(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح رسالة أبي داود لأهل مكة القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح رسالة أبي داود لأهل مكة
مؤلف الأصل: أبو داود سليمان بن الأشعث السَِّجِسْتاني (ت 275هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
মক্কাবাসীদের প্রতি ইমাম আবু দাউদের পত্রের ব্যাখ্যা বিভাগ: উলূমুল হাদীস
বই: মক্কাবাসীদের প্রতি ইমাম আবু দাউদের পত্রের ব্যাখ্যা
মূল লেখক: আবু দাউদ সুলায়মান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি (মৃত্যু ২৭৫ হি.)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শেখ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে লিপিকৃত পাঠসমূহ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের ক্রমিক নম্বর - ৪টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح رسالة أبي داود لأهل مكة]ـ
مؤلف الأصل: أبو داود سليمان بن الأشعث السَِّجِسْتاني (المتوفى: 275هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]
ـ[মক্কাবাসীদের প্রতি ইমাম আবু দাউদের পত্রের ব্যাখ্যা]ـ
মূল গ্রন্থকার: আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশ‘আস আস-সিজিস্তানি (মৃত্যু: ২৭৫ হিজরি)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনুলিপিকৃত পাঠসমূহ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটি পাঠের নম্বর হিসেবে গণ্য - ৪টি পাঠ]
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
شرح:
رسالة أبي داود لأهل مكة (1)الشيخ: عبد الكريم الخضير
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
الحمد الله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فإن هذه الرسالة المقرر قراءتها في هذا الدرس، والتعليق عليها بما تيسر، هذه في وصف سنن أبي داود من قبل مؤلفها، من قبل مؤلف السنن، رسالة منه إلى أهل مكة يبين فيها شيئاً من منهجه، وشرطه في الكتاب، وطريقته فيه، والأئمة المؤلفون لكتب السنة المشهورة لم يصرح كثير منهم بشرطه، وإنما التمس شرطه من سبر كتابه، يسبر الكتاب وينظر فيه فيبين شرطه، ولذا تجدون العلماء يختلفون في هذه الشروط اختلافاً كثيراً، فالإمام البخاري ما حفظ عنه من كلامه شيء مما اشترطه في كتابه، وما يذكره أهل العلم إنما هو مجرد استنباط واسترواح، وميل إلى ما يذكر من خلال النظر في الكتاب، نعم هو اشترط الصحة، وترك من الصحاح أكثر خشية أن يطول الكتاب كما نقل عنه، وله شروط بينها أهل العلم من خلال النظر في كتابه مما لم يصرح به هو، ولذا يختلفون فيها، وكذا الإمام مسلم رحمه الله قدم بين يدي كتابه مقدمة هي التي تقرأ في الدرس الثاني، وبين فيها بعض شرطه، وترك شيئاً لمن يزيد في هذا الشرط من خلال النظر في كتابه والسبر الدقيق لهذا الكتاب، وقد بين أهل العلم شرطه مفصلاً، فما ذكره في كتابه لا يختلف فيه، وإن اختلفوا في مراده بالطبقات الثلاث التي ذكرها مما يذكر في مكانه -إن شاء الله تعالى-، أما ما لم يذكره فالخلاف فيه أكثر.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ব্যাখ্যা:
মক্কাবাসীদের প্রতি আবু দাউদের পত্র (১)শাইখ: আব্দুল কারীম আল-খুদাইর
আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য। আর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই দরসে পাঠ করার জন্য নির্ধারিত এই পত্রটি এবং এর ওপর সাধ্যমতো যে ব্যাখ্যা করা হবে, এটি এর সংকলক কর্তৃক 'সুনান আবু দাউদ' গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা প্রসঙ্গে লিখিত। এটি তাঁর পক্ষ থেকে মক্কাবাসীদের প্রতি প্রেরিত একটি পত্র, যাতে তিনি তাঁর কিতাবের পদ্ধতি, শর্ত এবং কর্মপন্থা সম্পর্কে কিছু বিষয় স্পষ্ট করেছেন। প্রসিদ্ধ সুন্নাহ গ্রন্থসমূহের সংকলক ইমামদের মধ্যে অনেকেই তাঁদের শর্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি। বরং তাঁদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনার (সিবর) মাধ্যমেই তাঁদের শর্তসমূহ অনুসন্ধান করা হয়েছে; কিতাবটি খুঁটিয়ে দেখে এবং এতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে তাঁর শর্ত স্পষ্ট করা হয়েছে। আর এই কারণেই আপনারা আলেমদের মাঝে এই শর্তগুলো নিয়ে অনেক মতপার্থক্য দেখতে পাবেন। ইমাম বুখারি থেকে তাঁর কিতাবের শর্তাবলি সম্পর্কে তাঁর নিজের কোনো বক্তব্য সংরক্ষিত নেই। ইলমের অধিকারীরা যা উল্লেখ করেন, তা স্রেফ কিতাবটি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত উদ্ভাবন ও ধারণা এবং কিতাবটির প্রতি নিবিড় দৃষ্টির ফলে যা প্রতীয়মান হয় তার প্রতিফলন। হ্যাঁ, তিনি বিশুদ্ধতার শর্ত করেছেন এবং কিতাবটি দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে অনেক সহিহ হাদিস বর্জন করেছেন যেমনটি তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে। আলেমগণ তাঁর কিতাব পর্যালোচনার মাধ্যমে এমন কিছু শর্ত বর্ণনা করেছেন যা তিনি নিজে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি; ফলে এগুলোতে তাঁদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। একইভাবে ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর কিতাবের শুরুতে একটি ভূমিকা পেশ করেছেন, যা দ্বিতীয় দরসে পাঠ করা হয়। সেখানে তিনি তাঁর কিছু শর্ত বর্ণনা করেছেন। আবার যারা তাঁর কিতাব গভীরভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে এই শর্তগুলোতে আরও কিছু নির্ণয় করতে চান, তাঁদের জন্য তিনি কিছু বিষয় রেখে গেছেন। আলেমগণ তাঁর শর্তগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। সুতরাং তিনি তাঁর কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই, যদিও তাঁর উল্লিখিত তিনটি স্তর (তবকা) দ্বারা তিনি কী বুঝিয়েছেন তা নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে আলোচনা করা হবে। তবে তিনি যা উল্লেখ করেননি, সে বিষয়ে মতভেদ আরও বেশি।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
وكل أمر يستنبط من كلام البشر لا بد أن يوجد فيه الاختلاف، إن لم يكن صريحاً مع قوله، إن لم يكن بصريح قوله لا بد أن يوجد فيه اختلاف، {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِندِ غَيْرِ اللهِ لَوَجَدُواْ فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [(82) سورة النساء] وهذا أيضاً مرده إلى طريقة السبر والاستقراء، هل هو تام أو غير تام؟ لأن من الناس من يستعجل النتائج، يختبر الكتاب فيأخذ من أوله أحاديث، ومن ووسطه، ومن أثنائه، ومن آخره، فيحكم عليه أن هذه طريقة المؤلف، بينما فيما تركه ما يختلف مع ما قرره.
الإمام الترمذي ذكر شيئاً من شرطه في علله التي بآخر الجامع، ذكر شيء من شرطه ومنهجه، وما تركه أكثر، ولذا اختلف في مراده بقوله: "حسن صحيح" إلى بضعة عشرة قولاً، والحسن وإن نص عليه في علل جامعه إلا أن العلماء اختلف في مراده به اختلافاً كبيراً.
ابن ماجه ما ذكر شيء، لكن واقع الكتاب أخذ منه شرطه، والنسائي كذلك.
ما ذكره العلماء في شروط الأئمة وتباينوا في تقريره فشرط البخاري أعلى الشروط عندهم، ويقولون: إنه لا بد من توافر ثقة الرواة، وتمام ضبطهم، وملازمتهم للشيوخ، وقد ينزل البخاري فينتقي من حديث من لم يلازم الشيوخ.
يليه شرط مسلم الذي يستوعب أحاديث هذه الطبقة، وينتقي من أحاديث من خف ضبطهم التي هي الدرجة الثالثة التي يقال عنها: إنها هي شرط أبي داود، وقد ينزل إلى أحاديث الطبقة الرابعة ممن خف ضبطهم ما عدم ملازمتهم للشيوخ الذين هم شرط الترمذي والنسائي، وقد ينزل الترمذي والنسائي إلى من مُسَّ بضرب من التجريح الواضح الذي هو شرط ابن ماجه، هكذا قرر أهل العلم كالحازمي مثلاً في شرط الأئمة، لكن هل هذا ينضبط أو لا ينضبط؟ لا يمكن ضبطه؛ لأنه لم يأخذ من كلام الأئمة صريحاً، تبعاً لذلك تباين في أقوال أهل العلم في مراد الحاكم بشرط الشيخين صحيح على شرطهما، صحيح على شرط البخاري، صحيح على شرط مسلم، اختلفوا بذلك اختلافًا كثيراً.
মানুষের কথা থেকে উদ্ভূত প্রতিটি বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা অনিবার্য, যদি না তা তার সুস্পষ্ট বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। যদি তা তার সুস্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে না হয়, তবে তাতে অবশ্যই ভিন্নতা পাওয়া যাবে। "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।" [সূরা আন-নিসা: ৮২]। এটিও মূলত অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে; তা কি পূর্ণাঙ্গ নাকি অপূর্ণাঙ্গ? কারণ অনেক মানুষ ফলাফলের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করে; তারা কোনো কিতাব পরীক্ষা করতে গিয়ে এর শুরু থেকে কিছু হাদিস নেয়, এর মাঝখান থেকে এবং এর শেষ থেকে, এরপর সিদ্ধান্ত দেয় যে এটিই লেখকের পদ্ধতি। অথচ যা সে বাদ দিয়েছে, তার মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে যা তার নির্ধারিত বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক।
ইমাম তিরমিযী তার ‘জামে’ গ্রন্থের শেষে অবস্থিত ‘ইলাল’ অংশে তার শর্তের কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন। তিনি তার শর্ত ও পদ্ধতি সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করেছেন, তবে যা তিনি উল্লেখ করেননি তার পরিমাণই বেশি। এ কারণেই তার বক্তব্য "হাসান সহীহ" (উত্তম ও সহীহ) দ্বারা তিনি কী বুঝিয়েছেন, সে ব্যাপারে দশটিরও বেশি মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। যদিও তিনি তার জামে’র ‘ইলাল’ অংশে ‘হাসান’ (উত্তম) সংজ্ঞায়িত করেছেন, তবুও তার উদ্দেশ্য কী তা নিয়ে উলামায়ে কেরামের মধ্যে ব্যাপক মতপার্থক্য রয়েছে।
ইবনে মাজাহ কোনো কিছুই উল্লেখ করেননি, তবে তার কিতাবের বাস্তবতা থেকেই তার শর্তসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে; ইমাম নাসাঈর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
উলামায়ে কেরাম ইমামগণের শর্তাবলি সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন এবং তা নির্ধারণে যে ভিন্নতা দেখিয়েছেন, তার মধ্যে ইমাম বুখারীর শর্ত তাদের কাছে সর্বোচ্চ। তারা বলেন: বর্ণনাকারীদের বিশ্বস্ত হওয়া, তাদের হেফজ বা স্মৃতিশক্তি পূর্ণ হওয়া এবং শিক্ষকদের দীর্ঘ সাহচর্য থাকা আবশ্যক। তবে ইমাম বুখারী কখনও কখনও নিচে নেমে এমন বর্ণনাকারীর হাদিসও চয়ন করেন যারা দীর্ঘ সময় উস্তাদের সান্নিধ্যে থাকেনি।
এরপর হলো ইমাম মুসলিমের শর্ত, যা এই স্তরের হাদিসগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তিনি তৃতীয় স্তরের এমন বর্ণনাকারীদের হাদিসও চয়ন করেন যাদের স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, যাকে ইমাম আবু দাউদের শর্ত বলা হয়। আবার কখনও চতুর্থ স্তরের এমন বর্ণনাকারীদের হাদিসেও নামেন যাদের স্মৃতিশক্তি শিথিল হওয়ার পাশাপাশি উস্তাদের দীর্ঘ সাহচর্যও নেই, যারা ইমাম তিরমিযী ও নাসাঈর শর্তের অন্তর্ভুক্ত। আবার তিরমিযী ও নাসাঈ এমন স্তরেও নামতে পারেন যেখানে বর্ণনাকারীর মধ্যে স্পষ্ট কোনো ত্রুটি বা সমালোচনা (জারহ) রয়েছে, যা ইবনে মাজাহর শর্ত। আল-হাযেমীর মতো ইলমে হাদিসের বিশেষজ্ঞগণ ইমামগণের শর্তাবলি এভাবেই নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু এটি কি সুশৃঙ্খল নাকি নয়? এটি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; কারণ এটি ইমামদের সুস্পষ্ট কথা থেকে নেওয়া হয়নি। এর ধারাবাহিকতায় উলামায়ে কেরামের বক্তব্যের মধ্যেও ভিন্নতা দেখা দেয় যে, ইমাম হাকেম যখন বলেন: ‘শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহীহ’, ‘বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ’ বা ‘মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ’, তখন এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য কী? এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রচুর মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مراده بشرط الشيخين هو الذي رجحه كثير من أهل العلم أن المراد بشرط الشيخين رجالهما، فإذا خرِّج الحديث من طريق الرواة أخرج لهما الشيخان، قال: صحيح على شرط الشيخين، وإذا خرج الحديث من طريق رجال أخرج لهما البخاري قال: صحيح على شرط البخاري، وكذلك شرط مسلم، وإذا خرج الحديث من طريق لم يخرج لهما البخاري ولا مسلم، أو وجد فيهم من لم يخرج له البخاري ولا مسلم قال: صحيح فحسب، ولم يقل: على شرطهما ولا على شرط البخاري، ولا على شرط مسلم لتخلف هذا الكلام، وهذا التقعيد عن بعض الرواة.
وهذا القول له وجهه، وتصرفات الحاكم تقويه؛ لأنه قال في بعض الحديث: عن أبي عثمان صحيح ولم يقل على شرطهما ولا على شرط واحد منهما، قال: وأبو عثمان ليس هو النهدي، ولو كان النهدي لقلت: إنه صحيح على شرطهما.
'শায়খাইন' (বুখারি ও মুসলিম)-এর শর্ত বলতে তিনি যা বুঝিয়েছেন এবং যা অধিকাংশ আলেম প্রাধান্য দিয়েছেন তা হলো—'শায়খাইন'-এর শর্ত বলতে তাঁদের বর্ণনাকারীদের বোঝানো হয়েছে। সুতরাং যখন কোনো হাদিস এমন বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণিত হয় যাদের থেকে শায়খাইন হাদিস গ্রহণ করেছেন, তখন তিনি বলেন: "শায়খাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ।" আর যখন হাদিসটি এমন বর্ণনাকারীদের সূত্রে বর্ণিত হয় যাদের থেকে কেবল বুখারি হাদিস গ্রহণ করেছেন, তখন তিনি বলেন: "বুখারির শর্তানুযায়ী সহিহ।" একইভাবে মুসলিমের শর্তের ক্ষেত্রেও তিনি এমনটি করেন। আর যখন হাদিসটি এমন কোনো সূত্রে বর্ণিত হয় যেখান থেকে বুখারি বা মুসলিম কেউই হাদিস গ্রহণ করেননি, অথবা বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কেউ থাকেন যাঁর থেকে বুখারি বা মুসলিম কেউই বর্ণনা করেননি, তখন তিনি কেবল "সহিহ" বলেন। তিনি "তাঁদের শর্তানুযায়ী" অথবা "বুখারির শর্তানুযায়ী" কিংবা "মুসলিমের শর্তানুযায়ী" বলেন না; কারণ কিছু বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে এই মূলনীতিটি প্রযোজ্য হয় না।
এই মতটির যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে এবং ইমাম হাকিমের কর্মপন্থা একে সমর্থন করে; কেননা তিনি একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: "আবু উসমান থেকে বর্ণিত, এটি সহিহ", কিন্তু তিনি "তাঁদের শর্তানুযায়ী" কিংবা "তাঁদের কোনো একজনের শর্তানুযায়ী" বলেননি। তিনি বলেন: "এই আবু উসমান আন-নাহদি নন; যদি তিনি আন-নাহদি হতেন, তবে আমি বলতাম যে এটি তাঁদের উভয়ের শর্তানুযায়ী সহিহ।"
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
الكلام في شروط الأئمة يطول جدًّا، وفائدته .. ، فائدة الكلام في شروط الأئمة فهم كلام الحاكم، والتصحيح على ضوء هذا الشرط إذا جئت بحديث وافقت فيه شرط البخاري، أو وقفت على حديث توافر فيه شرط البخاري تصححه، علماً بأن التصحيح والتضعيف إنما مرده إلى نظافة الأسانيد واتصالها وسلامة المتون من المخالفات، فحينما يختلف أهل العلم في قول الترمذي حسن صحيح إلى هذا التباين الكبير أكثر من يمكن ثلاثة عشر قولاً أو أكثر، إنما هو بالنسبة لمن يقلد الترمذي في أحكامه، ولو افترضنا أن الترمذي قال: حسن صحيح، اختلفنا في المراد بالحسن الصحيح، ودرسنا إسناد الحديث الذي قيل فيه ذلك، وعلى ضوء طرائق الأئمة في دراسة الأسانيد فإننا قد نستأنس بقول الترمذي، وحكم الترمذي كأحكام غيره من الأئمة، لكن حكم الترمذي ليس بملزم لنا، إذا قال: "حسن صحيح" وفي إسناده رجل مضعف، أو في إسناده انقطاع فإنه لا يلزمنا أن نصحح ذلك تبعاً للترمذي، لكن إذا حكمنا على حديث فوجدناه صحيحاً، والترمذي قال عنه: حسن صحيح، اطمأنت النفس إلى هذه النتيجة، إلا على قول من يقول: بانقطاع التصحيح والتضعيف فعلينا أن نقلد الترمذي في أحكامه، فالمتأهل في جمع الطرق والنظر في الأسانيد لا يؤثر عليه هذا الكلام كثيراً، لا يؤثر عليه هذا الكلام؛ لأن الترمذي قد يصحح، وهو إمام معتبر، لكنه ليس بمعصوم، قد يصحح حديثاً يضعفه غيره، فهل أنت ملزم بقول الترمذي: "حسن صحيح" والبخاري يضعفه، أو أبو حاتم أو غيرهم من الأئمة؟ لست بملزم، إذا تأهلت فأنت ملزم بما يؤديه إليه اجتهادك.
ইমামগণের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা অত্যন্ত দীর্ঘ, আর এর উপকারিতা হচ্ছে... ইমামগণের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার উপকারিতা হলো আল-হাকিমের কথা বুঝতে পারা এবং এই শর্তের আলোকে সহিহ সাব্যস্ত করা; যখন আপনি এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসবেন যা বুখারির শর্তের সাথে মিলে যায়, অথবা এমন কোনো হাদিস পাবেন যাতে বুখারির শর্তাবলি বিদ্যমান রয়েছে, তখন আপনি তাকে সহিহ সাব্যস্ত করবেন। উল্লেখ্য যে, সহিহ (বিশুদ্ধ) বা জয়িফ (দুর্বল) সাব্যস্ত করার বিষয়টি কেবল সনদের স্বচ্ছতা, এর নিরবচ্ছিন্নতা এবং মতন বা মূল পাঠ অসংগতি থেকে মুক্ত থাকার ওপরই নির্ভরশীল। সুতরাং যখন আলিমগণ ইমাম তিরমিজির "হাসান সহিহ" উক্তিটির ব্যাপারে এই বিশাল মতপার্থক্যে লিপ্ত হন—যা সম্ভবত তেরোটি বা তারও বেশি মতে বিভক্ত—তা কেবল তাদের জন্যই প্রযোজ্য যারা তিরমিজির হুকুমের (বিচারের) ক্ষেত্রে তাঁকে অনুকরণ করেন। আমরা যদি ধরে নিই যে তিরমিজি কোনো হাদিসকে "হাসান সহিহ" বলেছেন, আর আমরা "হাসান সহিহ" দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নিয়ে মতভেদ করি এবং উক্ত হাদিসের সনদটি অধ্যয়ন করি, তবে ইমামগণের সনদ পর্যালোচনার পদ্ধতির আলোকে আমরা তিরমিজির উক্তি দ্বারা সমর্থন লাভ করতে পারি। তিরমিজির হুকুম অন্য ইমামদের হুকুমের মতোই, তবে তিরমিজির হুকুম আমাদের জন্য মানা বাধ্যতামূলক নয়। তিনি যদি বলেন "হাসান সহিহ", অথচ তার সনদে কোনো দুর্বল ব্যক্তি থাকে অথবা সনদে বিচ্ছিন্নতা থাকে, তবে তিরমিজির অনুসরণে আমাদের জন্য একে সহিহ সাব্যস্ত করা আবশ্যক নয়। কিন্তু আমরা যদি কোনো হাদিসের ব্যাপারে বিচার বিশ্লেষণ করে তাকে সহিহ পাই এবং তিরমিজিও সে সম্পর্কে বলে থাকেন "হাসান সহিহ", তবে মন এই ফলাফলের প্রতি আশ্বস্ত হয়। অবশ্য যারা বলেন যে, হাদিস সহিহ বা জয়িফ সাব্যস্ত করার ধারা বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের মত অনুযায়ী আমাদের জন্য তিরমিজির হুকুমের ক্ষেত্রে তাঁকে অনুকরণ করা আবশ্যক। সুতরাং যিনি হাদিসের সূত্রসমূহ সংগ্রহ করতে এবং সনদ পর্যালোচনায় পারদর্শী, তার ওপর এই আলোচনা খুব একটা প্রভাব ফেলে না; কারণ তিরমিজি হয়তো কোনো হাদিসকে সহিহ বলতে পারেন—যদিও তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ইমাম, তবে তিনি নির্ভুল নন। তিনি হয়তো এমন কোনো হাদিসকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন যা অন্য কেউ জয়িফ বলেছেন। তাহলে আপনি কি তিরমিজির উক্তি "হাসান সহিহ" মেনে নিতে বাধ্য, যখন বুখারি বা আবু হাতিম কিংবা অন্য ইমামগণ তাকে জয়িফ বলছেন? আপনি বাধ্য নন। আপনি যদি যোগ্য হন, তবে আপনার ইজতিহাদ আপনাকে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে, আপনি তা পালনেই দায়বদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
نعود إلى هذه الرسالة التي بين أيدينا، رسالة وجيزة في بيان واقع سنن أبي داود، ومنزلة السنن، وشرط أبي داود في سننه، وحكم ما سكت عنه أبو داود، والذي يبينه والذي لا يبينه وعدة أحاديث الكتاب إلى غير ذلك من المباحث اللطيفة التي ترد، وقد يقول قائل: إن هذه الرسالة لا تستحق هذه المدة التي ضربت لها، فنقول: هذا الكلام صحيح، وبالإمكان أن ننتهي منها في درس؛ بالإمكان هذا؛ لأن الكلام طولاً وتطويلاً واختصاراً سهل يعني، وبالإمكان أن نوسع الكلام فيها فتستغرق الوقت، لكن أظن التوسط يعني أخذها في هذا الأسبوع الأول، وترك الأسبوع الثاني ليختار فيه ما يناسب، إما متن مختصر، أو ننقل إليه درس العصر؛ لأنني أشوف الحضور اليوم العصر أقل منه في الفجر، أقل بكثير، ولعل حرارة الجو والارتباط بالدوام، وما أشبه ذلك قد يكون له أثر، وهذا ملاحظ حقيقة عند وضع الجدول، العام الماضي تعرفون وضعنا درس العصر ثم نقلناه، لكن مع ذلك سوف يستمر ابن ماجه بعد صلاة العصر إلى أن ينتهي هذا المتن، أو يقترح مكان هذا المتن بعده في الأسبوع الثاني متن آخر، ولعله مما يتعلق بسنن أبي داود كشرح أبي طاهر السلفي لمقدمة الخطابي على سنن أبي داود، والأمر إليكم.
طالب: أو ختم السخاوي فيه فوائد.
أو ختم السخاوي، نشوف لنا شيء، لكن اللي ترونه يعني.
طالب: أحسن الله إليك.
سم
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
اللهم اغفر لشيخنا، واجزه عنا خير الجزاء، واغفر للحاضرين والسامعين يا حي يا قيوم.
قال المصنف -رحمه الله تعالى-:
بسم الله الرحمن الرحيم
ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم، أخبرنا الشيخ أبو الفتح محمد بن عبد الباقي بن أحمد بن سليمان المعروف بابن البطي.
إن كانت بالتخفيف فأصله مهموز، البطيء، من البطء والتأخر، وفي الحديث المعروف ((من بطأ به
… )) إن كان هذا بالتخفيف، وإن كان منسوباً إلى
… إلى إيش؟
طالب: البط.
إلى البط، فهو بالتشديد، وأنا ما راجعته، فيه أحد راجع؟
ما راجعت هذه النسبة، فتنظر -إن شاء الله تعالى-، نعم.
طالب: أحسن الله إليك.
আমরা আমাদের সামনে থাকা এই রিসালাহ বা পুস্তিকাটির দিকে ফিরে আসি। এটি সুনানে আবি দাউদের স্বরূপ, সুনানের মর্যাদা, তাঁর সুনানে আবু দাউদের শর্তাবলি, যে বিষয়গুলোতে আবু দাউদ মৌনতা অবলম্বন করেছেন তার বিধান, তিনি যা বর্ণনা করেছেন এবং যা বর্ণনা করেননি, কিতাবটিতে হাদিসের সংখ্যা এবং এজাতীয় অন্যান্য সূক্ষ্ম আলোচনা সংবলিত একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। কেউ হয়তো বলতে পারেন: এই পুস্তিকাটির জন্য যে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে এটি তার যোগ্য নয়। আমরা বলব: এই কথাটি সঠিক। আমাদের পক্ষে এটি এক দরসেই শেষ করা সম্ভব। এটি সম্ভব, কারণ কথা দীর্ঘ করা বা সংক্ষিপ্ত করা সহজ বিষয়। আমাদের পক্ষে কথা বিস্তারিত আলোচনা করে পুরো সময় ব্যয় করাও সম্ভব। তবে আমি মনে করি মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়, অর্থাৎ প্রথম সপ্তাহে এটি শেষ করা এবং দ্বিতীয় সপ্তাহ অন্য কোনো উপযুক্ত বিষয়ের জন্য রাখা। হয় কোনো সংক্ষিপ্ত মূল পাঠ (মাতন), অথবা আমরা আসরের দরসটি এখানে নিয়ে আসব। কারণ আমি দেখছি ফজরের তুলনায় আসরের সময় উপস্থিতি অনেক কম, অনেক বেশি কম। সম্ভবত আবহাওয়া উত্তপ্ত হওয়া এবং কর্মব্যস্ততা ও দাপ্তরিক কাজের এর ওপর প্রভাব থাকতে পারে। গত বছরও আমরা আসরের দরস রেখেছিলাম এবং পরে তা স্থানান্তর করেছিলাম। তবুও আসরের নামাজের পর ইবনে মাজাহ এই মাতন শেষ হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে এই মাতনের পরিবর্তে অন্য কোনো মাতন প্রস্তাব করা যেতে পারে, যা সম্ভবত সুনানে আবি দাউদের সাথে সম্পর্কিত হবে, যেমন সুনানে আবি দাউদের ওপর খাত্তাবির মুকাদ্দিমার প্রতি আবু তাহের সিলাফির ব্যাখ্যাগ্রন্থ। সিদ্ধান্ত আপনাদের ওপর।
ছাত্র: অথবা সাখাভির 'খতম', এতে অনেক ফায়দা রয়েছে।
অথবা সাখাভির 'খতম', আমরা কিছু একটা দেখে নেব, তবে আপনারা যা ভালো মনে করেন।
ছাত্র: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন।
জি, শুরু করুন।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও মুরসালিনগণের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শায়খকে ক্ষমা করুন, আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং উপস্থিত ও শ্রবণকারীদের ক্ষমা করুন, হে চিরঞ্জীব, হে মহাবিশ্বের ধারক।
গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহু তায়ালা) বলেন:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আর কোনো উপায় ও শক্তি নেই। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন আহমদ বিন সুলাইমান, যিনি ইবনুল বাত্তি নামে পরিচিত।
যদি এটি হালকাভাবে (তাশদিদ ছাড়া) পড়া হয়, তবে এর মূল শব্দে হামজা ছিল (আল-বাতিউ), যা ধীরগতি বা বিলম্ব থেকে উদ্ভূত। প্রসিদ্ধ হাদিসে যেমনটি আছে: ((যাকে তার আমল পিছিয়ে দিয়েছে
… )) যদি এটি হালকাভাবে হয়, আর যদি এটি সম্বন্ধিত হয়... কিসের সাথে?
ছাত্র: হাঁসের (আল-বাত্ত) দিকে।
হাঁসের (আল-বাত্ত) দিকে হলে তাশদিদ সহকারে হবে। আমি এটি যাচাই করিনি। কেউ কি যাচাই করেছেন?
আমি এই নিসবতটি (সম্বন্ধ) যাচাই করিনি, ইনশাআল্লাহ এটি দেখে নেওয়া যাবে। জি।
ছাত্র: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
المعروف بابن البطي إجازة إن لم أكن سمعته منه، قال: أنبأنا الشيخ أبو الفضل أحمد بن الحسن بن خيرون المعدل، قراءة عليه، وأنا حاضر أسمع، قيل له: أقرأت على أبي عبد الله محمد بن علي بن عبد الله الصوري الحافظ؟ قال: سمعت أبا الحسين محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن جميع الغساني بصيدا، فأقر به، قال: سمعت أبا بكر محمد بن عبد العزيز بن محمد بن الفضل بن يحيى بن القاسم بن عون بن عبد الله بن الحارث بن نوفل بن الحارث بن عبد المطلب الهاشمي بمكة يقول: سمعت أبا داود سليمان بن الأشعث بن إسحاق بن بشير بن شداد السجستاني، وسئل عن رسالته التي كتبها إلى أهل مكة وغيرها جواباً لهم فأملى علينا: سلام عليكم، فإني أحمد إليكم الله الذي لا إله إلا هو، وأسأله أن يصلي على محمد عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم كلما ذكر، أما بعد:
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
هذه الرسالة الموجزة المختصرة من الإمام أبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني المتوفى سنة خمسة وسبعين ومائتين افتتحت بالبسملة، وهذه البسملة التي صدرها ليست من كلام المؤلف كما هو معروف؛ لأنها تسبق الإسناد والإسناد ليس من كلامه رحمه الله، وإنما من كلام آخر الرواة، آخر الرواة عنه، قال: ولا حول ولا قول إلا بالله العلي العظيم، هذه أيضًا ليست من كلام أبي داود، ولكن البداءة بالبسملة أمر مشروع اقتداءً بالقرآن العظيم، وبالنبي الكريم عليه الصلاة والسلام في رسائله.
وأما قوله: "لا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم" فهو إظهار للعجز والتقصير يتضمن تواضعاً وانكسارًا لله -جل وعلا- في طلب الإعانة، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم كنز من كنوز الجنة ((لا حول ولا قوة إلا بالله كنز من كنوز الجنة)) فإذا كان ترابها المسك الأذفر فما الكنز الذي يدخر ويخفى تحت هذا التراب؟! إذا كان الظاهر المباح المتاح للجميع هو المسك الأذفر، يعني بمنزلة التراب عندنا، تراب الجنة، فماذا يتصور العقل؟ وماذا يدرك من عظمة هذا الكنز؟! فعلى المسلم أن يكثر منها لأنها من كنوز الجنة.
يقول رحمه الله:
ইবনুল বাত্তি নামে পরিচিত ব্যক্তি থেকে ইজাজতসূত্রে, যদি আমি এটি তাঁর নিকট থেকে সরাসরি শুনে না থাকি; তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল ফজল আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে খাইরুন আল-মুয়াদ্দিল, তাঁর নিকট পাঠকালে, আর আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম। তাঁকে বলা হলো: আপনি কি হাফিয আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সুরির নিকট পাঠ করেছেন? তিনি বললেন: আমি সাঈদায় আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে জামি’ আল-গাসসানিকে বলতে শুনেছি, তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি বললেন: আমি মক্কায় আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আল-ফজল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আল-কাসিম ইবনে আউন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস ইবনে নাওফাল ইবনে আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশ’আস ইবনে ইসহাক ইবনে বাশির ইবনে শাদ্দাদ আস-সিজিস্তানিকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁকে তাঁর সেই রিসালা (পত্র) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা তিনি মক্কাবাসী ও অন্যদের নিকট উত্তরস্বরূপ লিখেছিলেন—তখন তিনি আমাদের সামনে তা শ্রুতিলিপি প্রদান করলেন: আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আপনাদের নিকট সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত আর কোনো সত্য উপাস্য নেই। আর আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি তিনি যেন তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাত বর্ষণ করেন যখনই তাঁকে স্মরণ করা হয়। অতঃপর:
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর।
২৭৫ হিজরীতে ইন্তেকালকারী ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশ’আস আস-সিজিস্তানির এই সারসংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্ত রিসালাটি বাসমালাহ (বিসমিল্লাহ) দিয়ে শুরু হয়েছে। তবে শুরুতে উল্লিখিত এই বাসমালাহটি গ্রন্থকারের নিজস্ব বক্তব্য নয় যেমনটি সুপরিচিত; কারণ এটি বর্ণনাসূত্রের (ইসনাদ) পূর্বে এসেছে এবং ইসনাদ তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) কথা নয়, বরং এটি তাঁর পরবর্তী সর্বশেষ বর্ণনাকারীদের কথা। তিনি বলেছেন: "মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত (পাপ থেকে) ফেরার কোনো উপায় নেই এবং (ইবাদত করার) কোনো শক্তি নেই"। এটিও আবু দাউদের কথা নয়, তবে বাসমালাহ দিয়ে শুরু করা একটি শরীয়তসম্মত আমল যা মহান কুরআন এবং নবী কারীম আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের পত্রাবলির অনুসরণস্বরূপ।
আর তাঁর কথা: "মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই"—এটি নিজের অক্ষমতা ও ত্রুটি স্বীকারের বহিঃপ্রকাশ যা আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনায় বিনয় ও আত্মনিবেদনকে শামিল করে। "লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের একটি ভাণ্ডার। যদি জান্নাতের মাটিই হয় তীব্র সুগন্ধিযুক্ত মিশক, তবে সেই মাটির নিচে সঞ্চিত ও লুকায়িত ভাণ্ডারটি কেমন হবে?! যদি জান্নাতের প্রকাশ্য ও সবার জন্য সহজলভ্য বস্তু হয় তীব্র সুগন্ধিযুক্ত মিশক—অর্থাৎ যা আমাদের কাছে মাটির মর্যাদায়—তবে মানুষের বুদ্ধি সেই ভাণ্ডারের মাহাত্ম্য সম্পর্কে কী কল্পনা বা অনুধাবন করতে পারে?! অতএব একজন মুসলিমের উচিত এটি অধিক পরিমাণে পাঠ করা, কারণ এটি জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
"أخبرنا الشيخ أبو الفتح محمد بن عبد الباقي بن أحمد بن سليمان المعروف بالبطي إجازة" (أخبرنا) الأصل أنها صيغة أداء لمن تحمل بطريق العرض على الشيخ، (أخبرنا) استقر الاصطلاح على أنها إنما تستعمل يستعملها على من تحمل الخبر بطريق العرض على الشيخ، وهنا يقول: "إجازة، إن لم أكن سمعته منه" يعني هو متردد هل سمع أم لم يسمع؟ أما الإجازة فهي مجزوم بها، والإجازة هي الإذن بالرواية، فإن لم يكن سمع منه من لفظه فإنه يجزم بأنه رواه إجازة؛ لأن بعض الناس يسمع من لفظ الشيخ، أو يُقرأ على الشيخ، أو يَقرأ على الشيخ ثم يطلب الإجازة، لماذا؟ ما الفائدة من الإجازة وقد تُحمل من طريق أعلى منها وأقوى؟ خشية أن يكون في السماع خلل، أو يكون في العرض خلل، فيرقع هذا الخلل بالإجازة، وإلا فالإجازة ضعيفة، والسماع هو أقوى طرق التحمل، وصيغة الأداء المناسبة للسماع هي (حدثنا) الأصل أن يقول: حدثنا إن كان سمع، وإن كان عرض على الشيخ وقرأ عليه يقول: أخبرنا، وهنا يقول: أخبرنا وهو متردد بين السماع وعدمه، ومتيقن من الإجازة.
كثر استعمال المتأخرين الذين منهم هذا الشيخ استعمال (أنبأنا) في الإجازة، وكثر استعمال (عن) في الإجازة.
وكثر استعمال (عن) في هذا الزمن
… إجازة وهي بوصل ما قمن
لكن إذا صرح بالمراد، وأمن تدليس الراوي فليقل من الصيغ ما شاء، الأمر يكون سهل، ما دام قال: إجازة فلا يظن به أنه يدلس على الناس أنه قرأ الرسالة على هذا الشخص الذي روى عنه، فإذا صرح بالمقصود فلا يضيره أن يقول: حدثنا أو أخبرنا أو عن فلان أو أنبأنا فلان، لا يضيره هذا، وهنا صرح إجازة.
"إن لم أكن سمعته منه" هو يشك في كونه سمع هذه الرسالة من هذا الشيخ، وهذه في غاية الدقة والأمانة في الأداء، إذا شك في الأعلى صرح في بالأدنى لأنه متيقن، إذا شك في الأعلى لا يجزم به، ويصرح بالأدنى لأنه متيقن، ولذا يقولون: أيهما أفضل أن يقول: أخبرنا أو أخبرني؟ هو إن كان معه غيره قال: أخبرنا، وإن كان منفرداً قال: أخبرني، وإن شك بعد طول الزمن يشك هل كان وحده أو كان معه أحداً؟ هل يقول: أخبرنا أو أخبرني؟ نعم؟
طالب: أخبرنا.
"শাইখ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকি ইবনে আহমদ ইবনে সুলাইমান, যিনি আল-বাত্তি নামে পরিচিত, তিনি আমাদের ইজাজতের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন।" (আখবারানা) শব্দটির মূল হলো এটি শাইখের নিকট পেশ করার মাধ্যমে যারা শিক্ষা গ্রহণ করেছে তাদের বর্ণনার ভঙ্গি। (আখবারানা) পরিভাষাটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য স্থির হয়েছে যিনি শাইখের নিকট উপস্থাপনের মাধ্যমে সংবাদটি গ্রহণ করেছেন। এখানে তিনি বলছেন: "ইজাজতক্রমে, যদি আমি এটি তাঁর থেকে না শুনে থাকি," অর্থাৎ তিনি দ্বিধাগ্রস্ত যে তিনি কি শুনেছেন নাকি শোনেননি? তবে ইজাজতের বিষয়টি নিশ্চিত। ইজাজত হলো বর্ণনা করার অনুমতি। যদি তিনি সরাসরি তাঁর কণ্ঠ থেকে শুনে না থাকেন, তবে তিনি নিশ্চিতভাবে বলছেন যে তিনি এটি ইজাজতের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। কারণ কিছু লোক শাইখের কণ্ঠ থেকে শোনে, অথবা শাইখের নিকট পাঠ করা হয়, অথবা সে নিজেই পাঠ করে এবং এরপর ইজাজত প্রার্থনা করে। কেন? যখন উচ্চতর ও অধিক শক্তিশালী মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয়েছে তখন ইজাজতের কী প্রয়োজন? এই আশঙ্কায় যে শ্রবণে কোনো ত্রুটি হতে পারে অথবা উপস্থাপনে কোনো ভুল হতে পারে, তাই ইজাজতের মাধ্যমে সেই ত্রুটি পূরণ করা হয়। নতুবা ইজাজত পদ্ধতিটি দুর্বল, আর সরাসরি শ্রবণ হলো জ্ঞান অর্জনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। শ্রবণের জন্য উপযুক্ত শব্দ হলো ‘হাদ্দাসানা’। মূল নিয়ম হলো যদি শ্রবণ করে থাকেন তবে ‘হাদ্দাসানা’ বলবেন, আর যদি শাইখের নিকট পেশ বা পাঠ করা হয় তবে বলবেন ‘আখবারানা’। এখানে তিনি ‘আখবারানা’ বলছেন অথচ তিনি শ্রবণ করা বা না করার ব্যাপারে দ্বিধান্বিত, তবে ইজাজতের ব্যাপারে নিশ্চিত।
এই শাইখ সহ পরবর্তী যুগের আলেমদের মাঝে ইজাজতের ক্ষেত্রে ‘আনবাআনা’ শব্দের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইজাজতের ক্ষেত্রে ‘আন’ শব্দের ব্যবহারও বেড়েছে।
এবং বর্তমান সময়ে ‘আন’ শব্দের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে
… ইজাজত যা সংযোগের জন্য যথেষ্ট।
কিন্তু যদি উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা হয় এবং বর্ণনাকারীর প্রতারণার ভয় না থাকে, তবে তিনি শব্দপ্রয়োগের ক্ষেত্রে যা ইচ্ছা বলতে পারেন, বিষয়টি তখন সহজ হয়ে যায়। যতক্ষণ তিনি বলছেন ‘ইজাজত’, ততক্ষণ কেউ এই ধারণা করবে না যে তিনি মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন যে তিনি এই রিসালাটি সেই ব্যক্তির কাছে পাঠ করেছেন যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন। সুতরাং যখন উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, তখন ‘হাদ্দাসানা’, ‘আখবারানা’, ‘অমুক থেকে’ বা ‘অমুক আমাদের জানিয়েছেন’ বলাতে কোনো ক্ষতি নেই; কেননা তিনি এখানে ইজাজতের কথা স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন।
"যদি আমি এটি তাঁর থেকে না শুনে থাকি" — তিনি এই রিসালাটি শাইখের নিকট থেকে শোনার ব্যাপারে সন্দিহান। এটি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও আমানতদারিতার পরিচয়। যখন উচ্চতর স্তরের ব্যাপারে সন্দেহ থাকে, তখন তিনি নিম্নতর স্তরটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন কারণ সেটি নিশ্চিত। উচ্চতর স্তরের ব্যাপারে সন্দেহ থাকলে তিনি তা নিশ্চিতভাবে বলেন না, বরং নিম্নতর স্তরটি স্পষ্টভাবে বলেন কারণ তা নিশ্চিত। এজন্যই আলেমগণ বলেন: কোনটি উত্তম—‘আখবারানা’ (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) বলা নাকি ‘আখবারানি’ (আমাকে সংবাদ দিয়েছেন) বলা? যদি তাঁর সাথে অন্য কেউ থাকে তবে তিনি বলবেন ‘আখবারানা’, আর যদি তিনি একা হন তবে বলবেন ‘আখবারানি’। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর যদি তিনি সন্দেহ করেন যে তিনি কি একা ছিলেন নাকি তাঁর সাথে অন্য কেউ ছিল? তখন তিনি কি ‘আখবারানা’ বলবেন নাকি ‘আখবারানি’? হ্যাঁ?
ছাত্র: আখবারানা।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أخبرنا بالجمع، وجوده بمفرده متيقن، ووجود غيره معه مشكوك فيه، وهو يجزم أنه موجود، فهل يقول: أخبرنا أو أخبرني؟ أخبرني لأنه متيقن من وجوده في حال الرواية، لكن وجود غيره في الرواية مشكوك فيه، ومن أهل العلم من يقول: أخبرنا، لماذا؟ يقول: أخبرنا أرجح.
طالب:. . . . . . . . .
أقل، أقل مرتبة وجوده من غيره؛ لأنه إذا وجد منفرداً فإنه حينئذٍ يخص بالتحديث، وإذا وجد مع غيره لا يعني هذا أن المحدث اهتم بشأنه واعتنى به؛ لأنه إذا قلت: أخبرني فلان، لما تقول: والله أخبرني الشيخ فلان، معناه أن الشيخ خصك بهذا الخبر، وإذا قلت: أخبرنا، يعني أنت جالس في المجلس، ومعك مجموعة من الناس، ولا يدرى هل أنت مقصود بالتحديد أو غير مقصود؟ أنت مع الناس، لك أن تقول: أخبرنا، أو تقول: حدثنا، فكونك تقول: أخبرني الإفراد يدل على إنك مقصود بالتحديث، وقد تتزود بهذا على الناس، وتدعي ما ليس بواقع، وعلى كل حال إذا برئت النفس وسلمت من هذا الترفع وهذا التكبر فالأمر سهل، فإذا قال: أخبرنا فإن كان منفرداً فالعرب تؤكد فعل الواحد بضمير الجمع، وإن كان معه غيره فقد حكى الواقع، وإذا قال: أخبرني فالأصل أنه موجود وغيره مشكوك فيه، لكن إذا وجد في النفس ما يدل على أو ما يشم منه إنه يريد بذلك أنه مقصود بالتحديث، وأنه أهل لأن يخص بالحديث حينئذٍ يقول: أخبرنا.
বহুবচনে 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' বলা প্রসঙ্গে; তার একাকী উপস্থিত থাকা নিশ্চিত, কিন্তু তার সাথে অন্যের উপস্থিত থাকার বিষয়টি সন্দেহযুক্ত। সে নিশ্চিত যে সে নিজে উপস্থিত ছিল, এমতাবস্থায় সে কি বলবে: 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' নাকি 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন'? সে বলবে: 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন'; কারণ বর্ণনার সময় সে নিজের উপস্থিতির ব্যাপারে নিশ্চিত, তবে বর্ণনার সময় অন্যের উপস্থিতির বিষয়টি সন্দেহযুক্ত। আবার আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন'। কেন? তিনি বলেন: 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' বলাটাই অধিকতর অগ্রগণ্য।
ছাত্র: . . . . . . . . .
কম, অন্যের উপস্থিতির তুলনায় তার উপস্থিতির মর্যাদা কম; কারণ সে যদি একাকী থাকে, তবে তখন তাকে বিশেষভাবে হাদিস শোনানো হয়। আর সে যদি অন্যের সাথে থাকে, তবে এর অর্থ এই নয় যে মুহাদ্দিস তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তার বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। কেননা আপনি যখন বলেন: 'অমুক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন', যেমন আপনি যখন বলেন: 'আল্লাহর কসম, শায়খ অমুক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন', তখন এর অর্থ দাঁড়ায় যে শায়খ আপনাকে এই সংবাদটি প্রদানের মাধ্যমে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। আর যখন আপনি বলেন: 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন', তার অর্থ হলো আপনি মজলিসে বসা ছিলেন এবং আপনার সাথে একদল মানুষ ছিল; সেখানে জানা যায় না যে আপনাকে নির্দিষ্টভাবে উদ্দেশ্য করা হয়েছে নাকি করা হয়নি? আপনি সাধারণ মানুষের সাথেই ছিলেন। এমতাবস্থায় আপনার জন্য 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' অথবা 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' বলা সংগত। সুতরাং আপনার একবচনে 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' বলা একথাই প্রমাণ করে যে, আপনাকে উদ্দেশ্য করেই হাদিসটি বর্ণনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আপনি মানুষের সামনে নিজেকে বড় করে তুলে ধরতে পারেন এবং এমন কিছু দাবি করতে পারেন যা বাস্তব নয়। যাই হোক, যদি আত্মা এই আত্মম্ভরিতা ও অহংকার থেকে মুক্ত এবং নিরাপদ থাকে, তবে বিষয়টি সহজ। এমতাবস্থায় সে যদি 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' বলে অথচ সে একা ছিল, তবে আরবরা বহুবচনের সর্বনাম ব্যবহারের মাধ্যমে একবচনের কাজকে সুদৃঢ় করে থাকে। আর যদি তার সাথে অন্য কেউ থেকে থাকে, তবে সে বাস্তব অবস্থারই বর্ণনা দিল। পক্ষান্তরে সে যদি 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' বলে, তবে মূল বিষয় হলো সে নিশ্চিতভাবে উপস্থিত ছিল এবং অন্য কেউ ছিল কি না তা সন্দেহযুক্ত। কিন্তু যদি অন্তরে এমন কিছুর উদ্রেক হয় যা দ্বারা এটি প্রতীয়মান হয় যে, সে নিজেকে বর্ণনার একমাত্র লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাহির করতে চাচ্ছে এবং সে একাকী এই হাদিস পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করছে, তবে সেক্ষেত্রে তার 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' বলাই শ্রেয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
"إجازة إن لم أقل سمعته منه، قال: أنبأنا الشيخ أبو الفضل أحمد بن الحسن بن خيرون المعدل قراءة عليه، وأنا حاضر أسمع" يعني تلقى هذه الرواة بطريق العرض، العرض هو القراءة على الشيخ "قراءة عليه وأنا حاضر أسمع" يعني بقراءة غيره لا بقراءته هو، وسواء كانت القراءة من قبله، هو الذي يقرأ أو غيره هو الذي يقرأ، فكله عرض على الشيخ، يعني قراءة على الشيخ، والعرض دون السماع من لفظ الشيخ، والرواية بطريق العرض جائزة بالإجماع، وصحيحة بالاتفاق، لكنها دون السماع من لفظ الشيخ، ورجحها بعض من شذ على السماع من لفظ الشيخ، فالسماع من لفظ الشيخ هو الأصل، والعرض عليه فرع، وهو دون السماع، الأصل في الرواية أن الشيخ يقرأ، والنبي عليه الصلاة والسلام يتكلم بالحديث، والصحابة يسمعون، فالسماع من لفظ الشيخ هو الأصل في الرواية.
منهم من يرجح العرض على الشيخ على السماع من لفظه، ويقولون: إن الطلاب إذا سمعوا من الشيخ في حال السماع الذي هو أرفع طرق التحمل قد يخطئ الشيخ، ولا يجد من يرد عليه، أو ينبهه إلى الخطأ، لكن إذا كانت الرواية بطريق العرض والقراءة على الشيخ إذا أخطأ الطالب لن يتردد الشيخ في الرد عليه، هذا وجه من رجح العرض، لكن عامة أهل العلم على أن السماع من لفظ الشيخ هو الأصل في الرواية.
العرض على الشيخ صيغة الأداء المناسبة لما تلقي بطريق العرض أخبرنا، يعني استقر الاصطلاح على هذا، وإن كان الإمام البخاري لا يفرق بين حدثنا وأخبرنا، لكن أكثر أهل العلم على التفريق، وأن ما تلقي بطريق السماع يقال فيه: حدثنا، وما تلقي بطريق العرض يقال فيه: أخبرنا، وهنا يقول: أنبأنا.
"অনুমতি (ইজাযাহ), যদি আমি না বলি যে আমি তাঁর কাছ থেকে এটি শুনেছি। তিনি বলেছেন: শাইখ আবুল ফজল আহমাদ বিন আল-হাসান বিন খাইরুন আল-মুয়াদ্দিল তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম।" অর্থাৎ এই বর্ণনাকারীগণ ‘আরদ’ (উপস্থাপন) পদ্ধতিতে এটি গ্রহণ করেছেন। ‘আরদ’ হলো শাইখের সামনে পাঠ করা। "তাঁর কাছে পাঠ করার মাধ্যমে এবং আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম" অর্থাৎ অন্যের পাঠের মাধ্যমে, নিজের পাঠের মাধ্যমে নয়। পাঠটি তার নিজের পক্ষ থেকে হোক কিংবা অন্যের পক্ষ থেকে, এর সবই শাইখের কাছে ‘আরদ’ অর্থাৎ শাইখের সামনে পাঠ করা হিসেবে গণ্য। আর ‘আরদ’ পদ্ধতিটি শাইখের কণ্ঠ থেকে সরাসরি শোনার চেয়ে নিম্নমানের। ‘আরদ’ পদ্ধতিতে বর্ণনা করা সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সহীহ। তবে এটি শাইখের কণ্ঠ থেকে সরাসরি শোনার চেয়ে নিম্নপর্যায়ের। বিরল কিছু মত পোষণকারী এটাকে শাইখের কণ্ঠ থেকে শোনার চেয়েও প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে শাইখের কণ্ঠ থেকে শোনাটিই হলো মূল ভিত্তি এবং তাঁর কাছে ‘আরদ’ করা হলো তার শাখা, যা শোনার চেয়ে নিম্নমানের। বর্ণনার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো শাইখ পাঠ করবেন এবং নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম হাদীস বলবেন আর সাহাবীগণ তা শুনবেন। সুতরাং শাইখের কণ্ঠ থেকে শোনাটাই বর্ণনার মূল ভিত্তি।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ শাইখের কণ্ঠ থেকে শোনার চেয়ে তাঁর কাছে ‘আরদ’ বা উপস্থাপন করাকে প্রাধান্য দেন। তাঁরা বলেন: ছাত্ররা যখন শাইখের কাছ থেকে শোনেন—যা গ্রহণের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ—তখন শাইখ ভুল করতে পারেন এবং এমন কাউকে পাওয়া না-ও যেতে পারে যে তাঁকে সংশোধন করবে বা তাঁকে ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করবে। কিন্তু বর্ণনা যদি ‘আরদ’ বা শাইখের সামনে পাঠ করার পদ্ধতিতে হয়, তবে ছাত্র ভুল করলে শাইখ তাকে সংশোধন করতে দ্বিধা করবেন না। এটিই তাদের যুক্তি যারা ‘আরদ’কে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে অধিকাংশ আলিম মনে করেন যে, শাইখের কণ্ঠ থেকে শোনাটাই বর্ণনার মূল ভিত্তি।
শাইখের কাছে ‘আরদ’ করার মাধ্যমে যা গ্রহণ করা হয়েছে তার জন্য উপযুক্ত বর্ণনার শব্দ হলো 'আখবারানা' (তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন)। অর্থাৎ এই পরিভাষাটি এভাবেই স্থির হয়েছে। যদিও ইমাম বুখারী 'হাদ্দাসানা' এবং 'আখবারানা'র মধ্যে পার্থক্য করেন না, তবে অধিকাংশ আলিম এই পার্থক্যের পক্ষপাতী। তাঁদের মতে, যা সরাসরি শোনার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে তার ক্ষেত্রে বলা হবে 'হাদ্দাসানা', আর যা ‘আরদ’ বা উপস্থাপনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে তার ক্ষেত্রে বলা হবে 'আখবারানা'। আর এখানে তিনি বলছেন: 'আনবায়ানা' (তিনি আমাদের অবহিত করেছেন)।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الأصل في أخبرنا وحدثنا وأنبأنا أنها ألفاظ من حيث المعنى متقاربة إلا أن الإنباء هو الإخبار بما له شأن، وإلا فالأصل أن الإنباء والإخبار {عَمَّ يَتَسَاءلُونَ * عَنِ النَّبَإِ الْعَظِيمِ} [(1 - 2) سورة النبأ] يعني عن الخبر العظيم، فالإنباء والإخبار بمعنى واحد في الأصل، وإن كان الإنباء يفوق الإخبار، فسواء قال: أنبأنا أو أخبرنا لا يختلف إلا بعد أن استقر الاصطلاح؛ لئلا يتوهم أن ما تلقي بطريق الإجازة أو بطريق المناولة نعم يظن فيه أنه تلقي بطريق العرض والقراءة على الشيخ؛ لأن الإجازة والمناولة دون العرض على الشيخ.
"قراءة عليه وأنا حاضر أسمع" كثيراً ما يقول النسائي -رحمه الله تعالى-: "الحارث بن مسكين فيما قُرئ عليه وأنا أسمع" ولا يقول: أخبرنا ولا أنبأنا ولا حدثنا بدون صيغة، لماذا؟
طالب:. . . . . . . . .
نعم لأن الحارث بن مسكين طرد النسائي من الدرس، من الحلقة، فكان يختبئ وراء سارية ويسمع، فلكون الحارث بن مسكين ثقة، عدل، حافظ، ضابط، لم يفرط النسائي بالرواية عنه، ولكونه لم يقصد بالتحديث بل طرد منه ما استجاز لنفسه أن يقول: أخبرنا، وإنما ترك الأمر بدون صيغة "الحارث بن مسكين فيما قرأ عليه وأنا أسمع" وهذا من تمام ورعه رحمه الله، لكن إذا طرد الطالب من الدرس؛ لأن المدرس مثلاً يأخذ الأجرة وهذا رفض يدفع الأجرة مثلاً، وقال: لا تسمع مني، يجوز له أن يسمع ويروي وإلا ما يجوز؟
طالب:. . . . . . . . .
هاه؟
طالب:. . . . . . . . .
هو علم، يجوز وإلا ما يجوز؟ يعني هل يملك؟ حتى لو أن مجموعة من الطلاب، مجموعة جالسون بين يدي الشيخ ويحدثهم فيقول: أنت يا فلان لا تروي عني شيئاً، يملك وإلا ما يملك؟ ما يملك، ما يملك أن يقول له: لا ترو عني شيئاً، فإذا سمع منه يروي عنه وينقل، والعلم الأصل فيه أنه مشاع، هذا فيما لا كلفة فيه، لكن لو أن إنساناً تعب على شيء، واقتطع من وقته ما أضر بمصلحته ومصلحة ولده، وأراد أن يأخذ عليه أجراً، ومنع بعض الناس من الحضور إلا بالأجر، المسألة خلافية بين أهل العلم، لكن قوله عليه الصلاة والسلام: ((إن أحق ما أخذتم عليه أجراً كتاب الله)) يدل على الجواز، وإن كان الورع تركه.
'আখবারানা', 'হাদ্দাসানা' এবং 'আনবাআনা'-এর মূল বিষয় হলো অর্থের দিক থেকে এগুলো পরস্পর নিকটবর্তী শব্দ। তবে 'ইনবা' হলো গুরুত্বপূর্ণ কোনো সংবাদ প্রদান করা। অন্যথায় মূলত 'ইনবা' এবং 'ইখবার' একই বিষয়; (যেমন কুরআনে বর্ণিত হয়েছে:) "তারা কী বিষয়ে একে অপরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? সেই মহাসংবাদ সম্পর্কে।" [সূরা আন-নাবা: ১-২]। অর্থাৎ মহান সংবাদ সম্পর্কে। সুতরাং মূলত 'ইনবা' এবং 'ইখবার' একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যদিও 'ইনবা' গুরুত্বের দিক থেকে 'ইখবার'-এর চেয়ে ঊর্ধ্বে। অতএব, কেউ 'আনবাআনা' বলুক বা 'আখবারানা' বলুক, তাতে কোনো পার্থক্য নেই—যতক্ষণ না পরিভাষাটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। যাতে এ জাতীয় সংশয় তৈরি না হয় যে, যা 'ইজাজাহ' (অনুমতি) বা 'মুনাওয়ালাহ' (হস্তান্তর) পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হয়েছে, তা শাইখের নিকট পাঠ করা বা পড়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত বলে মনে করা হয়। কেননা ইজাজাহ ও মুনাওয়ালাহ পদ্ধতি শাইখের নিকট পাঠ করার চেয়ে নিম্নমানের।
"তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি উপস্থিত থেকে শুনছি"—ইমাম নাসায়ি (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) প্রায়ই বলেন: "আল-হারিস ইবন মিসকিন তাঁর নিকট যা পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি তা শুনছিলাম।" তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো শব্দচয়ন ব্যতিরেকে 'আখবারানা', 'আনবাআনা' বা 'হাদ্দাসানা' বলেন না। কেন?
ছাত্র: . . . . . . . . .
হ্যাঁ, কারণ আল-হারিস ইবন মিসকিন ইমাম নাসায়িকে দরস বা মজলিস থেকে বের করে দিয়েছিলেন। তাই তিনি স্তম্ভের আড়ালে লুকিয়ে থেকে শুনতেন। আল-হারিস ইবন মিসকিন নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), ন্যায়পরায়ণ (আদল), হাফিজ এবং অত্যন্ত সুশৃঙ্খল বর্ণনাকারী হওয়ার কারণে ইমাম নাসায়ি তাঁর থেকে বর্ণনা করা হাতছাড়া করতে চাননি। কিন্তু যেহেতু শাইখ তাঁকে হাদীস শোনানোর নিয়ত করেননি বরং তাঁকে মজলিস থেকে বের করে দিয়েছিলেন, তাই তিনি নিজেকে 'আখবারানা' বলার অনুমতি দেননি। বরং তিনি কোনো পরিভাষা ব্যবহার না করে কেবল এটুকু বলেছেন: "আল-হারিস ইবন মিসকিন তাঁর নিকট যা পাঠ করা হয়েছে এমতাবস্থায় যে আমি শুনছিলাম।" এটি তাঁর পূর্ণ তাকওয়া বা পরহেযগারির পরিচয় বহন করে। তবে কোনো ছাত্রকে যদি দরস থেকে বের করে দেওয়া হয়—যেমন শিক্ষক পারিশ্রমিক নেন আর ছাত্র পারিশ্রমিক দিতে অস্বীকার করল, অতঃপর শিক্ষক বললেন: তুমি আমার থেকে শুনবে না—তবে কি তার জন্য শোনা এবং বর্ণনা করা জায়েয হবে, নাকি হবে না?
ছাত্র: . . . . . . . . .
কী?
ছাত্র: . . . . . . . . .
এটি তো ইলম বা জ্ঞান; জায়েয হবে কি হবে না? অর্থাৎ তিনি কি এর মালিকানা রাখেন? এমনকি একদল ছাত্র যদি শাইখের সামনে বসা থাকে এবং তিনি তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেন, অতঃপর বলেন: "হে অমুক! তুমি আমার থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করবে না", তবে কি তিনি এর অধিকার রাখেন? না, তিনি এর অধিকার রাখেন না। তিনি তাকে এটা বলার অধিকার রাখেন না যে, 'তুমি আমার থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করো না'। সুতরাং সে যদি তাঁর থেকে শোনে, তবে সে তা বর্ণনা ও প্রচার করতে পারবে। জ্ঞানের মূল নীতি হলো এটি সবার জন্য উন্মুক্ত। এটি সেই বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাতে বিশেষ কোনো শ্রম নেই। কিন্তু যদি কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন এবং নিজের সময়ের এমন অংশ ব্যয় করেন যা তাঁর নিজের বা তাঁর সন্তানদের স্বার্থের ক্ষতি করে, আর তিনি এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিতে চান এবং পারিশ্রমিক ছাড়া কাউকে উপস্থিত হতে নিষেধ করেন, তবে এ বিষয়টি আলিমগণের মাঝে মতভেদপূর্ণ। তবে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "নিশ্চয়ই যে বিষয়ের বিনিময়ে তোমরা পারিশ্রমিক গ্রহণ করো, তার মধ্যে আল্লাহর কিতাব সর্বাধিক হকদার" এটি জায়েয হওয়ার প্রমাণ দেয়, যদিও তাকওয়া বা পরহেযগারি হলো এটি পরিহার করা।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
"قراءة عليه وأنا حاضر أسمع، قيل له: أقرأت على أبي عبد الله محمد بن علي الصوري الحافظ؟ قال: سمعت أبا الحسين محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن جميع الغساني بصيدا، فأقر به" أقرأت؟ فقال: نعم، ولو لم يقل ذلك، تصح الرواية وإلا ما تصح؟ إذا قيل: أقرأت على فلان؟ أحدثك فلان؟ سكت، ما قال: إيه، ولا لا، واستمروا في الإسناد، في سرد الإسناد، الجمهور على أن هذا لا يؤثر، وبعضهم يقول: لا بد من أن يقر، لا بد أن يقول: نعم.
"قيل له: أقرأت على أبي عبد الله محمد بن علي بن عبد الله الصوري الحافظ؟ قال: سمعت أبا الحسين محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن جميع الغساني بصيدا، فأقر به، قال: سمعت أبا بكر محمد بن عبد العزيز بن محمد بن الفضل بن يحيى بن القاسم بن عون بن عبد الله بن الحارث بن نوفل بن الحارث بن عبد المطلب الهاشمي" الاسم فيه موجود الكنية والنسب الهاشمي، وفيه الاسم عشاري وإلا أكثر؟ اثنا عشر، لكن كون الاسم يسرد بهذه الطريقة، يسرد إلى الجد الثاني عشر، أو الجد الحادي عشر، أو الجد العاشر، هل يستفيد المعرف بهذه الطريقة أو لا يستفيد؟ هل ترتفع الجهالة عنه بذكر نسبه كاملاً؟ ترتفع عنه الجهالة وإلا ما ترتفع؟
طالب:. . . . . . . . .
لا ما يلزم، إذا ذكر إلى الجد العشرين ولم يرو عنه إلا واحد يبقى مجهول العين، إذا ذكر إلى جده الثلاثين وروى عنه اثنان ولم يذكر بجرح ولا تعديل ترتفع جهالة العين وتبقى جهالة الحال، وهنا يقول كل من وقف على اسمه: إنه لم يقف على ترجمته، وهو هاشمي، وكتب التراجم أحاطت بكثير من الرواة، وهذا منهم، فهل هذه الجهالة تدل على أنه ليس بمشهور في العلم، ويحتمل أن يكون فيه شيء من التصحيف؛ لأن التصحيف من أعظم أسباب الجهالة، وعدم الوقوف على ما يرفعها، لأنك إذا لم تقف على الاسم بدقة ما وصلت إليه.
তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি উপস্থিত থেকে শুনছিলাম। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কি হাফিয আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী আস-সুরী-এর নিকট পাঠ করেছেন? তিনি বললেন: আমি সাইদাতে আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জামি' আল-গাসসানীকে বলতে শুনেছি, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি কি পাঠ করেছেন? এরপর তিনি বললেন: হ্যাঁ। আর যদি তিনি তা না বলতেন, তবে কি বর্ণনাটি বিশুদ্ধ হতো নাকি হতো না? যখন বলা হয়: আপনি কি অমুকের কাছে পাঠ করেছেন? অমুক কি আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন? আর তিনি চুপ থাকলেন, 'হ্যাঁ' বা 'না' কিছুই বললেন না, এবং তারা সনদের বর্ণনায় অবিরত থাকলেন; তবে জমহুর (অধিকাংশ আলেম)-এর মতে এটি বর্ণনায় কোনো প্রভাব ফেলে না। কিন্তু কেউ কেউ বলেন: তাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে, তাকে অবশ্যই 'হ্যাঁ' বলতে হবে।
তাঁকে বলা হলো: আপনি কি হাফিয আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ আস-সুরী-এর নিকট পাঠ করেছেন? তিনি বললেন: আমি সাইদাতে আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জামি' আল-গাসসানীকে বলতে শুনেছি, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করলেন। তিনি বললেন: আমি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফজল বিন ইয়াহইয়া বিন আল-কাসিম বিন আউন বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস বিন নাওফাল বিন আল-হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমীকে বলতে শুনেছি। এখানে নামের মধ্যে কুনিয়াত (উপনাম) এবং হাশিমী বংশপরিচয় বিদ্যমান। এখানে নামটি দশম পুরুষ পর্যন্ত নাকি আরও বেশি? বারো জন। কিন্তু এভাবে নাম ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা—দ্বাদশ পিতামহ, একাদশ পিতামহ বা দশম পিতামহ পর্যন্ত—এতে কি পরিচয় দানকারী ব্যক্তি উপকৃত হন নাকি হন না? তাঁর পূর্ণ বংশপরিচয় উল্লেখ করার মাধ্যমে কি তাঁর সম্পর্কে যে জাহালাত (অজ্ঞতা) ছিল তা দূর হয়ে যায়? জাহালাত কি দূর হয় নাকি হয় না?
ছাত্র: . . . . . . . . .
না, এটি আবশ্যক নয়। যদি বিংশ পিতামহ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয় কিন্তু তাঁর থেকে কেবল একজন বর্ণনা করেন, তবে তিনি 'মাজহুলুল আইন' হিসেবেই থেকে যাবেন। আর যদি তাঁর ত্রিংশ পিতামহ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয় এবং তাঁর থেকে দুইজন বর্ণনা করেন, অথচ তাঁর ক্ষেত্রে কোনো 'জারহ' (সমালোচনা) বা 'তা'দীল' (প্রশংসা) বর্ণিত না হয়, তবে 'জাহালাতুল আইন' দূর হয়ে যায় কিন্তু 'জাহালাতুল হাল' বাকি থেকে যায়। আর এখানে যে ব্যক্তিই তাঁর নামের ওপর দৃষ্টিপাত করেন, তিনি বলেন: তিনি তাঁর জীবনবৃত্তান্ত খুঁজে পাননি। অথচ তিনি হাশিমী। জীবনবৃত্তান্তের গ্রন্থগুলো বহু বর্ণনাকারীকে বেষ্টন করে আছে এবং তিনি তাদেরই একজন। তাহলে এই জাহালাত কি একথার প্রমাণ বহন করে যে, তিনি ইলমের ময়দানে প্রসিদ্ধ নন? এবং এটিও সম্ভব যে এতে কোনো 'তাসহিফ' (শব্দগত বিকৃতি) রয়েছে; কারণ তাসহিফ হলো জাহালাতের অন্যতম প্রধান কারণ এবং জাহালাত দূরকারী তথ্য না পাওয়ার মূল কারণ। কারণ আপনি যদি নামের ব্যাপারে সূক্ষ্মভাবে অবগত না হন, তবে আপনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন না।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
نعيم بن سالم لا يعرفه أحد، كل كتب التراجم ما ذُكر فيها، وتنسب إليه نسخة موضوعة، لماذا؟ لأنه مصحف، أصل اسمه يغنم ما هو بنعيم، يغنم بن سالم الوقوف عليه من أيسر الأمور إذا عرفنا اسمه الصحيح، فمثل هذه الأمور بالإمكان أن طالب العالم إذا لم يقف على ترجمة، وصعب عليه الوقوف عليها، لا يبادر بقوله: لم أقف عليه، بل عليه أن يقلب، فينظر فيما يحتمل التصحيف، وينظر إلى المصادر أخرى التي نقلت هذه الرسالة بإسنادها، ثم بعد ذلك إذا عجز وضاقت به المسالك يحكم بأنه لم يقف عليه.
"بمكة" الأول بصيدا، والثاني بمكة، فائدة ذكر البلد، بلد الرواية؟ الفائدة من ذكر بلد الرواية؟
طالب:. . . . . . . . .
أولاً: الدلالة على مزيد الضبط من جهة، الأمر الثاني؟ معرفة بلدان الشيوخ التي يعرف منها إمكان اللقاء وعدم الإمكان؛ لأنه إذا قال: بمكة وعرف عن الراوي عنه أنه ما ورد مكة، أو قال: بصيدا، وعرف عن الراوي عنه أنه ما ورد صيدا، ولا دخل صيدا، نعم يشك في الاتصال، يشك في اتصال السند.
طالب:. . . . . . . . .
كيف؟
طالب: أحسن الله إليك، الجهالة ما لها أثر في إثبات الرسالة؟
يعني كونه لم يوقف عليه؟
طالب: إيه.
أما هذه الرسالة فقد تلقاها الأئمة بالقبول، وتداولوها بكتبهم وتناقلوها بأسانيدهم لها أكثر من طريق، تناقلوها بأسانيدهم، وأحياناً مجموعة المجاهيل يثبت بها الخبر، بمجموعة مجاهيل، لو قال مثلاً: عن عدة من شيوخنا، هؤلاء العدة مجاهيل، كما قال ابن عدي في قصة امتحان البخاري: يرويها بن عدي عن عدة من شيوخه، قالوا: إن هؤلاء العدة كل واحد منهم مجهول، لكن بمجموعهم يدل على ثبوت القصة.
طالب:. . . . . . . . .
নুআইম ইবনে সালিমকে কেউ চেনে না, জীবনীগ্রন্থসমূহের কোথাও তার উল্লেখ নেই। তার প্রতি একটি জাল পাণ্ডুলিপি সম্বন্ধ করা হয়। কেন? কারণ এটি নামের বিকৃতি (তাশহিফ)। তার নামের মূল হলো ইয়াগনাম, নুআইম নয়। সঠিক নামটি জানা থাকলে ইয়াগনাম ইবনে সালিম সম্পর্কে তথ্য পাওয়া খুবই সহজ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। ইলম অন্বেষী যখন কোনো বর্ণনাকারীর জীবনী খুঁজে পায় না এবং তা খুঁজে পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, তখন এই জাতীয় বিষয়ে সে যেন দ্রুত 'আমি তা খুঁজে পাইনি' বলে না বসে। বরং তার উচিত বিভিন্ন সম্ভাবনা যাচাই করা। সে যেন নামের সম্ভাব্য বিকৃতি লক্ষ্য করে এবং অন্যান্য উৎসগুলো দেখে যা এই রিসালাটি তার সনদসহ বর্ণনা করেছে। এরপরও যদি সে অক্ষম হয় এবং তার সকল পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন সে এই মর্মে হুকুম দিবে যে সে তা খুঁজে পায়নি।
"মক্কায়" - প্রথমটি সাইদায়, আর দ্বিতীয়টি মক্কায়। বর্ণনার শহর বা জনপদ উল্লেখ করার উপকারিতা কী? বর্ণনার শহর উল্লেখ করার উপকারিতা কী?
ছাত্র: . . . . . . . . .
প্রথমত: একদিক থেকে এটি অধিকতর নির্ভুলতার (দাবত) প্রমাণ। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: শাইখদের শহরগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া, যার মাধ্যমে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা বা অসম্ভবতা জানা যায়। কারণ যদি কেউ বলে: 'মক্কায়', অথচ বর্ণনাকারী সম্পর্কে জানা যায় যে সে কখনো মক্কায় আসেনি, অথবা বলে: 'সাইদায়', অথচ তার সম্পর্কে জানা আছে যে সে কখনো সাইদায় আসেনি বা প্রবেশ করেনি; হ্যাঁ, তখন বর্ণনার নিরবচ্ছিন্নতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়, সনদের নিরবচ্ছিন্নতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।
ছাত্র: . . . . . . . . .
কীভাবে?
ছাত্র: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, রিসালাটির প্রামাণিকতার ক্ষেত্রে এই অজ্ঞাত অবস্থার (জাহালাত) কি কোনো প্রভাব নেই?
অর্থাৎ তাকে খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি কি কোনো প্রভাব ফেলে?
ছাত্র: জ্বি।
তবে এই রিসালাটির ক্ষেত্রে কথা হলো যে, ইমামগণ এটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন, নিজেদের কিতাবসমূহে এর চর্চা করেছেন এবং নিজেদের সনদের মাধ্যমে তা বর্ণনা করেছেন। এর একাধিক পথ রয়েছে। তারা তা নিজেদের সনদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। আর কখনও কখনও একদল অজ্ঞাত ব্যক্তির সমষ্টির মাধ্যমেও কোনো সংবাদ প্রমাণিত হয়। যদি বলা হয়: 'আমাদের বেশ কিছু শাইখ থেকে বর্ণিত', তবে এই কতিপয় ব্যক্তি যদিও অজ্ঞাত; যেমন ইবনে আদি বুখারীর পরীক্ষার ঘটনায় বলেছেন: ইবনে আদি এটি তার বেশ কিছু শাইখ থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন: এই ব্যক্তিদের প্রত্যেকেই অজ্ঞাত, তবে তাদের সমষ্টিগত বর্ণনা ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ার ওপর দলিল।
ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لا، لها أكثر من طريق، وعلى كل حال مثل هذه الرسائل التي يشدد الحافظ الذهبي -رحمه الله تعالى- في إثباتها بالأسانيد، ونفى مجموعة من الكتب بهذه الطريقة إذا استفاضت بين أهل العلم، وأكثر النقل عنها، ولم يوجد لها طريق يثبت على طريقة أهل الحديث، فلا يبادر الإنسان بنفيها عن مؤلفها إلا إذا وجد فيه من الكلام ما لا يناسب من نسبت إليه، فمثلاً رسالة الرد على الجهمية والزنادقة للإمام أحمد قالوا: إن في ثبوتها للإمام أحمد نظر، وعندي أكثر من مائة نقل في كتب شيخ الإسلام عن هذه الرسالة منسوبة إلى الإمام أحمد، وعن غير شيخ الإسلام، فهل نقول: إن هذه الرسالة لا تثبت للإمام أحمد؟ لا سيما وأنه ليس فيها ما ينكر، فإذا وجد ما ينكر ولا يوافق أصول ما نسبت إليه نعم قف وشك.
না, এর একাধিক সূত্র রয়েছে। যা-ই হোক, হাফিজ আয-যাহাবি (আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর রহম করুন) এ জাতীয় রিসালাহসমূহকে সনদ বা বর্ণনাপরম্পরার মাধ্যমে প্রমাণ করার ক্ষেত্রে বেশ কড়াকড়ি করতেন এবং এই পদ্ধতিতে তিনি একগুচ্ছ কিতাবকে অস্বীকার করেছেন। তবে যখন কোনো কিতাব আলেমদের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করে এবং তা থেকে অধিক মাত্রায় উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়, অথচ আহলুল হাদিসের পদ্ধতি অনুযায়ী তার সুসাব্যস্ত কোনো সূত্র পাওয়া যায় না, এমতাবস্থায় কোনো ব্যক্তির উচিত হবে না তাড়াহুড়ো করে তা লেখকের থেকে নাকচ করে দেওয়া; যতক্ষণ না তাতে এমন কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় যা সেই লেখকের মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। উদাহরণস্বরূপ, ইমাম আহমাদের 'আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়ায যিনাদিকাহ' (জাহমিয়্যাহ ও যিনদীকদের খণ্ডন) রিসালাহটির কথা বলা যায়; তারা বলেছেন যে, ইমাম আহমাদের প্রতি এটি সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে সংশয় রয়েছে। অথচ আমার কাছে শাইখুল ইসলামের কিতাবসমূহে এই রিসালাহটি থেকে ইমাম আহমাদের প্রতি নিসবতকৃত একশরও বেশি উদ্ধৃতি রয়েছে, এমনকি শাইখুল ইসলাম ছাড়া অন্যদের কিতাবেও তা বিদ্যমান। তাহলে আমরা কি বলব যে, এই রিসালাহটি ইমাম আহমাদ থেকে প্রমাণিত নয়? বিশেষ করে যখন এতে অস্বীকার করার মতো বা আপত্তিকর কিছু নেই। তবে যদি আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায় যা সেই ব্যক্তির মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় যার প্রতি এটি নিসবত করা হয়েছে, তবে হ্যাঁ, আপনি থামুন এবং সন্দেহ পোষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
رسالة الحيدة لعبد العزيز الكناني لم يثبتها الحافظ الذهبي، لكن هل فيها ما ينكر نسبتها إلى هذا الشخص، فينظر في ما يدون في هذه الرسائل فإن كان ما ينكر نأتي بالقافة، يعني مثل أنساب الرجال، الأصل أنها تثبت بالاستفاضة، بعض أهل العلم استفاض بينهم أن هذه الرسالة لفلان ونقلوا منها من غير نكير، فالاستفاضة كافية لا سيما إذا كانت جميع ما فيها جار على قواعده وأصوله، مثل أنساب الرجال، فإذا وجد ما يشكك في النسب نعم نأتي بالقافة، لكن مثل هذا الكلام هل يفتح مجال لمن أراد أن يزور كتب؟ يقول: هذا الكلام كله صدر عن فلان، ويلتقط من كتبه، ويجمع من كلامه لا من كلام غيره، يأتي إلى كتب شيخ الإسلام فيدبلج له كتاب، ويسميه باسم، ويقول: كل هذا الكلام ما في ما ينكر، كله نطق به شيخ الإسلام، يمكن أن يرد على ما ذكرنا؟ ما الذي ينفيه إيش؟ اللي ينفي مثل هذه الرسالة الاستفاضة بين أهل العلم، إذا تداولوها ونقلوا منها، مثل أحياناً يطلع لنا كتاب عن شيخ الإسلام مسمى باسم جديد علم الحديث مثلاً، وهو ملتقط من كلام شيخ الإسلام، أو دقائق التفسير مثلاً، أو ما يسميه بعضهم بتنتيف الكتب، يأتي إلى باب أو إلى فصل من كتاب وينشره بكتاب مستقل لفلان، وإذا كان الهدف من ذلك تيسير وصول هذا الفصل، وهذا الباب المهم مع الإشارة إليه من أنه منتزع من كتاب كذا، فاعله مأجور، يعني فيه فصل مثلاً في البداية والنهاية كثير من طلاب العلم كيف يقرأ البداية والنهاية في أربعة عشر مجلداً، أو أكثر من ذلك في بعض الطبعات؟ فينتزع فصل منها يختص مثلاً بخلق السموات والأرض، ثم يذكر أن خلق السموات والأرض منتزع من البداية والنهاية، كما فعلوا في قصص الأنبياء والسيرة النبوية لابن كثير وغيره، فإذا بُين أنه قسم من الكتاب بحيث لا يغتر به من يراه لأول مرة، ثم يشتريه، ثم يظهر كتاب آخر، وينشر الكتاب مراراً بتغير العناوين، ففاعله مأجور، أما إذا كان القصد من ذلك الترويج للتجارة فهذا مذموم؛ لأن هذا يروج على الناس ما يوجد عنده، ويلزمهم بغير لازم.
আবদুল আজিজ আল-কিনানির 'রিসালাতুল হাইদাহ' গ্রন্থটিকে হাফিজ আয-যাহাবি সাব্যস্ত করেননি; কিন্তু এতে কি এমন কিছু আছে যা এই ব্যক্তির দিকে এর সম্বন্ধকে অস্বীকার করে? সুতরাং এই ধরণের রিসালাহগুলোতে যা লিপিবদ্ধ থাকে তা পর্যালোচনা করতে হবে। যদি সেখানে অস্বীকার করার মতো কিছু পাওয়া যায়, তবে আমরা 'কাফাহ' (বিশেষজ্ঞদের) নিয়ে আসব। অর্থাৎ এটি মানুষের বংশপরম্পরার মতো; মূল নীতি হলো, এগুলো 'ইসতিফাযাহ' বা ব্যাপক প্রসিদ্ধির মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। কিছু আলিমের মধ্যে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে যে, এই রিসালাহটি অমুক ব্যক্তির এবং তারা কোনো আপত্তি ছাড়াই এটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। সুতরাং ইসতিফাযাহ-ই যথেষ্ট, বিশেষ করে যদি এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলী তাঁর নিয়ম ও মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, যেমনটি মানুষের বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে যদি বংশের ব্যাপারে কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয়, তবে হ্যাঁ, আমরা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসব। কিন্তু এই ধরণের কথা কি ঐসব ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয় যারা বই জালিয়াতি করতে চায়? সে বলতে পারে: "এই সব কথা অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকেই এসেছে," এবং সে তাঁর কিতাবসমূহ থেকেই কথাগুলো চয়ন করে এবং কেবল তাঁরই কথা জমা করে, অন্য কারো কথা নয়। সে শায়খুল ইসলামের কিতাবসমূহের কাছে আসে এবং তাঁর নামে একটি কিতাব সংকলন করে এর একটি নাম দেয় এবং বলে: "এই সব কথার মধ্যে অস্বীকার করার মতো কিছু নেই, এই সবই শায়খুল ইসলাম বলেছেন।" আমরা যা উল্লেখ করেছি তার কি কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব? কীসের মাধ্যমে এটি খণ্ডন করা যাবে? যা এই ধরণের রিসালাহকে নাকচ করে তা হলো আলিমদের মাঝে এর প্রসিদ্ধি। যদি তারা এটি পরস্পর আদান-প্রদান করেন এবং এটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন। যেমন কখনও কখনও শায়খুল ইসলামের নামে নতুন কোনো শিরোনামে আমাদের সামনে কিতাব আসে, উদাহরণস্বরূপ 'ইলমুল হাদিস', অথচ এটি শায়খুল ইসলামের কথা থেকেই সংগৃহীত। অথবা যেমন 'দাকায়িকুত তাফসির', অথবা যাকে কেউ কেউ 'কিতাবের অংশবিশেষ চয়ন' (তানতিফ) বলে থাকেন। তিনি কিতাবের কোনো একটি অধ্যায় বা পরিচ্ছেদে আসেন এবং তা অমুক ব্যক্তির একটি স্বতন্ত্র কিতাব হিসেবে প্রকাশ করেন। যদি এর উদ্দেশ্য হয় সেই পরিচ্ছেদ বা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি মানুষের কাছে সহজলভ্য করা এবং সেই সাথে এই ইঙ্গিত দেওয়া থাকে যে এটি অমুক কিতাব থেকে সংগৃহীত, তবে এর সম্পাদনকারী সওয়াব পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া'র একটি পরিচ্ছেদ আছে; অনেক তালিবে ইলমের পক্ষে চৌদ্দ খণ্ড বা কোনো কোনো মুদ্রণে এর চেয়েও বেশি খণ্ডের এই কিতাব পড়া কীভাবে সম্ভব? তাই সেখান থেকে একটি পরিচ্ছেদ আলাদা করা হলো যা আসমান ও জমিন সৃষ্টি সংক্রান্ত। এরপর উল্লেখ করা হলো যে, আসমান ও জমিন সৃষ্টির এই অংশটি 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' থেকে সংগৃহীত, যেমনটি ইবনে কাসীর ও অন্যদের 'কাসাসুল আম্বিয়া' এবং 'সীরাতুন নববী'র ক্ষেত্রে করা হয়েছে। যদি এটি স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে এটি মূল কিতাবের একটি অংশ মাত্র, যাতে প্রথমবার দেখা ব্যক্তি প্রতারিত না হয়, এবং এরপর কিতাবটি ক্রয় করার পর পুনরায় ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে বারবার কিতাবটি প্রকাশ করা না হয়, তবে এর সম্পাদনকারী সওয়াব পাবেন। কিন্তু যদি এর উদ্দেশ্য হয় ব্যবসায়িক প্রচার ও প্রসার, তবে তা নিন্দনীয়; কারণ এটি মানুষের কাছে যা ইতিমধ্যে আছে তা-ই পুনরায় বিপণন করে এবং যা তাদের জন্য আবশ্যক নয় তা তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
"بمكة، يقول: سمعت أبا داود سليمان بن الأشعث بن إسحاق بن بشير بن شداد السجستاني" في بعض النسخ بالبصرة، والإمام أبو داود سكن البصرة في آخر عمره، وسئل عن رسالته التي كتبها إلى أهل مكة وغيرها جواباً لهم، فأملى علينا، هنا يقول: سمعت، سمعت تقال فيما سُمع من لفظ الشيخ "فأملى علينا" والإملاء إذا كان السماع أعلى طرق التحمل، فالإملاء أعلى أنواع السماع؛ لما فيه من تحرز الشيخ والطالب، كل منهما متحرز، فالشيخ متحرز ومتيقظ؛ لأنه يملي، والطالب متحرز متيقظ لأنه يكتب من لفظ الشيخ، فالإملاء أعلى درجات السماع الذي هو أعلى طرق التحمل.
. . . . . . . . .
মক্কায়, তিনি বলেন: আমি আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশ'আস ইবনে ইসহাক ইবনে বাশির ইবনে শাদ্দাদ আস-সিজিস্তানিকে বলতে শুনেছি। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'বসরায়' কথাটি রয়েছে, এবং ইমাম আবু দাউদ তাঁর জীবনের শেষ দিকে বসরায় বসবাস করেছেন। আর তাঁকে তাঁর সেই পত্রটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যা তিনি মক্কাবাসী ও অন্যদের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে লিখেছিলেন, তখন তিনি আমাদের তা শ্রুতলিপি করিয়েছেন। এখানে তিনি বলছেন: 'আমি শুনেছি', আর 'আমি শুনেছি' শব্দটি তখন বলা হয় যখন শায়খের মুখনিঃসৃত শব্দ থেকে সরাসরি কিছু শোনা যায়। 'অতঃপর তিনি আমাদের শ্রুতলিপি করিয়েছেন'—আর যদি শ্রবণ করা ইলম গ্রহণের পদ্ধতিসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হয়, তবে শ্রুতলিপি করানো হলো শ্রবণের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ; কারণ এতে শায়খ এবং ছাত্র উভয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কতা থাকে। প্রত্যেকেই এখানে সতর্ক থাকেন; শায়খ সতর্ক ও সজাগ থাকেন যেহেতু তিনি শ্রুতলিপি প্রদান করছেন, আর ছাত্র সতর্ক ও সজাগ থাকে যেহেতু সে শায়খের উচ্চারণ থেকে সরাসরি লিখছে। সুতরাং, শ্রুতলিপি হলো শ্রবণের সর্বোচ্চ স্তর, যা ইলম অর্জনের পদ্ধতিসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম।
. . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يقول: "سمعت أبا داود سليمان بن الأشعث بن إسحاق بن بشير بن شداد السجستاني، وسئل عن رسالته" الواو هذه؟ حالية، الواو واو الحال "وسئل" والحال أنه قد سئل "عن رسالته التي كتبها إلى أهل مكة وغيرها جوابا لهم" كأنهم سألوه عن كتابه، وعن بعض ما اشتمل عليه كتابه، فأجابهم بهذه الرسالة "فأملى علينا" وعرفنا أن الإملاء أعلى درجات السماع الذي هو أعلى طرق التحمل والإملاء والأمالي سنة معروفة عند أهل الحديث، عندهم ما يعرف بمجالس الإملاء، وعندهم أيضاً ما يعرف بالأمالي، فهم يعقدون الأمالي، ويملون على طلابهم، إضافة إلى ما يحدثونهم به، وما يجيزونهم به، وما يقرأه الطلاب عليهم أمالي، أمالي هذه تكون عيون ما ينتقونه من رواياتهم، ومن مقروءاتهم ومن مسموعاتهم، فتعقد هذه المجالس التي اندثرت منذ قرون، ولو أن الشيوخ أعادوا هذه المجالس، يعني انقطعت منذ عقود، ثم أعادها الحافظ العراقي رحمه الله، ثم انقطعت فأعادها الحافظ ابن حجر، ثم السخاوي، ثم السيوطي، والآن اندرست، لكن لو أن الشيوخ من خلال مطالعاتهم وقراءاتهم ومدوناتهم يعقدون مجالس للطلاب، ويملون عليهم هذه التحف، وهذه العيون من المسائل ومن الطرائف والغرائب من أشعار ونثر، ما يبعث الهمم والنشاط في قلوب السامعين، كانت سنة طيبة ومعروفة عند أهل العلم قديماً، لكن مع الأسف أنه مع انتشار الوسائل يمكن ما يتحمس الطلاب للإملاء، ما يتحمسون للإملاء، فتجد الطلاب لو عقد مجلس إملاء وحضر مجموعة من الطلاب تجد طلاب يكتبون وإلا ما يكتبون؟ يعني واحد منهم يسجل ومنهم يفرغ، ثم تصور، تكتب في أوراق ثم تصور ويتداولونها، ما يكلفون أنفسهم عبء؛ لأنهم وجدوا الراحة، في العصور السابقة قبل وجود هذه الآلات كان لا بد أن تكتب، وإلا ما فيه شيء، ما فيه بديل عن الكتابة، تجد جميع الطلاب يكتبون، فإذا عقد مجلس الإملاء على هذه الصفة، وتعب الشيخ على تحصيل هذه الفوائد، وضرب له يوماً في الأسبوع مثلاً، وكثير من أهل العلم يجعلون يوم الثلاثاء للإملاء، ما أدري إيش السبب؟ ما أدري ما السبب؟ ولعله في كونه منتصف الأسبوع يجعلونه للإملاء، فالطلاب يستمعون ويدونون، وفيه من الأخبار والأشعار ما يطرب لها السامع،
তিনি বলেন: "আমি আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশ’আস ইবনে ইসহাক ইবনে বাশির ইবনে শাদ্দাদ আস-সিজিস্তানিকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে তাঁর পত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।" এই 'ওয়াও' টি কী? এটি অবস্থা জ্ঞাপক, ওয়াও-টি হলো ওয়াও আল-হাল। "এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল" অর্থাৎ অবস্থাটি এমন ছিল যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল "তাঁর সেই পত্র সম্পর্কে যা তিনি মক্কাবাসী ও অন্যদের নিকট তাদের উত্তর স্বরূপ লিখেছিলেন।" মনে হচ্ছে তারা তাঁকে তাঁর কিতাব সম্পর্কে এবং তাতে যা অন্তর্ভুক্ত ছিল তার কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ফলে তিনি এই পত্রের মাধ্যমে তাদের উত্তর দিয়েছিলেন। "অতঃপর তিনি আমাদের নিকট শ্রুতলিপি প্রদান (ইমলা) করেছিলেন।" আমরা জানি যে, ইমলা হলো শ্রবণের সর্বোচ্চ স্তর, আর শ্রবণ হলো জ্ঞান আহরণের সর্বোত্তম পদ্ধতি। ইমলা ও আমালি (শ্রুতিলিপিকরণ) হাদীস বিশারদদের নিকট একটি সুপরিচিত রীতি। তাঁদের নিকট 'মাজালিসুল ইমলা' (শ্রুতলিপি প্রদানের মজলিস) হিসেবে পরিচিত ব্যবস্থা ছিল। তাঁদের নিকট 'আমালি' নামেও পরিচিতি ছিল। তাঁরা আমালির আসর বসাতেন এবং তাঁদের ছাত্রদের নিকট তা লিখে দিতেন। এর পাশাপাশি তাঁরা যা বর্ণনা করতেন, যা ইজাযত দিতেন এবং ছাত্ররা তাঁদের সামনে যা পাঠ করত, তাও আমালি হিসেবে গণ্য হতো। এই আমালিগুলো হতো তাঁদের বর্ণনাকৃত, পঠিত ও শ্রুত বিষয়াবলির মধ্য থেকে চয়নকৃত সারবস্তু। সুতরাং এই মজলিসগুলো অনুষ্ঠিত হতো যা কয়েক শতাব্দী আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। যদি শায়খগণ পুনরায় এই মজলিসগুলো চালু করতেন। অর্থাৎ এটি কয়েক দশক ধরে বন্ধ ছিল, এরপর হাফিজ আল-ইরাকি আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন তা পুনরায় শুরু করেন। এরপর তা পুনরায় বন্ধ হয়ে গেলে হাফিজ ইবনে হাজার তা পুনরায় চালু করেন, এরপর সাখাভি, তারপর সুয়ূতি। আর এখন তা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু শায়খগণ যদি তাঁদের অধ্যয়ন, পাঠ এবং নথিপত্র থেকে ছাত্রদের জন্য মজলিসের আয়োজন করতেন এবং তাদের নিকট এই সকল অমূল্য জ্ঞানরত্ন, মাসআলাসমূহের সারমর্ম এবং কবিতা ও গদ্যের বিরল ও চমৎকার বিষয়গুলো লিখে দিতেন, তবে তা শ্রোতাদের অন্তরে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও উদ্দীপনা জাগ্রত করত। এটি প্রাচীনকালে আলিমদের নিকট একটি উত্তম ও সুপরিচিত রীতি ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আধুনিক উপকরণের বিস্তারের ফলে সম্ভবত ছাত্ররা এখন আর ইমলা বা শ্রুতলিপির প্রতি আগ্রহ বোধ করে না; তারা ইমলার প্রতি উৎসাহিত নয়। আপনি ছাত্রদের দেখবেন, যদি কোনো ইমলার মজলিস আয়োজন করা হয় এবং একদল ছাত্র সেখানে উপস্থিত হয়, তবে আপনি কি দেখবেন যে তারা লিখছে নাকি লিখছে না? অর্থাৎ তাদের কেউ হয়তো রেকর্ড করে, কেউ তা অনুলিপি করে, এরপর তা ফটোস্ট্যাট করা হয়। কাগজে লেখা হয়, এরপর ফটোকপি করে তা আদান-প্রদান করা হয়। তারা নিজেদের ওপর কোনো কষ্টের বোঝা চাপাতে চায় না; কারণ তারা আরাম খুঁজে পেয়েছে। পূর্ববর্তী যুগে এই সকল যন্ত্রপাতির উদ্ভাবনের আগে অবশ্যই লিখতে হতো, অন্যথায় কিছুই অর্জিত হতো না। লেখার কোনো বিকল্প ছিল না। তখন আপনি দেখতেন যে সকল ছাত্রই লিখছে। সুতরাং যদি এই পদ্ধতিতে ইমলার মজলিস অনুষ্ঠিত হতো এবং শায়খ এই সকল জ্ঞানতত্ত্ব সংগ্রহের জন্য পরিশ্রম করতেন, আর উদাহরণস্বরূপ সপ্তাহে একটি দিন নির্ধারণ করতেন—যেমন অনেক আলিম মঙ্গলবার দিনটিকে ইমলার জন্য নির্ধারণ করতেন, আমি জানি না এর কারণ কী? আমি জানি না এর কারণ কী হতে পারে। সম্ভবত সপ্তাহের মধ্যভাগ হওয়ার কারণেই তাঁরা একে ইমলার জন্য নির্ধারণ করতেন। ফলে ছাত্ররা তা শ্রবণ করত ও লিপিবদ্ধ করত। আর তাতে এমন সব সংবাদ ও কবিতা থাকত যা শ্রোতার মনকে প্রফুল্ল করত।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
لكن الآن من خلال الدراسات النظامية، ومن خلال حرص طلاب العلم على العلم الشرعي الأصيل تجد عندهم جفاف بالنسبة لما يهتم به المتقدمون من الطرائف العلمية والأدبية، وهذه لا شك أنها نافعة جداً لطالب العلم، يستجم بها، وينشط بسببها، وينشط غيره بها؛ فالدرس إذا كان الشيخ ملازم كتابه لا يخرج، لا يطلع يمين ولا يسار هذه طرفة أدبية، هذه نكتة تاريخية، هذه عجيبة من العجائب، هذه حادثة غريبة تجد الطلاب كثيراً منهم ينام، لا شك أن الأصل متين العلم، ومن أجله جلس الشيخ، ومن أجله حضر الطالب، لكن ملح العلم تعين على الاستمرار في تلقي متينه، كما أن النوم يعين على قيام الليل، وكما أن الأكل يعين على بقاء النفس التي يستعملها في طاعة الله، فمثل هذه إذا قصد بها التنشيط على الاستمرار في العلم وطلبه فإن هذا لا شك أنه يثاب عليه، ويكون له حكم المقصد.
"فأملى علينا" بطون الكتب الكبيرة المطولات التي لا يتسنى لأي طالب من طلاب العلم، أو لجميع الطلاب أن يقرؤوا فيها، وإذا قرؤوا في كتاب لم يقرؤوا في آخر، وهكذا فيها من العلوم والكنوز ما لا يمكن الاطلاع عليه، إلا ما كان ديدنه القراءة، وتوسع في القراءة، وتفنن فيها، فمثل هذا المطلع المتفنن الذي دون الفوائد والغرائب والعجائب مثل هذا لو أملى على الطلاب شيئاً ينشطهم، ولو اتخذ طريقة يعني في كل يوم يتحفهم بفائدة أو في غريبة أو طريفة ينشط بها الطلاب، وإلا قد يقول قائل: لماذا لا يجمع هذه الطرائف وهذه الغرائب ويجمعها في كتاب واحد ويطبعه وينتشر ولا حاجة إلى أن يضيع وقت الدرس بهذه الأمور؟ قد يقول قائل مثل هذا، ونقول: نعم يمكن أن يشتريها الطلاب، ويجلسون في بيوتهم، ولا شيء يرغبهم في الدروس، وإذا حضروا الدرس كثير منهم ينام، إذا صار الدرس متين من أوله إلى آخره، هذا الكلام الذي جره مسألة الإملاء، وهي سنة عند أهل العلم اندرست.
কিন্তু বর্তমানে নিয়মতান্ত্রিক অধ্যয়ন এবং বিশুদ্ধ শরয়ী ইলম অর্জনে ইলম অন্বেষণকারীদের আগ্রহের কারণে তাদের মাঝে পূর্ববর্তীদের গুরুত্বারোপকৃত ইলমী ও সাহিত্যিক রসালো বিষয়গুলোর প্রতি এক ধরণের শুষ্কতা লক্ষ্য করা যায়। নিঃসন্দেহে এগুলো ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অত্যন্ত উপকারী; এর মাধ্যমে সে প্রশান্তি লাভ করে, এর ফলে সে নিজে সজীব হয় এবং অন্যকেও সজীব করে তোলে। কেননা পাঠদানের সময় যদি শাইখ কেবল কিতাবেই নিবিষ্ট থাকেন, এর বাইরে না বের হন, ডানে-বামে দৃকপাত না করেন—যেমন কোনো সাহিত্যিক রসিকতা, কোনো ঐতিহাসিক সূক্ষ্ম পয়েন্ট, কোনো আশ্চর্যজনক বিষয় কিংবা কোনো অদ্ভুত ঘটনা না বলেন—তবে দেখা যায় অনেক ছাত্রই ঘুমিয়ে পড়ে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলমের মূল ভিত্তিটিই মজবুত হওয়া আবশ্যক; আর সেটির জন্যই শাইখ বসেছেন এবং ছাত্রও উপস্থিত হয়েছে। তবে ইলমের এই 'রসদ' মূল গভীর ইলম গ্রহণে অবিচল থাকতে সাহায্য করে। যেমন ঘুম কিয়ামুল লাইলে সাহায্য করে এবং যেমন আহার মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করে, যা সে আল্লাহর আনুগত্যে ব্যয় করে। সুতরাং যদি ইলম অন্বেষণে এবং এর উপর অবিচল থাকতে সজীবতা আনয়নের উদ্দেশ্যে এই ধরণের বিষয়ের অবতারণা করা হয়, তবে নিঃসন্দেহে এতে সওয়াব পাওয়া যাবে এবং এটি মূল উদ্দেশ্যের হুকুম লাভ করবে।
"অতঃপর তিনি আমাদের নিকট ইমলা (শ্রুতিলিপি) করালেন"—বড় বড় দীর্ঘ কিতাবসমূহের গহীন থেকে, যা কোনো সাধারণ ইলম অন্বেষণকারী বা সকল শিক্ষার্থীর পক্ষে পড়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর তারা যদি একটি কিতাব পড়েও থাকে, তবে অন্যটি হয়তো পড়া হয় না। এভাবেই এই কিতাবগুলোতে এমন সব ইলম ও জ্ঞানভাণ্ডার রয়েছে যা কেবল নিয়মিত ব্যাপক অধ্যয়ন এবং এতে পারদর্শিতা অর্জন করা ছাড়া জানা সম্ভব নয়। সুতরাং এমন একজন পারদর্শী গবেষক, যিনি ইলমী ফায়দা, বিরল ও বিস্ময়কর তথ্যসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন, তিনি যদি ছাত্রদের নিকট এমন কিছু ইমলা করান যা তাদের সজীব করবে, কিংবা তিনি যদি এমন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করেন যে প্রতিদিন তিনি তাদের একটি করে বিশেষ ফায়দা, কোনো অদ্ভুত তথ্য বা রসালো কথা উপহার দেন যার মাধ্যমে ছাত্ররা প্রাণবন্ত হবে (তবে তা ফলপ্রসূ হবে)। অন্যথায় কেউ হয়তো বলতে পারেন: কেন তিনি এই রসালো ও বিরল বিষয়গুলো একটি কিতাবে সংকলন করে ছাপিয়ে প্রচার করছেন না? যাতে পাঠদানের সময় এসব বিষয়ে সময় ব্যয় করার আর প্রয়োজন না হয়। কেউ হয়তো এমনটা বলতে পারেন। আমরা বলবো: হ্যাঁ, ছাত্ররা তা কিনে বাড়িতে বসে থাকতে পারে, কিন্তু পাঠের প্রতি তাদের আকৃষ্ট করার মতো আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। আর তারা যদি পাঠে উপস্থিত হয়ও, তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ যদি কেবলই অতি গম্ভীর ও গভীর হয়, তবে তাদের অনেকে ঘুমিয়ে পড়বে। এই আলোচনাটি ইমলার বিষয়টি থেকেই এসেছে, যা আলেমদের নিকট একটি রীতি ছিল কিন্তু বর্তমানে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
"فأملى علينا: سلام عليكم" التنكير تنكير السلام لا شك أنه وارد في النصوص، ولذا يقول أهل العلم: ويخير بين تعريفه وتنكيره في سلام على الحي، قالوا سلامًا، قال: سلام، سلام عليكم، سلام على من اتبع على الهدى، التنكير كثير في النصوص، وفيه أيضاً التعريف، السلام علي، السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، المقصود أن التعريف والتنكير كله وارد بالنسبة للسلام على الحي، أما بالنسبة للسلام على الميت فليس فيه إلا التعريف، وهنا يقول: "سلام عليكم" وبهذا يحصل على عشر حسنات، ولو قال: ورحمة الله وبركاته لحصل على أجر أعظم كما جاء في الأحاديث.
"سلام عليكم فإني" الفاء هذه مع قوله: "أما بعد: عافانا الله وإياكم" تدل على أن الكلام فيه شيء من التقديم والتأخير؛ لأن الفاء تأتي بعد أما بعد وليست قبلها، أما بعد: فإني أحمد إليكم، فهذه الفاء إنما تقع في جواب (أما) وليست قبل أما بعد، مما يدل على أن في الكلام تقديماً وتأخيراً.
"فإني أحمد إليكم الله" الأصل أن تكون أما بعد هنا، أما بعد فإني، أو يقول: أما بعد فعافانا الله وإياكم لا بد من الفاء هنا؛ لأنها في جواب أما ولا تحذف، فإذا كانت النسخ تتفق على هذا نشوف الاختلاف كثير جداً في النسخ، بين النسخ المستقلة لهذه الرسالة، وبين ما نقل عنها في الكتب، فالرسالة نقلت بحذافيرها في بعض الكتب، ووجد اختلاف بين هذه النُقول، لماذا؟ لأنها قديمة، يعني في منتصف القرن الثالث، فهي قديمة، مكانة بهذه المثابة، فهي ليست من الكتب الأصلية التي يتداولها الطلاب، يعني في سنن أبي داود مضبوط ومتقن، وفي صحيح البخاري قبلها مضبوط ومتقن بالروايات، وموطأ مالك كذلك قبلها مضبوط؛ لأن الطلاب بصدد العناية بهذه بالكتب لأنها هي الكتب التي هي همهم واهتمامهم منصب إليها، إما مثل هذه الرسالة وغيرها من الرسائل نعم فيها فائدة، لكن ما هي مثل المقصد، هي وسيلة إلى فهم كتاب، وليست غاية وليست مقصد، ولذا تجدون مثل هذا الاختلاف الكبير تجد مثلاً في الصفحة الواحدة عشرة فروق من الاختلافات بين النسخ.
তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক"। সালামের অনির্দিষ্টবাচক রূপটি দলিলসমূহে এসেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। একারণেই ইলম অর্জনকারীগণ বলেন: জীবিত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্টবাচক ও অনির্দিষ্টবাচক—উভয়টির মধ্যে পছন্দ করার সুযোগ রয়েছে। তারা বললেন: "সালাম", তিনি বললেন: "সালাম", "তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক", "যে হেদায়েত অনুসরণ করে তার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক"—দলিলসমূহে অনির্দিষ্টবাচক রূপের ব্যবহার প্রচুর রয়েছে। আবার এতে নির্দিষ্টবাচক রূপও রয়েছে, যেমন: "আমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক", "আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক"। মূল কথা হলো, জীবিতের সালামের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট উভয় রূপই বর্ণিত হয়েছে। তবে মৃত ব্যক্তির সালামের ক্ষেত্রে কেবল নির্দিষ্টবাচক রূপই বর্ণিত হয়েছে। আর এখানে তিনি বলেছেন: "তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক", এর মাধ্যমে দশটি নেকি অর্জিত হয়। আর যদি তিনি বলতেন: "এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক" তবে হাদিসে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী আরও অধিক সওয়াব লাভ করতেন।
"তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, নিশ্চয়ই আমি"—এখানে 'ফা' অক্ষরটি এবং তার সাথে "অতঃপর: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ক্ষমা করুন" বাক্যটি ইঙ্গিত দেয় যে, এই বক্তব্যে শব্দ বা বাক্যের ক্রমপরিবর্তন ঘটেছে। কারণ 'ফা' অক্ষরটি 'অতঃপর' (আম্মা বাদ)-এর পরে আসে, তার আগে নয়। নিয়ম হলো—"অতঃপর: নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট প্রশংসা করছি"; সুতরাং এই 'ফা' অক্ষরটি মূলত 'অতঃপর'-এর উত্তর হিসেবে আসে এবং তা 'অতঃপর'-এর আগে হয় না। এটি প্রমাণ করে যে বক্তব্যে অগ্র-পশ্চাৎ বা ক্রমের পরিবর্তন ঘটেছে।
"নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রশংসা করছি"—মূলত এখানে 'অতঃপর' শব্দটি থাকা উচিত ছিল, যেমন: "অতঃপর নিশ্চয়ই আমি" অথবা তিনি বলতেন: "অতঃপর আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের ক্ষমা করুন"। এখানে 'ফা' থাকা আবশ্যক; কারণ এটি 'অতঃপর'-এর উত্তর হিসেবে আসে এবং তা বিলুপ্ত করা হয় না। যদি পাণ্ডুলিপিগুলো এই বিষয়ে একমত হয়, তবে আমরা এই পত্রটির স্বতন্ত্র পাণ্ডুলিপি এবং অন্যান্য কিতাবে এর থেকে যা উদ্ধৃত হয়েছে—উভয়ের মধ্যে প্রচুর পার্থক্য দেখতে পাই। এই পত্রটি কিছু কিতাবে সম্পূর্ণভাবে উদ্ধৃত হয়েছে, তবুও এই উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যে পার্থক্য পাওয়া যায়। কেন? কারণ এটি অত্যন্ত প্রাচীন, অর্থাৎ তৃতীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের। এটি অত্যন্ত প্রাচীন হওয়ার কারণে এটি সেই মূল কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় যা ছাত্ররা ব্যাপকভাবে চর্চা করে থাকে। যেমন সুনানে আবু দাউদ অত্যন্ত সুসংরক্ষিত ও নিখুঁত, তার পূর্বে সহিহ বুখারি বর্ণনাসমূহ সহ অত্যন্ত নিখুঁত ও সংরক্ষিত, এবং তারও আগে মুয়াত্তা মালিক একইভাবে সংরক্ষিত। কারণ ছাত্ররা এই কিতাবগুলোর প্রতি গভীর মনোযোগী ছিল, কেননা এই কিতাবগুলোই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য এবং মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। পক্ষান্তরে, এই পত্র বা এই ধরণের অন্যান্য পত্রসমূহে অবশ্যই উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু তা মূল পাঠ্যগ্রন্থের মতো নয়। এটি মূলত একটি কিতাব বোঝার মাধ্যম মাত্র, কোনো চূড়ান্ত লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নয়। একারণেই আপনারা এতে এমন বড় ধরণের পার্থক্য দেখতে পান যে, একই পৃষ্ঠায় বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির মধ্যে দশটি পর্যন্ত পার্থক্য পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
"فإني أحمد إليكم الله الذي لا إله إلا هو" فالبدءاة بالحمد سنة مشروعة، افتتح بها القرآن، والنبي عليه الصلاة والسلام كان يفتتح بها الخطب "فإني أحمد الله الذي لا إله إلا هو، وأسأله أن يصلي على محمد عبد ورسوله" ثنى بالصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام، وهكذا ينبغي أن يفعل، فحق الله أعظم، يليه حق الرسول عليه الصلاة والسلام، وجاء في تفسير قول الله -جل وعلا-: {وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ} [(4) سورة الشرح] عن مجاهد: لا أذكر إلا وتذكر معي عليه الصلاة والسلام، لا إله إلا الله محمد رسوله الله، في الأذان أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن محمدًا رسول الله، وليس معنى هذا شيء من المساواة، لا يقتضي هذا شيء من المساواة، فذكر النبي عليه الصلاة والسلام في المحاريب مثلاً تجد يذكر في الجهة اليمنى الله، وفي الجهة اليسرى محمد، هل هذا من باب المساواة باعتبارهما على حد سوى؟ هل يقر في القلب مثل هذا؟ أو أن هذا من باب لا أذكر إلا وتذكر معي؟ لأنه هذا يصنع في محاريب المسلمين ويتداولونه، وليس بشيء جديد منذ قرون، الأصل ألا يكتب شيء، هذا الأصل، لكن إذا كتب هل نقول: يمسح لفظ محمد عليه الصلاة والسلام لئلا يظن أنه مساوٍ لله -جل وعلا-؛ لأنه كتب بنفس الحجم بنفس الدائرة قطرها واحد، فهل هذا يقتضي المساواة أم نقول: هذا من باب لا أذكر إلا وتذكر معي، والأمر فيه سهل؟
طالب:. . . . . . . . .
في الذكر المشروع.
طالب:. . . . . . . . .
إذًا ولا لفظ الجلالة يكتب.
طالب:. . . . . . . . .
هذا إذا ما أزلنا الجميع هذا ما فيه إشكال، لو لم يكن فيه إلا التشويش على المصلين، هذا يزال ويزال غيره، كل ما يوجد في قبلة المصلى مما يشغل المصلين هذا كله ينبغي أن يزال، لكن إذا وجد؟ هل نقول: يمسح محمد فقط لئلا يتوهم المساواة، أم يمسح الجميع كما هو الأصل، أو يبقى الجميع لا أذكر إلا وتذكر معي؟
طالب: يمسح الجميع.
ما تيسر مسح الجميع، وجد ما يخالف، وترك من باب التأليف والمصلحة الراجحة، هل نقول: على الأقل امسحوا لفظ محمد عليه الصلاة والسلام، امسحوا اسمه، لئلا يتوهم أنه مساو لله -جل وعلا-؛ لأنه يوجد بعده أيضاً أمور أخرى تكتب.
"নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই।" প্রশংসা দ্বারা আরম্ভ করা একটি বিধিবদ্ধ সুন্নাত; এর মাধ্যমেই কুরআন শুরু হয়েছে এবং নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এর মাধ্যমেই খুতবা শুরু করতেন। "নিশ্চয়ই আমি সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন।" এরপর তিনি নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ওপর দরুদ পাঠ করে দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন করেছেন। আর এভাবেই করা উচিত। কারণ আল্লাহর হক বা অধিকার সবচেয়ে মহান, এরপরই রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর হকের স্থান। আল্লাহ তাআলার বাণী—'আর আমি আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি' [সূরা আশ-শারহ: ৪]—এর তাফসীরে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "আমি যেখানেই স্মরিত হই, সেখানেই আমার সাথে আপনাকেও স্মরণ করা হয়।" যেমন: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল'। আযানের মধ্যে—'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল'। এর অর্থ কোনোভাবেই সমতা নয় এবং এটি কোনো ধরনের সমতার দাবি রাখে না। উদাহরণস্বরূপ, মেহরাবগুলোতে নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর স্মরণের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ডান দিকে 'আল্লাহ' এবং বাম দিকে 'মুহাম্মাদ' লেখা থাকে। উভয়কে সমান স্তরে বিবেচনা করে এটি কি সমতার পর্যায়ভুক্ত? অন্তরে কি এমন কোনো বিষয় ঠাঁই পেতে পারে? নাকি এটি 'আমি যেখানে স্মরিত হই, সেখানে আপনিও আমার সাথে স্মরিত হন'—এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত? কারণ এটি মুসলিমদের মেহরাবগুলোতে করা হয় এবং কয়েক শতাব্দী ধরে তারা এটি করে আসছে, এটি নতুন কিছু নয়। মূল নীতি হলো কোনো কিছুই লেখা হবে না—এটিই আসল কথা। কিন্তু যদি লেখা হয় তবে কি আমরা বলব: মহান আল্লাহর সমকক্ষ মনে হওয়ার আশঙ্কায় 'মুহাম্মাদ' (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) শব্দটি মুছে ফেলতে হবে? কারণ তা একই আকারে এবং একই ব্যাসের বৃত্তে লেখা হয়েছে। তবে কি এটি সমতার দাবি রাখে, নাকি আমরা বলব: এটি 'আমি যেখানে স্মরিত হই, সেখানে আপনিও আমার সাথে স্মরিত হন'—এর অন্তর্ভুক্ত এবং বিষয়টি সহজ?
ছাত্র: . . . . . . . . .
বিধিবদ্ধ যিকিরের ক্ষেত্রে।
ছাত্র: . . . . . . . . .
তাহলে মহান আল্লাহর নামটিও লেখা হবে না।
ছাত্র: . . . . . . . . .
যদি আমরা সবকিছুই সরিয়ে ফেলি, তবে এতে কোনো সমস্যা নেই। যদি সেখানে শুধু মুসল্লিদের মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয় থাকে, তবে সেটি এবং অন্য যা কিছু আছে সবই সরিয়ে ফেলা উচিত। মুসল্লির কিবলার দিকে এমন যা কিছু থাকে যা মুসল্লিদের বিভ্রান্ত করে, তার সবই সরিয়ে ফেলা উচিত। কিন্তু যদি তা বিদ্যমান থাকে? তবে কি আমরা বলব: সমতার ভ্রান্তি এড়াতে শুধু 'মুহাম্মাদ' শব্দটি মুছে ফেলতে হবে, নাকি মূল নীতি অনুযায়ী সবকিছুই মুছে ফেলতে হবে, নাকি 'আমি স্মরিত হলে আপনিও আমার সাথে স্মরিত হন'—এই ভিত্তিতে সবকিছুই বহাল থাকবে?
ছাত্র: সবকিছুই মুছে ফেলা হবে।
সবকিছু মুছে ফেলা সহজ হয়নি। কিছু বিষয় পাওয়া গেছে যা এর বিপরীত, কিন্তু মানুষের মন জয় ও বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে তা বর্জন করা হয়েছে। আমরা কি অন্তত এ কথা বলব: মহান আল্লাহর সমকক্ষ হওয়ার ভ্রান্তি এড়াতে মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর শব্দটি মুছে ফেলুন, তাঁর নাম মুছে ফেলুন? কারণ এর পরেও আরও অনেক বিষয় রয়েছে যা লেখা হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
طالب:. . . . . . . . .
يعني لئلا يتخيل أو يتوهم المساواة، لكن ماذا عن لا أذكر إلا وتذكر معي؟ ألا يتصور أنها مساواة؟ اللي بيتخيل هذا بيتخيل في أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدًا رسول الله.
طالب:. . . . . . . . .
الذكر المشروع ما عندنا إشكال فيه، ولن نتردد في ذكره -إن شاء الله تعالى-، ولا يمكن أن يناقش، لكن الذي يرد هنا قد يرد هنا.
طالب: لكن هذا نص شرعي. . . . . . . . .
أنا أقول: الذي يمكن أن يقر في قلبه وجود هذه المساواة يمكن أن يتصور المساواة في المشروع، الذي يتصور في الممنوع يتصور في المشروع.
طالب:. . . . . . . . .
يعني إذا جرد لفظ الجلالة وجرد محمد، قد تتصور المساواة، أحياناً يذكرون أشياء ثانية، يذكرون مثلاً الله فوق، أحياناً يذكرون مثلاً: الله، المليك، الوطن، شيء من هذا النوع، هل نقول في مثل هذا الكلام؟ أو نقول: ما دام وضع لفظ الجلالة فوق، وما سواه تحت هذا ما يتصور المساواة؟ ولا تعظم بقدر تعظيم لفظ الجلالة، وعلى كل حال كتابة الألفاظ المشروعة على الحيطان لا شك أنه ابتذال وامتهان، فلا تكتب آيات، ولا لفظ الجلالة، ولا أي شيء محترم على الحيطان؛ لأنه ابتذال وامتهان، ويقع عليها الحشرات، ويقع عليها الأوساخ والغبار، وما أشبه ذلك، كل هذا يجعلها ممتهنة، فلا ينبغي أن تذكر.
"وأسأله أن يصلي على محمد عبده ورسوله".
طالب:. . . . . . . . .
أحمد الله إليكم إيه؛ لأنه يرسل إليهم، ويخاطبهم بهذا الكلام، لو قال: الحمد لله رب العالمين، أو قال أي صيغة تؤدي الغرض كافية، هذه مواجهة ومخاطبة بالحمد ما فيها أدنى إشكال.
ছাত্র:. . . . . . . . .
অর্থাৎ যাতে সমতা কল্পনা বা ধারণা করা না হয়। কিন্তু "আমাকে স্মরণ করা হয় না যদি না আমার সাথে আপনাকে স্মরণ করা হয়" - এই বিষয়টি সম্পর্কে কী বলা হবে? এতে কি সমতার ধারণা আসে না? যে ব্যক্তি এটি কল্পনা করে, সে তো 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল'—এই বাক্যের ক্ষেত্রেও একই কল্পনা করতে পারে।
ছাত্র:. . . . . . . . .
শরীয়তসম্মত যিকর নিয়ে আমাদের কোনো সংশয় নেই এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা তা উল্লেখ করতে আমরা দ্বিধাবোধ করব না, আর এটি বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তবে যা এখানে আপত্তিকর হতে পারে, তা সেখানেও হতে পারে।
ছাত্র: কিন্তু এটি তো শরীয়তসম্মত পাঠ. . . . . . . . .
আমি বলছি: যার অন্তরে এই সমতার অস্তিত্ব বদ্ধমূল হতে পারে, সে শরীয়তসম্মত বিষয়ের ক্ষেত্রেও সমতা কল্পনা করতে পারে; যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্রে এটি কল্পনা করে, সে শরীয়তসম্মত বিষয়ের ক্ষেত্রেও এটি কল্পনা করতে পারে।
ছাত্র:. . . . . . . . .
অর্থাৎ যদি কেবল আল্লাহর নাম এবং মুহাম্মদ নামটি আলাদাভাবে (পাশাপাশি) লেখা হয়, তবে সমতার ধারণা হতে পারে। কখনো কখনো তারা অন্য বিষয়গুলো উল্লেখ করে, যেমন তারা উল্লেখ করে উপরে 'আল্লাহ' শব্দ; আবার কখনো উল্লেখ করা হয়: 'আল্লাহ, রাজা, দেশ'—এই জাতীয় কিছু। আমরা কি এই ধরণের কথার ক্ষেত্রেও কিছু বলব? নাকি বলব: যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর নাম উপরে এবং অন্য সবকিছু নিচে রাখা হচ্ছে, ততক্ষণ সমতার কল্পনা আসে না? আর অন্য কিছুকে আল্লাহর নামের সমপরিমাণ সম্মানও দেওয়া হয় না। যা-ই হোক, দেয়ালে শরীয়তসম্মত শব্দসমূহ লেখা নিঃসন্দেহে অবমাননা ও মর্যাদাহানির শামিল। তাই দেয়ালে কোনো আয়াত, আল্লাহর নাম বা কোনো সম্মানিত বিষয় লেখা উচিত নয়; কারণ এটি অবমাননাকর এবং এর ওপর পোকামাকড় বসে, ময়লা ও ধুলোবালি পড়ে এবং এই জাতীয় আরও অনেক কিছু ঘটে। এই সবকিছুই একে মর্যাদাহীন করে তোলে, তাই এগুলো উল্লেখ করা অনুচিত।
"আর আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি মুহাম্মদ -যিনি তাঁর বান্দা ও রাসূল- তাঁর ওপর দরূদ পাঠ করেন।"
ছাত্র:. . . . . . . . .
'আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রশংসা করছি'—হ্যাঁ; কারণ তিনি তাদের নিকট পাঠাচ্ছেন এবং এই বাক্যের মাধ্যমে তাদের সম্বোধন করছেন। যদি তিনি বলতেন: 'সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য', অথবা উদ্দেশ্য পূরণ করে এমন যেকোনো বাক্য বলতেন, তবে তা যথেষ্ট হতো। এটি প্রশংসার মাধ্যমে সরাসরি সম্বোধন, এতে সামান্যতম কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
"وأسأله أن يصلي على محمد عبده ورسوله" وصفه عليه الصلاة والسلام بالعبودية والرسالة جاء في أشرف المقامات، وصفه بالعبودية {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ} [(1) سورة الإسراء] {وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ} [(19) سورة الجن] يوصف بها في أشرف المقامات، والرسالة هي وظيفته عليه الصلاة والسلام، فالجمع بينهما، العبودية ذكر العبودية لئلا يطرى ويغلى به عليه الصلاة والسلام، إنما هو عبد لله -جل وعلا-، وذكره بالرسالة لئلا يجفى عليه الصلاة والسلام، فعلى المسلم أن يكون بين الغلو والجفاء بالنسبة إليه عليه الصلاة والسلام، يعرف له حقه، وحقوقه على الأمة عظيمة جدًا، وهو سبب هدايتهم، والواسطة بينهم وبين ربهم فيما ينزل منه -جل وعلا-، أما فيما يصعد إليه فلا واسطة.
"وأسأله أن يصلي على محمد عبده ورسوله" صلى الله عليه وسلم كلما ذكر، والبخيل الذي يسمع الذكر ذكر اسمه عليه الصلاة والسلام ولا يصلى عليه، والصلاة عليه عليه الصلاة والسلام مأمور بها {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [(56) سورة الأحزاب] ولا يتم الامتثال إلا بالجمع بينهما، ولذا جمع بينهما، في بعض النسخ تسليماً كثيراً، فالجمع بين الصلاة والسلام هو تمام لامتثال الأمر، وأما الاقتصار على أحدهما دون الآخر إما أن يصلي أو يسلم فقط هذا من كان ديدنه ذلك حيث لا يذكر لفظ الثاني، كما قال الحافظ ابن حجر: تتجه الكراهة بحقه، ولا يتم امتثاله، وأما من كان يجمع بينهما تارة، ويصلي تارة، ويسلم تارة هذا لا تتجه إليه الكراهة، وقد وقع في كلام أهل العلم كثيراً، والله أعلم.
وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
"এবং আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর সালাত বর্ষণ করেন"—তাঁকে (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) দাসত্ব এবং রাসূল হওয়ার গুণে গুণান্বিত করা অত্যন্ত মহিমান্বিত স্থানসমূহে এসেছে। তাঁকে দাসত্বের গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে এই আয়াতে: "পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন" [সূরা আল-ইসরা: ১] এবং "যখন আল্লাহর বান্দা তাঁকে ডাকার জন্য দণ্ডায়মান হলেন" [সূরা আল-জিন: ১৯]। তাঁকে সর্বাধিক সম্মানিত স্থানসমূহে এই গুণেই বিশেষিত করা হয়েছে। আর রাসূল হওয়া হলো তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) মূল দায়িত্ব। সুতরাং এই দুটির মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে; দাসত্বের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাতে তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ব্যাপারে অতিশয়োক্তি ও সীমালঙ্ঘন করা না হয়, কারণ তিনি কেবলই আল্লাহ তাআলার একজন বান্দা। আর তাঁর রাসূল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাতে তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতি অবজ্ঞা বা কঠোরতা প্রদর্শন না করা হয়। অতএব, একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন ও অবজ্ঞার মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা। সে যেন তাঁর যথাযোগ্য অধিকার চিনে নেয়; আর উম্মতের ওপর তাঁর অধিকার অত্যন্ত বিশাল। তিনিই তাঁদের হিদায়াতের কারণ এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়, সে ক্ষেত্রে তিনি আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মাঝে মাধ্যম। তবে বান্দার পক্ষ থেকে যা আল্লাহর দিকে আরোহণ করে, সে ক্ষেত্রে কোনো মাধ্যম নেই।
"এবং আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের ওপর সালাত বর্ষণ করেন"—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যতবারই তাঁর আলোচনা করা হয়। আর সেই ব্যক্তিই কৃপণ যে তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) নাম শোনে অথচ তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করে না। তাঁর ওপর সালাত পাঠ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও" [সূরা আল-আহযাব: ৫৬]। সালাত ও সালাম—উভয়টির সমন্বয় ছাড়া এই নির্দেশের পূর্ণ পরিপালন হয় না। এই কারণেই এখানে দুটির সমন্বয় করা হয়েছে; কোনো কোনো সংস্করণে "অধিক সালাম" শব্দটিও রয়েছে। সুতরাং সালাত ও সালামের একত্র করাই হলো এই নির্দেশের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ। আর কেবল একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা—হয় শুধু সালাত অথবা শুধু সালাম পাঠ করা—যদি এটি কারও স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হয় যেখানে তিনি অপর শব্দটির উল্লেখই করেন না, তবে হাফিয ইবনে হাজার বলেন: তার ক্ষেত্রে এটি অপছন্দনীয় বলে গণ্য হবে এবং তার দ্বারা নির্দেশটির পূর্ণ অনুসরণ হবে না। তবে যিনি কখনো উভয়টির সমন্বয় করেন, আবার কখনো শুধু সালাত পড়েন এবং কখনো শুধু সালাম দেন, তার ক্ষেত্রে এটি অপছন্দনীয় হবে না। আলেমগণের বক্তব্যে এমনটি অনেক দেখা যায়। আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল করুন।
(খণ্ড: ১)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح رسالة أبي داود لأهل مكة القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح رسالة أبي داود لأهل مكة
مؤلف الأصل: أبو داود سليمان بن الأشعث السَِّجِسْتاني (ت 275هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 4 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
মক্কাবাসীদের প্রতি আবু দাউদের চিঠির ব্যাখ্যা বিভাগ: উলূমুল হাদীস (হাদীস শাস্ত্র)
বই: মক্কাবাসীদের প্রতি আবু দাউদের চিঠির ব্যাখ্যা
মূল লেখক: আবু দাউদ সুলায়মান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি (মৃত্যু ২৭৫ হি.)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনুলিখিত পাঠসমূহ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠ সংখ্যা - ৪টি পাঠ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
شرح:
رسالة أبي داود لأهل مكة (2)الشيخ: عبد الكريم الخضير
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
هذا يقول: ما رأيكم لو نأخذ كتاب حلية طالب العلم، أو التعالم للشيخ بكر أبو زيد؟
أما حلية طالب العلم فالطلب عليه كثير وملح، ولكني أحيل على شرح مسجل للشيخ ابن عثيمين رحمه الله.
ويقول: ما أفضل طبعة لنيل الأوطار يمكن اقتناؤها؟
أنا قراءاتي كلها في الطباعات القديمة، إما المنيرية أو بولاق، وهناك طبعة حديثة للشيخ طارق عوض الله، صدرت مؤخراً ولم أقتنيها بعد، وهو مظنة للتجويد.
هذا يسأل يقول: كيف أحفظ القرآن وعمري سبع وعشرين سنة وكثرت الشواغل؟
إذا علمت إن امرأة بلغت من العمر سبعين سنة، وهي أمية لا تقرأ ولا تكتب قد أكملت حفظ القرآن فلا تيأس، لكن عليك أن تهتم لهذا الأمر، وتفرض له وقتاً من سنام الوقت، لا من أطرافه، ولا يكون ذلك في أوقات الفراغ، أو أوقات الانتظار، إنما تفرض له ساعة هي أهم الساعات في عمرك، إما قبل صلاة الفجر، أو بعد صلاة الفجر، وحينئذٍ يتيسر لك الحفظ، فإذا فرغت نفسك هذه الساعة، وعلم الله -جل وعلا- منك صدق النية فإنه يعينك على الحفظ.
يقول: ما معنى القافة والاستفاضة؟
القافة: هم ممن يعرف الشبه بين الناس، فيلحق هذا بهذا، ويعرف قرب هذا من هذا، وهي موجودة على عهد النبي عليه الصلاة والسلام، وقد فرح النبي عليه الصلاة والسلام فرحاً شديداً، لما قال مجزز المدلجي وهو منهم -من القافة-: إن هذه الأرجل -يعني أرجل أسامة بن زيد- من هذه الأرجل، يعني أرجل زيد بن حارثة، وبينهم من اللون من الاختلاف ما بينهم، حتى كان بعض الناس يتهمون، فلما حكم مجزز بأن هذه الأرجل من هذه الأرجل فرح النبي عليه الصلاة والسلام فرحاً شديداً.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ব্যাখ্যা:
মক্কাবাসীদের উদ্দেশ্যে ইমাম আবু দাউদের পত্র (২)শেখ: আব্দুল কারিম আল-খুদাইর
আপনাদের উপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
একজন প্রশ্ন করেছেন: আমরা যদি শেখ বকর আবু যাইদের 'হিলইয়াতু তালিবিল ইলম' (জ্ঞানান্বেষীর অলঙ্কার) অথবা 'আত-তাআলুম' বইটি গ্রহণ করি, তবে আপনার মতামত কী?
হিলইয়াতু তালিবিল ইলম বইটির জন্য প্রবল এবং ক্রমাগত চাহিদা রয়েছে, তবে আমি শেখ ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর রেকর্ডকৃত ব্যাখ্যার কথা বলব।
তিনি আরও বলছেন: 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থের সংগৃহীত হতে পারে এমন সর্বোত্তম মুদ্রণ কোনটি?
আমি সাধারণত পুরাতন মুদ্রণগুলো পড়ি, যেমন মুনিরিয়া অথবা বুলাক সংস্করণ। শেখ তারিক আওয়াদুল্লাহর একটি আধুনিক মুদ্রণ রয়েছে যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, তবে আমি এটি এখনও সংগ্রহ করিনি, যদিও এটি মানসম্মত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করছেন: আমার বয়স সাতাশ বছর এবং ব্যস্ততা বেড়ে গেছে, এমতাবস্থায় আমি কীভাবে কুরআন মুখস্থ করব?
আপনি যদি জানতে পারেন যে সত্তোর বছর বয়সী এক নিরক্ষর নারী, যিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না, তিনি কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেছেন, তবে আপনি হতাশ হবেন না। কিন্তু আপনাকে এই বিষয়ে যত্নবান হতে হবে এবং এর জন্য আপনার সময়ের সর্বোত্তম অংশ থেকে একটি সময় নির্দিষ্ট করতে হবে, অবশিষ্টাংশ থেকে নয়। আর এটি যেন অবসর সময়ে বা অপেক্ষার সময়ে না হয়। বরং এর জন্য আপনি আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করবেন; হয় ফজর নামাজের আগে অথবা ফজর নামাজের পরে। তখন আপনার জন্য মুখস্থ করা সহজ হবে। যখন আপনি এই সময়ের জন্য নিজেকে মুক্ত করবেন এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা আপনার পক্ষ থেকে নিয়তের সততা প্রত্যক্ষ করবেন, তখন তিনি আপনাকে মুখস্থ করার বিষয়ে সাহায্য করবেন।
তিনি বলছেন: 'কাফাহ' (চিহ্নবিশারদ) এবং 'ইস্তিফাযাহ'-এর অর্থ কী?
'কাফাহ' (চিহ্নবিশারদ) হলেন সেই সব ব্যক্তি যারা মানুষের মধ্যে সাদৃশ্য শনাক্ত করতে পারেন, ফলে তারা একজনকে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত করেন এবং এদের মধ্যকার নৈকট্য বুঝতে পারেন। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে বিদ্যমান ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন যখন মুজাযযিয আল-মুদলিজি—যিনি একজন চিহ্নবিশারদ ছিলেন—বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই এই পাগুলো (অর্থাৎ উসামা বিন যাইদের পা) ওই পাগুলোরই (অর্থাৎ যাইদ বিন হারিসার পা) অংশ"। তাদের মধ্যে গায়ের রঙের ব্যাপক ভিন্নতা ছিল, এমনকি কিছু লোক তাদের সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করত। তাই যখন মুজাযযিয ফয়সালা দিলেন যে এই পাগুলো ওই পাগুলো থেকেই এসেছে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত আনন্দিত হলেন।
(খণ্ড: ২)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
أما الاستفاضة: فهي الشيوع والانتشار، انتشار الأمر بين الناس وشيوعه بينهم بحيث يكون الإنسان ملزم بقبوله، كما يشتهر أن فلان ولد فلان، الناس كلهم يشهدون أن فلان بن فلان، وإنما يشهدون بالاستفاضة؛ وإلا ما منهم واحد حضر لا وقت الوقاع، ولا وقت الولادة، وإنما يشهدون بأن فلان بن فلان؛ لأنه استفاض عند الناس من غير نكير ولم يدعيه غير أبيه، وتكفي في إثبات مثل هذا.
يقول: نحن عدة أشخاص قرأنا هذه العبارة واختلفنا في فهمها، فأرجو منكم توضيحها لنا مأجورين وهي في كتاب: (الدر المنضود في ذم البخل ومدح الجود) للمناوي في صفحة اثنتي عشر ومائة، وثلاثة عشر ومائة، قال: "تنبيه أجمع على أن الجود محمود إلا في النساء؛ لأن المرأة إذا كان طبعها الجود بما يطلب منها قد تجود بنفسها، وقد قال الله تعالى {فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ} [(32) سورة الأحزاب] ولم يمدح أحد من العقلاء كرم المرأة".
لم يمدح أحد من العقلاء كرم المرأة؛ لأن المرأة في الغالب لا مال لها، وإذا جادت فإنما تجود بمال غيرها، إما من مال أبيها، أو من مال زوجها، ولذا يقول العرب: والله ما هي بنعم الولد، نصرها بكاء، وبرها سرقة، لكن هذا الكلام ليس بصحيح، فالنصوص التي جاءت في الرجال جاءت في النساء، فالنساء شقائق الرجال، فإذا مدح الجود والكرم بالنسبة للرجال، يمدح بالنسبة للنساء، على أن يكون جوداً بمعناه الشرعي، مضبوطاً بضوابطه الشرعية حتى الجود من الرجل قد يجود بما لا يجوز أن يجود به، ويمنع حينئذٍ.
وذكر أبيات هنا لكنها فيها أخطاء مطبعية يمدح امرأة، فيقول:
تنمى إلى القوم جادوا وهي باخلة
… والجود في الخود مثل الشح في الرجلِ
وقال ابن نباتة:
جادت بما جاد الرجال به
… ومن الغواني يحسن البخل
ما أدري، المقصود أن مثل هذا لأن المرأة في الغالب إذا جادت فإنما تجود بمال غيرها، وإذا كثر مدحها قد تستدرج، فهو من هذه الحيثية له وجه، لكن إذا جادت بمالها بما اكتسبته من وجه حلال، وأنفقته في المصارف الشرعية التي جاء الحث عليها فحكمها حكم الرجل.
ইস্তিফাদাহ (প্রসিদ্ধি) হলো: ব্যাপকতা ও প্রচার, মানুষের মাঝে কোনো বিষয়ের এমনভাবে ছড়িয়ে পড়া এবং তাদের মাঝে প্রসিদ্ধ হওয়া যাতে একজন মানুষ তা মেনে নিতে বাধ্য হয়। যেমন এটি প্রসিদ্ধ যে অমুকে অমুকের সন্তান। সকল মানুষ সাক্ষ্য দেয় যে অমুক বিন অমুক। তারা মূলত ইস্তিফাদাহ বা প্রসিদ্ধির ভিত্তিতেই সাক্ষ্য দেয়; অন্যথায় তাদের কেউই সংগমের সময় বা জন্মের সময় উপস্থিত ছিল না। তারা কেবল অমুক বিন অমুক বলে সাক্ষ্য দেয় কারণ মানুষের মাঝে এটি কোনো অস্বীকৃতি ছাড়াই ছড়িয়ে পড়েছে এবং তার পিতা ছাড়া অন্য কেউ তাকে নিজের সন্তান বলে দাবি করেনি। আর এই ধরনের বিষয় প্রমাণের ক্ষেত্রে এটিই যথেষ্ট।
তিনি বলেন: আমরা বেশ কয়েকজন ব্যক্তি এই উদ্ধৃতিটি পড়েছি এবং এটি বোঝার ক্ষেত্রে আমরা মতপার্থক্য করেছি। তাই সওয়াবের আশায় আমাদের কাছে এটি ব্যাখ্যা করার অনুরোধ করছি। এটি আল-মুনাউয়ি রচিত 'আদ-দুররুল মানদুদ ফি যাম্মিল বুখলি ওয়া মাদহিল জুদ' কিতাবের ১১২ ও ১১৩ পৃষ্ঠায় রয়েছে। তিনি বলেন: "সতর্কবার্তা: এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা হয়েছে যে, দানশীলতা প্রশংসনীয়, তবে নারীদের ক্ষেত্রে নয়; কারণ মহিলার স্বভাব যদি তার কাছে যা চাওয়া হয় তা দানে প্রবৃত্ত হওয়া হয়, তবে সে নিজের সতীত্বও দান করে দিতে পারে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তোমরা কথা বলায় কোমল হয়ো না, পাছে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে লালসা করে} [(৩২) সূরা আল-আহযাব]। আর জ্ঞানীদের মধ্যে কেউ মহিলার দানশীলতার প্রশংসা করেননি।"
জ্ঞানীদের কেউ মহিলার দানশীলতার প্রশংসা করেননি; কারণ মহিলার সাধারণত নিজস্ব কোনো সম্পদ থাকে না। সে যখন দান করে, তখন মূলত অন্যের সম্পদ থেকেই দান করে, হয় তার পিতার সম্পদ থেকে অথবা তার স্বামীর সম্পদ থেকে। এই কারণেই আরবরা বলে থাকে: আল্লাহর কসম, সে তো উত্তম সন্তান নয়, তার সাহায্য হলো কান্না আর তার সদাচরণ হলো চুরি। কিন্তু এই কথাটি সঠিক নয়। কারণ পুরুষদের ব্যাপারে যে দলিলসমূহ এসেছে, তা নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নারীরা তো পুরুষদেরই সহোদরা। সুতরাং পুরুষদের ক্ষেত্রে যদি দানশীলতা ও ঔদার্যের প্রশংসা করা হয়, তবে তা মহিলাদের ক্ষেত্রেও প্রশংসিত হবে, যদি সেই দানশীলতা শরয়ী অর্থে হয় এবং শরয়ী নীতিমালার অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়। এমনকি পুরুষের পক্ষ থেকেও কখনো এমন জিনিসের দান হতে পারে যা দান করা বৈধ নয়, তখন তা নিষেধ করা হয়।
এখানে তিনি কিছু পঙক্তি উল্লেখ করেছেন, তবে তাতে মুদ্রণজনিত ত্রুটি রয়েছে। তিনি একজন মহিলার প্রশংসা করে বলেন:
সে এমন এক কওমের সাথে সম্পৃক্ত যারা দানশীল কিন্তু সে কৃপণ
… আর সুন্দরী নারীর দানশীলতা হলো পুরুষের কৃপণতার মতো।
ইবনে নুবাতাহ বলেছেন:
সে তা দান করেছে যা পুরুষেরা দান করে থাকে
… অথচ সুন্দরী রমণীদের ক্ষেত্রে কৃপণতাই সুন্দর দেখায়।
আমি জানি না, উদ্দেশ্য হলো সম্ভবত এই যে, মহিলা যখন দান করে তখন সে সাধারণত অন্যের সম্পদ থেকেই দান করে। আর তার প্রশংসা যদি অত্যধিক করা হয় তবে সে প্ররোচিত হতে পারে। এই দিক থেকে কথাটির একটি তাৎপর্য রয়েছে। কিন্তু সে যদি তার নিজের সম্পদ থেকে দান করে যা সে হালাল উপায়ে অর্জন করেছে এবং তা শরয়ী খাতে ব্যয় করে যে ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে, তবে তার বিধান পুরুষের বিধানের মতোই।
(খণ্ড: ২)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
هذا من موريتانيا يقول: أنا شاب من موريتانيا أدرس في الجامعة، وعندما تعرفت على هذه الإذاعة التزمت بالإسلام، والحمد لله، ولكن لدي أصدقاء يزهدون في العلماء، ويقولون لي: أنت لا تفهم الجهاد
…إيش الجهاد؟ إيش دخل الجهاد هنا؟ يعني مقحم.
فما نصيحتكم لي؟ وجزاكم الله خيراً.
لي أيضاً سؤال آخر: أنا لا أدرس في جامعة شرعية، ولكني متابع لكل ما تقدمه إذاعة القرآن الكريم، هل يكفيني ذلك؟ وأرجو منكم الدعاء لي حتى أدرس في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة؟
نسأل الله -جل وعلا- أن ييسر لك الأمر، ومع ذلك تابع الاستماع لإذاعة القرآن، فيها برامج نافعة، وتلاوات طيبة، وقد انتفع بها كثيراً من العامة الذين لا يقرؤون ولا يكتبون، فكيف بمن لديه أهلية للانتفاع؟ وإذا وجد عندكم من أهل العلم من يجلس للطلاب على معتقد صحيح، وتحقيق للتوحيد فالزمه.
هذه أم سلمة تقول: إنها تستمع للدروس عبر الإنترنت، وتجد فيها فوائد ونفع، تقول: ذكرت في درسك قبل أسبوع تقريباً أن نظام الأكل حتى الشبع الذي في المطاعم وهو ما يسمى: (البوفيه المفتوح) لا يجوز، فهل يدخل في ذلك مما يفعله الناس مما يعرف بالقطة إذا كانوا في مكان عمل واحد مثلاً كالمعلمين في المدرسة، يدفع كل واحد منهم مبلغاً شهرياً للفطور، وجزاكم الله خيراً.
মৌরিতানিয়া থেকে একজন বলছেন: আমি মৌরিতানিয়ার একজন যুবক, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। যখন আমি এই রেডিও সম্পর্কে জানতে পারলাম, তখন আমি ইসলামের ওপর অবিচল হলাম, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমার কিছু বন্ধু আছে যারা আলেমদের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে এবং আমাকে বলে: তুমি জিহাদ বোঝো না
…জিহাদ কী? এখানে জিহাদের কী সম্পর্ক? অর্থাৎ এটি একটি অপ্রাসঙ্গিক ও জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া বিষয়।
আমার প্রতি আপনাদের উপদেশ কী? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
আমার আরেকটি প্রশ্নও আছে: আমি কোনো শরীয়াহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি না, তবে আমি কুরআন রেডিওর প্রচারিত সকল অনুষ্ঠান অনুসরণ করি। এটা কি আমার জন্য যথেষ্ট হবে? আর আমি আপনাদের কাছে দুআ প্রার্থনা করছি যেন আমি মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাই।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আপনার জন্য বিষয়টি সহজ করে দেন। এর পাশাপাশি কুরআন রেডিও শোনা অব্যাহত রাখুন, এতে অনেক উপকারী অনুষ্ঠান এবং উত্তম তিলাওয়াত রয়েছে। এর মাধ্যমে সেই সমস্ত সাধারণ মানুষও অনেক উপকৃত হয়েছেন যারা লিখতে বা পড়তে জানেন না; তাহলে যার উপকার লাভের যোগ্যতা আছে তার অবস্থা তো আরও উন্নত হবে। আর যদি আপনাদের সেখানে এমন কোনো আলেম থাকেন যিনি সহীহ আকিদা এবং তাওহীদের সঠিক তাহক্বীকের ওপর ভিত্তি করে ছাত্রদের পাঠদান করেন, তবে তাঁর সান্নিধ্য আঁকড়ে ধরুন।
উম্মু সালামাহ বলছেন: তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠসমূহ শোনেন এবং তাতে অনেক উপকার ও কল্যাণ খুঁজে পান। তিনি বলছেন: আপনি প্রায় এক সপ্তাহ আগের পাঠে উল্লেখ করেছিলেন যে, রেস্তোরাঁগুলোতে পেট ভরে খাওয়ার যে পদ্ধতি, যাকে 'ওপেন বুফে' বলা হয়, তা বৈধ নয়। তবে মানুষ যা সচরাচর করে থাকে এবং যা 'কাত্তাহ' (যৌথ চাঁদা) নামে পরিচিত—যেমন একই কর্মস্থলের লোকজন, ধরা যাক কোনো স্কুলের শিক্ষকরা, প্রত্যেকে নাস্তার জন্য মাসিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করেন—তা কি এর অন্তর্ভুক্ত হবে? আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
(খণ্ড: ২)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
هذا الأمر يختلف، في مسألة القطة التي هي في الأصل تسمى النهد، فالقوم يجتمعون فيتناهدون، فيبذل كل واحد منهم مبلغاً من المال، ويجمع هذا المال، ويشترى به نفقة للجميع، كل إنسان يأكل أكله العادي، والناس عادة يتسامحون في مثل هذا، فلا يقال: هذا يأكل وهو دفع عشرة فيأكل باثني عشر، وهذا دفع عشرة ما يأكل إلا بثمانية، ما يجري هذا بينهم، يتعافون هذا بينهم، وهم قوم يعرف بعضهم بعضاً، ويسامح بعضهم بعضاً، والمسألة مبنية على المسامحة، لكن في البوفيه المفتوح إذا قيل: تأكل حتى تشبع بعشرين ريال قد يأكل بخمسين؛ لأنه هذه الوجبة وفقط، أما في النهد لا هذا مستمر، ولن يأكل أضعاف ما يحتمل، ولكن في البوفيه المفتوح قد يأكل ويكثر، ويتحرى الأكل من أغلى الأطعمة، فيكون هناك تفاوت كبير بينما دفع وبينما أكل، والمدفوع معلوم، والمأكول مجهول، والبون كبير، يعني له وقع في الثمن، فالذي دفع عشرين لو أكل قبل الدفع لقيل له: ادفع خمسين، فهذا له وقع في الثمن مؤثر في العقد.
هذه أم عبد الله من السعودية تقول: هذا سؤال هام جداً: ذكر أحدهم أن الشيخ ابن باز رحمه الله قال: جميع الأعمال تحتاج إلى نية، ما عدا الجلوس مع الصالحين، واستشهد الأخ بالحديث الذي رواه البخاري: ((فيقول: أشهدكم إني قد غفرت لهم، فيقول ملك من الملائكة: إن فيهم فلان الخطاء لم يردهم إنما جاء لحاجة، فيقول: هم القوم لا يشقى بهم جليسهم)) فسألته أين قرأتم قول الشيخ هذا؟ فقال: أنا لم أسمع الشيخ ابن باز رحمه الله، لكن سمعته نقلاً عن أحد طلبة العلم، تقول: هل سمعتم هذا القول عن شيخنا ابن باز رحمه الله؟
لا ما سمعته، لكن الاستدلال ظاهر للمسألة.
وهذه تقول: أم لها سبعة أولاد أعطت واحداً منهم مبلغاً من المال لكي يتاجر به، ويكون الربح مشتركاً بينهما، ما حكم ذلك؟ وهل يدخل في الحديث: ((اتقوا الله، واعدلوا بين أولادكم))؟
এই বিষয়টি ভিন্ন, যা মূলত 'নাহদ' নামে পরিচিত; যেখানে একদল মানুষ একত্রিত হয়ে অর্থ প্রদান করে, সেই অর্থ একত্র করা হয় এবং তা দিয়ে সকলের জন্য খাবার কেনা হয়। প্রত্যেকে তার সাধারণ আহার গ্রহণ করে এবং মানুষ সাধারণত এই ধরনের বিষয়ে একে অপরকে ছাড় দিয়ে থাকে। তাই এমনটি বলা হয় না যে: এ ব্যক্তি দশ টাকা দিয়ে বারো টাকার খাবার খেয়েছে, আর সে ব্যক্তি দশ টাকা দিয়ে মাত্র আট টাকার খাবার খেয়েছে। তাদের মধ্যে এমন বিচার চলে না, বরং তারা একে অপরকে মার্জনা করে দেয়। তারা এমন এক কওম যারা একে অপরকে চেনে এবং একে অপরকে ছাড় দেয়, আর বিষয়টি পারস্পরিক ক্ষমার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু 'উন্মুক্ত বুফে'র ক্ষেত্রে যখন বলা হয়: বিশ রিয়ালের বিনিময়ে তৃপ্ত হওয়া পর্যন্ত খাবেন, তখন কেউ হয়তো পঞ্চাশ রিয়ালের খাবার খেয়ে নিতে পারে; কারণ এটি শুধুমাত্র এক বেলার আহারের বিষয়। পক্ষান্তরে, 'নাহদ'-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি ধারাবাহিক এবং কেউ তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত কয়েকগুণ খাবে না। কিন্তু 'উন্মুক্ত বুফে'র ক্ষেত্রে কেউ হয়তো অনেক বেশি খেতে পারে এবং সবচেয়ে দামী খাবারগুলো বেছে নিতে পারে। ফলে যা প্রদান করা হলো এবং যা খাওয়া হলো—তার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়। এখানে যা পরিশোধ করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট, কিন্তু যা খাওয়া হলো তা অজ্ঞাত এবং ব্যবধানও অনেক বেশি। অর্থাৎ এটি মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলে। যে ব্যক্তি বিশ রিয়াল দিল, সে যদি মূল্য পরিশোধের আগে খাবার খেত, তবে তাকে হয়তো বলা হতো: পঞ্চাশ রিয়াল দিন। সুতরাং এটি মূল্যের ক্ষেত্রে এমন এক প্রভাব ফেলে যা চুক্তিতে প্রভাব বিস্তার করে।
সৌদি আরব থেকে উম্মে আব্দুল্লাহ বলছেন: এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: জনৈক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন যে, শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: নেককারদের সাথে বসা ব্যতীত অন্য সকল আমলের জন্য নিয়তের প্রয়োজন হয়। সেই ভাই বুখারী বর্ণিত হাদীসটির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "অতঃপর আল্লাহ বলেন: আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন বলেন: তাদের মধ্যে অমুক পাপিষ্ঠ ব্যক্তি রয়েছে যে তাদের উদ্দেশ্যে আসেনি, বরং সে কোনো প্রয়োজনে এসেছিল। তখন আল্লাহ বলেন: তারা এমন এক সম্প্রদায় যাদের সঙ্গদানকারী দুর্ভাগা হয় না।" আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি শাইখের এই কথাটি কোথায় পড়েছেন? তিনি বললেন: আমি শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর থেকে সরাসরি শুনিনি, তবে একজন ইলম অন্বেষণকারীর নিকট থেকে এটি উদ্ধৃত হতে শুনেছি। তিনি প্রশ্ন করছেন: আপনারা কি আমাদের শাইখ ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট থেকে এই বক্তব্য শুনেছেন?
না, আমি এটি শুনিনি, তবে মাসআলাটির ক্ষেত্রে দলীলের প্রয়োগ স্পষ্ট।
আরেকজন বলছেন: জনৈক মা, যার সাতজন সন্তান রয়েছে, তিনি তাদের একজনকে কিছু অর্থ দিয়েছেন যাতে সে ব্যবসা করে এবং লাভ তাদের উভয়ের মাঝে বণ্টিত হয়, এর হুকুম কী? এটি কি "আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মাঝে ইনসাফ করো" হাদীসের অন্তর্ভুক্ত হবে?
(খণ্ড: ২)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
إذا كان كل واحد من هؤلاء الأولاد السبعة يريد من هذه الأم ما أعطته ولدها ليتاجر به فلا بد من العدل، لا سيما إذا كانت كفاءتهم واحدة في التجارة ومعرفتهم وخبرتهم بها واحدة، وإلا فإن لم تكن الخبرة واحدة، ويغلب على ظنها أن هذا إذا تاجر عرف أسباب الكسب، والثاني إذا تاجر لم يوفق، وليست لديه الأهلية في المتاجرة فلا مانع من أن تشترك مع أحد أولادها.
هذا واحد من الإخوان يقول:
بالنسبة لابن البطي، أبو فتح محمد بن عبد الباقي بن أحمد بن سليمان المعروف بابن البطي، يقول الفيروز أبادي في القاموس: بَطة أو بِطة بالكسر عين بالحبشة، يعني موضع بالحبشة، وبالفتح أبو عبد الله بن بطة العكبري مصنف الإبانة، وبالضم أبو عبد الله بن بُطة الأصبهاني وبلديوه محمد بن موسى وعبد الوهاب بن أحمد، وبط قرية بطريق دقوقا، وأبو الفتح البطي المحدث نسيب إنسان من هذه القرية فعرف به، أبو الفتح صاحبنا يقول: أبو الفتح البطي المحدث نسيب إنسان من هذه القرية فعرف به، وقال الزبيدي في تاج العروس: وبط قرية بدقوقا، وقيل: بالأهواز، وتعرف بنهر بط، قيل: لأنه كان عنده مراح البط، فقالوا: نهر بط، كما قالوا: دار بطيخ، وقيل: بل كان يسمى نهر نبط؛ لأنه كان لامرأة نبطية فخفف وقيل: نهر بط.
وأبو الفتح محمد بن عبد الباقي بن أحمد بن سليمان بن البطي المحدث البغدادي من كبار المسندين، كان نسيب إنسان من هذه القرية، فعرف به، نقله الحافظ وغيره، وقيل: لأن أحد جدوده كان يبيع البط.
الأخ الباحث يقول: يؤيد هذا القول -يعني كان يبيع البط- ويقويه أن أخيه ينسب إلى هذه النسبة أيضاً، كما ذكر صاحب التكملة، فلو كان كما ذكر صاحب القاموس لم ينسب أخوه إلى ذلك أيضاً، والله تعالى أعلم.
যদি এই সাত সন্তানের প্রত্যেকেই মায়ের কাছে তেমন কিছু দাবি করে যা তিনি তার এক সন্তানকে ব্যবসা করার জন্য দিয়েছেন, তবে অবশ্যই তাদের মাঝে সমতা রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে যদি ব্যবসায় তাদের যোগ্যতা সমান হয় এবং এ বিষয়ে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অভিন্ন হয়। অন্যথায়, যদি অভিজ্ঞতা সমান না হয় এবং মায়ের প্রবল ধারণা হয় যে, এই সন্তান ব্যবসা করলে উপার্জনের পন্থাগুলো বুঝবে, আর দ্বিতীয়জন ব্যবসা করলে সফল হবে না এবং ব্যবসায় তার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নেই, তবে মা তার সন্তানদের মধ্যে কোনো একজনের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা করায় কোনো বাধা নেই।
ভাইদের মধ্যে একজন বলেন:
ইবনুল বাত্তি প্রসঙ্গে—আবু ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন আহমদ বিন সুলাইমান যিনি ইবনুল বাত্তি নামে পরিচিত—ফাইরুযাবাদি 'আল-কামুস' গ্রন্থে বলেন: 'বাত্তাহ' বা 'বিত্তাহ' জের যোগে আবিসিনিয়ার একটি ঝরনার নাম, অর্থাৎ আবিসিনিয়ার একটি স্থান। আর যবর যোগে (বাত্তাহ) হলেন 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থের সংকলক আবু আব্দুল্লাহ বিন বাত্তাহ আল-উতবারী। আর পেশ যোগে (বুত্তাহ) হলেন আবু আব্দুল্লাহ বিন বুত্তাহ আল-আসবাহানি এবং তার দেশবাসী মুহাম্মদ বিন মুসা ও আব্দুল ওয়াহহাব বিন আহমদ। আর 'বাত্ত' হলো দাকুকা অঞ্চলের একটি গ্রাম। মুহাদ্দিস আবু ফাতহ আল-বাত্তি এই গ্রামের এক ব্যক্তির আত্মীয় ছিলেন, তাই তিনি এই নামে পরিচিত হন। আমাদের সাথী আবু ফাতহ বলেন: মুহাদ্দিস আবু ফাতহ আল-বাত্তি এই গ্রামের এক ব্যক্তির আত্মীয় ছিলেন এবং সেই সূত্রেই পরিচিতি লাভ করেন। যুবাইদি 'তাজুল আরুস' গ্রন্থে বলেন: 'বাত্ত' দাকুকার একটি গ্রাম, কারো মতে এটি আহওয়াযে অবস্থিত। এটি 'নাহর বাত্ত' (হাঁস নদী) নামে পরিচিত। বলা হয়: যেহেতু সেখানে হাঁসের চারণভূমি ছিল, তাই তারা একে 'নাহর বাত্ত' বলত, যেমন তারা 'দার বাত্তিহ' (তরমুজ ঘর) বলত। আবার বলা হয়: বরং এর নাম ছিল 'নাহর নাবাত'; কারণ এটি একজন নবতী নারীর মালিকানাধীন ছিল, পরে তা সহজ করার জন্য 'নাহর বাত্ত' বলা হয়েছে।
আর বাগদাদী মুহাদ্দিস আবু ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি বিন আহমদ বিন সুলাইমান বিন আল-বাত্তি ছিলেন অন্যতম বড় মুসনিদ (উচ্চতর সনদধারী বর্ণনাকারী)। তিনি এই গ্রামের এক ব্যক্তির আত্মীয় ছিলেন এবং সেই সূত্রেই পরিচিতি পান; হাফিয ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। আবার বলা হয়: কারণ তার জনৈক পূর্বপুরুষ হাঁস বিক্রি করতেন।
গবেষক ভাই বলেন: এই মতটি—অর্থাৎ তিনি হাঁস বিক্রি করতেন—একে সমর্থন ও শক্তিশালী করে এই বিষয়টি যে, তার ভাইকেও এই একই উপাধিতে সম্বোধন করা হয়, যেমনটি 'আত-তাকমিলাহ' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন। যদি বিষয়টি তেমনই হতো যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন, তবে তার ভাইকেও এই উপাধিতে সম্বোধন করা হতো না। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ২)
শারহু রিসালাতি আবী দাউদ লিআহলি মক্কাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
قال أبو الحسن الجزري -ابن الأثير- في تهذيب الأنساب، البطي بفتح الباء الموحدة، والطاء المشددة هذه نسبة إلى البطة، وهو لقب لبعض أجداد المنتسب إليهم، وإلى بيع البط، أما الأول فهو ابن بطة العكبري البطي، كان من فقهاء الحنابلة، تكلموا فيه، توفي في محرم سنة سبع وثمانين وثلاثمائة، وأبو الفتح صاحبنا محمد بن عبد الباقي وغيره، وكان ثقة غير أنه كان يعتقد مذهب النجارية، نسأل الله العصمة، وتوفي في شعبان سنة أربع وسبعين وثلاثمائة، يقول: لعل هذا وهم أو خطأ مطبعي، فالمطبوع لا يتوفر عندي.
قال الذهبي في سير أعلام النبلاء: وكان توفي يوم الخميس سابع وعشرين جماد الأولى سنة أربع وستين وخمسمائة، يعني الفرق قرنين من الزمان.
في تكملة الإكمال: باب البطي والبطيء بالهمز، أما الأول بفتح الباء، وتشديد الطاء المهملة، فهو أبو الفتح .. إلى آخره، صاحبنا، وأخوه الثاني، الأول البطي، والثاني البطيء، ما ذكر منهم أحد؟ يعني ذكر لكن لا حاجة لنا به، يعني بهذا كله نعرف أنه بالتشديد.
سم.
أحسن الله إليك.
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
اللهم اغفر لشيخنا، واجزه عنا خير الجزاء، واغفر للسامعين يا حي يا قيوم.
قال المصنف -رحمه الله تعالى-:
أما بعد: عافانا الله وإياكم عافية لا مكروه معها، ولا عقاب بعدها، فإنكم سألتم أن أذكر لكم الأحاديث التي في كتاب السنن أهي أصح ما عرضت في الباب؟ ووقفت على جميع ما ذكرتم، فاعلموا: أنه كذلك كله إلا أن يكون قد روي من وجهين صحيحين، فأحدهما أقوم إسناداً، والآخر صاحبه أقدم في الحفظ، فربما كتبت ذلك، ولا أرى في كتابي من هذا عشرة أحاديث، ولم أكتب في الباب إلا حديثاً أو حديثين، وإن كان في الباب أحاديث صحاح، فإنه يكثر، وإنما أردت قرب منفعته، وإذا أعدت الحديث في الباب من وجهين أو ثلاثة فإنما هو من زيادة كلام فيه، وربما تكون فيه كلمة زيادة على الأحاديث، وربما اختصرت الحديث الطويل؛ لأني لو كتبته بطوله لم يعلم بعض من سمعه المراد منه، ولا يفهم موضع الفقه منه، فاختصرته لذلك.
يكفي.
আবুল হাসান আল-জাজারি -ইবনুল আসির- ‘তাহজিবুল আনসাব’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘আল-বাত্তি’ (এক নুকতা বিশিষ্ট ‘বা’ বর্ণের ফাতহা এবং ‘তা’ বর্ণের তাশদিদ সহযোগে), এটি ‘বাত্তাহ’-এর দিকে একটি নিসবত বা সম্বন্ধ। এটি তাদের কোনো এক পূর্বপুরুষের লকব বা উপাধি ছিল, আবার হাঁস বিক্রির পেশার দিকেও এটি সম্পৃক্ত হতে পারে। প্রথমজন হলেন ইবনে বাত্তাহ আল-উকবারী আল-বাত্তি, তিনি হাম্বলী ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে। তিনি তিনশ সাতাশি হিজরীর মহরম মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আর আমাদের পরিচিত আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকি ও অন্যান্যরা; তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তবে তিনি নাজ্জারিয়া মাযহাবের আকিদাহ পোষণ করতেন। আমরা আল্লাহর কাছে এই বিভ্রান্তি থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। তিনি তিনশ চুয়াত্তর হিজরীর শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলছেন: সম্ভবত এটি কোনো সংশয় অথবা মুদ্রণজনিত ভুল, কারণ মুদ্রিত কপিটি আমার কাছে সহজলভ্য নয়।
আয-যাহাবি ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি পাঁচশ চৌষট্টি হিজরীর সাতাশে জুমাদাল উলা রোজ বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন। অর্থাৎ সময়ের ব্যবধান দুই শতাব্দী।
‘তাকমিলাতুল ইকমাল’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: অনুচ্ছেদ—‘আল-বাত্তি’ এবং হামজা যোগে ‘আল-বাত্তিই’। প্রথমটি ‘বা’ বর্ণের ফাতহা এবং নুকতাহীন ‘তা’ বর্ণের তাশদিদ সহযোগে; তিনি হলেন আবুল ফাতহ... শেষ পর্যন্ত, আমাদের পরিচিত ব্যক্তি এবং তাঁর দ্বিতীয় ভাই। প্রথমজন ‘আল-বাত্তি’ এবং দ্বিতীয়জন ‘আল-বাত্তিই’। তাঁদের মধ্যে কি কারো কথা উল্লেখ করা হয়নি? অর্থাৎ উল্লেখ করা হয়েছে তবে আমাদের জন্য তার প্রয়োজন নেই। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে শব্দটি তাশদিদ সহযোগে হবে।
শুরু করুন।
আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের উপর।
হে আল্লাহ, আমাদের শাইখকে ক্ষমা করুন, আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, শ্রোতাদের ক্ষমা করুন।
গ্রন্থকার -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- বলেছেন:
অতঃপর: আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদেরকে এমন নিরাপত্তা দান করুন যার সাথে কোনো অপ্রীতিকর বিষয় থাকবে না এবং যার পরে কোনো শাস্তি নেই। আপনারা জানতে চেয়েছেন যে, ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে আমি যে হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি, সেগুলো কি সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আমার জানামতে সবচেয়ে সহিহ? আমি আপনাদের করা সকল প্রশ্নের বিষয় অবগত হয়েছি। জেনে রাখুন: বিষয়টি ঠিক তেমনই, তবে যদি একই হাদিস দুটি সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয় এবং একটির সনদ অধিকতর মজবুত হয় আর অপরটির বর্ণনাকারী মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে অধিক অগ্রসর হয়, তবে কখনও কখনও আমি সেটি লিখেছি। আমার কিতাবে এই ধরনের হাদিস দশটিও নেই। আমি কোনো অধ্যায়ে মাত্র একটি বা দুটি হাদিস লিখেছি, যদিও সেই অধ্যায়ে আরও সহিহ হাদিস বিদ্যমান ছিল; কারণ এর সংখ্যা অনেক। আমি কেবল এর উপকারিতা সহজতর করতে চেয়েছি। যখন আমি একই অধ্যায়ে একটি হাদিস দুই বা তিন সূত্রে পুনরাবৃত্তি করি, তখন তা মূলত সেখানে থাকা অতিরিক্ত কোনো কথার কারণে। কখনও কখনও কোনো হাদিসে অন্য হাদিসের তুলনায় অতিরিক্ত একটি শব্দ থাকে। আবার কখনও আমি দীর্ঘ হাদিসকে সংক্ষেপ করেছি; কারণ আমি যদি সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে লিখতাম, তবে কোনো কোনো শ্রোতা এর উদ্দেশ্য বুঝতে পারতেন না এবং এর মধ্যকার ফিকহি বিষয়টি অনুধাবন করতে সক্ষম হতেন না। একারণেই আমি তা সংক্ষেপ করেছি।
যথেষ্ট।