(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: -)
المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة - ت الخشت القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة
المؤلف: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد السخاوي (ت 902 هـ)
المحقق: محمد عثمان الخشت
تنبيه: ثَبتَ بالمقارنة الدقيقة لنص هذه الطبعة؛ أنّ محققها اعتمَد كُليا على نص طبعة الغماري (وقد نشرت بالشاملة) وربما أخطأ قراءة النص، وجُلّ تعليقاته العِلْمية مستفادةٌ من حواشي طبعة الغماري أو منقولة بحروفها من «كشف الخفاء» للعجلوني دون إشارة (وكتاب العجلوني منشور بالشاملة أيضا)
الناشر: دار الكتاب العربي - بيروت
الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 771
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 صفر 1445
আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ ফি বায়ানি কাসিরিন মিনাল আহাদিস আল-মুশতাহারাহ আলাল আলসিনাহ - আল-খাশত এর তাহকিক বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ ফি বায়ানি কাসিরিন মিনাল আহাদিস আল-মুশতাহারাহ আলাল আলসিনাহ
লেখক: শামসুদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আস-সাখাবি (মৃত্যু ৯০২ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ উসমান আল-খাশত
সতর্কতা: এই সংস্করণের পাঠ্যটির সূক্ষ্ম তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, এর সম্পাদক সম্পূর্ণভাবে গুমারি সংস্করণের পাঠ্যের ওপর নির্ভর করেছেন (যা শামিলাতে প্রকাশিত হয়েছে) এবং সম্ভবত তিনি মূল পাঠ্য পাঠে ভুল করেছেন। তার অধিকাংশ তাত্ত্বিক টীকা গুমারি সংস্করণের টীকা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে অথবা কোনো উল্লেখ ছাড়াই আজলুনির «কাশফুল খাফা» থেকে হুবহু নকল করা হয়েছে (আজলুনির গ্রন্থটিও শামিলাতে প্রকাশিত হয়েছে)
প্রকাশক: দারুল কিতাব আল-আরাবি - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৭১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ সফর ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ২১)
مقدمة التحقيق
(1) المؤلفهو محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر بن عثمان بن محمد، الملقب شمس الدين أبو الخير، وأبو عبد الله بن الزين، أو الجلال أبي الفضل، وأبي محمد السخاوي، القاهري، الشافعي، المصنف.
ولد في ربيع الأول سنة إحدى وثلاثين وثمانمائة، بحارة بهاء الدين، علو الدرب المجاور لمدرسة شيخ الإسلام البلقيني محل أبيه وجده، ثم تحول منه حين دخل في الرابعة مع أبويه لملك اشتراه أبوه مجاور لسكن شيخه ابن حجر.
ودخل المكتب؛ فحفظ القرآن، وجوده بالقرآت على جماعة من العلماء، مثل: الزيني رضوان العقبي، والشهاب السكندري، وجعفر السنهوري.
ثم حفظ كثيرًا من كتب الفقه والحديث وعلوم العربية، مثل: عمدة الأحكام، والتنبيه، والمنهاج الأصلي، والنخبة وشرحها، وألفية الزين العراقي، وألفية ابن مالك، ومعظم الشاطبية، وغير ذلك.
وكلما انتهى من حفظ كتاب عرضه على شيوخ عصره، مثل: المحب بن
সম্পাদনার ভূমিকা
(১) লেখকতিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন উসমান বিন মুহাম্মদ; শামসুদ্দিন আবুল খায়ের, আবু আব্দুল্লাহ বিন আয-জাইন, আল-জালাল আবুল ফজল এবং আবি মুহাম্মদ আস-সাখাভি উপাধিতে ভূষিত। তিনি কায়রোবাসী, শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী এবং একজন গ্রন্থকার।
তিনি ৮৩১ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসে 'হারাতে বাহাউদ্দিন'-এ জন্মগ্রহণ করেন, যা শায়খুল ইসলাম আল-বুলকিনীর মাদরাসার নিকটবর্তী 'উলুউ আদ-দারব' নামক স্থানে অবস্থিত এবং যা তাঁর পিতা ও পিতামহের আবাসস্থল ছিল। অতঃপর যখন তাঁর বয়স চার বছর পূর্ণ হয়, তখন তিনি তাঁর পিতামাতার সাথে তাঁর পিতার ক্রয়কৃত একটি সম্পত্তিতে স্থানান্তরিত হন, যা তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজারের বাসস্থানের নিকটবর্তী ছিল।
তিনি মক্তবে প্রবেশ করে কুরআন হিফয করেন এবং একদল আলেমের নিকট কিরাআতের মাধ্যমে তা শুদ্ধভাবে পাঠ করেন, যেমন: যাইনি রিজওয়ান আল-উকবি, আশ-শিহাব আল-ইসকান্দারি এবং জাফর আস-সানহুরি।
এরপর তিনি ফিকহ, হাদিস এবং আরবি ভাষাতত্ত্বের অনেক কিতাব হিফয করেন, যেমন: উমদাতুল আহকাম, আত-তানবিহ, আল-মিনহাজ আল-আসলি, আন-নুখবাহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যাইনুল ইরাকির আলফিয়্যাহ, ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ, আশ-শাতিবিয়্যাহর অধিকাংশ অংশ এবং আরও অনেক কিছু।
যখনই তিনি কোনো কিতাব মুখস্থ শেষ করতেন, তখন তা তাঁর সমসাময়িক শায়খদের নিকট পেশ করতেন, যেমন: আল-মুহিব্ব বিন...
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ২২)
نصر الله البغدادي الحنبلي، والشمس بن عمار المالكي، والنور التلواني، والجمال عبد الله الزيتوني.
وأخذ الفقه عن العلم صالح البلقيني، ودرس عليه الروضة والمنهاج. وقرأ التنبيه على الشمس الونائي، والشمس الشنشي، وابن خضر. ودرس المهذب على الزين البوتيجي، وحضر كثيرًا من دروس التقي الشمني في الأصلين والمعاني والبديع والبيان. وأخذ الفرائض والحساب وعلم الميقات عن الشهاب بن المجدي، والأصول عن الكمال إمام الكاملية. وأخذ الصرف والمنطق عن العز عبد السلام البغدادي. وقرأ من القاموس في اللغة على المحب بن الشحنة، وشرح ألفية العراقي على الزين السنديسي والزين قاسم الحنفي، وغير ذلك .. بل أذن له غير واحد من هؤلاء ومن غيرهم بالإفتاء والتدريس والإملاء.
وقبل ذلك كله سمع مع والده ليلًا الكثير من الحديث على شيخه إمام الأئمة الشهاب بن حجر، فكان أول ما وقف عليه من ذلك في سنة ثمان وثلاثين، وأوقع الله في قلبه محبته، فلازم مجلسه، وعادت عليه بركته في هذا الشأن؛ حتى حمل عنه علمًا جمًا، واختص به كثيرًا بحيث كان من أكثر الآخذين عنه.
وقد قرأ عليه الاصطلاح بتمامه، وسمع عليه جل كتبه كالألفية وشرحها مرارًا، وعلوم الحديث لابن الصلاح إلا اليسير من أوائله، وأكثر تصانيفه في الرجال وغيرها؛ كالتقريب، وثلاثة أرباع أصله، ومعظم تعجيل المنفعة، واللسان بتمامه، وأشياء أخرى يطول إيرادها. وأذن له في الإقراء والإفادة والتصنيف، وصلى به إمامًا التراويح في بعض ليالي رمضان. وتدرب به في طريق القوم ومعرفة العالي والنازل والكشف عن التراجم والمتون وسائر الاصطلاح وغير ذلك.
নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদী আল-হাম্বালী, আশ-শামস বিন আম্মার আল-মালিকী, আন-নূর আত-তালওয়ানী এবং আল-জামাল আব্দুল্লাহ আজ-জায়তূনী।
তিনি আল্লামা সালিহ আল-বুলকিনী থেকে ফিকহ অর্জন করেন এবং তাঁর কাছে আর-রাওদাহ ও আল-মিনহাজ অধ্যয়ন করেন। তিনি আশ-শামস আল-ওয়ানাঈ, আশ-শামস আশ-শানশী এবং ইবনে খিদরের নিকট আত-তানবীহ পাঠ করেন। আয-জাইন আল-বুতীজীর নিকট আল-মুহায্যাব অধ্যয়ন করেন এবং আত-তাকী আশ-শুমুনীর নিকট উসুলাইন (উসুলে ফিকহ ও উসুলে দ্বীন), মাআনী, বাদী ও বয়ানের অনেক দরসে উপস্থিত হন। তিনি আশ-শিহাব ইবনুল মাজদী থেকে ফারায়েজ, গণিত ও সময় নির্ধারণ বিদ্যা গ্রহণ করেন এবং কামিলিয়ার ইমাম আল-কামাল থেকে উসুল শিক্ষা করেন। আল-ইযয আব্দুস সালাম আল-বাগদাদী থেকে সারফ ও মানতিক গ্রহণ করেন। আল-মুহিব্ব ইবনুশ শুহনার কাছে ভাষা বিষয়ে কামূস এবং আয-জাইন আস-সিনদীসী ও আয-জাইন কাসিম আল-হানাফীর নিকট ইরাকীর আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাঠ করেন এবং আরও অনেক কিছু... বরং তাঁদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এবং অন্যরা তাঁকে ফতোয়া প্রদান, শিক্ষাদান ও শ্রুতলিখন (ইমলা) করার অনুমতি দান করেন।
আর এই সবকিছুর আগে তিনি তাঁর পিতার সাথে রাতে তাঁর শায়খ ইমামুল আইম্মাহ শিহাব ইবনে হাজার-এর নিকট প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেন। এর প্রথম সূচনা হয়েছিল আটত্রিশ হিজরী সনে। আল্লাহ তাঁর অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন, ফলে তিনি তাঁর মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত হতে থাকেন এবং এই বিষয়ে তাঁর বরকত লাভ করেন; এমনকি তিনি তাঁর কাছ থেকে বিপুল ইলম অর্জন করেন এবং তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য লাভ করেন, এমনকি তিনি তাঁর কাছ থেকে সর্বাধিক ইলম গ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন।
তিনি তাঁর নিকট পূর্ণাঙ্গভাবে পরিভাষা শাস্ত্র পাঠ করেন এবং তাঁর অধিকাংশ কিতাব শ্রবণ করেন, যেমন আলফিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ বহুবার, ইবনে সালাহ-এর উলূমুল হাদীস—এর শুরুর সামান্য অংশ ব্যতীত, এবং রিজাল শাস্ত্র ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর অধিকাংশ রচনা; যেমন আত-তাকরীব, এর মূল গ্রন্থের তিন-চতুর্থাংশ, তাজীলুল মানফায়াহ-এর অধিকাংশ, পূর্ণ আল-লিসান এবং আরও অনেক কিছু যা উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। তিনি তাঁকে পাঠদান, উপকার সাধন ও গ্রন্থ রচনার অনুমতি প্রদান করেন এবং রমজানের কিছু রাতে তাঁর পেছনে তারাবিহ সালাত আদায় করেন। তিনি তাঁর মাধ্যমে এই জামাতের পদ্ধতি, উচ্চ ও নিম্ন সনদ সম্পর্কে জ্ঞান, রাবীদের জীবনী ও মতনসমূহের রহস্য উন্মোচন এবং অন্যান্য পরিভাষা ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكذا تدرب على كثير من علماء عصره، مثل: الزين رضوان العقبي، والنجم عمر بن فهد الهاشمي، وانتفع بإرشاد كل منهم وأجزائه وإفادته.
وبعد وفاة شيخه سافر إلى دمياط، فسمع بها من بعض المسندين، وكتب عن نفر من المتأدبين، ثم توجه في البحر لقضاء فريضة الحج، وصحب والدته معه؛ فلقي بالطور والينبوع وجدة غير واحد أخذ عنهم، ووصل مكة أوائل شعبان، فأقام بها إلى أن حج، وقرأ بها من الكتب الكبار والأجزاء القصار ما لم يتهيأ لغيره من الغرباء. وقرأ في رجوعه بالمدينة الشريفة تجاه الحجرة النبوية على غير واحد من العلماء.
ثم رجع إلى القاهرة، فأقام بها ملازمًا السماع والقراءة والتخريج والاستفادة من الشيوخ والأقران، غير مشتغل بما يعطله عن مزيد الاستفادة، إلى أن توجه لمنوف العليا، وفيشا الصغرى، والاسكندرية، ودسوق، وقوة، ورشيد، والمعلة، وسمنود، وغيرها. فحصل في هذه الرحلة أشياء جليلة من الكتب والأجزاء والفوائد عن نحو خمسين نفسًا.
ثم ارتحل إلى حلب، وسمع في توجهه إليها بسرياقوس، والخانقاه، وبلبيس، وغزة، والرملة، والقدس، ونابلس، وحمص، وغيرها .. فبلغ عدد من سمع منهم أثناء هذه الرحلة قريبًا من مائة نفس.
ويربو عدد البلدان والأماكن التي سمع فيها على الثمانين. وفي هذه البلاد أملي كثيرًا من مؤلفاته، ورواها عنه العلماء، وأجازهم وأجازوه.
واجتمع له من المرويات بالسماع والقراءة ما يفوق الوصف، وهي تتنوع أنواعًا، فروى الكتب الستة وما التحق بها، والمسانيد، والمعاجم، والأجزاء، وكتب المناقب، والأربعينيات، والمؤلفات في التفسير واللغة والنحو، وغيرها. وليس المراد بما ذكر الحصر؛ إذ لو سرد كل نوع منه لطال ذكره،
একইভাবে তিনি তাঁর যুগের বহু আলেমের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যেমন: যয়ন রিদওয়ান আল-উকবি এবং নাজমুদ্দীন উমর ইবনে ফাহদ আল-হাশেমি; এবং তিনি তাঁদের প্রত্যেকের দিকনির্দেশনা, ইলমি পাণ্ডুলিপি ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা থেকে উপকৃত হয়েছেন।
তাঁর শায়খের ইন্তেকালের পর তিনি দমিয়াতে সফর করেন এবং সেখানে কতিপয় মুসনিদ (হাদিস বর্ণনাকারী) থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং কিছু আদব-বিশারদের থেকে ইলম লিপিবদ্ধ করেন। অতঃপর তিনি হজ্জের ফরজ আদায়ের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে যাত্রা করেন এবং তাঁর মাতাকে সাথে নেন। পথিমধ্যে তূর, ইয়ানবু এবং জিদ্দায় তিনি একাধিক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করেন। তিনি শা’বানের শুরুতে মক্কায় পৌঁছান এবং হজ্জ সম্পন্ন করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি এমন সব বড় বড় কিতাব এবং ছোট ছোট রিসালা পাঠ করেন, যা অন্য কোনো বিদেশির পক্ষে সম্ভব ছিল না। মদিনা মুনাওয়ারায় ফেরার পথে নবীজির হুজরার সম্মুখে দাঁড়িয়ে তিনি একাধিক আলেমের নিকট পাঠ গ্রহণ করেন।
অতঃপর তিনি কায়রোতে ফিরে আসেন এবং সেখানে হাদিস শ্রবণ, পাঠ, তাখরিজ এবং শায়খ ও সমসাময়িকদের থেকে জ্ঞান আহরণে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত থাকেন; জ্ঞান অর্জনে বিঘ্ন ঘটায় এমন কোনো কাজে তিনি লিপ্ত হননি। অবশেষে তিনি উচ্চ মনুফ, ফিশা সুগরা, আলেকজান্দ্রিয়া, দসুখ, কুওয়াহ, রশিদ, মাহাল্লা ও সামানুদসহ অন্যান্য স্থানে গমন করেন। এই সফরে তিনি প্রায় পঞ্চাশজন ব্যক্তির নিকট থেকে বহু মহান কিতাব, পাণ্ডুলিপি এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অর্জন করেন।
অতঃপর তিনি আলেপ্পো অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে যাওয়ার পথে সিরিয়াকুস, আল-খানকাহ, বিলবাইস, গাজা, রামলা, কুদস, নাবলুস ও হিমসসহ অন্যান্য স্থানে হাদিস শ্রবণ করেন। এই সফরে তিনি যাঁদের নিকট হাদিস শুনেছেন, তাঁদের সংখ্যা প্রায় একশ’র কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
তিনি যেসব দেশ ও স্থানে হাদিস শ্রবণ করেছেন, তার সংখ্যা আশিরও বেশি। এসব জনপদে তিনি তাঁর বহু রচনা শ্রুতিলিখন করিয়েছেন, আলেমরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁদেরকে ও তাঁরা তাঁকে বর্ণনার অনুমতি প্রদান করেছেন।
শ্রবণ ও পাঠের মাধ্যমে তাঁর নিকট বর্ণনাসমূহের এমন ভাণ্ডার একত্রিত হয়েছিল যা বর্ণনাতীত। এগুলো ছিল নানাবিধ; তিনি কুতুবে সিত্তাহ ও তৎসংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহ, মাসানিদ, মা’আজিম, আজযা, মানাকিব বিষয়ক গ্রন্থসমূহ, আরবাঈন, এবং তাফসির, ভাষা ও নাহু বিষয়ক গ্রন্থসহ আরও অনেক কিছু বর্ণনা করেছেন। এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধ করা নয়; কারণ যদি প্রতিটি প্রকারের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয় তবে তা অনেক দীর্ঘায়িত হবে।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وعسر الآن حصره، بل لو سرد مسموعه ومقروءه على شيخه فقط لكان شيئًا عجبًا.
ثم حج في سنة (870 هـ) هو وأهله وأولاده وجاور وانتفع به أهل الحرمين، ثم عاد إلى القاهرة، وأملى الحديث على ما كان عليه أكابر مشايخه ومشايخهم، وانتفع الناس به، ثم حج مرات، وجاور مجاورات.
ثم لما عاد للقاهرة، تزايد انجماعه عن الناس، وامتنع من الإملاء المزاحمة من لا يحسن فيها وعدم التمييز من معظم الناس بين العلمين. وذلك مع ملازمة الناس له في منزله للقراءة دراية ورواية في تصانيفه وغيرها، بحيث بحيث ختم عليه ما يفوق الوصف من ذلك، وأخذ عنه من الخلائق من لا يحصى كثرة.
وقد شرع في التصنيف والتخريج قبل الخمسين وهلم جرًا. وصنف زهاء مائتي كتاب، أشهرها "الضوء اللامع في أعيان القرن التاسع" اثنا عشر جزءًا، و "شرح ألفية العراقي" في مصطلح الحديث، و "القول البديع في أحكام الصلاة على الحبيب الشفيع"، و "الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التأريخ"، و "المعين" رسالة في تراجم المذكورين في الأربعين النووية، و "الاهتمام" في ترجمة النووي، و "التبر المسبوك" ذيل لتاريخ المقريزي، و "وجيز الكلام في الذيل على كتاب الذهبي دول الإسلام"، و "الجواهر والدرر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر"، و الجواهر المجموعة" أدب، و "بغية العلماء والرواة" ذيل لكتاب رفع الإصر عن قضاة مصر، و "الغاية في شرح الهداية"، و "عمدة القارئ والسامع" في الحديث. وغير ذلك.
وقد قرض أشياء من تصانيفه وأثنى عليه غير واحد من العلماء منهم: شيخه ابن حجر، والمناوي، والبدر العيني، والبدر بن القطان، والتقى القلقشندي، والشمس القرافي، والجلال المحلى، والعز الكناني، وغيرهم -. ومما وصفوه به: زين الحفاظ، وعمدة الأئمة الأيقاظ، وشمس
বর্তমানে তা গণনা করা অত্যন্ত কঠিন, বরং কেবল তাঁর শাইখের কাছে তাঁর শ্রুত ও পঠিত বিষয়গুলোর তালিকা করা হলেও তা এক বিস্ময়কর ব্যাপার হতো।
অতঃপর তিনি ৮৭০ হিজরি সনে তাঁর পরিবার ও সন্তান-সন্ততিসহ হজ পালন করেন এবং সেখানে অবস্থান করেন; এর মাধ্যমে হারামাইন শরিফাইনের অধিবাসীরা উপকৃত হন। পরবর্তীতে তিনি কায়রোতে ফিরে আসেন এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ শাইখগণ ও তাঁদের শাইখদের অনুসৃত পদ্ধতিতে হাদিস ইমলা (শ্রুতিলিপি প্রদান) করেন এবং মানুষ তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হয়। এরপর তিনি আরও বহুবার হজ পালন করেন এবং দীর্ঘ সময় হারামে অবস্থান করেন।
এরপর যখন তিনি কায়রোতে ফিরে আসলেন, তখন মানুষের সংশ্রব থেকে তাঁর নির্জনতা বৃদ্ধি পেল। যারা হাদিস ইমলা করার যোগ্য নয় তাদের ভিড় এবং অধিকাংশ মানুষের নিকট দুই ইলমের (তাত্ত্বিক ও বর্ণনাগত হাদিসশাস্ত্র) মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা না থাকার কারণে তিনি ইমলা করা থেকে বিরত থাকেন। এর পাশাপাশি তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য কিতাব দিরাইয়াহ (তাত্ত্বিক) ও রিওয়াইয়াহ (বর্ণনাগত) পদ্ধতিতে পড়ার জন্য তাঁর বাসভবনে মানুষের আসা-যাওয়া অব্যাহত ছিল, ফলে সেখানে অবর্ণনীয় পরিমাণ পাঠ সমাপ্ত হয় এবং অগণিত মানুষ তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেন।
তিনি পঞ্চাশ বছর বয়সের পূর্বেই গ্রন্থ রচনা ও হাদিসের তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) শুরু করেন এবং তা অব্যাহত থাকে। তিনি প্রায় দুইশত কিতাব রচনা করেছেন, যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো: বারো খণ্ডে সমাপ্ত 'আদ-দাও আল-লামি ফি আইয়ানিল কর্নিত তাসি', হাদিসশাস্ত্রে 'শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি', 'আল-কাওলুল বাদি ফি আহকামিস সালাতি আলান নাবিয়্যিশ শাফি', 'আল-ইলানু বিত তাওবিখি লিমান জাম্মাত তারিখ', ইমাম নববীর চল্লিশ হাদিসের রাবিদের জীবনী বিষয়ক পুস্তিকা 'আল-মুইন', ইমাম নববীর জীবনী বিষয়ক 'আল-ইহতিমাম', মাকরিজীর ইতিহাসের পরিশিষ্ট 'আত-তিবরুল মাসবুক', ইমাম জাহাবীর 'দুওয়ালুল ইসলাম' গ্রন্থের পরিশিষ্ট 'ওয়াজিজুল কালাম ফিজ জাইলি আলা কিতাবিদ জাহাবি দুওয়ালিল ইসলাম', শাইখুল ইসলাম ইবনে হাজারের জীবনী 'আল-জাওয়াহিরু ওয়াদ দুরার', আদব বিষয়ক 'আল-জাওয়াহিরুল মাজমুআ', 'রাফউল ইসর আন কুদাতি মিসর' গ্রন্থের পরিশিষ্ট 'বুগইয়াতুল উলামা ওয়ার রুওয়াত', 'শারহুল হিদায়া'র ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-গায়া' এবং হাদিস বিষয়ক 'উমদাতুল কারি ওয়াস সামি' ইত্যাদি।
অনেক আলেম তাঁর রচনার প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর গুণগান গেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁর শাইখ ইবনে হাজার, আল-মুনাওয়ি, আল-বদর আল-আইনি, আল-বদর বিন আল-কাত্তান, আত-তকি আল-কালকাশান্দি, আশ-শামস আল-কারাফি, আল-জালাল আল-মহল্লি, আল-ইজ আল-কিনানি প্রমুখ। তাঁরা তাঁকে যেসব উপাধিতে ভূষিত করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো: হাফেজদের সৌন্দর্য, সচেতন ইমামদের আশ্রয়স্থল এবং দ্বীনের সূর্য।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الدنيا والدين، والمحدث البارع الأوحد المفيد الحافظ الأمجد، والحجة المتقن المحقق، وشيخ السنة، وأوحد الدهر، وغير ذلك.
ومما قيل في مدحه نظمًا:
أعني الإمام العالم العلامة
… المسند المحدث الفهامه
الحافظ المفوه السخاوي
… بعلم كل عالم ورواي
وقيل فيه أيضًا:
يا خادمًا أخبار أشرف مرسل
… وسخا فنسبته إليه سخاوي
وحوى السياسة والرئاسة ناهجًا
… منهاج حبر للمكارم حاوي
وكانت وفاته رحمه الله تعالى وأسكنه فسيح جناته في مجاورته الأخير بالمدينة الشريفة في عصر يوم الأحد سادس عشر شعبان سنة 902 هـ
(1).
(2) الأحاديث المشتهرةمما لا شك فيه أن علماء المسلمين قد بذلوا جهودًا شتى في حفظ السنة النبوية المطهرة. وقد تجلت هذه الجهود في تخصص رجال في علم الحديث، الذي به من القواعد والأصول ما يكفل للمرء المعرفة التامة بالحديث سندًا ومتنًا من حديث القبول والرد وتمييز الصحيح من السقيم.
ومن ضمن الجهود التي بذلها هؤلاء العلماء المتخصصون القيام بتصنيف كتب جمعوا فيها الأحاديث المشتهرة على الألسنة، وبينوا صحيحها من
--------------------------------------------
দুনিয়া ও দ্বীনের (আলোকবর্তিকা), অনন্য ও দক্ষ মুহাদ্দিস, অত্যন্ত উপকারী মহিমান্বিত হাফিজ, নিখুঁত ও গবেষক হুজ্জাত, সুন্নাহর শায়খ, যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব এবং আরও অনেক কিছু।
এবং পদ্যে তাঁর প্রশংসায় যা বলা হয়েছে:
আমি বলছি সেই ইমাম, আলেম ও আল্লামার কথা
… যিনি মুসনিদ, মুহাদ্দিস ও অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান
বাকপটু হাফিজ সাখাভী
… যিনি প্রত্যেক আলেম ও বর্ণনাকারীর ইলম সম্পর্কে অবগত
তাঁর সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে:
হে শ্রেষ্ঠ রাসূলের বাণীর সেবক
… আপনি দানশীল, তাই আপনার নিসবত হয়েছে সাখাভী
তিনি রাজনীতি ও নেতৃত্ব লাভ করেছেন এমন এক মানহাজ অনুসরণের মাধ্যমে
… যা মহৎ গুণাবলীর অধিকারী শ্রেষ্ঠ পন্ডিতের মানহাজ
তাঁর মৃত্যু—আল্লাহ তাআলা তাঁকে রহম করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে স্থান দান করুন—হয়েছিল মদীনা শরীফে তাঁর শেষ অবস্থানের সময়, ৯০২ হিজরীর ১৬ই শাবান, রবিবার আসরের ওয়াক্তে
(১)।
(২) বহুল প্রচলিত হাদীসসমূহএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিম উলামায়ে কেরাম পবিত্র সুন্নাহ সংরক্ষণে বহুমুখী প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এই প্রচেষ্টাগুলো ইলমে হাদীসে একদল বিশেষজ্ঞের আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। এই ইলমে এমন কিছু কায়দা ও মূলনীতি রয়েছে যা একজন ব্যক্তিকে হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান দান করে, যার মাধ্যমে হাদীস গ্রহণ বা বর্জনের মানদণ্ড এবং সহীহ ও যয়ীফের পার্থক্য নিরূপণ করা সম্ভব হয়।
এই বিশেষজ্ঞ আলেমদের প্রচেষ্টার অন্যতম ছিল এমন সব গ্রন্থ রচনা করা যাতে তাঁরা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হাদীসগুলোকে একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোর মধ্য থেকে সহীহগুলো স্পষ্ট করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
سقيمها، وبينوا من رواها وخرجها من أصحاب المصنفات إن كان لها أصل.
والشهرة في هذه الأحاديث ليست هي الشهرة الاصطلاحية التي معناها أن يُرْوَى الحديث من ثلاثة طرق أو أكثر، بل المراد بها الشهرة اللغوية، أي انتشار واشتهار هذه الأحاديث على السنة الناس ومعرفتها في مختلف أوساطهم وطبقاتهم.
وقد بدأت تلك الجهود المتعلقة بالأحاديث المشتهرة على الألسنة بداية مبكرة. وكان من أوائل الذين اهتموا بالإشارة إليها الإمام ابن قتيبة (ت 276 هـ) وقد قام الشيخ ابن العطار بجمع أقوال الإمام النووي (ت 676 هـ) في أحاديث شائعة، وذلك في كتاب "المسائل المنثورة" الذي يحوي فتاوي الإمام النووي، وكان لهذه الأقوال تأثير واضح على كل من صنف في هذا المجال.
وللإمام ابن تيمية رحمه الله (ت 728 هـ) رسالة وجيزة في هذا الفن، هي "أحاديث القصاص"، التي أجاب فيها الإمام على أحاديث يرويها القصاص عن النبي صلى الله عليه وسلم وبعضها عن الله تعالى.
وجاء بعد الإمام ابن تيمية الإمام الزركشي (ت 794)؛ فصنف كتابه المعروف باسم "التذكرة في الأحاديث المشتهرة".
ثم جاء الإمام ابن حجر العسقلاني (ت 852)؛ فألف في هذا الفن تأليفًا قيمًا، هو "اللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة".
ثم جاء الإمام السخاوي تلميذ الإمام ابن حجر؛ فصنف أشمل كتاب في الأحاديث المشتهرة على الألسنة، وهو الكتاب الذي بين أيدينا الآن: "المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة".
وفي نفس هذه الحقبة الزمنية ألف الإمام السيوطي (ت 911) كتاب
এর দুর্বলতা, এবং যদি তার কোনো ভিত্তি থাকে তবে সংকলনকারীদের মধ্য থেকে কে তা বর্ণনা করেছেন এবং বের করেছেন তা তারা স্পষ্ট করেছেন।
এই হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি বলতে সেই পারিভাষিক প্রসিদ্ধি বোঝানো হয়নি যার অর্থ হলো হাদিসটি তিন বা ততোধিক সূত্র থেকে বর্ণিত হওয়া; বরং এর দ্বারা শাব্দিক প্রসিদ্ধি উদ্দেশ্য, অর্থাৎ মানুষের মুখে মুখে এই হাদিসগুলোর বিস্তার ও প্রসিদ্ধি লাভ করা এবং তাদের বিভিন্ন শ্রেণী ও স্তরের মাঝে তা পরিচিত হওয়া।
মানুষের মুখে প্রচলিত প্রসিদ্ধ হাদিস সংক্রান্ত এই প্রচেষ্টাগুলো খুব দ্রুতই শুরু হয়েছিল। যারা এগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে ছিলেন ইমাম ইবনে কুতায়বাহ (মৃত্যু: ২৭৬ হিজরি)। শায়খ ইবনুল আত্তার ইমাম নববীর (মৃত্যু: ৬৭৬ হিজরি) প্রচলিত হাদিস বিষয়ক বক্তব্যগুলো সংগ্রহ করেছেন "আল-মাসাইলুল মানসূরা" কিতাবে, যা ইমাম নববীর ফাতওয়াগুলো ধারণ করে আছে। এই বক্তব্যগুলোর প্রভাব এই ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনাকারী প্রত্যেকের ওপর স্পষ্ট ছিল।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহির (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) এই বিদ্যায় একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা রয়েছে, যা হলো "আহাদিসুল কুসসাস"। এতে ইমাম সেই হাদিসগুলোর জবাব দিয়েছেন যা গল্পকাররা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এবং কিছু মহান আল্লাহ থেকে বর্ণনা করে থাকে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পর আসলেন ইমাম যারকাশী (মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরি); তিনি তার বিখ্যাত কিতাব "আত-তাযকিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহারাহ" রচনা করেন।
এরপর আসলেন ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি); তিনি এই বিদ্যায় একটি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন, যা হলো "আল-লাআলিল মানসূরা ফিল আহাদিসিল মাশহুরা"।
এরপর আসলেন ইমাম সাখাভী, যিনি ইমাম ইবনে হাজারের ছাত্র; তিনি মানুষের মুখে প্রচলিত প্রসিদ্ধ হাদিসগুলোর ওপর সবচেয়ে ব্যাপক গ্রন্থটি রচনা করেন, আর সেটিই হলো সেই কিতাব যা এখন আমাদের সামনে রয়েছে: "আল-মাকাসিদুল হাসানা ফি বয়ানি কাসিরিম মিনাল আহাদিসিল মুশতাহারাহ আলাল আলসিনাহ"।
এই একই সময়কালে ইমাম সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) একটি কিতাব রচনা করেন
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
"الدرر المنتثرة في الأحاديث المشتهرة"، لخص فيه كتاب "التذكرة" للزركشي وزاد عليه.
ولما جاء الشيخ عبد الوهاب الشعراني (ت 973) صنف كتابًا سماه "البدر المنير في غريب أحاديث البشير النذير".
ثم جاء غرس الدين (ت 1057)؛ فسلك مسلكًا جديدًا في هذا الشأن؛ حيث نظم قصيدة مطولة سمّاها: "كشف الالتباس عن الأحاديث التي تدور بين الناس"، جمع فيها كما يقول - من الأحاديث النبوية ألوفًا، ومن الفوائد الأثرية صنوفًا، أبياتها نحو من عشرة آلاف بيت ثم كتب كتابًا يسهل الوصول إلى هذه المنظومة الصعبة، هو "تسهيل السبيل إلى كشف الالتباس عما دار من الأحاديث بين الناس".
ثم جاء نجم الدين بن محمد الغزي (ت 1061)؛ فصنف "إتقان ما يحسن من بيان الأخبار الدائرة على الألسن" ضمّنه كتاب "التذكرة" و "الدرر المنتثرة" و "المقاصد الحسنة"، وزاد عليها فوائد حسنة.
ثم جاء العجلوني (ت 1162)؛ فصنف "كشف الخفاء ومزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس" حاول فيه أن يجمع كل أحاديث كتب الأئمة الذين سبقوه في هذا الفن.
ثم جاء محمد بن درويش الشهير بالحوت البيروتي (ت 1276)؛ فصنف كتاب "أسنى المطالب في أحاديث مختلفة المراتب"، جرد فيه مؤلفه أحاديث ابن الديبع التي اختصرها من كتاب "المقاصد الحسنة"، وزاد عليها زيادات، ثم قام ولده عبد الرحمن بعد وفاة والده فضم الزيادات إلى الأصل ورتبها كلها على حروف الهجاء تسهيلًا للفائدة.
"আদ-দুরারুল মুনতাসিরা ফিল আহাদিসিল মুশতাহিরা", এতে তিনি যারকাশি-র "আত-তাযকিরা" কিতাবটিকে সংক্ষেপ করেছেন এবং তাতে আরও কিছু সংযোজন করেছেন।
অতঃপর যখন শাইখ আব্দুল ওয়াহহাব আশ-শারানি (মৃ. ৯৭৩ হি.) আসলেন, তিনি "আল-বাদরুল মুনীর ফি গারিবি আহাদিসিল বাশিরিন নাযির" নামক একটি কিতাব রচনা করেন।
এরপর গারসুদ্দিন (মৃ. ১০৫৭ হি.) আসলেন; তিনি এই বিষয়ে এক নতুন পথ অনুসরণ করলেন; যেখানে তিনি "কাশফুল ইলতিবাস আনিল আহাদিসিল্লাতি তাদুরু বাইনান নাস" নামক একটি দীর্ঘ কাসিদা (কবিতা) রচনা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এতে তিনি হাজার হাজার নববী হাদিস এবং বিভিন্ন প্রকার আছার সংক্রান্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনা একত্রিত করেছেন। এর শ্লোক সংখ্যা প্রায় দশ হাজার। অতঃপর তিনি এই কঠিন পদ্যগ্রন্থটি অনুধাবন সহজ করার জন্য "তাসহিলুস সাবিল ইলা কাশফিল ইলতিবাস আম্মা দারা মিনাল আহাদিসি বাইনান নাস" নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন।
তারপর আসলেন নাজমুদ্দিন বিন মুহাম্মদ আল-গাজ্জি (মৃ. ১০৬১ হি.); তিনি "ইতকানু মা ইয়াহসুনু মিন বায়ানিল আখবারিল দাইরাতি আলাল আলসুন" রচনা করেন। এতে তিনি "আত-তাযকিরা", "আদ-দুরারুল মুনতাসিরা" এবং "আল-মাকাসিদুল হাসানা" কিতাবগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাতে আরও কিছু চমৎকার জ্ঞানগর্ভ তথ্য বৃদ্ধি করেছেন।
এরপর আল-আজলুনি (মৃ. ১১৬২ হি.) আসলেন; তিনি "কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস আম্মাশতাহারা মিনাল আহাদিসি আলা আলসিনাতিন নাস" রচনা করেন। এতে তিনি এই শাস্ত্রের পূর্ববর্তী ইমামগণের কিতাবসমূহের সকল হাদিস একত্রিত করার চেষ্টা করেছেন।
অতঃপর আল-হুত আল-বাইরুতি নামে পরিচিত মুহাম্মদ বিন দারউইশ (মৃ. ১২৭৬ হি.) আসলেন; তিনি "আসনা আল-মাতালিব ফি আহাদিসিন মুখতালিফাতির মারাতিব" নামক কিতাবটি রচনা করেন। এতে লেখক ইবনুদ দাইবা-র সংকলিত হাদিসগুলোকে পৃথকভাবে বিন্যস্ত করেছেন, যা তিনি (ইবনুদ দাইবা) "আল-মাকাসিদুল হাসানা" কিতাব থেকে সংক্ষেপ করেছিলেন। তিনি তাতে আরও কিছু সংযোজন করেছিলেন। অতঃপর তার পিতার মৃত্যুর পর পুত্র আব্দুর রহমান সেই অতিরিক্ত অংশগুলো মূলের সাথে সংযুক্ত করেন এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক উপকারের সুবিধার্থে সেগুলো বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(3) كتاب "المقاصد الحسنة"كتاب المقاصد هو بلا أدنى شك من أعظم ما صنف في الأحاديث المشتهرة على الألسنة، وكان ولا يزال عمدة العلماء في كشف اللثام عن كثير من الأحاديث في هذا المجال.
وقد رتب الإمام السخاوي أحاديث الكتاب على نسق حروف المعجم؛ فسهل على المراجع فيه الكشف بسرعة عن الحديث الذي يريده، كما رتب مادة الكتاب على الأبواب في آخره.
وهذا الكتاب يرمي - كما يقول مؤلفه - إلى بيان "بالعزو والحكم المعتبر، ما على الألسنة اشتهر، مما يظن إجمالًا أنه من الخبر، ولا يهتدي لمعرفته إلا جهابذة الأثر، وقد لا يكون فيه شيء مرفوع، وإنما هو في الموقوف أو المقطوع، وربما لم أقف له على أصل أصلًا، فلا أبت بفصل فيه قولًا، غير ملتزم في ذلك الاستيفاء، ولا مقدم على تنقيص لمتقدم أو جفاء، وإن لم يسلم كلامه من خلل، ولا تكلم بما يتضح به زوال العلل، تأدبًا مع الأئمة كالزركشي وابن تيمية .... ".
وقرر أنه لا يريد بكلمة "الحديث" معناها الاصطلاحي، بل يريد المعنى اللغوي.
وبالجملة، فهذا الكتاب كتاب حسنٌ اشتمل على جمل من النفائس والمهمات، والفوائد والتتمات، فيه من الصناعة الحديثة ما ليس في غيره، والنكات العلمية ما خلا منه غيره، مع التحرير والإتقان، والدقة والاستقصاء.
(4) أثره ودوره البارزمما لا شك فيه أن الأدوات التي نستخدمها في تقييم أي كتاب من الكتب، هي في الواقع كثيرة ومتشعبة، وتختلف من ناقد لآخر تبعًا لاختلاف
(৩) "আল-মাকাসিদ আল-হাসানা" কিতাবনিঃসন্দেহে মাকাসিদ কিতাবটি মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হাদিসসমূহ সম্পর্কে সংকলিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। এটি এই ক্ষেত্রে বহু হাদিসের স্বরূপ উন্মোচনে আলেমদের নিকট প্রধান অবলম্বন ছিল এবং এখনও রয়েছে।
ইমাম সাখাভী এই কিতাবের হাদিসগুলোকে বর্ণানুক্রমিক (অভিধানের ক্রমানুসারে) বিন্যস্ত করেছেন; ফলে অনুসন্ধানকারীর জন্য কাঙ্ক্ষিত হাদিসটি দ্রুত খুঁজে বের করা সহজ হয়েছে। এছাড়াও তিনি কিতাবের শেষে বিষয়বস্তু অনুযায়ী অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসও করেছেন।
এই কিতাবের উদ্দেশ্য হলো—যেমনটি এর লেখক বলেছেন—"সূত্র উল্লেখ এবং গ্রহণযোগ্য হুকুমের মাধ্যমে মানুষের মুখে প্রচলিত সেই সব বর্ণনাগুলোর বিবরণ দেওয়া, যেগুলোকে সাধারণত হাদিস বলে ধারণা করা হয়, অথচ সেগুলোর স্বরূপ ইলমে আসারের (হাদিস শাস্ত্রের) বিশেষজ্ঞগণ ব্যতীত অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না। হতে পারে এর মধ্যে কোনোটি মারফু নয়, বরং মাওকুফ কিংবা মাকতু। আবার কখনও আমি সেটির কোনো মূল ভিত্তিই খুঁজে পাইনি, সেক্ষেত্রে আমি চূড়ান্ত কোনো ফয়সালা দিইনি। আমি এতে পূর্ণাঙ্গতার দাবি করছি না, কিংবা কোনো পূর্বসূরীর মানহানি বা তাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করছি না, যদিও তাদের বক্তব্য ত্রুটিমুক্ত নয় এবং তারা ত্রুটি নিরসনে স্পষ্ট বক্তব্য দেননি; এটি কেবল ইমাম যারকাশী এবং ইবনে তাইমিয়ার মতো ইমামদের প্রতি শিষ্টাচার বশত...।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এখানে "হাদিস" শব্দ দ্বারা এর পারিভাষিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়, বরং শাব্দিক অর্থ উদ্দেশ্য।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এটি একটি চমৎকার কিতাব যা বহু মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, উপকারিতা এবং পরিশিষ্ট সমৃদ্ধ। এতে হাদিস শাস্ত্রের এমন কারিগরি কৌশল এবং সূক্ষ্ম ইলমি বিষয়াবলি রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এটি অত্যন্ত পরিমার্জিত, সুনিপুণ, নির্ভুল এবং বিস্তারিতভাবে রচিত।
(৪) এর প্রভাব ও অনন্য ভূমিকাএতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো কিতাব মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আমরা যে মানদণ্ডগুলো ব্যবহার করি, তা মূলত বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময় এবং তা বিভিন্ন সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الزاوية التي ينظر منها كل واحد منهم، ولكن هناك أداة كثيرًا ما إتفق عليها النقاد، وارتضوها أداة صالحة للحكم على أي كتاب، وتحديد قيمته ومكانته بين الكتب الأخرى. وهذه الأداة هي مدى تأثير هذا الكتاب أو ذاك في الكتب والمؤلفات اللاحقة له.
وإذا أردنا أن ننظر إلى كتاب "المقاصد الحسنة" من هذا البعد، فإنه ولا شك سيكون في صالحه تمامًا.
فقد أعجب المختصون بعلم الحديث والعلوم الإسلامية بصفة عامة بهذا الكتاب، وأخذوا يدرسونه ويتدارسونه، ولم يقف الحد على الدراسة والتدريس، بل استفاد منه المصنفون في مصنفاتهم، وشرع غير واحد في تلخيصه واختصاره.
ومن الذين لخصوه واستفادوا منه: تلميذه ابن الديبع (ت 944)؛ حيث لخصه وزاد عليه في كتابه "تمييز الطيب من الخبيث فيما يدور على ألسنة الناس من الحديث".
كما لخصه الهادي ابن الوزير في كتاب "تحرير المقاصد الحسنة في تخريج الأحاديث الدائرة على الألسنة".
واختصره أيضًا الشيخ الزرقاني (ت 1122) في كتاب سماه "مختصر المقاصد الحسنة".
ومن أوسع الكتب التي ألفت في هذا الفن وتأثرت بكتاب المقاصد كتاب "كشف الخفاء ومزيل الألباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس" من تصنيف إسماعيل العجلوني (ت 1162)؛ حيث إنه قد اختصره وضم إليه مما في كتب الأئمة المعتبرين.
যে দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের প্রত্যেকেই দেখেন, তবে এমন একটি মাপকাঠি রয়েছে যা নিয়ে সমালোচকরা প্রায়শই একমত হয়েছেন এবং যেকোনো বইয়ের বিচার করার জন্য এবং অন্যান্য বইয়ের মধ্যে এর মূল্য ও মর্যাদা নির্ধারণ করার জন্য এটিকে একটি উপযুক্ত মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আর এই মাপকাঠিটি হলো পরবর্তী বই ও রচনাবলির ওপর সেই বইটির প্রভাবের ব্যাপ্তি।
আর আমরা যদি এই দৃষ্টিকোণ থেকে "আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ" বইটির দিকে তাকাতে চাই, তবে নিঃসন্দেহে এটি পুরোপুরি এর পক্ষেই যাবে।
হাদিস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ এবং সাধারণভাবে ইসলামি উলুমের পণ্ডিতগণ এই বইটির প্রতি মুগ্ধ হয়েছেন, এবং তারা এটি অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা শুরু করেছেন। এর পরিধি কেবল অধ্যয়ন ও অধ্যাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং গ্রন্থকারগণ তাদের রচনাবলিতে এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং একাধিক ব্যক্তি এর সারসংক্ষেপ ও সংক্ষিপ্তকরণ শুরু করেছেন।
যারা এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: তাঁর ছাত্র ইবনে আদ-দাইবা (মৃত্যু ৯৪৪ হিজরি); তিনি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং তাঁর "তাময়ীযুত তাইয়িব মিনাল খাবিস ফিমা ইয়াদুরু আলা আলসিনাতিন নাস মিনাল হাদিস" নামক গ্রন্থে এতে আরও কিছু সংযোজন করেছেন।
তেমনিভাবে আল-হাদি ইবনুল ওয়াযীর এটি "তাহরীরুল মাকাসিদ আল-হাসানাহ ফি তাখরীজিল আহাদিস আদ-দাইরাহ আলাল আলসিনাহ" নামক গ্রন্থে সংক্ষিপ্ত করেছেন।
শায়খ আয-যারকানিও (মৃত্যু ১১২২ হিজরি) এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন "মুখতাসারুল মাকাসিদ আল-হাসানাহ"।
এই বিষয়ে রচিত এবং মাকাসিদ গ্রন্থ দ্বারা প্রভাবিত সবচেয়ে বিস্তৃত বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইসমাইল আল-আজলুনি (মৃত্যু ১১৬২ হিজরি) রচিত "কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস আম্মাশতাহারা মিনাল আহাদিস আলা আলসিনাতিন নাস" বইটি; যেখানে তিনি এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং এতে নির্ভরযোগ্য ইমামগণের কিতাবসমূহ থেকে আরও তথ্য সংযোজন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(5) مخطوطاتهيوجد لهذا الكتاب عدد ضخم من المخطوطات مبعثرة في جميع أنحاء العالم، اذكر منها هنا ما وجدته بدار الكتب المصرية:
1 - مخطوطة برقم 1134 حديث، وهي مؤلفة من 345 ورقة، وتاريخها 1122 هـ.
2 - مخطوطة برقم 1218، وهي عبارة عن 280 ورقة.
3 - مخطوطة برقم 1505 حديث، وهي عبارة عن 354 ورقة.
4 - مخطوطة برقم 1545 حديث، وهي عبارة عن 339 ورقة، وتاريخها 1092 هـ.
5 - مخطوطة برقم 1546 حديث، وهي عبارة عن 309 ورقة، وتاريخها 965 هـ.
6 - مخطوطة برقم 270 حديث تيمور، وهي عبارة عن 579 صفحة.
7 - مخطوطة برقم 140 حديث م، وهي عبارة عن 247 ورقة وتاريخها 1139 هـ.
وقد انتخبت من بين هذه المخطوطات ثلاثًا، وصفها التفصيلي كما يلي:
1 - المخطوطة رقم 1546 حديث، وهي مكتوبة سنة 965 هـ، وتقع في 309 ورقة، ومسطرتها 25 سطرًا، وفي كل سطر 11 كلمة تقريبًا.
وفي صفحة العنوان "كتاب المقاصد الحسنة في الأحاديث المشتهرة على الألسنة للشيخ العالم العلامة السخاوي".
وفي الصفحة الأخيرة جاء؛ "آخر الكتاب وإلى الله المآب والحمد لله أولًا وآخرًا ظاهرًا وباطنًا سرًا وعلانية، وصلواته وسلامه على أشرف خلقه سيدنا
(৫) এর পাণ্ডুলিপিসমূহএই কিতাবটির বিশাল সংখ্যক পাণ্ডুলিপি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, আমি এখানে মিশরের দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে যা পেয়েছি তা উল্লেখ করছি:
১ - ১১৩৪ নম্বর হাদিস পাণ্ডুলিপি, এটি ৩৪৫টি পাতা সম্বলিত এবং এর তারিখ ১১২২ হিজরি।
২ - ১২১৮ নম্বর পাণ্ডুলিপি, এটি ২৮০টি পাতা বিশিষ্ট।
৩ - ১৫০৫ নম্বর হাদিস পাণ্ডুলিপি, এটি ৩৫৪টি পাতা বিশিষ্ট।
৪ - ১৫৪৫ নম্বর হাদিস পাণ্ডুলিপি, এটি ৩৩৯টি পাতা সম্বলিত এবং এর তারিখ ১০৯২ হিজরি।
৫ - ১৫৪৬ নম্বর হাদিস পাণ্ডুলিপি, এটি ৩০৯টি পাতা সম্বলিত এবং এর তারিখ ৯৬৫ হিজরি।
৬ - ২৭০ নম্বর তাইমুর হাদিস পাণ্ডুলিপি, এটি ৫৭৯ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট।
৭ - ১৪০ নম্বর ‘ম’ হাদিস পাণ্ডুলিপি, এটি ২৪৭টি পাতা সম্বলিত এবং এর তারিখ ১১৩৯ হিজরি।
আমি এই পাণ্ডুলিপিসমূহের মধ্য থেকে তিনটি নির্বাচন করেছি, যেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
১ - ১৫৪৬ নম্বর হাদিস পাণ্ডুলিপি, এটি ৯৬৫ হিজরিতে লিখিত এবং ৩০৯টি পাতা জুড়ে বিস্তৃত। এর প্রতি পৃষ্ঠায় ২৫টি করে লাইন রয়েছে এবং প্রতিটি লাইনে আনুমানিক ১১টি করে শব্দ আছে।
এর শিরোনামের পৃষ্ঠায় রয়েছে: "জনসমাজে প্রচলিত হাদিসসমূহের বর্ণনায় শাইখ আলেম আল্লামা সাখাভি রচিত কিতাবুল মাকাসিদিল হাসানা"।
এবং শেষ পৃষ্ঠায় এসেছে: "কিতাব সমাপ্ত এবং আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে, সংগোপনে ও প্রকাশ্যে। এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা আমাদের সাইয়্যিদ (নেতা)-এর প্রতি তাঁর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক..."
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
محمد وآله وصحبه، وعلقه الفقير إلى الله تعالى أحمد بن أحمد الأعمش العبادي الشافعي في مجالس آخرها يوم الجمعة خامس عشر رمضان المعظم قدره سنة خمس وستين وتسعمائة، أحسن الله ختامنا".
وهذه المخطوطة هي المرموز إليها بحرف (م).
2 - المخطوطة رقم 1545 حديث، وهي مكتوبة سنة 1902 هـ، وتقع في 339 ورقة، ومسطرتها 21 سطرًا في كل صفحة تقريبًا، وفي كل سطر حوالي 9 كلمات.
وفي آخرها: "نجز على يد أفقر العباد إلى الله تعالى عزام بن أبي الخير بن عزام الطحلاوي غفر الله له ولوالديه ومشايخه وإخوانه ولمن دعا له بالمغفرة ولجميع المسلمين آمين. ووافق الفراغ لليلة مضت من شهر جمادي الأول سنة اثنين وتسعين وألف من الهجرة النبوية على صاحبها أفضل الصلاة وأزكى السلام، والحمد لله رب العالمين، آمين".
وهذه المخطوطة هي المرموز إليها بحرف (ب).
3 - المخطوطة رقم 270 حديث تيمور، وتقع في 579 صفحة، ومسطرتها 21 سطرًا تقريبًا، وفي كل سطر حوالي 11 كلمة.
وفي آخرها: "آخر الكتاب وإلى الله المرجع والمآب، والحمد لله أولًا وآخرًا وظاهرًا وباطنًا وسرًا وعلنًا وصلى الله على سيدنا محمد النبي الأمي وعلى آله وصحبه وسلم عدد ما كان وعدد ما يكون وعدد ما هو كائن في علم الله". وهذه المخطوطة هي المرموز إليها بحرف (ج).
وقد طبع هذا الكتاب في الهند سنة 1304 هـ، وهي طبعة كثيرة التحريف والتصحيف، ويوجد بها نقص في مواضع كثيرة.
وطبع أيضًا في القاهرة سنة 1375 هـ، وهذه الطبعة صححها الشيخ عبد
মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীদের ওপর [সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক], এবং এটি লিপিবদ্ধ করেছেন আল্লাহ তাআলার নিকট মুখাপেক্ষী আহমদ বিন আহমদ আল-আমাশ আল-আব্বাদি আশ-শাফিয়ি এমন মজলিসে যার সর্বশেষটি ছিল নয়শত পঁয়ষট্টি হিজরি সালের মহিমান্বিত রমজান মাসের পনেরো তারিখ জুমুআর দিন। আল্লাহ আমাদের সমাপ্তি সুন্দর করুন।
আর এই পাণ্ডুলিপিটিই হচ্ছে সেটি যাকে (মীম) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
২ - পাণ্ডুলিপি নম্বর ১৫৪৫ হাদিস, এটি ১৯০২ হিজরি সালে লিখিত, যা ৩৩৯টি পত্রে বিস্তৃত, এবং এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় প্রায় ২১টি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় ৯টি শব্দ রয়েছে।
এর শেষে রয়েছে: "আল্লাহ তাআলার নিকট বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক মুখাপেক্ষী আজ্জাম বিন আবিল খায়ের বিন আজ্জাম আত-তাহলাওয়ির হাতে এটি সম্পন্ন হয়েছে। আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতা, তার শিক্ষকবৃন্দ, তার ভ্রাতৃবৃন্দ এবং যারা তার জন্য ক্ষমার দোয়া করেছে তাদের সকলকে এবং সমস্ত মুসলিমকে ক্ষমা করুন, আমিন। এটি সমাপ্ত করার বিষয়টি হিজরি এক হাজার বিরানব্বই সালের জমাদিউল আউয়াল মাসের এক রাত অতিক্রান্ত হওয়ার সময়ের সাথে মিলেছে। হিজরতের অধিকারীর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পবিত্রতম সালাম বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আমিন।"
আর এই পাণ্ডুলিপিটিই হচ্ছে সেটি যাকে (বা) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
৩ - পাণ্ডুলিপি নম্বর ২৭০ হাদিসে তায়মুর, যা ৫৭৯ পৃষ্ঠায় বিস্তৃত, এবং এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় প্রায় ২১টি লাইন এবং প্রতি লাইনে প্রায় ১১টি শব্দ রয়েছে।
এর শেষে রয়েছে: "কিতাবের সমাপ্তি এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তন ও ফিরে যাওয়া। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্য ও গোপনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। আল্লাহ আমাদের নেতা উম্মি নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন—অতীতের সবকিছুর সংখ্যায়, ভবিষ্যতের সবকিছুর সংখ্যায় এবং আল্লাহর ইলমে যা কিছু বিদ্যমান আছে তার সংখ্যায়।" আর এই পাণ্ডুলিপিটিই হচ্ছে সেটি যাকে (জীম) অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই বইটি ১৩০৪ হিজরি সালে ভারতে মুদ্রিত হয়েছিল, যা ভুল ও বিকৃতিতে পূর্ণ একটি সংস্করণ এবং এতে অনেক স্থানে অসম্পূর্ণতা রয়েছে।
এটি ১৩৭৫ হিজরি সালে কায়রোতেও মুদ্রিত হয়েছে, এবং এই সংস্করণটি শায়খ আবদু...
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الله الصديق، وهي أفضل من طبعة الهند، ولكن ينقصها الكثير.
والكتاب لم يطبع غير هاتين الطبعتين، ولم يقم أحدٌ قبلي بتحقيقه.
(6) منهج التحقيقاتبعت في تحقيق هذا الكتاب القيم المنهج الآتي:
1 - تخليص النص من شوائب التصحيف والتحريف والأخطاء اللغوية وما إليها.
2 - كتابة النص وفقًا لقواعد الإملاء المعاصرة، وتنسيقه، وتنظيمه، وترقيمه بواسطة علامات الترقيم العصرية. وفي ظني أن هذا التنسيق والتنظيم والترقيم يسهل على القراء كثيرًا فهم تراكيب في الكتاب قد لا يتيسر فهمها لكثير من القراء بدونها.
3 - ضبط الأحاديث بالشكل الكامل تقريبًا.
4 - توثيق الكتاب توثيقًا علميًّا عن طريق إجراء المقارنات المختلفة بينه وبين كتب السنن والمسانيد والصحاح، والكتب المؤلفة في الأحاديث المشتهرة والموضوعية والضعيفة.
5 - عزو الأحاديث المذكورة في الكتاب إلى مواضعها في كتب الحديث المختلفة، وقد ذكرت الطبعات التي اعتمدت عليها في هذه الخطوة في قائمة المراجع آخر الكتاب.
6 - شرح الألفاظ الغامضة بالاعتماد على كتب اللغة والمعاجم.
7 - التعليق على بعض المواضع التي اقتضت التعليق بالاعتماد على كتب العلماء المعتبرين.
আল্লাহ আস-সিদ্দিক, এটি ভারতীয় সংস্করণের চেয়ে উত্তম, কিন্তু এতে অনেক কিছুর অভাব রয়েছে।
এই দুটি সংস্করণ ছাড়া বইটি আর মুদ্রিত হয়নি এবং আমার আগে কেউ এর তাহকিক (সম্পাদনা) করেননি।
(৬) তাহকিকের পদ্ধতিএই মূল্যবান বইটির তাহকিকের (সম্পাদনার) ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১ - পাঠ্যকে লিপিপ্রমাদ, বিকৃতি, ভাষাগত ভুল এবং এই জাতীয় ত্রুটি থেকে মুক্ত করা।
২ - সমকালীন বানানরীতি অনুযায়ী পাঠ্যটি লেখা, এবং আধুনিক বিরাম চিহ্নের মাধ্যমে এটিকে বিন্যস্ত, সুসংগঠিত ও চিহ্নিত করা। আমার ধারণা মতে, এই বিন্যাস, সংগঠন ও বিরাম চিহ্নের ব্যবহার পাঠকদের জন্য বইটির বাক্যগঠনগুলো বোঝা অনেক সহজ করে দেবে, যা এগুলো ছাড়া অনেক পাঠকের পক্ষে বোঝা সহজ হতো না।
৩ - হাদিসগুলোকে প্রায় পূর্ণাঙ্গভাবে হরকত (স্বরচিহ্ন) প্রদান করা।
৪ - সুনান, মাসানিদ, সিহাহ এবং প্রসিদ্ধ, জাল ও দুর্বল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থগুলোর সাথে বিভিন্ন তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে বইটির বৈজ্ঞানিক প্রামাণিকতা নিশ্চিত করা।
৫ - বইটিতে উল্লিখিত হাদিসগুলোকে হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে তাদের মূল সূত্রের দিকে নির্দেশ করা। এই পদক্ষেপে আমি যে সংস্করণগুলোর ওপর নির্ভর করেছি, বইয়ের শেষে তথ্যসূত্র তালিকায় সেগুলো উল্লেখ করেছি।
৬ - ভাষা ও অভিধানের বইগুলোর ওপর ভিত্তি করে অস্পষ্ট শব্দগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা।
৭ - নির্ভরযোগ্য আলেমদের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে টীকা প্রদান করা।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
8 - الكلام على الأحاديث التي تركها المؤلف ولم يتكلم عليها. وذلك بالاعتماد على أقوال العلماء المحققين.
9 - نظرًا لكثرة الأعلام المذكورة في الكتاب، مما لو ترجمت لهم، لتضاعف حجم الكتاب أضاعفًا مضاعفة، بشكل يعارض الأصول العلمية لإخراج الكتاب - نظرًا لذلك، فقد ضربت صفحًا عن هذه الخطوة.
10 - وضع الفهارس التي تيسر للباحث الوصول إلى ما يريد.
11 - كتابة مقدمة تعرف بالمؤلف وكتابه وبيان أثره وأهميته في مجال علم الحديث عامة، والأحاديث المشتهرة خاصة.
والله تعالى أسأل أن يتقبل عملي هذا بقبول حسن ابتغاء لوجهه الكريم؛ إنه سميع الدعاء.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين
محمد عثمان الخُشت
الأهرام في: 20 جماد ثاني 1405 هـ
12 مارس 1985 م
৮ - সেই সকল হাদিসের ওপর আলোচনা করা যা মূল লেখক বর্জন করেছেন এবং সেগুলোর ওপর কোনো কথা বলেননি। এটি বিজ্ঞ গবেষক আলেমদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করে সম্পন্ন করা হয়েছে।
৯ - গ্রন্থে উল্লিখিত বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের সংখ্যা অত্যধিক হওয়ার কারণে, যদি তাঁদের জীবনী উল্লেখ করা হতো, তবে গ্রন্থের কলেবর বহুগুণ বৃদ্ধি পেত, যা গ্রন্থ সম্পাদনার গবেষণাধর্মী মূলনীতির পরিপন্থী হতো—এই কারণে আমি এই পদক্ষেপটি পরিহার করেছি।
১০ - এমন নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র প্রস্তুত করা যা গবেষকের জন্য কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পৌঁছানো সহজ করে দেয়।
১১ - লেখক ও তাঁর গ্রন্থ পরিচিতি সম্বলিত একটি ভূমিকা রচনা করা এবং সাধারণ হাদিস শাস্ত্র ও বিশেষত প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ও গুরুত্ব বর্ণনা করা।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা আমার এই কাজটিকে উত্তমভাবে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।
আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মুহাম্মদ উসমান আল-খুশত
আল-আহরাম: ২০ জুমাদাস সানি ১৪০৫ হিজরি
১২ মার্চ ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للَّه مميز الخبيث من الطيب، ومحرز الحديث بنقاده من الخطأ والكذب، والصلاة والسلام على أشرف خلقه محمد وعلى آله وأزواجه ومن له صحب، صلاةً وسلاما نرجو بهما الاستقامة للنفس والأهل والعقب.
وبعد: فهذا كتاب رغب إلي فيه بعض الأئمة الأنجاب، أبين فيه بالعزو والحكم المعتبر، ما على الألسنة اشتهر، مما يظن إجمالا أنه من الخبر، ولا يهتدي لمعرفته إلا جهابذة الأثر، وقد لا يكون فيه شيء مرفوع، وإنما هو في الموقوف أو المقطوع وربما لم أقف له على أصل أصلا، فلا أبت بفصل فيه قولا، غير ملتزم في ذلك الاستيفاء ولا مقدم على تنقيص لمتقدم أو جفاء، وإن لم يسلم كلامه من خلل، ولا تكلم بما يتضح به زوال العلل، تأدبا مع الأئمة كالزركشي وابن تيمية، فالفضل للسابق، والعدل هو الموافق، مرتبا على حروف المعجم في أول الكلمات، وإن كان ترتيبه على الأبواب للعارف من أكبر المهمات، ولذا جمعت بين الطريقتين، ورفعت عني اللوم ممن يختار إحدى الجهتين، فبوبت للأحاديث بعد انتهائها، وأشرت لمظانها من ابتدائها، ولاحظت في تسميتها أحاديث - المعنى اللغوي، كما أني لم أقصد في الشهرة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পবিত্রকে অপবিত্র থেকে পৃথককারী এবং হাদীস সমালোচকদের মাধ্যমে হাদীসকে ভুল ও মিথ্যা থেকে হেফাযতকারী। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার, তাঁর পত্নীগণ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর; এমন দরুদ ও সালাম যার উসিলায় আমরা নিজের জন্য, পরিবার ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সঠিক পথে অবিচল থাকার প্রত্যাশা করি।
অতপর: এটি এমন একটি কিতাব যা রচনার জন্য কতিপয় মহান ইমাম আমাকে অনুরোধ করেছেন। এতে আমি উদ্ধৃতি প্রদান ও গ্রহণযোগ্য হুকুম বর্ণনার মাধ্যমে সেই কথাগুলোকে স্পষ্ট করব যা লোকমুখে প্রসিদ্ধ, যেগুলোকে সাধারণভাবে হাদীস বলে মনে করা হয়, অথচ হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ ছাড়া অন্য কেউ যার প্রকৃত স্বরূপ অনুধাবন করতে পারে না। হতে পারে এর মধ্যে কোনোটিই 'মারফু' নয়, বরং তা 'মাওকুফ' অথবা 'মাকতু'; আবার কখনও হয়ত আমি এর কোনো ভিত্তিই খুঁজে পাইনি, এমতাবস্থায় আমি সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তমূলক কথা বলিনি। এক্ষেত্রে আমি পূর্ণাঙ্গতার দাবি করিনি এবং পূর্ববর্তী ইমামদের কোনো সমালোচনা বা তাদের প্রতি কঠোরতা প্রদর্শনেও প্রবৃত্ত হইনি, যদিও তাঁদের বক্তব্য ত্রুটিমুক্ত নয় কিংবা তাঁরা এমন কথা বলেননি যার দ্বারা সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহের অপনোদন স্পষ্ট হয়। এটি ইমাম যারকাশী ও ইবনে তাইমিয়্যাহর ন্যায় ইমামদের প্রতি শিষ্টাচার রক্ষার্থেই করেছি। কেননা শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ববর্তীদের প্রাপ্য এবং ইনসাফপূর্ণ পন্থাই হলো সঠিক। আমি গ্রন্থটিকে শব্দের প্রথম অক্ষর অনুযায়ী বর্ণনাক্রমিক বিন্যাসে সাজিয়েছি, যদিও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট বিষয়ভিত্তিক অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর একারণেই আমি উভয় পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়েছি এবং কোনো একটি পক্ষকে অবলম্বনকারীদের তিরস্কার থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছি। তাই হাদীসগুলো শেষ করার পর আমি সেগুলোকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছি এবং শুরু থেকেই সেগুলোর সম্ভাব্য উৎসের দিকে ইঙ্গিত করেছি। আর এগুলোর নামকরণে 'হাদীস' শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমি এর আভিধানিক অর্থ বিবেচনা করেছি, ঠিক যেমন কেবল প্রসিদ্ধি অর্জনের উদ্দেশ্য আমি রাখিনি।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الاقتصار على الاصطلاح القوي، وهي ما يروى عن أكثر من اثنين في معظم طباقه أو جميعها بدون مين، بل القصد الذي عزمت على إيضاحه وأن أتقنه، ما كان مشهورا على الألسنة من العالم المتقن في سبره أو غيره في بلد خاص، أو قوم معينين، أو في جل البلدان وبين أكثر الموجودين، وذلك يشمل ما كان كذلك، وما انفرد به راويه بحيث ضاقت مما عداه المسالك، وما لا يوجد له عند أحد سند معتمد، بل عمن عرف بالتضعيف والتلفيق والتحريف، وما لم يجيء كما أشرت إليه إلا عن الصحابة، فمن بعدهم من ذوي الرجاحة والإصابة، وما لم يفه به أحد من المعتمدين بالظن الغالب لا اليقين، وربما أنشط لشيء من المعنى، وأضبط ما يزول به اللبس بالحسنى، وكان أعظم باعث لي على هذا الجمع، وأهم حاث لعزمي فيما تقر به العين ويلتذ به السمع، كثرة التنازع لنقل ما لا يعلم في ديوان، مما لا يسلم عن كذب وبهتان، ونسبتهم إياه إلى الرسول، مع عدم خبرتهم بالمنقول، جازمين بإيراده، عازمين على إعادته وترداده، غافلين عن تحريمه، إلا بعد ثبوته وتفهيمه، من حافظ متقن في تثبيته، بحيث كان ابن عم المصطفى علي بن أبي طالب، لا يقبل الحديث إلا ممن حلف له من قريب أو مناسب، لأن الكذب عليه صلى الله عليه وآله وسلم ليس كالكذب على غيره من الخلق والأمم، حتى اتفق أهل البصيرة والبصائر، أنه من أكبر الكبائر، وصرح غير واحد من علماء الدين وأئمته، بعدم قبول توبته، بل بالغ الشيخ أبو محمد الجويني فكفره وحذر فتنته وضرره، إلى غيره من الأسباب، التي يطول في شأنها الانتخاب وسميته:
শক্তিশালী পরিভাষার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা—আর তা হলো যা কোনো মিথ্যা ব্যতিরেকে এর অধিকাংশ বা সকল স্তরে দুইয়ের অধিক বর্ণনাকারী কর্তৃক বর্ণিত হয়। বরং আমার উদ্দেশ্য যা আমি স্পষ্ট করতে এবং সুসংহত করতে সংকল্প করেছি, তা হলো এমন সব বিষয় যা লোকমুখে প্রসিদ্ধ, হোক তা কোনো পারদর্শী জ্ঞানীর সূক্ষ্ম বিচারে বা অন্যের নিকট কোনো বিশেষ জনপদে, অথবা নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে, কিংবা অধিকাংশ দেশে এবং বর্তমান কালের অধিকাংশ মানুষের মাঝে। এটি সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে যা এই রূপ, এবং যার বর্ণনাকারী বর্ণনায় এমনভাবে একাকী হয়ে পড়েছেন যে অন্য সকল পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে, এবং যার কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ কারও কাছে পাওয়া যায় না, বরং তা এমন ব্যক্তি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে দুর্বলতা, জালিয়াতি এবং বিকৃতির জন্য পরিচিত। আরও অন্তর্ভুক্ত করে এমন বিষয় যা আমি ইতঃপূর্বে ইঙ্গিত করেছি যে সাহাবীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী শ্রেষ্ঠ ও বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কারও নিকট থেকে আসেনি, এবং যা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কেউ প্রবল ধারণার ভিত্তিতে উচ্চারণ করেননি বরং তা অনিশ্চিত। সম্ভবত আমি অর্থের কিছুটা ব্যাখ্যায় সচেষ্ট হব এবং অতি উত্তমরূপে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য যথাযথভাবে তা নির্ধারণ করব। এই সংকলনের পেছনে আমার সবচেয়ে বড় কারণ এবং আমার সংকল্পের প্রধান প্রবর্তক—যা চোখকে প্রশান্তি দেয় এবং কানকে আনন্দ দেয়—তা হলো এমন সব বিষয় বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রচুর বিবাদ যা কোনো নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে সংকলিত হয়নি এবং যা মিথ্যা ও অপবাদ থেকে মুক্ত নয়; অথচ বর্ণিত বিষয়ের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে কোনো ব্যুৎপত্তি ছাড়াই তারা তা রাসূলের প্রতি সম্বন্ধ করে। তারা এগুলো উপস্থাপনের ব্যাপারে অতি নিশ্চিত এবং তা বারবার প্রচারের ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ; অথচ এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে তারা গাফেল—যতক্ষণ না কোনো হাফেজ ও বিশেষজ্ঞ কর্তৃক তা প্রমাণিত ও ব্যাখ্যাত হয়। বিষয়টি এমন ছিল যে, মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবু তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনো হাদিস গ্রহণ করতেন না যতক্ষণ না বর্ণনাকারী তাঁর নিকট শপথ করতেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপ করা অন্য কোনো সৃষ্টি বা জাতির ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। এমনকি প্রাজ্ঞ ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন উলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে, এটি কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম বড় গুনাহ। দ্বীনের বহু আলেম ও ইমাম স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তাওবা কবুল হবে না; এমনকি শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-জুয়াইনি এতে কঠোরতা অবলম্বন করে তাকে কাফের আখ্যা দিয়েছেন এবং তার ফিতনা ও ক্ষতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এছাড়াও আরও অন্যান্য কারণ রয়েছে যা সবিস্তারে উল্লেখ করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। আমি এর নামকরণ করেছি:
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة
واللَّه أسأل أن يسلك بنا طريق الحق والاعتدال وأن لا يترك الأحمق المائق يتمادى بالضلال، فيما لم يحققه مع الفحول الأبطال، وأن يجعل هذا التأليف خالصا لوجهه الكريم، موجبا لرضاه العميم، إنه قريب مجيب.
মুখে মুখে প্রচলিত অনেক হাদীসের বর্ণনায় আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সত্য ও মধ্যমপন্থার পথে পরিচালিত করেন এবং নির্বোধ ও স্থূলবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিকে যেন সেই বিষয়ে বিভ্রান্তিতে লিপ্ত থাকতে না দেন যা সে বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের দ্বারা যাচাই করেনি। আর তিনি যেন এই সংকলনটিকে কেবল তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং একে তাঁর অশেষ সন্তুষ্টি লাভের কারণ বানান; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে, প্রার্থনা কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
حرف الهمزة1 - حَدِيث: آخِرُ الدَّوَاءِ الْكَيُّ، كَلامٌ مَعْنَاهُ أَنَّهُ بَعْدَ انْقِطَاعِ طُرُقِ الشِّفَاءِ يُعَالَجُ بِهِ، وَلِذَا كَانَ أَحَدَ مَا حُمِلَ عَلَيْهِ النَّهْيُ عَنِ الْكَيِّ وُجُودُ طَرِيقٍ مَرْجُوِّ الشِّفَاءِ.
2 - حَدِيث: آفَةُ الْكَذِبِ النِّسْيَانُ، الْقُضَاعِيُّ فِي مُسْنَدِ الشِّهَابِ، وَالدَّيْلَمِيُّ مِنْ حَدِيثِ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ، وَمِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيِّ عَنِ الْحَارِثِ الأَعْوَرِ كِلاهُمَا عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه مَرْفُوعًا فِي حَدِيثٍ بِلَفْظِ: آفَةُ الْحَدِيثِ الْكَذِبُ وَآفَةُ الْعِلْمِ النِّسْيَانُ، وَسَنَدُهُ ضَعِيفٌ إِلا أَنَّهُ صَحِيحُ الْمَعْنَى، وَلِلدَّارِمِيِّ فِي مُسْنَدِهِ وَالْعَسْكَرِيِّ فِي الأَمْثَالِ مِنْ حَدِيثِ وَكِيعٍ عَنِ الأَعْمَشِ رَفَعَهُ مُعْضَلا أَوْ مُرْسَلا: آفَةُ الْعِلْمِ النِّسْيَانُ وَإِضَاعَتُهُ أَنْ تُحَدِّثَ بِهِ غَيْرَ أَهْلِهِ،
হামযাহ্ বর্ণ১ - হাদিস: সর্বশেষ চিকিৎসা হলো ছেঁক দেওয়া। এটি এমন একটি কথা যার অর্থ হলো, আরোগ্যের যাবতীয় পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এ কারণেই ছেঁক দেওয়ার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তার অন্যতম কারণ হলো আরোগ্যের প্রত্যাশিত অন্য কোনো পথ বিদ্যমান থাকা।
২ - হাদিস: মিথ্যার আপদ হলো বিস্মৃতি। কুজায়ি এটি 'মুসনাদুশ শিহাব'-এ এবং দায়লামি জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া শু'বা থেকে, তিনি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি হারিস আল-আওয়ার থেকে—তাঁরা উভয়ে আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যার শব্দ হলো: 'কথার আপদ হলো মিথ্যা এবং ইলমের আপদ হলো বিস্মৃতি।' এর সনদ দুর্বল, তবে এর অর্থ সঠিক। দারিমি তাঁর মুসনাদে এবং আসকারি 'আল-আমসাল'-এ ওকি'র সূত্রে আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি এটি মু'দাল অথবা মুরসাল হিসেবে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন: 'ইলমের আপদ হলো বিস্মৃতি এবং এর অপচয় হলো অযোগ্য ব্যক্তির নিকট তা বর্ণনা করা।'
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وَلِلْبَيْهَقِيِّ فِي الْمَدْخَلِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي الْعُمَيْسِ الْمَسْعُودِيِّ عَنِ الْقَاسِمِ هُوَ ابْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّه بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ جَدِّهِ - وَبَيْنَهُمَا انْقِطَاعٌ - مَوْقُوفًا: آفَةُ الْحَدِيثِ النِّسْيَانُ، وَلَهُ فِي الشّعبِ وَغَيْرِهَا وَكَذَا لِلْخُلَعِيِّ فِي فَوَائِدِهِ عَنْ رُؤْبَةَ بْنِ الْعَجَّاجِ، قَالَ قَالَ لِي النَّسَّابَةُ الْبَكْرِيُّ: لِلْعِلْمِ آفَةٌ وَنَكَدٌ وَهُجْنَةٌ فَآفَتُهُ نِسْيَانُهُ، وَنَكَدُهُ الْكَذِبُ، وَهُجْنَتُهُ نَشْرُهُ عِنْدَ غَيْرِ أَهْلِهِ.
3 - حَدِيث: آلُ مُحَمَّدٍ كُلُّ تَقِيٍّ، تَمَّامٌ فِي فَوَائِدِهِ مِنْ حَدِيثِ شَيْبَانَ بْنِ فَرُّوخَ حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ هُرْمُزَ. وَالدَّيْلَمِيُّ مِنْ حَدِيثِ النَّضْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ كِلاهُمَا عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم مَنْ آلُ مُحَمَّدٍ؟ فَقَالَ كُلُّ تَقِيٍّ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ، وَلَفْظُ الدَّيْلَمِيِّ فَقَالَ: آلُ مُحَمَّدٍ كُلُّ تَقِيٍّ، ثُمَّ قَرَأَ {إِنْ أَوْلِيَاؤُهُ إِلا الْمُتَّقُونَ} وَفِي الدَّلائِلِ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ الشِّخِّيرِ وَمِنْ حَدِيثِ شَرِيكٍ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيِّ عَنِ الْحَارِثِ الأَعْوَرِ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّه مَنْ آلُ مُحَمَّدٍ؟ قَالَ: كُلُّ تَقِيٍّ، وَأَسَانِيدُهَا ضَعِيفَةٌ، وَلَكِنَّ شَوَاهِدَهُ كَثِيرَةٌ. مِنْهَا فِي الصَّحِيحَيْنِ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ آلَ أَبِي فُلانٍ لَيْسُوا لِي بِأَوْلِيَاءَ إِنَّمَا وَلِيِّيَ اللَّه وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ، كَمَا بَيَّنْتُهَا فِي ارْتِقَاءِ الْغُرَفِ، وَقَدْ حَمَلَ الْحَلِيمِيُّ حَدِيثَ التَّرْجَمَةِ عَلَى كُلِّ تَقِيٍّ مِنْ قَرَابَتِهِ، وَمِنَ الأَدِلَّةِ الَّتِي اسْتَدَلَّ بِهَا الْبَيْهَقِيُّ عَلَى أَنَّ اسْمَ الآلِ لِلْقَرَابَةِ خَاصَّةً لا لِعَامَّةِ الْمُؤْمِنِينَ.
এবং বায়হাক্বী তাঁর 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে আবু উমাইস আল-মাসউদী থেকে, তিনি কাসিম—যিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের পুত্র—থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন—এবং তাঁদের উভয়ের মাঝে সনদ বিচ্ছিন্ন রয়েছে—মাওকুফ হিসেবে: হাদীসের আপদ হলো ভুলে যাওয়া। এবং বায়হাক্বীর 'শুআবুল ঈমান' ও অন্যান্য গ্রন্থে এবং একইভাবে খুলায়ীর 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে রূবাহ ইবনে আল-আজ্জাজ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: বংশতত্ত্ববিদ আল-বাকরী আমাকে বলেছেন: ইলমের আপদ, অমঙ্গল এবং কলঙ্ক রয়েছে। এর আপদ হলো তা ভুলে যাওয়া, এর অমঙ্গল হলো মিথ্যা বলা এবং এর কলঙ্ক হলো অযোগ্য ব্যক্তির কাছে তা প্রচার করা।
৩ - হাদীস: মুহাম্মাদের পরিজন হলো প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তি। তাম্মাম তাঁর 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে শায়বান ইবনে ফাররুখের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাফি' ইবনে হুরমুজ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর দাইলামী নাযর ইবনে মুহাম্মাদ আশ-শায়বানী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তাঁরা উভয়ে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মুহাম্মাদের পরিজন কারা? তিনি বললেন: মুহাম্মাদের উম্মতের মধ্য থেকে প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তি। আর দাইলামীর শব্দ হলো—তিনি বললেন: মুহাম্মাদের পরিজন হলো প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তি, তারপর তিনি পাঠ করলেন: "মুত্তাকীরাই তো তাঁর অভিভাবক।" এবং 'দালাইল' গ্রন্থে ইবনুশ শিখখীর থেকে এবং শারীকের হাদীসে আবু ইসহাক আস-সাবীঈ থেকে, তিনি হারিস আল-আওয়ার থেকে এবং তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুহাম্মাদের পরিজন কারা? তিনি বললেন: প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তি। এর সনদগুলো দুর্বল, তবে এর অনেক সমর্থক বর্ণনা রয়েছে। তন্মধ্যে সহীহাইন-এ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী রয়েছে: "অমুকের বংশধররা আমার অভিভাবক নয়, বরং আল্লাহ এবং নেককার মুমিনগণই আমার অভিভাবক।" যেমনটি আমি 'ইরতিকাউল গুরাফ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি। আল-হালীমী এই আলোচ্য হাদীসটিকে তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের মধ্য থেকে প্রত্যেক মুত্তাকী ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। বায়হাক্বী যেসব দলীল দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন, তার মধ্যে এটিও একটি যে, 'আল' (পরিজন) শব্দটি কেবল আত্মীয়দের জন্য নির্দিষ্ট, সাধারণ মুমিনদের জন্য নয়।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪১)
4 - حَدِيث: آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلاثٌ إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ مِنْ حَدِيثِ مَالِكِ بْنِ أَبِي عَامِرٍ جَدِّ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه مَرْفُوعًا بِهَذَا.
5 - حَدِيث: آيَةٌ مِنْ كِتَابِ اللَّه خَيْرٌ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ، لَمْ أَقِفْ عَلَيْهِ، وكذا فيما قيل شَيْخِي مِنْ قَبْلِي، وَلَكِنْ قَدْ رَأَيْتُهُ بِخَطِّ بَعْضِ طَلَبَتِهِ مِنْ أَصْحَابِنَا فِي هَامِشِ تَسْدِيدِ الْقَوْسِ مُجَرَّدًا عَنِ الْعَزْوِ وَالصَّحَابِيِّ، وَذَلِكَ لا أَعْتَمِدُهُ مِنْ مِثْلِهِ، وَزَادَ فِيهِ: لأَنَّ الْقُرْآنَ كَلامُ اللَّه غَيْرُ مَخْلُوقٍ. نَعَمْ فِي فَضَائِلِ الْقُرْآنِ مِنْ جَامِعِ التِّرْمِذِيِّ مِنْ حَدِيثِ الْحُمَيْدِيِّ قَالَ: قَالَ لَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ فِي تَفْسِيرِ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ: مَا خَلَقَ اللَّه سُبْحَانَهُ مِنْ سَمَاءٍ وَلا أَرْضٍ أَعْظَمَ مِنْ آيَةِ الْكُرْسِيِّ: آيَةُ الْكُرْسِيِّ كَلامُ اللَّه وَكَلامُ اللَّه أَعْظَمُ خَلْقِ اللَّه مِنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، وَفِي نُسْخَةٍ: أَعْظَمُ مما في السماوات وَالأَرْضِ، قُلْتُ: وَكَأَنَّهُ أَشَارَ إِلَى مَا أَوْرَدَهُ الطَّبَرَانِيُّ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ مَوْقُوفًا: كُلُّ آيَةٍ فِي كِتَابِ اللَّه خَيْرٌ مِمَّا فِي السَّمَاءِ وَالأَرْضِ، وَوَقَفْتُ عَلَى أَثَرٍ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه مِنْ قَوْلِهِ أَنَّهُ كَانَ يُقْرِئُ الرَّجُلَ الآيَةَ ثُمَّ يَقُولُ: لَهِيَ خَيْرٌ مِمَّا طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ وَمَا عَلَى الأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ، حَتَّى يَقُولَ ذَلِكَ فِي الْقُرْآنِ كُلِّهِ، وَفِي لَفْظٍ أَنَّهُ كَانَ إِذَا عَلَّمَ الآيَةَ قَالَ: خُذْهَا فَلَهِيَ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. أَخْرَجَهُمَا ابْنُ الضُّرَيْسِ فِي فَضَائِلِ الْقُرْآنِ، وَأَوَّلُهُمَا عِنْدَ الطَّبَرَانِيِّ فِي مُعْجَمِهِ الْكَبِيرِ، وَأَبِي عُبَيْدٍ فِي فَضَائِلِ الْقُرْآنِ، بِلَفْظِ: كَانَ يُقْرِئُ الْقُرْآنَ فَيَمُرُّ بِالآيَةِ فَيَقُولُ لِلرَّجُلِ: خُذْهَا فواللَّه لَهِيَ خَيْرٌ مِمَّا عَلَى
৪ - হাদীস: মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি; যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে। মালিক ইবনে আনাস রহ.-এর দাদা মালিক ইবনে আবি আমের-এর সূত্রে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু হিসেবে এই হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মত (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।
৫ - হাদীস: আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের চেয়ে উত্তম। এই হাদীসটি সম্পর্কে আমি অবগত নই, এবং আমার পূর্ববর্তী শায়খও তেমনই বলেছেন। তবে আমি আমাদের এক সাথীর হাতে লেখা অবস্থায় কিছু ছাত্রের পাণ্ডুলিপিতে 'তাসদীদুল কাউস'-এর টীকায় এটি দেখেছি, যেখানে কোনো উদ্ধৃতি বা সাহাবীর নাম উল্লেখ ছিল না। আর এ ধরনের ক্ষেত্রে আমি তার মতো বর্ণনা নির্ভর করি না। সেখানে আরও যোগ করা হয়েছে: কারণ কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়। হ্যাঁ, জামে তিরমিযীর 'ফাযাইলুল কুরআন' অধ্যায়ে হুমাইদী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা আমাদের নিকট ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আসমান ও যমীনের যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে আয়াতুল কুরসীর চেয়ে মহান কিছু নেই। আয়াতুল কুরসী আল্লাহর কালাম, আর আল্লাহর কালাম আসমান ও যমীন হিসেবে আল্লাহর সৃষ্টির চেয়ে মহান। অন্য সংস্করণে রয়েছে: আসমান ও যমীনের মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে মহান। আমি বলছি: সম্ভবত তিনি তাবারানী কর্তৃক ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত মাওকুফ বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন: আল্লাহর কিতাবের প্রতিটি আয়াত আসমান ও যমীনের সবকিছুর চেয়ে উত্তম। এছাড়া ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি বক্তব্যের (আসার) সন্ধান আমি পেয়েছি যে, তিনি কোনো ব্যক্তিকে আয়াত পাঠ করাতেন এবং বলতেন: এটি সূর্য যা কিছুর ওপর উদিত হয় এবং যমীনের ওপর যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম। এমনকি তিনি পুরো কুরআনের ব্যাপারেই এমন বলতেন। অন্য শব্দে এসেছে যে, তিনি যখন কোনো আয়াত শিক্ষা দিতেন তখন বলতেন: এটি গ্রহণ করো, কারণ এটি দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। ইবনুয যুরাইস 'ফাযাইলুল কুরআন' গ্রন্থে এ দুটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। এর মধ্যে প্রথমটি ইমাম তাবারানী তাঁর 'মু'জামুল কাবীর'-এ এবং আবু উবাইদ তাঁর 'ফাযাইলুল কুরআন' গ্রন্থে এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: তিনি কুরআন পাঠ করাতেন এবং কোনো আয়াতের কাছে পৌঁছালে লোকটিকে বলতেন: এটি গ্রহণ করো, আল্লাহর কসম এটি তার চেয়েও উত্তম যা...
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪২)
الأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ، وَأَوْرَدَهُ بَعْضُهُمْ مُوهِمًا رَفْعَهُ بِلَفْظِ: آيَةٌ مِنْ كِتَابِ اللَّه خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا. وَلأَبِي عُبَيْدٍ أَيْضًا مِنْ حَدِيثِ فَرْوَةَ بْنِ نَوْفَلٍ الأَشْجَعِيِّ عَنْ خَبَّاب ابْنِ الأرتِّ أَنَّهُ قَالَ: وَاعْلَمْ أَنَّكَ لَسْتَ تَتَقَرَّبُ إِلَيْهِ بِشَيْءٍ هُوَ أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ كَلامِهِ، وَفِي الأَوَّلِ مِنْ ثَانِي حَدِيثِ الْمخلصِ مِنْ مُرْسَلِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، بَلْ هُوَ فِي مُسْنَدِ الْفِرْدَوْسِ عَنْ عَلِيٍّ رَفَعَهُ: الْقُرْآنُ أَفْضَلُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ دُونَ اللَّه، قَالَ: وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَكَأَنَّهُ يُشِيرُ إِلَى مَا أَخْرَجَهُ مِنْ حَدِيثِهِ رضي الله عنه فِي حديث أوله: لقراءة آيَةٌ مِنْ كِتَابِ اللَّه أَفْضَلُ مِمَّا تَحْتَ الْعَرْشِ. وَلأَبِي الشَّيْخِ وَالدَّيْلَمِيِّ فِي مُسْنَدِهِ مَعًا مِنْ حَدِيثِ صُهَيْبٍ رضي الله عنه مَرْفُوعًا: لَقِرَاءَةُ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّه أَفْضَلُ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ دُونَ الْعَرْشِ، وَفِي الْمَعْنَى مَا رَوَاهُ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ مِنْ رِوَايَةِ سَعِيدِ بْنِ سُلَيْمٍ رَفَعَهُ مُرْسَلا - مِمَّا هُوَ عِنْدَ الْغَزَالِيِّ فِي الإِحْيَاءِ -: مَا مِنْ شَفِيعٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّه مَنْزِلَةً مِنَ الْقُرْآنِ، لا نَبِيَّ وَلا مَلَكَ وَلا غَيْرَهُ.
6 - حَدِيث: أَبْخَلُ النَّاسِ، فِي: إِنَّ أَبْخَلَ.
7 - حَدِيث: ابْدَأْ بِنَفْسِكَ، مُسْلِمٌ فِي الزَّكَاةِ مِنْ صَحِيحِهِ مِنْ حَدِيثِ اللَّيْثِ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: أَعْتَقَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عُذْرَةَ عَبْدًا لَهُ عَنْ دُبُرٍ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: أَلَكَ مَالٌ غَيْرُهُ؟ فَقَالَ: لا، فَقَالَ: مَنْ يَشْتَرِيهِ مِنِّي؟ فَاشْتَرَاهُ نُعَيْمُ بْنُ عَبْدِ اللَّه العدوي بثمانمائة دِرْهَمٍ، فَجَاءَ بِهَا رَسُولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم فَدَفَعَهَا إِلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: ابْدَأْ بِنَفْسِكَ فَتَصَدَّقْ عَلَيْهَا فَإِنْ فَضَلَ شَيْءٌ
জমিনের কোনো কিছু থেকে। আর তাদের কেউ কেউ একে মারফু হওয়ার সংশয় সৃষ্টি করে এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত দুনিয়া ও তাতে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। আর আবু উবাইদও ফারওয়া ইবন নাওফাল আল-আশজায়ি এর সূত্রে খাব্বাব ইবনুল আরাত থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: জেনে রেখো, তুমি আল্লাহর কাছে তাঁর বাণীর চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো কিছুর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করতে পারবে না। আর মুখলিসের দ্বিতীয় হাদিসের শুরুতে মুহাম্মাদ ইবন আলীর মুরসাল বর্ণনা থেকে এসেছে, বরং এটি মুসনাদুল ফিরদাউসে আলী থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত: কুরআন আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন: এ বিষয়ে আনাস থেকেও বর্ণনা রয়েছে, আর মনে হয় তিনি তাঁর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত সেই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যার শুরুতে রয়েছে: আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত পাঠ করা আরশের নিচে যা কিছু আছে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর আবুশ শাইখ এবং দাইলামি তাঁর মুসনাদে একত্রে সুহাইব রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত পাঠ করা আরশ ব্যতীত প্রতিটি বস্তু থেকে শ্রেষ্ঠ। আর একই অর্থে আব্দুল মালিক ইবন হাবিব, সাঈদ ইবন সুলাইম থেকে মুরসাল মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন—যা ইমাম গাযালীর ইহয়া উলুমুদ্দীন গ্রন্থেও রয়েছে—: আল্লাহর কাছে কুরআনের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো নবী নন, কোনো ফেরেশতা নন এবং অন্য কেউও নন।
৬ - হাদিস: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ; দেখুন: ‘নিশ্চয়ই সবচেয়ে কৃপণ’ আলোচনায়।
৭ - হাদিস: নিজেকে দিয়ে শুরু করো; ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের জাকাত অধ্যায়ে লাইস এর সূত্রে আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বনু উযরা গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক দাসকে মুদাব্বার (মৃত্যুর পর আজাদ হওয়ার শর্তে) হিসেবে মুক্তি দিয়েছিল। সংবাদটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: তোমার কি এটি ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ আছে? সে বলল: না। তিনি বললেন: কে এটি আমার কাছ থেকে ক্রয় করবে? তখন নুয়াইম ইবন আব্দুল্লাহ আল-আদাওয়ি তাকে আটশ দিরহামের বিনিময়ে কিনে নিলেন। তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এলেন এবং তিনি তা তাকে প্রদান করলেন। অতঃপর বললেন: নিজেকে দিয়ে শুরু করো এবং নিজের ওপর সদকা করো, এরপর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকে...
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فَلأَهْلِكَ، فَإِنْ فَضَلَ عَنْ أَهْلِكَ شَيْءٌ فَلِذِي قَرَابَتِكَ، فَإِنْ فَضَلَ عَنْ ذِي قَرَابَتِكَ شَيْءٌ فَهَكَذَا وَهَكَذَا، يَقُولُ: فَبَيْنَ يَدَيْكَ وَعَنْ يَمِينِكَ وَعَنْ شِمَالِكَ، وَكَذَا أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ وَآخَرُونَ، وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ عِنْدَ الطَّبَرَانِيِّ في الكبير من حَدِيثِ حَاتِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ وَابْنِ أَبِي ذِئْبٍ كِلاهُمَا عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ مِسْمَارٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْهُ رضي الله عنه رَفَعَهُ إِذَا أَنْعَمَ اللَّه عَلَى عَبْدٍ بِنِعْمَةٍ فَلْيَبْدَأْ بِنَفْسِهِ وَأَهْلِ بَيْتِهِ، وَلَفْظُ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ: إِذَا أَعْطَى اللَّه أَحَدَكُمْ خَيْرًا فَلْيَبْدَأْ بِنَفْسِهِ وَأَهْلِهِ. وَهُوَ كَذَلِكَ - لَكِنْ بِلَفْظِ -: وَأَهْلِ بَيْتِهِ، عِنْدَ مُسْلِمٍ فِي أَوَّلِ الإِمَارَةِ مِنْ صَحِيحِهِ مِنْ حَدِيثِ حَاتِمِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ فَقَطْ، وَفِي الْحُرُوفِ مِنَ السُّنَنِ لأَبِي دَاوُدَ مِنْ حَدِيثِ حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رضي الله عنه: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَعَا بَدَأَ بِنَفْسِهِ، وَقَالَ: رَحْمَةُ اللَّه عَلَيْنَا وَعَلَى مُوسَى الْحَدِيثَ، بَلْ هُوَ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ من حديث رَقَية بْنِ مَصْقَلة عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ فِي قِصَّةِ مُوسَى مَعَ الْخَضِرِ: وَكَانَ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم إِذَا ذَكَرَ أَحَدًا مِنَ الأَنْبِيَاءِ بَدَأَ بِنَفْسِهِ: رَحْمَةُ اللَّه عَلَيْنَا وَعَلَى أَخِي كَذَا، وَفِي السُّنَنِ لِسَعِيدِ بْنِ مَنْصُورٍ مِنْ حَدِيثِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ كَانَ إِذَا تَشَهَّدَ قَالَ: بِسْمِ اللَّه خَيْرِ الأَسْمَاءِ، وَذَكَرَ التَّشَهُّدَ وَفِيهِ: السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّه الصَّالِحِينَ، إِنَّ أَحَدَكُمْ يُصَلِّي فَيُسَلِّمُ وَلا يُسَلِّمُ على نفسه، فابدؤوا بِأَنْفُسِكُمْ فَإِنَّ ذَلِكَ قَدْ جَمَعَ لَكُمُ الْمَلائِكَةَ وَالصَّالِحِينَ.
8 - حديث: الأبدال، له طرق عن أنس رضي الله عنه مرفوعا بألفاظ مختلفة كلها ضعيفة.
তবে তোমার পরিবারের জন্য; যদি তোমার পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে কিছু অবশিষ্ট থাকে, তবে তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য; আর যদি তোমার নিকটাত্মীয়দের প্রয়োজন মিটিয়েও কিছু উদ্বৃত্ত থাকে, তবে এভাবে ওভাবে (অর্থাৎ বিভিন্ন দিকে খরচ করো)। সে বলত: তোমার সামনের দিকে, তোমার ডান দিকে এবং তোমার বাম দিকে। এভাবেই এটি আন-নাসায়ী এবং অন্যান্যরা সংকলন করেছেন। এই বিষয়ে তাবারানির আল-মুজামুল কবির-এ জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে যা হাতেম ইবনে ইসমাঈল এবং ইবনে আবি জিব বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে মুহাজির ইবনে মিসমার থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি তার পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে কোনো নেয়ামত দান করেন, তখন সে যেন নিজের থেকে এবং তার পরিবারের লোকজনের থেকে শুরু করে। আর ইবনে আবি জিবের শব্দগুলো হলো: যখন আল্লাহ তোমাদের কাউকে কোনো কল্যাণ দান করেন, সে যেন নিজের থেকে এবং তার পরিবার থেকে শুরু করে। এটি একইভাবে—তবে "তার পরিবারের লোকজনের থেকে" শব্দে—সহিহ মুসলিমের কিতাবুল ইমারাহ-এর শুরুতে শুধুমাত্র হাতেম ইবনে ইসমাঈলের বর্ণনা থেকে পাওয়া যায়। আবু দাউদের সুনান-এর আল-হুরুফ অধ্যায়ে হামজা আল-যাইয়্যাত থেকে, তিনি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দোয়া করতেন, তখন নিজের থেকে শুরু করতেন এবং বলতেন: আমাদের ওপর এবং মুসার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক (সম্পূর্ণ হাদিস)। বরং এটি সহিহ মুসলিমে রাকিয়াহ ইবনে মাসকালাহ থেকে আবু ইসহাকের সূত্রে খিজিরের সাথে মুসার কাহিনীর বর্ণনায় রয়েছে: অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন নবীদের মধ্য থেকে কারো কথা উল্লেখ করতেন, তখন নিজের থেকে শুরু করতেন (এই বলে): আমাদের ওপর এবং আমার অমুক ভাইয়ের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। সাঈদ ইবনে মনসুরের সুনান-এ উরওয়াহ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উমর ইবনে খাত্তাব যখন তাশাহহুদ পড়তেন তখন বলতেন: আল্লাহর নামে, যিনি সর্বোত্তম নামের অধিকারী, এরপর তিনি তাশাহহুদ উল্লেখ করতেন যাতে রয়েছে: আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে তখন সালাম দেয় কিন্তু নিজের ওপর সালাম দেয় না; সুতরাং তোমরা নিজেদের থেকে শুরু করো, কারণ তা তোমাদের জন্য ফেরেশতা ও নেককার বান্দাদের দোয়া একত্রিত করে দেয়।
8 - হাদিস: আবদাল; আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে এটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যার সবগুলোই দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
منها للخلال في كرامات الأولياء بلفظ: الأبدال أربعون رجلا وأربعون امرأة كلما مات رجل أبدل اللَّه رجلا مكانه، وإذا ماتت امرأة أبدل اللَّه مكانها امرأة، ومنها للطبراني في الأوسط بلفظ: لن تخلو الأرض من أربعين رجلا مثل خليل الرحمن عليه السلام، فبهم يسقون، وبهم ينصرون، ما مات منهم أحد إلا أبدل اللَّه مكانه آخر، ومنها لابن عدي في كامله بلفظ: البدلاء أربعون، اثنان وعشرون بالشام، وثمانية عشر بالعراق، كلما مات منهم واحد أبدل اللَّه مكانه آخر، فإذا جاء الأمر قبضوا كلهم، فعند ذلك تقوم الساعة، وكذا يروى كما عند أحمد في المسند والخلال وغيرهما عن عبادة بن الصامت رضي اللَّه مرفوعا: لا يزال في هذه الأمة ثلاثون مثل إبراهيم خليل الرحمن كلما مات واحد منهم أبدل اللَّه عز وجل مكانه رجلا، وفي لفظ للطبراني في الكبير: بهم تقوم الأرض، وبهم يمطرون، وبهم ينصرون، ولأبي نعيم في الحلية عن ابن عمر رفعه: خيار أمتي في كل قرن خمسمائة والأبدال أربعون، فلا الخمسمائة ينقصون ولا الأربعون كلما مات رجل أبدل اللَّه مكانه آخر، قالوا: يا رسول اللَّه دلنا على أعمالهم؟ قال: يعفون عمن ظلمهم، ويحسنون إلى من أساء إليهم، ويتواصلون فيما أتاهم اللَّه عز وجل، وفي لفظ للخلال: لا يزال أربعون رجلا يحفظ اللَّه بهم الأرض كلما مات رجل أبدل اللَّه مكانه آخر وهم في الأرض كلها، وفي الحلية أيضا عن ابن مسعود رضي الله عنه رفعه: لا يزال أربعون رجلا من أمتي قلوبهم على قلب إبراهيم يدفع اللَّه بهم عن أهل الأرض يقال لهم الأبدال، إنهم لم يدركوها بصلاة ولا بصوم ولا بصدقة، قالوا: فبم
আল-খাল্লালের 'কারামাতুল আউলিয়া' গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: আবদালগণ হলেন চল্লিশজন পুরুষ এবং চল্লিশজন নারী। যখনই একজন পুরুষ মারা যান, আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজন পুরুষকে স্থলাভিষিক্ত করেন এবং যখনই একজন নারী মারা যান, আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজন নারীকে স্থলাভিষিক্ত করেন। আত-তাবারানির 'আল-আওসাত' গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: পৃথিবী কখনোই খলিলুর রহমান আলাইহিস সালামের মতো চল্লিশজন পুরুষ থেকে শূন্য হবে না। তাদের মাধ্যমেই মানুষ বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয় এবং তাদের মাধ্যমেই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন। ইবনে আদির 'আল-কামিল' গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: বুদালা (আবদালগণ) হলেন চল্লিশজন। বাইশজন শামে এবং আঠারোজন ইরাকে। যখনই তাদের কেউ মারা যান, আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন। যখন (চূড়ান্ত) নির্দেশ আসবে তখন তাদের সবাইকে কবজ করা হবে এবং তখনই কেয়ামত সংঘটিত হবে। অনুরূপভাবে ইমাম আহমদের 'মুসনাদ', আল-খাল্লাল এবং অন্যদের কিতাবে উবাদাহ বিন সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: এই উম্মতের মধ্যে সর্বদা ইব্রাহিম খলিলুর রহমানের মতো ত্রিশজন ব্যক্তি থাকবেন। যখনই তাদের কেউ মারা যাবেন, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তার স্থলে অন্য একজন পুরুষকে স্থলাভিষিক্ত করবেন। আত-তাবারানির 'আল-কাবীর' গ্রন্থের এক শব্দে আছে: তাদের মাধ্যমেই পৃথিবী টিকে থাকে, তাদের মাধ্যমেই মানুষ বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয় এবং তাদের মাধ্যমেই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। আবু নুয়াইমের 'হিলইয়া' গ্রন্থে ইবনে উমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা প্রতি শতাব্দীতে পাঁচশ জন এবং আবদাল হলেন চল্লিশজন। এই পাঁচশ জনও কমবে না এবং চল্লিশজনও কমবে না; যখনই একজন মানুষ মারা যান, আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের তাদের আমল সম্পর্কে বলে দিন? তিনি বললেন: যারা তাদের ওপর জুলুম করে তারা তাদের ক্ষমা করে দেয়, যারা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে তারা তাদের সাথে সদাচরণ করে এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাদের যা দান করেছেন তার মাধ্যমে তারা পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখে। আল-খাল্লালের এক বর্ণনায় আছে: সর্বদা চল্লিশজন পুরুষ থাকবেন যাদের মাধ্যমে আল্লাহ পৃথিবীকে হেফাযত করবেন। যখনই একজন মারা যান, আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন এবং তারা সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছেন। 'হিলইয়া' গ্রন্থে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হিসেবে আরও বর্ণিত হয়েছে: আমার উম্মতের মধ্য থেকে সর্বদা চল্লিশজন ব্যক্তি থাকবেন যাদের অন্তর ইব্রাহিমের অন্তরের মতো হবে। আল্লাহ তাদের মাধ্যমে পৃথিবীবাসীদের থেকে বিপদ আপদ দূর করবেন। তাদের 'আবদাল' বলা হয়। তারা নামাজ, রোজা কিংবা সদকার মাধ্যমে এই স্তরে পৌঁছেনি। তারা জিজ্ঞেস করলেন: তবে কিসের মাধ্যমে?
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
أدركوها يا رسول اللَّه؟ قال: بالسخاء والنصيحة للمسلمين، والجملة الأخيرة تروى كما للطبراني في الأجواد وغيره كأبي بكر ابن لال في مكارم الأخلاق، عن أنس رضي الله عنه رفعه بلفظ: إن بدلاء أمتي لم يدخلوا الجنة بصلاة ولا صيام، ولكن دخلوها بسخاء الأنفس وسلامة الصدور والنصح للمسلمين، وللخرائطي في المكارم من حديث أبي سعيد نحوه، وبعضها أشد في الضعف من بعض، وآخرها جاء عن فضيل بن عياض رحمه الله من قوله بلفظ: لم يدرك عندنا من أدرك بكثرة صيام ولا صلاة، وإنما أدرك عندنا بسخاء الأنفس وسلامة الصدور والنصح للأمة، وأحسن مما تقدم ما لأحمد من حديث شريح يعني ابن عبيد قال: ذكر أهل الشام عند علي رضي الله عنه وهو بالعراق فقالوا: العنهم يا أمير المؤمنين، قال: لا، إني سمعت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يقول: البدلاء يكونون في الشام وهم أربعون رجلا كلما مات رجل أبدل اللَّه مكانه رجلا يسقي بهم الغيث وينتصر بهم على الأعداء، ويصرف عن أهل الشام بهم العذاب، ورجاله من رواة الصحيح، إلا شريحا وهو ثقة، وقد سمع ممن هو أقدم من علي، ومع ذلك فقال الضياء المقدسي: إن رواية صفوان بن عبد اللَّه عن علي رضي الله عنه من غير رفع: لا تسبوا أهل الشام جما غفيرا، فإن فيها الأبدال، قالها ثلاثا. أولى، أخرجها عبد الرزاق ومن طريقه البيهقي في الدلائل ورواها غيرهما، بل أخرجها الحاكم في مستدركه مما صححه من قول علي نحوه، ورأى بعضهم النبي صلى الله عليه وسلم في المنام فقال له: أين بدلاء أمتك؟ فأومأ بيده نحو الشام، وقال: فقلت يا رسول اللَّه؟ أما بالعراق أحد منهم؟ قال: بلى وسمى جماعة، ومما يتقوى به هذا الحديث ويدل لانتشاره بين الأئمة قول إمامنا الشافعي رحمه الله في بعضهم: كنا نعده من الأبدال.
وقول البخاري في
হে আল্লাহর রাসূল, তারা কি তা অর্জন করেছেন? তিনি বললেন: উদারতা এবং মুসলিমদের প্রতি শুভকামনার মাধ্যমে। আর শেষ বাক্যটি তাবারানি তার 'আল-আজওয়াদ' গ্রন্থে এবং অন্যরা যেমন আবু বকর ইবনে লাল 'মাকারিমুল আখলাক' গ্রন্থে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: নিশ্চয়ই আমার উম্মতের আবদালগণ অধিক সালাত বা সিয়ামের মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করেনি, বরং তারা এতে প্রবেশ করেছে হৃদয়ের উদারতা, বক্ষের সুস্থতা এবং মুসলিমদের প্রতি শুভকামনার মাধ্যমে। খারায়েতি 'মাকারিম' গ্রন্থে আবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; এর কিছু অংশ অন্য অংশের তুলনায় অধিক দুর্বল। আর এর সর্বশেষ অংশটি এসেছে ফুযাইল ইবনে আইয়ায (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি হিসেবে এই শব্দে: আমাদের কাছে যিনি যে স্তরে পৌঁছেছেন, তিনি অধিক সিয়াম বা সালাতের মাধ্যমে পৌঁছাননি; বরং তিনি আমাদের কাছে পৌঁছেছেন হৃদয়ের উদারতা, বক্ষের সুস্থতা এবং উম্মতের প্রতি শুভকামনার মাধ্যমে। পূর্বোক্ত বর্ণনাগুলোর চেয়ে উত্তম হলো ইমাম আহমাদ যা শুরাইহ অর্থাৎ ইবনে উবাইদ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন ইরাকে ছিলেন, তখন তাঁর সামনে শামবাসীদের কথা উল্লেখ করা হলো, তখন তারা বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, তাদের অভিশাপ দিন। তিনি বললেন: না, কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: আবদালগণ শাম দেশে থাকবে এবং তারা হবে চল্লিশজন পুরুষ। যখনই একজন লোক মারা যাবে, আল্লাহ তার স্থলে অন্য একজন লোককে স্থলাভিষিক্ত করবেন। তাদের উসিলায় বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তাদের মাধ্যমে শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করা হয় এবং তাদের কারণেই শামবাসীদের থেকে আযাব সরিয়ে নেওয়া হয়। এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে শুরাইহ ব্যতীত, আর তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য); তিনি আলীর চেয়েও প্রাচীনদের থেকেও শ্রবণ করেছেন। তা সত্ত্বেও যিয়া আল-মাকদিসি বলেছেন: সাফওয়ান ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে আলীর বর্ণনাটি—যাতে মারফূ করা ছাড়াই বলা হয়েছে: তোমরা শামবাসীদের সামগ্রিকভাবে গালি দিও না, কারণ সেখানে আবদালরা রয়েছে—তিনি এটি তিনবার বলেছেন; এটিই অধিক অগ্রগণ্য। এটি আব্দুর রাজ্জাক এবং তাঁর সূত্রে বাইহাকী 'দালাইল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা ছাড়া অন্যরাও এটি বর্ণনা করেছেন। বরং হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে আলীর উক্তি হিসেবে এর অনুরূপ বর্ণনাকে সহীহ বলেছেন। আর তাঁদের কেউ কেউ স্বপ্নে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছিলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আপনার উম্মতের আবদালগণ কোথায়? তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে শামের দিকে ইঙ্গিত করলেন। তিনি বললেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, ইরাকে কি তাদের কেউ নেই? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং একদল লোকের নাম বললেন। এই হাদিসটিকে যা শক্তিশালী করে এবং ইমামদের মাঝে এর ব্যাপকতা প্রমাণ করে তা হলো আমাদের ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি কোনো এক ব্যক্তি সম্পর্কে: আমরা তাকে আবদালদের একজন মনে করতাম।
আর বুখারীর উক্তি...
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
غيره: كانوا لا يشكون أنه من الأبدال، وكذا وصف غيرهما من النقاد والحفاظ والأئمة غير واحد بأنهم من الأبدال، ويروى في حديث مرفوع: ثلاث من كن فيه فهو من الأبدال، الرضا بالقضاء، والصبر عن المحارم، والغضب للَّه، وعن بعضهم قال: أكلهم فاقة وكلامهم ضرورة، وعن معروف الكرخي قال: من قال اللَّهم ارحم أمة محمد في كل يوم كتبه اللَّه من الأبدال، وهو في الحلية بلفظ من قال في كل يوم عشر مرات: اللَّهم أصلح أمة محمد، اللَّهم فرج عن أمة محمد، اللَّهم ارحم أمة محمد، كتب من الأبدال، وعن غيره قال: علامة الأبدال أن لا يولد لهم، بل يروى في مرفوع معضل: علامة أبدال أمتي أنهم لا يلعنون شيئا أبدا، وقال يزيد بن هارون: الأبدال هم أهل العلم، وقال الإمام أحمد: إن لم يكونوا أصحاب الحديث فمن هم؟ وقال بلال الخواص فيما رويناه في مناقب الشافعي ورسالة القشيري: كنت في تيه بني إسرائيل فإذا رجل يماشيني فتعجبت منه وألهمت أنه الخضر، فقلت له: بحق الحق من أنت؟ قال: أنا أخوك الخضر، فقلت له: أريد أن أسألك، قال: سل، قلت: ما تقول في الشافعي، قال: هو من الأبدال، قلت: فما تقول في أحمد، قال: رجل صديق، قلت: فما تقول في بشر بن الحارث، قال: رجل لم يخلق بعده مثله، قلت: فبأي وسيلة رأيتك، قال: ببركة أمك، وروينا في تاريخ بغداد للخطيب عن الكتاني قال: النقباء ثلاثمائة، والنجباء سبعون، والبدلاء أربعون، والأخيار سبعة، والعمد أربعة، والغوث واحد، فمسكن النقباء المغرب. ومسكن النجباء مصر، ومسكن الأبدال الشام، والأخيار سيَّاحون في الأرض، والعُمُدُ في زوايا الأرض، ومسكن
অন্যান্যরা বলেছেন: তারা এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ পোষণ করতেন না যে তিনি আবদালদের (এক বিশেষ স্তরের ওলি) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। একইভাবে একাধিক সমালোচক, হাফেজ এবং ইমামগণ অন্যদেরকেও আবদাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একটি মারফু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে আবদালদের অন্তর্ভুক্ত—তকদিরের ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্টি, নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বেঁচে থাকায় ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাগান্বিত হওয়া। তাদের কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: তাদের আহার হলো অভাবের সময় (তথা ক্ষুধার্ত অবস্থায়) এবং তাদের কথা হলো কেবল অতি প্রয়োজনে। মারুফ আল-কারখি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি প্রতিদিন বলবে—'হে আল্লাহ, উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন', আল্লাহ তাকে আবদালদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিখে দেবেন। হিলইয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে—যে ব্যক্তি প্রতিদিন দশবার বলবে: 'হে আল্লাহ, উম্মতে মুহাম্মাদীর সংশোধন করে দিন, হে আল্লাহ, উম্মতে মুহাম্মাদীর দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিন, হে আল্লাহ, উম্মতে মুহাম্মাদীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন', তাকে আবদালদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে। অন্যদের থেকে বর্ণিত যে: আবদালদের একটি লক্ষণ হলো তাদের কোনো সন্তান জন্মায় না। বরং একটি মারফু মু'দাল বর্ণনায় এসেছে: আমার উম্মতের আবদালদের লক্ষণ হলো তারা কোনো কিছুকে কখনো অভিশাপ দেয় না। ইয়াজিদ ইবনে হারুন বলেছেন: আবদালরা হলেন ইলম অন্বেষণকারী বা আলেম সমাজ। ইমাম আহমাদ বলেছেন: তারা যদি আসহাবুল হাদিস (মুহাদ্দিসগণ) না হন, তবে তারা আর কারা? বিলাল আল-খাওয়াস থেকে ইমাম শাফেয়ির মানাকিব এবং কুশাইরির রিসালায় যা বর্ণিত হয়েছে তাতে তিনি বলেন: আমি বনী ইসরাঈলের তিয়াহ প্রান্তরে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি আমার সাথে হাঁটতে লাগলেন। আমি তাকে দেখে আশ্চর্য হলাম এবং আমার মনে উদয় হলো যে তিনি খিজির। আমি তাকে বললাম: হকের শপথ, আপনি কে? তিনি বললেন: আমি তোমার ভাই খিজির। আমি তাকে বললাম: আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে চাই। তিনি বললেন: জিজ্ঞাসা করো। আমি বললাম: শাফেয়ি সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: তিনি আবদালদের অন্তর্ভুক্ত। আমি বললাম: আহমাদ সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: তিনি একজন অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি। আমি বললাম: বিশর বিন আল-হারিস সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন: তার পরে তার মতো আর কাউকে সৃষ্টি করা হয়নি। আমি বললাম: কোন অসিলায় আমি আপনার দেখা পেলাম? তিনি বললেন: তোমার মায়ের প্রতি সদাচরণের বরকতে। খতিব বাগদাদীর তারিখ বাগদাদ গ্রন্থে কাত্তানি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: নুকাবা তিনশ জন, নুঝাবা সত্তর জন, বুদালা চল্লিশ জন, আখইয়ার সাত জন, উমদ চার জন এবং গাউস এক জন। নুকাবাদের আবাসস্থল মাগরিব অঞ্চল। নুঝাবাদের আবাসস্থল মিশর। আবদালদের আবাসস্থল শাম (সিরিয়া)। আখইয়ারগণ পৃথিবীতে বিচরণশীল এবং উমদগণ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তরে অবস্থান করেন। আর আবাসস্থল...
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الغوث مكة، فإذا عرضت الحاجة من أمر العامة ابتهل فيها النقباء، ثم النجباء، ثم الأبدال، ثم الأخيار، ثم العمد، فإن أجيبوا وإلا ابتهل الغوث، فلا تتم مسئلته حتى تجاب دعوته، وفي الإحياء: ويقال إنه ما تغرب الشمس من يوم إلا ويطوف بهذا البيت رجل من الأبدال ولا يطلع الفجر من ليلة إلا ويطوف به واحد من الأوتاد، وإذا انقطع ذلك كان سبب رفعه من الأرض، وذكر أثرا. إلى غير ذلك من الآثار الموقوفة وغيرها، وكذا من المرفوع مما أفردته واضحا بينا معللا في جزء سميته نظم اللآل في الكلام على الأبدال.
9 - حَدِيث: أَبْرِدُوا بِالطَّعَامِ، فَإِنَّ الطَّعَامَ الْحَارَّ غَيْرُ ذِي بَرَكَةٍ، الطَّبَرَانِيُّ فِي الأَوْسَطِ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّه بْنُ يَزِيدَ الْبَكْرِيُّ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه مَرْفُوعًا بِهَذَا، وَقَالَ: لَمْ يَرْوِهِ عَنِ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ إِلا الْبَكْرِيُّ تَفَرَّدَ بِهِ هِشَامٌ، وَعِنْدَهُ فِي الأَوْسَطِ وَالصَّغِيرِ مَعًا مِنْ حَدِيثِ هِشَامٍ عَنِ الْبَكْرِيِّ الْمَذْكُورِينَ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ الْمَدَنِيُّ حَدَّثَنَا بِلالُ بْنُ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى بِصَحِيفَةٍ تَفُورُ فَرَفَعَ يَدَهُ مِنْهَا فَقَالَ: إِنَّ اللَّه عز وجل لَمْ يُطْعِمْنَا نَارًا، وَفِي لَفْظٍ فَأَسْرَعَ يَدَهُ فِيهَا ثُمَّ رَفَعَ يَدَهُ، وَقَالَ: لَمْ يَرْوِهِ عَنْ بِلالٍ إِلا يَعْقُوبُ وَلا عَنْهُ إِلا عَبْدُ اللَّه تَفَرَّدَ بِهِ هِشَامٌ، وَبِلالٌ قَلِيلُ الرِّوَايَةِ عَنْ أَبِيهِ انْتَهَى. وَالْبَكْرِيُّ ضَعَّفَهُ أَبُو حَاتِمٍ، لَكِنَّ عِنْدَ الْبَيْهَقِيِّ بِسَنَدٍ صَحِيحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: أُتيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا بِطَعَامٍ سُخْنٍ، فَقَالَ: مَا دَخَلَ بَطْنِي طَعَامٌ سُخْنٌ مُنْذُ كَذَا وَكَذَا قَبْلَ الْيَوْمِ،
গাউস মক্কায় অবস্থান করেন। যখন জনসাধারণের কোনো বিষয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন নুকাবাগণ বিনীত প্রার্থনা করেন, এরপর নুজাবাগণ, এরপর আবদালগণ, এরপর আখইয়ারগণ, এরপর উমাদগণ। যদি তাঁদের প্রার্থনা কবুল হয় (তবে তো হলোই), অন্যথায় গাউস বিনীত প্রার্থনা করেন। তাঁর প্রার্থনা শেষ হয় না যতক্ষণ না তাঁর দোয়া কবুল করা হয়। আর 'ইহ্ইয়া' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: বলা হয় যে, প্রতিদিন এমন কোনো দিন সূর্য অস্ত যায় না যখন আবদালগণের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি এই ঘর তওয়াফ করেন না, এবং এমন কোনো রাত ফজর হয় না যখন আওতাদগণের মধ্য থেকে একজন এটি তওয়াফ করেন না। যখন এটি বন্ধ হয়ে যাবে, তখন তা হবে পৃথিবী থেকে এটি তুলে নেওয়ার কারণ। তিনি একটি আছার (বর্ণনা) উল্লেখ করেছেন। এ জাতীয় আরও অনেক মাওকুফ আছার ও অন্যান্য বর্ণনা রয়েছে, তেমনি মারফূ হাদিসও রয়েছে যা আমি 'নাজমুল লাআল ফিল কালাম আলাল আবদাল' নামক পুস্তিকায় স্পষ্টভাবে, বিশদভাবে ও কারণসহ স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করেছি।
৯ - হাদিস: তোমরা খাবার ঠান্ডা করে গ্রহণ করো, কারণ গরম খাবারে বরকত নেই। তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ হিশাম ইবনে আম্মারের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ আল-বাকরি হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবনুল আবি দি'ব থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল-বাকরি ব্যতীত অন্য কেউ ইবনুল আবি দি'ব থেকে এটি বর্ণনা করেনি, হিশাম এতে একক হয়ে গেছেন। তাঁর নিকট 'আল-আওসাত' ও 'আস-সাগীর' উভয় গ্রন্থে উল্লেখিত হিশাম ও বাকরির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তালহা আল-মাদানি হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বিলাল ইবনে আবু হুরায়রা তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ধোঁয়া ওঠা একটি পাত্র আনা হলো, তখন তিনি তা থেকে তাঁর হাত তুলে নিলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান আমাদের আগুন খাওয়াননি। অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে, তিনি তাতে দ্রুত হাত দিলেন এরপর তাঁর হাত সরিয়ে নিলেন এবং বললেন: বিলাল থেকে ইয়াকুব ব্যতীত আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি, আর তাঁর (ইয়াকুব) থেকে আব্দুল্লাহ ছাড়া কেউ এটি বর্ণনা করেননি, এতে হিশাম একক হয়ে গেছেন। আর বিলাল তাঁর পিতা থেকে খুব কম হাদিস বর্ণনা করেছেন—সমাপ্ত। আর বাকরিকে আবু হাতিম দুর্বল বলেছেন, কিন্তু বায়হাকির নিকট সহিহ সনদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: একদিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট গরম খাবার আনা হলো, তখন তিনি বললেন: আজকের আগে এতদিন যাবৎ আমার পেটে কোনো গরম খাবার প্রবেশ করেনি।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
بَلْ لِلدَّيْلَمِيِّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الصَّمَدِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ قَزَعَةَ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّه بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما رَفَعَهُ: أَبْرِدُوا بِالطَّعَامِ، فَإِنَّ الْحَارَّ لا بَرَكَةَ فِيهِ، وَلأَبِي نُعَيْمٍ فِي الْحِلْيَةِ مِنْ حَدِيثِ يُوسُفَ بْنِ أَسْبَاطٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم يَكْرَهُ الْكَيَّ وَالطَّعَامَ الْحَارَّ، وَيَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِالْبَارِدِ، فَإِنَّهُ ذُو بَرَكَةٍ أَلا وَإِنَّ الْحَارَّ لا بَرَكَةَ لَهُ، قَالَ: وَكَانَتْ لَهُ مَكْحَلَةٌ يَكْتَحِلُ بِهَا عِنْدَ النَّوْمِ ثَلاثًا ثَلاثًا، وَلأَحْمَدَ وَأَبِي نُعَيْمٍ أَيْضًا مِنْ حَدِيثِ ابْنِ لَهِيعَةَ عَنْ عُقَيْلٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ أَسْمَاءَ رضي الله عنها كَانَتْ إِذَا ثَرَّدَتْ غَطَّتْهُ بِشَيْءٍ حَتَّى يَذْهَبَ فَوْرُهُ، ثُمَّ تَقُولُ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: هُوَ أَعْظَمُ لِلْبَرَكَةِ وَهُوَ عِنْدَ كُلٍّ مِنْ أَحْمَدَ أَيْضًا وَالطَّبَرَانِيِّ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ، وَلِلطَّبَرَانِيِّ فِي الْكَبِيرِ بِسَنَدٍ فِيهِ مَنْ لَمْ يُسَمَّ عَنْ جُوَيْرِيَةَ رضي الله عنها أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَكْرَهُ الطَّعَامَ، حَتَّى تَذْهَبَ فَوْرَةُ دُخَانِهِ، وَلَهُ وَكَذَا لِلْبَيْهَقِيِّ فِي الشُّعَبِ عن خولة ابنة قَيْسٍ رضي الله عنها أَنَّهَا جَعَلَتْ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَرِيرَةً، وَقَدَّمَتْهَا إِلَيْهِ، فَوَضَعَ يَدَهُ فَوَجَدَ حَرَّهَا فَقَبَضَهَا وَقَالَ: يَا خَوْلَةُ لا نَصْبِرُ عَلَى حَرٍّ وَلا بَرْدٍ الْحَدِيثَ، وَفِي لَفْظٍ لأَحْمَدَ بِسَنَدٍ جَيِّدٍ فَأَحْرَقَتْ أَصَابِعَهُ، فَقَالَ: حَسِّ.
10 - حَدِيث: أَبْغَضُ الْحَلالِ إِلَى اللَّه الطَّلاقُ، أَبُو دَاوُدَ فِي سُنَنِهِ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ يُونُسَ عَنْ معرِّف بْنِ وَاصِلٍ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ رَفَعَهُ بِلَفْظِ: مَا أَحَلَّ اللَّه شَيْئًا أَبْغَضَ إِلَيْهِ مِنَ الطَّلاقِ، وَهَذَا مُرْسَلٌ، وَهُوَ وَإِنْ أَخْرَجَهُ الْحَاكِمُ فِي مُسْتَدْرَكِهِ مِنْ جِهَةِ مُحَمَّدِ بْنِ عُثْمَانَ
বরং দাইলামী বর্ণনা করেছেন আবদুস সামাদ ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি কাযাআ ইবনে সুওয়াইদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দীনার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা খাবার ঠান্ডা করো, কারণ গরম খাবারে বরকত নেই।" এবং আবূ নুআইম 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে ইউসুফ ইবনে আসবাত থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছেঁকা দেওয়া (দাগানো) এবং গরম খাবার অপছন্দ করতেন এবং বলতেন: "তোমরা ঠান্ডা খাবার গ্রহণ করো, কেননা তা বরকতময়। জেনে রেখো, গরম খাবারে কোনো বরকত নেই।" তিনি বলেন: তাঁর একটি সুরমাদানি ছিল যা দিয়ে তিনি ঘুমানোর সময় তিনবার করে সুরমা ব্যবহার করতেন। এবং আহমাদ ও আবূ নুআইম আরও বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহীআহ থেকে, তিনি উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে যে, আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) যখন সারিদ (এক প্রকার খাবার) তৈরি করতেন, তখন এর ভাপ চলে না যাওয়া পর্যন্ত তা কোনো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখতেন। এরপর তিনি বলতেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "এটি বরকতের জন্য অধিক কার্যকর।" এটি আহমাদ এবং তাবারানীর নিকটও অন্য সূত্রে বর্ণিত আছে। এবং তাবারানী 'কাবীর' গ্রন্থে এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে জনৈক নামহীন রাবী রয়েছে, জুওয়াইরিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খাবার অপছন্দ করতেন যতক্ষণ না তার ধোঁয়ার তীব্রতা চলে যায়। এবং তাঁর নিকট ও অনুরূপভাবে বাইহাক্বীর 'শুআবুল ঈমান'-এ খাওলা বিনতে কাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য হারীরা প্রস্তুত করেছিলেন এবং তা তাঁর সামনে পেশ করেছিলেন। তিনি তাঁর হাত রাখলেন এবং এর উত্তাপ অনুভব করায় হাত সরিয়ে নিলেন এবং বললেন: "হে খাওলা! আমরা গরম বা ঠান্ডার ওপর ধৈর্য ধরতে পারি না"—হাদিসের শেষ পর্যন্ত। এবং আহমাদের এক বর্ণনায় উত্তম সনদে এসেছে: "এটি তাঁর আঙ্গুলগুলো পুড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন তিনি বললেন: উফ!"
১০ - হাদিস: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় হালাল বিষয় হলো তালাক। আবূ দাঊদ তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আহমাদ ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি মুআররিফ ইবনে ওয়াসিল থেকে, তিনি মুহারিব ইবনে দিসার থেকে মারফূ সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ এমন কোনো কিছু হালাল করেননি যা তাঁর নিকট তালাকের চেয়ে বেশি অপ্রিয়।" এটি মুরসাল হাদিস। এবং এটি হাকিম তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে উসমানের সূত্রে বর্ণনা করলেও...
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
ابن أَبِي شَيْبَةَ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ يُونُسَ هَذَا فَوَصَلَهُ بِإِثْبَاتِ ابْنِ عُمَرَ فِيهِ، وَلَفْظُهُ: مَا أَحَلَّ اللَّه شَيْئًا أَبْغَضَ إِلَيْهِ مِنَ الطَّلاقِ، فَقَدْ رَوَاهُ ابْنُ الْمُبَارَكِ فِي الْبِرِّ وَالصِّلَةِ لَهُ، وَكَذَا أَبُو نُعَيْمٍ - الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ - كِلاهُمَا عَنْ مُعَرِّفٍ كَالأَوَّلِ، وَلِذَا قَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي عِلَلِهِ: الْمُرْسَلُ فِيهِ أَشْبَهُ، وَكَذَلِكَ صَحَّحَ الْبَيْهَقِيُّ إِرْسَالَهُ، وَقَالَ: إِنَّ الْمُتَّصِلَ لَيْسَ مَحْفُوظًا، وَرَجَّحَ أَبُو حَاتِمٍ الرَّازِيُّ أَيْضًا الْمُرْسَلَ، وَصَنِيعُ أَبِي دَاوُدَ مُشْعِرٌ بِهِ، فَإِنَّهُ قَدَّمَ الرِّوَايَةَ الْمُرْسَلَةَ، خِلافًا لِمَا اقْتَضَاهُ قَوْلُ الزَّرْكَشِيِّ: ثُمَّ رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ مُتَّصِلا عَنْ كَثِيرِ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ خَالِدٍ الْوَهْبِيِّ عَنْ مُعَرِّفٍ بِلَفْظِ التَّرْجَمَةِ، وَكَذَا رَوَاهُ عَنْ كَثِيرٍ - ابْنُ أَبِي دَاوُدَ وَابْنُ أَبِي عَاصِمٍ وَالْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ، كَمَا أَخْرَجَهُ الطَّبَرَانِيُّ عَنْهُ لَكِنْ رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ فِي سُنَنِهِ عَنْ كَثِيرٍ فَجَعَلَ بَدَلَ مُعَرِّفٍ عُبَيْدَ اللَّه بْنَ الْوَلِيدِ الْوَصَّافِيَّ، وَكَذَا هُوَ عِنْدَ تَمَّامٍ فِي فَوَائِدِهِ مِنْ حَدِيثِ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَمُحَمَّدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، كِلاهُمَا عَنِ الْوَصَّافِيِّ وَهُوَ ضَعِيفٌ، وَمِنْ جِهَتِهِ أَوْرَدَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي الْعِلَلِ الْمُتَنَاهِيَةِ، وَلَهُ شَاهِدٌ عِنْدَ الدَّارَقُطْنِيِّ فِي سُنَنِهِ مِنْ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ مَالِكٍ اللَّخْمِيِّ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ مُعَاذٍ رضي الله عنه مَرْفُوعًا، بِلَفْظِ: يَا مُعَاذُ! مَا خَلَقَ اللَّه شَيْئًا أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الْعِتَاقِ، ولا خلق الله شَيْئًا عَلَى وَجْهِ الأَرْضِ أَبْغَضَ إِلَيْهِ مِنَ الطَّلاقِ، فَإِذَا قَالَ الرَّجُلُ لِمَمْلُوكِهِ: أَنْتَ حُرٌّ إِنْ شَاءَ اللَّه فَهُوَ حُرٌّ لا اسْتِثْنَاءَ لَهُ، وإذا قال لامرأته: أنت طالق إن شاء اللَّه فله استثناؤه، ولا طلاق عليه، وَهُوَ عِنْدَ الدَّيْلَمِيِّ فِي مُسْنَدِهِ مِنْ جِهَةِ مُحَمَّدِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حُمَيْدٍ، وَلَفْظُهُ: إِنَّ اللَّه يُبْغِضُ الطَّلاقَ وَيُحِبُّ الْعِتَاقَ، وَلَكِنَّهُ ضَعِيفٌ بِالانْقِطَاعِ، فَمَكْحُولٌ لم يسمع من مُعَاذٍ، بَلْ وَحُمَيْدٌ مَجْهُولٌ، وَقَدْ قِيلَ عَنْهُ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ عَنْ مُعَاذٍ، وَقِيلَ عَنْهُ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ مُعَاذٍ، وَكُلُّهَا ضَعِيفَةٌ، وَالْحَمْلُ فِيهِ كَمَا قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ عَلَى حُمَيْدٍ، وَفِي الْبَابِ أَيْضًا عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه رَفَعَهُ: تَزَوَّجُوا وَلا تُطَلِّقُوا، فَإِنَّ الطَّلاقَ يَهْتَزُّ مِنْهُ الْعَرْشُ، أَخْرَجَهُ الدَّيْلَمِيُّ مِنْ حَدِيثِ جُوبَيْرٍ عَنِ الضَّحَّاكِ عَنِ النَّزَّال عَنْهُ وَسَنَدُهُ ضَعِيفٌ، وَعَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ
ইবনে আবি শাইবাহ আহমদ ইবনে ইউনুস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি এতে ইবনে উমরের নাম উল্লেখ করে একে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: আল্লাহ তালাকের চেয়ে অধিক অপ্রিয় কোনো বস্তুকে হালাল করেননি। ইবনুল মুবারক তাঁর আল-বিরর ওয়াস সিলাহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং একইভাবে আবু নুয়াইম - আল-ফজল ইবনে দুকাইন - উভয়েই প্রথম বর্ণনাকারীর ন্যায় মুআররিফ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। একারণেই আদ-দারা কুতনী তাঁর ইলাল গ্রন্থে বলেছেন: এক্ষেত্রে মুরসাল (বিচ্ছিন্ন) হওয়াটিই অধিক সদৃশ। একইভাবে আল-বাইহাকী এর মুরসাল হওয়াকে সহীহ বলেছেন এবং বলেছেন: নিশ্চয়ই মুত্তাসিল (সংযুক্ত) বর্ণনাটি সংরক্ষিত নয়। আবু হাতিম আর-রাজি ও মুরসাল বর্ণনাটিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আবু দাউদের কর্মপন্থাও এর প্রতি ইঙ্গিত করে, কেননা তিনি মুরসাল বর্ণনাটিকে আগে উল্লেখ করেছেন, যা যারকাশীর বক্তব্যের বিপরীত। যারকাশী বলেছিলেন: অতঃপর আবু দাউদ এটি কাসীর ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে খালিদ আল-ওয়াহবী থেকে, তিনি মুআররিফ থেকে শিরোনামের শব্দে মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে কাসীর থেকে এটি ইবনে আবু দাউদ, ইবনে আবু আসিম এবং আল-হুসাইন ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, যেমনটি তাবারানী তাঁর থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। কিন্তু ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে এটি কাসীর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে মুআররিফের পরিবর্তে উবাইদুল্লাহ ইবনে ওয়ালীদ আল-ওয়াসসাফীকে উল্লেখ করেছেন। তাম্মামের ফাওয়াইদেও সুলায়মান ইবনে আবদুর রহমান ও মুহাম্মদ ইবনে মাসরুক থেকে বর্ণিত হাদীসে এটি এভাবেই রয়েছে, তারা উভয়েই আল-ওয়াসসাফী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি জঈফ (দুর্বল)। তাঁর সূত্র থেকেই ইবনুল জাওজী এটি আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আদ-দারা কুতনীর সুনানে এর একটি শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে যা ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ থেকে, তিনি হুমায়দ ইবনে মালিক আল-লাখমী থেকে, তিনি মাকহুল থেকে এবং তিনি মুআজ (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত। এর শব্দ হলো: হে মুআজ! আল্লাহ তায়ালা দাসমুক্ত করার চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো কিছু সৃষ্টি করেননি এবং আল্লাহ তায়ালা যমীনের উপরিভাগে তালাকের চেয়ে অধিক অপ্রিয় কোনো কিছু সৃষ্টি করেননি। অতএব যদি কোনো ব্যক্তি তার দাসের উদ্দেশ্যে বলে: তুমি ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ যদি চান) মুক্ত, তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে এবং এতে কোনো ব্যতিক্রম কার্যকর হবে না। আর যদি সে তার স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলে: তুমি ইনশাআল্লাহ তালাকপ্রাপ্তা, তবে সে এই ব্যতিক্রমের সুযোগ পাবে এবং তার ওপর কোনো তালাক পতিত হবে না। এই বর্ণনাটি দায়লামীর মুসনাদে মুহাম্মদ ইবনে রাবী' থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি হুমায়দ থেকে বর্ণনা করেছেন। এর শব্দ হলো: নিশ্চয়ই আল্লাহ তালাককে ঘৃণা করেন এবং দাসমুক্ত করাকে পছন্দ করেন। তবে ইনকিতা (সূত্র বিচ্ছিন্নতা) থাকার কারণে এটি জঈফ; কেননা মাকহুল মুআজ (রা.) থেকে সরাসরি শোনেননি। অধিকন্তু হুমায়দ একজন মাজহুল (অপরিচিত) বর্ণনাকারী। তাঁর থেকে মাকহুল, মাকহুল থেকে মালিক ইবনে ইউখামির এবং মালিক থেকে মুআজ (রা.)-এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। আবার তাঁর থেকে মাকহুল, মাকহুল থেকে খালিদ ইবনে মা'দান এবং খালিদ থেকে মুআজ (রা.)-এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এর সব কটিই জঈফ। ইবনুল জাওজী যেমনটি বলেছেন, এর দায়-ভার হুমায়দের ওপর বর্তায়। এ অধ্যায়ে আলী (রা.) থেকেও একটি মারফু হাদীস বর্ণিত হয়েছে: তোমরা বিবাহ করো এবং তালাক দিও না, কেননা তালাকের কারণে আরশ কেঁপে ওঠে। দায়লামী এটি জুওয়াইবির থেকে, তিনি দাহহাক থেকে, তিনি নাজ্জাল থেকে এবং নাজ্জাল তাঁর (আলী রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদ জঈফ। আর আবু মুসা আল-আশ'আরী থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৫০)
مَرْفُوعًا: مَا بَالُ أَحَدِكُمْ يَلْعَبُ بِحُدُودِ اللَّه يَقُولُ: قَدْ طَلَّقْتُ قَدْ رَاجَعْتُ. وَكَأَنَّ ذَلِكَ حَيْثُ لَمْ يَكُنْ مَا يَقْتَضِيهِ، وَعَلَيْهِ يُحْمَلُ قَوْلُهُمُ: الطلاق يمين الفساق.
11 - حَدِيث: أَبْلِغُوا حَاجَةَ مَنْ لا يَسْتَطِيعُ إِبْلاغَ حَاجَتِهِ، فَإِنَّهُ مَنْ أَبْلَغَ سُلْطَانًا حَاجَةَ مَنْ لا يَسْتَطِيعُ إِبْلاغَهَا إِيَّاهُ ثَبَّتَ اللَّه قَدَمَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، الْبَيْهَقِيُّ فِي الدَّلائِلِ مِنْ حَدِيثِ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَلِيِّ بْنِ الحسين، ومن حَدِيثِ مَنْ لَمْ يُسَمَّ عَنِ ابْنٍ لأَبِي هَالَةَ كِلاهُمَا عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ رضي الله عنهما قَالَ: سَأَلْتُ خَالِيَ هِنْدَ بْنَ أَبِي هَالَةَ التَّمِيمِيَّ - وَكَانَ وَصَّافًا - عَنْ حِلْيَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَذَكَرَ حَدِيثًا طَوِيلا، وَفِيهِ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ: لِيُبْلِغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، وَأَبْلِغُونِي حَاجَةَ مَنْ لا يَسْتَطِيعُ إِبْلاغِي حَاجَتَهُ، وَذَكَرَهُ، وَهُوَ مِنَ الْوَجْهِ الأَوَّلِ عِنْدَنَا فِي مَشْيَخَةِ ابْنِ شَاذَانَ الصُّغْرَى، وَمِنَ الْوَجْهِ الثَّانِي فِي الْمُعْجَمِ الْكَبِيرِ لِلطَّبَرَانِيِّ. وَكَذَا فِي الشَّمَائِلِ النَّبَوِيَّةِ لِلتِّرْمِذِيِّ، لَكِنْ بِدُونِ الْقَصْدِ مِنْهُ هُنَا، وَأَخْرَجَهُ الْبَغَوِيُّ وَابْنُ مَنْدَهْ وَآخَرُونَ، وَرَوَاهُ الْفَقِيهُ نَصْرٌ فِي فَوَائِدِهِ مِنْ حَدِيثِ عَلِيِّ بِنْ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه مَرْفُوعًا: أَبْلِغُونِي. وَذَكَرَهُ بِزِيَادَةِ عَلَى الصِّرَاطِ، وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما، وهما بلفظ: مَنْ كَانَ وَصْلَةً لأَخِيهِ الْمُسْلِمِ إِلَى ذِي سُلْطَانٍ فِي تَبْلِيغِ برٍّ أَوْ تَيْسِيرِ عَسِيرٍ أَعَانَهُ اللَّه عَلَى إِجَازَةِ الصِّرَاطِ عِنْدَ دَحْضِ الأَقْدَامِ، وَهُمَا عِنْدَ الطَّبَرَانِيِّ، وَصَحَّحَ ثَانِيهِمَا الْحَاكِمُ، وَابْنُ حِبَّانَ، وَوَهِمَ الدَّيْلَمِيُّ فِي عَزْوَةِ لَفْظِ التَّرْجَمَةِ لِلطَّبَرَانِيِّ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، فَالَّذِي فِيهِ حَدِيثُ عَائِشَةَ وَابْنِ عُمَرَ، وَلَكِنْ بِلَفْظِ: رَفَعَهُ اللَّه فِي الدَّرَجَاتِ الْعُلَى مِنَ الْجَنَّةِ.
মারফু হিসেবে বর্ণিত: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর বিধান নিয়ে খেলা করছ? কেউ বলছে: আমি তালাক দিয়েছি, আমি আবার ফিরিয়ে নিয়েছি। আর এটি মনে হয় তখনকার কথা যখন তা করার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল না। তাদের এই কথার ওপরই ভিত্তি করা হয়েছে যে: তালাক দেওয়া ফাসেকদের শপথ।
১১ - হাদীস: যে ব্যক্তি তার প্রয়োজন পৌঁছাতে সক্ষম নয়, তার প্রয়োজন তোমরা পৌঁছে দাও। কেননা, যে ব্যক্তি কোনো শাসকের কাছে এমন ব্যক্তির প্রয়োজন পৌঁছে দেবে যে তা তার কাছে পৌঁছাতে অক্ষম, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার পা দু'টিকে স্থির রাখবেন। বায়হাকী 'আদ-দালাইল' গ্রন্থে জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা আলী বিন হুসাইন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া নাম উল্লেখ না করা একজন বর্ণনাকারী থেকে, তিনি আবু হালার এক পুত্র থেকে, উভয়ে হাসান বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আমার মামা হিন্দ বিন আবু হালা আত-তামিমীকে—যিনি ছিলেন গুণাবলি বর্ণনায় পারদর্শী—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রূপলাবণ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করেন। সেখানে উল্লেখ আছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন: উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। আর যে ব্যক্তি আমার কাছে তার প্রয়োজন পৌঁছাতে অক্ষম, তার প্রয়োজন তোমরা আমার কাছে পৌঁছে দাও। তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। এটি প্রথম সূত্রে আমাদের কাছে ইবন শাযানের 'মাশয়াখাতুস সুগরা' গ্রন্থে এবং দ্বিতীয় সূত্রে তাবারানীর 'আল-মু'জামুল কাবীর' গ্রন্থে রয়েছে। অনুরূপভাবে তিরমিযীর 'শামায়েলে মুহাম্মাদিয়া' গ্রন্থেও এটি আছে, তবে এখানে উদ্দেশ্যমূলক অংশটি ছাড়াই। এটি বাগাভী, ইবনে মানদাহ এবং অন্যরাও সংকলন করেছেন। ফকীহ নাসর তার 'ফাওয়াইদ' গ্রন্থে আলী বিন আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: 'তোমরা আমার কাছে পৌঁছে দাও'। তিনি এতে 'সিরাত' (পুলসিরাত)-এর ওপর অতিরিক্ত কথা উল্লেখ করেছেন। এই বিষয়ে আয়েশা এবং ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেও বর্ণনা রয়েছে। তাদের উভয়ের বর্ণনার ভাষা হলো: যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের কল্যাণ পৌঁছানোর জন্য অথবা কোনো কঠিন কাজ সহজ করার জন্য কোনো শাসকের কাছে যাওয়ার মাধ্যম হয়, আল্লাহ তাকে পুলসিরাত পার হতে সাহায্য করবেন যখন পাগুলো পিছলে যাবে। এই দুটি বর্ণনা তাবারানীর নিকট রয়েছে। হাকিম ও ইবনে হিব্বান দ্বিতীয় বর্ণনাটিকে সহীহ বলেছেন। দাইলামী অনুবাদের এই শব্দগুলো তাবারানীর উদ্ধৃতিতে আবু দারদা থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করেছেন। কারণ তাবারানীর কাছে মূলত আয়েশা ও ইবনে উমরের হাদীস রয়েছে, তবে সেখানে শব্দগুলো হলো: আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করবেন।
(খণ্ড: ১)
আল মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ান কাসীর মিনাল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল খুশত
(পৃষ্ঠা: ৫১)
12 - حَدِيث: ابْنُ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ مِنْ رِوَايَةِ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه مَرْفُوعًا فِي حَدِيثٍ، وَلَهُ طُرُقٌ عَنْ أَنَسٍ وَغَيْرِهِ، مِنْهَا لِلْبَزَّارِ عَنْ عَائِشَةَ، وَلِلطَّبَرَانِيِّ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ رَفَعَاهُ مُقْتَصِرِينَ عَلَيْهِ، وَمِنْهَا عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْعَرِيِّ، وَأَبِي مُوسَى، وَعُتْبَةَ بْنِ غَزْوَانَ، وَعَلِيِّ بْنِ رُكَانَةَ، وَحَدِيثُهُ عِنْدَ الدَّيْلَمِيِّ فِي مُسْنَدِهِ، بِلَفْظِ: يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ إِنَّ ابْنَ أُخْتِ الْقَوْمِ مِنْهُمْ أَوْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَيُنْظَرُ فِي قَوْلِ الْقَائِلِ:
وَإِنَّ ابْنَ أُخْتِ الْقَوْمِ مُصْغًى إِنَاؤُهُ
… إِذَا لَمْ يُزَاحِمْ خاله باب جلمد.
13 - حَدِيثُ: ابْنِ الذَّبِيحَيْنِ، الْحَاكِمُ فِي الْمَنَاقِبِ مِنْ مُسْتَدْرَكِهِ مِنْ حَدِيثِ عُبَيْدِ اللَّه بْنِ مُحَمَّدٍ الْعُتْبِيِّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّه بْنُ سَعِيدٍ عَنِ الصُّنَابِحِيِّ قَالَ: حَضَرْنَا مَجْلِسَ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ رضي الله عنهما فَتَذَاكَرَ الْقَوْمُ إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ أَبْنَاءَ إِبْرَاهِيمَ عليهم السلام، فَقَالَ بَعْضُهُمُ: الذَّبِيحُ إِسْمَاعِيلُ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: بَلْ إِسْحَاقُ، فَقَالَ مُعَاوِيَةُ رضي الله عنه: سَقَطْتُمْ عَلَى الْخَبِيرِ، كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم، فَأَتَاهُ أَعْرَابِيٌّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّه، خَلَّفْتُ الْبِلادَ يَابِسَةً، وَالْمَاءَ يَابِسًا، هَلَكَ الْمَالُ وَضَاعَ الْعِيَالُ، فَعُدْ عَلَيَّ مِمَّا أَفَاءَ اللَّه عَلَيْكِ يَا ابْنَ الذَّبِيحَيْنِ، قَالَ: فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم وَلَمْ يُنْكِرْ عَلَيْهِ، فَقُلْنَا: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ! وَمَا الذَّبِيحَانِ؟ قَالَ: إِنَّ عَبْدَ الْمُطَّلِبِ لَمَّا أَمَرَ بِحَفْرِ زَمْزَمَ نَذَرَ للَّه إِنْ سَهَّلَ لَهُ أَمْرَهَا أَنْ يَنْحَرَ بَعْضَ وَلَدِهِ، فَأَخْرَجَهُمْ فَأَسْهَمَ بَيْنَهُمْ، فَخَرَجَ السَّهْمُ لِعَبْدِ اللَّه، فَأَرَادَ ذَبْحَهُ فَمَنَعَهُ أَخْوَالُهُ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ، وَقَالُوا: أَرْضِ رَبَّكَ وَافْدِ ابْنَكَ. قَالَ: فَفَدَاهُ بِمِائَةِ نَاقَةٍ فَهُوَ الذَّبِيحُ، وَإِسْمَاعِيلُ الثَّانِي، وَهَكَذَا رَوَاهُ ابْنُ مَرْدَوَيْهِ وَالثَّعْلَبِيُّ فِي
১২ - হাদিস: কোনো সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত; এটি শু'বা কর্তৃক কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত একটি হাদিসের অংশ বিশেষ, যা মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)। আনাস এবং অন্যদের থেকে এর আরও অনেক সূত্র রয়েছে। তার মধ্যে আল-বজ্জার আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে এবং তাবারানি জুবায়ের ইবনে মুতয়িম থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তারা কেবল এ অংশটুকুর ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এর আরও কিছু বর্ণনা আবু মালিক আল-আশআরি, আবু মুসা, উতবাহ ইবনে গাজওয়ান এবং আলী ইবনে রু কানাহ থেকে পাওয়া যায়। আলী ইবনে রু কানাহ-এর বর্ণিত হাদিসটি আদ-দায়লামি তার মুসনাদে এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: "হে কুরাইশ সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই কোনো সম্প্রদায়ের ভাগ্নে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত অথবা তাদের নিজেদেরই একজন।" এবং এই কবির উক্তির দিকেও লক্ষ্য করা হয়:
নিশ্চয়ই কোনো সম্প্রদায়ের ভাগ্নের পাত্রটি নিচু করে রাখা হয় (সে অবহেলিত হয়)
… যতক্ষণ না সে তার মামার সাথে ‘জালমাদ’ দ্বারে ভিড় করে।
১৩ - হাদিস: দুই জবিহ (কুরবানি হওয়া ব্যক্তি)-এর সন্তান। আল-হাকিম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থের মানাকিব (মর্যাদা) অধ্যায়ে উবায়দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-উতবি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি সুনাবেহি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে লোকেরা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর দুই পুত্র ইসমাইল ও ইসহাক সম্পর্কে আলোচনা করছিল। তাদের কেউ কেউ বলল: জবিহ (যাকে কুরবানি দিতে বলা হয়েছিল) হলেন ইসমাইল, আবার কেউ কেউ বলল: বরং তিনি ইসহাক। তখন মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: তোমরা একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছেই এসেছ। আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় একজন বেদুইন তাঁর কাছে এসে বলল: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি পেছনে এমন দেশ রেখে এসেছি যা মরুপ্রায় এবং পানির উৎসসমূহ শুষ্ক হয়ে গেছে, গবাদি পশু ধ্বংস হয়েছে এবং পরিবার-পরিজন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সুতরাং আল্লাহ আপনাকে যে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ দান করেছেন তা থেকে আমাকে কিছু প্রদান করুন, হে দুই জবিহ-এর সন্তান!" বর্ণনাকারী বলেন: তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুচকি হাসলেন এবং তার কথার প্রতিবাদ করলেন না। তখন আমরা বললাম: হে আমিরুল মুমিনিন! দুই জবিহ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? তিনি বললেন: যখন আব্দুল মুত্তালিবকে জমজম কূপ খনন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন তিনি আল্লাহর কাছে মানত করেছিলেন যে, যদি আল্লাহ তাঁর জন্য এই কাজ সহজ করে দেন তবে তিনি তাঁর সন্তানদের একজনকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে জবেহ করবেন। এরপর তিনি যখন তাদের বের করলেন এবং লটারি করলেন, তখন লটারিতে আব্দুল্লাহর নাম বের হয়ে এল। তিনি তাকে জবেহ করতে চাইলেন কিন্তু বনু মাখজুম গোত্রীয় তাঁর মামারা তাকে বাধা দিলেন। তারা বললেন: আপনার রবকে অন্যভাবে সন্তুষ্ট করুন এবং আপনার সন্তানের মুক্তিপণ দিন। এরপর তিনি একশ উটের বিনিময়ে তাঁর মুক্তিপণ দিলেন। সুতরাং তিনিই জবিহ, আর ইসমাইল হলেন দ্বিতীয়জন। এভাবেই ইবনে মারদুইয়াহ এবং আস-সা’লাবি তাদের কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন।