(খণ্ড: ১)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: -)
التمهيد - ابن عبد البر - ت بشار القسم: شروح الحديث
الكتاب: التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد في حديث رسول اللَّه -صلى اللَّه عليه وسلم-
المؤلف: أبو عمر بن عبد البر النمري القرطبي (368 - 463 هـ)
حققه وعلق عليه: بشار عواد معروف، وآخرون، هم
جـ 1، 3، 4، 13 - 16: سليم محمد عامر - محمد بشار عواد
جـ 2: معاذ سمير الخالدي - محمد بشار عواد
جـ 5: محمد كامل قُرّه بلّلي - سليم محمد عامر
جـ 6: لطفي محمد الصغير - سليم محمد عامر
جـ 7 - 11: حسن عبد المنعم شلبي - محمد بشار عواد
الناشر: مؤسسة الفرقان للتراث الإسلامي - لندن
الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2017 م
عدد الأجزاء: 17 (الأخير فهارس)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 17 رمضان 1442
আত-তামহিদ - ইবনে আব্দুল বার - সম্পাদনা: বাশার বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ
বই: আত-তামহিদ লিমা ফিল মুয়াত্তা মিনাল মাআনী ওয়াল আসানিদ ফি হাদিসি রাসূলিল্লাহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-
লেখক: আবু উমর বিন আব্দুল বার আন-নামারি আল-কুরতুবি (৩৬৮ - ৪৬৩ হিজরি)
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: বাশার আওয়াদ মারুফ, এবং অন্যান্যরা, তাঁরা হলেন
খণ্ড ১, ৩, ৪, ১৩ - ১৬: সেলিম মুহাম্মদ আমির - মুহাম্মদ বাশার আওয়াদ
খণ্ড ২: মুআয সামির আল-খালিদি - মুহাম্মদ বাশার আওয়াদ
খণ্ড ৫: মুহাম্মদ কামিল কুররা বাল্লালি - সেলিম মুহাম্মদ আমির
খণ্ড ৬: লুতফি মুহাম্মদ আস-সগির - সেলিম মুহাম্মদ আমির
খণ্ড ৭ - ১১: হাসান আব্দুল মুনয়িম শালাবি - মুহাম্মদ বাশার আওয়াদ
প্রকাশক: আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন - লন্ডন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১৭ (শেষটি নির্ঘণ্ট)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৭ রমজান ১৪৪২
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١)
سلسلة النصوص المحققة
التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد في حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم
لأبي عمر بن عبد البر النمري القرطبي
(368 - 463 هـ/ 978 - 1071 م)
مؤسسة الفرقان للتراث الإسلامي
مركز دراسات المخطوطات الإسلامية
حققه وعلق عليه: بشار عواد معروف، وآخرون، هم
جـ 1، 3، 4، 13 - 16: سليم محمد عامر - محمد بشار عواد
جـ 2: معاذ سمير الخالدي - محمد بشار عواد
جـ 5: محمد كامل قُرّه بلّلي - سليم محمد عامر
جـ 6: لطفي محمد الصغير - سليم محمد عامر
جـ 7 - 11: حسن عبد المنعم شلبي - محمد بشار عواد
সম্পাদিত পাণ্ডুলিপি সিরিজ
আত-তামহীদ: মুয়াত্তা-তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহের অর্থ ও সনদসমূহের ব্যাখ্যা
আবু উমর ইবনে আব্দুল বার আল-নামারি আল-কুরতুবী কর্তৃক
(৩৬৮ - ৪৬৩ হিজরি / ৯৭৮ - ১০৭১ খ্রিস্টাব্দ)
আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন
ইসলামিক পাণ্ডুলিপি গবেষণা কেন্দ্র
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন: বাশশার আওয়াদ মারুফ এবং অন্যান্যরা, তাঁরা হলেন
খণ্ড ১, ৩, ৪, ১৩ - ১৬: সেলিম মুহাম্মদ আমির - মুহাম্মদ বাশশার আওয়াদ
খণ্ড ২: মুয়ায সামির আল-খালিদি - মুহাম্মদ বাশশার আওয়াদ
খণ্ড ৫: মুহাম্মদ কামিল কুররা বেল্লি - সেলিম মুহাম্মদ আমির
খণ্ড ৬: লুৎফি মুহাম্মদ আস-সাগীর - সেলিম মুহাম্মদ আমির
খণ্ড ৭ - ১১: হাসান আব্দুল মুনইম শালবি - মুহাম্মদ বাশশার আওয়াদ
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٥)
تقديم معالي الشيخ أحمد زكي يماني بسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ للَّه رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله محمد الأمين، والتحية لأهل بيته، ورضي اللَّه عن صحابته والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد:
فإن التراث مرآة الأمة وخزانة تجاربها على أنحاء شتى من المعارف الإنسانية، يتقدمها ما أبدعه العَقْل المسلم من تآليف ماتعة نافعة في فقه كتاب اللَّه العزيز وسنة رسوله المبعوث رحمة للعالمين بما يهدف إلى إسعاد البشرية وتقدمها ورقيها والنهوض بحقوق عباد اللَّه الذين أعمرهم أرضه وأمرهم أن ينتشروا فيها ويبتغوا من فضله، فأثروا الحضارة الإنسانية ببديع تلكم التآليف التي طار صيتها في مشارق الأرض ومغاربها.
ويسعدني باسم مؤسسة الفرقان للتراث الإسلامي أن أقدم اليوم كتاب "التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد" لحافظ عصره الإمام العلامة الجهبذ ابن عبد البر النمري القرطبي دَرّة من درر هذا التراث الخالد، ولعلنا لا نبالغ إذ قلنا: إنه يعدل ألوفًا في جلالة القدر وخلود الذكر، فهو من أعظم شروح موطأ إمام دار الهجرة مالك بن أنس الأصبحي وأشهرها ذكرًا وأعلاها قدرًا وأغزرها فائدة حين أبان فيه عن نكت أغفلها الفقهاء، ففتح أقفالها وقيودها وأغلالها بما آتاه اللَّه من فكر نيّر وعقل نَصِيح، فصار كتابه هذا من أمهات كتب الفقه المقارن، بحرًا لا تكدره الدلاء اتسعت أبعاده وتعددت جوانبه، بحيث قال فيه الإمام العلامة أبو محمد بن حزم الظاهري: "لا أعلم في الكلام على فقه الحديث مثله فكيف أحسن منه"، وقال عنه العلامة أبو علي الجياني: "هو كتاب لم يتقدمه أحد إلى مثله"، وقال القاضي عياض:
মান্যবর শায়খ আহমদ জাকি ইয়ামানির উপস্থাপনা পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
যাবতীয় প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বিশ্বস্ত রাসুল মুহাম্মাদের ওপর, আর তাঁর আহলে বায়াতের প্রতি অভিবাদন, এবং আল্লাহ তাঁর সাহাবীগণ ও কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ঐতিহ্য হলো উম্মাহর দর্পণ এবং মানবীয় জ্ঞানের নানাবিধ অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। এর অগ্রভাগে রয়েছে মুসলিম মেধার সেই সব অনন্য ও কল্যাণকর রচনা, যা মহান আল্লাহর কিতাব এবং বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত তাঁর রাসুলের সুন্নাহর ফিকহ বিষয়ে রচিত। এর লক্ষ্য হলো মানবজাতির সুখ, সমৃদ্ধি ও উন্নতি নিশ্চিত করা এবং আল্লাহর সেই বান্দাদের অধিকার সমুন্নত রাখা যাদেরকে তিনি জমিনে আবাদ করেছেন এবং এর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের সেই সব চমৎকার রচনার মাধ্যমে মানব সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছেন যার সুখ্যাতি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আজ তাঁর যুগের হাফিজ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আল্লামা ইবনে আব্দুল বার আন-নামারি আল-কুরতুবির কালজয়ী রচনা "আত-তামহীদ লিমা ফিল মুয়াত্তা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ" গ্রন্থটি উপস্থাপন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি এই শাশ্বত ঐতিহ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রত্ন। আমরা যদি বলি যে, মর্যাদার গুরুত্ব ও খ্যাতির অক্ষয় উপস্থিতির বিচারে এটি হাজারো গ্রন্থের সমতুল্য, তবে সম্ভবত আমরা বাড়িয়ে বলছি না। এটি দারুল হিজরতের ইমাম মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহির 'মুয়াত্তা'-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ, সর্বাধিক পরিচিত, সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ এবং অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এতে তিনি এমন সব সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয় উন্মোচন করেছেন যা ফকিহগণ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। আল্লাহ প্রদত্ত উজ্জ্বল চিন্তাশক্তি ও বিশুদ্ধ মেধার মাধ্যমে তিনি এই গ্রন্থের সকল জটিলতা ও রহস্যের দুয়ার খুলে দিয়েছেন। ফলে তাঁর এই গ্রন্থটি তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। এটি যেন এমন এক বিশাল সমুদ্র যাকে বালতি দিয়ে পানি সেচে ঘোলা করা যায় না; এর ব্যাপ্তি সুবিশাল এবং এর দিকগুলো বহুমুখী। এই কিতাব সম্পর্কে ইমাম আল্লামা আবু মুহাম্মাদ ইবনে হাজম আজ-জহিরি বলেছেন: "হাদিসের ফিকহ নিয়ে আলোচনায় আমি এর অনুরূপ কোনো গ্রন্থ দেখিনি, আর এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।" আল্লামা আবু আলী আল-জাইয়ানি এর সম্পর্কে বলেছেন: "এটি এমন এক গ্রন্থ যার পূর্বে এর অনুরূপ কেউ আর রচনা করতে পারেনি।" আর কাজী ইয়াদ বলেছেন:
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٦)
"ألّف أبو عمر كتاب التمهيد. . . وهو كتاب لم يصنع أحد مثله في طريقته"، وقال ابن بشكوال: "لم يتقدمه أحد إلى مثله".
ومؤلف هذا الأثر النفيس أبو عمر ابن عبد البر غني عن التعريف إذ طارت شهرته في الآفاق وسارت بتآليفه الركبان وخضع لعلمه علماء الزمان حين أصلح الفاسد وأقام المائد وقوّم الحائد بما آتاه اللَّه من بسطة في العلم أهلته بأن يكون سداد هذا الأمر وعماده، فهو ممن بلغ رتبة الأئمة المجتهدين له القدح المعلى في "سعة العلم وقوة الفهم وسيلان الذهن" على حد تعبير إمام المؤرخين شمس الدين الذهبي، فلم يقم في زمانه ببلاد الأندلس أحد مقامه في العلم مع الكفاية والأمانة والصرامة في إظهار الحق؛ إن أبصر زيغًا عَدَّله، وإن صادف ميلًا قوّمه لا يحابي في ذلك أحدًا، وكثيرًا ما خالف أئمة مذهبه المالكي حينما وجد الحق مع غيرهم.
وأنا على يقين بأن أهل العلم سيتلقون هذا الأثر النفيس بما هو أهله من إحسان الذكر وإيفاء الشكر، بعد أن أجاد مؤلفه في تحضير فصوله ونهج فيه منهجًا حميدًا في تمهيد مباحثه والعلم بمصادره وموارده مما عاد بنُجْح مطلبه.
لقد قضى ابن عبد البر أكثر من ثلاثين عامًا في تنقيح هذا الكتاب حتى ظهر بهذه الهيئة الرائقة والصفة البارعة النافعة التي قل نظيرها.
ومثلما هيأ اللَّه تعالى لموطأ الإمام مالك مَن يظهر نكته الفقهية والعلمية ويبين عن إشاراته وإثاراته، فقد هيأ اللَّه له شيخ محققي العصر العلامة الأستاذ الدكتور بشار عواد معروف ليحققه تحقيقًا علميًا نقديًا قائمًا على خبرة عميقة شاملة أنتجت أكثر من ثلاث مئة مجلد، شهد له أساطين أهل العلم بجودة التحقيق والأمانة والدقة المتناهية في إتقان هذا الفن والعناية به.
جمع المحقق نسخ الكتاب الخطية وتتبعها في خزائن الكتب بالخافقين، فوقف على جُل ما عرف لهذا الكتاب من مجلدات مخطوطة في بلاد المغرب، والشام،
আবু উমর 'আত-তামহীদ' কিতাবটি রচনা করেছেন... এটি এমন একটি গ্রন্থ যার পদ্ধতিতে এর আগে কেউ এমনটি তৈরি করতে পারেনি।" আর ইবনে বাশকুয়াল বলেন: "এর আগে কেউ এ ধরনের কাজে অগ্রণী হতে পারেনি।"
এই মূল্যবান নিদর্শনের লেখক আবু উমর ইবনে আব্দুল বার পরিচয়ের ঊর্ধ্বে, কেননা তাঁর খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, তাঁর রচনাবলি নিয়ে কাফেলাসমূহ পথ চলেছে এবং সমসাময়িক আলেম সমাজ তাঁর ইলমের সামনে অবনত হয়েছে। তিনি বিভ্রান্তিকে সংশোধন করেছেন, বিচ্যুতিকে সোজা করেছেন এবং বক্রতাকে দূর করেছেন সেই গভীর জ্ঞানের মাধ্যমে যা আল্লাহ তাঁকে দান করেছেন। এই জ্ঞান তাঁকে এই দ্বীনি বিষয়ের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি ও স্তম্ভ হওয়ার যোগ্যতা দান করেছে। তিনি মুজতাহিদ ইমামদের স্তরে পৌঁছেছেন; ঐতিহাসিকদের ইমাম শামসুদ্দিন আজ-জাহাবির ভাষায়, "জ্ঞানের প্রশস্ততা, প্রখর বুঝ ও তীক্ষ্ণ মেধার" ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তাঁর যুগে আন্দালুসে ইলম, দক্ষতা, আমানতদারি এবং সত্য প্রকাশে কঠোরতায় কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারেনি। তিনি যদি কোনো বিচ্যুতি দেখতেন তবে তা সংশোধন করতেন, আর কোনো বক্রতা দেখলে তা সোজা করে দিতেন; এ ব্যাপারে তিনি কারো তোষামোদ করতেন না। এমনকি যখনই তিনি অন্যদের নিকট সত্য পেয়েছেন, তখনই তিনি তাঁর নিজ মালিকি মাযহাবের ইমামদের মতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন।
আমি নিশ্চিত যে, ইলম অন্বেষণকারীরা এই মূল্যবান নিদর্শনটিকে এর উপযুক্ত মর্যাদা দিয়ে সুন্দর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার সাথে গ্রহণ করবেন। বিশেষ করে যখন এর লেখক এর অধ্যায়গুলো বিন্যাস করতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন এবং এর গবেষণার ক্ষেত্র ও উৎসগুলো নির্ধারণে এক প্রশংসনীয় পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যা এর উদ্দেশ্যকে সফল করেছে।
ইবনে আব্দুল বার এই কিতাবটিকে পরিমার্জিত করতে ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ব্যয় করেছেন, যতক্ষণ না এটি এমন এক মনোমুগ্ধকর রূপ এবং নিপুণ ও উপকারী বৈশিষ্ট্যে আবির্ভূত হয়েছে যার নজির খুব কমই পাওয়া যায়।
আল্লাহ তাআলা যেভাবে ইমাম মালিকের 'মুয়াত্তার' জন্য এমন ব্যক্তিদের ব্যবস্থা করেছেন যারা এর ফিকহি ও ইলমি সূক্ষ্ম বিষয়গুলোকে ফুটিয়ে তোলেন এবং এর ইঙ্গিত ও অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করেন, তেমনিভাবে তিনি এই গ্রন্থের জন্য বর্তমান সময়ের গবেষকদের শাইখ আল্লামা উস্তাদ ডক্টর বাশশার আওয়াদ মারুফকে নিয়োজিত করেছেন; যাতে তিনি গভীর ও ব্যাপক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কিতাবটির একটি বৈজ্ঞানিক ও সমালোচনামূলক তাহকিক সম্পন্ন করেন, যা তিনশ'রও বেশি খণ্ড রচনার ফল। বিদগ্ধ আলেম সমাজ এই ইলম আয়ত্তে তাঁর তাহকিকের মান, আমানতদারি এবং সূক্ষ্ম নির্ভুলতার সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মুহাক্কিক কিতাবটির পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের পাঠাগারগুলোতে সেগুলোর অনুসন্ধান চালিয়েছেন। ফলে তিনি মাগরিব এবং শাম অঞ্চলে এই কিতাবের পরিচিত পাণ্ডুলিপিগুলোর অধিকাংশ খণ্ডের সন্ধান পেয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٧)
ومصر، والعراق، وتركيا، وجزيرة العرب وغيرها، فدرسها وصَنّفها وأبان عن مزاياها واكتشف دون غيره أنَّ النسخ الخطية المتوفرة من هذا الكتاب تمثل إبرازتين: إبرازة أولى كانت المسوّدة، ثم إبرازة أخرى هي المبيضة، فعمل بما توفر له من خبرة في هذا الشأن امتدت على أكثر من نصف قرن على تمييز الإبرازة الأخيرة التي ارتضاها ابن عبد البر في آخر الأمر بعد أن حذف ما رآه حريًا بالحذف، وزاد ما فاته من نصوص وآراء نضيجة في الإبرازة الأولى، فأفاد وأجاد.
بذل المحقق الدكتور بشار عواد معروف جهدًا متميزًا في تحقيق هذا الكتاب امتد على أكثر من عشرين عامًا، وهو ينعم النظر في هذا النص ويبديه، لأنه يعده أمانة وديانة يعينه في ذلك كله، بعض تلامذته النّجب ومنهم ولده الدكتور محمد بشار، فيعيد المقابلة بين النسخ أكثر من مرة، وينظم مادة النص، ويضبطه بما يدفع عنه اللبس وسوء الفهم ويؤدي إلى قراءة سليمة تعين المستفيد منه في قابل الأيام، ويرجح بين الروايات بعد تعليلها، ويشير إلى مناجمه ويقابل النص بها وينبّه إلى أي خُلْف قد يقع عند الاقتباس، ويعيد الآراء الفقهية إلى مظانها، كل مذهب من موارده المعتبرة، وموارد الفقه المقارن، والأصول التي اعتمدها المؤلف عند الاقتباس.
وعني المحقق عناية خاصة بتخريج الأحاديث التي اعتمدها المؤلف وأبان عن قوتها وضعفها وعللها الظاهرة والخفية؛ لأن الأحكام إنما تتأتى استنادًا إلى ثبوتها عن النبي صلى الله عليه وسلم من عدمه، وهو فارس هذا الميدان الخطير الذي استشف بواطنه وعرف خفاياه، فتراه يصول فيه ويجول يبين المبهم ويوضح الخفي ويكشف عما خفي من علل الأحاديث ويظهر وجه الصواب فيها.
إن المقدمة العلمية النقدية الوسيعة التي صدر بها المحقق عمله تنبئ عن الجهد المحمود الذي بُذل في إخراج هذا الكتاب بهذه الهيئة التي آمل أن تسر كل محب للتراث حريص عليه، وتكون أُنموذجًا يحتذى في جودة إخراج النصوص والعناية بها.
মিসর, ইরাক, তুরস্ক, আরব উপদ্বীপ এবং অন্যান্য অঞ্চল; তিনি এগুলোর পাণ্ডুলিপি নিয়ে গবেষণা করেছেন, বিন্যস্ত করেছেন এবং এগুলোর বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ এই সত্যটি উদঘাটন করতে পারেননি যে, এই কিতাবটির যে পাণ্ডুলিপিগুলো বর্তমানে পাওয়া যায়, তা মূলত দুটি সংস্করণকে প্রতিনিধিত্ব করে: প্রথম সংস্করণটি ছিল খসড়া, আর দ্বিতীয় সংস্করণটি হলো পরিমার্জিত চূড়ান্ত অনুলিপি। এই বিষয়ে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি ইবনে আবদিল বার-এর সেই চূড়ান্ত সংস্করণটি চিহ্নিত করার কাজ করেছেন যা তিনি শেষ পর্যন্ত পছন্দ করেছিলেন। লেখক যা বাদ দেওয়া প্রয়োজন মনে করেছিলেন তা বাদ দিয়েছেন এবং প্রথম সংস্করণে যা বাদ পড়ে গিয়েছিল, সেই পাঠ ও সুচিন্তিত মতামতগুলো এখানে যোগ করেছেন; ফলে তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও নিখুঁত কাজ সম্পন্ন করেছেন।
মুহাক্কিক ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফ এই কিতাবটির সম্পাদনায় অসাধারণ পরিশ্রম করেছেন যা বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিস্তৃত ছিল। তিনি অত্যন্ত গভীর অভিনিবেশ সহকারে এই পাঠটি পর্যবেক্ষণ ও উপস্থাপন করেছেন, কারণ তিনি একে একটি আমানত ও দীনি দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করেন। তাঁর এই কাজে তাঁর বেশ কয়েকজন মেধাবী ছাত্র এবং তাঁর পুত্র ডক্টর মুহাম্মদ বাশার তাঁকে সহায়তা করেছেন। তিনি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে একাধিকবার পাঠ-তুলনা করেছেন, বিষয়বস্তু সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সেগুলোকে এমনভাবে সংশোধন করেছেন যা সংশয় ও ভুল বোঝাবুঝি দূর করে এবং একটি সঠিক পাঠের দিকে নিয়ে যায় যা ভবিষ্যতে এর দ্বারা উপকৃত ব্যক্তিদের সহায়তা করবে। তিনি বর্ণনাগুলোর কারণ দর্শানোর পর সেগুলোর মধ্যে সঠিকটি বেছে নিয়েছেন, কিতাবের মূল উৎসগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং মূল পাঠের সাথে সেগুলোর তুলনা করেছেন। কোনো উদ্ধৃতি গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো বৈসাদৃশ্য দেখা দিলে তিনি সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। এছাড়া তিনি ফিকহী মতবাদগুলোকে সেগুলোর মূল উৎসে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন—প্রতিটি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য উৎস, তুলনামূলক ফিকহ এবং লেখক উদ্ধৃতি গ্রহণের সময় যে মূলনীতিগুলো অবলম্বন করেছিলেন তার আলোকে।
মুহাক্কিক লেখক কর্তৃক ব্যবহৃত হাদীসগুলোর তাখরীজ বা উৎস নির্দেশনায় বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং সেগুলোর সবলতা, দুর্বলতা ও প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ত্রুটিগুলো বর্ণনা করেছেন; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি প্রমাণিত হওয়া বা না হওয়ার ওপরই শরয়ি বিধানসমূহ আবর্তিত হয়। তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ময়দানের একজন দক্ষ অশ্বারোহী, যিনি এর অভ্যন্তরীণ ও নিগূঢ় রহস্যসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত। আপনি তাকে এখানে অত্যন্ত নিপুণভাবে বিচরণ করতে দেখবেন; তিনি অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করেন, জটিল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন, হাদীসের লুকায়িত ত্রুটিগুলো উন্মোচন করেন এবং সেগুলোর সঠিক রূপটি প্রকাশ করেন।
মুহাক্কিক তাঁর কর্মের শুরুতে যে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক ও সমালোচনামূলক ভূমিকাটি প্রদান করেছেন, তা এই কিতাবটিকে বর্তমান অবয়বে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার পরিচয় দেয়। আমি আশা করি এটি ঐতিহ্যপ্রেমী প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তিকে আনন্দিত করবে এবং গ্রন্থ সম্পাদনার গুণগত মান ও যত্নের ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে।
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٨)
ورأى المحقق أن لا بد من تيسير الإفادة من هذا النص بعمل الكشافات التي يتوصل بها المستفيد من الباحثين والدارسين إلى المعلومات والبيانات المطلوبة بأسرع وقت وأقل جهد، فعمل فهارس للأحاديث المرفوعة والآثار الموقوفة على الصحابة والتابعين والخالفين، وأعاد في الفهرس الفقهي ترتيب كتاب التمهيد القائم على شيوخ الإمام مالك بن أنس إلى أبواب الموطأ الفقهية كما جاءت في نشرته المتميزة لموطأ مالك برواية الليثي تيسيرًا منه للمعنيين بالدراسات الفقهية في الوقوف على مسائل الفقه والقواعد الفقهية والفقه المقارن في كل باب من أبوابه، ثم عمل كشافًا لشيوخ المؤلف، وآخر للمواضع والبلدان، وفهرسًا للقوافي، وختمه بجريدة المصادر والمراجع المعتمدة في تحقيقه.
لقد تكافأت الأحوال بين محققه ومؤسستنا على إظهار هذا الأثر المتميز والتنبيه على موقعه وتيسيره للباحثين والدارسين ما بين مشرق للشمس ومغيب.
نسأل اللَّه تبارك وتعالى أن يجزي الدكتور بشار عواد معروف ومساعديه خيرًا على ما بذلوه من جهد كبير في تحقيق هذا الكتاب القيم، كما أسأله تعالى أن يجعل عملنا كله خالصًا لوجهه، وأن يرزقنا التوفيق في المقاصد كلها إلى طاعته ومرضاته {وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ}، وآخر دعوانا أن الحمد للَّه رب العالمين.
أحمد زكي يماني
رئيس مؤسسة الفرقان للتراث الإسلامي
মুহাক্কিক (সম্পাদক) মনে করেছেন যে, গবেষক ও শিক্ষার্থীগণ যাতে দ্রুততম সময়ে এবং স্বল্পতম পরিশ্রমে কাঙ্ক্ষিত তথ্য ও উপাত্ত লাভ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে এই পাঠ্যটি থেকে উপকৃত হওয়ার প্রক্রিয়াকে সহজতর করা আবশ্যক। তাই তিনি মারফু হাদীসসমূহ এবং সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তীগণের বর্ণিত আছারসমূহের সূচী তৈরি করেছেন। আর ফিকহী সূচীতে তিনি 'আত-তামহীদ' কিতাবটিকে—যা ইমাম মালিক বিন আনাস-এর উস্তাদগণের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত ছিল—মুওয়াত্তা-এর ফিকহী পরিচ্ছেদ অনুসারে পুনরায় সাজিয়েছেন, যেভাবে এটি লাইছী বর্ণিত মুওয়াত্তা মালিকের তাঁর বিশিষ্ট সংস্করণে এসেছে; যাতে ফিকহী গবেষণায় নিয়োজিত ব্যক্তিগণ প্রতিটি পরিচ্ছেদে ফিকহী মাসআলা, ফিকহী মূলনীতি এবং তুলনামূলক ফিকহ সম্পর্কে সহজে অবগত হতে পারেন। অতঃপর তিনি লেখকের উস্তাদগণের জন্য একটি নির্দেশিকা, স্থান ও দেশসমূহের জন্য আরেকটি এবং কবিতার অন্ত্যমিলের (কাফিয়া) জন্য একটি সূচী তৈরি করেছেন। সবশেষে তিনি তাঁর সম্পাদনায় ব্যবহৃত নির্ভরযোগ্য উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের তালিকা দিয়ে এটি সমাপ্ত করেছেন।
এই অনন্য কৃতিটি প্রকাশ করতে, এর গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত সকল গবেষক ও শিক্ষার্থীর জন্য একে সহজলভ্য করে তুলতে এর মুহাক্কিক এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টা ও উদ্দেশ্য একীভূত হয়েছে।
আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফ এবং তাঁর সহকারীগণকে এই মূল্যবান কিতাবটি সম্পাদনায় তাঁদের বিশাল প্রচেষ্টার জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। তেমনি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকল কাজকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের সকল লক্ষ্যকে তাঁর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করার তাওফিক দান করেন। "আর আপনি বলুন, তোমরা কাজ করে যাও, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের কাজ দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও দেখবেন।" আর আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আহমদ জাকি ইয়ামানি
চেয়ারম্যান, আল-ফুরকান ইসলামিক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٩)
مقدِّمة التحقيقبسم الله الرحمن الرحيم
الحمدُ للَّه الذي هدانا لهذا وما كُنّا لنَهتَديَ لولا أنْ هدانا اللَّه، الحمدُ للَّه نَحْمَدُه ونَسْتَعينُهُ ونَسْتَغْفرُه، ونعوذُ باللَّه من شرورِ أنفسِنا ومن سيِّئات أعمالِنا، مَن يَهْدِه اللَّهُ فلا مُضِلَّ له، ومن يُضْلِلْ فلا هاديَ له، وأشهدُ أن لا إلهَ إلا اللَّهُ وحدَهُ لا شريكَ له إلهًا صَمَدًا، وأشهدُ أنَّ سيِّدَنا وإمامَنا وقُدْوَتَنا وأُسوتَنا وشَفيعَنا وحَبيبَنا محمدًا عبدُهُ ورسولُه، بعثَهُ اللَّهُ بالهُدَى ودينِ الحَقِّ ليُظهِرَهُ على الدِّينِ كُلِّه ولو كَرِهَ المشركون.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71].
أما بعد:
فيُشرِّفُني ويُسعدني أن أقدِّم لعُشّاق التراث الفقهي العربي الإسلامي هذه النشرة المتميّزة من كتاب "التمهيد" للعلّامة الأندلُسيّ أبي عُمر ابن عبد البر الذي حَثَّني على العناية به منذ أكثر من عشرين عامًا صديقي الصَّدُوق عاشقُ التراث الأصيل العارف بحقه وحُرمته الحاج حبيب اللَّمْسيّ أبلّه اللَّه من مَرَضه وأطال عُمره، ثم حَقَّقَ هذه الأمنية الشيخ المُبارك العالم معالي الأستاذ أحمد زكي يَماني حفظه اللَّه تعالى صاحبُ العناية القُصوى بتراث الأمة مخزن تجاربها، الباذلُ الأموالَ النَّفيسةَ خدمةً له، فحقيقٌ بنا أن نُوَشِّحَ معاليه حُلَلَ الثَّناءِ ونُطوِّقَهُ قلائدَ الشُّكر والدُّعاء، فهو أقل ما يُكافأ به على إحسانه، وأدْعَى له إلى تجديد هباتِه وعَطاياه، والاستمرار في استحضار الوسائل المؤدّية إلى بُلوغ البُغية وإدراك المطلب في الذَّب عن بَيْضةِ الإسلام وتُراثه.
সম্পাদনা পরিচিতিদয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। তিনি যদি আমাদের পথ না দেখাতেন, তবে আমরা পথ পেতাম না। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি অমুখাপেক্ষী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা, ইমাম, আদর্শ, অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, সুপারিশকারী ও প্রিয়তম মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।
{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]
{হে মানবজাতি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট হক দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন-নিসা: ১]
{হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]
অতঃপর:
আরবি-ইসলামি ফিকহী ঐতিহ্যের অনুরাগীদের নিকট আন্দালুসিয়ার প্রখ্যাত আলেম আবু উমর ইবনে আব্দুল বার রচিত 'আত-তামহীদ' গ্রন্থের এই অনন্য সংস্করণটি উপস্থাপন করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত ও আনন্দিত। আজ থেকে বিশ বছরেরও বেশি সময় আগে আমার অকৃত্রিম বন্ধু, আদি ঐতিহ্যের একনিষ্ঠ অনুরাগী এবং এর মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত আল-হাজ হাবিব আল-লামসি আমাকে এই গ্রন্থটির প্রতি যত্নবান হতে উৎসাহিত করেছিলেন; আল্লাহ তাঁকে রোগমুক্ত করুন এবং দীর্ঘজীবী করুন। অতঃপর এই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করেছেন বরকতময় আলেম, মহামান্য অধ্যাপক আহমদ জাকি ইয়ামানি (আল্লাহ তাআলা তাঁকে রক্ষা করুন), যিনি উম্মাহর এই ঐতিহ্য—যা কিনা উম্মাহর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার—তার প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল এবং এর সেবায় অমূল্য অর্থ ব্যয় করেছেন। তাই আমাদের উচিত তাঁকে প্রশংসায় ভূষিত করা এবং কৃতজ্ঞতা ও দোয়ার মাল্য অর্পণ করা; কারণ তাঁর এই মহানুভবতার প্রতিদান হিসেবে এটিই হবে ন্যূনতম কাজ, যা তাঁকে তাঁর এই অনুদান ও অবদান নবায়ন করতে এবং ইসলামের মর্যাদা ও এর ঐতিহ্য রক্ষায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের উপায়সমূহ অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করবে।
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ابن عبد البر:
ولد أبو عمر يوسُف
(1) بن عبد اللَّه بن محمد بن عبد البر بن عاصم النَّمَريُّ في يوم الجُمعة والإمام يخطب لخمس بقين من ربيع الآخر سنة ثمان وستين وثلاث مئة (29 تشرين الثاني/ نوفمبر سنة 978 م) بقُرطبة من بلاد الأندَلُس من أسرة عربية صَلِيبة تنتمي إلى تَيْم اللَّه بن النَّمِر بن قاسِط استوطنت قُرطبة.
وقد ترجمَ ابنُ الأبار لجده محمد بن عبد البر فقال: "كان من العُبّاد المُنقطعين المعروفين بالتهجُّد المُبرزين فيه، من أصحاب يحيى بن مُجاهد، وتوفي قبل ابنه عبد اللَّه بسبعة أشهر وهو ابن ثمانين سنة، وكانت وفاة عبد اللَّه -فيما قرأتُ بخط أبي عُمر- سنة ثمانين وثلاث مئة"
(2).
ووالده عبد اللَّه
(3) بن محمد كان من فُقهاء المالكية، ولد سنة 330 هـ وسمع
--------------------------------------------
ইবনে আবদিল বার:
আবু ওমর ইউসুফ
(১) বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদিল বার বিন আসিম আন-নামারি ৩৬৮ হিজরির রবিউস সানি মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে (২৯ নভেম্বর ৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ) আন্দালুসের কর্ডোভা শহরের এক সম্ভ্রান্ত আরব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যা তায়মুল্লাহ বিন আন-নামির বিন কাসিত গোত্রের অন্তর্ভুক্ত এবং কর্ডোভায় বসতি স্থাপন করেছিল। তাঁর জন্মের সময় জুমার দিনের খুতবা চলছিল।
ইবনুল আব্বার তাঁর দাদা মুহাম্মাদ বিন আবদিল বারের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত, যারা তাহাজ্জুদের জন্য পরিচিত এবং তাতে অনন্য ছিলেন। তিনি ইয়াহইয়া বিন মুজাহিদের সাথীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর সাত মাস পূর্বে আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আর আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছিল—যেমনটি আমি আবু ওমরের হস্তলিপিতে পড়েছি—৩৮০ হিজরি সালে"
(২)।
তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ
(৩) বিন মুহাম্মাদ ছিলেন মালিকি মাজহাবের ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ৩৩০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং হাদিস শ্রবণ করেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١١)
الحديث وهو لمّا يَزَل في الثامنة من عُمره من أحمد بن دُحَيْم بن خليل بن عبد الجبار بن حرب المتوفى بطاعون سنة 338 هـ، وكان أحمد هذا ممن رحلَ إلى المشرق سنة 315 هـ ودخل العراقَ وسمع من شيوخه
(1). كما سمع من أحمد من مُطرِّف بن عبد الرحمن بن قاسم المعروف بابن المَشّاط المتوفى سنة 352 هـ
(2)، وأحمد بن سعيد بن حزم بن يونس الصَّدَفي المتوفى سنة 350 هـ
(3)، وغيرهم. ولزم الفقيه أبا إبراهيم إسحاق بن إبراهيم بن مَسَرَّة المتوفى سنة 352 هـ "وكان حافظًا للفقه على مذهب مالك وأصحابه متقدمًا فيه، مشاورًا في الأحكام صدرًا في الفتيا"
(4)، وتوفي عبد اللَّه سنة 380 هـ عن خمسين سنة، ومع ذلك لم يسمع أبو عُمر بن عبد البر من أبيه شيئًا.
على أنه بدأ بطلب العلم قبل التِّسْعين وثلاث مئة
(5)، أي وهو في العشرين من عمره تقريبًا، فأدرك كبار المشايخ، فسمع من أبي محمد عبد اللَّه بن محمد بن عبد المؤمن بن يحمى التُّجِيبي المعروف بابن الزَّيّات (314 - 390 هـ)
(6) الذي كان قد رحل إلى المشرق رحلتين دخل فيهما العراق فسمع ببغداد على جلة من المشايخ، وأخذَ بالبصرة "سُنَن" أبي داود عن أبي بكر محمد بن بكر بن محمد البصري التَّمَّار المعروف بابن داسةَ المتوفى سنة 346 هـ، فأخذ عنه ابنُ عبد البر هذه الرِّواية. كما حدثه ابن الزَّيّات عن إسماعيل بن
--------------------------------------------
তিনি যখন মাত্র আট বছর বয়সের ছিলেন, তখন তিনি আহমদ বিন দুহায়ম বিন খলিল বিন আব্দুল জব্বার বিন হারব (মৃত্যু ৩৩৮ হিজরি, প্লেগ রোগে) থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। এই আহমদ সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ৩১৫ হিজরিতে প্রাচ্যে সফর করেছিলেন এবং ইরাকে প্রবেশ করে সেখানকার শায়খদের থেকে শ্রবণ করেছিলেন
(১)। অনুরূপভাবে তিনি আহমদ ইবনে মুতাররিফ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে কাসিম—যিনি ইবনুল মাশশাত নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৫২ হি.)—এবং আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাযম ইবনে ইউনুস আস-সাদাফি (মৃত্যু ৩৫০ হি.)
(৩) ও অন্যদের থেকে শ্রবণ করেন। এবং তিনি ফকিহ আবু ইবরাহিম ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন মাসাররাহ-এর (মৃত্যু ৩৫২ হি.) সান্নিধ্যে থাকেন, যিনি ছিলেন "মালিকি মাযহাব ও তাঁর অনুসারীদের ফিকহে হাফেজ এবং এতে অগ্রগণ্য, বিচারিক বিষয়ে পরামর্শদাতা এবং ফতোয়া প্রদানে শীর্ষস্থানীয়"
(৪)। আর আব্দুল্লাহ ৩৮০ হিজরিতে পঞ্চাশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, তবুও আবু উমর ইবনে আব্দুল বার তাঁর পিতার কাছ থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি।
তবে তিনি ৩৯০ হিজরির পূর্বেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন
(৫), অর্থাৎ যখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় বিশ বছর। ফলে তিনি বড় বড় শায়খদের সান্নিধ্য লাভ করেন। তিনি আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন বিন ইয়াহমা আত-তুজিবি—যিনি ইবনুয যাইয়াত নামে পরিচিত (৩১৪ - ৩৯০ হি.)—এর নিকট থেকে শ্রবণ করেন
(৬), যিনি দুইবার প্রাচ্যের দিকে সফর করেছিলেন এবং ইরাকে প্রবেশ করে বাগদাদের প্রখ্যাত শায়খদের নিকট শ্রবণ করেছিলেন। তিনি বসরায় আবু বকর মুহাম্মদ বিন বকর বিন মুহাম্মদ আল-বসরি আত-তাম্মার—যিনি ইবনু দাসা নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৪৬ হি.)—এর নিকট থেকে আবু দাউদের "সুনান" গ্রহণ করেন; অতঃপর ইবনে আব্দুল বার তাঁর নিকট থেকে এই বর্ণনাটি গ্রহণ করেন। ইবনুয যাইয়াত তাঁর নিকট ইসমাইল বিন... থেকেও বর্ণনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١٢)
محمد الصَّفّار، وحَدَّثه بـ "الناسخ والمنسوخ" لأبي داود عن أبي بكر النجاد، وناولَهُ "مسند" الإمام أحمد بن حنبل بروايته عن ابن مالك القطيعي
(1).
وأكثر ابنُ عبد البر من الرواية عن شيخه أبي القاسم خَلَف بن القاسم بن سَهْل بن محمد بن يونس الأزدي المعروف بابن الدَّبّاغ (325 - 393 هـ)
(2)، وهو ممن سمع ببلده، ثم رحل إلى المشرق سنة 345 هـ فتردد هناك نحو خمس عشرة سنة، فسمع بمصر والشام ومكة، قال الحُميدي: "روى عنه شيخنا أبو عمر بن عبد اللَّه الحافظ فأكثر، وكان لا يقدِّم عليه من شيوخه أحدًا، وذكره لنا فقال: أما خلف بن سَهْل الحافظ فشيخٌ لنا وشيخٌ لشيوخنا أبي الوليد ابن الفَرَضي وغيره، كتبَ بالمشرق عن نحو ثلاث مئة رجل، وكان من أعلم الناس برجال الحديث واكتبِهم له وأجمعِهِم لذلك، وللتواريخ والتفاسير، ولم يكن له بصرٌ بالرأي، يُعرف بابن الدَّبّاغ، وهو محدِّث الأندلس في وقته"
(3).
وممن أكثر عنهم ابن عبد البر شيخه عبد اللَّه بن محمد بن عبد الرحمن بن أسد الجُهَنيّ (310 - 395 هـ)
(4)، وهو ممن رحل إلى المشرق سنة 342 هـ فسمع من مجموعة من علمائه، فأخذَ ابن عبد البر عنه تصنيف عبد اللَّه بن عبد الحكم
(5)، وغيره، قال ابن بَشْكُوال: "حدث عنه من كبار العلماء: أبو الوليد ابن الفَرَضي، والقاضي أبو المطرف بن فُطَيْس، وأبو عُمر بن عبد البر، وأبو عُمر ابن الحَذّاء، والخولانيُّ، والقُبَّشيُّ، وغيرُهم كثير"
(6).
--------------------------------------------
মুহাম্মদ আস-সাফফার; তিনি আবু বকর আন-নাজ্জাদ থেকে আবু দাউদের "আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ" বর্ণনা করেছেন এবং ইবন মালিক আল-কুতাঈর বর্ণনা সূত্রে তাকে ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলের "মুসনাদ" প্রদান করেছেন
(১)।
ইবন আবদিল বার তার উস্তাদ আবুল কাসিম খালাফ বিন আল-কাসিম বিন সাহল বিন মুহাম্মদ বিন ইউনুস আল-আযদি, যিনি ইবনুদ দাব্বাগ (৩২৫ - ৩৯৩ হিজরি) নামে পরিচিত ছিলেন, তার থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন
(২)। তিনি নিজ দেশে হাদীস শ্রবণ করেন, তারপর ৩৪৫ হিজরিতে প্রাচ্যে সফর করেন এবং সেখানে প্রায় পনের বছর অবস্থান করেন; এই সময়ে তিনি মিসর, শাম ও মক্কায় হাদীস শ্রবণ করেন। আল-হুমাইদি বলেন: "আমাদের উস্তাদ আবু উমর বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয তার থেকে অনেক বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তার উস্তাদদের মধ্যে কাউকেই তার ওপর প্রাধান্য দিতেন না। তিনি আমাদের কাছে তার কথা উল্লেখ করে বলতেন: খালাফ বিন সাহল আল-হাফিয তো আমাদের উস্তাদ এবং আমাদের উস্তাদ আবুল ওয়ালিদ ইবনুল ফারাদি ও অন্যদেরও উস্তাদ। তিনি প্রাচ্যে প্রায় তিনশ ব্যক্তির নিকট থেকে হাদীস লিখেছিলেন। তিনি হাদীসের বর্ণনাকারী (রিজাল) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন এবং তাদের তথ্য সর্বাধিক লিপিবদ্ধ ও সংগ্রহকারী ছিলেন। এছাড়া তিনি ইতিহাস ও তাফসীর শাস্ত্রেও পারদর্শী ছিলেন। তবে ফিকহি রায়ের (গবেষণা) ক্ষেত্রে তার তেমন পারদর্শিতা ছিল না। তিনি ইবনুদ দাব্বাগ নামে পরিচিত এবং তিনি তার সময়ের আন্দালুসের মুহাদ্দিস ছিলেন"
(৩)।
ইবন আবদিল বার যাদের থেকে বেশি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে তার উস্তাদ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আসাদ আল-জুহানি (৩১০ - ৩৯৫ হিজরি) অন্যতম
(৪)। তিনিও ৩৪২ হিজরিতে প্রাচ্যে সফর করেছিলেন এবং সেখানকার একদল আলিমের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছিলেন। ইবন আবদিল বার তার নিকট থেকে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকামের সংকলিত কিতাব
(৫) ও অন্যান্য কিতাব গ্রহণ করেছেন। ইবন বাশকুয়াল বলেন: "তার থেকে বড় বড় আলিমগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যেমন: আবুল ওয়ালিদ ইবনুল ফারাদি, কাজী আবু আল-মুতাররিফ বিন ফুতাইস, আবু উমর বিন আবদিল বার, আবু উমর ইবনুল হাজ্জা, আল-খাওলানি, আল-কুব্বিশি এবং আরও অনেকে"
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ومن شيوخه الذين أكثر عنهم: شيخه عبد الوارث بن سفيان بن جَبْرون بن سُليمان (317 - 395 هـ)
(1)، وقد أخذ عنه ابن عبد البر علم قاسم بن أصبغ البيّاني، إذ كان هذا الشيخ قد بدأ بطلب العلم على قاسم بن أصبغ منذ سنة 333 هـ وسمعَ منه أكثر رواياته، فكان أوثق الناس فيه وأكثرهم مُلازمة له، قال الحُميدي: "روى عنه أبو عُمر يوسف بن عبد اللَّه بن محمد بن عبد البر النَّمَري الحافظ وأثنى عليه، وقال: كان من ألزم النّاس لأبي محمد قاسم بن أصبغ ومن أشهر أهل قُرطبة بصُحبته حتى يقال: إنَّه قلّما فاته شيءٌ مما قُرئ عليه. . . قال أبو عُمر: ورأيتُ كثيرًا من أصول قاسم بن أصبغ، فرأيتُ سماعَهُ في جميعها، وحَدَّث بعلم جم"
(2).
وذكر الحُميدي عن ابن عبد البر أنَّهُ قرأ عليه "مصنف" أبي محمد قاسم بن أصبغ في السُّنَن، وقرأ عليه "المعارف" لابن قُتيبة و"شرح غريب الحديث" له
(3).
وأكثر ابن عبد البر الرواية عن شيخه أبي عُمر أحمد بن عبد اللَّه بن محمد بن علي بن شريعة اللَّخْمي المعروف بابن الباجي (332 - 396 هـ)
(4) فقد أخذ عنه جُملة من المصنَّفات من أشهرها "مصنف" أبي بكر بن أبي شيبة، فقد قال: "قرأتُه من أوله إلى آخره على أبي عمر أحمد بن عبد اللَّه الباجي، وحدثني به عن أبيه الراوية أبي محمد الباجي"
(5)، وقال: "كان من أهل العلم والفَضْل، وله رحلة إلى المشرق لقي فيها جلة من أهل العلم كتب عنهم"
(6). وقال الحُميدي: "أخبرنا أبو عمر بن عبد البر
--------------------------------------------
তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে যাঁদের থেকে তিনি অধিক বর্ণনা করেছেন, তাঁরা হলেন: তাঁর উস্তাদ আবদুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান বিন জাবরুন বিন সুলায়মান (৩১৭ - ৩৯৫ হিজরি)
(১)। ইবনে আবদিল বার তাঁর নিকট থেকে কাসিম বিন আসবাগ আল-বায়ানির জ্ঞান অর্জন করেছেন, কারণ এই উস্তাদ ৩৩৩ হিজরি সাল থেকে কাসিম বিন আসবাগের নিকট জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে তাঁর অধিকাংশ বর্ণনা শ্রবণ করেছিলেন। তিনি তাঁর ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর সর্বাধিক সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন। আল-হুমাইদি বলেন: "তাঁর থেকে আবু উমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদিল বার আন-নামারি আল-হাফিজ বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন: তিনি আবু মুহাম্মদ কাসিম বিন আসবাগের সর্বাধিক সান্নিধ্যপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অন্যতম এবং তাঁর সাহচর্যের কারণে কর্ডোভার অধিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ছিলেন, এমনকি বলা হতো যে, তাঁর সামনে যা পাঠ করা হতো তার খুব কমই তাঁর থেকে ছুটে যেত... আবু উমর বলেন: আমি কাসিম বিন আসবাগের অনেক মূল পাণ্ডুলিপি দেখেছি এবং সেগুলোর সবকটিতেই তাঁর শ্রবণের প্রমাণ পেয়েছি, আর তিনি বিপুল পরিমাণ জ্ঞান বর্ণনা করেছেন"
(২)।
আল-হুমাইদি ইবনে আবদিল বার থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর কাছে সুনান বিষয়ে আবু মুহাম্মদ কাসিম বিন আসবাগের "মুসান্নাফ" পাঠ করেছেন এবং তাঁর কাছে ইবনে কুতাইবাহ-এর "আল-মাআরিফ" ও তাঁরই "শারহু গারিবিল হাদিস" পাঠ করেছেন
(৩)।
ইবনে আবদিল বার তাঁর উস্তাদ আবু উমর আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন শারিয়া আল-লাখমি—যিনি ইবনুল বাজি (৩৩২ - ৩৯৬ হিজরি) নামে পরিচিত—তাঁর নিকট থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন
(৪)। তিনি তাঁর নিকট থেকে একগুচ্ছ গ্রন্থ গ্রহণ করেছেন যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো আবু বকর বিন আবি শাইবাহ-এর "মুসান্নাফ"। তিনি বলেন: "আমি এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবু উমর আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-বাজির কাছে পাঠ করেছি এবং তিনি তাঁর পিতা বর্ণনাকারী আবু মুহাম্মদ আল-বাজির সূত্রে আমাকে এটি বর্ণনা করেছেন"
(৫)। তিনি আরও বলেন: "তিনি জ্ঞান ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, প্রাচ্য দেশে তাঁর একটি সফর ছিল যেখানে তিনি বরেণ্য আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তাঁদের নিকট থেকে লিখে নিয়েছিলেন"
(৬)। আল-হুমাইদি বলেন: "আমাদেরকে আবু উমর বিন আবদিল বার সংবাদ দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١٤)
قال: قرأتُ على أبي عُمر أحمد بن عبد اللَّه الباجي كتاب "المنتقى" لأبي محمد بن الجارود، أخبرني به عن أبيه، عن الحسن بن عبد اللَّه الزُّبَيْدي، عن ابن الجارود، وكتاب "الضعفاء والمتروكين" لابن الجارود، وكتاب "أبي حنيفة" لابن الجارود، وكتاب "الآحاد" لابن الجارود، وكلها بهذا الإسناد"
(1).
وأخذ ابن عبد البر عن شيخه أبي عبد اللَّه محمد بن عبد الملك بن ضيفون بن مروان اللَّخْمي الحَدَّاد القُرطبي الرُّصافي (302 - 394 هـ)
(2) أحاديث الزَّعْفراني بسماعه من ابن الأعرابي، عنه. وقرأ عليه "تفسير" محمد بن سنجر وهو مجلدات كثيرة
(3).
كما أكثر الرواية عن شيخه أبي عُثمان سعيد بن نَصْر بن أبي الفَتْح (315 - 395 هـ)
(4) قال الحُميدي: روى عنه. . . والفقيه الحافظ أبو عُمر يوسف بن عبد اللَّه بن محمد بن عبد البر، فذكره وأثنى عليه، وقال: سعيد بن نصر يُعرف بابن أبي الفتح، كان أبوه من كبار موالي عبد الرحمن الناصر المقدمين عنده. . . أخبرنا أبو عثمان سعيد بن نصر بكتاب "المُجْتبَى" لقاسم بن أصبغ، عن قاسم"
(5).
وأخذ ابن عبد البر عن جملة كبيرة من الشيوخ في بلاد الأندلس، لكنه لم يرحل خارجها في طلب العلم، واكتفى بإجازات حصل عليها من بعض متعيني الرواة منهم
(6): عُبيد اللَّه بن محمد بن أحمد بن جعفر، أبو القاسم السَّقَطي (ت 406 هـ)
(7)،
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "আমি আবু উমর আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজির কাছে আবু মুহাম্মদ ইবনুল জারুদের রচিত 'আল-মুনতাকা' কিতাবটি পাঠ করেছি। তিনি এটি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হাসান বিন আব্দুল্লাহ আয-যুবাইদি থেকে, তিনি ইবনুল জারুদ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও ইবনুল জারুদের 'আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকুন' কিতাব, ইবনুল জারুদের 'আবু হানিফা' কিতাব এবং ইবনুল জারুদের 'আল-আহাদ' কিতাবও এই একই সনদে (পাঠ করেছি)।"
(1).
এবং ইবনে আব্দুল বার তাঁর শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন দাইফুন বিন মারওয়ান আল-লাখমি আল-হাদ্দাদ আল-কুরতুবি আর-রুসাফি (৩০২ - ৩৯৪ হিজরি)
(2) থেকে আয-যাফরানির হাদিসসমূহ গ্রহণ করেছেন, যা তিনি ইবনুল আরাবি থেকে শ্রবণের মাধ্যমে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর কাছে মুহাম্মদ বিন সানজারের 'তাফসির' পাঠ করেন যা অনেক খণ্ডের সমন্বয়ে গঠিত।
(3).
তেমনি তিনি তাঁর শায়খ আবু উসমান সাঈদ বিন নাসর বিন আবুল ফাতহ (৩১৫ - ৩৯৫ হিজরি)
(4) থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন। আল-হুমাইদি বলেন: "তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন... এবং ফকিহ হাফেজ আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বার। অতঃপর তিনি তাঁর উল্লেখ করেন এবং তাঁর প্রশংসা করেন এবং বলেন: সাঈদ বিন নাসর ইবনে আবুল ফাতহ নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর পিতা আব্দুর রহমান আন-নাসিরের বিশিষ্ট ও অগ্রগণ্য মুক্তদাসের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন... আবু উসমান সাঈদ বিন নাসর কাসিম বিন আসবাগের 'আল-মুজতাবা' কিতাবটি কাসিমের সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।"
(5).
ইবনে আব্দুল বার আন্দালুসের এক বিশাল সংখ্যক শায়খ থেকে (জ্ঞান) অর্জন করেছেন, তবে তিনি ইলম অর্জনের জন্য আন্দালুসের বাইরে সফর করেননি। তিনি তাঁদের মধ্যে কতিপয় বিশিষ্ট বর্ণনাকারীর কাছ থেকে প্রাপ্ত ইজাজতের ওপরই সন্তুষ্ট ছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:
(6) উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জাফর, আবু আল-কাসিম আস-সাকাতি (মৃত্যু ৪০৬ হিজরি)
(7),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وعبد الغني بن سعيد المصري (ت 409 هـ)
(1)، وأبو الفتح إبراهيم بن عليّ بن إبراهيم بن الحسين بن سَيْبُخت البغدادي الكاتب (ت 394 هـ)
(2)، وأبو جعفر أحمد بن نصر الأزدي الداودي المالكي الفقيه نزيل تِلِمْسان (ت 402 هـ)
(3)، وأبو ذر عبد بن أحمد الهَرَوي (ت 434 هـ) راوي صحيح البخاري عن ابن حَمُّوية والمُسْتملي والكُشْميهَني
(4)، وأبو محمد عبد الرحمن بن عمر بن محمد التُّجِيبي المصريّ المعروف بابن النَّحاس (ت 416 هـ)
(5).
وإنَّ الفهرس الذي صنعناه لشيوخه في المجلد السابع عشر هو المُبَيّن عن شيوخه الذين أكثر عنهم في "التمهيد"، والمقل عنهم، فلا حاجة إلى أكثر مما ذكرناه في هذه الترجمة المختصرة.
وقد بيّن صديقنا العالم التونسي الشيخ الدكتور طه بن علي بوسريح في دراسته الماتعة عن "المنهج النقدي عند الحافظ ابن عبد البر من خلال التمهيد" أبرز أسانيد ابن عبد البر المشهورة فيه
(6)، كما تناول في دراسةٍ له أخرى أبرز مصادره
(7)، مما لا يحتاج بعد هذا الجهد المحمود من إعادة ذكر لمثل هذه الأمور.
وأرى من المفيد في نهاية هذه الترجمة المختصرة المعتصرة أن أنقل آراء العُلماء في ابن عبد البر وكتابه "التمهيد" على مدى العصور فهي المنبئة عن منزلته التي احتلها بين عُلماء عصره، والمكانة المتميزة التي حَظِي بها كتابه "التمهيد".
--------------------------------------------
আবদুল গনি ইবনে সাঈদ আল-মিসরি (মৃত্যু ৪০৯ হিজরি)
(১), এবং আবুল ফাতহ ইবরাহিম ইবনে আলি ইবনে ইবরাহিম ইবনে আল-হুসাইন ইবনে সাইবুখত আল-বাগদাদি আল-কাতিব (মৃত্যু ৩৯৪ হিজরি)
(২), এবং আবু জাফর আহমদ ইবনে নাসর আল-আযদি আদ-দাউদি আল-মালিকি আল-ফকিহ, যিনি তিলিমসানে বসবাস করতেন (মৃত্যু ৪০২ হিজরি)
(৩), এবং আবু যার আবদ ইবনে আহমদ আল-হারাভি (মৃত্যু ৪৩৪ হিজরি), যিনি ইবনে হামমুইয়াহ, আল-মুসতামলি এবং আল-কুশমিহানি থেকে সহিহ আল-বুখারির বর্ণনাকারী
(৪), এবং আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আত-তুজিবি আল-মিসরি, যিনি ইবনে আন-নাহহাস নামে পরিচিত (মৃত্যু ৪১৬ হিজরি)
(৫)।
আমরা সপ্তদশ খণ্ডে তাঁর শিক্ষকদের যে তালিকা প্রস্তুত করেছি, তা 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে তাঁর সেই শিক্ষকদের পরিচয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরে যাদের কাছ থেকে তিনি অধিক বর্ণনা করেছেন এবং যাদের কাছ থেকে কম বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এই সংক্ষিপ্ত জীবনীতে যা উল্লেখ করেছি তার চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নেই।
আমাদের বন্ধু তিউনিসীয় আলেম শেখ ডক্টর ত্বহা ইবনে আলি বুসরাইহ তাঁর 'আল-মানহাজ আন-নাকদি ইনদাল হাফেজ ইবনে আবদিল বার মিন খিলালিত তামহিদ' (আত-তামহিদের আলোকে হাফেজ ইবনে আবদিল বারের সমালোচনা পদ্ধতি) শীর্ষক চমৎকার গবেষণায় ইবনে আবদিল বারের প্রধান ও প্রসিদ্ধ সনদসমূহ বর্ণনা করেছেন
(৬), তেমনিভাবে তাঁর অন্য একটি গবেষণায় তিনি তাঁর প্রধান উৎসসমূহ আলোচনা করেছেন
(৭), যার ফলে এই প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার পর এই জাতীয় বিষয়গুলো পুনরায় উল্লেখ করার আর প্রয়োজন থাকে না।
এই সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ জীবনীর শেষে আমি ইবনে আবদিল বার এবং তাঁর গ্রন্থ 'আত-তামহিদ' সম্পর্কে বিভিন্ন যুগে আলেমদের মতামতগুলো উদ্ধৃত করাকে ফলপ্রসূ মনে করছি; কারণ তা সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে তাঁর অর্জিত সুউচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর 'আত-তামহিদ' গ্রন্থটি যে বিশেষ সম্মান লাভ করেছে তা ফুটিয়ে তোলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وأول ما نستشهدُ به رأي رفيقه ومُحِبّه العلامة أبي محمد عليّ بن أحمد بن حَزْم الأندلسي الظاهري (ت 456 هـ)، والذي توثقت عُرى الأُلفة والصداقة والمحبة بينه وبين ابن عبد البر الذي بدأ حياته أثريًا ظاهريَّ الهَوَى، ثم تحوّل مالكيًا مع ميل ظاهر إلى فقه الإمام الشافعي في مسائل
(1)، ومع ذلك لم تتأثر هذه العلاقة الحميمة، فكان ابن حَزْم ينقل عن ابن عبد البر في كتابه العظيم "المحلى" على الرغم من أنه توفي قبله
(2)، وقال عنه في رسالته في "فَضْل الأندلس وذكر رجالها" التي نقلها المَقّرِي في "نفح الطيب"، قال: "ومنها كتاب التَّمهيد لصاحبنا أبي عُمر يوسف بن عبد البر، وهو الآن بعدُ في الحياة لم يبلغ سن الشيخوخة، وهو كتاب لا أعلمُ في الكلام على فقه الحديث مثله أصلًا فكيف أحسن منه؟! ومنها كتاب الاستذكار وهو اختصار التمهيد المذكور. ولصاحبنا أبي عُمر بن عبد البر المذكور كُتُب لا مثيل لها: منها كتابه المسمى "الكافي في الفقه على مذهب مالك وأصحابه"، خمسة عَشَر كتابًا اقتصر فيه على ما بالمفتي الحاجة إليه، وبَوَّبه، وقَرَّبه، فصار مُغنيًا عن التصنيفات الطوال في معناه. ومنها: كتابه في الصحابة ليس لأحد من المتقدمين مثله على كثرة ما صنَّفوا في ذلك. . . إلخ"
(3).
وقال أبو عبد اللَّه محمد بن فُتُوح الحُميدي (ت 488 هـ): "فقيه حافظ مُكثر، عالم بالقراءات، وبالخلاف في الفقه، وبعلوم الحديث والرجال، قديم السماع، كثير الشيوخ. . . وألَّف مما جمع تواليف نافعة سارت عنه. . . ومن مجموعاته كتاب "التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد" سبعون جزءًا، قال لنا أبو محمد علي بن أحمد: وهو كتاب لا أعلم في الكلام على فقه الحديث مثله فكيف أحسَنَ منه! "
(4).
وقال الحافظ الكبير أبو علي الحسين بن محمد بن أحمد الغسَّانيّ الجَيّانيّ (ت 498 هـ): "لم يكن أحدٌ ببلدنا في الحديث مثل قاسم بن محمد وأحمد بن خالد
--------------------------------------------
আমরা প্রথম যে উদ্ধৃতিটি পেশ করব তা হলো তাঁর বন্ধু এবং অনুরক্ত আল্লামা আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি আল-জহিরির (মৃত্যু ৪৫৬ হি.) অভিমত। তাঁর এবং ইবনে আব্দুল বাররের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা, বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বন্ধন অত্যন্ত দৃঢ় ছিল। ইবনে আব্দুল বারর তাঁর জীবন শুরু করেছিলেন একজন আসারি এবং জাহিরি ঝোঁকসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে; এরপর তিনি মালিকি মাযহাবে রূপান্তরিত হন, তবে কিছু মাসআলায় ইমাম শাফেয়ির ফিকহের দিকে তাঁর স্পষ্ট ঝোঁক ছিল
(১)। তা সত্ত্বেও এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রভাবিত হয়নি। ফলে ইবনে হাজম তাঁর মহান গ্রন্থ "আল-মুহাল্লা"-তে ইবনে আব্দুল বারর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করতেন, যদিও তিনি তাঁর পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন
(২)। তিনি তাঁর "ফাদলুল আন্দালুস ওয়া জিকর রিজালিহা" নামক রিসালায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, যা আল-মাক্কারি "নাফহুত তীব" গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন: "এর মধ্যে রয়েছে আমাদের সাথী আবু উমর ইউসুফ ইবনে আব্দুল বাররের কিতাব 'আত-তামহিদ'। তিনি বর্তমানে জীবিত এবং এখনো বার্ধক্যে পৌঁছাননি। এটি এমন একটি কিতাব যার সমতুল্য ফিকহুল হাদিসের আলোচনায় আমি আর কোনো কিতাব জানি না, তবে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না! এর মধ্যে আরও আছে 'আল-ইস্তিজকার' কিতাবটি, যা উল্লিখিত 'আত-তামহিদ'-এর সংক্ষিপ্তসার। আমাদের উল্লিখিত সাথী আবু উমর ইবনে আব্দুল বাররের এমন কিছু কিতাব রয়েছে যার কোনো নজির নেই: তার মধ্যে রয়েছে মালিকি মাযহাব ও তাঁর সাথীদের ফিকহের ওপর 'আল-কাফি' নামক গ্রন্থটি, যা পনেরো খণ্ডে সমাপ্ত; এতে তিনি কেবল একজন মুফতির যা প্রয়োজন তা-ই সীমাবদ্ধ রেখেছেন, একে পরিচ্ছেদবদ্ধ করেছেন এবং সহজবোধ্য করেছেন, ফলে এটি এই বিষয়ে দীর্ঘ রচনাবলির অভাব পূরণকারী হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সাহাবিদের সম্পর্কে তাঁর কিতাবটি, এই বিষয়ে অনেক কিতাব রচিত হলেও পূর্ববর্তীদের কারোরই এর মতো কোনো কিতাব নেই... ইত্যাদি"
(৩)।
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ফুতুহ আল-হুমাইদি (মৃত্যু ৪৮৮ হি.) বলেছেন: "তিনি একজন ফকিহ, হাফিজ, প্রচুর রচনাকারী, কিরাতশাস্ত্র, ফিকহি মতভেদ, হাদিস শাস্ত্র এবং রিজাল শাস্ত্রে পণ্ডিত। দীর্ঘকালের শ্রবণকারী এবং অনেক শাইখের শিষ্য... তিনি তাঁর সংগৃহীত জ্ঞান থেকে অনেক উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন যা সর্বত্র প্রসিদ্ধি লাভ করেছে... তাঁর সংকলনসমূহের মধ্যে রয়েছে 'আত-তামহিদ লিমা ফিল মুওয়াত্তা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ' কিতাবটি, যা সত্তর খণ্ডে বিভক্ত। আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ আমাদের বলেছেন: এটি এমন এক কিতাব যার সমতুল্য ফিকহুল হাদিস বিষয়ক আলোচনায় আমি আর কিছু জানি না, তাহলে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু হবে কীভাবে!"
(৪)।
বড় হাফিজ আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-গাসসানি আল-জাইয়ানি (মৃত্যু ৪৯৮ হি.) বলেছেন: "আমাদের দেশে হাদিসের ক্ষেত্রে কাসিম ইবনে মুহাম্মদ এবং আহমদ ইবনে খালিদের মতো আর কেউ ছিল না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١٧)
الجَبّاب". ثم قال أبو علي: "ولم يكن ابنُ عبد البر بدونهما، ولا متخلفًا عنهما، وكان من النَّمِرِ بن قاسط، طلبَ وتقدّم، ولزم أبا عمر أحمدَ بنَ عبد الملك الفقيه، ولزم أبا الوليد ابن الفَرَضي، ودأب في طلب الحديث، وافْتَنَّ به، وبرعَ براعة فاقَ بها من تَقَدَّمه من رجال الأندلس، وكان مع تَقَدُّمه في علم الأثر وَبَصرِهِ بالفقه والمعاني له بَسطةٌ كبيرةٌ في علم النَّسَب والأخبار"
(1).
وذكر ابن بشكوال أنه قرأ بخط صاحبه أبي الوليد يوسف بن عبد العزيز المعروف بابن الدَّبّاغ الأُنْدي (ت 546 هـ) أَنَّه سمعَ القاضي الصدفي أبا علي الحُسين بن محمد بن فيرُّه (ت 514 هـ) شيخَهُ يقول: إنه سَمِعَ القاضي الإمام أبا الوليد سُليمان بن خَلَف الباجيّ الأندلسيّ (ت 474 هـ) يقول: "لم يكن بالأندلس مثل أبي عُمر بن عبد البر في الحديث"
(2).
وذكر ابن بشكوال أيضًا أنَّ أبا بكر محمد بن خَلَف بن سُليمان بن فَتْحون (ت 520 هـ) كتبَ إليه بخطِّه أنَّه سمعَ أبا عليّ الصَّدَفيَّ يقول: "سمعتُ القاضي أبا الوليد الباجي وقد جَرَى ذكر أبي عمر بن عبد البر عنده فقال: أبو عُمر أحفظ أهل المغرب"
(3).
وقال القاضي عياض (ت 544 هـ): "شيخ علماء الأندلس وكبير محدثيها في وقته، وأحفظ من كان بها لسُنّةٍ مَشْهورة"
(4).
وقال أيضًا: "ألّف أبو عُمر رحمه الله على الموطأ كتاب التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد وهو عشرون مجلدًا، وهو كتاب لم يصنع أحدٌ مثله في طريقته"
(5).
وقال ابن بشكوال (ت 578 هـ): "إمام عصره، وواحد دهره. . . ألّف في الموطأ كتبًا مفيدة منها كتاب التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد، ورتبه على
--------------------------------------------
"...আল-জাব্বাব।" অতঃপর আবু আলী বলেন: "ইবনে আবদিল বার এই দুজনের চেয়ে কম ছিলেন না, কিংবা তাদের চেয়ে পিছিয়েও ছিলেন না। তিনি নামির বিন কাসিত গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং অগ্রসর হয়েছেন। তিনি ফকিহ আবু ওমর আহমদ বিন আবদুল মালিক এবং আবুল ওয়ালিদ ইবনুল ফারাদির সান্নিধ্যে ছিলেন। তিনি হাদিস অন্বেষণে নিরলস পরিশ্রম করেছেন এবং এতে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তিনি এমন নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন যার মাধ্যমে তিনি আন্দালুসের পূর্ববর্তী মনীষীদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। আছার (সনদভিত্তিক বর্ণনা) শাস্ত্রে তার অগ্রগামিতা এবং ফিকহ ও অর্থশাস্ত্রে গভীর অন্তর্দৃষ্টির পাশাপাশি বংশগতি বিদ্যা ও ইতিহাসের খবরেও তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল।"
(১).
ইবনে বাশকুওয়াল উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার বন্ধু আবুল ওয়ালিদ ইউসুফ বিন আবদুল আজিজ—যিনি ইবনুদ দাব্বাগ আল-উন্দি (মৃত্যু ৫৪৬ হি.) নামে পরিচিত—তার স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপিতে পড়েছেন যে, তিনি তার শাইখ কাজী আস-সাফাদি আবু আলী আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন ফিররুহ (মৃত্যু ৫১৪ হি.)-কে বলতে শুনেছেন: তিনি কাজী ইমাম আবুল ওয়ালিদ সুলাইমান বিন খালাফ আল-বাজি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৪৭৪ হি.)-কে বলতে শুনেছেন যে, "হাদিসশাস্ত্রে আবু ওমর ইবনে আবদিল বারের মতো আন্দালুসে আর কেউ ছিল না।"
(২).
ইবনে বাশকুওয়াল আরও উল্লেখ করেছেন যে, আবু বকর মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন সুলাইমান বিন ফাতহুন (মৃত্যু ৫২০ হি.) তাকে স্বহস্তে লিখে জানিয়েছেন যে, তিনি আবু আলী আস-সাফাদিকে বলতে শুনেছেন: "আমি কাজী আবুল ওয়ালিদ আল-বাজিকে বলতে শুনেছি, যখন তার নিকট আবু ওমর ইবনে আবদিল বারের আলোচনা করা হলো, তখন তিনি বললেন: আবু ওমর পশ্চিম দিগন্তের (মাগরিব) সবচেয়ে বড় হাফেজ (হাদিস বিশারদ)।"
(৩).
কাজী ইয়াদ (মৃত্যু ৫৪৪ হি.) বলেন: "তিনি ছিলেন তার সময়ের আন্দালুসের ওলামাদের শাইখ এবং সেখানকার মুহাদ্দিসদের প্রধান; আর প্রসিদ্ধ সুন্নাহর বিষয়ে সেখানকার সবচেয়ে বড় হাফেজ।"
(৪).
তিনি আরও বলেন: "আবু ওমর (রহিমাহুল্লাহ) মুওয়াত্তার ওপর 'আত-তামহিদ লিমা ফিল মুওয়াত্তা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ' কিতাবটি রচনা করেছেন, যা বিশ খণ্ডে সমাপ্ত। এটি এমন এক কিতাব যার পদ্ধতিতে এর সমতুল্য আর কেউ কিছু রচনা করতে পারেনি।"
(৫).
ইবনে বাশকুওয়াল (মৃত্যু ৫৭৮ হি.) বলেন: "তিনি তার যুগের ইমাম এবং অনন্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন... তিনি মুওয়াত্তার ওপর বেশ কিছু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে 'আত-তামহিদ লিমা ফিল মুওয়াত্তা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ' কিতাবটি অন্যতম, যা তিনি বিন্যস্ত করেছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١٨)
أسماء شيوخ مالك على حروف المعجم، وهو كتاب لم يتقدمه أحد إلى مثله، وهو سبعون جزءًا"
(1).
وذى ابن خَلِّكان (ت 681 هـ) أنَّه كان: "إمام عصره في الحديث والأثر وما يتعلق بهما"
(2).
وقال الإمام شمس الدين الذهبي (ت 748 هـ): "الإمام العلّامة، حافظ المغرب، شيخ الإسلام. . . صاحب التصانيف الفائقة. . . كان إمامًا دَيِّنًا، ثِقة، مُتْقِنًا، علامةً، مُتبَحِّرًا، صاحِبَ سُنة واتباع، وكان أولًا أثريًّا ظاهريًّا فيما قيل، ثم تحول مالكيًّا مَعَ مَيْلٍ بَيِّنٍ إلى فقه الشافعي في مسائل، ولا يُنكر له ذلك، فإنه ممن بلغ رُتبة الأئمة المجتهدين، ومن نَظَرَ في مُصَنَّفاته، بانَ له مَنزِلَتُهُ من سعة العلم، وقُوةِ الفهم، وسَيلان الذهن، وكُلُّ أحدٍ يُؤخذ من قوله ويتركُ إلا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ولكن إذا أخطأ إمامٌ في اجتهاده، لا ينبغي لنا أن نَنْسى محاسنه، ونُغطي معارفه، بل نستغفرُ له، ونَعتَذِرُ عنه"
(3).
وقال أيضًا: "وكان موفقًا في التأليف، مُعانًا عليه، ونفعَ اللَّهُ بتواليفه، وكانَ مع تقدّمه في عِلْم الأثر وبَصَره في الفقه ومعاني الحديث له بَسْطة كبيرة في علم النَّسَب والخبر. . . كان حافظ المغرب في زمانه"
(4).
وفاته:
رحل ابن عبد البر عن وطنه قُرطبة فكان في غرب الأندلس مدة، ثم تحوّل إلى شرقها وسكنَ دانية وبَلَنْسية وشاطِبَةَ، وبها كانت وفاتُه في آخر ربيع الآخر، ودفن يوم الجمعة لصلاة العصر من سنة ثلاث وستين وأربع مئة (الموافق لليوم الرابع من شهر آذار/ مارس سنة 1071 م) فعُمِّرَ خمسًا وتسعين سنة هجرية أو ثلاثًا وتسعين سنة شمسية، رحمه اللَّه تعالى وأسكنه فسيحَ جنانه جراء ما قدّم من خدمات جُلّى لأمة الإسلام.
--------------------------------------------
'মালিকের উস্তাদগণের নাম অভিধানের বর্ণানুক্রমে', এটি এমন একটি গ্রন্থ যার সদৃশ কেউ পূর্বে রচনা করতে পারেননি এবং এটি সত্তর খণ্ডে সমাপ্ত"
(১)।
ইবনে খাল্লিকান (মৃত্যু ৬৮১ হিজরি) উল্লেখ করেছেন যে তিনি ছিলেন: "হাদিস, আসার এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীতে নিজ যুগের ইমাম"
(২)।
ইমাম শামসুদ্দিন আজ-জাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) বলেছেন: "মহান ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, মাগরিবের হাফিজ, শায়খুল ইসলাম... অনন্য রচনাবলির রচয়িতা... তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ ইমাম, নির্ভরযোগ্য, সুনিপুণ, মহাজ্ঞানী, অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী, সুন্নাহ ও অনুসরণের অনুসারী। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি শুরুতে আসারি ও জাহিরি মতাদর্শের ছিলেন, অতঃপর তিনি মালিকি মাযহাবে রূপান্তরিত হন, যদিও বিভিন্ন মাসআলায় শাফেয়ী ফিকহের প্রতি তাঁর সুস্পষ্ট ঝোঁক ছিল। এটি তাঁর জন্য কোনো দোষের বিষয় নয়, কেননা তিনি সেই স্তরের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যারা ইজতিহাদের মর্যাদায় পৌঁছেছিলেন। যে কেউ তাঁর গ্রন্থাবলির প্রতি দৃষ্টিপাত করবেন, তাঁর নিকট তাঁর ইলমের প্রশস্ততা, অনুধাবনের প্রখরতা এবং মেধার তীক্ষ্ণতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা বর্জন করা যেতে পারে। তবে কোনো ইমাম যদি তাঁর ইজতিহাদে ভুল করেন, তবে আমাদের জন্য সমীচীন নয় যে আমরা তাঁর গুণাবলি ভুলে যাব এবং তাঁর জ্ঞানকে ঢেকে রাখব, বরং আমরা তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব এবং তাঁর পক্ষ থেকে ওজর পেশ করব"
(৩)।
তিনি আরও বলেছেন: "তিনি গ্রন্থ রচনায় সফল ও ঐশ্বরিক সাহায্যপ্রাপ্ত ছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর রচনাবলির মাধ্যমে প্রভূত উপকার সাধন করেছেন। আসার শাস্ত্রে তাঁর অগ্রগামিতা এবং ফিকহ ও হাদিসের মর্মার্থ অনুধাবনে তাঁর বিচক্ষণতার পাশাপাশি বংশলতিকা ও ইতিহাস শাস্ত্রেও তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্য ছিল... তিনি তাঁর সময়ে মাগরিবের হাফিজ ছিলেন"
(৪)।
তাঁর মৃত্যু:
ইবনে আব্দুল বার তাঁর স্বদেশ কুরতুবা (কর্ডোভা) ত্যাগ করে কিছুকাল পশ্চিম আন্দালুসে অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি এর পূর্ব দিকে চলে যান এবং দানিয়া, বালান্সিয়া ও শাতিবায় বসবাস করেন। সেখানেই ৪৬৩ হিজরির রবিউস সানি মাসের শেষ দিকে (১০৭১ খ্রিস্টাব্দের ৪ মার্চ তারিখের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ) আসরের নামাজের পর জুমুআর দিনে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি হিজরি বর্ষ হিসেবে ৯৫ বছর অথবা সৌর বর্ষ হিসেবে ৯৩ বছর জীবন লাভ করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে রহম করুন এবং উম্মতে ইসলামীর জন্য তাঁর সুমহান খেদমতের বিনিময়ে তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে দাখিল করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ١٩)
نهج العمل في التحقيق
وصف النسخ الخطية:لقد توفرت لنا -بحمد اللَّه ومَنِّه- أكثر النسخ الخطية المعروفة في خزائن الكتب بالخافقين من "التمهيد"، من البلاد المغربية، والمصرية، والشامية، والعراق، وتركيا، وغيرها.
وتَبيَّنَ لنا -من غير شك- بعد دراسة النُّسخ المذكورة أنها تمثل نشرتين للكتاب، الإبرازة الأولى، وهي المسوّدة، وأكثر النسخ منسوخة عنها -كما سيأتي بيانه- والإبرازة الثانية، وهي الأخيرة، ممثلة بالنسخة المحفوظة في خزانة كتب كوبريلي بإستانبول والتي وصل إلينا منها ثمانية مجلدات من أصل أحد عَشَر مجلدًا، وبعض المجلدات المحفوظة في دار الكتب المصرية.
والإبرازةُ الأولى لا تمثل الكتاب الذي ارتضاه مؤلفه فيما بعد في إبرازته الأخيرة، فهي كثيرةُ النقص والاختلاف في صياغة العبارات، ومنها على سبيل المثال لا الحصر نسخة فيض اللَّه ذات الرقم (295) والتي رمزنا لها (ي 1)، ومنها بعض مجلدات دار الكتب المصرية التي رمزنا لها (د)، ومنها نسخة القادرية ببغداد التي رمزنا لها بالحرف (ق) والنسخة التيمورية الملحقة بدار الكتب المصرية التي رمزنا لها (ت)، ومنها النسخ المحفوظة بالقرويين بفاس المحفوظة بالأرقام (4517) و (3063) و (991) المرموز لها بالحرف (ف)، ومنها نسخة الظاهرية (3394) (ظا) وغيرها من النسخ التي سيأتي وصفها لاحقًا.
ومن الغريب أنَّ القائمين على الطبعة المغربية وجميع من نشر الكتاب بعدهم لم يَنْتَبهوا إلى هذه الحقيقة، فذهبوا إلى التلفيق بين هذه النُّسخ، ومنها عبارات أو فقرات مكررة أعاد المؤلف صياغتها، وهو صنيعٌ غير محمود في التحقيق القائم على دراسة النسخ المعتمدة فيه.
وفيما يأتي وصف لأبرز النسخ التي قامت عليها نشرتنا هذه:
সম্পাদনার কর্মপদ্ধতিপাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা:আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর অনুগ্রহে, মরক্কো, মিশর, শাম, ইরাক, তুরস্ক এবং বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের গ্রন্থাগারগুলোতে সংরক্ষিত "আল-তামহীদ"-এর পরিচিত অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি আমাদের হস্তগত হয়েছে।
উল্লেখিত পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যালোচনার পর আমাদের কাছে নিঃসন্দেহে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এগুলো বইটির দুটি সংস্করণকে উপস্থাপন করে। প্রথম সংস্করণটি হলো খসড়া, এবং অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি এটি থেকেই অনুলিপি করা হয়েছে—যার বর্ণনা সামনে আসবে। আর দ্বিতীয় সংস্করণটি হলো চূড়ান্ত সংস্করণ, যা ইস্তাম্বুলের কোপরুলু গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়; যার এগারোটি খণ্ডের মধ্যে আটটি খণ্ড আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এছাড়া এর কিছু খণ্ড মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তেও সংরক্ষিত আছে।
প্রথম সংস্করণটি সেই বইয়ের প্রতিনিধিত্ব করে না যা লেখক পরবর্তীতে তাঁর চূড়ান্ত সংস্করণে পছন্দ করেছিলেন; কারণ এতে ভাষ্য গঠনে প্রচুর অসম্পূর্ণতা ও ভিন্নতা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়: ফয়জুল্লাহ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি নং (২৯৫), যাকে আমরা (ইয়া ১) সংকেত দিয়েছি; মিশরের দারুল কুতুবের কিছু খণ্ড, যাকে আমরা (দাল) সংকেত দিয়েছি; বাগদাদের কাদেরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যাকে আমরা (কাফ) সংকেত দিয়েছি; মিশরের দারুল কুতুবের তায়মুরি পাণ্ডুলিপি, যাকে আমরা (তা) সংকেত দিয়েছি; মরক্কোর ফেজ শহরের আল-কারাওয়িয়্যিন-এ সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি নং (৪৫১৭), (৩০৬৩) ও (৯৯১), যেগুলোকে (ফা) সংকেত দেওয়া হয়েছে; জহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি (৩৩৯৪) (জ) এবং অন্যান্য পাণ্ডুলিপি যেগুলোর বর্ণনা পরবর্তীতে আসবে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মরক্কান সংস্করণের সম্পাদকগণ এবং তাদের পরে যারা বইটি প্রকাশ করেছেন, তারা এই সত্যটির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। ফলে তারা এই বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, যার মধ্যে এমন কিছু পুনরাবৃত্ত বাক্য বা অনুচ্ছেদ রয়েছে যা লেখক নিজেই পুনরায় পরিমার্জিত আকারে লিখেছিলেন। পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার ভিত্তিতে করা কোনো গবেষণাধর্মী সম্পাদনার ক্ষেত্রে এটি মোটেও প্রশংসনীয় কাজ নয়।
আমাদের এই সংস্করণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত প্রধান পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
نسخة كوبريلي:وهي نسخة من الإبرازة الأخيرة للكتاب ينقصها المجلدات الثاني والثالث والرابع والخامس والسادس وأرقامها في المكتبة المذكورة (343) و (347) و (348) و (349) و (350) و (351)، كتبت بخط مغربي مقروء سنة 570 هـ، وقوبلت المجلدات الأول والسابع والثامن والتاسع والعاشر والحادي عشر على الأصل المنتسخ منه وعلى نسختين أخريين، فقد جاء في طرة المجلد الأول منها: "ابتدئ بمقابلته على بركة اللَّه عز وجل يوم الأحد السابع والعشرين من جمادى الأولى سنة ثلاث وسبعين وخمس مئة على نسختين صحيحتين بمدينة شاطبة حرسها اللَّه وحفظها، واللَّه يعين على طاعته".
وكتبت بلاغات المقابلة في الحواشي، وأشرنا إليها في مواضعها وأضيف إلى هذه النسخة مجلدان هما: الرابع والسادس من نسخة أخرى حملا الرقمين (345) و (346)، وهما مجلدان لم يقابلا، فكثر فيهما التصحيف والتحريف والسقط، لكنهما من الإبرازة الأخيرة.
ومع كل ذلك فإن هذه النسخة من أفضل النسخ التي وصلت إلينا من التمهيد، لذلك اتخذناها أصلًا، وأفدنا من النسخ الأخرى في إصلاح ما اعتورها من تصحيف وتحريف وسقط، وهي المرموز لها بالأصل.
المجلد الأول:
وهو الذي يحمل الرقم (343).
جاء في طرته التي لصق أحدهم شريطًا فوقها أذهب بعض الكلمات: "السفر الأول من كتاب التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد في حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم. تأليف أبي عمر يوسف بن عبد اللَّه بن محمد بن عبد البر النمري رحمة اللَّه عليه".
وفي الطرة ترجمة لمؤلفه ابن عبد البر نصها:
কোপরিলী পাণ্ডুলিপি:এটি গ্রন্থটির শেষ সংস্করণের একটি পাণ্ডুলিপি, যাতে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ খণ্ডগুলো অনুপস্থিত। উল্লিখিত লাইব্রেরিতে এগুলোর ক্রমিক নম্বর হলো (৩৪৩), (৩৪৭), (৩৪৮), (৩৪৯), (৩৫০) ও (৩৫১)। এটি ৫৭০ হিজরিতে সুস্পষ্ট মাগরিবি লিপিতে লিখিত হয়েছে। প্রথম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ খণ্ডগুলো মূল পাণ্ডুলিপি এবং অন্য আরও দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন (মুকাবালা) করা হয়েছে। এর প্রথম খণ্ডের প্রচ্ছদপৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে: "মহান আল্লাহর বরকতে ৫৭৩ হিজরির জামাদিউল উলা মাসের সাতাশ তারিখ রবিবার শাত্বিবাহ শহরে—আল্লাহ একে রক্ষা ও হিফাযত করুন—দুটি সহীহ পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে এর পাঠ সংশোধন শুরু করা হয়েছে। আর আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের ওপর সাহায্যকারী।"
পাঠ সংশোধনের টীকাগুলো মার্জিনে লেখা হয়েছে এবং আমরা স্ব-স্ব স্থানে সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি। এই পাণ্ডুলিপিতে অন্য একটি পাণ্ডুলিপির চতুর্থ ও ষষ্ঠ খণ্ড দুটি যুক্ত করা হয়েছে, যার নম্বর যথাক্রমে (৩৪৫) ও (৩৪৬)। এই খণ্ড দুটির পাঠ সংশোধন করা হয়নি, ফলে সেগুলোতে প্রচুর লিপি-বিভ্রান্তি, বিকৃতি ও বিচ্যুতি রয়েছে; তবে এগুলোও শেষ সংস্করণের অন্তর্ভুক্ত।
এতৎসত্ত্বেও, আত-তামহীদ-এর যে পাণ্ডুলিপিগুলো আমাদের নিকট পৌঁছেছে তার মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ পাণ্ডুলিপি। তাই আমরা এটিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং এতে বিদ্যমান লিপি-বিভ্রান্তি, বিকৃতি ও বিচ্যুতিগুলো সংশোধনে অন্যান্য পাণ্ডুলিপি থেকে উপকৃত হয়েছি। একে 'আসল' (মূল) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রথম খণ্ড:
এটিই সেই খণ্ড যা (৩৪৩) নম্বর বহন করছে।
এর প্রচ্ছদপৃষ্ঠায়, যার ওপর কেউ একজন একটি ফিতা লাগিয়ে দেওয়ায় কিছু শব্দ মুছে গেছে, সেখানে লিখিত আছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের অর্থ ও সনদ সংক্রান্ত 'আত-তামহীদ লিমা ফিল মুওয়াত্তা মিনাল মাআনী ওয়াল আসানীদ' গ্রন্থের প্রথম খণ্ড। রচনায়: আবু উমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বার আন-নামারী, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।"
প্রচ্ছদপৃষ্ঠায় এর লেখক ইবনে আব্দুল বার-এর একটি জীবনী রয়েছে, যার পাঠ নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢١)
"ولد أبو عمر بن عبد البر مؤلف هذا الديوان في الساعة
(1). . . من يوم الجمعة لخمس بقين من شهر ربيع الآخر من سنة ثمان وستين وثلاث مئة. وتوفي رحمه الله وبرد ضريحه في يوم الخميس مستهل شهر جمادى الأولى سنة ثلاث وستين وأربع مئة، ودفن يوم الجمعة بعده بمدينة شاطبة حرسها اللَّه، تجاوز اللَّه عنه. . . ووفقنا وإياه بالصالحين من عباده المؤمنين، وصلى اللَّه على النبي المصطفى. . . وعلى آله وصحبه الأبرار وعترته الأخيار وسلم تسليمًا".
وكتب في يسار الحاشية السُّفلى من الطرة: "شرح الموطأ. هذا الجزء وعشرة معه من كتب الفقير الحقير أبي البركات محمد ابن الكيال الشافعي
(2) لطف اللَّه به آمين. سنة 889".
وجاء في الورقة الأولى منه: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. صلى اللَّه على محمد وعلى آله وسلم. عونك اللهم. قال أبو عمر يوسف بن عبد اللَّه بن محمد بن عبد البر النمري الحافظ رضي الله عنه: الحمد للَّه الأول الآخر الظاهر الباطن القادر القاهر. . . ".
وينتهي المجلد بآخر تمهيد الحديث الثالث لحميد بن قيس المرسل، وجاء في آخره: "تم السفر الأول من كتاب التمهيد بحمد اللَّه وعونه يتلوه إن شاء اللَّه تعالى حديث رابع لحميد بن قيس منقطع، واللَّه المعين برحمته".
وفي أسفل الورقة من الجهة اليسرى: "قابلته بالأصل المنتسخ منه وبنسخة أخرى والحمد للَّه". وفي حاشية الورقة: "بلغت المقابلة بحمد اللَّه وحسن عونه".
كتب هذا المجلد والمجلدات السابع والثامن والتاسع والعاشر والحادي عشر كاتب واحد لم يذكر اسمه بخط مغربي من نحو نقط الفاء من تحت والقاف بنقطة واحدة،
--------------------------------------------
এই দেওয়ানের সংকলক আবু উমর বিন আব্দুল বার তিনশ আটষট্টি হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের পাঁচ দিন বাকি থাকতে জুমার দিন
(১)... সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁর কবরকে শীতল করুন; তিনি চারশ তেষট্টি হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসের শুরুতে বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন এবং তার পরের দিন শুক্রবার আল্লাহ রক্ষিত শাতিবা শহরে তাঁকে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন... এবং আমাদের ও তাঁকে তাঁর মুমিন বান্দাদের মধ্য থেকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আল্লাহ মনোনীত নবী... এবং তাঁর পুণ্যবান পরিবার-পরিজন, সাহাবী ও শ্রেষ্ঠ বংশধরদের ওপর দরুদ ও পরিপূর্ণ সালাম বর্ষণ করুন।
এবং পৃষ্ঠার নিচের বাম প্রান্তের টীকায় লেখা আছে: "মুয়াত্তার ব্যাখ্যা। এই খণ্ডটি এবং এর সাথে আরও দশটি খণ্ড নিঃস্ব ও তুচ্ছ আবু বারাকাত মুহাম্মদ ইবনুল কাইয়্যাল শাফেয়ীর
(২) কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন, আমিন। ৮৮৯ হিজরি সন।"
এর প্রথম পৃষ্ঠায় রয়েছে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি। হাফেজ আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বার আন-নামারি (রা.) বলেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আদি, অন্ত, প্রকাশ্য, অপ্রকাশ্য, সর্বশক্তিমান ও মহাপরাক্রমশালী...।"
খণ্ডটি হুমাইদ বিন কায়েসের বর্ণিত মুরসাল তৃতীয় হাদিসের আলোচনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এর শেষে রয়েছে: "আল্লাহর প্রশংসা ও সাহায্যে আত-তামহীদ কিতাবের প্রথম খণ্ড সমাপ্ত হলো। এরপর ইনশাআল্লাহ তাআলা হুমাইদ বিন কায়েসের বর্ণিত চতুর্থ একটি মুনকাতি হাদিস আসবে। আল্লাহ তাঁর রহমতে সাহায্যকারী।"
এবং পৃষ্ঠার নিচের বাম পাশে রয়েছে: "আমি এটি যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে সেটির সাথে এবং অন্য একটি কপির সাথে মিলিয়েছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।" পৃষ্ঠার টীকায় রয়েছে: "আল্লাহর প্রশংসা ও উত্তম সাহায্যে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মেলানোর কাজ সমাপ্ত হয়েছে।"
এই খণ্ডটি এবং সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ খণ্ডগুলো একজন লেখকই লিখেছেন, যিনি নিজের নাম উল্লেখ করেননি। এটি মাগরিবি লিপিতে লেখা হয়েছে, যেখানে 'ফা' বর্ণের নিচে নুকতা এবং 'কাফ' বর্ণে একটি নুকতা দেওয়া হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ومسطرتها جميعًا (25) سطرًا في الصفحة، في كل سطر بحدود 12 - 14 كلمة، وهذا المجلد في (182) ورقة.
المجلد الرابع:
وهو الذي يحمل الرقم (345)، كتب بخط أندلسي مغاير لما كتبت به المجلدات الأول والسابع إلى الحادي عشر، عدد أوراقه (135) ورقة، مسطرته (25) سطرًا، في كل سطر بين 16 - 18 كلمة.
أوله: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. صلى اللَّه على محمد، عونك اللهم فامنُن به.
حديث ثالث لابن شهاب عن حميد يستند من وجوه".
وآخره هو آخر حديث ثان لابن شهاب عن سالم، "وقال أبو سعيد الخدري: كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أشد حياءً من عذراءَ في خدرها".
وهذا المجلد لم يقابل على الأصل المنتسخ منه، ولا علاقة له بالمجلدات الأول، والسابع إلى الحادي عشر، لا من حيث الكاتب ولا من حديث الجودة. لكنه من النشرة الأخيرة قطعًا.
المجلد السادس:
وهو الذي يحمل الرقم (346) في المكتبة المذكورة، كاتبه هو كاتب المجلد الرابع ومسطرته وعدد الكلمات في السطر وخطه كما في المجلد الرابع وعدد أوراقه (141) ورقة، فهو من النسخة نفسها جُمِعَ مع النسخة التي وصل إلينا منها المجلدات الأول والسابع إلى الحادي عشر، أوله: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. صلى اللَّه على سيدنا ومولانا محمد وعلى آل محمد وسلم. حديثٌ ثان لمحمد بن المنكدر".
وآخره آخر الحديث الرابع والأربعين لنافع عن ابن عمر.
ولعل هذه النسخة التي وصل إلينا منها المجلدان الرابع والسادس قد نسخت من النسخة المكتوبة سنة 570 هـ أو من النسخة التي نسخت عنها تلك النسخة لتوافق نهاية هذا المجلد مع بداية المجلد السابع من نسخة 570 هـ المقابلة، ولاتفاق
এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় মোট ২৫টি করে লাইন রয়েছে, প্রতি লাইনে প্রায় ১২-১৪টি শব্দ আছে এবং এই খণ্ডটি ১৮২টি পত্রে (পৃষ্ঠা) সম্বলিত।
চতুর্থ খণ্ড:
এটি ৩৪৫ নম্বর বহন করছে, যা প্রথম এবং সপ্তম থেকে একাদশ খণ্ডগুলোর তুলনায় ভিন্ন আন্দালুসি লিপিতে লেখা হয়েছে। এর পত্র সংখ্যা ১৩৫টি, এর বিন্যাস ২৫ লাইনের এবং প্রতি লাইনে ১৬-১৮টি করে শব্দ রয়েছে।
এর শুরু: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ মুহাম্মাদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাই এর মাধ্যমে অনুগ্রহ দান করুন। ইবনে শিহাবের সূত্রে হুমাইদ থেকে বর্ণিত তৃতীয় হাদিস যা বিভিন্ন দিক থেকে সমর্থিত।"
আর এর শেষ হলো সালেম থেকে ইবনে শিহাবের বর্ণিত দ্বিতীয় হাদিসের শেষাংশ, "আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্দানশীন কুমারী কন্যার চেয়েও অধিক লাজুক ছিলেন।"
এই খণ্ডটি যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে তার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়নি। লেখক কিংবা গুণগত মান—কোনো দিক থেকেই প্রথম এবং সপ্তম থেকে একাদশ খণ্ডগুলোর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এটি নিশ্চিতভাবেই সর্বশেষ সংস্করণের অন্তর্ভুক্ত।
ষষ্ঠ খণ্ড:
উল্লিখিত গ্রন্থাগারে এটি ৩৪৬ নম্বর বহন করছে। এর লেখক চতুর্থ খণ্ডেরই লেখক এবং এর বিন্যাস, লাইনের শব্দ সংখ্যা ও লিপি চতুর্থ খণ্ডের মতোই। এর পত্র সংখ্যা ১৪১টি। সুতরাং এটি একই অনুলিপি থেকে সংগৃহীত যা আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রথম এবং সপ্তম থেকে একাদশ খণ্ডগুলোর পাণ্ডুলিপির সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এর শুরু: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির থেকে বর্ণিত দ্বিতীয় হাদিস।"
আর এর শেষ হলো ইবনে উমর থেকে নাফে-এর বর্ণিত চুয়াল্লিশতম হাদিসের শেষাংশ।
সম্ভবত এই পাণ্ডুলিপিটি—যার মাধ্যমে চতুর্থ ও ষষ্ঠ খণ্ড আমাদের নিকট পৌঁছেছে—তা ৫৭০ হিজরিতে লিখিত কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে অথবা এমন কোনো পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে যেখান থেকে ওই পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করা হয়েছিল। কারণ এই খণ্ডের সমাপ্তি ৫৭০ হিজরির সম্পাদিত পাণ্ডুলিপির সপ্তম খণ্ডের শুরুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে, এবং এর সাথে মিল থাকার কারণে...
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
الدعاء في أول المجلد الرابع مع ما جاء في المجلد السابع في قوله: "صلى اللَّه على محمد وعلى آله وسلم عونك اللهم فامنن به".
المجلد السابع:
وهو الذي يحمل الرقم (347) في المكتبة المذكورة، وهو والمجلدات الآتية: الثامن والتاسع والعاشر والحادي عشر من النسخة التي وصفناها في المجلد الأول، عدد أوراقه (178) ورقة جاء في أعلى طرة المجلد بالخط الأحمر: "ملك لسليمان بن عبد اللَّه بن" ثم محي الذي بعده.
ثم: "السفر السابع من التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد في حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم. تأليف الفقيه أبي عمر يوسف بن عبد اللَّه بن محمد بن عبد البر رحمة اللَّه عليه".
تم تحتها بخط أحمر: "ارغب إلى الرحمن يا من رأى خطي أن يعفو عن كاتبه".
وفي ظهر الورقة الأولى منه بداية المجلد وهو: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. صلى اللَّه على محمد وعلى آله وسلم عونك اللهم فامنن به. حديث خامس أربعين لنافع عن ابن عمر".
وآخره آخر تمهيد الحديث الرابع والعشرين لمالك عن عبد اللَّه بن دينار، وجاء في آخره: "تم السفر السابع بحمد اللَّه وعونه وتأييده ونصره، وصلى اللَّه على محمد نبيه وعبده، يتلوه في أول الثامن حديث خامس عشرين لمالك عن عبد اللَّه بن دينار، واللَّه المعين برحمته لا شريك له".
المجلد الثامن:
وهو الذي يحمل الرقم (348) في المكتبة المذكورة، ويقع في (190) ورقة.
جاء في طرته: "السِّفر الثامن من التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد في حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، تأليف الفقيه أبي عمر يوسف بن عبد البر النمري رحمة اللَّه عليه". وكتب أحدهم في بقية الصفحة محتويات المجلد.
চতুর্থ খণ্ডের শুরুতে এবং সপ্তম খণ্ডে যা এসেছে তার দোয়া, তাঁর এই বাণীতে: "আল্লাহ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন, হে আল্লাহ, আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি, সুতরাং তা দান করুন।"
সপ্তম খণ্ড:
এটি উল্লেখিত লাইব্রেরিতে (৩৪৭) নম্বর বহন করছে। এটি এবং পরবর্তী খণ্ডসমূহ: অষ্টম, নবম, দশম এবং একাদশ খণ্ড সেই পাণ্ডুলিপির অন্তর্ভুক্ত যা আমরা প্রথম খণ্ডে বর্ণনা করেছি। এর পৃষ্ঠাসংখ্যা ১৭৮টি। খণ্ডের প্রচ্ছদের উপরিভাগে লাল কালিতে লেখা আছে: "সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ বিন... এর মালিকানাধীন", এরপর পরবর্তী অংশটুকু মুছে ফেলা হয়েছে।
অতঃপর: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা ও সনদ সংক্রান্ত মুয়াত্তার বিষয়বস্তু নিয়ে রচিত 'আত-তামহীদ'-এর সপ্তম খণ্ড। রচনা করেছেন ফকীহ আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বার, আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক।"
এর নিচে লাল কালিতে লেখা হয়েছে: "হে আমার হস্তলিপি দর্শনকারী, দয়াময় রহমানের কাছে এই প্রার্থনা করো যেন তিনি এর লেখককে ক্ষমা করে দেন।"
এর প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে খণ্ডের শুরু হয়েছে এভাবে: "বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল্লাহ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ, আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি, সুতরাং তা দান করুন। নাফে'র সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত পঁয়তাল্লিশতম হাদিস।"
আর এর সমাপ্তি হলো আব্দুল্লাহ বিন দীনারের সূত্রে মালিক থেকে বর্ণিত চব্বিশতম হাদিসের আলোচনার শেষে। এর শেষে লেখা আছে: "আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর সাহায্য, সমর্থন ও বিজয়ের মাধ্যমে সপ্তম খণ্ড সমাপ্ত হলো। আল্লাহ তাঁর নবী ও বান্দা মুহাম্মাদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন। অষ্টম খণ্ডের শুরুতে আব্দুল্লাহ বিন দীনারের সূত্রে মালিক থেকে বর্ণিত পঁচিশতম হাদিসটি আসবে। আল্লাহ তাঁর রহমতে সাহায্যকারী, তাঁর কোনো শরিক নেই।"
অষ্টম খণ্ড:
এটি উল্লেখিত লাইব্রেরিতে (৩৪৮) নম্বর বহন করছে এবং এটি ১৯০ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত।
এর প্রচ্ছদে লেখা আছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা ও সনদ সংক্রান্ত মুয়াত্তার বিষয়বস্তু নিয়ে রচিত 'আত-তামহীদ'-এর অষ্টম খণ্ড। রচনা করেছেন ফকীহ আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল বার আন-নামারি, আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক।" এবং পৃষ্ঠার বাকি অংশে কেউ একজন খণ্ডের সূচিপত্র লিখে রেখেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
يبدأ المجلد في ظهر الورقة الأولى: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. صلى اللَّه على سيدنا محمد وسلم. حديث خامس وعشرون لمالك عن عبد اللَّه بن دينار عن أبي صالح السمان ويقال الزيات حديثان".
وآخر المجلد هو آخر تمهيد الحديث الثالث لمالك عن عبد اللَّه بن يزيد، وقد جاء في آخره: "تم السفر الثامن من كتاب التمهيد بحمد اللَّه وعونه وتأييده ونصره، وصلى اللَّه على نبيه وعبده يتلوه إن شاء اللَّه في أول التاسع حديث رابع لعبد اللَّه بن يزيد شرِكَهُ فيه أبو النضر، واللَّه المعين برحمته".
المجلد التاسع:
وهو الذي يحمل الرقم (349) في المكتبة المذكورة، ويقع في (178) ورقة.
كتب في أعلى طرة المجلد باللون الأحمر: "ملك لسليمان بن عبد اللَّه بن. . . " ثم محي البقية.
وبعده: "السفر التاسع من التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد في حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، تأليف الفقيه أبي عمر يوسف بن عبد اللَّه بن محمد بن عبد البر النمري رحمة اللَّه عليه".
تم بعده باللون الأحمر: "ارغب إلى الرحمن يا من رأى خطي أن يعفو عن كاتبه".
وفي أسفل الورقة خمسة أبيات من الشعر.
وفي ظهر الورقة الأولى: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. صلى اللَّه على محمد. عونك اللهم فامنن به. حديث رابع لعبد اللَّه بن يزيد شركه فيه أبو النضر".
وآخره آخر تمهيد الحديث السادس لمالك عن أبى النضر، وجاء فيه: "تم السفر التاسع من كتاب التمهيد، والحمد للَّه حق حمده، وصلى اللَّه على محمد نبيه الأكرم وعبده، يتلوه إن شاء اللَّه في أول العاشر حديث سابع لأبي النضر: مالك عن محمد بن المنكدر وأبي النضر عن عامر بن سعد بن أبى وقاص، عن أسامة بن زيد، واللَّه المعين برحمته".
প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে খণ্ডটি শুরু হয়েছে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা মুহাম্মদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। মালিক থেকে বর্ণিত পঁচিশতম হাদিস, যা আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে এবং তিনি আবু সালেহ আস-সাম্মান—যাঁকে আল-যাইয়াতও বলা হয়—থেকে বর্ণিত, এখানে দুটি হাদিস রয়েছে।"
এবং খণ্ডটির শেষ অংশ হলো আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত মালিকের তৃতীয় হাদিসের ব্যাখ্যার শেষভাগ, যার শেষে উল্লেখ করা হয়েছে: "আল্লাহর প্রশংসা, সাহায্য, সমর্থন ও বিজয়ের মাধ্যমে কিতাবুত তামহিদ-এর অষ্টম খণ্ড সমাপ্ত হলো। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর নবী ও বান্দার ওপর। ইনশাআল্লাহ নবম খণ্ডের শুরুতে এর পরবর্তী অংশ হিসেবে আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদের চতুর্থ হাদিসটি আসবে যাতে আবু আন-নাদর তাঁর সাথে অংশীদার হয়েছেন। আল্লাহ তাঁর করুণায় একমাত্র সাহায্যকারী।"
নবম খণ্ড:
এটি উল্লিখিত লাইব্রেরিতে (৩৪৯) নম্বর বহন করছে এবং ১৭৮টি পৃষ্ঠা নিয়ে গঠিত।
খণ্ডের প্রচ্ছদের উপরিভাগে লাল রঙে লেখা হয়েছে: "সুলায়মান বিন আব্দুল্লাহ বিন... এর মালিকানাধীন" এরপর বাকি অংশটুকু মুছে ফেলা হয়েছে।
এরপর রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের বর্ণনাসূত্র ও অর্থসমূহের ব্যাখ্যা সম্বলিত মুয়াত্তা-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-তামহিদ-এর নবম খণ্ড, রচনায়: ফকিহ আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বার আন-নামারি, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।"
এরপর লাল রঙে সমাপ্ত করা হয়েছে এভাবে: "হে আমার হস্তলিপি দর্শনকারী, পরম দয়াময়ের নিকট বিনীত প্রার্থনা করো যেন তিনি এর লেখককে ক্ষমা করে দেন।"
পৃষ্ঠার নিচের অংশে কবিতার পাঁচটি পঙক্তি রয়েছে।
প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে লেখা আছে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। মুহাম্মদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আপনার সাহায্যের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন। আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদের চতুর্থ হাদিস যাতে আবু আন-নাদর তাঁর সাথে অংশীদার হয়েছেন।"
এর শেষ অংশটি হলো আবু আন-নাদর থেকে বর্ণিত মালিকের ষষ্ঠ হাদিসের ব্যাখ্যার সমাপ্তি, সেখানে বলা হয়েছে: "তামহিদ কিতাবের নবম খণ্ড সমাপ্ত হলো, এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি যথাযথ প্রশংসার দাবিদার। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর অত্যন্ত সম্মানিত নবী ও বান্দা মুহাম্মদের ওপর। ইনশাআল্লাহ দশম খণ্ডের শুরুতে আসবে আবু আন-নাদরের সপ্তম হাদিস: মালিক বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির ও আবু আন-নাদর থেকে, তিনি আমির বিন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি উসামা বিন যায়েদ থেকে। আল্লাহ তাঁর দয়ায় একমাত্র সাহায্যকারী।"
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
المجلد العاشر:
وهو الذي يحمل الرقم (350) في المكتبة المذكورة، ويقع في (171) ورقة.
لصق أحدهم شريطًا في طرة المجلد أذهبَ بعض الكتابة لكنها معروفة إذ هي تكرار لما جاء في الطرر الأخرى، ففي أعلى الطرة باللون الأحمر: "ملك لسليمان بن عبد اللَّه بن. . . " ثم رمج الباقي. وتحته: "السفر العاشر من [التمهيد] لما في الموطأ من المعاني والأ [سانيد في] حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم تأليف [ابن عبد البر] ".
وفي ظهر الورقة الأولى ابتداء المجلد وهو: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. صلى اللَّه على محمد وعلى آله وسلم. عونك اللهم فامنن به. حديث سابع لأبي النضر".
وآخره هو آخر تمهيد الحديث الحادي والعشرين لمالك عن يحيى بن سعيد الأنصاري، وقد جاء في آخره: "تم السفر العاشر من كتاب التمهيد بحمد اللَّه وعونه يتلوه إن شاء اللَّه في أول الحادي عشر حديث ثان وعشرين ليحيى بن سعيد، يحيى عن عدي بن ثابت حديثان".
المجلد الحادي عشر:
وهو الذي يحمل الرقم (351) في المكتبة المذكورة ويقع في (139) ورقة ذهبت طرة هذا المجلد، وكُتبت في مكانها محتويات هذا المجلد بخط متأخر ضعيف. وجاء في ظهرها بداية المجلد وهو: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. صلى اللَّه على محمد وعلى آله وسلم. عونك اللهم فامنن به.
حديث ثان وعشرين ليحيى بن سعيد. يحيى عن عدي بن ثابت حديثان".
وآخره النص على نهاية الكتاب: "انتهى جميع كتاب التمهيد بحمد اللَّه وحسن عونه وجميل صنعه، وصلى اللَّه على محمد وعلى آله الطيبين الطاهرين وسلم تسليمًا. وكان الفراغ منه في عقب شهر شعبان المكرم من سنة سبعين وخمس مئة".
দশম খণ্ড:
এটি সেই খণ্ড যা উল্লিখিত লাইব্রেরিতে (৩৫০) নম্বর বহন করছে এবং এটি (১৭১)টি পত্রে অবস্থিত।
কেউ একজন খণ্ডের শিরোভাগে একটি ফিতা আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছেন যা কিছু লেখাকে মুছে দিয়েছে, তবে তা পরিচিত; কেননা এটি অন্যান্য শিরোভাগগুলোতে যা এসেছে তারই পুনরাবৃত্তি। শিরোভাগের উপরের অংশে লাল রঙে লেখা আছে: "সুলায়মান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে... এর মালিকানাধীন।" এরপর বাকি অংশ অস্পষ্ট হয়ে গেছে। আর এর নিচে রয়েছে: "[ইবনে আবদুল বার] রচিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের অর্থ ও [সনদসমূহ] বিষয়ক [আত-তামহীদ] গ্রন্থের দশম খণ্ড।"
প্রথম পত্রের উল্টো পিঠে খণ্ডটির শুরু এভাবে হয়েছে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি, সুতরাং তা দান করে অনুগ্রহ করুন। আবু আন-নদরের সপ্তম হাদিস।"
এর সমাপ্তি হলো ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী সূত্রে মালিক বর্ণিত একুশতম হাদিসের তামহীদের শেষ অংশ। এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যে আত-তামহীদ গ্রন্থের দশম খণ্ড সমাপ্ত হলো। এর পরে ইনশাআল্লাহ একাদশ খণ্ডের শুরুতে থাকবে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের বাইশতম হাদিস; আদী ইবনে সাবিত থেকে ইয়াহইয়া বর্ণিত দুটি হাদিস।"
একাদশ খণ্ড:
এটি সেই খণ্ড যা উল্লিখিত লাইব্রেরিতে (৩৫১) নম্বর বহন করছে এবং এটি (১৩৯)টি পত্রে অবস্থিত। এই খণ্ডের শিরোভাগটি হারিয়ে গেছে এবং তার স্থলে এই খণ্ডের বিষয়বস্তু পরবর্তী সময়ের দুর্বল হস্তাক্ষরে লিখে দেওয়া হয়েছে। এর উল্টো পিঠে খণ্ডটির শুরু এভাবে এসেছে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। আল্লাহ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! আপনার সাহায্য প্রার্থনা করছি, সুতরাং তা দান করে অনুগ্রহ করুন।
ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের বাইশতম হাদিস। আদী ইবনে সাবিত থেকে ইয়াহইয়া বর্ণিত দুটি হাদিস।"
এর শেষে পুরো গ্রন্থের সমাপ্তি এভাবে ঘোষিত হয়েছে: "আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর উত্তম সাহায্য ও সুন্দর অনুগ্রহে সম্পূর্ণ আত-তামহীদ গ্রন্থটি সমাপ্ত হলো। আল্লাহ মুহাম্মাদ এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। এটি সমাপ্ত হয়েছিল ৫৭০ হিজরি সনের সম্মানিত শাবান মাসের শেষে।"
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
مجلد كوبريلي رقم (344):وهو مجلد ضُمَّ إلى نسخة الأصل، وليس منها، كتب في طرته بخط متأخر: "الثاني من التمهيد شرح الموطأ تأليف الشيخ العلامة ابن عبد البر المالكي رحمه اللَّه تعالى بمنّه وكرمه آمين".
والظاهر أن الصفحة الأولى من الحديث السابع لجعفر بن محمد قد ضاعت حيث يبدأ الموجود منه بما يأتي: "عبد الرحمن بن رداد المزني (كذا والصواب: المدني) ويحيى بن سليم وإبراهيم بن أبي حية. ورواه ابن عيينة، عن جعفر بن محمد، عن أبيه مرسلًا كما رواه مالك"، فلعل المجلد كان يبدأ من أول الحديث السابع لجعفر بن محمد، أو قبل ذلك.
وينتهي المجلد بآخر تمهيد الحديث العاشر لزيد بن أسلم، فقد جاء في آخره: "كمل السفر الثاني من كتاب التمهيد والحمد للَّه وحده، وصلى اللَّه على سيدنا محمد خاتم النبيين وعلى آله الطيبين الطاهرين وسلم تسليمًا. ويتلوه إن شاء اللَّه في الذي يليه حديث حادي عشر لزيد بن أسلم، مسند يجري مجرى المتصل.
فُرغ منه يوم السبت الثامن عشر من شهر رجب الفرد الموافق. . . . . . . سنة ستين وست مئة.
كتبه محمد بن إسماعيل بن. . . . . . . . غفر اللَّه له ولمن صلى على الرسول محمد النبي الأمي وآله ودعا له بالمغفرة وصلى على محمدٍ في أول الدعاء وآخره، ودعا له ولوالديه. . . ".
فالمجلد من منتسخات المئة السابعة، ويقع في (214) ورقة مسطرة الورقة (19) سطرًا، في كل سطر 10 - 12 كلمة، كتب بخط النسخ، لكنه لم يقابل بالأصل المنتسخ منه ولا كان ناسخه من أهل العلم، لذلك كثر فيه التصحيف والتحريف والسقط، لكن تأكد لنا أنّه من الإبرازة الأخيرة، لذلك اعتمدناه في القسم الذي
কোপরিলি পাণ্ডুলিপি সংখ্যা (৩৪৪):এটি এমন একটি খণ্ড যা মূল কপির সাথে যুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু তা মূল পাণ্ডুলিপির অংশ নয়। এর প্রচ্ছদে পরবর্তীকালের হস্তাক্ষরে লেখা হয়েছে: "আশ-শাইখ আল-আল্লামা ইবনে আব্দুল বার আল-মালিকি—আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও দাক্ষিণ্যে তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, আমিন—কর্তৃক রচিত মুওয়াত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ আত-তামহিদ-এর দ্বিতীয় খণ্ড।"
প্রকাশ্যত জাফর বিন মুহাম্মদের বর্ণিত সপ্তম হাদিসের প্রথম পৃষ্ঠাটি হারিয়ে গেছে, কারণ যা অবশিষ্ট রয়েছে তা নিম্নোক্ত অংশ দিয়ে শুরু হয়েছে: "আব্দুর রহমান বিন রাদ্দাদ আল-মুজানি (এরূপই আছে, তবে সঠিক হলো: আল-মাদানি), ইয়াহইয়া বিন সুলাইম এবং ইব্রাহিম বিন আবি হাইয়াহ। ইবনে উয়াইনাহ এটি জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি মালিক বর্ণনা করেছেন।" সম্ভবত খণ্ডটি জাফর বিন মুহাম্মদের সপ্তম হাদিসের শুরু থেকে অথবা তারও আগে থেকে শুরু হয়েছিল।
খণ্ডটি জায়েদ বিন আসলামের দশম হাদিসের পর্যালোচনার (তামহিদ) শেষে সমাপ্ত হয়েছে। এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: "আত-তামহিদ গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ড সমাপ্ত হলো, এবং সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ আমাদের নেতা নবীদের মোহর মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন বংশধরদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী অংশে জায়েদ বিন আসলামের একাদশ হাদিসটি আসবে, যা একটি মুসনাদ হাদিস এবং মুত্তাসিল হাদিসের ন্যায় গণ্য।"
এটি সম্পন্ন হয়েছে ৬৬০ হিজরি সালের ১৮ই রজব, শনিবার, যা ইংরেজি . . . . . . . তারিখের সমসাময়িক।
এটি লিখেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন . . . . . . . . আল্লাহ তাঁকে এবং যারা উম্মি নবী রাসূল মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ পাঠ করে এবং তাঁর জন্য মাগফেরাত কামনা করে, এবং দোয়ার শুরুতে ও শেষে মুহাম্মাদের ওপর দরুদ পাঠ করে এবং তাঁর ও তাঁর পিতামাতার জন্য দোয়া করে—তাদের সকলকে ক্ষমা করুন। . . "।
সুতরাং, এই খণ্ডটি সপ্তম শতাব্দীর পাণ্ডুলিপিগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি ২১৪টি পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত। প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৯টি করে লাইন রয়েছে এবং প্রতি লাইনে ১০-১২টি শব্দ আছে। এটি নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে, তবে একে মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়নি এবং এর লিপিকারও ইলমসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন না। এই কারণে এতে বর্ণবিপর্যয়, বিকৃতি এবং শব্দচ্যুতির আধিক্য রয়েছে। তবে আমাদের কাছে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, এটি গ্রন্থটির সর্বশেষ সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে, তাই আমরা সেই অংশে এর ওপর নির্ভর করেছি যেখানে
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
لم يصل إلينا من الأصل، وهو المجلد الثاني منه والذي يبدأ بالحديث الرابع لحميد بن قيس، وهو في هذا المجلد في ظهر الورقة (59) مستعينين بالنسخ الأخرى وإن كان أكثرها من الإبرازة الأولى عند وقوع التصحيف والتحريف خاصة. ورمزنا لهذا المجلد (ك 2).
مجلد مكتبة فيض اللَّه بإستانبول رقم (295):مجلد عدد أوراقه (275) ورقة، مسطرتها (23) سطرًا، في كل سطر بحدود 12 - 13 كلمة، يبدأ بالحديث الثالث لعبد اللَّه بن دينار عن ابن عمر، وينتهي بآخر تمهيد الحديث الخامس لعبد الرحمن بن القاسم: مالك عن عبد الرحمن بن القاسم، عن أبيه، عن عائشة أنها قالت خرجنا مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم في بعض أسفاره.
وقد ذهبت طرة المجلد، لكن جاء في وجه الورقة الأولى منه: "كتاب التمهيد"، ثم تحته: "من كتب الفقير السيد فيض اللَّه المفتي في السلطنة العلية العثمانية، عُفِي عنه سنة 1113"، وتحته: "المؤلف الشيخ الحافظ العالم أبو عمر بن عبد البر، يوسف بن عبد اللَّه القرطبي صاحب التقصي، توفي سنة ثلاث وستين وأربع مئة".
وجاء في ظهر الورقة المذكورة: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. رب يسر يا كريم. حديث. . . لعبد اللَّه بن دينار عن ابن عمر، مالك عن عبد اللَّه بن عمر (كذا) قال: كنا إذا بايعنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على السمع والطاعة".
ويظهر أن أحدهم قد أتلف سطرين من آخر هذا المجلد، وبقي منه في آخره: "والحمد للَّه رب العالمين وصلى اللَّه على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم. ووافق الفراغ من نسخه صبيحة نهار الثلاثاء منتصف شهر. . . سبع وثلاثين وسبع (مئة) ".
ومع أن خط النسخة جميل، لكن كاتبها جاهل، فهي كثيرة التصحيف والتحريف، ولم يقابل على الأصل المنتسخ منه فضلًا عن أنه من الإبرازة الأولى، فكان قليل الفائدة، وقد رمزنا له (ي 1).
মূল পাণ্ডুলিপি থেকে আমাদের কাছে পৌঁছেনি, যা এর দ্বিতীয় খণ্ড এবং এটি হুমাইদ বিন কাইসের চতুর্থ হাদিস থেকে শুরু হয়েছে। এই খণ্ডে এটি ৫৯ নম্বর পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে রয়েছে। আমরা অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সাহায্য নিয়েছি, যদিও সেগুলোর বেশিরভাগই প্রথম সংস্করণের ছিল, বিশেষ করে যখন শব্দের বিকৃতি ও পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা এই খণ্ডটিকে (কা ২) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
ইস্তাম্বুলের ফয়জুল্লাহ লাইব্রেরি পাণ্ডুলিপি সংখ্যা (২৯৫):২৭৫টি পত্রবিশিষ্ট একটি খণ্ড, যার প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি সারি রয়েছে এবং প্রতি সারিতে প্রায় ১২-১৩টি শব্দ আছে। এটি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত আব্দুল্লাহ বিন দিনারের তৃতীয় হাদিস থেকে শুরু হয়েছে এবং আব্দুর রহমান বিন কাসিমের পঞ্চম হাদিসের ভূমিকার শেষে সমাপ্ত হয়েছে: মালিক বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন কাসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমরা কোনো এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হয়েছিলাম।
খণ্ডটির ওপরের অংশ (বা মলাট) নষ্ট হয়ে গেছে, তবে এর প্রথম পৃষ্ঠার সামনের দিকে লেখা আছে: "কিতাবুত তামহীদ", তার নিচে: "উসমানীয় সালতানাতের মুফতি ফকিহ সাইয়্যেদ ফয়জুল্লাহর সংগৃহীত কিতাবসমূহ থেকে, ১১১৩ হিজরিতে তাঁকে ক্ষমা করা হোক", এবং তার নিচে: "লেখক শাইখ হাফেজ আলেম আবু উমর বিন আব্দুল বার, ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবী, 'আত-তাকাসসি' গ্রন্থের রচয়িতা, ৪৬৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন"।
উল্লিখিত পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে লেখা আছে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। হে দয়াবান রব, সহজ করে দিন। আব্দুল্লাহ বিন দিনার কর্তৃক ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিস, মালিক বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে (অনুরূপভাবে), তিনি বলেছেন: আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে শ্রবণ ও আনুগত্যের শপথ নিতাম।"
প্রতীয়মান হয় যে, কেউ এই খণ্ডের শেষের দুটি লাইন নষ্ট করে ফেলেছে এবং এর শেষে অবশিষ্ট রয়েছে: "সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। মঙ্গলবার সকালে এটি অনুলিপি করার কাজ সম্পন্ন হয়, মাসের মাঝামাঝি সময়ে... সাতশত সাঁইত্রিশ হিজরিতে।"
যদিও অনুলিপিটির হাতের লেখা সুন্দর, তবে এর লেখক ছিলেন অজ্ঞ, এতে প্রচুর শব্দের বিকৃতি ও পরিবর্তন রয়েছে এবং যে মূল কপি থেকে এটি নকল করা হয়েছে তার সাথে এটি যাচাই করে দেখা হয়নি। তদুপরি এটি প্রথম সংস্করণের অংশ হওয়ায় এর উপকারিতা ছিল সামান্য। আমরা এটিকে (ইয়া ১) সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
مجلد مكتبة فيض اللَّه بإستانبول رقم (468):هو المجلد الثامن والأخير من نسخة تتكون من ثمانية مجلدات، لعل المجلد المحفوظ في المكتبة نفسها برقم (295) هو أحد مجلداتها، لتشابه الخط وتاريخ النسخ، وكثرة التصحيف والتحريف، وعدم المقابلة، وكونهما من الإبرازة الأولى للكتاب، وهي المسودة.
يقع هذا المجلد في (245) ورقة مسطرتها (23) سطرًا، في كل سطر بحدود 12 - 13 كلمة، كتب بخط نسخي جميل.
جاء في طرة العنوان: "السفر الثامن من كتاب التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد. تأليف الشيخ الإمام الحافظ أبي عمر يوسف بن عبد اللَّه بن عبد البر النمري رضي الله عنه".
وفي ظهر الطرة بداية المجلد: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. رب يسر. حديث موفٍّ خمسين لهشام بن عروة. مالك عن هشام بن عروة، عن أبيه أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم صلى الصلاة بمنى ركعتين".
وآخره آخر الكتاب، وجاء فيه: "في الأصل المنتسخ منها النسخة التي نسخت منها هذه النسخة: نسخة نُسخت من مسودة المؤلف أبي عمر بن عبد البر بخط يده. أنشد ابن عبد البر عند فراغ قراءة هذا الكتاب عليه:
سمير فؤادي مذ ثلاثين حجة
… وصيقل ذهني والمفرج عن همي
بسطتُ لكم فيه كلام نبيكم
… بما في معانيه من الفقه والعلم
وفيه من الإيجاب
(1) ما يقتدى به
… إلى البر والتقوى وينهى عن الظلم
ووافق الفراغ من نسخه عشية الاثنين ليلة الثلاثاء السابع والعشرين من شهر جمادى الآخرة من شهور سنة ثمان وثلاثين وسبع مئة بمدينة دمشق المحروسة بسفح جبل قاسيون على يد أفقر عباد اللَّه إلى اللَّه الراجي عفو ربه الحسن بن علي بن
--------------------------------------------
ইস্তাম্বুলের ফয়জুল্লাহ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি সংখ্যা (৪৬৮):এটি আট খণ্ডের একটি পাণ্ডুলিপির অষ্টম ও শেষ খণ্ড। সম্ভবত একই লাইব্রেরিতে (২৯৫) নম্বর দিয়ে সংরক্ষিত খণ্ডটি এর অন্যতম খণ্ড হবে; হাতের লেখা এবং অনুলিপি করার তারিখের সাদৃশ্য, লিপিকরের ভুলের আধিক্য ও বিকৃতি, মূল পাণ্ডুলিপির সাথে যাচাই না করা এবং উভয়টিই কিতাবটির প্রথম প্রকাশ তথা লেখকের খসড়া কপি হওয়ার কারণে এমনটি ধারণা করা হয়।
এই খণ্ডটি ২৪৫টি পত্র (পৃষ্ঠা) নিয়ে গঠিত, যার প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি সারি রয়েছে এবং প্রতি সারিতে প্রায় ১২-১৩টি শব্দ রয়েছে। এটি সুন্দর নাসখ লিপিতে লিখিত।
শিরোনাম পত্রে বর্ণিত হয়েছে: "মুওয়াত্ত্বার অর্থ ও সনদসমূহের ব্যাখ্যামূলক 'আত-তামহীদ' কিতাবের অষ্টম খণ্ড। রচনায়: শায়খ ইমাম হাফেজ আবু উমর ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল বার আল-নামারি রাদিয়াল্লাহু আনহু।"
শিরোনাম পত্রের বিপরীত পৃষ্ঠায় খণ্ডের শুরুতে রয়েছে: "বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। হে রব, কাজ সহজ করে দিন। হিশাম ইবনে উরওয়াহ বর্ণিত পঞ্চাশতম হাদিস পূর্ণকারী। মালিক বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনায় দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন।"
আর এর শেষটি হলো মূল কিতাবের সমাপ্তি, যেখানে উল্লেখ রয়েছে: "যে মূল কপি থেকে এই পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করা হয়েছে সেটি হলো: লেখক আবু উমর ইবনে আব্দুল বারের নিজ হাতের লেখা খসড়া থেকে অনুলিপি করা একটি কপি। ইবনে আব্দুল বার তার সামনে এই কিতাব পাঠ সমাপ্ত হওয়ার সময় এই কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন:
ত্রিশ বছর ধরে এটি আমার হৃদয়ের সহচর
… আমার মেধার শাণিতকার এবং আমার দুশ্চিন্তা দূরকারী
আমি এতে তোমাদের নিকট তোমাদের নবীর বাণী প্রসারিত করেছি
… এর অর্থসমূহের মধ্যে নিহিত ফিকহ ও ইলম দ্বারা
এবং এতে রয়েছে এমন সব আবশ্যকীয় বিষয়
(১) যা অনুসরণযোগ্য
… পুণ্য ও তাকওয়ার দিকে এবং যা জুলুম থেকে বারণ করে
এর অনুলিপি সমাপ্ত হওয়ার সময়টি ছিল ৭৩৮ হিজরি সনের জমাদিউল আখিরা মাসের ২৭ তারিখ সোমবার দিবাগত মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, সংরক্ষিত দামেস্ক নগরীর কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে, আল্লাহর সর্বাপেক্ষা মুখাপেক্ষী এবং তাঁর রবের ক্ষমার প্রত্যাশী বান্দা হাসান ইবনে আলী ইবনে... এর হাতে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الحسن بن حمزة الشريف الحسيني برسم الخزانة العالية المولوية المالكية
(1) المخدومية العزية عز الدين حمزة ابن شيخ السلامية غفر اللَّه له ولوالديه ونفعه بما علم ولجميع المسلمين يا رب العالمين.
يا خالق الخلق طورًا بعد أطوارِ
… وغافر الذنب من سِرٍّ وإجهارِ
اغفر لمالكه أيضًا وناظره
… والمستعير له إن ردّوَا القاري"
والظاهر أن الناسخ من غير المعروفين بالعلم وطلبه، إذ لم نقف على ترجمة له في كتب المئة الثامنة. أما المنتسخة له النسخة فهو أحد الصدور الدمشقيين المعروفين الإمام عز الدين أبو يعلى حمزة ابن الصدر قطب الدين موسى بن أحمد بن الحسين، ابن شيخ السلامية الحنبلي المولود سنة 712 هـ والمتوفى سنة 769 هـ
(2).
وهذا المجلد قليل الفائدة لأنه كثير التصحيف والتحريف والسقط، فضلًا عن أنه من الإبرازة الأولى، ولتوفر نسخة الأصل في المادة التي تناولها، وهي الإبرازة الأخيرة. وقد رمزنا له (ي 2).
مجلد طوب قابي سراي رقم (327):مجلد مخروم الأول والآخر، يبدأ في أثناء الحديث الثاني لحميد بن قيس، وينتهي في أثناء الحديث الحادي والعشرين لزيد بن أسلم، وقد رمزنا له بالحرف (ط).
مجلد المكتبة القادرية ببغداد رقم (129):وهو المجلد الأول من نسخة لعلها كانت تتكون من أربع مجلدات، إذ يكوّن هذا المجلد الربع الأول من الكتاب، لكنه من الإبرازة الأولى المتمثلة بمسودة المؤلف.
وهي نسخة جميلة الخط جيّدة الضبط، يتكون المجلد من (340) ورقة، مسطرتها (25) سطرًا، في كل سطر بحدود 14 - 15 كلمة، كتبت بخط نسخي نفيس.
--------------------------------------------
আল-হাসান বিন হামযাহ আশ-শরীফ আল-হুসাইনী, উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন মাওলাউয়ি, মালিকি
(১), মাখদুমি, ইজ্জি কোষাগারের জন্য, যিনি ইযযুদ্দিন হামযাহ ইবনে শাইখুস সালামিয়্যাহ—আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন এবং তিনি যা শিখেছেন তা দ্বারা তাকে ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
হে সৃষ্টির স্রষ্টা একে একে স্তরে স্তরে... এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে সংঘটিত গুনাহের ক্ষমাকারী।
এর মালিককেও ক্ষমা করুন এবং এর পাঠককেও... আর একে যে ধার নিয়েছে তাকেও, যদি পাঠক তা ফেরত দেয়।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় যে, এই পান্ডুলিপিটি অনুলিপি প্রস্তুতকারী ব্যক্তি ইলম বা জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে সুপরিচিত কেউ নন। কারণ অষ্টম শতাব্দীর জীবনী গ্রন্থসমূহে আমরা তার কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। তবে যার জন্য এই কপিটি তৈরি করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন দামেস্কের প্রখ্যাত নেতৃবৃন্দের একজন—ইমাম ইযযুদ্দিন আবু ইয়ালা হামযাহ ইবনে আস-সদর কুতুবুদ্দিন মূসা বিন আহমাদ বিন আল-হুসাইন, ইবনে শাইখুস সালামিয়্যাহ আল-হাম্বলী। তিনি ৭১২ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৬৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
এই খণ্ডটি খুব একটা উপকারী নয়, কারণ এতে প্রচুর লিখন-প্রমাদ, বিকৃতি এবং পাঠচ্যুতি রয়েছে। তাছাড়া এটি লেখকের প্রথম সংস্করণ বা খসড়া থেকে সংকলিত, আর এর মূল বিষয়বস্তুর একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি পাওয়া গেছে যা সর্বশেষ সংস্করণের অন্তর্ভুক্ত। আমরা একে (ইয়া ২) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
তোপকাপি প্রাসাদের পাণ্ডুলিপি খণ্ড নম্বর (৩২৭):এই খণ্ডটির শুরু এবং শেষ অংশটি ছিঁড়ে গেছে। এটি হুমাইদ বিন কায়সের দ্বিতীয় হাদিসের মাঝখান থেকে শুরু হয়েছে এবং যায়িদ বিন আসলামের একুশতম হাদিসের মাঝে শেষ হয়েছে। আমরা একে (ত্বা) বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করেছি।
বাগদাদের কাদরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি খণ্ড নম্বর (১২৯):এটি এমন একটি পাণ্ডুলিপির প্রথম খণ্ড যা সম্ভবত চারটি খণ্ডে বিভক্ত ছিল। এই খণ্ডটি বইটির প্রথম চতুর্থাংশ গঠন করে। তবে এটি লেখকের প্রথম সংস্করণ বা প্রাথমিক খসড়া থেকে সংকলিত।
এই কপিটির হস্তলিপি অত্যন্ত সুন্দর এবং এর বিন্যাস বা শব্দের নির্ভুলতা চমৎকার। খণ্ডটি (৩৪০)টি পৃষ্ঠা সম্বলিত, প্রতি পৃষ্ঠায় (২৫)টি করে লাইন রয়েছে এবং প্রতি লাইনে প্রায় ১৪-১৫টি শব্দ আছে। এটি অত্যন্ত চমৎকার নাসখী লিপিতে লেখা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وقد ذهبت وريقات من أوله، وأوله أثناء كلام المؤلف على بيان التدليس: ". . . سليمان الباغندي، قال: حدثنا علي بن عبد اللَّه المديني، قال: حدثنا يحيى بن سعيد القطان، عن سفيان الثوري، قال: حدثنا سليمان الأعمش، عن إبراهيم التيمي عن أبيه، عن أبي ذر، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "من بنى للَّه مسجدًا ولو كمفحص قطاة بنى اللَّه له بيتًا في الجنة". قال علي ابن المديني: قال يحيى بن سعيد: قال سفيان وشعبة: لم يسمع الأعمش هذا الحديث من إبراهيم التيمي".
وآخر ما في المجلد هو آخر تمهيد حديث طلحة بن عبد الملك الأيلي الذي روى عنه مالك حديثًا واحدًا مُسندًا صحيحًا وليس عند يحيى عن مالك. وجاء في آخره: "كمل بعون اللَّه تعالى كتاب التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد، والحمد للَّه رب العالمين، وصلى اللَّه على سيدنا محمد خاتم النبيين وعلى آله وصحبه أجمعين في عشية يوم الجمعة وهو يوم عرفة التاسع من شهر ذي الحجة سنة تسع وثلاثين وسبع مئة على يد العبد الفقير إلى رحمة ربه محمد بن محمد بن يونس التونسي الخطيب بمشهد عَذْرَى ظاهر دمشق المحروسة عفا اللَّه عنه".
وقد تبيّن لنا أن هذه النسخة منقولة من نسخة بخط الإمام أبي الوليد محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن عبد اللَّه بن أحمد التجيبي الإشبيلي المالكي المعروف بابن الحاج، إمام محراب المالكية بجامع دمشق (638 - 718 هـ)
(1)، إذ نص على ذلك ناسخ هذه النسخة في حاشية ظهر الورقة (152) حيث قال: "آخر السفر الأول من الأصل المنقول منه، وهو بخط الشيخ أبو (كذا) الوليد محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن عبد اللَّه بن أحمد التجيبي القُرطبي المالكي الإمام بالجامع الأموي بدمشق". حيث يأتي بعده باب الدال.
--------------------------------------------
বইটির শুরু থেকে কিছু পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে। এর শুরু হয়েছে লেখকের 'তাদলিস' (বর্ণনার ত্রুটি গোপন করা) বিষয়ক আলোচনার মধ্য দিয়ে: "...সুলায়মান আল-বাগিন্দি বলেন: আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান আমাদের নিকট সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুলায়মান আল-আমাশ আমাদের নিকট ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করল, যদিও তা পাখির বাসার বাসার মতো ছোট হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।' আলী ইবনুল মাদিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বলেছেন: সুফিয়ান ও শু'বাহ বলেছেন: আমাশ এই হাদিসটি ইব্রাহিম আত-তাইমির নিকট থেকে সরাসরি শোনেননি।"
এই খণ্ডের শেষ অংশটি হলো তালহা বিন আব্দুল মালিক আল-আইলির হাদিসের ভূমিকার শেষভাগ, যাঁর থেকে ইমাম মালিক একটি মুসনাদ ও সহিহ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে ইয়াহইয়া কর্তৃক ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই। এর শেষে উল্লেখ করা হয়েছে: "আল্লাহ তাআলার সাহায্যে 'কিতাবুত তামহিদ লিমা ফিল মুয়াত্তা মিনাল মাআনি ওয়াল আসানিদ' সম্পন্ন হলো। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। এটি সমাপ্ত হয়েছে ৭৩৯ হিজরি সনের ৯ জিলহজ শুক্রবার আরাফাতের দিনের সন্ধ্যায়, তাঁর রবের রহমতের মুখাপেক্ষী বান্দা মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউনুস আত-তিউনেসি এর হাতে, যিনি সুরক্ষিত দামেস্কের উপকণ্ঠে 'মাশহাদে আজরা'র খতিব ছিলেন, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।"
আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই পাণ্ডুলিপিটি ইমাম আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আত-তুজিবি আল-ইশবিলি আল-মালিকি—যিনি ইবনুল হাজ্জ নামে পরিচিত এবং দামেস্ক জামে মসজিদের মালিকি মেহরাবের ইমাম ছিলেন (৬৩৮ - ৭১৮ হি.)
(১)—তাঁর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে। কেননা এই পাণ্ডুলিপির লিপিকার ১৫২ নম্বর পৃষ্ঠার বিপরীত পিঠের টীকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: "মূল পাণ্ডুলিপি থেকে নকলকৃত প্রথম খণ্ডের সমাপ্তি; আর এটি শায়খ আবু (মূল পাঠে এরূপই আছে) ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আত-তুজিবি আল-কুরতুবি আল-মালিকি এর হস্তাক্ষরে লিখিত, যিনি দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের ইমাম ছিলেন।" এরপর 'দাল' বর্ণের অধ্যায় শুরু হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٣١)
وكتب السيد عبد الرحمن النقيب (1261 - 1345 هـ)
(1) في صدر هذا المجلد عن الوسيلة التي وصلت إليه هذه النسخة فقال: "اعلم أن شهرة كتاب التمهيد شرح موطأ الإمام مالك بن أنس أحد الأئمة الأربعة رضي الله عنهم للإمام ابن عبد البر المالكي القُرطبي قد ملأت أسماع أولي العلم قديمًا وحديثًا، ولذلك لا زلت متشبثًا بالأسباب التي تستوجب الحصول عليه. وبينما أنا كذلك إذ رأيتُ هذه القطعة منه عند زيارتي للأخ في اللَّه الفاضل اللوذعي آلوسي زادة السيد نعمان أفندي رحمه اللَّه تعالى فسررت لذلك وأمعنت النظر في مطالعة بعض المباحث المتفرقة منها في ذلك المجلس فأعجبني مسلك المؤلف في التحقيق، وأيقنت أن التمهيد بالإطراء والاعتناء حقيق، فسألتُ المرحوم الموما إليه نعمان أفندي عن كيفية وصول هذه القطعة من التمهيد إليه، فأجابني بأنها ليست له، وإنما هي معارة له من مالكها بالإرث عُبيد اللَّه أفندي ابن المرحوم عبد الغفور أفندي الحيدري. ثم بعد مدة رأيتها عند الأخ الصالح السيد أحمد أفندي شيخ التكية الخالدية وسألت منه عنها فأجابني بمثل ما أجابني به المرحوم نعمان أفندي، فقلتُ له بناءً على ما أعلمه من المودة التي بينك وبين عُبيد اللَّه أفندي هل تقتدر أن تشتري لي هذه القطعة منه ولا تبالِ بالثمن، فقال: لا، لأنه كثير الحرص على محافظة ما وصل إليه بالإرث من كتب والده. ثم إني لمزيد رغبتي في التمهيد أوصيتُ أناسًا معتبرين من أهل المغرب عندما قدموا بغداد لزيارة مرقد حضرة جدنا الغوث الأعظم والباز الأشهب الشيخ الجيلاني، قُدِّسَ سره الصمداني، وكلفتهم بأن يسعوا ليحصلوا لي كتاب التمهيد كاملًا بالشراء إن وجد للبيع في البلاد المغربية وإلا فبالاستنساخ إن لم يوجد للبيع. ثم بعد مدة أخذت كتابًا من بعضهم يشعر بعدم الحصول على هذا المطلوب، بل يُستشعر من الإفادة في الكتاب المذكور
--------------------------------------------
সাইয়্যেদ আব্দুর রহমান আন-নাকীব (১২৬১ - ১৩৪৫ হিজরি)
(১) এই খণ্ডের শুরুতে এই পাণ্ডুলিপিটি তাঁর কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম সম্পর্কে লিখেছেন। তিনি বলেন: "জেনে রাখুন যে, চার ইমামের অন্যতম ইমাম মালিক ইবনে আনাসের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মুয়াত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইমাম ইবনে আব্দুল বার আল-মালিকী আল-কুরতুবী রচিত 'আত-তামহীদ' গ্রন্থের খ্যাতি প্রাচীন ও আধুনিক কালের ইলম অন্বেষীদের কর্ণকুহর পূর্ণ করে রেখেছে। তাই এটি অর্জনের জন্য যা যা প্রয়োজন সেই উপায়গুলোর ওপর আমি সর্বদা সচেষ্ট ছিলাম। এমতাবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে প্রিয় ভাই, গুণী ও প্রজ্ঞাবান আলূসী জাদা সাইয়্যেদ নুমান আফেন্দী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর সাথে সাক্ষাতের সময় আমি এর একটি খণ্ড দেখতে পাই। এতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হই এবং সেই মজলিসেই এর বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত আলোচনার ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করি। লেখকের গবেষণার পদ্ধতি আমাকে মুগ্ধ করে এবং আমি নিশ্চিত হই যে, 'আত-তামহীদ' প্রশংসা ও বিশেষ যত্নের যোগ্য। অতঃপর আমি উল্লিখিত মরহুম নুমান আফেন্দীকে তামহীদের এই খণ্ডটি তাঁর কাছে পৌঁছানোর পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন যে, এটি তাঁর নয়; বরং এর উত্তরাধিকারসূত্রে মালিক মরহুম আব্দুল গাফুর আফেন্দী আল-হায়দারীর পুত্র উবাইদুল্লাহ আফেন্দী এটি তাঁকে ধার হিসেবে দিয়েছেন। কিছুদিন পর আমি এটি নেককার ভাই সাইয়্যেদ আহমদ আফেন্দী, যিনি তাকিয়া খালিদিয়ার শায়খ, তাঁর কাছে দেখতে পাই এবং তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনিও মরহুম নুমান আফেন্দীর মতো একই উত্তর দেন। উবাইদুল্লাহ আফেন্দীর সাথে তাঁর হৃদ্যতার কথা বিবেচনা করে আমি তাঁকে বললাম: আপনি কি আমার জন্য তাঁর কাছ থেকে এই খণ্ডটি কিনে দিতে পারবেন? দামের ব্যাপারে কোনো চিন্তা করবেন না। তিনি বললেন: না, কারণ তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বইগুলো সংরক্ষণের ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ। এরপর 'আত-তামহীদ'-এর প্রতি আমার প্রবল আকাঙ্ক্ষার কারণে আমি মাগরিব অঞ্চলের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিকে অনুরোধ করি, যখন তাঁরা আমাদের দাদা হযরত গাউসুল আযম আল-বাযুল আশহাব শায়খ জিলানী (তাঁর মহান গোপন রহস্য পবিত্র হোক)-এর মাজার জিয়ারতের জন্য বাগদাদে আসেন। আমি তাঁদের দায়িত্ব দেই যেন তাঁরা মাগরিবের দেশগুলোতে বিক্রির জন্য পাওয়া গেলে ক্রয়ের মাধ্যমে অথবা বিক্রির জন্য না পাওয়া গেলে অনুলিপি তৈরির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ 'আত-তামহীদ' গ্রন্থটি আমার জন্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। এর কিছুদিন পর আমি তাঁদের একজনের কাছ থেকে একটি পত্র পাই যাতে এই কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি না পাওয়ার ইঙ্গিত ছিল, বরং উক্ত পত্রের বর্ণনা থেকে বোঝা যাচ্ছিল..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তামহীদ - ইবনে আবদিল বার - ত বাশশার
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
أن كتاب التمهيد كالمفقود في البلاد المغربية، لا حول ولا قوة إلا باللَّه العلي العظيم، فأسفت لذلك أسفًا كبيرًا، لكني ما يأستُ من روح اللَّه. ثم بعد أن مضى زمان انتقل مالك هذه القطعة، وهو عُبيد اللَّه أفندي، إلى رحمة اللَّه تعالى وباع ورثته كتبه كلها، وهذه القطعة من جملتها، فأخذناها بالشراء ووقاها اللَّه تعالى ممن كان بصدد شرائها ليبيعها من أناس لا زالوا يرغبون بشراء الكتب الإسلامية التي تقدم تاريخ كتابتها ليبيعوها في البلاد الإفرنجية، والحمد للَّه على ذلك. في 2 محرم سنة 1327. وكتب الفقير إليه عز وجل السيد عبد الرحمن المحض القادري بوست تشين حضرة جده الغوث الكيلاني والنقيب على السادة الأشراف في بغداد".
وقد رمزنا لهذا المجلد (ق)، وهو مفيد مع أنه من الإبرازة الأولى، لعدم توفر نسخة الأصل بعد المجلد الأول، ولأن ناسخه مجوّد متقن.
مجلد المكتبة التيمورية (292 حديث):وهو المجلد الخامس من نسخة تتكون من ستة مجلدات، عدد أوراقه (296) ورقة من صفحتين، رُقّمت صحائفه فجاءت في (592) صفحة، مسطرتها (23) سطرًا، في كل سطر 12 - 13 كلمة تقريبًا، كتبت بخط نسخي نفيس معجم.
جاء في طرة عنوان المجلد: "المجلد الخامس من كتاب التمهيد لما في الموطأ من المعاني والأسانيد في حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم. تأليف أبى عمر يوسف بن عبد اللَّه بن محمد بن عبد البر النمري رضي الله عنه آمين يا رب العالمين".
وفي ظهر الطرة وبداية المجلد: "بسم اللَّه الرحمن الرحيم. وصلى اللَّه على محمد وآله وسلم.
ذكر الأخبار التي احتج بها من أوجب امتحانهم واختبارهم في الآخرة"، وهو قسم من تمهيد الحديث العاشر لأبي الزناد.
وآخر ما في المجلد هو حديث مالك عن هاشم بن هاشم بن أبى وقاص عن عبد اللَّه بن نسطاس، عن جابر بن عبد اللَّه رضي الله عنهما. وجاء في آخره: تم المجلد
নিশ্চয়ই আত-তামহিদ কিতাবটি মাগরিব (মরক্কো) অঞ্চলে নিখোঁজ বা দুর্লভ বস্তুর মতো হয়ে গেছে। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। এতে আমি অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলাম, তবে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইনি। এরপর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর এই খণ্ডটির মালিক উবায়দুল্লাহ এফেন্দি মহান আল্লাহর রহমতের দিকে চলে গেলেন এবং তার উত্তরাধিকারীরা তার সকল কিতাব বিক্রি করে দিল। এই খণ্ডটিও সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে আমরা এটি ক্রয় করে নিলাম। আল্লাহ তাআলা এই কিতাবটিকে সেই সমস্ত লোকদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন যারা এটি ক্রয় করে এমন লোকদের কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিল যারা ইউরোপীয় দেশগুলোতে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ক্রয় করতে আগ্রহী। এর জন্য আল্লাহর প্রশংসা। ২ মহররম, ১৩২৭ হিজরি। এটি লিখেছেন মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী ফকির আস-সায়্যিদ আব্দুর রহমান আল-মাহদ আল-কাদরি, যিনি বাগদাদে তাঁর পিতামহ গাউসুল আজম জিলানীর রওজার খাদেম এবং সায়্যিদদের প্রধান (নকিব)।
আমরা এই খণ্ডটিকে (ক্বাফ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি। প্রথম খণ্ডের পর মূল কপির অপ্রাপ্যতা এবং এর লিপিকার অত্যন্ত দক্ষ ও নির্ভুল হওয়ার কারণে প্রথম সংস্করণের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এটি বেশ উপকারী।
তায়মুরিইয়া লাইব্রেরির খণ্ড (২৯২ হাদিস):এটি ছয় খণ্ডে সমাপ্ত একটি পাণ্ডুলিপির পঞ্চম খণ্ড। এর পাতা সংখ্যা ২৯৬ (উভয় পিঠ মিলিয়ে)। পৃষ্ঠা নম্বর দেওয়ার পর এর পৃষ্ঠা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯২। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৩টি করে লাইন রয়েছে। প্রতিটি লাইনে আনুমানিক ১২-১৩টি শব্দ আছে। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও স্পষ্ট নসখ লিপিতে লিখিত।
খণ্ডটির শিরোনামের পাতায় লেখা আছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস সংক্রান্ত মুয়াত্তা-এর অর্থ ও সনদসমূহের ব্যাখ্যা সম্বলিত আত-তামহিদ কিতাবের পঞ্চম খণ্ড। রচনায়: আবু উমর ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বার আন-নামারি, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।"
শিরোনামের পাতার উল্টো পিঠে এবং খণ্ডের শুরুতে লেখা আছে: "বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম। মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। সেইসব বর্ণনার আলোচনা যারা আখিরাতে (মানুষের) পরীক্ষার আবশ্যকতা প্রমাণে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।" এটি আবু যিনাদের বর্ণিত দশম হাদিসের ভূমিকার একটি অংশ।
এই খণ্ডের শেষ হাদিসটি হলো হাশিম ইবনে হাশিম ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে নাসতাস থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত ইমাম মালিকের হাদিস। খণ্ডটির শেষে লেখা আছে: খণ্ডটি সমাপ্ত।