(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: -)
غريب القرآن لابن قتيبة ت سعيد اللحام   (ابن قتيبة)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: غريب القرآن لابن قتيبة

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري (ت 276هـ)

المحقق: سعيد اللحام

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 479

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে কুতায়বাহ রচিত গারিবুল কুরআন, তাহকিক: সাঈদ আল-লাহহাম   (ইবনে কুতায়বাহ)

বিভাগ: কুরআনুল কারীমের বিজ্ঞান এবং তাফসীরের মূলনীতি


বই: ইবনে কুতায়বাহ রচিত গারিবুল কুরআন

লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতায়বাহ আদ-দিনাওয়ারী (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি)

গবেষক: সাঈদ আল-লাহহাম

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৯

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌ابن قتيبة

أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدّينوري، وقيل المروزي، النحوي اللغوي صاحب كتاب «المعارف» و «أدب الكاتب» ، كان فاضلا ثقة، سكن بغداد وحدث بها عن إسحاق بن راهوية وأبي إسحاق إبراهيم بن سفيان بن سليمان بن أبي بكر بن عبد الرحمن بن زياد بن أبيه الزيادي وأبي حاتم السجستاني وتلك الطبقة، وروى عنه ابنه أحمد وابن درستويه الفارسي، وتصانيفه كلها مفيدة، منها ما تقدم ذكره، ومنها «غريب القرآن الكريم» و «غريب الحديث» و «عيون الأخبار» و «مشكل القرآن» و «مشكل الحديث» و «طبقات الشعراء» و «الأشربة» و «إصلاح الغلط» و «كتاب التقفية» و «كتاب الخيل» و «كتاب إعراب القراءات» و «كتاب الأنواء» و «كتاب المسائل والجوابات» و «كتاب الميسر والقداح» وغير ذلك. وأقرأ كتبه ببغداد إلى حين وفاته، وقيل إن أباه مروزي، وأما هو فمولده ببغداد، وقيل بالكوفة، وأقام بالدّينور مدة قاضيا فنسب إليها.

وكانت ولادته سنة ثلاث عشرة ومائتين، وتوفي في ذي القعدة سنة سبعين، وقيل سنة إحدى وسبعين، وقيل أول ليلة في رجب، وقيل منتصف رجب سنة ست وسبعين ومائتين، والأخير أصح الأقوال، وكانت وفاته فجأة،
ইবনে কুতাইবা

আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারি, এবং বলা হয় আল-মারওয়াজি; তিনি ছিলেন একজন ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদ, ‘আল-মাআরিফ’ এবং ‘আদাবুল কাতিব’ গ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা। তিনি অত্যন্ত গুণী ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানে ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি, আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে সুফিয়ান ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ ইবনে আবিহি আজ-যিয়াদি, আবু হাতিম আস-সিজিস্তানি এবং সেই স্তরের ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট থেকে তাঁর পুত্র আহমদ এবং ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ আল-ফারিসি বর্ণনা করেছেন। তাঁর সকল রচনাবলি অত্যন্ত উপকারী; সেগুলোর মধ্যে কিছু পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, আর অন্যান্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘গারিবুল কুরআনিল কারিম’, ‘গারিবুল হাদিস’, ‘উয়ুনুল আখবার’, ‘মুশকিলুল কুরআন’, ‘মুশকিলুল হাদিস’, ‘তাবাকাতুশ শুআরা’, ‘আল-আশরিবাহ’, ‘ইসলাহুল গালাত’, ‘কিতাবুত তাকফিয়াহ’, ‘কিতাবুল খাইল’, ‘কিতাবুল ইরাবিল কিরাআত’, ‘কিতাবুল আনওয়া’, ‘কিতাবুল মাসাইল ওয়াল জাওয়াবাত’, ‘কিতাবুল মায়সির ওয়াল কাদাহ’ ইত্যাদি। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত বাগদাদে তাঁর কিতাবসমূহ পাঠ দান করতেন। বলা হয় যে, তাঁর পিতা ছিলেন মার্ভের অধিবাসী, কিন্তু তাঁর নিজের জন্ম বাগদাদে, অন্য মতে কুফায়। তিনি দিনাওয়ারে দীর্ঘকাল বিচারক (কাজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যার ফলে তাঁর নিসবত দিনাওয়ারের দিকে করা হয়।

তাঁর জন্ম হয়েছিল দুইশত তেরো হিজরি সনে এবং তিনি দুইশত সত্তর হিজরির যিলকদ মাসে মৃত্যুবরণ করেন। মতান্তরে এটি দুইশত একাত্তর হিজরি সাল। আবার বলা হয়, দুইশত ছিয়াত্তর হিজরির রজব মাসের প্রথম রাতে, অন্য মতে রজব মাসের মধ্যভাগে; শেষোক্ত মতটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ। তাঁর মৃত্যু ছিল আকস্মিক।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ৪)
صاح صيحة سمعت من بعد ثم أغمي عليه ومات، وقيل أكل هريسة فأصابه حرارة ثم صاح صيحة شديدة ثم أغمي عليه إلى وقت الظهر ثم اضطرب ساعة ثم هدأ فما زال يتشهد إلى وقت السحر، ثم مات رحمه الله تعالى.

وقتيبة: بضم القاف وفتح التاء المثناة من فوقها وسكون الياء المثناة من تحتها وبعدها باء موحدة ثم هاء ساكنة، وهي تصغير قتبة بكسر القاف، وهي واحدة الأقتاب، والأقتاب: الأمعاء، وبها سمي الرجل، والنسبة إليه قتبيّ.

والدّينوري: بكسر الدال المهملة، وقال السمعاني بفتحها وليس بصحيح، وبسكون الياء المثناة من تحتها وفتح النون والواو وبعدها راء، هذه النسبة إلى دينور، وهي بلدة من بلاد الجبل عند قرميسين خرج منها خلق كثير.
তিনি এমন এক চিৎকার দিলেন যা দূর থেকে শোনা গেল, অতঃপর তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লেন এবং ইন্তেকাল করলেন। বলা হয় যে, তিনি হারিসা খেয়েছিলেন যার ফলে তাঁর শরীরে উত্তাপ সৃষ্টি হয়, এরপর তিনি এক তীব্র চিৎকার দেন এবং যোহরের ওয়াক্ত পর্যন্ত মূর্ছিত থাকেন। অতঃপর কিছুক্ষণ ছটফট করার পর স্থির হন এবং সাহরির সময় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে কালিমা শাহাদাত পাঠ করতে থাকেন; এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

কুতাইবাহ: ক্বফ বর্ণে পেশ (যম্মাহ), তার ওপরের দুই নুক্তাবিশিষ্ট তা বর্ণে যবর (ফাতহা), নিচের দুই নুক্তাবিশিষ্ট ইয়া বর্ণে সুকুন, এরপর এক নুক্তাবিশিষ্ট বা এবং শেষে সাকিন হা। এটি ক্বফ বর্ণে যের (কাসরা) বিশিষ্ট 'কিতবাহ' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যা 'আকতাব' শব্দের একবচন। আর আকতাব অর্থ হলো অন্ত্র; এর নামানুসারেই এই ব্যক্তির নামকরণ করা হয়েছে। তাঁর প্রতি সম্বন্ধ নির্দেশক শব্দ হলো কুতাইবি।

আদ-দিনাওয়ারি: নুক্তাবিহীন দাল বর্ণে যের (কাসরা) যোগে। সামআনি একে যবর (ফাতহা) যোগে পড়েছেন, তবে তা সঠিক নয়। এরপর নিচের দুই নুক্তাবিশিষ্ট ইয়া বর্ণে সুকুন, নুন ও ওয়াও বর্ণে যবর এবং শেষে রা বর্ণ। এই নিসবত বা সম্বন্ধটি দিনাওয়ারের দিকে, যা কারমিসিন সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার একটি শহর; যেখান থেকে বহু সংখ্যক গুণীজন বের হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تقديم

الحمد لله الواحد الأحد الحي الصمد، نحمده سبحانه وتعالى الحمد كله ونستغفره ونستعينه فهو أهل الحمد وأهل المغفرة.

ونشهد أن محمدا عبده ونبيه الأمي الأمين خاتم الأنبياء والمرسلين.

وبعد، هذا كتاب تفسير غريب القرآن للإمام ابن قتيبة وهو تتمة وإكمال لكتابه تأويل مشكل القرآن.

اللفظ الغريب هو في حقيقة الأمر من غامض المشكل الذي عمل ابن قتيبة رحمه الله وأدخله فسيح جناته، على توضيحه وإزالة إبهامه ليكون قريبا من الأفهام.

وقد أفرد الغريب في كتاب مستقل رغبة عن الإطالة في شرح المشكل ولأن بعض القراء من المتخصصين والباحثين قد يكون على علم وفهم بالمشكل إنما يستعصي عليه فهم بعض الغريب ولهذا فقد جعل المشكل في كتاب مستقل والغريب في كتاب آخر فيجد الباحث والقارئ حاجته دون طويل بحث في كتاب واسع يجمع الموضوعين معا بين دفتيه.
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, অদ্বিতীয়, চিরঞ্জীব ও অমুখাপেক্ষী; আমরা পবিত্র ও মহান আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা ও সাহায্য প্রার্থনা করি, কারণ তিনিই প্রশংসার যোগ্য এবং ক্ষমার আধার।

আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ তাঁর বান্দা এবং তাঁর উম্মী ও বিশ্বস্ত নবী, যিনি নবী ও রাসূলগণের সিলমোহর (সর্বশেষ নবী)।

অতঃপর, এটি ইমাম ইবনে কুতায়বাহ রচিত ‘তাফসীরু গারীবিল কুরআন’ গ্রন্থ, যা তাঁর ‘তাউয়ীলু মুশকিলিল কুরআন’ গ্রন্থের পরিশিষ্ট ও পূর্ণতা স্বরূপ।

প্রকৃতপক্ষে ‘গারীব’ বা অপরিচিত শব্দাবলি সেই দুর্বোধ্য জটিলতারই অংশ, যা ইমাম ইবনে কুতায়বাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে প্রবেশ করান) স্পষ্ট করার এবং তার অস্পষ্টতা দূর করার প্রয়াস পেয়েছেন, যেন তা বুঝা সহজ হয়।

তিনি ‘গারীব’ শব্দাবলিকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলিত করেছেন যাতে ‘মুশকিল’ বা জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা দীর্ঘায়িত না হয়; কেননা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক পাঠকদের কেউ কেউ হতে পারে ‘মুশকিল’ বা জটিল বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত ও সম্যক জ্ঞানী, কিন্তু কিছু ‘গারীব’ শব্দ বোঝা তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। এই কারণে তিনি ‘মুশকিল’ অংশকে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে এবং ‘গারীব’ অংশকে অন্য একটি গ্রন্থে বিন্যস্ত করেছেন, যাতে গবেষক ও পাঠক একই মলাটের ভেতরে দুটি বিষয় একত্রিত সংবলিত বিশাল কোনো গ্রন্থে দীর্ঘ অনুসন্ধান ছাড়াই তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পেতে পারেন।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد أوضح الإمام هدفه في هذا الكتاب في المقدمة التي بدأ بها بحثه فقال:

«وغرضنا الذي امتثلناه في كتابنا هذا أن نختصر ونكمل وأن نوضح ونجمل، وأن لا نستشهد على اللفظ المبتذل» ثم تابع بعد هذا قوله: «وأن لا نحشو كتابنا بالنحو وبالحديث والأسانيد» .

من هنا نرى أن الإمام لم يلجأ كبعض المتقدمين إلى نقل حديث السلف في التفسير بألفاظه عينها ثم محاولة تفسير هذا التفسير لأن هذا باب يقود إلى التطويل والاستفاضة والاستغراق في كثير من الأحيان في أبحاث لغوية أو مناقشات للأسانيد لا يحتاج إليها القارئ الطالب للمعرفة والفهم لغريب القرآن هذا من جهة ومن جهة ثانية فإن من يريد الإطلاع على هذه المواضيع بعينها وكما هي فما عليه إلّا العودة إلى كتب السلف ليجدها جاهزة حاضرة كاملة غير مجتزأة كما هي في الكتب التي أخذت عنها فصولا ومقاطع وجملا ثم أضافت إليها من مصادر أخرى ما يقابلها أو يخالفها أو يؤيدها من الأقوال.

هذا بالإضافة إلى أن كتاب تفسير غريب القرآن للإمام ابن قتيبة حافظ على منهجية الساق في البحث ولم يخرج عن حدود معانيهم فهو مستنبط من كتب التفسير وكتب أصحاب اللغة العالمين بها، لا تكلف فيه ولا استغراق.

لقد سبق الإمام ابن قتيبة في تأويل غريب القرآن وتفسيره أئمة كثر منهم:

1- آبان بن تغلب.

2- نورج بن عمر السدوسي.

3- النضر بن شميل.

4- محمد بن المستنير الشهير بقطرب.

5- يحيى بن زياد الشهير بالفراء.

6- أبو عبيدة معمر بن المثنى.

7- القاسم بن سلام.

8- الأخفش.

9- الكسائي.

وسواهم.
ইমাম তাঁর এই কিতাবের লক্ষ্য সেই ভূমিকাতে স্পষ্ট করেছেন যা দিয়ে তিনি তাঁর গবেষণা শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন:

«আমাদের এই কিতাবে আমরা যে লক্ষ্য অনুসরণ করেছি তা হলো সংক্ষিপ্ত করা এবং পূর্ণতা দেওয়া, আর স্পষ্ট করা ও সংক্ষেপ করা, এবং অতি প্রচলিত বা সাধারণ শব্দের ওপর প্রমাণ উপস্থাপন না করা» এরপর তিনি তাঁর কথা চালিয়ে নিয়ে বলেন: «এবং আমাদের কিতাবকে ব্যাকরণ, হাদিস ও সনদসমূহ দিয়ে ভারাক্রান্ত না করা»।

এখান থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ইমাম পূর্ববর্তীদের কারো কারো মতো তাফসীরের ক্ষেত্রে সালাফদের বর্ণিত হাদিস হুবহু শব্দে উদ্ধৃত করে পুনরায় সেই তাফসীরের ব্যাখ্যা করার পথে হাঁটেননি। কারণ এটি এমন এক পথ যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা, অতিবিস্তার এবং ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণা বা সনদের পর্যালোচনার গভীরে নিমজ্জিত করে, যার প্রয়োজন সেই পাঠকের নেই যে কুরআনের কঠিন শব্দাবলির (গারীবুল কুরআন) জ্ঞান ও উপলব্ধি অন্বেষণ করছে। এটি যেমন এক দিক, তেমনি দ্বিতীয় দিক হলো, যে ব্যক্তি এই বিষয়গুলো হুবহু যেভাবে আছে সেভাবে জানতে চায়, তার উচিত সালাফদের মূল কিতাবগুলোর দিকে ফিরে যাওয়া। সেখানে সে বিষয়গুলো প্রস্তুত, উপস্থিত এবং পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অবিকৃতভাবে পাবে, ঠিক যেমনটি সেই মূল কিতাবগুলোতে রয়েছে যেখান থেকে বিভিন্ন অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ও বাক্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য উৎস থেকে সেগুলোর সমান্তরাল, বিপরীত বা সমর্থক বক্তব্য যোগ করা হয়েছে।

এর সাথে সাথে ইমাম ইবনে কুতায়বার 'তাফসীরু গারীবিল কুরআন' কিতাবটি গবেষণার ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের ধারা বজায় রেখেছে এবং তাঁদের অর্থের সীমা অতিক্রম করেনি। এটি মূলত তাফসীরের কিতাবসমূহ এবং অভিজ্ঞ ভাষাবিদদের কিতাব থেকে চয়ন করা হয়েছে, যাতে কোনো কৃত্রিমতা বা অতিরঞ্জন নেই।

কুরআনের কঠিন শব্দাবলির (গারীবুল কুরআন) ব্যাখ্যা ও তাফসীরের ক্ষেত্রে ইমাম ইবনে কুতায়বার পূর্বে আরও অনেক ইমাম গত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১- আবান ইবনে তাগলিব।

২- নাওরাজ ইবনে উমর আস-সাদূসী।

৩- আন-নাদর ইবনে শুমাইল।

৪- মুহাম্মদ ইবনে আল-মুস্তানীর, যিনি কুতরুব নামে পরিচিত।

৫- ইয়াহইয়া ইবনে যিয়াদ, যিনি আল-ফাররা নামে পরিচিত।

৬- আবু উবাইদাহ মা'মার ইবনুল মুসান্না।

৭- আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম।

৮- আল-আখফাশ।

৯- আল-কিসায়ী।

এবং আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد اعتمد الإمام ابن قتيبة على كتب السابقين وبالأخص كتاب «معاني القرآن» للفراء وكذلك كتاب معمر بن المثنى (أبو عبيدة) «مجاز القرآن» بل إنه نقل في بعض المواضع شرحهما بلفظه دون تعديل أو تغيير.

ولقد عمل الشيخ إبراهيم رمضان على المقارنة بين النسخ العديدة المطبوعة منه لضبط الاختلاف في بعض الكلمات كما تمّ ضبط آي القرآن الكريم على رواية حفص بن عاصم رضي الله عنه.

وشرح بعض المعاني والكلمات التي صارت بالنسبة للأجيال المعاصرة غريبة قليلة الاستعمال.

كما خرّج الأحاديث التي استشهد بها الإمام ابن قتيبة على كتب الصحاح وترجم لرواتها وناقليها عند اللزوم.

وإن اختلفت الرواية المذكورة في المتن مع رواية الصحاح للحديث، ذكر الحديث في الهامش كما أوردته كتب الصحاح.

وفيما حال اعتمد ابن قتيبة على رواية للآية غير رواية حفص أشار إليها ومن أي القراءات هي ليكون القارئ على بينة فلا يظن أن هذا الاختلاف ناتج عن خطأ طباعي.

وأخيرا، نرجو عزيزي القارئ أن يكون في تقديم هذا الكتاب إليك فائدة نأمل دائما أن تحصل عليها وذلك لما فيه خير دنيانا ودنياك وآخرتنا وآخرتك، فوفقنا وإياك وهدانا وهداك سواء السبيل إنه نعم المولى ونعم النصير.

سعيد اللحام
ইমাম ইবনে কুতায়বাহ পূর্বসূরিদের গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন, বিশেষ করে আল-ফাররার ‘মাআনী আল-কুরআন’ এবং মুয়াম্মার ইবনে আল-মুসান্না (আবু উবাইদাহ)-এর ‘মাজায আল-কুরআন’ গ্রন্থের ওপর; এমনকি তিনি কিছু কিছু স্থানে তাদের ব্যাখ্যাকে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন ছাড়াই হুবহু উদ্ধৃত করেছেন।

শায়খ ইবরাহিম রামাদান এই গ্রন্থের বিভিন্ন মুদ্রিত সংস্করণের মধ্যে তুলনা করার কাজ করেছেন যাতে কিছু শব্দের পাঠভেদ নিরসন করা যায়। পাশাপাশি পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহকে হাফস আন আসিম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর রেওয়ায়াত অনুযায়ী বিন্যস্ত করা হয়েছে।

তিনি এমন কিছু অর্থ ও শব্দের ব্যাখ্যা করেছেন যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে অপরিচিত এবং যার ব্যবহার বর্তমানে বিরল।

এছাড়াও তিনি ইমাম ইবনে কুতায়বাহ যেসব হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন সেগুলো সিহাহর গ্রন্থসমূহ হতে উৎস নির্দেশ করেছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর রাবী ও বর্ণনাকারীদের সংক্ষিপ্ত জীবনী উল্লেখ করেছেন।

যদি মূল পাঠে উল্লেখিত বর্ণনাটি সিহাহর হাদীসের বর্ণনার সাথে ভিন্নতর হয়, তবে তিনি টীকায় হাদীসটিকে সিহাহর গ্রন্থসমূহে যেভাবে এসেছে সেভাবে উল্লেখ করেছেন।

যে সকল ক্ষেত্রে ইবনে কুতায়বাহ হাফসের রেওয়ায়াত ব্যতীত আয়াতের অন্য কোনো পাঠরীতির ওপর নির্ভর করেছেন, তিনি সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং সেটি কোন কেরাআত থেকে নেওয়া তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাতে পাঠক এ বিষয়ে অবগত থাকেন এবং এই ভিন্নতাকে যেন মুদ্রণজনিত ভুল মনে না করেন।

পরিশেষে, হে প্রিয় পাঠক, আমরা আশা করি যে আপনার নিকট এই গ্রন্থটি উপস্থাপনের মাধ্যমে এমন উপকারিতা অর্জিত হবে যা আমরা সর্বদা প্রত্যাশা করি। কারণ এতে আমাদের ও আপনার ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে তাওফিক দান করুন এবং আমাদের ও আপনাকে সরল পথ প্রদর্শন করুন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।

সাঈদ আল-লাহহাম
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم قال عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري «1» :

نفتتح كتابنا هذا بذكر أسمائه الحسنى، وصفاته العلا، فنخبر بتأويلهما واشتقاقهما، ونتبع ذلك ألفاظا كثر تردادها في الكتاب لم نر بعض السّور أولى بها من بعض، ثم نبتدىء في تفسير غريب القرآن، دون تأويل مشكله: إذ كنا قد أفردنا للمشكل كتابا جامعا كافيا، بحمد الله.

--------------------------------------------

(1) هو الإمام أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري وقيل المروزي الإمام النحوي اللغوي صاحب كتاب المعارف وأدب الكاتب وغريب القرآن ومشكل الحديث وطبقات الشعراء واعراب القرآن وكتاب الميسر والقداح وغيرها، وكان فاضلا ثقة، سكن بغداد وحدث بها عن ابن راهويه وطبقته، روى عنه ابن أحمد وابن درستويه وكان موته فجأة. قال ابن خلكان: كان فاضلا ثقة سكن بغداد وحدث بها عن إسحق بن راهوية وأبي إسحق إبراهيم بن سعيد بن سليمان بن أبي بكر بن عبد الرحمن بن زياد وأبي حاتم السجستاني وتلك الطبقة، وتصانيفه كلها مفيدة منها غريب القرآن وغريب الحديث وعيون الأخبار، ومشكل القرآن ومشكل الحديث وطبقات الشعراء والأشربة وإصلاح الغلط وغير ذلك وأقرأ كتبه ببغداد إلى حين وفاته، وقيل أن أباه مرزوي، أما هو فمولده ببغداد وقيل بالكوفة وأقام بالدينور قاضيا مدة فنسب إليها، وكانت ولادته سنة ثلاث عشرة ومائتين. توفي سنة ست وسبعين ومائتين. (انظر شذرات الذهب ص 169 ج 2) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারী (১) বলেন:

আমরা আমাদের এই গ্রন্থটি তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলির আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি; অতঃপর আমরা সেগুলোর ব্যাখ্যা ও ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে অবহিত করব। এর পরে আমরা এমন কিছু শব্দের অনুসরণ করব যেগুলোর কুরআনে প্রচুর পুনরাবৃত্তি হয়েছে এবং আমরা কোনো কোনো সূরাকে সেগুলোর জন্য অন্য সূরার চেয়ে বেশি অগ্রাধিকারযোগ্য মনে করিনি। এরপর আমরা কুরআনের জটিল বা অপরিচিত শব্দাবলির ব্যাখ্যা শুরু করব, তবে অস্পষ্ট বা সমস্যাপূর্ণ আয়াতের ব্যাখ্যা করব না; কারণ আমরা আল্লাহর প্রশংসায় অস্পষ্ট বা সমস্যাপূর্ণ বিষয়াবলির জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পর্যাপ্ত গ্রন্থ পৃথকভাবে রচনা করেছি।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতায়বা আদ-দিনাওয়ারী, আর বলা হয় আল-মারওয়াযী। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, ব্যাকরণবিদ এবং ভাষাবিদ; তিনি আল-মাআরিফ, আদাবুল কাতিব, গারীব আল-কুরআন, মুশকিলুল হাদীস, তাবাকাতুশ শুআরা, ইরাবুল কুরআন এবং কিতাবুল মায়সার ওয়াল কদাহ সহ আরও অনেক গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পণ্ডিত ও নির্ভরযোগ্য। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানে ইবনে রাহওয়ায়হ ও তাঁর সমসাময়িকদের কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর কাছ থেকে ইবনে আহমদ এবং ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মৃত্যু ছিল আকস্মিক। ইবনে খাল্লিকান বলেন: তিনি অত্যন্ত পণ্ডিত ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন, বাগদাদে বসবাস করতেন এবং সেখানে ইসহাক বিন রাহওয়ায়হ, আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন সাঈদ বিন সুলায়মান বিন আবু বকর বিন আবদুর রহমান বিন যিয়াদ, আবু হাতিম আস-সিজিস্তানী এবং তাঁদের সমসাময়িকদের কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর সমস্ত রচনাবলি অত্যন্ত উপকারী, যার মধ্যে রয়েছে গারীব আল-কুরআন, গারীব আল-হাদীস, উয়ুনুল আখবার, মুশকিলুল কুরআন, মুশকিলুল হাদীস, তাবাকাতুশ শুআরা, আল-আশরিবা এবং ইসলাহুল গালাত সহ আরও অন্যান্য গ্রন্থ। তিনি মৃত্যু পর্যন্ত বাগদাদে তাঁর গ্রন্থগুলো পড়াতেন। বলা হয় যে তাঁর পিতা ছিলেন মার্ভের, কিন্তু তাঁর জন্ম বাগদাদে, অন্যমতে কুফায়। তিনি দীর্ঘকাল দিনাওয়ারে বিচারক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন, তাই তাঁর নামের সাথে দিনাওয়ারী যুক্ত হয়েছে। তাঁর জন্ম হয়েছিল দুইশত তের হিজরি সনে। তিনি মৃত্যুবরণ করেন দুইশত ছিয়াত্তর হিজরি সনে। (দেখুন: শাযারাতুয যাহাব, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬৯)।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১০)
وغرضنا الذي امتثلناه في كتابنا هذا: أن نختصر ونكمل، وأن نوضّح ونجمل، وأن لا نستشهد على اللفظ المبتذل «1» ، ولا نكثر الدّلالة على الحرف المستعمل، وأن لا نحشو كتابنا بالنحو وبالحديث والأسانيد. فإنّا لو فعلنا ذلك في نقل الحديث: لاحتجنا إلى أن نأتي بتفسير السلف- رحمة الله عليهم- بعينه، ولو أتينا بتلك الألفاظ كان كتابنا كسائر الكتب التي ألفها نقلة الحديث، ولو تكلّفنا بعد اقتصاص «2» اختلافهم، وتبيين معانيهم، وفتق جملهم بألفاظنا، وموضع الاختيار من ذلك الاختلاف، وإقامة الدلائل عليه، والإخبار عن العلة فيه-: لأسهبنا «3» في القول، وأطلنا الكتاب، وقطعنا منه طمع المتحفّظ وباعدناه من بغية المتأدّب، وتكلّفنا من نقل الحديث، ما قد وقيناه وكفيناه.

وكتابنا هذا مستنبط من كتب المفسرين، وكتب أصحاب اللغة العالمين. لم نخرج فيه عن مذاهبهم، ولا تكلّفنا في شيء منه بآرائنا غير معانيهم، بعد اختيارنا في الحرف أولى الأقاويل في اللغة، وأشبهها بقصة الآية.

ونبذنا منكر التأويل، ومنحول التفسير. فقد نحل قوم ابن عباس، أنه قال في قول الله جل وعز إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ [سورة التكوير آية: 1] :

إنها غوّرت، من قول الناس بالفارسية: كوربكرد.

--------------------------------------------

(1) البذلة والمبذلة: ما يمتهن من الثياب، وابتذال الثوب وغيره امتهانه والتبذّل: ترك التصاون. (أنظر الصحاح ص 1632) .

(2) قص أثره: تبعه من باب رد وقصصا أيضا، ومنه قوله تعالى: فَارْتَدَّا عَلى آثارِهِما قَصَصاً والقصّة الأمر والحديث، وقد اقتص الحديث: رواه على وجهه (انظر مختار الصحاح ص (538) .

(3) أسهب: أكثر الكلام فهو مسهب بفتح الهاء ولا يقال بكسر الهاء وهو نادر (انظر مختار الصحاح ص 318) .
আমাদের এই গ্রন্থে আমরা যে উদ্দেশ্যটি অনুসরণ করেছি তা হলো: সংক্ষেপ করা ও পূর্ণ করা, স্পষ্ট করা ও সারসংক্ষেপ করা; মামুলি শব্দের মাধ্যমে উদ্ধৃতি না দেওয়া, আর বহুল ব্যবহৃত অক্ষরের অধিক দলীল প্রদান না করা। এবং আমাদের এই গ্রন্থকে ব্যাকরণ, হাদীস ও সনদ দ্বারা ভারাক্রান্ত না করা। কারণ আমরা যদি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তেমনটি করতাম, তবে আমাদের জন্য সালাফদের—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাফসীর হুবহু নিয়ে আসার প্রয়োজন হতো। আর আমরা যদি সেই শব্দাবলি নিয়ে আসতাম, তবে আমাদের গ্রন্থটি হাদীস বর্ণনাকারীদের রচিত অন্যান্য গ্রন্থের মতোই হতো। আর আমরা যদি তাঁদের মতপার্থক্য অনুসরণ করার পর সেগুলো ব্যাখ্যা করার, তাঁদের সারসংক্ষেপকে আমাদের শব্দাবলির মাধ্যমে বিশদ করার, সেই মতভেদ থেকে পছন্দের স্থানটি নির্ধারণ করার, তার ওপর দলীল কায়েম করার এবং তার কারণ বর্ণনা করার কষ্ট স্বীকার করতাম, তবে আমাদের কথা অনেক দীর্ঘ হয়ে যেত এবং গ্রন্থটি বড় হয়ে যেত। ফলে মুখস্থকারীর আকাঙ্ক্ষা ছিন্ন হয়ে যেত এবং জ্ঞানপিপাসুর উদ্দেশ্য থেকে এটি দূরে সরে যেত। আর আমরা হাদীস বর্ণনার এমন ভার বহন করতাম, যা থেকে আমাদের রক্ষা করা হয়েছে এবং যা আমাদের জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে।

আমাদের এই গ্রন্থটি মুফাসসিরগণের কিতাব এবং বিজ্ঞ ভাষাবিদদের কিতাবসমূহ থেকে চয়ন করা হয়েছে। আমরা এতে তাঁদের মতাদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি এবং তাঁদের অর্থ বাদ দিয়ে নিজেদের মতামতের মাধ্যমে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করিনি। তবে ভাষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বক্তব্য এবং আয়াতের প্রেক্ষাপটের সাথে সবচেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়টি চয়ন করার পর তা করা হয়েছে।

আর আমরা বর্জন করেছি প্রত্যাখ্যাত ব্যাখ্যা এবং আরোপিত তাফসীরকে। কেননা একদল লোক ইবনে আব্বাসের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী "যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেওয়া হবে" [সূরা আত-তাকভীর, আয়াত: ১] সম্পর্কে বলেছেন:

এটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে; যা মানুষের ফারসি কথা "কুরবকরদ" থেকে নেওয়া হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) বাজলাহ ও মাবজালাহ: সেই কাপড় যা সাধারণ কাজে ব্যবহৃত হয়। কাপড়ের তুচ্ছ ব্যবহার এবং এর সম্মান রক্ষা না করা বুঝাতে এই শব্দ ব্যবহৃত হয়। (দেখুন: আস-সিহাহ, পৃষ্ঠা ১৬৩২)।

(২) কারো পদচিহ্ন অনুসরণ করা: এটি 'রাদ' পরিচ্ছেদ থেকে এসেছে। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে ফিরে চলল।" আর 'কিসসাহ' অর্থ হলো বিষয় বা কথা। কোনো হাদীস বর্ণনা করার অর্থ হলো সেটি যথাযথভাবে বর্ণনা করা। (দেখুন: মুখতারুস সিহাহ, পৃষ্ঠা ৫৩৮)।

(৩) আসহাবা: অর্থাৎ কথা দীর্ঘ করা। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তিকে 'মুসহাব' বলা হয় (হা বর্ণে জবর দিয়ে)। হা বর্ণে জের দিয়ে এটি বলা হয় না এবং এটি বিরল। (দেখুন: মুখতারুস সিহাহ, পৃষ্ঠা ৩১৮)।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال آخر «1» في قوله: عَيْناً فِيها تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا [سورة الإنسان آية:

18] : أراد سلني سبيلا إليها يا محمد.

وقال الآخر في قوله: وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ [سورة المطففين آية:

1] : إن الويل: واد في جهنم.

وقال الآخر في قوله: أَفَلا يَنْظُرُونَ إِلَى الْإِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ [سورة الغاشية آية: 17] : إن الإبل: السحاب.

وقال الآخر في قوله: ثُمَّ لَتُسْئَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ [سورة التكاثر آية: 8] : إن النعيم: الماء الحار في الشتاء.

وقال الآخر في قوله: خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ [سورة الأعراف آية: 31] : إن الزينة: المشط.

وقال آخر في قوله: وَأَنَّ الْمَساجِدَ لِلَّهِ [سورة الجن آية: 18] :

إنها الآراب التي يسجد عليها المرء، وهي جبهته ويداه، وركبتاه وقدماه.

وقال الآخر في قوله: أَنْ تَضِلَّ إِحْداهُما، فَتُذَكِّرَ إِحْداهُمَا الْأُخْرى [سورة البقرة آية: 282] : أن تجعل كلّ واحدة منهما ذكرا، يريد: أنهما يقومان مقام رجل، فإحداهما تذكّر الأخرى.

مع أشباه لهذا كثيرة، لا ندري: أمن جهة المفسرين لها وقع الغلط؟

أو من جهة النقلة؟

وبالله نستعين، وإيّاه نسأل التوفيق للصواب.

--------------------------------------------

(1) القائل هو ابن عطاء.
অন্য একজন [১] আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছেন: "সেখানে একটি ঝরনা আছে যার নাম সালসাবিল" [সূরা আল-ইনসান, আয়াত:

১৮] : তিনি চেয়েছেন—হে মুহাম্মদ, আপনি আমার কাছে সেখানে যাওয়ার পথ প্রার্থনা করুন।

এবং অন্যজন আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছেন: "দুর্ভোগ (ওয়াইল) মাপে কমদানকারীদের জন্য" [সূরা আল-মুতাফফিফিন, আয়াত:

১] : নিশ্চয়ই 'ওয়াইল' হলো জাহান্নামের একটি উপত্যকা।

এবং অন্যজন আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছেন: "তারা কি উটের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, তা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে?" [সূরা আল-গাশিয়াহ, আয়াত: ১৭] : নিশ্চয়ই উট হলো মেঘমালা।

এবং অন্যজন আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছেন: "অতঃপর অবশ্যই সেদিন তোমাদেরকে নেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে" [সূরা আত-তাকাসুর, আয়াত: ৮] : নিশ্চয়ই নেয়ামত হলো শীতকালের গরম পানি।

এবং অন্যজন আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছেন: "তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো" [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩১] : নিশ্চয়ই সৌন্দর্য হলো চিরুনি।

এবং অন্যজন আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছেন: "এবং নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য" [সূরা আল-জিন, আয়াত: ১৮] :

নিশ্চয়ই এগুলো হলো সেই অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যার ওপর মানুষ সিজদা করে, আর সেগুলো হলো তার কপাল, তার দুই হাত, তার দুই হাঁটু এবং তার দুই পা।

এবং অন্যজন আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছেন: "যাতে তাদের একজন ভুল করলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮2] : অর্থাৎ তাদের প্রত্যেককে পুরুষ হিসেবে গণ্য করা; তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: তারা দুজনে মিলে একজন পুরুষের স্থলাভিষিক্ত হয়, ফলে তাদের একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

এই জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে, আমরা জানি না: ভুলটি কি এর ব্যাখ্যাকারীদের পক্ষ থেকে হয়েছে?

নাকি বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে?

আমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁরই কাছে সঠিক বিষয়ের তাওফিক কামনা করছি।

--------------------------------------------

(১) বক্তা হলেন ইবনে আতা।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌اشتقاق اسماء الله وصفاته، وإظهار معانيها

1- «الرحمن الرحيم» : صفتان مبنيتان من «الرحمة» . قال أبو عبيدة: وتقديرهما: ندمان، ونديم.

2- ومن صفاته: «السّلام» . قال: السَّلامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ [سورة الحشر آية: 23] ، ومنه سمي الرجل: عبد السلام، كما يقال:

عبد الله.

ويرى أهل النظر- من أصحاب اللغة-: أن «السلام» بمعنى السلامة، كما يقال: الرّضاع والرّضاعة، واللّذاذ واللّذاذة، قال الشاعر:

تحيّي بالسلامة أمّ بكر … فهل لك- بعد قومك- من سلام؟

فسمى نفسه- جل ثناؤه- «سلاما» : لسلامته ممّا يلحق الخلق: من العيب والنقص، والفناء والموت.

قال الله جل وعز: وَاللَّهُ يَدْعُوا إِلى دارِ السَّلامِ [سورة يونس آية:

25] ، فالسلام: الله، وداره.: الجنة. يجوز أن يكون سماها «سلاما» :

لأن الصائر إليها يسلم فيها من كل ما يكون في الدنيا: من مرض ووصب،
আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলির ব্যুৎপত্তি এবং সেগুলোর অর্থ প্রকাশ

১- «আর-রহমান, আর-রহিম»: এ দুটি গুণবাচক নাম 'রহমত' (দয়া) থেকে গঠিত। আবু উবাইদাহ বলেন: এ দুটির ওজন বা রূপ হচ্ছে: নাদমান ও নাদিম-এর মতো।

২- তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: «আস-সালাম»। তিনি বলেছেন: «আস-সালাম, আল-মুমিন, আল-মুহাইমিন» [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ২৩]। এ থেকেই মানুষের নাম রাখা হয়: আবদুস সালাম, যেমন বলা হয়:

আবদুল্লাহ।

ভাষাবিদদের মধ্যে গবেষকগণ মনে করেন যে, «সালাম» শব্দটি «সালামাত» (নিরাপত্তা বা ত্রুটিমুক্ত হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন বলা হয়: রিদা ও রিদআহ, এবং লাযায ও লাযাযাহ। কবি বলেছেন:

উম্মু বকর সালামাত-এর মাধ্যমে অভিবাদন জানান... তোমার কওমের চলে যাওয়ার পর তোমার কি কোনো সালাম (নিরাপত্তা বা স্থায়িত্ব) আছে?

সুতরাং তিনি—তাঁর প্রশংসা সুমহান—নিজেকে «সালাম» নামে অভিহিত করেছেন: সৃষ্টির ওপর যা আপতিত হয় সেই দোষ-ত্রুটি, অপূর্ণতা, ধ্বংস ও মৃত্যু থেকে তিনি মুক্ত (সালামাত) থাকার কারণে।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: «এবং আল্লাহ শান্তির আবাসের (দারুস সালাম) দিকে আহ্বান করেন» [সূরা ইউনুস, আয়াত:

২৫]। এখানে আস-সালাম হলেন আল্লাহ, আর তাঁর আবাস হলো জান্নাত। জান্নাতকে «সালাম» নামকরণ করা এই কারণে বৈধ হতে পারে যে:

কেননা যারা সেখানে পৌঁছাবে তারা দুনিয়াতে বিদ্যমান সকল বিষয়—যেমন রোগ-ব্যাধি ও ক্লান্তি—থেকে সেখানে নিরাপদ (সালামাত) থাকবে।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وموت وهرم، وأشباه ذلك. فهي دار السلام. ومثله: لَهُمْ دارُ السَّلامِ عِنْدَ رَبِّهِمْ [سورة الأنعام آية: 127] .

ومنه يقال: السلام عليكم. يراد: اسم السلام عليكم. كما يقال:

اسم الله عليكم.

وقد بيّن ذلك لبيد «1» ، فقال:

إلى الحول، ثم اسم السلام عليكما … ومن يبك حولا كاملا، فقد اعتذر

ويجوز أن يكون [معنى] «السلام عليكم» : السلامة لكم. وإلى هذا المعنى، يذهب من قال: «سلام الله عليكم، وأقرئ فلانا سلام الله» .

وقال: وَأَمَّا إِنْ كانَ مِنْ أَصْحابِ الْيَمِينِ، فَسَلامٌ لَكَ مِنْ أَصْحابِ الْيَمِينِ [سورة الواقعة الآية: 90- 91] ، يريد: فسلامة لك منهم، أي: يخبرك عنهم بسلامة. وهو معنى قول المفسرين.

ويسمّى الصواب من القول «سلاما» : لأنه سلم من العيب والإثم.

قال: وَإِذا خاطَبَهُمُ الْجاهِلُونَ، قالُوا سَلاماً [سورة الفرقان آية: 63، أي: سدادا من القول.

3- ومن صفاته: «القيّوم» و «القيّام» . وقرىء بهما جميعا.

وهما «فيعول» و «فيعال» . من «قمت بالشيء» : إذا وليته. كأنه القيّم بكل شيء. ومثله في التقدير قولهم: ما فيها ديّور ودار.

4- ومن صفاته: «سبّوح» .

--------------------------------------------

(1) هو لبيد بن ربيعة الشاعر العامر الذي صدقه النبي صلى الله عليه وآله وسلم وحسن إسلامه وقيل تفوي سنة إحدى وأربعين وقيل مات في خلافة عثمان بالكوفة عن مائة وخمسين سنة. (انظر شذرات الذهب ص 52 ج 1) .
...এবং মৃত্যু ও বার্ধক্য এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো থেকে (মুক্ত)। তাই এটি হলো শান্তির আলয়। এরই অনুরূপ হলো: "তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদের জন্য রয়েছে শান্তির আলয়।" [সূরা আল-আন’আম, আয়াত: ১২৭] ।

আর এ থেকেই বলা হয়: 'আসসালামু আলাইকুম' (তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। এর অর্থ হলো: 'সালাম' (শান্তি) নামাঙ্কিত দোয়া তোমাদের ওপর বর্ষিত হোক। যেমন বলা হয়:

আল্লাহর নাম তোমাদের ওপর বর্ষিত হোক।

লাবীদ এটি ব্যাখ্যা করেছেন, তিনি বলেছেন:

এক বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত, অতঃপর তোমাদের উভয়ের ওপর সালামের নাম বর্ষিত হোক … আর যে ব্যক্তি পূর্ণ এক বছর ধরে ক্রন্দন করল, সে মূলত ওজর পেশ করল।

এটিও জায়েয যে, 'আসসালামু আলাইকুম'-এর অর্থ হবে: 'তোমাদের জন্য নিরাপত্তা'। যারা বলেন: 'তোমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষিত হোক' এবং 'অমুককে আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি পৌঁছে দাও', তারা এই অর্থের দিকেই গিয়েছেন।

এবং তিনি বলেছেন: "আর যদি সে ডানদিকের লোকদের একজন হয়, তবে তোমার জন্য শান্তি, ডানদিকের লোকদের পক্ষ থেকে।" [সূরা আল-ওয়াকিআহ, আয়াত: ৯০-৯১]। এর উদ্দেশ্য হলো: তাদের পক্ষ থেকে তোমার জন্য নিরাপত্তা, অর্থাৎ তিনি তোমাকে তাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সংবাদ দিচ্ছেন। মুফাসসিরগণের বক্তব্যের মর্মার্থও এটাই।

আর সঠিক কথাকেও 'সালাম' বলা হয়; কারণ তা ত্রুটি ও পাপ থেকে মুক্ত থাকে।

তিনি বলেছেন: "এবং যখন অজ্ঞরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে: সালাম।" [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৩], অর্থাৎ সঠিক ও যথাযথ কথা।

৩- তাঁর গুণাবলির মধ্যে রয়েছে: 'আল-কাইয়ূম' এবং 'আল-কাইয়্যাম'। উভয় পঠনই (কিরাত) বর্ণিত রয়েছে।

এই শব্দ দুটি 'ফাইয়ূ'ল' এবং 'ফাইয়্যা'ল' ওজনে গঠিত। এটি 'ক্বুমতু বিশ-শাইয়ি' (আমি কোনো জিনিসের দায়িত্ব নিলাম) থেকে আগত; অর্থাৎ যখন আপনি কোনো কিছুর তত্ত্বাবধান করেন। যেন তিনি সবকিছুরই পরিচালক ও রক্ষক। শাব্দিক গঠনের দিক থেকে এর উদাহরণ হলো আরবদের কথা: 'সেখানে কোনো বাসিন্দা বা ঘর নেই'।

৪- তাঁর গুণাবলির মধ্যে রয়েছে: 'সুব্বূহ' (অতি পবিত্র)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আমীর গোত্রের কবি লাবীদ ইবনে রাবীআহ, যাঁর কথার সত্যতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম প্রদান করেছেন এবং তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল অত্যন্ত সুন্দর। বলা হয় তিনি একচল্লিশ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন, আবার বলা হয় তিনি উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে কুফায় একশত পঞ্চাশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। (দেখুন: শাজারাতুয যাহাব, পৃষ্ঠা ৫২, খণ্ড ১)।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
وهو حرف مبنى على «فعول» ، من «سبّح الله» : إذا نزّهه وبرّأه من كل عيب.

ومنه قيل: سبحان الله، أي: تنزيها لله، وتبرئة له من ذلك.

ومنه قوله: يُسَبِّحُ لِلَّهِ ما فِي السَّماواتِ، وَما فِي الْأَرْضِ [سورة الجمعة الآية: 1، سورة التغابن الآية: 1] .

وقال الأعشى:

أقول لمّا جاءنا فخره … سبحان من علقمة الفاخر

أراد: التبرؤ من علقمة. وقد يكون تعجب [بالتسبيح من فخره، كما يقول القائل إذا تعجب] من شيء: سبحان الله.

فكأنه قال: عجبا من علقمة الفاخر.

5- ومن صفاته: «قدّوس» .

وهو حرف مبنى على «فعول» ، من «القدس» وهو: الطهارة.

ومنه قيل: «الأرض المقدّسة» «1» ، يراد: المطهّرة بالتبريك. ومنه قوله حكاية عن الملائكة: وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ، وَنُقَدِّسُ لَكَ [سورة البقرة آية: 30] ، أي: ننسبك إلى الطهارة. و «نقدّسك ونقدّس لك» و «نسبح لك ونسبحك» بمعنى واحد.

وحظيرة القدس- فيما قاله أهل النظر- هي: الجنة. لأنها موضع

--------------------------------------------

(1) في سورة المائدة الآية 21 قوله تعالى: يا قَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ....
এটি ‘ফাউল’ ছাঁচে গঠিত একটি শব্দ, যা ‘সাব্বাহাল্লাহ’ (আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করা) থেকে উদ্ভূত: যার অর্থ হলো যখন কেউ তাঁকে সমস্ত দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র ও মুক্ত ঘোষণা করে।

এ থেকেই বলা হয়: ‘সুবহানাল্লাহ’, অর্থাৎ: আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা এবং তাঁকে যাবতীয় ত্রুটি থেকে মুক্ত রাখা।

এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে [সূরা আল-জুমুআহ আয়াত: ১, সূরা আত-তাগাবুন আয়াত: ১]।

আল-আশা বলেছেন:

আমি বললাম যখন আমাদের নিকট তাঁর দম্ভের সংবাদ এল … গর্বিত আলকামা থেকে আমি নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করছি।

তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন: আলকামা থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা। আবার কখনও তাসবিহের মাধ্যমে বিস্ময় প্রকাশ করা হয় [তাঁর দম্ভের কারণে বিস্ময় প্রকাশার্থে, যেমন কোনো কিছুতে আশ্চর্য হয়ে বলা হয়]: সুবহানাল্লাহ।

যেন তিনি বলছেন: গর্বিত আলকামার ব্যাপারে কতই না বিস্ময়!

৫- তাঁর অন্যতম গুণবাচক নাম হলো: ‘কুদ্দুস’।

এটি ‘ফাউল’ ছাঁচে গঠিত একটি শব্দ, যা ‘আল-কুদস’ থেকে ব্যুৎপন্ন যার অর্থ: পবিত্রতা।

এ থেকেই ‘পবিত্র ভূমি’ (১) কথাটি এসেছে, যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: বরকতের মাধ্যমে যা পবিত্র করা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই ফেরেশতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মহান আল্লাহর বাণী: ‘আর আমরা আপনার প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করি’ [সূরা আল-বাকারাহ আয়াত: ৩০], অর্থাৎ: আমরা আপনাকে পবিত্রতার বিশেষণে বিশেষিত করি। আর ‘আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি’, ‘আমরা আপনার জন্য পবিত্রতা বর্ণনা করি’, ‘আমরা আপনার তাসবিহ পাঠ করি’ এবং ‘আমরা আপনার মহিমা কীর্তন করি’—সবই একই অর্থ বহন করে।

তাত্ত্বিক আলিমদের মতে—‘হাজিরাতুল কুদস’ হলো জান্নাত। কারণ এটি হলো এমন এক স্থান—

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়িদাহর ২১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা সেই পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন....
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
الطهارة من الأدناس التي تكون في الدنيا: من الغائط والبول والحيض، وأشباه ذلك.

6- ومن صفاته: «الرّب» .

والرب: المالك. يقال: هذا ربّ الدار، وربّ الضّيعة، وربّ الغلام. أي: مالكه، قال الله سبحانه: ارْجِعْ إِلى رَبِّكَ [سورة يوسف آية: 50] ، أي: إلى سيدك.

ولا يقال لمخلوق: هذا الرب، معرّفا بالألف واللام، كما يقال لله.

إنما يقال: هذا ربّ كذا. فيعرّف بالإضافة. لأن الله مالك كل شيء. فإذا قيل: الربّ، دلّت الألف واللام على معنى العموم. وإذا قيل لمخلوق:

ربّ كذا وربّ كذا، نسب إلى شيء خاص: لأنه لا يملك [شيئا] غيره.

ألا ترى أنه قيل: «الله» ، فألزم الألف واللام: ليدلّ بها على أنه إله كل شيء. وكان الأصل: «الالاه» . فتركت الهمزة: لكثرة ما يجري ذكره- عز وجل على الألسنة، وأدغمت لام المعرفة في اللام التي لقيتها، وفخّمت وأشبعت حتى طبّق اللسان بها الحنك: لفخامة ذكره تبارك وتعالى:

وليفرق أيضا- عند الابتداء بذكره- بينه وبين اللّات [والعزّى] .

7- ومن صفاته: «المؤمن» .

وأصل الإيمان: التصديق. قال: وَما أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنا وَلَوْ كُنَّا صادِقِينَ [سورة يوسف آية: 17] ، أي: وما أنت بمصدّق ولو كنا صادقين. ويقال [في الكلام] : ما أومن بشيء مما تقول، أي: ما أصدق بذلك.
দুনিয়াতে বিদ্যমান অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়া: যেমন মল, মূত্র, ঋতুস্রাব এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো থেকে।

৬- এবং তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আর-রব' (প্রতিপালক)।

আর 'রব' অর্থ হলো: মালিক। বলা হয়ে থাকে: ইনি গৃহের রব, ফসলি জমির রব এবং দাসের রব। অর্থাৎ: তার মালিক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: "তুমি তোমার রবের (মালিকের) কাছে ফিরে যাও" [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫০], অর্থাৎ: তোমার মুনিবের কাছে।

আর কোনো সৃষ্টির ক্ষেত্রে আলিফ এবং লাম যুক্ত করে নির্দিষ্টভাবে 'আর-রব' বলা হয় না, যেমনটি আল্লাহর ক্ষেত্রে বলা হয়।

বরং সৃষ্টির ক্ষেত্রে বলা হয়: অমুক জিনিসের রব। তখন একে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা হয়। কারণ আল্লাহ হলেন সবকিছুর মালিক। তাই যখন 'আর-রব' বলা হয়, তখন এই আলিফ এবং লাম ব্যাপকতা বা সর্বজনীনতার অর্থ প্রদান করে। আর যখন কোনো সৃষ্টির ক্ষেত্রে বলা হয়:

অমুক জিনিসের রব বা তমুক জিনিসের রব, তখন তা একটি বিশেষ জিনিসের দিকে সম্বন্ধিত হয়: কারণ সে ওই জিনিসটি ছাড়া অন্য কিছুর মালিক নয়।

আপনি কি দেখেন না যে, 'আল্লাহ' বলা হয়েছে, যেখানে আলিফ এবং লামকে অপরিহার্য করা হয়েছে: যাতে এর মাধ্যমে বুঝানো যায় যে, তিনি সবকিছুর ইলাহ। এর মূল শব্দ ছিল: 'আল-ইলাহ'। জিহ্বায় তাঁর—যিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহান—জিকিরের আধিক্যের কারণে হামজাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং নির্দিষ্টকারী লামকে পরবর্তী লামের সাথে সন্ধি করা হয়েছে। অতঃপর একে গম্ভীর ও পূর্ণ স্বরে উচ্চারণ করা হয়েছে, এমনকি তাঁর—যিনি বরকতময় ও সুউচ্চ—জিকিরের মহিমা প্রকাশের জন্য জিহ্বা তালুর সাথে মিশে যায়:

এছাড়া তাঁর জিকির শুরুর সময় যাতে তাঁর নাম এবং 'লাত' [ও উজ্জা]-এর মাঝে পার্থক্য করা যায়।

৭- এবং তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আল-মুমিন'।

আর ঈমানের মূল অর্থ হলো: সত্যায়ন করা। তিনি বলেছেন: "আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই" [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১৭], অর্থাৎ: আপনি আমাদের সত্যায়নকারী নন যদিও আমরা সত্যবাদী হই। আর কথাবার্তায় বলা হয়: "আপনি যা বলছেন আমি তার কিছুতেই ঈমান আনছি না", অর্থাৎ: আমি তা সত্যায়ন করছি না।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
فإيمان العبد بالله: تصديقه قولا وعملا وعقدا. وقد سمى الله الصلاة- في كتابه- إيمانا، فقال: وَما كانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمانَكُمْ [سورة البقرة آية: 143] ، أي: صلاتكم إلى بيت المقدس.

فالعبد مؤمن، أي: مصدّق محقّق. والله مؤمن، أي: مصدّق ما وعده ومحقّقه، أو قابل إيمانه.

وقد يكون «المؤمن» من «الأمان» ، لاي لا يأمن إلا من أمنه [الله] .

وقد ذكرت الإيمان ووجوهه، في كتاب «تأويل المشكل» .

وهذه الصفة- من صفات الله جل وعزّ- لا تتصرّف تصرّف غيرها، لا يقال: أمن الله، كما يقال: تقدّس الله. ولا يقال: يؤمن الله، كما يقال:

يتقدّس الله.

وكذلك يقال: «تعالى الله» . وهو تفاعل من «العلو» . و «تبارك الله» هو تفاعل من «البركة» و «الله متعال» . ولا يقال: متبارك. لم نسمعه.

وإنما ننتهي في صفاته إلى حيث انتهى، فإن كان قد جاء من هذا شيء- عن الرسول صلّى الله عليه وعلى آله، أو عن الأئمة-: جاز أن يطلق، كما أطلق غيره.

8- ومن صفاته: «المهيمن» .

وهو: الشهيد. قال الله: وَأَنْزَلْنا إِلَيْكَ الْكِتابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِما بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتابِ، وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ [سورة المائدة آية: 48] ، أي: شاهدا عليه. هكذا قال ابن عباس في رواية أبي صالح عنه.
আল্লাহর প্রতি বান্দার ঈমান হলো: মৌখিক স্বীকৃতি, কর্ম এবং অন্তরের বিশ্বাসের সমষ্টি। আল্লাহ তা'আলা তাঁর কিতাবে সালাতকে (নামাজকে) 'ঈমান' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদের ঈমান বিনষ্ট করবেন না" [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৪৩], অর্থাৎ: বাইতুল মাকদিসের দিকে তোমাদের আদায়কৃত সালাত।

সুতরাং বান্দা হলো মুমিন, অর্থাৎ: সত্য প্রতিপন্নকারী ও বাস্তবায়নকারী। আর আল্লাহ হলেন মুমিন, অর্থাৎ: তিনি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা সত্যে পরিণতকারী ও বাস্তবায়নকারী, অথবা তিনি বান্দার ঈমান গ্রহণকারী।

আবার 'মুমিন' শব্দটি 'আমান' (নিরাপত্তা) থেকেও ব্যুৎপন্ন হতে পারে, যার অর্থ হলো—যাকে আল্লাহ নিরাপত্তা দিয়েছেন সে ছাড়া কেউ নিরাপদ নয়।

আমি 'তাউয়ীলুল মুশকিলাত' গ্রন্থে ঈমান এবং এর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর এই গুণটি অন্যান্য গুণের মতো রূপান্তরযোগ্য নয়। যেমন 'তাকাদ্দাসাল্লাহ' (আল্লাহ পবিত্র হয়েছেন) বলা হয়, তেমন 'আমানাল্লাহ' বলা যায় না। তেমনিভাবে 'ইউমিনুল্লাহ' (আল্লাহ ঈমান আনেন) বলা হয় না, যেভাবে বলা হয়:

'ইয়াতাকাদ্দাসুল্লাহ' (আল্লাহ পবিত্রতা লাভ করেন/আছেন)।

একইভাবে বলা হয়: 'তা'আলাল্লাহ' (আল্লাহ সমুচ্চ)। এটি 'উলুউ' (উচ্চতা) থেকে 'তাফা'উল' ছাঁচে গঠিত। এবং 'তাবারাকাল্লাহ' শব্দটি 'বারাকাহ' (বরকত) থেকে 'তাফা'উল' ছাঁচে গঠিত এবং 'আল্লাহু মুতা'আল' (আল্লাহ অতি উচ্চ)। তবে 'মুতাবারিক' বলা হয় না; আমরা এমনটি শুনিনি।

তাঁর গুণাবলির ক্ষেত্রে আমরা ঠিক ততটুকুই সীমাবদ্ধ থাকব যতটুকু বর্ণিত হয়েছে। যদি এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) অথবা ইমামদের কাছ থেকে কোনো কিছু বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে তা প্রয়োগ করা বৈধ হবে, যেভাবে অন্যান্য গুণাবলি প্রয়োগ করা হয়।

৮- তাঁর গুণাবলির অন্যতম হলো: 'আল-মুহাইমিন'।

এর অর্থ হলো: সাক্ষী। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যয়নকারী এবং সেগুলোর রক্ষক/সাক্ষী" [সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৪৮], অর্থাৎ: তার উপর সাক্ষী। ইবনে আব্বাস থেকে আবু সালিহ-এর বর্ণনায় এমনটিই বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
وروى عنه- من غير هذه الجهة- أنه قال: «أمينا عليه» .

وهذا أعجب إليّ، وإن كان التفسيران متقاربين. لأن أهل النظر- من أصحاب اللغة- يرون: أن «مهيمنا» اسم مبنى من «آمن» ، كما بني «بطير» ومبيطر و «بيطار» من «بطر» قال الطّرمّاح:

كبزغ البطير الثقف رهص الكوادن وقال النابغة:

شكّ المبيطر إذ يشفي من العضد وكان الأصل، «مؤيمن» ، ثم قلبت الهمزة هاء: لقرب مخرجهما، كما تقلب في «أرقت الماء» ، فيقال: «هرقت الماء. وقالوا: ماء مهراق، والأصل: ماء مراق. وقالوا: «إبرية وهبرية، وأيهات وهيهات، وإيّاك وهياك» . فأبدلوا من الهمز هاء. وأنشد اخفش:

فهياك والأمر الذي إن توسعت … موارده، ضاقت عليك مصادره

و «آمين» اسم من أسماء الله. وقال قوم من المفسرين- في قول المصلي بعد فراغه من قراءة أمّ الكتاب: «آمين» -: [أمين] قصر من ذلك، كأنه قال: يا الله، وأضمر «استجب لي» -: لأنه لا يجوز أن يظهر هذا في هذا الموضع من الصلاة، إذ كان كلاما.. ثم تحذف ياء النداء.

وهكذا يختار أصحاب اللغة في «أمين» : أن يقصروا الألف، ولا يطوّلوا. وأنشدوا فيه:

تباعد مني فطحل إذ سألته … أمين، فزاد الله ما بيننا بعدا
এবং তাঁর থেকে—এই সূত্র ছাড়া অন্যভাবেও—বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "এর ওপর আমানতদার"।

আর এটি আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়, যদিও ব্যাখ্যা দুটি পরস্পর নিকটবর্তী। কারণ ভাষাবিদদের মধ্যে যারা গবেষণাকারী পণ্ডিত, তারা মনে করেন যে: 'মুহাইমিন' শব্দটি 'আমান' (নিরাপত্তা বা বিশ্বাস) থেকে গঠিত একটি বিশেষ্য, যেমন 'বাতার' থেকে 'বাতীর', 'মুবাইতির' ও 'বাইতার' গঠিত হয়েছে। আত-তারিম্মাহ বলেছেন:

যেমন দক্ষ পশুচিকিৎসকের ক্ষত চেরা, যা খচ্চরের পায়ের জখম নিরাময় করে। এবং আন-নাবিগাহ বলেছেন:

পশুচিকিৎসকের বিদ্ধ করা, যখন সে বাহুর রোগ নিরাময় করে। এর মূল রূপ ছিল 'মুআইমিন', অতঃপর উচ্চারণস্থলের নৈকট্যের কারণে হামজাকে 'হা' বর্ণে রূপান্তরিত করা হয়েছে; যেমন 'আরাকতুল মা' (আমি পানি ঢাললাম) শব্দে রূপান্তরিত করা হয়, ফলে বলা হয়: 'হারাকতুল মা'। তারা 'মাউন মুহরাক' বলেন, যার মূল রূপ হলো: 'মাউন মুরাক'। তারা আরও বলেন: 'ইবরিয়্যাহ ও হিবরিয়্যাহ', 'আইহাতা ও হায়হাতা', এবং 'ইয়্যাকা ও হায়্যাকা'। অর্থাৎ তারা হামজার পরিবর্তে 'হা' ব্যবহার করেছেন। আখফাশ আবৃত্তি করেছেন:

সুতরাং সাবধান হও এবং এমন বিষয় থেকে দূরে থাক যার শুরুটা প্রশস্ত হলেও, তার শেষ পরিণতি তোমার ওপর সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। …

আর 'আমীন' আল্লাহর নামসমূহের একটি। মুফাসসিরদের একটি দল—নামাযী ব্যক্তির উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) পাঠ শেষ করার পর 'আমীন' বলা সম্পর্কে—বলেছেন: এটি তারই সংক্ষিপ্ত রূপ, যেন সে বলল: হে আল্লাহ, এবং 'আমার দোয়া কবুল করুন' কথাটি উহ্য রাখা হয়েছে—কারণ নামাযের এই স্থানে এটি প্রকাশ করা জায়েয নয়, যেহেতু তা মানুষের সাধারণ কথাবার্তার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়.. অতঃপর আহ্বানের 'ইয়া' বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

অনুরূপভাবে ভাষাবিদগণ 'আমীন' শব্দের ক্ষেত্রে আলিফকে হ্রস্ব করা পছন্দ করেন, দীর্ঘ করেন না। এ প্রসঙ্গে তারা আবৃত্তি করেছেন:

ফাতহাল আমার থেকে দূরে সরে গেল যখন আমি তার কাছে সাহায্য চাইলাম, আমীন (কবুল হোক), আল্লাহ আমাদের মাঝের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিন। …
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
ويفتحونها: لانفرادها، وانقطاعها يضمر فيها: من معنى النداء. حتى صارت عندهم معنى «كذلك فعل الله» .

وقد أجازوا أيضا «آمين» مطوّلة الألف. وحكوها عن قوم فصحاء.

وأصلها: «يا أمين» بمعنى: يا الله. ثم تحذف همزة «أمين» استخفافا لكثرة ما تجري هذه الكلمة على ألسنة الناس. ومخرجها مخرج «آزيد» .

يريد: يا زيد. و «آراكب» يريد: يا راكب. وقد سمعنا من فصحاء العرب: «آخبيث» ، يريدون: يا خبيث.

وفي ذلك قول آخر، يقال: إنما مدت الألف فيها، ليطول بها الصوت. كما قالوا: أوه» مقصورة الألف، ثم قالوا: «آوه» [ممدودة] .

يريدون تطويل الصوت بالشكاية. وقالوا: «سقط على حاق رأسه» ، أي:

على حقّ رأسه. وكذلك «آمين» : أرادوا تطويل الصوت بالدعاء.

وهذا أعجب إليّ.

وأما قول العباس بن عبد المطّلب «1» ، في مدح رسول الله صلّى الله عليه وآله سلم:

حتى احتوى بيتك المهيمن من … خندف، علياء تحتها النّطق

فإنه أراد: حتى احتويت- يا مهيمن- من خنف علياء، فأقام البيت مقامه: لأن بيته إذا حلّ بهذا المكان، فقد حل هو به. وهو كما يقال: بيته أعزّ بيت. وإنما يراد: صاحبه. قال النابغة:

--------------------------------------------

(1) هو العباس بن عبد المطلب عم رسول الله صلّى الله عليه وآله سلم وأبو الخلفاء العباسيين حسن بلاؤه يوم حنين، وكان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يكرمه ويجله وكذلك الخلفاء الراشدون من بعده، وكان صيتا ينادي غلمانه من سلع وهم بالغابة فيسمعونه وذلك على ثمانية أميال وكان موته أول رمضان سنة إثنتين وثلاثين عن ست وثمانية سنة وصلى عليه عثمان رضي الله عنه.

(انظر شذرات الذهب ص 38 ج 1) .
তারা এতে ফাতহা প্রদান করেন: কারণ এটি একক এবং বিযুক্ত, এর মধ্যে আহ্বানের অর্থ নিহিত রয়েছে। এমনকি তাদের কাছে এর অর্থ দাঁড়িয়েছে 'আল্লাহ এমনটিই করেছেন'।

তারা দীর্ঘ আলিফ সহকারে 'আমীন' বলাকেও বৈধ বলে গণ্য করেছেন। তারা এটি একদল বাগ্মী মানুষের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এর মূল হলো: 'ইয়া আমীন' যার অর্থ: হে আল্লাহ। অতঃপর এই শব্দটি মানুষের মুখে অধিক প্রচলিত হওয়ার কারণে সহজ করার উদ্দেশ্যে 'আমীন' শব্দের হামজাহটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর উচ্চারণভঙ্গি 'আ-যায়েদ'-এর মতোই।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য: হে যায়েদ। এবং 'আ-রকিব' দ্বারা উদ্দেশ্য: হে আরোহী। আমরা আরবের বাগ্মী ব্যক্তিদের নিকট থেকে 'আ-খবীস' বলতে শুনেছি, যার দ্বারা তারা 'হে খবীস' (নিকৃষ্ট) উদ্দেশ্য করেন।

এ বিষয়ে অন্য একটি মতও রয়েছে, বলা হয়: আলিফটিকে এখানে দীর্ঘ করা হয়েছে যেন শব্দটিকে দীর্ঘায়িত করা যায়। যেমন তারা হ্রস্ব আলিফ যোগে 'আওয়াহ' বলে থাকেন, আবার দীর্ঘ আলিফ যোগে 'আ-ওয়াহ' [দীর্ঘায়িত] বলেন।

তারা অভিযোগের সময় শব্দকে দীর্ঘায়িত করতে চান। তারা বলেন: 'তার মাথার চূড়ায় পড়েছে', অর্থাৎ: তার মাথার ঠিক উপরে। অনুরূপভাবে 'আমীন': তারা দোয়ার সময় শব্দকে দীর্ঘায়িত করতে চেয়েছেন।

আর এটিই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের প্রশংসায় আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (১)-এর উক্তি সম্পর্কে:

ততক্ষণ পর্যন্ত যে আপনার তত্ত্বাবধানকারী ঘর খুন্দুফ থেকে অর্জন করেছে ... এক উচ্চতা যার নিচে রয়েছে উচ্চভূমি

কেননা তিনি উদ্দেশ্য করেছেন: হে তত্ত্বাবধানকারী, আপনি খুন্দুফ থেকে এক উচ্চতা অর্জন করেছেন। অতঃপর তিনি ঘরকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেছেন: কারণ যখন তাঁর ঘর এই স্থানে অবস্থান করে, তখন মূলত তিনিই সেখানে অবস্থান করেন। এটি অনেকটা এমন যেমন বলা হয়: তার ঘর সবচাইতে সম্মানিত ঘর। অথচ এর দ্বারা গৃহকর্তাকেই উদ্দেশ্য করা হয়। নাবিগাহ বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের চাচা এবং আব্বাসীয় খলিফাদের পূর্বপুরুষ। হুনাইনের যুদ্ধে তাঁর অবদান ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন এবং তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদুনও অনুরূপ করতেন। তিনি উচ্চকণ্ঠের অধিকারী ছিলেন, তিনি 'সালা' পাহাড় থেকে তাঁর গোলামদের ডাকতেন যখন তারা বনাঞ্চলে থাকত এবং তারা তা শুনতে পেত, অথচ তা ছিল আট মাইল দূরে। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বত্রিশ হিজরির পহেলা রমজান মাসে ছিয়াশি বছর বয়সে এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর জানাজা পড়ান।

(দেখুন: শাযারাতুয যাহাব, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৮)।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وحلت بيوتي في يفاع ممنع … تخال به راعي الحمولة طائرا

ولم يكن بيته في جبل بهذه الصفة، إنما أراد: أني ممتنع على من أرادني، فكأني حللت في يفاع ممنّع.

9- ومن صفاته: «الغفور» .

وهو من قولك: «غفرت الشيء» إذا غطيته. كما يقال: «كفرته» :

إذا غطّيته. ويقال: كذا أغفر من كذا، أي: أستر. و «غفر الخزّ والصوف» ما علا فوق الثوب منها: كالزّئبر. سمي «غفرا» : لأنه ستر الثوب. ويقال لجنّة الرأس: «مغفر» ، لأنها تستر الرأس. فكأن «الغفور» : الساتر لعبده برحمته، أو الساتر لذنوبه.

ونحو منه قولهم: «تغمدني برحمتك» ، أي: ألبسني إياها. ومنه قيل: «غمد السيف» ، لأنه يغمد فيه، أي: يدخل.

10- ومن صفاته: «الواسع» .

وهو الغنيّ. والسعة: الغنى. قال الله: (لنفق ذو سعة من سعته) [سورة الطلاق آية: 7] ، أي: يعط من سعته.

11- ومن صفاته: «البارئ» .

ومعنى البارئ» : الخالق. يقال: برأ الله الخلق يبرؤهم.

و «البريّة» : الخلق. وأكثر العرب والقراء: على ترك همزها، لكثرة ما جرت على الألسنة. وهي «فعيلة» بمعنى «مفعولة» .
এবং আমার গৃহসমূহ এক সুরক্ষিত সুউচ্চ স্থানে অবস্থিত … সেখানে বাহক পশুপালের রাখালকে উড়ন্ত মনে হয়।

তার ঘর কোনো পাহাড়ে এমন বৈশিষ্ট্যে ছিল না; বরং তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: যে আমাকে পেতে চায় তার জন্য আমি দুর্ভেদ্য, যেন আমি কোনো এক সুরক্ষিত সুউচ্চ স্থানে অবস্থান করছি।

৯- তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত: ‘আল-গাফুর’ (অত্যধিক ক্ষমাশীল)।

এটি আপনার উক্তি ‘গাফারতুশ শাই’ (আমি বস্তুটিকে ঢেকে দিলাম) থেকে উদ্ভূত, যখন আপনি তা আবৃত করেন। যেমন বলা হয়: ‘কাফারতুহু’ (আমি একে ঢেকে দিলাম), যখন আপনি তা আবৃত করেন।

বলা হয়: অমুকটি অমুকটির চেয়ে বেশি ‘আগফার’ অর্থাৎ অধিক আবরণকারী। আর রেশম ও পশমের ‘গুফর’ হলো কাপড়ের উপরিভাগে থাকা লম বা আঁশের মতো অংশ; একে ‘গুফর’ বলা হয় কারণ এটি কাপড়কে আবৃত করে রাখে। মাথার বর্মকেও ‘মিগফার’ বলা হয়, কারণ এটি মাথাকে ঢেকে রাখে। সুতরাং ‘আল-গাফুর’ যেন এমন এক সত্তা যিনি তাঁর রহমত দিয়ে তাঁর বান্দাকে আবৃত করেন, অথবা তার গুনাহসমূহকে ঢেকে রাখেন।

এর সদৃশ হলো তাদের কথা: ‘আপনি আমাকে আপনার রহমত দ্বারা আবৃত করুন’, অর্থাৎ আমাকে তা পরিধান করান। এ থেকেই ‘গিমদুস সাইফ’ (তরবারির খাপ) শব্দটি এসেছে, কারণ এতে তরবারি প্রবেশ করানো হয় অর্থাৎ ঢেকে রাখা হয়।

১০- তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত: ‘আল-ওয়াসি’ (প্রাচুর্যময়)।

তিনিই ঐশ্বর্যশালী। আর ‘সাআহ’ অর্থ সচ্ছলতা বা প্রাচুর্য। আল্লাহ বলেছেন: (সামর্থ্যবান যেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে) [সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৭], অর্থাৎ সে যেন তার প্রাচুর্য থেকে দান করে।

১১- তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত: ‘আল-বারি’ (স্রষ্টা)।

আর ‘আল-বারি’ শব্দের অর্থ: সৃষ্টিকর্তা। বলা হয়: আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন।

আর ‘বারিয়্যাহ’ অর্থ সৃষ্টি। অধিকাংশ আরব ও ক্বারীগণ মুখে অধিক ব্যবহারের কারণে এর হামযা উচ্চারণ বর্জন করেন। এটি ‘মাফউলাহ’ (সৃষ্ট) অর্থে ‘ফাইলাহ’ ওজনে গঠিত।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২০)
ومن الناس من يزعم: أنها مأخوذة من «بريت العود» .

ومنهم من يزعم: أنها من «البرى» ، وهو: التراب أي: خلق من التراب. وقالوا: لذلك لم يهمز.

وقد بينت هذا في كتاب «القراءات» ، وذكرت موضع الأخبار منه.

12- ومثل البارئ: «الذّاريّ» .

وهو: الخالق. يقال: ذرأ الله الخلق. وقال: وَلَقَدْ ذَرَأْنا لِجَهَنَّمَ كَثِيراً [سورة الأعراف آية: 179] ، أي: خلقنا. و «الذّرية» منه، لأنها خلق الله من الرجل.

وأكثر القراء والعرب: على ترك همزها، لكثرة ما يتكلم بها.

ومنهم من يزعم: أنها من «ذروت» أو «ذريت» .

13- ومن صفاته ما جاء على «فعيل» بمعنى «فاعل» ، نحو:

«قدير» بمعنى «قادر» ، و «بصير» بمعنى «باصر» ، وسميع» بمعنى «سامع» ، و «حفيظ» بمعنى «حافظ» و «بدىء» بمعنى «بادىء الخلق» ، و «شهيد» بمعنى «شاهد» ، و «عليم» بمعنى «عالم» ، و «رقيب» بمعنى «راقب» - وهو: الحافظ- و «كفيل» بمعنى «كافل» ، و «خبير» بمعنى «خابر» ، و «حكيم» بمعنى «حاكم» ، و «مجيد» بمعنى «ماجد» وهو: الشريف.

14- ومن صفاته ما جاء على «فعيل» بمعنى «مفعل» ، نحو:

«بصير» بمعنى «مبصر» ، و «بديع الخلق» بمعنى «مبدع الخلق» . كما
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, এটি ‘কাঠ চাঁছা’ থেকে গৃহীত।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধারণা করেন যে, এটি ‘বারা’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো: মাটি; অর্থাৎ: মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা বলেন: এ কারণে এতে হামযাহ ব্যবহার করা হয়নি।

আমি এটি ‘আল-কিরাআত’ গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছি এবং সেখানে এ সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহের স্থান উল্লেখ করেছি।

১২- ‘আল-বারী’ (সৃষ্টিকর্তা)-এর অনুরূপ শব্দ হলো: ‘আয-যারী’।

এর অর্থ হলো: সৃষ্টিকর্তা। বলা হয়: আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আমি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি” [সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৭৯], অর্থাৎ: আমরা সৃষ্টি করেছি। ‘যুররিয়্যাহ’ (বংশধর) শব্দটি এ থেকেই উদ্ভূত, কারণ তা মানুষের মধ্য থেকে আল্লাহর একটি সৃষ্টি।

অধিকাংশ ক্বারী এবং আরবগণ এর অধিক ব্যবহারের কারণে এতে হামযাহ বর্জন করে থাকেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, এটি ‘যারাওতু’ অথবা ‘যারাআয়তু’ থেকে এসেছে।

১৩- তাঁর গুণাবলির মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ‘ফায়ীল’ ওজনে ‘ফায়িল’ অর্থে এসেছে, যেমন:

‘কাদীর’ যার অর্থ ‘ক্ষমতাবান’, ‘বাসীর’ যার অর্থ ‘দর্শনকারী’, ‘সামীয়’ যার অর্থ ‘শ্রবণকারী’, ‘হাফীজ’ যার অর্থ ‘হেফাজতকারী’, ‘বাদী’ যার অর্থ ‘সৃষ্টির সূচনাকারী’, ‘শাহীদ’ যার অর্থ ‘সাক্ষী’, ‘আলীম’ যার অর্থ ‘মহাজ্ঞানী’, ‘রাকীব’ যার অর্থ ‘তত্ত্বাবধায়ক’—আর তিনি হলেন হেফাজতকারী—‘কাফীল’ যার অর্থ ‘জিম্মাদার’, ‘খাবীর’ যার অর্থ ‘পরিজ্ঞাত’, ‘হাকীম’ যার অর্থ ‘বিচারক বা প্রজ্ঞাবান’, এবং ‘মাজীদ’ যার অর্থ ‘মাজিদ’ বা সম্মানিত।

১৪- তাঁর গুণাবলির মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা ‘ফায়ীল’ ওজনে ‘মুফয়িল’ অর্থে এসেছে, যেমন:

‘বাসীর’ যার অর্থ ‘মুবসির’ (দর্শন দানকারী), এবং ‘বাদীয়ুল খালক’ (সৃষ্টির অভিনব উদ্ভাবক) যার অর্থ ‘মুবদিউল খালক’ (সৃষ্টির অভিনব উদ্ভাবক)। যেমন
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২১)
قالوا: «سميع» بمعنى «مسمع» . قال عمرو بن معديكرب:

أمن ريحانة الداعي السّميع و «عذاب أليم» أي: مؤلم، و «ضرب وجيع» أي: موجع.

[ومنه] : إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيباً [سورة النساء آية:

86] ، أي: كافيا. من قولك: «أحسبني هذا الشيء» ، أي: كافني. و «الله حسيبي وحسيبك» أي: كافينا، أي: يكون حكما بيننا كافيا. قال الشاعر:

ونقفي وليد الحي: إن كان جائعا … ونحسبه: إن كان ليس بجائع

أي: نعطيه ما يكفيه، حتى يقول: حسبي.

وقال بعض المفسرين- في قوله: إِنَّ اللَّهَ كانَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ حَسِيباً- أي: محاسبا. وهو- على هذا التأويل- في مذهب «جليس» و «أكيل» و «شريب» و «نديم» و «قعيد» .

15- ومن صفاته ما جاء على «فعيل» : لا يكون منها غير لفظها، نحو: «قريب» و «جليل» و «حليم» و «عظيم» و «كبير» و «كريم» - وهو الصّفوح عن الذنوب- و «وكيل» وهو الكفيل. قال: وَاللَّهُ عَلى ما نَقُولُ وَكِيلٌ [سورة القصص آية: 28] ، وَكَفى بِاللَّهِ وَكِيلًا [سورة النساء الآيات: 81/ 132/ 171، وسورة الأحزاب الآيات: 3/ 48] ، وَتَوَكَّلْ عَلَيْهِ [سورة هود آية: 132] ، أي: اجعله كافلك، واعتمد على كفالته لك. ووكيل الرجل في ماله هو الذي كفله له، وقام به.
তারা বলেন: 'সামিউন' (সর্বশ্রোতা) অর্থ হলো 'মুসমিউন' (যিনি শ্রবণ করান)। আমর ইবনে মাদী কারিব বলেছেন:

রেহানা থেকে আসা আহ্বানকারীর কথা কি শ্রবণকারী শুনতে পায়? এবং 'আযাবুন আলিম' অর্থ: যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, এবং 'দারবুন ওয়াজিউন' অর্থ: বেদনাদায়ক প্রহার।

[এর অন্তর্ভুক্ত হলো]: নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮৬], অর্থাৎ পর্যাপ্ত। তোমার কথা থেকে: 'এই বিষয়টি আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে', অর্থাৎ পর্যাপ্ত হয়েছে। এবং 'আল্লাহ আমার ও তোমার জন্য যথেষ্ট', অর্থাৎ আমাদের জন্য পর্যাপ্ত, অর্থাৎ তিনি আমাদের মধ্যে একজন পর্যাপ্ত বিচারক হবেন। কবি বলেছেন:

আর আমরা গোত্রের নবজাতকের দেখাশোনা করি: যদি সে ক্ষুধার্ত থাকে... এবং আমরা তাকে পর্যাপ্ত দেই: যদি সে ক্ষুধার্ত না থাকে

অর্থাৎ: আমরা তাকে তা দেই যা তার জন্য যথেষ্ট হয়, এমনকি সে বলে: আমার জন্য যথেষ্ট।

কিছু মুফাসসির বলেছেন—আল্লাহর এই বাণীতে: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী'—অর্থাৎ হিসাব গ্রহণকারী। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি 'জালিস' (সঙ্গী), 'আকিল' (সহভোজী), 'শারিব' (সহ-পানকারী), 'নাদিম' (মজলিসী বন্ধু) এবং 'কাইদ' (সহ-উপবেশনকারী) এর আদলে গঠিত।

১৫- আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে যেগুলো 'ফাইল' ছন্দে এসেছে: সেগুলোর শব্দরূপ পরিবর্তন হয় না, যেমন: 'কারীব' (নিকটবর্তী), 'জালীল' (মহিমান্বিত), 'হালীম' (সহনশীল), 'আযীম' (মহান), 'কাবীর' (বৃহৎ), 'কারীম'—যিনি পাপ মার্জনা করেন—এবং 'ওয়াকীল' যার অর্থ জিম্মাদার। তিনি বলেছেন: আমরা যা বলছি আল্লাহ তার কর্মবিধায়ক [সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ২৮], আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮১/ ১৩২/ ১৭১, এবং সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩/ ৪৮], এবং তাঁর ওপর ভরসা করো [সূরা হুদ, আয়াত: ১৩২], অর্থাৎ তাঁকে তোমার জিম্মাদার বানাও এবং তোমার জন্য তাঁর জিম্মাদারির ওপর নির্ভর করো। আর কোনো ব্যক্তির সম্পদের ওয়াকীল হলো সেই ব্যক্তি যে তার সম্পদের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং তা পরিচালনা করে।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২২)
16- ومن صفاته: «الودود» .

وفيه قولان، يقال: هو «فعول» بمعنى «مفعول» ، كما يقال: رجل هيوب، أي مهيب، يراد به: مودود.

ويقال: هو «فعول» بمعنى «فاعل» كقولك: غفور، بمعنى غافر.

أي: يودّ عباده الصالحين.

وقد تأتى الصفة بالفعل لله ولعبده، فيقال: «العبد شكور لله» أي:

يشكر نعمه. و «الله شكور للعبد» أي: يشكر له عمله. و «العبد توّاب إلى الله من الذنب» ، و «الله توّاب عليه» .

17- و «كبرياء الله» شرفه. وهو من «تكبّر» ، إذا أعلا نفسه.

18- و «جدّ الله» : عظمته. ومنه قوله: تَعالى جَدُّ رَبِّنا [سورة الجن آية: 3] .

ومنه يقال في افتتاح الصلاة: «تبارك اسمك، وتعالى جدّك» .

يقال: جدّ الرجل في صدور الناس وفي عيونهم، إذا عظم. ومنه قول أنس: «كان الرجل إذا قرأ البقرة وآل عمران، جدّ فينا» ، أي: عظم.

19- و «مجد الله» : شرفه، وكرمه.

20- و «جبروته» : تجبره، أي تعظّمه.

21- و «ملكوته» : ملكه. ويقال: دار ملكه.

وزيدت التاء فيهما، كما زيدت في «رهبوت» و «رحموت» . تقول
১৬- এবং তাঁর অন্যতম গুণ হলো: ‘আল-ওয়াদুদ’।

এ সম্পর্কে দুটি অভিমত রয়েছে। বলা হয়: এটি ‘ফাউল’ ওজনে ‘মাফউল’ এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন বলা হয় ‘ভীত ব্যক্তি’, যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘ভীতিপ্রদ’ ব্যক্তি; এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ‘মাওদুদ’ বা যাকে ভালোবাসা হয়।

আবার বলা হয়: এটি ‘ফাউল’ ওজনে ‘ফায়িল’ এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন আপনার বলা ‘গফুর’, যা ‘গাফির’ (ক্ষমাশীল) অর্থে ব্যবহৃত।

অর্থাৎ: তিনি তাঁর নেককার বান্দাদের ভালোবাসেন।

কখনো কখনো একই গুণের প্রয়োগ আল্লাহর জন্য এবং তাঁর বান্দার জন্য ক্রিয়ার মাধ্যমে হতে পারে। যেমন বলা হয়: ‘বান্দা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ (শাকূর)’, অর্থাৎ:

সে তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে। আর ‘আল্লাহ বান্দার প্রতি কৃতজ্ঞ (শাকূর)’, অর্থাৎ: তিনি তার আমলের কদর করেন (বিনিময় দান করেন)। এবং ‘বান্দা গুনাহ থেকে আল্লাহর নিকট তওবাকারী’, আর ‘আল্লাহ তার তওবা কবুলকারী’।

১৭- এবং ‘আল্লাহর কিবরিয়া’ হলো তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব। এটি ‘তাকাব্বুর’ শব্দ থেকে এসেছে, যা নিজের মাহাত্ম্য প্রকাশ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়।

১৮- এবং ‘আল্লাহর জাদ্দ’ হলো: তাঁর মহানত্ব। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: আমাদের রবের মহানত্ব অতি উচ্চ [সূরা আল-জিন, আয়াত: ৩]।

এ থেকেই সালাত শুরু করার সময় বলা হয়: ‘আপনার নাম বরকতময় এবং আপনার মহানত্ব অতি উচ্চ’।

বলা হয়: মানুষের অন্তরে এবং দৃষ্টিতে অমুক ব্যক্তি ‘জাদ্দা’ হয়েছে, যখন সে মহান হয়েছে। এ থেকেই আনাস-এর উক্তি: ‘কোনো ব্যক্তি যখন সূরা আল-বাকারা এবং আলে-ইমরান পাঠ সম্পন্ন করত, তখন সে আমাদের নিকট মহান বলে গণ্য হতো’, অর্থাৎ: সম্মানিত হতো।

১৯- এবং ‘আল্লাহর মাজদ’ হলো: তাঁর মর্যাদা ও মহানুভবতা।

২০- এবং তাঁর ‘জাবারুত’ হলো: তাঁর প্রতাপ, অর্থাৎ তাঁর মহানত্ব।

২১- এবং তাঁর ‘মালাকুত’ হলো: তাঁর রাজত্ব। বলা হয়: তাঁর রাজত্ব।

এ শব্দ দুটিতে ‘তা’ অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে, যেমনটি ‘রাহাবুত’ এবং ‘রাহামুত’ শব্দে অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে। আপনি বলবেন...
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
العرب: «رهبوت خير من رحموت» ، أي: [أن] ترهب خير من أن ترحم.

22- و «فضل الله» : عطاؤه. وكذلك «منه» هو: عطاؤه. يقال:

الله ذو منّ عظيم. ومنه قوله: هذا عَطاؤُنا، فَامْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسابٍ [سورة ص آية: 39] ، أي أعط أو أمسك. وقوله: وَلا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ [سورة المدثر آية: 6] ، أي: لا تعط لتأخذ من المكافأة أكثر مما أعطيت.

23- و «حمد الله» : الثناء عليه بصفاته الحسنى. و «شكره» :

الثناء عليه بنعمه وإحسانه. تقول: «حمدت الرجل» : إذا أثنيت عليه بكرم وحسب وشجاعة: وأشباه ذلك، و «شكرت له» : إذا أثنيت عليه بمعروف أولاكه.

وقد يوضع الحمد موضع الشكر. ولا يوضع الشكر موضع الحمد.

24- و «أسماء الله الحسنى» «1» : الرحمن، والرحيم، والغفور، والشكور، وأشباه ذلك.

25- والإلحاد في أسمائه: [الجور عن الحق والعدول عنه، وذكر] اللّات والعزّى، وأشباه ذلك.

--------------------------------------------

(1) التي وردت في سورة الأعراف آية 180 وسورة الإسراء آية 110 وسورة طه آية 8.
আরবরা বলে: "দয়া পাওয়ার চেয়ে ভীতি উদ্রেক করা উত্তম", অর্থাৎ: দয়া পাওয়ার চেয়ে তোমার ব্যাপারে মানুষের মনে ভীতি থাকা উত্তম।

২২- এবং "আল্লাহর অনুগ্রহ" হলো: তাঁর দান। অনুরূপভাবে "মান্নু" (অনুগ্রহ) হলো: তাঁর দান। বলা হয়:

আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী। আর এরই অন্তর্ভুক্ত তাঁর বাণী: এটি আমাদের দান, সুতরাং তুমি অনুগ্রহ করো অথবা বিরত থাকো, এর কোনো হিসাব নেওয়া হবে না [সূরা সাদ আয়াত: ৩৯], অর্থাৎ তুমি দান করো অথবা দান করা থেকে বিরত থাকো। এবং তাঁর বাণী: এবং তুমি অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় অনুগ্রহ করো না [সূরা আল-মুদ্দাসসির আয়াত: ৬], অর্থাৎ: তুমি যা দিয়েছ তার চেয়ে অধিক প্রতিদান পাওয়ার উদ্দেশ্যে দান করো না।

২৩- এবং "আল্লাহর প্রশংসা (হামদ)" হলো: তাঁর সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর গুণগান করা। আর "তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা (শুকর)" হলো:

তাঁর নেয়ামত ও অনুগ্রহের কারণে তাঁর প্রশংসা করা। আপনি বলেন: "আমি লোকটির প্রশংসা করেছি": যখন আপনি তার মহানুভবতা, বংশমর্যাদা ও বীরত্ব এবং এই জাতীয় গুণাবলির প্রশংসা করেন; আর "আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি": যখন আপনি আপনার প্রতি তার কৃত উপকারের কারণে তার গুণগান করেন।

কখনো কখনো প্রশংসাকে (হামদ) কৃতজ্ঞতার (শুকর) স্থলে ব্যবহার করা হয়। তবে কৃতজ্ঞতাকে প্রশংসার স্থলে ব্যবহার করা হয় না।

২৪- এবং "আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ" (১) হলো: আর-রাহমান, আর-রাহীম, আল-গফুর, আশ-শাকূর এবং এই জাতীয় নামসমূহ।

২৫- এবং তাঁর নামসমূহের বিকৃতি (ইলহাদ) হলো: [সত্য থেকে বিচ্যুত হওয়া ও তা থেকে সরে যাওয়া, এবং] লাত ও উজ্জা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোর উল্লেখ করা।

--------------------------------------------

(১) যা সূরা আল-আরাফ আয়াত ১৮০, সূরা আল-ইসরা আয়াত ১১০ এবং সূরা ত্বহা আয়াত ৮-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
26- و «مثله الأعلى» «1» لا إله إلّا الله. ومعنى المثل- هاهنا- معنى الصفة، أي: هذه صفته. وهي أعلى من كل صفة: إذ كانت لا تكون إلّا له.

ومثل هذا- مما المثل فيه بمعنى الصفة- قوله في صفة أصحاب رسوله: ذلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْراةِ [سورة الفتح آية: 29] ، أي:

صفتهم. وقوله: مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ [سورة الرعد آية 35] ، أي: صفتها. وقد بينت هذا في كتاب «المشكل» .

--------------------------------------------

(1) كالتي وردت في سورة النحل آية 60 وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلى، وسورة الروم آية 27 وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلى.
২৬- এবং ‘তাঁর সর্বোচ্চ উদাহরণ’ (১) হলো ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’। আর এখানে ‘মাসাল’ (উদাহরণ) শব্দের অর্থ হলো ‘সিফাত’ বা গুণ, অর্থাৎ: এটিই তাঁর গুণ। আর এটি সকল গুণের চেয়ে উচ্চতর: যেহেতু এটি কেবল তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট।

অনুরূপভাবে—যেখানে ‘মাসাল’ শব্দটি গুণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে—রাসূলের সাহাবীগণের বর্ণনায় আল্লাহর এই বাণী: ‘তাওরাতে তাদের উদাহরণ এরূপ’ [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯], অর্থাৎ:

তাদের গুণাবলি। এবং আল্লাহর বাণী: ‘মুত্তাকীদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তার উদাহরণ হলো...’ [সূরা আর-রাদ, আয়াত: ৩৫], অর্থাৎ: এর গুণাবলি। আমি ‘আল-মুশকিল’ নামক গ্রন্থে এটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি সূরা আন-নাহলের ৬০ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: ‘আর আল্লাহর জন্যই সর্বোচ্চ উদাহরণ (গুণ)’, এবং সূরা আর-রুমের ২৭ নম্বর আয়াতে: ‘আর তাঁরই জন্য সর্বোচ্চ উদাহরণ (গুণ)’।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
باب تأويل حروف كثرت في الكتاب

1- الْجِنَّ «1» من «الاجتنان» ، وهو الاستتار. يقال للدرع:

جنّة، لأنها سترت. ويقال: أجنّة الليل، أي: جعله من سواده في جنة، وجنّ عليه الليل.

وإنما سموا جنّا: لاستتارهم عن أبصار الإنس.

وقال بعض المفسرين في قوله: فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ [سورة الكهف آية: 50] ، أي، من الملائكة.

فسمهاهم جنّا: لاجتنانهم واستتارهم عن الأبصار.

وقال الأعشى يذكر سليمان النبيّ، عليه السلام:

وسخّر من جنّ الملائكة تسعة … قياما لديه يعملون بلا أجر

2- وسمي الْإِنْسِ إنسا: لظهورهم، وإدراك البصر إياهم. وهو من قولك: آنست كذا، أي: أبصرته. قال الله جل ثناؤه:

--------------------------------------------

(1) كقوله تعالى في سورة الكهف آية 50 وَإِذْ قُلْنا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ....
কিতাবে বারবার ব্যবহৃত কিছু শব্দের ব্যাখ্যা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

১- ‘জিন’ শব্দটি ‘আল-ইজতিনান’ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ আবরণ বা গোপন হওয়া। বর্মকে বলা হয়:

‘জুন্নাহ’ (ঢাল), কারণ তা আবৃত করে রাখে। আরও বলা হয়: রাত তাকে আড়াল করেছে, অর্থাৎ রাতের অন্ধকার তাকে একটি আবরণের মধ্যে নিয়ে গেছে; এবং রাত তার ওপর ছেয়ে গেছে।

তাদের ‘জিন’ নামকরণ করা হয়েছে মানুষের দৃষ্টি থেকে তাদের আবৃত বা অদৃশ্য থাকার কারণে।

কোনো কোনো মুফাসসির মহান আল্লাহর এই বাণীর বিষয়ে বলেন: “অতঃপর তারা সকলেই সিজদাহ করল ইবলিস ছাড়া; সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সে তার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল” [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৫০], অর্থাৎ সে ছিল ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত।

তিনি তাদের ‘জিন’ নামে অভিহিত করেছেন তাদের অদৃশ্যমানতা এবং দৃষ্টির অন্তরালে থাকার কারণে।

কবি আল-আ’শা নবী সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর উল্লেখ করে বলেছেন:

তিনি ফেরেশতা-জিনদের মধ্য থেকে নয়জনকে বশীভূত করেছেন... যারা তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করত।

২- আর ‘ইনস’ (মানুষ)-কে ‘ইনস’ নামকরণ করা হয়েছে তাদের প্রকাশ্যতা এবং দৃষ্টির গোচরীভূত হওয়ার কারণে। এটি আপনার এই উক্তি থেকে এসেছে: ‘আমি এটি অনুভব করেছি’, অর্থাৎ আমি এটি দেখেছি। মহান আল্লাহ বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) যেমন সূরা আল-কাহাফের ৫০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: “আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম যে, তোমরা আদমকে সিজদাহ করো, তখন ইবলিস ব্যতীত তারা সকলেই সিজদাহ করল; সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সে তার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল...”
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
إِنِّي آنَسْتُ ناراً [سورة طه آية: 10، وسورة النمل آية: 7، وسورة القصص آية:

29] ، أي: أبصرت.

وقد روي عن ابن عباس، أنه قال: إنما سمي إنسانا: لأنه عهد إليه فنسى.

وذهب إلى هذا قوم من أهل اللغة. واحتجوا في ذلك بتصغير إنسان، وذلك: أن العرب تصغره «أنيسيان» : بزيادة ياء، كأن مكبره «إنسيان» - إفعلان- من النّسيان، ثم تحذف الياء من مكبّره استخفافا: لكثرة ما يجري على اللسان، فإذا صغر رجعت الياء وردّ إلى أصله، لأنه لا يكثر مصغّرا كما يكثر مكبّرا.

والبصريون يجعلونه «فعلانا» على التفسير الأول. وقالوا: زيدت الياء في تصغيره، كما زيدت في تصغير ليلة، فقالوا: لييلة. وفي تصغير رجل، فقالوا: رويجل.

3- وهما: الثَّقَلانِ، يعني: الجن والإنس. سميا بذلك:

لأنهما ثقل الأرض، إذ كانت تحملهم أحياء وأمواتا. ومنه قول الله:

وَأَخْرَجَتِ الْأَرْضُ أَثْقالَها [سورة الزلزلة آية: 2] ، أي: موتاها.

وقالت الخنساء ترثي أخاها:

أبعد ابن عمرو من آل الشّريد … حلت به الأرض أثقالها

قالوا: حلّت من التحلية، لا من الحلّ الذي هو ضد العقد. أي:

حلّت به موتاها كأنها زينتهم به.

4- والْمَلائِكَةِ من الألوك. وهي الرسالة. وهي المألكة
নিশ্চয়ই আমি আগুন দেখেছি [সূরা ত্বহা আয়াত: ১০, সূরা আন-নামল আয়াত: ৭, সূরা আল-কাসাস আয়াত:

২৯] , অর্থাৎ: আমি দেখেছি।

ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: মানুষের নাম ‘ইনসান’ রাখা হয়েছে কারণ তাকে অঙ্গীকার করা হয়েছিল কিন্তু সে তা ভুলে গিয়েছিল।

ভাষাবিদদের একটি দল এই মতটি গ্রহণ করেছেন। তারা এর সপক্ষে ‘ইনসান’ শব্দের ক্ষুদ্রতাবাচক রূপের (তাসগীর) মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। তা হলো: আরবরা এর ক্ষুদ্রতাবাচক শব্দ হিসেবে ‘উনাইসিয়ান’ ব্যবহার করে; যেখানে একটি ‘ইয়া’ বৃদ্ধি করা হয়, যেন এর মূল রূপ ছিল ‘ইনসিয়ান’ — যা ‘ইফআলান’ ওযনে — ‘নিসইয়ান’ (বিস্মৃতি) থেকে আগত। অতঃপর মুখে অধিক ব্যবহারের কারণে সহজ করার জন্য মূল শব্দ থেকে ‘ইয়া’ বিলুপ্ত করা হয়েছে। যখন একে ক্ষুদ্রতাবাচক করা হয়, তখন সেই ‘ইয়া’ পুনরায় ফিরে আসে এবং শব্দটি তার মূলে প্রত্যাবর্তন করে; কারণ শব্দটির ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ মূল শব্দের মতো অধিক ব্যবহৃত হয় না।

বসরার ভাষাবিদগণ প্রথম ব্যাখ্যার ভিত্তিতে একে ‘ফালান’ ওযনের অন্তর্ভুক্ত করেন। তারা বলেন: এর ক্ষুদ্রতাবাচক রূপে ‘ইয়া’ অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে, ঠিক যেমন ‘লাইলাত’ (রাত)-এর ক্ষুদ্রতাবাচক রূপে ‘ইয়া’ যোগ করে ‘লুয়াইলিলাহ’ এবং ‘রাজুল’ (ব্যক্তি)-এর ক্ষুদ্রতাবাচক রূপে ‘রুয়াইযিল’ বলা হয়।

৩- তারা হলো: সাকালাইন (দুই ভারী সত্তা), অর্থাৎ: জিন ও মানুষ। তাদের এই নামে ডাকার কারণ হলো:

তারা পৃথিবীর বোঝা, কারণ পৃথিবী তাদের জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায় বহন করে। এরই অংশ হিসেবে আল্লাহর বাণী:

এবং পৃথিবী তার ভারসমূহ বের করে দেবে [সূরা আয-যিলযাল আয়াত: ২], অর্থাৎ: তার মৃতদের।

আল-খানসা তার ভাইয়ের শোকগাঁথায় বলেছেন:

আশ-শারীদ বংশের আমর-এর পুত্রের পর... পৃথিবী তার সকল ভার (মৃতদের) দিয়ে তাকে অলঙ্কৃত করেছে

তারা বলেন: এখানে ‘হাল্লাত’ শব্দটি ‘তাহলিইয়াহ’ (অলঙ্করণ) থেকে এসেছে, ‘হাল্ল’ (গ্রন্থি উন্মোচন) থেকে নয় যা ‘আকদ’ (চুক্তি বা গিঁট)-এর বিপরীত। অর্থাৎ:

পৃথিবী তার মৃতদের মাধ্যমে তাকে অলঙ্কৃত করেছে, যেন সে তাদের মাধ্যমে পৃথিবীকেই সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে।

৪- আর ফেরেশতাগণ (আল-মালাইকাহ) ‘আল-আলুক’ শব্দ থেকে উৎপন্ন। যার অর্থ হলো বার্তা। আর একেই ‘আল-মা’লাকাহ’ বলা হয়।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
والمألكة، ومنه قالت الشعراء: ألكني. أي أرسلني. وبمعنى كن رسولي، واحدهم ملك- بترك الهمزة- لكثرة ما يجري في الكلام، والهمزة في الجمع مؤخرة لأنهم رسل الله.

5- و (إبليس) فيه قولان: قال أبو عبيدة: هو اسم أعجمي ولذلك لا يصرف. وقال غيره: «إفعيل» من أبلس الرجل إذا يئس. قال الله جل ثناؤه: أَخَذْناهُمْ بَغْتَةً فَإِذا هُمْ مُبْلِسُونَ [سورة الأنعام آية: 44] ، أي:

يائسون. [كذلك قال ابن عباس في رواية أبي صالح عنه] ، قال: ولما لعنه الله وغضب عليه أبلس من رحمته أي: يئس [منها] فسماه [الله عز وجل] إبليس. وكان اسمه عزازيل.

قال: ولم يصرف لأنه لا سميّ له فاستثقل.

6- والشَّيْطانُ تقديره فيعال. والنون من نفس الحرف. كأنه من شطن أي: بعد. ومنه يقال شطنت داره [أي: بعدت] وقذفته نوى [شطون] أي: بعيدة. وشياطين الجن: مردتهم. وكذلك شياطين الإنس:

مردتهم [أيضا] .

كأن المارد منهم يخرج عن جملتهم ويبعد [منهم] لتمرده. ومثله قولهم: شاطر وشطّار. لأنهم كانوا يبعدون عن منازلهم. فسمّي بذلك كلّ من فعل مثل فعلهم وإن لم يعزب عن أهله. قال طرفة:

… في القوم الشّطر أي: البعداء.

والدليل على أن النون من شيطان من نفس الحرف قول أمية بن أبي
আর আল-মালআকাহ (বার্তাবাহন), তা থেকেই কবিরা বলেন: আলিকনী। অর্থাৎ আমার বার্তা পৌঁছে দাও। অথবা আমার বার্তাবাহক হও। এদের একবচন হলো 'মালাক' (ফেরেশতা)—কথাবার্তায় অতি ব্যবহারের কারণে হামযাহ বর্জন করা হয়েছে। আর বহুবচনে হামযাহটি শেষে চলে আসে, কারণ তারা আল্লাহর প্রেরিত দূত।

৫- আর (ইবলিস) সম্পর্কে দুটি অভিমত রয়েছে: আবু উবাইদাহ বলেছেন: এটি একটি অনারব নাম, এই কারণে এটি রূপান্তরহীন (গায়রে মুনসারিফ)। অন্যরা বলেছেন: এটি 'ইফঈল' ওজনে 'আবলাসা' থেকে উদ্ভূত, যখন কোনো ব্যক্তি হতাশ হয় তখন এটি ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: আমি তাদের আকস্মিকভাবে পাকড়াও করলাম, তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ল [সূরা আল-আনআম, আয়াত: ৪৪], অর্থাৎ:

হতাশাগ্রস্ত। [আবু সালিহের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে], তিনি বলেন: আল্লাহ যখন তাকে অভিশপ্ত করলেন এবং তার ওপর রাগান্বিত হলেন, তখন সে তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে গেল, অর্থাৎ: সে রহমত থেকে হতাশ হয়ে পড়ল। ফলে মহান আল্লাহ তার নাম রাখলেন ইবলিস। তার নাম ছিল আযাযীল।

তিনি বলেন: এটি রূপান্তরহীন রাখা হয়েছে কারণ এর সমজাতীয় কোনো নাম নেই, তাই এটি উচ্চারণে ভারী মনে হয়।

৬- আর আশ-শয়তান শব্দের ওজন হলো 'ফায়আল'। এখানে 'নুন' বর্ণটি মূল অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত। এটি যেন 'শাতানা' থেকে আগত যার অর্থ: দূরে সরে যাওয়া। এ থেকেই বলা হয় 'শাতানাত দারুহু' [অর্থাৎ: তার বাড়ি দূরে সরে গেছে] এবং তাকে দূরবর্তী গন্তব্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে। আর জিনের শয়তান হলো তাদের মধ্যকার অবাধ্যরা। একইভাবে মানুষের শয়তান হলো:

তাদের মধ্যকার অবাধ্যরা [ও]।

যেন তাদের মধ্যকার বিদ্রোহী বা মারেদ তার দল থেকে বেরিয়ে যায় এবং অবাধ্যতার কারণে দূরে সরে যায়। এরই অনুরূপ হলো তাদের প্রবাদ: 'শাতির' ও 'শাত্তার' (বিদ্রোহী/ধূর্ত)। কারণ তারা তাদের ঘরবাড়ি থেকে দূরে থাকত। তাই যে কেউ তাদের মতো কাজ করে, তাকেই এই নামে অভিহিত করা হয়, যদিও সে তার পরিবার ছেড়ে দূরে না যায়। তারাফাহ বলেছেন:

... গোত্রের মধ্যে 'আশ-শুতুর' অর্থাৎ: যারা দূরবর্তী।

আর শয়তান শব্দের 'নুন' বর্ণটি যে মূল অক্ষরের অংশ, তার প্রমাণ হলো উমাইয়া ইবনে আবী-এর উক্তি-
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
الصلت في وصف سليمان النبي صلى الله عليه وآله وسلم:

أيّما شاطن عصاه عكاه … ثم يلقى في السجن والأغلال

فجاء به على فاعل من شطن.

7- وقوله: يَتَوَفَّى الْأَنْفُسَ [سورة الزمر آية: 42] ، هو من استيفاء العدد واستيفاء الشيء إذا استقصيته كله. يقال: توفيته واستوفيته.

كما يقال: تيقنت الخبر واستيقنته، وتثبت في الأمر واستثبته. وهذا [هو] الأصل. ثم قيل للموت: وفاة وتوف.

والعرب تسمى الدم نفسا لاتصال النفس به على مذهبهم في تسمية الشيء بما اتصل به أو جاوره أو كان سببا له.

ويقولون: نفست المرأة: إذا خاضت كأنها دميت. وقال أصحاب اللغة: وإنما سميّت المرأة نفساء لسيلان الدم.

وقال إبراهيم «1» : كل شيء ليست له نفس سائلة فإنه لا ينجس الماء إذا سقط فيه. يريد كل شيء ليس له دم سائل.

وتسمى العرب النفس نسمة. وأصل النسمة النفس.

وروي في بعض الحديث «تنكبوا الغبار فإن منه تكون النسمة»

يراد منه يكون النفس.

والربو سمي نفسا لأنه عن النفس يكون.

والعرب تقول: مات فلان حتف نفسه، وحتف أنفه إذا مات على فراشه، لأنه لا يزال يتنفس حتى يموت فتخرج نفسه نفسا من أنفه وفمه.

--------------------------------------------

(1) لعله إبراهيم النخعي.
নবী সুলাইমান আলাইহিস সালামের বর্ণনায় আস-সালত বলেছেন:

যে কোনো বিদ্রোহী তাঁর অবাধ্য হয়েছে তিনি তাকে বেঁধেছেন … অতঃপর তাকে জেলখানায় ও শৃঙ্খলে নিক্ষেপ করা হয়েছে।

তাই এটি 'শাতানা' থেকে 'ফায়িল' ওজনে এসেছে।

৭- এবং আল্লাহর বাণী: "তিনি প্রাণসমূহ গ্রহণ করেন" [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৪২], এটি সংখ্যা পূর্ণ করা এবং কোনো বস্তুকে পূর্ণরূপে গ্রহণ করা থেকে এসেছে যখন আপনি তা পুরোপুরি নিঃশেষ করেন। বলা হয়: আমি এটি পূর্ণরূপে পেয়েছি এবং আমি এটি পূর্ণ করেছি।

যেমন বলা হয়: আমি সংবাদটির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি এবং পূর্ণ নিশ্চিত হয়েছি, এবং বিষয়ে অটল হয়েছি ও পূর্ণ অটল হয়েছি। আর এটিই মূল। অতঃপর মৃত্যুকে 'ওয়াফাত' ও 'তাওয়াফ্ফি' বলা হয়েছে।

আর আরবরা রক্তকে 'নাফস' বা প্রাণ বলে অভিহিত করে, কারণ তাদের রীতি অনুযায়ী কোনো বস্তুর সাথে যা সংযুক্ত বা নিকটবর্তী থাকে কিংবা যা কিছুর কারণ হয়, সেই অনুযায়ী তারা তার নামকরণ করে।

আর তারা বলে: নারীটি নিফাসপ্রাপ্ত হয়েছে: যখন সে এমন অবস্থায় পড়ে যেন সে রক্তে প্লাবিত হয়েছে। ভাষাবিদগণ বলেছেন: রক্ত প্রবাহিত হওয়ার কারণেই প্রসূতি নারীকে 'নুফাসাউ' বলা হয়।

এবং ইব্রাহিম «১» বলেছেন: যে জিনিসের প্রবাহিত প্রাণ নেই, তা পানিতে পড়লে পানি অপবিত্র হয় না। তিনি বুঝিয়েছেন যে জিনিসের প্রবাহিত রক্ত নেই।

আর আরবরা প্রাণকে 'নাসামাহ' বলে। আর 'নাসামাহ'-এর মূল হলো 'নাফস' বা প্রাণ।

এবং কোনো কোনো হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, "তোমরা ধুলাবালি এড়িয়ে চল, কেননা তা থেকে শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়।"

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তা থেকে শ্বাসকষ্ট হওয়া।

আর হাঁপানিকে 'নাফস' বলা হয় কারণ তা শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে উৎপন্ন হয়।

আর আরবরা বলে: অমুক ব্যক্তি স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছে, অথবা সে আপন নাকে (বিছানায়) মারা গেছে, যখন সে নিজ বিছানায় মারা যায়; কারণ সে আমৃত্যু শ্বাস নিতে থাকে এবং অবশেষে তার প্রাণ তার নাক ও মুখ দিয়ে শ্বাস হিসেবে বেরিয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত তিনি ইব্রাহিম আন-নাখয়ী।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
8- ويَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ [سورة النمل آية: 87] ، قال أبو عبيدة: وهو جمع صورة، يقال: صورة، وصور، وصور.

قال: ومثله صورة البناء وسوره. وأنشد:

سرت إليه في أعالي السّور قال: وسور المجد أعاليه. أي ينفخ في صور الناس.

وقال غيره: الصّور القرن بلغة قوم من أهل اليمن، وأنشد:

نحن نطحناهم غداة الجمعين … بالضابحات غي غبار النّقعين

نطحا شديدا لا كنطح الصّورين وهذا أعجب إليّ من القول الأول،

لقول رسول الله صلى الله عليه وعلى آله: «كيف أنعم وصاحب القرن قد التقمه وحنى جبهته، ينتظر متى يؤمر فينفخ» .

9- و (اللّعن) في اللغة أصله الطّرد. ولعن الله إبليس: طرده حين قال: اخْرُجْ مِنْها مَذْؤُماً [سورة الأعراف آية: 18] ، ثم انتقل ذلك فصار قولا. قال الشماخ: - وذكر ماء-:

ذعرت به القطا ونفيت عنه … مقام الذئب كالرّجل اللعين

أراد مقام الذئب اللعين. أي الطريد كالرجل. فكأن القائل: لعنه الله، أراد طرده الله عنه، باعده الله منه، أسحقه الله، هذا أو نحوه.

10- و (الشرك) في اللغة مصدر شركته في الأمر أشركه، وفي الحديث: أن معاذا أجاز بين أهل المين الشّرك. يراد في المزارعة أن يشترك فيها رجلان أو ثلاثة. فكان الشّرك بالله هو أن يجعل له شريك قال: وَما
৮- এবং 'যেদিন শিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে' [সূরা আন-নামল আয়াত: ৮৭], আবু উবাইদাহ বলেন: এটি 'সূরাহ' (আকৃতি)-এর বহুবচন, বলা হয়: সূরাহ, সুওয়ার এবং সুর।

তিনি বলেন: এর উদাহরণ হলো ইমারতের সূরাহ এবং তার সুর (প্রাচীর)। তিনি পঙক্তি পাঠ করেছেন:

আমি তার কাছে প্রাচীরের উচ্চশিখরে পৌঁছেছি। তিনি বলেন: গৌরবের সুর হলো তার উচ্চতা। অর্থাৎ মানুষের আকৃতিসমূহে ফুঁৎকার দেওয়া হবে।

অন্যরা বলেন: 'সুর' অর্থ হলো শিং (শিঙা), যা ইয়ামেনের কোনো এক সম্প্রদায়ের ভাষা, তিনি পঙক্তি পাঠ করেছেন:

আমরা দুই দলের মিলনের সকালে তাদের গুঁতিয়েছি ... ধূলিকণার ওড়াউড়ির মধ্যে হ্রেষাধ্বনিদানকারী অশ্বসমূহের সাহায্যে।

তীব্র গুঁতো, যা দুটি শিং-এর গুঁতোর মতো নয়। আর এই অভিমতটিই আমার নিকট প্রথম অভিমতের চেয়ে বেশি পছন্দনীয়,

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর কারণে: «আমি কীভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারি যখন শিঙার অধিকারী তা মুখে নিয়েছেন এবং তাঁর ললাট নত করেছেন, কখন তাঁকে ফুঁ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে সেই অপেক্ষায় আছেন»।

৯- এবং (লা'ন/অভিশাপ) শব্দের মূল ভাষাগত অর্থ হলো বিতাড়ন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে ইবলিসকে অভিশাপ দেওয়ার অর্থ হলো: তাকে বিতাড়ন করা, যখন তিনি বলেছিলেন: 'এখান থেকে লাঞ্ছিত অবস্থায় বের হয়ে যাও' [সূরা আল-আ'রাফ আয়াত: ১৮], অতঃপর তা একটি বাচনিক অর্থে স্থানান্তরিত হয়। আশ-শাম্মাখ বলেছেন—একটি জলাশয়ের বর্ণনা প্রসঙ্গে—:

আমি সেখানে কাতা পাখিদের ভীত করেছি এবং সেখান থেকে বিতাড়িত করেছি ... নেকড়ের অবস্থানকে অভিশপ্ত (বিতাড়িত) মানুষের মতো করে।

তিনি অভিশপ্ত নেকড়ের অবস্থান বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ মানুষের মতো বিতাড়িত। যেন কোনো বক্তা যখন বলে: 'আল্লাহ তাকে লানত করুন', তার অর্থ হয়: আল্লাহ তাকে বিতাড়িত করুন, আল্লাহ তাকে তাঁর নিকট থেকে দূরবর্তী করে দিন, আল্লাহ তাকে চূর্ণ করুন—এটি বা এর অনুরূপ কিছু।

১০- এবং (শিরক) ভাষাগতভাবে কোনো বিষয়ে অংশীদার হওয়ার ক্রিয়ামূল। হাদীসে এসেছে: মু'আয রাযিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামেনবাসীদের মধ্যে শিরক (অংশীদারিত্ব) অনুমোদন করেছেন। এর দ্বারা বর্গাচাষের এমন পদ্ধতি বুঝানো হয়েছে যাতে দুই বা তিনজন ব্যক্তি অংশীদার হয়। সুতরাং আল্লাহর সাথে শিরক করা হলো তাঁর জন্য অংশীদার সাব্যস্ত করা। তিনি বলেছেন: এবং যা...
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ

[سورة يوسف آية: 106] .

قال أبو عبيدة: كانت تلبية أهل الجاهلية: لبّيك لا شريك لك إلّا شريك هو لك تملكه وما ملك. فأنزل الله هذه الآية.

11- و (الجحد) في اللغة: إنكارك بلسانك ما تستيقنه نفسك. قال الله جل ثناؤه: وَجَحَدُوا بِها وَاسْتَيْقَنَتْها أَنْفُسُهُمْ [سورة النمل آية:

14] ، وقال: فَإِنَّهُمْ لا يُكَذِّبُونَكَ وَلكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآياتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ [سورة الأنعام آية: 33] ، يريد أنهم لا ينسبونك إلى الكذب في قراءة من قرأ «يكذّبونك» بالتشديد. ومن قرأ «يكذبونك» بالتخفيف، أراد: لا يجدونك كذابا ولكنهم بآيات الله يجحدون. أي: ينكرونها بألسنتهم وهم مستيقنون [أنك] لم تكذب ولم تأت بها إلّا عن الله تبارك اسمه.

12- و (الكفر) في اللغة من قولك كفرت الشيء إذا غطّيته. يقال لليل كافر لأنه يستر بظلمته كل شيء. ومنه قول الله عز وجل: كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَباتُهُ [سورة الحديد آية: 20] ، يريد بالكفّار الزرّاع.

سمّاهم كفّارا لأنهم إذا ألقوا البذر في الأرض كفروه أي: غطوه وستروه، فكأن الكافر ساتر للحق وساتر لنعم الله عز وجل.

13- و (الظلم) في اللغة وضع الشيء غير موضعه.

ومنه ظلم السّقاء وهو شربه قبل الإدراك، لأنّه وضع الشّرب غير موضعه.

وظلم الجزور وهو نحره لغير عيلة.
তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, তবে এমতাবস্থায় যে তারা মুশরিক।

[সূরা ইউসুফ আয়াত: ১০৬] .

আবু উবাইদাহ বলেন: জাহেলিয়াত যুগের লোকেদের তালবিয়া ছিল: আমি উপস্থিত, আপনার কোনো অংশীদার নেই, তবে এমন একজন অংশীদার আছে যে আপনারই; আপনি তার মালিক এবং সে যার মালিক তারও আপনি মালিক। অতঃপর আল্লাহ এই আয়াত নাজিল করেন।

১১- এবং অভিধানে 'আল-জাহদ' (অস্বীকার করা) হলো: আপনার অন্তরে যে বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে, তা জিহ্বা দ্বারা অস্বীকার করা। মহান আল্লাহ বলেন: তারা অন্যায় ও ঔদ্ধত্যবশত সেগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে নিশ্চিত বিশ্বাস করেছিল [সূরা আন-নামল আয়াত: ১৪] , এবং তিনি বলেন: বস্তুত তারা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকেই অস্বীকার করে [সূরা আল-আনআম আয়াত: ৩৩] , এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—যারা তাশদীদসহ 'ইউকাযযিবুনাকা' পাঠ করেছেন তাদের পাঠ অনুযায়ী—তারা আপনাকে মিথ্যার প্রতি দায়ী করে না। আর যারা তাশদীদ ছাড়া 'ইউকযিবুনাকা' পাঠ করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো: তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী হিসেবে পায় না, কিন্তু তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। অর্থাৎ: তারা তাদের জিহ্বা দিয়ে সেগুলো অস্বীকার করে অথচ তারা নিশ্চিতভাবে জানে যে [আপনি] মিথ্যা বলেননি এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই এগুলো নিয়ে এসেছেন।

১২- আর অভিধানে 'আল-কুফর' শব্দটি কোনো কিছুকে ঢেকে দেওয়া থেকে এসেছে। রাতকে 'কাফির' (আচ্ছাদনকারী) বলা হয় কারণ এটি তার অন্ধকার দিয়ে সবকিছুকে ঢেকে ফেলে। এর থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: বৃষ্টির মতো, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদের আনন্দিত করে [সূরা আল-হাদীদ আয়াত: ২০] , এখানে 'কুফফার' দ্বারা কৃষকদের বোঝানো হয়েছে।

তাদের 'কুফফার' বলা হয়েছে কারণ তারা যখন জমিতে বীজ বপন করে, তখন তারা তা ঢেকে দেয় বা আবৃত করে রাখে; সুতরাং কাফির হলো সত্যকে গোপনকারী এবং মহান আল্লাহর নেয়ামতকে আবরণকারী।

১৩- আর অভিধানে 'আয-যুলম' হলো কোনো বস্তুকে তার অনপযুক্ত স্থানে রাখা।

এর থেকেই এসেছে মশকের ওপর জুলুম করা, আর তা হলো পূর্ণরূপে প্রস্তুত হওয়ার আগেই তা থেকে পান করা, কারণ সে পান করার বিষয়টিকে তার সঠিক স্থানে রাখেনি।

এবং উটের ওপর জুলুম করা, যা হলো কোনো অভাব বা প্রয়োজন ছাড়াই তাকে জবেহ করা।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومنه يقال: من أشبه أباه فما ظلم. أي: ما وضع الشبه غير موضعه.

ومنه قول النابغة:

والنؤي كالحوض بالمظلومة الجلد والمظلومة: الأرض التي حفر فيها ولم تكن موضع حفر. سميت بذلك لأن الحفر وضع غير موضعه.

فكأن الظالم هو الذي أزال الحق عن جهته وأخذ ما ليس له، هذا وما أشبهه.

ثم يتفرع من الظلم معان قد ذكرتها في كتاب «تأويل المشكل» .

14- و (الفسق) في اللغة: الخروج عن الشيء. ومنه قول الله جل وعز: إِلَّا إِبْلِيسَ كانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ [سورة الكهف آية:

50] ، أي: خرج من طاعته. قال الفراء: ومنه يقال فسقت الرّطبة: إذا خرجت من قشرها.

15- و (النّفاق) في اللغة مأخوذ من نافقاء اليربوع وهو جحر من جحرته يخرج منه إذا أخذ عليه الحجر الذي دخل فيه. فيقال: قد نفق ونافق، شبّه بفعل اليربوع، لأنه يدخل من باب ويخرج من باب. وكذلك المنافق يدخل في الإسلام باللفظ ويخرج منه بالعقد. وقد ذكرت هذا في كتاب «غريب الحديث» بأكثر من هذا البيان.

والنفاق لفظ إسلامي لم تكن العرب قبل الإسلام تعرفه.
এর থেকেই বলা হয়: যে তার পিতার সদৃশ হয়েছে, সে যুলুম (অবিচার) করেনি। অর্থাৎ: সে সাদৃশ্যকে অন্যায্য স্থানে স্থাপন করেনি।

এর থেকেই নাবিগার উক্তি:

এবং 'নুই' (নালা) ছিল শক্ত ও অন্যায্যভাবে খননকৃত জমিতে অবস্থিত হাউজের ন্যায়। আর 'মাযলূমাহ' হলো এমন জমি যাতে খনন করা হয়েছে অথচ তা খনন করার মতো জায়গা ছিল না। একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এখানে খননকার্যটি তার অন্যায্য স্থানে করা হয়েছে।

সুতরাং যালিম (অত্যাচারী) যেন সেই ব্যক্তি, যে সত্যকে তার সঠিক পথ থেকে সরিয়ে দেয় এবং যা তার নয় তা গ্রহণ করে; এটি এবং এর সদৃশ বিষয়সমূহ।

অতঃপর যুলুম থেকে আরও অনেক অর্থ বের হয়ে আসে যা আমি 'তাউয়ীলুল মুশকিল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।

১৪- এবং ভাষাগতভাবে 'ফিসক' হলো: কোনো কিছু থেকে বের হয়ে যাওয়া। এর থেকেই মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: কেবল ইবলীস ব্যতীত, সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, তাই সে তার প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করল [সূরা আল-কাহাফ, আয়াত: ৫০], অর্থাৎ: সে তাঁর আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল। আল-ফাররা বলেন: এর থেকেই বলা হয় খেজুর ফাসাকাত (ফেটে বের হওয়া); যখন তা তার খোসা থেকে বের হয়ে আসে।

১৫- এবং ভাষাগতভাবে 'নিফাক' (কপটতা) শব্দটি ইয়ারবু (মরুভূমির ইঁদুর) এর 'নাফিক্বা' থেকে নেওয়া হয়েছে; আর তা হলো তার গর্তগুলোর মধ্যে এমন একটি ছিদ্র যা দিয়ে সে বের হয়ে যায় যখন তার প্রবেশকৃত গর্তটি অবরুদ্ধ করা হয়। অতঃপর বলা হয়: সে গর্তে ঢুকেছে ও বের হয়েছে, যা ইয়ারবুর কাজের সাথে তুলনা করা হয়েছে; কারণ সে এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করে এবং অন্য দরজা দিয়ে বের হয়। অনুরূপভাবে মুনাফিক (কপট ব্যক্তি) মৌখিকভাবে ইসলামে প্রবেশ করে এবং অন্তরের বিশ্বাসের মাধ্যমে তা থেকে বের হয়ে যায়। আর আমি 'গারীবুল হাদীস' গ্রন্থে এর চেয়েও বিস্তারিত বর্ণনার সাথে এটি উল্লেখ করেছি।

আর নিফাক একটি ইসলামি পরিভাষা যা ইসলামের পূর্বে আরবরা জানত না।
(খণ্ড: ১) গরাইবুল কুরআন লি ইবনি কুতাইবাহ তাহকীক সাইদ আল-লাহহাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
16- و (البهتان) من بهت الرجل إذا وجهته بالباطل.

17- و (العدوان) من عدوت وتعدّيت على الرجل. والعداء:

الظلم.

18- و (الخسران) النقصان. وكذلك الخسر، ويكون بمعنى الهلكة. قال الله تعالى: وَأُولئِكَ هُمُ الْخاسِرُونَ [سورة التوبة آية:

69] أي الهالكون: وقال: فَما تَزِيدُونَنِي غَيْرَ تَخْسِيرٍ [سورة هود آية:

63] ، أي: هلكة، وقال في موضع آخر: وَما زادُوهُمْ غَيْرَ تَتْبِيبٍ [سورة هود آية: 101] ، أي: هلكة.

19- و (الإفك) الكذب، لأنه كلام قلب عن الحق. وأصله من أفكت الرجل إذا صرفته عن رأي كان عليه. ومنه قيل لمدائن قوم لوط:

الْمُؤْتَفِكاتِ [سورة التوبة آية: 70، وسورة الحاقة آية: 9] ، لانقلابها. ومنه قول الله جل وعز: فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ [سورة الأنعام آية:

95، وسورة يونس آية: 34، وسورة فاطر آية: 3، وسورة غافر آية:

62] ، أي: من أين تحرمون وتصرفون عن الحق، قال الشاعر:

إن تك عن أحسن الصّنيعة مأ … فوكا ففي آخرين قد أفكوا

أي: إن تك عن أحسن الصنيعة معدولا.
১৬- এবং (বুহতান) শব্দটি 'বাহাতা' থেকে উদ্ভূত, যখন আপনি কাউকে মিথ্যার মুখোমুখি করেন।

১৭- এবং (উদওয়ান) শব্দটি এসেছে যখন আপনি কারো ওপর সীমালঙ্ঘন করেন। আর 'আদা' হলো:

জুলুম বা অবিচার।

১৮- এবং (খুসরান) হলো ক্ষতি বা ঘাটতি। অনুরূপভাবে 'খুসর' শব্দটিও, আর এটি ধ্বংস অর্থেও ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: আর তারাই হলো ক্ষতিগ্রস্ত [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬৯] অর্থাৎ ধ্বংসপ্রাপ্তরা। তিনি আরও বলেছেন: তোমরা তো কেবল আমার ধ্বংসই বৃদ্ধি করছ [সূরা হুদ, আয়াত: ৬৩], অর্থাৎ: ধ্বংস। তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: আর তারা তাদের কেবল ধ্বংসই বৃদ্ধি করেছিল [সূরা হুদ, আয়াত: ১০১], অর্থাৎ: ধ্বংস।

১৯- এবং (ইফক) হলো মিথ্যা, কারণ এটি সত্য থেকে বিচ্যুত বা উল্টানো কথা। এর মূল উৎস হলো যখন আপনি কোনো ব্যক্তিকে তার পূর্ববর্তী কোনো মতামত থেকে সরিয়ে দেন। এ কারণেই লুত (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের জনপদগুলোকে বলা হয়েছে:

উল্টে দেওয়া জনপদসমূহ [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭০ এবং সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত: ৯], কারণ সেগুলো উল্টে দেওয়া হয়েছিল। এ থেকেই মহান প্রতাপশালী আল্লাহর বাণী: অতঃপর তোমাদেরকে কোথায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে [সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৯৫, সূরা ইউনুস, আয়াত: ৩৪, সূরা ফাতির, আয়াত: ৩ এবং সূরা গাফির, আয়াত: ৬২], অর্থাৎ: কোথা থেকে তোমাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং সত্য থেকে বিমুখ করা হচ্ছে। কবি বলেছেন:

যদি তোমাকে সর্বোত্তম কর্ম থেকে বিমুখ করা হয় … তবে অন্যদেরকেও বিমুখ করা হয়েছে

অর্থাৎ: যদি তোমাকে সর্বোত্তম কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।