(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: -)
القرآن وعلوم الأرض (محمد سميح عافية)
القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: القرآن وعلوم الأرض
المؤلف: محمد سميح عافية
الناشر: الزهراء للإعلام العربي
الطبعة: الأولى 1414 هـ- 1994 هـ
عدد الصفحات: 224
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন ও ভূবিজ্ঞান (মুহাম্মাদ সামিহ আফিয়াহ)
বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
বই: কুরআন ও ভূবিজ্ঞান
লেখক: মুহাম্মাদ সামিহ আফিয়াহ
প্রকাশক: আজ-জাহরা লিল-ই’লাম আল-আরাবি
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি- ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيمتمهيد:خلق الله الإنسان مزودًا بالعقل، ومزودا بالقدرة على الاختيار في تصرفاته، فحمل الأمانة، أمانة التفكير وأمانة الإرادة، وهي مناط التكليف والمسئولية، دون الكثير من سائر مخلوقات الله {إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْأِنْسَانُ} [الأحزاب: 72] .وشاءت إرادة الله أن يعمر الإنسان الأرض التي خلق منها، وجعلت له مستقرا في هذه الحياة، ومستودعا إلى يوم القيامة {إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً} [البقرة: 30] .{مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى} [طه: 55] .ولقد خلق الله الإنسان لكي يعبده ويسبح بحمده {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] .{تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا يُسَبِّحُ بِحَمْدِهِ وَلَكِنْ لا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ إِنَّهُ كَانَ حَلِيمًا غَفُورًا} [الإسراء: 44] .ولقد خلق الله الإنسان فريدًا في ملكاته، متميزًا عن كثير من مخلوقاته {وَلَقَد
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেপ্রস্তাবনা:আল্লাহ মানুষকে বিবেক এবং তার আচরণে পছন্দ করার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, ফলে সে আমানত বহন করেছে—চিন্তার আমানত এবং ইচ্ছাশক্তির আমানত; যা আল্লাহর অন্য অনেক সৃষ্টির বিপরীতে তার ওপর অর্পিত ধর্মীয় দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার মূল ভিত্তি। {নিশ্চয়ই আমি আসমানসমূহ, পৃথিবী ও পর্বতমালার নিকট এই আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে তারা ভীত হলো; আর মানুষ তা বহন করল।} [আল-আহযাব: ৭২] ।আর আল্লাহর ইচ্ছা ছিল যে, মানুষ সেই পৃথিবী আবাদ করবে যেখান থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর তিনি একে তার জন্য এই জীবনে একটি বাসস্থান এবং কিয়ামত পর্যন্ত একটি অবস্থানস্থল নির্ধারণ করেছেন। {নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।} [আল-বাকারাহ: ৩০] ।{তা থেকেই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফিরিয়ে নেব এবং তা থেকেই পুনরায় তোমাদের বের করে আনব।} [ত্বহা: ৫৫] ।আর আল্লাহ মানুষকে কেবল তাঁর ইবাদত করার জন্য এবং তাঁর প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা বর্ণনা করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।} [আয-যারিয়াত: ৫৬] ।{সাত আসমান, পৃথিবী এবং তাদের মধ্যে যারা রয়েছে তারা সবাই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। এমন কিছু নেই যা তাঁর সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করে না; কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা বুঝতে পারো না। নিশ্চয়ই তিনি অতি সহনশীল, পরম ক্ষমাশীল।} [আল-ইসরা: ৪৪] ।আর আল্লাহ মানুষকে তার যোগ্যতায় অনন্য এবং তাঁর অনেক সৃষ্টির ওপর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করে সৃষ্টি করেছেন। {আর নিশ্চয়ই আমি...
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا} [الإسراء: 70] .وكان العلم هو أول فضل أتاه الله للإنسان {وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ، قَالُوا سُبْحَانَكَ لا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ، قَالَ يَا آدَمُ أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ} [البقرة: 31-33] .ويكتسب الإنسان العلم بالرؤية والممارسة والتجربة والتفكر {الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [آل عمران: 191] .{وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ} [البقرة: 255] .ومن نعم الله على العباد قدرتهم على الكتابة، فإن الكتابة هي التي حفظت العلم، ونقلته من جيل إلى جيل من البشر، وبالكتابة تمكنت البشرية من إضافة المزيد من علم الله؛ بما يتراكم لديها من المعرفة {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ، الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ، عَلَّمَ الْأِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 1-5] .{نْ وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ} [القلم: 1] {وَلَوْ أَنَّمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ أَقْلامٌ وَالْبَحْرُ يَمُدُّهُ مِنْ بَعْدِهِ سَبْعَةُ أَبْحُرٍ مَا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللَّهِ} [لقمان: 27] .{قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا} [الكهف: 109] .وقد هدى الله الإنسان إلى النظر فيما حوله من أشياء ومن أحياء، وهداه إلى
"আমি অবশ্যই আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং তাদের স্থলে ও জলে যাতায়াতের বাহন দিয়েছি; তাদের পবিত্র রিযিক দান করেছি এবং আমার অনেক সৃষ্টির ওপর তাদের বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।" [আল-ইসরা: ৭০]।আর জ্ঞানই ছিল প্রথম অনুগ্রহ যা আল্লাহ মানুষকে দান করেছিলেন। "আর তিনি আদমকে যাবতীয় বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, 'তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এগুলোর নাম বলে দাও'। তারা বলল, 'আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, মহাপ্রজ্ঞাময়'। তিনি বললেন, 'হে আদম! তুমি তাদের এগুলোর নাম জানিয়ে দাও'। অতঃপর যখন সে তাদের নাম জানিয়ে দিল, তখন তিনি বললেন, 'আমি কি তোমাদের বলিনি যে, নিশ্চয়ই আমি আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয়সমূহ জানি এবং তোমরা যা প্রকাশ কর ও যা গোপন করতে আমি তাও জানি'।" [আল-বাকারা: ৩১-৩৩]।মানুষ পর্যবেক্ষণ, অনুশীলন, অভিজ্ঞতা এবং চিন্তাভাবনার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করে। "যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করে" [আলে ইমরান: ১৯১]।"আর তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া" [আল-বাকারা: ২৫৫]।বান্দাদের ওপর আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত হলো তাদের লিখন-ক্ষমতা; কারণ লিখনই জ্ঞানকে সংরক্ষণ করে এবং তা মানবজাতির এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তরিত করে। লিখনের মাধ্যমেই মানবজাতি আল্লাহর দানকৃত জ্ঞানের পরিধি আরও বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে; তাদের কাছে বিদ্যমান জ্ঞানের ক্রমপুঞ্জিভবনের মাধ্যমে। "পাঠ করুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক (জমাট রক্ত) থেকে। পাঠ করুন, আর আপনার রব মহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না" [আল-আলাক: ১-৫]।"নুন, কলমের শপথ এবং যা তারা লিপিবিদ্ধ করে" [আল-কলম: ১]। "আর পৃথিবীতে যত গাছ আছে তা যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথে আরও সাতটি সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও আল্লাহর বাণী শেষ হবে না" [লোকমান: ২৭]।"বলুন, যদি আমার রবের বাণীর জন্য সমুদ্র কালি হয়, তবে আমার রবের বাণী শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে, যদিও আমি এর সাহায্যের জন্য এর মতো আরও সমুদ্র নিয়ে আসি" [আল-কাহাফ: ১০৯]।আল্লাহ মানুষকে তার চারপাশের বস্তু ও জীবন্ত প্রাণীকুলকে পর্যবেক্ষণ করার হিদায়াত দান করেছেন এবং তাকে পথ দেখিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
النظر في نفسه: {أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَتَكُونَ لَهُمْ قُلُوبٌ يَعْقِلُونَ بِهَا أَوْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا فَإِنَّهَا لا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ} [الحج: 46] .{الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا مَا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِنْ فُطُورٍ} [الملك: 3] .{وَفِي الْأَرْضِ آيَاتٌ لِلْمُوقِنِينَ، وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلا تُبْصِرُونَ} [الذاريات: 20- 21] .{خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ تَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [النحل: 3] .وحينما أنزل الله القرآن على رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، كانت البشرية قد حصلت وقتئذ على قدر معين من العلم بطبيعة الأشياء، وطبيعة الكائنات، وطبيعة الظواهر الطبيعية.ففي مجال العلم بالفلزات، على سبيل المثال، كانت البشرية قد عرفت الذهب والفضة والنحاس والحديد، وبرغم قدم المعرفة بهذه الفلزات، إلا أن هذ القدم هو قدم نسبي فإن اكتشاف كيفية صهر خامات الحديد للحصول على فلز الحديد، كان أكثرها حداثة بين تلك الفلزات الأربعة، فلم تكن البشرية قد توصلت إليه إلا منذ حوالي ألف ومائتي عام، قبل مولد المسيح عليه السلام لذلك فقد جاء ذكر الحديد في القرآن الكريم مباشرًا صريحًا، حيث ألفه الناس في حياتهم اليومية، وصنعوا منه أدوات سلمهم وحربهم.ومع الحث الدائب على الرؤية والتفكر، فقد اشتمل القرآن الكريم على ذكر عدد وافر من الظواهر الطبيعية: ظواهر ما في السموات من نجوم، وكواكب، وبخاصة الشمس والقمر، وظواهر مرتبطة بالأرض التي يعيش على سطحها بنو
নিজের সত্তার মাঝে পর্যবেক্ষণ: {তবে কি তারা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করেনি? ফলে তাদের এমন হৃদয় হতো যা দ্বারা তারা উপলব্ধি করতে পারত অথবা এমন কান হতো যা দ্বারা তারা শ্রবণ করতে পারত। প্রকৃতপক্ষে চক্ষু তো অন্ধ হয় না, বরং বক্ষস্থিত হৃদয়ই অন্ধ হয়ে যায়।} [আল-হাজ্জ: ৪৬] ।{যিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি পুনরায় দৃষ্টি ফিরাও, কোনো ফাটল দেখতে পাও কি?} [আল-মুলক: ৩] ।{দৃঢ়বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে বহু নিদর্শন রয়েছে, এবং তোমাদের নিজেদের মাঝেও; তবে কি তোমরা অনুধাবন করবে না?} [আয-যারিয়াত: ২০-২১] ।{তিনি যথাযথভাবে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। তারা যা শরিক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।} [আন-নাহল: ৩] ।মহান আল্লাহ যখন তাঁর রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেন, তখন মানবজাতি বস্তুনিচয়, প্রাণিকুল এবং প্রাকৃতিক ঘটনাবলির প্রকৃতি সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট মাত্রার জ্ঞান অর্জন করেছিল।উদাহরণস্বরূপ, ধাতুবিদ্যার ক্ষেত্রে মানবজাতি তখন স্বর্ণ, রৌপ্য, তামা ও লোহা সম্পর্কে অবগত ছিল। এই ধাতুগুলো সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান সুপ্রাচীন হওয়া সত্ত্বেও তা ছিল আপেক্ষিক। কেননা আকরিক লোহা গলিয়ে ব্যবহারযোগ্য লৌহ ধাতু নিষ্কাশনের পদ্ধতিটি ছিল এই চারটি ধাতুর মধ্যে অপেক্ষাকৃত আধুনিক। ঈসা (আ.)-এর জন্মের প্রায় বারোশ বছর পূর্বে মানবজাতি এই কৌশল আয়ত্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। একারণেই পবিত্র কুরআনে লোহার কথা সরাসরি ও স্পষ্টভাবে এসেছে, যা মানুষ তাদের প্রাত্যহিক জীবনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করত এবং যা দ্বারা তারা তাদের শান্তি ও যুদ্ধের নানাবিধ সরঞ্জাম নির্মাণ করত।পর্যবেক্ষণ ও চিন্তাভাবনার প্রতি নিরন্তর উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি পবিত্র কুরআন প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক প্রপঞ্চের উল্লেখ করেছে: আসমানের নক্ষত্ররাজি, গ্রহসমূহ, বিশেষ করে সূর্য ও চন্দ্রের ঘটনাবলি এবং পৃথিবীর উপরিভাগে বসবাসকারী মানবজাতির সাথে সংশ্লিষ্ট নানাবিধ প্রাকৃতিক বিষয়।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الإنسان، من هواء "رياح" وماء ويابسة كما اشتمل القرآن الكريم على ذكر عدد وافر من ظواهر الحياة على سطح الأرض: الحياة النباتية، والحياة الحيوانية، والحياة البشرية نفسها، ودعا الله البشر إلى التأمل في هذه الظواهر، لتعميق الإحساس بوجود الخالق وبقدرته ووحدانيته، حتى تكون عبادته مقترنة بالإقرار بالعبودية وبالخشية:{مَا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ} [الملك: 3] .{صُنْعَ اللَّهِ الَّذِي أَتْقَنَ كُلَّ شَيْءٍ} [النمل: 88] .{الَّذِي أَحْسَنَ كُلَّ شَيْءٍ خَلَقَهُ} [السجدة: 7] .{إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49] .{إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ} [الصافات: 6] .{فَلا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ، وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ} [الواقعة: 75- 76] .{وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْزُونٍ} [الحجر: 19] .{وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ} [الأنعام: 99] .{فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ} [الطارق: 5] .{أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ ثَمَرَاتٍ مُخْتَلِفًا أَلْوَانُهَا وَمِنَ الْجِبَالِ جُدَدٌ بِيضٌ وَحُمْرٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهَا وَغَرَابِيبُ سُودٌ، وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَابِّ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ} [فاطر: 27-28] .سبحان الله رب العالمين، له الثناء في ذاته وصفاته، هو كما أثنى على نفسه،
মানুষ বায়ু (বাতাস), পানি ও স্থলভাগ দ্বারা গঠিত; ঠিক যেভাবে পবিত্র কুরআন ভূপৃষ্ঠে জীবনের অসংখ্য নিদর্শনের উল্লেখ ধারণ করেছে: উদ্ভিদজীবন, প্রাণীজীবন এবং স্বয়ং মানবজীবন। আল্লাহ মানবজাতিকে এই সকল নিদর্শন নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে স্রষ্টার অস্তিত্ব, তাঁর ক্ষমতা ও একত্ববাদের অনুভূতি আরও সুদৃঢ় হয় এবং তাঁর ইবাদত যেন দাসত্বের স্বীকৃতি ও আনুগত্যপূর্ণ ভীতির সাথে সম্পন্ন হয়:{দয়াময় রহমানের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না} [মুলক: ৩] ।{এটি আল্লাহরই কারুকার্য, যিনি সবকিছুকে সুনিপুণ করেছেন} [নামল: ৮৮] ।{যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে উত্তম করেছেন} [সাজদাহ: ৭] ।{নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেকটি বস্তু নির্দিষ্ট পরিমাপে সৃষ্টি করেছি} [কামার: ৪৯] ।{নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির শোভা দ্বারা সুশোভিত করেছি} [সাফফাত: ৬] ।{অতএব, আমি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের শপথ করছি; আর নিশ্চয়ই এটি এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে!} [ওয়াকিয়াহ: ৭৫-৭৬] ।{এবং আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি, তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং সেখানে প্রত্যেকটি বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি} [হিজর: ১৯] ।{এবং তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর আমি তা দিয়ে সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি} [আনআম: ৯৯] ।{সুতরাং মানুষের দেখা উচিত তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে} [তারিক: ৫] ।{তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর আমি তা দিয়ে বিচিত্র বর্ণের ফলমূল উদ্গত করেছি? আর পাহাড়ের মধ্যে রয়েছে বিচিত্র বর্ণের পথ—সাদা, লাল এবং নিকষ কালো। একইভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।} [ফাতির: ২৭-২৮] ।বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ অতি পবিত্র, তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে সমস্ত প্রশংসা কেবল তাঁরই প্রাপ্য; তিনি তেমনই, যেমন তিনি স্বয়ং নিজের প্রশংসা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وله الأسماء الحسنى {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 180] .{قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [الإسراء: 110] .{اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} [طه: 8] .{هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الحشر: 24] .فالله لا إله إلا هو، الخالق، العظيم، الكبير، القوي، المبدئ، المعيد، الواحد، المقتدر، مالك الملك، الباقي، وكما نردد في ركوعنا وسجودنا أثناء الصلاة، فالله أكبر، وسبحان ربي الأعلى، فهو الأكبر وهو الأعلى.والبشر بما أودع الله فيهم من حواس محدودة الطاقة، يتفاوتون تفاوتا كبيرا في إدراك عظمة الله في صفاته، وفي قدرته، وفي خلقه {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ} [الأنعام: 91] .{مَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} [الحج: 74] .{وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [الزمر: 76] .وشاءت رحمة الله بعباده أن يقرب لهم فهم آياته، وفي كلماته وفي خلقه، فضرب لهم الأمثال لعلهم يرشدون: {أَنْ يَضْرِبَ مَثَلًا مَا بَعُوضَةً فَمَا
আর তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। "আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, অতএব তোমরা তাঁকে সেই নামেই ডাকো; আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের ব্যাপারে বিকৃতি ঘটায়; তারা যা করত অচিরেই তাদেরকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে।" [আল-আ'রাফ: ১৮০] ."বলুন, তোমরা ‘আল্লাহ’ নামে ডাকো বা ‘রাহমান’ নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, সুন্দরতম নামসমূহ তো তাঁরই।" [আল-ইসরা: ১১০] ."আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; সুন্দরতম নামসমূহ তাঁরই।" [ত্বহা: ৮] ."তিনিই আল্লাহ; সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী, সুন্দরতম নামসমূহ তাঁরই। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [আল-হাশর: ২৪] .সুতরাং আল্লাহ—তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই; তিনি সৃষ্টিকর্তা, মহান, সুমহান, শক্তিশালী, আদি-সৃষ্টিকারী, পুনঃসৃষ্টিকারী, এক, ক্ষমতাধর, রাজাধিরাজ ও চিরবিরাজমান। আর যেমনটি আমরা নামাজের রুকু ও সিজদায় বারবার পাঠ করি—'আল্লাহু আকবার' (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ), এবং 'সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা' (আমার সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা ঘোষণা করছি); অতএব তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তিনি সুউচ্চ।আর আল্লাহ মানুষের মধ্যে যে সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্দ্রিয়সমূহ নিহিত রেখেছেন, তার মাধ্যমে তারা আল্লাহর গুণাবলি, তাঁর ক্ষমতা এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর মহানুভবতা অনুধাবনের ক্ষেত্রে ব্যাপক তারতম্য রাখে। "তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দান করেনি।" [আল-আন'আম: ৯১] ."তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দেয়নি; নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিশালী, পরাক্রমশালী।" [আল-হাজ্জ: ৭৪] ."তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দেয়নি। কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে।" [আয-যুমার: ৭৬] .আর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত বা অনুগ্রহ এটিই চেয়েছে যে, তিনি তাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাদির উপলব্ধি সহজ করে দেবেন—তাঁর বাণীতে এবং তাঁর সৃষ্টিতে। তাই তিনি তাদের জন্য উদাহরণসমূহ পেশ করেছেন যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মশা কিংবা তার চেয়েও ক্ষুদ্র কিছুর উদাহরণ পেশ করতে..."
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فَوْقَهَا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَذَا مَثَلًا يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ} [البقرة: 26] .{وَلَقَدْ ضَرَبْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ} [الزمر: 27] .{وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [الحشر: 21] .ويتلو المسلمون في صلواتهم سورة الفاتحة مع كل ركعة فيرددون قول الحق {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِين} و"العالمين" جمع عالم، أريد به جميع الكائنات في السماوات والأرض، من كل ما سوى الله عز وجل، وهى تذكرة دائبة بقدرة الله وبديع صنعه، ودعوة للاشتغال بفهم أسرار هذا الكون.ثم يرددون قول الحق: {مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ} وهى تذكرة دائبة بيوم القيامة، وهو يوم الحساب وتقترن بهذا اليوم ظواهر كونية تسبقه، وظواهر تتزامن معه، وقد أوضح القرآن الكريم أحوال يوم القيامة في مواضع كثيرة، ففيها أحداث فلكية، وفيها ما يصيب الأرض نفسها من تغيير وتبديل، وقد أوضح الحق سبحانه وتعالى بعض تلك الأحداث بالوصف المباشر، وأوضح بعضها بالتشبيه ببعض ما يألفه الإنسان في حياته الدنيا: {وَمَا أَمْرُنَا إِلَّا وَاحِدَةٌ كَلَمْحٍ بِالْبَصَرِ} [القمر: 50] .{يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ} [إبراهيم: 48] .{يَوْمَ تَكُونُ السَّمَاءُ كَالْمُهْلِ، وَتَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ} [المعارج: 8-9] .الإعجاز العلمي للقرآن:كانت البشرية حين أنزل الله القرآن على رسوله الأمين صلى الله عليه وسلم، قد نالت حظًّا
...তার উর্ধ্বে। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে তারা জানে যে, এটি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য। আর যারা কুফরি করেছে তারা বলে, 'আল্লাহ এই উপমা দ্বারা কী বুঝাতে চেয়েছেন?' তিনি এর মাধ্যমে অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং এর মাধ্যমে অনেককে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আর তিনি পাপাচারী ব্যতীত অন্য কাউকে এর মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করেন না। [আল-বাকারাহ: ২৬] .{আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের উপমা পেশ করেছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে} [আজ-জুমার: ২৭] .{আর আমি মানুষের জন্য এই উপমাগুলো পেশ করি যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} [আল-হাশর: ২১] .মুসলিমগণ তাদের সালাতে প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করেন এবং মহান সত্যের এই বাণীটি পুনরাবৃত্তি করেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিজগতের প্রতিপালক}। এখানে "আলামিন" শব্দটি "আলাম"-এর বহুবচন, যার দ্বারা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী আল্লাহ ব্যতীত যাবতীয় সৃষ্টিজগতকে বোঝানো হয়েছে। এটি আল্লাহর কুদরত ও তাঁর অপূর্ব সৃষ্টিশৈলীর এক নিরন্তর স্মারক এবং এই মহাবিশ্বের রহস্যগুলো অনুধাবনের প্রতি মনোনিবেশ করার একটি আহ্বান।অতঃপর তারা মহান সত্যের বাণীটি পাঠ করেন: {যিনি বিচার দিবসের মালিক}। এটি কিয়ামত বা হাশরের ময়দানের একটি অবিরত স্মারক। এই দিবসের সাথে এমন কিছু মহাজাগতিক নিদর্শন সংশ্লিষ্ট রয়েছে যা এর পূর্বে ঘটবে এবং কিছু বিষয় এর সাথে যুগপৎভাবে ঘটবে। কুরআনুল কারীম বিভিন্ন স্থানে কিয়ামত দিবসের অবস্থাসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। এতে জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত ঘটনাবলী রয়েছে এবং স্বয়ং পৃথিবীতে যে পরিবর্তন ও রূপান্তর ঘটবে তার বিবরণও রয়েছে। মহান আল্লাহ এই ঘটনাবলীর কিছু সরাসরি বর্ণনার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন, আর কিছু মানুষের পার্থিব জীবনে পরিচিত বিষয়ের সাথে উপমা প্রদানের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: {আর আমার আদেশ তো মাত্র একটি কথার মতো, যা চোখের পলকের মতো} [আল-কামার: ৫০] .{যেদিন এই পৃথিবীকে পরিবর্তন করে অন্য এক পৃথিবীতে রূপান্তর করা হবে এবং আকাশমন্ডলীকেও; আর তারা সকলে এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে} [ইবরাহীম: ৪৮] .{যেদিন আকাশ হবে গলিত ধাতুর মতো এবং পর্বতমালা হবে রঙিন ধুনিত পশমের মতো} [আল-মাআরিজ: ৮-৯] .কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব:আল্লাহ যখন তাঁর বিশ্বস্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কুরআন নাযিল করেছিলেন, তখন মানবজাতি লাভ করেছিল এক মহান অংশ...
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
محدودًا من العلوم المادية، مثل علم الفلك والعلوم التجريبية والتطبيقية، فقد سبق ظهور الإسلام وجود حضارات اهتمت بتلك العلوم، واستمر اهتمام الحضارات المتعاقبة بعد ظهور الإسلام بكل تلك العلوم، وكانت الحضارة الإسلامية سباقة في هذا المضمار، وكان القرآن الكريم حافزًا لأن تتألق هذه الحضارة، لما تضمنته الآيات من الحث على العلم والتعلم، فكان من المسلمين علماء أفاضل في مختلف فروع العلم.ويعتبر جابر بن حيان1 [161 هـ: 778م] أول كيميائي تجريبي في التاريخ الإسلامي، وكان يقول: إنا نثبت في هذه الكتب خواص ما رأيناه فقط، دون ما سمعناه أو قيل لنا، أو قرأناه، بعد أن امتحناه وجربناه، وكان يقول أيضا: عملته بيدي وبعقلي، وبحثته حتى صح، وامتحنته فما كذب.وكان الكندي2 [175-252 هـ: 801-878م] عالمًا موسوعيًّا متفقهًا في علوم الدين، خاض في علوم الهندسة والطبيعة والفلك والكيمياء، كما كان فيلسوفا وكان يستند إلى آيات القرآن الكريم في الاستقراء والاستنباط، ومن أمثلة ما كان يستشهد به من الآيات:{أَفِي اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [إبراهيم: 10] .{أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ} [الأعراف: 185] .
--------------------------------------------
1 عبد الحليم الجندي: القرآن والمنهج العلمي المعاصر، ص 130.2 عبد الحليم الجندي: القرآن والمنهج العلمي المعاصر، ص 134.
জ্যোতির্বিদ্যা, পরীক্ষামূলক এবং ফলিত বিজ্ঞানের মতো জড় বিজ্ঞানের একটি সীমিত অংশ ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বেই বিদ্যমান ছিল, কারণ ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে এমন সব সভ্যতার অস্তিত্ব ছিল যারা এই বিজ্ঞানগুলোর প্রতি আগ্রহী ছিল। ইসলামের আবির্ভাবের পর পরবর্তী সভ্যতাগুলোর এই সকল বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ অব্যাহত থাকে এবং ইসলামি সভ্যতা এই ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিল। পবিত্র কুরআন এই সভ্যতার বিকাশে এক উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছিল, কারণ এর আয়াতসমূহে জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। ফলে মুসলিমদের মধ্যে বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রথিতযশা পণ্ডিত ও বিজ্ঞানী তৈরি হয়েছিলেন।জাবির ইবনে হাইয়ান১ [১৬১ হিজরি: ৭৭৮ খ্রিস্টাব্দ] ইসলামি ইতিহাসে প্রথম পরীক্ষামূলক রসায়নবিদ হিসেবে বিবেচিত হন। তিনি বলতেন: "আমরা এই বইগুলোতে কেবল সেই সব বৈশিষ্ট্যই লিপিবদ্ধ করি যা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি; যা আমরা শুনেছি, অথবা আমাদের বলা হয়েছে, অথবা আমরা পাঠ করেছি তা নয়। বরং আমরা তা পরীক্ষা ও যাচাই করার পরেই লিপিবদ্ধ করি।" তিনি আরও বলতেন: "আমি এটি আমার হাত ও মেধা দিয়ে সম্পন্ন করেছি এবং এটি নিয়ে গবেষণা করেছি যতক্ষণ না তা সঠিক (صحيح) হয়েছে, এবং আমি এটি পরীক্ষা করেছি ফলে তা মিথ্যা (كذب) প্রতিপন্ন হয়নি।"আল-কিন্দি২ [১৭৫-২৫২ হিজরি: ৮০১-৮৭৮ খ্রিস্টাব্দ] ছিলেন একজন বিশ্বকোষীয় পণ্ডিত এবং ধর্মীয় বিজ্ঞানে পারদর্শী। তিনি জ্যামিতি, পদার্থবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা ও রসায়নশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন। তিনি একজন দার্শনিকও ছিলেন এবং আরোহ (استقراء) ও অবরোহ (استنباط) পদ্ধতির ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের আয়াতের ওপর নির্ভর করতেন। তিনি যেসব আয়াত উদ্ধৃত করতেন তার উদাহরণ: {আল্লাহ সম্পর্কে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা?} [ইব্রাহিম: ১০] ।{তারা কি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে অনুধাবন করে না?} [আল-আরাফ: ১৮৫] ।
--------------------------------------------
১ আব্দুল হালিম আল-জুন্দি: আল-কুরআন ওয়াল মানহাজ আল-ইলমি আল-মুয়াসির, পৃষ্ঠা ১৩০।২ আব্দুল হালিম আল-জুন্দি: আল-কুরআন ওয়াল মানহাজ আল-ইলমি আল-মুয়াসির, পৃষ্ঠা ১৩৪।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
{إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآياتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} [البقرة: 164] .{أَفَلا يَنْظُرُونَ إِلَى الْأِبِلِ كَيْفَ خُلِقَتْ، وَإِلَى السَّمَاءِ كَيْفَ رُفِعَتْ} [الغاشية: 17/ 18] .وكان المسعودي [346هـ: 956م] عالما في الفلك والجيولوجيا، كما كان مؤرخا جغرافيا.وكان ابن سينا1 [375-438هـ] عالما تجريبا شاملًا، بعد أن برز في شبابه في الفقه وألف فيه.وكان التيفاشي2 [651هـ: 125م] عالما في الجيولوجيا ومن دلائل أمانته العلمية قوله: مع ذلك فمعظم الخواص المذكورة فيه مما خبرته بنفسي، أو وثقت بصحة النقل فيه عن غيري من المتقدمين فأحلت عليه، وقوله: مما اختبرته ووقفت عليه بالعمل، وقوله: وقد وقفت على ذلك بالتجربة.وكان القزويني3 [605-682هـ: 1208: 1283م] فقيها ومفسرا للقرآن والحديث، وجغرافيا وعالما طبيعيًّا وكان يتمثل دائما بآيات القرآن، ومنها قوله تعالى:
--------------------------------------------
1 عبد الحليم الجندي: القرآن والمنهج العلمي المعاصر، ص 144.2 عبد الحليم الجندي: القرآن والمنهج العلمي المعاصر، ص 150.3 عبد الحليم الجندي: القرآن والمنهج العلمي المعاصر، ص 153.
{নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের আবর্তনে, সমুদ্রে চলাচলকারী সেই সব নৌযানে যা মানুষের জন্য কল্যাণকর, আল্লাহ আকাশ থেকে যে পানি বর্ষণ করে জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং এতে সমস্ত প্রকার জীবজন্তুর বিস্তরণে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে এবং আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী নিয়ন্ত্রিত মেঘমালার মাঝে জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে।} [আল-বাকারা: ১৬৪] .{তবে কি তারা উটের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের প্রতি যে, তা কীভাবে উচ্চকিত করা হয়েছে?} [আল-গাশিয়া: ১৭/১৮] .আল-মাসউদী [৩৪৬ হিজরি: ৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ] জ্যোতির্বিদ্যা ও ভূ-তত্ত্বের পণ্ডিত ছিলেন, যেমনটি তিনি একজন ঐতিহাসিক ও ভূগোলবিদ ছিলেন।ইবনে সিনা [৩৭৫-৪৩৮ হিজরি] একজন সামগ্রিক পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানী ছিলেন, তাঁর যৌবনে ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন এবং তাতে গ্রন্থ রচনার পর।আত-তীফাশী [৬৫১ হিজরি: ১২৫ খ্রিস্টাব্দ] ভূ-তত্ত্বের একজন পণ্ডিত ছিলেন এবং তাঁর বৈজ্ঞানিক আমানতদারির অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁর এই উক্তি: "তা সত্ত্বেও, এতে বর্ণিত অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য এমন যা আমি নিজেই পরীক্ষা করেছি, অথবা পূর্ববর্তীদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনার (النقل) বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে আমি নির্ভরযোগ্যতা (وثقت) অনুভব করে তাদের উদ্ধৃতি দিয়েছি।" এবং তাঁর উক্তি: "যা আমি পরীক্ষা করেছি এবং বাস্তব কর্মতৎপরতার মাধ্যমে তাতে উপনীত হয়েছি।" এবং তাঁর উক্তি: "আমি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তা অবগত হয়েছি।"আল-কাযউইনী [৬০৫-৬৮২ হিজরি: ১২০৮: ১২৮৩ খ্রিস্টাব্দ] একজন ফকিহ এবং কুরআন ও হাদিসের মুফাসসির ছিলেন, সেই সাথে তিনি একজন ভূগোলবিদ ও প্রকৃতিবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনি সর্বদা কুরআনের আয়াতসমূহ দ্বারা উদাহরণ পেশ করতেন, যার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম:
--------------------------------------------
১ আব্দুল হালিম আল-জুন্দী: আল-কুরআন ওয়াল মানহাজুল ইলমি আল-মুয়াসির, পৃষ্ঠা ১৪৪।২ আব্দুল হালিম আল-জুন্দী: আল-কুরআন ওয়াল মানহাজুল ইলমি আল-মুয়াসির, পৃষ্ঠা ১৫০।৩ আব্দুল হালিম আল-জুন্দী: আল-কুরআন ওয়াল মানহাজুল ইলমি আল-মুয়াসির, পৃষ্ঠা ১৫৩।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
{أَفَلَمْ يَنْظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِنْ فُرُوجٍ} [ق: 6] .ومن ملاحظاته تقسيم المعادن أقسامًا ثلاثة: فمنها ما ينطبع كالذهب والفضة والحديد والرصاص، ومنها ما لا ينطبع كالياقوت والفيروز والزبرجد، ومنها معادن الأرض كالنفط والكبريت.ومنذ القرن السادس عشر الميلادي، تغلبت النزعة العلمية التي تعتمد على التجربة والقياس [كما نعرفها في المناهج العلمية الحالية] بدلًا من النظريات الفلسفية، وانتقل ميزان تلك النهضة العلمية إلى دول أوروبا، وبجانب علم الفلك، فقد قسمت العلوم التجريبية الأخرى إلى مسميات محدودة المفهوم والأداء؛ فكان علم الكيمياء وعلم الطبيعة وعلم النبات، وعلم الحيوان وعلم الرياضة.كما تحددت معالم علوم الطب بفروعه المتعددة، وأصحبت الجغرافيا علما يعتمد على المشاهدة والتجرية والإحصاء، ولامست أطرافه فروعا أخرى للعلم.ثم نشأ علم قائم بذاته يبحث في أمور الأرض سمي بعلم الأرض، أو الجيولوجيا Geology واشتقت تسميته من اللغة اللاتينية [علم Logus، الأرض Gro] ثم تعددت فروع علم الجيولوجيا، فصارت علوم الأرض.وشارك علماء الشعوب الإسلامية في كافة فروع العلم التجريبية، وانتشرت المختبرات العلمية، والمكتبات العلمية مع العلماء المسلمين في معظم الدول الإسلامية، وقرأ فريق من العلماء التجريبيين المسلمين كتاب الله بإيمان كامل، وتمعن في كلمات الله وما تحمله من معان، ووجدوا أن هناك أشياء يمكن أن يضيفوها مما أفاء
{তারা কি তাদের উপরে অবস্থিত আকাশের দিকে লক্ষ্য করে না যে, আমি তা কিভাবে নির্মাণ করেছি এবং সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোনো ফাটল নেই।} [ক্বাফ: ৬] .তাঁর পর্যবেক্ষণসমূহের মধ্যে একটি ছিল খনিজ পদার্থকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা: কিছু অংশ নমনীয় (আকার পরিবর্তনযোগ্য) যেমন স্বর্ণ, রৌপ্য, লৌহ ও সীসা; কিছু অংশ অনমনীয় যেমন ইয়াকুত, ফিরোজা ও জাবারজাদ; এবং কিছু মাটির খনিজ যেমন পেট্রোলিয়াম ও গন্ধক।ষোড়শ শতাব্দী থেকে দার্শনিক তত্ত্বের পরিবর্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিমাপের (যা আমরা বর্তমান বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জানি) ওপর ভিত্তি করে বৈজ্ঞানিক প্রবণতা প্রবল হয়ে ওঠে এবং সেই বৈজ্ঞানিক জাগরণের কেন্দ্র ইউরোপীয় দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানের পাশাপাশি অন্যান্য পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানগুলোকেও সুনির্দিষ্ট ধারণা ও প্রয়োগের ভিত্তিতে বিভিন্ন নামে বিভক্ত করা হয়; যেমন রসায়ন বিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, উদ্ভিদ বিজ্ঞান, প্রাণী বিজ্ঞান এবং গণিত শাস্ত্র।একইভাবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখাগুলোর রূপরেখা নির্ধারিত হয় এবং ভূগোল এমন এক বিজ্ঞানে পরিণত হয় যা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিসংখ্যানের ওপর নির্ভরশীল, এবং বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার সাথেও এর যোগসূত্র স্থাপিত হয়।অতঃপর পৃথিবীর বিষয়াদি নিয়ে পর্যালোচনার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান গড়ে ওঠে যাকে বলা হয় ‘ভূ-বিজ্ঞান’ বা ‘ভূতত্ত্ব’ (Geology)। এর নামকরণ ল্যাটিন ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে [Logus মানে বিজ্ঞান, Gro মানে পৃথিবী]। পরবর্তীতে ভূতত্ত্বের শাখাগুলো বিস্তৃত হয়ে তা ভূ-বিজ্ঞানসমূহে রূপান্তরিত হয়।মুসলিম দেশগুলোর বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের সকল শাখায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রে মুসলিম বিজ্ঞানীদের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণাগার ও বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাগারগুলো বিস্তার লাভ করেছিল। একদল মুসলিম পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানী পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে আল্লাহর কিতাব পাঠ করেন এবং আল্লাহর বাণীর গভীর অর্থ নিয়ে নিবিষ্টভাবে চিন্তা করেন। তারা সেখানে এমন কিছু বিষয় খুঁজে পান যা তারা আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের আলোকে সংযোজন করতে সক্ষম হন।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الله عليهم من العلم الحديث، مما يلقي المزيد من الأضواء على بعض الجوانب في تفسير بعض الآيات، تلك الجوانب التي لم يلق المفسرون السابقون إليها بالا، ورأى هؤلاء العلماء التجريبيون في إعلان هذه المعاني التي استنبطوها، والتي ترتكز على آخر ما توصل إليه العلم الحديث، توضيحا لعدد من القضايا القرآنية وتثبيتًا للإيمان العميق، كما وجدوا فيه جانبا من الإعجاز أسموه: الإعجاز العلمى للقرآن، فهم يرون أن ثمة إشارات علمية عديدة وردت في ثنايا القرآن الكريم، لها صفة الإعجاز الذي يضع العلماء أنفسهم بمختلف تخصصاتهم موضع الانبهار إزاء تلك الإشارات التي تبين أنها حقائق علمية ساطعة، لم يمض على كشف كنهها سوى بضعة عقود من السنين، ولم يعد هذا الانبهار شعورا فرديا لبعض العلماء في هذا القطر الإسلامي أو ذاك، فقد انتظمت مجموعات من هؤلاء العلماء في تآلف، غرضه التعاون في أبحاث الإعجاز العلمي للقرآن، وعرضه على عامة المسلمين في ندوات ومؤتمرات، ونشره بوسائل الإعلام المقروءة والمسموعة والمرئية.وقد شهدت الشعوب الإسلامية خلال العقد الأخير عدة ندوات على الصعيدين الوطني، والإقليمي في موضوع الإعجاز العلمى للقرآن، وصدرت مؤلفات كثيرة في هذا الشأن تتناول مختلف التخصصات العلمية.ونظرا لأهمية الموضوع، فقد اتخذت المؤتمرات طابعا دوليا، فانعقد المؤتمر الدولي الأول للإعجاز العلمي في القرآن والسنة، خلال الفترة من 24 إلى 27 صفر عام 1408هـ[من 18 إلى 21 أكتوبر عام 1987م] في مدينة إسلام أباد عاصمة باكستان، نظمت المؤتمر رابطة العالم الإسلامي، وهيئة الإعجاز العلمي في القرآن
আল্লাহ আধুনিক বিজ্ঞান থেকে তাদের যা দান করেছেন, তা কুরআনের কিছু আয়াতের ব্যাখ্যার এমন কিছু বিষয়ের ওপর অধিকতর আলোকপাত করে, যে বিষয়গুলোর প্রতি পূর্ববর্তী মুফাসসিরগণ ভ্রুক্ষেপ করেননি। এই পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানীরা তাদের উদ্ঘাটিত অর্থসমূহ প্রকাশের মাধ্যমে—যা আধুনিক বিজ্ঞানের সর্বশেষ অর্জনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত—কুরআনের বেশ কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং গভীর ঈমান সুদৃঢ়করণের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। সেই সাথে তারা এর মধ্যে অলৌকিকত্বের (إعجاز) একটি দিক খুঁজে পেয়েছেন যাকে তারা নাম দিয়েছেন: কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي)। তারা মনে করেন যে, পবিত্র কুরআনের পরতে পরতে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত রয়েছে, যা এমন অলৌকিক (إعجاز) গুণসম্পন্ন যা বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীদের বিমুগ্ধ করে দেয়। এই ইঙ্গিতগুলো বর্তমানে উজ্জ্বল বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যেগুলোর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হওয়ার পর মাত্র কয়েক দশক অতিবাহিত হয়েছে। এই মুগ্ধতা এখন আর কোনো নির্দিষ্ট মুসলিম ভূখণ্ডের কতিপয় বিজ্ঞানীদের ব্যক্তিগত অনুভূতিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এই বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন দল একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা করা, সেমিনার ও সম্মেলনের মাধ্যমে সাধারণ মুসলিমদের নিকট তা উপস্থাপন করা এবং মুদ্রণ, শ্রবণ ও দৃশ্য মাধ্যমের সাহায্যে তা প্রচার করা।বিগত দশকে মুসলিম জাতিসমূহ কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) বিষয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বেশ কিছু সেমিনার প্রত্যক্ষ করেছে এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে অসংখ্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সম্মেলনগুলো আন্তর্জাতিক রূপ ধারণ করেছে। ফলে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর (سنة) বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (الإعجاز العلمي) বিষয়ক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২৪ থেকে ২৭ সফর ১৪০৮ হিজরি [১৮ থেকে ২১ অক্টোবর ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ] পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনটি আয়োজন করেছিল রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামি এবং কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব বিষয়ক সংস্থা।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والسنة بمكة المكرمة، بالتعاون مع الجامعة الإسلامية العالمية بإسلام أباد، وتأكد في هذا المؤتمر وما تبعه من مؤتمرات مماثلة، أن قضية الإعجاز العلمي في القرآن الكريم تقوم على حقيقتين:أولاهما: أن الإعجاز العلمي ليس هدفا في ذاته.ثانيتهما: أن القرآن الكريم كتاب هداية، ومن وسائل هذه الهداية ما تتضمنه آيات الكتاب العزيز من دلائل علمية ذات بال.القرآن وعلوم الأرض:نزل القرآن الكريم بلسان عربي مبين، وهو لغة الفصاحة والدقة في التعبير، ولا بد لمن يريد أن يتفهم معني الآيات الكريمة، أن يكون على إلمام مقبول بمعاني الألفاظ، واستخداماتها وقت نزول القرآن في صدر الإسلام، وتعيننا المعاجم اللغوية المعروفة في هذا الفهم عونا لا غناء عنه.وقد استحدثت في العلوم التجريبية الحديثة تعبيرات واصطلاحات جديدة، لم تكن موجودة في صدر الإسلام، ولا بد من الإلمام بالفروق في المعني بين العديد من التسميات القديمة والتسميات المستخدمة حاليا.فقد جاء في الأثر أن الرسول صلى الله عليه وسلم قد اقتطع "معدن" القبلية لبلال بن الحارث المزني، وكان لفظ "المعدن"، وجمعه "معادن" يطلق على ما نسميه بتعبيراتنا المعاصرة "منجم" وجمعه "مناجم".وإذا ذكر لفظ "الركاز" كما كان مستخدما زمن الرسول الكريم، فعلينا أن
...এবং মক্কা আল-মুকাররামায় সুন্নাহ, ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায়; এবং এই সম্মেলনে ও এর পরবর্তী সমজাতীয় সম্মেলনগুলোতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পবিত্র কুরআনে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের বিষয়টি দুটি সত্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:প্রথমত: বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব নিজ সত্তায় কোনো লক্ষ্য নয়।দ্বিতীয়ত: পবিত্র কুরআন হলো হিদায়াতের কিতাব, আর এই হিদায়াতের অন্যতম মাধ্যম হলো মহাগ্রন্থের আয়াতসমূহে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদি।কুরআন ও ভূবিজ্ঞান:পবিত্র কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যা প্রাঞ্জলতা ও অভিব্যক্তির নিখুঁত শৈলীর ভাষা। যারা পবিত্র আয়াতসমূহের মর্ম উপলব্ধি করতে চান, তাদের জন্য শব্দের অর্থ এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগে কুরআন নাজিল হওয়ার সময় সেসবের ব্যবহার সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। এই উপলব্ধির ক্ষেত্রে সুপরিচিত ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানসমূহ আমাদের জন্য অনস্বীকার্য সাহায্য প্রদান করে।আধুনিক পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানসমূহে এমন নতুন নতুন অভিব্যক্তি ও পরিভাষা উদ্ভাবিত হয়েছে, যা ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিদ্যমান ছিল না। তাই অনেক প্রাচীন নামকরণ এবং বর্তমানে ব্যবহৃত নামকরণের মধ্যে অর্থের পার্থক্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা আবশ্যক।বর্ণনায় (أثر) এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল ইবনুল হারিস আল-মুজানিকে 'কাবালিয়া'র খনি (معدن) প্রদান করেছিলেন। তখন 'খনি' (معدن) শব্দটি এবং এর বহুবচন (معادن) বলতে তা-ই বোঝানো হতো যাকে আমরা সমসাময়িক পরিভাষায় 'খনি' (منجم) এবং এর বহুবচন (مناجم) বলে থাকি।আর যদি 'দাফনকৃত সম্পদ' (ركاز) শব্দটি উল্লেখ করা হয় যেভাবে এটি আল্লাহর রাসুলের যুগে ব্যবহৃত হতো, তবে আমাদের উচিত
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
نحدد المعني المقصود منه، ولا نخلط بين هذا المعني ومعنى كلمة "الركاز" في اللغة التقنية الحالية.وقد وضع هذا الكتاب "القرآن وعلوم الأرض" ليتناول الآيات والألفاظ الواردة في الكتاب الكريم، مما لا علاقة بعلوم الأرض بمفهومنا الحالي، ويعطي هذا التناول شرحا للجوانب العلمية الحديثة بتبسيط يتلاءم مع قدرة استيعاب المسلم المثقف، غير المتخصص في علوم الأرض، فالهدف هو تزويد القارئ المسلم الحريص على تعميق إيمانه بما توصل إليه العلم الحديث في علوم الأرض بما يزيده إدراكا لقدرة الخالق، ويزيد من خشيته ليوم الحساب.وتتسع علوم الأرض لنوعين من الموضوعات، فهي إما موضوعات لها دلالة أكاديمية خالصة للعلم، وإما موضوعات لها استخدامات تطبيقية مباشرة وغير مباشرة.ودون الدخول في تفاصيل تقنية، فإنه يمكن إعطاء تعريف مختصر لكل موضوع من موضوعات علم الأرض:"أ" تحديد نوعيات الصخور التي تتكون منها قشرة الأرض، تحديد النوعيات تفصيلًا ضمن التقسيمين الكبيرين إلى روسوبية ونارية؛ والتقسيم الثالث إلى صخور متحولة بفعل الحرارة والضغط، ويستعان في تحديد نوعيات الصخور، بجانب الرؤية العامة بالنظر، استخدام المجهر "الميكروسكوب" والتحاليل الكيمائية والفيزيائية وبالأشعة السينية وبالامتصاص الذري وغيرها من وسائل معملية، وترسم خرائط جيولوجية بمقاييس رسم متعددة، لتوزيع نوعيات الصخور وتأثير الحركات الأرضية عليها."ب" تحدي أعمار الصخور بوسائل متعددة، منها وسيلة التتابع الطبقي للصخور
আমরা এ থেকে উদ্দীপ্ত অর্থ নির্ধারণ করি এবং বর্তমান কারিগরি ভাষায় "খনিজ বা ভূগর্ভস্থ সম্পদ (الركاز)" শব্দের অর্থের সাথে এই অর্থকে গুলিয়ে ফেলি না।পবিত্র কিতাবে বর্ণিত ঐ সকল আয়াত ও শব্দাবলি আলোচনার জন্য "আল-কুরআন ও ভূ-বিজ্ঞান" নামক এই গ্রন্থটি রচিত হয়েছে, যেগুলোর সাথে আমাদের বর্তমান ধারণার ভূ-বিজ্ঞানের [আপাতত] কোনো সম্পর্ক নেই; আর এই আলোচনা আধুনিক বৈজ্ঞানিক দিকগুলোর এমন এক সহজ ব্যাখ্যা প্রদান করে যা ভূ-বিজ্ঞানে বিশেষজ্ঞ নন এমন শিক্ষিত মুসলিমদের অনুধাবন ক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর লক্ষ্য হলো—নিজেদের ঈমানকে সুদৃঢ় করতে আগ্রহী মুসলিম পাঠকদের ভূ-বিজ্ঞান বিষয়ক আধুনিক বিজ্ঞানের লব্ধ জ্ঞান সম্পর্কে অবগত করা, যা স্রষ্টার ক্ষমতা সম্পর্কে তাদের উপলব্ধি বৃদ্ধি করবে এবং বিচার দিবসের প্রতি তাদের খোদাভীতি বাড়িয়ে দেবে।ভূ-বিজ্ঞান দুই ধরণের বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তৃত; এগুলো হয় বিজ্ঞানের জন্য নিছক তাত্ত্বিক তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, অথবা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রয়োগিক ব্যবহার সম্পন্ন বিষয়।কোনো কারিগরি খুঁটিনাটিতে না গিয়ে ভূ-বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ের একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা এভাবে দেওয়া যেতে পারে:"ক" ভূপৃষ্ঠ যে সকল শিলা দ্বারা গঠিত সেগুলোর ধরণ নির্ধারণ করা; পাললিক ও আগ্নেয়—এই প্রধান দুই শ্রেণীবিন্যাস এবং তাপ ও চাপের প্রভাবে রূপান্তরিত শিলা নামক তৃতীয় একটি শ্রেণীবিন্যাসের অধীনে বিস্তারিতভাবে এগুলোর প্রকৃতি নির্ণয় করা। শিলার ধরণ নির্ধারণে সাধারণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অনুবীক্ষণ যন্ত্র "মাইক্রোস্কোপ", রাসায়নিক ও ভৌত বিশ্লেষণ, এক্স-রে, পারমাণবিক শোষণ এবং অন্যান্য গবেষণাগার ভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। শিলার ধরণ বিন্যাস এবং এগুলোর ওপর ভূ-প্রকৃতির নড়াচড়ার প্রভাব প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন স্কেলে ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র অঙ্কন করা হয়।"খ" বিভিন্ন উপায়ে শিলার বয়স নির্ধারণ করা, যার মধ্যে শিলার স্তরায়ন পদ্ধতি অন্যতম।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الرسوبية، ويستفاد بوجود حفريات [أحافير] من بقايا حيوانية ومن بقايا نباتية في تحديد الأعمار النسبية في طبقة من الصخر الرسوبي بالنسبة لطبقة أخرى، وقد استخدمت وسائل لتقدير الأعمار المطلقة في بعض الصخور، ومنها وسيلة الإشعاع الذري لعنصر اليورانيوم وبعض العناصر الأخرى."ج" الدراسات التفصيلية للحفريات الحيوانية، والحفريات النباتية في مختلف العصور الجيولوجية، وتحديد خواصها وظروف البيئة التي كانت تحيط بها، ومن ذلك تعرف مراحل ظهور واختفاء مختلف الحيوانات والنباتات، ومن توزيع الحفريات وتوزيع الصخور التي تضمنها، يعرف توزيع اليابسة والبحار "عميقها وضحلها" على سطح الأرض خلال الأعمار الجيولوجية المختلفة."د" سبر أغوار ما تحت السطح من صخور غير مرئية: ويستعان بتقنية معينة هي الجيوفيزياء وللجيوفيزياء وسائل متعددة، منها استخدام الأجهزة التي يقوم عملها على استخدام التأثيرات الكهربية، المغناطيسية، الكهربية -المغناطيسية، التثاقلية، الزالزالية، وتستخدم بعض الأجهزة محمولة بالطائرات، ويستعان أحيانًا بصور الفضاء لاستخدامها فيما يسمى بالاستشعار من البعد Remote Sensing."هـ" متابعة الحركات الأرضية من ارتفاع أو انخفاض لليابسة، وكذلك الزحزحة القارية الأفقية واستنتاج مدلولاته الحالية … ، ومدلولاتها خلال الأزمان الجيولوجية السابقة، ومتابعة الحركات الأرضية السريعة العنيفة وهي الزلازل والبراكين، والتعرف على تلك الحركات خلال الأزمنة الجيولوجية السابقة.
পাললিক শিলা; পাললিক শিলার একটি স্তরের সাপেক্ষে অন্য স্তরের আপেক্ষিক বয়স নির্ধারণে প্রাণী ও উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশ থেকে প্রাপ্ত জীবাশ্মের [ফসিল] উপস্থিতি থেকে উপকৃত হওয়া যায়। কিছু শিলার পরম বয়স নির্ণয়ের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য মৌলের পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা পদ্ধতি অন্যতম।"গ" বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক যুগে প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবাশ্মের বিস্তারিত গবেষণা এবং তাদের বৈশিষ্ট্য ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশগত অবস্থা নির্ধারণ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদের আবির্ভাব ও বিলুপ্তির পর্যায়গুলো জানা যায়। জীবাশ্মের বিস্তৃতি এবং যে শিলাস্তরে সেগুলো রয়েছে তার বিন্যাস থেকে বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক যুগে পৃথিবীর উপরিভাগে স্থলভাগ ও সমুদ্রের (গভীর ও অগভীর) বিস্তৃতি সম্পর্কে জানা যায়।"ঘ" ভূ-পৃষ্ঠের নিচের অদৃশ্য শিলাস্তরের গভীরতা অনুসন্ধান: এক্ষেত্রে ভূ-পদার্থবিজ্ঞান (Geophysics) নামক একটি বিশেষ প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। ভূ-পদার্থবিজ্ঞানের একাধিক পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে এমন সব যন্ত্রের ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত যা বৈদ্যুতিক, চৌম্বকীয়, বিদ্যুৎ-চৌম্বকীয়, মহাকর্ষীয় এবং ভূ-কম্পনজনিত প্রভাবের ভিত্তিতে কাজ করে। কিছু যন্ত্র বিমানে বহন করা হয় এবং কখনও কখনও মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত চিত্রও ব্যবহার করা হয়, যাকে দূর অনুধাবন Remote Sensing বলা হয়।"ঙ" ভূ-পৃষ্ঠের উত্থান বা অবনমনজনিত গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, সেইসাথে মহাদেশীয় আনুভূমিক সঞ্চালন এবং এর বর্তমান তাৎপর্য নিরূপণ … , সেইসাথে অতীত ভূতাত্ত্বিক সময়ের তাৎপর্য নিরূপণ। এছাড়া দ্রুত ও প্রচণ্ড ভূ-আন্দোলন যেমন ভূমিকম্প ও অগ্নুৎপাত পর্যবেক্ষণ এবং অতীত ভূতাত্ত্বিক যুগে এই ধরনের নড়াচড়া শনাক্তকরণ।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
"و" متابعة المياه في دورتها ما بين وجودها في السماء المحيطة بقشرة الأرض على شكل بخار، ثم سحاب، ثم سقوطها مطرا؛ ومتابعة تجمع مياه الأمطار في صورة جداول وأنهار وبحيرات، ثما انتهاؤها إلى البحار والمحيطات، وتتبع المياه التي تتغلغل في ثنايا الصخور، والتي قد تظهر في شكل عيون أو تختزن في أحواض تحت سطحية، أو تتسرب هي الأخرى إلى البحار والمحيطات."ز" متابعة تأثير المياه والرياح على نحت أو إذابة أجزاء من صخور القشرة، ونقلها وإعادة ترسيبها في أماكن أخرى."ح" الكشف عن مصادر الخامات التعدينية، سواء منها الخامات الصلبة أو الخامات السائلة [كالبترول وما إلى ذلك] ، ويستعان بوسائل جيوكيميائية وجيوفيزيائية في عمليات الكشف، كما يستعان بالحفر الآلي للوصول إلى الأعماق التي يراد التأكد من وجود الخامات التعدينية بها."ط" استخراج الخامات التعدينية وتنقيتها واستخلاص المفيد منها، وهناك فروع تخصصية في هذا المضمار، منها ما يتبع استخراج البترول وتكريره، واستخراج الغازات البترولية، ومنها ما يتبع استخراج خامات المعادن الفلزية، وتركيز الخامات واستخلاص الفلزات، ومنها ما يتبع استخراج الخامات غير الفلزية مثل خامات مواد البناء وتشكيلها للاستخدام المباشر.وعلى أساس هذه التعريفات، فإن علوم الجيولوجيا [علوم الأرض] تقسم إلى المسميات التالية:
"ওয়াও" পৃথিবীর ভূত্বককে পরিবেষ্টনকারী বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প, অতঃপর মেঘ এবং পরবর্তীতে বৃষ্টি হিসেবে পতনের মাধ্যমে পানির চক্র পর্যবেক্ষণ করা; এবং বৃষ্টিপাত পরবর্তীতে তা ছড়া, নদী ও হ্রদ আকারে জমা হওয়া এবং পরিশেষে সাগর ও মহাসাগরে গিয়ে মেশার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা; এছাড়া পাথরের স্তরে প্রবেশকারী পানির গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা, যা ঝরনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে অথবা ভূগর্ভস্থ আধারে সঞ্চিত হতে পারে কিংবা পুনরায় সাগর ও মহাসাগরে চুইয়ে পড়তে পারে।"যা" ভূত্বকের শিলা ক্ষয় বা দ্রবীভূতকরণে পানি ও বাতাসের প্রভাব পর্যবেক্ষণ এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সেগুলোর স্থানান্তর ও পুনরায় সঞ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।"হা" খনিজ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান করা, চাই তা কঠিন খনিজ হোক কিংবা তরল খনিজ [যেমন পেট্রোলিয়াম এবং এ জাতীয় অন্যান্য], এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় ভূ-রাসায়নিক ও ভূ-তাত্ত্বিক পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়। তেমনিভাবে কাঙ্ক্ষিত গভীরতায় খনিজ সম্পদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে যান্ত্রিক খননকার্যের সহায়তা নেওয়া হয়।"তা" খনিজ সম্পদ উত্তোলন, পরিশোধন এবং তা থেকে প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ আহরণ করা; এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু পেট্রোলিয়াম উত্তোলন ও পরিশোধন এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট, কিছু ধাতব খনিজ উত্তোলন, সেগুলোর ঘনীভবন ও ধাতু নিষ্কাশনের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর কিছু নির্মাণ সামগ্রীর মতো অধাতব খনিজ উত্তোলন ও সরাসরি ব্যবহারের জন্য সেগুলো প্রস্তুত করার সাথে সংশ্লিষ্ট।এই সংজ্ঞাগুলোর ভিত্তিতে ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানকে [পৃথিবী বিষয়ক বিজ্ঞানসমূহ] নিম্নোক্ত নামসমূহে বিভক্ত করা হয়:
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الجيولوجيا الطبيعية …Physical Geologyالجيولوجيا السطحية …Surface Geologyالجيولوجيات تحت السطحية …Sub - Surface Geologyالجيولوجيا الحقلية …Field Geologyالجيولوجيا البنائية …Structural Geologyالجيولوجيا التصويرية …Phtogeologyالجيولوجيا الديناميكية …Dynamic Geologyجيولوجيا الهندسية …Engineering Geologyجيولوجيا التطبيقية …Applied Geologyجيولوجيا التربة …Soil Geologyجيولوجيا زراعية …Agricaltural Geologyجيولوجيا عسكرية …Military Geologyجيولوجيا اقتصادية …Economic Geologyجيولوجيا المياه …Hydrogeologyجيولوجيا المناجم …Mining Geologyجيولوجيا الفحم …Coal Geologyجيولوجيا النفط …Petroleum Geology
প্রাকৃতিক ভূতত্ত্ব …প্রাকৃতিক ভূতত্ত্বভূপৃষ্ঠীয় ভূতত্ত্ব …ভূপৃষ্ঠীয় ভূতত্ত্বউপ-ভূপৃষ্ঠীয় ভূতত্ত্ব …উপ-ভূপৃষ্ঠীয় ভূতত্ত্বমাঠপর্যায়ের ভূতত্ত্ব …মাঠপর্যায়ের ভূতত্ত্বগাঠনিক ভূতত্ত্ব …গাঠনিক ভূতত্ত্বআলোকচিত্রীয় ভূতত্ত্ব …আলোকচিত্রীয় ভূতত্ত্বগতিশীল ভূতত্ত্ব …গতিশীল ভূতত্ত্বপ্রকৌশল ভূতত্ত্ব …প্রকৌশল ভূতত্ত্বফলিত ভূতত্ত্ব …ফলিত ভূতত্ত্বমৃত্তিকা ভূতত্ত্ব …মৃত্তিকা ভূতত্ত্বকৃষি ভূতত্ত্ব …কৃষি ভূতত্ত্বসামরিক ভূতত্ত্ব …সামরিক ভূতত্ত্বঅর্থনৈতিক ভূতত্ত্ব …অর্থনৈতিক ভূতত্ত্বজলভূতত্ত্ব …জলভূতত্ত্বখনি ভূতত্ত্ব …খনি ভূতত্ত্বকয়লা ভূতত্ত্ব …কয়লা ভূতত্ত্বপেট্রোলিয়াম ভূতত্ত্ব …পেট্রোলিয়াম ভূতত্ত্ব
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
هذا وأسأل الله عز وجل أن يكون لما جاء في هذا الكتاب من "علوم الأرض" أثر ملموس في زيادة إدراك القارئ الكريم لقدرة الخالق العظيم، ومدد جديد لتعميق إيمانه.{رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} [آل عمران: 191] .
পরিশেষে, আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এই গ্রন্থে বর্ণিত ‘ভূ-বিজ্ঞান’ সংক্রান্ত বিষয়াবলি মহান স্রষ্টার অসীম ক্ষমতা সম্পর্কে সম্মানিত পাঠকের অনুধাবন বৃদ্ধিতে এক দৃশ্যমান প্রভাব ফেলে এবং তাঁর ঈমানকে আরও গভীর করার জন্য নতুন রসদ যোগায়।“হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অতি পবিত্র; সুতরাং আপনি আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।” [আলে ইমরান: ১৯১]।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بسم الله الرحمن الرحيمالفصل الأول: ما حول الأرض من نجوم وكواكبقصور الحواس البشرية:إن علم الله قد وسع كل ما في الكون فالكون من خلقه ومن صنعه.{يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلا يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255] .{وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا أَفَلا تَتَذَكَّرُونَ} [الأنعام: 80] .{وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا} [الأعراف: 89] .{إِنَّمَا إِلَهُكُمُ اللَّهُ الَّذِي لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا} [طه: 98] .وقد هدى الله الإنسان إلى الإحاطة بشيء من علمه سبحانه، وإدراك بعض ظواهر الكون، وهداه إلى التمعن في تلك الظواهر، واستنباط القواعد والقوانين الطبيعية، وتراكم علم الإنسان جيلًا بعد جيل، واستفاد كل جيل بما توصلت إليه الأجيال السابقة من علم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।প্রথম পরিচ্ছেদ: পৃথিবীর চারপাশের নক্ষত্র ও গ্রহসমূহমানবীয় ইন্দ্রিয়শক্তির সীমাবদ্ধতা:নিশ্চয়ই আল্লাহর জ্ঞান মহাবিশ্বের সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে; কেননা মহাবিশ্ব তাঁরই সৃষ্টি এবং তাঁরই নিপুণ কর্ম।{তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানের সামান্যতম অংশও তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। তাঁর কুরসি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে পরিশ্রান্ত করে না। তিনি সুউচ্চ, সুমহান।} [আল-বাকারা: ২৫৫] ।{আমার রবের জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে; তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} [আল-আনআম: ৮০] ।{আমাদের রবের জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করেছি।} [আল-আরাফ: ৮৯] ।{তোমাদের ইলাহ তো কেবল আল্লাহই, যিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই। তাঁর জ্ঞান সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।} [ত্বহা: ৯৮] ।আল্লাহ মানুষকে তাঁর (পবিত্র ও মহান) জ্ঞানের কিয়দংশ আয়ত্ত করার এবং মহাবিশ্বের কিছু প্রপঞ্চ উপলব্ধি করার দিশা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে সেই প্রপঞ্চগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে এবং প্রাকৃতিক নিয়ম ও সূত্রসমূহ উদ্ঘাটন করার তাওফিক দান করেছেন। এভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের জ্ঞান সঞ্চিত হয়েছে এবং প্রতিটি প্রজন্ম তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের অর্জিত জ্ঞান থেকে উপকৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أما التكليف الإلهي للإنسان فهو حسب قدرة الإنسان، فالإنسان محدود في إدراكه بحواسه التي أتاحها له الخالق جل وعلا.{لا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 233] .{لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286] .{وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [الأعراف: 42] .{وَلا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا وَلَدَيْنَا كِتَابٌ يَنْطِقُ بِالْحَقِّ} [المؤمنون: 62] .وعندما نتأمل الكون بإعجاب يجب ألا ننسى أننا نتعرف عليه بحواسنا المعروفة، ففي الكون آلاف الإشعاعات والأضواء، ولكن أعيننا لا تستطيع إلا إبصار سبعة منها فقط، وفي الكون عشرات الآلاف من مصادر الأصوات واهتزازاتها، ولكن آذاننا لا تستطيع إلا التقاط عدد محدود منها، وفي الكون حرارة تصل إلى ملايين الدرجات المئوية، بينما حاسة اللمس عند الإنسان تستطيع التمييز بين درجات الحرارة ضمن فرق يتراوح ما بين 15-20 مئوية، لذا فقد استعان الإنسان ببعض الأدوات في اجتلاء أسرار الكون، حيث قصرت حواسه المجردة وحدها عن اجتلائها.وتتمتع البشرية في عهدها المعاصر بنصيب وافر من العلم، ولكنه ليس خاتمة المطاف، فما زال العلم التطبيقي واختراع الآلات، والمعدات التي تدعم هذا العلم تتقدم بخطوات حقيقية ويعلم الله وحده مدى مشيئته في إتاحة المزيد من العلم لبني الإنسان في مستقبل الأيام.لقد كانت الوسيلة الوحيدة في الأرصاد الفلكية من أقدم العهود إلى أوائل القرن
মানুষের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়বদ্ধতা তার সক্ষমতা অনুযায়ী নির্ধারিত। মানুষ তার বোধশক্তির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ, যা তাকে মহান ও মহিমান্বিত স্রষ্টা তার সেই সকল ইন্দ্রিয়শক্তির মাধ্যমে প্রদান করেছেন যা তিনি তাকে দান করেছেন।{কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় না} [আল-বাকারা: ২৩৩] ।{আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না} [আল-বাকারা: ২৮৬] ।{আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে—আমরা কোনো সত্তাকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করি না} [আল-আরাফ: ৪২] ।{আমরা কোনো সত্তাকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত ভার দিই না এবং আমাদের কাছে এমন এক কিতাব রয়েছে যা সত্য প্রকাশ করে} [আল-মুমিনুন: ৬২] ।যখন আমরা বিস্ময়ের সাথে মহাবিশ্ব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করি, তখন আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, আমরা আমাদের পরিচিত ইন্দ্রিয়গুলোর মাধ্যমেই তা অনুভব করি। মহাবিশ্বে হাজার হাজার বিকিরণ ও আলোকচ্ছটা রয়েছে, কিন্তু আমাদের চোখ তার মধ্যে মাত্র সাতটি দেখতে সক্ষম। মহাবিশ্বে হাজার হাজার শব্দের উৎস ও কম্পন রয়েছে, কিন্তু আমাদের কান কেবল তার সীমিত অংশই গ্রহণ করতে পারে। মহাবিশ্বে এমন উত্তাপ রয়েছে যা লক্ষ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, অথচ মানুষের স্পর্শেন্দ্রিয় কেবল ১৫-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পার্থক্যের মধ্যে তাপমাত্রার তারতম্য উপলব্ধি করতে পারে। তাই মানুষ মহাবিশ্বের রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সাহায্য গ্রহণ করেছে, যেহেতু কেবল বাহ্যিক ইন্দ্রিয়শক্তির দ্বারা এই রহস্য উন্মোচন করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।বর্তমান যুগে মানবজাতি বিজ্ঞানের এক বিপুল অংশ অর্জন করেছে, তবে এটিই শেষ নয়। ফলিত বিজ্ঞান এবং এই বিজ্ঞানকে সহায়তা প্রদানকারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের উদ্ভাবন ক্রমাগত বাস্তব পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতে মানবজাতিকে আরও জ্ঞান দান করার ক্ষেত্রে আল্লাহর ইচ্ছা কতটুকু, তা কেবল তিনিই ভালো জানেন।প্রাচীনকাল থেকে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিক পর্যন্ত জ্যোতির্বিজ্ঞানের পর্যবেক্ষণের একমাত্র মাধ্যম ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
السابع عشر هي المشاهدة بالعين المجردة، فكانت البحوث الفلكية القديمة محدودة بحدود الرؤية بالعين المجردة.واخترع أول مرقب "أو منظار فلكي" في عام 1608؛ ثم وضع العالم الإيطالي "جاليليو" مرقبا، واستخدمه ابتداء من يناير 1610، وكان مرقب "جاليليو" ذا قدرة على تجميع الأشعة الضوئية، وتكبير الرؤية مائة مرة قدر ما يرى بالعين المجردة، ومع توالي التحسين في المراقب منذ ذلك الوقت زادت قدرتها بدرجة هائلة، فالمرقب الموجود في جبل ولسن بالولايات المتحدة الأمريكية يبلغ قطره حوالي المترين ونصف المتر، وبمقدوره توصيل أشعة ضوئية للعين تبلغ مائتين وخمسين ألف مرة قدر ما تجمعه العين المجردة.المجرة:{وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ} [الزحرف: 9] .إن المجموعة الشمسية، وهي الشمس وتوابعها من كواكب "ومنها كوكب الأرض" وأقمار، هي جزء من مجموعة هائلة من النجوم وتوابعها، وتعرف مثل هذه المجموعة الهائلة باسم "المجرة Calaxy"، وبواسطة استخدام المراقب الحديثة أمكن التعرف على العديد من المجرات، والمجرة التي تضم شمسنا هي مجرة "الطريق اللبني Milky way" التبانة، وكل ما في هذه المجرة من أجرام "شموس وكواكب، وأقمار وتوابع" تدور في أفلاك منتظمة متناسقة ومتوازنة بعضها مع بعض.
সপ্তদশ বিষয়টি হলো খালি চোখে পর্যবেক্ষণ; তাই প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণাগুলো খালি চোখের দৃষ্টির সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।১৬০৮ সালে প্রথম দূরবীক্ষণ যন্ত্র (বা টেলিস্কোপ) আবিষ্কৃত হয়; এরপর ইতালীয় বিজ্ঞানী ‘গ্যালিলিও’ একটি দূরবীক্ষণ যন্ত্র তৈরি করেন এবং ১৬১০ সালের জানুয়ারি থেকে এটি ব্যবহার শুরু করেন। গ্যালিলিওর দূরবীক্ষণ যন্ত্রটির আলোক রশ্মি সংগ্রহ করার এবং খালি চোখের তুলনায় দৃষ্টিকে একশ গুণ বড় করে দেখানোর ক্ষমতা ছিল। সেই সময় থেকে দূরবীক্ষণ যন্ত্রগুলোতে ক্রমাগত উন্নতির ফলে এগুলোর ক্ষমতা অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট উইলসনে অবস্থিত দূরবীক্ষণ যন্ত্রটির ব্যাস প্রায় আড়াই মিটার এবং এটি খালি চোখের চেয়ে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার গুণ বেশি আলোক রশ্মি চোখে পৌঁছে দিতে সক্ষম।ছায়াপথ (গ্যালাক্সি):“যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন যে, কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, এগুলো সৃষ্টি করেছেন মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ।” [সূরা আয-যুখরুফ: ৯] .নিশ্চয়ই সৌরজগৎ—যা সূর্য এবং এর অধীনস্থ গ্রহসমূহ (পৃথিবী যার অন্তর্ভুক্ত) ও উপগ্রহ নিয়ে গঠিত—তা নক্ষত্র ও তাদের অনুগামীদের এক বিশাল সমষ্টির অংশ। এ ধরণের বিশাল সমষ্টি ‘ছায়াপথ’ (গ্যালাক্সি) নামে পরিচিত। আধুনিক দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক ছায়াপথ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের সূর্য যে ছায়াপথের অন্তর্ভুক্ত তা হলো ‘আকাশগঙ্গা’ (মিল্কিওয়ে)। এই ছায়াপথের অন্তর্ভুক্ত সকল জ্যোতিষ্ক (সূর্যসমূহ, গ্রহ, উপগ্রহ ও অন্যান্য বস্তু) সুশৃঙ্খল, সুসমন্বিত এবং ভারসাম্যপূর্ণ কক্ষপথে একে অপরের সাথে আবর্তিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن عجائب ما يحدثنا عند علماء الفلك عن بعض النجوم في مجرة درب التبانة وجود ما يسمونه بالنجوم النابضة، التي ترسل نبضات قوية من أشعة جاما، ووجدوا أن أحد هذه النجوم، وهو يقع على أطراف درب التبانة، يدور حول نفسه بسرعة مذهلة، مع أنه أكبر من الشمس، وأثبتت القياسات وتحليلات الكمبيوتر أن هذا النجم يتم 600 دورة حول نفسه في الثانية الواحدة، أي 51 مليون و 840 ألف دورة حول نفسه في اليوم الواحد بحساب أيامنا الأرضية، وأثبتت القياسات أن هذا النجم يندفع خارج المجرة بسرعة 1300 كيلو مترا في الثانية، أي أنه بسبيله إلى الخروج تماما من جاذبية المجرة، والتجول في الفضاء الذي يفصل ما بين المجرات، ويقول العلماء: إن أي نجم في مجرة درب التبانة، تزيد سرعته عن 220 كيلو مترا في الثانية يمكنه الخروج من جاذبية المجرة.ويلي مجرتنا "التي تضم شمسنا وأرضنا"، مجرات أخرى لا يعلم عددها إلا الله، وكل مجرة من تلك المجرات تضم هي الأخرى أعدادا هائلة من النجوم والكواكب والتوابع، وأبعد ما أمكن أن تدركه الحواس البشرية من المجرات بواسطة المناظير العملاقة وغيرها من الوسائل، يبعد عنها مسافة قدرت بستة وثلاثين ألف مليون سنة ضوئية، "وسيأتي ذكر السنة الضوئية كمعيار للمسافات البالغة الطول"، ولا يستطيع العلماء بن أوتوا من قدرات، إدراك حدود هذا الكون، وكلما تقدمت وسائلهم اكتشفوا وجود مجرات، وكواكب أبعد مما كان في تقديرهم.ولا يسع المتأمل في عظمة صنع الله وما خلق من تلك الأجرام السماوية العظيمة، ومواقعها السحيقة إلا أن يردد بخشوع عميق قوله تعالى:
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের নিকট থেকে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কিছু নক্ষত্র সম্পর্কে আমরা যে সকল বিস্ময়কর তথ্য জানতে পারি, তার মধ্যে একটি হলো 'পালসার' (স্পন্দিত নক্ষত্র) নামক নক্ষত্রের অস্তিত্ব, যা গামা রশ্মির শক্তিশালী স্পন্দন নির্গত করে। তারা দেখতে পেয়েছেন যে, এই নক্ষত্রগুলোর মধ্যে একটি, যা আকাশগঙ্গা ছায়াপথের প্রান্তে অবস্থিত, অত্যন্ত বিস্ময়কর গতিতে নিজ অক্ষের ওপর আবর্তন করছে, যদিও এটি সূর্যের চেয়েও আকারে বড়। পরিমাপ এবং কম্পিউটার বিশ্লেষণ প্রমাণ করেছে যে, এই নক্ষত্রটি প্রতি সেকেন্ডে নিজ অক্ষের ওপর ৬০০ বার আবর্তন সম্পন্ন করে; অর্থাৎ আমাদের পার্থিব দিনের হিসেবে এটি একদিনে নিজ অক্ষের ওপর ৫ কোটি ১৮ লক্ষ ৪০ হাজার বার আবর্তন করে। পরিমাপগুলো আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই নক্ষত্রটি প্রতি সেকেন্ডে ১৩০০ কিলোমিটার বেগে ছায়াপথের বাইরে ধাবিত হচ্ছে, যার অর্থ হলো এটি ছায়াপথের মহাকর্ষীয় বল থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসার এবং বিভিন্ন ছায়াপথের মধ্যবর্তী মহাশূন্যে বিচরণ করার পথে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেন: আকাশগঙ্গা ছায়াপথের যেকোনো নক্ষত্রের গতিবেগ যদি প্রতি সেকেন্ডে ২২০ কিলোমিটারের বেশি হয়, তবে সেটি ছায়াপথের মহাকর্ষীয় বল থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম।আমাদের ছায়াপথ (যা আমাদের সূর্য ও পৃথিবীকে ধারণ করে আছে) ছাড়াও আরও অসংখ্য ছায়াপথ রয়েছে যেগুলোর সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেন না। এই ছায়াপথগুলোর প্রতিটি আবার অসংখ্য নক্ষত্র, গ্রহ এবং উপগ্রহ ধারণ করে। বিশাল দূরবীন ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষের ইন্দ্রিয়সমূহ ছায়াপথগুলোর যে দূরতম সীমা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, তার দূরত্ব আনুমানিক ৩৬ হাজার মিলিয়ন আলোকবর্ষ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে (অত্যধিক দীর্ঘ দূরত্বের মাপকাঠি হিসেবে 'আলোকবর্ষ'-এর উল্লেখ সামনে আসবে)। বিজ্ঞানীরা তাদের সমস্ত সামর্থ্য নিয়োগ করেও এই মহাবিশ্বের সীমানা উপলব্ধি করতে সক্ষম নন; তাদের প্রযুক্তির যত উন্নতি হচ্ছে, তারা তাদের পূর্ব অনুমানের চেয়েও দূরবর্তী ছায়াপথ ও গ্রহের অস্তিত্ব খুঁজে পাচ্ছেন।আল্লাহর নিপুণ কারুকার্য এবং তাঁর সৃষ্টি করা এই সুবিশাল মহাকাশীয় বস্তু ও সেগুলোর সুদূরপ্রসারী অবস্থান নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে বিনীতচিত্তে মহান আল্লাহর এই বাণীটি উচ্চারণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না:
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
{فَلا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ، وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ، إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ، فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ، لا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ، تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الواقعة: 75-80] .وتنبئ الأجهزة التي يستخدمها علماء الفلك بأن المجرات والنجوم والكواكب جميعا في حركة دائبة، وأن هذه الحركة تؤدي إلى تمدد مستمر، وتنبئ الأجهزة بحسابات قد تكون قريبة من الصواب، وقد تكون مخطئة، ومن هذه الحسابات، أن سرعة تمدد الجزء الذي تدركه حواسنا من هذا الكون هي 235 مليون ميل في الدقيقة، وأن هذا التمدد قد نشط من 18 ألف مليون سنة "من السنين التي نعرفها على الأرض"، وأنه بدأ بانفجار هائل تعارف العلماء على تسميته "بج نانج - Big Bang"، وكل المجرات وما تضمنه من أجرام تتحرك في نظام وتوقيت رباني محكم، بما يؤكد التوزان المطلق الذي شاء الرحمن أن يكون في كل مخلوقاته، كبيرها وصغيرها فهناك تجاذب بين الأجرام السماوية والأرض كالتجاذب بين الأرض، والأجسام الواقعة على سطحها، وهناك توازن بين قوى التجاذب بحيث لا تختل حركة الأجرام في دورانها في أفلاكها، وصدق الحق من قائل:{الرَّحْمَنُ، عَلَّمَ الْقُرْآنَ، خَلَقَ الْأِنْسَانَ، عَلَّمَهُ الْبَيَانَ، الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ بِحُسْبَانٍ، وَالنَّجْمُ وَالشَّجَرُ يَسْجُدَانِ، وَالسَّمَاءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيزَانَ، أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيزَانِ} [الرحمن: 1-8] .وفي الفضاء الكوني إشعاعات تنتقل على صورة تموجات، وأنواع الإشعاع أو التموجات الأثيرية المعروفة للإنسان حتى الآن:1- الأشعة الكونية.
{আমি শপথ করছি নক্ষত্ররাজির পতনের স্থানের। নিশ্চয়ই এটি এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে। নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে। পবিত্রগণ ছাড়া কেউ এটি স্পর্শ করে না। এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।} [আল-ওয়াকিআহ: ৭৫-৮০] .জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিসমূহ জানান দেয় যে, গ্যালাক্সি, নক্ষত্র এবং গ্রহসমূহ সবই নিরন্তর গতিশীল এবং এই গতি এক অবিরাম প্রসারণের দিকে নিয়ে যায়। এই যন্ত্রপাতিসমূহ এমন সব গাণিতিক হিসাব প্রদান করে যা সত্যের নিকটবর্তী হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। এই হিসাবগুলোর মধ্যে একটি হলো—মহাবিশ্বের যে অংশ আমাদের ইন্দ্রিয়সমূহ উপলব্ধি করতে পারে, তার প্রসারণের গতি প্রতি মিনিটে ২৩৫ মিলিয়ন মাইল। এই প্রসারণ ১৮ হাজার মিলিয়ন বছর (পৃথিবীতে আমাদের পরিচিত বছর অনুযায়ী) আগে সক্রিয় হয়েছে এবং এটি একটি বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল যা বিজ্ঞানীদের পরিভাষায় "বিগ ব্যাং (Big Bang)" নামে পরিচিত। সকল গ্যালাক্সি এবং এর অন্তর্ভুক্ত জ্যোতিষ্কসমূহ এক সুনিপুণ ও সুশৃঙ্খল রব্বানি বিধান ও সময় অনুযায়ী গতিশীল, যা সেই পরম ভারসাম্যকে নিশ্চিত করে যা পরম দয়াময় আল্লাহ তাঁর ছোট-বড় সকল সৃষ্টির মধ্যে নিহিত রাখতে চেয়েছেন। মহাজাগতিক বস্তুসমূহ এবং পৃথিবীর মধ্যে আকর্ষণ বিদ্যমান, ঠিক যেমন পৃথিবীর উপরিভাগে অবস্থিত বস্তুসমূহের সাথে পৃথিবীর আকর্ষণ থাকে। এই আকর্ষণ শক্তির মধ্যে এমন এক ভারসাম্য রয়েছে যাতে কক্ষপথে পরিভ্রমণকালে জ্যোতিষ্কসমূহের গতিতে কোনো বিচ্যুতি না ঘটে। সত্যবাদী মহান আল্লাহ যথার্থই বলেছেন:{পরম দয়াময়, তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তিনি তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে। সূর্য ও চন্দ্র আবর্তিত হয় নির্ধারিত কক্ষপথে। আর লতাগুল্ম ও বৃক্ষরাজি সাজদাবনত হয়। তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন ভারসাম্য (الميزان)। যাতে তোমরা ভারসাম্যে (الميزان) লঙ্ঘন না করো।} [আর-রাহমান: ১-৮] .মহাজাগতিক শূন্যস্থানে বিকিরণসমূহ তরঙ্গ আকারে প্রবাহিত হয়। মানুষের কাছে এখন পর্যন্ত পরিচিত বিকিরণ বা ইথারীয় তরঙ্গের প্রকারগুলো হলো:১- মহাজাগতিক রশ্মি।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
2- أشعة إكس.3- الأشعة فوق البنفسجية.4- الضوء.5- الأشعة تحت الحمراء.6- أمواج الراديو "اللاسلكي".7- أشعة جاما.وتنتشر أشعة الضوء بسرعة 300 ألف كيلو مترا في الثانية، وبرغم أن أشعة الضوء لا ترى في ذاتها، إلا أنها معروفة بأنها الضوء المرئي، فهي حين تخترق الفضاء الكوني لا نراها، ولكننا نراها في حالتين:"أ" حينما تتناثر في بعض الأوساط المادية الشفافة مثل الغلاف الجوي."ب" حينما تنعكس على بعض الأسطح المادية مثل سطح القمر.ويمكن تحليل الضوء إلى سبع مكونات، بإمراره خلال منشور زجاجي، وهذه المكونات السبع هي ألوان الطيف التي تشعر بها حاسة الرؤية في الإنسان، ويختلف طول الموجة من لون لآخر؛ فأطولها موجة اللون الأحمر، وأقصرها موجة اللون البنفسجي، وألوان الطيف مرتبة حسب طول موجاتها هي: البنفسجي - النيلي- الأزرق - الأخضر - الأصفر - البرتقالي - الأحمر.وصدق الله العظيم:{فَلا أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ، وَمَا لا تُبْصِرُونَ} [الحاقة: 38-39] .
২- এক্স-রে।৩- অতিবেগুনী রশ্মি।৪- আলো।৫- অবলোহিত রশ্মি।৬- রেডিও তরঙ্গ "বেতার"।৭- গামা রশ্মি।আলোকরশ্মি প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে সঞ্চালিত হয়। যদিও আলোকরশ্মি স্বয়ং দৃশ্যমান নয়, তবুও এটি দৃশ্যমান আলো হিসেবে পরিচিত। এটি যখন মহাকাশ ভেদ করে প্রবাহিত হয় তখন আমরা তা দেখতে পাই না, তবে দুটি অবস্থায় আমরা এটি দেখতে পাই:"ক" যখন এটি বায়ুমণ্ডলের ন্যায় কিছু স্বচ্ছ জড় মাধ্যমে বিচ্ছুরিত হয়।"খ" যখন এটি চন্দ্রপৃষ্ঠের ন্যায় কিছু জড় পৃষ্ঠে প্রতিফলিত হয়।একটি কাঁচের প্রিজমের মধ্য দিয়ে চালনা করে আলোকে সাতটি উপাদানে বিভক্ত করা সম্ভব। এই সাতটি উপাদান হলো বর্ণালীর রঙসমূহ যা মানুষের দৃষ্টিশক্তি অনুধাবন করতে পারে। এক রঙ থেকে অন্য রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ভিন্ন হয়; এর মধ্যে লাল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য দীর্ঘতম এবং বেগুনী রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ক্ষুদ্রতম। তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রমানুসারে বর্ণালীর রঙগুলো হলো: বেগুনী - গাঢ় নীল - আসমানী - সবুজ - হলুদ - কমলা - লাল।আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন:{সুতরাং আমি শপথ করছি সেই সব বিষয়ের যা তোমরা দেখতে পাও, এবং যা তোমরা দেখতে পাও না} [আল-হাক্কাহ্: ৩৮-৩৯] ।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الشمس:تدور حول الشمس تسعة كواكب، والأرض ثالث هذا الكواكب -بعدا عن الشمس- وتبعد الأرض عن الشمس مسافة 150× 6 10 كيلو مترا، وللأرض تابع واحد هو القمر، ويبعد عنها مسافة 384400 كيلو مترا في المتوسط.ويبلغ حجم الشمس 10333 مليون مرة حجم الأرض، والشمس جسم غازي شديد الحرارة، قدرت درجة حرارته "بالدرجات المئوية المتداولة في قياسات أهل الأرض" بمقدار 5760 درجة مئوية على السطح الخارجي، وبمقدار حوالى 16-20 مليون درجة مئوية في مركزها، ويرى العلماء أن هذه الحرارة البالغة الارتفاع هي نتيجة تفاعلات نووية لمكونات مادة باطن الشمس، وأهم المكونات غاز الهيدروجين الذي تلتحم ذراته تحت ظروف درجات الحرارة العالية، وتندمج إلى ذرات الهيليوم مع انبعاث طاقة هائلة، وتتعرض الشمس إلى حدوث ما يسمى بالبقع الشمسية مرة كل 11 عاما "من الأعوام الأرضية" حين تزداد العواصف المغناطيسية على سطح الشمس، وترتفع ألسنة اللهب ممتدة في الفضاء مسافات تصل إلى 20 مليون كيلو متر، وتصل درجات الحرارة داخل ألسنة اللهب هذه إلى مليون درجة مئوية.وتدل التحاليل الطيفية لضوء الشمس، على أن العناصر الشائعة في القشرة الأرضية لا توجد في الشمس إلا بنسبة ضئيلة، هي حوالي 1% من كتلتها أما باقي الكتلة، وهي 99%، فتتكون من الهيدروجين والهليوم، ويعتقد أن تركيب النجوم لا يختلف كثيرًا عن تركيب الشمس.
সূর্য:
সূর্যের চারদিকে নয়টি গ্রহ আবর্তিত হয় এবং পৃথিবী সূর্য হতে দূরত্বের বিচারে এই গ্রহসমূহের মধ্যে তৃতীয়। পৃথিবী সূর্য থেকে ১৫০ × ১০৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ রয়েছে যা হলো চাঁদ; এটি পৃথিবী থেকে গড়ে ৩৮৪,৪০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।
সূর্যের আয়তন পৃথিবীর আয়তনের ১০৩৩৩ মিলিয়ন গুণ। সূর্য একটি অত্যন্ত উত্তপ্ত গ্যাসীয় পিণ্ড; এর তাপমাত্রা (পৃথিবীবাসীদের প্রচলিত সেলসিয়াস স্কেলের পরিমাপে) বহিঃপৃষ্ঠে ৫,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কেন্দ্রে প্রায় ১৬-২০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস প্রাক্কলন করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, এই অত্যধিক উচ্চ তাপমাত্রা সূর্যের অভ্যন্তরীণ পদার্থের নিউক্লীয় বিক্রিয়ার ফল। এর প্রধান উপাদান হলো হাইড্রোজেন গ্যাস, যার পরমাণুসমূহ উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে সংবদ্ধ হয়ে হিলিয়াম পরমাণুতে রূপান্তরিত হয় এবং এর ফলে বিপুল শক্তি নির্গত হয়। প্রতি ১১ বছর (পার্থিব বছর) অন্তর সূর্য ‘সৌর কলঙ্ক’ নামক প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হয়, যখন সূর্যের উপরিভাগে চৌম্বকীয় ঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় এবং অগ্নিশিখা মহাকাশে ২০ মিলিয়ন কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এই অগ্নিশিখাগুলোর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা দশ লক্ষ (এক মিলিয়ন) ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে থাকে।
সূর্যের আলোর বর্ণালী বিশ্লেষণ নির্দেশ করে যে, ভূত্বকের সাধারণ উপাদানসমূহ সূর্যের মাঝে অতি নগণ্য পরিমাণে বিদ্যমান, যা এর ভরের মাত্র ১%। অবশিষ্ট ৯৯% ভর হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম দ্বারা গঠিত। ধারণা করা হয় যে, নক্ষত্রপুঞ্জের গঠন প্রণালী সূর্যের গঠন থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وما يصل إلى الأرض من طاقة الشمس لا يتجاوز جزءًا واحدًا من ألف مليون جزء، وما تشعه الشمس في ثانية واحدة من الطاقة يساوي إجمالي ما تحصل عليه الأرض من طاقة الشمس خلال ستين عامًا، ويكفي هذا القدر من الطاقة احتياجات الحياة على سطح الأرض بأنواعها، وهي الحياة النباتية والحياة الحيوانية وحياة الإنسان.انفصال جسم الأرض:{قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا تُغْنِي الْآياتُ وَالنُّذُرُ عَنْ قَوْمٍ لا يُؤْمِنُونَ} [يونس: 101] .انفصل جسم الأرض مستقلا عن بقية أجزاء مجرة الطريق اللبني منذ قديم الزمن، ولعل هذا الانفصال هو ما ذكره الحق سبحانه وتعالى بقوله:{أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا} [الأنبياء: 30] .وقد اجتهد علماء الفلك والطبيعة في وضع نظريات متعددة لكيفية حدوث هذا الانفصال، ومنها نظرية الانفجار العظيم، ولا داعي للخوض في تلك النظريات.واستطاع علماء الجيولوجيا بوسائلهم المتخصصة أن يعطوا تاريخًا مطلقا لبدء وجود الأرض بكيانها المستقل عن بقية الأجرام السماوية، وقدروا أنه كان منذ حوالي أربعة آلاف وخمسمائة مليون عام من أعوامنا المعروفة.زينة الأرض والسماء:لقد أودع الله في البشر القدرة على الشعور بالجمال، فالإحساس الصادق
পৃথিবী সূর্যের শক্তির যে অংশটি প্রাপ্ত হয় তা একশত কোটি ভাগের এক ভাগের বেশি নয়। সূর্য এক সেকেন্ডে যে পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করে, তা পৃথিবী ষাট বছরে সূর্যের থেকে মোট যে পরিমাণ শক্তি পায় তার সমান। এই পরিমাণ শক্তি উদ্ভিদ জগত, প্রাণী জগত এবং মানবজীবনসহ পৃথিবীর উপরিভাগের সব ধরনের প্রাণের প্রয়োজনীয়তা পূরণে যথেষ্ট।পৃথিবী খণ্ডটি পৃথক হওয়া:{বলুন, তোমরা লক্ষ্য করো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে কী রয়েছে; আর নিদর্শনাবলি এবং সতর্ককারীগণ এমন কওমের কোনো উপকারে আসে না যারা ঈমান আনে না} [ইউনুস: ১০১]।সুদূর অতীতকালে আকাশগঙ্গা (Milky Way) ছায়াপথের অবশিষ্ট অংশ থেকে পৃথক হয়ে পৃথিবীর অস্তিত্ব স্বতন্ত্র রূপ লাভ করেছে। সম্ভবত এই বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টিই মহান সত্য আল্লাহ সুবহانাহু ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন:{অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পরস্পর মিলিত ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম?} [আল-আম্বিয়া: ৩০]।জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং পদার্থবিজ্ঞানীগণ এই বিচ্ছিন্নতা কীভাবে ঘটেছিল সে বিষয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব প্রদানের জন্য গবেষণা করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো ‘বিগ ব্যাং’ বা মহা-বিস্ফোরণ তত্ত্ব। তবে সেই তত্ত্বগুলোর বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই।ভূ-তত্ত্ববিদগণ তাদের বিশেষায়িত পদ্ধতির মাধ্যমে অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুর থেকে পৃথকভাবে পৃথিবীর স্বতন্ত্র অস্তিত্বের সূচনার একটি সুনির্দিষ্ট ইতিহাস দিতে সক্ষম হয়েছেন এবং তারা অনুমান করেছেন যে, এটি ছিল আমাদের পরিচিত বছরের হিসেবে প্রায় সাড়ে চারশত কোটি বছর আগে।পৃথিবী ও আকাশের সৌন্দর্য:আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরে সৌন্দর্য অনুধাবনের ক্ষমতা নিহিত রেখেছেন, ফলে সত্য অনুভূতি...
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
للمؤمن يجعله يشعر بالجوانب الجمالية التي أودعها الله في الأرض وفي السماء، فينشرح صدره ويزداد يقينه.{إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَهَا} [الكهف: 7] .ففي الجبال جمال كامن في اختلاف ألوانها وفي عظمتها ورهبتها، وفي الجداول والأنهار جمال كامن في أنغام خرير مياهها حين تنساب رقراقة، وفي البحار جمال كامن يدركه البصر حين يتأمل أمواجها تتكسر متهادية على شواطئها، وحين يمد البصر عبر مياهها إلى ما لا نهاية، وفي النبات جمال طالما تغنى به أصحاب القدرة على التعبير شعرًا ونثرًا، وفي أصناف الحيوان من فراشات وأسماك، وطيور وأنعام وغيرها متعة للعين.كذلك فإن السماء فوقنا زينة بزرقتها وبما حوت من كواكب مضيئة.{زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ} [الصافات: 6] .لقد دعانا الله إلى التمتع بزينة الأرض والسماء، وجعلها مجالًا للتأمل والتفكر في عظمته.سجود الكائنات وتسبيحها:أخبرنا الله سبحانه وتعالى في محكم كتابه بسجود كل الكائنات المادية والحية وتسبيحها له.{وَلِلَّهِ يَسْجُدُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ} [النحل: 49] .
মুমিনের জন্য এটি এমন এক অনুভূতির সঞ্চার করে যা তাকে আসমান ও জমিনে আল্লাহর গচ্ছিত রাখা সৌন্দর্যমন্ডিত দিকগুলো অনুধাবন করতে সাহায্য করে, ফলে তার অন্তর প্রশান্ত হয় এবং তার দৃঢ় বিশ্বাস (يقين) বৃদ্ধি পায়।{“নিশ্চয়ই জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোকে তার জন্য শোভা করেছি।”} [আল-কাহাফ: ৭] .পাহাড়ের বিভিন্ন বর্ণ, এর বিশালতা ও গাম্ভীর্যের মাঝে এক সুপ্ত সৌন্দর্য রয়েছে; ঝরনা ও নদ-নদীর প্রবাহমান স্বচ্ছ পানির কলতানে এক সুপ্ত সৌন্দর্য রয়েছে; সমুদ্রের মাঝে এক সুপ্ত সৌন্দর্য রয়েছে যা দৃষ্টিগোচর হয় যখন কেউ এর তটরেখায় আছড়ে পড়া ঢেউগুলোর দিকে নিবিষ্ট মনে তাকায় এবং যখন তার দৃষ্টি অসীম জলরাশির ওপর প্রসারিত হয়; উদ্ভিদরাজির মাঝে এমন সৌন্দর্য রয়েছে যা নিয়ে কাব্য ও গদ্যের রচয়িতারা দীর্ঘকাল ধরে প্রশংসা গেয়েছেন; আর বিভিন্ন প্রজাতির প্রজাপতি, মাছ, পাখি ও গবাদি পশুসহ অন্যান্য প্রাণীর মাঝে চোখের জন্য আনন্দ নিহিত রয়েছে।তেমনিভাবে আমাদের মাথার ওপরের আকাশ তার নীলিমা এবং এতে থাকা উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির মাধ্যমে এক শোভা স্বরূপ।{“নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজির সুষমা দ্বারা সুশোভিত করেছি।”} [আস-সাফফাত: ৬] .আল্লাহ তাআলা আমাদের আসমান ও জমিনের সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং একে তাঁর মহিমা সম্পর্কে অনুধ্যান ও চিন্তাভাবনা (تفكر) করার ক্ষেত্র হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।সৃষ্টিজগতের সিজদাহ (سجود) ও তাসবিহ (تسبيح):আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সুস্পষ্ট (محكم) কিতাবে সমস্ত জড় ও জীবন্ত সৃষ্টির তাঁর প্রতি সিজদাহ (سجود) ও তাসবিহ (تسبيح) পাঠ সম্পর্কে আমাদের অবহিত করেছেন।{“আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যত বিচরণশীল জীব আছে সবাই আল্লাহকেই সিজদাহ (سجود) করে।”} [আন-নাহল: ৪৯] .
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
{تُسَبِّحُ لَهُ السَّمَاوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ} [الإسراء: 44] .{أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَسْجُدُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ وَالنُّجُومُ وَالْجِبَالُ وَالشَّجَرُ وَالدَّوُابُّ وَكَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ وَكَثِيرٌ حَقَّ عَلَيْهِ الْعَذَابُ وَمَنْ يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ مُكْرِمٍ إِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ} [الحج: 18] .وتقصر حواسنا البشرية عن إدراك كنه هذا السجود وهذا التسبيح، ولكن حواسنا تمكننا من التفكير في خلق السموات والأرض، وفي خشوعها لخالقها وانصياعها لإرادته سبحانه.
{সপ্ত আকাশ, পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে।} [আল-ইসরা: ৪৪] .{তুমি কি দেখনি যে, আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে, আর সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্ররাজি, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষলতা, জীবজন্তু এবং মানুষের মধ্যে অনেকে আল্লাহকে সিজদা করে? আবার অনেকের ওপর আজাব অবধারিত হয়েছে। আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেন, তাকে সম্মানদাতা কেউ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ যা চান তা-ই করেন।} [আল-হাজ্জ: ১৮] .এই সিজদা এবং এই তাসবিহের প্রকৃত রহস্য উপলব্ধি করতে আমাদের মানবীয় ইন্দ্রিয়সমূহ অক্ষম; তবে আমাদের ইন্দ্রিয়সমূহ আমাদের আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং তাদের স্রষ্টার প্রতি তাদের বিনয় ও মহান আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি তাদের আনুগত্য সম্পর্কে চিন্তা করার সামর্থ্য প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفصل الثاني: الغلاف الجوي حول الأرضالسماء لغويا هي كل ما ارتفع فوق رؤوسنا، وامتد إلى آخر ما يمكن أن يدركه الإنسان من أجرام سماوية بحواسه وبأجهزته.{وَبَنَيْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعًا شِدَادًا} [النبأ: 12] .ونقتصر هنا على ذكر ذلك الجزء من السماء الذي يضم الغلاف الجوي حول الأرض، وهي السماء الدنيا.يدخل سماء الأرض من أشعة الشمس ما يمكن تقسيمه إلى ثلاث مجموعات:"أ" 9% أشعة فوق بنفسجية."ب" 45% أشعة منيرة "ضوء"."جـ" 46% أشعة تحت حمراء "حرارية".ويمكن للإنسان أن يشعر بالضوء في جزء من سماء الأرض سمكه حوالي 200 كيلو مترا ذلك في الجهة التي تكون مواجهة للشمس.ينتهي الغلاف الجوي المحيط بالأرض عند ارتفاع نحو ألف كيلو متر فوق سطح الأرض، وتتناقص كثافة هذا الغلاف الجوي سريعا بالارتفاع، وذلك أن:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পৃথিবীর চারপাশের বায়ুমণ্ডলভাষাগতভাবে আকাশ হলো আমাদের মাথার উপরে উচ্চতর সবকিছু, যা মানুষের ইন্দ্রিয় ও যন্ত্রপাতির সাহায্যে উপলব্ধি করা যায় এমন মহাজাগতিক বস্তুসমূহের শেষ সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত।{আর আমি তোমাদের উপরে সাতটি সুদৃঢ় আকাশ নির্মাণ করেছি} [আন-নাবা: ১২]।আমরা এখানে আকাশের সেই অংশটির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকব যা পৃথিবীর চারপাশের বায়ুমণ্ডলকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর তা হলো নিকটতম আকাশ।সূর্যের যে রশ্মি পৃথিবীর আকাশে প্রবেশ করে তাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:"ক" ৯% অতিবেগুনি রশ্মি।"খ" ৪৫% আলোক রশ্মি "আলো"।"গ" ৪৬% অবলোহিত রশ্মি "তাপীয়"।মানুষ পৃথিবীর আকাশের একটি অংশে আলো অনুভব করতে পারে যার পুরুত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার, যা সূর্যের মুখোমুখি দিকে অবস্থিত।পৃথিবীকে পরিবেষ্টনকারী বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় শেষ হয় এবং উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব দ্রুত হ্রাস পায়, আর তার কারণ হলো:
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
"أ" أكثر من نصف وزن الغلاف كله يتركز في ستة الكيلو مترات الأولى."ب" أكثر من ثلاثة أرباع وزنه توجد في الاثني عشر كيلو مترا الأولى."ج" كثافة الهواء على ارتفاع 20 كيلو مترا فوق سطح الأرض تساوي نحو جزء واحد من مائة جزء من كثافته عند السطح، بمعنى أن 99% من كتلته توجد في الجزء الممتد من سطح الأرض حتى ارتفاع نحو 20 كيلو مترا."د" يشعر الإنسان بضيق الصدر مع الارتفاع، ويكاد يختنق على ارتفاع نحو 12 كيلوا مترا وصدق الله تعالى:{فَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ أَنْ يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلإِسْلامِ وَمَنْ يُرِدْ أَنْ يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ} [الأنعام: 125] .ويقسم علماء الطبيعة الغلاف الجوي إلى أربعة نطاقات هي من أسفل إلى أعلى لسطح الأرض.تروبو سفير Ttopo Sphereستراتوا سفير Strato Sphereميزو سفير Meso Sphereثيرمو سفير Thermo Sphereفتتناقص درجات الحرارة في نطاق التروبو سفير مع الارتفاع عن سطح الأرض، وفي نطاق الستراتو سفير يتوقف انخفاض الحرارة، وقد ترتفع فيه درجات الحرارة مع امتصاص الأشعة فوق البنفسجية في طبقة الأوزون، التي توجد في هذا النطاق، ثم
(ক) সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের অর্ধেকেরও বেশি প্রথম ছয় কিলোমিটারের মধ্যে কেন্দ্রীভূত।(খ) এর ওজনের তিন-চতুর্থাংশের বেশি প্রথম বারো কিলোমিটারের মধ্যে বিদ্যমান।(গ) ভূপৃষ্ঠ থেকে ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুর ঘনত্ব ভূপৃষ্ঠের ঘনত্বের প্রায় এক-শতাংশের সমান; অর্থাৎ এর ভরের ৯৯% ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অংশে অবস্থিত।(ঘ) উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ বক্ষ সংকীর্ণতা অনুভব করে এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার উচ্চতায় দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন:{অতঃপর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষকে অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সংকুচিত করে দেন, যেন সে আকাশে আরোহণ করছে।} [আল-আনআম: ১২৫] ।প্রকৃতিবিদগণ বায়ুমণ্ডলকে চারটি স্তরে বিভক্ত করেন, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে নিচ থেকে উপরের দিকে নিম্নরূপ:ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere)স্ট্রাটোস্ফিয়ার (Stratosphere)মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere)থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere)ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকে এবং স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরে তাপমাত্রার হ্রাস পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই স্তরে অবস্থিত ওজন স্তরে অতিবেগুনি রশ্মি শোষণের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে, এরপর...
(খণ্ড: ১)
আল কুরআন ওয়া উলূমুল আরদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
تنخفض درجات الحرارة مرة أخرى في نطاق الميزوسفير، ثم ترتفع درجات الحرارة مرة أخرى في نطاق الثيرموسفير.ويرى السحاب حول الأرض بعين الناظر من الفضاء الخارجي، يغطي حوالي 50% من سماء الأرض، ويساعد السحاب على ارتداد حوالي 35% مما يصل إلى الغلاف الجوي من أشعة الشمس، أما ما يتغلغل في الغلاف الجوي من هذه الأشعة، ومقداره 65% من تلك الأشعة، فإن نطاق التروبوسفير يمتص 15% منه، وتستمر 50% من الأشعة لتقع على سطح الأرض.وللنطاق الجوي القريب من سطح الأرض القدرة على امتصاص الأشعة تحت الحمراء، فيحفظ سطح الأرض بقدر من الحرارة فيصبح متوسط درجة حرارة السطح حوالي 20 درجة مئوية، فإذا لم يحدث هذا، فإن متوسط درجة حرارة السطح تكون حوالي 20 درجة مئوية تحت الصفر، فيتجمد الماء، ولا تصلح حياة.ويدخل في مجال السماء الأرضي، كل ثانية، حوالي تريليون جسم أولي من الأشعة الكونية المحملة بطاقة هائلة، قادمة من أعماق الفضاء خارج المجموعة الشمسية، وفي الغلاف الجوي الأرضي تصطدم تلك الجسيمات الأولية بمكونات الغلاف الجوي، وينتج عن هذا الاصطدام تولد جسيمات ثانوية، هي التي يمكنها الاستمرار في مسارها إلى أن ترتطم بسطح الأرض، وبالأحياء الموجودة على هذا السطح ومنها الإنسان، ولا تسبب هذه الجسيمات الثانوية أضرارا للجسم البشري الحي، بينما لو كانت الأشعة الكونية الأولية هي التي تصيب أجسام الأحياء على سطح الأرض لقتلتهم.
মেসোস্ফিয়ার স্তরে তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পায়, এরপর থার্মোস্ফিয়ার স্তরে তাপমাত্রা পুনরায় বৃদ্ধি পায়।মহাকাশ থেকে পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে পৃথিবীর চারদিকে মেঘ দেখা যায়, যা পৃথিবীর আকাশের প্রায় ৫০% আবৃত করে রাখে। বায়ুমণ্ডলে আগত সৌররশ্মির প্রায় ৩৫% প্রতিফলিত করতে মেঘ সহায়তা করে। আর এই রশ্মির যে অংশ বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, যার পরিমাণ ৬৫%, ট্রপোস্ফিয়ার স্তর তার ১৫% শোষণ করে নেয় এবং অবশিষ্টাংশ ৫০% রশ্মি পৃথিবীর পৃষ্ঠে পতিত হওয়ার জন্য অগ্রসর হয়।ভূপৃষ্ঠের নিকটবর্তী বায়ুমণ্ডলীয় স্তরের অবলোহিত রশ্মি শোষণ করার ক্ষমতা রয়েছে, ফলে এটি ভূপৃষ্ঠে নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপ ধরে রাখে এবং ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পরিণত হয়। যদি এমনটি না হতো, তবে ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে প্রায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতো, ফলে পানি জমে বরফ হয়ে যেত এবং জীবনধারণের উপযোগী থাকত না।প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর আকাশসীমায় সৌরজগতের বাইরের মহাশূন্যের গভীর থেকে আগত প্রচণ্ড শক্তিশালী মহাজাগতিক রশ্মির প্রায় এক ট্রিলিয়ন প্রাথমিক কণা প্রবেশ করে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এই প্রাথমিক কণাগুলো বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় এবং এই সংঘর্ষের ফলে গৌণ কণা উৎপন্ন হয়, যা ভূপৃষ্ঠে এবং মানুষসহ অন্যান্য জীবের ওপর পতিত হওয়া পর্যন্ত নিজ গতিপথে অবিচল থাকতে পারে। এই গৌণ কণাগুলো জীবিত মানবদেহের কোনো ক্ষতি করে না, অথচ যদি প্রাথমিক মহাজাগতিক রশ্মিগুলো ভূপৃষ্ঠের প্রাণীদের দেহে আঘাত করত, তবে তা তাদের ধ্বংস করে ফেলত।