(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: -)
المجموع الثمين في حكم دعاء غير رب العالمين   (محمد بن عبد الله المقشي)

القسم: العقيدة


الكتاب: المجموع الثمين في حكم دعاء غير رب العالمين

جمع وإعداد: الدكتور/ محمد بن عبد الله المقشي

عدد الصفحات: 137

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1442

বিশ্বজগতের প্রতিপালক ছাড়া অন্য কাউকে ডাকার বিধান বিষয়ে মূল্যবান সংকলন   (মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাকশি)

বিভাগ: আক্বীদা


গ্রন্থ: বিশ্বজগতের প্রতিপালক ছাড়া অন্য কাউকে ডাকার বিধান বিষয়ে মূল্যবান সংকলন

সংকলন ও সম্পাদনা: ডক্টর/ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাকশি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৭

[গ্রন্থটি মুদ্রিত নয়]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমাদান ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১)
المجموع الثمين

في حكم دعاء غير رب العالمين

 

جمع وإعداد

الدكتور/ محمد بن عبد الله المقشي
মহামূল্যবান সংকলন

বিশ্বজগতের প্রতিপালক ব্যতীত অন্যের নিকট দুআ করার বিধান প্রসঙ্গে

 

সংকলন ও প্রস্তুতিতে

ডক্টর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাকশি
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي لا يَقبل توحيدَ ربوبيته من العباد حتى يُفردوه بتوحيد العبادة كلَّ الإفراد، فلا يتَّخذون له ندًّا، ولا يَدْعون معه أحداً، ولا يتَّكلون إلَاّ عليه، ولا يَفزعون في كلِّ حال إلَاّ إليه، ولا يَدعونه بغير أسمائه الحسنى، ولا يتوصَّلون إليه بالشفعاء: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَاّ بِإِذْنِهِ}.

وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له ربًّا ومعبوداً، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، الذي أمره أن يقول: {قُلْ لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعاً وَلا ضَرّاً إِلَاّ مَا شَاءَ اللَّهُ}، وكفى بالله شهيداً، صلى الله عليه وعلى آله والتابعين له في السلامة من العيوب وتطهير القلوب عن اعتقاد كلِّ شين يشوب"(1).

وبعد: فهذه نقولٌ كثيرة أبرزناها من محالها من كلام أئمة وعلماء أجلاء من أتباع المذاهب الأربعة وغيرها في حكم دعاء غير الله تعالى، والاستغاثة عند الشدائد بالأموات من الأنبياء والأولياء والصالحين، والتوجّه إليهم، وطلب الحاجات منهم من دون الله تعالى.

علمًا بأنّ من هؤلاء الأئمة والعلماء من أجاز التوسل بذوات الأنبياء والصالحين، ولكنهم فرّقوا بين التوسل بهم وبين الاستغاثة بهم. وهؤلاء العلماء فيما يتعلق بصفات الله تعالى منهم من كان على عقيدة السلف وأهل الحديث والأثر، ومنهم من كان أشعريًا، ومنهم من كان ماتريديًا.

ولم أذكر ضمن هذه النقول ما كان من نقول عن الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأتباعه من أئمة الدعوة النجدية؛ لكثرة كلامهم في ذلك جدًا حتى ظنَّ بعضُ الناس أنّ الكلام في هذه المسألة هو من ابتداعهم وأنهم لم يُسبقوا إليه.

وقد اقتصرتُ على مجرد الجمع - وما عليّ إلا عهدة العزو- ليحكم القارئُ نفسُه بعد الاطلاع على هذه النقول على حكم ما يحصل من كثير من الناس مِن دعاء غير الله تعالى لقضاء الحاجات وانكشاف المهمات، والاستغاثة بغيره تعالى عند الشدائد والبليات.

واللهَ أسألُ أن يبارك هذا العمل، وأن يتقبله مني، وأن يجعله عملاً صالحًا، ولوجهه خالصًا، وألا يجعل لأحد فيه شيئًا، وأن يعلمنا ما ينفعنا، وأن ينفعنا بما علمنا، ويرزقنا العمل به، إنه نعم المولى ونعم النصير، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

--------------------------------------------

(1) هذه المقدمة مقتبسة من مقدمة كتاب تطهير الاعتقاد عن أدران الإلحاد للسيد العلامة محمد بن إسماعيل الأمير الصنعاني (المتوفى: 1182 هـ).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বান্দাদের থেকে তাঁর রুবুবিয়্যাহর তাওহিদ কবুল করেন না যতক্ষণ না তারা তাঁকে ইবাদতের তাওহিদে পরিপূর্ণভাবে একক হিসেবে গণ্য করে। সুতরাং তারা যেন তাঁর জন্য কোনো সমকক্ষ নির্ধারণ না করে, তাঁর সাথে কাউকে না ডাকে, তিনি ছাড়া অন্য কারো ওপর ভরসা না করে, প্রতিটি অবস্থায় তিনি ছাড়া আর কারো কাছে আশ্রয় প্রার্থনা না করে, তাঁর সুন্দর নামসমূহ ছাড়া অন্য কোনো নামে তাঁকে না ডাকে এবং কোনো সুপারিশকারীর মাধ্যমে তাঁর নিকট পৌঁছানোর চেষ্টা না করে: "কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?"

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই রব ও মাবুদ হিসেবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, যাকে তিনি এই কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন: "বলুন, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আমি নিজের কোনো উপকার বা অপকারের মালিক নই।" আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সেইসব অনুসারীদের ওপর দরুদ বর্ষিত হোক, যারা ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে মুক্ত এবং যাবতীয় কলুষতাপূর্ণ বিশ্বাস থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসারী।(1).

অতঃপর: এগুলো হলো অনেক উদ্ধৃতি যা আমি চার মাযহাবের অনুসারী ও অন্যান্য মহান ইমাম ও আলেমগণের কিতাবসমূহ থেকে চয়ন করে উপস্থাপন করেছি—আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দোয়া করার বিধান, বিপদ-আপদে মৃত নবী, ওলি ও নেককার ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা (ইস্তিগাছা), তাদের অভিমুখী হওয়া এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের কাছে প্রয়োজন পূরণের আবেদন করার বিষয়ে।

জেনে রাখা ভালো যে, এই ইমাম ও আলেমগণের মধ্যে কেউ কেউ নবী ও নেককার ব্যক্তিদের সত্তার মাধ্যমে উসিলা (তাওয়াসসুল) গ্রহণ করাকে বৈধ বলেছেন, কিন্তু তারা এই উসিলা গ্রহণ এবং তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাছা) করার মধ্যে পার্থক্য করেছেন। আর আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলির ক্ষেত্রে এই আলেমদের কেউ ছিলেন সালাফ, আহলে হাদিস ও আসারি আকিদার অনুসারী, আবার কেউ ছিলেন আশআরি অথবা মাতুরিদি।

আমি এই উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যে শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং নজদি দাওয়াতের ইমামদের মধ্য থেকে তাঁর অনুসারীদের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করিনি; কারণ এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য অত্যন্ত বেশি, এমনকি কিছু মানুষ মনে করে যে এই বিষয়ে আলোচনা করা তাদেরই উদ্ভাবন এবং তাদের আগে কেউ এ বিষয়ে আলোচনা করেনি।

আমি কেবল সংকলন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি—আর আমার দায়িত্ব হলো কেবল উদ্ধৃতির সূত্র উল্লেখ করা—যাতে পাঠক এই উদ্ধৃতিগুলো দেখার পর নিজেই বিচার করতে পারেন সেই কাজের হুকুম সম্পর্কে, যা অনেক মানুষ করে থাকে—যেমন প্রয়োজন পূরণ ও বিপদ মুক্তির জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকা এবং বিপদ-আপদে আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজে বরকত দান করেন, এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করেন, একে একটি নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; এতে যেন অন্য কারো কোনো অংশ না রাখেন। তিনি যেন আমাদের উপকারী জ্ঞান দান করেন এবং যা আমাদের শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

--------------------------------------------

(1) এই ভূমিকাটি আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমীর আস-সানআনি (মৃত্যু: ১১৮২ হি.) রচিত 'তাতহীরুল ইতিকাদ আন আদরানিল ইলহাদ' কিতাবের ভূমিকা থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৩)
• قال‌‌ الإمام نعيم بن حماد شيخ الإمام البخاري (المتوفى: 228 هـ): "لا يستعاذ(1) بالمخلوق ولا بكلام العباد والجن والإنس والملائكة"(2).

وفي فتح الباري: "قال نعيم بن حماد في الرد على الجهمية: دلّت هذه الأحاديث. يعني الواردة في الاستعاذة بأسماء الله وكلماته والسؤال بها … على أن القرآن غير مخلوق؛ إذ لو كان مخلوقا لم يستعذ بها، إذ لا يستعاذ بمخلوق، قال الله تعالى: {فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ} وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «وإذا استعذت فاستعذ بالله» "(3).

 

• وقال‌‌ شيخ المفسرين ابن جرير الطبري (المتوفى:310 هـ) عند تفسير قوله تعالى: {وَجَاءَهُمُ الْمَوْجُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ}: "يقول: أخلصوا الدعاء لله هنالك، دون أوثانهم وآلهتهم، وكان مفزعهم حينئذٍ إلى الله دونها"(4).

وقال أيضًا في تفسير قوله تعالى: {وَلَا تَدْعُ مِن دُونِ اللّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِن فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذاً مِّنَ الظَّالِمِينَ}: "يقول تعالى ذكره: ولا تدع يا محمد من دون معبودك وخالقك شيئًا لا ينفعك في الدنيا ولا في الآخرة، ولا يضرك في دين ولا دنيا، يعني بذلك الآلهة والأصنام. يقول: لا تعبدها راجيا نفعها أو خائفًا ضرَّها، فإنها لا تنفع ولا تضر.

{فَإِن فَعَلْتَ} ذلك، فدعوتها من دون الله {فَإِنَّكَ إِذاً مِّنَ الظَّالِمِينَ}، يقول: من المشركين بالله، الظالمي أنفُسِهم"(5).

--------------------------------------------

(1) الاستعاذة والاستغاثة كلها من نوع الدعاء والطلب.

(2) خلق أفعال العباد للبخاري (ص: 96) دار المعارف - الرياض.

(3) فتح الباري للحافظ ابن حجر (13/ 381).

(4) جامع البيان (15/ 51) مؤسسة الرسالة.

(5) المصدر السابق (15/ 218 - 219).
• ইমাম বুখারীর উস্তাদ ইমাম নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ (মৃত্যু: ২২৮ হিজরী) বলেছেন: "মাখলুক বা সৃষ্টির নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা যাবে না, এবং বান্দাদের কথা, জিন, মানুষ ও ফেরেশতাদের কথার মাধ্যমেও আশ্রয় চাওয়া যাবে না"(১)।

এবং ফাতহুল বারীতে রয়েছে: "নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ জাহমিয়াদের খণ্ডন করতে গিয়ে বলেছেন: এই হাদিসগুলো—অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও তাঁর কালামের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা এবং তার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে—তা প্রমাণ করে যে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট) নয়; কারণ যদি এটি মাখলুক হতো তবে এর মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়া হতো না, যেহেতু মাখলুকের নিকট আশ্রয় চাওয়া যায় না। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তুমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো} এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আর যখন তুমি আশ্রয় প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর নিকটই আশ্রয় প্রার্থনা করবে»"(৩)।

 

• মুফাসসিরদের প্রধান ইবনে জারীর আত-তাবারী (মৃত্যু: ৩১০ হিজরী) মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে বলেন: {এবং চারদিক থেকে ঢেউ আসতে লাগল এবং তারা নিশ্চিত মনে করল যে তারা পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে, তখন তারা আল্লাহকে ডাকার ক্ষেত্রে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকল}: "তিনি বলেন: তারা সেই মুহূর্তে তাদের মূর্তিসমূহ ও উপাস্যদের বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর জন্যই দোয়াকে একনিষ্ঠ করেছিল, এবং তখন তাদের আশ্রয়ের স্থান ছিল একমাত্র আল্লাহ, অন্য কেউ নয়"(৪)।

মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে তিনি আরও বলেন: {এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুকে ডেকো না যা তোমার উপকারও করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না, আর যদি তুমি তা করো তবে তুমি নিশ্চিতভাবেই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে}: "আল্লাহ তাআলা বলছেন: হে মুহাম্মদ, তোমার মাবুদ ও স্রষ্টা ব্যতীত অন্য এমন কিছুর ইবাদত করো না যা দুনিয়াতে বা আখিরাতে তোমার কোনো উপকার করবে না এবং তোমার দ্বীন বা দুনিয়াতে কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, অর্থাৎ দেবদেবী ও মূর্তিসমূহ। তিনি বলছেন: তুমি এগুলোর উপকার পাওয়ার আশায় বা ক্ষতির ভয়ে এগুলোর ইবাদত করো না, কারণ তারা উপকারও করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না।

{যদি তুমি তা করো} সেই কাজ, অর্থাৎ আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ডাকো {তবে তুমি নিশ্চিতভাবেই জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে}, তিনি বলেন: অর্থাৎ আল্লাহর সাথে শিরককারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যারা নিজেদের ওপর জুলুমকারী"(৫)।

--------------------------------------------

(১) আশ্রয় প্রার্থনা এবং সাহায্য প্রার্থনা—সবই দোয়া ও চাওয়ার অন্তর্ভুক্ত।

(২) খালকু আফআলিল ইবাদ, বুখারী (পৃষ্ঠা: ৯৬), দারুল মাআরিফ - রিয়াদ।

(৩) ফাতহুল বারী, হাফেজ ইবনে হাজার (১৩/ ৩৮১)।

(৪) জামিউল বায়ান (১৫/ ৫১), মুআসসাসাতুর রিসালাহ।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (১৫/ ২১৮ - ২১৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৪)
• وقال‌‌ إمام الأئمة ابن خزيمة (المتوفى:311 هـ): "أفليس العلم محيطا يا ذوي الحجا أنه غير جائز أن يأمر النبي صلى الله عليه وسلم بالتعوذ بخلق الله من شر خلقه؟

هل سمعتم عالمًا يجيز أن يقول الداعي: أعوذ بالكعبة من شر خلق الله؟ أو يجيز أن يقول: أعوذ بالصفا والمروة، أو أعوذ بعرفات ومنى من شر ما خلق الله، هذا لا يقوله ولا يجيز القول به مسلم يعرف دين الله، محال أن يستعيذ مسلم بخلق الله من شر خلقه"(1).

 

• وقال‌‌ الإمام أبو بكر الخلال (المتوفى:311) تعليقا على أحاديث الاستعاذة: "ولا يجوز أن يقال: أعيذك بالسماء أو بالجبال أو بالأنبياء أو بالملائكة أو بالعرش أو بالأرض مما خلق الله، لا يتعوذ إلا بالله أو بكلماته"(2).

 

• وقال‌‌ الإمام أبو عبد الله ابن بطة العُكْبَري (المتوفى: 387 هـ) بعد ذكره لأحاديث الاستعاذة: "فتفهموا رحمكم الله هذه الأحاديث، فهل يجوز أن يعوذ النبي صلى الله عليه وسلم بمخلوق، ويتعوذ هو ويأمر أمته أن يتعوذوا بمخلوق مثلهم؟!

وهل يجوز أن يعوذ إنسان نفسه أو غيره بمخلوق مثله؟! فيقول: أعيذ نفسي بالسماء أو بالجبال أو بالأنبياء أو بالعرش أو بالكرسي أو بالأرض؟.

وإذا جاز أن يتعوذ بمخلوق مثله، فليعوذ نفسه وغيره بنفسه، فيقول: أعيذك بنفسي"(3).

 

• وقال‌‌ الإمام أبو سليمان الخطابي (المتوفى:388): "وكان أحمد بن حنبل يستدل بقوله «بكلمات الله التامة» على أن القرآن غير مخلوق، وهو أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يستعيذ بمخلوق"(4).

وقال أيضًا: "لا يستعاذ بغير الله أو صفاته، إذ كل ما سواه تعالى وصفاته مخلوق، … والاستعاذة بالمخلوق شرك مناف لتوحيد الخالق لما فيه من تعطيل معاملته تعالى الواجبة له على عبيده"(5).

--------------------------------------------

(1) كتاب التوحيد (1/ 401 - 402) مكتبة الرشد - الرياض.

(2) الدعاء ومنزلته من العقيدة الإسلامية (1/ 303) رسالة ماجستير بالجامعة الإسلامية.

(3) الإبانة الكبرى (5/ 262) دار الراية للنشر والتوزيع.

(4) معالم السنن (4/ 332) المطبعة العلمية - حلب.

(5) العقد الثمين في بيان مسائل الدين للسويدي الشافعي (ص: 225) المطبعة الميمنية بمصر.
• ইমামুল আইম্মাহ ইবনে খুযাইমাহ (মৃত্যু: ৩১১ হি.) বলেন: "হে বুদ্ধিমানগণ, জ্ঞান কি এটি বেষ্টন করে নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আল্লাহরই কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দেবেন—এটি বৈধ নয়?

আপনারা কি কোনো আলেমকে শুনেছেন যিনি দুয়াকারীর জন্য এটি বৈধ করেছেন যে সে বলবে: 'আমি আল্লাহর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে কাবার মাধ্যমে আশ্রয় চাই'? অথবা তিনি কি এটি বৈধ করেছেন যে সে বলবে: 'আমি সাফা ও মারওয়ার মাধ্যমে আশ্রয় চাই', অথবা 'আমি আরাফাত ও মিনার মাধ্যমে আশ্রয় চাই আল্লাহর সৃষ্টি করা বস্তুর অনিষ্ট থেকে'? আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অবগত কোনো মুসলিম এ কথা বলে না এবং এটি বলা বৈধ মনে করে না; কোনো মুসলিমের পক্ষে আল্লাহর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে তাঁরই সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা অসম্ভব"(১)।

 

• ইমাম আবু বকর আল-খাল্লাল (মৃত্যু: ৩১১ হি.) আশ্রয় প্রার্থনা সংক্রান্ত হাদিসগুলোর ব্যাখ্যায় বলেন: "এটি বলা জায়েজ নেই যে: 'আমি আকাশ বা পাহাড় বা নবী বা ফেরেশতা বা আরশ অথবা জমিনের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টি করা অনিষ্ট থেকে তোমার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি'; আল্লাহ অথবা তাঁর বাণীসমূহ ব্যতীত আর কারো মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয় না"(২)।

 

• ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ আল-উকবারী (মৃত্যু: ৩৮৭ হি.) আশ্রয় প্রার্থনা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ উল্লেখ করার পর বলেন: "আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন, আপনারা এই হাদিসগুলো বুঝুন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় দিতে পারেন, অথবা তিনি নিজে আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারেন এবং তাঁর উম্মতকে তাদের মতো কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন?!

আর কোনো মানুষের জন্য কি এটি জায়েজ যে সে নিজের জন্য বা অন্যের জন্য তার মতো কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করবে?! সে কি বলবে: 'আমি আসমান বা পাহাড় বা নবী বা আরশ বা কুরসি বা জমিনের মাধ্যমে নিজের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি'?

আর যদি তার মতো কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়া জায়েজ হতো, তবে সে নিজের মাধ্যমে নিজের বা অন্যের আশ্রয় প্রার্থনা করত এবং বলত: 'আমি আমার নিজের মাধ্যমে তোমার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করছি'"(৩)।

 

• ইমাম আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি (মৃত্যু: ৩৮৮ হি.) বলেন: "আহমদ বিন হাম্বল 'আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে'—এই কথাটি দ্বারা দলিল গ্রহণ করতেন যে কুরআন মাখলুক (সৃষ্টি) নয়; আর তা হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন না"(৪)।

তিনি আরও বলেন: "আল্লাহ অথবা তাঁর গুণাবলি ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয় না, কারণ তিনি এবং তাঁর গুণাবলি ব্যতীত যা কিছু আছে সবই সৃষ্টি, ... আর সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা হলো শিরক, যা স্রষ্টার তাওহীদের পরিপন্থী; কারণ এতে বান্দাদের ওপর আল্লাহর যে ইবাদত ওয়াজিব, তা অকার্যকর করা হয়"(৫)।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুত তাওহীদ (১/ ৪০১ - ৪০২) মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ।

(২) আদ-দুআ ওয়া মানযিলাতুহু মিনাল আকীদাতিল ইসলামিয়্যাহ (১/ ৩০৩) মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স থিসিস।

(৩) আল-ইবানাতুল কুবরা (৫/ ২৬২) দারুর রায়াহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন।

(৪) মাআলিমুস সুনান (৪/ ৩৩২) আল-মাতবাআতুল ইলমিয়্যাহ - আলেপ্পো।

(৫) আস-সুওয়াইদি আশ-শাফিয়ি রচিত আল-ইকদুত সামীন ফি বায়ানি মাসাইলিদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২২৫) আল-মাতবাআতুল মায়মানিয়্যাহ, মিসর।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৫)
وقال أيضًا: "ومعنى الدعاء: استدعاء العبد ربه عز وجل العناية، واستمداده إياه المعونة، وحقيقته: إظهار الافتقار إليه، والتبرؤ من الحول والقوة، وهو سمة العبودية، واستشعار الذلة البشرية، وفيه معنى الثناء على الله عز وجل، وإضافة الجود والكرم إليه"(1).

 

• وقال‌‌ الإمام أبو عبد الله الحليمي (المتوفى:403 هـ): "والدعاء من جملة التخشع والتذلل؛ لأن كل من سأل ودعا فقد أظهر الحاجة وباح بها، واعترف بالذلة والفقر والفاقة لمن يدعوه لمن يدعوه ويسأله، فكان ذلك في العبد نظير العبادات التي يتقرب بها إلى الله عزّ اسمه"(2).

وذكر أنه لما كان الدعاء سؤالا وطلبا وجب تجريد الطلب؛ لأنه أخشع من خلافه، فإن الطلب إذا كان تذللاً فكل ما كان منه أخلص وأبين كان التذلل فيه أشد"(3).

وقال أيضًا: الغياث: هو المغيث، وأكثر ما يقال غياث المستغيثين، ومعناه المدرك عباده في الشدائد إذا دعوه، ومريحهم ومخلصهم"(4).

 

• وقال‌‌ الحافظ البيهقي (المتوفى: 458): "فاستعاذ رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأمر أن يستعاذ في هذه الأخبار بكلمات الله تعالى، كما أمره الله تعالى جل ثناؤه أن يستعيذ به، … ولا يصح أن يستعيذ بمخلوق من مخلوق، فدل أنه استعاذ بصفة من صفات ذاته، وأمر أن يستعاذ بصفة من صفات ذاته، وهي غير مخلوقة كما أمره الله تعالى أن يستعيذ بذاته، وذاته غير مخلوق"(5).

 

• وسئل‌‌ القاضي أبو يعلى ابن الفراء الحنبلي (المتوفى: 458) عن مسائل عديدة وردت عليه من مكة وكان منها: ما تقول في قول الإنسان إذا عثر: (محمد أو علي)؟

فقال: إن قصد الاستعانة فهو مخطئ؛ لأن الغوث من الله تعالى فقال: وهما ميتان فلا يصح الغوث منهما، ولأنه يجب تقديم الله على غيره"(6).

--------------------------------------------

(1) شأن الدعاء (ص: 4).

(2) المنهاج في شعب الإيمان (1/ 171) دار الفكر.

(3) المصدر السابق (1/ 532).

(4) الأسماء والصفات للبيهقي (1/ 172) مكتبة السوادي، جدة - المملكة العربية السعودية.

(5) المصدر السابق (1/ 476 - 477).

(6) بدائع الفوائد للحافظ ابن القيم (4/ 40) دار الكتاب العربي، بيروت - لبنان.
তিনি আরও বলেন: "দোয়ার অর্থ হলো: বান্দা তার রব্ব মহান ও পরাক্রমশালীর নিকট যত্ন ও মনোযোগ প্রার্থনা করা এবং তাঁর নিকট সাহায্য চাওয়া। এর হাকিকত বা প্রকৃত রূপ হলো: তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা এবং নিজের উপায় ও সামর্থ্য থেকে মুক্ত হওয়া। এটি দাসত্বের একটি বৈশিষ্ট্য এবং মানবীয় হীনতার অনুভূতি। এর মধ্যে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর প্রতি বদান্যতা ও মহানুভবতা আরোপ করার অর্থ নিহিত রয়েছে"(১).

 

• ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হালীমী (মৃত্যু: ৪০৩ হিজরি) বলেন: "দোয়া হলো বিনয় ও নম্রতার অন্তর্ভুক্ত; কারণ যে ব্যক্তি প্রার্থনা করে এবং ডাকে, সে তার অভাব প্রকাশ ও ব্যক্ত করে। সে যাকে ডাকে এবং যার কাছে প্রার্থনা করে, তার নিকট নিজের হীনতা, দারিদ্র্য ও নিঃস্বতা স্বীকার করে। সুতরাং এটি বান্দার পক্ষ থেকে সেই ইবাদতগুলোর সমতুল্য, যার মাধ্যমে সে আল্লাহর—যাঁর নাম অতি মহান—নৈকট্য লাভ করে"(২).

তিনি উল্লেখ করেন যে, যেহেতু দোয়া হলো আবেদন ও প্রার্থনা, তাই প্রার্থনাকে একনিষ্ঠ করা ওয়াজিব; কারণ এটি এর বিপরীত অবস্থার চেয়ে অধিক বিনয়পূর্ণ। কেননা প্রার্থনা যদি বিনয় প্রকাশের মাধ্যম হয়, তবে তা যত বেশি একনিষ্ঠ ও স্পষ্ট হবে, তাতে বিনয় তত বেশি প্রগাঢ় হবে"(৩).

তিনি আরও বলেন: আল-গিয়াস (সাহায্যকারী) হলেন আল-মুগীস (ত্রাণকর্তা)। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'গিয়াসুল মুস্তাগীসীন' (বিপদগ্রস্তদের উদ্ধারকারী) হিসেবে বলা হয়। এর অর্থ হলো: তিনি তাঁর বান্দারা যখন তাঁকে ডাকে তখন বিপদের সময় তাদের উদ্ধার করেন এবং তাদের প্রশান্তি ও মুক্তি দান করেন"(৪).

 

• হাফিজ আল-বায়হাকী (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি) বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন এবং এই সংবাদগুলোতে আল্লাহর কালিমাসমূহের (বাণীর) মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত—তাঁকে তাঁর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, … আর কোনো সৃষ্টি থেকে বাঁচতে অন্য কোনো সৃষ্টির নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা সঠিক নয়। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর সত্তাগত গুণাবলির মধ্য হতে একটি গুণের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন এবং তাঁর সত্তাগত গুণাবলির মধ্য হতে একটি গুণের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর সেই গুণটি অ-সৃষ্টি (সৃষ্ট নয়), যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর সত্তার (জাতের) মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর তাঁর সত্তা সৃষ্ট নয়"(৫).

 

• কাজী আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা আল-হাম্বলীকে (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি) মক্কা থেকে আগত বেশ কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তার মধ্যে একটি ছিল: কোনো মানুষ হোঁচট খেলে যদি বলে: (মুহাম্মদ অথবা আলী), তবে সে সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

তিনি বলেন: "যদি সে এর মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করার ইচ্ছা করে, তবে সে ভুল করছে; কারণ উদ্ধার বা সাহায্য কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তিনি বলেন: তারা উভয়েই মৃত, তাই তাদের থেকে উদ্ধার বা সাহায্য পাওয়া সঠিক নয়। তাছাড়া অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে আল্লাহকে স্থান দেওয়া ওয়াজিব"(৬).

--------------------------------------------

(১) শানুদ দুআ (পৃষ্ঠা: ৪)।

(২) আল-মিনহাজ ফি শুয়াবিল ঈমান (১/ ১৭১) দারুল ফিকর।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৫৩২)।

(৪) আল-আসমা ওয়াস সিফাত লিল বায়হাকী (১/ ১৭২) মাকতাবাতুস সাওয়াদী, জেদ্দা - সৌদি আরব।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪৭৬ - ৪৭৭)।

(৬) বাদায়িউল ফাওয়ায়িদ লিল হাফিজ ইবনুল কাইয়িম (৪/ ৪০) দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত - লেবানন।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৬)
• وقال‌‌ الحافظ ابن عبد البر (المتوفى: 463): "وفي الاستعاذة بكلمات الله أبين دليل على أنّ كلام الله منه تبارك اسمه، وصفة من صفاته، ليس بمخلوق؛ لأنه محال أن يستعاذ بمخلوق. وعلى هذا جماعة أهل السنة. والحمد لله"(1).

 

• وقال‌‌ أبو القاسم القشيري (المتوفى: 465) عند تفسير قوله تعالى: {وَالَّذِينَ لا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلهاً آخَرَ وَلا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ وَلا يَزْنُونَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذلِكَ يَلْقَ أَثاماً} قال: " «إِلهاً آخَرَ» في الظاهر عبادة الأصنام المعمولة من الأحجار، المنحوتة من الأشجار. وكما تتصف بهذا النفوس والأبشار فكذلك توهّم المبارّ والمضارّ من الأغيار شرك"(2).

 

• وقال‌‌ أبو المظفر السمعاني (المتوفى: 489) عند تفسيره قوله تعالى: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى}: "أَي: قَالُوا مَا نعبدهم، أَو يَقُولُونَ: مَا نعبدهم أَي: مَا نعْبد الْمَلَائِكَة {إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} أَي: الْقرْبَة. وَمعنى الْآيَة: أنهم يشفعون لنا عِنْد الله"(3).

وقال أيضًا عند تفسير قوله تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يشفع عِنْده إِلَّا بِإِذْنِهِ}: "لأنهم زعموا أن الملائكة والأصنام يشفعون لهم"(4).

 

• وقال‌‌ الراغب الأصفهاني (المتوفى: 502): "العبودية: إظهار التذلل، والعبادة أبلغ منها؛ لأنها غاية التذلل، ولا يستحقها إلا من له غاية الإفضال، وهو الله تعالى، ولهذا قال: {أ أَلَاّ تَعْبُدُوا إِلَاّ إِيَّاهُ} "(5).

وقال أيضًا: "ودَعَوتُه: إذا سألته، وإذا استغثته، قال تعالى: {قَالُوا ادْعُ لَنَا رَبَّكَ}، أي: سله، وقال: {قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ أَوْ أَتَتْكُمُ السَّاعَةُ أَغَيْرَ اللَّهِ تَدْعُونَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ بَلْ إِيَّاهُ تَدْعُونَ}، تنبيها أنكم إذا أصابتكم شدة لم تفزعوا إلا إليه، {وَادْعُوهُ خَوْفاً وَطَمَعاً}، {وَادْعُوا شُهَدَاءكُم مِّن دُونِ اللّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ}، {وَإِذَا مَسَّ الإِنسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُ مُنِيباً إِلَيْهِ}، {وَإِذَا مَسَّ الإِنسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنبِهِ}، {وَلَا تَدْعُ مِن دُونِ اللّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ} "(6).

 

• وقال‌‌ الإمام أبو حامد الغزالي (المتوفى:505): "المؤمن لا يجعل بينه وبين الله تعالى وسائط في الطلب، قال تعالى: {وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ} "(7).

--------------------------------------------

(1) التمهيد (24/ 186) وزارة الأوقاف - المغرب.

(2) لطائف الإشارات (2/ 650) الهيئة المصرية العامة للكتاب.

(3) تفسير السمعاني (4/ 458) دار الوطن - الرياض.

(4) المصدر السابق (1/ 258).

(5) مفردات ألفاظ القرآن (2/ 57) دار القلم - دمشق.

(6) المصدر السابق (1/ 347).

(7) غاية الأماني في الرد على النبهاني لشكري الألوسي (2/ 378) مكتبة الرشد، الرياض - السعودية.
• হাফিয ইবনে আব্দুল বার (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি) বলেছেন: "আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়ার মধ্যে এই বিষয়ে সবচাইতে স্পষ্ট দলিল রয়েছে যে, আল্লাহর বাণী তাঁরই পক্ষ থেকে—তাঁর নাম বরকতময়—এবং এটি তাঁর গুণাবলির একটি গুণ, এটি সৃষ্টি (মাখলুক) নয়; কারণ কোনো সৃষ্টির নিকট আশ্রয় চাওয়া অসম্ভব। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এই মতেরই ওপর প্রতিষ্ঠিত। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।"(১).

 

• আবু কাসেম আল-কুশাইরী (মৃত্যু: ৪৬৫ হিজরি) মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে বলেন: {আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না এবং আল্লাহ যা হারাম করেছেন সেই প্রাণকে যথার্থ কারণ ছাড়া হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এগুলো করবে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে}। তিনি বলেন: "বাহ্যিকভাবে 'অন্য উপাস্য' বলতে পাথর দিয়ে তৈরি এবং কাঠ খোদাই করে বানানো মূর্তিপূজাকে বোঝায়। আর যেভাবে প্রবৃত্তি ও মানুষ এই গুণের অধিকারী হয়, তেমনিভাবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে উপকার বা অপকার হতে পারে বলে ধারণা করাও শিরক।"(২).

 

• আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনি (মৃত্যু: ৪৮৯ হিজরি) মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে বলেন: {আর যারা আল্লাহকে ছাড়া অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে (তারা বলে): আমরা তো তাদের ইবাদত করি কেবল এই জন্য যে, তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে}: "অর্থাৎ: তারা বলেছিল আমরা তাদের ইবাদত করি না, অথবা তারা বলে: আমরা তাদের অর্থাৎ ফেরেশতাদের ইবাদত করি না {কেবল এই জন্য যে তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে} অর্থাৎ নৈকট্য লাভের জন্য। আর আয়াতের অর্থ হলো: তারা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে।"(৩).

তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে আরও বলেছেন: {কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?}: "কারণ তারা ধারণা করেছিল যে, ফেরেশতা ও মূর্তিগুলো তাদের জন্য সুপারিশ করবে।"(৪).

 

• রাঘিব আল-আসফাহানি (মৃত্যু: ৫০২ হিজরি) বলেছেন: "উবুদিয়্যাত (দাসত্ব) হলো বিনয় প্রকাশ করা, আর ইবাদত এর চেয়েও অর্থবহ; কারণ এটি হলো বিনয়ের চূড়ান্ত পর্যায়। আর এর যোগ্য কেবল তিনিই যিনি চূড়ান্ত অনুগ্রহ দানকারী, আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ। এই কারণেই তিনি বলেছেন: {তোমরা তিনি ছাড়া আর কারও ইবাদত করো না}।"(৫).

তিনি আরও বলেছেন: "আর আমি তাকে ডেকেছি (দাওয়াতুহু): যখন আমি তার কাছে কিছু চেয়েছি অথবা যখন তার কাছে সাহায্য চেয়েছি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা বলল, আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে প্রার্থনা করুন}, অর্থাৎ: তাঁর কাছে চান। এবং তিনি বলেছেন: {বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর শাস্তি নেমে আসে কিংবা কিয়ামত উপস্থিত হয়, তবে কি তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকবে? যদি তোমরা সত্যবাদী হও। বরং তোমরা কেবল তাঁকেই ডাকবে}, এটি সতর্ক করার জন্য যে, যখন তোমাদের ওপর কোনো কঠিন বিপদ আসে, তখন তোমরা কেবল তাঁর কাছেই আর্তনাদ করো। {এবং তোমরা ভয় ও আশা নিয়ে তাঁকে ডাকো}, {এবং তোমরা আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও}, {যখন মানুষকে কোনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একান্তভাবে তার রবকে ডাকে}, {যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে আমাদের ডাকে}, {এবং আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না যা তোমার উপকারও করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না}।"(৬).

 

• ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি (মৃত্যু: ৫০৫ হিজরি) বলেছেন: "মুমিন ব্যক্তি চাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের এবং মহান আল্লাহর মাঝে কোনো মাধ্যম রাখে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং আমি তার ঘাড়ের শাহরগ থেকেও অধিক নিকটবর্তী}।"(৭).

--------------------------------------------

(১) আত-তামহিদ (২৪/১৮৬) আওকাফ মন্ত্রণালয় - মরক্কো।

(২) লাতায়েফুল ইশারাতি (২/৬৫০) মিশরীয় সাধারণ গ্রন্থ সংস্থা।

(৩) তাফসিরুস সামআনি (৪/৪৫৮) দারুল ওয়াতান - রিয়াদ।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (১/২৫৮)।

(৫) মুফরাদাতু আলফাযিল কুরআন (২/৫৭) দারুল কলম - দামেস্ক।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস (১/৩৪৭)।

(৭) গায়াতুল আমানি ফি আর-রদ্দি আলা আন-নাবহানি, লেখক: শুকরি আল-আলুসি (২/৩৭৮) মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ - সৌদি আরব।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৭)
• وقال‌‌ الإمام البغوي (المتوفى: 510، أو 516 هـ) عند تفسير قوله تعالى: (وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِياءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَاّ لِيُقَرِّبُونا إِلَى اللَّهِ زُلْفى): "قال قتادة: وذلك إنهم كانوا إذا قيل لهم: من ربكم؟ ومن خلقكم؟ ومن خلق السموات والأرض؟ قالوا: الله، فيقال لهم: فما معنى عبادتكم الأوثان؟ قالوا: ليقربونا إلى الله زلفى، أي قربى، وهو اسم أقيم في مقام المصدر، كأنّه قال: إلا ليقربونا إلى الله تقريبا ويشفعوا لنا عند الله"(1).

وقال أيضًا عند شرحه لحديث «أعوذ بكلمات الله التامات من شر ما خلق»: "وفي هذا الحديث وفي أمثاله مما جاء فيه الاستعاذة بكلمات الله دليل على أن كلام الله غير مخلوق، لأن النبي صلى الله عليه وسلم استعاذ به كما استعاذ بالله، … ولم يكن النبي صلى الله عليه وسلم يستعيذ بمخلوق من مخلوق"(2).

وقال أيضًا عند تفسير قوله تعالى {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ}: "فكان من إيمانهم إذا سئلوا: من خلق السموات والأرض؟ قالوا: الله، وإذا قيل لهم: من ينزل القطر؟ قالوا: الله، ثم مع ذلك يعبدون الأصنام ويشركون …

وقال عطاء: هذا في الدعاء، وذلك أنّ الكفار نسوا ربهم في الرخاء، فإذا أصابهم البلاء أخلصوا في الدعاء"(3).

 

• وقال‌‌ ابن عقيل إمام الحنابلة ببغداد في زمنه (المتوفى:513): "لما صعبت التكاليف على الجهال والطغام عدلوا عن أوضاع الشرع إلى تعظيم أوضاع وضعوها لأنفسهم فسهلت عليهم؛ إذ لم يدخلوا بها تحت أمر غيرهم. قال: وهم كفار عندي بهذه الأوضاع مثل تعظيم القبور وإكرامها بما نهى الشرع عنه من إيقاد النيران وتقبيلها وتخليقها، وخطاب الموتى بالحوائج وكتب الرقاع فيها: يا مولاي افعل بي كذا وكذا، وأخذ التراب تبركا وإفاضة الطيب على القبور، وشد الرحال اليها وإلقاء الخرق على الشجر اقتداء بمن عبد اللات والعزى، ولا تجد في هؤلاء من يحقق مسألة في زكاة فيسأل عن حكم يلزمه، والويل عندهم لمن لم يقبِّل مشهد الكهف ولم يتمسح بآجرة مسجد المأمونية يوم الأربعاء … "(4).

وقال أيضًا: "قد سمعنا منهم أن الدعاء عند حدو الحادي وعند حضور المخدّة مجاب، وذلك أنهم يعتقدون أنه قربة يتقرب بها إلى الله تعالى، قال: وهذا كفر؛ لأن من اعتقد الحرام أو المكروه قربة كان بهذا الاعتقاد كافراً، قال: والناس بين تحريمه وكراهيته"(5).

--------------------------------------------

(1) معالم التنزيل (4/ 79) دار إحياء التراث العربي - بيروت.

(2) شرح السنة (1/ 185) المكتب الإسلامي - دمشق - بيروت.

(3) معالم التنزيل (2/ 517).

(4) تلبيس إبليس لابن الجوزي (ص: 354) دار الفكر - بيروت، إغاثة اللهفان (1/ 195) دار المعرفة - بيروت.

(5) تلبيس إبليس (ص: 306).
• ইমাম বাগাবী (মৃত্যু: ৫১০ অথবা ৫১৬ হিজরি) মহান আল্লাহর বাণী: (আর যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে [তারা বলে]: আমরা তো তাদের ইবাদত করি কেবল তারা যেন আমাদের আল্লাহর অতি নিকটবর্তী করে দেয়) এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: "কাতাদাহ বলেন: তা এই কারণে যে, যখন তাদের বলা হতো: তোমাদের রব কে? কে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন? এবং আসমান ও জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তারা বলতো: আল্লাহ। তখন তাদের বলা হতো: তাহলে তোমাদের প্রতিমা পূজার অর্থ কী? তারা বলতো: তারা যেন আমাদের আল্লাহর অতি নিকটবর্তী (জুলফা) করে দেয়, অর্থাৎ নৈকট্য। এটি এমন একটি বিশেষ্য যা ক্রিয়ামূলের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যেন তিনি বলেছেন: যাতে তারা আমাদের আল্লাহর অত্যন্ত নিকটবর্তী করে দেয় এবং আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য সুপারিশ করে"(১).

তিনি «আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাগুলোর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি» হাদীসের ব্যাখ্যায় আরও বলেছেন: "এই হাদীস এবং এর অনুরূপ যে সকল হাদীসে আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনার বিষয়টি এসেছে, তা আল্লাহর কালাম মাখলুক (সৃষ্ট) না হওয়ার প্রমাণ। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাধ্যমে সেভাবেই আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন যেভাবে তিনি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন, … আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে অন্য কোনো সৃষ্টির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন না"(২).

তিনি মহান আল্লাহর বাণী {তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, তবে এমতাবস্থায় যে তারা শিরককারী} এর তাফসীরে আরও বলেছেন: "তাদের ঈমানের অবস্থা এমন ছিল যে, যখন তাদের জিজ্ঞেস করা হতো: আসমান ও জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তারা বলতো: আল্লাহ। আর যখন তাদের বলা হতো: কে বৃষ্টি বর্ষণ করেন? তারা বলতো: আল্লাহ। এরপরও তারা প্রতিমার পূজা করতো এবং শিরক করতো …

আতা বলেন: এটি দোয়ার ক্ষেত্রে; আর তা হলো, কাফিররা সচ্ছলতার সময় তাদের রবকে ভুলে যেত, কিন্তু যখন তারা বিপদে পড়ত তখন তারা একান্তচিত্তে দোয়া করত"(৩).

 

• তাঁর সময়ের বাগদাদের হাম্বলি ইমাম ইবন আকীল (মৃত্যু: ৫১৩ হিজরি) বলেছেন: "যখন মূর্খ ও ইতর শ্রেণির লোকদের কাছে শরীয়তের বিধানসমূহ কঠিন মনে হলো, তখন তারা শরীয়তের নির্ধারিত পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হয়ে নিজেরা কিছু নিয়ম প্রবর্তন করে সেগুলোকে সম্মান করতে শুরু করল যা তাদের জন্য সহজ হয়ে গেল; কেননা এর মাধ্যমে তারা অন্য কারো আদেশের অনুগত থাকতে হয় না। তিনি বলেন: এই সকল উদ্ভাবিত পদ্ধতির কারণে তারা আমার নিকট কাফির; যেমন কবরের প্রতি অতিশয় ভক্তি প্রদর্শন এবং শরীয়ত যা নিষেধ করেছে সেভাবে কবরের সম্মান করা—যেমন আগুন জ্বালানো, কবর চুম্বন করা, কবরে সুগন্ধি মাখানো, মৃত ব্যক্তির কাছে প্রয়োজন পূরণের আবেদন জানানো এবং চিরকুট লিখে দেওয়া যে: 'হে আমার অভিভাবক! আমার এই এই কাজ করে দিন', বরকতের জন্য মাটি গ্রহণ করা, কবরে আতর ঢালা, কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা এবং লাত ও উজ্জার পূজারীদের অনুকরণে গাছে ন্যাকড়া ঝোলানো। আপনি তাদের কাউকে পাবেন না যে যাকাতের কোনো মাসআলা যাচাই করবে বা তার ওপর আবশ্যক কোনো বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। অথচ তাদের নিকট তার জন্য দুর্ভোগ, যে আসহাবে কাহাফের গুহার (স্মৃতিস্তম্ভ) চুম্বন করল না অথবা বুধবার দিন মামুনিয়া মসজিদের ইটের গায়ে হাত বুলাল না … "(৪).

তিনি আরও বলেন: "আমরা তাদের নিকট থেকে শুনেছি যে, উট চালকের গানের সময় এবং বালিশের উপস্থিতিতে দোয়া কবুল হয়; কারণ তারা বিশ্বাস করে যে এটি এমন ইবাদত যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়। তিনি বলেন: এটি কুফরি; কেননা যে ব্যক্তি হারাম বা মাকরূহ বিষয়কে ইবাদত বা নৈকট্য লাভের উপায় বলে বিশ্বাস করে, সে এই বিশ্বাসের কারণে কাফির হয়ে যায়। তিনি বলেন: মানুষ এর হারাম হওয়া বা মাকরূহ হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ করেছে"(৫).

--------------------------------------------

(১) মাআলিমুত তানযীল (৪/ ৭৯) দার ইহয়াইত তুরাছিল আরাবি - বৈরুত।

(২) শারহুস সুন্নাহ (১/ ১৮৫) আল-মাকতাবুল ইসলামি - দামেস্ক - বৈরুত।

(৩) মাআলিমুত তানযীল (২/ ৫১৭)।

(৪) ইবনুল জাওযী রচিত তালবিসু ইবলিস (পৃষ্ঠা: ৩৫৪) দারুল ফিকর - বৈরুত, ইগাছাতুল লাহফান (১/ ১৯৫) দারুল মা'রিফাহ - বৈরুত।

(৫) তালবিসু ইবলিস (পৃষ্ঠা: ৩০৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৮)
• وقال‌‌ ابن مفلح: "وفي الفنون: لا يخلّق القبور بالخلوق والتزويق والتقبيل لها والطواف بها والتوسل بهم إلى الله قال: ولا يكفيهم ذلك حتى يقولوا بالسر الذي بينك وبين الله. وأي شيء من الله يسمى سرا بينه وبين خلقه. قال: ويكره استعمال النيران والتبخير بالعود والأبنية الشاهقة الباب سموا ذلك مشهدا. واستشفوا بالتربة من الأسقام وكتبوا إلى التربة الرقاع ودسوها في الأثقاب، فهذا يقول جمالي قد جَربِت، وهذا يقول: أرضي قد أجدبت، كأنهم يخاطبون حيا ويدعون إلها"(1).

 

• وقال‌‌ الإمام أبو بكر الطرطوشي (المتوفى: 520): "فانظروا - رحمكم الله - أينما وجدتم سدرة أو شجرة يقصدها الناس ويعظمون من شأنها، ويرجون البرء والشفاء من قبلها، وينوطون بها المسامير والخرق، فهي ذات أنواط، فاقطعوها"(2).

 

• وقال‌‌ قوام السنة الأصبهاني الشافعي (المتوفى: 535): "ومن أسمائه: الوهاب: يهب العافية، ولا يقدر المخلوق أن يهبها. ويهب القوة ولا يقدر المخلوق أن يهبها، تقول: يا رب هب لي العافية ولا تسأل مخلوقا ذلك، وإن سألته لم يقدر عليه، وتقول عند ضعفك: يا رب هب لي قوة، والمخلوق لا يقدر على ذلك"(3).

 

• وقال‌‌ الإمام أبو عبد الله المازري المالكي (المتوفى:536): "من علامات الموحدين التوجه إلى السماء عند الدعاء وطلب الحوائج؛ لأنّ العرب التي تعبد الأصنام تطلب حوائجها من الأصنام، والعجم من النيران"(4).

 

• وقال‌‌ أبو الفتح الشهرستاني الشافعي (المتوفى: 548): "وبالجملة وضع الأصنام حيث ما قدروه إنما هو على معبود غائب حتى يكون الصنم المعمول على صورته وشكله وهيأته نائبا منابه وقائما مقامه، وإلا فنعلم قطعا أنّ عاقلاً مّا لا يَنحت جسمًا بيده ويصوره صورة، ثم يعتقد أنه إلهه وخالقه، وإله الكل وخالق الكل؛ إذ كان وجوده مسبوقا بوجود صانعه، وشكله يحدث بصنعة ناحته.

--------------------------------------------

(1) الفروع (2/ 214) دار الكتب العلمية.

(2) الحوادث والبدع (ص: 38 - 39) دار ابن الجوزي.

(3) الحجة في بيان المحجة (1/ 156) دار الراية - الرياض.

(4) المعلم بفوائد صحيح مسلم (1/ 412) دار النشر التونسية.
• ইবনে মুফলিহ বলেছেন: "'আল-ফুনুন' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কবরগুলোকে সুগন্ধি দিয়ে মাখানো, কারুকার্য করা, সেগুলো চুম্বন করা, সেগুলোর চারপাশে তাওয়াফ করা এবং কবরবাসীদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ওসিলা করা যাবে না। তিনি বলেন: তাদের জন্য এটাই যথেষ্ট হয় না, যতক্ষণ না তারা বলে—আপনার এবং আল্লাহর মাঝে যে গোপন রহস্য রয়েছে তার উসিলায়। আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কী বিষয় আছে যা তাঁর এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে 'রহস্য' হিসেবে অভিহিত হতে পারে? তিনি আরও বলেন: কবরের কাছে আগুন ব্যবহার করা, আগরবাতি বা ঊদ দিয়ে ধূপ দেওয়া এবং সুউচ্চ ফটকবিশিষ্ট দালান নির্মাণ করা অপছন্দনীয়—তারা যেগুলোকে 'মাশহাদ' (মাজার) নাম দিয়েছে। তারা কবরের মাটি দিয়ে রোগব্যাধি থেকে আরোগ্য খোঁজে এবং কবরের গর্তের ভেতরে চিরকুট লিখে ঢুকিয়ে দেয়। কেউ বলে: 'আমার উটটি চর্মরোগাক্রান্ত হয়েছে', কেউ বলে: 'আমার জমি অনাবাদী হয়ে গেছে'; যেন তারা কোনো জীবিত সত্তার সাথে কথা বলছে এবং কোনো উপাস্যকে ডাকছে"(১).

 

• ইমাম আবু বকর আল-তর্তুশি (মৃত্যু: ৫২০ হি.) বলেছেন: "আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন—আপনারা লক্ষ্য করুন, যেখানেই আপনারা কোনো কুল গাছ বা অন্য কোনো গাছ পাবেন যেখানে মানুষ যাতায়াত করে এবং তার মর্যাদাকে বড় করে দেখে, তার নিকট থেকে রোগমুক্তি ও আরোগ্য আশা করে এবং তাতে পেরেক ঠোকে ও ন্যাকড়া বাঁধে, তবে সেটি হলো 'জাতু আনওয়াত' (বরকতময় মনে করা গাছ)। সুতরাং আপনারা তা কেটে ফেলুন"(২).

 

• কাওয়ামুস সুন্নাহ আল-আসবাহানি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু: ৫৩৫ হি.) বলেছেন: "আর তাঁর অন্যতম নাম হলো: আল-ওয়াহহাব (মহা দানকারী): তিনি সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করেন, যা কোনো সৃষ্টি দান করতে সক্ষম নয়। তিনি শক্তি দান করেন, যা কোনো সৃষ্টি দান করতে সক্ষম নয়। আপনি বলবেন: হে রব! আমাকে সুস্থতা দান করুন; কোনো সৃষ্টির কাছে তা চাইবেন না। যদি আপনি তার কাছে চানও, সে তা দিতে সক্ষম হবে না। আর আপনার দুর্বলতার সময় আপনি বলবেন: হে রব! আমাকে শক্তি দান করুন, কেননা কোনো সৃষ্টি এর ওপর সক্ষম নয়"(৩).

 

• ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-মাজিরি আল-মালিকি (মৃত্যু: ৫৩৬ হি.) বলেছেন: "মুওয়াহহিদ বা একত্ববাদীদের অন্যতম লক্ষণ হলো দোয়ার সময় এবং প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনায় আকাশের দিকে অভিমুখ করা; কারণ মূর্তিপূজারী আরবরা মূর্তির কাছে নিজেদের প্রয়োজন চাইত, আর অনারবরা আগুনের কাছে"(৪).

 

• আবু আল-ফাতহ আশ-শাহরাস্তানি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু: ৫৪৮ হি.) বলেছেন: "মোটকথা, তারা যেখানেই মূর্তি স্থাপন করেছে, তা মূলত একজন অনুপস্থিত উপাস্যের স্মরণে করেছে, যাতে তার আকৃতি ও অবয়বে তৈরিকৃত মূর্তিটি তার স্থলাভিষিক্ত ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। অন্যথায় আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, কোনো বিবেকবান মানুষ নিজ হাতে একটি দেহ খোদাই করে এবং সেটিকে একটি রূপ দান করে পরক্ষণেই এই বিশ্বাস করতে পারে না যে—এটিই তার উপাস্য ও স্রষ্টা এবং বিশ্বচরাচরের উপাস্য ও স্রষ্টা; কারণ এর অস্তিত্ব তো তার নির্মাতার অস্তিত্বের পরবর্তী ঘটনা এবং এর আকৃতি তো খোদাইকারীর কারুকার্যের মাধ্যমে সৃষ্ট।

--------------------------------------------

(১) আল-ফুরু (২/২১৪) দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।

(২) আল-হাওয়াদিস ওয়াল বিদা (পৃষ্ঠা: ৩৮-৩৯) দার ইবনুল জাওজি।

(৩) আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ (১/১৫৬) দারুর রাইয়াহ - রিয়াদ।

(৪) আল-মুআল্লিম বি ফাওয়াইদি সহিহ মুসলিম (১/৪১২) দারুন নাশর আত-তুনিসিয়্যাহ।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ৯)
لكن القوم لما عكفوا على التوجه إليها، كان عكوفهم ذلك عبادة، وطلبهم الحوائج منها إثبات إلهية لها. وعن هذا كانوا يقولون: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى}، فلو كانوا مقتصرين على صورها في اعتقاد الربوبية والإلهية لما تعدوا عنها إلى رب الأرباب"(1).

 

• وقال‌‌ الشيخ العارف عبد القادر الجيلاني (المتوفى:561) لولده عند مرض موته: "لا تخف أحداً ولا ترجه، وأوكل الحوائج كلها إلى الله، واطلبها منه، ولا تثق بأحد سوى الله عز وجل، ولا تعتمد إلا عليه سبحانه. التوحيد التوحيد التوحيد. وجماع الكل التوحيد"(2).

وقال أيضًا: "يا من يشكو إلى الخلق مصائبه، إيش ينفعك شكواك إلى الخلق، لا ينفعونك ولا يضرونك، وإذا اعتمدت عليهم وأشركت في باب الحق عز وجل يبعدونك، وفي سخطه يوقعونك، وعنه يحجبونك"(3).

وقال أيضًا: "لا تدعو مع الله أحد كما قال: {فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَداً} ".

وقال أيضًا: "ينبغي لكل مسلم موحّد أن لا يتكل إلا على الله، ولا يستغيث إلا بالله، ولا يعتقد التصرف إلا لله"(4).

 

• وقال‌‌ الفخر الرازي (المتوفى: 606) أثناء كلامه عن كيف قال المشركون في الأصنام إنها شفعاؤنا عند الله: "أنهم وضعوا هذه الأصنام والأوثان على صور أنبيائهم وأكابرهم، وزعموا أنهم متى اشتغلوا بعبادة هذه التماثيل، فإن أولئك الأكابر تكون شفعاء لهم عند الله تعالى.

ونظيره في هذا الزمان اشتغال كثير من الخلق بتعظيم قبور الأكابر، على اعتقاد أنهم إذا عظّموا قبورهم فإنهم يكونون شفعاء لهم عند الله"(5).

--------------------------------------------

(1) الملل والنحل (3/ 104 - 105) مؤسسة الحلبي.

(2) الفتح الرباني والفيض الرحماني (ص: 373) دار الريان للتراث.

(3) المصدر السابق (117 - 118).

(4) غاية الأماني في الرد على النبهاني (2/ 376).

(5) مفاتيح الغيب (17/ 227) دار إحياء التراث العربي - بيروت.
কিন্তু যখন সম্প্রদায়টি সেগুলোর দিকে মনোনিবেশ করল, তাদের সেই নিবিষ্ট হওয়া ইবাদতে পরিণত হলো এবং সেগুলোর কাছে তাদের প্রয়োজন প্রার্থনা করা তাদের জন্য উপাস্যত্ব সাব্যস্ত করার নামান্তর হলো। একারণেই তারা বলত: {আমরা এদের ইবাদত করি না কেবল একারণে যে, এরা আমাদের আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেবে}, যদি তারা রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কেবল তাদের মূর্তির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে তারা এগুলো অতিক্রম করে রব্বুল আরবাব (প্রভুদের প্রভু) পর্যন্ত পৌঁছাত না।(১).

 

• এবং শায়খ আরিফ আব্দুল কাদির জিলানী (মৃত্যু: ৫৬১) তাঁর মৃত্যুশয্যায় তাঁর সন্তানকে বলেছিলেন: "কাউকে ভয় করো না এবং কারও কাছে কোনো আশা করো না। সকল প্রয়োজন আল্লাহর কাছে সোপর্দ করো এবং তাঁর কাছেই প্রার্থনা করো। মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ওপর আস্থা রেখো না এবং কেবল তাঁর ওপরই নির্ভর করো। তাওহীদ, তাওহীদ, তাওহীদ। সবকিছুর মূল সারবত্তা হলো তাওহীদ।"(২).

তিনি আরও বলেছেন: "হে ব্যক্তি যে সৃষ্টির কাছে নিজের বিপদ-আপদের অভিযোগ করছ, সৃষ্টির কাছে তোমার এই অভিযোগ কী উপকারে আসবে? তারা তোমার কোনো উপকারও করতে পারে না, ক্ষতিও করতে পারে না। যখন তুমি তাদের ওপর নির্ভর করো এবং মহান আল্লাহর দরবারে শরিক করো, তখন তারা তোমাকে দূরে সরিয়ে দেয়, তাঁর ক্রোধের মধ্যে তোমাকে নিপতিত করে এবং তাঁর থেকে তোমাকে আড়াল করে ফেলে।"(৩).

তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না, যেমনটি তিনি বলেছেন: {অতএব আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না}।"

তিনি আরও বলেন: "প্রত্যেক একত্ববাদী মুসলিমের উচিত কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করা, কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা এবং কেবল আল্লাহই সকল বিষয় পরিচালনা করেন—এই বিশ্বাস রাখা।"(৪).

 

• এবং ফখর আল-রাজি (মৃত্যু: ৬০৬) মুশরিকরা মূর্তিদের সম্পর্কে কীভাবে বলত যে "এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী"—এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "তারা এই মূর্তি ও প্রতিমাগুলোকে তাদের নবি ও মহান ব্যক্তিদের প্রতিকৃতিতে তৈরি করেছিল এবং ধারণা করেছিল যে, যখন তারা এই মূর্তিগুলোর ইবাদতে লিপ্ত হবে, তখন সেই মহান ব্যক্তিরা আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন।

বর্তমান সময়ে এর সাদৃশ্য হলো অনেক মানুষের বুজুর্গদের কবরের সম্মান প্রদর্শন নিয়ে ব্যস্ত থাকা, এই বিশ্বাসে যে—তারা যদি তাদের কবরের সম্মান করে, তবে তারা আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশকারী হবেন।"(৫).

--------------------------------------------

(১) আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (৩/ ১০৪ - ১০৫) মুআসসাসাতুল হালাবি।

(২) আল-ফাতহুর রব্বানি ওয়াল ফায়যুর রহমানি (পৃষ্ঠা: ৩৭৩) দারুর রায়য়ান লিত তুরাস।

(৩) পূর্বোক্ত সূত্র (১১৭ - ১১৮)।

(৪) গায়াতুল আমানি ফির রাদ্দি আলান নাবহানি (২/ ৩৭৬)।

(৫) মাফাতিহুল গায়েব (১৭/ ২২৭) দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি - বৈরুত।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১০)
وقال أيضًا: "واعلم أنّ الكفار أوردوا على هذا الكلام سؤالاً فقالوا: نحن لا نعبد هذه الأصنام لاعتقاد أنها آلهة تضر وتنفع، وإنما نعبدها لأجل أنها تماثيل لأشخاص كانوا عند الله من المقربين فنحن نعبدها لأجل أن يصير أولئك الأكابر شفعاء لنا عند الله.

فأجاب الله تعالى بأن قال: {أَمِ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ شُفَعَاء قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لَا يَمْلِكُونَ شَيْئاً وَلَا يَعْقِلُونَ}. وتقرير الجواب أنّ هؤلاء الكفار إما أن يطمعوا بتلك الشفاعة من هذه الأصنام، أو من أولئك العلماء والزهاد الذين جُعلت هذه الأصنام تماثيل لها، والأول باطل؛ لأن هذه الجمادات وهي الأصنام لا تملك شيئاً ولا تعقل شيئاً فكيف يعقل صدور الشفاعة عنها.

 

والثاني باطل؛ لأن في يوم القيامة لا يملك أحد شيئاً ولا يقدر أحد على الشفاعة إلا بإذن الله، فيكون الشفيع في الحقيقة هو الله الذي يأذن في تلك الشفاعة، فكان الاشتغال بعبادته أولى من الاشتغال بعبادة غيره، وهذا هو المراد من قوله تعالى {قُل لِلَّهِ الشَّفَاعَة جَمِيعاً} "(1).

 

وقال أيضًا عند تفسير قوله تعالى: {وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ فَإِنْ فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِنَ الظَّالِمِينَ}: "فإن فعلتَ فإنك إذًا من الظالمين، يعني لو اشتغلت بطلب المنفعة والمضرة من غير الله فأنت من الظالمين، لأنّ الظلم عبارة عن وضع الشيء في غير موضعه، فإذا كان ما سوى الحق معزولا عن التصرف، كانت إضافة التصرف إلى ما سوى الحق وضعا للشيء في غير موضعه فيكون ظلما"(2).

وذَكَرَ أيضًا أن المقصود من الدعاء "إظهار العبودية والذلة والانكسار والرجوع إلى الله بالكلية"(3).

وقال أيضًا: "وقال الجمهور الأعظم من العقلاء: إن الدعاء أهم مقامات العبودية"(4).

وقال أيضًا: "وعن النعمان بن بشير أنه عليه السلام قال: «الدعاء هو العبادة» وقرأ {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ}، فقوله: «الدعاء هو العبادة» معناه أنه معظم العبادة، وأفضل العبادة، كقوله عليه السلام «الحج عرفة» أي الوقوف بعرفة هو الركن الأعظم"(5).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (26/ 456).

(2) المصدر السابق (17/ 309).

(3) المصدر السابق (5/ 265).

(4) المصدر السابق (5/ 263).

(5) المصدر السابق (5/ 264).
তিনি আরও বলেছেন: "জেনে রাখুন যে, কাফেররা এই কথার ওপর একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, তারা বলেছে: আমরা এই মূর্তিগুলোর ইবাদত করি না এই বিশ্বাস থেকে যে, তারা এমন উপাস্য যারা ক্ষতি বা উপকার করতে পারে। বরং আমরা সেগুলোর ইবাদত করি এ কারণে যে, সেগুলো এমন ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি যারা আল্লাহর কাছে নৈকট্যপ্রাপ্ত ছিলেন। সুতরাং আমরা তাদের ইবাদত করি যাতে সেই মহান ব্যক্তিরা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য সুপারিশকারী হন।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই বলে উত্তর দিয়েছেন: {তারা কি আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে? বলুন, যদিও তারা কোনো কিছুর মালিক না হয় এবং তারা কিছুই না বোঝে তবুও কি?}। উত্তরের ব্যাখ্যা হলো, এই কাফেররা হয় এই মূর্তিগুলোর কাছ থেকে সুপারিশের আশা করে, অথবা সেই সব আলেম ও সংসারবিরাগীদের কাছ থেকে যাদের প্রতিকৃতি হিসেবে এই মূর্তিগুলো তৈরি করা হয়েছে। প্রথম বিষয়টি বাতিল; কারণ এই জড় বস্তুগুলো তথা মূর্তিগুলো কোনো কিছুর মালিক নয় এবং তারা কিছুই বোঝে না, সুতরাং তাদের থেকে সুপারিশ প্রকাশ পাওয়া কীভাবে সম্ভব?

 

আর দ্বিতীয় বিষয়টিও বাতিল; কারণ কিয়ামতের দিন কেউ কোনো কিছুর মালিক হবে না এবং আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কেউ সুপারিশ করার সক্ষমতা রাখবে না। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে সুপারিশকারী হলেন আল্লাহ যিনি সেই সুপারিশের অনুমতি দেবেন। অতএব, তাঁর ইবাদতে মগ্ন হওয়া অন্যের ইবাদতে মগ্ন হওয়ার চেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত। আর আল্লাহ তাআলার এই বাণীর উদ্দেশ্য এটাই {বলুন, সকল সুপারিশ আল্লাহরই জন্য}"(১)।

 

তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর তাফসীরে আরও বলেছেন: {আর আপনি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকবেন না যা আপনার উপকারও করে না এবং আপনার ক্ষতিও করে না। অতঃপর যদি আপনি তা করেন, তবে আপনি অবশ্যই জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন}: "যদি আপনি তা করেন তবে আপনি অবশ্যই জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন, অর্থাৎ যদি আপনি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে উপকার বা ক্ষতি প্রার্থনায় লিপ্ত হন তবে আপনি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ জুলুম মানে হলো কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা। সুতরাং যখন সত্য (আল্লাহ) ব্যতীত অন্য সবাই নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত, তখন সত্য ব্যতীত অন্যের প্রতি নিয়ন্ত্রণকে আরোপ করা হলো কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা, ফলে তা জুলুম হবে"(২)।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, দোয়ার উদ্দেশ্য হলো "দাসত্ব, হীনতা, বিনয় প্রকাশ করা এবং সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা"(৩)।

তিনি আরও বলেছেন: "বিচক্ষণ ব্যক্তিদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বলেছেন: দোয়া হলো দাসত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাকাম বা স্তর"(৪)।

তিনি আরও বলেছেন: "নুমান ইবনে বাশীর থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «দোয়াই হলো ইবাদত» এবং তিনি তিলাওয়াত করলেন {আর তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব}। সুতরাং তাঁর এই বাণী: «দোয়াই হলো ইবাদত»-এর অর্থ হলো এটি ইবাদতের প্রধান অংশ এবং সর্বোত্তম ইবাদত, যেমন নবী (সা.)-এর বাণী «হজ হলো আরাফাহ» অর্থাৎ আরাফায় অবস্থান করাই হলো হজের প্রধান রোকন"(৫)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (২৬/ ৪৫৬)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১৭/ ৩০৯)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৫/ ২৬৫)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (৫/ ২৬৩)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (৫/ ২৬৪)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال أيضًا: "في هذه الآية قال: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ} ولم يقل: فقل إني قريب، فتدل على تعظيم حال الدعاء من وجوه الأول: كأنه سبحانه وتعالى يقول: عبدي أنت إنما تحتاج إلى الواسطة في غير وقت الدعاء، أما في مقام الدعاء فلا واسطة بيني وبينك …

والرابع: أن الداعي ما دام يبقى خاطره مشغولا بغير الله فإنه لا يكون داعيا له، فإذا فني عن الكل صار مستغرقا في معرفة الأحد الحق، فامتنع من أن يبقى في هذا المقام ملاحظا لحقه وطالبا لنصيبه، فلما ارتفعت الوسائط بالكلية، فلا جرم حصل القرب فإنه ما دام يبقى العبد ملتفتا إلى غرض نفسه لم يكن قريبا من الله تعالى، لأن ذلك الغرض يحجبه عن الله، فثبت أن الدعاء يفيد القرب من الله، فكان الدعاء أفضل العبادات"(1).

وقال أيضًا: "اعلم أنه تعالى لما بين أن القول بالقيامة حق وصدق، وكان من المعلوم بالضرورة أن الإنسان لا ينتفع في يوم القيامة إلا بطاعة الله تعالى، لا جرم كان الاشتغال بالطاعة من أهم المهمات، ولما كان أشرف أنواع الطاعات الدعاء والتضرع، لا جرم أمر الله تعالى به في هذه الآية فقال: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} "(2).

وقال أيضًا عند تفسير قوله تعالى: {إِن يَدْعُونَ مِن دُونِه إِلا إِنَاثًا}: "معنى يعبدون؛ لأنّ من عبد شيئاً فإنه يدعوه عند احتياجه إليه"(3).

 

• وقال‌‌ أبو السعادات ابن الأثير (المتوفى: 606): "وإنما كان [أي: الدعاء] مخها [أي: العبادة] لأمرين: أحدهما: أنه امتثال أمر الله تعالى حيث قال: {ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} فهو محض العبادة وخالصها.

الثاني: أنه إذا رأى نجاح الأمور من الله قطع أمله عما سواه ودعاه لحاجته وحده. وهذا هو أصل العبادة"(4).

 

• وقال‌‌ سلطان العلماء العز بن عبد السلام (المتوفى: 660) في جوابه عن حكم الإقسام على الله تعالى بمعظَّم في الدعاء: "قد جاء في بعض الأحاديث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم عَلّم بعض الناس الدعاء فقال في أوله: «قل اللهم إني أقسم عليك بنبيك محمد صلى الله عليه وسلم نبي الرحمة»، وهذا الحديث إن صح فينبغي أن يكون مقصوراً على رسول الله؛ لأنه سيد ولد آدم، وأن لا يقسم على الله تعالى بغيره من الأنبياء والملائكة والأولياء، لأنهم ليسوا في درجته، وأن يكون هذا مما خُص به تنبيهاً على علو درجته ومرتبته"(5).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (5/ 264).

(2) المصدر السابق (27/ 527).

(3) المصدر السابق (ص: 11/ 221).

(4) النهاية في غريب الحديث والأثر (4/ 641) المكتبة العلمية- بيروت.

(5) فتاوى العز بن عبد السلام (ص:126 - 127) دار المعرفة - بيروت - لبنان.
এবং তিনি আরও বলেন: "এই আয়াতে তিনি বলেছেন: {আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন আমি তো নিকটে} এবং তিনি বলেননি: তবে আপনি বলুন যে আমি নিকটে। এটি দোয়ার মাহাত্ম্যকে কয়েকটি দিক থেকে নির্দেশ করে। প্রথমত: যেন তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলছেন: হে আমার বান্দা, দোয়া ব্যতিত অন্য সময়ে তোমার মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু দোয়ার ক্ষেত্রে আমার ও তোমার মাঝে কোনো মধ্যস্থতাকারী নেই …

চতুর্থত: দোয়াকারী যতক্ষণ তার চিন্তা আল্লাহ ব্যতিত অন্য কিছুতে মগ্ন রাখে, ততক্ষণ সে প্রকৃতপক্ষে তাঁর নিকট দোয়াকারী হিসেবে গণ্য হয় না। কিন্তু যখন সে সবকিছু থেকে বিমুক্ত হয়ে একক সত্যের পরিচয়ে নিমগ্ন হয়, তখন এই অবস্থায় তার নিজের হক বা প্রাপ্য নিয়ে পড়ে থাকা এবং নিজের অংশ তালাশ করা রহিত হয়ে যায়। যখন মধ্যস্থতাকারীরা সম্পূর্ণরূপে অপসারিত হয়, তখন অনিবার্যভাবেই নৈকট্য অর্জিত হয়। কেননা বান্দা যতক্ষণ নিজের স্বার্থের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখে, ততক্ষণ সে আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী হতে পারে না, কারণ সেই স্বার্থ তাকে আল্লাহ থেকে আড়াল করে দেয়। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, দোয়া আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে, তাই দোয়া হলো সর্বোত্তম ইবাদত"(১)।

তিনি আরও বলেন: "জেনে রাখুন যে, মহান আল্লাহ যখন স্পষ্ট করেছেন যে কিয়ামত সম্পর্কিত কথা সত্য ও বাস্তব, এবং এটি স্বতসিদ্ধভাবে জানা যে, কিয়ামতের দিন মানুষ আল্লাহর আনুগত্য ব্যতিত অন্য কিছু দ্বারা উপকৃত হবে না, তখন আনুগত্যে আত্মনিয়োগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে সাব্যস্ত হলো। আর যেহেতু আনুগত্যের সর্বোত্তম ধরণ হলো দোয়া ও রোনাজারি, তাই আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে এর নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর তোমাদের রব বলেছেন: তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব}"(২)।

তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর তাফসীরেও বলেন: {তারা তাঁকে ছেড়ে কেবল নারীমূর্তিদেরই ডাকে}: "এর অর্থ হলো তারা ইবাদত করে; কারণ যে ব্যক্তি কোনো কিছুর ইবাদত করে, সে তার প্রয়োজনের সময় তাকেই ডাকে"(৩)।

 

• এবং আবুস সা’আদাত ইবনুল আসীর (মৃত্যু: ৬০৬) বলেন: "আর দোয়া ইবাদতের মগজ হওয়ার দুটি কারণ রয়েছে: প্রথমটি হলো: এটি আল্লাহ তাআলার নির্দেশের পালন, যেখানে তিনি বলেছেন: {তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব}। সুতরাং এটি নিছক ও বিশুদ্ধ ইবাদত।

দ্বিতীয়টি হলো: যখন সে দেখে যে সমস্ত কাজের সফলতা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, তখন সে অন্য সবার থেকে আশা ছিন্ন করে এবং কেবল তাঁর কাছেই নিজের প্রয়োজনের জন্য প্রার্থনা করে। আর এটাই হলো ইবাদতের মূল ভিত্তি"(৪)।

 

• এবং সুলতানুল উলামা ইয বিন আব্দুস সালাম (মৃত্যু: ৬৬০) দোয়ায় কোনো সম্মানিত সত্তার শপথ করে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করার হুকুম প্রসঙ্গে তার উত্তরে বলেন: "কিছু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো একজনকে দোয়া শিখিয়ে দিয়েছিলেন এবং তার শুরুতে বলেছিলেন: ‘বলো হে আল্লাহ, আমি তোমার নিকট তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথা রহমতের নবীর উসিলায় প্রার্থনা করছি’। এই হাদিসটি যদি সহীহ হয়ে থাকে, তবে তা কেবল রাসূলুল্লাহর সাথেই নির্দিষ্ট হওয়া উচিত; কারণ তিনি আদম সন্তানদের নেতা। সুতরাং অন্য কোনো নবী, ফেরেশতা বা অলীর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট শপথ করা উচিত নয়, কেননা তাঁরা তাঁর (রাসূলের) মর্যাদার সমপর্যায়ের নন। এবং এটি এমন একটি বিষয় যা তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য তাঁর সাথেই খাস করা হয়েছে"(৫)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (৫/ ২৬৪)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (২৭/ ৫২৭)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ১১/ ২২১)।

(৪) আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার (৪/ ৬৪১) আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ- বৈরুত।

(৫) ফাতাওয়া ইয বিন আব্দুস সালাম (পৃষ্ঠা: ১২৬ - ১২৭) দারুল মা’রিফাহ - বৈরুত - লেবানন।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১২)
• وقال‌‌ الحافظ أبو شامة المقدسي الشافعي (المتوفى:665): "ثم هذه البدع المستقبحة والمحدثات تنقسم قسمين: قسم تعرف العامة والخاصة أنه بدعة إما محرمة وإما مكروهة.

وقسم يظنه معظمهم إلا من عصم عبادات وقربا وطاعات وسننا.

فأما فالقسم الأول فلا نطيل بذكره؛ إذ قد كفينا مؤنة الكلام فيه لاعتراف فاعله أنه ليس من الدين …

وبهذه الطرق وأمثالها كان مبادئ ظهور الكفر من عبادة الأصنام وغيرها.

ومن هذا القسم أيضًا ما قد عمّ الابتلاء به من تزيين الشيطان للعامة تخليق الحيطان والعمد وسرح مواضع مخصومة في كل بلد يحكي لهم حاك أنه رأى في منامه بها أحدا ممن اشتهر بالصلاح والولاية فيفعلون ذلك ويحافظون عليه مع تضييعهم فرائض الله تعالى وسننه ويظنون أنهم متقربون بذلك.

ثم يتجاوزون هذا الى أن يعظم وقع تلك الأماكن في قلوبهم فيعظمونها ويرجون الشفاء لمرضاهم وقضاء حوائجهم بالنذر لهم، وهي من بين عيون وشجر وحائط وحجر، وفي مدينة دمشق صانها الله تعالى من ذلك مواضع متعددة كعوينة الحمى خارج باب توما والعمود المخلق داخل باب الصغير والشجرة الملعونة اليابسة خارج باب النصر في نفس قارعة الطريق، سهل الله قطعها واجتثاثها من أصلها، فما أشببها بذات أنواط الواردة في الحديث"(1).

 

• وقال‌‌ أبو عبد الله القرطبي (المتوفى: 671): "ولا خفاء أنّ الاستعاذة بالجن دون الاستعاذة بالله كفر وشرك"(2).

وقال أيضًا عند تفسيره قوله تعالى: {وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ إِنَّ الَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِي سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ}: "فدل هذا على أن الدعاء هو العبادة. وكذا قال أكثر المفسرين"(3).

 

وقال أيضًا عند تفسيره لقول الله تعالى: {إِن تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ}: "قوله تعالى: {إِن تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءكُمْ} أي إن تستغيثوا بهم في النوائب لا يسمعوا دعاءكم، لأنها جمادات لا تبصر ولا تسمع. {وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ} إذ ليس كل سامع ناطقا. وقال قتادة: المعنى لو سمعوا لم ينفعوكم. وقيل: أي لو جعلنا لهم عقولا وحياة فسمعوا دعاءكم لكانوا أطوع لله منكم، ولما استجابوا لكم على الكفر.

{وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ} أي يجحدون أنكم عبدتموهم، ويتبرؤون منكم.

--------------------------------------------

(1) الباعث على إنكار البدع (ص: 25 - 26) دار الهدى- القاهرة.

(2) الجامع لأحكام القرآن (19/ 10) دار الكتب المصرية - القاهرة.

(3) المصدر السابق (15/ 326).
• হাফেয আবু শামাহ আল-মাকদিসী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু: ৬৬৫ হিজরী) বলেন: "অতঃপর এই কদর্য বিদআত এবং নব-আবিষ্কৃত বিষয়গুলো দুই ভাগে বিভক্ত: এক প্রকার হলো যা সাধারণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সকলেই জানেন যে এটি বিদআত—হয় হারাম, নয়তো মকরুহ।

আর দ্বিতীয় প্রকার হলো যাকে অধিকাংশ লোক ইবাদত, নৈকট্য লাভের মাধ্যম, আনুগত্য এবং সুন্নাত মনে করে, তবে তারা ব্যতীত যাদেরকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন।

প্রথম প্রকারের বর্ণনায় আমরা দীর্ঘ আলোচনা করব না; কারণ এর কর্তাব্যক্তি এটি দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে স্বীকার করায় আমাদের এ বিষয়ে আলোচনার কষ্ট থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে …

এই পথগুলো এবং এর অনুরূপ পথেই প্রতিমা পূজা ও অন্যান্য কুফরীর সূচনা হয়েছিল।

এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু বিষয় রয়েছে যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে। শয়তান সাধারণ মানুষের সামনে দেয়াল ও স্তম্ভ সুশোভিত করা এবং প্রতিটি জনপদে নির্দিষ্ট স্থানসমূহকে বিশেষায়িত করাকে সুশোভিত করে তুলেছে। জনৈক বর্ণনাকারী তাদের কাছে বর্ণনা করে যে, সে সেখানে স্বপ্নে এমন কাউকে দেখেছে যিনি নেককার বা ওলী হিসেবে প্রসিদ্ধ। ফলে তারা সেটি করতে থাকে এবং তা আঁকড়ে ধরে থাকে, অথচ তারা আল্লাহর ফরয বিধান এবং তাঁর সুন্নাতসমূহ নষ্ট করে ফেলে। তারা মনে করে যে তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করছে।

এরপর তারা এটিকেও ছাড়িয়ে যায়, ফলে সেই স্থানগুলোর প্রতি তাদের হৃদয়ে মহিমা সৃষ্টি হয়। তারা সেগুলোকে সম্মান করে এবং তাদের রোগীদের আরোগ্য ও প্রয়োজন পূরণের জন্য সেখানে মানত করার মাধ্যমে আশা পোষণ করে। আর সেই স্থানগুলো ঝরনা, গাছ, দেয়াল বা পাথর যাই হোক না কেন। দামেস্ক শহরে—আল্লাহ তাআলা একে এসব থেকে রক্ষা করুন—এমন বহু জায়গা রয়েছে, যেমন: বাব তুমার বাইরের উয়াইনাতুল হুম্মা, বাব সাগিরের ভেতরের সুগন্ধি মাখানো স্তম্ভ এবং বাবুন নাসরের বাইরে রাস্তার ঠিক মাঝখানে অবস্থিত অভিশপ্ত শুকনো গাছটি। আল্লাহ যেন এগুলো কেটে ফেলা এবং সমূলে উৎপাটন করা সহজ করে দেন। হাদীসে বর্ণিত 'জাতু আনওয়াত'-এর সাথে এগুলোর কতই না সাদৃশ্য!"(১)।

 

• আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবী (মৃত্যু: ৬৭১ হিজরী) বলেন: "আর এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই যে, আল্লাহকে বাদ দিয়ে জিনের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা কুফর ও শিরক"(২)।

তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর তাফসীরে আরও বলেন: {তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে}: "এটি প্রমাণ করে যে দুআই হলো ইবাদত। অধিকাংশ মুফাসসিরগণ এমনই বলেছেন"(৩)।

 

তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর তাফসীরে আরও বলেন: {তোমরা যদি তাদেরকে ডাকো, তবে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না; আর যদি শুনতও, তবুও তোমাদের ডাকে সাড়া দিত না। আর কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে}: "আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা যদি তাদেরকে ডাকো, তবে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না} অর্থাৎ তোমরা যদি বিপদ-আপদে তাদের কাছে উদ্ধার কামনা করো, তবে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না। কারণ এগুলো জড়পদার্থ, যা দেখে না এবং শোনেও না। {আর যদি শুনতও, তবুও তোমাদের ডাকে সাড়া দিত না} যেহেতু প্রত্যেক শ্রবণকারী কথা বলতে পারে না। কাতাদাহ বলেন: এর অর্থ হলো তারা শুনলেও তোমাদের কোনো উপকার করতে পারত না। আবার বলা হয়েছে: অর্থাৎ যদি আমরা তাদের বিবেক ও জীবন দান করতাম এবং তারা তোমাদের ডাক শুনত, তবে তারা তোমাদের চেয়ে আল্লাহর অধিক অনুগত হতো এবং তোমাদের কুফরীর ওপর ভিত্তি করে তোমাদের ডাকে সাড়া দিত না।

{আর কিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে} অর্থাৎ তোমরা যে তাদের ইবাদত করতে, তা তারা অস্বীকার করবে এবং তোমাদের থেকে দায়মুক্ত হবে।

--------------------------------------------

(১) আল-বাইস আলা ইনকারিল বিদা (পৃ. ২৫ - ২৬) দারুল হুদা- কায়রো।

(২) আল-জামি লি-আহকামিল কুরআন (১৯/ ১০) দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ - কায়রো।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (১৫/ ৩২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم يجوز أن يرجع هذا إلى المعبودين مما يعقل، كالملائكة والجن والأنبياء والشياطين، أي يجحدون أن يكون ما فعلتموه حقا، وأنهم أمروكم بعبادتهم، كما أخبر عن عيسى بقوله: {مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ} ويجوز أن يندرج فيه الاصنام أيضا، أي يحييها الله حتى تخبر أنها ليست أهلا للعبادة"(1).

 

• وقال‌‌ العلامة أبو عبد الله الرازي الحنفي (المتوفى: 666): "ويحرم قوله في الدعاء: أسألك بمقعد العز من عرشك، وبحق العز من عرشك، وبحق فلان وبحق النبي صلى الله عليه وسلم"(2).

 

• وقال‌‌ الإمام النووي (المتوفى: 676): "وقوله صلى الله عليه وسلم «إذا سألت فاسأل الله» إشارة إلى أنّ العبد لا ينبغي أن يعلق سرّه بغير الله، بل يتوكل عليه في سائر أموره، ثم إن كانت الحاجة التي يسألها لم تجر العادة بجريانها على أيدي خلقه كطلب الهداية والعلم والفهم في القرآن والسنة وشفاء المرض وحصول العافية من بلاء الدنيا وعذاب الآخرة، سأل ربه ذلك.

وإن كانت الحاجة التي يسألها جرت العادة أن الله سبحانه وتعالى يجريها على أيدي خلقة، كالحاجات المتعلقة بأصحاب الحرف والصنائع وولاة الأمور، سأل الله تعالى أن يعطف عليه قلوبهم فيقول: اللهم أحنن علينا قلوب عبادك وإمائك وما أشبه ذلك"(3).

 

• وقال‌‌ الإمام القرافي المالكي (المتوفى:684) بعد أن ذكر بعض الأدعية التي هي كفر: "فينبغي للسائل أن يحذر هذه الأدعية وما يجري مجراها حذرا شديدا لما تؤدي إليه من سخط الديان والخلود في النيران وحبوط الأعمال وانفساخ الأنكحة واستباحة الأرواح والأموال، وهذا فساد كله يتحصل بدعاء واحد من هذه الأدعية، ولا يرجع إلى الإسلام ولا ترتفع أكثر هذه المفاسد إلا بتجديد الإسلام والنطق بالشهادتين، فإن مات على ذلك كان أمره كما ذكرناه، نسأل الله تعالى العافية من موجبات عقابه، وأصل كل فساد في الدنيا والآخرة إنما هو الجهل فاجتهد في إزالته عنك ما استطعت، كما أنّ أصل كل خير في الدنيا والآخرة إنما هو العلم فاجتهد في تحصيله ما استطعت، والله تعالى هو المعين على الخير كله"(4).

 

• وقال‌‌ القاضي ناصر الدين البيضاوي (المتوفى: 685): "إنما حكم بأن الدعاء هو العبادة الحقيقية التي تستأهل أن تسمَّى عبادة من حيث إنه يدل على أن فاعله مقبل بوجهه إلى الله، معرض عما سواه لا يرجو ولا يخاف إلا منه"(5).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (14/ 336).

(2) تحفة الملوك (ص: 236 - 237) دار البشائر الإسلامية - بيروت.

(3) شرح الأربعين النووية (ص: 63) مكتبة دار الفتح بدمشق.

(4) الفروق (4/ 265) عالم الكتب.

(5) فيض القدير للمناوي (3/ 540) المكتبة التجارية الكبرى - مصر.
এরপর সম্ভবত এটি জ্ঞানসম্পন্ন উপাস্যদের দিকে ফিরে যাবে, যেমন ফেরেশতা, জিন, নবী এবং শয়তানরা; অর্থাৎ, তারা অস্বীকার করবে যে তোমরা যা করেছ তা সত্য ছিল এবং তারা তোমাদেরকে তাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছিল। যেমনটি ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে জানানো হয়েছে: {আমার জন্য এটা শোভন নয় যে, আমি এমন কথা বলি যা বলার কোনো অধিকার আমার নেই}। এর মধ্যে মূর্তিরাও অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব, অর্থাৎ আল্লাহ সেগুলোকে জীবিত করবেন যাতে তারা জানিয়ে দেয় যে তারা ইবাদতের যোগ্য নয়।(১).

 

• এবং আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ আল-রাজি আল-হানাফি (মৃত্যু: ৬৬৬) বলেছেন: "দোয়ার মধ্যে এটি বলা হারাম যে: আমি আপনার আরশের মর্যাদাপূর্ণ স্থানের উসিলায়, আপনার আরশের মর্যাদার হকের উসিলায়, অমুকের হকের উসিলায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকের উসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি।"(২).

 

• এবং ইমাম নববী (মৃত্যু: ৬৭৬) বলেছেন: "এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ‘যখন তুমি কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাও’—এটি একটি ইঙ্গিত যে বান্দার উচিত নয় তার অন্তরকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও সাথে সম্পৃক্ত করা, বরং তার সমস্ত বিষয়ে তাঁর ওপরই ভরসা করা উচিত। অতঃপর যদি সেই প্রয়োজনটি এমন হয় যা সাধারণত সৃষ্টির হাতে পূরণ হওয়া সম্ভব নয়, যেমন হিদায়েত, জ্ঞান, কুরআন ও সুন্নাহর বুঝ চাওয়া, অসুস্থতা থেকে মুক্তি এবং দুনিয়ার বিপদ ও আখেরাতের আযাব থেকে নিরাপত্তা লাভ করা, তবে সে তার রবের কাছেই তা চাইবে।

আর যদি প্রয়োজনটি এমন হয় যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সাধারণত সৃষ্টির মাধ্যমেই পূরণ করে থাকেন, যেমন পেশাজীবী, কারিগর ও শাসকবর্গের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ, তবে সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে যেন তিনি তাদের অন্তরকে তার প্রতি সদয় করে দেন। তখন সে বলবে: হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও বান্দীদের অন্তর আমাদের প্রতি কোমল করে দিন—এবং এ জাতীয় কথা।"(৩).

 

• এবং ইমাম কারাফি আল-মালিকি (মৃত্যু: ৬৮৪) কুফরি সম্বলিত কিছু দোয়ার কথা উল্লেখ করার পর বলেছেন: "প্রার্থনাকারীর উচিত এই দোয়াগুলো এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকা। কারণ এগুলো মহাপ্রতিদান দাতা আল্লাহর অসন্তুষ্টি, চিরস্থায়ী জাহান্নাম, আমল বাতিল হওয়া, বিবাহ বিচ্ছেদ এবং জান ও মালের বৈধতা নষ্ট হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ সব অনিষ্ট কেবল এই জাতীয় একটি দোয়ার মাধ্যমেই ঘটে যেতে পারে। আর ইসলামে পুনরায় ফিরে আসা এবং শাহাদাতাইন (কালেমা শাহাদাত) পাঠ করা ছাড়া এই অনিষ্টগুলোর অধিকাংশ দূর হয় না। যদি কেউ এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে তার পরিণাম তেমনই হবে যা আমরা উল্লেখ করেছি। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর শাস্তির কারণসমূহ থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। দুনিয়া ও আখেরাতের সকল অনিষ্টের মূল হলো মূর্খতা, তাই তোমার সাধ্যমতো তা দূর করার চেষ্টা করো। যেমন দুনিয়া ও আখেরাতের সকল মঙ্গলের মূল হলো জ্ঞান, তাই তোমার সাধ্যমতো তা অর্জনের চেষ্টা করো। আর আল্লাহ তাআলাই সকল কল্যাণের জন্য সাহায্যকারী।"(৪).

 

• এবং কাজী নাসিরুদ্দিন আল-বায়যাভী (মৃত্যু: ৬৮৫) বলেছেন: "দোয়াকে প্রকৃত ইবাদত হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে যা ইবাদত নামে ডাকার যোগ্য, কারণ এটি প্রমাণ করে যে প্রার্থনাকারী তার মুখমণ্ডলকে (মনকে) আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট করেছে এবং তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ হয়েছে, আর তিনি ছাড়া অন্য কারও কাছে আশা করে না এবং ভয়ও করে না।"(৫).

--------------------------------------------

(১) পূর্ববর্তী উৎস (১৪/ ৩৩৬)।

(২) তুহফাতুল মুলুক (পৃষ্ঠা: ২৩৬ - ২৩৭) দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়া - বৈরুত।

(৩) শারহুল আরবাঈন আন-নববী (পৃষ্ঠা: ৬৩) মাকতাবাতু দারুল ফাতহ, দামেস্ক।

(৪) আল-ফুরুক (৪/ ২৬৫) আলমুল কুতুব।

(৫) আল-মানাওয়ি রচিত ফয়যুল কাদির (৩/ ৫৪০) আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়াতুল কুবরা - মিশর।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
• وقال‌‌ العلامة علي بن داود ابن العطار تلميذ الإمام النووي (المتوفى: 724): "قوله «إذا سألت فاسأل الله» معناه الأمر بالإخلاص وترك الاعتماد على الوسائط"(1).

 

• وقال‌‌ شيخ الإسلام ابن تيمية (المتوفى: 728): "فمن جعل الملائكة والأنبياء وسائط يدعوهم ويتوكل عليهم ويسألهم جلب المنافع ودفع المضار مثل أن يسألهم غفران الذنب وهداية القلوب وتفريج الكروب وسد الفاقات فهو كافر بإجماع المسلمين"(2).

ونَقَلَ هذا الإجماع عن الإمام ابن تيمية غيرُ واحد مقررين له، منهم ابن مفلح (المتوفى: 763) في كتابه الفروع (10/ 188)، والمرداوي (المتوفى: 885) في الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف (10/ 327)، والحجاوي (المتوفى: 968) في الإقناع (4/ 297)، والبهوتي (المتوفى: 1051) في كشاف القناع (6/ 168)، والرحيباني (المتوفى: 1243) في مطالب أولي النهى (6/ 279)، وابن ضويان (المتوفى: 1353) في منار السبيل (2/ 405)، وابن قاسم (المتوفى: 1392) في حاشية الروض المربع (7/ 400).

ونقل هذا الإجماع أيضاً وأقرّه الفقيه ابنُ حجر الهيتمي في الإعلام بقواطع الإسلام (ص: 292) ولكن نقله عن ابن مفلح لا عن شيخ الإسلام ابن تيمية.

 

وقال أيضا: "فكل من غلا في حي أو في رجل صالح كمثل علي رضي الله عنه أو عدي أو نحوه أو فيمن يعتقد فيه الصلاح كالحلاج أو الحاكم الذي كان بمصر أو يونس القتي ونحوهم، وجعل فيه نوعا من الإلهية مثل أن يقول: كل رزق لا يرزقنيه الشيخ فلان ما أريده، أو يقول إذا ذبح شاة: باسم سيدي، أو يعبده بالسجود له أو لغيره، أو يدعوه من دون الله تعالى، مثل أن يقول: يا سيدي فلان اغفر لي أو ارحمني أو انصرني أو ارزقني أو أغثني أو أجرني، أو توكلت عليك أو أنت حسبي أو أنا في حسبك، أو نحو هذه الأقوال والأفعال التي هي من خصائص الربوبية التي لا تصلح إلا لله تعالى، فكل هذا شرك وضلال، يستتاب صاحبه فإن تاب وإلا قتل، فإن الله إنما أرسل الرسل وأنزل الكتب لنعبد الله وحده لا شريك له، ولا نجعل مع الله إلها آخر"(3).

 

وقال أيضا: "والذين كانوا يدعون مع الله آلهة أخرى - مثل: الشمس والقمر والكواكب والعزير والمسيح والملائكة واللات والعزى ومناة الثالثة الأخرى ويغوث ويعوق ونسر أو غير ذلك- لم يكونوا يعتقدون أنها تخلق الخلائق أو أنها تنزل المطر أو أنها تنبت النبات وإنما كانوا يعبدون الأنبياء والملائكة والكواكب والجن والتماثيل المصورة لهؤلاء، أو يعبدون قبورهم ويقولون: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى}. ويقولون: هم شفعاؤنا عند الله، فأرسل الله رسله تنهى أن يُدعى أحد من دونه لا دعاء عبادة، ولا دعاء استغاثة"(4).

--------------------------------------------

(1) شرح الأربعين النووية (ص: 173) دار البشائر الإسلامية، ط/ الأولى، 1429 هـ.

(2) مجموع الفتاوى (1/ 124).

(3) المصدر السابق (3/ 395).

(4) المصدر السابق (3/ 396).
• এবং ইমাম নববীর ছাত্র আল্লামা আলি বিন দাউদ ইবনুল আত্তার (মৃত্যু: ৭২৪) বলেছেন: "রাসূলের বাণী 'যখন তুমি কিছু চাইবে তখন আল্লাহর কাছেই চাও' এর অর্থ হলো ইখলাসের (একনিষ্ঠতা) আদেশ এবং মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভরতা বর্জন করা"(১).

 

• এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু: ৭২৮) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফেরেশতা এবং নবীদের এমনভাবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করে যে, সে তাদের ডাকে, তাদের ওপর ভরসা করে এবং তাদের নিকট কল্যাণ অর্জন ও অকল্যাণ দূর করার প্রার্থনা করে—যেমন তাদের কাছে গুনাহ মাফ চাওয়া, অন্তরের হিদায়াত চাওয়া, বিপদ মুক্তি চাওয়া এবং অভাব পূরণ চাওয়া—তবে সে মুসলিমদের সর্বসম্মত ঐক্যমতে (ইজমা অনুযায়ী) কাফির"(২).

ইমাম ইবনে তাইমিয়া থেকে এই ইজমা (ঐক্যমত) একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন এবং তা বহাল রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে মুফলিহ (মৃত্যু: ৭৬৩) তাঁর কিতাব 'আল-ফুরু' (১০/ ১৮৮), আল-মারদাউয়ি (মৃত্যু: ৮৮৫) 'আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ' (১০/ ৩২৭), আল-হাজ্জাউয়ি (মৃত্যু: ৯৬৮) 'আল-ইকনা' (৪/ ২৯৭), আল-বাহুতি (মৃত্যু: ১০৫১) 'কাশশাফুল কিনা' (৬/ ১৬৮), আর-রুহাইবানি (মৃত্যু: ১২৪৩) 'মাতালিবু উলিন নুহা' (৬/ ২৭৯), ইবনে দুউইয়ান (মৃত্যু: ১৩৫৩) 'মানারুস সাবিল' (২/ ৪০৫), এবং ইবনে কাসিম (মৃত্যু: ১৩৯২) 'হাশিয়া আল-রওদ আল-মুরবি' (৭/ ৪০০) তে।

ফকিহ ইবনে হাজার আল-হাইতামিও 'আল-ইলাম বি কাওয়াতিউল ইসলাম' (পৃষ্ঠা: ২৯২) গ্রন্থে এই ইজমা বর্ণনা ও সমর্থন করেছেন, তবে তিনি এটি ইবনে মুফলিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া থেকে নয়।

 

তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জীবিত ব্যক্তি বা কোনো নেককার মানুষের ব্যাপারে অতিাবাড়াবাড়ি (গুলু) করে, যেমন আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বা আদি অথবা তাদের মতো অন্য কেউ, কিংবা এমন কেউ যাকে নেককার মনে করা হয় যেমন হাল্লাজ বা মিশরের সেই শাসক অথবা ইউনুস আল-কুনাইতি এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের ব্যাপারে; আর তাদের মধ্যে খোদায়ী বা ইলাহিয়াতের কোনো অংশ সাব্যস্ত করে, যেমন সে বলে: 'যে রিজিক আমাকে অমুক শাইখ দেবেন না তা আমার প্রয়োজন নেই', অথবা বকরি জবেহ করার সময় বলে: 'আমার মনিবের নামে', অথবা তাকে বা অন্য কাউকে সিজদা করার মাধ্যমে তার ইবাদত করে, অথবা আল্লাহ তাআলাকে বাদ দিয়ে তাকে ডাকে—যেমন বলে: 'হে আমার অমুক মনিব, আমাকে ক্ষমা করুন বা আমার ওপর দয়া করুন বা আমাকে সাহায্য করুন বা আমাকে রিজিক দিন বা আমার উদ্ধারকর্তা হোন বা আমাকে আশ্রয় দিন', অথবা বলে: 'আমি আপনার ওপর ভরসা করলাম' বা 'আপনিই আমার জন্য যথেষ্ট' বা 'আমি আপনার আশ্রয়ে আছি', কিংবা এই জাতীয় কথা ও কাজ যা রুবুবিয়াতের বৈশিষ্ট্য এবং আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কারও জন্য শোভা পায় না; এ সবই শিরক ও গোমরাহি। এমন ব্যক্তিকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে। কেননা আল্লাহ তাআলা রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ নাজিল করেছেন যাতে আমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি যার কোনো শরিক নেই এবং আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্য গ্রহণ না করি"(৩).

 

তিনি আরও বলেছেন: "যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যদের ডাকত—যেমন: সূর্য, চাঁদ, গ্রহ-নক্ষত্র, উযাইর, মসীহ, ফেরেশতা, লাত, উযযা, তৃতীয় আরেকটি মানাত এবং ইয়াগুস, ইয়াউক ও নাসর অথবা অন্য কিছু—তারা বিশ্বাস করত না যে এগুলো সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করে বা এগুলো বৃষ্টি বর্ষণ করে অথবা এগুলো উদ্ভিদ জন্মায়। বরং তারা নবী, ফেরেশতা, গ্রহ-নক্ষত্র, জিন এবং তাদের প্রতিকৃতি ও মূর্তির ইবাদত করত অথবা তাদের কবরের ইবাদত করত এবং বলত: {আমরা এদের ইবাদত করি না, তবে এই জন্য যে এরা আমাদের আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেবে।} এবং তারা বলত: এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী। অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন যাতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা থেকে নিষেধ করেন—তা ইবাদত হিসেবে ডাকা হোক বা সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) হিসেবে ডাকা হোক"(৪).

--------------------------------------------

(১) শারহুল আরবাঈন আন-নববিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭৩) দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ, প্রথম প্রকাশ, ১৪২৯ হিজরি।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া (১/ ১২৪)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ৩৯৫)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ৩৯৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال أيضًا: "فإنّ المسلمين متفقون على ما علموه بالاضطرار من دين الإسلام أن العبد لا يجوز له أن يعبد ولا يدعو ولا يستغيث ولا يتوكل إلا على الله، وأنّ مَن عبد ملكا مقربا أو نبيا مرسلا، أو دعاه أو استغاث به فهو مشرك.

فلا يجوز عند أحد من المسلمين أن يقول القائل: يا جبرائيل أو يا ميكائيل أو يا إبراهيم أو يا موسى أو يا رسول الله اغفر لي أو ارحمني أو ارزقني أو انصرني أو أغثني أو أجرني من عدوي أو نحو ذلك، بل هذا كله من خصائص الإلهية"(1).

 

وقال أيضا: "وأما حقوق رسول الله - بأبي هو وأمي - مثل تقديم محبته على النفس والأهل والمال، وتعزيره وتوقيره وإجلاله وطاعته واتباع سنته وغير ذلك فعظيمة جدا، وكذلك مما يشرع التوسل به في الدعاء كما في الحديث الذي رواه الترمذي وصححه أن النبي صلى الله عليه وسلم علّم شخصا أن يقول: «اللهم إني أسألك وأتوسل إليك بنبيك محمد نبي الرحمة، يا محمد يا رسول الله إني أتوسل بك إلى ربي في حاجتي ليقضيها، اللهم فشفعه فيّ»، فهذا التوسل به حسن.

وأما دعاؤه والاستغاثة به فحرام.

والفرق بين هذين متفق عليه بين المسلمين.

المتوسِّل إنما يدعو الله ويخاطبه ويطلب منه لا يدعو غيره إلا على سبيل استحضاره لا على سبيل الطلب منه، وأما الداعي والمستغيث فهو الذي يسأل المدعو ويطلب منه ويستغيثه ويتوكل عليه"(2).

وقال أيضًا: "والاستغاثة بالميت والغائب سواء كان نبيًا أو وليًا ليس مشروعًا ولا هو من صالح الأعمال؛ إذ لو كان مشروعا أو حسنا من العمل لكانوا به أعلم وإليه أسبق، ولم يصح عن أحد من السلف أنه فعل ذلك، فكلام هؤلاء يقتضي جواز سؤال الميت والغائب، وقد وقع دعاء الأموات والغائبين لكثير من جهال الفقهاء والمفتين حتى لأقوام فيهم زهد وعبادة ودين، ترى أحدهم يستغيث بمن يحسن به الظن حيًا كان أو ميتًا، وكثير منهم تتمثل له صورة المستغاث به وتخاطبه وتقضي بعض حوائجه وتخبره ببعض الأمور الغائبة، ويظن الغرّ أنه المستغاث به، أو أن ملكًا جاء على صورته، وإنما هي شياطين تمثلت له به وخيالات باطلة، فتراه يأتي قبر من يحسن به الظن إن كان ميتًا فيقول: يا سيدي فلان أنا في حسبك، أنا في جوارك، أنا في جاهك قد أصابني كذا وجرى عليّ كذا، ومقصوده قضاء حاجته إما من الميت أو به.

ومنهم من يقول للميت: اقض ديني واغفر ذنبي وتب علي. ومنهم من يقول: سل لي ربك. ومنهم من يذكر ذلك في نظمه ونثره.

ومنهم من يقول: يا سيدي الشيخ فلان، أو يا سيدي رسول الله نشكو إليك ما أصابنا من العدو وما نزل بنا من المرض وما حل بنا من البلاء، ومنهم من يظن أن الرسول أو الشيخ يعلم ذنوبه وحوائجه وإن لم يذكرها وأنه يقدر على غفرانها وقضاء حوائجه، ويقدر على ما يقدر عليه الله ويعلم ما يعلمه الله.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (3/ 272).

(2) المصدر السابق (3/ 276).
তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই মুসলিমগণ তাদের দ্বীন ইসলাম থেকে যা অত্যাবশ্যকীয়ভাবে অবগত আছেন সে ব্যাপারে একমত যে, কোনো দাসের জন্য আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা, কাউকে ডাকা, কারো কাছে উদ্ধার প্রার্থনা করা অথবা কারো ওপর ভরসা করা জায়েজ নয়। আর যে ব্যক্তি কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতা কিংবা প্রেরিত নবীর ইবাদত করল, অথবা তাকে ডাকল কিংবা তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল, তবে সে মুশরিক।

সুতরাং কোনো মুসলিমের নিকট এটি জায়েজ নয় যে কোনো বক্তা বলবে: হে জিবরাঈল অথবা হে মিকাঈল অথবা হে ইবরাহিম অথবা হে মুসা অথবা হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ক্ষমা করুন, অথবা আমার প্রতি রহম করুন, অথবা আমাকে রিজিক দিন, অথবা আমাকে সাহায্য করুন, অথবা আমাকে উদ্ধার করুন, অথবা আমাকে আমার শত্রু থেকে রক্ষা করুন কিংবা অনুরূপ কিছু। বরং এই সব কিছুই উলুহিয়্যাতের (ইলাহ হওয়ার) বিশেষ গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত"(১)।

 

তিনি আরও বলেন: "আর আল্লাহর রাসূলের হকসমূহ - যার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক - যেমন নিজের জান, পরিবার ও সম্পদের চেয়ে তাকে বেশি ভালোবাসা, তাকে সম্মান করা, মর্যাদা দেওয়া, তাকে শক্তিশালী করা, তার আনুগত্য করা এবং তার সুন্নাহর অনুসরণ করা ইত্যাদি অত্যন্ত মহান। অনুরূপভাবে দোয়ার মধ্যে যার মাধ্যমে অসীলা ধরা শরীয়তসম্মত, যেমনটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং সহীহ বলেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে শিখিয়েছিলেন যেন সে বলে: «হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট আপনার নবী দয়ার নবী মুহাম্মাদ-এর মাধ্যমে অসীলা ধরছি। হে মুহাম্মাদ! হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আমি আমার এই প্রয়োজনে আমার রবের কাছে আপনার মাধ্যমে অসীলা ধরছি যাতে তিনি তা পূরণ করেন। হে আল্লাহ! আপনি আমার ব্যাপারে তাঁর সুপারিশ কবুল করুন», সুতরাং তাঁর মাধ্যমে এই অসীলা ধরা উত্তম।

পক্ষান্তরে তাঁকে ডাকা এবং তাঁর কাছে উদ্ধার প্রার্থনা করা হারাম।

আর এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য মুসলিমদের মধ্যে সর্বসম্মত।

অসীলা গ্রহণকারী মূলত আল্লাহকেই ডাকে, তাঁর সাথেই সম্বোধন করে এবং তাঁর কাছেই চায়; সে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকে না, কেবল তাঁকে উপস্থিত মনে করার অর্থে, তাঁর কাছে চাওয়ার অর্থে নয়। আর যে আহ্বানকারী ও উদ্ধার প্রার্থনাকারী, সে তো যাকে ডাকা হচ্ছে তার কাছেই সওয়াল করে, তার কাছেই চায়, তার কাছেই উদ্ধার প্রার্থনা করে এবং তার ওপরই ভরসা করে"(২)।

তিনি আরও বলেন: "মৃত এবং অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, তিনি নবী হোন বা অলি, তা শরীয়তসম্মত নয় এবং তা নেক আমলের অন্তর্ভুক্তও নয়। কারণ যদি তা শরীয়তসম্মত বা উত্তম আমল হতো, তবে তারা (সালাফ) এ সম্পর্কে অধিক অবগত থাকতেন এবং তা পালনে অগ্রগামী হতেন। আর সালাফে সালেহীনের কারো থেকেই এটি প্রমাণিত নয় যে তারা এমনটি করেছেন। সুতরাং এই লোকদের কথা মৃত ও অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে চাওয়ার বৈধতা দাবি করে। অথচ অনেক অজ্ঞ ফকীহ ও মুফতি, এমনকি যুহদ, ইবাদত ও দ্বীনদারি আছে এমন লোকদের মধ্যেও মৃত ও অনুপস্থিতদের ডাকার বিষয়টি ঘটে গেছে। আপনি তাদের কাউকে দেখবেন যে সে যার প্রতি সুধারণা রাখে তার কাছে উদ্ধার প্রার্থনা করছে, চাই সে জীবিত হোক বা মৃত। তাদের অনেকের সামনে যার কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে তার আকৃতি ধারণ করে কেউ প্রকাশ পায়, তার সাথে কথা বলে, তার কিছু প্রয়োজন পূরণ করে দেয় এবং তাকে কিছু গায়িবী বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেয়। আর সেই প্রতারিত ব্যক্তি মনে করে যে এটিই সেই ব্যক্তি যার কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে, অথবা কোনো ফেরেশতা তার আকৃতিতে এসেছে। অথচ এগুলো কেবল শয়তান, যারা তার সামনে সেই আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে এবং এগুলো বাতিল কল্পনা মাত্র। ফলে আপনি তাকে দেখবেন যে সে যার প্রতি সুধারণা রাখে তার কবরে আসে যদি সে মৃত হয়, আর বলে: হে আমার অমুক সর্দার! আমি আপনার আশ্রয়ে, আমি আপনার প্রতিবেশী হয়ে, আমি আপনার মর্যাদার দোহাই দিয়ে বলছি যে আমার সাথে এই এই হয়েছে। আর তার উদ্দেশ্য হলো তার প্রয়োজন পূরণ করা, হয় সেই মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে অথবা তার মাধ্যমে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত ব্যক্তিকে বলে: আমার ঋণ পরিশোধ করে দিন, আমার গুনাহ মাফ করে দিন এবং আমার তওবা কবুল করুন। আবার কেউ কেউ বলে: আমার জন্য আপনার রবের কাছে চান। আর তাদের কেউ কেউ তাদের কবিতা ও গদ্যে এসব উল্লেখ করে থাকে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: হে আমার সর্দার অমুক শায়খ! অথবা হে আমার সর্দার আল্লাহর রাসূল! আমাদের ওপর শত্রুর যে আক্রমণ হয়েছে, যে রোগ নেমে এসেছে এবং যে মুসিবত আপতিত হয়েছে সে সম্পর্কে আমরা আপনার কাছে অভিযোগ করছি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করে যে, রাসূল বা শায়খ তার গুনাহ ও প্রয়োজনের কথা জানেন যদিও সে তা উল্লেখ না করে, এবং তিনি তা ক্ষমা করতে ও তার প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম। আর তিনি সেসবে সক্ষম যাতে আল্লাহ সক্ষম এবং তিনি তা জানেন যা আল্লাহ জানেন।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ২৭২)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ২৭৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وهؤلاء قد رأيتهم وسمعت هذا منهم ومن شيوخ يُقتدى بهم ومفتين وقضاة ومدرسين.

ومعلوم أن هذا لم يفعله أحد من السلف ولا شرع الله ذلك ولا رسوله ولا أحد من الأئمة، ولا مع من يفعل ذلك حجة شرعية أصلا، بل من فعل ذلك كان شارعا من الدين ما لم يأذن به الله؛ فإن هذا الفعل منه ما هو كفر صريح، ومنه ما هو منكر ظاهر، سواء قدّر أن الميت يسمع الخطاب كما إذا خوطب من قريب، أو قدر أنه لا يسمعه كما إذا خوطب من بعيد، فإن مجرد سماع الميت للخطاب لا يستلزم أنه قادر على ما يطلب الحي منه، وكونه قادرا عليه لا يستلزم أنه شُرع لنا أن نسأله ونطلب منه كل ما يقدر عليه، فليس لنا في حياة الرسل أن نسألهم كل ما يمكنهم فعله، بل ولا نسأل الله تعالى كل ما يمكنه فعله، بل الدعاء عبادة شرعية فكيف يجوز أن نسألهم ذلك بعد مماتهم، وليس لنا أن نسألهم كل ما يقدر الله عليه من المفعولات ليسألوا ربهم إياه كما سأل قومُ موسى موسى أن يريهم الله جهرة وسألوا المسيح إنزال المائدة وسألوا صالحا الناقة وسألوا الأنبياء الآيات.

فلو قال قائل: سؤال الغائب حيًا وميتًا كسؤال الشاهد؛ فإن الأنبياء والأولياء يسمعون خطاب الغائب البعيد، ويسمع أحدهم خطاب الناس البعيدين له.

قلنا: هذا محال في العادة المعروفة، وإذا وقع ذلك في بعض الصور كان من باب خرق العادة، والعادة قد تخرق بأن يسمع الأدنى خطاب الأعلى كما سمع ساريةُ خطاب عمر: يا سارية الجبل يا سارية الجبل.

ويجوز خرق العادة بالعكس، لكن إثبات هذا في حق معين لا يكون إلا بحجة تدل على وقوع ذلك في حقه"(1).

 

وقال أيضًا: "ومن الذي قال: إن السائل بمخلوق والداعي له والمستغيث به نبيًا كان المدعو أو غير نبي يكون المخلوق المستغاث به وسيلة إلى الله تعالى في ما طُلب منه، وهذا أمر مخالف للعقل واللغة والشرع. فمن الذي جعل الطلب من هذا وسيلة في الطلب من هذا في كل شيء وعلى كل حال؟! "(2).

--------------------------------------------

(1) الرد على البكري (1/ 93 - 96) مكتبة الغرباء الأثرية - المدينة المنورة.

(2) المصدر السابق (2/ 624 - 626).
আমি তাদের দেখেছি এবং তাদের মুখ থেকে এবং অনুসরণীয় শায়খগণ, মুফতিগণ, বিচারকগণ ও শিক্ষকগণের নিকট থেকে এ কথা শুনেছি।

আর এটি সুবিদিত যে, সালাফদের কেউ এমনটি করেননি এবং আল্লাহ বা তাঁর রাসূল কিংবা কোনো ইমামই এর বিধান দেননি। যারা এমনটি করে তাদের নিকট এর সপক্ষে বিন্দুমাত্র শরয়ী দলিল নেই। বরং যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে দ্বীনের মধ্যে এমন বিষয়ের প্রচলনকারী হবে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। কেননা এই কাজের কোনোটি স্পষ্ট কুফর, আবার কোনোটি প্রকাশ্য গর্হিত কাজ; চাই মৃত ব্যক্তি তার উদ্দেশ্যে করা কথা শুনতে পায় বলে ধরে নেওয়া হোক—যেমনটি নিকটবর্তী ব্যক্তির সম্বোধন শোনার ক্ষেত্রে হয়, অথবা সে শুনতে পায় না বলে ধরে নেওয়া হোক—যেমনটি দূরবর্তী সম্বোধনের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কেননা কেবল মৃত ব্যক্তির কথা শুনতে পাওয়াই এটি আবশ্যক করে না যে, জীবিত ব্যক্তি তার নিকট যা প্রার্থনা করছে তা করতে সে সক্ষম। আবার সে সক্ষম হলেও এটি আবশ্যক হয় না যে, সে যা করতে সক্ষম তার সবকিছুই তার নিকট প্রার্থনা করা আমাদের জন্য শরিয়তসম্মত করা হয়েছে। কেননা নবীগণের জীবদ্দশাতেও তারা যা করতে পারতেন তার সবকিছুই তাদের নিকট প্রার্থনা করা আমাদের জন্য বৈধ ছিল না। এমনকি মহান আল্লাহর কাছেও আমরা এমন সবকিছু প্রার্থনা করি না যা করার সামর্থ্য তিনি রাখেন। বরং দুআ হলো একটি শরয়ী ইবাদত, সুতরাং তাদের মৃত্যুর পর কীভাবে তাদের নিকট এসব প্রার্থনা করা বৈধ হতে পারে? আল্লাহ তাআলা যেসব সৃষ্টিমূলক কাজ করতে সক্ষম, তার সবকিছুর ব্যাপারে নবীগণের নিকট আমাদের প্রার্থনা করার অধিকার নেই যে তাঁরা যেন তাঁদের রবের নিকট তা চান; যেমনটি মূসার কওম মূসা (আ.)-এর নিকট আবেদন করেছিল যেন তিনি আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখান, ঈসা (আ.)-এর নিকট দস্তরখান অবতীর্ণ করার আবেদন করেছিল, সালেহ (আ.)-এর নিকট উটনী চেয়েছিল এবং নবীগণের নিকট বিভিন্ন অলৌকিক নিদর্শন চেয়েছিল।

যদি কেউ বলে: অনুপস্থিত ব্যক্তিকে সে জীবিত হোক বা মৃত—আহ্বান করা উপস্থিত ব্যক্তিকে আহ্বান করার মতোই; কারণ নবীগণ এবং ওলীগণ দূরবর্তী অনুপস্থিত ব্যক্তির কথা শুনতে পান এবং তাদের কেউ দূরবর্তী মানুষের সম্বোধনও শুনতে পান।

আমরা বলব: এটি পরিচিত স্বভাবজাত নিয়মের পরিপন্থী। আর যদি কখনো কোনো ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে থাকে তবে তা অলৌকিক হিসেবে গণ্য হবে। আর স্বভাবজাত নিয়ম কখনো এমনভাবে লঙ্ঘিত হতে পারে যে, নিম্ন পর্যায়ের কেউ উচ্চ পর্যায়ের কারো কথা শুনতে পায়; যেমন সারিয়াহ উমর (রা.)-এর ডাক শুনতে পেয়েছিলেন: হে সারিয়াহ, পাহাড়ের দিকে লক্ষ্য করো, হে সারিয়াহ, পাহাড়!

এর বিপরীতেও অলৌকিকতা ঘটা সম্ভব, তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি সাব্যস্ত করতে হলে এমন দলিলের প্রয়োজন যা তার ক্ষেত্রে এর সংঘটন প্রমাণ করবে।(১)।

 

তিনি আরও বলেন: "এমন কথা কে বলেছে যে, কোনো মাখলুকের নিকট প্রার্থনাকারী, তাকে আহ্বানকারী এবং তার নিকট ফরিয়াদকারী—আহ্বানকৃত ব্যক্তি নবী হোন বা অন্য কেউ—সেই মাখলুক যার নিকট ফরিয়াদ করা হচ্ছে সে প্রার্থিত বিষয়ে আল্লাহর নিকট অসীলা হবে? এটি একটি বিবেক, ভাষা এবং শরিয়ত বিরোধী কথা। কে এই মাখলুকের কাছে চাওয়াকে সব বিষয়ে এবং সব অবস্থায় আল্লাহর কাছে চাওয়ার অসীলা বানিয়েছে?!"(২)।

--------------------------------------------

(১) আর-রাদ্দু আলাল বাকরি (১/ ৯৩ - ৯৬) মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিয়া - মদিনা মুনাওয়ারা।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (২/ ৬২৪ - ৬২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال أيضًا: "الوجه الخامس: أن يقال: نحن لا ننازع في إثبات ما أثبته الله من الأسباب والحكم، لكن من هو الذي جعل الاستغاثة بالمخلوق ودعاءه سببا في الأمور التي لا يقدر عليها إلا الله تعالى؟.

ومن الذي قال: إنك إذا استغثت بميت أو غائب من البشر نبيًا كان أو غير نبي كان ذلك سببا في حصول الرزق والنصر والهدى وغير ذلك مما لا يقدر عليه إلا الله تعالى؟ ومن الذي شرع ذلك وأمر به؟ ومن الذي فعل ذلك من الأنبياء والصحابة والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين؟

فإن هذا المقام يحتاج إلى مقدمتين:

إحداهما: أنّ هذه أسباب لحصول المطالب التي لا يقدر عليها إلا الله تعالى.

و الثانية أن هذه الأسباب مشروعة لا يحرم فعلها، فإنه ليس كل ما كان سببا كونيًا يجوز تعاطيه، فإن قتل المسافر قد يكون سببًا لأخذ ماله، وكلاهما محرم.

والدخول في دين النصارى قد يكون سببًا لمال يعطونه له وهو محرم، وشهادة الزور قد تكون سببا لمال يؤخذ من المشهود له وهو حرام، وكثير من الفواحش والظلم قد يكون سببا لنيل مطالب وهو محرم، والسحر والكهانة سبب في بعض المطالب وهو محرم.

وكذلك الشرك في مثل دعوة الكواكب والشياطين وعبادة البشر قد يكون سببًا لبعض المطالب، وهو محرم، فإن الله تعالى حرم من الأسباب ما كانت مفسدته راجحة على مصلحته وإن كان يحصل به بعض الأغراض أحيانًا.

وهذا المقام مما يظهر به ضلال هؤلاء المشركين خلقا وأمرًا، فإنهم مطالبون بالأدلة الشرعية على أن الله عز وجل شرع لخلقه أن يسألوا ميتًا أو غائبًا، وأن يستغيثوا به، سواء كان ذلك عند قبره أو لم يكن عند قبره، والله تعالى حي عالم قادر لا يغيب، كفى به شهيدًا، وكفى به عليمًا، وهم لا يقدرون على ذلك.

بل نقول في الوجه السادس: سؤال الميت والغائب نبيًا كان أو غيره من المحرمات المنكرة باتفاق أئمة المسلمين لم يأمر الله به ولا رسوله، ولا فعله أحد من الصحابة ولا التابعين لهم بإحسان، ولا استحبه أحد من أئمة المسلمين.

وهذا مما يعلم بالاضطرار من دين المسلمين أنّ أحدا منهم ما كان يقول إذا نزلت به ترة أو عرضت له حاجة لميت: يا سيدي فلان أنا في حسبك، أو اقض حاجتي كما يقول بعض هؤلاء المشركين لمن يدعونهم من الموتى و الغائبين.

ولا أحد من الصحابة رضي الله عنهم استغاث بالنبي صلى الله عليه وسلم بعد موته ولا بغيره من الأنبياء لا عند قبورهم ولا إذا بعدوا عنها، وقد كانوا يقفون تلك المواقف العظام في مقابلة المشركين في القتال ويشتد البأس بهم و يظنون الظنون، ومع هذا لم يستغث أحد منهم بنبي ولا غيره من المخلوقين، ولا أقسموا بمخلوق على الله أصلا"(1).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (1/ 445 - 449).
তিনি আরও বলেন: "পঞ্চম দিক: এটি বলা যে, আমরা আল্লাহ তাআলা যে সকল উপায়-উপকরণ এবং হিকমত সাব্যস্ত করেছেন তা প্রমাণে কোনো বিতর্ক করি না; কিন্তু কে সৃষ্টির কাছে ফরিয়াদ জানানো এবং তাকে ডাকা এমন সব বিষয়ে উপায় বা কারণ সাব্যস্ত করেছে যাতে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কেউ সক্ষম নয়?

আর কে বলেছে যে: আপনি যদি কোনো মৃত বা অনুপস্থিত মানুষের কাছে ফরিয়াদ জানান—সে নবী হোক বা অন্য কেউ—তবে তা রিজিক, বিজয়, হেদায়েত এবং এমন সব বিষয় লাভের কারণ হবে যাতে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কেউ সক্ষম নয়? আর কে এটি বিধিবদ্ধ করেছেন এবং এর নির্দেশ দিয়েছেন? আর নবীগণ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈদের মধ্যে কে এটি করেছেন?

কেননা এই বিষয়টি দুটি ভূমিকার মুখাপেক্ষী:

এক: এগুলি এমন লক্ষ্যসমূহ অর্জনের উপায় যেগুলোতে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কেউ সক্ষম নয়।

দুই: এই উপায়গুলো শরীয়তসম্মত এবং এর প্রয়োগ হারাম নয়; কারণ জাগতিকভাবে যা কোনো কিছুর কারণ হয় তার সবই অবলম্বন করা জায়েজ নয়। কেননা মুসাফিরকে হত্যা করা তার সম্পদ হস্তগত করার কারণ হতে পারে, অথচ এ দুটির প্রতিটিই হারাম।

খ্রিস্টধর্মে প্রবেশ করা হয়তো তাদের পক্ষ থেকে অর্থ লাভের কারণ হতে পারে, অথচ তা হারাম। মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া হয়তো যার অনুকূলে সাক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে তার থেকে অর্থ লাভের কারণ হতে পারে, অথচ তা হারাম। অনেক অশ্লীলতা ও জুলুম হয়তো লক্ষ্য অর্জনের কারণ হতে পারে, অথচ তা হারাম। যাদু ও গণকগিরি কিছু লক্ষ্য অর্জনের উপায়, অথচ তা হারাম।

অনুরূপভাবে গ্রহ-নক্ষত্র ও শয়তানদের ডাকা এবং মানুষের ইবাদত করার মতো শিরকও কিছু লক্ষ্য অর্জনের কারণ হতে পারে, অথচ তা হারাম। কারণ আল্লাহ তাআলা এমন সব উপায় হারাম করেছেন যার অনিষ্ট তার উপকারের চেয়ে বেশি, যদিও মাঝে মাঝে তার মাধ্যমে কিছু উদ্দেশ্য হাসিল হয়ে থাকে।

আর এটি এমন একটি দিক যার মাধ্যমে এই মুশরিকদের সৃষ্টিগত এবং আদেশগত বিভ্রান্তি প্রকাশ পায়। কেননা তারা এই শরয়ী দলিলের মুখাপেক্ষী যে, আল্লাহ তাআলা কি তাঁর সৃষ্টির জন্য কোনো মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে চাওয়া এবং তার কাছে ফরিয়াদ জানানোকে বৈধ করেছেন—চাই তা তার কবরের পাশে হোক বা কবরের পাশে না হোক? অথচ আল্লাহ তাআলা চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, তিনি অনুপস্থিত হন না; সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট এবং সর্বজ্ঞ হিসেবে তিনিই যথেষ্ট। আর তারা এর সপক্ষে কোনো দলিল দিতে সক্ষম নয়।

বরং আমরা ষষ্ঠ দিকে বলব: কোনো মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে চাওয়া—সে নবী হোক বা অন্য কেউ—মুসলিম ইমামগণের ঐকমত্যে এটি একটি গর্হিত হারাম কাজ। আল্লাহ বা তাঁর রাসূল এর নির্দেশ দেননি, সাহাবী বা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈদের কেউ তা করেননি এবং মুসলিম ইমামগণের কেউ একে পছন্দনীয় বলেননি।

এটি মুসলিমদের দ্বীনের অনিবার্যভাবে জ্ঞাত বিষয় যে, তাঁদের কেউ যখন কোনো বিপদে পড়তেন বা কোনো প্রয়োজনে পড়তেন, তখন কোনো মৃত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বলতেন না: 'হে আমার অমুক সর্দার, আমি আপনার আশ্রয়ে আছি' অথবা 'আমার প্রয়োজন পূরণ করে দিন', যেমনটি এই মুশরিকদের অনেকে তাদের আহূত মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তিদের বলে থাকে।

আর সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের কেউই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের পর তাঁর কাছে ফরিয়াদ জানাননি এবং অন্য কোনো নবীর কাছেও নয়—তাঁদের কবরের পাশেও নয় এবং যখন তাঁরা কবর থেকে দূরে থাকতেন তখনও নয়। অথচ তাঁরা যুদ্ধের ময়দানে মুশরিকদের মোকাবিলায় বড় বড় ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতেন, সংকট তীব্রতর হতো এবং তাঁদের মনে নানা আশঙ্কার উদয় হতো। এতদসত্ত্বেও তাঁদের কেউ কোনো নবী বা অন্য কোনো সৃষ্টির কাছে ফরিয়াদ জানাননি এবং আল্লাহর নামে কসম করার ক্ষেত্রে কোনো সৃষ্টিকে মাধ্যম বানাননি"(১)。

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪৪৫ - ৪৪৯)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال أيضًا: "والمقصود هنا أن المعترض المحتج لم يحرر أدلته تحريرا ينفي عنها الإجمال والالتباس حتى يتبين ما فيها من الضلال والإضلال لجميع الناس، بل قال: لم يزل الناس يفهمون معنى الاستغاثة بالشخص قديما وحديثا، وأنه يصح إسنادها إلى المخلوقين.

وهذا كلام صحيح، لكن يقال له: لم يزل الناس يفهمون أنها طلب من المستغاث به أو طلب من غيره به؟

والثاني لا سبيل إليه، والأول لم ينازع فيه أحد إذا طلب من المستغاث ما شُرع طلبه منه مما يقدر عليه؛ إذ لا يقدر أحد على الأشياء كلها إلا الله وحده، والمخلوق له حال يخصه ويليق به.

فإن هنا أربعة معاني:

أحدها: أن يسأل الله تفريج الكربة بالمتوسَّل به، ولا يسأل المتوسّل به شيئا كما يفعله كثير ممن يتوسل بالأموات.

أو أن يسأل الله ويسأل المتوسل به أن يدعو كما كان الصحابة يتوسلون بالنبي صلى الله عليه وسلم في الاستسقاء، ثم من بعده بعمه العباس وبيزيد بن الأسود الجرشي وغيرهما.

والثالث: أن يسأل المتوسَّل به أن يسأل الله له تفريج الكربة، ولا يسأل الله.

والرابع: أن يسأل المستغاث به أن يفرج الكربة، ولا يسأل الله.

فأما الأول: فهو سائل لله وحده ومستغيث به، وليس مستغيثا بالمتوسل به إلا أن يريد بالاستغاثة السؤال به.

وأما الثاني: فهو استغاثة بالله في تفريج الكربة، واستغاثة بالشفيع أن يسأل الله، هو توسل به أي بدعائه وشفاعته، وهذا هو المشروع في الدنيا والآخرة في حياة الشفيع وسؤاله، أو في حال مشاركة الشفيع له في السؤال لا في حال انفراده هو بالسؤال.

وكذلك الثالث إذا سأل المتوسل به أن يسأل الله كما يسأله الناس يوم القيامة، فهذا لا ريب في جوازه وإن سمي استغاثة به.

وأما الرابع: وهو أن يسأل المستغاث به تفريج الكربة، فهذا استغاثة به ليس توسلا به، بل المستغاث به مطلوب منه الفعل، فإن لم يكن قادرا عليه لم يجز أن يطلب منه ما لا يقدر عليه.

فالأول سؤال به، وليس استغاثة أصلا، وبعض الناس يسميه توسلا به.

والثاني: فيه استغاثة به وتوسل به.

والثالث: فيه استغاثة في سؤال الله، وليس فيه سؤال به.

والرابع: استغاثة في تفريج الكربة، لكن لا يجوز ذلك من ميت ولا غائب ولا من حي حاضر إلا فيما يقدر عليه خاصة، وليس هذا هو التوسل به والتوجه المشروع الذي كانت الصحابة تفعله، إنما كان بدعائه وشفاعته، ولا ريب أن من سأل الله تفريج الكربة بواسطة سؤال النبي صلى الله عليه وسلم وشفاعته فقد استغاث به، وهذا جائز كما كان الناس يفعلونه في حياته، وكما يفعلونه في الآخرة في حياته أيضا، ولكن هذا ليس مشروعا بعد موته ولم يفعله أحد من الصحابة بعد موته.
তিনি আরও বলেছেন: "উদ্দেশ্য হলো এই যে, আপত্তি উত্থাপনকারী ও দলিল পেশকারী ব্যক্তি তার প্রমাণাদি এমনভাবে সুসংহত করেনি যা থেকে অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থতা দূর হয়, যাতে তার মধ্যে থাকা পথভ্রষ্টতা ও মানুষকে বিভ্রান্ত করার বিষয়টি সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বরং সে বলেছে: মানুষ প্রাচীনকাল থেকে এবং বর্তমান যুগেও কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সাহায্যের প্রার্থনা বা ইস্তিগাসার অর্থ বুঝে আসছে, এবং এটি সৃষ্টির দিকে সম্বন্ধ করা সঠিক।

এটি একটি সঠিক কথা, কিন্তু তাকে বলা হবে: মানুষ কি সর্বদা বুঝে আসছে যে এটি যার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে তার কাছে চাওয়া, নাকি তার মাধ্যমে অন্য কারো কাছে চাওয়া?

দ্বিতীয়টির কোনো ভিত্তি নেই, আর প্রথমটির ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করেনি যখন সাহায্য প্রার্থনাকারীর কাছে এমন কিছু চাওয়া হয় যা চাওয়া শরীয়তসম্মত এবং যা করার ক্ষমতা সে রাখে; কেননা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউই সবকিছুর ওপর ক্ষমতা রাখে না, আর সৃষ্টির এমন অবস্থা রয়েছে যা তার জন্য নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত।

কারণ এখানে চারটি অর্থ রয়েছে:

প্রথমটি: যার মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করা হচ্ছে তার দোহাই দিয়ে আল্লাহর কাছে বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করা, কিন্তু ওই ব্যক্তির কাছে কোনো কিছু না চাওয়া; যেমনটি মৃত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণকারী অনেকে করে থাকে।

অথবা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা এবং যার মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করা হচ্ছে তাকে দোয়া করার জন্য অনুরোধ করা; যেমনটি সাহাবীগণ বৃষ্টির প্রার্থনার সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করতেন, অতঃপর তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর চাচা আব্বাস ও ইয়াযিদ ইবনে আসওয়াদ আল-জুরাশি এবং অন্যদের মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করতেন।

তৃতীয়টি: যার মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করা হচ্ছে তাকে অনুরোধ করা যেন সে আল্লাহর কাছে তার বিপদ মুক্তির জন্য দোয়া করে, কিন্তু আল্লাহর কাছে সরাসরি না চাওয়া।

চতুর্থটি: যার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে তার কাছেই বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করা এবং আল্লাহর কাছে কিছু না চাওয়া।

প্রথমটির ক্ষেত্রে: সে কেবল আল্লাহর কাছেই প্রার্থনাকারী এবং তাঁর কাছেই সাহায্যপ্রার্থী, সে যার মাধ্যমে ওসিলা নিচ্ছে তার কাছে সাহায্যপ্রার্থী নয়—যদি না সে সাহায্য প্রার্থনা বলতে তার মাধ্যমে চাওয়াকে উদ্দেশ্য করে।

দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে: এটি বিপদ মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং সুপারিশকারীর কাছে আল্লাহর কাছে দোয়া করার সাহায্য প্রার্থনা। এটি তার মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করা অর্থাৎ তার দোয়া ও সুপারিশের মাধ্যমে। এটিই দুনিয়া ও আখিরাতে সুপারিশকারীর জীবদ্দশায় এবং তাকে অনুরোধ করার ক্ষেত্রে শরীয়তসম্মত; অথবা যখন সুপারিশকারী তার সাথে প্রার্থনায় অংশগ্রহণ করে এমন অবস্থায়, কেবল তার একার প্রার্থনার অবস্থায় নয়।

অনুরূপভাবে তৃতীয়টির ক্ষেত্রে: যখন সে যার মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ করছে তাকে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে বলে, যেমন কিয়ামতের দিন মানুষ তাঁর কাছে অনুরোধ করবে; এর বৈধতায় কোনো সন্দেহ নেই, যদিও একে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা বলা হয়।

চতুর্থটির ক্ষেত্রে: আর তা হলো যার কাছে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে তার কাছেই সরাসরি বিপদ মুক্তি চাওয়া। এটি তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা, এটি তাঁর মাধ্যমে ওসিলা নয়। বরং এখানে সাহায্য প্রার্থনাকারীর কাছে কাজটি সম্পাদন করার দাবি করা হয়। সুতরাং সে যদি তার ওপর সক্ষম না হয়, তবে তাঁর কাছে এমন কিছু চাওয়া জায়েয নেই যা করার ক্ষমতা সে রাখে না।

সুতরাং প্রথমটি হলো কারো মাধ্যমে প্রার্থনা করা, এটি মূলত কোনো সাহায্য প্রার্থনা নয়; বরং কিছু মানুষ একে তাঁর মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ বলে থাকে।

দ্বিতীয়টির মধ্যে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং তাঁর মাধ্যমে ওসিলা গ্রহণ—উভয়টিই বিদ্যমান।

তৃতীয়টির মধ্যে আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্য সাহায্য প্রার্থনা রয়েছে, কিন্তু এতে তাঁর দোহাই দিয়ে চাওয়া নেই।

চতুর্থটি হলো বিপদ মুক্তির জন্য সাহায্য প্রার্থনা; কিন্তু মৃত ব্যক্তি, অনুপস্থিত ব্যক্তি কিংবা উপস্থিত জীবিত ব্যক্তির কাছে এমন কিছু চাওয়া জায়েয নয় যাতে তার সক্ষমতা নেই। এটি সেই ওসিলা বা শরীয়তসম্মত মনোযোগ নয় যা সাহাবীগণ করতেন। বরং তা ছিল কেবল তাঁর দোয়া ও সুপারিশের মাধ্যমে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কেউ যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দোয়া ও সুপারিশের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করে, তবে সে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল। এটি জায়েয, যেমনটি মানুষ তাঁর জীবদ্দশায় করত এবং আখিরাতেও তাঁর জীবদ্দশায় করবে। কিন্তু এটি তাঁর ইন্তেকালের পর শরীয়তসম্মত নয় এবং তাঁর ইন্তেকালের পর সাহাবীদের কেউ এমনটি করেননি।"
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن ذهب إلى الاستغاثة بالموتى فقد شرع له دينًا لم يؤذن له به، وليس معه في الاستغاثة بهم سوى فعل بعض المتأخرين وكلامهم ممن ليس هو معدود من أهل الإجماع والاختلاف، فليس معه تقليد المقلدين ولا اجتهاد المجتهدين، ومن ابتدع بدعة في الدين بدون اجتهاد أهل الاجتهاد أو التقليد لأهل الاجتهاد كان من أهل الضلال والغي لا من أهل الهدى والرشاد.

وأما السؤال بهم فغاية ما معه فيه قول بعض العلماء مع منازعة غيره له فيه وقد قال تعالى: {فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً}، وقد نص غير واحد من العلماء على أنه لا يجوز السؤال لله بالأنبياء والصالحين فكيف بالاستغاثة بهم، مع أن الاستغاثة بالميت والغائب مما لا نعلم بين أئمة المسلمين نزاع في أن ذلك من أعظم المنكرات، ومن كان عالما بآثار السلف علم أن أحدا منهم لم يفعل هذا، وإنما كانوا يستشفعون ويتوسلون بهم بمعنى أنهم يسألون الله لهم مع سؤالهم هم لله، فيدعو الشافع والمشفوع له كما قال

عمر بن الخطاب: «اللهم إنا كنا إذا أجدبنا نتوسل إليك بنبينا فتسقينا، وإنا نتوسل إليك بعم نبينا فاسقنا» "(1).

 

وقال أيضًا: "فإن المستغيث بالنبي صلى الله عليه وسلم طالب منه وسائل له، والمتوسَّل به لا يُدعى ولا يُطلب منه ولا يُسأل، وإنما يُطلب به، وكل أحد يفرِّق بين المدعو والمدعو به.

والاستغاثة طلب الغوث وهو إزالة الشدة كالاستنصار طلب النصر والاستعانة طلب العون، والمخلوق يطلب منه من هذه الأمور ما يقدر عليه منها …

وقول القائل: إنّ من توسل إلى الله بنبي، فقال: أتوسل إليك برسولك فقد استغاث برسوله حقيقة في لغة العرب وجميع الأمم، قد كذب عليهم، فما يعرف هذا في لغة أحد من بني آدم، بل الجميع يعلمون أن المستغاث مسؤول [به] مدعو، ويفرّقون بين المسؤول والمسؤول به"(2).

 

وقال أيضًا: "وأما من يأتي إلى قبر نبي أو صالح، أو من يعتقد فيه أنه قبر نبي أو رجل صالح وليس كذلك، ويسأله ويستنجده فهذا على ثلاث درجات:

إحداها: أن يسأله حاجته مثل أن يسأله أن يزيل مرضه أو مرض دوابه أو يقضي دينه أو ينتقم له من عدوه أو يعافي نفسه وأهله ودوابه ونحو ذلك مما لا يقدر عليه إلا الله عز وجل، فهذا شرك صريح يجب أن يستتاب صاحبه، فإن تاب وإلا قتل.

وإن قال: أنا أسأله لكونه أقرب إلى الله مني ليشفع لي في هذه الأمور؛ لأني أتوسل إلى الله به كما يتوسل إلى السلطان بخواصه وأعوانه، فهذا من أفعال المشركين والنصارى فإنهم يزعمون أنهم يتخذون أحبارهم ورهبانهم شفعاء يستشفعون بهم في مطالبهم، وكذلك أخبر الله عن المشركين أنهم قالوا: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} وقال سبحانه وتعالى: {أَمِ اتَّخَذُوا مِن دُونِ اللَّهِ شُفَعَاء قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لَا يَمْلِكُونَ شَيْئاً وَلَا يَعْقِلُونَ} {قُل لِّلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعاً لَّهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ} "(3).

 

وقال أيضًا: "و‌‌الشرك في بني آدم أكثره عن أصلين:

أولهما: تعظيم قبور الصالحين وتصوير تماثيلهم للتبرك بها، وهذا أول الأسباب التي بها ابتدع الآدميون الشرك وهو شرك قوم نوح …

والسبب الثاني: عبادة الكواكب … "(4).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (1/ 108 - 112).

(2) مجموع الفتاوى (1/ 103 - 104).

(3) المصدر السابق (27/ 72).

(4) الرد على المنطقيين (ص: 285 - 286) دار المعرفة - بيروت.
আর যারা মৃতদের কাছে সাহায্য প্রার্থনার (ইস্তিগাসা) পথ বেছে নিয়েছে, তারা মূলত নিজেদের জন্য এমন এক দ্বীন প্রবর্তন করেছে যার অনুমতি আল্লাহ প্রদান করেননি। মৃতদের কাছে সাহায্য প্রার্থনার ব্যাপারে তাদের স্বপক্ষে পরবর্তীকালের কিছু লোকের কাজ এবং কথা ছাড়া আর কিছুই নেই, যারা ইজমা (ঐক্যমত) ও ইখতিলাফ (মতভিন্নতা) বর্ণনাকারী আহলে ইলমদের অন্তর্ভুক্ত নন। সুতরাং তাদের সাথে মুকাল্লিদদের অনুসরণও নেই, আর মুজতাহিদদের ইজতিহাদও নেই। যে ব্যক্তি মুজতাহিদদের ইজতিহাদ বা মুজতাহিদগণের অনুসরণ ব্যতীত দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করল, সে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো, হেদায়েত ও সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর তাদের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার বিষয়ে বড়জোর কিছু আলেমের উক্তি পাওয়া যায়, যে ব্যাপারে অন্য আলেমগণ তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা বিবাদে প্রবৃত্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের ওপর ঈমান রেখে থাকো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।" অনেক আলেম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নবীদের ও নেককারদের অসিলায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা জায়েজ নয়; তাহলে তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার বিষয়টি কেমন হবে? অথচ মৃত এবং অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এমন একটি বিষয়, যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হওয়ার ব্যাপারে মুসলিম ইমামদের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই। যারা সালাফদের আসার (বর্ণনা) সম্পর্কে অবগত, তারা জানেন যে তাদের কেউ এমনটি করেননি। বরং তারা তাদের মাধ্যমে শাফাআত ও অসিলা গ্রহণ করতেন এই অর্থে যে, তারা আল্লাহর কাছে তাদের জন্য সুপারিশ চাইতেন এবং নিজেরাও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। ফলে সুপারিশকারী এবং যার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে—উভয়েই আল্লাহর কাছে দুআ করতেন; যেমনটি বলেছিলেন

উমর বিন খাত্তাব: "হে আল্লাহ! আমরা যখন অনাবৃষ্টিতে ভুগতাম, তখন আমাদের নবীর মাধ্যমে আপনার কাছে অসিলা ধরতাম (অর্থাৎ তাঁকে দুআ করতে বলতাম), ফলে আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আমাদের নবীর চাচার মাধ্যমে আপনার কাছে অসিলা ধরছি, অতএব আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করুন।" (১)।

 

তিনি আরও বলেছেন: "কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে সাহায্য প্রার্থনাকারী তাঁর কাছে তার জন্য উপায়সমূহ (অসিলা) প্রার্থনা করে। আর যার মাধ্যমে অসিলা ধরা হয় (মুতাওয়াসসাল বিহি), তাকে ডাকা হয় না, তার কাছে কিছু চাওয়া হয় না এবং তার কাছে আবেদনও করা হয় না; বরং কেবল তার মাধ্যমে (আল্লাহর কাছে) চাওয়া হয়। প্রত্যেক ব্যক্তিই যাকে ডাকা হয় (মা’দু) এবং যার মাধ্যমে চাওয়া হয় (মা’দু বিহি)—এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।

আর ইস্তিগাসা হলো সাহায্য প্রার্থনা করা, তথা বিপদ দূর করার আবেদন; যেমন ইস্তিনসার হলো বিজয় প্রার্থনা করা এবং ইস্তিয়ানা হলো সহায়তা কামনা করা। সৃষ্টির কাছে এই বিষয়গুলোর মধ্য থেকে কেবল সেটুকুই চাওয়া যায়, যা করার সামর্থ্য সে রাখে …

আর কোনো বক্তার এই কথা যে: যে ব্যক্তি কোনো নবীর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে অসিলা ধরল এবং বলল: 'আমি আপনার রাসুলের মাধ্যমে আপনার কাছে অসিলা ধরছি', সে মূলত আরবি ভাষা ও সকল জাতির পরিভাষায় প্রকৃতপক্ষে তার রাসুলের কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করল—সে মূলত তাদের ওপর মিথ্যাচার করল। কেননা আদম সন্তানের কোনো ভাষাতেই এটি পরিচিত নয়। বরং সবাই জানে যে, যার কাছে সাহায্য চাওয়া হয় (মুস্তাগাস) সে হলো আহূত সত্তা, এবং তারা যার কাছে চাওয়া হয় (মাসউল) এবং যার মাধ্যমে চাওয়া হয় (মাসউল বিহি)—এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করে থাকে।"(২)।

 

তিনি আরও বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি কোনো নবী বা নেককার ব্যক্তির কবরে আসে—কিংবা এমন কোনো স্থানে যা নবী বা নেককার ব্যক্তির কবর বলে বিশ্বাস করা হয় অথচ বাস্তবে তা নয়—এবং সেখানে গিয়ে তার কাছে কিছু চায় বা সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে এর তিনটি পর্যায় রয়েছে:

প্রথমত: সে তার প্রয়োজনগুলো তার কাছেই চায়; যেমন তার কাছে আবেদন করে যেন সে তার রোগ বা তার গবাদি পশুর রোগ সারিয়ে দেয়, তার ঋণ পরিশোধ করে দেয়, শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়, কিংবা তাকে, তার পরিবারকে ও তার গবাদি পশুকে বিপদমুক্ত রাখে এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ব্যতীত আর কেউ করতে সক্ষম নয়। এটি স্পষ্ট শিরক, এর কর্তাকে তওবা করতে বলা ওয়াজিব; যদি সে তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।

আর যদি সে বলে: 'আমি তার কাছে এই জন্য চাইছি যেহেতু সে আমার চেয়ে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী, যাতে সে আমার জন্য এই বিষয়গুলোতে সুপারিশ করে; কারণ আমি তার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে অসিলা ধরছি যেমন বাদশাহর নিকটাত্মীয় ও সহযোগীদের মাধ্যমে অসিলা ধরা হয়'—তবে এটি মুশরিক ও নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) কর্ম। কেননা তারা দাবি করে যে, তারা তাদের পাদ্রি ও সন্ন্যাসীদের সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের মাধ্যমে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলে সুপারিশ কামনা করে। একইভাবে আল্লাহ মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা বলেছিল: {আমরা তাদের ইবাদত এই জন্যই করি যাতে তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়}। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তবে কি তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে? আপনি বলুন, তাদের যদি কোনো ক্ষমতা না থাকে এবং তারা যদি কিছুই না বোঝে তবুও কি (তারা সুপারিশ করবে)? আপনি বলুন, সকল সুপারিশ আল্লাহরই মালিকানাধীন, আসমান ও জমিনের রাজত্ব তাঁরই}"(৩)।

 

তিনি আরও বলেছেন: "এবং আদম সন্তানের মধ্যে শিরকের প্রাদুর্ভাব অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুটি মূল উৎস থেকে ঘটে থাকে:

প্রথমত: নেককার লোকদের কবরের প্রতি অতিভক্তি প্রদর্শন এবং বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে তাদের প্রতিমূর্তি তৈরি করা। মানুষের মধ্যে শিরকি বিদআত সৃষ্টির এটাই ছিল প্রথম কারণ এবং এটিই ছিল নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের শিরক …

দ্বিতীয় কারণ: নক্ষত্র পূজা …"(৪)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ১০৮ - ১১২)।

(২) মাজমুউল ফাতাওয়া (১/ ১০৩ - ১০৪)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (২৭/ ৭২)।

(৪) আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যীন (পৃষ্ঠা: ২৮৫ - ২৮৬) দারুল মা’রিফাহ - বৈরুত।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال أيضًا: "فليس في علماء المسلمين من يقول إنه يستغاث بالمخلوق في كل ما يستغاث الله فيه، ولا من يقول إن الميت يستغاث به في كل ما يستغاث بالله فيه.

بل قول القائل: إن الأمور التي لا يقدر عليها إلا الله تعالى لا تُطلب إلا منه، متفق عليه بين علماء المسلمين، وما علمت إلى ساعتي هذه أحدا من علماء المسلمين الذين يستحقون الإفتاء نازع في هذا، بل ثبت عندي عن عامة من بلغني كلامه من علماء المسلمين الموافقة على هذا، وإنما عُرف نزاع بعضهم في السؤال به.

وأما الشيوخ الذين يسألون الميت فهؤلاء ليس فيهم أحد ممن يرجع المسلمون إلى فتياه، وإنما فعلوا نظيره، والفقيه قد يفعل شيئا على العادة وإذا قيل له: هذا من الدين؟ لم يمكنه أن يقول ذلك، ولهذا قال بعض السلف: لا ينظر إلى عمل الفقيه ولكن سله يصدقك"(1).

 

وقال أيضًا: "فإنا بعد معرفة ما جاء به الرسول نعلم بالضرورة انه لم يشرع لأمته أن تدعو أحدًا من الأموات لا الأنبياء ولا الصالحين ولا غيرهم لا بلفظ الاستغاثة ولا بغيرها، ولا بلفظ الاستعاذة ولا بغيرها، كما أنه لم يشرع لأمته السجود لميت ولا لغير ميت ونحو ذلك، بل نعلم أنه نهى عن كل هذه الأمور، وأن ذلك من الشرك الذي حرمه الله تعالى ورسوله، لكن لغلبة الجهل وقلة العلم بآثار الرسالة في كثير من المتأخرين لم يكن تكفيرهم بذلك حتى يتبين لهم ما جاء به الرسول

صلى الله عليه وسلم مما يخالفه، ولهذا ما بيَّنت هذه المسألة قط لمن يعرف أصل الإسلام إلا تفطّن، وقال: هذا أصل دين الإسلام، وكان بعض الأكابر من الشيوخ العارفين من أصحابنا يقول: هذا أعظم ما بيّنته لنا لعلمه بأنّ هذا أصل الدين"(2).

وقال أيضًا: "فأمَّا [ما] يُسمِّيه كثيرٌ من الناس زيارةً هي من جنس الإشراكِ بالله وعبادة غيرهِ، مثل السجود لبعض المقابر التي يُقال إنها من قبور الأنبياء والصالحين وأهل البيت أو غيرهم ويسمُّونها المشاهد، أو الاستعانة بالمقبور ودعائِه ومسألتِه قريبًا من قبره أو بعيدًا منه مثل ما يفعل كثير من الناس، فهذا كلُّه من أعظم المحرَّمات بإجماع المسلمين، وهو من جنس الإشراك بالله تعالى، فإن المسلمين متفقون على أنه لا يجوز لأحدٍ أن يدعوَ أحدًا ويتوكَلَ عليه ويرغبَ إليه في المغفرة والرحمةِ وتفريج الكُرباتِ وإعطاءِ الطلباتِ إلا الله وحده لا شريك له"(3).

--------------------------------------------

(1) الرد على البكري (2/ 595 - 596).

(2) المصدر السابق (2/ 731).

(3) جامع المسائل (3/ 37 - 38) تحقيق: محمد عزير شمس، دار عالم الفوائد.
তিনি আরও বলেছেন: "মুসলিম আলেমদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি বলেন যে, সৃষ্টির কাছে সেই সব বিষয়ে সাহায্য চাওয়া যাবে যেগুলোতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়, আর এমন কেউও নেই যিনি বলেন যে, মৃত ব্যক্তির কাছে সেই সব বিষয়ে সাহায্য চাওয়া যাবে যেগুলোতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়।

বরং কোনো বক্তার এই কথা যে: 'যেসব বিষয় মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সক্ষম নয়, তা কেবল তাঁর কাছেই চাইতে হবে'—এটি মুসলিম আলেমদের মধ্যে সর্বসম্মত বিষয়। আমি এই মুহূর্ত পর্যন্ত ফতোয়া প্রদানের যোগ্য মুসলিম আলেমদের মধ্যে কাউকে জানি না যিনি এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন; বরং আমার কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, যেসব মুসলিম আলেমের বক্তব্য আমার কাছে পৌঁছেছে তাদের সকলেই এ বিষয়ে একমত। তবে তাদের কারো কারো দ্বিমত কেবল তাঁর (নবী বা নেককার লোকের) উসিলায় প্রার্থনা করার বিষয়ে জানা গেছে।

আর ঐসব শায়খ যারা মৃত ব্যক্তির কাছে প্রার্থনা করে, তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার ফতোয়ার ওপর মুসলমানরা নির্ভর করে। তারা কেবল এর অনুরূপ কাজ করেছে। ফকিহ ব্যক্তি কখনো অভ্যাসবশত কোনো কাজ করতে পারেন, কিন্তু তাকে যখন বলা হয়: 'এটি কি দ্বীনের অংশ?' তখন তিনি তা বলতে পারেন না। এজন্যই সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন: 'ফকিহের কাজের দিকে তাকাবে না, বরং তাকে জিজ্ঞেস করো, সে তোমাকে সত্য বলবে'।"(১)।

 

তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই রাসূল (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তা জানার পর আমরা আবশ্যিকভাবে জানি যে, তিনি তাঁর উম্মতের জন্য মৃত ব্যক্তিদের ডাকার বিধান দেননি—চাই তারা নবী হোন বা নেককার লোক বা অন্য কেউ। সাহায্য চাওয়ার শব্দের মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে, কিংবা আশ্রয় চাওয়ার শব্দের মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে। যেমন তিনি তাঁর উম্মতের জন্য মৃত বা জীবিত কাউকেই সিজদা করার বিধান দেননি এবং এই জাতীয় কোনো কাজও। বরং আমরা জানি যে, তিনি এই সব কাজ থেকে নিষেধ করেছেন এবং এগুলো শিরকের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন। কিন্তু পরবর্তীকালের অনেকের মধ্যে অজ্ঞতার আধিক্য এবং রিসালাতের নিদর্শনের জ্ঞান কম হওয়ার কারণে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার বিপরীতে তাদের এসব কাজের জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কাফের বলা যাবে না যতক্ষণ না তাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

এই কারণেই, যখনই আমি ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে অবগত কারো কাছে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছি, তখনই সে বিষয়টি উপলব্ধি করেছে এবং বলেছে: 'এটিই ইসলামের দ্বীনের মূলনীতি'। আমাদের সাথীদের মধ্যে বড় বড় জ্ঞানী শায়খদের কেউ কেউ বলতেন: 'এটি আপনার আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করা শ্রেষ্ঠ বিষয়', কারণ তারা জানতেন যে এটিই দ্বীনের মূলনীতি"(২)।

তিনি আরও বলেছেন: "তবে অনেকে যাকে 'জিয়ারত' বলে অভিহিত করে তা মূলত আল্লাহর সাথে শিরক এবং অন্য কিছুর ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন কিছু কবরে সিজদা করা যেগুলোকে বলা হয় নবী, নেককার লোক, আহলে বাইত বা অন্য কারো কবর এবং তারা সেগুলোকে 'মাশহাদ' (মাজার) বলে ডাকে; অথবা কবরে শায়িত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, তাকে ডাকা এবং তার কাছে কিছু চাওয়া—হোক তা কবরের নিকটবর্তী হয়ে বা দূর থেকে, যেমনটি অনেক মানুষ করে থাকে। এই সব কাজ মুসলিমদের ঐক্যমতে কঠোরতম হারামের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি মহান আল্লাহর সাথে শিরকের প্রকারভেদ। কেননা মুসলমানরা এ বিষয়ে একমত যে, একমাত্র শরীকহীন আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ডাকা, তাঁর ওপর ভরসা করা এবং ক্ষমা, রহমত, বিপদমুক্তি ও মনের আশা পূরণের জন্য কারো প্রতি লালায়িত হওয়া জায়েজ নয়"(৩)।

--------------------------------------------

(১) আর-রাদ্দু আলাল বাকরি (২/ ৫৯৫ - ৫৯৬)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (২/ ৭৩১)।

(৩) জামেউল মাসায়েল (৩/ ৩৭ - ৩৮) তাহকিক: মুহাম্মদ উজাইর শামস, দার আলামিল ফাওয়াইদ।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال أيضًا: "من استغاث بميِّتٍ أو غائب من البشر بحيثُ يدعوهُ في الشدائدِ والكُرُبات، ويَطلُب منه قضاءَ الحوائج، فيقول: يا سيِّدي الشيخ فلان أنا في حسبك وجِوارِك. أو يقول عند هجوم العدوِّ عليه: يا سيِّدي فلان! يَستوحِيْه ويَستغيثُ به. أو يقول ذلك عند مرضِه وفقرِه وغيرِ ذلك من حاجاتِه، فإن هذا ضالٌّ جاهلٌ مشركٌ عاصٍ لله باتفاقِ المسلمين، فإنهم متفقون على أن الميت لا يُدعَى ولا يُطلَب منه شيء، سواءٌ كان نبيًّا أو شيخًا أو غيرَ ذلك"(1).

وقال أيضًا: "فبيَّن سبحانه أن اتخاذ الملائكة والنبيين أربابًا كفرٌ، وهذا إنما كان بدعائهم من دون الله، لا بأنهم اعتقدوا أنهم شاركوه في خلق السماوات والأرض، فإنّ هذا لم يَقُلْه أحدٌ.

ولهذا قال عن النصارى: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهاً وَاحِداً لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ}.

فبيَّن أنّ النصارى مشركون من حيث اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أربابًا من دون الله والمسيحَ ابن مريم، ولم يقل أحد من النصارى إن الأحبار والرهبان شاركتِ الله في خلق السماوات والأرض"(2).

 

وقال أيضًا: "والمشركون الذين كفَّرهم رسولُ الله صلى الله عليه وسلم وقاتَلَهم واستباحَ دماءَهم وأموالَهم من العرب لم يكونوا يقولون: إنَّ آلهتَهم شاركتِ اللهَ في خلق السماوات والأرض والعالم، بل كانوا يُقِرُّون بأن الله وحدَه خالق السماوات والأرض والعالم، كما قال الله تعالى {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ}، وقال تعالى: {قُلْ لِمَنِ الْأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ} الآيات إلى قوله {تُسْحَرُونَ} وقد قال تعالى: {وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُمْ بِاللَّهِ إِلَّا وَهُمْ مُشْرِكُونَ}.

قال طائفة من السلف: يسألهم مَن خلق السماوات والأرض؟ فيقولون: الله، وهم يعبدون غيره.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (3/ 145 - 146).

(2) المصدر السابق (3/ 148).
তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মৃত বা অনুপস্থিত মানুষের কাছে এমনভাবে সাহায্য প্রার্থনা করে যে, সে তাকে বিপদ-আপদে ডাকে এবং তার কাছে প্রয়োজন পূরণের আবেদন জানায়, আর বলে: হে আমার সরদার অমুক শেখ! আমি আপনার আশ্রয়ে ও রক্ষণাবেক্ষণে আছি। অথবা শত্রুর আক্রমণের সময় বলে: হে আমার সরদার অমুক! সে তার কাছে ফরিয়াদ করে এবং সাহায্য চায়। অথবা তার অসুস্থতা, দারিদ্র্য এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রয়োজনে এমনটি বলে, তবে সে মুসলিমদের সর্বসম্মত মতে একজন পথভ্রষ্ট, মূর্খ, মুশরিক এবং আল্লাহর অবাধ্য। কেননা তারা এ বিষয়ে একমত যে, মৃত ব্যক্তিকে ডাকা যাবে না এবং তার কাছে কিছু চাওয়া যাবে না, চাই তিনি নবী হোন বা শেখ হোন বা অন্য কেউ।"(১).

তিনি আরও বলেছেন: "অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, ফেরেশতা ও নবীদের রব হিসেবে গ্রহণ করা কুফরি। এটি কেবল আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের ডাকার কারণেই হয়েছিল; এমনটি নয় যে তারা বিশ্বাস করত যে তারা আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে আল্লাহর অংশীদার ছিল। কেননা এটি কেউ বলেনি।

এ কারণেই তিনি খ্রিস্টানদের সম্পর্কে বলেছেন: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের এবং মরিয়ম-তনয় মাসীহকে রবরূপে গ্রহণ করেছে। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তারা যে শিরক করে, তিনি তা থেকে পবিত্র}।

অতএব তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, খ্রিস্টানরা মুশরিক এ কারণে যে, তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের এবং মরিয়ম-তনয় মাসীহকে রবরূপে গ্রহণ করেছে। খ্রিস্টানদের কেউ এ কথা বলেনি যে, পন্ডিত ও সংসারবিরাগীরা আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে আল্লাহর সাথে অংশীদার ছিল"(২).

 

তিনি আরও বলেছেন: "আরবদের মধ্য থেকে যে মুশরিকদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাফের ঘোষণা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন এবং তাদের জান ও মাল বৈধ করেছেন, তারা এ কথা বলত না যে: তাদের উপাস্যরা আসমান, জমিন ও জগত সৃষ্টিতে আল্লাহর সাথে অংশীদার ছিল। বরং তারা স্বীকার করত যে, আল্লাহ একাই আসমান, জমিন ও জগতের স্রষ্টা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে (আল্লাহ)}। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, পৃথিবী এবং এতে যারা আছে তারা কার? যদি তোমরা জান। তারা বলবে— আল্লাহর।} আয়াতসমূহ হতে তাঁর বাণী {তোমরা জাদুকবলিত হচ্ছ} পর্যন্ত। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তাদের অধিকাংশ আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, তবে শিরক করা অবস্থায়}।

সালাফদের একদল বলেছেন: তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় আসমান ও জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? তারা বলে: আল্লাহ, অথচ তারা অন্য কারো ইবাদত করে।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ১৪৫ - ১৪৬)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ১৪৮)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২২)
وإنما كانت عبادتهم إيَّاهم أنهم يدعونهم ويتخذونهم وسائطَ ووسائلَ وشُفعاءَ لهم، فمن سلكَ هذا السبيلَ فهو مشرك بحسب ما فيه من الشرك.

وهذا الشركُ إذا قامت على الإنسان الحجةُ فيه ولم يَنتهِ، وَجَبَ قتلُه كقتلِ أمثالِه من المشركين، ولم يُدفَنْ في مقابرِ المسلمين، ولم يُصَلَّ عليه.

وإمَّا إذا كان جاهلاً لم يَبلُغْه العلمُ، ولم يَعرِف حقيقةَ الشرك الذي قاتلَ عليه النبي صلى الله عليه وسلم المشركين، فإنه لا يُحكَم بكُفْرِه، ولا سِيَّما وقد كَثُر هذا الشركُ في المنتسبين إلى الإسلام.

ومن اعتقدَ مثلَ هذا قُربةً وطاعةً فإنه ضَالٌّ باتفاقِ المسلمين، وهو بعد قيامِ الحجة كافر.

والواجبُ على المسلمين عمومًا وعلى وُلاةِ الأمور خصوصًا النهيُ عن هذه الأمور، والزَّجْرُ عنها بكلِّ طريق، وعقوبةُ مَن لم ينتهِ عن ذلك العقوبةَ الشرعيةَ، والله أعلم"(1).

 

وقال أيضًا: "وأما قول القائل: إذا عثر يا جاه محمد، يا للست نفيسة، أو يا سيدي الشيخ فلان أو نحو ذلك مما فيه استغاثته وسؤاله، فهو من المحرمات، وهو من جنس الشرك، فإن الميت سواء كان نبيًا أو غير نبي لا يدعى ولا يسأل ولا يستغاث به لا عند قبره ولا مع البعد من قبره، بل هذا من جنس دين النصارى الذين اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أربابا من دون الله""(2).

وقال أيضًا: "والأعمى كان قد طلب من النبي صلى الله عليه وسلم أن يدعو له كما طلب الصحابة منه الاستسقاء.

وقوله: «أتوجه إليك بنبيك محمد نبي الرحمة»، أي بدعائه وشفاعته لي، ولهذا تمام الحديث: «اللهم فشفعه فيَّ»، فالذي في الحديث متفق على جوازه، وليس هو مما نحن فيه"(3).

 

وقال أيضًا: "وكذلك حديث الأعمى فإنه طلب من النبي صلى الله عليه وسلم أن يدعو له ليردّ الله عليه بصره، فعلمه النبي صلى الله عليه وسلم دعاء أمره فيه أن يسأل الله قبول شفاعة نبيه فيه، فهذا يدل على أن النبي صلى الله عليه وسلم شفع فيه، وأمره أن يسأل الله قبول شفاعته، وأن قوله: «أسألك وأتوجه إليك بنبيك محمد نبي الرحمة» أي بدعائه وشفاعته كما قال عمر: «كنا نتوسل إليك بنبينا» فلفظ التوجه والتوسل في الحديثين بمعنى واحد، ثم قال: «يا محمد يا رسول الله إني أتوجه بك إلى ربي في حاجتي ليقضيها، اللهم فشفّعه فيّ» فطلب من الله أن يشفع فيه نبيه.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (3/ 150 - 151).

(2) مجموع الفتاوى (27/ 145).

(3) التوسل والوسيلة (1/ 300).
তাদের উপাসনা ছিল মূলত তাদেরকে ডাকা এবং তাদেরকে মাধ্যম, অসিলা ও সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করা; সুতরাং যে ব্যক্তি এই পথ অবলম্বন করবে, সে তার মধ্যে বিদ্যমান শিরকের পরিমাণ অনুযায়ী মুশরিক বলে গণ্য হবে।

আর যখন কোনো মানুষের ওপর এই শিরকের বিষয়ে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সে তা থেকে বিরত হবে না, তখন অন্যান্য মুশরিকদের ন্যায় তাকেও হত্যা করা ওয়াজিব হয়ে যাবে, তাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হবে না এবং তার জানাজার নামাজ পড়া হবে না।

পক্ষান্তরে যদি সে অজ্ঞ হয়, যার কাছে জ্ঞান পৌঁছেনি এবং সে ওই শিরকের হাকিকত সম্পর্কে অবগত নয় যে শিরকের কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, তবে তাকে কাফির হিসেবে গণ্য করা হবে না; বিশেষ করে যেহেতু ইসলামে বিশ্বাসী দাবিদারদের মাঝে এই শিরক অধিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর যে ব্যক্তি এই জাতীয় কাজকে নৈকট্য লাভের মাধ্যম ও আনুগত্য বলে বিশ্বাস করবে, সে সকল মুসলিমের ঐকমত্যে ভ্রষ্ট; আর প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর সে কাফির হিসেবে গণ্য হবে।

সাধারণ মুসলিমদের ওপর এবং বিশেষ করে শাসকদের ওপর আবশ্যক হলো এই সব কাজ থেকে নিষেধ করা, প্রতিটি উপায়ে তা থেকে কঠোরভাবে বারণ করা এবং যে ব্যক্তি এ থেকে বিরত হবে না তাকে শরিয়তসম্মত শাস্তি প্রদান করা। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন"(১)।

 

তিনি আরও বলেন: "আর কোনো ব্যক্তির এ কথা বলা: বিপদে পড়ে যদি বলে 'হে মুহাম্মাদের মর্যাদা', 'হে সায়্যিদা নাফীসা' কিংবা 'হে আমার নেতা অমুক শায়খ' অথবা এই জাতীয় যা কিছু আছে যাতে তাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা ও আরজি পেশ করা হয়, তবে তা হারাম কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত এবং তা শিরকের পর্যায়ভুক্ত। কেননা মৃত ব্যক্তি চাই সে নবী হোক বা অন্য কেউ, তাকে ডাকা যাবে না, তার নিকট কিছু চাওয়া যাবে না এবং তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা যাবে না—তার কবরের নিকট হোক কিংবা কবর থেকে দূরে। বরং এটি নাসারাদের ধর্মের পর্যায়ভুক্ত যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আলেম ও ধর্মযাজকদের প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করেছিল"(২)।

তিনি আরও বলেন: "আর অন্ধ ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তার জন্য দোয়া করার অনুরোধ করেছিলেন, যেমনটি সাহাবীগণ তাঁর নিকট বৃষ্টির দোয়া করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

আর তাঁর উক্তি: «আমি আপনার করুণার নবী মুহাম্মাদের অসিলায় আপনার দিকে মুখ ফিরাচ্ছি», অর্থাৎ তাঁর দোয়া ও আমার জন্য তাঁর সুপারিশের মাধ্যমে; এই কারণেই হাদিসের পরবর্তী অংশ হলো: «হে আল্লাহ, আমার ব্যাপারে তাঁর সুপারিশ কবুল করুন», সুতরাং হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে তা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত, এবং এটি সেই বিষয় নয় যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি"(৩)।

 

তিনি আরও বলেন: "একইভাবে অন্ধ ব্যক্তির হাদিসটিও, কারণ সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দোয়া চেয়েছিল যেন আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে একটি দোয়া শিখিয়েছিলেন যাতে তিনি তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন সে আল্লাহর নিকট তার নবীর সুপারিশ কবুল করার প্রার্থনা করে। এটি প্রমাণ করে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জন্য সুপারিশ করেছিলেন এবং তিনি তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আল্লাহর নিকট তাঁর সুপারিশ কবুলের প্রার্থনা করতে। আর তার উক্তি: «আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি এবং আপনার করুণার নবী মুহাম্মাদের অসিলায় আপনার দিকে মুখ ফিরাচ্ছি» অর্থাৎ তাঁর দোয়া ও সুপারিশের মাধ্যমে, যেমনটি উমর (রা.) বলেছিলেন: «আমরা আপনার নিকট আমাদের নবীর অসিলায় মাধ্যম গ্রহণ করতাম»। সুতরাং উভয় হাদিসে মুখ ফিরানো এবং অসিলা গ্রহণ শব্দ দুটি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এরপর তিনি বলেন: «হে মুহাম্মাদ, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার মাধ্যমে আমার রবের নিকট আমার প্রয়োজনে মুখ ফিরাচ্ছি যেন তিনি তা পূর্ণ করে দেন; হে আল্লাহ, আমার ব্যাপারে তাঁর সুপারিশ কবুল করুন»। এখানে সে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছে যেন তাঁর নবী তার জন্য সুপারিশ করেন।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (৩/ ১৫০ - ১৫১)।

(২) মাজমুউ ফাতাওয়া (২৭/ ১৪৫)।

(৩) আত-তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলা (১/ ৩০০)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقوله: «يا محمد يا نبي الله» هذا وأمثاله نداء يُطلب به استحضار المنادَى في القلب، فيخاطب لشهوده بالقلب كما يقول المصلي: السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته، والإنسان يفعل مثل هذا كثيرا يخاطب من يتصورّه في نفسه وإن لم يكن في الخارج من يسمع الخطاب، فلفظ التوسل بالشخص والتوجه به والسؤال به فيه إجمال واشتراك غلط بسببه من لم يفهم مقصود الصحابة"(1).

 

• وقال‌‌ الحافظ ابن عبد الهادي (المتوفى:744): "ولو جاء إنسان إلى سرير الميت يدعوه من دون الله ويستغيث به كان هذا شركاً محرماً بإجماع المسلمين"(2).

وقال أيضًا: "وأما دعاؤه [أي: رسول الله] هو وطلب استغفاره وشفاعته بعد موته، فهذا لم ينقل عن أحد من أئمة المسلمين لا من الأئمة الأربعة ولا غيرهم، بل الأدعية التي ذكروها خالية من ذلك"(3).

 

وقال أيضًا: "وقوله [أي: السبكي]: إن المبالغة في تعظيمه واجبة - أيريد بها المبالغة بحسب ما يراه كل أحد تعظيماً حتى الحج إلى قبره والسجود له والطواف به، واعتقاد أنه يعلم الغيب، وأنه يعطي ويمنع، ويملك لمن استغاث به من دون الله الضر والنفع، وأنه يقضي حوائج السائلين ويفرج كربات المكروبين، وأنه يشفع فيمن يشاء ويدخل الجنة من يشاء، فدعوى وجوب المبالغة في هذا التعظيم مبالغة في الشرك وانسلاخ من جملة الدين"(4).

 

• وقال‌‌ العلامة أبو حيان الأندلسي (المتوفى: 745 هـ) عند تفسير قوله تعالى: {وَجَاءَهُمُ الْمَوْجُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ}: "ومعنى الإخلاص إفراده بالدعاء من غير إشراك أصنام ولا غيرها، قال معناه ابن عباس وابن زيد"(5).

 

• وقال‌‌ الحافظ أبو عبد الله الذهبي [المتوفى: 748) في ترجمة السيدة نفيسة بنت أمير المؤمنين الحسن بن زيد بن الحسن بن علي رضي الله عنهما: "ولجَهَلَة المصريين فيها اعتقاد يتجاوز الوصف، ولا يجوز مما فيه من الشرك، ويسجدون لها، ويلتمسون منها المغفرة، وكان ذلك من دسائس دعاة العبيدية"(6).

--------------------------------------------

(1) اقتضاء الصراط (ص: 415).

(2) الصارم المنكي في الرد على السبكي (ص: 325) مؤسسة الريان - بيروت.

(3) المصدر السابق (ص: 136).

(4) المصدر السابق (ص: 346).

(5) البحر المحيط (5/ 120) دار الفكر.

(6) سير أعلام النبلاء (10/ 106) مؤسسة الرسالة - بيروت.
এবং তার উক্তি: «হে মুহাম্মদ, হে আল্লাহর নবী» - এটি এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো এমন এক আহ্বান যার মাধ্যমে অন্তরে যাকে ডাকা হচ্ছে তাকে উপস্থিত করা চাওয়া হয়, ফলে হৃদয়ে তার উপস্থিতির কারণে তাকে সম্বোধন করা হয় যেমনটি মুসল্লি বলে থাকে: আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে নবী এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকতসমূহ। মানুষ এমনটি প্রায়ই করে থাকে যে সে যাকে নিজের মনে কল্পনা করে তাকে সম্বোধন করে, যদিও বাস্তবে সেখানে এমন কেউ না থাকে যে সেই সম্বোধন শুনছে। সুতরাং কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে উসিলা ধরা, তার প্রতি মনোনিবেশ করা এবং তার উসিলায় প্রার্থনা করার শব্দগুলোর মধ্যে অস্পষ্টতা ও বহু অর্থবোধকতা রয়েছে, যার কারণে সাহাবীগণের উদ্দেশ্য বুঝতে না পেরে অনেকে ভুল করেছেন।(১).

 

• এবং হাফেজ ইবনুল আব্দুল হাদী (মৃত্যু: ৭৪৪) বলেছেন: "যদি কোনো ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির খাটের পাশে এসে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাকে ডাকে এবং তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তবে তা মুসলিমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (ইজমা) একটি হারাম শিরক হবে।"(২).

তিনি আরও বলেছেন: "আর তাঁর [অর্থাৎ: রাসূলুল্লাহর] কাছে দোয়া করা এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও সুপারিশ চাওয়া - এটি মুসলিমদের ইমামগণের কারো থেকেই বর্ণিত হয়নি, না চার ইমামের পক্ষ থেকে আর না অন্য কারো পক্ষ থেকে। বরং তাঁরা যে সকল দোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তা এসব থেকে মুক্ত।"(৩).

 

তিনি আরও বলেছেন: "এবং তাঁর [অর্থাৎ: সুবকির] উক্তি: 'তাঁর সম্মান প্রদর্শনে অতিরঞ্জন করা ওয়াজিব' - তিনি কি এর দ্বারা সেই অতিরঞ্জন বুঝিয়েছেন যা প্রত্যেকে নিজের বিবেচনায় সম্মান মনে করে? এমনকি তাঁর কবরে হজ করা, তাঁকে সেজদা করা, তাঁর কবর তওয়াফ করা এবং এই বিশ্বাস রাখা যে তিনি গায়েব জানেন, তিনি দান করেন ও বারণ করেন, আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে যারা তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে তিনি তাদের জন্য অপকার ও উপকারের মালিক হন, আর তিনি যাঞ্চাকারীদের প্রয়োজন পূরণ করেন ও বিপদগ্রস্তদের দুঃখ দূর করেন, এবং তিনি যার জন্য ইচ্ছা সুপারিশ করেন ও যাকে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করান - তবে এই সম্মান প্রদর্শনে অতিরঞ্জনের দাবিটি হলো শিরকের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন এবং সামগ্রিকভাবে দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়া।"(৪).

 

• এবং আল্লামা আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত্যু: ৭৪৫ হিজরি) মহান আল্লাহর বাণী: {এবং সব দিক থেকে তাদের কাছে ঢেউ এল এবং তারা মনে করল যে তারা পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে, তখন তারা আল্লাহকে ডাকল তাঁর জন্য আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে} - এর তাফসিরে বলেন: "ইখলাস বা একনিষ্ঠতার অর্থ হলো প্রতিমা বা অন্য কাউকে শরিক না করে কেবল আল্লাহকেই ডাকার জন্য নির্দিষ্ট করা। ইবনে আব্বাস ও ইবনে যায়েদ এর এরূপ অর্থ বর্ণনা করেছেন।"(৫).

 

• এবং হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আয-যাহাবি (মৃত্যু: ৭৪৮) আমিরুল মুমিনীন হাসান ইবনে যায়েদ ইবনে হাসান ইবনে আলীর কন্যা সাইয়্যেদা নাফিসার (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) জীবনীতে বলেন: "মিসরের মূর্খদের মাঝে তাকে নিয়ে এমন বিশ্বাস রয়েছে যা বর্ণনাতীত। আর শিরক হওয়ার কারণে এর অনেক কিছুই বৈধ নয়। তারা তাকে সেজদা করে এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এটি ছিল উবায়দিয়া দাঈদের ষড়যন্ত্রের ফসল।"(৬).

--------------------------------------------

(১) ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (পৃষ্ঠা: ৪১৫)।

(২) আস-সারিমুল মুনকি ফির রাদ্দি আলাস সুবকি (পৃষ্ঠা: ৩২৫) মুআসসাসাতুর রায়য়ান - বৈরুত।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ১৩৬)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (পৃষ্ঠা: ৩৪৬)।

(৫) আল-বাহরুল মুহিত (৫/১২০) দারুল ফিকর।

(৬) সিয়ারু আলামিন নুবালা (১০/১০৬) মুআসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
• وقال‌‌ الحافظ ابن القيم (المتوفى: 751): "ومن أنواعه [أي: الشرك] طلب الحوائج من الموتى، والاستغاثة بهم، والتوجه إليهم.

وهذا أصل شرك العالم، فإن الميت قد انقطع عمله، وهو لا يملك لنفسه ضرا ولا نفعا، فضلا عمن استغاث به وسأله قضاء حاجته، أو سأله أن يشفع له إلى الله فيها، وهذا من جهله بالشافع والمشفوع له عنده كما تقدم، فإنه لا يقدر أن يشفع له عند الله إلا بإذنه، والله لم يجعل استغاثته وسؤاله سببًا لإذنه، وإنما السبب لإذنه كمال التوحيد، فجاء هذا المشرك بسبب يمنع الإذن، وهو بمنزلة من استعان في حاجة بما يمنع حصولها، وهذه حالة كل مشرك، والميت محتاج إلى من يدعو له، ويترحم عليه، ويستغفر له، كما أوصانا النبي صلى الله عليه وسلم إذا زرنا قبور المسلمين أن نترحم عليهم، ونسأل لهم العافية والمغفرة، فعكس المشركون هذا، وزاروهم زيارة العبادة، واستقضاء الحوائج، والاستغاثة بهم، وجعلوا قبورهم أوثانًا تعبد، وسموا قصدها حجّا، واتخذوا عندها الوقفة وحلق الرأس"(1).

وقال أيضًا: "ومن المحال أن يكون دعاء الموتى أو الدعاء بهم أو الدعاء عندهم مشروعًا وعملاً صالحًا ويصرف عنه القرون الثلاثة المفضلة بنص رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم يرزقه الخلوف الذين يقولون ما لا يفعلون ويفعلون ما لا يؤمرون.

فهذه سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم في أهل القبور بضعا وعشرين سنة حتى توفاه الله تعالى، وهذه سنة خلفائه الراشدين، وهذه طريقة جميع الصحابة والتابعين لهم بإحسان، هل يمكن بشر على وجه الأرض أن يأتي عن أحد منهم بنقل صحيح أو حسن أو ضعيف أو منقطع أنهم كانوا إذا كان لهم حاجة قصدوا القبور فدعوا عندها وتمسحوا بها فضلا أن يصلوا عندها أو يسألوا الله بأصحابها أو يسألوهم حوائجهم، فليوقفونا على أثر واحد أو حرف واحد في ذلك.

بلى يمكنهم أن يأتوا عن الخلوف التي خلفت بعدهم بكثير من ذلك، وكلما تأخر الزمان وطال العهد كان ذلك أكثر حتى لقد وُجد في ذلك عدة مصنفات ليس فيها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا عن خلفائه الراشدين ولا عن أصحابه حرف واحد من ذلك، بلى فيها من خلاف ذلك كثير كما قدمناه من الأحاديث المرفوعة"(2).

 

وقال أيضًا: "لا يجوز إبقاء مواضع الشرك والطواغيت بعد القدرة على هدمها وإبطالها يومًا واحدًا، فإنها شعائر الكفر والشرك، وهي أعظم المنكرات، فلا يجوز الإقرار عليها مع القدرة البتة، وهذا حكم المشاهد التي بُنيت على القبور التي اتخذت أوثانًا وطواغيت تعبد من دون الله، والأحجار التي تقصد للتعظيم والتبرك والنذر والتقبيل لا يجوز إبقاء شيء منها على وجه الأرض مع القدرة على إزالته، وكثير منها بمنزلة اللات والعزى، ومناة الثالثة الأخرى، أو أعظم شركا عندها، وبها، والله المستعان.

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين (1/ 353) دار الكتاب العربي- بيروت.

(2) إغاثة اللهفان (1/ 202 - 203) دار المعرفة - بيروت.
এবং হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম (মৃত্যু: ৭৫১ হি.) বলেন: "আর এর [অর্থাৎ: শিরকের] প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মৃতদের নিকট প্রয়োজন পূরণ চাওয়া, তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা এবং তাদের প্রতি অভিমুখী হওয়া।

আর এটিই হলো জগতের শিরকের মূল ভিত্তি। কেননা মৃত ব্যক্তির আমল (কর্ম) বন্ধ হয়ে গেছে; সে নিজের কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নয়, তবে তার কথা তো বলাই বাহুল্য যে তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তার নিকট নিজের প্রয়োজন পূরণের আবেদন জানায় অথবা তার নিকট আল্লাহর কাছে সুপারিশ করার প্রার্থনা করে। এটি সুপারিশকারী এবং কার জন্য সুপারিশ করা হবে সেই বিষয়ে তার অজ্ঞতারই বহিঃপ্রকাশ, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। কারণ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারবে না। আর আল্লাহ তায়ালা তার এই সাহায্য প্রার্থনা ও যাচনাকে সুপারিশের অনুমতির কারণ হিসেবে সাব্যস্ত করেননি; বরং অনুমতির কারণ হলো তাওহীদের পূর্ণতা। ফলে এই মুশরিক এমন একটি কারণ নিয়ে এসেছে যা অনুমতির ক্ষেত্রে অন্তরায়। তার অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যে কোনো প্রয়োজন পূরণে এমন বিষয়ের সাহায্য নিল যা সেই উদ্দেশ্য হাসিলে বাধা প্রদান করে। আর এটিই হলো প্রত্যেক মুশরিকের অবস্থা। অথচ মৃত ব্যক্তি এমন একজনের মুখাপেক্ষী যে তার জন্য দোয়া করবে, তার প্রতি রহমত কামনা করবে এবং ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, যখন আমরা মুসলিমদের কবর যিয়ারত করব তখন যেন তাদের জন্য রহমত কামনা করি এবং তাদের জন্য নিরাপত্তা ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। কিন্তু মুশরিকরা এর বিপরীত কাজ করল। তারা ইবাদতের উদ্দেশ্যে তাদের যিয়ারত করল, তাদের নিকট প্রয়োজন পূরণ চাইল, তাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল এবং তাদের কবরগুলোকে ইবাদতযোগ্য মূর্তিতে পরিণত করল। তারা সেখানে যাওয়ার নাম দিল ‘হজ’ এবং সেখানে অবস্থান (ওকুফ) ও মস্তক মুণ্ডনের নিয়ম চালু করল"(১)।

তিনি আরও বলেন: "এটি অসম্ভব যে মৃতদের ডাকা বা তাদের মাধ্যমে প্রার্থনা করা অথবা তাদের নিকট দোয়া করা শরীয়তসম্মত ও নেক আমল হবে, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী অনুযায়ী শ্রেষ্ঠ তিন প্রজন্মের লোকেরা তা থেকে বঞ্চিত থাকবে, আর পরবর্তীতে এমন এক উত্তরসূরি গোষ্ঠী তা লাভ করবে যারা যা বলে তা করে না এবং যা নির্দেশিত হয়নি তা পালন করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত দীর্ঘ বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে কবরবাসীদের ব্যাপারে তাঁর নীতি এমনই ছিল। এটিই ছিল তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত এবং সকল সাহাবী ও উত্তমরূপে তাদের অনুসারী তাবেয়ীদের পথ। পৃথিবীর বুকে কি এমন কোনো মানুষ আছে যে তাদের কারো পক্ষ থেকে কোনো সহীহ, হাসান, যয়ীফ কিংবা মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) সূত্রের কোনো বর্ণনা উপস্থাপন করতে পারবে যে, তাদের যখন কোনো প্রয়োজন দেখা দিত তখন তারা কবরের উদ্দেশ্যে রওনা হতেন এবং সেখানে দোয়া করতেন ও কবর স্পর্শ করতেন? সেখানে সালাত আদায় করা, কবরের বাসিন্দার উসিলায় আল্লাহর কাছে চাওয়া কিংবা সরাসরি তাদের কাছে প্রয়োজন পূরণ চাওয়ার বিষয়টি তো অনেক দূরের কথা। তারা যেন আমাদের সামনে এই বিষয়ে একটি মাত্র আসর (বর্ণনা) বা একটি অক্ষরও পেশ করে।

হ্যাঁ, তারা তাদের পরবর্তীকালের লোকদের থেকে এই ধরনের অনেক কিছুই আনতে পারবে। আর সময় যতই গড়িয়েছে এবং কাল অতিবাহিত হয়েছে, এই প্রবণতা ততই বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি এই বিষয়ে বেশ কিছু কিতাবও রচিত হয়েছে যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফায়ে রাশেদীন কিংবা সাহাবীদের থেকে এই বিষয়ে একটি অক্ষরও নেই। বরং সেখানে এর বিপরীত অনেক বর্ণনা রয়েছে যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে মারফু হাদিসসমূহ থেকে পেশ করেছি"(২)।

 

তিনি আরও বলেন: "শিরক ও তাগুতের স্থানগুলো ধ্বংস ও নির্মূল করার সক্ষমতা অর্জনের পর এক দিনের জন্যও টিকিয়ে রাখা জায়েয নয়। কারণ এগুলো কুফর ও শিরকের নিদর্শন এবং এগুলো সবচাইতে বড় গর্হিত কাজ (মুনকার)। সুতরাং সামর্থ্য থাকা অবস্থায় এগুলোকে বহাল রাখা কোনোভাবেই বৈধ নয়। আর কবরগুলোর উপর নির্মিত মাযারগুলোর বিধানও এটাই, যেগুলোকে আল্লাহ ছাড়া ইবাদতযোগ্য প্রতিমা ও তাগুতে পরিণত করা হয়েছে। আর যেসব পাথরকে সম্মান প্রদর্শন, বরকত লাভ, মানত এবং চুম্বনের উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো অপসারণের সক্ষমতা থাকলে জমিনের বুকে টিকিয়ে রাখা জায়েয নয়। এগুলোর অনেকগুলোই লাত, উজ্জা ও তৃতীয় আরেকটি মানাতের সমপর্যায়ভুক্ত, কিংবা এগুলোর নিকট ও এগুলোর মাধ্যমে সংঘটিত শিরক তার চাইতেও ভয়াবহ। আল্লাহই সাহায্যকারী।

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন (১/ ৩৫৩) দারুল কিতাবুল আরাবি- বৈরুত।

(২) ইগাসাতুল লাহফান (১/ ২০২ - ২০৩) দারুল মা'রিফাহ - বৈরুত।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
ولم يكن أحد من أرباب هذه الطواغيت يعتقد أنها تخلق وترزق وتميت وتحيي، وإنما كانوا يفعلون عندها وبها ما يفعله إخوانهم من المشركين اليوم عند طواغيتهم، فاتّبع هؤلاء سنن من كان قبلهم، وسلكوا سبيلهم حذو القذة بالقذة، وأخذوا مأخذهم شبرا بشبر وذراعا بذراع، وغلب الشرك على أكثر النفوس لظهور الجهل وخفاء العلم، فصار المعروف منكرًا، والمنكر معروفًا، والسنة بدعة والبدعة سنة، ونشأ في ذلك الصغير، وهرم عليه الكبير، وطمست الأعلام واشتدت غربة الإسلام، وقلّ العلماء وغلب السفهاء، وتفاقم الأمر واشتد البأس، وظهر الفساد في البر والبحر بما كسبت أيدي الناس"(1).

وقال أيضا: "وترى أحدهم قد اتخذ ذكر إلهه ومعبوده من دون الله على لسانه ديدنًا له إن قام وإن قعد، وإن عثر وإن مرض وإن استوحش، فذكْرُ إلهه ومعبوده من دون الله هو الغالب على قلبه ولسانه، وهو لا ينكر ذلك، ويزعم أنه باب حاجته إلى الله، وشفيعه عنده، ووسيلته إليه. وهكذا كان عباد الأصنام سواء، وهذا القدر هو الذي قام بقلوبهم، وتوارثه المشركون بحسب اختلاف آلهتهم، فأولئك كانت آلهتهم من الحجر، وغيرهم اتخذوها من البشر، قال الله تعالى حاكيا عن أسلاف هؤلاء المشركين {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاء مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ}، ثم شهد عليهم بالكفر والكذب، وأخبر أنه لا يهديهم فقال {إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ}.

فهذه حال من اتخذ من دون الله وليًا، يزعم أنه يقربه إلى الله، وما أعز من يخلص من هذا؟ بل ما أعز من لا يعادي من أنكره!

والذي في قلوب هؤلاء المشركين وسلفهم أن آلهتهم تشفع لهم عند الله، وهذا عين الشرك، وقد أنكر الله عليهم ذلك في كتابه وأبطله، وأخبر أن الشفاعة كلها له، وأنه لا يشفع عنده أحد إلا لمن أذن الله أن يشفع فيه، ورضي قوله وعمله، …

وترى المشرك يكذب حالُه وعملُه قولَه، فإنه يقول: لا نحبهم كحب الله، ولا نسويهم بالله، ثم يغضب لهم ولحرماتهم - إذا انتهكت - أعظم مما يغضب لله، ويستبشر بذكرهم، ويتبشبش به، سيما إذا ذُكر عنهم ما ليس فيهم من إغاثة اللهفات، وكشف الكربات، وقضاء الحاجات، وأنهم الباب بين الله وبين عباده، فإنك ترى المشرك يفرح ويسر ويحنّ قلبه، وتهيج منه لواعج التعظيم والخضوع لهم والموالاة، وإذا ذَكرت له الله وحده، وجردت توحيده لحقته وحشة، وضيق، وحرج، ورماك بنقص الإلهية التي له، وربما عاداك.

رأينا والله منهم هذا عيانا، ورمونا بعداوتهم، وبغوا لنا الغوائل، والله مخزيهم في الدنيا والآخرة، ولم تكن حجتهم إلا أن قالوا كما قال إخوانهم: عاب آلهتنا، فقال هؤلاء: تنقصتم مشايخنا، وأبواب حوائجنا إلى الله، وهكذا قال النصارى للنبي صلى الله عليه وسلم، لما قال لهم: إن المسيح عبد الله، قالوا: تنقصت المسيح وعِبْتَه، وهكذا قال أشباه المشركين لمن منع اتخاذ القبور أوثانا تعبد، ومساجد تقصد، وأمر بزيارتها على الوجه الذي أذن الله فيه ورسوله، قالوا: تنقصت أصحابها"(2).

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد (3/ 443) مؤسسة الرسالة - بيروت.

(2) مدارج السالكين (1/ 348 - 350).
"এই তাগুতসমূহের উপাসনাকারীদের কেউই বিশ্বাস করত না যে এগুলো সৃষ্টি করে, রিজিক দেয়, মৃত্যু ঘটায় বা জীবন দান করে। বরং বর্তমানের মুশরিক ভাইয়েরা তাদের তাগুতদের নিকট যা করছে, তারাও সেখানে এবং সেগুলোর মাধ্যমে ঠিক তাই করত। ফলে এরা তাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অনুসরণ করেছে এবং তাদের পথে হুবহু কদম মিলিয়ে চলেছে; বিঘতে বিঘতে এবং হাতে হাতে তাদের অনুকরণ করেছে। মূর্খতার প্রাদুর্ভাব এবং জ্ঞানের বিলুপ্তির কারণে অধিকাংশ অন্তরে শিরক বিজয়ী হয়েছে। ফলে পরিচিত সৎ কাজ অপরিচিত অসৎ কাজে পরিণত হয়েছে, আর অসৎ কাজ হয়েছে পরিচিত সৎ কাজ। সুন্নাহ হয়েছে বিদআত এবং বিদআত হয়েছে সুন্নাহ। এ অবস্থায় ছোটরা বেড়ে উঠেছে এবং বৃদ্ধরা বার্ধক্যে উপনীত হয়েছে। নিদর্শনসমূহ মুছে গেছে এবং ইসলামের পরবাস চরম আকার ধারণ করেছে। আলেমদের সংখ্যা কমে গেছে এবং নির্বোধরা জয়ী হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং বিপদ তীব্রতর হয়েছে। মানুষের হাতের কামাইয়ের কারণে স্থলে ও জলে বিপর্যয় প্রকাশ পেয়েছে"(১).

তিনি আরও বলেন: "তুমি তাদের কাউকে দেখবে যে আল্লাহর পরিবর্তে তার ইলাহ ও উপাস্যের স্মরণকে জিহ্বার অভ্যাসে পরিণত করেছে; সে যখন দাঁড়ায়, বসে, হোঁচট খায়, অসুস্থ হয় বা একাকীত্ব বোধ করে (তখন তাদেরই স্মরণ করে)। আল্লাহর পরিবর্তে তার ইলাহ ও উপাস্যের স্মরণই তার অন্তর ও জিহ্বার ওপর জয়ী হয়ে থাকে। সে এটি অস্বীকারও করে না, বরং দাবি করে যে এটি আল্লাহর নিকট তার প্রয়োজনের দরজা, তাঁর নিকট তার সুপারিশকারী এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম। ঠিক এভাবেই মূর্তিপূজারীরাও ছিল। তাদের হৃদয়ে এই বিশ্বাসই গেঁথে গিয়েছিল এবং মুশরিকরা তাদের ইলাহদের ভিন্নতা অনুযায়ী একে উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছে। তাদের কারও ইলাহ ছিল পাথর থেকে তৈরি, আবার অন্যরা মানুষদের ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। আল্লাহ তাআলা এই মুশরিকদের পূর্বসূরিদের সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে বলেন: {যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে তারা বলে: আমরা তো এদের ইবাদত করি কেবল এজন্য যে, তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে তার ফয়সালা করে দিবেন}। এরপর আল্লাহ তাদের কুফরি ও মিথ্যার সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি তাদের হিদায়াত দান করেন না। তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে হিদায়াত দেন না যে চরম মিথ্যাবাদী ও কাফির}।

এটি হলো সেই ব্যক্তির অবস্থা যে আল্লাহ ছাড়া অন্যকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং দাবি করে যে সে তাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে। আর এমন লোক কতই না দুর্লভ যে এই শিরক থেকে মুক্ত থাকে? বরং এমন লোক আরও কত বিরল যে এটি অস্বীকারকারীর সাথে শত্রুতা পোষণ করে না!

এই মুশরিক ও তাদের পূর্বসূরিদের হৃদয়ে যা রয়েছে তা হলো—তাদের ইলাহরা আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশ করবে। আর এটিই তো মূল শিরক। আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাদের এই দাবি অস্বীকার করেছেন এবং একে বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, সকল সুপারিশ একমাত্র তাঁরই অধিকারে। তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট কারও জন্য সুপারিশ করার অধিকার কারও নেই এবং আল্লাহ যার সুপারিশ ও আমল কবুল করেছেন কেবল তার জন্যই সুপারিশ করা যাবে …

তুমি দেখবে যে মুশরিকের অবস্থা ও কাজ তার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। কারণ সে বলে: আমরা তাদের আল্লাহর মতো ভালোবাসি না এবং তাদের আল্লাহর সমতুল্য মনে করি না; কিন্তু যখন তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়, তখন সে আল্লাহর চেয়েও বেশি ক্রোধান্বিত হয়। তাদের কথা স্মরণ করলে সে প্রফুল্ল ও আনন্দিত হয়, বিশেষ করে যখন তাদের সম্পর্কে এমন সব গুণাবলি বর্ণনা করা হয় যা আসলে তাদের মধ্যে নেই—যেমন বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করা, কষ্ট দূর করা এবং প্রয়োজন পূরণ করা। আর তারা হলো আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মাঝে মধ্যস্থতার পথ। তখন তুমি দেখবে যে মুশরিক আনন্দিত ও সন্তুষ্ট হয়, তার হৃদয় কোমল হয় এবং তাদের প্রতি সম্মান, আনুগত্য ও বন্ধুত্বের আবেগ তাকে আলোড়িত করে। আর যখন তুমি তার সামনে কেবল এক আল্লাহর কথা উল্লেখ করবে এবং তাঁর একত্ববাদকে বিশুদ্ধভাবে তুলে ধরবে, তখন তার মাঝে একপ্রকার বিতৃষ্ণা, সংকীর্ণতা ও অস্বস্তি প্রকাশ পাবে। সে তোমাকে তার ইলাহের মর্যাদা খর্ব করার অপবাদ দিবে এবং সম্ভবত তোমার সাথে শত্রুতা শুরু করবে।

আল্লাহর কসম, আমরা সরাসরি তাদের এই অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছি। তারা আমাদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করেছে এবং আমাদের ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করেছে। আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের লাঞ্ছিত করবেন। তাদের কোনো দলিল ছিল না, কেবল এটাই বলা ছাড়া যা তাদের মুশরিক ভাইয়েরা বলেছিল: সে আমাদের ইলাহদের নিন্দা করেছে। ফলে এরা বলেছে: তোমরা আমাদের মাশায়েখদের এবং আল্লাহর কাছে আমাদের প্রয়োজন পূরণের মাধ্যমগুলোর অবমাননা করেছ। ঠিক এভাবেই নাসারারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিল যখন তিনি তাদের বলেছিলেন: নিশ্চয়ই ঈসা আল্লাহর বান্দা। তারা বলেছিল: আপনি ঈসার মানহানি করেছেন এবং তাঁর দোষ চর্চা করেছেন। একইভাবে মুশরিকদের সদৃশ ব্যক্তিরা তাদেরও বলেছে যারা কবরকে পূজাযোগ্য মূর্তিতে পরিণত করতে এবং সেগুলোকে সিজদার স্থানে পরিণত করতে নিষেধ করেছেন, আর কবর জিয়ারতকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত সঠিক পন্থায় করতে আদেশ করেছেন; তারা বলেছে: তোমরা কবরবাসীদের মানহানি করেছ"(২).

--------------------------------------------

(১) যাদুল মাআদ (৩/ ৪৪৩) মুআসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত।

(২) মাদারিজুস সালিকিন (১/ ৩৪৮ - ৩৫০)।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
• وقال‌‌ عضد الدين الإيجي (المتوفى: 756): "وقد مرّ أنه يمكن إثبات الوحدانية بالدلائل النقلية لعدم توقف صحتها على التوحيد. واعلم أنه لا مخالف في هذه المسألة إلا الثنوية دون الوثنية، فإنهم [أي: الوثنية] لا يقولون بوجود إلهين واجبي الوجود، ولا يصفون الأوثان بصفات الإلهية وإن أطلقوا عليها اسم الآلهة، بل اتخذوها على أنها تماثيل الأنبياء أو الزهاد أو الملائكة أو الكواكب، واشتغلوا بتعظيمها على وجه العبادة توصلاً بها إلى ما هو إله حقيقة"(1).

 

• وأورد‌‌ الحافظ ابن كثير (المتوفى: 774) ترجمة السيدة نفيسة بنت الحسن بن زيد القرشية الهاشمية في حوادث سنة (208 هـ)، ونقل عن ابن خلِّكان أنَّه قال: "ولأهل مصر فيها اعتقاد"، ثم قال:

"قلت: وإلى الآن قد بالغ العامة في اعتقادهم فيها وفي غيرها كثيرا جدا، ولا سيما عوام مصر، فإنهم يُطلقون فيها عبارات بشيعة مجازفة تؤدي إلى الكفر والشرك، وألفاظًا كثيرة ينبغي أن يعرفوا أنه لا تجوز، …

والذي ينبغي أن يعتقد فيها ما يليق بمثلها من النساء الصالحات، وأصل عبادة الأصنام من المغالاة في القبور وأصحابها، وقد أمر النبي صلى الله عليه و سلم بتسوية القبور وطمسها، والمغالاة في البشر حرام، ومن زعم أنها تفك من الخشب، أو أنها تنفع أو تضر بغير مشيئة الله فهو مشرك"(2).

 

وذكر عند تفسير قوله تعالى: {وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقاً} قصةً ذكر فيها أنّ ذئباً جاء فأخذ حَمَلا(3) من الغنم، فوثب الراعي فقال: يا عامر الوادي، جارك. فنادى مناد لا نراه، يقول: يا سرحان، أرسله. فأتى الحَمَل يشتد حتى دخل في الغنم لم تصبه كدمة. ثم قال: "وقد يكون هذا الذئب الذي أخذ الحَمَل -وهو ولد الشاة- كان جنيًا حتى يرهب الإنسي ويخاف منه، ثم ردّه عليه لما استجار به، ليضلّه ويهينه، ويخرجه عن دينه. والله أعلم"(4).

--------------------------------------------

(1) المواقف (3/ 64) دار الجيل - بيروت - لبنان.

(2) البداية والنهاية (10/ 262 - 263) مكتبة المعارف - بيروت.

(3) الحَمَل: الجذع من أولاد الضأن فما دونه.

(4) تفسير القرآن العظيم (8/ 240) دار طيبة.
• এবং আযুদুদ্দীন আল-ঈজী (মৃত্যু: ৭৫৬) বলেছেন: "ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, দলীলগুলোর বিশুদ্ধতা তাওহীদের ওপর নির্ভরশীল না হওয়ার কারণে নকলী (কিতাব ও সুন্নাহর) দলীলের মাধ্যমে একত্ববাদ প্রমাণ করা সম্ভব। জেনে রাখুন যে, এই মাসআলায় দ্বিত্ববাদী (ছানুবিয়্যাহ) ছাড়া আর কেউ ভিন্নমত পোষণ করে না, মূর্তিপূজারীরা নয়। কারণ তারা [অর্থাৎ মূর্তিপূজারীরা] দুইজন ওয়াজিবুল উজুদ (অনিবার্য অস্তিত্ববান) ইলাহের অস্তিত্বের কথা বলে না এবং তারা মূর্তিদেরকে ইলাহিয়্যাতের গুণে গুণান্বিত করে না যদিও তারা সেগুলোকে উপাস্য বা 'আলিহা' নামে অভিহিত করে। বরং তারা সেগুলোকে নবীগণ, জাহিদগণ (সংসারত্যাগী), ফেরেশতামণ্ডলী অথবা নক্ষত্ররাজির প্রতিকৃতি হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং সত্যকার ইলাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে ইবাদতস্বরূপ সেগুলোকে সম্মান প্রদর্শনে লিপ্ত হয়েছিল"(১).

 

• এবং হাফিজ ইবনে কাসীর (মৃত্যু: ৭৭৪) ২০৮ হিজরির ঘটনাবলীতে সাইয়্যেদাহ নাফিসা বিনতে হাসান বিন যায়িদ আল-কুরাশিয়া আল-হাশিমিয়্যার জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে খাল্লিকান থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি বলেছেন: "মিসরবাসীদের তার সম্পর্কে বিশেষ বিশ্বাস রয়েছে", অতঃপর তিনি বলেন:

"আমি বলি: বর্তমান সময় পর্যন্ত সাধারণ মানুষ তার এবং অন্যদের ব্যাপারে তাদের বিশ্বাসে অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ি করেছে, বিশেষ করে মিসরের সাধারণ জনতা। কারণ তারা তার ব্যাপারে এমন কিছু জঘন্য ও লাগামহীন শব্দ প্রয়োগ করে যা কুফর এবং শিরকের দিকে নিয়ে যায়, এবং এমন অনেক শব্দ ব্যবহার করে যা তাদের জানা উচিত যে তা জায়েয নয়, …

তার সম্পর্কে তেমনটিই বিশ্বাস রাখা উচিত যা তার মতো পুণ্যবতী নারীদের ক্ষেত্রে মানানসই। আর মূর্তিপূজার মূল উৎস হলো কবর এবং কবরবাসীদের নিয়ে অতি বাড়াবাড়ি করা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর সমান করার এবং তা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মানুষের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা হারাম। আর যে ব্যক্তি ধারণা করবে যে, সে কাঠ (বা বিপদ) থেকে মুক্তি দিতে পারে অথবা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া সে উপকার বা ক্ষতি করতে পারে, তবে সে মুশরিক"(২).

 

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোক জিনের মধ্য থেকে কিছু লোকের আশ্রয় নিত, ফলে তারা তাদের অহংকার বাড়িয়ে দিয়েছিল}—এই আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন যেখানে বলা হয়েছে যে, একটি নেকড়ে এসে একটি ভেড়ার বাচ্চা(৩) নিয়ে গেল। তখন রাখাল লাফিয়ে উঠে বলল: 'হে এই উপত্যকার আবাদকারী (জিন), আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি'। তখন এক অদৃশ্য ঘোষক ডেকে বলল: 'হে নেকড়ে, ওটিকে ছেড়ে দাও'। তখন ভেড়ার বাচ্চাটি দৌড়ে পালের মধ্যে ঢুকে পড়ল, তার গায়ে কোনো ক্ষত চিহ্ন ছিল না। অতঃপর তিনি বলেন: "হয়তো এই নেকড়েটি যে ভেড়ার বাচ্চাটি—যা ভেড়ী বা দুম্বার সন্তান—নিয়েছিল, সে মূলত একজন জিন ছিল যাতে মানুষকে ভীত ও শঙ্কিত করতে পারে; অতঃপর সে যখন তার কাছে আশ্রয় চাইল তখন সে সেটি ফেরত দিল যাতে তাকে পথভ্রষ্ট ও লাঞ্ছিত করতে পারে এবং তাকে তার দীন থেকে বের করে দিতে পারে। আল্লাহই ভালো জানেন"(৪).

--------------------------------------------

(১) আল-মাওয়াকিফ (৩/ ৬৪) দারুল জীল - বৈরুত - লেবানন।

(২) আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া (১০/ ২৬২ - ২৬৩) মাকতাবাতুল মাআরিফ - বৈরুত।

(৩) আল-হামাল: দুম্বার ছয় মাস বয়সী বা তার চেয়ে ছোট বাচ্চা।

(৪) তাফসীরুল কুরআনিল আযীম (৮/ ২৪০) দারু তাইয়্যেবাহ।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال أيضاً: "أخبر تعالى عن عبّاد الأصنام من المشركين أنهم يقولون: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} أي: إنما يحملهم على عبادتهم لهم أنهم عمدوا إلى أصنام اتخذوها على صور الملائكة المقربين في زعمهم، فعبدوا تلك الصور تنزيلاً لذلك منزلة عبادتهم الملائكة؛ ليشفعوا لهم عند الله في نصرهم ورزقهم، وما ينوبهم من أمر الدنيا، فأما المعاد فكانوا جاحدين له كافرين به. قال قتادة، والسدي، ومالك عن زيد بن أسلم، وابن زيد: {إِلا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} أي: ليشفعوا لنا، ويقربونا عنده منزلة.

ولهذا كانوا يقولون في تلبيتهم إذا حجوا في جاهليتهم: "لبيك لا شريك لك، إلا شريكا هو لك، تملكه وما ملك.

وهذه الشبهة هي التي اعتمدها المشركون في قديم الدهر وحديثه، وجاءتهم الرسل صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين بردها والنهي عنها، والدعوة إلى إفراد العبادة لله وحده لا شريك له، وأن هذا شيء اخترعه المشركون من عند أنفسهم، لم يأذن الله فيه ولا رضي به، بل أبغضه ونهى عنه"(1).

وقال أيضًا: "وقوله: {فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} أي: فأخلصوا لله وحده العبادة والدعاء، وخالفوا المشركين في مسلكهم ومذهبهم"(2).

 

وقال عند تفسير قوله تعالى: {قُلْ هَلْ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ قُلِ اللّهُ يَهْدِي لِلْحَقِّ أَفَمَن يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ أَحَقُّ أَن يُتَّبَعَ أَمَّن لَاّ يَهِدِّيَ إِلَاّ أَن يُهْدَى فَمَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ}: "فما بالكم يُذْهَبُ بعقولكم، كيف سويتم بين الله وبين خَلقه، وعدلتم هذا بهذا، وعبدتم هذا وهذا؟!

وهلا أفردتم الرب جل جلاله المالك الحاكم الهادي من الضلالة بالعبادة وحده، وأخلصتم إليه الدعوة والإنابة"(3).

وقال أيضًا: "وفي هذا الشهر بعينه [أي: شهر رجب من سنة 694 هـ] راح الشيخ تقي الدين ابن تيمية إلى مسجد التاريخ وأمر أصحابه ومعهم حجارون بقطع صخرة كانت هناك بنهر قلوط تزار وينذر لها، فقطعها وأراح المسلمين منها ومن الشرك بها، فأزاح عن المسلمين شبهة كان شرها عظيما"(4).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (7/ 84 - 85).

(2) المصدر السابق (7/ 134).

(3) المصدر السابق (4/ 268).

(4) البداية والنهاية (14/ 34) مكتبة المعارف - بيروت.
তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা মুশরিক মূর্তিপূজারীদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা বলে: 'আমরা তাদের ইবাদত করি না তবে কেবল এই জন্য যে তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে।' অর্থাৎ, তাদের এই ইবাদতে প্রলুব্ধ করার কারণ হলো তারা এমন কিছু মূর্তি নির্ধারণ করেছিল যা তাদের ধারণা মতে আল্লাহর নিকটবর্তী ফেরেশতাদের আকৃতিতে তৈরি। তারা সেই মূর্তিগুলোর ইবাদত করত ফেরেশতাদের ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে; যেন তারা আল্লাহর কাছে তাদের সাহায্য, রিযিক এবং পার্থিব যা কিছু আপতিত হয় সে বিষয়ে সুপারিশ করতে পারে। আর পরকালের ব্যাপারে তারা ছিল অস্বীকারকারী ও কুফরি পোষণকারী। কাতাদাহ, সুদ্দী এবং যায়েদ ইবনে আসলাম ও ইবনে যায়েদ থেকে মালিক বর্ণনা করেছেন: 'তবে কেবল এই জন্য যে তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে' অর্থাৎ: তারা যেন আমাদের জন্য সুপারিশ করে এবং তাঁর নিকট আমাদের মর্যাদাকে উচ্চ করে।"

এই কারণেই তারা জাহেলিয়াত যুগে হজ্জ করার সময় তাদের তালবিয়াতে বলত: "আমি উপস্থিত, আপনার কোনো শরিক নেই, তবে এমন এক শরিক ছাড়া যে আপনারই; আপনি তার মালিক এবং সে যার মালিক তারও আপনি মালিক।"

আর এই সংশয়টিই প্রাচীন ও আধুনিক কালের মুশরিকরা আঁকড়ে ধরেছে। রাসুলগণ (সালাত ও সালাম তাঁদের সকলের ওপর বর্ষিত হোক) এটি প্রত্যাখ্যান করতে, এ থেকে নিষেধ করতে এবং ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করার আহ্বান নিয়ে এসেছেন যাঁর কোনো শরিক নেই। আর এটি এমন কিছু যা মুশরিকরা নিজেদের পক্ষ থেকে উদ্ভাবন করেছে, আল্লাহ এতে অনুমতি দেননি এবং এতে সন্তুষ্টও নন, বরং তিনি একে ঘৃণা করেছেন এবং এ থেকে নিষেধ করেছেন"(১)।

তিনি আরও বলেছেন: "আর তাঁর বাণী: 'সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাক তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে' অর্থাৎ: তোমরা একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদত ও দোয়াকে একনিষ্ঠ করো এবং মুশরিকদের পথ ও মতের বিরোধিতা করো"(২)।

 

তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর তাফসিরে বলেছেন: "বলুন, তোমাদের শরিকদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে যে সত্যের পথ দেখায়? বলুন, আল্লাহই সত্যের পথ দেখান। তবে যে সত্যের পথ দেখায় সে অনুসরণের অধিক যোগ্য, নাকি যে নিজে পথ পায় না যতক্ষণ না তাকে পথ দেখানো হয়? সুতরাং তোমাদের কী হলো? তোমরা কীভাবে ফয়সালা করছ?": "তোমাদের কী হলো যে তোমাদের বুদ্ধি লোপ পেয়েছে? কীভাবে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সমতা বিধান করলে এবং একে অপরের সমকক্ষ বানালে আর উভয়ের ইবাদত করলে?!

কেন তোমরা রব জল্লা জালালুহু—যিনি মালিক, শাসক এবং গোমরাহি থেকে পথপ্রদর্শক—তাঁকে ইবাদতে একক সাব্যস্ত করলে না এবং তাঁরই প্রতি দোয়া ও প্রত্যাবর্তনকে একনিষ্ঠ করলে না?"(৩)।

তিনি আরও বলেছেন: "আর এই নির্দিষ্ট মাসেই [অর্থাৎ: ৬৯৪ হিজরির রজব মাস] শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে তাইমিয়্যাহ মাসজিদুত তারিখ-এ যান এবং তাঁর সঙ্গীদের নির্দেশ দেন—যাদের সাথে পাথরখোদাইকারী ছিল—কালুত নদীর তীরে অবস্থিত একটি পাথর কেটে ফেলার জন্য, যেটির যিয়ারত করা হতো এবং যার উদ্দেশ্যে মানত করা হতো। অতঃপর তিনি সেটি কেটে ফেলেন এবং মুসলমানদের তা থেকে ও তার সাথে শিরক করা থেকে স্বস্তি দান করেন। এভাবে তিনি মুসলমানদের থেকে এমন এক সংশয় দূর করেন যার অনিষ্ট ছিল ভয়াবহ"(৪)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (৭/ ৮৪ - ৮৫)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৭/ ১৩৪)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৪/ ২৬৮)।

(৪) আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১৪/ ৩৪) মাকতাবাতুল মাআরিফ - বৈরুত।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
• وقال‌‌ الإمام الأذرعي الشافعي (المتوفى:783): "وأما النذر للمشاهد الذي بُنيت على قبر ولي أو نحوه، فإن قصد به الإيقاد على القبر ولو مع قصد التنوير فلا.

وإن قصد به - وهو الغالب من العامة - تعظيم البقعة أو القبر أو التقرب إلى من دُفن فيها أو نُسبت إليه فهذا نذر باطل غير منعقد؛ فإنهم يعتقدون أن لهذه الأماكن خصوصيات لا تفهم، ويرون أنّ النذر لها مما يدفع البلاء. قال: وحكم الوقف كالنذر فيما ذكرناه اهـ"(1).

 

• وقال‌‌ ابن أبي العز الحنفي (المتوفى: 792): "التوحيد الذي دعت إليه الرسل، ونزلت به الكتب، هو توحيد الإلهية المتضمن توحيد الربوبية، وهو عبادة الله وحده لا شريك له، فإن المشركين من العرب كانوا يقرون بتوحيد الربوبية، وأن خالق السماوات والأرض واحد، كما أخبر تعالى عنهم بقوله: {وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ} {قُل لِّمَنِ الْأَرْضُ وَمَن فِيهَا إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ}.

ومثل هذا كثير في القرآن، ولم يكونوا يعتقدون في الأصنام أنها مشاركة لله في خلق العالم، بل كان حالهم فيها كحال أمثالهم من مشركي الأمم من الهند والترك والبربر وغيرهم، تارة يعتقدون أن هذه تماثيل قوم صالحين من الأنبياء والصالحين، ويتخذونهم شفعاء، ويتوسلون بهم إلى الله، وهذا كان أصل شرك العرب"(2).

 

• وقال‌‌ سعد الدين التفتازاني (المتوفى: 793) أثناء كلامه عن عبدة الأصنام: "لما مات منهم من هو كامل المرتبة عند الله تعالى اتخذوا تمثالاً على صورته وعظّموه تشفعًا إلى الله تعالى وتوسلا"(3).

 

• وقال‌‌ الحافظ ابن رجب الحنبلي (المتوفى: 795): "إنّ قول العبد: لا إله إلا الله يقتضي أن لا إله له غير الله، والإله هو الذي يُطاعٍ فلا يعصى هيبة له وإجلالاً ومحبة وخوفاً ورجاءً، وتوكلاً عليه وسؤالا منه ودعاء له، ولا يصلح ذلك كله إلا لله عز وجل.

فمن أشرك مخلوقاً في شيء من هذه الأمور التي هي من خصائص الإلهية كان ذلك قدحاً في إخلاصه في قول لا إله إلا الله، ونقصاً في توحيده، وكان فيه من عبودية المخلوق بحسب ما فيه من ذلك، وهذا كله من فروع الشرك"(4).

--------------------------------------------

(1) الفتاوى الفقهية الكبرى لابن حجر الهيتمي (4/ 286) ط/دار الفكر.

(2) شرح الطحاوية (ص: 31) ط/ وزارة الأوقاف السعودية.

(3) المقاصد في علم الكلام (2/ 65) دار المعارف النعمانية - باكستان.

(4) تحقيق كلمة الإخلاص (ص:23 - 24) ط/ المكتب الإسلامي - بيروت.
• এবং ইমাম আল-আদরায়ী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু: ৭৮৩) বলেন: "আর ওলী বা তদ্রূপ ব্যক্তিদের কবরের ওপর নির্মিত মাজারগুলোর জন্য মানত করার বিষয়ে কথা হলো—যদি এর দ্বারা কবরের ওপর বাতি জ্বালানোর উদ্দেশ্য হয়, এমনকি তাতে আলোকসজ্জার উদ্দেশ্য থাকলেও, তা করা যাবে না।

আর যদি এর দ্বারা—যা সাধারণত সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে—ঐ স্থান বা কবরের সম্মান প্রদর্শন অথবা সেখানে যিনি দাফনকৃত আছেন বা যাঁর দিকে তা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তাঁর নৈকট্য অর্জন উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি একটি বাতিল ও অকার্যকর মানত। কারণ তারা বিশ্বাস করে যে, এই স্থানগুলোর এমন কিছু বিশেষত্ব রয়েছে যা বোধগম্য নয় এবং তারা মনে করে যে, সেগুলোর উদ্দেশ্যে মানত করা বিপদ-আপদ দূর করে। তিনি বলেন: ওয়াকফের বিধানও আমরা যা উল্লেখ করেছি তার জন্য মানতের মতোই। সমাপ্ত।"(১)।

 

• এবং ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী (মৃত্যু: ৭৯২) বলেন: "যে তাওহীদের দিকে রাসূলগণ আহ্বান জানিয়েছেন এবং যা নিয়ে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে, তা হলো উলুহিয়্যাহর তাওহীদ যা রুবুবিয়্যাহর তাওহীদকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা যাঁর কোনো শরিক নেই। কেননা আরবের মুশরিকরা রুবুবিয়্যাহর তাওহীদ স্বীকার করত এবং বিশ্বাস করত যে, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা একজনই। যেমন মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন: {আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ।} {বলুন, ‘এই পৃথিবী এবং এতে যারা আছে তারা কার, যদি তোমরা জানো?’ তারা বলবে, ‘আল্লাহর।’ বলুন, ‘তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?’}।

কুরআনে এই জাতীয় অনেক আয়াত রয়েছে। তারা মূর্তিদের ব্যাপারে এমন বিশ্বাস করত না যে তারা বিশ্বজগত সৃষ্টিতে আল্লাহর সাথে অংশীদার, বরং তাদের অবস্থা ছিল তাদের সমজাতীয় অন্যান্য উম্মতের মুশরিকদের মতো যেমন— হিন্দু, তুর্কি, বারবার ও অন্যান্য; তারা কখনো মনে করত যে এগুলো নবী ও নেককারদের মধ্য থেকে পূর্ণ স্তরের ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি, আর তারা তাদের সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করত এবং তাদের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট উসিলা তালাশ করত। আর এটাই ছিল আরবদের শিরকের মূল উৎস।"(২)।

 

• এবং সা'দ আদ-দীন আত-তাফতাজানী (মৃত্যু: ৭৯৩) মূর্তি পূজারীদের সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেন: "যখন তাদের মধ্য থেকে আল্লাহর নিকট পূর্ণ মর্যাদাবান কেউ মৃত্যুবরণ করত, তখন তারা তার আকৃতিতে একটি প্রতিকৃতি তৈরি করত এবং আল্লাহর নিকট সুপারিশ ও উসিলার উদ্দেশ্যে তাকে সম্মান করত।"(৩)।

 

• এবং হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলী (মৃত্যু: ৭৯৫) বলেন: "নিশ্চয়ই বান্দার এই কথা: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এটি দাবি করে যে, আল্লাহ ছাড়া তার আর কোনো ইলাহ নেই। আর ইলাহ হলেন তিনি যাঁর আনুগত্য করা হয় ফলে তাঁর অবাধ্য হওয়া হয় না—তাঁর প্রতি সমীহ, মহিমা, ভালোবাসা, ভয় ও আশার কারণে, এবং তাঁর ওপর ভরসা, তাঁর নিকট প্রার্থনা ও তাঁকে ডাকার কারণে; আর এই সব কিছু একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য শোভা পায় না।

সুতরাং যে ব্যক্তি উলুহিয়্যাহর এই সব বিশেষত্বের কোনো একটিতে কোনো সৃষ্টিকে শরিক করল, তা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাণীর ক্ষেত্রে তার ইখলাসে একটি আঘাত এবং তার তাওহীদে ঘাটতি হিসেবে গণ্য হবে। এতে ঐ সৃষ্টির ততটুকুই দাসত্ব পাওয়া যাবে যতটুকু এতে বিদ্যমান ছিল। আর এই সব কিছুই শিরকের শাখা-প্রশাখার অন্তর্ভুক্ত।"(৪)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজার আল-হাইতামীর আল-ফাতাওয়া আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুবরা (৪/ ২৮৬) প্রকাশনী: দারুল ফিকর।

(২) শারহুত তাহাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১) প্রকাশনী: সৌদি ধর্ম মন্ত্রণালয়।

(৩) আল-মাকাসিদ ফি ইলমিল কালাম (২/ ৬৫) দারুল মাআরিফ আন-নুমানিয়্যাহ - পাকিস্তান।

(৪) তাহকিকু কালিমাতিল ইখলাস (পৃষ্ঠা: ২৩ - ২৪) প্রকাশনী: আল-মাকতাবুল ইসলামি - বৈরুত।
(খণ্ড: ১) আল-মাজমুউস সামীন ফী হুকমি দুআই গইরি রব্বিল আলামীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال أيضًا: "واعلم أنّ سؤال الله عز وجل دون خلقه هو المتعين؛ لأنّ السؤال فيه إظهار الذل من السائل والمسكنة والحاجة والافتقار، وفيه الاعتراف بقدرة المسؤول على رفع هذا الضر ونيل المطلوب وجلب المنافع ودرء المضار، ولا يصلح الذل والافتقار إلا الله وحده، لأنه حقيقة العبادة"(1).

 

• وقال‌‌ ابن النحاس الشافعي (المتوفى:814): "ومنها إيقادهم السرج عند الأحجار والأشجار والعيون والآبار، ويقولون: إنها تقبل النذر، وهذه كلها بدع شنيعة ومنكرات قبيحة تجب إزالتها ومحو أثرها، فإن أكثر الجهال يعتقدون أنها تنفع وتضر وتجلب وتدفع وتشفي المرض وتردّ الغائب إذا نذر لها، وهذا شرك ومحادة لله تعالى ولرسوله صلى الله عليه وسلم"(2).

 

• وجاء في فتاوى‌‌ الفقيه العلامة ولي الدين العراقي الشافعي الأشعري (المتوفى: 826) أنه سئل عمن يزور الصالحين من الموتى فيقول عند قبر الواحد منهم: يا سيدي فلان أنا مستجير بك، أو متوسل بك أن يحصل لي كذا وكذا، أو أطلب منك أن يحصل لي كذا وكذا، أو يقول: يا رب أسألك بمنزلة هذا الرجل أو بسرّه أو بعمله أن يفعل بي كذا وكذا، هل هذه العبارات حسنة أو غير حسنة أو بعضها حسن وبعضها قبيح؟ … إلخ السؤال.

فأجاب بما نصه: "زيارة الرجال للقبور مندوب إليها، فقبور الصالحين آكد في الاستحباب … ولا امتناع في التوسل بالصالحين، فإنه ورد التوسل بالنبي صلى الله عليه وسلم وبصلحاء أمته حظٌ مما لم يعد من خصائصه …

وأما قوله: "أنا أطلب منك أن يحصل لي كذا وكذا فأمرٌ مُنْكَرٌ؛ فالطلب إنما هو من الله تعالى"(3).

 

• وقال‌‌ العلامة تقي الدين المقريزي الشافعي (المتوفى: 845): "وشرك الأمم كله نوعان: شرك في الإلهيّة، وشرك في الربوبيّة:

فالشرك في الإلهيّة والعبادة: هو الغالب على أهل الإشراك، وهو شرك عبّاد الأصنام، وعبّاد الملائكة، وعبّاد الجّن، وعبّاد المشايخ والصالحين الأحياء والأموات، الذين قالوا: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلاّ لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى}، ويشفعوا لنا عنده، وينالنا بسبب قربهم من الله وكرامته لهم قرب وكرامة، كما هو المعهود في الدنيا من حصول الكرامة والزلفى لمن يخدم أعوان الملك وأقاربه وخاصته.

والكتب الإلهيّة كلها من أولها إلى آخرها تبطل هذا المذهب وتردّه، وتقبّح أهله، وتنص على أنهم أعداء الله تعالى، وجميع الرسل صلوات الله عليهم متفقون على ذلك، من أولهم إلى آخرهم، وما أهلك الله تعالى مَن أهلك من الأمم إلاّ بسبب هذا الشرك، ومن أجله"(4).

--------------------------------------------

(1) جامع العلوم والحكم (1/ 481) مؤسسة الرسالة - بيروت.

(2) تنبيه الغافلين عن أعمال الجاهلين (ص:522) دار الكتب العلمية.

(3) فتاوى ولي الدين العراقي (ص:166) ط/ دار الفتح.

(4) تجريد التوحيد المفيد (ص: 14) ط/الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة.
তিনি আরও বলেছেন: "জেনে রাখুন যে, মাখলুককে ছেড়ে মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করাই সুনির্ধারিত; কারণ প্রার্থনার মধ্যে প্রার্থনাকারীর পক্ষ থেকে হীনতা, দৈন্যতা, অভাব ও মুখাপেক্ষিতার প্রকাশ ঘটে। আর এতে প্রার্থনা যার কাছে করা হচ্ছে তার এই বিপদ দূর করার, কাঙ্ক্ষিত বস্তু অর্জনের, কল্যাণ আনয়নের এবং ক্ষতি প্রতিহত করার ক্ষমতার স্বীকৃতি রয়েছে। আর হীনতা ও মুখাপেক্ষিতা কেবল একমাত্র আল্লাহর জন্যই শোভা পায়, কারণ এটিই ইবাদতের প্রকৃত রূপ।"(১).

 

• এবং ইবনুন্নাহাস আশ-শাফেঈ (মৃত্যু: ৮১৪ হি.) বলেছেন: "তার মধ্যে একটি হলো পাথর, গাছ, ঝরনা এবং কূয়ার নিকট তাদের চেরাগ জ্বালানো। তারা বলে যে, এগুলোতে মানত গ্রহণ করা হয়। এগুলোর সবই জঘন্য বিদআত এবং কুৎসিত মুনকার বা গর্হিত কাজ, যা দূর করা এবং এর চিহ্ন মুছে ফেলা আবশ্যক। কারণ অধিকাংশ জাহেল বা মূর্খ লোক বিশ্বাস করে যে, যখন এদের উদ্দেশ্যে মানত করা হয়, তখন এরা উপকার ও ক্ষতি করে, লাভ ও প্রতিরোধ করে, রোগ নিরাময় করে এবং অনুপস্থিত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনে। আর এটি শিরক এবং মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ।"(২).

 

• ফকীহ আল্লামা ওয়ালিউদ্দীন আল-ইরাকী আশ-শাফেঈ আল-আশআরীর (মৃত্যু: ৮২৬ হি.) ফতোয়া গ্রন্থে এসেছে যে, তাকে মৃত নেককার ব্যক্তিদের যিয়ারতকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—যে তাদের কারও কবরের কাছে গিয়ে বলে: হে আমার অমুক সাইয়্যেদ, আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, অথবা আপনার মাধ্যমে উসিলা ধরছি যেন আমার এমন এমন কাজ হয়ে যায়, অথবা আমি আপনার কাছে চাচ্ছি যেন আমার এমন এমন কাজ হয়ে যায়। অথবা সে বলে: হে রব, আমি আপনার কাছে এই ব্যক্তির মর্যাদার উসিলায় অথবা তার রহস্যের উসিলায় অথবা তার আমলের উসিলায় প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমার সাথে এমন এমন করেন। এই বাক্যগুলো কি উত্তম নাকি উত্তম নয়, অথবা এর কিছু অংশ উত্তম আর কিছু অংশ মন্দ? ... ইত্যাদি প্রশ্ন।

তিনি এই মর্মে উত্তর দিয়েছেন: "পুরুষদের জন্য কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব, আর নেককারদের কবর যিয়ারত করা আরও বেশি গুরুত্বের সাথে মুস্তাহাব ... আর নেককারদের মাধ্যমে উসিলা ধরার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর উম্মতের নেককারদের মাধ্যমে উসিলা ধরার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, যা তাঁর একক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন অংশ থেকে প্রাপ্ত ...

আর তার এই কথা: 'আমি আপনার কাছে চাচ্ছি যেন আমার এমন এমন কাজ হয়ে যায়'—এটি একটি গর্হিত বিষয়; কারণ চাওয়া কেবল মহান আল্লাহর কাছেই হতে হবে।"(৩).

 

• এবং আল্লামা তাকীউদ্দীন আল-মাকরিযী আশ-শাফেঈ (মৃত্যু: ৮৪৫ হি.) বলেছেন: "জাতিসমূহের যাবতীয় শিরক দুই প্রকার: ইলাহিয়্যাতের শিরক এবং রুবুবিয়্যাতের শিরক।

ইলাহিয়্যাত ও ইবাদতের শিরকই মুশরিকদের মধ্যে অধিক প্রচলিত। আর এটি হলো মূর্তিপূজারি, ফেরেশতা পূজারি, জিন পূজারি এবং জীবিত ও মৃত পীর-মাশায়েখ ও নেককার বান্দাদের পূজারিদের শিরক, যারা বলে: {আমরা তাদের ইবাদত কেবল একারণেই করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়}, এবং তারা যেন আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে। আর আল্লাহর নৈকট্য ও তাদের প্রতি আল্লাহর সম্মানের কারণে যেন আমরাও নৈকট্য ও সম্মান লাভ করি; যেমনটি দুনিয়াতে প্রচলিত আছে যে, রাজার সাহায্যকারী, আত্মীয়-স্বজন এবং খাস লোকদের খেদমত করলে সম্মান ও নৈকট্য লাভ করা যায়।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত আসমানি কিতাবসমূহ এই মতবাদকে বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করে এবং এর অনুসারীদের নিন্দা জানায়। আর এটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, তারা মহান আল্লাহর শত্রু। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত রাসূলগণ সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহিম এই বিষয়ে একমত। আল্লাহ তাআলা অতীতে যেসব জাতিকে ধ্বংস করেছেন, তারা কেবল এই শিরকের কারণেই এবং এর জন্যই ধ্বংস হয়েছে।"(৪).

--------------------------------------------

(১) জামিউল উলূম ওয়াল হিকাম (১/ ৪৮১) মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত।

(২) তানবিহুল গাফিলীন আন আমালিল জাহিলীন (পৃ: ৫২২) দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ।

(৩) ফাতাওয়া ওয়ালিউদ্দীন আল-ইরাকী (পৃ: ১৬৬) ছাপা/ দারুল ফাতহ।

(৪) তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ (পৃ: ১৪) ছাপা/ জামিয়া ইসলামিয়া মদিনা মুনাওয়ারাহ।