(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
التصوير القرآني للقيم الخلقية والتشريعية القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: التصوير القرآني للقيم الخلقية والتشريعية
المؤلف: علي علي صبح
الناشر: المكتبة الأزهرية للتراث
عدد الصفحات: 326
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নৈতিক ও বিধানিক মূল্যবোধের কুরআনিক চিত্রায়ণ বিভাগ: কুরআনের জ্ঞানসমূহ (علوم القرآن) এবং তাফসিরের মূলনীতি (أصول التفسير)
গ্রন্থ: নৈতিক ও বিধানিক মূল্যবোধের কুরআনিক চিত্রায়ণ
লেখক: আলী আলী সুবহ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল আজহারিয়া লিত-তুরাস
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة:{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجًا، قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا، مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا، وَيُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا} [الكهف: 1-3] ، {الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ، إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ، نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ} [يوسف: 1-3] ، {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا} [الإسراء: 82] ، {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا، وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هَذَا الْقُرْآنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ فَأَبَى أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا} [الإسراء: 88، 89] ، {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ، نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ، عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ، بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء: 192- 195] ، {حم، تَنْزِيلٌ مِنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [فصلت: 1-3] ، {وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى أُولَئِكَ يُنَادَوْنَ مِنْ مَكَانٍ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা:{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারেন যারা নেক আমল করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যাতে তাদের সতর্ক করতে পারেন যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন।} [কাহাফ: ১-৩] , {আলিফ-লাম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত। আমি একে আরবি কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো। আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি এই কুরআন তোমার নিকট ওহী করার মাধ্যমে, যদিও এর পূর্বে তুমি এ বিষয়ে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।} [ইউসুফ: ১-৩] , {আমি কুরআন থেকে এমন কিছু অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা জালিমদের জন্য কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।} [ইসরা: ৮২] , {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। আর আমি মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরণের উদাহরণ বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কেবল কুফরি করতেই অনড় রইল।} [ইসরা: ৮৮, ৮৯] , {নিশ্চয় এটি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত আত্মা একে নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন, আপনার হৃদয়ে যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।} [শুয়ারা: ১৯২- ১৯৫] , {হা-মীম, এটি পরম করুণাময় অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে আরবি কুরআন হিসেবে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা জ্ঞান রাখে।} [ফুসসিলাত: ১-৩] , {যদি আমি একে অনারবি কুরআন করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত, কেন এর আয়াতগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি? কিতাব কি অনারবি আর রাসূল কি আরবি? বলুন, এটি মুমিনদের জন্য পথনির্দেশ ও আরোগ্য। আর যারা ঈমান আনে না তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের জন্য অন্ধত্বস্বরূপ। তাদের যেন এক দূরবর্তী স্থান থেকে} [ফুসসিলাত: ৪৪]
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بَعِيدٍ} [فصلت: 44] ، {حم، وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ، إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ، وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ} [الزخرف: 1-4] ، {الرَّحْمَنُ، عَلَّمَ الْقُرْآنَ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ، عَلَّمَهُ الْبَيَانَ} [الرحمن: 1-4] .
والصلاة والسلام على أفصح الخلائق أجمعين آثره ربه عز وجل بجوامع الكلم، فكان خلقه القرآن الكريم {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4] ، {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ، إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ، ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة: 16-19] ، {وَبِالْحَقِّ أَنْزَلْنَاهُ وَبِالْحَقِّ نَزَلَ وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا مُبَشِّرًا وَنَذِيرًا، وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا، قُلْ آمِنُوا بِهِ أَوْ لَا تُؤْمِنُوا إِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِهِ إِذَا يُتْلَى عَلَيْهِمْ يَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ سُجَّدًا، وَيَقُولُونَ سُبْحَانَ رَبِّنَا إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُولًا، وَيَخِرُّونَ لِلْأَذْقَانِ يَبْكُونَ وَيَزِيدُهُمْ خُشُوعًا} [الإسراء: 105- 109] ، اللهم صلى وسلم وبارك على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه- والتابعين رضي الله عنهم ورضوا عنه ذلك لمن خشي ربه، {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ
দূরবর্তী স্থান থেকে} [ফুসসিলাত: ৪৪], {হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআনরূপে তৈরি করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো। আর নিশ্চয়ই তা আমাদের কাছে মূল কিতাবে (উম্মুল কিতাব) উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাপূর্ণ।} [আয-যুখরুফ: ১-৪], {পরম করুণাময়, তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন, তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাকে ভাবপ্রকাশের শিক্ষা দিয়েছেন।} [আর-রাহমান: ১-৪]।
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক সাবলীল ভাষী সত্তার ওপর, যাঁকে তাঁর প্রতিপালক —যিনি মহান ও পরাক্রমশালী— সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর (جوامع الكلم) বৈশিষ্ট্য দিয়ে ধন্য করেছেন। তাঁর চরিত্র ছিল আল-কুরআনুল কারীম {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} [আল-কালাম: ৪], {তাড়াহুড়ো করে মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না। এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন। অতঃপর এর ব্যাখ্যা করা আমাদেরই দায়িত্ব} [আল-কিয়ামাহ: ১৬-১৯], {আমি সত্যসহই তা নাযিল করেছি এবং সত্যসহই তা নাযিল হয়েছে। আমি তো আপনাকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। আর আমি কুরআনকে খণ্ড খণ্ড করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে বিরতি দিয়ে পাঠ করতে পারেন এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছি। বলুন, তোমরা এতে বিশ্বাস করো বা না করো, নিশ্চয়ই যাদেরকে এর আগে জ্ঞান দান করা হয়েছে, যখন তাদের সামনে এটি পাঠ করা হয় তখন তারা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে এবং বলে: পবিত্র মহান আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ হবে। আর তারা কাঁদতে কাঁদতে ভূমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটি তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে} [আল-ইসরা: ১০৫-১০৯]। হে আল্লাহ! সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর—আর তাবেঈগণের (التابعين) ওপরও, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট; এটি তাঁরই জন্য যে তার প্রতিপালককে ভয় করে, {যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি উম্মী নবী, যাঁর কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিপিবদ্ধ পায়। তিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন ও অসৎ বা বর্জনীয় (المنكر) কাজ থেকে নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন ও অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন এবং তাদের ওপর থেকে তাদের গুরুভার ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেন যা তাদের ওপর ছিল। সুতরাং যারা তাঁর ওপর ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ করে, তারাই...}
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [الأعراف: 175] ، والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد
…فهذه الآيات الكريمات وغيرها في كتاب الله جل جلاله صريحة ودامغة، يقسم الله عز وجل فيها بمواقع النجوم على أن القرآن تنزيل من رب العالمين: {وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ، إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ، فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ، لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ، تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الواقعة: 76- 80] ، فالكتاب والتنزيل والفرقان {لَقُرْآنٌ كَرِيم} ، {وَإِنَّهُ لَكِتَابٌ عَزِيزٌ، لا يَأْتِيهِ الْبَاطِلُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَلا مِنْ خَلْفِهِ تَنْزِيلٌ مِنْ حَكِيمٍ حَمِيدٍ} [فصلت: 41- 42] ؛ فليس أدبًا عربيًّا، لكنه "أدب قرآني"، وليس فنًّا قصصيًّا، ولكنه "قصص قرآني"، وليس شعرًا ولا نثرًا فنيًّا، ولا سحرًا ولا كهانة، {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ، وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلًا مَا تُؤْمِنُونَ، وَلَا بِقَوْلِ كَاهِنٍ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ، تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَلَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا بَعْضَ الْأَقَاوِيلِ، لَأَخَذْنَا مِنْهُ بِالْيَمِينِ، ثُمَّ لَقَطَعْنَا مِنْهُ الْوَتِينَ، فَمَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ عَنْهُ حَاجِزِينَ، وَإِنَّهُ لَتَذْكِرَةٌ لِلْمُتَّقِينَ، وَإِنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّ مِنْكُمْ مُكَذِّبِينَ، وَإِنَّهُ لَحَسْرَةٌ عَلَى الْكَافِرِينَ، وَإِنَّهُ لَحَقُّ الْيَقِينِ، فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ} [الحاقة: 40- 52] ، وليس تصويرًا فنيًّا، ولا تصويرًا في القرآن، بل هو "تصوير قرآني"، وأسلوب قرآني، ونظم قرآني، وبيان قرآني، ونسق قرآني، وإيقاع قرآني، وموسيقى قرآنية، لأن صفة "القرآنية"
...তারা সফলকাম (مفلحون)} [আল-আরাফ: ১৭৫], এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারীদের প্রতি।
অতঃপর
…আল্লাহ জাল্লা জালালুহু-এর কিতাবে এই সম্মানিত আয়াতসমূহ এবং অন্যান্য আয়াতগুলো সুস্পষ্ট ও অকাট্য। মহান আল্লাহ তাতে নক্ষত্ররাজির অবস্থানের শপথ করে বলেছেন যে, কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل): {আর নিশ্চয় এটি এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে। নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা আছে এক সুরক্ষিত কিতাবে, যা পবিত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ স্পর্শ করে না। এটি জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)} [আল-ওয়াকিয়াহ: ৭৬-৮০]। সুতরাং এই কিতাব, অবতীর্ণ (تنزيل) বাণী এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (فرقان) হলো {এক সম্মানিত কুরআন}। {আর নিশ্চয় এটি এক পরাক্রমশালী কিতাব। এর সামনে থেকে বা এর পেছন থেকে কোনো মিথ্যা এতে আসতে পারে না। এটি প্রজ্ঞাময় ও পরম প্রশংসিতের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)} [ফুসসিলাত: ৪১-৪২]। এটি কোনো আরবি সাহিত্য নয়, বরং এটি "কুরআনিক সাহিত্য"; এটি কোনো কাহিনীশিল্প নয়, বরং এটি "কুরআনিক কাহিনী (قصص)"; এটি কোনো কবিতা বা শিল্পময় গদ্য নয়, এমনকি কোনো জাদু বা গণকবদ্যাও নয়। {নিশ্চয় এটি এক সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী। এটি কোনো কবির কথা নয়, তোমরা খুব অল্পই বিশ্বাস করো। আর এটি কোনো গণকের কথা নয়, তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো। এটি জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ (تنزيل)। যদি সে (রাসূল) আমাদের নামে কোনো কথা বানিয়ে বলত, তবে আমি অবশ্যই তার ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর আমি তার গ্রীবাদেশীয় ধমনী কেটে দিতাম। তখন তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকত না যে তাকে রক্ষা করতে পারত। আর নিশ্চয় এটি মুত্তাকীদের জন্য এক উপদেশ। আর আমি অবশ্যই জানি যে, তোমাদের মধ্যে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী (مكذبون) রয়েছে। আর নিশ্চয় এটি কাফিরদের জন্য আক্ষেপের কারণ। আর নিশ্চয় এটি পরম সত্য (حق اليقين)। সুতরাং আপনি আপনার মহান প্রতিপালকের নামের তাসবীহ পাঠ করুন} [আল-হাক্কাহ: ৪০-৫২]। এটি কোনো শৈল্পিক চিত্রায়ন নয়, আর না এটি কুরআনের মধ্যে চিত্রায়ন; বরং এটি "কুরআনিক চিত্রায়ন", কুরআনিক শৈলী, কুরআনিক বিন্যাস, কুরআনিক বর্ণনাভঙ্গি (بيان), কুরআনিক পদ্ধতি, কুরআনিক ছন্দ এবং কুরআনিক সুর; কেননা "কুরআনিক" বৈশিষ্ট্যটি...
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
منحت الموصوف صبغة القرآن الكريم: {صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً} [البقرة: 138] ؛ فتردّ كل احتمال يمسّ قداسة القرآن: كلام الله المقدس جل جلاله، وآثرت أن يكون الإعجاز في "التصوير القرآني" عنوانًا لكتابي هذا، لا "النظم القرآني" ولا "الأسلوب القرآني" إلى آخر ما ذكرناه؛ لأن "التصوير القرآني" للقيم الخلقية والتشريعية يشمل كل ما سبق، وأكثر منه، فهو حقًّا "الإعجاز"، وضحت ذلك في الفصل الأول مناقشًا هذه القضية، مبينًا ما تتركه التعبيرات الأخرى للنقاد من احتمالات لا تتفق مع قداسة القرآن الكريم بالتصريح الواضح الدامغ، حتى لا أترك منفذًا لاحتمال أو جدل أو مناقشة؛ لأنه "تصوير قرآني" مدعمًا ذلك بالدراسة لكثير من الصور القرآنية، القائمة على التحليل والتطبيق؛ لبيان الإعجاز في "التصوير القرآني" للقيم الخلقية والتشريعية، ثم انتقلت من الفصل الأول إلى عرض قضايا كبرى في "التصوير القرآني"؛ فتناولت في الفصل الثاني "التصوير القرآني" لليل والنهار، وفي الفصل الثالث "التصوير القرآني" للصيام والصوم، وفي الفصل الرابع "التصوير القرآني" لأدب النشء وتربيته في القرآن الكريم والسنة الشريفة، وفي الفصل الخامس القيم الخلقية والتشريعية في المعاملات الإسلامية في القرآن الكريم والسنة الشريفة.
وهذا الكتاب يتخذ منهجًا واضحًا في بلاغة التصوير القرآني، التي وصلت إلى حد إعجاز البشر على أن يأتوا بآية من مثله. ودلالته على القيم الروحية والخلقية والتشريعية في الصور القرآنية المعروضة، فإذا تعرضت لبعض الحقائق الكونية والإنسانية من آيات تقترب من ألف آية، بالتنبيه على إشارات عامة تفتح المجال للعلماء والمتخصصون على أن
আমি বর্ণিত বিষয়টিকে পবিত্র কুরআনের রঙে রঞ্জিত করেছি: {আল্লাহর রঙ, আর আল্লাহর রঙের চেয়ে উত্তম রঙ আর কার হতে পারে?} [আল-বাকারা: ১৩৮]; যা পবিত্র কুরআনের পবিত্রতাকে স্পর্শ করে এমন প্রতিটি সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়: যা মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী। আমি আমার এই বইটির শিরোনাম হিসেবে "কুরআনিক চিত্রায়ন"-এর অলৌকিকত্বকে নির্বাচন করেছি, "কুরআনিক বিন্যাস" বা "কুরআনিক শৈলী" বা ইতিপূর্বে যা উল্লেখ করেছি সেগুলোকে নয়; কারণ নৈতিক ও আইনী মূল্যবোধের "কুরআনিক চিত্রায়ন" পূর্ববর্তী সবগুলোকে এবং তার চেয়েও বেশি কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটিই প্রকৃত অর্থে "অলৌকিকত্ব", যা আমি প্রথম অধ্যায়ে এই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি। আমি সেখানে অন্যান্য অভিব্যক্তিগুলোর ক্ষেত্রে সমালোচকদের জন্য বিদ্যমান অস্পষ্টতাগুলো সুস্পষ্ট ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে নিরসন করেছি যা পবিত্র কুরআনের পবিত্রতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, যাতে বিতর্ক বা আলোচনার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট না থাকে; কারণ এটি হলো বিশ্লেষণ ও প্রয়োগের ভিত্তিতে বহু কুরআনিক চিত্রায়নের অধ্যয়ন দ্বারা সমর্থিত "কুরআনিক চিত্রায়ন"; যা নৈতিক ও আইনী মূল্যবোধের "কুরআনিক চিত্রায়ন"-এ বিদ্যমান অলৌকিকত্ব প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে। অতঃপর আমি প্রথম অধ্যায় থেকে "কুরআনিক চিত্রায়ন"-এর প্রধান বিষয়গুলো উপস্থাপনের দিকে অগ্রসর হয়েছি; দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমি দিন ও রাতের "কুরআনিক চিত্রায়ন" নিয়ে আলোচনা করেছি, তৃতীয় অধ্যায়ে সিয়াম ও রোযার "কুরআনিক চিত্রায়ন", চতুর্থ অধ্যায়ে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নবীন প্রজন্মের শিষ্টাচার ও প্রতিপালনের "কুরআনিক চিত্রায়ন", এবং পঞ্চম অধ্যায়ে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামি লেনদেনের ক্ষেত্রে নৈতিক ও আইনী মূল্যবোধ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
এই বইটি কুরআনিক চিত্রায়নের অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে, যা মানুষের জন্য এর সমতুল্য একটি আয়াত আনয়নকেও অলৌকিকত্বের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এটি উপস্থাপিত কুরআনিক চিত্রগুলোতে আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও আইনী মূল্যবোধের প্রমাণ বহন করে। আমি যখন প্রায় এক হাজার আয়াতের আলোকে কিছু মহাজাগতিক ও মানবিক সত্য নিয়ে আলোচনা করেছি, তখন এমন কিছু সাধারণ নির্দেশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যা বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের জন্য গবেষণার পথ উন্মোচন করবে যাতে
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
يفسّروا هذه الحقائق الثابتة -لا المفترضة- من خلال إشارات التصوير القرآني إلى طليعة التقدم العلمي في كل عصر، بما لا يتعارض مع تفسيرات السابقين ولا اللاحقين؛ لأن هذه الإشارات والتأويلات يجب ألا تقصر القرآن الكريم عليها فقط؛ فلا يتعدَّاه إلى غيرها، ولا تطلق الأحكام إطلاقًا عامًّا على سبيل الجزم واليقين، بحيث لا يتجاوزه إلى حقائق أخرى تتجدَّد مع الزمان والمكان والأجيال، كالشأن في القرآن الكريم الكتاب المقدس الخالد.
هذا المنهج يفتح المجال للتفكير والبحث والتقدم العلمي القائم على القيم الروحية والخلقية في كل عصر إلى يوم القيامة، وهو ما حثّ عليه القرآن الكريم والسنة الشريفة، لأن حقائق القرآن ثابتة لا تخضع لنظرية علمية أو تفسير كوني أو إنساني يختلف من عصر إلى عصر، وعلى سبيل المثال ما قبل في تفسير إشارة التصوير القرآني لحركة الشمس في مجرة فلكها في قوله تعالى: {وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} [يس: 38] ، فهذا التأويل لإشارة الآية مقبول في عصرنا، ولايتعارض مع الحقيقة العامة في القرآن الكريم، ولا مع جميع مراحل تفسيرها قديمًا وحديثًا، ولا تقصر الآية عليها؛ فلا تتعدَّاه في المستقبل إلى غيرها من الإشارات والتأويلات، التي سيصل إليها التقدم العلمي في المستقبل، حين يفسر العلماء جريان الشمس في مجرة فلكها تفسيرًا علميًّا آخر، لا يتعارض مع ما سبقه من إشارات وتأويلات، وهكذا في غيرها من الحقائق الكونية، التي يشير إليها التصوير القرآني المعجز، لتقدم العقل البشري وعلومه في كل عصر، ولا تتعارض مع نص قرآني مطلقًا.
তারা যেন এই সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابتة) সত্যগুলোকে—কাল্পনিক নয়—প্রতিটি যুগের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির অগ্রযাত্রার প্রতি কুরআনি চিত্রায়নের ইশারাগুলোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন, যা পূর্বসূরি বা উত্তরসূরিদের ব্যাখ্যার সাথে সাংঘর্ষিক হবে না। কারণ, এই ইশারা ও ব্যাখ্যাগুলোর মধ্যেই পবিত্র কুরআনকে সীমাবদ্ধ করে রাখা উচিত নয়; যাতে তা অন্য কোনো অর্থের দিকে ধাবিত হতে বাধাগ্রস্ত না হয়। আর অকাট্য ও নিশ্চিতভাবে এমন কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত জারি করা উচিত নয়, যা সময়, স্থান ও প্রজন্মের পরিবর্তনের সাথে উন্মোচিত অন্যান্য সত্যের দিকে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করে দেয়; যেমনটি চিরন্তন পবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআনের চিরশাশ্বত বৈশিষ্ট্যের দাবি।
এই মানহাজ বা পদ্ধতি কিয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি যুগে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে চিন্তা-গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পথ উন্মোচন করে, যার প্রতি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ উৎসাহিত করেছে। কারণ কুরআনের সত্যসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابتة), যা কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা মহাজাগতিক ও মানবিক ব্যাখ্যার অনুগত নয় যা যুগভেদে পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ছায়াপথে সূর্যের আবর্তনের বিষয়ে কুরআনি চিত্রায়নের ইশারা সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {আর সূর্য তার নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে চলতে থাকে, এটি মহাপরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত নিয়ন্ত্রণ} [ইয়াসিন: ৩৮]-এর ব্যাখ্যার কথা বলা যেতে পারে। আয়াতের এই ইশারার ব্যাখ্যাটি আমাদের যুগে গ্রহণযোগ্য এবং তা পবিত্র কুরআনের সাধারণ সত্যের সাথে কিংবা প্রাচীন ও আধুনিককালের সকল পর্যায়ের ব্যাখ্যার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। তবে আয়াতটিকে কেবল এই ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করা যাবে না; যাতে ভবিষ্যতে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে প্রাপ্ত অন্যান্য ইশারা ও ব্যাখ্যা গ্রহণের পথ রুদ্ধ না হয়। যখন বিজ্ঞানীরা ভবিষ্যতে ছায়াপথে সূর্যের পরিক্রমণ নিয়ে অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করবেন, যা পূর্ববর্তী ইশারা ও ব্যাখ্যাগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক হবে না, তখন তাও গ্রহণযোগ্য হবে। একইভাবে অন্যান্য মহাজাগতিক সত্যের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, যার দিকে কুরআনের অলৌকিক চিত্রায়ন ইঙ্গিত করে, যাতে প্রতিটি যুগে মানবীয় প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি সাধিত হয় এবং তা কুরআনের কোনো অকাট্য নস (نص)-এর সাথে মোটেও সাংঘর্ষিক না হয়।
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
هذا المنهج قد أشار إليه التصوير القرآني في آيات كثيرة، منها قوله تعالى: {بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ كَذَلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ} [يونس: 39] ، {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} [آل عمران: 7] ، {بَلْ هُوَ آيَاتٌ بَيِّنَاتٌ فِي صُدُورِ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا الظَّالِمُونَ} [العنكبوت: 49] ، {وَلِيَعْلَمَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَيُؤْمِنُوا بِهِ فَتُخْبِتَ لَهُ قُلُوبُهُمْ وَإِنَّ اللَّهَ لَهَادِ الَّذِينَ آمَنُوا إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الحج:؛ 54] ، {وَلَقَدْ جِئْنَاهُمْ بِكِتَابٍ فَصَّلْنَاهُ عَلَى عِلْمٍ هُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [الأعراف: 52] {لِكُلِّ نَبَإٍ مُسْتَقَرٌّ وَسَوْفَ تَعْلَمُونَ} [الأنعام: 67] ، {نُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [فصلت: 53] ، وغيرها من الآيات التي جاءت صريحة في هذا المنهج الرباني مما لا يحتاج إلى شرح أو تعقيب على ما ذكرناه.
وقد فسر ابن كثير "م 774هـ" قوله تعالى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ} فقال: "أي ستظهر لهم دلالاتنا وحججنا على كون القرآن حقًّا منزلًا من عند الله عز وجل على رسوله صلى الله عليه وسلم بدلائله خارجية في الآفاق من الفتوحات، وأن هذه الآية تشير إلى
এই পদ্ধতির প্রতি কুরআনিক বর্ণনায় বহু আয়াতে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {বরং তারা এমন বিষয়কে অস্বীকার করেছে যা তাদের জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার ব্যাখ্যা (تأويل) এখনও তাদের নিকট আসেনি। এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল, অতএব দেখুন জালিমদের পরিণাম কেমন হয়েছিল} [ইউনুস: ৩৯], {তিনিই আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার মধ্যে কিছু আয়াত সুস্পষ্ট (محكمات), সেগুলো কিতাবের মূল ভিত্তি এবং অন্যগুলো রূপক (متشابهات)। যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার (تأويل) উদ্দেশ্যে রূপক আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এগুলোর ব্যাখ্যা (تأويل) জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, আমরা এতে ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর কেবল বুদ্ধিমানরাই শিক্ষা গ্রহণ করে} [আল-ইমরান: ৭], {বরং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে তাদের হৃদয়ে তা সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ। কেবল জালিমরাই আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে} [আল-আনকাবুত: ৪৯], {আর যেন জ্ঞানপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জানতে পারে যে, তা আপনার রবের পক্ষ থেকে সত্য (حق), ফলে তারা তাতে ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর তাঁর প্রতি বিনত হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন} [আল-হাজ্জ: ৫৪], {আর অবশ্যই আমি তাদের নিকট এক কিতাব নিয়ে এসেছি যা আমি জ্ঞানের ভিত্তিতে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি, এটি মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত} [আল-আরাফ: ৫২] {প্রত্যেক সংবাদের জন্য এক নির্দিষ্ট সময় রয়েছে এবং শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে} [আল-আনআম: ৬৭], {আমি শীঘ্রই তাদের নিকট দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আমার নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করব যাতে তাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তা সত্য (حق)। আপনার রবের ব্যাপারে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সবকিছুর ওপর প্রত্যক্ষদর্শী?} [ফুসসিলাত: ৫৩], এছাড়াও আরও বহু আয়াত রয়েছে যা এই ঐশী পদ্ধতির ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করেছে, যা আমাদের উল্লিখিত বক্তব্যের জন্য কোনো ব্যাখ্যা বা টীকার প্রয়োজন রাখে না।
ইবনে কাসীর (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী) মহান আল্লাহর বাণী: {আমি শীঘ্রই তাদের নিকট দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে আমার নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করব} এর ব্যাখ্যায় বলেন: "অর্থাৎ শীঘ্রই দিগন্তসমূহে বিজয়াভিযান ইত্যাদি বাহ্যিক প্রমাণের মাধ্যমে তাদের নিকট আমাদের প্রমাণাদি ও দলিলসমূহ (حجج) প্রকাশ পাবে যে, কুরআন হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি অবতীর্ণ সত্য (حق)। আর এই আয়াতটি ইঙ্গিত করে যে...
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بعض الحقائق في علوم الأحياء والتشريح، وجاء في تفسير الطبري "25/ 5" أن ابن زيد السلفي قال: آفاق السماوات نجومها وشمسها وقمرها اللائي يجرين، وآيات في أنفسهم".
وينكر الداعية الإسلامي الشيخ محمد متولي الشعراوي على الذين يحاولون ربط القرآن الكريم بنظريات علمية مكتشفة: "ويحاولون إثبات القرآن الكريم بالعلم، والقرآن ليس في حاجة إلى العلم ليثبت؛ فالقرآن ليس كتاب علم، ولكنه كتاب عادة ومنهج، ولكن الله سبحانه وتعالى علَّم أنه بعد عدة قرون من نزول القرآن الكريم سيأتي عدد من الناس ويقول: انتهى عصر الإيمان، وبدأ عصر العلم، والعلم الذي يتحدَّثون عنه قد بينه القرآن الكريم كحقائق كونية منذ أربعة عشر قرنًا" "معجزة القرآن -الجزء الأول- مؤسسة أخبار اليوم مصر 1993م"، ويقول الأستاذ عبد الرزاق نوفل: "أثبت التقدم الفكري في العصر الحديث أن القرآن كتاب علمي جمع أصول كل العلوم والحكمة
… وكل مستحدث في العلم نجد أن القرآن قد وجه إليه النظر أو أشار إليه" "القرآن والعلم الحديث -مؤسسة دار الشعب بالقاهرة 1982م"، ويشير الدكتور محمد ناظم نسيمي إلى أن العلوم الكونية من صناعة وزراعة وطب وغيرها، ليست نصوصًا مفصلة في القرآن الكريم، فإذا أشار إليها القرآن، يريد أن يوجه الإنسان إلى الإيمان بالخالق، مبدع هذه الكائنات، وما فيها من خواص الطبيعة وقواعد العلم؛ فيحيا في عقيدة صحيحة، وتفكير سديد، وسلوك قويم "مع الطب في القرآن الكريم -مؤسَّسة القرآن بدمشق- الطبعة الأولى 1984م"، ويقول الدكتور مصطفى محمود: "إن القرآن كلام الله الذي لا نهاية لمعانيه، وهو كتاب جامع
… ولهذا فإنه احتمل أكثر من من منهج في التفسير؛ فهناك التفسير
জীববিদ্যা ও শরীরতত্ত্ব বিজ্ঞানের কিছু বাস্তবতা; তাফসিরে তাবারিতে (২৫/৫) বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে যাইদ আস-সালাফি বলেছেন: "আকাশমণ্ডলীর দিগন্তসমূহ হলো এর নক্ষত্ররাজি, সূর্য ও চন্দ্র যা প্রবহমান, আর তাদের নিজেদের মধ্যকার নিদর্শনসমূহ।"
ইসলামি দাঈ শাইখ মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লি আশ-শা’রাউই সেইসব লোকদের সমালোচনা করেছেন যারা পবিত্র কুরআনকে আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহের সাথে সম্পৃক্ত করতে চেষ্টা করেন। তিনি বলেন: "তারা বিজ্ঞানের মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে প্রমাণ করতে চান, অথচ পবিত্র কুরআন প্রমাণের জন্য বিজ্ঞানের মুখাপেক্ষী নয়। কারণ কুরআন কোনো বিজ্ঞানের বই নয়, বরং এটি জীবনধারা ও জীবনপদ্ধতির কিতাব। তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা জানতেন যে, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার কয়েক শতাব্দী পর এমন একদল লোক আসবে যারা বলবে: বিশ্বাসের যুগ শেষ হয়েছে এবং বিজ্ঞানের যুগ শুরু হয়েছে। অথচ তারা যে বিজ্ঞানের কথা বলছে, তা পবিত্র কুরআন চৌদ্দশ বছর আগেই মহাজাগতিক বাস্তবতা হিসেবে বর্ণনা করেছে।" ("মু’জিজাতুল কুরআন" -প্রথম খণ্ড- মুআসসাসাতু আখবারিল ইয়াউম, মিশর, ১৯৯৩)। উস্তাদ আব্দুর রাজ্জাক নওফল বলেন: "আধুনিক যুগের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি প্রমাণ করেছে যে, কুরআন একটি বৈজ্ঞানিক কিতাব যা সমস্ত বিজ্ঞানের মূলনীতি ও প্রজ্ঞাকে ধারণ করে
… বিজ্ঞানের প্রতিটি নতুন উদ্ভাবনের প্রতি কুরআন দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে অথবা সেদিকে ইঙ্গিত প্রদান করেছে।" ("আল-কুরআন ওয়াল ইলমুল হাদিস" -মুআসসাসাতু দারুশ শা’ব, কায়রো, ১৯৮২)। ডক্টর মুহাম্মদ নাজিম নাসিমি উল্লেখ করেন যে, শিল্প, কৃষি, চিকিৎসাশাস্ত্র ইত্যাদি মহাজাগতিক বিজ্ঞানসমূহ পবিত্র কুরআনে বিস্তারিত পাঠ্য হিসেবে নেই। কুরআন যদি এগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে থাকে, তবে তার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে এই সৃষ্টিজগত এবং এর অন্তর্ভুক্ত প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিজ্ঞানের নিয়মাবলীর উদ্ভাবক তথা স্রষ্টার প্রতি ঈমানের দিকে পরিচালিত করা; যাতে সে বিশুদ্ধ আকিদা, সঠিক চিন্তাধারা ও সঠিক আচরণের ওপর জীবন অতিবাহিত করতে পারে। ("মাআত তিব্বি ফিল কুরআনিল কারিম" -মুআসসাসাতুল কুরআন, দামেস্ক- প্রথম প্রকাশ, ১৯৮৪)। ডক্টর মুস্তফা মাহমুদ বলেন: "কুরআন হলো আল্লাহর কালাম যার অর্থের কোনো শেষ নেই এবং এটি একটি সংকলিত কিতাব
… এ কারণেই এটি তাফসিরের ক্ষেত্রে একাধিক পদ্ধতির অবকাশ রাখে; সেখানে রয়েছে তাফসির..."
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
البياني
… والتفسير العلمي الذي يركز على الآيات الكونية في الفلك والطب والأجنة، وعلى معطيات الموضوعية العلمية، وهناك التفسير الإشاري
… إلى آخره، ولكل منهج من هذه المناهج مكانة، وكلها مكملة لبعضها البعض، والاجتهاد فيها لا ينتهي، ونظرًا لكثرة المعلومات المتاحة في العصر العلمي الذي نعيشه، أخذ التفسير العلمي مكان الصَّدارة؛ إذ وجدنا آيات القرآن تتوافق مع كل ما يجد من معارف ثابتة. وهو يرد على المعترضين بحجة العلم وعدم ثباته" "التفسير العلمي للقرآن بين المؤيدين والمعارضين -تحقيق بمجلة المسلمين 1402هـ- 1981م"، والشيخ عبد المجيد الزنداني أمين عام هيئة الإعجاز العلمي للقرآن والسنة، له كتب عديدة في مجال الإشارات العلمية للقرآن الكريم، وبحوث منشورة في مؤتمراتها بمكة المكرمة.
وعندنا في مصر جمعية الإعجاز العلمي للقرآن والسنة، أشهرت برقم 924 عام 1988م، اتخذت لها منهجًا في التفسير العلمي للقرآن الكريم، يقوم على ضوابط هي بإيجاز:
1- تجميع الآيات التي تعالج قضية واحدة.
2- مراعاة تعدد معاني الألفاظ.
3- خضوع التفسير لدلالات اللغة العربية وقواعدها.
4- عدم العدول عن حقيقة اللفظ إلى مجازه كلما توفر.
5- الاستعانة بالتفاسير السابقة مع استبعاد الخرافات والإسرائيليات الموجودة في بعضها.
6- عدم تعارض التفسير المقترح مع نصِّ قرآني.
আল-বায়ানি (আলঙ্কারিক)
… এবং বৈজ্ঞানিক তাফসির যা জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও ভ্রূণতত্ত্বের মহাজাগতিক আয়াতসমূহ এবং বৈজ্ঞানিক বস্তুনিষ্ঠ উপাত্তের ওপর গুরুত্বারোপ করে। এছাড়াও রয়েছে ইশারি (إشاري) তাফসির
… ইত্যাদি। এই পদ্ধতিগুলোর প্রত্যেকের নিজস্ব গুরুত্ব রয়েছে এবং এগুলো একে অপরের পরিপূরক। এ ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (গবেষণা) কখনো শেষ হওয়ার নয়। বর্তমানে আমরা যে বিজ্ঞানভিত্তিক যুগে বাস করছি, সেখানে প্রচুর তথ্য সহজলভ্য হওয়ার কারণে বৈজ্ঞানিক তাফসির অগ্রগণ্য স্থান দখল করেছে; কেননা আমরা দেখতে পাই যে কুরআনের আয়াতসমূহ প্রতিটি নতুন ও প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এবং এটি বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে এবং বিজ্ঞানের পরিবর্তনশীলতার অজুহাতে যারা আপত্তি করে, তাদের উত্তর দেয়। "কুরআনের বৈজ্ঞানিক তাফসির: সমর্থক ও বিরোধীদের মাঝে - মাজাল্লাতুল মুসলিমিন-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা, ১৪০২ হিজরি/১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ"। শায়খ আব্দুল মাজিদ আয-যিন্দানি, যিনি কুরআন ও সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা বিষয়ক সংস্থার মহাসচিব, কুরআনুল কারিমের বৈজ্ঞানিক ইঙ্গিত বিষয়ে তাঁর অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে এবং মক্কা মুকাররামায় অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত সম্মেলনগুলোতে তাঁর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
মিশরে আমাদের এখানে 'কুরআন ও সুন্নাহর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা বিষয়ক সমিতি' রয়েছে, যা ১৯৮৮ সালে ৯২৪ নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছে। এটি কুরআনুল কারিমের বৈজ্ঞানিক তাফসিরের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করেছে, যা সংক্ষেপে নিম্নরূপ:
1- একই বিষয় সম্পর্কিত আয়াতসমূহকে একত্রে সংকলন করা।
2- শব্দের একাধিক অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা।
3- তাফসিরকে আরবি ভাষার অর্থ ও ব্যাকরণিক নিয়মের অনুসারী হওয়া।
4- যতদূর সম্ভব শব্দের মূল অর্থ (حقيقة) বাদ দিয়ে রূপক (مجاز) অর্থের দিকে না যাওয়া।
5- পূর্ববর্তী তাফসিরসমূহের সাহায্য নেওয়া, তবে সেগুলোর কোনো কোনোটিতে বিদ্যমান কুসংস্কার ও ইসরাইলি বর্ণনা (إسرائيليات) বর্জন করা।
6- প্রস্তাবিত তাফসির যেন কোনো কুরআনি নস (نص)-এর সাথে সাংঘর্ষিক না হয়।
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
7- التثبت من حقائق العلم قبل استخدامها في التفسير وعدم إقحامها في غير موضعها.
8- القرآن الكريم هو الذي يحكم على صحة أو بطلان النظريات العلمية.
9- الاستعانة بتفسير القرآن للقرآن.
10- استحالة التعارض بين آيات القرآن مع بعضها، أو بين آيات القرآن وصحيح الحديث الشريف، أو بين القرآن والحقائق الكونية المثبتة "كتاب الإعجاز في القرآن والسنة ص9، صدَّ عن جمعية الإعجاز العلمي للقرآن والسنة بجمهورية مصر العربية، عدد1 عام 1997 برقم إيداع 3947".
جزى الله تعالى عني وعن الإسلام وعن القرآن الكريم أستاذي الجليل الأستاذ الدكتور: محمد نايل أحمد، عميد كلية اللغة العربية، فقد عرضت عليه بعض الموضوعات لتسجيلها بحثًا للعالمية "الدكتوراه" عام 1969م، وكان من بينها موضوع: "الصورة الأدبية في القرآن الكريم" وإذا به ينزعج، فينض قائمًا وهو يقول: أنت أنت تكتب في هذا الموضوع، قطعنا شوطًا طويلًا من حياتنا وكنا نخشى أن نقدم على مثل هذه الموضوعات في القرآن الكريم، ولما هدأت أنفاسه وضع يده اليمنى على منكبي، وهو يحدثني في هدوء: أترك هذا الموضوع الآن لوقت لاحق، وفكر في موضوع آخر، وليكن "الصورة الأدبية في شعر أبي تمام أو المتنبي أو ابن الرومي"، وتحوَّلت عن ذلك، واخترت: الصورة الأدبية في شعر ابن الرومي بحثًا "للدكتوراه"، وحمدت الله
7- তাফসিরের (تفسير) ক্ষেত্রে ব্যবহারের পূর্বে বৈজ্ঞানিক তথ্যাদির সত্যতা নিশ্চিত করা এবং অপ্রাসঙ্গিক স্থানে তা জোরপূর্বক প্রয়োগ না করা।
8- পবিত্র কুরআনই বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহের শুদ্ধতা (صحة) বা অসারতা (بطلান) নির্ধারণের চূড়ান্ত মানদণ্ড।
9- কুরআনের তাফসিরের (تفسير) ক্ষেত্রে কুরআনেরই সহায়তা গ্রহণ করা।
10- কুরআনের আয়াতসমূহের একে অপরের সাথে, অথবা কুরআনের আয়াত ও বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের মাঝে, কিংবা কুরআন ও প্রমাণিত মহাজাগতিক সত্যের মাঝে বৈপরীত্য থাকা অসম্ভব। "কুরআন ও সুন্নাহর মুজিজা বিষয়ক গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৯, আরব প্রজাতন্ত্র মিশরের সোসাইটি অফ সায়েন্টিফিক মিরাকল অফ দি কুরআন অ্যান্ড সুন্নাহ কর্তৃক প্রকাশিত, সংখ্যা ১, ১৯৯৭ সাল, ডিপোজিট নম্বর ৩৯৪৭"।
মহান আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে, ইসলামের পক্ষ থেকে এবং পবিত্র কুরআনের পক্ষ থেকে আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ নায়েল আহমদ, আরবি ভাষা অনুষদের ডিন-কে উত্তম প্রতিদান দান করুন। ১৯৬৯ সালে আমি ডক্টরেট গবেষণার নিবন্ধনের জন্য তাঁর কাছে কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছিলাম, যার মধ্যে একটি বিষয় ছিল: "পবিত্র কুরআনে সাহিত্যিক চিত্রকল্প"। এটি শুনে তিনি বিচলিত হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং বললেন: "আপনি, আপনি এই বিষয়ে লিখবেন! আমরা আমাদের জীবনের এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছি অথচ পবিত্র কুরআনের এই ধরণের বিষয়ে কলম ধরতে ভয় পেতাম।" এরপর তাঁর উত্তেজনা প্রশমিত হলে তিনি আমার কাঁধে হাত রাখলেন এবং শান্ত স্বরে বললেন: "এই বিষয়টি আপাতত পরবর্তী সময়ের জন্য তুলে রাখুন এবং অন্য কোনো বিষয় নিয়ে ভাবুন; যেমন আবু তাম্মাম, মুতানাব্বি কিংবা ইবনুর রুমির কবিতার সাহিত্যিক চিত্রকল্প।" অতঃপর আমি সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এলাম এবং ডক্টরেট গবেষণার জন্য "ইবনুর রুমির কবিতায় সাহিত্যিক চিত্রকল্প" বিষয়টি নির্বাচন করলাম এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম।
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
-عز وجل على هذا الموقف الذي أرشد مجرى التفكير في حياتي العلمية؛ فقد أفادني كثيرًا في بحثي في "الصورة الأدبية في شعر ابن الرومي" بصفة عامة، فنشرت أكثر من كتاب، وبدأت اتحرى الكتابة في القرآن الكريم من هذا التاريخ والموقف الرشيد، حتى خرج هذا الكتاب بعد أن نشرت بحوثًا كثيرة في هذا الشأن، منها بحث نشر بعنوان: "التصوير القرآني" لا الأدبي في القرآن الكريم1، ثم رقيت به مع بحوث أخرى إلى درجة "أستاذ" في الأدب والنقد عام "1983م"، ثم توالت البحوث على هذا النحو، وكلما أقدمت على نشر هذا الكتاب، راجعت نفسي فيما كتبت مرات ومرات، وأخيرًا استخرت الله عز وجل فأقدمت على نشره في رمضان المباكر عام "1421 هـ" داعيًا الله عز وجل أن يجنبنا الزلل، وأنا أردِّد قوله تعالى: {رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ} [البقرة: 286] ، وداعيًا الله عز وجل أن ينفع به، وأن يكون لي ولوالدي ولأساتذتي ولأهلي في ميزان حسناتنا، وأن يكون القرآن الكريم لنا شفيعًا يتآزر مع شفاعة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم في الدين والدنيا والآخرة، إنه نعم المولى ونعم النصير، فهو القائل وقوله الحق: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ} [البقرة: 186] .
--------------------------------------------
-মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা এই অবস্থানের জন্য যা আমার জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবনের চিন্তাধারার গতিপথকে পরিচালিত করেছে; এটি সাধারণত "ইবনে আল-রুমির কবিতায় সাহিত্যিক চিত্রকল্প" শীর্ষক গবেষণায় আমাকে প্রভূত উপকৃত করেছে। আমি একাধিক গ্রন্থ প্রকাশ করেছি এবং এই সময় ও সঠিক পথনির্দেশনা থেকে পবিত্র কুরআন বিষয়ে লেখার অনুসন্ধান শুরু করেছি। পরিশেষে অনেক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশের পর এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হলো। এর মধ্যে একটি প্রবন্ধ এই শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল: "কুরআনীয় চিত্রায়ণ" (التصوير القرآني), কুরআনের সাহিত্যিক রূপায়ন নয়১। পরবর্তীতে অন্যান্য গবেষণার সাথে এর মাধ্যমে ১৯৮৩ সালে আমি সাহিত্য ও সমালোচনায় "অধ্যাপক" পদে পদোন্নতি পাই। এরপর ধারাবাহিকভাবে গবেষণা চলতে থাকে। যখনই আমি এই বইটি প্রকাশের ইচ্ছা পোষণ করেছি, বারবার নিজের লেখাগুলো পর্যালোচনা করেছি। পরিশেষে মহান আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা (استخارة) করে ১৪২১ হিজরির বরকতময় রমজান মাসে এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলাম। মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের বিচ্যুতি (الزلل) থেকে রক্ষা করেন। আমি মহান আল্লাহর বাণী তিলাওয়াত করছি: {হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন বোঝা চাপিয়ে দিও না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর চাপিয়েছিলে। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ওপর এমন ভার অর্পণ করো না যা বহন করার সাধ্য আমাদের নেই। আমাদের মার্জনা করো, আমাদের ক্ষমা করো এবং আমাদের ওপর দয়া করো। তুমিই আমাদের অভিভাবক; সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করো।} [আল-বাকারা: ২৮৬]। মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করি তিনি যেন এর দ্বারা কল্যাণ দান করেন, আর এটি যেন আমার জন্য, আমার পিতা-মাতার জন্য, আমার শিক্ষকদের জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত হয়। পবিত্র কুরআন যেন আমাদের জন্য সুপারিশকারী (شفيع) হয়, যা দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুপারিশের (شفاعة) সাথে সহায়ক হয়। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। তিনিই সত্য বলেছেন: {আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আমি তো নিকটেই আছি। আমি আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাতে ঈমান আনে, যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়।} [আল-বাকারা: ১৮৬] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، اللهم صلي وسلم وبارك على سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم خاتم الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وأصحابه والتابعين -رضي الله عنهم ورضوا عنه. هذا وبالله تعالى التوفيق.
في ليلة السبت: 217 من رمضان المبارك 1421هـ
الموافق: 23 من ديسمبر 2000م
علي علي صبح
الأستاذ في كلية اللغة العربية بالقاهرة رئيس قسم الأدب والنقد والعميد الأسبق جامعة الأزهر الشريف
আমাদের সর্বশেষ নিবেদন হলো: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন, যিনি নবী ও রাসূলগণের পরিসমাপ্তি দানকারী; এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং তাবেয়ীদের (التابعين) ওপরও—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। আল্লাহ তাআলার তাওফিকের মাধ্যমেই এটি সম্পন্ন হলো।
শনিবার দিবাগত রাতে: ২১৭ রমজানুল মোবারক ১৪২১ হিজরি
মোতাবেক: ২৩ ডিসেম্বর ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ
আলী আলী সুবহ
অধ্যাপক, আরবি ভাষা অনুষদ, কায়রো; বিভাগীয় প্রধান, সাহিত্য ও সমালোচনা বিভাগ এবং সাবেক ডিন, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأول: معالم التصوير القرآني
القرآن: المعجزة الخالدةفضل الله عز وجل أمة محمد صلى الله عليه وسلم خير الأمم بمعجزة خالدة، تؤيّد رسالته إلى يوم القيامة، وهي القرآن الكريم، بينما غيرها من المعجزات له وللأنبياء السابقين عليهم السلام أيدت نبوتهم ورسالتهم إلى أقوامهم ساعة حدوثها، لكي يؤمنوا، دون استمرار ودوام، فلا يبقى لها أثر بعد نبيهم لقومه أو لأقوام غيرهم، مثل معجزات نجاة إبراهيم من النار، وقلب عصا موسى حية، وإحياء الموتى لعيسى عليهم السلام، وانشقاق القمر وتسبيح الحصى لسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، قد أدت دورها تأييدًا للرسالة ساعة حدوثها، ثم انتهى دورها إلى الأبد من غير أثر خالد لا كمعجزة القرآن الكريم الخالدة.
أما مظاهر الاختلاف بين معجزة القرآن الكريم وغيرها فهي كثيرة، فالقرآن الكريم لم يكن لقوم معينين دون غيرهم، بل كان تشريعًا للعالمين كافة، وللناس جميعًا، فلا زال عطاؤه كاملًا ومتجددًا، وسيظل إلى الأبد يعطي لكل جيل، وزمان عطاء يختلف باختلاف الأجيال والأزمان، قال تعالى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [فصلت: 53] ، تكفَّل الله تعالى بحفظه وتقديره حتى من العاصي والكافر، كما تكفل باستمرار العمل به حفظًا ومنهجًا وتشريعًا وسلوكًا إلى قيام الساعة: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] .
والقرآن الكريم كلام الله المقدس، وكتاب الحق الخالد، شرح الله تعالى به الصدور، وأحيا به القلوب، وأيقظ العقول، وأرشد عباده من الضلال إلى الهدى، وأخرجهم من الظلمات إلى النور:
প্রথম অধ্যায়: কুরআনিক বর্ণনার বৈশিষ্ট্যসমূহকুরআন: শাশ্বত মুজিজা (معجزة)আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক শাশ্বত মুজিজার (معجزة) মাধ্যমে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, যা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর রিসালাতের (رسالة) সত্যতা প্রমাণ করবে; আর তা হলো পবিত্র কুরআন। পক্ষান্তরে, তাঁর এবং পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কিরামের (আলাইহিমুস সালাম) অন্যান্য মুজিজাসমূহ (معجزة) কেবল তাদের সমসাময়িক কওমের কাছে নবুওয়াত ও রিসালাতের (رسالة) প্রমাণ হিসেবে সেই সময়েই উপস্থাপিত হয়েছিল যাতে তারা ঈমান আনে। সেগুলোর কোনো ধারাবাহিকতা বা স্থায়িত্ব ছিল না; ফলে সংশ্লিষ্ট নবীর পরে তাঁর কওম বা অন্য কোনো জাতির কাছে সেই নিদর্শনের কোনো স্থায়ী প্রভাব অবশিষ্ট থাকেনি। যেমন—ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি লাভ, মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর লাঠি সাপে পরিণত হওয়া, ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর মৃতকে জীবিত করা এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করা ও নুড়ি পাথরের তাসবিহ পাঠ করা। এই অলৌকিক ঘটনাগুলো সংঘটিত হওয়ার সময় রিসালাতের (رسالة) সমর্থনে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করেছিল, এরপর পবিত্র কুরআনের মতো কোনো অবিনশ্বর প্রভাব ছাড়াই সেগুলোর কার্যকারিতা চিরতরে সমাপ্ত হয়েছে।
পবিত্র কুরআনের মুজিজা (معجزة) ও অন্যান্য মুজিজার (معجزة) মধ্যে পার্থক্যের দিকগুলো অনেক। পবিত্র কুরআন কেবল কোনো নির্দিষ্ট কওমের জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল বিশ্বজগতের সকল মানুষের জন্য এক শরিয়ত বা বিধান (تشريع)। এর দান বা শিক্ষা আজও পূর্ণাঙ্গ ও চিরনতুন এবং কিয়ামত পর্যন্ত এটি প্রতিটি প্রজন্ম ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞান ও হিদায়াত প্রদান করে যাবে। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দেখাব দিগন্তসমূহে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, এটি সত্য। আপনার রবের ব্যাপারে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সব কিছুর ওপর সাক্ষী?" [সূরা ফুসসিলাত: ৫৩]। আল্লাহ তাআলা গুনাহগার এবং কাফেরদের থেকেও একে রক্ষা করার ও এর মর্যাদা সমুন্নত রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন। তেমনিভাবে কিয়ামত পর্যন্ত এর সংরক্ষণ, কর্মপন্থা, বিধান (تشريع) ও আচরণের ক্ষেত্রে এর নিরন্তর কার্যকারিতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন: "নিশ্চয়ই আমি এই জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।" [সূরা হিজর: ৯]।
পবিত্র কুরআন আল্লাহর পবিত্র বাণী এবং সত্যের এক অবিনশ্বর কিতাব। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বক্ষসমূহ উন্মোচিত করেছেন, অন্তরসমূহকে সঞ্জীবিত করেছেন, বিবেককে জাগ্রত করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াতের (هدى) দিকে পরিচালিত করে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
{يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ، يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [المائدة: 15، 16] ، وعن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "ألا إنها ستكون فتنة، فقلت: ما المخرج منها يا رسول الله؟ قال: كتاب الله، فيه نبأ ما كان قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، هو الفصل، ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله، وهو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، هو الذي لا تزيغ عنه الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا يشبع منه العلماء، ولا يخلق على كثرة الرَّدّ، ولا تنقضي عجائبه، وهو الذي لم تنته الجن إذ سمعته حتى قالوا: {إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا، يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ} ، من قال به صدق، ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم".
وسيظل الكتاب الخالد الذي لا تنفد كلماته إلى الأبد: {قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا} [الكهف: 109] ؛ فكتاب الله المقدس هو القيم على الخلق بشيرًا ونذيرًا، متمسكون به، ماكثين عليه في استقامته بلا عوج إلى الأبد، قال تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجًا، قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا، مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا
{হে কিতাবধারীগণ! তোমাদের নিকট আমাদের রাসূল এসেছেন, কিতাবের যা তোমরা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছু তোমাদের নিকট স্পষ্ট করছেন এবং অনেক কিছু মার্জনা করছেন। তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে নিয়ে যান এবং তাদেরকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেন।} [আল-মায়েদাহ: ১৫, ১৬], এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) হতে বর্ণিত যে তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি (سمعت): "জেনে রেখো, অচিরেই মহা বিপর্যয় (فتنة) দেখা দিবে।" আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! তা থেকে উত্তরণের উপায় কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাব। এতে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ (نبأ) রয়েছে, তোমাদের পরবর্তীদের খবর (خبر) রয়েছে এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়াবলির ফয়সালা রয়েছে। এটি চূড়ান্ত মীমাংসাকারী, কোনো উপহাস নয়। কোনো স্বৈরাচারী একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন। আর যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, এটি প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং এটি সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব যার প্রভাবে প্রবৃত্তি বিচ্যুত হয় না, যার মাধ্যমে জিহ্বা বিভ্রান্ত হয় না, আলিম সমাজ এটি থেকে তৃপ্ত হন না, বারবার পাঠেও এটি পুরনো হয় না এবং এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো শেষ হয় না। এটি সেই কিতাব যা শোনার পর জিনেরা বিরত থাকেনি যতক্ষণ না তারা বলেছিল: {আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি, যা সঠিক পথ দেখায়}। যে ব্যক্তি এর ভিত্তিতে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর ওপর আমল করে সে পুরস্কৃত হয়, যে এর মাধ্যমে বিচার করে সে ইনসাফ করে এবং যে এর দিকে আহ্বান করে সে সরল সঠিক পথে পরিচালিত হয়।"
আর এই অমর কিতাবটি অনাদিকাল পর্যন্ত অক্ষয় থাকবে যার বাণী কখনো ফুরাবে না: {বলুন: আমার রবের বাণীর জন্য যদি সমুদ্র কালি হয়, তবে আমার রবের বাণী শেষ হওয়ার আগেই সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে; যদিও আমি এর সাহায্যে এর সমপরিমাণ (কালি) নিয়ে আসি} [আল-কাহফ: ১০৯]; সুতরাং আল্লাহর পবিত্র কিতাব হলো সৃষ্টির ওপর অভিভাবক, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। আমরা এর ওপর অটল থাকব, কোনো প্রকার বক্রতা ছাড়াই এর ঋজুতার ওপর চিরকাল অবিচল থাকব। আল্লাহ তাআলা বলেন: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। একে করেছেন সুপ্রতিষ্ঠিত, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকাজ করে সুসংবাদ দিতে পারেন যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান; তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।}
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَيُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا} [الكهف: 1-3] .
وهذه المعجزة الكبرى الأبدية، تحدَّى بها الرسول صلى الله عليه وسلم المعاندين من الإنس والجن، وهم أرباب الفصاحة والبلاغة، بعد أن انتهت إليهم صولتها، وجولتها، فبلغوا فيها القمة حتى تميَّزوا بها بين الشعوب والأجناس، لكنهم عجزوا عن التحدِّي والمجاراة مبهورين ببلاغته وسحره، وظلوا كفارًا معاندين مكابرين، يهذون في لجاجة وعناد، كما صورهم القرآن الكريم: {وَقَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلَى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا} [الفرقان: 5] ، بل بلغوا في الخصومة والجدل أنهم ادعوا افتراء أن يأتوا بمثله: {وَإِذَا تُتْلَى عَلَيْهِمْ آيَاتُنَا قَالُوا قَدْ سَمِعْنَا لَوْ نَشَاءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا إِنْ هَذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ} [الأنفال: 31] ، وقالوا أيضًا: {بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ فَلْيَأْتِنَا بِآيَةٍ كَمَا أُرْسِلَ الْأَوَّلُونَ} [الأنبياء: 5] ، وتحدَّى الإنس والجن على أن يأتوا بمثله فعجزوا: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} [الإسراء: 88] ، ولما عجزوا تحدَّاهم على أن يأتوا بعشر سور مفتريات: {قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ} [هود: 13] ، بل ترخص لهم في أن ياتوا بسورة واحدة: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [البقرة: 23] ، بل أقر أبلغ بلغائهم بالتسليم والاعتراف بأنه ليس من كلامهم ولا من شعرهم ولا من خطبهم، ولا من كلام الإنس ولا الجن، لأنه هزَّ أعماق نفوسهم
{আর তাদেরকে সতর্ক করার জন্য যারা বলে, ‘আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন’} [আল-কাহফ: ১-৩] ।
আর এটিই সেই চিরন্তন মহত্তম অলৌকিক নিদর্শন (معجزة), যার মাধ্যমে রাসূল (সা.) অবাধ্য মানুষ ও জিনদেরকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন; অথচ তারা ছিল বাগ্মিতা ও অলঙ্কার শাস্ত্রের পণ্ডিত। তাদের কাছে এর প্রভাব ও প্রতিপত্তি পৌঁছানোর পর তারা এতে শ্রেষ্ঠত্বের শিখরে আরোহণ করেছিল, যার ফলে তারা অন্যান্য জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করেছিল। কিন্তু তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এবং এর সমকক্ষ কিছু নিয়ে আসতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং এর অলঙ্কার ও মোহনীয়তায় অভিভূত হয়ে যায়। তা সত্ত্বেও তারা একগুঁয়ে কাফির ও অহংকারী হিসেবে প্রলাপ বকতে থাকে এবং হঠকারিতা ও শত্রুতা বজায় রাখে, যেমনটি পবিত্র কুরআনে চিত্রিত হয়েছে: {আর তারা বলে, এগুলো তো সেকালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; অতঃপর এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার কাছে পাঠ করা হয়।} [আল-ফুরকান: ৫]। এমনকি শত্রুতা ও বিতর্কে লিপ্ত হয়ে তারা মিথ্যা উদ্ভাবনের (افتراء) দাবি করেছিল যে তারা এর মতো কিছু নিয়ে আসবে: {আর যখন তাদের কাছে আমাদের আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা তো শুনেছি; আমরা ইচ্ছা করলে এর অনুরূপ বলতে পারি। এগুলো তো সেকালের উপকথা ছাড়া আর কিছু নয়।} [আল-আনফাল: ৩১]। তারা আরও বলেছিল: {বরং তারা বলে, এগুলো অলীক স্বপ্ন; না, সে তা মিথ্যা উদ্ভাবন (افتراه) করেছে; বরং সে একজন কবি। অতএব সে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন (آية) নিয়ে আসুক, যেমন পূর্ববর্তীদের পাঠানো হয়েছিল।} [আল-আম্বিয়া: ৫]। মানুষ ও জিনেরা এর মতো কিছু নিয়ে আসার ব্যাপারে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছিল কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছিল: {বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।} [আল-ইসরা: ৮৮]। যখন তারা ব্যর্থ হলো, তখন তিনি তাদেরকে দশটি বানোয়াট (مفتريات) সূরার চ্যালেঞ্জ দিলেন: {বলুন, তবে তোমরা এর মতো দশটি বানোয়াট (مفتريات) সূরা নিয়ে আসো।} [হুদ: ১৩]। এমনকি তিনি তাদের জন্য মাত্র একটি সূরা নিয়ে আসার সুযোগ দিলেন: {আর আমরা আমাদের বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা তার মতো একটি সূরা নিয়ে আসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদের আহ্বান করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} [আল-বাকারাহ: ২৩]। অধিকন্তু, তাদের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কারবিদরা নতিস্বীকার করে এটি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে যে, এটি তাদের কোনো কথা নয়, তাদের কোনো কবিতা বা ভাষণ নয়, এমনকি এটি কোনো মানুষ বা জিনের কথাও নয়। কারণ এটি তাদের অন্তরের গভীরতম প্রদেশকে আন্দোলিত করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وغيَّر حياتهم وعقيدتهم، فقد أسلم عمر بن الخطاب وهو من أشدهم عنادًا وحربًا على الإسلام، كما في قصته المعروفة مع أخته فاطمة وزوجها سعيد بن زيد، بعد أن سمع خبابًا رضي الله عنه يتلو عليهما القرآن من سورة طه؛ فاقشعرَّ جسده، واطمأن قلبه بذكر الله، فأعلن إسلامه بعد أن قال: "ما أحسن هذا الكلام وأكرمه"، وهذا أبلغ الكفار المعاندين الوليد ابن المغيرة، أرسله قومه ليتحدَّى الرسول صلى الله عليه وسلم في بلاغة أقواله؛ فيعود إليهم مدحورًا بعد أن سمع القرآن الكريم يقول لهم: "فوالله ما فيكم رجل أعلم بالشعر مني ولا برجزه ولا بقصيده، ولا بأشعار الجن، والله ما يشبه الذي نقول شيئًا من هذا"، وفي رواية: "والله لقد سمعت من محمد آنفًا كلامًا ما هو من كلام الإنس، ولا من كلام الجن، وإن له لحلاوة، وإن عليه لطلاوة، وإن أسفله لمغدق، وإن أعلاه لمثمر، وإنه يعلو ولا يعلى...... ما يقول هذا بشر"1.
ومثل هذا قول عتبة بن ربيعة حين سمع القرآن الكريم: يا قوم لقد علمتم أني لم أترك شيئًا إلا وقد علمته وقرأته وقلته، والله لقد سمعت قولًا، والله ما سمعت مثله قط، ما هو بالشعر ولا بالسحر ولابالكهانة"2.
وبعد عنادهم وإخراجهم المسلمين من مكة وعدوانهم عليهم، ندموا على ذلك، وآمنوا به وصدقوه، وأصبحوا جند الله تعالى في الأرض شرقًا وغربًا، يدافعون عنه ويقاتلون في سبيله؛ لأنه كتاب الله المقدس، ومعجزته الخالدة.
--------------------------------------------
এবং এটি তাদের জীবন ও আকিদাকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল। ওমর ইবনুল খাত্তাব ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন অথচ তিনি ছিলেন ইসলামের প্রতি চরম হঠকারী ও ঘোর বিরোধী; যেমনটি তাঁর বোন ফাতিমা ও তাঁর স্বামী সাঈদ বিন যায়িদের সাথে ঘটে যাওয়া তাঁর সেই প্রসিদ্ধ ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে। তিনি খাব্বাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁদের সম্মুখে সূরা ত্বহা তিলাওয়াত করতে শুনেছিলেন; তখন তাঁর দেহ রোমাঞ্চিত হয়েছিল এবং আল্লাহর স্মরণে তাঁর অন্তর প্রশান্ত হয়েছিল। তখন তিনি তাঁর ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন এবং বলেন: "এই বাণী কতই না সুন্দর এবং কতই না সম্মানজনক!" আর এটি ছিল কাফেরদের মধ্য হতে সবচেয়ে বাকপটু ও হঠকারী ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরার অবস্থা। তার সম্প্রদায় তাকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর অলঙ্কারিক শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য পাঠিয়েছিল; কিন্তু পবিত্র কুরআন শোনার পর সে পরাজিত হয়ে তাদের কাছে ফিরে আসে এবং তাদের বলে: "আল্লাহর কসম! তোমাদের মধ্যে কবিতা, ছন্দ কিংবা কাসিদা অথবা জিনদের কাব্য সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আর কেউ নেই। আল্লাহর কসম! আমরা যা বলি তার সাথে এর কোনোই সাদৃশ্য নেই।" অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "আল্লাহর কসম! আমি মাত্রই মুহাম্মাদের কাছ থেকে এমন বাণী শুনে এসেছি যা কোনো মানুষের কথা নয়, এমনকি তা জিনদের কথাও নয়। এতে এক বিশেষ মাধুর্য ও লাবণ্য রয়েছে। এর নিম্নভাগ সতেজ এবং উপরিভাগ ফলদায়ক। এটি সদা সমুন্নত থাকে এবং একে কোনো কিছুই অতিক্রম করতে পারে না... এটি কোনো মানুষের বাণী নয়"১।
একইভাবে উতবাহ বিন রাবিআহ যখন পবিত্র কুরআন শুনলেন, তখন বলেছিলেন: "হে আমার কওম! তোমরা জানো যে আমি এমন কিছু রাখিনি যা আমি শিখিনি, পড়িনি কিংবা বলিনি। আল্লাহর কসম! আমি আজ এমন এক বাণী শুনেছি যার মতো আর কখনো শুনিনি। আল্লাহর কসম! এটি কোনো কবিতা নয়, জাদু নয় এবং গণকের বাণীও নয়"২।
তাদের সেই হঠকারিতা এবং মক্কা থেকে মুসলমানদের বহিষ্কার ও তাদের ওপর নির্যাতনের পর তারা অনুতপ্ত হয়েছিল। তারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছিল এবং তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেছিল। অতঃপর তারা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে আল্লাহর যমিনে তাঁর বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল, যারা তাঁর দ্বীনের প্রতিরক্ষা করত এবং তাঁর পথে লড়াই করত; কারণ এটি আল্লাহর পবিত্র কিতাব এবং তাঁর চিরন্তন মুজিজা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وجوه الإعجازاهتمَّ العلماء قديمًا وحديثًا بالتعرُّف على وجوه الإعجاز في القرآن الكريم، وسمو بلاغته المعجزة، وأخرجوا في ذلك مؤلفات وبحوثًا كثيرة، اختصت به، ومن أشهرها: "إعجاز القرآن" لأبي عبيدة "م 207هـ"، وكتاب "نظم القرآن" للجاحظ "م 255هـ"، وكتاب "إعجاز القرآن في نظمه وتأليفه" لأبي عبد الله محمد بن يزيد الواسطي "م 306هـ"، وشرحه عبد القاهر الجرجاني في كتابه "المعتضد"، وكتاب "نظم القرآن" لابن الإخشيد، وكتاب "نظم القرآ،" لابن أبي داود "م 316هـ"، وكتاب "إعجاز القرآن" للرماني "م 383هـ"، وللإمام الخطابي "م 388هـ"، وللقاضي أبي بكر محمد بن الطيب الباقلاني "م 403هـ"، وكتاب "دلائل الإعجاز" لعبد القاهر الجرجاني "م 471هـ".
وكذلك ألف في إعجازه: فخر الدين الرازي "م 606هـ"، وابن الإصبع "م 653هـ"، والزملكاني "م 727هـ"، والقاضي عياض في كتابه "الشفاء"، والسيوطي في كتابه "الإتقان"، ومصطفى صادق الرافعي في كتب وبحوث منها "إعجاز القرآن" "م 1937م"، والدكتور محمد عبد الله دراز في كتابه "النبأ العظيم" "1894- 1958م"، والشيخ محمد متولي الشعراوي في كتابه "معجزة القرآن"، والأستاذ سيد قطب في كتابيه "التصوير الفني في القرآن"، و "في ظلال القرآن الكريم"، والأستاذ عبد الرزاق نوفل في كتبه "والله والعلم الحديث"، و "الإسلام والعلم الحديث"، و "القرآن والعلم الحديث"، و "الإعجاز العددي في القرآن الكريم" عدة أجزاء، والأستاذ بديع
অলৌকিকত্বের দিকসমূহপ্রাচীন ও আধুনিক যুগের আলেমগণ পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের দিকসমূহ এবং এর অলৌকিক অলংকারশাস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবনের প্রতি সবিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। তাঁরা এ বিষয়ে অনেক স্বতন্ত্র গ্রন্থ ও গবেষণা রচনা করেছেন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: আবু উবাইদাহ (মৃত্যু ২০৭ হি.) রচিত "ইজাযুল কুরআন", জাহিজ (মৃত্যু ২৫৫ হি.) রচিত "নাযমুল কুরআন", আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-ওয়াসিতি (মৃত্যু ৩০৬ হি.) রচিত "ইজাযুল কুরআন ফি নাযমিহি ওয়া তালিফিহি" এবং আব্দুল কাহির আল-জুরজানি কর্তৃক তাঁর "আল-মুতাদিদ" গ্রন্থে কৃত এর ব্যাখ্যা, ইবনুল ইখশিদ রচিত "নাযমুল কুরআন", ইবনে আবি দাউদ (মৃত্যু ৩১৬ হি.) রচিত "নাযমুল কুরআন", রুম্মানি (মৃত্যু ৩৮৩ হি.) রচিত "ইজাযুল কুরআন", ইমাম খাত্তাবি (মৃত্যু ৩৮৮ হি.), কাজি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আল-তায়্যিব আল-বাকিলানি (মৃত্যু ৪০৩ হি.) রচিত গ্রন্থ এবং আব্দুল কাহির আল-জুরজানি (মৃত্যু ৪৭১ হি.) রচিত "দালাইলুল ইজায"।
অনুরূপভাবে কুরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন: ফখরুদ্দিন আল-রাজি (মৃত্যু ৬০৬ হি.), ইবনুল আসাবি (মৃত্যু ৬৫৩ হি.), যামালকানি (মৃত্যু ৭২৭ হি.), কাজি আইয়াজ তাঁর "আশ-শিফা" গ্রন্থে, সুয়ুতি তাঁর "আল-ইতকান" গ্রন্থে, মোস্তফা সাদিক আল-রাফেয়ি তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ ও গবেষণায় যার মধ্যে রয়েছে "ইজাযুল কুরআন" (মৃত্যু ১৯৩৭ খ্রি.), ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দারাজ তাঁর "আন-নাবাউল আজিম" গ্রন্থে (১৮৯৪-১৯৫৮ খ্রি.), শেখ মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লি আল-শারাওয়ি তাঁর "মুজিজাতুল কুরআন" গ্রন্থে, উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব তাঁর "আত-তাসওয়িরুল ফান্নি ফিল কুরআন" ও "ফি জিলালিল কুরআন" গ্রন্থদ্বয়ে এবং উস্তাদ আব্দুর রাজ্জাক নওফল তাঁর "আল্লাহ ও আধুনিক বিজ্ঞান", "ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান", "কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান", এবং কয়েক খণ্ডে বিভক্ত "আল-ইজাযুল আদাদি ফিল কুরআনিল কারিম" গ্রন্থসমূহে এবং উস্তাদ বদি...
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الزمان سعيد النورسي التركي "م 1960م" في كتابه: "إشارات الإعجاز في مظان الإيجاز"، والدكتور محمود ناظم نسيمي السوري في كتابه: "مع الطب في القرآن الكريم"، والشيخ عبد المجيد الزنداني في بحثه: "المعجزة العلمية في القرآن والسنة"، وكتابه: "توحيد الخالق"، والدكتور مصطفى محمود في كتابه: "القرآن محاولة لفهم عصري"، والدكتور منصور حسب النبي في كتابه" الكون والإعجاز العلمي للقرآن"، وكتاب "القرآن الكريم والعلم الحديث"، وكتاب "الإشارات القرآنية للسرعة القصوى والنسبية"، وله أيضًا: "موسوعة المعارف الكونية في ضوء القرآن -للفتيان"، والدكتور عبد الله عبد الرزاق سعود في كتابه "العسل من الإعجاز الطبي في القرآن"، والدكتور عبد الغني الراجحي في كتابه: "الأرض والشمس في منظور الفكر الإسلامي"، والدكتور محمد أحمد الغمراوي في كتابيه: "الإسلام في عصر العلم"، و "سنن الله الكونية"، وصلاح الدين خشبة في رسالته: "العلم والإيمان"، ومحمد محمد إبراهيم في رسالته "إعجاز القرآن في علم طبقات الأرض"، وعلي عبد العظيم في كتابه: "في ملكوت السماوات والأرض"، وحنفي أحمد في كتابيه: "التفسير العلمي للآيات الكونية في القرآن" و"معجزة القرآن في وصف الكائنات"، والدكتور محمد صدقي في كتابه: "علم الفلك والقرآن"، والشيخ محمد بخيت المطيعي في كتابه: "تنبيه العقول الإنسانية لما في آيات القرآن من العلوم الكونية والعمرانية"، والدكتور عبد العزيز باشا إسماعيل في كتابه: "الإسلام والطب الحديث"، وعبد الله فكري باشا في كتابه: "القرآن ينبوع العلم والعرفان"، والغازي أحمد مختار باشا في كتابه "سرائر القرآن"، ومحمد عفيفي الشيخ في كتابه: "القرآن
বদীউজ্জামান সাঈদ আল-নুরসি আল-তুর্কি (মৃত্যু: ১৯৬০ খ্রি.) তার "ইশারাতুল ইজায ফি মাজান্নিল ইজায" গ্রন্থে; এবং সিরীয় ডক্টর মাহমুদ নাজিম নাসিমি তার "মাআত তিব্ব ফিল কুরআনিল কারীম" গ্রন্থে; এবং শেখ আব্দুল মাজীদ আল-জিন্দানি তার "আল-মুজিজাতুল ইলমিয়্যাহ ফিল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ" শীর্ষক গবেষণা ও "তাওহীদুল খালিক" গ্রন্থে; এবং ডক্টর মোস্তফা মাহমুদ তার "আল-কুরআন: মুহাওয়ালাতুন লি-ফাহমিন আসরি" গ্রন্থে; এবং ডক্টর মনসুর হাসাব আল-নবী তার "আল-কাওনু ওয়াল ইজাযুল ইলমি লিল কুরআন" গ্রন্থে, এবং "আল-কুরআনুল কারীম ওয়াল ইলমুল হাদীস" গ্রন্থে, এবং "আল-ইশারাতুল কুরআনিয়্যাহ লিস-সুরআহ আল-কুসওয়া ওয়ান নিসবিয়্যাহ" গ্রন্থে, এছাড়া তার "মাওসুয়াতুল মাআরিফ আল-কাউনিয়্যাহ ফি দাউয়িল কুরআন - লিল ফিতইয়ান" গ্রন্থে; এবং ডক্টর আব্দুল্লাহ আব্দুল রাজ্জাক সাউদ তার "আল-আসালু মিনাল ইজাযিত তিব্বি ফিল কুরআন" গ্রন্থে; এবং ডক্টর আব্দুল গনি আল-রাজিহী তার "আল-আরদু ওয়াশ শামসু ফি মানজুরিল ফিকরিল ইসলামী" গ্রন্থে; এবং ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ আল-গামরাউই তার "আল-ইসলামু ফি আসরিল ইলম" ও "সুনানুল্লাহিল কাউনিয়্যাহ" নামক গ্রন্থদ্বয়ে; এবং সালাহুদ্দিন খাশাবা তার "আল-ইলমু ওয়াল ঈমান" নামক গবেষণাপত্রে; এবং মুহাম্মদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম তার "ইজাযুল কুরআন ফি ইলমি তাবাকাতিল আরদ" নামক গবেষণাপত্রে; এবং আলী আব্দুল আজীম তার "ফি মালাকুতিল সামাওয়াতি ওয়াল আরদ" গ্রন্থে; এবং হানাফী আহমদ তার "আত-তাফসীরুল ইলমি লিল আয়াতিল কাউনিয়্যাহ ফিল কুরআন" ও "মুজিজাতুল কুরআন ফি ওয়াসফিল কাইনাত" নামক গ্রন্থদ্বয়ে; এবং ডক্টর মুহাম্মদ সিদকি তার "علم الفلك والقرآن" (জ্যোতির্বিজ্ঞান ও কুরআন) গ্রন্থে; এবং শেখ মুহাম্মদ বাখিত আল-মুতিয়ি তার "তানবীহুল উকুলিল ইনসানিয়্যাহ লিমা ফি আয়াতিল কুরআন মিনাল উলুমিল কাউনিয়্যাহ ওয়াল উমরানিয়্যাহ" গ্রন্থে; এবং ডক্টর আব্দুল আজিজ পাশা ইসমাইল তার "আল-ইসলামু ওয়াত তিব্বুল হাদীস" গ্রন্থে; এবং আব্দুল্লাহ ফিকরি পাশা তার "আল-কুরআন ইয়ানবুউল ইলমি ওয়াল ইরফান" গ্রন্থে; এবং গাজী আহমদ মুখতার পাশা তার "সারা ইরুল কুরআন" গ্রন্থে; এবং মুহাম্মদ আফিফি আল-শেখ তার "আল-কুরআন..." গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الكريم وعلوم الغلاف الجوي"، ومحمد توفيق صدقي في كتابه: "دروس سنن الكائنات"، وعمربن أحمد الملباري في كتابه: "إعجاز القرآن في مسألة اللؤلؤ والمرجان"، ومحمد بن أحمد الإسكندراني في كتابيه: "كشف الأسرار النورانية في النبات والمعادن والخواص الحيوانية"، و "البراهين البينات في بيان حقائق الحيوانات"، والدكتور عبد الله شحاته في كتابه: "تفسير الآيات الكونية"، والعلامة وحيد الدين خان في كتابه: "الإسلام يتحدى"، ومصطفى الدباغ في كتابه: "وجوه الإعجاز"، والدكتور محمد جمال الدين القندي في كتابه: "الله والكون"، ومحمد عبد القادر الفقي في كتابه: "القرآن الكريم وتلوث البيئة"، والدكتور محمد يوسف حسن في كتابه: "قصة السماوات والأرض"، والدكتور عبد الحميد محمد عبد العزيز في كتابه: "الإنسان بين الحقائق القرآنية والمعارف الطبية"، والدكتور عبد العليم عبد الرحمن خضر في كتبه: "الظواهر الجغرافية بين العلم والقرآن"، "هندسة النظام الكوني في القرآن"، "الماء والحياة بين القرآن والعلم"، "المدخل الإيماني للدراسات، الكونية"، وتوفيق محمد عز الدين في كتابه: "دليل الأنفس بين القرآن والعلوم الحديثة"، واللواء المهندس أحمد عبد الوهاب في كتابيه "العلوم الذرية المدنية في التراث الإسلامي"، "خاصية النظام بين الكون والقرآن"، والدكتور كارم السيد غنيم في "رحلة مع الجراد"، "عجائب العنكبوت"، "الإشارات الكونية في القرآن الكريم بين الدراسة والتطبيق"، "حاشية الحليب في ضوء القرآن وسنة الحبيب"، ورءوف أبو سعدة في كتابه: "العلم الأعجمي في القرآن مفسرًا بالقرآن"، والدكتور محمد السعيد إمام في كتابه: "حديث الإسلام عن الأشجار"، والدكتور محمد البار
...আল-কারীম এবং বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান", এবং মুহাম্মদ তাওফিক সিদকি তাঁর কিতাব: "সুনানুল কায়নাতের পাঠসমূহ"-এ, এবং ওমর ইবনে আহমদ আল-মালবারি তাঁর কিতাব: "মুক্তা ও প্রবালের বিষয়ে কুরআনের অলৌকিকত্ব"-এ, এবং মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-ইস্কান্দারানি তাঁর দুটি কিতাবে: "উদ্ভিদ, খনিজ ও প্রাণিজ বৈশিষ্ট্যের নূরানি রহস্য উন্মোচন" এবং "প্রাণিকুলের প্রকৃত অবস্থা বর্ণনায় সুস্পষ্ট প্রমাণাদি", এবং ডক্টর আব্দুল্লাহ শাহাতা তাঁর কিতাব: "মহাজাগতিক আয়াতসমূহের তাফসীর"-এ, এবং আল্লামা ওয়াহিদউদ্দিন খান তাঁর কিতাব: "ইসলামের চ্যালেঞ্জ"-এ, এবং মোস্তফা আদ-দাব্বাগ তাঁর কিতাব: "অলৌকিকত্বের দিকসমূহ"-এ, এবং ডক্টর মুহাম্মদ জামালুদ্দিন আল-কিন্দী তাঁর কিতাব: "আল্লাহ ও মহাবিশ্ব"-এ, এবং মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আল-ফিকী তাঁর কিতাব: "পবিত্র কুরআন ও পরিবেশ দূষণ"-এ, এবং ডক্টর মুহাম্মদ ইউসুফ হাসান তাঁর কিতাব: "আসমান ও জমিনের কাহিনী"-তে, এবং ডক্টর আব্দুল হামিদ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ তাঁর কিতাব: "কুরআনিক সত্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মাঝে মানুষ"-এ, এবং ডক্টর আব্দুল আলিম আব্দুর রহমান খিজর তাঁর কিতাবসমূহে: "বিজ্ঞান ও কুরআনের মাঝে ভৌগোলিক বিষয়াবলি", "কুরআনে মহাজাগতিক ব্যবস্থার প্রকৌশল", "কুরআন ও বিজ্ঞানের মাঝে পানি ও জীবন", "মহাজাগতিক অধ্যয়নের ঈমানি প্রবেশদ্বার", এবং তাওফিক মুহাম্মদ ইযযুদ্দিন তাঁর কিতাব: "কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞানের মাঝে মানবসত্তার প্রমাণ"-এ, এবং মেজর জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আহমদ আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর দুটি কিতাবে: "ইসলামি ঐতিহ্যে বেসামরিক পারমাণবিক বিজ্ঞান", "মহাবিশ্ব ও কুরআনের মাঝে শৃঙ্খলার বৈশিষ্ট্য", এবং ডক্টর কারেম আস-সাঈদ গুনাইম তাঁর "পঙ্গপালের সাথে ভ্রমণ", "মাকড়সার বিস্ময়", "গবেষণা ও প্রয়োগের মাঝে পবিত্র কুরআনে মহাজাগতিক ইশারা", "কুরআন ও প্রিয়তমের সুন্নাহ (سنة)-এর আলোকে দুধের টীকা"-তে, এবং রউফ আবু সাদা তাঁর কিতাব: "কুরআনের মাধ্যমে ব্যাখ্যাত কুরআনের অনারব জ্ঞান"-এ, এবং ডক্টর মুহাম্মদ আস-সাঈদ ইমাম তাঁর কিতাব: "বৃক্ষরাজি সম্পর্কে ইসলামের হাদিস"-এ, এবং ডক্টর মুহাম্মদ আল-বার।
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
في كتبه: "خلق الإنسان بين الطب والقرآن"، "الخمر بين الطب والفقه"، "تحريم الخنزير" "دورة الأرحام" والدكتور الطاهر توفيق في كتابه: "القرآن والإعجاز في خلق الإنسان"، وعبد المنعم السيد عشري في كتابه: "تفسير الآيات الكونية في القرآن"، والدكتور توفيق علوان في كتابه: "معجزة القرآن في الوقاية من مرضى دوالي الساقين"، والدكتور محمد عثمان الخشت في كتابه: "وليس الذكر كالأنثى من منظور الإسلام والعلوم الحديثة"، وعبد الحميد محمود في كتابه: "المعجزة والإعجاز في سورة النمل"، والدكتور محمد علي البنبي في كتابه: "نحل العسل بين القرآن والطب"، وكذلك الدكتور أحمد شوقي إبراهيم، والدكتور عبد الحليم منتصر، والدكتور دسوقي الفنجري، والدكتور زغلول راغب النجار، والدكتور محمد أحمد الشهاوي، والمهندس مصطفى بدران، والدكتور أحمد حسنين القفل، والدكتور علي علي المرسي، وغيرهم كثيرون، وانتهوا جميعًا في مؤلفاتهم إلى أن جوانب الإعجاز في القرآن الكريم ووجوهه كثيرة لا تدخل تحت الحصر، وقد تظهر له وجوه أخرى في المستقبل لا يعلمها إلا الله سبحانه، لأنه يتجدد مع مقتضيات كل عصر، ويلبي احتياجات المجتمعات المتنوعة والمتجدة إلى أن يرث الله الأرض وما عليها، ومنها:
1- كان القرآن الكريم معجزًا لإخباره عن المغيبات للأمم السابقة في الماضي البعيد، بعد انقطاع الصلات والأخبار، فيخبرنا عن الأنبياء والرسل والصالحين، وعن أقوامهم البائدة، وعن شرائعهم وكتبهم المقدسة، وأحوالهم معهم، وعاقبة أمرهم، وعرضها وتصويرها في القرآن الكريم بطريقين عن طريق القصص القرآني، وعن طريق عرض
তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহে: "চিকিৎসাবিজ্ঞান ও কুরআনের আলোকে মানব সৃষ্টি", "চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ফিকহের (فقه) আলোকে মদ্যপান", "শূকর নিষিদ্ধকরণ", "জরায়ুর চক্র" এবং ডক্টর আল-তাহির তৌফিক তাঁর রচিত গ্রন্থ: "কুরআন ও মানব সৃষ্টিতে অলৌকিকত্ব (إعجاز)", এবং আব্দুল মোনয়েম আস-সাইয়্যেদ আশরি তাঁর রচিত গ্রন্থ: "কুরআনে মহাজাগতিক আয়াতসমূহের তাফসির", এবং ডক্টর তৌফিক আলওয়ান তাঁর রচিত গ্রন্থ: "পায়ের শিরার স্ফীতি প্রতিরোধে কুরআনের মুজিজা (معجزة)", এবং ডক্টর মুহাম্মাদ উসমান আল-খাশত তাঁর রচিত গ্রন্থ: "ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরুষ নারীর মতো নয়", এবং আব্দুল হামিদ মাহমুদ তাঁর রচিত গ্রন্থ: "সূরা আন-নামলে মুজিজা (معجزة) ও অলৌকিকত্ব (إعجاز)", এবং ডক্টর মুহাম্মাদ আলী আল-বিনবি তাঁর রচিত গ্রন্থ: "কুরআন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোকে মৌমাছি", একইভাবে ডক্টর আহমদ শাওকি ইব্রাহিম, ডক্টর আব্দুল হালিম মুনতাসির, ডক্টর দাসুকি আল-ফাঞ্জারি, ডক্টর জাগলুল রাগিব আন-নাজ্জার, ডক্টর মুহাম্মাদ আহমদ আল-শাহাবি, প্রকৌশলী মুস্তাফা বদরান, ডক্টর আহমদ হাসনাইন আল-কুফল, ডক্টর আলী আলী আল-মুরসি এবং আরও অনেকে; তাঁরা সকলেই তাঁদের রচনাগুলোতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিক ও পদ্ধতিসমূহ এতই বেশি যা গণনা করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে এর এমন আরও অনেক দিক উন্মোচিত হতে পারে যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ব্যতীত কেউ জানেন না। কেননা এটি প্রতিটি যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুনত্ব লাভ করে এবং পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের আল্লাহর উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও পরিবর্তনশীল সমাজের প্রয়োজন মেটায়। যার মধ্যে রয়েছে:
১- সুদূর অতীতে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের অদৃশ্য বিষয় (مغيبات) সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ছিল অলৌকিক (معجز)। সকল যোগাযোগ ও সংবাদ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর এটি আমাদের নবী-রাসূলগণ, নেককার ব্যক্তিবর্গ, বিলুপ্ত জাতিসমূহ, তাদের শরিয়ত (شرائع), পবিত্র আসমানি কিতাবসমূহ, তাদের অবস্থা এবং তাদের পরিণাম সম্পর্কে সংবাদ দেয়। পবিত্র কুরআনে এগুলোকে দুইভাবে চিত্রায়িত ও উপস্থাপন করা হয়েছে; কুরআনি কাহিনী (قصص) এবং উপস্থাপনের পদ্ধতির মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أخبارهم وتأريخها في تصوير قرآني بديع مثل قصة نوح وإبراهيم وهود وصالح وشعيب وموسى وعيسى وغيرهم عليهم السلام، قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} [يوسف: 111] .
2- للإخبار عن المغيبات التي ستقع في المستقبل؛ فقد أخبر القرآن الكريم عن هزيمة الروم من الفرس، ثم انتصارهم عليهم، وحينئذ ينتصر المؤمنون عليهم، فقال تعالى: {الم، غُلِبَتِ الرُّومُ، فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُمْ مِنْ بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ، فِي بِضْعِ سِنِينَ لِلَّهِ الْأَمْرُ مِنْ قَبْلُ وَمِنْ بَعْدُ وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ، بِنَصْرِ اللَّهِ يَنْصُرُ مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ} [الروم: 1- 5] ، وأخبر عن انتصارات الإسلام بعد الهجرة مباشرة في بدر، فقال تعالى: {سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ} ، وفي فتح مكة، فقال تعالى: {لَقَدْ صَدَقَ اللَّهُ رَسُولَهُ الرُّؤْيَا بِالْحَقِّ لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ مُحَلِّقِينَ رُءُوسَكُمْ وَمُقَصِّرِينَ لَا تَخَافُونَ فَعَلِمَ مَا لَمْ تَعْلَمُوا فَجَعَلَ مِنْ دُونِ ذَلِكَ فَتْحًا قَرِيبًا} [الفتح: 27] .
3- وكذلك ما انتهى إليه العلم الحديث من نظريات علمية مثل: دوران الأرض وكرويتها، وعلم الأجنة، والجلود مصدر الإحساس، واختلاف البصمات، وغيرها، قال تعالى: {وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ وَكَانَ الْإِنْسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا} [الكهف: 54] ،
তাদের সংবাদ এবং সেগুলোর ইতিহাস কুরআনিক এক অপূর্ব চিত্রায়ণে ফুটে উঠেছে; যেমন নূহ, ইব্রাহিম, হুদ, সালিহ, শুয়াইব, মুসা ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম) এবং অন্যদের কাহিনী। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই তাদের কাহিনীতে বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। এটি কোনো মিথ্যা উদ্ভাবিত (يفترى) বিষয় নয়, বরং এটি তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়ন এবং প্রতিটি বিষয়ের বিশদ বিবরণ, আর মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত।} [ইউসুফ: ১১১] .
2- ভবিষ্যতে ঘটবে এমন অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের জন্য; কুরআন কারিম পারস্যের নিকট রোমানদের পরাজয় এবং পরবর্তীতে তাদের ওপর পুনরায় রোমানদের বিজয়ের সংবাদ প্রদান করেছে, আর সেই সময়ে মুমিনগণও বিজয়ী হবে। মহান আল্লাহ বলেন: {আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী এলাকায় এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের সকল ফয়সালা আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।} [রুম: ১-৫] , এবং হিজরতের অব্যবহিত পরেই বদর যুদ্ধে ইসলামের বিজয়ের সংবাদ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন: {শীঘ্রই এই দল পরাজিত হবে এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে।} , আর মক্কা বিজয়ের সংবাদ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন: {অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্য দেখিয়েছেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে নিরাপদ অবস্থায় মস্তক মুণ্ডিত করে এবং চুল ছেঁটে নির্ভয়ে প্রবেশ করবে। অতঃপর তিনি এমন কিছু জানতেন যা তোমরা জানতে না, তাই তিনি এর আগে তোমাদের এক আসন্ন বিজয় দান করলেন।} [ফাতহ: ২৭] .
3- অনুরূপভাবে আধুনিক বিজ্ঞান যেসব বৈজ্ঞানিক তত্ত্বে উপনীত হয়েছে, যেমন: পৃথিবীর আবর্তন ও এর গোলাকার রূপ, ভ্রূণতত্ত্ব, অনুভূতির উৎস হিসেবে চামড়া, আঙুলের ছাপের ভিন্নতা এবং অন্যান্য বিষয়। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সব ধরনের উদাহরণ বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আর মানুষ অধিকাংশ বিষয়েই অধিক বিতর্কপ্রিয়।} [কাহাফ: ৫৪] ,
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال تعالى: {وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُون} [الذاريات: 21] ، وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًا كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا الْعَذَابَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمًا} [النساء: 56] ، وقال تعالى: {بَلَى قَادِرِينَ عَلَى أَنْ نُسَوِّيَ بَنَانَهُ} [القيامة: 4] .
4- الإعجاز في التشريع للفرد والأسرة والمجتمع والأمة، والأمم في العقيدة والعبادات والمعاملات والأخلاق والآداب، وفي التفكير والعلوم النفسية والاجتماعية والاقتصادية والعلمية والسياسية والعسكرية والعلاقات الدولية، وغيرها من القيم التي تغذِّي القلوب والعقول، قال تعالى: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} [آل عمران: 190] ، وقال تعالى: {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ ثَمَرَاتٍ مُخْتَلِفًا أَلْوَانُهَا وَمِنَ الْجِبَالِ جُدَدٌ بِيضٌ وَحُمْرٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهَا وَغَرَابِيبُ سُودٌ، وَمِنَ النَّاسِ وَالدَّوَابِّ وَالْأَنْعَامِ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ كَذَلِكَ إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ} [فاطر: 27، 28] ، وقال تعالى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُ الْحَقُّ أَوَلَمْ يَكْفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [فصلت: 53] ، {وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ} [الحديد: 25] .
5- الإعجاز في استمرار جلاله، ودوام إبداعه، وتجدُّد تلاوته دون سأم أو ملل، بل يبدو في كل مرة بشكل جديد، وبمعنى بديع،
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও (নিদর্শন রয়েছে); তবে কি তোমরা লক্ষ্য করবে না?} [আয-যারিয়াত: 21], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে আগুনে দগ্ধ করব; যখনই তাদের চামড়া পুড়ে যাবে, তখনই আমি তার স্থলে অন্য চামড়া বদলে দেব যেন তারা আযাব আস্বাদন করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [আন-নিসা: 56], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {হ্যাঁ, আমি তার আঙুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত সুবিন্যস্ত করতে সক্ষম।} [আল-কিয়ামাহ: 4] ।
4- ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও উম্মাহর জন্য এবং আকিদা, ইবাদত, মুয়ামালাত, আখলাক ও আদব এবং চিন্তাধারা, মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, রাজনীতি, সামরিক বিষয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ জাতিসমূহের জন্য শরিয়ত বা বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে অলৌকিকত্ব এবং অন্যান্য মূল্যবোধের ক্ষেত্রে যা অন্তর ও মস্তিষ্ককে খোরাক দেয়, মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানবানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।} [আলি ইমরান: 190], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর আমি তা দ্বারা বিচিত্র বর্ণের ফলমূল বের করেছি? আর পাহাড়ের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বর্ণের পথ—সাদা ও লাল এবং নিকষ কালো। আর মানুষের মধ্যে, বিচরণশীল প্রাণীর মধ্যে ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও তেমনি বিচিত্র বর্ণ রয়েছে। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।} [ফাতির: 27, 28], এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অচিরেই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দিগন্তবলয়ে এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে এটি সুস্পষ্ট হয় যে, তা সত্য। তোমার রবের ক্ষেত্রে কি এটি যথেষ্ট নয় যে, তিনি সব কিছুর ওপর প্রত্যক্ষদর্শী?} [ফুসসিলাত: 53], {এবং আমি লোহা নাজিল করেছি, যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য বহু কল্যাণ।} [আল-হাদিদ: 25] ।
5- এর মহিমার ধারাবাহিকতা, সৃজনশীলতার স্থায়িত্ব এবং বিরক্তি বা ক্লান্তিহীনভাবে এর তিলাওয়াতের নতুনত্বের মধ্যে অলৌকিকত্ব; বরং প্রতিবারই তা নতুন রূপে এবং চমৎকার অর্থে উদ্ভাসিত হয়,
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وبروح قوية، مما يشجِّع على إعداته وتكراره ما دام حيًّا، قال تعالى: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ ذَلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ} [الزمر: 23] ، وقال تعالى: {وَلَوْ جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا أَعْجَمِيًّا لَقَالُوا لَوْلَا فُصِّلَتْ آيَاتُهُ أَأَعْجَمِيٌّ وَعَرَبِيٌّ قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ فِي آذَانِهِمْ وَقْرٌ وَهُوَ عَلَيْهِمْ عَمًى أُولَئِكَ يُنَادَوْنَ مِنْ مَكَانٍ بَعِيدٍ} [فصلت: 44] .
6- يرجع الإعجاز إلى دقة نظمه، وجلال أسلوبه، وكمال بنيانه، ودقة إحكامه، وتمام إتقانه، قال تعالى: {وَإِنَّهُ لَتَنْزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ، نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ، عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ، بِلِسَانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ} [الشعراء: 192- 195] .
7- يرجع إعجازه إلى قدسيته دون تبديل أو تحريف، أو حذف أو إضافة، أو تعديل أو تغيير، كما حدث للتوراة والإجيل وغير ذلك مما اعترف به اليهود والنصارى، وكشف عنه القرآن الكريم؛ لكنه مرَّ عليه خمسة عشر قرنًا، وظل كما أنزله الله عز وجل، لأنه تكفَّل بحفظه وقدسيته، قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] ، وقال تعالى: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ، إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ، ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة: 16- 19] .
8- وذهب بعضهم إلى القول بالصرفة، وهو أن الله قد حفظ كتابه
এবং এক শক্তিশালী প্রাণশক্তি নিয়ে, যা একে পুনরাবৃত্তি করতে এবং এর বারবার পাঠ করতে উৎসাহিত করে যতক্ষণ সে জীবিত থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ নাযিল করেছেন সর্বোত্তম কথা, একটি কিতাব যা সামঞ্জস্যপূর্ণ, বারবার পঠিত, যা শুনে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, এরপর আল্লাহর স্মরণে তাদের চামড়া ও হৃদয় নরম হয়। এটাই আল্লাহর হিদায়াত, এর মাধ্যমে তিনি যাকে চান পথপ্রদর্শন করেন। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই} [যুমার: ২৩]। এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি আমি একে অনারব ভাষায় কুরআন করতাম, তবে তারা অবশ্যই বলত, ‘এর আয়াতগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়নি কেন? ভাষা অনারব আর রাসূল কি আরব?’ বলুন, ‘এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও আরোগ্য। আর যারা ঈমান আনে না তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং এটি তাদের জন্য অন্ধত্ব। তাদের যেন দূরবর্তী স্থান থেকে ডাকা হচ্ছে} [ফুসসিলাত: ৪৪]।
6- এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) এর সুক্ষ্ম বিন্যাস, এর শৈলীর গাম্ভীর্য, এর কাঠামোর পূর্ণতা, এর বিধানের সুক্ষ্মতা এবং এর নিখুঁত গাঁথুনির ওপর নির্ভরশীল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। বিশ্বস্ত রূহ এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন। আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়} [শুআরা: ১৯২-১৯৫]।
7- এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) এর পবিত্রতার ওপর নির্ভরশীল, যা কোনো রদবদল (تبديل) বা বিকৃতি (تحريف), বিয়োজন (حذف) বা সংযোজন (إضافة), সংশোধন (تعديل) বা পরিবর্তনের (تغيير) শিকার হয়নি; যেমনটি তাওরাত ও ইনজিলের ক্ষেত্রে ঘটেছে এবং অন্যান্য কিতাবে ঘটেছে যা ইহুদি ও নাসারারা স্বীকার করেছে এবং পবিত্র কুরআন যা উন্মোচন করেছে। কিন্তু এর ওপর পনেরোটি শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছে এবং এটি তেমনই রয়ে গেছে যেমনটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল নাযিল করেছিলেন। কারণ তিনি নিজেই এর সংরক্ষণ ও পবিত্রতার দায়িত্ব নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি যিকির নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} [হিজর: ৯]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তাড়াহুড়ো করে মুখস্থ করার জন্য আপনি আপনার জিহ্বা এর সাথে নাড়াচাড়া করবেন না। নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠ অনুসরণ করুন। এরপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই} [কিয়ামাহ: ১৬-১৯]।
8- আর তাদের কেউ কেউ সারফাহ (صرفة) মতবাদের প্রবক্তা হয়েছেন, আর তা হলো এই যে, আল্লাহ তাঁর কিতাবকে রক্ষা করেছেন
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
من أيدي العابثين، فصرف عنه كل من يتعدى عليه بالعبث والمعارضة والتحدي والتبديل والتغيير، وهذا الوجه دون الوجوه السابقة، وأضعفها جميعًا، حتى أنكره جمهرة العلماء والبلغاء.
9- الإعجاز اللغوي والعلمي والإصلاحي والتهذيبي والاجتماعي كما أشار إلى ذلك الدكتور محمد عبد الله دراز في كتابه: "النبأ العظيم".
10- الإعجاز العددي في القرآن الكريم كما أشار إلى ذلك في الأجزاء التي أصدرها ونشرها عبد الرزاق نوفل.
11- ويرجع الإعجاز أيضًا إلى "التصوير القرآني"، وهذا الوجه هي الذي دعاني إلى التفكير في تاليف هذا الكتاب منذ عام "1969 م"، حتى شاء الله تعالى أن يرى النور بعد تردُّده طويل، ومتابعة دقيقة، وحذر شديد، ودراسة شاملة قديمًا وحديثًا، لأن التصوير القرآن يجمع بين معظم الوجوه السابقة من حيث القيم الفنية، والقيم الخلقية والتشريعية، قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} [المائدة: 3] ، وأقسم الله تعالى بتفصيل آياته، وإعجاز بيانه، وتصويره القرآني، فئقال تعالى: {حم، تَنْزِيلٌ مِنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [فصلت: 1-3] ، وقال تعالى: {حم، وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ، إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ، وَإِنَّهُ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَدَيْنَا لَعَلِيٌّ حَكِيمٌ} [الزخرف: 1-4] ، وقال تعالى: {الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ
...খেয়াল-খুশিমত বিচরণকারীদের হাত থেকে; ফলে তিনি এমন প্রত্যেককে এর থেকে বিমুখ করেছেন যারা এর সাথে তামাশা, বিরোধিতা, চ্যালেঞ্জ, বদল বা পরিবর্তনের মাধ্যমে সীমা লঙ্ঘন করতে চায়। এই দিকটি পূর্ববর্তী দিকগুলোর তুলনায় নিম্নমানের এবং সবগুলোর মধ্যে দুর্বলতম (أضعفها), এমনকি আলেম এবং অলঙ্কারবিদদের বিশাল একটি অংশ এটিকে অস্বীকার করেছেন।
9- ভাষাগত, বৈজ্ঞানিক, সংশোধনমূলক, চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনকারী এবং সামাজিক অলৌকিকত্ব (إعجاز), যেমনটি ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দাররাজ তার ‘আন-নাবাউল আজিম’ গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন।
10- পবিত্র কুরআনের সংখ্যাতাত্ত্বিক অলৌকিকত্ব (إعجاز), যেমনটি আব্দুর রাজ্জাক নওফলের প্রকাশিত ও প্রচারিত খণ্ডগুলোতে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
11- অলৌকিকত্ব (إعجاز) আবার ‘কুরআনিক চিত্রায়ণের’ দিকেও ফিরে যায়; আর এই দিকটিই ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আমাকে এই গ্রন্থটি রচনার কথা ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেছে। দীর্ঘ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ, চরম সতর্কতা এবং প্রাচীন ও আধুনিক বিষয়াবলির ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণার পর মহান আল্লাহর ইচ্ছায় এটি আলোর মুখ দেখেছে। কারণ কুরআনিক চিত্রায়ণ তার শৈল্পিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক ও বিধানিক মূল্যবোধের দিক থেকে পূর্ববর্তী অধিকাংশ দিককেই একত্রিত করে। মহান আল্লাহ বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম} [আল-মায়েদাহ: ৩]। মহান আল্লাহ তাঁর আয়াতের বিশদ বিবরণ, তাঁর বর্ণনার অলৌকিকত্ব (إعجاز) এবং তাঁর কুরআনিক চিত্রায়ণের শপথ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {হা-মীম। এটি পরম করুণাময়, অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য আরবি কুরআন হিসেবে বিশদভাবে বর্ণিত (فصلت)} [ফুসসিলাত: ১-৩]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন বানিয়েছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো। আর নিশ্চয়ই তা আমাদের নিকট মূল কিতাবে (أم الكتاب) উচ্চমর্যাদাশীল ও প্রজ্ঞাপূর্ণ} [আজ-জুখরুফ: ১-৪]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আলিফ-লাম-রা। এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত...
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ، نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ} [يوسف: 1-3] ، وهذا الوجه في التصوير القرآني هو موضع هذا الكتاب، سنعرضه في فصوله المختلفة بالدراسة والتفصيل -إن شاء الله تعالى-.
নিশ্চয়ই আমি একে আরবি ভাষায় কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পারো। আমি আপনার নিকট এই কুরআন ওহী করার মাধ্যমে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, যদিও এর পূর্বে আপনি এ বিষয়ে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। [ইউসুফ: ১-৩]; আর কুরআনিক চিত্রায়নের এই দিকটিই হলো এই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু। আমরা আল্লাহর ইচ্ছায়—এর বিভিন্ন অধ্যায়ে গবেষণালব্ধ ও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে তা উপস্থাপন করব।
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
حقيقة التصوير القرآني 1:
بين الأدب القرآني والأدب العربي:
لا يشكُّ عاقل لحظة واحدة ألَّا مجال للموازنة ولا المقارنة بين الأدب القرآني، وفنون الأدب العربي ونقده، فشتَّان بين كلام الله عز وجل الأزلي، وبين كلام خلقه الذي أبدعهم وخلقهم، فمهما بلغت اللغة العربية قمَّة البلاغة على يد أربابها صقلًا وتهذيبًا وحضارة، فقد عجزوا عن مجاراة القرآن الكريم ومعارضته بعد أن تحدَّاهم، إذن فلا تصحُّ الموازنة ولا المقارنة بحال بين الأدب القرآني وبين أدبهم العربي.
فالقرآن الكريم كلام الله جل جلاله مبدع الكون كله، والأدب العربي كلام البشر المخلوقين، فكل منهما يتميز بخصائص ينفرد بها عن الآخر، ويتضح ذلك أكثر حينما نقف على أطوار كلمة "الأدب" منذ نشأتها حتى صارت تشمل جميع الفنون الأدبية المختلفة من شعر ونثر فني، فقد انتقلت من المعنى الحسي والواقعي لها قديمًا، وهو بمعنى "المأدبة" التي يلتقي على مائدتها أهل الجودة والكرم وذو الأخلاق الفاضلة، إلى المعنى الأخلاقي المجرد عن الحس، وهو ما يحسن من الأخلائق والمكارم والفضائل، قال عتبة بن ربيعة لابنته هند عن أبي سفيان: "يؤدب أهله ولا يؤدبونه؛ فقالت له: سآخذه بأدب
--------------------------------------------
কুরআনিক চিত্রায়ণের স্বরূপ ১:
কুরআনিক সাহিত্য ও আরবি সাহিত্যের মাঝে পার্থক্যের স্বরূপ:
কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি এক মুহূর্তের জন্যও এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করবেন না যে, কুরআনিক সাহিত্য এবং আরবি সাহিত্যের শিল্পকলা ও তার সমালোচনার মধ্যে ভারসাম্য বিধান বা তুলনা করার কোনো অবকাশ নেই। মহান আল্লাহ তাআলার অনাদি কালাম এবং তাঁরই সৃষ্টি করা মাখলুকের কথার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আরবি ভাষা তার পণ্ডিতদের হাতে পরিচর্যা, পরিমার্জন ও উৎকর্ষের মাধ্যমে অলঙ্কারশাস্ত্রের যত চরম শিখরেই আরোহণ করুক না কেন, কুরআন মাজিদ তাদের চ্যালেঞ্জ করার পর তারা তার সমকক্ষ হতে বা তার মোকাবিলা করতে অক্ষম হয়েছে। সুতরাং, কোনো অবস্থাতেই কুরআনিক সাহিত্য ও তাদের আরবি সাহিত্যের মধ্যে ভারসাম্য বিধান বা তুলনা করা সঙ্গত নয়।
কেননা কুরআন মাজিদ হলো সমগ্র মহাবিশ্বের স্রষ্টা মহান আল্লাহ জাল্লা জালালুহু-এর বাণী, আর আরবি সাহিত্য হলো সৃষ্টিজীব মানুষের কথা। এ দুটির প্রত্যেকটিই এমন কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য যা তাকে অন্যটি থেকে পৃথক করে। বিষয়টি তখন আরও স্পষ্ট হয় যখন আমরা 'আদব' শব্দের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে কবিতা ও শৈল্পিক গদ্যের মতো বিভিন্ন সাহিত্যিক শাখা অন্তর্ভুক্ত করার বিবর্তনের পর্যায়গুলো লক্ষ্য করি। প্রাচীনকালে এটি তার ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও বাস্তব অর্থ থেকে বিবর্তিত হয়েছে, যার মূল ছিল 'মা’দুবাহ' বা ভোজসভা, যেখানে গুণী, দাতা ও সচ্চরিত্রের অধিকারীরা একত্রিত হতেন। পরবর্তীতে এটি ইন্দ্রিয়জাত অর্থের গণ্ডি পেরিয়ে বিমূর্ত নৈতিক অর্থে রূপান্তরিত হয়, যা মূলত চরিত্র ও গুণাবলির উৎকর্ষকে নির্দেশ করে। উতবা ইবনে রবিয়াহ তার কন্যা হিন্দের স্বামী আবু সুফিয়ান সম্পর্কে বলেছিলেন: "সে তার পরিবারকে শিষ্টাচার শেখায়, কিন্তু তারা তাকে শেখায় না"; তখন সে তাকে বলেছিল: "আমি তার থেকে শিষ্টাচার গ্রহণ করব।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
البعل"1، وقال النعمان بن المنذر في رسالته إلى كسرى: "وقد أوفدت أيّها الملك رهطًا من العرب لهم فضل في أحسابهم وآدابهم"2.
وفي العصر الإسلامي أخذت كلمة "الأدب" معنى إضافيًّا جديدًا يجمع بين التهذيب الأخلاقي والتعليم والتربية الخلقية والعلمية والسلوكية، فقد جاء في الحديث الشريف عن النبي صلى الله عليه وسلم: "أدَّبني ربي فأحسن تأديبي"، وقال أيضًا: "إلزموا أولادكم وأحسنوا أدبهم"، وفي الأثر عن الخليفة الثاني عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: "طفق نساؤنا يأخذن من أدب نساء الأنصار"، وقال أيضًا لابن عباس رضي الله عنه: "هل تروي لشاعر الشعراء، قال: ومن هو؟ قال: الذي يقول:
ولو أن حمدًا يخلد الناس أخلدوا
… ولكن حمد الناس ليس بمخلد
قلت: ذاك زهير، قال: فذلك شاعر الشعراء، قلت: وبم؟ قال: لأنه لا يعاظل في الكلام، وكان يتجنب وحشي الشعر، ولم يمدح أحدًا إلا بما فيه"؛ والشعر فن فنون الأدب عندهم، وقال عن لامية العرب للشنفري رضي الله عنه: "علموا أولادكم لامية العرب، فإنها تعلمهم مكارم الأخلاق"3.
وترددت كلمة "الأدب" كثيرًا في العصر الأموي بمعنى التعليم، وتحصيل العلم، قال معاوية رضي الله عنه: "اجعلوا الشعر أكبر همكم وأكثر
--------------------------------------------
আল-বা'ল"১, এবং নুমান ইবনুল মুনজির কিসরার নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রে বলেছেন: "হে সম্রাট, আমি আরবদের এমন একদল ব্যক্তিকে পাঠিয়েছি যাদের বংশমর্যাদা ও শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে"২।
এবং ইসলামি যুগে "আদব" শব্দটি একটি নতুন অতিরিক্ত অর্থ লাভ করে যা নৈতিক পরিশুদ্ধি, শিক্ষা এবং চারিত্রিক, বৈজ্ঞানিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণের সমন্বয় ঘটায়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "আমার প্রতিপালক আমাকে আদব (শিষ্টাচার) শিক্ষা দিয়েছেন এবং তিনি আমার শিষ্টাচারকে অত্যন্ত সুন্দর করেছেন"। তিনি আরও বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের সান্নিধ্যে থাকো এবং তাদের আদব বা শিষ্টাচারকে সুন্দর করো"। আর দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আসার (أثر)-এ এসেছে, তিনি বলেন: "আমাদের মহিলারা আনসারী মহিলাদের আদব বা আচরণ গ্রহণ করতে শুরু করেছে"। তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আরও বলেছিলেন: "তুমি কি কবিদের সেরা কবির কবিতা বর্ণনা করো?" তিনি বললেন: "তিনি কে?" উমর (রা.) বললেন: "যিনি বলেন:
যদি প্রশংসা মানুষকে অমর করে রাখত, তবে তারা অমর হয়ে যেত... কিন্তু মানুষের প্রশংসা অমরত্ব দানকারী নয়
আমি বললাম: তিনি জুহাইর। তিনি বললেন: তিনিই কবিদের সেরা কবি। আমি বললাম: কেন? তিনি বললেন: কারণ তিনি কথায় জটিলতা সৃষ্টি করেন না, কবিতার অপ্রচলিত ও দুর্বোধ্য শব্দ পরিহার করেন এবং কারও প্রশংসা কেবল সেই গুণের ভিত্তিতেই করেন যা তার মধ্যে বিদ্যমান"। আর তাদের নিকট কবিতা ছিল সাহিত্যের নানা শাখার অন্যতম। তিনি শানফারার 'লামিয়াতুল আরব' সম্পর্কে বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের লামিয়াতুল আরব শিক্ষা দাও, কারণ এটি তাদের মহৎ চরিত্র শিক্ষা দেয়"৩।
উমাইয়া যুগে "আদব" শব্দটি শিক্ষা এবং জ্ঞান অর্জনের অর্থে বহুবার ব্যবহৃত হয়েছে। মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "তোমরা কবিতাকে তোমাদের প্রধান লক্ষ্য ও সর্বাধিক চর্চার বিষয়ে পরিণত করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
آدابكم"، واشتهرت في هذا العصر طبقة المعلمين، الذين كانوا يؤدِّبون أبناء الخلفاء والأمراء والولاة بالأخبار واللغة ورواية الشعر والخطب والقصص الأدبي والوصايا الأدبية والأمثال العربية، وأطلق عليهم آنذاك لقب: "المؤدبين" و"الأدباء"، قال عبد الحميد الكاتب، الذي اشتهر بأدب الكتابة: "بدئت الكتابة بعبد الحميد، وخُتمت بابن العميد"، قال في رسالة الكاتب: "فتنافسوا يا معشر الكتاب في صنوف الآداب"، ومن هنا نشأت حرفة "الأدب"، وقال الخليل بن أحمد عن الأدباء: "لأنهم كانوا يتكسبون بالتعليم"1.
وفي العصر العباسي اهتمَّ العلماء والرواة بالكتاب؛ فتنوعت الدراسات عندهم، فكانت تشمل: النحو والصرف وعلوم اللغة والاشتقاق والبلاغة والعروض والقافية وعلم الأخبار والأنساب وتاريخ الأمم، فكان يطلق عليهم وعلى الشعراء لتكسُّبهم بالأدب: "الأدباء"، قال الجواليقي في شرح أدب الكتاب: "اصطلح الناس بعد الإسلام بمدة طويلة على أن يسموا العالم بالنحو والشعر وعلوم العرب: "أديبًا"، ويسموا هذه العلوم "الأدب"، وذلك كلام مولد؛ لأن هذه العلوم حدثت في الإسلام"2.
وأصبحت كلمة "الأدب" تطلق على الموسوعات في سائر العلوم شعرًا ونثرًا ولغة وبلاغة وتاريخًا ونحوًا وصرفًا، وغيرها كـ"البيان والتبيين" للجاحظ "م 255هـ"، و "الكامل" للمبرد "285 هـ"، و"العقد الفريد" لابن عبد ربه الأندلسي "م 328هـ"، و "الأمالي"
--------------------------------------------
"তোমাদের শিষ্টাচারসমূহ", এবং এই যুগে শিক্ষক শ্রেণীর প্রসিদ্ধি ঘটেছিল, যাঁরা খলিফা, আমীর এবং গভর্নরদের সন্তানদের সংবাদ বা ইতিহাস (أخبار), ভাষা, কবিতার বর্ণনা (رواية), ভাষণ, সাহিত্যিক গল্প, সাহিত্যিক উপদেশ এবং আরবীয় প্রবাদ-প্রবচনের মাধ্যমে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতেন। সে সময় তাঁদেরকে "মুয়াদ্দিব" (المؤدبين) এবং "আদীব" (الأدباء) উপাধিতে ভূষিত করা হতো। লিপিশৈলীর জন্য প্রসিদ্ধ আব্দুল হামিদ আল-কাতিব বলেন: "আব্দুল হামিদের মাধ্যমে লেখনীর সূচনা এবং ইবনুল আমীদের মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটেছে।" তিনি 'রিসালাতুল কাতিব'-এ বলেন: "হে লেখক সমাজ! তোমরা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হও।" আর এখান থেকেই "আদব" বা সাহিত্যের পেশার উদ্ভব ঘটে। আল-খালীল ইবনে আহমাদ সাহিত্যিকদের (الأدباء) সম্পর্কে বলেন: "কারণ তাঁরা পাঠদানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন"১।
আব্বাসীয় যুগে উলামা এবং বর্ণনাকারীগণ (رواة) কিতাবের প্রতি মনোযোগী হন; ফলে তাঁদের গবেষণার বিষয় বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠে। যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল: নাহু (ব্যাকরণ), সরফ (শব্দতত্ত্ব), ভাষাবিজ্ঞান, শব্দমূলতত্ত্ব, বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), আরূয (ছন্দতত্ত্ব), কাফিয়া এবং সংবাদ বা ইতিহাস (أخبار), বংশপরম্পরা ও জাতিসমূহের ইতিহাস। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের কারণে তাঁদেরকে এবং কবিদেরকে "আদীব" (الأدباء) বলা হতো। আল-জাওয়ালিকী 'শারহু আদাবিল কাতিব' গ্রন্থে বলেন: "ইসলামের দীর্ঘকাল পর মানুষ এ বিষয়ে পারিভাষিক ঐকমত্যে (اصطلح) পৌঁছেছে যে, নাহু, কবিতা এবং আরবীয় বিদ্যায় পারদর্শী আলেমকে 'আদীব' (أديباً) বলা হবে এবং এই বিদ্যাসমূহকে 'আদব' বলা হবে। এটি মূলত একটি পরবর্তীকালের উদ্ভাবিত পরিভাষা (مولد); কারণ এই বিদ্যাসমূহের উদ্ভব ইসলামি যুগে হয়েছে"২।
এবং "আদব" শব্দটি কবিতা, গদ্য, ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র, ইতিহাস, নাহু, সরফ এবং অন্যান্য বিষয়ের বিশ্বকোষ বা সংকলনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। যেমন আল-জাহিজ (মৃত্যু ২৫৫ হি.)-এর 'আল-বায়ান ওয়াত তাবিইয়িন', আল-মুবররাদ (মৃত্যু ২৮৫ হি.)-এর 'আল-কামিল', ইবনে আবদি রাব্বিহি আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৩২৮ হি.)-এর 'আল-ইকদুল ফারিদ' এবং 'আল-আমালী'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لأبي علي القالي "م 356هـ"، ولما كان القرن الرابع الهجري، أصبح "الأديب" يطلق على الشاعر والكاتب والناقد فقط، قال ابن خلدون في حد الأدب: "هذا العلم لا موضوع له، وإنما المقصود منه عند أهل اللسان ثمرته، وهي الإجادة في فني المنظوم والمنثور على أساليبهم ومناهجهم، فيجمعون لذلك من كلام العرب ما عساه تحصيل به الملكة من شعر عالي الطبقة، وسجع متساوٍ في الإجادة"1.
وهكذا ظلَّ الأدب في العصر الحديث يطلق على الشعر والنثر الفني الجيد، الذي يترك المتعة الفنية عند القارئ والمتلقي، وما يتصل بهما من تاريخ الآداب ونقدهما والعلوم والثقافة؛ فالأدب عند الدكتور طه حسين هو مأثور الكلام نظمًا كان شعرًا أو نثرًا، ومؤرخ الأدب لا يكتفي بمأثور الكلام، وما يتصل به من علوم ومن دراسة تاريخ العقل الإنساني وتاريخ العلوم والفلسفة والفنون2، ويقول الدكتور محمد عبد المنعم خفاجي: "فالأدب هو كل كلام عبَّر عن معنى من معاني الحياة وجلًا صورة من صورها بأسلوب جميل، ولفظ بديع فتثير معانيه العاطفة، وتستثير بلاغته الإعجاب. فإن أجود البيان نثره ونظمه ما صدر عن الطبع وجاء عفو القريحة من غير تكلف ولا استكراه ولا إغراب، ومتى كان الكلام جيدًا على هذا النحو فهو الذي نسميه أدبًا"3.
والأدب يختلف من عصر إلى عصر، لذلك قسمه الأدباء والنقاد إلى عصور أدبية على النحو التالي: العصر الجاهلي، وعصر صدر
--------------------------------------------
আবু আলী আল-কালী (মৃত্যু ৩৫৬ হিজরি) এর মতে, যখন চতুর্থ হিজরি শতাব্দী শুরু হলো, তখন 'সাহিত্যিক (أديب)' শব্দটি কেবল কবি, লেখক এবং সমালোচকদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হতে থাকে। ইবনে খালদুন সাহিত্যের সংজ্ঞায় বলেছেন: "এই জ্ঞান (علم)-এর কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নেই; বরং ভাষাবিদদের নিকট এর উদ্দেশ্য হলো এর অর্জিত ফল। আর তা হলো তাদের নিজস্ব পদ্ধতি ও রীতি অনুযায়ী পদ্য ও গদ্যের উভয় শিল্পে পারদর্শিতা অর্জন করা। এজন্য তারা আরবদের বাণী থেকে এমন সব সাহিত্য সংগ্রহ করেন যা দ্বারা উচ্চমানের কবিতা এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্যের মাধ্যমে বিশেষ দক্ষতা (ملكة) অর্জিত হতে পারে।"১
এভাবে আধুনিক যুগে সাহিত্য (أدب) বলতে পরিমার্জিত শৈল্পিক কবিতা ও গদ্যকে বোঝানো অব্যাহত থাকে, যা পাঠক ও শ্রোতার মনে শৈল্পিক আনন্দ সঞ্চার করে এবং যা সাহিত্যের ইতিহাস, সাহিত্য সমালোচনা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত। ডক্টর ত্বহা হোসেনের মতে সাহিত্য (أدب) হলো ঐতিহ্যগত বাণী, তা ছন্দোবদ্ধ পদ্য হোক বা গদ্য। আর সাহিত্যের ইতিহাসবিদ কেবল সেই বাণীর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিজ্ঞান এবং মানবীয় প্রজ্ঞা, বিজ্ঞানের ইতিহাস, দর্শন ও শিল্পকলার ইতিহাস নিয়েও আলোচনা করেন।২ ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল মোনয়েম খাফাজি বলেন: "সাহিত্য (أدب) হলো এমন প্রতিটি কথা যা জীবনের কোনো একটি অর্থ প্রকাশ করে এবং এর কোনো একটি রূপকে সুন্দর শৈলী ও চমৎকার শব্দের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলে, ফলে এর অর্থগুলো আবেগ সঞ্চার করে এবং এর অলংকারশাস্ত্রীয় (بلاغة) সৌন্দর্য মুগ্ধতা তৈরি করে। গদ্য ও পদ্যের মধ্যে সর্বোত্তম প্রকাশভঙ্গি হলো সেটিই যা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি থেকে উৎসারিত হয় এবং কোনো কৃত্রিমতা, জবরদস্তি বা অস্পষ্টতা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রকাশিত হয়। যখন কোনো বক্তব্য এভাবে চমৎকার হয়, তখন তাকেই আমরা সাহিত্য (أدب) বলে অভিহিত করি।"৩
সাহিত্য (أدب) এক যুগ থেকে অন্য যুগে পরিবর্তিত হয়, তাই সাহিত্যিক ও সমালোচকগণ একে নিম্নোক্তভাবে বিভিন্ন সাহিত্যিক যুগে বিভক্ত করেছেন: জাহেলি যুগ, এবং ইসলামের সূচনালগ্ন (صدر الإسلام) যুগ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত তাসওয়ীরুল কুরআনি লিল কিয়ামিল খুলুকিয়্যাহ ওয়াত তাশরীয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الإسلام، والعصر الأموي، والعصر العباسي الأول، والعصر العباسي الثاني، والعصر الأندلسي، وعصر الدويلات، وعصر المماليك، والعصر العثماني، والعصر الحديث، والأدب المعاصر.
هذه الأطوار المختلفة للأدب وتاريخه ونقده، تنوَّعت واختلفت من حيث المفهوم والأصول والقواعد والفنون، بل أصبحت تختلف من عصر إلى عصر، حسب تنوع الروافد والعلوم والثقافات والتيارات المختلفة، لذلك صار الأدب العربي ونقده خاضعًا للتغيرات والعصور والبيئات، لا يثبت على حال، ولا يستقر على أصول ولا مصطلحات وقواعد؛ لأنه صورة للحياة فيكل عصر، وقطعة منها، يتردَّد صداها في نفس الأديب، فيصورها حسب الاتجاهات الأدبية والنقدية المعاصرة، ثم يميّز الناقد الأدبي بين الجيد منها والرديء، حسب مطابقة الأدب لمقاييس النقد الأدبي الجيد ومصطلحاته في كل عصر؛ فيصفه بالجودة والإحسان، أو مخالفته لهذه القواعد والمصطلحات؛ فيصفه بالرداءة.
تلك هي طبيعة وخصائص الأدب العربي ونقده؛ فهي خاضعة للتغيير والتجديد والتحديث، لأنها نتاج البشر المخلوق، الذي لا يثبت على حال، بل يزدهر ويتقلَّب بين سائر الأحوال والثقافات؛ فهذه الخصائص الفنية لأدبه وكلامه، وهما على النقيض تمامًا لكلمات الله العليا، والأدب القرآني المقدس؛ فليس من المنطق المستقيم التسوية في الموازنة بينهما، ولا يقبل العقل والوجدان والحس أن يتعامل معهما على السواء؛ بل لكلٍّ مجاله وسماته وخصائصه التي ينفرد بها عن الآخر، كما يتضح ذلك أكثر في توضيح الأدب القرآني.
ইসলাম, উমাইয়া যুগ, প্রথম আব্বাসীয় যুগ, দ্বিতীয় আব্বাসীয় যুগ, আন্দালুসি যুগ, ক্ষুদ্র রাজবংশীয় যুগ, মামলুক যুগ, উসমানীয় যুগ, আধুনিক যুগ এবং সমকালীন সাহিত্য।
সাহিত্যের এই বিভিন্ন পর্যায় এবং এর ইতিহাস ও সমালোচনা; ধারণা, মূলনীতি (أصول), নিয়মকানুন (قواعد) ও শিল্পকলার দিক থেকে বৈচিত্র্যময় ও ভিন্নতর হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন উৎস, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন ধারার বৈচিত্র্যের কারণে এটি এক যুগ থেকে অন্য যুগে পরিবর্তিত হয়েছে। এ কারণেই আরবি সাহিত্য ও এর সমালোচনা পরিবর্তন, বিভিন্ন যুগ ও পরিবেশের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে পড়েছে; এটি কোনো নির্দিষ্ট অবস্থায় স্থির থাকে না এবং কোনো মূলনীতি (أصول), পরিভাষা (مصطلحات) কিংবা নিয়মকানুন (قواعد)-এর ওপর স্থিতু হয় না। কারণ সাহিত্য হলো প্রতিটি যুগের জীবনের প্রতিচ্ছবি এবং তার একটি অংশ, যা সাহিত্যিকের অন্তরে প্রতিধ্বনিত হয়; ফলে তিনি সমকালীন সাহিত্যিক ও সমালোচনামূলক ঝোঁক অনুযায়ী তা চিত্রিত করেন। এরপর সাহিত্য সমালোচক সাহিত্যের প্রতিটি যুগের মানদণ্ড ও পরিভাষা (مصطلحات) অনুযায়ী এর মধ্য থেকে উত্তম (جيد) ও নিকৃষ্ট (رديء)-এর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করেন। যদি সাহিত্য সেই যুগের সমালোচনার মানদণ্ড ও পরিভাষার (مصطلحات) সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, তবে তিনি তাকে উৎকর্ষ ও সৌন্দর্য হিসেবে অভিহিত করেন, আর যদি তা এই নিয়মকানুন (قواعد) ও পরিভাষাগুলোর (مصطلحات) পরিপন্থী হয়, তবে তাকে নিকৃষ্ট (رديء) বলে আখ্যায়িত করেন।
এই হলো আরবি সাহিত্য ও এর সমালোচনার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য; যা পরিবর্তন, সংস্কার ও আধুনিকায়নের অধীন। কারণ এটি নশ্বর মানুষের সৃষ্টি, যারা কোনো এক অবস্থায় স্থির থাকে না, বরং সকল অবস্থা ও সংস্কৃতির মাঝে বিকশিত ও পরিবর্তিত হয়। এগুলো হলো মানুষের সাহিত্য ও বাণীর শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য, যা আল্লাহর সুমহান বাণী এবং পবিত্র কুরআনিক সাহিত্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। সুতরাং এই উভয়ের তুলনামূলক আলোচনায় সমতা বজায় রাখা সঠিক যুক্তি হতে পারে না এবং বিবেক, বোধ ও চেতনাও এই উভয়কে সমানভাবে গ্রহণ করা সমর্থন করে না। বরং উভয়েরই নিজস্ব ক্ষেত্র, বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী রয়েছে যা একটিকে অন্যটি থেকে স্বতন্ত্র করে, যেমনটি কুরআনিক সাহিত্যের বর্ণনায় আরও স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়।