(খণ্ড: ১) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: -)
العلل ومعرفة الرجال لأحمد رواية ابنه عبد الله   (أحمد بن حنبل)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: العلل ومعرفة الرجال

المؤلف: أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد الشيباني (ت 241هـ)

المحقق: وصي الله بن محمد عباس

الناشر: دار الخاني , الرياض

الطبعة: الثانية، 1422 هـ - 201 م

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম আহমদের আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল, তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর বর্ণনা   (আহমদ বিন হাম্বল)

বিভাগ: হাদিসের সুপ্ত ত্রুটি (العلل) এবং হাদিস বিষয়ক জিজ্ঞাসাসমূহ


বই: আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল

লেখক: আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল বিন হিলাল বিন আসাদ আল-শায়বানী (মৃ. ২৪১ হিজরি)

সম্পাদক: অসিউল্লাহ বিন মুহাম্মদ আব্বাস

প্রকাশনী: দার আল-খানি, রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌[مقدمة التحقيق]

بسم الله الرحمن الرحيم

وبعد: فهذا كتاب العلل ومعرفة الرجال للامام أحمد رحمه الله قد بذلت جهدي المستطاع في تحقيقه وتصحيحه وتخريجه وقدمت له بمقدمة اشتملت على موجز يتعلق بمعرفة الرجال والجرح والتعديل، ثم ذكرت ما يتعلق بالعلل، ثم ترجمت للامام أحمد ترجمة مختصرة ثم ذكرت وصف الكتاب والنسخة التي تم العمل عليها.

أدعو الله عز وجل أن يتقبله بقبول حسن.

وأرجو من الاخوة أهل العلم أن يتكرموا بالتنبيه على خطأ اطلعوا عليه حتى يمكن تصحيحه فيما بعد.

ولهم أجرهم عند الله.

الزاهر، مكة المكرمة 20 من صفر 1407

الدكتور وصي الله بن محمد عباس
‌[সম্পাদনার ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

অতঃপর: এটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) সংকলিত 'কিতাবুল ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল'। আমি এর সম্পাদনা (تحقيق), বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) এবং হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج) করার ক্ষেত্রে আমার সাধ্যমতো শ্রম ব্যয় করেছি। আমি এর শুরুতে একটি ভূমিকা পেশ করেছি, যাতে বর্ণনাকারীদের পরিচিতি (معرفة الرجال) এবং দোষগুণ বিচার (الجرح والتعديل) সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর আমি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) সংক্রান্ত বিষয়াবলি উল্লেখ করেছি। অতঃপর ইমাম আহমাদ-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) তুলে ধরেছি এবং সবশেষে কিতাবটির বৈশিষ্ট্য ও যে পাণ্ডুলিপি (النسخة) অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে তার বিবরণ দিয়েছি।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এটি উত্তমরূপে কবুল করে নেন।

আমি বিজ্ঞ আলেম ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি যে, তারা যদি কোনো ভুল লক্ষ্য করেন, তবে যেন অনুগ্রহপূর্বক সে বিষয়ে অবহিত করেন, যাতে পরবর্তীতে তা সংশোধন করা সম্ভব হয়।

আর এর প্রতিদান তারা আল্লাহর কাছে পাবেন।

আজ-জহির, মক্কা মুকাররমা ২০ সফর, ১৪০৭ হিজরি

ডক্টর ওয়াসিউল্লাহ বিন মুহাম্মদ আব্বাস
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونؤمن به ونتوكل عليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

أما بعد: فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدى هدى محمد صلى الله عليه وسلم وشر الامور محدثاتها، وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة.

خلق الله.

آدم عليه السلام، وخلق منها زوجه وبث منهما رجالا كثيرا ونساءا، وشرع لهم شرائع كلفهم بها على لسان رسله من لدن آدم إلى خاتم النبيين نبينا محمد عليه وعلى الانبياء الصلاة والسلام.

أرسل الله رسله، يبلغون قومهم رسالات الله، يعيشون فيما بينهم يفسرون لهم أوامر الله ونواهيه بأقوالهم وأفعالهم، يحفظها عنهم أقوامهم ومتبعوهم ويعملون بها.

وهكذا جاءت رسل الله تترى.

وما أرسل من رسول إلا بلسان قومه، فيضل من يشاء ويهتدي من يشاء.

وكان النبي من الانبياء السابقين، يبعث إلى قومه خاصة وبعث نبينا صلى الله عليه وسلم إلى الناس عامة، فجعل الله رسالته ناسخة لجميع الرسالات فلا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা তাঁর ওপর ঈমান আনি এবং তাঁর ওপরই ভরসা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম হাদিস হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিদায়াত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ (محدثات), এবং প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।

আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন...

আদম (আলাইহিস সালাম)-কে এবং তাঁর থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় হতে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য বিভিন্ন বিধান (شرائع) প্রবর্তন করেছেন যার দায়িত্ব তিনি অর্পণ করেছেন তাঁর রাসূলগণের যবানে—আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে সর্বশেষ নবী আমাদের নবী মুহাম্মদ পর্যন্ত, তাঁর ওপর এবং সকল নবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের কওমের নিকট আল্লাহর রিসালাতসমূহ পৌঁছে দিতেন। তাঁরা তাঁদের মাঝে বসবাস করতেন এবং তাঁদের কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধসমূহ ব্যাখ্যা করতেন। তাঁদের কওম ও অনুসারীরা তাঁদের নিকট থেকে তা সংরক্ষণ করতেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতেন।

এভাবেই আল্লাহর রাসূলগণ একের পর এক এসেছেন।

আর আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর কওমের ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যেন আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।

পূর্ববর্তী নবীগণের প্রত্যেকেই বিশেষভাবে কেবল তাঁর নিজ কওমের প্রতি প্রেরিত হতেন, আর আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হয়েছেন সমগ্র মানবজাতির জন্য সাধারণভাবে। তাই আল্লাহ তাঁর রিসালাতকে পূর্ববর্তী সকল রিসালাতের জন্য রহিতকারী (ناسخة) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, ফলে...
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
يسع أحدا من العالمين إلا اتباعه ومن يبتغ غير دينه دينا فلن يقبل منه وهو في الاخرة من الخاسرين.

(هو الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله) (1) .

(وما أرسلناك إلا كافة للناس بشيرا أو نذيرا) (2) .

ولما كانت الاديان السابقة لم يقدر الله لها الخلود، لم يتعهد بحفظها ولم يهئ لها من يقوم برعايتها وصيانتها، فلم تسلم من التحريف حتى كتبهم المقدسة المنزلة إليهم.

وذلك بشهادة القرآن العظيم.

(من الذين هادوا يحرقون الكلم عن مواضعه، ويقولون سمعنا وعصينا) (3) .

وندد بهم في قوله تعالى: (فويل للذين يكتبون الكتاب بأيديهم ثم يقولون هذا من عند الله، ليشتروا به ثمنا قليلا) (4) .

وأما شريعتنا الحنيفية البيضاء فقد وعد الله وتعهد بفضله ورحمته بحفظها قال تعالى: (إنا نحن نزلنا الذكر، وإنا له لحافظون) (5) .

وهيأ لها رجالا ونساءا في كل عصر ومصر وفي كل قرن وزمن لحفظها من جميع نواحيها.

--------------------------------------------

(1) سورة الفتح: 28، سورة الصف: 9.

(2) سورة سبأ: 28.

(3) سورة النساء: 46.

(4) سورة البقرة: 79.

(5) سورة الحجر: 9.

(*)
বিশ্বের কোনো মানুষের জন্যই একে অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনো অবকাশ নেই। আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন বা ধর্ম তালাশ করবে, তার থেকে তা কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

(তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসুলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দীনের ওপর বিজয়ী করেন) (১) ।

(আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করেছি) (২) ।

যেহেতু আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী ধর্মসমূহের জন্য স্থায়িত্ব নির্ধারণ করেননি, তাই তিনি সেগুলো সংরক্ষণের জিম্মাদারি নেননি এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও হিফাযতের জন্য কোনো লোকও নিয়োজিত করেননি। ফলে তাদের নিকট অবতীর্ণ পবিত্র কিতাবসমূহও বিকৃতি (تحريف) থেকে রক্ষা পায়নি।

আর এটি মহান কুরআনের সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত।

(ইয়াহুদিদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা শব্দগুলোকে সেগুলোর নির্ধারিত স্থান থেকে বিকৃত (يُحرفون) করে এবং বলে: আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম) (৩) ।

আল্লাহ তাআলা তাদের নিন্দা করে ইরশাদ করেন: (সুতরাং দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লেখে এবং তুচ্ছ মূল্য লাভের উদ্দেশ্যে বলে যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে) (৪) ।

পক্ষান্তরে আমাদের এই শুভ্র ও একনিষ্ঠ (حنيفية) শরিয়ত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা স্বীয় অনুগ্রহ ও রহমতে একে সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি ও জিম্মাদারি গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: (নিশ্চয়ই আমি এই জিকির বা উপদেশবাণী নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক) (৫) ।

আর তিনি একে সর্বদিক থেকে সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি যুগে, প্রতিটি জনপদে এবং প্রতিটি শতাব্দী ও সময়ে একদল যোগ্য পুরুষ ও নারীকে নিয়োজিত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সুরা আল-ফাতহ: ২৮, সুরা আস-সাফ: ৯।

(২) সুরা সাবা: ২৮।

(৩) সুরা আন-নিসা: ৪৬।

(৪) সুরা আল-বাকারাহ: ৭৯।

(৫) সুরা আল-হিজর: ৯।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
هيأ لها رجالا يقومون بحفظ كتابه عن ظهر قلب ويتلونه ويدارسونه، ويحفظونه بين الدقتين، يحفظونه بدراسته وتقويم معانيه بالتفسير واستنباط الاحكام وجميع ما يتعلق به.

ثم تدبره والعمل بما فيه، ولما كانت آيات القرآن الكريم مجملة، أكرم الله نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم بتكليفه بيان ما فيها من الاجمال، وتوضيح ما يحتاج إلى توضيح وتفصيل.

قال تعالى:

(وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل إليهم) (1) .

وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه، ألا يوشك رجل شبعان، على أريكته، يقول: عليكم بهذا القرآن، فما وجدتم فيه من حلال، فأحلوه، وما وجدتم فيه من حرام، فحرموه ألا لا يحل لكم لحم الحمار الاهلي … (2) .

وأمر النبي صلى الله عليه وسلم أمته بتبليغ ما يعلمون منه إلى غيرهم فقال: بلغوا عني ولو آيتي (3) .

وقال: ليبلغ الشاهد منكم الغائب (4) .

وقال: تركت فيكم شيئين، لن تضلوا بعدهما، كتاب الله وسنتي، ولن يفترقا حتى يردا علي الحوض (5) .

--------------------------------------------

(1) سورة النحل: 44.

(2) صحيح الجامع الصغير 2: 375.

(3) صحيح البخاري 6: 496.

(4) صحيح البخاري 1: 199.

(5) صحيح الجامع الصغير 3: 39.

(*)
তিনি এর জন্য এমন কিছু ব্যক্তিবর্গকে প্রস্তুত করেছেন যারা তাঁর কিতাবকে মুখস্থ (حفظ) করার দায়িত্ব পালন করেন, তা তিলাওয়াত করেন ও পরস্পর অধ্যয়ন করেন এবং দুই মলাটের মাঝে তা সংরক্ষণ করেন; তারা এটি সংরক্ষণ করেন এর পঠন-পাঠন, তাফসিরের মাধ্যমে এর মর্মার্থের সঠিক মূল্যায়ন, বিধান আহরণ (استنباط) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের মাধ্যমে।

অতঃপর তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা ও তদনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে। যেহেতু কুরআনুল কারিমের আয়াতসমূহ সংক্ষিপ্ত বা অস্পষ্ট (مجمل) ছিল, তাই আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এর সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বর্ণনা এবং যা কিছু স্পষ্টীকরণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (تفصيل) প্রয়োজন তা সুস্পষ্ট করার দায়িত্ব দিয়ে সম্মানিত করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন:

(আর আমি আপনার প্রতি যিকর অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে) (১) ।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং এর সাথে অনুরূপ আরেকটি বিষয় দেওয়া হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল মানবে এবং এতে যা হারাম পাবে তাকেই হারাম মানবে। মনে রেখো, তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার গোশত বৈধ নয় … (২) ।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন যা কিছু তারা জানে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তিনি বলেছেন: আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও (৩) ।

তিনি আরও বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয় (৪) ।

তিনি আরও বলেছেন: আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, এই দুটি আঁকড়ে ধরার পর তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না; আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ। আর এ দুটি হাউজে কাউসারে আমার কাছে না পৌঁছানো পর্যন্ত কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না (৫) ।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল: ৪৪।

(২) সহীহ আল-জামি আস-সাগীর ২: ৩৭৫।

(৩) সহীহ বুখারী ৬: ৪৯৬।

(৪) সহীহ বুখারী ১: ১৯৯।

(৫) সহীহ আল-জামি আস-সাগীর ৩: ৩৯।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
فبهذا ظهر أن الذكر الذي وعد الله بحفظه وصيانته، يشمل القرآن الكريم وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم بجميع أنواعها.

بهذه المهمة المباركة بعث الله نبينا فبلغ الرسالة وأدى الامانة وجاهد في الله حق جهاده.

دحر الاعداء مشركين وكفارا منافقين ويهود فآمنت له الجزيرة ومنهم من أسلم وتظاهر ولم يؤمن قلبه، كما قهر أخبث الامم أعدى اعداء الاسلام أبناء القردة والخنازير اليهود الذين لم يتركوا فرصة

إلا اهتبلوها بالكيد للاسلام والمسلمين، وولت زعامتهم من المدينة بخبثها ومكرها وحقدها وحطت رحالها في خيبر مجلوة مطرودة مذؤمة مدحورة.

عاش الناس في ظل رحمة للعالمين إلى أن كمل الدين وتمت نعمة الله على عباده في صورة كتابه وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم كلها نابتهم نائبة رجعوا إليه أو حدثت لهم حادثة فزعوا إليه عاشوا في توادد وتراحم كالجسد الواحد بين مسلمين كأسنان المشط لا خلاف ولا شقاق وبين أعداء مكشوفين.

وبين منافقين كلما أوقدوا نار الفتنة أوحى الله نبيه ففضحهم وكشف عوارهم.

والغلبة لدين الله، الخير غالب واضح والشر قد اختفى وكاد أن لا يكون وصدق النبي صلى الله عليه وسلم: خير الناس قرني … (1) جاء نصر الله والفتح ودخل الناس في دين الله أفواجا، وخير الله نبيه بين الدنيا وبين ما عنده فاختار ما عند الله (2) ومضى إلى الرفيق الاعلى راضيا مرضيا.

ولم يكد يشعر الناس بانقطاع خبر السماء ودفن أفضل الخلق في ثرى طيبة، حتى صلصلت في أسماعهم قعقة سلاسل الفتن على صفوان المحن، ووجد النافقون واليهود الاخابث منفذا ونفسا لحقدهم الدفين، وانجفل معهم الناشئة الطامحة من ذوي الاطماع ممن لم تخالط بشاشة الايمان

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري 5: 259.

(2) صحيح البخاري 1: 558.

(*)
এর মাধ্যমে এটি প্রতিভাত হলো যে, আল্লাহ তাআলা যে 'জিকর' সংরক্ষণের ও হিফাজতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার অন্তর্ভুক্ত হলো পবিত্র কুরআন এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) তার সকল প্রকারসহ।

এই বরকতময় অর্পিত দায়িত্ব দিয়েই আল্লাহ আমাদের নবীকে প্রেরণ করেছেন। ফলে তিনি রিসালাতের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদের প্রকৃত হক আদায় করেছেন।

তিনি শত্রুদের—মুশরিক, কাফের, মুনাফিক এবং ইহুদিদের—পরাস্ত করেছেন। ফলে সমগ্র জাজিরা (আরব উপদ্বীপ) তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে; তবে তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিল যারা বাহ্যত ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তা প্রকাশ করেছিল, কিন্তু তাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি। একইভাবে তিনি নিকৃষ্টতম জাতি এবং ইসলামের ঘোরতর শত্রু—বানর ও শূকরের বংশধর ইহুদিদের—পরাজিত করেছেন, যারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করত না। তাদের নেতৃত্ব তাদের খবিস প্রকৃতি, চক্রান্ত ও বিদ্বেষসহ মদিনা থেকে বিদায় নিয়েছে এবং তারা লাঞ্ছিত, বহিষ্কৃত, অভিশপ্ত ও পর্যুদস্ত অবস্থায় খায়বারে গিয়ে আস্তানা গেড়েছে।

মানুষ 'রাহমাতুল্লিল আলামিন'-এর ছায়াতলে জীবন অতিবাহিত করেছে যতক্ষণ না দ্বীন পূর্ণতা লাভ করল এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) সবকিছুর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত পূর্ণ হলো। তাদের যখনই কোনো বিপদ আসত তারা এর দিকেই ফিরে যেত, অথবা কোনো ঘটনা ঘটলে তারা এর প্রতিই ধাবিত হতো। তারা একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্য ও দয়ায় একটি দেহের ন্যায় বসবাস করত; মুসলমানদের অবস্থা ছিল চিরুনির দাঁতের ন্যায় সমতাপ্রাপ্ত, যেখানে কোনো বিরোধ বা বিভেদ ছিল না; আর বিপরীতে ছিল কেবল প্রকাশ্য শত্রুরা।

আর ছিল মুনাফিকরা, যারা যখনই ফিতনার (فتنة) আগুন প্রজ্বলিত করত, আল্লাহ তাঁর নবীকে ওহীর মাধ্যমে তা জানিয়ে দিতেন এবং তাদের অপদস্থ করতেন ও তাদের দোষ-ত্রুটি উন্মোচন করে দিতেন।

বিজয় আল্লাহর দ্বীনেরই নির্ধারিত ছিল; কল্যাণ ছিল সুস্পষ্টভাবে বিজয়ী এবং অকল্যাণ প্রায় তিরোহিত ও বিলুপ্তপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। নবী (সা.) সত্যই বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো আমার যুগ..." … (১) আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় ত্বরান্বিত হলো এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল। আল্লাহ তাঁর নবীকে দুনিয়া এবং তাঁর নিকট রক্ষিত নিআমত—এই দুয়ের মধ্যে ইখতিয়ার (পছন্দের সুযোগ) দিলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তাকেই বেছে নিলেন (২) এবং সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন চিত্তে 'রফিকে আলা'-র দিকে যাত্রা করলেন।

আসমানি ওহীর ধারা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবকে তাইবার (মদিনার) মাটিতে দাফন করার শোক মানুষ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই তাদের কানে পরীক্ষার পাথরে ফিতনার (فتنة) শৃঙ্খলের ঝনঝনানি বেজে উঠল। মুনাফিক এবং খবিস ইহুদিরা তাদের অন্তরে প্রোথিত বিদ্বেষ প্রকাশের পথ ও সুযোগ খুঁজে পেল। তাদের সাথে যুক্ত হলো উচ্চাভিলাষী ও লোভাতুর একদল যুবক, যাদের অন্তরে ঈমানের মাধুর্য এখনো স্পর্শ করেনি।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী ৫: ২৫৯।

(২) সহীহ বুখারী ১: ৫৫৮।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
شغاف قلوبهم من الذين لم تكتحل أعينهم بنور النبوة.

فأنكروا ركنا عظيما من أركان الاسلام الزكاة، فحدثت أول قاصمة الظهر فتنة المرتدين فقام بعبء الخلافة الراشدة أبو بكر الصديق، فقصم الفتنة بحزم وعزم ماضيين، تصف هذه الحالة الصديقة عائشة بنت الصديق رضي الله

عنهما.

" قبض النبي صلى الله عليه وسلم فارتدت العرب.

واشرأب النفاق بالمدينة، فلو نزل بالجبال الراسيات ما نزل بأبي لها ضها، فوالله ما اختلفوا في نقطة إلا طار أبي بحظها وعنائها في الاسلام.

أخرجه الامام أحمد في فضائل الصحابة.

قال لهذه الفتنة صديق هذه الامة وأفضلها فرد كيد الشيطان في نحره واستوت سفينة الاسلام على جودى السلامة والحمد لله رب العالمين وقضي نحبه ولقي ربه.

ثم قامت الخلافة العمرية الراشدة، خلافة المحدث، الملهم للخير، أعرف الناس بالناس فساسهم، بحكمة المؤمن البصير وقوة الايمان القاهرة، تعمل درته عملها.

تصد الغاوين عن غيهم وفتح لشغل الناس بالجهاد والدعوة إلى الله آفاقا واسعة.

فشغلهم بربهم عن أنفسهم، ودخل الناس في دين الله أفواجا بين طائع مؤمن وخائف منافق وكاره متربص، فائتمروا بينهم وهيئوا له غرابا من غربان الكفر فنقره نقرة أو نقرتين فقتله وهو يهيأ نفسه لصلاة الفجر، وفجعوا الاسلام في عبقرية.

وقامت خلافة ذي النورين حيي هذه الامة وحليمها وأوصلهم لرحمه وأتفاقهم لربه كما قالت فيه عائشة رضي الله عنها.

وكانت أيام خلافته أنضر أيام الخلافة الراشدة رغدا أو أمنا شرق فيها الجهاد وغرب وأبحر
তাদের অন্তরের অন্তস্থল ছিল ঐ সকল ব্যক্তিদের মতো, যাদের চক্ষু নবুওয়াতের নূরে সুরঞ্জিত হয়নি।

অতঃপর তারা ইসলামের স্তম্ভসমূহের একটি মহান রুকন (ركن) যাকাতকে অস্বীকার করল। ফলে ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মেরুদণ্ড-ভাঙা বিপর্যয় হিসেবে মুরতাদদের (مرتدين) ফিতনা (فتنة) দেখা দিল। এমতাবস্থায় খিলাফতে রাশেদার গুরুভার আবু বকর সিদ্দিক (রা.) গ্রহণ করলেন এবং তিনি সুদৃঢ় সংকল্প ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের মাধ্যমে সেই ফিতনা (فتنة) নস্যাৎ করে দিলেন। সিদ্দিকা আয়েশা বিনতে সিদ্দিক (রা.) সেই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন—

“নবী (সা.) ইন্তেকাল করলেন এবং আরবরা মুরতাদ (مرتد) হয়ে গেল।

মদীনায় নিফাক (نفاق) মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। আমার পিতার ওপর যা আপতিত হয়েছিল, তা যদি সুদৃঢ় পাহাড়ের ওপর আপতিত হতো তবে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেত। আল্লাহর কসম, তারা যে বিষয়েই মতভেদ করেছে, আমার পিতা ইসলামের স্বার্থে তার সকল কষ্ট ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন।”

ইমাম আহমাদ এটি ফাযাইলুস সাহাবা গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

এই উম্মতের সিদ্দিক এবং তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি এই ফিতনার (فتنة) মোকাবিলা করলেন, ফলে তিনি শয়তানের ষড়যন্ত্র তার কণ্ঠনালীতেই ফিরিয়ে দিলেন। ইসলামের তরী নিরাপত্তার ‘জুদি’ পাহাড়ে স্থির হলো এবং সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। অতঃপর তিনি তাঁর জীবনের লক্ষ্য পূর্ণ করে তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন।

এরপর ওমরী খিলাফতে রাশেদা প্রতিষ্ঠিত হলো; এটি ছিল একজন মুহাদ্দাস (محدث) তথা কল্যাণের প্রতি ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তির খিলাফত। তিনি ছিলেন মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত এবং তিনি প্রাজ্ঞ মুমিনের প্রজ্ঞা ও ঈমানের প্রবল শক্তি দিয়ে তাদের শাসন করেছিলেন, যেখানে তাঁর চাবুক যথাযথ কাজ করত।

এটি বিপথগামীদের তাদের ভ্রষ্টতা থেকে নিবৃত্ত রাখত। তিনি মানুষকে জিহাদ ও আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজে ব্যস্ত রাখার জন্য বিস্তৃত দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।

তিনি তাদেরকে নিজেদের নফসের পরিবর্তে তাদের রবের কাজে মগ্ন রাখলেন। দলে দলে মানুষ আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল—যাদের মধ্যে ছিল অনুগত মুমিন (مؤمن), ভীত মুনাফিক (منافق) এবং ওত পেতে থাকা বিদ্বেষপোষণকারী। অতঃপর তারা নিজেদের মধ্যে ষড়যন্ত্র করল এবং কুফরের (كفر) এক কালো কাককে (ঘাতককে) তার জন্য প্রস্তুত করল। সে তাঁকে এক বা দুইবার আঘাত করে শহীদ করল, যখন তিনি ফজরের সালাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এভাবে তারা এক অসাধারণ প্রতিভার অবসান ঘটিয়ে ইসলামকে শোকাতুর করল।

এরপর যুন-নুরাইনের খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হলো, যিনি ছিলেন এই উম্মতের সবচেয়ে লজ্জাশীল ও সহনশীল ব্যক্তি এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায় ও রবের সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগামী, যেমনটি আয়েশা (রা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন।

তাঁর খিলাফতের দিনগুলো ছিল খিলাফতে রাশেদার সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও নিরাপদ সময়, যেখানে জিহাদ প্রাচ্য, প্রতীচ্য এবং সমুদ্রে বিস্তৃত হয়েছিল।
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
وأصحر وأنجد وأتهم.

ودخل الاسلام في الوبر والمدر.

ولكن الفتنة لم تنم بل حفرت لنفسها مدخلا في حصن الاسلام باضت فيه وأفرخت، تطير أفراخها هنا وهناك وتبني أعشاشها في عواصم الاسلام ومدنها، يعذيها أشر

خلق الله.

اليهود السبائية فتقول المفسدون على ذي النورين أكاذيب ونسجوا حوله الاباطيل، جر أهم على ذلك حلمه وكرم طبعه، فذبحوه في بيته وهو يتلو كتاب الله كما تذبح الحملان.

استشهد عثمان بن عفان رضي الله عنه ورحمه في دار الرسول ومدينته وانتهكت حرمات الخلافة بأبشع صورة، وقامت الفتنة كاسية عارية على قدم وساق ورفع رأسه الاختلاف والشقاق، وعميت المعالم على بعض الافاضل من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ولم تعد وحده المسلمين منذ ودعتهم في ذلك اليوم الفاتن المفتون.

وفي هذا الجو الخانق المظلم يقوم بأمر الخلافة ربيب النبوة وبطل الجهاد ابن عم رسول الله صلى الله عليه وسلم علي بن أبي طالب رضي الله عنه وأي أمر يقوم به هذا الخليفة راشد؟ بايعه المسلمون وهم متفرقون فرقة تزداد فجواتها كل يوم إذا سد منها فجوة انفتحت أمامه فجوات.

حمل ناس من المسلمين السيف في وجهه وقاتله جمع من الافاضل لا ينكر هو فضلهم، وتشقق المجتمع الاسلامي عن أقسى طوائف الفرق الخوارج الذين حاربوه حربا شعواء، وحاربه في الجانب الاخر إخوة له في الاسلام لم ينكر إسلامهم ولكنه قال عنهم: هم اخوتنا بغوا علينا.

ونشأت فرقة أخرى من أولاد سبأ وأفراخه الشيعة الذين ادعوا حبه وغلوا فيه حتى ألهوه، أظهروا الحب لال بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم وأشاعوا في الناس أنهم مظلومون ظلمهم الصحابة وعلى رأسهم أبو بكر وعمر وعثمان، فجعلوا ديدنهم سب الصحابة وتكفيرهم.

وتآمر أعداء الاسلام فاستشهد علي رضي الله عنه بيد آثمة بعد ما قضى
তিনি সমভূমি, উচ্চভূমি ও নিম্নভূমিতে বিচরণ করলেন।

আর ইসলাম পশম ও মাটির ঘরে (যাযাবর ও স্থায়ী জনপদে) প্রবেশ করল।

কিন্তু ফিতনা (فتنة) ঘুমিয়ে থাকেনি, বরং ইসলামের দুর্গের অভ্যন্তরে নিজের জন্য এমন এক প্রবেশপথ তৈরি করল যেখানে সে ডিম পেড়েছিল এবং বাচ্চা ফুটিয়েছিল; তার বাচ্চারা এখানে-সেখানে উড়ে বেড়ায় এবং ইসলামের রাজধানী ও শহরগুলোতে নিজেদের বাসা বাঁধে, যাদেরকে আল্লাহর নিকৃষ্টতম

সৃষ্টিরা ইন্ধন যোগায়।

সাবাঈ ইহুদিরা এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীরা যুন-নুরাইনের (উসমান রা.) বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করল এবং তাঁকে কেন্দ্র করে বাতিলের জাল বুনল। তাঁর সহনশীলতা ও স্বভাবজাত উদারতা তাদের এই দুঃসাহস বাড়িয়ে দিয়েছিল। ফলে তারা তাঁকে তাঁর নিজ ঘরে এমনভাবে যবেহ করল যেভাবে মেষশাবক যবেহ করা হয়, অথচ তখন তিনি আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করছিলেন।

উসমান বিন আফফান (রা.) রাসূলের আবাসস্থল ও তাঁর নগরীতে শাহাদাত বরণ করলেন এবং খিলাফতের পবিত্রতা অত্যন্ত জঘন্যভাবে লুণ্ঠিত হলো। ফিতনা (فتنة) পূর্ণ শক্তিতে সগৌরবে আত্মপ্রকাশ করল এবং মতভেদ ও বিভেদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। এমনকি রাসূলুল্লাহর (সা.) কিছু শ্রেষ্ঠ সাহাবীর (صحابة) নিকটও সত্যের নিদর্শনসমূহ অস্পষ্ট হয়ে পড়ল।

সেই বিপর্যয়কর ও বিভ্রান্তিকর দিনে বিদায় নেওয়ার পর থেকে মুসলিমদের ঐক্য আর ফিরে আসেনি।

এই রুদ্ধশ্বাস অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন নবুওয়তের কোলে লালিত-পালিত ও জিহাদের বীর সেনানী, রাসূলুল্লাহর (সা.) চাচাতো ভাই আলী বিন আবী তালিব (রা.)। কিন্তু এই সঠিক পথপ্রাপ্ত খলিফা (خليفة راشد) কোন পরিস্থিতির দায়িত্ব পালন করবেন? মুসলিমরা এমন অবস্থায় তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ (بيعة) গ্রহণ করল যখন তারা বিচ্ছিন্ন ছিল; এমন এক বিচ্ছিন্নতা যার ফাটল প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল—একদিকের ফাটল বন্ধ করলে তাঁর সামনে আরও অনেক ফাটল উন্মোচিত হতো।

কিছু মুসলিম তাঁর বিরুদ্ধে তরবারি ধারণ করল এবং একদল শ্রেষ্ঠ মানুষ তাঁর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন যাদের মর্যাদাকে তিনি অস্বীকার করতেন না। ইসলামি সমাজ খারেজি (خوارج) নামক কঠোরতম এক উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ল যারা তাঁর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ করেছিল। অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল তাঁরই কিছু দ্বীনি ভাই, যাদের ইসলামকে তিনি অস্বীকার করেননি বরং তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন: "তারা আমাদের ভাই, যারা আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে।"

আর ইবনে সাবার অনুসারী ও তার বংশোদ্ভূত শিয়া (شيعة) নামক আরেকটি দলের উদ্ভব ঘটল, যারা তাঁর প্রতি ভালোবাসার দাবি করল এবং এ বিষয়ে এমন বাড়াবাড়ি করল যে তাঁকে ইলাহ (উপাস্য) বানিয়ে ফেলল। তারা রাসূলুল্লাহর (সা.) আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করল এবং মানুষের মাঝে রটিয়ে দিল যে তারা নিপীড়িত, সাহাবীরা (صحابة) তাদের ওপর জুলুম করেছেন—যাদের শীর্ষে ছিলেন আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.)। তারা সাহাবীদের গালি দেওয়া এবং তাঁদের কাফির সাব্যস্ত করাকে (تكفير) নিজেদের অভ্যাসে পরিণত করল।

ইসলামের শত্রুরা ষড়যন্ত্র করল এবং এক পাপিষ্ঠের হাতে আলী (রা.) শাহাদাত বরণ করলেন, যখন তিনি অতিবাহিত করেছিলেন
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
ليله ونهاره في إخماد الفتن ولم يجد طمأنينه حتى لقي ربه، وصدقت عائشة

أم المؤمنين رضي الله عنه حينما وصلها استشهاد علي كرم الله وجهه فتمثلثت بهذا الشعر: فالقت عصاها واستقرت بها النوى * كما قر عينا بالاياب المسافر (1) وتجتمع الخلافة بعد تنازل الحسن بن علي، على معاوية رضي الله عنهما والفرقة خفت وطأتها فساسها بحلم وأناة وحكمة وصبر، وكان الامر فيه شئ من الهدوء والسكينة ولا يمضي يوم إلا وبعده شر منه.

والفتنة وإن كانت تقلق داخل المجتمع الاسلامي إلا أن خارجه بقي مرهوب الجانب ببركة الصالحين من عامة المسلمين وبصلاحهم فالخير كان هو المتحكم في سلوكهم وتعلقهم بالله عز وجل وقيامهم بالدعوة إلى الله.

كيف لا وهم صحابة رسول الله الذين رباهم الرسلم صلى الله عليه وسلم بسلوكه ومنهجه لم ينسوا واجباتهم في الامر بالمعروف والنهي عن المنكر ثم تسلم الامر التابعون لاصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين تربوا في أحضان الصحابة وتلقوا الهدى وهدي رسول الله صلى الله عليه وسلم منهم وقاموا بنشره بين الناس، فكانت روح الاسلام يقظة متبصرة، وكان المجتمع الاسلامي مرهوبا في نظر الاعداء الموتورين خارجا وداخلا.

وظلت جنود الاسلام في ظل هذه الفتن الداخلية تغزو وتفتح قلوب العباد وبلادهم وتنشر الدعوة إلى الله.

وتعلم الناس الكتاب والحكمة وتمضي سفينة الاسلام تمخر عباب الفتن الداخلية مع الجهاد في سبيل الله وتتوسع رقعة البلاد الاسلامية حتى تصل إلى قلب افريقيا وأبواب أوربا والصين ويدخل في دين الله ناس مخلصون طائعون، وناس اتفقت أهواءهم مع هوى السبائية في كل زمن فيتصلون بزمرتهم سنة الله في الذين خلوا من قبل.

--------------------------------------------

(1) طبقات ابن سعد 3: 40.

(*)
তাঁর দিন ও রাত অতিবাহিত হতো ফিতনা (الفتن) দমনে এবং আপন রবের সান্নিধ্য লাভের পূর্ব পর্যন্ত তিনি কোনো প্রশান্তি পাননি। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) সত্যই বলেছিলেন যখন তাঁর নিকট আলী (রা.)-এর শাহাদাতের সংবাদ পৌঁছেছিল, তখন তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন: "অতঃপর সে তার লাঠি রাখল এবং তার গন্তব্য স্থির হলো, যেমন সফর শেষে প্রত্যাবর্তনে মুসাফিরের চোখ জুড়ায়।" (১) আর হাসান ইবনে আলী (রা.)-এর ক্ষমতা হস্তান্তরের পর মুয়াবিয়া (রা.)-এর অধীনে খিলাফত একত্রিত হয় এবং বিভেদের তীব্রতা হ্রাস পায়। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য, সহনশীলতা, প্রজ্ঞা ও সবরের সাথে তা পরিচালনা করেন। তখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ও স্থির হয়েছিল, যদিও প্রতিটি অতিবাহিত দিনের পরের দিনটি ছিল পূর্বের চেয়ে মন্দতর।

ফিতনা (الفتنة) যদিও ইসলামি সমাজের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরি করেছিল, তথাপি সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে যারা নেককার (الصالحين) ছিলেন তাদের বরকত ও নিষ্ঠার কারণে বহিঃশত্রুর নিকট ইসলামি ভূখণ্ড ছিল অত্যন্ত ভীতিপ্রদ। বস্তুত কল্যাণই ছিল তাদের আচরণ, আল্লাহর প্রতি নিবিষ্টতা এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের (الدعوة) মূল চালিকাশক্তি।

কেন হবে না? তাঁরা তো আল্লাহর রাসূলের সাহাবী, যাঁদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি দ্বারা গড়ে তুলেছিলেন। তাঁরা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের দায়িত্ব ভুলে যাননি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের পরবর্তী স্তরে তাবেঈনরা (التابعون) দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যারা সাহাবীদের সান্নিধ্যে লালিত হয়েছিলেন এবং তাঁদের নিকট থেকে হিদায়াত ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ গ্রহণ করে তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ফলে ইসলামের প্রাণশক্তি ছিল জাগ্রত ও দূরদর্শী এবং ইসলামি সমাজ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শত্রুদের চোখে ছিল অত্যন্ত প্রতাপশালী।

এই অভ্যন্তরীণ ফিতনাগুলোর (الفتن) মধ্যেও ইসলামের সেনাদল লড়াই অব্যাহত রেখেছিল এবং মানুষের অন্তর ও জনপদ জয় করে আল্লাহর পথে দাওয়াত (الدعوة) প্রচার করে যাচ্ছিল।

মানুষ কিতাব ও হিকমত শিক্ষা করছিল এবং আল্লাহর পথে জিহাদের (الجهاد) পাশাপাশি ইসলামের তরী অভ্যন্তরীণ ফিতনার (الفتن) উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিয়ে এগিয়ে চলছিল। ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা বিস্তৃত হয়ে আফ্রিকার কেন্দ্রস্থল, ইউরোপের প্রবেশদ্বার এবং চীন পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। আল্লাহর দ্বীনে একদল লোক একনিষ্ঠ ও আনুগত্যশীল হয়ে প্রবেশ করছিল, আবার একদল লোক ছিল যাদের প্রবৃত্তি সব যুগে সাবায়ীদের (السبائية) প্রবৃত্তির সাথে মিলে যেত; ফলে তারা তাদের দলের সাথে যুক্ত হতো—এটিই তাদের পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে আল্লাহর চিরন্তন রীতি।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাত ইবনে সাদ ৩: ৪০।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
فلما نشأت الفرق واختلف الاهواء فشا الكذب في بعض الطوائف على رسول الله صلى الله عليه وسلم لان كل واحد جيدا أن قول النبي صلى الله عليه وسلم أغلى شئ عند المسلمين فابتدأ وضع الاحاديث لتقوية الاهواء والاراء.

كما بدأ التحريف والتأويل الجائر لبعض الايات من كتاب الله.

فقام المسلمون بحفظ هذين الاصلين بجميع الوسائل والامكانيات يشهد التاريخ الصادق أن المسلمين عرفوا قدر هذين الاصلين كتاب الله وسنة رسوله وأنهما سبب سعادة كل مسلم وموضع هداية كل مؤمن ومعلوم من فطرة الانسان أن المتاع الغالي والثمين يبالغ في حفظه وصيانته بكل مستطاع.

وكلما زاد غلاء ازادت العناية في حفظه.

فقاموا بحفظ كتاب الله في الصدور ثم في المصاحف ما بين الدفتين.

كما قاموا بحفظ سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ظهر قلب ثم بتدوينه في الدواوين ثم التحقق والتثبت فيها.

روى مسلم في مقدمة صحيحه 15 عن ابن سيرين قال: لم يكونوا يسألون عن الاسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم.

واستنبطوا بتوفيق الله لخدمتها علوما ما عرفت البشرية في تاريخها الطويل عشر معشار ما عند المسلمين، فانظر إلى تلك العلوم الكثيرة من التجويد والتفسير وأصولها والنحو والصرف، والبلاغة ثم مصطلح السنة وفي كل فن فنون وأفنان، كلها لخدمة هذين الاصلين الكريمين.

نعم من معجزة هذا الدين الخالد أن الله خلق له خلقا كانوا زبدة البشرية وخلاصتها وهم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم الذين قاموا بنصرة نبيهم

وتعزيره وتوقيره والفداء بأرواحهم وأموالهم على إشارة طرفه المبارك.

لا يوجد لهم مثيل في أمة من الامم.
যখন বিভিন্ন দল-উপদলের উদ্ভব হলো এবং প্রবৃত্তিগুলো ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিল, তখন কিছু উপদলের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপের প্রসার ঘটল। কারণ প্রত্যেকেই ভালোভাবে জানত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু; ফলে তারা নিজেদের খেয়াল-খুশি ও মতামতকে শক্তিশালী করার জন্য হাদিস জাল করা (وضع) শুরু করল।

ঠিক তেমনি আল্লাহর কিতাবের কিছু আয়াতের অন্যায় বিকৃতি (تحريف) ও অপব্যাখ্যা (تأويل) শুরু হয়েছিল।

অতঃপর মুসলমানরা সমস্ত উপায় ও সামর্থ্য দিয়ে এই মূল উৎস দুটি সংরক্ষণে সচেষ্ট হলেন। সত্য ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, মুসলমানরা এই দুই মূল উৎস তথা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর মর্যাদা বুঝতে পেরেছিলেন এবং এটিও জানতেন যে, এই দুটিই প্রত্যেক মুসলমানের সৌভাগ্যের কারণ এবং প্রত্যেক মুমিনের হিদায়াতের উৎস। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই এটি জানা যায় যে, অতি মূল্যবান ও দামী সম্পদ সর্বোচ্চ সাধ্য দিয়ে সংরক্ষণ ও হিফাজত করা হয়।

আর বস্তুর মূল্য যত বাড়ে, তা সংরক্ষণের গুরুত্বও তত বৃদ্ধি পায়।

তাই তাঁরা আল্লাহর কিতাবকে প্রথমে অন্তরে এবং পরবর্তীতে দুই মলাটের মাঝে মাসহাফে সংরক্ষণ করলেন।

একইভাবে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে মুখস্থ রাখার মাধ্যমে সংরক্ষণ করলেন, অতঃপর তা সংকলনসমূহে সংকলিত (تدوين) করলেন এবং পরবর্তীতে তার সত্যতা যাচাই ও নিশ্চয়তা বিধান (التحقق والتثبت) করলেন।

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ-এর মুকাদ্দামার ১৫ নম্বর পৃষ্ঠায় ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তাঁরা সনদ (الاسناد) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না। কিন্তু যখন ফিতনা শুরু হলো, তখন তাঁরা বলতে লাগলেন, 'আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো।' তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাঁদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতীদের (أهل البدع) দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাঁদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।

আল্লাহর তওফিকে তাঁরা এই দুইয়ের সেবায় এমন সব শাস্ত্র উদ্ভাবন করলেন, যার দশমাংশের এক অংশও মানবজাতি তার দীর্ঘ ইতিহাসে কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। লক্ষ্য করুন তাজবীদ, তাফসীর ও তার মূলনীতি, নাহু, সরফ এবং বালাগাত, অতঃপর সুন্নাহর পরিভাষা (مصطلح السنة) এর মতো অসংখ্য শাস্ত্রের দিকে; প্রতিটি বিষয়ের শাখা-প্রশাখা ও বৈচিত্র্যের দিকে, যার সবই ছিল এই মহিমান্বিত মূল উৎস দুটির সেবায় নিবেদিত।

হ্যাঁ, এই চিরন্তন দ্বীনের অন্যতম মুজিজা হলো যে, আল্লাহ এর জন্য এমন কিছু মানুষ সৃষ্টি করেছিলেন যারা ছিলেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠাংশ ও নির্যাস। তাঁরা হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, যাঁরা তাঁদের নবীর সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন

এবং তাঁর সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় এবং তাঁর মুবারক চোখের সামান্য ইঙ্গিতে নিজেদের জান ও মাল উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত ছিলেন।

অন্য কোনো উম্মতের মধ্যে তাঁদের কোনো নজির নেই।
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
فقد حكى لنا كتاب الله عن اليهود حينما قالوا لنبيهم موسى: إذهب أنت وربك فقاتلا إنا ههنا قاعدون.

وتحكي لنا السيرة الصحيحة أن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال قائلهم: يا رسول الله: والذي نفسي بيده، لو أمرتنا أن نخيضها البحر لاخضناها، ولو أمرتنا أن نضرب أكبادها إلى برك الغماد لفعلنا (1) … قاموا بحفظ هذا الدين عن نبيهم ونقلوه إلى من بعدهم بعدالة تامة وأمانة كاملة.

وليس بخاف على الملم بتاريخ المسلمين الجهد الذي قام به أصحاب النبي صلى الله لجمع القرآن الكريم في مصحف مجمع عليه، فبذلك فرغ من جمع القرآن الكريم وتدوينه في عهد أفضل هذه الامة نؤمن بأنه موجود بين أيدينا غضا طريا كما أنزل الله على رسوله محمد صلى الله عليه وسلم يحفظه في الصدور صغار هذه الامة وكبارها من غير أن يأتيه التحريف والتصحيف.

وأما السنة النبوية وإن كانت مدونة كثير منها في زمن الصحابة ولكن كان أكثر اعتمادها على الحفظ ولم تكن مدونة تدوينا كاملا كالقرآن الكريم.

فتبدأ مهمة التابعين ومن بعدهم فيقومون بجهود خارقة للعادات لجمع أحاديث نبيهم صلى الله عليه وسلم وضربوا في هذا المضمار أمثالا رائعة تدل على إعجاز هذا الدين الحنيف.

" آثروا قطع المفاوز والقفار على التنعم في الديار والاوطان في طلب السنن في الامصار وجمعها بالوجل والاسفار والدوران في جميع الاقطار،

حتى إن أحدهم ليرحل في الحديث الواحد، الفراسخ البعيدة، وفي الكلمة الواحدة الايام الكثيرة، لئلا يدخل مضل في السنن شيئا يضل به، وإن

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم 3: 1404، ومسند أحمد 3: 219، 220.

(*)
আল্লাহর কিতাব আমাদের নিকট ইয়াহূদীদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছে যখন তারা তাদের নবী মূসাকে বলেছিল: "তুমি ও তোমার রব যাও এবং যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে রইলাম।"

আর সহিহ (صحيحة) সিরাত আমাদের নিকট বর্ণনা করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের মধ্য থেকে জনৈক বক্তা বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, আপনি যদি আমাদের নির্দেশ দেন সমুদ্র পাড়ি দিতে, তবে আমরা অবশ্যই তা পাড়ি দেব। আর আপনি যদি আমাদের নির্দেশ দেন 'বারকুল গিমাদ' পর্যন্ত সফর করতে, তবে আমরা অবশ্যই তা করব (১) ... তাঁরা তাঁদের নবীর পক্ষ থেকে এই দ্বীনকে সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং পূর্ণাঙ্গ ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) ও নিখুঁত আমানতদারিতার সাথে তা পরবর্তী প্রজন্মের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন।"

মুসলিম ইতিহাসের সাথে পরিচিত ব্যক্তিদের নিকট এটা গোপন নয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ পবিত্র কুরআনকে একটি সর্বসম্মত পাণ্ডুলিপিতে একত্রিত করার জন্য যে শ্রম দিয়েছেন, তার ফলে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ যুগের মধ্যেই পবিত্র কুরআন সংগ্রহ ও সংকলন সম্পন্ন হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, এটি আমাদের হাতে ঠিক সেভাবেই সজীব ও অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান রয়েছে যেভাবে আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন। এই উম্মতের ছোট-বড় সকলে কোনো প্রকার বিকৃতি (تحريف) ও শব্দগত পরিবর্তন (تصحيف) ছাড়াই তা অন্তরে মুখস্থ করে রেখেছে।

আর সুন্নাতে নববী যদিও সাহাবীগণের যুগে এর অনেক কিছুই সংকলিত (مدونة) ছিল, তবে তা অধিকতর হেফজ বা মুখস্থ রাখার ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং তা পবিত্র কুরআনের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে সংকলিত (مدونة) ছিল না।

এরপর তাবেয়ীগণ ও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের দায়িত্ব শুরু হয়। তাঁরা তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ সংগ্রহের জন্য অলৌকিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন এবং এই ক্ষেত্রে তাঁরা এমন চমৎকার উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন যা এই দ্বীনে হানিফের অলৌকিকত্বের প্রমাণ বহন করে।

"তাঁরা বিভিন্ন শহরে সুন্নাহ (السنن) অন্বেষণের জন্য এবং ভয়-ভীতি, দূরপাল্লার ভ্রমণ ও পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে পরিভ্রমণের মাধ্যমে তা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নিজ দেশ ও ভিটাবাড়িতে আরাম-আয়েশের পরিবর্তে মরুভূমি ও জনমানবহীন প্রান্তর পাড়ি দেওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন,

এমনকি তাঁদের কেউ কেউ একটি মাত্র হাদিসের জন্য দূর-দূরান্তের পথ পাড়ি দিতেন এবং একটি শব্দের জন্য বহু দিন অতিবাহিত করতেন, যাতে কোনো বিভ্রান্তকারী সুন্নাহর মধ্যে এমন কিছু প্রবেশ করাতে না পারে যার মাধ্যমে সে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে। আর

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম ৩: ১৪০৪, এবং মুসনাদে আহমাদ ৩: ২১৯, ২২০।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
فعل، فهم الذابون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ذلك الكذب، والقائمون بنصرة الدين (1) .

وإن رحلة المحدثين لطلب السنن والاثار كان مصداقا لقوله تعالى: (فلو نفر من كل فرقة منهم طائفة ليتفقهوا في الدين) (2) .

فأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كان الواحد منهم يسافر لطلب حديث واحد أو لمجرد التثبت مسافة شاسعة يتحمل في هذه السبيل كل مشقة.

قال عبد الله بن بريدة أن رجلا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم رحل إلى فضالة بن عبيد وهو بمصر فقدم عليه وهو يمد لناقة له، فقال: مرحبا، قال: أما إني لم آتك زائرا، ولكن سمعت أنا وأنت حديثا من رسول الله صلى الله عليه وسلم، رجوت أن يكون عندك منه علم، قال: ما هو؟ قال: كذا وكذا … ويروي لنا جابر بن عبد الله رضي الله عنه قصة رحلته فيقول: بلغني حديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم أسمعه فابتعت بعير فشددت عليه رحلي، وسرت شهرا، حتى قدمت الشام.

فأتيت عبد الله بن أنيس.

فقلت للبواب، قل له: جابر على الباب، قال: فأتاه، فقال له: جابر بن عبد الله، فأتاني فقال لي، فقلت له: نعم، فرجع فأخبره.

فقام يطاطئ ثوبه، حتى لقيني فاعتنقني واعتنقته، فقلت: حديث بلغني عنك سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم في القصاص لم أسمعه

فخشيت أن تموت أو أموت، قبل أن أسمته، فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم … فذكره.

--------------------------------------------

(1) من كتاب المجروحين 1، 27.

(2) سورة التوبة: 122.

(*)
বস্তুত, তারাই ছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আরোপিত মিথ্যা প্রতিহতকারী এবং দ্বীনের সহায়তায় দণ্ডায়মান ব্যক্তি (১)।

আর সুন্নাহ ও আসার (آثار) অন্বেষণে হাদিস বিশারদদের (محدثين) এই সফর ছিল মহান আল্লাহর বাণীর বাস্তব প্রতিফলন: (অতঃপর তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হয় না, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে) (২)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের অবস্থা এমন ছিল যে, তাঁদের কেউ একটি মাত্র হাদিস সংগ্রহের জন্য অথবা কেবল তা যাচাইয়ের (تثبت) উদ্দেশ্যে সুদূর পথ পাড়ি দিতেন এবং এই পথে যাবতীয় কষ্ট সহ্য করতেন।

আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী ফাদালাহ ইবনে উবাইদের নিকট সফর করলেন যখন তিনি মিশরে ছিলেন। তিনি যখন তাঁর নিকট পৌঁছালেন, তখন ফাদালাহ তাঁর উটকে ঘাস-পানি দিচ্ছিলেন। তিনি বললেন: স্বাগতম। আগন্তুক সাহাবী বললেন: আমি আপনার কাছে কেবল সাক্ষাতের জন্য আসিনি; বরং আমি এবং আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে একটি হাদিস শুনেছিলাম, আমি আশা করছিলাম যে সে বিষয়ে আপনার কাছে নিশ্চিত জ্ঞান (علم) রয়েছে। তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: এমন এমন … জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের কাছে তাঁর সফরের কাহিনী বর্ণনা করে বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস আমার নিকট পৌঁছাল যা আমি নিজে শুনিনি। অতঃপর আমি একটি উট ক্রয় করলাম এবং তার ওপর হাওদা কষলাম। আমি এক মাস পথ চললাম, অবশেষে সিরিয়ায় পৌঁছালাম।

অতঃপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে উনাইসের নিকট আসলাম।

আমি দ্বাররক্ষীকে বললাম, তাকে বলো: জাবির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। বর্ণনাকারী বলেন: সে তাঁর কাছে গেল এবং তাঁকে বলল: জাবির ইবনে আবদুল্লাহ। অতঃপর সে আমার কাছে এসে আমাকে (নাম নিশ্চিত করতে) জিজ্ঞাসা করল। আমি বললাম: হ্যাঁ। সে পুনরায় ফিরে গিয়ে তাঁকে সংবাদ দিল।

অতঃপর তিনি তাঁর পরিধেয় বস্ত্র সামলাতে সামলাতে দ্রুত উঠে এলেন এবং আমার সাথে কোলাকুলি করলেন, আমিও তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম। আমি বললাম: কিাস (قصاص) সংক্রান্ত একটি হাদিস আপনার সূত্রে আমার কাছে পৌঁছেছে যা আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন কিন্তু আমি তা শুনিনি।

তাই আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, তা শোনার পূর্বেই হয়তো আপনি মৃত্যুবরণ করবেন অথবা আমি মারা যাব। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি … অতঃপর তিনি তা বর্ণনা করলেন।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল মাজরুহিন ১, ২৭ থেকে।

(২) সূরা আত-তাওবাহ: ১২২।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
وعن وهب بن عبد الله المعافري قال: قدم رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم من الانصار على مسلمة بن مخلد، فألفاه نائما.

فقال: أيقظوه، قالوا بل: نتركه حتى يستيقظ، قال: لست فاعلا، فأيقظوا مسلمة له، فرحب به، وقال: انزل.

قال: لا حتى ترسل إلى عقبة بن عار لحاجة لي إليه، فأرسل إلى عقبة، فأتاه، فقال: هل سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: من وجد مسلما على عورة فستره، فكأنما أحيا موءودة من قبرها؟ فقال عقبة: قد سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ذلك (1) .

وتبعهم التابعون لهم باحسان، فارتحلوا وجمعوا السنن من الاقطار والامصار ثم من تبعهم بإحسان إلى أن تم تدوين السنة في الدواوين التي نراها تزخر بها مكتبات العالم.

ولم يكتفوا بالجمع فقط بل استعملوا كل وسيلة لتنقيتها من الشوائب والاكدار، ووضعوا لها قواعد هي أرقي ما عرفت الدنيا وأفضل ما وصلت إليه الطاقة البشرية لتحقيق الاخبار والتثبت فيها فانظر كتب مصطلح الحديث وما فيها من أنواع علوم الحديث ترى ما لا عين رأت ولا أذن سمعت مثله قبل الاسلام.

وما من شك أن القرآن الكريم هو أول من أرشد إلى التحقيق والتثبت

في الاخبار فقال: (يا أيها الذين آمنوا إن جاءكم فاسق بنبأ فتبينوا أن تصيبوا قوما بجهالة) (2) .

وإلى تدوين السير والتراجم الصحيحة، المفيدة، المعتبرة، فقد ذكر لنا

--------------------------------------------

(1) أنظر سيرة البخاري للعلامة عبد السلام المباركفوري ص 12 - 14.

(2) سورة الحجرات: 6.

(*)
ওহাব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুয়াফিরী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনসারী সাহাবীগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি মাসলামাহ ইবনে মুখাল্লাদ-এর নিকট আসলেন এবং তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলেন।

তিনি বললেন: তাঁকে জাগ্রত করো। তাঁরা বললেন: বরং আমরা তাঁকে ছেড়ে দিই যতক্ষণ না তিনি নিজে জাগ্রত হন। তিনি বললেন: আমি তা করব না। ফলে তাঁরা মাসলামাহ-কে তাঁর জন্য জাগ্রত করলেন। তিনি তাঁকে স্বাগত জানালেন এবং বললেন: (বাহন হতে) অবতরণ করুন।

তিনি বললেন: না, যতক্ষণ না আপনি উকবা ইবনে আমেরের নিকট লোক পাঠান, কারণ তাঁর নিকট আমার একটি প্রয়োজন রয়েছে। অতঃপর তিনি উকবা-র নিকট লোক পাঠালেন এবং তিনি আসলেন। তিনি (সাহাবী) জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের গোপনীয়তা প্রত্যক্ষ করল এবং তা গোপন রাখল, সে যেন জীবন্ত কবরস্থ কন্যাকে তার কবর থেকে পুনর্জীবিত করল?" উকবা বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা বলতে শুনেছি (১)।

অতঃপর নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেয়ীগণ তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন। তাঁরা বিভিন্ন অঞ্চল ও জনপদ সফর করে সুন্নাহসমূহ সংগ্রহ করলেন। এরপর যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাদের মাধ্যমে সুন্নাহ সংকলনের কাজ সেই সকল দিওয়ান বা গ্রন্থে সম্পন্ন হয়, যা দিয়ে আমরা বর্তমান বিশ্বের লাইব্রেরিগুলো সমৃদ্ধ দেখতে পাই।

তাঁরা শুধু সংগ্রহের মাধ্যমেই ক্ষান্ত হননি, বরং একে যাবতীয় আবিলতা ও পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র করার জন্য প্রতিটি মাধ্যম ব্যবহার করেছেন। সংবাদ যাচাই (تحقيق الاخبار) এবং সত্যতা নিশ্চিতকরণের (التثبت) জন্য তাঁরা এমন সব মূলনীতি প্রণয়ন করেছেন যা পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ এবং মানুষের সাধ্যাতীত পর্যায়ের। আপনি হাদিস পরিভাষা (مصطلح الحديث) এবং হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদ (أنواع علوم الحديث) সংক্রান্ত গ্রন্থগুলো দেখুন, তবে আপনি এমন কিছু দেখতে পাবেন যা ইসলামের পূর্বে কোনো চক্ষু দেখেনি এবং কোনো কর্ণ শোনেনি।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পবিত্র কুরআনই সর্বপ্রথম সংবাদ যাচাই (التحقيق) এবং সত্যতা নিশ্চিতকরণের (التثبت) ব্যাপারে পথপ্রদর্শন করেছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই (تبينوا) করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো কওমের ক্ষতি করে বসো।" (২)

এবং এটি সঠিক, উপকারী ও গ্রহণযোগ্য সীরাত এবং জীবনী আলোচনা (التراجم) সংকলনের নির্দেশনাও দিয়েছে। তিনি আমাদের জন্য উল্লেখ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল্লামা আব্দুস সালাম মুবারকপুরী রচিত সীরাতে বুখারি দেখুন, পৃষ্ঠা ১২ - ১৪।

(২) সূরা আল-হুজুরাত: ৬।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
القرآن الكريم تراجم أعلام كثيرين ومواضع العبرة فيها صافية، خالصة من التناقض والمحالات، وانظر بجانبه الاساطير والقصص الباطلة في كتب من قبلنا.

ويعلمنا القرآن أيضا، أنه لا يكفي تدوين السير والتزام الصدق فيه فقط، بل ينبغي توجيه النقد الصادق أيضا للاعتبار والموعظة.

وانظر أمثله ذلك في قصة آدم ونوح ويونس عليهم السلام.

ومن هذا المنطلق القرآني الكريم، توجه أهل الحديث رحمة الله عليهم فبذلوا قصارى جهودهم وسعوا حتى جمعوا سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم وسنته قولا وفعلا وتقريرا بأسانيدها.

ولولا ذلك الجهد العظيم من هذه الطائفة المباركة لحرمنا معرفة أحوال نبينا صلى الله عليه وسلم، ولتعذر علينا الامتثال بقوله تعالى: (لقد كان لكم في رسول الله أسوة حسنة) (1) .

ولم تقف جهودهم على هذه الحدود بل دونوا تراجم صحيحة صادقة للخلفاء الراشدين أيضا عملا بقوله صلى الله عليه وسلم في حديث العرباض بن سارية " … فعليكم بما عرفتم من سنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ (2) .

وخطوا خطوات فجمعوا تراجم غيرهم من الصحابة، وكيف يهملون

تراجم أصحاب نبيهم وقد زكاهم الله وأثنى عليهم، وإن في حياتهم لنا خبرا وعبرا.

فالكتب المؤلفة الخاصة بهم تدل على الجهود المبذولة في هذا الجانب.

ولما كان الخبر - أي خبر كان - لا يوثق به ولا يكون مقبولا إلا إذا

--------------------------------------------

(1) سورة الاحزاب: 21.

(2) أنظر صحيح الجامع الصغير 4: 132.

(*)
আল-কুরআনুল কারীমে বহু প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের জীবনী (تراجم) বর্ণিত হয়েছে এবং সেখানে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো স্বচ্ছ, যা বৈপরীত্য ও অসম্ভবতা থেকে মুক্ত; এবং এর বিপরীতে আমাদের পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান কাল্পনিক কাহিনী ও মিথ্যা গল্পগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করুন।

কুরআন আমাদের আরও শিক্ষা দেয় যে, কেবল জীবনী সঙ্কলন করা এবং তাতে সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখাই যথেষ্ট নয়, বরং শিক্ষা গ্রহণ ও উপদেশের নিমিত্তে যথার্থ সমালোচনা (النقد) পরিচালনা করাও আবশ্যক।

আদম, নূহ এবং ইউনুস (আলাইহিমুস সালাম)-এর কাহিনীর মধ্যে এর উদাহরণগুলো দেখুন।

কুরআনের এই মহান দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আহলে হাদিসগণ (রহিমাহুল্লাহ) অগ্রসর হয়েছিলেন এবং তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছিলেন। এমনকি তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত এবং তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি (تقريرا) সমৃদ্ধ সুন্নাহকে তাঁদের সনদসহ (أسانيدها) সংকলন করেছেন।

এই বরকতময় জামাতের সেই মহান প্রচেষ্টা না থাকলে আমরা আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবস্থা সম্পর্কে জানা থেকে বঞ্চিত হতাম এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুসরণ করা আমাদের জন্য দুষ্কর হয়ে পড়ত: "নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ" (১)।

তাঁদের প্রচেষ্টা কেবল এই সীমানাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তাঁরা খুলাফায়ে রাশেদীনের জন্যও সহীহ (صحيحة) ও সত্যনিষ্ঠ জীবনীসমূহ (تراجم) লিপিবদ্ধ করেছেন; ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে: "...সুতরাং তোমাদের ওপর আবশ্যক হলো আমার সুন্নাহ এবং হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, যা তোমরা জেনেছ; একে তোমরা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরো" (২)।

তাঁরা আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন এবং অন্যান্য সাহাবীগণেরও জীবনীসমূহ (تراجم) সংগ্রহ করলেন। আর কীভাবে তাঁরা তাঁদের নবীর সাহাবীগণের জীবনীসমূহ (تراجم) উপেক্ষা করতে পারতেন, অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁদের পবিত্র ঘোষণা করেছেন এবং তাঁদের প্রশংসা করেছেন? নিশ্চয়ই তাঁদের জীবনের প্রতিটি সংবাদ ও ঘটনায় আমাদের জন্য সংবাদ ও শিক্ষা রয়েছে।

তাঁদের বিষয়ে রচিত বিশেষ কিতাবসমূহ এই ক্ষেত্রে ব্যয়িত প্রচেষ্টার প্রমাণ দেয়।

যেহেতু কোনো সংবাদ—তা যে ধরনের সংবাদই হোক না কেন—নির্ভরযোগ্য (يوثق) এবং গ্রহণযোগ্য (مقبولا) হয় না যতক্ষণ না...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব: ২১।

(২) দেখুন: সহীহুল জামি আস-সাগীর ৪: ১৩২।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
كان المخبر ثقة حافظا، عدلا، فكيف يقبل الخبر عن النبي صلى الله عليه وسلم من كل أحد بدون أن نعرف صدقه من كذبه وصوابه من وهمه وخطأه.

لذلك فاستنبطوا كلمة الاسناد باصطلاحهم الخاص واستنبطوا له علما خاصا يعرف بعلم النقد والجرح والتعديل.

وترجموا للتابعين ولمن بعدهم، وقيدوا أحوالهم حتى يعرف الضعيف من الحافظ والثقة من الكاذب ممن تقبل أخبارهم وممن ترد أحاديثهم فإذا رأيت كتب التراجم والتواريخ والطبقات ثم رأيت آلافا من التراجمن بجميع ما وصلوا إليه من مولد الراوي ونشأته إلى مماته، كيف كان مدخله ومخرجه، كيف كان في سلوكه ودينه وعقيدته ومعاملاته مع الاخرين، من شيوخه الذين تتلمذ عليهم وهل سمع أحاديثه أم بعضها من هم التلاميذ الذين تلقوا عنه ومن تلاميذه الثقات عنه ومن تضعف رواياتهم عنه.

كم عدد مروياته كم فيها صحيح وكم فيها ضعيف.

هل بقي في حفظه وعدالته على ما كان في شبابه وصحته أم اختلط بآخرته بعد ما كبر وشاخ أو بعد ما أصيب بعاهة أو حادث في نفسه، أو في كتبه، وهل حدث حال اختلاطه أم لا؟ فإن حدث فمن الذين أخذوا عنه قبل الاختلاط، ومن الذين أخذوا عنه بعد الاختلاط، ومن الذين أخذوا قبل الاختلاط، وبعده أيضا فهل ميزت

أحاديثهم أم لا؟ ؟ إلى غير ذلك من صفات تعلق بالراوي، هذا ما عرف بعلم معرفة الرجال أو علم الجرح والتعديل.

حتى انبهر بهذه العلوم أعداء الاسلام ونطق بعضهم بالثناء عليها وعليهم اعترافا بالفضل ما شهدت به الاعداء.

قال الدكتور سبرنجر في مقدمة كتاب الاصابة: " يحق للمسلمين أن يفتخروا بعلم الرجال كما شاءوا.

فلم توجد أمة
যদি সংবাদ প্রদানকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة), প্রখর স্মৃতিধর (حافظ) এবং ন্যায়পরায়ণ (عدل) হন, তবে সত্য থেকে মিথ্যা এবং নির্ভুলতা থেকে ভুল ও বিভ্রান্তিকে পৃথকভাবে না জেনে নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে আসা সংবাদ কীভাবে প্রত্যেকের কাছ থেকে গ্রহণ করা সম্ভব?

এই কারণে তারা তাদের নিজস্ব পরিভাষায় সনদ (الإسناد) পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং এর জন্য একটি বিশেষ শাস্ত্র উদ্ভাবন করেন যা সমালোচনা শাস্ত্র (علم النقد) এবং জারহ ও তা’দিল (الجرح والتعديل) নামে পরিচিত।

তারা তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জীবনী রচনা করেছেন এবং তাদের অবস্থা লিপিবদ্ধ করেছেন যাতে স্মৃতিধর (حافظ) বর্ণনাকারীদের থেকে দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীদের এবং মিথ্যাবাদী (كاذب) থেকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিদের পৃথক করা যায়; কাদের বর্ণনা গ্রহণযোগ্য এবং কাদের হাদিস বর্জনীয় তা জানা যায়। আপনি যখন জীবনীগ্রন্থ (تراجم), ইতিহাস এবং বর্ণনাকারীদের স্তর (طبقات) বিষয়ক গ্রন্থগুলো দেখবেন, তখন সেখানে হাজার হাজার জীবনী পাঠ করতে পারবেন যেখানে বর্ণনাকারীর (راوي) জন্ম ও বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সমস্ত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে; তার সামাজিক অবস্থান ও যাতায়াত কেমন ছিল, তার আচরণ, দ্বীনদারি, আকিদা এবং অন্যদের সাথে তার লেনদেন কেমন ছিল; তিনি কোন কোন শায়খের কাছে ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তিনি কি তাদের থেকে সব হাদিস শুনেছেন নাকি কিছু অংশ; কারা তার থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তার ছাত্রদের মধ্যে নির্ভরযোগ্য (ثقة) কারা ছিলেন এবং কাদের বর্ণনা তার পক্ষ থেকে দুর্বল (ضعيف) বলে গণ্য—এই সব কিছুই সেখানে লিপিবদ্ধ আছে।

তার বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা কত, তার মধ্যে কতটি বিশুদ্ধ (صحيح) এবং কতটি দুর্বল (ضعيف)?

যৌবন ও সুস্থাবস্থায় তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং স্মৃতিশক্তি যেমন ছিল, বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর বা কোনো শারীরিক ত্রুটি কিংবা নিজের সত্তা বা কিতাবের কোনো দুর্ঘটনার ফলে তার স্মৃতিভ্রম (اختلاط) ঘটেছিল কি না? তিনি কি স্মৃতিভ্রম (اختلاط) অবস্থায় হাদিস বর্ণনা করেছেন? যদি করে থাকেন, তবে কারা তার স্মৃতিভ্রমের (اختلاط) পূর্বে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং কারা পরে গ্রহণ করেছেন? আর যারা আগে ও পরে উভয় সময়েই হাদিস গ্রহণ করেছেন, তাদের বর্ণিত হাদিসগুলো কি পৃথক করা সম্ভব হয়েছে কি না? এছাড়া বর্ণনাকারীর (راوي) সাথে সংশ্লিষ্ট এই জাতীয় আরও অনেক গুণাবলি রয়েছে; আর এটিই রাবি পরিচিতি শাস্ত্র (علم الرجال) বা জারহ ও তা’দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্র হিসেবে পরিচিত।

এমনকি ইসলামের শত্রুরাও এই জ্ঞানবিজ্ঞান দেখে অভিভূত হয়েছে এবং তাদের কেউ কেউ এর প্রশংসা করেছে; এটি মূলত শত্রুর দেওয়া সাক্ষ্য যা শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রমাণ।

ডক্টর স্প্রেঙ্গার আল-ইসাবা গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "মুসলিমদের অধিকার আছে রাবি পরিচিতি শাস্ত্র (علم الرجال) নিয়ে মনের মতো গর্ব করার।"

কারণ এমন কোনো জাতি পাওয়া যায়নি ওহিদা
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
في الماضي ولا في الحاضر دونت تراجم وسير العلماء خلال اثني عشر قرنا كما فعل المسلمون.

فبامكاننا، الحصول على تراجم خمسمائة عالم من المشهورين من كتبهم.

اهـ (1) .

ولم يقتصر أهل الحديث على جمع التراجم بل بحثوا دقيقا في مروياتهم حتى روايات الثقات المعروفين منهم ولم يعتمدوا على كونهم ثقات ولم يفعوهم من البحث والنقد.

فإن الثقة قد يهم ويخطى، فطرة الله التي فطر الناس عليها.

فبحثوا في رواياتهم التي وهموا أو أخطأوا فيها، هذا ما عرف بعلم علل الحديث.

وهل يمكن يا صاح أن تكون طرق للبحث والنقد والتثبت والتفتيش للاخبار الماضية أحسن مما عند المحدثين كلا.

اولئك آبائي فجئني بمثلهم * إذا جمعتنا يا جرير المحافل.

وبجانب ذلك استنبطوا الاحكام من غير قياس جائر ولا التقيد بالظاهر.

وكتبوا فيها الجوامع والسنن والكتب الموضوعية كما حموا حمى العقيدة من جميع جوانبها ما سمعوا هيعة إلا طاروا لها خفافا وثقالا، وما رأوا ثغرة إلا رابطوا فيها، فحفظوا هذا الدين من زيغ الزائغين وتحريف

الغالين وانتحال المبطلين وضلال المشبهين والمعطلين والمكيفين والمؤولين.

وإنه ليحزننا بعد هذا أن يقوم بعض الحاقدين على السلف أو السلفية، فيرميهم بعدم الفهم للنصوص ويستخفهم فيسميهم " النقلة " الذين لا يفقهون.

كبرت كلمة تخرج من أفواههم إن يقولون إلا كذبا.

--------------------------------------------

(1) نقلا عن كتاب سيرة البخاري للعلامة عبد السلام المباركفوري طبعة الجامعة السلفية بالهند.

(*)
অতীত বা বর্তমান কোনো সময়েই বারো শতাব্দী ধরে আলেমদের জীবনী ও জীবনবৃত্তান্ত এমনভাবে সংকলিত হয়নি যেভাবে মুসলমানরা করেছে।

আমরা তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে পাঁচশত জন প্রখ্যাত আলেমের জীবনী লাভ করতে পারি।

সমাপ্ত (১)।

মুহাদ্দিসগণ কেবল জীবনী সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তাঁরা তাঁদের বর্ণিত বর্ণনাগুলো নিয়ে সূক্ষ্মভাবে গবেষণা করেছেন, এমনকি তাঁদের মধ্যে সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনা নিয়েও। তাঁরা কেবল তাঁরা নির্ভরযোগ্য (ثقات) হওয়ার ওপর নির্ভর করেননি এবং তাঁদের গবেষণা ও সমালোচনা থেকে অব্যাহতি দেননি।

কেননা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীও ভ্রান্তিতে পড়তে পারেন কিংবা ভুল করতে পারেন; এটি আল্লাহর সৃষ্টিগত স্বভাব যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।

তাই তাঁরা সেই সব বর্ণনা নিয়ে গবেষণা করেছেন যেগুলোতে তাঁরা ভ্রান্তিতে পড়েছেন বা ভুল করেছেন; আর এটিই হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান (علل الحديث) হিসেবে পরিচিত।

হে বন্ধু! অতীত সংবাদসমূহ যাচাই-বাছাই, গবেষণা, সমালোচনা ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসদের পদ্ধতির চেয়ে উত্তম কোনো পদ্ধতি কি হতে পারে? কক্ষনই নয়।

তাঁরাই আমার পূর্বসূরি, সুতরাং তাঁদের মতো কাউকে আমার সামনে নিয়ে এসো, হে জারির! যখন কোনো মজলিস আমাদের একত্রিত করবে।

এর পাশাপাশি তাঁরা কোনো প্রকার অন্যায় কিয়াস বা কেবল বাহ্যিক শব্দের অন্ধ অনুসরণ ছাড়াই বিধানাবলি উদ্ভাবন করেছেন।

তাঁরা এ বিষয়ে জামে, সুনান এবং বিষয়ভিত্তিক গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। তদ্রূপ তাঁরা আকিদার সীমানাকে সব দিক থেকে রক্ষা করেছেন; যখনই কোনো বিপদের আহ্বান শুনেছেন, তখনই হালকা বা ভারী অবস্থায় সেদিকে দ্রুত ছুটে গেছেন। যেখানেই কোনো ছিদ্র দেখেছেন, সেখানেই অতন্দ্র প্রহরীর মতো অবস্থান নিয়েছেন। ফলে তাঁরা এই দ্বীনকে পথভ্রষ্টদের বিচ্যুতি, বাড়াবাড়িকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং সাদৃশ্য প্রদানকারী (مشبهين), গুণাবলি অস্বীকারকারী (معطلين), গুণাবলির ধরন বর্ণনাকারী (مكيفين) ও অপব্যাখ্যাকারীদের (مؤولين) গোমরাহি থেকে রক্ষা করেছেন।

এরপরেও এটি আমাদের ব্যথিত করে যে, সালাফ বা সালাফিয়্যাতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী কিছু লোক দাঁড়িয়েছে যারা তাঁদেরকে নস বা মূল পাঠ না বোঝার অপবাদ দেয় এবং তাঁদের তুচ্ছজ্ঞান করে 'নকলকারী' বলে অভিহিত করে, যাদের কোনো বোধশক্তি নেই।

তাদের মুখ থেকে নির্গত হওয়া কথাটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল মিথ্যাই বলছে।

--------------------------------------------

(১) আল্লামা আবদুস সালাম মুবারকপুরী রচিত সিরাতে বুখারি কিতাব থেকে উদ্ধৃত, জামিয়া সালাফিয়্যা (ভারত) সংস্করণ।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
موجز عن الجرح والتعديل الكلام على الرجال جرحا وتعديلا ليس من الغيبة بل هو واجب من واجبات الشريعة.

روى ابن حبان في كتاب الضعفاء والمجروحين عن عبد الرحمن بن عمرو السلمي وحجر الكلاعي قالا: أتينا العرباض بن سارية وهو فيمن نزل فيه: ولا على الذين إذا ما أتوك لتحملهم.

قلت لا أجد ما أحملكم عليه، فسلمنا عليه وقلنا أتيناك زائرين ومقتبسين، فقال العرباض صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم الصبح ذات يوم ثم أقبل علينا فوعظنا، موعظة بليغة، ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب، فقال قائل: يا رسول الله كأن هذه موعظة مودع، فماذا تعهد إلينا؟ فقال: أوصيكم بتقوى الله عز وجل والسمع والطاعة، وإن عبدا حبشيا مجدعا فإنه من يعش منكم فسيرى اختلافا كثيرا فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين فتمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الامور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة.

ثم قال: " في قوله صلى الله عليه وسلم " فإنه من يعش منكم فسيرى اختلافا كثيرا فعليكم.." دليل على أن هـ صلى الله عليه وسلم أمر أمته بمعرفة الضعفاء من الثقات، لانه لا يتهيأ لزوم السنة مع ما خالطها من الكذب والاباطيل إلا بمعرفة الضعفاء من الثقات وقد علم النبي صلى الله عليه وسلم بما يكون من ذلك في أمته.

وقال أيضا: في قوله عليه السلام، ألا ليبلغ الشاهد منكم الغائب.
জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) বা বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গুণাবলি বিশ্লেষণ সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা: বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে জেরা বা সমালোচনা করা এবং তাদিল বা প্রশংসা করা গিবত বা পরনিন্দার অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি শরিয়তের অন্যতম একটি ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্য।

ইবনে হিব্বান তার কিতাব উদ-দুয়াফা ওয়াল-মাজরুহিন গ্রন্থে আব্দুর রহমান বিন আমর আস-সুলামি ও হুজর আল-কালাই থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা বলেন: আমরা ইরবাদ বিন সারিয়া (রা.)-এর নিকট আসলাম, তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের ব্যাপারে এই আয়াত নাজিল হয়েছিল: "এবং তাদের ওপরও কোনো গুনাহ নেই, যারা যখন আপনার কাছে বাহনের জন্য এসেছিল..."

(আয়াতের অবশিষ্টাংশ:) "আপনি বলেছিলেন, আমি তোমাদের জন্য কোনো বাহন পাচ্ছি না।" আমরা তাকে সালাম দিলাম এবং বললাম, আমরা আপনার নিকট জিয়ারতকারী ও জ্ঞান অন্বেষণকারী হিসেবে এসেছি। তখন ইরবাদ (রা.) বললেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে ফজরের নামাজ পড়লেন, তারপর আমাদের দিকে ফিরে আমাদের অত্যন্ত মর্মস্পর্শী এক নসিহত করলেন, যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! এটি যেন কোনো বিদায়ী ব্যক্তির নসিহত, অতএব আপনি আমাদের কী অসিয়ত করছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদের মহান আল্লাহর তাকওয়া এবং (নেতার) কথা শোনা ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও সে একজন অঙ্গহানি হওয়া হাবশি ক্রীতদাসও হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে, তা দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রত্যেক বিদআতই হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)।"

এরপর তিনি (ইবনে হিব্বান) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী— "তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে, তখন তোমরা..." এতে এই প্রমাণ নিহিত রয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের থেকে দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের চিনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ সুন্নাতের সাথে মিশ্রিত হওয়া মিথ্যা ও অসার বিষয়গুলোর ভিড়ে সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের থেকে দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের পৃথকভাবে চেনা যায়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উম্মতের মধ্যে পরবর্তীতে কী ঘটবে সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন: রাসুলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম)-এর এই বাণীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য— "সাবধান! তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে, তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়।"
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
دليل على استحباب معرفة الضعفاء من الحدثين إذ لا يتهيأ أن يبلغ الغالب ما شهد إلا بعد المعرفة بصحة ما يؤدى إلى ما بعده (1) .

وروى أحمد بن مروان المالكي حدثنا عبد الله بن أحمد بن حنبل قال: جاء أبو تراب النخشي إلى أبي فجعل أبي يقول: فلان ضعيف وفلان ثقة، فقال أبو تراب: يا شيخ لا تغتب العلماء، قال: فالتفت أبي إليه قال: ويحك هذا نصيحة، ليس هذا غيبة.

وقال محمد بن بندار قلت لاحمد بن حنبل: إنه ليشتد علي أن أقول: فلان ضعيف، فلان كذاب، قال أحمد: إذا سكت أنت وسكت أنا، فمتى يعرف الجاهل الصحيح من السقيم (2) .

وقال أبو بكر بن خلاد، دخلت على يحيى بن سعيد في مرضه فقال لي: يا أبا بكر: ما تركت أهل البصرة يتكلمون؟ قلت: يذكرون خيرا إلا أنهم يخافون عليك من كلامك في الناس، فقال: احفظ عني، لان يكون خصمي في الاخرة رجل من عرض الناس أحب إلى من أن يكون خصمي في الاخرة النبي صلى الله عليه وسلم، يقول: بلغك عني حديث وقع في وهمك أنه عني غير صحيح يعني فلم تنكر (3) .

وإن القرآن الكريم نفسه يحث على التثبت والبحث والتمحيص قال

تعالى: (يأيها الذين آمنوا إن جاءكم فاسق بنبأ فتبينوا) (4) .

كما نجد في كتاب الله تعالى أصولا للنقد والجرح والتعديل: قال تعالى حاكيا عن سليمان عليه السلام:

--------------------------------------------

(1) أنظر الضفعاء والمجروحين 1: 9: 16.

(2) الكفاية 92.

(3) شرح علل الترمذي لابن رجب 173 وانظر الكفاية ص 90.

(4) سورة الحجرات: 6.

(*)
এটি হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে দুর্বলদের (الضعفاء) চেনার মুস্তাহাব হওয়ার দলিল; কেননা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে যা বর্ণিত হচ্ছে তার বিশুদ্ধতা (بصحة) নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্জিত সাক্ষ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না (১)।

আহমদ বিন মারওয়ান আল-মালিকি বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু তুরাব আন-নাখশি আমার পিতার কাছে এলেন। এমতাবস্থায় আমার পিতা বলছিলেন: অমুক ব্যক্তি দুর্বল (ضعيف) এবং অমুক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য (ثقة)। তখন আবু তুরাব বললেন: হে শায়খ, আলেমদের গিবত করবেন না। তিনি বলেন, তখন আমার পিতা তার দিকে ফিরে বললেন: তোমার জন্য আক্ষেপ! এটি হলো নসিহত, এটি গিবত নয়।

মুহাম্মদ বিন বুন্দার বলেন, আমি আহমদ বিন হাম্বলকে বললাম: আমার জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন যে আমি বলব— অমুক ব্যক্তি দুর্বল (ضعيف), অমুক ব্যক্তি মিথ্যাবাদী (كذاب)। আহমদ বললেন: যদি আপনি চুপ থাকেন এবং আমিও চুপ থাকি, তবে অজ্ঞ ব্যক্তি কীভাবে সহিহ (الصحيح) ও রুগ্ন (السقيم) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করবে? (২)।

আবু বকর বিন খাল্লাদ বলেন, আমি ইয়াহইয়া বিন সাঈদ-এর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন: হে আবু বকর, বসরার লোকেরা কী বলাবলি করছে? আমি বললাম: তারা আপনার কল্যাণের কথা বলছে, তবে তারা আপনার সম্পর্কে মানুষের সমালোচনা করার কারণে আপনার ব্যাপারে শঙ্কা প্রকাশ করছে। তখন তিনি বললেন: আমার কথাটি মনে রেখো, পরকালে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে কেউ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হওয়া আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়, এর চেয়ে যে— পরকালে নবী (সা.) আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হয়ে বলবেন: "তোমার কাছে আমার পক্ষ থেকে একটি হাদিস পৌঁছেছিল যা তোমার ধারণায় আমার পক্ষ থেকে সহিহ (غير صحيح) নয় বলে মনে হয়েছিল, অথচ তুমি তা প্রত্যাখ্যান করোনি" (৩)।

নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন নিজেও যাচাই-বাছাই, অনুসন্ধান ও সূক্ষ্ম পরীক্ষার প্রতি উৎসাহিত করে। মহান আল্লাহ বলেন: (হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসেক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও) (৪)।

তেমনিভাবে আমরা মহান আল্লাহর কিতাবে সমালোচনা এবং জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل)-এর মূলনীতিসমূহ খুঁজে পাই। আল্লাহ তাআলা সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন আদ-দুয়াফা ওয়াল মাজরুহিন ১: ৯: ১৬।

(২) আল-কিফায়া ৯২।

(৩) ইবনে রজব কৃত শারহু ইলালিত তিরমিজি ১৭৩ এবং আল-কিফায়া পৃষ্ঠা ৯০ দেখুন।

(৪) সূরা আল-হুজুরাত: ৬।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
(فان سننظر أصدقت أم كنت من الكاذبين) (1) .

وقال تعالى في الجرح: (والله يشهد إن المنافقين لكاذبون) (2) .

وقال في التعديل: (للفقراء المهاجرين الذين أخرجوا من دايارهم وأموالهم يبتغون فضلا من الله ورضوانا، وينصرون الله ورسوله وأولئك هم الصادقون) (3) .

ثم نرى النبي صلى الله عليه وسلم في الاخبار فسأل وجرح وعدل.

ولنا فيه أسوة حسنة.

روى البخاري عن عائشة رضي الله عنها حين قال فيها أهل الافك ما قالوا، قالت: دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم علي بن أبي طالب وأسامة بن زيد رضي الله عنهما حين استلبث الوحي يسألهما وهو يستشيرهما في فراق أهله، فأما أسامة فأشار بالذي يعلم من براءة أهله وأما علي، فقال: لم يضيق الله عليك، والنساء سواها كثير وسل الجارية تصدقك، فقال: هل رأيت من شئ يريبك؟ قالت: ما رأيت أمرا أكثر من أنها جارية حديثة السن تنام

عن عجين أهلها (4) وله أمثلة كثيرة في السنة.

ثم جاء دور الصحابة رضوان الله عليهم ففحصوا وفتشوا وبالغوا في التحقيق في أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم.

عن قبيصة بن ذؤيب أنه قال: جاءت الجدة إلى أبي بكر الصديق

--------------------------------------------

(1) سورة النحل: 27.

(2) سورة المنافقون: 1.

(3) سورة الحشر: 8.

(4) صحيح البخاري 8: 338.

(*)
(সুলায়মান বললেন:) "শীঘ্রই আমরা দেখব তুমি কি সত্য বলেছ নাকি তুমি মিথ্যাবাদীদের (الكاذبين) অন্তর্ভুক্ত" (১)।

এবং মহান আল্লাহ জারহ (الجرح) প্রসঙ্গে বলেছেন: "আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী (لكاذبون)" (২)।

আর তিনি তাদিল (التعديل) প্রসঙ্গে বলেছেন: "(এই সম্পদ) সেই অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই তো সত্যবাদী (الصادقون)" (৩)।

অতঃপর আমরা সংবাদের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখি যে, তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এবং জারহ (جرح) ও তাদিল (عدل) করেছেন।

আর তাঁর মাঝেই আমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।

বুখারি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যখন অপবাদ রটনাকারীরা তাঁর সম্পর্কে যা বলার বলেছিল, তিনি (আয়েশা) বলেন: ওহি আসতে বিলম্ব হওয়ায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলি ইবনে আবি তালিব এবং উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমকে ডেকে পাঠান, যেন তাঁর পরিবার ত্যাগের ব্যাপারে তিনি তাঁদের সাথে পরামর্শ ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। উসামা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পরিবারের পবিত্রতা সম্পর্কে যা জানতেন তা দিয়ে পরামর্শ দিলেন। আর আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "আল্লাহ আপনার ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি, তিনি ছাড়া নারী আরও অনেক আছে। আপনি দাসীকে জিজ্ঞেস করুন, সে আপনার নিকট সত্য বলবে।" অতঃপর তিনি (রাসূল) জিজ্ঞেস করলেন: "তুমি কি এমন কিছু দেখেছ যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে?" তিনি (দাসী) বললেন: "আমি এর চেয়ে বেশি কিছু দেখিনি যে, তিনি একজন অল্পবয়সী মেয়ে, যিনি ঘুমিয়ে পড়েন

পরিবারের আটা মাখা থেকে (অমনোযোগী হয়ে)" (৪)। সুন্নাহতে এর আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।

এরপর সাহাবি রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের যুগ আসে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান চালিয়েছেন এবং তদন্তের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন।

কবিসাহ ইবনে জুআইব থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: জনৈক পিতামহী (দাদি) আবু বকর সিদ্দিকের নিকট আসলেন

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল: ২৭।

(২) সূরা আল-মুনাফিকুন: ১।

(৩) সূরা আল-হাশর: ৮।

(৪) সহিহ বুখারি ৮: ৩৩৮।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
تسأله ميراثها، فقال لها أبو بكر ما لك في كتاب الله شئ وما علمت لك في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا، فارجعي حتى أسأل الناس، فسأل الناس، فقال المغيرة بن شعبة: حضرت رسول الله صلى الله عليه وسلم أعطاها السدس، فقال أبو بكر: هل معك غيرك فقام محمد بن مسلمة الانصاري، فقال: مثل ما قال المغيرة بن شعبة فأنفذة لها أبو بكر (1) .

ويأتي دور الخليفة الثاني عمر بن الخطاب فيتشدد أكثر من سلفه، عن أبي سعيد الخدري قال: كنت في مجلس من مجالس الانصار إذ جاء أبو موسى كأنه مذعور، فقال: استأذنت على عمر فلم يؤذن لي فرجعت، فقال: ما منعك؟ قلت: استأذنت ثلاثا فلم يؤذن لي، فرجعت، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا استأذن أحدكم ثلاثا فلم يؤذن فليرجع، فقال: والله لتقيمن عليه بينة، أمنكم أحد سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم؟ فقال أبي بن كعب، والله لا يقوم معك إلا أصغر القوم، فكنت أصغر القوم، فقمت معه فأخبرت عمر أن الني صلى الله عليه وسلم قال: ذلك.

وفي بعض الروايات: قال عمر: انما سمعت شيئا فأحببت أن أتثبت.

وفي رواية فقال عمر بن الخطاب لابي موسى: أما إني لم أتهمك ولكن خشيت أن يتقول الناس على رسول الله صلى الله عليه وسلم (2) .

وروى ابن عبد البر بسنده عن أبي هريرة قال: إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذونه.

وروى أيضا عن عقبة بن نافع وصهيب أنهما قالا: يا بني لا تقبلوا الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا عن ثقة (3) .

--------------------------------------------

(1) موطأ الامام مالك 2: 55.

(2) صحيح البخاري 11: 27، صحيح مسلم 3: 1694، الموطأ 2: 240.

(3) التمهيد 1: 45.

(*)
তিনি তাঁর উত্তরাধিকারের বিষয়ে দাবি করেন, তখন আবু বকর তাঁকে বললেন, আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য কিছুই নেই এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহতেও তোমার জন্য আমি কিছু অবগত নই। সুতরাং তুমি ফিরে যাও যতক্ষণ না আমি লোকজনকে জিজ্ঞেস করি। অতঃপর তিনি লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন মুগীরা ইবনে শু'বা বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি তাঁকে ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন। আবু বকর বললেন: তোমার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা আনসারী দাঁড়ালেন এবং মুগীরা ইবনে শু'বা যা বলেছিলেন তার অনুরূপ বললেন। তখন আবু বকর তাঁর জন্য তা কার্যকর করলেন (১)।

অতঃপর দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব-এর সময় আসে এবং তিনি তাঁর পূর্বসূরির চেয়েও অধিক কঠোরতা অবলম্বন করেন। আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আনসারদের একটি মজলিসে ছিলাম, এমতাবস্থায় আবু মুসা অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আসলেন। তিনি বললেন: আমি উমরের কাছে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই আমি ফিরে এসেছি। উমর জিজ্ঞেস করলেন: তোমাকে কিসে বাধা দিল? আমি বললাম: আমি তিনবার অনুমতি চেয়েছিলাম কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই আমি ফিরে এসেছি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ তিনবার অনুমতি চায় এবং তাকে অনুমতি না দেওয়া হয়, তখন সে যেন ফিরে আসে। উমর বললেন: আল্লাহর কসম, অবশ্যই তোমাকে এর ওপর প্রমাণ (بينة) পেশ করতে হবে। তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে এটি শুনেছে? তখন উবাই ইবনে কা'ব বললেন, আল্লাহর কসম, আপনার সাথে কওমের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ দাঁড়াবে না। আমি ছিলাম কওমের সবচেয়ে কনিষ্ঠ, তাই আমি তাঁর সাথে দাঁড়ালাম এবং উমরকে সংবাদ দিলাম যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা বলেছিলেন।

এবং কিছু বর্ণনায় (رواية) রয়েছে: উমর বললেন: আমি কেবল একটি বিষয় শুনেছিলাম এবং সেটি যাচাই (تثبت) করতে চেয়েছিলাম।

এবং অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) উমর ইবনুল খাত্তাব আবু মুসাকে বললেন: আমি তোমাকে অভিযুক্ত করিনি, তবে আমি এই আশঙ্কা করেছি যে মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা আরোপ করবে (২)।

এবং ইবনে আব্দুল বার তাঁর সনদ (سند) সহ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং তোমরা দেখো কার কাছ থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ।

এবং তিনি আরও বর্ণনা (روى) করেছেন উকবা ইবনে নাফে এবং সুহাইব থেকে যে তাঁরা দুজনে বলেছিলেন: হে বৎস! তোমরা নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি ছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করো না (৩)।

--------------------------------------------

(১) মুয়াত্তা ইমাম মালিক ২: ৫৫।

(২) সহিহ বুখারী ১১: ২৭, সহিহ মুসলিম ৩: ১৬৯৪, মুয়াত্তা ২: ২৪০।

(৩) আত-তামহীদ ১: ৪৫।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
ثم يأتي زمن التابعين فيتطور هذا العلم ويتوسع أكثر.

وهذا سعيد بن المسيب رحمه الله كان يتنفي الرجال والاحاديث.

أخرج ابن منده من طريق يزيد بن أبي مالك قال: كنت عند سعيد ابن المسيب فحدثني بحديث، فقلت من حدثك يا أبا محمد بهذا؟ فقال: يا أخا أهل الشام خذ ولا تسأل فإنا لا تأخذ إلا عن الثقات (1) .

وقال عامر ابن شراحيل الشعبي في قتادة: حاطب ليل (2) .

وقال في إبراهيم النخعي: ذاك الذي يروى عن مسروق ولم يسمع منه شيئا (3) .

وقال ابن سيرين: إن هذا العلم دين فانظروا عمن تأخذون دينكم (4) .

وكان قتادة يرمي عبادة أبا يحيى بالكذب (5) .

ويروى عن ابن شهاب الزهري أقوال كثيرة في النقد والجرح والتعديل قال الزهري: العلماء أربعة سعيد بن المسيب بالمدينة والشعبي بالكوفة، والحسن البصري بالبصرة، مكحول بالشام (6) .

وكان الزهري يشدد على من كان يحدث الحديث بلا إسناد.

ذكر الذهبي قوله في اسحاق بن عبد الله:

--------------------------------------------

(1) تهذيب التهذيب 4: 87.

(2) التهذيب 4: 87.

(3) الميزان 1: 74.

(4) مقدمة صحيح مسلم ص 14.

(5) الميزان 2: 381.

(6) الميزان 4: 177.

(*)
এরপর তাবেয়ীদের যুগ আসে এবং এই ইলম আরও বিকশিত ও বিস্তৃত হয়।

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব (রহ.) বর্ণনাকারী ও হাদিসসমূহ যাচাই-বাছাই করতেন।

ইবনে মানদাহ, ইয়াজিদ বিন আবু মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের নিকট ছিলাম। তিনি আমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করলেন। তখন আমি বললাম, হে আবু মুহাম্মদ! আপনাকে এটি কে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: হে সিরিয়াবাসী ভাই! আপনি গ্রহণ করুন এবং প্রশ্ন করবেন না, কারণ আমরা নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তি ছাড়া কারো থেকে গ্রহণ করি না (১)।

আমির ইবনে শারাহিল আশ-শা'বি কাতাদাহ সম্পর্কে বলেছেন: তিনি রাত্রিকালীন লাকড়ি সংগ্রাহক (حاطب ليل) (২)।

ইবরাহিম আন-নাখায়ি সম্পর্কে তিনি বলেছেন: তিনি সেই ব্যক্তি যিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন অথচ তাঁর থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি (৩)।

ইবনে সিরিন বলেছেন: নিশ্চয়ই এই ইলম হলো দ্বীন, সুতরাং লক্ষ্য রেখো তোমরা কার নিকট থেকে তোমাদের দ্বীন গ্রহণ করছ (৪)।

কাতাদাহ, উবাদাহ আবু ইয়াহিয়াকে মিথ্যার (الكذب) দায়ে অভিযুক্ত করতেন (৫)।

ইবনে শিহাব আজ-জুহরি থেকে সমালোচনা এবং জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) বিষয়ে অনেক উক্তি বর্ণিত আছে। জুহরি বলেন: আলেম হলেন চারজন; মদিনায় সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, কুফায় আশ-শা'বি, বসরায় হাসান আল-বাসরি এবং সিরিয়ায় মাকহুল (৬)।

জুহরি সনদ বা সূত্র (إسناد) ছাড়া হাদিস বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করতেন।

ইমাম যাহাবি ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ সম্পর্কে তাঁর উক্তি উল্লেখ করেছেন:

--------------------------------------------

(১) তাহজিবুত তাহজিব ৪: ৮৭।

(২) আত-তাহজিব ৪: ৮৭।

(৩) আল-মিজান ১: ৭৪।

(৪) মুকাদ্দিমা সহিহ মুসলিম পৃষ্ঠা ১৪।

(৫) আল-মিজান ২: ৩৮১।

(৬) আল-মিজান ৪: ১৭৭।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
قاتلك الله يا ابن أبي فروة ما أجرأك على الله ألا تسند أحاديثك، تحدث بأحاديث ليس لها خطم ولا أزمة (1) .

ثم يأتي عصر أتباع التابعين الذين تتلمذوا على تلامذة الصحابة فيتقدم الفن إلى خطوات حثيثة، وتتأسس قوانين جديدة وينشئ الله أمثال شعبة، فيرحلون ويفتشون ويخبرون أحوال الرجال ويبدأون بالتصنيف والتأليف بشكل أوسع من ذي قبل.

وبالنظر في ترجمة شعبة يظهر أنه كان مبالغا جدا في التثبت فيما كان يروي ولم يكن يروي إلا عن الثقات المعروفين فيما قيل.

وكانت له طرق مختلفة لتحقيق الاخبار منها: أنه ما كان يكتفي باستماع الحديث مرة واحدة.

روى ابن أبي حاتم بسنده إلى حماد بن زيد قال: ما أبالي من خالفني إذا وافقني شعبة، لان شعبة كان لا يرضى أن يسمع الحديث مرة، يعاوده صاحبه مرارا ونحن كنا إذا سمعنا مرة اجتزينا به (2) .

ومنها ما رواه ابن أبي حاتم بسنده إلى أبي داود الطيالسي قال: سمعت خالد بن طليق يسأل شعبة فقال: يا أبا بسطام حدثني حديث سماك بن حرب في اقتضاء الورق من الذهب حديث ابن عمر، فقال: أصلحك الله.

هذا حديث ليس يرفعه أحد إلا سماك، قال: فترهب أن أروي عنك؟ قال: لا، ولكن حدثنيه قتادة عن سعيد بن المسيب عن ابن عمر ولم يرفعه.

وأخبرنيه أيوب عن نافع عن ابن عمر ولم يرفعه وحدثني داود بن أبي

--------------------------------------------

(1) الميزان 1: 193.

(2) تقدمة الجرح والتعديل 168.

(*)
আল্লাহ তোমার বিনাশ করুন হে ইবনে আবি ফারওয়া! তুমি আল্লাহর প্রতি কতই না দুঃসাহসী যে তুমি তোমার হাদিসগুলোর সনদ উল্লেখ (إسناد) করছ না; তুমি এমন সব হাদিস বর্ণনা করছ যার কোনো লাগাম বা নিয়ন্ত্রণ রশি নেই (১)।

অতঃপর তাবি-তাবিঈনদের যুগ আসে যাঁরা সাহাবীগণের শিষ্যদের কাছে শিক্ষালাভ করেছিলেন। ফলে এই শাস্ত্র দ্রুত পদক্ষেপে অগ্রসর হয় এবং নতুন নতুন মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তাআলা শু'বাহ-এর মতো ব্যক্তিত্বদের সৃষ্টি করেন; তাঁরা দেশ-বিদেশে সফর করেন, অনুসন্ধান চালান এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা (أحوال الرجال) যাচাই করেন। তাঁরা পূর্বের তুলনায় অধিক বিস্তৃতভাবে হাদিস সংকলন ও গ্রন্থ রচনার কাজ শুরু করেন।

শু'বাহ-এর জীবনী (ترجمة) পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তিনি যা বর্ণনা করতেন তা যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন এবং বলা হয়ে থাকে যে, তিনি কেবল সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের থেকেই হাদিস বর্ণনা করতেন।

বর্ণনা যাচাই করার জন্য তাঁর বিভিন্ন পদ্ধতি ছিল, যার মধ্যে একটি হলো: তিনি কেবল একবার হাদিস শুনেই তৃপ্ত হতেন না।

ইবনে আবি হাতিম তাঁর সনদে (سند) হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ যখন আমার সাথে একমত হন, তখন কে আমার বিরোধিতা করল তাতে আমি পরোয়া করি না। কারণ শু'বাহ একবার হাদিস শুনেই সন্তুষ্ট হতেন না, বরং তিনি বর্ণনাকারীর কাছে বারবার ফিরে যেতেন। আর আমরা যখন একবার শুনতাম, তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে যেতাম (২)।

অন্যান্য বর্ণনার মধ্যে রয়েছে যা ইবনে আবি হাতিম তাঁর সনদে (سند) আবু দাউদ আত-তায়ালিসি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি খালিদ ইবনে তালিফকে শু'বাহ-এর নিকট জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। তিনি বললেন: হে আবু বিস্তাম! স্বর্ণের বিনিময়ে রৌপ্য গ্রহণের ব্যাপারে সিমাক ইবনে হারব বর্ণিত ইবনে উমরের হাদিসটি আমাকে শোনান। তখন শু'বাহ বললেন: আল্লাহ তোমার কল্যাণ করুন।

এটি এমন এক হাদিস যা সিমাক ছাড়া আর কেউ মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেননি। তিনি (খালিদ) বললেন: আপনি কি আমার আপনার পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করাকে অপছন্দ করছেন? তিনি বললেন: না, তবে কাতাদাহ এটি আমার কাছে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে মারফু (مرفوع) করেননি।

আইয়ুব নাফি’র সূত্রে ইবনে উমর থেকে এটি আমাকে জানিয়েছেন এবং তিনিও এটিকে মারফু (مرفوع) করেননি। আর দাউদ ইবনে আবি আমাকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-মিজান ১: ১৯৩।

(২) তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তা'দিল ১৬৮।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
هند عن سعيد بن جبير ولم يرفعه، ورفعه سماك فأنا أفرقه (1) .

فأظهر شعبة من هذه المقارنة أن سماكا أخطأ في رفع هذا الحديث إنما هو من قول ابن عمر موقوفا عليه.

ومثل هذه الطرق للتثبت والتحقيق مأثورة كثيرة عن اتباع التابعين وبرز في هذا القرن الخير، جهابذة الفن مثل سفيان الثوري [97 - 161] ومالك بن أنس إمام دار الهجرة [104 - 179] وعبد الله بن المبارك المروزي الخراساني [118 - 181] وأبو إسحاق الفزاري [ت 186] وسفيان بن عيينة [107 - 197] ويحيى بن سعيد القطان [120 - 198] ووكيع بن الجراح [128 - 198] وعبد الرحمن بن مهدى [135 - 198] .

ثم جاء الله بقوم آخرين تتلمذوا على هؤلاء الاعلام الغر الميامين فأخذوا طرقهم في البحث والتنقيب، وأضافوا عليها طرقا جديدة وفي مقدمتهم أحمد بن حنبل ويحيى بن معين وعلي بن المديني ولهم كتب ومؤلفات في هذا الفن الشريف يمكن معرفتها بمراجعة تراجمهم.

ثم جاء أمثال الامام البخاري محمد بن اسماعيل ومسلم وأبي داود والترمذي وابن ماجه والدارمي وغيرهم، فزادوا في هذا البنيان لبنات مهمة واستنبطوا قواعد جديدة واستعملوا طريقة الاعتبار والمقارنة والمقابلة والسبر والاختيار بطريق أوسع لمعرفة الرجال وتميز الخطأ من الصواب.

قال أحمد في ترجمة سفيان بن عيينة: هو أثبت الناس في عمرو بن دينار (2) .

وقال أيضا: كنت أنا وعلي بن المديني فذكرنا أثبت من يروي عن

--------------------------------------------

(1) تقدمة الجرح والتعديل 158.

(2) ميزان الاعتدال 2: 170.

(*)
হিন্দা সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু তিনি একে মারফু (رفع) করেননি, পক্ষান্তরে সিমাক একে মারফু (رفع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; ফলে আমি একে পৃথক করছি (১)।

সুতরাং শুবা এই তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, সিমাক এই হাদিসটিকে মারফু (رفع) করার ক্ষেত্রে ভুল করেছেন; বরং এটি ইবনে উমর-এর বক্তব্য যা তাঁর ওপর মাওকুফ (موقوف)।

নিশ্চিতকরণ এবং তাহকিকের এই পদ্ধতিগুলো তাবে-তাবেয়িন (اتباع التابعين) থেকে প্রচুর পরিমাণে বর্ণিত আছে। আর এই কল্যাণময় শতাব্দীতে এই শাস্ত্রের বিদগ্ধ পণ্ডিতগণ (جهابذة) আত্মপ্রকাশ করেছিলেন, যেমন: সুফিয়ান আস-সাওরি [৯৭ - ১৬১], ইমামু দারিল হিজরাহ মালিক ইবনে আনাস [১০৪ - ১৭৯], আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াজি আল-খুরাসানি [১১৮ - ১৮১], আবু ইসহাক আল-ফাজারি [ওফাত ১৮৬], সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ [১০৭ - ১৯৭], ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান [১২০ - ১৯৮], ওয়াকি ইবনুল জাররাহ [১২৮ - ১৯৮] এবং আবদুর রহমান ইবনে মাহদি [১৩৫ - ১৯৮]।

অতঃপর আল্লাহ এমন একদল মানুষের আগমন ঘটালেন যারা এই উজ্জ্বল ও বরকতময় মহান ইমামদের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা গবেষণা ও সূক্ষ্ম পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করেছিলেন এবং তার সাথে নতুন নতুন পদ্ধতি যুক্ত করেছিলেন। তাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন আহমদ বিন হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আলী ইবনুল মাদিনি। এই সম্মানিত শাস্ত্রের ওপর তাঁদের বহু গ্রন্থ ও রচনা রয়েছে, যা তাঁদের জীবনী (تراجم) পর্যালোচনার মাধ্যমে জানা সম্ভব।

এরপর ইমাম বুখারি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, দারেমি এবং তাঁদের ন্যায় অন্যদের আগমন ঘটে। তাঁরা এই জ্ঞানসৌধে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন এবং নতুন নতুন মূলনীতি (قواعد) উদ্ঘাটন করেছিলেন। তাঁরা বর্ণনাকারীদের (رجال) অবস্থা জানতে এবং সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করতে আরও বিস্তৃত পরিসরে ইতিবার (اعتبار), তুলনা (مقارنة), মোকাবিলা (مقابلة), গভীর যাচাই (سبر) এবং পর্যালোচনা (اختيار) পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন।

আহমদ সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর জীবনীবর্ণনায় বলেছেন: আমর ইবনে দিনারের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أثبت) (২)।

তিনি আরও বলেছেন: আমি এবং আলী ইবনুল মাদিনি একত্রে ছিলাম, তখন আমরা আলোচনা করছিলাম যে কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য (أثبت) বর্ণনাকারী...

--------------------------------------------

(১) তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তাদিল ১৫৮।

(২) মিজানুল ইতিদাল ২: ১৭০।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الزهري.

فقال علي: سفيان بن عيينة، وقلت أنا مالك بن أنس، وقلت: مالك أقل خطأ عن الزهري، وابن عيينة يخطئ في نحو من عشرين حديثا عن الزهري، في حديث كذا وكذا فذكرت منها ثمانية عشر حديثا، وقلت: هات ما أخطأ مالك، فجاء بحديثين أو ثلاثة، فرجعت، فنظرت فيما أخطأ فيه ابن عيينة، فإذا هي أكثر من عشرين حديثا.

وقال أيضا: عند مالك عن الزهري نحو من ثلاثمائة حديث كذا عند ابن عيينة عنه نحو الثلاثمائة (1) .

فاستننج الامام أحمد من هذه المقارنة والسبر أن مالكا أثبت في

الزهري من ابن عيينة.

وذكر النسائي رواية لعبد الملك بن نافع الشيباني عن ابن عمر رأيت رجلا جاء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بقدح فيه نبيذ وهو عند الركن ودفع إليه القدح … ثم قال النسائي: عبد الملك بن نافع ليس بالمشهور، ولا يحتج بحديثه، والمشهور عن ابن عمر خلاف حكايته.

ثم ذكر روايات كثيرة تخالف هذه الرواية وقال: " وهؤلاء أهل الثبت والعدالة، مشهورون بصحة النقل، وعبد الملك لا يقوم مقام واحد منهم ولو عاضده من أشكاله جماعة وبالله التوفيق (2) .

ويبدو لي أن طريقة الوحيدة في معرفة الثقة من غيره من الرواة المتقدمين.

فإذا لم يوجد في الرواي المتقدم باسناد صحيح كلام من إمام معاصر له.

--------------------------------------------

(1) العلل رقم 2543 ب والميزان 2: 170.

(2) أنظر سنن النسائي 8: 323.

(*)
আল-জুহরী।

আলী বললেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, আর আমি বললাম মালেক ইবনে আনাস। আমি বললাম: আল-জুহরীর বর্ণনায় মালেকের ভুল (خطأ) সবচেয়ে কম, আর ইবনে উইয়াইনাহ আল-জুহরী থেকে বর্ণিত প্রায় বিশটি হাদিসে ভুল করেন (يخطئ), অমুক অমুক হাদিসে; এভাবে আমি এর মধ্য থেকে আঠারোটি হাদিস উল্লেখ করলাম। আমি বললাম: মালেক যা ভুল করেছেন তা নিয়ে আসুন; তখন তিনি দুই বা তিনটি হাদিস নিয়ে আসলেন। এরপর আমি ফিরে গিয়ে ইবনে উইয়াইনাহ যা ভুল করেছেন তা পুনরায় পরীক্ষা করলাম, দেখা গেল তা বিশটিরও বেশি হাদিস।

তিনি আরও বলেন: আল-জুহরীর সূত্রে মালেকের কাছে প্রায় তিনশ হাদিস রয়েছে, অনুরূপভাবে ইবনে উইয়াইনাহর কাছেও তাঁর সূত্রে প্রায় তিনশ হাদিস রয়েছে (১)।

ইমাম আহমাদ এই তুলনা ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই (السبر) থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, আল-জুহরীর বর্ণনায় মালেক ইবনে উইয়াইনাহর তুলনায় অধিক সুদৃঢ় (أثبت)।

ইমাম নাসাঈ আব্দুল মালিক ইবনে নাফি আল-শায়বানীর সূত্রে ইবনে উমর (রা.) থেকে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যে, 'আমি এক ব্যক্তিকে দেখলাম তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে একটি পাত্র নিয়ে আসলেন যাতে নাবীজ ছিল, তখন তিনি রুকনের কাছে ছিলেন এবং তিনি তাঁকে পাত্রটি দিলেন...' … এরপর নাসাঈ বললেন: আব্দুল মালিক ইবনে নাফি সুপরিচিত নন (ليس بالمشهور), এবং তাঁর হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণ করা যাবে না (لا يحتج بحديثه), আর ইবনে উমর থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ (المشهور) বিষয়টি তাঁর বর্ণনার বিপরীত।

এরপর তিনি অনেক বর্ণনা উল্লেখ করেন যা এই বর্ণনার পরিপন্থী এবং বলেন: "এঁরা হলেন সুদৃঢ়তা ও ন্যায়পরায়ণতার (الثبت والعدالة) অধিকারী ব্যক্তিবর্গ, যারা বর্ণনার সঠিকতার (صحة النقل) জন্য প্রসিদ্ধ; আর আব্দুল মালিক তাঁদের একজনের সমকক্ষও নন, যদিও তাঁর মতো একদল লোক তাঁকে সমর্থন করে। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি (২)।

আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, পূর্ববর্তী বর্ণনাকারীদের (الرواة) মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চেনার এটাই একমাত্র পদ্ধতি।

যখন পূর্ববর্তী কোনো বর্ণনাকারী (الراوي) সম্পর্কে তাঁর সমসাময়িক কোনো ইমামের বক্তব্য সহিহ সনদে (باسناد صحيح) পাওয়া না যায়।

--------------------------------------------

(১) আল-ইলাল, নম্বর ২৫৪৩/ব এবং আল-মিজান ২: ১৭০।

(২) দেখুন সুনান নাসাঈ ৮: ৩২৩।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
كانوا يستعملون هذه الطريقة للحكم عليه وعلى أحاديثه، ولو لم تعرف عدالته، فالظاهر أنهم كانوا يكتفون بستر حاله والنظر في مروياته فإن وافق في رواياته الثقات المعروفين وثق وإن خالف، ضعف.

ومن نظر كلام ابن عدي في كلامه وابن حبان في ضعفائه ظهر له أنهما كانا يستعملان هذه الطريقة بكثرة واضحة جدا.

قال ابن حيان في ترجمة عبد الله بن لهيعة.

قد سبرت أخباره في رواية المتقدمين، والمتأخرين عنه فرأيت التخليط في رواية المتأخرين عنه موجودا وما لا أصل له في رواية المتقدمين كثيرا،

فرجعت إلى الاعتبار، فرأيته يدلس عن قوم ضعفاء على أقوام رآهم ابن لهيعة ثقات، فألزق ذلك الموضوعات بهم (1) .

هذا عرض موجز عن تاريخ الجرح والتعديل وهذه بعض الشواهد والامثلة لاقوالهم ومنهجهم في هذا الباب تظهر لنا جهود أئمتنا رحمهم الله في حفظ السنة النبوية.

--------------------------------------------

(1) ميزان الاعتدال 2: 482.

(*)
তারা এই পদ্ধতিটি কোনো বর্ণনাকারীর এবং তার হাদিসগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যবহার করতেন। এমনকি যদি তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) জানা নাও থাকত, তবে আপাতদৃষ্টিতে তারা তার গোপন অবস্থার প্রেক্ষিতে তার বর্ণনাগুলো (مرويات) পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করাকেই যথেষ্ট মনে করতেন। যদি তার বর্ণনাগুলো পরিচিত নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো, তবে তাকে নির্ভরযোগ্য (وثق) সাব্যস্ত করা হতো, আর যদি সে ভিন্নতা পোষণ করত, তবে তাকে দুর্বল (ضعف) সাব্যস্ত করা হতো।

আর যে ব্যক্তি ইবনে আদির বক্তব্য এবং ইবনে হিব্বানের দুর্বল বর্ণনাকারী (ضعفاء) বিষয়ক গ্রন্থের বক্তব্যসমূহ লক্ষ্য করবেন, তার নিকট স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, তারা দুজনেই এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং অধিক পরিমাণে ব্যবহার করতেন।

ইবনে হাইয়ান আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহর জীবনীতে বলেছেন:

আমি তার সংবাদসমূহ তার থেকে পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী বর্ণনাকারীদের বর্ণনার আলোকে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (سبر) করেছি; ফলে আমি দেখতে পেয়েছি যে, তার থেকে পরবর্তী বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় সংমিশ্রণ বা বিশৃঙ্খলা (تخليط) বিদ্যমান এবং পূর্ববর্তীদের বর্ণনায় অনেক ভিত্তিহীন (ما لا أصل له) বিষয় রয়েছে।

এরপর আমি পর্যালোচনার (اعتبار) দিকে ফিরে গেলাম এবং দেখলাম যে, তিনি দুর্বল (ضعفاء) এক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এমন কিছু লোকের সূত্রে তাদলিস (يدلس) করতেন যাদেরকে ইবনে লাহিয়াহ নির্ভরযোগ্য (ثقات) মনে করতেন; ফলে তিনি সেই জাল (موضوعات) বর্ণনাগুলোকে তাদের সাথে জুড়ে দিতেন (১)।

এটি জারহ ও তা’দীল (الجرح والتعديل) এর ইতিহাসের একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা। এগুলো তাদের উক্তি এবং এই অধ্যায়ে তাদের কর্মপদ্ধতির কিছু প্রমাণ ও উদাহরণ, যা সুন্নাহ সংরক্ষণে আমাদের ইমামগণের (রহিমাহুমুল্লাহ) প্রচেষ্টাকে আমাদের সামনে স্পষ্ট করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) মিজানুল ইতিদাল ২: ৪৮২।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
العلة العلة لغة: المرض، وصاحبها معتل، عل المريض يعل فهو عليل (1) .

وقال في القاموس: العلة بالكسر: المرض، عل يعل واعتل وأعله تعالى، فهو معل وعليل، ولا تقل معلول، والمتكلمون يقولونها، ولست منه على ثلج (2) .

العلة اصطلاحا: العلة في اصطلاح المحدثين: عبارة عن أسباب خفية غامضة قادحة في صحة الحديث (3) .

والحديث المعلل والمعلول: هو الحديث الذي أطلع فيه على علة تقدح في صحته مع أن ظاهره السلامة منها (4) .

فعلى هذا التعريف: لا يسمى الحديث المنقطع مثلا معلولا ولا الحديث الذي راويه مجهول، أو ضعيف معلولا.

وانما يسمى معلولا إذا آل أمره إلى شئ من ذلك مع كون ظاهره السلامة منه.

قال الحاكم: هذا النوع منه معرفة علل الحديث وهو علم برأسه غير

--------------------------------------------

(1) أنظر معجم مقاييس اللغة 4: 13.

(2) قاموس المحيط 4: 21.

وانظر تاج العروس 8: 32، ولسان العرب 11: 471.

(3) أنظر علوم الحديث لابن الصلاح 81، والتقييد والايضاح 116، وفتح المغيث 1: 210، تدريب الراوي 1: 252، النكث لابن حجر 2: 710.

(4) علوم الحديث 84.

(*)
ইল্লাত (العلة) আভিধানিক অর্থ: অসুস্থতা (المرض), এবং এর অধিকারী ব্যক্তিকে অসুস্থ (معتل) বলা হয়। যখন কোনো রোগী অসুস্থ হয়, তখন তাকে অসুস্থ (عليل) বলা হয় (১)।

কামুস আল-মুহিত গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইল্লাত (العلة) শব্দটি কাসরা (জের) যোগে অর্থ: অসুস্থতা (المرض)। ক্রিয়ামূল হিসেবে এর ব্যবহার বিভিন্নভাবে হয় এবং আল্লাহ তাআলা তাকে অসুস্থ করেছেন। অতএব সে অসুস্থ (معل) এবং ব্যাধিগ্রস্ত (عليل)। তাকে 'মালুল' (معلول) বলবেন না, যদিও কালামশাস্ত্রবিদগণ এটি বলে থাকেন, তবে এ বিষয়ে আমি পূর্ণ নিশ্চিত নই (২)।

ইল্লাত (العلة) পারিভাষিক অর্থ: মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় ইল্লাত (العلة) হলো এমন কিছু সূক্ষ্ম ও গোপন কারণ যা হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة الحديث)-এর ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক (قادحة) (৩)।

মুআল্লাল (المعلل) ও মালুল (المعلول) হাদিস: এটি এমন হাদিস যাতে এমন ত্রুটি (علة) পরিলক্ষিত হয় যা তার বিশুদ্ধতা (صحة)-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যদিও বাহ্যিকভাবে সেটি তা থেকে মুক্ত (السلامة) বলে প্রতীয়মান হয় (৪)।

এই সংজ্ঞা অনুযায়ী: উদাহরণস্বরূপ কোনো বিচ্ছিন্ন (المنقطع) হাদিসকে মালুল (معلولا) বলা হবে না এবং যে হাদিসের বর্ণনাকারী অজ্ঞাত (مجهول) বা দুর্বল (ضعيف), তাকেও মালুল (معلولا) বলা হবে না।

বরং একে তখনই মালুল (معلولا) বলা হবে যখন এর প্রকৃত অবস্থা এ জাতীয় কোনো ত্রুটির দিকে গড়াবে অথচ বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিমুক্ত (السلامة) বলে মনে হবে।

ইমাম হাকেম বলেন: এর এই প্রকারটি হলো হাদিসের ত্রুটিসমূহ (علل الحديث) চেনা এবং এটি একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান যা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুজাম মাকায়িস আল-লুগাহ ৪: ১৩।

(২) কামুস আল-মুহিত ৪: ২১।

আরও দেখুন: তাজ আল-আরুস ৮: ৩২, এবং লিসান আল-আরব ১১: ৪৭১।

(৩) দেখুন: ইবনুস সালাহ রচিত উলুমুল হাদিস ৮১, আল-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ ১১৬, ফাতহুল মুগিস ১: ২১০, তদরিবুর রাবি ১: ২৫২, ইবনে হাজার রচিত আন-নুকাত ২: ৭১০।

(৪) উলুমুল হাদিস ৮৪।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
الصحيح والسقيم والجرح والتعديل … وإنما يعلل الحديث من أوجه ليس للجرح فيها مدخل، فإن حديث المجروح ساقط واه، وعلة الحديث، يكثر في أحاديث الثقات أن يحدثوا بحديث له علة، فيخفي عليهم، علمه، فيصير الحديث معلولا والحجة فيه عندنا الحفظ والفهم والمعرفة، لا غير (1) .

فالاصل في اطلاق العلة هو السبب الخفي القادح في صحة الحديث.

ولكن قد يتوسعون فيطلقون العلة على كل سبب قادح سواء أكان ظاهرا أم خفيا بل ولا يخلو كتاب من كتب العلل إلا وقد أورد فيه مؤلفه مطلق سبب الضعف في الرواية.

حتى إن بعضهم أطلق العلة على سبب غير قادح أيضا كالحديث الذي وصله الثقة الضابط، فأرسله، غيره (2) .

قال ابن الصلاح: قد يطلق اسم العلة على غير ما ذكرناه من باقي الاسباب القادحة في الحديث المخرجة له من حال الصحة إلى حال الضعف، المانعة من العمل به على ما هو مقتضى لفظ العلة في الاصل، ولذلك نجد في كتب العلل الكثير من الجرح بالكذب والغفلة وسوء الحفظ، ونحو ذلك من أنواع الجرح، وسمى الترمذي النسخ علة من علل الحديث.

ثم إن بعضهم أطلق اسم العلة على ما ليس بقادح من وجوه الخلاف نحو إرسال من أرسل الحديث الذي أسنده الثقة، الضابط حتى قال: من

أقسام الصحيح ما هو صحيح معلول كما قال بعضهم: من الصحيح ما هو صحيح شاذ (3) .

--------------------------------------------

(1) معرفة علوم الحديث 112، 113.

(2) أنظر الباعث الحثيث 71، توضيح الافكار 3: 33، تدريب الراوي 1: 257.

(3) علوم الحديث 84.

(*)
সহিহ (صحيح), ত্রুটিযুক্ত (سقيم), সমালোচনা (جرح) এবং যাচাই (تعديل) … মূলত হাদিসের ত্রুটি (علة) এমন সব দিক থেকে অন্বেষণ করা হয় যেখানে সমালোচনার (جرح) কোনো অবকাশ থাকে না। কেননা সমালোচিত ব্যক্তির (مجروح) বর্ণিত হাদিস তো বর্জিত (ساقط) ও অত্যন্ত দুর্বল (واه)। হাদিসের গোপন ত্রুটি (علة) সাধারণত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (ثقات) হাদিসে অধিক পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়; তারা এমন হাদিস বর্ণনা করেন যাতে একটি গোপন ত্রুটি (علة) থাকে যা তাদের নিকট অস্পষ্ট থেকে যায়। ফলে হাদিসটি ত্রুটিযুক্ত (معلول) হিসেবে গণ্য হয়। আমাদের নিকট এ ক্ষেত্রে হাদিসের মানদণ্ড হলো মুখস্থ শক্তি (হিফজ), প্রজ্ঞা (ফাহম) এবং গভীর জ্ঞান (মা’রিফাত), এছাড়া অন্য কিছু নয় (১)।

মূলত 'ইল্লাত' বা গোপন ত্রুটি (علة) শব্দটির প্রয়োগ সেই অস্পষ্ট কারণের ক্ষেত্রে হয় যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষুণ্ণ করে।

তবে গবেষকগণ অনেক সময় পরিভাষাটিকে বিস্তৃত অর্থে ব্যবহার করেন। ফলে তারা হাদিসকে দোষযুক্তকারী প্রতিটি কারণকেই 'ইল্লাত' বা গোপন ত্রুটি (علة) হিসেবে অভিহিত করেন, তা প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। বস্তুত ত্রুটি বিষয়ক (ইলাল) এমন কোনো গ্রন্থ নেই যেখানে লেখক বর্ণনার যেকোনো ধরনের দুর্বলতার (ضعف) কারণ উল্লেখ করেননি।

এমনকি তাদের কেউ কেউ এমন কারণের ওপরও 'ইল্লাত' বা গোপন ত্রুটি (علة) শব্দটির প্রয়োগ করেছেন যা হাদিসকে দোষযুক্ত করে না। যেমন- এমন হাদিস যা একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী মুত্তাসিল বা সংযুক্তভাবে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু অন্য কেউ তা মুরসাল বা বিচ্ছিন্নভাবে (أرسل) বর্ণনা করেছেন (২)।

ইবনুস সালাহ বলেন: আমাদের ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণগুলো ছাড়াও হাদিসকে দোষযুক্তকারী অন্যান্য কারণের ক্ষেত্রেও 'ইল্লাত' (علة) শব্দটি ব্যবহৃত হতে পারে, যা হাদিসকে বিশুদ্ধতার (صحة) অবস্থা থেকে দুর্বলতার (ضعف) অবস্থায় নিয়ে যায় এবং হাদিসের মূল আভিধানিক অর্থ অনুযায়ী তার ওপর আমল করতে বাধা প্রদান করে। এজন্যই আমরা ত্রুটি বিষয়ক (ইলাল) গ্রন্থগুলোতে মিথ্যা (كذب), অসতর্কতা (غفلة), স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) এবং এই জাতীয় অন্যান্য সমালোচনার (جرح) অনেক বর্ণনা দেখতে পাই। ইমাম তিরমিযী তো রহিতকরণকেও (নাসখ) হাদিসের অন্যতম একটি ত্রুটি (علة) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তদুপরি, তাঁদের কেউ কেউ মতভেদের এমন সব বিষয়ের ওপরও 'ইল্লাত' (علة) নাম প্রয়োগ করেছেন যা দোষযুক্ত নয়। যেমন কোনো বর্ণনাকারীর বিচ্ছিন্নভাবে (إرسال) হাদিস বর্ণনা করা, যে হাদিসটিকে কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারী সংযুক্ত (মুসনাদ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি তিনি বলেছেন: সহিহ (صحيح) হাদিসের প্রকারভেদের মধ্যে এমন হাদিসও আছে যা সহিহ (صحيح) হওয়া সত্ত্বেও ত্রুটিযুক্ত (معلول); যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন: সহিহ (صحيح) হাদিসের মধ্যে এমন হাদিসও আছে যা সহিহ (صحيح) হওয়া সত্ত্বেও শায বা ব্যতিক্রমী (شاذ) (৩)।

--------------------------------------------

(১) মা’রিফাতু উলুমিল হাদিস ১১২, ১১৩।

(২) আল-বায়িসুল হাসিস ৭১, তাওজিহুল আফকার ৩: ৩৩, তাদরিবুর রাবি ১: ২৫৭।

(৩) উলুমুল হাদিস ৮৪।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وأما قول صاحب القاموس: لا تقل معلول.

يعني به أن أهل اللغة لا يثبتون هذه الكلمة بهذا المعنى على هذه الصيغة.

ووافقه ابن الصلاح من المحدثين أيضا حيث قال: ويسميه أهل الحديث المعلول، وذلك منهم ومن الفقهاء في قولهم في باب القياس العلة والمعلول مرذول عند أهل اللغة والعربية (1) .

ولحنه النووي أيضا في تقريبه (2) .

ولكننا نقول: إن استعمال أهل الحديث كلمة المعلول بالمعنى الذي أرادوه ليس مخالفا للغة، لانه استعملها أبو اسحاق الزجاج اللغوي، المشهور في العروض قريبا من المعنى الذي استعملها أهل الحديث (3) .

وقال ابن القوطية اللغوي (4) .

عل الانسان مرض والشئ اصابته علة، ذكره الجزائري ثم قال: فيكون استعماله بالمعني الذي أرادوه غير منكر، بل قال بعضهم: استعمال هذا اللفظ أولى لوقوعه في عبارات أهل الفن مع ثبوته لغة، ومن حفظ حجة على من لم يحفظ (5) .

وزيادة عليه أننا نجد وقوعه في كلام البخاري، والترمذي والدارقطني والحاكم وغيرهم (6) وهم أقرب إلى اللغة الصحيحة قبل أن يدخل فيها

--------------------------------------------

(1) علوم الحديث لابن الصلاح 81.

(2) تقريب النووي 161 مع تدريب الراوي.

(3) أنظر فتح المغيث 1: 210.

(4) هو محمد بن عمر بن عبد العزيز بن ابراهيم الاندلسي أبو بكر المعروف بابن القوطية مؤرخ أعلم أهل زمانه باللغة والادب مات بالقرطبة سنة 367، أنظر وفيات الاعيان 1: 521.

لسان الميزان 5: 324، الاعلام 7: 201.

(5) توجيه النظر 264.

(6) تدريب الراوي 161.

(*)
আর 'আল-কামুস' প্রণেতার উক্তি: ত্রুটিযুক্ত (معلول) বলো না।

এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, ভাষাবিদগণ এই শব্দটিকে এই অর্থে এবং এই রূপান্তরের ভিত্তিতে সাব্যস্ত করেন না।

মুহাদ্দিসগণের (محدثين) মধ্যে ইবনে আস-সালাহ-ও তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: হাদিস বিশারদগণ একে ত্রুটিযুক্ত (معلول) নামে অভিহিত করেন; তাঁদের এবং ফকিহগণের (فقهاء) কিয়াস (قياس) অধ্যায়ে ব্যবহৃত ত্রুটি (علة) ও ত্রুটিযুক্ত (معلول) শব্দটি ভাষাবিদ ও আরবি ব্যাকরণবিদদের নিকট অগ্রহণযোগ্য (১)।

ইমাম নববীও তাঁর তাকরীব গ্রন্থে একে ব্যাকরণগত ভুল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন (২)।

তবে আমরা বলব: হাদিস বিশারদগণ ত্রুটিযুক্ত (معلول) শব্দটি যে অর্থে ব্যবহার করেছেন তা ভাষাবিজ্ঞানের পরিপন্থী নয়; কারণ প্রখ্যাত ভাষাবিদ আবু ইসহাক আল-জাজ্জাজ ছন্দশাস্ত্রে হাদিস বিশারদদের ব্যবহৃত অর্থের কাছাকাছি অর্থেই শব্দটি ব্যবহার করেছেন (৩)।

এবং ভাষাবিদ ইবনুল কুতিয়্যাহ (৪) বলেছেন।

'মানুষটি অসুস্থ হয়েছে এবং বস্তুটিতে ত্রুটি (علة) পরিলক্ষিত হয়েছে।' আল-জাযাইরি এটি উল্লেখ করে বলেন: সুতরাং তাঁদের কাঙ্ক্ষিত অর্থে শব্দটির ব্যবহার অশোভন নয়, বরং কেউ কেউ বলেছেন: এই পরিভাষাটি ব্যবহার করাই উত্তম যেহেতু এটি এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের বক্তব্যে আসার পাশাপাশি ভাষাগতভাবেও প্রমাণিত। আর যে ব্যক্তি মুখস্থ রেখেছে সে তার ওপর দলিলস্বরূপ যে মুখস্থ রাখেনি (৫)।

অতিরিক্ত বিষয় হলো, আমরা ইমাম বুখারি, তিরমিজি, দারা কুতনি, হাকিম এবং অন্যান্যদের বক্তব্যেও এর ব্যবহার দেখতে পাই (৬); আর তাঁরা বিশুদ্ধ ভাষার অধিকতর নিকটবর্তী ছিলেন এর মধ্যে [অশুদ্ধি] প্রবেশের পূর্বে।

--------------------------------------------

(১) উলূমুল হাদিস ইবনে আস-সালাহ ৮১।

(২) তাকরীবুন নববী ১৬১ সহ তাদরীবুর রাবী।

(৩) দেখুন ফাতহুল মুগীস ১: ২১০।

(৪) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ওমর বিন আব্দুল আজিজ বিন ইব্রাহিম আল-আন্দালুসি আবু বকর, যিনি ইবনুল কুতিয়্যাহ নামে পরিচিত। তিনি একজন ঐতিহাসিক এবং তাঁর সময়ের ভাষা ও সাহিত্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ৩৬৭ হিজরিতে কর্ডোভায় ইন্তেকাল করেন। দেখুন ওফায়াতুল আ'ইয়ান ১: ৫২১।

লিসানুল মিজান ৫: ৩২৪, আল-আ'লাম ৭: ২০১।

(৫) তাওজীহুন নাযার ২৬৪।

(৬) তাদরীবুর রাবী ১৬১।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
دخائل.

وقد عاصروا كبار اللغويين، ولا نجد منهم انكارا على المحدثين في استعمال هذه الكلمة بهذا المعنى.

والله أعلم.

نشأة علم علل الحديث: يبدو أن علم علل الحديث في صورة مصغرة مبكرة مساير لعلم الحديث جمعا ونقدا من زمن الصحابة رضي الله عنهم، وحيث إن الوهم والخطأ من أهم عناصر علل الحديث.

ومن الممكن أن يقع فيهما بعض الصحابة، فيمكننا أن نمثل لهذا بوقائع ثبتت عن الصحابة وهم فيه بعضهم البعض، وإن كتاب " الاجابة فيما استدركته عائشة على الصحابة " للزركشي، أكبر مجموعة لهذا.

وكما وهم سعيد بن المسيب أو بعض الصحابة عبد الله بن عباس رضي الله عنهما في قوله: تزوج النبي صلى الله عليه وسلم ميمونة وهو محرم (1) .

ثم سار هذا العلم مع الرواية والتحديث في كل عصر، كلما اتسعت الرواية اتسع مجاله واشتدت الحاجة إليه.

وقد قيض الله له في كل عصر ومصر علماء جهابذة كانوا ينخلون الروايات ويتخللونها، ويخرجون منها

حرفا حرفا الصحيح والسقيم والضعيف والمعلول.

أهمية علم علل الحديث: لما عرف أن علل الحديث يكثر وقوعها في أحاديث الثقات الذين عليهم العمدة في الروايات، فأعرض المحدثين وعامتهم لا يظهر لهم خلل في أحاديثهم، ولذلك صار أغمص أنواع الحديث وأدقها مسلكا، ولا يقوم به إلا من منحه الله فهما غائصا واطلاعا حاويا وادراكا لمراتب الرواة ومعرفة ثاقبة لاختلاف المرويات.

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في كتاب النكاح 2: 1031.

(*)
প্রবিষ্ট জাল উপাদান (دخائل)।

এবং তাঁরা প্রথিতযশা ভাষাবিদদের সমসাময়িক ছিলেন, আর মুহাদ্দিসগণ এই অর্থে এই শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি আমরা দেখতে পাই না।

আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।

হাদিসের ত্রুটি (علل الحديث) বিজ্ঞানের উদ্ভব: প্রতীয়মান হয় যে, হাদিসের ত্রুটি (علل الحديث) বিজ্ঞান সাহাবায়ে কিরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যুগ থেকেই হাদিস সংগ্রহ ও সমালোচনার সাথে একটি প্রাথমিক ক্ষুদ্রাকারে বিদ্যমান ছিল। যেহেতু বিভ্রান্তি (وهم) এবং ভুল (خطأ) হাদিসের ত্রুটির (علل الحديث) অন্যতম প্রধান উপাদান।

আর এটি সম্ভব যে, কিছু সাহাবীর ক্ষেত্রেও এ দুটির কোনোটি ঘটে থাকতে পারে; আমরা এর উদাহরণ হিসেবে সেই ঘটনাগুলো তুলে ধরতে পারি যা সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত হয়েছে, যেখানে তারা একে অপরের ভুল নির্দেশ করেছেন। ইমাম যারকাশীর গ্রন্থ "আল-ইজাবাহ ফিমা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ" এক্ষেত্রে একটি বিশাল সংকলন।

যেমন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব অথবা কোনো কোনো সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর এই বক্তব্যের জন্য বিভ্রান্ত (وهم) সাব্যস্ত করেছেন যে: নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহরাম অবস্থায় মাইমুনাকে বিয়ে করেছিলেন (১)।

এরপর এই বিজ্ঞান প্রতিটি যুগে বর্ণনা ও হাদিস সংকলনের সাথে সাথে অগ্রসর হয়েছে। বর্ণনার পরিধি যত বৃদ্ধি পেয়েছে, এর ক্ষেত্রও তত বিস্তৃত হয়েছে এবং এর প্রয়োজনীয়তাও তত তীব্রতর হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা প্রতিটি যুগে ও প্রতিটি জনপদে এমন প্রাজ্ঞ আলেমদের নিয়োজিত করেছেন যারা বর্ণনাগুলোকে গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করতেন এবং অক্ষর ধরে ধরে সেখান থেকে

বিশুদ্ধ (صحيح), অসুস্থ (سقيم), দুর্বল (ضعيف) এবং ত্রুটিপূর্ণ (معلول) বর্ণনাগুলোকে পৃথক করতেন।

হাদিসের ত্রুটি (علل الحديث) বিজ্ঞানের গুরুত্ব: যেহেতু এটি জানা কথা যে, হাদিসের ত্রুটিগুলো (علل الحديث) অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের হাদিসেই বেশি ঘটে থাকে যাদের ওপর বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়, তাই অধিকাংশ মুহাদ্দিস ও সাধারণ মানুষের নিকট তাদের হাদিসের ত্রুটি ধরা পড়ে না। একারণেই এটি হাদিসের সবচেয়ে জটিল ও সূক্ষ্মতম প্রকারে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল তারাই সম্পন্ন করতে পারেন যাদের আল্লাহ তাআলা গভীর প্রজ্ঞা, ব্যাপক জানাশোনা, বর্ণনাকারীদের স্তর সম্পর্কে সম্যক ধারণা এবং বর্ণিত বিষয়গুলোর বৈচিত্র্য সম্পর্কে তীক্ষ্ণ জ্ঞান দান করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম কিতাবুন নিকাহ ২: ১০৩১-এ বর্ণনা করেছেন।

(*)
(খণ্ড: ١) আল-ইলাল ওয়া মারিফাতুর রিজাল লি আহমাদ রিওয়ায়াতু ইবনিহি আব্দুল্লাহ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
ولهذا لم يتكلم في هذا العلم إلا أفراد أئمة هذا الشأن وحذاقهم.

قال أبو عبد الله بن مندة الحافظ: انما خص الله بمعرفة هذه الاخبار نفرا يسيرا من كثير ممن يدعي علم الحديث، فأما شأن الناس ممن يدعي كثرة كتابة الحديث أو متفقه في علم الشافعي وأبي حنيفة أو متبع لكلام الحارث المحاسبي والجنيد وذي النون وأهل الخواطر.

فليس لهم أن يتكلموا في شئ من علم الحديث إلا من أخذه عن أهله وأهل المعرفة.

فحينئذ يتكلم بمعرفة (1) .

وقال عبد الرحمن بن مهدي: معرفة الحديث إلهام، فلو قلت للعالم يعلل الحديث من أين قلت هذا لم يكن له، حجة، ذكره الحاكم.

وذكر أيضا باسناده عن أبي زرعة وقال له رجل: ما الحجة في تعليلكم الحديث؟ قال: الحجة، أن تسألني عن حديث له علة فأذكر علته، ثم تقصد ابن واره يعني محمد بن مسلم ابن واره، وتسألنه عنه ولا تخبره بأنك قد سألتني عنه فيذكر علته، ثم يقصد أبا حاتم فيعلله، ثم تميز

كلام كل منا على ذلك الحديث.

فإن وجدت بيننا خلافا في علته فاعلم إن كلا منا تكلم على مراده.

وإن وجدت الكلمة متفقة فاعلم حقيقة هذا العلم.

قال: ففعل الرجل.

فاتفقت كلمتهم عليه، فقال: أشهد أن هذا العلم إلهام (2) .

وهنا تنبيه: ينبغي أن نفهم كلام عبد الرحمن بن مهدي على وجهه، وهو أنه ليس مقصوده من قوله " معرفة الحديث إلهام " أنه قد يعلل ولا حجة له فيه إنما

--------------------------------------------

(1) شرح علل الترمذي لابن رجب 61، 62.

(2) معرفة علوم الحديث للحاكم 112 - 113.

(*)
এ কারণেই এই শাস্ত্রে কেবল এই বিষয়ের অনন্য ইমামগণ এবং তাদের মধ্যকার প্রাজ্ঞ ব্যক্তিবর্গই কথা বলেছেন।

হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মানদাহ বলেন: "আল্লাহ তাআলা এই সংবাদসমূহ (হাদিস) অনুধাবনের জন্য হাদিস বিজ্ঞানের দাবিদার বহু মানুষের মধ্য থেকে কেবল মুষ্টিমেয় কিছু লোককে বিশেষভাবে নির্বাচিত করেছেন। আর সেই সব সাধারণ মানুষের অবস্থা—যারা প্রচুর হাদিস লিখে রাখার দাবি করে, অথবা যারা ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানিফার ফিকহশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য রাখে, কিংবা যারা আল-হারিস আল-মুহাসিবি, জুনাইদ, যুন-নুন এবং আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার অনুসারীদের কথার অনুসরণ করে—

হাদিস বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে কথা বলার অধিকার তাদের নেই, যদি না তারা তা এই শাস্ত্রের যোগ্য উত্তরসূরি ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞগণের নিকট থেকে গ্রহণ করে থাকে।

কেবল তখনই তারা প্রজ্ঞার সাথে কথা বলতে পারবে (১)।

আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বলেন: হাদিসের প্রজ্ঞা হলো একটি অনুপ্রেরণা (إلهام)। তুমি যদি কোনো বিজ্ঞ আলিমকে—যিনি হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি চিহ্নিত (يعلل) করেন—জিজ্ঞাসা করো যে, 'আপনি কিসের ভিত্তিতে এটি বললেন?', তবে তার কাছে পেশ করার মতো কোনো প্রকাশ্য দলিল (حجة) থাকবে না। আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন।

তিনি (আল-হাকিম) স্বীয় সনদে আবু যুরআহ থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করল: "আপনাদের হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি নির্ণয় (تعليل) করার স্বপক্ষে দলিল (حجة) কী?" তিনি বললেন: "দলিল (حجة) হলো, তুমি আমাকে এমন একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে যাতে সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) রয়েছে, আর আমি তার সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) বর্ণনা করব। এরপর তুমি ইবনে ওয়ারা অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারার নিকট যাবে এবং তাকে সেই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, তবে তাকে জানাবে না যে তুমি ইতিপূর্বে আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছ। তখন তিনিও সেটির সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) বর্ণনা করবেন। এরপর তুমি আবু হাতিমের নিকট যাবে এবং তিনিও সেটির সূক্ষ্ম ত্রুটি চিহ্নিত (يعلل) করবেন। অতঃপর তুমি আমাদের প্রত্যেকের বক্তব্য যাচাই করবে

সেই হাদিসের ওপর আমাদের প্রত্যেকের দেওয়া বক্তব্যের।

যদি তুমি এর সূক্ষ্ম ত্রুটি (علة) বর্ণনার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে কোনো মতভেদ দেখতে পাও, তবে জেনে রেখো যে আমাদের প্রত্যেকেই নিজ খেয়ালখুশি মতো কথা বলেছি।

আর যদি দেখ যে আমাদের সবার কথা এক ও অভিন্ন হয়ে গেছে, তবেই এই ইলমের প্রকৃত বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারবে।"

তিনি বলেন: সেই লোকটি তা-ই করল।

এবং তাদের সবার বক্তব্য এক ও অভিন্ন হলো। তখন সে বলল: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই জ্ঞান একটি অনুপ্রেরণা (إلهام) (২)।"

এখানে একটি বিশেষ সতর্কতা: আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর কথাটি তার যথাযথ প্রেক্ষাপটে বোঝা উচিত। 'হাদিসের প্রজ্ঞা একটি অনুপ্রেরণা (إلهام)'—একথা দ্বারা তিনি এটি বোঝাতে চাননি যে, কোনো বিশেষজ্ঞ হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি চিহ্নিত (يعلل) করবেন অথচ তার কোনো দলিল (حجة) থাকবে না। বরং

--------------------------------------------

(১) শারহু ইলালিত তিরমিযী, ইবনে রজব, পৃষ্ঠা ৬১, ৬২।

(২) মারিফাতু উলূমিল হাদিস, আল-হাকিম, পৃষ্ঠা ১১২ - ১১৩।

(*)