(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: -)
القسم الثالث من المعجم الأوسط للطبراني   (الطبراني)

القسم: كتب السنة

الكتاب: القسم الثالث من المعجم الأوسط

(تحقيق ودراسة، مع ملاحظة أحكامه على الأحاديث بالتفرد)

من حديث (651) حديث عمرو بن الحمق قال قال رسول الله -صلى الله عليه وسلم- «قلا يحق العبد حقيقة الإيمان حتى يغضب لله، ويرضى لله … » الحديث، إلى حديث (900) أبي هريرة وأبي سعيد رضى الله عنهما، قالا سمعنا خليلنا -صلى الله عليه وسلم- يقول: «من قتلهم فله أجر شهيد … » الحديث.

تنبيه: المراد بالقسم في العنوان، تقسيم خاص بتوزيع الرسائل العلمية على الباحثين في قسم الحديث وعلومه - كلية أصول الدين، جامعة الأزهر

المؤلف: أبو القاسم سليمان بن أحمد الطبراني (ت 360 هـ)

تحقيق ودراسة: محمد فوزي محمد السعدني

رسالة: ماجستير، قسم الحديث وعلومه - كلية أصول الدين، جامعة الأزهر

إشراف: أ د محمود عمر إبراهيم هاشم، د عبد العزيز مهدي حسن السيد (رحمه الله تعالى)

عدد الصفحات: 1167

[ترقيم الكتاب موافق للرسالة الجامعية]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1443

আত-তাবারানির আল-মু'জাম আল-আওসাত-এর তৃতীয় অংশ   (তাবারানি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: আল-মু'জাম আল-আওসাত-এর তৃতীয় অংশ

(তাহকিক ও গবেষণা، একক বর্ণনাকারী সম্বলিত হাদিসসমূহের ওপর তাঁর হুকুমের পর্যালোচনাসহ)

হাদিস নম্বর (৬৫১) আমর ইবনে আল-হামাক-এর হাদিস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেছেন «বান্দা ঈমানের প্রকৃত স্বাদ লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহর জন্য রাগান্বিত হয় এবং আল্লাহর জন্য সন্তুষ্ট হয়... » হাদিসের শেষ পর্যন্ত, হাদিস নম্বর (৯০০) আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা পর্যন্ত, তাঁরা দুজনেই বলেন, আমরা আমাদের খলিল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি তাদের হত্যা করবে তার জন্য শহীদের সওয়াব রয়েছে... » হাদিসের শেষ পর্যন্ত.

দ্রষ্টব্য: শিরোনামে 'অংশ' বলতে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকদের মাঝে একাডেমিক থিসিস বিতরণের জন্য করা একটি বিশেষ বিভাজন বোঝানো হয়েছে।

লেখক: আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমাদ আত-তাবারানি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি)

তাহকিক ও গবেষণা: মুহাম্মাদ ফাওজি মুহাম্মাদ আস-সাদানি

থিসিস: মাস্টার্স، হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগ - উসুলুদ্দীন অনুষদ، আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

তত্ত্বাবধান: প্রফেসর ড. মাহমুদ ওমর ইবরাহিম হাশিম، ড. আব্দুল আজিজ মাহদী হাসান আস-সাইয়্যেদ (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৬৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর একাডেমিক থিসিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১)
جامعة الأزهر الشريف

كلية أصول الدين _ الزقازيق

الدراسات العليا

قسم الحديث وعلومه

 

{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ}

 

القسم الثالث مِنْ "المعجم الأوسط"

للإمام أبي القاسم سليمان بن أحمد الطبراني ت 360 هـ تحقيق ودراسة مع ملاحظة أحكامه على الأحاديث بالتفرد.

من حديث (651) حديث عمرو بن الحَمِق قال: قال رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَا يَحِقُّ الْعَبْدُ حَقِيقَةَ الْإِيمَانِ حَتَّى يَغْضَبَ لِلَّهِ، وَيَرْضَى لِلَّهِ … الحديث) إلي حديث رقم (900) حديث أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ رضى الله عنهما، قَالَا: سَمِعْنَا خَلِيلَنَا صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: (مَنْ قَتْلَهُمْ فَلَهُ أَجْرُ شَهِيدٍ … الحديث).

 

رسالة مُقَدَّمةٌ لنيل درجة التَّخصص (الماجستير)

في الحديث وعلومه

 

إعداد الباحث:

محمد فوزي محمد السعدني

 

تحت إشراف

 

فضيلة الأستاذ الدكتور/

أ. د/ محمود عمر إبراهيم هاشم

أستاذ الحديث المتفرغ بكلية الدراسات الإسلامية والعربية للبنات بالزقازيق (مشرفًا أصليًا)

 

فضيلة الأستاذ الدكتور/

د/ عبد العزيز مهدي حسن السيد مدرس الحديث وعلومه بالكلية (مشرفًا مشاركًا) (رحمه الله تعالى)
আল-আযহার আল-শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়

কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন (ধর্মতত্ত্ব অনুষদ) — যাকযীক

উচ্চতর শিক্ষা বিভাগ

হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগ

 

{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে}

 

ইমাম আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমাদ আত-তাবারানি (মৃত্যু ৩৬০ হিজরি) রচিত "আল-মু'জামুল আওসাত"-এর তৃতীয় অংশ

হাদিসসমূহের একক বর্ণনা (তাফাররুদ) সংক্রান্ত তাঁর হুকুম বা মন্তব্যগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে সম্পাদিত ও পর্যালোচিত।

৬৫১ নম্বর হাদিস থেকে (আমর ইবনুল হামিক বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো বান্দা ততক্ষণ ঈমানের প্রকৃত হাকিকত অর্জন করতে পারে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর জন্য রাগান্বিত হয় এবং আল্লাহর জন্য সন্তুষ্ট হয়..." … হাদিসের শেষ পর্যন্ত) ৯০০ নম্বর হাদিস পর্যন্ত (আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস, তাঁরা বলেন: আমরা আমাদের প্রিয় বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তাদের হত্যা করবে, সে শহীদের সওয়াব পাবে..." … হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

 

হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জনের লক্ষ্যে উপস্থাপিত থিসিস

হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগে

 

গবেষক:

মুহাম্মাদ ফাউজি মুহাম্মাদ আস-সাদানি

 

তত্ত্বাবধানে

 

সম্মানিত অধ্যাপক ডক্টর/

প্রফেসর ড. মাহমুদ উমর ইবরাহিম হাশিম

যাকযীকস্থ কুল্লিয়াতু দিরাসাতিল ইসলামিয়া ওয়াল আরাবিয়া লিল বানাত (মহিলাদের জন্য ইসলামি ও আরবি শিক্ষা অনুষদ)-এর হাদিস বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক (মূল তত্ত্বাবধায়ক)

 

সম্মানিত অধ্যাপক ডক্টর/

ড. আব্দুল আজিজ মাহদি হাসান আস-সাইয়্যিদ, অত্র কলেজের হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক (সহ-তত্ত্বাবধায়ক) (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الإهداء

إلى نبينا وسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، وآله الطاهرين، وأصحابه الميامين، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

إلى عَلَمِ المُعَمَّرين، ومُحَدِّثِ الإسلام الحافظ: أبي القاسم سُلَيْمان بن أحمد الطبرانيّ.

إلى شيخيّ الكريمين المشرفين على الرسالة: أ. د/ محمود عمر إبراهيم هاشم، وأ. د/ عبد العزيز مهدي حسن السيد تغمده الله بواسع رحمته، وجعل قبره روضة من رياض الجنة.

إلى كل مَنْ ساهم في تحقيق "المعجم الأوسط"، وإخراجه مِنْ عالم المخطوط إلى عالم المطبوع.

إلى أُمي، وأبي اللذين في رعايتهما تَقَلَّبت، وفي كنفهما ارتفعت، وبسببهما تَعَلَّمت، أسأل الله عز وجل أن يُطيل في عُمر أمي على الخير والطاعة، وأن يُمتعها بالصحة والعافية، وأن يشفيها شفاء لا يغادر سقماً. كما أسأل الله تبارك وتعالي أن يغفر لأبي، وأن يرحمه ويشمله برحمته التي وسعت كل شئ، وأن يجعل مقامه الفردوس الأعلى مع النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقاً إنَّه ولي ذلك ومولاه.

إلى زوجتي التي بَذَلَت لسعادتي كل ما تستطيع، وساعدتني على تحمل عناء الدراسة، فجزاها الله عني خير الجزاء.

إلى كل من أسدى إلىَّ معروفًا، أو تعلمت منه شيئا، أو بذل لي نصحًا، أو مد يد العون لي، مِنْ مشايخي الفضلاء، وأساتذتي الأعزاء، وإخواني مِنْ طلبة العلم.

إلى هذا الصرح الشامخ جامعة الأزهر الشريف، من أساتذة وعلماء وقائمين على العمل الدراسي.

إليهم جميعًا أُهدي هذا العمل المتواضع، وأسأل الله عز وجل أن يجعله من العلم النافع، والعمل الصالح.

والحمد لله رب العالمين

الباحث
উৎসর্গ

আমাদের নবী ও নেতা মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক), তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, তাঁর বরকতময় সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের প্রতি।

দীর্ঘজীবী মনীষীদের অগ্রগণ্য এবং ইসলামের মুহাদ্দিস হাফেজ আবুল কাসেম সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানির প্রতি।

আমার এই থিসিসের তত্ত্বাবধায়ক দুই সম্মানিত শায়খের প্রতি: প্রফেসর ড. মাহমুদ ওমর ইব্রাহিম হাশেম এবং প্রফেসর ড. আবদুল আজিজ মাহদী হাসান আস-সাইয়্যেদ—আল্লাহ তাঁকে তাঁর প্রশস্ত রহমতে আবৃত করুন এবং তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান বানিয়ে দিন।

যারা "আল-মুজামুল আওসাত" গ্রন্থের তাহকীক এবং এটি পাণ্ডুলিপি থেকে মুদ্রণ জগতে নিয়ে আসতে অবদান রেখেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি।

আমার মা ও বাবার প্রতি, যাঁদের স্নেহে আমি লালিত-পালিত হয়েছি, যাঁদের আশ্রয়ে আমি বড় হয়েছি এবং যাঁদের কারণে আমি শিক্ষা লাভ করেছি। আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন নেক আমল ও আনুগত্যের ওপর আমার মায়ের হায়াত দীর্ঘ করেন, তাঁকে স্বাস্থ্য ও আফিয়াত দান করেন এবং এমন আরোগ্য দান করেন যা কোনো রোগ অবশিষ্ট রাখে না। আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার কাছে আরও প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার পিতাকে ক্ষমা করেন, তাঁর ওপর রহম করেন এবং তাঁকে তাঁর সেই রহমতে সিক্ত করেন যা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তিনি যেন তাঁর স্থান দান করেন নবীদের সাথে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকামে এবং সিদ্দিকীন, শহীদ ও সালেহীনদের সাথে; আর সঙ্গী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম! নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক ও অধিপতি।

আমার স্ত্রীর প্রতি, যিনি আমার সুখের জন্য সাধ্যমতো সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন এবং পড়াশোনার কষ্ট সহ্য করতে আমাকে সাহায্য করেছেন। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমার সেই সকল ফযীলতপূর্ণ শায়খ, প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ এবং দ্বীনি ইলমের শিক্ষার্থী ভাইদের প্রতি, যাঁরা আমার প্রতি দয়া করেছেন, যাঁদের কাছ থেকে আমি কিছু শিখেছি, অথবা যাঁরা আমাকে উপদেশ দিয়েছেন কিংবা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আল-আজহার আল-শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এই সুউচ্চ প্রতিষ্ঠানের সকল অধ্যাপক, আলেম এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি।

তাঁদের সকলের প্রতি আমি আমার এই বিনম্র কাজ উৎসর্গ করছি এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন একে উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল হিসেবে কবুল করেন।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

গবেষক
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌إهداء خاص

إلي السادة العلماء خاصة علماء الدين - علماء العلم الشرعي - في شتي بقاع الأرض.

إلي منارات العالم الذين أناروا الدنيا بعلمهم وبثوا فيها علوم الوحيين - القرآن والسنة -.

إلي الذين حملوا علي أعتاقهم راية العلم، وتحملوا مسؤولية البلاغ عن الله ورسوله.

إلي رمانة الميزان الذين يصدون عن الدين كل تشويه أو تحريف ويأخذون الناس إلي ربهم أخذاً جميلاً.

إلي من رفع الله منزلتهم، وسما بدرجاتهم حتي قرن شهادة أهل العلم بشهادته، وشهادة الملائكة في الشهادة بوحدانيته، والإقرار بعدالته قال الله عز وجل {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (18)}.‌‌(1)

قال ابن القيم رحمه الله: اسْتشْهد بهم على أجل مشهود بِهِ وأعظمه وأكبره وَهُوَ شَهَادَة أن لَا إِلَه إِلَّا الله والعظيم الْقدر إنما يستشهد على الأمر الْعَظِيم أكابر الْخلق وساداتهم.‌‌(2)

وقال ابن القيم أيضاً: وقد ذكرنا مائتي دليل على فضل العلم وأهله فى كتاب مفرد، فيالها من مرتبة ما أعلاها، ومنقبة ما أجلها وأسناها، أن يكون المرءُ فى حياته مشغولاً ببعض أشغاله، أو فى قبره قد صار أشلاء متمزقة وأوصالاً متفرقة، وصحف حسناته متزايدة يملى فيها الحسنات كل وقت، وأعمال الخير مهداة إليه من حيث لا يحتسب تلك والله المكارم والغنائم، وفى ذلك فليتنافس المتنافسون، وعليه يحسد الحاسدون، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء والله ذو الفضل العظيم.‌‌(3)

--------------------------------------------

‌‌(1) سورة آل عمران آية رقم 18.

‌‌(2) يُنطر "مفتاح دار السعادة ومنشور ولاية العلم والإرادة" لابن القيم 1/ 49.

‌‌(3) يُنظر "طريق الهجرتين وباب السعادتين" لابن القيم 1/ 353.
বিশেষ উৎসর্গ

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত আলেম সমাজের প্রতি, বিশেষত দ্বীনি আলেম—শরয়ী জ্ঞানের আলেমদের—প্রতি।

বিশ্বের সেই আলোকবর্তিকাদের প্রতি, যারা তাদের জ্ঞান দ্বারা জগতকে আলোকিত করেছেন এবং এতে দুই ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহর) জ্ঞান প্রচার করেছেন।

তাদের প্রতি, যারা নিজ কাঁধে ইলমের ঝাণ্ডা বহন করেছেন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে দ্বীন প্রচারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সেই ভারসাম্য রক্ষাকারী কেন্দ্রবিন্দুদের প্রতি, যারা দ্বীন থেকে সমস্ত বিকৃতি বা পরিবর্তন প্রতিহত করেন এবং মানুষকে তাদের রবের দিকে সুন্দরভাবে পরিচালিত করেন।

তাদের প্রতি, যাদের মর্যাদা আল্লাহ উচ্চ করেছেন এবং যাদের অবস্থানকে এতটাই উন্নীত করেছেন যে, তাঁর একত্ববাদের সাক্ষ্য এবং তাঁর ন্যায়বিচারের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে আলেমদের সাক্ষ্যকে নিজের সাক্ষ্য ও ফেরেশতাদের সাক্ষ্যের সাথে যুক্ত করেছেন। আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন, "আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (এই সাক্ষ্য দিয়েছেন)। তিনি ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (১৮)।"(১)

ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, "তিনি (আল্লাহ) তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন সবচেয়ে মহান, শ্রেষ্ঠ ও বড় বিষয়ের ওপর, আর তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। মহান সত্তা কেবল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও নেতৃস্থানীয়দেরই কোনো মহান বিষয়ের ওপর সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেন।"(২)

ইবনুল কাইয়্যিম আরও বলেন, "আমরা একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে ইলম ও আহলে ইলমদের (জ্ঞানী ও জ্ঞানীদের) শ্রেষ্ঠত্বের ওপর দুইশত দলীল উল্লেখ করেছি। এই মর্যাদা কতই না উচ্চ! আর এই বৈশিষ্ট্য কতই না মহান ও উজ্জ্বল! একজন মানুষ তার পার্থিব জীবনে কোনো কাজে ব্যস্ত থাকে, অথবা তার কবরে সে ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ ও বিচ্ছিন্ন অঙ্গে পরিণত হয়, অথচ তার আমলনামায় পুণ্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং প্রতি মুহূর্তে তাতে নেকি লিপিবদ্ধ হতে থাকে। আর তার কাছে এমন সব নেক আমল উপহার হিসেবে আসতে থাকে যা সে কল্পনাও করেনি। আল্লাহর কসম, এগুলোই হলো প্রকৃত সম্মান ও শ্রেষ্ঠ অর্জন। আর প্রতিযোগীদের উচিত এর জন্যই প্রতিযোগিতা করা, এবং ঈর্ষাকারীদের উচিত এ নিয়েই ঈর্ষা করা। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন; আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।"(৩)

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮।

(২) দেখুন ইবনুল কাইয়্যিম রচিত "মিফতাহু দারিস সা'আদাহ ওয়া মানশুর উইলায়াতিল ইলমি ওয়াল ইরাদাহ", ১/৪৯।

(৩) দেখুন ইবনুল কাইয়্যিম রচিত "তারিকুল হিজরাতাইন ওয়া বাবুল সা'আদাতাইন", ১/৩৫৩।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تمهيد
ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৬)
الحمد لله رب العالمين الْحَمْدُ لِلَّهِ ذِي الْمَنِّ والْإِحْسَانِ، وَالْقُدْرَةِ وَالسُّلْطَانِ، الَّذِي أَنْشَأَ الْخَلْقَ بِرُبُوبِيَّتِهِ، وَجَنَّسَهُمْ بِمَشِيئَتِهِ، وَاصْطَفَى مِنْهُمْ طَائِفَةً أَصْفِيَاءَ، وَجَعَلَهُمْ بَرَرَةً أَتْقِيَاءَ، فَهُمْ خَوَاصُّ عِبَادِهِ، وَأَوْتَادُ بِلَادِهِ، يَصْرِفُ عَنْهُمُ الْبَلَايَا، وَيَخُصُّهُمْ بِالْخَيْرَاتِ وَالْعَطَايَا، فَهُمُ الْقَائِمُونَ بِإِظْهَارِ دِينِهِ، وَالْمُتَمَسِّكُونَ بِسُنَنِ نَبِيِّهِ، فَلَهُ الْحَمْدُ عَلَى مَا قَدَّرَ وَقَضَى، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الَّذِي زَجَرَ عَنِ اتِّخَاذِ الْأَوْلِيَاءِ دُونَ كِتَابِهِ، وَاتِّبَاعِ الْخَلْقِ دَونَ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ الْمُصْطَفَى وَرَسُولُهُ الْمُجْتَبَى، بَلَّغَ عَنْهُ رِسَالَتَهُ، فَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ آمِرًا وَنَاهِيًا وَمُبِيحًا وَزَاجِرًا‌‌(1)، صلاة دائمة في كل حين تنمو وتزيد، ولا تنفد ما دامت الدنيا والآخرة ولا تبيد.

أرواحنا الفداء لمن أخلاقه شهدت بأنه خير مبعوث من البشر

عمت فضائله كل البلاد كما عمت البرية ضوء الشمس والقمر.

أما بعد: فإن السنة النبوية المطهرة هي الأصل الثاني للتشريع الإسلامي بعد كتاب الله عز وجل، وإنَّ علم الحديث مَفْخَرةٌ مِنْ مفاخر العلوم الإسلامية، فقد كان أول مَنْهجٍ عِلْمِيٍّ يُوضع في تاريخ العلوم الإنسانية لتمحيص الرِّوايات، وتدقيق الأخبار، ومعرفةِ الصحيح مِنْ الضعيف، والمقبول مِنْ المردود، بَيْنَما كان هذا الأمر غُفْلاً عند الأُمم الأُخْرَى؛ ينقلون ما هبَّ ودَبَّ مِنْ الرِّوايات والقصص والأخبار؛ دون أن يكون لديهم أي ميزانٍ أو ضابطٍ لها، حتى لو كانت تتعلَّقُ بدينهم، أو تدخل في عقائدهم؛ لذا راجت عندهم الأساطير، ودَاخَلَ مُعتقداتهم التحريفُ، وشَابت كُتُبَهم التُّرَّهاتُ والأباطيل. فكان هذا العلم - وهو علم الحديث - إعجازٌ مِنْ الله عز وجل في حفظ كتابه؛ لأنَّ السُّنة هي المُبَيِّنةُ للقرآن، وهي المُفَسِّرةُ له، وحفظ الشيء يكون بحفظ بيانه، قال الله تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ}‌‌(2).‌‌(3) وكما أن الله عز وجل قيض للكتاب العزيز العدد الكبير، والجم الغفير من الثقات الحفظة في كل قرن لينقلوه من السلف إلى الخلف كذلك قيض الله عز وجل للسُنة الشريفة أئمة كباراً، وجهابذة نقاداً، أوقفوا حياتهم لها، حتى ميزوا لنا صحيح الحديث من سقيمه، ونقدوا لنا الإسناد والمتن بتمحيص شديد وتوثيق بالغ لامثيل له، وبينوا لنا الغريب من الأحاديث والأفراد، بل واعتنوا بتلك الغرائب والأفراد أشد عناية واهتمام حتى أفردوا لها الكتب والمؤلفات. ومما يدل على شدة اعتناء صيارفة الحديث ونقاده بهذا النوع من أنواع علوم الحديث ألا وهو الغرائب والأفراد أنهم تكلموا عليه في شتي كتب الحديث وعلومه، ككتب المصطلح، والرجال، والجرح والتعديل، وكتب

--------------------------------------------

‌‌(1) مقتبس من مقدمة كتاب "معرفة علوم الحديث" للحاكم صـ 1.

‌‌(2) سورة "النحل"، الآية رقم: 44.

‌‌(3) يُنظر مقدمة كتاب "التَّفرُّد في رواية الحديث ومنهج المُحَدِّثين في قبوله" د/ عبد الجَوَاد حَمَام صـ 9.
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি অনুগ্রহ ও মহানুভবতা এবং ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী; যিনি তাঁর প্রভুত্ব দিয়ে সৃষ্টিজগৎ নির্মাণ করেছেন এবং তাঁর ইচ্ছানুযায়ী তাদেরকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। তাদের মধ্য থেকে তিনি একদলকে তাঁর খাঁটি বান্দা হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং তাদেরকে পুণ্যবান ও মুত্তাকি বানিয়েছেন। তাঁরাই তাঁর বিশেষ বান্দা এবং তাঁর জনপদসমূহের স্তম্ভ। তিনি তাঁদের থেকে বিপদাপদ দূর করেন এবং তাঁদেরকে কল্যাণ ও দান-সামগ্রী দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেন। তাঁরাই তাঁর দ্বীনকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট এবং তাঁর নবীর সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকেন। তিনি যা নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন তার জন্য তাঁরই সকল প্রশংসা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি তাঁর কিতাব ছাড়া অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে এবং তাঁর নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ছাড়া অন্য কারো অনুসরণ করতে বারণ করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর মনোনীত বান্দা ও নির্বাচিত রাসুল, যিনি তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন আদেশদাতা, নিষেধকারী, বৈধকারী এবং সতর্ককারী হিসেবে‌‌(১); এমন এক চিরস্থায়ী রহমত যা প্রতিটি সময়ে বিকশিত ও বৃদ্ধি পায় এবং দুনিয়া ও আখিরাত বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত যা কখনো শেষ হবে না কিংবা বিলীন হবে না।

আমাদের প্রাণ তাঁর জন্য উৎসর্গ হোক, যাঁর চরিত্র সাক্ষ্য দিয়েছে যে তিনি মানবজাতির মধ্যে প্রেরিত সর্বোত্তম ব্যক্তি।

তাঁর গুণাবলি সকল জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে, যেমন সূর্য ও চন্দ্রের আলো সমস্ত সৃষ্টির ওপর ছড়িয়ে পড়ে।

অতঃপর: পবিত্র নববী সুন্নাহ হলো আল্লাহর কিতাবের পর ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। আর ইলমে হাদিস বা হাদিস বিজ্ঞান হলো ইসলামি জ্ঞানসমূহের এক অনন্য গৌরব। বর্ণনাগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য, সংবাদগুলো গভীরভাবে পরীক্ষা করার জন্য এবং সহিহ (সঠিক) ও জয়িফ (দুর্বল) এবং গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয়র পার্থক্য জানার জন্য মানববিদ্যার ইতিহাসে এটিই ছিল সর্বপ্রথম প্রবর্তিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। পক্ষান্তরে অন্য জাতিগুলোর নিকট এ বিষয়টি ছিল গুরুত্বহীন; তারা ভালো-মন্দ নির্বিচারে সব ধরনের বর্ণনা, কিচ্ছা ও সংবাদ বর্ণনা করত; তাদের নিকট এগুলোর কোনো মানদণ্ড বা মাপকাঠি ছিল না, এমনকি যদি সেগুলো তাদের দ্বীন সংক্রান্তও হতো কিংবা তাদের আকিদার অন্তর্ভুক্ত হতো তবুও। ফলে তাদের মধ্যে রূপকথা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাদের বিশ্বাসে বিকৃতি প্রবেশ করেছিল এবং তাদের কিতাবসমূহে অসারতা ও বাতিল বিষয়সমূহ মিশে গিয়েছিল। সুতরাং এই বিজ্ঞান—তথা ইলমে হাদিস—আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি মুজিজা; কারণ সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যাদাতা ও বিশ্লেষণকারী। আর কোনো বস্তুর সংরক্ষণ মানে হলো তার ব্যাখ্যারও সংরক্ষণ। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং আমি আপনার প্রতি জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা বর্ণনা করেন এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।"‌‌(২)।‌‌(৩) এবং যেভাবে মহান আল্লাহ এই সম্মানিত কিতাবের জন্য প্রতিটি যুগে বিপুল সংখ্যক নির্ভরযোগ্য হাফেজকে নিয়োজিত করেছেন যাতে তাঁরা পূর্ববর্তীদের থেকে পরবর্তীদের নিকট তা পৌঁছে দিতে পারেন, তেমনিভাবে মহান আল্লাহ সম্মানিত সুন্নাহর জন্যও মহান ইমাম এবং সূক্ষ্মদর্শী সমালোচকদের নিয়োজিত করেছেন, যাঁরা তাঁদের জীবনকে এর জন্য উৎসর্গ করেছেন। ফলে তাঁরা আমাদের জন্য সহিহ হাদিসকে দুর্বল হাদিস থেকে পৃথক করেছেন এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও অতুলনীয় নির্ভরযোগ্যতার সাথে সনদ ও মতনকে ব্যবচ্ছেদ করেছেন। তাঁরা আমাদের নিকট গরিব (বিরল) ও আফরাদ (একক) হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন, এমনকি তাঁরা সেই গরিব ও একক বর্ণনাগুলোর প্রতি এমন গভীর যত্ন ও গুরুত্ব প্রদান করেছেন যে সেগুলোর জন্য স্বতন্ত্র কিতাব ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইলমে হাদিসের পারদর্শী এবং সমালোচকদের পক্ষ থেকে হাদিস বিজ্ঞানের এই শাখার প্রতি—তথা গরিব ও আফরাদ বর্ণনার প্রতি—অত্যন্ত যত্নবান হওয়ার একটি প্রমাণ হলো যে তাঁরা হাদিসের বিভিন্ন কিতাব ও এর বিজ্ঞানসমূহে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমন পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, আসমাউর রিজাল, জারহ ও তাদিল এবং অন্যান্য কিতাবসমূহ।

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-হাকিম প্রণীত "মা‘রিফাত উলূমিল হাদিস" কিতাবের ভূমিকা (পৃষ্ঠা ১) থেকে সংগৃহীত।

‌‌(২) সূরা "আন-নাহল", আয়াত নম্বর: ৪৪।

‌‌(৩) দ্রষ্টব্য: ড. আব্দুল জাওয়াদ হাম্মাম প্রণীত "আত-তাফাররুদ ফি রিওয়ায়াতিল হাদিস ওয়া মানহাজুল মুহাদ্দিসিনা ফি কবুলিহি" কিতাবের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৯।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৭)
التواريخ والبلدان‌‌(1)، فنراهم يوردون في تراجم الرواة ما تفردوا به من الغرائب والأفراد. بل وأفردوا له كذلك الكتب والمؤلفات منها على سبيل المثال لا الحصر كتاب الأفراد، والفوائد المنتخبة، وغرائب مالك للعلامة الإمام الدارقطني رحمه الله، وغيرها الكثير، ولعل من أهم هذه الكتب أيضاً كتاب المعجم الأوسط للإمام الطبراني رحمه الله.

وبعد انتهائي مِنْ مرحلة الدراسات العليا بقسم الحديث وعلومه - بكلية أصول الدين، جامعة الأزهر الشريف -، وأثناء تَقَدُّمي لإعداد بحثٍ - لنيل درجة التخصص (الماجستير) -، وجدت أنَّ هناك عِدَّة دوافع وأسباب، دفعتني للتسجيل في خدمة هذا الكتاب بالتحقيق والدِّراسة، ومن أهم هذه الأسباب ما يلي:

 

1) مكانة هذا الكتاب، وعلو كعب مؤلفه؛ فمؤلفه هو الإمام العلم المحدث الناقد البصير أبي القاسم سليمان بن أحمد الطبراني المتوفي سنة 360 هـ عمر قرناً من الزمان، واتسعت رحلته، ودخل أغلب البلاد والأمصار، فسمع من محدثيها ومشايخها، وروى عنهم، وشارك بعض شيوخه في مشايخهم، وأتي من الروايات بما لم يأت بها غيره من الغرائب والأفراد والفوائد، فأجهد من جاء بعده، وأتعب كل من أراد أن يحقق كتاباً له فرحمه الله رحمة واسعة، هذا بالإضافة إلي أن كتابه المعجم الأوسط كتاب جليل القدر عظيم النفع حتى قال عنه صاحبه الإمام الطبراني رضي الله عنه "هذا الكتاب روحي" لأنه تعب فيه. بل قال عنه الإمام الذهبي رضي الله عنه "وفيه كل نفيس وعزيز ومنكر".

2) شدة حاجة أهل العلم إلى هذا الكتاب، فعلي الرغم من أهميته وتقدم مؤلفه إلا أنه لم يخدم الخدمة التي تليق به.

3) أن الإمام الطبراني رحمه الله حكم على معظم أحاديث هذا الكتاب بالغرابة والتفرد مع الأخذ في الاعتبار بسعة روايته وعلو كعبه في هذا الفن، فأردت أن أبين هذا الأمر بعد الدراسة بالموافقة أو الرد بناءً على قواعد أهل هذا الفن.

4) كثرة النُصح من مشايخنا وأساتذتنا وإخواننا الأفاضل إلى العناية والاهتمام بهذا الكتاب.

فلهذه الأسباب وغيرها استخرت الله عز وجل أن أقوم بخدمة جزءٍ من هذا الكتاب وفاءً لهذا الإمام ولكتابه كي أنتفع منه وينتفع منه غيرى. فأقوم بفضل الله وقوته بتخريج جزءٍ من أحاديثه وبيان حكم أسانيدها من الصحة والضعف، مع النظر في أحكام الإمام على الأحاديث بالتفرد.

وذلك من حديث رقم (651) حديث "عمرو بن الحَمق قال: قال رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَا يَحِقُّ الْعَبْدُ حَقِيقَةَ الْإِيمَانِ حَتَّى يَغْضَبَ لِلَّهِ، وَيَرْضَى لِلَّهِ … الحديث". إلي حديث رقم (900) حديث " أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ رضى الله عنهما قَالَا: سَمِعْنَا خَلِيلَنَا صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «مَنْ قَتْلَهُمْ فَلَهُ أَجْرُ شَهِيدٍ … الحديث".

--------------------------------------------

‌‌(1) ويُنظر في ذلك مثلاً: "التاريخ الكبير" للبخاري، "الجرح والتعديل"، "التاريخ" لابن يونس، "المجروحين" لابن حبَّان، "الكامل في ضعفاء الرجال" لابن عدي، وهذا الكتاب أصل في غرائب الرواة وأفرادهم، "تاريخ بغداد" للخطيب، "تاريخ دمشق" لابن عساكر، "تاريخ الإسلام" للذهبي.
ইতিহাস ও দেশসমূহ‌‌(১), আমরা তাদের বর্ণনাকারীদের জীবনীতে এমন সব বিষয় উল্লেখ করতে দেখি যা তারা একচেটিয়াভাবে বর্ণনা করেছেন—যাকে গারাইব (অপরিচিত) ও আফরাদ (একক বর্ণনা) বলা হয়। বরং তারা এই বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ ও রচনাও সংকলন করেছেন; যার মধ্যে উদাহরণ হিসেবে—কিন্তু সীমাবদ্ধ নয়—আল্লামা ইমাম দারা কুতনী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবুল আফরাদ, আল-ফাওয়ায়িদ আল-মুনতাখাবাহ এবং গারাইবু মালিক উল্লেখযোগ্য, এ ছাড়াও আরও অনেক কিতাব রয়েছে। সম্ভবত এই কিতাবগুলোর মধ্যে ইমাম তাবারানী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মু'জামুল আওসাত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কিতাব।

আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দীন অনুষদের হাদীস ও হাদীস শাস্ত্র বিভাগে আমার উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করার পর, এবং যখন আমি একটি গবেষণাপত্র প্রস্তুতির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম—বিশেষজ্ঞ ডিগ্রি (মাস্টার্স) অর্জনের লক্ষ্যে—তখন আমি দেখলাম যে বেশ কিছু প্রেরণা ও কারণ রয়েছে যা আমাকে তাহকীক ও পর্যালোচনার মাধ্যমে এই কিতাবটির খিদমতে নিয়োজিত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এই কারণগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো নিম্নরূপ:

 

১) এই কিতাবের মর্যাদা এবং এর লেখকের সুউচ্চ পাণ্ডিত্য; কারণ এর লেখক হলেন প্রাজ্ঞ ইমাম, হাদীস বিশারদ ও বিচক্ষণ সমালোচক আবু আল-কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ আল-তাবারানী (মৃত্যু ৩৬০ হিজরী)। তিনি শতবর্ষ আয়ু পেয়েছিলেন এবং তার জ্ঞানান্বেষী সফর ছিল সুদূরপ্রসারী; তিনি অধিকাংশ দেশ ও নগরে প্রবেশ করেছেন, সেখানকার মুহাদ্দিস ও মাশায়েখদের কাছ থেকে হাদীস শুনেছেন এবং তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার অনেক উস্তাদের উস্তাদদের থেকেও হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি এমন সব গারাইব, আফরাদ ও ফাওয়ায়িদ (বিরল ও একক বর্ণনা) নিয়ে এসেছেন যা অন্য কেউ আনতে পারেনি। ফলে তিনি তার পরবর্তী প্রজন্মকে শ্রমসাধ্য কাজে নিয়োজিত করেছেন এবং তার কোনো কিতাব তাহকীক করতে চায় এমন প্রত্যেককে শ্রান্ত করেছেন। আল্লাহ তাকে প্রশস্ত রহমত দান করুন। এর সাথে যোগ হয়েছে এই যে, তার 'মু'জামুল আওসাত' কিতাবটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও মহা উপকারী, এমনকি এর লেখক ইমাম তাবারানী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) স্বয়ং এটি সম্পর্কে বলেছেন: "এই কিতাবটি আমার প্রাণ," কারণ তিনি এতে অনেক শ্রম দিয়েছিলেন। বরং ইমাম যাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটি সম্পর্কে বলেছেন: "এতে প্রতিটি মূল্যবান, বিরল এবং মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা রয়েছে।"

২) এই কিতাবটির প্রতি আলিম সমাজের তীব্র প্রয়োজনীয়তা; কারণ এর গুরুত্ব এবং লেখকের শ্রেষ্ঠত্ব সত্ত্বেও, কিতাবটির যতটুকু খিদমত প্রাপ্য ছিল ততটুকু তা পায়নি।

৩) ইমাম তাবারানী (রহিমাহুল্লাহ) এই কিতাবের অধিকাংশ হাদীসের ওপর গারাবাত (অপরিচিতি) ও তাফাররুদ (একক হওয়ার) হুকুম লাগিয়েছেন, অথচ এই শিল্পে (হাদীস শাস্ত্র) তার বর্ণনার ব্যাপকতা ও সুউচ্চ অবস্থান সর্বজনবিদিত। তাই আমি চেয়েছি গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়ের বিজ্ঞজনদের মূলনীতির আলোকে এই হুকুমগুলো সমর্থন বা খণ্ডনের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে।

৪) আমাদের সম্মানিত মাশায়েখ, শিক্ষকবৃন্দ এবং শ্রদ্ধেয় ভাইদের পক্ষ থেকে এই কিতাবটির প্রতি যত্ন ও মনোযোগ দেওয়ার ব্যাপারে প্রচুর নসিহত ও পরামর্শ।

এই সব কারণে এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি যেন এই ইমাম এবং তার কিতাবের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আমি এই গ্রন্থের একটি অংশের খিদমত করতে পারি, যাতে আমি নিজেও উপকৃত হই এবং অন্যরাও উপকৃত হতে পারে। অতএব, আমি আল্লাহর অনুগ্রহ ও শক্তিতে এর হাদীসসমূহের একাংশের তাখরীজ করব এবং এর সনদসমূহের সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার হুকুম বর্ণনা করব, পাশাপাশি হাদীসগুলোর একক বর্ণনার ক্ষেত্রে ইমামের দেওয়া হুকুমগুলোও পর্যালোচনা করব।

আর তা হাদীস নম্বর (৬৫১) থেকে শুরু করে—যা আমর ইবনুল হামাক বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কোনো বান্দা ঈমানের প্রকৃত হাকীকতে পৌঁছাতে পারবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহর জন্য রাগান্বিত হয় এবং আল্লাহর জন্যই সন্তুষ্ট হয়... হাদীস শেষ পর্যন্ত।" ৯০০ নম্বর হাদীস পর্যন্ত—যা আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন: আমরা আমাদের বন্ধুকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি তাদের হত্যা করবে তার জন্য শহীদের সওয়াব রয়েছে... হাদীস শেষ পর্যন্ত।"

--------------------------------------------

‌‌(১) এ বিষয়ে উদাহরণস্বরূপ দেখা যেতে পারে: বুখারীর "আত-তারীখুল কবীর", "আল-জারহু ওয়াত তা'দীল", ইবনে ইউনুসের "আত-তারীখ", ইবনে হিব্বানের "আল-মাজরুহীন", ইবনে আদী'র "আল-কামিল ফী দুয়াফায়ির রিজাল"—যা বর্ণনাকারীদের গারিব ও একক বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি মূল উৎস; তদ্রূপ খতীবের "তারীখু বাগদাদ", ইবনে আসাকিরের "তারীখু দামেশক" এবং যাহাবীর "তারীখুল ইসলাম"।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌منهجي في البحث:

اقتضت طبيعة البحث أن يأتي في تمهيد، وقسمين، وخاتمة، ومنتهيًا بالفهارس العلمية.‌‌(1)

وبيان ذلك على النحو التالي:

أولا: التمهيد:

بينت فيها أسباب اختياري للموضوع، وبيان أهميته، وإبراز منهجي فيه.

ثانياً: القسم الأول:

قسم الدِّراسة: ويشتمل على التعريف بالمؤلف، وكتابه، مع التعرض لبعض الجوانب النظرية التي لها علاقة أساسية بموضوع البحث، وذلك في ثلاثة فصول مُجْمَلَةً في العرض التالي:

الفصل الأول: التعريف بالمؤلف وذلك في ثلاثة بحوث:

البحث الأول: ترجمة الإمام الطبراني، وذلك في ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ولقبه، ونسبته.

المطلب الثاني: مولده، ونشأته، وأسرته.

المطلب الثالث: وفاته، وعمره.

البحث الثاني: حياة الإمام الطبراني العلمية، ويشتمل على أربعة مطالب:

المطلب الأول: طلبه للعلم.

المطلب الثاني: رحلاته العلمية.

المطلب الثالث: أشهر شيوخه.

المطلب الرابع: أشهر تلاميذه.

البحث الثالث: مكانته العلمية وآثاره، ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: مكانته العلمية.

المطلب الثاني: مؤلفاته.

الفصل الثاني: التعريف بالكتاب وما يتعلق به، وذلك في ثمانية بحوث:

البحث الأول: اسم الكتاب.

البحث الثاني: التثبت من صحة نسبة الكتاب إلى مؤلفه، بالوسائل العلمية المعروفة عند أهل العلم.

البحث الثالث: موضوع الكتاب.

البحث الرابع: منهج المؤلف في الجزء الخاص بالدراسة لهذه الرسالة، وتقييم ذلك المنهج.

البحث الخامس: جهود العلماء حول خدمة هذا الكتاب.

--------------------------------------------

‌‌(1) قمتُ بتعديل بعض الأشياء اليسيرة بناءً على توجيه أستاذي الكريمين - جزاهما الله خيرًا -.
আমার গবেষণা পদ্ধতি:

গবেষণার প্রকৃতি অনুযায়ী এটি একটি ভূমিকা, দুটি অংশ ও একটি উপসংহারের সমন্বয়ে বিন্যস্ত হয়েছে এবং শেষে যুক্ত হয়েছে বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্টসমূহ।(১)

যার বিবরণ নিম্নরূপ:

প্রথমত: ভূমিকা:

এতে আমি বিষয়টি নির্বাচনের কারণ, এর গুরুত্ব এবং আমার গবেষণা পদ্ধতি তুলে ধরেছি।

দ্বিতীয়ত: প্রথম অংশ:

পর্যালোচনা মূলক অংশ: এতে রয়েছে গ্রন্থকার ও তাঁর গ্রন্থের পরিচিতি। সাথে গবেষণার বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত কিছু তাত্ত্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত, যা নিচে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থকারের পরিচিতি, যা তিনটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির জীবনী, যা তিনটি আলোচ্য বিষয়ে বিভক্ত:

প্রথম আলোচ্য বিষয়: তাঁর নাম, বংশ পরিচয়, উপনাম, উপাধি এবং সম্বন্ধ।

দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং পরিবার।

তৃতীয় আলোচ্য বিষয়: তাঁর মৃত্যু এবং বয়স।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ইলমি (জ্ঞানতাত্ত্বিক) জীবন, যা চারটি আলোচ্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম আলোচ্য বিষয়: তাঁর জ্ঞান অর্জন।

দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরসমূহ।

তৃতীয় আলোচ্য বিষয়: তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকগণ।

চতুর্থ আলোচ্য বিষয়: তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রগণ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা ও অবদান, যা দুটি আলোচ্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম আলোচ্য বিষয়: তাঁর ইলমি মর্যাদা।

দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: তাঁর রচনাবলি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, যা আটটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের নাম।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আহলে ইলমদের নিকট প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গ্রন্থকারের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধের সঠিকতা যাচাই।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের বিষয়বস্তু।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: অত্র গবেষণাপত্রের জন্য নির্দিষ্ট অংশে গ্রন্থকারের অনুসৃত পদ্ধতি এবং সেই পদ্ধতির মূল্যায়ন।

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: এই কিতাবটির সেবায় আলেমদের অবদানের বিবরণ।

--------------------------------------------

(১) আমি আমার সম্মানিত দুইজন উস্তাদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী সামান্য কিছু বিষয় সংশোধন করেছি - আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ৯)
البحث السادس: معنى المعجم عند المحدثين، وهل سُبق الطبراني إلى مثل هذا النوع من المعاجم؟

البحث السابع: المقارنة بين المعاجم الثلاثة للطبراني (الكبير، الأوسط، الصغير).

البحث الثامن: وصف النُّسخ المخطوطة، والمطبوعة للكتاب.

الفصل الثالث: التعرض لبعض الأمور النظرية التي لها علاقة أساسية ومباشرة بموضوع البحث، وذلك في خمسة بحوث:

البحث الأول: التفرد لغة واصطلاحاً.

البحث الثاني: أقسام التفرد، مع ذكر أحكام كل قسم.

البحث الثالث: موقف الأئمة تجاه الغرائب.

البحث الرابع: ذكر الأسباب التي يعود إليها وصف الحديث بالغرابة.

البحث الخامس: الكتب المؤلفة في الأفراد والغرائب.

ثالثاً: القسم الثاني:

النَّص المُحَقَّق: ويشتمل على تحقيق الجزء الخاص بهذه الرسالة، ومنهجي فيه على النحو التالي:

أولاً: منهجي في تحقيق النص:

1) قمتُ بتوثيق النَّص، وذلك بمقابلة النُّسخة الخطية علي المطبوع - طبعة دار الحرمين -، ومعالجة إشكالات النص؛ بالرجوع إلى كتب السنة، وكتب التراجم، وغيرها، وأثبتُّ الفروق في الهامش.

2) قمتُ بضبط النص ضبطاً قريباً من التمام مراعياً قواعد الإملاء الحديثة.

3) قمتُ بإعجام الأعلام والكلمات المُشكلة بالحركات.

4) قمتُ ببيان غريب الألفاظ في الهامش، وإذا تطلب الأمر للإطالة أفردت لذلك عنواناً في آخر الحديث.

5) قمتُ بعزو الآيات القرآنية المذكورة إلى المصحف الشريف في الهامش بذكر اسم السورة ورقم الآية.

6) قمتُ بعزو الأبيات الشعرية إلى مصادرها إن وُجدت.

7) قمتُ بترقيم الأحاديث ترقيماً مسلسلاً. وذكرت قبل كُلّ حديث رقمين بين معقوفتين هكذا [1/ 651]، وجعلتُ الرقم الأول خاص بترتيب الأحاديث في الجزء الخاص بالدارسة، والرقم الثاني يُشير إلى رقم الحديث في المطبوع.

ثانياً: منهجي في تخريج الأحاديث:

1) قمتُ بتخريج الحديث قيد البحث من طريق المُصَنِف إلا إذا اقتضى المقام الإسهاب لتقوية الحديث أو إثبات التفرد أو دفعه أو بيان خلاف مؤثر على الراوي فى السند أو فى المتن أو هما معاً مع بيان الراجح وعلته، وكذا الجمع. وذكرت في التخريج اسم الكتاب، واسم الباب، ورقم الحديث، ورقم الجزء، والصفحة. وذلك كل كتاب علي حسبه.

2) … قمتُ بترتيب مصادر التخريج على حسب المتابعات الأتم فالأقل، فإن تساوت رتَّبتُ المُخَرِّجين على سنة الوفاة.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মুহাদ্দিসগণের নিকট 'মু'জাম'-এর অর্থ এবং এ জাতীয় মু'জাম রচনায় কি তাবারানী (রহ.)-এর পূর্বে অন্য কেউ অগ্রণী ছিলেন?

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাবারানীর তিনটি মু'জাম (আল-কাবীর, আল-আওসাত ও আস-সাগীর)-এর মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণসমূহের বিবরণ।

তৃতীয় অধ্যায়: গবেষণার বিষয়ের সাথে মৌলিক ও সরাসরি সম্পর্কযুক্ত কিছু তাত্ত্বিক বিষয়ের অবতারণা, যা পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে 'তাফাররুদ' (একক বর্ণনা)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফাররুদ-এর প্রকারভেদ এবং প্রতিটি প্রকারের বিধানের বর্ণনা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: 'গরায়েব' (বিরল বর্ণনা) সম্পর্কে ইমামগণের অবস্থান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদীসকে 'গারাবাত' (বিরলতা) হিসেবে অভিহিত করার কারণসমূহের বর্ণনা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: 'আফরাদ' ও 'গরায়েব' বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহ।

তৃতীয়ত: দ্বিতীয় অংশ:

সম্পাদিত পাঠ্য: এই গবেষণাপত্রের নির্ধারিত অংশের সম্পাদনা এতে অন্তর্ভুক্ত এবং এক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি নিম্নরূপ:

প্রথমত: মূল পাঠ্য সম্পাদনায় আমার কর্মপদ্ধতি:

১) আমি পাণ্ডুলিপির সাথে মুদ্রিত সংস্করণের—দারুল হারামাইন সংস্করণ—সমন্বয় ও মুকাবিলা করে মূল পাঠ্যের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করেছি এবং হাদীসের কিতাব ও জীবনী গ্রন্থরাজিসহ অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উৎসের সহায়তায় পাঠ্যগত জটিলতা নিরসন করেছি। এছাড়া পাঠ্যভেদগুলো টীকায় উল্লেখ করেছি।

২) আমি আধুনিক বানানরীতি অনুসরণ করে মূল পাঠ্যটিকে প্রায় নিখুঁতভাবে বিন্যস্ত করেছি।

৩) আমি ব্যক্তি ও স্থানের নাম এবং জটিল শব্দগুলোতে হরকত ও স্বরচিহ্ন প্রদান করেছি।

৪) আমি দুর্বোধ্য শব্দসমূহের ব্যাখ্যা টীকায় উল্লেখ করেছি; আর যদি বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন হয়েছে, তবে হাদীসের শেষে তার জন্য স্বতন্ত্র শিরোনাম নির্ধারণ করেছি।

৫) আমি কুরআনের আয়াতসমূহকে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে মিলিয়ে সূরার নাম ও আয়াত নম্বরসহ টীকায় উল্লেখ করেছি।

৬) আমি কাব্য সংকলন বা উৎস হতে কবিতার চরণগুলো নির্দেশ করেছি।

৭) আমি হাদীসসমূহকে ক্রমানুসারে নম্বর প্রদান করেছি। প্রতিটি হাদীসের শুরুতে থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে দুটি নম্বর এভাবে [১/ ৬৫১] উল্লেখ করেছি; যেখানে প্রথম নম্বরটি বর্তমান গবেষণার নির্ধারিত অংশের ক্রমিক এবং দ্বিতীয় নম্বরটি মুদ্রিত সংস্করণের হাদীস নম্বর নির্দেশ করে।

দ্বিতীয়ত: হাদীস তাখরীজের (উৎস নির্দেশনার) ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

১) আমি গ্রন্থকারের বর্ণিত সূত্র অনুযায়ী গবেষণাধীন হাদীসটির তাখরীজ করেছি। তবে যদি হাদীসটিকে শক্তিশালী করার জন্য, বর্ণনার এককতা (তাফাররুদ) প্রমাণ বা খণ্ডনের জন্য, অথবা সনদ কিংবা মতনে (কিংবা উভয় ক্ষেত্রে) রাবীর বর্ণনায় এমন কোনো বিরোধ যা হাদীসের ওপর প্রভাব ফেলে তা বর্ণনার প্রয়োজন হয়, তবে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। সেই সাথে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত ও তার কারণ এবং বিরোধপূর্ণ বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়ও উল্লেখ করেছি। তাখরীজের ক্ষেত্রে গ্রন্থের নাম, অধ্যায়, হাদীস নম্বর, খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর—প্রতিটি কিতাবের ধরন অনুযায়ী উল্লেখ করেছি।

২) ... আমি তাখরীজের উৎসসমূহকে পূর্ণাঙ্গতম অনুসরণের (মুতাবায়াত) ক্রমানুসারে সাজিয়েছি। যদি মান সমান হয়, তবে মুহাদ্দিসগণের মৃত্যুর সাল অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১০)
ثالثاً: منهجي في ترجمة رواة الإسناد قيد البحث:

1) اعتمدت في الترجمة على الاختصار ما أمكن إلا إذا اقتضى المقام الإطالة.

2) أقتصر في الترجمة على ما يميز الراوي بذكر اسمه، ونسبه، وكُنيته، ولقبه، وذكر ثلاثة من شيوخه، وكذلك من تلامذته على أن يكون الشيخ أو التلميذ من المذكورين في الإسناد قيد البحث.

3) ثم أذكر حال الراوي من حيث الجرح والتعديل؛ فإن كان الراوي متفقاً علي توثيقه أو تضعيفه اكتفيت بذكر خلاصة حاله، وان اختلفت أقوال النقاد فيه حاولت الجمع بينها بناء على قواعد الجرح والتعديل؛ وإلا قمتُ بالترجيح.

4) وأما أسانيد المتابعات والشواهد التي تفيد في تقوية الأحاديث فإن كانت في "الصحيحين" أو أحدهما اكتفيت بذلك في الحكم علي صحتها، وإن كانت في غيرهما درست أسانيدها في المُسَوَّدة، واكتفيت في البحث بذكر الحكم على الإسناد فقط، مع التعليل إن كان الحديث حسناً، أو ضَعيفًا.

5) إذا كان فى الحديث خلاف ترجمت لرواة الأوجه الأخرى - إذا كانت في غير الصحيحين - مراعياً الاختصار بتمييز الرواة وبيان حالهم من حيث الجرح والتعديل مُكْتَفِيًا بأحكام الحافظ ابن حجر علي الرواة مِنْ كتابه "التقريب" إلا إذا خالفه الصواب في ذلك، أما إذا كان الحديث من هذه الأوجه الأخري فى الصحيحين أو أحدهما قلت: هذا كافٍ في إثبات صحته.

رابعاً: منهجي في الحكم على الحديث:

1) حكمت على الحديث بما يليق بحاله، مُبَيِّنًا عِلَّة الحكم إن كان الحديث حسنًا أو ضَعيفًا.

2) وإذا كان الحديث قيد البحث صحيحاً من الوجه المذكور؛ اكتفيت بذلك في الحكم عليه، وإن كان حسناً أو ضعيفاً بحثت عن ما يرفعه إلى درجة الصحيح لغيره إن كان حسناً، أو إلى الحسن لغيره إن كان ضعيفاً مع الاكتفاء بذكر ما يُفيد في التقوية من المتابعات أو الشواهد.

خامسا: منهجي في النظر في أحكام الإمام الطبراني على الأحاديث بالتفرد:

1) أقوم بملاحظة أحكام الإمام الطبراني على الأحاديث بالتفرد.

2) أذكر أقوال أهل العلم الموافقين والمخالفين له في ذلك.

3) مناقشة ما سبق ذكره من أقوال أهل العلم بناء على ما سبق ذكره من دراسة الإسناد وتخريج الحديث وفقا لقواعد أهل هذا الفن.

سادسا: منهجي في التعليق على الحديث:

أختم الكلام على الحديث بالتعليق عليه فأذكر كلام بعض شُراح الحديث من أجل أن أوضح معانيه وأجليها، وربما تدخلت لتوضيح بعض ألفاظ أهل العلم.

رابعاً: الخاتمة:

وقد ضمنتها تلخيصاً لأهم الفوائد والنتائج التي تظهر لي من خلال معايشة البحث، ودراسته، وبيان عدد الأحاديث الواردة في البحث من حيث القبول، والرد.
তৃতীয়ত: গবেষণাধীন সনদের রাবীদের (বর্ণনাকারীদের) জীবনী রচনার ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

১) জীবনী রচনার ক্ষেত্রে আমি যতটুকু সম্ভব সংক্ষিপ্তকরণের নীতি অবলম্বন করেছি, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্ণনার খাতিরে দীর্ঘ করার প্রয়োজন দেখা দিলে তা করা হয়েছে।

২) রাবীর পরিচয়ের ক্ষেত্রে আমি কেবল তার স্বাতন্ত্র্যসূচক বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি; যেমন তার নাম, বংশ পরিচয়, কুনিয়াত (উপনাম) ও লকব (পদবি) উল্লেখ করা এবং তার তিনজন উস্তাদ ও তিনজন ছাত্রের নাম উল্লেখ করা, তবে শর্ত হলো সেই উস্তাদ বা ছাত্রকে গবেষণাধীন সনদে বিদ্যমান হতে হবে।

৩) অতঃপর জারহ ও তা'দীল (দোষ ও গুণ বিচার) এর মানদণ্ডে রাবীর অবস্থা উল্লেখ করেছি; যদি রাবীর বিশ্বস্ততা বা দুর্বলতার ব্যাপারে সবাই একমত হন, তবে আমি সংক্ষেপে তার অবস্থা উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর যদি তার ব্যাপারে সমালোচকদের মতভেদ থাকে, তবে জারহ ও তা'দীলের মূলনীতির আলোকে আমি সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি; অন্যথায় প্রাধান্যযোগ্য মতটি (তারজীহ) গ্রহণ করেছি।

৪) আর হাদীসকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সহায়ক 'মুতাবায়াত' ও 'শাওয়াহিদ' (সমর্থনমূলক ও সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) এর সনদগুলোর ক্ষেত্রে যদি তা 'সহীহাইন' (বুখারী ও মুসলিম) বা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে সেটির সহীহ হওয়ার ব্যাপারে আমি তাতেই সন্তুষ্ট থেকেছি। আর যদি তা অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে পাণ্ডুলিপিতে সেগুলোর সনদ নিয়ে আমি গবেষণা করেছি এবং মূল গবেষণায় শুধুমাত্র সনদের ওপর হুকুম (সিদ্ধান্ত) উল্লেখ করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি। সাথে হাদীসটি 'হাসান' বা 'যয়ীফ' হওয়ার কারণ বর্ণনা করেছি।

৫) হাদীসের বর্ণনায় মতভেদ থাকলে আমি অন্যান্য সূত্রের রাবীদের জীবনীও রচনা করেছি—যদি সেগুলো সহীহাইন-এর বাইরে থাকে। এক্ষেত্রে রাবীদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা ও জারহ-তা'দীল অনুযায়ী তাদের অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি সংক্ষিপ্তকরণের নীতি বজায় রেখেছি। রাবীদের ব্যাপারে আমি হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) এর 'তাকরীবুত তাহযীব' গ্রন্থের হুকুমের ওপরই নির্ভর করেছি, যদি না সেই হুকুমটি সঠিক হওয়ার পরিপন্থী হয়। তবে হাদীসের এই অন্যান্য সূত্রগুলো যদি সহীহাইন বা এর কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে, তবে আমি বলেছি: এটি এর সত্যতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট।

চতুর্থত: হাদীসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

১) আমি হাদীসের ওপর তার অবস্থা অনুযায়ী হুকুম প্রদান করেছি এবং হাদীসটি হাসান বা যয়ীফ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছি।

২) যদি গবেষণাধীন হাদীসটি উল্লিখিত সূত্র থেকে সহীহ হয়, তবে আমি তার ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে তাতেই সন্তুষ্ট থেকেছি। আর যদি তা হাসান বা যয়ীফ হয়, তবে আমি এমন কিছু তালাশ করেছি যা হাসান হাদীসকে 'সহীহ লি-গাইরিহি'র স্তরে এবং যয়ীফ হাদীসকে 'হাসান লি-গাইরিহি'র স্তরে উন্নীত করে। এক্ষেত্রে হাদীসকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সহায়ক মুতাবায়াত ও শাওয়াহিদগুলোর মধ্য থেকে যতটুকু প্রয়োজন তা উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।

পঞ্চমত: হাদীসের একাকী বর্ণনার (তাফাররুদ) ব্যাপারে ইমাম তাবারানীর হুকুমসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

১) আমি হাদীসের 'তাফাররুদ' বা একাকী বর্ণনার বিষয়ে ইমাম তাবারানীর প্রদানকৃত হুকুমগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি।

২) এ বিষয়ে তার সাথে একমত পোষণকারী এবং ভিন্নমত পোষণকারী আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি।

৩) এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের মূলনীতি অনুযায়ী সনদ অধ্যয়ন ও হাদীস তাখরীজের আলোকে আলেমদের উল্লিখিত বক্তব্যের ওপর আলোচনা করেছি।

ষষ্ঠত: হাদীসের ওপর টীকা বা মন্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি:

হাদীসের আলোচনা শেষ করার সময় আমি সেটির ওপর টীকা প্রদান করেছি এবং হাদীসের অর্থসমূহ সুস্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য কয়েকজন হাদীস ব্যাখ্যাকারীর বক্তব্য উল্লেখ করেছি। আবার কখনো কখনো আলেমদের কিছু শব্দের অর্থ পরিষ্কার করার জন্য আমার পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

চতুর্থ: উপসংহার:

আমি এখানে গবেষণার সাথে নিবিড় সংশ্লিষ্টতা ও তা অধ্যয়নের মাধ্যমে আমার কাছে স্পষ্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা ও ফলাফলগুলোর সারসংক্ষেপ এবং এই গবেষণায় উল্লিখিত হাদীসগুলোর মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয় হাদীসের সংখ্যা বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১১)
خامساً: الفهارس العلمية:

وتشتمل علي ما يلي:

1) فهرس الآيات القرآنية علي ترتيب السور.

2) فهرس الأحاديث النبوية علي نظام ألف بائي حسب مطلع الحديث.

3) فهرس الأحاديث والآثار على الكتب الفقهية.

4) فهرس للرواة جميعاً علي حروف المعجم.

5) فهرس المراجع: وفيه ذكرت اسم المرجع ومؤلفه، وطبعته، وتاريخه إن وجد وترتيبها على حسب حروف المعجم.

6) فهرس الموضوعات.

وأخيراً: الشكر والتقدير:

أشكر الله عز وجل علي ما أنعم وتفضل به عليَّ من إتمام هذا العمل فله الفضل أولاً وأخراً، وظاهراً وباطناً.

ولا يسعني كذلك إلا أن أتقدم بخالص الشكر والامتنان لشيخيَّ وأستاذيَّ الكريمين الذين قَبِلا - تواضعا منهما - الإشراف على هذه الرسالة، فضيلة الأستاذ الدكتور/ محمود عمر إبراهيم هاشم، وفضيلة الدكتور/ عبد العزيز مهدي حسن السيد تغمده الله بواسع رحمته، وجعل قبره روضة من رياض الجنة، فلقد سهلا لي طريق البحث بنصحهما وإرشادهما، وتعلمت الكثير مِنْ خُلُقهما وأدبهما وتواضعهما وكرمهما البالغ، فجزاهما الله عنى وعن إخواني من طلبة العلم خير الجزاء.

كما أتقدم بالشكر والعرفان لفضيلة الأستاذ الدكتور/ أحمد معبد عبد الكريم، والذى كان له أثرٌ كبيرٌ في الحصول على النسخة الكاملة للمخطوط، حيث صَوَّرها لنا على نفقته الخاصة. فجزاه الله خير الجزاء.

كما أتقدم بالشكر والعرفان لعميد ووكيل كلية أصول الدين والدعوة بالزقازيق، ولأعضاء هيئة التدريس بالكلية عموماً ولقسم الحديث وعلومه خصوصاً، وشكري موصول إلى فضيلة الأستاذ الدكتور/ ممدوح محمد أحمد على ما قدمه لي من نصح وعون وإرشاد فجزاه الله عني وعن إخواني من طلبة العلم خير الجزاء. وشكري موصول أيضاً لأخي الفاضل د/ محمود محمد محمد عمارة السعدني الذى كان لي بمثابة الأخ الكبير والناصح الأمين، والذي كان له الأثر الأكبر في تشجيعي علي التسجيل في "كتاب "المعجم الأوسط" فقد كنت في بداية الأمر متردداً وذلك نظراً لصعوبة علم العلل فكثر نصحه لي بعبارات مفادها "أن خض هذا العلم متعلماً" إضافة إلي أنه لم يتأخر عني عن جواب عن سؤال أو استفسار فجزاه الله خير الجزاء.

كما أتوجه بخالص الشكر والتقدير للسادة العلماء أعضاء لجنة المناقشة على قبولهم النظر في الرسالة وإبداء ملاحظاتهم، وإنَّي على يقين أنَّني سأستفيد من توجيهاتهم وإرشاداتهم - حفظهم الله رب العالمين -، والله أسأل أن يُنَضِّر وجوه مشايخنا وأساتذتنا الفضلاء في الدنيا والآخرة، وأن يجزيهم عنى وعن طلبة العلم خير الجزاء، وأن يجعل هذا الجهد في موازين حسناتهم في يوم تكون العاقبة فيه للمتقين.
পঞ্চম: ইলমি নির্ঘণ্টসমূহ:

যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

১) সুরাসমূহের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

২) হাদিসের শুরুর শব্দ অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে হাদিসে নববীর নির্ঘণ্ট।

৩) ফিকহি কিতাবসমূহের বিন্যাসে হাদিস ও আছারসমূহের নির্ঘণ্ট।

৪) বর্ণানুক্রমিক পদ্ধতিতে সকল বর্ণনাকারীর নির্ঘণ্ট।

৫) সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি: এতে আমি গ্রন্থের নাম, লেখকের নাম, মুদ্রণ সংস্করণ এবং তারিখ (যদি থাকে) উল্লেখ করেছি এবং বর্ণানুক্রমিকভাবে তা বিন্যস্ত করেছি।

৬) বিষয়সূচি।

এবং পরিশেষে: কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন:

আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি তিনি আমাকে যে নেয়ামত দান করেছেন এবং এই কাজ সম্পন্ন করার তৌফিক দিয়েছেন। শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে সকল শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তাঁরই।

সেই সাথে আমি আমার দুই সম্মানিত শায়খ ও উস্তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি, যারা তাঁদের বিনয়বশত এই গবেষণাপত্রটি তত্ত্বাবধান করতে সম্মত হয়েছেন—তাঁরা হলেন ফযিলাতুশ শায়খ প্রফেসর ড. মাহমুদ ওমর ইব্রাহিম হাশেম এবং ফযিলাতুশ শায়খ ড. আব্দুল আজিজ মাহদি হাসান আস-সাইয়্যেদ। আল্লাহ তাঁকে তাঁর প্রশস্ত রহমতে আবৃত করুন এবং তাঁর কবরকে জান্নাতের অন্যতম বাগান বানিয়ে দিন। তাঁরা তাঁদের উপদেশ ও নির্দেশনার মাধ্যমে আমার গবেষণার পথ সহজ করে দিয়েছেন। আমি তাঁদের চরিত্র, আদব, বিনয় ও অত্যধিক মহানুভবতা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে এবং আমার ইলম অন্বেষী ভাইদের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি ফযিলাতুশ শায়খ প্রফেসর ড. আহমদ মা'বাদ আব্দুল করিমের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, পাণ্ডুলিপির পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার ক্ষেত্রে যার বিশাল ভূমিকা রয়েছে; কারণ তিনি নিজ খরচে সেটি আমাদের জন্য ফটোকপি করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

এছাড়াও আমি জাকাজিকের কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন ওয়াদ দাওয়াহ-এর ডিন ও ভাইস-ডিন এবং কলেজের সকল শিক্ষক মণ্ডলী বিশেষ করে হাদিস ও উলুমুল হাদিস বিভাগের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমার কৃতজ্ঞতা পৌঁছে দিচ্ছি ফযিলাতুশ শায়খ প্রফেসর ড. মামদুহ মুহাম্মদ আহমদের প্রতি, তিনি আমাকে যে উপদেশ, সহায়তা ও নির্দেশনা দিয়েছেন তার জন্য। আল্লাহ আমার ও আমার সহপাঠী ইলম অন্বেষীদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমার কৃতজ্ঞতা আরও পৌঁছে দিচ্ছি আমার শ্রদ্ধেয় ভাই ড. মাহমুদ মুহাম্মদ মুহাম্মদ আমারা আস-সাদানির প্রতি, যিনি আমার কাছে বড় ভাই ও একজন বিশ্বস্ত নসিহতকারীর ন্যায় ছিলেন। "আল-মু'জামুল আওসাত" কিতাবের উপর গবেষণার জন্য নিবন্ধন করতে আমাকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে। ইলমে ইলাল এর কাঠিন্যের কারণে শুরুতে আমি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, তখন তিনি আমাকে এই বলে অনেক উপদেশ দিতেন যে, "একজন শিক্ষার্থীর মতো এই ইলমে ঝাঁপিয়ে পড়ো।" উপরন্তু, তিনি কোনো প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসার উত্তর দিতে কখনোই বিলম্ব করেননি। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

পরিশেষে আমি পরীক্ষক কমিটির বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এই গবেষণাপত্রটি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করা এবং তাঁদের মূল্যবান মতামত প্রদানের জন্য। আমি নিশ্চিত যে, তাঁদের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ থেকে আমি উপকৃত হব—রব্বুল আলামিন তাঁদের হেফাজত করুন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের উস্তাদ ও সম্মানিত শায়খদের মুখ উজ্জ্বল করেন এবং আমার ও তালিবে ইলমদের পক্ষ থেকে তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করেন। কিয়ামতের দিন যখন শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকিদের জন্য হবে, সেদিন আল্লাহ এই প্রচেষ্টাকে তাঁদের নেকির পাল্লায় যুক্ত করুন।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১২)
وختامًا: جعلنا الله عز وجل مِمَّن تَكَلَّف الجَهْدَ في حِفْظِ السُّنَنِ ونَشْرِها، وتمييز صحيحها مِنْ سقيمها، والتفقه فيها، والذب عنها، إنَّه المَانُّ على أوليائه بمنازل المُقَرَّبين، والمُتفضِّلُ على أحبابه بدرجة الفائزين.‌‌(1)

والأمر كما قال القاضي عبد الرحيم البيساني رضي الله عنه: إني رأيتُ أنَّه لا يكتب أحد كتاباً في يومهِ إلا قال في غَدِهِ: لو غُيِّرَ هذا لكان أحسن، ولو زيد هذا لكان يُستحَسن، ولو قُدَّم هذا لكان أفضل، ولو تُرِك هذا لكان أجمل، وهذا أعظم العبر، وهو دليلٌ على استيلاء النقص على جملة البشر، فأرجو مسامحة ناظريه فهم أهلوها، وأؤمل جميلهم فهم أحسن النَّاس وجُوهًا.‌‌(2)

والله من وراء القصد، وهو حسبنا ونعم الوكيل، ونسأل الله تعالي أن يرزقنا التوفيق والسداد والإخلاص في القول والفعل والعمل. وأن يُجنبنا الخطأ والزلل والنسيان، إنه ولي ذلك والقادر عليه. وما كان من توفيق فمن الله وحده. وما كان من خطأ، أو زلل، أو سهو، أو نسيان، فمني ومن الشيطان والله ورسوله منه براء. وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

--------------------------------------------

‌‌(1) مُقتبسٌ مِنْ كلام ابن حبَّان في كتابه "الثقات"9/ 297.

‌‌(2) يُنظر: "إتحاف السادة المتقين" للزَّبيديّ (1/ 3)، وهي من رسالة البيساني إلى العماد - رحمهما الله تعالى.
পরিশেষে: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আমাদের এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা সুন্নাহ সংরক্ষণ ও প্রচারে, তার মধ্য থেকে সঠিক ও ত্রুটিপূর্ণকে পৃথকীকরণে, তার গভীর সমঝ লাভে এবং তার প্রতিরক্ষায় যথাযথ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর ওলিদের প্রতি নৈকট্যপ্রাপ্তদের মর্যাদার মাধ্যমে অনুগ্রহকারী এবং তাঁর প্রিয়জনদের প্রতি সফলকামদের স্তরের মাধ্যমে করুণাকারী।‌‌(১)

আর বিষয়টি তেমনই যেমনটি কাজী আব্দুর রহিম আল-বাইসানি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “আমি দেখেছি যে, কেউ যখন কোনো একদিনে কোনো গ্রন্থ রচনা করে, তখন সে তার পরের দিনই বলে: যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে তা আরও ভালো হতো; যদি এটি বৃদ্ধি করা হতো তবে তা পছন্দনীয় হতো; যদি এটি আগে আনা হতো তবে তা আরও উত্তম হতো; আর যদি এটি বাদ দেওয়া হতো তবে তা আরও সুন্দর হতো। এটি একটি মহান শিক্ষা এবং এটি সমগ্র মানবজাতির ওপর অপূর্ণতার প্রভাবের প্রমাণ। সুতরাং আমি এর পাঠকদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি কারণ তারা এর যোগ্য, এবং আমি তাদের মহানুভবতা প্রত্যাশা করছি কারণ তারা সদাশয় ব্যক্তি।”‌‌(২)

আর আল্লাহই সকল উদ্দেশ্যের লক্ষ্যস্থল, আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের কথা, কাজ ও আমলে তাওফিক, সঠিক পথপ্রদর্শন এবং ইখলাস দান করেন। আর তিনি যেন আমাদের ভুল, বিচ্যুতি ও বিস্মৃতি থেকে রক্ষা করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বময় ক্ষমতাবান। যা কিছু সঠিক ও তাওফিক হয়েছে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। আর যা কিছু ভুল, বিচ্যুতি বা বিস্মৃতি হয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।

--------------------------------------------

‌‌(১) ইবনে হিব্বানের ‘আস-সিকাত’ ৯/২৯৭ গ্রন্থের আলোচনা থেকে সংগৃহীত।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: যুবাইদি প্রণীত ‘ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন’ (১/৩), এটি আল-বাইসানির পক্ষ থেকে আল-ইমাদের প্রতি প্রেরিত পত্রের অংশ—আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৩)
القسم الأول: قسم‌‌ الدراسة

ويشتمل على التعريف بالمُؤلِّف، وكتابه، ودراسة بعض الجوانب النظرية

التي لها علاقة أساسية بموضوع البحث.

وذلك في ثلاثة فصول:

 

‌‌الفصل الأول: التعريف بالمُؤلِّف

وذلك في ثلاثة بحوث:

البحث الأول: حياة الإمام الطبراني الشخصية.

وذلك في ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ونسبته.

المطلب الثاني: مولده، ونشأته، وأسرته.

المطلب الثالث: وفاته وعمره.

البحث الثاني: حياة الإمام الطبراني العلمية.

ويشتمل على خمسة مطالب:

المطلب الأول: طلبه للعلم.

المطلب الثاني: رحلاته العلمية.

المطلب الثالث: أشهر شيوخه.

المطلب الرابع: أشهر تلاميذه.

المطلب الخامس: عقيدته.

البحث الثالث: مكانته العلمية.

ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: مكانته العلمية.

المطلب الثاني: مؤلفاته.
প্রথম বিভাগ: গবেষণা বিভাগ

এটি লেখক ও তাঁর গ্রন্থ এবং গবেষণার বিষয়ের সাথে মৌলিকভাবে সংশ্লিষ্ট কিছু তাত্ত্বিক দিকসমূহের আলোচনা ও পরিচিতিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখক পরিচিতি

এটি তিনটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ব্যক্তিগত জীবন।

এটি তিনটি উপ-অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও সম্বন্ধ।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পরিবার।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু ও বয়স।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ইলমি জীবন।

যা পাঁচটি উপ-অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলম অন্বেষণ।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি সফরসমূহ।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণ।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রগণ।

পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর আকীদা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা।

যা দুটি উপ-অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলী।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌البحث الأول: حياة الإمام الطبراني الشخصية.

وذلك في ثلاثة مطالب:

 

‌‌المطلب الأول: اسمه، ونسبه، وكنيته، ونسبته:

اسمه، ونسبه، وكنيته: الإِمَامُ، الحَافِظُ، الثِّقَةُ، الرَّحَّالُ، الجَوَّالُ، مُحَدِّثُ الإِسلَامِ، علمُ المعمَّرينَ، أَبُو القَاسِمِ سُلَيْمَانُ بنُ أَحْمَدَ بنِ أَيُّوْبَ بنِ مُطَيّرٍ‌‌(1) اللَّخْمِيُّ، الشَّامِيُّ، الطَّبَرَانِيُّ، صَاحبُ المَعَاجِمِ الثَّلَاثَةِ.‌‌(2)

نسبته: الطبراني: قال السمعاني: بفتح الطاء المهملة والباء المنقوطة بواحدة، والراء، في آخرها النون، هذه النسبة إلى طبرية، وهي مدينة من الأردن بناحية الغور ومن المشهورين بالانتساب إليها: أبو القاسم سليمان بن أحمد بنِ أَيُّوْبَ بنِ مُطَيّرٍ اللَّخْمِيُّ، الطَّبَرَانِيُّ.‌‌(3) وقال ابن خلكان: الطبراني: نسبة إلى طبرية، والطبري نسبة إلى طبرستان.‌‌(4)

وقال الدكتور شوقي أبو خليل: طبرية بحيرة ومدينة في شمال فلسطين، غربها موقع حطين، فتحت طبرية علي يد شرحبيل بن حَسَنة سنة 14 هـ صُلحاً. وهي تحت مستوي سطح البحر 209 م، يخرج منها نهر الأردن ليصب بالبحر الميت، وتبعد عن البحر المتوسط 43 كم.‌‌(5)

وكذلك اللخمي: قال ابن خلكان: اللخمي: بفتح اللام وسكون الخاء المعجمة وبعدها ميم هذه النسبة إلى لخم بن عدي، واسمه مالك، وهو أخو جذام، واسم جذام عمر بن عدي، وكانا قد تشاجرا فلخم عمرو مالكاً ــــــ أي لطمه ـــــــ فضرب مالك عمراً بمدية فجذم يده - أي قطعها - فسمي مالك لخمًا، وسمي عمرو جذاماً لهذا السبب.‌‌(6)

والأصبهاني أيضاً: نسبة إلى مدينة أصبهان: بفتح الهمزة، وكسرها، وهي مدينة مشهورة من أعلام المدن وأعيانها، وقد اختلف في سبب تسميتها على عدة أقوال، فُتحت في عهد سيدنا عمر بن الخطاب رضي الله عنه سنة 21 هـ، وهي من أخصب المدن وأكثرها مالا وخيرات وفواكه.‌‌(7) وتقع أصبهان اليوم في دولة إيران.

--------------------------------------------

‌‌(1) قال ابن خلكان: مطير: تصغير مطر. يُنظر وفيات الأعيان" لابن خلكان 2/ 407.

‌‌(2) يُنظر "سير أعلام النبلاء" للذهبي 16/ 119.

‌‌(3) يُنظر "الأنساب" للسمعاني 8/ 198.

‌‌(4) يُنظر "وفيات الأعيان" لابن خلكان 2/ 407.

‌‌(5) يُنظر "أطلس الحديث النبوي" للدكتور/ شوقي أبو خليل صـ 246.

‌‌(6) يُنظر "الأنساب" 11/ 18، "وفيات الأعيان" لابن خلكان 1/ 167، 2/ 407.

‌‌(7) يُنظر "معجم البلدان" لياقوت الحموي 1/ 206.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ব্যক্তিগত জীবন.

এটি তিনটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম এবং নিসবত:

নাম, বংশপরিচয় এবং উপনাম: তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ, নির্ভরযোগ্য, মহান পর্যটক, বিচরণকারী, ইসলামের মুহাদ্দিস, দীর্ঘজীবীদের মধ্যে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব ইবনে মুতাইর(১) আল-লাখমি, আশ-শামি, আত-তাবারানি, যিনি তিনটি 'মুজাম'-এর রচয়িতা।(২)

নিসবত: আত-তাবারানি: সামআনি বলেন: নুকতাহীন 'তা' (ত্বা) এবং এক নুকতাহীন 'বা' (উভয়টিতে ফাতহাহ বা যবর), এরপর 'রা' এবং শেষে 'নুন'। এই নিসবতটি 'তাবারিয়া'র দিকে সম্পর্কিত, যা জর্ডানের গোর অঞ্চলের একটি শহর। এই নিসবতে পরিচিতদের মধ্যে বিখ্যাত হলেন: আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব ইবনে মুতাইর আল-লাখমি, আত-তাবারানি।(৩) ইবনে খাল্লিকান বলেন: তাবারানি শব্দটি তাবারিয়া-র দিকে সম্পর্কিত, আর তাবারি শব্দটি তাবারস্তান-এর দিকে সম্পর্কিত।(৪)

ডক্টর শাওকি আবু খলিল বলেন: তাবারিয়া হলো উত্তর ফিলিস্তিনের একটি হ্রদ ও শহর, যার পশ্চিমে হিত্তিন অবস্থিত। হিজরি ১৪ সালে শুরাহবিল ইবনে হাসানাহর হাতে সন্ধির মাধ্যমে তাবারিয়া বিজিত হয়। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২০৯ মিটার নিচে অবস্থিত, এখান থেকে জর্ডান নদী বের হয়ে মৃত সাগরে গিয়ে পড়েছে এবং এটি ভূমধ্যসাগর থেকে ৪৩ কিমি দূরে অবস্থিত।(৫)

তেমনিভাবে আল-লাখমি: ইবনে খাল্লিকান বলেন: লাখমি শব্দটি 'লাম'-এ ফাতহাহ (যবর) এবং নুকতাযুক্ত 'খা'-তে সুকুন, এরপর 'মিম'। এই নিসবতটি লাখম ইবনে আদির দিকে সম্পর্কিত, যাঁর নাম ছিল মালিক এবং তিনি জুযাম-এর ভাই। জুযামের নাম ছিল উমর ইবনে আদি। তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল, তখন লাখম মালিককে থাপ্পড় মেরেছিল, বিনিময়ে মালিক একটি ছুরি দিয়ে উমরকে আঘাত করে তাঁর হাত কেটে ফেলেছিলেন। এই কারণে মালিককে 'লাখম' এবং উমরকে 'জুযাম' বলা হয়।(৬)

এবং আল-আসবাহানিও: এটি আসবাহান শহরের দিকে সম্পর্কিত: হামজাহ-তে ফাতহাহ (যবর) বা কাসরাহ (যের) সহ। এটি প্রসিদ্ধ শহরগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম ও বিশিষ্ট শহর। এর নামকরণের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। এটি সাইয়্যিদুনা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকালে হিজরি ২১ সালে বিজিত হয়। এটি অত্যন্ত উর্বর এবং ধন-সম্পদ, কল্যাণ ও ফলমূল সমৃদ্ধ একটি শহর।(৭) আসবাহান বর্তমানে ইরান রাষ্ট্রে অবস্থিত।

--------------------------------------------

(১) ইবনে খাল্লিকান বলেন: মুতাইর শব্দটি 'মাতার'-এর তাসগির (ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ)। দেখুন: ইবনে খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' ২/৪০৭।

(২) দেখুন: যাহাবীর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' ১৬/১১৯।

(৩) দেখুন: সামআনির 'আল-আনসাব' ৮/১৯৮।

(৪) দেখুন: ইবনে খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' ২/৪০৭।

(৫) দেখুন: ডক্টর শাওকি আবু খলিল প্রণীত 'আটলাসুল হাদিসিন নাবাবি', পৃষ্ঠা ২৪৬।

(৬) দেখুন: 'আল-আনসাব' ১১/১৮; ইবনে খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' ১/১৬৭, ২/৪০৭।

(৭) দেখুন: ইয়াকুত আল-হামাভির 'মুজামুল বুলদান' ১/২০৬।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المطلب الثاني: مولده، ونشأته، وأسرته:

مولده: قال ابن منده رحمه الله: سَمِعت الإِمَام عمي رحمه الله وَمُحَمّد بن بديع يَقُولَانِ سمعنَا أَبَا بكر أَحْمد بن مُوسَى بن مردويه يَقُول سَمِعت الإِمَام أَبَا الْقَاسِم الطَّبَرَانِيّ يَقُول ولدت سنة سِتِّينَ وَمِائَتَيْنِ.‌‌(1)

قلت: والذي يظهر من كلام أهل العلم أنهم اتفقوا علي الزمان الذي ولد فيه الإمام رحمه الله، لكنهم اختلفوا في المكان الذي ولد فيه رضي الله عنه: فقال ياقوت الحموي، وابن الأثير، وابن خلكان: كان مولده بطبرية، سنة ستين ومائتين.‌‌(2) بينما قال أبو الحسين ابن أبي يعلى ابن الفراء، والذهبي: كان مولده بعكّا، في صفر سنة ستين ومائتين. قال الذهبي: وَكَانَتْ أُمُّهُ عَكَّاوِيَّة.‌‌(3)

نشأته: نشأ الإمام الطبراني رحمه الله وتربي وترعرع في بيئة صالحة من أهل العلم والورع والتقوي فقد كان والده صاحب حديث. قال الذهبي رحمه الله: أوَّل سماعه في سنة ثلاث وسبعين ومائتين بطبريّة، وارتحل به أبوه، وحرص عليه، فإنَّه كان صاحب حديثٍ من أصحاب دُحيم، فبقي في الارتحال وَلقِيِّ الرِّجَال ستة عشر عامًا.‌‌(4)

أسرته: كان والده مِنْ طبرية، وكان صاحب حديث مِنْ أصحاب دُحيم، وأمُّه عَكَّاوية مِنْ عَكَّا كما قال الذهبي. وأمَّا أولاده: فقال ابن منده رحمه الله: سمعت عمي الإِمَام رحمه الله وَمُحَمّد بن بديع الْحَاجِب يَقُولَانِ سمعنَا أَبَا بكر أَحْمد بن مُوسَى يَقُول: للطبراني رحمه الله ابن يُسمى مُحَمَّدًا ويكنى أَبَا ذَر وَله بنت تسمى فَاطِمَة أمهَا أَسمَاء بنت أَحْمد بن مُحَمَّد بن شدرة الْخَطِيب وَذكر أَنَّهَا كَانَت تَصُوم يَوْمًا وتفطر يَوْمًا وَكَانَت لَا تنام من اللَّيْل الا قَلِيلاً رَحمهَا الله وَلها عقب. وَأما مُحَمَّد ابْنه فيروي عَن أبي عَليّ الْوراق، وَأبي عَمْرو بن حَكِيم، وَعبد الله بن جَعْفَر بانتخاب وَالِده رَحْمَة الله عَلَيْهِ مَاتَ فِي رَجَب سنة تسع وَتِسْعين وثلاثمائة وقبره بِجنب قبر وَالِده رحمهمَا الله روى عَنهُ جمَاعَة من كبار الْمُحدثين كَأبي عَليّ الرستاقي، وَأبي طَاهِر بن عُرْوَة، وَأبي أَحْمد الْعَطَّار، وَعلي بن أَحْمد بن مهْرَان، وَعلي بن الْحُسَيْن الإسكاف وَعلي بن سعيد الْبَقَّال.‌‌(5)

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" لابن منده صـ 30، "تاريخ دمشق" لابن عساكر 22/ 163.

‌‌(2) يُنظر "معجم البلدان" 4/ 19، "اللباب في تهذيب الأنساب" لابن الأثير 2/ 273، "وفيات الأعيان" 2/ 407.

‌‌(3) يُنظر "طبقات الحنابلة" لأبي الحسين ابن أبي يعلى الفراء 2/ 50، "تاريخ الإسلام" للذهبي 8/ 143، "السير" 16/ 119.

‌‌(4) يُنظر "سير أعلام النبلاء" 16/ 119، "تاريخ الإسلام" 8/ 143.

‌‌(5) يُنظر "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" للإمام أبي زكريا يحيى بن عبد الوهاب بن منده صـ 32.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং পরিবার:

তাঁর জন্ম: ইবনে মান্দাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি ইমাম আমার চাচা (রাহিমাহুল্লাহ) এবং মুহাম্মদ বিন বাদী'-কে বলতে শুনেছি যে, তাঁরা বলেন: আমরা আবু বকর আহমাদ বিন মুসা বিন মারদুওয়াইহকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আমি ইমাম আবুল কাসিম আত-তাবারানিকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আমি দুইশ ষাট হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছি।‌‌(১)

আমি (লেখক) বলছি: ইলম অন্বেষণকারীদের কথা থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) যে সময়ে জন্মগ্রহণ করেছেন সে ব্যাপারে তাঁরা একমত হয়েছেন, তবে তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন সেই স্থান নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইয়াকুত আল-হামাউয়ি, ইবনুল আসির এবং ইবনু খালিকান বলেছেন: তাঁর জন্ম দুইশ ষাট হিজরি সনে তাবারিয়ায় হয়েছিল।‌‌(২) পক্ষান্তরে আবুল হুসাইন ইবনে আবি ইয়ালা ইবনুল ফাররা এবং আয-যাহাবি বলেছেন: তাঁর জন্ম দুইশ ষাট হিজরি সনের সফর মাসে আক্কায় হয়েছিল। আয-যাহাবি বলেছেন: তাঁর মা ছিলেন আক্কার অধিবাসী।‌‌(৩)

তাঁর বেড়ে ওঠা: ইমাম তাবারানি (রাহিমাহুল্লাহ) ইলম, পরহেজগারি এবং তাকওয়াসম্পন্ন একটি নেককার পরিবেশে লালিত-পালিত ও বড় হয়েছেন, কেননা তাঁর পিতা ছিলেন একজন হাদিস বিশারদ। আয-যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: তাঁর প্রথম হাদিস শ্রবণ ছিল দুইশ তিয়াত্তর হিজরি সনে তাবারিয়ায়। তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেছেন এবং তাঁর প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন, কারণ তিনি ছিলেন দুহাইমের শিষ্যদের মধ্য থেকে একজন হাদিস বিশারদ। ফলে তিনি দীর্ঘ ষোলো বছর দেশ-বিদেশে ভ্রমণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাতেরত ছিলেন।‌‌(৪)

তাঁর পরিবার: তাঁর পিতা ছিলেন তাবারিয়ার অধিবাসী এবং দুহাইমের শিষ্যদের মধ্যে একজন হাদিস বিশারদ। আর আয-যাহাবি যেমনটি বলেছেন, তাঁর মা ছিলেন আক্কার অধিবাসী। তাঁর সন্তানদের সম্পর্কে ইবনে মান্দাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমি আমার চাচা ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) এবং মুহাম্মদ বিন বাদী' আল-হাজিবকে বলতে শুনেছি যে, তাঁরা বলেন: আমরা আবু বকর আহমাদ বিন মুসাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: তাবারানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মুহাম্মদ নামে একজন পুত্র ছিল, যার উপনাম ছিল আবু যার। তাঁর ফাতিমা নামে এক কন্যা ছিল, যাঁর মা ছিলেন আসমা বিনতে আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন শাদরা আল-খাতিব। উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি একদিন সিয়াম রাখতেন এবং একদিন রাখতেন না এবং তিনি রাতে খুব অল্প সময় ঘুমাতেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন; তাঁর বংশধর রয়েছে। আর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ তাঁর পিতার (রাহিমাহুল্লাহ) নির্বাচনে আবু আলি আল-ওয়াররাক, আবু আমর বিন হাকিম এবং আব্দুল্লাহ বিন জাফর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তিনশ নিরানব্বই হিজরি সনের রজব মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর কবর তাঁর পিতার কবরের পাশেই অবস্থিত, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন। তাঁর থেকে একদল বড় মুহাদ্দিস বর্ণনা করেছেন, যেমন আবু আলি আর-রুস্তাকি, আবু তাহির বিন উরওয়াহ, আবু আহমাদ আল-আত্তার, আলি বিন আহমাদ বিন মিহরান, আলি বিন হুসাইন আল-ইস্কাফ এবং আলি বিন সাঈদ আল-বাক্কাল।‌‌(৫)

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: ইবনে মান্দাহর "জুযউন ফিহি জিকর আবি আল-কাসিম আত-তাবারানি", পৃষ্ঠা ৩০; ইবনে আসাকিরের "তারিখে দামেস্ক", খণ্ড ২২, পৃষ্ঠা ১৬৩।

‌‌(২) দেখুন: "মুজামুল বুলদান", খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯; ইবনুল আসিরের "আল-লুবাব ফি তাহযিবিল আনসাব", খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭৩; "ওয়াফায়াতুল আইয়ান", খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪০৭।

‌‌(৩) দেখুন: আবু হুসাইন ইবনে আবি ইয়ালা আল-ফাররার "তাবাকাতুল হানাবিলা", খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫০; আয-যাহাবির "তারিখুল ইসলাম", খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৪৩; "আস-সিয়ার", খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ১১৯।

‌‌(৪) দেখুন: "সিয়ারু আলামিন নুবালা", খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ১১৯; "তারিখুল ইসলাম", খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৪৩।

‌‌(৫) দেখুন: ইমাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মান্দাহর "জুযউন ফিহি জিকর আবি আল-কাসিম আত-তাবারানি", পৃষ্ঠা ৩২।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المطلب الثالث: وفاته، وعمره.

قال ابن مردويه: توفّي فِي ذِي الْقعدَة يَوْم السبت وَدفن يَوْم الْأَحَد لليلتين بَقِيَتَا مِنْهُ سنة سِتِّينَ وثلاثمائة وَدفن بِبَاب مَدِينَة جيّ‌‌(1) الْمَعْرُوف بتيره بِجنب حممة بن أبي حممة الدوسي رضي الله عنه.‌‌(2)

وقال ابن خلكان: توفي في ذي القعدة سنة ستين وثلاثمائة، وعمره تقديراً مائة سنة، رحمه الله تعالى، وقيل إنه توفي في شوال، والله أعلم.‌‌(3)

قلت: لكن قال أبو نعيم: تُوُفّي لليلتين بقيتا من ذي القعدة سنة ستّين وصلّيت عليه.

وقال الذهبي: عَاشَ الطَّبَرَانِيُّ مائَةَ عَامٍ وَعشرَةَ أَشهرٍ.‌‌(4)

--------------------------------------------

‌‌(1) جيّ بالفتح ثم التشديد، قرية من قُرى أصبهان. يُنظر "المعالم الأثرية في السنة السيرة" لمحمد بن محمد حسن شُرَّاب "معاصر" صـ/ 94.

‌‌(2) يُنظر "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" صـ 31.

‌‌(3) يُنظر "وفيات الأعيان" 2/ 407.

‌‌(4) يُنظر "تاريخ الإسلام" 8/ 148.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু এবং বয়স.

ইবনে মারদাওয়াই বলেছেন: তিনি ৩৬০ হিজরী সনের জিলকদ মাসের শনিবার ইন্তেকাল করেন এবং রবিবার তাঁকে দাফন করা হয়, যখন উক্ত মাসের মাত্র দুই রাত বাকি ছিল। তাঁকে জাই শহরের ফটকে দাফন করা হয়, যা 'তিরাহ' নামে পরিচিত এবং তা হুমামাহ ইবনে আবি হুমামাহ আদ-দাওসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কবরের পাশে অবস্থিত।‌‌(১)‌‌(২)

ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: তিনি ৩৬০ হিজরী সনের জিলকদ মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর বয়স আনুমানিক একশ বছর ছিল, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেছেন, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।‌‌(৩)

আমি বলছি: তবে আবু নুয়াইম বলেছেন: তিনি ৩৬০ হিজরী সনের জিলকদ মাসের দুই রাত বাকি থাকতে ইন্তেকাল করেন এবং আমি তাঁর জানাজার সালাত আদায় করেছি।

আয-যাহাবী বলেছেন: তাবারানী একশ বছর দশ মাস বেঁচে ছিলেন।‌‌(৪)

--------------------------------------------

‌‌(১) জাই: জিম বর্ণের ওপর ফাতহা এবং এরপর তাশদীদসহ; এটি ইসফাহানের গ্রামগুলোর একটি। দেখুন: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ হাসান শুররাব (সমসাময়িক) রচিত "আল-মাআলিম আল-আসারিইয়াহ ফিস সুন্নাহ ওয়াস সিরাহ", পৃষ্ঠা ৯৪।

‌‌(২) দেখুন: "জুযউন ফিহি জিকর আবি আল-কাসিম আত-তাবারানী", পৃষ্ঠা ৩১।

‌‌(৩) দেখুন: "ওয়াফাইয়াতুল আইয়ান", ২/৪০৭।

‌‌(৪) দেখুন: "তারিখুল ইসলাম", ৮/১৪৮।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌البحث الثاني: حياة الإمام الطبراني العلمية.

ويشتمل على خمسة مطالب:

 

‌‌المطلب الأول: طلبه للعلم:

طلب الإمام رحمه الله العلم منذ الصغر وظل طالباً للعلم وقارئاً وسامعاً ومُتحدثاً حتي بلغ الأمر إلي أن وصل عد شيوخه الذين سمع مِنْهم الحديث إلي أكثر من ألف شيخ، ولما سُئل رحمه الله عن كَثْرَةِ حَدِيثه؟ قال: كنت أَنَامُ على البَوَارِي‌‌(1) ثلاثِينَ سنة.‌‌(2) وظل علي ذلك حتي الممات حتي ذهبت عَيناهُ فِي آخر عمره رضي الله عنه. قال الذهبي: أوّل سماعه بطبرية سنة ثلاثٍ وسبعين ومائتين، وله ثلاث عشرة سنة. سمّعه أبوه ورحل به لأنّه كان له ماسَّة - أي صلة - بالحديث.‌‌(3)

 

‌‌المطلب الثاني: رحلاته العلمية:

لقد خرج من بلده مهاجراً إلي الله في سبيل طلب العلم بهمة عالية ونفس تواقة فطاف وجاب في الْمَدَائِن والأمصار وتردد فِي البلدان والأقطار باحثاً ومنقباً عن حديث النبي المختار صلى الله عليه وسلم دون كلل أو ملل حتي ألحق الأصاغر بالأكابر وأوصل الْأَبْنَاء بِالْآبَاءِ والأسباط بالأجداد. فرحل إلى القدس سنة أربعٍ وسبعين ومائتين، ثُمَّ إلى قيسارية وعكا سنة خمسٍ وسبعين ومائتين، ورحل إلى حلب سنة ثمان وسبعين ومائتين، ودخل اليمن تقريبًا سنة ثمانين ومائتين، وطاف بالبلدان كمصر، والحجاز، وبغداد، وغيرها، قال الذهبي: وإنما وصل العراق بعد فراغه من مصر، والشام، والحجاز، واليمن، وإلا فلو قصد العراق أولاً لأدرك إسناداً عظيماً. ودخل أصبهان مرتين. قال: أبو بكر بن مردويه: سمعت أبا القاسم الطبراني يقول: أول ما قدمت أصبهان قدمة الأولى سنة تسعين ومائتين، وقدمت الثانية سنة عشر أو إحدى عشر وثلاثمائة. ثم استوطن أصبهان بعد قدمته الثانية وأقام بها مُحَدِّثًا ستين سنة.‌‌(4) وهذا الجزء الذي قمت بتحقيقه يشتمل علي أربعة من مشايخ الإمام الطبراني رضي الله عنه وهم: أَحْمَد بْن عَلِيّ بْن مُسْلِم أَبُو الْعَبَّاس الأبار، وأحمد بن إبراهيم بن مِلحان أبو عبد الله. وأحمد بن بشير بن أيوب أبو أيوب الطيالسي، وأَحْمَد بْن يَحْيَى بْن إِسْحَاق أَبُو جَعْفَر البجلي الحلواني. وأربعتهم من محدثي بغداد.

--------------------------------------------

‌‌(1) البواري: الحصير المعمول مِنْ القصب. يُنظر: "لسان العرب" 1/ 386.

‌‌(2) يُنظر "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" صـ 37، "تاريخ دمشق" 22/ 165.

‌‌(3) يُنظر "تاريخ الإسلام" 8/ 143.

‌‌(4) يُنظر: "العبر في خبر مَنْ غبر" 2/ 106، "تاريخ الإسلام" 8/ 143، "سير النبلاء" 16/ 119.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম তাবারানির ইলমি জীবন.

এবং এটি পাঁচটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

 

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: ইলম অর্জন:

ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহি ছোটবেলা থেকেই ইলম অর্জন শুরু করেন এবং একজন ইলম অন্বেষণকারী, পাঠক, শ্রবণকারী ও বর্ণনাকারী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন, এমনকি তাঁর সেসব উস্তাদদের সংখ্যা—যাঁদের থেকে তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন—এক হাজারের অধিক ছাড়িয়ে যায়। যখন তাঁকে রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর প্রচুর সংখ্যক হাদিস বর্ণনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "আমি ত্রিশ বছর যাবত চাটাইয়ের ওপর ঘুমিয়েছি।" (১) মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এভাবেই অতিবাহিত করেন, এমনকি জীবনের শেষ দিকে তাঁর দৃষ্টিশক্তিও চলে যায়, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। যাহাবি বলেন: তাঁর প্রথম হাদিস শ্রবণ ছিল তাবারিয়াতে ২৭৩ হিজরিতে, যখন তাঁর বয়স ছিল তেরো বছর। তাঁর পিতা তাঁকে হাদিস শুনিয়েছিলেন এবং তাঁকে নিয়ে সফর করেছিলেন, কারণ তাঁর (পিতার) হাদিসের সাথে বিশেষ সম্পর্ক ছিল। (২)

 

‌দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানসফরসমূহ:

তিনি উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও তৃষ্ণার্ত হৃদয় নিয়ে ইলম অর্জনের পথে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্বীয় দেশ থেকে হিজরত করে বের হন। অতঃপর তিনি বিভিন্ন জনপদ ও শহরে ঘুরে বেড়ান এবং কোনো প্রকার ক্লান্তি বা অলসতা ছাড়াই নবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের সন্ধানে ও তা উদ্ধারের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে বিচরণ করেন। এর ফলে তিনি সমসাময়িকদের পূর্বসূরিদের সাথে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে পূর্ববর্তী প্রজন্মের সাথে তথা নাতিদের দাদাদের সাথে সংযুক্ত করেছেন (উচ্চ সনদ হাসিলের মাধ্যমে)। তিনি ২৭৪ হিজরিতে কুদসে সফর করেন, অতঃপর ২৭৫ হিজরিতে কায়সারিয়া ও আক্কায় যান। তিনি ২৭৮ হিজরিতে হালবে সফর করেন এবং আনুমানিক ২৮০ হিজরিতে ইয়েমেনে প্রবেশ করেন। তিনি মিসর, হিজাজ ও বাগদাদসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। যাহাবি বলেন: তিনি মিসর, শাম, হিজাজ ও ইয়েমেনের সফর শেষ করার পরই কেবল ইরাকে পৌঁছেছিলেন। অন্যথায় তিনি যদি প্রথমে ইরাক যাওয়ার সংকল্প করতেন, তবে অনেক উচ্চ স্তরের সনদ লাভ করতে পারতেন। তিনি ইসফাহানে দুইবার প্রবেশ করেন। আবু বকর বিন মারদুওয়াইহ বলেন: আমি আবুল কাসিম তাবারানিকে বলতে শুনেছি: "আমি প্রথমবার ২৯০ হিজরিতে ইসফাহানে আসি, আর দ্বিতীয়বার আসি ৩১০ বা ৩১১ হিজরিতে।" অতঃপর তিনি তাঁর দ্বিতীয়বার আগমনের পর ইসফাহানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে মুহাদ্দিস হিসেবে ষাট বছর অবস্থান করেন। (৪) আমি যে অংশটি সম্পাদনা করেছি, তাতে ইমাম তাবারানি রাদিয়াল্লাহু আনহুর চারজন উস্তাদের বর্ণনা রয়েছে, তাঁরা হলেন: আহমদ বিন আলি বিন মুসলিম আবুল আব্বাস আল-আব্বার, আহমদ বিন ইব্রাহিম বিন মিলহান আবু আব্দুল্লাহ, আহমদ বিন বাশির বিন আইয়ুব আবু আইয়ুব আল-তায়ালিসি এবং আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন ইসহাক আবু জাফর আল-বাজালি আল-হালওয়ানি। এই চারজনই বাগদাদের মুহাদ্দিস ছিলেন।

--------------------------------------------

‌‌(1) আল-বাওয়ারি: নলখাগড়া দিয়ে তৈরি চাটাই। দেখুন: 'লিসানুল আরব' ১/ ৩৮৬।

‌‌(2) দেখুন: 'জুযউন ফিহি জিকর আবি কাসিম আত-তাবারানি' পৃষ্ঠা ৩৭, 'তারিখে দামেশক' ২২/ ১৬৫।

‌‌(3) দেখুন: 'তারিখুল ইসলাম' ৮/ ১৪৩।

‌‌(4) দেখুন: 'আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার' ২/ ১০৬, 'তারিখুল ইসলাম' ৮/ ১৪৩, 'সিয়ারুল আ'লামিন নুবালা' ১৬/ ১১৯।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المطلب الثالث: أشهر شيوخه:

إن رحلات الإمام الطبراني الطويلة ونزوله في كثير من المدائن والأمصار كان لها الأثر البارز في كثرة شيوخه رحمه الله حتي قال الذهبي: سَمِعَ مِنْ نَحْوِ أَلفِ شَيْخٍ أَوْ يزيدُوْنَ.‌‌(1) ولما ألف الطبراني رحمه الله كتابيه "المعجم الأوسط"، و"المعجم الصغير" رتبهم علي أسماء شيوخه، حتي بلغ عدد شيوخه الذين سمع منهم في "المعجم الأوسط" (837) تقريبًا، بينما بلغ عددهم في "المعجم الصغير" (1150) تقريباً.

ومن أشهر شيوخه الذين حدث عنهم: أَبو زُرْعَة الدِّمَشْقِي، وَإِسْحَاق بن إِبْرَاهِيْم الدَّبرِي، وَإِدْرِيْس بن جَعْفَر العَطَّار، وَعَلِي بن عَبْد العَزِيْز البَغَوِي المجَاورِ، وَيَحْيَى بن أَيُّوْب العلاَّف، وَعَبْد الله بن مُحَمَّد بن سَعِيْد بن أَبِي مَرْيَم، وَأَحْمَد بن عَبْد الوَهَّاب بن نجدة الحَوْطي، وأحمد بن علي بن مسلم الآبار، وَأَحْمَد بن إِبْرَاهِيْم بن فيل البَالِسِي، وَأَحْمَد بن إِسْحَاق الخشَّاب، وَأَحْمَد بن خليد الحَلَبِي، وَالعَبَّاس بن الفَضْل الأَسفَاطي، وَعَبْد الله بن أَحْمَد بن حَنْبَل، وَعَبْد الله بن الحُسَيْن المَصِّيْصِي، وَأَبِي مُسْلِم الكَجِّي، وَإِسْحَاق بن إِبْرَاهِيْم المِصْرِي القَطَّان، وَإِدْرِيْس بن عبد الكَرِيْم الحَدَّاد، وَزَكَرِيَّا بن حَمْدَوَيْه الصَّفَّار، وَعُثْمَان بن عُمَر الضَّبِّي.‌‌(2)

ومن شيوخه علي سبيل الإيجاز:

1) الإمام الحافظ عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل الشيباني، أَبُو عَبْد الرحمن البغدادي: روى عن: أبيه، والهيثم بن خارجة، وشيبان بن فروخ، وآخرين. وروى عنه: الطبراني في "معاجمه"، والنسائي، وابن صاعد، وآخرون. وهو "ثِقَةٌ ثَبْتٌ حُجَّةٌ"، ولد سنة ثَلاث عشرة ومئتين، ومات سنة تسعين ومئتين.‌‌(3)

2) الإمامُ الحافظُ أبو إسحاق إبراهيم بن إسحاق بن إبراهيم بن بشير البغدادي الحَرْبِي: روى عن: أحمد بن حنبل، وعفَّان بن مسلم، هوذة بن خليفة، وآخرين. روى عنه: الطبراني، وأبو بكر الشافعي، وأبو بكر القطيعي، وآخرون. وهو: "ثِقَة حافظ"، ولد سنة ثمان وتسعين ومئة، ومات سنة خمس وثمانين ومائتين.‌‌(4)

3) الإمام الحافظ أبو الحسن عليُّ بن عبد العزيز بن المَرْزُبَان البغويُّ: روى عن: أحمد بن يونس اليربوعي، وعلي بن الجعد، وآخرين. روى عنه: الطبراني في "معاجمه"، وأبو الحسن القطان، وآخرون. وهو: "ثِقَة حافظٌ"، ولد سنة بضع وتسعين ومائة، ومات سنة ست، وقيل سبع وثمانين ومائتين.‌‌(5)

4) الإمام الحافظ أبو جعفر محمد بن عثمان بن أبي شيبة العبسيُّ، الكوفيُّ: روى عن: علي بن المديني، وأبيه، وعميه أبي بكر والقاسم، وآخرين. وروى عنه: أبو القاسم الطبراني، والقاضي المحامليُّ، وابن

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر "السير" 16/ 120.

‌‌(2) يُنظر "السير" 16/ 120.

‌‌(3) يُنظر "تهذيب الكمال" 14/ 285، "السير" 13/ 516.

‌‌(4) يُنظر "السير" 13/ 356.

‌‌(5) يُنظر "السير" 13/ 348.
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণ:

ইমাম তাবারানীর দীর্ঘ সফরসমূহ এবং বহু শহর ও জনপদে তাঁর অবস্থানের বিষয়টি তাঁর উস্তাদগণের আধিক্যের ওপর এক সুস্পষ্ট প্রভাব ফেলেছিল (রহিমাহুল্লাহ), এমনকি ইমাম যাহাবী বলেন: তিনি প্রায় এক হাজার বা তারও বেশি উস্তাদ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।‌‌(১) যখন তাবারানী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-মু'জামুল আওসাত' এবং 'আল-মু'জামুস সাগীর' গ্রন্থ দুটি রচনা করেন, তিনি সেগুলোকে তাঁর উস্তাদগণের নামের ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেন। এমনকি 'আল-মু'জামুল আওসাত'-এ তাঁর বর্ণিত উস্তাদের সংখ্যা প্রায় ৮৩৭ জনে পৌঁছায়, আর 'আল-মু'জামুস সাগীর'-এ তাঁদের সংখ্যা প্রায় ১১৫০ জনে পৌঁছে।

এবং তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণের মধ্যে যাদের থেকে তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁরা হলেন: আবু যুরআ আদ-দিমাশকী, ইসহাক বিন ইবরাহিম আদ-দাবারী, ইদরিস বিন জাফর আল-আত্তার, আলী বিন আব্দুল আযীয আল-বাগাওয়ী আল-মুজাবির, ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-আল্লাফ, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন আবি মারইয়াম, আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন নাজদাহ আল-হাওতী, আহমদ বিন আলী বিন মুসলিম আল-আববার, আহমদ বিন ইবরাহিম বিন ফিল আল-বালিসী, আহমদ বিন ইসহাক আল-খাশ্শাব, আহমদ বিন খুলয়াইদ আল-হালাবী, আল-আব্বাস বিন ফজল আল-আসফাতী, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল, আব্দুল্লাহ বিন হুসাইন আল-মাসসীসী, আবু মুসলিম আল-কাজ্জী, ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-মিসরী আল-কাত্তান, ইদরিস বিন আব্দুল কারীম আল-হাদ্দাদ, যাকারিয়া বিন হামদাওয়াইহ আস-সাফফার এবং উসমান বিন উমর আদ-দাব্বী।‌‌(২)

সংক্ষেপে তাঁর কতিপয় উস্তাদের পরিচয়:

১) ইমাম হাফেজ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শায়বানী, আবু আব্দুর রহমান আল-বাগদাদী: তিনি বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা, হাইসাম বিন খারিজাহ, শায়বান বিন ফাররুখ এবং অন্যদের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: তাবারানী তাঁর 'মু'জাম' গ্রন্থসমূহে, নাসাঈ, ইবনে সায়েদ এবং অন্যরা। তিনি "নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় ও দলীলযোগ্য ব্যক্তি"; তিনি ২১৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৯০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।‌‌(৩)

২) ইমাম হাফেজ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন বশীর আল-বাগদাদী আল-হারবী: তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন হাম্বল, আফফান বিন মুসলিম, হাওযাহ বিন খলিফা এবং অন্যদের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: তাবারানী, আবু বকর আশ-শাফেয়ী, আবু বকর আল-কাতীঈ এবং অন্যরা। তিনি: "নির্ভরযোগ্য হাফেজ"; তিনি ১৯৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৮৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।‌‌(৪)

৩) ইমাম হাফেজ আবু হাসান আলী বিন আব্দুল আযীয বিন আল-মারযুবান আল-বাগাওয়ী: তিনি বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ইউনুস আল-ইয়ারবুয়ী, আলী বিন আল-জা'দ এবং অন্যদের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: তাবারানী তাঁর 'মু'জাম' গ্রন্থসমূহে, আবু হাসান আল-কাত্তান এবং অন্যরা। তিনি: "নির্ভরযোগ্য হাফেজ"; তিনি ১৯০ হিজরীর কিছু পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৮৬, মতান্তরে ২৮৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।‌‌(৫)

৪) ইমাম হাফেজ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবু শায়বাহ আল-আবসী, আল-কূফী: তিনি বর্ণনা করেছেন আলী বিন আল-মাদীনী, তাঁর পিতা এবং তাঁর দুই চাচা আবু বকর ও কাসেম থেকে এবং অন্যদের থেকে। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু কাসেম তাবারানী, কাজী আল-মাহামিলী এবং ইবনে...

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: "আস-সিয়ার" ১৬/১২০।

‌‌(২) দেখুন: "আস-সিয়ার" ১৬/১২০।

‌‌(৩) দেখুন: "তাহযীবুল কামাল" ১৪/২৮৫, "আস-সিয়ার" ১৩/৫১৬।

‌‌(৪) দেখুন: "আস-সিয়ার" ১৩/৩৫৬।

‌‌(৫) দেখুন: "আস-সিয়ার" ১৩/৩৪৮।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ১৯)
صاعد، وآخرون. قال الذهبي: جَمَعَ وصَنَّف، وله "تاريخٌ" كبيرٌ، ولم يُرزق حظًا، بل نالوا منه، وكان من أوعية العلم، مُحَدِّثًا فَهْمًا واسع الرواية، صاحب غرائب، ومات سنة سبع وتسعين ومائتين.‌‌(1)

5) الإمام الحافظ أبو مسلم إبراهيم بن عبد الله بن مسلم البصري، الكجي: روى عن: أبي عاصم النبيل، ومحمد بن عبد الله الأنصاري، وآخرين. وروى عنه: أبو القاسم الطبراني، وأبو بكر أحمد بن جعفر القطيعي، وأبو بكر الآجري، وآخرون، وهو: "ثِقَةٌ ثَبتٌ". ولد سنة نيف وتسعين ومئة، ومات سنة اثنتين وتسعين ومائتين.‌‌(2)

 

‌‌المطلب الرابع: أشهر تلاميذه:

- وكما كثر شيوخ الإمام حتي وصلوا إلي أكثر من ألف شيخ فكذلك كان له تلاميذ كُثر حتي رحل إليه طلاب العلم والحديث مِنْ شتَّى البقاع، والأقطار يأخذون عَنْ علمِ المعمَّرين ما حُدث به عن رسول الله صلى الله عليه وسلم حتي قال الذهبيُّ: جَمَعَ وصَنَّف وعَمَّر دهرًا طويلًا، وازدحم عليه المحدثون، ورحلوا إليه من الأقطار.‌‌(3) وقال أبو بكر محمد بن أحمد بن عبد الرحمن الأصبهاني: حَدَّث الطبرانيُّ بأصبهان ستين سنة، فسمع منه الآباء ثم الأبناء ثم الأسباط، حتى لحقوا بالأجداد، وكان واسع العلم، كثير التصانيف.‌‌(4)

- ومن أشهر تلاميذه الذين أخذوا عنه العلم وسمعوا منه حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: ابن عُقْدة، وابنُ مَنْدَه،

وَأَبُو نُعَيْم الأَصْبَهَانِي، وَأَبُو بَكْر بن مَرْدَوَيْه، وَأَبُو عُمَر مُحَمَّد بن الحُسَيْن البسطَامِي، وَأَبُو الفَضْل مُحَمَّد بن أَحْمَد الجَارُوْدِي، وَأَبُو سَعِيْد النَّقَّاش، وَأَبُو بَكْر بن أَبِي عَلِي الذَّكوَانِي، وَأَحْمد بن عَبْد الرَّحْمَن الأَزْدِي، وَالحُسَيْن بن أَحْمَد بن المَرْزُبان، وَأَبُو الحُسَيْن بن فَاذَشَاه، وَأَبُو سَعْد عَبْد الرَّحْمَن بن أَحْمَد الصَّفَّار، وَمَعْمَر بن أَحْمَد بن زِيَاد، وَأَبُو بَكْر مُحَمَّد بن عَبْد الله الرِّبَاطِي، وَالفَضْل بن عُبَيْد الله بن شهريَار، وَعبد الواحد بن أَحْمَد البَاطِرقَانِي، وَأَحْمَد بن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيْم الأَصْبَهَانِي، وَعَلِي بن يَحْيَى بن عَبْدُكَوَيْه، وغيرهم كثير.‌‌(5)

ومن تلامذته علي سبيل الإيجاز:

1) … أبو عبد الله محمد بن إسحاق بن محمد بن يحيى بن منده الأصبهانيُّ: صاحب كتاب معرفة الصحابة، وكتاب التوحيد وغيرها من المؤلفات. قال ابن عساكر: أحد المُكْثِرين، والمُحَدِّثين الجَوَّالين، توفى ابن مندة في وطنه بأصبهان في صفر من سنة ست وتسعين وثلاثمائة.‌‌(6)

2) … أبو نُعيم أحمد بن عبد الله، الأصبهاني: صاحب كتاب "حلية الأولياء وطبقات الأصفياء"، وكتاب

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "تاريخ بغداد" (4/ 68)، "تاريخ الإسلام" (6/ 1036)، "سير أعلام النبلاء" (14/ 21).

‌‌(2) يُنظر: "تاريخ بغداد" (7/ 36)، "سير أعلام النبلاء" (13/ 423).

‌‌(3) يُنظر "السير " 16/ 119.

‌‌(4) يُنظر "جزء فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" صـ 34.

‌‌(5) يُنظر "السير" للذهبي 16/ 122.

‌‌(6) يُنظر "تاريخ دمشق" لابن عساكر 52/ 29.
সায়েদ এবং অন্যান্যরা। যাহাবী বলেন: তিনি সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন এবং তাঁর একটি বিশাল "তারিখ" (ইতিহাসগ্রন্থ) রয়েছে, তবে তিনি তাতে সৌভাগ্য লাভ করেননি, বরং লোকে তাঁর সমালোচনা করেছে। তিনি ইলমের অন্যতম আধার, প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস এবং বর্ণনায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিলেন। তিনি অনেক দুর্লভ বর্ণনার অধিকারী ছিলেন এবং ২৯৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।‌‌(১)

৫) ইমাম হাফেজ আবু মুসলিম ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন মুসলিম আল-বাসরি, আল-কাজ্জি: তিনি আবু আসিম আন-নাবিল, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু আল-কাসিম আত-তাবারানি, আবু বকর আহমদ বিন জাফর আল-কাতিয়ি, আবু বকর আল-আজুররি এবং অন্যান্যরা। তিনি ছিলেন "নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়"। তিনি একশ নব্বই এর কিছু পরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৯২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।‌‌(২)

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রবৃন্দ:

- ইমামের উস্তাদ বা শায়খ যেমন অধিক ছিলেন, এমনকি তা এক হাজারের অধিক পর্যন্ত পৌঁছেছিল, তেমনি তাঁর ছাত্রও ছিল অসংখ্য। এমনকি ইলম ও হাদিসের অন্বেষণে দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা তাঁর কাছে সফর করে আসতেন। তাঁরা দীর্ঘজীবী এই আলেমের কাছ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস গ্রহণ করতেন। এমনকি ইমাম যাহাবী বলেন: তিনি সংগ্রহ করেছেন, সংকলন করেছেন এবং দীর্ঘকাল বেঁচে ছিলেন। তাঁর কাছে মুহাদ্দিসদের ভিড় লেগে থাকত এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাঁরা তাঁর কাছে সফর করে আসতেন।‌‌(৩) আবু বকর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-আসবাহানি বলেন: তাবারানি আসবাহানে ষাট বছর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে প্রথমে পিতারা, তারপর পুত্ররা এবং সবশেষে পৌত্ররা শ্রবণ করেছেন, এমনকি তাঁরা তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্তরে পৌঁছে গেছেন। তিনি ব্যাপক ইলমের অধিকারী এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন।‌‌(৪)

- তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রদের মধ্যে যারা তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস শুনেছেন তাঁরা হলেন: ইবনে উকদাহ, ইবনে মানদাহ, আবু নুআইম আল-আসবাহানি, আবু বকর বিন মারদুইয়াহ, আবু উমর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-বিস্তামি, আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-জারুদি, আবু সাঈদ আন-নাক্কাশ, আবু বকর বিন আবি আলি আদ-দাকওয়ানি, আহমদ বিন আব্দুর রহমান আল-আজদি, আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন আল-মারযুবান, আবু আল-হুসাইন বিন ফাযশাহ, আবু সাদ আব্দুর রহমান বিন আহমদ আস-সাফফার, মামার বিন আহমদ বিন যিয়াদ, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আর-রিবতি, আল-ফজল বিন উবায়দুল্লাহ বিন শাহরিয়ার, আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-বাতিকানি, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-আসবাহানি, আলি বিন ইয়াহইয়া বিন আবদুকাওয়াইহ এবং আরও অনেকে।‌‌(৫)

সংক্ষিপ্তভাবে তাঁর কিছু ছাত্রের পরিচয়:

১) … আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মানদাহ আল-আসবাহানি: "মা'রিফাতুস সাহাবাহ", "কিতাবুত তাওহিদ" এবং অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা। ইবনে আসাকির বলেন: তিনি অধিক হাদিস সংগ্রহকারী এবং হাদিস অন্বেষণে পরিভ্রমণকারী মুহাদ্দিসদের অন্যতম। ইবনে মানদাহ তাঁর নিজ দেশ আসবাহানে ৩৯৬ হিজরির সফর মাসে ইন্তেকাল করেন।‌‌(৬)

২) … আবু নুআইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ, আল-আসবাহানি: "হিলয়াতুল আউলিয়া ওয়া তাবাকাতুল আসফিয়া" গ্রন্থের রচয়িতা এবং...

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: "তারিখ বাগদাদ" (৪/ ৬৮), "তারিখুল ইসলাম" (৬/ ১০৩৬), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৪/ ২১)।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: "তারিখ বাগদাদ" (৭/ ৩৬), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৩/ ৪২৩)।

‌‌(৩) দ্রষ্টব্য: "আস-সিয়ার" ১৬/ ১১৯।

‌‌(৪) দ্রষ্টব্য: "জুযুন ফিহি জিকর আবি কাসিম আত-তাবারানি" পৃষ্ঠা ৩৪।

‌‌(৫) দ্রষ্টব্য: যাহাবীর "আস-সিয়ার" ১৬/ ১২২।

‌‌(৬) দ্রষ্টব্য: ইবনে আসাকিরের "তারিখু দামেশক" ৫২/ ২৯।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২০)
"المستخرج"، وكتاب "معرفة الصحابة". قال الذهبي: أحد الأعلام ومَنْ جمع الله له بين العُلُوّ في الرّواية، والمعرفة التّامة، رحلَ الحفّاظ إليه من الأقطار، وأَلحقَ الصِّغار بالكبار، مات أبو نعيم الحافظ: في العشرين من المحرم سنة ثلاثين وأربع مائة، وله أربع وتسعون سنة.‌‌(1)

3) … أبو بكر أحمد بن موسى بن مردويه بن فورك الأصبهانيُّ: قال الذهبي: له مُصَنَّفاتٌ كثيرةٌ، منها: كتاب "المستخرج على صحيح البخاري"، يعلو في كثير من أحاديثه حتى كأنَّه لقي البخاري، وكان من فرسان الحديث، فهمًا يقظًا مُتْقِنًا، كثير الحديث جدًا. ولد سنة ثلاث وعشرين وثلاث مائة، ومات سنة عشر وأربع مائة، عن سبع وثمانين سنة.‌‌(2)

4) … أبو الفضل محمد بن أحمد بن محمد الجاروديُّ، الهرويُّ: قَالَ أبو النَّضْر الفاميّ: كَانَ عديم النّظير في العلوم، خصوصًا في علم الحِفظ والتّحديث، وفي التَّقَلُّل مِن الدّنيا، والاكتفاء بالقوت، وحيدًا في الورع. وقال الجاروديُّ: رحلت إلى الطبراني، فقربني وأدناني، وكان يتعسر عليَّ، ويبذل لآخرين، فكلمته في هذا، فقال: لأنَّك تعرف قدر هذا الشأن. مات: في شوال سنة ثلاث عشرة وأربع مائة.‌‌(3)

5) أبو الحسين أحمد بن محمد بن الحسين بن فاذشاه الأصبهانيُّ: سمع الكثير من أبي القاسم الطبراني، روى "المعجم الكبير" كله عنه. وقال الذهبيُّ: كان يُرمى بالاعتزال والتشيع. مات: في صفر سنة ثلاث وثلاثين وأربع مائة.‌‌(4)

 

‌‌المطلب الخامس: عقيدته:

- كانت عقيدة الإمام الطبراني هي عقيدة السلف الصالح من الصحابة رضي الله عنهم، والتابعين لهم بإحسان. فقال ابن منده: إنَّ الإِمام أبا القَاسِم الطَّبَرَانِيّ رضي الله عنه، قد أَقَامَ نَفسه بما قد نسبه أهل الْبدع والخلاف، اقْتِدَاءً بالأئمة السّلف وَالصَّالِحِينَ قبله بِهَذِهِ النِّسْبَة إِلَيْهِم - وهي وصفهم لأهل الحديث بالمُشبِّهة والحشوية -، مَعَ أنَّ المبتدعة والمخالفين له كانوا يموتون على علو إِسْنَاده، وَكَثْرَة أَحَادِيثه، وقد سمعُوا مِنْهُ ورووا عنه مع هذا ويطعنون عليه، ويزعمون أنَّه كان حشويًا، وهل يضر القَمَر نباح الْكَلْب؟.‌‌(5)

وقال أيضاً: رحم الله تَعَالَى أَبَا الْقَاسِم الطَّبَرَانِيّ مَا أحسن سيرته وطريقته فِي هجران أهل الْبدع، فقد هجر أَبَا عَلي بن رستم بعد إنعامه عَلَيْهِ، وأياديه لَدَيْهِ؛ لمَّا ظهر مِنْهُ بعض شَيء من حال أبي بكر وَعمر رضي الله عنهما لأنَّ حبهما إيمانٌ، وبغضهما نفاقٌ.‌‌(6)

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر "السير" 17/ 453.

‌‌(2) يُنظر "السير" 17/ 308.

‌‌(3) يُنظر: "تاريخ الإسلام" (9/ 225)، "سير أعلام النبلاء" (17/ 384).

‌‌(4) يُنظر: "تاريخ الإسلام" (9/ 523)، "سير أعلام النبلاء" (17/ 515).

‌‌(5) يُنظر "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" صـ 61.

‌‌(6) يُنظر "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" صـ 45.
"আল-মুস্তখরাজ", এবং "মা'রিফাতুস সাহাবা" গ্রন্থ। আয-যাহাবী বলেন: তিনি অন্যতম এক ইমাম এবং এমন একজন ব্যক্তিত্ব যার জন্য আল্লাহ বর্ণনার উচ্চ মর্যাদা (সনদ) ও পূর্ণ জ্ঞানকে একত্রিত করেছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাফেযগণ তার কাছে সফর করে আসতেন, তিনি ছোটদের বড়দের সমপর্যায়ে নিয়ে এসেছিলেন (উচ্চ সনদের মাধ্যমে), হাফেয আবু নুআইম চারশ ত্রিশ হিজরি সনের বিশে মহররম চুরানব্বই বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।‌‌(১)

৩) … আবু বকর আহমাদ বিন মুসা বিন মারদাওয়াইহ বিন ফুরাক আল-আসবাহানি: আয-যাহাবী বলেন: তার অনেক সংকলন রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: "আল-মুস্তখরাজ আলা সহীহিল বুখারী" গ্রন্থ, তার অনেক হাদিসে তিনি এমন উচ্চ সনদ লাভ করেন যে মনে হয় যেন তিনি সরাসরি বুখারীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রের এক নিপুণ অশ্বারোহী (দিকপাল), অত্যন্ত প্রখর ও নির্ভুল মেধাসম্পন্ন এবং প্রচুর হাদিসের অধিকারী ছিলেন। তিনি তিনশ তেইশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং চারশ দশ হিজরিতে সাতাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।‌‌(২)

৪) … আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আল-জারুদি আল-হারাউই: আবু আন-নজর আল-ফামি বলেন: তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় অতুলনীয় ছিলেন, বিশেষ করে হিফয ও হাদিস শাস্ত্রে, এবং দুনিয়াবিমুখতা ও সামান্য আহারে তুষ্ট থাকার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য পরহেজগার। আল-জারুদি বলেন: আমি তাবারানীর কাছে সফর করি, তিনি আমাকে সান্নিধ্য দান করেন এবং কাছে টেনে নেন। তিনি অন্যদের প্রতি অকাতরে বিলিয়ে দিতেন কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কিছুটা কঠোরতা করতেন, আমি এ বিষয়ে তাকে বললে তিনি বলেন: কারণ তুমি এই বিষয়ের মর্যাদা ও গুরুত্ব বোঝো। তিনি চারশ তের হিজরির শাওয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন।‌‌(৩)

৫) আবু আল-হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন ফাযশাহ আল-আসবাহানি: তিনি আবু আল-কাসিম তাবারানী থেকে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন, তার থেকে পুরো "আল-মু'জাম আল-কাবীর" বর্ণনা করেছেন। আয-যাহাবী বলেন: তার বিরুদ্ধে মুতাযিলা ও শিয়া মতবাদের অপবাদ দেওয়া হতো। তিনি চারশ তেত্রিশ হিজরির সফর মাসে ইন্তেকাল করেন।‌‌(৪)

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদা:

- ইমাম তাবারানীর আকিদা ছিল সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণকারী তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত সালাফে সালেহীনের আকিদা। ইবনে মানদাহ বলেন: ইমাম আবু আল-কাসিম তাবারানী (রা.) বিদআতি ও বিরোধীরা তাকে যে অপবাদ দিত তার বিপরীতে নিজেকে অটল রেখেছিলেন, তার পূর্ববর্তী সালাফ ও নেককার ইমামদের অনুসরণে—আর তা হলো হাদিস বিশারদদের 'মুশাব্বিহাহ' ও 'হাশুবিয়্যাহ' হিসেবে আখ্যায়িত করা—যদিও বিদআতি ও বিরোধীরা তার বর্ণনার উচ্চ সনদ এবং প্রচুর হাদিসের কারণে তার কাছে আসার জন্য উদগ্রীব থাকতো, তারা তার থেকে শ্রবণ করতো এবং বর্ণনা করতো, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা তার সমালোচনা করতো এবং দাবি করতো যে তিনি একজন হাশুবি ছিলেন। কিন্তু কুকুরের ডাকে কি চাঁদের কোনো ক্ষতি হয়?‌‌(৫)

তিনি আরও বলেন: আল্লাহ তাআলা আবু আল-কাসিম তাবারানীর প্রতি রহম করুন, বিদআতিদের বর্জনের ক্ষেত্রে তার জীবন চরিত ও কর্মপদ্ধতি কতই না উত্তম ছিল। তিনি আবু আলী বিন রুস্তমকে তার প্রতি অনেক অনুগ্রহ ও অবদান থাকা সত্ত্বেও বর্জন করেছিলেন; যখন তার পক্ষ থেকে আবু বকর ও উমর (রা.) সম্পর্কে কিছু (বিদ্বেষমূলক) বিষয় প্রকাশ পেয়েছিল। কারণ তাদের ভালোবাসা হলো ঈমান এবং তাদের ঘৃণা করা হলো নিফাক।‌‌(৬)

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন "আস-সিয়ার" ১৭/৪৫৩।

‌‌(২) দেখুন "আস-সিয়ার" ১৭/৩০৮।

‌‌(৩) দেখুন: "তারিখুল ইসলাম" (৯/২২৫), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৭/৩৮৪)।

‌‌(৪) দেখুন: "তারিখুল ইসলাম" (৯/৫২৩), "সিয়ারু আলামিন নুবালা" (১৭/৫১৫)।

‌‌(৫) দেখুন "জুযউন ফিহি যিকরু আবি আল-কাসিম আত-তাবারানী" পৃষ্ঠা ৬১।

‌‌(৬) দেখুন "জুযউন ফিহি যিকরু আবি আল-কাসিম আত-তাবারানী" পৃষ্ঠা ৪৫।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌البحث الثالث: مكانته العلمية وآثاره.

ويشتمل على مطلبين:

 

‌‌المطلب الأول: مكانته وعلو منزلته العلمية:

لقد تبوأ الإمام الطبراني رحمه الله مكانة علمية كبيرة ولا شك أن هذه المكانة التي تبوأها الإمام لم تأتي من فراغ وإنما يسر الله تبارك وتعالي له من الأسباب ما أهله لبلوغ هذه المكانة وعلي رأس هذه الأسباب: اختيار الله تبارك وتعالي له حتي يكون في مَصَافٍ العلماء والمُحِدِثِين. ومنها: نشأته منذ الصغر فلقد ولد وتربي في بيت علم وفضل فلقد كان أبوه من المحَدِثين من أصحاب دُحيم. ومنها: كثرة رحلاته العلمية حتي سمع من أكثر من ألف شيخ ففاق بذلك كثير من المحدِثِين أصحاب الحديث. ومنها: كثرة حديثه، وسعة حفظه، واتقاد قريحته حتي قال ابن منده: سمعتُ مِنْ الطبراني أربعة آلاف حديث بالشام.‌‌(1) وقَالَ أَبُو الْعَبَّاس الشِّيرَازِيّ: كتبتُ عن الطَّبَرَانِيّ ثَلَاثمِائَة ألف حَدِيث، وَهُوَ ثِقَةٌ. وقال أبو الحُسَيْن بن فَارس اللّغَوِي: سَمِعت الأُسْتَاذ ابن العميد يَقُول: ما كنتُ أَظن أنَّ في الدُّنْيَا حلاوة ألذ مِنْ الرِّئَاسَة والوزارة الَّتِي أَنا فِيهَا، حَتَّى شهِدتُ مذاكرة سُلَيْمَان الطَّبَرَانِيّ وَأبي بكر الجعابي بحضرتي. فَكَانَ الطَّبَرَانِيّ يغلب الجعابي بكثرة حفظه، وكان الجعابي يغلب الطَّبَرَانِيّ بفطنته وذكاء أهل بَغْدَاد، حَتَّى ارْتَفَعت أصواتهما، ولا يكاد أَحدهمَا يغلب صَاحبه. فَقَالَ الجعابي: عِنْدِي حَدِيث لَيْسَ فِي الدُّنْيَا إلا عِنْدِي، فَقَالَ: هاته، فَقَالَ: حَدثنَا أَبُو خَليفَة، ثَنَا سُلَيْمَان بن أَيُّوب، وَحَدَّث بِالْحَدِيثِ، فَقَالَ الطَّبَرَانِيّ: أَنا سُلَيْمَان بن أَيُّوب، وَمِنِّى سمع أَبُو خَليفَة، فاسمع مِنِّي حَتَّى يَعْلُو إسنادك، فَإنَّك تروي عن أبي خَليفَة عَنِّي، فَخَجِلَ الجعابي، وغلبه الطَّبَرَانِيّ. قَالَ ابن العميد: فوددت فِي مَكَاني أَن الوزارة والرئاسة ليتها لم تكن لي، وكنتُ الطَّبَرَانِيّ، وفرحت مثل الفرح الَّذِي فرحه الطَّبَرَانِيّ لأجل الحَدِيث، أَو كَمَا قَالَ.‌‌(2)

وهذه المكانة العلمية التي تبوأها الإمام رحمه الله من كثرة حديثه وانتشار علمه وذيوع صيته جعل ألسنة العلماء تلهج بالثناء عليه وتُقر له بهذه المنزلة العالية وبلوغ تلك المَحِلة الرفيعة وما آل إليه الإمام مما آل إليه من بلوغ منزلة أولو العلم الذين أثني الله عليهم في كتابه إلا لإخلاص كان في قلبه، عليه من الله سحائب الرحمة والرضوان.

- قال إبراهيم بن مفلح: كَان أحد الأَئِمة الحفاظ، له تصانيف مَذْكُورَة، وآثار مَشهورة.‌‌(3)

- وقال ابن عُقدة: ما أعلمُني رأيت أحداً أعرف بالحديث، ولا أحفظ للأسانيد من الطبراني.‌‌(4)

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر "التقييد لمعرفة رواة السنن والمسانيد" لابن نُقْطَة صـ 285.

‌‌(2) يُنظر "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" صـ 47، "تاريخ دمشق" 22/ 166.

‌‌(3) يُنظر "المقصد الأرشد في ذكر أصحاب الإمام أحمد" لبرهان الدين ابن مفلح 1/ 409.

‌‌(4) يُنظر "جزء فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" صـ 53، "الثقات مما ليس في الكتب الستة" لابن قُطْلُوْبَغَا 5/ 90.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মাকাম ও রচনাবলি.

এটি দুটি অনুচ্ছেদের ওপর বিন্যস্ত:

 

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর মর্যাদা ও ইলমি উচ্চ মাকাম:

ইমাম তাবারানি (রহিমাহুল্লাহ) এক বিশাল ইলমি মাকাম লাভ করেছিলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম যে উচ্চমর্যাদা অর্জন করেছেন তা কোনো শূন্যতা থেকে আসেনি; বরং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর জন্য এমন সব উপকরণ সহজ করে দিয়েছিলেন যা তাঁকে এই মাকামে পৌঁছাতে যোগ্য করে তুলেছিল। এসব উপকরণের শীর্ষে রয়েছে: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কর্তৃক তাঁকে আলেম ও মুহাদ্দিসদের কাতারে শামিল করার জন্য মনোনীত করা। এর মধ্যে আরও রয়েছে: ছোটবেলা থেকেই তাঁর বেড়ে ওঠা; তিনি একটি ইলমি ও মর্যাদাবান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং প্রতিপালিত হয়েছেন। তাঁর পিতা ছিলেন দুহাইমের সাথীদের মধ্য থেকে অন্যতম একজন মুহাদ্দিস। আরও রয়েছে: তাঁর ইলমি সফরের আধিক্য, যার ফলে তিনি এক হাজারেরও বেশি শায়খের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি হাদিস বিশারদ অনেক মুহাদ্দিসকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। আরও রয়েছে: তাঁর বর্ণিত হাদিসের প্রাচুর্য, মুখস্থশক্তির প্রশস্ততা এবং তীক্ষ্ণ মেধা। এমনকি ইবনে মানদাহ বলেছেন: আমি সিরিয়ায় তাবারানির নিকট থেকে চার হাজার হাদিস শ্রবণ করেছি।‌‌(১) আবু আব্বাস আশ-শিরাজি বলেছেন: আমি তাবারানি থেকে তিন লক্ষ হাদিস লিখেছি এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। ভাষাবিদ আবু হুসাইন ইবনে ফারিস বলেন: আমি উস্তাদ ইবনুল আমিদকে বলতে শুনেছি: আমি মনে করতাম না যে, দুনিয়ায় নেতৃত্ব ও মন্ত্রিত্বের চেয়ে অধিক সুস্বাদু কোনো মিষ্টতা আছে যাতে আমি রয়েছি, যতক্ষণ না আমি আমার উপস্থিতিতে সুলায়মান তাবারানি এবং আবু বকর আল-জি’আবির মধ্যকার ইলমি আলোচনা (মুজাকারা) প্রত্যক্ষ করলাম। তাবারানি তাঁর মুখস্থশক্তির প্রাচুর্য দিয়ে জি’আবিকে পরাস্ত করছিলেন, আর জি’আবি তাঁর বাগদাদি প্রজ্ঞা ও চাতুর্য দিয়ে তাবারানির ওপর প্রবল হচ্ছিলেন। এমনকি তাঁদের কণ্ঠস্বর উচ্চ হয়ে গিয়েছিল এবং একে অপরকে প্রায় হারাতে পারছিলেন না। তখন জি’আবি বললেন: আমার কাছে এমন একটি হাদিস আছে যা সমগ্র বিশ্বে আমি ছাড়া আর কারও কাছে নেই। তিনি (তাবারানি) বললেন: সেটি পেশ করো। জি’আবি বললেন: আমাদের কাছে আবু খলিফা বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলায়মান ইবনে আইয়ুব থেকে—অতঃপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করলেন। তখন তাবারানি বললেন: আমিই সেই সুলায়মান ইবনে আইয়ুব, আর আমার থেকেই আবু খলিফা হাদিসটি শ্রবণ করেছেন। সুতরাং সরাসরি আমার থেকেই হাদিসটি শোনো যাতে তোমার সনদ আরও উচ্চ পর্যায়ের (আলি) হয়; কেননা তুমি আবু খলিফার মাধ্যমে আমার থেকেই বর্ণনা করছ। এতে জি’আবি লজ্জিত হলেন এবং তাবারানি তাঁর ওপর জয়ী হলেন। ইবনুল আমিদ বলেন: তখন আমি মনে মনে কামনা করলাম যে, হায়! যদি এই মন্ত্রিত্ব ও নেতৃত্ব আমার না হতো এবং আমি যদি তাবারানি হতাম! আর তাবারানি হাদিসের কারণে যে আনন্দ লাভ করেছিলেন, আমিও যদি সেরূপ আনন্দিত হতাম। অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন।‌‌(২)

ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) যে ইলমি মাকাম লাভ করেছিলেন, তাঁর হাদিসের প্রাচুর্য, ইলমের বিস্তার এবং জগৎজোড়া সুখ্যাতির কারণে আলেমদের রসনা তাঁর প্রশংসায় মুখর হয়েছে। তাঁরা তাঁর এই উচ্চ মর্যাদা এবং সুউচ্চ অবস্থানকে অকপটে স্বীকার করেছেন। ইমাম এই যে সুউচ্চ মাকামে উপনীত হয়েছেন এবং ইলমের অধিকারীদের যে স্তরে পৌঁছেছেন—যাঁদের প্রশংসা আল্লাহ তাঁর কিতাবে করেছেন—তা মূলত তাঁর অন্তরের ইখলাসের ফলেই সম্ভব হয়েছে। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর বর্ষিত হোক রহমত ও সন্তুষ্টির বারিপাত।

- ইব্রাহিম ইবনে মুফলিহ বলেন: তিনি ছিলেন হাফেজ ইমামদের অন্যতম। তাঁর উল্লেখযোগ্য বহু কিতাব এবং প্রসিদ্ধ রচনাবলি রয়েছে।‌‌(৩)

- ইবনে উকদাহ বলেন: আমার জানামতে হাদিস সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ এবং তাবারানির চেয়ে বেশি সনদ মুখস্থকারী আর কাউকে দেখিনি।‌‌(৪)

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: ইবনে নুকতাহ কৃত "আত-তাকয়িদ লি মা’রিফাতি রুওয়াতিল সুনানি ওয়াল মাসানিদ", পৃষ্ঠা: ২৮৫।

‌‌(২) দেখুন: "জুযউন ফিহি জিকরু আবিল কাসিম আত-তাবারানি", পৃষ্ঠা: ৪৭; "তারিখু দামেশক", ২২/১৬৬।

‌‌(৩) দেখুন: বুরহানুদ্দিন ইবনে মুফলিহ কৃত "আল-মাকসাদুল আরশাদ ফি জিকরি আসহাবিল ইমাম আহমাদ", ১/৪০৯।

‌‌(৪) দেখুন: "জুযউন ফিহি জিকরু আবিল কাসিম আত-তাবারানি", পৃষ্ঠা: ৫৩; ইবনে কুতলুবুগা কৃত "আস-সিকাতু মিম্মা লাইসা ফীল কুতুবিল সিত্তাহ", ৫/৯০।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২২)
- وقال الذهبي: كان ثقَة صدوقاً، واسع الحفظ، بصيراً بالعلل والرجال والأبواب، كثير التصانيف.‌‌(1)

- وقال الذهبي أيضاً: برع في هذا الشأن، وجَمَعَ وصنَّف وعمَّر دهراً طويلاً، وازدحم عليه المحدثون، ورحلوا إليه من الأقطار.‌‌(2)

- وقال ابن عساكر: أحد الحفَّاظ المُكْثرين والرَّحالين.‌‌(3)

- وقال العَطَّار: أحد الحفَّاظ المُبْرزين، والعلماء المُصَنِّفين، والجَوَّالين المُكْثرين، والثِّقات المَرْضِيين.‌‌(4)

 

‌‌المطلب الثاني: مُؤَلَّفات الإمام رحمه الله:

قال الذهبيُّ: ألَّف الإمام الطبراني كُتُباً كثيرةً في السُنن والآداب نحو مائتي مُصَنَّفٍ.‌‌(5)

وقد سرد ابن منده مؤلفات الإمام عليه رحمة الله حتي وصل به العدد إلي ما يربو فوق المائة مؤلف فقال ابن منده: ذكر مَا وجد من تصانيفه رحمه الله:

1) كتاب المعجم الْكَبِير مِائَتَا جُزْء. 2) كتاب المُعْجم الْأَوْسَط أَرْبَعَة وَعِشْرُونَ جُزْءاً. 3) كتاب المُعْجم الصَّغِير سَبْعَة أَجزَاء. 4) مُسْند الْعشْرَة ثَلَاثُونَ جُزْءاً. 5) مُسْند الشامين عشرَة أَجزَاء. 6) كتاب النَّوَادِر عشرَة أَجزَاء. 7) كتاب معرفَة الصَّحَابَة. 8) الْفَوَائِد عشرَة أَجزَاء. 9) مُسْند أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه. 10) مُسْند عَائِشَة رضي الله عنها. 11) مُسْند أبي ذَر الْغِفَارِيّ جزءان. 12) كتاب التَّفْسِير. 13) كتاب مسانيد تَفْسِير بكر بن سهل. 14) كتاب دَلَائِل النُّبُوَّة عشرَة أَجزَاء. 15) كتاب الدُّعَاء عشرَة أَجزَاء. 16) كتاب السّنة عشرَة أَجزَاء. 17) كتاب الطوالات ثَلَاثَة أَجزَاء. 18) كتاب الْعلم جُزْء. 19) كتاب الرُّؤْيَا جُزْء. 20) كتاب الْجُود والسخاء جُزْء. 21) كتاب الألوية جُزْء. 22) كتاب الْأَوَائِل جُزْء. 23) كتاب الْأَبْوَاب جُزْء. 24) كتاب فَضَائِل شهر رَمَضَان. 25) كتاب الْفَرَائِض من السّنَن المسندة. 26) كتاب فَضَائِل الْعَرَب جُزْء. 27) كتاب فَضَائِل عَليّ رضي الله عنه. 28) كتاب بَيَان كفر من قَالَ بِخلق الْقُرْآن جُزْء. 29) كتاب الرَّد على الْمُعْتَزلَة جُزْء. 30) كتاب الرَّد على الْجَهْمِية. 31) كتاب مَكَارِم الْأَخْلَاق جُزْء. 32) كتاب الْعَزْل جُزْء. 33) كتاب الصَّلَاة على النَّبِي صلى الله عليه وسلم جُزْء. 34) كتاب الْمَنَاسِك. 35) كتاب كتب النَّبِي صلى الله عليه وسلم جُزْء. 36) كتاب الْقِرَاءَة خلف الإِمَام جُزْء. 37) كتاب الْغسْل جُزْء. 38) كتاب فَضَائِل الْعلم وَاتِّبَاع الْأَثر وذم الرَّأْي وَأَهله. 39) مقتل الْحُسَيْن بن عَلي رضي الله عنه جُزْء. 40) حَدِيث شُعْبَة بن الْحجَّاج خَمْسَة عشر جُزْءاً. 41) حَدِيث الثَّوْريّ عشرَة أَجزَاء. 42) مُسْند الْأَعْمَش.

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر "العبر في خبر مَنْ غبر" للذهبي 2/ 105.

‌‌(2) يُنظر "السير" 16/ 119.

‌‌(3) يُنظر "تاريخ دمشق" 22/ 163.

‌‌(4) يُنظر "نزهة الناظر في ذكر من حدث عن أبي القاسم البغوي من الحفاظ والأكابر" للرشيد العطار صـ 75.

‌‌(5) يُنظر "العرش" للحافظ للذهبي 2/ 317.
- আয-যাহাবী বলেন: তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, সত্যবাদী, বিস্তৃত স্মৃতিশক্তির অধিকারী, ইল্লত (হাদীসের সূক্ষ্ম দোষ), রিজাল (বর্ণনাকারী) এবং হাদীসের অধ্যায়সমূহ সম্পর্কে অত্যন্ত পারদর্শী এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা।‌‌(১)

- আয-যাহাবী আরও বলেন: তিনি এই শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, হাদীস সংগ্রহ ও কিতাব সংকলন করেছেন এবং দীর্ঘকাল জীবন লাভ করেছিলেন। তাঁর নিকট মুহাদ্দিসগণের ভিড় লেগে থাকত এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁরা সফর করে তাঁর নিকট আসতেন।‌‌(২)

- ইবনে আসাকির বলেন: তিনি অধিক হাদীস সংগ্রহকারী হাফেজ এবং পর্যটকদের অন্যতম ছিলেন।‌‌(৩)

- আল-আত্তার বলেন: তিনি বিশিষ্ট হাফেজগণের একজন, গ্রন্থ রচয়িতা আলেম, অধিক সফরকারী পর্যটক এবং পছন্দনীয় নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।‌‌(৪)

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর রচনাবলি:

যাহাবী বলেন: ইমাম তাবারানি সুনান এবং আদব বিষয়ক প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেছেন।‌‌(৫)

ইবনে মানদাহ ইমামের (আলাইহি রাহমাতুল্লাহ) রচনাবলির তালিকা দিয়েছেন, যেখানে সংখ্যাটি একশতের উপরে পৌঁছেছে। ইবনে মানদাহ বলেন: তাঁর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) প্রাপ্ত গ্রন্থাবলির বর্ণনা নিম্নরূপ:

১) কিতাবুল মু'জামুল কাবীর - দুইশত খণ্ড। ২) কিতাবুল মু'জামুল আওসাত - চব্বিশ খণ্ড। ৩) কিতাবুল মু'জামুস সাগীর - সাত খণ্ড। ৪) মুসনাদুল আশারাহ - ত্রিশ খণ্ড। ৫) মুসনাদুশ শামিয়্যীন - দশ খণ্ড। ৬) কিতাবুন নাওয়াদির - দশ খণ্ড। ৭) কিতাবু মা’রিফাতিস সাহাবাহ। ৮) আল-ফাওয়ায়েদ - দশ খণ্ড। ৯) মুসনাদে আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। ১০) মুসনাদে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। ১১) মুসনাদে আবু যার আল-গিফারি - দুই খণ্ড। ১২) কিতাবুত তাফসীর। ১৩) কিতাব মাসানিদে তাফসীরে বাকর বিন সাহল। ১৪) কিতাবু দালাইলিন নুবুওয়াহ - দশ খণ্ড। ১৫) কিতাবুদ দুআ - দশ খণ্ড। ১৬) কিতাবুস সুন্নাহ - দশ খণ্ড। ১৭) কিতাবুত তাওয়ালাত - তিন খণ্ড। ১৮) কিতাবুল ইলম - এক খণ্ড। ১৯) কিতাবুর রুইয়া - এক খণ্ড। ২০) কিতাবুল জুদ ওয়াস সাখা - এক খণ্ড। ২১) কিতাবুল আলউইয়্যাহ - এক খণ্ড। ২২) কিতাবুল আওয়ায়েল - এক খণ্ড। ২৩) কিতাবুল আবওয়াব - এক খণ্ড। ২৪) কিতাবু ফাদাইলি শাহরি রামাদান। ২৫) কিতাবুল ফারাইদ মিনাস সুনানিল মুসনাদাহ। ২৬) কিতাবু ফাদাইলিল আরব - এক খণ্ড। ২৭) কিতাবু ফাদাইলি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। ২৮) কিতাবু বায়ান কুফরি মান কালা বি-খালকিল কুরআন (কুরআন মাখলুক হওয়ার প্রবক্তার কুফরের বর্ণনা বিষয়ক কিতাব) - এক খণ্ড। ২৯) কিতাবুর রাদ্দু আলাল মু'তাযিলা (মু'তাযিলাদের খণ্ডন বিষয়ক কিতাব) - এক খণ্ড। ৩০) কিতাবুর রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ (জাহমিয়াদের খণ্ডন বিষয়ক কিতাব)। ৩১) কিতাব মাকারিমুল আখলাক - এক খণ্ড। ৩২) কিতাবুল আযল - এক খণ্ড। ৩৩) কিতাবুস সালাতু আলান নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এক খণ্ড। ৩৪) কিতাবুল মানাসিক। ৩৫) কিতাবুত কুতুবিন নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এক খণ্ড। ৩৬) কিতাবুল কিরাত খালফাল ইমাম - এক খণ্ড। ৩৭) কিতাবুল গুসল - এক খণ্ড। ৩৮) কিতাবু ফাদাইলিল ইলম ওয়া ইত্তিবাউল আসার ওয়া যাম্মুর রায় ওয়া আহলিহ। ৩৯) মাকতালুল হুসাইন বিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) - এক খণ্ড। ৪০) হাদীসু শু'বাহ বিন হাজ্জাজ - পনের খণ্ড। ৪১) হাদীসুস সাওরি - দশ খণ্ড। ৪২) মুসনাদুল আমাশ।

--------------------------------------------

‌‌(১) যাহাবীর "আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার" ২/১০৫ দ্রষ্টব্য।

‌‌(২) "আস-সিয়ার" ১৬/১১৯ দ্রষ্টব্য।

‌‌(৩) "তারিখে দামেশক" ২২/১৬৩ দ্রষ্টব্য।

‌‌(৪) রশীদ আল-আত্তার প্রণীত "নুযহাতুন নাযির ফি যিকরি মান হাদ্দাসা আন আবিল কাসিম আল-বাগাওয়ী মিনাল হুফফাজ ওয়াল আকাবির" পৃষ্ঠা ৭৫ দ্রষ্টব্য।

‌‌(৫) হাফেজ যাহাবীর "আল-আরশ" ২/৩১৭ দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৩)
43) مُسْند الْأَوْزَاعِي. 44) من روى عَن الزُّهْرِيّ عَن أنس جُزْء. 45) حَدِيث مُحَمَّد بن الْمُنْكَدر عَن جَابر جُزْء. 46) حَدِيث أَيُّوب السّخْتِيَانِيّ عشرَة أَجزَاء. 47) مُسْند أبي إِسْحَاق السبيعِي الْهَمدَانِي. 48) مُسْند يحيى بن أبي كثير. 49) مُسْند مَالك بن دِينَار. 50) مُسْند الْحسن بن أبي الْحسن الْبَصْرِي، عَن أنس. 51) مُسْند حَمْزَة الزيات. 52) مُسْند مسعر بن كدام. 53) مُسْند أبي سعد الْبَقَّال. 54) طرق حَدِيث من كذب عَليّ جُزْء. 55) أَحَادِيث بَيَان بن بشر جُزْء. 56) أَحَادِيث من اسْمه عباد جُزْء. 57) أَحَادِيث النَّهْي عَن النوح جُزْء. 58) مُسْند عبد الْعَزِيز بن رفيع جُزْء. 59) أَحَادِيث مُحَمَّد بن جحادة جُزْء. 60) مسانيد عمر بن عبد الْعَزِيز جُزْء. 61) فضل الإِمَام أَحْمد بن حَنْبَل جُزْء. 62) أَحَادِيث إِدْرِيس الأودي جُزْء. 63) أَحَادِيث من اسْمه عَطاء جُزْء. 64) أَحَادِيث أبي غياث روح بن الْقَاسِم جُزْء. 65) أَحَادِيث فِي فَضَائِل عِكْرِمَة جُزْء. 66) أَحَادِيث أُمَّهَات رَسُول الله صلى الله عليه وسلم جُزْء. 67) مُسْند عمَارَة بن غزيَّة جُزْء. 68) أَحَادِيث طَلْحَة بن مصرف جُزْء. 69) غرائب حَدِيث مَالك بن أنس جُزْء. 70) أَحَادِيث ضَمْضَم بن زرْعَة جُزْء. 71) أَحَادِيث أبان بن تغلب جُزْء. 72) أَحَادِيث حُرَيْث بن أبي مطر جُزْء. 73) وَصِيَّة النَّبِي صلى الله عليه وسلم لأبي هُرَيْرَة جُزْء. 74) كتاب ذكر الْخلَافَة لأبي بكر وَعمر. 75) كتاب فَضَائِل الْعَرَب وَعُثْمَان وَعلي رضي الله عنهم. 76) كتاب جَامع صِفَات النَّبِي صلى الله عليه وسلم. 77) كتاب نسب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَصفَة الْخُلَفَاء. 78) كتاب أنسابهم وأسمائهم وَكُنَاهُمْ. 79) كتاب وَصِيَّة النَّبِي صلى الله عليه وسلم. 80) كتاب لأبي هُرَيْرَة. 81) غزل الْخُلَفَاء والامراء. 82) مُسْند طَلْحَة بن مصرف الإيامي. 83) وَأَبُو حُصَيْن عُثْمَان بن عَاصِم الْأَسدي. 84) وعمار بن أبي مُعَاوِيَة البَجلِيّ الدهني. 85) وَسَعِيد بن أَشوع القَاضِي. 86) وَعبد الله بن شبْرمَة. 87) عَاصِم بن أبي بَهْدَلَة. 88) مُسْند مُحَمَّد بن عجلَان. 89) مُسْند حَمْزَة بن جُنْدُب بن الزيات. 90) مُسْند أبي سعيد الْحسن بن أبي الْحسن الْبَصْرِيّ، عَن أنس. 91) عمرَان بن مُوسَى القبي. 92) والْحَارث بن يزِيد العكلي. 93) مُسْند مسعر بن كدام. 94) مُسْند العبادلة من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم. 95) مُسْند عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده. 96) مُسْند أبي أَيُّوب عبد الله بن عَليّ الإفْرِيقِي وزافر بن سُلَيْمَان وَغَيرهمَا. 97) مسانيد أبي يحيى مَالك بن دِينَار الزَّاهِد. 98) أَحَادِيث الْأَوْزَاعِيّ وَأبي عَمْرو بن الْعَلَاء. 99) مُسْند زِيَاد بن أبي زِيَاد الْجَصَّاص. 100) وَالْحجاج بن الفرافصة. 101) وَهَارُون بن مُوسَى النَّحْوِي. 102) مُسْند يُونُس بن عبيد. 103) مُسْند مُغيرَة بن مقسم الضَّبِّيّ الْكُوفِي. 104) كتاب الْأَشْرِبَة. 105) كتاب الطَّهَارَة. 106) كتاب الإمارة.

قلت: ذكر الذهبي بعضها ثم قال: وَقَدْ سمَّاهَا عَلَى الولَاءِ الحَافِظُ يَحْيَى بنُ مَنْدَه. وَأَكثرُهَا مَسَانِيْدُ حفَّاظٍ وَأَعِيَانٍ، وَلَمْ نَرَهَا. وَلَمْ يَزَلْ حَدِيْثُ الطَّبَرَانِيِّ رَائِجاً، نَافقاً، مرغوباً فِيْه.‌‌(1)

وهذه أشهر مؤلفاته رحمه الله بشئ من الإيجاز:

1) "المعجم الكبير": طبعة مكتبة ابن تيمية - القاهرة -، الطبعة الأولى سنة (1397 هـ)، والثانية سنة (1404 هـ-1983 م)، بتحقيق الشيخ/ حمدي عبد المجيد السلفي، في خمسة وعشرين مُجلد عدا المجلد

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر "السير" للذهبي 16/ 128.
43) মুসনাদে আওযাঈ। 44) আনাস থেকে জুহরীর সূত্রে বর্ণনাকারীদের একটি খণ্ড। 45) জাবির থেকে মুহাম্মদ বিন মুনকাদিরের হাদিসের একটি খণ্ড। 46) আইয়ুব সাখতিয়ানীর হাদিস দশ খণ্ড। 47) আবু ইসহাক আল-সাবিঈ আল-হামদানীর মুসনাদ। 48) ইয়াহইয়া বিন আবি কাসিরের মুসনাদ। 49) মালিক বিন দিনারের মুসনাদ। 50) আবু সাঈদ আল-হাসান বিন আবি হাসান আল-বসরী থেকে আনাসের সূত্রে বর্ণিত মুসনাদ। 51) হামজা আল-যাইয়্যাতের মুসনাদ। 52) মিসআর বিন কিদামের মুসনাদ। 53) আবু সাদ আল-বাক্কালের মুসনাদ। 54) "যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যারোপ করল" হাদিসটির বর্ণনাসূত্রসমূহের একটি খণ্ড। 55) বায়ান বিন বিশরের হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 56) আব্বাদ নামীয় ব্যক্তিদের হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 57) বিলাপ করা থেকে নিষেধ সম্পর্কিত হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 58) আব্দুল আজিজ বিন রফী-র মুসনাদ একটি খণ্ড। 59) মুহাম্মদ বিন জুহাদার হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 60) উমর বিন আব্দুল আজিজের মুসনাদসমূহ একটি খণ্ড। 61) ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মর্যাদা সংক্রান্ত একটি খণ্ড। 62) ইদ্রিস আল-আওদীর হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 63) আতা নামীয় ব্যক্তিদের হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 64) আবু গিয়াস রাওহ বিন কাসিমের হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 65) ইকরিমার মর্যাদাসমূহ সম্পর্কিত হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 66) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতাগণের হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 67) উমারা বিন গাযিয়্যাহ-র মুসনাদ একটি খণ্ড। 68) তালহা বিন মুসাররিফের হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 69) মালিক বিন আনাসের হাদিসের বিরল বর্ণনাসমূহ (গারায়েব) একটি খণ্ড। 70) দামদাম বিন যুরআহ-র হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 71) আবান বিন তাগলিবের হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 72) হুরাইস বিন আবি মাতার-এর হাদিসসমূহের একটি খণ্ড। 73) আবু হুরায়রার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়তের একটি খণ্ড। 74) আবু বকর ও উমরের খিলাফত আলোচনার কিতাব। 75) আরব জাতি, উসমান ও আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মর্যাদার কিতাব। 76) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলির সংকলন গ্রন্থ। 77) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয় ও খলিফাগণের বৈশিষ্ট্যের কিতাব। 78) তাঁদের বংশপরিচয়, নাম ও উপনামের কিতাব। 79) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওসিয়তের কিতাব। 80) আবু হুরায়রার জন্য একটি কিতাব। 81) খলিফা ও আমিরদের গজলসমূহ। 82) তালহা বিন মুসাররিফ আল-ইয়ামির মুসনাদ। 83) এবং আবু হুসাইন উসমান বিন আসিম আল-আসাদি। 84) এবং আম্মার বিন আবি মুয়াবিয়া আল-বাজালি আদ-দুহনি। 85) এবং সাঈদ বিন আশওয়া আল-কাদি। 86) এবং আব্দুল্লাহ বিন শুবরুমা। 87) আসিম বিন আবি বাহদালা। 88) মুহাম্মদ বিন আজলানের মুসনাদ। 89) হামজা বিন জুনদুব বিন যাইয়্যাতের মুসনাদ। 90) আবু সাঈদ হাসান বিন আবু হাসান আল-বসরীর মুসনাদ, আনাস থেকে। 91) ইমরান বিন মুসা আল-কুবি। 92) এবং হারিস বিন ইয়াজিদ আল-উকুলি। 93) মিসআর বিন কিদামের মুসনাদ। 94) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে 'আবাদিলা'-দের (আব্দুল্লাহ নামীয় সাহাবীগণ) মুসনাদ। 95) আমর বিন শুআইব, তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে মুসনাদ। 96) আবু আইয়ুব আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-ইফরিকি, জাফির বিন সুলাইমান ও অন্যদের মুসনাদ। 97) আবু ইয়াহইয়া মালিক বিন দিনার আল-জাহিদের মুসনাদসমূহ। 98) আওযাঈ এবং আবু আমর বিন আল-আলার হাদিসসমূহ। 99) যিয়াদ বিন আবি যিয়াদ আল-জাসসাসের মুসনাদ। 100) এবং হাজ্জাজ বিন ফুরাফিসা। 101) এবং হারুন বিন মুসা আন-নাহবি। 102) ইউনুস বিন উবাইদের মুসনাদ। 103) মুগিরা বিন মিকসাম আদ-দাব্বি আল-কুফির মুসনাদ। 104) পানীয় দ্রব্য সম্পর্কিত কিতাব। 105) পবিত্রতা সম্পর্কিত কিতাব। 106) নেতৃত্ব সম্পর্কিত কিতাব।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আয-যাহাবি এগুলোর কিছু উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: হাফেজ ইয়াহইয়া বিন মান্দাহ এগুলোকে ক্রমানুসারে নামকরণ করেছেন। এগুলোর অধিকাংশই হাফেজ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মুসনাদ, যা আমরা দেখিনি। তবে তাবারানির হাদিস সর্বদা প্রচলিত, সমাদৃত ও কাঙ্ক্ষিত ছিল।‌‌(1)

আর এগুলো হলো তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) অত্যন্ত প্রসিদ্ধ কিছু রচনাবলি সংক্ষেপে:

১) "আল-মু'জাম আল-কাবির": মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া - কায়রো - থেকে প্রকাশিত, প্রথম সংস্করণ (১৩৯৭ হিজরি) এবং দ্বিতীয় সংস্করণ (১৪০৪ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ), শায়খ হামদি আব্দুল মাজিদ আস-সালাফির সম্পাদনায়, পঁচিশ খণ্ডে (একটি খণ্ড ব্যতীত)

--------------------------------------------

‌‌(1) দেখুন আয-যাহাবির "আস-সিয়ার" ১৬/ ১২৮।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৪)
(13، 14، 15، 16، 21) فقد بين أنه لم يعثر علي نسخها الخطية‌‌(1)، ثُمَّ طُبع جزءٌ مِنْ المجلد رقم (13) بتحقيقه هو أيضاً، طبعة دار الصميعيّ سنة (1405 هـ-1994 م)، ثُمَّ طُبع المجلد (14، 13)، بتحقيق فريق مِنْ الباحثين تحت إشراف د/ سعد بن عبد الله آل حُميد، ود/ خالد بن عبد الرحمن الجُريسي.

2) "المعجم الصغير": طبعة دار الكتب العلمية سنة (1403 هـ-1983 م)، ويقع في مجلدين.

3) "مسند الشاميين": طبعة مؤسسة الرسالة - بيروت -، الطبعة الأولي سنة (1409 هـ-1989 م)، بتحقيق الشيخ/ حمدي عبد المجيد السلفي، ويقع في أربعة مجلدات.

4) "الدعاء": طبعة دار البشائر الإسلامية - بيروت - سنة (1407 هـ-1987 م)، ويقع في ثلاثة مجلدات بتحقيق د/ محمد سعيد حسن البخاري.

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: مقدمة المحقق "للمعجم الكبير" 17/ 11.
(১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ২১) তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এগুলোর পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাননি‌‌(১), অতঃপর তাঁর নিজস্ব সম্পাদনায় ১৩ নম্বর খণ্ডের একটি অংশও মুদ্রিত হয়েছে, যা ১৪০৫ হিজরী-১৯৯৪ ঈসায়ী সালে দারুস সামিয়ী থেকে প্রকাশিত। এরপর ড. সাআদ বিন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ এবং ড. খালিদ বিন আবদুর রহমান আল-জুরাইসির তত্ত্বাবধানে একদল গবেষকের সম্পাদনায় ১৩ ও ১৪ নম্বর খণ্ড মুদ্রিত হয়েছে।

২) "আল-মু'জামুস সাগির": দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণ, ১৪০৩ হিজরী-১৯৮৩ ঈসায়ী সাল, এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত।

৩) "মুসনাদুশ শামিয়্যিন": মুআসসাসাতুর রিসালাহ সংস্করণ - বৈরুত -, প্রথম প্রকাশ ১৪০৯ হিজরী-১৯৮৯ ঈসায়ী সাল, শায়খ হামদি আবদুল মাজিদ আস-সালাফি-র সম্পাদনায়, এটি চার খণ্ডে সমাপ্ত।

৪) "আদ-দুআ": দারুল বাশায়িরিল ইসলামিয়্যাহ সংস্করণ - বৈরুত -, ১৪০৭ হিজরী-১৯৮৭ ঈসায়ী সাল, ড. মুহাম্মদ সাঈদ হাসান আল-বুখারি-র সম্পাদনায় এটি তিন খণ্ডে সমাপ্ত।

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: "আল-মু'জামুল কাবির" এর সম্পাদকের ভূমিকা ১৭/ ১১।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الثاني: التعريف بالكتاب وما يتعلق به.

وذلك في ثمانية بحوث:

 

‌‌البحث الأول: اسم الكتاب، واسم مُؤلِّفه.

* اسم الكتاب: "المعجم الأوسط".

* اسم المؤلف: الإِمَام أَبُو القَاسِمِ سُلَيْمَانُ بنُ أَحْمَدَ بنِ أَيُّوْبَ بنِ مُطَيّرٍ اللَّخْمِيُّ، الشَّامِيُّ، الطَّبَرَانِيُّ.

 

‌‌البحث الثاني: التثبت من صحة نسبة الكتاب إلى مؤلفه.

هذا الكتاب يعد من أشهر كتب المُصَنِف رحمه الله ومما يدل علي أنَّ هذا الكتاب مِنْ مؤلَّفات الإمام الطبراني رحمه الله أمورٌ منها:

1) قال الذهبي رحمه الله: كان الطبراني - فيما بلغنا - يقول عن "الأوسط": هَذَا الكِتَابُ رُوحي.‌‌(1)

2) أنَّ معظم من ترجم للمُصَنِف ذكر هذا الكتاب في عِدَاد مؤَلَّفاته: فقال ابن منده: وله - أي الطبراني - "المعجم الأوسط" يقع في أَرْبَعَة وَعِشْرينَ جُزْءًا.‌‌(2) وقال ابن عساكر: صَنَّف الطبراني "المعجم الكبير" في أسماء الصحابة، و"الأوسط" في غرائب شيوخه، و"الصغير" في أسماء شيوخه، وغير ذلك من الكتب.‌‌(3)

3) اقتباس العلماء مِنْ الكتاب في شتى مؤلَّفاتهم ككتب المصطلح، والعلل، والتخريج، والزوائد، والتراجم، مع التصريح بعزوه إلى "المعجم الأوسط" للطبراني.

4) أنَّ الشيوخ المذكورين في الكتاب هم شيوخ الإمام الطبراني.

5) أنَّ بعض الأحاديث الواردة في الكتاب قد أخرجها الطبراني في كُتُبه الأخرى كالمعجم الكبير، ومسند الشاميين بنفس الإسناد والمتن المذكور في "الأوسط".

6) أنَّ بعض الأحاديث الواردة في "الأوسط" قد رواها غير واحدٍ مِنْ أهل العلم كأبي نُعيم، والخطيب، وابن عساكر، والضياء، والذهبي، وابن حجر، وغيرهم من طريق الطبراني.

7) أنَّ الإمام الهيثمي قد روى كتاب "المعجم الأوسط" بإسناده إلى الإمام الطبراني، وقد ذكر سنده إليه في مقدمة كتابه مجمع الزوائد.

 

‌‌البحث الثالث: موضوع الكتاب.

لقد صَنَّف الإمام الطبراني هذا المعجم لجمع غرائب المرويات من حديث شيوخه:

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر "تاريخ الإسلام" 8/ 143، "السير" 16/ 122.

‌‌(2) يُنظر "جزءٌ فيه ذكر أبي القاسم الطبراني" صـ 65.

‌‌(3) يُنظر "تاريخ دمشق" 22/ 164.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির পরিচিতি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি.

এটি আটটি গবেষণামূলক অধ্যায়ে বিন্যস্ত:

 

‌প্রথম গবেষণা: গ্রন্থের নাম এবং এর লেখকের নাম.

* গ্রন্থের নাম: "আল-মু'জামুল আওসাত"।

* লেখকের নাম: ইমাম আবু আল-কাসিম সুলায়মান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব বিন মুতাইর আল-লাখমি, আশ-শামি, আত-তাবারানি।

 

‌দ্বিতীয় গবেষণা: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের সঠিকতা যাচাই.

এই গ্রন্থটি সংকলক (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রসিদ্ধতম গ্রন্থগুলোর অন্যতম। এটি যে ইমাম তাবারানি (রহিমাহুল্লাহ)-এরই একটি সংকলন, তার সপক্ষে বেশ কিছু বিষয় প্রমাণ দেয়, যার মধ্যে কয়েকটি হলো:

১) ইমাম জাহাবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের নিকট যা পৌঁছেছে তদনুসারে তাবারানি "আল-আওসাত" সম্পর্কে বলতেন: "এই গ্রন্থটি আমার প্রাণ।"‌‌(১)

২) সংকলকের জীবনী যারা লিখেছেন, তাদের অধিকাংশ ব্যক্তিই তাঁর সংকলিত গ্রন্থসমূহের তালিকায় এই গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন: ইবনে মানদাহ বলেন: তাবারানির "আল-মু'জামুল আওসাত" চব্বিশ খণ্ডে সমাপ্ত।‌‌(২) ইবনে আসাকির বলেন: তাবারানি সাহাবিদের নামের ক্রমানুসারে "আল-মু'জামুল কাবির", তাঁর উস্তাদদের বিরল বর্ণনার ভিত্তিতে "আল-আওসাত", এবং তাঁর উস্তাদদের নামের ক্রমানুসারে "আস-সগির" সহ আরও অনেক গ্রন্থ সংকলন করেছেন।‌‌(৩)

৩) হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা যেমন—উসুলুল হাদিস, ইলাল, তাখরিজ, যাওয়ায়েদ এবং জীবনী বিষয়ক গ্রন্থে আলেমগণ এই গ্রন্থটি থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন এবং স্পষ্টভাবেই একে তাবারানির "আল-মু'জামুল আওসাত" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

৪) এই গ্রন্থে উল্লিখিত শায়খগণ ইমাম তাবারানিরই উস্তাদ।

৫) এই গ্রন্থে বর্ণিত কিছু হাদিস ইমাম তাবারানি তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ যেমন "আল-মু'জামুল কাবির" এবং "মুসনাদুশ শামিয়্যিন"-এ একই সনদ ও মতন সহ বর্ণনা করেছেন যা "আল-আওসাত"-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

৬) "আল-আওসাত"-এ বর্ণিত কিছু হাদিস আবু নুআইম, আল-খতিব, ইবনে আসাকির, আদ-দিয়া, আল-জাহাবি, ইবনে হাজার এবং অন্যান্য অনেক আলেম ইমাম তাবারানির সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

৭) ইমাম হাইসামি "আল-মু'জামুল আওসাত" গ্রন্থটি ইমাম তাবারানি পর্যন্ত তাঁর নিজস্ব সনদ সহ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর "মাজমাউয যাওয়ায়েদ" গ্রন্থের ভূমিকায় ইমাম তাবারানি পর্যন্ত তাঁর সেই সনদের কথা উল্লেখ করেছেন।

 

‌তৃতীয় গবেষণা: গ্রন্থের বিষয়বস্তু.

ইমাম তাবারানি এই মু'জামটি সংকলন করেছেন তাঁর উস্তাদদের হাদিসগুলোর মধ্যে যেগুলো বিরল (গারিব) সেগুলো একত্রিত করার জন্য:

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: "তারিখুল ইসলাম" ৮/১৪৩, "আস-সিয়ার" ১৬/১২২।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: "জুযউন ফিহি যিকর আবি আল-কাসিম আত-তাবারানি" পৃষ্ঠা: ৬৫।

‌‌(৩) দ্রষ্টব্য: "তারিখু দামেশক" ২২/১৬৪।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৬)
- قال ابن عساكر: صَنَّف "الأوسط" في غرائب شيوخه.‌‌(1)

- وقال الذهبيُّ: صَنَّف الطبراني "المعجم الأوسط" في ست مجلدات كبار، على معجم شيوخه، يأتي فيه عن كل شيخ بما له من الغرائب والعجائب، فهو نظير كتاب "الأفراد" للدارقطنيّ، بيَّن فيه فَضِيْلَتَه، وَسَعَةَ رِوَايَتِهِ، وكان يقول: هَذَا الكِتَابُ رُوحِي، فإنَّه تَعِبَ عليه، وفيه: كُلُّ نَفِيسٍ وَعَزِيزٍ وَمُنْكَرٍ.‌‌(2)

 

‌‌البحث الرابع: منهج المؤلف في الجزء الخاص بالدراسة، وتقييم ذلك المنهج.

1) رتب المُصَنِّف كتابه على أسماء شيوخه، ورتبهم على حروف الهجاء، فبدأ بالألف وانتهى بالياء.

2) أخرج المُصَنِّفُ أحاديث الكتاب بإسناده عن شيوخه إلى قائليها.

3) ساق في ترجمة كل شيخ له عددًا من الأحاديث الغرائب وذلك على حسب عدد مروياته عنده. وهذا الجزء الذي قمت بتحقيقه يشتمل علي أربعة من مشايخ الإمام الطبراني رضي الله عنه وهم: أحمد بن علي بن مسلم الآبار، وأحمد بن إبراهيم بن ملحان، وأحمد بن بشير الطيالسي، وأحمد بن يحيي الحلواني.

4) ليس في الجزء الذي قُمتُ بتحقيقه إلا حديث قدسي واحد فقط وهو حديث رقم (225/ 875)، وأغلب الأحاديث التي قمت بدراستها مرفوعة إلى النَّبي صلى الله عليه وسلم، وعددها (239) حديثًا، تُقَدَّر بنسبة (95. 6%) بل واشتمل هذا الجزء أيضًا على جملة مِنْ الآثار، وعددها (10) أثار، تُقَدَّر بنسبة (4%) وأرقامها: (721 و 765 و 774 و 776 و 810 و 820 و 827 و 830 و 832 و 881) وهذه الأرقام علي حسب ترقيم المطبوع.

5) قد يُسند حديثًا مِنْ وجهٍ مُعَيَّنٍ، ويُحيل علي سنده بعض المرويات بعده، فَيذكر الحديث بإسناده ومتنه، ثُمَّ يقول: وبإسناده عن فلان، ويَذكر حديثًا آخر، أو عدة أحاديث بنفس السند وذلك كحديث رقم: (54 إلي حديث رقم 60).

6) يذكر أحيانًا جملة مِنْ الأحاديث بأسانيده، ثُمَّ يَعْقُبُها جميعًا بقوله: لم يرو هذه الأحاديث عن فلان إلا فلان، كما في الحديث رقم (4، 3)، (16 إلي حديث رقم 19)، (53، 52)

7) علق الإمام الطبراني على معظم الأحاديث بالحكم عليها بالتفرد، وغالب ذلك من نوع التفرد النسبي، وهناك أحاديث من نوع التفرد المطلق وذلك كحديث رقم (125، 111، 95، 24، 9، 7، 1).

8) بلغ عدد الأحاديث التي حكم عليها بالتَّفرُّد (229) حديثًا، تُقَدَّر بنسبة (91. 6%) - مِنْ مجموع ما درسته -، وهي بالأرقام التالية: (1 و 2 و 3 و 4 و 5 و 6 و 7 و 9 و 10 و 11 و 12 و 13 و 14 و 15 و 16 و 17 و 18 و 19 و 20 و 21 و 22 و 23 و 24 و 25 و 26 و 27 و 28 و 29 و 30 و 31 و 32 و 33 و 34 و 35 و 36 و 37 و 38 و 39 و 40 و 41 و 42 و 43 و 44 و 45 و 46 و 47 و 48 و 49 و 50 و 51 و 52 و 53 و 61 و 62 و 63 و 68 و 69 و 70 و 71 و 72 و 73 و 74 و 81 و 82 و 83 و 84 و 85 و 86 و 87

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر: "تاريخ دمشق" 22/ 164.

‌‌(2) يُنظر: "تذكرة الحفاظ" 3/ 85.
- ইবনে আসাকির বলেছেন: তিনি তাঁর শায়খদের বিরল হাদিসসমূহ (গরাইব) নিয়ে 'আল-আওসাত' গ্রন্থটি সংকলন করেছেন।‌‌(১)

- আয-যাহাবি বলেছেন: তাবারানি তাঁর শায়খদের নামের বর্ণনানুক্রমে (মুজাম) ছয়টি বৃহদাকার খণ্ডে 'আল-মুজামুল আওসাত' সংকলন করেছেন। তিনি এতে প্রত্যেক শায়খের সূত্রে তাঁর বর্ণিত বিরল ও আশ্চর্যজনক হাদিসগুলো উল্লেখ করেছেন। এটি দারা কুতনির 'আল-আফরাদ' গ্রন্থের অনুরূপ; এতে তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও বর্ণনার প্রশস্ততা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলতেন: "এই বইটি আমার প্রাণ"; কারণ এটি প্রস্তুত করতে তিনি অনেক পরিশ্রম করেছেন। এতে সব ধরনের মূল্যবান, দুষ্প্রাপ্য ও মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা বিদ্যমান।‌‌(২)

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গবেষণার জন্য নির্ধারিত অংশে লেখকের কর্মপদ্ধতি এবং সেই পদ্ধতির মূল্যায়ন।

১) লেখক তাঁর গ্রন্থটি তাঁর শায়খদের নামের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন এবং তাঁদের বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছেন; অর্থাৎ আলিফ থেকে শুরু করে ইয়া পর্যন্ত।

২) লেখক গ্রন্থের হাদিসগুলো তাঁর শায়খদের থেকে মূল বক্তা পর্যন্ত নিজস্ব সনদে সংকলন করেছেন।

৩) তিনি তাঁর প্রত্যেক শায়খের জীবনীতে তাঁর নিকট থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা অনুযায়ী কিছু বিরল হাদিস উল্লেখ করেছেন। আমি যে অংশটি সম্পাদনা (তাহকিক) করেছি, তাতে ইমাম তাবারানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর চারজন শায়খের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাঁরা হলেন: আহমাদ বিন আলি বিন মুসলিম আল-আববার, আহমাদ বিন ইব্রাহিম বিন মিলহান, আহমাদ বিন বশির আত-তায়ালিসি এবং আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি।

৪) আমার সম্পাদিত অংশে মাত্র একটি হাদিসে কুদসি রয়েছে, যার নম্বর (২২৫/ ৮৭৫)। আমি যে হাদিসগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি তার অধিকাংশ নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (মারফু), যার সংখ্যা ২৩৯টি, যা শতকরা হিসেবে ৯৫.৬%। এমনকি এই অংশে কিছু আসার (সাহাবি বা তাবেয়িদের উক্তি) রয়েছে যার সংখ্যা ১০টি, যা শতকরা হিসেবে ৪%। নম্বরগুলো হলো: (৭২১, ৭৬৫, ৭৭৪, ৭৭৬, ৮১০, ৮২০, ৮২৭, ৮৩০, ৮৩২ ও ৮৮১)। এই নম্বরগুলো মুদ্রিত সংস্করণের নম্বর অনুযায়ী।

৫) কখনও তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট সূত্র থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেন এবং পরবর্তী কিছু বর্ণনার ক্ষেত্রে সেই সনদের দিকেই ইঙ্গিত করেন। সেক্ষেত্রে তিনি হাদিসটি তার সনদ ও মতনসহ উল্লেখ করেন এবং এরপর বলেন: "অমুক ব্যক্তির সূত্রে একই সনদে" এবং একই সনদে অন্য একটি বা একাধিক হাদিস উল্লেখ করেন। যেমন হাদিস নম্বর ৫৪ থেকে ৬০ পর্যন্ত।

৬) মাঝে মাঝে তিনি তাঁর সনদে কতগুলো হাদিস উল্লেখ করেন এবং সবগুলোর শেষে বলেন: "অমুক থেকে অমুক ব্যতীত আর কেউ এই হাদিসগুলো বর্ণনা করেনি।" যেমন হাদিস নম্বর ৩, ৪ এবং ১৬ থেকে ১৯ পর্যন্ত এবং ৫২, ৫৩ নম্বর হাদিসে।

৭) ইমাম তাবারানি অধিকাংশ হাদিসের ওপর মন্তব্য করে সেগুলোকে 'তাফাররুদ' (একক বর্ণনা) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর অধিকাংশই আপেক্ষিক একক বর্ণনা (তাফাররুদ নিসবি), তবে কিছু নিরঙ্কুশ একক বর্ণনাও (তাফাররুদ মুতলাক) রয়েছে। যেমন হাদিস নম্বর ১, ৭, ৯, ২৪, ৯৫, ১১১, ১২৫।

৮) আমি যা অধ্যয়ন করেছি তার মধ্যে 'তাফাররুদ' বা একক বর্ণনা হিসেবে চিহ্নিত হাদিসের সংখ্যা ২২৯টি, যা মোট বর্ণনার ৯১.৬%। সেগুলো নিম্নোক্ত নম্বরগুলোতে রয়েছে: (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪ \৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৮১, ৮২, ৮৩, ৮৪, ৮৫, ৮৬, ৮৭)

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: "তারিখু দিমাস্ক" ২২/ ১৬৪।

‌‌(২) দেখুন: "তাযকিরাতুল হুফফায" ৩/ ৮৫।
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৭)
و 88 و 89 و 90 و 91 و 92 و 93 و 94 و 95 و 96 و 97 و 98 و 99 و 100 و 101 و 102 و 103 و 104 و 105 و 106 و 107 و 108 و 109 و 110 و 111 و 112 و 113 و 114 و 115 و 116 و 117 و 118 و 119 و 120 و 121 و 122 و 123 و 124 و 125 و 126 و 127 و 128 و 129 و 130 و 131 و 132 و 133 و 134 و 135 و 137 و 138 و 139 و 140 و 141 و 142 و 143 و 144 و 145 و 146 و 147 و 148 و 149 و 150 و 151 و 152 و 153 و 154 و 155 و 156 و 157 و 158 و 159 و 160 و 161 و 162 و 163 و 164 و 165 و 166 و 167 و 168 و 169 و 170 و 171 و 172 و 173 و 174 و 175 و 176 و 177 و 178 و 179 و 180 و 181 و 182 و 183 و 184 و 185 و 186 و 187 و 188 و 189 و 190 و 192 و 193 و 194 و 195 و 196 و 197 و 198 و 199 و 200 و 201 و 202 و 203 و 204 و 205 و 206 و 207 و 208 و 209 و 210 و 211 و 212 و 213 و 214 و 215 و 216 و 217 و 218 و 219 و 220 و 221 و 222 و 223 و 224 و 225 و 226 و 227 و 228 و 229 و 230 و 232 و 233 و 234 و 235 و 236 و 237 و 238 و 239 و 240 و 241 و 242 و 243 و 244 و 245 و 246 و 247 و 248 و 249 و 250).

9) وأحيانًا تكون عبارة غيره في الحكم علي الحديث بالتفرد أدق وأضبط مِنْ عبارة المُصَنِّف، كما في الحديث رقم (184، 166) ونضرب علي ذلك مثالاً كما في الحديث رقم (166) قال الطبراني رحمه الله: لَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيث عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ إِلَّا إِسْمَاعِيلُ بْنُ قَيْسٍ، تَفَرَّدَ بِهِ: أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ.

قلت: أما قوله: تَفَرَّدَ بِهِ: أَحْمَد بْن عَبْدِ الصَّمَدِ. فليس الأمر كما قال عليه رضي الله عنه. فلم يتفرد به أَحْمَد بْن عَبْدِ الصَّمَدِ الْأَنْصَارِي بل تابعه: عَلِي بْن عَمْرو الأَنْصَارِي. وقد ساق ابن عدي الحديث بإسناده عَنْ أَحْمَد بْن عَبْدِ الصَّمَدِ الْأَنْصَارِي، وعَلِي بْن عَمْرو الأَنْصَارِي كلاهما عَنْ إِسْمَاعِيل بْن قَيْس. ثم قال: وَهَذَا الْحَدِيثُ عَنْ يَحْيى بْنِ سَعِيد بِهَذَا الإِسْنَادِ، لَيْسَ يَرْوِيهِ عَنْ يَحْيى غَيْر إِسْمَاعِيل بْن قَيْس. قلت: فقيد ابن عدي التفرد بإِسْمَاعِيل بْن قَيْس.

10) … وبلغ عدد الأحاديث التي لم يحكم عليها بالتَّفرد (21) حديثًا، تُقَدَّر بنسبة (8. 4%) - مِنْ مجموع ما درسته -، وأرقامها: (8 و 54 و 55 و 56 و 57 و 58 و 59 و 60 و 64 و 65 و 66 و 67 و 75 و 76 و 77 و 78 و 79 و 80 و 136 و 191 و 231).

11) يذكر أحيانًا للراوي أنَّه لم يَرو عن شيخه إلا هذا الحديث، كما في الحديث رقم (145) قال الطبراني: لَمْ يَرْوِ ثَابِتٌ الْأَعْرَجُ عَنْ أَنَسٍ حَدِيثًا غَيْرَ هَذَا. وأيضاً في حديث رقم (161) قال الطبراني: لَمْ يَرْوِ عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْجُنْدَعِيُّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثًا غَيْرَ هَذَا.

12) ويُراعِي أيضاً في مسألة التَّفرد السياق في المتن، كما في الحديث رقم (146) قال: لَمْ يَرْوِ هَذِهِ اللَّفْظَةَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَحَدٌ مِمَّنْ رَوَاهُ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ: أَمَرَنِي جِبْرِيلُ إِلَّا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي حَيَّةَ. وكذلك في حديث رقم (152) قال أيضاً: لَمْ يَقُلْ أَحَدٌ مِمَّنْ رَوَاهُ عَنِ الشَّيْبَانِيِّ: «بِلَيْلَتَيْنِ» إِلا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، تَفَرَّدَ بِهِ: مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ.

13) يُصَرِّحُ في بعض الأحاديث أحيانًا بإعلالها بالمخالفة أو غير ذلك من أنواع العلة الخفية، ويعبر
এবং ৮৮ এবং ৮৯ এবং ৯০ এবং ৯১ এবং ৯২ এবং ৯৩ এবং ৯৪ এবং ৯৫ এবং ৯৬ এবং ৯৭ এবং ৯৮ এবং ৯৯ এবং ১০০ এবং ১০১ এবং ১০২ এবং ১০৩ এবং ১০৪ এবং ১০৫ এবং ১০৬ এবং ১০৭ এবং ১০৮ এবং ১০৯ এবং ১১০ এবং ১১১ এবং ১১২ এবং ১১৩ এবং ১১৪ এবং ১১৫ এবং ১১৬ এবং ১১৭ এবং ১১৮ এবং ১১৯ এবং ১২০ এবং ১২১ এবং ১২২ এবং ১২৩ এবং ১২৪ এবং ১২৫ এবং ১২৬ এবং ১২৭ এবং ১২৮ এবং ১২৯ এবং ১৩০ এবং ১৩১ এবং ১৩২ এবং ১৩৩ এবং ১৩৪ এবং ১৩৫ এবং ১৩৭ এবং ১৩৮ এবং ১৩৯ এবং ১৪০ এবং ১৪১ এবং ১৪২ এবং ১৪৩ এবং ১৪৪ এবং ১৪৫ এবং ১৪৬ এবং ১৪৭ এবং ১৪৮ এবং ১৪৯ এবং ১৫০ এবং ১৫১ এবং ১৫২ এবং ১৫৩ এবং ১৫৪ এবং ১৫৫ এবং ১৫৬ এবং ১৫৭ এবং ১৫৮ এবং ১৫৯ এবং ১৬০ এবং ১৬১ এবং ১৬২ এবং ১৬৩ এবং ১৬৪ এবং ১৬৫ এবং ১৬৬ এবং ১৬৭ এবং ১৬৮ এবং ১৬৯ এবং ১৭০ এবং ১৭১ এবং ১৭২ এবং ১৭৩ এবং ১৭৪ এবং ১৭৫ এবং ১৭৬ এবং ১৭৭ এবং ১৭৮ এবং ১৭৯ এবং ১৮০ এবং ১৮১ এবং ১৮২ এবং ১৮৩ এবং ১৮৪ এবং ১৮৫ এবং ১৮৬ এবং ১৮৭ এবং ১৮৮ এবং ১৮৯ এবং ১৯০ এবং ১৯২ এবং ১৯৩ এবং ১৯৪ এবং ১৯৫ এবং ১৯৬ এবং ১৯৭ এবং ১৯৮ এবং ১৯৯ এবং ২০০ এবং ২০১ এবং ২০২ এবং ২০৩ এবং ২০৪ এবং ২০৫ এবং ২০৬ এবং ২০৭ এবং ২০৮ এবং ২০৯ এবং ২১০ এবং ২১১ এবং ২১২ এবং ২১৩ এবং ২১৪ এবং ২১৫ এবং ২১৬ এবং ২১৭ এবং ২১৮ এবং ২১৯ এবং ২২০ এবং ২২১ এবং ২২২ এবং ২২৩ এবং ২২৪ এবং ২২৫ এবং ২২৬ এবং ২২৭ এবং ২২৮ এবং ২২৯ এবং ২৩০ এবং ২৩২ এবং ২৩৩ এবং ২৩৪ এবং ২৩৫ এবং ২৩৬ এবং ২৩৭ এবং ২৩৮ এবং ২৩৯ এবং ২৪০ এবং ২৪১ এবং ২৪২ এবং ২৪৩ এবং ২৪৪ এবং ২৪৫ এবং ২৪৬ এবং ২৪৭ এবং ২৪৮ এবং ২৪৯ এবং ২৫০)।

৯) মাঝে মাঝে হাদিসের একক বর্ণনা (তাকাররুদ) সংক্রান্ত হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে অন্যের বক্তব্য গ্রন্থকারের বক্তব্যের চেয়ে অধিক সূক্ষ্ম ও সঠিক হয়ে থাকে, যেমনটি ১৬৬ ও ১৮৪ নম্বর হাদিসের ক্ষেত্রে ঘটেছে। আমরা ১৬৬ নম্বর হাদিসের একটি উদাহরণ দিচ্ছি; ইমাম তাবারানি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে ইসমাইল ইবনে কায়স ছাড়া অন্য কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি, এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন: আহমদ ইবনে আবদুস সামাদ।

আমি বলি: আহমদ ইবনে আবদুস সামাদের একক বর্ণনার ব্যাপারে তিনি (তাবারানি) যা বলেছেন, বিষয়টি তেমন নয়। আহমদ ইবনে আবদুস সামাদ আল-আনসারী এটি এককভাবে বর্ণনা করেননি, বরং আলী ইবনে আমর আল-আনসারী তার অনুসরণ (মুতাবায়াত) করেছেন। ইবনে আদি হাদিসটি তার সনদে আহমদ ইবনে আবদুস সামাদ আল-আনসারী এবং আলী ইবনে আমর আল-আনসারী উভয় থেকেই বর্ণনা করেছেন, আর তারা উভয়েই ইসমাইল ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি (ইবনে আদি) বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে এই সনদে ইসমাইল ইবনে কায়স ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি। আমি বলি: ইবনে আদি একক বর্ণনার বিষয়টি ইসমাইল ইবনে কায়সের ওপর সীমাবদ্ধ করেছেন।

১০) ... এবং একক বর্ণনা হিসেবে হুকুম দেওয়া হয়নি এমন হাদিসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (২১) টি, যা আমার অধ্যায়নকৃত মোট হাদিসের (৮. ৪%)। সেগুলোর নম্বর হলো: (৮ এবং ৫৪ এবং ৫৫ এবং ৫৬ এবং ৫৭ এবং ৫৮ এবং ৫৯ এবং ৬০ এবং ৬৪ এবং ৬৫ এবং ৬৬ এবং ৬৭ এবং ৭৫ এবং ৭৬ এবং ৭৭ এবং ৭৮ এবং ৭৯ এবং ৮০ এবং ১৩৬ এবং ১৯১ এবং ২৩১)।

১১) মাঝে মাঝে বর্ণনাকারীর (রাবি) ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি তার শাইখ থেকে এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। যেমন ১৪৫ নম্বর হাদিসে তাবারানি বলেছেন: সাবিত আল-আরাজ আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। একইভাবে ১৬১ নম্বর হাদিসে তাবারানি বলেছেন: আমর ইবনে আবদুল্লাহ আল-জুনদায়ী আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি।

১২) তিনি একক বর্ণনার (তাকাররুদ) ক্ষেত্রে মতনের (মূল পাঠ) শব্দ বা প্রসঙ্গের দিকেও খেয়াল রাখেন। যেমন ১৪৬ নম্বর হাদিসে তিনি বলেছেন: জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে যারা এটি বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে ইব্রাহিম ইবনে আবি হাইয়্যাহ ছাড়া আর কেউ এই হাদিসে এই শব্দটি বর্ণনা করেননি: "জিবরীল আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন"। একইভাবে ১৫২ নম্বর হাদিসে তিনি আরও বলেছেন: শাইবানী থেকে যারা এটি বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে ইসমাইল ইবনে জাকারিয়া ছাড়া আর কেউ "দুই রাত" কথাটি বলেননি; এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ ইবনুল সাব্বাহ।

১৩) তিনি কোনো কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে বিরুদ্ধাচরণ (মুখালাফাত) বা অন্য কোনো লুকায়িত ত্রুটি (ইল্লাত) দ্বারা সেটি ত্রুটিযুক্ত হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন এবং ব্যক্ত করেন...
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৮)
بلفظ (النَّاس، وأصحاب) ويقصد بها رواية الأكثرية، أو رواية الجماعة مِنْ الرواة. كما في الحديث رقم (37) قال: لَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ إِلَّا زَيْدٌ. وَرَوَاهُ شُعْبَةُ، وَأَصْحَابُ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ. قلت: ويُنظر أيضاً أحاديث رقم (203، 188، 124، 96، 89)

14) … وأحياناً ما يعلق علي الحديث بالحكم عليه بالتفرد ثم يذكر أوجه الخلاف فيه ثم يرجح أحد الأوجه وذلك كحديث رقم (96) قال عقب الحديث: هَكَذَا رَوَاهُ جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ. وَرَوَاهُ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ. وَرَوَاهُ ابْنُ جُرَيجٍ: عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ. وَرَوَاهُ صَالِحُ بْنُ أَبِي الْأَخْضَرِ: عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَائِبِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ أَبِي وَدَاعَةَ. وَرَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زِيَادٍ الرُّصَافِيُّ: عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ أَبِي مَالِكٍ الْقُرَظِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو. وَرَوَاهُ مُحَمَّدُ بْنِ الزُّبَيْرِ الْحَرَّانِيُّ: عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ. وَالصَّحِيحُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ: مَا رَوَاهُ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ. قلت: وإن كان ما رجحه هنا متعقب عليه فيه.

وقد يذكر أوجه الخلاف ولا يرجح كما في حديث رقم (113) قال: لَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُهَيْلٍ إِلَّا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْوَرْكَانِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ عَثْمَةَ. وَرَوَاهُ أَصْحَابُ مَالِكٍ: عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ. وَرَوَاهُ عَتِيقُ بْنُ يَعْقُوبَ الزُّبَيْرِيُّ: عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي النَّضْرِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ،. وَرَوَاهُ رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ: عَنْ مَالِكٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ.

15) وهناك بعض الأحاديث التي انفرد بها الطبراني، ولم أقف - على حد بحثي - على شئ من هذه الأحاديث إلا عند المُصَنِف في "الأوسط"، مِمَّا يدل على علو كعب هذا الإمام في علم الحديث، وسعة روايته، وكثرة رحلاته، فليس بغريب أن يأتي بما لم يأتي به غيره. وهذه الأحاديث مِنْها ما هو "حسن" كما في حديث رقم (212)، ومنها ما هو "ضَعيفٌ" كما في حديث رقم (226) ومِنْها ما هو "ضعيفٌ جداً"، كما في حديث رقم (225)، ومنه ما هو "موضوع" كما في حديث رقم (45).

تقييم ذلك المنهج:

إنَّ المُتأمِّل لهذا التصنيف يجد أنَّ الإمام الطبراني قد تَعِبَ في جمع هذا السفر العظيم جدًا؛ وذلك لأنَّ الحكم على الأحاديث بالتَّفرُّد أمرٌ يحتاج إلى سبر للمرويات، وجمع للطرق، والنظر فى اختلافات الرواة، وهذا لا يقوم به إلا الأفذاذ من النُّقاد، أمثال الإمام الطبراني رضي الله عنه، فقد قام بهذا الواجب أتمَّ قيام، لكن وقع عليه بعض الهنات مِمَّا لا يسلم منه بشر، فقد تعقبه مغلطاي فى جزءٍ، وتعقبه غيره، ووجدت بعض ذلك فى هذا الجزء الذى شرفني الله عز وجل بتحقيقه.

قال ابن حجر: من مظان الأحاديث الأفراد "مسند أبي بكر البزار"، فإنه أكثر فيه من إيراد ذلك وبيانه، وتبعه أبو القاسم الطبراني في "المعجم الأوسط"، ثم الدارقطني في "كتاب الأفراد". وهو ينبئ على اطلاع بالغ ويقع عليهم التعقب فيه كثيرا بحسب اتساع الباع وضيقه أو الاستحضار وعدمه، وأعجب من ذلك أن يكون المتابع عند ذلك الحافظ نفسه!، فقد تتبع العلامة مغلطاي على الطبراني ذلك في جزء مفرد. وإنما يَحْسُنُ الجزم بالإيراد عليهم حيث لا يختلف السياق أو حيث يكون المتابع ممن يعتبر به لاحتمال أن يريدوا شيئا من
"মানুষ" এবং "সাথীবর্গ" শব্দ দুটি ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি বর্ণনাকারীদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠের বর্ণনা বা একদল বর্ণনাকারীর বর্ণনাকে উদ্দেশ্য করেন। যেমনটি হাদিস নম্বর (৩৭)-এ বলা হয়েছে: "যায়েদ ছাড়া আর কেউ আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, আর তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি। অথচ শু'বাহ এবং আ'মাশের সাথীবর্গ এটি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন।" আমি বলি: ২০৩, ১৮৮, ১২৪, ৯৬ এবং ৮৯ নম্বর হাদিসগুলোও দেখা যেতে পারে।

১৪) … আবার কখনো কখনো তিনি কোনো হাদিসের উপর সেটি একক বর্ণনা (তাফাররুদ) হওয়ার হুকুম দিয়ে মন্তব্য করেন, অতঃপর সেখানে মতভেদের দিকগুলো উল্লেখ করেন এবং কোনো একটি মতকে প্রাধান্য দেন। যেমন হাদিস নম্বর (৯৬), তিনি হাদিসের শেষে বলেছেন: "জারীর ইবনে হাযিম এভাবেই মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এটি যুহরী থেকে, তিনি ঈসা ইবনে তালহা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে জুরাইজ এটি যুহরী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। সালিহ ইবনে আবিল আখদার এটি যুহরী থেকে, তিনি সায়িব ইবনে ইয়ায়িদ থেকে, তিনি মুত্তালিব ইবনে আবি ওয়াদা'আহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ আর-রুসাফী এটি যুহরী থেকে, তিনি ছালাবাহ ইবনে আবি মালিক আল-কুরাযী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে যুবাইর আল-হাররানী এটি সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর সঠিক হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ যা বর্ণনা করেছেন।" আমি বলি: যদিও তিনি এখানে যেটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, সেটির উপর আপত্তির অবকাশ রয়েছে।

আবার কখনো তিনি মতভেদের দিকগুলো উল্লেখ করেন কিন্তু কোনোটিকে প্রাধান্য দেন না। যেমন হাদিস নম্বর (১১৩), তিনি বলেছেন: "মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আল-ওয়ারকানী এবং মুহাম্মাদ ইবনে খালিদ ইবনে আশমাহ ছাড়া আর কেউ মালিক থেকে, তিনি সুহাইল থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি। অথচ মালিকের সাথীবর্গ এটি মালিক থেকে, তিনি সুমায়্যি থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন। আতীক ইবনে ইয়াকুব আয-যুবাইরী এটি মালিক থেকে, তিনি আবু নাযর থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন। রাওয়াদ ইবনে জাররাহ এটি মালিক থেকে, তিনি রাবী'আ ইবনে আবি আবদির রহমান থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন।"

১৫) এমন কিছু হাদিস আছে যা কেবল তাবারানীই এককভাবে বর্ণনা করেছেন। আমার অনুসন্ধান অনুযায়ী—মুসান্নিফের (গ্রন্থকার) "আল-আওসাত" গ্রন্থ ছাড়া এই হাদিসগুলোর কোনোটির সন্ধান আমি পাইনি। এটি ইলমে হাদিসে এই ইমামের উচ্চমর্যাদা, তাঁর বর্ণনার ব্যাপকতা এবং তাঁর অধিক সফরের প্রমাণ বহন করে। সুতরাং তিনি এমন কিছু বর্ণনা করবেন যা অন্য কেউ করেননি—তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। এই হাদিসগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে "হাসান" যেমন হাদিস নম্বর (২১২), কিছু "যঈফ" যেমন হাদিস নম্বর (২২৬), কিছু "অত্যন্ত যঈফ" যেমন হাদিস নম্বর (২২৫) এবং কিছু রয়েছে "মাওযু" বা জাল যেমন হাদিস নম্বর (৪৫)।

এই পদ্ধতির মূল্যায়ন:

এই বিন্যাস নিয়ে যিনি চিন্তা করবেন তিনি দেখতে পাবেন যে, ইমাম তাবারানী এই সুমহান গ্রন্থটি সংকলন করতে অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন। কারণ হাদিসকে একক বর্ণনা (তাফাররুদ) হিসেবে সাব্যস্ত করার বিষয়টি বর্ণনাসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান, বিভিন্ন সনদ একত্রিত করা এবং বর্ণনাকারীদের মতভেদ পর্যালোচনার মুখাপেক্ষী। আর এটি ইমাম তাবারানী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মতো বিরল প্রতিভাধর সমালোচকগণ ছাড়া আর কেউ সম্পাদন করতে পারে না। তিনি এই দায়িত্ব অত্যন্ত নিপুণভাবে পালন করেছেন। তবে এর মধ্যে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতিও ঘটেছে যা থেকে কোনো মানুষই মুক্ত নয়। মুগলতাই একটি খণ্ডে এই বিষয়ে তাঁর ওপর আপত্তি (তাকউব) করেছেন, অন্যান্যরাও আপত্তি করেছেন। আমি নিজেও এই খণ্ডটি—যা সম্পাদনা করার সৌভাগ্য আল্লাহ তাআলা আমাকে দিয়েছেন—তাতে এমন কিছু পেয়েছি।

ইবনে হাজার বলেছেন: "একক বর্ণনাসমূহ (আফরাদ) পাওয়ার অন্যতম উৎস হলো 'মুসনাদে আবু বকর আল-বাযযার'; কারণ তিনি এতে এ জাতীয় বর্ণনা এবং তার ব্যাখ্যা প্রচুর পরিমাণে নিয়ে এসেছেন। আবুল কাসিম তাবারানী তাঁর 'আল-মু'জাম আল-আওসাত'-এ তাঁকে অনুসরণ করেছেন, অতঃপর দারাকুতনী তাঁর 'কিতাবুল আফরাদ'-এ। এটি গভীর পর্যবেক্ষণ ও জ্ঞানের প্রমাণ দেয়। তবে গবেষণার পরিধি ও স্মৃতির উপস্থিতির কমবেশি হওয়ার কারণে তাঁদের ওপর অনেক সময় আপত্তি (তাকউব) উত্থাপিত হয়। আর এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, কখনো কখনো খোদ সেই হাফিজের (ইমামের) নিকটই সেই হাদিসের অন্য বর্ণনাকারী থাকে! আল্লামা মুগলতাই ইমাম তাবারানীর ওপর এই বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। তবে তাঁদের বর্ণনার ওপর দৃঢ়তার সাথে তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন যখন বর্ণনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন না হয়, অথবা যখন সেই বর্ণনাকারী এমন কেউ হন যাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায়; কারণ সম্ভবত তাঁরা নির্দিষ্ট কিছু..."
(খণ্ড: ১) আল-কিসমুস সালিসু মিনাল মুজামিল আওসাত লিত-তাবারানী (পৃষ্ঠা: ২৯)
ذلك بإطلاقهم، والذي يرد على الطبراني ثم الدارقطني من ذلك أقوى مما يرد على البزَّار؛ لأنَّ البزَّار حيث يحكم بالتفرد، إنَّما ينفي علمه، فيقول: لا نعلمه يُروي عن فلانٍ إلا من حديث فلان، وأمَّا غيره، فيُعبِّرُ بقوله: لم يَروه عن فلانٍ إلا فلانٌ، وهو وإن كان يُلحق بعبارة البزار على تأويل، فالظاهر من الإطلاق خلافه.‌‌(1)

 

‌‌البحث الخامس: جهود العلماء حول هذا الكتاب.

لقد تتابعت جهود العلماء حول خدمة هذا السفر العظيم، والعناية به، ومن ذلك:

1) قام الحافظ علاء الدين مُغلطاي - المُتوفى سنة 762 هـ - بتعقب الإمام الطبراني في تعليقه علي أحاديث الكتاب بالتفرد في جزءٍ مُفْرَدٍ. قال ابن حجر: من مظان الأحاديث الأفراد "المسند" لأبي بكر البَزَّار، فإنَّه أكثر فيه من إيراد ذلك وبيانه، وتبعه الطبراني في "الأوسط"، ثم الدارقطني في "الأفراد"، وهو يُنَبِّئ على اطلاعٍ بالغٍ، ويقع عليهم التعقب فيه كثيرًا بحسب اتساع الباع وضيقه، أو الاستحضار وعدمه، وأعجب من ذلك أن يكون المُتَابِعُ عند ذلك الحافظ نفسه، فقد تَتَبَّع العلامة مغلطاي على الطبراني ذلك في جزء مفرد.‌‌(2)

2) وقام الحافظ محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن زريق المقدسي - المُتوفى سنة 803 هـ - بترتيب كتاب "المعجم الأوسط" على الأبواب، قال الحافظ ابن حجر: كتبه بخطٍ مُتْقنٍ حسنٍ جدًا.‌‌(3)

3) كتاب "مجمع البحرين في زوائد المعجمين" للهيثمي رحمه الله المُتوفى سنة 807 هـ قام فيه بجمع زوائد المعجمين "الأوسط"، "الصغير" على الكتب الستة، وقام بترتيب تلك الأحاديث على الكتب والأبواب الفقهية. فقال الهيثمي في مقدمة كتابه هذا: قد رأيتُ "المعجم الأوسط"، و"المعجم الصغير" لأبي القاسم الطبرانيّ ذي العلم الغزير، قد حويا مِنْ العلم مالم يحصل لطالبه إلا بعد كشفٍ كبير، فأردت أن أجمع مِنْهُما كل شاردة إلى بابٍ مِنْ الفقه يَحسُنُ أن تكون فيه واردة، فجمعتُ ما انفرد به عن أهل الكتب الستة مِنْ حديثٍ بتمامه، وحديثٍ شاركهم فيه بزيادة عنده.‌‌(4)

4) كتاب "مجمع الزوائد ومنبع الفوائد" للهيثمي أيضاً قام فيه بجمع زوائد مُسْنَد أحمد، وأبو يعلى الموصليّ، وأبو بكر البَزَّار، والمعاجم الثلاثة للطبراني، مع حذف أسانيدها، وترتيبها على الأبواب، ثم قام بالحكم على هذه الحديث مِنْ حيث القبول أو الرَّد.

5) قام الدكتور الطحان بطبع الكتاب وإخراجه للنور لأول مرة.

6) ثم قام المحققان الفاضلان: طارق عوض الله، وعبد المحسن بن إبراهيم الحسيني بطبع الكتاب للمرة الثانية ـــــ طبعته دار الحرمين ــــ وقد اعتَنَوا بتحقيق النص فقط والعناية به دون تخريجه أو دراسة إسناده أو الحكم عليه إلي غير ذلك من الأمور المتعلقة بتحقيق النص.

--------------------------------------------

‌‌(1) يُنظر "النكت على ابن الصلاح" لابن حجر 2/ 709، 708.

‌‌(2) يُنظر "النكت على ابن الصلاح" 2/ 708.

‌‌(3) "لحظ الألحاظ بذيل طبقات الحفَّاظ" لابن فهد الهاشمي صـ 129، "الضوء اللامع لأهل القرن التاسع" للسخاوي 7/ 301.

‌‌(4) يُنظر "مجمع البحرين بزوائد المعجمين" للهيثمي 1/ 45.
এটি তাদের নিঃশর্ত ব্যবহারের কারণে। আর এ বিষয়ে ইমাম তাবারানী এবং এরপর ইমাম দারাকুতনীর ওপর যে আপত্তি আসে, তা ইমাম বাজ্জারের ওপর আসা আপত্তির চেয়ে অধিক শক্তিশালী। কেননা বাজ্জার যখন একক বর্ণনার (তাফাররুদ) হুকুম দেন, তখন তিনি কেবল নিজের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করেন; তিনি বলেন: ‘অমুক থেকে অমুকের হাদিস ছাড়া আর কোনো বর্ণনা আমাদের জানা নেই’। পক্ষান্তরে অন্যরা এভাবে ব্যক্ত করেন: ‘অমুক থেকে অমুক ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি’। যদিও ব্যাখ্যা সাপেক্ষে এটিকে বাজ্জারের বক্তব্যের সমার্থক করা যায়, কিন্তু আপাত অর্থে এটি তার বিপরীত।‌‌(১)

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এই গ্রন্থটি নিয়ে আলেমগণের প্রচেষ্টা.

এই মহান গ্রন্থের সেবা ও এর প্রতি যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে আলেমগণের প্রচেষ্টা একের পর এক অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১) হাফেয আলাউদ্দীন মুগলাতাই (মৃত্যু ৭৬২ হিজরী) এই গ্রন্থের হাদিসগুলোর ওপর একক বর্ণনার (তাফাররুদ) ক্ষেত্রে ইমাম তাবারানীর মন্তব্যের ওপর একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে পর্যালোচনা করেছেন। ইবনে হাজার বলেন: একক হাদিসসমূহ (আফরাদ) খুঁজে পাওয়ার অন্যতম উৎস হলো আবু বকর আল-বাজ্জারের ‘আল-মুসনাদ’, কারণ তিনি এতে এ ধরনের বর্ণনা ও তার ব্যাখ্যা প্রচুর পরিমাণে নিয়ে এসেছেন। ইমাম তাবারানী ‘আল-মু’জামুল আওসাত’ গ্রন্থে এবং এরপর ইমাম দারাকুতনী ‘আল-আফরাদ’ গ্রন্থে তার অনুসরণ করেছেন। এটি তাদের গভীর পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেয়। তবে পাণ্ডিত্যের পরিধি বা স্মৃতির উপস্থিতির কম-বেশির কারণে প্রায়শই তাদের ওপর পর্যালোচনা (তাআক্কুব) আপতিত হয়। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, কখনো কখনো সেই হাফেযের কাছেই এর বিপরীত মুতাবি’ বর্ণনা বিদ্যমান থাকে। আল্লামা মুগলাতাই একটি পৃথক খণ্ডে ইমাম তাবারানীর ওপর এ জাতীয় পর্যালোচনা করেছেন।‌‌(২)

২) হাফেয মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন যুরাইক আল-মাকদিসী (মৃত্যু ৮০৩ হিজরী) ‘আল-মু’জামুল আওসাত’ গ্রন্থটিকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস করেছেন। হাফেয ইবনে হাজার বলেন: তিনি এটি অত্যন্ত নিপুণ ও সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখেছেন।‌‌(৩)

৩) ইমাম হাইতামী (রহ.) (মৃত্যু ৮০৭ হিজরী) রচিত ‘মাজমাউল বাহরাইন ফি যাওয়াইদিল মু’জামাইন’ গ্রন্থ। এতে তিনি কুতুবে সিত্তাহর অতিরিক্ত হিসেবে তাবারানীর দুই মু’জাম— ‘আওসাত’ ও ‘সাগীর’-এর হাদিসগুলো সংকলন করেছেন এবং ফিকহী অধ্যায় অনুসারে সেগুলোকে বিন্যস্ত করেছেন। হাইতামী তার এই গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: আমি জ্ঞানসমুদ্রে সমৃদ্ধ আবুল কাসিম তাবারানীর ‘মু’জামুল আওসাত’ ও ‘মু’জামুস সাগীর’ দেখেছি। এই দুটি গ্রন্থ এমন সব ইলম ধারণ করে আছে যা অনেক তালাশ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই আমি এই দুটি গ্রন্থ থেকে প্রতিটি বিক্ষিপ্ত হাদিসকে ফিকহী অধ্যায়ে সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি যেখানে সেগুলো থাকা যুক্তিযুক্ত। আমি কুতুবে সিত্তাহর বাইরে যেসব একক বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, সেই সব পূর্ণাঙ্গ হাদিস এবং যেসব হাদিসে তিনি কিছু অতিরিক্ত অংশ বর্ণনা করেছেন, সেগুলো এখানে একত্র করেছি।‌‌(৪)

৪) হাইতামী রচিত ‘মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ’ গ্রন্থ। এতে তিনি মুসনাদে আহমাদ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী, আবু বকর আল-বাজ্জার এবং তাবারানীর তিনটি মু’জামের অতিরিক্ত হাদিসগুলো সনদ বাদ দিয়ে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসে সংকলন করেছেন। এরপর তিনি এই হাদিসগুলোর গ্রহণযোগ্যতা বা বর্জনের বিষয়ে হুকুম প্রদান করেছেন।

৫) ডক্টর তাহহান প্রথমবারের মতো গ্রন্থটি মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যবস্থা করেন।

৬) এরপর দুই বিজ্ঞ গবেষক তারিক আওয়াদুল্লাহ এবং আব্দুল মুহসিন বিন ইব্রাহিম আল-হুসাইনী দ্বিতীয়বারের মতো গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন— যা দারুল হারামাইন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তারা কেবল মূল পাঠ (মতন) সম্পাদনার দিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন এবং হাদিসের তাখরীজ, সনদ পর্যালোচনা বা হুকুম প্রদানের মতো বিষয়গুলো ছাড়াই পাঠ সংশোধনের কাজ করেছেন।

--------------------------------------------

‌‌(১) দ্রষ্টব্য: ইবনে হাজরের ‘আন-নুকাাত আলা ইবনিস সালাহ’, ২/৭০৮, ৭০৯।

‌‌(২) দ্রষ্টব্য: ‘আন-নুকাাত আলা ইবনিস সালাহ’, ২/৭০৮।

‌‌(৩) ইবনে ফাহাদ আল-হাশেমীর ‘লাহযুল আলহাায বিযাইলি তাবাকাতিল হুফফায’, পৃষ্ঠা ১২৯; সাখাভীর ‘আদ-দাউল লামি লি আহলিল কারনিত তাসি’, ৭/৩০১।

‌‌(৪) দ্রষ্টব্য: হাইতামীর ‘মাজমাউল বাহরাইন বি যাওয়াইদিল মু’জামাইন’, ১/৪৫।