আনন্দিত হলো এবং আল্লাহর পথে তাদের জান-মাল দিয়ে জিহাদ করা অপছন্দ করল। তারা বলল, ‘তোমরা এই গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না।’ আপনি বলুন, ‘জাহান্নামের আগুন তো উত্তাপে আরও অনেক বেশি প্রচণ্ড,’ যদি তারা বুঝত [আত-তাওবা: ৮১]।
ঙ- রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আনুগত্য ও হিতাকাঙ্ক্ষার শর্তে দুর্বল ও দরিদ্র মুসলিমদের সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি প্রদান:দুর্বলদের ওপর, অসুস্থদের ওপর এবং যাদের ব্যয় করার মতো কিছু নেই তাদের ওপর কোনো গোনাহ নেই, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী ও অনুগত হয়। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো পথ নেই; আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু [আত-তাওবা: ৯১]।
চ- তাদের এই নির্দেশনা প্রদান যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য ও তাঁকে সাহায্য করা বান্দাদের প্রতি আল্লাহর তওবা কবুলের অন্যতম কারণ:অবশ্যই আল্লাহ নবীর প্রতি সদয় হয়েছেন এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতিও, যারা সংকটের মুহূর্তে তাঁর অনুসরণ করেছিল, এমনকি যখন তাদের মধ্য থেকে এক দলের অন্তর বিচ্যুত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারপর আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি অতি স্নেহশীল ও পরম দয়ালু [আত-তাওবা: ১১৭]।
ছ- মুমিনদেরকে নিজেদের জীবনের চেয়েও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়ে গড়ে তোলা:নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা। আর আল্লাহর বিধান অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজনগণ একে অপরের জন্য মুমিন ও মুহাজিরদের তুলনায় অধিক নিকটবর্তী, তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধুদের প্রতি কোনো কল্যাণ করতে চাও (তবে তা স্বতন্ত্র)। এটি কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে [আল-আহযাব: ৬]।
সপ্তম: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্যের বিষয়টিকে মহিমান্বিত করা এবং তাঁর অবাধ্য হওয়ার শাস্তিকে কঠোরভাবে তুলে ধরা
ক- তাঁর আনুগত্যকে মহান আল্লাহর আনুগত্য হিসেবে সাব্যস্ত করার মাধ্যমে:যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হলো, তবে আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি [আন-নিসা: ৮০]।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
ب- هي علامة حب العبد لله- تبارك وتعالى:قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ [آل عمران: 31] .
ج- بترتيب الجزاء العظيم على التمسك بها:يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فازَ فَوْزاً عَظِيماً [الأحزاب: 71] .
د- الوعد بمرافقة أفضل الخلق ومن يلونهم في جنات الفردوس لمن أطاعه صلى الله عليه وسلم:وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَداءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولئِكَ رَفِيقاً [النساء: 69] .
هـ- التحذير الشديد من مخالفة أمره صلى الله عليه وسلم:وَمَنْ يُشاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ ما تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ ما تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَساءَتْ مَصِيراً [النساء: 115] .
وذم من أعرض عن التحاكم إليه صلى الله عليه وسلم:
وَإِذا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذا فَرِيقٌ مِنْهُمْ مُعْرِضُونَ وَإِنْ يَكُنْ لَهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ أَفِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَمِ ارْتابُوا أَمْ يَخافُونَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ بَلْ أُولئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ [النور: 48- 50] .
ثامنا: إثبات عموم رسالته صلى الله عليه وسلم للثقلين (الإنس والجن)وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعالَمِينَ [الأنبياء: 107] .
تاسعا: حفظ الله عز وجل ورعايته البالغة له صلى الله عليه وسلم
أ- ذكر الرعاية الشاملة:وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنا وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ حِينَ تَقُومُ [الطور: 48] .
ب- ضمان رزقه صلى الله عليه وسلم:وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْها لا نَسْئَلُكَ رِزْقاً نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعاقِبَةُ لِلتَّقْوى [طه: 132] .
ج- تأييده صلى الله عليه وسلم بأحسن الحجج والبراهين:وَلا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْناكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيراً [الفرقان: 33] .
د- تهيئة صدره صلى الله عليه وسلم للقيام بأعباء الرسالة على أحسن وجه:أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ [الشرح: 1] .
খ- এটি আল্লাহর প্রতি—তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ—বান্দার ভালোবাসার নিদর্শন:বলুন, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ [আল-ইমরান: ৩১] ।
গ- সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার ওপর মহান প্রতিদান নির্ধারণের মাধ্যমে:তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই এক মহাফল লাভ করবে। [আল-আহজাব: ৭১] ।
ঘ- যে ব্যক্তি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য করবে, জান্নাতুল ফিরদাউসে সৃষ্টির সেরা এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিদের সাহচর্য লাভের প্রতিশ্রুতি:আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাঁদের সঙ্গী হবে যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ। আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম! [আন-নিসা: ৬৯] ।
ঙ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী:আর হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সে পথেই ফিরিয়ে দেব যে পথে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব; আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য! [আন-নিসা: ১১৫] ।
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট বিচার ফয়সালার তলব করা থেকে বিমুখ হওয়া ব্যক্তির নিন্দা:
যখন তাদের মধ্যে বিচার ফয়সালা করে দেওয়ার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তাদের একটি দল বিমুখ হয়ে যায়। আর যদি সত্য তাদের পক্ষে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে তারা বিনীতভাবে তাঁর কাছে ছুটে আসে। তাদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, নাকি তারা সংশয়ে রয়েছে, নাকি তারা ভয় পায় যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের ওপর অবিচার করবেন? বরং তারাই তো জালেম। [আন-নূর: ৪৮-৫০] ।
অষ্টম: জিন ও মানব—উভয় জাতির জন্য তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের ব্যাপকতার প্রমাণআমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই পাঠিয়েছি। [আল-আম্বিয়া: ১০৭] ।
নবম: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কর্তৃক তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেফাযত ও সুনিবিড় তত্ত্বাবধান
ক- সামগ্রিক তত্ত্বাবধানের উল্লেখ:আপনি আপনার রবের ফয়সালার জন্য ধৈর্য ধারণ করুন, কারণ আপনি আমার চোখের সামনেই রয়েছেন। আর যখন আপনি দাঁড়াবেন, তখন আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করুন। [আত-তুর: ৪৮] ।
খ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিযিকের নিশ্চয়তা:আপনি আপনার পরিবারকে সালাতের আদেশ দিন এবং এর ওপর অবিচল থাকুন। আমি আপনার কাছে কোনো রিযিক চাই না; আমিই আপনাকে রিযিক দিই। আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য। [ত্বহা: ১৩২] ।
গ- তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বোত্তম দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে সহযোগিতা করা:তারা আপনার কাছে কোনো সমস্যা (বা দৃষ্টান্ত) নিয়ে এলেই আমি আপনার কাছে সত্য এবং সুন্দর ব্যাখ্যা উপস্থিত করি। [আল-ফুরকান: ৩৩] ।
ঘ- রিসালাতের গুরুভার সর্বোত্তমভাবে পালনের জন্য তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বক্ষকে প্রশস্ত ও প্রস্তুত করা:আমি কি আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি? [আশ-শারহ: ১] ।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
عاشرا: تربيته صلى الله عليه وسلم على أحسن التربية وأقومها
أ- بالأمر بقيام الليل منذ بدء البعثة:يا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ (1) قُمِ اللَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًا [المزمل: 1، 2] .
ب- أمره صلى الله عليه وسلم بحسن معاملة الناس:خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجاهِلِينَ [الأعراف: 199] .
ج- تعليمه صلى الله عليه وسلم حسن التأدب مع الله عز وجل:قُلْ إِنْ ضَلَلْتُ فَإِنَّما أَضِلُّ عَلى نَفْسِي وَإِنِ اهْتَدَيْتُ فَبِما يُوحِي إِلَيَّ رَبِّي إِنَّهُ سَمِيعٌ قَرِيبٌ [سبأ: 50]
د- توجيهه صلى الله عليه وسلم بطلب الاستزادة بما ينفعه:فَتَعالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ وَلا تَعْجَلْ بِالْقُرْآنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُقْضى إِلَيْكَ وَحْيُهُ وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْماً [طه: 114] .
هـ- أمره صلى الله عليه وسلم بالدوام على ذكر الله تعالى آناء الليل والنهار:فَاصْبِرْ عَلى ما يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِها وَمِنْ آناءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرافَ النَّهارِ لَعَلَّكَ تَرْضى [طه: 130] .
وإرشاده صلى الله عليه وسلم بإلانة الجانب والكلام تواضعا لمن اتبعه:
وَاخْفِضْ جَناحَكَ لِمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ [الشعراء: 215] .
ز- أمره صلى الله عليه وسلم بتعهد القرآن وتلاوته:اتْلُ ما أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتابِ وَأَقِمِ الصَّلاةَ إِنَّ الصَّلاةَ تَنْهى عَنِ الْفَحْشاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ وَاللَّهُ يَعْلَمُ ما تَصْنَعُونَ [العنكبوت: 45] .
ح- أمره صلى الله عليه وسلم باتباع أفضل الملل:ثُمَّ أَوْحَيْنا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْراهِيمَ حَنِيفاً وَما كانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ [النحل: 123] .
ط- أمره صلى الله عليه وسلم بالإعراض عن الزائل الفاني:وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَداةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلا تَعْدُ عَيْناكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَياةِ الدُّنْيا وَلا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنا وَاتَّبَعَ هَواهُ وَكانَ أَمْرُهُ فُرُطاً [الكهف: 28] .
ي- أمره صلى الله عليه وسلم بمواصلة العبادة حتى انتهاء الأجل:وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ [الحجر: 99] .
দশম: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বোত্তম ও সুদৃঢ় লালন-পালন
ক- নবুওয়াতের শুরু থেকে রাত জাগার (তাহাজ্জুদ) নির্দেশের মাধ্যমে:হে বস্ত্রাবৃত! (১) রাতে দণ্ডায়মান হোন, কিছু অংশ বাদ দিয়ে। [আল-মুয্যাম্মিল: ১, ২] .
খ- মানুষের সাথে উত্তম আচরণের নির্দেশ:আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন, সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলুন। [আল-আরাফ: ১৯৯] .
গ- আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাথে উত্তম আদব শিক্ষা দান:বলুন, যদি আমি পথভ্রষ্ট হই তবে তা আমার নিজেরই কারণে, আর যদি আমি হেদায়েত প্রাপ্ত হই তবে তা আমার প্রতিপালক আমার প্রতি যা ওহী করেন তার কারণে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী। [সাবা: ৫০]
ঘ- উপকারী বিষয়ে বৃদ্ধির প্রার্থনার নির্দেশনা:মহিমান্বিত আল্লাহ, প্রকৃত মালিক। আপনার প্রতি ওহী সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে আপনি কুরআন পাঠে ত্বরান্বিত করবেন না এবং বলুন, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। [ত্বহা: ১১৪] .
ঙ- দিবা-রাত্রির বিভিন্ন সময়ে আল্লাহর যিকিরে অবিচল থাকার নির্দেশ:সুতরাং তারা যা বলে সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করুন; আর পবিত্রতা বর্ণনা করুন রাতের কিছু অংশে এবং দিনের প্রান্তসমূহে, যাতে আপনি সন্তুষ্ট হতে পারেন। [ত্বহা: ১৩০] .
এবং অনুসারীদের প্রতি বিনয়বশত নম্র আচরণ ও কথাবার্তার নির্দেশনা:
এবং যারা মুমিনদের মধ্যে আপনার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি আপনি আপনার ডানা অবনমিত করুন। [আশ-শুআরা: ২১৫] .
ছ- কুরআনের চর্চা ও তিলাওয়াতের নির্দেশ:কিতাব থেকে আপনার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা তিলাওয়াত করুন এবং সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর স্মরণই সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন। [আল-আনকাবুত: ৪৫] .
জ- সর্বোত্তম আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ:অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যে, আপনি একনিষ্ঠ ইব্রাহীমের আদর্শ অনুসরণ করুন; আর তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। [আন-নাহল: ১২৩] .
ঝ- নশ্বর ও ক্ষণস্থায়ী বস্তু থেকে বিমুখ থাকার নির্দেশ:আপনি নিজেকে তাদের সাথে অবিচল রাখুন যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালককে ডাকে, তারা তাঁর চেহারা কামনা করে। আপনি দুনিয়ার জীবনের চাকচিক্য কামনায় তাদের থেকে আপনার দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। আর আপনি তার আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কাজ সীমালঙ্ঘনমূলক। [আল-কাহাফ: ২৮] .
ঞ- মৃত্যু পর্যন্ত ইবাদত অব্যাহত রাখার নির্দেশ:এবং আপনার প্রতিপালকের ইবাদত করুন যতক্ষণ না আপনার কাছে নিশ্চিত বিষয় (মৃত্যু) উপস্থিত হয়। [আল-হিজর: ৯৯] .
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ك- تربيته صلى الله عليه وسلم على الأخذ بعزائم الأمور:فَلا تُطِعِ الْكافِرِينَ وَجاهِدْهُمْ بِهِ جِهاداً كَبِيراً [الفرقان: 52] .
ل- عدم أخذ الأجر على الدعوة:ذلِكَ الَّذِي يُبَشِّرُ اللَّهُ عِبادَهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ قُلْ لا أَسْئَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْراً إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبى وَمَنْ يَقْتَرِفْ حَسَنَةً نَزِدْ لَهُ فِيها حُسْناً إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ شَكُورٌ [الشورى: 23] .
الحادي عشر: رفع ذكره صلى الله عليه وسلم في الأولين والآخرين
أ- دعا ببعثته صلى الله عليه وسلم إبراهيم الخليل:رَبَّنا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ [البقرة: 129] .
ب- بشّر به صلى الله عليه وسلم عيسى:وَإِذْ قالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يا بَنِي إِسْرائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْراةِ وَمُبَشِّراً بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جاءَهُمْ بِالْبَيِّناتِ قالُوا هذا سِحْرٌ مُبِينٌ [الصف: 6] .
ج- الثناء عليه صلى الله عليه وسلم في التوراة والإنجيل:الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوباً عِنْدَهُمْ فِي التَّوْراةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّباتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلالَ الَّتِي كانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ [الأعراف: 157] .
د- رفع ذكره المطلق صلى الله عليه وسلم إلى يوم الدين:وَرَفَعْنا لَكَ ذِكْرَكَ [الشرح: 4] .
هـ- تقديم ذكره صلى الله عليه وسلم على بقية الأنبياء مع أنه آخرهم بعثة:إِنَّا أَوْحَيْنا إِلَيْكَ كَما أَوْحَيْنا إِلى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنا إِلى إِبْراهِيمَ وَإِسْماعِيلَ وَإِسْحاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْباطِ وَعِيسى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهارُونَ وَسُلَيْمانَ وَآتَيْنا داوُدَ زَبُوراً [النساء:
163] .
وقسم الله سبحانه بحياته صلى الله عليه وسلم:
لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ [الحجر: 72] .
ক- তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী গ্রহণের মাধ্যমে গড়ে তোলা:অতএব আপনি কাফিরদের আনুগত্য করবেন না এবং আপনি এর (কুরআনের) সাহায্যে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যান। [আল-ফুরকান: ৫২] .
খ- দাওয়াতের কাজে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ না করা:এটিই সেই বিষয়, যার সুসংবাদ আল্লাহ তাঁর সেই বান্দাদের দান করেন যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। বলুন, ‘আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না, তবে আত্মীয়তার ভালোবাসা চাই।’ আর যে কেউ উত্তম কাজ করবে, আমি তার জন্য তাতে কল্যাণ বাড়িয়ে দেব। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী। [আশ-শুরা: ২৩] .
একাদশ: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের মাঝে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলোচনা সমুন্নত করা ক- ইব্রাহিম আল-খালীল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আগমনের জন্য দোয়া করেছিলেন:হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [আল-বাকারা: ১২৯] .
খ- ঈসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সুসংবাদ দিয়েছিলেন:আর স্মরণ করুন, যখন মারয়াম-তনয় ঈসা বলেছিলেন, ‘হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমদ নামে যে রাসূল আসবেন তাঁর সুসংবাদদাতা।’ অতঃপর তিনি যখন স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাদের কাছে আসলেন, তখন তারা বলল, ‘এটি তো প্রকাশ্য জাদু।’ [আস-সাফ: ৬] .
গ- তাওরাত ও ইঞ্জিলে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশংসা:যারা সেই রাসূলের অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যাঁর কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়। তিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ তাদের জন্য হারাম করেন। আর তিনি তাদের ওপর থেকে তাদের সেই বোঝা ও শৃঙ্খল নামিয়ে দেন যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তাঁর ওপর ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূর (কুরআন)-এর অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম। [আল-আরাফ: ১৫৭] .
ঘ- কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মর্যাদাকে নিরঙ্কুশভাবে সমুন্নত করা:আর আমি আপনার মর্যাদা সমুন্নত করেছি। [আশ-শারহ: ৪] .
ঙ- নবুওয়াত প্রাপ্তিতে সর্বশেষ হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য নবীদের ওপর তাঁর উল্লেখকে অগ্রগণ্য করা:নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠিয়েছি যেমন ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহের প্রতি এবং তাঁর পরবর্তী নবীদের প্রতি। আর আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম ইব্রাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলায়মানের প্রতি। আর আমি দাউদকে যাবূর দান করেছি। [আন-নিসা: ১৬৩] .
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের কসম খেয়েছেন:
আপনার জীবনের কসম! নিশ্চয়ই তারা তাদের মত্ততায় দিশেহারা হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছিল। [আল-হিজর: ৭২] .
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ز- نعته صلى الله عليه وسلم باسمين من أسماء الله الحسنى:لَقَدْ جاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ ما عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُفٌ رَحِيمٌ [التوبة: 128] .
الثاني عشر: امتنان الله عز وجل على الأمة ببعثته صلى الله عليه وسلملَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُوا عَلَيْهِمْ آياتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلالٍ مُبِينٍ [آل عمران: 164] .
الثالث عشر: ذكر منته عز وجل بفضله الواسع السابغ على النبي صلى الله عليه وسلمإِلَّا رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ إِنَّ فَضْلَهُ كانَ عَلَيْكَ كَبِيراً [الإسراء: 87] .
وَلَوْلا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ وَرَحْمَتُهُ لَهَمَّتْ طائِفَةٌ مِنْهُمْ أَنْ يُضِلُّوكَ وَما يُضِلُّونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَما يَضُرُّونَكَ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ ما لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيماً
[النساء: 113] .
الرابع عشر: ذكر منّته صلى الله عليه وسلم على أمتهرَسُولًا يَتْلُوا عَلَيْكُمْ آياتِ اللَّهِ مُبَيِّناتٍ لِيُخْرِجَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ مِنَ الظُّلُماتِ إِلَى النُّورِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ وَيَعْمَلْ صالِحاً يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهارُ خالِدِينَ فِيها أَبَداً قَدْ أَحْسَنَ اللَّهُ لَهُ رِزْقاً [الطلاق: 11]
الخامس عشر: إثبات سلامته صلى الله عليه وسلم مما رماه به المشركون
أ- من الجنون:ما أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونٍ [القلم: 2] .
ب- من الشعر:وَما عَلَّمْناهُ الشِّعْرَ وَما يَنْبَغِي لَهُ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُبِينٌ [يس: 69] .
ج- من الكهانة:وَلا بِقَوْلِ كاهِنٍ قَلِيلًا ما تَذَكَّرُونَ [الحاقة: 42] .
د- من السحر:كَذلِكَ ما أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا قالُوا ساحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ [الذاريات: 52] .
জ- আল্লাহ তাআলার সুন্দর নামসমূহের মধ্য হতে দুটি নাম দ্বারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গুণ বর্ণনা:অবশ্যই তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদের যে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় তা তাঁর জন্য অসহনীয়, তিনি তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়। [আত-তাওবাহ: ১২৮] .
দ্বাদশ: উম্মতের ওপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহনিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিল। [আল-ইমরান: ১৬৪] .
ত্রয়োদশ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি মহান আল্লাহর ব্যাপক ও পরিপূর্ণ অনুগ্রহের উল্লেখআপনার রবের পক্ষ থেকে রহমত স্বরূপ; নিশ্চয়ই আপনার ওপর তাঁর অনুগ্রহ অত্যন্ত বিশাল। [আল-ইসরা: ৮৭] .
আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকলে তাদের একদল আপনাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেছিল; কিন্তু তারা কেবল নিজেদেরই পথভ্রষ্ট করে এবং আপনার কোনোই ক্ষতি করতে পারে না। আর আল্লাহ আপনার ওপর কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ অতি মহান।
[আন-নিসা: ১১৩] .
চতুর্দশ: তাঁর উম্মতের ওপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুগ্রহের উল্লেখএকজন রাসূল, যিনি তোমাদের নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করেন, যাতে তিনি মুমিন ও সৎকর্মশীলদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার জন্য উত্তম রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন। [আত-তালাক: ১১]
পঞ্চদশ: মুশরিকরা তাঁকে যে অপবাদ দিত তা থেকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পবিত্রতার প্রমাণ
ক- উন্মাদনা থেকে:আপনার রবের অনুগ্রহে আপনি উন্মাদ নন। [আল-কালাম: ২] .
খ- কবিতা থেকে:আমি তাঁকে কবিতা শিক্ষা দেইনি এবং এটি তাঁর জন্য শোভনীয়ও নয়। এটি তো কেবল একটি উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন। [ইয়াসিন: ৬৯] .
গ- গণকগিরি থেকে:আর এটি কোনো গণকের কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো। [আল-হাক্কাহ: ৪২] .
ঘ- জাদু থেকে:এভাবেই, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোনো রাসূল এসেছেন, তারা কেবল একথাই বলেছে যে, 'সে একজন জাদুকর অথবা উন্মাদ।' [আজ-যারিয়াত: ৫২] .
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
السادس عشر: وعده صلى الله عليه وسلم بالأجر الدائم الموصولوَإِنَّ لَكَ لَأَجْراً غَيْرَ مَمْنُونٍ [القلم: 3] .
السابع عشر: توالي المنح عليه صلى الله عليه وسلم في الدنيا والآخرة والتي منها
أ- مغفرة ما تقدم من ذنبه وما تأخر صلى الله عليه وسلم:لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ ما تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَما تَأَخَّرَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صِراطاً مُسْتَقِيماً [الفتح: 2] .
ب- الفتح المبين:إِنَّا فَتَحْنا لَكَ فَتْحاً مُبِيناً [الفتح: 1] .
ج- إظهار دينه صلى الله عليه وسلم على كل الأديان:هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ [التوبة: 33] .
د- المقام المحمود:وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نافِلَةً لَكَ عَسى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقاماً مَحْمُوداً [الإسراء: 79] .
هـ- إعطاؤه صلى الله عليه وسلم الكوثر:إِنَّا أَعْطَيْناكَ الْكَوْثَرَ [الكوثر: 1] .
وإرضاؤه صلى الله عليه وسلم بتحويل القبلة:
قَدْ نَرى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّماءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضاها فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ [البقرة: 144] .
ز- ضمان ترضيته صلى الله عليه وسلم (في الدنيا والآخرة) :وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضى [الضحى: 5] .
الثامن عشر: تعظيم البلد الحرام بإقامته فيه صلى الله عليه وسلم:لا أُقْسِمُ بِهذَا الْبَلَدِ وَأَنْتَ حِلٌّ بِهذَا الْبَلَدِ [البلد: 1، 2] .
التاسع عشر: الثناء عليه صلى الله عليه وسلم وعلى كل ما جاء به ودعا إليه:
أ- الثناء على شخصه الكريم صلى الله عليه وسلم:فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّكَ عَلَى الْحَقِّ الْمُبِينِ [النمل: 79] .
ষোড়শ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও চিরস্থায়ী প্রতিদানের অঙ্গীকারআর আপনার জন্য অবশ্যই রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন প্রতিদান। [কলম: ৩] ।
সপ্তদশ: দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর অব্যাহত অনুগ্রহসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে: ক- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পূর্বাপর সকল ত্রুটি ক্ষমা করা:যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন, আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন এবং আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। [ফাতহ: ২] ।
খ- সুস্পষ্ট বিজয়:নিশ্চয়ই আমি আপনাকে এক সুস্পষ্ট বিজয় দান করেছি। [ফাতহ: ১] ।
গ- সকল দ্বীনের ওপর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনীত দ্বীনকে বিজয়ী করা:তিনিই তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। [তাওবাহ: ৩৩] ।
ঘ- প্রশংসিত স্থান (মাকামে মাহমুদ):আর রাতের একাংশে তাহাজ্জুদ পড়ুন, যা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত ইবাদত; শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদ) প্রতিষ্ঠিত করবেন। [ইসরা: ৭৯] ।
ঙ- তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'কাওসার' দান করা:নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি। [কাওসার: ১] ।
কিবলা পরিবর্তনের মাধ্যমে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্তুষ্ট করা:
আকাশে আপনার বারবার তাকানো আমি অবশ্যই দেখছি। সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি আপনার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরান। [বাকারা: ১৪৪] ।
ছ- তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্তুষ্ট করার নিশ্চয়তা প্রদান (দুনিয়া ও আখিরাতে):আর শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে দান করবেন, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন। [দুহা: ৫] ।
অষ্টাদশ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবস্থানের কারণে পবিত্র নগরীর সম্মান বৃদ্ধি করা:আমি শপথ করছি এই নগরীর, আর আপনি এই নগরীর অধিবাসী। [বালাদ: ১, ২] ।
ঊনবিংশ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রশংসা এবং তিনি যা কিছু নিয়ে এসেছেন ও যার দিকে আহ্বান করেছেন তার প্রশংসা: ক- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্মানিত সত্তার প্রশংসা:অতএব আপনি আল্লাহর ওপর ভরসা করুন, নিশ্চয়ই আপনি সুস্পষ্ট সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। [নামল: ৭৯] ।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ب- الثناء على دعوته صلى الله عليه وسلم:وَإِنَّكَ لَتَدْعُوهُمْ إِلى صِراطٍ مُسْتَقِيمٍ [المؤمنون: 73] .
ج- الثناء على هديه صلى الله عليه وسلم:لِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنا مَنْسَكاً هُمْ ناسِكُوهُ فَلا يُنازِعُنَّكَ فِي الْأَمْرِ وَادْعُ إِلى رَبِّكَ إِنَّكَ لَعَلى هُدىً مُسْتَقِيمٍ [الحج: 67] .
العشرون: تعدد وسائل نصر الله عز وجل له صلى الله عليه وسلم
أ- النصر بالرعب:سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِما أَشْرَكُوا بِاللَّهِ ما لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطاناً وَمَأْواهُمُ النَّارُ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّالِمِينَ [آل عمران: 151] .
ب- النصر بالملائكة الأطهار البررة:بَلى إِنْ تَصْبِرُوا وَتَتَّقُوا وَيَأْتُوكُمْ مِنْ فَوْرِهِمْ هذا يُمْدِدْكُمْ رَبُّكُمْ بِخَمْسَةِ آلافٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ مُسَوِّمِينَ [آل عمران: 125] .
ج- النصر بإنزال السكينة على قلبه صلى الله عليه وسلمثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنْزَلَ جُنُوداً لَمْ تَرَوْها وَعَذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَذلِكَ جَزاءُ الْكافِرِينَ [التوبة: 26] .
د- النصر بتقليل العدو في عينيه صلى الله عليه وسلم:إِذْ يُرِيكَهُمُ اللَّهُ فِي مَنامِكَ قَلِيلًا وَلَوْ أَراكَهُمْ كَثِيراً لَفَشِلْتُمْ وَلَتَنازَعْتُمْ فِي الْأَمْرِ وَلكِنَّ اللَّهَ سَلَّمَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذاتِ الصُّدُورِ [الأنفال: 43] .
الحادي والعشرون: تعظيم أمر صلاته واستغفاره صلى الله عليه وسلم للمؤمنين وبيان أن الزهد فيها سيمة المنافقين:
أ- صلاته صلى الله عليه وسلم على المؤمنين طمأنينة للقلوب:خُذْ مِنْ أَمْوالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِها وَصَلِّ عَلَيْهِمْ إِنَّ صَلاتَكَ سَكَنٌ لَهُمْ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ [التوبة: 103] .
ب- الحث على الإنفاق طمعا في صلاته صلى الله عليه وسلم عليهم:وَمِنَ الْأَعْرابِ مَنْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَتَّخِذُ ما يُنْفِقُ قُرُباتٍ عِنْدَ اللَّهِ وَصَلَواتِ
খ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াতের প্রশংসা:নিশ্চয়ই আপনি তাদেরকে এক সরল পথের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন। [আল-মুমিনুন: ৭৩] .
গ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেদায়েতের প্রশংসা:আমি প্রতিটি উম্মতের জন্য ইবাদতের একটি নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছি, যা তারা পালন করে। সুতরাং তারা যেন এ বিষয়ে আপনার সাথে বিবাদে লিপ্ত না হয়; এবং আপনি আপনার রবের দিকে দাওয়াত দিন। নিশ্চয়ই আপনি সরল সঠিক হেদায়েতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। [আল-হাজ্জ: ৬৭] .
বিশতম: নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাহায্যের বিভিন্ন মাধ্যম:
ক- ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে সাহায্য:শীঘ্রই আমি কাফিরদের অন্তরে ভীতি সৃষ্টি করে দেব, কারণ তারা আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করেছে যার সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তাদের আবাসস্থল হলো জাহান্নাম এবং যালিমদের আবাস কতই না নিকৃষ্ট! [আল ইমরান: ১৫১] .
খ- পবিত্র ও পুণ্যবান ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য:হ্যাঁ, যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, আর তারা তৎক্ষণাৎ তোমাদের ওপর চড়াও হয়, তবে তোমাদের রব চিহ্নিত পাঁচ হাজার ফেরেশতা দিয়ে তোমাদের সাহায্য করবেন। [আল ইমরান: ১২৫] .
গ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হৃদয়ে প্রশান্তি নাযিল করার মাধ্যমে সাহায্য:অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর এবং মুমিনদের ওপর তাঁর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং এমন সেনাবাহিনী অবতীর্ণ করলেন যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। আর তিনি কাফিরদের শাস্তি দিলেন এবং এটিই কাফিরদের কর্মফল। [আত-তাওবাহ: ২৬] .
ঘ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দৃষ্টিতে শত্রুদের সংখ্যা কম দেখানোর মাধ্যমে সাহায্য:স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ আপনার স্বপ্নে তাদেরকে অল্প সংখ্যায় দেখিয়েছিলেন। তিনি যদি তাদেরকে আপনার কাছে অধিক সংখ্যায় দেখাতেন, তবে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হতে; কিন্তু আল্লাহ তোমাদের রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের সব কথা ভালোভাবেই জানেন। [আল-আনফাল: ৪৩] .
একুশতম: মুমিনদের জন্য তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব এবং এ বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য হওয়া প্রসঙ্গে:
ক- মুমিনদের জন্য তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়া তাদের হৃদয়ের স্থিরতাস্বরূপ:তাদের ধন-সম্পদ থেকে সদাকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশোধিত করবেন। আর আপনি তাদের জন্য দোয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনার দোয়া তাদের জন্য শান্তির কারণ। আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। [আত-তাওবাহ: ১০৩] .
খ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়ার প্রত্যাশায় ব্যয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান:আর মরুচারীদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে এবং সে যা ব্যয় করে তাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের এবং রাসূলের দোয়ার অসিলা হিসেবে গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الرَّسُولِ أَلا إِنَّها قُرْبَةٌ لَهُمْ سَيُدْخِلُهُمُ اللَّهُ فِي رَحْمَتِهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ [التوبة: 99] .
ج- استغفاره صلى الله عليه وسلم للمؤمنين سبب لتكفير الذنوب والخطايا:وَما أَرْسَلْنا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ وَلَوْ أَنَّهُمْ إِذْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ جاؤُكَ فَاسْتَغْفَرُوا اللَّهَ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُوا اللَّهَ تَوَّاباً رَحِيماً [النساء: 64] .
د- ذم المنافقين على الزهد في صلاته صلى الله عليه وسلم:وَإِذا قِيلَ لَهُمْ تَعالَوْا يَسْتَغْفِرْ لَكُمْ رَسُولُ اللَّهِ لَوَّوْا رُؤُسَهُمْ وَرَأَيْتَهُمْ يَصُدُّونَ وَهُمْ مُسْتَكْبِرُونَ [المنافقون: 5] .
الثاني والعشرون: كفاية الله- تعالى- له صلى الله عليه وسلم من كل الوجوه
أ- كفايته صلى الله عليه وسلم شرعا:لكِنِ اللَّهُ يَشْهَدُ بِما أَنْزَلَ إِلَيْكَ أَنْزَلَهُ بِعِلْمِهِ وَالْمَلائِكَةُ يَشْهَدُونَ وَكَفى بِاللَّهِ شَهِيداً [النساء:
166] .
ب- كفايته صلى الله عليه وسلم قدرا:يا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ ما أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ وَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَما بَلَّغْتَ رِسالَتَهُ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ إِنَّ اللَّهَ لا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكافِرِينَ [المائدة: 67] .
ج- كفايته صلى الله عليه وسلم العامة الشاملة:أَلَيْسَ اللَّهُ بِكافٍ عَبْدَهُ وَيُخَوِّفُونَكَ بِالَّذِينَ مِنْ دُونِهِ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَما لَهُ مِنْ هادٍ [الزمر: 36] . يا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ [الأنفال: 64] .
الثالث والعشرون: إثبات عصمته صلى الله عليه وسلم
أ- عصمته صلى الله عليه وسلم في أمره كله (عاداته وعباداته) :لَقَدْ كانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً [الأحزاب: 21] .
ب- عصمته صلى الله عليه وسلم في التبليغ عن ربه:وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنا بَعْضَ الْأَقاوِيلِ لَأَخَذْنا مِنْهُ بِالْيَمِينِ ثُمَّ لَقَطَعْنا مِنْهُ الْوَتِينَ [الحاقة: 44. 46] .
ج- عصمته صلى الله عليه وسلم عن الميل للباطل ولو يسيرا:وَلَوْلا أَنْ ثَبَّتْناكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرْكَنُ إِلَيْهِمْ شَيْئاً قَلِيلًا [الإسراء: 74] .
রাসূলের; জেনে রেখো, নিশ্চয় তা তাদের জন্য নৈকট্য লাভের উপায়। আল্লাহ শীঘ্রই তাদের তাঁর রহমতে প্রবেশ করাবেন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু [আত-তাওবাহ: ৯৯]।
গ- মুমিনদের জন্য তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্ষমা প্রার্থনা করা গুনাহ ও ভুল-ত্রুটি মোচনের কারণ:আর আমি যে কোনো রাসূল প্রেরণ করেছি তা কেবল আল্লাহর নির্দেশে তাঁর আনুগত্য করার জন্য। আর যদি তারা যখন নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল, তখন তারা আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং রাসূলও তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে তারা অবশ্যই আল্লাহকে তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু হিসেবে পেত [আন-নিসা: ৬৪]।
ঘ- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দোয়ার প্রতি অনীহা প্রকাশের কারণে মুনাফিকদের নিন্দা:আর যখন তাদের বলা হয়, "তোমরা এসো, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবেন," তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নেয় এবং আপনি তাদের দেখেন যে তারা অহংকারবশত মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে [আল-মুনাফিকুন: ৫]।
২২তম: সকল দিক থেকে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য যথেষ্ট হওয়া
ক- শরয়ি দিক থেকে তাঁর জন্য যথেষ্ট হওয়া:কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যা তিনি আপনার প্রতি নাযিল করেছেন তা তিনি তাঁর নিজ জ্ঞানে নাযিল করেছেন এবং ফেরেশতারাও সাক্ষ্য দেয়। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট [আন-নিসা: ১৬৬]।
খ- তাকদিরি বা জাগতিক সুরক্ষা হিসেবে তাঁর জন্য যথেষ্ট হওয়া:হে রাসূল, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা পৌঁছে দিন। আর যদি আপনি তা না করেন তবে আপনি তো তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিলেন না। আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের হাত থেকে রক্ষা করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না [আল-মায়িদাহ: ৬৭]।
গ- তাঁর জন্য আল্লাহর সাধারণ ও সর্বব্যাপী যথেষ্ট হওয়া:আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? অথচ তারা আপনাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ভয় দেখায়। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো হিদায়াতকারী নেই [আয-যুমার: ৩৬]। হে নবী, আপনার জন্য এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট [আল-আনফাল: ৬৪]।
২৩তম: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষ্পাপত্ব বা সুরক্ষা (ইসমাতে)র প্রমাণ
ক- তাঁর যাবতীয় বিষয়ে (আচরণ ও ইবাদতে) তাঁর সুরক্ষা:নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে [আল-আহযাব: ২১]।
খ- তাঁর রবের পক্ষ থেকে বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁর সুরক্ষা:আর তিনি যদি আমার নামে কোনো কথা বানিয়ে বলতেন, তবে আমি অবশ্যই তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর অবশ্যই আমি তাঁর জীবন-ধমনী কেটে দিতাম [আল-হাক্কাহ: ৪৪-৪৬]।
গ- সামান্যতম বাতিলের দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে তাঁর সুরক্ষা:আর আমি যদি আপনাকে অবিচল না রাখতাম, তবে আপনি অবশ্যই তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়তেন [আল-ইসরা: ৭৪]।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الرابع والعشرون: ضمان نصره صلى الله عليه وسلم ولو تخلى عنه الناس جميعا:إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُما فِي الْغارِ إِذْ يَقُولُ لِصاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنا فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَمْ تَرَوْها وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلى وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ [التوبة: 40] .
الخامس والعشرون: بعثته صلى الله عليه وسلم رحمة عامة وخاصة:
أ- رحمة عامة:وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعالَمِينَ [الأنبياء: 107] .
ب- رحمة خاصة:وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَهُمْ عَذابٌ أَلِيمٌ [التوبة: 61] .
السادس والعشرون: تغليظ العذاب لمن آذاه أو حادّه أو استهزأ به صلى الله عليه وسلم.
أ- لمن استهزأ به صلى الله عليه وسلم:وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّما كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآياتِهِ وَرَسُولِهِ كُنْتُمْ تَسْتَهْزِؤُنَ لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمانِكُمْ إِنْ نَعْفُ عَنْ طائِفَةٍ مِنْكُمْ نُعَذِّبْ طائِفَةً بِأَنَّهُمْ كانُوا مُجْرِمِينَ [التوبة: 65- 66] .
ب- لمن آذاه صلى الله عليه وسلم:إِنَّ الَّذِينَ يُؤْذُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فِي الدُّنْيا وَالْآخِرَةِ وَأَعَدَّ لَهُمْ عَذاباً مُهِيناً [الأحزاب: 57] .
ج- لمن حادّه صلى الله عليه وسلم:إِنَّ الَّذِينَ يُحَادُّونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ كُبِتُوا كَما كُبِتَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَقَدْ أَنْزَلْنا آياتٍ بَيِّناتٍ وَلِلْكافِرِينَ عَذابٌ مُهِينٌ [المجادلة: 5] .
السابع والعشرون: صلاة الله- تعالى- وملائكته عليه صلى الله عليه وسلم وأمر المؤمنين بذلكإِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً [الأحزاب:
56] .
الثامن والعشرون: تأديب أصحابه في التعامل معه صلى الله عليه وسلم من كل وجه
أ- عدم رفع الصوت في حضرته صلى الله عليه وسلم:يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَرْفَعُوا أَصْواتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمالُكُمْ وَأَنْتُمْ لا تَشْعُرُونَ [الحجرات: 2] .
চব্বিশতম: তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহায্য করার নিশ্চয়তা, যদিও সমস্ত মানুষ তাঁকে ত্যাগ করে:যদি তোমরা তাঁকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তো তাঁকে সাহায্য করেছিলেন যখন কাফিররা তাঁকে বহিষ্কার করেছিল; তিনি ছিলেন দুজনের দ্বিতীয়জন, যখন তাঁরা গুহার মধ্যে ছিলেন; যখন তিনি তাঁর সঙ্গীকে বলছিলেন, ‘দুশ্চিন্তা করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।’ অতঃপর আল্লাহ তাঁর ওপর তাঁর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাঁকে এমন এক সেনাদল দিয়ে শক্তিশালী করলেন যা তোমরা দেখনি। আর তিনি কাফিরদের কথাকে নিচু করে দিলেন এবং আল্লাহর কথাই সুউচ্চ। আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। [আত-তাওবাহ: ৪০]।
পঁচিশতম: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত সাধারণ ও বিশেষ রহমত স্বরূপ:
ক- সাধারণ রহমত:আমি তোমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি। [আল-আম্বিয়া: ১০৭]।
খ- বিশেষ রহমত:তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘সে তো সব কথাই কানে নেয়।’ বলো, ‘তিনি তোমাদের জন্য যা কল্যাণকর তা-ই কানে নেন; তিনি আল্লাহর ওপর ঈমান রাখেন এবং মুমিনদের বিশ্বাস করেন। আর তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য তিনি রহমত।’ যারা আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [আত-তাওবাহ: ৬১]।
ছাব্বিশতম: যারা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কষ্ট দেয়, তাঁর বিরুদ্ধাচরণ করে বা তাঁকে নিয়ে বিদ্রূপ করে, তাদের জন্য কঠোর শাস্তি।
ক- যারা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়ে বিদ্রূপ করে:যদি তুমি তাদের প্রশ্ন করো, তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আমরা তো কেবল আলাপ-আলোচনা ও কৌতুক করছিলাম।’ বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে নিয়ে বিদ্রূপ করছিলে?’ তোমরা ওজর পেশ করো না, তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরি করেছ। আমি তোমাদের মধ্য থেকে একদলকে ক্ষমা করলেও অন্য দলকে শাস্তি দেব, কারণ তারা ছিল অপরাধী। [আত-তাওবাহ: ৬৫-৬৬]।
খ- যারা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কষ্ট দেয়:নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের ওপর দুনিয়া ও আখেরাতে লানত করেন এবং তিনি তাদের জন্য অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন। [আল-আহযাব: ৫৭]।
গ- যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিরুদ্ধাচরণ করে:নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের লাঞ্ছিত করা হবে যেমন লাঞ্ছিত করা হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তীদের। আমি তো সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি, আর কাফিরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। [আল-মুজাদালাহ: ৫]।
সাতাশতম: আল্লাহ তাআলা ও তাঁর ফেরেশতাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পাঠ এবং মুমিনদের প্রতি সেই নির্দেশ প্রদাননিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো। [আল-আহযাব:
৫৬]।
আটাশতম: সর্বতোভাবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাঁর সাহাবীদের আদব শিক্ষা দান
ক- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপস্থিতিতে কণ্ঠস্বর উচ্চ না করা:হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো, তাঁর সাথে সেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো না; পাছে তোমাদের আমলসমূহ নিস্ফল হয়ে যায় অথচ তোমরা তা টেরও না পাও। [আল-হুজুরাত: ২]।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ب- عدم تسوية دعائه صلى الله عليه وسلم بدعاء غيره:لا تَجْعَلُوا دُعاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضاً قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِواذاً فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذابٌ أَلِيمٌ [النور: 63] .
ج- عدم التقديم بين يديه صلى الله عليه وسلم:يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ [الحجرات: 1] .
د- وجوب إجابة دعائه صلى الله عليه وسلم على الفور (ولو في الصلاة) :يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذا دَعاكُمْ لِما يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ [الأنفال: 24] .
التاسع والعشرون: تعظيم نسائه صلى الله عليه وسلم وأهل بيته.
أ- تحريم الزواج من نسائه صلى الله عليه وسلم:يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلى طَعامٍ غَيْرَ ناظِرِينَ إِناهُ وَلكِنْ إِذا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ إِنَّ ذلِكُمْ كانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ وَاللَّهُ لا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ وَإِذا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتاعاً فَسْئَلُوهُنَّ مِنْ وَراءِ حِجابٍ ذلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ وَما كانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْواجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَداً إِنَّ ذلِكُمْ كانَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيماً [الأحزاب: 53] .
ب- لنسائه صلى الله عليه وسلم ما للأمهات من التوقير والإجلال:النَّبِيُّ أَوْلى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَأَزْواجُهُ أُمَّهاتُهُمْ وَأُولُوا الْأَرْحامِ بَعْضُهُمْ أَوْلى بِبَعْضٍ فِي كِتابِ اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُهاجِرِينَ إِلَّا أَنْ تَفْعَلُوا إِلى أَوْلِيائِكُمْ مَعْرُوفاً كانَ ذلِكَ فِي الْكِتابِ مَسْطُوراً [الأحزاب: 6] .
ج- تطهير أهل بيته صلى الله عليه وسلم من كل سوء ودنس:إِنَّما يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيراً [الأحزاب: 33] .
د- نساء الأمة دون منزلة نسائه صلى الله عليه وسلم:يا نِساءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّساءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفاً [الأحزاب: 32] .
هـ- تربيتهن على أحسن الأخلاق والأفعال والأقوال:
খ- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডাককে অন্য কারো ডাকের সমান না করা:তোমরা রাসূলের ডাককে তোমাদের একে অপরের ডাকের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে যারা আড়ালে আত্মগোপন করে সরে পড়ে। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আপতিত হবে। [আন-নূর: ৬৩]।
গ- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে অগ্রবর্তী না হওয়া:হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। [আল-হুজুরাত: ১]।
ঘ- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ডাকে অবিলম্বে সাড়া দেওয়া ওয়াজিব (এমনকি নামাযে থাকলেও):হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের জীবন দান করে। আর জেনে রেখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান এবং নিশ্চয়ই তাঁরই কাছে তোমাদের সমবেত করা হবে। [আল-আনফাল: ২৪]।
উনত্রিশতম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণ এবং তাঁর আহলে বাইতের (পরিবারবর্গ) প্রতি সম্মান প্রদর্শন। ক- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণকে বিবাহ করা হারাম হওয়া:হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর ঘরসমূহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমাদের খাবারের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়, তার প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে। তবে যখন তোমাদের ডাকা হবে তখন তোমরা প্রবেশ করো এবং খাবার শেষ হলে তোমরা চলে যাও, আর কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়ো না। নিশ্চয়ই এটি নবীকে কষ্ট দিত, আর তিনি তোমাদের ব্যাপারে লজ্জা পেতেন; কিন্তু আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জা পান না। আর তোমরা যখন তাঁদের (নবীর স্ত্রীগণের) কাছে কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটি তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্র। তোমাদের জন্য শোভনীয় নয় যে তোমরা আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দাও এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীগণকে কখনো বিবাহ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে এটি এক গুরুতর বিষয়। [আল-আহযাব: ৫৩]।
খ- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের জন্য মায়েদের ন্যায় সম্মান ও মর্যাদা সাব্যস্ত:নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের জীবনের চাইতেও বেশি ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মা। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী আত্মীয়রা মুমিন ও মুহাজিরদের তুলনায় একে অপরের বেশি নিকটবর্তী। তবে তোমরা যদি তোমাদের বন্ধুদের প্রতি কোনো সদয় আচরণ করতে চাও (তা আলাদা)। এটি কিতাবে (লাওহে মাহফুজে) লিপিবদ্ধ রয়েছে। [আল-আহযাব: ৬]।
গ- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতকে সকল পঙ্কিলতা ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করা:হে নবী পরিবার! আল্লাহ তো কেবল এটাই চান যে, তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করবেন এবং তোমাদের পূর্ণরূপে পবিত্র করবেন। [আল-আহযাব: ৩৩]।
ঘ- উম্মতের নারীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীগণের মর্যাদার নিচে:হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তোমরা কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, ফলে যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে লালায়িত হবে। আর তোমরা সঙ্গত কথা বলো। [আল-আহযাব: ৩২]।
ঙ- তাঁদেরকে সর্বোত্তম চরিত্র, কর্ম ও বাণীর ওপর গড়ে তোলা:
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجاهِلِيَّةِ الْأُولى وَأَقِمْنَ الصَّلاةَ وَآتِينَ الزَّكاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ [الأحزاب: 33] .
الثلاثون: ولاية الله عز وجل وأهل السماء وصالح أهل الأرض له صلى الله عليه وسلم.
إِنْ تَتُوبا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُما وَإِنْ تَظاهَرا عَلَيْهِ فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ مَوْلاهُ وَجِبْرِيلُ وَصالِحُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمَلائِكَةُ بَعْدَ ذلِكَ ظَهِيرٌ [التحريم: 4] .
الواحد والثلاثون: تكليفه صلى الله عليه وسلم بما لا يطيقه غيره.
فَقاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لا تُكَلَّفُ إِلَّا نَفْسَكَ وَحَرِّضِ الْمُؤْمِنِينَ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَكُفَّ بَأْسَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَاللَّهُ أَشَدُّ بَأْساً وَأَشَدُّ تَنْكِيلًا [النساء: 84] .
الثاني والثلاثون: رؤية الله عز وجل له صلى الله عليه وسلم.
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ الَّذِي يَراكَ حِينَ تَقُومُ وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ [الشعراء: 217- 219] .
الثالث والثلاثون: تثبيت قلبه صلى الله عليه وسلم.
أ- تثبيت القلب بإنزال القرآنمفرقا بخلاف بقية الكتب:
وَقالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً واحِدَةً كَذلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤادَكَ وَرَتَّلْناهُ تَرْتِيلًا [الفرقان: 32] .
ب- تثبيت القلب بذكر قصص الأنبياءوسنن الله عز وجل في الذين خلوا من قبل:
وَكُلًّا نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْباءِ الرُّسُلِ ما نُثَبِّتُ بِهِ فُؤادَكَ وَجاءَكَ فِي هذِهِ الْحَقُّ وَمَوْعِظَةٌ وَذِكْرى لِلْمُؤْمِنِينَ [هود: 120] .
তোমরা তোমাদের ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন মূর্খতা যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করে বেড়িও না; আর তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো [আল-আহজাব: ৩৩]।
ত্রিশতম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মহান আল্লাহর অভিভাবকত্ব এবং আকাশবাসী ও পৃথিবীর পুণ্যবানদের পক্ষ থেকে সমর্থন.
যদি তোমরা উভয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করো, তবে তোমাদের অন্তর তো ঝুঁকেই পড়েছে; আর যদি তোমরা তাঁর বিরুদ্ধে একে অপরের সহায়তা করো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর অভিভাবক এবং জিবরাইল ও পুণ্যবান মুমিনগণও; তদুপরি ফেরেশতারাও তাঁর সাহায্যকারী [আত-তাহরিম: ৪]।
একত্রিশতম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এমন দায়িত্ব অর্পণ করা যা অন্য কেউ বহন করতে সক্ষম নয়.
অতএব আপনি আল্লাহর পথে লড়াই করুন, আপনাকে কেবল আপনার নিজের জন্য দায়ী করা হবে এবং আপনি মুমিনদের উদ্বুদ্ধ করুন; হতে পারে আল্লাহ কাফেরদের শক্তি প্রতিহত করবেন; আর আল্লাহ শক্তিতে প্রবলতর এবং শাস্তি দানে কঠোরতর [আন-নিসা: ৮৪]।
বত্রিশতম: মহান আল্লাহ কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অবলোকন করা.
এবং আপনি নির্ভর করুন মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর ওপর। যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি দাঁড়ান, এবং সিজদাকারীদের মধ্যে আপনার ওঠাবসাও [আশ-শুআরা: ২১৭-২১৯]।
তেত্রিশতম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্তরকে সুদৃঢ় করা.
ক- কুরআন নাযিলের মাধ্যমে অন্তর সুদৃঢ় করাঅন্যান্য কিতাবসমূহের বিপরীতে খণ্ড খণ্ড ভাবে নাযিল করে:
কাফেররা বলে, তাঁর ওপর কুরআন কেন একবারে নাযিল হলো না? এভাবেই (আমি নাযিল করেছি) যাতে এর দ্বারা আপনার অন্তর সুদৃঢ় করি এবং আমি তা স্পষ্টভাবে ও ক্রমে ক্রমে আবৃত্তি করেছি [আল-ফুরকান: ৩২]।
খ- নবীদের কাহিনী আলোচনার মাধ্যমে অন্তর সুদৃঢ় করাএবং অতীতে অতিবাহিত হওয়া লোকদের বিষয়ে মহান আল্লাহর রীতি আলোচনার মাধ্যমে:
আর আমি রাসূলগণের এসব সংবাদ আপনার কাছে বর্ণনা করছি যার মাধ্যমে আমি আপনার অন্তর সুদৃঢ় করি; এবং এর মধ্যে আপনার কাছে এসেছে সত্য এবং মুমিনদের জন্য উপদেশ ও উপদেশবাণী [হুদ: ১২০]।
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
الباب الأول أهمية السنة النبوية ووجوب اتباعها
প্রথম অধ্যায়: নববী সুন্নাহর গুরুত্ব এবং তা অনুসরণের আবশ্যকতা
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تقديمفي البداية لا بد لنا من تعريف مبسط لمعاني السنة عند علماء اللغة وعند أهل العلم بالحديث.
تعريف السنة في اللغة:عرف اللغويون السنة بتعريفات عدة منها:
[التعريف] الأول:السنة هي الطريقة الحميدة أو غيرها: قال- تعالى-: سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنا وَلا تَجِدُ لِسُنَّتِنا تَحْوِيلًا [الإسراء: 77] .
وقال صلى الله عليه وسلم: «من سنّ في الإسلام سنّة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها بعده من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سنّ في الإسلام سنّة سيّئة كان عليه وزرها ووزر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أوزارهم شيء» «1» . غير أنها إذا أسندت للنبي صلى الله عليه وسلم فإنها لا تكون إلا حسنة.
[التعريف] الثاني:هي القيام على الشيء ورعايته حسن الرعاية.
[التعريف] الثالث:وهي الأمة والأمم كسنة وسنن، قال- تعالى: قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِكُمْ سُنَنٌ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُروا كَيْفَ كانَ عاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ [آل عمران: 137] .
[التعريف] الرابع:وتطلق على العود إذا كان معوجا أو مستقيما.
[التعريف] الخامس:تطلق أيضا على القائد، وعلى الماء، وكل هذه المعاني ترجع من وجه أو آخر على المعنى الأول.
قال القنوجي «2» في (أبجد العلوم) : السنة صنو القرآن الكريم وإنما فارقها لكونه للتحدي، وهي مشاركة له في التشريع، وقد تكفل الله بحفظ الكتاب، ويلزم منه حفظ السنة لكونها وصفت بأنها وحي.
تعريف السنة في الاصطلاح:اصطلح أهل الحديث فيما بينهم على تعريف السنة والحديث والخبر، وكذلك الأصوليون ومن أهم التعريفات وأشملها التعريف التالي:
--------------------------------------------
উপস্থাপনাশুরুতে আমাদের জন্য ভাষা বিশেষজ্ঞগণ এবং হাদিস শাস্ত্রের বিজ্ঞজনদের নিকট সুন্নাহর অর্থ সম্পর্কে একটি সহজ সংজ্ঞায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
অভিধানে সুন্নাহর সংজ্ঞা:ভাষাবিদগণ সুন্নাহর বেশ কিছু সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:
প্রথম [সংজ্ঞা]:সুন্নাহ হলো প্রশংসনীয় পদ্ধতি বা অন্যকিছু; মহান আল্লাহ বলেছেন: "আপনার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছিলাম তাদের ক্ষেত্রে এটিই ছিল নিয়ম (সুন্নাহ), আর আপনি আমার নিয়মের কোনো পরিবর্তন পাবেন না।" [আল-ইসরা: ৭৭]।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো পদ্ধতি (সুন্নাহ) চালু করবে, তার জন্য এর সওয়াব এবং পরবর্তীতে যারা এর ওপর আমল করবে তাদের সওয়াবও থাকবে, তবে তাদের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতি চালু করবে, তার ওপর এর গুনাহ এবং পরবর্তীতে যারা এর ওপর আমল করবে তাদের গুনাহও বর্তাবে, তবে তাদের গুনাহ থেকে কিছুই কমানো হবে না।" (১)। তবে সুন্নাহ যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়, তখন তা কেবল উত্তম অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয় [সংজ্ঞা]:কোনো বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা এবং সেটির উত্তম রক্ষণাবেক্ষণ করা।
তৃতীয় [সংজ্ঞা]:এটি উম্মত বা জাতিসমূহ অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন 'সুন্নাহ' এবং 'সুনান'। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমাদের পূর্বে বহু নিয়ম-রীতি (সুনান) অতিক্রান্ত হয়েছে, সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ করো এবং দেখো মিথ্যাবাদীদের পরিণাম কী হয়েছিল।" [আল-ইমরান: ১৩৭]।
চতুর্থ [সংজ্ঞা]:এটি গাছের ডাল বা কাঠের লাঠির ক্ষেত্রেও বলা হয়, তা বাঁকা হোক বা সোজা।
পঞ্চম [সংজ্ঞা]:এটি নেতা বা চালক এবং পানির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। এই সকল অর্থ কোনো না কোনোভাবে প্রথম অর্থের দিকেই ফিরে যায়।
কান্নুজী (২) তার 'আবজাদুল উলুম' গ্রন্থে বলেন: সুন্নাহ হলো পবিত্র কুরআনের যমজ ভাই। এটি কুরআন থেকে পৃথক কেবল এজন্য যে কুরআন (বিপক্ষের জন্য) এক চ্যালেঞ্জ বা মোজেজা, আর সুন্নাহ শরীয়ত প্রবর্তনে কুরআনের অংশীদার। আল্লাহ তাআলা কিতাব (কুরআন) সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন, আর এর মাধ্যমেই সুন্নাহর সংরক্ষণও অবশ্যই সম্পন্ন হয়, কারণ সুন্নাহকেও ওহী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
পরিভাষায় সুন্নাহর সংজ্ঞা:হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ নিজেদের মাঝে সুন্নাহ, হাদিস এবং খবরের সংজ্ঞার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তেমনিভাবে উসুলবিদগণও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে নিম্নোক্ত সংজ্ঞাটি অন্যতম:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
السّنة كل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خلقية أو خلقية حقيقة أو حكما حتى الحركات والسكنات في اليقظة والمنام.
وبعد هذا التعريف أستفتح الكتاب بالصلاة والسلام على خير الأنام نبينا وحبيبنا سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم حيث قال ربنا جل في علاه: إِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً [الأحزاب: 56] .
1- للرسول صلى الله عليه وسلم طاعة مستقلة:إن من أعظم ما تقرب به المتقربون لربنا، جل وعلا، طاعة رسوله صلى الله عليه وسلم وامتثال أوامره واجتناب نواهيه؛ فإن طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم من طاعة الله، ومعصية الرسول من معصية الله- تعالى.، وقد أمرنا ربنا- جل وعلا- في كتابه العزيز باتباعه حيث قال- تعالى: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَما نَهاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقابِ [الحشر: 7] .
أولا: مدخل لفهم الآية:أمر الله عز وجل عباده المؤمنين بطاعة النبي صلى الله عليه وسلم وألزمهم بها في مواضع كثيرة من القرآن العظيم، وكذا على لسان نبيه صلى الله عليه وسلم فيما أوحاه الله إليه من الحكمة، وهذا الأمر معلوم في الدين بالضرورة لا يسع أحدا إنكاره، ولكن الذي أحب أن يعلمه الناس في هذا الموضع، وهو مدخل لفهم عنوان الباب، أن الأمر بطاعة النبي صلى الله عليه وسلم جاء في القرآن على ثلاثة أضرب:
[الضرب] الأول:أن طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم داخلة ضمنا في طاعة الله عز وجل:
قال- تعالى-: قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ الْكافِرِينَ [آل عمران: 32] ، وتلك الطاعة تمثل الانقياد لما أمر به الرسول صلى الله عليه وسلم من أوامر قد أمر بها الله عز وجل، مثل عموم الأمر بإقامة الصلاة وإيتاء الزكاة والحج والصوم وكذا الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر.
[الضرب] الثاني:وجوب طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم فيما شرعه الله من أمر ونهي وتحريم وحلال:
فقد جاءت السنة الشريفة لتبين مجمل الكتاب وتوضح ما اشتمل عليه من الأوامر، بل وتخصص عمومه، يدلنا على ذلك، قوله- تعالى: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ [النساء: 59] ، فالسنة هي التي بينت أركان الصلاة وواجباتها وسننها ونواقضها ومكملاتها، وليس في القرآن شيء من ذلك، وكذلك فرائض الصيام والزكاة والحج، وقد تأتي السنة بما يخصص عموم القرآن، كقوله- تعالى-: وَأُحِلَّ لَكُمْ ما وَراءَ ذلِكُمْ أَنْ تَبْتَغُوا
সুন্নাহ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত করা সকল কথা, কাজ, অনুমোদন অথবা তাঁর শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, চাই তা বাস্তবে হোক বা বিধানগতভাবে, এমনকি জাগ্রত কিংবা নিদ্রা অবস্থায় তাঁর নড়াচড়া ও স্থিরতাও এর অন্তর্ভুক্ত।
এই সংজ্ঞার পর, আমি সর্বোত্তম সৃষ্টি আমাদের নবী ও প্রিয়জন সাইয়্যেদিনা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে এই কিতাবটি শুরু করছি, যেহেতু আমাদের মহান রব বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।" [আল-আহযাব: ৫৬]।
১- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র আনুগত্য:নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুগণ আমাদের মহান রবের নৈকট্য লাভের জন্য যা কিছু করেন তার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হলো তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা, তাঁর আদেশসমূহ পালন করা এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করা; কেননা রাসূলের আনুগত্য আল্লাহরই আনুগত্য এবং রাসূলের অবাধ্যতা মহান আল্লাহরই অবাধ্যতা। আমাদের মহান রব তাঁর সম্মানিত কিতাবে আমাদের তাঁর অনুসরণের আদেশ দিয়ে বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।" [আল-হাশর: ৭]।
প্রথমত: আয়াতটি অনুধাবনের প্রবেশিকা:আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তাঁর মুমিন বান্দাদের মহান কুরআনের অনেক স্থানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা আবশ্যক করে দিয়েছেন। একইভাবে তাঁর নবীর মুখেও সেই হিকমতের মাধ্যমে যা আল্লাহ তাঁর কাছে ওহী হিসেবে পাঠিয়েছেন। দীনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত যা অস্বীকার করার সুযোগ কারো নেই। তবে এই পর্যায়ে আমি যা মানুষকে জানাতে চাই—আর এটিই হলো এ অধ্যায়ের শিরোনাম বোঝার মূল বিষয়—তাহলো কুরআনে নবীর আনুগত্যের আদেশ তিন প্রকারে এসেছে:
প্রথম [প্রকার]:রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য পরোক্ষভাবে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত:
মহান আল্লাহ বলেন: "বলো, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রেখো আল্লাহ কাফেরদের ভালোবাসেন না।" [আল ইমরান: ৩২]। এই আনুগত্য বলতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে আসা সেই সকল আদেশ পালন করাকে বোঝায় যা আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, হজ ও রোজা রাখার সাধারণ নির্দেশসমূহ এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।
দ্বিতীয় [প্রকার]:আদেশ, নিষেধ, হারাম ও হালাল সংক্রান্ত আল্লাহ যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ওয়াজিব হওয়া:
কুরআনের সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দিতে এবং এতে বিদ্যমান আদেশসমূহ স্পষ্ট করতে, এমনকি এর সাধারণ হুকুমগুলোকে সুনির্দিষ্ট করতে সুন্নাহর আগমন ঘটেছে। এর প্রমাণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার কর্তৃত্বশীলদের।" [আন-নিসা: ৫৯]। সুন্নাহই নামাজের আরকান, ওয়াজিব, সুন্নাত, নামাজ ভঙ্গকারী বিষয় এবং পরিপূর্ণতাদানকারী বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করেছে, যার কিছুই কুরআনে বিস্তারিত নেই। একইভাবে রোজা, জাকাত ও হজের ফরজ বিধানসমূহও। আর সুন্নাহ কখনও কুরআনের ব্যাপক বিধানকে সুনির্দিষ্ট করে দেয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর এগুলি বাদে বাকিদের তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে যেন তোমরা অন্বেষণ করো..."
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بِأَمْوالِكُمْ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسافِحِينَ [النساء: 24] ، فجاءت السنة فخصصت عموم الآية بتحريم الجمع بين المرأة وعمتها أو المرأة وخالتها. وذلك في قوله صلى الله عليه وسلم: «لا يجمع بين المرأة وعمتها، ولا بين المرأة وخالتها» «1» .
[الضرب] الثالث:طاعة مستقلة للنبي صلى الله عليه وسلم في أوامر ونواه لم تذكر في القرآن:
وهي أوامر النبي صلى الله عليه وسلم المستقلة- أي التي ليس فيها نص من القرآن الكريم- أكثر من أن تعد أو تحصى، ومنها على سبيل المثال في الصلوات: تشريع صلاة الاستسقاء والجنازة وصلاة العيدين وسجود الشكر، وفي الزكوات: سن زكاة الفطر، وفيما يحرم لبسه: تحريم الذهب والفضة على الرجال، وفيما يتعلق باداب الأكل والشرب وتحريم الأكل في آنية الذهب والفضة وسنة الأكل والشرب قاعدا وحمد الله بعد الأكل، كما أن في السنة: الأمر بحضور الجماعات وتغسيل الميت وتكفينه ودفنه، ودليل وجوب طاعة النبي صلى الله عليه وسلم في مثل تلك الأوامر والنواهي هو قوله- تعالى-: وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ [النور: 56] ، مع آية الباب الصريحة الواضحة: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَما نَهاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقابِ [الحشر: 7] .
وأجمل وأبلغ ما يؤكد أن المراد بالآية أن للنبي صلى الله عليه وسلم من الأوامر والنواهي التى ليس لها ذكر في كتاب الله عز وجل، وأننا ملزمون بطاعة النبي صلى الله عليه وسلم فيها كالتزامنا بطاعة الله سواء بسواء، ما رواه عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال: «لعن الله الواشمات والموتشمات، والمتنمّصات، والمتفلّجات «2» للحسن المغيّرات خلق الله» . فبلغ ذلك امرأة من بني أسد يقال لها: أمّ يعقوب، فجاءت فقالت: إنّه بلغني عنك أنّك لعنت كيت وكيت. فقال: وما لي لا ألعن من لعن رسول صلى الله عليه وسلم ومن هو في كتاب الله؟! فقالت: لقد قرأت ما بين اللّوحين فما وجدت فيه ما تقول. قال: لئن كنت قرأتيه لقد وجدتيه، أما قرأت: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَما نَهاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا؟ قالت: بلى. قال: فإنّه قد نهى عنه. قالت: فإنيّ أرى أهلك
--------------------------------------------
...তোমাদের ধন-সম্পদের বিনিময়ে, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, ব্যভিচারী হিসেবে নয় [আন-নিসা: ২৪]। অতঃপর সুন্নাহ এসেছে এবং আয়াতের সাধারণ বিধানকে বিশেষায়িত করেছে কোনো নারীকে তার ফুফু অথবা তার খালার সাথে একত্রে বিবাহ করাকে হারাম করার মাধ্যমে। আর তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীতে এসেছে: «কোনো নারীকে তার ফুফু অথবা তার খালার সাথে একত্রে বিবাহ করা যাবে না» (১)।
[প্রকার] তৃতীয়:কুরআনে উল্লেখ নেই এমন আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্বতন্ত্র আনুগত্য:
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই স্বতন্ত্র আদেশসমূহ—অর্থাৎ পবিত্র কুরআনে যেগুলোর কোনো স্পষ্ট পাঠ নেই—তা গণনা করে শেষ করার চেয়েও অধিক। উদাহরণস্বরূপ সালাতের ক্ষেত্রে: ইস্তিসকা, জানাজা, দুই ঈদ এবং সিজদায়ে শোকর-এর বিধান প্রবর্তন; জাকাতের ক্ষেত্রে: জাকাতুল ফিতর প্রবর্তন; যা পরিধান করা হারাম তার মধ্যে রয়েছে: পুরুষদের জন্য সোনা ও রূপা হারাম করা; পানাহারের আদব সংক্রান্ত বিষয়সমূহ এবং সোনা-রূপার পাত্রে ভোজন হারাম করা এবং বসে পানাহারের সুন্নাত ও আহারের পর আল্লাহর প্রশংসা করা। তদ্রূপ সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: জামাতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ, মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো, কাফন পরানো ও দাফন করা। এই ধরণের আদেশ ও নিষেধের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য ওয়াজিব হওয়ার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা দয়া প্রাপ্ত হও" [আন-নূর: ৫৬], সেইসাথে আলোচ্য অধ্যায়ের সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল আয়াতটি হলো: "রাসুল তোমাদের যা দান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর" [আল-হাশর: ৭]।
এই আয়াত দ্বারা যে উদ্দেশ্যটি সবচেয়ে সুন্দর ও সার্থকভাবে সুনিশ্চিত হয় তা হলো— মহান আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র কিতাবে উল্লেখ নেই এমন বহু আদেশ ও নিষেধ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে রয়েছে এবং আল্লাহর আনুগত্য করার মতোই অবিকলভাবে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই বিষয়গুলোতে আনুগত্য করতে বাধ্য। যেমনটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «আল্লাহ লানত করেছেন সেইসব নারীদের যারা উল্কি অঙ্কন করে এবং যারা উল্কি গ্রহণ করে, যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং সৌন্দর্যের জন্য দাঁতের মাঝে ফাঁক তৈরি করে (২), যারা আল্লাহর সৃষ্টিকে বিকৃত করে ফেলে»। এই সংবাদটি বনু আসাদ গোত্রের উম্মে ইয়াকুব নাম্নী এক মহিলার কাছে পৌঁছালে সে এসে বলল: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি অমুক অমুক বিষয়ে লানত করেছেন।" তিনি বললেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকে লানত করেছেন এবং আল্লাহর কিতাবে যা বিদ্যমান আছে, তাকে আমি কেন লানত করব না?!" মহিলাটি বলল: "আমি পবিত্র কুরআনের দুই মলাটের মধ্যবর্তী সবকিছু পড়েছি কিন্তু আপনি যা বলছেন তা তাতে পাইনি।" তিনি বললেন: "যদি তুমি তা গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে তবে অবশ্যই পেতে। তুমি কি পড়নি: 'রাসুল তোমাদের যা দান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো'?" সে বলল: "অবশ্যই।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তিনি (রাসুল) তা থেকে নিষেধ করেছেন।" সে বলল: "আমি তো মনে করি আপনার পরিবার...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يفعلونه. قال: فاذهبى فانظري، فذهبت فنظرت، فلم تر من حاجتها شيئا. فقال: لو كانت كذلك ما جامعتها «1» .
ثانيا: بعض أقوال العلماء- رحمهم الله في تفسير الآية: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ:
قال الحافظ ابن كثير- رحمه الله: (أي مهما أمركم به فافعلوه ومهما نهاكم عنه فاجتنبوه، فإنه إنما يأمركم بخير وإنما ينهى عن شر) «2» ، ونقل القرطبي عن المهدوي أنه قال في تفسير الآية: (هذا يوجب أن كل ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم أمر من الله- تعالى.، والآية وإن كانت في الغنائم فجميع أوامره صلى الله عليه وسلم ونواهيه دخل فيها) «3» ، وقال الشيخ السعدي- رحمه الله:
(وهذا شامل لأصول الدين وفروعه، ظاهره وباطنه، وأن ما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم يتعين على العباد الأخذ به واتباعه، ولا تحل مخالفته، وأن نص الرسول صلى الله عليه وسلم على حكم الشيء كنص الله- تعالى.، لا رخصة لأحد ولا عذر له في تركه، ولا يجوز تقديم قول أحد على قوله صلى الله عليه وسلم «4» .
بعض فوائد الآية الكريمة:
الفائدة الأولى:الأصل في أوامر النبي صلى الله عليه وسلم الوجوب، إلا ما دل دليل على أن الأمر فيه للاستحباب، كما أن الأصل في نهي النبي صلى الله عليه وسلم التحريم إلا ما دل الدليل على أن النهي فيه للكراهة، ودليله أن أوامر الله- سبحانه وتعالى في القرآن للوجوب والآية تقول: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ.
الفائدة الثانية:الزعم بأن اتباع أوامر ونواهي القرآن فحسب، واعتقاد البعض أن القرآن يكفيهم هو ضلال، وردّ للقرآن الذي أمرنا صراحة بطاعة النبي صلى الله عليه وسلم في كل ما أمر ونهى، ولولا أن النبي صلى الله عليه وسلم طاعة مستقلة، وأنه صلى الله عليه وسلم يأمر وينهى بأمور لم يرد ذكرها في القرآن، ما كان لهذه الآية الكريمة من معنى، ويؤكد ذلك ما رواه البخاري: عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النّبيّ صلى الله عليه وسلم قال: «دعوني ما تركتكم؛ إنّما هلك من كان قبلكم بسؤالهم واختلافهم على أنبيائهم، فإذا نهيتكم عن شيء فاجتنبوه، وإذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم» «5» .
--------------------------------------------
তারা তা করে। তিনি বললেন: তাহলে যাও এবং দেখ। অতঃপর সে গেল এবং দেখল, কিন্তু সে তার কাঙ্ক্ষিত কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন: সে যদি এমন হতো তবে আমি তার সাথে একত্র হতাম না।
দ্বিতীয়ত: আয়াতের তাফসীরে ওলামায়ে কেরামের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) কিছু উক্তি: রাসূল তোমাদের যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ করো:<
হাফেজ ইবনে কাসীর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: (অর্থাৎ তিনি তোমাদের যা আদেশ করেন তা পালন করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা পরিহার করো। কারণ তিনি কেবল কল্যাণেরই আদেশ করেন এবং কেবল অকল্যাণ হতেই নিষেধ করেন।)
এবং কুরতুবী আল-মাহদাবী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আয়াতের তাফসীরে বলেছেন: (এটি আবশ্যক করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু আদেশ করেছেন তা মহান আল্লাহরই আদেশ। আয়াতটি যদিও গনীমতের মাল সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, তবুও তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সকল আদেশ ও নিষেধ এর অন্তর্ভুক্ত।)
এবং শায়খ আস-সাদী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন:
(এটি দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব কিছুকেই শামিল করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করা ও অনুসরণ করা বান্দাদের জন্য অপরিহার্য, এবং তার বিরোধিতা করা বৈধ নয়। কোনো বিষয়ের বিধানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য মহান আল্লাহর বক্তব্যের মতোই। এটি বর্জন করার ক্ষেত্রে কারো জন্য কোনো অবকাশ বা অজুহাত নেই এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর ওপর অন্য কারো বাণীকে প্রাধান্য দেওয়া জায়েয নেই।)
মহিমান্বিত আয়াতের কিছু শিক্ষা:
প্রথম শিক্ষা:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তা ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়া, যতক্ষণ না এমন কোনো দলীল পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে আদেশটি এখানে মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় হওয়ার জন্য। ঠিক তেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো তা হারাম হওয়া, যতক্ষণ না এমন কোনো দলীল পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে নিষেধটি এখানে মাকরূহ হওয়ার জন্য। এর দলীল হলো, কুরআনে মহান আল্লাহর আদেশসমূহ ওয়াজিব হওয়ার অর্থ প্রদান করে এবং আয়াতটি বলছে: রাসূল তোমাদের যা দেন, তা তোমরা গ্রহণ করো।
দ্বিতীয় শিক্ষা:কেবল কুরআনের আদেশ ও নিষেধ অনুসরণ করার দাবি করা এবং কারো কারো এই বিশ্বাস করা যে কুরআনই তাদের জন্য যথেষ্ট—তা একটি পথভ্রষ্টতা। এটি কুরআনেরই প্রত্যাখ্যান, যা আমাদের স্পষ্টভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটি আদেশ ও নিষেধের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছে। যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য স্বতন্ত্র না হতো এবং তিনি এমন সব বিষয়ে আদেশ ও নিষেধ না করতেন যা কুরআনে উল্লেখ নেই, তবে এই মহিমান্বিত আয়াতের কোনো অর্থ থাকত না। এর সত্যতা নিশ্চিত করে যা বুখারী বর্ণনা করেছেন: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি তোমাদের যে অবস্থায় ছেড়েছি সে অবস্থায় আমাকে থাকতে দাও; তোমাদের পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছে তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতভেদ করার কারণে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি তা বর্জন করো, আর যখন তোমাদের কোনো আদেশ করি তখন তা সাধ্যানুযায়ী পালন করো।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفائدة الثالثة:عظيم اعتناء الله- سبحانه وتعالى لسنة النبي صلى الله عليه وسلم مع حث المسلمين أبلغ الحث على اتباعها، وقد ظهر هذا الاعتناء جليّا واضحا على أحسن ما يكون في الآية الكريمة، وقد جاءت مظاهر هذا الاعتناء على النحو التالي:
1- جاءت ألفاظ الآية الكريمة مطلقة بوجوب اتباع السنة، فقال- تعالى-: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ. فلم تقيد الآية وجوب اتباع أمر دون أمر أو حال دون آخر، ولا زمان دون زمان، فعلم من ذلك وجوب الاتباع على كل حال وفي كل زمان وفي كل الأمور.
2- لم تقتصر الآية على عموم الأمر بالاتباع مثل قوله- تعالى-: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ [النساء: 59] ، ولكن جاء الأمر مفصلا بوجوب الأخذ بما وردت به السنة ووجوب الانتهاء عما نهت عنه، فقال- تعالى-: وَما آتاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَما نَهاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا.
3- أمرت الآية الكريمة المؤمنين بتقوى الله عز وجل بعد الأمر باتباع كل ما ورد بالسنة واتقوا الله، للدلالة على أن اتباع السنة علامة على تقوى الله، فالتقوى واتباع السنة أمران مطردان فكلما زادت تقوى المسلم كلما كان أشد اتباعا للسنة وأكثر تمسكا بها، كما علمتنا الآية ومن ثمّ فمن ادعى تقوى الله عز وجل وهو مفرط في اتباع السنة فإنه كاذب في دعواه.
4- ختمت الآية بالوعيد الشديد لمن رغب عن سنة النبي صلى الله عليه وسلم أو جفاها، بذكر صفة من أعظم صفات الله التي ترد لتخويف العباد، وهو أنه- تبارك وتعالى شديد العقاب، ولا شك أن هذا التهديد موجه لمن فرط في السنة أو رغب عنها.
الفائدة الرابعة:استحالة وجود تعارض بين أوامر الله عز وجل في كتابه الكريم وبين أوامر النبي صلى الله عليه وسلم في السنة الشريفة الصحيحة، لأن الله عز وجل أمرنا بطاعته وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم ولو قدّر وجود تعارض بين الكتاب والسنة لاستلزم الأمر أن الله عز وجل قد أمرنا بالشيء ونقيضه، وهذا يستحيل في الشرع الحكيم الذي أنزله فاطر السماوات والأرض، ويتفرع عليه أن الذي ادعى وجود التعارض لم يقدح في النبي صلى الله عليه وسلم إنما قدح في المولى- سبحانه وتعالى كما بينت، فما كان من تعارض في ظاهر اللفظ فقد أزال العلماء هذا التعارض، بإثبات النسخ أو حمل المطلق على المقيد، أو العام على الخاص، وقد قال الإمام الشافعي-رحمه الله تعالى--: (على أهل العلم طلب الدلالة من كتاب الله، فما لم يجدوه نصّا في كتاب الله، طلبوه في سنة رسول الله، فإن وجدوه فما قبلوا عن رسول الله
তৃতীয় ফায়দা:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং মুসলিমদের তা অনুসরণে অত্যন্ত জোরালোভাবে উদ্বুদ্ধকরণ। এই গুরুত্বের বিষয়টি আলোচ্য আয়াতে অত্যন্ত সুন্দর ও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এবং এই গুরুত্বারোপের দিকগুলো নিম্নরূপ:
১- আয়াতে কারীমার শব্দগুলো সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্তহীনভাবে (মুতলাক) এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন, তা তোমরা গ্রহণ করো।" এখানে কোনো নির্দিষ্ট আদেশের ক্ষেত্রে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো অবস্থায় বা নির্দিষ্ট কোনো সময়ের সাথে এই অনুসরণের আবশ্যকতাকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। এ থেকে বোঝা যায় যে, সর্বাবস্থায়, সর্বকালে এবং সকল বিষয়ে সুন্নাহর অনুসরণ করা ওয়াজিব।
২- আয়াতটি কেবল অনুসরণের সাধারণ আদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে রয়েছে: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল) তাদেরও।" [আন-নিসা: ৫৯]। বরং এখানে সুন্নাহর মাধ্যমে যা এসেছে তা গ্রহণ করা এবং যা থেকে সুন্নাহ নিষেধ করেছে তা বর্জন করার ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ও বিস্তারিতভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।"
৩- সুন্নাহর মাধ্যমে প্রাপ্ত সকল বিষয় অনুসরণের নির্দেশ দেওয়ার পরেই আয়াতে কারীমা মুমিনদের আল্লাহ তাআলার তাকওয়া অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে: "এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো"। এটি এই কথার প্রমাণ যে, সুন্নাহর অনুসরণ হলো আল্লাহর প্রতি তাকওয়া বা আল্লাহভীতির পরিচয়। তাকওয়া এবং সুন্নাহর অনুসরণ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; মুমিনের তাকওয়া যত বাড়বে, সুন্নাহর প্রতি তার অনুসরণ ও দৃঢ়তা তত বৃদ্ধি পাবে, যেমনটি এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়। ফলশ্রুতিতে, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি তাকওয়া অবলম্বনের দাবি করে অথচ সুন্নাহ অনুসরণে অবহেলা প্রদর্শন করে, সে তার দাবিতে মিথ্যাবাদী।
৪- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি বিমুখতা প্রদর্শনকারী বা অবজ্ঞাকারীর জন্য আয়াতটি কঠোর সতর্কবাণীর মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এখানে আল্লাহর এমন এক মহান গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা বান্দাদের ভীত করার জন্য ব্যবহৃত হয়; আর তা হলো— তিনি (আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা) কঠোর শাস্তিদাতা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই হুমকি তাদের জন্য যারা সুন্নাহর প্রতি অবহেলা করে বা তা থেকে বিমুখ থাকে।
চতুর্থ ফায়দা:পবিত্র কুরআনে বর্ণিত মহান আল্লাহর নির্দেশসমূহ এবং সহীহ ও বিশুদ্ধ সুন্নাহয় বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশসমূহের মধ্যে কোনো প্রকার বৈপরীত্য থাকা অসম্ভব। কারণ মহান আল্লাহ আমাদের তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যদি কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে কোনো বৈপরীত্যের অবকাশ থাকত, তবে এর অর্থ দাঁড়াত যে মহান আল্লাহ আমাদের একই সাথে কোনো জিনিসের আদেশ দিয়েছেন আবার তার বিপরীত জিনিসেরও আদেশ দিয়েছেন। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহ যে প্রজ্ঞাপূর্ণ শরীয়ত নাযিল করেছেন, তাতে এটি অসম্ভব। এর থেকে আরও স্পষ্ট হয় যে, যে ব্যক্তি বৈপরীত্যের দাবি করে সে মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নয়, বরং স্বয়ং মহান রবের ওপরই দোষারোপ করছে, যেমনটি আমি বর্ণনা করেছি। বাহ্যিক শব্দে যা কিছু বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়, উলামায়ে কেরাম রহিতকরণ (নাসখ) সাব্যস্ত করার মাধ্যমে অথবা মুতলাককে (সাধারণ) মুকাইয়্যাদ (নির্দিষ্ট) করার মাধ্যমে, কিংবা আমকে (ব্যাপক) খাস (বিশেষ) করার মাধ্যমে সেই বৈপরীত্য দূর করেছেন। ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইলমের অধিকারীদের কর্তব্য হলো আল্লাহর কিতাব থেকে দলিল অনুসন্ধান করা। যা তারা আল্লাহর কিতাবে স্পষ্টভাবে (নস) পাবে না, তা আল্লাহর রাসূলের সুন্নাহ থেকে তালাশ করবে। যখন তারা তা পাবে, তখন তারা আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করবে।"
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فعن الله قبلوه، بما افترض من طاعته) «1» .
الفائدة الخامسة:دلت الآية الكريمة دلالة مباشرة على عصمة النبي صلى الله عليه وسلم في كل ما فعله وكل ما أمر به أو نهى عنه، ووجه ذلك أن الله عز وجل ما كان ليأمرنا أمرا مطلقا باتباع كل ما جاء بالسنة، إلا لعلمه بعصمة صاحب هذه السنة صلى الله عليه وسلم في جده وضحكه، في رضاه وغضبه، في صحته ومرضه، بل في يقظته ومنامه وفي حلّه وتر حاله، فمن شكك في تلك العصمة فقد طعن في حكمة الله عز وجل.
2- الاتباع دليل محبة الله وسبب مغفرة الذنوب:قال تعالى: قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ [آل عمران: 31] . قال الشيخ السعدي- رحمه الله في تفسير الآية الكريمة كلاما جامعا مانعا، حيث قال ما نصه: (هذه الآية فيها وجوب محبة الله، وعلاماتها، ونتيجتها، وثمراتها، فقال: قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ، أي: ادعيتم هذه المرتبة العالية، والرتبة التي ليس فوقها رتبة فلا يكفي فيها مجرد الدعوى، بل لا بد من الصدق فيها، وعلامة الصدق اتباع رسوله صلى الله عليه وسلم في جميع أحواله، في أقواله وأفعاله، في أصول الدين وفروعه، في الظاهر والباطن، فمن اتبع الرسول دل على صدق دعواه محبة الله- تعالى-، وأحبه الله وغفر له ذنبه، ورحمه وسدده في جميع حركاته وسكناته، ومن لم يتبع الرسول فليس محبّا لله- تعالى-؛ لأن محبة الله توجب له اتباع رسوله فما لم يوجد ذلك دل على عدمها وأنه كاذب إن ادعاها، مع أنها على تقدير وجودها غير نافعة بدون شرطها، وبهذه الآية يوزن جميع الخلق، فعلى حسب حظهم من اتباع الرسول يكون إيمانهم وحبهم لله وما نقص من ذلك نقص) «2» .
بعض فوائد الآية الكريمة:
الفائدة الأولى:أن الله عز وجل يحبّ ويحبّ، وهذا هو مذهب أهل السنة والجماعة، خلافا لمن أنكر أن الله عز وجل يحب، لحجج عقلية، دفعوا بها النصوص الصريحة الصحيحة، ومن تلك الحجج أن الحب فيه ليونة، والله عز وجل منزه عن ذلك، وأن الحب يكون من اثنين من جنس واحد، ويؤولون الحب بأنه إرادة الثواب «3» ، وهذا المذهب خاطئ، من عدة وجوه:
--------------------------------------------
তারা তা আল্লাহর পক্ষ থেকে গ্রহণ করেছেন, তাঁর আনুগত্য করার বিধান অনুযায়ী। (১)
পঞ্চম ফায়দা:এই সম্মানিত আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিটি কাজে যা কিছু করেছেন এবং যা কিছুর আদেশ দিয়েছেন বা নিষেধ করেছেন—তাতে তাঁর নিষ্পাপতার (ইসমত) ওপর সরাসরি প্রমাণ বহন করে। এর কারণ হলো, মহান আল্লাহ সুন্নাহ যা কিছু নিয়ে এসেছে তার সবকিছুর অনুসরণের ব্যাপারে আমাদের ওপর নিঃশর্ত নির্দেশ দিতেন না, যদি না তিনি জানতেন যে এই সুন্নাহর অধিকারী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গাম্ভীর্য ও হাস্যরসে, সন্তুষ্টি ও ক্রোধে, সুস্থতা ও অসুস্থতায়, এমনকি তাঁর জাগরণ ও নিদ্রায় এবং তাঁর অবস্থান ও ভ্রমণে নিষ্পাপ। সুতরাং, যে ব্যক্তি এই নিষ্পাপতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে, সে মহান আল্লাহর হিকমতের (প্রজ্ঞার) ওপরই আঘাত হানল।
২- অনুসরণ আল্লাহর ভালোবাসার প্রমাণ এবং গুনাহ মাফ হওয়ার কারণ:মহান আল্লাহ বলেন: “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [আল-ইমরান: ৩১]। শাইখ আস-সা’দী (রাহিমাহুল্লাহ) এই সম্মানিত আয়াতের তাফসীরে অত্যন্ত ব্যাপক ও সুসংহত আলোচনা করেছেন। তিনি হুবহু যা বলেছেন তা হলো: (এই আয়াতে আল্লাহকে ভালোবাসা ওয়াজিব হওয়া, এর আলামতসমূহ, এর ফলাফল এবং সুফল সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। তিনি বলেছেন: “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো”, অর্থাৎ তোমরা যদি এই উচ্চ মর্যাদার দাবি করো—এমন এক মর্যাদা যার উপরে আর কোনো মর্যাদা নেই—তবে শুধু দাবি করাই যথেষ্ট নয়, বরং এতে সত্যবাদিতা থাকা অপরিহার্য। আর এই সত্যবাদিতার আলামত হলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল অবস্থায় তাঁর অনুসরণ করা—তাঁর কথা ও কাজে, দ্বীনের মূলনীতি ও শাখায়, প্রকাশ্য ও গোপনে। সুতরাং, যে ব্যক্তি রাসুলের অনুসরণ করল, তা মহান আল্লাহর প্রতি তার ভালোবাসার দাবির সত্যতা প্রমাণ করল; আর আল্লাহও তাকে ভালোবাসবেন, তার গুনাহ মাফ করবেন, তার ওপর দয়া করবেন এবং তার প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতায় তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। আর যে ব্যক্তি রাসুলের অনুসরণ করল না, সে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহকে ভালোবাসে না। কারণ, আল্লাহর ভালোবাসা তাঁর রাসুলের অনুসরণ করাকে আবশ্যক করে তোলে। সুতরাং যেখানে অনুসরণ নেই, সেখানে ভালোবাসার অনুপস্থিতি প্রমাণিত হয় এবং এই দাবির ক্ষেত্রে সে একজন মিথ্যাবাদী। এমনকি যদি ধরে নেওয়া হয় যে ভালোবাসা বিদ্যমান, তবুও এর শর্ত পূরণ না করলে তা কোনো কাজে আসবে না। এই আয়াতের মাধ্যমেই সমস্ত সৃষ্টিজগতকে পরিমাপ করা হয়; রাসুলের অনুসরণে তাদের অংশ যতটুকু হবে, আল্লাহর প্রতি তাদের ঈমান ও ভালোবাসা ততটুকুই হবে, আর যা কমবে তা ঈমান ও ভালোবাসারই কমতি।) (২)
এই সম্মানিত আয়াতের কিছু ফায়দা:
প্রথম ফায়দা:মহান আল্লাহ ভালোবাসেন এবং তাঁকে ভালোবাসাও হয়। আর এটাই হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের অভিমত। এটি তাদের মতের পরিপন্থী যারা কিছু যুক্তিনির্ভর দোহাই দিয়ে মহান আল্লাহ ভালোবাসেন—এ কথাটি অস্বীকার করেছে এবং যার মাধ্যমে তারা সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ দলিলসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের যুক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো—ভালোবাসার মধ্যে এক প্রকার কোমলতা রয়েছে, যা থেকে মহান আল্লাহ পবিত্র। আরেকটি হলো—ভালোবাসা একই জাতীয় দুই সত্তার মধ্যে হয়ে থাকে। তারা ভালোবাসার ব্যাখ্যা করে থাকে যে, এটি মূলত ‘সওয়াব প্রদানের ইচ্ছা’। এই মতবাদটি বেশ কিছু কারণে ভুল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الوجه الأول:نقول كيف تقيسون صفات الله عز وجل على صفات البشر؟! فتقولون إن حب الله عز وجل إن حدث منه الحب، يقتضي أن يكون عنده، مثل ما عند البشر من رقة وليونة، والله- تعالى- يقول: لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ [الشورى: 11] .
الوجه الثاني:إن إرادة الثواب ليست هي الحب، فمن ادعى اشتراكهما في المعنى، فقد عارض اللغة التي نزل بها القرآن الكريم، فمعلوم أن الثواب يأتي بعد الرضى والحب.
الوجه الثالث:هل يعقل أن الله- سبحانه وتعالى يأتي يوم القيامة، يسأل الناس لم أثبتم لي صفة الحب، وهي صفة نقص لا تليق بجلالي؟! مع أنه سبحانه أثبت لنفسه تلك الصفة في كتابه وأثبتها له رسوله صلى الله عليه وسلم في سننه، وعليه فإن المذهب الصحيح، هو مذهب أهل السنة والجماعة، حيث لا اجتهاد مع النص، وقد أثبت الله عز وجل لنفسه صفة الحب في آيات كثيرة، منها:
قوله- تعالى-: يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَنْ يَرْتَدَّ مِنْكُمْ عَنْ دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ [المائدة: 54] ، وتأمل كيف بدأ الله المؤمنين بالحب، فقال: يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ، كما بدأهم بالتوبة، فقال- تعالى-: ثُمَّ تابَ عَلَيْهِمْ لِيَتُوبُوا [التوبة: 118] ، بل بدأهم بالرضى فقال- عز من قائل.: رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا [المائدة: 119] .
وعلى المسلم الحريص على دينه، ألا يقدم عقلا على نصّ في جميع أمور الدين، سواء كانت مسائل أصولية أو فرعية، وما تفرقت الأمة إلا بعد تقديم العقل على النقل، وإذا كان الله عز وجل قد تعبدنا بالعقل، فلماذا أرسل الرسل، وأنزل الكتب، والحاصل أن الآية أثبتت أن الله يحب لقوله- تعالى- قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ، وأنه يحب قال- تعالى-:
فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ، وكيف تنكرون أن الله يحب وقد أثبت ما هو أعظم من المحبة، بل منتهى المحبة وهو الخلة، لإبراهيم ومحمد- صلى الله عليهما وسلم تسليما كثيرا، قال- تعالى: وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْراهِيمَ خَلِيلًا [النساء: 125] ، وسيأتي ذلك إن شاء الله مفصلا عند الكلام عن الخلة.
الفائدة الثانية:لما ادعى قوم حب الله عز وجل، وكان لكل دعوى دليل لإثبات صدقها، اشترط الله لصدق هذه الدعوى- بل أقول: والمثوبة عليها- متابعة الرسول صلى الله عليه وسلم فإن كانت دعوتهم صادقة اتبعوه، وإلا حادوا عن الاتباع، قال الحافظ ابن كثير- رحمه الله تعالى: (هذه الآية الكريمة حاكمة على كل من ادعى محبة الله وليس هو على الطريقة المحمدية، فإنه كاذب في دعواه في نفس الأمر حتى يتبع الشرع المحمدي، والدين النبوي
প্রথম দিক:আমরা বলি, কীভাবে আপনারা মহান আল্লাহর গুণাবলিকে মানুষের গুণাবলির সাথে তুলনা করেন?! আপনারা বলেন যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে যদি ভালোবাসা প্রকাশ পায়, তবে তার অর্থ হবে তাঁর মাঝে মানুষের মতো কোমলতা ও নমনীয়তা রয়েছে; অথচ মহান আল্লাহ বলেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা" [আশ-শুরা: ১১]।
দ্বিতীয় দিক:নিশ্চয়ই পুরস্কার প্রদানের ইচ্ছা আর ভালোবাসা এক নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুটি বিষয়ের অর্থ অভিন্ন হওয়ার দাবি করে, সে সেই ভাষার বিরোধিতা করল যে ভাষায় পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ এটি জানা কথা যে, পুরস্কার প্রদান আসে সন্তুষ্টি ও ভালোবাসার পরে।
তৃতীয় দিক:এটা কি বোধগম্য যে, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন উপস্থিত হয়ে মানুষকে জিজ্ঞাসা করবেন—তোমরা কেন আমার জন্য ভালোবাসার গুণটি সাব্যস্ত করলে, অথচ এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ গুণ যা আমার মহিমার উপযুক্ত নয়?! অথচ তিনি নিজেই তাঁর কিতাবে নিজের জন্য এই গুণটি সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সুন্নাহর মাধ্যমে তা সাব্যস্ত করেছেন। অতএব, সঠিক মতবাদ হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মতবাদ, যেখানে স্পষ্ট দলিলের (নস) উপস্থিতিতে কোনো ইজতিহাদ চলে না। মহান আল্লাহ কুরআনের অনেক আয়াতে নিজের জন্য ভালোবাসার গুণটি সাব্যস্ত করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি নিজ দ্বীন থেকে ফিরে যায়, তবে শীঘ্রই আল্লাহ এমন এক জাতি নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে" [আল-মায়িদাহ: ৫৪]। লক্ষ্য করুন, কীভাবে আল্লাহ মুমিনদের ক্ষেত্রে আগে ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "তিনি তাদের ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসে"; যেমন তিনি তাদের তওবা শুরু করেছেন এভাবে: "অতঃপর তিনি তাদের প্রতি দয়াপরবশ হলেন যেন তারা তওবা করতে পারে" [আত-তাওবাহ: ১১৮]। এমনকি তিনি তাদের সন্তুষ্টির বিষয়টিও আগে শুরু করেছেন এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট" [আল-মায়িদাহ: ১১৯]।
দ্বীনের ব্যাপারে যত্নশীল প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো—দ্বীনের কোনো বিষয়েই দলিলের ওপর যুক্তিকে প্রাধান্য না দেওয়া, তা মূলনীতি সংক্রান্ত বিষয় হোক কিংবা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিষয় হোক। উম্মাহর মাঝে বিভক্তি তখনই দেখা দিয়েছে যখন দলিলের ওপর যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যদি মহান আল্লাহ আমাদের কেবল যুক্তির মাধ্যমেই ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন, তবে কেন তিনি রাসূলদের পাঠালেন এবং কিতাবসমূহ নাজিল করলেন? সারকথা হলো, এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে আল্লাহকে ভালোবাসা যায়, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো..." এবং এটিও প্রমাণ করে যে আল্লাহ ভালোবাসেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন:
"তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন"। আপনারা কীভাবে অস্বীকার করেন যে আল্লাহ ভালোবাসেন, অথচ তিনি ভালোবাসার চেয়েও মহত্তর কিছু সাব্যস্ত করেছেন, বরং ভালোবাসার চূড়ান্ত পর্যায় তথা 'খুল্লাত' (গভীর বন্ধুত্ব) সাব্যস্ত করেছেন ইব্রাহিম ও মুহাম্মাদ (তাঁদের উভয়ের ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর জন্য। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ ইব্রাহিমকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন" [আন-নিসা: ১২৫]। ইনশাআল্লাহ 'খুল্লাত' বা গভীর বন্ধুত্ব নিয়ে আলোচনার সময় এটি বিস্তারিত আসবে।
দ্বিতীয় ফায়দা:যখন একদল লোক মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার দাবি করল, আর যেহেতু প্রত্যেকটি দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্য দলিলের প্রয়োজন হয়, তাই আল্লাহ এই দাবির সত্যতার জন্য—বরং আমি বলব এর বিনিময়ের জন্য—রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের শর্তারোপ করেছেন। যদি তাদের দাবি সত্য হয় তবে তারা তাঁর অনুসরণ করবে, অন্যথায় তারা অনুসরণ থেকে বিচ্যুত হবে। হাফেজ ইবনে কাসির (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই বরকতময় আয়াতটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য ফয়সালাকারী যে আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার দাবি করে অথচ সে মুহাম্মাদি পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; সে তার এই দাবিতে প্রকৃত অর্থে মিথ্যাবাদী যতক্ষণ না সে মুহাম্মাদি শরিয়ত ও নববী দ্বীনের অনুসরণ করে।"
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
في جميع أقواله وأفعاله وأحواله، كما ثبت في الصحيح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس فيه فهو ردّ» «1» ولهذا قال: «قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ» «2» . وفي الآية أن الشرط الوحيد لإثبات حب العبد لله، وما يترتب عليه من حب الله، هو الاتباع، فإن قال قائل: كيف يكون هو الشرط الوحيد، فالجواب من جهتين:
الجهة الأولى:أن النص الذي معنا هو النص الوحيد، الذي اشترط المتابعة لنيل حب الله عز وجل، ولو كان هناك شرط آخر، أو سبيل آخر للفوز بحب الله لبينه- سبحانه وتعالى.
الجهة الثانية:أن كل عمل يحب الله عامله، مثل إقامة الصلاة وبقية فروع الشريعة، لن يتقبله الله عز وجل إلا بمتابعة النبي صلى الله عليه وسلم بل المتابعة شرط لصحة هذا العمل، الذي يرتضيه الله عز وجل، ويرتب عليه الجزاء، ومن ذلك يتأكد لنا أن المتابعة هي الشرط الوحيد، لحب الله عز وجل، فلا غرابة في ذلك، وكفى ذلك تشريفا لسنته صلى الله عليه وسلم وتعظيما لأمر متابعته، وقد فهم الصحابة رضى الله عنهم ذلك، فلم يألوا جهدا في متابعته صلى الله عليه وسلم في كل ما أمر ونهى، بل تجاوزت المتابعة الأمر والنهي، فشملت عاداته التي قد لا تتصل بالشرع، كما ذكرت ذلك في مواضع كثيرة.
الفائدة الثالثة:يؤخذ من الآية الكريمة، أنه كلما كان الإنسان صادقا في حب الله عز وجل، كانت المتابعة عليه أسهل وأخف والعكس بالعكس.
الفائدة الرابعة:إذا كان شرفا لك أن تحب الله عز وجل، فإن الله يكافئك على هذا الحب (إذا اتبعت) بما هو أعظم من حبك، ألا وهو أن يحبك الله، وشتان بين الأمرين، وكما قالوا: ليس الشأن أن تحب ولكن الشأن أن تحب، وهل في الوجود أعظم من أن يحبك الله عز وجل، وهل يعذب الله أحدا يحبه، فتأمل ما يترتب على هذه المتابعة. على وما يترتب على المخالفة الظاهرة والباطنة.
الفائدة الخامسة:كما أن الناس يختلفون في متابعة النبي صلى الله عليه وسلم فكذلك يختلف حب الله لهم، فكلما قوي الاتباع قوى الحب، وكلما ضعف الاتباع ضعف الحب؛ لأن القاعدة:
(أنه إذا ارتبط الحكم بوصف معين، قوى الحكم كلما قوى الوصف) ، وهذا كثير في القرآن
--------------------------------------------
তাঁর সমস্ত কথা, কাজ ও অবস্থায়; যেমনটি সহিহ হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে এমন কিছুর সূচনা করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত» «১» এবং এই কারণেই তিনি বলেছেন: «বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন» «২» । আর এই আয়াতে এটি স্পষ্ট যে, আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা এবং এর ফলে আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের একমাত্র শর্ত হলো অনুসরণ, যদি কেউ প্রশ্ন করে: এটি কীভাবে একমাত্র শর্ত হতে পারে? তবে এর উত্তর দুই দিক থেকে:
প্রথম দিক:আমাদের সামনে বিদ্যমান এই উদ্ধৃতিটিই (নস) হলো একমাত্র দলিল, যা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর ভালোবাসা লাভের জন্য অনুসরণের শর্তারোপ করেছে। যদি আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার অন্য কোনো শর্ত বা পথ থাকত, তবে পবিত্র ও মহান আল্লাহ তা অবশ্যই বর্ণনা করতেন।
দ্বিতীয় দিক:প্রতিটি আমল যার আমলকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন, যেমন নামাজ কায়েম করা এবং শরিয়তের অন্যান্য শাখা-প্রশাখা, মহান আল্লাহ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ ব্যতীত কবুল করবেন না। বরং অনুসরণ হলো সেই আমলটি শুদ্ধ হওয়ার শর্ত যা মহান আল্লাহ পছন্দ করেন এবং যার ওপর তিনি প্রতিদান প্রদান করেন। এ থেকে আমাদের কাছে নিশ্চিত হয় যে, মহান আল্লাহর ভালোবাসার জন্য অনুসরণই একমাত্র শর্ত। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহর সম্মান ও তাঁর অনুসরণের আদেশের মহত্বের জন্য এটিই যথেষ্ট। সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম এটি বুঝতে পেরেছিলেন, তাই তাঁরা তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি আদেশ ও নিষেধের অনুসরণে কোনো ত্রুটি করেননি। এমনকি এই অনুসরণ কেবল আদেশ ও নিষেধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা তাঁর সেই অভ্যাসগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিল যা সরাসরি শরিয়তের সাথে সম্পর্কিত নাও হতে পারে, যেমনটি আমি অনেক স্থানে উল্লেখ করেছি।
তৃতীয় ফায়দা:এই সম্মানিত আয়াত থেকে গ্রহণ করা হয় যে, মানুষ মহান আল্লাহর ভালোবাসায় যত বেশি সত্যবাদী হবে, তাঁর অনুসরণ করা তার জন্য তত বেশি সহজ ও হালকা হবে এবং এর বিপরীত ক্ষেত্রেও তাই হবে।
চতুর্থ ফায়দা:যদি মহান আল্লাহকে ভালোবাসা আপনার জন্য সম্মানের বিষয় হয়, তবে আপনি যদি (তাঁর অনুসরণ করেন) তবে আল্লাহ আপনার এই ভালোবাসার প্রতিদান এমন কিছু দিয়ে দেবেন যা আপনার ভালোবাসার চেয়েও মহান; আর তা হলো আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসবেন। এই দুই বিষয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। যেমন বলা হয়ে থাকে: বিষয় এটি নয় যে আপনি ভালোবাসছেন, বরং আসল বিষয় হলো আপনাকে ভালোবাসা হচ্ছে। অস্তিত্ব জগতে মহান আল্লাহর ভালোবাসার চেয়ে বড় আর কী হতে পারে? আর আল্লাহ কি এমন কাউকে আজাব দেবেন যাকে তিনি ভালোবাসেন? সুতরাং এই অনুসরণের পরিণাম এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা করুন।
পঞ্চম ফায়দা:মানুষ যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়, তেমনি তাদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার ক্ষেত্রেও পার্থক্য হয়। অনুসরণ যত শক্তিশালী হবে, ভালোবাসাও তত শক্তিশালী হবে; আর অনুসরণ যত দুর্বল হবে, ভালোবাসাও তত দুর্বল হবে। কারণ নীতি হলো: (যখন কোনো বিধান একটি নির্দিষ্ট গুণের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তখন গুণটি যত শক্তিশালী হয়, বিধানটিও তত শক্তিশালী হয়)। কুরআনে এর বহু উদাহরণ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والسنة، ومثاله قوله- تعالى-: ذلِكَ الْكِتابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدىً لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْناهُمْ يُنْفِقُونَ [البقرة: 2، 3] ، فكلما قوي إيمان العبد بالغيب، وكان على الصلاة محافظا وللزكاة فاعلا، كان له نصيب أكثر من هدي القرآن، ورأى في القرآن من الآيات والهدايات ما لم ير غيره، وهذا مشاهد، وكلما كثرت الشبهات في قلب الإنسان، وانقاد لها ولم يجاهدها، بل دعا إليها، كان انتفاعه بهدايات القرآن أقل، حتى يصل إلى عدم الانتفاع بالكلية، بل يكون سماعه القرآن وبالا عليه، كما في قوله: قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدىً وَشِفاءٌ وَالَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ فِي آذانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى [فصلت: 44] ، فلا يرتاب أحد أن أناسا يسمعون القرآن فلا يؤمنون، بل يجادلون ويخاصمون ويجدون في كل آية شبهة، والله بعدله يجازيهم على ظلمهم لأنفسهم، وتكبرهم على الحق وتكذيبهم لأنبيائه، فيجعل على قلوبهم أغطية، وفي آذانهم صمما، فلا تتدبر القلوب موعظة، ولا تسمع الآذان نصحا، فسبحان الذي بيده قلوب العباد يقلبها كيف يشاء، يسمع أقوام ذكر الله عز وجل، فتوجل قلوبهم، وتخشع أبدانهم وتدمع عيونهم، قال- تعالى: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آياتُهُ زادَتْهُمْ إِيماناً وَعَلى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ [الأنفال: 2] ، ويسمع آخرون ذكر الله عز وجل، الذي تخشع له الجبال الصم، فتشمئز قلوبهم، قال- تعالى.: وَإِذا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَإِذا ذُكِرَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ إِذا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ [الزمر: 45] .
الفائدة السادسة:إن ادعى أحد أمامك، مهما كانت منزلته بين الناس، أنه يحب الله عز وجل، فلا تغتر بهذه الدعوى، إلا إذا رأيت منه حسن الاتباع، ولو مشى على الماء، وطار في السماء، كما قال الإمام الشافعي-رحمه الله تعالى-- ويبقى بعد ذلك الإخلاص في العمل، وهذا لا يعلمه إلا الله عز وجل، فو الله رأيت بعيني، رجلا يدعي أصحابه أن له من الكرامات ما لا يعد ولا يحصى، ويحفونه بكل أنواع الإجلال والإعظام، حتى إنهم أنكروا عليّ كيف أسلم عليه ولا أقبل يديه، وأنا لم أره من قبل، فلما سألته لماذا لا تحفّ شاربك، وقد تعدى شفتيك، ولماذا لا تقص أظافرك مع اتساخها الظاهر، ذكر لي أنها مقامات، فلنا نحن العوام مثل هذه الأمور الشكلية كما يعتقد، أما أصحاب الكرامات، فقد انشغلوا بما هو أعظم من ذلك، فبينت له ولهم، أن النبي صلى الله عليه وسلم صاحب المقام الشريف، هو الذي أمر بذلك، وأبلغنا أنها من سنن الفطرة، ويأثم المسلم بتركها، وذكرت له في معرض الجدال آية الباب، وأنها حجة عليه، فكاد أصحابه في المسجد أن يوقعوا بي، لولا
এবং সুন্নাহ; এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত। যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।" [আল-বাকারা: ২, ৩], সুতরাং যখনই অদৃশ্যের প্রতি বান্দার ঈমান মজবুত হয় এবং সে সালাত রক্ষাকারী ও যাকাত প্রদানকারী হয়, তখন সে কুরআনের হিদায়াত থেকে অধিকতর অংশ লাভ করে। সে কুরআনের মধ্যে এমন সব নিদর্শন ও পথনির্দেশ দেখতে পায় যা অন্য কেউ দেখতে পায় না; আর এটি প্রত্যক্ষ করা যায়। আর যখনই মানুষের অন্তরে সংশয় বৃদ্ধি পায় এবং সে তার অনুগত হয়ে পড়ে ও তার বিরুদ্ধে জিহাদ না করে বরং সেদিকে আহ্বান করে, তখন কুরআনের হিদায়াত দ্বারা তার উপকৃত হওয়ার হার কমে যায়। এমনকি তা সম্পূর্ণভাবে উপকৃত না হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যায়; বরং তার কুরআন শ্রবণ করা তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমনটি আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও শিফা (আরোগ্য)। আর যারা ঈমান আনে না, তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের জন্য অন্ধত্ব।" [ফুসসিলাত: ৪৪]। এতে কেউ সন্দেহ করবে না যে, কিছু মানুষ কুরআন শোনে কিন্তু ঈমান আনে না, বরং তারা বিতর্ক করে, বিবাদ করে এবং প্রতিটি আয়াতে সংশয় খুঁজে পায়। আর আল্লাহ তাঁর ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাদের নিজেদের ওপর জুলুম করা, সত্যের প্রতি অহংকার করা এবং তাঁর নবীদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে তাদের বিনিময় প্রদান করেন। ফলে তিনি তাদের অন্তরে আবরণ এবং কানে বধিরতা তৈরি করে দেন। ফলে অন্তর উপদেশ অনুধাবন করে না এবং কান নসিহত শোনে না। সুতরাং সেই সত্তা পবিত্র যাঁর হাতে বান্দাদের অন্তরসমূহ রয়েছে, তিনি তা যেভাবে ইচ্ছা পরিবর্তন করেন। কিছু কওম মহান আল্লাহর যিকির শোনে, ফলে তাদের অন্তর প্রকম্পিত হয়, তাদের দেহ বিনীত হয় এবং চোখ অশ্রুসজল হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "মুমিন তো তারাই, যখন আল্লাহর যিকির করা হয় তখন তাদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হয় এবং যখন তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে।" [আল-আনফাল: ২]। আবার অন্য কিছু লোক মহান আল্লাহর যিকির শোনে—যার সামনে সুদৃঢ় পাহাড়সমূহও বিনীত হয়ে যায়—কিন্তু তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে পড়ে। মহান আল্লাহ বলেন: "যখন একাকী আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়। আর যখন আল্লাহ ছাড়া অন্যদের নাম নেওয়া হয়, তখন তারা আনন্দিত হয়।" [আয-যুমার: ৪৫] ।
ষষ্ঠ ফায়দা:যদি তোমার সামনে কেউ দাবি করে—মানুষের কাছে তার মর্যাদা যতই হোক না কেন—যে সে মহান আল্লাহকে ভালোবাসে, তবে এই দাবিতে প্রতারিত হয়ো না, যতক্ষণ না তুমি তার মধ্যে উত্তম অনুসরণ দেখতে পাও; এমনকি সে যদি পানির ওপর দিয়ে হাঁটে এবং আকাশে ওড়েও, যেমনটি ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন। এরপর বাকি থাকে আমলে ইখলাস, যা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। আল্লাহর শপথ, আমি নিজের চোখে এমন এক ব্যক্তিকে দেখেছি যার সম্পর্কে তার সাথীরা দাবি করত যে তার অগণিত কারামত রয়েছে এবং তারা তাকে সব ধরণের শ্রদ্ধা ও সম্মানে ভূষিত করত। এমনকি তারা আমার ওপর আপত্তি তুলল যে, কীভাবে আমি তাকে কেবল সালাম দিচ্ছি কিন্তু তার হাত চুম্বন করছি না, অথচ আমি তাকে আগে কখনও দেখিনি। অতঃপর আমি যখন তাকে জিজ্ঞেস করলাম, কেন আপনি আপনার গোঁফ ছেঁটে ছোট করছেন না অথচ তা আপনার ঠোঁট ছাড়িয়ে গেছে, এবং কেন আপনি আপনার নখ কাটছেন না অথচ তাতে প্রকাশ্য ময়লা জমে আছে? তখন সে আমাকে বলল যে এগুলো হলো মাকাম (স্তর)। তার বিশ্বাস মতে, আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য এই বাহ্যিক বিষয়গুলো প্রযোজ্য; কিন্তু যারা কারামতের অধিকারী তারা এর চেয়েও মহান কিছুতে নিমগ্ন থাকেন। তখন আমি তাকে ও তাদেরকে স্পষ্ট করে দিলাম যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যিনি অতি সম্মানিত মাকামের অধিকারী, তিনিই এসবের নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদের জানিয়েছেন যে এগুলো ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত সুন্নাহ, আর এগুলো ত্যাগ করলে একজন মুসলিম গুনাহগার হয়। তর্কের খাতিরে আমি তাকে এই পরিচ্ছেদের আয়াতটি উল্লেখ করলাম এবং বললাম এটি তার বিরুদ্ধে হুজ্জত (দলিল)। ফলে মসজিদের মধ্যে তার সাথীরা আমার ওপর আক্রমণ করতে উদ্যত হলো, যদি না
(খণ্ড: ১)
শামায়েলুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أنه أمرهم بالترفق بي بحجة جهلي بمقاماتهم، وما أنعم الله عليهم من العلوم والفهوم.
وأقول: إن الذي شغلهم عن الاتباع، في أمر مثل سنن الفطرة، هو الشيطان، واتباع الهوى، فإنه مصدر كل ردى. وبلوى كل من غوى، فسبحان الذي بيّن طريق الهدى، فقال: قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ. فليس بعد ذلك البيان بيان.
الفائدة السابعة:لم يعد الله عز وجل المتبعين للسنة بمحبته فقط، وإن كان فيها الكفاية والوقاية، بل زاد على ذلك مغفرة الذنوب وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ [آل عمران: 31] ، فماذا بقى، فسينال العبد المطلوب بحب الله إياه، ويأمن من المرهوب بمغفرة الذنوب، فتأمل كيف كان في الاتباع كل خير، وفي الابتداع كل شر، ومن المهم أن نشير هنا إلى أن المسلم قد يجد حلاوة، عند القيام ببدعة، خاصة فيما يتعلق بالذكر الممنوع شرعا، الذي يحتوي على ألفاظ وحركات لم ترد في السنة، يكون فيها الرجل أشبه بالسكران، ويقولون: إن هذا هو الوجد، الذي لا تشعر به، إلا بمثل هذا الذكر، والذي قد يصاحبه طبل ومزمار، فكيف تنكرون هذا الذكر؟ مع عظيم ما يشعر به المتلبس من روحانيات وقرب من الله عز وجل، يسميها البعض الجذب والفناء، وما أشبه ذلك من الألفاظ التي لم ترد في الآيات المنزلة، ولا في السنة المطهرة، والإجابة على كل هذه الأسئلة سهلة، بعون الله- تعالى.، الذي أبان كل حق وأبطل كل باطل.
فأقول: إنّ ما تفعلونه ليس عليه دليل من سنة النبي صلى الله عليه وسلم التي أمرتم باتباعها، وجعل الله عز وجل اتباعها شرطا في محبته. فإن قالوا: هى من السنة.
قلت لهم: قال- سبحانه وتعالى لكل مبطل أو مدّع: قُلْ هاتُوا بُرْهانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ [البقرة: 111] وحيث لا دليل على هذا الذكر، علم كذبكم على النبي صلى الله عليه وسلم.
فإن قالوا: لم تأت به السنة، ولكن فيه خير كثير، وما المانع إن كان هذا يقربنا إلى الله زلفى.
قلت: قولكم: لم تأت به السنة، حجة عليكم لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال في الحديث المتفق عليه: عن عائشة- رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من أحدث في أمرنا هذا ما ليس فيه فهو ردّ» «1» . أي مردود على صاحبه، لن يقبله الله عز وجل.
أما قولكم: فيه خير كثير، فهذا طعن في نبيكم صلى الله عليه وسلم فكيف يكون خيرا ولم يدلنا عليه صلى الله عليه وسلم قبل موته؟! فإن كان يعلم أنه خير ولم يبلّغه، فقد اتهمتموه بعدم البلاغ، وكتمان
--------------------------------------------
যে তিনি তাঁদেরকে আমার প্রতি নম্রতা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছিলেন এই অজুহাতে যে, আমি তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং আল্লাহ তাঁদেরকে যে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন তা সম্পর্কে অজ্ঞ।
আমি বলি: স্বভাবজাত সুন্নাতের (সুনানুল ফিতরাত) মতো বিষয়ে যারা তাঁদেরকে অনুসরণ থেকে বিরত রেখেছে, তা হলো শয়তান এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ; কেননা এটিই সকল ধ্বংসের উৎস এবং প্রত্যেক পথভ্রষ্টের পরীক্ষার কারণ। সেই সত্তা পবিত্র যিনি হিদায়াতের পথ স্পষ্ট করেছেন, তিনি বলেছেন: বলুন: তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন। এই বর্ণনার চেয়ে স্পষ্ট বর্ণনা আর কিছু হতে পারে না।
সপ্তম ফায়দা:মহান আল্লাহ সুন্নাহর অনুসারীদের কেবল তাঁর ভালোবাসারই প্রতিশ্রুতি দেননি—যদিও তা যথেষ্ট এবং সুরক্ষাস্বরূপ ছিল—বরং এর সাথে পাপ মোচনের অতিরিক্ত পুরস্কারও যুক্ত করেছেন: এবং তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন [আল-ইমরান: ৩১]। এর পর আর কী বাকি থাকে? বান্দা আল্লাহর ভালোবাসার মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করবে এবং পাপ মোচনের মাধ্যমে ভীতিপ্রদ বিষয় থেকে নিরাপদ থাকবে। সুতরাং চিন্তা করে দেখুন, অনুসরণের (ইত্তিবা) মধ্যে কীভাবে সকল কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং বিদআতের মধ্যে সকল অকল্যাণ। এখানে এটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, একজন মুসলিম বিদআত পালনের সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাদ বা মিষ্টতা অনুভব করতে পারে, বিশেষ করে শরয়িভাবে নিষিদ্ধ যিকিরের ক্ষেত্রে, যাতে এমন সব শব্দ ও অঙ্গভঙ্গি থাকে যা সুন্নাহতে বর্ণিত হয়নি। এতে মানুষ অনেকটা মাতালের মতো হয়ে যায় এবং তারা বলে: এটিই হলো ‘ওয়াজদ’ (ভাবাবেগ), যা এই ধরনের যিকির ছাড়া অনুভব করা যায় না; যার সাথে অনেক সময় ঢোল ও বাঁশিও থাকে। (তারা প্রশ্ন করে:) তবে কেন আপনারা এই যিকির অস্বীকার করেন? অথচ এতে লিপ্ত ব্যক্তি আধ্যাত্মিকতা ও মহান আল্লাহর নৈকট্যের এক বিশাল অনুভূতি লাভ করে, যাকে কেউ কেউ ‘জাযব’ এবং ‘ফানা’ বলে অভিহিত করে, এবং এমন সব শব্দ ব্যবহার করে যা না অবতীর্ণ আয়াতে এসেছে, না পবিত্র সুন্নাহতে। এই সকল প্রশ্নের উত্তর অত্যন্ত সহজ, আল্লাহর সাহায্যে, যিনি সত্যকে স্পষ্ট করেছেন এবং সকল বাতিলকে অসার প্রতিপন্ন করেছেন।
আমি বলি: আপনারা যা করছেন তার সপক্ষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে কোনো দলিল নেই, যে সুন্নাহ অনুসরণের আদেশ আপনাদের দেওয়া হয়েছে এবং যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ভালোবাসার শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। যদি তারা বলে: এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।
আমি তাদের বলি: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রত্যেক বাতিলপন্থী বা মিথ্যা দাবিদারের উদ্দেশ্যে বলেছেন: তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো [আল-বাকারাহ: ১১১]। যেহেতু এই যিকিরের কোনো দলিল নেই, সেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে আপনাদের মিথ্যাচার প্রমাণিত হলো।
যদি তারা বলে: সুন্নাহতে এটি আসেনি ঠিকই, কিন্তু এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে; আর এটি যদি আমাদের আল্লাহর অতি নিকটে পৌঁছে দেয় তবে তাতে বাধা কোথায়?
আমি বলি: আপনাদের এই কথা—'সুন্নাহতে এটি আসেনি'—এটি আপনাদের বিরুদ্ধেই একটি প্রমাণ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদিসে বলেছেন: আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত» (১)। অর্থাৎ তা সম্পাদনকারীর ওপর ফিরিয়ে দেওয়া হবে, মহান আল্লাহ তা কবুল করবেন না।
আর আপনাদের এই দাবি যে—'এতে অনেক কল্যাণ রয়েছে'—এটি আপনাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি এক প্রকার অপবাদ। কেননা এটি যদি কল্যাণকরই হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুর পূর্বে কেন আমাদের এর নির্দেশনা দিলেন না?! যদি তিনি জানতেন যে এটি কল্যাণকর কিন্তু তা প্রচার করেননি, তবে আপনারা তাঁর ওপর রিসালাত পূর্ণাঙ্গভাবে না পৌঁছানো এবং তা গোপন করার অভিযোগ তুলছেন।
--------------------------------------------