(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: -)
أداء ما وجب من بيان وضع الوضاعين في رجب   (ابن دحية)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أداء ما وجب من بيان وضع الوضاعين في رجب

المؤلف: أبو الخطاب عمر بن حسن الأندلسي الشهير بابن دحية الكلبي (المتوفى: 633 هـ)

تحقيق: محمد زهير الشاويش [ت 1434 هـ]

تخريج: محمد ناصر الدين الألباني [ت 1420 هـ]

الناشر: المكتب الإسلامي

الطبعة: الأولى 1419 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 160

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রজব মাসে জালকারীগণের (الوضاعين) জালকরণ (وضع) বর্ণনার আবশ্যকতা পূরণ   (ইবনে দিহয়াহ)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রীয় মাসআলাসমূহ


বই: রজব মাসে জালকারীগণের (الوضاعين) জালকরণ (وضع) বর্ণনার আবশ্যকতা পূরণ

লেখক: আবু আল-খাত্তাব উমর বিন হাসান আল-আন্দালুসি, যিনি ইবনে দিহয়াহ আল-কালবি নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬৩৩ হিজরি)

সম্পাদনা (تحقيق): মুহাম্মদ জুহাইর আল-শাউইশ [মৃ. ১৪৩৪ হিজরি]

হাদিস সূত্রায়ন ও যাচাই (تخريج): মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি [মৃ. ১৪২০ হিজরি]

প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: -)
ـ[أداء ما وجب من بيان وضع الوضاعين في رجب]ـ

المؤلف: أبو الخطاب عمر بن حسن الأندلسي الشهير بابن دحية الكلبي (المتوفى: 633هـ)

تحقيق: محمد زهير الشاويش

تخريج: محمد ناصر الدين الألباني

الناشر: المكتب الإسلامي

الطبعة: الأولى 1419 هـ - 1998 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
[রজব মাসে জালিয়াতদের (الوضاعين) জালকরণ (وضع) এর স্বরূপ বর্ণনার আবশ্যকতা পূরণ]

লেখক: আবুল খাত্তাব উমর বিন হাসান আল-আন্দালুসি, যিনি ইবনে দিহইয়াহ আল-কালবি নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬৩৩ হিজরি)

সম্পাদনা: মুহাম্মদ জুহাইর আল-শাভিশ

হাদিস বিন্যাস ও মাননির্ণয় (تخريج): মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২)
جميع الحقوق محفوظة

الطَّبعَة الأولى

1419 هـ - 1998 مـ

 

المكتب الإسلامي

بيروت: صَ. بَ: 3771/ 11- هَاتف: 456280 (05)

دمَشق: صَ. بَ: 13079- هَاتف: 111637

عَمّان: صَ. بَ: 182065- هَاتف: 6605 5 46
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ

 

আল-মাকতাব আল-ইসলামি

বৈরুত: পি.ও. বক্স: ৩৭৭১/ ১১- ফোন: ৪৫৬২৮০ (০৫)

দামেস্ক: পি.ও. বক্স: ১৩০৭৯- ফোন: ১১১৬৩৭

আম্মান: পি.ও. বক্স: ১৮২০৬৫- ফোন: ৪৬ ৫ ৬৬০৫
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌تقديم

بقلم: زهير الشاويش

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ)

(يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا)

(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا) (1) .

--------------------------------------------

(1) هذه الخطبة تسمى عند العلماء ب "خطبة الحاجة" وقد خرجها الشيخ محمد ناصر الدين الألباني، وهي من مطبوعات المكتب الإسلامي.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

লিখনীতে: জুহাইর আল-শাউইশ

নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করো না।)

(হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাঞ্চা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।)

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।) (১) ।

--------------------------------------------

(১) এই খুতবাটি আলেমদের নিকট "খুতবাতুল হাজাহ" নামে পরিচিত এবং শায়খ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি এটি তখরিজ (تخريج) করেছেন; এটি আল-মাকতাব আল-ইসলামি-র প্রকাশনা।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ৪)
أما بعد:

فقد يسر الله لي مخطوطة هذا الكتاب.

"أداء ما وجب من بيان وضع الوضاعين في رجب"

فنظرت فيه ووجدته -بالجملة- من الكتب النافعة في توضيح السنة المطهرة لنوع من العبادة المبتدعة اشتهرت في زماننا، كما كانت مشتهرة في زمن المؤلف. وهي صيام جميع شهر رجب، وأحيانا متابعته بشهر شعبان المعظم في الصيام، ووصلهما مع الشهر المفروض صيامه؛ رمضان المبارك.

وقام أحد الإخوة الأكارم بنسخه، ووضعت عليها التعليقات التي وجدتها مناسبة، ثم قدمته إلى الشيخ محمد ناصر الدين الألباني ليخرج أحاديثه، كما كان الأمر بيننا أيام عمله في المكتب الإسلامي. فقام بذلك ثم شارك ببعض التعليقات -جزاه الله خيراً- وقد أثبت كل ما قاله، أو نقله مختوماً ب: (ن) .

والكتاب وإن كان مختصاً بأمر متعلق بعبادة مبتدعة، كان يكفي لردها صفحات قليلة، تقنع الذي يريد اتباع السنة المطهرة الواردة عن سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

غير أن المصنف رحمه الله توسع فيه بإيراد الكثير من علوم السنة المطهرة لأدنى مناسبة تجمع بينها، فجعله كتاب
অতঃপর:

আল্লাহ তাআলা আমার জন্য এই কিতাবটির পাণ্ডুলিপি সহজলভ্য করে দিয়েছেন।

"আদাউ মা ওয়াজাবা মিন বায়ানি ওয়াদয়িল ওয়াদ-দায়িনা ফী রজব"

আমি এটি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং মোটের ওপর এটিকে এক প্রকারের উদ্ভাবিত (مبتدعة) ইবাদতের ব্যাখ্যায় পবিত্র সুন্নাহকে সুস্পষ্ট করার ক্ষেত্রে একটি উপকারী কিতাব হিসেবে পেয়েছি, যা আমাদের যুগেও প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, যেমনটি লেখকের যুগেও প্রসিদ্ধ ছিল। আর তা হলো পুরো রজব মাস জুড়ে রোজা রাখা এবং কোনো কোনো সময় এর সাথে মহিমান্বিত শাবান মাসকেও যুক্ত করা এবং উভয় মাসকে ফরজ রোজার মাস রমজানুল মুবারকের সাথে মিলিয়ে ফেলা।

জনৈক সম্মানিত ভাই এটি অনুলিপি করার কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং আমি এতে প্রয়োজনীয় টীকাগুলো যুক্ত করেছি। অতঃপর আমি কিতাবটি শায়খ মুহাম্মদ নাসেরুদ্দিন আলবানী-র নিকট পেশ করি যেন তিনি এর হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) করে দেন, যেমনটি আল-মাকতাবুল ইসলামিতে তাঁর কর্মকালীন সময়ে আমাদের মাঝে প্রচলিত ছিল। অতঃপর তিনি তা সম্পাদন করেন এবং কিছু টীকা প্রদানের মাধ্যমেও অংশগ্রহণ করেন—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন—আর তিনি যা কিছু বলেছেন বা উদ্ধৃত করেছেন তার প্রতিটি আমি শেষে (ন) চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

কিতাবটি যদিও একটি উদ্ভাবিত (مبتدعة) ইবাদত সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর রচিত, যা খণ্ডন করার জন্য অল্প কিছু পৃষ্ঠাই যথেষ্ট ছিল—যা আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত পবিত্র সুন্নাহর অনুসরণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হতো।

কিন্তু লেখক (রহ.) সামান্যতম প্রাসঙ্গিকতা পেলেই এতে পবিত্র সুন্নাহর উলুম (علوم) এর অনেক বিষয় সন্নিবেশ করার মাধ্যমে কিতাবটিকে বিস্তৃত করেছেন, যার ফলে তিনি এটিকে এমন একটি কিতাবে পরিণত করেছেন
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ৫)
علم نادر في أبحاثه، فنجده ينتقل من بحث إلى غيره. ولا نكاد نرى أن هناك رابطاً واضحاً بينهما … ولكن عندما تمر بأبحاث الكتاب تراه يربط بينها برباط دقيق متقن، وعلم يدل على توسعه وإحاطته الشاملة، فجعل الكتاب يلزم القارئ بما قدمه إليه من علم نافع.

وقد تعرض لعدد من العلوم والأمور مبيناً أحكامها زيادة على موضوع صوم رجب.

ففي الصفحة 18 رد على المتبعين للحديث الموضوع:

"من أخلص لله أربعين صباحاً" لما بنوا عليه من خروج "الحكمة على لسانه" … وما ترتب على ذلك من مخالفات ومنها: اتخاذ الخلوة المبتدعة المؤدية إلى ضلال بعض المتصوفة.

وفي الصفحة 20 حديث عن خلق العقل، ومخالفته للأحاديث الصحيحة في أن أول مخلوق هو العرش، والذي أدى إلى زعم بعض المتصوفة؛ بأن أول مخلوق هو نور نبينا محمد صلى الله عليه وسلم، أو أن الله خلق الكون من أجله صلّى الله عليه وآله وصحبه وسلّم، ثم أدّاهم ذلك إلى وحدة الوجود، وهو الكفر الذي ما بعده كفر!!
তাঁর গবেষণায় এক বিরল জ্ঞান পরিলক্ষিত হয়; আমরা দেখতে পাই তিনি এক গবেষণা থেকে অন্য গবেষণায় প্রস্থান করছেন। এগুলোর মাঝে কোনো স্পষ্ট যোগসূত্র আছে বলে আমাদের কাছে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় না … কিন্তু যখন আপনি গ্রন্থের গবেষণাসমূহ পাঠ করবেন, তখন দেখতে পাবেন তিনি সেগুলোকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিপুণ বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। এটি এমন এক জ্ঞান যা তাঁর প্রশস্ত পাণ্ডিত্য ও ব্যাপক পরিবেষ্টনের ইঙ্গিত দেয়; ফলে গ্রন্থটি পাঠককে তার মাঝে উপস্থাপিত উপকারী ইলমের প্রতি নিবিষ্ট হতে বাধ্য করে।

তিনি রজব মাসের রোজার বিষয়ের অতিরিক্ত হিসেবে বেশ কিছু জ্ঞান ও বিষয়ের অবতারণা করেছেন এবং সেগুলোর বিধান বর্ণনা করেছেন।

১৮ পৃষ্ঠায় তিনি জাল (موضوع) হাদিস অনুসরণকারীদের খণ্ডন করেছেন:

"যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য চল্লিশ দিন ইখলাস অবলম্বন করল", এর ওপর ভিত্তি করে তারা "তার জিহ্বায় হিকমত বা প্রজ্ঞা প্রকাশ পাওয়া"-র যে বিষয়টির অবতারণা করেছে … এবং এর ফলে যেসব বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে তার মাঝে রয়েছে: বিদয়াতি নির্জনবাস গ্রহণ করা যা কিছু সুফির গোমরাহির দিকে ধাবিত করেছে।

আর ২০ পৃষ্ঠায় আকল বা বুদ্ধি সৃষ্টি সংক্রান্ত একটি আলোচনা রয়েছে, এবং এটি সেই সমস্ত সহিহ (صحيحة) হাদিসের পরিপন্থী যেখানে বলা হয়েছে যে প্রথম সৃষ্টি হলো আরশ। আর এই বিষয়টিই কিছু সুফির এই দাবির দিকে ধাবিত করেছে যে, প্রথম সৃষ্টি হলো আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নূর, অথবা আল্লাহ তাআলা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাহবিহি ওয়া সাল্লাম) খাতিরেই এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর এটি তাদেরকে ওয়াহদাতুল উজুদ বা অদ্বৈতবাদের দিকে নিয়ে গেছে, যা এমন এক কুফর যার পর আর কোনো কুফর নেই!!
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ৬)
وبعدها تعرض إلى صلاة نصف رجب وشعبان، وما سمي ب "صلاة الرغائب "، وما زادوا على ذلك من عبارات ما أنزل الله بها من سلطان.

وفصّل موضوع الذبائح في رجب، وعرّج على الأضاحي، وانظر استطراد الشيخ الألباني عليه في تعليقه.

ثم بين ما رخص به المبتدعة من الكرّامية من رواية أحاديث باطلة بالرقائق، وتعليقي على أمثالهم في أيامنا، واختراعهم عدم استمرار نبوة محمد صلى الله عليه وسلم بعد وفاته، وخلافهم مع ابن فورك مما كان سبب موته.

وفي الكتاب أبحاث كثيرة من علوم الحديث وروايته، وحكم الإجازات، وأكثرها ممن روى عنهم مباشرة من علماء زمانه، وبعض أسانيده وجدتها بعد المقارنة على ما عندنا، عزيزة نادرة.

وأضاف إليها العديد من إجازات العلماء له خاصة بكتب لا نكاد نرى لها اتصال فيما لدينا عن هذه الكتب. مما حفظ لنا الكثير من اتصال أسانيد هذه الكتب بمؤلفيها.

وفي الصفحة 120 رد الشيخ الألباني على المسمين ب: (القرآنيين) منكري السنة.
এরপর তিনি রজব ও শাবান মাসের মাঝামাঝি সময়ের সালাত এবং "সালাতুত রাগায়েব" (صلاة الرغائب) হিসেবে পরিচিত নামাজ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; এবং তারা এর সাথে এমন কিছু অতিরিক্ত বিষয় যুক্ত করেছে যার সপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি।

তিনি রজব মাসের জবেহকৃত পশুর বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং কোরবানির প্রসঙ্গের ওপর আলোকপাত করেছেন। এ বিষয়ে তাঁর টীকায় শেখ আলবানীর দীর্ঘ আলোচনাটি লক্ষ্য করুন।

অতঃপর তিনি বিদআতি (مبتدعة) কাররামিয়া ফেরকা কর্তৃক 'রিকাক' (الرقائق) বা হৃদয়স্পর্শী বিষয়ে বাতিল (باطلة) হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রদত্ত শিথিলতা বর্ণনা করেছেন এবং বর্তমান যুগে তাদের মতাদর্শীদের বিষয়ে আমার মন্তব্য তুলে ধরেছেন। সেই সাথে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর তাঁর নবুওয়াত অব্যাহত না থাকার বিষয়ে তাদের উদ্ভাবিত দাবি এবং ইবনে ফুরাকের সাথে তাদের বিরোধের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন, যা ছিল তাঁর মৃত্যুর কারণ।

এই কিতাবে হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) ও এর বর্ণনাপদ্ধতি (رواية) এবং ইজাজত (الإجازات) প্রদানের বিধান সংক্রান্ত অনেক গবেষণা রয়েছে। যার অধিকাংশ তাঁর সমসাময়িক আলেমদের থেকে সরাসরি বর্ণিত। আমি তুলনামূলক আলোচনার পর তাঁর বর্ণিত কিছু সনদ (أسانيد) আমাদের নিকট বিদ্যমান সংগ্রহের তুলনায় অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য (عزيزة) ও বিরল (نادرة) হিসেবে পেয়েছি।

তিনি এতে আলেমদের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে তাঁকে দেওয়া এমন কিছু কিতাবের অনেক ইজাজত (إجازات) যুক্ত করেছেন, যে কিতাবগুলোর বর্ণনাসূত্রের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) আমাদের কাছে থাকা কিতাবগুলোর ক্ষেত্রে সচরাচর দেখা যায় না। এটি আমাদের কাছে মূল লেখকদের সাথে এই কিতাবগুলোর সনদসমূহের (أسانيد) নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) সংরক্ষণে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।

১২০ নম্বর পৃষ্ঠায় শেখ আলবানী 'কুরআনি' (القرآنيين) বা সুন্নাহ অস্বীকারকারীদের খণ্ডন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ৭)
وفي الصفحة 129 حكى الشيخ ناصر عن الحديث المنقطع، وفي الصفحة 138 تعريف الحديث الحسن، ورأي الشيخ ناصر في ذلك، وتابعه في تعليقه على الصفحة 140 وهو بحث مفيد، وفي الصفحة 147 رد الألباني على ما سماه مجازفات للمصنف.

وعلقت عليها بما يوضح المراد، وفهرست لموضوعات الكتاب وأحاديثه وألفاظه وأسماء الكتب فيه.

وأسأل الله أن ينفع به ويعلمنا ما لم نعلم، إنه سميع مجيب وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

بيروت 3 جمادى الآخرة 1419

23 أيلول 1998
এবং ১২৯ পৃষ্ঠায় শেখ নাসির বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; আর ১৩৮ পৃষ্ঠায় হাসান (حسن) হাদিসের সংজ্ঞা এবং সে বিষয়ে শেখ নাসিরের অভিমত বর্ণিত হয়েছে। ১৪০ পৃষ্ঠায় তাঁর মন্তব্যে তিনি এর অনুগমন করেছেন যা একটি অত্যন্ত উপকারী গবেষণা। আর ১৪৭ পৃষ্ঠায় আলবানী গ্রন্থকারের সেই সব উক্তির জবাব দিয়েছেন যেগুলোকে তিনি দুঃসাহসিক দাবি বলে অভিহিত করেছেন।

আমি সেগুলোর ওপর এমন টীকা সংযোজন করেছি যা উদ্দীষ্ট অর্থকে স্পষ্ট করে। এছাড়া আমি বইটির বিষয়বস্তু, হাদিসসমূহ, শব্দাবলি এবং এতে উল্লিখিত গ্রন্থসমূহের নামের নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যাতে তিনি এর দ্বারা কল্যাণ দান করেন এবং আমাদের তা শিক্ষা দেন যা আমরা জানি না; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও কবুলকারী। আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

বৈরুত, ৩ জমাদিউল আখিরাত ১৪১৯

২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ترجمة المصنف

عمر بن حسن بن دحية الكلبي (*)

ولد سنة (544) ، وقيل (547) من أهل سبتة (1) ، وتولى قضاء دانية. كان من حفاظ الحديث بصيرا به، وبلغة العرب وأشعارها، وأيام الحروب.

اجتمعت له الإجازات الكثيرة بالرواية عن علماء عصره، له محفوظات وافية، وأدب ظاهر فصيح العبارة.

ظاهري المذهب في الفقه، حصّل من العلوم ما لم يتيسر لغيره، وكان من أوعية العلم، سريا نبيلا من أعيان العلماء.

رحل من الأندلس إلى المغرب والشام والعراق وخراسان،

--------------------------------------------

(*) كان اسمه في المخطوطة (حسن بن علي) وبعد جهد تأكدنا أن ذلك خطأ من الناسخ، وفي "نفح الطيب" 1/374 جعل أبوه (الحسين) ولعله تصحيف أيضا، والحمد لله رب العالمين.

(1) في كل تراجمه جعلت سبتة من الأندلس، مع أنها من الساحل المغربي، على بحر الزقاق. وحتى الآن فيها استعمار إسباني.. اللهم إلا إذا كان في الأندلس مدينة أخرى بهذا الاسم، فقد كان من عادة أهل الأندلس تسمية بلادهم بأسماء مدن معروفة في الشرق.
গ্রন্থকারের পরিচিতি

উমর বিন হাসান বিন দিহইয়া আল-কালবি (*)

তিনি ৫৪৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, মতান্তরে ৫৪৭ হিজরিতে। তিনি সেউতা (১) অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন এবং দানিয়া অঞ্চলের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হাদিস মুখস্থকারী (حافظ) ও এই শাস্ত্রে গভীর অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন। এছাড়া তিনি আরবি ভাষা, কাব্য এবং যুদ্ধবিগ্রহের ইতিহাস সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন।

তিনি তাঁর সমকালীন আলেমদের নিকট হতে বর্ণনা (رواية) করার বহু অনুমতি (إجازة) লাভ করেন। তাঁর সংগ্রহে পর্যাপ্ত জ্ঞান ভাণ্ডার ছিল এবং তিনি ছিলেন সাবলীল প্রকাশভঙ্গি ও সুস্পষ্ট সাহিত্যের অধিকারী।

ফিকহ শাস্ত্রে তিনি জাহিরি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি এমন সব জ্ঞান অর্জন করেছিলেন যা অন্যদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তিনি ছিলেন জ্ঞানের আধার এবং শ্রেষ্ঠ আলেমদের মধ্যে অন্যতম একজন মহান ব্যক্তিত্ব।

তিনি আন্দালুস থেকে মরক্কো, শাম, ইরাক এবং খোরাসান সফর করেন।

--------------------------------------------

(*) পাণ্ডুলিপিতে তাঁর নাম ছিল (হাসান বিন আলী), কিন্তু নিবিড় প্রচেষ্টার পর আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে এটি লিপিকারের ভুল। "নাফহুত তীব" গ্রন্থের ১/৩৭৪ পৃষ্ঠায় তাঁর পিতার নাম (আল-হুসাইন) উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভবত এটিও একটি লিখনশৈলীর ভুল (تصحيف), আর সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

(1) তাঁর সকল জীবনীগ্রন্থে সেউতাকে আন্দালুসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও এটি মরক্কোর উপকূলীয় অঞ্চলে জিব্রাল্টার প্রণালীর তীরে অবস্থিত। এমনকি বর্তমান সময় পর্যন্ত এটি স্পেনের উপনিবেশ হিসেবে রয়েছে। তবে যদি আন্দালুসে এই নামে অন্য কোনো শহর থেকে থাকে (তবে ভিন্ন কথা), কারণ প্রাচ্যের বিখ্যাত শহরগুলোর নামে নিজ দেশের শহরের নামকরণ করা আন্দালুসবাসীদের অভ্যাস ছিল।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ৯)
واستقر في مصر، وكانت له منزلة رفيعة عند الملك الكامل، ونال عنده دنيا عريضة، وجاهأ واسعاَ. وجاء في ترجمة الملك الكامل: "أنه كان مشغوفا بسماع الحديث النبوي، وتقدم عنده أبو الخطاب ابن دحية، وبنى له دار الحديث الكاملية بين القصرين بالقاهرة". وكانت له مكتبة حافلة جداً، جمع فيها ما لم يتيسر لغيره ولا حتى للملوك.

وله العديد من المؤلفات منها:

كتابنا هذا، و"المطرب من أشعار أهل المغرب" و"الآيات البينات"، و"نهاية السول في خصائص الرسول"، و"النبراس في تاريخ خلفاء بني العباس"، وغير ذلك.

كان كثير الهجاء للناس، بل حتى لبعض الأئمة- تبعاً لشيخ مذهبه الإمام علي بن أحمد بن سعيد بن حزم- فقام الناس عليه وكذبوه، وتناظر مع الشيخ تاج الدين الكندي.

كان سنياً مجانباً لأهل البدع، وكتابه هذا، ردّ به على من زعم من المتصوفة وغيرهم إيجاب صيام رجب، بل الأشهر الثلاثة.

وألف كتاب "التنوير في مولد السراج المنير"، صنفه عند قدومه إلى إربل سنة (604) ، لما رأى صاحبها مظفر الدين كولبري معتنياً بعمل الموالد كل عام، فهو أول من اخترع بدعة
তিনি মিসরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সুলতান আল-মালিকুল কামিলের নিকট তিনি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন। তাঁর সান্নিধ্যে তিনি প্রচুর পার্থিব সম্পদ ও ব্যাপক প্রভাব-প্রতিপত্তি লাভ করেন। আল-মালিকুল কামিলের জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে যে: "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস শ্রবণের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। আবুল খাত্তাব ইবনে দিহইয়া তাঁর নিকট বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেন এবং সুলতান কায়রোর বাইনাল কাসরাইন এলাকায় তাঁর জন্য ‘দারুল হাদিস আল-কামিলিয়া’ নির্মাণ করে দেন।" তাঁর একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ছিল, যেখানে তিনি এমন সব কিতাব সংগ্রহ করেছিলেন যা অন্যদের, এমনকি সমকালীন রাজাদের পক্ষেও সম্ভব হয়নি।

তাঁর অসংখ্য রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

আমাদের এই বর্তমান গ্রন্থটি, এবং "আল-মুতরিব মিন আশআর আহলিল মাগরিব", "আল-আয়াতুল বাইয়িনাত", "নিহায়াতুস সূল ফী খাসাইসির রাসূল", "আন-নিবরাস ফী তারিখি খুলাফাই বানি আব্বাস" সহ আরও অনেক।

তিনি মানুষের প্রতি প্রচুর বিদ্রূপ ও সমালোচনা করতেন, এমনকি তাঁর মাযহাবের শাইখ ইমাম আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজমের অনুকরণে কিছু ইমামের প্রতিও তিনি কটাক্ষ করতেন। ফলে লোকজন তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং তাঁকে মিথ্যাবাদী (كذاب) সাব্যস্ত করে। তিনি শাইখ তাজউদ্দীন আল-কিন্দির সাথে বিতর্কেও লিপ্ত হয়েছিলেন।

তিনি সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন এবং বিদআতীদের (أهل البدع) এড়িয়ে চলতেন। তাঁর এই কিতাবটি মূলত সেইসব সূফী ও অন্যান্যদের খণ্ডন করে লেখা হয়েছে যারা রজব মাসে, এমনকি টানা তিন মাস রোজা রাখা আবশ্যক বলে মনে করে।

তিনি "আত-তানভীর ফী মাওলিদিস সিরাজিল মুনীর" গ্রন্থটি রচনা করেন। ৬০৪ হিজরিতে তিনি যখন ইরবিলে আগমন করেন এবং সেখানকার শাসক মুজাফফর উদ্দিন কুকুবরীকে প্রতি বছর মিলাদ মাহফিল পালনে অত্যন্ত আগ্রহী দেখেন, তখন তিনি এটি লিখেছিলেন। মূলত তিনিই প্রথম এই বিদআতের (بدعة) উদ্ভাবন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১০)
الاحتفال بالمولد، ولم تكن قبل ذلك، مع أن محبة سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم موجودة في القلوب والأعمال، وواجبة في الاقتداء والاتباع بكل الأحوال.

توفي في مصر في (14) ربيع الأول سنة (633) ، وعمره (87) سنة.
মিলাদ উদযাপন, এবং এর আগে এটি ছিল না; যদিও আমাদের সায়্যিদিনা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা অন্তরে ও আমলে সদা বিদ্যমান ছিল এবং সর্বাবস্থায় তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণ ছিল অপরিহার্য (واجب)।

তিনি ৬৩৩ হিজরি সনের ১৪ই রবিউল আউয়াল মিশরে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌إهداء الكتاب

إلى الملك الكامل ابن العادل ناصر الدين (*)

أمْلاه للْمقام العالي المَولَويّ السيدي السُّلطانيّ الملِكي الكَامليّ الناصري، سُلطانُ الإسلام والمسْلمين، سَيّد الملوكِ والسَّلاطين، محي سُنّة سَيد المرسلين، مُظهِر العَدْلِ في العَالمين، مولانا المَلِك الكامِل ناصرُ الدّنيا والدّين.

خليل أمير المؤمنين خَلّد الله أيامَه، ونَصَر أعْلامَهُ، وأطال عُمره للبريّة، يغْمرُها إحسانُه وامتنانُه، ؤللبَسيطة يَعْمرها عذلهُ وَأمانهُ.

--------------------------------------------

(*) هو أبو المعالي السلطان الكامل محمد. ولد سنة 576، وتوفي سنة 635، ودفن بدمشق. تملك الديار المصرية تحت جناح والده العادل أبي بكر محمد مدة عشرين سنة وكذلك بقي بعد والده عشرين سنة أخرى. وتزوج ابنة السلطان صلاح الدين الأيوبي رحمه الله، وتملك دمشق قبل موته بشهرين.

وكان صحيح الإسلام، حسن الإعتقاد، معظماً للسنة=
গ্রন্থ উৎসর্গ

আল-মালিকুল কামিল ইবনুল আদিল নাসিরুদ্দীন-এর প্রতি (*)

এটি উচ্চমর্যাদাশীল, মওলভী, সাইয়্যেদি, সুলতানি ও মালিকি শান-শওকত সম্পন্ন ‘কামিলি’ ও ‘নাসিরি’ উচ্চাসনের উদ্দেশ্যে শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে; যিনি ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সুলতান, রাজা ও সুলতানগণের সরদার, রাসূলগণের শ্রেষ্ঠতম সত্তার সুন্নাহর পুনর্জীবক, বিশ্বজুড়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী, আমাদের অভিভাবক আল-মালিকুল কামিল নাসিরুদ দুনিয়া ওয়াদ দীন।

আমীরুল মুমিনীনের বন্ধু; আল্লাহ তাঁর শাসনকালকে চিরস্থায়ী করুন, তাঁর পতাকাসমূহকে সাহায্য করুন এবং সৃষ্টিজগতের কল্যাণে তাঁর হায়াত দরাজ করুন; তাঁর ইহসান ও করুণা যেন সৃষ্টিজগতকে প্লাবিত করে এবং ইনসাফ ও নিরাপত্তার মাধ্যমে তিনি যেন পৃথিবীকে আবাদ করেন।

--------------------------------------------

(*) তিনি হলেন আবুল মা'য়ালি সুলতান আল-কামিল মুহাম্মাদ। তিনি ৫৭৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং দামেস্কে সমাহিত হন। তিনি তাঁর পিতা আল-আদিল আবু বকর মুহাম্মাদের ছত্রছায়ায় বিশ বছর মিশরীয় ভূখণ্ড শাসন করেন এবং একইভাবে পিতার ইন্তেকালের পর আরও বিশ বছর শাসক হিসেবে বহাল থাকেন। তিনি সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কন্যাকে বিবাহ করেন এবং ইন্তেকালের দুই মাস পূর্বে দামেস্কের ক্ষমতা লাভ করেন।

তিনি বিশুদ্ধ (صحيح) ইসলামের অনুসারী ও সুন্দর আকিদার অধিকারী ছিলেন এবং সুন্নাহর প্রতি পরম শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১২)
أصْغر (#) عبِيد الله ذو النسبين بن دِحْيةَ، والحُسين رضي الله عنهما وأبقاه، أبو الخطاب ابن الشيخ الإمام الفاضل ذي الحَسبين والنسَبَين:

أبي عَلي حسَن بن علي، سبط الإمام أبي البَسام الفاطِمي الحُسَيني الكوفي.

أمتَع الله الأمة بطولِ بقائه، وزادَ فِي حِرَاسة مَجدِه وكبت أعدَائِه.

--------------------------------------------

= النبوية، محباً لمجالس العلماء وفيه عدل وكرم وحياء. وله هيبة شديدة، حازماً في جميع أموره، لا يضع الشيء إلا في موضعه، من غير إسراف ولا تقتير.

وكان يلقب ب (خليل أمير المؤمنين) و (خادم الحرمين الشريفين) وخطب باسمه في مكة المكرمة. وله في اتساع ملكه حسنات كثيرة. وأخذ عليه تسليمه بيت المقدس إلى الفرنج لمدة بسيطة، أثناء الحروب بينه وبينهم، ووجود التتار في المنطقة، والاضطرابات الداخلية.

 

(#) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: (أصغرُ) هو فاعل قوله (أمْلاه للْمقام العالي. . .) الماضي في الصفحة السابقة
অসগর (#) উবায়দুল্লাহ যুন-নাসাবাইন ইবনে দিহয়া এবং আল-হুসাইন (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন এবং তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন), আবু আল-খাত্তাব; যিনি আভিজাত্য ও মর্যাদাপূর্ণ বংশের অধিকারী শেখ, ফাজেল ও ইমামের পুত্র:

আবু আলী হাসান বিন আলী, যিনি ইমাম আবু আল-বাসসাম আল-ফাতিমি আল-হুসাইনি আল-কুফির দৌহিত্র।

আল্লাহ তাঁর দীর্ঘ হায়াতের দ্বারা উম্মাহকে উপকৃত করুন, তাঁর গৌরবের সুরক্ষা বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর শত্রুদের অবদমিত করুন।

--------------------------------------------

= নবুওয়াতী [আদর্শের অনুসারী], আলেমদের মজলিসের প্রতি অনুরাগী এবং তাঁর মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা (عدل), বদান্যতা ও শালীনতা ছিল। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন, নিজ সকল বিষয়ে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; অপচয় কিংবা কার্পণ্য ব্যতিরেকে কোনো বিষয়কে তার উপযুক্ত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও রাখতেন না।

তাঁকে 'খলীল আমীরুল মু'মিনীন' এবং 'খাদেমুল হারামাইন আশ-শারিফাইন' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল এবং মক্কা মুকাররমায় তাঁর নামে খুতবা দেওয়া হতো। তাঁর সাম্রাজ্যের বিস্তৃতিতে তাঁর অনেক জনহিতকর অবদান রয়েছে। তবে ক্রুসেডারদের সাথে যুদ্ধ, ওই অঞ্চলে তাতারদের উপস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা চলাকালীন স্বল্প সময়ের জন্য ফ্রঙ্কদের (ক্রুসেডার) কাছে বায়তুল মাকদিস হস্তান্তর করার কারণে তাঁর সমালোচনা করা হয়েছে।

 

(#) আল-শামেলা সংস্করণের গ্রন্থ প্রস্তুতকারী বলেছেন: 'অসগর' শব্দটি হলো পূর্ববর্তী পৃষ্ঠায় উল্লিখিত "তিনি উচ্চ মর্যাদার জন্য এটি শ্রুতিলিপি করেছিলেন..." বাক্যটির কর্তা।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي رفعَ لحديث محمّد المصْطفى عبْده ورَسُوله لواءً منشوراً، وأطْلَع على الأبْصار والبصَائر من معْجزاته أهِلَّة مُشرقةً وبدُوراً، وجعل عَاقبةَ أهل الصِّدْق عُلوّاًَ دائماً وظهوراً، وَعَمَر بتصانيفهم عَيناً قريرةً وقلباً مسروراً، وَوضعَ لهمْ في رقاب الكذابين سْيفاً في ذات الله ناصراً منصوراً، وَأبانَ بِشفَارِ الدِّين قوماً كانوا بالضلالة بُوراً (1) ، وَرَدَّ ناكصاً على عَقِبيه من سوَّلَ لَه الشيطانُ الكَذِبَ عَليه بما يَعِده، وما يَعِدُه الشيْطانُ إلّا غُروراً.

والصَّلاة على سَيدِ وَلد آدم محمّدٍ رسوله الكريم، ذي الخُلُق العَظِيم، وَالشرفِ الصَّميم (2) ، الذي غَدا به دَمُ الشركِ مهْدُوراً، ودَابِرُهُ مقطوعاً مَبْتوراً، فَهدمَ من الباطِلِ سَقفاً مرفوعاً وبَيْتاً معمُوراً.

--------------------------------------------

(1) البوَار: الهلاك، وبار الشيء يبُور بَوْاراً إذا هلك. والرجُل بورٌ أي هالك. وفي التنزيل (وَكُنْتُمْ قَوْمًا بُورًا) [الفتح: 12] .

(2) صميم الشيء: خالصه. مختار الصحاح مادة: صمم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মদ মুস্তাফার হাদিসের জন্য এক সমুন্নত ও উন্মোচিত ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছেন। তিনি (মানুষের) বাহ্যিক দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টির সামনে তাঁর মুজিজাসমূহ থেকে উজ্জ্বল উদীয়মান বাঁকা চাঁদ ও পূর্ণিমা প্রকাশিত করেছেন। তিনি সত্যবাদীদের পরিণামকে সর্বদা সুউচ্চ ও বিজয়ী করেছেন। উলামায়ে কেরামের রচনার মাধ্যমে তিনি চক্ষুসমূহকে শীতল এবং অন্তরসমূহকে আনন্দিত করেছেন। তিনি মিথ্যাবাদীদের (الكذابين) গ্রীবায় আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য ও বিজয়ী করার উদ্দেশ্যে একটি ধারালো তলোয়ার স্থাপন করেছেন। তিনি দ্বীনের ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে সেই সম্প্রদায়কে পৃথক করেছেন যারা ভ্রষ্টতার কারণে ধ্বংসোন্মুখ (১) ছিল। আর তিনি তাকে লাঞ্ছিত ও পরাজিত অবস্থায় ফিরিয়ে দিয়েছেন, যার কাছে শয়তান রাসুলের ওপর মিথ্যারোপ (الكذب) করার বিষয়টিকে সুশোভিত করেছে এবং তাকে প্রলোভন দেখিয়েছে; অথচ শয়তান তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আর সালাত বর্ষিত হোক বনী আদমের সরদার, আল্লাহর সম্মানিত রাসুল মুহাম্মদের ওপর; যিনি মহান চরিত্রের অধিকারী এবং সুউচ্চ আভিজাত্যের (২) অধিকারী। যাঁর মাধ্যমে শিরকের রক্ত মূল্যহীন হয়ে পড়েছে এবং তার অস্তিত্ব সমূলে উৎপাটিত হয়েছে; ফলে তিনি বাতিলের সুউচ্চ ছাদ ও সুসজ্জিত গৃহকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-বাওয়ার (البوار): ধ্বংস হওয়া; যখন কোনো কিছু ধ্বংস হয় তখন বলা হয় 'বারাশ শাইউ ইয়াবুর'। আর 'রাজুলুন বুর' অর্থ ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি। পবিত্র কোরআনে এসেছে: "আর তোমরা ছিলে এক ধ্বংসোন্মুখ জাতি।" [সুরা আল-ফাতহ: ১২]।

(২) কোনো কিছুর সামিম (صميم): এর মূল বা খাঁটি অংশ। মুখতারুস সিহাহ, মূল শব্দ: صمم।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعلى آلهِ وأصْحابِه الّذين غَدا بهم حزبُ الشريعَةِ مَوْفوراً، وجمْعُ الشرك مغلُوباً مَقهوراَ، فهم خيْر الناسِ وَخيْر القرونِ، وَكِلا الخيريْن لهُم خيْرٌ مَقْرون، قارَعُوا دُونَ رسول الله صلى الله عليه وسلم البُهَم (1) ، وَبايعُوه عَلى الموتِ الأحَمْر (2) ، فصَدَقوا البَيْع وَوَفّوا الذممَ، وَلم يَقولوا: اذهبْ أنْتَ ورَبك فَقَاتلا كما قال منْ تقدّم، فكانوا خُلَفَاءَ الخلْقِ وَفَتحةَ الغَرب والشرق، وَقد نَطقَ بِفضْلهم القُرآنُ (3) ، وقامَ الدَّليل القاطعُ على عَدَالتِهم وَالبُرْهان، وهُم الذينَ أمَرهم بالتبليغ عَنه ففَعَلوا ذَلِكَ مُحْتسبين نَاصِحين حتى كمُل بما نقلوه الذين وثَبَتتْ حجّة الله على جَميع المسْلِمين، وَقد أخْبَرنا الله جل جلاله أنّه رضي عَنهم، وأنْزل السَّكيْنةَ عليْهم، فَقدْ صحّتْ لهم العِصْمةُ مِن

--------------------------------------------

(1) البُهم: جمع بُهْمَة، وهو الفارس الذي لا يدري من أين يؤتى من شدة بأسه، قاله أبو عبيد.

(2) يُقالُ احمرَّ البأسُ: أي اشتد.

(3) بمثل قوله تعالى: (مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ) [الفتح: 29] ، وغيرها من الآيات الكريمة.
এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের প্রতি, যাঁদের মাধ্যমে শরিয়তপন্থী দল সমৃদ্ধ হয়েছে এবং শিরককারী গোষ্ঠী পরাজিত ও পর্যুদস্ত হয়েছে। তাঁরা ছিলেন মানবজাতির শ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম প্রজন্মের (القرون) অন্তর্ভুক্ত; উভয় কল্যাণই তাঁদের জন্য অবিচ্ছেদ্য ও সুনিশ্চিত ছিল। তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুরক্ষায় দুর্ভেদ্য বীরদের (البُهَم) মোকাবিলা করেছেন এবং তাঁর কাছে মৃত্যুপণ (الموت الأحمر) বায়আত গ্রহণ করেছেন। অতঃপর তাঁরা তাঁদের অঙ্গীকারে সত্যনিষ্ঠ থেকেছেন এবং প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। তাঁরা পূর্ববর্তীদের মতো বলেননি যে: "আপনি এবং আপনার রব গিয়ে যুদ্ধ করুন," বরং তাঁরা ছিলেন সৃষ্টির প্রতিনিধি এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিজয়ী। পবিত্র কুরআন তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেছে এবং তাঁদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالتهم) ওপর অকাট্য দলিল ও প্রমাণ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁরাই সেই মহান ব্যক্তিত্ব যাঁদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পক্ষ থেকে দ্বীন প্রচারের নির্দেশ দিয়েছিলেন; তাঁরা সওয়াবের আশায় এবং উম্মতের কল্যাণকামী হয়ে তা পালন করেছেন। এমনকি তাঁদের বর্ণিত বিষয়ের মাধ্যমেই দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে এবং সকল মুসলিমের ওপর আল্লাহর অকাট্য প্রমাণ (حجّة) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ জাল্লা জালালুহু আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁদের ওপর প্রশান্তি নাজিল করেছেন। ফলে তাঁদের জন্য সুরক্ষা (العصمة) সাব্যস্ত হওয়া প্রমাণিত (صحّت) হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) বুহ্‌ম: এটি 'বুহ্‌মাহ' শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো এমন অশ্বারোহী যোদ্ধা যার প্রচণ্ড বিক্রমের কারণে কোন দিক থেকে তাকে আক্রমণ করা যাবে তা বোঝা যায় না। কথাটি আবু উবাইদ বলেছেন।

(২) বলা হয় 'যুদ্ধ লাল হয়েছে' (আহমাররল বা'স): অর্থাৎ তা অত্যন্ত তীব্রতর হয়েছে।

(৩) যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর" [সূরা ফাতহ: ২৯], এবং এ জাতীয় অন্যান্য মহিমান্বিত আয়াতসমূহ।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১৫)
تَعمُّد الفُسوق، على رَغم كُل رافِضي مُعانِد (1) إذْ لا تجتمعُ السكيْنةُ والفِسْقُ في قَلبٍ واحد.

وَلمّا كثر اخْتِلاف الناسِ في هذا الشهرِ المُسَمَّى بِرجَب، وَقل العارِفُ به المتكلّمُ فِيه بمَا وجَب، حتى قال بَعضُهم فِي نهاره بِفَضيلةِ صِيَامِه، وَنَزَعَ بَعضُهم في لَيْلهِ إلى الاعْتِناءِ بِقيَامِه، وَجَعَله منْ لا يدري مفضلاً على الشهور، وَزاده فضيلة على الأربعة الحرم في المذكور، وَكثر الخبط في ذلك بين العوام، وَلم يكن من الخواص من يعرف ما فيه من الكلام، تعينَ في شرع الله عليَّ من جهة ما ألقى زمامه من العلم إليَّ أنْ أخص هذا الشهر بما فيه، وأتكلم على جملة معانيه، بما يجمع بيْن الشرح والتفسير، وذكر ما صَحّ عن البشير النذير، رفْعاً للكذب عن رسول الله عليه الصلاة والسلام، وعملاً بمقتضى ما اقتضاه الكلام.

--------------------------------------------

(1) يلاحظ أن المؤلف ذكر الرافضي المعاند، وهو الذي رفض الصحابة الكرام، وسماهم بذلك الإمام علي زين العابدين ابن الحسين رضي الله عنه واصفاً إياهم بهذا الوصف. وأما من اختلف في تقديم صحابي على غيره فأمره أسهل، ولا يوصف ب (الرفض) إذا أقر بخلافة أبي بكر وعمر وعثمان رضي الله عنهم.
ইচ্ছাকৃত পাপাচার (فسوق), প্রত্যেক হঠকারী রাফেজি (رافضي) হওয়া সত্ত্বেও (১); কেননা প্রশান্তি এবং পাপাচার (فسق) কখনো এক হৃদয়ে একত্রিত হতে পারে না।

যখন রজব নামে পরিচিত এই মাসটি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে মতভেদ বৃদ্ধি পেল এবং এই বিষয়ে যা বলা আবশ্যক তা নিয়ে কথা বলার মতো প্রাজ্ঞ ব্যক্তির সংখ্যা কমে গেল, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর দিনের বেলায় রোজা রাখার ফজিলত নিয়ে কথা বলল, আবার কেউ কেউ এর রাতে কিয়াম বা ইবাদতের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রবণতা দেখাল। আর অজ্ঞ ব্যক্তিরা একে অন্যান্য মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করল এবং উল্লেখিত চারটি সম্মানিত মাসের ওপর এর ফজিলতকে বাড়িয়ে দিল। এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বেড়ে গেল এবং বিশিষ্টজনদের মধ্যেও এমন কেউ ছিল না যিনি এর মধ্যকার আলোচনা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। এমতাবস্থায় আল্লাহর শরিয়তে আমার ওপর অর্পিত হলো—জ্ঞানের যে আমানত আমার কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে সেই দিক থেকে—এই মাসটিকে এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি দিয়ে নির্দিষ্ট করা এবং এর সামগ্রিক অর্থ সম্পর্কে আলোচনা করা। এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটানো হবে এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীর পক্ষ থেকে যা সহিহ (صح) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করা হবে; যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আরোপিত মিথ্যা (كذب) দূর করা যায় এবং পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী আমল করা সম্ভব হয়।

--------------------------------------------

(১) লক্ষ্যণীয় যে, লেখক হঠকারী রাফেজি (رافضي)-র কথা উল্লেখ করেছেন। সে হলো ওই ব্যক্তি যে সম্মানিত সাহাবীদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ইমাম আলী জয়নুল আবেদিন ইবনুল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে এই বিশেষণে ভূষিত করে এই নাম দিয়েছেন। আর যারা এক সাহাবীকে অন্য সাহাবীর ওপর প্রধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ করেন, তাদের বিষয়টি অপেক্ষাকৃত সহজ; তাদেরকে 'রাফয' (رفض) বা প্রত্যাখ্যানের বিশেষণে বিশেষিত করা হবে না যদি তারা আবু বকর, ওমর এবং উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর খিলাফতকে স্বীকার করে নেন।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১৬)
ثُمَّ جعلته لخدمة المقام السلطاني الملكي الكاملي الناصري، سلطان الإسلام والمسلمين، سيد الملوك والسلاطين، محيي سنة سيد المرْسلين، ومظهر العدل في العالمين، ناصر الدنيا والدين، مولانا الملك الكامل خليل أمير المؤمنين، أدام الله أيامَه، وأعلا مقامه، مخْصوصاً وبالدعَاء لدولته ناصاً وَبالثناءِ عليه منصوصاً، لأنه أشرف الملوك قدراً، وأكملهم في سماءِ المعارف بدْراً، وأقومهم بشعائر الدين، وأفضلهم جرْياً على سَنَن المهتدين، أدام الله بهِ للدين انتصاره، وضاعف له على ملوك الأرض اقتداره، وأخْدمهُ أبداً أقداره (1) .

--------------------------------------------

(1) لا تخلو هذه التزكية من شيء، فإن هذا الطلب الأخير مع أنه من باب طلب ما لا يكون، وذلك من‌‌ الاعتداء في الدعاء، وهو مذموم فيما صح عنه صلى الله عليه وسلم من قوله: "سيكون في أمتي أقوام يعتدون في الدعاء والطهور" [يشير إلى حديث عند أحمد وأبي داود عن سعد (ز) ] .

فإنه مع ذلك فيه طلب الاستعلاء على القدر وجعل الملك مخدوماً له، وهذا أمر ظاهر بطلانه. وإنما أوقع المؤلف- غفر الله لنا وله- في هذه الخطيئة غلوه في مدح ملكه، والاطراء عليه، وصدق رسول الله صلى الله عليه وسلم في قوله: "المدح هو القزع"!. (ن) .
অতঃপর আমি একে সুলতানি, রাজকীয়, আল-কামিলি আন-নাসিরি দরবারের সেবায় পেশ করেছি, যিনি ইসলাম ও মুসলিমদের সুলতান, রাজা ও সুলতানদের নেতা, রাসুলকুলের শিরোমণির সুন্নাহর পুনর্জীবনদানকারী, বিশ্বে ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী, দুনিয়া ও দ্বীনের সাহায্যকারী, আমাদের অভিভাবক আল-মালিক আল-কামিল খলিল, আমিরুল মুমিনিন—আল্লাহ তাঁর রাজত্বকাল দীর্ঘায়িত করুন, তাঁর মর্যাদা সমুন্নত করুন। এটি বিশেষভাবে তাঁর রাষ্ট্রের কল্যাণে প্রার্থনা এবং সুনির্দিষ্টভাবে তাঁর গুণকীর্তনের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। কেননা তিনি মর্যাদায় রাজাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, মারেফাতের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় পূর্ণতম, দ্বীনের বিধিবিধান পালনে সর্বাধিক দৃঢ় এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের পথে চলায় সর্বোত্তম। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনের বিজয়কে চিরস্থায়ী করুন, পৃথিবীর রাজাদের ওপর তাঁর ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করুন এবং ভাগ্যকে সর্বদা তাঁর অনুগত রাখুন (১)।

--------------------------------------------

(১) এই প্রশংসাবাক্যটি ত্রুটিমুক্ত নয়; কারণ শেষের এই প্রার্থনাটি এমন বিষয় প্রার্থনা করার অন্তর্ভুক্ত যা হওয়া সম্ভব নয়। আর এটি দোয়ায় সীমালঙ্ঘন (الاعتداء في الدعاء) এর অন্তর্ভুক্ত, যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সহীহ (صح) হাদিসে নিন্দিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে অচিরেই এমন কিছু সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা দোয়া ও পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করবে।" [এটি ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের প্রতি ইঙ্গিত (ز)]। এর পাশাপাশি এতে ভাগ্যের ওপর আধিপত্য প্রার্থনা করা হয়েছে এবং রাজাকে ভাগ্যের সেবক বা মখদুম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার অসারতা অত্যন্ত স্পষ্ট। লেখক—আল্লাহ আমাদের ও তাঁকে ক্ষমা করুন—তাঁর রাজার প্রশংসায় অতিশয়োক্তি ও তোষামোদ করতে গিয়েই এই পাপে লিপ্ত হয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন: "প্রশংসা হলো কর্তন করার মতো (المدح هو القزع)"! (ন)।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا حين ابتدائي وأقول -والله حسْبي ونعم الوكيل-: فأولُ من تكلم في التعديل والتجريح ونفْي السقيم من الصحيح الخليفة أبو بكر الصديق، وعمر بن الخطاب الفاروق، وعلي بن أبي طالب المرتضى، وزيد بن ثابت، فإنهم قد جَرَّحوا وعدَّلوا وبَحثوا عن صحة الروايات وسقمها، ذكر ذلك الحاكم في النوع الثامن عشَر من "علوم الحديث "، وَقد ذكر مسلم في مقدمة "صحيحه" عن ابن عباس أيضاً مَا يدل على اعتنائه بالتعديل وَالتجريح.

وقد كان في آخر عصرهم جماعة من المفسدين الذين يريدون إفسادَ الشريعة على أهْل الدين، فبادروا إلى أنواع الفساد، تارةً في المتن وكرّةً في قلب الإسناد، لما لم يمكنهم تبديل كلمة من القرآن لحفظ الله عز وجل له -وقدْ بُدّلت الكتبُ قبله- فزادوا في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أحاديث موضوعة وأسانيد مصنوعة، الفقيه يقلد التعليق (1) ولا يعرف التحقيق،

--------------------------------------------

(1) لا أذكر أني رأيت شرحاً لهذه الكلمة "التعليق" في مثل هذا السياق في شيء من الكتب، والذي يبدو لي من استعمالهم لها أنهم يعنون بها بعض الكتب الفقهية التي يورد مؤلفوها فيها شتى أحاديث=

এখান থেকেই আমার সূচনা এবং আমি বলছি—আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক: নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (تعديل) ও অযোগ্যতা নিরূপণ (تجريح) এবং বিশুদ্ধ (صحيح) থেকে ত্রুটিযুক্ত (سقيم) বর্ণনা পৃথক করার বিষয়ে সর্বপ্রথম যারা কথা বলেছেন তারা হলেন খলিফা আবু বকর সিদ্দিক, ওমর ইবনুল খাত্তাব আল-ফারুক, আলী ইবনে আবি তালিব আল-মুরতাজা এবং জায়েদ বিন সাবিত। তাঁরা বর্ণনাকারীদের অযোগ্য ঘোষণা করেছেন (جرح), নির্ভরযোগ্য বলেছেন (تعديل) এবং বর্ণনাসমূহের বিশুদ্ধতা (صحة) ও ত্রুটিপূর্ণতা (سقم) নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। ইমাম হাকেম তাঁর উলুমুল হাদিস গ্রন্থের অষ্টাদশ পরিচ্ছেদে এটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম মুসলিমও তাঁর সহিহ-এর মুকাদ্দিমায় ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এমন বর্ণনা উল্লেখ করেছেন যা নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (تعديل) এবং অযোগ্যতা নিরূপণের (تجريح) প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি প্রমাণ করে।

তাঁদের যুগের শেষভাগে একদল ফিতনা সৃষ্টিকারীর উদ্ভব হয়েছিল যারা দ্বীনদার লোকদের কাছে শরীয়তকে বিকৃত করতে চেয়েছিল। তারা বিভিন্ন প্রকার বিকৃতির অপচেষ্টা চালায়—কখনো মূল পাঠের (متن) মধ্যে আবার কখনো বর্ণনাসূত্রের (إسناد) উলটপালট করার মাধ্যমে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনকে হেফাজত করার কারণে যেহেতু তারা এর একটি শব্দও পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়নি—যদিও এর পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ বিকৃত হয়েছিল—তাই তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের মধ্যে বানোয়াট (موضوعة) হাদিস এবং কৃত্রিম (مصنوعة) বর্ণনাসূত্রসমূহ (أسانيد) সংযোজন করে দেয়। (এমন অবস্থায়) ফকিহ বা ফিকহবিদগণ কেবল টীকা বা তালীক (تعليق) (১)-এর অনুসরণ করেন এবং এর প্রকৃত সত্য উদঘাটন বা তাহকিক (تحقيق) সম্পর্কে অবগত থাকেন না।

--------------------------------------------

(১) এই প্রেক্ষাপটে 'তালীক' (تعليق) শব্দটির কোনো ব্যাখ্যা আমি কোনো কিতাবে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। তবে তাঁদের ব্যবহারের ধরন দেখে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তাঁরা এর মাধ্যমে এমন কিছু ফিকহি কিতাব বুঝিয়েছেন যেগুলোর লেখকগণ সেখানে নানা ধরনের হাদিস উল্লেখ করেন=
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১৮)
كقولهم على رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"أئمتكم شفعاؤكم، فانظروا بمن تستشفعونَ ".

وهو حديث لا يصح أصْلاً، ومن نسبه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد أظهر غباوةً وجهلاً. والمتعبد يتعب نفْسَه، ويوتم أولاده وَيَرْوي:

"من أخلص لله أربعين صباحاَ، ظهرت ينابيع الحكمة من

--------------------------------------------

= الأحكام بدون إسناد ولا تخريج، بل يعلقونها تعليقاً على نحو ما يفعل البخاري أحياناً في "صحيحه".

وقد قال ابن الجوزي في مقدمة كتابه "التحقيق في مسائل التعليق":

"كان السبب في إثارة العزم لتصنيف هذا الكتاب أن جماعة من إخواني ومشايخي في الفقه كانوا يسألوني في زمن الصبا جمع أحاديث التعليق (#) ، وبيان ما صح منها وما طعن فيه، وكنت أتوانى عن هذا لسببين:

أحدهما: اشتغالي بالطلب.

والثاني: ظني أن ما في التعاليق من ذلك يكفي، فلما نظرت في التعليق رأيت بضاعة أكثر الفقهاء في الحديث مزجاة، يعول أكثرهم على أحاديث لا تصح، ويعرض عن الصحاح، ويقلد بعضهم بعضاً فيما ينقل ". (ن) .

 

(#) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: مقصود ابن الجوزي هنا - والله أعلم - هو كتاب «التعليق الكبير في المسائل الخلافية بين الأئمة» الذي ألفه القاضي أبو يعلى الفراء (المتوفي 458 هـ) وهو في 11 مجلدا (كما وصفه ابن تيمية) ، يذكر قول الحنابلة بالروايات عن أحمد وأصحابه، ثم قول من وافقهم ومن خالفهم، ثم يناقش أدلة الطرفين وينتصر لمذهب الإمام أحمد
যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপ করে তাদের বক্তব্যের মতো:

"তোমাদের ইমামগণ তোমাদের সুপারিশকারী, সুতরাং লক্ষ্য করো তোমরা কার মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা করছ।"

এটি এমন একটি হাদিস যার মূলত কোনো বিশুদ্ধতা (صحة) নেই। আর যে ব্যক্তি একে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে নিসবত করে, সে প্রকৃতপক্ষে তার নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর ইবাদতকারী ব্যক্তি নিজেকে পরিশ্রান্ত করে, নিজের সন্তানদের ইয়াতীম করে এবং বর্ণনা করে:

"যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য চল্লিশ দিন একনিষ্ঠতা অবলম্বন করে, তার [হৃদয় থেকে জিহ্বায়] প্রজ্ঞার ঝরনাধারা প্রকাশ পায়..."

--------------------------------------------

= বিধানগুলো কোনো সনদ (إسناد) এবং তাখরিজ (تخريج) ছাড়াই, বরং তারা এগুলোকে মুয়াল্লাক (تعليق) হিসেবে উদ্ধৃত করেন, যেভাবে ইমাম বুখারি মাঝেমধ্যে তার সহিহ গ্রন্থে করেছেন।

ইবনুল জাওযী তার 'আত-তাহকীক ফি মাসাইলিত তালীক' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন:

"এই গ্রন্থটি রচনার সংকল্প জাগ্রত হওয়ার কারণ ছিল এই যে, আমার একদল ভাই এবং ফিকহ শাস্ত্রের উস্তাদগণ আমার ছাত্রজীবনে আমাকে তালীক (#)-এর হাদিসগুলো সংকলন করতে এবং সেগুলোর মধ্যে কোনটি বিশুদ্ধ (صح) আর কোনটির ক্ষেত্রে আপত্তি (طعن) রয়েছে তা স্পষ্ট করতে অনুরোধ করতেন। আমি দুটি কারণে এতে বিলম্ব করতাম:

এক: ইলম অর্জনে আমার ব্যস্ততা।

দুই: আমার ধারণা ছিল যে, তালীক সমূহে যা বিদ্যমান তা-ই যথেষ্ট। কিন্তু যখন আমি সেই তালীকগুলো পর্যালোচনা করলাম, দেখলাম অধিকাংশ ফকিহদের হাদিস বিষয়ক পুঁজি অতি নগণ্য। তাদের অধিকাংশই এমন সব হাদিসের ওপর নির্ভর করেন যা বিশুদ্ধ (يصح) নয় এবং তারা সহিহ হাদিসগুলো থেকে বিমুখ থাকেন। তারা বর্ণনার ক্ষেত্রে একে অপরের অন্ধ অনুসরণ করেন।" (ন)।

 

(#) শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক বলেন: এখানে ইবনুল জাওযীর উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—কাজী আবু ইয়ালা আল-ফাররা (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি) রচিত 'আত-তালীকুল কাবীর ফিল মাসাইলিল খিলাফিয়্যাহ বাইনাল আইম্মাহ' গ্রন্থটি। এটি ১১ খণ্ডে সমাপ্ত (যেমনটি ইবনে তাইমিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন)। এতে তিনি ইমাম আহমাদ ও তার সঙ্গীদের থেকে বর্ণিত বিভিন্ন বর্ণনা (روايات) অনুযায়ী হাম্বলি মতসমূহ উল্লেখ করেছেন, এরপর যারা তাদের সাথে একমত হয়েছেন এবং যারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। অতঃপর তিনি উভয় পক্ষের দলিল নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদের মাযহাবের সপক্ষে যুক্তি প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ১৯)
قلبه على لسانه " وهو حَديث موضوع (1) .

والوُعاظ يروون للعوام جملة مِن الترّهات ليجْمعوا بها الدُّرَيْهمات كحديث قُس بن ساعدة، وحديث هامة بن الهيم، وزُرَيْب، وأحاديث الأشج المُعَمَر، وخِراشٍ، وبُسْر، وَيغْنَمَ، ونَسْطُورِ الرومي، وحديث عُكاشة في القصاص، وهو منْ وضع عبْد المِنْعم بن إدريس وكان من القُصاص (2) .

وحَديث عُمَر بن الخطاب عن الحَسن وَالحسين رضي الله عنهم ونصُّه:

--------------------------------------------

(1) وكذا قال ابن الجوزي والصنعاني، والصواب أنه ضعيف كما بينّاه في "سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة" رقم (38) الجزء الأول طبع المكتب الإسلامي. (ن) .

وكتب بعضهم على هامش الأصل ما ملخصه أن الحديث في "الجامع الصغير" عن الطبراني والبيهقي، وأن المناوي قال في شرحه: وإسناده حسن. وذلك كله خطأ محض، فإن هذا التخريج إنما هو في "الجامع" لحديث آخر قبيل هذا، بل المناوي في شرحه "فيض القدير" يميل الى وضع هذا تبعاً لابن الجوزي، على أن في تحسين الحديث المشار إليه نظراً لا مجال الآن لبيانه. (ن) .

(2) وانظر في أخبار القصاص كتاب "أحاديث القصاص" لشيخ الإسلام ابن تيمية، وقد حققه العالم الجليل الدكتور الشيخ محمد بن لطفي الصباغ، وهو من مطبوعات المكتب الإسلامي.
"তার অন্তর তার জিহ্বার ওপর থাকে" — এটি একটি জাল (موضوع) হাদিস (১)।

আর ওয়ায়েজগণ সাধারণ মানুষের কাছে একরাশ আষাঢ়ে গল্প বর্ণনা করেন যাতে এর মাধ্যমে তারা কিছু অর্থকড়ি সংগ্রহ করতে পারেন; যেমন কুস বিন সায়েদাহ-এর হাদিস, হামাহ বিন আল-হাইম-এর হাদিস, জুরাইব-এর হাদিস, এবং আল-আশাজ আল-মুআম্মার, খিরাশ, বুসর, ইয়াগনাম ও নাসতুর আর-রুমীর হাদিসসমূহ এবং কিসাস সংক্রান্ত উক্কাশাহ-এর হাদিস। অথচ এটি আব্দুল মুনিম বিন ইদরীসের জালিয়াতি (وضع), আর সে ছিল অন্যতম একজন গল্পকার (القصاص) (২)।

এবং হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত ওমর ইবনুল খাত্তাব-এর হাদিস, যার পাঠ হলো:

--------------------------------------------

(১) ইবনুল জাওযী এবং আস-সানআনীও অনুরূপ বলেছেন। তবে সঠিক কথা হলো এটি দুর্বল (ضعيف), যেমনটি আমরা 'সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ ওয়াল মাউদুআহ'-এর প্রথম খণ্ডের ৩৮ নম্বর হাদিসে স্পষ্ট করেছি। (ন)।

কেউ কেউ মূল পাণ্ডুলিপির টীকায় সারসংক্ষেপ হিসেবে লিখেছেন যে, হাদিসটি তাবারানী ও বায়হাকী থেকে 'আল-জামি আস-সাগীর'-এ বর্ণিত হয়েছে এবং আল-মুনাওয়ী তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)। এ সবই স্পষ্ট ভুল; কারণ এই উৎস-নির্দেশ (تخريج) মূলত 'আল-জামি' গ্রন্থে এর ঠিক আগের অন্য একটি হাদিসের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। বরং আল-মুনাওয়ী তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'ফায়যুল কাদির'-এ ইবনুল জাওযীর অনুসরণ করে এই হাদিসটিকে জাল (وضع) হওয়ার দিকেই মত প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া আলোচিত হাদিসটিকে হাসান (حسن) বলে সাব্যস্ত করার (تحسين) বিষয়টিও পর্যালোচনার দাবি রাখে, যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই। (ন)।

(২) আর গল্পকারদের (القصاص) ইতিবৃত্ত সম্পর্কে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'আহাদিসুল কিসাস' গ্রন্থটি দেখুন, যা প্রখ্যাত আলেম ডক্টর শায়খ মুহাম্মদ বিন লুতফী আস-সাব্বাগ সম্পাদনা করেছেন এবং এটি আল-মাকতাব আল-ইসলামী থেকে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২০)
بسم الله الرحمن الرحيم، حدثني سيدا شَبَاب أهل الجنة، عنْ أبيهما المرتضى، عن جدهما المصطفى صلى الله عليه وسلم أنه قال: "عُمر نور الإسلام في الدنيا، وسراجُ أهل الجنة في الجنة" وأوصى أن يجْعلَ ذلك في كفَنه على صدره فوُضع، فلما أصبحُوا وجدوه على قبره وفيه: صَدق الحسن والحُسين، وصدق أبُوهما، وصَدق رسول الله: "عُمَر نور الإسلام، وسراجُ أهل الجنة".

وَأحاديثُ العقل على كثرة طرقها:

"إنْ أول ما خلق الله العقلَ" وحديث أبي أمامة قال: قال صلى الله عليه وسلم:

"لما خلقَ الله العقل قال له: أقْبل فأقبل، ثم قال له: أدبر فأدْبر، فقال: وعِزّتي ما خلقت خلقاً هو أحب إليّ منْك، بكَ آخذ وبك أعطي، ولك الثواب وعليك العقاب " رواه الحافظ أبو جعفر العقيلي وقال: ولا يثبت في هذا الفن شيء بوجه، قال الإمام أحمد: هذا الحديث موضوع ليس له أصل، وقد وضع ميسرة بن عبد ربه فيه حديثاً ورواه عن موسى بن عُبَيْدة، عن الزهري، عن أنس، عن النبي صلى الله عليه وسلم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। জান্নাতী যুবকদের দুই নেতা আমাকে বর্ণনা করেছেন তাদের পিতা আল-মুরতাজা থেকে, তিনি তাদের দাদা আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যে, তিনি বলেছেন: "উমর দুনিয়াতে ইসলামের নূর এবং জান্নাতে জান্নাতবাসীদের প্রদীপ।" তিনি (উমর) অসিয়ত করেছিলেন যেন এটি তাঁর কাফনের ভেতরে তাঁর বুকের ওপর রাখা হয়, অতঃপর তা রাখা হলো। যখন ভোর হলো, তারা তা তাঁর কবরের ওপর দেখতে পেল এবং তাতে লিখিত ছিল: হাসান ও হুসাইন সত্য বলেছে, তাদের পিতা সত্য বলেছে এবং আল্লাহর রাসূল সত্য বলেছেন: "উমর ইসলামের নূর এবং জান্নাতবাসীদের প্রদীপ।"

আর আকল (বুদ্ধি) বিষয়ক হাদিসসমূহ সেগুলোর বহুসংখ্যক সূত্র (طرق) থাকা সত্ত্বেও:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো আকল।" এবং আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"যখন আল্লাহ আকল সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন: 'সামনে এসো', তখন সে সামনে এল। এরপর তাকে বললেন: 'পিছনে যাও', তখন সে পিছনে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: 'আমার সম্মানের শপথ! আমি তোমার চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো সৃষ্টি আমার নিকট সৃষ্টি করিনি। তোমার মাধ্যমেই আমি গ্রহণ করি এবং তোমার মাধ্যমেই আমি দান করি, আর তোমার জন্যই রয়েছে পুরস্কার এবং তোমার ওপরই রয়েছে শাস্তি'।" এটি হাফেজ আবু জাফর আল-উকায়লি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: "এই বিষয়ে কোনো কিছুই কোনোভাবে প্রমাণিত (يثبت) নয়।" ইমাম আহমাদ বলেন: "এই হাদিসটি জাল (موضوع), এর কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।" আর মাইসারাহ বিন আবদ রাব্বিহ এ বিষয়ে একটি হাদিস জাল (وضع) করেছে এবং তা মুসা বিন উবাইদাহ থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২১)
قال الإمام أبو سعيد عبد الرحمن بن مهدي: قلت لميسرة: هذا الحديث الذي حدثت به في فضل العقل أيش هو؟ فقال: أنا وضعته.

وأنبأنا الفقيه العالم أبو الحسن علي بن الحسين مشافهةً بلفظه بمدينة فاس قال: أخبرنا الثقةُ أبو عبد الله أحمد بن محمد الخولاني قال: أنبانا الحافظ أبو ذر عبد بن أحمد الهروي قال: قال لنا الحافظ اْبو الحسن الدارقطني: كتاب العقل وضعه أربعة: أولهم ميسرة بن عبد ربه، ثم سرقه منه داود بن المُحبّر، وركبه بأسانيد غير أسانيد ميسرة، وسرقه عبد العزيز ابن أبي رجا فركبه بأسانيد أخر، ثم سرقه سليمان بن عيسى السجزيُّ وأتى بأسانيد أخر أيضاً، فخزاهم الله بفعلهم، ولا ثلم الدين بمثلهم.

اللفة: قال اللغوي أبو عمر المطرز: سمعت ثعلباً يقول: إذا لم يسمع العالم شيئاً أنكرهُ، قال الأصمعي: لا يدع أهل بغداد قولهم: أَيْشٍ أبداً، قال أبو العباس: ولم نسمعها.

وهي فاشية في كلام العرب فصيحة، أنشد ابن الأعرابي: أْقول زيد بني أيش حالي (1)

--------------------------------------------

(1) ولعل صوابها: أيُّ شيء هذا، أو هو، وجمعت تسهيلاً.
ইমাম আবু সাঈদ আবদুর রহমান ইবনে মাহদি বলেন: আমি মাইসারাহ-কে বললাম: আকলের (বুদ্ধিবৃত্তির) মর্যাদা সম্পর্কে তুমি যে হাদিসটি বর্ণনা করেছ, তা মূলত কী? সে উত্তর দিল: আমি নিজেই এটি জাল (وضع) করেছি।

ফকিহ ও আলিম আবুল হাসান আলী ইবনে আল-হুসাইন ফাস শহরে সরাসরি মৌখিক উচ্চারণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন নির্ভরযোগ্য (ثقة) আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খাওলানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফিজ আবু যার আব্দ ইবনে আহমদ আল-হারাউই, তিনি বলেন: হাফিজ আবুল হাসান আদ-দারা কুতনি আমাদের বলেছেন: আকল বিষয়ক কিতাবটি চারজন ব্যক্তি জাল (وضع) করেছে: তাদের মধ্যে প্রথম জন হলো মাইসারাহ ইবনে আবদ রাব্বিহি। এরপর দাউদ ইবনুল মুহাব্বার তা তার থেকে চুরি করেছে এবং মাইসারাহ-এর সনদসমূহ (أسانيد) ব্যতীত ভিন্ন সনদে তা সাজিয়েছে। এরপর আবদুল আজিজ ইবনে আবি রাজা এটি চুরি করে অন্য সব সনদসমূহ (أسانيد) দিয়ে সাজিয়েছে। অতঃপর সুলাইমান ইবনে ঈসা আস-সিজজি তা চুরি করে আরও কিছু ভিন্ন ভিন্ন সনদসমূহ (أسانيد) নিয়ে এসেছে। আল্লাহ তাদের এই কর্মের কারণে তাদের লাঞ্ছিত করুন; তাদের মতো লোকেদের মাধ্যমে দ্বীন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

শব্দার্থ ও বিশ্লেষণ: ভাষাবিদ আবু উমর আল-মুতরিজ বলেন: আমি ছা'লাবকে বলতে শুনেছি: আলিম যখন কোনো কিছু শোনেন না, তখন তিনি তা অস্বীকার করেন। আল-আসমায়ী বলেন: বাগদাদের অধিবাসীরা তাদের 'আইশ' বলার রীতি কখনোই ত্যাগ করবে না। আবু আব্বাস বলেন: আমরা এটি ইতিপূর্বে শুনিনি।

আর এটি আরবদের কথোপকথনে বহুল প্রচলিত এবং বিশুদ্ধ। ইবনুল আরাবি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেছেন: আমি বলি হে জায়দ, আমার কী অবস্থা (১)

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত এর সঠিক রূপ হলো: 'আইয়্যু শায়'ইন হাজা' (এটি কী বিষয়), অথবা 'হুওয়া' (তা কী); সহজ করার জন্য একে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২২)
وأحاديث الخرقة، وأن علياً رضي الله عنه ألبسها الحسن بن أبي الحسن البصري: وأجمعوا أنه لم يسمع من علي حرفاً قط، فكيف أن يُلبسَهُ؟! (1) .

والأحاديث التي وضعها غلام خليل في الرقائق، واسمه أحمد بن محمد بن غالب بن خالد بن مرْداس، مات ببغداد وغلقت أسواقها بسبب حضور جنازته، وقال: وضعتها لنرقّقَ بها قلوب العامة، وكان يتزهدُ ويهجر شهوات الدنيا ويتقوّت الباقلاء صِرْفاً، فسول له الشيطان وضع الأحاديث ليتبوّأ مقعده من النار يوم القيامة، مع الأخابيث، إلى غير ذلك من الوضاعين الذين وضعوا صلاة التسبيح (2) وصلاة النصف من

--------------------------------------------

(1) وهذا يدل على أكاذيب الصوفية في كل سند لهم يصل دعوتهم إلى سيدنا علي بن أبي طالب. ومثله كذب الطريقة (المولوية) ومن يدعي أن سند طريقتهم إلى سيدنا أبي بكر الصديق.

(2) كتب بعضهم على هامش الأصل ما نصه:

قوله: وضعوا صلاة التسبيح فيها نظر، فإنه ورد فيها أحاديث كثيرة إن لم تكن صحيحة فهي حسنة.

قال السيد مرتضى الزبيدي الحنفي في شرحه على "الإحياء" بعد أن أطال الكلام على إثبات الأحاديث فيها ما نصه:

وقد روى صلاة التسبيح غير ابن عباس جماعة من الصحابة منهم:=
খিরকার (সুফি পোশাক) হাদিসসমূহ এবং আলী (রা.) হাসান বিন আবি হাসান আল-বাসরিকে তা পরিয়ে দিয়েছিলেন বলে যে বর্ণনা রয়েছে: সে সম্পর্কে উলামাগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, তিনি আলী (রা.) থেকে কখনো একটি শব্দও শোনেননি (لم يسمع), তাহলে তিনি কীভাবে তাকে তা পরাবেন?! (১)।

এবং গোলাম খলিল আধ্যাত্মিকতা ও হৃদয় বিগলনকারী (الرقائق) বিষয়ে যে হাদিসগুলো জাল (وضع) করেছে, যার নাম আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন গালিব বিন খালিদ বিন মিরদাস। তিনি বাগদাদে মারা যান এবং তার জানাজায় উপস্থিতির আধিক্যের কারণে বাজারগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে বলেছিল: "আমি এগুলো সাধারণ মানুষের অন্তর বিগলিত করার জন্য জাল (وضعتها) করেছি।" সে কৃচ্ছ্রসাধন করত এবং পার্থিব কামনা-বাসনা পরিহার করত এবং কেবল শিম বা ডাল জাতীয় খাবার খেয়ে জীবনধারণ করত। অথচ শয়তান তাকে হাদিস জাল (وضع) করার কুমন্ত্রণা দিয়েছিল যাতে সে কিয়ামতের দিন নিকৃষ্ট পাপিষ্ঠদের সাথে জাহান্নামে নিজের ঠিকানা করে নেয়। এছাড়া আরও অনেক জালকারী (الوضاعين) রয়েছে যারা সালাতুত তাসবিহ (২) এবং শাবানের মধ্যবর্তী রাতের নামাজের বর্ণনাসমূহ জাল (وضعوا) করেছে...

--------------------------------------------

(১) এটি সুফিদের দাবিকৃত প্রতিটি সনদের (سند) ক্ষেত্রেই তাদের মিথ্যাচার প্রমাণ করে, যার মাধ্যমে তারা তাদের সিলসিলাকে আমাদের নেতা আলী বিন আবি তালিব (রা.)-এর সাথে সম্পৃক্ত করে। অনুরূপভাবে (মৌলভিয়া) তরিকার দাবিও মিথ্যা যারা দাবি করে যে তাদের তরিকার সনদ (سند) আমাদের নেতা আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সাথে সম্পৃক্ত।

(২) মূল পাণ্ডুলিপির হাশিয়া বা টীকায় কেউ কেউ লিখেছেন:

তার উক্তি: "তারা সালাতুত তাসবিহ সম্পর্কে জাল বর্ণনা তৈরি করেছে"—এ বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে (فيها نظر), কারণ এ সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা সহিহ (صحيحة) না হলেও হাসান (حسنة) পর্যায়ের।

সাইয়্যেদ মুরতাদা আজ-জাবিদি আল-হানাফি 'ইহয়া' গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এ বিষয়ক হাদিসগুলোর প্রমাণের ওপর দীর্ঘ আলোচনার পর যা লিখেছেন তা হলো:

ইবনে আব্বাস (রা.) ছাড়াও সাহাবীদের এক জামাত সালাতুত তাসবিহ বর্ণনা করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন:=
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= الفضل بن العباس، وأبوه العباس، وعبد الله بن عمرو بن العاص، وعبد الله بن عمر بن الخطاب، وأبو رافع مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعلي بن أبي طالب، وأخوه جعفر بن أبي طالب وابنه عبد الله بن جعفر، وأم المؤمنين أم سلمة وغيرهم.

ثم قال بعد كلام طويل: قال التقي السّبكي:

صلاة تسبيح من مهمات مسائل الدين، ولا يغتر بما فهم عن النووي في "الأذكار" من ردها فإنه اقتصر على رواية الترمذي وابن ماجه، ولو استحضر تخريج أبي داود لحديثها وتصحيح ابن خزيمة والحاكم لما قال ذلك. وقال ولده التاج السبكي في الترسيخ (#) لصلاة التسبيح: الحديث قريب من الصحة ثم ذكر جماعة أخرجوه إلى آخر ما أطال. اهـ.

وعقب عليه آخر فقال:

أقول: قال السيوطي رحمه الله في كتاب "اللآليء" الذي جعله على "موضوعات " ابن الجوزي، بعد ذكره لطرق هذا الحديث: والحق أن طرقه كلها ضعيفة، وأن حديث ابن عباس يقرب من شرط الحسن، إلا أنه شاذ لشدة الفردية فيه، وعدم المتابع والشاهد من وجه معتبر ومخالفة هيئتها لهيئة باقي الصلوات انتهى (*)

(كاتبه) .

والحق أن حديث التسابيح ليس له طريق حسن لذاته، وإنما=

_________

(*) لم نعرف صاحب هذا التعليق على هامش الأصل، والذي يأتي بعده هو كلام الشيخ الألباني.

 

(#) في المطبوع الترسخ [مصحح الشاملة]
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= আল-ফজল বিন আল-আব্বাস এবং তাঁর পিতা আল-আব্বাস, আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস, আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাসী আবু রাফে, আলী বিন আবি তালিব এবং তাঁর ভাই জাফর বিন আবি তালিব ও তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ বিন জাফর, উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা এবং আরও অনেকে।

দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি বলেন: তাকি আস-সুবকি বলেছেন:

সালাতুত তাসবীহ দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। 'আল-আযকার' গ্রন্থে ইমাম নববী এটি প্রত্যাখ্যান করে যা ব্যক্ত করেছেন তাতে যেন কেউ বিভ্রান্ত না হয়; কারণ তিনি কেবল তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ ছিলেন। তিনি যদি এই হাদিসের ক্ষেত্রে আবু দাউদ কর্তৃক চয়নকৃত তথ্য এবং ইবনে খুজাইমা ও হাকাম কর্তৃক এর বিশুদ্ধতা ঘোষণা (تصحيح) সম্পর্কে অবগত থাকতেন, তবে তিনি এমনটি বলতেন না। তাঁর পুত্র তাজ আস-সুবকি সালাতুত তাসবীহ প্রসঙ্গে 'আত-তারসীখ' (#) গ্রন্থে বলেছেন: হাদিসটি বিশুদ্ধতার (الصحة) কাছাকাছি। অতঃপর তিনি এটি যারা বর্ণনা করেছেন তাদের একটি দলের কথা উল্লেখ করেছেন... (দীর্ঘ আলোচনার শেষ পর্যন্ত)। সমাপ্ত।

এর ওপর অন্য একজন মন্তব্য করে বলেছেন:

আমি বলছি: সুয়ূতী (রহ.) 'আল-লাআলী' গ্রন্থে—যা তিনি ইবনে জাওযীর 'মাওদুয়াত' (موضوعات) অর্থাৎ জাল হাদিস বিষয়ক গ্রন্থের ওপর লিখেছেন—এই হাদিসের সূত্রসমূহ (طرق) উল্লেখ করার পর বলেছেন: সত্য হলো এর সকল সূত্রই দুর্বল (ضعيفة), এবং ইবনে আব্বাসের হাদিসটি হাসান (الحسن) হওয়ার শর্তের কাছাকাছি পৌঁছে, তবে এটি একটি বিচ্ছিন্ন (شاذ) বর্ণনা; কারণ এতে চরম মাত্রায় এককত্ব (الفردية) বিদ্যমান এবং গ্রহণযোগ্য (معتبر) কোনো পন্থায় এর কোনো সমর্থক বর্ণনা (المتابع) বা সাক্ষী বর্ণনা (الشاهد) নেই। এছাড়া এর পদ্ধতিটি অন্যান্য নামাজের পদ্ধতির বিপরীত। (সমাপ্ত) (*)

(লেখক) ।

প্রকৃত কথা হলো, তাসবীহ সংক্রান্ত হাদিসটির এমন কোনো সূত্র নেই যা স্বকীয়ভাবে হাসান (حسن لذاته), বরং এটি=

_________

(*) মূল পাণ্ডুলিপির টীকায় এই মন্তব্যকারীর পরিচয় আমরা জানতে পারিনি; তবে এর পরে যা আসছে তা শেখ আলবানীর বক্তব্য।

 

(#) মুদ্রিত কপিতে 'আত-তারাসুখ' রয়েছে [শামেলা সংশোধনকারী]
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২৪)
رجب وما فيها من الطول والتعب، وحديث ليلة النصف من شعبان والتعريف بمن وضع فيها الزورَ والبهتان.

--------------------------------------------

= له طرق كثيرة يتقوى بمجموعها، ويدل على أن لها أصلاً.

وراجع تعليقنا على الحديث في "مشكاة المصابيح" رقم (1328) [طبع المكتب الإسلامي] فقد قال: رواه أبو داود (1297) [في "صحيح سننه" (1152) (ز) ] ، وابن ماجه (1387) [في "صحيحه" (1139) (ز) ] بإسناد ضعيف، قال فيه موسى بن عبد العزيز، ثنا الحكم بن أبان، وكلاهما ضعيف من قبل الحفظ، وأشار الحاكم (1/ 318) ثم الذهبي إلى تقويته، وهو حق، فإن للحديث طرقاً وشواهد كثيرة يقطع الواقف عليها بأن للحديث أصلاً أصيلاً، خلافاً لمن حكم عليه بالوضع، أو قال: إنه باطل.

وقد جمع طرقه الخطيب البغدادي في جزء، وهو مخطوط في المكتبة الظاهرية بدمشق، وقد حقق القول عليه العلامة أبو الحسنات اللكنوي في: "الآثار المرفوعة في الأخبار الموضوعة" (ص 374/353) فليراجعه من شاء البسط، فإنه يغني عن كل ما كتب في هذا الموضوع. (ن) .

وقد أشار المؤلف إلى تقويته أيضاً بذكره طريق أبي رافع عقبه، وانظر أجوبة الحافظ ابن حجر حول هذا الحديث وأحاديث أخرى، مبسوطة في آخر هذا الكتاب، أي: "مشكاة المصابيح" الصفحات 1773-1792 وقد نسخها الشيخ الألباني من مكتبة الإسكندرية أيام سفره برحلة علمية من قبل المكتب الإسلامي. وقد قام عدد من السارقين بتصويرها وطبعها، عليهم من الله ما هم أهله.
রজব মাস এবং এতে দীর্ঘ ইবাদত ও কষ্টের বিবরণ, এবং শাবানের মধ্যরাতের হাদিস এবং যারা এতে মিথ্যা ও অপবাদ তৈরি করেছে তাদের পরিচয়।

--------------------------------------------

= এর অনেকগুলো সূত্র (طرق) রয়েছে যা সমষ্টিগতভাবে শক্তিশালী হয় (يتقوى) এবং এটি প্রমাণ করে যে এর একটি ভিত্তি (أصل) রয়েছে।

এবং "মিশকাতুল মাসাবিহ" এর ১৩২৮ নম্বর হাদিসের ওপর আমাদের টিকাটি দেখুন [আল-মাকতাব আল-ইসলামী মুদ্রিত]। সেখানে বলা হয়েছে: এটি আবু দাউদ (১২৯৭) [তার "সহিহ সুনান" (১১৫২) (য) তে], এবং ইবনে মাজাহ (১৩৮৭) [তার "সহিহ" (১১৩৯) (য) তে] একটি দুর্বল সনদ (إسناد ضعيف)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। এতে মূসা বিন আব্দুল আজিজ বলেছেন: আমাদের কাছে হাকাম বিন আবান বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই মুখস্থ শক্তির (الحفظ) দিক থেকে দুর্বল (ضعيف)। হাকেম (১/৩১৮) এবং পরবর্তীতে যাহাবি একে শক্তিশালী (تقويته) করার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা সঠিক। কারণ এই হাদিসের অনেকগুলো সূত্র (طرق) এবং সাক্ষী বর্ণনা (شواهد) রয়েছে, যা পর্যবেক্ষণ করলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এই হাদিসের একটি সুদৃঢ় ভিত্তি (أصل أصيل) আছে। যারা একে জাল (الوضع) হিসেবে হুকুম দিয়েছেন অথবা একে বাতিল (باطل) বলেছেন, তাদের মতের বিপরীতে।

খতিব আল-বাগদাদি একটি পুস্তিকায় এর সূত্রসমূহ (طرق) একত্রিত করেছেন, যা দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে। আল্লামা আবুল হাসানাত আল-লাকনৌবি তার "আল-আসারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওদুআ" (পৃষ্ঠা ৩৫৩-৩৭৪) গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সুতরাং যারা বিস্তারিত জানতে চান তারা সেখানে দেখে নিতে পারেন, কারণ এটি এই বিষয়ে লিখিত অন্য সব কিছুর চেয়ে যথেষ্ট। (ন)।

লেখকও এরপর আবু রাফে-এর বর্ণিত সূত্রটি (طريق) উল্লেখ করে একে শক্তিশালী (تقويته) করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এবং এই হাদিস ও অন্যান্য হাদিস সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার-এর উত্তরগুলো দেখুন, যা এই বইটির শেষে বিস্তারিত রয়েছে, অর্থাৎ: "মিশকাতুল মাসাবিহ" এর ১৭৭৩-১৭৯২ পৃষ্ঠাগুলোতে। শেখ আলবানি আল-মাকতাব আল-ইসলামীর পক্ষ থেকে জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরে আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরিতে থাকার সময় এগুলো প্রতিলিপি করেছিলেন। একদল তস্কর এটি ফটোকপি করে ছাপিয়েছে; আল্লাহ তাদের সাথে তেমন আচরণই করুন যার তারা যোগ্য।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد كان رسول الله صلى الله عليه وسلم علم بالوحي أنه مكذوب عليه، وأن في أمته دجالين كذابين يُسندون الزورَ في قولهم إليه، ثبت في "الصحيحين" أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

"لا تكذبوا علي، فإنه من كذب علي فليلج النار" هذا نص "صحيح البخاري " في باب إثم من كذب على النبي صلى الله عليه وسلم، رواه رِبْعي بن حِراش، عن علي بن أبي طالب، عن النبي صلى الله عليه وسلم.

وثبت عند عبد الله بن الزبير عن أبيه قال: قلت للزبير: إني لا أسمعك تحدث عَن رسول الله صلى الله عليه وسلم كما يحدث فلان وفلانُ، قال: أما إني لم أفارقه ولكن سمعته يقول: "من كذب علي، فليتبوأ مقعده من النار" صحيح باتفاق.

فمن أجل هذين الحديثين المطلقين دون تقييد بتعمد الكذب، هاب بعض من سمع الحديث أن يحدث الناس بما سمع.

قال الفقيه أبو الحسن ابن القابسي في "الملخص" له لما اتصل من حديث "الموطأ": وهو بَينٌّ في اعتذار الزبير رضي الله عنه.

قال ذو النسبين- أيده الله-:

إذ مَنْ من حروف العموم ففيها دليل على أن الاحتياط في رواية الأحاديث عن النبيّ صلى الله عليه وسلم واجبٌ، وأن نقلها بغير ثبوت
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওহীর মাধ্যমে অবগত হয়েছিলেন যে, তাঁর নামে মিথ্যা (مكذوب) কথা বলা হবে এবং তাঁর উম্মতের মধ্যে এমন দাজ্জাল ও চরম মিথ্যাবাদীদের (كذابين) আবির্ভাব ঘটবে যারা তাদের বক্তব্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যা আরোপ করবে। 'সহীহাইন'-এ এটি প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"তোমরা আমার নামে মিথ্যা বলবে না; কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে সে যেন জাহান্নামে প্রবেশ করে।" এটি 'সহীহ বুখারী'-র 'নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মিথ্যারোপকারীর পাপ' পরিচ্ছেদের মূল পাঠ (نص)। এটি রিবঈ ইবনে হিরাশ বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবু তালিব থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে।

আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি যুবায়েরকে বললাম, আমি আপনাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করতে দেখি না যেমনটি অমুক অমুক ব্যক্তিকে বর্ণনা করতে দেখি। তিনি বললেন: শোনো, আমি তাঁর থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হইনি, কিন্তু আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এটি সর্বসম্মতভাবে বিশুদ্ধ (صحيح باتفاق)।

ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যারোপের শর্তারোপ ছাড়াই এই দুটি শর্তহীন (المطلقين) হাদিসের কারণে হাদিস শ্রবণকারী কিছু ব্যক্তি যা শুনেছেন তা মানুষের কাছে বর্ণনা করতে ভয় পেতেন।

ফকিহ আবু হাসান ইবনে আল-কাবেসী তাঁর 'আল-মুলখাস' গ্রন্থে (যা মুয়াত্তার অবিচ্ছিন্ন (متصل) হাদিস নিয়ে রচিত) বলেছেন: এটি যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওজর বা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট।

যুন নাসাবাইন—আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন—বলেছেন:

যেহেতু 'মান' (যে) শব্দটি ব্যাপকতা জ্ঞাপক শব্দগুলোর (حروف العموم) অন্তর্ভুক্ত, তাই এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা ওয়াজিব বা আবশ্যক, এবং পর্যাপ্ত প্রমাণ (ثبوت) ছাড়া সেগুলো বর্ণনা করা (পরিহার করা উচিত)।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২৬)
السنَد ومعرفة الصحة حرام، وقد ثبت عَن المغيرة بن شعْبة قال: سمعتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن كذباً علي ليس ككذب على أحد، من كذبَ علي متعمداً فليتبوأْ مقعده من النارِ". وقال أنس: إنه ليمنَعني أن أحدثكم حَديثاً كثيراً أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "من تعمّد علي كذباً، فليتبوّأ مقعده من النار" أسنده البخاري في باب إثم من كذب، وأسنده أيضاً عن سلمة بن الأكوع قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يَقول: "من يقُل عليَّ ما لم أقل، فليتبوأ مقعده من النار" وألفاظ هذا الحديث رَواها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم نحْوٌ من تسعين صاحِباً.

وقد أخرج منه نحْو أربعمائة طريق (1) ، وإنما شرط صلى الله عليه وسلم التعمّد

--------------------------------------------

(1) وللحافظ أبي القاسم الطبراني جزء في طرق هذا الحديث محفوظ في المكتبة الظاهرية بدمشق. (ن) .

أقول: والعجيب أن بعض أهل الحديث اقتصروا على أمثال هذا الحديث لجعله متواتراً.. مع أن كل حديث يرويه عدد من الصحابة، وكلهم عدول، ويرويه عنهم عدد مماثل من التابعين ومن بعدهم يجب أن يكون متواتراً.

وقد قال شيخ الإسلام ابن تيمية في أكثر من موضع في كتبه: كثير من متون "الصحيحين" متواتر اللفظ، وقال: التواتر ليس له عدد محصور، وقد يحصل بصفات الناقلين، أو بالقرائن.
সনদ (السند) এবং বিশুদ্ধতা (الصحة) সম্পর্কে জেনে মিথ্যাচার করা হারাম। মুগিরা ইবনে শু'বা (রা.) থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আমার ওপর মিথ্যারোপ করা অন্য কারো ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" আনাস (রা.) বলেন: তোমাদের কাছে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করতে আমাকে যা বাধা দেয় তা হলো নবী (সা.)-এর এই বাণী: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা নির্ধারণ করে নেয়।" ইমাম বুখারি এটি 'মিথ্যারোপকারীর পাপ' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। তিনি সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.) থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" এই হাদিসের শব্দগুলো রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রায় নব্বই জন সাহাবি বর্ণনা করেছেন।

এবং এর প্রায় চারশত সূত্র (طريق) বর্ণিত হয়েছে (১)। তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) এখানে 'ইচ্ছাকৃত হওয়ার' শর্তারোপ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) হাফিজ আবুল কাসিম আত-তাবারানির এই হাদিসের সূত্রগুলোর (طرق) ওপর একটি পুস্তিকা রয়েছে যা দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। (ন)।

আমি বলছি: আশ্চর্যের বিষয় হলো, হাদিস বিশারদগণের কেউ কেউ মুতাওয়াতির (متواتر) হিসেবে গণ্য করার জন্য শুধুমাত্র এই ধরণের হাদিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন... অথচ যে কোনো হাদিস যা একদল সাহাবি বর্ণনা করেছেন এবং তারা সবাই ন্যায়পরায়ণ (عدول), আর তাদের থেকে অনুরূপ সংখ্যক তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তী স্তরের রাবিগণ বর্ণনা করেছেন, তা মুতাওয়াতির (متواتر) হওয়া আবশ্যক।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর বইয়ের একাধিক স্থানে বলেছেন: "সহিহাইন"-এর অনেক মতন (متن) শব্দগতভাবে মুতাওয়াতির (متواتر اللفظ)। তিনি আরও বলেছেন: তাওয়াতুর (تواتر)-এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই; এটি বর্ণনাকারীদের গুণাবলি অথবা পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (قرائن) মাধ্যমেও অর্জিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২৭)
لأنه قد يَروي الإنسان شيئاً على غلبَة ظنّه أو ساهياً، وإنما غلّظ الوعيدَ في هذا لأن الكذبَ عليه دعوى شريعة لم يشرعها، وقد ثبت بنقل العدل عن العدْل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من حدث عنّي بحديث يُرى أنه كذب فهو أحدُ الكاذِبَيْن " أسنده مسلم في "صحيحه " منفرداً به من طريقين عنْ صاحبَين: المغيرة وسمرة. وأسنده الإمام أحمد في "مسنده " عن علي بن أبي طالب.

ويُرَى بضم الياء أي يظن فهما كاذبان أحدُهما كذب حقيقةً والآخر كذب ظناً وفيه وعيد شديد للمحدث إذا حدث بما يظن أنه كذبٌ على رسول الله صلى الله عليه وسلم وإن لم يكنْ هو الكاذب في روايته.

وأصلُ الكذب في اللغة خلاف الصدق، والصدق في اللغة الثبوت على الشيء والصلابة فيه، يقال: رُمْح صَدْق بفتح الصاد أي صُلْبٌ ثابت عنْد الطعن، فقيل لمن قال غير الحق: كاذبٌ لعدم ثبوت قوله.

ومن غرائب اللغة أنّ كذَب بالتخفيف يتعدى إلى مفعولين وَكذَّب بالتشديد يتعدى إلى مفعُول واحد، وكذلك صَدَق

কারণ কোনো মানুষ কখনো প্রবল ধারণা কিংবা অসতর্কতাবশত কোনো কিছু বর্ণনা (رواية) করতে পারে। আর এ বিষয়ে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে কারণ তাঁর (রাসূল ﷺ) ওপর মিথ্যারোপ (كذب) করা হলো এমন এক শরীয়তের দাবি করা যা তিনি প্রবর্তন করেননি। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে নির্ভরযোগ্য (عدل) বর্ণনাকারীর মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য (عدل) বর্ণনাকারীর সূত্রে এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবে যা মিথ্যা (كذب) বলে মনে হয়, তবে সেও দুজন মিথ্যাবাদীর (كاذبين) একজন।" এটি মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এককভাবে দুজন সাহাবীর সূত্রে দুটি ধারায় বর্ণনা করেছেন: মুগিরা ও সামুরা। আর ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন।

এখানে 'ইউরা' শব্দটি 'ইয়া' বর্ণে পেশযোগে (ضم الياء) গঠিত, যার অর্থ 'ধারণা করা হয়'। ফলে তারা উভয়েই মিথ্যাবাদী (كاذبان); তাদের একজন প্রকৃতপক্ষে মিথ্যা বলেছে এবং অপরজন ধারণা অনুযায়ী মিথ্যা বলেছে। এতে হাদিস বর্ণনাকারীর (محدث) জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি রয়েছে যখন সে এমন কিছু বর্ণনা করে যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর মিথ্যারোপ (كذب) বলে ধারণা করা হয়, যদিও সে নিজে তার বর্ণনায় (رواية) মিথ্যাবাদী (كاذب) না হয়ে থাকে।

আভিধানিকভাবে মিথ্যার (كذب) মূল অর্থ হলো সত্যের (صدق) বিপরীত। আর সত্যের (صدق) আভিধানিক অর্থ হলো কোনো কিছুর ওপর অটল থাকা এবং তাতে দৃঢ়তা বজায় রাখা। বলা হয়ে থাকে: 'সুদৃঢ় বর্শা' (সাদ বর্ণে জবরসহ) অর্থাৎ আঘাত করার সময় যা সুদৃঢ় ও অটল থাকে। তাই যে সত্য ব্যতিরেকে অন্য কিছু বলে তাকে মিথ্যাবাদী (كاذب) বলা হয়, কারণ তার কথার কোনো স্থিরতা বা অটলতা নেই।

ভাষার এক চমৎকার বৈশিষ্ট্য হলো, 'কাযাবা' (كذب) শব্দটি যখন হালকা উচ্চারণে (تخفيف) আসে তখন তা দুটি কর্মপদ গ্রহণ করে, আর যখন 'কাযযাবা' (كذب) হিসেবে দ্বিত্ব উচ্চারণে (تشديد) আসে তখন তা একটি কর্মপদ গ্রহণ করে। অনুরূপভাবে 'সাদাকা' (صدق) শব্দের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২৮)
وصَدّق، يقال: كذَبْتُ فلاناً قولي فَفلان مفعول وقولي مفعُول ثانِ، فإذا. قلت: كذبَ بالتشديد تعدى إلى مفعول واحد، تقول: كذبت فلاناَ، فَفلانُ، مفعول لِكذبَ وهو واحِد بخلاف غيْره من الأفعال، فإن التشديد يُعَدي الفعلَ إلآ في هذا المحل، وصدَقَ وَصَدق مثل كذَبَ وكذبَ في الموضعين، قال الله جل منْ قائلِ (لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ) [الفتح: 27] ، لَقَد: لام توكيد وقدْ: حرف تَوقّع، صَدَق: فعْل ماضٍ، واسم الله عز وجل: رَفْعٌ بصَدَق، رسوله: مفعولٌ بِه، الرؤيا: مفعول ثانٍ بصدق، بالحقّ: متعلقٌ بصَدَق.

وقولهُ صلى الله عليه وسلم: "فليتبوأ مقعده من النار" أي ينْزِل منزَله منها ويتخذه، قيل: هذا على طريق الدعاء عليه أي بَوَّأه الله ذلك وخَرَج مْخرج الأمر، وقيل: بل هو على الخبر وإنه استحق ذلك واستوجَبه، وهو الصحيح بدليل قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تكذبوا علي، فإنه منْ كذَب علي فليلج النار".

وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"بلّغوا عني ولو آية" الحديثَ في "الصحيحين ".

وقال في مواقف: "ألا هَلْ بَلّغْتُ! اللهم اشهْد" وآخر ذلك
এবং 'সাদ্দাকা' (সত্যায়ন করা); বলা হয়: 'কাযাবতু ফুলানান কাওলি' (আমি অমুককে আমার কথার ব্যাপারে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছি), এখানে 'ফুলানান' (অমুক) হলো কর্মপদ এবং 'কাওলি' (আমার কথা) হলো দ্বিতীয় কর্মপদ। অতঃপর যদি আপনি তাশদীদসহ 'কাযযাবা' (মিথ্যা প্রতিপন্ন করা) বলেন, তবে তা কেবল একটি কর্মপদের দিকে নির্দেশিত হয়। আপনি বলবেন: 'কায্যাবতু ফুলানান' (আমি অমুককে মিথ্যাবাদী বলেছি); এখানে 'ফুলানান' হলো 'কাযযাবা' ক্রিয়ার কর্মপদ এবং এটি একটিই, যা অন্য ক্রিয়াসমূহের বিপরীত। কারণ তাশদীদ সাধারণত ক্রিয়াকে একাধিক কর্মপদের দিকে নির্দেশিত করে, তবে এই ক্ষেত্রটি ভিন্ন। আর 'সাদাকা' এবং 'সাদ্দাকা' উভয় স্থানেই 'কাযাবা' এবং 'কাযযাবা'-এর অনুরূপ ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্য দেখিয়েছেন" [আল-ফাতহ: ২৭]। এখানে 'লাকাদ'-এর 'লাম' হলো তাকিদ জ্ঞাপক এবং 'কাদ' হলো প্রত্যাশা জ্ঞাপক অব্যয়। 'সাদাকা' হলো অতীতকালীন ক্রিয়া, এবং মহান আল্লাহর নাম 'সাদাকা' ক্রিয়ার কারণে রফ' (পেশ) প্রাপ্ত হয়েছে। 'রাসূলুহু' হলো কর্মপদ, 'আর-রু’ইয়া' হলো 'সাদাকা' ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্মপদ এবং 'বিল হাক্কি' শব্দটি 'সাদাকা' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "সে যেন জাহান্নামে তার আবাস নির্ধারণ করে নেয়" এর অর্থ হলো—সে সেখানে অবতরণ করবে এবং তাকে নিজের আবাস হিসেবে গ্রহণ করবে। বলা হয়েছে যে, এটি তার বিরুদ্ধে বদদোয়া স্বরূপ; অর্থাৎ আল্লাহ তাকে সেখানে স্থান দিন, আর এটি আদেশের রূপে প্রকাশ পেয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: বরং এটি একটি সংবাদ (خبر) যে, সে এর উপযুক্ত হয়েছে এবং এটি তার জন্য অবধারিত হয়ে গেছে; আর এটাই হলো সঠিক (الصحيح) মত, যার প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা আমার নামে মিথ্যা বলো না; কারণ যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা বলবে, সে যেন জাহান্নামে প্রবেশ করে।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন:

"আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।" এই হাদিসটি সহিহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে।

তিনি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বলেছেন: "সাবধান! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।" এবং এর শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আদউ মা ওয়াজাব মিন বায়ান অদইল অদ্দায়িন ফী রজব (পৃষ্ঠা: ২৯)
في الحجة التي مات بعدها، وَالتبليغ عنه لا يكون إلا بعْد اتصال الإسناد به، وَلهذا كره جماعة من السلف رواية الأحاديث مقطوعة من غير إسناد منهم: الإمام أبو عبد الله الشافعي. والله عزَّ اسْمُه ينفعنا بالحديث ونقله، ويجعلنا من بررة أهله.

সেই হজের সময় যার পর তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন, আর তাঁর পক্ষ থেকে (বাণীর) প্রচার কেবল সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال الإسناد) নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। এই কারণেই সালাফদের একদল সনদ (إسناد) বিহীন বিচ্ছিন্ন (مقطوع) হাদিস বর্ণনা করাকে অপছন্দ করেছেন; তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ। মহান আল্লাহ তাঁর মহিমান্বিত নামের উসিলায় আমাদের হাদিস ও এর বর্ণনার দ্বারা উপকৃত করুন এবং আমাদের এর সৎকর্মশীল বাহকদের অন্তর্ভুক্ত করুন।