(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: -)
شرحان على مراح الأرواح في علم الصرف القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرحان على مراح الأرواح في علم الصرف
المؤلف: شمس الدين أحمد المعروف بديكنقوز أو دنقوز (ت 855هـ)
الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر
الطبعة: الثالثة، 1379 هـ - 1959 م
عدد الصفحات: 156
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
«شرح مراح الأرواح» لـ (ديكنقوز) بأعلى الصفحة، وبهامشه: «الفلاح في شرح المراح» لابن كمال باشا (المتوفي:940هـ)
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইলমুস সরফ বা শব্দরূপতত্ত্ব বিষয়ক ‘মারাহুল আরওয়াহ’-এর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: ইলমুস সরফ-এর ওপর ‘মারাহুল আরওয়াহ’-এর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ
লেখক: শামসুদ্দিন আহমাদ, যিনি দিকুনকুয বা দানকুয নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৫৫ হিজরি)
প্রকাশক: মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স লাইব্রেরি ও প্রিন্টিং কোম্পানি, মিশর
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৩৭৯ হিজরি - ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
«শারহু মারাহিল আরওয়াহ» — (দিকুনকুয) কৃত, যা পৃষ্ঠার উপরে অবস্থিত এবং এর হাশিয়া বা টীকায় রয়েছে: «আল-ফালাহ ফি শারহিল মারাহ» — ইবনে কামাল পাশা কৃত (মৃত্যু: ৯৪০ হিজরি)
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২)
[شرح ديكنقوز]
خطبة الكتاب:{وَلَقَدْ صَرَّفْنَاهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوا} "قرآن كريم"
بسم الله الرحمن الرحيم
اللهم يا مصرف القلوب صرف قلوبنا نحو رضائك؛ وصل على من أوتي جوامع الكلم من بين أنبيائك؛ وعلى الآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر من آله وأصحابه وأزواجه وأحبائه؛ وعلى المقتفين بهم في مصادرهم ومواردهم؛ ربنا لا تؤاخذنا بالفرطات الماضية، وسدد أمورنا في الحال والاستقبال، واحفظنا من الاعتلال والاختلال في الأقوال والأفعال، وارزقنا صحيحات النيات في أبواب الخيرات.
قال المصنف رحمه الله تعالى عملا بالحديث المشهور والخبر المأثور واقتداء بالكتاب الكريم "بسم الله الرحمن الرحيم" وتخصيص كتابه بأول القرينين، بل ذكره من باب الاكتفاء كقوله تعالى في النحل: {سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ} أي والبرد ولما وقع التصنيف في العلم الإسلامي أغنى عن كتب الصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام؛ لأن المقصود به التنبيه على أن المصنف من المسلمين؛ إذ الظاهر أن لا يصنف أحد إلا فيما ينتمي إليه من الدين، وأما كون المصنف من المصنفات الإسلامية فيعلم من خصوص العلم الذي فيه التصنيف، ثم أظهر عبوديته واحتياجه في بدأ أمره فقال "قال" العبد "المفتقر" أي ذو الاحتياج الكثير واختار هذا اللفظ تبركا بما ورد في كلام الله تعالى حيث قال: {وَاللَّهُ الْغَنِيُّ وَأَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ} تيمنا بما
--------------------------------------------
[শরাহ দিকনকুজ]
কিতাবের ভূমিকা:{আর আমি একে তাদের মধ্যে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে} "আল-কুরআন"
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ! হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার সন্তুষ্টির দিকে ধাবিত করুন; এবং আপনার নবীদের মধ্য থেকে যাঁকে অর্থবহ সংক্ষিপ্ত বাক্য দান করা হয়েছে তাঁর প্রতি দরুদ বর্ষণ করুন; এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, পত্নীগণ ও প্রিয়জনদের ওপর যারা সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজে নিষেধ করেন; এবং যারা তাদের উৎস ও গন্তব্যস্থলে তাঁদের অনুসরণ করেন তাঁদের ওপরও দরুদ বর্ষিত হোক। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের অতীত ভুল-ত্রুটির জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন না, বর্তমান ও ভবিষ্যতে আমাদের বিষয়গুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, কথা ও কাজে আমাদের বিচ্যুতি ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করুন এবং নেক কাজের ক্ষেত্রে আমাদের নিয়তকে বিশুদ্ধ করুন।
গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মশহুর হাদীস ও বর্ণিত সংবাদের ওপর আমল করে এবং মহাগ্রন্থের অনুকরণে বলেছেন: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে"। তিনি তাঁর কিতাবকে জোড়া দুটির প্রথমটি দিয়ে নির্দিষ্ট করেছেন, বরং একে তিনি 'পর্যাপ্ততা'র অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা সূরা নাহলে বলেছেন: {পোশাক যা তোমাদের উত্তাপ থেকে রক্ষা করে} অর্থাৎ ঠান্ডাও। যখন ইসলামী জ্ঞানশাস্ত্রে কিতাব রচনার প্রচলন হলো, তখন তা নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের কিতাবসমূহের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিল; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো গ্রন্থকার যে একজন মুসলিম সেদিকে সতর্ক করা। কারণ সাধারণত কেউ নিজ ধর্ম সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে কিতাব রচনা করে না। আর কিতাবটি যে ইসলামী সংকলনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তা এর মধ্যে আলোচিত বিশেষ জ্ঞান থেকেই জানা যায়। অতঃপর তিনি তাঁর সূচনায় নিজের দাসত্ব ও মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করে বললেন: "পরামুখাপেক্ষী বান্দা বলেছেন", অর্থাৎ অধিক মুখাপেক্ষী। তিনি এই শব্দটি পছন্দ করেছেন আল্লাহ তাআলার বাণীর বরকত অর্জনের জন্য যেখানে তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরাই অভাবী} কল্যাণের আশায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৩)
[شرح ديكنقوز] صدر عن صدر النبوة حيث قال: الفقر فخري وقوله: "إلى الله الودود" أي المحبوب وهو المناسب للافتقار إليه متعلق بالمفتقر، واختار صيغة الماضي حيث قال: قال لضرورة تأخر الحكاية عن المحكي في الواقع، وإن كانت متقدمة في الذكر لتقدم العامل على المعمول، وإنما لم يقل قلت هضما لنفسه وليمكن التوصيف وإجراء الاسم عليه واختار الفرع على الأصل إظهار الزيادة احتياجه، ثم ذكر اسمه واسمي أبويه لئلا يظن أن كتابه قبل التأمل فيه من تأليفات الأوباش من مرور الأيام وكرور الأعوام، فليتخذ ظهريا وليدعو لهم فعطفه على المفتقر عطف بيان فقال: "أحمد بن علي بن مسعود" ثم دعا لنفسه ولوالديه بالغفران والإحسان كما هو اللائق بأهل الإيمان فقال: "غفر الله له ولوالديه وأحسن إليهما وإليه" أي إلى أحمد مقدما نفسه أولا ومؤخرا ثانيا رعاية للسجع، ثم حرض على العلم الذي وقع التأليف فيه فقال مخاطبا خطاب العام: "اعلم أن الصرف" اختار هذا على التصريف مع أنهما علمان على علم يعرف به أحوال أبنية الكلم التي ليست بإعراب لكونه أخف وموافقا للنحو وأصلا؛ لأنه ثلاثي وفي قوله: "وأم العلوم" أي أصلها تسمية للدال باسم المدلول شبهه بالأم من حيث الولادة فكما أن الأم تلد الأولاد كذلك هذا العلم يلد الكلمات التي هي دوال العلوم وقوالبها، ولما اختلج في صدر السامع ماذا أبوها بينه بقوله: "والنحو" وهو علم يعرف به أحوال أواخر الكلم من حيث الإعراب والبناء "أبوها" أي مصلح العلوم
--------------------------------------------
[শرح দিকনিকূজ] নবুওয়তের বক্ষ হতে নিঃসৃত হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: দারিদ্র্য আমার গর্ব। এবং তাঁর উক্তি: "প্রেমময় আল্লাহর প্রতি" অর্থাৎ যিনি প্রিয়, আর এটিই তাঁর মুখাপেক্ষী হওয়ার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যা মুখাপেক্ষী ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি অতীতকালের ক্রিয়া নির্বাচন করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: 'বললেন', কারণ বর্ণনার বিষয়টি বাস্তবে বর্ণিত বিষয়ের পরে ঘটা আবশ্যক, যদিও বর্ণনার ক্ষেত্রে তা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে আমিল (ক্রিয়া) মামুল (কর্ম)-এর পূর্বে আসার কারণে। তিনি 'আমি বললাম' না বলে পরোক্ষভাবে বলেছেন নিজের বিনয় প্রকাশের জন্য এবং যাতে বিশেষিত করা ও তাঁর ওপর নাম প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। তিনি আসলের পরিবর্তে শাখাকে নির্বাচন করেছেন তাঁর মুখাপেক্ষিতার আধিক্য প্রকাশের জন্য। অতঃপর তিনি নিজের নাম ও পিতামাতার নাম উল্লেখ করেছেন যাতে কাল পরিক্রমায় ও বছরের আবর্তনে কেউ ধারণা না করে যে, এটি কোনো অখ্যাত ব্যক্তির রচনা; বরং যাতে একে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয় এবং তাদের জন্য দোয়া করা হয়। অতঃপর 'মুখাপেক্ষী' শব্দের ওপর 'আতফে বয়ান' হিসেবে যুক্ত করে বলেছেন: "আহমদ বিন আলী বিন মাসউদ"। এরপর তিনি মুমিনদের স্বভাব অনুযায়ী নিজের জন্য ও পিতামাতার জন্য ক্ষমা ও ইহসানের দোয়া করেছেন এবং বলেছেন: "আল্লাহ তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি ও তার প্রতি অনুগ্রহ করুন"। অর্থাৎ আহমদের প্রতি; অন্ত্যমিল রক্ষার খাতিরে প্রথমে নিজের কথা এবং শেষে পুনরায় নিজের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি যে শাস্ত্র বা ইলম বিষয়ে গ্রন্থটি রচনা করেছেন তার প্রতি উৎসাহিত করে সাধারণ সম্বোধনে বলেছেন: "জেনে রেখো যে, সারফ (শব্দতত্ত্ব)..." তিনি 'তাসরিফ'-এর পরিবর্তে 'সারফ' শব্দটি বেছে নিয়েছেন, যদিও উভয়টি এমন শাস্ত্রের নাম যার মাধ্যমে শব্দের গঠনের অবস্থাসমূহ জানা যায় যা ইরাব (কারক বিভক্তি) নয়। এর কারণ হলো এটি উচ্চারণে হালকা, নাহব-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মূল; যেহেতু এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট। এবং তাঁর উক্তি: "সকল শাস্ত্রের জননী" অর্থাৎ তাদের মূল, এখানে নির্দেশককে নির্দেশিতের নামে নামকরণ করা হয়েছে। জন্মের দিক থেকে একে মায়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে; যেমন মা সন্তান জন্ম দেন, তেমনি এই শাস্ত্রও সেই শব্দসমূহ জন্ম দেয় যা বিভিন্ন শাস্ত্রের নির্দেশক ও কাঠামো। যখন শ্রোতার মনে প্রশ্ন জাগল যে তবে এর পিতা কে, তখন তিনি তা স্পষ্ট করে বললেন: "এবং নাহব (বাক্যতত্ত্ব)" যা এমন এক শাস্ত্র যার মাধ্যমে শব্দের শেষাংশের অবস্থা ইরাব ও বিনার দিক থেকে জানা যায়, "তার পিতা" অর্থাৎ শাস্ত্রসমূহের সংস্কারক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৪)
[شرح ديكنقوز] شبهه بالأب من حيث الإصلاح، فكما أن الأب يصلح الأولاد كذلك هذا العلم يصلح الألفاظ التي هي أوعية العلوم وقوله: "ويقوي" عطف على أم العلوم لكونه بمعنى يلد العلوم مثل قوله تعالى قراءة الكوفيين: فالق الإصباح وجعل الليل سكنا عطف قوله جعل على فالق لكونه معنى فلق "في الدرايات" جمع دراية وهي التعقل مصدر بمعنى المفعول كضرب الأمير بمعنى مضروبه أي في المدريات أي المعقولات "داروها" أي عاقلو الصرف وعالموها وتأنيث الضمير باعتبار الأم "ويطغي" أي يضل "في الروايات" جمع رواية وهي النقل بمعنى المروي أي في المرويات أي المنقولات "عاروها" أي العريانون من ثيابها العري كناية عن الجهل ولذلك عداه بنفسه، إنما قال في الدرايات يطغى؛ لأن تحصل العلوم العقلية ممكن بدون الألفاظ وإن كان متعسرا إلا أنه لا شك في أنه يقوى بها بخلاف تحصيل العلوم النقلية فإنه بدونها متعذر، قال الزمخشري: لا يجدون علما من العلوم الإسلامية فقهها وكلامها وعلمي تفسيرها وأخبارها إلا وافتقاره إلى العربية بين لا يدفع ومكشوف لا يتقنع، فإذن لا شك محصلها العاري منها يضل في سلوكه ولا يهتدي إلى مطلوبه فافتقار الروايات إليه أشد من افتقار الدرايات، وإذا كان الحال على هذا المنوال "فجمعت" أي فقد جمعت لأنه ماض بمعناه وقع جزاء لشرط محذوف كما قدرناه فلا يصح بدون قد إذ ليس في اللفظ فلا بد من التقدير وهذا كثير في كلامه وعليك بالتنبيه له في مقامه ويحتمل أن يكون الجزاء محذوفا بقرينة المقام، ويكون تقدير الكلام هكذا وإذا كان كذلك أردت جمع كتاب فيه فجمعت إلى إلخ، فيكون قوله: جمعت معطوفا على الجزاء المقدر "فيه" أي في الصرف "كتابا موسوما" أي معلما فإن الاسم علامة للمسمى "بمراح" أي محل راحة "الأرواح" وهي جمع روح بمعنى النفس وقوله "وهو" أي ذلك الكتاب مبتدأ أو قوله "للصبي" خصصه بالذكر بناء على الأغلب ومراعاة لمراعاة النظير حال من خبر المبتدأ وهو قوله: "جناح النجاح" أي الفوز بالمطلوب قدم عليه للسجع والجملة أعنى المبتدأ والخبر حال من كتابا استعار الجناح للكتاب
--------------------------------------------
[শরহ দিকনুকুয]সংশোধনের দিক থেকে একে পিতার সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেননা পিতা যেমন সন্তানদের সংশোধন করেন, তদ্রূপ এই ইলম (সারফ) শব্দসমূহকে সংশোধন করে যা হলো জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার। লেখকের উক্তি: "এবং শক্তিশালী করে" এটি 'ইলমের জননী' এর ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে, কারণ এর অর্থ হলো এটি জ্ঞান-বিজ্ঞান জন্ম দেয়; যেমনটি কুফাবাসীদের কিরাআত অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার বাণী: "তিনি প্রভাত উদ্ভাসক এবং রাতকে প্রশান্তিদায়ক করেছেন" এখানে 'করা' শব্দটিকে 'উদ্ভাসক' শব্দের ওপর আতফ করা হয়েছে কারণ এর অর্থ হলো বিদীর্ণ করা। "দিরায়াতসমূহে" এটি দিরায়াত শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো অনুধাবন করা। এটি এমন এক মাসদার (ক্রিয়াধর্মী বিশেষ্য) যা মাফউল বা কর্মবাচ্যের অর্থ দেয়, যেমন আমিরের প্রহার বলতে তার দ্বারা প্রহৃত ব্যক্তিকে বোঝায়। অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলীতে। "তারা তা অনুধাবন করেছে" অর্থাৎ সারফ শাস্ত্রের বোধসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ। এখানে সর্বনামটি স্ত্রীলিঙ্গ হয়েছে 'উম্ম' বা জননী শব্দের বিবেচনায়। "এবং বিভ্রান্ত করে" অর্থাৎ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে। "রেওয়ায়াতসমূহে" এটি রেওয়ায়াত শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো বর্ণনা করা। এখানে এটি মাকউল বা বর্ণিত বিষয়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ বর্ণিত বা শ্রুত বিষয়াবলীতে। "তারা তা থেকে রিক্ত" অর্থাৎ যারা এই ইলমের পোশাক থেকে নগ্ন বা রিক্ত। এখানে নগ্নতা দ্বারা মূর্খতাকে রূপক অর্থে বোঝানো হয়েছে, একারণেই একে সরাসরি কর্মপদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। লেখক বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান বা দিরায়াতের ক্ষেত্রে কেন "শক্তিশালী করে" বলেছেন? কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান অর্জন শব্দ ছাড়াও সম্ভব, যদিও তা কষ্টসাধ্য; তবে শব্দ বা ভাষাজ্ঞানের মাধ্যমে তা শক্তিশালী হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পক্ষান্তরে বর্ণিত জ্ঞান বা রেওয়ায়াত অর্জন ভাষাজ্ঞান ছাড়া অসম্ভব। আল্লামা যামাখশারী বলেছেন: ইসলামি জ্ঞানসমূহের মধ্যে ফিকহ, কালাম, তাফসীর কিংবা হাদীস—এমন কোনো শাস্ত্র পাওয়া যাবে না যেখানে আরবি ভাষার মুখাপেক্ষিতা দিবালোকের মতো স্পষ্ট নয়। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই জ্ঞান থেকে রিক্ত ব্যক্তি তার পথচলায় বিভ্রান্ত হবে এবং তার উদ্দেশ্য খুঁজে পাবে না। তাই দিরায়াতের চেয়ে রেওয়ায়াতের ক্ষেত্রে এই ইলমের মুখাপেক্ষিতা অনেক বেশি। আর অবস্থা যখন এই পর্যায়ের, "তখন আমি সংকলন করেছি" অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি সংকলন করেছি। কারণ এটি অতীতকাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে উহ্য শর্তের উত্তর বা জাযা হিসেবে এসেছে যেমনটি আমরা ধারণা করেছি। আর 'ক্বাদ' অব্যয় ছাড়া এমনটি হওয়া সঠিক নয় যেহেতু শব্দে তা বিদ্যমান নেই, তাই তা উহ্য ধরে নিতে হবে। লেখকের বক্তব্যে এমন প্রয়োগ অনেক রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এও সম্ভাবনা আছে যে, পরিস্থিতির বিবেচনায় জাযাটি উহ্য রয়েছে এবং বাক্যের গঠন হবে এমন: "আর যখন বিষয়টি এমনই, তখন আমি এতে একটি কিতাব সংকলন করার ইচ্ছা করলাম, অতঃপর আমি সংকলন করলাম..." ইত্যাদি। তখন "আমি সংকলন করেছি" বাক্যটি উহ্য জাযার ওপর আতফ হবে। "এতে" অর্থাৎ সারফ শাস্ত্রের বিষয়ে। "একটি কিতাব যা নামাঙ্কিত" অর্থাৎ চিহ্নিত, কারণ নাম হলো নামধারী বস্তুর চিহ্নস্বরূপ। "মারাহ" বা বিশ্রামস্থল নামে। "আরওয়াহ" যা রূহ বা আত্মার বহুবচন। লেখকের উক্তি "এবং তা" অর্থাৎ সেই কিতাবটি হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), অথবা "বালকদের জন্য" অংশটি অধিকাংশের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সমজাতীয় বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে "সফলতার ডানা" অংশটি খবরের হাল (অবস্থা) হিসেবে এসেছে। যার অর্থ হলো উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন। ছন্দের মিল বজায় রাখার জন্য একে আগে আনা হয়েছে। মুবতাদা ও খবর মিলে পুরো বাক্যটি 'কিতাব' শব্দের অবস্থা (হাল) বোঝাচ্ছে। এখানে কিতাবের জন্য 'ডানা' শব্দটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
[شرح ديكنقوز] لكون كل منهما سببا للنجح، وإضافته إلى النجاح من قبيل إضافة السبب إلى المسبب، وليس في الصبي استعارة مصرحة إذ المراد به معناه الحقيقي، بل مكنية شبهه بالطير في طلب النجاح وإثبات الجناح له قرينتها، والجناح مع كونه استعارة تحقيقية كما عرفت قرينة للمكنية، إذ لا يجب أن يكون قرينة المكنية استعارة تخييلية، بل قد تكون تحقيقية كما يفهم من كلام صاحب الكشاف في تفسير قوله تعالى: {يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ} وفي استعارة الجناح غير فائدتها العامة تجنيس قلب البعض بالنجاح وقوله: "وراح" أي كف "رحراح" أي واسع عطف على قوله جناح النجاح وسعة الكف كناية عن الشمول والإحاطة وعدم قوت شيء منه، مثل طول الذراع وبسط الباع، أي هذا الكتاب للصبي مثل الكف الواسع إذ جعل وسيلة لأخذ العلوم وإحاطتها لا يفوته شيء منها، كما أن ذا الكف الواسع يحيط بما لم يحط به غيره بسببه، والواو في قوله: "وفي معدته" أي في ذهن الصبي استعار المعدة للذهن لكون كل منهما محلا للغذاء فإن الذهن محل غذاء الأرواح كما أن المعدة محل غذاء الأشباح للعطف والجار والمجرور متعلق براح في قوله: "حين راح" أي حصل هذا الكتاب قدم عليه للسجع استعار الراح وهو البيتوتة للحصول تشبيها له بها في التمكن والتقرر، وفي هذه الاستعارة فائدة التجنيس التام وعامل الظرف أعني حين ما يدل عليه لفظ المثل في قوله: "مثل تفاح أوراح" عطفه تنبيها على استقلال كل واحد منهما في كونه مشبها به مثل قوله: {وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْ آَثِمًا أَوْ كَفُورًا} يعني أن ذلك الكتاب جناح النجاح وراح رحراح ومثل تفاح أو راح أي شبههما في المنفعة وقت حصوله في ذهنه وخاطره وقوله: "وبالله" لا بغيره متعلق بقوله: "أعتصم" قدم عليه للتخصيص كما أشرنا إليه وقوله: "عما يصم" أي يعيب متعلق بأعتصم "وأستعين" إليه في جميع المهمات "و" قوله "هو" أي الله تعالى مخصوص بالمدح الذي في قوله: "نعم المولى" أي الناصر "و" هو "نعم المعين" لما ختم كلامه في ديباجة كتابه وبين مقوله شرع يبين أن الكتاب المجموع في الصرف الموسوم بمراح الأرواح فقال: "اعلم" إحضارا لذهن المخاطب وترغيبا له في استماع ما يعقبه ثم دعا له "أسعدك الله" تنشيطا له وليتفاءل بالإسعاد في مطلع الكلام ولا محل للجملة الدعائية من الإعراب ومفعول اعلم قوله: "أن الصراف" أي المريد لتحصيل علم الصرف ولا شك أنه حال إرادته لتحصيله محتاج، ففي الكلام ترغيب له على تحصيل الأبواب السبعة حيث أوهم أن العالم بالصرف على وجه المبالغة "يحتاج" على الاستمرار التجددي "في معرفة الأوزان" أي الموزونات الجزئية التي هي الغاية والغرض من تحصيل الصرف "إلى" معرفة أحكام "سبعة أبواب" أي أنواع من أنواع الموزونات فما ظنك بغيره وما يقال من أن العالم
--------------------------------------------
[শারহ দিকনাকুয] কেননা তাদের প্রত্যেকটিই সফলতার কারণ, এবং সফলতার সাথে এর সম্বন্ধায়নটি কারণকে কার্যের দিকে সম্বন্ধায়নের অন্তর্ভুক্ত। আর এখানে 'বালক' (সবী) শব্দে 'ইস্তিয়ারা মুসাররাহা' নেই, কারণ এখানে এর প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য। বরং এটি 'ইস্তিয়ারা মাকনিয়া', যেখানে বালককে সফলতার অন্বেষণে পাখির সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং 'ডানা' (জানাহ) সাব্যস্ত করা হয়েছে যা এর নিদর্শন। ডানা শব্দটি 'ইস্তিয়ারা তাহকিকিয়া' হওয়া সত্ত্বেও মাকনিয়ার নিদর্শন, যেমনটি আপনি জেনেছেন। কারণ এটি আবশ্যক নয় যে মাকনিয়ার নিদর্শনকে সর্বদা 'ইস্তিয়ারা তাখয়িলিয়া' হতে হবে, বরং কখনো তা তাহকিকিয়াও হতে পারে, যা আল্লাহ তাআলার বাণী: {যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করে} এর তাফসিরে 'সাহেবে কাশশাফ'-এর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। ডানার রূপক ব্যবহারের সাধারণ উপকারিতা ছাড়াও এখানে 'নাজাহ' (সফলতা) শব্দের সাথে 'তাজনিসে কলবে বাজ' (শব্দালঙ্কার) রয়েছে। আর তাঁর কথা: "ওয়া রাহ" অর্থাৎ হাতের তালু, "রাহরাহ" অর্থাৎ প্রশস্ত; এটি 'জানাহুন নাজাহ' (সফলতার ডানা) এর ওপর সংযোজিত। হাতের তালুর প্রশস্ততা দ্বারা ব্যাপকতা, পরিবেষ্টন এবং কোনো কিছু ছুটে না যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে, যা বাহুর দৈর্ঘ্য বা হাতের প্রসারণের মতো। অর্থাৎ, এই কিতাবটি বালকের জন্য প্রশস্ত হাতের তালুর মতো, যেহেতু একে জ্ঞান অর্জন ও আয়ত্ত করার মাধ্যম বানানো হয়েছে যাতে কোনো কিছুই তার থেকে ছুটে না যায়, যেমন প্রশস্ত হাতের অধিকারী ব্যক্তি এর মাধ্যমে এমন কিছু আয়ত্ত করে যা অন্য কেউ তার মাধ্যমে পারে না। "ওয়া ফি মাইদাতিহি" অর্থাৎ বালকের মেধায়; এখানে মেধাকে পাকস্থলীর সাথে রূপক করা হয়েছে কারণ উভয়ই পুষ্টির আধার। মেধা হলো রুহের খাদ্যের আধার, যেমন পাকস্থলী হলো দেহের খাদ্যের আধার। জার-মাজরুর অংশটি "হিনা রহ" বাক্যের 'রহ' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। 'রহ' শব্দের অর্থ অবস্থান বা অর্জন, যা রূপকভাবে প্রাপ্তির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই রূপক অলঙ্কারে 'তাজনিসে তাম' (পূর্ণ শব্দালঙ্কার) এর উপকারিতা রয়েছে। সময়বাচক শব্দ 'হিনা' এর عامل বা নিয়ন্ত্রক হলো "মিছলু তুফফাহিন আও রাহ" বাক্যে 'মিছল' শব্দটির অর্থ। 'আও' (অথবা) অব্যয়টি প্রত্যেকটি বিষয় স্বতন্ত্রভাবে উপমা হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের মধ্য হতে কোনো পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করো না}। এর অর্থ হলো, এই কিতাবটি সফলতার ডানা, প্রশস্ত হাতের তালু এবং আপেল বা শরাবের ন্যায়। অর্থাৎ যখন এটি তার মেধা ও চিন্তায় স্থিতি লাভ করে তখন উপকারের দিক থেকে এগুলোর সদৃশ হয়। আর তাঁর কথা: "ওয়া বিল্লাহি" অর্থাৎ আল্লাহর কাছেই, অন্য কারো কাছে নয়; এটি "আতাসিমু" (আমি আশ্রয় চাই) এর সাথে সংশ্লিষ্ট। গুরুত্ব বোঝাতে একে আগে আনা হয়েছে। "আম্মা ইয়াসিমু" অর্থাৎ যা দোষযুক্ত করে, এটি 'আতাসিমু' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। "ওয়া আস্তাইনু" অর্থাৎ আমি তাঁরই কাছে সাহায্য চাই সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজে। "হুয়া" অর্থাৎ মহান আল্লাহ, তিনি প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য যেমনটি বলা হয়েছে: "নি'মাল মাওলা" অর্থাৎ তিনি উত্তম সাহায্যকারী, এবং "নি'মাল মুঈন" অর্থাৎ তিনি উত্তম সহায়। লেখক যখন তাঁর কিতাবের ভূমিকা শেষ করলেন এবং তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট করলেন, তখন তিনি ইলমুস সরফের সংকলিত কিতাব যা 'মাবাহুল আরওয়াহ' নামে পরিচিত তা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন: "ই'লাম" (জেনে রাখো), যাতে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায় এবং পরবর্তী আলোচনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এরপর তিনি তার জন্য দোয়া করে বললেন: "আসআদাকাল্লাহ" (আল্লাহ তোমাকে সৌভাগ্যবান করুন), যাতে পাঠক উৎসাহিত হয় এবং আলোচনার শুরুতেই সৌভাগ্যের শুভলক্ষণ গ্রহণ করে। এই দোয়াটি একটি বাক্য হলেও এর কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (ইরাব) নেই। 'ই'লাম' এর কর্ম হলো: "আন্না সররাফা" অর্থাৎ ইলমুস সরফ অর্জন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি। নিঃসন্দেহে ইলমুস সরফ অর্জনের ইচ্ছাকালে সে অভাবী থাকে। এই বক্তব্যে সাতটি অধ্যায় অর্জনের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, যেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে সরফ শাস্ত্রে অতিশয় পারদর্শী ব্যক্তিও অবিরতভাবে "ওযানসমূহ চেনার ক্ষেত্রে" অর্থাৎ সেই আংশিক শব্দকাঠামোগুলো চেনার ক্ষেত্রে মুখাপেক্ষী হয় যা সরফ শিক্ষার মূল লক্ষ্য। সে "সাতটি অধ্যায়" অর্থাৎ সাত প্রকারের শব্দকাঠামো চেনার প্রতি মুখাপেক্ষী হয়। তবে অন্যের অবস্থা কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
[شرح ديكنقوز]
الباب الأول: في بيان بناء الصحيح:بالفعل يحتاج إليها أيضا لامتناع حصول الشيء بدون شرائطه، وما يتوقف عليه فليس مما يعتد به عرفا؛ إذ لا يقال في متعارف اللغة لمن حصل المطلوب إنه يحتاج إلى شرائطه، بل يقال كان محتاج حين لم يكن حاصلا. ثم شرع في تعداد تلك الأبواب فقال: "الصحيح والمضاعف والمهموز والمثال والأجوف والناقص واللفيف" ولا يخفى وجه الضبط على من تصور مفهوماتها وستطلع عليها إن شاء الله تعالى في تضاعيف مباحثها "و" كما أن الصراف يحتاج إلى معرفة الأوزان إلى معرفة سبعة أبواب، كذلك يحتاج فيها إلى معرفة "اشتقاق" أي إخراج "تسعة أشياء من كل مصدر" إما بواسطة أو بدونها وتلك الأشياء التسعة المشتقة منه "وهي الماضي والمستقبل والأمر والنهي واسم الفاعل والمفعول والمكان والزمان والآلة" وإذا كان الصراف يحتاج إلى الأنواع السبعة "فكسرته" أي الكتاب وجعلته مشتملا "على سبعة أبواب" كل باب منها في بيان نوع من تلك الأنواع وكان المناسب لسياق كلامه أن يقول على ثمانية أبواب أحدها في الاشتقاق، لكن لما كان معرفة هيآت المفردات إنما تتم شبهة، وإن كان الحق أنه ليس بجزء منه حقيقة، بل هو علم على حدة ولا شك أن أبواب الصرف سبعة أدرجه في تلك الأبواب، ولم يجعله بابا على حدة وذكره في أول تلك الأبواب إشارة إلى ما ذكرنا "الباب الأول" من تلك الأبواب المكسور عليها الكتاب "في" بيان البناء "الصحيح" ولما كان المقصود الأصلي البحث عن أحوال الأبنية وكانت أبنية الصحيح تستحق التقديم لسلامتها عن التغيرات الكثيرة وكونها مقيسا عليها
--------------------------------------------
[শরহ দিকনুফুজ]প্রথম অধ্যায়: সহীহ-এর গঠন বর্ণনা প্রসঙ্গে:প্রকৃতপক্ষে এগুলোরও প্রয়োজন রয়েছে, কেননা শর্তাদি ছাড়া কোনো কিছু অর্জিত হওয়া অসম্ভব। আর যার ওপর কোনো কিছু নির্ভরশীল, আভিধানিক বা প্রচলিত রীতিতে তাকে ধর্তব্য মনে করা হয় না; কারণ প্রচলিত ভাষায় কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি অর্জনকারীর ক্ষেত্রে এমনটি বলা হয় না যে, সে তার শর্তাদির মুখাপেক্ষী, বরং বলা হয় যে, যখন তা অর্জিত ছিল না তখন সে মুখাপেক্ষী ছিল। এরপর তিনি সেই অধ্যায়গুলোর সংখ্যা বর্ণনা শুরু করে বললেন: "সহীহ, মুদাআফ, মাহমুজ, মিসাল, আজওয়াফ, নাকিস এবং লাফীফ"। যার কাছে এগুলোর ধারণা স্পষ্ট, তার কাছে এর বিন্যাসের দিকটি গোপন নয় এবং ইনশাআল্লাহ এগুলোর আলোচনার গভীরে আপনি তা জানতে পারবেন। "এবং" যেভাবে একজন সরফ শাস্ত্রবিদের জন্য ওজনের জ্ঞান লাভে সাতটি অধ্যায় জানার প্রয়োজন হয়, তেমনিভাবে তাতে প্রতিটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) থেকে "ইশতিকাক" অর্থাৎ "নয়টি বিষয়" বের করার পদ্ধতি জানার প্রয়োজন পড়ে। তা মধ্যস্থতার মাধ্যমে হোক বা সরাসরি। আর মাসদার থেকে নির্গত সেই নয়টি বিষয় হলো: "মাজি (অতীত), মুস্তাকবিল (ভবিষ্যত), আমর (আদেশ), নাহি (নিষেধ), ইসমুল ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য), মাকান (স্থানবাচক বিশেষ্য), জামান (কালবাচক বিশেষ্য) এবং আলাহ (যন্ত্রবাচক বিশেষ্য)"। যেহেতু একজন সরফ শাস্ত্রবিদের সাতটি প্রকারের প্রয়োজন হয়, তাই "আমি একে বিন্যস্ত করেছি" অর্থাৎ এই কিতাবটিকে সাতটি অধ্যায়ে সাজিয়েছি। প্রতিটি অধ্যায় সেই সাত প্রকারের কোনো একটির বর্ণনায় নিবেদিত। তার কথার প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী উচিত ছিল 'আটটি অধ্যায়' বলা, যার একটি হতো ইশতিকাক (রূপান্তর) বিষয়ক। কিন্তু যেহেতু শব্দমূলের রূপের জ্ঞান কেবল একটি সাদৃশ্যের মাধ্যমে পূর্ণ হয়—যদিও সত্য হলো এটি প্রকৃত অর্থে তার অংশ নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সরফের মূল অধ্যায় সাতটি—তাই তিনি একে সেই অধ্যায়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং একে পৃথক অধ্যায় হিসেবে গণ্য করেননি। আর অধ্যায়গুলোর শুরুতে এর উল্লেখ আমাদের পূর্বোক্ত বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত বহন করে। সেই অধ্যায়গুলোর মধ্যে "প্রথম অধ্যায়", যার ওপর ভিত্তি করে কিতাবটি বিন্যস্ত, তা হলো "সহীহ"-এর গঠন বর্ণনায়। যেহেতু মূল উদ্দেশ্য হলো শব্দের গঠনগত অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা, আর সহীহ-এর গঠনসমূহ অধিক পরিবর্তনের হাত থেকে নিরাপদ এবং অন্যগুলোর জন্য পরিমাপদণ্ড হওয়ার কারণে অগ্রগণ্য হওয়ার দাবি রাখে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
[شرح ديكنقوز] لسائرها قدم باب الصحيح ولما توقف البحث عنه على تصوره عرفه فقال "الصحيح" واضعا المظهر موضع الضمير إشارة إلى أن المراد به غير الأول، فإن المراد بالأول ما صدق عليه الصحيح وبالثاني مفهومه، وما يقال إن المعرفة إذا أعيدت فهي عين الأول فليس على الإطلاق أي الصحيح في اصطلاح أهل الصرف "هو" البناء "الذي ليس" فيه "في مقابلة الفاء والعين واللام" من فعل "حرف علة" هي الواو والياء والألف وليس في تلك المقابلة أيضا "تضعيف" أي حرفان من جنس واحد "و" ليس فيها أيضا "همزة" فيدخل "نحو ضرب" إذ ليس فيه في مقابلة فاء فعل إلا الضاد، وفي مقابلة عينه إلا الراء، وفي مقابلة لامه إلا الباء، وليس شيء من الضاد والراء والباء حرف علة ولا همزة وليس فيه أيضا حرفان من جنس واحد فيصدق التعريف عليه فيصح التمثيل به، ويدخل فيه أيضا نحو حوقل وضارب ويضرب ومضروب واقعنسس "واختص الفاء والعين واللام" من بين الحروف الباقية "للوزن" والمعيار "حتى يكون فيه" أي في الوزن "من حروف الشفة والوسط والحلق" التي هي المخارج الكلية "شيء" أي حرف وهذا وجه مستقل لاختصاص فعل للوزن ولا ينافيه وجود هذه الحروف في غيره كما أن كونه شاملا للأفعال وجه آخر له مستقل ولا ينافيه شمول غيره إياها لكن إذا طلب لهذا الوجه مرجح على نحو علم جعل الوجه الآخر مرجحا كعكسه على نحو جعل، وإذا طلب المرجح على عمل فيجعل كثرة الاستعمال وفتح العين مرجح؛ لأن فعل من باب فتح وعمل من باب علم؛ وإنما لم يقل واختص فعل للوزن واحتاج إلى تفصيل حروفا ليمكن كونه وزنا للمتحركات بالحركات المختلفة من نحو ضرب وعلم وحسن؛ إذ لو قال: فعل لما صلح لكونه وزنا لعلم وحسن ويزاد في الرباعي لام ثانية نحو فعلل في نحو جعفر ولام ثالثة في الخماسي نحو فعلل في نحو جحمرش، وإما يزاد اللام دون غيره؛ لأن الزيادة بالآخر أولى فالأولى أن يزاد من جنس الآخر، ولما فرغ من تعريف الصحيح وما يتعلق به شرع في بحث الاشتقاق وما يتعلق به فقال: إذا عرفت هذا "فقولنا" أي مقولنا وملفوظنا الذي هو "الضرب مصدر" في اصطلاح هذا الفن أي فرد مما يصدق عليه المصدر والجملة أعنى "يتولد منه الأشياء التسعة" المذكورة إما خبر بعد خبر أو حال من الضرب "وهو" أي المصدر المصطلح كضرب "أصل" للفعل المصطلح كضرب معروفه لمعروفه ومجهوله لمجهوله إلا أن صيغة بناء المعروف والمجهول من المصدر متحدة اكتفاء بصيغ الأفعال، فإذا قيل: ضرب ضربا علم أن المصدر معلوم فإذا قيل: ضرب ضربا علم أن المصدر مجهول، وإذا لم يذكر الفعل علم بالقرائن "في" جنس "الاشتقاق" لا في جنس آخر من العمل وغيره وستعرف مفهوم الاشتقاق عن قريب إن شاء الله تعالى "عند البصريين" من الصرفيين وإنما قلنا إن المصدر أصل للفعل في الاشتقاق "لأن مفهومه" أي معنى المصدر "واحد" وجزء "ومفهوم الفعل" أي المعنى الذي يفهم منه بحسب الوضع "متعدد" وكل وأما تسمع بالمعيدي فليس بحسبه "لدلالته" أي لدلالة الفعل بحسب الوضع "على الحدث والزمان" أي زمان ذلك الحدث من الأزمنة الثلاثة "والواحد قبل
--------------------------------------------
[শরহ দিকনুকুয] অন্যান্য সব বিষয়ের ওপর তিনি সহীহ (সঠিক শব্দ) এর অনুচ্ছেদকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেহেতু কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণা করা সেটি অনুধাবন করার ওপর নির্ভরশীল, তাই তিনি তার পরিচয় প্রদান করে বলেছেন, "সহীহ"; এখানে সর্বনামের স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার করেছেন এই ইঙ্গিত দিতে যে, এখানে উদ্দেশ্য প্রথমোক্ত বিষয়টি নয়। কেননা প্রথমটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়, আর দ্বিতীয়টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার মূল ধারণা। আর যা বলা হয় যে, কোনো নির্দিষ্ট বিশেষ্য যদি পুনরায় উল্লেখ করা হয় তবে তা প্রথমটির অনুরূপ হয়, তা নিরঙ্কুশ নয়। অর্থাৎ সরফ শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় সহীহ হলো "এমন" শব্দ কাঠামো "যার মধ্যে" 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' অক্ষরের "বিপরীতে" কোনো "হরফে ইল্লত" বা দুর্বল বর্ণ "নেই", যা হলো ওয়াও, ইয়া এবং আলিফ। এবং সেই অক্ষরগুলোর বিপরীতে "তাদঈফ" বা দ্বিত্বও "নেই", অর্থাৎ একই জাতীয় দুটি বর্ণ নেই। "এবং" তাতে কোনো "হামযাহ"ও নেই। এর ফলে "যেমন 'দারাবা' (ضرب)" এর অন্তর্ভুক্ত হয়; কেননা এতে 'ফা' অক্ষরের বিপরীতে 'দদ' (ض), 'আইন' অক্ষরের বিপরীতে 'রা' (ر) এবং 'লাম' অক্ষরের বিপরীতে 'বা' (ب) ছাড়া অন্য কিছু নেই। আর দদ, রা এবং বা-এর কোনটিই হরফে ইল্লত বা হামযাহ নয় এবং এতে একই জাতীয় দুটি বর্ণও নেই। ফলে এর ওপর সংজ্ঞাটি প্রযোজ্য হয় এবং এটি দ্বারা উদাহরণ প্রদান সঠিক হয়। এর মধ্যে 'হাওকালা' (حوقل), 'দারাবা' (ضارب), 'ইয়াদরিবু' (يضرب), 'মাদরুব' (مضروب) এবং 'ইক'আনসাসা' (اقعنسس) এর মতো শব্দগুলোও অন্তর্ভুক্ত হবে। "এবং ফা, আইন ও লাম" অবশিষ্ট অক্ষরগুলোর মধ্য থেকে "ওযন" বা মাপকাঠির জন্য "সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে", "যাতে এতে" অর্থাৎ ওযনের মধ্যে "ঠোঁট, জিহ্বার মধ্যভাগ এবং কণ্ঠনালীর বর্ণসমূহ থেকে" যা প্রধান মাখরাজ বা উচ্চারণস্থল, "কিছু অংশ" অর্থাৎ কোনো বর্ণ থাকে। ওযনের জন্য 'ফা'আল' (فعل) শব্দটিকে সুনির্দিষ্ট করার এটি একটি স্বতন্ত্র কারণ। অন্যান্য শব্দে এসব বর্ণের উপস্থিতি এই সুনির্দিষ্টকরণের পরিপন্থী নয়, যেমনটি ক্রিয়া পদের ক্ষেত্রে ব্যাপক হওয়া এর জন্য অন্য একটি স্বতন্ত্র কারণ; যদিও অন্য শব্দও ক্রিয়া পদের ক্ষেত্রে ব্যাপক হতে পারে কিন্তু তাতে এই সুনির্দিষ্টকরণ ক্ষুণ্ণ হয় না। তবে যদি এই কারণের জন্য 'আলিমা' (علم) এর ওপর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব চাওয়া হয়, তবে অন্য কারণটিকে শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হিসেবে ধরা হবে এবং এর উল্টোটিও হতে পারে। আর যদি 'আমালা' (عمل) এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব চাওয়া হয়, তবে ব্যবহারের আধিক্য এবং 'আইন' অক্ষরে ফাতহা থাকাকে শ্রেষ্ঠত্বের কারণ ধরা হবে; কারণ 'ফা'আলা' (فعل) শব্দটি ফাতহা বা জবর বিশিষ্ট অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত, আর 'আমালা' (عمل) হলো 'আলিমা' (علم) এর অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সরাসরি কেন 'ফা'আলা' (فعل) ওযনের জন্য সুনির্দিষ্ট এ কথা না বলে অক্ষরের বিস্তারিত আলোচনা করলেন, যাতে এটি 'দারাবা', 'আলিমা' এবং 'হাসুনা' এর মতো বিভিন্ন হরকতের ক্ষেত্রে ওযন হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ তিনি যদি কেবল 'ফা'আলা' (ফাতহা যোগে) বলতেন, তবে তা 'আলিমা' বা 'হাসুনা' এর ওযন হওয়ার যোগ্য হতো না। রুবায়ী বা চার অক্ষর বিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় একটি 'লাম' বৃদ্ধি করা হয় যেমন 'ফা'লালা' (فعلل), যেমন 'জা'ফার' (جعفر)। আর খুমাসী বা পাঁচ অক্ষর বিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে তৃতীয় একটি 'লাম' বৃদ্ধি করা হয় যেমন 'ফা'লাল্লা' (فعلل), যেমন 'জাহমারিশ' (جحمرش)। অন্য বর্ণের পরিবর্তে কেবল 'লাম' বর্ণই বৃদ্ধি করা হয় কারণ শেষে বৃদ্ধি করাই উত্তম, তাই শেষ বর্ণের সমজাতীয় বর্ণ বৃদ্ধি করা অধিক শ্রেয়। যখন তিনি সহীহ এর সংজ্ঞা এবং এর সংশ্লিষ্ট আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিনি ইশতিাকাক (শব্দমূল থেকে উদ্ভব) এবং এর সংশ্লিষ্ট আলোচনা শুরু করে বললেন: যখন তুমি এটি জানতে পারলে, তখন "আমাদের কথা" অর্থাৎ আমাদের উচ্চারিত শব্দ যা হলো "আদ-দারবু (প্রহার করা) একটি মাসদার" বা ক্রিয়ামূল এই শাস্ত্রের পরিভাষায়; অর্থাৎ এটি সেই সব বিষয়ের একটি যা মাসদার হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এবং এই বাক্যটি অর্থাৎ "তা থেকে নয়টি বিষয় উৎপন্ন হয়" যা উল্লেখ করা হয়েছে, এটি হয় সংবাদের পর সংবাদ অথবা 'আদ-দারবু' এর অবস্থা (হাল)। "এবং এটি" অর্থাৎ পরিভাষাগত মাসদার যেমন 'দারবা', এটি শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে "মূল" হিসেবে গণ্য হয়, যেমন পরিচিত বা মারুফ ক্রিয়ার জন্য মারুফ মাসদার এবং মাজহুল ক্রিয়ার জন্য মাজহুল মাসদার। তবে মাসদার থেকে মারুফ এবং মাজহুল গঠনের পদ্ধতি একই রাখা হয়েছে ক্রিয়ার রূপান্তরের ওপর নির্ভর করে। সুতরাং যখন বলা হয়: 'দারাবা দারবান' (সে প্রহার করেছে প্রহার করা), তখন বোঝা যায় মাসদারটি মারুফ। আর যখন বলা হয়: 'দুরিবা দারবান' (সে প্রহৃত হয়েছে প্রহার করা), তখন বোঝা যায় মাসদারটি মাজহুল। আর যদি ক্রিয়া উল্লেখ না থাকে তবে তা প্রাসঙ্গিকতা (কারিনা) দেখে বোঝা যায়। এটি "ইশতিাকাক" বা শব্দ উৎপত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আমল বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে নয়। শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি ইশতিাকাক এর ধারণা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটি "বসরী" সরফ শাস্ত্রবিদদের "মতে"। আমরা যে বললাম মাসদার হলো ইশতিাকাকের ক্ষেত্রে ক্রিয়ার মূল, "তার কারণ হলো এর ধারণা" অর্থাৎ মাসদারের অর্থ হলো "একক" এবং একটি অংশ। "আর ক্রিয়ার ধারণা" অর্থাৎ শব্দ গঠনের দিক থেকে যে অর্থ বোঝা যায় তা "বহুত্ববোধক" এবং সামগ্রিক। তবে 'আসমা'আ বিল মু'আইদী' এর প্রবাদটি এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ শব্দ গঠনের দিক থেকে "ক্রিয়াটি নির্দেশ করে ঘটনা এবং কালের ওপর", অর্থাৎ সেই ঘটনার সময় যা তিন কালের কোনো এক কাল। আর "একক বহুত্বের আগে থাকে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৮)
[شرح ديكنقوز] المتعدد" ولا شك أن ما يدل على الواحد أعنى المصدر أيضا يكون قبل ما يدل على المتعدد أعنى الفعل، وفيه نظر لأنه يجوز أن يكون المصدر باعتبار مفهومه متقدما وباعتبار وضعه متأخر "وإذا كان" المصدر "أصلا للأفعال" في الاشتقاق "يكون أصلا" أيضا "لمتعلقاتها" أي لمتعلقات الأفعات من اسمي الفاعل والمفعول وغيرهما من حيث تعلقها بها، وإن لم تكن تلك العلة موجودة فيها "أو" نقول المصدر أصل "لأنه" أي المصدر "اسم" لصدق التعريف عليه "والاسم مستغن عن الفعل" أي غير محتاج إليه في الإفادة التي هي الغرض من وضع الألفاظ لأن التركيب من اسمين يفيد والفعل محتاج فيها إلى الاسم؛ لأن التركيب من فعلين بدون الاسم لا يفيد ولا شك أن المحتاج إليه أصل للمحتاج وفيه أيضا نظر؛ لأن الأصالة في الإفادة عند التركيب لا تستلزم التقدم في الوضع والكلام فيه "و" نقول "أيضا" كالدليلين الأولين في الاستدلال على أصالة المصدر في الاشتقاق أنه "يقال له" أي يطلق على ما صدق عليه الاسم الذي هو المصدر كضرب "مصدرا" أي هذا الاسم "لأن هذه الأشياء" السبعة المذكورة "تصدر عنه" أي عما صدق عليه المصدر فإن معنى المصدر موضع الصدور فضرب مثلا إنما سمى باسم المصدر لكونه موضع صدور ضرب وغيره من الأشياء الثمانية، وفيه أيضا نظر لأن باب المجاز مفتوح فلم لا يجوز أن يكون لفظ المصدر مصدرا ميميا بمعنى الصدور أو يكون بمعنى الصادر كالمجاز بمعنى الجائز أو يكون بمعنى مصدرية كضرب الأمير ومع هذا الاحتمال لا حجة للبصريين فيه والحجة القوية لهم أن يقولوا كل فرع يصاغ من أصل ينبغي أن يكون فيه ما في الأصل مع زيادة هي الغرض من الصوغ كالباب من الساج والخاتم من الفضة وهكذا حال الفعل فيه معنى المصدر مع زيادة أحد الأزمنة الثلاثة التي هي الغرض من وضع الفعل لأنه كان يحصل في نحو قولك لزيد ضرب نسبة الضرب إلى زيد، لكنهم طلبوا بيان زمان الفعل على وجه أخصر فوضعوا الفعل الدال بجوهر حروفه على المصدر أي على الحدث وبوزنه على الزمان؛ ولما وقع ذكر الاشتقاق على أنه قيد في
--------------------------------------------
[শরহে দিকনুকুয] একাধিক বস্তু নির্দেশক। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যা একক বস্তু নির্দেশ করে—অর্থাৎ উৎস-শব্দ—তা একাধিক বস্তু নির্দেশক তথা ক্রিয়ার পূর্বেই বিদ্যমান থাকে। তবে এই যুক্তিতে আপত্তি আছে; কারণ হতে পারে যে, উৎস-শব্দটি তার ভাবগত দিক থেকে অগ্রগামী কিন্তু শব্দ গঠনের দিক থেকে পশ্চাৎগামী। "আর যখন" উৎস-শব্দটি শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে "ক্রিয়াসমূহের মূল হবে", তখন এটি সেগুলোর "অনুষঙ্গগুলোরও মূল হবে"। অর্থাৎ, কর্তৃবাচক ও কর্মবাচক বিশেষ্যসহ অন্যান্য যা কিছু ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত, সেগুলোরও মূল হবে; যদিও সেগুলোতে (ক্রিয়ার মতো) সেই নির্দিষ্ট কারণটি বিদ্যমান নেই। "অথবা" আমরা বলি, উৎস-শব্দটি মূল "কারণ এটি" অর্থাৎ উৎস-শব্দটি হলো একটি "বিশেষ্য", কারণ এর ওপর বিশেষ্যের সংজ্ঞা প্রযোজ্য হয়। "আর বিশেষ্য ক্রিয়ার মুখাপেক্ষী নয়", অর্থাৎ অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে না; অথচ শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যই হলো অর্থ প্রকাশ করা। কেননা দুটি বিশেষ্যের সমন্বয়ে গঠিত বাক্য অর্থ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু ক্রিয়া অর্থ প্রকাশের জন্য বিশেষ্যের মুখাপেক্ষী। কারণ বিশেষ্য ছাড়া দুটি ক্রিয়ার সংমিশ্রণ কোনো অর্থ প্রদান করে না। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যার ওপর নির্ভর করা হয় তা নির্ভরশীল বস্তুর জন্য মূল। এই যুক্তিতেও আপত্তি আছে; কারণ বাক্য গঠনের সময় অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে মৌলিকত্ব শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়াকে অপরিহার্য করে না, অথচ এখানে আলোচনা শব্দ গঠন নিয়ে। "এবং" আমরা "আরও" বলি—উৎস-শব্দকে শব্দ গঠনের মূল হিসেবে প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রথম দুটি দলিলের মতো—যে, "একে বলা হয়" অর্থাৎ উৎস-শব্দ হিসেবে যা গণ্য হয় (যেমন: প্রহার করা) তাকে "উৎস" (মাসদার) বলা হয়। অর্থাৎ এই নামটিকে উৎস বলা হয়, "কারণ এই সাতটি বস্তু" যা উল্লেখ করা হয়েছে "তা থেকে নির্গত হয়"। অর্থাৎ যা থেকে উৎস-শব্দটি সত্য প্রমাণিত হয়। কারণ 'উৎস' (মাসদার) শব্দের অর্থ হলো নির্গত হওয়ার স্থান। যেমন 'প্রহার' শব্দটিকে উৎস বলা হয় কারণ এটি 'প্রহার করা' ক্রিয়া এবং উল্লেখিত অন্য আটটি বিষয়ের নির্গত হওয়ার স্থান। এখানেও আপত্তি আছে; কারণ রূপক ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত। কেন এমন হতে পারে না যে, 'উৎস' শব্দটি 'নির্গত হওয়া' অর্থে হবে, অথবা এটি 'নিঃসৃত' অর্থে ব্যবহৃত হবে? যেমন 'জায়েয' অর্থে 'মাজায' শব্দটির ব্যবহার হয়। অথবা এটি 'উৎসত্ব' অর্থে হতে পারে, যেমন 'নেতার প্রহার'। এই সম্ভাবনার উপস্থিতিতে বসরাবাসীদের পক্ষে এটি কোনো অকাট্য দলিল হতে পারে না। তবে তাদের পক্ষে শক্তিশালী যুক্তি হলো এই যে, তারা বলেন: মূল থেকে গঠিত প্রতিটি শাখা শব্দে মূলের বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক, সাথে অতিরিক্ত কিছু থাকবে যা সেই শব্দ গঠনের উদ্দেশ্য। যেমন সেগুন কাঠ থেকে তৈরি দরজা, কিংবা রূপা থেকে তৈরি আংটি। ক্রিয়ার অবস্থাও তেমনই; এতে উৎস-শব্দের অর্থের সাথে তিনটি কালের যেকোনো একটির আধিক্য থাকে, যা মূলত ক্রিয়া গঠনের উদ্দেশ্য। কারণ যখন আপনি বলেন 'জায়েদের প্রহার', তখন এটি দ্বারা প্রহারকে জায়েদের দিকে সম্বন্ধ করা বোঝায়। কিন্তু তারা সংক্ষেপে ক্রিয়ার কাল প্রকাশ করতে চেয়েছেন। তাই তারা এমন একটি শব্দ গঠন করেছেন যা তার মূল অক্ষর দ্বারা উৎস-শব্দকে বা কাজকে বোঝায় এবং তার রূপ (ওজন) দ্বারা কালকে বোঝায়। এবং যেহেতু শব্দ গঠনের আলোচনা এখানে শর্ত হিসেবে এসেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৯)
[شرح ديكنقوز] الحكم بأصالة الصدر أو الفعل وإثباتها الذي هو المقصود الأصلي من الكلام في هذا المقام، وكان المراد منه في محل النزاع قسما منه عرفه أولا وقسمه إلى أقسامه، ثانيا وبين ما هو المراد منه في محل النزاع، ثالثا على ما هو مقتضى الترتيب إلا أنه أخر عن أدلة أحد المتخاصمين ولم يبادر إليها عقيب ذكر ذلك الحكم لكونه غير مقصود أصلي كما أشرنا إليه لا أنه قدمها على ذكر مذهب الآخر وأدلته؛ إشارة إلى حقية مذهب الفريق الأول كما نبه عليها بقوله واشتقاق تسعة أشياء من كل مصدر وسينبه عليه أيضا بقوله الأفعال التي تشتق من المصدر فكأنه جعله حكما متفقا عليه لا خلاف فيه لأحد فذكر جميع ما يتعلق به، ثم لما فرغ منه استشعر خلافا فذكره "الاشتقاق" في اللغة أخذ شق الشيء فهو متعد وفي الاصطلاح يحد تارة باعتبار العلم وتارة باعتبار العمل، فإن اعتبرناه من حيث إنه صادر عن الواضع احتجنا إلى العلم به لا إلى عمله فاحتجنا إلى تحديده بحسب العلم، وإن اعتبرناه من حيث يحتاج أحدنا إلى عمله عرفناه باعتبار العمل، أما تعريفه باعتبار العمل فهو أن تأخذ من اللفظ ما يناسبه في التركيب فتجعله دالا على معنى يناسب معناه، وأما تعريفه بحسب العلم فـ"هو" كما قال "أن تجد" أنت أي علمك على أن تجد من أفعال القلوب لا بمعنى المصادفة "بين اللفظين" مفعول ثان لتجد ومفعول الأول قوله: "تناسبا" وهو أعم من الموفقة "في اللفظ" أي في تركيب حروفه الأصول فإن حروف الزيادة كما في الاستعجال والاستباق لا عبرة بها احترز به عن نحو قعد وجلس "والمعنى" احترز به عن نحو ضرب بمعنى الدق وضرب بمعنى ذهب، وهذا تعريف لمطلق الاشتقاق المتناول لأنواعه الثلاثة وقدم التناسب في اللفظ؛ لأن الأخذ المعتبر في الاشتقاق باعتبار العمل الذي هو المقصود من الاشتقاق بحسب العلم إنما يتحقق في اللفظ وللتنبيه على ذلك المقصود اهتم بتقديم بين اللفظين على تناسبا وكذا انقسامه على أقسامه إنما هو باعتبار اللفظ، ولذا لم يتعرض فيها للتناسب المعنوي مع أنه معتبر فيها على ما سنشير إليه إن شاء الله تعالى، ومن قدم التناسب في المعنى كالميداني نظر إلى أن هذا الأخذ إنما هو المعنى فلكل وجهة إلا أن نظر المصنف أنسب للنص. والحاصل من التعريف العلم بالاشتقاق بقرينة حمل الوجدان عليه فكأنه قيل العلم بالاشتقاق هو أن تجد بين اللفظين تناسبا في التركيب والمعنى فتعرف ارتداد أحدهما إلى الآخر وأخذه منه، فأشار بذكر اللفظين وذكر التناسب في اللفظ والمعنى إلى أنه لا بد بين المشتق والمشتق منه من مغايرة بوجه واتحاد بوجه بحسب المعنى وكذا من مغايرة من جهة ولو تقديرا واتحاد من جهة بحسب اللفظ؛ لأن معنى التناسب يقتضي ذلك فيخرج نحو المقتل مصدرا والقتل إذ لا تغاير بينهما في المعنى، ويخرج أيضا نحو ضرب بمعنى الدق وضرب بمعنى الذهاب إذ لا اتحاد بينهما بوجه في المعنى، وكذلك يخرج نحو ضرب بمعنى المضروب وضرب بمعنى الحدث إذ لا تغاير بينهما في اللفظ، ويخرج أيضا ذئب وسرحان إذ لا اتحاد بينهما بوجه في اللفظ ويدخل فيه ضرب والضرب وجذب وجبذ ونهق ونعق؛ لأن التناسب أعم من الموافقة كما ذكرنا ولا شك أن بين الأولين وبين الأوسطين وبين الأخيرين مناسبة كما سنذكره إن شاء الله تعالى، وإنما قلنا في المغايرة اللفظية ولو تقريرا ليدخل فيه نحو الطلب وطلب فإن حركة آخر الفعل بنائية وحركة آخر المصدر إعرابية، والأولى كالجزء من الكلمة لثباتها وبناء الكلمة عليها وإن كان أصلها السكون إلا أنها لم تستعمل على الأصل في غيرها حال الوقف، والثانية عارضة لا اعتداد بها لانتفائها عند عمل العامل وتحقق استعمال الاسم ساكنا في غير حال الوقف أيضا وبهذا سقط ما قيل إن عنيت بالحركة الحركة الشخصية من الرفع وغيره سلمنا أنها غير لازمة في الاسمي، ولكن لم قلت إن مطلق حركة الإعراب غير لازمة ونظير الاشتقاق ليس في حركة معينة، بل في مطلق الحركة وإن عنيت بها مطلق الحركة منعنا
--------------------------------------------
[শরহ দিকনিকূজ] মূল হিসেবে 'সদর' (ক্রিয়ামূল) অথবা 'ফেল' (ক্রিয়া)-এর প্রাধান্য এবং তা সাব্যস্ত করার হুকুম প্রদান করা, যা এই স্থানে আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। বিবাদের স্থলে এর উদ্দেশ্য ছিল এর একটি অংশ, যা তিনি প্রথমে সংজ্ঞায়িত করেছেন এবং দ্বিতীয়ত একে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন। তৃতীয়ত, বিন্যাসের দাবি অনুযায়ী বিবাদের স্থলে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটিকে দুই বিবাদমান পক্ষের একজনের দলিলের পরে উল্লেখ করেছেন এবং হুকুমটি উল্লেখ করার পরপরই সেদিকে ধাবিত হননি; কারণ আমরা যেমন ইঙ্গিত করেছি, এটি মূল উদ্দেশ্য ছিল না। এমন নয় যে, তিনি এটিকে অন্য পক্ষের মতবাদ ও দলিলের উপরে প্রাধান্য দিয়েছেন; বরং এটি প্রথম পক্ষের মতবাদের সত্যতার দিকে ইঙ্গিতস্বরূপ, যেমনটি তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সচেতন করেছেন: "প্রত্যেক ক্রিয়ামূল থেকে নয়টি বিষয় ব্যুৎপন্ন হওয়া"। এবং তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমেও এটি সচেতন করবেন: "সেসব ক্রিয়া যা ক্রিয়ামূল থেকে ব্যুৎপন্ন হয়"। ফলে তিনি যেন একে একটি সর্বসম্মত হুকুম হিসেবে গণ্য করেছেন যাতে কারো কোনো দ্বিমত নেই, তাই তিনি এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু উল্লেখ করেছেন। অতঃপর যখন তিনি তা থেকে ফারেগ হলেন, তখন একটি মতভেদের অবকাশ অনুভব করলেন এবং তা উল্লেখ করলেন। আভিধানিক অর্থে "ইসতিশাক" (ব্যুৎপত্তি) হলো কোনো বস্তুর অংশ গ্রহণ করা, সুতরাং এটি একটি সকর্মক ক্রিয়া। আর পারিভাষিক অর্থে একে কখনো জ্ঞানের বিচারে এবং কখনো কর্মের বিচারে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যদি আমরা একে প্রবর্তকের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়ার দিক থেকে বিবেচনা করি, তবে আমাদের এর জ্ঞানের প্রয়োজন হবে, কর্মের নয়; ফলে জ্ঞানের বিচারে এর সংজ্ঞায়নের প্রয়োজন হবে। আর যদি আমরা একে আমাদের কর্মের প্রয়োজনের দিক থেকে বিবেচনা করি, তবে আমরা কর্মের বিচারে এর সংজ্ঞা দেব। কর্মের বিচারে এর সংজ্ঞা হলো: শব্দ থেকে এমন কিছু গ্রহণ করা যা গঠনে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, অতঃপর তাকে এমন একটি অর্থের নির্দেশক বানানো যা তার অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর জ্ঞানের বিচারে এর সংজ্ঞা হলো—যেমনটি তিনি বলেছেন—"তোমার খুঁজে পাওয়া", অর্থাৎ তোমার জানা; এখানে "খুঁজে পাওয়া" শব্দটি হৃদয়ের ক্রিয়া (আফআলুল কুলুব) থেকে এসেছে, হঠাৎ কোনো কিছু পাওয়ার অর্থে নয়। "দুই শব্দের মাঝে" এটি "তাজিদ" (খুঁজে পাওয়া) ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম (মাফউল), আর প্রথম কর্ম হলো তাঁর এই উক্তি: "সামঞ্জস্য", যা কেবল মিল বা ঐক্যের চেয়েও ব্যাপক। "শব্দরূপে" অর্থাৎ তার মূল বর্ণমালার বিন্যাসে; কারণ অতিরিক্ত বর্ণ—যেমন "ইস্তি'জাল" এবং "ইস্তিবাক" শব্দে—বিবেচ্য নয়। এর মাধ্যমে "কাআদা" এবং "জালাসা" থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে। "এবং অর্থে" এর মাধ্যমে "দরাবা" (আঘাত করা অর্থে) এবং "দরাবা" (চলে যাওয়া অর্থে) থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে। এটি নিরঙ্কুশ ব্যুৎপত্তির সংজ্ঞা যা এর তিনটি প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি শব্দরূপের সামঞ্জস্যকে আগে উল্লেখ করেছেন; কারণ কর্মের বিচারে ব্যুৎপত্তির ক্ষেত্রে যে গ্রহণ করাটি বিবেচ্য—যা জ্ঞানের বিচারে ব্যুৎপত্তির মূল লক্ষ্য—তা শব্দরূপেই বাস্তবায়িত হয়। সেই লক্ষ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করার জন্য তিনি "সামঞ্জস্য"-এর আগে "দুই শব্দের মাঝে" কথাটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তেমনিভাবে এর বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হওয়াও শব্দরূপের বিচারে। এই কারণেই তিনি এখানে আর্থিক বা অর্থগত সামঞ্জস্যের প্রসঙ্গ আনেননি, যদিও ইনশাআল্লাহ আমরা সামনে যেমন ইঙ্গিত করব, সেখানে সেটি বিবেচ্য। আর যারা অর্থগত সামঞ্জস্যকে আগে রেখেছেন—যেমন ময়দানী—তারা লক্ষ্য করেছেন যে, এই গ্রহণ করাটি মূলত অর্থের ক্ষেত্রেই হয়। সুতরাং প্রত্যেকেরই একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তবে গ্রন্থকারের দৃষ্টিভঙ্গি মূল পাঠের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সংজ্ঞা থেকে অর্জিত ফলাফল হলো—ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, যেহেতু "খুঁজে পাওয়া" কথাটি জ্ঞানের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং যেন বলা হয়েছে: ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে জ্ঞান হলো দুই শব্দের গঠন ও অর্থের মাঝে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া, যার ফলে একটিকে অন্যটির দিকে প্রত্যাবর্তনকারী এবং তা থেকে গৃহীত হিসেবে জানা যায়। তিনি "দুই শব্দ" এবং "শব্দ ও অর্থের সামঞ্জস্য" উল্লেখ করার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যে, ব্যুৎপন্ন এবং যা থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে—এই দুইয়ের মাঝে কোনো না কোনো দিক থেকে ভিন্নতা এবং অর্থের দিক থেকে কোনো না কোনো দিক থেকে অভিন্নতা থাকা আবশ্যক। তেমনিভাবে শব্দরূপের বিচারেও কোনো এক দিক থেকে ভিন্নতা (তা কাল্পনিক হলেও) এবং কোনো এক দিক থেকে অভিন্নতা থাকতে হবে। কারণ সামঞ্জস্যের অর্থ এরই দাবি রাখে। এর ফলে "মাকতাল" (ক্রিয়ামূল হিসেবে) এবং "কাতল" এর মতো শব্দগুলো বের হয়ে যাবে, কারণ অর্থের দিক থেকে তাদের মাঝে কোনো ভিন্নতা নেই। আবার "দরাবা" (পিটানো অর্থে) এবং "দরাবা" (চলে যাওয়া অর্থে) এর মতো শব্দগুলোও বের হয়ে যাবে, কারণ অর্থের দিক থেকে তাদের মাঝে কোনোভাবেই অভিন্নতা নেই। একইভাবে শব্দরূপের ভিন্নতা না থাকায় "দরাবা" (আহত ব্যক্তি অর্থে) এবং "দরাবা" (ক্রিয়া অর্থে) বের হয়ে যাবে। এবং "যিব" ও "সিরহান" বের হয়ে যাবে, কারণ শব্দরূপের দিক থেকে তাদের মাঝে কোনো ঐক্য নেই। আর এর অধীনে "দরাবা" ও "আদ-দারবু", "জাযাবা" ও "জাবাযা", এবং "নাহাকা" ও "নাআকা" অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ আমরা যেমন উল্লেখ করেছি, সামঞ্জস্য কথাটি ঐক্যের চেয়েও ব্যাপক। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রথম জোড়া, দ্বিতীয় জোড়া এবং শেষ জোড়ার মাঝে সামঞ্জস্য বিদ্যমান, যা ইনশাআল্লাহ আমরা সামনে উল্লেখ করব। আমরা শব্দগত ভিন্নতার ক্ষেত্রে "তা কাল্পনিক হলেও" একারণেই বলেছি যাতে "আত-তালাব" এবং "তালাবা" এর মতো শব্দগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; কারণ ক্রিয়ার শেষের হরকতটি গঠনগত (বিনায়ী) আর ক্রিয়ামূলের শেষের হরকতটি পরিবর্তনশীল (ই'রাবি)। প্রথমটি শব্দের স্থায়িত্ব এবং এর ওপর শব্দের ভিত্তি হওয়ার কারণে শব্দেরই অংশস্বরূপ, যদিও এর মূল ছিল সাকিন; কিন্তু থামা ব্যতীত অন্য অবস্থায় এটি মূলের ওপর ব্যবহৃত হয় না। আর দ্বিতীয়টি আপতিত বিষয় যার কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ আমলকারীর ক্রিয়ায় তা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং থামা ছাড়াও বিশেষ্যের সাকিন হিসেবে ব্যবহার প্রমাণিত। এর মাধ্যমে সেই আপত্তির অবসান ঘটল যা বলা হয়েছিল যে—যদি আপনি হরকত দ্বারা পেশ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট হরকত বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমরা মেনে নিলাম যে তা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়, কিন্তু কেন বললেন যে নিরঙ্কুশ ই'রাবি হরকত অপরিহার্য নয়? ব্যুৎপত্তির সাদৃশ্য তো কোনো নির্দিষ্ট হরকতে নয় বরং নিরঙ্কুশ হরকতে। আর যদি আপনি নিরঙ্কুশ হরকত বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমরা তা অস্বীকার করব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১০)
[شرح ديكنقوز] عدم اللزوم. ولما فرغ من تعريف الاشتقاق شرع في تقسيمه فقال "وهو" أي الاشتقاق المعرف "على ثلاثة أنواع" أحدها اشتقاق "صغير وهو" علم "أن يكون بينهما" أي بين اللفظين "تناسب" أي توافق "في الحروف والترتيب" أي ترتيب تلك الحروف وفي المعنى أيضا "نحو" اشتقاق "ضرب" ماضيا "من الضرب" مصدرا "و" ثانيها اشتقاق "كبير وهو" علم "أن يكون بينهما تناسب في اللفظ والمعنى دون الترتيب" سواء كان مع الموافقة في المعنى "نحو" اشتقاق "جبذ من الجذب" وهما متوافقان في المعنى أو مع المناسبة فيه بدون الموافقة نحو ثلم من الثلب والأول الإخلال بالحائط والثاني الإخلال بالعرض فهما متناسبان في المعنى "و" ثالثها اشتقاق "أكبر وهو أن يكون بينهما تناسب في المخرج والمعنى" فإن التناسب في المخرج تناسب في الحروف باعتبار المخرج "نحو" اشتقاق "نعق من النهق" والأول صوت الغراب والثاني صوت الحمار فهما متناسبان في المعنى وتناسبهما في المخرج ظاهر؛ إذ العين والهاء كلاهما من الحلق ويعلم من تعريفاتها وجه الحصر فيها لأنه إن اعتبر الموافقة في الحروف مع الترتيب فهو صغير سمي به لكفاية تأمل قليل في العلم بالاشتقاق فيه بسبب قلة العمل وإن اعتبر الموافقة في الحروف بدون الترتيب فهو كبير لاحتياجه إلى تأمل كثير في العلم بالاشتقاق بسبب كثرة العمل فيه وإن اعتبر عدم تناسب الحروف فهو أكبر لاحتياجه إلى تأمل أكثر في العلم بالاشتقاق بسبب تبدل الحروف فيه. ولما فرغ من تعريف الاشتقاق وتقسيمه إلى أقسامه وتعريف كل قسم منها شرع يبين المراد منه في محل النزاع فقال: "فالمراد بالاشتقاق المذكور ها هنا" أي في قوله وهو أصل في الاشتقاق، وفي قوله واشتقاق تسعة أشياء من كل مصدر "هو اشتقاق صغير" فإنه الكامل والمتبادر عند الإطلاق وإنما كان هو المراد لأن النزاع إنما هو في الأصالة في هذا الاشتقاق. ولما فرغ من بيان مذهب الفريق الأول وتقرير أدلتهم وما يتعلق به من بحث الاشتقاق شرع في بيان مذهب الفريق الثاني فقال
--------------------------------------------
[দিকনকুযের ব্যাখ্যা] অপরিহার্যতা না থাকা। যখন তিনি ব্যুৎপত্তির সংজ্ঞা শেষ করলেন, তখন এর প্রকারভেদ বর্ণনা করা শুরু করলেন এবং বললেন "এবং তা" অর্থাৎ সংজ্ঞায়িত ব্যুৎপত্তি "তিন প্রকার"। এর একটি হলো "ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তি এবং তা" হলো এটি জানা "যে উভয়ের মধ্যে" অর্থাৎ শব্দ দুটির মধ্যে "সাদৃশ্য থাকবে" অর্থাৎ মিল থাকবে "অক্ষর ও বিন্যাসে" অর্থাৎ সেই অক্ষরগুলোর ক্রমানুসারে এবং অর্থেরও মিল থাকবে। "যেমন" অতীতকালীন ক্রিয়া "দারাবা" এর ব্যুৎপত্তি "আদ-দারব" নামক ক্রিয়ামূল থেকে। "এবং" দ্বিতীয়টি হলো "বৃহৎ ব্যুৎপত্তি এবং তা" হলো এটি জানা "যে উভয়ের মধ্যে শব্দ ও অর্থে সাদৃশ্য থাকবে কিন্তু বিন্যাসে নয়", এটি অর্থের মিলের সাথে হোক "যেমন" "জাবাযা" এর ব্যুৎপত্তি "আল-জাযব" থেকে, যেখানে এ দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে হুবহু এক; অথবা এটি অর্থের পুরোপুরি মিল না হয়ে কেবল সংশ্লিষ্টতার সাথে হোক যেমন "সালম" এর ব্যুৎপত্তি "সালব" থেকে, যেখানে প্রথমটির অর্থ দেয়ালের ক্ষতি আর দ্বিতীয়টির অর্থ সম্মানের ক্ষতি, সুতরাং এ দুটি অর্থের দিক থেকে পরস্পর সংশ্লিষ্ট। "এবং" তৃতীয়টি হলো "সর্ববৃহৎ ব্যুৎপত্তি এবং তা হলো উভয়ের মধ্যে উচ্চারণের স্থান ও অর্থে সাদৃশ্য থাকা"। কেননা উচ্চারণের স্থানে সাদৃশ্য থাকা মূলত উচ্চারণের স্থানের বিচারে অক্ষরগুলোতে সাদৃশ্য থাকা। "যেমন" "নাআকা" এর ব্যুৎপত্তি "নাহাকা" থেকে। প্রথমটি কাকের ডাক এবং দ্বিতীয়টি গাধার ডাক, সুতরাং এ দুটি অর্থের দিক থেকে সংগতিপূর্ণ এবং উচ্চারণের স্থানে এদের সাদৃশ্য স্পষ্ট; কারণ আইন ও হা উভয়ই কণ্ঠনালীর অক্ষর। এগুলোর সংজ্ঞা থেকে এগুলোকে এই তিন প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণ জানা যায়। কারণ যদি অক্ষরের মিল ও বিন্যাস বিবেচনা করা হয় তবে তা ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তি, এর নামকরণের কারণ হলো এতে কাজ কম হওয়ার কারণে ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে সামান্য চিন্তাই যথেষ্ট। আর যদি বিন্যাস ছাড়াই অক্ষরের মিল বিবেচনা করা হয় তবে তা বৃহৎ ব্যুৎপত্তি, কারণ এতে কাজ বেশি হওয়ার কারণে ব্যুৎপত্তি জানতে অনেক চিন্তার প্রয়োজন হয়। আর যদি অক্ষরের বিন্যাসের মিল না থাকে তবে তা সর্ববৃহৎ ব্যুৎপত্তি, কারণ এতে অক্ষর পরিবর্তনের ফলে ব্যুৎপত্তি জানতে আরও বেশি চিন্তার প্রয়োজন হয়। যখন তিনি ব্যুৎপত্তির সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ এবং প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা প্রদান শেষ করলেন, তখন তিনি বিরোধপূর্ণ স্থানে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বর্ণনা করা শুরু করলেন এবং বললেন: "সুতরাং এখানে উল্লেখিত ব্যুৎপত্তি দ্বারা উদ্দেশ্য" অর্থাৎ তাঁর এই উক্তিতে যে 'এটি ব্যুৎপত্তির মূল', এবং তাঁর এই উক্তিতে যে 'প্রত্যেক ক্রিয়ামূল থেকে নয়টি বিষয়ের ব্যুৎপত্তি' তা "হলো ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তি"। কেননা এটিই পূর্ণাঙ্গ এবং সাধারণ আলোচনায় এটিই প্রথমে বোধগম্য হয়। আর এটিই উদ্দেশ্য হওয়ার কারণ হলো, মৌলিকত্বের বিতর্ক কেবল এই ব্যুৎপত্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যখন তিনি প্রথম পক্ষের মতবাদ শেষ করলেন এবং তাদের দলিলসমূহ ও ব্যুৎপত্তি সংক্রান্ত আলোচনা সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন, তখন দ্বিতীয় পক্ষের মতবাদ বর্ণনা করা শুরু করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
[شرح ديكنقوز]"قال الكوفيون ينبغي أن يكون الفعل أصلا" والمصدر فرعا له "لأن إعلاله" أي إعلال الفعل "مدار" وسبب "لإعلال المصدر وجودا" أي من جهة الوجود، أي إن وجد إعلال الفعل وجد إعلال المصدر "و" مدار "عدما أي إن عدم إعلال الفعل عدم إعلال المصدر والدور إن ترتب الشيء على ما له صلوح العلية وسمي الشيء الأول المترتب الدائر والشيء الثاني المترتب عليه المدار "أما" كون إعلال الفعل مدار الإعلال المصدر "وجودا ففي" مثل "يعد" أصله يوعد "عدة" هي مصدر يعد أصله وعدة، ولما حذف الواو من يوعد لعلة توجب الحذف حذف من وعدة وإن لم توجد فيها تلك العلة تبعا له "و" مثل "قام قيام" أصلهما قوم قواما فلما أعل الأول أعل الثاني، وإن انتفى موجب الإعلال فيه تبعا للأول "وأما" كون إعلال الفعل مدار إعلال المصدر "عدما ففي يوجل وجلا وقاوم قواما" فلما لم يعل الفعلان لم يعل المصدران تبعا لهما "ومداريته" أي مدارية الفعل من جهة الإعلال للمصدر لا شك في أنها "تدل على أصالته" أي على أصالة الفعل للمصدر "وأيضا" أي كما أن الفعل مدار من جهة الإعلال للمصدر كذلك "يؤكد الفعل به" أي بالمصدر "نحو ضربت ضربا" فإن ضربا مصدر مؤكد للفعل أعنى ضربت وكيف لا يكون مؤكدا له
--------------------------------------------
[শরাহ দিকনুকুয]"কুফীগণ বলেছেন, ক্রিয়াকেই মূল হওয়া উচিত" এবং মাসদার (ক্রিয়া-মূল) হবে তার শাখা, "কেননা এর ইলাল (বর্ণের পরিবর্তন)" অর্থাৎ ক্রিয়ার ইলাল হলো "কেন্দ্রবিন্দু" ও কারণ "মাসদারের ইলালের অস্তিত্বের ক্ষেত্রে"। অর্থাৎ অস্তিত্বের দিক থেকে; যদি ক্রিয়ার ইলাল পাওয়া যায় তবে মাসদারের ইলালও পাওয়া যাবে। "এবং" কেন্দ্রবিন্দু "অনস্তিত্বের ক্ষেত্রেও"। অর্থাৎ যদি ক্রিয়ার ইলাল না পাওয়া যায় তবে মাসদারের ইলালও পাওয়া যাবে না। আর ‘দওর’ (আবর্তন) হলো কোনো বস্তুকে এমন বিষয়ের ওপর বিন্যস্ত করা যা কারণ হওয়ার যোগ্যতা রাখে। প্রথম বিন্যস্ত বিষয়টিকে ‘দা-ইর’ এবং দ্বিতীয় বিষয়টিকে যার ওপর ভিত্তি করা হয়েছে তাকে ‘মাদার’ বলা হয়। "তবে" ক্রিয়ার ইলাল মাসদারের ইলালের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া "অস্তিত্বের ক্ষেত্রে; যেমন- ‘ইয়া’ইদু’" (সে ওয়াদা করে), এর মূল ছিল ‘ইউ’ইদু’। এর মাসদার হলো "‘ইদাহ’", যা ‘ইয়া’ইদু’ এর মাসদার, এর মূল ছিল ‘ওয়াদাতুন’। যখন ‘ইউ’ইদু’ থেকে ‘ওয়াও’ বর্ণটি এমন একটি কারণবশত বিলুপ্ত করা হলো যা বিলোপকে আবশ্যক করে, তখন ‘ওয়াদাতুন’ থেকেও তা বিলুপ্ত করা হলো, যদিও সেখানে সেই (নির্দিষ্ট) কারণটি বিদ্যমান ছিল না, বরং তা ক্রিয়ার অনুসরণেই করা হয়েছে। "এবং" যেমন "‘ক্বামা’ ও ‘ক্বিয়াম’", এ দুটির মূল ছিল ‘ক্বাওয়ামা’ ও ‘ক্বাওয়ামান’। যখন প্রথমটিতে ইলাল করা হলো, তখন দ্বিতীয়টিতেও ইলাল করা হলো, যদিও প্রথমটির অনুসরণে সেখানে ইলালের কারণটি অনুপস্থিত ছিল। "আর" ক্রিয়ার ইলাল মাসদারের ইলালের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া "অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে; যেমন- ‘ইয়াওজালু’ এর মাসদার ‘ওয়াজালান’ এবং ‘ক্বাওয়ামা’ এর মাসদার ‘ক্বাওয়ামান’"। যখন এই ক্রিয়াদ্বয়ে ইলাল হয়নি, তখন এগুলোর অনুসরণ করে মাসদারদ্বয়েও ইলাল হয়নি। "আর এর মাদারিয়্যাত" অর্থাৎ ইলালের দিক থেকে মাসদারের জন্য ক্রিয়া কেন্দ্রবিন্দু হওয়াটা নিঃসন্দেহে "এর মৌলিকত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে", অর্থাৎ মাসদারের বিপরীতে ক্রিয়ার মূল হওয়ার প্রমাণ দেয়। "তাছাড়া" অর্থাৎ ক্রিয়া যেভাবে মাসদারের ইলালের কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তেমনি "ক্রিয়াকে এর মাধ্যমে (মাসদারের মাধ্যমে) তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান করা হয়", "যেমন- ‘দারাবতু দারবান’" (আমি প্রহার করেছি প্রহার করা)। এখানে ‘দারবান’ হলো মাসদার যা ক্রিয়া অর্থাৎ ‘দারাবতু’কে গুরুত্ব প্রদান করছে। আর এটি কেনই বা তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানকারী হবে না!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
[شرح ديكنقوز]"وهو" أي هذا التركيب "بمنزلة ضربت ضربت" بتكرير الفعل لأن معنى التركيبين واحد فيكون ضربا مؤكدا لضربت تأكيدا لفظيا، كما كان ضربت الثاني مؤكدا له كذلك "والمؤكد" بفتح الكاف "أصل" لأنه متبوع "دون المؤكد" بكسر الكاف لأنه تابع "وأيضا يقال له" أي للمصدر اسم هو "مصدر لكونه" أي المصدر "مصدورا به" ومخرجا "عن الفعل" وله نظائر في كلامهم "كما قالوا" في الماء "مشرب عذب" أي لذيذ "و" في الفرس "مركب فاره" أي حاذق في المشي لا يتعب راكبه "أي" مرادهم بمشرب "مشروب ومركوب قلنا" معاشر البصريين "في جوابهم" أي في الجواب عن متمسك الكوفيين الأول الذي هو العمدة "إعلال المصدر" إذا أعل فعله إنما هو "للمشاكلة" أي الموافقة والاطراد في الإعلال بسبب المناسبة بينهما في اللفظ والمعنى "لا للمدارية" ولهذا قد يعل كل منهما بدون إعلال الآخر نحو رمى رميا واعشوشب اعشيشابا، فلا تدل الأصالة في الإعلال على الأصالة في الاشتقاق "كحذف الواو في تعد" أصلة توعد فإنه لمشاكلة يعد "و" حذف "الهمزة في يكرم" فإنه لمشاكلة أكرم فكما أن الحذف للمشاكلة لا يدل على الأصالة في الاشتقاق، فكذا الإعلال للمشاكلة لا يدل على الأصالة فيه وقلنا أيضا في الجواب عن متمسكهم الثاني لا نسلم أن ضربت ضربا بمنزلة ضربت ضربت، بل هو بمنزلة أحدثت ضربا ضربا؛ لأن المراد بتأكيد المصدر الذي هو مضمون الفعل بلا زيادة شيء عليه من وصف أو عدد وهو في الحقيقة تأكيد لذلك المصدر المضمون لكنهم سموه تأكيد الفعل توسعا فقولك ضربت بمعنى أحدثت ضربا فلما ذكرت بعده ضربا صار بمنزلة قولك أحدثت ضربا ضربا فظهر أنه تأكيد للمصدر المضمون وحده لا للأخبار والزمان اللذين تضمنهما الفعل فلم يقع المصدر تأكيد الفعل "و" لئن سلمنا أنه بمنزلة ضربت ضربت، وأن المصدر وقع تأكيدا للفعل فنقول "المؤكدية" بفتح الكاف لا تدل على الأصالة في الاشتقاق بل "تدل عليها" في الإعراب "كما في جاءني زيد زيد" فإن الأول أصل اللثاني في الإعراب مع أنه
--------------------------------------------
[শারহ দিকনুকুয]"এটি" অর্থাৎ এই বাক্যরীতিটি ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে "আমি প্রহার করেছি, আমি প্রহার করেছি" এর সমপর্যায়ের। কারণ উভয় রীতির অর্থ এক। ফলে 'প্রহার' শব্দটি 'আমি প্রহার করেছি' ক্রিয়ার জন্য শাব্দিক তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানকারী হবে, ঠিক যেমন দ্বিতীয়বার বলা 'আমি প্রহার করেছি' বাক্যটি প্রথমটির জন্য তাকিদ হয়েছিল। "এবং মুয়াক্কাদ" (কাফ বর্ণে জবরসহ—যার তাকিদ করা হয়েছে) হলো "মূল", যেহেতু এটি অনুসৃত; "মুয়াক্কিদ" (কাফ বর্ণে যেরসহ—যে তাকিদ প্রদান করে) এর বিপরীতে, কারণ এটি অনুসারী। "আরও বলা হয়" অর্থাৎ মাসদারের একটি নাম হলো "মাসদার", কারণ এটি ক্রিয়া থেকে "উৎসারিত" ও নির্গত। আর আরবদের কথাবার্তায় এর অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। "যেমন তারা পানির ক্ষেত্রে বলে" "সুস্বাদু পানস্থল", অর্থাৎ সুস্বাদু পানীয়। "এবং ঘোড়ার ক্ষেত্রে বলে" "চৌকস সওয়ারি", অর্থাৎ চালনায় অত্যন্ত দক্ষ যা আরোহীকে ক্লান্ত করে না। "অর্থাৎ" পানস্থল ও সওয়ারি শব্দ দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো "পানীয় ও আরোহণের পশু"। আমরা বসরাবাসীরা "তাদের উত্তরে বলেছি", অর্থাৎ কুফাবাসীদের প্রথম দলিলের উত্তরে যা তাদের প্রধান ভিত্তি: মাসদারের "বর্ণ রূপান্তর" তখনই ঘটে যখন তার ক্রিয়াতে রূপান্তর ঘটে, আর এটি কেবল "সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য"। অর্থাৎ শব্দ ও অর্থের সাদৃশ্যের কারণে রূপান্তরের ক্ষেত্রে মিল ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এটি "একে অন্যের মূল ভিত্তি হওয়ার কারণে নয়"। এই কারণেই অনেক সময় একটির রূপান্তর ঘটে অন্যটির রূপান্তর ছাড়াই, যেমন: 'রামা' থেকে 'রামইয়ান' এবং 'ই'শাউশাবা' থেকে 'ই'শিশাবান'। সুতরাং রূপান্তরের ক্ষেত্রে মৌলিকতা শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে মৌলিকতার প্রমাণ দেয় না। "যেমন 'তা'ইদু' শব্দে ওয়াও বর্ণটি বিলুপ্ত হওয়া", এর মূল রূপ ছিল 'তাউইদু', এটি 'ইয়া'ইদু' এর সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য বিলুপ্ত হয়েছে। "এবং 'ইউকরিমু' শব্দে হামজা বিলুপ্ত হওয়া", এটি 'আকরামা' এর সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য। সুতরাং সামঞ্জস্যের জন্য বিলুপ্তি যেমন শব্দনিস্পত্তিতে মূল হওয়ার দলিল নয়, তেমনি সামঞ্জস্যের জন্য বর্ণ রূপান্তরও তাতে মূল হওয়ার দলিল নয়। আমরা তাদের দ্বিতীয় দলিলের উত্তরে আরও বলেছি: আমরা এটি স্বীকার করি না যে, 'আমি প্রহার করেছি প্রহার করা' বাক্যটি 'আমি প্রহার করেছি আমি প্রহার করেছি' এর সমতুল্য। বরং এটি 'আমি একটি প্রহারের সূচনা করেছি প্রহারের' সমতুল্য। কারণ মাসদারের মাধ্যমে তাকিদ করার উদ্দেশ্য হলো ক্রিয়ার মূল বিষয়বস্তুকে কোনো গুণ বা সংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়াই গুরুত্ব প্রদান করা। এটি প্রকৃতপক্ষে সেই অন্তর্নিহিত মাসদারেরই তাকিদ, কিন্তু তারা রূপকভাবে একে ক্রিয়ার তাকিদ নামকরণ করেছে। সুতরাং আপনার কথা 'আমি প্রহার করেছি' এর অর্থ হলো 'আমি একটি প্রহারের সূচনা করেছি'। অতঃপর যখন আপনি এর পরে 'প্রহার' শব্দটি উল্লেখ করলেন, তখন তা 'আমি একটি প্রহারের সূচনা করেছি প্রহারের' বলার সমতুল্য হয়ে গেল। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, এটি কেবল অন্তর্নিহিত মাসদারেরই তাকিদ, ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত সংবাদ বা সময়ের তাকিদ নয়। সুতরাং মাসদার ক্রিয়ার তাকিদ হিসেবে গণ্য হলো না। "এবং" যদি আমরা মেনেও নেই যে এটি 'আমি প্রহার করেছি আমি প্রহার করেছি' এর সমতুল্য এবং মাসদারটি ক্রিয়ার তাকিদ হিসেবেই এসেছে, তবুও আমরা বলব: "মুয়াক্কাদ হওয়া" (কাফ বর্ণে জবরসহ) শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে মূল হওয়ার প্রমাণ দেয় না, বরং এটি "কারক বিভক্তির (ইরাব) ক্ষেত্রে" মূল হওয়ার প্রমাণ দেয়। "যেমন: 'আমার কাছে জায়েদ জায়েদ এসেছে' বাক্যে", এখানে প্রথম জায়েদ শব্দটি দ্বিতীয়টির জন্য কারক বিভক্তির ক্ষেত্রে মূল, যদিও এটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[شرح ديكنقوز] ليس بمشتق منه وإلا لزم اشتقاق الشيء من نفسه، وكلامنا في الأصالة في الاشتقاق ولا محذور في أن يكون الشيء متقدما على شيء في الاشتقاق، وأصلا له فيه، ومتأخرا عنه في الإعلال، وفرعا عليه فيه للمشاكلة، كما أن الاسم أصل في الإعراب للفعل وفرع عليه في العمل كما يجيء إن شاء الله تعالى، "و" قلنا في الجواب عن متمسكهم الثالث "قولهم مشرب عذب ومركب فاره" ليس بحقيقة في معنى المشروب والمركوب اتفاقا بأن وضع لفظ المشرب بمعنى المشروب ولفظ المركب بمعنى المركوب فيكون لفظ المشرب مراد، فاللفظ المشروب ولفظ المركب مراد، فاللفظ المركوب حتى يكون لفظ المصدر أيضا حقيقة في معنى المصدور ومراد فاللفظ المصدور به بل يكون ذلك "من باب جرى النهر وسال الميزاب" فكما أن هذا من المجاز إما من المجاز اللغوي بأن أطلق اسم المحل الذي هو النهر والميزاب على الحال الذي هو الماء؛ لأن الجاري والسائل هو الماء لا النهر والميزاب، أو من المجاز العقلي بأن أريد بالنهر والميزاب معناهما الحقيقي وأسند إليهما الجريان والسيلان مجازا لملابستهما لما هما له أعني الماء، كذلك قولهم مشرب عذب ومركب فاره من المجاز أيضا ما في المفرد بأن يطلق اسم المحل الذي هو المشرب والمركب على الحال الذي هو الماء والفرس، وإما في النسبة بأن يراد بالمشرب والمركب معناهما الحقيقي وينسب إليهما العذوبة والفراهة مجازا لملابستهما لما هما له أعني الماء والفرس. وحاصل الجواب أن قياسهم لفظ المصدر على لفظ المشرب والمركب فاسد، أما على تقدير كون المجاز في النسبة فلأن المشرب والمركب حينئذ على معناهما الحقيقي الذي هو محل الشرب محل الركوب فيكون معنى لفظ المصدر قياسا عليهما محل الصدور وهو عليهم لا لهم، وأما على تقدير كون المجاز في المفرد فلأنه لا يلزم من كون اللفظ مستعملا في معنى مجازي على سبيل القطع كون لفظ آخر موازنا له مستعملا في مثل ذلك المعنى على سبيل القطع، بل غايته أن يحتمل استعماله فيه فبمجرد احتمال أن يكون لفظ المصدر مستعملا في معنى المصدور به مجازا مع قيام احتمال أن لا يكون مستعملا فيه، بل مستعملا في معناه الحقيقي الذي هو محل الصدور مع أن الحقيقة أصل والمجاز خلافه لا حجة فيه للكوفيين على أن تشبيه كون المصدر بمعنى المصدور به يكون المشرب بمعنى المشروب والمركوب تشبيه بغير جامع؛ إذ المشرب على المشروب والمركب على المركوب والمصدر لازم فلا يمكن أن يذكر لفظ المصدر ويراد به المصدور به؛ إذ لا دلالة للمصدر على المصدور به على الصادر ولذلك تكلفوا وقالوا في الاستدلال على أصالة الفعل أن المصدر مفعل بمعنى المصدر، أي الصدور نحو قعدت مقعدا حسنا أي قعودا، والمصدر الذي هو لفظ المصدر بمعنى الفاعل أي صادر عن الفاعل كالعدل بمعنى العادل، واستدلوا أيضا بعمل الفعل في المصدر نحو قعدت قعودا والعامل قبل المعمول وهو مغالطة؛ لأنه قبله بمعنى أن الأصل في وقت العمل أن يتقدم لفظ العامل على لفظ المعمول
--------------------------------------------
[শরহে দিকনকুয] এটি তা থেকে গৃহীত বা ব্যুৎপন্ন নয়, অন্যথায় কোনো বস্তু তার নিজ থেকেই ব্যুৎপন্ন হওয়ার আবশ্যকতা দেখা দেবে। আমাদের আলোচনা হলো ব্যুৎপত্তির মৌলিকতা নিয়ে। ব্যুৎপত্তির ক্ষেত্রে কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুর অগ্রগামী হওয়া এবং তার মূল হওয়া, আবার শব্দতাত্ত্বিক রূপান্তরের (ই'লাল) ক্ষেত্রে তার পরবর্তী হওয়া এবং সামঞ্জস্যের কারণে তার শাখা হওয়াতে কোনো বাধা নেই। যেমনটি ই'রাব বা বিভক্তির ক্ষেত্রে ইসম (বিশেষ্য) হলো ফে'ল (ক্রিয়া)-এর জন্য মূল, কিন্তু আমল বা প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সেটি শাখা, যা ইনশাআল্লাহ তা'আলা সামনে আসবে। "এবং" তাদের (কুফীদের) তৃতীয় দলিলের জবাবে আমরা বলি: "তাদের কথা 'সুপেয় পানীয়' (মাশরাব) এবং 'দ্রুতগামী বাহন' (মারকাব)" - এটি সর্বসম্মতভাবে পানকৃত বস্তু (মাশরুব) এবং আরোহণকৃত বস্তু (মারকুব)-এর অর্থে প্রকৃত বা হাকিকাত নয় যে, 'মাশরাব' শব্দটিকে 'মাশরুব' অর্থে এবং 'মারকাব' শব্দটিকে 'মারকুব' অর্থে গঠন করা হয়েছে। ফলে মাশরাব শব্দটি দ্বারা মাশরুব উদ্দেশ্য হবে এবং মারকাব শব্দটি দ্বারা মারকুব উদ্দেশ্য হবে, যাতে করে মাসদার শব্দটিও মাসদুরে বিহি (যার দ্বারা ক্রিয়া সম্পাদিত হয়) অর্থে প্রকৃত বা হাকিকাত হতে পারে। বরং এটি "নদী প্রবাহিত হয়েছে" এবং "পরনালা দিয়ে পানি বয়ে গেছে"-এর পর্যায়ভুক্ত। যেমন এটি একটি রূপক (মাজায); হয়তো এটি ভাষাগত রূপক (মাজাযে লুগাভী), যেখানে আধার বা স্থানের নাম (নদী বা পরনালা) আধেয় বা ভেতরের বস্তুর (পানি) জন্য ব্যবহার করা হয়েছে; কারণ প্রবাহিত ও বয়ে যাওয়া পানির কাজ, নদী বা পরনালার নয়। অথবা এটি যৌক্তিক রূপক (মাজাযে আকলী), যেখানে নদী ও পরনালা দ্বারা তাদের প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য, কিন্তু সেগুলোর সাথে পানির সম্পর্কের কারণে সেদিকে প্রবাহ ও বয়ে যাওয়াকে রূপকভাবে সম্বন্ধ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে তাদের কথা "সুপেয় পানীয়" এবং "দ্রুতগামী বাহন" রূপকের অন্তর্ভুক্ত। হয়তো এটি একবচনের ক্ষেত্রে রূপক, যেখানে আধার বা স্থানের নাম (মাশরাব ও মারকাব) আধেয় বা ভেতরের বস্তুর (পানি ও ঘোড়া) জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অথবা এটি সম্বন্ধের ক্ষেত্রে রূপক, যেখানে মাশরাব ও মারকাব দ্বারা তাদের প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য এবং সেগুলোর সাথে পানি ও ঘোড়ার সম্পর্কের কারণে সেগুলোর দিকে সুপেয়তা ও দ্রুতগামিতাকে রূপকভাবে সম্বন্ধ করা হয়েছে। উত্তরের সারকথা হলো, মাসদার শব্দটিকে 'মাশরাব' ও 'মারকাব' শব্দের ওপর কিয়াস বা তুলনা করা ত্রুটিপূর্ণ। যদি সম্বন্ধের ক্ষেত্রে রূপক ধরা হয়, তবে 'মাশরাব' ও 'মারকাব' তখন তাদের প্রকৃত অর্থেই থাকবে, যা হলো পানের স্থান ও আরোহণের স্থান। তখন মাসদার শব্দের অর্থ এর সাথে তুলনায় হবে উৎপত্তির স্থান, যা তাদের (কুফীদের) বিপক্ষে যায়, পক্ষে নয়। আর যদি একবচনের ক্ষেত্রে রূপক ধরা হয়, তবে কোনো একটি শব্দ নিশ্চিতভাবে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে অন্য একটি সমগোত্রীয় শব্দও যে নিশ্চিতভাবে সেই রূপক অর্থে ব্যবহৃত হবে, এমনটি আবশ্যক নয়। বরং বড়জোর এটি বলা যায় যে, সেখানে রূপক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং মাসদার শব্দটি 'মাসদুরে বিহি' অর্থে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার নিছক সম্ভাবনার বিপরীতে এটি ব্যবহৃত না হওয়ার সম্ভাবনাও বিদ্যমান; বরং এটি তার প্রকৃত অর্থ অর্থাৎ উৎপত্তির স্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হতে পারে। অথচ প্রকৃত অর্থই হলো মূল আর রূপক হলো তার বিপরীত। সুতরাং কুফীদের জন্য এতে কোনো দলিল নেই। তাছাড়া মাসদারকে 'মাসদুরে বিহি' অর্থে ধরাকে 'মাশরাব' ও 'মারকাব' এর সাথে তুলনা করা এমন এক তুলনা যাতে কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা যোগসূত্র নেই। কারণ 'মাশরাব' দ্বারা 'মাশরুব' এবং 'মারকাব' দ্বারা 'মারকুব' উদ্দেশ্য হতে পারে কিন্তু মাসদার হলো লাযিম (অকর্মক), তাই মাসদার উল্লেখ করে তা দ্বারা 'মাসদুরে বিহি' উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব নয়। কারণ মাসদারের মাঝে 'মাসদুরে বিহি' বা 'সাদির' (সম্পাদনকারী)-এর ওপর কোনো দلالত বা নির্দেশনা নেই। এজন্যই তারা কষ্টকল্পনা করে ক্রিয়ার মৌলিকত্ব প্রমাণের দলিলে বলেছে যে, মাসদার হলো 'মাফ'আল' ওজনে মাসদারের অর্থে, অর্থাৎ উৎপত্তি হওয়া; যেমন: "আমি সুন্দরভাবে বসেছি" অর্থাৎ বসা। আর মাসদার শব্দটি ইসমে ফায়েল বা সম্পাদনকারীর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'আদল' (ন্যায়বিচার) শব্দটি 'আদিল' (ন্যায়বিচারক) অর্থে ব্যবহৃত হয়। তারা ক্রিয়ার মৌলিকত্বের ওপর আরও দলিল পেশ করেছে যে, ক্রিয়া মাসদারের ওপর আমল বা প্রভাব বিস্তার করে, যেমন: "আমি বসেছি বসা" (কাদা কায়দান)। আমিল (প্রভাবক) সাধারণত মামুল (প্রভাবাধীন)-এর আগে থাকে। তবে এটি একটি বিভ্রান্তিকর যুক্তি (মুগালাতাহ); কারণ আমিল আগে থাকার অর্থ হলো আমল করার সময় আমিল শব্দের উচ্চারণ মামুল শব্দের উচ্চারণের আগে হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[شرح ديكنقوز] والنزاع في أن وضعه غير مقدم على وضع الفعل فأين أحد المتقدمين من الآخر، وأيضا ينتقض نحو ضربت زيدا وبزيد ولم يضرب، فإنه لا دليل فيها على أن وضع العامل قبل وضع المعمول ولما بين أصالة المصدر وزيف أدلة المخالف جرى في ذكر الأوزان على تقديم الأصل فقال "ومصدر الثلاثي كثير" مختلف فيه "وعند سيبويه" أي ما ذكره سيبويه منه "يرتقي إلى اثنين وثلاثين بابا" أي بناء وضبطه أن تقول عينه إما ساكن أو متحرك، فإن كان ساكنا فأما أن يكون بزيادة شيء أو لم يكن، فإن لم يكن بزيادة شيء فالفاء منه إما مفتوح أو مكسور أو مضموم "نحو قتل وفسق وشغل" وإن كان بزيادة شيء فتلك الزيادة إما تاء أو ألف أو ألف ونون وعلى التقادير فالفاء إما مفتوح أو مكسور أو مضموم، فالحاصل من ضرب الثلاثة في الثلاثة تسعة وهي نحو "رحمة ونشدة وكدرة ودعوى وذكرى وبشرى وليان وحرمان وغفران و" أردف ذلك بقوله "نزوان" لأن المصدر المتحرك العين مزيدا في آخره ألف ونون لم يجئ إلا على هذا البناء فذكره هنا للمناسبة مع ليان في فتح الفاء وزيادة الألف والنون هذا إذا كان العين ساكنا، وإن كان متحركا فأما أن يكون بزيادة شيء أولا فإن كان الثاني فالفاء إما مفتوح أو مكسور أو مضموم فإن كان مفتوحا فعينه إما مفتوح "و" ذلك نحو "طلب" ومكسور "و" ذلك نحو "خنق" ولم يجئ مضموم العين منه بالاستقراء "و" إن كان مسكورا فهو مفتوح العين ليس إلا لكراهة توالي الكسرتين أو لكراهة الانتقال من الكسرة إلى الضمة نحو "صغرو" إن كان مضموما فهو مفتوح العين أيضا ليس إلا لكراهة توالي الضمتين أو لكراهة الانتقال من الضمة إلى الكسرة نحو "هدى" وإن كان الأول فالزيادة فيه إما أن تكون تاء التأنيث فقط أو لا، فعلى الأول فالفاء إما مفتوح أو مكسور أو مضموم بحسب القسمة لكن لم يجئ منه إلا مفتوح الفاء بالاستقراء "و" عينه إما مفتوح نحو "غلبة" أو مكسور "و" ذلك نحو "سرقة" ولم يجئ منه مضموم العين بالاستقراء وعلى الثاني فإما معها زيادة أخرى أو لا، فإن لم تكن فالفاء إما مفتوح "و" ذلك نحو "ذهاب" أو مكسور "و" ذلك نحو "صراف" أو مضموم "و" ذلك نحو "سؤال" وإن كان معها زيادة أخرى فتلك الزيادة إما تاء فقط أو التاء والياء فإن كانت التاء فقط فالفاء إما مفتوح "و" ذلك نحو "زهادة" أو مكسور "و" ذلك نحو "دراية" أو مضموم كبغاية ودعابة ولم يذكره سيبويه لقلته
--------------------------------------------
[শরহ দিকনুকুয] আর বিতর্ক এই বিষয়ে যে, বিশেষ্যের গঠন ক্রিয়ার গঠনের অগ্রবর্তী নয়, সুতরাং এদের একটি অন্যটির ওপর অগ্রগণ্য হওয়ার অবকাশ কোথায়? এছাড়া ‘আমি জায়েদকে মেরেছি’ (জারাবতু জাইদান), ‘জায়েদের মাধ্যমে’ (বি জাইদিন) এবং ‘সে মারেনি’ (লাম ইয়াদরিব)—এ জাতীয় উদাহরণগুলোর মাধ্যমেও বিষয়টি খণ্ডিত হয়; কারণ এতে কোনো প্রমাণ নেই যে আমেল-এর (প্রভাব বিস্তারকারী) গঠন মামুল-এর (প্রভাব গ্রহণকারী) গঠনের আগে হয়েছে। যখন মাসদারের (ক্রিয়ামূল) মৌলিকত্ব এবং বিরোধীদের দলিলের অসারতা স্পষ্ট হলো, তখন তিনি ওজ়নসমূহের (গঠনকাঠামো) বর্ণনায় মূল বিষয়টি আগে উল্লেখ করতে গিয়ে বললেন, “তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার মাসদার অনেক।” এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। “এবং সিবওয়াইহ-এর মতে”—অর্থাৎ সিবওয়াইহ মাসদারের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা— “বত্রিশটি অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে।” অর্থাৎ বত্রিশটি গঠনকাঠামো। এর বিন্যাস পদ্ধতি হলো এই যে, আপনি বলবেন এর আইন বর্ণ (দ্বিতীয় অক্ষর) হয় সাকিন (স্থির) হবে অথবা মুতাহাররিক (স্বরযুক্ত) হবে। যদি সাকিন হয়, তবে তাতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকবে অথবা থাকবে না। যদি কোনো অতিরিক্ত বর্ণ না থাকে, তবে এর ফা বর্ণটি (প্রথম অক্ষর) হয় ফাতহাযুক্ত (জবর), অথবা কাসরাযুক্ত (যের), অথবা যম্মাযুক্ত (পেশ) হবে। “যেমন: ক্বাতলুন (হত্যা করা), ফিসকুন (পাপাচার) এবং শুগলুন (ব্যস্ততা)।” আর যদি কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকে, তবে সেই অতিরিক্ত বর্ণটি হয় ‘তা’, অথবা ‘আলিফ’, অথবা ‘আলিফ ও নূন’ হবে। সকল সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ফা বর্ণটি হয় ফাতহা, কাসরা বা যম্মাযুক্ত হবে। ফলে তিনকে তিন দিয়ে গুণ করলে প্রাপ্ত ফলাফল নয়টি; সেগুলো হলো: “রাহমাতুন (দয়া), নিশদাতুন (খোঁজা), কুদরাতুন (অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া), দাওয়া (দাবি), যিকরা (স্মরণ), বুশরা (সুসংবাদ), লিয়ানুন (নমনীয়তা), হিরমানুন (বঞ্চিত হওয়া), গুফরানুন (ক্ষমা) এবং” এর সাথে তিনি যুক্ত করেছেন “নাযাওয়ানুন (লাফানো)”। কারণ আইন বর্ণ মুতাহাররিক এবং শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নূন যুক্ত মাসদার কেবল এই কাঠামোতেই এসেছে। তাই ফা বর্ণের ফাতহা এবং আলিফ ও নূনের আধিক্যের কারণে ‘লিয়ানুন’-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে তিনি এটি এখানে উল্লেখ করেছেন। এটি হলো আইন বর্ণ সাকিন হওয়ার সুরত। আর যদি আইন বর্ণ মুতাহাররিক হয়, তবে তাতে অতিরিক্ত বর্ণ থাকবে অথবা থাকবে না। যদি দ্বিতীয়টি হয় (অর্থাৎ অতিরিক্ত বর্ণ না থাকে), তবে ফা বর্ণটি হয় ফাতহা, কাসরা বা যম্মাযুক্ত হবে। যদি ফা বর্ণ ফাতহাযুক্ত হয়, তবে এর আইন বর্ণ হয় ফাতহাযুক্ত হবে “এবং” তা “তালাবুন” (খোঁজা)-এর মতো; অথবা কাসরাযুক্ত হবে “এবং” তা “খানাকুন” (শ্বাসরোধ)-এর মতো। আর গবেষণালব্ধ তথ্যানুযায়ী এর আইন বর্ণ যম্মাযুক্ত হিসেবে পাওয়া যায়নি। “এবং” যদি ফা বর্ণটি কাসরাযুক্ত হয়, তবে আইন বর্ণ কেবল ফাতহাযুক্তই হবে; এটি দুটি কাসরার পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার অথবা কাসরা থেকে যম্মার দিকে স্থানান্তর অপছন্দ করার কারণে। যেমন: “সিগারুন” (ছোট হওয়া)। “এবং” যদি ফা বর্ণটি যম্মাযুক্ত হয়, তবে আইন বর্ণও কেবল ফাতহাযুক্তই হবে; এটি দুটি যম্মার পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার অথবা যম্মা থেকে কাসরার দিকে স্থানান্তর অপছন্দ করার কারণে। যেমন: “হুদান” (পথপ্রদর্শন)। আর যদি প্রথমটি হয় (অর্থাৎ অতিরিক্ত বর্ণ থাকে), তবে সেই অতিরিক্ত বর্ণটি হয় কেবল গোল ‘তা’ হবে অথবা অন্য কিছু হবে। প্রথম সুরতে ফা বর্ণটি বিভাজন অনুযায়ী ফাতহা, কাসরা বা যম্মাযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও অনুসন্ধান অনুযায়ী কেবল ফাতহা বিশিষ্ট ফা বর্ণই পাওয়া গেছে। “এবং” এর আইন বর্ণ হয় ফাতহাযুক্ত হবে যেমন: “গালাবাতুন” (বিজয়), অথবা কাসরাযুক্ত হবে “এবং” তা “সারিক্বাতুন” (চুরি)-এর মতো। তবে গবেষণায় এর আইন বর্ণ যম্মাযুক্ত পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় সুরতে ‘তা’-এর সাথে অন্য কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকবে অথবা থাকবে না। যদি না থাকে, তবে ফা বর্ণটি হয় ফাতহাযুক্ত হবে “এবং” তা “যাহাবুন” (প্রস্থান)-এর মতো, অথবা কাসরাযুক্ত হবে “এবং” তা “সিরাফুন” (ব্যয়)-এর মতো, অথবা যম্মাযুক্ত হবে “এবং” তা “সুয়ালুন” (জিজ্ঞাসা)-এর মতো। আর যদি সাথে অন্য অতিরিক্ত বর্ণ থাকে, তবে সেই অতিরিক্ত বর্ণটি হয় কেবল ‘তা’ হবে অথবা ‘তা’ ও ‘ইয়া’। যদি কেবল ‘তা’ হয়, তবে ফা বর্ণটি হয় ফাতহাযুক্ত হবে “এবং” তা “যাহাদাতুন” (বিরাগ)-এর মতো, অথবা কাসরাযুক্ত হবে “এবং” তা “দিরায়াতুন” (জ্ঞান)-এর মতো, অথবা যম্মাযুক্ত হবে যেমন “বুগায়াতুন” ও “দুয়াবাতুন”। সিবওয়াইহ এগুলি স্বল্পতার কারণে উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[شرح ديكنقوز] وإن كانت التاء والياء فالفاء مفتوح لا غير بالاستقراء نحو كراهية ولم يذكره أيضا لقلته هذا إذا كانت المدة الألف وإن كانت الواو فإما معها زيادة أخرى أولا فإن لم يكن فالفاء إما مضموم "و" ذلك نحو "دخول" أو مفتوح "و" ذلك نحو "قبول" وأخر مفتوح الفاء لقلته حتى لم يسمع له ثان، ولم يجئ منه مكسور الفاء لثقل الانتقال من الكسرة إلى الضمة وإن كانت معها زيادة فتلك الزيادة هي التاء بالاستقراء، ولم يجئ منه إلا مضموم العين كصهوبة وإن كانت المدة، فلم يجئ مما يقتضيه القسمة إلا مفتوح الفاء من غير زيادة شيء آخر "و" ذلك نحو "وجيف" وإنما أخر نحو "صهوبة" مع أن المناسب ذكره مع دخول إذ هو مما فيه المدة واو نظرا إلى قلته بالنسبة إلى المتقدم ونظرا إلى أن معه زيادة أخر. والحاصل أن لو جيف مناسبة لدخول من جهة عدم الزيادة على المدة وأن لصهوبة مناسبة له من حيث إن المدة واو ورجح وجيف بالكسرة بالنسبة إلى صهوبة وقدم "و" إن كان فيه مكسور نحو "مدخل ومرجح" على الشذوذ وإما مصموم العين منه نحو مكرم ومعون فنادر ولذا لم يذكره حتى جعلهما الفراء جمعين لمكرمة ومعونة اسمين على حد تمرة وتمر استبعاد المجيء المصدر على هذا الوزن وعلى الأول فتلك الزيادة هي التاء لا غير بحكم الاستقراء "و" العين إما مفتوح نحو "مسعاة" أو مكسور "و" ذلك نحو "محمدة" وهو شاذ وإنما ذكر المصدر الميمي مع غير الميمي، مع أن الأول قياسي والثاني سماعي نظرا إلى أن الميمي أيضا مرتبة من مراتب الاختلاف وإن كان قياسيا في نفسه؛ إذ المقصود بيان اختلاف أبنية مصادر الثلاثي المجرد كما أشرنا إليه مع أنه لم يترك الإشارة إلى أنه ليس مثله حيث ذكره بعده ولم يخلط به "ويجيء" المصدر "على وزن اسمي الفاعل والمفعول" إلا أنه مجيئه على وزن اسم الفاعل أقل من مجيئه على وزن اسم المفعول، فالأول "نحو قمت قائما" أي قياما وقوله ولا خارجا من في زور كلام أي خروجا، وقوله: كفى بالنأى من أسماء كاف. أي كفاية ومنه أفضل فاضلة أي إفضالا وعافاه الله عافية أي معافاة وعقب فلان مكان أبيه عاقبة أي عقبا وقوله تعالى: {فَهَلْ تَرَى لَهُمْ مِنْ بَاقِيَةٍ} أي بقاء وقوله تعالى:
{لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ} أي كذب والدالة أي الدلال بمعنى الغنج "و" الثاني "نحو قوله تعالى: {بِأَيِّيكُمُ الْمَفْتُونُ} " أي الفتنة إذا كان الباء غير زائد، وأما إذا كان زائدا فهو بمعنى المفعول ونحو قولهم: دعه إلى ميسوره أو إلى معسوره أي إلى يسره وإلى عسره والمرفوع والموضوع والمعقول والمجلود بمعنى الرفع والوضع والعقل والجلادة ومنه المكروهة والمصدوقة والمخلوف أي الكراهة والصدق والخلف. واعلم أن استعمال وزني اسم الفاعل والمفعول في معنى المصدر بالاشتراك فهما فيه حقيقة كما يفصح عنه قوله ويجيء على وزن إلخ، وإلا فالواجب أن يقول ويستعمل في معنى اسم الفاعل إلخ، ولذلك قصر على السماع بخلاف استعمال وزن المصدر في معنى الفاعل والمفعول في نحو رجل عدل بمعنى عادل ونسج اليمن بمعنى منسوجه فإنه مجاز، ولذلك لا يقصر على
--------------------------------------------
[শারহ দিকনুফুজ]আর যদি তায়া (ت) এবং ইয়া (ي) থাকে, তবে গবেষণালব্ধ অনুসন্ধান (ইস্তিকরা) অনুযায়ী ফা-মূলবর্ণটি কেবল ফাতহা (জবর) যুক্ত হবে, যেমন ‘কারাহিয়্যাহ’। স্বল্পতার কারণে এটিও তিনি উল্লেখ করেননি। এটি তখনই হবে যখন দীর্ঘ স্বরবর্ণটি আলিফ হয়। আর যদি সেটি ওয়াও হয়, তবে তার সাথে অন্য কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকবে অথবা থাকবে না। যদি অতিরিক্ত বর্ণ না থাকে, তবে ফা-মূলবর্ণটি হয় দাম্মা (পেশ) যুক্ত হবে যেমন ‘দুখুল’ (প্রবেশ), অথবা ফাতহা (জবর) যুক্ত হবে যেমন ‘ক্ববুল’ (গ্রহণ)। ফাতহা যুক্ত ফা-মূলবর্ণকে শেষে উল্লেখ করা হয়েছে এর স্বল্পতার কারণে, এমনকি এর দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ শোনা যায়নি। আর এর ফা-মূলবর্ণটি কাসরা (জের) যুক্ত হয়ে আসে না, কারণ কাসরা থেকে দাম্মার দিকে স্থানান্তর হওয়া কষ্টসাধ্য। আর যদি এর সাথে অতিরিক্ত বর্ণ থাকে, তবে গবেষণালব্ধ অনুসন্ধান অনুযায়ী সেই অতিরিক্ত বর্ণটি হলো তায়া; এক্ষেত্রে আইন-মূলবর্ণটি কেবল দাম্মা যুক্ত হয়েই আসে, যেমন ‘সাহুবাহ’ (চুলের লালচে ভাব)। আর যদি দীর্ঘ স্বরবর্ণটি ইয়া হয়, তবে বিভাজন অনুযায়ী যা পাওয়া যায় তা হলো ফা-মূলবর্ণটি কেবল ফাতহা হবে এবং অন্য কিছু অতিরিক্ত হবে না, যেমন ‘ওয়াজিফ’ (উদ্বেগ)। ‘সাহুবাহ’-এর আলোচনাকে পরে আনা হয়েছে যদিও ‘দুখুল’-এর সাথে এটি উল্লেখ করা অধিক সঙ্গত ছিল—যেহেতু উভয়ের দীর্ঘ স্বরবর্ণটি ওয়াও—তার কারণ হলো পূর্বোক্তটির তুলনায় এর স্বল্পতা এবং এর সাথে অন্য অতিরিক্ত বর্ণ থাকা। সারকথা হলো, দীর্ঘ স্বরবর্ণের অতিরিক্ত কিছু না থাকার দিক থেকে ‘ওয়াজিফ’ শব্দটির ‘দুখুল’-এর সাথে মিল রয়েছে, আর দীর্ঘ স্বরবর্ণ ওয়াও হওয়ার দিক থেকে ‘সাহুবাহ’-এর সাথে মিল রয়েছে। তবে ‘সাহুবাহ’-এর তুলনায় ‘ওয়াজিফ’-কে কাসরার কারণে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর মিম যুক্ত মাসদার (মাসদারে মিমি) যদি কাসরা যুক্ত ফা-মূলবর্ণের হয়, যেমন শায বা নিয়মবহির্ভূত হিসেবে ‘মাদখাল’ ও ‘মারজি’ শব্দদ্বয়কে আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যার আইন-মূলবর্ণ দাম্মা যুক্ত, যেমন ‘মাকরুম’ ও ‘মাঊন’, তা অত্যন্ত বিরল। এই কারণেই লেখক এটি উল্লেখ করেননি, এমনকি আল-ফাররা এই শব্দ দুটিকে ‘মাকরুমাহ’ ও ‘মাঊনাহ’-এর বহুবচন হিসেবে গণ্য করেছেন—যেমন ‘তামরাহ’ ও ‘তামর’—কারণ এই ওজনে মাসদার আসাকে তিনি দূরবর্তী মনে করেছেন। আর প্রথম প্রকার অনুযায়ী সেই অতিরিক্ত বর্ণটি গবেষণালব্ধ অনুসন্ধান অনুযায়ী কেবল তায়া-ই হবে; এক্ষেত্রে আইন-মূলবর্ণটি হয় ফাতহা যুক্ত হবে যেমন ‘মাসআহ’, অথবা কাসরা যুক্ত হবে যেমন ‘মাহমাদাহ’, যা শায বা বিরল। মিম যুক্ত মাসদারকে মিমহীন মাসদারের সাথে উল্লেখ করার কারণ হলো—যদিও প্রথমটি নিয়মানুগ (ক্বিয়াসি) এবং দ্বিতীয়টি শ্রুতিনির্ভর (সামাঈ)—মিম যুক্ত মাসদারটিও রূপান্তরের বিভিন্ন স্তরের একটি স্তর, যদিও তা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে নিয়মানুগ; কেননা উদ্দেশ্য হলো সুলাসী মুজাররাদ (তিন অক্ষরবিশিষ্ট) ক্রিয়ামূলের কাঠামোগত বৈচিত্র্য বর্ণনা করা, যেমনটি আমরা ইশারা করেছি। এর পাশাপাশি এটি যে মিমহীন মাসদারের মতো নয়, সেই ইশারা করতেও লেখক ছাড়েননি, কারণ তিনি এটিকে পরে উল্লেখ করেছেন এবং তার সাথে মিশ্রিত করেননি। আর মাসদার ইসমুল ফাঈল ও ইসমুল মাফঊলের ওজনেও আসে, তবে ইসমুল ফাঈলের ওজনে এর ব্যবহার ইসমুল মাফঊলের ওজনে আসার চেয়ে কম। প্রথমটির উদাহরণ: ‘কুমতু ক্বয়িমান’ অর্থাৎ ‘ক্বিয়ামান’ (আমি দণ্ডায়মান অবস্থায় দাঁড়ালাম বা দাঁড়ানো হিসেবে দাঁড়ালাম)। কবির উক্তি: ‘সে মিথ্যে কথা নিয়ে বের হয়নি’ অর্থাৎ ‘খুরুজান’ (বের হওয়া)। কবির অন্য উক্তি: ‘আসমা নামক নারীর থেকে দূরে থাকাই যথেষ্ট’ অর্থাৎ ‘কিফায়াহ’ (যথেষ্ট হওয়া)। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ‘আফদাল ফাদিলাহ’ অর্থাৎ ‘ইফদাল’ (শ্রেষ্ঠত্ব দান), ‘আফাহুল্লাহু আফিয়াহ’ অর্থাৎ ‘মুআফাত’ (সুস্থতা দান), ‘আক্কাবা ফুলানুন মাকানা আবিহি আক্বিবাহ’ অর্থাৎ ‘উক্ববান’ (স্থলাভিষিক্ত হওয়া)। মহান আল্লাহর বাণী: {তবে কি তুমি তাদের কোনো অস্তিত্ব (বাক্বিয়াহ) দেখতে পাচ্ছ?} অর্থাৎ ‘বাকা’ (অস্তিত্ব বা টিকে থাকা)। মহান আল্লাহর বাণী:
{তার সংঘটনের জন্য কোনো মিথ্যা নেই (কাযিবাহ)} অর্থাৎ ‘কিযব’ (মিথ্যা)। আর ‘দাল্লাহ’ শব্দটির অর্থ ‘দালাল’, যা লাবণ্য বা ন্যাকামি বোঝায়। দ্বিতীয়টি (ইসমুল মাফঊলের ওজন) যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত (মাফতুন)} অর্থাৎ ‘ফিতনাহ’ (পরীক্ষা বা বিকার), যদি ‘বা’ বর্ণটি অতিরিক্ত না হয়। আর যদি তা অতিরিক্ত হয়, তবে তা মাফঊল বা কর্মবাচক অর্থেই হবে। যেমন তাদের উক্তি: ‘তাকে তার সচ্ছলতা (মায়সুর) বা অসচ্ছলতা (মা’সুর) পর্যন্ত ছেড়ে দাও’ অর্থাৎ ‘ইউসর’ ও ‘উসর’। অনুরূপভাবে ‘মারফু’, ‘মাওদু’, ‘মা’কুল’ এবং ‘মাজলুদ’ শব্দগুলো যথাক্রমে ‘রাফ’, ‘ওয়াদ’, ‘আক্বল’ ও ‘জালাদাহ’ (উচ্চতা, স্থাপন, বুদ্ধি ও সহিষ্ণুতা) অর্থে ব্যবহৃত হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ‘মাকরূহাহ’, ‘মাসদুক্বাহ’ এবং ‘মাখলুফ’, যার অর্থ ‘কারাহিয়্যাহ’, ‘সিদক্ব’ ও ‘খুলফ’ (অপছন্দনীয়তা, সত্যতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ)। জেনে রাখুন যে, ইসমুল ফাঈল ও ইসমুল মাফঊলের ওজনের মাসদারের অর্থে ব্যবহারটি আভিধানিক অংশীদারিত্বের (ইশতিরাক) ভিত্তিতে, তাই এই ওজনে সেগুলো প্রকৃত অর্থেই মাসদার। যেমনটি লেখকের এই বক্তব্য দ্বারা স্পষ্ট হয়: ‘এবং এটি ওজনে আসে ইত্যাদি’। অন্যথায় তার বলা উচিত ছিল: ‘এটি ইসমুল ফাঈলের অর্থে ব্যবহৃত হয় ইত্যাদি’। এই কারণেই এটি কেবল শ্রুতির (সামাঈ) ওপর সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। পক্ষান্তরে মাসদারের ওজনকে ফাঈল বা মাফঊলের অর্থে ব্যবহার করা—যেমন ‘রাজুলুন আদলুন’ অর্থ ‘আদিল’ (ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি) এবং ‘নাসজুল ইয়ামান’ অর্থ ‘মানসুজ’ (ইয়ামানের বোনা কাপড়)—তা রূপক (মাজায)। এই কারণে তা সীমাবদ্ধ রাখা হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
[شرح ديكنقوز] استعمال السماع، بل يجوز كل مصدر في معنى اسم الفاعل واسم المفعول إذا قصد فائدة المجاز "ويجيء" المصدر أيضا "للمبالغة" في الفعل والتكثير فيه قياسا مطردا عند سيبويه من الثلاثي المجرد وعند الزمخشري قياسا مطردا في الثلاثي وغيره؛ لأنه قال حين سئل عنه هذا الباب كثير الاستعمال فينبغي أن يكون قياسا ولذلك ذكر في الأمثلة الرميا، وقال: هي الرمي الكثير وهو على ضربين أحدهما التفعال بفتح التاء وسكون الفاء "نحو التهذار" بمعنى الهذر الكثير "والتلعاب" بمعنى اللعب الكثير والترداد والتجوال والتقتال والتسيار للمبالغة للرد والجولان والقتل والسير وثانيهما الفعيلي بكسر الفاء والعين وبتشديده وفتح اللام نحو الحثيثي بمعنى الحث الكثير "والدليلي" بمعنى كثرة العلم بالدلالة والرسوخ فيها والفتيتي بمعنى كثرة النميمة. ولما فرغ من المصدر الثلاث شرع في مصدر غير الثلاثي فقال: "ومصدر" كل واحد من أبواب "غير الثلاثي" رباعيا مجردا كان أو مزيدا فيه أو ثلاثيا مزيدا فيه وسواء كان المصدر ميميا أو غير ميمي "يجيء على سنن" أي طريق "واحد" على حدة ولم يبين أبنية مصادر تلك الأبواب اعتمادا على أساميها في غير الرباعي المجرد وأما فيه فطردا للباب "إلا في كلم" يجيء المصدر "كلاما" على وزن فعالا بكسر الفاء وبتشديد العين على لغة أهل اليمن فإنه قياس لغتهم ولذلك شاع واطرد فعال بمعنى التفعيل في كلام الفصحاء، وفي التنزيل {وَكَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا كِذَّابًا} "و" إلا "في قاتل" يجيء "قتالا" بكسر القاف وتخفيف العين "وقيتالا" بالياء على لغة من قال في كلم كلاما فإنه أيضا قياس لغتهم، قال سيبويه في قتال: كأنهم حذفوا الياء التي جاء به أولئك في قيتال، ولذلك قيل إن قتالا فرع قيتالا من حيث إن حروف الفعل ثابتة فيه إلا أن الألف قلبت ياء لانكسار ما قبلها وعكس السكاكي حيث جعل الياء إشباع كسرة الفاء "و" ألا يجيء "في تحمل تحمالا" بكسر التاء والحاء وتشديد الميم فيمن قال كلاما فإنه قياس لغتهم أيضا؛ لأنه كسر الأول وزيد قبل الآخر ألف "و" إلا "في ززلزل" يجيء "زلزالا" بفتح الأول فإنه يجوز في مصدر مضاعف الرباعي المجرد فتح الأول وكسره قياسا مطردا لثقل المضاعف بخلاف صحيحه فإنه بالكسر لا غير، إلا أن الكسر أفصح؛ لأنه أصل. ولما فرغ من بيان أبنية الأصل الذي هو المصدر شرع في بيان أبنية الفرع الذي هو الفعل فقال "الأفعال التي تشتق" على صيغة المبني للمفعول أي تؤخذ "من المصدر" وتستعمل مبنية للفاعل ومبنية للمفعول إما بنفسها أو بزيادة حرف الجر، وإنما لم يقل على مذهب البصريين؛ إشارة إلى أنه الحق فكأنه لا خلاف فيه كما ذكرنا وإنما
--------------------------------------------
[শারহে দিকনকুয] শুধু শ্রুত ব্যবহারের ক্ষেত্রেই নয়, বরং রূপক অর্থের সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকলে কর্তৃবাচক বিশেষ্য ও কর্মবাচক বিশেষ্য অর্থে প্রতিটি মূলধাতুর ব্যবহার বৈধ। সিবাওয়াইহ-এর মতে, তিন অক্ষরবিশিষ্ট আদি রূপের ক্ষেত্রে আতিশয্য এবং প্রাচুর্য বোঝাতে মূলধাতুর ব্যবহার একটি নিয়মিত বিধিবদ্ধ নিয়ম। অন্যদিকে যামাখশারীর মতে, এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট এবং তার অধিক—উভয় ক্ষেত্রেই বিধিবদ্ধ নিয়ম। কারণ, তাকে যখন এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন যে, এই বিষয়টি অত্যন্ত বহুল ব্যবহৃত, তাই একে বিধিবদ্ধ নিয়ম হওয়াই সমীচীন। এই কারণেই তিনি উদাহরণের মধ্যে 'রামইয়া' শব্দটির উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি হলো প্রচুর নিক্ষেপ করা। এটি দুই প্রকার: প্রথমটি হলো তা-বর্ণে ফাতাহ এবং ফা-বর্ণে সুকুন যোগে 'তিফ'আল' ওজনে, যেমন 'তাহযার' যার অর্থ হলো প্রচুর প্রলাপ বকা, এবং 'তিল'আব' যার অর্থ প্রচুর খেলাধুলা করা। তদ্রূপ আতিশয্য বোঝাতে 'তারদাদ', 'তাজওয়াল', 'তাকতাল' এবং 'তায়ইসার' শব্দগুলো যথাক্রমে বারবার ফিরে আসা, অধিক পরিভ্রমণ, অধিক লড়াই এবং অধিক পথচলা অর্থে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো ফা এবং আইন বর্ণে কাসরা এবং তাতে তাশদীদ সহযোগে এবং লাম বর্ণে ফাতাহ যোগে 'ফুআইলি' ওজনে, যেমন 'হাসসিসি' যার অর্থ অধিক উৎসাহিত করা, এবং 'দালিলি' যার অর্থ দলিলের বিষয়ে গভীর ও সুপ্রতিষ্ঠিত জ্ঞান থাকা এবং 'ফিত্তিতি' যার অর্থ অধিক চোগলখুরি করা। যখন তিনি তিন অক্ষরবিশিষ্ট মূলধাতুর আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিন অক্ষরের অধিক ধাতুগুলোর মূলধাতু নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন এবং বললেন: 'তিন অক্ষরের অধিক' প্রতিটি অধ্যায়ের মূলধাতু, তা চার অক্ষরবিশিষ্ট আদি রূপ হোক বা বৃদ্ধিকৃত, অথবা তিন অক্ষরবিশিষ্ট বৃদ্ধিকৃত রূপ হোক এবং সেই মূলধাতু 'মিমি' হোক বা না হোক—তা 'একটি নির্দিষ্ট রীতিতে' অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পথে আসে। তিনি চার অক্ষরবিশিষ্ট আদি রূপ ছাড়া অন্য অধ্যায়গুলোর মূলধাতুর গঠনপ্রণালী তাদের নামের ওপর ভিত্তি করেই স্পষ্ট করেননি। আর চার অক্ষরবিশিষ্ট রূপের ক্ষেত্রে একে নিয়মিত বিধিবদ্ধ নিয়ম হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে 'কাল্লামা' এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে ইয়ামেনবাসীদের ভাষা অনুযায়ী ফা-বর্ণে কাসরা এবং আইন-বর্ণে তাশদীদ যোগে 'ফিয়া'আল' ওজনে 'কালাম' শব্দটি মূলধাতু হিসেবে আসে। কারণ এটি তাদের ভাষায় বিধিবদ্ধ নিয়ম, তাই এটি শুদ্ধভাষীদের বক্তব্যেও ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে। যেমন পবিত্র কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে: {এবং তারা আমার নিদর্শনাবলিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছিল}। আর 'কাতালা' এর ক্ষেত্রে কাফ-বর্ণে কাসরা এবং আইন-বর্ণে ফাতাহ বা পাতলা উচ্চারণ যোগে 'কিতাল' এবং ইয়া সহযোগে 'কীতাল' আসে। এটি মূলত তাদের ভাষা অনুযায়ী যারা 'কালাম' বলেন। সিবাওয়াইহ 'কিতাল' সম্পর্কে বলেছেন: যেন তারা সেই 'ইয়া' বর্ণটিকে বিলুপ্ত করেছেন যা 'কীতাল' শব্দে ব্যবহৃত হয়। এই কারণেই বলা হয় যে, 'কিতাল' শব্দটি 'কীতাল' এর একটি শাখা। কারণ এতে ক্রিয়ার বর্ণগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে, তবে পূর্ববর্তী বর্ণের কাসরার কারণে আলিফটি ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়েছে। অন্যদিকে সাক্কাকী এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন এবং ইয়া-কে ফা বর্ণের কাসরার দীর্ঘায়ন হিসেবে গণ্য করেছেন। এছাড়া 'তাহাম্মালা' শব্দের ক্ষেত্রে যারা 'কালাম' বলেন তাদের মতে 'তিহাম্মাল' ব্যবহৃত হয়। কারণ এটিও তাদের ভাষার নিয়ম; তারা প্রথম বর্ণে কাসরা দেয় এবং শেষের বর্ণের আগে একটি আলিফ যুক্ত করে। আর 'যালযালা' এর ক্ষেত্রে প্রথম বর্ণে ফাতাহ যোগে 'যালযাল' আসে। কেননা চার অক্ষরবিশিষ্ট আদি রূপের দ্বিত্ববর্ণের ক্ষেত্রে প্রথম বর্ণে ফাতাহ এবং কাসরা উভয়টিই বিধিবদ্ধভাবে জায়েয, কারণ দ্বিত্ববর্ণ উচ্চারণ করা কিছুটা ভারী। তবে সহীহ বর্ণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কাসরা হয়। অবশ্য কাসরা সহযোগে উচ্চারণ করাই অধিক প্রাঞ্জল, কারণ এটিই মূল ভিত্তি। যখন তিনি মূল ভিত্তি অর্থাৎ মূলধাতুর গঠনপ্রণালী বর্ণনা শেষ করলেন, তখন শাখা অর্থাৎ ক্রিয়ার গঠনপ্রণালী বর্ণনা শুরু করলেন এবং বললেন: 'যেসব ক্রিয়া গঠিত হয়' অর্থাৎ গৃহীত হয় 'মূলধাতু থেকে' এবং তা কর্তৃবাচ্য ও কর্মবাচ্য উভয় রূপে ব্যবহৃত হয়, চাই তা সরাসরি হোক বা হরফে জার যোগে। তিনি এখানে বসরাবাসীদের মাযহাবের কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি, এটিই যে সত্য সেদিকে ইঙ্গিত করার জন্য। যেন এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[شرح ديكنقوز] قيد بقولنا تستعمل احترازا عن باب فعل يفعل على صيغة المبني للمفعول فيهما؛ لأن المقصود من ذكر الأفعال بيان أحكامها. ولما لم يختلف حكم هذا الباب بالمعلومية والمجهولية، بل كان مبينا للمفعول أبدا للعلم بفاعلها في غالب العادة أنه هو الله تعالى تركه المصنف، وأيضا لما كان المبني للمفعول فرعا للمبني للفاعل؛ لأن الأول معلوم للثاني والغرض ذكر الأصول تركه وقال "خمسة وثلاثون بابا ستة منها" كائنة "للثلاثي المجرد" وإلا فله سبعة قدم الثلاثي على الرباعي لتقدمه الطبيعي، ووجه ضبطه أن لماضيه ثلاثة أبنية أحدهما فعل يفعل؛ لأن أوله لا يكون إلا مفتوحا حالا لامتناع الابتداء بالسكون واستثقال الضمة والكسرة عليه، والثاني منه لا يكون إلا متحركا لاستلزام سكونه اختلاط الأبنية، وما قيل والالتقاء الساكنين عند اتصال الضمير المرفوع البارز المتحرك بالفعل فلا يخلو عن دور وحركاته لا تزيد على ثلاثة فإن كانت فتحة فلا يلخو من أن يكسر عين مضارعة أو يضم أو يفتح، وإن كانت كسرة فأما أن يفتح عين مضارعه أو يكسر وإن كانت ضمة فعين مضارعه لا يكون إلا مضموما لحصر بحسب الوقوع في ستة وهي "نحو ضرب يضرب" بفتح العين في الماضي وكسرها في الغابر "وقتل يقتل" بفتح العين في الماضي وضم عين المضارع "وعلم يعلم" يكسر العين في الماضي وفتحه في المستقبل "وفتح يفتح" بفتحه فيهما "وكرم يكرم" بضمه فيهما "وحسب يحسب" بكسره فيهما "وتسمى الثلاثة الأول دعائم الأبواب" جمع دعامه وهي عموم البيت أي أصولها "لاختلاف حركاتهن في عين الماضي والمستقبل" فكما أن معنى الماضي مخالف لمعنى المستقبل، كذلك ينبغي أن يكون لفظه مخالفا للفظه ليطابق اللفظ والمعنى في الاختلاف فلا شك أن ما وقع فيه المخالفة أصل بالنسبة إلى غيره "وكثرتهن" أي ولكثرة استعمالهن فإنها سبب لفصاحة الكلمة فيكون سببا لأصالتها ولذلك قدمها على الثلاثة الأخر، وأما تقديم بعض الأول على بعضها؛ فلأن الاختلاف في الأول أكثر؛ لأن مخالفة الفتح للكسر أكثر من مخالفة الفتح للضم؛ لأن الفتح علوي والكسر سفلي والضم بينهما يشهد به الوجدان؛ وأما تقديم الثاني على الثالث فلفتح عين ماضيه ومن قدم الثاني على الأول نظر إلى أن الضم علوي وأنه أقوى أو قصد التدريج في النزول من العلوي إلى السفلي الذي هو الأصل بخفته فهو أحق بالتقديم، وأما تقديم بعض الأخر على بعضها فلفتح عين الأول في الماضي والمضارع ولكثرة استعماله بالنسبة إلى الثاني، وأما الثاني فللنظر إلى أن الضم فوقي
--------------------------------------------
[শরহ দিকনুকূয] আমাদের ‘ব্যবহৃত হয়’ কথাটি দ্বারা শর্তারোপ করার উদ্দেশ্য হলো উভয় ক্ষেত্রে ‘ফাআলা ইয়াফআলু’ তথা কর্মবাচ্যের (মাজহুল) গঠন থেকে বেঁচে থাকা; কেননা ক্রিয়াসমূহ উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো সেগুলোর বিধান বর্ণনা করা। যেহেতু এই বাবের বিধান কর্তৃবাচ্য (মা’লুম) ও কর্মবাচ্য হওয়ার কারণে ভিন্ন হয় না, বরং সাধারণ রীতি অনুযায়ী এর কর্তা আল্লাহ তাআলা হওয়া সুস্পষ্ট বিধায় এটি সর্বদা কর্মবাচ্যের রূপেই থাকে, তাই গ্রন্থকার এটি বর্জন করেছেন। এছাড়াও যেহেতু কর্মবাচ্য হলো কর্তৃবাচ্যের একটি শাখা—কারণ প্রথমটি দ্বিতীয়টির মাধ্যমে পরিচিত হয়—এবং উদ্দেশ্য হলো মূল বিষয়গুলো উল্লেখ করা, তাই তিনি এটি বর্জন করেছেন এবং বলেছেন, “পঁয়ত্রিশটি বাব, তার মধ্যে ছয়টি” হলো “সুলাছি মুজাররাদের” (তিন বর্ণবিশিষ্ট মূল ধাতু) জন্য। অন্যথায় বাবের সংখ্যা সাতটি। তিনি সুলাছিকে রুবায়ি (চার বর্ণবিশিষ্ট) এর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এর স্বাভাবিক অগ্রগণ্যতার কারণে। এর বিন্যাসের পদ্ধতি হলো, মাযীর তিনটি রূপ রয়েছে। একটি হলো ‘ফাআলা ইয়াফইলু’; কেননা মাযীর প্রথম বর্ণটি কেবল ফাতহাহ (যবর) বিশিষ্টই হতে পারে, কারণ সুকুন দ্বারা শুরু করা অসম্ভব এবং এর ওপর যম্মাহ (পেশ) ও কাসরাহ (জের) প্রদান করা কষ্টকর। দ্বিতীয় বর্ণটি কেবল হরকতযুক্তই হতে পারে, কারণ একে সাকিন করলে বাবসমূহের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটে যাবে। আর ক্রিয়ার সাথে যখন যমীরে মারফু বারিজ মুতাহাররিক (সর্বনাম) যুক্ত হয় তখন দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার যে কথা বলা হয়, তাতে ‘দওর’ বা চক্রদোষের অবকাশ থেকে যায়। এর হরকত তিনটির বেশি নয়। যদি তা ফাতহাহ হয়, তবে মুযারের আইন কালিমা হয় কাসরাহ হবে, অথবা যম্মাহ হবে, নতুবা ফাতহাহ হবে। আর যদি মাযীর আইন কালিমা কাসরাহ হয়, তবে মুযারের আইন কালিমা ফাতহাহ হবে অথবা কাসরাহ হবে। আর যদি মাযীর আইন কালিমা যম্মাহ হয়, তবে মুযারের আইন কালিমা কেবল যম্মাহ-ই হবে। ব্যবহারের দিক থেকে এগুলোকে ছয়টি ভাগে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যা হলো: “যেমন যারাবা ইয়াদরিবু”—মাযীতে আইন কালিমায় ফাতহাহ এবং ভবিষ্যতে (মুযারেতে) কাসরাহ যোগে। “এবং কাতাল্লা ইয়াকতুলু”—মাযীতে আইন কালিমায় ফাতহাহ এবং মুযারেতে যম্মাহ যোগে। “এবং আলিমা ইয়া’লামু”—মাযীতে কাসরাহ এবং ভবিষ্যতে ফাতহাহ যোগে। “এবং ফাতাহা ইয়াফতাহু”—উভয় ক্ষেত্রে ফাতহাহ যোগে। “এবং কারুমা ইয়াকুরুমু”—উভয় ক্ষেত্রে যম্মাহ যোগে। “এবং হাসিবা ইয়াহসিবু”—উভয় ক্ষেত্রে কাসরাহ যোগে। “প্রথম তিনটিকে বাবের স্তম্ভ বা মূল ভিত্তি বলা হয়”, যা ‘দিআমাহ’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ ঘরের খুঁটি অর্থাৎ বাবের মূলসমূহ। “মাযী ও মুস্তাকবিল (ভবিষ্যৎ) এর আইন কালিমার হরকতের ভিন্নতার কারণে” এটি হয়েছে। কেননা মাযীর অর্থ যেহেতু মুস্তাকবিলের অর্থের বিপরীত, তাই এর শব্দও বিপরীত হওয়া উচিত যাতে শব্দ ও অর্থের মধ্যে বৈচিত্র্যের মিল থাকে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যাতে বৈচিত্র্য বা ভিন্নতা রয়েছে তা অন্যটির তুলনায় মূল হিসেবে গণ্য। “এবং সেগুলোর আধিক্যের কারণে” অর্থাৎ সেগুলোর ব্যবহার অধিক হওয়ার কারণে, যা শব্দের প্রাঞ্জলতার (ফাসাহাত) কারণ হয়ে থাকে এবং এটি তার মৌলিকত্বেরও কারণ। এই কারণেই তিনি একে অন্য তিনটির ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আর প্রথম তিনটির একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো, প্রথমটির মধ্যে ভিন্নতা বেশি; কেননা ফাতহাহ ও কাসরাহ-র মধ্যে ভিন্নতা ফাতহাহ ও যম্মাহ-র ভিন্নতার চেয়ে বেশি। কারণ ফাতহাহ হলো উচ্চস্বর বিশিষ্ট এবং কাসরাহ হলো নিম্নস্বর বিশিষ্ট, আর যম্মাহ হলো এই দুটির মধ্যবর্তী, যা অনুভবের মাধ্যমে প্রমাণিত। দ্বিতীয়টিকে তৃতীয়টির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো এর মাযীর আইন কালিমায় ফাতহাহ থাকা। আর যিনি দ্বিতীয়টিকে প্রথমটির ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, যম্মাহ হলো উচ্চস্বর এবং এটি শক্তিশালী, অথবা তিনি উচ্চস্তর থেকে নিম্নস্তরে অর্থাৎ মূলের দিকে ধাপে ধাপে অবতরণ করার ইচ্ছা করেছেন যা লঘু হওয়ার কারণে অগ্রগণ্য হওয়ার অধিক যোগ্য। অন্য বাবগুলোর একটিকে অপরটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো প্রথমটির মাযী ও মুযারের আইন কালিমায় ফাতহাহ থাকা এবং দ্বিতীয়টির তুলনায় এর ব্যবহার অধিক হওয়া। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যে যম্মাহ হলো উচ্চতর হরকত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
[شرح ديكنقوز] وقوي وإلى أن استعماله أكثر بالنسبة إلى الثالث، وإنما لم يجئ من مكسور العين في الماضي مضموم العين في المضارع لئلا يتحرك حرف واحد بالأثقل بعد الثقيل، ولم يجئ من مضموم العين في الماضي مفتوح العين في المضارع لئلا يكون كالطفرة بسبب انتفاء التدريج في الانتقال من الأثقل إلى الأخف، ولا مكسور العين فيه لئلا يلزم الجمع بين الضم الثابت والكسر لا لضرورة. ولما كان سبب دخول الأبواب الثلاثة الأول في الدعائم أمرين اختلاف الحركات وكثرة الاستعمال، وكان انتفاء أحدهما فقط كافيا في عدم الدخول فيها أشار إلى أن عدم دخول الثلاثة الأخر فيها إنما هو لانتفاء الأمرين معا في نفس الأمر، لا لانتفاء أحدهما فقط؛ إذ لو لم يتعرض لذلك لم يعلم أن عدم الدخول فيها في نفس الأمر لانتفاء أحدهما فقط أو لانتفائهما جميعا، ولما كان انتفاء الأمر الأول فيها ظاهرا اكتفى بذكره مرة في أولها وقال "وفتح يفتح لا يدخل في الدعائم لانعدام اختلاف الحركات في عين الماضي والمستقبل ولعدم مجيئه" أي مجيء باب فتح يفتح "بغير حرف الحلق" عينا أو لاما والتزموا فيه فتح العين في الماضي والمضارع؛ ليقاوم خفة فتحة العين ثقالة حرف الحلق، ولذلك لم يدخلوا الفاء في الترديد ولم يقولوا أو فاء لزوال ثقل الفاء بسكونه في المضارع، ولا يرد مثل دخل يدخل؛ لأنه دليل بعد الوقوع، ولما لم يجئ بغير حرف الحلق انعدم كثرة الاستعمال أيضا "وأما ركن يركن وأبى يأبى" بفتح العين في الماضي والمضارع فيهما من غير حرف الحلق هذا لف وقوله "فمن اللغات المتداخلة والشواذ" نشره على ترتيبه يعني أن ركن يركن بفتح العين في الماضي وضمها في الغابر وركن يركن بكسرها في الماضي وفتحها في الغابر لغتان، فأخذ الماضي من الأولى والمضارع من الثاني فقيل ركن يكن بالفتح فيهما؛ لأنه من باب فتح يفتح فلا نقض، وعد الزمخشري ركن يركن من الشواذ وأبى يأبى من الشواذ الثابتة عن المواضع فهي في حكم المستثناة فكأنه قال القياس كذا إلا في هذه الصورة فلا نقض "وأما بقى يبقى وفنى يفنى وقلى يقلى" بفتح عين المضارع والمضارع في الكل من غير حرف الحلق "فلغات" قبيلة "طيء قد فروا" أي فارين "من الكسرة
--------------------------------------------
[শরহে দিকুনকুয] এবং এটি শক্তিশালী। আর তৃতীয় প্রকারের তুলনায় এর ব্যবহার অধিক। অতীতকালে আইন বর্ণ কাসরাযুক্ত (জের) হলে বর্তমানকালে তা যম্মাহযুক্ত (পেশ) হয়ে আসে না, যাতে একটি বর্ণের নড়াচড়া ভারী হরকতের পর অধিকতর ভারী হরকতের মাধ্যমে না হয়। অতীতকালে আইন বর্ণ যম্মাহযুক্ত হলে বর্তমানকালে তা ফাতহাযুক্ত (যবর) হয়ে আসে না, যাতে ভারী থেকে হালকা হরকতের দিকে গমনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অনুপস্থিতির কারণে তা হঠাৎ উল্লম্ফনের মতো না হয়। আবার সেখানে আইন বর্ণ কাসরাযুক্তও হয় না, যাতে কোনো প্রয়োজন ছাড়াই বিদ্যমান যম্মাহ ও কাসরার একত্রিত হওয়া আবশ্যক না হয়ে পড়ে। প্রথম তিনটি পরিচ্ছেদ স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ যেহেতু দুটি বিষয়—হরকতের ভিন্নতা এবং ব্যবহারের প্রাচুর্য—এবং এর যে কোনো একটির অনুপস্থিতিই অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার জন্য যথেষ্ট, তাই তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, শেষ তিনটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণ হলো বাস্তবে দুটি বিষয়েরই একসাথেই অনুপস্থিতি, কেবল একটির অনুপস্থিতি নয়। কারণ, তিনি যদি এটি উল্লেখ না করতেন, তবে জানা যেত না যে বাস্তবে এগুলোর অন্তর্ভুক্ত না হওয়া কি কেবল একটির অনুপস্থিতির কারণে, নাকি উভয়ের অনুপস্থিতির কারণে। যেহেতু এগুলোর ক্ষেত্রে প্রথম বিষয়টি (হরকতের ভিন্নতা) অনুপস্থিত থাকা স্পষ্ট, তাই তিনি সেগুলোর শুরুতে একবার উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছেন এবং বলেছেন, "ফাতাহা-ইয়াফতাহু স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ অতীত ও বর্তমানকালের আইন বর্ণের হরকতে ভিন্নতার অভাব এবং এর না আসা।" অর্থাৎ ফাতাহা-ইয়াফতাহু পরিচ্ছেদটি আইন বর্ণ বা লাম বর্ণে "কণ্ঠনালীর বর্ণ (হরফে হলকী) ব্যতিরেকে আসে না"। তারা এতে অতীত ও বর্তমানকালে আইন বর্ণকে ফাতহাযুক্ত রাখা আবশ্যক করেছেন যাতে ফাতহার হালকাভাব কণ্ঠনালীর বর্ণের ভারীভাবকে প্রতিহত করতে পারে। একারণেই তারা পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে 'ফা' বর্ণকে অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং 'অথবা ফা বর্ণ' বলেননি; কারণ বর্তমানকালে ফা বর্ণ সাকিন হওয়ার কারণে তার ভারীভাব দূরীভূত হয়ে যায়। আর 'দাখালা-ইয়াদখুলু'-এর মতো শব্দ দ্বারা এর ওপর আপত্তি আসবে না; কারণ এটি ঘটার পরের প্রমাণ। আর যেহেতু এটি কণ্ঠনালীর বর্ণ ব্যতিরেকে আসে না, তাই ব্যবহারের প্রাচুর্যও সেখানে অনুপস্থিত। "আর রানা-ইয়ারকানু এবং আবা-ইয়া'বা-এর ক্ষেত্রে" যেখানে কণ্ঠনালীর বর্ণ ছাড়াই উভয়টিতে আইন বর্ণ ফাতহাযুক্ত—এটি একটি 'লাফ' (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা)। আর তার উক্তি "তা পরস্পর মিশ্রিত উপভাষা ও ব্যতিক্রমসমূহের অন্তর্ভুক্ত"—এটি তার বিন্যাস অনুযায়ী 'নাশর' (ব্যাখ্যা)। অর্থাৎ, 'রানা-ইয়ারকানু' অতীতকালে আইন বর্ণ ফাতহাযুক্ত এবং বর্তমানকালে যম্মাহযুক্ত হওয়া এক উপভাষা, আর 'রানা-ইয়ারকানু' অতীতকালে কাসরাযুক্ত এবং বর্তমানকালে ফাতহাযুক্ত হওয়া অন্য একটি উপভাষা। অতঃপর প্রথমটি থেকে অতীতকাল এবং দ্বিতীয়টি থেকে বর্তমানকাল গ্রহণ করে উভয়টিতে ফাতহা সহকারে 'রানা-ইয়ারকানু' বলা হয়েছে; কারণ এটি ফাতাহা-ইয়াফতাহু পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত, তাই এখানে কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়নি। যামাখশারী 'রানা-ইয়ারকানু'-কে শায (ব্যতিক্রম) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং 'আবা-ইয়া'বা'-কে মূল নিয়ম বহির্ভূত শায গণ্য করেছেন যা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রসমূহে প্রমাণিত, ফলে তা স্বতন্ত্র নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। যেন তিনি বলেছেন: ব্যাকরণিক নিয়ম এমনটিই, তবে এই সুরত বা ক্ষেত্রটি ব্যতিক্রম, তাই এখানে নিয়ম ভঙ্গ হবে না। "আর বাকিয়া-ইয়াবকা, ফানিয়া-ইয়াফনা এবং কালিয়া-ইয়াকলা-এর ক্ষেত্রে"—যেখানে কণ্ঠনালীর বর্ণ ছাড়াই সবগুলোতে অতীত ও বর্তমানকালের আইন বর্ণ ফাতহাযুক্ত—এগুলো "তাই গোত্রের উপভাষা, যারা পলায়ন করেছে" অর্থাৎ পলায়নকারী হিসেবে "কাসরা থেকে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
[شرح ديكنقوز] إلى الفتحة" يعني أن الأصل فيها كسر العين في الماضي فقلبوا الكسرة فتحة؛ لأن من القياس عندهم أن يقلبوا الكسرة التي قبل الياء فتحة ثم يقلبوا الياء ألفا للتخفيف "و" باب "كرم يكرم لا يدخل في الدعائم لانعدام اختلاف الحركات و" انعدام "كثرة الاستعمال؛ لأنه لا يجيء إلا من الطبائع" أي الأفعال الطبيعية أي الغريزية التي جبل أي خلق الفاعل عليها من غير اختيار منه كالحسن والكرم "و" إلا "من النعوت" أي الصفات اللازمة ولأجل أن هذا الباب للصفات اللازمة اختير للماضي والمضارع منه حركة لا تحصل إلا بلزوم إحدى الشفتين للأخرى وانضمامها بها أعني الضم رعاية للتناسب بين الألفاظ ومعانيها "و" باب "حسب يحسب لا يدخل في الدعائم" لانعدام الاختلاف و"لقلته" في الاستعمال فيه إشارة إلى أن قلة استعمال هذا الباب لذاته لا بسبب من الأسباب ولا بشرط من الشروط "وقد جاء فعل يفعل" بضم العين في الماضي وفتحها في الغابر "على لغة من قال كدت تكاد" أصلهما كودت تكود بضم الماضي وفتح المضارع "وهي شاذة" والقياس كدت تكاد بكسر الكاف في الماضي من باب علم "كفضل يفضل" بكسر العين في الماضي وضمها في المضارع "ودمت" بكسر الدال "تدوم" بضمها يعني كما أن فضل يفضل ودمت تدوم شاذان، والقياس فضل يفضل من باب نصر ودمت تدوم من باب حسن كذلك كدت تكاد شاذا، وقال الزمخشري ثالثها في المتداخلة فكأن المصنف لم يظفر بكدت تكود بالضم فيهما وفضل يفضل بالكسر في الماضي والفتح في الغابر وبدمت تدام بالكسر في الماضي والفتح في المضارع فحكم بشذوذها. واعلم أن بعضهم قدم الرباعي المجرد على المنشعبات نظرا إلى أن الثلاثي المجرد
--------------------------------------------
[শরহ দিকনিক্বয] "ফাতহাহ-র দিকে" অর্থাৎ এর মূল রূপ ছিল অতীতকালে (মাযী) আইন কালেমার কাসরাহ, অতঃপর তারা কাসরাহকে ফাতহাহ-তে রূপান্তর করেছে; কারণ তাদের ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী তারা ইয়া-এর পূর্ববর্তী কাসরাহ-কে লঘু করার জন্য ফাতহাহ-তে রূপান্তর করে, অতঃপর ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে। "এবং" 'কারুমা ইয়াক রুমু' বাবটি (ক্রিয়াধারা) মূল স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, হারাকাতের (স্বরচিহ্ন) ভিন্নতা না থাকার কারণে এবং "এবং" ব্যবহারের আধিক্য না থাকার কারণে; কারণ এটি কেবল স্বভাবজাত বিষয়সমূহ" অর্থাৎ স্বাভাবিক বা সহজাত ক্রিয়াসমূহ থেকে আসে, যার ওপর কর্তা কোনো ইখতিয়ার বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সৃষ্ট বা স্বভাবজাত হয়েছেন, যেমন সৌন্দর্য ও মহানুভবতা। "এবং" এছাড়া এটি "গুণাবলি" অর্থাৎ অপরিহার্য গুণাবলি থেকে আসে। আর যেহেতু এই বাবটি অপরিহার্য গুণাবলির জন্য নির্ধারিত, তাই এর অতীত ও বর্তমান কালের জন্য এমন হারাকাত নির্বাচন করা হয়েছে যা উভয় ঠোঁটকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করা এবং গোল করা ব্যতীত অর্জিত হয় না—অর্থাৎ যম্মাহ; এটি করা হয়েছে শব্দ ও অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য। "এবং" 'হাসিবা ইয়াহসিবু' বাবটি মূল স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়" ভিন্নতা না থাকা এবং ব্যবহারের "স্বল্পতার কারণে"। এখানে ইঙ্গিত রয়েছে যে, এই বাবের ব্যবহারের স্বল্পতা তার নিজস্ব সত্তার কারণে, অন্য কোনো কারণ বা শর্তের কারণে নয়। "এবং কখনো কখনো 'ফা'ুলা ইয়াফ'আলা'" অতীতকালে আইন কালেমার যম্মাহ এবং ভবিষ্যৎ কালে (মুযারি) ফাতহাহ সহকারে "তাদের ভাষায় এসেছে যারা বলে 'কুদতু তাকা-দু' "। এর মূল ছিল 'কাউয়ুদতু তাকউয়ুদু' মাযীতে যম্মাহ এবং মুযারি'তে ফাতহাহ সহকারে। "এটি বিরল (শায)" এবং নিয়ম অনুযায়ী 'কালিমা'র বাব থেকে কাফ-এর নিচে কাসরাহ সহকারে 'কিদতু তাকা-দু' হওয়া উচিত ছিল। "যেমন 'ফাযিলা ইয়াফযুলু' " মাযীতে আইন কালেমার কাসরাহ এবং মুযারি'তে যম্মাহ সহকারে, "এবং 'দুমতু' " দাল-এর কাসরাহ সহকারে " 'তাদূমু' " যম্মাহ সহকারে। অর্থাৎ যেমন 'ফাযিলা ইয়াফযুলু' এবং 'দুমতু তাদূমু' বিরল বা নিয়মবহির্ভূত, এবং নিয়ম অনুযায়ী 'নাসারা'র বাব থেকে 'ফাযালা ইয়াফযুলু' এবং 'হাসুনা'র বাব থেকে 'দুমতু তাদূমু' হওয়া উচিত ছিল, তেমনি 'কুদতু তাকা-দু' শব্দটিও বিরল। আল-যামাখশারী বলেন, এটি তাদাখুল (এক বাবের সাথে অন্য বাবের মিশ্রণ) এর ক্ষেত্রে তৃতীয় প্রকার। যেন গ্রন্থকার উভয় ক্ষেত্রে যম্মাহ সহকারে 'কুদতু তাকউদু', মাযীতে কাসরাহ ও মুযারি'তে ফাতহাহ সহকারে 'ফাযিলা ইয়াফযালু' এবং মাযীতে কাসরাহ ও মুযারি'তে ফাতহাহ সহকারে 'দুমতু তাদামু' খুঁজে পাননি, তাই তিনি এগুলোকে বিরল হিসেবে গণ্য করেছেন। জেনে রাখুন যে, কেউ কেউ রুবায়ী মুজাররাদকে (চার অক্ষরবিশিষ্ট মূল ক্রিয়া) মুনশা'ইবাত (শাখা-প্রশাখা) এর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এই বিবেচনায় যে, থুলাসী মুজাররাদ (তিন অক্ষরবিশিষ্ট মূল ক্রিয়া)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
[شرح ديكنقوز] والرباعي المجرد أصلان فراعى مناسبة الأصالة بينهما فلم يفصل بينهما، والمصنف قدم منشعبة الثلاثي المجرد على الرباعي المجرد؛ رعاية لمناسبة الأصالة والفرعية بينهما فقال: "واثنا عشر لمنشبعة الثلاثي" أي المتفرعة عليه إما بزيادة حرف أو حرفين أو ثلاثة أحرف ولم يزد الزيادة على الثلاثة؛ لئلا يلزم زيادة الزائد على الأصل، ثم قدم ما زيد فيه حرف واحد على ما زيد فيه حرفان، وقدم ما زيد فيه حرفان على ما زيد فيه ثلاثة أحرف؛ رعاية للترتيب الطبيعي، فما زيد فيه حرف واحد فثلاثة أبواب وذلك "نحو أكرم" يكرم "إكراما" بزيادة الهمزة المفتوحة في أوله وإنما كسرت في المصدر فرقا بينه وبين الجمع على أفعال ولم يعكس لثقل الجمع وخفة الفتحة، وهذا باب الأفعال قدم؛ لأن الزيادة في الأول "و" نحو "قطع" تقطيعا بتضعيف العين قيل الزيادة هي الأولى؛ لأن الحكم بزيادة الساكن أولى وقيل الثانية؛ لأن الزيادة بالآخر أنسب، وسيبويه أجاز الوجهين لتعارض الدليلين وهذا باب التفعيل قدم؛ لأن الزيادة في الأصول "و" نحو "قاتل" مقاتلة بزيادة الألف بين الفاء والعين وهذا باب المفاعلة "و" ما زيد فيه حرفان فخمسة أبواب نحو "تفضل" تفضيلا بزيادة التاء في أوله وتضعيف العين، وهذا باب التفعل قدمه؛ لأن إحدى الزيادتين من جنس الأصول "وتضارب" تضاربا بزيادة التاء في أوله والألف بين الفاء والعين
--------------------------------------------
[শারহুন দিকনুকুয] রুবায়ী মুজাররাদ (চতুর্মূলীয় মূলরূপ) হলো দুটি মূল, তাই তিনি এ দুটির মধ্যকার মৌলিকত্বের সামঞ্জস্য রক্ষা করেছেন এবং তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাননি। গ্রন্থকার সুলাসি মুজাররাদের (ত্রিমূলীয় মূলরূপ) শাখাসমূহকে রুবায়ী মুজাররাদের আগে স্থান দিয়েছেন; তাদের মধ্যকার মূল ও শাখার সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য। তিনি বলেছেন: "সুলাসি মুজাররাদের শাখার জন্য বারোটি পরিচ্ছেদ।" অর্থাৎ যা থেকে শাখা নির্গত হয়েছে, তা একটি, দুটি বা তিনটি অক্ষর বৃদ্ধির মাধ্যমে হতে পারে। তিনি তিনটির বেশি অক্ষর বৃদ্ধি করেননি; যাতে মূলের ওপর অতিরিক্তের আধিক্য না ঘটে। এরপর তিনি এক অক্ষর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শব্দকে দুই অক্ষর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শব্দের আগে এবং দুই অক্ষর বৃদ্ধিপ্রাপ্তকে তিন অক্ষর বৃদ্ধিপ্রাপ্তের আগে স্থান দিয়েছেন; প্রাকৃতিক ক্রম বজায় রাখার জন্য। যেগুলোতে এক অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে তার জন্য তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। যেমন: "আকরামা" (সম্মান করল), "ইউকরিমা", "ইকরামান", এর শুরুতে একটি জবরযুক্ত হামজা বৃদ্ধির মাধ্যমে। মাসদারে একে যের দেওয়া হয়েছে যাতে এটি 'আফ’আল' ওজনের বহুবচনের সাথে মিশে না যায়। এর বিপরীতটি করা হয়নি কারণ বহুবচনের ওজন ভারী এবং জবরের উচ্চারণ হালকা। এটি হলো 'ইফ’আল' পরিচ্ছেদ, যা প্রথমে আনা হয়েছে কারণ এর বৃদ্ধি ঘটেছে শব্দের শুরুতে। আর "কাত্তা’আ" (টুকরো টুকরো করল), "তাকতী’আন", এখানে আইন অক্ষরের দ্বিত্ব করার মাধ্যমে। বলা হয়ে থাকে যে, প্রথমটি অতিরিক্ত; কারণ সাকিনকে অতিরিক্ত গণ্য করাই উত্তম। আবার বলা হয় দ্বিতীয়টি অতিরিক্ত; কারণ শেষের দিকে বৃদ্ধি করা বেশি মানানসই। সিবওয়াইহি উভয় মতকেই বৈধ বলেছেন কারণ উভয় দিকেই প্রমাণ রয়েছে। এটি 'তাফ’ইল' পরিচ্ছেদ, যা আগে আনা হয়েছে কারণ এর বৃদ্ধি ঘটেছে মূল অক্ষরের মাঝেই। আর "কাতলা" (লড়াই করল), "মুকা তালাতান", ফা এবং আইন অক্ষরের মাঝে আলিফ বৃদ্ধির মাধ্যমে। এটি হলো 'মুফা’আলাহ' পরিচ্ছেদ। যেগুলোতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি পেয়েছে তার জন্য পাঁচটি পরিচ্ছেদ। যেমন: "তাফাদদলা" (অনুগ্রহ করল), "তাফাদদুলান", শুরুতে 'তা' বৃদ্ধি এবং আইন অক্ষরের দ্বিত্ব করার মাধ্যমে। এটি 'তাফাউল' পরিচ্ছেদ, তিনি একে আগে এনেছেন কারণ এর দুটি অতিরিক্ত অক্ষরের একটি মূল অক্ষরের স্বগোত্রীয়। আর "তাদারবা" (পরস্পর প্রহার করল), "তাদারুবান", শুরুতে 'তা' এবং ফা ও আইন অক্ষরের মাঝে আলিফ বৃদ্ধির মাধ্যমে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
[شرح ديكنقوز] وهذا باب التفاعل قدمه لمشاركته الأول في زيادة التاء في الأول "و" نحو "انصرف" انصرافا بزيادة الهمزة والنون في أوله، وهذا باب الانفعال قدمه؛ لأن الزيادتين في الأول "و" نحو "احتقر" احتقارا بزيادة الهمزة في الأول والتاء بين الفاء والعين، وهذا باب الافتعال وستعرف وجه تقديمه على باب الأفعال إن شاء الله تعالى "و" ما زيد فيه ثلاثة أحرف فأربعة أبواب نحو "استخرج" استخراجا بزيادة الهمزة والسين والتاء في الأول، وهذا باب الاستفعال قدم؛ لأن الزوائد فيه في الأول "و" نحو "اخشوشن" اخشيشانا بزيادة الهمزة في الأول والواو بين العين واللام وبحرف من جنس العين بعدا الواو بالاتفاق لانعدام سكون الأول وهو باب الافعيعال قدمه؛ لأن إحدى الزوائد من جنس الأصول "و" نحو "اجلوذ" اجلو إذا بزيادة الهمزة في الأول والواوين بين اللام العين، وهذا الباب الافعوال قدمه؛ لأن كل الزوائد فيه قبل الآخر وليلزم تأخر احمار؛ إذ له بحث "ونحوا حمار" احميرارا بزيادة الهمزة في أوله والألف بين العين واللام وحرف من جنس اللام في آخره اتفاقا؛ لأن سكون الأول هنا للإدغام بخلاف سكون فعل وتفعل فإنه للفرار عن توالي الحركات الأربع من أول الأمر، وهذا باب الافعيلال قدمه؛ لأنه في قسمه ولكونه أبلغ من احمر في المعنى "ونحو احمر" احمرارا بزيادة الهمزة في أوله وحرف من جنس اللام في الآخر أيضا، وهذا باب الافعلال، وإنما ذكره في القسم الذي زيد فيه ثلاثة أحرف مع أن الزائد فيه حرفان لمناسبة احمار في البحث والمعنى وتكرار اللام، بل هو منقوص منه ولهذا "قال أصلها" أي أصل احمار واحمر "احمرار واحمرر فأدغما" أي الحرفان المتجانسان أعني الراءين بعد سلب حركة أوليهما في تينك الصيغتين "للجنسية ويدل عليه" أي على أن أصلهما احمارر واحمرر بفك الإدغام على ما صرح به صاحب المفتاح، وهو الظاهر من كلام المصنف أيضا "ارعوى وهو ناقص من باب افعل" فإنه لو كان أصلهما احمارر واحمرر من الأصل بلا إدغام لوجب أن
--------------------------------------------
[শারহু দিকনুকুয] এটি হলো তাফাউল (تفاعل) এর পরিচ্ছেদ। শুরুতে 'তা' (ت) অতিরিক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমটির (তাফাউল) সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে তিনি একে আগে উল্লেখ করেছেন। "এবং" যেমন: 'ইনসারাফা' (انصرف) থেকে 'ইনসিরাফান' (انصرافا), এর শুরুতে হামযাহ ও নুন অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এটি ইনফি'আল (انفعال) এর পরিচ্ছেদ। তিনি একে আগে এনেছেন কারণ অতিরিক্ত অক্ষর দুটি শুরুতেই অবস্থিত। "এবং" যেমন: 'ইহুতাকিরা' (احتقر) থেকে 'ইহতিকারান' (احتقارا), এর শুরুতে হামযাহ এবং 'ফা' ও 'আইন' কালিমার মাঝে 'তা' অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এটি ইফতি'আল (افتعال) এর পরিচ্ছেদ। ইনশাআল্লাহ তা'আলা অচিরেই আপনি একে ইফ'ইলাল (افعلال) পরিচ্ছেদের আগে সংস্থাপনের কারণ জানতে পারবেন। "এবং" যে শব্দে তিনটি অক্ষর অতিরিক্ত হয়, তা চারটি পরিচ্ছেদ; যেমন: 'ইস্তাকরাজা' (استخرج) থেকে 'ইস্তিখরাজান' (استخراجا), এর শুরুতে হামযাহ, সিন ও তা অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এটি ইসতিফ'আল (استفعال) এর পরিচ্ছেদ। একে আগে আনা হয়েছে কারণ এতে অতিরিক্ত অক্ষরগুলো শুরুতে থাকে। "এবং" যেমন: 'ইখশাউশানা' (اخشوشن) থেকে 'ইখশীশানান' (اخشيشانا), এর শুরুতে হামযাহ, 'আইন' ও 'লাম' কালিমার মাঝে 'ওয়াও' এবং সর্বসম্মতভাবে 'ওয়াও' এর পরে 'আইন' কালিমার সমজাতীয় একটি অক্ষর অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। কারণ এখানে প্রথমটির সাকিন হওয়া অনুপস্থিত। এটি ইফ'ই'আল (افعيال) এর পরিচ্ছেদ। তিনি একে আগে এনেছেন কারণ এর অন্যতম অতিরিক্ত অক্ষরটি মূল অক্ষরের সমজাতীয়। "এবং" যেমন: 'ইজলুওয়াদা' (اجلوذ) থেকে 'ইজলুইওয়াযান' (اجلوإذا), এর শুরুতে হামযাহ এবং 'লাম' ও 'আইন' কালিমার মাঝে দুটি 'ওয়াও' অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এটি ইফ'উওয়াল (افعوال) এর পরিচ্ছেদ। তিনি একে আগে এনেছেন কারণ এর সমস্ত অতিরিক্ত অক্ষর শেষের অক্ষরের আগে অবস্থিত এবং যাতে 'ইহমারা' (احمار) শব্দটি শেষে আসাও অনিবার্য হয়, কারণ সেটির আলোচনা ভিন্ন। "এবং যেমন ইহমারা" (احمار) থেকে 'ইহমীরাঁন' (احميرارا), এর শুরুতে হামযাহ, 'আইন' ও 'লাম' কালিমার মাঝে আলিফ এবং সর্বসম্মতভাবে শেষে 'লাম' কালিমার সমজাতীয় একটি অক্ষর অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। কারণ এখানে প্রথমটির সাকিন হওয়া হলো ইদগাম বা সন্ধির কারণে, যা 'ফা'আলা' ও 'তাফা'আলা' এর সাকিন হওয়া থেকে ভিন্ন; কেননা সেখানে সাকিন হওয়া ছিল শুরু থেকেই চারটি নড়াচড়া বা হারাকাত পরপর আসাকে পরিহার করার জন্য। এটি ইফ'ঈলাল (افعيلال) এর পরিচ্ছেদ। তিনি একে আগে এনেছেন কারণ এটি তার স্বজাতীয় পরিচ্ছেদে অবস্থিত এবং অর্থের দিক থেকে এটি 'ইহমাররা' (احمر) অপেক্ষা অধিক অর্থবহ। "এবং যেমন ইহমাররা" (احمر) থেকে 'ইহমিরারান' (احمرارا), এর শুরুতে হামযাহ এবং শেষে 'লাম' কালিমার সমজাতীয় একটি অক্ষর অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। তিনি একে সেই বিভাগে উল্লেখ করেছেন যাতে তিনটি অক্ষর অতিরিক্ত হয়, যদিও এতে অতিরিক্ত অক্ষর দুটি; আর এটি করা হয়েছে আলোচনা, অর্থ এবং 'লাম' কালিমার পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে 'ইহমারা' (احمار) এর সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য। বরং এটি সেটির একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। আর এই কারণেই "তিনি বলেছেন যে এ দুটির মূল হলো" অর্থাৎ 'ইহমারা' ও 'ইহমাররা' এর মূল হলো "ইহমীরার ও ইহমারার, অতঃপর সন্ধি করা হয়েছে" অর্থাৎ সমজাতীয় দুটি অক্ষর তথা দুটি 'রা' এর প্রথমটির হারাকাত বিলুপ্ত করার পর সন্ধি করা হয়েছে ওই দুটি শব্দরূপে। "এর প্রমাণ হলো" অর্থাৎ তাদের মূল যে ইহমীরার ও ইহমারার এবং সন্ধিবিচ্ছেদ করা অবস্থায় ছিল—যেমনটি মিফতাহ গ্রন্থকার স্পষ্ট করেছেন এবং গ্রন্থকারের বক্তব্য থেকেও এটিই প্রতীয়মান হয়—তাহলো "ইরআওয়া (ارعوى), যা ইফ'আল্লা (افعل) পরিচ্ছেদের নাতিস বা শেষাক্ষর দুর্বল রূপ"। কারণ যদি এ দুটির মূল সন্ধিহীনভাবে ইহমীরার ও ইহমারার হতো, তবে অবশ্যই তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
[شرح ديكنقوز] يقال: ارعوى؛ لأنه من بابها فلما قيل ارعوى بلا إدغام لمانع منه علم أن أصلهما احمارر واحمرر، وفائدة كون أصلهما بالفك تظهر في تقطيع الشعر إذا وقعا فيه، وهذا الدليل مخصوص باحمر وأما احمار فحكمه يعلم بالمقايسة عليه؛ لأنه منقوص احمار، وأيضا يدل عليه وجود النظائر وهي افعول وافعوعل وافعلل، يعني لو جعلنا الأصل احمارر ثم سير إلى الإدغام بترك المناسبة بينه وبين نظائره بخلاف ما لو جعلناه مدغما من الأصل، ويحتمل أن يوجه بأن يقال؛ أي على أن أصلهما احمارر واحمرر بفتح ما قبل الآخر حملا على الأخوات بدليل فتح ما قبل الآخر فيما لم يدغم لمانع نحو ارعوى ويحال معرفة حال ما قبل الآخر في المضارع على الحمل على الأخوات، فيكون قوله فأدغمتا للجنسية، وقوله: "لا يدغم لانعدام الجنسية" بيانا للواقع؛ أي لا يقع الإدغام في ارعوى لأن أصله ارعو وقدم الإعلال على الإدغام؛ لأن الإعلال قبل الإدغام فلم تبق المجانسبة؛ وإنما قلنا الإعلال قبل الإدغام؛ لأن سبب الإعلال موجب للإعلال يعني كلما وجد سبب الإعلال وجد الإعلال، وسبب الإدغام ليس بموجب الإدغام ليس بموجب الإدغام؛ يعني ليس كلما وجد سبب الإدغام وجد الإدغام، بل يجوزه ويدل عليه امتناع التصحيح في شيء من باب رضي؛ أي لا يجوز أن لا يعل كلمة من باب رضي، ويقال رضوو وقرو وطرو وغيرها مثلا على الأصل وجواز الفك في باب حيي، ولأن الإعلال فيه تخفيف بالنسبة إلى الإدغام، ولأن الإعلال قد ينظر فيه إلى حرف واحد بخلاف الإدغام فإنه ينظر فيه إلى حرفين ألبتة "و" باب "واحد" من تلك الأبواب الخمسة والثلاثين "للرباعي المجرد" ولم يضعوا له إلا بابا واحدا؛ لأنه لما كثر حروفه التزموا فيه الفتحات طلبا للخفة فلم يبق للتعدد فيه مجال؛ إذ التعدد إنما يكون باختلاف الحركات، ثم لما لم يكن في كلامهم أربع حركات متوالية سكنوا الثاني؛ إذ في إسكان غيره مانع لا يخفى "نحو دحرج" دحرجة ودحراجا "و" أبواب "ثلاثة" منها "لمنشعبة الرباعي" المجرد ولم يضعوا لها أكثر من ثلاثة أبنية طلبا للتخفيف وزادوا فيها حرفا أو حرفين دون أكثر لئلا تخرج عن الاعتدال وقدم ما زيد فيه حرفان؛ لأنه اثنان فهما غالبا "نحو احرنجم" احرنجاما بزيادة الهمزة في الأول والنون بين العين واللام الأولى، وهذا باب الافعنلال قدمه لتقدمه الزيادة فيه "و" نحو "اقشعر" اقشعرارا بزيادة الهمزة في الأول وتكرار اللام الثانية، وهذا باب الافعلال "و" ما زيد فيه حرف واحد "نحو تدحرج" تدحرجا بزيادة التاء في الأول وهذا باب التفعلل "وستة" منها "لملحق دحرج" أي
--------------------------------------------
[শারহু দিকনুকুয] বলা হয়ে থাকে: ‘ইরআওয়া’; কারণ এটি সেই একই পরিচ্ছেদভুক্ত। সুতরাং যখন কোনো প্রতিবন্ধকের কারণে দ্বিত্বকরণ (ইদগাম) ছাড়াই ‘ইরআওয়া’ বলা হলো, তখন বোঝা গেল যে এই দুটির মূল রূপ হলো ‘ইহমারারা’ এবং ‘ইহমারারা’। এই দুটির মূল রূপ বিশ্লিষ্ট অবস্থায় থাকার উপকারিতা কাব্যছন্দের মাত্রা বিন্যাসে প্রকাশ পায় যখন শব্দ দুটি কাব্যের মধ্যে ব্যবহৃত হয়। এই প্রমাণটি ‘ইহমাররা’ শব্দের জন্য নির্দিষ্ট, আর ‘ইহমারা’ শব্দের বিধানটি এর ওপর কিয়াস বা অনুমানের মাধ্যমে জানা যায়; কারণ এটি ‘ইহমারা’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এছাড়া এর সপক্ষে সমজাতীয় অন্যান্য রূপের অস্তিত্বও প্রমাণ দেয়, আর তা হলো ‘ইফআওউলা’, ‘ইফআওআলা’ এবং ‘ইফআল্লা’। অর্থাৎ, আমরা যদি এর মূল ‘ইহমারারা’ ধরি এবং পরে তার সমজাতীয় রূপগুলোর সাথে সামঞ্জস্য ত্যাগ করে দ্বিত্বকরণের দিকে নিয়ে যাই, তবে তা সেই অবস্থার বিপরীত হবে যখন আমরা তাকে শুরু থেকেই দ্বিত্বকৃত বা সন্ধিযুক্ত ধরব। আর এটি এভাবেও ব্যাখ্যা করা সম্ভব যে: অর্থাৎ এই দুটির মূল হলো ‘ইহমারারা’ এবং ‘ইহমারারা’—শেষের আগের অক্ষরে ফাতহা বা জবর হওয়ার ভিত্তিতে, যাতে অন্যান্য সমজাতীয় রূপগুলোর সাথে মিল থাকে। এর প্রমাণ হলো সেই শব্দগুলোতে শেষের আগের অক্ষরে ফাতহা থাকা যেগুলোতে কোনো প্রতিবন্ধকের কারণে দ্বিত্বকরণ হয়নি, যেমন ‘ইরআওয়া’। আর বর্তমান কালে (মুজারি) শেষের আগের অক্ষরের অবস্থা অন্যান্য সমজাতীয় রূপের ওপর কিয়াসের মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং তার বক্তব্য—‘অতঃপর সমজাতীয় হওয়ার কারণে দ্বিত্বকরণ করা হয়েছে’ এবং তার কথা—‘লিঙ্গগত বা সমজাতীয়তার অভাবে দ্বিত্বকরণ হয় না’—তা মূলত বাস্তব অবস্থার বর্ণনা। অর্থাৎ ‘ইরআওয়া’ শব্দে দ্বিত্বকরণ ঘটে না কারণ এর মূল হলো ‘ইরআওয়াওয়া’। এখানে রূপান্তরকে (ইলাল) দ্বিত্বকরণের (ইদগাম) ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে; কারণ দ্বিত্বকরণের পূর্বেই রূপান্তর সম্পন্ন হয়ে যায়, ফলে সমজাতীয়তা আর অবশিষ্ট থাকে না। আমরা রূপান্তরকে দ্বিত্বকরণের ওপর প্রাধান্য দিয়েছি এই কারণে যে, রূপান্তরের কারণটি রূপান্তরকে অনিবার্য (ওয়াজিব) করে তোলে; অর্থাৎ যখনই রূপান্তরের কারণ পাওয়া যাবে, তখনই রূপান্তর ঘটবে। কিন্তু দ্বিত্বকরণের কারণ দ্বিত্বকরণকে অনিবার্য করে না; অর্থাৎ দ্বিত্বকরণের কারণ পাওয়া গেলেই যে দ্বিত্বকরণ ঘটবে এমনটি নয়, বরং এটি কেবল দ্বিত্বকরণকে বৈধ করে। এর প্রমাণ হলো ‘রাদিয়া’ পরিচ্ছেদের কোনো শব্দে সহীহ বা অবিকৃত রাখা নিষিদ্ধ হওয়া; অর্থাৎ ‘রাদিয়া’ পরিচ্ছেদের কোনো শব্দকে রূপান্তর না করা জায়েজ নেই। যেমন মূল রূপ অনুযায়ী ‘রাদাওওয়া’, ‘কারুওয়া’, ‘তারুওয়া’ ইত্যাদি বলা জায়েজ নয়। অথচ ‘হাইয়্যি’ পরিচ্ছেদে দ্বিত্বকরণ না করে বিশ্লিষ্ট রাখা জায়েজ। এছাড়া দ্বিত্বকরণের তুলনায় রূপান্তরের মধ্যে লাঘব বা উচ্চারণ সহজ করার বিষয়টি বিদ্যমান। তাছাড়া রূপান্তরের ক্ষেত্রে কখনও একটি মাত্র অক্ষরের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়, যা দ্বিত্বকরণের বিপরীত, কারণ সেখানে অবশ্যই দুটি অক্ষরের দিকে দৃষ্টি দিতে হয়। এই পঁয়ত্রিশটি পরিচ্ছেদের মধ্যে ‘একটি’ পরিচ্ছেদ হলো ‘চতুরক্ষর বিশিষ্ট মূল ক্রিয়ার (রুবায়ি মুজাররাদ)’ জন্য। ভাষাবিদগণ এর জন্য কেবল একটিই পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন; কারণ যখন এর অক্ষরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন তারা উচ্চারণের লাঘব বা সহজতার জন্য এতে ফাতহা বা জবর প্রদান অপরিহার্য করে নিয়েছেন। ফলে এতে বৈচিত্র্যের আর সুযোগ থাকেনি; কারণ বৈচিত্র্য কেবল হরকত বা স্বরচিহ্নের পরিবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। অতঃপর যখন তাদের ভাষায় টানা চারটি স্বরচিহ্নযুক্ত অক্ষরের সমাবেশ ঘটল না, তখন তারা দ্বিতীয় অক্ষরটিকে সাকিন বা স্থির করে দিলেন; কারণ অন্য কোনো অক্ষরকে সাকিন করার ক্ষেত্রে এমন সব বাধা রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়। ‘যেমন: দাহরাজা’ (গড়িয়ে দেওয়া), দাহরাজাতান এবং দিহরাজান। আর পঁয়ত্রিশটি পরিচ্ছেদের মধ্যে ‘তিনটি’ পরিচ্ছেদ হলো ‘চতুরক্ষর বিশিষ্ট মূল ক্রিয়ার বর্ধিত রূপের (মানশায়িবা)’ জন্য। ভাষাবিদগণ উচ্চারণের সহজতার জন্য এর জন্য তিনটির বেশি কাঠামো নির্ধারণ করেননি। তারা এতে একটি বা দুটি অক্ষর বৃদ্ধি করেছেন, তার বেশি নয়, যাতে এটি ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত না হয়। আর যাতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে তাকে প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ এতে বর্ধিত অংশ দুটি। ‘যেমন: ইহরাঞ্জামা’ (একত্রিত হওয়া), ইহরাঞ্জামান; এখানে শুরুতে হামজা এবং আইন ও প্রথম লামের মাঝে নুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি হলো ‘ইফআনলাল’ পরিচ্ছেদ; এতে বর্ধিত অক্ষরের আধিক্যের কারণে একে আগে আনা হয়েছে। ‘এবং’ যেমন ‘ইকশাআরা’ (শিহরিত হওয়া), ইকশাআরারান; এখানে শুরুতে হামজা এবং দ্বিতীয় লামটি দ্বিত্ব করা হয়েছে। এটি হলো ‘ইফইলাল’ পরিচ্ছেদ। আর যাতে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে ‘যেমন: তাদাহরাজা’ (গড়িয়ে পড়া), তাদাহরাজান; এখানে শুরুতে ‘তা’ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি হলো ‘তাফাললুল’ পরিচ্ছেদ। আর পঁয়ত্রিশটির মধ্যে ‘ছয়টি’ পরিচ্ছেদ হলো ‘দাহরাজা’ এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) শব্দগুলোর জন্য; অর্থাৎ—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
[شرح ديكنقوز] مزيد على الثلاثي المجرد للإلحاق بدحرج "نحو شملل" شملة بزيادة حرف من جنس اللام في آخره، وهذا باب الفعللة قدم الزائد فيه من جنس حروفه الأصول "و" نحو "حوقل" حوقلة بزيادة الواو بين الفاء والعين، وهذا باب الفوعلة قدمه لقوة الواو "و" نحو "بيطر" بيطرة بزيادة الياء بين الفاء العين، وهذا باب الفعيلة قدمه لتقدم الزائد "ونحو جهور" جهورة بزيادة الواو بين العين واللام، وهذا باب فعول قدمه لاشتراكه مع حول في نفس الزائد ومع بيطر في كونه حرف علة، وأما تقدمهما على ما تقدم عليه جهور فلتقدم الزائد فيهما "و" نحو "قلنس" قلنسة بزيادة النون بين العين واللام، وهذا باب الفعنلة قدم لتقدم الزائد "و" نحو "قلسى" قلساة بزيادة الياء في الآخر ثم القلب ألفا ولا يبطل به الإلحاق لكونه محل التغيير وهذا باب الفعلاة "وخمسة" منها مزيدة على الثلاثي المجرد وهي "لمحلق تدحرج نحو تجلبب" تجلببا بزيادة التاء في الأول وحروف من جنس اللام في الآخر، وهذا باب التفعلل "و" نحو "تجورب" تجوربا بزيادة التاء والواو، وهذا باب تفوعل "و" نحو "تشيطن" تشيطنا بزيادة التاء والياء، وهذا باب التفعيل وجوه تقديمات هذه الثلاثة كوجوه تقديمات الثلاثة الأول ملحقات دحرج "و" نحو "ترهوك" ترهو كابزدة التاء والواو، وهذا باب التفعول قدمه لاشتراكه مع سوابقه في كون الزيادة في الأول، وأما تقديم السوابق على ما تقدم عليه ترهوك فلكثرتها "و" نحو "تمسكن" تمسكنا بزيادة التاء والميم في الأول، وهذا باب التمفعل "واثنان" منهما مزيد على الثلاثي المجرد وهما "لملحق احرنجم نحو اقعنسس" اقعنساسا بزيادة الهمزة في الأول والنون بين العين واللام وحرف من جنس اللام في الآخر، وهذا باب الافعنلال قدمه لتقدم الزائد "و" نحو "اسلنقى" اسلنقاء بزيادة الهمزة في الأول والنون بين العين واللام والياء في الآخر ثم القلب ألفا ولا يبطل به الإلحاق لما مر، وهذا باب الافعنلاء وإنما قدم ملحقات دحرج على ملحقات تدحرج لتقدم دحرج على تدحرج وقدم ملحقات تدحرج على ملحق احرنجم
--------------------------------------------
[শরহে দিকনুকূজ] সুলাসি মুজাররাদের সাথে অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করে ‘দাহরাজা’ (دحرج) এর সাথে ইলহাক (সাদৃশ্যকরণ) করার জন্য; যেমন ‘শামলালা’ (شملل)। এর শেষে ‘লাম’ কালিমার সমজাতীয় একটি বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘শামলালা’ হয়েছে। এটি হলো ‘ফাইল্লাহ’ (الفعللة) পরিচ্ছেদ। এখানে মূল বর্ণের সমজাতীয় বর্ণটি শেষে বাড়িয়ে একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। “এবং” যেমন ‘হাওকালা’ (حوقل); এখানে ‘ফা’ ও ‘আইন’ কালিমার মাঝে ‘ওয়াও’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘হাওকালাহ’ হয়েছে। এটি হলো ‘ফাওআলাহ’ (الفوعلة) পরিচ্ছেদ। ‘ওয়াও’ এর শক্তির কারণে একে আগে আনা হয়েছে। “এবং” যেমন ‘বাইতারা’ (بيطر); এখানে ‘ফা’ ও ‘আইন’ কালিমার মাঝে ‘ইয়া’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘বাইতারাহ’ হয়েছে। এটি হলো ‘ফাইয়ালাহ’ (الفعيلة) পরিচ্ছেদ। অতিরিক্ত বর্ণটি আগে থাকায় একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। “এবং যেমন জাহওয়ারা” (جهور); এখানে ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘ওয়াও’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘জাহওয়ারাহ’ হয়েছে। এটি হলো ‘ফাউয়ালা’ (فعول) পরিচ্ছেদ। ‘হাওকালা’ এর সাথে একই অতিরিক্ত বর্ণ এবং ‘বাইতারা’ এর সাথে হরফে ইল্লাত হওয়ার বিষয়ে সাদৃশ্য থাকায় একে আগে আনা হয়েছে। তবে পূর্বোক্ত দুটিকে ‘জাহওয়ারা’ এর আগে আনার কারণ হলো সেগুলোতে অতিরিক্ত বর্ণটি আগে এসেছে। “এবং” যেমন ‘কালনাসা’ (قلنس); এখানে ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘নুন’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘কালনাসাহ’ হয়েছে। এটি ‘ফাইনাল্লাহ’ (الفعنلة) পরিচ্ছেদ, অতিরিক্ত বর্ণটি আগে হওয়ায় একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। “এবং” যেমন ‘কালসা’ (قلسى); শেষে ‘ইয়া’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘কালসায়াহ’ হয়েছে, এরপর ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে ইলহাক বাতিল হয় না, কারণ এটি পরিবর্তনের স্থান। এটি ‘ফাইলাহ’ (الفعلاة) পরিচ্ছেদ। “এবং পাঁচটি” পরিচ্ছেদ এমন যা সুলাসি মুজাররাদের ওপর অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করে “তাদাহরাজা এর সাথে ইলহাক করার জন্য; যেমন তাজালবাবা” (تجلبب)। শুরুতে ‘তা’ এবং শেষে ‘লাম’ কালিমার সমজাতীয় বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তাজালবুবা’ হয়েছে। এটি ‘তাফাউলুল’ (التفعلل) পরিচ্ছেদ। “এবং” যেমন ‘তাজাওরাবা’ (تجورب); এখানে ‘তা’ এবং ‘ওয়াও’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তাজাওরুবা’ হয়েছে। এটি ‘তাফাউআল’ (تفوعل) পরিচ্ছেদ। “এবং” যেমন ‘তাশাইতানা’ (تشيطن); এখানে ‘তা’ এবং ‘ইয়া’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তাশাইতুনা’ হয়েছে। এটি ‘তাফাইআল’ (التفعيل) পরিচ্ছেদ। এই তিনটি পরিচ্ছেদকে আগে আনার কারণ ঠিক তেমনই যেমন দাহরাজা-এর সাথে ইলহাককৃত প্রথম তিনটি পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে ছিল। “এবং” যেমন ‘তারাহওয়াকা’ (ترهوك); এখানে ‘তা’ এবং ‘ওয়াও’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তারাহউকা’ হয়েছে। এটি ‘তাফাউউল’ (التفعول) পরিচ্ছেদ। শুরুতে অতিরিক্ত বর্ণ থাকার বিষয়ে পূর্ববর্তীগুলোর সাথে সাদৃশ্য থাকায় একে আগে আনা হয়েছে। তবে পূর্ববর্তীগুলোকে ‘তারাহওয়াকা’ এর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো সেগুলোর ব্যবহারিক আধিক্য। “এবং” যেমন ‘তামাসকানা’ (تمسكن); শুরুতে ‘তা’ এবং ‘মীম’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তামাসকুনা’ হয়েছে। এটি ‘তামাফআল’ (التمفعل) পরিচ্ছেদ। “এবং দুটি” পরিচ্ছেদ এমন যা সুলাসি মুজাররাদের ওপর অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করে “ইহরাঞ্জামা এর সাথে ইলহাক করার জন্য; যেমন ইকআনসাসা” (اقعنسس)। শুরুতে ‘হামজা’, ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘নুন’ এবং শেষে ‘লাম’ কালিমার সমজাতীয় একটি বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘ইকআনসাস’ হয়েছে। এটি ‘ইফইনলাল’ (الافعنلال) পরিচ্ছেদ। অতিরিক্ত বর্ণটি আগে হওয়ায় একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। “এবং” যেমন ‘ইসলাঙ্কা’ (اسلنقى); শুরুতে ‘হামজা’, ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘নুন’ এবং শেষে ‘ইয়া’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘ইসলাঙ্কা’ হয়েছে, এরপর ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বোক্ত কারণে এখানেও ইলহাক বাতিল হবে না। এটি ‘ইফইনলা’ (الافعنلاء) পরিচ্ছেদ। দাহরাজা-এর ইলহাকসমূহকে তাদাহরাজা-এর ইলহাকসমূহের আগে আনা হয়েছে কারণ দাহরাজা শব্দটি তাদাহরাজা-এর আগে আসে। একইভাবে তাদাহরাজা-এর ইলহাকসমূহকে ইহরাঞ্জামা-এর ইলহাকসমূহের আগে আনা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
[شرح ديكنقوز]
فصل في بيان أمثلة الماضي:لكثرة ملحق تدحرج. ولما ذكر أن فعلا يلحق بفعل أراد بيان ما به يعرف ذلك فقال: "ومصداق" حكم "الإلحاق" والمصداق اسم آلة؛ أي آلة صدق الحكم بالحاق فعل يفعل؛ أي طريق معرفة صدق ذلك الحكم "اتحاد المصدرين"؛ أي مصدري ذينك الفعلين فكأنه آلة بين القوة العاقلة وبين صدق الحكم بالحاق؛ وإنما لم يحكم على أخرج بالإلحاق بدحرج مع اتحاد مصدريهما؛ لأنه كما يقال: دحرج دحراجا، يقال: أخرج إخراجا؛ لأن الاعتبار في دحرج بالفعللة لعمومها واطرادها في جميع صور فعلل دون الفعلال لعدم مجيئه في بعض الصور منه، فإنهم لم يقولوا في قحطب وعربد قحطابا وعربا دابل قالوا قحطبة وعربدة ولأن الشرط توافق المصادر أجمع. واعلم أن المراد بالإلحاق جعل مثال على مثال أزيد منه بزيادة حرف أو أكثر؛ أي جعله موازنا له في عدد الحروف في الحركات والسكنات، ولذلك لا يجوز الإدغام مطلقا في الملحق ولا الإعلال في غير الآخر وبجعل ذلك الحرف الزائد في المزيد فيه مقابلا للأصل في الملحق به فيعامل الملحق معاملة الملحق به في أحكامه من التصغير والتكبير وغيرهما فلا بد أن يكون الملحق مماثلا وموازنا للملحق به، ومعنى الموازنة وقوع الفاء والعين واللام في الفرع موقعها في الأصل الملحق به، وإن كان ثمة حرف زائد فلا بد من مماثلة في الملحق لا مجرد التوافق في الحركات والسكنات، ولذلك حكم على اقعنسس بأنه ملحق باحرنجم ولم يحكم على استخرج؛ لأن الاستخراج بالنسبة إلى احرنجم على خلاف ما ذكرنا في الأصلية والزيادة جميعا أما في الأصلية فلأن الخاء وهو فاء وقعت موقع النون الزائدة في الأصل، وأما في الزيادة؛ فلأن النون واقعة في الأصل بعد الفاء والعين وليس في الفرع نون في موضعها، والفرق بين الأصل والملحق به أن الملحق يجب أن يكون فيه ما زيد للإلحاق دون الملحق به، مثلا يجب في باب حوقل بزيادة الواو بين الفاء والعين دون باب دحرج وفي باب اقعنسس وتجلبب وجلبب تكرير اللام دون باب احرنجم وتدحرج ودحرج وعلى هذا القياس، ثم اعلم أن أحكام الأبواب كلها موكولة على السماع، وأن المصنف لما لم يتعرض لبيان معاني الأبواب اقتفينا أثره، وأيضا لما لم يتعلق الغرض من متعلم هذا الفن لمعاني الأمثلة لم نذكرها "فصل" أي هذا فصل "في" بيان أمثلة "الماضي" هو فعل دل وضعا على معنى وجد قبل زمان أخبارك "وهو يجيء على أربعة عشر وجها" لما يجيء وإن كان القياس يقتضي أن يكون ثمانية عشر وجها، ولم يتعرض لتعريف الماضي والمستقبل؛ لشهرة أمرهما لكونهما أصلي المشتقات من المصدر أو لإغناء اسميهما اللغويين عنه، وإنما قدم الماضي على المستقبل؛ لأنه أصل بالنسبة إليه؛ لأن الماضي مزيد عليه والمستقبل مزيد "نحو ضرب" تقول ضرب ضربا ضربوا ضربت ضربتا ضربن ضربت ضربتما ضربتم ضربت ضربتما ضربتن ضربت منتهيا "إلى ضربنا" وإنما بدأ في اطراد الأمثلة بالغائب نظرا إلى عدم الزيادة فيه، ومن بدأ بالمتكلم نظرا إلى أنه الأصل، ولما كان البحث عن أحوال أواخر بعض وجوه الماضي حركة وسكونا مبنيا على بناء الماضي إذا لم يعرف أن الأصل في آخره ما إذا لم يتصور بيان سبب العدول عن هذا الأصل في بعض وجوه تعرض لبنائه وتعرض أيضا لإعراب المستقبل، وبناء الأمر على سبيل الاستطراد تأييدا لبناء الماضي، وإلا فليس شيء منها من وظيفته فقال: "وإنما بني الماضي لفوات موجب الإعراب فيه" أي الفاعلية والمفعولية والإضافة؛ لأنه فعل والفعل لا يكون عرضة لاعتوار هذه
--------------------------------------------
[শরাহ দিকনুকুয] অতীতকালীন ক্রিয়ার (মাজি) উদাহরণসমূহের বর্ণনায় একটি পরিচ্ছেদ:তাদাহরাজা (تدحرج)-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) ক্রিয়াগুলোর আধিক্যের কারণে। আর যখন তিনি উল্লেখ করলেন যে, একটি ক্রিয়া অন্য একটি ক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত হয়, তখন তিনি সেই বিষয়টি বর্ণনা করতে চাইলেন যার মাধ্যমে তা চেনা যায়। তাই তিনি বললেন: আর "সংযুক্তির" হুকুমের "প্রমাণ" (মিসদাক)—এবং মিসদাক হলো একটি যন্ত্রবাচক বিশেষ্য (ইসমে আলা); অর্থাৎ একটি ক্রিয়া অন্যটির সাথে সংযুক্ত হওয়ার হুকুমের সত্যতা প্রমাণের মাধ্যম বা পথ—হলো "উভয় ক্রিয়ামূলের (মাসদার) অভিন্নতা"; অর্থাৎ ওই দুটি ক্রিয়ার মাসদারদ্বয় অভিন্ন হওয়া। যেন এটি বুদ্ধিবৃত্তিক অন্বেষা এবং সংযুক্তির সত্যতার মাঝে একটি মাধ্যম। তবে উভয় মাসদার অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও 'আখরাজা' (أخرج)-কে 'দাহরাজা' (دحرج)-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) হিসেবে গণ্য করা হয়নি; যদিও বলা হয়: দাহরাজা দাহরাজান (دحرج دحراجا), তেমনি বলা হয়: আখরাজা ইখরাজান (أخرج إخراجا)। কারণ, 'দাহরাজা'র ক্ষেত্রে 'ফা'লালাহ' (فعللة) ওজনেরই মূল বিবেচনা করা হয়, কারণ এটি 'ফা'লাল' (فعلل) ওজনের সকল রূপের ক্ষেত্রে ব্যাপক ও নিয়মিত। পক্ষান্তরে 'ফিলাল' (فعلال) ওজনের বিবেচনা করা হয় না, কারণ এর কিছু রূপের ক্ষেত্রে এই ওজনটি আসে না। যেমন তারা 'কাহতবা' (قحطب) এবং 'আরবাদা' (عربد) এর ক্ষেত্রে 'কহিতাবান' (قحطابا) বা 'ইরবিদান' (عربادا) বলে না, বরং তারা বলে 'কাহতাবাতান' (قحطبة) এবং 'আরবাদাতান' (عربدة)। এছাড়া শর্ত হলো সকল মাসদারের মাঝে সামঞ্জস্য থাকা। জেনে রাখুন যে, সংযুক্তির (ইলহাক) উদ্দেশ্য হলো—কোনো একটি শব্দের গঠনকে তার চেয়ে অতিরিক্ত বর্ণবিশিষ্ট অন্য একটি শব্দের গঠনের অনুরূপ করে দেওয়া, একটি বা একাধিক বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে। অর্থাৎ, স্বরচিহ্ন (হরকত) ও স্থিতিচিহ্নের (সুকুন) সংখ্যায় বর্ণগুলোকে তার সমান্তরাল করে তোলা। এই কারণেই 'মুলহাক' বা সংযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই 'ইদগাম' (বর্ণের মিলন) বৈধ নয় এবং শেষ বর্ণ ছাড়া অন্য কোথাও 'ইলাল' (বর্ণের পরিবর্তন) বৈধ নয়। আর ওই অতিরিক্ত বর্ণটিকে যার সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে (মুলহাক বিহি) তার মূল বর্ণের সমান্তরাল ধরা হয়। ফলে সংযুক্ত শব্দটিকে তার রূপান্তর, তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক) এবং তাকবির ইত্যাদি হুকুমের ক্ষেত্রে যার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে তারই অনুরূপ গণ্য করা হয়। সুতরাং এটি আবশ্যক যে, সংযুক্ত শব্দটি তার মূল শব্দের (মুলহাক বিহি) সদৃশ ও সমান্তরাল হবে। সমান্তরাল হওয়ার অর্থ হলো—শাখা শব্দে ফা, আইন এবং লাম বর্ণগুলো মূল শব্দের সেই একই অবস্থানে থাকবে। যদি সেখানে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকে, তবে সংযুক্ত শব্দে তার সাদৃশ্য থাকা জরুরি, কেবল হরকত ও সুকুনের মিল থাকাই যথেষ্ট নয়। এই কারণেই 'ইকআনসাসা' (اقعنسس)-কে 'ইহরানজামা' (احرنجم)-এর সাথে সংযুক্ত বলে গণ্য করা হয়, কিন্তু 'ইসতাখরাজা' (استخرج)-কে নয়। কারণ 'ইহরানজামা'র তুলনায় 'ইসতাখরাজা'র মূল বর্ণ এবং অতিরিক্ত বর্ণের বিন্যাস আমরা যা উল্লেখ করেছি তার পরিপন্থী। মূল বর্ণের ক্ষেত্রে পরিপন্থী হওয়ার কারণ হলো, 'খ' বর্ণটি—যা এখানে 'ফা' বর্ণ—তা মূল শব্দের অতিরিক্ত 'নূন'-এর স্থলে পড়েছে। আর অতিরিক্ত বর্ণের ক্ষেত্রে পরিপন্থী হওয়ার কারণ হলো, মূল শব্দে 'নূন' বর্ণটি 'ফা' এবং 'আইন' বর্ণের পরে অবস্থিত, কিন্তু শাখা শব্দে সেই স্থানে কোনো 'নূন' নেই। মূল এবং যার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে (মুলহাক বিহি) তাদের মধ্যে পার্থক্য হলো—সংযুক্ত শব্দে অবশ্যই এমন কিছু থাকতে হবে যা সংযুক্তির জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা মূল শব্দে নেই। উদাহরণস্বরূপ, 'হাওকালা' (حوقل) অধ্যায়ে 'ফা' এবং 'আইন' বর্ণের মাঝে 'ওয়াও' বৃদ্ধি করা জরুরি, যা 'দাহরাজা' অধ্যায়ে নেই। আবার 'ইকআনসাসা' (اقعنسس), 'তাজালবাবা' (تجلبب) এবং 'জালবাবা' (جلبب) অধ্যায়ে 'লাম' বর্ণের পুনরাবৃত্তি জরুরি, যা 'ইহরানজামা' (احرنجم), 'তাদাহরাজা' (تدحرج) এবং 'দাহরাজা' (دحرج) অধ্যায়ে নেই। এই নিয়মেই অন্যান্যগুলো বুঝতে হবে। এরপর জেনে রাখুন যে, এসকল অধ্যায়ের হুকুমসমূহ শ্রুতির (সামা' বা আরবরা যেভাবে বলেছে তার) ওপর নির্ভরশীল। আর যেহেতু মূল লেখক অধ্যায়গুলোর অর্থের বর্ণনায় প্রবৃত্ত হননি, তাই আমরাও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। এছাড়া, এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর মূল উদ্দেশ্য উদাহরণগুলোর অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় বলে আমরা সেগুলো উল্লেখ করিনি। "পরিচ্ছেদ" অর্থাৎ এটি একটি পরিচ্ছেদ "অতীতকালীন ক্রিয়া" (মাজি)-এর উদাহরণসমূহের বর্ণনায়। মাজি হলো এমন একটি ক্রিয়া যা গঠনগতভাবে এমন একটি অর্থের ওপর দালালত করে যা আপনার সংবাদ দেওয়ার সময়ের পূর্বে বিদ্যমান ছিল। "এবং তা চৌদ্দটি রূপে আসে"—যদিও নিয়ম অনুযায়ী এটি আঠারোটি রূপে আসার কথা ছিল। লেখক মাজি (অতীত) এবং মুস্তাকবিল (ভবিষ্যৎ)-এর সংজ্ঞা দেননি কারণ এগুলোর পরিচয় অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, যেহেতু এগুলো মাসদার থেকে নির্গত শব্দগুলোর মূল, অথবা এগুলোর আভিধানিক অর্থই সংজ্ঞার কাজ চালিয়ে দেয়। তিনি মাজি-কে মুস্তাকবিলের আগে এনেছেন কারণ এটি মুস্তাকবিলের জন্য মূলস্বরূপ; কেননা মাজি হলো মুস্তাকবিলের মূল ভিত্তি আর মুস্তাকবিলে অতিরিক্ত বর্ণ যোগ করা হয়। "যেমন দরাবা" (ضرب); আপনি বলবেন—দরাবা, দরাবা, দরাবু, দরাবাত, দরাবাতা, দরাবনা, দরাবতা, দরাবতুমা, দরাবতুমন, দরাবতি, দরাবতুমা, দরাবতুন্না, দরাবতু—এভাবে শেষ পর্যন্ত "দরাবনা" (ضربنا) পর্যন্ত। তিনি উদাহরণগুলোর ক্রমবিন্যাসে নামপুরুষ (গায়িব) থেকে শুরু করেছেন কারণ এতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ নেই। আর যারা উত্তম পুরুষ (মুতাকাল্লিম) থেকে শুরু করেন তারা একেই মূল হিসেবে বিবেচনা করেন। যেহেতু মাজির বিভিন্ন রূপের শেষের হরকত ও সুকুনের অবস্থা বর্ণনা করা মাজির গঠনতন্ত্রের (বিনা) ওপর নির্ভরশীল, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না জানা যাবে যে এর শেষে মূল অবস্থা কী এবং কেন কিছু ক্ষেত্রে সেই মূল অবস্থা থেকে বিচ্যুত হওয়া হয়েছে, ততক্ষণ এর বর্ণনা সম্ভব নয়, তাই তিনি এর গঠনতন্ত্র (বিনা) আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি মুস্তাকবিলের ইরাব এবং আমরের গঠনতন্ত্র সম্পর্কেও প্রাসঙ্গিকভাবে আলোচনা করেছেন মাজির গঠনতন্ত্রকে সমর্থন করার জন্য; নতুবা এগুলো তাঁর মূল আলোচনার বিষয় ছিল না। তিনি বললেন: "মাজিকে মাবনি (অপরিবর্তনীয়) করা হয়েছে কারণ এতে ইরাব হওয়ার কারণসমূহ অনুপস্থিত"; অর্থাৎ এতে ফায়িল (কর্তা), মাফউল (কর্ম) বা ইদাফত (সম্বন্ধ) হওয়ার যোগ্যতা নেই; কারণ এটি একটি ক্রিয়া আর ক্রিয়া এসকল অবস্থার সম্মুখীন হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
[شرح ديكنقوز] المعاني عليه "وبنى على الحركة" مع أن الأصل في البناء السكون؛ لأنه ضد الإعراب كما أن الحركة ضد السكون والأصل في الإعراب الحركة لتدل كل حركة على معنى من المعاني الموجبة للإعراب فأعطى السكون للبناء تحقيقا للتضاد بينهما "لمشابهته بالاسم" في الجملة يعني "في وقوعه صفة للنكرة" وهي ما وضع لشيء لا بعينه كرجل "نحو مررت برجل ضرب أو" مررت برجل "ضارب" قدم ضرب للاهتمام بوقوعه صفة للنكرة وإن كان الأصل فيه الاسم "وبنى على الفتح لأنه" أي الفتح "أخو السكون؛ لأن الفتحة جزء الألف" لما تقرر من أن الألف مركب من الفتحتين "والألف أخو السكون" يعني أن بين الفتح والسكون مناسبة وبين الألف والسكون مناسبة أيضا؛ لأن الألف ملزوم السكون؛ لأنه ساكن أبدا فيكون بين الفتح والسكون مناسبة وحيث تعذر السكون صير إلى ما يناسبه من الحركات عملا بالأصل بقدر الإمكان، ولا يرد على هذا نحو ضربوا وضربن ودعا؛ لأن أحكامها مذكورة بعد هذا، وقوله: "ولم يعرب الماضي" إشارة إلى سؤال وهو أن المستقبل أعرب مع فوات موجب الإعراب فيه، ولم يعرب الماضي، ولو كان سبب بناء الفعل انتفاء موجب الإعراب فيه لوجب أن لا يعرب المستقبل لانتفائه فيه أيضا وأجاب بقوله: "لأن اسم الفاعل لم يأخذ منه" أي من الماضي "العمل" أي لم يعمل إذا كان بمعناه؛ لأن عمله مشروط بكونه بمعنى الحال أو الاستقبال بدليل الاستقراء وحكمه أن اسم الفاعل يشبه المستقبل صورة ومعنى لموافقته له في ذلك، وإذا كان بمعنى الماضي لم يكن موافقا للمضارع في المعنى ولا للماضي في اللفظ يعني لا يكون موافقا في المعنى لما كان موافقا له في اللفظ، ولا يكون موافقا في اللفظ لما كان موافقا له في المعنى فسقطت قوة المشابهة وضعفت في كلا الجانبين حاله فلم يعمل، ولما لم يأخذ منه العمل لم يعطه الإعراب "بخلاف المستقبل" فإنه أعرب وإن كان موجب الإعراب فائتا فيه "لأن اسم الفعل أخذ منه العمل" أي يعمل إذا كان بمعناه "فأعطى" اسم الفاعل "الإعراب له" أي للمستقبل واللام في له زائدة "عوضا" أي لأجل العوض عما أخذ "منه" وهو العمل أو من جهة العوض "أو" تقول بنى الماضي وأعرب المستقبل مع فوات موجب الإعراب فيهما "لكثرة مشابهته له" ولما فهم من ظاهر كلامه أن المقصود الأصلي بيان سبب إعراب المضارع وأن بيان سبب بناء الماضي استطراد مع أن الحال على العكس كما أشرنا إليه فسر كلامه متدرجا في التنزل في شأن المشابهة فقال "يعني يعرب المضارع" وإن كان موجب الإعراب فائتا فيه "لكثرة مشابهته اسم الفاعل" حيث يشابهه في الحركات والسكنات ووقوعه صفة لنكرة وخبرا للمبتدأ ودخول لام اسم الفاعل مع فوات موجب الإعراب فيه نظرا إلى إعراب المضارع لمشابهته الكثيرة باسم الفاعل، وقوله لقلة باعتبار
--------------------------------------------
[শারহু দিকনুফুজ] এর অর্থগুলো হলো: "এবং তা হরকতের ওপর ভিত্তি করে গঠিত," যদিও নির্মাণের মূল নিয়ম হলো সুকুন; কারণ নির্মাণ হলো ইরাবের বিপরীত, যেমনটি হরকত সুকুনের বিপরীত। আর ইরাবের মূল ভিত্তি হলো হরকত, যাতে প্রতিটি হরকত ইরাবকে আবশ্যককারী অর্থসমূহের কোনো একটির ওপর প্রমাণ বহন করতে পারে। সুতরাং নির্মাণ ও ইরাবের মধ্যে বৈপরীত্য নিশ্চিত করার জন্য নির্মাণের জন্য সুকুন নির্ধারণ করা হয়েছে। "বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে" অর্থাৎ কোনোভাবে "অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকেরা) গুণবাচক শব্দ (সিফাত) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ক্ষেত্রে"। নাকেরা হলো এমন শব্দ যা নির্দিষ্ট নয় এমন কোনো বিষয়ের জন্য নির্ধারিত, যেমন 'পুরুষ'। "যেমন: আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে প্রহার করেছে অথবা" আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে "প্রহারকারী"। এখানে 'প্রহার করেছে' (যরাবা) শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে কারণ এটি নাকেরার সিফাত হওয়ার গুরুত্ব বুঝাতে, যদিও মূল হলো বিশেষ্য হওয়া। "এবং তা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত কারণ তা" অর্থাৎ ফাতহা হলো "সুকুনের ভ্রাতা; কেননা ফাতহা হলো আলিফের অংশ।" যেমনটি প্রতিষ্ঠিত যে আলিফ দুটি ফাতহার সমন্বয়ে গঠিত। "আর আলিফ হলো সুকুনের ভ্রাতা" অর্থাৎ ফাতহা ও সুকুনের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে এবং আলিফ ও সুকুনের মধ্যেও একটি সম্পর্ক বিদ্যমান; কারণ আলিফ হলো সুকুনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেহেতু আলিফ সর্বদা সাকিন থাকে। সুতরাং ফাতহা ও সুকুনের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। আর যেখানে সুকুন অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেখানে যথাসম্ভব মূল নিয়মের ওপর আমল করার জন্য সুকুনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হরকতের দিকে ধাবিত হওয়া হয়। এর ওপর 'যরাবু' (তারা প্রহার করেছে), 'যরাবনা' (আমরা প্রহার করেছি) বা 'দা'আ' (সে ডেকেছে)-এর মতো উদাহরণগুলো আপত্তি হিসেবে আসবে না, কারণ এগুলোর বিধান পরবর্তীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এবং তার কথা: "অতীতকাল (মাযী) ইরাব গ্রহণ করেনি" এটি একটি প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত দেয়। প্রশ্নটি হলো: ভবিষ্যৎকাল (মুস্তাকবিল/মুযারি) ইরাব গ্রহণ করেছে যদিও তাতে ইরাব আবশ্যককারী কারণ অনুপস্থিত, অথচ অতীতকাল ইরাব গ্রহণ করেনি। যদি ক্রিয়া মাবনি হওয়ার কারণ ইরাব আবশ্যককারী বিষয়ের অনুপস্থিতি হয়, তবে তো ভবিষ্যৎকালও মাবনি হওয়া উচিত ছিল কারণ তাতেও তা অনুপস্থিত। তিনি এর উত্তর দিয়ে বলেছেন: "কারণ ইসম ফায়িল তার থেকে" অর্থাৎ অতীতকাল থেকে "আমল (ক্রিয়াক্ষমতা) গ্রহণ করেনি।" অর্থাৎ যখন ইসম ফায়িল অতীতকালের অর্থে হয় তখন তা আমল করে না; কারণ ইসম ফায়িল আমল করার জন্য শর্ত হলো তা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালের অর্থে হতে হবে, যা গবেষণালব্ধ প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত। এর বিধান হলো ইসম ফায়িল আকৃতি ও অর্থের দিক থেকে ভবিষ্যৎকালের সাদৃশ্য রাখে কারণ এ ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে মিল রয়েছে। আর যখন তা অতীতকালের অর্থে হয়, তখন তা অর্থে মুযারি-এর সাথে মিল রাখে না এবং শব্দে অতীতকালের সাথে মিল রাখে না। অর্থাৎ শব্দের দিক থেকে যার সাথে মিল রয়েছে তার সাথে অর্থের মিল নেই, আর অর্থের দিক থেকে যার সাথে মিল রয়েছে তার সাথে শব্দের মিল নেই। ফলে সাদৃশ্যের শক্তি বিলুপ্ত হয়ে উভয় দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই তা আমল করেনি। আর যেহেতু ইসম ফায়িল অতীতকাল থেকে আমল গ্রহণ করেনি, তাই সে তাকে ইরাবও প্রদান করেনি। "ভবিষ্যৎকালের বিষয়টি ভিন্ন," কারণ তা ইরাব গ্রহণ করেছে যদিও তাতে ইরাব আবশ্যককারী বিষয় অনুপস্থিত। "কেননা ইসম ফায়িল তার থেকে আমল গ্রহণ করেছে" অর্থাৎ যখন তা ভবিষ্যৎকালের অর্থে হয় তখন আমল করে। "ফলে প্রদান করা হয়েছে" ইসম ফায়িলের পক্ষ থেকে "তাকে ইরাব" অর্থাৎ ভবিষ্যৎকালকে, আর 'তাকে' শব্দের পূর্বে বিদ্যমান অব্যয়টি অতিরিক্ত। "বিনিময় হিসেবে" অর্থাৎ যা গ্রহণ করা হয়েছে তার বিনিময়ে, "তার থেকে" অর্থাৎ আমল থেকে, অথবা বিনিময়ের দিক থেকে। "অথবা" আপনি বলতে পারেন অতীতকাল মাবনি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎকাল ইরাব গ্রহণ করেছে উভয়ের মধ্যে ইরাব আবশ্যককারী বিষয় অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও "তার সাথে তার সাদৃশ্যের আধিক্যের কারণে।" যেহেতু তার কথার বাহ্যিক দিক থেকে বোঝা যায় যে, মূল উদ্দেশ্য হলো মুযারি-এর ইরাব হওয়ার কারণ বর্ণনা করা এবং অতীতকালের মাবনি হওয়ার কারণ বর্ণনা করা হলো প্রসঙ্গক্রমে আসা একটি আলোচনা, যদিও বিষয়টি এর বিপরীত যা আমরা আগে ইঙ্গিত করেছি। তাই তিনি তার বক্তব্যকে সাদৃশ্যের স্তরের ক্রমানুসারে ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "অর্থাৎ মুযারি ইরাব গ্রহণ করে" যদিও তাতে ইরাব আবশ্যককারী বিষয় অনুপস্থিত "ইসম ফায়িলের সাথে তার সাদৃশ্যের আধিক্যের কারণে।" যেহেতু এটি হরকত ও সুকুনের ক্ষেত্রে, নাকেরার সিফাত হওয়া ও মুবতাদার খবর হওয়ার ক্ষেত্রে এবং ইসম ফায়িলের লাম প্রবেশের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রাখে। মুযারি ইরাব গ্রহণ করার বিষয়টি ইসম ফায়িলের সাথে তার অধিক সাদৃশ্যের দিকে বিবেচনা করে। আর তার কথা "অল্পতার কারণে" বিবেচনা সাপেক্ষে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[شرح ديكنقوز] إضافته إلى المشابهة نظر إلى البناء، وقوله: مشابهته لا من حيث إنه مضاف إليه لقلة نظرا إلى البناء على الحركة فتدبر "وبنى الأمر" بالصيغة فإنه المتبادر عند الإطلاق "على السكون لعدم" بقاء "مشابهته له" بوجه ما بحذف حرف المضارعة "وزيدت الألف" في آخر الماضي للتثنية مطلقا نحو ضربا وضربتا وضربتما "و" زيدت "الواو" في آخر الجمع المذكر الغائب "و" زيدت "النون" في آخر الجمع المؤنث الغائبة والمخاطبة "حتى يدللن" أي الحروف المذكورة "على هما وهمو وهن" أي يدل الألف على هما والواو على همو والنون على هن. واعلم أن أولى الحروف بالزيادة حروف المد لخفتها، ولذلك كثر دورها وخص الألف بالمثنى والواو بالجمع؛ لأن الألف قبل الواو؛ لأنها من أول المخارج أعني الحلق والواو من آخرها؛ أعني الشفة، كما أن المثنى قبل الجمع فاختير الأول للأول والآخر للآخر، ولأن المثنى أكثر استعمالا من الجمع فاختير له ما هو أخف؛ أعني الألف فتعين الواو للجمع؛ إذ لا يمكن زيادة الياء له صونا للفعل عن أخي الجر الذي هو الياء، ولما لم يبق من حروف المد شيء يمكن زيادته زادوا لجمع المؤنث النون التي هي شبيهة بحروف المد في اللين والمد والخفاء ولذلك؛ أي ولأن في حروف المد خفاء يمكن مدها إذا لقبت بعدها همزة مخافة أن لا يظهر في جنب شدة الهمزة لا أنهم لما قالوا: إن الفاعل في زيد ضرب هو لضيق العبارة عليهم كما سيجيء تحقيقه إن شاء الله تعالى، فكأنهم قالوا: إن الفاعل في زيد ضرب هو هو لضيق العبارة عليهم كما سيجيء تحقيقه إن شاء الله تعالى، فكأنهم قالوا: إن الفاعل في زيدان ضربا هو هما، وفي زيدون ضربوا هو همو، وفي الهندات ضربن هو هن، فبنى المصنف الكلام على هذا، فقال: زيدت الألف في ضربا ليدل على أن تحته هما، وزيدت الواو في ضربوا ليدل على أن تحته همو، وزيدت النون في ضربن ليدل على أن تحته هن، ويدل على ما ذكرنا قوله فيما سيأتي وخصت الميم في ضربتما؛ لأن تحته أنتما مضمر مع أن فاعل ضربتما بارز لا مستكن "وضم الباء في" مثل "ضربوا" وإن كان مقتضى القياس المذكور أن يفتح "لأجل الواو" لأن الضمة جنس الواو والجنس إلى الجنس أنسب "بخلاف رموا" أي لم يضم ما قبل الواو "لأن الميم ليست ما قبلها" حقيقة وإن كانت ما قبلها صورة؛ لأن أصله رميوا فما قبله مضموم تقديرا "وضم" ما قبل الواو "في رضوا وإن لم يكن الضاد ما قبلها"
--------------------------------------------
[শারহে দিকনুকুয]সাদৃশ্যের দিকে এর সম্বন্ধকরণটি গঠনের প্রতি লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে। আর তাঁর কথা—"তার সাদৃশ্য"—তা সম্বন্ধপদ হিসেবে নয়, বরং হরকতের ওপর ভিত্তি করার স্বল্পতার কারণে; সুতরাং এটি অনুধাবন করুন। এবং "আমর" (অনুজ্ঞা বা আদেশবাচক ক্রিয়া)-কে সুকুনের ওপর ভিত্তি করা হয়েছে (মাবনি করা হয়েছে), কারণ এটিই সাধারণ প্রয়োগে স্বতস্ফূর্তভাবে বুঝে আসে। আর তা সুকুনের ওপর হওয়ার কারণ হলো, মুদারি'-এর হরফ বিলুপ্ত হওয়ার ফলে কোনো প্রকারেই তার (বিশেষ্যের সাথে) সাদৃশ্য অবশিষ্ট না থাকা। দ্বিবচনের জন্য অতীতকালীন ক্রিয়ার শেষে সর্বাবস্থায় আলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেমন: তারা দুজন পুরুষ প্রহার করল, তারা দুজন মহিলা প্রহার করল এবং তোমরা দুজন প্রহার করলে। এবং বহুবচন পুংলিঙ্গ নামপুরুষের শেষে "ওয়াও" বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবং বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ নামপুরুষ ও মধ্যম পুরুষের শেষে "নুন" বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে এই উল্লিখিত হরফগুলো হুমা (তারা দুজন), হুমু (তারা সব পুরুষ) এবং হুন্না (তারা সব মহিলা)-এর অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ আলিফ "হুমা", ওয়াও "হুমু" এবং নুন "হুন্না"-এর ওপর প্রমাণ বহন করে। জেনে রাখুন যে, হরফে মাদ্দসমূহ হালকা হওয়ার কারণে সেগুলি বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, আর এই কারণেই এগুলোর ব্যবহারও অধিক। আলিফকে দ্বিবচনের জন্য এবং ওয়াও-কে বহুবচনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে; কারণ আলিফ ওয়াও-এর পূর্বে অবস্থিত। কেননা আলিফ মাখরাজ বা উচ্চারণস্থলের শুরু থেকে অর্থাৎ হলক বা কণ্ঠনালী থেকে উচ্চারিত হয়, আর ওয়াও উচ্চারণস্থলের শেষ থেকে অর্থাৎ ঠোঁট থেকে উচ্চারিত হয়; যেমন দ্বিবচন বহুবচনের আগে আসে। সুতরাং প্রথমটির জন্য প্রথমটি এবং শেষটির জন্য শেষটি নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া দ্বিবচনের ব্যবহার বহুবচনের চেয়ে বেশি, তাই তার জন্য যা অধিক হালকা অর্থাৎ আলিফকে পছন্দ করা হয়েছে। ফলে বহুবচনের জন্য ওয়াও নির্ধারিত হয়ে গেল। কারণ এখানে "ইয়া" বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়, যাতে ক্রিয়াটি "ইয়া" নামক যা জরের (জের) ভাই, তা থেকে রক্ষা পায়। যখন হরফে মাদ্দের মধ্য থেকে বৃদ্ধি করার মতো আর কিছু অবশিষ্ট থাকল না, তখন তারা স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচনের জন্য "নুন" বৃদ্ধি করল, যা কোমলতা, মাদ্দ এবং অস্পষ্টতায় হরফে মাদ্দের সদৃশ। আর এই কারণেই অর্থাৎ হরফে মাদ্দে অস্পষ্টতা থাকার কারণে, তার পর হামযা আসলে তাকে দীর্ঘ করা (মাদ্দ করা) সম্ভব হয়, পাছে হামযার কঠোরতার পাশে তা প্রকাশ না পায়। বিষয়টি এমন নয় যে, তারা যখন বলে: "যায়েদ প্রহার করেছে"-এর মধ্যে কর্তা হলো "সে" (হুয়া), তা তাদের বর্ণনার সংকীর্ণতার কারণে—যেমনটি ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে প্রমাণিত হবে। যেন তারা বলছে: "যায়েদদ্বয় প্রহার করেছে"-তে কর্তা হলো "তারা দুজন" (হুমা), "যায়েদগণ প্রহার করেছে"-তে কর্তা হলো "তারা সব পুরুষ" (হুমু), এবং "হিন্দগণ প্রহার করেছে"-তে কর্তা হলো "তারা সব মহিলা" (হুন্না)। গ্রন্থকার তাঁর বক্তব্যকে এর ওপর ভিত্তি করেই সাজিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "তারা দুজন প্রহার করল"-এ আলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে এটি নির্দেশ করে যে এর নিচে "হুমা" রয়েছে, "তারা সব পুরুষ প্রহার করল"-এ ওয়াও বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে এটি নির্দেশ করে যে এর নিচে "হুমু" রয়েছে, এবং "তারা সব মহিলা প্রহার করল"-এ নুন বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে এটি নির্দেশ করে যে এর নিচে "হুন্না" রয়েছে। আমাদের এই বক্তব্যের প্রমাণ হলো ভবিষ্যতে তাঁর এই কথা যে: "তোমরা দুজন প্রহার করলে"-তে "মীম"কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ এর নিচে "আনতুমা" উহ্য আছে, যদিও "তোমরা দুজন প্রহার করলে"-এর কর্তা প্রকাশ্য, উহ্য নয়। এবং "তারা সব পুরুষ প্রহার করল"-এর মতো শব্দে "বা" হরফে পেশ (জম্মাহ) দেওয়া হয়েছে, যদিও উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী এটি জবর (ফাতহা) হওয়ার কথা ছিল; আর তা করা হয়েছে "ওয়াও"-এর খাতিরে। কারণ পেশ হলো ওয়াও-এর স্বজাতীয় আর স্বজাতীয়র সাথে স্বজাতীয়র সম্পর্কই অধিক উপযুক্ত। "তারা নিক্ষেপ করল"-এর বিষয়টি ভিন্ন, অর্থাৎ এখানে ওয়াও-এর পূর্বের হরফে পেশ দেওয়া হয়নি। কারণ প্রকৃতপক্ষে "মীম" তার ঠিক পূর্বের হরফ নয়, যদিও দৃশ্যত তা পূর্বের হরফ মনে হয়। কারণ এর মূল রূপ ছিল "রামিয়ু", তাই তাকদিরি বা উহ্যভাবে এর পূর্বের হরফ পেশযুক্ত ছিল। এবং "তারা সন্তুষ্ট হলো"-তে ওয়াও-এর পূর্বের হরফে পেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও "দাদ" প্রকৃতপক্ষে তার পূর্বের হরফ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
[شرح ديكنقوز] حقيقة كالميم في رموا "لئلا يلزم الخروج من الكسرة التحقيقية إلى الضمة التقديرية" أعني الواو وهو صعب؛ لأنه صعود؛ أي يلزم الخروج من الكسرة إلى الضمة على تقدير عدم ضم الضاد؛ لأن أصله رضيوا فبعد إسكان الياء لثقل الضمة عليها وحذفها لالتقاء الساكنين يلزم ذلك الخروج فضمت الضاد لئلا يلزم ذلك الخروج، لا لأنها ما قبل الواو حقيقة، واختير الضمة للمناسبة وإن كان ذلك الخروج يندفع بالفتحة بخلاف رموا فلأن الفتحة فيه أصلية "وكتب الألف" بعد واو الجمع "في مثل ضربوا" أي فيما لم يتصل به الضمير، وأما إذا اتصل به الضمير فلا يكتب لعدم الالتباس حينئذ "للفرق بين واو الجمع وواو العطف في مثل حضر وتكلم زيد" ولولا قاعدة كتابة الألف بعد واو الجمع لم يعلم أنه حضر وتكلم زيد بضم الراء وسكون الواو ومده والواو للجمع أو حضر وتكلم زيد بفتح الراء وفتح الواو والواو للعطف وكتبت فيما لا يلتبس نحو ضربوا إذ واو العطف لا يتصل لاطراد الباب، ومنهم من يحذف الألف ويلتزم الالتباس لندوره ولزواله بالقرائن "وقيل" كتبت الألف بعدها "للفرق بين واو الجمع و" بين "وواو الواحد في مثل لم يدعوا ولم يدعو" على لغة من لا يسقط الجازم عنده حرف العلة وكتبت في غيره طردا للباب وجاء على هذا قول الشاعر:
هجوت زبان ثم جئت معتذرا
… من هجو زبان لم تهجو ولم تدع
حيث أثبت الواو في لم تهجو هجوت وجئت بفتح التاء على الخطاب، وزبان اسم رجل، ومعتذرا حال من ضمير جئت، لم تهجو؛ أي كأنك لم تهج حيث اعتذرت منه، ولم تدع؛ أي لم تترك الهجو؛ إذ قد هجوته في الواقع "جعلت التاء علامة للمؤنث في مثل ضربت" فرقا بين المذكر والمؤنث كما جعلت علامة له في ضاربة إلا أنهم خصوا المتحركة بالاسم والساكنة بالفعل تعاد لا بينهما إذ الفعل أثقل بحسب المعنى كما عرفت "لأن التاء من المخرج الثاني" من المخارج الكلية وهو الوسط "والمؤنث أيضا" أي كالتاء "ثان في التخليق" مصدر
--------------------------------------------
[শারহ দিকনুকুয]
প্রকৃতপক্ষে 'রামূ' শব্দের মীমের মতো; "যাতে প্রকৃত কাসরা (জের) থেকে আনুমানিক দাম্মা (পেশ)-এর দিকে যাওয়া আবশ্যক না হয়" অর্থাৎ 'ওয়াও'-এর দিকে, যা অত্যন্ত কঠিন; কারণ এটি আরোহণতুল্য। অর্থাৎ, যদি 'রাদ' (ض) বর্ণটিতে পেশ দেওয়া না হতো, তবে কাসরা থেকে দাম্মার দিকে যাওয়া আবশ্যক হতো; কারণ এর মূল রূপ ছিল 'রাযিয়ূ' (رضيوا)। অতঃপর 'ইয়া' বর্ণের ওপর দাম্মা উচ্চারণ করা কঠিন হওয়ায় তাকে সাকিন করা হয়েছে এবং দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে 'ইয়া' বর্ণটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, যার ফলে উক্ত পরিবর্তনটি আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। তাই 'রাদ' বর্ণটিতে পেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সেই কঠিন উচ্চারণটি করতে না হয়; এমনটি নয় যে 'রাদ' বর্ণটি প্রকৃতপক্ষে 'ওয়াও'-এর পূর্ববর্তী বর্ণ হওয়ার কারণে পেশ পেয়েছে। আর সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য পেশকেই নির্বাচন করা হয়েছে, যদিও যবর (ফাতহা) দ্বারাও সেই কঠিন উচ্চারণ রোধ করা সম্ভব ছিল—যা 'রামূ' শব্দের ক্ষেত্রে ভিন্ন (সেখানে যবরটি মূলগত)। "এবং আলিফ লেখা হয়েছে" জমা বা বহুবচনের ওয়াও-এর পরে "যেমন 'দারাবূ' (ضربوا) শব্দে", অর্থাৎ যে সকল শব্দের সাথে যমীর বা সর্বনাম যুক্ত হয়নি। তবে যখন যমীর যুক্ত হয়, তখন আর অস্পষ্টতার অবকাশ থাকে না বলে আলিফ লেখা হয় না। "বহুবচনের ওয়াও এবং আতফ বা সংযোজক ওয়াও-এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য, যেমন 'হাদারা ওয়া তাকাল্লামা যাইদুন' (যাইদ উপস্থিত হলো এবং কথা বলল) বাক্যে।" যদি বহুবচনের ওয়াও-এর পরে আলিফ লেখার নিয়ম না থাকত, তবে 'হাদারা ওয়া তাকাল্লামা যাইদুন' বাক্যটিতে 'রা' বর্ণে পেশ এবং 'ওয়াও' সাকিন করে টেনে পড়ার মাধ্যমে এটি বহুবচন কি না, অথবা 'রা' বর্ণে যবর এবং 'ওয়াও' বর্ণে যবর দিয়ে এটি আতফ বা সংযোজক কি না, তা বোঝা সম্ভব হতো না। আর যেখানে অস্পষ্টতার ভয় নেই, যেমন 'দারাবূ' (ضربوا) শব্দে, সেখানেও নিয়মের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আলিফ লেখা হয়েছে; কারণ আতফ-এর ওয়াও শব্দের সাথে সংযুক্ত হয়ে আসে না। কারো কারো মতে, তারা আলিফ বিলুপ্ত করে দেন এবং অস্পষ্টতাকেই মেনে নেন, কারণ এমন অস্পষ্টতা বিরল এবং প্রেক্ষাপট দ্বারা তা দূর হয়ে যায়। "এবং বলা হয়েছে" ওয়াও-এর পরে আলিফ লেখা হয়েছে "বহুবচনের ওয়াও এবং একবচনের ওয়াও-এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য, যেমন 'লাম ইয়াদউ' (لم يدعوا - তারা ডাকেনি) এবং 'লাম ইয়াদউ' (لم يدعو - সে ডাকেনি) শব্দে।" এটি সেই সকল ভাষাভাষীদের রীতি অনুযায়ী যারা জযম প্রদানকারী অব্যয়ের কারণে হরফে ইল্লত (দুর্বল বর্ণ) বিলুপ্ত করেন না। আর অন্যান্য ক্ষেত্রে এটি নিয়মের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য লেখা হয়। এই প্রসঙ্গে কবির উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য:
তুমি যাবানকে নিন্দা করলে, তারপর ক্ষমা প্রার্থনা করতে আসলে
… যাবানকে নিন্দা করা থেকে তুমি নিবৃত্ত হওনি এবং ছেড়েও দাওনি।
এখানে তিনি 'লাম তাহজু' (لم تهجو) শব্দে 'ওয়াও' বহাল রেখেছেন। 'হাজাওতা' ও 'জিত্তা' শব্দ দুটিতে 'তা' বর্ণে যবর দিয়ে সম্বোধন বোঝানো হয়েছে। 'যাবান' একজন ব্যক্তির নাম। 'মুতায়যিরান' শব্দটি 'জিত্তা'-এর সর্বনাম থেকে হাল বা অবস্থা হিসেবে এসেছে। 'লাম তাহজু' অর্থাৎ যেন তুমি তাকে নিন্দাই করোনি অথচ তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করছ; 'লাম তাদা' অর্থাৎ তুমি নিন্দা করা ছাড়োনি, কারণ বাস্তবে তুমি তাকে নিন্দা করেছ। " 'তা' বর্ণটিকে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন করা হয়েছে যেমন 'দারাবাত' (ضربت) শব্দে", যাতে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য করা যায়, যেমনটি 'দারিবাতুন' (ضاربة) শব্দে করা হয়েছে। তবে তারা হরকতবিশিষ্ট 'তা' বর্ণটিকে ইসমে (বিশেষ্য) এবং সাকিন 'তা' বর্ণটিকে ফেলে (ক্রিয়া) নির্দিষ্ট করেছেন যাতে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বজায় থাকে; কারণ অর্থগত দিক থেকে ফেল বা ক্রিয়া অধিক ভারী যেমনটি তুমি জেনেছ। "কারণ 'তা' বর্ণটি দ্বিতীয় মাখরাজ বা উচ্চারণস্থল থেকে উচ্চারিত হয়" যা হলো মধ্যম মাখরাজ, "এবং স্ত্রীলিঙ্গও সৃষ্টির ক্রমে দ্বিতীয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
[شرح ديكنقوز] من المبني للمفعول؛ أي المخلوقية؛ لأن الله خلق آدم أولا ثم خلق حواء على نبينا وعليهما الصلاة والسلام من ضلع من أضلاعه، كما قال الله تعالى: {خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا} فناسب التاء المؤنث، ولو جعل زيادة العلامة للمذكر يحصل الفرق أيضا إلا أنهم راعوا مناسبة الفرعية بين الزيادة والمؤنث "وهذه التاء" التي في ضربت "ليست بضمير كما سيجيء" في آخر بحث المضمرات "وأسكنت الباء" أي اللام "في مثل ضربن" بفتح النون "وضربت" بحركات التاء؛ أي إذا اتصل بالفعل ضمير مرفوع متحرك في الثلاثي المجرد وإنما أورد مثالين إشارة إلى أن حركة ذلك الضمير قد تكون للضرورة، نحو: ضربت لما يجيء إن شاء الله تعالى، وقد تكون للتبعية، نحو: ضربن فإنه لا ضرورة في تحريكه؛ إذ لو قيل: ضربن بسكون النون وفتح الباء على الأصل لصح إلا أنهم حركوها طردا على مثل ضربت مع قابليتها للحركة من غير ضعف، واختاروا الفتح لخفتها وإنما أسكنت لام الكلمة في مثل ما ذكر ولم تترك على حركتها "حتى لا يجتمع أربع حركات متواليات" فإنه مستهجن "فيما هو كالكلمة الواحدة" نحو ضربت، فإن التاء فيه كلمة على حدة؛ لأنه ضمير فاعل للفعل إلا أن الفاعل من الفعل بمنزلة الجزء خصوصا إذا كان ضميرا متصلا لشدة اتصاله به لفظا ومعنى، فلو لم يسكن الباء، بل أبقى على الحركة لزم ذلك الاجتماع وأسكن اللام في الرباعي أيضا نحو دحرجت وإن لم يلزم ذلك الاجتماع على تقدير بقائها على الحركة طردا للباب "ومن ثمة" أي ومن أجل أن مثل ضربن كالكلمة الواحدة "لا يجوز العطف على ضميره" أي على ضمير مثل: ضربن أي على الضمير المرفوع المتصل "بغير التوكيد" أي بغير تأكيد ذلك الضمير بمضمر منفصل لئلا يلزم عطف الاسم على جزء الفعل "لا يقال ضربت وزيد" بغير التأكيد "بل يقال: ضربت أنا وزيد" بتأكيد التاء بأنا لأن العطف كأنه على المنفصل، ولما اشترك التأكيد والفصل بغيره في أن العطف فيهما على غير الضمير المذكور صورة اكتفى المصنف بذكر التأكيد، وإنما خصه بالذكر ولم يقل بغير الفصل مع أنه أشمل؛ لأن التأكيد فصل أيضا إشعارا بأن التأكيد هو الأصل في جواز العطف؛ إذ بذلك يظهر أن ذلك المتصل منفصل من حيث الحقيقة بدليل جواز إفراده مما اتصل بتأكيده فيحصل له نوع الاستقلال، ولذلك قال ابن الحاجبي: إلا أن يقع فصل فيجوز تركه ولا يحصل بالفصل نوع استقلاله؛ إذ لا يظهر بذلك أن ذلك المتصل منفصل من حيث الحقيقة وإنما يجوز ترك التأكيد مع الفصل؛ لأن طول الكلام يغني عما هو الواجب فيحذف طلبا للاختصار، نحو قولك: حضر القاضي امرأة والحافظ عورة العشيرة بالنصب، ولذلك لم يذكر الزمخشري في جواز العطف عليه الفصل "بخلاف ضربتا" أي لم يلزم فيه بعدم إسكان التاء وإبقائها على الحركة ذلك الاجتماع المحظور
--------------------------------------------
[শরাহ দিকনাকুজ] এটি কর্মবাচ্য থেকে গৃহীত; অর্থাৎ সৃষ্টিগত অবস্থা; কারণ আল্লাহ তাআলা প্রথমে আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এরপর আমাদের নবী এবং তাঁদের উভয়ের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর পাঁজরের একটি হাড় থেকে হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন}। ফলে 'তা' অক্ষরটি স্ত্রীলিঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। যদি চিহ্নের অতিরিক্ত অংশটি পুংলিঙ্গের জন্য নির্ধারণ করা হতো, তবে তাতেও পার্থক্য সূচিত হতো, কিন্তু তারা (ভাষাবিদগণ) অতিরিক্ত অংশ এবং স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে শাখা হওয়ার সামঞ্জস্য রক্ষা করেছেন। "আর এই 'তা' অক্ষরটি" যা 'দারাবাত' শব্দে রয়েছে "তা কোনো সর্বনাম নয়, যেমনটি সামনে আসবে" সর্বনামের আলোচনার শেষে। "এবং 'বা' অক্ষরটিকে সাকিন করা হয়েছে" অর্থাৎ পদের শেষ বর্ণকে " 'দারাবনা' এর মতো শব্দে" নুন অক্ষরে জবর দিয়ে "এবং 'দারাবতু' শব্দে" 'তা' অক্ষরের বিভিন্ন হরকতের সাথে; অর্থাৎ যখন সুলাসি মুজাররাদ বা তিন অক্ষর বিশিষ্ট খাঁটি ক্রিয়ার সাথে কোনো স্বরযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনাম যুক্ত হয়। এখানে দুটি উদাহরণ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো এই ইঙ্গিত দেওয়া যে, সেই সর্বনামের হরকত কখনও অপরিহার্য কারণে হতে পারে, যেমন: 'দারাবতু' যখন এটি আসবে ইনশাআল্লাহ তাআলা। আবার কখনও তা অনুগত্যের কারণে হতে পারে, যেমন: 'দারাবনা', কারণ এতে হরকত দেওয়ার কোনো অপরিহার্যতা নেই; কেননা যদি মূল নিয়ম অনুযায়ী 'বা' অক্ষরে জবর এবং 'নুন' অক্ষরে সাকিন দিয়ে 'দারাবনা' বলা হতো, তবে তা সঠিক হতো। কিন্তু তারা একে 'দারাবতু' এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বরযুক্ত করেছেন, কারণ এটি দুর্বলতা ছাড়াই স্বরগ্রহণে সক্ষম। আর তারা হালকা হওয়ার কারণে জবরকে বেছে নিয়েছেন। উল্লিখিত উদাহরণগুলোতে পদের শেষ বর্ণকে সাকিন করা হয়েছে এবং একে স্বরযুক্ত অবস্থায় রাখা হয়নি "যাতে পরপর চারটি হরকত একত্রিত না হয়" কারণ এটি "একটি শব্দের মতো বিষয়ের মধ্যে" শ্রুতিকটু। যেমন 'দারাবতু', এখানে 'তা' অক্ষরটি একটি স্বতন্ত্র শব্দ; কারণ এটি ক্রিয়ার কর্তৃবাচক সর্বনাম (ফায়েল), কিন্তু ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর্তা একটি অংশের সমতুল্য, বিশেষ করে যখন সেটি শব্দগত ও অর্থগত নিবিড় সম্পর্কের কারণে সংযুক্ত সর্বনাম হয়। সুতরাং যদি 'বা' অক্ষরকে সাকিন না করা হতো, বরং স্বরযুক্ত রাখা হতো, তবে সেই চারটি হরকতের সমাবেশ ঘটত। রুবায়ী বা চার অক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও শেষ বর্ণকে সাকিন করা হয়েছে, যেমন 'দাহরাজতু', যদিও স্বরযুক্ত অবস্থায় রাখলে সেখানে চারটি হরকতের সমাবেশ ঘটত না, তবুও একই নিয়মের অনুবর্তিতার খাতিরে এটি করা হয়েছে। "আর সেখান থেকেই" অর্থাৎ 'দারাবনা' এর মতো শব্দগুলো একটি শব্দের ন্যায় হওয়ার কারণেই "তার সর্বনামের ওপর সংযোজন (আতিফ) করা জায়েজ নয়" অর্থাৎ 'দারাবনা' এর মতো শব্দের সর্বনামের ওপর বা সংযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনামের ওপর "তাকিদ ব্যতীত" অর্থাৎ সেই সর্বনামকে একটি পৃথক সর্বনামের মাধ্যমে তাকিদ বা দৃঢ়তা প্রদান করা ছাড়া, যাতে ক্রিয়ার একটি অংশের ওপর বিশেষ্যের সংযোজন করা লাজেম না আসে। তাকিদ ছাড়া "দারাবতু ওয়া যাইদুন" বলা যাবে না, "বরং বলতে হবে: দারাবতু আনা ওয়া যাইদুন" (আমি এবং জায়েদ প্রহার করেছি), এখানে 'আনা' এর মাধ্যমে 'তা' কে তাকিদ দেওয়া হয়েছে। কারণ এভাবে সংযোজন করলে মনে হয় যেন সেটি পৃথক সর্বনামের ওপর করা হয়েছে। যেহেতু তাকিদ এবং তাকিদ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে পৃথক করা—উভয় ক্ষেত্রেই দৃশ্যত উল্লিখিত সর্বনাম ছাড়া অন্য কিছুর ওপর সংযোজন করা হয়, তাই গ্রন্থকার কেবল তাকিদ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। তিনি অন্য কোনো ব্যবধানের কথা না বলে কেবল তাকিদকে সুনির্দিষ্ট করেছেন যদিও অন্যটি আরও ব্যাপক; কারণ তাকিদও একটি ব্যবধান। এটি এই ইঙ্গিত দেওয়ার জন্য যে তাকিদই হলো সংযোজন জায়েজ হওয়ার মূল ভিত্তি; কারণ এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, সেই সংযুক্ত সর্বনামটি প্রকৃতপক্ষে একটি পৃথক সত্তা, যার প্রমাণ হলো তাকিদের মাধ্যমে একে পৃথক করা সম্ভব এবং এর ফলে এতে এক প্রকার স্বাতন্ত্র্য সৃষ্টি হয়। এই কারণেই ইবনুল হাজিব বলেছেন: তবে যদি কোনো ব্যবধান ঘটে তবে তাকিদ ছেড়ে দেওয়া জায়েজ, যদিও ব্যবধানের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য অর্জিত হয় না; কারণ এর দ্বারা এটি প্রকাশ পায় না যে সংযুক্ত সর্বনামটি প্রকৃতপক্ষে পৃথক। তবে ব্যবধান থাকলে তাকিদ বর্জন করা জায়েজ হওয়ার কারণ হলো, কথার দীর্ঘতা ওয়াজিব বিষয়ের অভাব পূরণ করে দেয়, ফলে সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে তা বিলুপ্ত করা হয়। যেমন আপনার কথা: "হাজিরাল কাদিয়া ইমরাআতুন", এখানে 'আল-কাদিয়া' শব্দটি নসব (যবর) যুক্ত। এই কারণেই যামাখশারী এতে সংযোজন জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবধানের কথা উল্লেখ করেননি। "দারাবতা এর ব্যতিক্রম" অর্থাৎ এতে 'তা' অক্ষরকে সাকিন না করে স্বরযুক্ত রাখলে সেই নিষিদ্ধ চারটি হরকতের সমাবেশ ঘটে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[شرح ديكنقوز]"لأن التاء فيه" في حكم الساكن لأن حركته "في حكم السكون" لأنها كانت ساكنة فحركت لألف التثنية فحركتها عارضة والعارض كالمعدوم فتكون في حكم السكون فلم يلزم ذلك المحذور "ومن ثمة" أي ومن أجل أن حركة التاء في ضربتا في حكم السكون "تسقط الألف" في كل اللغات "في مثل رمتا أصله رميتا قلبت الباء ألفا ثم حذف لسكونها وسكون التاء "لكون الحركة فيه عارضة" بسبب ألف التثنية كما مر ولا اعتبار للعارض إلا في الضرورة، وكذلك اعتبر حركة التاء في رمتا؛ إذ لا يجوز حذف أحد الساكنين، أما التاء؛ فلأنه علامة التأنيث، وأما الألف؛ فلأنه علامة التثنية فاعتبر صورة الحركة ضرورة "إلا في لغة ردية" أصله رديئة قلبت الهمزة ياء وأدغمت مثل خطية من ردؤ بالضم ضد جاد من الجيد فإن الألف لا تسقط فيها "إذ يقول أهلها رماتا" بإثبات الألف نظرا إلى الحركة الصورية "وبخلاف" مثل "ضربك" أي لم يلزم فيه على تقدير عدم إسكان الباء وإبقائها على الحركة ذلك لاجتماع المستهجن "لأنه" أي مثل ضربك "ليس كالكلمة الواحدة" واستهجان ذلك الاجتماع إنما هو فيما هو كالكلمة الواحدة، وإنما قلنا إنه ليس كالكلمة الواحدة "لأن ضميره" أي كاف الخطاب في ضربك ليس ضمير فاعل، بل "هو ضمير منصوب" والضمير المنصوب ليس كالجزء من الفعل، لأنه مفعول والمفعول فضلة في الكلام يتم الكلام بدونه بخلاف الفاعل "وبخلاف هدبد" وهو اللبن الغليظ "وعلبط" وهو قطيع من الغنم؛ أي لم يلزم من عدم إسكان أحد حروفهما وإبقائهما على الحركة ذلك الاجتماع الممنوع "لأن أصلهما هدابد وعلابط" بالألف "ثم قصرا" أي حذف الألف منهما للتخفيف والتوسعة في الكلام يعني أن ذلك الاجتماع وإن كان ثابتا في الصورة إلا أنه منتف في التقدير فكأنه لم يكن ثابتا وللقصر نظير "كما في مخبط أصله مخياط" بالألف قصر للتخفيف والتوسعة والمقصور القصيرة من الإبرة وخلافه خلافها "وحذفت التاء في ضربن" أصله ضربتن، فلما حذفت التاء أسكنت الباء لما مر "حتى لا يجتمع علامتا التأنيث" إحداهما التاء والأخرى النون فإن النون وإن كان ضميرا إلا أنه ضمير جمع المؤنث "كما حذف التاء في مسلمات" أصله مسلمتان حذفت التاء الأولى لئلا يجتمع علامتا التأنيث من جنس واحد وخصت الأولى بالحذف فيهما؛ لأن في الثانية زيادة معنى وهي الدلالة على الجمعية، فكان حذف الأولى أولى وإنما حذفت في ضربن "وإن لم تكونا" أي العلامتان فيه
--------------------------------------------
[শরহ দিকনুকুয]“কেননা এতে বিদ্যমান ‘তা’” সাকিন বা স্থিরবর্ণের বিধানের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এর হরকত বা স্বরচিহ্ন “সাকিনের বিধানভুক্ত”। যেহেতু এটি মূলত সাকিন ছিল, অতঃপর দ্বিবচনের ‘আলিফ’-এর কারণে এতে হরকত প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং এর এই হরকত হলো আগন্তুক, আর আগন্তুক বিষয় অস্তিত্বহীনের সমতুল্য। ফলে এটি সাকিনের বিধানভুক্ত হবে এবং সেই অপছন্দনীয় বিষয়টি (চারটি হরকত একত্র হওয়া) আবশ্যক হবে না। “আর এখান থেকেই” অর্থাৎ যেহেতু ‘যারবাতা’ শব্দে ‘তা’-এর হরকত সাকিনের বিধানভুক্ত, তাই সকল ভাষাতেই “আলিফ বিলুপ্ত হয়”; যেমন “রামাতা-এর মতো শব্দে। এর মূল রূপ ছিল ‘রামায়াতা’, এখানে ‘ইয়া’-কে ‘আলিফ’-এ রূপান্তরিত করা হয়েছে, অতঃপর সেই ‘আলিফ’ এবং ‘তা’-এর সাকিন হওয়ার কারণে (প্রথম আলিফটি) বিলুপ্ত করা হয়েছে।” “যেহেতু এতে হরকত আগন্তুক” যা দ্বিবচনের আলিফের কারণে হয়েছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত আগন্তুক বিষয়ের কোনো গুরুত্ব নেই। অনুরূপভাবে ‘রামাতা’ শব্দে ‘তা’-এর হরকতকে বিবেচনা করা হয়েছে; যেহেতু দুটি সাকিনের কোনো একটিকে বিলুপ্ত করা জায়েজ নয়। ‘তা’-এর ক্ষেত্রে কারণ হলো এটি স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন, আর ‘আলিফ’-এর ক্ষেত্রে কারণ হলো এটি দ্বিবচনের চিহ্ন; তাই নিরুপায় হয়ে দৃশ্যত হরকতকে বিবেচনা করা হয়েছে। “তবে একটি মন্দ ভাষা ব্যতীত” যার মূল হলো ‘রাদীআহ’। এখানে ‘হামযাহ’-কে ‘ইয়া’-তে রূপান্তর করে ইদগাম করা হয়েছে, যেমন ‘খাতীয়াহ’ শব্দটি পেশযুক্ত ‘রাদুয়া’ থেকে এসেছে যা ‘জায়্যিদ’ (উত্তম)-এর বিপরীত। নিশ্চয়ই এই মন্দ ভাষায় আলিফ বিলুপ্ত হয় না। “কেননা সেই ভাষার লোকেরা দৃশ্যমান হরকতের দিকে লক্ষ্য করে আলিফ বহাল রেখে ‘রামাতা’ বলে থাকে।” আর “যারবাকা”-এর মতো শব্দের বিষয়টি ভিন্ন। অর্থাৎ, ‘বা’ বর্ণকে সাকিন না করে হরকত বহাল রাখার তকদিরেও সেই অপছন্দনীয় সমাবেশ (চারটি হরকত একত্র হওয়া) আবশ্যক হয় না। “কেননা এটি” অর্থাৎ ‘যারবাকা’-এর মতো শব্দ “একক শব্দের মতো নয়।” আর সেই সমাবেশের অপছন্দনীয়তা কেবল সেই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা একক শব্দের মতো। আমরা কেন বলেছি যে এটি একক শব্দের মতো নয়? “কারণ এর জমির” অর্থাৎ ‘যারবাকা’ শব্দের সম্বোধনের ‘কাফ’ ফায়িল বা কর্তার জমির নয়, বরং “এটি একটি মানসুব (কর্মবাচক) জমির।” আর মানসুব জমির ক্রিয়ার অংশের মতো নয়, কারণ এটি মাফউল বা কর্ম; আর বাক্যে মাফউল হলো অতিরিক্ত অংশ যা ছাড়াই বাক্য পূর্ণতা পায়, ফায়িল বা কর্তার বিষয়টি এর বিপরীত। “অনুরূপভাবে ‘হাদবাদ’ (ঘন দুধ) এবং ‘আলবাত’ (ভেড়ার পাল)-এর বিষয়টি ভিন্ন।” অর্থাৎ তাদের কোনো বর্ণকে সাকিন না করে হরকত বহাল রাখলেও সেই নিষিদ্ধ সমাবেশ আবশ্যক হয় না। “কেননা তাদের মূল রূপ ছিল আলিফসহ ‘হাদাবাদ’ ও ‘আলাবাত’,” অতঃপর সেগুলোকে “সংক্ষিপ্ত (কাসর) করা হয়েছে।” অর্থাৎ উচ্চারণে সহজ করা এবং ভাষার প্রসারের জন্য উভয়টি থেকে আলিফ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, সেই সমাবেশ দৃশ্যত বিদ্যমান থাকলেও তকদিরি বা কাঠামোগতভাবে তা অনুপস্থিত, ফলে এটি যেন বিদ্যমানই নেই। সংক্ষিপ্তকরণের নজির রয়েছে “যেমন ‘মাখবিত’ শব্দে, যার মূল ছিল আলিফসহ ‘মাখইয়াত’।” সহজ করার জন্য এবং ভাষার প্রসারের জন্য একে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ‘মাকসুর’ বলতে ছোট সুঁইকে বোঝায় আর এর বিপরীতটি হলো বড় সুঁই। “এবং ‘যারাবনা’ শব্দে ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে,” এর মূল ছিল ‘যারাবাতনা’। যখন ‘তা’ বিলুপ্ত করা হলো, তখন পূর্বে বর্ণিত কারণে ‘বা’ বর্ণকে সাকিন করা হয়েছে। “যাতে স্ত্রীলিঙ্গের দুটি চিহ্ন একত্র না হয়,” যার একটি হলো ‘তা’ এবং অপরটি হলো ‘নুন’। কারণ ‘নুন’ যদিও একটি জমির বা সর্বনাম, তবুও এটি স্ত্রীবাচক বহুবচনের জমির। “যেমন ‘মুসলিমাত’ শব্দে ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে,” এর মূল ছিল ‘মুসলিমানতানি’। একই জাতীয় স্ত্রীলিঙ্গের দুটি চিহ্ন যাতে একত্র না হয় সেজন্য প্রথম ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর উভয় ক্ষেত্রে প্রথমটিকেই বিলুপ্তির জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ দ্বিতীয়টিতে অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে, আর তা হলো বহুবচনের অর্থ প্রকাশ করা। তাই প্রথমটি বিলুপ্ত করাই অধিকতর সংগত ছিল। আর ‘যারাবনা’ শব্দে এটি বিলুপ্ত করা হয়েছে “যদিও চিহ্ন দুটি এতে বিদ্যমান না থাকে...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
[شرح ديكنقوز]"ومن جنس واحد" لأن التاء ليست من جنس النون ولم يوجد ثقل التكرار اللفظي كما كانتا من جنس واحد في مسلمتان؛ لأنهما تاءان فيه ووجد ثقل التكرار اللفظي فيه كالمعنوي "لثقل الفعل" فكرهوا اجتماعهما فيه مطلقا "بخلاف حبليات لعدم الجنسية" أي لم يحذف إحدى العلامتين الألف والياء المنقلبة من ألف التأنيث، بل جوزوا اجتماعهما فيه لعدم كونهما من جنس واحد وخفة الاسم، وإنما وجب قلب ألف حبلى ياء في الجمع لئلا يجتمع الساكنان، ولم يجز حذف أحدهما؛ لأن الثانية للجمع والأولى لمعنى في الكلمة وهو لزوم تأنيثها وليست مثل فاء بعد وعين قل ولام غزيت، فإنها ليست لمعنى زائد على كونها أجزاء من الكلمة فافهم، ولا مثل تاء مسلمة فإن الكلمة لم توضع معها، بل هي عارضة على مسلم إذا لم يكن حبل حتى زيد عليه ألف التأنيث، بل وضعت هكذا بالألف فلو حذفت الألف لفات الغرض، ولما جاء الياء للتأنيث في هذي وكانت بالنسبة إلى الواو خفيفة بخلاف الواو قلبت ياء "وسوى بين تثنيتي المخاطب والمخاطبة" لأنك تقول: ضربت ضربتما وضربت ضربتما ولا ينافي هذا قوله في صدر الفصل يجيء على أربعة عشر وجها؛ لأن ضربتما باعتبار كونه تثنية ضربت بفتح التاء صيغة وباعتبار كونه تثنية ضربت بكسر التاء صيغة أخرى تقديرا، وأما نحون فهو تثنية أنا أو جمعه مذكرا أو مؤنثا فلا فرق في التقدير، فلذلك يقال: ضربت ضربتما ضربتم ضربت ضربتما ضربتن بذكر ضربتما مرتين، وهو هما هم هي هما هن أنت أنتما أنتم أنت أنتما أنتن بذكر التثنيتين، بخلاف أنا نحن؛ إذ لا يقال أنا نحن يذكر نحن مرتين "و" سوى "بين الإخبارات" أي كما سوى بين تثنيتي المخاطب والمخاطبة أيضا؛ أي نفس المتكلم وحده مذكرا كان أو مؤنثا حيث يقال فيهما ضربت ومعه غيره مذكرا أو مؤنثا وتثنية وجمعا؛ إذ يقال في كلها ضربنا "لقلة الاستعمال في التثنية" بالنسبة إلى المفرد، وحكمها احتياجها في حصولها إلى ضم أحد المثلين إلى الآخر بخلاف المفرد وبالنسبة إلى الجمع أيضا لعدم الاتساع فيها؛ إذ لا تستعمل حقيقة إلا في الاثنين فقط بخلاف الجمع، فإن صيغة قلته تستعمل في الثلاثة وفي الأربعة وفي الخمسة وفي الستة وفي السبعة إلى العشرة، وصيغة كثرته تستعمل فيما فوق العشرة بالغا ما بلغ فلا تعيين فيما يستعمل فيه الجمع ففيه اتساع وكثرة استعمال بخلاف التثنية. والحاصل أن في صيغة التثنية نوع حرج ليس في الجمع ذلك وهو حصر المراد على فردين وفيه كلفة بينة، بخلاف الجمع؛ فإن فيه إرسالة المراد، ولما كان استعمال الثتنية قليلا لم يبال بالالتباس فيها بخلاف المفرد والجمع؛ فإنه لما كثر استعمالهما بالنسبة إليها لم يستحسن الالتباس فيهما "و" سوى أيضا بين تثنيتهما لكون "وضع الضمائر للإيجاز" فإن هما مثلا أخصر من زيدان فالتسوية بين الشيئين أن لا يجعل لكل واحد منهما صيغة على حدة تناسب غرض الإيجاز "و" سوى بين الإخبارات لحصول "عدم الالتباس في الإخبارات" لأن المتكلم يرى في أكثر الأحوال أو يسمع صوته فيعلم أنه مذكر أو مؤنث واحد أو جمع كما يجيء، ولم يذكر التسوية بين تثنيتي الغائب والغائبة اكتفاء بذكر التسوية بين تثنيتي المخاطب والمخاطبة أو اكتفاء بذكرها في بحث المضمرات لعدم بحث لهما، وأما تثنيتا المخاطب والمخاطبة والإخبارات فلما كان لهما بحث استوفى أحكامهما ها هنا من التسوية وغيرها، ولم يكتف بذكرها على سبيل الاستطراد
--------------------------------------------
[দিকনুকূয-এর ব্যাখ্যা]"এবং একই জাতীয় হওয়ার কারণে" কারণ 'তা' অক্ষরটি 'নুন'-এর সমজাতীয় নয় এবং সেখানে উচ্চারণগত পুনরাবৃত্তির ভারও পাওয়া যায়নি, যেমনটি 'মুসলিমাতানি' শব্দে উভয়টি একই জাতীয় হওয়ায় বিদ্যমান ছিল; কারণ সেখানে দুটি 'তা' রয়েছে এবং সেখানে অর্থের মতো শব্দগত পুনরাবৃত্তির ভারও বিদ্যমান। "ক্রিয়ার ভার হওয়ার কারণে" তাই তারা ক্রিয়ার মধ্যে এ দুটির একত্র হওয়াকে নিরঙ্কুশভাবে অপছন্দ করেছেন। "পক্ষান্তরে 'হুবলায়াত'-এর ক্ষেত্রে সমজাতীয়তা না থাকায় ভিন্ন হুকুম" অর্থাৎ সেখানে দুটি চিহ্নের একটি—আলিফ এবং আলিফে তানিছ থেকে পরিবর্তিত 'ইয়া'—কে বিলুপ্ত করা হয়নি। বরং তারা এ দুটির একত্র হওয়াকে বৈধ রেখেছেন, যেহেতু তারা উভয়টি একই জাতীয় নয় এবং বিশেষ্যটি (ইসম) হালকা বা সহজবোধ্য। 'হুবলা' শব্দের আলিফকে জমা (বহুবচন)-এর ক্ষেত্রে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা ওয়াজিব হয়েছে যাতে দুটি সাকিন বর্ণ একত্র না হয়। আর এ দুটির কোনোটিকে বিলুপ্ত করা জায়েয হয়নি; কারণ দ্বিতীয়টি বহুবচনের জন্য এবং প্রথমটি শব্দের মূল অর্থের জন্য, আর তা হলো শব্দটির স্ত্রীবাচক হওয়া আবশ্যক হওয়া। এটি 'বাদু' (بعد) এর 'ফা' বর্ণ, 'কুল্লু' (قل) এর 'আইন' বর্ণ বা 'গুযিয়াতু' (غزيت) এর 'লাম' বর্ণের মতো নয়; কেননা এ বর্ণগুলো শব্দের অংশ হওয়া ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থের জন্য নয়, বিষয়টি বুঝে নিন। তদ্রূপ এটি 'মুসলিমা' শব্দের 'তা'-এর মতোও নয়; কারণ শব্দটি এর সাথে গঠিত হয়নি, বরং এটি 'মুসলিম' শব্দের ওপর আপতিত হয় যখন সেটি 'হুবলা'র মতো নয় যাতে এর সাথে আলিফে তানিছ যুক্ত করা হয়েছে। বরং এটি আলিফসহ এভাবেই গঠিত হয়েছে, তাই আলিফ বিলুপ্ত করলে মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতো। যেহেতু 'হা-যিহি' (هذي) শব্দে 'ইয়া' অক্ষরটি স্ত্রীবাচকতার জন্য এসেছে এবং এটি 'ওয়াও'-এর তুলনায় হালকা ছিল, তাই 'ওয়াও' এর বিপরীতে একে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। "এবং তিনি সম্বোধিত পুরুষ ও সম্বোধিত স্ত্রীবাচক দ্বিবচনের মধ্যে সমতা রক্ষা করেছেন" কারণ আপনি বলেন: 'দ্বরাবতা দ্বরাবতুমা' এবং 'দ্বরাবতি দ্বরাবতুমা'। এটি পরিচ্ছেদের শুরুতে তাঁর এই বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে, 'এটি চৌদ্দটি রূপে আসে'; কারণ 'দ্বরাবতুমা' শব্দটি 'তা' বর্ণে যবরযুক্ত 'দ্বরাবতা'-এর দ্বিবচন হওয়ার বিবেচনায় একটি রূপ, আর 'তা' বর্ণে যেরযুক্ত 'দ্বরাবতি'-এর দ্বিবচন হওয়ার বিবেচনায় রূপকভাবে এটি অন্য একটি রূপ। আর 'নাহনু' (نحن) শব্দটি 'আনা' (أنا) এর দ্বিবচন অথবা এর বহুবচন, চাই তা পুরুষবাচক হোক বা স্ত্রীবাচক; তাই রূপক বিচারে এখানে কোনো পার্থক্য নেই। এই কারণেই বলা হয়: 'দ্বরাবতু দ্বরাবতুমা দ্বরাবতুম দ্বরাবতি দ্বরাবতুমা দ্বরাবতুন্না'—এখানে 'দ্বরাবতুমা' দুইবার উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি হলো: 'হুয়া হুমা হুম হিয়া হুমা হুন্না আন্তা আন্তুমা আন্তুম আন্তি আন্তুমা আন্তুন্না'—এখানেও দ্বিবচন দুটি উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে 'আনা নাহনু' এর বিষয়টি ভিন্ন; কারণ সেখানে 'আনা নাহনু' বলে 'নাহনু' দুইবার উল্লেখ করা হয় না। "এবং" তিনি সমতা রক্ষা করেছেন "সংবাদ প্রদানকারী রূপগুলোর (উত্তম পুরুষ) মধ্যে" অর্থাৎ যেভাবে সম্বোধিত পুরুষ ও স্ত্রীর দ্বিবচনের মধ্যে সমতা রক্ষা করেছেন তেমনি; অর্থাৎ বক্তা নিজে একা হোক, সে পুরুষ হোক বা স্ত্রী, উভয় ক্ষেত্রে 'দ্বরাবতু' বলা হয়। আর তার সাথে অন্য কেউ থাকলে, চাই তারা পুরুষ হোক বা স্ত্রী, দ্বিবচন হোক বা বহুবচন; সব ক্ষেত্রেই 'দ্বরাবনা' বলা হয়। "দ্বিবচনের ব্যবহার কম হওয়ার কারণে" একবচনের তুলনায়; আর এর বিধান হলো এর অস্তিত্ব লাভের জন্য দুটি সদৃশ বস্তুকে একটির সাথে অন্যটি যুক্ত করার প্রয়োজন হয়, যা একবচনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না। বহুবচনের তুলনায়ও দ্বিবচনের ব্যবহার কম কারণ এতে প্রশস্ততা নেই; কেননা এটি প্রকৃতপক্ষে কেবল দুইয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, বহুবচনের বিষয়টি তার বিপরীত। কারণ স্বল্পতার বহুবচন (জমা কিল্লাত)-এর রূপ তিন, চার, পাঁচ, ছয় থেকে সাত ও দশ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। আর আধিক্যের বহুবচন (জমা কাসরাত) দশের অধিক যে কোনো সংখ্যা পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। সুতরাং বহুবচন যে ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তাতে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই, তাই এতে প্রশস্ততা ও ব্যবহারের আধিক্য রয়েছে যা দ্বিবচনে নেই। সারকথা হলো, দ্বিবচনের রূপে এক ধরনের সংকীর্ণতা রয়েছে যা বহুবচনে নেই, আর তা হলো উদ্দেশ্যকে নির্দিষ্ট করে দুইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা এবং এতে স্পষ্ট কষ্টসাধ্যতা রয়েছে। পক্ষান্তরে বহুবচনের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যটি অবারিত থাকে। আর যেহেতু দ্বিবচনের ব্যবহার কম, তাই এতে অস্পষ্টতার পরোয়া করা হয়নি। একবচন ও বহুবচনের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ দ্বিবচনের তুলনায় এ দুটির ব্যবহার যেহেতু বেশি, তাই এগুলোতে অস্পষ্টতা রাখা সমীচীন মনে করা হয়নি। "এবং" তিনি এ দুটির দ্বিবচনের মধ্যেও সমতা রক্ষা করেছেন কারণ "সর্বনামগুলো সংক্ষিপ্তকরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে"। উদাহরণস্বরূপ 'হুমা' শব্দটি 'যাইদানি' অপেক্ষা অধিক সংক্ষিপ্ত। সুতরাং দুটি বিষয়ের মধ্যে সমতা রক্ষা করা যাতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা রূপ নির্ধারণ না করতে হয়, তা সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। "এবং" তিনি উত্তম পুরুষের রূপগুলোর মধ্যে সমতা রক্ষা করেছেন "উত্তম পুরুষের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা তৈরি না হওয়ার কারণে"; কারণ বক্তাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় অথবা তার কণ্ঠস্বর শোনা যায়, ফলে সে পুরুষ না স্ত্রী, একজন না একাধিক—তা জানা যায় যেমনটি সামনে আসবে। তিনি অনুপস্থিত পুরুষ ও অনুপস্থিত স্ত্রীর দ্বিবচনের মধ্যে সমতার কথা উল্লেখ করেননি, কারণ সম্বোধিত পুরুষ ও স্ত্রীর দ্বিবচনের মধ্যে সমতার উল্লেখ করাই যথেষ্ট ছিল অথবা সর্বনামের আলোচনায় তা উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছেন যেহেতু সেখানে এ নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা নেই। আর সম্বোধিত পুরুষ ও স্ত্রী এবং উত্তম পুরুষের দ্বিবচনের ক্ষেত্রে যেহেতু আলোচনার অবকাশ ছিল, তাই তিনি এখানে সমতাবিধানসহ সেগুলোর বিধান পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আনুষঙ্গিক আলোচনার মাধ্যমে এটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি।
--------------------------------------------