(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: -)
شرح اللؤلؤ المكنون في أحوال الأسانيد والمتون القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح اللؤلؤ المكنون في أحوال الأسانيد والمتون
مؤلف الأصل: حافظ بن أحمد بن علي الحكمي (ت 1377هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
শারহু লুলুয়িল মাকনুন ফি আহওয়ালিল আসানিদি ওয়াল মুতুন বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র
গ্রন্থ: শারহু লুলুয়িল মাকনুন ফি আহওয়ালিল আসানিদি ওয়াল মুতুন
মূল লেখক: হাফিজ বিন আহমাদ বিন আলী আল-হাকামী (মৃ. ১৩৭৭ হি.)
ব্যাখ্যাকার: আবদুল কারীম বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শাইখ খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে অনুলিপি করা পাঠসমূহ
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ৮টি পাঠ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহররম ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح اللؤلؤ المكنون في أحوال الأسانيد والمتون]ـ
مؤلف الأصل: حافظ بن أحمد بن علي الحكمي (المتوفى: 1377هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزءهو رقم الدرس - 8 دروس]
ـ[আসানীয়দ ও মুতূনের অবস্থা সম্পর্কিত ‘আল-লুলুউল মাকনুন’-এর ব্যাখ্যা]ـ
মূল লেখক: হাফিয বিন আহমাদ বিন আলী আল-হাকামী (মৃত্যু: ১৩৭৭ হিজরি)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শাইখ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত ও অনুলিখিত পাঠসমূহ
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, এখানে খণ্ড নম্বরটিই হলো পাঠ নম্বর - ৮টি পাঠ]
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح نظم: (اللؤلؤ المكنون في أحوال الأسانيد والمتون) (1)
شرح مقدمة النظم (الأبيات الأولى)
الشيخ/ عبد الكريم بن عبد الله الخضير
الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:
فلا يخفى على من حضر فضل العلم الشرعي، وما أعده الله -جل وعلا- من ثوابٍ عظيم لحملته، بل لمن سعى في طلبه ولو لم يدركه، فجاء في الحديث: ((من سلك طريقاً يلتمس فيه علماً سهل الله له به طريقاً إلى الجنة)) مجرد أن يسلك الإنسان الطريق يثبت له إن كان مخلصاً لله عز وجل هذا الموعود الصادق، فإذا كان العلم يؤثر في الحيوانات، بل في أخسها، فماذا عن مسلم مؤمن يبتغي بهذا العلم وجه الله والدار الآخرة؟! الأمر في غاية الأهمية، ومقابله في غاية الخطورة؛ لأن العلم الشرعي ويراد به ما يعتمد على الوحيين من أمور الآخرة المحضة التي لا تقبل التشريك، فمن تعلم ليقال: عالم هذا مصيره أن يكون أحد الثلاثة الذين هم أول من تسعر بهم النار يوم القيامة، ولو قيل: إنه عالم، ولو تبوأ منزلة بين الناس، ولو تبوأ المنازل والمناصب بين الناس؛ ليستوفي حقه في الدنيا، ويدخر له العذاب يوم القيامة، نسأل الله السلامة والعافية، والعلم الذي جاءت النصوص بمدحه ومدح حامليه هو العلم الشرعي، والعلم الشرعي المعتمد على الوحيين، أما ما سواه من العلوم فهو كغيره مما يعانيه الناس من أمور دنياهم، إن احتسب به نفع المسلمين أُجر عليه كما يؤجر الصانع والمزارع وغيرهما، وإن خلى عن النية فلا له ولا عليه، وهذا بخلاف هذا العلم الذي هو في الحقيقة عبادة، بل من أجل العبادات، ولذا يقرر أهل العلم في أبواب صلاة التطوع يرتبون ما يتطوع به العبد بعد الفرائض، ويجعلون العلم وطلب العلم ومدارسة العلم في رأس القائمة، والمراد به علم الوحيين الكتاب والسنة.
وكان الصحابة -رضوان الله عليهم- يتلقون العلم من النبي عليه الصلاة والسلام مباشرة ودون وسائط، فلا يحتاجون إلى وسائل تعينهم على فهم الكتاب والسنة، فلما وجدت الوسائط بين من ينشد العلم ويطلبه وبين مبلغه عن ربه عليه الصلاة والسلام احتيج إلى مثل هذه الوسائل.
'আল-লুলু আল-মাকনুন ফি আহওয়ালিল আসানিদ ওয়াল মুতুন' কবিতার ব্যাখ্যা (১)
কবিতার ভূমিকার ব্যাখ্যা (প্রথম পঙক্তিমালা)
শাইখ/ আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের নিকট শারঈ ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব এবং আল্লাহ জল্লা ওয়া আলা এর বাহকদের জন্য যে মহান সওয়াব প্রস্তুত করে রেখেছেন তা গোপন নয়; বরং যে ব্যক্তি তা অর্জনের জন্য সচেষ্ট হয়েছে সে যদি তা অর্জন করতে না-ও পারে তবুও তার জন্য সওয়াব রয়েছে। হাদিসে এসেছে: ((যে ব্যক্তি ইলম অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার মাধ্যমে জান্নাতের পথ সহজ করে দেন))। যদি কোনো ব্যক্তি মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ হয়ে নিছক কোনো পথ অবলম্বন করে, তবেই তার জন্য এই সত্য প্রতিশ্রুতি সাব্যস্ত হবে। সুতরাং ইলম যদি পশুর ওপর প্রভাব ফেলে, এমনকি নিকৃষ্ট পশুর ওপরেও, তবে সেই মুসলিম মুমিনের অবস্থা কী হবে যে এই ইলমের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাত কামনা করে?! বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর বিপরীত দিকটি অত্যন্ত ভয়াবহ। কারণ শারঈ ইলম বলতে যা ওহীদ্বয়ের (কুরআন ও সুন্নাহ) ওপর নির্ভরশীল এবং যা নিখাদ আখিরাত সংক্রান্ত বিষয় বুঝায়, সেখানে অন্য কিছু শরীক করা গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এই জন্য ইলম অর্জন করে যেন তাকে 'আলিম' বলা হয়, তবে তার পরিণতি হবে সেই তিন ব্যক্তির ন্যায় যাদের দ্বারা কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে। যদিও তাকে আলিম বলা হয়, যদিও সে মানুষের মাঝে সুউচ্চ মর্যাদা ও পদমর্যাদা লাভ করে; যাতে সে দুনিয়াতে তার পাওনা পূর্ণ করে নেয় এবং কিয়ামতের দিন তার জন্য আযাব সঞ্চিত থাকে—আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনা করি। যেসব নস (দলিল) ইলম এবং ইলম বহনকারীদের প্রশংসায় এসেছে, তা মূলত শারঈ ইলম এবং ওহীদ্বয়ের ওপর ভিত্তি করে অর্জিত শারঈ ইলম। এছাড়া অন্যান্য বিদ্যা মানুষের পার্থিব জগতের অন্যান্য কাজের মতোই। যদি তা দ্বারা মুসলমানদের উপকারের নিয়ত করা হয় তবে সে সওয়াব পাবে যেমনটি কারিগর, কৃষক এবং অন্যান্যরা পেয়ে থাকে। আর যদি নিয়ত বিহীন হয় তবে তা তার পক্ষেও নয়, বিপক্ষেও নয়। এটি এই (শারঈ) ইলমের বিপরীত যা মূলত একটি ইবাদত, বরং শ্রেষ্ঠ ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই উলামায়ে কেরাম নফল সালাতের অধ্যায়সমূহে ফরযের পর বান্দার নফল ইবাদতসমূহের ক্রমবিন্যাস করতে গিয়ে ইলম, ইলম অন্বেষণ এবং ইলমের চর্চাকে তালিকার শীর্ষে রেখেছেন। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ওহীদ্বয় অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর ইলম।
সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সরাসরি এবং কোনো মাধ্যম ছাড়াই নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করতেন। তাই কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার জন্য তাদের কোনো সহায়ক মাধ্যমের প্রয়োজন হতো না। কিন্তু যখন ইলম অন্বেষণকারী এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলাহি বাণী পৌঁছানো ব্যক্তির (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) মাঝে মাধ্যমের সৃষ্টি হলো, তখন এ জাতীয় উপকরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ২)
في القرن الأول والثاني العهد قريب، والقرائح باقية، والفطر على ما كانت عليه، ثم لما وجدت الحاجة إلى أن يؤلف في علوم الوسائل إلى المقصد الأصلي وهو علم الوحيين هذه الحاجة أوجدت هذه العلوم، فألف الناس في العقائد وبيان العقيدة الصحيحة المتلقاة من كتاب الله عز وجل وسنة نبيه عليه الصلاة والسلام، وما يبين ذلك من أقوال الصحابة والتابعين لما وجد المخالف في هذا الباب فبينت هذه العقائد ودونت فيها الكتب حمايةً للمسلمين، ورداً على المخالفين.
بَعُد العهد، واختلط العرب بغيرهم، فاحتاجوا إلى ما يعينهم على فهم كلام الله عز وجل، فألفت التفاسير، كثرت الوسائط بين الناس وبين النبي عليه الصلاة والسلام، فاحتيج إلى أن تبحث أحوال هذه الوسائط جرحاً وتعديلاً، واحتيج أن يصنف في قواعد من قبل أهل العلم تضبط ما يقال في هؤلاء الرواة من جرح وتعديل، فالحاجة أوجدت هذه العلوم، والعلماء أدوا ما عليهم في خدمة الكتاب والسنة، وما يعين على فهم الكتاب والسنة، واحتيج أيضاً إلى تدوين أقوال سلف هذه الأمة في القضايا والنوازل ليفاد منها في كيفية التعامل مع نصوص الكتاب والسنة، فألفت كتب الفروع، ووجدت القواعد والضوابط والأصول التي يستعين بها طالب العلم في كيفية التعامل مع النصوص، فألفت بقية العلوم لتخدم الكتاب والسنة.
وهذا العلم أعني علم مصطلح الحديث من هذا النوع، وألف للتوصل به وبواسطته إلى معرفة المقبول والمردود مما ينسب إلى النبي عليه الصلاة والسلام، فكان موضوعه الأسانيد والمتون الذي نظم فيهما هذا النظم الذي بين أيدينا.
هذا الكتاب الذي معنا كتابٌ جامع متوسط لم يكن اختصاره مخلاً كالبيقونية وغرامي صحيح وغيرهما، ولم يكن مطولاً كالألفيات وغيرها مما زاد عليها.
প্রথম ও দ্বিতীয় শতাব্দীতে সময়টি ছিল নিকটবর্তী, মেধা ছিল প্রখর এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি (ফিতরাত) তার আদি অবস্থায় বিদ্যমান ছিল। অতঃপর যখন মূল লক্ষ্যের—যা হলো ওহীদ্বয়ের জ্ঞান—সহায়ক শাস্ত্রসমূহ সংকলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল, তখন এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই শাস্ত্রসমূহের উদ্ভব হলো। ফলে মানুষ আকিদাহ বিষয়ে এবং মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ হতে প্রাপ্ত সঠিক আকিদাহর বর্ণনায় গ্রন্থ রচনা করলেন। পাশাপাশি সাহাবী ও তাবেঈদের সেই সকল বক্তব্যও সংকলিত হলো যা একে স্পষ্ট করে। যখন এই ক্ষেত্রে বিরোধীদের আবির্ভাব ঘটল, তখন মুসলমানদের সুরক্ষায় এবং বিরোধীদের খণ্ডনে এই আকিদাহসমূহ স্পষ্টভাবে বয়ান করা হলো এবং এই বিষয়ে কিতাবসমূহ লিপিবদ্ধ করা হলো।
সময় অতিবাহিত হলো এবং আরবরা অনারবদের সাথে মিশে গেল, ফলে মহান আল্লাহর কালাম বোঝার জন্য তাদের সহায়ক বিষয়ের প্রয়োজন হলো; তখন তাফসীরসমূহ রচিত হলো। মানুষের মাঝে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে মধ্যস্থতাকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, ফলে এই মধ্যস্থতাকারীদের অবস্থা 'জারহ' ও 'তা’দীল' (দোষারোপ ও ন্যায়পরায়ণতা যাচাই)-এর নিরিখে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন দেখা দিল। উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে এমন কিছু মূলনীতি সংকলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল যা এই বর্ণনাকারীদের জারহ ও তা’দীল সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সুশৃঙ্খল করবে। মূলত প্রয়োজনীয়তাই এই শাস্ত্রগুলোর জন্ম দিয়েছে। উলামায়ে কেরাম কুরআন ও সুন্নাহর খিদমতে এবং যা কিছু কুরআন ও সুন্নাহ বুঝতে সাহায্য করে তার প্রসারে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সমস্যা ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই উম্মতের সালাফদের (পূর্বসূরিদের) বক্তব্যসমূহ সংকলনেরও প্রয়োজন দেখা দিল, যাতে কিতাব ও সুন্নাহর নস বা মূল পাঠের সাথে কীভাবে কাজ করতে হয় সে বিষয়ে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়। ফলে ফুরু’র (শাখা জ্ঞান) কিতাবসমূহ রচিত হলো এবং এমন সব কায়েদা (মূলনীতি), জওয়াবেত (নিয়মাবলী) ও উসুল (নীতিমালা) তৈরি হলো যা একজন ইলম অন্বেষণকারীকে নصوص বা মূল পাঠসমূহ ব্যবহারের পদ্ধতিতে সাহায্য করে। এভাবেই কিতাব ও সুন্নাহর খিদমতের লক্ষ্যে অন্যান্য শাস্ত্রসমূহ রচিত হলো।
আর এই শাস্ত্র অর্থাৎ ইলমে মুসতালাহুল হাদীসও এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে যা কিছু সম্বন্ধ করা হয়, তার মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় বিষয়গুলো চেনার মাধ্যম হিসেবে এটি সংকলিত হয়েছে। এর মূল আলোচ্য বিষয় হলো সনদ ও মতন, যা আমাদের সামনে থাকা এই কাব্যগ্রন্থে সুবিন্যস্ত করা হয়েছে।
আমাদের সামনে থাকা এই কিতাবটি একটি সংকলিত ও মধ্যম মানের গ্রন্থ। এর সংক্ষিপ্ততা 'বাইকুনিয়া' ও 'ঘরামি সহীহ' এবং অন্যান্য কিতাবের মতো ত্রুটিপূর্ণ নয়, আবার এটি 'আলফিয়্যাহ' বা তদ্রূপ দীর্ঘ গ্রন্থগুলোর মতো অতিরিক্ত দীর্ঘও নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ৩)
قد يقول قائل: هذا نظم وجاءت النصوص بذم الشعر فكيف نتقرب إلى الله عز وجل بما جاء ذمه في النصوص؟ {وَالشُّعَرَاء يَتَّبِعُهُمُ الْغَاوُونَ} [(224) سورة الشعراء]؟ وجاء في الصحيحين: ((لأن يمتلئ جوف أحدكم قيحاً حتى يريه خيرٌ له من أن يمتلئ شعراً)) هذا ذم للشعر، لكنه محمولٌ عند أهل العلم على من امتلأ جوفه وذهنه وحافظته من هذا النوع من الكلام، وإذا امتلأ إذا امتلأ هذا الظرف وهذا الوعاء فإنه لن يكون لما أمر به من حفظٍ للكتاب والسنة من كلام الله عز وجل وكلام نبيه عليه الصلاة والسلام لن يكون له مكان، فمن كان ديدنه الشعر حتى يمتلئ بحيث لا يستطيع أن يستوعب غيره معه يرد فيه مثل هذا الحديث.
وبعض أهل العلم حمل هذا الحديث، وما جاء في معناه على الشعر المذموم، ولا شك أن الشعر كلام، حسنه حسن، وقبيحه قبيح، وسمع النبي عليه الصلاة والسلام الشعر، أنشد العشر بين يديه عليه الصلاة والسلام، استمع للشعراء، وأمر حساناً بأن يهجو الكفار، فدل على أن الشعر إذا خلى مما ذكر فإنه يكون من قبيل المباح، ثم إذا اشتمل على هذا الشعر على ما ينفع من دفاعٍ عن الإسلام وأهله يرد فيه نحو: ((اهجهم وروح القدس)) أيش؟ ((تؤيدك)) يكون مأموراً به، إذا كان فيه بيانٌ للدين، ودفاعٌ عنه، وردٌ على المخالفين يكون مما أمر به.
كانت البدايات في نظم العلوم ضعيفة، ومقتصرة على التواريخ والأدب، وأنا دونت بعض من نظم في التواريخ من الأوائل:
أبان بن عبد الحميد اللاحقي المتوفى سنة مائتين نظم في الأدب والأخلاق كتاب: (كليلة ودمنة)، ونظم في التاريخ: (سيرة أنو شروان) و (سيرة أردشيه) جاء بعده بشر بن المعتمر الهلالي المعتزلي المتوفى سنة عشرٍ ومائتين فنظم قصيدة يقال: إنها في أربعين ألف بيت، رد فيها على جميع المخالفين لاعتقاده، جاء بعده علي بن الجهم القرشي المتوفى سنة تسعٍ وأربعين ومائتين فنظم أرجوزة تاريخية ذكر فيها تاريخ الخلق منذ آدم عليه السلام حتى الخليفة المستعين بالله.
কেউ বলতে পারেন: এটি একটি ছন্দোবদ্ধ রচনা এবং দলিলসমূহে কবিতার নিন্দা এসেছে, তবে কীভাবে আমরা সেই জিনিসের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করব যার নিন্দা দলিলসমূহে বর্ণিত হয়েছে? "আর কবিরা, তাদের অনুসরণ করে বিভ্রান্তরা" [সূরা আশ-শুআরা: ২২৪]। আর সহীহাইন-এ এসেছে: "তোমাদের কারো উদর পুঁজ দ্বারা পূর্ণ হয়ে তা নষ্ট করে দেওয়া তার জন্য কবিতা দ্বারা পূর্ণ হওয়ার চেয়ে উত্তম।" এটি কবিতার প্রতি নিন্দা। তবে আলেমদের নিকট এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার উদর, চিন্তা এবং স্মৃতিশক্তি এই জাতীয় কথাবার্তা দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেছে। আর যখন এই আধার বা পাত্রটি পূর্ণ হয়ে যায়, তখন আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (তাঁর উপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সুন্নাহর মতো যা মুখস্থ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার জন্য কোনো স্থান অবশিষ্ট থাকে না। সুতরাং যার চিরস্থায়ী অভ্যাসই হলো কবিতা, এমনকি সে এতে এতই নিমগ্ন যে তা ছাড়া অন্য কিছু ধারণ করতে পারে না, তার ক্ষেত্রে এই জাতীয় হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
আবার কোনো কোনো আলেম এই হাদিস এবং এই জাতীয় অন্য দলিলগুলোকে নিন্দনীয় কবিতার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কবিতা এক প্রকারের কথা; এর উত্তম অংশ উত্তম এবং মন্দ অংশ মন্দ। নবী (তাঁর উপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) কবিতা শুনেছেন, তাঁর সামনে কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছে, তিনি কবিদের কথা শুনেছেন এবং হাসসানকে কাফেরদের ব্যঙ্গ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, কবিতা যদি উল্লিখিত বিষয়গুলো থেকে মুক্ত থাকে তবে তা বৈধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর, যদি এই কবিতা ইসলাম এবং মুসলিমদের প্রতিরক্ষার মতো কোনো উপকারী বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে: "তাদের ব্যঙ্গ করো এবং রুহুল কুদুস তোমাকে— কী?— সমর্থন করবেন।" তখন এটি আদিষ্ট বা নির্দেশিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়। যদি এতে দ্বীনের বর্ণনা, তার প্রতিরক্ষা এবং বিরোধীদের খণ্ডন থাকে, তবে তা আদিষ্ট বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে।
ইলম বা জ্ঞানসমূহকে ছন্দোবদ্ধ করার সূচনা ছিল দুর্বল এবং তা কেবল ইতিহাস ও সাহিত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আমি প্রথম যুগের ইতিহাস বিষয়ক ছন্দোবদ্ধ রচনার কিছু নমুনা লিপিবদ্ধ করেছি:
আবান ইবনে আব্দুল হামিদ আল-লাহিকি, যিনি দুইশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তিনি সাহিত্য ও চরিত্র বিষয়ে ‘কালিলা ওয়া দিমনা’ কিতাবটি ছন্দোবদ্ধ করেন এবং ইতিহাস বিষয়ে ‘সীরাতে আনু শিরওয়ান’ ও ‘সীরাতে আরদাশির’ ছন্দোবদ্ধ করেন। তাঁর পরে আসেন বিশর ইবনে আল-মুতামির আল-হিলালী আল-মুতাজিলি, যিনি দুইশ দশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একটি কাসিদা রচনা করেন যার সম্পর্কে বলা হয় যে সেটি চল্লিশ হাজার চরণের ছিল, যাতে তিনি তাঁর আকিদাহর সকল বিরোধীদের খণ্ডন করেছিলেন। তাঁর পরে আসেন আলী ইবনে আল-জাহম আল-কুরাশি, যিনি দুইশ উনপঞ্চাশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি একটি ঐতিহাসিক আরজুযা রচনা করেন যাতে তিনি আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে খলিফা আল-মুসতাঈন বিল্লাহ পর্যন্ত সৃষ্টির ইতিহাস উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ৪)
جاء بعد ذلك أبو العباس عبد الله بن المعتز المتوفى سنة ستٍ وتسعين ومائتين فنظم أرجوزته في تاريخ الخليقة، بل في تاريخ الخليفة المعتضد وغيره، وتقع في عشرين وأربعمائة بيت، ثم جاء ابن عبد ربه صاحب العقد الفريد المتوفى سنة ثمانٍ وعشرين وثلاثمائة فنظم أرجوزة تاريخية في مغازي عبد الرحمن الناصر، ورتبها على السنين، وتقع في خمسةٍ وأربعين وأربعمائة بيت، وأرجوزة أخرى في العروض تقع في ثلاثةٍ وتسعين وثلاثمائة بيت.
استمر الحال على ذلك الضعف إلى أن جاء العصر العباسي الرابع الذي يبدأ من سنة سبع وأربعين وأربعمائة وينتهي بسقوط بغداد بالكارثة الأولى سنة ستٍ وخمسين وستمائة، فتغيرت حال الشعراء عما كانوا عليه، وانصرفت القرائح إلى نظم العلوم الشرعية، فأودعوا علومهم في قصائد طويلة تارةً، وقصيرة تارة أخرى ليسهل حفظها وتذكرها، والأمثلة على ذلك كثيرةٌ جداً.
من أطول هذه القصائد مما وجد قصيدة ابن عبد القوي نظم ابن عبد القوي رحمه الله للمقنع المسمى: (عقد الفرائد) وهذه طويلة جداً (عقد الفرائد وكنز الفوائد) مطبوع في مجلدين، تزيد أبياتهما على اثني عشر ألف بيت، وهذه المنظومة لا شك أن فيها ضبط لفقه الحنابلة على طولها، ولا مانع أن يعتني بها طالب العلم كما يعتني بغيرها من كتب الفقه، يقرأها قراءة، فإذا وجد بيتاً يشتمل على فائدة نادرة أو ضابط يمكن أن يحفظه فهو أحسن من النثر.
نونية ابن القيم تذكر في هذا المجال، وهي نونية منظومة نافعة، عظم نفعها، بلغت في عدِّ خمسة آلاف وثمانمائة وعشرين بيت، والألفيات في كل علم أشهر من أن تذكر، هناك ألفية ابن مالك، وهناك ألفية العراقي، وألفية السيوطي، ألفيات كثيرة، ألفية في الفرائض، وألفية في الفقه.
هناك المختصرات، المنظومات المختصرة التي عم نفعها كالرحبية في الفرائض، البيقونية على اختصارها في المصطلح، ونظم الآجرومية، ونظم الورقات وغير ذلك من المنظومات التي لا ينكر نفعها، فهذه منظومات مهمة.
والنظم كما عرفنا يقابل النثر، ومنه نظم العقد، وجمعُ مفرداته في خيطٍ واحد، كما أن النظم نظم الكلام جمعُ كلمات البيت الواحد في عقدٍ واحد وهو البيت، بل في عقود وهي الأبيات.
এরপর আসলেন আবু আব্বাস আব্দুল্লাহ ইবনুল মুতায (মৃত্যু ২৯৬ হিজরি), তিনি সৃষ্টিজগতের ইতিহাসের ওপর, বরং খলিফা মুতাদিদ ও অন্যান্যদের ইতিহাসের ওপর তাঁর অরজুজা (রাজজ-ছন্দের কাব্য) রচনা করেন, যা চারশত বিশটি চরণের সমন্বয়ে গঠিত। এরপর আসলেন 'আল-ইকদুল ফারিদ'-এর লেখক ইবনে আবদি রাব্বিহি (মৃত্যু ৩২৮ হিজরি)। তিনি আব্দুর রহমান আন-নাসিরের যুদ্ধাভিযান নিয়ে একটি ঐতিহাসিক অরজুজা রচনা করেন এবং তা বছর অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন। এটি চারশত পঁয়তাল্লিশটি চরণের সমন্বয়ে গঠিত। এছাড়া ছন্দবিজ্ঞানের (আরুদ) ওপর তাঁর তিনশত তিরানব্বই চরণের আরেকটি অরজুজা রয়েছে।
পরিস্থিতির এই দুর্বলতা চতুর্থ আব্বাসীয় যুগ আসা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল, যা শুরু হয় ৪৪৭ হিজরি থেকে এবং ৬৫৬ হিজরিতে প্রথম বিপর্যয়ে বাগদাদের পতনের মাধ্যমে শেষ হয়। ফলে কবিদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং তাদের প্রতিভা শরয়ি বিজ্ঞানসমূহকে কবিতাবদ্ধ করার দিকে ধাবিত হয়। তারা তাদের জ্ঞানসমূহ কখনো দীর্ঘ কবিতায়, আবার কখনো সংক্ষিপ্ত কবিতায় সঞ্চিত করতে থাকেন যাতে মুখস্থ করা এবং স্মরণ রাখা সহজ হয়। এর উদাহরণ অগণিত।
প্রাপ্ত এই দীর্ঘ কবিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইবনে আব্দুল কাভির কবিতা। ইবনে আব্দুল কাভি (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-মুকনি' গ্রন্থটিকে কবিতায় রূপান্তর করেছেন যার নাম: (আকদুল ফারিদ)। এটি অত্যন্ত দীর্ঘ। (আকদুল ফারিদ ওয়া কানজুল ফাওয়াইদ) দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যার মোট পঙ্ক্তি সংখ্যা বারো হাজারেরও বেশি। নিঃসন্দেহে এই কাব্যটি দীর্ঘ হওয়া সত্ত্বেও এতে হাম্বলি ফিকহ অত্যন্ত সুচারুভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। একজন তলেবুল ইলম যদি ফিকহের অন্যান্য কিতাবের মতো এই কাব্যের প্রতিও গুরুত্ব প্রদান করেন তবে তাতে কোনো বাধা নেই। তিনি এটি পাঠ করবেন; যদি এমন কোনো পঙ্ক্তি খুঁজে পান যাতে কোনো দুর্লভ উপকারিতা বা কোনো মূলনীতি রয়েছে যা মুখস্থ করা সম্ভব, তবে তা গদ্যের চেয়েও উত্তম।
এই প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যিমের নুনিয়্যাহ কাব্যের কথা উল্লেখ করা যায়। এটি একটি অত্যন্ত উপকারী কাব্যগ্রন্থ, যার উপকারিতা অপরিসীম। গণনায় এর পঙ্ক্তি সংখ্যা পাঁচ হাজার আটশত বিশটি। আর প্রতিটি শাস্ত্রের আলফিয়্যাহসমূহ তো এতই প্রসিদ্ধ যে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না। যেমন ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ, ইরাকির আলফিয়্যাহ, সুয়ুতির আলফিয়্যাহ এবং আরও অনেক আলফিয়্যাহ রয়েছে; যেমন ফারায়িজের (উত্তরাধিকার আইন) ওপর আলফিয়্যাহ এবং ফিকহের ওপর আলফিয়্যাহ।
আরও কিছু সংক্ষিপ্তসার বা সংক্ষিপ্ত কাব্য রয়েছে যেগুলোর উপকারিতা ব্যাপক; যেমন ফারায়িজ শাস্ত্রে রাহবিয়্যাহ, উসুলে হাদিস শাস্ত্রে সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও বাইকুনিয়্যাহ, আজুরুমিয়্যাহ-এর কাব্যানুবাদ, ওয়ারাকাত-এর কাব্যানুবাদ এবং এ জাতীয় আরও অনেক কাব্যগ্রন্থ যেগুলোর উপকারিতা অনস্বীকার্য। এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ।
যেমনটি আমরা জেনেছি, নাজম (কবিতা) হলো গদ্যের বিপরীত। এর একটি অর্থ হলো হার গাঁথা এবং এর উপাদানগুলোকে একটি সুতোয় একত্রিত করা। ঠিক তেমনিভাবে কালামের নাজম হলো একটি চরণের শব্দগুলোকে একটি সূত্রে বা মালায় একত্রিত করা যা হলো একটি পঙ্ক্তি, বরং অনেকগুলো মালায় একত্রিত করা যা হলো কবিতা বা পঙ্ক্তিমালা।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ৫)
"اللؤلؤ المكنون" إحنا عندنا العنوان (نظم اللؤلؤ المكنون) جاء في تفسير القرطبي على قوله -جل وعلا-: {وَيَطُوفُ عَلَيْهِمْ غِلْمَانٌ لَّهُمْ كَأَنَّهُمْ لُؤْلُؤٌ مَّكْنُونٌ} [(24) سورة الطور] من سورة الطور، يقول: كأنهم في الحسن والبياض لؤلؤ مكنون في الصدف، والمكنون المصون، يقول الكسائي: كننت الشيء سترته، وصنته من الشمس، وأكننته في نفسي أسررته.
وقال أبو زيد: كننته وأكننته بمعنىً في الكنِّ وفي النفس جميعاً تقول: كننت العلم وأكننته فهو مكنون ومكنْ، وكننت الجارية وأكننتها فهي مكنونة ومكنة.
واللؤلؤ: هو الدر، عبارة عن أجسام مستديرة بيضاء لماعة، تتكون في الأصداف من رواسب بعض الحيوانات المائية، واحدتها لؤلؤة، والجمع لؤلؤ ولآليء.
(في أحوال الأسانيد والمتون) يعني في توضيح وبيان أحوال الأسانيد وذكر السند والمتن، سيأتي في النظم لكن وروده هنا في أول مكان يغنينا عن إعادته فيما بعد -إن شاء الله تعالى-.
الأسانيد: جمع سند، وهو لغةً: ما ارتفع من الأرض، وما يليك من الجبل، وما قابلك من الجبل، ما قابلك مما يليك من الجبل، وعلا عن السفح، وكل شيء أسندته إلى شيء فهو مسند وسند، ويقال: أسند في الجبل إذا صعده، كما يقال: فلانٌ سند أي معتمد، فالسند: ما يستند إليه، ويعتمد عليه من متكأٍ ونحوه.
اصطلاحاً: عرفوه بأنه الإخبار عن طريق المتن، قال ابن حجر: حكاية طريق المتن، حكاية طريق المتن يعني الطريق الموصل إلى المتن، والإسناد يأتي بمعنى السند، حديثٌ إسناده حسن، أو سنده حسن لا فرق، وإن كان الأصل الإسناد، وهو المصدر رفع الخبر إلى قائله، أو رفع الحديث إلى قائله.
والسند كما تقدم بعبارةٍ يمكن نصوغها تكون أوضح مما تقدم: هو سلسلة الرواة الذين يذكرهم المحدث ابتداءً بشيخه وانتهاءً بالنبي عليه الصلاة والسلام.
"সুরক্ষিত মুক্তা" (লু'লুউল মাকনুন) আমাদের কাছে যে শিরোনামটি রয়েছে (সুরক্ষিত মুক্তার কাব্যগাঁথা), তা সূরা আত-তূরের মহামহিম আল্লাহর বাণী: "তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে কিশোররা, তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা" [(২৪) সূরা আত-তূর] এর তাফসীরে ইমাম কুরতুবী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তারা সৌন্দর্য ও শুভ্রতায় ঝিনুকের ভেতর সুরক্ষিত মুক্তার মতো। আর 'মাকনুন' অর্থ হলো সংরক্ষিত। আল-কিসায়ী বলেন: কোনো বস্তু সম্পর্কে 'কানানতু' (আবৃত করা) বলার অর্থ হলো আমি তা ঢেকে দিয়েছি এবং রোদ থেকে রক্ষা করেছি; আর 'আকনানতু' বলার অর্থ হলো আমি তা মনে গোপন রেখেছি।
আবু যায়েদ বলেন: 'কানানতু' এবং 'আকনানতু' আবরণ ও মন উভয় ক্ষেত্রেই সমার্থকভাবে ব্যবহৃত হয়। আপনি বলতে পারেন: আমি জ্ঞান গোপন করেছি, তখন তা হয় 'মাকনুন' ও 'মুকান্ন'। আবার বলতে পারেন: আমি মেয়েটিকে পর্দার আড়ালে রেখেছি, তখন সে হয় 'মাকনূনা' ও 'মুকান্নাহ'।
মুক্তা (লু'লুউ): এটি হলো এক প্রকার মণি; যা মূলত গোলাকার, সাদা ও উজ্জ্বল বস্তু বিশেষ, যা কিছু জলজ প্রাণীর দেহজ নির্যাস থেকে ঝিনুকের ভেতরে গঠিত হয়। এর একবচন হলো 'লু'লুআহ', আর বহুবচন হলো 'লু'লুউ' এবং 'লাআলি'।
(সনদ ও মতনের অবস্থাদি প্রসঙ্গে) অর্থাৎ সনদসমূহের অবস্থা স্পষ্টকরণ ও বর্ণনা এবং সনদ ও মতনের আলোচনার ক্ষেত্রে। এটি কাব্যে সামনে আসবে, তবে শুরুতে এখানে এর উল্লেখ আমাদের ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি থেকে রেহাই দেবে—ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
আসানিদ: এটি 'সানাদ'-এর বহুবচন। আভিধানিক অর্থে: জমিনের উঁচু অংশ, পাহাড়ের নিকটবর্তী অংশ এবং পাহাড়ের সম্মুখবর্তী অংশ; যা পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উঁচু। আর যেকোনো কিছু যা আপনি অন্য কিছুর সাথে ঠেস দিয়ে রাখেন, তাকে 'মুসনাদ' ও 'সানাদ' (অবলম্বন) বলা হয়। বলা হয়: সে পাহাড়ে 'আসনাদা' (আরোহণ) করেছে, যখন সে তাতে আরোহণ করে। যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি একজন 'সানাদ' অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। সুতরাং সানাদ হলো এমন বস্তু যার ওপর হেলান দেওয়া হয় এবং হেলান দেওয়ার জায়গা বা এ জাতীয় জিনিসের মতো যার ওপর নির্ভর করা হয়।
পারিভাষিক অর্থে: তাঁরা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন মতনের সূত্র সম্পর্কে সংবাদ প্রদান হিসেবে। ইবনে হাজার বলেন: মতনের সূত্রের বিবরণ। মতনের সূত্রের বিবরণ বলতে বুঝায়—সেই পথ বা মাধ্যম যা মতন পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। 'ইসনাদ' শব্দটি 'সানাদ'-এর অর্থেই ব্যবহৃত হয়। যেমন: হাদীসের 'ইসনাদ' হাসান অথবা তার 'সানাদ' হাসান—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যদিও মূল শব্দ হলো 'ইসনাদ', যা একটি ক্রিয়ামূল; আর এর অর্থ হলো কোনো সংবাদ বা হাদীসকে তার প্রবক্তার দিকে উন্নীত করা।
আর সানাদ—যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে—একে এমন একটি বাক্যে গঠন করা সম্ভব যা পূর্বের চেয়ে অধিক স্পষ্ট: এটি হলো বর্ণনাকারীদের সেই পরম্পরা যা মুহাদ্দিস তাঁর উস্তাদ থেকে শুরু করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ৬)
والمتون: جمع متن، وهو ألفاظ الحديث، ألفاظ الحديث التي هي الغاية من دراسة هذا العلم، وأما دراسة الأسانيد فهي وسيلة، ألفاظ الحديث التي تقوم بها المعاني، مأخوذٌ من المماتنة، وهي المباعدة في الغاية؛ لأن المتن هو غاية السند، أو من المتن وهو ما صلب وارتفع من الأرض؛ لأن المسنِد يقوي المتن بالسند، ويرفعه إلى قائله، أو من تمتين القوس أي شدها بالعصب؛ لأن المسنِد يقوي الحديث ويسنده، أو يقوي الحديث بسنده.
والأسانيد والمتون هي موضوع علوم الحديث، الأسانيد والمتون موضوع علوم الحديث، يعني علوم الحديث موضوعه في الأسانيد والمتون، يقول السيوطي:
علم الحديث ذو قوانين تحد
… يدرى بها أحوال متنٍ وسند
"فذلك الموضوع" يعني موضوع هذا العلم "فذلك الموضوع" وقدم الموضوع على الحد للحاجة إلى شرح عنوان الكتب، وإلا فالأصل تقديم الحد، والمبادئ العشرة معروفة.
إن مبادئ كل علمٍ عشرة
… الحد والموضوع ثم الثمرة
وفضله ونسبة والواضع
… وحكمه ثم إيش؟ وفضله الاستمداد ثم حكم الشارع
وفضله ونسبة والواضع
… والاسم الاستمداد حكم الشارع
على كل حال الذي يعنينا من هذا تعريف علوم الحديث وموضوعه وفضله، بقية المبادئ العشرة بحثها موجود، فعلوم الحديث ويسمونه أصول الحديث، ويسمونه مصطلح الحديث، وهو بمنزلة علوم القرآن وأصول الفقه: القوانين المعرفة بحال الراوي والمروي، يعني بحال السند والمتن، بحال. . . . . . . . .، هذا أخصر ما قيل فيه، وإن كان له تعريفات باعتبار أسمائه، وشهرته في مصطلح الحديث في هذه الكلمة، وهي عبارة عن جزأين ركب أحدهما على الآخر، جزأين متضايفين مصطلح وحديث، وله تعريف باعتبار جزئي المركب، وتعريفه الذي مضى باعتباره علم على هذا العلم.
المصطلح هو العرف الخاص، يعني ما يتعارف عليه أهل علمٍ من العلوم، فإذا كان هذا المصطلح لا يتضمن مخالفةً لما تقرر في أي علمٍ من العلوم فإنه لا مشاحة فيه، وأهل العلم يطلقون لا مشاحة في الاصطلاح مع أنه ينبغي أن تقيد بما لا يخالف نصاً شرعياً، أو ما تقرر في أي علمٍ من العلوم.
'মুতুন' হলো 'মাতন'-এর বহুবচন, যা হাদিসের শব্দাবলিকে বোঝায়। হাদিসের শব্দাবলি জানাই হলো এই শাস্ত্র অধ্যয়নের মূল উদ্দেশ্য, আর সনদ (বর্ণনাসূত্র) অধ্যয়ন হলো একটি মাধ্যম। হাদিসের সেই শব্দাবলি যা দ্বারা অর্থ ফুটে ওঠে। এটি 'মুমাতানাহ' থেকে গৃহীত, যার অর্থ দূরবর্তী লক্ষ্য; কারণ মাতন হলো সনদের শেষ প্রান্ত। অথবা এটি 'মাতন' থেকে এসেছে যার অর্থ শক্ত ও উঁচু ভূমি; কারণ বর্ণনাকারী সনদের মাধ্যমে মাতনকে শক্তিশালী করেন এবং এর প্রবক্তা পর্যন্ত উন্নীত করেন। অথবা এটি ধনুকের রশি শক্ত করে বাঁধা থেকে নেওয়া হয়েছে; কারণ বর্ণনাকারী হাদিসকে শক্তিশালী করেন এবং এটিকে সনদযুক্ত করেন, অথবা সনদের মাধ্যমে হাদিসকে দৃঢ় করেন।
সনদ ও মাতন হলো হাদিস শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়। সনদ ও মাতনই হাদিস বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়, অর্থাৎ হাদিস বিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়বস্তু হলো সনদ ও মাতন। ইমাম সুয়ূতী বলেন:
হাদিস শাস্ত্র এমন কিছু নিয়মনীতির নাম
… যার মাধ্যমে মাতন ও সনদের অবস্থা জানা যায়।
"সেটিই হলো আলোচ্য বিষয়" অর্থাৎ এই শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়। "সেটিই হলো আলোচ্য বিষয়"—এখানে গ্রন্থের শিরোনাম ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তার কারণে সংজ্ঞার আগে বিষয়বস্তুকে আনা হয়েছে; অন্যথায় মূল নিয়ম হলো সংজ্ঞাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। আর দশটি মৌলিক নীতি তো সুপরিচিত।
নিশ্চয়ই প্রতিটি শাস্ত্রের দশটি মৌলিক নীতি রয়েছে
… সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু এবং এর ফলাফল।
এর শ্রেষ্ঠত্ব, সম্পর্ক এবং প্রবর্তক
… এবং এর বিধান, তারপর কী? এর শ্রেষ্ঠত্ব, উৎসমূল এবং শরয়ী বিধান।
এর শ্রেষ্ঠত্ব, সম্পর্ক এবং প্রবর্তক
… নাম, উৎসমূল এবং শরয়ী বিধান।
যাই হোক, আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো হাদিস বিজ্ঞানের সংজ্ঞা, এর বিষয়বস্তু এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব। বাকি দশটি মূলনীতির আলোচনাও বিদ্যমান রয়েছে। হাদিস বিজ্ঞানকে কেউ কেউ 'উসুলুল হাদিস' বলেন, আবার কেউ 'মুসতালাহুল হাদিস' বলেন। এটি উলুমুল কুরআন এবং উসুলুল ফিকহের সমপর্যায়ভুক্ত: এটি এমন সব নিয়মনীতি যা বর্ণনাকারী এবং বর্ণিত বিষয়ের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান দান করে, অর্থাৎ সনদ ও মাতনের অবস্থা সম্পর্কে...। এটি এই শাস্ত্রের ব্যাপারে বলা সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা, যদিও এর বিভিন্ন নামের পরিপ্রেক্ষিতে এর একাধিক সংজ্ঞা রয়েছে। এই শব্দে 'মুসতালাহুল হাদিস' হিসেবে এর প্রসিদ্ধি রয়েছে, যা মূলত দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগিক রূপ; অংশ দুটি হলো 'মুসতালাহ' ও 'হাদিস'। এর যৌগিক অংশ হিসেবেও এর সংজ্ঞা রয়েছে, আবার এই শাস্ত্রের নাম হিসেবে এর যে সংজ্ঞা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে সেটিও প্রযোজ্য।
'মুসতালাহ' (পরিভাষা) হলো বিশেষ প্রথা বা রীতিনীতি, অর্থাৎ কোনো শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ নিজেদের মধ্যে যা পরিভাষা হিসেবে নির্ধারণ করে নেন। যদি এই পরিভাষা অন্য কোনো শাস্ত্রে প্রতিষ্ঠিত কোনো বিষয়ের সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি না করে, তবে এতে কোনো আপত্তি নেই। আলিমগণ বলে থাকেন যে, পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই, তবে একে এই শর্তে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত যে তা যেন কোনো শরয়ী দলিলের বা অন্য কোনো শাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত বিষয়ের বিরোধী না হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ৭)
يعني لو قال شخص: أنا أصطلح لنفسي أن تكون السماء وهي في مكانها أقول: تحت، والناس يقولون: فوق، والأرض فوق وإن كانت تحت ويش اللي يضر؟ لا مشاحاة في الاصطلاح وأبين، نقول: لا، هذا يخالف ما تقرر عند جميع العقلاء، فليس لك أن تصطلح لنفسك ما يخالف ما تقرر، لو قال: أنا أجعل الشمال جنوب والجنوب شمال، أجعل في اصطلاحي أن اليمن في جهة الشمال، والشام في جهة الجنوب، نقول: لا، هذا يخالف ما اصطلح عليه، لكن لك أن تصطلح لنفسك ولا مشاحاة في الاصطلاح أن تقلب الخارطة، فبدلاً من أن يكون الشام في رأس الخارطة، واليمن في أسفلها اقلب لا بأس، ما في مانع؛ لأن هذا لا يغير من الواقع شيء.
أقول: هذه المسألة التي تطلق على ألسنة أهل العلم هي بحاجة إلى مثل هذا التقييد، ولا نريد أن نسترسل أكثر من هذا، فنأتي إلى التعريف بالمؤلف.
المؤلف -رحمة الله عليه- أشهر من نار على علم، فهو بالنسبة لاسمه:
الشيخ العالم العلامة، وإن صغر سنه، فالعبرة بما حواه من علمٍ وعمل، اسمه: حافظ بن أحمد بن علي الحكمي، نسبةً إلى الحكم بن سعد العشيرة، ولد -رحمة الله عليه- .. نريد أن نختصر اختصار شديد جداً؛ لأن سيرة الرجل -رحمة الله عليه- العطرة كتب فيها رسائل علمية، ودونت في بطون الكتب ضمن التراجم بإفاضة، استوفيت حياته -رحمة الله عليه-، وشيوخه، تلاميذه، مؤلفاته، شيء من أخباره، المقصود أن هذا مستوفى، لا نستطرد بذكره.
ولد -رحمة الله عليه- سنة اثنتين وأربعين وثلاثمائة وألف، في شهر رمضان بقرية يقال لها: السلام، تابعة لمدينة المظايا، حاضرة قبيلة الحكَّامية أوالحكَامية،. . . . . . . . . أعرف بضبطها، التي ينتسب إليها، ثم انتقل إلى قرية الجاضع التابعة لمدينة سامطة، تعلم مبادئ القراءة والكتابة في الكتاب، حيث ألحقه أبوه بكتاب القرية، حفظ القرآن وبعض المتون العلمية في وقتٍ مبكر جداً، لزم الشيخ عبد الله القرعاوي، الذي انتقل إلى المنطقة هناك في جيزان سنة تسعٍ وخمسين وثلاثمائة وألف في شعبان.
অর্থাৎ, যদি কোনো ব্যক্তি বলে: আমি নিজের জন্য এই পরিভাষা স্থির করছি যে, আকাশ তার নিজ স্থানে থাকা সত্ত্বেও আমি তাকে 'নিচে' বলব, অথচ মানুষ তাকে 'উপরে' বলে; আর জমিনকে বলব 'উপরে' যদিও তা নিচে অবস্থিত—এতে কার কী ক্ষতি? পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই—এ কথাটি স্পষ্ট করে বলি: না, এটি সকল জ্ঞানবান মানুষের নিকট যা স্বীকৃত তার পরিপন্থী। সুতরাং যা সর্বজনস্বীকৃত তার বিপরীতে নিজের জন্য কোনো পরিভাষা উদ্ভাবন করার অধিকার আপনার নেই। যদি কেউ বলে: আমি উত্তরকে দক্ষিণ এবং দক্ষিণকে উত্তর বানাব; আমার পরিভাষায় ইয়ামেন উত্তর দিকে এবং শাম দক্ষিণ দিকে অবস্থিত হবে, তবে আমরা বলব: না, এটি প্রচলিত পরিভাষার পরিপন্থী। তবে আপনি নিজের জন্য এটি করতে পারেন—এবং পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক নেই এই অর্থে যে—আপনি মানচিত্রটি উল্টে দিতে পারেন। ফলে মানচিত্রের উপরে শাম এবং নিচে ইয়ামেন থাকার পরিবর্তে আপনি তা উল্টে দিলেন, এতে কোনো সমস্যা নেই; এতে কোনো বাধা নেই। কারণ এটি বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
আমি বলব: আলেমদের মুখে মুখে প্রচলিত এই মাসআলাটির ক্ষেত্রে এমন সীমাবদ্ধতা বা ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে আর দীর্ঘ আলোচনা করতে চাই না; এখন আমরা লেখকের পরিচিতি উপস্থাপন করব।
লেখক—তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—অত্যন্ত সুপরিচিত। তাঁর নামের ক্ষেত্রে বলা যায়:
তিনি হলেন শায়খ, আলিম ও আল্লামাহ, যদিও তাঁর বয়স ছিল অল্প। কেননা মূল বিবেচ্য বিষয় হলো তাঁর অর্জিত ইলম ও আমল। তাঁর নাম: হাফেয বিন আহমদ বিন আলী আল-হাকামী। হাকাম বিন সাদ আল-আশিরাহ-এর দিকে নিসবত করে তাঁকে 'হাকামী' বলা হয়। তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন—তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—আমরা বিষয়টি অত্যন্ত সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই; কারণ এই মহান ব্যক্তির সুগন্ধিময় জীবনী নিয়ে স্বতন্ত্র গবেষণাপত্র রচিত হয়েছে এবং জীবনীগ্রন্থগুলোতে বিস্তারিতভাবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তাঁর জীবনকাল, শিক্ষকগণ, ছাত্রগণ, রচনাবলি এবং তাঁর জীবনের ঘটনাবলি পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচিত হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, যেহেতু এগুলো বিস্তারিতভাবে বিদ্যমান, তাই আমরা এখানে তার পুনরাবৃত্তি করে দীর্ঘ আলোচনা করব না।
তিনি ১৩৪২ হিজরি সনের রমজান মাসে 'আস-সালাম' নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন—তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। গ্রামটি আল-মাযায়া শহরের অন্তর্গত, যা আল-হাক্কামিয়্যাহ বা আল-হাকামিয়্যাহ গোত্রের প্রধান কেন্দ্র (আমি এর সঠিক উচ্চারণ জানি), যার সাথে তাঁর বংশীয় সম্পর্ক। অতঃপর তিনি সামতাহ শহরের অন্তর্গত আল-জাযি' গ্রামে স্থানান্তরিত হন। তিনি মক্তবে প্রাথমিক পঠন ও লিখন শিক্ষা করেন, যেখানে তাঁর পিতা তাঁকে গ্রামের মক্তবে ভর্তি করে দিয়েছিলেন। তিনি অত্যন্ত অল্প বয়সেই কুরআন মাজীদ হিফজ করেন এবং কিছু ইলমি মতন (মূল পাঠ) মুখস্থ করেন। তিনি শায়খ আবদুল্লাহ আল-কার'আওয়ীর সান্নিধ্য অবলম্বন করেন, যিনি ১৩৫৯ হিজরি সনের শাবান মাসে জাযান অঞ্চলের সেই এলাকায় হিজরত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ৮)
رزقه الله حافظةً قوية، وفهماً ثاقباً، فحصل في مدةٍ يسيرة جداً من العلوم ما لا يدرك في عقود، ومؤلفاته شاهدةٌ على ذلك التي من أشهرها: (سلم الوصول) شرحه (معارج القبول)، (أعلام السنة المنشورة) (دليل أرباب الفلاح) في المصطلح، (المنظومة الميمية في الوصايا والآداب العلمية) أقول: مثل هذه المنظومة لا يستغني عنها طالب علم، أودعها -رحمة الله عليه- وصايا يحتاج إليها كل طالب علم، (النور الفائض في علم الفرائض) وغير ذلك من المؤلفات الشيء الكثير.
توفي -رحمة الله عليه- بعد أن أدى الحج سنة سبعٍ وسبعين وثلاثمائة وألف، وكان عمره خمساً وثلاثين سنة وأشهر، يعني إذا كان النووي -رحمة الله عليه- يضرب به المثل في وجود البركة في عمره ومدته على قصرها، فالشيخ حافظ -رحمة الله عليه- أصغر منه بعشر سنوات مع ما قدمه للأمة من علمٍ محرر محقق، والله المستعان.
سم.
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وأصحابه أجمعين، اللهم اغفر لنا ولشيخنا وللحاضرين والمستمعين، واعصمنا من الفتن ما ظهر منها وما بطن برحمتك يا أرحم الراحمين، أما بعد:
قال الشيخ حافظ بن أحمد الحكمي -رحمه الله تعالى- المتوفى سنة سبعٍ وسبعين وثلاثمائة وألف، قال -رحمه الله تعالى- في كتابه: (نظم اللؤلؤ المكنون في أحوال الأسانيد والمتون):
اَلْحَمْدُ كُلُّ اَلْحَمْدِ لِلرَّحْمَنِ
… ذِي اَلْفَضْلِ وَالنِّعْمَةِ وَالإِحْسَانِ
ثُمَّ عَلَى رَسُولِهِ خَيْرِ اَلأَنَامِ
… وَالآلِ وَالصَّحْبِ اَلصَّلاةُ وَالسَّلامُ
الناظم -رحمه الله تعالى- ابتدأ نظمه بالبسملة والحمدلة اقتداءً بالقرآن الكريم الذي افتتح بهما على ما بين أهل العلم من خلافٍ في البسملة، وهل هي آية من الفاتحة فقط أو من كل سورة أو ليست بآية مطلقاً؟ والإجماع قائم على أنها بعض آية من سورة النمل، وأنها ليست بآية في أول سورة براءة.
على كل حال أجمع الصحابة على كتابة البسملة، والحمدلة من أصل القرآن، فينبغي لمن أراد أن يكتب أن يؤلف كتاباً أن يقتدي بهذا الكتاب العظيم.
আল্লাহ তাকে শক্তিশালী মুখস্থশক্তি এবং প্রখর ধীশক্তি দান করেছিলেন, যার ফলে তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এমন জ্ঞান অর্জন করেছিলেন যা কয়েক দশকেও অর্জন করা সম্ভব হয় না। তার রচনাবলি এর প্রমাণ দেয়, যার মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো: (সুল্লামুল উসুল) এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (মারিজুল কবুল), (আলামুস সুন্নাহ আল-মানশুরাহ), পরিভাষা শাস্ত্রের ওপর (দালিলু আরবাবিল ফালাহ), এবং (আল-মানজুমাতুল মিমিয়্যাহ ফিল ওয়াসায়া ওয়াল আদাবিল ইলমিয়্যাহ)। আমি বলব: এ ধরনের কাব্যগ্রন্থ একজন ইলম অন্বেষণকারীর জন্য অপরিহার্য; তিনি—আল্লাহ তার ওপর রহম করুন—এতে এমন সব উপদেশ রেখেছেন যা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রয়োজন। এছাড়াও রয়েছে (আন-নূরুল ফাইদ ফি ইলমিল ফারায়িদ) এবং আরও অনেক রচনাবলি।
তিনি—আল্লাহ তার ওপর রহম করুন—১৩৭৭ হিজরি সনে হজ পালনের পর ইন্তেকাল করেন। সে সময় তার বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর কয়েক মাস। অর্থাৎ, যদি ইমাম নববী—আল্লাহ তার ওপর রহম করুন—তার স্বল্প হায়াতে বরকতের দৃষ্টান্ত হয়ে থাকেন, তবে শাইখ হাফিজ—আল্লাহ তার ওপর রহম করুন—তার চেয়েও দশ বছরের ছোট ছিলেন। এতদসত্ত্বেও তিনি উম্মাহর জন্য যে পরিমার্জিত ও তাত্ত্বিক জ্ঞান রেখে গেছেন তা অতুলনীয়। আর আল্লাহর সাহায্যই কাম্য।
শুরু করুন।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। হে আল্লাহ, আমাদের, আমাদের শাইখকে এবং উপস্থিত ও শ্রবণকারীদের ক্ষমা করুন। আপনার রহমতের উসিলায় আমাদেরকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল ফিতনা থেকে রক্ষা করুন, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। অতপর:
শাইখ হাফিজ বিন আহমদ আল-হাকামি—আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রহম করুন—যিনি ১৩৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, তিনি তার (নাজমুল লুলুইল মাকনুন ফি আহওয়ালিল আসানিদি ওয়াল মুতুন) গ্রন্থে বলেছেন:
সকল প্রশংসা কেবল পরম দয়ালু আল্লাহর জন্য
… যিনি অনুগ্রহ, নিয়ামত ও দাক্ষিণ্যের অধিকারী।
অতঃপর তাঁর রাসূল—যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ
… এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর বর্ষিত হোক সালাত ও সালাম।
গ্রন্থকার—আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রহম করুন—কুরআনুল কারীমের অনুসরণ করে বিসমিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহর মাধ্যমে তার কাব্যগ্রন্থটি শুরু করেছেন, যা দিয়ে কুরআন শুরু হয়েছে। অবশ্য আলেমদের মধ্যে বিসমিল্লাহ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে; এটি কি কেবল সূরা ফাতিহার আয়াত নাকি প্রতিটি সূরার আয়াত, নাকি মোটেও কোনো আয়াত নয়? তবে এ ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত যে, এটি সূরা নামলের একটি আয়াতের অংশ এবং সূরা বারায়াতের শুরুতে এটি কোনো আয়াত নয়।
যা-ই হোক, সাহাবীগণ কুরআনের মূল পাণ্ডুলিপিতে বিসমিল্লাহ এবং হামদ লেখার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তাই যে ব্যক্তি কোনো বই বা রচনা লিখতে চান, তার উচিত এই মহান কিতাবের অনুসরণ করা।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ৯)
النبي عليه الصلاة والسلام فيما عرف من عادته المطردة في خطبه يفتتحها بالحمد، وفي مكاتباته يفتتحها بالبسملة، فهل الكتب والرسائل مشبهة للخطب أو للرسائل؟ القرآن كتاب الله فالكتب تشبهه، والنبي عليه الصلاة والسلام في مكاتباته ومراسلاته يبتدئ بالبسملة لا يبتدئ بالحمدلة، وفي خطبه يبتدئ بالحمدلة، وعلى كل حال الجمع بينهما اقتداءً بالقرآن؛ لأن الكاتب إنما يؤلف كتاباً، لكن لو بعث رسالة أو خطاب اقتصر على البسملة، وإذا خطب اقتصر على الحمدلة تنزيلاً للنصوص في منازلها، وإيقاعاً لها في مواضعها.
ورد في حديث أبي هريرة وغيره وله طرق: ((كل أمرٍ ذي بال لا يبدأ بحمد الله فهو أبتر)) وفي رواية: ((ببسم الله)) له ألفاظ وطرق كثيرة محكومٌ عليها عند جمعٍ من أهل العلم بالضعف، فلا تقوم بها حجة، وحكم النووي على لفظ: الحمد على وجه الخصوص بالحسن، وقبله ابن الصلاح.
فمن بلغ عنده مرتبة الحسن عمل به، ومن جرى وسار على مذهب جمهور أهل العلم من الاحتجاج بالضعيف في مثل هذا المقام يفتتح به بالبسملة والحمدلة، على كل حال عمدتنا في ذلك القرآن الكريم، وما ثبت عنه عليه الصلاة والسلام.
"الحمدُ" يعرفه كثيرٌ من أهل العلم بل الأكثر بأنه: هو الثناء على الله عز وجل، ابن القيم -رحمه الله تعالى- عرفه في الوابل الصيب بأنه هو الإخبار عن الله عز وجل بصفات كماله مع محبته والرضا به، والثناء عنده هو تكرير المحامد شيئاً بعد شيء، تكرير المحامد هل هو من الثني أو من التثنية؟ فرقٌ بين ثنّى وثنَى، ثنَى لا يقف العدد عند اثنين، ولذا في حديث ماعز لما اعترف ردده حتى ثنَى عليه الأمر، أو حتى اعترف مراراً، اعترف أكثر من مرتين، أما إذا ثنَّى فهو اثنين فقط.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর খুতবাসমূহ প্রশংসার (হামদ) মাধ্যমে শুরু করতেন এবং তাঁর চিঠিপত্র বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করতেন। এখন প্রশ্ন হলো, গ্রন্থ ও রচনাবলি কি খুতবার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নাকি চিঠিপত্রের সাথে? কুরআন হলো আল্লাহর কিতাব, তাই গ্রন্থসমূহ এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চিঠিপত্র ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করতেন, হামদালার মাধ্যমে নয়; কিন্তু তাঁর খুতবাসমূহে তিনি হামদালার মাধ্যমে শুরু করতেন। যাই হোক, কুরআনের অনুসরণ করে উভয়টিকে একত্রিত করা উত্তম; কারণ লেখক মূলত একটি গ্রন্থ রচনা করছেন। কিন্তু যদি তিনি কোনো চিঠি বা বার্তা পাঠান তবে কেবল বিসমিল্লাহর ওপর সীমাবদ্ধ থাকবেন, আর যখন খুতবা দেবেন তখন কেবল হামদালার ওপর সীমাবদ্ধ থাকবেন—যাতে শরয়ি পাঠসমূহকে তাদের যথাযোগ্য স্থানে স্থাপন করা যায় এবং সেগুলোকে সঠিক অবস্থানে প্রয়োগ করা যায়।
আবু হুরায়রা ও অন্যদের বর্ণিত হাদিসে এসেছে এবং এর একাধিক সূত্র রয়েছে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দ্বারা শুরু করা হয় না, তা বরকতহীন।" অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "বিসমিল্লাহ দ্বারা।" এর বহু শব্দ ও সূত্র রয়েছে যা একদল আলেম 'যঈফ' বা দুর্বল বলে গণ্য করেছেন, তাই এগুলো দ্বারা দলীল প্রতিষ্ঠিত হয় না। তবে ইমাম নববী এবং তাঁর আগে ইবনুস সালাহ বিশেষ করে 'হামদ' সম্বলিত শব্দটিকে 'হাসান' বলে গণ্য করেছেন।
সুতরাং যার নিকট এটি 'হাসান' পর্যায়ে পৌঁছেছে, তিনি এর ওপর আমল করবেন। আর যারা এই জাতীয় ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে জুমহুর বা সংখ্যাগুরু ওলামাদের মাযহাব অনুযায়ী চলেন, তারা বিসমিল্লাহ ও হামদালা—উভয়টির মাধ্যমে শুরু করবেন। সর্বাবস্থায়, এ বিষয়ে আমাদের প্রধান অবলম্বন হলো কুরআন কারীম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
'আল-হামদ'-এর সংজ্ঞায় অধিকাংশ আলেম বলেছেন যে, এটি হলো মহান আল্লাহর প্রশংসা। ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-ওয়াবিলুস সয়্যিব' গ্রন্থে এর সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, এটি হলো ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির সাথে মহান আল্লাহর পূর্ণতার গুণাবলি বর্ণনা করা। তাঁর মতে, 'সানা' (গুণগান) হলো একের পর এক প্রশংসার পুনরাবৃত্তি করা। প্রশংসার এই পুনরাবৃত্তি কি 'সানি' (ভাঁজ করা/পুনরাবৃত্তি) থেকে এসেছে নাকি 'তাসনিয়া' (দ্বিত্বকরণ) থেকে? 'সান্না' এবং 'সানা'-এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। 'সানা' বললে সংখ্যা দুইয়ে গিয়ে থেমে থাকে না। একারণেই মায়েযের হাদিসে যখন তিনি অপরাধ স্বীকার করেন, তখন তিনি বারবার তা পুনরাবৃত্তি করেন যতক্ষণ না বিষয়টি 'সানা' হয়, অর্থাৎ তিনি দুইবারের বেশি স্বীকারোক্তি দেন। আর যদি 'সান্না' (তাশদীদসহ) বলা হয়, তবে তা কেবল দুই বুঝায়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১০)
الثناء: هو تكرير المحامد شيئاً بعد شيء، والتفريق بين الحمد والثناء هو الراجح، وإن فسر أكثر أهل العلم الحمد بأنه الثناء؛ لما جاء في الحديث الصحيح عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((قال الله تعالى: قسمتُ الصلاة بيني وبين عبدي نصفين، ولعبدي ما سأل، فإذا قال العبد: الحمد لله رب العالمين قال الله تعالى: حمدني عبدي، وإذا قال العبد: الرحمن الرحيم قال الله تعالى: أثنى علي عبدي)) فغاير بينهما في هذا النص الصحيح، والحديث مخرجٌ في صحيح مسلم و (أل) في الحمد للجنس، جنس الحمد مختصٌ بالله عز وجل، أو للاستغراق جميع أنواع المحامد لله عز وجل، واللام في "للرحمن" للاختصاص كما هي في قوله -جل وعلا-: {الْحَمْدُ للهِ} [(2) سورة الفاتحة] للاختصاص سواءً بسواء.
و"كل الحمد" تأكيد، تأكيدٌ لاستغراق جميع أنواع المحامد لله -جل وعلا-، واختصاصها بالله عز وجل.
"ذي الفضل" صاحب الفضل على جميع مخلوقاته حيث أوجدهم من العدم، وأسبغ عليهم النعم.
"والنعمة" يقول الراغب: النعمة الحال الحسنة، وبناءُ النعمة بناءُ الحالة التي يكون عليها الإنسان، يعني بناء هيئة كالجلسة والركبة والذبحة، وما أشبه ذلك، والنَعمة التنعم، وبناؤها بناء المرة كالضربة والشتمة، وما أشبه ذلك، والنعمة للجنس؛ لأنه قال: ذي الفضل والنعمة، هل المراد النعمة الواحدة أو النعم التي لا تعد ولا تحصى؟ فالنعمة (أل) فيها هنا للجنس، فيقال: النعمة للقليل والكثير، كما في قوله -جل وعلا-: {وَإِن تَعُدُّواْ نِعْمَةَ اللهِ لَا تُحْصُوهَا} [(18) سورة النحل] هل المراد أن نعد نعمة واحدة؟ نعد نعم، لكننا لا نحصي هذه النعم {وَإِن تَعُدُّواْ نِعْمَةَ اللهِ لَا تُحْصُوهَا} [(18) سورة النحل] {اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ} [(47) سورة البقرة] {أَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي} [(3) سورة المائدة] {فَانقَلَبُواْ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللهِ} [(174) سورة آل عمران] إلى غير ذلك من الآيات، المقصود أن النعمة تطلق ويراد بها جنس النعم، فتطلق وإن كان لفظها لفظ المفرد إلا أنها تطلق على القليل والكثير.
আস-সানা (প্রশংসা): এটি হলো একের পর এক প্রশংসাবাক্যের পুনরাবৃত্তি করা। হামদ (আল-হামদু) এবং সানা (আস-সানা)-এর মধ্যে পার্থক্য করাটাই অগ্রগণ্য মত, যদিও অধিকাংশ আলেম হামদকে সানা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে এসেছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি সালাতকে আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে। বান্দা যখন বলে: 'সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল।' আর বান্দা যখন বলে: 'পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার গুণগান করল'।" সুতরাং এই সহিহ দলিলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। হাদিসটি সহিহ মুসলিমে সংকলিত হয়েছে। আর 'আল-হামদু'-এর মধ্যে থাকা 'আল' বর্ণটি শ্রেণী বা প্রকার বোঝাতে এসেছে, অর্থাৎ প্রশংসার যাবতীয় প্রকার আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর জন্য নির্দিষ্ট। অথবা এটি ব্যপ্তি বোঝাতে এসেছে যে, সব ধরনের প্রশংসা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর প্রাপ্য। আর "লির-রাহমান" শব্দের 'লাম' অক্ষরটি বিশেষত্ব বোঝানোর জন্য এসেছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য} [সুরা ফাতিহা: ২] এর মধ্যে থাকা 'লাম' অক্ষরটি বিশেষত্ব বা মালিকানা বোঝানোর ক্ষেত্রে একই রকম।
এবং "সকল প্রশংসা" কথাটি তাকিদ বা গুরুত্ব আরোপের জন্য এসেছে, যা মহান আল্লাহর জন্য যাবতীয় প্রশংসার ব্যাপকতা এবং তাঁর জন্য নির্দিষ্টতাকে নিশ্চিত করে।
"অনুগ্রহের অধিকারী" বলতে তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ওপর তাঁর অনুগ্রহের কথা বোঝানো হয়েছে, কেননা তিনি তাদের অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন এবং তাদের ওপর নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ণ করেছেন।
"নেয়ামত" সম্পর্কে আল-রাঘিব বলেন: নেয়ামত হলো উত্তম অবস্থা। আর নেয়ামত (নি'মাহ) শব্দটির গঠনবিন্যাস মানুষের অবস্থার কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন বসার ধরন, হাঁটু গেড়ে বসা বা জবাই করার পদ্ধতির গঠন। আর 'না'মাহ' হলো সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করা, যার গঠনবিন্যাস একবচনের মতো যেমন একবার আঘাত করা বা একবার গালি দেওয়া ইত্যাদি। এখানে 'নেয়ামত' শব্দটি জাতিবাচক বা শ্রেণীবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কারণ তিনি বলেছেন: 'অনুগ্রহ ও নেয়ামতের অধিকারী'। এখন প্রশ্ন হলো, এখানে কি একটিমাত্র নেয়ামত উদ্দেশ্য নাকি অসংখ্য অগণিত নেয়ামত? এখানে 'নেয়ামত' শব্দের 'আল' বর্ণটি শ্রেণী বা প্রকার বোঝাতে এসেছে। তাই 'নেয়ামত' শব্দটি অল্প এবং বেশি—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তা শেষ করতে পারবে না} [সুরা আন-নাহল: ১৮]। এখানে কি একটিমাত্র নেয়ামত গণনার কথা বলা হয়েছে? আমরা নেয়ামতসমূহ গণনা করি, কিন্তু সেগুলোকে সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করতে পারি না। {আর যদি তোমরা আল্লাহর নেয়ামত গণনা করো, তবে তা শেষ করতে পারবে না} [সুরা আন-নাহল: ১৮]। {তোমরা আমার সেই নেয়ামতকে স্মরণ করো, যা আমি তোমাদের দান করেছি} [সুরা আল-বাকারাহ: ৪৭]। {আমি তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত পূর্ণ করেছি} [সুরা আল-মায়েদাহ: ৩]। {ফলে তারা আল্লাহর নেয়ামত নিয়ে ফিরে এলো} [সুরা আল-ইমরান: ১৭৪]। এছাড়াও অন্যান্য আয়াত রয়েছে। সারকথা হলো, 'নেয়ামত' শব্দটি একবচন হিসেবে উচ্চারিত হলেও এর দ্বারা যাবতীয় নেয়ামতকে বোঝানো হয়। ফলে শব্দটি একবচন হওয়া সত্ত্বেও তা সামান্য এবং প্রচুর—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১১)
"والإحسان" الإحسان كما في البصائر للفيروز أبادي: إفعال من الحسن، وهو كلُّ مبهجٍ مرغوب في عقلاً أو حساً، وقد حسُن يحسن ككرُم يكرم، وحسَن يحسن كنَصر ينصر، فهو حاسنٌ وحسَنٌ وحسِينٌ وحُسانٌ وحُسَّان.
والحسنة يعبر بها عن كل ما يسر من نعمةٍ تنال الإنسان في نفسه وبدنه وأحواله، والسيئة تضادها، والإحسان يقع على وجهين: أحدهما الإنعام على الخير، يعني الإحسان المتعدي، أحسن إلى فلان، والثاني: إحسانٌ في فعله، يعني إحسانٌ من الإنسان على نفسه، وذلك إذا علم علماً حسناً وعلَّم علماً حسناً أو عمل عملاً حسناً، والإحسان أعم من الإنعام، وقد ورد الإحسان في التنزيل على ثلاثة عشر وجهاً لا نطيل بذكرها، من أرادها يراجعها في (بصائر ذوي التمييز) للفيروز أبادي.
وعطف الإحسان لأنه قال: والإحسان أعم من الإنعام إذاً يكون عطف الإحسان على النعمة من باب عطف العام على الخاص {إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ} وإيش؟ {وَالنَّبِيِّينَ} [(163) سورة النساء] من عطف العام على الخاص، وعطف العام على الخاص وعكسه موجود في النصوص كثيراً وفي كلام العرب، وفي كلام أهل العلم كثير للعناية بشأن الخاص والاهتمام به، وإلا لو لم يذكر لدخل في العام.
"ثم على رسوله" صلى الله عليه وسلم، محمد بن عبد الله بن عبد المطلب القرشي الهاشمي المبعوث رحمةً للعالمين.
"خير الأنام" أكرم الخلق وأشرفهم على الله عز وجل، سيد ولد آدم، والأنام: الناس كما يذكر عن ابن عباس، وقال الحسن: هم الجن والإنس، وقال الضحاك: كل ما دب على وجه الأرض.
"والآل" اختلف في أصله فقيل أصله: الأهل، ثم قلبت الهاء همزةً فقيل أأل، ثم سهلت الهمزة الثانية فقيل: آل، ولهذا يرجع إلى أصله في التصغير فيقال: أهيل، وضعف ابن القيم هذا القول من ستة أوجه، يراجعها من أرادها في (جلاء الأفهام في الصلاة والسلام على خير الأنام) وهو كتابٌ بديع فذٌ في بابه.
"ইহসান" (সদাচরণ/উত্তম কাজ) ফিরোজ আবাদির 'বাসাইর' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে: এটি 'হুসন' ধাতু থেকে নির্গত 'ইফআল' এর ওজনে গঠিত একটি শব্দ। এটি এমন প্রতিটি আনন্দদায়ক বিষয় যা বুদ্ধিগতভাবে বা ইন্দ্রিয়গতভাবে আকাঙ্ক্ষিত। আর 'হাসুনা-ইয়াহসুনু' ক্রিয়াটি 'কারুমা-ইয়াকুরুমু' এর মতো ব্যবহৃত হয়, আবার 'হাসানা-ইয়াহসুনু' ক্রিয়াটি 'নাসারা-ইয়ানসুরু' এর মতো ব্যবহৃত হয়। এর থেকে উৎপন্ন শব্দগুলো হলো হাসিন, হাসান, হুসাইন, হুসান এবং হুস্সান।
আর 'হাসানাহ' (কল্যাণ) শব্দটি দিয়ে মানুষের আত্মা, দেহ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় প্রাপ্ত প্রতিটি আনন্দদায়ক নেয়ামতকে বোঝানো হয়। 'সাইয়্যিআহ' (অকল্যাণ) এর বিপরীত। ইহসান দুইভাবে ঘটে থাকে: প্রথমটি হলো অন্যের প্রতি অনুগ্রহ বা ইহসান করা, অর্থাৎ ইহসান যা অন্যের দিকে ধাবিত হয়, যেমন বলা হয় 'অমুকের প্রতি ইহসান করেছে'। দ্বিতীয়টি হলো নিজের কর্মে ইহসান করা, অর্থাৎ নিজের নফসের ওপর ইহসান করা; আর তা হলো যখন সে উত্তম জ্ঞান অর্জন করল এবং উত্তম জ্ঞান দান করল অথবা কোনো উত্তম কাজ সম্পাদন করল। ইহসান শব্দটি 'ইনআম' (অনুগ্রহ) শব্দের চেয়ে অধিক ব্যাপক। পবিত্র কুরআনে ইহসান শব্দটি তেরোটি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যা এখানে দীর্ঘ করছি না; যে ব্যক্তি বিস্তারিত জানতে চায় সে ফিরোজ আবাদির 'বাসাইর যাউয়িত তায়্যিয' গ্রন্থটি দেখে নিতে পারে।
এখানে ইহসান শব্দটিকে নেয়ামতের ওপর 'আতফ' (সংযুক্ত) করার কারণ হলো তিনি বলেছেন: ইহসান নেয়ামতের চেয়ে অধিক ব্যাপক। সুতরাং নেয়ামতের পর ইহসানের উল্লেখ করা হলো 'খাস' (বিশেষ) এর ওপর 'আম' (সাধারণ) কে সংযুক্ত করার অন্তর্ভুক্ত। যেমন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি ওহি পাঠিয়েছি যেমন ওহি পাঠিয়েছিলাম নুহের প্রতি এবং..." এবং কাদের প্রতি? "...নবীগণের প্রতি" [সূরা আন-নিসা: ১৬৩]। এটি বিশেষের ওপর সাধারণকে সংযুক্ত করার একটি উদাহরণ। বিশেষের ওপর সাধারণ এবং এর বিপরীতটি (সাধারণের ওপর বিশেষ) ধর্মীয় গ্রন্থসমূহে, আরবদের কথাবার্তায় এবং আলেমদের বক্তব্যে অনেক বেশি পাওয়া যায়। এটি করা হয় বিশেষ বিষয়টি প্রতি গুরুত্বারোপ এবং অধিক যত্নশীল হওয়ার জন্য, অন্যথায় এটি উল্লেখ না করলে তা সাধারণ শব্দের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকত।
"অতঃপর তাঁর রাসূলের ওপর" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-কুরাশি আল-হাশিমি, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে।
"সৃষ্টির সেরা" অর্থাৎ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার নিকট সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ও মর্যাদাবান ব্যক্তিত্ব, আদম সন্তানদের সরদার। আর 'আনাম' অর্থ হলো মানুষ—যেমনটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে। হাসান বসরী রহ. বলেছেন: তারা হলো জিন ও ইনসান। আর দাহহাক বলেছেন: যা কিছু জমিনের ওপর বিচরণ করে তাই আনাম।
"এবং তাঁর পরিবারবর্গ" (আ-ল)। এর মূল শব্দ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়ে থাকে এর মূল হলো 'আহল', এরপর 'হা' বর্ণটি হামযায় রূপান্তরিত হয়ে 'আ-আল' হয়েছে, অতঃপর দ্বিতীয় হামযাকে সহজ করে 'আল' করা হয়েছে। এই কারণেই শব্দটিকে যখন 'তাসগির' (ক্ষুদ্রতাবাচক শব্দ) করা হয় তখন তা তার মূলের দিকে ফিরে যায় এবং বলা হয় 'উহাইল'। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এই মতটিকে ছয়টি দিক থেকে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; যে ব্যক্তি বিস্তারিত জানতে চায় সে তাঁর 'জালাউল আফহাম ফি সালাতি ওয়াস সালামি আলা খাইরিল আনাম' গ্রন্থটি দেখে নিতে পারে। এটি নিজ বিষয়ের ওপর একটি অনন্য এবং অপূর্ব কিতাব।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১২)
لو ذهبنا نستطرد ونذكر كل ما قاله أهل العلم، والأيام قليلة، والإخوان كأن بعضهم يمل من زيادة التفصيل، وإن كان بعضهم يريد استطرادات ويريد فوائد تزيد على ما يمكن أن يقال في شرح هذا المتن، في مثل هذا الظرف في دورة علمية، ومن المجزوم به أن المتن لن يكمل في هذه الدورة، ولا في التي تليها، ولا في التي تليها، يمكن يحتاج إلى ثلاث أو أربع دورات، هذا مع الاختصار الشديد، وإلا لو شرحنا الكتاب على طريقتنا في الاستطرادات ولم العلوم كلها بعضها على بعض يحتاج إلى أزمان متطاولة، ولعل هذا يتيسر مثله في مصنف؛ لأن الكتاب اقترحناه على الإخوة باعتباره بكر لم يشرح.
لكن اليوم بعد صلاة العصر بعث إليَّ شرحٌ قام به بعض طلاب العلم من أسرة الشيخ نفسه، اسمه على اسمه حافظ بن محمد بن عبد الله الحكمي، أستاذ مساعد في الجامعة الإسلامية، ولم يتيسر لي الاطلاع على هذا الكتاب؛ لأنه وصلني متأخراً، على كل حال نأتي بالمهمات من المسائل -إن شاء الله تعالى-، ونترك الباقي إما لفطنة القاري لوضوحها، أو لتوفرها في المصادر.
وقيل أصله: أَوْل، وذكره الجوهري في باب الهمزة والواو واللام، قال: وآل الرجل أهله وعياله وأتباعه، وهو عند هؤلاء مشتق من الأول وهو الرجوع، واختلف في المراد بالآل على أربعة أقوال:
الأول: أنهم الذين حرمت عليهم الصدقة ((الصدقة أوساخ الناس لا تحل لمحمد ولا لآل محمد)) وهم معروفون عند أهل العلم، منهم من يخصهم ببني هاشم، ومنهم من يلحق بهم بني المطلب.
الثاني: أنهم أزواجه وذريته خاصة، اللهم صلِّ على محمد وعلى آله وأزواجه وذريته، المقصود أن هذان القولان كما يقول ابن القيم الأول هو الأصح، ويليه الثاني.
أما الثالث: وهو أنهم أتباعه إلى يوم القيامة، هم يدخلون في الآل دخولاً لغوياً كما نص على ذلك الجوهري في كلامه، قال: وآل الرجل أهله وعياله وأتباعه، لكنهم في النصوص الشرعية هذا القول أتباعه إلى يوم القيامة.
والقول الرابع: أنهم الأتقياء من أمته عليه الصلاة والسلام، يقول ابن القيم: وأما الثالث والرابع فضعيفان، يعني إذا دخل الأتباع في الآل لغةً فدخولهم في النصوص يكون من باب الدخول اللغوي بالمعنى الأعم.
আমরা যদি কথা দীর্ঘ করতে চাই এবং ইলমের অধিকারীগণ যা কিছু বলেছেন তার সবটুকু উল্লেখ করতে শুরু করি, তবে সময় খুবই সংক্ষিপ্ত, আর ভাইদের মধ্যে কেউ কেউ সম্ভবত অতিরিক্ত বিস্তারিত বর্ণনায় ক্লান্ত হয়ে পড়েন। যদিও তাদের মধ্যে কেউ কেউ দীর্ঘ আলোচনা এবং এই মূল পাঠের ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত ফায়দা কামনা করেন, যা এই ধরনের পরিস্থিতিতে একটি শিক্ষামূলক কোর্সে বলা সম্ভব। এটি নিশ্চিত যে, মূল পাঠটি এই কোর্সে সম্পন্ন হবে না, আর এর পরেরটিতেও নয়, এমনকি তার পরেরটিতেও নয়। অত্যন্ত সংক্ষেপ করা সত্ত্বেও সম্ভবত এটি শেষ করতে তিন বা চারটি কোর্সের প্রয়োজন হতে পারে। অন্যথায়, আমরা যদি আমাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে আলোচনা দীর্ঘ করে ব্যাখ্যা করতাম এবং সমস্ত জ্ঞানকে একটির সাথে অন্যটি মিলিয়ে আলোচনা করতাম, তবে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হতো। সম্ভবত কোনো রচনায় এই কাজটি সহজতর হতে পারে; কারণ আমরা এই কিতাবটি ভাইদের জন্য প্রস্তাব করেছিলাম এই বিবেচনায় যে, এটি একটি নতুন কাজ যার আগে কোনো ব্যাখ্যা করা হয়নি।
তবে আজ আসরের সালাতের পর আমার কাছে জনৈক ইলম অন্বেষীর পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠানো হয়েছে, যিনি স্বয়ং শাইখের পরিবারেরই সদস্য। তাঁর নাম শাইখের নামের মতোই হাফেয বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাকামী, তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপক। এই কিতাবটি দেখার সুযোগ আমার হয়ে ওঠেনি; কারণ এটি আমার কাছে দেরিতে পৌঁছেছে। যা হোক, ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা মাসআলাসমূহের মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা করব, আর অবশিষ্ট অংশ হয় পাঠকের মেধার ওপর ছেড়ে দেব তার স্পষ্টতার কারণে, অথবা বিভিন্ন উৎসে তা সহজলভ্য হওয়ার কারণে।
বলা হয়েছে যে এর মূল হচ্ছে: আওল। জাওহারী এটি হামজাহ, ওয়াও এবং লাম এর অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: একজন ব্যক্তির ‘আল’ বলতে তার পরিবার, পরিজন এবং অনুসারীদের বোঝায়। তাদের মতে এটি ‘আওয়াল’ শব্দ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ প্রত্যাবর্তন করা। ‘আল’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য—এ বিষয়ে চারটি মত রয়েছে:
প্রথম: তারা হচ্ছেন ঐ সকল ব্যক্তি যাদের জন্য সাদাকা হারাম করা হয়েছে (সাদাকা মানুষের ময়লা-আবর্জনা, এটি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের আলের জন্য হালাল নয়)। ইলমের অধিকারীগণের নিকট তারা সুপরিচিত, তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে বনু হাশিমের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, আবার কেউ কেউ বনু মুত্তালিবকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
দ্বিতীয়: তারা হচ্ছেন বিশেষভাবে তাঁর স্ত্রীগণ এবং বংশধরগণ। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর আল, স্ত্রীগণ এবং বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। উদ্দেশ্য হলো, ইবনুল কায়্যিম যেমনটি বলেছেন, এই দুটি মতের মধ্যে প্রথমটিই সর্বাধিক বিশুদ্ধ এবং এরপর দ্বিতীয়টির স্থান।
আর তৃতীয় মতটি হলো: কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর অনুসারীগণ। আভিধানিক দিক থেকে তারা ‘আল’ এর অন্তর্ভুক্ত হয় যেমনটি জাওহারী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: একজন ব্যক্তির ‘আল’ বলতে তার পরিবার, পরিজন এবং অনুসারীদের বোঝায়। তবে শরয়ী দলীলসমূহে এই মত অনুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সকল অনুসারীই উদ্দেশ্য।
চতুর্থ মত: তারা হচ্ছেন তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে মুত্তাকী বা পরহেযগারগণ (তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)। ইবনুল কায়্যিম বলেন: আর তৃতীয় ও চতুর্থ মত দুটি দুর্বল। অর্থাৎ, যদি অনুসারীগণ আভিধানিক অর্থে ‘আল’ এর অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে শরয়ী দলীলসমূহে তাদের অন্তর্ভুক্তি হবে আভিধানিক এবং ব্যাপক অর্থের ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
"والصحب" جمع صاحب كركب وراكب، والمرجح في تعريف الصحابي ما ذكره البخاري في صحيحه: وهو من صحب النبي صلى الله عليه وسلم، أو رآه من المسلمين فهو صاحب، الصحبة شرف ومنزلة تبوأها صدر هذه الأمة، ممن رأى النبي عليه الصلاة والسلام، ويحتاج إلى زيادة قيد، ولذا يقول المتأخرون: الصحابي من رأى النبي عليه الصلاة والسلام مؤمناً به ومات على ذلك، ولو تخلل ذلك ردة، فالذي رآه قبل أن يؤمن، قبل أن يسلم ثم أسلم بعد ذلك ليس بصحابي على هذا، ومن رآه مؤمناً به ثم مات على ردته ليس بصحابي ولا كرامة، المقصود أن من رآه مؤمناً به ومات على ذلك ولو تخلل ذلك ردة ثم عودة إلى الدين فإنه يسمى صحابي على المختار عند كثيرٍ من أهل العلم.
"الصلاة" روى البخاري في صحيحه تعليقاً مجزوماً به عن أبي العالية قال: "صلاة الله -يعني على رسوله عليه الصلاة والسلام ثناؤه عليه عند الملائكة، وصلاة الملائكة الدعاء، وروي عن ابن عباس أنه قال: يصلون يبركون، البخاري يأتي بمثل هذه التفسيرات لكلمات جاءت في القرآن ليستفيد القارئ ما ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام وعن غيره مما يعين على فهم كتاب الله عز وجل، فهو يعنى بالغريب، فهو يعنى ببيان الغريب، وأحياناً يلتفت الإنسان لمناسبةٍ عن لفظٍ أو للفظٍ ذكره البخاري عرضاً في باب فيصعب عليه إدراك الرابط، فتجد هذه الكلمة التي شرحها البخاري في نصٍ من الكتاب أو من السنة له علاقة بالموضوع، وإن لم تكن العلاقة الكلمة نفسها، لكنها كلمة غريبة وردت في هذا النص فهو يستفيد أكثر من فائدة، أو يفيد أكثر من فائدة، يفيد بيان معنى هذه الكلمة الغريبة، ويفيد لفت نظر القارئ إلى النص التي وردت فيه هذه الكلمة مما يفيد بالباب، فيصلون: يبركون، وهو يشير إلى قوله -جل وعلا-: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ} يعني يبركون {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [(56) سورة الأحزاب].
"আস-সাহব" হলো "সাহিব" শব্দের বহুবচন, যেমন "রাকিব" এর বহুবচন "রাকব"। সাহাবীর সংজ্ঞায় সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত হলো ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গ লাভ করেছেন অথবা মুসলিমদের মধ্য থেকে তাঁকে দেখেছেন, তবে তিনি সাহাবী। সাহচর্য একটি অনন্য সম্মান ও উচ্চ মর্যাদা যা এই উম্মতের অগ্রবর্তী ব্যক্তিবর্গ লাভ করেছেন, যারা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে দেখেছেন। তবে এই সংজ্ঞায় আরও একটি শর্ত যুক্ত করা প্রয়োজন। এই কারণে পরবর্তীকালের আলিমগণ বলেন: সাহাবী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মুমিন অবস্থায় নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামকে দেখেছেন এবং সেই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন, যদিও মাঝখানে ধর্মত্যাগ (মুরতাদ হওয়া) ঘটে থাকে। সুতরাং এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ঈমান আনার আগে বা ইসলাম গ্রহণের আগে তাঁকে দেখেছে এবং পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছে, সে সাহাবী নয়। আর যে ব্যক্তি মুমিন অবস্থায় তাঁকে দেখেছে কিন্তু পরবর্তীতে ধর্মত্যাগ করে মুরতাদ অবস্থায় মারা গেছে, সে সাহাবী নয় এবং তার কোনো মর্যাদাও নেই। মূল উদ্দেশ্য হলো, অনেক আলিমের নিকট গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ঈমান অবস্থায় তাঁকে দেখেছে এবং সেই ঈমানের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে, মাঝখানে ধর্মত্যাগ ও পুনরায় দ্বীনে ফিরে আসার ঘটনা ঘটলেও তাকে সাহাবী বলা হবে।
"সালাত" সম্পর্কে ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু আল-আলিয়াহ থেকে দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর সালাত—অর্থাৎ তাঁর রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর—এর অর্থ হলো ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করা, আর ফেরেশতাদের সালাত হলো দুআ করা।" ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "ইউসাল্লুনা" অর্থ তারা বরকতের দুআ করেন। ইমাম বুখারী কুরআনে ব্যবহৃত এমন সব শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেন যাতে পাঠক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্যদের থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে তা থেকে উপকৃত হতে পারে, যা আল্লাহর কিতাব বুঝতে সহায়ক হয়। তিনি অপরিচিত বা কঠিন শব্দের (গারীব) ব্যাখ্যার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। কখনও কখনও কোনো শব্দের প্রাসঙ্গিকতা বা ইমাম বুখারী কোনো অনুচ্ছেদে প্রসঙ্গক্রমে যে শব্দ উল্লেখ করেন তার যোগসূত্র বোঝা কঠিন হতে পারে। কিন্তু আপনি দেখবেন যে ইমাম বুখারী যে শব্দটি ব্যাখ্যা করেছেন তা কুরআন বা সুন্নাহর এমন কোনো পাঠ্যে (নস) এসেছে যার সাথে ওই বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে। যদিও সরাসরি ওই শব্দের সাথে সম্পর্ক না-ও থাকে, কিন্তু যেহেতু এটি একটি কঠিন শব্দ যা ওই পাঠ্যে এসেছে, তাই তিনি এর মাধ্যমে একাধিক উপকার সাধন করেন। অথবা তিনি একের অধিক ফায়দা প্রদান করেন; তিনি এই কঠিন শব্দের অর্থ স্পষ্ট করেন এবং পাঠকের দৃষ্টি সেই মূল পাঠের দিকে আকর্ষণ করেন যেখানে এই শব্দটি এসেছে যা ওই অধ্যায়ের জন্য ফলপ্রসূ। সুতরাং "ইউসাল্লুনা" অর্থ তারা বরকতের দুআ করেন; এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত করছে: "নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পেশ করেন" অর্থাৎ তারা বরকতের দুআ করেন; "হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর ওপর সালাত ও যথাযথভাবে সালাম পেশ করো" [সূরা আল-আহজাব: ৫৬]।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وفي سنن الترمذي يقول: روي عن سفيان الثوري وغير واحد من أهل العلم قالوا: صلاة الرب الرحمة، وصلاة الملائكة الاستغفار، والسلام هو التحية، ولم يقتصر الناظم -رحمه الله تعالى- على ذكر الصلاة امتثالاً للأمر في قوله -جل وعلا- في الآية آنفة الذكر {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا} فجمع بينهما ليتم الامتثال، وإن وقع في كلام بعض أهل العلم الاقتصار على الصلاة، أو الاقتصار على السلام، كما فعل مسلم في مقدمة صحيحه، وهذه إنما تقع من مثل هؤلاء إذا طال الفصل، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه ثم ينسى وسلم تسليماً كثيراً، لكن لو قرن بينهما وقال: وصلى الله وسلم وبارك ما نسي السلام.
على كل حال النووي -رحمه الله تعالى- في شرحه لكلام مسلم أطلق الكراهة بالنسبة لمن يقتصر على الصلاة دون السلام أو العكس، وخص الحافظ ابن حجر الكراهة فيمن كان ديدنه ذلك، باستمرار يصلي على النبي عليه الصلاة والسلام، ولا يسلم عليه أو العكس، ومثل هذا لا يتم امتثاله للأمر المذكور في الآية.
على كل حال هو وقع من بعض العلماء ولم يكن ديدناً لهم، ولم يقتصر الناظم -رحمة الله تعالى عليه- على ذكر الآل فأفردهم عن الصحب، وإن دخل الصحب في الآل بالمعنى الأعم؛ لأن بعض طوائف المبتدعة تقتصر على ذكر الآل، ولم يقتصر على ذكر الصحب مخالفةً لمبتدعةٍ آخرين فجمع بينهما، ولا شك أن كل من الآل والصحب لهم حق على الأمة، فالآل وصيته عليه الصلاة والسلام، الآل وصية النبي عليه الصلاة والسلام، فمن امتثال هذه الوصية ومن البر به عليه الصلاة والسلام.
সুনানে তিরমিযীতে বলা হয়েছে: সুফিয়ান আস-সাওরী এবং একাধিক বিদগ্ধ আলিম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা বলেছেন: রবের পক্ষ থেকে সালাত হলো রহমত (দয়া), ফিরিশতাদের পক্ষ থেকে সালাত হলো ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা), আর সালাম হলো অভিবাদন। নাযিম (কবিতা রচয়িতা) —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— কেবল সালাত উল্লেখের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং পূর্বোক্ত আয়াতে মহান আল্লাহর নির্দেশের আনুগত্য করতে গিয়ে তিনি সালাত ও সালাম উভয়কেই একত্রিত করেছেন, যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পেশ করেন; হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।" আনুগত্য পূর্ণ করার জন্যই তিনি উভয়কে একত্রিত করেছেন। যদিও কোনো কোনো আলিমের বক্তব্যে কেবল সালাত বা কেবল সালামের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি ঘটেছে, যেমনটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ-এর ভূমিকায় করেছেন। আর এটি তাঁদের মতো ব্যক্তিদের থেকে তখনই ঘটে যখন ব্যবধান দীর্ঘ হয়ে যায় এবং বলেন: 'আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর সালাত পাঠ করুন', এরপর হয়তো 'এবং প্রচুর পরিমাণে সালাম বর্ষিত হোক' বলতে ভুলে যান। কিন্তু যদি তিনি উভয়কে যুক্ত করে বলতেন: 'আল্লাহ তাঁর ওপর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন', তবে তিনি সালাম বলতে ভুলতেন না।
যাই হোক, ইমাম নববী —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— মুসলিমের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় যারা সালাম ছাড়া কেবল সালাতের ওপর কিংবা এর উল্টোটার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তাদের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অপছন্দনীয় (কারাহাত) হওয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে হাফিজ ইবনে হাজার এই অপছন্দনীয়তাকে কেবল তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যাদের অভ্যাসই হয়ে দাঁড়িয়েছে এমনটি করা—অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে নবীর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওপর কেবল সালাত পাঠ করা কিন্তু সালাম না দেওয়া, অথবা এর উল্টোটা করা। আর এ ধরনের ক্ষেত্রে আয়াতে বর্ণিত নির্দেশের পূর্ণ আনুগত্য অর্জিত হয় না।
যাই হোক, এটি কোনো কোনো আলিমের পক্ষ থেকে ঘটেছে তবে তা তাঁদের অভ্যাসে পরিণত হয়নি। আর নাযিম —আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন— কেবল পরিবার-পরিজনের কথা উল্লেখ করে তাঁদেরকে সাহাবীদের থেকে পৃথক করেননি, যদিও ব্যাপক অর্থে 'আল' বা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত সাহাবীগণও হয়ে থাকেন। কেননা বিদআতিদের কিছু দল কেবল পরিবার-পরিজনের কথা উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। আবার তিনি কেবল সাহাবীদের বর্ণনার ওপরও সীমাবদ্ধ থাকেননি অন্যান্য বিদআতিদের বিরোধিতা করার লক্ষ্যে, বরং তিনি উভয়কেই একত্রিত করেছেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উম্মতের ওপর নবী পরিবারের সদস্য এবং সাহাবী উভয়েরই অধিকার রয়েছে। কেননা নবী পরিবার হলো তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) পক্ষ থেকে করা ওসিয়ত। নবী পরিবার হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওসিয়ত; সুতরাং এই ওসিয়তের অনুসরণ করা তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) প্রতি আনুগত্য এবং সদাচরণেরই অংশ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومما يطلبه من أمته المودة في القربى، فمن تمام الصلاة عليه عليه الصلاة والسلام الصلاة على آله، والصحب بواسطتهم نصر الدين في حياته عليه الصلاة والسلام، ونقل الدين، وبلغ الدين لمن جاء بعده، فلهم أيضاً حق في الصلاة والسلام عليهم تبعاً له عليه الصلاة والسلام، ولا يعني هذا أن الإنسان إذا لم يصلِّ على الصحب لا يصلِّي على الآل أو العكس، لا، لكن أقول: من تمام الامتثال أن يصلى على الآل والصحب، وليس من باب الأولى أن يقتصر على الآل فقط، أو يقتصر على الصحب فقط؛ لما عرفنا أن الاقتصار على الآل صار شعاراً لطائفة من المبتدعة، كما أن الاقتصار على الصحب صار شعاراً لطائفة آخرين، نعم.
وَبَعْدُ إِنَّ أَشْرَفَ اَلْعُلُومِ
… بَعْدَ كِتَابِ اَلصَّمَدِ اَلْقَيُّومِ
عِلْمُ اَلْحَدِيثِ إِذْ هُوَ اَلْبَيَانُ
… لِمَا بِهِ قَدْ أُنْزِلَ اَلْقُرْآنُ
فَسُنَّةُ الرَّسولِ وَحْيٌ ثَانِ
… عَلَيْهِمَا قَدْ أُطْلِقَ اَلْوَحْيَانِ
وَإِنَّمَا طَرِيقُهَا اَلرِّوَايَةْ
… فَافْتَقَرَ اَلرَّاوِي إِلَى اَلدِّرَايَةْ
بصِحَّةِ اَلْمَرْوِيْ عَنْ الرَّسُولِ
… لِيُعْلَمَ اَلْمَرْدُودُ مِنْ مَقْبُولِ
إن قلتَ: ليُعلم فقل: مردودُ نائب فاعل.
طالب: نعم يا شيخ.
إن قلت: ليُعلم وبنيته للمجهول فارفع المردود ليُعلم المردودُ يكون نائب فاعل، وإن بنيته للمعلوم فقلت ليَعلمَ، والراوي الذي افتقر إلى الدراية ليعلمَ المردودَ من مقبول.
بصِحَّةِ اَلْمَرْوِيْ عَنْ الرَّسُولِ
… لِيُعْلَمَ اَلْمَرْدُودُ مِنْ مَقْبُولِ
لا سِيَّمَا بَعْدَ تَظَاهُرِ اَلْفِتَنِ
… وَلَبْسِ إِفْكِ اَلْمُحْدَثِينَ بِالسُّنَنِ
فَقَامَ عِنْدَ ذَلِكَ اَلأَئِمَّةْ
… بِخِدْمَةِ اَلدِّينِ وَنُصْحِ اَلأُمَّةْ
وَخَلَّصُوا صَحِيحَهَا مِنْ مُفْتَرَى
… حَتَّى صَفَتْ نَقِيَّةً كَمَا تَرَى
ثُمَّ إِلَيْهَا قَرَّبُوا الْوُصُولَا
… لِغَيْرِهِمْ فَأَصَّلُوا أُصُولَا
وَلَقَّبُوا ذَاكَ بِعِلْمِ اَلْمُصْطَلَحْ
… حَيْثُ عَلَيْهَا اَلْكُلُّ مِنْهُمُ اِصْطَلَحْ
وَزَادَ مَنْ جَا بَعْدَهُمْ عَلَيْهَا
… بِحَسْبِ اِحْتِيَاجِهِمْ إِلَيْهَا
তিনি তাঁর উম্মতের নিকট যা চেয়েছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা। সুতরাং তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওপর পূর্ণাঙ্গ সালাত পাঠের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর সালাত পাঠ করা। আর সাহাবীগণ—তাঁদের মাধ্যমেই তাঁর জীবদ্দশায় দ্বীনকে সাহায্য করা হয়েছে, দ্বীনকে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে দ্বীনকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁর অনুসারী হিসেবে তাঁদের ওপরও সালাত ও সালাম পাঠ করার হক বা অধিকার রয়েছে। এর অর্থ এই নয় যে, কোনো ব্যক্তি যদি সাহাবীদের ওপর সালাত পাঠ না করে তবে সে পরিবার-পরিজনের ওপর সালাত পাঠ করবে না, অথবা এর উল্টোটা করবে; না, বরং আমি বলছি: নির্দেশের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ হলো পরিবার-পরিজন এবং সাহাবী উভয়ের ওপর সালাত পাঠ করা। শুধুমাত্র পরিবার-পরিজনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা অথবা শুধুমাত্র সাহাবীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা কাম্য নয়; কারণ আমরা জানি যে, শুধুমাত্র পরিবার-পরিজনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা একদল বিদআতির প্রতীকে পরিণত হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে শুধুমাত্র সাহাবীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাও অন্য একটি দলের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। হ্যাঁ।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান
… অমুখাপেক্ষী ও চিরস্থায়ীর কিতাবের পর
হলো হাদিসের জ্ঞান, যেহেতু তা-ই হচ্ছে ব্যাখ্যা
… সেই বিষয়ের যার মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে
সুতরাং রাসুলের সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় ওহী
… এই উভয়টির ওপরই 'দুই ওহী' পরিভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে
নিশ্চয়ই এর অর্জনের পথ হলো বর্ণনা
… ফলে বর্ণনাকারী অনুধাবন জ্ঞানের মুখাপেক্ষী হয়েছে
রাসুল থেকে বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে
… যাতে গ্রহণযোগ্য থেকে বর্জিত বিষয়কে জানা যায়
যদি আপনি বলেন: 'যাতে জানা যায়' (লিইউ’লামা), তবে বলুন: 'বর্জিত' (মারদুদু) শব্দটি হবে নায়েবে ফায়েল (উপ-কর্তা)।
ছাত্র: জি হ্যাঁ, হে শাইখ।
যদি আপনি 'লিইউ’লামা' বলেন এবং একে কর্মবাচ্য হিসেবে গঠন করেন, তবে 'মারদুদ' শব্দটিকে পেশ দিন, তখন 'মারদুদু' শব্দটি নায়েবে ফায়েল হবে। আর যদি আপনি একে কর্তৃবাচ্য হিসেবে গঠন করেন এবং বলেন 'লিইয়া’লামা'—অর্থাৎ সেই বর্ণনাকারী যিনি অনুধাবন জ্ঞানের মুখাপেক্ষী হয়েছেন—যাতে তিনি গ্রহণযোগ্য থেকে বর্জিত বিষয়কে জানতে পারেন (তখন 'মারদুদা' হবে)।
রাসুল থেকে বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে
… যাতে গ্রহণযোগ্য থেকে বর্জিত বিষয়কে জানা যায়
বিশেষ করে ফিতনা প্রকাশ পাওয়ার পর
… এবং উদ্ভাবকদের মিথ্যার সাথে সুন্নাহকে মিশিয়ে ফেলার পর
তখন ইমামগণ দাঁড়িয়েছিলেন
… দ্বীনের সেবা এবং উম্মতের কল্যাণ কামনায়
এবং তাঁরা বানোয়াট থেকে এর বিশুদ্ধগুলোকে পৃথক করেছেন
… পরিশেষে তা স্বচ্ছ ও নির্মল হয়েছে যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন
অতঃপর তাঁরা অন্যদের জন্য এর জ্ঞান অর্জনকে সহজ করেছেন
… ফলে তাঁরা মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন করেছেন
এবং তাঁরা একে 'ইলমুল মুস্তালাহ' (পরিভাষা শাস্ত্র) নামে অভিহিত করেছেন
… যেখানে তাঁদের সকলেই এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন
আর তাঁদের পরবর্তী যারা এসেছেন তারা এতে আরও সংযোজন করেছেন
… তাঁদের প্রয়োজনের চাহিদা অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَكُلُّ بَحْثِ أَهْلِ هَذَا اَلْفَنِّ
… فِي حَالِ إِسْنَادِ وَحَالِ اَلْمَتْنِ
عَنَوْا بِـ (الإِسْنَادِ) اَلطَّرِيقَ اَلْمُوَصِلَهْ
… لِلْمَتْنِ عَمَّنْ قَالَهُ أَوْ فَعَلَهْ
وَ (الْمَتْنُ) مَا إِلَيْهِ يَنْتَهِي اَلسَّنَدْ
… مِنْ اَلْكَلامِ وَ (الْحَدِيثِ) مَا وَرَدْ
عَنْ اَلنَّبِيْ وَقَدْ يَقُولُونَ (اَلْخَبَرْ)
… كَمَا أَتَى عَنْ غَيْرِهِ كَذَا (اَلأَثَرْ)
وَهَاك تَلْخِيصُ أُصُولٍ نَافِعَةْ
… لِجُلِّ مَا قَدْ أَصَّلُوهُ جَامِعَةْ
يقول الناظم -رحمه الله تعالى- بعد أن حمد لله -جل وعلا- على نعمه وإفضاله وإحسانه، وصلى على نبيه عليه الصلاة والسلام وعلى آله وصحبه يقول:
"وبعد إن أشرف العلوم" (أما بعد) يؤتى بها للانتقال من غرضٍ إلى آخر، ومن أسلوبٍ إلى آخر، ومن الوسائل إلى غايتها، المقصود أنها يؤتى بها للانتقال، وقد ثبتت عن النبي عليه الصلاة والسلام في أحاديث تزيد عن الثلاثين في خطبه وفي رسائله، فالإتيان بها سنة، بهذا اللفظ: أما بعد، ولم يحفظ عنه عليه الصلاة والسلام أنه قال: وبعد، لكن يقول بعض العلماء أن الواو هذه تقوم مقام (أما) كأنها من باب التسهيل، لكن الامتثال والاقتداء إنما يتم باللفظ المأثور عن النبي عليه الصلاة والسلام وهو (أما بعد) و (أما) حرف شرط، و (بعد) ظرف مبني على الضم قائم مقام الشرط، وجواب الشرط ما بعدها مما يقترن بالفاء؛ لأن (أما) لا بد أن يقترن جوابها بالفاء، وهنا ومما يعتذر به للناظم أن النظم قد لا يطاوع، وارتكب في النظم من الضرورات ما لم يرتكب في النثر.
المقصود أن الاقتداء إنما يتم بقولنا: (أما بعد) و (أما بعد) اختلف أهل العلم في أول من قالها على ثمانية أقوال يجمعها قول الناظم:
الخلفُ في أما بعد من كان بادئاً
… بها عدَّ أقوالٌ وداود أقربُ
ويعقوب أيوب الصبور وآدمٌ
… وقسٌ وسحبانٌ وكعبٌ ويعربُ
এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সকল গবেষণা
… ইসনাদ এবং মতনের অবস্থার বর্ণনায় সীমাবদ্ধ।
তারা 'ইসনাদ' বলতে সেই পথকে বুঝিয়েছেন যা মতন পর্যন্ত পৌঁছে দেয়
… তাঁর পক্ষ থেকে যিনি তা বলেছেন বা করেছেন।
আর 'মতন' হলো বাণীর সেই অংশ যেখানে গিয়ে সনদ সমাপ্ত হয়
… এবং যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই 'হাদিস'।
যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত; আর তারা কখনও 'খবর' বলেন
… যা অন্যদের থেকে বর্ণিত হয় তার জন্য, অনুরূপভাবে 'আসার' (বলা হয়)।
আর এই নাও উপকারী মূলনীতিসমূহের একটি সারসংক্ষেপ
… যা তাদের নির্ধারিত অধিকাংশ মূলনীতির একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন।
নাজিম (কবিতা রচয়িতা) -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- আল্লাহর নেয়ামত, অনুগ্রহ এবং ইহসানের জন্য তাঁর হামদ পাঠ করার পর এবং তাঁর নবীর প্রতি ও তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করার পর বলছেন:
"অতঃপর, নিশ্চয় ইলমসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ" (আম্মা বা'দু) এটি এক উদ্দেশ্য থেকে অন্য উদ্দেশ্যে, এক ভঙ্গি থেকে অন্য ভঙ্গিতে এবং উপায় থেকে গন্তব্যের দিকে স্থানান্তরের জন্য আনা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো এটি আলোচনার রূপান্তরের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তাঁর খুতবা ও পত্রসমূহের মধ্যে ত্রিশটিরও বেশি হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং এই শব্দে—অর্থাৎ 'আম্মা বা'দু'—এটি নিয়ে আসা সুন্নাহ। তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সংরক্ষিত নেই যে তিনি 'ওয়া বা'দু' বলেছেন। কিন্তু কিছু আলেম বলেন যে, এই 'ওয়া' (এবং) বর্ণটি 'আম্মা' এর স্থলাভিষিক্ত হয়, যেন এটি সহজীকরণের একটি দিক। কিন্তু অনুসরণ ও অনুকরণ কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত শব্দের মাধ্যমেই পূর্ণ হয়, আর তা হলো 'আম্মা বা'দু'। এখানে 'আম্মা' হলো শর্তের অব্যয়, এবং 'বা'দু' হলো পেশ (জম্মাহ) যুক্ত একটি ক্রিয়া-বিশেষণ যা শর্তের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর শর্তের উত্তর (জওয়াব) হলো এর পরবর্তী অংশ যা 'ফা' এর সাথে যুক্ত হয়; কারণ 'আম্মা' এর জওয়াব অবশ্যই 'ফা' যুক্ত হতে হয়। আর এখানে নাজিমের পক্ষ থেকে যে ওজর বা কৈফিয়ত দেওয়া যায় তা হলো, কবিতার ছন্দ অনেক সময় নিয়ম মানে না, তাই কবিতায় এমন কিছু শৈল্পিক প্রয়োজনীয়তা (জরুরতে শায়েরি) গ্রহণ করা হয় যা গদ্যে করা হয় না।
মূল কথা হলো, নবীজির অনুকরণ কেবল আমাদের 'আম্মা বা'দু' বলার মাধ্যমেই পূর্ণ হয়। আর 'আম্মা বা'দু' সর্বপ্রথম কে বলেছেন সে বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে আটটি মতভেদ রয়েছে, যা নাজিমের এই পঙক্তিতে একত্রিত হয়েছে:
'আম্মা বা'দু' এর সূচনাকারী কে ছিলেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে
… বিভিন্ন মত গণনা করা হয়েছে, তবে দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর অভিমতটিই অধিকতর সঠিক।
এবং ইয়াকুব, ধৈর্যশীল আইয়ুব ও আদম
… এবং কুস, সাহবান, কাব ও ইয়ারুব।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والأكثر على أن أول من قالها داود عليه السلام، وهي فصل الخطاب الذي أوتيه، المقصود أنها سنة يسن الإتيان بها في المراسلات وفي الخطب، ولا يقوم غيرها مقامها، ولا تحتاج إلى (ثمَّ) قبلها وإن استفاض على ألسنة بعض من ينتسب إلى طلب العلم حينما يقدم يأتي بالحمدلة والصلاة وكذا (ثم أما بعد) لست بحاجة إلى (ثم) لا يوجد في النصوص هذا العطف، إن احتجتها ثانية للانتقال من أسلوب بدأت بـ (أما بعد) بعد المقدمة إن احتجت إلى الانتقال إلى أسلوب آخر تأتي بـ (ثم) تعطف عليها.
ولا أعرفها في مصنفات المتقدمين إلا في نسخةٍ من تفسير الطبري، نسخة خطية من تفسير الطبري، وإن اعتمدها شاكر الذي .. ، محمود شاكر الذي حقق الكتاب، وهو من كبار المحققين، على كل حال العبرة بما ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام.
"وبعد إن أشرف العلوم" لا شك أن العلم إنما يشرف بشرف المعلوم، "بعد كتاب الصمد القيوم" يعني بعد كتاب الله عز وجل الذي هو أشرف الكتب، وفضله على سائر الكلام كفضل الله عز وجل على خلقه، ولسنا بصدد بيان فضل القرآن والعناية بكتاب الله عز وجل، ذاك له مناسبات أخرى، ولا يخال أحداً من الحاضرين يخفى عليه ذلك، لكن الكلام فيما بعد كتاب الصمد القيوم، وهو علم الحديث، علم الحديث علم شريف.
علم الحديث إذ هو البيانُ
… . . . . . . . . .
المصدر الثاني من مصادر التشريع بعد كتاب الله عز وجل، علم الحديث الذي هو ما ينسب إلى النبي عليه الصلاة والسلام من قولٍ أو فعلٍ أو تقريرٍ أو وصف، لماذا؟ لأنه هو البيان لكتاب الله عز وجل.
علم الحديث إذ هو البيانُ
… لما به قد أنزل القرآنُ
{وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ} لإيش؟ {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ} [(44) سورة النحل] هذه وظيفة النبي عليه الصلاة والسلام بيان ما نزل إليه من ربه عز وجل، واستقلت السنة بأحكام لا توجد في القرآن؛ لأنها وحيٌ من الله عز وجل، {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [(3 - 4) سورة النجم] فما يأتي به النبي عليه الصلاة والسلام هو بيانٌ لما أجمل من قوله -جل وعلا-: {مَّا فَرَّطْنَا فِي الكِتَابِ مِن شَيْءٍ} [(38) سورة الأنعام].
অধিকাংশের মতানুযায়ী সর্বপ্রথম এটি (আম্মা বাদু) দাউদ আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, আর এটিই হলো সেই 'ফাসলুল খিতাব' (মীমাংসাকারী ভাষণ) যা তাঁকে প্রদান করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য হলো এটি একটি সুন্নত যা পত্রবিনিময় এবং ভাষণে পালন করা বিধেয়। অন্য কোনো শব্দ এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। এর আগে 'সুম্মা' (অতঃপর) যোগ করার প্রয়োজন নেই, যদিও ইলম অন্বেষণের সাথে সম্পৃক্ত কিছু মানুষের মুখে এটি বহুল প্রচলিত যে, তারা যখন আল্লাহর প্রশংসা এবং দরুদ পাঠ করেন, তখন 'সুম্মা আম্মা বাদু' বলেন। আপনার 'সুম্মা' বলার প্রয়োজন নেই, কারণ মূল পাঠ্যসমূহে (নصوص) এই অব্যয়টি পাওয়া যায় না। আপনি যদি ভূমিকা শেষে 'আম্মা বাদু' দিয়ে শুরু করার পর পুনরায় অন্য একটি প্রসঙ্গে যাওয়ার জন্য কোনো অব্যয়ের প্রয়োজন বোধ করেন, তবে আপনি 'সুম্মা' ব্যবহার করতে পারেন যা পূর্বের প্রসঙ্গের সাথে পরবর্তী বিষয়কে সংযুক্ত করবে।
পূর্বসূরিদের কোনো রচনায় আমি এটি খুঁজে পাইনি, কেবল তাফসীরে তাবারীর একটি পাণ্ডুলিপিতে তা দেখা যায়। যদিও মাহমুদ শাকের এটি গ্রহণ করেছেন—যিনি এই কিতাবটি সম্পাদনা করেছেন এবং তিনি একজন শীর্ষস্থানীয় গবেষক—যাই হোক, মূল বিবেচ্য বিষয় হলো যা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে।
"অতঃপর, নিশ্চয়ই জ্ঞানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মহিমান্বিত হলো..." নিঃসন্দেহে জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে জ্ঞাত বিষয়ের মর্যাদার ওপর। "আস-সামাদ আল-কাইয়ুমের (পরম অমুখাপেক্ষী ও চিরস্থায়ী সত্তার) কিতাবের পর" অর্থাৎ মহান আল্লাহর কিতাবের পর যা সকল কিতাবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। সমগ্র বাণীর ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব তেমন, যেমন তাঁর সৃষ্টির ওপর মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব। আমরা এখানে কুরআনের মর্যাদা বা আল্লাহর কিতাবের প্রতি মনোনিবেশ করার গুরুত্ব বর্ণনার পর্যায়ে নেই, কারণ সেটির জন্য অন্য উপলক্ষ রয়েছে। উপস্থিত কারো কাছেই বিষয়টি অস্পষ্ট নয় বলে আমি মনে করি। তবে আমাদের আলোচনা হলো আস-সামাদ আল-কাইয়ুমের কিতাবের পরবর্তী বিষয় নিয়ে, আর তা হলো হাদিস শাস্ত্র। হাদিস শাস্ত্র একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান।
হাদিস শাস্ত্র, যেহেতু তা হলো সেই ব্যাখ্যা
… . . . . . . . . .
মহান আল্লাহর কিতাবের পর এটি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। হাদিস শাস্ত্র হলো তা-ই যা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কথা, কাজ, মৌনসম্মতি বা বৈশিষ্ট্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। কেন? কারণ এটি মহান আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা স্বরূপ।
হাদিস শাস্ত্র, যেহেতু তা হলো সেই ব্যাখ্যা
… যার মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।
"আর আমি আপনার প্রতি এই যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি"—কিসের জন্য? "যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করে ব্যক্ত করেন" [সূরা আন-নাহল: ৪৪]। এটিই নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের দায়িত্ব—তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে তা ব্যক্ত করা। সুন্নাহ এমন অনেক বিধান স্বতন্ত্রভাবে প্রদান করেছে যা কুরআনে নেই; কারণ এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী। "আর তিনি নিজের খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়" [সূরা আন-নাজম: ৩-৪]। সুতরাং নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম যা কিছু নিয়ে আসেন তা মহান আল্লাহর সেই বাণীরই ব্যাখ্যা যা সংক্ষেপে বলা হয়েছে: "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি" [সূরা আল-আনআম: ৩৮]।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
علم الحديث إذ هو البيانُ
… لما به قد أنزل القرآنُ
القرآن يشتمل على مجمل بينته السنة، والبيان يأخذ حكم المبين.
فسنة الرسول وحيٌ ثاني
… . . . . . . . . .
كما جاء في قوله -جل وعلا-: {وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَى * إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [(3 - 4) سورة النجم] والخلاف بين أهل العلم في النبي عليه الصلاة والسلام هل له أن يجتهد ويصدر حكماً من تلقاء نفسه لم يتلقَ فيه عن الله عز وجل خبر أو ليس له ذلك؟ والجمهور على أن له أن يجتهد إلا أنه لا يقر على خلاف الأولى، وقصة فداء الأسرى مثالٌ على ذلك.
فسنة الرسول وحيٌ ثاني
… عليهما قد أطلق الوحيانِ
فالكتاب والسنة هما الوحيان، وإذا قيل: نصوص الوحيين فالمراد بذلك نصوص الكتاب والسنة، وأُلف كتاب اسمه: (تيسير الوحيين بالاقتصار على القرآن مع الصحيحين) فكرة هذا الكتاب أننا لسنا بحاجة إلى أي كتابٍ على وجه الأرض إلا القرآن والبخاري ومسلم، هذا من باب التيسير على المتعلمين، هذا هدف المؤلف، وهذا قصده، وقد عرف بالعلم والعمل إلا أنه في هذه المسألة أخطأ، أخطأ فإنه يصفو من كتب السنة من الصحيح الزائد على الصحيحين الشيء الكثير، وفي صنيعه هذا إهدار لجلّ السنة، وإن كان ابن الأخرم يقول:
. . . . . . . . . لكن قلّما
… عند ابن الأخرم منه قد فاتهما
يعني قليل الذي فات الصحيحين مما لم يذكرها، نقول: لا، ولذا قال الحافظ العراقي:
ورُد -يعني كلام ابن الأخرم-
ورد لكن قال يحيى البرُّ
… لم يفت الخمسة إلا النذرُ
وفيه ما فيه -يعني كلام يحيى الذي هو النووي-
وفيه ما فيه لقول الجعفي
… أحفظُ منه عشر ألف ألفِ
হাদিস শাস্ত্র যেহেতু বর্ণনা
… যার মাধ্যমে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে
কুরআন এমন কিছু সংক্ষিপ্ত বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা সুন্নাহ স্পষ্ট করেছে, আর ব্যাখ্যাটি মূল ব্যাখ্যাত বিষয়ের বিধানই গ্রহণ করে।
সুতরাং রাসূলের সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় ওহী
… . . . . . . . . .
যেমনটি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।} [(৩ - ৪) সূরা আন-নাজম] আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে, তাঁর কি ইজতিহাদ করার এবং নিজের পক্ষ থেকে কোনো হুকুম দেওয়ার অধিকার আছে যে বিষয়ে তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ পাননি, নাকি তাঁর সেই অধিকার নেই? জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের মত হলো, তাঁর ইজতিহাদ করার অবকাশ রয়েছে, তবে উত্তম পদ্ধতির পরিপন্থী কোনো বিষয়ের ওপর তাঁকে বহাল রাখা হয় না; আর যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণ গ্রহণের ঘটনাটি এর একটি উদাহরণ।
সুতরাং রাসূলের সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় ওহী
… এ দুটির ওপরই 'ওহীদ্বয়' শব্দটির প্রয়োগ করা হয়েছে
অতএব কুরআন এবং সুন্নাহ হলো ওহীদ্বয়। আর যখন বলা হয়: ওহীদ্বয়ের নসসমূহ, তখন এর দ্বারা কুরআন ও সুন্নাহর নসসমূহ উদ্দেশ্য হয়। এ বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচিত হয়েছে যার নাম: (তায়সিরুল ওয়াহিয়াইন বিল ইক্তিসার আলাল কুরআন মাআস সহীহাইন - কুরআন ও দুই সহীহ গ্রন্থের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার মাধ্যমে ওহীদ্বয়ের সহজীকরণ)। এই বইটির মূল ধারণা হলো, পৃথিবীতে কুরআন, বুখারী ও মুসলিম ছাড়া আমাদের অন্য কোনো বইয়ের প্রয়োজন নেই; এটি মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ করার একটি প্রয়াস। এটিই লেখকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল এবং তিনি ইলম ও আমলের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তবে এই মাসআলায় তিনি ভুল করেছেন; তিনি ভুল করেছেন কারণ সুন্নাহর অন্যান্য গ্রন্থসমূহে দুই সহীহ গ্রন্থের অতিরিক্ত অনেক সহীহ হাদিস বিদ্যমান রয়েছে। তাঁর এই কর্মপদ্ধতি সুন্নাহর একটি বিশাল অংশকে বিলুপ্ত করার নামান্তর, যদিও ইবনুল আখরাম বলেন:
. . . . . . . . . কিন্তু ইবনুল আখরামের মতে
… খুব সামান্যই ঐ দুই গ্রন্থ থেকে বাদ পড়েছে
অর্থাৎ, দুই সহীহ গ্রন্থে যা উল্লেখ করা হয়নি তার পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। আমরা বলি: না, এ কারণেই হাফিজ ইরাকী বলেছেন:
এবং এটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে -অর্থাৎ ইবনুল আখরামের কথাটি-
প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তবে পুণ্যবান ইয়াহইয়া বলেছেন
… পাঁচ কিতাব থেকে নগণ্য পরিমাণ ছাড়া আর কিছুই বাদ পড়েনি
আর এর মধ্যে আপত্তির অবকাশ আছে -অর্থাৎ ইয়াহইয়া তথা ইমাম নববীর কথার মধ্যে-
আর এতে আপত্তির অবকাশ আছে জুফীর (ইমাম বুখারী) উক্তির কারণে
… আমি এটি (সহীহ বুখারী) থেকে দশ লক্ষ হাদিস বেশি মুখস্থ রাখি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يعني يحفظ مائة ألف، والكتب الخمسة ليس فيها من غير تكرار، ولا ربع هذا المقدار، بل ولا نصف ولا الثمن، المقصود أنه يصفو من صحيح السنة الزائد على الصحيحين الشيء الكثيرة، فهذه الدعوى التي وجهها وألف فيها على أنه مجتهد لكنه أخطأ في اجتهاده، وكل دعوةٍ تظهر على هذه البسيطة لا تخلو من مؤيد، ولذا وجد فرقة طائفة تدعو إلى الاقتصار على القرآن وعلى الصحيحين، لكن مثل ما ذكرنا هذا يهدر أكثر السنة، نعم العناية بكتاب الله عز وجل لا يناقش فيها أحد، العناية بكتب السنة لا سيما صحيح البخاري ثم صحيح مسلم لا يماري في ذلك أحد، لكن ليس معنى هذا أنك تقف، كمن حديث صحيح في مسند الإمام أحمد لا يوجد في الستة فضلاً عن الصحيحين وغيرها من دواوين الإسلام المعتبرة عند أهل العلم، وأوردنا هذا الكلام لأن هذه الفكرة لها رواج، نعم هي فيها تيسير وفيها حصر للعلم وإدراك للعلم في أقصر مدة، لكن يبقى أن فيها تضييع وإهدار، يعني لو إنسان قال: أنا باقتصر على الصحيحين قراءة ودراسة وإقراءً وفهماً ما يلام، لكن لا يتضمن كلامه هذا إهدار لبقية الكتب.
بالطرف المقابل وهذا أيضاً مما يعاب على بعض المتعلمين شغفهم بالإغراب، فتجد بعض مبتدئ الطلبة يُعنى بأجزاء غير معروفة، معاجم غير مشهورة، مشيخات مسلسلات، نعم فيها طرق لأحاديث أصولها معروفة، ولا يلام من بدأ بالأهم فالمهم كما يقول الشيخ حافظ -رحمه الله تعالى- في قصيدته الميمية:
بالمهم المهم ابدأ لتدركه
… وقدم النص والآراء فاتهمِ
اتهم الآراء، نعم لا تذهب إلى الإغراب تذهب إلى جزء كذا جزء كذا مشيخة كذا، معجم كذا وأنت لا تعرف الصحيحين، هذا خلل في منهجية التحصيل، وقلَّ أن يفلح من يتخبط مثل هذه التخطبات، ويترك الأهم ويذهب إلى ما دونه.
فطالب العلم يوصى بأن يعنى بكتاب الله عز وجل الذي مجرد تلاوته عبادة، ثم بعد ذلك يثني بأصح الكتب بعد كتاب الله عز وجل، وهو صحيح البخاري، ثم يثلث بصحيح مسلم، ثم السنن، ثم المسانيد إلى آخره.
অর্থাৎ তিনি এক লক্ষ (হাদীস) মুখস্থ করেন। আর পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে পাঁচটি কিতাবের মধ্যে এই পরিমাণের এক-চতুর্থাংশও নেই, এমনকি অর্ধেক বা এক-অষ্টমাংশও নেই। মূল কথা হলো, সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বহির্ভূত সহীহ সুন্নাহর অনেক কিছুই অবশিষ্ট থেকে যায়। তিনি যে দাবিটি করেছেন এবং যে বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তা একজন মুজতাহিদ হিসেবেই করেছেন, তবে তিনি তার ইজতিহাদে ভুল করেছেন। এই পৃথিবীতে যত দাবিই প্রকাশিত হয়, তার কোনো না কোনো সমর্থক থাকেই। আর এই কারণেই এমন এক দলের উদ্ভব হয়েছে যারা কেবল কুরআন এবং সহীহাইনের ওপর সীমাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়। কিন্তু আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, এটি সুন্নাহর অধিকাংশ অংশকেই নষ্ট করে দেয়। হ্যাঁ, মহান আল্লাহর কিতাবের প্রতি যত্নবান হওয়ার বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না। সুন্নাহর কিতাবসমূহ, বিশেষ করে সহীহ বুখারী ও এরপর সহীহ মুসলিমের প্রতি যত্নবান হওয়ার বিষয়েও কেউ বিতর্ক করে না। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে আপনি এখানেই থেমে যাবেন। ইমাম আহমাদের মুসনাদে এমন কত সহীহ হাদীস রয়েছে যা কুতুবে সিত্তা (ছয় কিতাব), এমনকি সহীহাইন বা আহলে ইলমদের নিকট গ্রহণযোগ্য ইসলামের অন্যান্য প্রামাণ্য মূল কিতাবগুলোতেও নেই। আমরা এই কথাগুলো এজন্যই উল্লেখ করেছি কারণ এই ধারণাটির বর্তমানে বেশ প্রসার রয়েছে। হ্যাঁ, এতে সহজসাধ্যতা আছে এবং স্বল্পতম সময়ে ইলম অর্জন ও আয়ত্ত করার সুযোগ আছে, কিন্তু তবুও এতে ইলমের অনেক অংশ হারিয়ে যাওয়া ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি যদি বলে: 'আমি কেবল সহীহাইন পাঠ, অধ্যয়ন, অধ্যাপনা এবং উপলব্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকব', তবে তাকে নিন্দা করা যাবে না; কিন্তু তার এই বক্তব্যের মধ্যে যেন অবশিষ্ট কিতাবগুলোকে অবজ্ঞা করার বিষয়টি না থাকে।
এর বিপরীত দিকে, এমন আরও একটি বিষয় যা কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে দোষণীয় মনে করা হয়, তা হলো অপরিচিত ও দুর্লভ বিষয়ের প্রতি তাদের অতিশয় আগ্রহ। আপনি দেখবেন কিছু নবীণ শিক্ষার্থী এমন সব অজ্ঞাত 'জুয' (হাদীসের ক্ষুদ্র সংকলন), অখ্যাত 'মু'জাম' (অভিধান বা সংকলন), 'মাশয়াখাত' (শিক্ষক তালিকা) ও 'মুসালসালাত' (ধারাবাহিক সূত্র) নিয়ে মগ্ন থাকে। হ্যাঁ, এগুলোতে এমন সব হাদীসের সূত্র থাকে যেগুলোর মূল পাঠ সুপরিচিত। আর যে ব্যক্তি অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করে তাকে নিন্দা করা হয় না, যেমনটি শায়খ হাফিয -রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা- তাঁর মিমিয়া কবিতায় বলেছেন:
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দিয়ে শুরু করো যাতে তা আয়ত্ত করতে পারো
… আর নসকে (কুরআন-সুন্নাহর পাঠ) অগ্রাধিকার দাও এবং ব্যক্তিগত মতামতের প্রতি সংশয় পোষণ করো।
ব্যক্তিগত মতামতকে অভিযুক্ত করো (অর্থাৎ সংশয় রাখো)। হ্যাঁ, অপরিচিত ও দুর্লভ বিষয়ের দিকে যেয়ো না; অমুক জুয, অমুক জুয, অমুক মাশয়াখাত বা অমুক মু'জামের পেছনে ছুটো না যখন তুমি সহীহাইন সম্পর্কেই ঠিকমতো জানো না। এটি শিক্ষা অর্জনের পদ্ধতির ক্ষেত্রে একটি ত্রুটি। যারা এমনভাবে লক্ষ্যহীনভাবে পথ চলে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছেড়ে নিম্নমানের বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়, তারা খুব কমই সফল হয়।
তাই তালিবে ইলম বা জ্ঞানান্বেষীকে উপদেশ দেওয়া হয় যে, সে যেন প্রথমে মহান আল্লাহর কিতাবের প্রতি যত্নবান হয়, যার কেবল তিলাওয়াতই একটি ইবাদত। এরপর আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব অর্থাৎ সহীহ বুখারীর প্রতি মনোনিবেশ করবে। অতঃপর তৃতীয়ত সহীহ মুসলিম, এরপর সুনান গ্রন্থসমূহ, তারপর মুসনাদসমূহ—এভাবে ক্রমান্বয়ে অগ্রসর হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذا الترتيب الطبيعي للطلب، نعم أما إذا كان مبتدئاً له كتب تناسبُ مستواه العلمي إذا ترقى بعد ذلك إلى الطبقة الثانية له كتب، إلى الثالثة إلى الرابعة هذه جواد مطروقة عند أهل العلم، ليس معنى هذا أننا نقول لأول من بدأ: عليك بكتاب الله واعتنِ به وتفاسيره واقرأ كل شيء يدور حوله، إذا انتهيت من جميع التفاسير انصرف إلى السنة، أو نقول: في بداية الطلب ابدأ في البخاري ثم مسلم قبل المتون التي هي مثل الجواد عند أهل العلم؛ تسهل ما بعدها من متون أكبر منها إلى أن يرتقي طالب العلم على الطريقة المرسومة عند أهل العلم في كل علمٍ من العلوم.
الدهلوي له كلام في ترتيب كتب السنة، والبداءة بها، يقول: ينبغي أن يبدأ طالب العلم بسنن أبي داود والترمذي قبل الصحيحين؛ لأن الفائدة قريبة جداً سهلة منهما، أما صحيح البخاري لا شك أن فيه صعوبة، لكن من اعتاده وتمرن عليه يجد فيه متعة لا يدانيها أي كتاب، حاشا كلام الله عز وجل، كلام الله عز وجل يردده العالم والمتعلم والعامي باستمرار ولا يخلق عن كثرة الرد، ولا تنقضي عجائبه، وكلما ازداد المسلم فضلاً عن طالب العلم أو العالم قراءةً وتدبراً لكتاب الله عز وجل ازداد نهماً به وشغفاً، لكن صحيح البخاري بعد كتاب الله عز وجل كما هو معروف، والمقارنة ليست واردة بين كلام الله عز وجل وكلام المخلوقين، لكن يبقى أن كتاب البخاري من يعنى به يجد فيه بغيته، ومن يجعله ديدناً له بعد كتاب الله عز وجل يجد فيه من العجائب ما لا يخطر على باله، ثم بعد ذلك ينصرف بعده إلى صحيح مسلم، ثم الترتيب المعروف السنن، والسنن مرتبتها تلي الصحيحين، والمقصود بذلك السنن الأربعة، ثم بعد ذلكم المسانيد بعد السنن.
ودونها في رتبةٍ ما جعلا
… على المسانيد فيدعى جفلا
المقصود أن الكلام في هذا الباب يطول، وله أوقاته -إن شاء الله تعالى-.
فسنة الرسول وحيٌ ثاني
… . . . . . . . . .
وين فهد؟ فهد موجود؟ انتهى؟. . . . . . . . . يعني كم حد الدرس؟ مدري والله.
طالب:. . . . . . . . .
حد الدرس في قدر محدد وإلا لا؟ الوقت الزمني؟
طالب:. . . . . . . . .
জ্ঞান অর্জনের এটিই স্বাভাবিক ক্রম। হ্যাঁ, তবে শিক্ষার্থী যদি শিক্ষানবিশ হয়, তবে তার জন্য এমন কিছু কিতাব রয়েছে যা তার জ্ঞানতাত্ত্বিক স্তরের সাথে মানানসই। এরপর যখন সে দ্বিতীয় স্তরে উন্নীত হয়, তখন তার জন্য নির্দিষ্ট কিতাব রয়েছে, এভাবে তৃতীয় ও চতুর্থ স্তর। এগুলো আলেমদের নিকট সুপরিচিত ও অনুসৃত পথ। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা একদম শুরুতে থাকা ব্যক্তিকে বলব: তুমি আল্লাহর কিতাব ধরো, এর প্রতি মনোনিবেশ করো, এর তাফসীরসমূহ পড়ো এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু অধ্যয়ন করো; আর যখন তুমি সকল তাফসীর শেষ করবে, তখন সুন্নাহর দিকে মনোনিবেশ করো। অথবা আমরা বলব: জ্ঞান অর্জনের শুরুতে সেইসব 'মতুন' (মূল পাঠ্য) পড়ার আগেই বুখারী ও মুসলিম দিয়ে শুরু করো, যেগুলো আলেমদের নিকট রাজপথের মতো; অথচ এই মতুনগুলো পরবর্তী বড় কিতাবগুলো বোঝা সহজ করে দেয়। এভাবে ইলম অন্বেষী প্রত্যেকটি শাস্ত্রের ক্ষেত্রে আলেমদের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে উন্নতি লাভ করবে।
সুন্নাহর কিতাবসমূহের বিন্যাস এবং তা শুরু করার ব্যাপারে দেহলভীর কিছু বক্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন: ইলম অন্বেষীর উচিত সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) পড়ার আগে সুনানে আবু দাউদ ও তিরমিযী দিয়ে শুরু করা; কারণ এ দুটি থেকে ফায়দা অর্জন করা অত্যন্ত সহজ ও নিকটবর্তী। আর সহীহ বুখারীর ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই যে তাতে কিছুটা কাঠিন্য রয়েছে, কিন্তু যে ব্যক্তি এতে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং অনুশীলন করে, সে এতে এমন এক স্বাদ পায় যার সমতুল্য কোনো কিতাব নেই—মহান আল্লাহর কালাম ব্যতীত। আল্লাহর কালাম আলেম, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত তিলাওয়াত করে, যা অধিক পাঠেও কখনো পুরনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলো কখনো শেষ হয় না। একজন মুসলিম—বিশেষ করে একজন তলেবে ইলম বা আলেম—যত বেশি আল্লাহর কিতাব পাঠ ও গবেষণা করবে, ততই এর প্রতি তার আগ্রহ ও অনুরাগ বৃদ্ধি পাবে। তবে যেমনটি সুপরিচিত, আল্লাহর কিতাবের পরেই সহীহ বুখারীর স্থান। আর আল্লাহর কালাম ও সৃষ্টির কালামের মধ্যে কোনো তুলনা চলে না। তবে কথা হলো, যে ব্যক্তি বুখারীর প্রতি মনোনিবেশ করবে, সে তার উদ্দিষ্ট বিষয় এতেই খুঁজে পাবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের পর এটিকে তার নিত্যসঙ্গী বানাবে, সে এতে এমন সব বিস্ময়কর বিষয় খুঁজে পাবে যা তার কল্পনাতেও আসবে না। এরপর সে সহীহ মুসলিমের দিকে মনোনিবেশ করবে, তারপর সুন্নাহর কিতাবসমূহের সুপরিচিত বিন্যাস অনুসরণ করবে। সুনান গ্রন্থসমূহের মর্যাদা সহীহাইনের পরেই; আর এর দ্বারা চার সুনান উদ্দেশ্য। এরপর সুনান গ্রন্থসমূহের পর আসবে মাসানিদ (মুসনাদসমূহ)।
আর মর্যাদার দিক থেকে এর নিচে যা রাখা হয়েছে
… মুসনাদ গ্রন্থসমূহের উপর, তখন তাকে বলা হয় 'জাফালা'
উদ্দেশ্য হলো, এই অধ্যায়ের আলোচনা দীর্ঘ, আর ইনশাআল্লাহ তাআলা এর জন্য উপযুক্ত সময় রয়েছে।
কেননা রাসূলের সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় ওহী
… . . . . . . . . .
ফাহাদ কোথায়? ফাহাদ কি আছে? শেষ হয়েছে? . . . . . . . . . মানে দরসের সীমা কতটুকু? আল্লাহর কসম, আমি জানি না।
ছাত্র:. . . . . . . . .
দরসের সীমা কি নির্দিষ্ট কোনো পরিমাপে, নাকি না? সময়ের ব্যাপ্তি কতটুকু?
ছাত্র:. . . . . . . . .
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ২১)
بس أنا لا أريد أن أمل الإخوان؛ لأن هذا آخر درس في اليوم بعد دروس متعددة أخشى أن يملوا، وإلا الأمر الله المستعان .. ، لكن إذا تمت عشر ونصف فالظاهر أنه ساعة ونصف كافية -إن شاء الله-.
فسنة الرسول وحيٌ ثاني
… عليهما قد أطلق الوحيانِ
جوإنما طريقها الروايةْ
… . . . . . . . . .
طريقها طريق العلم والاطلاع والسنة الرواية؛ لأنها لا تدرك بالرأي، ولو كان الإنسان من أذكى الناس وأقواهم حافظة لا يروي السنة بأي طريقٍ معتبر من طرق التحمل المعروفة عند أهل العلم ماذا يدرك من السنة؟ لا بد من .. ، لأن هذا العلم علم رواية وليس علم رأي.
قد يقول قائل: إننا نسمع من يتصدى لإقراء الناس، وتعليم الناس، وإفتاء الناس، والقضاء بين الناس من بضاعته في هذا الباب قليلة أو مزجاة، ومع ذلكم مشت أموره، نقول: هذا اعتمد على الرأي، نعم قد يوجد عند بعض الناس من الذكاء ما يجعله يفهم، وقد تكون حافظته أقل، فهذا في الغالب ينصرف إلى الرأي؛ لأنه يعجزه حفظ المروي، لكن لا شك أن هذا ينقصه نور الوحي، ولذا تجدون البون الشاسع في كلام من يفتي بـ (قال الله وقال رسوله) ومن يفتي بـ (قال فلان وعلان) وذكر فلان في الكتاب الفلاني أو في الجزء الفلاني، هناك بونٌ شاسع.
وإنما طريقها الرواية
… فافتقر الراوي إلى الدراية
راوي لا يفهم، الراوي بأمس الحاجة أن يعرف ما يروي، وأن يعرف كيف يروي؟ وأن يعرف عمن يروي؟ كل هذا بحاجة إلى بيان، وسيأتي هذا مفصلاً في الأنواع والأبواب اللاحقة -إن شاء الله تعالى-.
فافتقر الراوي إلى الدراية
… . . . . . . . . .
الدراية تقابل الرواية، ولذا يقولون: علم رواية الحديث وعلم دراية الحديث، وكأنهم يجعلون الرواية هي النقل بالوسائط عن النبي عليه الصلاة والسلام، والدراية الفهم، الفهم لهذا المنقول كيف ينقل؟ وما يستنبط منه، وغير ذلك مما يتعلق بدرايته.
بصحة المروي عن الرسولِ
… . . . . . . . . .
كيف يحتج؟ وكيف يستدل من لا يعرف الصحيح من الضعيف؟ كيف يفتي؟ وكيف يعلم من يختلط عليه أمر الصحيح والضعيف؟ لكن نحن في زمنٍ يرعى فيه الهشيم.
ولكن البلاد إذا اقشعرت
… وصوح نبتها رعيا الهشيم
কিন্তু আমি ভাইদের বিরক্ত করতে চাই না; কারণ এটি সারাদিনের একাধিক পাঠের পর শেষ পাঠ, আমি আশঙ্কা করছি তারা হয়তো বিরক্ত হয়ে পড়বেন, অন্যথায় আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়েছে... তবে যদি দশটা বেজে ত্রিশ মিনিট হয়, তবে সম্ভবত দেড় ঘণ্টা যথেষ্ট -ইনশাআল্লাহ-।
সুতরাং রাসূলের সুন্নাহ হলো দ্বিতীয় ওহী
… এই দুটির ওপর 'দুই ওহী' নাম প্রয়োগ করা হয়েছে
আর এর পথ তো কেবল বর্ণনা বা রেওয়ায়েত
… . . . . . . . . .
এর পথ হলো জ্ঞান ও অবগতির পথ এবং সুন্নাহ হলো বর্ণনা বা রেওয়ায়েত; কারণ এটি ব্যক্তিগত মতের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায় না। মানুষ যদি সর্বাধিক বুদ্ধিমান এবং প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারীও হয়, তবুও সে যদি ইলমের ধারকদের নিকট পরিচিত কোনো নির্ভরযোগ্য গ্রহণ-পদ্ধতির মাধ্যমে সুন্নাহ বর্ণনা না করে, তবে সে সুন্নাহ থেকে কী অর্জন করবে? অবশ্যই প্রয়োজন... কারণ এই জ্ঞান হলো বর্ণনার জ্ঞান, ব্যক্তিগত মতের জ্ঞান নয়।
কেউ বলতে পারেন: আমরা এমন ব্যক্তিদের সম্পর্কে শুনি যারা মানুষকে পড়ানোর, শেখানোর, ফতোয়া দেওয়ার এবং বিচার করার দায়িত্ব পালন করছেন, অথচ এই ক্ষেত্রে তাদের পুঁজি সামান্য বা তুচ্ছ। তাসত্ত্বেও তাদের কাজ চলে যাচ্ছে। আমরা বলি: এটি ব্যক্তিগত মতের ওপর নির্ভর করে হয়েছে। হ্যাঁ, কিছু মানুষের মধ্যে এমন মেধা থাকতে পারে যা তাকে বুঝতে সাহায্য করে, আর হয়তো তার স্মৃতিশক্তি কম হতে পারে। ফলে এটি সাধারণত ব্যক্তিগত মতের দিকে ধাবিত হয়; কারণ বর্ণিত বিষয়গুলো মুখস্থ করতে সে অক্ষম। কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি ওহীর নূর থেকে বঞ্চিত। তাই আপনারা যারা "আল্লাহ বলেছেন এবং রাসূল বলেছেন" এর মাধ্যমে ফতোয়া দেন এবং যারা "অমুক অমুক বলেছেন" এবং অমুক কিতাবে বা অমুক খণ্ডে অমুক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন-এর মাধ্যমে ফতোয়া দেন, তাদের কথার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান দেখতে পাবেন। সেখানে এক বিশাল ব্যবধান রয়েছে।
আর এর পথ তো কেবল রেওয়ায়েত
… ফলে বর্ণনাকারী দিরায়া বা উপলব্ধির মুখাপেক্ষী হয়েছে
এমন বর্ণনাকারী যে বোঝে না; বর্ণনাকারীর জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন এটি জানা যে সে কী বর্ণনা করছে? সে কীভাবে বর্ণনা করছে? এবং সে কার থেকে বর্ণনা করছে? এই সবকিছুর বর্ণনার প্রয়োজন রয়েছে, এবং সামনের পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়গুলোতে এটি বিস্তারিতভাবে আসবে -ইনশাআল্লাহ তায়ালা-।
ফলে বর্ণনাকারী দিরায়া বা উপলব্ধির মুখাপেক্ষী হয়েছে
… . . . . . . . . .
দিরায়া হলো রেওয়ায়েতের বিপরীত। এজন্য তারা বলেন: হাদিস বর্ণনার জ্ঞান এবং হাদিস উপলব্ধির জ্ঞান। তারা যেন রেওয়ায়েত বলতে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে মাধ্যমগুলোর সাহায্যে বর্ণনা করাকে বুঝিয়েছেন, আর দিরায়া বলতে বুঝিয়েছেন ফাহম বা উপলব্ধি। অর্থাৎ এই বর্ণিত বিষয়টি কীভাবে বর্ণনা করা হবে? এবং তা থেকে কী উদ্ভাবন করা হবে, এবং দিরায়ার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলি।
রাসূল থেকে বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতার মাধ্যমে
… . . . . . . . . .
যে ব্যক্তি বিশুদ্ধ ও দুর্বল হাদিসের মধ্যে পার্থক্য জানে না, সে কীভাবে দলিল পেশ করবে? কীভাবে প্রমাণ পেশ করবে? যার কাছে বিশুদ্ধ ও দুর্বলের বিষয়টি গোলমেলে হয়ে যায়, সে কীভাবে ফতোয়া দেবে? এবং সে কীভাবে শিক্ষা দেবে? কিন্তু আমরা এমন এক যুগে রয়েছি যেখানে শুকনো ও তুচ্ছ ঘাসই চারণভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কিন্তু ভূমি যখন শুষ্ক ও অনুর্বর হয়ে যায়
… এবং এর উদ্ভিদ শুকিয়ে যায়, তখন মানুষ শুকনো ঘাসই চরায়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ২২)
ولولا ذلك ما جلسنا في هذا المكان، لكن زكاة المال منه، إذا كان المال كله رديء فالزكاة تقبل، والله المستعان.
فافتقر الراوي إلى الدراية
… بصحة المروي عن الرسولِ
وجد بعد عصورِ الرواية من همه بعد عصور الأئمة من همه الرواية؛ ليكون أعلى إسناد في الدنيا، أو أكثر مروي، ولا يحسن ولا يتقن ولا يفهم ماذا يروي؟ بمثل هذا حفظ الله خصيصة هذه الأمة التي هي بقاء سلسلة الإسناد، فسلسلة الإسناد بقاؤها من خصائص هذه الأمة، لكن مثل هذا لا يعول عليه في ما عدا ذلك، فوجد، وجد من لا يفرق بين الصحيح والموضوع المكذوب عن النبي عليه الصلاة والسلام.
الحافظ العراقي -رحمه الله تعالى- سئل عن حديث فقال: هذا لا أصل له، مكذوب عن النبي عليه الصلاة والسلام، فقام شخص ممن ينتسب إلى العلم مع الأسف الشديد من الأعاجم فقال: يا شيخ كيف تقول: موضوع مكذوب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو مروي في كتب السنة بالإسناد؟ فقال: جزاك الله خيراً أحضره لنا لننظر في إسناده، فأحضره من كتاب الموضوعات لابن الجوزي، ابن الجوزي يروي هذه الموضوعات بأسانيدها ويبين، فتعجبوا من كونه لا يعرف موضوع الموضوع، والناس يعجبون في أن يوجد من يدرس ومن يقضي ومن يفتي ومن يعلّم وهو ليس لديه بضاعة من هذا العلم العظيم الشريف، لا شك أن أمره معجب، لأن هذا العلم مع كلام الله -جل وعلا- الأصل، فكيف يبنى على غير أصل؟ فعلينا أن نعنى بالكتاب والسنة، وأن نليهما ما يستحقانه من صرفٍ لجهدٍ، ووقتٍ، وحفظٍ، وفهم.
والتكملة غداً وبعده -إن شاء الله تعالى-، ولا أريد أن أطيل عليكم وأشق عليكم، فأنتم حضرتم دروس متتابعة ولا شك أنكم بحاجة إلى الراحة، والليل قصير، والله أعلم.
وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
هذا سؤال تكرر كثيراً يقول: ظهر ما يعرف بعرض كتب المتأخرين في الحديث على المتقدمين، ثم ذكر بعض الأشخاص الذين يدعون إلى
… ، بعضهم يصرح بنبذ كتب المتأخرين والأخذ مباشرة من كتب المتقدمين، أو الاعتماد على قواعد المتقدمين؟
আর যদি তা না হতো, তবে আমরা এই স্থানে বসতাম না। তবে সম্পদের জাকাত সেই সম্পদ থেকেই হয়; যদি সমস্ত সম্পদই নিম্নমানের হয়, তবে সেই জাকাত কবুল করা হয়। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
ফলে বর্ণনাকারী রাসুলের পক্ষ থেকে বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টির (দিরাইয়াহ) মুখাপেক্ষী হলেন
…রেওয়ায়েতের যুগসমূহের পর এবং ইমামগণের যুগসমূহের পর এমন কিছু লোক পাওয়া গেছে যাদের একমাত্র চিন্তা ছিল রেওয়ায়েত বা বর্ণনা সংগ্রহ করা; যাতে দুনিয়াতে তাদের সনদ (সূত্র) সবচাইতে উঁচু হয় অথবা তাদের বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা বেশি হয়। অথচ সে ভালো করে জানে না, দক্ষও নয় এবং বোঝেও না সে কী বর্ণনা করছে? এভাবেই আল্লাহ এই উম্মতের এই অনন্য বৈশিষ্ট্য রক্ষা করেছেন, যা হলো সনদের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা। কারণ সনদের ধারাবাহিকতা টিকে থাকা এই উম্মতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তবে এ জাতীয় বর্ণনাকারীর ওপর অন্য কোনো ক্ষেত্রে নির্ভর করা যায় না। ফলশ্রুতিতে এমন লোকও পাওয়া গেছে যারা নবি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নামে বর্ণিত বিশুদ্ধ (সহিহ) এবং বানোয়াট ও মিথ্যা (মাউজু) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না।
হাফেজ ইরাকি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-কে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "এর কোনো ভিত্তি নেই, এটি নবি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নামে তৈরিকৃত মিথ্যা।" তখন ইলমের সাথে সম্পৃক্ত একজন অনারব ব্যক্তি অত্যন্ত দুঃখের সাথে দাঁড়িয়ে বললেন: "হে শায়খ! আপনি কীভাবে একে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর তৈরিকৃত মিথ্যা বা বানোয়াট বলছেন, অথচ এটি সুন্নাহর কিতাবসমূহে সনদের সাথে বর্ণিত হয়েছে?" তিনি বললেন: "আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, এটি আমাদের কাছে নিয়ে আসুন যাতে আমরা এর সনদের দিকে তাকাতে পারি।" অতঃপর তিনি সেটি ইবনুল জাওযির 'কিতাবুল মাউজুয়াত' (বানোয়াট হাদিসের কিতাব) থেকে নিয়ে আসলেন। ইবনুল জাওযি এই বানোয়াট হাদিসগুলো সেগুলোর সনদসহই বর্ণনা করেন এবং সেগুলো যে বানোয়াট তা স্পষ্ট করে দেন। তখন তারা আশ্চর্যান্বিত হলেন যে, সেই ব্যক্তি বানোয়াট হাদিসের কিতাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কেই জানে না। মানুষ এতে অবাক হয় যে, এমন ব্যক্তি পাওয়া যায় যে কি না পাঠদান করে, বিচারকার্য পরিচালনা করে, ফতোয়া দেয় এবং শিক্ষা প্রদান করে অথচ এই মহান ও মর্যাদাপূর্ণ ইলম সম্পর্কে তার কোনো পুঁজি নেই। নিঃসন্দেহে বিষয়টি বিস্ময়কর, কারণ এই ইলম মহান আল্লাহর বাণীর সাথে মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত; সুতরাং মূল ভিত্তি ছাড়া কীভাবে কোনো কিছু বিনির্মাণ করা সম্ভব? অতএব আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং এগুলোর পেছনে প্রয়োজনীয় শ্রম, সময়, মুখস্থকরণ ও বুঝার ক্ষেত্রে যতটুকু পাওনা তা প্রদান করা।
এর অবশিষ্টাংশ ইনশাআল্লাহ তাআলা আগামীকাল এবং তার পরের দিন সম্পন্ন হবে। আমি আপনাদের জন্য কথা দীর্ঘ করতে চাই না এবং আপনাদের কষ্ট দিতে চাই না। আপনারা ধারাবাহিক দরসসমূহে উপস্থিত হয়েছেন এবং নিঃসন্দেহে আপনাদের বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে, আর রাতও সংক্ষিপ্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা ও রাসুল, আমাদের নবি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন।
আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
এটি একটি প্রশ্ন যা বারবার এসেছে; প্রশ্নকারী বলছেন: হাদিসের ক্ষেত্রে 'মুতাআখখিরিন' বা পরবর্তী যুগের আলেমদের কিতাবসমূহকে 'মুতাকাদ্দিমিন' বা পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের মানদণ্ডে যাচাই করার একটি প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে। এরপর তিনি এমন কিছু ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যারা আহ্বান জানাচ্ছেন
… , তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তী যুগের আলেমদের কিতাবসমূহ বর্জন করার এবং সরাসরি পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের কিতাবসমূহ গ্রহণ করার অথবা পূর্ববর্তী যুগের আলেমদের মূলনীতিসমূহের ওপর নির্ভর করার কথা স্পষ্টভাবে বলছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
نظير هذه الدعوى وهي صادرة من أناس -نحسبهم والله حسيبهم- من أهل الغيرة على هذا العلم، نظير هذه الدعوى أو الدعوة إلى الاجتهاد والاعتماد على النصوص من الكتاب والسنة ونبذ كتب الفقه، والكتب التي تعين على فهم كتب أهل العلم من باب أولى من كتب أصول الفقه وغيرها.
المتأخرون الذين قعدوا وألفوا في قواعد الحديث ومصطلح الحديث، وفي أصول الفقه، وفي علوم القرآن، وقل مثل هذا في علوم الآلة كلها، إنما اعتمدوا في تقعيدهم على كلام المتقدمين مع تطبيق كلامهم النظري على مواقع استعمالهم العملي، فلم يأتوا بشيء جديد من عندهم.
نعم المتأخرون جعلوا هذه القواعد مطردة، والمتقدمون لا يعرف عنهم قواعد مطردة، لا سيما في المسائل العملية، في تعارض الوصل والإرسال، والوقف والرفع، والحكم بالعلة والشذوذ، وأيضاً زيادة الثقة وغيرها.
المتقدمون يحكمون بالقرائن، والمتأخرون ألفوا في هذا العلم وقعدوا قواعد مطردة، كلٌ على حسب ما ترجح له من كلام المتقدمين، فمنهم على سبيل المثال من يقول: تقبل زيادة الثقة مطلقاً لأنها زيادة، ويؤيد كلامه بكلام المتقدمين، ويذكر لهذا الكلام أمثلة كثيرة من صنيع المتقدمين، ومنهم من يقول: لا تقبل مطلقاً، ويذكر أمثلة يستدل بها من صنيع المتقدمين على ما ذهب إليه.
أقول: الدعوة التي صدرت للتقليل من شأن كتب المتأخرين، أو لإعادة النظر في كتب المتأخرين صدرت من أناس قد تأهلوا، وألقيت هذه الدعوة على مبتدئين، كما قيل قبل ربع قرن أو أكثر من الزمان بنبذ كتب الفقه، والأخذ مباشرة من الكتاب والسنة، كيف نعتمد على أقوال البشر هم رجال ونحن رجال والنصوص عندنا؟ نقول: يا أخي كلامك صحيح، لكن هذا بالنسبة لمن تأهل، واستطاع أن يستنبط مباشرة من الكتاب والسنة، لكن لا يمكن أن يتأهل حتى يمر على كتب المتأخرين، لا يمكن، كيف نقول لشخص مبتدئ: تفقه من الكتاب والسنة وهو لا يعرف العام من الخاص والمطلق ....
এই দাবির সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়টি এমন কিছু মানুষের পক্ষ থেকে এসেছে—যাদের আমরা ভালো মনে করি এবং আল্লাহই তাদের প্রকৃত হিসাব গ্রহণকারী—যারা এই ইলমের প্রতি অত্যন্ত উৎসাহী। এই দাবি বা ইজতিহাদ করার এবং কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যের (নস) ওপর নির্ভর করার এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ বর্জন করার আহ্বানটি, আর প্রথমত এমন কিতাবসমূহ বর্জন করার আহ্বান যা ইলম অর্জনকারীদের কিতাবসমূহ বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক হয় যেমন উসূলে ফিকহ এবং অন্যান্য কিতাব।
পরবর্তী যুগের আলিমগণ যারা হাদিসের মূলনীতি ও পরিভাষা, উসূলে ফিকহ এবং উলূমুল কুরআনের ক্ষেত্রে মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন ও কিতাব লিখেছেন—আর অন্যান্য সহায়ক শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য—তারা আসলে তাদের মূলনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আলিমদের বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করেছেন। তারা পূর্ববর্তীদের তাত্ত্বিক কথাগুলোকে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে মিলিয়ে দেখেছেন; ফলে তারা নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন কিছু নিয়ে আসেননি।
হ্যাঁ, পরবর্তী আলিমগণ এই মূলনীতিগুলোকে সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক করেছেন, অথচ পূর্ববর্তী আলিমদের ক্ষেত্রে এমন সুশৃঙ্খল মূলনীতি দেখা যায় না; বিশেষ করে ব্যবহারিক মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে, যেমন—ওয়াসল ও ইরসাল (হাদিস যুক্ত হওয়া ও বিচ্ছিন্ন হওয়া), ওয়াকফ ও রাফা (হাদিস সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে থামা ও রাসূলের দিকে উন্নীত হওয়া) এর মধ্যকার বৈপরীত্য, ইল্লাত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) ও শায (অস্বাভাবিকতা) এর ভিত্তিতে হুকুম প্রদান, এবং সিকাহ রাবির অতিরিক্ত বর্ণনা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে।
পূর্ববর্তী আলিমগণ পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে ফয়সালা দিতেন। আর পরবর্তী আলিমগণ এই শাস্ত্রে কিতাব রচনা করেছেন এবং সুশৃঙ্খল মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন—প্রত্যেকেই পূর্ববর্তী আলিমদের বক্তব্যের মধ্য থেকে যা তার কাছে অগ্রাধিকারযোগ্য মনে হয়েছে সেই অনুযায়ী। উদাহরণস্বরূপ, তাদের মধ্যে কেউ বলেন: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা নিঃশর্তভাবে কবুল করা হবে কারণ এটি একটি অতিরিক্ত তথ্য। তিনি তার এই বক্তব্যকে পূর্ববর্তী আলিমদের বক্তব্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করেন এবং পূর্ববর্তীদের কর্মপদ্ধতি থেকে এর অনেক উদাহরণ পেশ করেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলেন: এটি মোটেও কবুল করা হবে না, এবং তিনি যা অবলম্বন করেছেন তার স্বপক্ষে পূর্ববর্তীদের কর্মপদ্ধতি থেকে বিভিন্ন উদাহরণ পেশ করেন।
আমি বলি: পরবর্তী আলিমদের কিতাবসমূহের গুরুত্ব কমানোর জন্য অথবা পরবর্তী আলিমদের কিতাবসমূহ নতুনভাবে পর্যালোচনার জন্য যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা এমন কিছু মানুষের পক্ষ থেকে এসেছে যারা যোগ্যতাসম্পন্ন। কিন্তু এই আহ্বানটি প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রচার করা হয়েছে। যেমনটি আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর বা তারও বেশি সময় আগে ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ বর্জন করে সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গ্রহণের কথা বলা হয়েছিল। তারা বলেছিল: 'কীভাবে আমরা মানুষের কথার ওপর নির্ভর করব? তারাও মানুষ, আমরাও মানুষ; আর আমাদের কাছে তো দলীল বিদ্যমান রয়েছে।' আমরা বলি: হে আমার ভাই! আপনার কথা সঠিক, কিন্তু তা কেবল তাদের জন্য যারা যোগ্যতাসম্পন্ন এবং যারা সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বিধান আহরণ করতে সক্ষম। কিন্তু পরবর্তী আলিমদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন না করা পর্যন্ত এ যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব নয়, মোটেও সম্ভব নয়। কীভাবে আমরা একজন প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে বলতে পারি: 'কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ বা গভীর জ্ঞান অর্জন করো', অথচ সে 'আম' (সাধারণ), 'খাস' (বিশেষ) এবং 'মুতলাক' (শর্তহীন) সম্পর্কেই অবগত নয়....
(খণ্ড: ১)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: -)
شرح اللؤلؤ المكنون في أحوال الأسانيد والمتون القسم: علوم الحديث
الكتاب: شرح اللؤلؤ المكنون في أحوال الأسانيد والمتون
مؤلف الأصل: حافظ بن أحمد بن علي الحكمي (ت 1377هـ)
الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير
دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير
[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]
تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432
আল-লু’লু’ আল-মাকনুন ফি আহওয়ালিল আসানিদি ওয়াল মুতূন-এর ব্যাখ্যা বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র
কিতাব: আল-লু’লু’ আল-মাকনুন ফি আহওয়ালিল আসানিদি ওয়াল মুতূন-এর ব্যাখ্যা
মূল লেখক: হাফিয বিন আহমাদ বিন আলী আল-হাকামী (মৃত্যু ১৩৭৭ হিজরী)
ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর
শাইখ খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত অডিও পাঠের প্রতিলিপি
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে، খণ্ড নম্বরটিই মূলত পাঠের নম্বর - ৮টি পাঠ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররাম ১৪৩২
(খণ্ড: ২)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ১)
شرح نظم: (اللؤلؤ المكنون في أحوال الأسانيد والمتون) (2)
شرح أبيات المقدمة والشروع في الكلام على المتواتر.
الشيخ/ عبد الكريم بن عبد الله الخضير
كيف نقول لشخص مبتدئ: تفقه من الكتاب والسنة وهو لا يعرف العام من الخاص، المطلق من المقيد، الناسخ من المنسوخ، المجمل من المبين، ما يعرف شيء كيف نقول له هذا؟ كيف يعمل العامي ومن في حكمه؟ ومعروفٌ أن العامي فرضه سؤال أهل العلم وهو التقليد، وفي حكمه من لم يتأهل من مبتدئي الطلبة هؤلاء فرضهم التقليد وسؤال أهل العلم، وبالنسبة للمتعلمين المبتدئين هؤلاء بدلاً من أن يسألوا أهل العلم في كل مسألةٍ مسألة يقرؤوا في كتبهم، وإذا أشكل عليهم شيء يسألون، وهم في طريقهم إلى التأهل للتفقه من الكتاب والسنة {فَاسْأَلُواْ أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [(43) سورة النحل] فإذا كان الطالب المبتدئ يقال له: اجتهد، خذ من الكتاب والسنة، يالله ابدأ بالقرآن، ثم يأتي في أول موضع آية مطلقة ماذا يصنع؟ ولها ما يقيدها، سيأتيه بعد حين يعمل بالمطلق على إطلاقه، إذا واجهه في أول القرآن أو أول البخاري حديث منسوخ أو آية منسوخة ماذا يصنع وهو لم يتأهل؟ صادفت هذه الدعوة قلوباً خالية من أوساط المتعلمين، وهي مثل ما ذكرت هي متعينة بالنسبة للمتأهلين، ونختلف معهم في شيء واحد، وهو أن هذا الكلام يلقى للمبتدئين بس لا أكثر ولا أقل، من تأهل الأصل الكتاب والسنة، عليه أن يتفقه من الكتاب والسنة، لكن إذا قرأ في صحيح مسلم "باب: الأمر بقتل الكلاب" وأخذ المسدس وقد حصل، وكل ما رأى من كلب أفرغ في رأسه رصاصة، ودرس الغد: باب: نسخ الأمر بقتل الكلاب، مثل هذا يقال: اجتهد تفقه من الكتاب والسنة.
নজম বা কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা: (আল-লুলু আল-মাকনুন ফি আহওয়ালিল আসানিদ ওয়াল মুতুন - সনদ ও মতনসমূহের অবস্থার বর্ণনায় লুক্কায়িত মুক্তা) (২)
ভূমিকার শ্লোকগুলোর ব্যাখ্যা এবং মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হাদীস) প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু।
শায়খ আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর
একজন নবিশ বা প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীকে আমরা কীভাবে বলতে পারি: 'কিতাব ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জন করো', অথচ সে আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), মুতলাক (নিঃশর্ত) ও মুকায়্যাদ (শর্তযুক্ত), নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত), এবং মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) ও মুবাইয়্যান (বিশদ)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে জানে না? সে যখন কিছুই জানে না, তখন আমরা তাকে কীভাবে এটি বলতে পারি? একজন সাধারণ মানুষ এবং যারা তাদের স্থলাভিষিক্ত, তারা কীভাবে আমল করবে? এটি সর্বজনবিদিত যে, একজন সাধারণ মানুষের কর্তব্য হলো আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা, যা মূলত তাকলিদ (অনুসরণ)। আর প্রাথমিক স্তরের যে সকল শিক্ষার্থী এখনো যোগ্য হয়ে ওঠেনি, তারাও তাদের স্থলাভিষিক্ত; তাদের কর্তব্যও হলো তাকলিদ করা এবং আলেমদের নিকট জিজ্ঞাসা করা। আর প্রাথমিক স্তরের এই শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো—প্রতিটি মাসআলায় আলেমদের জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে তারা তাদের কিতাবসমূহ পড়বে এবং যখন কোনো বিষয় তাদের নিকট অস্পষ্ট মনে হবে তখন তারা জিজ্ঞাসা করবে। তারা তো কিতাব ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জনের যোগ্যতা অর্জনের পথেই রয়েছে। {সুতরাং তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো, যদি তোমরা না জানো} [(৪৩) সূরা আন-নাহল]। সুতরাং যদি একজন নবিশ ছাত্রকে বলা হয়: 'ইজতিহাদ করো, কিতাব ও সুন্নাহ থেকে সরাসরি গ্রহণ করো, এসো কুরআন দিয়ে শুরু করো', এরপর সে শুরুতে কোনো এক জায়গায় একটি মুতলাক (নিঃশর্ত) আয়াত পেল, তখন সে কী করবে? অথচ সেটির একটি মুকায়্যাদ (শর্তযুক্তকারী দলিল) রয়েছে যা সামনে আসবে। সে তো সেই মুতলাক আয়াতটিকে তার নিঃশর্ত অর্থেই আমল করে বসবে। যদি কুরআনের শুরুতে বা বুখারীর শুরুতে তার সামনে কোনো মানসুখ (রহিত) হাদিস বা আয়াত আসে, তখন সে কী করবে অথচ সে তো যোগ্য হয়ে ওঠেনি? এই আহ্বানটি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে একদল রিক্তহৃদয় মানুষের মাঝে প্রভাব ফেলেছে। আমি যেমনটি উল্লেখ করেছি যে, সরাসরি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে বিধান আহরণ কেবল তাদের জন্যই আবশ্যক যারা এর যোগ্য। আমরা তাদের (বক্তাদের) সাথে মাত্র একটি বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করি, আর তা হলো—এই কথাটি নবিশদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হচ্ছে, এছাড়া আর কিছু নয়। যে ব্যক্তি যোগ্যতা অর্জন করেছে, তার জন্য মূল উৎস হলো কিতাব ও সুন্নাহ; তার উচিত কিতাব ও সুন্নাহ থেকেই ফিকহ অর্জন করা। কিন্তু কেউ যদি সহীহ মুসলিমে পড়ে: "অধ্যায়: কুকুর হত্যার নির্দেশ" এবং পিস্তল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে—যেমনটি অতীতে ঘটেছে—এবং যেখানেই কোনো কুকুর দেখল তার মাথায় গুলি ছুড়ল, অথচ পরের দিনের পাঠ ছিল: "অধ্যায়: কুকুর হত্যার নির্দেশ রহিত হওয়া"; তবে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কি বলা সাজে: 'ইজতিহাদ করো এবং কিতাব ও সুন্নাহ থেকে ফিকহ অর্জন করো'?
(খণ্ড: ২)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ২)
نظير هذا ما عندنا، شخص مبتدئ في علم الحديث درس حديثاً روي موقوفاً ومرفوعاً ماذا يصنع؟ حديث رفع اليدين بعد الركعتين والقيام من التشهد الأول ماذا يصنع؟ من يقلد من المتقدمين؟ وبمن يقتدي من المتقدمين؟ المسألة مفترضة في المبتدئ، هل يقول: الحكم للرفع ويقلد في ذلك الإمام البخاري حيث أخرجه في صحيحه مرفوعاً؟ أو يقول: لا، الحكم للوقف لأنه هو المتأكد كما يقول الإمام أحمد؟ إذاً من يقلد من المتقدمين؟ الأئمة الكبار إذا أراد أن يقلدهم وهم الأصل وهم القدوة، وعلى عملهم وكلامه عمدة المتأخرين، لكن من يقلد من هؤلاء المتقدمين؟ هل يقلد شخص بعينه؟ هذا هو التقليد الذي ينفرون منه، هل ينظر باجتهاده؟ ليس من أهل النظر والاجتهاد، هل يوازن بين أقوالهم؟ لم يتأهل لهذا العمل، الواحد من الأئمة الكبار الواحد يعني إذا أراد أن يقلد واحداً منهم وقع في التقليد الذي يحذر منه، اختار مثلاً الإمام أحمد وقلده، الإمام أحمد أحياناً يحكم بوصل وأحياناً يحكم بإرسال لقرائن يدركها الإمام لكن لا يدركها من يقلده.
فأقول: المبتدئ لا بد أن يتمرن على قواعد المتأخرين، وفي الأحكام لا بد أن يدرس الفقه على الجواد المطروقة عند أهل العلم في كتب أهل العلم، ولا يعني هذا أن طالب العلم يستمر على هذه الطريقة لا، إذا حصلت له الأهلية للنظر في النصوص واستطاع أن ينظر في النصوص على مقتضى نظر أهل العلم وحاكاهم، وتأهل للموازنة بين النصوص، وعرف الراجح من الرجوح هذا فرض، لا يقلد في دينه الرجال.
আমাদের কাছে এর দৃষ্টান্ত হলো এমন: হাদিস শাস্ত্রের একজন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী একটি হাদিস অধ্যয়ন করল যা 'মাওকুফ' (সাহাবীর উক্তি) ও 'মারফু' (রাসূলের বাণী) উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে; এমতাবস্থায় সে কী করবে? দুই রাকাতের পর এবং প্রথম তাশাহহুদ থেকে দাঁড়ানোর সময় হাত তোলার (রাফউল ইয়াদাইন) হাদিসটির ক্ষেত্রে সে কী করবে? সে পূর্বসূরী ইমামদের মধ্যে কার তাকলিদ করবে? এবং তাদের মধ্যে কাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করবে? এই প্রশ্নটি একজন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই উদ্ভূত হয়। সে কি বলবে: এর বিধান হলো এটি 'মারফু' এবং এ ক্ষেত্রে সে ইমাম বুখারীর তাকলিদ করবে যেহেতু তিনি একে তাঁর সহিহ গ্রন্থে 'মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেছেন? নাকি সে বলবে: না, এর বিধান হলো এটি 'মাওকুফ', কারণ এটিই অধিক নিশ্চিত যেমনটি ইমাম আহমাদ বলেছেন? তাহলে সে পূর্বসূরীদের মধ্য থেকে কার তাকলিদ করবে? শ্রেষ্ঠ ইমামগণ—যাদের সে তাকলিদ করতে চায়—তারাই তো মূল ভিত্তি এবং অনুকরণীয় আদর্শ, আর উত্তরসূরী আলেমদের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের মূল ভিত্তি তাঁদেরই কথা। কিন্তু সে এই পূর্বসূরীদের মধ্যে কার তাকলিদ করবে? সে কি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির তাকলিদ করবে? এটিই তো সেই তাকলিদ যা থেকে তারা মানুষকে সতর্ক করেন। সে কি তার নিজস্ব ইজতিহাদ প্রয়োগ করবে? সে তো বিশ্লেষণ ও ইজতিহাদ করার যোগ্য নয়। সে কি তাঁদের মতামতের মধ্যে তুলনা করবে? সে তো এই কাজের উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। বড় ইমামদের মধ্য থেকে কোনো একজনের কথা যদি ধরি—অর্থাৎ সে যদি তাঁদের মধ্যে কোনো একজনের তাকলিদ করতে চায়, তবে সে সেই তাকলিদেই লিপ্ত হবে যা থেকে সতর্ক করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, সে ইমাম আহমাদকে বেছে নিল এবং তাঁর তাকলিদ করল; ইমাম আহমাদ কখনো কোনো হাদিসকে 'মাওসুল' (সংযুক্ত) হিসেবে গণ্য করেন আবার কখনো কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে 'মুরসাল' (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে গণ্য করেন, যা কেবল ইমামই উপলব্ধি করতে পারেন কিন্তু তাঁর তাকলিদকারী তা উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়।
তাই আমি বলি: প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীকে অবশ্যই উত্তরসূরী আলেমদের নিয়মাবলির ওপর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আর শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে তাকে আলেমদের কিতাবসমূহে তাঁদের অনুসৃত সুপরিচিত পদ্ধতি অনুযায়ী ফিকহ অধ্যয়ন করতে হবে। এর অর্থ এই নয় যে ইলম অন্বেষণকারী আজীবন এই পদ্ধতির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে; না, এমনটি নয়। যখন তার মধ্যে দালিলিক বিষয়গুলো বিশ্লেষণের যোগ্যতা তৈরি হবে এবং সে আলেমদের অনুসৃত নীতি অনুযায়ী দলিলসমূহ পর্যালোচনা করতে সক্ষম হবে ও তাঁদের অনুসরণ করবে, এবং দলিলসমূহের মধ্যে তুলনা করার যোগ্যতা অর্জন করবে ও সঠিক বা অগ্রগণ্য মতটি অনুধাবন করতে পারবে—তখন এটিই তার ওপর অপরিহার্য কর্তব্য। এমতাবস্থায় সে তার দ্বীনের বিষয়ে কেবল ব্যক্তিদের তাকলিদ করবে না।
(খণ্ড: ২)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ৩)
وإذا قيل لطالب علم ادرس عمدة الفقه مثلاً، أو ادرس دليل الطالب أو ادرس زاد المستقنع، هل يعني هذا أن زاد المستقنع قرآن معصوم من الخطأ؟ الزاد خالف المذهب في اثنتين وثلاثين مسألة، وخالف الراجح في كثير من المسائل، لكن يعني هذا أن تتخذ الكتاب أو غير هذا الكتاب مما تختاره من أي مذهب من المذاهب تجعله منهج، منهج بحث، تدرس مسائل هذا الكتاب، تتصور هذه المسائل كمرحلة أولى أو عرضة أولى، تفهم هذه المسائل، تعود إلى الكتاب مرة ثانية تستدل لهذه المسائل؛ لأن الكتاب مجرد من الدليل، تبحث عن أدلة لهذه المسائل، ثم بعد ذلك مرحلة ثالثة أو عرضة ثالثة تنظر من وافق المؤلف من أهل العلم وقد عرفت دليله، ومن خالفه وابحث عن دليله، ثم بعد ذلك تتكون لديك الأهلية أهلية النظر، فإذا تكونت لديك الأهلية على هذه الطريقة نقول: فرضك أن تأخذ من الكتاب والسنة، لا يجوز لك أن تقلد في دينك الرجال، قلنا: إذا أشير بكتابٍ معين فلا يعني أنه أن صاحبه معصوم من الخطأ، وليس بدستور، أقول: ابحث ونقب وتعلم وتدرج في التعلم والتحصيل حتى تتأهل.
ومثله بالنسبة لعلوم الحديث اقرأ في كتب المتأخرين، تخرج عليها، وخرج الأحاديث على مقتضاها، فإذا خرجت مجموعة من الأحاديث تؤهلك للنظر في كلام الأئمة وترجيحاتهم وتكونت لديك الأهلية للعمل بالقرائن هذا فرضك، لا يمكن أن يوجد شخص يعارض كلام ابن حجر بكلام الإمام أحمد أو كلام أبي حاتم أو كلام الدارقطني، لكن المسألة مسألة تمرين، هذه مداخل فإذا ولجت وتأهلت هذه الدعاوى على العين والرأس ما أحد يرده ولا أحد يقف في طريقه، لكن الإشكال أن تطرح على المبتدئين، الإشكال أن تطرح مثل هذه الدعوات على المبتدئين؛ لأن هذا في الحقيقة تضييع لهم، شخص مبتدئ لا يعرف من العلم إلا اسمه، الآن بدأ أو عرف القراءة والكتابة وقرأ كتاب أو شيء من هذا، نقول له: اجتهد من الكتاب والسنة، الكتاب والسنة هناك علوم تعين على فهم الكتاب والسنة هي كالمقدمات، هي وسائل لفهم الكتاب والسنة لا بد من معرفتها.
যখন কোনো ইলম অন্বেষণকারীকে বলা হয়, উদাহরণস্বরূপ 'উমদাতুল ফিকহ' পড়ো, অথবা 'দালিলুত তালিব' পড়ো অথবা 'যাদুল মুস্তাকনি' পড়ো, তখন এর অর্থ কি এই যে 'যাদুল মুস্তাকনি' ভুলত্রুটিমুক্ত কোনো কুরআন? 'যাদ' বত্রিশটি মাসআলায় মাযহাবের বিরোধিতা করেছে এবং অনেক মাসআলায় অগ্রগণ্য মতের বিরুদ্ধাচরণ করেছে; কিন্তু এর অর্থ হলো আপনি এই কিতাব বা অন্য যেকোনো মাযহাব থেকে আপনার পছন্দমতো কোনো কিতাবকে পদ্ধতি ও গবেষণার মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করবেন। আপনি এই কিতাবের মাসআলাগুলো অধ্যয়ন করবেন, প্রথম ধাপ বা প্রাথমিক উপস্থাপনা হিসেবে এই মাসআলাগুলো কল্পনা করবেন এবং তা বোঝার চেষ্টা করবেন। এরপর আপনি দ্বিতীয়বার কিতাবটির দিকে ফিরে আসবেন এবং এই মাসআলাগুলোর স্বপক্ষে দলীল অনুসন্ধান করবেন; কারণ কিতাবটি দলীলবিহীন। আপনি এই মাসআলাগুলোর দলীল খুঁজবেন। অতঃপর তৃতীয় ধাপে বা তৃতীয় পর্যায়ের পর্যালোচনায় আপনি দেখবেন যে, ইলমের অধিকারীদের মধ্যে কে লেখকের সাথে একমত হয়েছেন—যাঁর দলীল আপনি ইতোমধ্যেই জেনেছেন—এবং কে তাঁর বিরোধিতা করেছেন তা অনুসন্ধান করে তাঁর দলীলও খুঁজে বের করবেন। এর মাধ্যমে আপনার মাঝে বিচার-বিশ্লেষণ করার যোগ্যতা তৈরি হবে। যখন এই পদ্ধতিতে আপনার মাঝে যোগ্যতা তৈরি হবে, তখন আমরা বলব: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আহরণ করাই আপনার জন্য নির্ধারিত কর্তব্য। আপনার দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণ করা তখন আপনার জন্য বৈধ নয়। আমরা বলেছি: যদি কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের কথা বলা হয়, তবে তার অর্থ এই নয় যে তার লেখক ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে এবং সেটি কোনো জীবনবিধান বা সংবিধানও নয়। আমি বলি: অনুসন্ধান করুন, গভীরভাবে তল্লাশি করুন, শিখুন এবং অর্জন ও শেখার ক্ষেত্রে ধাপ অনুযায়ী অগ্রসর হোন যতক্ষণ না আপনি যোগ্য হয়ে উঠছেন।
হাদিস শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ; পরবর্তী যুগের আলেমদের কিতাবসমূহ পড়ুন, সেগুলোর ভিত্তিতে কাজ করুন এবং সেই নিয়ম অনুযায়ী হাদিসের মান নির্ণয় করুন। যখন আপনি বেশ কিছু হাদিসের মান নির্ণয় করবেন যা আপনাকে ইমামদের বক্তব্য ও তাঁদের অগ্রাধিকারমূলক সিদ্ধান্তসমূহ বিচার-বিশ্লেষণ করার উপযোগী করে তুলবে এবং আলামত বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে আমল করার যোগ্যতা আপনার মাঝে তৈরি হবে, তখন এটাই হবে আপনার জন্য আবশ্যক। এমনটি হতে পারে না যে কোনো ব্যক্তি হাফেজ ইবনে হাজারের বক্তব্যকে ইমাম আহমাদ বা আবু হাতিম অথবা ইমাম দারা কুতনির বক্তব্যের বিপরীতে দাঁড় করাবে। বরং বিষয়টি হলো অনুশীলনের। এগুলো হলো প্রবেশের পথ; সুতরাং আপনি যখন প্রবেশ করবেন এবং যোগ্য হয়ে উঠবেন, তখন এই দাবিগুলো অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করা হবে, কেউ তা প্রত্যাখ্যান করবে না এবং কেউ তার পথে অন্তরায় হবে না। কিন্তু সমস্যা হলো এগুলো একদম নতুন শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা। সমস্যা হলো এই ধরণের আহ্বানগুলো নতুনদের সামনে তুলে ধরা; কারণ এটি বাস্তবে তাদের ধ্বংস করার নামান্তর। একজন নতুন শিক্ষার্থী যে ইলমের নাম ছাড়া কিছুই জানে না, কেবল পড়তে ও লিখতে শিখেছে অথবা কোনো একটি বই বা অনুরূপ কিছু পড়েছে, তাকে যদি আমরা বলি: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ইজতিহাদ করো; অথচ কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার জন্য এমন কিছু শাস্ত্র রয়েছে যা কুরআন-সুন্নাহ বুঝতে সাহায্য করে—সেগুলো প্রারম্ভিক ইলম বা ভূমিকার মতো, যা কুরআন ও সুন্নাহ বোঝার মাধ্যম এবং সেগুলো জানা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ২)
শারহুল লুউলুউল মাকনুন ফী আহওয়ালিল আসানীদি ওয়াল মুতূন
(পৃষ্ঠা: ৪)
قد يقول قائل: الصحابة ما قرؤوا لا في أصول الفقه ولا قرؤوا في علوم الحديث ولا .. ، ويبغي يسوي مثلهم، نقول: أنى لك؟ الصحابة عاشروا النبي وعايشوه عليه الصلاة والسلام، وعرفوا المقاصد وهم عربٌ أقحاح، وأخذوا العلم بالتدريج على حسب التنزيل، والحديث ما جاءهم دفعة واحدة إنما جاءهم مؤقتاً حسب الحاجة، وأفهامهم تختلف عن أفهامنا لكثرة الوسائط، أيضاً هم يأخذون من النبي عليه الصلاة والسلام مباشرة، فلا يكلفون بمعرفة الجرح والتعديل وقواعد الجرح والتعديل، وما قيل في الرواة، ليس هناك رواة، إذاً نحن لا بد أن نقرأ في كتب المتأخرين وننظر في مواقع الاستعمال عند المتقدمين، ونوازن، ونكثر من التمرين، ونديم النظر في كتب المتقدمين بعد مرحلة، يعني إذا أنهينا كتاب أو كتابين في علوم الحديث، يعني الذي يقرأ النخبة ويفهمها، ثم يقرأ بعدها اختصار علوم الحديث للحافظ ابن كثير، ثم ألفية العراقي، بعد ذلك تأهل خلاص، إذا كان عنده ملكة، إذا تولدت الملكة، والملكة لا يمكن أن تتولد من الكلام النظري إطلاقاً، الملكة لا تتولد إلا من العمل، هذه العلوم عملية.
يعني لو شخص يدرس عمره في مدرسة دله للسيارات كيف يتعلم هذا؟ لكن يمسك المفتاح ويسوق السيارة يومين ثلاثة خمسة عشرة يتعلم، لكن الكلام النظري يقرأ كيف يخرج الحديث على الطرق المعروفة عند .. ؟ ولذا تلاحظون أنه لم يكتب في التخريج طرق التخريج عند المتقدمين شيء، يعني كيف تخرج الحديث من طرفه الأول؟ في كلمة غريبة؟ من صحابيه؟ من كذا من كذا؟ ما ألف فيه شيء إلا إلى وقتٍ قريب يمكن ربع قرن لما احتاجه الناس، وإلا فالأصل أن هذا علم عملي، أنت محتاج إلى حديث تبحث عنه في الكتب ثم تتعلم كيف تخرجه؟ لست بحاجة إلى أن تقرأ في كتاب تخريج لا أبداً هذا علم عملي، مثل ما تأخذ مفتاح السيارة أول يوم ثاني يوم تتعثر ثم بعد ذلك تسلك.
কেউ হয়তো বলতে পারেন: সাহাবীগণ উসূলে ফিকহ পড়েননি, উলূমুল হাদীসও পড়েননি এবং... আর তিনি তাদের মতো হতে চান। আমরা বলব: এটা আপনার পক্ষে কীভাবে সম্ভব? সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংশ্রব পেয়েছেন এবং তাঁর সাথে জীবন অতিবাহিত করেছেন, তাঁরা শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ জানতেন এবং তাঁরা ছিলেন বিশুদ্ধ আরব। তাঁরা ওহী নাযিলের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে ইলম অর্জন করেছেন। হাদীস তাঁদের কাছে একবারে আসেনি, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে এসেছে। অধিক মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতির কারণে তাঁদের বুঝ আমাদের বুঝ থেকে ভিন্ন। এছাড়াও তাঁরা সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করতেন, তাই জারহ ও তা'দীল (রাবীদের সমালোচনা ও প্রশংসা), জারহ ও তা'দীলের মূলনীতি এবং রাবীদের সম্পর্কে কী বলা হয়েছে তা জানার প্রয়োজন তাঁদের হতো না; কারণ সেখানে তো আমাদের মতো বর্ণনাকারী বা রাবী ছিল না। অতএব, আমাদের জন্য পরবর্তী যুগের আলেমদের কিতাবসমূহ পড়া অপরিহার্য এবং পূর্ববর্তী আলেমদের প্রয়োগ ক্ষেত্রগুলো দেখা, তুলনা করা এবং অধিক অনুশীলন করা প্রয়োজন। একটি পর্যায়ের পর পূর্ববর্তী আলেমদের কিতাবসমূহে নিয়মিত দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে হবে। অর্থাৎ যখন আমরা উলূমুল হাদীসের এক বা দুটি কিতাব শেষ করব; যেমন—যে ব্যক্তি 'নুখবাতুল ফিকার' পড়ে তা বুঝল, এরপর হাফেজ ইবনে কাসীরের 'ইখতিসারু উলূমিল হাদীস' পড়ল, তারপর ইরাকীর 'আলফিয়্যাহ' পড়ল, এরপর সে যোগ্য হয়ে গেল—যদি তার মাঝে সহজাত দক্ষতা তৈরি হয়। আর এই দক্ষতা কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা থেকে কখনোই তৈরি হতে পারে না। কর্ম বা অনুশীলন ছাড়া এই দক্ষতা অর্জিত হয় না; এই শাস্ত্রগুলো হলো প্রায়োগিক শাস্ত্র।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি তার সারাজীবন ড্রাইভিং স্কুলে পড়াশোনা করে, তবে সে কীভাবে চালানো শিখবে? কিন্তু সে যদি চাবি হাতে নেয় এবং দুই, তিন, পাঁচ বা দশ দিন গাড়ি চালায়, তবে সে শিখে যাবে। কিন্তু তাত্ত্বিক আলোচনা পড়ে কি জানা সম্ভব যে কীভাবে প্রচলিত পদ্ধতিতে হাদীস তখরীজ করতে হয়? একারণেই আপনারা লক্ষ্য করবেন যে, পূর্ববর্তী আলেমদের অনুসৃত তখরীজের পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষ কিছু লেখা হয়নি। অর্থাৎ হাদীসের শুরুর অংশ দেখে, কোনো বিরল শব্দ দেখে, কিংবা সাহাবীর নাম দেখে কীভাবে তখরীজ করতে হয়—সে বিষয়ে নিকট অতীত পর্যন্ত, সম্ভবত গত পঁচিশ বছর আগ পর্যন্ত কিছুই রচিত হয়নি, যখন মানুষের এর প্রয়োজন দেখা দিল। অন্যথায় মূল বিষয় হলো, এটি একটি প্রায়োগিক বিদ্যা। আপনার একটি হাদীস প্রয়োজন, আপনি কিতাবসমূহে সেটি খুঁজবেন এবং শিখবেন কীভাবে তা বের করতে হয়। আপনার জন্য তখরীজ বিষয়ক কিতাব পড়ার কোনোই প্রয়োজন নেই; এটি সম্পূর্ণ একটি প্রায়োগিক বিদ্যা। যেমনটি আপনি যখন গাড়ির চাবি হাতে নেন, প্রথম বা দ্বিতীয় দিন হয়তো সমস্যায় পড়েন, এরপর পথ চলা আপনার জন্য সহজ হয়ে যায়।