(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
تأويل مشكل القرآن   (ابن قتيبة)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: تأويل مشكل القرآن

المؤلف: أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري (ت 276هـ)

المحقق: إبراهيم شمس الدين

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 309

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা   (ইবনে কুতাইবা)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান এবং তাফসীরের মূলনীতি


গ্রন্থ: কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা

লেখক: আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতাইবা আদ-দ্বীনওয়ারী (মৃত্যু ২৭৬ হি.)

মুহাক্কিক: ইবরাহিম শামসুদ্দিন

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৯

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
تقديم

تاويل مشكل القران بسم الله الرّحمن الرّحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا ونبينا محمد، وعلى آله الطيبين الطاهرين، وعلى صحبه الكرام المنتجبين.

وبعد، يقول الله تعالى في كتابه العزيز: إِنَّ هذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْراً كَبِيراً (9) [الإسراء: 9] ، ويقول تعالى:

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ ما هُوَ شِفاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَساراً (82) [الإسراء: 82] ، ويقول تعالى: قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيراً (88) [الإسراء: 88] ، ويقول تعالى: وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ (17) [القمر: 17، 22، 32، 40] .

للقرآن الكريم أكبر شأن في أمر الإسلام والمسلمين، فهو هديهم في شريعتهم، وهو المنار الذي يستضاء به في أساليب البلاغة العربية، بل هو المنبع الصافي الذي ينهلون منه فلسفتهم الروحية والخلقية، وهو بالجملة الموجّه لهم في الحياة والمعاملات وشتى مظاهر الحياة.

فلا عجب أن يكون القرآن الكريم موضع عناية المسلمين منذ القدم، فقد تتابعت أنواع التآليف في أحكامه وفي تفسيره وفي بلاغته وفي لغته وفي إعرابه، حتى لقد ازدهرت في الثقافة الإسلامية ضروب من العلوم والفنون حول القرآن الكريم وتحت رايته.

هذا كتاب «تأويل مشكل القرآن» للإمام أبي محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة الدينوري، المتوفى سنة 276 هـ. وهو كتاب فريد في بابه ويعتبر من أوائل الكتب
ভূমিকা

কুরআনুল কারিমের অস্পষ্ট বিষয়াবলির ব্যাখ্যা পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র ও বিশুদ্ধ বংশধর ও মনোনীত সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর, মহান আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত কিতাবে বলেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথপ্রদর্শন করে যা সবচেয়ে সুদৃঢ় এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ প্রদান করে যারা নেক আমল করে যে, তাদের জন্য রয়েছে বিশাল পুরস্কার।" (৯) [বনী ইসরাঈল: ৯], এবং তিনি আরও বলেন:

"আমি কুরআন থেকে এমন কিছু অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা জালিমদের জন্য কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।" (৮২) [বনী ইসরাঈল: ৮২], এবং তিনি আরও বলেন: "বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" (৮৮) [বনী ইসরাঈল: ৮৮], এবং তিনি আরও বলেন: "আর আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য, অতএব কোনো উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?" (১৭) [ক্বামার: ১৭, ২২, ৩২, ৪০]।

ইসলাম ও মুসলমানদের বিষয়ে পবিত্র কুরআনের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি তাদের শরীয়তের পথনির্দেশক এবং এটি সেই বাতিঘর যা থেকে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের পদ্ধতিসমূহে আলো গ্রহণ করা হয়। বরং এটি সেই স্বচ্ছ ঝর্ণাধারা যেখান থেকে তারা তাদের আধ্যাত্মিক ও চারিত্রিক দর্শন আহরণ করে। এককথায়, এটি তাদের জীবন, লেনদেন এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দিকনির্দেশক।

সুতরাং প্রাচীনকাল থেকেই পবিত্র কুরআন যে মুসলমানদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এর বিধানাবলী, তাফসীর, অলঙ্কারশাস্ত্র, ভাষা ও ব্যাকরণ নিয়ে একের পর এক বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এমনকি পবিত্র কুরআনকে কেন্দ্র করে এবং এর পতাকাতলে ইসলামী সংস্কৃতিতে বিভিন্ন প্রকারের বিজ্ঞান ও শিল্প বিকশিত হয়েছে।

এটি ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারী (মৃত্যু: ২৭৬ হিজরি) রচিত 'তাওয়ীলু মুশকিিলল কুরআন' (কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়াবলির ব্যাখ্যা) নামক গ্রন্থ। এটি তার বিষয়বস্তুতে এক অনন্য কিতাব এবং একে প্রাথমিক যুগের কিতাবসমূহের অন্যতম মনে করা হয়।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
التي بحثت في مشكل القرآن الكريم، والشكوك التي تثار حوله، والمطاعن التي تسدد نحوه.

يقول ابن قتيبة: «قد اعترض كتاب الله بالطعن ملحدون، ولغوا فيه وهجروا، واتبعوا ما تَشابَهَ مِنْهُ ابْتِغاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغاءَ تَأْوِيلِهِ بأفهام كليلة، وأبصار عليلة، ونظر مدخول، فحرّفوا الكلام عن مواضعه، وعدلوه عن سبله، ثم قضوا عليه بالتناقض، والاستحالة في اللحن، وفساد النظم، والاختلاف، وأدلوا في ذلك بعلل ربما أمالت الضعيف الغمر، والحدث الغر، واعترضت بالشبه في القلوب، وقدحت بالشكوك في الصدور … فأحببت أن أنضح عن كتاب الله، وأرمي من ورائه بالحجج النيرة، والبراهين البينة، وأكشف للناس ما يلبسون، فألّفت هذا الكتاب جامعا لتأويل مشكل القرآن، مستنبطا ذلك من التفسير بزيادة في الشرح والإيضاح، وحاملا ما أعلم فيه مقالا لإمام مطلع على لغات العرب، لأري المعاند موضع المجاز، وطريق الإمكان، من غير أن أحكم فيه برأي، أو أقضي عليه بتأويل، ولم يجز لي أن أنص بالإسناد إلى من له أصل التفسير، إذ كنت لم أقتصر على وحي القوم حتى كشفته. وعلى إيمائهم حتى أوضحته، وزدت في الألفاظ ونقصت، وقدّمت وأخّرت، وضربت لذلك الأمثال والأشكال، حتى يستوي في فهمه السامعون» .

أما عملنا في هذا الكتاب فهو:

أولا: وضع ترجمة وافية للمؤلف.

ثانيا: حرصنا بقدر الطاقة على تنقية النص من الأخطاء المطبعية.

ثالثا: شرحنا في حواشي الكتاب ما في متنه من غريب اللغة أو صعب المتناول منها، وذلك استنادا إلى المعاجم اللغوية المشهورة.

رابعا: وضعنا في حواشي الكتاب تعريفا وافيا- مع ذكر المراجع- لجميع الأعلام، وما أهملناه من ذلك إما معروف مشهور، ولم نجد ضرورة لنافل القول فيه، وإما لم نهتد إليه فيما بين أيدينا من المصادر والمراجع. وقد أشرنا إلى ذلك أيضا.

خامسا: خرّجنا جميع الأحاديث النبوية والآثار تخريجا وافيا، وضبطنا نص الحديث استنادا إلى كتب الحديث المعتبرة.

سادسا: خرّجنا جميع الشواهد الشعرية في مظانها.
যা পবিত্র কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ, একে কেন্দ্র করে উত্থাপিত সন্দেহসমূহ এবং এর প্রতি নিক্ষিপ্ত অপবাদসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছে।

ইবনে কুতায়বা বলেন: «নাস্তিকরা আল্লাহর কিতাবকে অপবাদ দিয়ে আক্রমণ করেছে, এতে তারা অর্থহীন ও অসার কথা বলেছে এবং ফিতনা ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে এর মধ্য থেকে রূপক বিষয়গুলোর অনুসরণ করেছে। তাদের বুঝ ছিল স্থবির, দৃষ্টি ছিল রুগ্ন এবং দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। ফলে তারা শব্দগুলোকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করেছে এবং সেগুলোকে সঠিক পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এরপর তারা এর ওপর বৈপরীত্য, ভাষাগত অসম্ভবতা, বিন্যাসের ত্রুটি এবং মতভেদের ফয়সালা দিয়েছে। তারা এমন সব যুক্তি পেশ করেছে যা হয়তো দুর্বল চিত্তের অনভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং নবীন কিশোরদের বিভ্রান্ত করতে পারে, হৃদয়ে সংশয় তৈরি করে এবং অন্তরে সন্দেহ জাগ্রত করে … তাই আমি আল্লাহর কিতাবকে রক্ষা করতে এবং এর পক্ষ থেকে উজ্জ্বল প্রমাণ ও সুস্পষ্ট দলীল দ্বারা প্রতিরোধ করতে চেয়েছি। আর মানুষ যা গুলিয়ে ফেলছে তা উন্মোচন করতে চেয়েছি। এজন্য আমি পবিত্র কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যার সংকলন হিসেবে এই গ্রন্থটি রচনা করেছি। আমি তা তাফসীর থেকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছি। আর আমি এতে আরবী ভাষায় অভিজ্ঞ ইমামদের বক্তব্য ধারণ করেছি, যাতে বিরোধীদের রূপকের স্থান ও ব্যাখ্যার সম্ভাব্যতা দেখাতে পারি, নিজের রায় দিয়ে কোনো ফয়সালা না করে বা কোনো বিশেষ ব্যাখ্যার মাধ্যমে রায় না দিয়ে। মূল তাফসীর যারা করেছেন তাদের সনদ উল্লেখ করা আমার জন্য সম্ভব হয়নি, কারণ আমি কেবল তাদের ইশারা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকিনি যতক্ষণ না তা উন্মোচন করেছি, এবং তাদের ইঙ্গিত পর্যন্ত ক্ষান্ত হইনি যতক্ষণ না তা স্পষ্ট করেছি। আমি শব্দে সংযোগ-বিয়োগ করেছি, অগ্র-পশ্চাত করেছি এবং এর জন্য বিভিন্ন উদাহরণ ও রূপ পেশ করেছি, যাতে শ্রোতারা এটি বুঝতে সমান সক্ষম হয়» ।

এই কিতাবে আমাদের কাজ হলো:

প্রথমত: লেখকের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনী সংযোজন করা।

দ্বিতীয়ত: সাধ্যমতো মূল পাঠকে মুদ্রণজনিত ভুল থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা।

তৃতীয়ত: কিতাবের টীকায় মূল পাঠের কঠিন বা দুর্লভ শব্দাবলি প্রসিদ্ধ ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানের আলোকে ব্যাখ্যা করা।

চতুর্থত: আমরা কিতাবের টীকায় সূত্রসহ সকল ব্যক্তিবর্গের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রদান করেছি। আর যেগুলোর পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি, হয় সেগুলো সুপরিচিত হওয়ায় পুনরুক্তির প্রয়োজন মনে করা হয়নি, নতুবা আমাদের কাছে থাকা উৎস ও রেফারেন্সগুলোতে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আমরা সেদিকেও ইঙ্গিত করেছি।

পঞ্চমত: আমরা সকল হাদীস ও আসার-এর পূর্ণাঙ্গ তাখরীজ করেছি এবং নির্ভরযোগ্য হাদীস গ্রন্থসমূহের আলোকে হাদীসের পাঠ সংশোধন করেছি।

ষষ্ঠত: আমরা সকল কাব্যিক উদ্ধৃতির উৎস নির্ণয় করেছি।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
سابعا: خرّجنا جميع الأمثال في مظانها.

ثامنا: خرّجنا جميع الآيات القرآنية الكريمة على المعجم المفهرس لألفاظ القرآن الكريم.

وأخيرا، نرجو أن يكون عملنا هذا خالصا لوجهه تعالى، ولله الكمال وحده، وهو ولي التوفيق.

إبراهيم شمس الدين
সপ্তম: আমরা সকল প্রবাদসমূহকে তাদের উৎসস্থল থেকে উদ্ধৃত করেছি।

অষ্টম: আমরা পবিত্র কুরআনের সকল আয়াতকে ‘আল-মু'জামুল মুফাহরাস লি আলফাজিল কুরআনিল কারীম’ গ্রন্থের সহায়তায় বের করেছি।

এবং পরিশেষে, আমরা আশা করি আমাদের এই কাজ যেন কেবল মহান আল্লাহর চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য একনিষ্ঠ হয়; আর পূর্ণতা কেবল এককভাবে আল্লাহরই জন্য, এবং তিনিই তাওফীক দাতা।

ইবরাহীম শামসুদ্দীন
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
ترجمة ابن قتيبة الدينوري

«1» هو أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة بن مسلم، المروزي الدينوري، أصله من أسرة فارسية كانت تقطن مدينة «مرو» ، ولد سنة 213 هـ. في أواخر خلافة المأمون، ونشأ في بغداد، وتتلمذ على يد عدد كبير من العلماء وأعلام عصره، منهم:

1- أحمد بن سعيد اللحياني.

2- أبو عبد الله، محمد بن سلّام الجمحي البصري، المتوفى سنة 231 هـ.

3- أبو يعقوب، إسحاق بن إبراهيم، المعروف بابن راهويه المتوفى سنة 238 هـ.

4- حرملة بن يحيى التجيبي، المتوفى سنة 243 هـ.

5- القاضي يحيى بن أكتم المتوفى سنة 242 هـ.

6- أبو عبد الله، الحسين بن الحسين بن حرب السلمي المروزي المتوفى سنة 246 هـ.

7- دعبل بن علي الخزاعي، المتوفى سنة 246 هـ.

8- أبو عبد الله، محمد بن محمد بن مرزوق بن بكير بن البهلول الباهلي البصري، المتوفى سنة 248 هـ.

9- أبو إسحاق إبراهيم بن سفيان الزيادي، المتوفى سنة 249 هـ.

10- أبو حاتم، سهل بن محمد السجستاني، المتوفى سنة 248 هـ.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: كشف الظنون 5/ 441، البداية والنهاية 11/ 52- 53، الأعلام للزركلي 4/ 137، الأنساب للسمعاني، التهذيب للأزهري ص 13، مراتب النحويين لأبي الطيب الحلبي ص 137، ميزان الاعتدال للذهبي 2/ 77، لسان الميزان 3/ 358، النجوم الزاهرة 3/ 75، الفهرست لابن النديم، تاريخ بغداد للخطيب البغدادي 392- 463، المنتظم في تاريخ الملوك والأمم لابن الجوزي 5/ 102، وفيات الأعيان لابن خلكان 2/ 246.
ইবনে কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারীর জীবনী

«১» তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতাইবা ইবনে মুসলিম, আল-মারওয়াযি আদ-দিনাওয়ারী। তাঁর মূল ছিল একটি পারস্য পরিবার যারা ‘মার্ভ’ শহরে বসবাস করত। তিনি ২১৩ হিজরিতে আল-মামুনের খিলাফতের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাগদাদে বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর যুগের বহু সংখ্যক আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিকট শিক্ষা লাভ করেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১- আহমদ ইবনে সাঈদ আল-লিহইয়ানি।

২- আবু আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে সাল্লাম আল-জুমাহি আল-বাসরি, মৃত্যু ২৩১ হিজরি।

৩- আবু ইয়াকুব, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম, যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত, মৃত্যু ২৩৮ হিজরি।

৪- হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া আত-তুজিবি, মৃত্যু ২৪৩ হিজরি।

৫- কাযী ইয়াহইয়া ইবনে আকতাম, মৃত্যু ২৪২ হিজরি।

৬- আবু আবদুল্লাহ, আল-হুসাইন ইবনে আল-হুসাইন ইবনে হারব আস-সুলামি আল-মারওয়াযি, মৃত্যু ২৪৬ হিজরি।

৭- দিবিল ইবনে আলী আল-খুযায়ী, মৃত্যু ২৪৬ হিজরি।

৮- আবু আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারযুক ইবনে বুকাইর ইবনে আল-বাহলুল আল-বাহিলি আল-বাসরি, মৃত্যু ২৪৮ হিজরি।

৯- আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে সুফিয়ান আয-যিয়াদি, মৃত্যু ২৪৯ হিজরি।

১০- আবু হাতিম, সাহল ইবনে মুহাম্মদ আস-সিজিস্তানি, মৃত্যু ২৪৮ হিজরি।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: কাশফুয যুনুন ৫/ ৪৪১, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/ ৫২- ৫৩, আল-আ’লাম লিয যিরিকলি ৪/ ১৩৭, আল-আনসাব লিস সামআনি, আত-তাহযীব লিল আযহারি পৃষ্ঠা ১৩, মারাতিনুন নাহউইয়্যিন লি আবিত তয়্যিব আল-হালাবি পৃষ্ঠা ১৩৭, মীযানুল ইতিদাল লিয যাহাবি ২/ ৭৭, লিসানুল মীযান ৩/ ৩৫৮, আন-নুজুমুয যাহেরা ৩/ ৭৫, আল-ফিহরিস্ত লি ইবনিন নাদিম, তারিখু বাগদাদ লিল খাতিব আল-বাগদাদি ৩৯২- ৪৬৩, আল-মুনতাযাম ফি তারিখিল মুলুক ওয়াল উমাম লি ইবনিল জাওযি ৫/ ১০২, ওয়াফায়াতুল আইয়ান লি ইবনে খালিকান ২/ ২৪৬।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
11- محمد بن زياد بن عبيد الله الزيادي البصري، المقلب ببؤبؤ، المتوفى سنة 252 هـ.

12- أبو يعقوب، إسحاق بن إبراهيم بن محمد الصواف الباهلي البصري، المتوفى سنة 253 هـ.

13- أبو عثمان الجاحظ، عمرو بن بحر بن محبوب، المتوفى سنة 254 هـ.

14- أبو طالب، زيد بن أخزم الطائي البصري، المتوفى سنة 257 هـ.

15- أبو الفضل، العباس بن الفرج الرياشي، المتوفى سنة 257 هـ.

16- أبو سهل الصفار، عبدة بن عبد الله الخزاعي، المتوفى سنة 258 هـ.

وقد تتلمذ على يدي ابن قتيبة عدد كبير من العلماء، منهم:

1- ابنه أحمد، أبو جعفر أحمد بن عبد الله بن مسلم الدينوري، المتوفى سنة 322 هـ.

2- أحمد بن مروان المالكي، المتوفى سنة 298 هـ.

3- أبو بكر محمد بن خلف بن المرزبان، المتوفى سنة 309 هـ.

4- أبو القاسم إبراهيم بن محمد بن أيوب بن بشير الصائغ، المتوفى سنة 313 هـ.

5- أبو محمد، عبيد الله بن عبد الرحمن بن محمد بن عيسى السكري، المتوفى سنة 323 هـ.

6- أبو القاسم، عبيد الله بن أحمد بن عبد الله بن بكير التميمي، المتوفى سنة 334 هـ.

7- الهيثم بن كليب الشامي، المتوفى سنة 335 هـ.

8- قاسم بن أصبغ الأندلسي، المتوفى سنة 340 هـ.

9- عبد الله بن جعفر بن درستويه الفسوي، المتوفى سنة 355 هـ.

10- أبو القاسم، عبيد الله بن محمد بن جعفر بن محمد الأزدي، المتوفى سنة 348 هـ.

11- أبو بكر، أحمد بن الحسين بن إبراهيم الدينوري.
১১- মুহাম্মদ বিন জিয়াদ বিন উবায়দুল্লাহ আল-জিয়াদি আল-বাসরি, উপাধি বু'বু', মৃত্যু ২৫২ হিজরি।

১২- আবু ইয়াকুব, ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আস-সাউওয়াফ আল-বাহিলি আল-বাসরি, মৃত্যু ২৫৩ হিজরি।

১৩- আবু উসমান আল-জাহিজ, আমর বিন বাহর বিন মাহবুব, মৃত্যু ২৫৪ হিজরি।

১৪- আবু তালিব, যাইদ বিন আখযাম আত-তায়ি আল-বাসরি, মৃত্যু ২৫৭ হিজরি।

১৫- আবু আল-ফজল, আব্বাস বিন আল-ফারাজ আর-রিয়াশি, মৃত্যু ২৫৭ হিজরি।

১৬- আবু সাহল আস-সাফফার, আবদাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-খুজায়ি, মৃত্যু ২৫৮ হিজরি।

ইবনে কুতায়বার নিকট বহু সংখ্যক আলেম শিক্ষা লাভ করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:

১- তার পুত্র আহমদ, আবু জাফর আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম আদ-দিনাওয়ারি, মৃত্যু ৩২২ হিজরি।

২- আহমদ বিন মারওয়ান আল-মালিকি, মৃত্যু ২৯৮ হিজরি।

৩- আবু বকর মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন আল-মারযুবান, মৃত্যু ৩০৯ হিজরি।

৪- আবুল কাসিম ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন বাশির আস-সায়িগ, মৃত্যু ৩১৩ হিজরি।

৫- আবু মুহাম্মদ, উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আস-সুক্কারি, মৃত্যু ৩২৩ হিজরি।

৬- আবুল কাসিম, উবায়দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বুকাইর আত-তামিমি, মৃত্যু ৩৩৪ হিজরি।

৭- আল-হাইসাম বিন কুলাইব আশ-শামি, মৃত্যু ৩৩৫ হিজরি।

৮- কাসিম বিন আসবাগ আল-আন্দালুসি, মৃত্যু ৩৪০ হিজরি।

৯- আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন দুরুস্তাওয়াইহ আল-ফাসাওয়ি, মৃত্যু ৩৫৫ হিজরি।

১০- আবুল কাসিম, উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-আযদি, মৃত্যু ৩৪৮ হিজরি।

১১- আবু বকর, আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন ইবরাহিম আদ-দিনাওয়ারি।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
12- أبو العباس محمد بن علي بن أحمد الكرجي، المتوفى سنة 343 هـ.

13- أبو رجاء، محمد بن حامد بن الحارث البغدادي، المتوفى سنة 343 هـ.

مؤلفات ابن قتيبة

ذكر أصحاب كتب التراجم لابن قتيبة الكثير من المصنفات، وهي:

1- آداب العشرة.

2- آداب القراءة.

3- أدب الكاتب.

4- اختلاف الحديث.

5- استماع الغناء بالألحان.

6- إصلاح غلط أبي عبيدة.

7- إعراب القرآن.

8- تأويل الرؤيا.

9- تأويل مختلف الحديث.

10- تأويل مشكل القرآن (وهو الكتاب الذي بين أيدينا) .

11- تقويم اللسان.

12- تفسير القرآن.

13- جامع الفقه.

14- جامع النحو الكبير.

15- جامع النحو الصغير.

16- الجوابات الحاضرة.

17- حكم الأمثال.

18- خلق الإنسان.

19- دلائل النبوّة.
১২- আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমাদ আল-কারাজি, মৃত্যু ৩৪৩ হিজরি।

১৩- আবু রাজা, মুহাম্মদ বিন হামিদ বিন আল-হারিস আল-বাগদাদি, মৃত্যু ৩৪৩ হিজরি।

ইবনে কুতায়বার রচনাবলি

জীবনীগ্রন্থের রচয়িতাগণ ইবনে কুতায়বার অনেকগুলো রচনার কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:

১- আদাবুল আশারা।

২- আদাবুল কিরাআহ।

৩- আদাবুল কাতিব।

৪- ইখতিলাফুল হাদিস।

৫- ইস্তিমাউল গিনা বিল আলহান।

৬- ইসলাহু গালাতি আবি উবায়দাহ।

৭- ইরাবুল কুরআন।

৮- তাবিলুর রুয়া।

৯- তাবিলু মুখতালিফিল হাদিস।

১০- তাবিলু মুশকিলিল কুরআন (এটি সেই বই যা আমাদের হাতে রয়েছে)।

১১- তাকউিমুল লিসান।

১২- তাফসিরুল কুরআন।

১৩- জামিউল ফিকহ।

১৪- জামিউন নাহু আল-কাবির।

১৫- জামিউন নাহু আস-সাগির।

১৬- আল-জাওয়াবাতুল হাজিরা।

১৭- হিকামুল আমসাল।

১৮- খালকুল ইনসান।

১৯- দালাইলুন নুবুওয়াহ।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
20- ديوان الكتاب.

21- طبقات الشعراء.

22- عيون الأخبار، في الأدب والمحاضرات.

23- عيون الشعر، يحتوي على عشرة كتب.

24- غريب الحديث.

25- غريب القرآن.

26- فرائد الدرر.

27- كتاب آلة الكتابة.

28- كتاب الاختلاف في اللفظ.

29- كتاب الأشربة.

30- كتاب الأنواء.

31- كتاب الحكاية والمحكي.

32- كتاب التسوية بين العرب والعجم.

33- كتاب التفقيه.

34- كتاب الجراثيم.

35- كتاب الخيل.

36- كتاب الرد على المشبهة.

37- كتاب الرد على القائل بخلق القرآن.

38- كتاب صناعة الكتابة.

39- كتاب الشعر والشعراء.

40- كتاب الصيام.

41- كتاب العلم.

42- كتاب فضل العرب والتنبيه على علومها.

43- كتاب القراءات.
20- লেখকদের সংকলন (দিওয়ানুল কিতাব)।

21- কবিদের জীবনী-স্তর।

22- সংবাদের উৎস, শিষ্টাচার ও আলোচনা প্রসঙ্গে।

23- কবিতার উৎস, এটি দশটি গ্রন্থ সম্বলিত।

24- হাদিসের বিরল শব্দাবলি।

25- কুরআনের বিরল শব্দাবলি।

26- অনন্য মুক্তাসমূহ।

27- লিখন সরঞ্জাম বিষয়ক গ্রন্থ।

28- শব্দ উচ্চারণের ভিন্নতা বিষয়ক গ্রন্থ।

29- পানীয় বিষয়ক গ্রন্থ।

30- নক্ষত্র ও আবহাওয়া বিষয়ক গ্রন্থ।

31- কাহিনী ও বর্ণিত বিষয় বিষয়ক গ্রন্থ।

32- আরব ও অনারবদের মধ্যে সমতা বিধান বিষয়ক গ্রন্থ।

33- জ্ঞান দান বিষয়ক গ্রন্থ।

34- উৎস ও মূল বিষয়ক গ্রন্থ।

35- ঘোড়া বিষয়ক গ্রন্থ।

36- সাদৃশ্যবাদীদের (মুসাব্বিহা) প্রতিবাদে রচিত গ্রন্থ।

37- কুরআন সৃষ্টির প্রবক্তাদের প্রতিবাদে রচিত গ্রন্থ।

38- লিখন শিল্প বিষয়ক গ্রন্থ।

39- কবিতা ও কবিগণ বিষয়ক গ্রন্থ।

40- রোজা বিষয়ক গ্রন্থ।

41- জ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ।

42- আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে অবহিতকরণ বিষয়ক গ্রন্থ।

43- পাঠরীতি (কিরাত) বিষয়ক গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
44- كتاب المراتب والمناقب من عيون الشعر.

45- كتاب المسائل والأجوبة.

46- كتاب المعارف، في التاريخ.

47- كتاب الميسر والقداح.

48- كتاب الوحش.

49- كتاب الوزراء.

50- مختلف الحديث.

51- مشكلات القرآن.

52- معاني الشعر، يحتوي اثني عشر كتابا، 53- معجزات النبي صلى الله عليه وآله وسلم.

توفي ابن قتيبة، فيما يقول تلميذه أبو القاسم إبراهيم الصائغ: أنه أكل هريسة، فأصاب حرارة، ثم صاح صيحة شديدة، ثم أغمي عليه إلى وقت صلاة الظهر، ثم اضطرب ساعة، ثم هدأ، فما زال يتشّهد إلى وقت السحر، ثم مات، وذلك أول ليلة من رجب سنة 276 هـ.
৪৪- কবিতার নির্যাস থেকে মর্যাদা ও গুণাবলি বিষয়ক গ্রন্থ।

৪৫- প্রশ্ন ও উত্তর বিষয়ক গ্রন্থ।

৪৬- কিতাবুল মাআরিফ (পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থ), ইতিহাস প্রসঙ্গে।

৪৭- আল-মাইসার এবং আল-কিদাহ (জুয়া ও ভাগ্যনির্ধারক তীর) বিষয়ক গ্রন্থ।

৪৮- বন্যপ্রাণী বিষয়ক গ্রন্থ।

৪৯- মন্ত্রী বিষয়ক গ্রন্থ।

৫০- হাদিসের বৈচিত্র্য ও বাহ্যিক বৈপরীত্য বিষয়ক গ্রন্থ।

৫১- কুরআনের জটিল শব্দ ও অর্থ বিষয়ক গ্রন্থ।

৫২- কবিতার অর্থ বিষয়ক গ্রন্থ, যা বারোটি খণ্ড সম্বলিত; ৫৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের মুজিজাসমূহ।

ইবনে কুতাইবাহ ইন্তেকাল করেছেন—যেমনটি তার ছাত্র আবু কাসিম ইবরাহিম আস-সাইগ বর্ণনা করেছেন—যে তিনি হারিসাহ (এক প্রকার খাদ্য) খেয়েছিলেন, যার ফলে তিনি প্রচণ্ড শারীরিক উত্তাপ অনুভব করেন। অতঃপর তিনি উচ্চস্বরে একটি চিৎকার দেন এবং যোহরের নামাজের সময় পর্যন্ত বেহুঁশ হয়ে থাকেন। এরপর কিছুক্ষণ ছটফট করার পর তিনি শান্ত হন এবং সাহরির সময় পর্যন্ত অনবরত কালিমা শাহাদাত পাঠ করতে থাকেন। এরপর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এটি ছিল ২৭৬ হিজরি সালের রজব মাসের প্রথম রাত।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
مقدمه المؤلف

بسم الله الرّحمن الرّحيم قال عبد الله بن مسلم بن قتيبة:

الحمد لله الذي نهج لنا سبل الرّشاد، وهدانا بنور الكتاب، وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجاً [الكهف: 1] بل نزّله قيّما مفصّلا بيّنا لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ (42) [فصلت: 42] وشرّفه، وكرّمه، ورفعه وعظّمه، وسماه روحا ورحمة، وشفاء وهدى، ونورا.

وقطع منه بمعجز التّأليف أطماع الكائدين، وأبانه بعجيب النّظم عن حيل المتكلّفين، وجعله متلوّا لا يملّ على طول التّلاوة، ومسموعا لا تمجّه الآذان، وغضّا لا يخلق على كثرة الرد، وعجيبا.

لا تنقضي عجائبه، ومفيدا لا تنقطع فوائده، ونسخ به سالف الكتب.

وجمع الكثير من معانيه في القليل من لفظه، وذلك معنى

قول رسول الله، صلى الله عليه وآله وسلم: «أوتيت جوامع الكلم» «1» .

فإن شئت أن تعرف ذلك فتدبر قوله سبحانه: خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجاهِلِينَ (199) [الأعراف: 199] كيف جمع له بهذا الكلام كل خلق عظيم، لأن في (أخذ

--------------------------------------------

(1) أخرجه بهذا اللفظ مسلم في المساجد حديث 7، 8، وأحمد في المسند 2/ 250، 314، 442، 501، وابن كثير في تفسيره 4/ 72، والزبيدي في إتحاف السادة المتقين 7/ 113، وأبو نعيم في دلائل النبوة 1/ 14، وسعيد بن منصور في سننه 2862، وابن أبي شيبة في مصنفه 11/ 480، والمتقي الهندي في كنز العمال 32068، والعجلوني في كشف الخفا 1/ 14، 308. وأخرجه بلفظ: «بعثت بجوامع الكلم ونصرت بالرعب» . البخاري 4/ 65، 9/ 47، 113، ومسلم في المساجد حديث 6، والنسائي في المجتبى 6/ 3، 4، وأحمد في المسند 2/ 264، 455، والشهاب في مسنده 570، 571، والسيوطي في الدر المنثور 4/ 456، وابن عساكر في تهذيب تاريخ دمشق 4/ 456، وابن كثير في البداية والنهاية 4/ 102، 6/ 48، والزبيدي في إتحاف السادة المتقين 7/ 113، وابن حجر في فتح الباري 12/ 391، 401، 13/ 247، والعراقي في المغني عن حمل الأسفار 2/ 365، والتبريزي في مشكاة المصابيح 5749، وأبو عوانة في المسند 1/ 395، وابن عبد البر في التمهيد 5/ 219، والمتقي الهندي في كنز العمال 31899، والقرطبي في تفسيره 10/ 49.
লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে কুতায়বাহ বলেছেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের জন্য হিদায়াতের পথ উন্মুক্ত করেছেন, কিতাবের আলো দিয়ে আমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি [আল-কাহফ: ১]। বরং একে সুপ্রতিষ্ঠিত, বিস্তারিত ও সুস্পষ্টরূপে অবতীর্ণ করেছেন, যার সামনে কিংবা পেছন থেকে কোনো মিথ্যা এতে প্রবেশ করতে পারে না। এটি প্রজ্ঞাময় ও চির প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (৪২) [ফুসসিলাত: ৪২]। তিনি একে ভূষিত ও সম্মানিত করেছেন, একে উচ্চমর্যাদা ও মহিমা দান করেছেন এবং এর নাম রেখেছেন রূহ, রহমত, আরোগ্য, হিদায়াত ও আলো।

তিনি এর অলৌকিক রচনার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের হীন আকাঙ্ক্ষা ছিন্ন করেছেন এবং এর বিস্ময়কর শব্দশৈলীর মাধ্যমে কৃত্রিমতাকারীদের কৌশল থেকে একে পৃথক ও সুস্পষ্ট করেছেন। তিনি একে করেছেন এমন পাঠযোগ্য যা দীর্ঘক্ষণ পাঠেও ক্লান্তি আনে না, এবং এমন শ্রবণযোগ্য যা কান প্রত্যাখ্যান করে না। এটি এমন এক সজীবতা যা বারবার পাঠেও পুরাতন হয় না এবং এটি বিস্ময়কর।

যার বিস্ময় শেষ হয় না এবং যার উপকারিতা কখনো ফুরিয়ে যায় না। এর মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহকে রহিত করেছেন।

তিনি এর অল্প শব্দের মাঝে অসংখ্য অর্থ পুঞ্জীভূত করেছেন; আর এটিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণীর মর্মার্থ: "আমাকে জাওয়ামিউল কালিম (স্বল্প কথায় ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) দান করা হয়েছে" «১» ।

আপনি যদি এটি উপলব্ধি করতে চান তবে মহান আল্লাহর এই বাণীটি নিয়ে চিন্তা করুন: "আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন, সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলুন" (১৯৯) [আল-আরাফ: ১৯৯]। লক্ষ্য করুন, কীভাবে তিনি এই সামান্য কথার মাধ্যমে সমস্ত মহান চরিত্রকে একত্রিত করেছেন, কারণ (অবলম্বন করা

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি এই শব্দে 'মাসাজিদ' অধ্যায়ে হাদীস নং ৭, ৮-এ বর্ণনা করেছেন; আহমাদ 'মুসনাদ' ২/২৫০, ৩১৪, ৪৪২, ৫০১-এ; ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে ৪/৭২-এ; জাবিদী 'ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন' ৭/১১৩-এ; আবু নুআইম 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' ১/১৪-তে; সাঈদ ইবনে মনসুর তাঁর সুনানে ২৮৬২; ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর মুসান্নাফে ১১/৪৮০; মুত্তাকী আল-হিন্দি 'কানজুল উম্মাল' ৩২০৬৮; আজলুনি 'কাশফুল খাফা' ১/১৪, ৩০৮-এ। এটি এই শব্দেও বর্ণিত হয়েছে: "আমাকে জাওয়ামিউল কালিম দিয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আমাকে ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে।" বুখারী ৪/৬৫, ৯/৪৭, ১১৩; মুসলিম 'মাসাজিদ' হাদীস ৬; নাসায়ী 'মুজতাবা' ৬/৩, ৪; আহমাদ 'মুসনাদ' ২/২৬৪, ৪৫৫; শিহাব তাঁর মুসনাদে ৫৭০, ৫৭১; সুয়ূতী 'দুররে মানসুর' ৪/৪৫৬; ইবনে আসাকির 'তাহজিবু তারিখি দামিশক' ৪/৪৫৬; ইবনে কাসীর 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' ৪/১০২, ৬/৪৮; জাবিদী 'ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন' ৭/১১৩; ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' ১২/৩৯১, ৪০১, ১৩/২৪৭; ইরাকী 'আল-মুগনি আন হামলিল আসফার' ২/৩৬৫; তাবরিজী 'মিশকাতুল মাসাবিহ' ৫৭৪৯; আবু আওয়ানা 'মুসনাদ' ১/৩৯৫; ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহিদ' ৫/২১৯; মুত্তাকী আল-হিন্দি 'কানজুল উম্মাল' ৩১৮৯৯; কুরতুবী তাঁর তাফসীরে ১০/৪৯-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
العفو) : صلة القاطعين، والصفح عن الظالمين، وإعطاء المانعين.

وفي (الأمر بالعرف) : تقوى الله وصلة الأرحام، وصون اللّسان عن الكذب، وغضّ الطّرف عن الحرمات.

وإنما سمّي هذا وما أشبهه (عرفا) و (معروفا) ، لأن كل نفس تعرفه، وكل قلب يطمئنّ إليه.

وفي (الإعراض عن الجاهلين) : الصبر، والحلم، وتنزيه النفس عن مماراة السّفيه، ومنازعة اللّجوج.

وقوله تعالى: إذ ذكر الأرض فقال: أَخْرَجَ مِنْها ماءَها وَمَرْعاها (31) [النازعات: 31] كيف دلّ بشيئين على جميع ما أخرجه من الأرض قوتا ومتاعا للأنام، من العشب والشجر، والحب والثمر والحطب، والعصف واللّباس، والنّار والملح، لأن النار من العيدان، والملح من الماء.

وينبئك أنه أراد ذلك قوله: مَتاعاً لَكُمْ وَلِأَنْعامِكُمْ (33) [النازعات: 33] .

وفكّر في قوله تعالى حين ذكر جنات الأرض فقال: يُسْقى بِماءٍ واحِدٍ وَنُفَضِّلُ بَعْضَها عَلى بَعْضٍ فِي الْأُكُلِ [الرعد: 4] كيف دلّ على نفسه ولطفه، ووحدانيته، وهدّى للحجّة على من ضلّ عنه، لأنه لو كان ظهور الثمرة بالماء والتّربة، لوجب في القياس ألا تختلف الطعوم، ولا يقع التّفاضل في الجنس الواحد، إذا نبت في مغرس واحد، وسقي بماء واحد، ولكنّه صنع اللطيف الخبير.

ونحو قوله: وَمِنْ آياتِهِ خَلْقُ السَّماواتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوانِكُمْ [الروم: 22] يريد اختلاف، اللّغات، والمناظر، والهيئات.

وفي قوله تعالى: وَتَرَى الْجِبالَ تَحْسَبُها جامِدَةً وَهِيَ تَمُرُّ مَرَّ السَّحابِ [النمل: 88] يريد:

أنها تجمع وتسيّر، فهي لكثرتها كأنها جامدة واقفة في رأي العين، وهي تسير سير السحاب.

وكل جيش غصّ الفضاء به، لكثرته، وبعد ما بين أطرافه، فقصر عنه البصر- فكأنه في حسبان الناظر واقف وهو يسير.

وإلى هذا المعنى ذهب الجعديّ في وصف جيش فقال «1» :

--------------------------------------------

(1) البيت من الطويل، وهو للنابغة الجعدي في ديوانه ص 187، ولسان العرب (صرد) ، وتاج العروس (صرد) والمعاني الكبير ص 891.
(ক্ষমা) হলো: সম্পর্ক ছিন্নকারীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, জালেমদের ক্ষমা করা এবং যারা (দান থেকে) বঞ্চিত করে তাদের দান করা।

আর (সদুপদেশের আদেশের) মধ্যে রয়েছে: আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা, জিহ্বাকে মিথ্যা থেকে হিফাজত করা এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে দৃষ্টি অবনত রাখা।

একে এবং এর সদৃশ বিষয়সমূহকে 'উরফ' ও 'মারুফ' (পরিচিত/বিদিত) নামকরণ করা হয়েছে কারণ প্রতিটি আত্মা একে চেনে এবং প্রতিটি অন্তর এতে প্রশান্তি লাভ করে।

আর (অজ্ঞদের উপেক্ষা করার) মধ্যে রয়েছে: ধৈর্য, সহনশীলতা এবং নির্বোধের সাথে বিতর্ক ও একগুঁয়ে ব্যক্তির সাথে ঝগড়া থেকে নফসকে পবিত্র রাখা।

আর মহান আল্লাহর বাণী: যখন তিনি জমিনের কথা উল্লেখ করে বললেন: "তিনি তা থেকে তার পানি ও চারণভূমি নির্গত করেছেন" (৩১) [আন-নাজিআত: ৩১]। তিনি কীভাবে মাত্র দুটি জিনিসের মাধ্যমে জমিন থেকে নির্গত সেই সমস্ত বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা সৃষ্টির জন্য খাদ্য ও সামগ্রী স্বরূপ—যেমন ঘাস, গাছপালা, শস্য, ফলমূল, জ্বালানি কাঠ, তুষ, পোশাক-পরিচ্ছদ, আগুন এবং লবণ। কারণ আগুন আসে কাঠ থেকে আর লবণ আসে পানি থেকে।

আর তিনি যে এটাই উদ্দেশ্য করেছেন তা আপনাকে জানিয়ে দেয় তাঁর এই বাণী: "তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর ভোগের জন্য" (৩৩) [আন-নাজিআত: ৩৩]।

আর মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাপারে চিন্তা করুন যখন তিনি জমিনের বাগানসমূহের কথা উল্লেখ করে বললেন: "সেগুলো একই পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয় এবং আমি স্বাদে এগুলোর একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে থাকি" [আর-রাদ: ৪]। তিনি কীভাবে এর মাধ্যমে নিজের সত্তা, তাঁর সূক্ষ্মদর্শিতা ও একত্বের প্রমাণ দিয়েছেন এবং যারা তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করেছেন। কেননা ফলের বিকাশ যদি কেবল পানি ও মাটির কারণেই হতো, তবে যুক্তি অনুযায়ী স্বাদের কোনো ভিন্নতা থাকতো না এবং একই জাতীয় ফলের মধ্যে কোনো তারতম্য ঘটতো না যখন তা একই স্থানে রোপিত হয় এবং একই পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়; বরং এটি হলো সেই সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবহিত সত্তার নিপুণ কারুকার্য।

আর তাঁর এই বাণীর মতো: "তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য" [আর-রুম: ২২]। এখানে উদ্দেশ্য হলো—ভাষা, অবয়ব ও আকৃতির ভিন্নতা।

আর মহান আল্লাহর বাণী: "তুমি পাহাড়গুলোকে দেখছ এবং সেগুলোকে অচল মনে করছ, অথচ সেগুলো মেঘমালার মতো চলন্ত" [আন-নামল: ৮৮]। এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন:

পাহাড়গুলোকে একত্রিত করা হবে এবং পরিচালিত করা হবে, ফলে সেগুলোর বিশালতার কারণে চাক্ষুষ দৃষ্টিতে মনে হবে সেগুলো যেন অচল ও স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অথচ সেগুলো মেঘের গতির মতো চলতে থাকবে।

আর এমন প্রতিটি সেনাবাহিনী যার বিশালতার কারণে দিগন্ত সংকুচিত হয়ে আসে এবং যার প্রান্তসীমার দূরত্বের দরুন দৃষ্টি সেখানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়—তা দর্শকের ধারণায় স্থির মনে হয়, অথচ সেটি চলন্ত অবস্থায় থাকে।

আর এই অর্থেই আল-জাদী একটি সেনাবাহিনীর বর্ণনায় বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) কবিতাটি 'তাবিল' ছন্দের এবং এটি নাবিগাহ আল-জাদীর, তাঁর দিওয়ান পৃষ্ঠা ১৮৭, লিসানুল আরব (সরাদ), তাজুল আরুস (সরাদ) এবং আল-মাআনি আল-কাবির পৃষ্ঠা ৮৯১।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
بأرعن مثل الطّود تحسب أنهم … وقوف لحاج والرّكاب تهملج

وفي قوله جلّ ذكره: وَلَكُمْ فِي الْقِصاصِ حَياةٌ يا أُولِي الْأَلْبابِ [البقرة: 179] يريد أن سافك الدّم إذا أقيد منه ارتدع من كان يهمّ بالقتل، فكان في القصاص له حياة وهو قتل.

وأخذه الشاعر فقال «1» :

أبلغ أبا مالك عنّي مغلغلة … وفي العتاب حياة بين أقوام

يريد أنهم إذا تعاتبوا أصلح ما بينهم العتاب فكفّوا عن القتل، فكان في ذلك حياة.

وأخذه المتمثّلون فقالوا: «بعض القتل إحياء للجميع» «2» .

وقالوا: «القتل أقلّ للقتل» «3» .

وتبيّن قوله في وصف خمر أهل الجنة: لا يُصَدَّعُونَ عَنْها وَلا يُنْزِفُونَ (19) [الواقعة:

19] كيف نفى عنها بهذين اللفظين جميع عيوب الخمر، وجمع بقوله: (ولا ينزفون) عدم العقل، وذهاب المال، ونفاد الشراب.

وقوله: وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُونَ إِلَيْكَ أَفَأَنْتَ تُسْمِعُ الصُّمَّ وَلَوْ كانُوا لا يَعْقِلُونَ (42) وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْظُرُ إِلَيْكَ أَفَأَنْتَ تَهْدِي الْعُمْيَ وَلَوْ كانُوا لا يُبْصِرُونَ (43) [يونس: 42، 43] كيف دلّ على فضل السّمع على البصر، حين جعل مع الصمم فقدان العقل، ولم يجعل مع العمى إلا فقدان النظر.

وقوله: إِنَّ الْمُنافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيراً (145) إِلَّا الَّذِينَ تابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِلَّهِ [النساء: 145، 146] فدلّ على أن المنافقين شرّ من كفر به، وأولاهم بمقته، وأبعدهم من الإنابة إليه، لأنه شرط عليهم في التوبة: الإصلاح والاعتصام، ولم يشرط ذلك على غيرهم.

ثم شرط الإخلاص، لأن النّفاق ذنب القلب، والإخلاص توبة القلب.

--------------------------------------------

(1) البيت من البسيط، وهو لهمام الرقاشي في مقاييس اللغة 4/ 377، والبيان والتبيين 2/ 316، 3/ 202، 4/ 85، والخزانة 3/ 345، ولعصام بن عبيد الزماني في تاج العروس (غلل) ، ولأبي القمقام الأسدي في عيون الأخبار 1/ 91، ولهشام الرقاشي في العقد الفريد 1/ 80، وبلا نسبة في لسان العرب (غلل) .

(2) انظر البيان والتبيين 2/ 316، وفيه بلفظ: وقال بعض الحكماء: قتل البعض إحياء للجميع.

(3) انظر كتاب الصناعتين، وفيه بلفظ: القتل أنفى للقتل.
পাহাড়ের মতো বিশাল এক বাহিনীর সাথে, তুমি তাদের মনে করবে … তারা হাজীদের মতো দাঁড়িয়ে আছে, অথচ উটগুলো দ্রুত গতিতে চলছে।

আর মহান আল্লাহর বাণী: "হে বুদ্ধিমানগণ, কেসাসের (প্রতিশোধের) মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে" [আল-বাকারা: ১৭৯]। এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, রক্তপাতকারীকে যখন তার অপরাধের জন্য দণ্ড দেওয়া হয়, তখন যে ব্যক্তি হত্যার সংকল্প করেছিল সে নিবৃত্ত হয়। ফলে কেসাসের মধ্যে তার জন্য জীবন নিহিত থাকে, যদিও এটি একটি হত্যা।

আর জনৈক কবি একে গ্রহণ করে বলেছেন:

আবু মালিকের কাছে আমার পক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তা পৌঁছে দাও … আর কওমের লোকেদের মাঝে অনুযোগের মধ্যে জীবন রয়েছে।

তিনি বুঝিয়েছেন যে, তারা যখন একে অপরকে অনুযোগ করে, তখন সেই অনুযোগ তাদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে দেয় এবং তারা হত্যা থেকে বিরত থাকে। ফলে এর মধ্যে জীবন নিহিত থাকে।

আর প্রবাদ প্রবচনকারীরা একে গ্রহণ করে বলেছেন: "কিছু হত্যা সবার জন্য জীবন দানস্বরূপ।"

এবং তারা বলেছেন: "হত্যাই হত্যাকে কমিয়ে দেয়।"

আর জান্নাতবাসীদের মদের বর্ণনায় তাঁর বাণী: "যা পান করলে তাদের মাথা ব্যথা করবে না এবং তারা জ্ঞান হারাবে না" [আল-ওয়াকিআ: ১৯]। খেয়াল করুন, কীভাবে তিনি এই দুটি শব্দের মাধ্যমে মদের সমস্ত দোষ নাকচ করে দিয়েছেন। আর "তারা জ্ঞান হারাবে না" বাণীর মাধ্যমে তিনি বুদ্ধিবৃত্তি লোপ পাওয়া, সম্পদের বিনাশ এবং পানীয় শেষ হয়ে যাওয়া—এই সবকিছুকেই একত্রিত করেছেন।

আর তাঁর বাণী: "তাদের মধ্যে কেউ কেউ আপনার কথা শোনে; তবে কি আপনি বধিরকে শোনাতে পারবেন, যদিও তারা না বোঝে? আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আপনার দিকে তাকায়; তবে কি আপনি অন্ধকে পথ দেখাতে পারবেন, যদিও তারা না দেখে?" [ইউনুস: ৪২, ৪৩]। এখানে দেখুন, কীভাবে দৃষ্টির ওপর শ্রুতির শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশিত হয়েছে; যখন তিনি বধিরতার সাথে বুদ্ধিবৃত্তি না থাকাকে যুক্ত করেছেন, অথচ অন্ধত্বের সাথে কেবল দৃষ্টিশক্তি না থাকাকেই যুক্ত করেছেন।

আর তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে এবং আপনি তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী পাবেন না। তবে যারা তাওবা করেছে, নিজেদের সংশোধন করেছে, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে এবং আল্লাহর জন্য তাদের দ্বীনকে একনিষ্ঠ করেছে..." [আন-নিসা: ১৪৫, ১৪৬]। এটি নির্দেশ করে যে, মুনাফিকরা আল্লাহর প্রতি কুফরি করা ব্যক্তিদের চেয়েও নিকৃষ্ট, তাঁর ক্রোধের অধিক উপযুক্ত এবং তাঁর দিকে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দূরবর্তী। কারণ তিনি তাদের তাওবার ক্ষেত্রে সংশোধন ও দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার শর্ত দিয়েছেন, যা অন্যদের জন্য শর্ত হিসেবে দেননি।

এরপর তিনি একনিষ্ঠতার শর্ত দিয়েছেন; কারণ নিফাক হলো অন্তরের গুনাহ, আর একনিষ্ঠতা হলো অন্তরের তাওবা।

--------------------------------------------

(১) কবিতাটি বাসিত ছন্দে রচিত, এটি হাম্মাম আল-রাকাশি এর, তথ্যসূত্র: মাকায়িসুল লুগাহ ৪/৩৭৭, আল-বায়ান ওয়াত তাবিঈন ২/৩১৬, ৩/২০২, ৪/৮৫, আল-খিজানাহ ৩/৩৪৫; এবং আসিম ইবনে উবাইদ আল-যামানি এর সূত্রে তাজুল আরুস (গ-ল-ল); এবং আবু আল-কুমকাম আল-আসাদি এর সূত্রে উয়ুনুল আখবার ১/৯১; এবং হিশাম আল-রাকাশি এর সূত্রে আল-ইকদ আল-ফারিদ ১/৮০; এবং লিসানুল আরব (গ-ল-ল) এ কোনো নাম ছাড়াই উল্লিখিত হয়েছে।

(২) আল-বায়ান ওয়াত তাবিঈন ২/৩১৬ দেখুন, সেখানে বাক্যটি এভাবে এসেছে: জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বলেছেন, "কিছু হত্যা সবার জন্য জীবন দান।"

(৩) কিতাব আল-সিনাতাইন দেখুন, সেখানে বাক্যটি এভাবে এসেছে: "হত্যাই হত্যা প্রতিরোধে অধিক কার্যকর।"
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ثم قال: فَأُولئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ [النساء: 146] ولم يقل: فأولئك هم المؤمنون.

ثم قال: وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْراً عَظِيماً [النساء: 146] ولم يقل وسوف يؤتيهم الله، بغضا لهم، وإعراضا عنهم، وحيدا بالكلام عن ذكرهم.

وقوله في المنافقين: يَحْسَبُونَ كُلَّ صَيْحَةٍ عَلَيْهِمْ هُمُ الْعَدُوُّ [المنافقون: 4] فدلّ على جبنهم، واستشرافهم لكل ناعر، ومرهج على الإسلام وأهله.

وأخذه الشاعر- وأنّى له هذا الاختصار- فقال «1» :

ولو أنّها عصفورة لحسبتها … مسوّمة تدعو عبيدا وأزنما

يقول: لو طارت عصفورة لحسبتها من جبنك خيلا تدعو هاتين القبيلتين.

وقال الآخر «2» :

ما زلت تحسب كل شيء بعدهم … خيلا تكرّ عليكم ورجالا

وهذا في القرآن أكثر من أن نستقصيه.

وقد قال قوم بقصور العلم وسوء النظر في قوله تعالى: وَتَرَى الشَّمْسَ إِذا طَلَعَتْ تَتَزاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذاتَ الْيَمِينِ وَإِذا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذاتَ الشِّمالِ [الكهف: 17] : وما في هذا الكلام من الفائدة؟.

وما في الشمس إذا مالت بالغداة والعشيّ عن الكهف من الخبر؟.

ونحن نقول: وأيّ شيء أولى بأن يكون فائدة من هذا الخبر؟ وأيّ معنى ألطف مما أودع الله هذا الكلام؟.

وإنما أراد عز وجل: أن يعرّفنا لطفه للفتية، وحفظه إياهم في المهجع، واختياره لهم أصلح المواضع للرّقود، فأعلمنا أنه بوّأهم كهفا في مقنأة الجبل «3» ، مستقبلا بنات

--------------------------------------------

(1) البيت من الطويل، وهو لجرير في ديوانه ص 323، وشرح شواهد المغني 2/ 662، وله أو للبعيث في حماسة البحتري ص 261، وللعوام بن شوذب الشيباني في العقد الفريد 5/ 195، ولسان العرب (زنم) ، والمعاني الكبير ص 927، ومعجم الشعراء ص 300، والمقاصد النحوية 4/ 467، وبلا نسبة في تذكرة النحاة ص 73، وجمهرة اللغة ص 828، والجنى الداني ص 281، وشرح الأشموني 3/ 603، ومغني اللبيب 1/ 270.

(2) البيت من الكامل، وهو لجرير في ديوانه ص 53، وشرح شواهد الشافعية ص 125، والعقد الفريد 3/ 132، وكتاب الحيوان 5/ 240.

(3) مقنأة الجبل: الموضع الذي لا تصيبه الشمس.
এরপর তিনি বলেছেন: ‘তবে তারা মুমিনদের সাথে থাকবে’ [আন-নিসা: ১৪৬], তিনি ‘তবে তারাই মুমিন’ বলেননি।

এরপর তিনি বলেছেন: ‘আর অচিরেই আল্লাহ মুমিনদেরকে মহাপুরস্কার দান করবেন’ [আন-নিসা: ১৪৬]। তিনি ‘অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে [পুরস্কার] দান করবেন’ বলেননি; তাদের প্রতি ঘৃণা ও বিমুখতা প্রদর্শনবশত এবং তাদের কথা পুনরায় উল্লেখ না করে বক্তব্যকে তাদের থেকে সরিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে।

আর মুনাফিকদের সম্পর্কে তাঁর বাণী: ‘তারা প্রতিটি চিৎকারকেই নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে; তারাই শত্রু’ [আল-মুনাফিকুন: ৪]। এটি তাদের ভীরুতা এবং ইসলাম ও এর অনুসারীদের বিরুদ্ধে কোনো উচ্চকণ্ঠকারী বা আতঙ্ক ছড়ানো ব্যক্তির উপস্থিতি দেখলেই তাদের তটস্থ হওয়ার প্রমাণ দেয়।

আর কবি এই অর্থটি গ্রহণ করেছেন—তবে তার পক্ষে এমন চমৎকার সংক্ষিপ্ততা অর্জন করা কোথায় সম্ভব!—তিনি বলেছেন:

‘যদি তা কেবল একটি চড়ুই পাখিও হতো, তবে তুমি তোমার ভীরুতার কারণে তাকে চিহ্নিত ঘোড়সওয়ার মনে করতে, যারা উবায়দ ও আজনাম গোত্রদ্বয়কে যুদ্ধের জন্য ডাকছে।’

তিনি বলছেন: যদি একটি চড়ুই পাখিও উড়ে যেত, তবে তুমি তোমার ভীরুতার কারণে তাকে অশ্বারোহী বাহিনী মনে করতে যারা এই দুই গোত্রকে আক্রমণ করতে আহ্বান করছে।

অন্য একজন কবি বলেছেন:

‘তাদের পর তুমি প্রতিটি জিনিসকেই মনে করতে থাকলে অশ্বারোহী সৈন্য ও পদাতিক বাহিনী, যারা তোমাদের উপর উপর্যুপরি আক্রমণ করছে।’

আর কুরআনে এ জাতীয় শৈল্পিক দৃষ্টান্ত এতো অধিক যে আমরা তা পুরোপুরি গণনা করতে সক্ষম নই।

জ্ঞান ও গভীর অন্তর্দৃষ্টির অভাব রয়েছে এমন একদল লোক মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছে: ‘তুমি সূর্যকে দেখবে যখন তা উদিত হয়, তখন তাদের গুহা থেকে ডান দিকে হেলে যায় এবং যখন তা অস্ত যায়, তখন তাদের বাম দিক দিয়ে অতিক্রম করে’ [আল-কাহফ: ১৭]। তারা প্রশ্ন তোলে: এই বর্ণনায় কী উপকার নিহিত আছে?

আর সকাল ও সন্ধ্যায় সূর্য গুহা থেকে হেলে যাওয়ার সংবাদের মধ্যেই বা কী গুরুত্ব আছে?

আমরা এর উত্তরে বলি: এই সংবাদের চেয়ে অধিক বড় কোনো শিক্ষা আর কী হতে পারে? আর আল্লাহ এই বাণীর মাঝে যে সূক্ষ্ম অর্থ নিহিত রেখেছেন, তার চেয়ে চমৎকার অর্থ আর কী হতে পারে?

প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ ওই যুবকদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ এবং ঘুমানোর স্থানে তাদের প্রতি তাঁর সুরক্ষা এবং বিশ্রামের জন্য তাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের বিষয়টি আমাদের জানাতে চেয়েছেন। তাই তিনি আমাদের অবহিত করেছেন যে, তিনি তাদেরকে পাহাড়ের শীতল ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থিত এমন এক গুহায় স্থান দিয়েছেন, যার মুখ উত্তর দিকে অবস্থিত...

--------------------------------------------

(১) এই পঙ্ক্তিটি তবিল ছন্দের। এটি জারিরের দীওয়ান, পৃষ্ঠা ৩২৩; শারহু শাওয়ািদিল মুগনি ২/৬৬২; আল-বুহতুরির হামাসাহ, পৃষ্ঠা ২৬১-এ এটি জারির অথবা আল-বা'ইসের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আল-আকদ আল-ফারিদ ৫/১৯৫; লিসানুল আরব (যনম); আল-মাআনি আল-কাবীর ৯২৭; মুজামুশ শুয়ারা ৩০০; আল-মাকাসিদ আন-নাহবিয়্যাহ ৪/৪৬৭; এবং নামহীনভাবে তাজকিরাতুন নুহাহ ৭৩; জামহারাতুল লুগাহ ৮২৮; আল-জানা আদ-দানি ২৮১; শারহুল আশমুনি ৩/৬০৩; এবং মুগনিল লাবিব ১/২৭০-এ বর্ণিত হয়েছে।

(২) এই পঙ্ক্তিটি কামিল ছন্দের। এটি জারিরের দীওয়ান, পৃষ্ঠা ৫৩; শারহু শাওয়ািদিশ শাফিইয়্যাহ ১২৫; আল-আকদ আল-ফারিদ ৩/১৩২ এবং কিতাবুল হাইওয়ান ৫/২৪০-এ বর্ণিত হয়েছে।

(৩) পাহাড়ের মাকনাআ: এমন স্থান যেখানে সূর্যের আলো সরাসরি পৌঁছায় না।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
نعش، فالشمس تزورّ عنه وتستدبره: طالعة، وجارية، وغاربة. ولا تدخل عليهم فتؤذيهم بحرّها وتلفحهم بسمومها، وتغيّر ألوانهم، وتبلي ثيابهم. وأنهم كانوا في فجوة من الكهف- أي متّسع منه- ينالهم فيه نسيم الريح وبردها، وينفي عنهم غمّة الغار وكربه.

وليس جهلهم بما في هذه الآية من لطيف المعنى، بأعجب من هذا جهلهم بمعنى قوله: وَبِئْرٍ مُعَطَّلَةٍ وَقَصْرٍ مَشِيدٍ [الحج: 45] حتى أبدأوا في التعجّب منه وأعادوا، حتى ضربه بعض المجّان لبارد شعره مثلا.

وهل شيء أبلغ في العبرة والعظة من هذه الآية؟ لأنه أراد: أفلم يسيروا في الأرض فتكون لهم قلوب يعقلون بها، أو آذان يسمعون بها، فينظروا إلى آثار قوم أهلكهم الله بالعتوّ، وأبادهم بالمعصية، فيروا من تلك الآثار بيوتا خاوية قد سقطت على عروشها، وبئرا كانت لشرب أهلها قد عطّل رشاؤها، وغار معينها، وقصرا بناه ملكه بالشّيد «1» قد خلا من السّكن، وتداعى بالخراب، فيتعظوا بذلك، ويخافوا من عقوبة الله وبأسه، مثل الذي نزل بهم.

ونحوه قوله: فَأَصْبَحُوا لا يُرى إِلَّا مَساكِنُهُمْ [الأحقاف: 25] :

ولم يزل الصالحون يعتبرون بمثل هذا، ويذكرونه في خطبهم ومقاماتهم: فكان سليمان صلى الله عليه وآله وسلم، إذا مرّ بخراب قال: يا خرب الخربين أين أهلك الأوّلون؟.

وقال: أبو بكر رضي الله عنه، في بعض خطبه: أين بانو المدائن ومحصّنوها بالحوائط؟ أين مشيّدو القصور، وعامروها؟ أين جاعلو العجب فيها لمن بعدهم؟ تلك منازلهم خالية، وهذه منازلهم في القبور خاوية، هل تحسّ منهم من أحد أو تسمع لهم ركزا؟.

وهذا الأسود بن يعفر يقول»

:

--------------------------------------------

(1) الشّيد، بالكسر: كل ما طلي به الحائط من جص وبلاط.

(2) الأبيات من الكامل، وهي للأسود بن يعفر في ديوانه ص 26- 27، والبيت الأول في لسان العرب (برق) ، (حرق) ، وتاج العروس (سند) ، وشرح اختيارات المفضل ص 968، ومعجم البلدان (انقرة) ، والبيت الثاني في لسان العرب (كعب) ، (برق) ، وكتاب العين 1/ 207، وتهذيب اللغة 1/ 325، وتاج العروس (كعب) ، (سند) ، وشرح اختيارات المفضل ص 969، والشعر والشعراء ص 261، والبيت الثالث في لسان العرب (نقر) ، وتاج العروس (نقر) ، وشرح اختيارات المفضل ص 970، والحماسة البصرية 2/ 412، والبيت الرابع في لسان العرب (موم) ، وتاج العروس (موم) .
খাটিয়া, তাই সূর্য তাদের থেকে বিমুখ হয় এবং পিঠ ফিরিয়ে চলে যায়: উদিত হওয়ার সময়, চলমান অবস্থায় এবং অস্ত যাওয়ার সময়। তা তাদের ওপর প্রবেশ করে না যাতে তাদের উত্তাপ দিয়ে কষ্ট দেয় এবং লু-হাওয়া দিয়ে তাদের দগ্ধ করে, তাদের বর্ণ পরিবর্তন করে এবং তাদের পোশাক জীর্ণ করে। আর তারা গুহার এক প্রশস্ত স্থানে ছিল—অর্থাৎ এর একটি প্রশস্ত অংশে—যেখানে তারা বাতাসের স্নিগ্ধ প্রবাহ ও শীতলতা লাভ করছিল, যা তাদের থেকে গুহার অন্ধকার ও কষ্ট দূর করে দিচ্ছিল।

আর এই আয়াতে যে সূক্ষ্ম অর্থ নিহিত রয়েছে সে সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা, আল্লাহর এই বাণীর মর্ম সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার চেয়ে অধিক বিস্ময়কর নয়: "পরিত্যক্ত কূপ ও সুউচ্চ প্রাসাদ" [হজ: ৪৫]; এমনকি তারা এ নিয়ে বারবার বিস্ময় প্রকাশ করেছে, শেষ পর্যন্ত কিছু বিদ্রূপকারী একে তাদের প্রাণহীন কবিতার উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

আর শিক্ষা ও উপদেশের ক্ষেত্রে এই আয়াতের চেয়ে অধিক কার্যকর কিছু কি আছে? কারণ তিনি বুঝাতে চেয়েছেন: তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি, যাতে তাদের এমন হৃদয় থাকত যা দিয়ে তারা অনুধাবন করতে পারত, অথবা এমন কান থাকত যা দিয়ে তারা শুনতে পারত? ফলে তারা সেই জাতির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেত যাদের আল্লাহ তাদের অবাধ্যতার কারণে ধ্বংস করেছেন এবং পাপাচারের কারণে নির্মূল করেছেন। তারা সেই সব নিদর্শনের মধ্যে দেখত জনশূন্য ঘরবাড়ি যা তাদের ছাদসহ ধসে পড়েছে, এবং এমন কূপ যা এর অধিবাসীদের পানীয়ের জন্য ছিল কিন্তু যার রশি পরিত্যক্ত হয়েছে এবং যার প্রস্রবণ শুকিয়ে গেছে, আর এমন প্রাসাদ যা এর মালিক চুনকাম করে মজবুত করে নির্মাণ করেছিল অথচ তা জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে তারা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করত এবং আল্লাহর শাস্তি ও কঠোরতা সম্পর্কে ভীত হতো, যা তাদের ওপর আপতিত হয়েছিল তাদের মতো।

অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী: "ফলে তারা এমন অবস্থায় উপনীত হলো যে, তাদের ঘরবাড়ি ছাড়া আর কিছুই দেখা যেত না" [আহকাফ: ২৫]:

নেককার বান্দাগণ সর্বদা এ জাতীয় বিষয় থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন এবং তাদের খুতবা ও মজলিসে তা উল্লেখ করতেন। সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) যখন কোনো ধ্বংসাবশেষের পাশ দিয়ে যেতেন, বলতেন: "হে ধ্বংসস্তূপের অধিপতি, কোথায় তোমার পূর্ববর্তী বাসিন্দারা?"

আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর এক খুতবায় বলেছিলেন: "কোথায় সেই নগরের নির্মাতারা যারা প্রাচীর দিয়ে সেগুলোকে সুরক্ষিত করেছিল? কোথায় প্রাসাদের নির্মাতারা এবং যারা সেগুলোকে আবাদ করেছিল? কোথায় তারা যারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেখানে বিস্ময়কর কীর্তি রেখে গিয়েছিল? ঐ যে তাদের ঘরবাড়ি জনশূন্য পড়ে আছে, আর এই যে কবরে তাদের আবাসস্থলগুলো বিরান হয়ে আছে; তুমি কি তাদের কারো অস্তিত্ব অনুভব করো অথবা তাদের ক্ষীণতম শব্দও শুনতে পাও?"

আর আসওয়াদ ইবনে ইয়া'ফুর বলছেন—

:

--------------------------------------------

(১) শাইদ: দেয়াল প্রলেপ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত চুন, প্লাস্টার বা আস্তর জাতীয় সবকিছু।

(২) কবিতাগুলো কামিল ছন্দে রচিত, এগুলো আসওয়াদ ইবনে ইয়া'ফুরের দিওয়ানের ২৬-২৭ পৃষ্ঠায় রয়েছে। প্রথম পংক্তিটি লিসানুল আরব (বারাক, হারাক), তাজুল আরুস (সানাদ), শারহু ইখতিয়ারাতে মুফাদ্দাল (পৃ. ৯৬৮) এবং মুজামুল বুলদান (আনকারা)-তে উদ্ধৃত। দ্বিতীয় পংক্তিটি লিসানুল আরব (কা'ব, বারাক), কিতাবুল আইন (১/২০৭), তাহযিবুল লুগাহ (১/৩২৫), তাজুল আরুস (কা'ব, সানাদ), শারহু ইখতিয়ারাতে মুফাদ্দাল (পৃ. ৯৬৯) এবং আশ-শি'র ওয়াশ-শুয়ারা (পৃ. ২৬১)-তে রয়েছে। তৃতীয় পংক্তিটি লিসানুল আরব (নাকার), তাজুল আরুস (নাকার), শারহু ইখতিয়ারাতে মুফাদ্দাল (পৃ. ৯৭০) এবং আল-হামাসাতুল বাসারিয়্যাহ (২/৪১২)-তে রয়েছে। চতুর্থ পংক্তিটি লিসানুল আরব (মাউম) এবং তাজুল আরুস (মাউম)-এ বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
ماذا أؤمّل بعد آل محرّق … تركوا منازلهم وبعد إياد

أهل الخورنق والسّدير وبارق … والقصر ذي الشّرفات من سنداد

نزلوا بأنقرة يسيل عليهم … ماء الفرات يجيء من أطواد

أرض تخيّرها لطيب مقيظها … كعب بن مامة وابن أم دؤاد

جرت الرياح على محلّ ديارهم … فكأنهم كانوا على ميعاد

فأرى النعيم وكلّ ما يلهى به … يوما يصير إلى بلىّ ونفاد

وهذه الشّعراء تبكي الديار، وتصف الآثار، وإنما تسمعهم يذكرون دمنا وأوتادا، وأثافيّ ورمادا، فكيف لم يعجبوا من تذكّرهم أهل الديار بمثل هذه الآثار، وعجبوا من ذكر الله، سبحانه أحسن ما يذكر منها وأولاه بالصّفة، وأبلغه في الموعظة؟.
আল-মুহাররিক বংশের পরে আমি আর কী আশা করতে পারি … তারা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছে, আর ইয়াদ বংশের পরেই বা কী আশা থাকে

তারা খাওয়ারনাক, সাদির ও বারিকের অধিবাসী … এবং সিনদাদের সেই প্রাসাদের, যা সুউচ্চ বারান্দা বিশিষ্ট

তারা আনকারায় বসতি গেড়েছিল, যেখানে তাদের ওপর প্রবাহিত হয় … ফোরাত নদীর পানি, যা সুউচ্চ পাহাড় থেকে নেমে আসে

এমন এক ভূমি, যা এর মনোরম গ্রীষ্মকালীন অবস্থানের জন্য পছন্দ করেছিলেন … কাব ইবনে মামাহ এবং ইবনে উম্মে দুআদ

তাদের ঘরবাড়ির ওপর দিয়ে বায়ু প্রবাহিত হয়েছে … যেন মনে হয় তারা এক নির্ধারিত ক্ষণের অপেক্ষায় ছিল

আমি দেখতে পাই যে পার্থিব সুখ এবং যা কিছু নিয়ে মানুষ মত্ত থাকে … একদিন তা জীর্ণতা ও বিলুপ্তিতে পর্যবসিত হবে

আর এই কবিরা পরিত্যক্ত ভিটার জন্য বিলাপ করে এবং ধ্বংসাবশেষের বর্ণনা দেয়। আপনি কেবল তাদের পশুর বিষ্ঠা, তাঁবুর খুঁটি, উনুনের পাথর ও ছাইয়ের কথা উল্লেখ করতে শুনবেন। তবে তারা কেন ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের স্মরণে এই জাতীয় নিদর্শনের উল্লেখে বিস্মিত হয় না, অথচ তারা আল্লাহর বর্ণনায় বিস্ময় প্রকাশ করে? অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন, যা বর্ণনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত এবং উপদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
باب ذكر العرب وما خصّهم الله به من العارضة والبيان واتّساع المجاز

وإنما يعرف فضل القرآن من كثر نظره، واتسع علمه، وفهم مذاهب العرب وافتنانها في الأساليب، وما خصّ الله به لغتها دون جميع اللغات، فإنه ليس في جميع الأمم أمّة أوتيت من العارضة، والبيان، واتساع المجال، ما أوتيته العرب خصّيصى من الله، لما أرهصه في الرسول، وأراده من إقامة الدليل على نبوّته بالكتاب، فجعله علمه، كما جعل علم كل نبي من المرسلين من أشبه الأمور بما في زمانه المبعوث فيه:

فكان لموسى فلق البحر، واليد، والعصا، وتفجّر الحجر في التّيه بالماء الرّواء، إلى سائر أعلامه زمن السّحر.

وكان لعيسى إحياء الموتى، وخلق الطير من الطين، وإبراء الأكمه والأبرص، إلى سائر أعلامه زمن الطب.

وكان لمحمد صلى الله عليه وآله وسلم، الكتاب الذي لو اجتمعت الإنس والجن على أن يأتوا بمثله، لم يأتوا به، ولو كان بعضهم لبعض ظهيرا، إلى سائر أعلامه زمن البيان.

فالخطيب من العرب، إذا ارتجل كلاما في نكاح، أو حمالة، أو تحضيض، أو صلح، أو ما أشبه ذلك- لم يأت به من واد واحد، بل يفتنّ: فيختصر تارة إرادة التخفيف، ويطيل تارة إرادة الإفهام، ويكرّر تارة إرادة التوكيد، ويخفي بعض معانيه حتى يغمض على أكثر السامعين، ويكشف بعضها حتى يفهمه بعض الأعجميين، ويشير إلى الشيء ويكني عن الشيء.

وتكون عنايته بالكلام على حسب الحال، وقدر الحفل، وكثرة الحشد، وجلالة المقام.

ثمّ لا يأتي بالكلام كلّه، مهذّبا كلّ التّهذيب، ومصفّى كلّ التّصفية، بل تجده يمزج ويشوب، ليدل بالنّاقص على الوافر، وبالغثّ على السمين. ولو جعله كلّه
আরবদের আলোচনা এবং আল্লাহ তাদের যে বাগ্মিতা, প্রাঞ্জলতা ও রূপক প্রকাশের ব্যাপকতা দান করেছেন সেই প্রসঙ্গের অধ্যায়।

কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তারাই উপলব্ধি করতে পারে যাদের পর্যবেক্ষণ গভীর, জ্ঞান ব্যাপক এবং যারা আরবদের প্রকাশভঙ্গি ও তাদের বিচিত্র বাকরীতি এবং অন্যান্য সকল ভাষার তুলনায় আল্লাহ তাদের ভাষাকে যে বিশেষত্ব দান করেছেন সে সম্পর্কে অবগত। কেননা সকল জাতির মধ্যে এমন কোনো জাতি নেই যাদের আরবদের মতো বাগ্মিতা, প্রাঞ্জলতা ও ভাষাশৈলীর ব্যাপকতা প্রদান করা হয়েছে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল, কারণ তিনি রাসূলের ক্ষেত্রে এর পটভূমি তৈরি করেছিলেন এবং কিতাবের মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। ফলে তিনি একে তাঁর মুজিজা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমনভাবে তিনি প্রত্যেক প্রেরিত নবীর মুজিজাকে তাঁদের সমসাময়িক শ্রেষ্ঠ বিষয়ের সদৃশ করে নির্ধারণ করেছিলেন:

সুতরাং মূসার জন্য ছিল সমুদ্র বিদীর্ণ হওয়া, হাত এবং লাঠি, এবং তীয়াহর প্রান্তরে প্রচুর ও সুপেয় পানির ধারা প্রবাহিত হওয়া; জাদুর স্বর্ণযুগে তাঁর অন্যান্য নিদর্শনের সাথে এগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আর ঈসার জন্য ছিল মৃতকে জীবিত করা, কাদা দিয়ে পাখি তৈরি করা এবং জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা; চিকিৎসাবিদ্যার যুগে তাঁর অন্যান্য নিদর্শনের সাথে এগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আর মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য ছিল এমন এক কিতাব, যার সদৃশ কিছু আনয়ন করার জন্য যদি মানুষ ও জিন জাতি একত্রিত হয়, তবুও তারা তার অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না—যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়; বাগ্মিতার স্বর্ণযুগে তাঁর অন্যান্য নিদর্শনের সাথে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আরবদের কোনো বাগ্মী যখন বিবাহ, রক্তপণ বা সন্ধির দায়ভার গ্রহণ, উৎসাহ প্রদান, আপস-মীমাংসা বা এই জাতীয় বিষয়ে উপস্থিত বক্তৃতা প্রদান করত, তখন সে কেবল একঘেয়ে কোনো রীতিতে তা উপস্থাপন করত না। বরং সে বৈচিত্র্য আনয়ন করত: কখনও সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত করত, কখনও বোঝানোর প্রয়োজনে দীর্ঘায়িত করত, কখনও গুরুত্বারোপের জন্য পুনরাবৃত্তি করত, কখনও কিছু অর্থ এমনভাবে আবৃত রাখত যা অধিকাংশ শ্রোতার নিকট অস্পষ্ট থাকত, আবার কখনও এমনভাবে প্রকাশ করত যা অনারবদের কেউ কেউও বুঝে ফেলত। সে কোনো বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করত আবার কোনো বিষয়ে পরোক্ষ বা রূপক শব্দ ব্যবহার করত।

পরিস্থিতির দাবি, মজলিসের মর্যাদা, জনসমাগমের আধিক্য এবং অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য অনুসারে তার বক্তব্যের প্রতি মনোযোগ বা যত্ন নিবদ্ধ থাকত।

এরপর সে তার পুরো বক্তব্যকে পুরোপুরি পরিমার্জিত বা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করে আনত না, বরং আপনি তাকে মিশ্রিত করতে দেখবেন; যেন সে অপূর্ণাঙ্গ দিয়ে পূর্ণাঙ্গকে এবং অসার দিয়ে সারবস্তুকে নির্দেশ করতে পারে। আর সে যদি তার পুরো বক্তব্যকে...
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
نجرا «1» واحدا، لبخسه بهاءه، وسلبه ماءه.

ومثل ذلك الشّهاب من القبس نبرزه للشّعاع، والكوكبان يقترنان، فينقص النّوران، والسّخاب «2» ينظم بالياقوت والمرجان والعقيق والعقيان، ولا يجعل كلّه جنسا واحدا من الرفيع الثّمين، ولا النّفيس المصون.

وألفاظ العرب مبنية على ثمانية وعشرين حرفا، وهي أقصى طوق اللّسان.

وألفاظ جميع الأمم قاصرة عن ثمانية وعشرين ولست واجدا في شيء من كلامهم حرفا ليس في حرفنا إلا معدولا عن مخرجه شيئا، مثل الحرف المتوسط مخرجي القاف والكاف، والحرف المتوسط مخرجي الفاء والباء.

فهذه حال العرب في مباني ألفاظها.

ولها الإعراب الذي جعله الله وشيا لكلامها، وحلية لنظامها، وفارقا في بعض الأحوال بين الكلامين المتكافئين، والمعنيين المختلفين كالفاعل والمفعول، لا يفرّق بينهما، إذا تساوت حالاهما في إمكان الفعل أن يكون لكلّ واحد منهما- إلا بالإعراب.

ولو أن قائلا قال: هذا قاتل أخي بالتنوين، وقال آخر: هذا قاتل أخي بالإضافة- لدّل التنوين على أنه لم يقتله، ودلّ حذف التنوين على أنه قد قتله.

ولو أن قارئا قرأ: فَلا يَحْزُنْكَ قَوْلُهُمْ إِنَّا نَعْلَمُ ما يُسِرُّونَ وَما يُعْلِنُونَ (76) [يس:

76] وترك طريق الابتداء بإنّا، وأعمل القول فيها بالنصب على مذهب من ينصب (أنّ) بالقول كما ينصبها بالظن- لقلب المعنى عن جهته، وأزاله عن طريقته، وجعل النبيّ، عليه السلام، محزونا لقولهم: إنّ الله يعلم ما يسرّون وما يعلنون. وهذا كفر ممن تعمّده، وضرب من اللحن لا تجوز الصلاة به، ولا يجوز للمأموين أن يتجوّزوا فيه.

وقد قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: «لا يقتل قرشي صبرا بعد اليوم» «3» .

فيمن رواه «حزما» أوجب ظاهر الكلام للقرشي ألا تقتل إن ارتد، ولا يقتصّ منه إن قتل.

--------------------------------------------

(1) النجر: اللون.

(2) السخاب، بالخاء المعجمة: كل قلادة كانت ذات جواهر، أو لم تكن.

(3) أخرجه مسلم في الجهاد حديث 88، وأحمد في المسند 3/ 412، 4/ 213، والدارمي 2/ 198، والبيهقي في دلائل النبوة 5/ 79، والحميدي في مسنده 568، وابن أبي عاصم في السنة 2/ 638، وابن أبي شيبة في مصنفه 12/ 173، 14/ 490، والتبريزي في مشكاة المصابيح 5993، والمتقي الهندي في كنز العمال 33804، 33885، 37985. [.....]
একই রঙের হলে তা তার সৌন্দর্যকে ক্ষুণ্ণ করত এবং এর চাকচিক্য হরণ করত।

এর উদাহরণ আগুনের ফুলকি থেকে বিচ্ছুরিত স্ফুলিঙ্গের ন্যায় যা আমরা আলোর জন্য প্রকাশ করি, অথবা দুটি নক্ষত্রের ন্যায় যারা যখন একত্রিত হয় তখন তাদের আলো কমে যায়। আর গলার হার ইয়াকুত, প্রবাল, আকিক ও স্বর্ণ দ্বারা গাঁথা হয়; এর সবটুকুকে কোনো এক প্রকারের সাধারণ মূল্যবান বস্তু বা সংরক্ষিত দামি বস্তু দিয়ে তৈরি করা হয় না।

আরবি শব্দসমূহ আটাশটি অক্ষরের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যা জিহ্বার উচ্চারণের সর্বোচ্চ ক্ষমতা।

অন্য সকল জাতির শব্দসমূহ এই আটাশটি অক্ষর থেকে কম। তাদের কোনো ভাষায় এমন কোনো অক্ষর পাওয়া যাবে না যা আমাদের অক্ষরে নেই; কেবল কিছু উচ্চারণস্থল থেকে কিছুটা বিচ্যুত হতে পারে, যেমন ক্বফ ও কাফ-এর মধ্যবর্তী কোনো ধ্বনি, অথবা ফা ও বা-এর মধ্যবর্তী কোনো ধ্বনি।

শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে আরবদের অবস্থা এমনই।

আর তাদের রয়েছে ব্যাকরণিক বিভক্তি (ইরাব), যাকে আল্লাহ তাদের বক্তব্যের জন্য কারুকাজ, তাদের বিন্যাসের অলঙ্কার এবং কিছু ক্ষেত্রে একই রূপ ও ভিন্ন অর্থের দুটি বাক্যের মধ্যে পার্থক্যকারী বানিয়েছেন। যেমন কর্তা (ফায়িল) ও কর্ম (মাফউল); যখন উভয়ের ক্ষেত্রে ক্রিয়া সম্পাদনের সম্ভাবনা সমান থাকে, তখন ব্যাকরণিক বিভক্তি ছাড়া তাদের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব নয়।

যদি কোনো বক্তা তানউইনসহ বলে: "হাজা ক্বতিলুন আখি" (এটি আমার ভাইয়ের হত্যাকারী হতে যাচ্ছে), আর অন্যজন তানউইন ছাড়া ইজাফতসহ বলে: "হাজা ক্বতিলু আখি" (এটি আমার ভাইয়ের হত্যাকারী); তবে তানউইন প্রমাণ করে যে সে তাকে হত্যা করেনি, আর তানউইন বিলুপ্ত হওয়া প্রমাণ করে যে সে তাকে ইতিমধ্যে হত্যা করেছে।

যদি কোনো পাঠকারী পাঠ করে: "অতএব তাদের কথা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে। নিশ্চয় আমি জানি যা তারা গোপন করে এবং যা তারা প্রকাশ করে" [ইয়াসিন: ৭৬] এবং "নিশ্চয় আমি" (ইন্না) অংশটি দিয়ে নতুন বাক্য শুরু করার পদ্ধতি ত্যাগ করে এবং "বলা" (ক্বওল) ক্রিয়ার প্রভাবে তাকে কর্ম হিসেবে নসব প্রদান করে—যেমনটি কেউ কেউ "ধারণা করা" (জ্বন) অর্থে "আন্না" ব্যবহার করে থাকে—তবে তা অর্থকে তার সঠিক দিক থেকে উল্টে দেবে এবং তার পথ থেকে বিচ্যুত করবে। এতে এমন অর্থ দাঁড়াবে যে নবী, আলাইহিস সালাম, এই কারণে ব্যথিত ছিলেন যে আল্লাহ যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে তা জানেন। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন করবে তার পক্ষ থেকে এটি কুফরি। এটি এমন এক প্রকারের ব্যাকরণিক ভুল (লাহুন) যার মাধ্যমে নামাজ জায়েজ হবে না এবং মুক্তাদিদের জন্যও তা গ্রহণ করা বৈধ নয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আজকের পর কোনো কুরাইশকে বন্দী অবস্থায় (সবর) হত্যা করা হবে না।"

যারা একে "হাজমান" (দৃঢ় সংকল্প) শব্দে বর্ণনা করেছেন, তাদের বর্ণনায় শব্দের বাহ্যিক রূপ অনুযায়ী এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে, কোনো কুরাইশ মুরতাদ হলেও তাকে হত্যা করা যাবে না এবং সে কাউকে হত্যা করলে তার থেকে কিসাস নেওয়া যাবে না।

--------------------------------------------

(১) নাজর: বর্ণ বা রং।

(২) সাখাব: এটি এমন হার যাতে মণি-মুক্তা থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে।

(৩) এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন জিহাদ অধ্যায়ে, হাদিস ৮৮; আহমাদ মুসনাদে ৩/৪১২, ৪/২১৩; দারেমি ২/১৯৮; বায়হাকি দালাইলুন নুবুওয়াহ ৫/৭৯; হুমাইদি তার মুসনাদে ৫৬৮; ইবনে আবি আসিম আস-সুন্নাহ ২/৬৩৮; ইবনে আবি শাইবাহ তার মুসান্নাফে ১২/১৭৩, ১৪/৪৯০; তাবরিজি মিশকাতুল মাসাবিহ ৫৯৯৩; মুত্তাকি হিন্দি কানজুল উম্মাল ৩৩৮০৪, ৩৩৮৮৫, ৩৭৯৮৫। [.....]
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن رواه «رفعا» انصرف التأويل إلى الخبر عن قريش: أنه لا يرتدّ منها أحد عن الإسلام فيستحقّ القتل.

أفما ترى الإعراب كيف فرق بين هذين المعنيين.

وقد يفرقون بحركة البناء في الحرف الواحد بين المعنيين.

فيقولون: رجل لعنة، إذا كان يلعنه الناس. فإن كان هو الذي يلعن الناس، قالوا:

رجل لعنة فحركوا العين بالفتح.

ورجل سبّة إذا كان يسبه الناس، فإن كان هو يسبّ الناس قالوا: رجل سببة.

وكذلك: هزأة، وهزأة وسخرة، وسخرة وضحكة، وضحكة وخدعة، وخدعة.

وقد يفرقون بين المعنيين المتقاربين بتغيير حرف في الكلمة حتى يكون تقارب ما بين اللفظين، كتقارب ما بين المعنيين.

كقولهم للماء الملح الذي لا يشرب إلا عند الضرورة: شروب، ولما كان دونه مما قد يتجوّز به: شريب.

وكقولهم لما ارفضّ على الثوب من البول إذ كان مثل رؤوس الإبر: نضح، ورشّ الماء عليه يجزىء من الغسل، فإن زاد على ذلك قليلا قيل له: نضخ ولم يجزىء فيه إلا الغسل.

وكقولهم للقبض بأطراف الأصابع: قبض وبالكف: قبض وللأكل بأطراف الأسنان: قضم وبالفم: خضم.

ولما ارتفع من الأرض: حزن فإن زاد قليلا قيل: حزم.

وللذي يجد البرد: خصر فإن كان مع ذلك جوع قيل: خرص.

وللنار إذا طفئت: هامدة فإن سكن اللهب وبقي من جمرها شيء قيل: خامدة.

وللقائم من الخبل: صائم فإن كان ذلك من حفىّ أو وجى، قيل: صائن.

وللعطاء: شكد فإن كان مكافأة قيل: شكم.

وللخطأ من غير التعمد: غلط فإن كان في الحساب قيل: غلت.

وللضيق في العين: خوص فإن كان ذلك في مؤخّرها قيل: حوص.
যারা একে "রাফ" (পেশ) দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যাখ্যার মোড় কুরাইশদের সম্পর্কে সংবাদের দিকে ঘুরে যায় যে, তাদের মধ্য হতে কেউ ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হবে না যার ফলে সে হত্যার যোগ্য হয়।

আপনি কি দেখছেন না যে, ব্যাকরণিক চিহ্ন (ইরাব) কীভাবে এই দুটি অর্থের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছে?

কখনও কখনও তারা একটি বর্ণের গঠনমূলক স্বরচিহ্নের (হরকত) পরিবর্তনের মাধ্যমে দুটি অর্থের মধ্যে পার্থক্য করে থাকেন।

যেমন তারা বলেন: ‘লু’নাহ’ (অভিশপ্ত ব্যক্তি), যখন মানুষ তাকে অভিশাপ দেয়। আর যদি সে নিজেই মানুষকে অভিশাপ দেয়, তখন তারা বলে:

‘লু’আনাহ’, এখানে তারা ‘আইন’ বর্ণটিকে ফাতহা বা জবর দিয়ে উচ্চারণ করেন।

অনুরূপভাবে ‘সুব্বাহ’ বলা হয় যখন মানুষ তাকে গালি দেয়, আর যদি সে নিজেই মানুষকে গালি দেয় তবে তারা বলে: ‘সুবাবাহ’।

ঠিক তেমনি: ‘হুযআহ’ ও ‘হুযাআহ’, ‘সুখরাহ’ ও ‘সুখারাাহ’, ‘দুহকাহ’ ও ‘দুহাকাহ’, ‘খুদআহ’ ও ‘খুদাআহ’।

আবার কখনও তারা কাছাকাছি অর্থের শব্দদ্বয়ের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য শব্দের একটি বর্ণ পরিবর্তন করেন, যাতে শব্দ দুটির উচ্চারণগত নৈকট্য তাদের অর্থের নৈকট্যের অনুরূপ হয়।

যেমন তারা সেই লবণাক্ত পানিকে বলেন ‘শারুব’ যা কেবল নিরুপায় অবস্থায় পান করা হয়, আর যা এর চেয়ে কিছুটা কম লবণাক্ত এবং যা মোটামুটি পানযোগ্য তাকে বলেন: ‘শারিব’।

অনুরূপভাবে কাপড়ে পড়া পেশাবের সেই বিন্দুর ক্ষেত্রে তারা বলেন ‘নাদহ’ যা সুঁইয়ের মাথার মতো সূক্ষ্ম, আর এর ওপর সামান্য পানি ছিটিয়ে দিলেই ধোয়ার কাজ হয়ে যায়। কিন্তু যদি তা এর চেয়ে সামান্য বেশি হয়, তবে তাকে বলা হয় ‘নাদখ’ এবং সেক্ষেত্রে ধোয়া ছাড়া অন্য কিছু যথেষ্ট হয় না।

তেমনিভাবে আঙুলের ডগা দিয়ে ধরাকে বলা হয় ‘ক্বাবদ’ (ক্বাফ দিয়ে) এবং হাতের তালু দিয়ে ধরাকে বলা হয় ‘কাবদ’ (কাফ দিয়ে)। আর সামনের দাঁত দিয়ে চিবিয়ে খাওয়াকে বলা হয় ‘ক্বাদম’ এবং পুরো মুখ দিয়ে চিবানোকে বলা হয় ‘খাদম’।

আর যা জমি থেকে কিছুটা উঁচু তাকে বলা হয় ‘হুযন’, আর যদি তা আরও কিছুটা উঁচু হয় তবে বলা হয় ‘হুযম’।

যে ব্যক্তি শীত অনুভব করে তাকে বলা হয় ‘খাসির’, আর যদি শীতের সাথে ক্ষুধাও থাকে তবে বলা হয় ‘খারিস’।

আগুন যখন নিভে যায় তখন তাকে বলা হয় ‘হামিদাহ’, আর যদি আগুনের শিখা থেমে যায় কিন্তু কয়লার আঁচ অবশিষ্ট থাকে তখন তাকে বলা হয় ‘খামিদাহ’।

ক্লান্তির কারণে দাঁড়িয়ে থাকাকে বলা হয় ‘সায়িম’, আর যদি তা খুর বা পায়ের ব্যথার কারণে হয় তবে বলা হয় ‘সায়িন’।

সাধারণ দানকে বলা হয় ‘শাকাদ’, কিন্তু যদি তা প্রতিদান হিসেবে হয় তবে বলা হয় ‘শাকাম’।

অনিচ্ছাকৃত ভুলকে বলা হয় ‘গালাত’ (ত্ব দিয়ে), আর যদি তা হিসাবের ক্ষেত্রে হয় তবে বলা হয় ‘গালাত’ (তা দিয়ে)।

চোখের সংকীর্ণতাকে বলা হয় ‘খাওয়াস’ (খা দিয়ে), আর যদি তা চোখের পেছনের অংশে বা প্রান্তভাগে হয় তবে তাকে বলা হয় ‘হাওয়াস’ (হা দিয়ে)।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
وقد يكتنف الشيء معان فيشتقّ لكل معنى منها اسم من اسم ذلك الشيء، كاشتقاقهم من البطن للخميص: مبطّن وللعظيم البطن إذا كان خلقة: بطين فإذا كان من كثرة الأكل قيل مبطان وللمنهوم: بطن وللعليل البطن: مبطون.

ويقولون: وجدت الضّالة ووجدت في الغضب، ووجدت في الحزن، ووجدت في الاستغناء. ثم يجعلون الاسم الضّالة: وجودا ووجدانا وفي الحزن وجدا وفي الغضب موجدة وفي الاستغناء وجدا.

في أشياء كثيرة، ليس لاستقصاء ذكرها في كتابنا هذا، وجه.

وللعرب الشّعر الذي أقامه الله تعالى لها مقام الكتاب لغيرها، وجعله لعلومها مستودعا، ولآدابها حافظا، ولأنسابها مقيّدا، ولأخبارها ديوانا لا يرثّ على الدّهر، ولا يبيد على مرّ الزّمان.

وحرسه بالوزن، والقوافي، وحسن النّظم، وجودة التخيير- من التدليس والتّغيير، فمن أراد أن يحدث فيه شيئا عسر ذلك عليه، ولم يخف له كما يخفى في الكلام المنثور.

وقد تجد الشاعر منهم ربما زال عن سننهم شيئا، فيقولون له: ساندت، وأقويت، وأكفأت، وأوطأت.

وإنما خالف في السّناد بين ردفين، أو حرفين قبل ردفين، كقول عمرو بن كلثوم «1» :

ألا هبّي بصحنك فاصبحينا … ولا تبقي خمور الأندرينا

وقال في بيت آخر «2» :

كأن متونهنّ متون غدر … تصفّقها الرياح إذا جرينا

فالحاء من فأصبحينا (ردف) وهي مكسورة، والراء من جرينا (ردف) وهي مفتوحة.

--------------------------------------------

(1) البيت من الوافر، وهو في ديوان عمرو بن كلثوم ص 64، وخزانة الأدب 3/ 178، وشرح شواهد الشافية ص 251، وشرح شواهد المغني 1/ 119، ولسان العرب (مدر) ، (ندر) ، (صحن) .

(2) البيت من الوافر، وهو في ديوان عمرو بن كلثوم ص 85، وجمهرة أشعار العرب 1/ 409، وشرح ديوان امرئ القيس ص 331، وشرح القصائد السبع ص 416، وشرح القصائد العشر ص 357، وشرح المعلقات السبع ص 184، وشرح المعلقات العشر ص 95، ولسان العرب (غرا) ، وفيه:

«غرينا» بدل «جرينا» . والبيت بلا نسبة في تاج العروس (سند) ، (غرا) ، وكتاب العين 7/ 229.
কখনো কখনো কোনো বস্তুকে ঘিরে অনেকগুলো অর্থ থাকে, ফলে সেই বস্তুর নাম থেকেই প্রতিটি অর্থের জন্য সেই নামের একটি করে রূপ উৎপন্ন করা হয়। যেমন ‘বাতন’ (পেট) শব্দ থেকে তারা পেট-পাতলা ব্যক্তির জন্য ‘মুবাত্তান’, জন্মগতভাবে বড় পেটের অধিকারীর জন্য ‘বাতীন’, অতিভোজনের কারণে পেট বড় হয়ে গেলে ‘মিবতান’, অতি লোভী ব্যক্তির জন্য ‘বাতন’ এবং উদরাময় বা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ‘মাবতুন’ শব্দ ব্যবহার করে থাকে।

তারা বলে থাকে: ‘হারানো বস্তু খুঁজে পাওয়া’ (ওয়াজাদতু), ‘ক্রোধাম্বিত হওয়া’ (ওয়াজাদতু), ‘ব্যথিত হওয়া’ (ওয়াজাদতু) এবং ‘প্রাচুর্য লাভ করা’ (ওয়াজাদতু)। অতঃপর তারা হারানো বস্তু পাওয়ার ক্ষেত্রে শব্দমূল হিসেবে ‘উজুদ’ বা ‘উজিদান’, দুঃখের ক্ষেত্রে ‘ওয়াজদ’, রাগের ক্ষেত্রে ‘মাওজিদাহ’ এবং প্রাচুর্যের বা অভাবমুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ‘ওয়াজদ’ শব্দ গঠন করে।

এমন আরও অনেক বিষয় রয়েছে, যার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা এই গ্রন্থে প্রদান করার অবকাশ নেই।

আরবদের জন্য রয়েছে কবিতা, যাকে মহান আল্লাহ তাদের জন্য অন্যান্য জাতির নিকট কিতাবের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। তিনি একে তাদের জ্ঞানভাণ্ডারের আধার, তাদের শিষ্টাচারের রক্ষক, তাদের বংশলতিকার সংরক্ষণকারী এবং তাদের ইতিবৃত্তের এক কালজয়ী মহাফেজখানা করেছেন, যা মহাকালের আবর্তনে জীর্ণ হয় না এবং সময়ের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয় না।

তিনি একে ছন্দ, অন্ত্যমিল, সুনিপুণ বিন্যাস এবং উৎকৃষ্ট শব্দ চয়ন দ্বারা জালিয়াতি ও বিকৃতি থেকে সুরক্ষিত রেখেছেন। ফলে কেউ যদি এতে নতুন কিছু সংযোজন করতে চায়, তবে তা তার জন্য দুরূহ হয়ে পড়ে এবং গদ্যের ন্যায় তা সহজে লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না।

কখনো কখনো আপনি তাদের কোনো কবিকে তাদের প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি থেকে বিচ্যুত হতে দেখবেন, তখন তারা তাকে বলে: তুমি ‘সিনাদ’, ‘ইকওয়া’, ‘ইকফা’ অথবা ‘ইতা’ (নামক কাব্যিক ত্রুটি) করেছ।

তিনি মূলতঃ ‘সিনাদ’ বা বৈসাদৃশ্য ঘটিয়েছেন দুই ‘রিদফ’ (ছন্দাক্ষর) এর মধ্যে অথবা ‘রিদফ’ এর পূর্ববর্তী দুই বর্ণের মধ্যে। যেমন আমর ইবনে কুলসুমের পঙক্তি:

ওহে সুন্দরী! তোমার পাত্রটি নিয়ে জাগো এবং আমাদের প্রভাতি পানীয় পান করাও, আর আন্দারিনের শরাব অবশিষ্ট রেখো না।

তিনি অন্য এক পঙক্তিতে বলেছেন:

যেন তাদের পিঠগুলো স্বচ্ছ পানির তলের মতো, যার ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে গেলে তা ঢেউ খেলে যায়।

এখানে ‘ফাসবাহিনা’ শব্দের ‘হা’ বর্ণটি ‘রিদফ’ এবং তা কাসরা (জের) যুক্ত, আর ‘জরাইনা’ শব্দের ‘রা’ বর্ণটি ‘রিদফ’ এবং তা ফাতহা (জবর) যুক্ত।

--------------------------------------------

(১) পঙক্তিটি ওয়াফির ছন্দের। এটি আমর ইবনে কুলসুমের দিওয়ানের ৬৪ পৃষ্ঠায়, খিজানাতুল আদব ৩/১৭৮, শারহু শাওয়াওহিদুশ শাফিয়াহ ২৫১ পৃষ্ঠা, শারহু শাওয়াওহিদুল মুগনি ১/১১৯ এবং লিসানুল আরব-এর ‘মাদার’, ‘নাদার’ ও ‘সাহান’ অধ্যায়ে বর্ণিত।

(২) পঙক্তিটি ওয়াফির ছন্দের। এটি আমর ইবনে কুলসুমের দিওয়ানের ৮৫ পৃষ্ঠায়, জামহারাতু আশআরিল আরব ১/৪০৯, শারহু দিওয়ানি ইমরাউল কায়েস ৩৩১ পৃষ্ঠা, শারহুল কাসাইদিস সাব’ ৪১৬ পৃষ্ঠা, শারহুল কাসাইদিল উশর ৩৫৭ পৃষ্ঠা, শারহুল মুআল্লাকাতিস সাব’ ১৮৪ পৃষ্ঠা, শারহুল মুআল্লাকাতিল উশর ৯৫ পৃষ্ঠা এবং লিসানুল আরবে ‘গরা’ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে ‘জরাইনা’ এর স্থলে ‘গরাইনা’ পাঠান্তর রয়েছে। পঙক্তিটি তাজুল আরুস-এর ‘সানাদ’ ও ‘গরা’ এবং কিতাবুল আইন ৭/২২৯-এ কোনো কবির নাম উল্লেখ ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
وخالف في (الإقواء) بحرف نقصه من شطر البيت الأول، كقول الآخر «1» :

جنّت نوار ولات هنّا حنّت … وبدا الذي كانت نوار أجنّت

لمّا رأت ماء السّلا مشروبا … والفرث يعصر في الإناء أرنّت

وكقول حميد بن ثور «2» :

إني كبرت وإنّ كلّ كبير … ممّا يظنّ به يملّ ويفتر

وخالف في الإكفاء بأن رفع قافية وخفض أخرى.

وخالف في الإبطاء بأن أعاد قافية مرتين.

وقال ابن الرّقاع يذكر تنقيحه شعره «3» :

وقصيدة قد بتّ أجمع بينها … حتى أقوّم ميلها وسنادها

نظر المثقّف في كعوب قناته … حتى يقيم ثقافه منآدها

وقال ذو الرّمّة «4» :

وشعر قد أرقت له غريب … أجانبه المساند والمحالا

هذا قول أبي عبيدة.

--------------------------------------------

(1) البيتان من الكامل، والبيت الأول لشبيب بن جعيل في الدرر 1/ 244، 2/ 119، وشرح شواهد المغني ص 919، والمؤتلف والمختلف ص 84، والمقاصد النحوية 1/ 418، ولحجل بن نضلة في الشعر والشعراء ص 102، ولهما معا في خزانة الأدب 4/ 195، وبلا نسبة في تخليص الشواهد ص 130، وتذكرة النحاة ص 734، والجنى الداني ص 489، وجواهر الأدب ص 249، وخزانة الأدب 5/ 463، وشرح الأشموني 1/ 66، 126، ومغني اللبيب ص 592، وهمع الهوامع 1/ 78، 126.

والبيت الثاني لحجل بن نضلة في لسان العرب (سلا) . ويروى صدر البيت في اللسان:

لما رأت ماء السّلى مشروبها

(2) البيت من الكامل، وهو في ديوان حميد بن ثور ص 85، والشعر والشعراء 1/ 43.

(3) البيتان من الكامل، وهما لعدي بن الرقاع في ديوانه ص 38، والشعر والشعراء 1/ 24، والموشح ص 13، والطرائف الأدبية ص 89، وخزانة الأدب 4/ 470، ومعجم الشعراء ص 253، والأغاني 8/ 177، وكتاب الحيوان 3/ 64، والبيان والتبيين 3/ 244، وبلا نسبة في مقاييس اللغة 1/ 383.

(4) البيت من الوافر، وهو في ديوان ذي الرمة ص 1532، ولسان العرب (سند) ، وجمهرة اللغة ص 1124.
তিনি 'ইকওয়া' (Iqwa) এর ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এমন একটি বর্ণ হ্রাসের মাধ্যমে যা প্রথম চরণের অংশবিশেষ থেকে বাদ পড়েছে, যেমন অন্য কবির উক্তি:

নাওয়ার উন্মাদ হয়েছে, অথচ এখানে কান্নার সময় নয় ... এবং প্রকাশ পেল যা নাওয়ার গোপন করেছিল।

যখন সে গর্ভফুলের পানি পানীয় হিসেবে দেখল ... এবং পাত্রে বিষ্ঠা নিংড়ানো হচ্ছে, তখন সে উচ্চস্বরে আর্তনাদ করল।

যেমন হুমায়দ বিন সাউরের উক্তি:

নিশ্চয় আমি বৃদ্ধ হয়েছি, আর প্রত্যেক বৃদ্ধ ব্যক্তি সম্পর্কে ... এমন ধারণা করা হয় যে সে ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

তিনি 'ইকফা' (Ikfa) এর ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এভাবে যে, তিনি একটি অন্ত্যমিলে পেশ এবং অন্যটিতে যের প্রদান করেছেন।

তিনি 'ইবতা' (Ibta) এর ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেছেন এভাবে যে, তিনি একই অন্ত্যমিল দুবার পুনরাবৃত্তি করেছেন।

ইবনুর রিকা' তার কবিতা পরিমার্জনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন:

এমন অনেক কবিতা রয়েছে যা বিন্যস্ত করতে আমি রাত কাটিয়েছি ... যাতে আমি এর বিচ্যুতি ও 'সিনাদ' ত্রুটি সংশোধন করতে পারি।

যেমন একজন শিল্পী তার বর্শার গিঁটগুলোর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেন ... যাতে তার সংশোধন যন্ত্র এর বাঁকা অংশকে সোজা করে দেয়।

যুর রুম্মাহ বলেছেন:

এমন এক অদ্ভুত কবিতা যার জন্য আমি নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি ... আমি একে 'মুসানাদ' (ত্রুটিযুক্ত অন্ত্যমিল) ও অসারতা থেকে দূরে রাখি।

এটি আবু উবাইদাহর উক্তি।

--------------------------------------------

(১) কবিতা দুটি 'কামিল' ছন্দের। প্রথম পঙক্তিটি শাবিব বিন জুআইলের; আদ-দুরার ১/২৪৪, ২/১১৯; শারহু শাওয়াাহিদিল মুগনি, পৃষ্ঠা ৯১৯; আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ, পৃষ্ঠা ৮৪; আল-মাকাসিদ আন-নাহবিয়্যাহ ১/৪১৮। এটি হাজল বিন নাদলাহর নামেও বর্ণিত হয়েছে; আশ-শি'র ওয়াশ-শু'আরা, পৃষ্ঠা ১০২। উভয়ের নামেই বর্ণিত হয়েছে খিজানাতুল আদব ৪/১৯৫ গ্রন্থে। নামহীনভাবে বর্ণিত হয়েছে তাখলিসুশ শাওয়াাহিদ পৃষ্ঠা ১৩০; তাযকিরাতুন নুহাত পৃষ্ঠা ৭৩৪; আল-জানি আদ-দানি পৃষ্ঠা ৪৮৯; জওয়াহিরুল আদব পৃষ্ঠা ২৪৯; খিজানাতুল আদব ৫/৪৬৩; শারহুল আশমুনি ১/৬৬, ১২৬; মুগনিল লাবিব পৃষ্ঠা ৫৯২; হাম'উল হাওয়াামি' ১/৭৮, ১২৬।

দ্বিতীয় পঙক্তিটি হাজল বিন নাদলাহর; লিসানুল আরব (সলা)। লিসানুল আরবে পঙক্তিটির প্রথমাংশ এভাবে বর্ণিত হয়েছে:

যখন সে গর্ভফুলের পানিকে তার পানীয় হিসেবে দেখল

(২) পঙক্তিটি 'কামিল' ছন্দের, এটি হুমায়দ বিন সাউরের দিওয়ান পৃষ্ঠা ৮৫ এবং আশ-শি'র ওয়াশ-শু'আরা ১/৪৩ গ্রন্থে রয়েছে।

(৩) পঙক্তি দুটি 'কামিল' ছন্দের, এগুলো আদি বিন রিকা'র দিওয়ান পৃষ্ঠা ৩৮; আশ-শি'র ওয়াশ-শু'আরা ১/২৪; আল-মুওয়াশশাহ পৃষ্ঠা ১৩; আত-তারায়েফ আল-আদবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৮৯; খিজানাতুল আদব ৪/৪৭০; মু'জামুশ শু'আরা পৃষ্ঠা ২৫৩; আল-আগানি ৮/১৭৭; কিতাবুল হাইওয়ান ৩/৬৪; আল-বায়ান ওয়াত তাবয়িন ৩/২৪৪ এবং নামহীনভাবে মাকায়িসুল লুগাহ ১/৩৮৩ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(৪) পঙক্তিটি 'ওয়াফির' ছন্দের, এটি যুর রুম্মাহর দিওয়ান পৃষ্ঠা ১৫৩২; লিসানুল আরব (সনাদ) এবং জামহারাতুল লুগাহ পৃষ্ঠা ১১২৪ গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
وبعضهم يجعل الإقواء رفع قافية وجرّ أخرى.

وقول أبي عبيدة أجود عندي لأن الإقواء من القوّة، والقوّة: طاقة من الحبل، يقال: ذهبت قوّة من الحبل، إذا ذهبت منه طاقة، وكذلك إذا ذهب جزء من البيت، وهو الذي يسمى المزاحف. فقد ذهبت منه قوة، كما ذهب قوة من الحبل، كما قال ذلك «1» :

لما رأت ماء السلا مشروبا فقد ذهب منه شيء، فلو قال: (مشروبة) لكان مستويا.

وللعرب المجازات في الكلام، ومعناها: طرق القول ومآخذه. ففيها الاستعارة:

والتمثيل، والقلب، والتقديم، والتأخير، والحذف، والتكرار، والإخفاء، والإظهار، والتعريض، والإفصاح، والكناية، والإيضاح، ومخاطبة الواحد مخاطبة الجميع، والجميع خطاب الواحد، والواحد والجميع خطاب الاثنين، والقصد بلفظ الخصوص لمعنى العموم، وبلفظ العموم لمعنى الخصوص مع أشياء كثيرة ستراها في أبواب المجاز إن شاء الله تعالى.

وبكل هذه المذاهب نزل القرآن ولذلك لا يقدر أحد من التراجم على أن ينقله إلى شيء من الألسنة، كما نقل الإنجيل عن السّريانية إلى الحبشيّة والرّومية، وترجمت التوراة والزبور، وسائر كتب الله تعالى بالعربية لأن العجم لم تتّسع في المجاز اتّساع العرب.

ألا ترى أنك لو أردت أن تنقل قوله تعالى: وَإِمَّا تَخافَنَّ مِنْ قَوْمٍ خِيانَةً فَانْبِذْ إِلَيْهِمْ عَلى سَواءٍ [الأنفال: 58]- لم تستطع أن تأتي بهذه الألفاظ مؤدية عن المعنى الذي أودعته حتى تبسط مجموعها، وتصل مقطوعها وتظهر مستورها، فتقول: إن كان بينك وبين قوم هدنة وعهد، فخفت منهم خيانة ونقضا، فأعلمهم أنك قد نقضت ما شرطت لهم، وآذنهم بالحرب لتكون أنت وهم في العلم بالنّقض على استواء.

وكذلك قوله تعالى: فَضَرَبْنا عَلَى آذانِهِمْ فِي الْكَهْفِ سِنِينَ عَدَداً (11) [الكهف:

11] إن أردت أن تنقله بلفظه، لم يفهمه المنقول إليه، فإن قلت: أنمناهم سنين عددا،

--------------------------------------------

(1) يروى البيت بتمامه:

لمّا رأت ماء السّلى مشروبها … والفرث يعصر في الإناء أرنّت

والبيت من الكامل، وهو لحجل بن نضلة في لسان العرب (سلا) .
এবং তাদের কেউ কেউ ইকোয়া বলতে একটি অন্ত্যমিলের রফ' (পেশ) এবং অন্যটির জর (জের) হওয়াকে নির্ধারণ করেন।

আর আবু উবাইদাহর বক্তব্য আমার কাছে অধিকতর উত্তম; কারণ ইকোয়া শব্দটি আল-কুওয়াহ (শক্তি বা তন্তু) থেকে এসেছে। আর কুওয়াহ হলো দড়ির একটি তন্তু। বলা হয়: দড়ি থেকে একটি কুওয়াত চলে গেছে, যখন তার একটি তন্তু চলে যায়। ঠিক তেমনি যখন কাব্যের চরণের একটি অংশ চলে যায়—যাকে মুজাহাফ বলা হয়—তখন তা থেকে একটি শক্তি চলে গেছে বলে গণ্য হয়, যেমনটি দড়ি থেকে একটি তন্তু চলে গেলে হয়। যেমনটি কবি বলেছেন:

যখন সে গর্ভফুলের পানি পানকৃত অবস্থায় দেখল। এখানে একটি অংশ বিলুপ্ত হয়েছে। যদি সে 'মাশরুবাহ' বলত, তবে তা সোজা বা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো।

আর আরবদের কথাবার্তায় রূপক অলঙ্কার রয়েছে, যার অর্থ হলো: বক্তব্যের পদ্ধতি ও প্রয়োগের ধারা। এর মধ্যে রয়েছে রূপক (ইস্তিআরাহ):

উপমা, শব্দের স্থান পরিবর্তন, অগ্রবর্তিতা, পশ্চাদবর্তিতা, বিলোপ, পুনরাবৃত্তি, গোপন করা, প্রকাশ করা, ইঙ্গিত, স্পষ্ট বর্ণনা, পরোক্ষ উক্তি, স্পষ্টীকরণ, একজনকে বহুবচনের মাধ্যমে সম্বোধন করা, বহুবচনকে একবচনের মাধ্যমে সম্বোধন করা, এবং একবচন ও বহুবচন উভয়কে দ্বিবচনের মাধ্যমে সম্বোধন করা; আবার বিশেষ শব্দের মাধ্যমে সাধারণ অর্থ এবং সাধারণ শব্দের মাধ্যমে বিশেষ অর্থ গ্রহণ করা—এমন আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি রূপকের অধ্যায়গুলোতে দেখতে পাবেন।

আর এই সকল পদ্ধতিতেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এই কারণেই অনুবাদকদের কেউ একে অন্য কোনো ভাষায় সেভাবে স্থানান্তরিত করতে সক্ষম নয়, যেভাবে ইঞ্জিলকে সুরিয়ানি ভাষা থেকে হাবশি ও রোমান ভাষায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে, কিংবা যেভাবে তাওরাত, যাবুর ও আল্লাহর অন্যান্য কিতাবসমূহকে আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছে; কারণ অনারবরা রূপক ব্যবহারে আরবদের মতো প্রশস্ততা অর্জন করতে পারেনি।

আপনি কি দেখেন না যে, আপনি যদি মহান আল্লাহর এই বাণী অনুবাদ করতে চান: "আর যদি তুমি কোনো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে খেয়ানতের আশঙ্কা করো, তবে তুমিও তাদের সাথে কৃত চুক্তি বাতিল করো সমতার ভিত্তিতে" [আনফাল: ৫৮]—তবে আপনি এমন শব্দাবলি আনতে পারবেন না যা এতে নিহিত অর্থের পূর্ণ হক আদায় করবে, যতক্ষণ না আপনি এর সংক্ষিপ্ত বিষয়কে বিস্তৃত করেন, বিচ্ছিন্নকে সংযুক্ত করেন এবং অপ্রকাশ্যকে প্রকাশ করেন। অর্থাৎ আপনি বলবেন: যদি তোমার এবং কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তি থাকে এবং তুমি তাদের পক্ষ থেকে খেয়ানত ও চুক্তি ভঙ্গের আশঙ্কা করো, তবে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে তুমি তাদের জন্য যা শর্ত করেছিলে তা বাতিল করেছ এবং তাদেরকে যুদ্ধের ঘোষণা দাও, যাতে তুমি এবং তারা চুক্তি ভঙ্গের জ্ঞানের ক্ষেত্রে সমতার ওপর উঠে আস।

তেমনিভাবে মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর আমি গুহায় বহু বছরের জন্য তাদের কানে পর্দা ফেলে দিয়েছিলাম" (১১) [কাহাফ:

১১] যদি আপনি এটি শাব্দিকভাবে অনুবাদ করতে চান, তবে যার জন্য অনুবাদ করা হচ্ছে সে তা বুঝবে না। যদি আপনি বলেন: "আমি তাদের বহু বছর যাবত ঘুমিয়ে রেখেছিলাম",

--------------------------------------------

(১) কবিতাটি পূর্ণাঙ্গভাবে এভাবে বর্ণিত হয়েছে:

যখন সে গর্ভফুলের পানিকে তার পানীয় হিসেবে দেখল … এবং পাত্রে গোবর নিংড়ানো হচ্ছিল, তখন সে চিৎকার করে উঠল।

কবিতাটি কামিল ছন্দের এবং এটি হাজার বিন নাদলার রচিত যা লিসানুল আরব (সা-লাম-আলিফ) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
لكنت مترجما للمعنى دون اللفظ.

وكذلك قوله تعالى: وَالَّذِينَ إِذا ذُكِّرُوا بِآياتِ رَبِّهِمْ لَمْ يَخِرُّوا عَلَيْها صُمًّا وَعُمْياناً (73) [الفرقان: 73] إن ترجمته بمثل لفظه استغلق، وإن قلت: لم يتغافلوا أدّيت المعنى بلفظ آخر.

وقد اعترض كتاب الله بالطعن ملحدون ولغوا فيه وهجروا، واتبعوا ما تَشابَهَ مِنْهُ ابْتِغاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغاءَ تَأْوِيلِهِ [آل عمران: 7] بأفهام كليلة، وأبصار عليلة، ونظر مدخول، فحرّفوا الكلام عن مواضعه، وعدلوه عن سبله.

ثم قضوا عليه بالتّناقض، والاستحالة، واللّحن، وفساد النّظم، والاختلاف.

وأدلوا في ذلك بعلل ربما أمالت الضّعيف الغمر، والحدث الغرّ، واعترضت بالشبه في القلوب، وقدحت بالشكوك في الصدور.

ولو كان ما نحلوا إليه على تقريرهم وتأوّلهم- لسبق إلى الطعن به من لم يزل رسول الله، صلى الله عليه وآله وسلم، يحتجّ عليه بالقرآن، ويجعله العلم لنبوّته، والدليل على صدقه، ويتحداه في موطن بعد موطن، على أن يأتي بسورة من مثله. وهم الفصحاء والبلغاء، والخطباء والشعراء، والمخصوصون من بين جميع الأنام بالألسنة الحداد، واللّدد، في الخصام، مع اللّب والنّهى، وأصالة الرّأي. وقد وصفهم الله بذلك في غير موضع من الكتاب، وكانوا مرّة يقولون: هو سحر، ومرة يقولون: هو قول الكهنة، ومرة: أساطير الأولين.

ولم يحك الله تعالى عنهم، ولا بلغنا في شيء من الروايات- أنهم جدبوه من الجهة التي جدبه منها الطاعنون.

فأحببت أن أنضح عن كتاب الله، وأرمي من ورائه بالحجج النيّرة، والبراهين البيّنة، وأكشف للناس ما يلبسون.

فألفت هذا الكتاب، جامعا لتأويل مشكل القرآن، مستنبطا ذلك من التفسير بزيادة في الشرح والإيضاح، وحاملا ما لم أعلم فيه مقالا لإمام مطّلع- على لغات العرب لأري به المعاند موضع المجاز، وطريق الإمكان، من غير أن أحكم فيه برأي، أو أقضي عليه بتأويل.

ولم يجز لي أن أنص بالإسناد إلى من له أصل التفسير إذ كنت لم أقتصر على وحي القوم حتى كشفته، وعلى إيمائهم حتى أوضحته، وردت في الألفاظ ونقصت،
তাহলে আমি শব্দের পরিবর্তে কেবল অর্থের অনুবাদক হতাম।

মহান আল্লাহর বাণীও তদ্রূপ: "আর যারা যখন তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ দ্বারা উপদিষ্ট হয়, তখন তারা তার ওপর বধির ও অন্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে না।" (ফুরকান: ৭৩)। যদি এর অনুবাদ আক্ষরিক শব্দের ন্যায় করা হয়, তবে তা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে; আর যদি আপনি বলেন: "তারা তা উপেক্ষা করে না", তবে আপনি অন্য শব্দের মাধ্যমে অর্থটি আদায় করলেন।

নাস্তিকরা আল্লাহর কিতাবকে বিদ্রূপের লক্ষ্যবস্তু করেছে, এতে অনর্থক বিতর্ক করেছে এবং একে বর্জন করেছে। তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে এর অস্পষ্ট বিষয়গুলোর অনুসরণ করেছে (আল ইমরান: ৭), যা তারা করেছে তাদের ভোঁতা বোধশক্তি, রুগ্ন দৃষ্টি এবং ত্রুটিযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে। ফলে তারা কালামকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করেছে এবং একে তার সঠিক পথ থেকে বিমুখ করেছে।

এরপর তারা এর ওপর স্ববিরোধিতা, অসম্ভবতা, ভাষাগত ভুল, বিন্যাসের ত্রুটি এবং বৈসাদৃশ্যের হুকুম জারি করেছে।

এ বিষয়ে তারা এমন সব অজুহাত উপস্থাপন করেছে যা হয়তো দুর্বল চিত্তের অনভিজ্ঞ ব্যক্তি ও অপরিণত যুবককে সত্য বিচ্যুত করে দেয়, এবং অন্তরে সংশয়ের উদ্রেক করে ও বক্ষদেশে সন্দেহের উদ্রেক করে।

তারা যা আরোপ করেছে, যদি তা তাদের বর্ণনা ও ব্যাখ্যা অনুযায়ী হতো, তবে সেই ব্যক্তিরাই এই বিদ্রূপ করায় অগ্রগামী হতো যাদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) অবিরত কুরআনের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করেছেন, একে তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শন ও তাঁর সত্যতার দলিল হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং একের পর এক স্থানে তাদেরকে এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। অথচ তারা ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষী ও বাগ্মী, সুবক্তা ও কবি; এবং সকল মানুষের মধ্যে তারা তীক্ষ্ণ জবান, বিবাদে কঠোরতা, বুদ্ধিমত্তা, প্রজ্ঞা ও চিন্তার গভীরতায় বিশিষ্ট ছিল। মহান আল্লাহ কিতাবের বিভিন্ন স্থানে তাদের এই গুণের বর্ণনা দিয়েছেন। তারা কখনো বলত: "এটি জাদু", কখনো বলত: "এটি গণকদের কথা", আবার কখনো বলত: "পূর্ববর্তীদের উপকথা"।

মহান আল্লাহ তাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা বর্ণনা করেননি, আর বর্ণনার মাধ্যমেও আমাদের কাছে এমন কিছু পৌঁছায়নি যে, তারা একে সেই দিক থেকে নিন্দা করেছিল যে দিক থেকে বর্তমান বিদ্রূপকারীরা একে নিন্দা করছে।

তাই আমি আল্লাহর কিতাবকে রক্ষা করতে, এর পক্ষ থেকে উজ্জ্বল দলিল ও সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে আঘাত প্রতিহত করতে এবং মানুষের সামনে তাদের সংশয়গুলোকে উন্মোচন করতে চেয়েছি।

অতএব, আমি এই গ্রন্থটি সংকলন করেছি, যা কুরআনের জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যাকে একত্রিতকারী। তাফসীর থেকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা আহরণ করা হয়েছে। আর যে বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞ ইমামের বক্তব্য আমার জানা ছিল না, সেগুলোকে আমি আরবী ভাষার রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করেছি; যাতে এর মাধ্যমে হঠকারী ব্যক্তিকে রূপক প্রয়োগের স্থান এবং সম্ভাবনার পথটি দেখিয়ে দিতে পারি, কোনো ব্যক্তিগত মতামতের মাধ্যমে হুকুম জারি না করে বা কেবল নিজস্ব ব্যাখ্যার ওপর ফয়সালা না দিয়ে।

মূল তাফসীরের প্রণেতাদের দিকে সরাসরি সনদসহ উল্লেখ করা আমার জন্য সমীচীন ছিল না; কারণ আমি কেবল সেই দলের বর্ণিত তথ্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকিনি যতক্ষণ না আমি তা উন্মোচিত করেছি, কিংবা তাঁদের ইঙ্গিতের ওপর সন্তুষ্ট থাকিনি যতক্ষণ না আমি তা স্পষ্ট করেছি। আর আমি শব্দাবলীতে সংযোজন ও বিয়োজনও করেছি।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقدّمت وأخرت، وضربت لبعض ذلك الأمثال والأشكال، حتى يستوي في فهمه السامعون.

وأسأل الله التجاوز عن الزّلة بحسن النية، فيما دللت عليه، وأجريت إليه، والتوفيق للصواب، وحسن الثواب.

 

‌‌الحكاية عن الطاعنين

وكان مما بلغنا عنهم: أن يحتجّون بقوله عز وجل: وَلَوْ كانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً [النساء: 82] وبقوله: لا يَأْتِيهِ الْباطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ [فصلت: 42] .

وقالوا: وجدنا الصحابة، رضي الله عنهم، ومن بعدهم، يختلفون في الحرف:

فابن عباس يقرأ: وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ [يوسف: 45] وغيره يقرأ: بَعْدَ أُمَّةٍ. و «عائشة» تقرأ: «إذ تلقونه» [النور: 15] وغيرها يقرأ: تَلَقَّوْنَهُ. وأبو بكر الصديق يقرأ وجاءت سكرة الحقّ بالموت والناس يقرؤون: وَجاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ [ق: 19] .

وقرأ بعض القراء:

وَأَعْتَدَتْ لَهُنَّ مُتَّكَأً وقرأ الناس: وَأَعْتَدَتْ لَهُنَّ مُتَّكَأً [يوسف: 31] . وكان ابن مسعود يقرأ: إن كانت إلا زقية واحدة [يس: 29] ويقرأ كالصوف المنفوش [القارعة: 5] .

مع أشباه لهذه كثيرة، يخالف فيها مصحفه المصاحف القديمة والحديثة. وكان يحذف من مصحفه أمّ الكتاب ويمحو المعوّذتين ويقول: لم تزيدون في كتاب الله ما ليس فيه؟.

و (أبيّ) يقرأ: إِنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ أَكادُ أُخْفِيها [طه: 15] من نفسي فكيف أظهركم عليها.

ويزيد في مصحفه افتتاح (دعاء القنوت) إلى قول الداعي: (إن عذابك بالكافرين ملحق) ويعدّه سورتين من القرآن.

و (القرّاء) يختلفون: فهذا يرفع ما ينصبه ذاك، وذاك يخفض ما يرفعه هذا.

وأنتم تزعمون أن هذا كله كلام رب العالمين، فأيّ شيء بعد هذا الاختلاف تريدون؟ وأي باطل بعد الخطإ واللحن تبتغون؟.

وقد رويتم من الطريق الذي ترتضون: روى أبو معاوية، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن (عائشة) أنها قالت:
আমি বিষয়গুলোকে আগে-পিছে করেছি এবং এগুলোর কিছুর জন্য উদাহরণ ও সাদৃশ্য পেশ করেছি, যাতে শ্রোতারা এটি বুঝতে সমান পারদর্শিতা লাভ করতে পারে।

আমি আল্লাহর কাছে আমার নির্দেশিত ও পরিচালিত বিষয়গুলোর ভুল-ত্রুটি থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি সদিচ্ছার উসিলায়, আর প্রার্থনা করছি সঠিক পথের তাওফিক এবং উত্তম প্রতিদান।

 

‌‌সমালোচনাকারীদের বর্ণনা

তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা হলো: তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করে: "যদি এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ খুঁজে পেত" [আন-নিসা: ৮২] এবং তাঁর বাণী: "এর সামনে থেকেও কোনো বাতিল আসতে পারে না, আর এর পেছন থেকেও নয়" [ফুসসিলাত: ৪২]।

তারা বলে: আমরা দেখেছি যে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাদের পরবর্তীগণ হরফ বা পাঠরীতি নিয়ে মতভেদ করতেন:

ইবনে আব্বাস পড়তেন: "এবং এক দীর্ঘ সময় পর তার স্মরণে এল" [ইউসুফ: ৪৫], আর অন্যরা পড়তেন: "এক উম্মত (বা দীর্ঘ সময়) পর"। আর "আয়িশা" পড়তেন: "যখন তোমরা তা গ্রহণ করছিলে" [আন-নূর: ১৫] এবং অন্যরা পড়তেন: "তোমরা তা মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে"। আর আবু বকর সিদ্দীক পড়তেন: "এবং সত্যের মোহ আবিষ্টতা মৃত্যুর সাথে উপস্থিত হয়েছে", অথচ মানুষ পড়ত: "এবং মৃত্যুর মোহ আবিষ্টতা সত্যসহ উপস্থিত হয়েছে" [ক্বাফ: ১৯]।

কোনো কোনো কারী পড়তেন:

"এবং তিনি তাদের জন্য একটি ফল কাটার ছুরি প্রস্তুত করলেন", আর মানুষ পড়ত: "এবং তিনি তাদের জন্য একটি বসার আসন প্রস্তুত করলেন" [ইউসুফ: ৩১]। ইবনে মাসউদ পড়তেন: "তা কেবল একটি বিকট চিৎকার ছিল" [ইয়াসীন: ২৯] এবং পড়তেন: "ধুনিত পশমের ন্যায়" [আল-কারি'আ: ৫]।

এ ধরনের আরও অনেক বিষয় রয়েছে, যাতে তার মুসহাফটি (কুরআনের অনুলিপি) প্রাচীন ও আধুনিক মুসহাফগুলোর বিরোধিতা করে। তিনি তার মুসহাফ থেকে উম্মুল কিতাব (সূরা ফাতিহা) বাদ দিতেন এবং মুআওয়িযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) মুছে ফেলতেন এবং বলতেন: "তোমরা আল্লাহর কিতাবে এমন কিছু কেন বৃদ্ধি করছ যা তাতে নেই?"।

আর (উবাই) পড়তেন: "নিশ্চয় কিয়ামত আসছে, আমি তা গোপন রাখতে চাইছি" [ত্বহা: ১৫] নিজের থেকে, তাহলে আমি কীভাবে তোমাদেরকে সে বিষয়ে অবগত করব।

তিনি তার মুসহাফে "দোয়ায়ে কুনুত"-এর প্রারম্ভ থেকে এই কথা পর্যন্ত বৃদ্ধি করতেন: "নিশ্চয় আপনার আজাব কাফিরদের পাকড়াও করবে" এবং তিনি একে কুরআনের দুটি সূরা হিসেবে গণ্য করতেন।

আর (কারীগণ) মতভেদ করেন: কেউ কোনো শব্দকে রাফা (পেশ) প্রদান করেন যা অন্যজন নাসব (যবর) প্রদান করেন, আবার কেউ একে জার (জের) প্রদান করেন যা অন্যজন রাফা (পেশ) প্রদান করেন।

অথচ আপনারা দাবি করেন যে এই সবটুকুই রাব্বুল আলামীনের কালাম। এই মতভেদের পর আপনারা আর কী চান? আর ভুল ও উচ্চারণ বিভ্রাটের পর আর কোন বাতিলকে আপনারা খুঁজছেন?।

আপনারা যে পথ বা সূত্র পছন্দ করেন সেই সূত্রেই বর্ণনা করেছেন: আবু মুআবিয়াহ হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি (আয়িশা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثلاثة أحرف في كتاب الله هنّ خطأ من الكاتب: قوله: إِنْ هذانِ لَساحِرانِ [طه: 63] .

وفي سورة المائدة: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هادُوا وَالصَّابِئُونَ [المائدة: 69] .

وفي سورة النساء: لكِنِ الرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ مِنْهُمْ وَالْمُؤْمِنُونَ يُؤْمِنُونَ بِما أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَما أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَالْمُقِيمِينَ الصَّلاةَ وَالْمُؤْتُونَ الزَّكاةَ [النساء: 162] حدثناه إسحاق بن راهويه.

قالوا: ورويتم عن عثمان أنه نظر في المصحف فقال: أرى فيه لحنا وستقيمه العرب بألسنتها.

وقالوا: وهل التناقض إلا مثل قوله: فَيَوْمَئِذٍ لا يُسْئَلُ عَنْ ذَنْبِهِ إِنْسٌ وَلا جَانٌّ (39) [الرحمن: 39] وهو يقول في موضع آخر: فَوَ رَبِّكَ لَنَسْئَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ (92) عَمَّا كانُوا يَعْمَلُونَ (93) [الحجر: 92، 93] .

ومثل قوله: هذا يَوْمُ لا يَنْطِقُونَ (35) وَلا يُؤْذَنُ لَهُمْ فَيَعْتَذِرُونَ (36) [المرسلات: 35، 36] .

ويقول في موضع آخر: ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيامَةِ عِنْدَ رَبِّكُمْ تَخْتَصِمُونَ (31) [الزمر:

31] . ويقول: هاتُوا بُرْهانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صادِقِينَ [البقرة: 111] .

ومثل قوله: وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلى بَعْضٍ يَتَساءَلُونَ (25) [الطور: 25، والصافات: 27] .

وهو يقول في موضع آخر: فَلا أَنْسابَ بَيْنَهُمْ يَوْمَئِذٍ وَلا يَتَساءَلُونَ [المؤمنون: 101] .

ومثل قوله: قُلْ أَإِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْداداً ذلِكَ رَبُّ الْعالَمِينَ (9) [فصلت: 9] .

وقال بعد ذلك: ثُمَّ اسْتَوى إِلَى السَّماءِ وَهِيَ دُخانٌ فَقالَ لَها وَلِلْأَرْضِ ائْتِيا طَوْعاً أَوْ كَرْهاً قالَتا أَتَيْنا طائِعِينَ (11) فَقَضاهُنَّ سَبْعَ سَماواتٍ فِي يَوْمَيْنِ [فصلت: 11، 12] فدلت هذه الآية على أنه خلق الأرض قبل السماء.

وقال في موضع آخر: أَأَنْتُمْ أَشَدُّ خَلْقاً أَمِ السَّماءُ بَناها (27) رَفَعَ سَمْكَها فَسَوَّاها (28) [النازعات: 27، 28] ثم قال: وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذلِكَ دَحاها (30) [النازعات: 30] .

فدلت هذه الآية على أنه خلق السماء قبل الأرض.

ومثل قوله: لَيْسَ لَهُمْ طَعامٌ إِلَّا مِنْ ضَرِيعٍ (6) [الغاشية: 6] .

وهو يقول في موضع آخر: فَلَيْسَ لَهُ الْيَوْمَ هاهُنا حَمِيمٌ (35) وَلا طَعامٌ إِلَّا مِنْ غِسْلِينٍ (36)
আল্লাহর কিতাবে তিনটি বর্ণ (বা শব্দ) রয়েছে যা লেখকের পক্ষ থেকে ভুল: তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই এই দুইজন যাদুকর" [ত্বহা: ৬৩]।

এবং সূরা আল-মায়িদাহ-তে: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদী হয়েছে এবং সাবিঈনরা" [আল-মায়িদাহ: ৬৯]।

এবং সূরা আন-নিসায়: "কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে সুগভীর এবং মুমিনরা, তারা আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে তাতে ঈমান আনে, আর যারা নামায কায়েমকারী এবং যারা যাকাত প্রদানকারী" [আন-নিসা: ১৬২]। এটি আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বর্ণনা করেছেন।

তারা বলে: আপনারা উসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুসহাফের দিকে তাকালেন এবং বললেন: "আমি এতে কিছু ভুল দেখছি যা আরবরা তাদের জিহ্বা দ্বারা সোজা করে নেবে।"

তারা বলে: আর বৈপরীত্য কি এই বাণীর মতো নয়: "সেদিন মানুষ বা জিন কাউকে তার পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না" [আর-রাহমান: ৩৯]। অথচ তিনি অন্য স্থানে বলছেন: "সুতরাং আপনার রবের কসম! আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসা করব, তারা যা করত সে সম্পর্কে" [আল-হিজর: ৯২, ৯৩]।

এবং এই বাণীর মতো: "এটি এমন এক দিন যেদিন তারা কথা বলবে না, এবং তাদেরকে অনুমতিও দেওয়া হবে না যাতে তারা ওযর পেশ করতে পারে" [আল-মুরসালাত: ৩৫, ৩৬]।

এবং তিনি অন্য স্থানে বলছেন: "অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমরা তোমাদের রবের নিকট ঝগড়া করবে" [আয-যুমার: ৩১]। এবং তিনি বলেন: "তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো যদি তোমরা সত্যবাদী হও" [আল-বাকারা: ১১১]।

এবং এই বাণীর মতো: "তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে" [আত-তূর: ২৫ এবং আস-সাফফাত: ২৭]।

অথচ তিনি অন্য স্থানে বলছেন: "সেদিন তাদের মধ্যে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না এবং তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদও করবে না" [আল-মুমিনুন: ১০১]।

এবং এই বাণীর মতো: "বলুন, তোমরা কি তাঁর সাথেই কুফরি করছ যিনি পৃথিবীকে দুই দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাচ্ছ? তিনিই জগতসমূহের রব" [ফুসসিলাত: ৯]।

এবং এরপর তিনি বলেছেন: "অতঃপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া, এরপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন: তোমরা উভয়ে এসো স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়; তারা বলল: আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম। অতঃপর তিনি দুই দিনে আকাশমন্ডলীকে সাত আকাশে পরিণত করলেন" [ফুসসিলাত: ১১, ১২]। সুতরাং এই আয়াত প্রমাণ করে যে, তিনি আকাশের পূর্বে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন।

এবং তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: "তোমাদের সৃষ্টি করা কি অধিক কঠিন নাকি আকাশ? তিনি তা নির্মাণ করেছেন। তিনি এর উচ্চতা বৃদ্ধি করেছেন এবং একে সুবিন্যস্ত করেছেন" [আন-নাযিআত: ২৭, ২৮]। এরপর তিনি বলেছেন: "এবং পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন" [আন-নাযিআত: ৩০]।

সুতরাং এই আয়াত প্রমাণ করে যে, তিনি পৃথিবীর পূর্বে আকাশ সৃষ্টি করেছেন।

এবং এই বাণীর মতো: "বিষাক্ত কন্টকাকীর্ণ ঝোপ ছাড়া তাদের জন্য কোনো খাদ্য নেই" [আল-গাশিয়াহ: ৬]।

অথচ তিনি অন্য স্থানে বলছেন: "সুতরাং আজ এখানে তার কোনো সুহৃদ নেই এবং ক্ষতনিঃসৃত পুঁজ ছাড়া কোনো খাদ্য নেই" [আল-হাক্কাহ: ৩৫, ৩৬]
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
والضريع: نبت، فهل يجوز أن يكون في النار نبات وشجر، والنار تأكلهما؟.

ومثل قوله تعالى: وَما كانَ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَما كانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ (33) [الأنفال: 33] ، ثم قال على أثر ذلك: وَما لَهُمْ أَلَّا يُعَذِّبَهُمُ اللَّهُ وَهُمْ يَصُدُّونَ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرامِ [الأنفال: 34] .

وقالوا: فأين قوله: وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتامى، من قوله: فَانْكِحُوا ما طابَ لَكُمْ مِنَ النِّساءِ مَثْنى وَثُلاثَ وَرُباعَ [النساء: 3] .

وأين قوله: جَعَلَ اللَّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرامَ قِياماً لِلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلائِدَ، من قوله: ذلِكَ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ ما فِي السَّماواتِ وَما فِي الْأَرْضِ وَأَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ [المائدة: 97] .

وأين قوله: أَلَمْ تَرَ أَنَّ الْفُلْكَ تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِنِعْمَتِ اللَّهِ لِيُرِيَكُمْ مِنْ آياتِهِ، من قوله: إِنَّ فِي ذلِكَ لَآياتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ [لقمان: 31] ، أو ليس هذا مما يستوي فيه الصبّار والشّكور وغير الصبّار والشّكور؟.

وما معنى قوله: كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَباتُهُ [الحديد: 20] ؟ ولم خص الكفار دون المؤمنين؟ أو ليس هذا مما يستوي فيه المؤمنون والكافرون، ولا ينقص إيمان المؤمنين إن أعجبهم؟.

وقالوا في قوله عز وجل: خالِدِينَ فِيها ما دامَتِ السَّماواتُ وَالْأَرْضُ إِلَّا ما شاءَ رَبُّكَ [هود: 107] : استثناؤه المشيئة من الخلود، يدل على الزوال، وإلا فلا معنى للاستثناء. ثم قال: عَطاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ [هود: 108] ، أي غير مقطوع.

وقالوا في قوله: لا يَذُوقُونَ فِيهَا الْمَوْتَ إِلَّا الْمَوْتَةَ الْأُولى [الدخان: 56] :

كيف يستثنى موتا كان في الدنيا من مكثهم في الجنة؟ وهل يجوز أن يقال في الكلام:

لا أعطيك اليوم درهما إلا ما أعطيتك أمس؟.

وقالوا في قوله: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمنُ وُدًّا (96) [مريم: 96] : هل يجوز أن يقال: فلان يجعل لك حبّا، أي يحبك؟.

وفي قوله: وَجَعَلْنا نَوْمَكُمْ سُباتاً (9) [النبأ: 9] والسّبات هو: النوم، فكيف يجوز أن يجعل نومنا نوما؟.

وفي قوله: وَيُطافُ عَلَيْهِمْ بِآنِيَةٍ مِنْ فِضَّةٍ وَأَكْوابٍ كانَتْ قَوارِيرَا (15) قَوارِيرَا مِنْ فِضَّةٍ [الإنسان:

15، 16] وقوله: لِنُرْسِلَ عَلَيْهِمْ حِجارَةً مِنْ طِينٍ (33) [الذاريات: 33] : كيف يكون زجاج من
আদ-দারী' (একটি কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদ): এটি একটি উদ্ভিদ, সুতরাং জাহান্নামে কি উদ্ভিদ ও গাছ থাকা সম্ভব, অথচ আগুন সেগুলোকে গ্রাস করে ফেলে?

এবং যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ কখনই তাদেরকে শাস্তি দেবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মধ্যে অবস্থান করবেন এবং আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে।" (৩৩) [আনফাল: ৩৩], এরপর এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বলেছেন: "আর তাদের কী হয়েছে যে আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দেবেন না, অথচ তারা মসজিদুল হারাম থেকে বাধা প্রদান করে?" [আনফাল: ৩৪]।

এবং তারা বলেছে: "যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে ইয়াতীমদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না" - এই কথার সাথে "তবে তোমরা নারীদের মধ্য থেকে তোমাদের পছন্দমত দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে করো" [নিসা: ৩] - এই কথার সম্পর্ক কোথায়?

আর তাঁর বাণী: "আল্লাহ কা'বাকে যা সম্মানিত ঘর, মানুষের (কল্যাণের) স্থিতিশীলতার মাধ্যম করেছেন এবং পবিত্র মাসসমূহকে, কুরবানির পশুকে ও গলায় মালা পরা পশুকে" - এই কথার সাথে তাঁর এই বাণীর সম্পর্ক কোথায়: "এটি এজন্য যাতে তোমরা জানতে পার যে, আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।" [মায়েদাহ: ৯৭]।

আর তাঁর বাণী: "তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহর অনুগ্রহে নৌকাগুলো সমুদ্রে চলাচল করে যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর কিছু নিদর্শন দেখাতে পারেন?" - এই কথার সাথে তাঁর এই বাণীর সম্পর্ক কোথায়: "নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক পরম ধৈর্যশীল ও পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে।" [লুকমান: ৩১]। আর এটি কি এমন বিষয় নয় যা ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তি এবং যারা ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ নয় তাদের ক্ষেত্রে সমান?

আর তাঁর এই বাণীর অর্থ কী: "যেমন বৃষ্টির ন্যায়, যার (দ্বারা উৎপন্ন) উদ্ভিদ কৃষকদের মুগ্ধ করে" [হাদীদ: ২০]? এখানে মুমিনদের বাদ দিয়ে কেন শুধু কৃষকদের (কাফিরদের) নির্দিষ্ট করা হলো? এটি কি এমন বিষয় নয় যা মুমিন ও কাফির উভয়ের ক্ষেত্রেই সমান, আর মুমিনদের ঈমান তো কমে যাবে না যদি তারা এতে মুগ্ধ হয়?

এবং তারা মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বলেছে: "তারা সেখানে স্থায়ী হবে যতদিন আসমান ও যমিন বিদ্যমান থাকবে, তবে আপনার রব যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত" [হুদ: ১০৭]: স্থায়িত্ব থেকে তাঁর ইচ্ছাকে ব্যতিক্রম করা এর বিলুপ্তি নির্দেশ করে, নতুবা এই ব্যতিক্রমের কোনো অর্থ থাকে না। এরপর তিনি বলেছেন: "এমন এক প্রতিদান যা বিচ্ছিন্ন হবার নয়" [হুদ: ১০৮], অর্থাৎ যা কর্তন করা হবে না।

আর তারা তাঁর বাণী সম্পর্কে বলেছে: "সেখানে তারা প্রথম মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে না" [দুখান: ৫৬]:

দুনিয়াতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুকে জান্নাতে তাদের অবস্থানের সময়কাল থেকে কীভাবে ব্যতিক্রম করা সম্ভব? কথাবার্তায় কি এটা বলা বৈধ:

"আমি তোমাকে আজ কোনো দিরহাম দেব না, তবে গতকাল যা দিয়েছিলাম তা ব্যতীত"?

আর তারা তাঁর বাণী সম্পর্কে বলেছে: "নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, পরম দয়াময় তাদের জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন" (৯৬) [মারইয়াম: ৯৬]: এটি বলা কি বৈধ যে: "অমুক ব্যক্তি তোমার জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি করছে", অর্থাৎ সে তোমাকে ভালোবাসে?

এবং তাঁর বাণী: "আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম" (৯) [নাবা: ৯]; এখানে বিশ্রাম (সুবাত) অর্থ হলো নিদ্রা, সুতরাং কীভাবে আমাদের নিদ্রাকে নিদ্রা করা সম্ভব?

এবং তাঁর বাণী: "তাদের কাছে রূপার পাত্র এবং স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ পানপাত্র আবর্তন করা হবে (১৫) রূপার তৈরি স্বচ্ছ স্ফটিক" [ইনসান: ১৫, ১৬] এবং তাঁর বাণী: "যাতে আমি তাদের ওপর মাটির কঙ্কর পাঠাতে পারি" (৩৩) [যারিয়াত: ৩৩]: কীভাবে কাঁচ তৈরি হতে পারে...
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
فضة؟ وحجارة من طين؟.

وقالوا في قوله: فَإِنْ كُنْتَ فِي شَكٍّ مِمَّا أَنْزَلْنا إِلَيْكَ فَسْئَلِ الَّذِينَ يَقْرَؤُنَ الْكِتابَ مِنْ قَبْلِكَ لَقَدْ جاءَكَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلا تَكُونَنَّ مِنَ المُمْتَرِينَ (94) وَلا تَكُونَنَّ مِنَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآياتِ اللَّهِ فَتَكُونَ مِنَ الْخاسِرِينَ (95) [يونس: 94، 95] : هل كان النبي صلى الله عليه وآله وسلم، يشك فيما يأتيه به جبريل؟ وكيف يدعو الشاكين من هو على مثل سبيلهم؟ وكيف يرتاب فيما يأتيه به الروح الأمين، ويأتيه الثّلج واليقين بخبر أهل الكتاب عنه أنه حق، وهم يكذبون ويحرّفون ويقولون على الله ما لا يعلمون؟.

وقالوا في قوله: وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيها بُكْرَةً وَعَشِيًّا [مريم: 62] : أنتم تزعمون أنه لا شمس هناك ولا ليل، وهذا يدل على أوقات مختلفة، وشمس وفيء، ونهار وليل، لأن البكرة تدل على أول النهار، والعشيّ يدل على آخره، وما كان له أول وآخر فله انصرام، وإذا انصرم عاقبه الليل والنهار.

وقالوا في سورة الأنفال، حين ذكرها، ثم وصف المؤمنين فقال: إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آياتُهُ زادَتْهُمْ إِيماناً وَعَلى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ (2) الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْناهُمْ يُنْفِقُونَ (3) أُولئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ (4) [الأنفال: 2- 4] ، ثم قال: كَما أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ بَيْتِكَ بِالْحَقِّ [الأنفال: 5] : و (كما) تأتي لتشبيه الشيء، ولم يتقدم من الكلام ما يشبّه به إخراج الله إياه.

وقالوا في قوله: وَإِنْ ما نُرِيَنَّكَ بَعْضَ الَّذِي نَعِدُهُمْ أَوْ نَتَوَفَّيَنَّكَ فَإِنَّما عَلَيْكَ الْبَلاغُ وَعَلَيْنَا الْحِسابُ (40) [الرعد: 40] كيف يكون عليه البلاغ بعد الوفاة؟.

وقالوا: في قوله في الرعد: مَثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ [الرعد: 35] ، أين الشيء الذي جعلت له الجنة مثلا؟ وهل يجوز أن يقال: «مثل الدار التي وعدتك سكناها، يطّرد فيها نهر، وتظلك فيها، شجرة» . ويمسك القائل؟.

قالوا: وقال في موضع آخر: يا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ [الحج: 73] ولم يأت به.

وقالوا في قوله تعالى: وَبَلَغَتِ الْقُلُوبُ الْحَناجِرَ [الأحزاب: 10] : كيف تبلغ القلب الحلوق، والقلوب إن زال عن موضعه شيئا، مات صاحبه؟.

وقالوا في قوله تعالى: فَأَذاقَهَا اللَّهُ لِباسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ [النحل: 112] : كيف
রুপা? এবং মাটির পাথর?

তারা তাঁর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছে: "অতঃপর আমি তোমার প্রতি যা নাযিল করেছি, তাতে যদি তুমি সন্দেহে থাকো, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করো যারা তোমার পূর্ব থেকে কিতাব পাঠ করছে। অবশ্যই তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার কাছে সত্য এসেছে, সুতরাং তুমি সন্দেহকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না (৯৪) এবং তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে (৯৫)" [ইউনুস: ৯৪-৯৫]: (তারা প্রশ্ন করে) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) কি জিবরাঈল তাঁর কাছে যা নিয়ে আসতেন সে বিষয়ে কি সন্দেহে ছিলেন? আর যিনি নিজে সন্দেহকারীদের মতো অবস্থায় আছেন, তিনি কীভাবে অন্য সন্দেহকারীদের (সত্যের দিকে) আহ্বান করবেন? আর রূহুল আমীন তাঁর কাছে যা নিয়ে আসতেন সে বিষয়ে তিনি কীভাবে সংশয় পোষণ করতে পারেন, যেখানে কিতাবধারীদের খবরের মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রশান্তি ও নিশ্চিত বিশ্বাস (ইয়াকীন) আসত যে এটি সত্য—অথচ সেই কিতাবধারীরা মিথ্যাচার করে, বিকৃতি ঘটায় এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন কথা বলে যা তারা জানে না?

তারা তাঁর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছে: "এবং সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের রিযিক রয়েছে" [মারইয়াম: ৬২]: তোমরা দাবি করো যে সেখানে (জান্নাতে) কোনো সূর্য নেই এবং কোনো রাতও নেই; অথচ এই আয়াতটি বিভিন্ন সময়, সূর্য ও ছায়া এবং দিন ও রাতের অস্তিত্ব নির্দেশ করে। কারণ 'বুকরাহ' (সকাল) দিনের শুরুকে নির্দেশ করে এবং 'আশিয়্য' (সন্ধ্যা) দিনের শেষকে নির্দেশ করে। আর যার শুরু ও শেষ আছে, তার অবসানও আছে; আর যখন কোনো কিছুর অবসান হয়, তখন দিন ও রাত পর্যায়ক্রমে আসে।

তারা সূরা আল-আনফাল সম্পর্কে বলেছে, যখন এটি উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করে তিনি বলেছেন: "মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহর যিকির করা হলে প্রকম্পিত হয়, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই তাওয়াক্কুল করে (২), যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে (৩), তারাই প্রকৃত মুমিন; তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রিযিক (৪)" [আনফাল: ২-৪]। এরপর তিনি বলেছেন: "যেমন তোমার রব তোমাকে তোমার ঘর থেকে সত্যসহ বের করেছিলেন" [আনফাল: ৫]: এখানে 'কামা' (যেমন) শব্দটি কোনো কিছুর সাথে তুলনা করার জন্য আসে, অথচ পূর্ববর্তী কথায় এমন কিছু নেই যার সাথে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে বের করে দেওয়ার তুলনা করা যেতে পারে।

তারা তাঁর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছে: "আমি তাদেরকে যে ওয়াদা দিয়েছি তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই অথবা তোমার মৃত্যু দান করি, তবে তোমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া আর হিসাব নেওয়া আমার কাজ" [আর-রাদ: ৪০]: মৃত্যুর পর তাঁর ওপর পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কীভাবে থাকতে পারে?

তারা সূরা আর-রাদে বর্ণিত তাঁর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছে: "মুত্তাকীদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেওয়া হয়েছে তার উপমা হলো..." [আর-রাদ: ৩৫]: সেই জিনিসটি কোথায় যার জন্য জান্নাতকে উপমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে? আর কারো পক্ষে কি এমন কথা বলা বৈধ: "আমি তোমাকে যে ঘরে বসবাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তার উপমা হলো—সেখানে একটি নদী প্রবাহিত হবে এবং একটি বৃক্ষ তোমাকে ছায়া দেবে", এরপর বক্তা কি চুপ হয়ে যেতে পারেন?

তারা বলেছে: তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: "হে মানুষ! একটি উপমা পেশ করা হয়েছে, সুতরাং তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো" [হাজ্জ: ৭৩]। অথচ তিনি কোনো উপমা আনেননি।

তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছে: "এবং অন্তরসমূহ কণ্ঠে পৌঁছে গিয়েছিল" [আহযাব: ১০]: অন্তর কীভাবে কণ্ঠনালীতে পৌঁছাতে পারে, অথচ অন্তর যদি তার স্থান থেকে সামান্য বিচ্যুত হয় তবে তো সেই ব্যক্তি মারা যাবে?

তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বলেছে: "অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষুধা ও ভয়ের পোশাকের স্বাদ আস্বাদন করালেন" [নাহল: ১১২]: কীভাবে...
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
يذاق اللباس؟ وإنما كان وجه الكلام: فألبسها الله لباس الجوع والخوف. أو غشّاها الله لباس الجوع والخوف. أو فأذاقها الله الجوع والخوف. ويحذف اللباس.

وقالوا في قوله: سَنَسِمُهُ عَلَى الْخُرْطُومِ (16) [القلم: 16] : ما هذا من العقوبة؟ وفي أي الدّارين يسمه: أفي الدنيا أم في الآخرة؟.

فإن كان في الدنيا، فإنه لم يبلغنا أن أحدا من المشركين، وسم على أنفه.

وإن كان في النار، فما أعدّ للكافرين فيها من صنوف العذاب، أكثر من الوسم على الأنف.

وقالوا: ماذا أراد بإنزال المتشابه في القرآن، من أراد لعباده الهدى والبيان؟.

وتعلقوا بكثير منه لطف معناه: لما فيه من المجازات بمضمر لغير مذكور، أو محذوف من الكلام متروك، أو مزيد فيه يوضح معناه حذف الزيادة، أو مقدّم يوضح معناه التأخير، أو مؤخر يوضح معناه التقديم، أو مستعار، أو مقلوب.

وتكلموا في الكناية، مثل قوله: تَبَّتْ يَدا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ (1) [المسد: 1] ، ومثل قوله: لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلاناً خَلِيلًا [الفرقان: 28] .

وفي تكرار الكلام في: قُلْ يا أَيُّهَا الْكافِرُونَ (1) [الكافرون: 1] ، وفي سورة الرحمن.

وفي تكرار الأنباء والقصص، من غير زيادة ولا إفادة.

وفي مخالفة معنى الكلام مخرجه.

وقد ذكرت الحجّة عليهم في جميع ما ذكروا، وغيره مما تركوا، وهو يشبه ما أنكروا، ليكون الكتاب جامعا للفن الذي قصدت له.

وأفردت للغريب كتابا، كي لا يطول هذا الكتاب، وليكون مقصورا على معناه، خفيفا على من قرأه إن شاء الله تعالى.
পোশাক কি আস্বাদন করা যায়? বরং বাচনভঙ্গি এমন হওয়া উচিত ছিল: 'সুতরাং আল্লাহ তাকে ক্ষুধা ও ভয়ের পোশাক পরিহিত করেছেন।' অথবা 'আল্লাহ তাকে ক্ষুধা ও ভয়ের পোশাক দ্বারা আচ্ছন্ন করেছেন।' অথবা 'আল্লাহ তাকে ক্ষুধা ও ভয়ের স্বাদ গ্রহণ করিয়েছেন।' এবং 'পোশাক' শব্দটি বাদ দেওয়া।

এবং তারা আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেছে: 'শীঘ্রই আমি তার নাকের ওপর দাগ দিয়ে দেব' (সূরা আল-কলম: ১৬): এটি কেমন শাস্তি? আর ইহকাল বা পরকাল—কোন জগতে তাকে এই দাগ দেওয়া হবে: দুনিয়াতে নাকি আখিরাতে?

যদি এটি দুনিয়াতে হয়ে থাকে, তবে আমাদের কাছে এমন কোনো সংবাদ পৌঁছায়নি যে, মুশরিকদের মধ্যে কাউকে তার নাকের ওপর দাগ দেওয়া হয়েছে।

আর যদি তা জাহান্নামে হয়, তবে সেখানে কাফিরদের জন্য প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন প্রকারের শাস্তি তো নাকের ওপর দাগ দেওয়ার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ।

তারা আরও বলেছে: যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য হিদায়াত ও সুস্পষ্ট বর্ণনা চান, তিনি কুরআনে রূপক বা অস্পষ্ট আয়াত (মুতাশাবিহ) অবতীর্ণ করার মাধ্যমে কী উদ্দেশ্য পোষণ করেছেন?

তারা এর এমন অনেক সূক্ষ্ম অর্থের সাথে জড়িয়ে পড়েছে যার কারণ হলো: এতে এমন কিছু রূপক ব্যবহৃত হয়েছে যেখানে অনুল্লিখিত বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, অথবা বাক্য থেকে কোনো অংশ বিলুপ্ত করা হয়েছে, অথবা এমন কিছু অতিরিক্ত শব্দ যোগ করা হয়েছে যা বাদ দিলে অর্থ স্পষ্ট হয়, অথবা কোনো অংশ আগে আনা হয়েছে যা পরে আনলে অর্থ স্পষ্ট হতো, অথবা কোনো অংশ পরে নেওয়া হয়েছে যা আগে নিলে অর্থ স্পষ্ট হতো, অথবা কোনো শব্দ ধার করা হয়েছে, কিংবা শব্দের ক্রম উল্টে দেওয়া হয়েছে।

তারা পরোক্ষ উক্তি বা ইঙ্গিত (কিনায়া) নিয়ে কথা বলেছে, যেমন আল্লাহর বাণী: 'আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক এবং সে নিজেও ধ্বংস হোক' (সূরা আল-মাসাদ: ১), এবং আল্লাহর বাণী: 'হায়! আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম' (সূরা আল-ফুরকান: ২৮)।

এবং তারা প্রশ্ন তুলেছে 'বলুন, হে কাফিরগণ' (সূরা আল-কাফিরুন: ১) এবং সূরা আর-রাহমানে বাচনের পুনরাবৃত্তি নিয়ে।

এছাড়া বিভিন্ন সংবাদ ও ঘটনাবলির পুনরাবৃত্তি সম্পর্কেও তারা প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে (তাদের মতে) নতুন কোনো সংযোজন বা উপকারিতা নেই।

এবং বাচনভঙ্গির সাথে অর্থের আপাত ভিন্নতা নিয়ে।

তারা যা কিছু উল্লেখ করেছে এবং যা কিছু বাদ দিয়েছে—যা তাদের আপত্তিকৃত বিষয়গুলোর মতোই—তার সবকিছুর বিপক্ষেই আমি উপযুক্ত দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করেছি, যাতে এই বইটি আমার উদ্দিষ্ট বিষয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন হয়ে ওঠে।

আর আমি দুর্লভ ও কঠিন শব্দাবলির (গারিব) জন্য একটি পৃথক কিতাব রচনা করেছি, যাতে এই বইটি দীর্ঘ না হয় এবং এটি যেন শুধু তার নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে ও পাঠকের জন্য সহজবোধ্য হয়, ইনশাআল্লাহ তাআলা।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
باب الرّد عليهم في وجوه القراءات

أما ما اعتلوا به في وجوه القراءات من الاختلاف، فإنا نحتج عليهم فيه

بقول النبي، صلى الله عليه وآله وسلم: «نزل القرآن على سبعة أحرف، كلّها شاف كاف، فاقرؤوا كيف شئتم» «1» .

وقد غلط في تأويل هذا الحديث قوم فقالوا: السبعة الأحرف: وعد، ووعيد، وحلال، وحرام، ومواعظ، وأمثال، واحتجاج.

وقال آخرون: هي سبع لغات في الكلمة.

وقال قوم: حلال، وحرام، وأمر، ونهي، وخبر ما كان قبل، وخبر ما هو كائن بعد، وأمثال.

وليس شيء من هذه المذاهب لهذا الحديث بتأويل.

ومن قال: فلان يقرأ بحرف أبي عمرو «2» أو بحرف عاصم «3» فإنه لا يريد شيئا

--------------------------------------------

(1) أخرجه بهذا اللفظ أحمد في المسند 2/ 300، 4/ 204، 5/ 16، 6/ 433، 463، والهيثمي في مجمع الزوائد 7/ 151، 152، 154، والسيوطي في الدر المنثور 2/ 6، والخطيب البغدادي في تاريخ بغداد 11/ 26، والربيع بن حبيب في مسنده 1/ 8، وابن أبي شيبة في مصنفه 10/ 516، والألباني في السلسلة الصحيحة 1522.

وأخرجه بلفظ: «أنزل القرآن على سبعة أحرف» ، النسائي في الافتتاح باب 26، وأحمد في المسند 2/ 232، 5/ 114، 391، والهيثمي في مجمع الزوائد 7/ 150، 152، 153، وابن حجر في المطالب العالية 3489، والبخاري في التاريخ الكبير 7/ 262، وابن كثير في تفسيره 2/ 9، والسيوطي في الدر المنثور 2/ 7، 5/ 346، والشجري في الأمالي 1/ 112، والطبراني في المعجم الكبير 3/ 185، 10/ 125، 130، 182، والهيثمي في موارد الظمآن 1779، 1780، 1781، والتبريزي في مشكاة المصابيح 238، والطحاوي في مشكل الآثار 4/ 172، 182، والسيوطي في جمع الجوامع 4534، 4543، 4544، 4545، 4546، 4547، 4549، والمتقي الهندي في كنز العمال 3083، 3085، 3086، 3093، 3094، 3095، 3096، وأبو نعيم في تاريخ أصفهان 1/ 213، والعجلوني في كشف الخفا 1/ 241، وابن عدي في الكامل في الضعفاء 2/ 679، وابن عبد البر في التمهيد 4/ 278، 8/ 282، 284، 292.

(2) أبو عمرو: هو أبو عمرو بن العلاء، زبان بن العلاء بن عمار بن الريان المازني البصري، أكثر القراء السبعة شيوخا، أخذ القراءة عن أنس بن مالك، وحميد بن قيس الأعرج، وسعيد بن جبير، وشيبة بن نصاح، وأبي العالية، وعاصم بن أبي النجود، وعبد الله بن كثير المكي، وعطاء، ومجاهد، وابن محيصن، وغيرهم. وروى عنه كثير، منهم: عبد الله بن المبارك، ويحيى بن المبارك اليزيدي وغيرهما، ولد بمكة سنة 68 هـ، وتوفي سنة 154 هـ. (شذرات الذهب 1/ 237، غاية النهاية 1/ 288) .

(3) عاصم: هو عاصم بن بهدلة أبي النجود الأسدي، أبو بكر، أحد القراء السبعة، من التابعين. أخذ القراءة عرضا عن زر بن حبيش، وأبي عبد الرحمن السلمي، وروى عنه شعبة بن عياش وحفص بن سليمان، وخلق لا يحصون، توفي سنة 127 هـ. (غاية النهاية 1/ 346) .
কিরাআতসমূহের বিভিন্ন পদ্ধতির বিষয়ে তাদের খণ্ডন অধ্যায়

কিরাআতের বিভিন্ন পদ্ধতির পার্থক্যের বিষয়ে তারা যে যুক্তি দেখিয়েছে, সে বিষয়ে আমরা তাদের বিরুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করছি:

“কুরআন সাত হারফে অবতীর্ণ হয়েছে, যার প্রতিটিই নিরাময়কারী ও পর্যাপ্ত। সুতরাং তোমরা যেভাবে ইচ্ছা পাঠ করো।” (১)।

একদল লোক এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন এবং বলেছেন: সাত হারফ হলো—প্রতিশ্রুতি, হুঁশিয়ারি, হালাল, হারাম, উপদেশ, দৃষ্টান্ত এবং যুক্তি।

অন্যরা বলেছেন: এটি একটি শব্দের সাতটি ভাষা (উপভাষা)।

আরেক দল বলেছেন: হালাল, হারাম, আদেশ, নিষেধ, পূর্ববর্তী বিষয়ের সংবাদ, পরবর্তী বিষয়ের সংবাদ এবং দৃষ্টান্ত।

এই মতবাদগুলোর কোনোটিই এই হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা নয়।

আর যে বলে: অমুক ব্যক্তি আবু আমরের (২) হারফ অনুযায়ী অথবা আসিমের (৩) হারফ অনুযায়ী পাঠ করেন, সে মূলত কিছুই বুঝাতে চায় না...

--------------------------------------------

(১) আহমদ এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন মুসনাদ গ্রন্থে ২/৩০০, ৪/২০৪, ৫/১৬, ৬/৪৩৩, ৪৬৩; হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থে ৭/১৫১, ১৫২, ১৫৪; সুয়ুতি আদ-দুররুল মানসুর গ্রন্থে ২/৬; খাতিব বাগদাদি তারিখু বাগদাদ গ্রন্থে ১১/২৬; রাবি বিন হাবিব তাঁর মুসনাদে ১/৮; ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে ১০/৫১৬; এবং আলবানি আস-সিলসিলাতুস সাহিহাহ গ্রন্থে ১৫২২।

তিনি এটি “কুরআন সাত হারফে অবতীর্ণ হয়েছে” এই শব্দেও বর্ণনা করেছেন: নাসাঈ আল-ইফতিতাহ অধ্যায় ২৬; আহমদ মুসনাদ গ্রন্থে ২/২৩২, ৫/১১৪, ৩৯১; হাইসামি মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থে ৭/১৫০, ১৫২, ১৫৩; ইবনে হাজার আল-মাতালিবুল আলিয়া গ্রন্থে ৩৪৮৯; বুখারি আত-তারিখুল কাবির গ্রন্থে ৭/২৬২; ইবনে কাসির তাঁর তাফসির গ্রন্থে ২/৯; সুয়ুতি আদ-দুররুল মানসুর গ্রন্থে ২/৭, ৫/৩৪৬; শাজরি আল-আমালি গ্রন্থে ১/১১২; তাবারানি আল-মুজামুল কাবির গ্রন্থে ৩/১৮৫, ১০/১২৫, ১৩০, ১৮২; হাইসামি মাওয়ারিদুয যামআন গ্রন্থে ১৭৭৯, ১৭৮০, ১৭৮১; তাবরিজি মিশকাতুল মাসাবিহ গ্রন্থে ২৩৮; তহাবি মুশকিলুল আসার গ্রন্থে ৪/১৭২, ১৮২; সুয়ুতি জামউল জাওয়ামি গ্রন্থে ৪৫৩৪, ৪৫৪৩, ৪৫৪৪, ৪৫৪৫, ৪৫৪৬, ৪৫৪৭, ৪৫৪৯; মুত্তাকি হিন্দি কানযুল উম্মাল গ্রন্থে ৩০৮৩, ৩০৮৫, ৩০৮৬, ৩০৯৩, ৩০৯৪, ৩০৯৫, ৩০৯৬; আবু নুয়াইম তারিখু আসফাহান গ্রন্থে ১/২১৩; আজলুনি কাশফুল খাফা গ্রন্থে ১/২৪১; ইবনে আদি আল-কামিল ফিদ দুয়াফা গ্রন্থে ২/৬৭৯ এবং ইবনে আবদিল বার আত-তামহিদ গ্রন্থে ৪/২৭৮, ৮/২৮২, ২৮৪, ২৯২।

(২) আবু আমর: তিনি হলেন আবু আমর বিন আল-আলা, যাবান বিন আল-আলা বিন আম্মার বিন আর-রাইয়ান আল-মাযেনি আল-বসরি। সাত কিরাআত ইমামদের মধ্যে তাঁর উস্তাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তিনি আনাস বিন মালিক, হুমাইদ বিন কায়স আল-আরাজ, সাঈদ বিন জুবায়ের, শায়বাহ বিন নাসাহ, আবুল আলিয়া, আসিম বিন আবি আল-নাজুদ, আবদুল্লাহ বিন কাসির আল-মাক্কি, আতা, মুজাহিদ, ইবন মুহাইসিন প্রমুখের নিকট থেকে কিরাআত গ্রহণ করেছেন। তাঁর থেকে অনেক বড় বড় আলেম বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক, ইয়াহইয়া বিন আল-মুবারক আল-ইয়াযিদি অন্যতম। তিনি ৬৮ হিজরিতে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (শাযারাতুয যাহাব ১/২৩৭, গায়াতুন নিহায়াহ ১/২৮৮)।

(৩) আসিম: তিনি হলেন আসিম বিন বাহদালা আবু আল-নাজুদ আল-আসাদি, আবু বকর। তিনি সাত কিরাআত ইমামদের অন্যতম এবং একজন তাবেয়ি। তিনি যির বিন হুবাইশ এবং আবু আবদুর রহমান আস-সুলামির নিকট সরাসরি কিরাআত পেশ করেছেন। তাঁর থেকে শু'বাহ বিন আইয়াশ, হাফস বিন সুলাইমান এবং অসংখ্য মানুষ বর্ণনা করেছেন। তিনি ১২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। (গায়াতুন নিহায়াহ ১/৩৪৬)।
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
مما ذكروا. وليس يوجد في كتاب الله حرف قرىء على سبعة أوجه- يصح، فيما أعلم.

وإنما تأويل قوله، صلى الله عليه وآله وسلم: «نزل القرآن على سبعة أحرف» «1» : على سبعة أوجه من اللغات متفرّقة في القرآن، يدلّك على ذلك

قول رسول الله، صلى الله عليه وآله وسلم: «فاقرؤوا كيف شئتم» .

وقال عمر: سمعت هشام بن حكيم بن حزام يقرأ سورة الفرقان على غير ما أقرؤها، وقد كان النبي صلى الله عليه وآله وسلم أقرأنيها، فأتيت به النبي صلى الله عليه وآله وسلم، فأخبرته فقال له: اقرأ، فقرأ تلك القراءة، فقال: هكذا أنزلت. ثم قال لي: اقرأ، فقرأت، فقال: هكذا أنزلت. ثم قال: «إنّ هذا القرآن نزل على سبعة أحرف، فاقرؤوا منه ما تيسّر» .

فمن قرأه قراءة عبد الله «2» فقد قرأ بحرفه، ومن قرأ قراءة أبيّ «3» فقد قرأ بحرفه، ومن قرأ قراءة زيد «4» فقد قرأ بحرفه.

والحرف يقع على المثال المقطوع من حروف المعجم، وعلى الكلمة الواحدة، ويقع الحرف على الكلمة بأسرها، والخطبة كلها، والقصيدة بكمالها.

ألا ترى أنهم يقولون: قال الشاعر كذا في كلمته، يعنون في قصيدته. والله جل

--------------------------------------------

(1) تقدم الحديث مع تخريجه قبل قليل.

(2) عبد الله: هو عبد الله بن مسعود، الصحابي الكبير المتوفى بالمدينة سنة 32 هـ، وهو من أصحاب المصاحف الذين كانوا يحتفظون بنسخة خاصة بهم فيها بعض الاختلاف عن النسخة التي أثرها موحّده الخليفة الثالث عثمان بن عفان وأمر بتعميمها وتوزيعها على الأمصار بعد إتلاف سواها.

وأشهر أصحاب المصاحف: أبيّ بن كعب، وعبد الله بن مسعود، وأبو موسى الأشعري، والمقداد بن عمرو، وعلي بن أبي طالب (انظر الأعلام 4/ 137، والفهرست ص 39، 40، 41) .

(3) أبي: هو أبي بن كعب بن قيس بن عبيد، من بني النجار، من الخزرج، صحابي أنصاري، كان قبل الإسلام حبرا من أحبار اليهود، توفي سنة 21 هـ (الأعلام 1/ 82) .

(4) زيد: هو زيد بن ثابت الأنصاري الخزرجي، أبو خارجة من كبار الصحابة، كان كاتب الوحي، هاجر مع النبي صلى الله عليه وآله وسلم وهو ابن إحدى عشر سنة، وكان أحد الذين جمعوا القرآن في عهد النبي صلى الله عليه وآله وسلم، وكان عمر يستخلفه على المدينة إذا سافر، توفي سنة 45 هـ (الأعلام 3/ 57) . [.....]
তারা যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্য থেকে। আর আল্লাহর কিতাবে এমন কোনো হরফ (শব্দ বা পাঠরীতি) নেই যা সাতটি পদ্ধতিতে পাঠ করা হয়—আমার জানা মতে এটিই সঠিক।

বরং তাঁর এই বাণীর ব্যাখ্যা হলো, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম: "কুরআন সাতটি হরফে অবতীর্ণ হয়েছে" [১]: অর্থাৎ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ভাষার সাতটি পদ্ধতির ওপর। এ বিষয়টি আপনাকে নির্দেশ করে

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী: "সুতরাং তোমরা যেভাবে ইচ্ছা পাঠ করো।"

উমর (রা.) বলেন: আমি হিশাম বিন হাকিম বিন হিযামকে সূরা আল-ফুরকান এমনভাবে পাঠ করতে শুনেছি যা আমি যেভাবে পাঠ করি তার থেকে ভিন্ন ছিল। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আমাকে এটি পাঠ করিয়েছিলেন। তাই আমি তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট নিয়ে এলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি তাকে বললেন: পাঠ করো। সে সেই পাঠটিই পড়ল। তখন তিনি বললেন: এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তিনি আমাকে বললেন: পাঠ করো। আমি পাঠ করলাম। তিনি বললেন: এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআন সাতটি হরফে অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং এর মধ্য থেকে যা সহজ হয় তা-ই পাঠ করো।"

সুতরাং যে ব্যক্তি আব্দুল্লাহর [২] কিরাত অনুযায়ী পাঠ করল সে তাঁর হরফ অনুযায়ীই পাঠ করল, আর যে ব্যক্তি উবাইয়ের [৩] কিরাত অনুযায়ী পাঠ করল সে তাঁর হরফ অনুযায়ীই পাঠ করল, আর যে ব্যক্তি যায়িদের [৪] কিরাত অনুযায়ী পাঠ করল সে তাঁর হরফ অনুযায়ীই পাঠ করল।

আর 'হরফ' শব্দটি বর্ণমালার বিচ্ছিন্ন বর্ণের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, আবার একটি একক শব্দের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আবার হরফ শব্দটি একটি পূর্ণ বাক্য, সম্পূর্ণ ভাষণ এবং সমগ্র কবিতার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।

আপনি কি দেখছেন না যে তারা বলে: কবি তাঁর কালিমায় (বাণীতে) এমনটি বলেছেন, অথচ তারা এর দ্বারা তাঁর কাসিদা (কবিতা) বোঝায়। আর আল্লাহ মহান ও প্রতাপশালী

--------------------------------------------

(১) এর পূর্বে হাদিসটি তার উৎসসহ উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) আব্দুল্লাহ: তিনি হলেন প্রখ্যাত সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, যিনি ৩২ হিজরিতে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন সেই সকল মুসহাফ রচয়িতাদের অন্তর্ভুক্ত যারা নিজেদের কাছে একটি নিজস্ব অনুলিপি রাখতেন, যার সাথে তৃতীয় খলিফা উসমান বিন আফফান কর্তৃক ঐক্যবদ্ধ করা অনুলিপির কিছুটা পার্থক্য ছিল, যে অনুলিপিটি তিনি অন্যান্য কপিগুলো ধ্বংস করার পর বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়ার এবং সাধারণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মুসহাফ রচয়িতাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন: উবাই ইবনে কাব, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু মুসা আল-আশআরি, মিকদাদ বিন আমর এবং আলী ইবনে আবি তালিব (দেখুন: আল-আ'লাম ৪/১৩৭, এবং আল-ফিহরিস্ত পৃষ্ঠা ৩৯, ৪০, ৪১)।

(৩) উবাই: তিনি হলেন উবাই ইবনে কাব বিন কায়েস বিন উবাইদ, বনু নাজ্জার গোত্রের খাযরাজ বংশীয়। তিনি একজন আনসারী সাহাবী। ইসলামের পূর্বে তিনি ইহুদি পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ২১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (আল-আ'লাম ১/৮২)।

(৪) যায়িদ: তিনি হলেন যায়িদ ইবনে সাবিত আল-আনসারী আল-খাযরাজী, আবু খারিজা। তিনি বড় মাপের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত এবং ওহী লেখক ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে হিজরত করেন তখন তাঁর বয়স ছিল এগারো বছর। তিনি সেই ব্যক্তিদের একজন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে কুরআন সংকলন করেছিলেন। উমর (রা.) যখন সফরে যেতেন তখন তাকে মদিনার দায়িত্ব দিয়ে যেতেন। তিনি ৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন (আল-আ'লাম ৩/৫৭)। [.....]
(খণ্ড: ১) তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
وعز يقول: وَلَقَدْ قالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ [التوبة: 74] ، وقال: وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوى [الفتح: 26] ، وقال: وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنا لِعِبادِنَا الْمُرْسَلِينَ (171) إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنْصُورُونَ (172) وَإِنَّ جُنْدَنا لَهُمُ الْغالِبُونَ (173) [الصافات: 171، 173] .

وقال: وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلى حَرْفٍ فَإِنْ أَصابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصابَتْهُ فِتْنَةٌ انْقَلَبَ عَلى وَجْهِهِ [الحج: 11] ، أراد سبحانه وتعالى: من الناس من يعبد الله على الخير يصيبه من تثمير المال، وعافية البدن، وإعطاء السّؤل، فهو مطمئن ما دام ذلك له. وإن امتحنه الله تعالى باللّأواء في عيشه، والضّراء في بدنه وماله، كفر به.

فهذا عبد الله على وجه واحد، ومعنى متحد، ومذهب واحد، وهو معنى الحرف. ولو عبد الله على الشكر للنعمة، والصبر للمصيبة، والرّضا بالقضاء- لم يكن عبده على حرف.

 

‌‌وقد تدبّرت وجوه الخلاف في القراءات فوجدتها سبعة أوجه

: أولها: الاختلاف في إعراب الكلمة، أو في حركة بنائها بما لا يزيلها عن صورتها في الكتاب ولا يغيّر معناها نحو قوله تعالى: هؤُلاءِ بَناتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ [هود: 78] وأطهر لكم وَهَلْ نُجازِي إِلَّا الْكَفُورَ [سبأ: 17] وهل يجازى إلّا الكفور، وَيَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبُخْلِ [النساء: 37] وبالبخل، فَنَظِرَةٌ إِلى مَيْسَرَةٍ [البقرة: 280] وميسرة.

والوجه الثاني: أن يكون الاختلاف في إعراب الكلمة وحركات بنائها بما يغيّر معناها، ولا يزيلها عن صورتها في الكتاب، نحو قوله تعالى: رَبَّنا باعِدْ بَيْنَ أَسْفارِنا [سبأ: 19] وربّنا باعد بين أسفارنا، وإِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ [النور: 15] وتلقونه، وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ [يوسف: 45] وبعد أمة.

والوجه الثالث: أن يكون الاختلاف في حروف الكلمة دون إعرابها، بما يغيّر معناها ولا يزيل صورتها، نحو قوله: وَانْظُرْ إِلَى الْعِظامِ كَيْفَ نُنْشِزُها [البقرة:

259] وننشرها، ونحو قوله: حَتَّى إِذا فُزِّعَ عَنْ قُلُوبِهِمْ [سبأ: 23] وفرّغ.

والوجه الرابع: أن يكون الاختلاف في الكلمة بما يغيّر صورتها في الكتاب، ولا يغيّر معناها، نحو قوله: «إن كانت إلّا زقية» وصَيْحَةً [يس: 29] و «كالصّوف المنفوش» ووَ تَكُونُ الْجِبالُ كَالْعِهْنِ الْمَنْفُوشِ (5) [القارعة: 5] .

والوجه الخامس أن يكون الاختلاف في الكلمة بما يزيل صورتها ومعناها نحو قوله: «وطلع منضود» في موضع وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ (29) [الواقعة: 29] .
এবং মহান আল্লাহ বলেন: “তারা তো কুফরি কথা বলেছে” [আত-তাওবাহ: ৭৪], এবং তিনি বলেছেন: “আর তিনি তাদের জন্য তাকওয়ার বাণী অপরিহার্য করে দিলেন” [আল-ফাতহ: ২৬], এবং তিনি বলেছেন: “আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই কথা পূর্বেই স্থির হয়েছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী” [আস-সাফফাত: ১৭১-১৭৩]।

এবং তিনি বলেছেন: “মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে এক কিনারায় (দ্বিধার সাথে); যদি সে কল্যাণের সম্মুখীন হয়, তবে তাতে সে প্রশান্তি পায়, আর যদি সে বিপদের সম্মুখীন হয়, তবে সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায় (বিমুখ হয়)” [আল-হজ্জ: ১১]। সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন: মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে আল্লাহর ইবাদত করে কেবল সেই কল্যাণের আশায় যা সে লাভ করে—যেমন সম্পদের প্রবৃদ্ধি, শরীরের সুস্থতা এবং প্রার্থিত বস্তু লাভ; যতক্ষণ সে তা পায় ততক্ষণ সে প্রশান্ত থাকে। আর যদি আল্লাহ তাআলা তাকে জীবনযাপনে কষ্ট এবং শরীর ও সম্পদে ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করেন, তবে সে তাঁকে অস্বীকার করে।

সুতরাং এটি হলো একক উদ্দেশ্য, অভিন্ন অর্থ ও একক পন্থার ভিত্তিতে আল্লাহর ইবাদত করা, আর এটাই হলো 'হরফ' (কিনারা বা প্রান্ত) এর অর্থ। আর যদি সে নেয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা, বিপদে ধৈর্য এবং তাকদীরের ফয়সালায় সন্তুষ্টির ভিত্তিতে আল্লাহর ইবাদত করত, তবে সে এক কিনারার ওপর ইবাদতকারী হতো না।

 

‌‌আমি কিরাআতের (পঠনরীতির) মতপার্থক্যের ধরনগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছি এবং সেগুলোকে সাতটি প্রকারে পেয়েছি

: প্রথমটি: শব্দের ই’রাব (ব্যাকরণিক বিভক্তি) অথবা এর গঠনগত হরকতের পার্থক্য যা লিখিত রূপ থেকে শব্দকে বিচ্যুত করে না এবং এর অর্থও পরিবর্তন করে না। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: “এরা আমার কন্যা, এরা তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র” [হুদ: ৭৮], এখানে 'আত্বহারু' ও 'আত্বহারা'; এবং “আমি কি অকৃতজ্ঞ ছাড়া অন্য কাউকে শাস্তি দেই?” [সাবা: ১৭], এখানে 'নুজাযী' ও 'ইউজাযা'; এবং “তারা মানুষকে কার্পণ্যের নির্দেশ দেয়” [আন-নিসা: ৩৭], এখানে 'বিল বুখলি' ও 'বিল বাখালি'; এবং “তবে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া উচিত” [আল-বাকারাহ: ২৮০], এখানে 'মায়সারাহ' ও 'মায়সুরাহ'।

দ্বিতীয় প্রকার: শব্দের ই’রাব এবং গঠনগত হরকতের এমন পার্থক্য যা এর অর্থ পরিবর্তন করে দেয়, কিন্তু মুসহাফের লিখিত রূপ পরিবর্তন করে না। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের সফরের মধ্যবর্তী দূরত্ব বাড়িয়ে দিন” [সাবা: ১৯], এখানে 'বা-ইদ' (আদেশবাচক) ও 'বা-আদা' (অতীতকাল); এবং “যখন তোমরা তা মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে” [আন-নূর: ১৫], এখানে 'তালাক্কওনা' ও 'তিলিক্কুনা'; এবং “দীর্ঘকাল পর তার মনে পড়ল” [ইউসুফ: ৪৫], এখানে 'উম্মাতিন' ও 'আমাহিন'।

তৃতীয় প্রকার: ই’রাব ঠিক রেখে শব্দের অক্ষরের এমন পার্থক্য যা এর অর্থ পরিবর্তন করে দেয় কিন্তু দৃশ্যত রূপ পরিবর্তন করে না। যেমন তাঁর বাণী: “আর হাড়গুলোর দিকে তাকাও, কীভাবে আমি সেগুলোকে জোড়া দেই” [আল-বাকারাহ: ২৫৯], এখানে 'নুনশিযুহা' ও 'নুনশিরুহা'; এবং তাঁর বাণী: “অবশেষে যখন তাদের অন্তর থেকে আতঙ্ক দূর করা হয়” [সাবা: ২৩], এখানে 'ফুযযিআ' ও 'ফুরিগা'।

চতুর্থ প্রকার: শব্দের এমন পার্থক্য যা মুসহাফের লিখিত রূপ পরিবর্তন করে দেয় কিন্তু অর্থ পরিবর্তন করে না। যেমন: “তা কেবল একটি বিকট চিৎকার ছিল” [ইয়াসিন: ২৯] এর স্থলে “তা কেবল একটি শব্দ ছিল”; এবং “ধুনিত রঙিন পশমের মতো” [আল-কারিয়াহ: ৫] এর স্থলে “ধুনিত পশমের মতো”।

পঞ্চম প্রকার: শব্দের এমন পার্থক্য যা এর লিখিত রূপ ও অর্থ উভয়ই পরিবর্তন করে দেয়। যেমন: “কাঁদিভরা কলার” [আল-ওয়াকিয়াহ: ২৯] এর স্থলে “সারিবদ্ধ মোচা”।