(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: -)
شرح المنظومة الحائية لابن أبي داود   (عبد الكريم الخضير)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح المنظومة الحائية لابن أبي داود

مؤلف الأصل: أبو بكر بن أبي داود، عبد الله بن سليمان بن الأشعث الأزدي السجستاني (ت 316هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 5 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432

ইবনে আবি দাউদের আল-মানজুমাহ আল-হাইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা   (আব্দুল কারীম আল-খুদাইর)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: ইবনে আবি দাউদের আল-মানজুমাহ আল-হাইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা

মূল লেখক: আবু বকর ইবনে আবি দাউদ, আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনে আল-আশআস আল-আযদি আস-সিজিস্তানি (মৃত্যু ৩১৬ হি.)

ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর

শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনুলিপিকৃত দরসসমূহ

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বর হলো পাঠ নম্বর - ৫টি পাঠ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মহররম ১৪৩২

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح المنظومة الحائية لابن أبي داود]ـ

مؤلف الأصل: أبو بكر بن أبي داود، عبد الله بن سليمان بن الأشعث الأزدي السجستاني (المتوفى: 316هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 5 دروس]
—[ইবনে আবি দাউদ বিরচিত আল-মানযুমাহ আল-হাইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা]—

মূল লেখক: আবু বকর বিন আবি দাউদ, আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-আশআদ আল-আযদী আস-সিজিস্তানি (মৃত্যু: ৩১৬ হিজরি)

ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর

শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত পাঠের প্রতিলিপি

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটি পাঠ নম্বর হিসেবে গণ্য - ৫টি পাঠ]
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

شرح المنظومة الحائية لابن أبي داود (1)

الشيخ: عبد الكريم بن عبد الله الخضير

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.

سم.

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

ربنا اغفر لنا ولشيخنا وللحاضرين والسامعين برحمتك يا أرحم الراحمين.

 

حائية ابن أبي داود

قال رحمه الله:

تمسك بحبل الله واتبع الهدى … ولا تك بدعياً لعلك تفلحُ

ودن بكتاب الله والسنن التي … أتت عن رسول الله تنج وتربحُ

وقل غير مخلوق كلام مليكنا … بذلك دان الأتقياء وأفصحوا

ولا تك في القرآن بالوقف قائلاً … كما قال أتباع لجهم وأسجحوا

ولا تقل: القرآن خلقٌ قرأته … فإن كلام الله باللفظ يوضح

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فمن المؤلفات والمصنفات في تقرير عقيدة السلف الصالح قد كثرت وتنوعت، فمنها المطول، ومنها المختصر، ومنها ما كتب بأسانيده، ومنها ما جرد عن الأسانيد، وكتب استنباطاً من النصوص، ومنها المتون المختصرة، ومنها الشروح والحواشي، ومنها ما جاء نظماً، ومنها ما جاء نثراً.

فمن المصنفات المختصرة المنظومة هذه الحائية المباركة الجامعة الماتعة النافعة، هذه الحائية محل عناية من أهل العلم منذ تأليفها إلى يومنا هذا.

ثبتت بطريق قطعي عن مؤلفها، بحيث رواها جمع من الآخذين عنه، وعنهم جموع إلى أن وصلت إلينا كما كُتبت.

هذه الحائية لأهميتها قرأها الشيوخ، وأقرؤوها الطلاب، وحفظوها وحفّظوها، وشرحوها بشروح مكتوبة، وشروح مسموعة، كثير من هذه الشروح لم يصل إلينا، وما وصل إلينا إلا شرح السفاريني (لوائح الأنوار) شرح السفاريني مطبوع في جزأين، وأيضاً من الشروح المكتوبة شرح للشيخ الدكتور عبد الرزاق البدر، وهو على اختصاره شرح جميل ونافع، وأسلوبه سهل، يعني يستفيد منه طالب العلم فائدة تامة، شيوخنا أيضاً لهم عناية بهذه الحائية، ولهم عليها شروح مسجلة موجودة ولله الحمد، استفاد منها طلاب العلم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

ইবনে আবি দাউদ রহ.-এর মানজুমা আল-হাইয়্যাহর ব্যাখ্যা (১)

শায়খ: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর

আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।

শুরু করুন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

হে আমাদের রব! আপনি আমাদের, আমাদের শায়খকে এবং উপস্থিত ও শ্রবণকারী সকলকে আপনার রহমতের মাধ্যমে ক্ষমা করে দিন, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

 

ইবনে আবি দাউদ রহ.-এর হাইয়্যাহ

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:

আল্লাহর রশিকে আঁকড়ে ধরো এবং হেদায়াতের অনুসরণ করো … এবং বিদআতি হয়ো না, যাতে তুমি সফল হতে পারো।

আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণিত সুন্নাহকে তোমার দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করো … তবেই তুমি মুক্তি ও সাফল্য পাবে।

এবং বলো যে আমাদের রাজাধিরাজের কালাম সৃষ্টি নয় … মুত্তাকীগণ এটিই বিশ্বাস করতেন এবং স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

আর কুরআনের ব্যাপারে 'ওয়াকফ' (নীরবতা) অবলম্বনকারী হয়ো না … যেমনটি জাহমিয়ার অনুসারীরা বলেছিল এবং পথভ্রষ্ট হয়েছিল।

আর এ কথা বলো না যে: 'আমার পঠিত কুরআন সৃষ্টি' … কারণ আল্লাহর কালাম উচ্চারণের মাধ্যমেই পরিস্ফুটিত হয়।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

সালাফে সালেহীনের আকিদা বা বিশ্বাস বর্ণনার ক্ষেত্রে রচিত গ্রন্থ ও সংকলনসমূহ অনেক এবং বৈচিত্র্যময়। সেগুলোর মধ্যে কোনটি দীর্ঘ, কোনটি সংক্ষিপ্ত, কোনটি সনদসহ রচিত, কোনটি সনদবিহীনভাবে দলিলসমূহ থেকে আহরণ করে লেখা হয়েছে। আবার কোনটি সংক্ষিপ্ত মূল পাঠ, কোনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা। কোনোটি কাব্য আকারে এবং কোনোটি গদ্য আকারে রচিত।

এই সংক্ষিপ্ত সংকলনগুলোর মধ্যে এই বরকতময় হাইয়্যাহ কাব্যটি অত্যন্ত ব্যাপক, চমৎকার ও উপকারী। এই হাইয়্যাহটি রচনার সময় থেকে আজ পর্যন্ত আলেমদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

এটি এর লেখকের পক্ষ থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত, কারণ এটি তাঁর নিকট থেকে একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের থেকে আরও বহু দল বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না এটি যেভাবে লেখা হয়েছিল সেভাবেই আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

এর গুরুত্বের কারণে শায়খগণ এটি পড়েছেন এবং ছাত্রদের পড়িয়েছেন। তাঁরা এটি মুখস্থ করেছেন এবং মুখস্থ করিয়েছেন। তাঁরা এর লিখিত ও শ্রুতিবদ্ধ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। এই ব্যাখ্যাগুলোর অনেকগুলোই আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো সাফফারীনীর ব্যাখ্যা (লাওয়াইহুল আনওয়ার)। সাফফারীনীর এই ব্যাখ্যাটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত। এছাড়াও লিখিত ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যে শায়খ ডক্টর আব্দুর রাজ্জাক আল-বাদর-এর একটি ব্যাখ্যা রয়েছে, যা সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও একটি চমৎকার ও উপকারী ব্যাখ্যা এবং এর ভাষা অত্যন্ত সহজ। অর্থাৎ একজন দ্বীনি শিক্ষার্থী এটি থেকে পূর্ণ ফায়দা লাভ করতে পারে। আমাদের শায়খগণও এই হাইয়্যাহর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এর ওপর তাঁদের রেকর্ডকৃত ব্যাখ্যা রয়েছে যা আল্লাহর প্রশংসা, বিদ্যমান এবং দ্বীনি শিক্ষার্থীরা তা থেকে উপকৃত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ২)
هذه الحائية في ثلاثة وثلاثين بيتاً، وهناك مزيد عليها من أبيات كأنها لبعض …

هذا يقول: في مقدمة الشيخ وممن شرحها ابن البناء، ثم قال: وشروحاتهم لا أعلم لها وجوداً، رواها الآجري وصنف لها شرحاً، وأبو عبد الله بن بطة في الإبانة، وممن شرحها ابن البناء، وشروحاتهم لا أعلم لها وجوداً.

لكنه يقول في الطبعة الثانية يقول: إنه وقف قريباً على شرح ابن البناء للحائية المخطوطة في المكتبة الظاهرية بدمشق، وأما شرح السفاريني واسمه: (لوائح الأنوار السَنية ولواقع الأفكار السُنية شرح قصيدة ابن أبي داود الحائية في عقيدة أهل الآثار السلفية) هذا مطبوع يمكن من عشر سنوات.

وهذا الشرح أعني شرح الشيخ عبد الرزاق شرح جميل وواضح، وفيه فوائد، يعني شرح متعوب عليه، فحري بطالب العلم أن يُعنى به، وأما بالنسبة لشرحنا فأظن المدة ما تسمح بشرح مفصل، إنما نعلق على الأبيات بقدر ما يسمح به الوقت.

هذه الحائية لها نسخ كثيرة، أقول: لها نسخ كثيرة متداولة موجودة في بطون الموسوعات العلمية من كتب التراجم وكتب العقائد.

أما طباعتها فقد طُبعت في مطبعة الترقي بدمشق سنة (1350هـ) يعني من ستة وسبعين سنة، ضمن مجموع يشمل: (نجاة الخلف في اعتقاد السلف) للشيخ عثمان بن أحمد النجدي و (عقيدة السفاريني) ثم عقيدة أبي بكر بن أبي داود، وطبعت أيضاً في نسخ ضمن مجموع يضم إضافة إلى الحائية عقيدة أبي الخطاب الكلوذاني، وعقيدة أبي الحسن الأشعري، وذم التأويل لابن قدامة، والتحف في مذاهب السلف للشوكاني، وفتوى الشيخ عبد المجيد سليم مفتي الديار المصرية، هذه المجموعة مطبوعة في مطبعة المنار بمصر سنة (1351هـ) والطبعتان كلاهما فيه شيء من العناية والتحقيق والتصحيح والتصويب، وما فيها من فروق مع الطبعات الجديدة يبين في .. ، كل بيت في وقته -إن شاء الله تعالى-.
এই হাইয়্যাহ কবিতাটি তেত্রিশটি পঙক্তিতে রচিত, এবং এর ওপর আরও কিছু অতিরিক্ত পঙক্তি রয়েছে যা দেখে মনে হয় সেগুলো কারো …

তিনি বলছেন: শাইখের ভূমিকায় বর্ণিত হয়েছে যে, যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে ইবনুল বান্না অন্যতম। এরপর তিনি বললেন: তাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর কোনো অস্তিত্ব সম্পর্কে আমি জানি না। আল-আজুরি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন। আবু আব্দুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ এটি 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। যারা এর ব্যাখ্যা করেছেন তাদের মধ্যে ইবনুল বান্নাও রয়েছেন, তবে তাদের সেই ব্যাখ্যাগুলো বর্তমানে পাওয়া যায় কি না তা আমার জানা নেই।

কিন্তু তিনি দ্বিতীয় সংস্করণে বলেছেন: তিনি সম্প্রতি দামেস্কের আল-মাকতাবাতুজ জাহিরিয়্যাহতে পাণ্ডুলিপি আকারে ইবনুল বান্নার হাইয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পেয়েছেন। আর আল-সাফারিনির ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম: (লাওয়াইহুল আনোয়ার আল-সানিয়্যাহ ওয়া লাওয়াকিউল আফকার আস-সুন্নিয়াহ শারহু কাসিদাতি ইবনি আবি দাউদ আল-হাইয়্যাহ ফি আকিদাতি আহলিল আসার আস-সালাফিয়্যাহ), এটি সম্ভবত দশ বছর ধরে মুদ্রিত অবস্থায় আছে।

আর এই ব্যাখ্যাটি অর্থাৎ শাইখ আব্দুর রাজ্জাকের ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত চমৎকার ও স্পষ্ট, এবং এতে অনেক কল্যাণকর দিক রয়েছে। অর্থাৎ এটি বেশ পরিশ্রমসাধ্য একটি কাজ, তাই ইলম অন্বেষণকারীর উচিত এটির প্রতি মনোনিবেশ করা। আর আমাদের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আমি মনে করি সময় বিস্তারিত ব্যাখ্যার অনুমতি দেবে না, বরং আমরা সময়ের সংকুলান অনুযায়ী পঙক্তিগুলোর ওপর টীকা প্রদান করব।

এই হাইয়্যাহটির বহু পাণ্ডুলিপি রয়েছে। আমি বলছি: জীবনীগ্রন্থ ও আকিদাহর কিতাবসমূহের ন্যায় ইলমি বিশ্বকোষগুলোর অভ্যন্তরে এর বহু সংস্করণ প্রচলিত ও বিদ্যমান রয়েছে।

এর মুদ্রণের ব্যাপারে বলা যায়, এটি ১৩৫০ হিজরি সালে অর্থাৎ ছিয়াত্তর বছর আগে দামেস্কের আত-তারাতি প্রেসে মুদ্রিত হয়েছে। এটি একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত ছিল যাতে রয়েছে: শাইখ উসমান ইবনে আহমদ আন-নাজদির 'নাজাতুল খালাফ ফি ইতিকাদিস সালাফ', 'আকিদাহ আস-সাফারিনি', এরপর 'আকিদাহ আবি বকর ইবনে আবি দাউদ'। এছাড়াও এটি এমন একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে যেখানে হাইয়্যাহ ছাড়াও রয়েছে আবু আল-খাত্তাব আল-কালওয়াযানির আকিদাহ, আবুল হাসান আল-আশআরির আকিদাহ, ইবনে কুদামার 'যাম্মুত তাবীল', শাওকানির 'আত-তুহাফ ফি মাযাহিবিল সালাফ' এবং মিশরের তৎকালীন মুফতি শাইখ আব্দুল মাজীদ সালীমের ফতোয়া। এই সংকলনটি ১৩৫১ হিজরি সালে মিশরের আল-মানার প্রেসে মুদ্রিত হয়। এই উভয় মুদ্রণেই বিশেষ যত্ন, তাহকীক ও সংশোধনের ছাপ রয়েছে। নতুন সংস্করণগুলোর সাথে এর যা কিছু পার্থক্য রয়েছে তা ইনশাআল্লাহ প্রতিটি পঙক্তির আলোচনার সময় যথাস্থানে বর্ণনা করা হবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৩)
هذه المنظومة ناظمها ابن أبي داود صاحب السنن، أبوه أبو داود صاحب السنن، وذُكر من إنصاف المحدثين .. ، يذكر من إنصاف المحدثين أن أبا داود رمى ابنه بالكذب، وأن الإمام علي بن المديني ضعف أباه، هذا مما يذكر في إنصاف المحدثين، والإمام أبي بكر بن أبي داود، أما بالنسبة للكذب في الحديث فهو منه بريء، وأقوال الأئمة وتوثقيهم وتعديلهم له، وإمامته وعلمه وورعه كل هذا يرد هذه التهمة، ولا يمكن أن ينصرف قول أبي داود إن صح عنه في ولده إلى هذا، أما كونه يحمل على أنه بلى عليه الكذب مرة أو مرتين في كلامه العادي فمثل هذا أظن أنه لا يسلم منه أحد.

والكذب عند أهل السنة يشمل الخطأ، يشمل الوهم، إذا خالف الكلام الواقع سمي كذباً، ولا يلزم أن يكون مع العمد، هذا على مذهب أهل السنة والجماعة، واشترط المعتزلة في الكذب أن يكون عن عمد، ولو كان الكذب وحقيقته تحتاج إلى قيد العمد لما جاء مقيداً به في حديث من كذب: ((من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار)) مفهومه أنه يوجد كذب لا عن عمد، المقصود أنه يسمى كذب في العرف الشرعي، وعند أهل السنة والجماعة، المعتزلة أثبتوا الواسطة كذب لكنه لا عن عمد، ومنهم من يثبت كلام ليس بكذب ولا صدق، إن صح ما نقل عن أبي داود في ابنه يحمل على هذا، أنه بلى عليه مخالفة الواقع في حديثه العادي، وقد يكون عن غير قصد، ولا بد أن يقع من الإنسان شيء من التعريض يحتاج إليه، أو شيء في الأمور اليسيرة، أو في الأمور التي تختلف فيها وجهات النظر هل هي من الكذب المباح للحاجة إليه وترتب المصلحة أو لا؟ فمثل هذا يدرأ عنه هذه التهمة، وإلا فهو إمام محقق مصنف على طريقة السلف الصالح ومحدث، وله أسانيد، وسمع الحديث صغيراً، وهو مولود سنة (230هـ) وتوفي سنة (316هـ) في طبقة يعني هو تأخر عن النسائي قليلة، في طبقة ابن خزيمة والطبري ونظرائهم.

هذه المنظومة منظومة نافعة ماتعة، مثل ما ذكرنا محل عناية ومحط اهتمام أهل العلم، وطبعت قديماً.

يقول ناظمها -رحمه الله تعالى-:

بسم الله الرحمن الرحيم
এই কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা হলেন সুনান গ্রন্থ প্রণেতা আবু দাউদ-এর পুত্র ইবনে আবি দাউদ। তাঁর পিতা আবু দাউদ হলেন বিখ্যাত সুনান প্রণেতা। মুহাদ্দিসগণের ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার উদাহরণ হিসেবে এটি উল্লেখ করা হয় যে, ইমাম আবু দাউদ তাঁর নিজের পুত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ এনেছিলেন, আবার ইমাম আলী ইবনুল মাদিনি তাঁর নিজের পিতাকে জয়িফ (দুর্বল) সাব্যস্ত করেছিলেন। এটি মুহাদ্দিসগণের ইনসাফ বা নিরপেক্ষতার অন্তর্ভুক্ত। ইমাম আবু বকর ইবনে আবি দাউদের কথা যদি বলা হয়, তবে হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি মিথ্যার অপবাদ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। ইমামগণের উক্তি, তাঁর প্রতি তাঁদের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (তাওসিক) ও ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করা (তাদিল), তাঁর ইমামত, ইলম ও পরহেজগারি—এই সবই তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে খণ্ডন করে। আবু দাউদ থেকে যদি তাঁর পুত্রের ব্যাপারে এমন কোনো মন্তব্য বর্ণিত হয়েও থাকে, তবে তা এই অর্থে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে সাধারণ কথাবার্তায় একবার বা দুবার তাঁর থেকে বাস্তবের বিপরীত কিছু প্রকাশ পেয়েছে, তবে আমি মনে করি এমন বিষয় থেকে খুব কম মানুষই মুক্ত থাকতে পারেন।

আহলুস সুন্নাহর নিকট 'মিথ্যা' (কিযব) শব্দটি ভুল এবং ভ্রান্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। কথা যদি বাস্তবের পরিপন্থী হয়, তবে তাকে মিথ্যা বলা হয়; এক্ষেত্রে ইচ্ছা বা সংকল্প থাকা আবশ্যক নয়। এটিই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব। পক্ষান্তরে মুতাজিলারা মিথ্যার সংজ্ঞায় 'ইচ্ছাকৃত' হওয়ার শর্তারোপ করে। মিথ্যার প্রকৃত সংজ্ঞায় যদি ইচ্ছাকৃত হওয়া অবধারিত থাকত, তবে হাদিসে তা শর্ত হিসেবে আসত না। যেমন হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, অনিচ্ছাকৃত মিথ্যাও হতে পারে। মূল কথা হলো, শরিয়তের পরিভাষায় এবং আহলুস সুন্নাহর নিকট এটি মিথ্যা হিসেবেই গণ্য। মুতাজিলারা মধ্যবর্তী অবস্থা প্রমাণ করতে চেয়েছেন যা মিথ্যা কিন্তু ইচ্ছাকৃত নয়, আবার তাদের কেউ কেউ এমন কথার কথা বলেন যা সত্যও নয় আবার মিথ্যাও নয়। ইমাম আবু দাউদ থেকে তাঁর পুত্রের ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে তা যদি সঠিক হয়, তবে তা এই অর্থেই গ্রহণ করা হবে যে, তাঁর সাধারণ কথাবার্তায় বাস্তবের বিপরীত কিছু ঘটেছে, যা হয়তো অনিচ্ছাকৃত ছিল। মানুষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে কিছু দ্ব্যর্থবোধক কথা (তারিজ) বা তুচ্ছ বিষয়ে এমন কিছু প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব নয়, কিংবা এমন সব বিষয়ে যেখানে মতপার্থক্য থাকে যে—প্রয়োজন বা বৃহত্তর কল্যাণে তা কি বৈধ মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত হবে কি না? এই ধরনের ব্যাখ্যা তাঁর থেকে এই অভিযোগ দূর করে দেয়। অন্যথায় তিনি একজন মুহাক্কিক ইমাম, সালাফে সালেহিনের তরিকায় গ্রন্থ প্রণেতা এবং মুহাদ্দিস। তাঁর উচ্চতর সনদ রয়েছে, শৈশব থেকেই তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ২৩০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩১৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। স্তরের দিক থেকে তিনি ইমাম নাসায়ির চেয়ে সামান্য পরবর্তী সময়ের, অর্থাৎ তিনি ইবনে খুজাইমা, তবারি ও তাঁদের সমসাময়িকদের স্তরের।

এই কাব্যগ্রন্থটি অত্যন্ত উপকারী ও চমৎকার। আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, এটি আলেমদের বিশেষ যত্ন ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এবং এটি অনেক পূর্বেই মুদ্রিত হয়েছে।

এর রচয়িতা—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—বলছেন:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৪)
ابتدأ الناظم -رحمه الله تعالى- منظومته بالبسملة اقتداء بالقرآن الكريم الذي افتتح بها، وخلت المنظومة عن الحمدلة لشدة اختصارها؛ لأنها مختصرة جداً، لا يمكن أن يوجد كتاب في العلم يخلو عن البسملة والحمدلة، فالذي يترجح أنها موجودة، ولو فقدت من بعض النسخ، إلا على رأي الشعبي الذي يقول: لا ينبغي أن تكتب البسملة في الشعر، البسملة لا ينبغي أن تكتب في الشعر؛ لأن الشعر والشعراء جاء ذمهم في القرآن والسنة {وَالشُّعَرَاء يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ} [(224) سورة الشعراء] وجاء في السنة في الحديث الصحيح: ((لأن يمتلئ جوف أحدكم قيحاً حتى يريه خير له من أن يمتلئ شعراً)) ولذا يقول الشعبي: إن الشعر ينبغي أن يجرد عن البسملة، لكن ما دام الشعر والمقرر والمحقق عند أهل العلم أنه كلام حسنه حسن، وقبيحه قبيح، فهذا من الكلام الحسن الذي يصدر بالبسملة والحمدلة، وهذا جرى عليه أهل العلم في نظمهم للعلوم كلها، يفتتحون بالبسملة والحمدلة، ومنهم من يقتصر على البسملة أو الحمدلة.

يقول -رحمه الله تعالى-:

"تمسك بحبل الله" تمسك أمر "بحبل الله" يعني حبل الله المتين الذي هو الكتاب القرآن، الذي تركه النبي عليه الصلاة والسلام لأمته، وأخبر أنهم لن يضلوا ما داموا متمسكين به {وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ} [(103) سورة آل عمران] وأهل العلم يعنون بهذا الأمر الذي هو التمسك والاعتصام بالكتاب والسنة، وله أبواب في كتبهم، وقد صدر الناظم -رحمه الله تعالى- منظومته بالأمر به "تمسك بحبل الله" الذي هو القرآن.

"واتبع الهدى" الذي هو السنة، وجاء الأمر بالاعتصام بالكتاب والسنة، الاعتصام بالكتاب {وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللهِ جَمِيعًا} [(103) سورة آل عمران] وإن كان المراد به عند جمع من أهل العلم دينه الشامل للكتاب والسنة.

"تمسك بحبل الله" هذا أمر، فهل نقول: إن هذا الأمر إلزام أو التماس؟ إلزام من الله -جل وعلا-، وهذا يحكي ما جاء في الشرع من الأمر به.

تمسك بحبل الله واتبع الهدى … . . . . . . . . .
নাযিম (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) কুরআনুল কারীমের অনুসরণ করে তাঁর কাব্যগ্রন্থটি বিস্মিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন, যেহেতু কুরআন এর মাধ্যমেই শুরু হয়েছে। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে কাব্যগ্রন্থটি আলহামদুলিল্লাহ (হামদাহ) থেকে খালি রয়ে গিয়েছে; কারণ এটি খুবই সংক্ষিপ্ত। ইলমের এমন কোনো কিতাব থাকা সম্ভব নয় যা বিস্মিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ বর্জিত হবে। তাই প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো যে এটি বিদ্যমান ছিল, যদিও কিছু পাণ্ডুলিপিতে তা পাওয়া যায়নি। ব্যতিক্রম কেবল ইমাম শাবীর মত, যিনি বলেন: কবিতায় বিস্মিল্লাহ লেখা উচিত নয়। কবিতায় বিস্মিল্লাহ লেখা সমীচীন নয়; কারণ কুরআন ও সুন্নাহতে কবিতা ও কবিদের নিন্দা এসেছে: "আর কবিদের অনুসরণ করে বিভ্রান্তরা" [(২২৪) সূরা আশ-শুআরা]। সুন্নাহর সহীহ হাদীসে এসেছে: "তোমাদের কারো পেট পুঁজ দিয়ে ভরে যাওয়া যা তার দেহকে ক্ষয় করে দেয়, তা কবিতা দিয়ে পেট ভরে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।" এজন্যই শাবী বলেন: কবিতাকে বিস্মিল্লাহ থেকে মুক্ত রাখা উচিত। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত কবিতা—যেমনটি আহলে ইলমের নিকট সাব্যস্ত ও সুনিশ্চিত—এমন এক কথা যার ভালোটি ভালো এবং মন্দটি মন্দ, তবে এটি সেই উত্তম কথার অন্তর্ভুক্ত যা বিস্মিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা হয়। আহলে ইলমগণ তাদের সকল ইলমী কাব্যের ক্ষেত্রে এই পথই অনুসরণ করেছেন; তারা বিস্মিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল বিস্মিল্লাহ অথবা কেবল আলহামদুলিল্লাহর ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন।

তিনি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন:

"আল্লাহর রশিকে মজবুতভাবে ধারণ করো"। "ধারণ করো" একটি আদেশ। "আল্লাহর রশি" মানে আল্লাহর সুদৃঢ় রশি যা হলো কিতাব তথা কুরআন, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের জন্য রেখে গিয়েছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, যতক্ষণ তারা এটি আঁকড়ে থাকবে ততক্ষণ তারা পথভ্রষ্ট হবে না: "আর তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না" [(১০৩) সূরা আলে ইমরান]। আহলে ইলমগণ এই আদেশের দ্বারা কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা ও ধারণ করাকে বুঝিয়েছেন এবং তাদের কিতাবসমূহে এর জন্য স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে। নাযিম (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর কাব্যটি এই আদেশ তথা "আল্লাহর রশিকে মজবুতভাবে ধারণ করো" এর মাধ্যমে শুরু করেছেন, যা হলো কুরআন।

"এবং হিদায়াতের অনুসরণ করো" যা হলো সুন্নাহ। কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার আদেশ এসেছে। কিতাবকে আঁকড়ে ধরা: "তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো" [(১০৩) সূরা আলে ইমরান]। যদিও একদল আহলে ইলমের মতে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর দ্বীন যা কিতাব ও সুন্নাহ উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

"আল্লাহর রশিকে মজবুতভাবে ধারণ করো"—এটি একটি আদেশ। এখন আমরা কি বলব যে, এই আদেশটি কি বাধ্যবাধকতা নাকি অনুরোধ? এটি আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার পক্ষ থেকে একটি বাধ্যবাধকতা। এটি শরীয়তে এ বিষয়ে যে আদেশ এসেছে তারই বর্ণনা দিচ্ছে।

আল্লাহর রশিকে মজবুতভাবে ধারণ করো এবং হিদায়াতের অনুসরণ করো … . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৫)
الهدى يراد به هنا السنة النبوية؛ ليكون الأمر بالاعتصام بهما معاً، ولن يضل من تمسك بالكتاب والسنة، وبالتمسك بهما العصمة من كل شر وفتنة.

وفي خطبه عليه الصلاة والسلام ينبه النبي عليه الصلاة والسلام كما جاء في صحيح مسلم من أنه عليه الصلاة والسلام يقول في خطبته: ((أما بعد: فإن أصدق الكلام كلام الله، وخير الهدي هدي محمد رسول الله)) فينبه على المصدرين الأساسيين من مصادر التلقي في هذا الدين، ولا ثالث لهما يستقل بنفسه، أما القرآن مصدر مستقل، والسنة الأصل فيها أنها موضحة للقرآن، ومبينة له، وشارحة للقرآن على أن فيها من الأحكام ما لم يأتِ في القرآن، ففيها أحكام زائدة على ما في القرآن، وكل من القرآن والسنة وحي من عند الله -جل وعلا-، أما القرآن فظاهر، وأما السنة فدليل كونها وحي قوله -جل وعلا-: {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى} [(3) سورة النجم] فالوقائع كثيرة يُسأل النبي عليه الصلاة والسلام فيسكت، ثم ينزل عليه الوحي مما ليس في القرآن، فدل على أن السنة وحي من عند الله -جل وعلا-.
এখানে ‘হিদায়াত’ দ্বারা সুন্নাহে নববী উদ্দেশ্য; যাতে কুরআন ও সুন্নাহ—এই উভয়কে একত্রে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ সম্পন্ন হয়। আর যে কিতাব ও সুন্নাহকে শক্তভাবে ধারণ করবে, সে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। এই উভয়কে আঁকড়ে ধরার মধ্যেই যাবতীয় অনিষ্ট ও ফিতনা থেকে নিরাপত্তা নিহিত রয়েছে।

নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর খুতবাগুলোতে সতর্ক করতেন, যেমনটি সহীহ মুসলিম-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর খুতবায় বলতেন: “অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর বাণী এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ-এর পথনির্দেশনা।” সুতরাং তিনি এই দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের মৌলিক দুটি উৎসের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন, যেগুলোর বাইরে স্বয়ংসম্পূর্ণ তৃতীয় কোনো উৎস নেই। কুরআন একটি স্বতন্ত্র উৎস, আর সুন্নাহর মূল কাজ হলো এটি কুরআনের ব্যাখ্যাকারী, বিশদ বর্ণনাকারী এবং এর ভাষ্যকার হিসেবে ভূমিকা পালন করা। তদুপরি সুন্নাহতে এমন কিছু বিধানও রয়েছে যা কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি; অর্থাৎ এতে কুরআনের অতিরিক্ত কিছু বিধান বিদ্যমান রয়েছে। আর কুরআন ও সুন্নাহ—উভয়ই মহামহিমান্বিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী। কুরআনের বিষয়টি তো সুস্পষ্ট, আর সুন্নাহ যে ওহী তার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: “এবং তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না” [সূরা আন-নাজম: ৩]। এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো এবং তিনি নীরব থাকতেন, অতঃপর তাঁর প্রতি এমন ওহী নাযিল হতো যা কুরআনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি প্রমাণ করে যে, সুন্নাহও মহামহিমান্বিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৬)
الهدى ينقسم إلى قسمين: نصوص جاءت بما يفيد بأن من الهدى ما لا يملكه إلا الله -جل وعلا-، ومنه ما يملكه النبي عليه الصلاة والسلام ومن تبعه، وسار على هديه من دعاة الحق، فالهدى الخاص والهداية الخاصة بالله -جل وعلا- هي هداية التوفيق والقبول، وجاء نفيها عن أكمل الخلق عليه الصلاة والسلام {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاء} [(56) سورة القصص] وأما الهدى بمعنى الدلالة والإرشاد فهذا للنبي عليه الصلاة والسلام، وجاء فيه قول الله -جل وعلا-: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ} [(52) سورة الشورى] {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يِهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} [(9) سورة الإسراء] والله -جل وعلا- بالمعنى الثاني الأول خاص به، والثاني أيضاً الله -جل وعلا- يهدي، بمعنى أنه يوفق، ويجعل النفس تقبل وتذعن، وأيضاً بالمعنى الثاني الله -جل وعلا- يهدي {وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَى عَلَى الْهُدَى} [(17) سورة فصلت] يعني دلالناهم وأرشدناهم، ومنه قول الله -جل وعلا-: {وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ} [(10) سورة البلد] طريق الحق وطريق الضلال، فمن الناس من يوفق هداية الدلالة والإرشاد للجميع، وقد جاءت في نصوص الكتاب والسنة على أتم وجه وأكمله، لكن من الناس من يوفق للهداية الأخرى، ومنهم من لا يوفق حسبما جرى به القلم السابق، والقضاء من الله -جل وعلا-، فالإنسان تكتب سعادته وشقاوته وهو في بطن أمه، إضافة إلى التقدير السابق الأزلي.

تمسك بحبل الله واتبع الهدى … ولا تك. . . . . . . . .
হেদায়েত দুই ভাগে বিভক্ত: এমন কিছু দলিল এসেছে যা নির্দেশ করে যে, হেদায়েতের এমন কিছু অংশ রয়েছে যার মালিক একমাত্র আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- ব্যতীত আর কেউ নন। এবং এর মধ্যে কিছু এমন আছে যার মালিক নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এবং তাঁর অনুসারীগণ, যারা হকের দাওয়াত প্রদানকারী হিসেবে তাঁর হেদায়েতের ওপর চলেন। সুতরাং আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- এর জন্য নির্দিষ্ট বিশেষ হেদায়েত হলো ‘হেদায়াতুত তাওফিক’ (সঠিক পথ গ্রহণের সামর্থ্য দান) এবং ‘কবুল’ করার হেদায়েত। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকেও এই ক্ষমতার বিষয়টি নাকচ করা হয়েছে: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত করতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত করেন} [(৫৬) সূরা আল-কাসাস]। আর পথ প্রদর্শন এবং দিকনির্দেশনার অর্থে যে হেদায়েত, তা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম এর জন্য সাব্যস্ত। এ বিষয়ে আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- এর বাণী হলো: {এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করেন} [(৫২) সূরা আশ-শূরা]। {নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথের দিকে পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাধিক সুদৃঢ়} [(৯) সূরা আল-ইসরা]। আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- এর ক্ষেত্রে প্রথম অর্থটি তাঁর জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য, আবার দ্বিতীয় অর্থটিতেও আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- হেদায়েত দান করেন; অর্থাৎ তিনি তাওফিক দান করেন এবং অন্তরকে সত্য গ্রহণে অনুগত করেন। এছাড়া দ্বিতীয় অর্থ অনুসারেও আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- হেদায়েত (পথ প্রদর্শন) করেন: {আর সামুদ জাতির ব্যাপারটি হলো, আমি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছিলাম, কিন্তু তারা হেদায়েতের পরিবর্তে অন্ধত্বকে বেছে নিয়েছিল} [(১৭) সূরা ফুসসিলাত]। অর্থাৎ আমি তাদেরকে পথ দেখিয়েছিলাম এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছিলাম। এরই অন্তর্ভুক্ত আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- এর বাণী: {আর আমি তাকে দুটি পথ দেখিয়েছি} [(১০) সূরা আল-বালাদ]; অর্থাৎ সত্যের পথ এবং ভ্রান্তির পথ। সুতরাং পথ প্রদর্শন এবং দিকনির্দেশনামূলক হেদায়েত সকলের জন্যই বর্ণিত হয়েছে এবং কিতাব ও সুন্নাহর দলিলাদিতে তা অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁতভাবে এসেছে। কিন্তু মানুষের মধ্য থেকে কেউ অন্য প্রকারের (তাওফিকের) হেদায়েত প্রাপ্ত হয়, আবার কেউ তা থেকে বঞ্চিত হয়; যা আল্লাহ -জাল্লা ওয়া আলা- এর পূর্ব নির্ধারিত ফয়সালা এবং তাকদীর অনুযায়ী হয়ে থাকে। অতএব মানুষের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য তার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় লিখে রাখা হয়, যা আল্লাহর অনাদি তাকদীরেরই অংশ।

আল্লাহর রশিকে মজবুতভাবে ধারণ করো এবং হেদায়েতের অনুসরণ করো … এবং হয়ো না. . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৭)
أصلها (ولا تكن) تحذف النون، وإلا يكفي التسكين (تكنْ) "ولا تك بدعياً" بدعياً البدعي المنسوب إلى البدعة، والبدعة في الأصل في اللغة: ما عمل على غير مثال سابق، هذه هي البدعة في اللغة، ما عُمل على غير مثال سابق، وفي الاصطلاح عند أهل العلم العمل الذي يتدين به مما لم يسبق له شرعية من كتاب ولا سنة، فالذي يتدين به يخرج أمور الحياة، فهذه لا تحتاج إلى أن يسبق لها شرعية، فالمستجدات والمستحدثات فيما يتعلق بأمور الدنيا لا تحتاج إلى نص في استعمالها، اللهم إلا إذا كانت مما يندرج فيما نهي عنه، إذا كانت مما يندرج فيما نهي عنه، وأما استعمالها فالأصل فيها الإباحة.

أمور الدين التي يُتعبد بها لا بد أن يسبق لها شرعية من كتاب الله وسنة رسوله عليه الصلاة والسلام، والنبي عليه الصلاة والسلام بين لنا ووضح لنا أن كل بدعة ضلالة، فلا يستثنى مما يحدث في الدين مما لا يدل عليه دليل من كتاب ولا سنة من حد البدعة الداخل في عموم: ((كل بدعة ضلالة)) كل ما يحدث في الدين مما لم يسبق له شرعية في كتاب الله وسنة نبيه عليه الصلاة والسلام فهو مذموم، داخل في العموم، ومن أهل العلم من قسم البدع إلى بدع حسنة وبدع سيئة، ومنهم من قسمها على الأحكام التكليفية الخمسة الأحكام التكليفية الواجب والمندوب والمباح والمكروه والمحظور، هذه الأحكام التكليفية الخمسة، فقالوا تبعاً لذلك: هناك بدع واجبة، وهناك بدع مستحبة، وهناك بدع مباحة، وبدع مكروهة، وبدع محرمة، أما البدع المكروهة والمحرمة هذا لا إشكال فيه، لكن هل نستطيع أن نقال: إن هناك بدعة مباحة، والنبي عليه الصلاة والسلام يقول: ((كل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار)) -نسأل الله السلامة والعافية-، والمراد صاحبها، وهل نستطيع بعد هذا أن نقول: إن هناك بدعة واجبة أو بدعة مستحبة؟ هذا تناقض، هذا جمع للنقيضين.
এর মূল হলো (ওলা তাকুন), এখানে 'নুন' বিলুপ্ত করা হয়েছে, অন্যথায় সুকুন (তাকুন) যথেষ্ট হতো। "আর তুমি বিদআতী হয়ো না"। বিদআতী বলতে তাকেই বুঝায় যে বিদআতের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আভিধানিক অর্থে বিদআত হলো—যা কোনো পূর্ববর্তী নমুনা ছাড়াই তৈরি করা হয়। ভাষা বা অভিধানে বিদআত বলতে এটাই বুঝায়, যা পূর্ববর্তী কোনো উদাহরণ ছাড়াই সম্পাদিত হয়েছে। আর আলেমগণের নিকট পরিভাষায় বিদআত হলো—এমন কাজ যা ইবাদত হিসেবে করা হয় কিন্তু কুরআন বা সুন্নাহ থেকে এর কোনো শরয়ী ভিত্তি আগে থেকে বিদ্যমান নেই। সুতরাং যা দ্বারা ইবাদত করা হয়, তা জীবনের জাগতিক বিষয়সমূহকে বাদ দেয়। কারণ জাগতিক বিষয়গুলোর জন্য পূর্ববর্তী শরয়ী ভিত্তির প্রয়োজন নেই। দুনিয়াবি কাজের ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবিত ও আধুনিক বিষয়গুলোর ব্যবহারের জন্য কোনো দলীলের (নস) প্রয়োজন হয় না। তবে হ্যাঁ, যদি তা এমন কোনো বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় যা থেকে শরীয়তে নিষেধ করা হয়েছে; যদি তা নিষিদ্ধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় (তবে ভিন্ন কথা)। আর ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো বৈধতা।

দ্বীনের এমন বিষয় যা ইবাদত হিসেবে পালন করা হয়, তার জন্য অবশ্যই আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সুন্নাহ থেকে শরয়ী দলিল আগে থেকে থাকতে হবে। নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা। সুতরাং দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত এমন কোনো বিষয় যা কুরআন ও সুন্নাহর দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়, তা "প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা"-এই ব্যাপক সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বাদ পড়বে না। দ্বীনের মধ্যে যা কিছু নতুন উদ্ভাবিত হবে যার শরয়ী ভিত্তি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সুন্নাহতে নেই, তা নিন্দনীয় এবং এই সাধারণ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ বিদআতকে উত্তম বিদআত ও মন্দ বিদআতে বিভক্ত করেছেন। আবার তাদের কেউ কেউ একে পাঁচটি শরয়ী বিধানের (আহকামে তাকলিফিয়া) ভিত্তিতে ভাগ করেছেন, যেগুলো হলো: ওয়াজিব, মানদুব, মুবাহ, মাকরূহ ও হারাম। এই পাঁচটি শরয়ী বিধানের প্রেক্ষিতে তারা বলেছেন: কিছু বিদআত ওয়াজিব, কিছু মুস্তাহাব, কিছু মুবাহ, কিছু মাকরূহ এবং কিছু হারাম। মাকরূহ ও হারাম বিদআতের ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই, কিন্তু আমরা কি বলতে পারি যে কোনো বিদআত 'মুবাহ' হতে পারে, অথচ নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: "প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতা জাহান্নামে"—আমরা আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিদআতের কর্তাব্যক্তি। এর পরেও কি আমরা বলতে পারি যে, কোনো বিদআত ওয়াজিব কিংবা মুস্তাহাব হতে পারে? এটি একটি বৈপরীত্য এবং পরস্পরবিরোধী দুটি বিষয়কে একত্রিত করার নামান্তর।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৮)
الشاطبي في الاعتصام رد هذا التقسيم وأبطله، وقوض دعائمه، وذكر أنه بدعة، أمر مخترع مبتدع، هذا التقسيم، قد يكون .. ، قد يستدلون بأشياء: من سن سنة حسنة، ومن سن سنة سيئة، ويوجدون بعض الأمور التي وجدت بعد النبي عليه الصلاة والسلام، وتداولها المسلمون من غير نكير، فهي محدثة، ولم يرد نص فيها بخصوصها، وتداولتها الأمة من غير نكير، فقالوا: الرد على المخالفين هذا واجب، لكنه أمر مبتدع ومخترع، ومثلوا به للبدع الواجبة، بناء المدارس والأربطة قالوا: هذا مبتدع، لكنه مستحب، وأما البدع المباحة عندهم كالتوسعة في التوسع في أمور الدنيا من المأكولات والمشروبات والمركوبات والمساكن وغيرها، والبدع المكروهة والمحرمة مثلوا لها بأمثلة مقبولة.

لكن كيف يقول النبي عليه الصلاة والسلام: ((كل بدعة ضلالة)) ونقول: إن هناك بدعة واجبة، ونمثل لها بالرد على المخالفين؟ القرآن مملوء بالرد على المخالفين، والسنة الصحيحة الصريحة فيها شيء من ذلك فكيف يكون الأصل والعمدة على كتاب الله وسنة نبيه عليه الصلاة والسلام ونقول بدعة؟ المخالف الذي يخالف الصراط المستقيم، وما جاء عن الله وعن رسوله، يريد أن ينشر الضلال والبدع والفساد بين المسلمين مثل هذا يرد عليه، وهذا من الجهاد باللسان، وقد جاء الأمر به. . . . . . . . .، وأمر النبي عليه الصلاة والسلام حسان أن يرد على المشركين، فكيف بعد هذا أن يقال: إن هناك بدعة واجبة يمثل لها بالرد على المخالفين؟ الرد على المخالفين أصله في الكتاب والسنة فهو مندرج فيها، نعم آحاده كغيرها من المسائل يوجد الأصل في القرآن {مَّا فَرَّطْنَا فِي الكِتَابِ مِن شَيْءٍ} [(38) سورة الأنعام] ويفرع على هذا الأصل ما يندرج تحته، وهذا منها.

البدع المستحبة بناء المدارس وبناء الأربطة هذا جاءت النصوص بما يدل على قاعدة شرعية مستمدة من النصوص، ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب، وما لا يتم المندوب إلا به فهو مندوب، والوسائل لها أحكام الغايات، وهكذا، هذه قواعد شرعية مستمدة من النصوص.
শাতবি 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থে এই বিভাজনকে প্রত্যাখ্যান ও বাতিল করেছেন এবং এর ভিত্তিগুলো ধসিয়ে দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি একটি বিদআত, এটি একটি উদ্ভাবিত ও প্রবর্তিত বিষয়। এই বিভাজন... তারা হয়তো কিছু বিষয়ের মাধ্যমে দলীল পেশ করে থাকেন: 'যে ব্যক্তি কোনো উত্তম সুন্নত চালু করল' এবং 'যে ব্যক্তি কোনো মন্দ সুন্নত চালু করল'। তারা এমন কিছু বিষয় খুঁজে পান যা নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত হয়েছে এবং মুসলমানরা কোনো আপত্তি ছাড়াই তা পালন করে আসছে। ফলে এগুলো নব উদ্ভাবিত বিষয়, এগুলোর ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বর্ণনা আসেনি এবং উম্মত কোনো আপত্তি ছাড়াই তা চর্চা করছে। তারা বলেছে: বিরোধীদের জবাব দেওয়া ওয়াজিব (আবশ্যক), কিন্তু এটি একটি প্রবর্তিত ও নব আবিষ্কৃত বিষয়। তারা একে 'ওয়াজিব বিদআত'-এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছে। মাদ্রাসা ও সরাইখানা নির্মাণ সম্পর্কে তারা বলেছে: এটি নব আবিষ্কৃত, তবে মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)। আর তাদের মতে 'মুুবাহ বিদআত' হলো দুনিয়াবী বিষয়গুলোতে প্রশস্ততা অর্জন করা যেমন খাদ্যদ্রব্য, পানীয়, যানবাহন, বাসস্থান ইত্যাদি। আর মাকরূহ ও হারাম বিদআতের জন্য তারা গ্রহণযোগ্য উদাহরণ পেশ করেছে।

কিন্তু নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) যেখানে বলেছেন: "প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা", সেখানে আমরা কীভাবে বলতে পারি যে, কোনো বিদআত 'ওয়াজিব' হতে পারে এবং বিরোধীদের জবাব দেওয়াকে এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করতে পারি? কুরআন বিরোধীদের খণ্ডনে পরিপূর্ণ, আর সহীহ ও সুস্পষ্ট সুন্নাহতেও এর নিদর্শন রয়েছে। এমতাবস্থায় আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সুন্নাহ যেখানে মূল ভিত্তি ও নির্ভরস্থল, সেখানে কীভাবে একে বিদআত বলা যায়? যে বিরোধী ব্যক্তি সিরাতুল মুস্তাকিম এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তার বিরোধিতা করে, যে মুসলমানদের মধ্যে ভ্রষ্টতা, বিদআত ও বিপর্যয় ছড়িয়ে দিতে চায়, তাকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে। এটি জবানের মাধ্যমে জিহাদ, যার আদেশ প্রদান করা হয়েছে... এবং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) হাসসানকে মুশরিকদের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর কীভাবে বলা সম্ভব যে, 'ওয়াজিব বিদআত' বলে কিছু আছে যার উদাহরণ হলো বিরোধীদের জবাব দেওয়া? বিরোধীদের জবাব দেওয়ার মূল উৎস কুরআন ও সুন্নাহতে বিদ্যমান, তাই এটি এগুলোরই অন্তর্ভুক্ত। হ্যাঁ, অন্যান্য বিষয়ের মতো এর একক ক্ষেত্রগুলোর মূলভিত্তিও কুরআনে বিদ্যমান: "আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি" [(৩৮) সূরা আল-আনআম] এবং এই মূল ভিত্তির ওপর ভিত্তি করেই এর অধীনে থাকা শাখা-প্রশাখাগুলো বের হয়ে আসে, আর এটিও তার মধ্যে অন্যতম।

মুস্তাহাব বিদআত যেমন মাদ্রাসা ও সরাইখানা নির্মাণ—এগুলো এমন দলীলের ভিত্তিতে এসেছে যা শরয়ী বর্ণনা থেকে আহরিত একটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। মূলনীতিটি হলো: 'যা ব্যতীত কোনো ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সেটিও ওয়াজিব' এবং 'যা ব্যতীত কোনো মানদুব (পছন্দনীয় কাজ) পূর্ণ হয় না, সেটিও মানদুব'। এছাড়া 'উপকরণের বিধান তার উদ্দেশ্যের বিধানের অনুরূপ' ইত্যাদি। এগুলো শরয়ী বর্ণনা থেকে আহরিত বিভিন্ন মূলনীতি।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৯)
من أقوى ما يستدلون به ويتمسكون به قول عمر -رضي الله تعالى عنه- في صلاة التراويح: "نعمت البدعة" أن عمر -رضي الله تعالى عنه- جمع الناس على إمام واحد في صلاة التراويح، ثم خرج إليهم وهم يصلون فأعجبه وضعهم بعد أن كانوا يصلون متفرقين، كل واحد يصلي لنفسه جمعهم، فقال: "نعمت البدعة، والتي ينامون عنها خير منها" يعني صلاة آخر الليل، فقالوا: ما دام عمر يقول: نعمت البدعة فدل على أن من البدع ما يمدح؛ لأن (نعم) حرف مدح، أو فعل على الخلاف بين أهل العلم، وكذلك ضدها (بئس) التي هي للذم، وما دام قال: "نعم" فهو يمدحها، وهو يمدح البدعة، إذاً في البدع ما يمدح، وهو المستحسن منها.

তারা যে সকল শক্তিশালী দলীল পেশ করে এবং যা আঁকড়ে ধরে থাকে, তার মধ্যে অন্যতম হলো তারাবিহ সালাত সম্পর্কে ওমর -রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু- এর উক্তি: "এটি কতই না চমৎকার বিদআত।" নিশ্চয়ই ওমর -রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু- তারাবিহ সালাতে মানুষকে একজন ইমামের অধীনে একত্রিত করেছিলেন। এরপর তিনি তাদের নিকট বের হলেন এমতাবস্থায় যে তারা সালাত আদায় করছিল। তাদের এই অবস্থা দেখে তিনি সন্তুষ্ট হলেন, কারণ ইতিপূর্বে তারা বিচ্ছিন্নভাবে সালাত আদায় করত; প্রত্যেকে একাকী সালাত পড়ত, অতঃপর তিনি তাদের একত্রিত করলেন। তখন তিনি বললেন: "এটি কতই না চমৎকার বিদআত; আর রাতের যে অংশে তারা ঘুমিয়ে থাকে, তা বর্তমান সময়ের চেয়েও উত্তম।" অর্থাৎ রাতের শেষাংশের সালাত। ফলে তারা বলে: যেহেতু ওমর বলেছেন "এটি কতই না চমৎকার বিদআত", সেহেতু এটি প্রমাণ করে যে বিদআতের মধ্যে এমন কিছু আছে যা প্রশংসনীয়। কারণ ‘নি’মা’ হলো প্রশংসাসূচক অব্যয়, অথবা আলেমদের মধ্যকার মতভেদ অনুযায়ী এটি একটি ক্রিয়া। একইভাবে এর বিপরীত শব্দ হলো ‘বি’সা’, যা নিন্দার জন্য ব্যবহৃত হয়। যেহেতু তিনি ‘নি’মা’ বলেছেন, সেহেতু তিনি এর প্রশংসা করেছেন এবং তিনি মূলত এই বিদআতেরই প্রশংসা করেছেন। সুতরাং বিদআতের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা প্রশংসনীয়, আর সেটিই হলো এর মধ্যে উত্তম বা মুস্তাহসান অংশ।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১০)
شيخ الإسلام رحمه الله يقول: هذه بدعة لغوية، في اقتضاء الصراط، والشاطبي يقول: مجاز وليس بحقيقة، يعني ليس من باب استعمال اللفظ فيما وضع له، هذا ليس بحقيقة؛ لأنه لا يرى من البدع شيئاً يُمدح، بل شدد في هذا الباب رحمه الله، والتشديد في هذا الباب هو المطلوب؛ لأن التساهل فيه يجر إلى ما لا تحمد عقباه؛ لأن الإنسان إذا تساهل في مسألة دعته إلى ما بعدها، ومن نظر في تاريخ البدع والمبتدعة يجد أن الأصول التي انبثقت عنها هذه البدع أمور يسيرة، تجد خلاف يسير بين اثنين، بين شيخ وطالب من طلابه، بين زميل وزميله، أمور لا تكاد تذكر، ثم بعد ذلك كل واحد منهما ينتصر لنفسه، ثم يلزم أحدهما بلوازم فيلتزم هذه اللوازم، من باب أخذ العزة بالإثم، الانتصار للنفس، وعدم الانهزام أمام الخصم، يلتزم بهذه اللوازم، ثم يضطر أن يقول ما يؤيد به هذه اللوازم، فيشتد أمرها، ثم بعد ذلك يرد عليه مسألة ما حسب لها حساب، فإذا انتقضت، وأذعن بأنها منتقضة نقض أصله الذي بنى عليه، ثم يلتزم هذه المسألة لئلا ينتقض عليه أصله، إلى أن يصل إلى حد بحيث يتكلم بكلام لا يقوله المجانين فضلاً عن عامة الناس، فضلاً عن من ينتسب إلى العلم، فضلاً عن من له عناية بكتاب الله وسنة نبيه عليه الصلاة والسلام، السيئة تقول: أختي أختي، وإذا تساهل الإنسان في أول الأمر في كلمة أو في مسألة تساهل فيما بعدها، ولا يعني هذا أن الإنسان يشدد ويتشدد على نفسه أو على غيره من غير أصل من كتاب وسنة، لا، الدين يسر، لكن يبقى أن الدين عزيمة، الأصل فيه، لا يتساهل في دينه إلى أن ينسلخ منه ولا يشعر، إذا تساهل في مقدمات تساهل في نتائج، وهناك طوام تفوه بها رؤوس المبتدعة، ما وصلوا إليها إلا بعد مراحل، يعني من بيتصور أن هناك شخص يشهد أن لا إله إلا الله، ويقول: سبحان ربي الأسفل، لكن قال قبلها عشرات الكلمات إلى أن وصل إلى هذا الحد، ومن يبي يتصور أن شخص يقول: "ألا بذكر الله تزداد الذنوبُ" والله -جل وعلا- يقول: {أَلَا بِذِكْرِ اللهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ} [(28) سورة الرعد] يقول: "وتنطمس البصائر والقلوبُ" -نسأل الله السلامة والعافية-.
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) ‘ইকতিদাউস সিরাত’ গ্রন্থে বলেন: এটি একটি ভাষাগত বিদআত। আর শাতবি বলেন: এটি রূপক, প্রকৃত নয়। অর্থাৎ এটি কোনো শব্দকে তার মূল অর্থের জন্য ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি প্রকৃত নয়; কেননা তিনি কোনো বিদআতকেই প্রশংসনীয় মনে করেন না। বরং তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। আর এ বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করাই কাম্য; কারণ এ ক্ষেত্রে শিথিলতা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যা শুভ নয়। কেননা মানুষ যখন কোনো বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করে, তখন তা তাকে পরবর্তী বিষয়ের দিকে প্ররোচিত করে। আর যারা বিদআত এবং বিদআতীদের ইতিহাস লক্ষ্য করবেন, তারা দেখতে পাবেন যে, এই বিদআতগুলো যে মূলনীতি থেকে উদ্ভূত হয়েছে তা ছিল খুবই সামান্য বিষয়। আপনি দেখবেন দুই ব্যক্তির মাঝে সামান্য মতপার্থক্য ছিল—একজন শাইখ ও তার ছাত্রের মাঝে, অথবা দুই সহকর্মীর মাঝে—এমন কিছু বিষয় যা উল্লেখ করার মতোও নয়। অতঃপর তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ মতের পক্ষে জয়লাভ করতে চায়। এরপর তাদের একজন কোনো একটি অনিবার্য পরিণতির সম্মুখীন হয়, তখন সে অহমিকা বশত বা আত্মজয়ের নেশায় এবং প্রতিপক্ষের কাছে পরাজিত না হওয়ার জন্য সেই অনিবার্য বিষয়কেই আঁকড়ে ধরে। এরপর সে এমন কথা বলতে বাধ্য হয় যা তার এই অনিবার্য বিষয়গুলোকে সমর্থন করে। ফলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর তার সামনে এমন এক বিষয় চলে আসে যা সে কখনো কল্পনাও করেনি। যখন সেটি খণ্ডিত হয় এবং সে স্বীকার করে নেয় যে এটি খণ্ডিত হয়েছে, তখন তার সেই মূলভিত্তিও ভেঙে যায় যার ওপর সে তার মতবাদ গড়ে তুলেছিল। অতঃপর সে এই বিষয়টিকে আঁকড়ে ধরে রাখে যাতে তার মূলনীতি ভেঙে না যায়। পরিশেষে সে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যায় যেখানে সে এমন সব কথা বলে যা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পাগলরাও বলে না। এমনকি যারা ইলমের সাথে সংশ্লিষ্ট কিংবা যারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর প্রতি অনুরাগী, তাদের কথা তো বলাই বাহুল্য। পাপ কাজ বলে: ‘আমার বোন, আমার বোন’। মানুষ যদি শুরুতে কোনো একটি শব্দ বা বিষয়ে শিথিলতা করে, তবে সে পরবর্তী বিষয়গুলোতেও শিথিল হয়ে পড়ে। এর মানে এই নয় যে, মানুষ কুরআন ও সুন্নাহর দলিল ছাড়াই নিজের ওপর বা অন্যের ওপর কঠোরতা বা চরমপন্থা অবলম্বন করবে। না, দ্বীন হলো সহজ। তবে দ্বীন সংকল্প বা দৃঢ়তার ওপর প্রতিষ্ঠিত। মূল বিষয় হলো, সে নিজের দ্বীনের ব্যাপারে এমন শিথিলতা করবে না যে তা থেকে সে অজান্তেই বিচ্যুত হয়ে পড়ে। যদি সে প্রারম্ভিক বিষয়ে শিথিলতা করে, তবে সে পরিণতির ক্ষেত্রেও শিথিলতা করবে। বিদআতীদের হোতারা এমন সব ভয়াবহ কথা উচ্চারণ করেছে যেগুলোতে তারা কয়েক ধাপ অতিক্রম করার পরেই পৌঁছেছে। অর্থাৎ, কে কল্পনা করতে পারে যে, এমন কোনো ব্যক্তি থাকতে পারে যে সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, অথচ সে বলে: ‘পবিত্রতা বর্ণনা করছি আমার সেই রবের যিনি নিচে’। কিন্তু সে এর আগে কয়েক ডজন কথা বলেছিল যার ফলে সে এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর কেইবা কল্পনা করতে পারে যে, কোনো ব্যক্তি বলবে: “সাবধান! আল্লাহর জিকির করলে গুনাহ বৃদ্ধি পায়”, যেখানে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা বলছেন: {সাবধান! আল্লাহর জিকিরেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়} [(২৮) সূরা আর-রাদ]। সে বলে: “এবং অন্তর্দৃষ্টি ও অন্তর অন্ধ হয়ে যায়”—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করছি।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১১)
فعلى الإنسان أن يحرص ويتمسك بما جاءه عن الله وعن رسوله، شيخ الإسلام حمل البدعة في قول عمر على البدعة اللغوية، وأما الشاطبي فقال: مجاز، والذي عندي أنه لا هذا ولا هذا؛ لماذا؟ أما المجاز فأمره معروف فلا مجاز على ما قررناه سابقاً، وأما قول شيخ الإسلام أنها بدعة لغوية لو طبقناها على التعريف اللغوي للبدعة وهي: ما عمل على غير مثال سابق لوجدنا أن التعريف لا ينطبق؛ لماذا؟ لأن النبي عليه الصلاة والسلام صلاها بأصحابه ثلاث ليالٍ جماعة، صلى التراويح بأصحابه جماعة، ثم بعد ذلك لم يخرج إليهم خشية أن تفرض عليهم، لا نسخاً لها ولا رغبة عنها، فمشروعيتها باقية، فخشية أن تفرض عليهم في وقت التشريع، ثم بعد ذلك يعجزون عنها، لو فرضت احتمال أن يعجزون عنها، فالنبي عليه الصلاة والسلام من شفقته ورأفته بأمته لم يخرج لهم في اليوم الرابع أو الثالث على اختلاف الروايات خشية أن تفرض عليهم، إذاً المشروعية باقية، فلها أصل سابق من فعله عليه الصلاة والسلام، فليست ببدعة لغوية فضلاً عن أن تكون بدعة شرعية، طيب إذا لم تكن بدعة لا لغوية ولا شرعية وعمر -رضي الله تعالى عنه- من أهل اللسان، يعني عربي، ويعي ما يقول، فماذا تكون؟ في علم البديع ما يسمى بالمشاكلة، يعني والمجانسة في التعبير، يطلق اللفظ ولا يراد به إلا مجرد مجانسة لفظ آخر حقيقة أو تقديراً، ففي قول الله -جل وعلا-: {وَجَزَاء سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا} [(40) سورة الشورى] السيئة الأولى حقيقة، الجناية حقيقة، جزاؤها ومعاقبة الجاني سيئة وإلا حسنة؟ حسنة، إذاً لماذا أطلق عليها سيئة؟ من باب المشاكلة والمجانسة في التعبير، وهذا موجود في النصوص، وفي لغة العرب.

قالوا: اقترح شيئاً نجد لك طبخه … قلت: اطبخوا لي جبة وقميصاً

مشاكلة وإلا الجبة والقميص ما يمكن أن تطبخ، فأسلوب المشاكلة والمجانسة موجود في لغة العرب وفي النصوص، وعلى هذا يحمل قول عمر.
মানুষের উচিত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে তার প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। শাইখুল ইসলাম উমরের উক্তিতে 'বিদআত' শব্দটিকে ভাষাগত বিদআত অর্থে গ্রহণ করেছেন, পক্ষান্তরে ইমাম শাতবী একে রূপক (মাজায) বলেছেন। কিন্তু আমার মতে এটি কোনোটিই নয়; কেন? রূপকের বিষয়টি তো সুপরিচিত, আর আমরা ইতিপূর্বে যা সাব্যস্ত করেছি সে অনুযায়ী এখানে কোনো রূপক বা মাজায নেই। আর শাইখুল ইসলামের এই বক্তব্য যে এটি ভাষাগত বিদআত—আমরা যদি একে বিদআতের ভাষাগত সংজ্ঞার ওপর প্রয়োগ করি, যা হলো: পূর্ববর্তী কোনো নমুনা ছাড়াই কোনো কাজ করা—তবে দেখা যাবে যে এই সংজ্ঞাটি এখানে খাটছে না। কেন? কারণ নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে জামাতে তিন রাত সালাত আদায় করেছেন; তিনি তাঁদের নিয়ে জামাতে তারাবীহ পড়েছেন। এরপর তাদের ওপর এটি ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি আর বের হননি। এটি রহিত (মানসুখ) হওয়ার কারণে বা এর প্রতি অনীহা থেকে নয়, বরং এর শরয়ী বৈধতা অবশিষ্ট ছিল। মূলত বিধান প্রবর্তনের সময় এটি ফরজ হয়ে যাওয়ার এবং পরবর্তীতে তারা তা পালনে অক্ষম হওয়ার আশঙ্কায়—যদি ফরজ হতো তবে হয়তো তারা অক্ষম হতো—নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) উম্মতের প্রতি করুণা ও দয়াবশত চতুর্থ অথবা তৃতীয় দিনে (বর্ণনার বিভিন্নতা অনুযায়ী) আর বের হননি পাছে তা ফরজ হয়ে যায়। অতএব এর বিধানের বৈধতা অবশিষ্ট ছিল এবং তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কর্মের মাধ্যমে এর পূর্ব ভিত্তি বিদ্যমান। সুতরাং এটি ভাষাগত বিদআত নয়, আর শরয়ী বিদআত হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। ভালো কথা, যদি এটি ভাষাগত বা শরয়ী কোনো বিদআতই না হয়, আর উমর (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) যেহেতু আরবী ভাষার পণ্ডিত ছিলেন—অর্থাৎ তিনি একজন আরব এবং যা বলতেন তা বুঝতেন—তবে এটি কী হবে? অলঙ্কার শাস্ত্র বা ইলমুল বাদী'তে 'মুশাকলাহ' নামক একটি পরিভাষা আছে, যার অর্থ হলো অভিব্যক্তিতে ভাষাগত সামঞ্জস্য বিধান করা। এতে একটি শব্দ ব্যবহার করা হয় কিন্তু তার দ্বারা স্রেফ অন্য একটি শব্দের সাথে ভাষাগত সামঞ্জস্য রক্ষাই উদ্দেশ্য থাকে, হোক তা প্রকৃত অর্থে অথবা পরোক্ষভাবে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণীতে: {আর মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই} [সূরা আশ-শুরা: ৪০]। এখানে প্রথম 'মন্দ' শব্দটি প্রকৃত অর্থে অপরাধ বুঝিয়েছে। কিন্তু অপরাধীর প্রতিফল বা শাস্তি দেওয়া কি মন্দ কাজ নাকি ভালো কাজ? সেটি তো ভালো কাজ। তাহলে কেন একে মন্দ বলা হলো? এটি অভিব্যক্তিতে সামঞ্জস্য বা মুশাকলাহ এর কারণে। আর এটি শরয়ী নসসমূহে এবং আরবদের ভাষায় বিদ্যমান রয়েছে।

তারা বলল: কিছু প্রস্তাব করুন আমরা আপনার জন্য তা রান্না করব … আমি বললাম: আমার জন্য একটি জুব্বা ও একটি কামিজ রান্না করুন।

এটি মুশাকলাহ, অন্যথায় জুব্বা ও কামিজ তো আর রান্না করা সম্ভব নয়। সুতরাং আরবী ভাষা ও শরয়ী নসসমূহে এই মুশাকলাহ ও মুজানাসাহর পদ্ধতিটি বিদ্যমান, আর উমরের উক্তিটিকে এর ওপরই প্রয়োগ করতে হবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১২)
وعلماء البلاغة في البديع يقولون: حقيقة أو تقديراً، يعني كأن قائلاً: "ابتدعت يا عمر" وقد يكون هناك من قال لعمر: ابتدعت يا عمر، فقال مجيباً عن هذا المحقق أو المقدر: "نعمت البدعة" وكأن عمر وهو الخليفة الراشد الذي أمرنا باقتفاء سنته، الملهم المحدث كأنه توقع إن لم يكن واقع أن هناك من سيقول: ابتدعت يا عمر، ووجد من الشراح من يقول: البدعة بدعة ولو كانت من عمر، ولا شك أن هذا سوء أدب مع الخليفة الراشد، والحقيقة أن هذه ليست ببدعة؛ لأنها عملت على مثال سبق من فعله عليه الصلاة والسلام، وكونه صلى الله عليه وسلم يتركها جماعة مع أصحابه خشية أن تفرض عليهم، وهذا من شفقته عليه الصلاة والسلام بأمته.

"ولا تكُ بدعياً" هنا نسب المبتدع إلى بدعته، فالنسبة إلى البدعة بدعي، والنسبة إلى السنة سني، وهما متقابلان، والابتداع والاختراع في الدين جاء ذمه والتشديد في شأنه في كلام أهل العلم كثير، والمبتدع له معاملة تليق به.

لا تلقَ مبتدعاً ولا متزندقاً … إلا بعبسة مالك الغضبانِ
অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ ইলমুল বাদি‘র ক্ষেত্রে বলেন: বাস্তবে অথবা অনুমিতভাবে। অর্থাৎ বিষয়টি এমন যে কোনো বক্তা যেন বলছে: "হে উমর! আপনি তো নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছেন।" আর সম্ভবত বাস্তবেও কেউ উমরকে বলেছিলেন: "হে উমর! আপনি তো নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছেন," ফলে তিনি সেই নিশ্চিত বা অনুমিত আপত্তির উত্তরে বলেছিলেন: "কতই না উত্তম এই বিদআত।" যেন উমর—যিনি সেই খলিফায়ে রাশিদ যার সুন্নাত অনুসরণের নির্দেশ আমাদের দেওয়া হয়েছে এবং যিনি ছিলেন অনুপ্রাণিত (মুলহাম-মুহাদ্দাস)—তিনি যেন এমনটি আশঙ্কা করেছিলেন (যদি না তা বাস্তবে ঘটে থাকে) যে ভবিষ্যতে কেউ বলবে: "হে উমর! আপনি বিদআত উদ্ভাবন করেছেন।" আর ভাষ্যকারদের মধ্যে এমন কাউকেও পাওয়া যায় যারা বলেন: "বিদআত বিদআতই, তা উমরের পক্ষ থেকে হলেও।" নিঃসন্দেহে এটি খলিফায়ে রাশিদের প্রতি চরম শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ। প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো বিদআত নয়; কারণ এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পূর্ববর্তী কর্মের উদাহরণের আলোকেই সম্পাদিত হয়েছে। আর নবী (সা.) সাহাবীগণকে নিয়ে জামাতবদ্ধভাবে এটি সম্পাদন করা ত্যাগ করেছিলেন এই আশঙ্কায় যে, পাছে তা তাঁদের ওপর ফরয হয়ে যায়। এটি ছিল নিজ উম্মতের প্রতি তাঁর (সা.) মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।

"আর তুমি বিদআতী হয়ো না"—এখানে বিদআতকারীকে তার বিদআতের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। সুতরাং বিদআতের দিকে সম্বন্ধ করলে হয় 'বিদআতী' এবং সুন্নাহর দিকে সম্বন্ধ করলে হয় 'সুন্নী'; এই দুটি বিষয় পরস্পর বিপরীত। দ্বীনের মধ্যে নতুনত্ব ও নব-উদ্ভাবনের নিন্দা এবং এই বিষয়ে কঠোরতা আলেমদের বক্তব্যে প্রচুর পরিমাণে এসেছে। আর বিদআতকারীর সাথে তার সাথে মানানসই আচরণই করা উচিত।

তুমি কোনো বিদআতী কিংবা কোনো যিন্দীকের সাথে সাক্ষাৎ করো না … ক্রুদ্ধ মালেকের ভ্রুকুটিপূর্ণ চেহারার ন্যায় কঠোরতা নিয়ে ছাড়া।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا القحطاني في نونيته، وكلام السلف وأئمة الإسلام في معاملة المبتدع كلام كثير في هذا الباب، والتشديد في النكير عليهم؛ لأن المخالفة في الابتداع أعظم بكثير من المخالفة في المعاصي التي سببها الشهوة، أما ما كانت المخالفة فيه بسبب الشبهة فأمره أشد، هذا الأصل، وإن كان يوجد فيما يسمى بالفروع أو المعاصي من الذنوب الكبائر ما هو أعظم من البدع الخفيفة عند أهل العلم، لكن الكلام إجمالاً البدع أشد من الذنوب عند أهل العلم، لكن يوجد من الذنوب ما هو أشد من بعض البدع، والتفصيل معروف، وأهل العلم يقررون أن توبة العاصي قريبة بخلاف المبتدع قليلة توبة المبتدع، ولا يعرض نفسه للتوبة؛ لأنه يرى أنه على حق، والشيطان يسول له ويملي له أنه هو الذي على الحق؛ لأن مقالته مبنية على شبهة، لوثت تفكيره، وغطت عقله عن سماع الحق، وعن قبول الحق والإذعان للحق، فمثل هذا توبته أبعد ممن أقدم على الذنب وهو يعرف أنه ذنب وأنه مخالف، أما المبتدع فهو يقدم على هذه المخالفة الشنيعة وهو يظن أنه محق، يحسب أنه يحسن صنعاً، فمثل هذا لا يتوب، نعم تاب جمع منهم، لكن المسألة أغلبية، وبعض الفرق عُرف واشتهر وشاع أن الأمل فيهم ضعيف، وبعضها الأمل فيه قوي، والذي في تقديري أن الذي أشاع هذه الإشاعة هم أهل الفرقة أنفسهم، شيوخهم ومراجعهم؛ لماذا؟ لئلا يتصدى أحد لدعوتهم، إذا كان ميئوس من رجوعهم وتوبتهم فدعوتهم إهدار للوقت وإضاعة بدون جدوى، فالذي يغلب على الظن أنها من تلقائهم، من شيوخهم المرتزِقة الذين يستفيدون ويكتسبون من وراء اعتناقهم لهذا المذهب، وإلا فالشواهد تدل على أنهم منهم من يتوب، نعم قليل الذي يتوب، لكن يوجد من يتوب، فالصد عن دعوتهم بهذه الطريقة مكر شيطاني، وخديعة شيطانية، وإلا ما على الإنسان إلا أن يبذل السبب، كونه يعود أو يرجع هذا ليس إليه، يبذل السبب ويحرص على هداية الناس، لكن النتائج بيد الله -جل وعلا- كما تقدم في الهداية {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ} [(56) سورة القصص] نعم؟

طالب:. . . . . . . . .
এই আল-কাহতানি তাঁর নুনিয়্যাতে এই কথা বলেছেন, এবং বিদআতিদের সাথে আচরণের বিষয়ে সালাফ ও ইসলামের ইমামদের অনেক কথা এই অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে এবং তাদের কঠোর নিন্দা করার ব্যাপারেও অনেক নির্দেশনা রয়েছে; কারণ বিদআতের মাধ্যমে শরিয়ত বিরোধিতার বিষয়টি প্রবৃত্তিজনিত পাপে লিপ্ত হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। আর যে বিরোধিতার কারণ হলো সংশয়, তার বিষয়টি আরও ভয়াবহ। এটিই হলো মূলনীতি, যদিও তথাকথিত শাখা-প্রশাখা বা পাপসমূহের মধ্যে এমন কিছু কবিরা গুনাহ রয়েছে যা আলেমদের নিকট লঘু বিদআতের চেয়েও গুরুতর। তবে সামগ্রিকভাবে আলেমদের নিকট বিদআত পাপের চেয়েও ভয়াবহ, যদিও এমন কিছু পাপ রয়েছে যা কিছু বিদআতের চেয়েও গুরুতর; এ বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ সুপরিচিত। আলেমগণ এটি সাব্যস্ত করেছেন যে, পাপাচারীর তওবা করার সম্ভাবনা নিকটবর্তী, কিন্তু বিদআতির তওবা করার হার খুবই কম। সে নিজেকে তওবার দিকে ধাবিত করে না; কারণ সে মনে করে যে সে সত্যের উপরে আছে। শয়তান তাকে প্ররোচিত করে এবং তাকে কুমন্ত্রণা দেয় যে সেই সত্যের পথে আছে; কারণ তার মতাদর্শ সংশয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা তার চিন্তাধারাকে কলুষিত করেছে এবং সত্য শ্রবণ, সত্য গ্রহণ ও সত্যের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা থেকে তার বিবেককে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ফলে এ জাতীয় ব্যক্তির তওবা করা ঐ ব্যক্তির চেয়ে অনেক সুদূরপরাহত যে পাপ করছে এই জেনে যে এটি পাপ এবং এটি শরিয়ত পরিপন্থী। পক্ষান্তরে বিদআতি ব্যক্তি এই জঘন্য বিরোধিতায় লিপ্ত হয় এই ধারণা নিয়ে যে সে সত্যের ওপর আছে, সে মনে করে যে সে ভালো কাজ করছে; ফলে এ ধরনের মানুষ তওবা করে না। হ্যাঁ, তাদের মধ্যে অনেক মানুষ তওবা করেছে, তবে বিষয়টি অধিকাংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিছু দলের ব্যাপারে এটি পরিচিত ও সুপ্রসিদ্ধ যে তাদের হেদায়েতের ব্যাপারে আশা ক্ষীণ, আবার কারও ক্ষেত্রে আশা প্রবল। আমার ধারণা মতে, এই গুজব যারা ছড়িয়েছে তারা মূলত সেই দলের লোকেরাই, তাদের শাইখ ও নেতৃবৃন্দ; কেন? যাতে কেউ তাদের দাওয়াত দিতে অগ্রসর না হয়। কারণ যদি তাদের ফিরে আসা এবং তওবা করার ব্যাপারে মানুষ হতাশ হয়ে যায়, তবে তাদের দাওয়াত দেওয়া হবে ফলহীন সময় নষ্ট করা। তাই প্রবল ধারণা হলো, এটি তাদের নিজেদের পক্ষ থেকেই করা হয়েছে, বিশেষ করে তাদের সেই সব স্বার্থান্বেষী শাইখদের পক্ষ থেকে যারা এই মতাদর্শ আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে ফায়দা লুটছে এবং জীবিকা অর্জন করছে। অন্যথায় প্রমাণাদি একথাই নির্দেশ করে যে তাদের মধ্য থেকেও অনেকে তওবা করে; হ্যাঁ, তওবা করা ব্যক্তির সংখ্যা কম, কিন্তু তওবা করার লোক অবশ্যই আছে। সুতরাং এইভাবে তাদের দাওয়াত থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখা হলো একটি শয়তানি চক্রান্ত এবং শয়তানি প্রতারণা। অন্যথা মানুষের দায়িত্ব কেবল প্রচেষ্টা চালানো, কারো ফিরে আসা বা তওবা করা তার হাতে নয়। সে প্রচেষ্টা চালাবে এবং মানুষকে হেদায়েত করার জন্য সচেষ্ট হবে, কিন্তু ফলাফল মহান আল্লাহর হাতে—যেমনটি হেদায়েতের আলোচনায় গত হয়েছে: "নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত করতে পারবেন না" [সূরা আল-কাসাস: ৫৬]। ঠিক তো?

ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
إيه، لكن لو طبقنا التعريف اللغوي للبدعة ما انطبق قبل هذا كله، هو توجيه شيخ الإسلام رحمه الله توجيه الشيخ -رحمة الله عليه- على أنها بدعة لغوية، تعريف البدعة اللغوية: ما عمل على غير مثال سابق، وهذه عملت على مثال سابق، وسبق لها شرعية من السنة، فليست ببدعة شرعية، لا لغوية ولا شرعية ينتهي الإشكال، ويلزم من قوله رحمه الله مع أنه إمام، أقول: يلزم من قوله أن هناك شيء يسمى بدعة لغوية، نعم، وهو ما تفضلت به، لكن ينفى من أصله باعتبار أن التعريف اللغوي لا ينطبق عليه، وعموم المشايخ يقولون بقول شيخ الإسلام من باب:

إذا قالت حذام فصدقوها … فإن القول ما قالت حذام

والإنسان وهو يعرض مثل هذا الكلام على خجل واستحياء؛ لأنه كلام إمام، ولا يعني أننا نستدرك عليه، أو نتطاول على علمه أو فضله لا، أبداً، إنما نبين ما نراه حق، وكل يأخذ من قوله ويرد إلا النبي عليه الصلاة والسلام.

"ولا تك بدعياً" يعني منتسباً إلى البدعة "لعلك" (لعل) حرف ترجي "لعلك تفلحُ" إذا تمسكت بحبل الله، واتبعت الهدى، ولم تك مبتدعاً، ما قيمة حرف الترجي بعد هذا كله؟ يعني من تمسك بحبل الله، واتبع الهدى، ولم يكن بدعياً، مفلح جزماً وإلا لعله يفلح؟ نعم؟ يرجى له الفلاح، هو حرف ترجي، لكن من حصل منه ما ذُكر، تمسك بحبل الله، واتبع الهدى، ولم يكن بدعياً، هو مفلح أو لعله يفلح يرجى له الفلاح؟ نعم؟ يعني مسك الجادة، استقام على الصراط المستقيم.
হ্যাঁ, তবে আমরা যদি বিদআতের আভিধানিক সংজ্ঞা প্রয়োগ করি, তবে এর আগে এসবের কিছুই প্রযোজ্য হবে না। এটি শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যা—শাইখ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ব্যাখ্যা হলো—এটি একটি আভিধানিক বিদআত। আভিধানিক বিদআতের সংজ্ঞা হলো: যা কোনো পূর্ব উদাহরণ ছাড়াই করা হয়। অথচ এটি পূর্বের উদাহরণের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং সুন্নাহ থেকে এর শরয়ি ভিত্তি রয়েছে। সুতরাং এটি শরয়ি বিদআত নয়। আভিধানিক বা শরয়ি কোনোটিই না হলে সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আর ইমাম হওয়া সত্ত্বেও তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্য থেকে এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে—আমি বলছি—তাঁর বক্তব্য থেকে আবশ্যক হয় যে আভিধানিক বিদআত বলে কিছু আছে। হ্যাঁ, যা আপনি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এটি মূলগতভাবে নাকচ হয়ে যায় এই বিবেচনায় যে আভিধানিক সংজ্ঞা এর ওপর প্রযোজ্য হয় না। এবং অধিকাংশ মাশায়েখ শাইখুল ইসলামের বক্তব্য গ্রহণ করেন এই নীতিতে যে:

যদি হুযাম কিছু বলে তবে তাকে সত্য বলে মেনে নাও … কেননা প্রকৃত কথা তাই যা হুযাম বলেছে।

আর মানুষ যখন এই ধরণের কথা পেশ করে তখন লজ্জা ও সংকোচের সাথেই করে; কারণ এটি একজন ইমামের কথা। এর অর্থ এই নয় যে আমরা তাঁর ভুল ধরছি, অথবা তাঁর ইলম বা মর্যাদার ওপর ধৃষ্টতা দেখাচ্ছি; না, কখনোই নয়। বরং আমরা যা সত্য মনে করছি তা স্পষ্ট করছি। আর নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ব্যতীত প্রত্যেকের কথাই গ্রহণ করা হতে পারে আবার বর্জনও করা হতে পারে।

"আর তুমি বিদআতি হয়ো না" অর্থাৎ বিদআতের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়ো না। "যাতে তুমি" (হয়তো) এটি আশাসূচক অব্যয়। "যাতে তুমি সফল হও" যখন তুমি আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে ধারণ করবে, হেদায়েতের অনুসরণ করবে এবং বিদআতি হবে না। এই সবকিছুর পর এই আশাসূচক অব্যয়ের তাৎপর্য কী? অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর রজ্জুকে ধারণ করল, হেদায়েতের অনুসরণ করল এবং বিদআতি হলো না, সে কি নিশ্চিতভাবে সফল নাকি হয়তো সফল হবে? কী বলেন? তার জন্য সফলতার আশা করা যায়। এটি একটি আশাসূচক অব্যয়। কিন্তু যার মধ্যে এসব বিষয় পাওয়া গেল—আল্লাহর রজ্জু ধারণ করল, হেদায়েতের অনুসরণ করল এবং বিদআতি হলো না—সে কি সফল নাকি হয়তো সফল হবে বা তার সফলতার আশা করা যায়? হ্যাঁ? অর্থাৎ সে সঠিক পথ ধরেছে, সিরাতাল মুস্তাকিমের ওপর অবিচল রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
في مطلع سورة البقرة: {الم * ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ * الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ * والَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ} [(1 - 4) سورة البقرة] إلى أن قال: {أُوْلَئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [(5) سورة البقرة] جزم، وهنا يقول: لعلك، هذا يخاطب من نصحه ووجهه إلى التمسك بالكتاب والسنة، يخاطب من نُصح، يقول: ومع ذلك إذا امتثلت هذا الكلام، وتمسكت بحبل الله، واتبعت الهدى، ولم تكن بدعياً، لا تجزم في حكمك على نفسك بالفلاح، بل اتهم نفسك بالتقصير، مع هذا كله احرص على أن تتمسك بحبل الله، وتتبع الهدى الذي جاء عن النبي عليه الصلاة والسلام، وتجتنب البدع والمبتدعة ولعلك لأن الطريق طويل وشائك، والقلوب بين أصبعين من أصابع الرحمن، لعلك، والإنسان في هذه الدنيا مثل الغريق يسأل الله النجاة، ويسأل الله -جل وعلا- حسن الخاتمة، والموافاة على الإسلام، ويكون هذا ديدنه، فلا يجزم لنفسه بشيء، بشيء فلا يجزم لنفسه بشيء، أما من استمسك بحبل الله واتبع الهدى ولم يكن من المبتدعة بحق هذا مجزوم بنجاته، لكن متى نعرف أنه تمسك بحق؟ من الذي يحكم له أنه تمسك بحق؟ القلوب ما يدرى، ما يعلم ما في القلوب إلا علام الغيوب، نحن نرجو للمحسن الثواب، ونخشى على المسيء، ولذا عقيدة أهل السنة في هذا الباب أنهم لا يجزمون لأحد بجنة ولا نار، لأحد من أهل القبلة بجنة ولا نار، لكنهم يرجون للمحسن، ويخافون على المسيء، وهنا قال: "لعلك" وهذا من باب الرجاء لهذا المتمسك بالكتاب والسنة، هذا من باب الرجاء لعله يفلح، والفلاح كلمة جامعة تجمع بين خيري الدنيا والآخرة، ولا يوجد في لغة العرب كلمة تقوم مقامها، ومن أراد الفلاح فليستقرئ نصوص الكتاب والسنة التي جاءت فيها هذه اللفظة التي رتبت على أوصاف فيحرص على تطبيق هذه الأوصاف، يعني يستقرئ ما جاء في الكتاب والسنة بهذا اللفظ، وهذا اللفظ مرتب على أوصاف ينظر في هذه الأوصاف، ويطبق هذه الأوصاف، فيحصل له

সূরা আল-বাকারার শুরুতে বলা হয়েছে: {আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, যা মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক। যারা অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। আর যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং আখিরাতের প্রতি তারা সুদৃঢ় বিশ্বাস রাখে।} [সূরা আল-বাকারাহ: ১-৪] যতক্ষণ না তিনি বললেন: {তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।} [সূরা আল-বাকারাহ: ৫] এখানে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। আর এখানে লেখক বলছেন: "সম্ভবত আপনি" (লাআল্লাকা); এটি তাকে সম্বোধন করে বলা হচ্ছে যাকে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে তাকে সম্বোধন করে তিনি বলছেন: এতদসত্ত্বেও যদি আপনি এই কথাগুলো পালন করেন, আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেন, সঠিক পথ অনুসরণ করেন এবং বিদআতী না হন, তবুও আপনি নিজের সফলতার ব্যাপারে নিশ্চিত ফয়সালা করবেন না; বরং নিজেকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করবেন। এই সবকিছুর সাথে সাথে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরতে সচেষ্ট হোন এবং নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর পক্ষ থেকে আসা হিদায়াতের অনুসরণ করুন। আর বিদআত ও বিদআতীদের থেকে দূরে থাকুন। আর "সম্ভবত আপনি" (সফল হবেন) - কারণ পথটি দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ, আর অন্তরসমূহ রহমানের আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে থাকে। (তাই তিনি বলেছেন) "সম্ভবত আপনি"। আর এই দুনিয়ায় মানুষ একজন ডুবন্ত ব্যক্তির মতো, যে আল্লাহর কাছে মুক্তি প্রার্থনা করে এবং আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার কাছে উত্তম সমাপ্তি ও ইসলামের ওপর মৃত্যুর তাওফীক চায়। এটাই যেন তার স্বভাব হয়। তাই সে নিজের ব্যাপারে কোনো কিছুর নিশ্চিত ঘোষণা দেবে না। কোনো কিছুরই ব্যাপারে সে নিজের জন্য নিশ্চিত হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরেছে, হিদায়াত অনুসরণ করেছে এবং বিদআতীদের অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তার নাজাত বা মুক্তির বিষয়টি সুনিশ্চিত। কিন্তু আমরা কখন জানব যে সে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরেছে? কে তার ব্যাপারে ফয়সালা করবে যে সে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরেছে? অন্তরসমূহের অবস্থা জানা যায় না, অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অন্তরের খবর জানে না। আমরা নেককার ব্যক্তির জন্য সওয়াবের আশা করি এবং পাপাচারীর জন্য আশঙ্কা করি। আর এই কারণেই এই অধ্যায়ে আহলে সুন্নাতের আকিদা হলো যে, তারা কিবলার অনুসারী কোনো ব্যক্তির জন্য জান্নাত বা জাহান্নামের নিশ্চিত ফয়সালা দেয় না। তারা কোনো কিবলার অনুসারীর জন্যই জান্নাত বা জাহান্নামের নিশ্চয়তা দেয় না, তবে নেককারের জন্য আশা করে এবং পাপাচারীর ব্যাপারে ভয় করে। আর এখানে লেখক বলেছেন: "সম্ভবত আপনি", যা কিতাব ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা ব্যক্তির জন্য আশাস্বরূপ। এটি আশার জায়গা থেকে বলা হয়েছে যে, সম্ভবত তিনি সফল হবেন। আর 'ফালাহ' (সফলতা) একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ যা দুনিয়া ও আখিরাতের উভয় কল্যাণকে শামিল করে। আরবি ভাষায় এমন কোনো শব্দ নেই যা এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। যে ব্যক্তি সফলতা চায়, সে যেন কিতাব ও সুন্নাহর সেই দলিলসমূহ অনুসন্ধান করে যেখানে এই শব্দটি এসেছে এবং যা কিছু গুণের ওপর ভিত্তি করে বর্ণিত হয়েছে। এরপর সে যেন সেই গুণগুলো অর্জনে সচেষ্ট হয়। অর্থাৎ, কিতাব ও সুন্নাহতে এই শব্দ সহযোগে যা কিছু এসেছে তা সে অনুসন্ধান করবে। এই শব্দটি কিছু নির্দিষ্ট গুণের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তাই সে সেই গুণগুলোর দিকে লক্ষ্য করবে এবং সেগুলো নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করবে, ফলে সে সফলতা লাভ করবে।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الفلاح -إن شاء الله تعالى- إن فعل ذلك مخلصاً لله -جل وعلا-، متبعاً في كذلك كله سنة نبيه عليه الصلاة والسلام، بمعنى أنه جاء بشروط القبول، فالفلاح كلمة وليس لها نظير مما يجمع خير الدنيا والآخرة، كما قالوا في النصيحة لا يوجد كلمة تغني عنها، من حيازة الحض للمنصوح له، لا توجد كلمة تقوم مقامها، فمثلاً لو استعرضنا الصفات التي في مطلع سورة البقرة، والصفات التي في أول سورة المؤمنون: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ} [(1) سورة المؤمنون] … إلى آخره، ثم أخذ الإنسان يطبق هذه الأوصاف على نفسه يحرص على أن يطبق هذه الأوصاف يحصل له الفلاح -بإذن الله -جل وعلا-، ومع ذلك لا يجزم لنفسه ولا يُجزم له، إنما يغلب على الظن ويرجى له ذلك، وقلوب العباد كما جاء في الحديث بين إصبعين من أصابع الرحمن ((وإن العبد ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخلها)) نسأل الله السلامة والعافية، والثبات والتثبيت من الله -جل وعلا-، أمر يحتاج إلى أن يكون طلبه ديدناً للمسلم، فحسن الخاتمة وسوء الخاتمة أمر مقلق للإنسان، والسلف يخافون من هذا الباب أشد الخوف، ولذلك ما يعرف عنهم أنهم حملوا المطلق على المقيد في الحديث: ((وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخلها)) فهم كلهم خائفون وجلون من سوء العاقبة وسوء الخاتمة، وما في واحد منهم قال: نحمل المطلق على المقيد، فيما جاء من حديث صحيح: ((وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة فيما يبدو للناس)) ما حملوا المطلق على المقيد؛ لماذا؟ لئلا يتراخون في العمل، وصدق الالتجاء إلى الله -جل وعلا-، وينبغي ألا يحملنا هذا على أن نيأس ونقنط من رحمة الله أبداً، بل علينا أن نخاف وعلينا أن نرجو، وإذا كان إبراهيم عليه السلام، إمام الحنفاء الذي حطم الأصنام وكسّرها بيده، دعا الله -جل وعلا- بقوله: {وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الأَصْنَامَ} [(35) سورة إبراهيم] ولذا يقول إبراهيم التيمي: من يأمن البلاء بعدك يا إبراهيم؟! الزيغ وارد -نسأل الله الثبات-، ابن القيم -رحمه الله
সফলতা—ইনশাআল্লাহ তাআলা—অর্জিত হবে যদি কেউ তা মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয়ে এবং তার সমস্ত কিছুতে তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ করে পালন করে, অর্থাৎ সে কবুল হওয়ার শর্তাবলী পূরণ করল। সফলতা এমন একটি শব্দ যার সমকক্ষ দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকে একত্রিত করার মতো আর কোনো শব্দ নেই। যেমনটি নসিহতের (উপদেশ) ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মতো কোনো শব্দ নেই, যা দিয়ে যাকে নসিহত করা হচ্ছে তার জন্য কল্যাণ লাভের আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি বোঝানো যায়; এর পরিবর্তে ব্যবহার করার মতো কোনো শব্দ নেই। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি সূরা বাকারার শুরুতে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলো এবং সূরা আল-মুমিনুনের শুরুতে বর্ণিত গুণাবলী পর্যালোচনা করি: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে} [(১) সূরা আল-মুমিনুন] … শেষ পর্যন্ত, এরপর মানুষ যদি এই গুণাবলী নিজের ওপর প্রয়োগ করতে শুরু করে এবং এই গুণগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট হয়, তবে মহান আল্লাহর—যিনি মহান ও মহীয়ান—অনুমতিতে সে সফল হবে। তবুও সে নিজের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে না এবং তার ব্যাপারেও কোনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না; বরং প্রবল ধারণা করা যায় এবং তার জন্য তা আশা করা যায়। আর বান্দাদের অন্তরসমূহ, যেমনটি হাদিসে এসেছে, করুণাময়ের আঙ্গুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙ্গুলের মাঝে অবস্থান করে ((আর নিশ্চয়ই কোনো বান্দা জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এমতাবস্থায় তার ওপর তাকদির জয়ী হয় এবং সে জাহান্নামীদের আমল করে, ফলে সে তাতে প্রবেশ করে))। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করি; আর অবিচলতা এবং দৃঢ়তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে—যা সর্বদা প্রার্থনা করা একজন মুসলিমের অভ্যাসে পরিণত হওয়া প্রয়োজন। কেননা শুভ সমাপ্তি এবং মন্দ সমাপ্তি মানুষের জন্য একটি দুশ্চিন্তার বিষয়, এবং সালাফগণ এ বিষয়ে অত্যন্ত ভীত থাকতেন। একারণেই তাদের ব্যাপারে এমনটি জানা যায় না যে, তারা এই হাদিসের সাধারণ অর্থকে বিশেষ অর্থের ওপর প্রয়োগ করেছেন: ((আর তোমাদের কেউ জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে এমনকি তার ও জান্নাতের মধ্যে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে, এমতাবস্থায় তার ওপর তাকদির জয়ী হয় এবং সে জাহান্নামীদের আমল করে, ফলে সে তাতে প্রবেশ করে))। তারা সকলেই মন্দ পরিণাম ও মন্দ সমাপ্তি সম্পর্কে ভীত ও শঙ্কিত ছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ বলেননি যে: আমরা এই সাধারণ অর্থকে বিশেষ অর্থের ওপর প্রয়োগ করব, যা একটি সহিহ হাদিসে এসেছে: ((তোমাদের মধ্যে কেউ জান্নাতবাসীদের আমল করে যেমনটি মানুষের কাছে প্রতীয়মান হয়))। তারা কেন সাধারণ অর্থকে বিশেষ অর্থের ওপর প্রয়োগ করেননি? যেন তারা আমলে শিথিলতা প্রদর্শন না করেন এবং মহান আল্লাহর নিকট একনিষ্ঠভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন। তবে এটি যেন আমাদেরকে কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ বা আশাহত না করে, বরং আমাদের ভয়ও থাকতে হবে এবং আশাও রাখতে হবে। এমনকি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম—একনিষ্ঠ তাওহিদপন্থীদের ইমাম—যিনি নিজ হাত দিয়ে মূর্তিগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছিলেন, তিনিও মহান আল্লাহর কাছে এই বলে দোয়া করেছিলেন: {আর আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন} [(৩৫) সূরা ইবরাহিম]। একারণেই ইবরাহিম আত-তাইমি বলেন: "হে ইবরাহিম! আপনার পর আর কে বিপদমুক্ত থাকতে পারে?!" বিচ্যুতি ঘটা সম্ভব—আমরা আল্লাহর কাছে অবিচলতা প্রার্থনা করছি—ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ)
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
تعالى- يقول:

والله ما خوفي الذنوب وإنها … لعلى سبيل العفو والغفرانِ

لكن خوفي أن يزيغ القلب عن … تحكيم هذا الوحي والقرآنِ

ورضاً بآراء الرجال وخرصها … لا كان ذاك بمنة الرحمنِ

فهم يخافون أشد الخوف في هذا الباب، ولذا لا يرتاح الإنسان ما دامت روحه في جسده، ويخشى على نفسه من خدع الشيطان؛ لأن بعض الناس يتوسع في هذا الباب، وأنه بمجرد ما يؤدي هذه الصلوات، وقد يصوم مع الناس يظن أنه ضمن الجنة.

جاء في النصوص ما يدل على فضل الصلاة، وأنها تمحو الذنوب، وأنها كفارة لما بينهما، وأن رمضان إلى رمضان، هذا لا إشكال فيه، ولا عندنا فيه ريب ولا تردد، لكن الإنسان يتهم نفسه، ولن يؤتى إلا من قبل نفسه، فبما كسبت أيديكم، ولولا أن الله -جل وعلا- عفو غفور، رحيم رؤوف {وَلَوْ يُؤَاخِذُ اللهُ النَّاسَ بِظُلْمِهِم مَّا تَرَكَ عَلَيْهَا مِن دَآبَّةٍ} [(61) سورة النحل] والله -جل وعلا- يعفو عن كثير، فالإنسان عليه أن يعمل، أن يعمل ويجتهد ويحرص ويجاهد نفسه على الإخلاص، ولا يكون في عمله حظ لأحد، ويتبع النبي عليه الصلاة والسلام، ولا يبتدع في دينه، فإذا تمسك بالكتاب والسنة على هذه الكيفية يُرجى أن يختم له بخير، ولذا أهل العلم مع خوفهم من سوء العاقبة يقررون أن الفواتح عنوان الخواتم، يعني الذي يغلب على الظن أن من سلك الجادة هذا يقررونه في الكلام النظري، لكن على أنفسهم هل يستطيع شخص مهما بلغ من العلم والعبادة أن يقول: خلاص الفواتح عنوان الخواتم يعني ما عليّ، مضمون أنه يموت على الاستقامة؟ ما هو بمضمون، ليس بمضمون.

الناظم -رحمه الله تعالى- ذكر ما ذكر في البيت الأول من التمسك بالقرآن واتباع الهدى الذي هو طريقة النبي عليه الصلاة والسلام وسنته، أعقب ذلك بالمصدر الذي تؤخذ منه هذه العلوم عند أهل السنة علومهم وعقائدهم مأخوذة من الكتاب والسنة.

ودن بكتاب الله والسنن التي … أتت عن رسول الله تنجو وتربحُ

(دن) هذا أمر من الديانة، يعني تدين وتعبد لله -جل وعلا- بكتاب الله "والسنن التي" يعني تعبد على ضوء الكتاب والسنة، يعني مثل ما قال: تمسك بالكتاب والسنة، تمسك بحبل الله والهدى التي هو السنن.
তাআলা বলছেন:

আল্লাহর কসম, আমার ভয় পাপ নিয়ে নয়, যদিও তা … ক্ষমা ও মার্জনার পথে রয়েছে।

কিন্তু আমার ভয় হলো হৃদয় যেন এই … ওহি ও কুরআনের শাসন থেকে বিচ্যুত না হয়।

আর মানুষের মতামত ও তাদের অনুমানের প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া— … রহমানের অনুগ্রহে তা যেন কখনো না হয়।

তারা এই বিষয়ে চরম ভয় পান। তাই মানুষের আত্মা যতক্ষণ দেহে থাকে ততক্ষণ সে স্বস্তি পায় না; সে নিজের ব্যাপারে শয়তানের প্রতারণার ভয় পায়। কারণ কিছু মানুষ এই বিষয়ে শিথিলতা দেখায় যে, কেবল এই সালাতগুলো আদায় করলে এবং হয়তো মানুষের সাথে সিয়াম পালন করলেই সে জান্নাত নিশ্চিত করে ফেলেছে বলে মনে করে।

নصوص বা শরয়ি ভাষ্যসমূহে সালাতের ফযিলত সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে, যা পাপ মুছে দেয় এবং তা দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের কাফফারা হয়; আর এক রমজান থেকে অন্য রমজান পর্যন্ত—এতে কোনো সংশয় নেই, আমাদের কোনো সন্দেহ বা দ্বিধাও নেই। তবে মানুষ নিজেকে অভিযুক্ত করবে, কারণ মানুষ কেবল নিজের মাধ্যমেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ‘তোমাদের হাত যা কামাই করেছে তার কারণে’। আর যদি আল্লাহ—যিনি মহান ও মহিমান্বিত—ক্ষমাশীল, দয়ালু ও পরম করুণাময় না হতেন; {আর যদি আল্লাহ মানুষকে তাদের যুলুমের জন্য পাকড়াও করতেন, তবে জমিনের ওপর কোনো জীবজন্তু ছাড়তেন না} [(সূরা আন-নাহল: ৬১)]। আর আল্লাহ—যিনি মহান ও মহিমান্বিত—তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন। সুতরাং মানুষের উচিত কাজ করা, আমল করা, প্রচেষ্টা চালানো এবং ইখলাসের সাথে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। তার আমলে যেন অন্য কারো কোনো অংশ না থাকে। সে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর অনুসরণ করবে এবং দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবন (বিদআত) করবে না। যদি সে কুরআন ও সুন্নাহকে এভাবে আঁকড়ে ধরে, তবে আশা করা যায় যে তার শেষ পরিণতি ভালো হবে। এই কারণে আলেমগণ শেষ পরিণতির মন্দ হওয়ার ভয় থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত দেন যে, প্রারম্ভ হলো পরিণতির নিদর্শন। অর্থাৎ প্রবল ধারণা এই যে, যে ব্যক্তি সঠিক পথে চলে—তাত্ত্বিকভাবে তারা এই কথা বলেন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে, কোনো ব্যক্তি কি ইলম ও ইবাদতের যত উচ্চ পর্যায়েই পৌঁছাক না কেন, এ কথা বলতে পারে যে: ‘ব্যাস, প্রারম্ভ হলো পরিণতির নিদর্শন, অর্থাৎ আমার কোনো চিন্তা নেই, আমি হিদায়াতের ওপর মৃত্যুবরণ করব এটি নিশ্চিত’? না, এটি নিশ্চিত নয়, এটি নিশ্চিত নয়।

নাজিম (কবিতা রচয়িতা)—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—প্রথম চরণে কুরআনকে আঁকড়ে ধরা এবং হিদায়াতের অনুসরণের কথা যা উল্লেখ করেছেন, তা হলো নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম-এর পথ ও তাঁর সুন্নাহ। এর পরপরই তিনি সেই উৎসের কথা উল্লেখ করেছেন যেখান থেকে এই ইলমসমূহ গ্রহণ করা হয়। আহলুস সুন্নাহর নিকট তাদের ইলম ও আকিদা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত।

আর আল্লাহর কিতাব ও সেই সকল সুন্নাহ দ্বারা দ্বীন পালন করো যা … রাসূলুল্লাহ থেকে এসেছে, তবেই তুমি নাজাত পাবে ও সফল হবে।

(দ্বীন পালন করো) এটি দিয়ানাত বা ধর্মনিষ্ঠা থেকে একটি আদেশসূচক শব্দ। অর্থাৎ তুমি আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে আল্লাহ—যিনি মহান ও মহিমান্বিত—তাঁর আনুগত্য ও ইবাদত করো। "আর সেই সকল সুন্নাহ" অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইবাদত করো। যেমন তিনি বলেছেন: কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো, আল্লাহর রশি ও হিদায়াতকে আঁকড়ে ধরো যা মূলত সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
ودن بكتاب الله والسنن التي … . . . . . . . . .

يعني تدين بما جاء في كتاب الله وسنة نبيه عليه الصلاة والسلام، ولا تأخذ دينك عن شيء سوى هذين المصدرين، وهما مصدرا التلقي عند أهل السنة، ولا ثالث لهما يستقل بنفسه، وأما ما يُذكر من المصادر من القياس والإجماع فكلها مردها إلى الكتاب والسنة، فالإجماع لا بد أن يستند على أصل من الكتاب أو السنة، والقياس لا بد أن يكون الأصل المقيس عليه له أصل في الكتاب أو السنة، ولا يوجد مصدر ثالث لا عقل كما يقول: المبتدعة، ولا منطق يزعمون أنه يعصم الرأي من الخطأ، ولا مقدمات كلامية ولا منطقية ترتب عليها نتائج وأحكام شرعية كما فعل أهل الكلام، فما عندنا إلا قال الله وقال رسوله.

العلم قال الله قال رسوله … قال الصحابة هم ألوا العرفانِ

وكلام الصحابة مبني على الكتاب والسنة، إذ لا يمكن أن يأتوا بشيء من كيسهم، فمرد التلقي إلى الكتاب والسنة.

ودن بكتاب الله والسنن التي … أتت عن رسول الله. . . . . . . . .
আল্লাহর কিতাব এবং সেই সুন্নাহর অনুসারী হও যা … . . . . . . . . .

অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (তাঁর উপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাহতে যা এসেছে তার মাধ্যমে দ্বীন পালন করো এবং এই দুটি উৎস ছাড়া অন্য কিছু থেকে তোমার দ্বীন গ্রহণ করো না। আহলুস সুন্নাহর নিকট এই দুটিই হলো জ্ঞান অর্জনের উৎস এবং এ দুটির বাইরে স্বয়ংসম্পূর্ণ তৃতীয় কোনো উৎস নেই। আর উৎস হিসেবে কিয়াস ও ইজমা যা উল্লেখ করা হয়, সেগুলোর সবকিছুরই প্রত্যাবর্তনস্থল হলো কিতাব ও সুন্নাহ। সুতরাং ইজমাকে অবশ্যই কিতাব বা সুন্নাহর কোনো ভিত্তির ওপর নির্ভর করতে হয় এবং কিয়াসের ক্ষেত্রে যার ওপর কিয়াস করা হচ্ছে তার মূল ভিত্তিও কিতাব বা সুন্নাহতে থাকা আবশ্যক। সেখানে তৃতীয় কোনো উৎস নেই—বিদআতিরা যেমনটি বলে তেমন কোনো আকল (বিবেক) নেই, আর এমন কোনো যুক্তিবিদ্যাও নেই যা সম্পর্কে তারা দাবি করে যে তা মানুষের রায় বা মতামতকে ভুল থেকে রক্ষা করে। এমনকি আহলে কালামদের মতো কোনো কালামী বা যৌক্তিক ভূমিকাও নেই যা থেকে শরঈ ফলাফল ও বিধান উদ্ভূত হয়। আমাদের নিকট ‘আল্লাহ বলেছেন’ এবং ‘রাসূল বলেছেন’ ছাড়া আর কিছু নেই।

ইলম হলো আল্লাহ যা বলেছেন, রাসূল যা বলেছেন … এবং সাহাবীগণ যা বলেছেন, তাঁরাই ছিলেন প্রকৃত মারেফাত বা জ্ঞানের অধিকারী।

আর সাহাবীগণের কথা কিতাব ও সুন্নাহর ওপরই প্রতিষ্ঠিত, কারণ এটা অসম্ভব যে তাঁরা নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু বলবেন। সুতরাং দ্বীনি জ্ঞান লাভের উৎস হলো কিতাব ও সুন্নাহ।

আল্লাহর কিতাব এবং সেই সুন্নাহর অনুসারী হও যা … রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। . . . . . . . . .
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
السنن التي أتت وثبت عن الرسول عليه الصلاة والسلام، فلا يتدين بشيء ولو نسب إلى النبي عليه الصلاة والسلام ما لم يكن ثابتاً عنه "أتت عن رسول الله" يعني ثبتت عنه عليه الصلاة والسلام بطرق صحيحة أو حسنة "تنجو وتربحُ" يعني في هذا الباب المصدر الكتاب، وهذا أمر متفق عليه، والسنة، آحادها ومتواترها، كلها يجب العمل به في جميع أبواب الدين، يجب العمل بالسنة في جميع أبواب الدين، والسنة تشمل كل ما ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام، سواءً كان في الصحيحين أو في غيرهما، ولذا الفئة التي خرجت تزعم أنها تقتصر على القرآن، ويسمون أنفسهم القرآنيين، هؤلاء على ضلال بلا شك، وليسوا بقرآنيين لأن القرآن جاء بالأمر بطاعة الرسول عليه الصلاة والسلام، والفئة الأخرى التي توسعت قليلاً فرأت الاقتصار في مصادر التلقي على القرآن والصحيحين فقط، وهذه ذكرناها في بعض الدروس التي مضت، وهناك جمعية وجماعة سموا أنفسهم جماعة الاقتصار على القرآن والصحيحين، وأشرنا إلى أن هناك مصنف اسمه تيسير الوحيين بالاقتصار على القرآن مع الصحيحين، وهذا لا شك أن في هذا تضييعاً وإهداراً لقدر كبير مما ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام خارج الصحيحين، فالتدين على هذه الطريقة ناقص، فقد يكون في غير الصحيحين ما هو ناسخ لما في الصحيحين، وقد يكون في غير الصحيحين ما هو مخصص، وقد يكون ما هو خارج الصحيحين مقيد لما في الصحيحين، وحينئذٍ يكون التدين بهذه الطريقة ناقص، فعلى هذا على المسلم خصوصاً طالب العلم أن يعنى بكتاب الله -جل وعلا- الذي هو المصدر الأول، وجميع ما ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام سواءً كان ذلك متواتراً أو آحاد، وسواءً كان من أفراد الآحاد الصحيح والحسن كله مقبول في جميع أبواب الدين، وأما المبتدعة فإنهم لا يقبلون أخبار الآحاد في العقائد؛ لأن أكثر الأخبار جاءت بطريق آحاد، ورسل النبي عليه الصلاة والسلام إلى الملوك وغيرهم أفراد، والاستدلال على حجية خبر الواحد وإن كان فرداً واحداً فضلاً عن أن يكون عدد أكثر من أن تحصر، وعلى هذا درج الصحابة بعد أن أرسل النبي عليه الصلاة والسلام إلى الآفاق أفراد يعلمونهم الدين، وينقلون لهم

যে সকল সুন্নাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত এবং সাব্যস্ত হয়েছে, সুতরাং কোনো কিছুকেই দীন হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না—যদিও তা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে নিসবত করা হয়—যতক্ষণ না তা তাঁর থেকে সাব্যস্ত হয়। "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এসেছে" এর অর্থ হলো—সহিহ বা হাসান সনদের মাধ্যমে তাঁর থেকে তা সাব্যস্ত হয়েছে। "তুমি মুক্তি পাবে এবং সফল হবে" এর অর্থ হলো—এই বিষয়ে মূল উৎস হচ্ছে কিতাবুল্লাহ (কুরআন), যা একটি ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়; এবং সুন্নাহ—তার আহাদ ও মুতাওয়াতির উভয় প্রকারই। দীনের সকল বিষয়ে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব। সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত প্রতিটি বিষয়, চাই তা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে থাকুক বা এর বাইরে অন্য কোনো গ্রন্থে থাকুক। একারণেই যে দলটি আত্মপ্রকাশ করে দাবি করেছে যে তারা কেবল কুরআনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে এবং নিজেদেরকে 'কুরআনি' বলে পরিচয় দেয়, তারা নিঃসন্দেহে গোমরাহির ওপর রয়েছে। তারা প্রকৃত কুরআনি নয়, কারণ কুরআন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছে। আর দ্বিতীয় আরেকটি দল যারা কিছুটা অগ্রসর হয়ে গ্রহণের উৎস হিসেবে কেবল কুরআন ও সহিহাইনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকেই সঠিক মনে করেছে; আমরা ইতিপূর্বে কিছু দরসে এদের কথা উল্লেখ করেছি। এমন একটি সমিতি ও দল রয়েছে যারা নিজেদেরকে 'কুরআন ও সহিহাইনের ওপর সীমাবদ্ধ দল' হিসেবে নামকরণ করেছে। আমরা ইঙ্গিত করেছি যে, 'তাইসিরুল ওয়াহয়াইন বিল ইতিসার আলাল কুরআন মাআস সহিহাইন' নামক একটি কিতাবও রয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এর মাধ্যমে সহিহাইনের বাইরে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হওয়া বিশাল একটি অংশকে নষ্ট ও অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ফলে এই পদ্ধতিতে দীনদারি হবে ত্রুটিপূর্ণ। কেননা সহিহাইনের বাইরে এমন কিছু থাকতে পারে যা সহিহাইনের কোনো বিধানকে রহিতকারী; আবার এমনও হতে পারে যা সহিহাইনের কোনো সাধারণ বিধানকে নির্দিষ্টকারী (খাসকারী); অথবা সহিহাইনের বাইরের কোনো বর্ণনা সহিহাইনের বর্ণনাকে সীমাবদ্ধ (মুকাইয়াদ) করতে পারে। এমতাবস্থায় এই পদ্ধতিতে দীন পালন অপূর্ণ থেকে যায়। সুতরাং এই ভিত্তিতে একজন মুসলিম, বিশেষ করে একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য আবশ্যক হলো—মহামহিম আল্লাহর কিতাবের প্রতি যত্নশীল হওয়া যা হলো প্রথম উৎস; এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত সকল বর্ণনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, চাই তা মুতাওয়াতির হোক বা আহাদ হোক। আর আহাদ বর্ণনার মধ্যে সহিহ এবং হাসান পর্যায়ের যা কিছু রয়েছে তার সবই দীনের সকল বিষয়ে গ্রহণযোগ্য। পক্ষান্তরে বিদয়াতিরা আকিদার ক্ষেত্রে খবরে ওয়াহিদ গ্রহণ করে না। অথচ অধিকাংশ বর্ণনা আহাদ সূত্রেই এসেছে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাজন্যবর্গ ও অন্যদের কাছে একক ব্যক্তিকেই দূত হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। খবরে ওয়াহিদ দলিল হওয়ার সপক্ষে দলিলাদি—চাই তা একজন ব্যক্তির বর্ণনা হোক বা তার চেয়ে বেশি—এত অধিক যে তা গণনা করা অসম্ভব। আর এই নীতির ওপরই সাহাবায়ে কেরাম পরিচালিত হয়েছেন; যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন প্রান্তে একক ব্যক্তিদের পাঠাতেন যাতে তাঁরা মানুষকে দীন শিক্ষা দেন এবং তাঁর বাণী তাদের কাছে পৌঁছে দেন।

(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ২০)
أخبار النبي عليه الصلاة والسلام، وأرسلهم إلى الملوك ليبلغوهم الدين، ويقيموا عليهم الحجج، وهم أفراد، وهدف المبتدعة حينما ذكروا أن الآحاد لا يحتج به إهدار أكثر الأحاديث النبوية، بل المتواتر لا يبحثه أهل الحديث، لا يبحثونه، ولا يوجد في كتبهم، ولا يوجد في كتبهم لماذا؟ لأنه ليس من صناعتهم، إنما صناعتهم ما يحتمل النفي والإثبات، والمتواتر لا يحتمل النفي، فصناعتهم منصبة على ما يحتمل النفي والإثبات بشروط شرطوها، وقواعد ضبطوها وأتقنوها، فما ثبت على ضوء قواعدهم يجب العمل به سواءً تعددت طرقه أو لم تتعدد، وما لم يثبت لا يعمل به.

"أتت عن رسول الله تنجو" إذا دنت بكتاب الله والسنن التي جاءت عن النبي عليه الصلاة والسلام تنجو، (تنجو) هذا جواب الطلب الأصل فيه أن يجزم؟ جواب الطلب؟ نعم؟

طالب:. . . . . . . . .

كيف؟

طالب:. . . . . . . . .

(تنجُ) لكن نستطيع أن نقول كذا وبعدها وتربحُ، دن هذا أمر وطلب.

"بكتاب الله والسنن التي * أتت عن رسول الله تنجو" الأصل أن يكون مجزوماً، وما عطف عليه أيضاً يكون مجزوماً؛ لأنه إما أن يكون جواب طلب على قول بعضهم، أو يكون جواب شرط مقدر: إن تدن بالكتاب والسنة تنجُ وتربح، وهنا "تنجو وتربحُ" كلها مرفوعة، كلها مضمومة؛ لماذا؟ إشباع؟ (إنه من يتقي ويصبر) إشباع؟ "ألم يأتيك والأنباء تنمي" نقول: إشباع؟ هذا فيه مخرج، لا شك أن في مثل هذا مخرج، لكن أحياناً تأتي وليست بحاجة إلى إشباع {فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا} [(5) سورة مريم] إيش؟ بعدها على طول؟ يرثْني وإلا يرثُني؟

طالب:. . . . . . . . .

لماذا؟

طالب:. . . . . . . . .

كيف؟

طالب:. . . . . . . . .

يعني يرثُني هل هي جواب الطلب؟ نعم؟

طالب:. . . . . . . . .

كيف؟

طالب: في سياق الطلب.

لماذا؟

طالب: يرثني.
নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সংবাদসমূহ; তিনি সেগুলোকে রাজাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন যেন তারা তাদের কাছে দ্বীন পৌঁছে দেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেন, আর তারা ছিলেন একক ব্যক্তি। বিদআতীদের উদ্দেশ্য যখন তারা উল্লেখ করেছিল যে আহাদ (একক) বর্ণনা দলীল হিসেবে গণ্য হয় না, তখন তাদের লক্ষ্য ছিল অধিকাংশ নববী হাদীসকে বাতিল করে দেওয়া। বরং মুতাওয়াতির হাদীস নিয়ে হাদীস বিশারদগণ আলোচনা করেন না, তারা এটি নিয়ে গবেষণা করেন না এবং তাদের কিতাবসমূহে এটি পাওয়া যায় না। তাদের কিতাবসমূহে এটি কেন পাওয়া যায় না? কারণ এটি তাদের শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের শাস্ত্র তো সেটিই যা নাকচ (নফি) এবং ইতিবাচক (ইসবাত) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। আর মুতাওয়াতির বর্ণনায় নাকচ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। সুতরাং তাদের শাস্ত্র সেসব বিষয়ের ওপর নিবদ্ধ যা তাদের নির্ধারিত শর্তসমূহ এবং সুশৃঙ্খল ও নিখুঁত নিয়মনীতির ভিত্তিতে নাকচ ও ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। অতএব তাদের নিয়মনীতির আলোকে যা প্রমাণিত হবে, সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব, চাই তার সূত্র একাধিক হোক বা না হোক। আর যা প্রমাণিত হবে না, তার ওপর আমল করা যাবে না।

"রাসূলুল্লাহ থেকে যা এসেছে, তাতে তুমি মুক্তি পাবে।" যদি তুমি আল্লাহর কিতাব এবং নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে আগত সুন্নাতসমূহের অনুসারী হও, তবে তুমি মুক্তি পাবে। (তাজনূ - তুমি মুক্তি পাবে) এটি হলো অনুরোধের উত্তর (জাওয়াবে তলব), এর মূল নিয়ম কি জজম হওয়া নয়? অনুরোধের উত্তর? হ্যাঁ?

ছাত্র:. . . . . . . . .

কিভাবে?

ছাত্র:. . . . . . . . .

(তাজনূ) কিন্তু আমরা এভাবে বলতে পারি এবং এর পরে "ওয়া তারবাহু" (এবং তুমি লাভবান হবে)। "দান" (অনুসরণ করো) এটি হলো আদেশ এবং অনুরোধ।

"আল্লাহর কিতাব এবং সুন্নাতসমূহ যা রাসূলুল্লাহ থেকে এসেছে, তাতে তুমি মুক্তি পাবে।" মূল নিয়ম হলো এটি জজমযুক্ত হওয়া, আর যা এর সাথে যুক্ত হয়েছে তাও জজমযুক্ত হওয়া; কারণ কারো কারো মতে এটি হয় অনুরোধের উত্তর হবে, অথবা এটি একটি উহ্য শর্তের উত্তর হবে: "যদি তুমি কিতাব ও সুন্নাহর অনুসারী হও, তবে তুমি মুক্তি পাবে ও লাভবান হবে।" কিন্তু এখানে "তাজনূ" এবং "তারবাহু" উভয়ই মারফু (পেশযুক্ত) হয়েছে, উভয়টিতেই দ্বম্মাহ রয়েছে; কেন? ইশব্বা (স্বরধ্বনি দীর্ঘকরণ)? "(নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধরে)"- এখানে কি ইশব্বা? "তোমার কাছে কি সংবাদ পৌঁছেনি..." - আমরা কি বলব ইশব্বা? এক্ষেত্রে কোনো যুক্তি বা অবকাশ অবশ্যই আছে, তবে অনেক সময় এটি আসে অথচ ইশব্বার প্রয়োজন হয় না। {সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন} [(৫) সূরা মারইয়াম] কী? এরপরই কী আছে? "ইয়ারিসনী" (উত্তরাধিকার লাভ করবে - জজমযুক্ত) নাকি "ইয়ারিসুনী" (পেশযুক্ত)?

ছাত্র:. . . . . . . . .

কেন?

ছাত্র:. . . . . . . . .

কিভাবে?

ছাত্র: অনুরোধের প্রেক্ষাপটে।

কেন?

ছাত্র: ইয়ারিসনী।
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ২১)
{وَلِيًّا * يَرِثُنِي} [(5 - 6) سورة مريم] هذا وصف، وصف لهذا الولي {فَهَبْ لِي مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا * يَرِثُنِي} [(5 - 6) سورة مريم] لأنه ليس الهدف من وجود هذا الولي الإرث فقط، لكن من وصفه أنه يرثه، ولهذا رُفع على أساس أنه ليس بجواب للطب، وأما الذي معنا لا شك أنه جواب الطلب أو جواب شرط مقدر تقديره: إن تدن بالكتاب والسنة تنجو وتربح، وهنا يحمل على أنه إشباع، هل يمكن أن يقال: إنه إلغاء لجواب الطلب، أو إلغاء للشرط المتقدم؟ يعني مثل ما جزموا جواب (إذا) جزموا جواب (إذا) هل يلغون جزم جواب (إن) الشرطية؟ نعم؟ (إذا) الأصل أنها لا تجزم، و (إن) تجزم، وجزموا جواب (إذا) "نقبلْه" في درس اليوم في الألفية، ما ذكرنا أن من المذاهب في العربية من يجزم بجواب (إذا) ذكرنا هذا "نقبلْه" فهل يمكن أن يقال: إن جواب (إن) يمكن رفعه والأصل أنه مجزوم.

أنا إن شككت وجدتموني جازماً … وإذا جزمت فإنني لم أجزمِ

ما في أحد يمكن يسعف في هذا الباب؟ نعم في أحد؟ قالوا عن "ألم يأتيك" هذا حرف علة "والأنباء تنمي" ويش لون. . . . . . . . .؟

طالب:. . . . . . . . .

ألم؟

طالب:. . . . . . . . .

لا، الأصل أن يحذف "ألم يأتك" الحركة تشبع، فتنطق بما يشبه الواو.

أظننا نقف على هذا.

اللهم صل وسلم على عبدك ورسولك محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. (1: 00: 22)
{একজন উত্তরসূরি... যে আমার উত্তরাধিকার লাভ করবে} [(৫ - ৬) সূরা মারইয়াম] এটি একটি গুণবাচক বিবরণ, এই উত্তরসূরির গুণ। {সুতরাং আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন উত্তরসূরি দান করুন, যে আমার উত্তরাধিকার লাভ করবে} [(৫ - 6) সূরা মারইয়াম] কারণ এই উত্তরসূরি থাকার উদ্দেশ্য কেবল উত্তরাধিকার নয়, বরং তার একটি বৈশিষ্ট্য হলো সে উত্তরাধিকার লাভ করবে। এই কারণেই একে 'রাফ' (পেশ) প্রদান করা হয়েছে এই ভিত্তিতে যে, এটি 'জাওয়াবুত তালাব' (অনুরোধের উত্তর) নয়। আর আমাদের সামনে যা রয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি 'জাওয়াবুত তালাব' অথবা একটি ঊহ্য শর্তের উত্তর, যার আনুমানিক রূপ হলো: যদি তুমি কিতাব ও সুন্নাহর নিকটবর্তী হও, তবে তুমি মুক্তি পাবে ও সফল হবে। আর এখানে একে 'ইশবা' (স্বরধ্বনি দীর্ঘকরণ) হিসেবে গণ্য করা হবে। এমন কি বলা যেতে পারে যে, এটি 'জাওয়াবুত তালাব'কে বাতিল করা, অথবা পূর্ববর্তী শর্তকে বাতিল করা? অর্থাৎ যেভাবে তারা 'ইযা' শব্দের উত্তরকে 'জযম' প্রদান করেছেন, তারা কি শর্তবাচক 'ইন' শব্দের উত্তরের জযমকেও বাতিল করবেন? হ্যাঁ? মূলত 'ইযা' জযম প্রদান করে না, আর 'ইন' জযম প্রদান করে। আলফিয়ার আজকের পাঠে তারা 'ইযা'-এর উত্তরকে 'নাকবালহু' হিসেবে জযম প্রদান করেছেন। আমরা কি উল্লেখ করিনি যে আরবি ভাষার বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে এমন একটি মত আছে যা 'ইযা'-এর উত্তরের ক্ষেত্রে জযম দেয়? আমরা এটি উল্লেখ করেছি। তাহলে কি বলা সম্ভব যে, 'ইন'-এর উত্তরকেও 'রাফ' করা যেতে পারে অথচ মূল নিয়ম হলো এটি জযমযুক্ত হবে।

আমি যদি সংশয় করি তবে তোমরা আমাকে জযম প্রদানকারী (দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ) হিসেবে পাবে … আর যখন আমি জযম প্রদান করি, তখন আমি জযম প্রদান করি না।

এই বিষয়ে কি কেউ সাহায্য করতে পারেন? হ্যাঁ, কেউ আছেন? তারা "আলাম ইয়া'তিকা" সম্পর্কে বলেছেন যে এটি একটি দুর্বল বর্ণ (হারফে ইল্লাত), "আর সংবাদসমূহ বৃদ্ধি পায়" এটি কীভাবে হতে পারে...?

ছাত্র: . . . . . . . . .

আলাম?

ছাত্র: . . . . . . . . .

না, মূল নিয়ম অনুযায়ী "আলাম ইয়া'তিক" থেকে বর্ণটি বিলুপ্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু স্বরচিহ্নকে দীর্ঘ (ইশবা) করা হয়েছে, ফলে এটি উচ্চারণে 'ওয়াও'-এর সদৃশ হয়ে গেছে।

আমার মনে হয় আমরা এখানেই থামব।

হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। (১: ০০: ২২)
(খণ্ড: ১) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: -)
شرح المنظومة الحائية لابن أبي داود   (عبد الكريم الخضير)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح المنظومة الحائية لابن أبي داود

مؤلف الأصل: أبو بكر بن أبي داود، عبد الله بن سليمان بن الأشعث الأزدي السجستاني (ت 316هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 5 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432

ইবনে আবি দাউদ রচিত আল-মানজুমা আল-হাইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা   (আব্দুল কারীম আল-খুদাইর)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ: ইবনে আবি দাউদ রচিত আল-মানজুমা আল-হাইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা

মূল লেখক: আবু বকর ইবনে আবি দাউদ, আব্দুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনুল আশ’আস আল-আজদি আস-সিজিস্তানি (মৃত্যু ৩১৬ হিজরি)

ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর

শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত পাঠসমূহ

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড সংখ্যা হলো পাঠের সংখ্যা - ৫টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররাম ১৪৩২ হিজরি

(খণ্ড: ২) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

شرح المنظومة الحائية لابن أبي داود (2)

 

الشيخ: عبد الكريم بن عبد الله الخضير

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فيقول الناظم -رحمه الله تعالى-:

تمسك بحبل الله واتبع الهدى … ولا تك بدعياً لعلك تفلحُ

ودن بكتاب الله والسنن التي … أتت عن رسول الله تنجو وتربحُ

تقدم شرح هذين البيتين في درس الأمس، وقلنا في مسألة أو في كلمة (تنجو وتربحُ) هل هي جواب الطلب أو جواب شرط مقدر؟ وعلى كلا الاحتمالين الواجب الجزم، وقد تقتضي ضرورة الشعر والوزن أن تشبع الحركة فيتولد عنها هذا، لكنها كيف تشبع وهي ساكنة؟ يعني لو كانت ضمة وأشبعت حتى صارت واواً هذا الإشباع، لكنها ساكنة، الأصل أنها ساكنة؛ لأنها جواب الطلب، بعضهم يقول: لعل .. ، يمكن أن يقدر: لعلك تنجو وتربح، وحينئذٍ يكون لا إشكال، والأمر -إن شاء الله- سهل، والتقدير مألوف في لغة العرب.

بعد هذا يقول الناظم -رحمه الله تعالى-:

وقل: غير مخلوق كلام مليكنا … . . . . . . . . .

نحن الآن بين يدينا ثلاث نسخ، الطبعة الدمشقية التي هي أولى الطبعات، وطبعة المنار التي تليها طبعت بعدها بسنة، الدمشقية سنة ألف وثلاثمائة وخمسين، وطبعة المنار واحد وخمسين، وعندنا طبعة جديدة في مقدمة شرح الشيخ عبد الرزاق البدر، وهي طبعة ضبطها الشيخ، وتعب عليها.

بعد هذا يقول:

وقل: غير مخلوق كلام مليكنا … بذلك دان الأتقياء وأفصحوا

هكذا في الدمشقية، ونسخة الشيخ التي في مقدمة الشرح، وفي نسخة المنار طبعة الشيخ رشيد رضا يقول:

وقل: غير مخلوق كلام مليكنا … بذلك دان الأولياء وأفصحوا

الأولياء بدل الأتقياء.

وأشار الشيخ رشيد في حاشية النسخة علق عليها قال: وفي نسخةٍ الأتقياء كذا بهامش الأصل، مما يدل على أن الأصل الذي اعتمده فيه الأولياء.

يقول: "وقل" مثل قوله: "تمسك" أمر، ولا شك أن الأمر من المخلوق يقصد به امتثال أمر الخالق، لا أمر المخلوق؛ لأنه يتحدث على لسان الشرع؛ لأن المسألة شرعية، ووجوبها معلوم من الشرع.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ইবনে আবি দাউদ রচিত আল-মানযুমাহ আল-হাইয়্যাহ-এর ব্যাখ্যা (২)

 

শাইখ: আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর

আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

কবি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- বলেন:

আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং হেদায়েতের অনুসরণ করো... আর বিদআতি হয়ো না, যাতে তুমি সফলকাম হতে পারো।

আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সুন্নাহসমূহকে তোমার দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করো, তবেই তুমি মুক্তি পাবে এবং লাভবান হবে।

গতকালকের পাঠে এই দুটি পংক্তির ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে। আমরা ‘তুমি মুক্তি পাবে ও লাভবান হবে’ শব্দটির ব্যাপারে বলেছিলাম—এটি কি অনুরোধের উত্তর (জাওয়াবুত তালাব) নাকি এটি কোনো উহ্য শর্তের উত্তর? উভয় সম্ভাবনাতেই শব্দটিতে জযম (সাকিন) হওয়া আবশ্যক। কবিতার ছন্দ ও ওজনের প্রয়োজনে স্বরচিহ্নকে দীর্ঘ করার প্রয়োজন হতে পারে যার ফলে এটি উৎপন্ন হয়েছে, কিন্তু এটি সাকিন হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে দীর্ঘ করা সম্ভব? অর্থাৎ, যদি এটি পেশ হতো এবং সেটিকে দীর্ঘ করে ‘ওয়াও’ তৈরি করা হতো তবে তাকে দীর্ঘায়ন (ইশবআ) বলা যেত, কিন্তু এটি তো মূলত সাকিন; কারণ এটি অনুরোধের উত্তর। কেউ কেউ বলেন: সম্ভবত এখানে উহ্য ধরা যেতে পারে: ‘যাতে তুমি মুক্তি পাও ও লাভবান হও’, আর সে অবস্থায় কোনো জটিলতা থাকে না। বিষয়টি—ইনশাআল্লাহ—সহজ এবং আরবী ভাষায় এমন উহ্য রাখার বিষয়টি সুপরিচিত।

এরপর কবি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- বলেন:

আর বলো: আমাদের মালিকের কালাম সৃষ্টি নয়... . . . . . . . . .

আমাদের সামনে এখন তিনটি সংস্করণ রয়েছে। দামেশক সংস্করণ যা প্রথম সংস্করণ, এরপর আল-মানার সংস্করণ যা এর এক বছর পর মুদ্রিত হয়েছে। দামেশক সংস্করণ ১৩৫০ হিজরীতে এবং আল-মানার সংস্করণ ৫১ হিজরীতে মুদ্রিত। আর আমাদের কাছে একটি নতুন সংস্করণ রয়েছে যা শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আল-বাদর-এর ব্যাখ্যার শুরুতে রয়েছে; এটি শাইখ নিজে বিন্যস্ত করেছেন এবং এর পেছনে শ্রম দিয়েছেন।

এরপর তিনি বলেন:

আর বলো: আমাদের মালিকের কালাম সৃষ্টি নয়... মুত্তাকীগণ এরই অনুসারী ছিলেন এবং তাঁরা এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

দামেশক সংস্করণে এবং শাইখের সংস্করণে (যা ব্যাখ্যার শুরুতে আছে) এভাবেই আছে। তবে শাইখ রশীদ রিদা সম্পাদিত আল-মানার সংস্করণে বলা হয়েছে:

আর বলো: আমাদের মালিকের কালাম সৃষ্টি নয়... আউলিয়াগণ এরই অনুসারী ছিলেন এবং তাঁরা এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

এখানে ‘মুত্তাকীগণ’ শব্দের পরিবর্তে ‘আউলিয়া’ (আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ) শব্দ এসেছে।

শাইখ রশীদ সেই সংস্করণের টীকায় উল্লেখ করেছেন: এক সংস্করণে মূল কপির পার্শ্বটীকায় ‘মুত্তাকীগণ’ শব্দটিও রয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি যে মূল কপির ওপর নির্ভর করেছেন তাতে ‘আউলিয়া’ শব্দটি ছিল।

তিনি বলছেন: ‘বলো’ শব্দটি ‘আঁকড়ে ধরো’ শব্দের মতোই একটি নির্দেশ। নিঃসন্দেহে সৃষ্টির পক্ষ থেকে আসা এই নির্দেশের উদ্দেশ্য হলো স্রষ্টার নির্দেশ পালন করা, সৃষ্টির নির্দেশ নয়; কারণ তিনি শরীয়তের ভাষায় কথা বলছেন, যেহেতু বিষয়টি শরীয়তগত এবং এর আবশ্যকতা শরীয়ত থেকেই প্রমাণিত।
(খণ্ড: ২) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ২)
وقل: غير مخلوق كلام مليكنا … . . . . . . . . .

كلام الله -جل وعلا- غير مخلوق، الذي هو القرآن، هذا معتقد أهل السنة والجماعة أن صفة الكلام لله -جل وعلا- غير مخلوقة، خلافاً لمن يقول بذلك من الجهمية والمعتزلة، سواءً قالوه صراحة، أو آل كلامهم إليه كالأشاعرة والماتريدية، فالذي عند أهل السنة أن كلام الله منزل غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود، وأن الله -جل وعلا- متصف بهذه الصفة، وأنه -جل وعلا- يتكلم متى شاء إذا شاء، وكلامه -جل وعلا- وإن كان قديم النوع بمعنى أنه تكلم في الأزل، فإنه متجدد الآحاد، يتكلم متى شاء -جل وعلا-.

والمعتزلة يقولون: مخلوق، يقولون: كلام الله مخلوق كسائر خلقه، ومثلهم .. ، هم الجهمية والمعتزلة يصرحون بهذا.

و"كلام مليكنا" كلام الله -جل وعلا-، من إضافة الصفة إلى الموصوف، والإضافة تقتضي التشريف بلا شك، سواءً كانت من الأوصاف، أو من الأعيان التي تستقل بنفسها، لكنها إن كانت من الأوصاف فليست مخلوقة، وإن كانت من الأعيان التي تستقل بذاتها كبيت الله وناقة الله، وعبد الله كل هذه مخلوقات، والمعتزلة يقولون: كل ما يضاف إلى الله -جل وعلا- مخلوق، سواءً كان صفة أو ذات مستقلة، فيجعلون كلام الله مثل ناقة الله وبيت الله، مثلها كلها مخلوقة؛ لأنها من إضافة المخلوق إلى خالقه، وأهل الحلول والاتحاد يرون العكس، كل ما يضاف إلى الله -جل وعلا- فهو وصف من أوصافه؛ ليصلوا بذلك إلى تقرير مذهبهم الفاسد، وأن الله -جل وعلا- متحد في مخلوقاته، وأنه لا خالق ولا مخلوق، يعني لا فرق بين الخالق والمخلوق، -نسأل الله السلامة والعافية-.

وأهل السنة وسط بين المذهبين، بين الطرفين، فهم يرون أن من الإضافات ما هو إضافة وصف من الأمور التي لا تستقل بذاتها، وبين ما هو مخلوق ذات تستقل بنفسها، فهذه مخلوقة.

وقل: غير مخلوق كلام مليكنا … . . . . . . . . .
এবং বলুন: আমাদের মালিকের বাণী সৃষ্টি নয় … . . . . . . . . .

আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার কালাম বা কথা—যা হলো কুরআন—তা সৃষ্টি নয়। এটিই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা যে, আল্লাহর কথা বলার গুণটি সৃষ্টি নয়। এটি সেই সব মতবাদের পরিপন্থী যারা এই কথা বলে থাকে, যেমন জহমিয়্যা ও মুতাযিলা সম্প্রদায়; তারা এই কথা স্পষ্টভাবে বলুক কিংবা তাদের কথা এই পরিণতির দিকেই ধাবিত হোক, যেমন আশআরী ও মাতুরিদী সম্প্রদায়। আহলে সুন্নাতের নিকট সিদ্ধান্ত হলো আল্লাহর কালাম অবতীর্ণ এবং তা অনাদি (সৃষ্টি নয়); এটি তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে এবং তাঁর দিকেই ফিরে যাবে। আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা এই গুণে গুণান্বিত এবং তিনি যখন ইচ্ছা কথা বলেন। তাঁর কালাম বা কথা যদিও প্রকারগতভাবে অনাদি—অর্থাৎ তিনি অনাদিকাল থেকেই কথা বলেন—তবে তা নির্দিষ্ট বা একক কথা হিসেবে সময়ভেদে নতুনভাবে সংঘটিত হয়; আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা যখন চান কথা বলেন।

আর মুতাযিলাগণ বলে: (তা) সৃষ্টি। তারা বলে: আল্লাহর কালাম তাঁর অন্যান্য সৃষ্টির মতোই সৃষ্টি। জহমিয়্যা ও মুতাযিলা সম্প্রদায় মূলত এই দাবিটিই স্পষ্টভাবে করে থাকে।

আর "আমাদের মালিকের কালাম" অর্থ আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলার কালাম। এখানে গুণকে গুণান্বিত সত্তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। আর এই সম্বন্ধ বা ইযাফাত নিঃসন্দেহে সম্মান ও মর্যাদা বহন করে, চাই তা গুণের ক্ষেত্রে হোক অথবা এমন কোনো স্বতন্ত্র সত্তার ক্ষেত্রে হোক যা নিজে নিজেই বিদ্যমান থাকতে পারে। তবে যদি তা গুণের সম্বন্ধ হয়, তবে তা সৃষ্টি নয়। আর যদি তা এমন সব স্বতন্ত্র সত্তার সম্বন্ধ হয় যা নিজ সত্তায় প্রতিষ্ঠিত, যেমন আল্লাহর ঘর, আল্লাহর উটনী, আল্লাহর বান্দা—এসবই সৃষ্টি। মুতাযিলাদের দাবি হলো, যা কিছুই আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তা-ই সৃষ্টি, চাই তা গুণ হোক বা স্বতন্ত্র সত্তা হোক। তারা আল্লাহর কালামকে আল্লাহর উটনী ও আল্লাহর ঘরের মতো গণ্য করে এবং মনে করে যে এগুলো সবই সৃষ্টি; কারণ এটি হলো সৃষ্টির সাথে স্রষ্টার সম্বন্ধ। পক্ষান্তরে হুলুল ও ইত্তিহাদে (সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টি এক হয়ে যাওয়ার দর্শনে) বিশ্বাসীরা এর উল্টোটি মনে করে। আল্লাহর দিকে যা-ই সম্বন্ধ করা হয়, তাকে তারা আল্লাহর গুণ হিসেবে গণ্য করে; যাতে করে তারা তাদের ভ্রান্ত মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে যে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর সৃষ্টির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছেন এবং সেখানে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে মূলত কোনো পার্থক্য নেই—আমরা আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।

আহলে সুন্নাত এই দুই প্রান্তিক মতবাদের মাঝে মধ্যমপন্থী। তারা মনে করেন যে, সম্বন্ধের প্রকারভেদ রয়েছে; কিছু হলো গুণের সম্বন্ধ যা নিজে নিজে স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান থাকতে পারে না, আর কিছু হলো এমন সত্তার সম্বন্ধ যা নিজে নিজে স্বতন্ত্রভাবে বিদ্যমান থাকতে পারে, আর এগুলোই হলো সৃষ্টি।

এবং বলুন: আমাদের মালিকের বাণী সৃষ্টি নয় … . . . . . . . . .
(খণ্ড: ২) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৩)
المليك والملك والمالك شيء واحد، والله -جل وعلا- مالك الملك في الدنيا والآخرة، ومن ملك من العبيد من الخلق فإنما هو بتمليك الله -جل وعلا- إياه، فالعبد وإن ملك المال إلا أنه مال الله، والمليك فعيل صيغة مبالغة، ومثلها ملك فَعِل، لكن هل ورد المليك في أسماء الله -جل وعلا-؟ ورد مالك الملك {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ} [(26) سورة آل عمران] وورد ملك {مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ} [(4) سورة الفاتحة] في القراءة المتواترة، فهل ورد مليك؟ نعم؟

طالب:. . . . . . . . .

أين؟

طالب:. . . . . . . . .

نعم؟

طالب:. . . . . . . . .

قراءة "عند مليك" قراءة من؟

طالب:. . . . . . . . .

كيف؟

طالب:. . . . . . . . .

"عند مليك" نعم.

طالب:. . . . . . . . .

كيف؟

طالب:. . . . . . . . .

نعم ((رب كل شيء ومليكه)) والقرآن أبلغ وأوضح وأشهر.

وقل: غير مخلوق كلام مليكنا … بذلك دان الأتقياء وأفصحوا

بذلك دانوا وتعبدوا واعتقدوا.

الأتقياء: جمع تقي، وفي النسخة الأخرى الأولياء جمع ولي، الأتقياء جمع تقي، والتقي من اتصف بصفة التقوى التي هي فعل المأمورات وترك المحظورات، دانوا بذلك، قالوا به، واعتقدوه، وأفصحوا به، وبينوه للناس، ودعوا الناس إليه، وأودعوه في مصنفاتهم، وردوا على مخالفيهم، كل هذا حصل منهم من الأتقياء، ومن الأولياء على النسخة الأخرى، والأولياء جمع ولي، والولي والتقي بمعنىً واحد، كل تقي ولي لله، العامل بطاعة الله -جل وعلا-، والتارك المجتنب للمحظورات هذا ولي.

. . . . . . . . . … بذلك دان الأتقياء وأفصحوا

ولا تكُ في القرآن بالوقف قائلاً … . . . . . . . . .
আল-মালিক, আল-মালিক এবং আল-মালিক (রাজাধিরাজ, রাজা ও মালিক) মূলত একই বিষয়। আল্লাহ—মহা মহিমান্বিত ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন—দুনিয়া ও আখিরাতে রাজত্বের মালিক। সৃষ্টিজগতের দাসদের মধ্য থেকে যারা কোনো কিছুর মালিকানা লাভ করে, তা আল্লাহ—মহা মহিমান্বিত ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন—কর্তৃক তাকে মালিক বানিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই হয়। সুতরাং বান্দা যদিও সম্পদের মালিক হয়, তবুও প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহরই সম্পদ। 'আল-মালিক' (المليك) শব্দটি 'ফাইল' ওজনে আধিক্যবাচক রূপ, আর এরই অনুরূপ হলো 'মালিক' (ملك) যা 'ফায়িল' ওজনে। কিন্তু আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে কি 'আল-মালিক' (المليك) শব্দটি এসেছে? 'মালিকুল মুলক' শব্দটি এসেছে: {বলুন, হে আল্লাহ! আপনি রাজত্বের মালিক} [সূরা আলে ইমরান: ২৬] এবং মুতাওয়াতির কিরাআতে 'মালিক' শব্দটি এসেছে: {প্রতিদান দিবসের মালিক} [সূরা ফাতিহা: ৪]। তাহলে কি 'আল-মালিক' (مليك) শব্দটি এসেছে? হ্যাঁ?

ছাত্র: . . . . . . . . .

কোথায়?

ছাত্র: . . . . . . . . .

হ্যাঁ?

ছাত্র: . . . . . . . . .

"এক মহান অধিপতির নিকট" (ইন্দা মালিক) এটি কার কিরাআত?

ছাত্র: . . . . . . . . .

কীভাবে?

ছাত্র: . . . . . . . . .

"এক মহান অধিপতির নিকট", হ্যাঁ।

ছাত্র: . . . . . . . . .

কীভাবে?

ছাত্র: . . . . . . . . .

হ্যাঁ, ((সবকিছুর রব ও তার অধিপতি))। আর কুরআন অধিক অলঙ্কারপূর্ণ, স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ।

আর বলুন: আমাদের অধিপতির কালাম (কুরআন) সৃষ্টি নয় … মুত্তাকীগণ এই বিশ্বাসের ওপরই অটল ছিলেন এবং এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

তারা এর মাধ্যমেই দ্বীন পালন করেছেন, ইবাদত করেছেন এবং বিশ্বাস পোষণ করেছেন।

আল-আতকিয়া: এটি 'তাকি' শব্দের বহুবচন। অন্য পান্ডুলিপিতে 'আল-আউলিয়া' রয়েছে যা 'অলি' শব্দের বহুবচন। 'তাকি' হলেন সেই ব্যক্তি যিনি তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত; আর তাকওয়া হলো আদেশসমূহ পালন করা এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করা। তারা এর মাধ্যমে দ্বীন গ্রহণ করেছেন, এটি মুখে বলেছেন, বিশ্বাস করেছেন, স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, মানুষের সামনে এটি বর্ণনা করেছেন, মানুষকে এর দিকে আহ্বান করেছেন, তাদের কিতাবসমূহে এটি লিখে গেছেন এবং এর বিরোধিতাকারীদের খণ্ডন করেছেন। এই সব কিছুই মুত্তাকীদের পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়েছে—অথবা অন্য পান্ডুলিপি অনুযায়ী অলিদের পক্ষ থেকে। অলি এবং তাকি একই অর্থবোধক। প্রত্যেক মুত্তাকীই আল্লাহর অলি; আল্লাহর আনুগত্যের ওপর আমলকারী এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকা ও বর্জনকারী ব্যক্তিই অলি।

. . . . . . . . . … মুত্তাকীগণ এই বিশ্বাসের ওপরই অটল ছিলেন এবং এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

আর কুরআনের ব্যাপারে 'ওয়াকফ' বা নীরবতা অবলম্বনকারী হয়ো না … . . . . . . . . .
(খণ্ড: ২) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৪)
عرفنا أن مذهب الجهمية والمعتزلة القول بأن القرآن مخلوق، وقول الماتريدية والأشاعرة وإن لم يفصحوا به إلا أن كلامهم يؤول إليه، فكلامهم يؤول إلى القول بخلق القرآن، فهم يرون أن الكلام النفسي هو وصف معنوي، الكلام النفسي، وأما الكلام اللفظي فهذا عندهم إيش؟ نعم؟ عبارة أو حكاية، وهذا الكلام الملفوظ به واحد، عندهم لا يتغير، لكن إن عُبر عنه بالعربية صار قرآناً، وإن عبر عنه بالسريانية صار إنجيلاً، وإن عبر عنه بالعبرانية صار توراة، هذا كلامهم، ومقتضى هذا أن كل ما يوجد في القرآن يوجد في التوراة والإنجيل إلا أن اللغات تختلف، فعلى هذا لو ترجمت التوراة إلى العربية صارت مصحف مثل ما بأيدينا، والعكس لو ترجم القرآن إلى العبرانية أو السريانية صار توراة أو إنجيلاً، وهذا الكلام لا يمكن أن يوافق عليه عاقل، فحقيقة ما في الكتابين، أو ما في الكتب الثلاثة تختلف، فهل في التوراة والإنجيل سورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} [(1) سورة الإخلاص] باللغات الأخرى أو سورة تبت مثلاً، أو آيات نزلت لوقائع حصلت لهذه الأمة، لأناس بأعيانهم حصلت لهم هذه الوقائع، نزل بسببها القرآن {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ} [(1) سورة التحريم] يعني هل نقول: لو ترجمناها بالسريانية نجدها موجودة في التوراة أو الإنجيل؟ هل يقول بهذا أحد؟ ما يمكن أن يقول بهذا أحد، لكن هي اللوازم، هي لوازم المذاهب، وإذا التزم القائل بالقول بلوازمه الباطلة من باب تعصب للرأي، وأخذ العزة بالإثم يقع في مثل هذه الأمور، ولذا وقعوا في أشياء لا يمكن أن تصدر ولا عن مجنون، لكنهم لما ألزموا يلزم على كلامك كذا، قال: ويش المانع؟ وإلا فما معنى تقرير الأشعرية في كتبهم، ويكتبون بأيديهم وليس من باب الإلزام هم التزموا، ثم قرروا وكتبوا، عندهم أن الأعمى وهو بالصين يرى بقة الأندلس، يجوز أن يرى الأعمى وهو بالصين بقة الأندلس وهو صغار البعوض، يعني ما هو بتقول عليهم أبداً، هذا كلامهم بأقلامهم كتبوها؛ لماذا؟ قالوا: لأن الأسباب لا أثر لها، وجودها مثل عدمها، فالبصر سبب للإبصار، والإبصار يحصل عنده لا به، فإذا كان مجرد سبب، والسبب لا أثر له عندهم، لا

আমরা জেনেছি যে জাহমিয়্যাহ এবং মুতাজিলাদের মাযহাব হলো কুরআন সৃষ্টি হওয়ার কথা বলা। আর মাতুরিদি ও আশায়েরা যদি এটি স্পষ্টভাবে নাও বলে, তবে তাদের কথা মূলত সেই দিকেই ধাবিত হয়; অর্থাৎ তাদের বক্তব্য কুরআন সৃষ্টির কথা বলার দিকেই পর্যবসিত হয়। তারা মনে করে যে, 'কালামে নাফসি' (মানসিক কথা) হলো একটি অর্থগত গুণ। আর শাব্দিক কালাম তাদের নিকট কী? হ্যাঁ? এটি হলো অভিব্যক্তি বা উপাখ্যান। আর এই উচ্চারিত কালাম তাদের নিকট একটিই, যা পরিবর্তিত হয় না। কিন্তু যদি এটি আরবিতে প্রকাশ করা হয় তবে তা কুরআন হয়, যদি সিরিয়াক ভাষায় প্রকাশ করা হয় তবে তা ইঞ্জিল হয়, আর যদি হিব্রু ভাষায় প্রকাশ করা হয় তবে তা তাওরাত হয়। এটিই তাদের বক্তব্য। এর দাবি হলো, কুরআনে যা কিছু আছে তার সবকিছুই তাওরাত ও ইঞ্জিলেও আছে, কেবল ভাষার পার্থক্য। এই হিসেবে, যদি তাওরাতকে আরবিতে অনুবাদ করা হয় তবে তা আমাদের হাতে থাকা মুসহাফের মতো হয়ে যাবে; আবার বিপরীতভাবে কুরআনকে হিব্রু বা সিরিয়াক ভাষায় অনুবাদ করা হলে তা তাওরাত বা ইঞ্জিল হয়ে যাবে। আর বুদ্ধিমান কোনো ব্যক্তি এই কথার সাথে একমত হতে পারেন না। বস্তুত দুই কিতাবের বা তিন কিতাবের হাকিকত বা বাস্তবতা ভিন্ন ভিন্ন। তবে কি তাওরাত ও ইঞ্জিলে অন্য ভাষায় সূরা 'বলুন, তিনিই আল্লাহ এক' [সূরা আল-ইখলাস: ১] অথবা উদাহরণস্বরূপ সূরা 'তাব্বাত' আছে? অথবা এমন সব আয়াত কি আছে যা এই উম্মতের জন্য ঘটা বিশেষ ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির জন্য সেই ঘটনাগুলো ঘটেছিল যার কারণে কুরআন নাযিল হয়েছে, যেমন: 'হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা কেন আপনি হারাম করছেন?' [সূরা আত-তাহরীম: ১]। অর্থাৎ আমরা কি বলব যে, যদি আমরা একে সিরিয়াক ভাষায় অনুবাদ করি তবে তা তাওরাত বা ইঞ্জিলে খুঁজে পাব? কেউ কি এমন কথা বলে? কেউ এমন কথা বলতে পারে না। কিন্তু এগুলো হলো মতবাদের অবধারিত ভ্রান্ত অনুষঙ্গ। যখন বক্তা মতান্ধতা বশত এবং পাপের অহমিকায় কোনো মতবাদকে তার ভ্রান্ত অনুষঙ্গসহ গ্রহণ করে নেয়, তখন সে এই জাতীয় বিষয়ে নিপতিত হয়। এই কারণেই তারা এমন সব বিষয়ে লিপ্ত হয়েছে যা কোনো পাগলের কাছ থেকেও প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু যখন তাদের বাধ্য করা হলো যে 'আপনার কথা থেকে তো এমনটা সাব্যস্ত হয়', তখন সে বলল: 'এতে বাধা কোথায়?' নতুবা আশায়েরা তাদের কিতাবসমূহে যা প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং নিজের হাতে লিখেছে তার অর্থ কী? তারা এটি কেবল যুক্তির খাতিরে বাধ্য হয়ে বলেনি, বরং তারা তা বিশ্বাস করেছে, অতপর তা প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং লিখেছে। তাদের নিকট সম্ভব যে, চীনের একজন অন্ধ ব্যক্তি আন্দালুসের একটি মশা দেখতে পাবে। চীনে অবস্থানরত অন্ধ ব্যক্তির জন্য আন্দালুসের মশা—যা মশার ছোট প্রজাতি—দেখা সম্ভব। অর্থাৎ এটি তাদের ওপর কোনো অপবাদ নয়, এটি তাদেরই বক্তব্য যা তারা তাদের কলমে লিখেছে। কেন? তারা বলেছে: কারণ কার্যকারণ বা উপায়ের কোনো প্রভাব নেই, এর অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব সমান। দৃষ্টিশক্তি হলো দেখার একটি কারণ মাত্র, আর দেখা তার উপস্থিতিতে ঘটে, তার দ্বারা নয়। সুতরাং যখন এটি কেবলই একটি কারণ এবং তাদের নিকট কারণের কোনো প্রভাব নেই, তখন না

(খণ্ড: ২) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৫)
قيمة له، وإنما يحصل المدرك والمبصر عنده لا به، ويش المانع أنه الشخص في أقصى المشرق يرى صغار البعوض في أقصى المغرب؟ لو تعرض هذا على من لا عقل له بالكلية يقر وإلا ما يقر؟ ما يمكن أن يقر، وقال بهذا كبار، يعني عقولهم تزن جبال، أئمة كبار في مذاهبهم، لكن العبرة بالزكاة لا بالذكاء.

هؤلاء الذين يقولون: لو ترجم القرآن، يعني الكلام واحد، كلام الله إذا عبر عنه بالعربية صار قرآناً، إذا عبر عنه بالسريانية صار توراة أو إنجيلاً، وبالعكس.

ورقة بن نوفل كان يقرأ الكتب السابقة من التوراة والإنجيل وينقلها إلى العربية ويترجم، لما نزلت سورة اقرأ على النبي عليه الصلاة والسلام، وقص عليه القصة بما في ذلك اقرأ، ذكر عن الملك أنه هو الناموس الذي أنزل على موسى، وما قال: إن سورة اقرأ معروفة عندنا، وكنا نقرأها في التوراة؛ لأنه يترجم التوراة هو، ويترجم الإنجيل، وهل يتصور أن يقول عاقل: إن الآيات التي نزلت بسبب قصص وحوادث لبعض الصحابة هي موجودة بأعيانها في التوراة والإنجيل إلا أنها بلغات أخرى؟ يمكن أن يقال مثل هذا؟ نعم؟

قصة المجادلة في الظهار هل هي نزلت على موسى بلغتهم، وعلى عيسى بلغتهم، وعلى محمد بلغته؟ ما يمكن أن يقول مثل هذا، لكنهم أرادوا أن يلبسوا على الناس؛ لئلا يرموا بما رمي به الجهمية من الكفر، الذين تقلد كفرهم خمسمائة عالم من أجل القول بخلق القرآن.

ولقد تقلد كفرهم خمسون في … عشر من العلماء في البلدانِ

وحكى اللالكائي عن هؤلاء الخمسمائة وقبله الطبراني كما قال ابن القيم فهم يريدون أن يفروا من القول الصريح فوقعوا فيه في النهاية.

وقل: غير مخلوق كلام مليكنا … بذلك دان الأتقياء وأفصحوا

ولا تكُ في القرآن بالوقف قائلاً … كما قال أتباع لجهم وأسجحُوا

أوضح من هذا أنه لماذا ينزل القرآن؟ لماذا ينزل الإنجيل وما فيه موجود في التوراة؟ يعني جميع ما في القرآن موجود في التوراة، وجميع ما في القرآن موجود في الإنجيل والعكس، ويش معنى نسخ الشرائع؟ يبقى لنسخ الشرائع قيمة؟ ومعناه أن الناسخ والمنسوخ في شرعنا موجود ناسخ ومنسوخ بنفسه في شرائعهم.

طالب:. . . . . . . . .
এর কোনো মূল্য নেই। বরং উপলব্ধি এবং দৃষ্টি তার নিকট অর্জিত হয়, তার দ্বারা নয়। তবে এমন কী বাধা আছে যে, পূর্ব প্রান্তের কোনো ব্যক্তি পশ্চিম প্রান্তের ক্ষুদ্র মশা দেখতে পাবে? এটি যদি সম্পূর্ণ বুদ্ধিহীন কারো সামনে পেশ করা হয়, সে কি তা স্বীকার করবে? এটা স্বীকার করা সম্ভব নয়। অথচ বড় বড় ব্যক্তিত্বরা এটি বলেছেন, যাদের বুদ্ধি পাহাড়ের সমান ওজনদার, নিজ নিজ মাজহাবের বড় বড় ইমাম তারা। কিন্তু মূল বিষয় হলো হৃদয়ের পবিত্রতা, মেধা নয়।

যারা বলে: যদি কুরআন অনুবাদ করা হয়—অর্থাৎ কালাম বা কথা তো এক ও অভিন্ন, আল্লাহর কালাম যখন আরবিতে প্রকাশ করা হয় তখন তা কুরআন হয়, আর যখন সুরিয়ানি (সিরীয়) ভাষায় প্রকাশ করা হয় তখন তা তাওরাত বা ইনজিল হয়, এবং এর বিপরীতটিও ঘটে।

ওয়ারাখা ইবন নওফাল তাওরাত ও ইনজিলের মতো পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ পড়তেন এবং তা আরবিতে রূপান্তর ও অনুবাদ করতেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সূরা 'ইকরা' (আলাক) নাজিল হলো এবং তিনি তার নিকট 'ইকরা'সহ পুরো ঘটনা বর্ণনা করলেন, তখন তিনি সেই ফেরেশতা সম্পর্কে বলেছিলেন যে, ইনি হলেন সেই 'নামূস' (গোপন বার্তাবাহক) যাকে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট পাঠানো হয়েছিল। তিনি এ কথা বলেননি যে: এই সূরা 'ইকরা' আমাদের কাছে পরিচিত এবং আমরা তাওরাতে এটি পড়তাম। কারণ তিনি নিজেই তাওরাত ও ইনজিল অনুবাদ করতেন। কোনো বুদ্ধিমান কি কল্পনা করতে পারে যে, কিছু সাহাবীর ঘটনা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যে আয়াতগুলো নাজিল হয়েছে, সেগুলো হুবহু তাওরাত ও ইনজিলে বিদ্যমান ছিল, কেবল ভাষা ভিন্ন ছিল? এমন কথা কি বলা সম্ভব? হ্যাঁ?

যিহারের ব্যাপারে সেই বাদানুবাদকারিণী (মুজাদালাহ) নারীর ঘটনা কি মূসার ওপর তাদের ভাষায়, ঈসার ওপর তাদের ভাষায় এবং মুহাম্মদের ওপর তাঁর ভাষায় নাজিল হয়েছিল? এমন কথা বলা সম্ভব নয়। কিন্তু তারা মানুষের মাঝে সংশয় সৃষ্টি করতে চেয়েছে, যাতে তারা সেই কুফুরির অভিযোগে অভিযুক্ত না হয় যে অভিযোগে জাহমিয়্যাহরা অভিযুক্ত হয়েছিল—যাদের কুফুরির ব্যাপারে কুরআন মাখলূক (সৃষ্টি) বলার কারণে পাঁচশত আলেম একমত হয়েছিলেন।

এবং নিশ্চয়ই বিভিন্ন দেশের আলেমদের মধ্যে দশ গুণ পঞ্চাশজন (অর্থাৎ পাঁচশত) তাদের কুফুরির দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন …

ইবনুল কাইয়্যিম যেমনটি বলেছেন, আল-লালকাঈ এই পাঁচশত জনের কথা বর্ণনা করেছেন এবং তার আগে তাবারানীও তা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তারা স্পষ্ট বক্তব্য থেকে পালাতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেখানেই নিপতিত হয়েছে।

আর আপনি বলুন: আমাদের মালিকের (আল্লাহর) কালাম মাখলূক (সৃষ্টি) নয় … মুত্তাকিরা এই বিশ্বাসই পোষণ করেন এবং তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

আর কুরআনের ব্যাপারে 'ওয়াকফ'কারী (সৃষ্টি কি সৃষ্টি নয় সে ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকা) হবেন না … যেমনটি জাহমের অনুসারীরা বলেছিল এবং সহজ পথ অবলম্বন করতে চেয়েছিল।

এর চেয়েও স্পষ্ট বিষয় হলো, কেন কুরআন নাজিল হলো? কেন ইনজিল নাজিল হলো যদি তার সবকিছু তাওরাতেই বিদ্যমান থাকে? অর্থাৎ কুরআনে যা আছে তার সব যদি তাওরাতে থাকে এবং কুরআনে যা আছে তার সব যদি ইনজিলে থাকে এবং এর বিপরীতটিও হয়, তবে শরিয়ত রহিত করার (নাসখ) অর্থ কী দাঁড়ায়? শরিয়ত রহিতকরণের কি আর কোনো মূল্য থাকে? এর অর্থ দাঁড়াবে আমাদের শরিয়তের 'নাসিখ' (রহিতকারী) ও 'মানসূখ' (রহিত) বিধানগুলো তাদের শরিয়তেও হুবহু নাসিখ ও মানসূখ হিসেবে বিদ্যমান।

ছাত্র: . . . . . . . . .
(খণ্ড: ২) শারহুল মানযূমাতিল হাইয়্যাহ লিইবনি আবী দাউদ (পৃষ্ঠা: ৬)
لا، كلامهم باطل، لا حظ له من النظر، وبأدنى تأمل يسقط مثل هذا القول، لما كفر السلف الجهمية الذين قالوا بأن القرآن مخلوق، وشبهتهم راجت على بعض الناس، لا سيما وأنها دعمت بسلطة ملزمة، وخشي كثير من الناس من التكفير، يعني مع أن الشبهة راجت ودعمت بقوة، وقد يكون هناك تلبيس من بعض الناس أن هذا من طاعة ولي الأمر الذي تبنى هذه المسألة، يعني راجت هذه الشبهة، ووجدت قبول من بعض الناس، لا سيما الضعاف الذين لا يحتملون العزائم راجت عندهم هذه الشبه، وخشي بعضهم أن يرمى بالكفر لو صرح بأن القرآن مخلوق، فقال: هو يقف لا يقول مخلوق ولا غير مخلوق، يقف، ولذا قال:

ولا تكُ في القرآن بالوقف قائلاً … . . . . . . . . .

يعني لا تصرح كما قالت الجهمية والمعتزلة ولا تقف، بل عليك أن تعتقد وتصرح وتفصح بأن القرآن كلام الله -جل وعلا- منزل غير مخلوق.

ولا تكُ في القرآن بالوقف قائلاً … كما قال أتباع لجهم وأسجحُوا

حتى الواقفة جهمية، ولذا جاء عن الأئمة: من وقف في القرآن فهو جهمي، ما يعفيهم أنهم وقفوا، بل لا بد أن يُنقض القول الباطل، وأن يعتقد القول الصحيح، وأما الإنسان يقف متردد حائر، لا يترجح عنده الحق، ولا يبين له بأدلته الظاهرة المتكاثرة، هذا لا شك أن الوقف حيرة، هذا إذا أحسنا بهم الظن، وقلنا: إنهم تعارضت عندهم الأدلة فوقفوا، لكن الأدلة غير متكافئة، الأدلة صحيحة صريحة في أن الله -جل وعلا- يتكلم بحرف وصوت يسمع، فالذي يقف لا شك أنه نافٍ لكون القرآن كلام الله الذي نطق به بحرف وصوت، لكنه لا يستطيع أن يصرح بأنه مخلوق لئلا يكفر.

. . . . . . . . . … كما قال أتباع لجهم وأسجحُوا

في بعض النسخ: "أسمحوا" المقصود أنه طابت أنفسهم بهذا القول، ولانت له، وتلقوه، وقالوا به، ومثلها في المعنى "أسمحوا" يعني سمحت أنفسهم وجادت وطابت بهذا القول، وأيضاً:

ولا تقل القرآن خلق قرأتُه … . . . . . . . . .
না, তাদের কথা বাতিল, এতে যুক্তি-বিবেচনার কোনো স্থান নেই। সামান্য চিন্তাতেই এই ধরণের বক্তব্য বাতিল হয়ে যায়। সালাফগণ কেন জহমিয়াদের কাফির বলেছিলেন যারা বলেছিল কুরআন সৃষ্ট? তাদের সংশয়টি কিছু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে যেহেতু এটি একটি বাধ্যতামূলক রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার দ্বারা সমর্থিত ছিল। অনেক মানুষ কাফির সাব্যস্ত হওয়ার ভয়ে ভীত ছিল। অর্থাৎ, যদিও সংশয়টি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং শক্তি দিয়ে সমর্থিত ছিল, এবং কিছু মানুষের পক্ষ থেকে এমন বিভ্রান্তিও থাকতে পারে যে, এটি সেই শাসক বা নেতার আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত যারা এই বিষয়টি গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ এই সংশয়টি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং কিছু মানুষের কাছে তা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, বিশেষ করে সেই দুর্বলদের কাছে যারা সংকল্প বা দৃঢ়তা ধারণ করতে পারে না, তাদের কাছে এই সংশয়গুলো ছড়িয়ে পড়েছিল। তাদের কেউ কেউ ভয় পাচ্ছিলেন যে তারা যদি স্পষ্ট করে বলেন তবে হয়তো তাদের কুফরির দিকে ঠেলে দেওয়া হবে, তাই তারা বললেন: তিনি বিরতি নেবেন (ওয়াকফ করবেন), তিনি 'সৃষ্ট'ও বলবেন না আবার 'অসৃষ্ট'ও বলবেন না। তিনি বিরত থাকবেন। তাই তিনি (কবি) বলেছেন:

আর তুমি কুরআনের বিষয়ে বিরতি দানকারী হয়ে কথা বলো না … . . . . . . . . .

অর্থাৎ জহমিয়া ও মুতাজিলাদের মতো স্পষ্ট করেও (সৃষ্ট) বলবে না, আবার বিরতিও দেবে না। বরং তোমার জন্য বিশ্বাস রাখা এবং স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা আবশ্যক যে, কুরআন মহান আল্লাহর কালাম, যা নাযিলকৃত এবং তা সৃষ্ট নয়।

আর তুমি কুরআনের বিষয়ে বিরতি দানকারী হয়ে কথা বলো না … যেমনটি জহমের অনুসারীরা বলেছে এবং তারা সেটাকে সহজ করে নিয়েছে (বা তাতে নমনীয় হয়েছে)।

এমনকি যারা বিরতি দেয় (ওয়াকিফা), তারাও জহমিয়া। এজন্য ইমামদের থেকে বর্ণিত হয়েছে: যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে বিরতি দেয় (অর্থাৎ সৃষ্ট না অসৃষ্ট তা বলে না), সে জহমি। তারা যে বিরত থাকল, তা তাদের রেহাই দেয় না। বরং বাতিল মতবাদ খণ্ডন করা এবং সঠিক আকিদা পোষণ করা আবশ্যক। আর কোনো মানুষ দ্বিধাগ্রস্ত ও বিভ্রান্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে, তার কাছে সত্য প্রবল হবে না এবং অসংখ্য স্পষ্ট দলিলের মাধ্যমেও তা তার কাছে পরিষ্কার হবে না—সন্দেহ নেই যে, এই বিরতি দেওয়া এক ধরণের বিভ্রান্তি। এটি তখন হবে যখন আমরা তাদের সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করি এবং বলি: তাদের কাছে দলিলগুলো সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে তাই তারা থেমে গেছেন। কিন্তু দলিলগুলো তো সমান নয় (অস্পষ্ট নয়)। দলিলগুলো অত্যন্ত সহীহ ও স্পষ্ট যে মহান আল্লাহ হরফ (বর্ণ) ও আওয়াজের (শব্দ) মাধ্যমে কথা বলেন যা শোনা যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি বিরতি দেয়, সে নিঃসন্দেহে কুরআন আল্লাহর কালাম—যা তিনি বর্ণ ও শব্দের মাধ্যমে উচ্চারণ করেছেন—এ কথাকে অস্বীকারকারী। কিন্তু সে কাফির হওয়ার ভয়ে স্পষ্টভাবে একে 'সৃষ্ট' বলার সাহস পায় না।

. . . . . . . . . … যেমনটি জহমের অনুসারীরা বলেছে এবং তারা সেটাকে সহজ করে নিয়েছে (বা তাতে নমনীয় হয়েছে)।

কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'আস-মাহু' এসেছে। এর অর্থ হলো তাদের অন্তর এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়েছে, এর প্রতি নমনীয় হয়েছে, তারা এটি গ্রহণ করেছে এবং এটি বলেছে। এর অর্থ 'আস-জাহু'-এর মতোই। অর্থাৎ তাদের অন্তর এই মতবাদকে উদারভাবে ও সানন্দে গ্রহণ করেছে। আরও বলা হয়েছে:

আর এ কথা বলো না যে, কুরআন পাঠ করা আমার কাজ (সৃষ্টি) … . . . . . . . . .