(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: -)
رياض الصالحين - ت الفحل القسم: كتب السنة
الكتاب: رياض الصالحين
المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت 676هـ)
تعليق وتحقيق: الدكتور ماهر ياسين الفحل رئيس قسم الحديث - كلية العلوم الإسلامية - جامعة الأنبار (وقد جعل تحقيقه للكتاب مجانا فجزاه الله خيرا)
الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الأجزاء: 1
أعده للشاملة: واسم كان الإندونيسي
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
রিয়াদুস সালিহীন - তাহকিক: আল-ফাহল বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: রিয়াদুস সালিহীন
লেখক: আবু যাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে শারফ আন-নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হিজরি)
টীকা ও গবেষণা: ডক্টর মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল, হাদিস বিভাগীয় প্রধান - ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ - আনবার বিশ্ববিদ্যালয় (তিনি এই গ্রন্থের গবেষণা ও সম্পাদনাটি বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন)
প্রকাশক: দার ইবনে কাসির মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ، দামেস্ক - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
শামেলা লাইব্রেরির জন্য প্রস্তুত করেছেন: ওয়াসিম কান আল-ইন্দোনেশি
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[رياض الصالحين]ـ
المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (المتوفى: 676 هـ)
تعليق وتحقيق: الدكتور ماهر ياسين الفحل رئيس قسم الحديث - كلية العلوم الإسلامية - جامعة الأنبار
الناشر: دار ابن كثير للطباعة والنشر والتوزيع، دمشق - بيروت
الطبعة: الأولى، 1428 هـ - 2007 م
عدد الأجزاء: 1
أعده للشاملة/ واسم كان الإندونيسي
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[রিয়াদুস সালিহীন]
লেখক: আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া বিন শরফ আন-নববী (মৃত্যু: ৬৭৬ হিজরি)
টীকা ও সম্পাদনা: ড. মাহের ইয়াসিন আল-ফাহল, বিভাগীয় প্রধান, হাদিস বিভাগ - ইসলামি বিজ্ঞান অনুষদ - আল-আনবার বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশক: দার ইবনে কাসীর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, দামেস্ক - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৮ হিজরি - ২০০৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ওয়াসিম কান ইন্দোনেশিয়ান
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা সংযুক্ত রয়েছে]
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم
إنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له.
«وأشهد أنَّ محمدًا عبده ورسوله، وأمينه على وحيه، وخيرته من خلقه، وسفيره بينه وبين عباده، المبعوث بالدين القويم، والمنهج المستقيم، أرسله الله رحمة للعالمين، وإمامًا للمتقين، وحجةً على الخلائق أجمعين»
(1){يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]. {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71]. أما بعد: فإني أحمد الله أولًا وآخرًا وظاهرًا وباطنًا على إنهاء العمل بهذا الكتاب العظيم " رياض الصالحين "، ذلك الكتاب الذي كان من أول كتب العلم قراءةً لي، وكنت دائمًا أرجع إلى هذا الكتاب وأحفظ من أحاديثه وأنصح الناس في العناية به؛ لأنَّه كتاب كله نور، كيف لا وقد ضمّ بين دفّتيه أهم ما يحتاجه المسلم في حياته وعباداته؛ لذلك انعقدت النية على العناية به عنايةً متميزةً مع التأكيد في التعليق على اتباع منهج السلف الصالح.
والكتاب قد طبع طبعاتٍ عديدة واعتنى به عدد من الأفاضل من المختصين بهذا الشأن فأردت أَنْ أُشرك نفسي معهم في طبعةٍ متميزةٍ راجيًا من الله أَنْ ينفعني بها يوم الدين يوم لا ينفع مالٌ ولا بنون إلا من أتى الله بقلبٍ سليم.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।
«এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে দূত। তিনি সঠিক দ্বীন এবং সুপ্রতিষ্ঠিত আদর্শ নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে, মুত্তাকীদের জন্য ইমাম হিসেবে এবং সকল সৃষ্টির ওপর হুজ্জাত (দলিল) হিসেবে প্রেরণ করেছেন»
(১){হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আল ইমরান: ১০২]। {হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় হতে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চেয়ে থাকো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} [আন-নিসা: ১] {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তবেই তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১]। অতঃপর: আমি এই মহান গ্রন্থ "রিয়াদুস সালেহীন"-এর কাজ সমাপ্ত করার তৌফিক দেওয়ায় প্রথমে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর প্রশংসা করছি। এটি ইলমী কিতাবসমূহের মধ্যে আমার পড়া প্রথম দিককার একটি কিতাব। আমি সর্বদা এই কিতাবের শরণাপন্ন হতাম, এর হাদিসসমূহ মুখস্থ করতাম এবং মানুষকে এর প্রতি গুরুত্ব দিতে উপদেশ দিতাম। কারণ এই কিতাবটি আগাগোড়া নূর (আলো); কেনইবা হবে না, অথচ এটি তার দুই মলাটের মাঝে একজন মুসলিমের জীবন ও ইবাদতের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ কারণেই এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নিয়ত করি এবং এর ওপর টীকা রচনার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের মানহাজ অনুসরণের প্রতি জোর দিই।
এই কিতাবটি ইতিপূর্বে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এই বিষয়ের বহু বিজ্ঞ ব্যক্তি এর প্রতি যত্ন নিয়েছেন। তাই আমি চাইলাম তাদের সাথে শরিক হয়ে একটি পরিচ্ছন্ন সংস্করণ বের করতে; আল্লাহর কাছে আশা করছি কিয়ামতের দিন তিনি আমাকে এর মাধ্যমে উপকৃত করবেন—যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো কাজে আসবে না, একমাত্র সেই ব্যক্তি ছাড়া যে আল্লাহর কাছে পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: -)
وقد كلفت الأخ الفاضل الدكتور سليمان بن عبد الله الميمان بالحصول على نسخ خطية للكتاب تعود إلى عصر المؤلف، وقد تأخر الأمر عليَّ أكثر من عامٍ ونصف فاجتهدت في ضبط النص على النسخ المطبوعة مع الرجوع إلى موارد المصنف من كتب السنة المشرفة. أما التخريج فجعلته مختصرًا على ما يذكره المصنف خشية تضخم حواشي الكتاب. وفيما يتعلق بالصحيحين فقد أحلت إلى صحيح البخاري بالجزء والصفحة على الطبعة الأميرية ثم أردفته برقم الحديث من فتح الباري ترقيم محمد فؤاد عبد الباقي، وأحلت إلى صحيح مسلم بالجزء والصفحة للطبعة الإستانبولية ثم أردفته برقم الحديث في طبعة محمد فؤاد عبد الباقي؛ وذلك لانتشار هذه الطبعات وتداولها. وأما التعليق على الأحاديث فقد شرحت بعض الغريب الذي لم يذكره المصنف وعلّقت على بعض الأشياء مما يحتاجه المسلم في حياته وعبادته، وكان جُلُّ ذلك بالاعتماد على كتب أهل العلم لا سيما كتاب شرح النووي على صحيح مسلم، وفتح الباري، وشرح رياض الصالحين للعلامة ابن عثيمين رحم الله الجميع.
وأنا أنصح كل مسلم بالاهتمام بهذا الكتاب العظيم كتاب " رياض
الصالحين "، وأنصح بمداومة قراءته مرة بعد مرة، والاهتمام بحفظ أحاديثه، وعلى صاحب العائلة أَنْ يفقّه عائلته بهذا الكتاب. وكذا أنصح كل مسلم بالاهتمام بتوحيد الله «فَإنَّ التَّوحيدَ حقيقتُهُ: أَنْ تَرى الأُمورَ كُلَّها مِنَ اللهِ تَعالى رؤيةً تقطعُ الالتفاتَ عن الأسبابِ والوسائطِ، فلا ترى الخيرَ والشَّرَّ إلاَّ منه تعالى. وهذا المقامُ يُثمرُ التوكُّلَ، وتركَ شِكايةِ الخلقِ، وتركَ لومِهِم، والرِّضا عن اللهِ تعالى، والتّسليمَ لحكمِه.
وإِذا عرفتَ ذلكَ؛ فاعلمْ أَنَّ الرُّبوبيَّةَ منه تعالى لعبادِهِ، والتَّألُّه من عبادِه له سبحانه، كما أَنَّ الرحمةَ هي الوصلةُ بينهم وبينَهُ عز وجل.
واعلَم أَنَّ أَنْفسَ الأَعمالِ، وأَجلَّها قدرًا: توحيدُ اللهِ تعالى غَير أَنَّ التوحيدَ له قِشران:
الأوَّل: أَنْ تقولَ بِلِسَانِك: «لا إله إلاَّ اللهُ» ويُسمَّى هذا القولُ: توحيدًا، وهو مناقضُ التَّثْليثِ الذي تعتقدُه النَّصارى.
وهذا التوحيدُ يصدُرُ - أَيضًا - من المنافقِ الَّذي يُخالفُ سرُّه جهرَه.
والقِشْرُ الثَّاني: أَنْ لا تكونَ في القلبِ مخالفةٌ، ولا إِنكارٌ لمفهومِ هذا القولِ، بل يشتملُ القلبُ على اعتقادِ ذلك، والتصديق به، وهذا هو توحيدُ عامةِ النَّاسِ.
আমি সম্মানিত ভাই ড. সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-মাইমানকে গ্রন্থটির এমন কিছু পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছিলাম যা লেখকের যুগের। কিন্তু বিষয়টি আমার নিকট এক বছরেরও বেশি সময় বিলম্বিত হয়, ফলে আমি মুদ্রিত কপিগুলোর ওপর ভিত্তি করে এবং লেখকের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত সম্মানিত সুন্নাহর গ্রন্থগুলোর সহায়তায় পাঠ্যটি নির্ভুল করার প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আর হাদিসের রেফারেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে আমি কেবল লেখকের উল্লিখিত বিষয়ের ওপরই সংক্ষিপ্ত রেখেছি, যাতে গ্রন্থের টীকা অত্যধিক বড় না হয়ে যায়। সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর ক্ষেত্রে আমি সহীহুল বুখারির খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ‘আমীরিয়্যাহ’ সংস্করণের অনুসরণ করেছি এবং পরবর্তীতে মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির নম্বর অনুযায়ী ‘ফাতহুল বারী’-র হাদিস নম্বর যুক্ত করেছি। আর সহীহ মুসলিমের ক্ষেত্রে ইস্তাম্বুল সংস্করণের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করে পরবর্তীতে মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির সংস্করণের হাদিস নম্বর প্রদান করেছি; কারণ এই সংস্করণগুলোই সর্বাধিক প্রচলিত এবং সহজলভ্য। হাদিসের ব্যাখ্যা বা টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমি কিছু কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা দিয়েছি যা মূল লেখক উল্লেখ করেননি, এবং এমন কিছু বিষয়ে টীকা প্রদান করেছি যা একজন মুসলিমের তার জীবন ও ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। এর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমি উলামায়ে কেরামের কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, বিশেষ করে সহীহ মুসলিমের ওপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ফাতহুল বারী এবং আল্লামা ইবনে উসাইমীনের রিয়াদুস সালিহীনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ—আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন।
আমি প্রত্যেক মুসলিমকে এই মহান গ্রন্থ ‘রিয়াদুস
সালিহীন’-এর প্রতি যত্নশীল হওয়ার উপদেশ দিচ্ছি, এবং বারবার এটি পাঠ করার ও এর হাদিসগুলো মুখস্থ করার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদানের পরামর্শ দিচ্ছি। পরিবারের কর্তার উচিত তার পরিবারকে এই কিতাবটি শিক্ষা দেওয়া। একইভাবে আমি প্রত্যেক মুসলিমকে আল্লাহর তাওহীদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার নসিহত করছি। কেননা তাওহীদের প্রকৃত স্বরূপ হলো: আপনি সমস্ত বিষয়কে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হিসেবে দেখবেন—এমন এক দৃষ্টি যা মাধ্যম ও উপকরণের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা থেকে আপনাকে বিমুখ রাখবে; ফলে আপনি মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে কল্যাণ বা অকল্যাণ দেখতে পাবেন না। এই সুউচ্চ স্তরটি মানুষের মাঝে আল্লাহর ওপর ভরসা, সৃষ্টির কাছে অভিযোগ করা বর্জন, তাদের নিন্দা করা ত্যাগ করা, আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি এবং তাঁর ফয়সালার সামনে আত্মসমর্পণ করার গুণাবলি সৃষ্টি করে।
যখন আপনি এটি জানতে পারলেন, তখন জেনে রাখুন যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য রয়েছে প্রভুত্ব (রুবুবিয়্যাহ), আর বান্দাদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি রয়েছে উপাসনা (তাআল্লুহ), ঠিক যেমন দয়া বা রহমত হলো তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মধ্যকার যোগসূত্র।
জেনে রাখুন যে, আমলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান এবং মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে মহান হলো মহান আল্লাহর তাওহীদ। তবে তাওহীদের দুটি স্তর বা বহিরাবরণ রয়েছে:
প্রথমটি হলো: মুখে বলা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)। এই মৌখিক উচ্চারণকেও তাওহীদ বলা হয়, যা নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) বিশ্বাসকৃত ত্রিত্ববাদের বিপরীত।
এই তাওহীদ মুনাফিকের পক্ষ থেকেও প্রকাশ পায়, যার গোপন অবস্থা তার প্রকাশ্য অবস্থার বিপরীত হয়।
দ্বিতীয় স্তরটি হলো: এই বাণীর মর্মার্থের ব্যাপারে অন্তরে কোনো প্রকার বিরোধ বা অস্বীকৃতি না থাকা, বরং অন্তর এটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস ও সত্যায়ন করা; আর এটিই হলো সাধারণ মানুষের তাওহীদ।
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: -)
ولُبابُ التَّوحيد: أَنْ يَرى الأُمورَ كُلَّها من اللهِ تعالى، ثم يقطعُ الالتفاتَ عن الوسائطِ، وأَنْ يعبدَه سبحانه عبادةً يفردُه بها ولا يعبد غيرَه».
(1)أخي قارئ هذا الكتاب، يقول الله تعالى في كتابه العزيز: {أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنْ تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ} [الحديد: 16] فأنت أيها المسلم الغيور تتميز عن غيرك من الناس بسمات الشرف والكرامة والغيرةِ على نفسك وعلى إخوتك المسلمين، فاحرص كل الحرص على أَنْ لا تفوتك فرصة كسب الثواب من الله بنشر ما يرضيه سبحانه، واعلم أخي الكريم: {إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولًا} [الإسراء: 36].
أخي الكريم: إنَّ رحمة الله لا تنال بالأماني ولا بالأنساب ولا بالوظائف ولا بالأموال، إنما تنال بطاعة الله ورسوله واتباع شريعته وذلك يكون بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، فلنحذر جميعًا كل ما يغضب الله ولنمض إلى الله قدمًا بلا تردد بتوبة صادقة قبل فوات الأوان {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ}] النور: 63 [، واعلم أنَّ الله خلق لكل إنسان أنفاسًا معدودة وساعات محدودة، عند انقضائها تقف دقات قلبه، ويطوى سجله، ويحال بينه وبين هذه الدار، إما إلى دار أنس وبهجة، وإما إلى دار شقاء ووحشة، فمن زرع كلمات طيبة وأعمالًا صالحة أدخله الله الجنة ونعّمه بالنعيم المقيم، ومن زرع أعمالًا سيئة وكلمات قبيحة دخل النار، قال تعالى: {وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءتْ مُرْتَفَقًا} [الكهف: 29] وتذكّر قوله تعالى: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} [الزلزلة: 7 - 8] فكل ما تعمله في هذه الدنيا الفانية تنال جزاءه إن خيرًا فخير وإن شرًا فشرٌ، وتذكّر دائمًا أنَّ الحياة نفس يذهب ولا يرجع، ولا ينفع الندم بعدها فاعمل لنفسك ولا تقدّم ما يفنى على ما يبقى.
أخي الكريم: إنَّ أجمل سعادة وأعظم لذة يجدها الإنسان في هذه الحياة الفانية هي طاعة الله ومحبته والقرب إليه وكثرة الدعاء وقد صرّح تائبون كثيرون بأنّهم وجدوا أعظم متعة تمتعوها هي القرب إلى الله تعالى وحسن الظن به وكثرة مراقبته، وأكثِرْ من الدعاء والذكر والاستغفار فلك في
--------------------------------------------
«আর তাওহীদের সারমর্ম হলো: সমস্ত বিষয়কে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখা, অতঃপর মাধ্যমগুলোর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা ছিন্ন করা এবং তাঁর সুবহানাহুর এমন ইবাদত করা যাতে তাঁকে একক করা হয় এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করা।»
(১)হে এই কিতাব পাঠকারী ভাই, আল্লাহ তাআলা তাঁর সুমহান কিতাবে বলেন: {মুমিনদের জন্য কি সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের অন্তরসমূহ বিগলিত হবে? আর তারা যেন তাদের মতো না হয় যাদেরকে ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তাদের উপর সুদীর্ঘ কাল অতিক্রান্ত হলো, ফলে তাদের অন্তরসমূহ কঠোর হয়ে গেল এবং তাদের অনেকেই পাপাচারী।} [হাদিদ: ১৬]। হে আত্মমর্যাদাবান মুসলিম, আপনি মর্যাদা, সম্মান এবং নিজের ও আপনার মুসলিম ভাইদের প্রতি মমত্ববোধের বৈশিষ্ট্যে অন্যান্য মানুষ থেকে স্বতন্ত্র। অতএব, মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হন এমন বিষয় প্রচারের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে সওয়াব অর্জনের সুযোগ যেন আপনার হাতছাড়া না হয় সে ব্যাপারে পূর্ণ সচেষ্ট হোন। আর হে সম্মানিত ভাই, জেনে রাখুন: {নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তঃকরণ—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।} [ইসরা: ৩৬]।
হে সম্মানিত ভাই: আল্লাহর রহমত কেবল কল্পনাপ্রসূত কামনা, বংশমর্যাদা, পদমর্যাদা কিংবা ধন-সম্পদের মাধ্যমে অর্জিত হয় না; বরং তা অর্জিত হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য এবং তাঁর শরিয়ত অনুসরণের মাধ্যমে। আর তা হয় সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের মাধ্যমে। অতএব, আসুন আমরা সবাই আল্লাহর ক্রোধ উদ্রেককারী সকল বিষয় থেকে সতর্ক হই এবং সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে খাঁটি তাওবার মাধ্যমে কোনো দ্বিধা ছাড়াই আল্লাহর দিকে অগ্রসর হই। {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।} [নূর: ৬৩]। জেনে রাখুন যে, আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক শ্বাস-প্রশ্বাস এবং সীমিত সময় সৃষ্টি করেছেন। সেগুলো শেষ হয়ে গেলে তার হৃদস্পন্দন থেমে যায়, তার আমলনামা গুটিয়ে নেওয়া হয় এবং তার ও এই জগতের মাঝে আড়াল তৈরি করা হয়; হয় প্রশান্তি ও আনন্দের আবাসের দিকে, নতুবা দুঃখ ও ভীতিকর আবাসের দিকে। সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তম কথা এবং সৎ আমল বপন করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং চিরস্থায়ী নেয়ামতে ধন্য করবেন। আর যে মন্দ কাজ ও কদর্য কথা বপন করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে তবে তাদেরকে গলিত ধাতুর ন্যায় পানি দেওয়া হবে যা তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে। কতই না নিকৃষ্ট পানীয় এবং কতই না মন্দ বিশ্রামস্থল!} [কাহফ: ২৯]। আর স্মরণ করুন আল্লাহ তাআলার বাণী: {কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে সে তাও দেখতে পাবে।} [যিলযাল: ৭-৮]। সুতরাং এই নশ্বর দুনিয়াতে আপনি যা কিছু করবেন তার প্রতিদান পাবেন—যদি ভালো হয় তবে ভালো, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ। সর্বদা স্মরণ রাখবেন যে, জীবন হলো একটি শ্বাস যা চলে যায় কিন্তু ফিরে আসে না, আর এরপর অনুশোচনা কোনো কাজে আসে না। অতএব নিজের জন্য কাজ করুন এবং অবিনশ্বর বিষয়ের উপর নশ্বর বিষয়কে প্রাধান্য দেবেন না।
হে সম্মানিত ভাই: মানুষ এই নশ্বর জীবনে যে সুন্দরতম সুখ ও সর্বশ্রেষ্ঠ স্বাদ অনুভব করে তা হলো আল্লাহর আনুগত্য, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর নৈকট্য লাভ এবং অধিক পরিমাণে দোয়া করা। অনেক তওবাকারী ব্যক্ত করেছেন যে, তারা যে সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দ উপভোগ করেছেন তা হলো মহান আল্লাহর নৈকট্য, তাঁর প্রতি সুধারণা এবং সর্বদা তাঁর নজরদারির অনুভূতি (মুরাকাবা)। সুতরাং অধিক পরিমাণে দোয়া, জিকির ও ইস্তিগফার করুন, কেননা এতে আপনার জন্য রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: -)
كل تسبيحة عشر حسنات، حاولْ أَنْ لا تجعل وقتك يذهب سدى، أكثرْ من قراءة القرآن فلك في كل حرف عشر حسنات، اقرأْ كتب العلم والأحاديث النبوية، فَقِّه نفسك بأمور دينك، عليك بكثرة التطوع والإكثار من صلاة النافلة، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إنك لن تسجد لله سجدة إلا رفعك بها درجة وحط عنك بها خطيئة»
(1). كُنْ داعيًا إلى الله تعالى، كُنْ آمرًا للناس بالمعروف وناهيًا لهم عن المنكر، قال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33]، إياك وأعراض الناس لا تذكر أحدًا بسوء، ولا تغتب أحدًا، ولا تؤذي أحدًا، وقد قال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده»
(2)، وقال أيضًا: «كل المسلم على المسلم حرام دمه وعرضه وماله»
(3)، وهذا نبينا الكريم قد حذرنا من احتقار المسلمين فقال: «بحسب امرئ من الشر أَنْ يحقر أخاه المسلم»
(4) فإذا كان استحقاره عظيمًا عند الله فكيف بإنزال الضُّرِّ به.
كُنْ رقيبًا على نفسك ولسانك فكل كلام تنطقه تحاسب عليه إنْ كان
خيرًا فخيرٌ وإنْ كان شرًا فشرٌ، وقد قال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: «إنَّك لم تزل سالمًا ما سكت، فإذا تكلمت كتب لك أو عليك»
(5)، وقال أيضًا: «رحم الله عبدًا قال خيرًا فغنم أو سكت عن شر فسلم»
(6) حافِظْ على نظرك فلا تنظر إلى محرّم، وحافظ على سمعك فلا تسمع محرّمًا، قال تعالى: {إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولًا} [الإسراء: 36]. حافظ على جوارحك فلا تفعل محرّمًا. ولا تنظر إلى صغر المعصية وتحسب الأمر هينًا، ولكن انظر إلى من تعصي.
--------------------------------------------
প্রতিটি তাসবিহতে দশটি নেকি রয়েছে, চেষ্টা করুন যেন আপনার সময় বৃথা না যায়, অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করুন কারণ আপনার জন্য প্রতিটি অক্ষরে দশটি নেকি রয়েছে, ইলমি কিতাব ও নববী হাদিসসমূহ পাঠ করুন, দ্বীনি বিষয়ে নিজেকে ফকিহ (সুবিজ্ঞ) করে তুলুন, অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত ও নফল সালাত আদায় করা আপনার জন্য আবশ্যক, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর জন্য যখনই একটি সেজদা করবেন, তিনি তার বিনিময়ে আপনার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং আপনার একটি গুনাহ মোচন করবেন»
(১)। আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী হোন, মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দিন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করুন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, নেক আমল করে এবং বলে যে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত} [ফুসসিলাত: ৩৩], মানুষের সম্মান ও ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা থেকে সাবধান থাকুন, কাউকে মন্দভাবে স্মরণ করবেন না, কারও গীবত করবেন না এবং কাউকে কষ্ট দেবেন না, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে»
(২), তিনি আরও বলেছেন: «প্রত্যেক মুসলিমের উপর অন্য মুসলিমের রক্ত, সম্মান এবং সম্পদ হারাম»
(৩), আর আমাদের এই সম্মানিত নবী আমাদের মুসলিমদের তুচ্ছজ্ঞান করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন: «একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে»
(৪)। সুতরাং যদি তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা আল্লাহর নিকট এত বড় (অপরাধ) হয়, তবে তাকে ক্ষতি করার পরিণাম কী হতে পারে!
আপনি আপনার নফস ও জিহ্বার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন, কারণ আপনার উচ্চারিত প্রতিটি কথার জন্য হিসাব দিতে হবে; যদি তা ভালো হয় তবে প্রতিদান ভালো, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই যতক্ষণ আপনি নীরব থাকবেন ততক্ষণ আপনি নিরাপদ থাকবেন, আর যখনই আপনি কথা বলবেন তখনই তা আপনার পক্ষে অথবা বিপক্ষে লেখা হবে»
(৫), তিনি আরও বলেছেন: «আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি দয়া করুন যে ভালো কথা বলে সওয়াব অর্জন করল অথবা মন্দ কথা থেকে নীরব থেকে নিরাপদ থাকল»
(৬)। আপনার দৃষ্টির হিফাজত করুন, সুতরাং হারামের দিকে তাকাবেন না; এবং আপনার কানের হিফাজত করুন, সুতরাং হারাম কিছু শুনবেন না, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকের সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে} [আল-ইসরা: ৩৬]। আপনার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রক্ষা করুন, সুতরাং কোনো হারামে লিপ্ত হবেন না। গুনাহের ক্ষুদ্রতার দিকে তাকাবেন না এবং বিষয়টিকে তুচ্ছ মনে করবেন না; বরং আপনি কার অবাধ্যতা করছেন তার দিকে তাকান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: -)
الزم هذا الدعاء: «اللهم أحسن عاقبتنا في الأمور كلها وأجرنا من خزي الدنيا وعذاب الآخرة».
هذا وبالله التوفيق وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
وكتب
ماهر بن ياسين بن فحل الدكتور
العراق - الأنبار - الرمادي
دار الحديث
26/ 2/1426هـ
এই দুআটি সর্বদা আঁকড়ে ধরুন: «হে আল্লাহ, আমাদের সকল বিষয়ের শেষ পরিণাম উত্তম করুন এবং আমাদের দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের আজাব থেকে রক্ষা করুন।»
এটুকুই, আর আল্লাহর মাধ্যমেই সাফল্য অর্জিত হয়। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
লিখিত
ডক্টর মাহের বিন ইয়াসিন বিন ফাহল
ইরাক - আনবার - রামাদি
দারুল হাদিস
২৬/ ০২/ ১৪২৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٥)
مقدمة المؤَلف الإمَام النوَويبسم الله الرحمن الرحيم
الحمْدُ للهِ الواحدِ القَهَّارِ، العَزيزِ الغَفَّارِ، مُكَوِّرِ
(1) اللَّيْلِ على النَّهَارِ، تَذْكِرَةً لأُولي القُلُوبِ والأَبصَارِ، وتَبْصرَةً لِذَوي الأَلبَابِ واَلاعتِبَارِ، الَّذي أَيقَظَ مِنْ خَلْقهِ مَنِ اصطَفاهُ فَزَهَّدَهُمْ في هذهِ الدَّارِ، وشَغَلهُمْ بمُراقبَتِهِ وَإِدَامَةِ الأَفكارِ، ومُلازَمَةِ الاتِّعَاظِ والادِّكَارِ، ووَفَّقَهُمْ للدَّأْبِ في طاعَتِهِ، والتّأهُّبِ لِدَارِ القَرارِ، والْحَذَرِ مِمّا يُسْخِطُهُ ويُوجِبُ دَارَ البَوَارِ، والمُحافَظَةِ على ذلِكَ مَعَ تَغَايُرِ الأَحْوَالِ والأَطْوَارِ، أَحْمَدُهُ أَبلَغَ حمْدٍ وأَزكَاهُ، وَأَشمَلَهُ وأَنْمَاهُ، وأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللهُ البَرُّ الكَرِيمُ، الرؤُوفُ الرَّحيمُ، وأشهَدُ أَنَّ سَيَّدَنا مُحمّدًا عَبدُهُ ورَسُولُهُ، وحبِيبُهُ وخلِيلُهُ، الهَادِي إلى صِرَاطٍ مُسْتَقيمٍ، والدَّاعِي إِلَى دِينٍ قَويمٍ، صَلَوَاتُ اللهِ وسَلامُهُ عَليهِ، وَعَلَى سَائِرِ النَّبيِّينَ، وَآلِ كُلٍّ، وسَائِرِ الصَّالِحينَ.
أَما بعد، فقد قال اللهُ تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإنْسَ إِلاَّ لِيَعْبُدُونِ مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ} [الذاريات: 56 - 57] وَهَذا تَصْريحٌ بِأَنَّهُمْ خُلِقوا لِلعِبَادَةِ، فَحَقَّ عَلَيْهِمُ الاعْتِنَاءُ بِمَا خُلِقُوا لَهُ وَالإعْرَاضُ عَنْ حُظُوظِ الدُّنْيَا بالزَّهَادَةِ، فَإِنَّهَا دَارُ نَفَادٍ لَا مَحَلُّ إخْلَادٍ، وَمَرْكَبُ عُبُورٍ لَا مَنْزِلُ حُبُورٍ، ومَشْرَعُ انْفصَامٍ لَا مَوْطِنُ دَوَامٍ، فلِهذا كَانَ الأَيْقَاظُ مِنْ أَهْلِهَا هُمُ الْعُبَّادُ، وَأعْقَلُ النَّاسِ فيهَا هُمُ الزُّهّادُ. قالَ اللهُ تعالى: {إِنَّمَا مَثَلُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاءٍ أَنْزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الأَرْضِ مِمَّا يَأْكُلُ النَّاسُ وَالأَنْعَامُ حَتَّى إِذَا أَخَذَتِ الأَرْضُ زُخْرُفَهَا وَازَّيَّنَتْ وَظَنَّ أَهْلُهَا أَنَّهُمْ قَادِرُونَ عَلَيْهَا أَتَاهَا أَمْرُنَا لَيْلًا أَوْ نَهَارًا فَجَعَلْنَاهَا حَصِيدًا كَأَنْ لَمْ تَغْنَ بِالأَمْسِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآياتِ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} [يونس: 24]. والآيات في هذا المعنى كثيرةٌ.
--------------------------------------------
লেখক ইমাম নববীর ভূমিকাপরম করুণাময় পরম দয়ালু আল্লাহর নামে
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, মহা প্রতাপশালী, মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল; যিনি রাতকে দিনের ওপর পেঁচিয়ে দেন
(১), যা অন্তর ও দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উপদেশ এবং প্রজ্ঞা ও শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য এক বিশেষ আলো। তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে যাঁদের মনোনীত করেছেন তাঁদের জাগ্রত করেছেন এবং এই দুনিয়ার মোহ থেকে তাঁদের বিমুখ করেছেন। তিনি তাঁদের সর্বদা তাঁর স্মরণে ও নিরন্তর চিন্তায় নিয়োজিত রেখেছেন এবং নসিহত গ্রহণ ও স্মরণে অবিচল রেখেছেন। তিনি তাঁদের তাঁর আনুগত্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করার, চিরস্থায়ী পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার এবং যা তাঁকে রাগান্বিত করে ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় তা থেকে সতর্ক থাকার তাওফিক দান করেছেন। পরিস্থিতির রদবদল সত্ত্বেও তিনি তাঁদের এই অবস্থায় অবিচল রেখেছেন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা সর্বোত্তম ও পবিত্রতম এবং যা অত্যন্ত ব্যাপক ও ক্রমবর্ধমান। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি পরম কল্যাণকামী, দানশীল, অত্যন্ত স্নেহশীল ও পরম দয়ালু। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তাঁর প্রিয় ও তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু; যিনি সরল পথের দিশারি এবং সুদৃঢ় দ্বীনের আহ্বায়ক। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং অন্য সকল নবীগণের ওপর, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার-পরিজনের ওপর এবং সকল নেককার বান্দাদের ওপর।
অতঃপর, মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিজিক চাই না এবং আমি এটাও চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে।} [আয-যারিয়াত: ৫৬ - ৫৭]। এটি একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা যে, তাঁদের ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই তাঁদের ওপর আবশ্যক হলো যে উদ্দেশ্যে তাঁদের সৃষ্টি করা হয়েছে তার প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং যুহদ বা দুনিয়াবিরাগের মাধ্যমে পার্থিব ভোগবিলাস থেকে বিমুখ হওয়া। কেননা এটি ক্ষণস্থায়ী আবাস, চিরস্থায়ী হওয়ার স্থান নয়; এটি পারাপারের বাহন, আনন্দের আলয় নয় এবং এটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘাট, স্থায়িত্বের আবাস নয়। এ কারণেই দুনিয়াবাসীদের মধ্যে যারা সচেতন তারাই প্রকৃত ইবাদতকারী এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান তারাই যারা দুনিয়াবিরাগি। মহান আল্লাহ বলেছেন: {পার্থিব জীবনের উদাহরণ তো বৃষ্টির মতো যা আমি আকাশ থেকে বর্ষণ করি, যার দ্বারা ভূমির উদ্ভিদ ঘন হয়ে জন্মায় যা থেকে মানুষ ও পশুরা ভক্ষণ করে। অবশেষে যখন ভূমি তার শোভা ধারণ করে ও নয়নমনোহর হয় এবং তার অধিপতিরা মনে করে যে তারা তার ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান, তখন তাতে রাতে বা দিনে আমার নির্দেশ এসে পৌঁছে, ফলে আমি তাকে এমনভাবে উপড়ে ফেলি যেন গতকালও সেখানে তার অস্তিত্ব ছিল না। এভাবেই আমি নিদর্শনাবলি বিস্তারিত বর্ণনা করি এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে।} [ইউনুস: ২৪]। এই মর্মে আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٦)
ولقد أَحْسَنَ القَائِلُ
(1):
إِنَّ للهِ عِبَادًا فُطَنَا
… طَلَّقُوا الدُّنْيَا وخَافُوا الفِتَنَا
نَظَروا فيهَا فَلَمَّا عَلِمُوا
… أَنَّهَا لَيْسَتْ لِحَيٍّ وَطَنَا
جَعَلُوها لُجَّةً واتَّخَذُوا
… صَالِحَ الأَعمالِ فيها سُفُنا
فإذا كَانَ حالُها ما وصَفْتُهُ، وحالُنَا وَمَا خُلِقْنَا لَهُ مَا قَدَّمْتُهُ؛ فَحَقٌّ عَلَى الْمُكلَّفِ أَنْ يَذْهَبَ بنفسِهِ مَذْهَبَ الأَخْيارِ، وَيَسلُكَ مَسْلَكَ أُولي النُّهَى وَالأَبْصَارِ، وَيَتَأهَّبَ لِمَا أشَرْتُ إليهِ، وَيَهْتَمَّ لِمَا نَبَّهتُ عليهِ. وأَصْوَبُ طريقٍ لهُ في ذَلِكَ، وَأَرشَدُ مَا يَسْلُكُهُ مِنَ المسَالِكِ، التَّأَدُّبُ بمَا صَحَّ عَنْ نَبِيِّنَا سَيِّدِ الأَوَّلينَ والآخرينَ، وَأَكْرَمِ السَّابقينَ والَّلاحِقينَ، صَلَواتُ اللهِ وسَلامُهُ عَلَيهِ وَعَلى سَائِرِ النَّبيِّينَ. وقدْ قالَ اللهُ تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى} [المائدة:2] وقد صَحَّ عَنْ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قالَ: «واللهُ في عَوْنِ العَبْدِ مَا كَانَ العَبْدُ في عَوْنِ أَخِيهِ»
(2)، وَأَنَّهُ قالَ: «مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أجْرِ فَاعِلِهِ»
(3) وأَنَّهُ قالَ: «مَنْ دَعَا إِلى هُدىً كَانَ لَهُ مِنَ الأَجرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيئًا»
(4) وأَنَّهُ قالَ لِعَليٍّ رضي الله عنه: «فَوَاللهِ لأَنْ يَهْدِي اللهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ
(5) النَّعَمِ»
(6) فَرَأَيتُ أَنْ أَجْمَعَ مُخْتَصَرًا منَ الأحاديثِ الصَّحيحَةِ، مشْتَمِلًا عَلَى مَا يكُونُ طَرِيقًا لِصَاحبهِ إِلى الآخِرَةِ، ومُحَصِّلًا لآدَابِهِ البَاطِنَةِ وَالظَاهِرَةِ. جَامِعًا للترغيب والترهيب وسائر أنواع آداب السالكين: من أحاديث الزهد ورياضات النُّفُوسِ، وتَهْذِيبِ الأَخْلاقِ، وطَهَارَاتِ القُلوبِ وَعِلاجِهَا، وصِيانَةِ الجَوَارحِ وَإِزَالَةِ
--------------------------------------------
কতই না চমৎকার বলেছেন সেই প্রবক্তা
(১):
নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু বুদ্ধিমান বান্দা রয়েছেন
… যারা দুনিয়া ত্যাগ করেছেন এবং ফিতনাকে ভয় করেছেন
তারা এর (দুনিয়ার) প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেছেন, আর যখন জানতে পারলেন যে
… এটি কোনো জীবিত ব্যক্তির স্থায়ী আবাস নয়
তখন তারা একে একটি গভীর সমুদ্র বানিয়ে নিলেন এবং
… এতে নেক আমলসমূহকে কিশতি হিসেবে গ্রহণ করলেন
সুতরাং দুনিয়ার অবস্থা যদি তেমনই হয় যা আমি বর্ণনা করেছি, আর আমাদের অবস্থা ও যে উদ্দেশ্যে আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে তার অবস্থা যদি তেমনই হয় যা আমি আগে উল্লেখ করেছি; তবে প্রত্যেক মুকাল্লাফ (শরিয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তি) ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো নিজেকে নেককারদের পথে পরিচালিত করা, প্রজ্ঞাবান ও দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের পথ অনুসরণ করা এবং আমি যেদিকে ইঙ্গিত করেছি তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা ও যা আমি স্মরণ করিয়ে দিয়েছি সে বিষয়ে সচেষ্ট হওয়া। এ ক্ষেত্রে তার জন্য সবচেয়ে সঠিক পথ এবং সে যত পথে চলতে পারে তার মধ্যে সবচেয়ে সুপথ হলো আমাদের নবী—যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের সরদার এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত, তাঁর প্রতি এবং সকল নবীর প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে সেই আদব বা শিষ্টাচার গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো} [আল-মায়িদাহ: ২]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে»
(২)। তিনি আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ দেখাবে, সে সেই কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব পাবে»
(৩)। তিনি আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো হেদায়াতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য সেই পরিমাণ সওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে; এতে তাদের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না»
(৪)। তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে লক্ষ্য করে আরও বলেছেন: «আল্লাহর শপথ! তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি কোনো একজন ব্যক্তিকে হেদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের
(৫) চেয়েও উত্তম»
(৬)। তাই আমি সহীহ হাদীসসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন প্রস্তুত করার সংকল্প করলাম, যা এর পাঠকারীর জন্য পরকালের পথপ্রদর্শক হবে এবং তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ শিষ্টাচার অর্জনকারী হবে। এটি উৎসাহ প্রদান (তারগীব), ভীতি প্রদর্শন (তারহীব) এবং আল্লাহর পথের পথিকদের যাবতীয় শিষ্টাচারকে অন্তর্ভুক্ত করবে: যেমন দুনিয়া বিমুখতার (যুহদ) হাদীসসমূহ, আত্মিক সাধনা, চরিত্র সংশোধন, অন্তরের পবিত্রতা ও তার প্রতিকার, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুরক্ষা এবং বিচ্যুতি দূরীকরণ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٧)
اعْوِجَاجِهَا، وغَيرِ ذلِكَ مِنْ مَقَاصِدِ الْعارفِينَ.
وَأَلتَزِمُ فيهِ أَنْ لا أَذْكُرَ إلاّ حَدِيثًا صَحِيحًا مِنَ الْوَاضِحَاتِ، مُضَافًا إِلى الْكُتُبِ الصَّحِيحَةِ الْمَشْهُوراتِ. وأُصَدِّر الأَبْوَابَ مِنَ الْقُرْآنِ الْعَزِيزِ بِآياتٍ كَرِيماتٍ، وَأَوشِّحَ مَا يَحْتَاجُ إِلى ضَبْطٍ أَوْ شَرْحِ مَعْنىً خَفِيٍّ بِنَفَائِسَ مِنَ التَّنْبِيهاتِ. وإِذا قُلْتُ في آخِرِ حَدِيث: مُتَّفَقٌ عَلَيهِ فمعناه: رواه البخاريُّ ومسلمٌ.
وَأَرجُو إنْ تَمَّ هذَا الْكِتَابُ أَنْ يَكُونَ سَائِقًا للمُعْتَنِي بِهِ إِلى الْخَيْرَاتِ حَاجزًا لَهُ عَنْ أنْواعِ الْقَبَائِحِ والْمُهْلِكَاتِ. وأَنَا سَائِلٌ أخًا انْتَفعَ بِشيءٍ مِنْهُ أَنْ يَدْعُوَ لِي
(1)، وَلِوَالِدَيَّ، وَمَشَايخي، وَسَائِرِ أَحْبَابِنَا، وَالمُسْلِمِينَ أجْمَعِينَ. وعَلَى اللهِ الكَريمِ اعْتِمادي، وَإِلَيْهِ تَفْويضي وَاسْتِنَادي، وَحَسبِيَ اللهُ وَنِعْمَ الوَكِيلُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ.
--------------------------------------------
তাদের বক্রতা সংশোধন করা এবং আরিফগণের অন্যান্য উদ্দেশ্যসমূহ সাধন করা।
আমি এতে অঙ্গীকার করছি যে, আমি কেবল সুস্পষ্ট সহিহ হাদিসসমূহ উল্লেখ করব, যা সুপ্রসিদ্ধ সহিহ গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আমি অনুচ্ছেদগুলো মহাগ্রন্থ কুরআনের সম্মানীত আয়াতসমূহ দ্বারা শুরু করব এবং যে সকল বিষয়ের যথাযথ বিন্যাস বা নিগূঢ় অর্থ ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে, আমি সেগুলোকে মূল্যবান টীকা দ্বারা সজ্জিত করব। আর যখন আমি কোনো হাদিসের শেষে বলব: 'সর্বসম্মত' (মুত্তাফাকুন আলাইহি), তবে তার অর্থ হলো: এটি ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আমি আশা করি, যদি এই বইটি সম্পন্ন হয়, তবে তা এর প্রতি যত্নবান পাঠককে যাবতীয় কল্যাণের দিকে চালিত করবে এবং তাকে সকল প্রকার মন্দ ও ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে নিবৃত্ত করবে। আমি সেই ভাইয়ের কাছে আবেদন করছি যিনি এর দ্বারা সামান্যতম উপকৃত হবেন, তিনি যেন আমার জন্য
(১), আমার পিতামাতা, আমার শিক্ষকবৃন্দ, আমাদের সকল প্রিয়জন এবং সকল মুসলিমের জন্য দোয়া করেন। আর মহিমান্বিত আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা, তাঁর কাছেই আমার যাবতীয় বিষয় অর্পণ ও নির্ভরতা। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। মহান ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (গুনাহ থেকে বাঁচার) কোনো উপায় নেই এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
1 - باب الإخلاص وإحضار النية في جميع الأعمال والأقوال والأحوال البارزة والخفية
قَالَ اللهُ تَعَالَى: {وَمَا أُمِرُوا إِلاَّ لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [البينة: 5]، وَقالَ تَعَالَى: {لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ} [الحج: 37]، وَقالَ تَعَالَى: {قُلْ إِنْ تُخْفُوا مَا فِي صُدُورِكُمْ أَوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ اللَّهُ} [آل عمران: 29].
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে
১ - সকল প্রকাশ্য ও গোপন কাজ, কথা এবং অবস্থার ক্ষেত্রে ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও নিয়ত উপস্থিত রাখা সম্পর্কিত অধ্যায় আল্লাহ তাআলা বলেন: “তাদেরকে এছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, নামাজ কায়েম করবে এবং জাকাত প্রদান করবে। আর এটাই হলো সঠিক দ্বীন।” [আল-বায়্যিনাহ: ৫], এবং তিনি আরও বলেন: “আল্লাহর কাছে এগুলোর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” [আল-হাজ্জ: ৩৭], এবং তিনি আরও বলেন: “বলুন, তোমরা তোমাদের অন্তরে যা কিছু গোপন রাখো কিংবা তা প্রকাশ করো, আল্লাহ তা জানেন।” [আল-ইমরান: ২৯]।
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٩)
1 - وعن أمير المؤمِنين أبي حَفْصٍ عمرَ بنِ الخطابِ بنِ نُفَيْلِ بنِ عبدِ العُزّى بن رياحِ بنِ عبدِ اللهِ بن قُرْطِ بن رَزاحِ بنِ عدِي بنِ كعب
(1) بنِ لُؤَيِّ بنِ غالبٍ القُرشِيِّ العَدويِّ رضي الله عنه قالَ: سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقُولُ: «إنّمَا الأَعْمَالُ بالنِّيّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امرِىءٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هجرته إلى الله ورسوله، فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصيبُهَا، أَوْ امْرَأَةٍ يَنْكَحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلى مَا هَاجَرَ إِلَيْه». مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ. رَوَاهُ إمَامَا الْمُحَدّثِينَ، أبُو عَبْدِ الله مُحَمَّدُ بْنُ إسْمَاعيلَ بْن إبراهِيمَ بْن المُغيرَةِ بنِ بَرْدِزْبهْ الجُعْفِيُّ البُخَارِيُّ، وَأَبُو الحُسَيْنِ مُسْلمُ بْنُ الحَجَّاجِ بْنِ مُسْلمٍ الْقُشَيريُّ النَّيْسَابُورِيُّ رضي الله عنهما فِي صحيحيهما اللَّذَيْنِ هما أَصَحُّ الكُتبِ المصنفةِ.
(2)--------------------------------------------
১ - আমিরুল মুমিনীন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আব্দুল উযযা ইবনে রিয়াহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত ইবনে রাযাহ ইবনে আদি ইবনে কাব
(১) ইবনে লুআই ইবনে গালিব আল-কুরাশি আল-আদাবি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোনো নারীকে বিয়ের উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।» এর বিশুদ্ধতার ওপর ঐক্যমত রয়েছে। এটি বর্ণনা করেছেন মুহাদ্দিসগণের দুই ইমাম: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুগিরা ইবনে বারদিযবাহ আল-জু’ফি আল-বুখারি এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরি আন-নিশাপুরি (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁদের স্ব-স্ব সহীহ গ্রন্থে, যা সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ٩)
2 - وعن أمِّ المؤمِنينَ أمِّ عبدِ اللهِ عائشةَ رضي الله عنها، قالت: قالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يغْزُو جَيْشٌ الْكَعْبَةَ فإِذَا كَانُوا بِبَيْدَاءَ مِنَ الأَرضِ يُخْسَفُ بِأَوَّلِهِمْ وآخِرِهِمْ».
قَالَتْ: قلتُ: يَا
⦗ص: 10⦘ رَسُولَ اللهِ، كَيْفَ يُخْسَفُ بأوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ وَفِيهمْ أسْوَاقُهُمْ
(1) وَمَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ؟! قَالَ: «يُخْسَفُ بِأَوَّلِهِمْ وَآخِرِهِمْ ثُمَّ يُبْعَثُونَ عَلَى نِيّاتِهمْ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ.
(2) هذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ.
--------------------------------------------
২ - মুমিনদের জননী উম্মু আবদুল্লাহ আয়িশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «একটি সৈন্যবাহিনী কাবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য অভিযান চালাবে। অতঃপর তারা যখন একটি সমতল মরু প্রান্তরে পৌঁছাবে, তখন তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকেই মাটির নিচে ধসিয়ে দেওয়া হবে।»
তিনি বলেন: আমি বললাম: হে
⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘ আল্লাহর রাসূল! কীভাবে তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকেই ধসিয়ে দেওয়া হবে অথচ তাদের মধ্যে তাদের সাধারণ বাজারী লোক
(১) এবং এমন ব্যক্তিরাও থাকবে যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়?! তিনি বললেন: «তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকেই ধসিয়ে দেওয়া হবে, এরপর তাদের নিজ নিজ নিয়তের ভিত্তিতে তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।» এটি বুখারি ও মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন।
(২) এটি বুখারির শব্দবিন্যাস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
3 - وعن عائِشةَ رضي الله عنها، قَالَتْ: قَالَ النبي صلى الله عليه وسلم: «لا هِجْرَةَ بَعْدَ الفَتْحِ، وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ، وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ
(1) فانْفِرُوا». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
(2)وَمَعناهُ: لا هِجْرَةَ مِنْ مَكّةَ لأَنَّهَا صَارَتْ دَارَ إسلَامٍ.
--------------------------------------------
৩ - আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে। আর যখন তোমাদেরকে যুদ্ধের জন্য বের হতে বলা হবে
(১) তখন তোমরা বের হয়ে যেও।» এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন।
এর অর্থ হলো: মক্কা থেকে আর হিজরত করার বিধান নেই, কারণ তা এখন ইসলামের ভূখণ্ডে (দারুল ইসলাম) পরিণত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
4 - وعن أبي عبدِ اللهِ جابر بن عبدِ اللهِ الأنصاريِّ رضي الله عنهما، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم في غَزَاةٍ، فَقالَ: «إِنَّ بالمدِينَةِ لَرِجَالًا ما سِرْتُمْ مَسِيرًا، وَلَا قَطَعْتُمْ وَادِيًا، إلاَّ كَانُوا مَعَكمْ حَبَسَهُمُ الْمَرَضُ». وَفي روَايَة: «إلاَّ شَرَكُوكُمْ في الأجْرِ». رواهُ مسلمٌ.
(1)ورواهُ البخاريُّ عن أنسٍ رضي الله عنه قَالَ: رَجَعْنَا مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ مَعَ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم فقال: «إنَّ أقْوامًا خَلْفَنَا بالْمَدِينَةِ مَا سَلَكْنَا شِعْبًا
(2) وَلَا وَاديًا، إلاّ وَهُمْ مَعَنَا؛ حَبَسَهُمُ العُذْرُ».
--------------------------------------------
৪ - আবু আব্দুল্লাহ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয় মদীনায় এমন কিছু লোক রয়েছে, তোমরা কোনো পথ চলোনি এবং কোনো উপত্যকা অতিক্রম করোনি, তবে তারা তোমাদের সাথেই ছিল; অসুস্থতা তাদের আটকে রেখেছিল।» অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: «তারা সওয়াবের ক্ষেত্রে তোমাদের অংশীদার হয়েছে।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(১)আর বুখারী এটি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলাম, তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয় মদীনায় আমাদের পেছনে এমন কিছু সম্প্রদায় রয়েছে, আমরা যখনই কোনো গিরিপথ
(২) অথবা উপত্যকা অতিক্রম করেছি, তারা আমাদের সাথেই ছিল; ওজর (সংগত কারণ) তাদের আটকে রেখেছিল।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
5 - وعن أبي يَزيدَ مَعْنِ بنِ يَزيدَ بنِ الأخنسِ رضي الله عنهم وهو وأبوه وَجَدُّه صحابيُّون، قَالَ: كَانَ أبي يَزيدُ أخْرَجَ دَنَانِيرَ يَتَصَدَّقُ بِهَا، فَوَضعَهَا عِنْدَ رَجُلٍ في الْمَسْجِدِ، فَجِئْتُ فأَخذْتُها فَأَتَيْتُهُ بِهَا. فقالَ: واللهِ، مَا إيَّاكَ أرَدْتُ، فَخَاصَمْتُهُ إِلى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فقَالَ: «لكَ مَا نَوَيْتَ يَا يزيدُ، ولَكَ ما أخَذْتَ يَا مَعْنُ». رواهُ البخاريُّ.
(1)--------------------------------------------
৫ - আবু ইয়াজিদ মা'ন ইবনে ইয়াজিদ ইবনুল আখরাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত—তিনি, তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদা সকলেই সাহাবী ছিলেন—তিনি বলেন: আমার পিতা ইয়াজিদ কিছু দিনার সদকা করার উদ্দেশ্যে বের করলেন এবং তা মসজিদের এক ব্যক্তির নিকট রাখলেন। এরপর আমি এসে সেগুলো নিয়ে নিলাম এবং তাঁর নিকট নিয়ে আসলাম। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে দেওয়ার ইচ্ছা করিনি। এরপর আমি বিষয়টি নিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলাম। তিনি বললেন: «হে ইয়াজিদ! তুমি যা নিয়ত করেছ তা তুমি পেয়েছ, আর হে মা'ন! তুমি যা গ্রহণ করেছ তা তোমারই হবে।» এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١١)
6 - وعن أبي إسحاقَ سَعدِ بنِ أبي وَقَّاصٍ مالِكِ بنِ أُهَيْب بنِ عبدِ منافِ بنِ زُهرَةَ بنِ كلابِ
(1) بنِ مُرَّةَ بنِ كعبِ بنِ لُؤيٍّ القُرشِيِّ الزُّهريِّ رضي الله عنه أَحَدِ العَشَرَةِ
(2) المشهودِ لهم بالجنةِ رضي الله عنهم قَالَ: جاءنِي رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي عَامَ حَجَّةِ الوَدَاعِ مِنْ وَجَعٍ اشْتَدَّ بي، فقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إنِّي قَدْ بَلَغَ بي مِنَ الوَجَعِ مَا تَرَى، وَأَنَا ذُو مالٍ وَلا يَرِثُني إلا ابْنَةٌ لي، أفأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَيْ مَالِي؟ قَالَ: «لا»، قُلْتُ: فالشَّطْرُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ فقَالَ: «لا»، قُلْتُ: فالثُّلُثُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «الثُّلُثُ والثُّلُثُ كَثيرٌ - أَوْ كبيرٌ - إنَّكَ إنْ تَذَرْ وَرَثَتَكَ أغنِيَاءَ خيرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً
(3) يتكفَّفُونَ النَّاسَ، وَإنَّكَ لَنْ تُنفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغي بِهَا وَجهَ اللهِ إلاَّ أُجِرْتَ عَلَيْهَا حَتَّى مَا تَجْعَلُ في فِيِّ امْرَأَتِكَ»، قَالَ: فَقُلتُ: يَا رسولَ اللهِ، أُخلَّفُ
(4) بعدَ أصْحَابي؟ قَالَ: «إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعملَ عَمَلًا تَبتَغي بِهِ وَجْهَ اللهِ إلاَّ ازْدَدتَ بِهِ دَرَجةً ورِفعَةً، وَلَعلَّكَ أَنْ تُخَلَّفَ حَتّى يَنتَفِعَ بِكَ أقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخرونَ. اللَّهُمَّ أَمْضِ لأصْحَابي هِجْرَتَهُمْ ولَا تَرُدَّهُمْ عَلَى أعقَابهمْ، لكنِ البَائِسُ سَعدُ بْنُ خَوْلَةَ» يَرْثي لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ ماتَ بمَكَّة. مُتَّفَقٌ عليهِ.
(5)--------------------------------------------
৬ - আবু ইসহাক সা'দ ইবন আবি ওয়াক্কাস মালিক ইবন উহাইব ইবন আবদ মানাফ ইবন জুহরাহ ইবন কিলাব
(১) ইবন মুররাহ ইবন কাব ইবন লুয়াই আল-কুরাইশি আজ-জুহরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর
(২) অন্যতম; তিনি বলেন: বিদায় হজের বছর আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখতে আসলেন। আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো দেখছেন আমার অসুস্থতা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমি একজন সম্পদশালী ব্যক্তি, আর আমার এক মেয়ে ছাড়া আর কোনো উত্তরাধিকারী নেই। এমতাবস্থায় আমি কি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ সাদাকা করে দেব?" তিনি বললেন: "না", আমি বললাম: "তাহলে অর্ধেক, হে আল্লাহর রাসূল?" তিনি বললেন: "না", আমি বললাম: "তাহলে এক-তৃতীয়াংশ, হে আল্লাহর রাসূল?" তিনি বললেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক—অথবা বড় (পরিমাণ)। নিশ্চয়ই তোমার উত্তরাধিকারীদের অভাবমুক্ত অবস্থায় রেখে যাওয়া তাদের দরিদ্র
(৩) ও মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। আর আল্লাহর চেহারা কামনায় তুমি যা-ই ব্যয় করো না কেন, তার প্রতিদান তুমি অবশ্যই পাবে; এমনকি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুমি তুলে দাও, তার জন্যও।" বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার সঙ্গীদের পেছনে পড়ে
(৪) থাকব?" তিনি বললেন: "তুমি পেছনে থেকে আল্লাহর চেহারা কামনায় যে আমলই করবে, তার মাধ্যমে তোমার মর্যাদা ও উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। সম্ভবত তুমি আরও দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে, এমনকি তোমার দ্বারা অনেক জাতি উপকৃত হবে এবং অন্য অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ! আমার সাহাবীদের হিজরত পূর্ণ করে দিন এবং তাদের পেছনের দিকে ফিরিয়ে দেবেন না। তবে করুণার পাত্র হলেন সা'দ ইবন খাওলাহ।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় তাঁর মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করছিলেন। এটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যপূর্ণ হাদীস।
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١١)
7 - وعنْ أبي هريرةَ عبدِ الرحمانِ بنِ صخرٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «إنَّ الله لا ينْظُرُ إِلى أجْسَامِكُمْ، ولا إِلى صُوَرِكمْ، وَلَكن ينْظُرُ إلى قُلُوبِكمْ وأعمالكم». رواه مسلم.
(1)--------------------------------------------
৭ - আবু হুরায়রা আব্দুর রহমান ইবনে সাখর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের শরীরের দিকে এবং তোমাদের আকৃতির দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তরসমূহ এবং তোমাদের আমলসমূহের দিকে তাকান।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١١)
8 - وعن أبي موسى عبدِ اللهِ بنِ قيسٍ الأشعريِّ رضي الله عنه قَالَ: سُئِلَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يُقاتلُ شَجَاعَةً، ويُقَاتِلُ حَمِيَّةً، ويُقَاتِلُ رِيَاءً، أَيُّ ذلِكَ في سبيلِ الله؟ فقال رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَاتَلَ لِتَكونَ كَلِمَةُ اللهِ هي العُلْيَا، فَهوَ في سبيلِ اللهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ.
(1)--------------------------------------------
৮ - আবু মূসা আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, যে আত্মমর্যাদাবোধ রক্ষার্থে যুদ্ধ করে এবং যে লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে রয়েছে।» মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম)।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١١)
9 - وعن أبي بَكرَةَ نُفيع بنِ الحارثِ الثقفيِّ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا التَقَى المُسلِمَان بسَيْفَيهِمَا فالقَاتِلُ وَالمَقْتُولُ في النّارِ». قُلتُ: يا رَسُولَ اللهِ،
هذا القَاتِلُ فَمَا بَالُ المقْتُولِ؟ قَالَ: «إنَّهُ كَانَ حَريصًا عَلَى قتلِ صَاحِبهِ». مُتَّفَقٌ عليهِ.
(1)--------------------------------------------
৯ - আবু বকরা নুফাই ইবনে হারিস আস-সাকাফি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন দুইজন মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামে যাবে।» আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল,
এটি তো হত্যাকারীর বিষয় (বুঝলাম), কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী হলো (সে কেন জাহান্নামে যাবে)? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই সে তার সঙ্গীকে হত্যা করতে উদগ্রীব ছিল।» বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐকমত্যে বর্ণিত।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
10 - وعن أبي هريرةَ رضي الله عنه قَالَ: قالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: «صَلاةُ الرَّجلِ في جمَاعَةٍ تَزيدُ عَلَى صَلاتهِ في سُوقِهِ وبيتهِ بضْعًا
(1) وعِشرِينَ دَرَجَةً، وَذَلِكَ أنَّ أَحدَهُمْ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الوُضوءَ، ثُمَّ أَتَى المَسْجِدَ لا يُرِيدُ إلاَّ الصَّلاةَ، لَا يَنْهَزُهُ إِلاَّ الصَلاةُ: لَمْ يَخْطُ خُطْوَةً إِلاَّ رُفِعَ لَهُ بِهَا دَرجَةٌ، وَحُطَّ عَنْهُ بها خَطِيئَةٌ حَتَّى يَدْخُلَ المَسْجِدَ، فإِذا دَخَلَ المَسْجِدَ كَانَ في الصَّلاةِ مَا كَانَتِ الصَّلاةُ هِي تَحْبِسُهُ، وَالمَلائِكَةُ يُصَلُّونَ عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ في مَجْلِسِهِ الَّذِي صَلَّى فِيهِ، يَقُولُونَ: اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيهِ، مَا لَم يُؤْذِ فيه، مَا لَمْ يُحْدِثْ فِيهِ». مُتَّفَقٌ عليه،
(2) وهذا لفظ مسلم.
وقوله صلى الله عليه وسلم: «يَنْهَزُهُ» هُوَ بِفَتْحِ اليَاءِ والْهَاءِ وبالزَّايِ: أَيْ يُخْرِجُهُ ويُنْهضُهُ.
--------------------------------------------
১০ - আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “জামাতে ব্যক্তির সালাত তার বাজারে এবং তার ঘরে আদায়কৃত সালাতের চেয়ে বিশোর্ধ্ব
(১) গুণ বেশি মর্যাদা রাখে। আর তা এজন্য যে, যখন তাদের কেউ সুন্দরভাবে ওযু করে, তারপর মসজিদের দিকে আসে এবং সালাত ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার থাকে না, সালাত ছাড়া অন্য কিছু তাকে বের করে আনে না: তখন সে প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তার একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং তার থেকে একটি করে গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়, যতক্ষণ না সে মসজিদে প্রবেশ করে। যখন সে মসজিদে প্রবেশ করে, তখন যতক্ষণ সালাত তাকে আটকে রাখে ততক্ষণ সে সালাতেই রত থাকে। আর ফেরেশতারা তোমাদের প্রত্যেকের জন্য প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ সে তার সালাত আদায়ের স্থানে অবস্থান করে; তারা বলে: হে আল্লাহ! আপনি তাকে রহম করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি তার তওবা কবুল করুন। যতক্ষণ না সে কাউকে সেখানে কষ্ট দেয় এবং যতক্ষণ না তার ওযু নষ্ট হয়।” মুত্তাফাকুন আলাইহি, এবং এটি মুসলিমের শব্দাবলি।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: “ইয়ানহাযুহু” শব্দটি ইয়া এবং হা অক্ষরে যবর এবং যায় অক্ষরের সাথে: অর্থাৎ তাকে বের করে আনা এবং উদ্বুদ্ধ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
11 - وعن أبي العبَّاسِ عبدِ اللهِ بنِ عباسِ بنِ عبد المطلب رضي الله عنهما، عن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فيما يروي عن ربهِ، تبارك وتعالى، قَالَ: «إنَّ اللهَ كَتَبَ الحَسَنَاتِ والسَّيِّئَاتِ ثُمَّ بَيَّنَ ذلِكَ، فَمَنْ هَمَّ
(1) بحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَها اللهُ تبارك وتعالى عِنْدَهُ حَسَنَةً كامِلَةً، وَإنْ هَمَّ بهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللهُ عَشْرَ حَسَناتٍ إِلى سَبْعمئةِ ضِعْفٍ إِلى أَضعَافٍ كَثيرةٍ، وإنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللهُ تَعَالَى عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلةً، وَإنْ هَمَّ بِهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً». مُتَّفَقٌ عليهِ.
(2)--------------------------------------------
১১ - আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, যা তিনি তাঁর বরকতময় ও সুউচ্চ রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয় আল্লাহ পুণ্যসমূহ ও পাপসমূহ লিখে রেখেছেন, অতঃপর তা স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো পুণ্যের কাজের ইচ্ছা
(১) করল কিন্তু তা সম্পাদন করল না, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর কাছে সেটিকে একটি পূর্ণ পুণ্য হিসেবে লিখে দেন। আর যদি সে সেটির ইচ্ছা করার পর তা সম্পাদন করে, তবে আল্লাহ সেটিকে তাঁর কাছে দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত, এমনকি তার চেয়েও বহুগুণ পর্যন্ত লিখে দেন। আর যদি কেউ কোনো পাপের ইচ্ছা করল কিন্তু তা করল না, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর কাছে সেটিকে একটি পূর্ণ পুণ্য হিসেবে লিখে দেন। আর যদি সে সেটির ইচ্ছা করার পর তা সম্পাদন করে, তবে আল্লাহ সেটিকে একটি মাত্র পাপ হিসেবে লেখেন।» এটি বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থেই বর্ণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
12 - وعن أبي عبد الرحمان عبدِ الله بنِ عمرَ بن الخطابِ رضي الله عنهما، قَالَ: سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول: «انطَلَقَ ثَلاثَةُ نَفَرٍ
(1) مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَتَّى آوَاهُمُ المَبيتُ إِلى غَارٍ فَدَخلُوهُ، فانْحَدرَتْ صَخْرَةٌ مِنَ الجَبَلِ فَسَدَّتْ عَلَيْهِمُ الغَارَ، فَقالُوا: إِنَّهُ لَا يُنْجِيكُمْ مِنْ هذِهِ الصَّخْرَةِ إِلاَّ أَنْ تَدْعُوا اللهَ بصَالِحِ أعْمَالِكُمْ.
--------------------------------------------
১২ - আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্য থেকে তিন ব্যক্তির একটি দল
(১) সফরে বের হয়েছিল, পথিমধ্যে রাত যাপনের প্রয়োজনে তারা একটি গুহায় আশ্রয় নিল এবং তাতে প্রবেশ করল। অতঃপর পাহাড় থেকে একটি বিশাল পাথর খসে পড়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। তারা একে অপরকে বলল: তোমাদের নেক আমলসমূহের অসিলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া এই পাথর থেকে তোমাদের মুক্তি পাওয়ার আর কোনো উপায় নেই।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
قَالَ رجلٌ مِنْهُمْ: اللَّهُمَّ كَانَ لِي أَبَوانِ شَيْخَانِ كبيرانِ، وكُنْتُ لا أغْبِقُ
(1) قَبْلَهُمَا أهْلًا ولَا مالًا، فَنَأَى
(2) بِي طَلَب الشَّجَرِ يَوْمًا فلم أَرِحْ عَلَيْهمَا حَتَّى نَامَا، فَحَلَبْتُ لَهُمَا غَبُوقَهُمَا فَوَجَدْتُهُما نَائِمَينِ، فَكَرِهْتُ أَنْ أُوقِظَهُمَا وَأَنْ أغْبِقَ قَبْلَهُمَا أهْلًا أو مالًا، فَلَبَثْتُ - والْقَدَحُ عَلَى يَدِي - أنتَظِرُ اسْتِيقَاظَهُما حَتَّى بَرِقَ الفَجْرُ والصِّبْيَةُ يَتَضَاغَوْنَ
(3) عِنْدَ قَدَميَّ، فاسْتَيْقَظَا فَشَرِبا غَبُوقَهُما. اللَّهُمَّ إنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذلِكَ ابِتِغَاء وَجْهِكَ فَفَرِّجْ عَنّا مَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ هذِهِ الصَّخْرَةِ، فانْفَرَجَتْ شَيْئًا لا يَسْتَطيعُونَ الخُروجَ مِنْهُ.
قَالَ الآخر: اللَّهُمَّ إنَّهُ كانَتْ لِيَ ابْنَةُ عَمّ، كَانَتْ أَحَبَّ النّاسِ إليَّ - وفي رواية: كُنْتُ أُحِبُّها كأَشَدِّ مَا يُحِبُّ الرِّجَالُ النساءَ - فأَرَدْتُهَا عَلَى نَفْسِهَا
(4) فامْتَنَعَتْ منِّي حَتَّى أَلَمَّتْ بها سَنَةٌ مِنَ السِّنِينَ فَجَاءتْنِي فَأَعْطَيْتُهَا عِشْرِينَ وَمئةَ دينَارٍ عَلَى أَنْ تُخَلِّيَ بَيْني وَبَيْنَ نَفْسِهَا فَفعَلَتْ، حَتَّى إِذَا قَدَرْتُ عَلَيْهَا - وفي رواية: فَلَمَّا قَعَدْتُ بَينَ رِجْلَيْهَا، قالتْ: اتَّقِ اللهَ وَلَا تَفُضَّ الخَاتَمَ إلاّ بِحَقِّهِ
(5)، فَانصَرَفْتُ عَنْهَا وَهيَ أَحَبُّ النَّاسِ إليَّ وَتَرَكْتُ الذَّهَبَ الَّذِي أعْطَيتُها. اللَّهُمَّ إنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذلِكَ ابْتِغاءَ وَجْهِكَ فافْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فيهِ، فانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ، غَيْرَ أَنَّهُمْ لا يَسْتَطِيعُونَ الخُرُوجَ مِنْهَا.
وَقَالَ الثَّالِثُ: اللَّهُمَّ اسْتَأْجَرْتُ أُجَرَاءَ وأَعْطَيْتُهُمْ أجْرَهُمْ غيرَ رَجُل واحدٍ تَرَكَ الَّذِي لَهُ وَذَهبَ، فَثمَّرْتُ أجْرَهُ حَتَّى كَثُرَتْ مِنهُ الأمْوَالُ، فَجَاءنِي بَعدَ حِينٍ، فَقالَ: يَا عبدَ اللهِ، أَدِّ إِلَيَّ أجْرِي، فَقُلْتُ: كُلُّ مَا تَرَى مِنْ أجْرِكَ: مِنَ الإبلِ وَالبَقَرِ والْغَنَمِ والرَّقيقِ، فقالَ: يَا عبدَ اللهِ، لَا تَسْتَهْزِىءْ بي! فَقُلْتُ: لَا أسْتَهْزِئ بِكَ، فَأَخَذَهُ كُلَّهُ فاسْتَاقَهُ فَلَمْ يتْرُكْ مِنهُ شَيئًا. الَّلهُمَّ إنْ كُنتُ فَعَلْتُ ذلِكَ ابِتِغَاءَ وَجْهِكَ فافْرُجْ عَنَّا مَا نَحنُ فِيهِ، فانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ فَخَرَجُوا يَمْشُونَ».
(6) مُتَّفَقٌ عليهِ.
(7)--------------------------------------------
তাদের একজন বলল: হে আল্লাহ! আমার অতি বৃদ্ধ পিতামাতা ছিলেন এবং আমি তাঁদের আগে পরিবার বা সম্পদ (দাস-দাসী)-এর কাউকে সায়ংকালীন পানীয় (দুধ) পান করাতাম না। একদিন গবাদি পশুর চারণভূমির সন্ধানে আমি অনেক দূরে চলে গেলাম, ফলে তাঁদের ঘুমিয়ে পড়ার আগে ফিরতে পারলাম না। এরপর আমি তাঁদের জন্য দুধ দোহন করলাম কিন্তু তাঁদের ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। আমি তাঁদের জাগিয়ে তোলা এবং তাঁদের আগে পরিবার বা দাস-দাসীদের দুধ পান করানো অপছন্দ করলাম। এমতাবস্থায় আমি পেয়ালা হাতে তাঁদের জেগে ওঠার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকলাম, এমনকি ভোর হয়ে গেল; অথচ শিশুরা আমার দুপায়ের কাছে ক্ষুধার জ্বালায় চিৎকার করছিল। এরপর তাঁরা জাগ্রত হলেন এবং তাঁদের সায়ংকালীন পানীয় পান করলেন। হে আল্লাহ! আমি যদি আপনার চেহারার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি করে থাকি, তবে এই পাথরের কারণে আমরা যে সংকটে পড়েছি তা থেকে আমাদের মুক্তি দিন। তখন পাথরটি সামান্য সরে গেল, কিন্তু তারা তা দিয়ে বের হতে পারছিল না।
দ্বিতীয়জন বলল: হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল, সে আমার কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ছিল—অন্য বর্ণনায়: পুরুষরা নারীদের যেমন তীব্রভাবে ভালোবাসে আমি তাকে তেমনই ভালোবাসতাম—আমি তার সাথে অপকর্মে লিপ্ত হতে চাইলাম কিন্তু সে নিজেকে রক্ষা করল। এরপর এক বছর দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সে (সাহায্যের জন্য) আমার কাছে এল। আমি তাকে একশ বিশ দিনার এই শর্তে দিলাম যে, সে নিজেকে আমার কাছে সঁপে দেবে। সে তাতে রাজি হলো। এরপর যখন আমি তার ওপর সক্ষম হলাম—অন্য বর্ণনায়: যখন আমি তার দুই পায়ের মাঝে বসলাম, তখন সে বলল: আল্লাহকে ভয় করো এবং ন্যায়সঙ্গত অধিকার (বিবাহ) ছাড়া এই মোহর (সতীত্ব) নষ্ট করো না। তখন আমি তার কাছ থেকে সরে দাঁড়ালাম, অথচ সে ছিল আমার কাছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়; আর আমি তাকে যে স্বর্ণ দিয়েছিলাম তাও ছেড়ে দিলাম। হে আল্লাহ! আমি যদি আপনার চেহারার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি করে থাকি, তবে আমরা যে সংকটে আছি তা থেকে আমাদের মুক্তি দিন। তখন পাথরটি আরও সরে গেল, কিন্তু তারা তখনও বের হতে পারছিল না।
তৃতীয়জন বলল: হে আল্লাহ! আমি কয়েকজন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলাম এবং একজনকে ছাড়া তাদের সবার মজুরি পরিশোধ করেছিলাম। সেই একজন তার মজুরি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এরপর আমি তার মজুরিকে ব্যবসায় খাটিয়ে বৃদ্ধি করতে থাকলাম, এমনকি তার থেকে অনেক সম্পদ অর্জিত হলো। দীর্ঘকাল পর সে আমার কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর বান্দা! আমার মজুরি আমাকে পরিশোধ করো। আমি বললাম: তুমি যা দেখছ—উট, গরু, ছাগল ও গোলাম—এসবই তোমার মজুরি। সে বলল: হে আল্লাহর বান্দা! আমার সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম: আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। তখন সে তার সবটুকু গ্রহণ করল এবং নিয়ে চলে গেল, এর থেকে কিছুই অবশিষ্ট রাখল না। হে আল্লাহ! আমি যদি আপনার চেহারার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি করে থাকি, তবে আমরা যে সংকটে আছি তা থেকে আমাদের মুক্তি দিন। তখন পাথরটি পুরোপুরি সরে গেল এবং তারা বের হয়ে হেঁটে চলে গেল।
(৬) বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত হাদিস।
(৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
2 - باب التوبةقَالَ العلماءُ: التَّوْبَةُ وَاجبَةٌ مِنْ كُلِّ ذَنْب، فإنْ كَانتِ المَعْصِيَةُ بَيْنَ العَبْدِ وبَيْنَ اللهِ تَعَالَى لَا تَتَعلَّقُ بحقّ آدَمِيٍّ فَلَهَا ثَلاثَةُ شُرُوط:
أحَدُها: أَنْ يُقلِعَ عَنِ المَعصِيَةِ.
والثَّانِي: أَنْ يَنْدَمَ عَلَى فِعْلِهَا.
والثَّالثُ: أَنْ يَعْزِمَ أَنْ لا يعُودَ إِلَيْهَا أَبَدًا.
فَإِنْ فُقِدَ أَحَدُ الثَّلاثَةِ لَمْ تَصِحَّ تَوبَتُهُ.
وإنْ كَانَتِ المَعْصِيةُ تَتَعَلقُ بآدَمِيٍّ فَشُرُوطُهَا أرْبَعَةٌ: هذِهِ الثَّلاثَةُ، وأَنْ يَبْرَأَ مِنْ حَقّ صَاحِبِها، فَإِنْ كَانَتْ مالًا أَوْ نَحْوَهُ رَدَّهُ إِلَيْه، وإنْ كَانَت حَدَّ قَذْفٍ ونَحْوَهُ مَكَّنَهُ مِنْهُ أَوْ طَلَبَ عَفْوَهُ، وإنْ كَانْت غِيبَةً استَحَلَّهُ مِنْهَا. ويجِبُ أَنْ يَتُوبَ مِنْ جميعِ الذُّنُوبِ، فَإِنْ تَابَ مِنْ بَعْضِها صَحَّتْ تَوْبَتُهُ عِنْدَ أهْلِ الحَقِّ مِنْ ذلِكَ الذَّنْبِ وبَقِيَ عَلَيهِ البَاقي. وَقَدْ تَظَاهَرَتْ دَلائِلُ الكتَابِ والسُّنَّةِ، وإجْمَاعِ الأُمَّةِ عَلَى وُجوبِ التَّوبةِ.
قَالَ الله تَعَالَى: {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [النور: 31]، وَقالَ تَعَالَى: {وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ} [هود: 3]، وَقالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحا} [التحريم: 8].
২ - তাওবা (অনুতাপ) অধ্যায়ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: প্রত্যেক গুনাহ থেকে তাওবা করা ওয়াজিব (আবশ্যক)। যদি নাফরমানি বা পাপ কাজ বান্দা ও মহান আল্লাহর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং এর সাথে কোনো মানুষের অধিকার জড়িত না থাকে, তবে তার তাওবা কবুল হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে:
প্রথমটি: সেই পাপ কাজ সম্পূর্ণ বর্জন করা।
দ্বিতীয়টি: উক্ত কাজের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
তৃতীয়টি: পুনরায় কখনো ওই পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা।
যদি এই তিনটির কোনো একটির অভাব হয়, তবে তার তাওবা শুদ্ধ হবে না।
আর যদি পাপটি কোনো মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তার শর্ত চারটি: এই তিনটি শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট হকদারের পাওনা থেকে দায়মুক্ত হওয়া। যদি তা সম্পদ বা অনুরূপ কিছু হয়, তবে তা তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি তা অপবাদ আরোপ বা অনুরূপ দণ্ডনীয় অপরাধ হয়, তবে নিজেকে তার কাছে সোপর্দ করতে হবে অথবা তার ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। আর যদি তা গিবত (পরনিন্দা) হয়, তবে তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। সমস্ত গুনাহ থেকেই তাওবা করা ওয়াজিব। যদি কেউ কেবল কিছু গুনাহ থেকে তাওবা করে, তবে সত্যপন্থী আলেমদের মতে যে গুনাহ থেকে সে তাওবা করেছে তার তাওবা শুদ্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু অবশিষ্ট গুনাহসমূহ তার দায়িত্বে থেকে যাবে। তাওবা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের ইজমা (ঐকমত্য)-এর দলীলসমূহ সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো।" [আন-নূর: ৩১], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর দিকেই ফিরে এসো (তাওবা করো)।" [হূদ: ৩], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো—খাঁটি তাওবা।" [আত-তাহরীম: ৮]।
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
13 - وعن أبي هريرةَ رضي الله عنه قَالَ: سمعْتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول: «واللهِ إِنِّي لأَسْتَغْفِرُ اللهَ وأَتُوبُ إِلَيْه فِي اليَوْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَبْعِينَ مَرَّةً». رواه البخاري.
(1)--------------------------------------------
১৩ - আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর কাছে প্রতিদিন সত্তর বারেরও বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তাওবাহ করি।» বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
14 - وعن الأَغَرِّ بنِ يسار المزنِيِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، تُوبُوا إِلى اللهِ وَاسْتَغْفِرُوهُ، فَإنِّي أتُوبُ فِي اليَوْمِ مِائةَ مَرَّةٍ». رواه مسلم.
(1)--------------------------------------------
১৪ - আল-আগারর ইবন ইয়াসার আল-মুযানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “হে লোকসকল, তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; কেননা আমি দিনে একশত বার তওবা করি।” মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
15 - وعن أبي حمزةَ أَنسِ بنِ مالكٍ الأنصاريِّ - خادِمِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «للهُ أفْرَحُ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سَقَطَ عَلَى بَعِيرهِ وقد أضلَّهُ في أرضٍ فَلاةٍ
(1)». مُتَّفَقٌ عليه.
(2) ⦗ص: 15⦘وفي رواية لمُسْلمٍ: «للهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوبَةِ عَبْدِهِ حِينَ يتوبُ إِلَيْهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى رَاحِلَتهِ بأرضٍ فَلاةٍ، فَانْفَلَتَتْ مِنْهُ، وَعَلَيْهَا طَعَامُهُ وَشَرَابهُ فأَيِسَ مِنْهَا، فَأَتى شَجَرَةً فاضطَجَعَ في ظِلِّهَا وقد أيِسَ مِنْ رَاحلَتهِ، فَبَينَما هُوَ كَذَلِكَ إِذْ هُوَ بِها قائِمَةً عِندَهُ، فَأَخَذَ بِخِطامِهَا
(3)، ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الفَرَحِ: اللَّهُمَّ أَنْتَ عَبدِي وأنا رَبُّكَ! أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الفَرَحِ».
--------------------------------------------
১৫ - আবু হামযা আনাস বিন মালেক আল-আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) —আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খাদেম— থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় তোমাদের ঐ ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন, যে নির্জন মরুভূমিতে তার হারিয়ে যাওয়া উটটি হঠাৎ ফিরে পায়।» এটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত।
⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: «আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায়—যখন সে তাঁর কাছে তাওবা করে—তোমাদের সেই ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে এক নির্জন মরুভূমিতে তার সওয়ারির উপর ছিল। অতঃপর তা তার থেকে পালিয়ে গেল, অথচ তার খাদ্য ও পানীয় ছিল সেই সওয়ারির উপরেই। সে তা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেল। এরপর সে একটি গাছের কাছে এসে তার ছায়ায় শুয়ে পড়ল, অথচ সে তার সওয়ারি সম্পর্কে সম্পূর্ণ হতাশ ছিল। সে এমতাবস্থায় থাকাকালীন হঠাৎ দেখতে পেল যে, সওয়ারিটি তার নিকট দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে তার লাগাম ধরল এবং চরম আনন্দের আতিশয্যে বলে উঠল: হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা আর আমি আপনার রব! অত্যধিক খুশির কারণে সে ভুল করে ফেলল।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
16 - وعن أبي موسَى عبدِ اللهِ بنِ قَيسٍ الأشْعريِّ رضي الله عنه عن النَّبيّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إنَّ الله تَعَالَى يَبْسُطُ يَدَهُ بالليلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ، ويَبْسُطُ يَدَهُ بالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيلِ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِها». رواه مسلم.
(1)--------------------------------------------
১৬ - আবু মুসা আবদুল্লাহ ইবনে কায়স আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যেন দিনে অপরাধকারী তওবা করতে পারে এবং দিনে তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করেন যেন রাতে অপরাধকারী তওবা করতে পারে; যে পর্যন্ত না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিয়াযুস সালিহীন - ত আল-ফাহল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
17 - وعن أبي هُريرةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِها تَابَ اللهُ عَلَيهِ». رواه مسلم.
(1)--------------------------------------------
১৭ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন।» এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(১)--------------------------------------------