(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: -)
ميلاد مجتمع   (مالك بن نبي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: ميلاد مجتمع

المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)

ترجمة: ترجمة عبد الصبور شاهين

الناشر: دار الفكر - الجزائر / دار الفكر دمشق - سورية

الطبعة: الثالثة، 1406 هـ - 1986م

عدد الصفحات: 124

أعده للشاملة: العبد الضعيف الراجي عفو ربه: أبو ياسر الجزائري.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 22 ذو الحجة 1432

একটি সমাজের জন্ম   (মালেক বিন নবী)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


বই: একটি সমাজের জন্ম

লেখক: মালেক বিন আল-হাজ্জ উমর বিন আল-খিজির বিন নবী (মৃ. ১৩৯৩ হি.)

অনুবাদ: আবদুস সবুর শাহীন কর্তৃক অনূদিত

প্রকাশক: দারুল ফিকর - আলজেরিয়া / দারুল ফিকর দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৬ হি. - ১৯৮৬ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৪

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: তার রবের ক্ষমার প্রত্যাশী দুর্বল (ضعيف) বান্দা: আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি.

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২২ জিলহজ ১৪৩২

(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي

 

ميلاد مجتمع

شبكة العلاقات الاجتماعية

 

ترجمة عبد الصبور شاهين

بإشراف ندوة مالك بن نبي

 

دار الفكر الجزائر

دار الفكر دمشق - سورية
মালেক বিন নবী

 

একটি সমাজের জন্ম

সামাজিক সম্পর্কের জাল

 

অনুবাদ: আবদুস সবুর শাহীন

মালেক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে

 

দারুল ফিকর, আলজেরিয়া

দারুল ফিকর, দামেস্ক - সিরিয়া
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৩)
مالك بن نبي

 

مشكلات الحضارة

ميلاد مجتمع

 

الجزء الأول

شبكة العلاقات الاجتماعية

ترجمة عبد الصبور شاهين

بإشراف ندوة مالك بن نبي

 

دار الفكر الجزائر

دار الفكر دمشق - سورية
মালেক বিন নবী

 

সভ্যতার সংকটসমূহ

একটি সমাজের জন্ম

 

প্রথম খণ্ড

সামাজিক সম্পর্কের নেটওয়ার্ক

অনুবাদ: আবদুস সবুর শাহীন

মালেক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে

 

দারুল ফিকর, আলজেরিয়া

দারুল ফিকর, দামেস্ক - সিরিয়া
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الثالثة 1406 هـ - 1986م
তৃতীয় সংস্করণ ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

في عام 1971م ترك أستاذنا مالك بن نبي- رحمه الله في المحكة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 275/ 67 في 16 ربيع الثاني 1391 الموافق 10 حزيران 1971م، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والمادبية.

وتحملاً مني لهذه الرسالة، ووفاءً لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذا لوصية المؤلف (ندوة مالك بن نبي).

وهي مشروع نطرحه كنواة لعلاقات فكرية، كان رحمه الله يرغب في توثيقها.

وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية أو غيرها مترجماً من قبل المترجمين أو غير مترجم. فقد حمّلني- رحمه الله مسؤولية حفظ هذه الحقوق، والإذن بنشر كتبه. فإن وجدت طبعات لم تذكر فيها إشارة إلى إذن صادر من قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.

 

طرابلس لبنان

18 ربيع الأول 1399هـ

15 شباط (فبراير) 1979م

عمر مسقاوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—লেবাননের ত্রিপোলির শরীয়াহ (شرعية) আদালতে একটি অসিয়তনামা (وصية) রেখে গেছেন, যা ১৩৯১ হিজরির ১৬ই রবিউস সানি মোতাবেক ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ১০ই জুন ২৭৫/৬৭ নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছিল। এতে তিনি আমাকে তাঁর গ্রন্থরাজির বুদ্ধিবৃত্তিক ও বস্তুগত স্বত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।

এই আমানতের ভার বহন করে এবং সেই মজলিসগুলোর প্রতি আনুগত্য স্বরূপ—যা আমাদের চিন্তার তৃষ্ণায় স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি দান করেছিল—আমি লেখকের অসিয়তনামা (وصية) বাস্তবায়নে যা কিছু প্রকাশিত হবে তার নামকরণ করেছি 'মালিক বিন নবী মজলিস' (ندوة مالك بن نبي)।

এটি একটি প্রকল্প যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করছি, যা তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সুদৃঢ় (توثيق) করতে চেয়েছিলেন।

আমি মালিকের বন্ধু এবং পাঠকদের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন আরবি বা অন্য যেকোনো ভাষায় অনুবাদকদের দ্বারা অনূদিত বা মৌলিকভাবে প্রকাশিত লেখকের সর্বপ্রকার স্বত্ব সংরক্ষণে আমাদের সহায়তা করেন। তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—আমাকে এই অধিকারগুলো রক্ষা করার এবং তাঁর বই প্রকাশের অনুমতি (إذن) প্রদানের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। যদি এমন কোনো সংস্করণ পাওয়া যায় যেখানে আমাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত অনুমতির (إذن) কোনো উল্লেখ নেই, তবে সেসব সংস্করণ অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং আমরা অনুরোধ করছি যেন এ সম্পর্কে আমাদের অবহিত করা হয়।

 

ত্রিপোলি, লেবানন

১৮ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি

১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ

ওমর মিসকাউই
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌مقدمة

هذه الدراسة جزء من العمل الذي نقوم بنشره تحت العنوان العام: (ميلاد مجتمع).

ولكن لها بالنسبة إلى هذا العمل صفة خاصة، حبذت لدينا نشرها منفصلة تحت عنوان فرعي هو: (شبكة العلاقات الاجتماعية).

وهي تشمل في الواقع بمقتضى هذا العنوان وبصورة منهجية، المفاهيم النظرية التي ترجع إليها العناصر التاريخية الخاصة بـ (ميلاد مجتمع).

وقد بدا لنا من الضروري أن نفسر أولاً هذه الظاهرة عامة، قبل أن نعرضها بالنسبة للمجتمع الإسلامي خاصة.

وهذا يسمح لنا أن نحدد في هذه الدراسة، شأن ما يحدث في مدخل أية دراسة، المصطلحات المستخدمة، وخاصة مفهوم لفظة (مجتمع) ذاتها. ونعتقد أننا بهذا قد استجبنا لرغبة القارئ العربي والمسلم، في الوقت الذي يحاول فيه أن يدخل إلى مسرح التاريخ، بعد أن تخطى أزمة تاريخه الكبرى، الأزمة التي نعرفها، والتي تتجلى في سباته المتطاول خلال القرون الأخيرة. فهو يحاول أن يؤدي نشاطه المشترك من جديد كما سبق أن فعل يوم كان ممسكاً بمشعل الحضارة.

إننا نريد أن نعطي للقارئ العربي والمسلم فرصة التأمل في هذه المرحلة من تاريخ المجتمع، حين يولد، أو حين ينهض، وذلك بأن نريه أن النهضة الحقة تقع في ظاهرة اجتماعية عبر عنها النبي صلى الله عليه وسلم في حديثه المشهور: "لا يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها".

القاهرة في 11 من نيسان (إبريل) عام 1962 م

م. ب. ن
ভূমিকা

এই অধ্যয়নটি সেই কর্মের অংশ যা আমরা সাধারণ শিরোনাম: (একটি সমাজের জন্ম) এর অধীনে প্রকাশ করছি।

তবে এই কর্মের সাপেক্ষে এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার কারণে আমাদের নিকট এটিকে (সামাজিক সম্পর্কের জাল) নামক একটি উপ-শিরোনামের অধীনে আলাদাভাবে প্রকাশ করা সমীচীন মনে হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে এই শিরোনামের দাবি অনুযায়ী এবং পদ্ধতিগতভাবে, এটি সেই তাত্ত্বিক ধারণাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে যেগুলোর দিকে (একটি সমাজের জন্ম) সংক্রান্ত ঐতিহাসিক উপাদানগুলো প্রত্যাবর্তন করে।

এবং আমাদের কাছে এটি প্রয়োজনীয় মনে হয়েছে যে, বিশেষ করে মুসলিম সমাজের প্রেক্ষাপটে এটি উপস্থাপনের আগে প্রথমে এই সাধারণ পরিপঞ্চটি সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা।

এটি আমাদের এই অধ্যয়নে, যে কোনো গবেষণার উপক্রমণিকার মতোই, ব্যবহৃত পরিভাষাগুলো সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ দেয়, বিশেষ করে (সমাজ) শব্দটির নিজস্ব ধারণাটি। আমরা বিশ্বাস করি যে, এর মাধ্যমে আমরা আরব ও মুসলিম পাঠকের আকাঙ্ক্ষায় সাড়া দিতে পেরেছি, এমন এক সময়ে যখন তিনি ইতিহাসের মঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, তাঁর ইতিহাসের সেই মহাক্রান্তিকাল অতিক্রম করার পর—যে সংকট সম্পর্কে আমরা জানি এবং যা গত কয়েক শতাব্দী ধরে তাঁর সুদীর্ঘ সুপ্তাবস্থার মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয়েছে। তিনি তাঁর যৌথ কর্মকাণ্ড নতুন করে পরিচালনা করার চেষ্টা করছেন, ঠিক যেমনটি তিনি করেছিলেন সেই দিনগুলোতে যখন সভ্যতার মশাল তাঁর হাতে ছিল।

আমরা আরব ও মুসলিম পাঠককে সমাজের ইতিহাসের এই পর্যায়টি—যখন একটি সমাজ জন্ম নেয় বা যখন এটি পুনর্জাগরিত হয়—তা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ দিতে চাই। আর তা এভাবে যে, আমরা তাঁকে দেখাতে চাই যে প্রকৃত পুনর্জাগরণ একটি সামাজিক পরিপঞ্চের মধ্যে নিহিত, যা নবী (সা.) তাঁর সুপ্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসে ব্যক্ত করেছেন: "এই উম্মতের শেষাংশ কেবল তা দ্বারাই সংশোধিত হবে, যা দ্বারা এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল।"

কায়রো, ১১ই এপ্রিল, ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ

এম. বি. এন.
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌أوليّات

لم تبلغ العلوم الإنسانية بعد درجة تحديد مصطلحاتها عامة، كما حدث للعلوم الطبيعية، فإن في علم الاجتماع بعض المفاهيم التي تبدو أحياناً غير محددة في ذهن القارئ في البلاد الإسلامية، حيث نجد أن اللغات المحلية لا تتمثل تماماً المصطلحات الحديثة.

وقد يؤدي تعقد المصطلحات إلى مناقشات أقرب إلى الطابع الأدبي منها إلى منطق العلم، كتلك المناقشة التي ثارت وتثور غالباً حول مصطلحي حضارة، ومدنية في البلاد العربية. بيد أن هذه المناقشات لا تعين على جلاء الموضوع، بل تجعله أكثر صعوبة.

فمن المفيد إذن أن ننشئ أولاً الإطار النظري لموضوعنا (ميلاد مجتمع) قبل أن نعالجه من زاويته التاريخية. وهكذا نجد من المناسب أن نذكر في مستهل دراستنا تنوع الظواهر الاجتماعية، التي تنطبق عليها لفظة مجتمع، فنذكر أولاً الفرق الجوهري بين (المجتمع الطبيعي) أو البدائي، وهو الذي لم يعدّل، بطريقة مُحَسَّة، المعالم التي تجدد شخصيته منذ كان، وبين المجتمع التاريخي الذي ولد في ظروف أولية معينة؛ ولكنه عدّل من بعد، صفاته الجذرية ابتداء من هذه الحالة الأولية، طبقاً لقانون تطوره.

وـ[النوع الأول]ـ يحقق نموذج المجتمع الساكن ذي المعالم الثابتة، كالمجتمعات الموجودة في مستعمرة النمل أو النحل. والقبيلة الإفريقية في عصر ما قبل الاستعمار، والقبيلة العربية في العصر الجاهلي تمثلان هذا النموذج.
প্রাথমিক বিষয়সমূহ

প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ন্যায় মানবীয় বিজ্ঞানসমূহ এখনো সাধারণত পরিভাষা নির্ধারণের সেই স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সমাজবিজ্ঞানের কিছু ধারণা কখনো কখনো মুসলিম দেশগুলোর পাঠকদের নিকট অস্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়; কারণ স্থানীয় ভাষাগুলো আধুনিক পরিভাষাগুলোকে পুরোপুরি ধারণ করতে সক্ষম নয়।

পরিভাষার এই জটিলতা কখনো কখনো বৈজ্ঞানিক যুক্তির চেয়ে বিষয়টিকে সাহিত্যিক বিতর্কের রূপ দান করে; যেমনটা আরব দেশগুলোতে ‘সভ্যতা’ ও ‘নাগরিকতা’ নামক পরিভাষা দুটি নিয়ে প্রায়শই বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে এই বিতর্কগুলো বিষয়টি স্পষ্ট করতে সহায়তা করার পরিবর্তে বরং একে আরও দুরূহ করে তোলে।

সুতরাং, আমাদের আলোচ্য বিষয় ‘একটি সমাজের জন্ম’-কে এর ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণের পূর্বে একটি তাত্ত্বিক কাঠামো প্রস্তুত করা ফলপ্রসূ হবে। তাই আমাদের অধ্যয়নের শুরুতে সেই সামাজিক প্রপঞ্চগুলোর বৈচিত্র্য উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি যার ওপর ‘সমাজ’ শব্দটি প্রযুক্ত হয়। প্রথমত আমরা ‘প্রাকৃতিক সমাজ’ বা আদিম সমাজ—যা সূচনালগ্ন থেকে তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ দৃশ্যত পরিবর্তন করেনি—এবং ‘ঐতিহাসিক সমাজ’—যা নির্দিষ্ট কিছু প্রাথমিক পরিস্থিতিতে জন্ম নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে বিবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী সেই প্রাথমিক অবস্থা থেকে স্বীয় মৌলিক গুণাবলিকে পরিবর্তিত করেছে—এই দুইয়ের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য বর্ণনা করব।

প্রথম প্রকারটি স্থির বৈশিষ্ট্যের একটি সমাজের আদর্শ তুলে ধরে, যেমনটা পিঁপড়া বা মৌমাছির কলোনিতে দেখা যায়। উপনিবেশবাদ-পূর্ব আফ্রিকার গোত্র এবং জাহেলি যুগের আরব গোত্রগুলো এই নমুনার প্রতিনিধিত্ব করে।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৮)
أما ـ[النوع الثاني]ـ فإنه يحقق النموذج المتحرك، أعني المجتمع الذي يخضع لقانون التغيير، الذي يعدل معالمه هن جذورها.

ومع ذلك فهذا النوع ليس وحيد الصورة، فهو يتنوع من جهة طريقة نشاته، ومن جهة شكل بنائه.

والواقع أن المجتمع التاريخي يمكن أن ينشأ بطريقتين:

فهو إما أن يتركب ابتداء من مواد جديدة، أي من مواد لم تتعرض لأي تغيير تاريخي سابق، فهو يستنفد هذه المواد، في الحالة التي تكون عليها في الطبيعة، وبهذه الطريقة نشأت المجتمعات التاريخية الأولى، إبان الثورة الزراعية في العمر الحجري الجديد.

ولكن هذا النوع قد يتكون أيضاًً من عناصر استخدمت في مجتمع تاريخي سابق، تحولت عناصره المكونة له، بسبب تقادمه أو انبساط رقعته، إلى عناصر مهيأة للاستخدام في مجتمع جديد.

وقد تكون الاستعارة في صورة هجرة تنزع هذه العناصر من المجتمع الأم، كالهجرة التي كونت المجتمع الأمريكي الحالي، وهو المجتمع الذي تكون من عناصر قدمها له مجتمع متحضر في حالة توسعه، هو المجتمع الأوربي في القرن السادس عشر، وكالهجرة التي كونت مجتمع الأسكيمو الذي انتزِعت عناصره المكونة له من المجتمعات المغولية الصينية في الشرق الأقصى.

وقد تكون الاستعارة في صورة أخرى عندما تكون الحالة إعادة تركيب أنقاض مجتمع أو مجتمعات اختفت، ومن أمثلة ذلك أن المجتمع الروماني امتص في جيل بنائه كثيراً من المجتمعات التي اختفت، مثل المجتمع الغالي بعد معركة (أليزيا Alesia) والمجتمع القرطاجني Carthaginoise بعد معركة (زاما)، والمجتمع المصري بعد انتصار القيصر على (يومي) .. الخ.
দ্বিতীয় প্রকারের [النوع الثاني] ক্ষেত্রে এটি গতিশীল আদর্শকে বাস্তবায়ন করে, অর্থাৎ আমি সেই সমাজকে বুঝাচ্ছি যা পরিবর্তনের নিয়মের অধীন, যা তার মূল শিকড় থেকে এর রূপরেখাকে পরিবর্তন করে।

তদসত্ত্বেও, এই প্রকারটি কেবল একরৈখিক নয়; বরং এটি এর উৎপত্তির পদ্ধতি এবং এর কাঠামোর রূপভেদে বৈচিত্র্যপূর্ণ।

বাস্তবতা হলো, ঐতিহাসিক সমাজ দুইভাবে উদ্ভূত হতে পারে:

হয় এটি একেবারেই নতুন উপাদান থেকে গঠিত হয়, অর্থাৎ এমন উপাদান যা ইতিপূর্বে কোনো ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হয়নি। এটি উপকরণগুলোকে প্রকৃতির আদিম অবস্থা থেকেই গ্রহণ করে। এই পদ্ধতিতেই নব্যপ্রস্তর যুগের কৃষি বিপ্লবের সময়কালে প্রাথমিক ঐতিহাসিক সমাজগুলো গড়ে উঠেছিল।

আবার এই প্রকারটি এমন সব উপাদান থেকেও গঠিত হতে পারে যা পূর্ববর্তী কোনো ঐতিহাসিক সমাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই সমাজের প্রাচীনত্ব কিংবা তার ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে তার গঠনকারী উপাদানগুলো একটি নতুন সমাজে ব্যবহারের উপযোগী উপাদানে রূপান্তরিত হয়েছে।

এই গ্রহণপ্রক্রিয়া অভিবাসনের রূপ নিতে পারে যা মূল সমাজ থেকে এই উপাদানগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে আসে, যেমন বর্তমান আমেরিকান সমাজ গঠনকারী অভিবাসন। এই সমাজটি মূলত এমন সব উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত যা ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপীয় সমাজ তার প্রসারণের সময় প্রদান করেছিল। ঠিক তেমনি এস্কিমো সমাজ গঠনকারী অভিবাসন, যার উপাদানগুলো দূরপ্রাচ্যের মঙ্গোলীয়-চীন সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে এসেছিল।

এই গ্রহণপ্রক্রিয়া ভিন্ন রূপও ধারণ করতে পারে যখন বিষয়টি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কোনো সমাজ বা সমাজসমূহের ধ্বংসাবশেষ থেকে পুনর্গঠনের পর্যায়ে পড়ে। এর উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রোমান সমাজ তার বিনির্মাণকালে অনেক বিলুপ্ত সমাজকে নিজের মাঝে একীভূত করে নিয়েছিল; যেমন আলেসিয়া (Alesia) যুদ্ধের পর গল সমাজ, জামা (Zama) যুদ্ধের পর কার্থেজীয় সমাজ এবং পম্পের (Pompey) বিরুদ্ধে সিজারের বিজয়ের পর মিশরীয় সমাজ ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ৯)
بيد أنه مهما تكن طريقة البناء فإن ظهور مجتمع تاريخي ليس حدثاً عرضياً، بل هو نتيجة عملية تغيير مطرَدة يشترك فيها المجتمع الذي يستعير، والآخر الذي يقدم العارية، هذه العملية تتم طبقاً لتخطيط نظري عام يشتمل بالضرورة على الجوانب الآتية:

أولاً: المصدر التاريخي لعملية التغيير المطردة.

ثانياً: المواد التي تمر بتأثير هذا التغيير من حالتها قبل الاجتماعية، مروراً يمكن معه أن تحوزها اليد المغيرة إلى حالتها الاجتماعية الجديدة.

ثالثاً: القواعد العامة أو القوانين التي تتحكم في هذا التغيير.

فمن الزاوية الأولى نجد أن النموذج التاريخي من المجتمعات يتعرض أيضاً للتنوع الناشئ عن الظرف التاريخي الذي يتيح له ميلاده. وهناك من هذه الزاوية نوعان من المجتمع:

أ - المجتمع التاريخي الذي يولد، فيكون ميلاده إجابة عن اختيار مفروض، تفرضه الظروف الطبيعية الخاصة بالوسط الذي يولد فيه، سواء تعرض هذا الوسط لتنوع مفاجئ، أم أن العناصر المكونة له قد واجهت فجأة ظروف وسط طبيعي جديد:

ـ[وهذا هو النموذج الجغرافي]ـ.

ب - المجتمع التاريخي الذي يرى النور تلبية لنداء فكرة:

ـ[وهذا هو النموذج الفكري (الإيديولوجي)]ـ.

وينتمي المجتمع الأمريكي إلى النوع الأول، إذ هو ثمرة هجرة أوربية، اضطرت إلى أن تتكيف مع الظروف الطبيعية في القارة الجديدة. ولقد عرضت على الشاشة قصة الاختبار الذي منح هذا المجتمع ميلاده، في صورة أفلام تناولت
তবে সমাজ বিনির্মাণের পদ্ধতি যাই হোক না কেন, একটি ঐতিহাসিক সমাজের উদ্ভব কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি একটি নিরন্তর পরিবর্তন প্রক্রিয়ার ফল, যাতে গ্রহণকারী সমাজ এবং ঋণ প্রদানকারী সমাজ উভয়েই অংশগ্রহণ করে। এই প্রক্রিয়াটি একটি সাধারণ তাত্ত্বিক পরিকল্পনার অধীনে সম্পন্ন হয় যা আবশ্যিকভাবে নিম্নোক্ত দিকগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথমত: নিরন্তর পরিবর্তন প্রক্রিয়ার ঐতিহাসিক উৎস।

দ্বিতীয়ত: সেই সব উপাদান যা এই পরিবর্তনের প্রভাবে তাদের প্রাক-সামাজিক অবস্থা থেকে বিবর্তিত হয়ে পরিবর্তনকারী শক্তির মাধ্যমে নতুন সামাজিক অবস্থায় রূপান্তরিত হয়।

তৃতীয়ত: সাধারণ নীতিমালা বা আইনসমূহ যা এই পরিবর্তনকে নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রথম প্রেক্ষিত থেকে আমরা দেখতে পাই যে, সমাজের ঐতিহাসিক মডেলগুলো সেই ঐতিহাসিক পরিস্থিতির কারণে বৈচিত্র্যময় হয়, যা তার জন্মলগ্নকে সম্ভব করে তোলে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজ দুই প্রকারের হয়ে থাকে:

ক - ঐতিহাসিক সমাজ যা একটি আরোপিত পছন্দের উত্তর হিসেবে জন্ম নেয়; যা তার জন্মস্থানের বিশেষ প্রাকৃতিক পরিবেশ দ্বারা আরোপিত হয়। সেই পরিবেশ কোনো আকস্মিক পরিবর্তনের সম্মুখীন হোক কিংবা তার গঠনকারী উপাদানগুলো হঠাৎ কোনো নতুন প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিস্থিতির মুখোমুখি হোক:

—[আর এটিই হলো ভৌগোলিক মডেল]—।

খ - ঐতিহাসিক সমাজ যা কোনো একটি চিন্তাধারার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আলোর মুখ দেখে:

—[আর এটিই হলো চিন্তাগত বা আদর্শিক (ইডিওলজিক্যাল) মডেল]—।

আমেরিকান সমাজ প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি ইউরোপীয় হিজরতের ফসল যা নতুন মহাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। এই সমাজের জন্মদানকারী সেই পরীক্ষার কাহিনীটি রূপালী পর্দায় বিভিন্ন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে যা...
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১০)
موضوعاتها حياة الناس في أقصى الغرب الأمريكي ( Far-West)، وفي شخص البطل (بوفالوبيل). تلك الأفلام التي غذت خيال الجيل السابق في أوربا، وألهمته أن يختار ملابس رعاة البقر، زياً رسمياً لحركات الكشافة.

أما النموذج الثاني فإليه ينتمي المجتمع الإسلامي، كما ينتمي إليه المجتمع الأوربي الأصلي، وهو الذي يعد بصورة عامة ثمرة للفكرة المسيحية.

ويمكن أن نعد المجتمع السوفييتي اليوم والمجتمع الصيني من هذا النوع.

وفضلاً عن هذا التنوع ذي الطابع التارخي المتصل بمنشأ المجتمع، فإن من الواجب أن نلاحظ أيضاً وجود تنوع ذي طابع تشكيلي يتصل ببناء المجتمع. وينبغي من هذه الوجهة أن نميز المجتمات التي يقوم بناؤها على طوابق كثيرة، عن المجتمعات ذات الحجر الواحد أو الطابق الواحد.

والمجتمع الإسلامي الذي يعد خاصة موضوع دراستنا، هو من النموذج ذي الحجر الواحد، أعني أن بناءه قد اتخذ صورة واحده تتفق كثيراً أو قليلاً مع الحديث المشهور:

«الْمُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِ كَالْبُنْيَانِ يَشُدُّ بَعْضُهُ بَعْضًا».

وهو الحديث الذي يعطي الصورة الدقيقة التي كان عليها المجتمع الإسلامي في عهد النبي صلى الله عليه وسلم.

وهذا التحديد الذي نضعه للمجتمع الإسلامي، لا علاقة له بالحركة المذهبية التي قسمته خلال التاريخ إلى مدارس أو طوائف. فهو تحديد مجتمع ديمقراطي يحتفظ في اتجاهاته، إن لم يكن في مؤسساته، بجوهر الديمقراطية، أعني أنه كان مجتعاً بلا طبقاًت.

والتجربة الراهنة في الجمهورية العربية المتحدة هي في الواقع محاولة لإعادة التعبير عن هذا الجوهر في صورة حديثة.
এর বিষয়বস্তু হলো সুদূর মার্কিন পশ্চিমের (Far-West) মানুষের জীবন এবং নায়ক বাফেলো বিল (Buffalo Bill)-এর ব্যক্তিত্ব। সেই চলচ্চিত্রগুলো ইউরোপের পূর্ববর্তী প্রজন্মের কল্পনাকে সমৃদ্ধ করেছিল এবং তাদের স্কাউট আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক পোশাক হিসেবে কাউবয়দের পোশাক বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল।

আর দ্বিতীয় মডেলটির অন্তর্ভুক্ত হলো মুসলিম সমাজ, যেমনটি আদি ইউরোপীয় সমাজও এর অন্তর্ভুক্ত; যা সাধারণত খ্রিস্টীয় চিন্তাধারার ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়।

আমরা বর্তমানের সোভিয়েত সমাজ এবং চীনা সমাজকেও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করতে পারি।

সমাজের উৎপত্তির সাথে সম্পৃক্ত এই ঐতিহাসিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি আমাদের গঠনগত বৈচিত্র্যের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা উচিত, যা সমাজের কাঠামোর সাথে সম্পৃক্ত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের সেইসব সমাজকে পৃথক করা উচিত যেগুলোর কাঠামো বহুস্তরবিশিষ্ট, সেইসব সমাজ থেকে যেগুলো একক কক্ষ বা একক স্তরবিশিষ্ট।

আর মুসলিম সমাজ, যা বিশেষভাবে আমাদের অধ্যয়নের বিষয়, তা হলো একক কক্ষবিশিষ্ট মডেলের অন্তর্ভুক্ত; অর্থাৎ এর কাঠামো এমন একটি রূপ পরিগ্রহ করেছে যা প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিসের সাথে কম-বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ:

«একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য একটি ইমারত সদৃশ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে।»

আর এটি এমন এক হাদিস যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মুসলিম সমাজ যে অবস্থায় ছিল তার একটি নির্ভুল চিত্র তুলে ধরে।

মুসলিম সমাজের জন্য আমরা যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করছি, তার সাথে সেই মাযহাবগত আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই যা ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে সমাজকে বিভিন্ন মতাদর্শ বা উপদলে বিভক্ত করেছে। বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সংজ্ঞা যা তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপে না হলেও অন্তত তার লক্ষ্য ও আদর্শে গণতন্ত্রের মূল নির্যাসকে ধারণ করে; অর্থাৎ এটি ছিল এমন এক সমাজ যেখানে কোনো শ্রেণীভেদ ছিল না।

সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্রের বর্তমান অভিজ্ঞতা মূলত এই মূল নির্যাসকে একটি আধুনিক রূপে পুনরায় প্রকাশ করারই একটি প্রচেষ্টা।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১১)
أما المجتمع البرهمي، فهو على العكس من ذلك، نموذج للمجتمع المبني على طوابق، المجتمع المنقسم إلى طوائف متراكبة، حتى في داخل البناء الاجتماعي في الهند الحديثة، على الرغم من جهود غاندي.

والمجتمع الأوربي في القرن التاسع عشر، يقدم لنا مثالاً آخر للتراكب الاجتماعي بين الطبقاًت المختلفة التي كان يتألف منها.

فهذه إذن طائفة من الأمثلة على التنوع التاريخي أو التشكيلي في المجتمع الذي ندرسه. بيد أن في هذه الأمثلة جميعاً عدداً من الخصائص المشتركة. فالمجتمع - أيا كان نموذجه التاريخي أو التشكيلي- ليس مجرد جمع لعناصر، أو أشخاص، تدعوهم غريزة الجماعة إلى أن يتكتلوا في إطار اجتماعي معين.

هذه الغريزة وسيلة لإنشاء المجتمع، وليست سبباً في إنشائه، إذ يضم المجتمع ما هو أكثر من مجرد مجموعة من الأفراد الذين يؤلفون صورته، يضم عدداً من الثوابت التي يدين لها بدوامه، وبتحديد شخصيته في صورة مستقلة تقريباً عن أفراده.

ويمكن أن نفصل الأمر بطريقتين:

أ - فقد يحدث في بعض الظروف التاريخية أن يفقد مجتمع ما شخصيته ويمحى من التاريخ، ومع ذلك فإن عدد أفراده قد لا يتغير في هذه الحالة، بل يحتفظ كل فرد بغريزة العيش في جماعة، وهي الغريزة التي تحدد معالم الإنسان بوصفه كائناً اجتماعياً، وإنما أصبح الأفراد مجرد أنقاض لمجتمع بائد، أنقاض مهيأة لأن تدخل في بناء جسد اجتماعي جديد.

ففي أعقاب معركة (أليزيا Alésia) اختفى المجتمع الغالي، ولكن الغال أفرادا لم يختفوا، بل تحولوا إلى مواد مهيأة للدخول في بناء جسد اجتماعي آخر، هو المجتمع الروماني.
অন্য দিকে ব্রাহ্মণ সমাজ এর বিপরীত; তা হলো স্তরভিত্তিক সমাজের একটি নমুনা, যা পরস্পর অধিশায়িত বিভিন্ন বর্ণে বিভক্ত। মহাত্মা গান্ধীর প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আধুনিক ভারতের সামাজিক কাঠামোর ভেতরেও এটি বিদ্যমান।

ঊনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপীয় সমাজও আমাদের সামনে বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়ে গঠিত সামাজিক স্তরবিন্যাসের আরেকটি উদাহরণ উপস্থাপন করে।

সুতরাং, আমরা যে সমাজ সম্পর্কে অধ্যয়ন করছি, তাতে ঐতিহাসিক বা কাঠামোগত বৈচিত্র্যের এটি একটি দৃষ্টান্তমালা। তবে এই সবকটি উদাহরণের মধ্যেই কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। সমাজ—তার ঐতিহাসিক বা কাঠামোগত ধরন যাই হোক না কেন—কেবল কিছু উপাদানের বা ব্যক্তির সমষ্টি নয়, যাদের যূথবদ্ধ হওয়ার প্রবৃত্তি একটি নির্দিষ্ট সামাজিক কাঠামোর অধীনে ঐক্যবদ্ধ হতে প্ররোচিত করে।

এই প্রবৃত্তি সমাজ গঠনের একটি মাধ্যম মাত্র, সমাজ সৃষ্টির মূল কারণ নয়। কেননা সমাজ তার অবয়ব গঠনকারী একদল মানুষের সমষ্টির চেয়েও গভীরতর কিছু ধারণ করে। এতে এমন কিছু স্থায়িত্বশীল মূলনীতি বিদ্যমান, যার বদৌলতে সমাজ স্থায়িত্ব লাভ করে এবং নিজের সদস্যদের থেকে প্রায় স্বতন্ত্র একটি স্বতন্ত্র সত্তা বা পরিচিতি লাভ করে।

আমরা বিষয়টি দুইভাবে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি:

ক - কোনো কোনো ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে এমন হতে পারে যে, কোনো সমাজ তার নিজস্ব সত্তা হারিয়ে ফেলে এবং ইতিহাস থেকে মুছে যায়। তা সত্ত্বেও সেই সমাজে ব্যক্তির সংখ্যা হয়তো অপরিবর্তিত থাকে। বরং প্রত্যেক ব্যক্তিই যূথবদ্ধভাবে জীবনযাপনের প্রবৃত্তি ধারণ করে; আর এই প্রবৃত্তিই সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। এমতাবস্থায় ব্যক্তিবর্গ কেবল এক বিলুপ্ত সমাজের ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়—যে ধ্বংসাবশেষ নতুন কোনো সামাজিক কাঠামো বিনির্মাণে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।

যেমন ‘আলিসিয়া’ (Alésia) যুদ্ধের পর গলীয় সমাজ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল; কিন্তু গলীয় ব্যক্তিবর্গ হারিয়ে যাননি। বরং তারা অন্য একটি সামাজিক কাঠামো অর্থাৎ রোমান সমাজ গঠনে ব্যবহৃত উপাদানে পরিণত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১২)
ب - فإذا حدث أن اختفى الأفراد الذين يكونون مجتمعاً ما في نهاية جيل معين، فإن المجتمع يبقى، ويحتفظ بشخصية لا يمسها شيء، كما يحتفظ بدوره في التاريخ.

بل إنه يفرض على القادمين الجدد أنفسهم- حتى ولو كانوا أجانب- عبقريته وتقاليده وعاداته، وقد رأينا ذلك عندما ابتلع المجتمع الصيني قبائل المانشو والمغول، حين غزوا مملكة الصين.

فالمجتمع يحمل إذن في داخله الصفات الذاتية التي تضمن اسمراره، وتحفظ شخصيته ودوره عبر التاريخ.

وهذا العنصر الثابت هو المضمون الجوهري للكيان الاجتماعي، إذ هو الذي يحدد عمر المجتمع، واستقراره عبر الزمن، ويتيح له أن يواجه ظروف تاريخه جميعاً.

وهو الذي يتجسد في نهاية الأمر في شبكة العلاقات الاجتماعية، التي تربط أفراد المجتمع فيما بينهم، وتوجه ألوان نشاطم المختلفة في اتجاه وظيفة عامة، هي رسالة المجتمع الخاصة به.

فتكوُّن هذه الشبكة، ولو في مرحلة ابتدائية، هو الذي يعبر عن حدث (ميلاد مجتمع) في التاريخ.

***
খ - যদি এমন হয় যে, কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রজন্মের শেষে একটি সমাজ গঠনকারী ব্যক্তিবর্গ অদৃশ্য হয়ে যান, তবুও সমাজ টিকে থাকে এবং এমন এক স্বতন্ত্র সত্তা বজায় রাখে যা কোনো কিছুর দ্বারাই প্রভাবিত হয় না, ঠিক যেভাবে এটি ইতিহাসে তার ভূমিকা অক্ষুণ্ণ রাখে।

বরং এটি নবাগতদের ওপর—তারা বিদেশি হলেও—তার নিজস্ব মেধা, ঐতিহ্য এবং রীতিনীতি আরোপ করে। আমরা এটি প্রত্যক্ষ করেছি যখন চীনা সমাজ মাঞ্চু এবং মঙ্গোল উপজাতিদের আত্মস্থ করে নিয়েছিল, যখন তারা চীন সাম্রাজ্য আক্রমণ করেছিল।

সুতরাং, সমাজ তার অভ্যন্তরে এমন কিছু স্বকীয় গুণাবলী ধারণ করে যা তার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে এবং ইতিহাসের পরিক্রমায় তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও ভূমিকা রক্ষা করে।

এই স্থিতিশীল উপাদানটিই হলো সামাজিক অস্তিত্বের মৌলিক নির্যাস; কারণ এটিই সমাজের আয়ুষ্কাল এবং সময়ের আবর্তে তার স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করে এবং তাকে ইতিহাসের যাবতীয় পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সামর্থ্য প্রদান করে।

এটিই চূড়ান্ত পর্যায়ে সামাজিক সম্পর্কের সেই জালের মাধ্যমে মূর্ত হয়ে ওঠে, যা সমাজের সদস্যদের পরস্পরের মধ্যে আবদ্ধ করে এবং তাদের বিভিন্ন ধরনের কর্মতৎপরতাকে একটি সাধারণ উদ্দেশ্যের দিকে পরিচালিত করে, যা মূলত ওই সমাজের নিজস্ব লক্ষ্য বা আদর্শ।

সুতরাং এই জালের গঠন প্রক্রিয়া, তা প্রাথমিক স্তরে হলেও, ইতিহাসে 'একটি সমাজের জন্ম' নামক ঘটনাকে প্রতিফলিত করে।

***
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌النوع والمجتمع

حاولنا فيما سبق أن نحدد معنى المصطلح (مجتمع)، على الأقل من الوجهة التاريخية، التي تشمل أصول الكيان الاجتماعي ومن الوجهة التشكيلية التي تتصل ببنائه.

ونريد هنا أن نحدد الأمر من الوجهة الوظيفية، ولعل من نافلة القول أن نذكر أن مصطلح (مجتمع) في معناه البسيط- المعنى الأدبي الذي يعطيه القاموس- يعني: تجمع أفراد ذوي عادات متحدة، يعيشون في ظل قوانين واحدة، ولهم فيما بينهم مصالح مشتركة.

وهذا تحديد خارجي وصفي، لا يعطى أدنى تفسير (للوظيفة) التاريخية التي تناط بتجمع من هذا القبيل، كما أنه لا يفسر تنظيمه الداخلي، الذي قد يكون كفئاً لأداء مثل هذه الوظيفة.

فمن الضروري إذن أن نزيد في تحديد نطاق موضوعنا.

ولذا ينبغي أن نستبدل بالتحديد الوصفي المقدم في الفصل السابق تحديداً جدلياً، وبعبارة أخرى: ينبغي أن نحدد (المجتمع) في نطاق (الزمن).

فتجمعات الأفراد الذين لا يعدل الزمن من علاقاتهم الداخلية، ولا تتغير أشكال نشاطهم خلال المدة، لا تعد من التجمعات الخاصة التي نقصدها بمصطلح (مجتمع).

والجماعات الإنسانية المقصودة منذ (ليفي بريل)، بعبارة (المجتمعات
শ্রেণি (النوع) এবং সমাজ

আমরা ইতিপূর্বে ‘সমাজ’ (مجتمع) পরিভাষাটির সংজ্ঞা নির্ধারণের চেষ্টা করেছি, অন্তত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে, যা সামাজিক সত্তার উৎসসমূহকে (أصول) অন্তর্ভুক্ত করে এবং সেই গাঠনিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যা এর কাঠামোর সাথে সংশ্লিষ্ট।

আমরা এখানে বিষয়টিকে কার্যকারিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সুনির্দিষ্ট করতে চাই। সম্ভবত এটি বলা বাহুল্য যে, ‘সমাজ’ (مجتمع) পরিভাষাটি তার সরল অর্থে—অভিধান প্রদত্ত আভিধানিক অর্থে—এমন একদল মানুষের সমষ্টিকে বোঝায় যাদের অভ্যাস অভিন্ন, যারা একই আইনের অধীনে বসবাস করে এবং যাদের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ (مصالح) বিদ্যমান।

এটি একটি বাহ্যিক বর্ণনামূলক সংজ্ঞা, যা এই ধরনের জনসমষ্টির ওপর অর্পিত ঐতিহাসিক ‘দায়িত্ব’ বা ‘কার্যের’ (وظيفة) ন্যূনতম ব্যাখ্যা প্রদান করে না। তদুপরি, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাকেও ব্যাখ্যা করে না, যা কি না এই ধরনের কার্য সম্পাদনের যোগ্য হতে পারে।

সুতরাং, আমাদের আলোচ্য বিষয়ের পরিধি আরও বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা আবশ্যক।

তাই পূর্ববর্তী অধ্যায়ে প্রদত্ত বর্ণনামূলক সংজ্ঞার পরিবর্তে আমাদের একটি দ্বান্দ্বিক সংজ্ঞা গ্রহণ করা উচিত। অন্য কথায়: আমাদের ‘সমাজ’কে (مجتمع) ‘কাল’ বা ‘সময়’-এর (الزمن) পরিসরে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।

ব্যক্তিবর্গের এমন সমষ্টি যাদের অভ্যন্তরীণ পারস্পরিক সম্পর্ক সময়ের আবর্তনে পরিবর্তিত হয় না এবং নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে যাদের কর্মকাণ্ডের ধরনে কোনো বিবর্তন ঘটে না, তারা সেই বিশেষ জনসমষ্টির অন্তর্ভুক্ত নয় যা আমরা ‘সমাজ’ (مجتمع) পরিভাষাটি দ্বারা বুঝিয়ে থাকি।

লেভি-ব্রুয়েল এর সময় থেকে মানবগোষ্ঠী বলতে যে ‘সমাজ’সমূহ (المجتمعات) বোঝানো হয়েছে...
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৪)
البدائية) التي لا تتغير صورة حياتها، كما لا تتغير مستعمرات النمل خلال آلاف السنين، هذه الجماعات خارجة عن نطاق التحديد.

فحياة هذه الجماعات الإنسانية تصور لنا حتى الآن مرحلة، مرت بها الإنسانية في عصور ما قبل التاريخ.

وفي هذه المرحلة تتحجر الصفات الاجتماعية، ويندر تنوعها من عصر لآخر: ولو أخذنا قطاعين من حياتها الاجتماعية يفصل بينهما آلاف السنين لوجدناهما متطابقين، على ما لاحظه المختصون في (علم الأجناس)، الذين يدرسون اليوم الحياة الإنسانية في بعض أقطار إفريقية الاستوائية.

وبما أن كل تغيير يطرؤ على الخصائص التشكيلية، أو يحدث في التوجيه الثقافي لجماعة إنسانية معينة، هو نتيجة مباشرة لوظيفتها التاريخية فإن كل جماعة لا تتطور، ولا يعتريها تغيير في حدود الزمن، تخرح بذلك من التحديد الجدلي لكلمة (مجتمع).

وفضلاً عن ذلك فإن الجماعات التي ما زالت في هذه المرحلة الأولى من التطور، تتجه بدورها إلى الاندماج في (المجتمع العالمي)، الذي يتكون في هذه الأيام بفعل العوامل الفنية، تلك التي تدخل في ثقافة القرن العشرين مفهوم (العالمية).

وأياً كان الأمر (فالمجتمع) هو الجماعة الإنسانية، التي تتطور ابتداء من نقطة يمكن أن نطلق عليها مصطلح (ميلاد).

ولكن حين نتحدث عن (ميلاد) معين، فإنا نعرفه ضمناً بوصفه (حدثاً) يسجل ظهور شكل من أشكال الحياة المشتركة، كما يسجل نقطة انطلاق لحركة التغيير التي تتعرض لها الحياة.

ويظهر هذا الشكل في صورة نظام جديد للعلامات بين أفراد جماعة معينة.
আদিম (البدائية) গোষ্ঠীসমূহ যাদের জীবনযাত্রার রূপ পরিবর্তিত হয় না, ঠিক যেমন হাজার হাজার বছর ধরে পিঁপড়েদের কলোনি পরিবর্তিত হয় না; এই গোষ্ঠীগুলো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায়নের পরিধির বাইরে।

এই মানবগোষ্ঠীগুলোর জীবন আমাদের সামনে আজ পর্যন্ত এমন এক পর্যায়ের চিত্র ফুটিয়ে তোলে, যা মানবজাতি প্রাগৈতিহাসিক যুগে অতিক্রম করে এসেছে।

এই পর্যায়ে সামাজিক বৈশিষ্ট্যসমূহ স্থবির হয়ে যায় এবং এক যুগ থেকে অন্য যুগে এদের বৈচিত্র্য বিরল হয়ে পড়ে: আমরা যদি তাদের সামাজিক জীবনের এমন দুটি অংশ গ্রহণ করি যাদের মাঝে হাজার বছরের ব্যবধান রয়েছে, তবে আমরা সেগুলোকে অভিন্ন দেখতে পাব; যেমনটি নৃবিজ্ঞান (علم الأجناس) এর বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন, যারা বর্তমানে নিরক্ষীয় আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে মানবজীবন নিয়ে গবেষণা করছেন।

যেহেতু কোনো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য বা সাংস্কৃতিক নির্দেশনায় আসা প্রতিটি পরিবর্তনই তাদের ঐতিহাসিক কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ ফলাফল, তাই যে গোষ্ঠী বিবর্তিত হয় না এবং সময়ের আবর্তে যাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে না, তারা এর ফলে 'সমাজ' (مجتمع) শব্দের দ্বান্দ্বিক সংজ্ঞায়ন (التحديد الجدلي) থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।

তদুপরি, যেসব গোষ্ঠী এখনও বিবর্তনের এই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তারা পর্যায়ক্রমে 'বিশ্ব সমাজ' (المجتمع العالمي)-এর সাথে একীভূত হওয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে; যা বর্তমানে কারিগরি উপাদানসমূহের প্রভাবে গঠিত হচ্ছে এবং বিংশ শতাব্দীর সংস্কৃতিতে 'বিশ্বজনীনতা' (العالمية) ধারণাটি প্রবিষ্ট করছে।

যাই হোক না কেন, 'সমাজ' (المجتمع) হলো সেই মানবগোষ্ঠী, যা এমন একটি বিন্দু থেকে বিবর্তিত হতে শুরু করে যাকে আমরা 'জন্ম' (ميلاد) পরিভাষা (مصطلح) দ্বারা অভিহিত করতে পারি।

কিন্তু যখন আমরা কোনো নির্দিষ্ট 'জন্ম' (ميلاد) সম্পর্কে আলোচনা করি, তখন আমরা একে অন্তর্নিহিতভাবে একটি 'ঘটনা' (حدثاً) হিসেবে অভিহিত করি যা সামাজিক জীবনের একটি বিশেষ রূপের আত্মপ্রকাশকে চিহ্নিত করে, যেমনটি তা জীবনের পরিবর্তনের গতির সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করে।

এই রূপটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন ব্যবস্থারূপে পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৫)
ومع ذلك فإن هذه الصورة الجديدة للحياة المشتركة قد تبدأ بفرد واحد، يمثل في هذه الحالة نواة المجتمع الوليد، وذلك بلا شك هو المعنى المقصود من كلمة (أمة)، عندما يطلقها القرآن الكريم على إبراهيم عليه السلام في قوله تعالى: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً} [النمل: 16/ 120] ففي هذه الحالة نجد أن المجتمع (الأمة) يتلخص في (إنسان واحد)، أي أنه يتلخص في مجرد احتمال حدوث تغيير في المستقبل، ما زال في حيز القوة، تحمله فكرة يمثلها هذا (الإنسان).

فلكي نعطي لموضوعنا تعريفاً منطقياً، ينبغي ان نربطه بمعامل الزمن، ربطاً نحدد معه لهذا العامل دلالته النفسية والاجتماعية. ومن هذا الوجه يصبح المجتمع هو: الجماعة التي تغير دائماً خصائصها الاجتماعية بإنتاج وسائل التغيير، مع علمها بالهدق الذي تسعى إليه من وراء هذا التغيير.

ومن الحقائق المقررة في علم الكيمياء منذ درس العلماء المركبات المتشابهة الجوهر Isomères، أن الأجسام قد تتماثل في التركيب الكيميائي دون أن تتشابه خصائصها. واستنبط العلماء من هذا أن مجموعة الذرات ليست مجرد كلية من المادة، بل هي تنظيم هذه المادة طبقاً لنظام معين؛ فاختلاف الخصائص في الكيمياء إنما يرجع في الحقيقة إلى اختلاف التنظيم الداخلي، أو بتعبير أوضح اختلاف الهندسة الداخلية.

والأمر كذلك بالنسبة للمجتمع، فهو ليس مجرد مجموعة من الأفراد، بل هو تنظيم معين ذو طابع إنساني يتم طبقاً لنظام معين.

وهذا النظام في خطوطه العريضة يقوم بناء على ما تقدم على عناصر ثلاثة:

" 1 " حركة يتسم بها المجموع الإنساني.

" 2 " وإنتاح لأسباب هذه الحركة.

" 3 " وتحديد لاتجاهها.
তা সত্ত্বেও, যৌথ জীবনের এই নতুন রূপটি একজন ব্যক্তির মাধ্যমে শুরু হতে পারে, যিনি এই ক্ষেত্রে নবজাত সমাজের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন। নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ যখন ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন: {নিশ্চয়ই ইব্রাহিম ছিলেন এক উম্মাহ (أمة)} [আন-নাহল: ১৬/১২০], তখন 'উম্মাহ' (أمة) শব্দটির দ্বারা এই অর্থই উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে, সমাজ বা উম্মাহ (أمة) একজন ব্যক্তিতে পর্যবসিত হয়েছে; অর্থাৎ এটি ভবিষ্যতে পরিবর্তনের কেবল একটি সম্ভাবনার মাঝে নিহিত, যা এখনও সুপ্ত শক্তির স্তরে রয়েছে এবং এই ব্যক্তির প্রতিনিধিত্বকারী একটি চিন্তাধারা তা বহন করছে।

সুতরাং আমাদের আলোচ্য বিষয়টির একটি যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদানের জন্য এটিকে সময়ের উপাদানের সাথে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন, যে সম্পর্কের মাধ্যমে আমরা এই উপাদানের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক তাৎপর্য নির্ধারণ করতে পারি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজ হলো: এমন একটি জনগোষ্ঠী যারা পরিবর্তনের উপকরণ উৎপাদনের মাধ্যমে ক্রমাগত তাদের সামাজিক বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবর্তন করে এবং এই পরিবর্তনের পেছনে তারা যে লক্ষ্য অর্জনে সচেষ্ট, সে সম্পর্কে তারা সচেতন থাকে।

রসায়ন বিজ্ঞানের একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য এই যে—যেহেতু বিজ্ঞানীরা সমধর্মী যৌগ (Isomères) নিয়ে গবেষণা করেছেন—বস্তুসমূহ রাসায়নিক গঠনে অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাদের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে। বিজ্ঞানীরা এখান থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, অণুর সমষ্টি কেবল পদার্থের একটি পিণ্ড নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী সেই পদার্থের সুশৃঙ্খল বিন্যাস; সুতরাং রসায়নে বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা মূলত অভ্যন্তরীণ বিন্যাসের পার্থক্যের কারণে ঘটে থাকে, অথবা আরও স্পষ্টভাবে বললে, অভ্যন্তরীণ জ্যামিতিক কাঠামোর পার্থক্যের কারণে।

সমাজের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রূপ; এটি কেবল একদল ব্যক্তির সমষ্টি নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত মানবীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এক বিশেষ সংগঠন।

আর এই ব্যবস্থার রূপরেখা পূর্বোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে তিনটি উপাদানের ওপর প্রতিষ্ঠিত:

" ১ " মানব সমষ্টির বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত একটি গতিশীলতা।

" ২ " এই গতিশীলতার কারণ বা উপকরণসমূহের উৎপাদন।

" ৩ " এবং এর গতিপথ নির্ধারণ করা।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৬)
فهذه هي العوامل الثلاثة التي يدين لها مجموع إنساني معين، بخصائصه الاجتماعية التي تحيله (مجمتعاً) بالمعنى المنطقي للكلمة.

والواقع أن فكرة الحركة، تلك التي تتطابق مع مفهوم التغير والتطور، تعد عنصراً جوهرياً في التعريف في علم الاجتماع.

وهذه الفكرة نفسها قد ساعدتنا في دراسة أخرى، على التفرقة بين فكرة (رأس المال) وفكرة (الثروة)، إذ كان المصطلح الأول يعني المال المتحرك، وكان الثاني يعني المال الساكن.

وفكرة الحركة ستساعدنا هنا على التفرقة بين (المجتمع)، وبين سائر أشكال الجماعات الإنسانية، التي لا تتصف بما سبق أن أشرنا إليه من خصائص اجتماعية.

ومع ذلك فإن الحركة في علم الاجتماع تستتبع فكرة ذات قيمتين: فإن تطور الجماعة يؤدي بها إما إلى شكل راق من أشكال الحياة الاجتماعية، وإما أن يسوقها عل عكس ذلك إلى وضع متخلف.

وعلى أية حال فإن أمام كل مجتمع غاية، فهو يندفع في تقدمه إما إلى الحضارة، وإما إلى الانهيار.

وفي مقابل ذلك نجد أنه حينما تنعدم الحركة، فإن الجماعة الإنسانية تفقد تاريخها: إذ تصبح .. ولا غاية لها.

فهذا هو في نهاية الأمر المقياس الأساسي الذي يساعدنا على أن نواجه مشكلة ميلاد مجتمع معين: تكسب الجماعة الإنسانية صفة (المجتمع) عندما تشرع في الحركة، أي عندما تبدأ في تغيير نفسها من أجل الوصول إلى غايتها. وهذا يتفق من الوجهة التاريخية مع لحظة انبثاق حضارة معينة.

أما الجماعات الساكنة فإن لها حياة اجتماعية دون غاية، فهي تعيش في مرحلة ما قبل الحضارة.
সুতরাং এরাই হলো সেই তিনটি উপাদান, যার জন্য একটি নির্দিষ্ট মানবসমষ্টি তার সামাজিক বৈশিষ্ট্যের কাছে ঋণী, যা তাকে শব্দের যৌক্তিক অর্থে একটি (সমাজে) রূপান্তরিত করে।

প্রকৃতপক্ষে গতির ধারণাটি—যা পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ—সমাজবিজ্ঞানের সংজ্ঞায় একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত।

এই একই ধারণা আমাদের অন্য একটি গবেষণায় ‘মূলধন’ এবং ‘সম্পদ’-এর ধারণার মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করেছিল; যেখানে প্রথম পরিভাষাটি দ্বারা সচল অর্থ এবং দ্বিতীয়টি দ্বারা স্থবির অর্থ বোঝানো হয়েছিল।

গতির এই ধারণাটি এখানে আমাদের (সমাজ) এবং অন্যান্য মানবগোষ্ঠীর মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করবে, যাদের মধ্যে ইতিপূর্বে উল্লেখিত সামাজিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান নেই।

তা সত্ত্বেও, সমাজবিজ্ঞানে গতির ধারণাটি দ্বিমুখী তাৎপর্য বহন করে: মানবগোষ্ঠীর বিবর্তন তাকে হয় সামাজিক জীবনের এক উন্নত রূপের দিকে নিয়ে যায়, অথবা এর বিপরীতে তাকে এক পশ্চাৎপদ পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করে।

যাই হোক না কেন, প্রতিটি সমাজের সামনে একটি গন্তব্য থাকে; ফলে তার অগ্রযাত্রা হয় সভ্যতার দিকে ধাবিত হয়, নয়তো পতনের দিকে।

এর বিপরীতে আমরা দেখি যে, যখন গতির অবসান ঘটে, তখন মানবগোষ্ঠী তার ইতিহাস হারিয়ে ফেলে: কারণ তখন তারা লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ে।

পরিশেষে এটিই হলো সেই মৌলিক মানদণ্ড যা আমাদের একটি নির্দিষ্ট সমাজের জন্মলগ্নের সমস্যার মুখোমুখি হতে সাহায্য করে: একটি মানবগোষ্ঠী তখনই (সমাজ) হওয়ার বৈশিষ্ট্য অর্জন করে যখন সে গতিশীল হতে শুরু করে, অর্থাৎ যখন সে তার গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে নিজেকে পরিবর্তন করতে শুরু করে। এটি ঐতিহাসিকভাবে একটি নির্দিষ্ট সভ্যতার উন্মেষের মুহূর্তের সাথে সংগতিপূর্ণ।

আর স্থবির গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যহীন সামাজিক জীবন থাকে; তারা মূলত প্রাক-সভ্যতা স্তরে বসবাস করে।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৭)
وخلاصة القول: إن الطبيعة توجد النوع، ولكن التاريخ يصنع المجتمع. وهدف الطبيعة هو مجرد المحافظة على البقاء، بينما غاية التاريخ أن يسير بركب التقدم نحو شكل من أشكال الحياة الراقية، هو ما نطلق عليه اسم الحضارة.

***
সারকথা হলো: প্রকৃতি প্রজাতির অস্তিত্ব দান করে, কিন্তু ইতিহাস সমাজ বিনির্মাণ করে। প্রকৃতির লক্ষ্য কেবল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা, পক্ষান্তরে ইতিহাসের পরম লক্ষ্য হলো অগ্রগতির ধারায় জীবনকে এক উন্নত ও পরিশীলিত রূপের দিকে নিয়ে যাওয়া, যাকে আমরা সভ্যতা বলে অভিহিত করি।

***
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الآراء المختلفة في تفسير

الحركة التاريخية

هذه الاعتبارات التي أشرنا إليها في الفصل السابق تربط فكرة (المجتمع) بوضع متحرك ذي عناصر ثلاثة:

(أ) حركة مستمرة.

(ب) إنتاج دائم لأسبابها.

(جـ) غايتها.

لكن هذا التخطيط يحبسنا داخل الحلقة المفرغة، حلقة البيضة والدجاجة عندما نريد أن نلهو بتحديد أي منهما كان سبباً في وجود الآخر.

فإذا ما ذهبنا إلى أن ((الحركة هي التي تؤدي إلى أسبابها))، وجدنا انفسنا أمام تعارض ظاهر، فإن تخطيطنا الحركي يعطينا صورة عن المجتمع في حركته، ولكنه لا يفسر الشروط الأولية لهذه الحركه.

وأي وسط (إنساني) ينطوي في الحقيقة على نصيب من الخمود، شأنه في ذلك شأن أي وسط من المادة، ونحن ندل على هذا الخمود في جانب الأفراد بصيغ مختلفة: فنتحدث أحياناً عن الكسل وعن نقص الطاقة، وعن نقص الإرادة .. الخ .. كما أننا ندل عليه في الجانب الجماعي حين نتحدث عن الركود أو الكساد والتخلف .. الخ.

ومعنى هذا أن كل وسط إنساني مندمج في حركته، منتج لأسباب هذه الحركة، ينطوي على عامل أساسي يقهر الخمود الفطري- طبقاً لمبدأ الميكانيكا الكلاسيكي- حين يحيل عناصر الخمود في وسط معين إلى قيم حركية.
ঐতিহাসিক গতিশীলতার ব্যাখ্যায়

ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আমরা যে বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তা 'সমাজ' ধারণাকে তিনটি উপাদান বিশিষ্ট একটি গতিশীল অবস্থার সাথে সম্পর্কিত করে:

(ক) নিরন্তর গতিশীলতা।

(খ) এর কারণসমূহের ধারাবাহিক উৎপাদন।

(গ) এর লক্ষ্য।

কিন্তু এই রূপরেখা আমাদের একটি অন্তহীন চক্রে বন্দি করে ফেলে, অনেকটা মুরগি ও ডিমের চক্রের মতো, যখন আমরা এই দুটির মধ্যে কোনটি অন্যটির অস্তিত্বের কারণ ছিল তা নির্ধারণের খেলায় মেতে উঠি।

আমরা যদি এই তত্ত্বে উপনীত হই যে "গতিশীলতাই তার কারণসমূহ সৃষ্টির পথ দেখায়", তবে আমরা এক প্রকাশ্য বৈপরীত্যের সম্মুখীন হই। কেননা আমাদের এই গতিশীল রূপরেখাটি সমাজকে তার গতিশীল অবস্থায় চিত্রায়িত করে ঠিকই, কিন্তু এই গতির প্রাথমিক শর্তাবলি ব্যাখ্যা করে না।

যেকোনো (মানবীয়) পরিবেশের অভ্যন্তরে প্রকৃতপক্ষে জড়তার একটি অংশ বিদ্যমান থাকে, ঠিক যেমনটি জড় পদার্থের যেকোনো মাধ্যমের ক্ষেত্রে ঘটে। আমরা ব্যক্তিপর্যায়ে এই জড়তাকে বিভিন্নভাবে প্রকাশ করি: যেমন কখনো আমরা অলসতা, শক্তির অভাব এবং ইচ্ছাশক্তির ঘাটতি ইত্যাদি নিয়ে কথা বলি। একইভাবে সমষ্টিগত পর্যায়ে আমরা যখন স্থবিরতা বা মন্দা এবং অনগ্রসরতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করি, তখনও মূলত এটিকেই নির্দেশ করি।

এর অর্থ হলো, প্রতিটি মানবীয় পরিবেশ যা তার গতিশীলতায় নিমগ্ন এবং সেই গতির কারণসমূহ উৎপাদনে সক্ষম, তার মধ্যে এমন একটি মৌলিক উপাদান নিহিত থাকে যা—চিরায়ত বলবিদ্যার নীতি অনুযায়ী—সহজাত জড়তাকে পরাভূত করে; যখন তা কোনো নির্দিষ্ট পরিবেশের জড় উপাদানগুলোকে গতিশীল মানে রূপান্তরিত করে।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ১৯)
لقد فسر كثيرون هذه الظاهرة بصور مختلفة.

فـ (هيجل) يرجع الأسباب التي تحكم كل حركة تاريخية، أعني كل تغيير اجتماعي إلى مبدأ التعارض الذي يتكون من قضية ونقيضها.

فحينما تنشأ الحركة طبقاً لهذه الأسباب المتعارضة، فإن غايتها تتمثل أمامه في صورة اندماج وتركيب محتوم!

فهذه هي الأحوال الثلاث التي تسيطر على كل حركة تاريخية في رأي هيجل، وبالتالي يتلخص فيها كل تغيير اجتماعي.

فالحالة التي توجد فيها جماعة إنسانية في لحظة معينة من تاريخها هي- في رأيه- قضية.

ولكن قد تظهر خلال هذه الحركات أسباب، ذات طابع اقتصادي أو أخلاقي أو مناخي تهدف إلى تعديل اتجاهها. فبتأثير الأفعال وردود الأفعال المتبادلة يصبح الوسط مجالاً لنزعات السكون المتصلة بخموده الفطري، ونزعات الحركة التي تنشئ حالة مناقضة في طريقها إلى الظهور يتكون عنها نقيض القضية.

وفكرة التعارض هذه هي التي تكون في نظر هيجل القوة المحركة التي تخلق الحركة التاريخية، التي من شأنها أن تخلق أسبابها.

والاندماج أو التركيب هو الغاية المنشودة من هذا الكيان كله، ذلك الكيان الذي يجدد دورته تعارض جديد يزلزل التعادل القائم المستقر.

ويعد تفسير فكرة التعارض هذه هو الميدان الذي اختلفت فيه المذاهب الفكرية الحديثة.

فالفكرة الماركسية ترى أن الأسباب المتعارضة التي تؤدي إلى حدوث
অনেকেই এই প্রপঞ্চটিকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

(হেগেল) প্রতিটি ঐতিহাসিক গতিশীলতা—অর্থাৎ প্রতিটি সামাজিক পরিবর্তনের—পেছনে ক্রিয়াশীল কারণসমূহকে দ্বন্দ্বের মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তন করান, যা একটি প্রস্তাবনা ও তার প্রতিতর্ক দ্বারা গঠিত।

সুতরাং যখন এই পরস্পরবিরোধী কারণগুলোর ভিত্তিতে কোনো আন্দোলনের উদ্ভব হয়, তখন তাঁর নিকট এর লক্ষ্যবস্তু এক অনিবার্য সমন্বয় ও সংশ্লেষণ হিসেবে প্রতিভাত হয়!

হেগেলের মতে, এই তিনটি অবস্থাই প্রতিটি ঐতিহাসিক গতিশীলতাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফলস্বরূপ প্রতিটি সামাজিক পরিবর্তনের সারকথা এতেই নিহিত থাকে।

তাঁর মতে, ইতিহাসের কোনো এক নির্দিষ্ট মুহূর্তে কোনো এক মানবগোষ্ঠী যে অবস্থায় বিদ্যমান থাকে, তা-ই হলো প্রস্তাবনা।

তবে এই আন্দোলনগুলোর মাঝে অর্থনৈতিক, নৈতিক কিংবা জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের এমন কিছু কারণের উদয় হতে পারে যা এর গতিপথ পরিবর্তনের লক্ষ্য রাখে। ফলে পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার প্রভাবে সংশ্লিষ্ট পরিবেশটি তার সহজাত জড়তা-সংশ্লিষ্ট স্থবিরতা এবং গতিশীল প্রবণতার একটি ক্ষেত্রে পরিণত হয়, যা বিকাশের পথে একটি বিপরীত অবস্থা সৃষ্টি করে এবং তা থেকেই প্রস্তাবনার প্রতিতর্ক তৈরি হয়।

হেগেলের দৃষ্টিতে দ্বন্দ্বের এই ধারণাই হলো সেই চালিকাশক্তি যা ঐতিহাসিক গতিশীলতা সৃষ্টি করে, যার বৈশিষ্ট্য হলো তার নিজস্ব কারণসমূহ উৎপন্ন করা।

আর সমন্বয় বা সংশ্লেষণ হলো এই সমগ্র সত্তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য; এমন এক সত্তা যা একটি নতুন দ্বন্দ্বের মাধ্যমে তার আবর্তনকে নবায়ন করে, যা বিদ্যমান স্থিতিশীল ভারসাম্যকে প্রকম্পিত করে।

দ্বন্দ্বের এই ধারণার ব্যাখ্যাই হলো সেই ময়দান যেখানে আধুনিক মতাদর্শগুলো ভিন্নমত পোষণ করেছে।

মার্কসীয় ধারণা মনে করে যে, পরস্পরবিরোধী কারণসমূহ যা ঘটার দিকে পরিচালিত করে...
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২০)
التغييرات الاجتماعية ذات طابع اقتصادي: فميلاد المجتمع وشكل الحضارة الذي يتخذه ناشئان عن التعارض الاقتصادي.

ومع ذلك فلو أننا طبقنا على هذه الفكرة مقياسها الاقتصادي الخاص، فستبرز أمام أعيننا حدود امتدادها على الخريطة الاقتصادية للعالم. فإن تأملنا امتداد الفكرة الماركسية باعتبارها ظاهرة اقتصادية، يدلنا على أنها ترسم منطقة اقتصادية، يقع متوسط دخل الفرد السنوي فيها تقريباً بين مئتي دولار وسبع مئة دولار، وهو المستوى الذي وصلت إليه اليابان من ناحية، وإنجلترا من ناحية أخرى.

وبذلك نستطيع أن نقرر- إلى أن يثبت العكس- أن انتشار الفكرة الشيوعية، محدود داخل هذه الحدود الاقتصادية المطابقة لحدود جغرافية معينة، وأن التفكير الماركسي لم يجد وراء هذه الحدود المزدوجة ظروف تأقلمه، فهو بهذه الصورة لا يستطيع أن يقدم لنا تفسيراً معقولاً للمجالات التي لم ينتشر فيها على الخريطة.

بيد أن هذه الملاحظة ذاتها تؤدي بنا ضمنا إلى نظرية (جون ارنولد توينبي)، تلك التي تحدد بدقة مشكلة الحدود التي يمكن أن يتم فيها تغيير اجتماعي معين، وهي بذلك تفسر لنا: لماذا كان مجال انتشار الفكرة الماركسية على خريطة العالم الاقتصادية واقعاً داخل حدود معينة؟

لقد اتبع المؤرخ الإنجليزي الكبير منهجاً، ينطبق في جانب منه على تخطيط هيجل، وذلك حين شبه فكرة التعارض بعقبة ذات طابع اقتصادي أو فني عبر عنها بكلمة (التحدي).

وفي رأيه أن التحدي يتوجه إلى ضمير الفرد أو الجماعة، وتكون مواجهته له
সামাজিক পরিবর্তনসমূহ অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত: সমাজের জন্ম এবং সভ্যতার রূপ মূলত অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত।

তবুও, আমরা যদি এই ধারণার ওপর এর নিজস্ব অর্থনৈতিক মানদণ্ড প্রয়োগ করি, তবে বিশ্বের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এর বিস্তৃতির সীমা আমাদের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। অর্থনৈতিক পরিঘটনা হিসেবে মার্ক্সবাদী ধারণার বিস্তৃতি নিয়ে আমরা যদি চিন্তা করি, তবে তা আমাদের দেখায় যে এটি এমন একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চিহ্নিত করে, যেখানে মাথাপিছু বার্ষিক গড় আয় প্রায় দুইশ থেকে সাতশ ডলারের মধ্যে; যা একদিকে জাপান এবং অন্যদিকে ইংল্যান্ড যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল তার সমতুল্য।

এভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি—যতক্ষণ না এর বিপরীত কিছু প্রমাণিত হয়—যে সাম্যবাদী ধারণার বিস্তার এই অর্থনৈতিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, যা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এই দ্বৈত সীমানার বাইরে মার্ক্সবাদী চিন্তাধারা খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো কোনো অনুকূল পরিবেশ খুঁজে পায়নি। ফলে, মানচিত্রের যেসব অঞ্চলে এটি বিস্তার লাভ করেনি, সেসব ক্ষেত্রে এটি কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা প্রদানে অক্ষম।

তবে এই পর্যবেক্ষণটি পরোক্ষভাবে আমাদের নিয়ে যায় জন আর্নল্ড টয়েনবি-র তত্ত্বের দিকে, যা সুনির্দিষ্টভাবে সেই সীমানার সমস্যা চিহ্নিত করে যেখানে কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক পরিবর্তন সাধিত হতে পারে। আর এটিই আমাদের ব্যাখ্যা করে যে, কেন বিশ্ব অর্থনৈতিক মানচিত্রে মার্ক্সবাদী ধারণার বিস্তৃতির ক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল?

এই প্রখ্যাত ইংরেজ ঐতিহাসিক এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যা আংশিকভাবে হেগেলের পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দ্বন্দ্বের ধারণাকে অর্থনৈতিক বা কারিগরি চরিত্রের একটি বাধার সাথে তুলনা করেছেন, যাকে তিনি 'চ্যালেঞ্জ' (আহ্বান) শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন।

তাঁর মতে, এই চ্যালেঞ্জ বা আহ্বান ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিবেকের প্রতি ধাবিত হয়, এবং এর মোকাবিলা করা...
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২১)
بالقدر الذي تكون عليه أمية الاستفزاز وخطورته، فهناك تناسب بين طبيعة الاستفزاز وبين الموقف الذي يتخذه الضمير في مواجهته.

وعلى هذا فلو افترضنا ان التحدي كان ضعيفاً ضعفاً لم يصل إلى مستوى معين، فإن (الإجابة) عليه ستكون هي أيضاً ضعيفة، وبعبارة أخرى، لا ضرورة لهذه (الإجابة)، وبذلك يفقد التحدي معناه بوصفه عاملاً في إحداث التغيير الاجتماعي.

فهناك إذن حد يبدأ منه ما أطلق عليه توينبي (التحدي المناسب) الذي يستلزم نشوء (إجابة) كافية لتحريك أسباب التغيير.

ثم إن فاعملية الإجابة تنمو متناسبة مع قيمة التحدي، حتى يصل إلى حد معين، فإن استمر في نموه فإنه يصبح منعدم التأثير، لأنه ينصب أمام الضمير استحالة ليس في طوقه أن يحلها. فالإجابة في مثل هذه الحال تصبح عديمة الجدوى.

وهكذا يضع توينبي التغيير الاجتماعي بين حدين، لا يتم خارج نطاقهما، وذلك في حالة شبيهة بالتفريط تنشأ من نقص في التحدي، أو شبيهة بالإفراط تنشأ عن زيادته على قدر معين.

وبهذه الطريقة يفسر المؤرخ الانجليزي الكبير أهم المراحل في التاريخ الإنساني، فهو يذهب إلى أن العلة في بقاء بعض الجماعات الإنسانية في حالة راكدة، لا تكون (مجتمعاً) بالمعنى المقصود من هذه الكلمة، لا تخرج عن أحد احمالين: فإما أن التحدي لم يكن كافياً لدفع طاقتها إلى إجابته، وإما أن هذه الجماعات قد عمدت إلى الفرار من طريقه؛ ثم إنه يسوق لنا أمثلة على ذلك حين يحدثنا عن الشعوب التي هاجرت إلى أعالي النيل إبان العصر الحجري الجديد، فلم تستطع أن تحدث تغييراً ذا بال في شرائط حياتها منذ ذلك الحين، لأنها قد عمدت
উত্তেজনা বা প্ররোচনার গুরুত্ব ও তার ভয়াবহতা যে পর্যায়ের হয়, সেটির প্রকৃতি এবং তার মোকাবিলায় বিবেক যে অবস্থান গ্রহণ করে তার মধ্যে একটি সামঞ্জস্য বিদ্যমান।

এর ভিত্তিতে, আমরা যদি ধরে নিই যে চ্যালেঞ্জটি এমন দুর্বল (ضعيف) ছিল যা একটি নির্দিষ্ট স্তরে পৌঁছায়নি, তবে তার প্রতি (সাড়া) প্রদানও তেমনি দুর্বল (ضعيف) হবে। অন্য কথায়, এই (সাড়া) প্রদানের কোনো আবশ্যকতা থাকবে না, আর এর ফলে সামাজিক পরিবর্তন ঘটানোর ক্ষেত্রে একটি উপাদান হিসেবে চ্যালেঞ্জটি তার সার্থকতা হারাবে।

সুতরাং এমন একটি সীমা রয়েছে যেখান থেকে টয়েনবি যাকে 'উপযুক্ত চ্যালেঞ্জ' বলে অভিহিত করেছেন তা শুরু হয়, যা পরিবর্তনের প্রভাবকগুলোকে সচল করার জন্য পর্যাপ্ত (সাড়া) তৈরির দাবি রাখে।

অতঃপর সাড়াদানের এই কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জের গুরুত্বের অনুপাতে বৃদ্ধি পেতে থাকে, যতক্ষণ না তা একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায়। কিন্তু যদি তা ক্রমাগত বাড়তে থাকে, তবে তা প্রভাবহীন হয়ে পড়ে; কারণ এটি বিবেকের সামনে এমন এক অসম্ভবতা তৈরি করে যা সমাধান করা তার সামর্থ্যের বাইরে। এমতাবস্থায় (সাড়া) প্রদান নিরর্থক হয়ে পড়ে।

এভাবে টয়েনবি সামাজিক পরিবর্তনকে দুটি সীমার মধ্যে স্থাপন করেছেন, যার বাইরে তা সংঘটিত হয় না। এটি একদিকে অবহেলার অনুরূপ অবস্থা যা চ্যালেঞ্জের ঘাটতি থেকে উদ্ভূত হয়, আর অন্যদিকে আতিশয্যের অনুরূপ অবস্থা যা একটি নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে সৃষ্টি হয়।

এই পদ্ধতিতে এই প্রখ্যাত ইংরেজ ঐতিহাসিক মানব ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়সমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, কিছু মানবগোষ্ঠীর স্থবির অবস্থায় থেকে যাওয়ার কারণ—যাকে শব্দের প্রকৃত অর্থে (সমাজ) বলা যায় না—তা দুটি সম্ভাবনার বাইরে নয়: হয় চ্যালেঞ্জটি তাদের শক্তিকে সাড়াদানে উদ্বুদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট ছিল না, অথবা এই গোষ্ঠীগুলো চ্যালেঞ্জের পথ থেকে পলায়নের পথ বেছে নিয়েছিল। এরপর তিনি আমাদের সামনে এর উদাহরণ পেশ করেন যখন তিনি সেই সব জাতির কথা বলেন যারা নব্যপ্রস্তর যুগে নীল নদের উজানে হিজরত করেছিল, কিন্তু সেই সময় থেকে তারা তাদের জীবনযাত্রার শর্তাবলীতে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়নি, কারণ তারা...
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২২)
إلى الفرار من قسوة التحدي، أما إخوانهم الذين كانوا يعيشون في الوادي المنخفض فقد آثروا مواجهة التحدي، الذي واجهتهم به الطبيعة والمناخ فغيروا بذلك شرائط حياتهم تغييراً تاماً، ونجحوا في إقامة أول مجتمع متحضر شهده التاريخ.

كذلك يورد المؤرخ الإنجليزي حالة الأسكيمو، الذين يعدون اليوم نموذجاً للجماعة الإنسانية التي لا تغير شرائط وجودها، لأن تحدي الطبيعة لها- وقد أربى على إمكانياتها وقواها- جمدها في شكل من أشكال الحياة الساكنة.

وبهذه الأمثلة يرينا توينبي كيف أن نقص التحدي أو زيادته وعنفه يؤثران بصورة واحدة على قوى التاريخ الإنساني.

ونحن يمكننا إلى حد ما أن نصوغ هذا الرأي الذي ذهب إليه المؤرخ صياغة جديدة في ضوء القرآن الكريم، لقد نستطيع- ما دمنا لم نصل بهذه الطريقة إلى تفسير واضح لمنشأ الحركة التي ولدت المجتمع الإسلامي وغايته التاريخية- أن نفسّر هذه الحركة بالعوامل النفسية التي حفزت القوة الروحية في هذا المجتمع، أعني شروط حركته عبر القرون.

والواقع أن القرآن قد وضع الضمير المسلم بين حدين هما: الوعد والوعيد، ومعنى ذلك أنه قد وضعه في أنسب الظروف التي يتسنى له فيها أن يجيب على تحدٍّ روحي في أساسه.

فالوعيد هو الحد الأدنى الذي لا يوجد دونه جهد مؤثر، والوعد هو الحد الأعلى الذي يصبح الجهد من ورائه مستحيلاً، وذلك حين تطغى قساوة التحدي على القوة الروحية التي منحها الإنسان.

وبذلك نجد أن الضمير المسلم قد وضع بين حدي العمل المؤثر، وهما الحدان اللذان ينطبقاًن على مفهوم الآيتين الكريمتين:
চ্যালেঞ্জের কঠোরতা থেকে পলায়নের পথে। অন্যদিকে তাদের ভাইয়েরা যারা নিচু উপত্যকায় বসবাস করছিল, তারা প্রকৃতি ও জলবায়ুর পক্ষ থেকে আসা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করাকেই শ্রেয় মনে করেছিল। এর ফলে তারা তাদের জীবনযাত্রার শর্তাবলিকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছিল এবং ইতিহাসের প্রথম সুসভ্য সমাজ বিনির্মাণে সফল হয়েছিল।

অনুরূপভাবে ইংরেজ ইতিহাসবিদ এস্কিমোদের দৃষ্টান্ত পেশ করেন, যাদেরকে বর্তমানে এমন এক মানবগোষ্ঠীর নমুনা হিসেবে গণ্য করা হয় যারা তাদের অস্তিত্বের মৌল শর্তাবলি পরিবর্তন করে না। কেননা প্রকৃতির চ্যালেঞ্জ—যা তাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল—তাদের জীবনকে একটি স্থবির রূপকাঠামোতে পর্যবসিত করেছে।

এই উদাহরণগুলোর মাধ্যমে টয়েনবি আমাদের দেখান যে, চ্যালেঞ্জের অপূর্ণতা কিংবা এর আধিক্য ও তীব্রতা মানব ইতিহাসের শক্তির ওপর অভিন্ন উপায়ে প্রভাব বিস্তার করে।

আমরা ইতিহাসবিদের এই অভিমতকে পবিত্র কুরআনের আলোকে কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে পারি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই পদ্ধতিতে ইসলামি সমাজের উৎস এবং এর ঐতিহাসিক উদ্দেশ্যের কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যায় উপনীত হতে পারছি না, ততক্ষণ আমরা এই জাগরণকে সেই মনস্তাত্ত্বিক উপাদানগুলোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারি যা এই সমাজের আধ্যাত্মিক শক্তিকে উদ্দীপ্ত করেছিল—অর্থাৎ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এর অগ্রগতির শর্তাবলি।

প্রকৃতপক্ষে কুরআন মুসলিম বিবেককে দুটি সীমার মধ্যে স্থাপন করেছে, তা হলো: প্রতিশ্রুতি (وعد) এবং ভীতিপ্রদর্শন (وعيد)। এর তাৎপর্য হলো, এটি মুসলিম মানসকে এমন এক অনুকূল পরিবেশে স্থাপন করেছে যেখানে তার পক্ষে মূলত একটি আধ্যাত্মিক চ্যালেঞ্জের উত্তর দেওয়া সম্ভবপর হয়।

ভীতিপ্রদর্শন (وعيد) হলো সেই নিম্নতম সীমা যার অনুপস্থিতিতে কোনো কার্যকর প্রচেষ্টা সম্ভব নয়, আর প্রতিশ্রুতি (وعد) হলো সেই উচ্চতম সীমা যার ঊর্ধ্বে প্রচেষ্টা অসম্ভব হয়ে পড়ে; অর্থাৎ যখন চ্যালেঞ্জের কঠোরতা মানুষের আধ্যাত্মিক শক্তির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে।

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, মুসলিম বিবেককে ফলপ্রসূ কর্মতৎপরতার দুটি সীমানার মাঝে রাখা হয়েছে, এবং এই সীমা দুটি পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতদ্বয়ের মর্মার্থের সাথে সংগতিপূর্ণ:
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৩)
(أ) {فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ} [الأعراف: 7/ 99].

(ب) {إنه لا ييئس إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ} [يوسف: 12/ 87].

وبين هذين الحدين تقف القوة الروحية متناسبة مع الجهد الفعال، الذي يبذله مجتمع يعمل طبقاً لأوامر رسالة، أعني طبقاً لغايته.

في هذه الحالة الروحية صبر بلال رضي الله عنه على ما كان يلقاه من عذاب ومحن، فوجدناه وهو في قمة المحنة يرفع إصبعه وهو يكرر إجابته على تحدي قريش: ((أحد … أحد .. ))، ولم تستطع قوة في الأرض، وما كان لها أن تستطيع أن تخفض إصبعه، إذ أن روحه، في اللحظة التي كانوا يصبون فيها العذاب على بدنه كانت منغمرة في فيض نوراني لا يوصف، هو (وعد) الحق.

وقصة المرأة التي طلبت من الرسول صلى الله عليه وسلم إقامة حد الزنا عليها تبرز لنا قيمة الوعيد في توجيه الطاقات النفسية في حالة معينة.

وربما أفدنا من هذه القصة ومن سابقتها، كيف تكون الحركة التاريخية التي تقع بين حدي- الوعد والوعيد- هادفة إلى ما هو أعلى، محلقة فوق ما هو أدنى.

فالقوة الروحية التي تتطابق مع العمل المثمر الفعال تقع إذن بين حالين من أحوال النفس، لا يوجد وراءها إلا الخمول والرخاوة في جانب، واليأس والعجز في جانب آخر.

وإن القرآن الكريم ليعرض لنا صورة أخاذة لهذين الحدين اللذين يضمان العمل المثمر في قوله تعالى:

{وَلَئِنْ أَذَقْنَا الْإِنْسَانَ مِنَّا رَحْمَةً ثُمَّ نَزَعْنَاهَا مِنْهُ إِنَّهُ لَيَئُوسٌ كَفُورٌ * وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ نَعْمَاءَ بَعْدَ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ ذَهَبَ السَّيِّئَاتُ عَنِّي إِنَّهُ لَفَرِحٌ فَخُورٌ} [هود: 11/ 9 و10].
(ক) {বস্তুত আল্লাহর কৌশল হতে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত কওমই নির্ভয় হতে পারে।} [আল-আরাফ: ৭/৯৯]।

(খ) {নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত থেকে কাফির সম্প্রদায় ব্যতীত কেউ নিরাশ হয় না।} [ইউসুফ: ১২/৮৭]।

এই দুই সীমানার মধ্যবর্তী স্থানেই আধ্যাত্মিক শক্তি কার্যকর প্রচেষ্টার সাথে আনুপাতিক হারে অবস্থান করে, যা এমন একটি সমাজ প্রয়োগ করে যারা কোনো ঐশী বার্তার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে, অর্থাৎ তার লক্ষ্য অনুযায়ী।

এই আধ্যাত্মিক অবস্থায় বিলাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর ওপর আসা যাতনা ও পরীক্ষার মুখে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। আমরা তাঁকে তাঁর চরম বিপদের মুহূর্তেও নিজের আঙুল উঁচু করে কুরাইশদের চ্যালেঞ্জের জবাবে বারংবার বলতে দেখেছি: ((আহাদ … আহাদ .. )), আর পৃথিবীর কোনো শক্তি তাঁর আঙুল নামিয়ে দিতে সক্ষম হয়নি এবং সক্ষম হওয়া সম্ভবও ছিল না। কেননা যে মুহূর্তে তারা তাঁর শরীরের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছিল, তাঁর রুহ তখন এক অবর্ণনীয় নূরানি প্লাবনে নিমজ্জিত ছিল, যা হলো সত্যের প্রতিশ্রুতি (وعد)।

আর সেই মহিলার কাহিনী, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিজের ওপর ব্যভিচারের (زنا) হদ্দ (حد) কায়েম করার আবেদন করেছিলেন, তা আমাদের কাছে একটি বিশেষ অবস্থায় মানসিক শক্তি পরিচালনায় শাস্তির ভীতির (وعيد) গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলে।

সম্ভবত আমরা এই কাহিনী এবং এর পূর্ববর্তী কাহিনী থেকে শিক্ষা নিতে পারি যে, কীভাবে প্রতিশ্রুতি (وعد) এবং শাস্তির ভীতি (وعيد)—এই দুই সীমানার মাঝে অবস্থিত ঐতিহাসিক গতিধারা সুউচ্চ লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয় এবং তুচ্ছ বিষয়গুলোর ঊর্ধ্বে বিচরণ করে।

সুতরাং, যে আধ্যাত্মিক শক্তি ফলপ্রসূ ও কার্যকর কর্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নফসের এমন দুটি অবস্থার মাঝে অবস্থান করে যার বাইরে কেবল একদিকে স্থবিরতা ও শিথিলতা এবং অন্যদিকে নিরাশা ও অক্ষমতা বিরাজ করে।

কুরআনুল কারীম আমাদের নিকট এই দুই সীমানার একটি চিত্তাকর্ষক চিত্র উপস্থাপন করে যা ফলপ্রসূ কর্মকে ধারণ করে। মহান আল্লাহ বলেন:

{আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ হতে কোনো রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই এবং পরে তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই, তবে সে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে। আর যদি তার ওপর আসা দুঃখ-কষ্টের পর আমি তাকে নেয়ামত আস্বাদন করাই, তবে সে অবশ্যই বলে— 'আমার মন্দাবস্থা দূর হয়ে গেছে', নিশ্চয় সে অত্যন্ত উৎফুল্ল ও অহংকারী।} [হুদ: ১১/৯ ও ১০]।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌التاريخ والعلاقات الاجتماعية

وهكذا تحتمل فكرة (الحركة التاريخية) تفسيرات عدة، فمؤرخ كتوينبي يقدم في تفسيرها تأثير الوسط الطبيعي، وعالم الاجتماع يستطيع إذا هو اعتمد على تعاليم المدرسة الماركسية أن يغلب تأثير العامل الاقتصادي.

ولكنا نجد في التحليل الأخير أن آلية الحركة التاريخية إنما ترجع في حقيقتها إلى مجموع من العوامل النفسية الذي يعد ناتجاً عن بعض القوى الروحية، وهذه القوى الروحية هي التي تجعل من النفس المحرك الجوهري للتاريخ الإنساني.

وهكذا وجدنا في مستهل القرن التاسع عشر أحد كبار المؤرخين (جيزو)، يحلل الحركات التاريخية في أوربا، فيرد المشكلة إلى حدود علم الاجتماع وعلم النفس معاً. فالمؤرخ الفرنسي الكبير يرى أن التاريخ بصفته (علم ما وقع فعلاً) يمكن أن يتناول موضوعه بطريقتين: فإما أن يجد مجال دراسته في الفرد نفسه، في كل ما يؤثر في حياته، وينير من صفات إنسانيته، وإما أن يجده في الوسط الذي يحيط بهذا الفرد، أعني في كل ما يؤثر في حياة المجتمع، ويغير من صفاته، والتاريخ على أية حال ليس سوى هذا التغيير الذي تتعرض له (الذات)، والمجال الذي يحوطها على سواء.

أي إنه على ما ذهب إليه علم الاجتماع: (النشاط المشترك) المستمر الذي تقوم به الكائنات والأفكار والأشياء، مطبوعاً على صفحة الزمان.
ইতিহাস ও সামাজিক সম্পর্ক

এভাবেই (ঐতিহাসিক গতিশীলতা) এর ধারণাটি বিভিন্ন ব্যাখ্যার সম্ভাবনা রাখে। টয়েনবির মতো একজন ইতিহাসবিদ এর ব্যাখ্যায় প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাবকে উপস্থাপন করেন, আবার একজন সমাজবিজ্ঞানী যদি মার্ক্সবাদী দর্শনের শিক্ষার ওপর নির্ভর করেন, তবে তিনি অর্থনৈতিক উপাদানের প্রভাবকে প্রাধান্য দিতে পারেন।

কিন্তু চূড়ান্ত বিশ্লেষণে আমরা দেখতে পাই যে, ঐতিহাসিক গতিশীলতার মূল কৌশলটি প্রকৃতপক্ষে কিছু মনস্তাত্ত্বিক উপাদানের সমষ্টির দিকে ফিরে যায়, যা কিছু আধ্যাত্মিক শক্তির ফল হিসেবে গণ্য হয়। আর এই আধ্যাত্মিক শক্তিগুলোই মানবাত্মাকে মানব ইতিহাসের মৌলিক চালিকাশক্তিতে পরিণত করে।

এভাবেই আমরা ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে একজন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ (গিজো)-কে ইউরোপের ঐতিহাসিক আন্দোলনগুলো বিশ্লেষণ করতে দেখি, যেখানে তিনি এই সমস্যাটিকে সমাজবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞান—উভয় শাস্ত্রের সীমানায় নিয়ে এসেছেন। এই মহান ফরাসি ইতিহাসবিদ মনে করেন যে, ইতিহাস (প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছে তার বিজ্ঞান) হিসেবে তার বিষয়বস্তুকে দুটি পদ্ধতিতে গ্রহণ করতে পারে: হয় সে তার অধ্যয়নের ক্ষেত্রটি খোদ ব্যক্তির মাঝে খুঁজে পাবে—যা কিছু তার জীবনে প্রভাব ফেলে এবং তার মানবিক গুণাবলিকে বিকশিত করে; অথবা সে তার ক্ষেত্রটি ওই ব্যক্তিকে পরিবেষ্টনকারী পরিবেশের মধ্যে খুঁজে পাবে—অর্থাৎ যা কিছু সমাজের জীবনে প্রভাব ফেলে এবং তার বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। ইতিহাস যাই হোক না কেন, তা (সত্তা) এবং তাকে পরিবেষ্টনকারী ক্ষেত্র—উভয়ের ওপর আপতিত এই পরিবর্তন ছাড়া আর কিছুই নয়।

অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞানের অভিমত অনুযায়ী এটি হলো: সময় বা কালের পাতায় অঙ্কিত সত্তা, ধারণা এবং বস্তুসমূহের দ্বারা পরিচালিত নিরবচ্ছিন্ন (যৌথ সক্রিয়তা)।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وإذا أردنا تعبيراً أدق فإنا نقول: إن صناعة التاريخ تتم تبعاً لتأثير طوائف اجتماعية ثلاث:

أ - تأثير (عالم الأشخاص)

ب - تأثير (عالم الأفكار)

جـ - تأثير (عالم الأشياء)

لكن هذه العوالم الثلاثة لا تعمل متفرقة، بل تتوافق في عمل مشترك تأتي صورته طبقاً لنماذج إيديولوجية من (عالم الأفكار)، يتم تنفيذها بوسائل من (عالم الأشياء)، من أجل غاية يحددها (عالم الأشخاص).

فالعمل التاريخي بالضرورة من صنع الأشخاص والأفكار والأشياء جميعاً، ومعنى هذا أنه لا يمكن أن يتم عمل تاريخي إذا لم تتوافر صلات ضرورية داخل هذه العوالم الثلاثة لتربط أجزاءها في نطاقها الخاص وبين هذه العوالم، لتشكل كيانها العام، من أجل عمل مشترك.

وكما أن وحدة هذا العمل التاريخي ضرورة، فإن توافق هذه الوحدة مع الغاية منها- وهي التي تتجسم في صورة (حضارة) - يعد ضرورة أيضاً. وهذا الشرط يستلزم كنتيجة منطقية وجود (عالم) رابع، هو مجموع العلاقات الاجتماعية الضرورية أو ما نطلق عليه (شبكة العلاقات الاجتماعية).

ولقد أشرنا فيما مضى إلى أن المجتمع ليس مجرد كمية من الأفراد، وإنما هو اشتراك هؤلاء الأفراد في اتجاه واحد، من أجل القيام بوظيفة معينة ذات غاية، ونضيف الآن أن (عمل) المجتمع ليس مجرد اتفاق (عفوي) بين الأشخاص والأفكار والأشياء، بل هو تركيب هذه العوالم الاجتماعية الثلاثة، التركيب الذي يحقق معه ناتجُ هذا التركيب في اتجاهه وفي مداه (تغييرَ) وجوه الحياة، أو بمعنى أصح: تطور هذا المجتمع.
আমরা যদি আরও নির্ভুল কোনো অভিব্যক্তি ব্যবহার করতে চাই, তবে আমরা বলব যে: ইতিহাসের বিনির্মাণ তিনটি সামাজিক শ্রেণির প্রভাব অনুযায়ী সম্পন্ন হয়:

ক - (ব্যক্তি-জগতের) প্রভাব

খ - (চিন্তা-জগতের) প্রভাব

গ - (বস্তু-জগতের) প্রভাব

তবে এই তিনটি জগৎ পৃথকভাবে কাজ করে না, বরং তারা একটি যৌথ কর্মতৎপরতায় ঐকমত্য পোষণ করে, যার রূপরেখা তৈরি হয় (চিন্তা-জগৎ) থেকে আগত আদর্শিক কাঠামোর ভিত্তিতে; যা বাস্তবায়িত হয় (বস্তু-জগতের) উপকরণের মাধ্যমে এবং যার লক্ষ্য নির্ধারিত হয় (ব্যক্তি-জগৎ) কর্তৃক।

সুতরাং ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ড অনিবার্যভাবে ব্যক্তি, চিন্তা ও বস্তু—এই সবকিছুরই সমন্বিত সৃষ্টি। এর অর্থ হলো, কোনো ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয় যদি না এই তিনটি জগতের প্রত্যেকটির অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে এবং এই জগৎগুলোর নিজেদের মাঝে প্রয়োজনীয় সংযোগ বিদ্যমান থাকে, যা তাদের স্ব স্ব পরিধিতে এবং সামগ্রিক সত্তা গঠনের লক্ষ্যে একটি যৌথ কর্মতৎপরতার জন্য ঐক্যবদ্ধ করে।

আর এই ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডের ঐক্য যেমন অপরিহার্য, তেমনি এই ঐক্যের সাথে তার অভীষ্ট লক্ষ্যের—যা (সভ্যতা) হিসেবে মূর্ত হয়ে ওঠে—সামঞ্জস্য থাকাও জরুরি। আর এই শর্তটি যৌক্তিক পরিণতি হিসেবে চতুর্থ একটি (জগতের) অস্তিত্বের দাবি রাখে, যা হলো প্রয়োজনীয় সামাজিক সম্পর্কসমূহের সমষ্টি বা যাকে আমরা (সামাজিক সম্পর্কের জাল) বলে অভিহিত করি।

আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দিয়েছি যে, সমাজ কেবল একগুচ্ছ ব্যক্তির সমষ্টি নয়, বরং সমাজ হলো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে একটি অভিন্ন অভিমুখে এই ব্যক্তিদের অংশীদারিত্ব। আমরা এখন আরও যোগ করছি যে, সমাজের (কাজ) ব্যক্তি, চিন্তা ও বস্তুর মধ্যে কেবল কোনো (স্বতঃস্ফূর্ত) সমঝোতা নয়, বরং এটি হলো এই তিনটি সামাজিক জগতের এক বিশেষ বিন্যাস; যে বিন্যাসের ফলাফল তার অভিমুখ ও ব্যাপ্তির মাধ্যমে জীবনের রূপরেখায় (পরিবর্তন) সাধন করে, অথবা আরও সঠিকভাবে বললে: এই সমাজের বিবর্তন ঘটায়।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌أصل العلاقات الاجتماعية

ومع ذلك فإن شبكة العلاقات الضرورية لأداء العمل الاجتماعي المشترك ليست نتيجة أولية تستحدثها العوالم التي يتكون منها مجتمع معين، بل هي نتيجة لظروف والشروط التي تحدث الحركة التاريخية نفسها.

ولقد رأينا أن هذه الحركة يمكن تفسيرها على أنها ثمرة لتعارض معين طبقاً لمنهج (هيجل)، أو على أنها إجابة على تحدٍّ معين على ما ذهب إليه (توينبي).

والمعلوم أن أول عمل يؤديه مجمتع معين في طريق تغيير نفسه مشروط باكتمال هذه الشبكة من العلاقات. وعلى هذا نستطيع أن نقرر أن شبكة العلاقات هي العمل التاريخي الأول الذي يقوم به المجتمع ساعة ميلاد .. ومن أجل ذلك كان أول عمل قام به المجتمع الإسلامي هو الميثاق الذي يربط بين الأنصار والمهاجرين. وكانت الهجرة نقطة البداية في التاريخ الإسلامي، لا لأنها تتفق مع عمل شخصي قام به النبي صلى الله عليه وسلم، ولكن لأنها تتفق مع أول عمل قام به المجتمع الإسلامي، أي مع تكوين شبكة علاقاته الاجتماعية، حتى قبل أن تتكون تكوناً واضحاً عوالمه الاجتماعية الثلاثة.

فإن التاريخ إنما يبدأ في الواقع قبل أن تتكون هذه العوالم، وذلك واضح في حالة المجتمع الإسلامي ساعة ميلاده. كما أنه قد ينتهي- أحياناً- بينما المجتمع غني بما فيه من (أشخاص) و (أفكار) و (أشياء). كما قد حدث أيضاً للمجتمع الإسلامي إبان أفوله، أي عندما نجم في تطوره مركب القابلية للاستعمار. لقد كان المجتمع الإسلامي آنذاك غنياً، ولكن شبكة علاقاته الاجتماعية قد تمزقت.
সামাজিক সম্পর্কের উৎস

তা সত্ত্বেও, যৌথ সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পর্কের জাল এমন কোনো প্রাথমিক ফলাফল নয় যা একটি নির্দিষ্ট সমাজ গঠনকারী জগতগুলো দ্বারা সৃজিত হয়; বরং এটি সেই সমস্ত পরিস্থিতি ও শর্তাবলিরই ফল যা ঐতিহাসিক গতিশীলতা নিজেই তৈরি করে।

আমরা দেখেছি যে, এই গতিশীলতাকে হেগেলের পদ্ধতি অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট দ্বন্দ্বের ফসল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, অথবা টয়েনবির মতানুসারে একটি নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জের উত্তর হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এটি সুবিদিত যে, কোনো নির্দিষ্ট সমাজ নিজেকে পরিবর্তনের পথে যে প্রথম কাজটি করে, তা এই সম্পর্কের জালের পূর্ণতা প্রাপ্তির শর্তের ওপর নির্ভরশীল। এর ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, সম্পর্কের এই জাল হলো সেই প্রথম ঐতিহাসিক কাজ যা একটি সমাজ তার জন্মের মুহূর্তে সম্পাদন করে। আর এই কারণেই ইসলামি সমাজ কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম কাজটি ছিল সেই অঙ্গীকারনামা যা আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে বন্ধন তৈরি করেছিল। হিজরত ইসলামি ইতিহাসের সূচনা বিন্দু ছিল, তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো ব্যক্তিগত কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল বলে নয়, বরং এটি ইসলামি সমাজ কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম কাজের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল বলে; অর্থাৎ এর মাধ্যমে তার সামাজিক সম্পর্কের জাল বিন্যস্ত হয়েছিল, এমনকি তার তিনটি সামাজিক জগত স্পষ্টভাবে গঠিত হওয়ার পূর্বেই।

প্রকৃতপক্ষে ইতিহাস শুরু হয় এই জগতগুলো গঠিত হওয়ার আগেই, যা ইসলামি সমাজের জন্মের মুহূর্তে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। একইভাবে, কখনো কখনো ইতিহাসের সমাপ্তিও ঘটতে পারে এমন অবস্থায় যখন সমাজ (ব্যক্তি), (চিন্তা) এবং (বস্তু) দ্বারা সমৃদ্ধ থাকে। ইসলামি সমাজের পতনের পর্বেও এমনটি ঘটেছিল, অর্থাৎ যখন এর বিবর্তনের ধারায় 'উপনিবেশিত হওয়ার প্রবণতা'র জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সেই সময় ইসলামি সমাজ সমৃদ্ধ ছিল, কিন্তু তার সামাজিক সম্পর্কের জাল ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهو ما ألمح إليه النبي صلى الله عليه وسلم دون شك- للتربية لا لمجرد الخبر- في قوله: «يوشك أن تداعى الأمم عليكم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها. قالوا: أو من قلة نحن يومئذ يا رسول الله؟ قال: لا، بل أنتم كثير، ولكنم غثاء كغثاء السيل، ولينزعن الله من صدور أعدائكم المهابة منكم، وليقذفن في قلوبكم الوهن. قيل: وما الوهن يا رسول الله .. ؟ قال: حب الدنيا وكراهية الموت». لقد كان هذا الحديث ضرباً من التنبؤ والاستحضار: استحضار صورة العالم الإسلامي بعد أن تتمزق شبكة علاقاته الاجتماعية، أي عندما لا يعود مجتمعاً، بل مجرد تجمعات لا هدف لها كغثاء السيل.

ولا ريب أن جيلنا الحاضر يدرك هذا الحديث أكثر مما كان يدركه أصحاب النبي، لأنه يصف في مضمونه العالم المستعمر والقابل للاستعمار، الأمر الذي تعرضنا فيه لتجربة شخصية.

ومهما يكن من شيء، فإن أحداً من الناس لا يستطيع أن يدعي أن هذه العلاقات مجرد أثر ناتج عن إضافة أشخاص وأفكار وأشياء إلى المجتمع. فالواقع أننا حين نتحدث عن عالم من هذه العوالم الثلاثة، فإنما نقصد إلى الحديث عن المجتمع في مرحلة من مراحل تغييره، أي في مرحلة يعد كل عالم منها- في ذاته- ثمرة هذا التغيير.

(فالشخص) في ذاته ليس مجرد فرد يكون النوع، وإنما هو الكائن المعقد الذي ينتج حضارة. وهذا الكائن هو في ذاته نتاج الحضارة، إذ هو يدين لها بكل ما يملك من أفكار وأشياء.

وبعبارة أخرى كل من العوالم الاجتماعية الثلاثة يتفق مع الصيغة التحليلية التالية:

ناتج حضارة = إنسان + تراب + وقت
আর এটিই সেই বিষয় যার প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিঃসন্দেহে ইঙ্গিত করেছেন—কেবল সংবাদ প্রদানের জন্য নয়, বরং শিক্ষার উদ্দেশ্যে—তাঁর এই বাণীতে: «শীঘ্রই বিভিন্ন জাতি তোমাদের বিরুদ্ধে একে অপরকে এমনভাবে আহ্বান করবে, যেভাবে আহারকারীরা তাদের খাবারের পাত্রের দিকে একে অপরকে ডাকে। তারা জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল, সেদিন কি আমরা সংখ্যায় অল্প হওয়ার কারণে এমন হবে? তিনি বললেন: না, বরং তোমরা সংখ্যায় অনেক হবে, কিন্তু তোমরা হবে বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া ফেনার মতো। আর আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয় দূর করে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে 'ওয়াহন' বা দুর্বলতা ঢেলে দেবেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, 'ওয়াহন' কী? তিনি বললেন: দুনিয়ার প্রতি আসক্তি এবং মৃত্যুর প্রতি অনীহা।» এই হাদিসটি ছিল এক প্রকার ভবিষ্যদ্বাণী এবং বর্তমান পরিস্থিতির চিত্রায়ন: সামাজিক সম্পর্কের জাল ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর মুসলিম বিশ্বের স্বরূপ চিত্রায়ন; অর্থাৎ যখন এটি আর একটি সুসংহত সমাজ থাকবে না, বরং লক্ষ্যহীন জনসমষ্টিতে পরিণত হবে যা বন্যার স্রোতে ভেসে আসা আবর্জনার মতো।

নিঃসন্দেহে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম এই হাদিসটিকে আল্লাহর নবীর সাহাবীদের তুলনায় অধিকতর গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারে, কারণ এটি এর বিষয়বস্তুর মাধ্যমে ঔপনিবেশিক এবং উপনিবেশ-যোগ্য বিশ্বকে চিত্রায়িত করে, যার তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের ব্যক্তিগতভাবে হয়েছে।

যাই হোক না কেন, কোনো ব্যক্তিই এমন দাবি করতে পারে না যে, এই সামাজিক সম্পর্কগুলো কেবল সমাজে ব্যক্তি, চিন্তা এবং বস্তুসমূহের সংমিশ্রণের ফলে উদ্ভূত একটি প্রভাব মাত্র। বাস্তবতা হলো, আমরা যখন এই তিনটি জগতের কোনো একটি সম্পর্কে আলোচনা করি, তখন মূলত আমরা পরিবর্তনের কোনো এক পর্যায়ে থাকা সমাজ নিয়েই আলোচনা করি; অর্থাৎ এমন এক পর্যায় যেখানে প্রতিটি জগৎ স্বতন্ত্রভাবে সেই পরিবর্তনেরই ফলশ্রুতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

(ব্যক্তি) সত্তাগতভাবে কেবল এমন কোনো একক মানুষ নয় যা একটি প্রজাতি গঠন করে, বরং সে হলো এক জটিল সত্তা যা সভ্যতা বিনির্মাণ করে। আর এই সত্তা নিজেই সভ্যতার ফসল, কারণ তার চিন্তা এবং সহায়-সম্পদ সবকিছুর জন্যই সে সভ্যতার কাছে ঋণী।

অন্য কথায়, তিনটি সামাজিক জগতের প্রতিটিই নিম্নোক্ত বিশ্লেষণমূলক সূত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ:

সভ্যতার ফসল = মানুষ + মাটি + সময়
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৮)
هذه العلاقة العضوية التاريخية الأساسية تتجلى في كل عنصر من عناصر المجتمع الثلاثة لتؤكد وحدة تأثيره منفرداً، كما تتجلى في علاقاته بالعنصرين الآخرين لتؤكد وحدة تأثيرها مجتمعة. وهي تتجلى خاصة في الإطار الشخصي للفرد، حين تقدم له بصورة ما جوهر نظام علاقاته الاجتماعية؛ وخلاصة القول إن أصل شبكة العلاقات الاجتماعية- الذي يتيح لمجتمع معين أن يؤدي عمله المشترك في التاريخ- إنما يكمن في تَخلُّقِ تركيبه العضوي التاريخي. وعلى هذا فإن تاريخ هذا التركيب هو الذي يفسر أصله، كما يحدد في الوقت نفسه طبيعة العلاقات الاجتماعية لحظة نشوئها.

***
এই মৌলিক ঐতিহাসিক জৈব সম্পর্কটি সমাজের তিনটি উপাদানের প্রতিটিতেই পরিলক্ষিত হয় যা এককভাবে তার প্রভাবের সংহতিকে সুনিশ্চিত করে; ঠিক যেমন এটি অন্য দুটি উপাদানের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিস্ফুট হয় যাতে সমষ্টিগতভাবে তাদের প্রভাবের ঐক্য নিশ্চিত করা যায়। এটি বিশেষভাবে ব্যক্তির ব্যক্তিগত কাঠামোর মধ্যে প্রতিভাত হয়, যখন তা তার নিকট সামাজিক সম্পর্কের ব্যবস্থার সারসত্তা কোনো না কোনোভাবে উপস্থাপন করে। সারকথা হলো, সামাজিক সম্পর্কের জালের মূল ভিত্তি (أصل) — যা একটি নির্দিষ্ট সমাজকে ইতিহাসে তার যৌথ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সক্ষমতা দান করে — তা মূলত তার ঐতিহাসিক জৈব কাঠামোর বিবর্তনের মধ্যে নিহিত। সুতরাং, এই কাঠামোর ইতিহাসই তার আদি উৎসকে (أصل) ব্যাখ্যা করে এবং একই সাথে সামাজিক সম্পর্কের সূচনালগ্নের প্রকৃতি নির্ধারণ করে।

***
(খণ্ড: ১) মীলাদু মুজতামা (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌طبيعة العلاقات

لو أننا وجدنا في مكان معين وفي زمن معين، نشاطاً متآلفاً من الناس والأفكار والأشياء دلنا ذلك على أن الحضارة قد بدأت في هذا المجال، وأن تركيبها قد تم فعلاً (في عالم الأشخاص).

إن العمل الأول في طريق التغيير الاجتماعي هو العمل الذي يغير الفرد من كونه (فرداً) (( Individu)) إلى أن يصبح (شخصاً) (( Personne)) وذلك بتغيير صفاته البدائية التي تربطه بالنوع إلى نزعات اجتماعية تربطه بالمجتمع.

هذه العلاقات الخاصة بعالم (الأشخاص) هي التي تقدم الروابط الضرورية بين الأفكار والأشياء، في نطاق النشاط المشترك الذي يقوم به مجتمع ما.

واجتماع الأشخاص في أي ظرف وفي أي مكان، هو التعبير المرئي عن هذه العلاقات في مجال معين من مجالات النشاط الاجتماعي.

وجميع صور هذا الاجتماع- سواء كانت في هيئة تظاهرة أم مدرسة، أم جيش أم مصنع أم نقابة أم سينما .. هي تعبير عن شبكة هذه العلاقات في صور مختلفة.

فالاجتماع الذي يتمثل فيه أول عمل يؤديه مجتمع إبان ميلاده يترجم ترجمة صادقة وقوية عن شبكة علاقاته.

وأصدق ما يدل على ذلك في المجتمع الإسلامي اجتماع المسلمين في المسجد، في صلاة الجمعة مثلاً، فهذا الاجتماع يحمل في مضونه أكبر المعاني التي تذكره بميلاده: فهو رمزه وتذكاره.
সম্পর্কের প্রকৃতি

যদি আমরা কোনো নির্দিষ্ট স্থানে এবং নির্দিষ্ট সময়ে মানুষ, চিন্তা ও বস্তুর মাঝে একটি সুসংগত কর্মকাণ্ড দেখতে পাই, তবে তা আমাদের নির্দেশ করে যে সেই ক্ষেত্রে সভ্যতার সূচনা হয়েছে এবং (ব্যক্তিবর্গের জগতে) এর গঠন-প্রক্রিয়া প্রকৃতপক্ষে সম্পন্ন হয়েছে।

সামাজিক পরিবর্তনের পথে প্রথম পদক্ষেপ হলো সেই কাজ, যা ব্যক্তিকে নিছক একটি 'ব্যষ্টি' (( Individu)) সত্তা থেকে 'ব্যক্তিত্বে' (( Personne)) রূপান্তরিত করে; আর তা অর্জিত হয় তার সেই আদিম বৈশিষ্ট্যগুলো পরিবর্তনের মাধ্যমে যা তাকে কেবল স্বীয় প্রজাতির সাথে আবদ্ধ রাখে এবং সেগুলোকে এমন সামাজিক প্রবণতায় রূপান্তরের মাধ্যমে যা তাকে সমাজের সাথে সুসংবদ্ধ করে।

'ব্যক্তিবর্গের' জগতের এই বিশেষ সম্পর্কগুলোই কোনো সমাজের পরিচালিত যৌথ কর্মকাণ্ডের পরিসরে চিন্তা ও বস্তুর মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগসূত্র স্থাপন করে।

যে কোনো পরিস্থিতিতে এবং যে কোনো স্থানে ব্যক্তিবর্গের একত্রিত হওয়া হলো সামাজিক কর্মকাণ্ডের কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে এই সম্পর্কগুলোরই দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ।

এই সমাবেশের সকল রূপ—তা বিক্ষোভ, বিদ্যালয়, সেনাবাহিনী, কারখানা, শ্রমিক ইউনিয়ন কিংবা সিনেমা যে আকারেই হোক না কেন—তা বিভিন্ন আঙ্গিকে এই সম্পর্ক-জালেরই অভিব্যক্তি।

একটি সমাজ তার জন্মলগ্নে যে প্রথম কাজটি সম্পাদন করে, তাতে যে সমাবেশের প্রতিফলন ঘটে, তা তার পারস্পরিক সম্পর্ক-জালের একটি যথার্থ (صادقة) ও শক্তিশালী (قوية) চিত্র তুলে ধরে।

ইসলামি সমাজে এর সবচেয়ে প্রকৃষ্ট প্রমাণ হলো মসজিদে মুসলমানদের একত্রিত হওয়া, উদাহরণস্বরূপ জুমার নামাজ; কারণ এই সমাবেশ তার মর্মার্থের গভীরে এমন মহত্তম অর্থ বহন করে যা তাকে তার জন্মের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়: এটি তার প্রতীক ও স্মারক।