(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: -)
شرحان على مراح الأرواح في علم الصرف   (ديكنقوز)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: شرحان على مراح الأرواح في علم الصرف

المؤلف: شمس الدين أحمد المعروف بديكنقوز أو دنقوز (ت 855هـ)

الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر

الطبعة: الثالثة، 1379 هـ - 1959 م

عدد الصفحات: 156

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

«شرح مراح الأرواح» لـ (ديكنقوز) بأعلى الصفحة، وبهامشه: «الفلاح في شرح المراح» لابن كمال باشا (المتوفي:940هـ)

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইলমুস সরফ বা শব্দরূপতত্ত্ব বিষয়ক ‘মারাহুল আরওয়াহ’-এর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ   (দিকুনকুয)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: ইলমুস সরফ-এর ওপর ‘মারাহুল আরওয়াহ’-এর দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ

লেখক: শামসুদ্দিন আহমাদ, যিনি দিকুনকুয বা দানকুয নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৫৫ হিজরি)

প্রকাশক: মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স লাইব্রেরি ও প্রিন্টিং কোম্পানি, মিশর

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৩৭৯ হিজরি - ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

«শারহু মারাহিল আরওয়াহ» — (দিকুনকুয) কৃত, যা পৃষ্ঠার উপরে অবস্থিত এবং এর হাশিয়া বা টীকায় রয়েছে: «আল-ফালাহ ফি শারহিল মারাহ» — ইবনে কামাল পাশা কৃত (মৃত্যু: ৯৪০ হিজরি)

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌[شرح ديكنقوز]

‌‌ خطبة الكتاب:

{وَلَقَدْ صَرَّفْنَاهُ بَيْنَهُمْ لِيَذَّكَّرُوا} "قرآن كريم"

بسم الله الرحمن الرحيم

اللهم يا مصرف القلوب صرف قلوبنا نحو رضائك؛ وصل على من أوتي جوامع الكلم من بين أنبيائك؛ وعلى الآمرين بالمعروف والناهين عن المنكر من آله وأصحابه وأزواجه وأحبائه؛ وعلى المقتفين بهم في مصادرهم ومواردهم؛ ربنا لا تؤاخذنا بالفرطات الماضية، وسدد أمورنا في الحال والاستقبال، واحفظنا من الاعتلال والاختلال في الأقوال والأفعال، وارزقنا صحيحات النيات في أبواب الخيرات.

قال المصنف رحمه الله تعالى عملا بالحديث المشهور والخبر المأثور واقتداء بالكتاب الكريم "بسم الله الرحمن الرحيم" وتخصيص كتابه بأول القرينين، بل ذكره من باب الاكتفاء كقوله تعالى في النحل: {سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ} أي والبرد ولما وقع التصنيف في العلم الإسلامي أغنى عن كتب الصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام؛ لأن المقصود به التنبيه على أن المصنف من المسلمين؛ إذ الظاهر أن لا يصنف أحد إلا فيما ينتمي إليه من الدين، وأما كون المصنف من المصنفات الإسلامية فيعلم من خصوص العلم الذي فيه التصنيف، ثم أظهر عبوديته واحتياجه في بدأ أمره فقال "قال" العبد "المفتقر" أي ذو الاحتياج الكثير واختار هذا اللفظ تبركا بما ورد في كلام الله تعالى حيث قال: {وَاللَّهُ الْغَنِيُّ وَأَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ} تيمنا بما

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"بسم الله الرحمن الرحيم" نحمدك يا من بيده الخير والجود، وبقدرته تصرف كل موجود وخص الإنسان منه بخاصة أمر السجود فمن أطاعه فصحيح سالم مسعود، ومن عصاه فمعتل ناقص مردود، فسمعا وطاعة لا إله إلا الله المعبود ونصلي على رسولك محمد خاتم الأنبياء ومبلغ مبلغ الأنبياء، وعلى آله وأصحابه الأتقياء الكرام البررة الأصفياء ما نسخت الشمس باجر الظلماء وفجر عيون الأرض.

"وبعد" لما رأيت المختصر في الصرف الذي صنفه الفاضل المحقق والعالم المدقق علامة الورى شمس الملة والدين أحمد بن علي بن مسعود جعلهم الله قرينا لنبيه في مقام محمود مع صغر حجمه ووجازة نظمه مشتملا على غرر الفرائد ودرر الفوائد، محتويا على دقائق الأسرار العربية ونكات العلوم الأدبية ولم يقع له شرح يكشف القناع عن مخدراته ويزيل الأستار عن مستراته، فلم يبرزهن شارح إلى هذا الآن لم يطمثهن إنس قبلهم ولا جان، بل هم يحومون حول مطالبيه ولم يبينوا شيئا منها لطالبيه، ولم يهتدوا إلى موارده سبيلا وإلى مشارع مآربه دليلا، فأردت أن أشرحه شرحا يزيل صعابه ويخرج من قشره لبابه فابتدأت بنبذة منه وعرضتها إلى محط رحال الأفاضل ومحظ رجال الفضائل، حضرة مولاي الهمام ملجأ كافة الأنام ممهد قواعد المنقول والمعقول مشيد أركان الفروع والأصول مبين الأحكام الدينية مزين الشرائع النبوة، أسوة العلماء المتقدمين قدوة الفضلاء المتأخرين برهان الحق والدين، ينبوع الفضل واليقين أستاذي المحقق والحبر المدقق لا زالت رياض العلوم بلطائف بيانه زاهرة وحيض الحكم بعواطف تبيانه باهرة، فلحظ إليها بعين القبول مشيرا إلى بإتمام هذا المسئول فرفرف على جناح الأشبال بإرشاد الحق عند السؤال عن غوامض لا يظرفها البال، فجد جدى في فتق مبانيه وجهد جهدي في حل حلو معانيه حتى ظفرت إلى محض اللباب من مستودعات الفصول والأبواب، ولم أقتصر على تحقيق ما في الكتاب، بل أضفت إليه فوائد لطيفة من هذا الباب وقواعد شريفة لا يستغني عنها شيخ ولا شاب مما فزته من نكت مؤلفات المتقدمين ونخب مصنفات المتأخرين، فافتلذت الأسى من عيونها واختسلت النفائس من كنوز متونها ومما استخرجته بفكري الفاتر ونظري القاصر بعون الله القادر واقتصدت بين طرفي الإطناب والاقتصار والإيجاز المخل والإكثار إلا أن عوائق الزمان وربائث الحدثان عاقتني عن تنقيحه وثبطتي عن ترشيحه فتركته بعره وطويته على غره مع أني بالنقصان لمعترف وللخطايا لمقترف، فكل ما وقع فيه سهو فمن اخترامي، وإذا اتفق مني شيء فمن رمية من غير رامي على أن من شأن نوع الإنسان السهو والخلل والنسيان، ولهذا قال ابن عباس: أول ناس أول الناس فالمرجو من أكابر الفضلاء وأماثل العلماء أن يصلحوا ما عثروا عليه من زلتي، ولم يعتبوني على فرط خطيئتي ومزلتي؛ وسميته بـ"الفلاح في شرح المراح" وأسأل الله تعالى أن يهديني إلى سبيل الرشاد ويوفقني لما يرتضيه من مسلك السداد، إنه ولي الإجابة والتوفيق وبتحقيق الأمنية حقيق وهو حسبي ونعم المعين "قال المفتقر" ترك المصنف دأب سائر المصنفين من افتتاح كتابهم بالحمد لله اقتداء بسيد المرسلين عليه السلام في إظهار عجزه في مقام الحمد حيث قال
‌‌[শরাহ দিকনকুজ]

‌‌ কিতাবের ভূমিকা:

{আর আমি একে তাদের মধ্যে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে} "আল-কুরআন"

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ! হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার সন্তুষ্টির দিকে ধাবিত করুন; এবং আপনার নবীদের মধ্য থেকে যাঁকে অর্থবহ সংক্ষিপ্ত বাক্য দান করা হয়েছে তাঁর প্রতি দরুদ বর্ষণ করুন; এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, পত্নীগণ ও প্রিয়জনদের ওপর যারা সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজে নিষেধ করেন; এবং যারা তাদের উৎস ও গন্তব্যস্থলে তাঁদের অনুসরণ করেন তাঁদের ওপরও দরুদ বর্ষিত হোক। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের অতীত ভুল-ত্রুটির জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন না, বর্তমান ও ভবিষ্যতে আমাদের বিষয়গুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, কথা ও কাজে আমাদের বিচ্যুতি ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করুন এবং নেক কাজের ক্ষেত্রে আমাদের নিয়তকে বিশুদ্ধ করুন।

গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) মশহুর হাদীস ও বর্ণিত সংবাদের ওপর আমল করে এবং মহাগ্রন্থের অনুকরণে বলেছেন: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে"। তিনি তাঁর কিতাবকে জোড়া দুটির প্রথমটি দিয়ে নির্দিষ্ট করেছেন, বরং একে তিনি 'পর্যাপ্ততা'র অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা সূরা নাহলে বলেছেন: {পোশাক যা তোমাদের উত্তাপ থেকে রক্ষা করে} অর্থাৎ ঠান্ডাও। যখন ইসলামী জ্ঞানশাস্ত্রে কিতাব রচনার প্রচলন হলো, তখন তা নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের কিতাবসমূহের প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিল; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো গ্রন্থকার যে একজন মুসলিম সেদিকে সতর্ক করা। কারণ সাধারণত কেউ নিজ ধর্ম সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে কিতাব রচনা করে না। আর কিতাবটি যে ইসলামী সংকলনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তা এর মধ্যে আলোচিত বিশেষ জ্ঞান থেকেই জানা যায়। অতঃপর তিনি তাঁর সূচনায় নিজের দাসত্ব ও মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করে বললেন: "পরামুখাপেক্ষী বান্দা বলেছেন", অর্থাৎ অধিক মুখাপেক্ষী। তিনি এই শব্দটি পছন্দ করেছেন আল্লাহ তাআলার বাণীর বরকত অর্জনের জন্য যেখানে তিনি বলেছেন: {আর আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরাই অভাবী} কল্যাণের আশায়...

--------------------------------------------

‌‌ইবনে কামাল পাশার [আল-ফালাহ শারহুল মারাহ]

"পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।" আমরা আপনার প্রশংসা করছি হে সেই সত্তা, যাঁর হাতেই সকল কল্যাণ ও বদান্যতা এবং যাঁর কুদরতে প্রতিটি অস্তিত্বশীল বিষয় বিবর্তিত হয়। তিনি মানুষকে সিজদার নির্দেশের মাধ্যমে বিশেষিত করেছেন; সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করল সে সুস্থ, নিরাপদ ও সৌভাগ্যবান, আর যে তাঁর অবাধ্য হলো সে অসুস্থ, ত্রুটিপূর্ণ ও প্রত্যাখ্যাত। অতএব শ্রবণ করলাম ও আনুগত্য করলাম, উপাস্য আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমরা আপনার রাসূল মুহাম্মাদের ওপর দরুদ পাঠ করছি যিনি নবীগণের মোহর এবং নবীদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চূড়ান্ত সীমায় উপনীত, এবং তাঁর পবিত্র, সম্মানিত ও নিষ্ঠাবান পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর; যতক্ষণ সূর্য অন্ধকারের পর্দা অপসারিত করবে এবং জমিনের ঝরনাধারা প্রবাহিত হবে।

"অতঃপর", যখন আমি 'সরফ' শাস্ত্রের উপর এই সংক্ষিপ্ত কিতাবটি দেখলাম যা বিজ্ঞ গবেষক ও সূক্ষ্মদর্শী আলেম, সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ বিদ্বান, মিল্লাত ও দ্বীনের সূর্য আহমদ বিন আলী বিন মাসউদ সংকলন করেছেন—আল্লাহ তাঁদের তাঁর নবীর সাথে মাকামে মাহমুদে স্থান দিন—যদিও এর কলেবর ছোট এবং এর বিন্যাস সংক্ষিপ্ত, তবুও এটি অনন্য মুক্তা ও মূল্যবান উপদেশে সমৃদ্ধ। এটি আরবী ভাষার সূক্ষ্ম রহস্য এবং সাহিত্যিক জ্ঞানের নিগূঢ় তথ্যে পরিপূর্ণ। এর কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ ছিল না যা এর গোপন বিষয়গুলো থেকে পর্দা উন্মোচন করবে এবং এর লুকায়িত তত্ত্বসমূহ থেকে আবরণ সরিয়ে দেবে। এখন পর্যন্ত কোনো ভাষ্যকার একে এমনভাবে প্রকাশ করেননি যা পূর্বে কোনো মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি। বরং তারা এর উদ্দেশ্যগুলোর চারপাশেই ঘুরপাক খেত এবং জ্ঞানপিপাসুদের কাছে এর কিছুই স্পষ্ট করত না। তারা এর গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পথ এবং এর উদ্দেশ্যগুলোর ঘাটে যাওয়ার কোনো নির্দেশনা পায়নি। তাই আমি এটি এমনভাবে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি যা এর কাঠিন্য দূর করবে এবং এর খোসা থেকে মজ্জা বের করে আনবে। সুতরাং আমি এর সামান্য অংশ নিয়ে শুরু করলাম এবং তা গুণীজনদের আশ্রয়স্থলে ও মর্যাদাবান ব্যক্তিদের সামনে উপস্থাপন করলাম, যিনি আমার মনিব, মহান নেতা, সকল মানুষের আশ্রয়স্থল, বর্ণিত ও বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতির প্রতিষ্ঠাতা, শাখা ও মূল বিষয়সমূহের স্তম্ভের নির্মাতা, দ্বীনি বিধানসমূহের বর্ণনাকারী, নববী শরীয়তের অলংকার, পূর্ববর্তী উলামাদের আদর্শ, পরবর্তী গুণীজনদের অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, সত্য ও দ্বীনের প্রমাণ, শ্রেষ্ঠত্ব ও ইয়াকিনের উৎস, আমার শিক্ষক, মুহাক্কিক ও সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিত। তাঁর সূক্ষ্ম বর্ণনার মাধ্যমে জ্ঞানের উদ্যানগুলো সর্বদা প্রস্ফুটিত থাকুক এবং তাঁর বর্ণনার অনুগ্রহে প্রজ্ঞার ঝরনাধারাগুলো সর্বদা বিস্ময়কর হয়ে থাকুক। অতঃপর তিনি এই অনুরোধ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়ে একে কবুলিয়তের দৃষ্টিতে দেখলেন। সুতরাং তিনি কঠিন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসার সময় হকের দিকনির্দেশনা দিয়ে আমাকে সাহায্য করলেন যা সাধারণ মেধার আয়ত্তে আসে না। তাই এর ভিত্তিগুলো উন্মোচন করতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করলাম এবং এর মিষ্ট অর্থগুলো উদ্ঘাটনে কঠোর পরিশ্রম করলাম, এমনকি আমি বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে সংরক্ষিত সারনির্যাস লাভে সমর্থ হলাম। আমি কেবল কিতাবে যা আছে তার তাহকিকের ওপর সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং এর সাথে এই শাস্ত্রের সূক্ষ্ম উপকারী বিষয় এবং উচ্চতর মূলনীতি যুক্ত করেছি যা বৃদ্ধ বা যুবক কারো পক্ষেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। এসব আমি পূর্ববর্তীদের রচনা থেকে প্রাপ্ত সূক্ষ্ম বিষয় এবং পরবর্তীদের সংকলন থেকে বাছাইকৃত তথ্যের মাধ্যমে অর্জন করেছি। আমি তাদের চোখের মণি থেকে শ্রেষ্ঠ অংশ এবং তাদের মূলগ্রন্থগুলোর ভাণ্ডার থেকে মূল্যবান সম্পদসমূহ গ্রহণ করেছি, সাথে যুক্ত করেছি আমার অক্ষম চিন্তা ও সংকীর্ণ দৃষ্টিতে আল্লাহর সাহায্যে যা বের করেছি। আমি অতিবিস্তার ও অতিসংক্ষিপ্ততার মাঝখানে ভারসাম্য বজায় রেখেছি। তবে যুগের প্রতিবন্ধকতা ও দৈব দুর্ঘটনা একে পরিমার্জন ও সুবিন্যস্ত করতে বাধা প্রদান করেছে। তাই আমি একে ত্রুটিসহ ছেড়ে দিলাম এবং অপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও গুটিয়ে নিলাম; যদিও আমি নিজের অপূর্ণতা স্বীকার করছি এবং নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত। সুতরাং এতে যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার সীমাবদ্ধতা থেকে। আর আমার পক্ষ থেকে যদি কোনো সঠিক কিছু ঘটে থাকে তবে তা লক্ষ্যহীন তীরের নিশানায় লাগার মতো। কারণ মানুষ জাতির স্বভাবই হলো ভুল, ত্রুটি ও বিস্মৃতি। এজন্য ইবনে আব্বাস বলেছেন: "প্রথম মানুষই প্রথম বিস্মৃত হওয়া ব্যক্তি।" তাই শ্রেষ্ঠ গুণীজন ও বিজ্ঞ আলেমদের কাছে প্রত্যাশা এই যে, তাঁরা আমার যে পদস্খলন দেখবেন তা সংশোধন করে দেবেন এবং আমার অত্যধিক ভুল ও বিচ্যুতির জন্য আমাকে তিরস্কার করবেন না। আমি এর নামকরণ করেছি "আল-ফালাহ ফি শারহিল মারাহ"। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাকে হিদায়াতের পথে পরিচালিত করেন এবং যা তিনি পছন্দ করেন সেই সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুলকারী ও তৌফিকদাতা এবং আশা পূর্ণ করার উপযুক্ত। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম সাহায্যকারী। "পরামুখাপেক্ষী (বান্দা) বললেন": গ্রন্থকার তাঁর কিতাব আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করার সাধারণ রীতি ত্যাগ করেছেন। এর কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনুকরণে প্রশংসা করার ক্ষেত্রে নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করতে চেয়েছেন যেখানে তিনি বলেছিলেন...
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[شرح ديكنقوز]

صدر عن صدر النبوة حيث قال: الفقر فخري وقوله: "إلى الله الودود" أي المحبوب وهو المناسب للافتقار إليه متعلق بالمفتقر، واختار صيغة الماضي حيث قال: قال لضرورة تأخر الحكاية عن المحكي في الواقع، وإن كانت متقدمة في الذكر لتقدم العامل على المعمول، وإنما لم يقل قلت هضما لنفسه وليمكن التوصيف وإجراء الاسم عليه واختار الفرع على الأصل إظهار الزيادة احتياجه، ثم ذكر اسمه واسمي أبويه لئلا يظن أن كتابه قبل التأمل فيه من تأليفات الأوباش من مرور الأيام وكرور الأعوام، فليتخذ ظهريا وليدعو لهم فعطفه على المفتقر عطف بيان فقال: "أحمد بن علي بن مسعود" ثم دعا لنفسه ولوالديه بالغفران والإحسان كما هو اللائق بأهل الإيمان فقال: "غفر الله له ولوالديه وأحسن إليهما وإليه" أي إلى أحمد مقدما نفسه أولا ومؤخرا ثانيا رعاية للسجع، ثم حرض على العلم الذي وقع التأليف فيه فقال مخاطبا خطاب العام: "اعلم أن الصرف" اختار هذا على التصريف مع أنهما علمان على علم يعرف به أحوال أبنية الكلم التي ليست بإعراب لكونه أخف وموافقا للنحو وأصلا؛ لأنه ثلاثي وفي قوله: "وأم العلوم" أي أصلها تسمية للدال باسم المدلول شبهه بالأم من حيث الولادة فكما أن الأم تلد الأولاد كذلك هذا العلم يلد الكلمات التي هي دوال العلوم وقوالبها، ولما اختلج في صدر السامع ماذا أبوها بينه بقوله: "والنحو" وهو علم يعرف به أحوال أواخر الكلم من حيث الإعراب والبناء "أبوها" أي مصلح العلوم

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

عليه السلام: "لا أحصى ثناء عليك أنت كما أثنيت على نفسك" وأتبع على ترك الحمد ترك الصلاة على النبي عليه السلام وعلى آله وأصحابه رضوان الله عليهم أجمعين، ويمكن أن يقال إن مثل ترك الحمد لإظهار عجزه في مقام الحمد بناء على أن عظمته تعالى ليست في حد يمكن أن تعبر عنها النفوس الناطقة البشرية القاصرة، حمد بناء على أن معنى الحمد فعل ينبئ عن تعظيم المنعم بسبب كونه منعما، وأن هذا الترك فعل كذلك بل هو أبلغ وأولى من مثل الحمد لله؛ لأن دلائل الألفاظ وضعية قد يتخلف مدلولتها عنها بخلاف دلالة لأفعال فإنها عقلية، وبهذا المعنى قيل: أولى الحمد ترك الحمد، ويمكن أن يقال أيضا إن قوله: المفتقر إلى الله الودود حمد بناء على أن هذا القول يشعر بالتعظيم وكل ما يشعر حمد تدبر، وإنما ابتدأ بالماضي لدلالته على التحقيق والوقوع ولقصد الموافقة بين قوله تعالى: {وَاللَّهُ الْغَنِيُّ وَأَنْتُمُ الْفُقَرَاءُ} وبين كلامه اختار المفتقر على المحتاج ونحوه، فإن قلت: لِمَ لَمْ يقل قال الفقير مع أنه أصل قلنا: لأن في المفتقر زيادة حرف تدل على زيادة المعنى، ولما كان لفظة الله اسما للذات المستجمع لجميع الصفات فكان ذكره بها ذكره بجميع صفاته قال: "إلى الله الودود" دون إلى الغني وغيره من الصفات مع أن في الأول رعاية التضاد مع المفتقر وموافقة كلامه لكلام الله تعالى في ذكر الغني أيضا، ولما التزم الودود لرعاية السجع مع مسعود، وكان طول الكلام الأول قبيحا في السجع لم يقل إلى الله الغني الودود وهو فعول من وديود أي أحب يحب، وهو قد يجيء بمعنى الفاعل كالصبور بمعنى الصابر، وقد يجيء بمعنى المفعول كالحلوب بمعنى المحلوب، فعلى الأول يكون المعنى إلى الله المحب أنبياءه وأولياءه، وعلى الثاني إلى الله المحبوب في قلوب أنبيائه وأوليائه فها هنا يسوغ كلا معنييه لكن الثاني أنس؛ لأن إطلاق المحب على الله تعالى بتأويل وإن كان شائعا كأمير بخلاف المحبوب "أحمد" مرفوع على أنه عطف بيان للمفتقر "ابن علي" أصله عليو من العلو قلبت الواو ياء لاجتماعهما وسبق إحداهما بالسكون ثم أدغمت "ابن مسعود غفر الله له" أي لأحمد دعاء في صورة الإخبار بمعنى ليغفر، والسر في التعبير بالماضي في موقع الدعاء التفاؤل في القبول فكأن المدعو قد وقع والداعي أخبر عنه بالمضي أو إظهار الحرص في وقوعه "ولوالديه" أي أبوي أحمد قدم نفسه في الغفران على أبويه ليكون مستجاب الدعوة في حقهما، وقيل: لمتابعة إبراهيم عليه السلام حيث قال: {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ} وقدم أبويه في قوله: "وأحسن" أي الله "إليهما" أي إلي والدي أحمد "وإليه" أي إلى أحمد حفظا للأدب أو قدم نفسه في الغفران وأخرها في الإحسان لرعاية السجع "اعلم" أيها الطالب لتحصيل العلوم وقوله: اعلم إلى قوله: أرواح، بل إلى آخر الكتاب مقول القول "أن الصرف" وهو في الأصل مصدر صرف من باب ضرب ومعناه التبديل والتغيير، يقال: صرفت الدراهم بالدنانير وبين الدرهمين صرف، أي فضل لجودة فضة أحدهما ومنه الصيرفي، والتصريف مشتق منه للمبالغة والكثرة، ثم جعل الصرف والتصريف علمين لهذا العلم المعرف بأنه علم بأصول يعرف بها أحوال أبنية الكلم التي ليست بإعراب، فإن قلت: لما كانا علمين وكان في التصريف مبالغة وكثرة كان الأولى أن يقول المصنف: إن التصريف لكثرة تصرفات هذا العلم، قلت: لما كان الصرف أخف من التصريف وأصلاله وأوفق لما بعده من النحو في الوزن وعدد الحروف اختار الصرف "أم العلوم" أي أصلها ومبدؤها لأنها يبدأ منها العلوم، يقال للفاتحة أم القرآن وأم الكتاب؛ لأنها أصل القرآن منها يبدأ القرآن وإنما شبه الصرف بالأم في التولد، يعني كما أن الأم تلد الولد كذلك الصرف يلد الكلمة إشعار بشدة احتياج العلوم إليها؛ لأن الأم لا يكاد يستغني الولد عنها، فإن قلت فعلى هذا يكون علم الصرف أم الكلمة لا أم العلوم والمقصود هو الثاني قلت: لما كان استفادة العلوم من الكلمات والألفاظ صارت أمالها أيضا، فإن قيل: يلزم أن يكون الصرف إما لنفسه لأنه علم مستفاد من الكلمات والألفاظ أيضا أجيب بأن المراد من العلوم ما عدا الصرف، كما أن المنطق آلة لما عداه "والنحو" وهو علم بأصول يعرف بها أحوال أواخر الكلم من حيث الإعراب والبناء "أبوها" أي أبو العلم شبه النحو بالأب
‌‌[শرح দিকনিকূজ]

নবুওয়তের বক্ষ হতে নিঃসৃত হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: দারিদ্র্য আমার গর্ব। এবং তাঁর উক্তি: "প্রেমময় আল্লাহর প্রতি" অর্থাৎ যিনি প্রিয়, আর এটিই তাঁর মুখাপেক্ষী হওয়ার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যা মুখাপেক্ষী ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি অতীতকালের ক্রিয়া নির্বাচন করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: 'বললেন', কারণ বর্ণনার বিষয়টি বাস্তবে বর্ণিত বিষয়ের পরে ঘটা আবশ্যক, যদিও বর্ণনার ক্ষেত্রে তা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে আমিল (ক্রিয়া) মামুল (কর্ম)-এর পূর্বে আসার কারণে। তিনি 'আমি বললাম' না বলে পরোক্ষভাবে বলেছেন নিজের বিনয় প্রকাশের জন্য এবং যাতে বিশেষিত করা ও তাঁর ওপর নাম প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। তিনি আসলের পরিবর্তে শাখাকে নির্বাচন করেছেন তাঁর মুখাপেক্ষিতার আধিক্য প্রকাশের জন্য। অতঃপর তিনি নিজের নাম ও পিতামাতার নাম উল্লেখ করেছেন যাতে কাল পরিক্রমায় ও বছরের আবর্তনে কেউ ধারণা না করে যে, এটি কোনো অখ্যাত ব্যক্তির রচনা; বরং যাতে একে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয় এবং তাদের জন্য দোয়া করা হয়। অতঃপর 'মুখাপেক্ষী' শব্দের ওপর 'আতফে বয়ান' হিসেবে যুক্ত করে বলেছেন: "আহমদ বিন আলী বিন মাসউদ"। এরপর তিনি মুমিনদের স্বভাব অনুযায়ী নিজের জন্য ও পিতামাতার জন্য ক্ষমা ও ইহসানের দোয়া করেছেন এবং বলেছেন: "আল্লাহ তাকে ও তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি ও তার প্রতি অনুগ্রহ করুন"। অর্থাৎ আহমদের প্রতি; অন্ত্যমিল রক্ষার খাতিরে প্রথমে নিজের কথা এবং শেষে পুনরায় নিজের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি যে শাস্ত্র বা ইলম বিষয়ে গ্রন্থটি রচনা করেছেন তার প্রতি উৎসাহিত করে সাধারণ সম্বোধনে বলেছেন: "জেনে রেখো যে, সারফ (শব্দতত্ত্ব)..." তিনি 'তাসরিফ'-এর পরিবর্তে 'সারফ' শব্দটি বেছে নিয়েছেন, যদিও উভয়টি এমন শাস্ত্রের নাম যার মাধ্যমে শব্দের গঠনের অবস্থাসমূহ জানা যায় যা ইরাব (কারক বিভক্তি) নয়। এর কারণ হলো এটি উচ্চারণে হালকা, নাহব-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মূল; যেহেতু এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট। এবং তাঁর উক্তি: "সকল শাস্ত্রের জননী" অর্থাৎ তাদের মূল, এখানে নির্দেশককে নির্দেশিতের নামে নামকরণ করা হয়েছে। জন্মের দিক থেকে একে মায়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে; যেমন মা সন্তান জন্ম দেন, তেমনি এই শাস্ত্রও সেই শব্দসমূহ জন্ম দেয় যা বিভিন্ন শাস্ত্রের নির্দেশক ও কাঠামো। যখন শ্রোতার মনে প্রশ্ন জাগল যে তবে এর পিতা কে, তখন তিনি তা স্পষ্ট করে বললেন: "এবং নাহব (বাক্যতত্ত্ব)" যা এমন এক শাস্ত্র যার মাধ্যমে শব্দের শেষাংশের অবস্থা ইরাব ও বিনার দিক থেকে জানা যায়, "তার পিতা" অর্থাৎ শাস্ত্রসমূহের সংস্কারক।

--------------------------------------------

‌‌ইবনে কামাল পাশা রচিত [আল-ফালাহ শারহুল মারাহ]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না, আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন"। হামদ বা প্রশংসা বর্জন করার সাথে সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবাগণের ওপর দরুদ পাঠও বাহ্যত ত্যাগ করেছেন। বলা যেতে পারে যে, প্রশংসা ত্যাগ করা মূলত প্রশংসার মাকামে নিজের অক্ষমতা প্রকাশের জন্য; কারণ মহান আল্লাহর মহিমা এমন নয় যা মানুষের সীমাবদ্ধ বাকশক্তি দ্বারা প্রকাশ করা সম্ভব। এটিও এক প্রকার প্রশংসা, কারণ হামদ বা প্রশংসা এমন এক কাজ যা দাতার অনুগ্রহের কারণে তাঁর মহানত্ব জ্ঞাপন করে; আর এই নীরবতা বা প্রশংসা বর্জনও তদ্রূপ একটি কাজ, বরং এটি 'আলহামদুলিল্লাহ' বলার চেয়েও অধিকতর অর্থবহ ও উত্তম। কারণ শব্দের নির্দেশনা হলো পারিভাষিক যা মাঝেমধ্যে লক্ষ্যচ্যুত হতে পারে, কিন্তু কাজের নির্দেশনা হলো যৌক্তিক যা অকাট্য। এই অর্থেই বলা হয়েছে: শ্রেষ্ঠ প্রশংসা হলো প্রশংসা বর্জন করা। আরও বলা যেতে পারে যে, "প্রেমময় আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী" এই উক্তিটিই মূলত প্রশংসা, কারণ এই কথাটি সম্মান প্রদর্শন করে এবং যা সম্মান প্রদর্শন করে তাই প্রশংসা; এটি অনুধাবনযোগ্য। তিনি অতীতকাল দিয়ে শুরু করেছেন এর সত্যতা ও বাস্তবতা প্রমাণের জন্য এবং আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ অভাবমুক্ত এবং তোমরা মুখাপেক্ষী" এর সাথে নিজের কথার মিল রাখার জন্য তিনি 'মুখাপেক্ষী' শব্দটিকে 'প্রয়োজনশীল' বা সমজাতীয় শব্দের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন তিনি 'বললেন অভাবী' বলেননি অথচ এটিই ছিল মূল? তবে আমরা বলব: কারণ 'মুখাপেক্ষী' (মুনতাকির) শব্দে অক্ষর বৃদ্ধি অর্থের আধিক্য নির্দেশ করে। যেহেতু 'আল্লাহ' শব্দটি এমন এক সত্তার নাম যা সমস্ত গুণের আধার, তাই এই নামে তাঁকে স্মরণ করা মানেই তাঁর সমস্ত গুণের সাথে তাঁকে স্মরণ করা। তিনি 'প্রেমময় আল্লাহর প্রতি' বলেছেন, 'অভাবমুক্ত' বা অন্য কোনো গুণের কথা বলেননি; যদিও প্রথমাংশে 'মুখাপেক্ষী'র সাথে বৈপরীত্য রক্ষা এবং আল্লাহর বাণীর সাথে মিল রাখার ক্ষেত্রে 'অভাবমুক্ত' বলা সংগত ছিল। তিনি 'মাসউদ' শব্দের সাথে অন্ত্যমিল রক্ষার জন্য 'ওয়াদুদ' শব্দটিকে অপরিহার্য করেছেন। আর অন্ত্যমিলের ক্ষেত্রে প্রথম বাক্যটি দীর্ঘ হওয়া শ্রুতিকটু বিধায় তিনি 'অভাবমুক্ত প্রেমময় আল্লাহর প্রতি' বলেননি। 'ওয়াদুদ' শব্দটি এমন এক শব্দ যার অর্থ ভালোবাসা। এটি কখনো কর্তার অর্থে আসে যেমন 'সবুর' মানে ধৈর্যশীল; আবার কখনো কর্মের অর্থে আসে যেমন 'দোহনকৃত প্রাণী'। প্রথম অর্থ অনুযায়ী এর মানে হবে: আল্লাহ তাঁর নবী ও ওলিদের ভালোবাসেন। আর দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী এর মানে হবে: আল্লাহ তাঁর নবী ও ওলিদের অন্তরে পরম প্রিয়। এখানে উভয় অর্থই সঠিক হতে পারে, তবে দ্বিতীয়টি অধিকতর ঘনিষ্ঠ। কারণ আল্লাহর প্রতি 'মুহিব' (প্রেমিক) শব্দের প্রয়োগ রূপক অর্থে হলেও তা বহুল প্রচলিত, কিন্তু 'মাহবুব' (প্রিয়) শব্দের ক্ষেত্রে তা নয়। "আহমদ" শব্দটি 'মুখাপেক্ষী'র জন্য আতফে বয়ান হিসেবে পেশ করা হয়েছে। "আলী" শব্দটি মূলত উচ্চতা বা শ্রেষ্ঠত্ব থেকে আগত। "বিন মাসউদ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন" অর্থাৎ আহমদের জন্য দোয়া, যা সংবাদের সূরতে দোয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। দোয়ার স্থলে অতীতকাল ব্যবহারের রহস্য হলো কবুল হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা; যেন প্রার্থিত বিষয়টি ঘটে গেছে এবং প্রার্থনাকারী তা অতীতকাল হিসেবে সংবাদ দিচ্ছেন, অথবা এটি ঘটার ব্যাপারে ঐকান্তিক আগ্রহ প্রকাশ করা। "এবং তার পিতামাতাকে" অর্থাৎ আহমদের পিতামাতাকে; তিনি ক্ষমার ক্ষেত্রে পিতামাতার আগে নিজেকে রেখেছেন যাতে তাদের ব্যাপারে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কেউ কেউ বলেছেন: এটি ইবরাহিম আলাইহিস সালামের অনুসরণ করে করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেছিলেন: "হে আমার রব, আমাকে ও আমার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন"। তবে "অনুগ্রহ করুন" বলার ক্ষেত্রে তিনি "তাদের প্রতি" অর্থাৎ আহমদের পিতামাতার কথা আগে উল্লেখ করেছেন শিষ্টাচার রক্ষার খাতিরে, অথবা ক্ষমার ক্ষেত্রে নিজেকে আগে এবং ইহসানের ক্ষেত্রে নিজেকে পরে উল্লেখ করেছেন অন্ত্যমিল রক্ষার জন্য। "জেনে রেখো" হে জ্ঞান অন্বেষণকারী; "জেনে রেখো" থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত এই সবই হলো বক্তব্য। "যে সারফ..." এটি মূলত পরিবর্তন ও রূপান্তর অর্থে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: আমি দিরহামকে দিনার দ্বারা পরিবর্তন করেছি। দুটি দিরহামের মাঝে 'সারফ' বিদ্যমান অর্থাৎ একটির রুপার মান ভালো হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, আর এ থেকেই মুদ্রা বিনিময়কারী শব্দটি এসেছে। 'তাসরিফ' শব্দটি আধিক্য বুঝানোর জন্য এখান থেকেই উদ্ভূত। অতঃপর 'সারফ' এবং 'তাসরিফ' এই শাস্ত্রের দুটি নাম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে যা এমন এক শাস্ত্রের মূলনীতি যার মাধ্যমে শব্দের গঠনের অবস্থাসমূহ জানা যায় যা কি না ইরাব নয়। যদি তুমি বলো: যেহেতু উভয়ই নাম এবং 'তাসরিফ' শব্দে আধিক্য রয়েছে, তবে লেখকের জন্য 'নিশ্চয়ই তাসরিফ' বলা কি উত্তম ছিল না? আমি বলব: যেহেতু 'সারফ' শব্দটি 'তাসরিফ' থেকে উচ্চারণে সহজ, এর মূল এবং পরবর্তী শব্দ 'নাহব'-এর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই তিনি 'সারফ' গ্রহণ করেছেন। "শাস্ত্রসমূহের জননী" অর্থাৎ তাদের মূল ও উৎস; কারণ শাস্ত্রসমূহ এখান থেকেই শুরু হয়। সূরা ফাতিহাকে উম্মুল কুরআন বা উম্মুল কিতাব বলা হয় কারণ এটি কুরআনের মূল এবং এখান থেকেই কুরআন শুরু হয়। সারফ-কে জন্মের দিক থেকে মায়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে, অর্থাৎ মা যেমন সন্তান জন্ম দেন, তেমনি সারফ শব্দ জন্ম দেয়; যা এই শাস্ত্রের প্রতি মুখাপেক্ষিতার তীব্রতা নির্দেশ করে। কেননা সন্তান তার মা থেকে বিমুখ হতে পারে না। যদি তুমি বলো: তবে তো সারফ শাস্ত্রটি 'শব্দের জননী' হওয়া উচিত 'শাস্ত্রসমূহের জননী' নয়? আমি বলব: যেহেতু শব্দ ও উচ্চারণের মাধ্যমেই জ্ঞান আহরিত হয়, তাই এটি শাস্ত্রসমূহেরও জননী হয়ে গেল। যদি বলা হয়: তবে কি সারফ নিজেরও জননী হবে? কারণ এটিও তো শব্দ ও উচ্চারণ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান? উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, এখানে শাস্ত্রসমূহ বলতে সারফ ব্যতীত অন্যগুলো বুঝানো হয়েছে; যেমন যুক্তিবিদ্যা অন্য সব শাস্ত্রের জন্য সহায়ক যন্ত্রস্বরূপ। "এবং নাহব" যা এমন এক শাস্ত্রের মূলনীতি যার মাধ্যমে শব্দের শেষাংশের অবস্থা ইরাব ও বিনার দিক থেকে জানা যায়, "তার পিতা" অর্থাৎ শাস্ত্রের পিতা। এখানে নাহব-কে পিতার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌[شرح ديكنقوز]

شبهه بالأب من حيث الإصلاح، فكما أن الأب يصلح الأولاد كذلك هذا العلم يصلح الألفاظ التي هي أوعية العلوم وقوله: "ويقوي" عطف على أم العلوم لكونه بمعنى يلد العلوم مثل قوله تعالى قراءة الكوفيين: فالق الإصباح وجعل الليل سكنا عطف قوله جعل على فالق لكونه معنى فلق "في الدرايات" جمع دراية وهي التعقل مصدر بمعنى المفعول كضرب الأمير بمعنى مضروبه أي في المدريات أي المعقولات "داروها" أي عاقلو الصرف وعالموها وتأنيث الضمير باعتبار الأم "ويطغي" أي يضل "في الروايات" جمع رواية وهي النقل بمعنى المروي أي في المرويات أي المنقولات "عاروها" أي العريانون من ثيابها العري كناية عن الجهل ولذلك عداه بنفسه، إنما قال في الدرايات يطغى؛ لأن تحصل العلوم العقلية ممكن بدون الألفاظ وإن كان متعسرا إلا أنه لا شك في أنه يقوى بها بخلاف تحصيل العلوم النقلية فإنه بدونها متعذر، قال الزمخشري: لا يجدون علما من العلوم الإسلامية فقهها وكلامها وعلمي تفسيرها وأخبارها إلا وافتقاره إلى العربية بين لا يدفع ومكشوف لا يتقنع، فإذن لا شك محصلها العاري منها يضل في سلوكه ولا يهتدي إلى مطلوبه فافتقار الروايات إليه أشد من افتقار الدرايات، وإذا كان الحال على هذا المنوال "فجمعت" أي فقد جمعت لأنه ماض بمعناه وقع جزاء لشرط محذوف كما قدرناه فلا يصح بدون قد إذ ليس في اللفظ فلا بد من التقدير وهذا كثير في كلامه وعليك بالتنبيه له في مقامه ويحتمل أن يكون الجزاء محذوفا بقرينة المقام، ويكون تقدير الكلام هكذا وإذا كان كذلك أردت جمع كتاب فيه فجمعت إلى إلخ، فيكون قوله: جمعت معطوفا على الجزاء المقدر "فيه" أي في الصرف "كتابا موسوما" أي معلما فإن الاسم علامة للمسمى "بمراح" أي محل راحة "الأرواح" وهي جمع روح بمعنى النفس وقوله "وهو" أي ذلك الكتاب مبتدأ أو قوله "للصبي" خصصه بالذكر بناء على الأغلب ومراعاة لمراعاة النظير حال من خبر المبتدأ وهو قوله: "جناح النجاح" أي الفوز بالمطلوب قدم عليه للسجع والجملة أعنى المبتدأ والخبر حال من كتابا استعار الجناح للكتاب

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

في الإصلاح يعني كما أن الأب يصلح أولاده كذلك علم النحو يصلح الكلمات والألفاظ، وفيه ما في التشبيه الأول وجوابه جوابه "ويقوي" من القوة وهي ضد الضعف وأصله يقوو من باب يعلم فأبدلت من الواو الأخيرة ياء لوقوعها رابعة أو حملا على ماضيه وهو قوي أصله قوو، قلبت الواو الأخيرة ياء لتطرفها وانكسار ما قبلها فصار قوي، ثم قلبت ياء يقوى ألفا لتحركها وانفتاح ما قبلها، ويكتب على صورة الياء لانقلابها منها وإن كانت في الأصل واوا "في الدرايات" وهي جمع دارية مصدر درى يدري من باب رمى يرمي معناه علم يعلم، فمعنى الدرايات أنواع العلوم مطلقا لكن لما وقعت في مقابلة الروايات خصت بأنواع العلوم العقلية، ولهذا جاز جمعها "داروها" أي عالموها وهو فاعل يقوي واسم فاعل يدري، والضمير للصرف باعتبار الأم ولهذا أنث، وأصله داريون بضم الياء فاستثقلت الضمة عليها فأسكنت فاجتمع ساكنان الياء والواو، ثم حذفت الياء لأن الواو علامة، ثم ضم الراء لأجل الواو فصار دارون، ثم أضيف إلى الضمير فحذف النون لئلا يلزم اجتماع المتنافيين لأن النون لقيامه مقام التنوين بدل على تمام الكلمة وانفصالها عن غيرها، والإضافة تدل على عدم تمام الكلمة واتصالها بغيرها فصار مدلولاهما متنافيين والمتنافيان لا يجتمعان فكذا ما يدل عليهما "ويطغى" أي يضل ولا يهتدي إلى الصواب "في الروايات" جمع رواية وهي مصدر روى من باب ضرب معناه نقل الحديث وها هنا بمعنى المرويات أي في المنقولات ولهذا جاز جمعها "عاروها" أي جاهلوها وهو فاعل يطغى والكلام في أصله وإعلاله وإضافته وضميره كالكلام في داروها. اعلم أن المقصود من قوله: اعلم أن الصرف إلى ها هنا، ترغيب في الصرف وبيان سبب تأليف هذا الكتاب فتشبيه النحو بالأب بالتبع لا بالأصالة فلا يتوجه أن يقال: لم أفرد الضمير في قوله: عاروها وداروها ولم يثن ليرجع إلى الصرف والنحو كليهما مع أن العالم بالنحو يقوى والجاهل له يطغى أيضا والفاء في "فجمعت" جواب للشرط المحذوف تقديره إذا كان الصرف على هذه الصفات المذكورة فجمعت "فيه" أي في الصرف "كتابا موسوما" مسمى "بمراح الأرواح" المراح اسم مكان من الروح بفتح الراء من الاستراحة والأرواح جمع روح، وهي النفس الناطقة فمعناه في الأصل موضع راحة النفوس الناطقة، وإنما سمي به لأن النفس الناطقة لما كانت طالبة للكمالات العلمية وهي لا تحصل إلا بآلاتها تألمت واضطربت إلى أن تجد تلك الآلة كالمرضى تألمت إلى أن تجد دواء شافيا. ولما كان هذا الكتاب مشتملا على ما هي آلة لتل العلوم تتلذذ به النفوس وتصير راحة "وهو" أي كتاب مراح الأرواح هذا شروع في ترغيب الكتاب ببيان شرفه وفائدته "للصبي" أي لغير البالغ، وإنما خص به بناء على الغالب إذ الغالب أن قارئ الصرف الصبيان أو لكل من يميل إليه؛ لأن الصبي فعيل من الصباوة بمعنى الميل أصله صبيو كعليو فأعل إعلاله "جناح النجاح" جناح الطائر يده والجمع أجنحة والنجاح
[শরহ দিকনুকুয]

সংশোধনের দিক থেকে একে পিতার সাথে তুলনা করা হয়েছে। কেননা পিতা যেমন সন্তানদের সংশোধন করেন, তদ্রূপ এই ইলম (সারফ) শব্দসমূহকে সংশোধন করে যা হলো জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার। লেখকের উক্তি: "এবং শক্তিশালী করে" এটি 'ইলমের জননী' এর ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে, কারণ এর অর্থ হলো এটি জ্ঞান-বিজ্ঞান জন্ম দেয়; যেমনটি কুফাবাসীদের কিরাআত অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার বাণী: "তিনি প্রভাত উদ্ভাসক এবং রাতকে প্রশান্তিদায়ক করেছেন" এখানে 'করা' শব্দটিকে 'উদ্ভাসক' শব্দের ওপর আতফ করা হয়েছে কারণ এর অর্থ হলো বিদীর্ণ করা। "দিরায়াতসমূহে" এটি দিরায়াত শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো অনুধাবন করা। এটি এমন এক মাসদার (ক্রিয়াধর্মী বিশেষ্য) যা মাফউল বা কর্মবাচ্যের অর্থ দেয়, যেমন আমিরের প্রহার বলতে তার দ্বারা প্রহৃত ব্যক্তিকে বোঝায়। অর্থাৎ বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়াবলীতে। "তারা তা অনুধাবন করেছে" অর্থাৎ সারফ শাস্ত্রের বোধসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ। এখানে সর্বনামটি স্ত্রীলিঙ্গ হয়েছে 'উম্ম' বা জননী শব্দের বিবেচনায়। "এবং বিভ্রান্ত করে" অর্থাৎ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে। "রেওয়ায়াতসমূহে" এটি রেওয়ায়াত শব্দের বহুবচন, যার অর্থ হলো বর্ণনা করা। এখানে এটি মাকউল বা বর্ণিত বিষয়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ বর্ণিত বা শ্রুত বিষয়াবলীতে। "তারা তা থেকে রিক্ত" অর্থাৎ যারা এই ইলমের পোশাক থেকে নগ্ন বা রিক্ত। এখানে নগ্নতা দ্বারা মূর্খতাকে রূপক অর্থে বোঝানো হয়েছে, একারণেই একে সরাসরি কর্মপদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। লেখক বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান বা দিরায়াতের ক্ষেত্রে কেন "শক্তিশালী করে" বলেছেন? কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান অর্জন শব্দ ছাড়াও সম্ভব, যদিও তা কষ্টসাধ্য; তবে শব্দ বা ভাষাজ্ঞানের মাধ্যমে তা শক্তিশালী হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পক্ষান্তরে বর্ণিত জ্ঞান বা রেওয়ায়াত অর্জন ভাষাজ্ঞান ছাড়া অসম্ভব। আল্লামা যামাখশারী বলেছেন: ইসলামি জ্ঞানসমূহের মধ্যে ফিকহ, কালাম, তাফসীর কিংবা হাদীস—এমন কোনো শাস্ত্র পাওয়া যাবে না যেখানে আরবি ভাষার মুখাপেক্ষিতা দিবালোকের মতো স্পষ্ট নয়। সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই জ্ঞান থেকে রিক্ত ব্যক্তি তার পথচলায় বিভ্রান্ত হবে এবং তার উদ্দেশ্য খুঁজে পাবে না। তাই দিরায়াতের চেয়ে রেওয়ায়াতের ক্ষেত্রে এই ইলমের মুখাপেক্ষিতা অনেক বেশি। আর অবস্থা যখন এই পর্যায়ের, "তখন আমি সংকলন করেছি" অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি সংকলন করেছি। কারণ এটি অতীতকাল হওয়া সত্ত্বেও এখানে উহ্য শর্তের উত্তর বা জাযা হিসেবে এসেছে যেমনটি আমরা ধারণা করেছি। আর 'ক্বাদ' অব্যয় ছাড়া এমনটি হওয়া সঠিক নয় যেহেতু শব্দে তা বিদ্যমান নেই, তাই তা উহ্য ধরে নিতে হবে। লেখকের বক্তব্যে এমন প্রয়োগ অনেক রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এও সম্ভাবনা আছে যে, পরিস্থিতির বিবেচনায় জাযাটি উহ্য রয়েছে এবং বাক্যের গঠন হবে এমন: "আর যখন বিষয়টি এমনই, তখন আমি এতে একটি কিতাব সংকলন করার ইচ্ছা করলাম, অতঃপর আমি সংকলন করলাম..." ইত্যাদি। তখন "আমি সংকলন করেছি" বাক্যটি উহ্য জাযার ওপর আতফ হবে। "এতে" অর্থাৎ সারফ শাস্ত্রের বিষয়ে। "একটি কিতাব যা নামাঙ্কিত" অর্থাৎ চিহ্নিত, কারণ নাম হলো নামধারী বস্তুর চিহ্নস্বরূপ। "মারাহ" বা বিশ্রামস্থল নামে। "আরওয়াহ" যা রূহ বা আত্মার বহুবচন। লেখকের উক্তি "এবং তা" অর্থাৎ সেই কিতাবটি হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), অথবা "বালকদের জন্য" অংশটি অধিকাংশের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সমজাতীয় বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে "সফলতার ডানা" অংশটি খবরের হাল (অবস্থা) হিসেবে এসেছে। যার অর্থ হলো উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন। ছন্দের মিল বজায় রাখার জন্য একে আগে আনা হয়েছে। মুবতাদা ও খবর মিলে পুরো বাক্যটি 'কিতাব' শব্দের অবস্থা (হাল) বোঝাচ্ছে। এখানে কিতাবের জন্য 'ডানা' শব্দটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শরহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

সংশোধনের ক্ষেত্রে; অর্থাৎ পিতা যেমন তার সন্তানদের সংশোধন করেন, তেমনি নাহু শাস্ত্র শব্দ ও বাক্যসমূহকে সংশোধন করে। প্রথম উপমার ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে এখানেও তা প্রযোজ্য এবং এর উত্তরও অভিন্ন। "এবং শক্তিশালী করে" এটি শক্তি থেকে এসেছে যা দুর্বলতার বিপরীত। এর মূল রূপ ছিল 'ইয়াক্বউউ', যা 'ইয়ালামু' এর ওজনে। অতঃপর শেষের ওয়াও বর্ণটি ইয়া দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে চতুর্থ স্থানে হওয়ার কারণে অথবা এর অতীতকাল 'ক্বউইয়া' এর অনুসরণে। 'ক্বউইয়া' এর মূল ছিল 'ক্বউওয়া', প্রান্তস্থিত হওয়ার কারণে এবং পূর্ববর্তী বর্ণে কাসরা (জের) থাকার কারণে ওয়াওটি ইয়া হয়ে গেছে। অতঃপর 'ইয়াক্বওয়া' এর ইয়া বর্ণটি হারাকাতযুক্ত এবং পূর্ববর্তী বর্ণে ফাতহা (যবর) থাকার কারণে আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি ইয়া এর আকৃতিতে লেখা হয় কারণ এটি ইয়া থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, যদিও মূলে এটি ওয়াও ছিল। "দিরায়াতসমূহে" এটি দিরায়াত এর বহুবচন যা 'দারা-ইয়াদরি' (রামা-ইয়ারমি এর ওজনে) থেকে আগত মাসদার। এর অর্থ হলো জানা বা অবগত হওয়া। দিরায়াত বলতে সাধারণভাবে সকল প্রকার জ্ঞানকে বোঝায়, তবে রেওয়ায়াতের বিপরীতে আসায় এখানে বিশেষভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানসমূহকে বোঝানো হয়েছে। একারণেই এর বহুবচন ব্যবহার করা বৈধ হয়েছে। "তারা তা অনুধাবন করেছে" অর্থাৎ এর আলিম বা বিশেষজ্ঞগণ। এটি 'ইয়াক্বউই' এর ফায়িল (কর্তা) এবং 'ইয়াদরি' এর ইসমে ফায়িল। সর্বনামটি সারফ শাস্ত্রের দিকে ফিরেছে 'উম্ম' (জননী) বিবেচনায়, একারণেই এটি স্ত্রীলিঙ্গ হয়েছে। এর মূল রূপ ছিল 'দারিয়ূনা' (ইয়া বর্ণে পেশসহ), যা উচ্চারণ করা কষ্টকর হওয়ায় একে সাকিন করা হয়েছে। ফলে ইয়া এবং ওয়াও—এই দুই সাকিন বর্ণ একত্র হয়েছে। অতঃপর ইয়া বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে কারণ ওয়াও হলো চিহ্ণবর্ণ। এরপর ওয়াও এর কারণে রা বর্ণে পেশ দেওয়া হয়েছে, ফলে তা 'দারূনা' হয়েছে। অতঃপর সর্বনামের দিকে ইযাফত করার কারণে নুন বিলুপ্ত হয়েছে যাতে দুটি বিপরীত বিষয়ের একত্র হওয়া লাযিম না আসে। কারণ নুন তানভীনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ায় তা শব্দের পূর্ণতা ও অন্য শব্দ থেকে বিচ্ছিন্নতা বোঝায়, আর ইযাফত শব্দের অপূর্ণতা ও অন্য শব্দের সাথে সংযোগ বোঝায়। ফলে তাদের অর্থ বিপরীত হয়ে যায় এবং দুটি বিপরীত বিষয় একত্র হতে পারে না। "এবং বিভ্রান্ত হয়" অর্থাৎ পথ হারিয়ে ফেলে এবং সঠিক দিশা পায় না। "রেওয়ায়াতসমূহে" এটি রেওয়ায়াত এর বহুবচন যা 'রাওয়া' (দারাবা এর ওজনে) থেকে আগত মাসদার। এর অর্থ হলো হাদীস বর্ণনা করা। এখানে এর অর্থ হলো বর্ণিত বা শ্রুত বিষয়সমূহ। একারণেই এর বহুবচন ব্যবহার বৈধ হয়েছে। "তারা তা থেকে রিক্ত" অর্থাৎ এ বিষয়ে যারা অজ্ঞ। এটি 'ইয়াতগ্বা' এর ফায়িল। এর মূল রূপ, ইল্লত (পরিবর্তন) এবং ইযাফত ও সর্বনামের নিয়ম 'দারূহা' এর মতোই। জেনে রাখা উচিত যে, "জেনে রেখো যে সারফ হলো..." এখান থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত লেখকের উদ্দেশ্য হলো সারফ শাস্ত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এই কিতাব রচনার কারণ বর্ণনা করা। এখানে নাহু শাস্ত্রকে পিতার সাথে তুলনা করা হয়েছে অনুগামী হিসেবে, মৌলিকভাবে নয়। সুতরাং এই প্রশ্ন তোলা ঠিক হবে না যে, কেন 'আরূহা' এবং 'দারূহা' শব্দে একবচন সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং কেন দ্বিবচন ব্যবহার করা হলো না যাতে তা সারফ ও নাহু উভয় শাস্ত্রের দিকেই ফিরে? যদিও নাহু শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিও শক্তিশালী হয় এবং অজ্ঞ ব্যক্তি বিভ্রান্ত হয়। "ফাজামাতু" (অতঃপর আমি সংকলন করেছি) এর 'ফা' অব্যয়টি উহ্য শর্তের উত্তর বা জাযা হিসেবে এসেছে। এর সারমর্ম হলো: যখন সারফ শাস্ত্র এমন গুণাবলী সম্পন্ন, তখন আমি সংকলন করেছি। "এতে" অর্থাৎ সারফ শাস্ত্রে। "একটি কিতাব যা নামাঙ্কিত" বা নাম দেওয়া হয়েছে "মারাহুল আরওয়াহ"। মারাহ শব্দটি 'রা-হা' (রা বর্ণে যবরসহ) থেকে ইসমে মাকান বা স্থানের নাম, যা বিশ্রাম নেওয়া থেকে উদ্ভূত। আরওয়াহ হলো রূহ এর বহুবচন যার অর্থ হলো কথা বলায় সক্ষম আত্মা। সুতরাং এর মূল অর্থ হলো—বাকশক্তি সম্পন্ন আত্মাসমূহের বিশ্রামের স্থান। এর এই নামকরণের কারণ হলো, মানুষের আত্মা যখন জ্ঞানীয় পূর্ণতা অন্বেষণ করে এবং তা অর্জনের উপায় খুঁজে পায় না, তখন সে ব্যথিত ও অস্থির থাকে, যতক্ষণ না সে সেই উপায় খুঁজে পায়। এটি ঠিক একজন রোগীর মতো যে নিরাময়কারী ঔষধ না পাওয়া পর্যন্ত যন্ত্রণায় থাকে। যেহেতু এই কিতাবটি সেই জ্ঞানসমূহের উপায় বা মাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাই এর মাধ্যমে আত্মা তৃপ্ত হয় এবং প্রশান্তি লাভ করে। "এবং তা" অর্থাৎ মারাহুল আরওয়াহ নামক এই কিতাবটি। এখান থেকে কিতাবটির শ্রেষ্ঠত্ব ও উপকারিতা বর্ণনার মাধ্যমে এর প্রতি উৎসাহ প্রদান শুরু হয়েছে। "বালকদের জন্য" অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। সাধারণত সারফ শাস্ত্রের পাঠার্থী বালক বা কিশোররাই হয়ে থাকে বলে একে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অথবা এর অর্থ হতে পারে—যারা এই শাস্ত্রের প্রতি অনুরাগী; কারণ 'সাবিয়্য' শব্দটি 'সাবাওয়া' থেকে এসেছে যার অর্থ হলো অনুরাগ বা ঝোঁক। "সফলতার ডানা"। পাখির হাতকে ডানা (জানাহ) বলা হয়, এর বহুবচন আজনিহা। আর নাজাহ অর্থ হলো সফলতা।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[شرح ديكنقوز]

لكون كل منهما سببا للنجح، وإضافته إلى النجاح من قبيل إضافة السبب إلى المسبب، وليس في الصبي استعارة مصرحة إذ المراد به معناه الحقيقي، بل مكنية شبهه بالطير في طلب النجاح وإثبات الجناح له قرينتها، والجناح مع كونه استعارة تحقيقية كما عرفت قرينة للمكنية، إذ لا يجب أن يكون قرينة المكنية استعارة تخييلية، بل قد تكون تحقيقية كما يفهم من كلام صاحب الكشاف في تفسير قوله تعالى: {يَنْقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ} وفي استعارة الجناح غير فائدتها العامة تجنيس قلب البعض بالنجاح وقوله: "وراح" أي كف "رحراح" أي واسع عطف على قوله جناح النجاح وسعة الكف كناية عن الشمول والإحاطة وعدم قوت شيء منه، مثل طول الذراع وبسط الباع، أي هذا الكتاب للصبي مثل الكف الواسع إذ جعل وسيلة لأخذ العلوم وإحاطتها لا يفوته شيء منها، كما أن ذا الكف الواسع يحيط بما لم يحط به غيره بسببه، والواو في قوله: "وفي معدته" أي في ذهن الصبي استعار المعدة للذهن لكون كل منهما محلا للغذاء فإن الذهن محل غذاء الأرواح كما أن المعدة محل غذاء الأشباح للعطف والجار والمجرور متعلق براح في قوله: "حين راح" أي حصل هذا الكتاب قدم عليه للسجع استعار الراح وهو البيتوتة للحصول تشبيها له بها في التمكن والتقرر، وفي هذه الاستعارة فائدة التجنيس التام وعامل الظرف أعني حين ما يدل عليه لفظ المثل في قوله: "مثل تفاح أوراح" عطفه تنبيها على استقلال كل واحد منهما في كونه مشبها به مثل قوله: {وَلَا تُطِعْ مِنْهُمْ آَثِمًا أَوْ كَفُورًا} يعني أن ذلك الكتاب جناح النجاح وراح رحراح ومثل تفاح أو راح أي شبههما في المنفعة وقت حصوله في ذهنه وخاطره وقوله: "وبالله" لا بغيره متعلق بقوله: "أعتصم" قدم عليه للتخصيص كما أشرنا إليه وقوله: "عما يصم" أي يعيب متعلق بأعتصم "وأستعين" إليه في جميع المهمات "و" قوله "هو" أي الله تعالى مخصوص بالمدح الذي في قوله: "نعم المولى" أي الناصر "و" هو "نعم المعين" لما ختم كلامه في ديباجة كتابه وبين مقوله شرع يبين أن الكتاب المجموع في الصرف الموسوم بمراح الأرواح فقال: "اعلم" إحضارا لذهن المخاطب وترغيبا له في استماع ما يعقبه ثم دعا له "أسعدك الله" تنشيطا له وليتفاءل بالإسعاد في مطلع الكلام ولا محل للجملة الدعائية من الإعراب ومفعول اعلم قوله: "أن الصراف" أي المريد لتحصيل علم الصرف ولا شك أنه حال إرادته لتحصيله محتاج، ففي الكلام ترغيب له على تحصيل الأبواب السبعة حيث أوهم أن العالم بالصرف على وجه المبالغة "يحتاج" على الاستمرار التجددي "في معرفة الأوزان" أي الموزونات الجزئية التي هي الغاية والغرض من تحصيل الصرف "إلى" معرفة أحكام "سبعة أبواب" أي أنواع من أنواع الموزونات فما ظنك بغيره وما يقال من أن العالم

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

لظفر والخلاص شبه الصبي بالطير في النجاة وهذا الكتاب بالجناح في السببية يعني كما أن الطير ينجو من مهلكة العدو بسبب الجناح كذلك الصبي ينجو من مهلكة الجهل ويظفر بالمقاصد العلمية بسبب هذا الكتاب، قوله: وهو مبتدأ أو جناح خبره وللصبي يتعلق بمحذوف؛ إذ هو حال من الخبر لأنه مفعول في المعنى، إذ تقدير الكلام أشبه هذا الكتاب بجناح النجاح ولم يلزم ذكره أداة التشبيه في كونه مفعولا معنى فيكون من قبيل زيد عمرو راكبا أي زيد كعمرو راكبا قوله: "وراح" أي طريق عطف على جناح "رحراح" أي واسع يعني كما أن الطريق الواسع يوصل سالكه إلى مقاصده كذلك هذا الكتاب يوصل الصبي إلى مطالبة العلمية "وفي معدته" أي في ذهن الصبي "حين راح" أي بات ذلك الصبي "مثل تفاح أوراح" أي خمر شبه هذا الكتاب بهما في النفع والقوة يعني كما أن التفاح والراح إذا استعملا ينفعان البدن ويقويانه كذلك هذا الكتاب إذ تقرر مسائله في ذهن الصبي ينفعه فكأنه حصل له المطالب العلمية، قوله: وفي معدته متعلق بمحذوف إذ هو حال من التفاح؛ لأنه مفعول معنى كما في جناح النجاح، لكن أداة التشبيه مذكورة ها هنا وهو مثل وهو معطوف على الخبر فتقدير الكلام وهذا الكتاب مثل تفاح أوراح كائنين في ذهن الصبي حين النوم وعليه حكاية بعض الحكماء من تعجبه ممن مات وفي بطنه تفاح أو خمر "و" قوله "بالله" يتعلق بقوله: "أعتصم عما" أصله عن ما فأدغم النون في الميم بعد قلب النون ميما لقربهما في المخرج "يصم" أي يعيب والمستكن فيه عائد إلى ما أوصله يوصم كيوعد فأعل كإعلاله، قوله: "وأستعين" عطف على أعتصم أي وبالله أستعين أي أطلب الإعانة في كل مطلوب "وهو" أي الله تعالى "نعم" وهو فعل مدح منقول من قولك: نعم فلان إذا أصابت نعمه إلى المدح فأزيل عن موضوعه فشابه الحروف فلم يتصرف وبيان النقل أنه كسر النون إتباعا للعين فصار نعم بكسرتين ثم حذفت كسرة العين تخفيفا فصار نعم كذا قيل "المولى" أي الناصر "وهو نعم المعين. اعلم" أيها الطالب لهذا الفن والشارع فيه "أسعدك الله" دعاء للمخاطب بقوله اعلم "أن الصراف" أي الشارع في الصرف وإنما عبر به إما بتأويل الإرادة أي أن من أراد أن يكون صرافا وإما تفاؤلا كأنه حين شرع صار صرافا، وإما باعتبار ما يئول إليه كما في قوله تعالى: {إِنِّي أَرَانِي أَعْصِرُ خَمْرًا} والمعصور العنب وإنما قال: "يحتاج" دون محتاج ليدل على التجدد "في معرفة الأوزان" أي الصيغ مثل نصر ورد وأخذ ووعدو قال: ورمى وطوى "إلى" معرفة "سبعة أبواب"
‌‌[শারহ দিকনাকুয]

কেননা তাদের প্রত্যেকটিই সফলতার কারণ, এবং সফলতার সাথে এর সম্বন্ধায়নটি কারণকে কার্যের দিকে সম্বন্ধায়নের অন্তর্ভুক্ত। আর এখানে 'বালক' (সবী) শব্দে 'ইস্তিয়ারা মুসাররাহা' নেই, কারণ এখানে এর প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য। বরং এটি 'ইস্তিয়ারা মাকনিয়া', যেখানে বালককে সফলতার অন্বেষণে পাখির সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং 'ডানা' (জানাহ) সাব্যস্ত করা হয়েছে যা এর নিদর্শন। ডানা শব্দটি 'ইস্তিয়ারা তাহকিকিয়া' হওয়া সত্ত্বেও মাকনিয়ার নিদর্শন, যেমনটি আপনি জেনেছেন। কারণ এটি আবশ্যক নয় যে মাকনিয়ার নিদর্শনকে সর্বদা 'ইস্তিয়ারা তাখয়িলিয়া' হতে হবে, বরং কখনো তা তাহকিকিয়াও হতে পারে, যা আল্লাহ তাআলার বাণী: {যারা আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গ করে} এর তাফসিরে 'সাহেবে কাশশাফ'-এর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। ডানার রূপক ব্যবহারের সাধারণ উপকারিতা ছাড়াও এখানে 'নাজাহ' (সফলতা) শব্দের সাথে 'তাজনিসে কলবে বাজ' (শব্দালঙ্কার) রয়েছে। আর তাঁর কথা: "ওয়া রাহ" অর্থাৎ হাতের তালু, "রাহরাহ" অর্থাৎ প্রশস্ত; এটি 'জানাহুন নাজাহ' (সফলতার ডানা) এর ওপর সংযোজিত। হাতের তালুর প্রশস্ততা দ্বারা ব্যাপকতা, পরিবেষ্টন এবং কোনো কিছু ছুটে না যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে, যা বাহুর দৈর্ঘ্য বা হাতের প্রসারণের মতো। অর্থাৎ, এই কিতাবটি বালকের জন্য প্রশস্ত হাতের তালুর মতো, যেহেতু একে জ্ঞান অর্জন ও আয়ত্ত করার মাধ্যম বানানো হয়েছে যাতে কোনো কিছুই তার থেকে ছুটে না যায়, যেমন প্রশস্ত হাতের অধিকারী ব্যক্তি এর মাধ্যমে এমন কিছু আয়ত্ত করে যা অন্য কেউ তার মাধ্যমে পারে না। "ওয়া ফি মাইদাতিহি" অর্থাৎ বালকের মেধায়; এখানে মেধাকে পাকস্থলীর সাথে রূপক করা হয়েছে কারণ উভয়ই পুষ্টির আধার। মেধা হলো রুহের খাদ্যের আধার, যেমন পাকস্থলী হলো দেহের খাদ্যের আধার। জার-মাজরুর অংশটি "হিনা রহ" বাক্যের 'রহ' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। 'রহ' শব্দের অর্থ অবস্থান বা অর্জন, যা রূপকভাবে প্রাপ্তির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এই রূপক অলঙ্কারে 'তাজনিসে তাম' (পূর্ণ শব্দালঙ্কার) এর উপকারিতা রয়েছে। সময়বাচক শব্দ 'হিনা' এর عامل বা নিয়ন্ত্রক হলো "মিছলু তুফফাহিন আও রাহ" বাক্যে 'মিছল' শব্দটির অর্থ। 'আও' (অথবা) অব্যয়টি প্রত্যেকটি বিষয় স্বতন্ত্রভাবে উপমা হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের মধ্য হতে কোনো পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করো না}। এর অর্থ হলো, এই কিতাবটি সফলতার ডানা, প্রশস্ত হাতের তালু এবং আপেল বা শরাবের ন্যায়। অর্থাৎ যখন এটি তার মেধা ও চিন্তায় স্থিতি লাভ করে তখন উপকারের দিক থেকে এগুলোর সদৃশ হয়। আর তাঁর কথা: "ওয়া বিল্লাহি" অর্থাৎ আল্লাহর কাছেই, অন্য কারো কাছে নয়; এটি "আতাসিমু" (আমি আশ্রয় চাই) এর সাথে সংশ্লিষ্ট। গুরুত্ব বোঝাতে একে আগে আনা হয়েছে। "আম্মা ইয়াসিমু" অর্থাৎ যা দোষযুক্ত করে, এটি 'আতাসিমু' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। "ওয়া আস্তাইনু" অর্থাৎ আমি তাঁরই কাছে সাহায্য চাই সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজে। "হুয়া" অর্থাৎ মহান আল্লাহ, তিনি প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য যেমনটি বলা হয়েছে: "নি'মাল মাওলা" অর্থাৎ তিনি উত্তম সাহায্যকারী, এবং "নি'মাল মুঈন" অর্থাৎ তিনি উত্তম সহায়। লেখক যখন তাঁর কিতাবের ভূমিকা শেষ করলেন এবং তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট করলেন, তখন তিনি ইলমুস সরফের সংকলিত কিতাব যা 'মাবাহুল আরওয়াহ' নামে পরিচিত তা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। তিনি বললেন: "ই'লাম" (জেনে রাখো), যাতে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করা যায় এবং পরবর্তী আলোচনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এরপর তিনি তার জন্য দোয়া করে বললেন: "আসআদাকাল্লাহ" (আল্লাহ তোমাকে সৌভাগ্যবান করুন), যাতে পাঠক উৎসাহিত হয় এবং আলোচনার শুরুতেই সৌভাগ্যের শুভলক্ষণ গ্রহণ করে। এই দোয়াটি একটি বাক্য হলেও এর কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (ইরাব) নেই। 'ই'লাম' এর কর্ম হলো: "আন্না সররাফা" অর্থাৎ ইলমুস সরফ অর্জন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি। নিঃসন্দেহে ইলমুস সরফ অর্জনের ইচ্ছাকালে সে অভাবী থাকে। এই বক্তব্যে সাতটি অধ্যায় অর্জনের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে, যেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে সরফ শাস্ত্রে অতিশয় পারদর্শী ব্যক্তিও অবিরতভাবে "ওযানসমূহ চেনার ক্ষেত্রে" অর্থাৎ সেই আংশিক শব্দকাঠামোগুলো চেনার ক্ষেত্রে মুখাপেক্ষী হয় যা সরফ শিক্ষার মূল লক্ষ্য। সে "সাতটি অধ্যায়" অর্থাৎ সাত প্রকারের শব্দকাঠামো চেনার প্রতি মুখাপেক্ষী হয়। তবে অন্যের অবস্থা কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়...

--------------------------------------------

‌‌[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কর্তৃক

বিজয় ও মুক্তির ক্ষেত্রে বালককে পাখির সাথে এবং এই কিতাবকে ডানার সাথে কারণ হওয়ার দিক থেকে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ পাখি যেমন ডানার সাহায্যে শত্রুর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্তি পায়, তেমনি বালকও এই কিতাবের সাহায্যে মূর্খতার ধ্বংস থেকে মুক্তি পায় এবং জ্ঞানীয় লক্ষ্যসমূহ অর্জন করে। তাঁর কথা: "হুয়া" এটি উদ্দেশ্য (মুবতাদা), এবং "জানাহুন" এর বিধেয় (খবর)। "লিস-সাবিয়্যি" অংশটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট; কেননা এটি খবরের অবস্থা (হাল), কারণ এটি অর্থের দিক থেকে কর্ম (মাফউল)। বাক্যের প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো: "আমি এই কিতাবকে সফলতার ডানার সাথে তুলনা করছি"। এখানে উপমার অব্যয় উল্লেখ করা আবশ্যক হয়নি কারণ এটি অর্থগতভাবে কর্ম, যেমন বলা হয় 'যাইদুন আমরুন রাকিবান' অর্থাৎ আরোহী অবস্থায় যায়েদ আমরের মতো। তাঁর কথা: "ওয়া রাহ" অর্থাৎ পথ, এটি 'জানাহ' এর ওপর সংযোজিত। "রাহরাহ" অর্থাৎ প্রশস্ত। অর্থাৎ প্রশস্ত পথ যেমন পথচারীকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেয়, তেমনি এই কিতাবটিও বালককে তার জ্ঞানীয় লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে দেয়। "ওয়া ফি মাইদাতিহি" অর্থাৎ বালকের মেধায়, "হিনা রহ" অর্থাৎ যখন সেই বালক অবস্থান করলো বা রাত কাটালো, "মিছলু তুফফাহিন আও রাহ" অর্থাৎ আপেল বা শরাবের ন্যায়। এই কিতাবটিকে উপকার ও শক্তির দিক থেকে এ দুটির সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ আপেল ও শরাব যেমন ব্যবহার করলে শরীরে উপকার ও শক্তি জোগায়, তেমনি এই কিতাবের মাসআলাগুলো যখন বালকের মেধায় বদ্ধমূল হয় তখন তা তাকে উপকার দেয়। যেন এর মাধ্যমে সে জ্ঞানীয় লক্ষ্যসমূহ অর্জন করলো। "ওয়া ফি মাইদাতিহি" অংশটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা 'তুফফাহ' থেকে 'হাল' হয়েছে; কারণ এটি অর্থগতভাবে কর্ম যেমনটি 'জানাহুন নাজাহ' এর ক্ষেত্রে হয়েছে। তবে এখানে উপমার অব্যয় (মিছল) উল্লিখিত আছে এবং এটি খবরের ওপর সংযোজিত। বাক্যের প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো: "এই কিতাবটি আপেল বা শরাবের মতো যা ঘুমের সময় বালকের মেধায় বিদ্যমান থাকে।" এর মাধ্যমে জনৈক জ্ঞানীর সেই বিস্ময়সূচক গল্পের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে ব্যক্তি মারা গেল অথচ তার পেটে আপেল বা শরাব ছিল। তাঁর কথা: "ওয়া বিল্লাহি" এটি "আতাসিমু" এর সাথে সংশ্লিষ্ট। "আম্মা" এর মূল হলো 'আন' এবং 'মা', নুন বর্ণটিকে মিমে রূপান্তরিত করে পরবর্তী মিমে সন্ধি করা হয়েছে কারণ তাদের উচ্চারণস্থল কাছাকাছি। "ইয়াসিমু" অর্থাৎ যা দোষযুক্ত করে। এর ভেতরে থাকা সর্বনামটি 'মা' এর দিকে ফিরেছে। "ওয়া আস্তাইনু" এটি 'আতাসিমু' এর ওপর সংযোজিত, অর্থাৎ আমি আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি প্রতিটি কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে। "হুয়া" অর্থাৎ মহান আল্লাহ, "নি'মা" এটি একটি প্রশংসাসূচক ক্রিয়া; এটি 'নাঈমা ফুলানুন' থেকে প্রশংসা করার জন্য রূপান্তরিত হয়েছে। এটি তার মূল প্রয়োগ থেকে সরিয়ে ফেলায় অব্যয়ের সদৃশ হয়ে গেছে, ফলে এর রূপান্তর হয় না। এর রূপান্তরের ব্যাখ্যা হলো: আইনের অনুসরণে নুন বর্ণে কাসরা (জের) দেওয়া হয়েছে ফলে তা 'নিঈমা' হয়েছে, এরপর সহজ করার জন্য আইনের কাসরা বিলুপ্ত করে 'নি'মা' করা হয়েছে, এভাবেই বলা হয়ে থাকে। "আল-মাওলা" অর্থাৎ সাহায্যকারী। "ওয়া হুয়া নি'মাল মুঈন। ই'লাম" অর্থাৎ হে এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থী। "আসআদাকাল্লাহ" এটি সম্বোধিত ব্যক্তির জন্য দোয়া। "আন্না সররাফা" অর্থাৎ সরফ শাস্ত্রে প্রবেশকারী। এখানে এটি হয়তো ইচ্ছার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে অর্থাৎ 'যে ব্যক্তি সররাফ হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে', অথবা এটি শুভলক্ষণ হিসেবে বলা হয়েছে যে সে এই শাস্ত্র শুরু করার মাধ্যমেই যেন সররাফ হয়ে গেছে। অথবা পরিণতির বিবেচনায় এটি বলা হয়েছে যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি নিজেকে শরাব নিংড়াতে দেখেছি}, অথচ নিংড়ানো হচ্ছিল আঙ্গুর। লেখক "ইয়াহতাজু" (মুখাপেক্ষী হয়) ক্রিয়াটি ব্যবহার করেছেন যাতে এর নবায়ন ও ধারাবাহিকতা বোঝায়। "ওযানসমূহ চেনার ক্ষেত্রে" অর্থাৎ শব্দরূপসমূহ যেমন- নাসারা, রাদ্দা, আখাযা, ওয়াআদা, ক্বলা, রামা এবং তাওয়া। "সাতটি অধ্যায়" চেনার প্রতি।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌[شرح ديكنقوز]

‌‌ الباب الأول: في بيان بناء الصحيح:

بالفعل يحتاج إليها أيضا لامتناع حصول الشيء بدون شرائطه، وما يتوقف عليه فليس مما يعتد به عرفا؛ إذ لا يقال في متعارف اللغة لمن حصل المطلوب إنه يحتاج إلى شرائطه، بل يقال كان محتاج حين لم يكن حاصلا. ثم شرع في تعداد تلك الأبواب فقال: "الصحيح والمضاعف والمهموز والمثال والأجوف والناقص واللفيف" ولا يخفى وجه الضبط على من تصور مفهوماتها وستطلع عليها إن شاء الله تعالى في تضاعيف مباحثها "و" كما أن الصراف يحتاج إلى معرفة الأوزان إلى معرفة سبعة أبواب، كذلك يحتاج فيها إلى معرفة "اشتقاق" أي إخراج "تسعة أشياء من كل مصدر" إما بواسطة أو بدونها وتلك الأشياء التسعة المشتقة منه "وهي الماضي والمستقبل والأمر والنهي واسم الفاعل والمفعول والمكان والزمان والآلة" وإذا كان الصراف يحتاج إلى الأنواع السبعة "فكسرته" أي الكتاب وجعلته مشتملا "على سبعة أبواب" كل باب منها في بيان نوع من تلك الأنواع وكان المناسب لسياق كلامه أن يقول على ثمانية أبواب أحدها في الاشتقاق، لكن لما كان معرفة هيآت المفردات إنما تتم شبهة، وإن كان الحق أنه ليس بجزء منه حقيقة، بل هو علم على حدة ولا شك أن أبواب الصرف سبعة أدرجه في تلك الأبواب، ولم يجعله بابا على حدة وذكره في أول تلك الأبواب إشارة إلى ما ذكرنا "الباب الأول" من تلك الأبواب المكسور عليها الكتاب "في" بيان البناء "الصحيح" ولما كان المقصود الأصلي البحث عن أحوال الأبنية وكانت أبنية الصحيح تستحق التقديم لسلامتها عن التغيرات الكثيرة وكونها مقيسا عليها

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

وإنما انحصرت الأبواب في السبعة؛ لأن الكلمة لا يخلو من أن يوجد في حروفها الأصلية حرف علة أو ملحق حرف علة أو لا يوجد شيء منهما الثالث "الصحيح" والثاني وهو ما يوجد فيها ملحق حرف علة إن كان كونه ملحقا لها باعتبار التكرر فهو "المضاعف" وإن كان باعتبار الانفراد سواء كان في الفاء أو العين أو اللام فهو "المهموز" وإنما قلنا: إن حرف التضعيف والهمزة ملحق حرف علة لأنهما قد يقلبان حرف علة في مثل تقضي البازي أصله تقضض فقلبت الضاد الثانية ياء، وفي مثل إيمان أصله إءمان بهمزتين قلبت الثانية ياء والأول وهو ما يوجد فيها حرف علة لا يخلو من أن يكون ذلك الحرف واحدا أو أكثر، فإن كان واحد فإن كان في الفاء فهو "المثال"، وإن كان في العين فهو "الأجوف"، وإن كان في اللام فهو "الناقص"، وإن كان أكثر من واحد فهو "اللفيف" المفروق إن كان في الفاء واللام، والمقرون إن كان في العين واللام، ولم يعتبر المصنف بما كان فاؤه وعينه حرف علة نحو ويل ويوم، وما كان فاؤه وعينه ولامه حرف علة مثل واو وياء في اسمي حرفين، كما اعتبرهما الزنجاني وغيره حتى جعلوا أقسام المعتلات سبعة لا خمسة لعدم بناء الفعل، منهما فمقصود المصنف بيان أو زان المشتقات ويؤيده عطف قوله: "واشتقاق تسعة أشياء" على قوله: سبعة أبواب ومعناه إلى معرفة اشتقاق تسعة أشياء "من كل مصدر" فإن قلت: يرد عليه المصادر التي لا يشتق منها شيء كويل وويح قلت: المراد من اشتقاق تسعة أشياء اشتقاقها منه إن وجدت، ويحتمل أن يكون بناء على الغالب وإنما انحصر الاشتقاق في التسعة؛ لأن ما يشتق من المصدر إما أن يكون فعلا أو اسما فإن كان فعلا فلا يخلو من أن يكون إخباريا أو إنشائيا، فإن كان إخباريا فإن لم يتعاقب في أوله الزوائد الأربع وهي حروف أتين فهو "الماضي" وإن تعاقب فهو "المستقبل" وإن كان إنشائيا فإن دل على طلب الفعل فهو "الأمر" وإن دل على ترك الفعل فهو "النهي" وإن كان اسما فإن دل على ذات من قام به الفعل فهو "اسم الفاعل" وإن دل على ذات من وقع عليه الفعل فهو "اسم المفعول" وإن دل على ما وقع فيه الفعل فإن كان مكانه فهو "اسم المكان" وإن كان زمانا فهو "اسم الزمان" وإن دل على ما وقع الفعل بسببه فهو "اسم الآلة" ولم يذكر النفي والجحد لمشابهة النفي صورة والجحد معنى للنهي فإن قلت: الصفة المشبهة وأفعل التفضيل من المشتقات، ولم يذكرهما المصنف قلت: هما داخلان في اسم الفاعل، فإن قلت: التصغير مشتق من المصدر بزيادة الياء مثل نصر ونصير قلت، لا نسلم أنه مشتق منه وزيادة الياء من قبيل الزيادة لإفادة المعنى لا الاشتقاق كما صر حوابه، ويدل عليه عدم اختصاصه بالمشتقات، بل يجري أيضا في الجوامد رجل ورجيل، فإن قلت: هذا الكلام يدل على أن اسم الفاعل والمفعول مشتقات من المصدر وكذا الزمان والمكان والآلة وكذا الأمر والنهي وقد صرح فيما سيأتي أنها مشتقات من المضارع، أجيب بأنها مشتقات من المصدر بالتوسط لأنها مشتقات من الفعل وهو مشتق من المصدر فتكون هي مشتقة من المصدر كما هو مذهب السيرافي، والفاء في قوله "فكسرته" جواب للشرط المحذوف تقديره إذا احتاج الصراف في معرفة الأوزان إلى سبعة أبواب فكسرت هذا الكتاب "على سبعة" بيان "أبواب" مذكورة إجمالا أي طويته مستعار من كسر الطائر جناحيه إذا ضمهما للوقوع وانقض "الباب الأول" من تلك الأبواب السبعة "في" بيان بناء "الصحيح" قدمه على سائر الأبواب إما لسهولة حفظه عند المبتدي والتعليم من الأسهل إلى الأصعب، وإما لكونه مقيسا عليه للمعتلات، وإما لكونه مفهومه عدميا ومفهوم ما سواه وجوديا وكون العدمي قدما على الوجودي لأصالته، وبعضهم قدم المعتلات على الصحيح نظرا إلى أن مفهومه عدمي ومفهومها وجودي والوجودي لشرفه مقدم
[শরহ দিকনুফুজ]

প্রথম অধ্যায়: সহীহ-এর গঠন বর্ণনা প্রসঙ্গে:

প্রকৃতপক্ষে এগুলোরও প্রয়োজন রয়েছে, কেননা শর্তাদি ছাড়া কোনো কিছু অর্জিত হওয়া অসম্ভব। আর যার ওপর কোনো কিছু নির্ভরশীল, আভিধানিক বা প্রচলিত রীতিতে তাকে ধর্তব্য মনে করা হয় না; কারণ প্রচলিত ভাষায় কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি অর্জনকারীর ক্ষেত্রে এমনটি বলা হয় না যে, সে তার শর্তাদির মুখাপেক্ষী, বরং বলা হয় যে, যখন তা অর্জিত ছিল না তখন সে মুখাপেক্ষী ছিল। এরপর তিনি সেই অধ্যায়গুলোর সংখ্যা বর্ণনা শুরু করে বললেন: "সহীহ, মুদাআফ, মাহমুজ, মিসাল, আজওয়াফ, নাকিস এবং লাফীফ"। যার কাছে এগুলোর ধারণা স্পষ্ট, তার কাছে এর বিন্যাসের দিকটি গোপন নয় এবং ইনশাআল্লাহ এগুলোর আলোচনার গভীরে আপনি তা জানতে পারবেন। "এবং" যেভাবে একজন সরফ শাস্ত্রবিদের জন্য ওজনের জ্ঞান লাভে সাতটি অধ্যায় জানার প্রয়োজন হয়, তেমনিভাবে তাতে প্রতিটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) থেকে "ইশতিকাক" অর্থাৎ "নয়টি বিষয়" বের করার পদ্ধতি জানার প্রয়োজন পড়ে। তা মধ্যস্থতার মাধ্যমে হোক বা সরাসরি। আর মাসদার থেকে নির্গত সেই নয়টি বিষয় হলো: "মাজি (অতীত), মুস্তাকবিল (ভবিষ্যত), আমর (আদেশ), নাহি (নিষেধ), ইসমুল ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য), মাকান (স্থানবাচক বিশেষ্য), জামান (কালবাচক বিশেষ্য) এবং আলাহ (যন্ত্রবাচক বিশেষ্য)"। যেহেতু একজন সরফ শাস্ত্রবিদের সাতটি প্রকারের প্রয়োজন হয়, তাই "আমি একে বিন্যস্ত করেছি" অর্থাৎ এই কিতাবটিকে সাতটি অধ্যায়ে সাজিয়েছি। প্রতিটি অধ্যায় সেই সাত প্রকারের কোনো একটির বর্ণনায় নিবেদিত। তার কথার প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী উচিত ছিল 'আটটি অধ্যায়' বলা, যার একটি হতো ইশতিকাক (রূপান্তর) বিষয়ক। কিন্তু যেহেতু শব্দমূলের রূপের জ্ঞান কেবল একটি সাদৃশ্যের মাধ্যমে পূর্ণ হয়—যদিও সত্য হলো এটি প্রকৃত অর্থে তার অংশ নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সরফের মূল অধ্যায় সাতটি—তাই তিনি একে সেই অধ্যায়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং একে পৃথক অধ্যায় হিসেবে গণ্য করেননি। আর অধ্যায়গুলোর শুরুতে এর উল্লেখ আমাদের পূর্বোক্ত বিষয়ের দিকেই ইঙ্গিত বহন করে। সেই অধ্যায়গুলোর মধ্যে "প্রথম অধ্যায়", যার ওপর ভিত্তি করে কিতাবটি বিন্যস্ত, তা হলো "সহীহ"-এর গঠন বর্ণনায়। যেহেতু মূল উদ্দেশ্য হলো শব্দের গঠনগত অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা, আর সহীহ-এর গঠনসমূহ অধিক পরিবর্তনের হাত থেকে নিরাপদ এবং অন্যগুলোর জন্য পরিমাপদণ্ড হওয়ার কারণে অগ্রগণ্য হওয়ার দাবি রাখে।

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শরহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

অধ্যায়গুলো সাতটির মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার কারণ হলো, শব্দের মূল অক্ষরগুলোর মধ্যে হয় হরফে ইল্লত (দুর্বল বর্ণ) থাকবে, অথবা হরফে ইল্লতের সদৃশ কোনো বর্ণ থাকবে, অথবা এর কোনোটিই থাকবে না। তৃতীয়টি হলো "সহীহ"। দ্বিতীয়টি অর্থাৎ যাতে হরফে ইল্লতের সদৃশ বর্ণ থাকে, যদি সেই সদৃশ হওয়া পুনরাবৃত্তির কারণে হয় তবে তাকে "মুদাআফ" বলা হয়। আর যদি তা একক হওয়ার কারণে হয়, চাই তা ফা-কালিমা, আইন-কালিমা বা লাম-কালিমা যেখানেই হোক, তাকে "মাহমুজ" বলা হয়। আমরা কেন বললাম যে তাশদীদযুক্ত বর্ণ এবং হামজা হরফে ইল্লতের সদৃশ? কারণ কখনো কখনো এগুলো হরফে ইল্লতে রূপান্তরিত হয়; যেমন: 'তাকদ্বিল বাযী' যার মূল ছিল 'তাকদ্বদ', এখানে দ্বিতীয় দদ-টি ইয়া দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। এবং 'ঈমান' যার মূল ছিল দুটি হামজা যোগে 'ই’মান', এখানে দ্বিতীয় হামজাটি ইয়া দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। আর প্রথমটি অর্থাৎ যাতে হরফে ইল্লত থাকে, তা হয় একটি বর্ণ হবে অথবা একাধিক। যদি একটি হয় এবং তা ফা-কালিমাতে হয় তবে তা "মিসাল", যদি আইন-কালিমাতে হয় তবে তা "আজওয়াফ", আর যদি লাম-কালিমাতে হয় তবে তা "নাকিস"। আর যদি একের অধিক হয় তবে তা "লাফীফ"। যদি ফা এবং লাম কালিমাতে থাকে তবে "লাফীফে মাফরূক", আর যদি আইন এবং লাম কালিমাতে থাকে তবে "লাফীফে মাকরূন"। গ্রন্থকার ঐ শব্দগুলোকে ধর্তব্যে নেননি যার ফা এবং আইন কালিমা হরফে ইল্লত, যেমন: 'ওয়াইল' এবং 'ইয়াওম', অথবা যার ফা, আইন এবং লাম—তিনটিই হরফে ইল্লত, যেমন: দুটি বর্ণের নাম 'ওয়াও' এবং 'ইয়া'; যদিও যানজানী এবং অন্যরা এগুলোকে ধর্তব্যে নিয়েছেন, এমনকি তারা মু'তাল (দুর্বল) শব্দের প্রকারগুলোকে পাঁচটির পরিবর্তে সাতটি করেছেন। গ্রন্থকার এগুলো নেননি কারণ এগুলো থেকে ক্রিয়া গঠিত হয় না। গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য হলো নির্গত শব্দগুলোর (মুশতাক্কাত) ওজন বর্ণনা করা। এর সমর্থনে তার এই কথাটি রয়েছে: "নয়টি বিষয়ের ইশতিকাক", যা "সাতটি অধ্যায়"-এর ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো: প্রতিটি মাসদার থেকে নয়টি বিষয়ের রূপান্তর (ইশতিকাক) জানা। আপনি যদি বলেন: সেই সকল মাসদারের ক্ষেত্রে কী হবে যেখান থেকে কোনো কিছু নির্গত হয় না, যেমন 'ওয়াইল' এবং 'ওয়াইহ'? উত্তরে বলা হবে: নয়টি বিষয়ের ইশতিকাক বলতে উদ্দেশ্য হলো—যদি সেগুলো বিদ্যমান থাকে তবে তা থেকে নির্গত হওয়া। অথবা এটি অধিকাংশের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। ইশতিকাক নয়টির মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার কারণ হলো, মাসদার থেকে যা নির্গত হয় তা হয় ক্রিয়া হবে নতুবা বিশেষ্য। যদি ক্রিয়া হয় তবে তা হয় বর্ণনামূলক হবে নতুবা সৃষ্টিমূলক। যদি বর্ণনামূলক হয় এবং তার শুরুতে অতিরিক্ত চারটি বর্ণ অর্থাৎ 'আতাইনা' অক্ষরগুলোর ধারাবাহিকতা না থাকে তবে তা "মাজি"। আর যদি ধারাবাহিকতা থাকে তবে তা "মুস্তাকবিল"। আর যদি সৃষ্টিমূলক হয় এবং তা কাজ সম্পাদনের তলব বোঝায় তবে তা "আমর"। আর যদি কাজ ত্যাগের নির্দেশ দেয় তবে তা "নাহি"। আর যদি বিশেষ্য হয় এবং তা এমন সত্তাকে বোঝায় যার দ্বারা কাজটি সংঘটিত হয়েছে তবে তা "ইসমুল ফায়েল"। আর যদি এমন সত্তাকে বোঝায় যার ওপর কাজটি পতিত হয়েছে তবে তা "ইসমুল মাফউল"। আর যদি কাজটি যেখানে সংঘটিত হয়েছে তা বোঝায়, তবে স্থান বোঝালে "اسم المكان" (ইসমুল মাকান) এবং সময় বোঝালে "اسم الزمان" (ইসমুল জামান)। আর যদি এমন কিছু বোঝায় যার মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে তবে তা "ইসমুল আলাহ"। এখানে নাফি (না-বোধক) এবং জাহদ (অস্বীকৃতিমূলক) উল্লেখ করা হয়নি, কারণ নাফি রূপের দিক থেকে এবং জাহদ অর্থের দিক থেকে নাহির সদৃশ। আপনি যদি বলেন: সিফাতে মুশাব্বাহ এবং ইসমুত তাফদীল-ও তো মুশতাক্কাত এর অন্তর্ভুক্ত, অথচ গ্রন্থকার তা উল্লেখ করেননি? উত্তরে বলা হবে: সেগুলো ইসমুল ফায়েল-এর অন্তর্ভুক্ত। আপনি যদি বলেন: তাসগীর (ক্ষুদ্রার্থবোধক) মাসদার থেকে ইয়া যোগ করার মাধ্যমে নির্গত হয়, যেমন 'নাসর' থেকে 'নুসাইর'? উত্তরে বলা হবে: আমরা এটি স্বীকার করি না যে এটি মাসদার থেকে নির্গত। বরং ইয়া যোগ করা অর্থের আধিক্য প্রদানের জন্য, ইশতিকাক বা রূপান্তরের জন্য নয়, যেমনটি আলিমগণ স্পষ্ট করেছেন। এর প্রমাণ হলো এটি কেবল মুশতাক্কাত-এর সাথে খাস নয়, বরং জামিদ শব্দের ক্ষেত্রেও ঘটে, যেমন 'রাজুল' থেকে 'রুজাইল'। আপনি যদি বলেন: এই আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে ইসমুল ফায়েল, মাফউল, জামান, মাকান, আলাহ এবং আমর ও নাহি মাসদার থেকে নির্গত, অথচ সামনে স্পষ্ট করা হবে যে এগুলো মুদারে থেকে নির্গত? উত্তরে বলা হবে: এগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে মাসদার থেকেই নির্গত। কারণ এগুলো ক্রিয়া থেকে নির্গত, আর ক্রিয়া মাসদার থেকে নির্গত। ফলে এগুলোও মাসদার থেকেই নির্গত বলে গণ্য হবে, যেমনটি সিরাফী-র মাযহাব। আর তার কথা "ফাকাসারতুহু" (আমি একে ভাগ করেছি) এর মধ্যে 'ফা' হলো একটি উহ্য শর্তের জওয়াব; যার অর্থ হলো: যদি একজন সরফ শাস্ত্রবিদের ওজনের জ্ঞানে সাতটি অধ্যায়ের প্রয়োজন হয়, তবে আমি এই কিতাবটিকে "সাতটি" অধ্যায়ে "বিন্যস্ত করেছি" যা সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। এটি মূলত ডানা গুটিয়ে বসার উপমা থেকে নেওয়া হয়েছে। এই সাতটি অধ্যায়ের মধ্যে "প্রথম অধ্যায়" হলো "সহীহ"-এর গঠন বর্ণনায়। একে অন্যান্য অধ্যায়ের ওপর প্রধান্য দেওয়া হয়েছে হয় শিক্ষার্থীর জন্য মুখস্থ করার সহজতার খাতিরে (কেননা শিক্ষা সহজ থেকে কঠিনের দিকে হওয়াই নিয়ম), অথবা এটি মু'তাল (দুর্বল) শব্দগুলোর জন্য পরিমাপদণ্ড হওয়ার কারণে, অথবা এর ধারণা অভাবাত্মক এবং অন্যদের ধারণা অস্তিত্বাত্মক হওয়ার কারণে, আর অভাবাত্মক বিষয়টি তার মৌলিকত্বের কারণে অস্তিত্বাত্মকের আগে আসে। কেউ কেউ আবার মু'তালকে সহীহ-এর আগে এনেছেন এই যুক্তিতে যে এর ধারণা অভাবাত্মক আর মু'তালের ধারণা অস্তিত্বাত্মক, আর অস্তিত্বাত্মক বিষয় সম্মানের দিক থেকে অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[شرح ديكنقوز]

لسائرها قدم باب الصحيح ولما توقف البحث عنه على تصوره عرفه فقال "الصحيح" واضعا المظهر موضع الضمير إشارة إلى أن المراد به غير الأول، فإن المراد بالأول ما صدق عليه الصحيح وبالثاني مفهومه، وما يقال إن المعرفة إذا أعيدت فهي عين الأول فليس على الإطلاق أي الصحيح في اصطلاح أهل الصرف "هو" البناء "الذي ليس" فيه "في مقابلة الفاء والعين واللام" من فعل "حرف علة" هي الواو والياء والألف وليس في تلك المقابلة أيضا "تضعيف" أي حرفان من جنس واحد "و" ليس فيها أيضا "همزة" فيدخل "نحو ضرب" إذ ليس فيه في مقابلة فاء فعل إلا الضاد، وفي مقابلة عينه إلا الراء، وفي مقابلة لامه إلا الباء، وليس شيء من الضاد والراء والباء حرف علة ولا همزة وليس فيه أيضا حرفان من جنس واحد فيصدق التعريف عليه فيصح التمثيل به، ويدخل فيه أيضا نحو حوقل وضارب ويضرب ومضروب واقعنسس "واختص الفاء والعين واللام" من بين الحروف الباقية "للوزن" والمعيار "حتى يكون فيه" أي في الوزن "من حروف الشفة والوسط والحلق" التي هي المخارج الكلية "شيء" أي حرف وهذا وجه مستقل لاختصاص فعل للوزن ولا ينافيه وجود هذه الحروف في غيره كما أن كونه شاملا للأفعال وجه آخر له مستقل ولا ينافيه شمول غيره إياها لكن إذا طلب لهذا الوجه مرجح على نحو علم جعل الوجه الآخر مرجحا كعكسه على نحو جعل، وإذا طلب المرجح على عمل فيجعل كثرة الاستعمال وفتح العين مرجح؛ لأن فعل من باب فتح وعمل من باب علم؛ وإنما لم يقل واختص فعل للوزن واحتاج إلى تفصيل حروفا ليمكن كونه وزنا للمتحركات بالحركات المختلفة من نحو ضرب وعلم وحسن؛ إذ لو قال: فعل لما صلح لكونه وزنا لعلم وحسن ويزاد في الرباعي لام ثانية نحو فعلل في نحو جعفر ولام ثالثة في الخماسي نحو فعلل في نحو جحمرش، وإما يزاد اللام دون غيره؛ لأن الزيادة بالآخر أولى فالأولى أن يزاد من جنس الآخر، ولما فرغ من تعريف الصحيح وما يتعلق به شرع في بحث الاشتقاق وما يتعلق به فقال: إذا عرفت هذا "فقولنا" أي مقولنا وملفوظنا الذي هو "الضرب مصدر" في اصطلاح هذا الفن أي فرد مما يصدق عليه المصدر والجملة أعنى "يتولد منه الأشياء التسعة" المذكورة إما خبر بعد خبر أو حال من الضرب "وهو" أي المصدر المصطلح كضرب "أصل" للفعل المصطلح كضرب معروفه لمعروفه ومجهوله لمجهوله إلا أن صيغة بناء المعروف والمجهول من المصدر متحدة اكتفاء بصيغ الأفعال، فإذا قيل: ضرب ضربا علم أن المصدر معلوم فإذا قيل: ضرب ضربا علم أن المصدر مجهول، وإذا لم يذكر الفعل علم بالقرائن "في" جنس "الاشتقاق" لا في جنس آخر من العمل وغيره وستعرف مفهوم الاشتقاق عن قريب إن شاء الله تعالى "عند البصريين" من الصرفيين وإنما قلنا إن المصدر أصل للفعل في الاشتقاق "لأن مفهومه" أي معنى المصدر "واحد" وجزء "ومفهوم الفعل" أي المعنى الذي يفهم منه بحسب الوضع "متعدد" وكل وأما تسمع بالمعيدي فليس بحسبه "لدلالته" أي لدلالة الفعل بحسب الوضع "على الحدث والزمان" أي زمان ذلك الحدث من الأزمنة الثلاثة "والواحد قبل

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

على العدم ولكل وجهة هو موليها، ولعدم الفرق بين الصحيح والسالم عند المصنف عرف الصحيح بقوله: "الصحيح هو الذي ليس في مقابلة الفاء والعين واللام حرف علة ولا تضعيف ولا همزة" وإنما اعتبر ألا يكون فيه تضعيف ولا همزة لترتيب بعض أحكام حرف العلة عليهما من الحذف والقلب كما سيأتي، وبعضهم جعل هذا التعريف للسالم وعرف الصحيح بما ليس في مقابلة الفاء والعين واللام حرف علة، فيكون بينهما عموم وخصوص مطلقا فكل سالم صحيح من غير عكس والتعريف المذكور يصدق على ما لا يوجد فيه حرف علة أصلا "نحو ضرب" وعلة ما يوجد فيه، لكن ليس في مقابلة الفاء والعين واللام نحو حوقل وعشير، فإن الواو والياء بهما ليسا في مقابلة شيء منهما، وإنما قال: "واختص الفاء والعين واللام للوزن" ولم يقل واختص فعل ليمكن جعله وزنا للمتحركات المختلفة "حتى يكون فيه" أي الوزن "من حروف الشفة" وهو الفاء "والوسط" وهو اللام "والحلق" وهو العين "شيء" أي حرف فإن قلت: هذا الدليل منقوض بمثل عمل لوجود حروف المخارج الثلاثة المعتبرة فيه. قلت: نعم لكن لما كان المركب من تلك الحروف وهو فعل شاملا لجميع أفراد الفعل من القولي والفعلي مع الفائدة المذكورة اختصت للوزن، وإنما اختار الثلاثي للوزن دون الرباعي والخماسي؛ لأنه لو كان رباعيا أو خماسيا يكون وزن الثلاثي بحذف حرف أو حرفين ولو كان ثلاثيا يكون وزن الرباعي والخماسي بزيادة حرف أو حرفين، والزيادة أسهل من الحذف عندهم، قوله: "فقولنا" مبتدأ، وقوله: "الضرب" مقول القول باعتبار لفظه لا باعتبار معناه ولهذا لم يجب كونه جملة، وقوله: "مصدر" خبره وقوله: "يتولد منه" أي من ذلك المصدر بطريق الاشتقاق "الأشياء التسعة" المذكورة صفة مصدر "وهو" أي المصدر معلوما كان أو مجهولا "أصل" للفعل معلومات كان أو مجهولا فالمصدر المعلوم أصل للفعل المعلوم، والمصدر المجهول أصل للفعل المجهول "في الاشتقاق" لا في العمل "عند" أصحابنا "البصريين" لا عند الكوفيين "لأن مفهومه" أي مفهوم المصدر "واحد" وهو الحدث فقط "ومفهوم الفعل متعدد" لا واحد "لدلالته على الحدث و" على "الزمان" ماضيا كان أو مضارعا "و" لا شبهة أن "الواحد قبل
[শরহ দিকনুকুয]

অন্যান্য সব বিষয়ের ওপর তিনি সহীহ (সঠিক শব্দ) এর অনুচ্ছেদকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেহেতু কোনো বিষয় নিয়ে গবেষণা করা সেটি অনুধাবন করার ওপর নির্ভরশীল, তাই তিনি তার পরিচয় প্রদান করে বলেছেন, "সহীহ"; এখানে সর্বনামের স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার করেছেন এই ইঙ্গিত দিতে যে, এখানে উদ্দেশ্য প্রথমোক্ত বিষয়টি নয়। কেননা প্রথমটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়, আর দ্বিতীয়টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার মূল ধারণা। আর যা বলা হয় যে, কোনো নির্দিষ্ট বিশেষ্য যদি পুনরায় উল্লেখ করা হয় তবে তা প্রথমটির অনুরূপ হয়, তা নিরঙ্কুশ নয়। অর্থাৎ সরফ শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় সহীহ হলো "এমন" শব্দ কাঠামো "যার মধ্যে" 'ফা', 'আইন' এবং 'লাম' অক্ষরের "বিপরীতে" কোনো "হরফে ইল্লত" বা দুর্বল বর্ণ "নেই", যা হলো ওয়াও, ইয়া এবং আলিফ। এবং সেই অক্ষরগুলোর বিপরীতে "তাদঈফ" বা দ্বিত্বও "নেই", অর্থাৎ একই জাতীয় দুটি বর্ণ নেই। "এবং" তাতে কোনো "হামযাহ"ও নেই। এর ফলে "যেমন 'দারাবা' (ضرب)" এর অন্তর্ভুক্ত হয়; কেননা এতে 'ফা' অক্ষরের বিপরীতে 'দদ' (ض), 'আইন' অক্ষরের বিপরীতে 'রা' (ر) এবং 'লাম' অক্ষরের বিপরীতে 'বা' (ب) ছাড়া অন্য কিছু নেই। আর দদ, রা এবং বা-এর কোনটিই হরফে ইল্লত বা হামযাহ নয় এবং এতে একই জাতীয় দুটি বর্ণও নেই। ফলে এর ওপর সংজ্ঞাটি প্রযোজ্য হয় এবং এটি দ্বারা উদাহরণ প্রদান সঠিক হয়। এর মধ্যে 'হাওকালা' (حوقل), 'দারাবা' (ضارب), 'ইয়াদরিবু' (يضرب), 'মাদরুব' (مضروب) এবং 'ইক'আনসাসা' (اقعنسس) এর মতো শব্দগুলোও অন্তর্ভুক্ত হবে। "এবং ফা, আইন ও লাম" অবশিষ্ট অক্ষরগুলোর মধ্য থেকে "ওযন" বা মাপকাঠির জন্য "সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে", "যাতে এতে" অর্থাৎ ওযনের মধ্যে "ঠোঁট, জিহ্বার মধ্যভাগ এবং কণ্ঠনালীর বর্ণসমূহ থেকে" যা প্রধান মাখরাজ বা উচ্চারণস্থল, "কিছু অংশ" অর্থাৎ কোনো বর্ণ থাকে। ওযনের জন্য 'ফা'আল' (فعل) শব্দটিকে সুনির্দিষ্ট করার এটি একটি স্বতন্ত্র কারণ। অন্যান্য শব্দে এসব বর্ণের উপস্থিতি এই সুনির্দিষ্টকরণের পরিপন্থী নয়, যেমনটি ক্রিয়া পদের ক্ষেত্রে ব্যাপক হওয়া এর জন্য অন্য একটি স্বতন্ত্র কারণ; যদিও অন্য শব্দও ক্রিয়া পদের ক্ষেত্রে ব্যাপক হতে পারে কিন্তু তাতে এই সুনির্দিষ্টকরণ ক্ষুণ্ণ হয় না। তবে যদি এই কারণের জন্য 'আলিমা' (علم) এর ওপর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব চাওয়া হয়, তবে অন্য কারণটিকে শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হিসেবে ধরা হবে এবং এর উল্টোটিও হতে পারে। আর যদি 'আমালা' (عمل) এর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব চাওয়া হয়, তবে ব্যবহারের আধিক্য এবং 'আইন' অক্ষরে ফাতহা থাকাকে শ্রেষ্ঠত্বের কারণ ধরা হবে; কারণ 'ফা'আলা' (فعل) শব্দটি ফাতহা বা জবর বিশিষ্ট অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত, আর 'আমালা' (عمل) হলো 'আলিমা' (علم) এর অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সরাসরি কেন 'ফা'আলা' (فعل) ওযনের জন্য সুনির্দিষ্ট এ কথা না বলে অক্ষরের বিস্তারিত আলোচনা করলেন, যাতে এটি 'দারাবা', 'আলিমা' এবং 'হাসুনা' এর মতো বিভিন্ন হরকতের ক্ষেত্রে ওযন হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। কারণ তিনি যদি কেবল 'ফা'আলা' (ফাতহা যোগে) বলতেন, তবে তা 'আলিমা' বা 'হাসুনা' এর ওযন হওয়ার যোগ্য হতো না। রুবায়ী বা চার অক্ষর বিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় একটি 'লাম' বৃদ্ধি করা হয় যেমন 'ফা'লালা' (فعلل), যেমন 'জা'ফার' (جعفر)। আর খুমাসী বা পাঁচ অক্ষর বিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে তৃতীয় একটি 'লাম' বৃদ্ধি করা হয় যেমন 'ফা'লাল্লা' (فعلل), যেমন 'জাহমারিশ' (جحمرش)। অন্য বর্ণের পরিবর্তে কেবল 'লাম' বর্ণই বৃদ্ধি করা হয় কারণ শেষে বৃদ্ধি করাই উত্তম, তাই শেষ বর্ণের সমজাতীয় বর্ণ বৃদ্ধি করা অধিক শ্রেয়। যখন তিনি সহীহ এর সংজ্ঞা এবং এর সংশ্লিষ্ট আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিনি ইশতিাকাক (শব্দমূল থেকে উদ্ভব) এবং এর সংশ্লিষ্ট আলোচনা শুরু করে বললেন: যখন তুমি এটি জানতে পারলে, তখন "আমাদের কথা" অর্থাৎ আমাদের উচ্চারিত শব্দ যা হলো "আদ-দারবু (প্রহার করা) একটি মাসদার" বা ক্রিয়ামূল এই শাস্ত্রের পরিভাষায়; অর্থাৎ এটি সেই সব বিষয়ের একটি যা মাসদার হিসেবে সাব্যস্ত হয়। এবং এই বাক্যটি অর্থাৎ "তা থেকে নয়টি বিষয় উৎপন্ন হয়" যা উল্লেখ করা হয়েছে, এটি হয় সংবাদের পর সংবাদ অথবা 'আদ-দারবু' এর অবস্থা (হাল)। "এবং এটি" অর্থাৎ পরিভাষাগত মাসদার যেমন 'দারবা', এটি শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে "মূল" হিসেবে গণ্য হয়, যেমন পরিচিত বা মারুফ ক্রিয়ার জন্য মারুফ মাসদার এবং মাজহুল ক্রিয়ার জন্য মাজহুল মাসদার। তবে মাসদার থেকে মারুফ এবং মাজহুল গঠনের পদ্ধতি একই রাখা হয়েছে ক্রিয়ার রূপান্তরের ওপর নির্ভর করে। সুতরাং যখন বলা হয়: 'দারাবা দারবান' (সে প্রহার করেছে প্রহার করা), তখন বোঝা যায় মাসদারটি মারুফ। আর যখন বলা হয়: 'দুরিবা দারবান' (সে প্রহৃত হয়েছে প্রহার করা), তখন বোঝা যায় মাসদারটি মাজহুল। আর যদি ক্রিয়া উল্লেখ না থাকে তবে তা প্রাসঙ্গিকতা (কারিনা) দেখে বোঝা যায়। এটি "ইশতিাকাক" বা শব্দ উৎপত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আমল বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে নয়। শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি ইশতিাকাক এর ধারণা সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটি "বসরী" সরফ শাস্ত্রবিদদের "মতে"। আমরা যে বললাম মাসদার হলো ইশতিাকাকের ক্ষেত্রে ক্রিয়ার মূল, "তার কারণ হলো এর ধারণা" অর্থাৎ মাসদারের অর্থ হলো "একক" এবং একটি অংশ। "আর ক্রিয়ার ধারণা" অর্থাৎ শব্দ গঠনের দিক থেকে যে অর্থ বোঝা যায় তা "বহুত্ববোধক" এবং সামগ্রিক। তবে 'আসমা'আ বিল মু'আইদী' এর প্রবাদটি এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ শব্দ গঠনের দিক থেকে "ক্রিয়াটি নির্দেশ করে ঘটনা এবং কালের ওপর", অর্থাৎ সেই ঘটনার সময় যা তিন কালের কোনো এক কাল। আর "একক বহুত্বের আগে থাকে..."

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শরহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কর্তৃক

অস্তিত্বহীনতার ওপর, এবং প্রত্যেকের জন্য একটি দিক রয়েছে যা সে অনুসরণ করে। গ্রন্থকারের নিকট 'সহীহ' এবং 'সালিম' এর মধ্যে কোনো পার্থক্য না থাকায় তিনি সহীহ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এই বলে: "সহীহ হলো সেটি যার ফা, আইন এবং লাম অক্ষরের বিপরীতে কোনো হরফে ইল্লত, তাদঈফ (দ্বিত্ব) বা হামযাহ নেই।" তিনি তাদঈফ এবং হামযাহ না থাকাকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন কারণ এই দুটির ওপর হরফে ইল্লতের কিছু বিধান যেমন বিলুপ্তি (হযফ) এবং পরিবর্তন (কালব) আরোপিত হয়, যা সামনে আসবে। কেউ কেউ এই সংজ্ঞাটিকে 'সালিম' এর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং সহীহ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, যার ফা, আইন এবং লাম অক্ষরের বিপরীতে কোনো হরফে ইল্লত নেই। এমতাবস্থায় উভয়ের মধ্যে সাধারণ এবং বিশেষ সম্পর্ক থাকবে; অর্থাৎ প্রতিটি সালিম-ই সহীহ কিন্তু প্রতিটি সহীহ সালিম নয়। আর উল্লেখিত সংজ্ঞাটি এমন শব্দের ওপরও প্রযোজ্য হয় যাতে আদতে কোনো হরফে ইল্লত নেই "যেমন দারাবা", আবার যাতে হরফে ইল্লত আছে কিন্তু তা ফা, আইন বা লাম অক্ষরের বিপরীতে নেই তার ওপরও প্রযোজ্য হয়, যেমন 'হাওকালা' এবং 'আশীর'; কেননা এগুলোতে বিদ্যমান ওয়াও এবং ইয়া এই তিন অক্ষরের কোনোটির বিপরীতে নয়। তিনি বলেছেন: "ফা, আইন এবং লাম-কে ওযনের জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে", তিনি সরাসরি 'ফা'আলা' বলেননি যাতে এটি বিভিন্ন হরকত বিশিষ্ট শব্দের জন্য ওযন হতে পারে। "যাতে এতে" অর্থাৎ ওযনের মধ্যে "ঠোঁটের বর্ণ" যা হলো 'ফা', "জিহ্বার মধ্যভাগের বর্ণ" যা হলো 'লাম', "এবং কণ্ঠনালীর বর্ণ" যা হলো 'আইন', এর "কিছু অংশ" অর্থাৎ কোনো বর্ণ থাকে। আপনি যদি বলেন: এই দলিলটি 'আমালা' এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, কারণ এতেও তিনটি প্রধান মাখরাজের বর্ণ রয়েছে। আমি বলব: হ্যাঁ, কিন্তু যখন এই অক্ষরগুলোর সমন্বয়ে গঠিত 'ফা'আলা' শব্দটি মৌখিক এবং ব্যবহারিক সকল প্রকার ক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করার সাথে সাথে উল্লেখিত উপকারিতাও প্রদান করে, তখন একেই ওযনের জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। তিনি রুবায়ী বা খুমাসীর পরিবর্তে থুলোথী (তিন অক্ষর বিশিষ্ট) শব্দকে ওযনের জন্য বেছে নিয়েছেন; কারণ এটি যদি রুবায়ী বা খুমাসী হতো তবে থুলোথী শব্দের ওযন করতে হলে এক বা দুটি বর্ণ ফেলে দিতে হতো। আর যদি থুলোথী হয় তবে রুবায়ী বা খুমাসীর ওযন করতে এক বা দুটি বর্ণ বৃদ্ধি করতে হয়, আর তাদের মতে বিলোপ করার চেয়ে বৃদ্ধি করা অনেক সহজ। তাঁর কথা: "সুতরাং আমাদের কথা" এটি হলো মুবতাদা বা উদ্দেশ্য, এবং তাঁর কথা: "আদ-দারবু" এটি শব্দের উচ্চারণের দিক থেকে مقول القول (উদ্ধৃতি), অর্থের দিক থেকে নয়, একারণেই একে বাক্য হওয়া আবশ্যক নয়। আর তাঁর কথা: "মাসদার" হলো এর সংবাদ (খবর)। এবং তাঁর কথা: "তা থেকে উৎপন্ন হয়" অর্থাৎ সেই মাসদার থেকে ইশতিাকাক পদ্ধতিতে "নয়টি বিষয়" যা উল্লেখ করা হয়েছে, এটি মাসদারের বিশেষণ। "এবং এটি" অর্থাৎ মাসদার চাই তা মারুফ হোক বা মাজহুল, তা "মূল" ক্রিয়ার জন্য চাই তা মারুফ হোক বা মাজহুল। সুতরাং মারুফ মাসদার মারুফ ক্রিয়ার মূল এবং মাজহুল মাসদার মাজহুল ক্রিয়ার মূল "ইশতিাকাক এর ক্ষেত্রে", আমলের ক্ষেত্রে নয়। এটি আমাদের "বসরী" সাথীদের মতে, কুফী শাস্ত্রবিদদের মতে নয়। "কারণ এর ধারণা" অর্থাৎ মাসদারের ধারণা হলো "একক" যা কেবল ঘটনাকে বোঝায়, "আর ক্রিয়ার ধারণা বহুত্ববোধক", একক নয়; "কেননা তা ঘটনা এবং কালের ওপর দلالত করে" চাই তা অতীত হোক বা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ। এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে "একক বহুত্বের আগে থাকে।"
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌[شرح ديكنقوز]

المتعدد" ولا شك أن ما يدل على الواحد أعنى المصدر أيضا يكون قبل ما يدل على المتعدد أعنى الفعل، وفيه نظر لأنه يجوز أن يكون المصدر باعتبار مفهومه متقدما وباعتبار وضعه متأخر "وإذا كان" المصدر "أصلا للأفعال" في الاشتقاق "يكون أصلا" أيضا "لمتعلقاتها" أي لمتعلقات الأفعات من اسمي الفاعل والمفعول وغيرهما من حيث تعلقها بها، وإن لم تكن تلك العلة موجودة فيها "أو" نقول المصدر أصل "لأنه" أي المصدر "اسم" لصدق التعريف عليه "والاسم مستغن عن الفعل" أي غير محتاج إليه في الإفادة التي هي الغرض من وضع الألفاظ لأن التركيب من اسمين يفيد والفعل محتاج فيها إلى الاسم؛ لأن التركيب من فعلين بدون الاسم لا يفيد ولا شك أن المحتاج إليه أصل للمحتاج وفيه أيضا نظر؛ لأن الأصالة في الإفادة عند التركيب لا تستلزم التقدم في الوضع والكلام فيه "و" نقول "أيضا" كالدليلين الأولين في الاستدلال على أصالة المصدر في الاشتقاق أنه "يقال له" أي يطلق على ما صدق عليه الاسم الذي هو المصدر كضرب "مصدرا" أي هذا الاسم "لأن هذه الأشياء" السبعة المذكورة "تصدر عنه" أي عما صدق عليه المصدر فإن معنى المصدر موضع الصدور فضرب مثلا إنما سمى باسم المصدر لكونه موضع صدور ضرب وغيره من الأشياء الثمانية، وفيه أيضا نظر لأن باب المجاز مفتوح فلم لا يجوز أن يكون لفظ المصدر مصدرا ميميا بمعنى الصدور أو يكون بمعنى الصادر كالمجاز بمعنى الجائز أو يكون بمعنى مصدرية كضرب الأمير ومع هذا الاحتمال لا حجة للبصريين فيه والحجة القوية لهم أن يقولوا كل فرع يصاغ من أصل ينبغي أن يكون فيه ما في الأصل مع زيادة هي الغرض من الصوغ كالباب من الساج والخاتم من الفضة وهكذا حال الفعل فيه معنى المصدر مع زيادة أحد الأزمنة الثلاثة التي هي الغرض من وضع الفعل لأنه كان يحصل في نحو قولك لزيد ضرب نسبة الضرب إلى زيد، لكنهم طلبوا بيان زمان الفعل على وجه أخصر فوضعوا الفعل الدال بجوهر حروفه على المصدر أي على الحدث وبوزنه على الزمان؛ ولما وقع ذكر الاشتقاق على أنه قيد في

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

المتعدد" وأصل له فكذا ما يدل على الواحد قبل ما يدل على المتعدد وأصل له، ولما توجه أن يقال إن الدليل المذكور لا يدل على كون المصدر أصلا لغير الأفعال من الأشياء التسعة لعدم دلالته على الزمان أجاب بقوله: "وإذا كان أصلا للأفعال يكون أصلا لمتعلقاتها" أي من غير نظر إلى جريان الدليل المذكور فيها بل بمجرد كونها متعلقات الأفعال فحاصل معنى كلامه أنه إذا كانت الأفعال أصلا لمتعلقاتها عندهم ودل الدليل على أن المصدر أصل للأفعال ثبت أن المصدر أصل لمتعلقاتها بالواسطة هذا هو الحق، ومن الشارحين من اعترض بأنه لا يلزم من كون المصدر أصلا للأفعال من حيث التعدد المذكور كون المصدر أصلا لمتعلقات الأفعال؛ لأن التعدد المذكور ليس بموجود في بعضها كاسم الفاعل فإنه لا يدل على الزمان وأجاب عنه بعض آخر بقوله نعم إن التعدد المذكور ليس بثابت إلا أن التعدد ثابت فيه باعتبار آخر؛ لأنه يدل على الحدث والذات وكل ذلك ظلمات بعضها فوق بعض "أو لأنه" أي المصدر "اسم والاسم مستغن عن الفعل" أي في الإفادة ينتج أن المصدر مستغن عن الفعل ثم تجعلها صغرى لقولنا فكل مستغن عن الفعل فهو أصل له فنقول المصدر مستغن عن الفعل وكل مستغن عن الفعل فهو أصل له ينتج أن المصدر أصل له، وهو المطلوب فإن قلت مجرد إثبات استغناء المصدر عن الفعل لا يكفي في أصالة المصدر لجواز الاستغناء من الطرفين، بل لا بد من إثبات احتياج الفعل إلى المصدر ليتم المطلوب. قلت: احتياج الفعل إلى الاسم في الإفادة معلوم معهود ولهذا لم يذكر، ولقائل أن يقول: إن أصالة المصدر في الإفادة لا تدل على أصالته في الاشتقاق؛ لأن الاشتقاق ليس هو الإفادة ولا لازما لها فتأمل اعلم أن هذا الدليل لو تم لدل على أصالة المصدر بطريق الالتزام وكذا الدليل الأول، وأما الدليل الثالث فمبني على التحقيق ولهذا فصله عما قبله فقال: "وأيضا" ولم يقل أو لأنه "إنما يقال له مصدر" أي إنما سمي المصدر مصدرا "لأن هذه الأشياء التسعة" المذكورة "تصدر عنه" لأن معنى المصدر لغة موض يصدر عنه الإبل. فإن قلت: هذا القول بيان لتسمية المصدر مصدرا لصدور الأشياء التسعة عنه، وذا لا يمكن إلا بعد ثبوت كون المصدر أصلا فيلزم المصادرة قلت: معنى الاستدلال به أنهم جعلوا سبب تسمية المصدر مصدر لصدور الأشياء التسعة عنه، فلو لم يكن المصدر أصلا عنهم لما جعلوا سبب التسمية ذلك هذا وكل ما ذكره المصنف من الاستدلالات كلام ظاهري، والتحقيق ما ذكره الفاضل الرضي حيث قال: قال البصريون كل فرع يصاغ عن أصل ينبغي أن يكون فيه ما في الأصل وزيادة هي الغرض من الصوغ كالباب من الساج والخاتم من الفضة، وهذا حال الفعل فيه معنى المصدر مع زيادة أحد الأزمنة التي هي الغرض من وضع الفعل؛ لأنه كان يحصل من نحو قولك لزيد ضرب مقصود نسبة الضرب إلى زيد لكنهم طلبوا بيان زمان الفعل على وجه آخر فوضعوا الفعل الدال بجوهر حروفه على المصدر وبوزنه على الزمان ولما ذكر أن المصدر أصل في الاشتقاق عند البصريين وجب عليه أمران بيان ماهية الاشتقاق والاستدلال على أصالة المصدر فيه والأصل أن يقدم التعريف على الاستدلال لكنه قدم الاستدلال لئلا يقع الفصل بين الدعوى ودليلها مع أن معنى الاشتقاق معلوم بوجه ما. ثم لما فرغ من الاستدلال بادر إلى بيان ماهية الاشتقاق قبل ذكر متمسكات للكوفيين ليتضح المقصود لكنه قدم تعريف مطلق اشتقاق على
[শরহে দিকনুকুয]

একাধিক বস্তু নির্দেশক। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যা একক বস্তু নির্দেশ করে—অর্থাৎ উৎস-শব্দ—তা একাধিক বস্তু নির্দেশক তথা ক্রিয়ার পূর্বেই বিদ্যমান থাকে। তবে এই যুক্তিতে আপত্তি আছে; কারণ হতে পারে যে, উৎস-শব্দটি তার ভাবগত দিক থেকে অগ্রগামী কিন্তু শব্দ গঠনের দিক থেকে পশ্চাৎগামী। "আর যখন" উৎস-শব্দটি শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে "ক্রিয়াসমূহের মূল হবে", তখন এটি সেগুলোর "অনুষঙ্গগুলোরও মূল হবে"। অর্থাৎ, কর্তৃবাচক ও কর্মবাচক বিশেষ্যসহ অন্যান্য যা কিছু ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত, সেগুলোরও মূল হবে; যদিও সেগুলোতে (ক্রিয়ার মতো) সেই নির্দিষ্ট কারণটি বিদ্যমান নেই। "অথবা" আমরা বলি, উৎস-শব্দটি মূল "কারণ এটি" অর্থাৎ উৎস-শব্দটি হলো একটি "বিশেষ্য", কারণ এর ওপর বিশেষ্যের সংজ্ঞা প্রযোজ্য হয়। "আর বিশেষ্য ক্রিয়ার মুখাপেক্ষী নয়", অর্থাৎ অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে না; অথচ শব্দ গঠনের উদ্দেশ্যই হলো অর্থ প্রকাশ করা। কেননা দুটি বিশেষ্যের সমন্বয়ে গঠিত বাক্য অর্থ প্রকাশ করতে পারে, কিন্তু ক্রিয়া অর্থ প্রকাশের জন্য বিশেষ্যের মুখাপেক্ষী। কারণ বিশেষ্য ছাড়া দুটি ক্রিয়ার সংমিশ্রণ কোনো অর্থ প্রদান করে না। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যার ওপর নির্ভর করা হয় তা নির্ভরশীল বস্তুর জন্য মূল। এই যুক্তিতেও আপত্তি আছে; কারণ বাক্য গঠনের সময় অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে মৌলিকত্ব শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়াকে অপরিহার্য করে না, অথচ এখানে আলোচনা শব্দ গঠন নিয়ে। "এবং" আমরা "আরও" বলি—উৎস-শব্দকে শব্দ গঠনের মূল হিসেবে প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রথম দুটি দলিলের মতো—যে, "একে বলা হয়" অর্থাৎ উৎস-শব্দ হিসেবে যা গণ্য হয় (যেমন: প্রহার করা) তাকে "উৎস" (মাসদার) বলা হয়। অর্থাৎ এই নামটিকে উৎস বলা হয়, "কারণ এই সাতটি বস্তু" যা উল্লেখ করা হয়েছে "তা থেকে নির্গত হয়"। অর্থাৎ যা থেকে উৎস-শব্দটি সত্য প্রমাণিত হয়। কারণ 'উৎস' (মাসদার) শব্দের অর্থ হলো নির্গত হওয়ার স্থান। যেমন 'প্রহার' শব্দটিকে উৎস বলা হয় কারণ এটি 'প্রহার করা' ক্রিয়া এবং উল্লেখিত অন্য আটটি বিষয়ের নির্গত হওয়ার স্থান। এখানেও আপত্তি আছে; কারণ রূপক ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত। কেন এমন হতে পারে না যে, 'উৎস' শব্দটি 'নির্গত হওয়া' অর্থে হবে, অথবা এটি 'নিঃসৃত' অর্থে ব্যবহৃত হবে? যেমন 'জায়েয' অর্থে 'মাজায' শব্দটির ব্যবহার হয়। অথবা এটি 'উৎসত্ব' অর্থে হতে পারে, যেমন 'নেতার প্রহার'। এই সম্ভাবনার উপস্থিতিতে বসরাবাসীদের পক্ষে এটি কোনো অকাট্য দলিল হতে পারে না। তবে তাদের পক্ষে শক্তিশালী যুক্তি হলো এই যে, তারা বলেন: মূল থেকে গঠিত প্রতিটি শাখা শব্দে মূলের বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক, সাথে অতিরিক্ত কিছু থাকবে যা সেই শব্দ গঠনের উদ্দেশ্য। যেমন সেগুন কাঠ থেকে তৈরি দরজা, কিংবা রূপা থেকে তৈরি আংটি। ক্রিয়ার অবস্থাও তেমনই; এতে উৎস-শব্দের অর্থের সাথে তিনটি কালের যেকোনো একটির আধিক্য থাকে, যা মূলত ক্রিয়া গঠনের উদ্দেশ্য। কারণ যখন আপনি বলেন 'জায়েদের প্রহার', তখন এটি দ্বারা প্রহারকে জায়েদের দিকে সম্বন্ধ করা বোঝায়। কিন্তু তারা সংক্ষেপে ক্রিয়ার কাল প্রকাশ করতে চেয়েছেন। তাই তারা এমন একটি শব্দ গঠন করেছেন যা তার মূল অক্ষর দ্বারা উৎস-শব্দকে বা কাজকে বোঝায় এবং তার রূপ (ওজন) দ্বারা কালকে বোঝায়। এবং যেহেতু শব্দ গঠনের আলোচনা এখানে শর্ত হিসেবে এসেছে...

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শরহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

একাধিক বস্তু নির্দেশক। এবং এটি তার জন্য মূল, অনুরূপভাবে যা একক নির্দেশ করে তা একাধিক নির্দেশকের পূর্বে থাকে এবং তার জন্য মূল হিসেবে গণ্য হয়। যেহেতু প্রশ্ন উঠতে পারে যে, উল্লেখিত দলিলটি উৎস-শব্দ কাল নির্দেশ না করার কারণে নয়টি বিষয়ের মধ্যে ক্রিয়া ব্যতীত অন্যগুলোর মূল হওয়ার বিষয়টিকে প্রমাণ করে না, তাই তিনি উত্তর দিয়েছেন এই বলে: "আর যখন এটি ক্রিয়াসমূহের মূল হবে, তখন এটি সেগুলোর অনুষঙ্গগুলোরও মূল হবে।" অর্থাৎ, সেগুলোতে উল্লেখিত দলিলের প্রয়োগ হচ্ছে কি না তা বিবেচনা না করেই, বরং শুধুমাত্র ক্রিয়ার অনুষঙ্গ হওয়ার কারণে। সংক্ষেপে তার কথার সারমর্ম হলো: যেহেতু তাদের মতে ক্রিয়াসমূহ তাদের অনুষঙ্গগুলোর জন্য মূল এবং দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত যে উৎস-শব্দ হলো ক্রিয়াসমূহের মূল, তাই মধ্যস্থতার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে উৎস-শব্দ অনুষঙ্গগুলোরও মূল। এটাই সঠিক মত। ব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ আপত্তি করেছেন যে, উৎস-শব্দ উল্লিখিত বহুত্বের দিক থেকে ক্রিয়ার মূল হওয়া থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে তা ক্রিয়ার অনুষঙ্গগুলোরও মূল হবে। কারণ সেই বহুত্ব তাদের কয়েকটিতে বিদ্যমান নেই, যেমন কর্তৃবাচক বিশেষ্য; কেননা তা কাল নির্দেশ করে না। অন্য একজন এর উত্তরে বলেছেন: হ্যাঁ, সেই বহুত্ব সেখানে সাব্যস্ত নেই ঠিকই, তবে অন্য বিবেচনায় সেখানে বহুত্ব বিদ্যমান। কারণ তা কাজ এবং ব্যক্তি উভয়কেই নির্দেশ করে। আর এসবই এক অন্ধকার চাদর সদৃশ। "অথবা এই কারণে যে" উৎস-শব্দটি "একটি বিশেষ্য এবং বিশেষ্য ক্রিয়ার মুখাপেক্ষী নয়", অর্থাৎ অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে। এর ফলাফল দাঁড়ায় যে, উৎস-শব্দ ক্রিয়া থেকে অমুখাপেক্ষী। অতঃপর আপনি একে একটি ক্ষুদ্র যুক্তিতে পরিণত করবেন যে, যা কিছু ক্রিয়া থেকে অমুখাপেক্ষী তা-ই তার জন্য মূল। সুতরাং আমরা বলি: উৎস-শব্দ ক্রিয়া থেকে অমুখাপেক্ষী, আর যা কিছু ক্রিয়া থেকে অমুখাপেক্ষী তা-ই তার জন্য মূল; এর ফল দাঁড়ায় যে উৎস-শব্দ হলো ক্রিয়ার মূল। আর এটিই কাঙ্ক্ষিত। আপনি যদি বলেন: উৎস-শব্দের ক্রিয়া থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়াটাই তাকে মূল হিসেবে প্রমাণের জন্য যথেষ্ট নয়, কারণ উভয় পক্ষ থেকেই অমুখাপেক্ষী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বরং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য ক্রিয়ার যে উৎস-শব্দের প্রতি মুখাপেক্ষিতা আছে তা প্রমাণ করা জরুরি। আমি বলব: অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ্যের প্রতি ক্রিয়ার মুখাপেক্ষিতা সবার জানা, তাই তা উল্লেখ করা হয়নি। জনৈক বক্তা বলতে পারেন: অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে উৎস-শব্দের মৌলিকত্ব শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে তার মৌলিকত্ব প্রমাণ করে না। কারণ শব্দ গঠন অর্থ প্রকাশ নয় এবং তার জন্য আবশ্যকও নয়। বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখুন। জেনে রাখুন, এই দলিলটি যদি পূর্ণ হতো তবে তা পরোক্ষভাবে উৎস-শব্দের মৌলিকত্ব প্রমাণ করত, যেমনটি প্রথম দলিলের ক্ষেত্রে হয়েছে। আর তৃতীয় দলিলটি সূক্ষ্ম গবেষণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই কারণে তিনি একে পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে পৃথক করেছেন এবং বলেছেন: "আরও", তিনি "অথবা এই কারণে" বলেননি। "একে কেবল এই জন্যই উৎস বলা হয়" অর্থাৎ উৎস-শব্দকে উৎস নামকরণ করা হয়েছে "কারণ এই নয়টি বিষয়" যা উল্লেখ করা হয়েছে "তা থেকে নির্গত হয়"। কারণ আভিধানিক অর্থে উৎস মানে এমন স্থান যেখান থেকে উট ফিরে আসে। আপনি যদি বলেন: এই কথাটি নয়টি বিষয় তা থেকে নির্গত হওয়ার কারণে উৎসকে উৎস হিসেবে নামকরণের একটি বর্ণনা মাত্র, আর এটি উৎস মূল হওয়া সাব্যস্ত হওয়ার আগে সম্ভব নয়, ফলে এতে পুনরুক্তির দোষ দেখা দেয়। আমি বলব: এই দলিলের অর্থ হলো তারা নয়টি বিষয় তা থেকে নির্গত হওয়াকে উৎস নামকরণের কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং উৎস-শব্দ যদি তাদের নিকট মূল না হতো, তবে তারা নামকরণের কারণ হিসেবে এটিকে গ্রহণ করতেন না। লেখকের উল্লেখ করা এই সব যুক্তি বাহ্যিক আলোচনা মাত্র। প্রকৃত গবেষণা হলো তা-ই যা ফাযিল রাযী উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: বসরাবাসীরা বলেছেন, মূল থেকে গঠিত প্রতিটি শাখা শব্দে মূলের বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক, সাথে অতিরিক্ত কিছু থাকবে যা সেই শব্দ গঠনের উদ্দেশ্য; যেমন সেগুন কাঠ থেকে তৈরি দরজা এবং রূপা থেকে তৈরি আংটি। ক্রিয়ার অবস্থাও ঠিক এমনই, এতে উৎস-শব্দের অর্থ বিদ্যমান থাকে এবং সাথে কালের আধিক্য থাকে যা ক্রিয়া গঠনের মূল উদ্দেশ্য। কারণ আপনি যখন বলেন 'জায়েদের প্রহার', তখন লক্ষ্য থাকে প্রহারকে জায়েদের সাথে সম্বন্ধ করা। কিন্তু তারা অন্যভাবে ক্রিয়ার কাল বর্ণনা করতে চেয়েছেন, তাই তারা এমন শব্দ গঠন করেছেন যা তার মূল অক্ষর দ্বারা উৎস-শব্দকে এবং তার রূপ দ্বারা কালকে নির্দেশ করে। যখন তিনি উল্লেখ করলেন যে বসরাবাসীদের মতে উৎস-শব্দই শব্দ গঠনের মূল, তখন তার ওপর দুটি বিষয় আবশ্যক হয়ে পড়ল: শব্দ গঠনের স্বরূপ বর্ণনা করা এবং তাতে উৎস-শব্দ মূল হওয়ার সপক্ষে যুক্তি প্রদান করা। নিয়ম হলো যুক্তির আগে সংজ্ঞা প্রদান করা, কিন্তু তিনি সংজ্ঞার আগে যুক্তি প্রদান করেছেন যাতে দাবির সাথে তার দলিলের মাঝে বিচ্ছিন্নতা তৈরি না হয়, যদিও শব্দ গঠনের অর্থ কোনো না কোনোভাবে সবারই জানা। অতঃপর যখন তিনি দলিল প্রদান শেষ করলেন, তখন কুফাবাসীদের যুক্তিগুলো উল্লেখ করার আগেই শব্দ গঠনের স্বরূপ বর্ণনায় সচেষ্ট হলেন যাতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে তিনি সাধারণ শব্দ গঠনের সংজ্ঞাকে এর ওপর অগ্রাধিকার দিলেন...
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌[شرح ديكنقوز]

الحكم بأصالة الصدر أو الفعل وإثباتها الذي هو المقصود الأصلي من الكلام في هذا المقام، وكان المراد منه في محل النزاع قسما منه عرفه أولا وقسمه إلى أقسامه، ثانيا وبين ما هو المراد منه في محل النزاع، ثالثا على ما هو مقتضى الترتيب إلا أنه أخر عن أدلة أحد المتخاصمين ولم يبادر إليها عقيب ذكر ذلك الحكم لكونه غير مقصود أصلي كما أشرنا إليه لا أنه قدمها على ذكر مذهب الآخر وأدلته؛ إشارة إلى حقية مذهب الفريق الأول كما نبه عليها بقوله واشتقاق تسعة أشياء من كل مصدر وسينبه عليه أيضا بقوله الأفعال التي تشتق من المصدر فكأنه جعله حكما متفقا عليه لا خلاف فيه لأحد فذكر جميع ما يتعلق به، ثم لما فرغ منه استشعر خلافا فذكره "الاشتقاق" في اللغة أخذ شق الشيء فهو متعد وفي الاصطلاح يحد تارة باعتبار العلم وتارة باعتبار العمل، فإن اعتبرناه من حيث إنه صادر عن الواضع احتجنا إلى العلم به لا إلى عمله فاحتجنا إلى تحديده بحسب العلم، وإن اعتبرناه من حيث يحتاج أحدنا إلى عمله عرفناه باعتبار العمل، أما تعريفه باعتبار العمل فهو أن تأخذ من اللفظ ما يناسبه في التركيب فتجعله دالا على معنى يناسب معناه، وأما تعريفه بحسب العلم فـ"هو" كما قال "أن تجد" أنت أي علمك على أن تجد من أفعال القلوب لا بمعنى المصادفة "بين اللفظين" مفعول ثان لتجد ومفعول الأول قوله: "تناسبا" وهو أعم من الموفقة "في اللفظ" أي في تركيب حروفه الأصول فإن حروف الزيادة كما في الاستعجال والاستباق لا عبرة بها احترز به عن نحو قعد وجلس "والمعنى" احترز به عن نحو ضرب بمعنى الدق وضرب بمعنى ذهب، وهذا تعريف لمطلق الاشتقاق المتناول لأنواعه الثلاثة وقدم التناسب في اللفظ؛ لأن الأخذ المعتبر في الاشتقاق باعتبار العمل الذي هو المقصود من الاشتقاق بحسب العلم إنما يتحقق في اللفظ وللتنبيه على ذلك المقصود اهتم بتقديم بين اللفظين على تناسبا وكذا انقسامه على أقسامه إنما هو باعتبار اللفظ، ولذا لم يتعرض فيها للتناسب المعنوي مع أنه معتبر فيها على ما سنشير إليه إن شاء الله تعالى، ومن قدم التناسب في المعنى كالميداني نظر إلى أن هذا الأخذ إنما هو المعنى فلكل وجهة إلا أن نظر المصنف أنسب للنص. والحاصل من التعريف العلم بالاشتقاق بقرينة حمل الوجدان عليه فكأنه قيل العلم بالاشتقاق هو أن تجد بين اللفظين تناسبا في التركيب والمعنى فتعرف ارتداد أحدهما إلى الآخر وأخذه منه، فأشار بذكر اللفظين وذكر التناسب في اللفظ والمعنى إلى أنه لا بد بين المشتق والمشتق منه من مغايرة بوجه واتحاد بوجه بحسب المعنى وكذا من مغايرة من جهة ولو تقديرا واتحاد من جهة بحسب اللفظ؛ لأن معنى التناسب يقتضي ذلك فيخرج نحو المقتل مصدرا والقتل إذ لا تغاير بينهما في المعنى، ويخرج أيضا نحو ضرب بمعنى الدق وضرب بمعنى الذهاب إذ لا اتحاد بينهما بوجه في المعنى، وكذلك يخرج نحو ضرب بمعنى المضروب وضرب بمعنى الحدث إذ لا تغاير بينهما في اللفظ، ويخرج أيضا ذئب وسرحان إذ لا اتحاد بينهما بوجه في اللفظ ويدخل فيه ضرب والضرب وجذب وجبذ ونهق ونعق؛ لأن التناسب أعم من الموافقة كما ذكرنا ولا شك أن بين الأولين وبين الأوسطين وبين الأخيرين مناسبة كما سنذكره إن شاء الله تعالى، وإنما قلنا في المغايرة اللفظية ولو تقريرا ليدخل فيه نحو الطلب وطلب فإن حركة آخر الفعل بنائية وحركة آخر المصدر إعرابية، والأولى كالجزء من الكلمة لثباتها وبناء الكلمة عليها وإن كان أصلها السكون إلا أنها لم تستعمل على الأصل في غيرها حال الوقف، والثانية عارضة لا اعتداد بها لانتفائها عند عمل العامل وتحقق استعمال الاسم ساكنا في غير حال الوقف أيضا وبهذا سقط ما قيل إن عنيت بالحركة الحركة الشخصية من الرفع وغيره سلمنا أنها غير لازمة في الاسمي، ولكن لم قلت إن مطلق حركة الإعراب غير لازمة ونظير الاشتقاق ليس في حركة معينة، بل في مطلق الحركة وإن عنيت بها مطلق الحركة منعنا

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

تعريف الاشتقاق المتنازع فيه لفائدة نذكرها إن شاء الله تعالى، فقال: "الاشتقاق هو أن تجد بين اللفظين" أي المتغايرين وذلك التغاير قد يكون بزيادة حرف كزيادة الألف في مثل الضارب فإنه مشتق من الضرب، وقد يكون بزيادة الحركة كزيادة فتحة الراء في ضرب فإنه مشتق من الضرب، وقد يكون بنقص حرف كنقص الواو من قل فإنه مشتق من القول كذا قيل "تناسبا في اللفظ" وهو يتناول التناسب في نفس حروف اللفظ نحو ضرب وضارب، والتناسب في مخرج حروف اللفظ نحو نعق ونهق "والمعنى" فإن قلت هذا التعريف غير مستقيم؛ لأن الاشتقاق وصف اللفظ والوجدان المذكور وصف المخاطب فلا يكون وصف المخاطب فلا يكون أحدهما هو الآخر، قلت: معنى كلامه الاشتقاق التناسب الموجود بين اللفظين في اللفظ والمعنى لكنه تسامح فقدم الوجدان عليه تنبيها على أن ذلك التناسب من الموجودات في نفس الأمر لا من الاعتبارات المحضة ونظيره ما قيل في تعريف الوحدة إنها تعقل عدم الانقسام تنبيها على أنها من المعاني العقلية لا من الأمور العينية، فالتناسب بين اللفظين جنس شامل للتناسب في اللفظ والمعنى سعا والتناسب في اللفظ فقط والتناسب في المعنى فقط، وقوله في اللفظ والمعنى فصل يخرج التناسب في اللفظ فقط كما في ضرب بمعنى الدق وضرب بمعنى الذهاب، فإن فعل أحدهما لا يكونن مشتقا من الآخر والتناسب في المعنى فقط كما في القعود
‌‌[শরহ দিকনিকূজ]

মূল হিসেবে 'সদর' (ক্রিয়ামূল) অথবা 'ফেল' (ক্রিয়া)-এর প্রাধান্য এবং তা সাব্যস্ত করার হুকুম প্রদান করা, যা এই স্থানে আলোচনার মূল উদ্দেশ্য। বিবাদের স্থলে এর উদ্দেশ্য ছিল এর একটি অংশ, যা তিনি প্রথমে সংজ্ঞায়িত করেছেন এবং দ্বিতীয়ত একে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছেন। তৃতীয়ত, বিন্যাসের দাবি অনুযায়ী বিবাদের স্থলে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটিকে দুই বিবাদমান পক্ষের একজনের দলিলের পরে উল্লেখ করেছেন এবং হুকুমটি উল্লেখ করার পরপরই সেদিকে ধাবিত হননি; কারণ আমরা যেমন ইঙ্গিত করেছি, এটি মূল উদ্দেশ্য ছিল না। এমন নয় যে, তিনি এটিকে অন্য পক্ষের মতবাদ ও দলিলের উপরে প্রাধান্য দিয়েছেন; বরং এটি প্রথম পক্ষের মতবাদের সত্যতার দিকে ইঙ্গিতস্বরূপ, যেমনটি তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সচেতন করেছেন: "প্রত্যেক ক্রিয়ামূল থেকে নয়টি বিষয় ব্যুৎপন্ন হওয়া"। এবং তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমেও এটি সচেতন করবেন: "সেসব ক্রিয়া যা ক্রিয়ামূল থেকে ব্যুৎপন্ন হয়"। ফলে তিনি যেন একে একটি সর্বসম্মত হুকুম হিসেবে গণ্য করেছেন যাতে কারো কোনো দ্বিমত নেই, তাই তিনি এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবকিছু উল্লেখ করেছেন। অতঃপর যখন তিনি তা থেকে ফারেগ হলেন, তখন একটি মতভেদের অবকাশ অনুভব করলেন এবং তা উল্লেখ করলেন। আভিধানিক অর্থে "ইসতিশাক" (ব্যুৎপত্তি) হলো কোনো বস্তুর অংশ গ্রহণ করা, সুতরাং এটি একটি সকর্মক ক্রিয়া। আর পারিভাষিক অর্থে একে কখনো জ্ঞানের বিচারে এবং কখনো কর্মের বিচারে সংজ্ঞায়িত করা হয়। যদি আমরা একে প্রবর্তকের পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়ার দিক থেকে বিবেচনা করি, তবে আমাদের এর জ্ঞানের প্রয়োজন হবে, কর্মের নয়; ফলে জ্ঞানের বিচারে এর সংজ্ঞায়নের প্রয়োজন হবে। আর যদি আমরা একে আমাদের কর্মের প্রয়োজনের দিক থেকে বিবেচনা করি, তবে আমরা কর্মের বিচারে এর সংজ্ঞা দেব। কর্মের বিচারে এর সংজ্ঞা হলো: শব্দ থেকে এমন কিছু গ্রহণ করা যা গঠনে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, অতঃপর তাকে এমন একটি অর্থের নির্দেশক বানানো যা তার অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর জ্ঞানের বিচারে এর সংজ্ঞা হলো—যেমনটি তিনি বলেছেন—"তোমার খুঁজে পাওয়া", অর্থাৎ তোমার জানা; এখানে "খুঁজে পাওয়া" শব্দটি হৃদয়ের ক্রিয়া (আফআলুল কুলুব) থেকে এসেছে, হঠাৎ কোনো কিছু পাওয়ার অর্থে নয়। "দুই শব্দের মাঝে" এটি "তাজিদ" (খুঁজে পাওয়া) ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম (মাফউল), আর প্রথম কর্ম হলো তাঁর এই উক্তি: "সামঞ্জস্য", যা কেবল মিল বা ঐক্যের চেয়েও ব্যাপক। "শব্দরূপে" অর্থাৎ তার মূল বর্ণমালার বিন্যাসে; কারণ অতিরিক্ত বর্ণ—যেমন "ইস্তি'জাল" এবং "ইস্তিবাক" শব্দে—বিবেচ্য নয়। এর মাধ্যমে "কাআদা" এবং "জালাসা" থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে। "এবং অর্থে" এর মাধ্যমে "দরাবা" (আঘাত করা অর্থে) এবং "দরাবা" (চলে যাওয়া অর্থে) থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে। এটি নিরঙ্কুশ ব্যুৎপত্তির সংজ্ঞা যা এর তিনটি প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি শব্দরূপের সামঞ্জস্যকে আগে উল্লেখ করেছেন; কারণ কর্মের বিচারে ব্যুৎপত্তির ক্ষেত্রে যে গ্রহণ করাটি বিবেচ্য—যা জ্ঞানের বিচারে ব্যুৎপত্তির মূল লক্ষ্য—তা শব্দরূপেই বাস্তবায়িত হয়। সেই লক্ষ্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করার জন্য তিনি "সামঞ্জস্য"-এর আগে "দুই শব্দের মাঝে" কথাটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তেমনিভাবে এর বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হওয়াও শব্দরূপের বিচারে। এই কারণেই তিনি এখানে আর্থিক বা অর্থগত সামঞ্জস্যের প্রসঙ্গ আনেননি, যদিও ইনশাআল্লাহ আমরা সামনে যেমন ইঙ্গিত করব, সেখানে সেটি বিবেচ্য। আর যারা অর্থগত সামঞ্জস্যকে আগে রেখেছেন—যেমন ময়দানী—তারা লক্ষ্য করেছেন যে, এই গ্রহণ করাটি মূলত অর্থের ক্ষেত্রেই হয়। সুতরাং প্রত্যেকেরই একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, তবে গ্রন্থকারের দৃষ্টিভঙ্গি মূল পাঠের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই সংজ্ঞা থেকে অর্জিত ফলাফল হলো—ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, যেহেতু "খুঁজে পাওয়া" কথাটি জ্ঞানের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং যেন বলা হয়েছে: ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে জ্ঞান হলো দুই শব্দের গঠন ও অর্থের মাঝে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া, যার ফলে একটিকে অন্যটির দিকে প্রত্যাবর্তনকারী এবং তা থেকে গৃহীত হিসেবে জানা যায়। তিনি "দুই শব্দ" এবং "শব্দ ও অর্থের সামঞ্জস্য" উল্লেখ করার মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যে, ব্যুৎপন্ন এবং যা থেকে ব্যুৎপন্ন হয়েছে—এই দুইয়ের মাঝে কোনো না কোনো দিক থেকে ভিন্নতা এবং অর্থের দিক থেকে কোনো না কোনো দিক থেকে অভিন্নতা থাকা আবশ্যক। তেমনিভাবে শব্দরূপের বিচারেও কোনো এক দিক থেকে ভিন্নতা (তা কাল্পনিক হলেও) এবং কোনো এক দিক থেকে অভিন্নতা থাকতে হবে। কারণ সামঞ্জস্যের অর্থ এরই দাবি রাখে। এর ফলে "মাকতাল" (ক্রিয়ামূল হিসেবে) এবং "কাতল" এর মতো শব্দগুলো বের হয়ে যাবে, কারণ অর্থের দিক থেকে তাদের মাঝে কোনো ভিন্নতা নেই। আবার "দরাবা" (পিটানো অর্থে) এবং "দরাবা" (চলে যাওয়া অর্থে) এর মতো শব্দগুলোও বের হয়ে যাবে, কারণ অর্থের দিক থেকে তাদের মাঝে কোনোভাবেই অভিন্নতা নেই। একইভাবে শব্দরূপের ভিন্নতা না থাকায় "দরাবা" (আহত ব্যক্তি অর্থে) এবং "দরাবা" (ক্রিয়া অর্থে) বের হয়ে যাবে। এবং "যিব" ও "সিরহান" বের হয়ে যাবে, কারণ শব্দরূপের দিক থেকে তাদের মাঝে কোনো ঐক্য নেই। আর এর অধীনে "দরাবা" ও "আদ-দারবু", "জাযাবা" ও "জাবাযা", এবং "নাহাকা" ও "নাআকা" অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ আমরা যেমন উল্লেখ করেছি, সামঞ্জস্য কথাটি ঐক্যের চেয়েও ব্যাপক। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রথম জোড়া, দ্বিতীয় জোড়া এবং শেষ জোড়ার মাঝে সামঞ্জস্য বিদ্যমান, যা ইনশাআল্লাহ আমরা সামনে উল্লেখ করব। আমরা শব্দগত ভিন্নতার ক্ষেত্রে "তা কাল্পনিক হলেও" একারণেই বলেছি যাতে "আত-তালাব" এবং "তালাবা" এর মতো শব্দগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; কারণ ক্রিয়ার শেষের হরকতটি গঠনগত (বিনায়ী) আর ক্রিয়ামূলের শেষের হরকতটি পরিবর্তনশীল (ই'রাবি)। প্রথমটি শব্দের স্থায়িত্ব এবং এর ওপর শব্দের ভিত্তি হওয়ার কারণে শব্দেরই অংশস্বরূপ, যদিও এর মূল ছিল সাকিন; কিন্তু থামা ব্যতীত অন্য অবস্থায় এটি মূলের ওপর ব্যবহৃত হয় না। আর দ্বিতীয়টি আপতিত বিষয় যার কোনো গুরুত্ব নেই, কারণ আমলকারীর ক্রিয়ায় তা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং থামা ছাড়াও বিশেষ্যের সাকিন হিসেবে ব্যবহার প্রমাণিত। এর মাধ্যমে সেই আপত্তির অবসান ঘটল যা বলা হয়েছিল যে—যদি আপনি হরকত দ্বারা পেশ বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট হরকত বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমরা মেনে নিলাম যে তা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে অপরিহার্য নয়, কিন্তু কেন বললেন যে নিরঙ্কুশ ই'রাবি হরকত অপরিহার্য নয়? ব্যুৎপত্তির সাদৃশ্য তো কোনো নির্দিষ্ট হরকতে নয় বরং নিরঙ্কুশ হরকতে। আর যদি আপনি নিরঙ্কুশ হরকত বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমরা তা অস্বীকার করব...

--------------------------------------------

‌‌[আল-ফালাহ শরহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

একটি উপকারের জন্য আমরা সেই বিতর্কিত ব্যুৎপত্তির সংজ্ঞা উল্লেখ করব যা ইনশাআল্লাহ আমরা পরে বর্ণনা করব। তিনি বলেন: "ইসতিশাক (ব্যুৎপত্তি) হলো দুই শব্দের মাঝে খুঁজে পাওয়া", অর্থাৎ দুটি ভিন্ন শব্দের মাঝে। আর সেই ভিন্নতা কখনো একটি বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে হতে পারে, যেমন "দারিব" শব্দে আলিফ বৃদ্ধি পাওয়া, কেননা এটি "দারব" থেকে ব্যুৎপন্ন। আবার কখনো হরকতের পরিবর্তনের মাধ্যমে হতে পারে, যেমন "দরাবা" শব্দে 'রা' বর্ণে যবর বৃদ্ধি পাওয়া, কেননা এটি "দারব" থেকে ব্যুৎপন্ন। আবার কখনো বর্ণ কমে যাওয়ার মাধ্যমে হতে পারে, যেমন "কুল" শব্দ থেকে 'ওয়াও' কমে যাওয়া, কেননা এটি "কাওল" থেকে ব্যুৎপন্ন; এমনই বলা হয়েছে। "শব্দরূপের সামঞ্জস্য" এটি শব্দের মূল বর্ণমালার সামঞ্জস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন "দরাবা" এবং "দারিব"; এবং শব্দের উচ্চারণস্থলের সামঞ্জস্যকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন "নাআকা" এবং "নাহাকা"। "এবং অর্থের (সামঞ্জস্য)"—এখন যদি আপনি বলেন, এই সংজ্ঞাটি সঠিক নয়; কারণ ব্যুৎপত্তি হলো শব্দের গুণ আর উক্ত "খুঁজে পাওয়া" হলো সম্বোধিত ব্যক্তির গুণ, সুতরাং একটি অন্যটি হতে পারে না। আমি বলব: তাঁর কথার উদ্দেশ্য হলো, ব্যুৎপত্তি হলো দুই শব্দের শব্দরূপ ও অর্থের মাঝে বিদ্যমান সামঞ্জস্য। তবে তিনি সহজবোধ্য করার জন্য "খুঁজে পাওয়া" শব্দটিকে আগে এনেছেন এই সচেতনতা তৈরির জন্য যে, সেই সামঞ্জস্য বাস্তব জগতেই বিদ্যমান, এটি কেবল কোনো নিছক মানসিক ধারণা নয়। এর দৃষ্টান্ত হলো যা "একত্ব"-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে—এটি হলো অবিভাজ্যতাকে অনুধাবন করা, এই সচেতনতা প্রদানের জন্য যে এটি একটি বুদ্ধিগত বিষয়, কোনো বাহ্যিক বা শারীরিক বস্তু নয়। সুতরাং দুই শব্দের মাঝে সামঞ্জস্য হলো একটি সাধারণ শ্রেণি যা শব্দ ও অর্থের সামঞ্জস্য, কেবল শব্দের সামঞ্জস্য এবং কেবল অর্থের সামঞ্জস্য—সবকিছুর ক্ষেত্রেই হতে পারে। আর তাঁর উক্তি "শব্দ ও অর্থে" হলো একটি পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য যা কেবল শব্দের সামঞ্জস্যকে বের করে দেয়, যেমন "দরাবা" (পিটানো অর্থে) এবং "দরাবা" (চলে যাওয়া অর্থে); কারণ এদের একটি অন্যটি থেকে ব্যুৎপন্ন নয়। তেমনি কেবল অর্থের সামঞ্জস্যকেও বের করে দেয়, যেমন বসা বা উপবেশনের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌[شرح ديكنقوز]

عدم اللزوم. ولما فرغ من تعريف الاشتقاق شرع في تقسيمه فقال "وهو" أي الاشتقاق المعرف "على ثلاثة أنواع" أحدها اشتقاق "صغير وهو" علم "أن يكون بينهما" أي بين اللفظين "تناسب" أي توافق "في الحروف والترتيب" أي ترتيب تلك الحروف وفي المعنى أيضا "نحو" اشتقاق "ضرب" ماضيا "من الضرب" مصدرا "و" ثانيها اشتقاق "كبير وهو" علم "أن يكون بينهما تناسب في اللفظ والمعنى دون الترتيب" سواء كان مع الموافقة في المعنى "نحو" اشتقاق "جبذ من الجذب" وهما متوافقان في المعنى أو مع المناسبة فيه بدون الموافقة نحو ثلم من الثلب والأول الإخلال بالحائط والثاني الإخلال بالعرض فهما متناسبان في المعنى "و" ثالثها اشتقاق "أكبر وهو أن يكون بينهما تناسب في المخرج والمعنى" فإن التناسب في المخرج تناسب في الحروف باعتبار المخرج "نحو" اشتقاق "نعق من النهق" والأول صوت الغراب والثاني صوت الحمار فهما متناسبان في المعنى وتناسبهما في المخرج ظاهر؛ إذ العين والهاء كلاهما من الحلق ويعلم من تعريفاتها وجه الحصر فيها لأنه إن اعتبر الموافقة في الحروف مع الترتيب فهو صغير سمي به لكفاية تأمل قليل في العلم بالاشتقاق فيه بسبب قلة العمل وإن اعتبر الموافقة في الحروف بدون الترتيب فهو كبير لاحتياجه إلى تأمل كثير في العلم بالاشتقاق بسبب كثرة العمل فيه وإن اعتبر عدم تناسب الحروف فهو أكبر لاحتياجه إلى تأمل أكثر في العلم بالاشتقاق بسبب تبدل الحروف فيه. ولما فرغ من تعريف الاشتقاق وتقسيمه إلى أقسامه وتعريف كل قسم منها شرع يبين المراد منه في محل النزاع فقال: "فالمراد بالاشتقاق المذكور ها هنا" أي في قوله وهو أصل في الاشتقاق، وفي قوله واشتقاق تسعة أشياء من كل مصدر "هو اشتقاق صغير" فإنه الكامل والمتبادر عند الإطلاق وإنما كان هو المراد لأن النزاع إنما هو في الأصالة في هذا الاشتقاق. ولما فرغ من بيان مذهب الفريق الأول وتقرير أدلتهم وما يتعلق به من بحث الاشتقاق شرع في بيان مذهب الفريق الثاني فقال

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

والجلوس فإن فعل أحدهما لا يكون مشتقا من الآخر "وهو" أي الاشتقاق المطلق المعرف "ثلاثة أنواع" عند أصحاب هذا الفن إما بالاستقراء أو بالحصر العقلي؛ لأنه إما بالتقديم والتأخير، وإما بالتبديل، وإما بغيرهما. الثالث "اشتقاق صغير وهو أن يكون بينهما" أي بين اللفظين "تناسب في الحروف والترتيب" أي في ترتيب تلك الحروف فإن قلت المطلق إنما يتحصل نوعا بانضمام قيد زائد وها هنا ليس كذلك لأن معنى مطلق الاشتقاق كما حققته تناسب اللفظين في اللفظ والمعنى جميعا ومعنى هذا النوع منه على ما ذكرته تناسب اللفظين في اللفظ فقط؛ لأن التناسب في الحروف والترتيب تناسب لفظي فلا يكون تحصيل النوع بانضمام قيد، بل بانتقاص قيد وهو في المعنى وهو غير جائز بالاتفاق قلت قيد في المعنى محذوف مقدر في هذا التعريف وفي تعريفي النوعين الآخرين أيضا بناء على فهم المبتدي مع أنه لا يتعلق به غرض تحصيل نوع، فإن قلت: فعلى هذا لم يبق بين المطلق وبين النوع منه فرق وهو غير جائز أيضا، قلت: معنى المطلق تناسب اللفظين مطلقا أعم من أن يكون التناسب في الحروف والترتيب جميعا وأن يكون في الحروف فقط أو أن يكون في مخرج الحروف، وكل من هذا التناسب الثلاثة تناسب خاص فافتر قائم إن تحقق ذلك المطلق في ضمن الخاص الأول صار نوعا من الاشتقاق المطلق يسمى صغيرا لكونه معلوما بأدنى تأمل بسبب اشتراكهما في الحروف وترتيبها "نحو" اشتقاق "ضرب من الضرب" وإن تحقق في ضمن الثاني صار نوعا آخر منه يسمى كبيرا لكونه معلوما بتأمل قوي لعدم اشتراكهما في الترتيب، وإن تحقق في الثاني صار نوعا ثالثا منه يسمى أكبر لكونه معلوما بتأمل أقوى لعدم اشتراكهما في نفس الحروف. اعلم أنهم عرفوا الاشتقاق الصغير بالقطاع فرع من أصل يدور في تصاريفه مع ترتيب الحروف وزيادة المعنى "و" الأول وهو ما يكون بالتقديم والتأخير اشتقاق "كبير وهو أن يكون بينهما في اللفظ والمعنى" حق العبارة أن يكون في الحروف "دون الترتيب" كما يعرفه الذوق السليم من سياق الكلام لكنه تسامح بناء على ظهور المراد "نحو" اشتقاق "جبذ" بتقديم الباء "من الجذب" بتأخيره وفي تعريف هذا النوع وفي النوع الأخير أيضا ما في تعريف النوع المتقدم من السؤال والجواب تدبر. قيل الكبير أن يكون بين كلمتين تناسب في اللفظ والمعنى فهو أعم من أن يكون اسمين أو فعلين أو أحدهما اسما والآخر فعلا أو مجرد دين أو مزيدين أو أحدهما مجردا والآخر مزيدا وأن يزيد معنى المشتق أولا وأن يترتب الحروف أولا "و" الثاني وهو ما يكون بالتبديل اشتقاق "أكبر وهو أن يكون بينهما تناسب في المخرج" دون نفس حروف اللفظ "نحو" اشتقاق "نعق من النهق" بإبدال العين من الهاء "والمراد من الاشتقاق" المتنازع فيه بين الفريقين "المذكور" في قولنا: وهو أصل في الاشتقاق "ها هنا اشتقاق صغير" قيل: وأما غيره فيجوز أن يجعل كل منها أصلا بالاتفاق، فإن قلت: فما الفائدة حينئذ في تعريف مطلق الاشتقاق ثم تقسيمه إلى ثلاثة أنواع، قلت: الفائدة زيادة اتضاح المراد عند المبتدي وتميزه فضل تميز إذ معرفة حقيقة النوع إنما هي بمعرفة جنسه وفصله، ويمكن أن يقال المراد من الاشتقاق المطلق المذكور المعرف اشتقاق صغير على معنى أن الغرض من تعريف الاشتقاق المطلق معرفة الاشتقاق الصغير على حذف المضاف في الموضعين
[দিকনকুযের ব্যাখ্যা]

অপরিহার্যতা না থাকা। যখন তিনি ব্যুৎপত্তির সংজ্ঞা শেষ করলেন, তখন এর প্রকারভেদ বর্ণনা করা শুরু করলেন এবং বললেন "এবং তা" অর্থাৎ সংজ্ঞায়িত ব্যুৎপত্তি "তিন প্রকার"। এর একটি হলো "ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তি এবং তা" হলো এটি জানা "যে উভয়ের মধ্যে" অর্থাৎ শব্দ দুটির মধ্যে "সাদৃশ্য থাকবে" অর্থাৎ মিল থাকবে "অক্ষর ও বিন্যাসে" অর্থাৎ সেই অক্ষরগুলোর ক্রমানুসারে এবং অর্থেরও মিল থাকবে। "যেমন" অতীতকালীন ক্রিয়া "দারাবা" এর ব্যুৎপত্তি "আদ-দারব" নামক ক্রিয়ামূল থেকে। "এবং" দ্বিতীয়টি হলো "বৃহৎ ব্যুৎপত্তি এবং তা" হলো এটি জানা "যে উভয়ের মধ্যে শব্দ ও অর্থে সাদৃশ্য থাকবে কিন্তু বিন্যাসে নয়", এটি অর্থের মিলের সাথে হোক "যেমন" "জাবাযা" এর ব্যুৎপত্তি "আল-জাযব" থেকে, যেখানে এ দুটি শব্দ অর্থের দিক থেকে হুবহু এক; অথবা এটি অর্থের পুরোপুরি মিল না হয়ে কেবল সংশ্লিষ্টতার সাথে হোক যেমন "সালম" এর ব্যুৎপত্তি "সালব" থেকে, যেখানে প্রথমটির অর্থ দেয়ালের ক্ষতি আর দ্বিতীয়টির অর্থ সম্মানের ক্ষতি, সুতরাং এ দুটি অর্থের দিক থেকে পরস্পর সংশ্লিষ্ট। "এবং" তৃতীয়টি হলো "সর্ববৃহৎ ব্যুৎপত্তি এবং তা হলো উভয়ের মধ্যে উচ্চারণের স্থান ও অর্থে সাদৃশ্য থাকা"। কেননা উচ্চারণের স্থানে সাদৃশ্য থাকা মূলত উচ্চারণের স্থানের বিচারে অক্ষরগুলোতে সাদৃশ্য থাকা। "যেমন" "নাআকা" এর ব্যুৎপত্তি "নাহাকা" থেকে। প্রথমটি কাকের ডাক এবং দ্বিতীয়টি গাধার ডাক, সুতরাং এ দুটি অর্থের দিক থেকে সংগতিপূর্ণ এবং উচ্চারণের স্থানে এদের সাদৃশ্য স্পষ্ট; কারণ আইন ও হা উভয়ই কণ্ঠনালীর অক্ষর। এগুলোর সংজ্ঞা থেকে এগুলোকে এই তিন প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণ জানা যায়। কারণ যদি অক্ষরের মিল ও বিন্যাস বিবেচনা করা হয় তবে তা ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তি, এর নামকরণের কারণ হলো এতে কাজ কম হওয়ার কারণে ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে সামান্য চিন্তাই যথেষ্ট। আর যদি বিন্যাস ছাড়াই অক্ষরের মিল বিবেচনা করা হয় তবে তা বৃহৎ ব্যুৎপত্তি, কারণ এতে কাজ বেশি হওয়ার কারণে ব্যুৎপত্তি জানতে অনেক চিন্তার প্রয়োজন হয়। আর যদি অক্ষরের বিন্যাসের মিল না থাকে তবে তা সর্ববৃহৎ ব্যুৎপত্তি, কারণ এতে অক্ষর পরিবর্তনের ফলে ব্যুৎপত্তি জানতে আরও বেশি চিন্তার প্রয়োজন হয়। যখন তিনি ব্যুৎপত্তির সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ এবং প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা প্রদান শেষ করলেন, তখন তিনি বিরোধপূর্ণ স্থানে এর দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বর্ণনা করা শুরু করলেন এবং বললেন: "সুতরাং এখানে উল্লেখিত ব্যুৎপত্তি দ্বারা উদ্দেশ্য" অর্থাৎ তাঁর এই উক্তিতে যে 'এটি ব্যুৎপত্তির মূল', এবং তাঁর এই উক্তিতে যে 'প্রত্যেক ক্রিয়ামূল থেকে নয়টি বিষয়ের ব্যুৎপত্তি' তা "হলো ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তি"। কেননা এটিই পূর্ণাঙ্গ এবং সাধারণ আলোচনায় এটিই প্রথমে বোধগম্য হয়। আর এটিই উদ্দেশ্য হওয়ার কারণ হলো, মৌলিকত্বের বিতর্ক কেবল এই ব্যুৎপত্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যখন তিনি প্রথম পক্ষের মতবাদ শেষ করলেন এবং তাদের দলিলসমূহ ও ব্যুৎপত্তি সংক্রান্ত আলোচনা সুপ্রতিষ্ঠিত করলেন, তখন দ্বিতীয় পক্ষের মতবাদ বর্ণনা করা শুরু করলেন।

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কর্তৃক

এবং বসা, কারণ এ দুটির একটি অন্যটি থেকে ব্যুৎপন্ন নয়। "এবং তা" অর্থাৎ সংজ্ঞায়িত সাধারণ ব্যুৎপত্তি "তিন প্রকার" এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট; যা পর্যালোচনার মাধ্যমে অথবা যৌক্তিক বিভাজনের মাধ্যমে নির্ধারিত। কারণ এটি হয় শব্দের আগে-পরে করার মাধ্যমে, অথবা অক্ষর পরিবর্তনের মাধ্যমে, অথবা এ দুটি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে। তৃতীয়টি হলো "ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তি এবং তা হলো উভয়ের মধ্যে" অর্থাৎ শব্দ দুটির মধ্যে "অক্ষর ও বিন্যাসে সাদৃশ্য থাকা" অর্থাৎ সেই অক্ষরগুলোর ক্রমানুসারে। আপনি যদি বলেন: সাধারণ বিষয়টি তো কেবল একটি অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই বিশেষ প্রকারে পরিণত হয়, কিন্তু এখানে তো তেমন নয়। কারণ সাধারণ ব্যুৎপত্তির অর্থ যেমন আমি নিশ্চিত করেছি—উভয় শব্দের শব্দ ও অর্থ উভয় ক্ষেত্রে সাদৃশ্য থাকা, আর আপনার বর্ণনা অনুযায়ী এই প্রকারের অর্থ হলো কেবল শব্দের দিক থেকে সাদৃশ্য থাকা; কারণ অক্ষর ও বিন্যাসে সাদৃশ্য থাকা কেবল শাব্দিক সাদৃশ্য। সেক্ষেত্রে কোনো শর্ত যুক্ত করার মাধ্যমে প্রকার অর্জিত হয়নি, বরং অর্থ নামক শর্তটি বাদ দেওয়ার মাধ্যমে হয়েছে, যা সর্বসম্মতিক্রমে নিয়মবহির্ভূত। আমি বলব: অর্থের শর্তটি এই সংজ্ঞায় এবং অন্য দুটি প্রকারের সংজ্ঞাতেও উহ্য ও নির্ধারিত রয়েছে যা শিক্ষার্থীর বোধগম্যের সুবিধার্থে করা হয়েছে, যদিও এটি প্রকার নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আপনি যদি বলেন: তাহলে তো সাধারণ ও প্রকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকল না, যা বৈধ নয়। আমি বলব: সাধারণের অর্থ হলো সাধারণভাবে উভয় শব্দের সাদৃশ্য থাকা, চাই সেই সাদৃশ্য অক্ষর ও বিন্যাস উভয় ক্ষেত্রে হোক, অথবা কেবল অক্ষরে হোক, অথবা অক্ষরের উচ্চারণের স্থানে হোক। আর এই তিন প্রকার সাদৃশ্যের প্রতিটিই বিশেষ সাদৃশ্য। সুতরাং পার্থক্যটি বিদ্যমান থাকল যে, যখন সেই সাধারণ বিষয়টি প্রথম বিশেষ সাদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে বাস্তবায়িত হয়, তখন তা সাধারণ ব্যুৎপত্তির একটি প্রকারে পরিণত হয় যাকে "ক্ষুদ্র" বলা হয়, কারণ অক্ষর ও বিন্যাসে মিল থাকার কারণে সামান্য চিন্তাতেই এটি জানা যায়। "যেমন" আদ-দারব থেকে দারাবা এর ব্যুৎপত্তি। আর যদি তা দ্বিতীয়টির অন্তর্ভুক্ত হয়ে বাস্তবায়িত হয় তবে তা অন্য একটি প্রকারে পরিণত হয় যাকে "বৃহৎ" বলা হয়, কারণ বিন্যাসে মিল না থাকার কারণে এটি জানতে গভীর চিন্তার প্রয়োজন হয়। আর যদি তা তৃতীয়টির অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তা "সর্ববৃহৎ" ব্যুৎপত্তি নামে অভিহিত হয়, কারণ খোদ অক্ষরগুলোতে মিল না থাকার কারণে এটি জানতে আরও গভীর চিন্তার প্রয়োজন হয়। জেনে রাখুন যে, তারা ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: একটি মূল থেকে নির্গত শাখা যা এর শব্দরূপগুলোতে অক্ষরের বিন্যাস ও অতিরিক্ত অর্থের সাথে আবর্তিত হয়। "এবং" প্রথমটি যা শব্দের আগে-পরে হওয়ার মাধ্যমে হয় তা হলো "বৃহৎ ব্যুৎপত্তি এবং তা হলো উভয়ের মধ্যে শব্দ ও অর্থে সাদৃশ্য থাকা"। সঠিক প্রকাশভঙ্গি হতো "অক্ষরগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য থাকা" "বিন্যাস ব্যতিরেকে", যেমনটি কথার ধারাবাহিকতা থেকে সুস্থ রুচি বুঝতে পারে; কিন্তু উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়ার কারণে এখানে কিছুটা শিথিলতা অবলম্বন করা হয়েছে। "যেমন" জাবাযা এর ব্যুৎপত্তি বা বর্ণকে আগে এনে আল-জাযব থেকে যেখানে তা শেষে ছিল। এই প্রকারের সংজ্ঞায় এবং শেষ প্রকারের সংজ্ঞায়ও পূর্ববর্তী প্রকারের সংজ্ঞার মতো প্রশ্ন ও উত্তর রয়েছে, তা নিয়ে চিন্তা করুন। বলা হয়েছে, বৃহৎ ব্যুৎপত্তি হলো দুটি শব্দের মধ্যে শব্দ ও অর্থের সাদৃশ্য থাকা। সুতরাং এটি একটি সাধারণ বিষয়, চাই তা দুটি বিশেষ্য হোক বা দুটি ক্রিয়া হোক, অথবা একটি বিশেষ্য ও অন্যটি ক্রিয়া হোক, অথবা উভয়ই অতিরিক্ত বর্ণহীন হোক বা অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত হোক, অথবা একটি মূল শব্দ ও অন্যটি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শব্দ হোক, এবং ব্যুৎপন্ন শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পাক বা না পাক, এবং অক্ষরগুলো ক্রমানুসারে বিন্যস্ত থাকুক বা না থাকুক। "এবং" দ্বিতীয়টি যা অক্ষর পরিবর্তনের মাধ্যমে হয় তা হলো "সর্ববৃহৎ ব্যুৎপত্তি এবং তা হলো উভয়ের মধ্যে উচ্চারণের স্থানে সাদৃশ্য থাকা" শব্দের মূল অক্ষরগুলোর মধ্যে নয়। "যেমন" নাআকা এর ব্যুৎপত্তি নাহাকা থেকে, আইন বর্ণকে হা বর্ণ দ্বারা পরিবর্তনের মাধ্যমে। "এবং ব্যুৎপত্তি দ্বারা উদ্দেশ্য" যা দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধপূর্ণ "উল্লেখিত" আমাদের এই উক্তিতে: 'এটি ব্যুৎপত্তির মূল', "এখানে তা হলো ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তি"। বলা হয়েছে: আর অন্য প্রকারগুলোর ক্ষেত্রে প্রত্যেকটিকে মূল হিসেবে গণ্য করা সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ। আপনি যদি বলেন: তাহলে সাধারণ ব্যুৎপত্তির সংজ্ঞা দিয়ে একে তিন প্রকারে বিভক্ত করার ফায়দা কী? আমি বলব: ফায়দা হলো শিক্ষার্থীর নিকট উদ্দেশ্যটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা এবং উত্তমরূপে পৃথক করা। কেননা কোনো প্রকারের প্রকৃত স্বরূপ জানা যায় তার সাধারণ শ্রেণি ও পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য জানার মাধ্যমে। আর এটিও বলা সম্ভব যে, উল্লেখিত সংজ্ঞায়িত সাধারণ ব্যুৎপত্তি দ্বারা ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তিই উদ্দেশ্য, অর্থাৎ সাধারণ ব্যুৎপত্তির সংজ্ঞা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো ক্ষুদ্র ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌[شرح ديكنقوز]

"قال الكوفيون ينبغي أن يكون الفعل أصلا" والمصدر فرعا له "لأن إعلاله" أي إعلال الفعل "مدار" وسبب "لإعلال المصدر وجودا" أي من جهة الوجود، أي إن وجد إعلال الفعل وجد إعلال المصدر "و" مدار "عدما أي إن عدم إعلال الفعل عدم إعلال المصدر والدور إن ترتب الشيء على ما له صلوح العلية وسمي الشيء الأول المترتب الدائر والشيء الثاني المترتب عليه المدار "أما" كون إعلال الفعل مدار الإعلال المصدر "وجودا ففي" مثل "يعد" أصله يوعد "عدة" هي مصدر يعد أصله وعدة، ولما حذف الواو من يوعد لعلة توجب الحذف حذف من وعدة وإن لم توجد فيها تلك العلة تبعا له "و" مثل "قام قيام" أصلهما قوم قواما فلما أعل الأول أعل الثاني، وإن انتفى موجب الإعلال فيه تبعا للأول "وأما" كون إعلال الفعل مدار إعلال المصدر "عدما ففي يوجل وجلا وقاوم قواما" فلما لم يعل الفعلان لم يعل المصدران تبعا لهما "ومداريته" أي مدارية الفعل من جهة الإعلال للمصدر لا شك في أنها "تدل على أصالته" أي على أصالة الفعل للمصدر "وأيضا" أي كما أن الفعل مدار من جهة الإعلال للمصدر كذلك "يؤكد الفعل به" أي بالمصدر "نحو ضربت ضربا" فإن ضربا مصدر مؤكد للفعل أعنى ضربت وكيف لا يكون مؤكدا له

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

لكن الأول أوفق. ولما فرغ من استدلالات البصريين على أصالة المصدر وبيان ماهية الاشتقاق شرع في استدلالات الكوفيين على أصالة الفعل فيه بطريق المعارضة، لكن لما كان في أدلتهم ضعف لم يقل استدل بل قال "قال الكوفيون ينبغي" أي يجب "أن يكون الفعل أصلا" في الاشتقاق "لأن إعلاله" وهو تغيير حرف العلة للتخفيف، وهو قد يكون بالقلب كما في قال، وقد يكون بالحذف كما في قلت، وقد يكون بالإسكان كما في يقول، "مدار" أي سبب يثبت الأثر بثبوته وينتفي بانتفائه، وهو مصدر ميمي من دار يدور أصله مدور بفتح الواو فأعل بالنقل والقلب "لإعلال المصدر وجودا وعدما" وما يكون إعلاله مدار الإعلال شيء كذلك يكون أصلا له ينتج أن الفعل أصل أما الكبرى فظاهرة، وأما الصغرى فقد أثبتها المصنف بتمثيل مثالي مثالي ومثالي أجوف بقوله "أما وجودا ففي" مثل "يعد" أصله يوعد بوزن يضرب فحذفت الواو ولوقوعها بين ياء وكسرة أصلية "عدة" مصدر بوزن هبة أصله وعدة فأعل بشرطين أحدهما أن يعل فعله، والثاني أن يكون على وزن فعلة بكسر الفاء وسكون العين وإذا كان إعلال فعله شرطا لإعلاله كان مدارا له وكيفية إعلاله أنه نقلت حركة الواو إلى ما بعدها ثم حذفت ساكنة اتباعا للفعل واستثقالا للكسرة على الواو، أو حذفت متحركة وحرك ما بعدها بجنس حركاتها ولزم تاء التأنيث كالعوض منها، فلو انتفى أحد الشرطين لا يجوز حذفها، فلا تحذف من نحو الولدة؛ لأنه اسم فانتفى الشرط الأول، ولا من نحو الوعدة والوعد بفتح الواو فيهما لانتفاء الشرط الثاني "و" مثل "قام" أصله قوم فقلبت الواو ألفا لتحركها وانفتاح ما قبلها فصار قام "قياما" أصله قواما فقصد بقلب الواو وتبعا لفعله لا لوجود موجب الإعلال، لكن لما كان ما قبلها مكسورا قلبت ياء لا ألفا فيكون المصدر تابعا لفعله في مطلق الإعلال "وأما عدما ففي" مثل "يوجل" معناه وبابه يخاف يعني لم يعل الواو فيه لعدم موجب الإعلال، أما بالحذف فلعدم وقوعها بين ياء وكسرة، وأما بالقلب ألفا أو بنقل الحركة فلسكونها، وأما بالقلب ياء فلعدم انكسار ما قبلها "وجلا" مصدر بوزن وعد لم يعل اتباعا لفعله كما يعل عدة لذلك "و" في مثل "قاوم" يعني لم يعل قاوم إما لوجود مانع الإعلال؛ لأنه لو حذفت الواو وإما ابتداء أو بعد قبلها ألفا التبس بقام، وإما لعدم موجبه؛ لأنها لا يمكن قبلها ياء لعدم انكسار ما قبلها "قواما" مصدر لم يعل اتباعا لفعله وهو قاوم مع أن هذا اللفظ يعل إذا وقع مصدر القام اتباعا له فيقال قياما كما مر "ومداريته" أي مدارية إعلال الفعل وجودا وعدما لإعلال المصدر "تدل على أصالته" أي الفعل لكون المدار متبوعا، وأنت تعلم أن الأصالة في الإعلال لا تدل على الأصالة في الاشتقاق وأيضا إن قوله ففي بعد عدة ويوجيل وجلا يدل على أن المضارع أصل المصدر مشتق منه بالذات، وقوله: وفي قام قياما وقاوم قواما يدل على أن الماضي أصل والمصدر مشتق منه بالذات فاضطربت مقالتهم، وأيضا إن هذا الاستدلال من قبيل إثبات القاعدة بالأمثلة وهو غير جائز نعم تثبت القاعدة بها إذا كان بالاستقراء التام وها هنا ممنوع، وأيضا أن مثل عدة لا يكون إعلاله بمجرد اتباع الفعل، بل بشرطين حتى لا يعل الوعدة والوعد بفتح الواو فيهما مع أن فعلهما وهو يعد كما حققته، وأيضا إن رمى فعل يعل بقلب الياء ألفا ورميا مصدر لا يعل، وأن اعشو شب فعل لا يعل واعشيشا بالمصدر يعديعل بقلب الواو ياء فانتفت دلالة مدارية إعلال الفعل لإعلال المصدر وجودا وعدما "وأيضا" ينبغي أن يكون الفعل أصل لأنه "يؤكد الفعل به" أي بالمصدر "نحو ضربت ضربا" فضربا يؤكد ضربت تأكيدا اسميا لا صناعيا؛ لأنه لم يعهد في العربية أن المصدر تأكيد لفظي أو معنى وأيضا التأكيد الصناعي من التوابع وهي معرفة بأنها الكلمات التي لا يمسها الإعرب إلا على سبيل التبع لغيرها، وإعراب المصدر ليس على سبيل التبع للغير؛ لأنه من المفاعيل وإعرابها أصلي لا تبعي، وأيضا الواقع في محل المعرب الجملة الفعلية لا الفعل المؤكد بالمصدر وحده، وكل ذلك ظاهر ولما لم يكن ضربا في ضربت ضربا من التوكيد الصناعية كان في تأكيد الفعل نوع خفاء بالنسبة إلى بعض الأذهان فشبهوا بالتأكيد اللفظي الصناعي توضيحا فقالوا:
[শরাহ দিকনুকুয]

"কুফীগণ বলেছেন, ক্রিয়াকেই মূল হওয়া উচিত" এবং মাসদার (ক্রিয়া-মূল) হবে তার শাখা, "কেননা এর ইলাল (বর্ণের পরিবর্তন)" অর্থাৎ ক্রিয়ার ইলাল হলো "কেন্দ্রবিন্দু" ও কারণ "মাসদারের ইলালের অস্তিত্বের ক্ষেত্রে"। অর্থাৎ অস্তিত্বের দিক থেকে; যদি ক্রিয়ার ইলাল পাওয়া যায় তবে মাসদারের ইলালও পাওয়া যাবে। "এবং" কেন্দ্রবিন্দু "অনস্তিত্বের ক্ষেত্রেও"। অর্থাৎ যদি ক্রিয়ার ইলাল না পাওয়া যায় তবে মাসদারের ইলালও পাওয়া যাবে না। আর ‘দওর’ (আবর্তন) হলো কোনো বস্তুকে এমন বিষয়ের ওপর বিন্যস্ত করা যা কারণ হওয়ার যোগ্যতা রাখে। প্রথম বিন্যস্ত বিষয়টিকে ‘দা-ইর’ এবং দ্বিতীয় বিষয়টিকে যার ওপর ভিত্তি করা হয়েছে তাকে ‘মাদার’ বলা হয়। "তবে" ক্রিয়ার ইলাল মাসদারের ইলালের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া "অস্তিত্বের ক্ষেত্রে; যেমন- ‘ইয়া’ইদু’" (সে ওয়াদা করে), এর মূল ছিল ‘ইউ’ইদু’। এর মাসদার হলো "‘ইদাহ’", যা ‘ইয়া’ইদু’ এর মাসদার, এর মূল ছিল ‘ওয়াদাতুন’। যখন ‘ইউ’ইদু’ থেকে ‘ওয়াও’ বর্ণটি এমন একটি কারণবশত বিলুপ্ত করা হলো যা বিলোপকে আবশ্যক করে, তখন ‘ওয়াদাতুন’ থেকেও তা বিলুপ্ত করা হলো, যদিও সেখানে সেই (নির্দিষ্ট) কারণটি বিদ্যমান ছিল না, বরং তা ক্রিয়ার অনুসরণেই করা হয়েছে। "এবং" যেমন "‘ক্বামা’ ও ‘ক্বিয়াম’", এ দুটির মূল ছিল ‘ক্বাওয়ামা’ ও ‘ক্বাওয়ামান’। যখন প্রথমটিতে ইলাল করা হলো, তখন দ্বিতীয়টিতেও ইলাল করা হলো, যদিও প্রথমটির অনুসরণে সেখানে ইলালের কারণটি অনুপস্থিত ছিল। "আর" ক্রিয়ার ইলাল মাসদারের ইলালের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া "অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে; যেমন- ‘ইয়াওজালু’ এর মাসদার ‘ওয়াজালান’ এবং ‘ক্বাওয়ামা’ এর মাসদার ‘ক্বাওয়ামান’"। যখন এই ক্রিয়াদ্বয়ে ইলাল হয়নি, তখন এগুলোর অনুসরণ করে মাসদারদ্বয়েও ইলাল হয়নি। "আর এর মাদারিয়্যাত" অর্থাৎ ইলালের দিক থেকে মাসদারের জন্য ক্রিয়া কেন্দ্রবিন্দু হওয়াটা নিঃসন্দেহে "এর মৌলিকত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে", অর্থাৎ মাসদারের বিপরীতে ক্রিয়ার মূল হওয়ার প্রমাণ দেয়। "তাছাড়া" অর্থাৎ ক্রিয়া যেভাবে মাসদারের ইলালের কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক তেমনি "ক্রিয়াকে এর মাধ্যমে (মাসদারের মাধ্যমে) তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান করা হয়", "যেমন- ‘দারাবতু দারবান’" (আমি প্রহার করেছি প্রহার করা)। এখানে ‘দারবান’ হলো মাসদার যা ক্রিয়া অর্থাৎ ‘দারাবতু’কে গুরুত্ব প্রদান করছে। আর এটি কেনই বা তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানকারী হবে না!

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

তবে প্রথমটিই অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ। যখন লেখক মাসদার মূল হওয়ার ব্যাপারে বসরীদের দলীলসমূহ এবং ইশতিক্বাক বা শব্দগঠনের হাকীকত বর্ণনা শেষ করলেন, তখন তিনি এর বিপরীতে ক্রিয়া মূল হওয়ার ব্যাপারে কুফীদের দলীলসমূহ বর্ণনা শুরু করলেন। কিন্তু যেহেতু তাদের দলীলগুলোতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, তাই তিনি ‘তারা দলীল দিয়েছেন’ না বলে বলেছেন— "কুফীগণ বলেছেন, এটি হওয়া উচিত" অর্থাৎ ওয়াজিব "যে ক্রিয়াই মূল হবে" শব্দগঠনের ক্ষেত্রে। "কেননা এর ইলাল" আর ইলাল হলো উচ্চারণে সহজ করার জন্য ইল্লত বা দুর্বল বর্ণের পরিবর্তন। এটি কখনো ‘ক্বলব’ বা পরিবর্তনের মাধ্যমে হয় যেমন ‘ক্বলা’ শব্দে, কখনো ‘হজফ’ বা বিলোপের মাধ্যমে হয় যেমন ‘কুলতু’ শব্দে, আবার কখনো ‘ইসকান’ বা সাকিন করার মাধ্যমে হয় যেমন ‘ইয়াক্বুলু’ শব্দে। "মাদার" অর্থাৎ এমন কারণ যা থাকলে প্রভাবটি সাব্যস্ত হয় এবং যা না থাকলে প্রভাবটি বিলুপ্ত হয়। এটি ‘দারা-ইয়াদুরূ’ থেকে মাসদারে মিমী, এর মূল ছিল ‘মাদওয়ারুন’ (ওয়াও বর্ণে ফাতহা বা যবরসহ), অতঃপর ‘নাক্বল’ ও ‘ক্বলব’ এর মাধ্যমে ইলাল করা হয়েছে। "মাসদারের ইলালের অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু" এবং যে জিনিসের ইলাল অন্য জিনিসের ইলালের কেন্দ্রবিন্দু হয়, সেটিই তার জন্য মূল হয়; এর ফলাফল দাঁড়ায় যে ক্রিয়াই হলো মূল। এখানে ‘কুবরা’ (প্রধান যুক্তি) স্পষ্ট, আর ‘সুগরা’ (অপ্রধান যুক্তি) লেখক একটি মেছাল বা উদাহরণ এবং একটি আজওয়াফ (মধ্যবর্ণ দুর্বল এমন শব্দ) এর উদাহরণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন— "অস্তিত্বের ক্ষেত্রে যেমন— ‘ইয়া’ইদু’", এর মূল ‘ইয়াদরিবু’ এর ওজনে ছিল ‘ইউ’ইদু’। এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি ইয়া এবং আসল কাসরা (যের) এর মাঝখানে পড়ার কারণে বিলুপ্ত হয়েছে। "‘ইদাহ’" এটি ‘হিবাহ’ এর ওজনে মাসদার, এর মূল ছিল ‘ওয়াদাতুন’। এখানে দুটি শর্তে ইলাল হয়েছে: প্রথমটি হলো এর ক্রিয়ায় ইলাল হতে হবে, এবং দ্বিতীয়টি হলো একে ‘ফিলাতুন’ (ফা বর্ণে যের ও আইন বর্ণে সাকিন) এর ওজনে হতে হবে। যেহেতু এর ক্রিয়ার ইলাল হওয়াটা এর নিজের ইলাল হওয়ার জন্য শর্ত, তাই এটি তার জন্য ‘মাদার’ বা কেন্দ্রবিন্দু। এর ইলালের পদ্ধতি হলো— ওয়াও এর হরকত পরবর্তী বর্ণে স্থানান্তর করা হয়েছে, অতঃপর ক্রিয়ার অনুসরণে এবং ওয়াও এর ওপর যের ভারী হওয়ার কারণে সাকিন অবস্থায় একে বিলুপ্ত করা হয়েছে। অথবা একে হরকতসহই বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তী বর্ণকে তার হরকতের সমগোত্রীয় হরকত প্রদান করা হয়েছে এবং এর বিনিময়ে শেষে একটি ‘তা’ যুক্ত করা হয়েছে। যদি শর্ত দুটির একটিও অনুপস্থিত থাকে, তবে তা বিলুপ্ত করা জায়েয নয়। যেমন ‘আল-ওয়িলাদাহ’ শব্দে এটি বিলুপ্ত হয় না; কারণ এটি ইসম বা বিশেষ্য, ফলে প্রথম শর্তটি অনুপস্থিত। আবার ‘আল-ওয়াদআহ’ এবং ‘আল-ওয়াদউ’ (ওয়াও বর্ণে যবরসহ) শব্দদ্বয়েও বিলুপ্ত হয় না, কারণ দ্বিতীয় শর্তটি অনুপস্থিত। "এবং" যেমন- "‘ক্বামা’", এর মূল ছিল ‘ক্বাওয়ামা’, ওয়াও বর্ণটি হরকতযুক্ত হওয়ায় এবং এর পূর্বের বর্ণ যবরযুক্ত হওয়ায় একে আলিফে পরিবর্তন করা হয়েছে, ফলে তা ‘ক্বামা’ হয়েছে। "‘ক্বিয়ামান’", এর মূল ছিল ‘ক্বাওয়ামান’। এখানে ওয়াও বর্ণকে ইয়াতে পরিবর্তন করা হয়েছে তার ক্রিয়ার অনুসরণে, ইলালের নির্দিষ্ট কারণ বিদ্যমান থাকার কারণে নয়। কিন্তু যেহেতু এর পূর্বের বর্ণটি যেরযুক্ত, তাই একে আলিফ না করে ইয়া করা হয়েছে। ফলে মাসদারটি নিরঙ্কুশ ইলালের ক্ষেত্রে তার ক্রিয়ার অনুগামী হলো। "আর অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে; যেমন— ‘ইয়াওজালু’", এর অর্থ ও বাব হলো ‘ইয়াখাফু’ (সে ভয় পায়)। অর্থাৎ ইলালের কারণ না থাকায় এখানে ওয়াও বর্ণে ইলাল হয়নি। হজফ বা বিলোপ হয়নি কারণ এটি ইয়া ও কাসরার মাঝে পড়েনি; আলিফে পরিবর্তন বা হরকত স্থানান্তর হয়নি কারণ এটি সাকিন; আর ইয়াতে পরিবর্তন হয়নি কারণ এর পূর্বের বর্ণটি যেরযুক্ত নয়। "‘ওয়াজালান’" এটি ‘ওয়াদুন’ এর ওজনে মাসদার, এর ক্রিয়ার অনুসরণে এতে ইলাল হয়নি, যেমনিভাবে ‘ইদাহ’ শব্দে ক্রিয়ার অনুসরণে ইলাল হয়েছিল। "এবং" যেমন- "‘ক্বাওয়ামা’", অর্থাৎ ‘ক্বাওয়ামা’ শব্দে ইলাল হয়নি হয় তো ইলালের প্রতিবন্ধক থাকার কারণে; কারণ যদি ওয়াও বিলুপ্ত করা হতো অথবা শুরুতে বা আলিফে পরিবর্তনের পর বিলুপ্ত করা হতো তবে তা ‘ক্বামা’ এর সাথে মিলে যেত (সংশয় তৈরি হতো)। অথবা ইলালের কারণ না থাকার কারণে; কেননা এর পূর্বের বর্ণ যেরযুক্ত না হওয়ায় একে ইয়াতে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। "‘ক্বাওয়ামান’" এটি এমন মাসদার যাতে ক্রিয়া অর্থাৎ ‘ক্বাওয়ামা’ এর অনুসরণে ইলাল হয়নি, যদিও এই একই শব্দ যখন ‘ক্বামা’ এর মাসদার হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন তার অনুসরণে এতে ইলাল হয় এবং ‘ক্বিয়ামান’ বলা হয়, যা আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। "আর এর মাদারিয়্যাত" অর্থাৎ মাসদারের ইলালের অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে ক্রিয়ার ইলাল কেন্দ্রবিন্দু হওয়া "এর মৌলিকত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে", অর্থাৎ ক্রিয়া মূল হওয়ার প্রমাণ দেয়, কারণ কেন্দ্রবিন্দু বা মাদার হলো অনুসরণীয়। অথচ আপনি জানেন যে, ইলালের ক্ষেত্রে মূল হওয়া শব্দগঠন বা ইশতিক্বাকের ক্ষেত্রে মূল হওয়ার প্রমাণ দেয় না। তাছাড়া তার কথা— ‘ইয়া’ইদু’ এর পর ‘ইদাহ’ এবং ‘ইয়াওজালু’ এর পর ‘ওয়াজালান’ উল্লেখ করা একথার প্রমাণ দেয় যে, মুজারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) হলো মূল এবং মাসদার সরাসরি তা থেকে গঠিত। আবার তার কথা— ‘ক্বামা’ এর পর ‘ক্বিয়ামান’ এবং ‘ক্বাওয়ামা’ এর পর ‘ক্বাওয়ামান’ উল্লেখ করা প্রমাণ দেয় যে, মাদী (অতীতকালীন ক্রিয়া) হলো মূল এবং মাসদার সরাসরি তা থেকে গঠিত। ফলে তাদের বক্তব্যে অস্থিরতা ও বৈপরীত্য প্রকাশ পেয়েছে। তাছাড়া এই দলীল উপস্থাপন হলো উদাহরণের মাধ্যমে কায়েদা বা নিয়ম সাব্যস্ত করার অন্তর্ভুক্ত, যা জায়েয নয়। হ্যাঁ, উদাহরণের মাধ্যমে নিয়ম সাব্যস্ত হতে পারে যদি তা ‘ইস্তিক্বরায়ে তাম’ বা পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হয়, যা এখানে অসম্ভব। তাছাড়া ‘ইদাহ’ এর মতো শব্দে ইলাল কেবল ক্রিয়ার অনুসরণে হয় না, বরং দুটি শর্তে হয়, যে কারণে ‘আল-ওয়াদআহ’ ও ‘আল-ওয়াদউ’ (ওয়াও এর যবরসহ) শব্দে ইলাল হয় না যদিও এগুলোর ক্রিয়া হলো ‘ইয়া’ইদু’ যেমনটি আমি নিশ্চিত করেছি। তাছাড়া ‘রামা’ এমন একটি ক্রিয়া যাতে ইয়া বর্ণকে আলিফে পরিবর্তনের মাধ্যমে ইলাল হয়েছে কিন্তু এর মাসদার ‘রামইয়ান’ এ ইলাল হয়নি। আবার ‘ইশাউশাবা’ এমন একটি ক্রিয়া যাতে ইলাল হয়নি কিন্তু এর মাসদার ‘ইশইশাবান’ এ ওয়াও বর্ণকে ইয়াতে পরিবর্তনের মাধ্যমে ইলাল হয়েছে। ফলে অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের ক্ষেত্রে মাসদারের ইলালের জন্য ক্রিয়ার ইলাল কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার দাবিটি অসার প্রমাণিত হলো। "তাছাড়া" ক্রিয়া মূল হওয়া উচিত কারণ "ক্রিয়াকে এর মাধ্যমে (মাসদারের মাধ্যমে) তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান করা হয়", "যেমন- ‘দারাবতু দারবান’"। এখানে ‘দারবান’ শব্দটি ‘দারাবতু’কে আভিধানিক বা অর্থগতভাবে তাকিদ দিচ্ছে, পারিভাষিক বা ব্যাকরণগতভাবে নয়। কেননা আরবি ভাষায় মাসদার লফযী বা মানবী তাকিদ হওয়ার কোনো নজির নেই। তাছাড়া পারিভাষিক তাকিদ হলো ‘তাওয়াবি’ (অনুসারী শব্দ) এর অন্তর্ভুক্ত, যার পরিচয় হলো— এমন শব্দ যা অন্য কোনো শব্দকে অনুসরণ করা ছাড়া অন্য কোনোভাবে ইরাব বা বিভক্তি গ্রহণ করে না। অথচ মাসদারের ইরাব অন্য কারো অনুসরণে হয় না; কারণ এটি ‘মাফঊল’ (কর্মকারক) এর অন্তর্ভুক্ত এবং এর ইরাব মৌলিক, অনুসারী নয়। তাছাড়া প্রকৃতপক্ষে যা মু'রাব বা বিভক্তি গ্রহণকারী স্থানের স্থলাভিষিক্ত হয় তা হলো জুমলা ফে'লিয়া (ক্রিয়াবাচক বাক্য), কেবল মাসদার দ্বারা তাকিদপ্রাপ্ত ক্রিয়াটি নয়। এই সবগুলো বিষয়ই স্পষ্ট। আর যেহেতু ‘দারাবতু দারবান’ বাক্যে ‘দারবান’ শব্দটি পারিভাষিক তাকিদ নয়, তাই ক্রিয়াকে তাকিদ দেওয়ার বিষয়টি কিছু মেধার কাছে অস্পষ্ট মনে হতে পারে, তাই তারা বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একে পারিভাষিক লফযী তাকিদের সাথে তুলনা করে বলেছে:
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌[شرح ديكنقوز]

"وهو" أي هذا التركيب "بمنزلة ضربت ضربت" بتكرير الفعل لأن معنى التركيبين واحد فيكون ضربا مؤكدا لضربت تأكيدا لفظيا، كما كان ضربت الثاني مؤكدا له كذلك "والمؤكد" بفتح الكاف "أصل" لأنه متبوع "دون المؤكد" بكسر الكاف لأنه تابع "وأيضا يقال له" أي للمصدر اسم هو "مصدر لكونه" أي المصدر "مصدورا به" ومخرجا "عن الفعل" وله نظائر في كلامهم "كما قالوا" في الماء "مشرب عذب" أي لذيذ "و" في الفرس "مركب فاره" أي حاذق في المشي لا يتعب راكبه "أي" مرادهم بمشرب "مشروب ومركوب قلنا" معاشر البصريين "في جوابهم" أي في الجواب عن متمسك الكوفيين الأول الذي هو العمدة "إعلال المصدر" إذا أعل فعله إنما هو "للمشاكلة" أي الموافقة والاطراد في الإعلال بسبب المناسبة بينهما في اللفظ والمعنى "لا للمدارية" ولهذا قد يعل كل منهما بدون إعلال الآخر نحو رمى رميا واعشوشب اعشيشابا، فلا تدل الأصالة في الإعلال على الأصالة في الاشتقاق "كحذف الواو في تعد" أصلة توعد فإنه لمشاكلة يعد "و" حذف "الهمزة في يكرم" فإنه لمشاكلة أكرم فكما أن الحذف للمشاكلة لا يدل على الأصالة في الاشتقاق، فكذا الإعلال للمشاكلة لا يدل على الأصالة فيه وقلنا أيضا في الجواب عن متمسكهم الثاني لا نسلم أن ضربت ضربا بمنزلة ضربت ضربت، بل هو بمنزلة أحدثت ضربا ضربا؛ لأن المراد بتأكيد المصدر الذي هو مضمون الفعل بلا زيادة شيء عليه من وصف أو عدد وهو في الحقيقة تأكيد لذلك المصدر المضمون لكنهم سموه تأكيد الفعل توسعا فقولك ضربت بمعنى أحدثت ضربا فلما ذكرت بعده ضربا صار بمنزلة قولك أحدثت ضربا ضربا فظهر أنه تأكيد للمصدر المضمون وحده لا للأخبار والزمان اللذين تضمنهما الفعل فلم يقع المصدر تأكيد الفعل "و" لئن سلمنا أنه بمنزلة ضربت ضربت، وأن المصدر وقع تأكيدا للفعل فنقول "المؤكدية" بفتح الكاف لا تدل على الأصالة في الاشتقاق بل "تدل عليها" في الإعراب "كما في جاءني زيد زيد" فإن الأول أصل اللثاني في الإعراب مع أنه

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"وهو بمنزلة ضربت ضربت" أي في مجرد كون الثاني تأكيد اللأول "والمؤكد" بفتح الكاف "أصل" لكون معناه مقصود بالذات في الكلام "دون المؤكد" بكسر الكاف لكون معناه مقصودا لأجل المؤكد فيكون الفعل أصلا هذا الذي قررناه ما أراده الكوفيون، لكن المصنف غفل عن مرادهم حيث قال في الجواب، بل في الإعراب وتبعه الشراح فحملوا التأكيد على اللفظي فلن يفيد بعضهم بعضا إلا غرورا "وأيضا يقال له مصدر لكونه مصدورا به عن الفعل" فيكون الفعل مصدرا والمصدر مفعولا فيكون الفعل أصلا "كما قالوا مشرب عذب" أي ماء طيب لذيذ "ومركب فاره" أي جيد السير لا تعب راكبه "أي مشروب" عذب "ومركوب" فاره وأيضا قالوا المصدر مفعل بمعنى المصدور نحو قعدت مقعد أي قعودا، والمصدر بمعنى الفاعل أي صادر عن الفعل كالعدل بمعنى العادل وجوابه المنع، وأيضا استدلوا عليها بعمل الفعل في المصدر نحو لعدت قعودا؛ لأن العامل قبل المعمول وهو مغالطة؛ لأن العامل قبل المعمول بمعنى أن الأصل في وقت العمل أن يتقدم لفظ العامل على لفظ المعمول والنزاع في أن وضعه غير مقدم على وضع الفعل فأين أحد التقدمين من الآخر، وإذ قال علمت مذهبي الفريقين في الأصالة في الاشتقاق فاعلم أن الحد التام للمصدر عند البصريين هو اسم الحدث الذي يشتق منه الفعل وعند الكوفيين اسم الحدث الذي يستق من الفعل "قلنا في جوابهم" عن أدلتهم بأسرها أما عن الأول فهو أن "إعلال المصدر" أي عند إعلال الفعل هذا القول إلى قوله سال الميزاب مقول قلنا فيليتقابل الجمعان "للمشاكلة" وهي الموافقة أي ليكون المصدر موافقا ومطردا لفعله في الحذف والإعلال "لا للمدارية" حتى تدل على الأصالة "كحذف الواو في تعد" بنقطتين من فوق وباقي صيغ المضارع التي لا يقع الواو فيها بين ياء وكسرة موافقة ليعد أي لئلا يختلف بناء المضارع بل يجري على وتيرة واحدة وإن لم يوجد موجب الحذف "و" كحذف "الهمزة في يكرم" بنقطتين من تحت وباقي صيغ المضارع سوى أكرم وسائر متصرفاتها من الفاعل والمفعول وغيرهما وإن لم يوجد فيها علة الحذف وهي اجتماع المزتين موافقة لأكرم أي ليطرد الباب. اعلم أن حاصل هذا الجواب منع مدارية إعلال الفعل لإعلال المصدر وجودا فكأنه قال: إنا لا نسلم أن إعلال الفعل للمدارية لم لا يجوز أن يكون للمشاكلة كحذف الواو في تعد فلا يتوجه أن يقال: إن قوله إعلال المصدر للمشاكلة للمدارية دعوى بلا دليل ولما كان مدار الاستدلال على المدارية وجودا وعدما معا اكتفى بمنع الأول ولم يتعرض لمنع الشق الثاني وقد منعناه أيضا فتذكر "و" أما عن الثاني فهو أن "المؤكدية" بفتح الكاف "لا تدل على الأصالة في الاشتقاق" والكلام فيه "بل" تدل على الأصالة "في الإعراب كما في جاءني زيد زيد" يعني كما أن زيد الأول مؤكد وأصل في الإعراب بالنسبة إلى زيد الثاني لا في الاشتقاق؛ لأنه من الجوامد كذلك الفعل في مثل ضربت ضربا أصل بالنسة إلى المصدر في الإعراب لا في الاشتقاق وأنت تعلم أن هذا الجواب إنما يصح أن لو حمل التأكيد على اللفظي الصناعي وقد عرفت فساده مما قررناه سابقا من الأدلة الدالة على أن مراد الكوفيين من التأكيد هو الاسمي لا الصناعي، فلا يلزم من كون اللفظ الأول أصلا بالنسبة إلى الثاني في الإعراب كونه كذلك في الأول، وأيضا إنا لا نجد في ضربت إعرابا أصليا يتبعه إعراب ضربا هذا. ونحن نستعين بالله ونقول باستعانة الله الجواب الصحيح أن يقال المؤكدية بالمعنى الذي أرادوه لا تدل على الأصالة في الاشتقاق، بل في عرض
[শারহ দিকনুকুয]

"এটি" অর্থাৎ এই বাক্যরীতিটি ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে "আমি প্রহার করেছি, আমি প্রহার করেছি" এর সমপর্যায়ের। কারণ উভয় রীতির অর্থ এক। ফলে 'প্রহার' শব্দটি 'আমি প্রহার করেছি' ক্রিয়ার জন্য শাব্দিক তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানকারী হবে, ঠিক যেমন দ্বিতীয়বার বলা 'আমি প্রহার করেছি' বাক্যটি প্রথমটির জন্য তাকিদ হয়েছিল। "এবং মুয়াক্কাদ" (কাফ বর্ণে জবরসহ—যার তাকিদ করা হয়েছে) হলো "মূল", যেহেতু এটি অনুসৃত; "মুয়াক্কিদ" (কাফ বর্ণে যেরসহ—যে তাকিদ প্রদান করে) এর বিপরীতে, কারণ এটি অনুসারী। "আরও বলা হয়" অর্থাৎ মাসদারের একটি নাম হলো "মাসদার", কারণ এটি ক্রিয়া থেকে "উৎসারিত" ও নির্গত। আর আরবদের কথাবার্তায় এর অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। "যেমন তারা পানির ক্ষেত্রে বলে" "সুস্বাদু পানস্থল", অর্থাৎ সুস্বাদু পানীয়। "এবং ঘোড়ার ক্ষেত্রে বলে" "চৌকস সওয়ারি", অর্থাৎ চালনায় অত্যন্ত দক্ষ যা আরোহীকে ক্লান্ত করে না। "অর্থাৎ" পানস্থল ও সওয়ারি শব্দ দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো "পানীয় ও আরোহণের পশু"। আমরা বসরাবাসীরা "তাদের উত্তরে বলেছি", অর্থাৎ কুফাবাসীদের প্রথম দলিলের উত্তরে যা তাদের প্রধান ভিত্তি: মাসদারের "বর্ণ রূপান্তর" তখনই ঘটে যখন তার ক্রিয়াতে রূপান্তর ঘটে, আর এটি কেবল "সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য"। অর্থাৎ শব্দ ও অর্থের সাদৃশ্যের কারণে রূপান্তরের ক্ষেত্রে মিল ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এটি "একে অন্যের মূল ভিত্তি হওয়ার কারণে নয়"। এই কারণেই অনেক সময় একটির রূপান্তর ঘটে অন্যটির রূপান্তর ছাড়াই, যেমন: 'রামা' থেকে 'রামইয়ান' এবং 'ই'শাউশাবা' থেকে 'ই'শিশাবান'। সুতরাং রূপান্তরের ক্ষেত্রে মৌলিকতা শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে মৌলিকতার প্রমাণ দেয় না। "যেমন 'তা'ইদু' শব্দে ওয়াও বর্ণটি বিলুপ্ত হওয়া", এর মূল রূপ ছিল 'তাউইদু', এটি 'ইয়া'ইদু' এর সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য বিলুপ্ত হয়েছে। "এবং 'ইউকরিমু' শব্দে হামজা বিলুপ্ত হওয়া", এটি 'আকরামা' এর সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য। সুতরাং সামঞ্জস্যের জন্য বিলুপ্তি যেমন শব্দনিস্পত্তিতে মূল হওয়ার দলিল নয়, তেমনি সামঞ্জস্যের জন্য বর্ণ রূপান্তরও তাতে মূল হওয়ার দলিল নয়। আমরা তাদের দ্বিতীয় দলিলের উত্তরে আরও বলেছি: আমরা এটি স্বীকার করি না যে, 'আমি প্রহার করেছি প্রহার করা' বাক্যটি 'আমি প্রহার করেছি আমি প্রহার করেছি' এর সমতুল্য। বরং এটি 'আমি একটি প্রহারের সূচনা করেছি প্রহারের' সমতুল্য। কারণ মাসদারের মাধ্যমে তাকিদ করার উদ্দেশ্য হলো ক্রিয়ার মূল বিষয়বস্তুকে কোনো গুণ বা সংখ্যা বৃদ্ধি ছাড়াই গুরুত্ব প্রদান করা। এটি প্রকৃতপক্ষে সেই অন্তর্নিহিত মাসদারেরই তাকিদ, কিন্তু তারা রূপকভাবে একে ক্রিয়ার তাকিদ নামকরণ করেছে। সুতরাং আপনার কথা 'আমি প্রহার করেছি' এর অর্থ হলো 'আমি একটি প্রহারের সূচনা করেছি'। অতঃপর যখন আপনি এর পরে 'প্রহার' শব্দটি উল্লেখ করলেন, তখন তা 'আমি একটি প্রহারের সূচনা করেছি প্রহারের' বলার সমতুল্য হয়ে গেল। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, এটি কেবল অন্তর্নিহিত মাসদারেরই তাকিদ, ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত সংবাদ বা সময়ের তাকিদ নয়। সুতরাং মাসদার ক্রিয়ার তাকিদ হিসেবে গণ্য হলো না। "এবং" যদি আমরা মেনেও নেই যে এটি 'আমি প্রহার করেছি আমি প্রহার করেছি' এর সমতুল্য এবং মাসদারটি ক্রিয়ার তাকিদ হিসেবেই এসেছে, তবুও আমরা বলব: "মুয়াক্কাদ হওয়া" (কাফ বর্ণে জবরসহ) শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে মূল হওয়ার প্রমাণ দেয় না, বরং এটি "কারক বিভক্তির (ইরাব) ক্ষেত্রে" মূল হওয়ার প্রমাণ দেয়। "যেমন: 'আমার কাছে জায়েদ জায়েদ এসেছে' বাক্যে", এখানে প্রথম জায়েদ শব্দটি দ্বিতীয়টির জন্য কারক বিভক্তির ক্ষেত্রে মূল, যদিও এটি

--------------------------------------------

ইবনে কামাল পাশার [আল-ফালাহ শারহুল মারাহ]

"এটি 'আমি প্রহার করেছি, আমি প্রহার করেছি' এর সমতুল্য" অর্থাৎ কেবল দ্বিতীয়টি প্রথমটির তাকিদ হওয়ার ক্ষেত্রে। "এবং মুয়াক্কাদ" (কাফ বর্ণে জবরসহ) হলো "মূল", কারণ তার অর্থটি বাক্যে মৌলিকভাবে উদ্দিষ্ট। "মুয়াক্কিদ" (কাফ বর্ণে যেরসহ) এর বিপরীত, কারণ তার অর্থটি মুয়াক্কাদ-এর খাতিরে উদ্দিষ্ট। ফলে ক্রিয়াটিই মূল হবে। আমরা যা স্থির করেছি এটিই কুফাবাসীদের উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু গ্রন্থকার তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অসতর্ক ছিলেন যখন তিনি উত্তরে বললেন: "বরং কারক বিভক্তির ক্ষেত্রে", এবং ব্যাখ্যাকারগণও তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তারা তাকিদকে কেবল শাব্দিক তাকিদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ফলে তাদের কেউ কাউকে বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছু দিতে পারেননি। "আরও বলা হয় যে, মাসদারকে মাসদার বলা হয় কারণ এটি ক্রিয়া থেকে উৎসারিত," ফলে ক্রিয়া হবে উৎস এবং মাসদার হবে কর্ম, এমতাবস্থায় ক্রিয়াই হবে মূল। "যেমন তারা সুস্বাদু পানস্থল বলে" অর্থাৎ সুস্বাদু পানীয়। "এবং চৌকস সওয়ারি" অর্থাৎ যার চলন ভালো এবং আরোহীকে ক্লান্ত করে না। "অর্থাৎ পানীয়" এবং "আরোহণের পশু"। তারা আরও বলেন যে, মাসদার 'মাফআল' ওজনে 'মাফউল' (কর্ম) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন 'আমি বসার স্থানে বসেছি' অর্থাৎ 'বসা'। আবার মাসদার 'কর্তা' অর্থেও আসে যা ক্রিয়া থেকে নির্গত হয়, যেমন 'ন্যায়বিচার' অর্থ 'ন্যায়বিচারক'। এর উত্তর হলো এটি প্রতিরোধ করা। তারা আরও দলিল দেয় মাসদারের ওপর ক্রিয়ার প্রভাব বা আমল করার মাধ্যমে, যেমন 'আমি বসার মতো বসেছি'। কারণ আমলকারী ব্যক্তি আমলকৃত বস্তুর আগে থাকে। এটি একটি বিভ্রান্তি; কারণ আমলকারী আমলকৃত বস্তুর আগে থাকার অর্থ হলো বাক্যে আমলকারীর শব্দ আমলকৃত শব্দের আগে আসা। অথচ বিতর্কটি হলো শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে মাসদার ক্রিয়ার আগে কি না তা নিয়ে। সুতরাং একটির অগ্রাধিকারের সাথে অন্যটির কী সম্পর্ক? যখন আপনি শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে উভয় দলের মাযহাব সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন জেনে রাখুন যে, বসরাবাসীদের নিকট মাসদারের পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা হলো: এমন ঘটনার নাম যা থেকে ক্রিয়া নিস্পন্ন হয়। আর কুফাবাসীদের নিকট এটি এমন ঘটনার নাম যা ক্রিয়া থেকে নিস্পন্ন হয়। "আমরা তাদের উত্তরে বলেছি" অর্থাৎ তাদের সকল দলিলের উত্তরে; প্রথমটির ক্ষেত্রে উত্তর হলো: "মাসদারের বর্ণ রূপান্তর" অর্থাৎ ক্রিয়ার রূপান্তরের সময়—এই কথা থেকে শুরু করে 'মিযাব প্রবাহিত হলো' পর্যন্ত আমাদের উত্তরের অন্তর্ভুক্ত—এটি "সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য"। অর্থাৎ সামঞ্জস্য হলো সাদৃশ্য বিধান করা যাতে মাসদার তার ক্রিয়ার সাথে বিলুপ্তি ও রূপান্তরের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ধারাবাহিক থাকে। "এটি মূল ভিত্তি হওয়ার কারণে নয়" যাতে করে এটি মৌলিকত্বের দলিল হতে পারে। "যেমন 'তা'ইদু' শব্দে ওয়াও বিলুপ্ত হওয়া" (উপরে দুই নুকতাহসহ) এবং মুজারের অন্যান্য রূপগুলোতে যেখানে ওয়াও বর্ণটি 'ইয়া' এবং 'যের' এর মাঝখানে পড়ে না, তবুও 'ইয়া'ইদু' এর সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ যাতে মুজারের গঠন ভিন্ন না হয় বরং একই ধারায় চলে, যদিও সেখানে বিলুপ্তির কারণ উপস্থিত নেই। "এবং" যেমন " 'ইউকরিমু' শব্দে হামজা বিলুপ্ত হওয়া" (নিচে দুই নুকতাহসহ) এবং 'আকরামতু' ব্যতিরেকে মুজারের অন্যান্য রূপ ও তার থেকে নির্গত ইসমে ফায়েল ও মাফউল ইত্যাদিতে, যদিও সেখানে বিলুপ্তির কারণ (অর্থাৎ দুই হামজার একত্র হওয়া) বিদ্যমান নেই। এটি কেবল 'আকরামতু' এর সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য যাতে এই অধ্যায়টি একই ধারায় থাকে। জেনে রাখুন যে, এই উত্তরের সারসংক্ষেপ হলো মাসদারের রূপান্তরের জন্য ক্রিয়ার রূপান্তরকে অপরিহার্য হিসেবে অস্বীকার করা। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে ক্রিয়ার রূপান্তর মাসদারের জন্য মূল ভিত্তি, বরং কেন এটি সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য হবে না যেমন 'তা'ইদু' শব্দে ওয়াও বিলুপ্ত হওয়া? সুতরাং এটি বলার সুযোগ নেই যে, তার কথা 'মাসদারের রূপান্তর সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য, মূল ভিত্তি হওয়ার জন্য নয়'—এটি দলিলবিহীন দাবি। যেহেতু দলিলের ভিত্তি রূপান্তরের অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব উভয়ের ওপর ছিল, তাই তিনি প্রথমটিকে অস্বীকার করার মাধ্যমে ক্ষান্ত হয়েছেন এবং দ্বিতীয় অংশটি অস্বীকার করার প্রয়োজন মনে করেননি। তবে আমরা সেটিও অস্বীকার করেছি, যা স্মরণ রাখা উচিত। "এবং" দ্বিতীয় দলিলের উত্তর হলো: "মুয়াক্কাদ হওয়া" (কাফ বর্ণে জবরসহ) "শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে মৌলিকতার প্রমাণ দেয় না" এবং এই আলোচনা সেই বিষয়েই। "বরং" এটি মৌলিকত্বের প্রমাণ দেয় "কারক বিভক্তির ক্ষেত্রে, যেমন 'আমার কাছে জায়েদ জায়েদ এসেছে' বাক্যে"। অর্থাৎ যেমন প্রথম জায়েদ শব্দটি দ্বিতীয় জায়েদ শব্দটির সাপেক্ষে কারক বিভক্তির ক্ষেত্রে মূল, কিন্তু শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে নয় (কারণ এটি জামিদ বা অনিস্পন্ন বিশেষ্য); তেমনি 'আমি প্রহার করেছি প্রহার করা' বাক্যের ক্রিয়াটি মাসদারের সাপেক্ষে কারক বিভক্তির ক্ষেত্রে মূল, শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে নয়। আপনি জানেন যে, এই উত্তরটি তখনই সঠিক হবে যখন তাকিদকে পারিভাষিক শাব্দিক তাকিদ হিসেবে ধরা হবে। অথচ আমরা পূর্বে যেসব দলিল পেশ করেছি তার দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে যে, কুফাবাসীদের নিকট তাকিদ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নামবাচক তাকিদ, পারিভাষিক নয়। সুতরাং কারক বিভক্তির ক্ষেত্রে প্রথম শব্দটি দ্বিতীয়টির জন্য মূল হওয়া থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে তা শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রেও মূল হবে। তাছাড়া আমরা 'আমি প্রহার করেছি' এর মধ্যে এমন কোনো মৌলিক কারক বিভক্তি পাই না যা 'প্রহার করা' (মাসদার) এর কারক বিভক্তিকে অনুসরণ করবে। আমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং আল্লাহর সাহায্যেই বলছি যে, সঠিক উত্তর হলো: তারা যেভাবে তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের অর্থ গ্রহণ করেছে, তা শব্দনিস্পত্তির ক্ষেত্রে মৌলিকতার দলিল নয়, বরং...
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌[شرح ديكنقوز]

ليس بمشتق منه وإلا لزم اشتقاق الشيء من نفسه، وكلامنا في الأصالة في الاشتقاق ولا محذور في أن يكون الشيء متقدما على شيء في الاشتقاق، وأصلا له فيه، ومتأخرا عنه في الإعلال، وفرعا عليه فيه للمشاكلة، كما أن الاسم أصل في الإعراب للفعل وفرع عليه في العمل كما يجيء إن شاء الله تعالى، "و" قلنا في الجواب عن متمسكهم الثالث "قولهم مشرب عذب ومركب فاره" ليس بحقيقة في معنى المشروب والمركوب اتفاقا بأن وضع لفظ المشرب بمعنى المشروب ولفظ المركب بمعنى المركوب فيكون لفظ المشرب مراد، فاللفظ المشروب ولفظ المركب مراد، فاللفظ المركوب حتى يكون لفظ المصدر أيضا حقيقة في معنى المصدور ومراد فاللفظ المصدور به بل يكون ذلك "من باب جرى النهر وسال الميزاب" فكما أن هذا من المجاز إما من المجاز اللغوي بأن أطلق اسم المحل الذي هو النهر والميزاب على الحال الذي هو الماء؛ لأن الجاري والسائل هو الماء لا النهر والميزاب، أو من المجاز العقلي بأن أريد بالنهر والميزاب معناهما الحقيقي وأسند إليهما الجريان والسيلان مجازا لملابستهما لما هما له أعني الماء، كذلك قولهم مشرب عذب ومركب فاره من المجاز أيضا ما في المفرد بأن يطلق اسم المحل الذي هو المشرب والمركب على الحال الذي هو الماء والفرس، وإما في النسبة بأن يراد بالمشرب والمركب معناهما الحقيقي وينسب إليهما العذوبة والفراهة مجازا لملابستهما لما هما له أعني الماء والفرس. وحاصل الجواب أن قياسهم لفظ المصدر على لفظ المشرب والمركب فاسد، أما على تقدير كون المجاز في النسبة فلأن المشرب والمركب حينئذ على معناهما الحقيقي الذي هو محل الشرب محل الركوب فيكون معنى لفظ المصدر قياسا عليهما محل الصدور وهو عليهم لا لهم، وأما على تقدير كون المجاز في المفرد فلأنه لا يلزم من كون اللفظ مستعملا في معنى مجازي على سبيل القطع كون لفظ آخر موازنا له مستعملا في مثل ذلك المعنى على سبيل القطع، بل غايته أن يحتمل استعماله فيه فبمجرد احتمال أن يكون لفظ المصدر مستعملا في معنى المصدور به مجازا مع قيام احتمال أن لا يكون مستعملا فيه، بل مستعملا في معناه الحقيقي الذي هو محل الصدور مع أن الحقيقة أصل والمجاز خلافه لا حجة فيه للكوفيين على أن تشبيه كون المصدر بمعنى المصدور به يكون المشرب بمعنى المشروب والمركوب تشبيه بغير جامع؛ إذ المشرب على المشروب والمركب على المركوب والمصدر لازم فلا يمكن أن يذكر لفظ المصدر ويراد به المصدور به؛ إذ لا دلالة للمصدر على المصدور به على الصادر ولذلك تكلفوا وقالوا في الاستدلال على أصالة الفعل أن المصدر مفعل بمعنى المصدر، أي الصدور نحو قعدت مقعدا حسنا أي قعودا، والمصدر الذي هو لفظ المصدر بمعنى الفاعل أي صادر عن الفاعل كالعدل بمعنى العادل، واستدلوا أيضا بعمل الفعل في المصدر نحو قعدت قعودا والعامل قبل المعمول وهو مغالطة؛ لأنه قبله بمعنى أن الأصل في وقت العمل أن يتقدم لفظ العامل على لفظ المعمول

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

المتكلم في نظم الكلام فهو أمر قد يتبدل عن تبدل الأغراض، كما إذا قلت: زيد قائم لا قاعدا كان قائم مؤكدا وأصلا ولا قاعد مؤكدا وفرعا، فإذا عكست وقلت: زيد لا قاعد بل قائم، صار الأصل فرعا والفرع أصلا، وأمثال ذلك كثيرة والأصالة في الاشتقاق أمر لا يتبدل، وكل ذلك ظاهر بصواب التأمل وأيضا نقول ضربا في ضربت ضربا لا يؤكد الفعل بل المصدر الذي في ضمن الفعل، قال الفاضل الرضى وهو يعني ضربا في ضربت ضربا في الحقيقة تأكيدا للمصدر المضمون لكنهم سموها تأكيدا للفعل توسعا، فقولك: ضربت بمعنى أحدثت ضربا فلما ذكرت بعده ضربا صار بمنزلة قولك: أحدثت ضربا ضربا فظهر أنه تأكيد للمصدر المضمون وحده لا للأخبار والزمان اللذين تضمنهما الفعل. ا. هـ. وإذا لم يكن الفعل مؤكدا بالمصدر في الحقيقة لم يكن له أصالة بالنسبة إلى المصدر أصلا فضلا عن الأصالة في الاشتقاق "و" أما عن الثالث فهو أن "قولهم مشرب عذب ومركب فاره من باب جرى النهر وسال الميزاب" أي من باب المجاز الذي هو كر المحل وإرادة الحال لا من قبيل ذكر المصدر وإرادة المفعول كما ذكرتم، يعني أن مشربا ومركبا اسما مكان يراد بهما ما حل في ذلك المكان فيراد من مشرب ماء حل فيه ومن مركب فرس حل فيه فمعنى مشرب عذب ماء عذب ومعنى مركب فاره فرس فاره، كما أن النهر موضع يراد به ما حل فيه وهو الماء، فيكون معنى جرى النهر جرى الماء فيه. فحاصل الجواب أنا لا نسلم أن مشربا ومركبا مصدران بمعنى مشروب ومركوب حتى يكون لفظ المصدر بمعنى المصدور، وأيضا لم لا يجوز أن يكونا من قبيل ذكر المحل وإرادة الحال كما في جرى النهر وسال الميزاب باعتبار كونهما اسمي مكان. وأقول المشرب يكون مصدرا ميميا واسم مكان فكلا المعنيين سائغ، لكن ما قاله الكوفيون شائع، وأما المركب فهو لا يكون إلا مصدر بمعنى المفعول حتى كان كأنه اسم لما يركب فلا يكون من باب جرى النهر. والأولى في الجواب أن يقال لا يلزم من كون المشرب والمركب بمعنى المشروب والمركوب كون لفظ المصدر بمعنى المصدور بمجرد كونه موازنا لهما وهو ظاهر بل لا يلزم كونهما بمعنى المفعول في هذين الاستعمال؛ لجواز أن يقال هو ماء سهل المشرب بمعنى الشرب مع أن لا نسلم ذلك في هذين الاستعمالين، وأيضا يجوز أن يكون من باب جرى النهر. ولما ذكر المصنف أن الصراف يحتاج في معرفة الأوزان إلى معرفة اشتقاق تسعة أشياء من كل مصدر وجب عليه أمران بيان أصالة المصدر في الاشتقاق وبيان صيغ المصادر وأقسامها فلما فرغ من الأول شرع في الثاني فقال:
[শরহে দিকনকুয]

এটি তা থেকে গৃহীত বা ব্যুৎপন্ন নয়, অন্যথায় কোনো বস্তু তার নিজ থেকেই ব্যুৎপন্ন হওয়ার আবশ্যকতা দেখা দেবে। আমাদের আলোচনা হলো ব্যুৎপত্তির মৌলিকতা নিয়ে। ব্যুৎপত্তির ক্ষেত্রে কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুর অগ্রগামী হওয়া এবং তার মূল হওয়া, আবার শব্দতাত্ত্বিক রূপান্তরের (ই'লাল) ক্ষেত্রে তার পরবর্তী হওয়া এবং সামঞ্জস্যের কারণে তার শাখা হওয়াতে কোনো বাধা নেই। যেমনটি ই'রাব বা বিভক্তির ক্ষেত্রে ইসম (বিশেষ্য) হলো ফে'ল (ক্রিয়া)-এর জন্য মূল, কিন্তু আমল বা প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সেটি শাখা, যা ইনশাআল্লাহ তা'আলা সামনে আসবে। "এবং" তাদের (কুফীদের) তৃতীয় দলিলের জবাবে আমরা বলি: "তাদের কথা 'সুপেয় পানীয়' (মাশরাব) এবং 'দ্রুতগামী বাহন' (মারকাব)" - এটি সর্বসম্মতভাবে পানকৃত বস্তু (মাশরুব) এবং আরোহণকৃত বস্তু (মারকুব)-এর অর্থে প্রকৃত বা হাকিকাত নয় যে, 'মাশরাব' শব্দটিকে 'মাশরুব' অর্থে এবং 'মারকাব' শব্দটিকে 'মারকুব' অর্থে গঠন করা হয়েছে। ফলে মাশরাব শব্দটি দ্বারা মাশরুব উদ্দেশ্য হবে এবং মারকাব শব্দটি দ্বারা মারকুব উদ্দেশ্য হবে, যাতে করে মাসদার শব্দটিও মাসদুরে বিহি (যার দ্বারা ক্রিয়া সম্পাদিত হয়) অর্থে প্রকৃত বা হাকিকাত হতে পারে। বরং এটি "নদী প্রবাহিত হয়েছে" এবং "পরনালা দিয়ে পানি বয়ে গেছে"-এর পর্যায়ভুক্ত। যেমন এটি একটি রূপক (মাজায); হয়তো এটি ভাষাগত রূপক (মাজাযে লুগাভী), যেখানে আধার বা স্থানের নাম (নদী বা পরনালা) আধেয় বা ভেতরের বস্তুর (পানি) জন্য ব্যবহার করা হয়েছে; কারণ প্রবাহিত ও বয়ে যাওয়া পানির কাজ, নদী বা পরনালার নয়। অথবা এটি যৌক্তিক রূপক (মাজাযে আকলী), যেখানে নদী ও পরনালা দ্বারা তাদের প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য, কিন্তু সেগুলোর সাথে পানির সম্পর্কের কারণে সেদিকে প্রবাহ ও বয়ে যাওয়াকে রূপকভাবে সম্বন্ধ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে তাদের কথা "সুপেয় পানীয়" এবং "দ্রুতগামী বাহন" রূপকের অন্তর্ভুক্ত। হয়তো এটি একবচনের ক্ষেত্রে রূপক, যেখানে আধার বা স্থানের নাম (মাশরাব ও মারকাব) আধেয় বা ভেতরের বস্তুর (পানি ও ঘোড়া) জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অথবা এটি সম্বন্ধের ক্ষেত্রে রূপক, যেখানে মাশরাব ও মারকাব দ্বারা তাদের প্রকৃত অর্থই উদ্দেশ্য এবং সেগুলোর সাথে পানি ও ঘোড়ার সম্পর্কের কারণে সেগুলোর দিকে সুপেয়তা ও দ্রুতগামিতাকে রূপকভাবে সম্বন্ধ করা হয়েছে। উত্তরের সারকথা হলো, মাসদার শব্দটিকে 'মাশরাব' ও 'মারকাব' শব্দের ওপর কিয়াস বা তুলনা করা ত্রুটিপূর্ণ। যদি সম্বন্ধের ক্ষেত্রে রূপক ধরা হয়, তবে 'মাশরাব' ও 'মারকাব' তখন তাদের প্রকৃত অর্থেই থাকবে, যা হলো পানের স্থান ও আরোহণের স্থান। তখন মাসদার শব্দের অর্থ এর সাথে তুলনায় হবে উৎপত্তির স্থান, যা তাদের (কুফীদের) বিপক্ষে যায়, পক্ষে নয়। আর যদি একবচনের ক্ষেত্রে রূপক ধরা হয়, তবে কোনো একটি শব্দ নিশ্চিতভাবে রূপক অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে অন্য একটি সমগোত্রীয় শব্দও যে নিশ্চিতভাবে সেই রূপক অর্থে ব্যবহৃত হবে, এমনটি আবশ্যক নয়। বরং বড়জোর এটি বলা যায় যে, সেখানে রূপক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং মাসদার শব্দটি 'মাসদুরে বিহি' অর্থে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার নিছক সম্ভাবনার বিপরীতে এটি ব্যবহৃত না হওয়ার সম্ভাবনাও বিদ্যমান; বরং এটি তার প্রকৃত অর্থ অর্থাৎ উৎপত্তির স্থান হিসেবেই ব্যবহৃত হতে পারে। অথচ প্রকৃত অর্থই হলো মূল আর রূপক হলো তার বিপরীত। সুতরাং কুফীদের জন্য এতে কোনো দলিল নেই। তাছাড়া মাসদারকে 'মাসদুরে বিহি' অর্থে ধরাকে 'মাশরাব' ও 'মারকাব' এর সাথে তুলনা করা এমন এক তুলনা যাতে কোনো সাধারণ বৈশিষ্ট্য বা যোগসূত্র নেই। কারণ 'মাশরাব' দ্বারা 'মাশরুব' এবং 'মারকাব' দ্বারা 'মারকুব' উদ্দেশ্য হতে পারে কিন্তু মাসদার হলো লাযিম (অকর্মক), তাই মাসদার উল্লেখ করে তা দ্বারা 'মাসদুরে বিহি' উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব নয়। কারণ মাসদারের মাঝে 'মাসদুরে বিহি' বা 'সাদির' (সম্পাদনকারী)-এর ওপর কোনো দلالত বা নির্দেশনা নেই। এজন্যই তারা কষ্টকল্পনা করে ক্রিয়ার মৌলিকত্ব প্রমাণের দলিলে বলেছে যে, মাসদার হলো 'মাফ'আল' ওজনে মাসদারের অর্থে, অর্থাৎ উৎপত্তি হওয়া; যেমন: "আমি সুন্দরভাবে বসেছি" অর্থাৎ বসা। আর মাসদার শব্দটি ইসমে ফায়েল বা সম্পাদনকারীর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'আদল' (ন্যায়বিচার) শব্দটি 'আদিল' (ন্যায়বিচারক) অর্থে ব্যবহৃত হয়। তারা ক্রিয়ার মৌলিকত্বের ওপর আরও দলিল পেশ করেছে যে, ক্রিয়া মাসদারের ওপর আমল বা প্রভাব বিস্তার করে, যেমন: "আমি বসেছি বসা" (কাদা কায়দান)। আমিল (প্রভাবক) সাধারণত মামুল (প্রভাবাধীন)-এর আগে থাকে। তবে এটি একটি বিভ্রান্তিকর যুক্তি (মুগালাতাহ); কারণ আমিল আগে থাকার অর্থ হলো আমল করার সময় আমিল শব্দের উচ্চারণ মামুল শব্দের উচ্চারণের আগে হওয়া।

--------------------------------------------

‌‌[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা রচিত

বাক্য বিন্যাসের ক্ষেত্রে বক্তা এমন এক বিষয় যা উদ্দেশ্যের পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। যেমন আপনি যদি বলেন: "যায়েদ দণ্ডায়মান, উপবিষ্ট নয়", তখন 'দণ্ডায়মান' শব্দটি তাকিদ (দৃঢ়তা প্রদানকারী) ও মূল হবে এবং 'উপবিষ্ট নয়' অংশটি তাকিদ ও শাখা হবে। আবার যদি উল্টো করে বলেন: "যায়েদ উপবিষ্ট নয় বরং দণ্ডায়মান", তখন মূল শব্দটি শাখা এবং শাখা শব্দটি মূল হয়ে যাবে। এমন উদাহরণ অনেক আছে। কিন্তু ব্যুৎপত্তির (ইশতিকাক) ক্ষেত্রে মৌলিকত্ব এমন বিষয় যা পরিবর্তিত হয় না। সঠিক চিন্তাভাবনা করলে এসবই স্পষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া আমরা বলি, "আমি একটি বিশেষ আঘাত করেছি" (দারাবতু দারবান) বাক্যে 'দারবান' শব্দটি ক্রিয়ার তাকিদ করে না, বরং ক্রিয়ার মধ্যে যে মাসদার নিহিত আছে তার তাকিদ করে। ফাযেল রাযী (রহ.) বলেন—অর্থাৎ "আমি একটি বিশেষ আঘাত করেছি" বাক্যে 'দারবান' শব্দটি মূলত নিহিত মাসদারের তাকিদ, কিন্তু রূপক অর্থে তারা একে ক্রিয়ার তাকিদ বলেছেন। সুতরাং আপনার কথা "আমি আঘাত করেছি" এর অর্থ হলো "আমি একটি আঘাত সংঘটিত করেছি"। যখন আপনি এর পরে "আঘাত" (দারবান) শব্দটি উল্লেখ করেন, তখন তা "আমি একটি আঘাত আঘাত সংঘটিত করেছি" বলার মতো হয়। সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, এটি কেবল নিহিত মাসদারের তাকিদ, খবর (সংবাদ) এবং কাল (যামান)-এর তাকিদ নয় যা ক্রিয়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। সমাপ্ত। আর যদি ক্রিয়াটি প্রকৃতপক্ষে মাসদার দ্বারা তাকিদযুক্ত না হয়, তবে মাসদারের তুলনায় ক্রিয়ার কোনো মৌলিকত্বই থাকে না, ব্যুৎপত্তির ক্ষেত্রে মৌলিকত্ব তো দূরের কথা। "এবং" তৃতীয় দলিলের উত্তর হলো: "তাদের কথা 'সুপেয় পানীয়' এবং 'দ্রুতগামী বাহন' মূলত 'নদী প্রবাহিত হয়েছে' এবং 'পরনালা দিয়ে পানি বয়ে গেছে'-এর পর্যায়ভুক্ত।" অর্থাৎ এটি এমন রূপক যেখানে আধার বা স্থান উল্লেখ করে আধেয় বা ভেতরের বস্তুকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে; আপনাদের দাবি অনুযায়ী মাসদার উল্লেখ করে মাফ'উল (কর্ম) উদ্দেশ্য করার মতো নয়। এর অর্থ হলো, 'মাশরাব' এবং 'মারকাব' হলো স্থানবাচক বিশেষ্য (ইসমে মাকান), যা দ্বারা সেই স্থানে অবস্থানরত বস্তুকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং 'মাশরাব' দ্বারা তাতে থাকা পানি এবং 'মারকাব' দ্বারা তাতে থাকা ঘোড়া উদ্দেশ্য। ফলে 'সুপেয় পানীয়' (মাশরাব) এর অর্থ হলো সুপেয় পানি এবং 'দ্রুতগামী বাহন' (মারকাব) এর অর্থ হলো দ্রুতগামী ঘোড়া। যেমন 'নদী' একটি স্থান যা দ্বারা তাতে থাকা পানিকে বোঝানো হয়; তখন 'নদী প্রবাহিত হয়েছে' এর অর্থ হয় 'তাতে পানি প্রবাহিত হয়েছে'। উত্তরের সারকথা হলো, আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে 'মাশরাব' এবং 'মারকাব' শব্দ দুটি 'মাশরুব' এবং 'মারকুব' অর্থে ব্যবহৃত মাসদার, যাতে করে মাসদার শব্দটি 'মাসদুরে বিহি' অর্থে হওয়ার প্রমাণ মেলে। তাছাড়া, 'নদী প্রবাহিত হয়েছে' এবং 'পরনালা বয়ে গেছে' এর মতো এগুলো স্থানবাচক বিশেষ্য হিসেবে স্থান উল্লেখ করে ভেতরের বস্তু বোঝানোর রূপক হতে বাধা কোথায়? আমি বলব, 'মাশরাব' শব্দটি মাসদারে মিমি এবং ইসমে মাকান (স্থানবাচক) উভয়ই হতে পারে, তাই উভয় অর্থই সঠিক। তবে কুফীরা যা বলেছে তা বহুল প্রচলিত। আর 'মারকাব' শব্দটি মাফ'উল (কর্ম) অর্থবাচক মাসদার ছাড়া আর কিছুই হয় না, এমনকি এটি আরোহণের বস্তুর নাম হিসেবেই পরিগণিত হয়। তাই এটি 'নদী প্রবাহিত হয়েছে'-এর পর্যায়ভুক্ত হবে না। তবে উত্তরের ক্ষেত্রে উত্তম হলো এটি বলা যে, 'মাশরাব' এবং 'মারকাব' শব্দ দুটি 'মাশরুব' এবং 'মারকুব' অর্থে হওয়ার কারণে এটি আবশ্যক হয় না যে, মাসদার শব্দটিও 'মাসদুরে বিহি' অর্থে হবে কেবল তাদের ওজনে সমতা থাকার কারণে—এটি স্পষ্ট। বরং এই দুটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সেগুলো কর্মবাচক (মাফ'উল) অর্থে হওয়া আবশ্যক নয়; কারণ এটি বলা সম্ভব যে, এটি এমন পানি যার 'মাশরাব' (পান করা) সহজ, অর্থাৎ পান করা অর্থে ব্যবহৃত। তবুও আমরা এই দুটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা মেনে নিচ্ছি না। তদুপরি, এটি 'নদী প্রবাহিত হয়েছে' এর মতো রূপক হওয়াও সম্ভব। গ্রন্থকার (মুসান্নিফ) যখন উল্লেখ করলেন যে, সরফবিদদের জন্য ওজনের জ্ঞান অর্জনে প্রতিটি মাসদার থেকে নয়টি জিনিসের ব্যুৎপত্তি জানা আবশ্যক, তখন তার ওপর দুটি বিষয় ওয়াজিব হয়ে গেল: ব্যুৎপত্তির ক্ষেত্রে মাসদারের মৌলিকত্ব বর্ণনা করা এবং মাসদারের গঠন ও প্রকারভেদ বর্ণনা করা। প্রথমটি থেকে অবসর হওয়ার পর তিনি দ্বিতীয়টি শুরু করে বললেন:
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌[شرح ديكنقوز]

والنزاع في أن وضعه غير مقدم على وضع الفعل فأين أحد المتقدمين من الآخر، وأيضا ينتقض نحو ضربت زيدا وبزيد ولم يضرب، فإنه لا دليل فيها على أن وضع العامل قبل وضع المعمول ولما بين أصالة المصدر وزيف أدلة المخالف جرى في ذكر الأوزان على تقديم الأصل فقال "ومصدر الثلاثي كثير" مختلف فيه "وعند سيبويه" أي ما ذكره سيبويه منه "يرتقي إلى اثنين وثلاثين بابا" أي بناء وضبطه أن تقول عينه إما ساكن أو متحرك، فإن كان ساكنا فأما أن يكون بزيادة شيء أو لم يكن، فإن لم يكن بزيادة شيء فالفاء منه إما مفتوح أو مكسور أو مضموم "نحو قتل وفسق وشغل" وإن كان بزيادة شيء فتلك الزيادة إما تاء أو ألف أو ألف ونون وعلى التقادير فالفاء إما مفتوح أو مكسور أو مضموم، فالحاصل من ضرب الثلاثة في الثلاثة تسعة وهي نحو "رحمة ونشدة وكدرة ودعوى وذكرى وبشرى وليان وحرمان وغفران و" أردف ذلك بقوله "نزوان" لأن المصدر المتحرك العين مزيدا في آخره ألف ونون لم يجئ إلا على هذا البناء فذكره هنا للمناسبة مع ليان في فتح الفاء وزيادة الألف والنون هذا إذا كان العين ساكنا، وإن كان متحركا فأما أن يكون بزيادة شيء أولا فإن كان الثاني فالفاء إما مفتوح أو مكسور أو مضموم فإن كان مفتوحا فعينه إما مفتوح "و" ذلك نحو "طلب" ومكسور "و" ذلك نحو "خنق" ولم يجئ مضموم العين منه بالاستقراء "و" إن كان مسكورا فهو مفتوح العين ليس إلا لكراهة توالي الكسرتين أو لكراهة الانتقال من الكسرة إلى الضمة نحو "صغرو" إن كان مضموما فهو مفتوح العين أيضا ليس إلا لكراهة توالي الضمتين أو لكراهة الانتقال من الضمة إلى الكسرة نحو "هدى" وإن كان الأول فالزيادة فيه إما أن تكون تاء التأنيث فقط أو لا، فعلى الأول فالفاء إما مفتوح أو مكسور أو مضموم بحسب القسمة لكن لم يجئ منه إلا مفتوح الفاء بالاستقراء "و" عينه إما مفتوح نحو "غلبة" أو مكسور "و" ذلك نحو "سرقة" ولم يجئ منه مضموم العين بالاستقراء وعلى الثاني فإما معها زيادة أخرى أو لا، فإن لم تكن فالفاء إما مفتوح "و" ذلك نحو "ذهاب" أو مكسور "و" ذلك نحو "صراف" أو مضموم "و" ذلك نحو "سؤال" وإن كان معها زيادة أخرى فتلك الزيادة إما تاء فقط أو التاء والياء فإن كانت التاء فقط فالفاء إما مفتوح "و" ذلك نحو "زهادة" أو مكسور "و" ذلك نحو "دراية" أو مضموم كبغاية ودعابة ولم يذكره سيبويه لقلته

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"ومصدر الثلاثي" أي المجرد "كثير" أي سماعي لا ضبط له وأما مصدر غير الثلاثي المجرد فله ضبط وقياس سنبينه إن شاء الله تعالى، وقوله: "وعند سيبويه يرتقي" ذلك المصدر "إلى اثنين وثلاثين بابا" أي وزنا مستثنى في المعنى من قوله كثير فكأنه قال: ومصدر الثلاثي المجرد سماعي لا ضبطه ولا ترتقي أوزانه إلى عدد معين عند جميع الصرفيين إلا عند سيبويه فإن ما ذكره نوع من الضبط قيل إن المصادر الثلاثية عند سيبويه أربعة وثلاثون بابا المذكورة وبغاية وكراهية، لكن تركهما المصنف لقلتهما ووجه الضبط أن المصدر عنيه إما ساكن أو متحرك والساكن إما أن لا يزاد فيه شيء أو يزاد تاء التأنيث أو ألف التأنيث أو الألف والنون المشبهتان بهما، وعلى التقادير الأربعة إما مفتوح الفاء أو مكسوره أو مضمومه فما حصل من ضرب الأربعة في الثلاثة الذي هو اثني عشر مذكور على الترتيب المذكور "نحو قتل" من باب الأول "وفسق" من باب الأول "وشغل" من باب الثالث "ورحمة" من باب الرابع "ونشدة" من باب الأول يقال نشد "الضالة أي طلبها "وكدرة من باب الرابع الكدرة ضد الصفو "ودعوى" من باب الأول "وذكرى" من باب الأول وهو ضد النسيان "وبشرى" من باب الأول وهي البشارة "وليان" من باب الثاني مصدر لوى يلوى أصله لويان قلبت الواو ياء وأدغم لاجتماعهما وسبق حداهما بالسكون يقال لوى الحبل أي فتله "وحرمان" مصدر بمعنى منع "وغفران" وهما من باب الثاني وأردف بقوله "وتروان" في باب ذلك الأول بفتحات مصدر نزا بمعنى وثب؛ لأن المصدر المتحرك العين زيد في آخره ألف ونون لم يجئ إلا هذا البناء فذكره هنا للمناسبة مع ليان هذا إذا كان العين ساكنا "و" أما إذا كان متحركات فهو إما مفتوح ولا يزاد فيه شيء فهو إما مفتوح الفاء نحو "طلب" من باب الأول "و" إما مكسورة نحو "صغر" من باب الخامس "و" أما مضمومه نحو "هدى" من باب الثاني "و" إما مكسوره ولا يزاد فيه شيء ولم يجئ منه غير مفتوح الفاء نحو "خنق" من باب الأول، والمصنف قدمه على صغر وهدى لقلة وقوعهما، وإما مضموم ولا يزاد فيه شيء ولم يجئ منه شيء هذا إذا كان العين متحركات ولم يزد فيه شيء "و" أما إذا كان متحركا وزيد فيه شيء، فالعين فيه حينئذ ما مفتوح ويزاد فيه التاء ولم يجئ منه أيضا غير مفتوح الفاء نحو "غلبة" من باب الثاني "و" إما مكسور ويزاد فيه التاء ولم يجئ منه غير مفتوح الفاء نحو "سرقة" من باب الثاني "و" إما مفتوح يزاد فيه الألف هو إما مفتوح الفاء نحو "ذهاب" من باب الثالث "و" إما مكسورة نحو "صراف" من باب الثاني "و" إما مضمومه نحو "سؤال" من باب الثالث "و" إما مفتوح ويزاد فيه الألف والتاء وهو أيضا إما مفتوح الفاء نحو "زهادة" من باب الرابع وهو الزهد وهو ضد الرغبة "و" إما مكسوره نحو "دراية" من باب الثاني ولم يجئ مضمومه.
‌‌[শরহ দিকনুকুয]

আর বিতর্ক এই বিষয়ে যে, বিশেষ্যের গঠন ক্রিয়ার গঠনের অগ্রবর্তী নয়, সুতরাং এদের একটি অন্যটির ওপর অগ্রগণ্য হওয়ার অবকাশ কোথায়? এছাড়া ‘আমি জায়েদকে মেরেছি’ (জারাবতু জাইদান), ‘জায়েদের মাধ্যমে’ (বি জাইদিন) এবং ‘সে মারেনি’ (লাম ইয়াদরিব)—এ জাতীয় উদাহরণগুলোর মাধ্যমেও বিষয়টি খণ্ডিত হয়; কারণ এতে কোনো প্রমাণ নেই যে আমেল-এর (প্রভাব বিস্তারকারী) গঠন মামুল-এর (প্রভাব গ্রহণকারী) গঠনের আগে হয়েছে। যখন মাসদারের (ক্রিয়ামূল) মৌলিকত্ব এবং বিরোধীদের দলিলের অসারতা স্পষ্ট হলো, তখন তিনি ওজ়নসমূহের (গঠনকাঠামো) বর্ণনায় মূল বিষয়টি আগে উল্লেখ করতে গিয়ে বললেন, “তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার মাসদার অনেক।” এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। “এবং সিবওয়াইহ-এর মতে”—অর্থাৎ সিবওয়াইহ মাসদারের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা— “বত্রিশটি অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছে।” অর্থাৎ বত্রিশটি গঠনকাঠামো। এর বিন্যাস পদ্ধতি হলো এই যে, আপনি বলবেন এর আইন বর্ণ (দ্বিতীয় অক্ষর) হয় সাকিন (স্থির) হবে অথবা মুতাহাররিক (স্বরযুক্ত) হবে। যদি সাকিন হয়, তবে তাতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকবে অথবা থাকবে না। যদি কোনো অতিরিক্ত বর্ণ না থাকে, তবে এর ফা বর্ণটি (প্রথম অক্ষর) হয় ফাতহাযুক্ত (জবর), অথবা কাসরাযুক্ত (যের), অথবা যম্মাযুক্ত (পেশ) হবে। “যেমন: ক্বাতলুন (হত্যা করা), ফিসকুন (পাপাচার) এবং শুগলুন (ব্যস্ততা)।” আর যদি কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকে, তবে সেই অতিরিক্ত বর্ণটি হয় ‘তা’, অথবা ‘আলিফ’, অথবা ‘আলিফ ও নূন’ হবে। সকল সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ফা বর্ণটি হয় ফাতহা, কাসরা বা যম্মাযুক্ত হবে। ফলে তিনকে তিন দিয়ে গুণ করলে প্রাপ্ত ফলাফল নয়টি; সেগুলো হলো: “রাহমাতুন (দয়া), নিশদাতুন (খোঁজা), কুদরাতুন (অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়া), দাওয়া (দাবি), যিকরা (স্মরণ), বুশরা (সুসংবাদ), লিয়ানুন (নমনীয়তা), হিরমানুন (বঞ্চিত হওয়া), গুফরানুন (ক্ষমা) এবং” এর সাথে তিনি যুক্ত করেছেন “নাযাওয়ানুন (লাফানো)”। কারণ আইন বর্ণ মুতাহাররিক এবং শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নূন যুক্ত মাসদার কেবল এই কাঠামোতেই এসেছে। তাই ফা বর্ণের ফাতহা এবং আলিফ ও নূনের আধিক্যের কারণে ‘লিয়ানুন’-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে তিনি এটি এখানে উল্লেখ করেছেন। এটি হলো আইন বর্ণ সাকিন হওয়ার সুরত। আর যদি আইন বর্ণ মুতাহাররিক হয়, তবে তাতে অতিরিক্ত বর্ণ থাকবে অথবা থাকবে না। যদি দ্বিতীয়টি হয় (অর্থাৎ অতিরিক্ত বর্ণ না থাকে), তবে ফা বর্ণটি হয় ফাতহা, কাসরা বা যম্মাযুক্ত হবে। যদি ফা বর্ণ ফাতহাযুক্ত হয়, তবে এর আইন বর্ণ হয় ফাতহাযুক্ত হবে “এবং” তা “তালাবুন” (খোঁজা)-এর মতো; অথবা কাসরাযুক্ত হবে “এবং” তা “খানাকুন” (শ্বাসরোধ)-এর মতো। আর গবেষণালব্ধ তথ্যানুযায়ী এর আইন বর্ণ যম্মাযুক্ত হিসেবে পাওয়া যায়নি। “এবং” যদি ফা বর্ণটি কাসরাযুক্ত হয়, তবে আইন বর্ণ কেবল ফাতহাযুক্তই হবে; এটি দুটি কাসরার পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার অথবা কাসরা থেকে যম্মার দিকে স্থানান্তর অপছন্দ করার কারণে। যেমন: “সিগারুন” (ছোট হওয়া)। “এবং” যদি ফা বর্ণটি যম্মাযুক্ত হয়, তবে আইন বর্ণও কেবল ফাতহাযুক্তই হবে; এটি দুটি যম্মার পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার অথবা যম্মা থেকে কাসরার দিকে স্থানান্তর অপছন্দ করার কারণে। যেমন: “হুদান” (পথপ্রদর্শন)। আর যদি প্রথমটি হয় (অর্থাৎ অতিরিক্ত বর্ণ থাকে), তবে সেই অতিরিক্ত বর্ণটি হয় কেবল গোল ‘তা’ হবে অথবা অন্য কিছু হবে। প্রথম সুরতে ফা বর্ণটি বিভাজন অনুযায়ী ফাতহা, কাসরা বা যম্মাযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও অনুসন্ধান অনুযায়ী কেবল ফাতহা বিশিষ্ট ফা বর্ণই পাওয়া গেছে। “এবং” এর আইন বর্ণ হয় ফাতহাযুক্ত হবে যেমন: “গালাবাতুন” (বিজয়), অথবা কাসরাযুক্ত হবে “এবং” তা “সারিক্বাতুন” (চুরি)-এর মতো। তবে গবেষণায় এর আইন বর্ণ যম্মাযুক্ত পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় সুরতে ‘তা’-এর সাথে অন্য কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকবে অথবা থাকবে না। যদি না থাকে, তবে ফা বর্ণটি হয় ফাতহাযুক্ত হবে “এবং” তা “যাহাবুন” (প্রস্থান)-এর মতো, অথবা কাসরাযুক্ত হবে “এবং” তা “সিরাফুন” (ব্যয়)-এর মতো, অথবা যম্মাযুক্ত হবে “এবং” তা “সুয়ালুন” (জিজ্ঞাসা)-এর মতো। আর যদি সাথে অন্য অতিরিক্ত বর্ণ থাকে, তবে সেই অতিরিক্ত বর্ণটি হয় কেবল ‘তা’ হবে অথবা ‘তা’ ও ‘ইয়া’। যদি কেবল ‘তা’ হয়, তবে ফা বর্ণটি হয় ফাতহাযুক্ত হবে “এবং” তা “যাহাদাতুন” (বিরাগ)-এর মতো, অথবা কাসরাযুক্ত হবে “এবং” তা “দিরায়াতুন” (জ্ঞান)-এর মতো, অথবা যম্মাযুক্ত হবে যেমন “বুগায়াতুন” ও “দুয়াবাতুন”। সিবওয়াইহ এগুলি স্বল্পতার কারণে উল্লেখ করেননি।

--------------------------------------------

‌‌ইবনে কামাল পাশার [আল-ফালাহ শারহুল মারাহ]

“তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার মাসদার”—অর্থাৎ মুজাররাদ (অতিরিক্ত বর্ণহীন)— “অনেক”, অর্থাৎ এগুলো শ্রবণনির্ভর (সামায়ী), এর কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। পক্ষান্তরে মুজাররাদ তিন অক্ষরবিশিষ্ট ব্যতীত অন্য ক্রিয়ার মাসদারের নির্দিষ্ট নিয়ম ও কিয়াস রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ আমরা পরে বর্ণনা করব। এবং তার উক্তি: “সিবওয়াইহ-এর নিকট তা পৌঁছেছে”—অর্থাৎ সেই মাসদারসমূহ— “বত্রিশটি অধ্যায় পর্যন্ত”, অর্থাৎ বত্রিশটি ওজ়ন; যা মূলত ‘অনেক’ কথাটি থেকে অর্থগতভাবে একটি ব্যতিক্রম। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: তিন অক্ষরবিশিষ্ট মৌলিক ক্রিয়ার মাসদার সামায়ী, এর কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই এবং সমস্ত ভাষাবিদদের মতে এর ওজ়ন কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়, কেবল সিবওয়াইহ ছাড়া। কেননা সিবওয়াইহ যা উল্লেখ করেছেন তা এক প্রকারের শৃঙ্খলিত বিন্যাস। বলা হয়ে থাকে যে, সিবওয়াইহ-এর মতে তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার মাসদার হলো চৌত্রিশটি; যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে এবং সাথে ‘বুগয়াহ’ ও ‘কারাহিয়াহ’। কিন্তু গ্রন্থকার স্বল্প ব্যবহারের কারণে এই দুটি বর্জন করেছেন। বিন্যাসের পদ্ধতি হলো, মাসদারের আইন বর্ণ হয় সাকিন হবে অথবা মুতাহাররিক হবে। সাকিন হলে হয় তাতে কিছু অতিরিক্ত থাকবে না, অথবা গোল ‘তা’, অথবা আলিফে মাকসুরা, অথবা এগুলোর সদৃশ আলিফ ও নূন যুক্ত হবে। এই চার সুরতের প্রতিটিতে ফা বর্ণ হয় ফাতহা, কাসরা বা যম্মাযুক্ত হবে। ফলে চারের সাথে তিনের গুণফলে প্রাপ্ত বারোটি রূপ ক্রমানুসারে উল্লিখিত হয়েছে। “যেমন: ক্বাতলুন” প্রথম প্রকার থেকে, “ফিসকুন” প্রথম প্রকার থেকে, “শুগলুন” তৃতীয় প্রকার থেকে, “রাহমাতুন” চতুর্থ প্রকার থেকে, “নিশদাতুন” প্রথম প্রকার থেকে। বলা হয় ‘নাশাদ্দাদ দাল্লাতাহ’ অর্থাৎ সে হারানো বস্তু খুঁজল। “কুদরাতুন” চতুর্থ প্রকার থেকে, এটি স্বচ্ছতার বিপরীত। “দাওয়া” প্রথম প্রকার থেকে। “যিকরা” প্রথম প্রকার থেকে, এটি বিস্মৃতির বিপরীত। “বুশরা” প্রথম প্রকার থেকে, যা সুসংবাদ। “লিয়ানুন” দ্বিতীয় প্রকার থেকে, এটি ‘লাওয়া ইয়াওয়ী’ এর মাসদার, মূলত এটি ছিল ‘লাইয়ানুন’, এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘ইয়া’ হয়ে গেছে এবং দুটি ‘ইয়া’ একত্রিত হওয়ায় একটিকে অন্যটির সাথে সন্ধি (ইদগাম) করা হয়েছে যেহেতু প্রথমটি সাকিন ছিল। বলা হয় সে রশি পাকিয়েছে। “হিরমানুন” এটি বাধা প্রদান করা অর্থে মাসদার এবং “গুফরানুন”; এ দুটি দ্বিতীয় প্রকার থেকে। এবং তিনি এর সাথে যুক্ত করেছেন “নাযাওয়ানুন”, যা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং আইন বর্ণে ফাতহা বিশিষ্ট; এটি ‘নাযা’ থেকে মাসদার যার অর্থ লাফানো। কারণ আইন বর্ণ মুতাহাররিক এবং শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নূন যুক্ত মাসদার কেবল এই কাঠামোতেই এসেছে। তাই ‘লিয়ানুন’-এর সাথে মিল রেখে তিনি এটি এখানে উল্লেখ করেছেন। এগুলো আইন বর্ণ সাকিন হওয়ার ক্ষেত্রে। “আর” যদি তা মুতাহাররিক হয়, তবে হয় তা ফাতহাযুক্ত হবে এবং তাতে অতিরিক্ত কিছু থাকবে না। তখন তার ফা বর্ণ হয় ফাতহাযুক্ত হবে যেমন “তালাবুন” প্রথম প্রকার থেকে। “এবং” অথবা ফা বর্ণ কাসরাযুক্ত হবে যেমন “সিগারুন” পঞ্চম প্রকার থেকে। “এবং” অথবা ফা বর্ণ যম্মাযুক্ত হবে যেমন “হুদান” দ্বিতীয় প্রকার থেকে। “এবং” যদি আইন বর্ণ কাসরাযুক্ত হয় এবং অতিরিক্ত কিছু না থাকে, তবে তাতে কেবল ফা বর্ণের ফাতহা পাওয়া যায় যেমন “খানাকুন” প্রথম প্রকার থেকে। গ্রন্থকার একে ‘সিগার’ ও ‘হুদা’র আগে উল্লেখ করেছেন কারণ এগুলোর ব্যবহার কম। আর যদি আইন বর্ণ যম্মাযুক্ত হয় এবং অতিরিক্ত কিছু না থাকে, তবে এমন কোনো রূপ পাওয়া যায় না। এটি হলো আইন বর্ণ মুতাহাররিক হওয়া এবং অতিরিক্ত কিছু না থাকার অবস্থা। “আর” যদি আইন বর্ণ মুতাহাররিক হয় এবং কিছু অতিরিক্ত থাকে, তবে আইন বর্ণ তখন হয় ফাতহাযুক্ত হবে এবং তাতে ‘তা’ অতিরিক্ত হবে। এক্ষেত্রেও ফা বর্ণ কেবল ফাতহাযুক্তই পাওয়া যায় যেমন “গালাবাতুন” দ্বিতীয় প্রকার থেকে। “এবং” অথবা আইন বর্ণ কাসরাযুক্ত হবে এবং ‘তা’ অতিরিক্ত হবে। এতেও ফা বর্ণ কেবল ফাতহাযুক্ত হয় যেমন “সারিক্বাতুন” দ্বিতীয় প্রকার থেকে। “এবং” অথবা আইন বর্ণ ফাতহাযুক্ত হবে এবং আলিফ অতিরিক্ত হবে। তখন ফা বর্ণ হয় ফাতহাযুক্ত হবে যেমন “যাহাবুন” তৃতীয় প্রকার থেকে। “এবং” অথবা কাসরাযুক্ত হবে যেমন “সিরাফুন” দ্বিতীয় প্রকার থেকে। “এবং” অথবা যম্মাযুক্ত হবে যেমন “সুয়ালুন” তৃতীয় প্রকার থেকে। “এবং” অথবা আইন বর্ণ ফাতহাযুক্ত হবে এবং আলিফ ও ‘তা’ অতিরিক্ত হবে। সেক্ষেত্রেও ফা বর্ণ হয় ফাতহাযুক্ত হবে যেমন “যাহাদাতুন” চতুর্থ প্রকার থেকে; এটি ‘যুহদ’ থেকে আগত যা আগ্রহের বিপরীত। “এবং” অথবা ফা বর্ণ কাসরাযুক্ত হবে যেমন “দিরায়াতুন” দ্বিতীয় প্রকার থেকে। আর যম্মাযুক্ত ফা বর্ণের উদাহরণ পাওয়া যায়নি।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌[شرح ديكنقوز]

وإن كانت التاء والياء فالفاء مفتوح لا غير بالاستقراء نحو كراهية ولم يذكره أيضا لقلته هذا إذا كانت المدة الألف وإن كانت الواو فإما معها زيادة أخرى أولا فإن لم يكن فالفاء إما مضموم "و" ذلك نحو "دخول" أو مفتوح "و" ذلك نحو "قبول" وأخر مفتوح الفاء لقلته حتى لم يسمع له ثان، ولم يجئ منه مكسور الفاء لثقل الانتقال من الكسرة إلى الضمة وإن كانت معها زيادة فتلك الزيادة هي التاء بالاستقراء، ولم يجئ منه إلا مضموم العين كصهوبة وإن كانت المدة، فلم يجئ مما يقتضيه القسمة إلا مفتوح الفاء من غير زيادة شيء آخر "و" ذلك نحو "وجيف" وإنما أخر نحو "صهوبة" مع أن المناسب ذكره مع دخول إذ هو مما فيه المدة واو نظرا إلى قلته بالنسبة إلى المتقدم ونظرا إلى أن معه زيادة أخر. والحاصل أن لو جيف مناسبة لدخول من جهة عدم الزيادة على المدة وأن لصهوبة مناسبة له من حيث إن المدة واو ورجح وجيف بالكسرة بالنسبة إلى صهوبة وقدم "و" إن كان فيه مكسور نحو "مدخل ومرجح" على الشذوذ وإما مصموم العين منه نحو مكرم ومعون فنادر ولذا لم يذكره حتى جعلهما الفراء جمعين لمكرمة ومعونة اسمين على حد تمرة وتمر استبعاد المجيء المصدر على هذا الوزن وعلى الأول فتلك الزيادة هي التاء لا غير بحكم الاستقراء "و" العين إما مفتوح نحو "مسعاة" أو مكسور "و" ذلك نحو "محمدة" وهو شاذ وإنما ذكر المصدر الميمي مع غير الميمي، مع أن الأول قياسي والثاني سماعي نظرا إلى أن الميمي أيضا مرتبة من مراتب الاختلاف وإن كان قياسيا في نفسه؛ إذ المقصود بيان اختلاف أبنية مصادر الثلاثي المجرد كما أشرنا إليه مع أنه لم يترك الإشارة إلى أنه ليس مثله حيث ذكره بعده ولم يخلط به "ويجيء" المصدر "على وزن اسمي الفاعل والمفعول" إلا أنه مجيئه على وزن اسم الفاعل أقل من مجيئه على وزن اسم المفعول، فالأول "نحو قمت قائما" أي قياما وقوله ولا خارجا من في زور كلام أي خروجا، وقوله: كفى بالنأى من أسماء كاف. أي كفاية ومنه أفضل فاضلة أي إفضالا وعافاه الله عافية أي معافاة وعقب فلان مكان أبيه عاقبة أي عقبا وقوله تعالى: {فَهَلْ تَرَى لَهُمْ مِنْ بَاقِيَةٍ} أي بقاء وقوله تعالى:

{لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ} أي كذب والدالة أي الدلال بمعنى الغنج "و" الثاني "نحو قوله تعالى: {بِأَيِّيكُمُ الْمَفْتُونُ} " أي الفتنة إذا كان الباء غير زائد، وأما إذا كان زائدا فهو بمعنى المفعول ونحو قولهم: دعه إلى ميسوره أو إلى معسوره أي إلى يسره وإلى عسره والمرفوع والموضوع والمعقول والمجلود بمعنى الرفع والوضع والعقل والجلادة ومنه المكروهة والمصدوقة والمخلوف أي الكراهة والصدق والخلف. واعلم أن استعمال وزني اسم الفاعل والمفعول في معنى المصدر بالاشتراك فهما فيه حقيقة كما يفصح عنه قوله ويجيء على وزن إلخ، وإلا فالواجب أن يقول ويستعمل في معنى اسم الفاعل إلخ، ولذلك قصر على السماع بخلاف استعمال وزن المصدر في معنى الفاعل والمفعول في نحو رجل عدل بمعنى عادل ونسج اليمن بمعنى منسوجه فإنه مجاز، ولذلك لا يقصر على

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"و" إما مضموم ويزاد فيه الواو أو هو أيضا إما مضموم نحو "دخول" من باب الأول "و" إما مفتوح الفاء نحو "قبول" من باب الرابع أخره لقلته، ولم يجئ منه مكسوره "و" إما مكسوره ويزاد فيه الياء، ولم يجئ منه غير مفتوح الفاء نحو وجيف من باب الثاني مصدر وجف بمعنى اضطرب "و" إما مضموم يزاد فيه الواو والتاء، ولم يجئ منه غير مضموم الفاء نحو "صهوبة" من باب الخامس وهي الحمرة في شعر الرأس "و" إما مفتوح ويزاد فيه الميم، ولم يجئ منه أيضا غير مفتوح الميم نحو "مدخل" من باب الأول "و" إما مكسور ويزاد فيه الميم، ولم يجئ منه أيضا غير مفتوح الميم نحو "مرجع" من باب الثاني "و" إما مكسور ويزاد فيه الميم والتاء، ولم يجئ منه غير مفتوح الميم نحو "مسعاة" من باب الثالث من السعي أصله مسعية قلبت الياء ألفا لتحركها وانفتاح ما قبلها. قال في مختار الصحاح: المسعاة واحدة المساعي في الكرم والجود "و" إما مكسور ويزاد فيه الميم والتاء، ولم يجئ منه غير مفتوح الميم نحو "محمدة" من باب الرابع "ويجيء المصدر" من الثلاثي المجرد "على وزن اسم الفاعل و" على وزن اسم "المفعول" أي يتحد وزنه ووزنها وإن كان مصدرا حقيقة "نحو قمت قائما" فقائما مصدر بمعنى قيام وإن كان وزنه وزن اسم الفاعل لا أنه فاعل حقيقة يراد به معنى المصدر كما يذكر المصدر ويراد به الفاعل نحو رجل عدل أي عادل، "ونحو قوله تعالى: {بِأَيِّيكُمُ الْمَفْتُونُ} " فالمفتون مصدر بمعنى الفتنة على تقدير عدم زيادة التاء، وإن كان وزنه وزن المفعول لا أنه مفعول حقيقة يراد به معنى المصدر، كما يذكر ويراد به المفعول نحو قوله تعالى: {هَذَا خَلْقُ اللَّهِ} أي مخلوقه هذا عند غير سيبويه، وأما هو فلم يجوز مجيء المصدر بوزن المفعول، قال في مختار الصحاح: المفتون الفتنة وهو مصدر كالمعقول والمخلوق، وقال: المعقول مصدر عقل، وقال سيبويه: هو صفة وقال: إن المصدر لا يأتي على وزن مفعول ألبتة. ا. هـ. ومنهم من ظن وبعض الظن إثم أن معنى قوله: ويجيء المصدر على وزن اسم الفاعل والمفعول أن الفاعل والمفعول يذكران ويراد بهما المصدر كما يذكر ويراد به الفاعل والمفعول كما في رجل عدل أي عادل وهذا خلق الله أي مخلوقه، وأنت خبير بأن هذا المعنى لا يفهم من عبارة الكتاب وأنه لا يناسب المقام مع أن المثال المذكور خلاف ما ثبت في اللغة على ظنهم ويثبت الله الذين آمنوا بالقول الثابت
[শারহ দিকনুফুজ]

আর যদি তায়া (ت) এবং ইয়া (ي) থাকে, তবে গবেষণালব্ধ অনুসন্ধান (ইস্তিকরা) অনুযায়ী ফা-মূলবর্ণটি কেবল ফাতহা (জবর) যুক্ত হবে, যেমন ‘কারাহিয়্যাহ’। স্বল্পতার কারণে এটিও তিনি উল্লেখ করেননি। এটি তখনই হবে যখন দীর্ঘ স্বরবর্ণটি আলিফ হয়। আর যদি সেটি ওয়াও হয়, তবে তার সাথে অন্য কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকবে অথবা থাকবে না। যদি অতিরিক্ত বর্ণ না থাকে, তবে ফা-মূলবর্ণটি হয় দাম্মা (পেশ) যুক্ত হবে যেমন ‘দুখুল’ (প্রবেশ), অথবা ফাতহা (জবর) যুক্ত হবে যেমন ‘ক্ববুল’ (গ্রহণ)। ফাতহা যুক্ত ফা-মূলবর্ণকে শেষে উল্লেখ করা হয়েছে এর স্বল্পতার কারণে, এমনকি এর দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ শোনা যায়নি। আর এর ফা-মূলবর্ণটি কাসরা (জের) যুক্ত হয়ে আসে না, কারণ কাসরা থেকে দাম্মার দিকে স্থানান্তর হওয়া কষ্টসাধ্য। আর যদি এর সাথে অতিরিক্ত বর্ণ থাকে, তবে গবেষণালব্ধ অনুসন্ধান অনুযায়ী সেই অতিরিক্ত বর্ণটি হলো তায়া; এক্ষেত্রে আইন-মূলবর্ণটি কেবল দাম্মা যুক্ত হয়েই আসে, যেমন ‘সাহুবাহ’ (চুলের লালচে ভাব)। আর যদি দীর্ঘ স্বরবর্ণটি ইয়া হয়, তবে বিভাজন অনুযায়ী যা পাওয়া যায় তা হলো ফা-মূলবর্ণটি কেবল ফাতহা হবে এবং অন্য কিছু অতিরিক্ত হবে না, যেমন ‘ওয়াজিফ’ (উদ্বেগ)। ‘সাহুবাহ’-এর আলোচনাকে পরে আনা হয়েছে যদিও ‘দুখুল’-এর সাথে এটি উল্লেখ করা অধিক সঙ্গত ছিল—যেহেতু উভয়ের দীর্ঘ স্বরবর্ণটি ওয়াও—তার কারণ হলো পূর্বোক্তটির তুলনায় এর স্বল্পতা এবং এর সাথে অন্য অতিরিক্ত বর্ণ থাকা। সারকথা হলো, দীর্ঘ স্বরবর্ণের অতিরিক্ত কিছু না থাকার দিক থেকে ‘ওয়াজিফ’ শব্দটির ‘দুখুল’-এর সাথে মিল রয়েছে, আর দীর্ঘ স্বরবর্ণ ওয়াও হওয়ার দিক থেকে ‘সাহুবাহ’-এর সাথে মিল রয়েছে। তবে ‘সাহুবাহ’-এর তুলনায় ‘ওয়াজিফ’-কে কাসরার কারণে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর মিম যুক্ত মাসদার (মাসদারে মিমি) যদি কাসরা যুক্ত ফা-মূলবর্ণের হয়, যেমন শায বা নিয়মবহির্ভূত হিসেবে ‘মাদখাল’ ও ‘মারজি’ শব্দদ্বয়কে আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যার আইন-মূলবর্ণ দাম্মা যুক্ত, যেমন ‘মাকরুম’ ও ‘মাঊন’, তা অত্যন্ত বিরল। এই কারণেই লেখক এটি উল্লেখ করেননি, এমনকি আল-ফাররা এই শব্দ দুটিকে ‘মাকরুমাহ’ ও ‘মাঊনাহ’-এর বহুবচন হিসেবে গণ্য করেছেন—যেমন ‘তামরাহ’ ও ‘তামর’—কারণ এই ওজনে মাসদার আসাকে তিনি দূরবর্তী মনে করেছেন। আর প্রথম প্রকার অনুযায়ী সেই অতিরিক্ত বর্ণটি গবেষণালব্ধ অনুসন্ধান অনুযায়ী কেবল তায়া-ই হবে; এক্ষেত্রে আইন-মূলবর্ণটি হয় ফাতহা যুক্ত হবে যেমন ‘মাসআহ’, অথবা কাসরা যুক্ত হবে যেমন ‘মাহমাদাহ’, যা শায বা বিরল। মিম যুক্ত মাসদারকে মিমহীন মাসদারের সাথে উল্লেখ করার কারণ হলো—যদিও প্রথমটি নিয়মানুগ (ক্বিয়াসি) এবং দ্বিতীয়টি শ্রুতিনির্ভর (সামাঈ)—মিম যুক্ত মাসদারটিও রূপান্তরের বিভিন্ন স্তরের একটি স্তর, যদিও তা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে নিয়মানুগ; কেননা উদ্দেশ্য হলো সুলাসী মুজাররাদ (তিন অক্ষরবিশিষ্ট) ক্রিয়ামূলের কাঠামোগত বৈচিত্র্য বর্ণনা করা, যেমনটি আমরা ইশারা করেছি। এর পাশাপাশি এটি যে মিমহীন মাসদারের মতো নয়, সেই ইশারা করতেও লেখক ছাড়েননি, কারণ তিনি এটিকে পরে উল্লেখ করেছেন এবং তার সাথে মিশ্রিত করেননি। আর মাসদার ইসমুল ফাঈল ও ইসমুল মাফঊলের ওজনেও আসে, তবে ইসমুল ফাঈলের ওজনে এর ব্যবহার ইসমুল মাফঊলের ওজনে আসার চেয়ে কম। প্রথমটির উদাহরণ: ‘কুমতু ক্বয়িমান’ অর্থাৎ ‘ক্বিয়ামান’ (আমি দণ্ডায়মান অবস্থায় দাঁড়ালাম বা দাঁড়ানো হিসেবে দাঁড়ালাম)। কবির উক্তি: ‘সে মিথ্যে কথা নিয়ে বের হয়নি’ অর্থাৎ ‘খুরুজান’ (বের হওয়া)। কবির অন্য উক্তি: ‘আসমা নামক নারীর থেকে দূরে থাকাই যথেষ্ট’ অর্থাৎ ‘কিফায়াহ’ (যথেষ্ট হওয়া)। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ‘আফদাল ফাদিলাহ’ অর্থাৎ ‘ইফদাল’ (শ্রেষ্ঠত্ব দান), ‘আফাহুল্লাহু আফিয়াহ’ অর্থাৎ ‘মুআফাত’ (সুস্থতা দান), ‘আক্কাবা ফুলানুন মাকানা আবিহি আক্বিবাহ’ অর্থাৎ ‘উক্ববান’ (স্থলাভিষিক্ত হওয়া)। মহান আল্লাহর বাণী: {তবে কি তুমি তাদের কোনো অস্তিত্ব (বাক্বিয়াহ) দেখতে পাচ্ছ?} অর্থাৎ ‘বাকা’ (অস্তিত্ব বা টিকে থাকা)। মহান আল্লাহর বাণী:

{তার সংঘটনের জন্য কোনো মিথ্যা নেই (কাযিবাহ)} অর্থাৎ ‘কিযব’ (মিথ্যা)। আর ‘দাল্লাহ’ শব্দটির অর্থ ‘দালাল’, যা লাবণ্য বা ন্যাকামি বোঝায়। দ্বিতীয়টি (ইসমুল মাফঊলের ওজন) যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত (মাফতুন)} অর্থাৎ ‘ফিতনাহ’ (পরীক্ষা বা বিকার), যদি ‘বা’ বর্ণটি অতিরিক্ত না হয়। আর যদি তা অতিরিক্ত হয়, তবে তা মাফঊল বা কর্মবাচক অর্থেই হবে। যেমন তাদের উক্তি: ‘তাকে তার সচ্ছলতা (মায়সুর) বা অসচ্ছলতা (মা’সুর) পর্যন্ত ছেড়ে দাও’ অর্থাৎ ‘ইউসর’ ও ‘উসর’। অনুরূপভাবে ‘মারফু’, ‘মাওদু’, ‘মা’কুল’ এবং ‘মাজলুদ’ শব্দগুলো যথাক্রমে ‘রাফ’, ‘ওয়াদ’, ‘আক্বল’ ও ‘জালাদাহ’ (উচ্চতা, স্থাপন, বুদ্ধি ও সহিষ্ণুতা) অর্থে ব্যবহৃত হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো ‘মাকরূহাহ’, ‘মাসদুক্বাহ’ এবং ‘মাখলুফ’, যার অর্থ ‘কারাহিয়্যাহ’, ‘সিদক্ব’ ও ‘খুলফ’ (অপছন্দনীয়তা, সত্যতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ)। জেনে রাখুন যে, ইসমুল ফাঈল ও ইসমুল মাফঊলের ওজনের মাসদারের অর্থে ব্যবহারটি আভিধানিক অংশীদারিত্বের (ইশতিরাক) ভিত্তিতে, তাই এই ওজনে সেগুলো প্রকৃত অর্থেই মাসদার। যেমনটি লেখকের এই বক্তব্য দ্বারা স্পষ্ট হয়: ‘এবং এটি ওজনে আসে ইত্যাদি’। অন্যথায় তার বলা উচিত ছিল: ‘এটি ইসমুল ফাঈলের অর্থে ব্যবহৃত হয় ইত্যাদি’। এই কারণেই এটি কেবল শ্রুতির (সামাঈ) ওপর সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। পক্ষান্তরে মাসদারের ওজনকে ফাঈল বা মাফঊলের অর্থে ব্যবহার করা—যেমন ‘রাজুলুন আদলুন’ অর্থ ‘আদিল’ (ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি) এবং ‘নাসজুল ইয়ামান’ অর্থ ‘মানসুজ’ (ইয়ামানের বোনা কাপড়)—তা রূপক (মাজায)। এই কারণে তা সীমাবদ্ধ রাখা হয় না।

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

অথবা এটি দাম্মা (পেশ) যুক্ত হয় এবং তাতে ওয়াও অতিরিক্ত করা হয়, অথবা এটি প্রথম পরিচ্ছেদ (বাব) থেকে দাম্মা যুক্ত হয় যেমন ‘দুখুল’। অথবা ফা-মূলবর্ণটি ফাতহা যুক্ত হয় যেমন ‘ক্ববুল’, যা চতুর্থ পরিচ্ছেদ থেকে এসেছে; স্বল্পতার কারণে এটিকে শেষে আনা হয়েছে এবং এর কোনো দ্বিতীয় উদাহরণ পাওয়া যায়নি। আর এটি কাসরা যুক্ত হয়ে আসে না। অথবা এটি কাসরা যুক্ত হয় এবং তাতে ইয়া অতিরিক্ত করা হয়; এক্ষেত্রে ফা-মূলবর্ণ ফাতহা ছাড়া অন্য কিছু হয় না, যেমন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ থেকে ‘ওয়াজিফ’, যা ‘ওয়াজাফা’ (বিচলিত হওয়া) ক্রিয়া থেকে আগত মাসদার। অথবা এটি দাম্মা যুক্ত হয় এবং তাতে ওয়াও ও তায়া অতিরিক্ত করা হয়; এক্ষেত্রে ফা-মূলবর্ণ দাম্মা ছাড়া অন্য কিছু হয় না, যেমন পঞ্চম পরিচ্ছেদ থেকে ‘সাহুবাহ’, যার অর্থ মাথার চুলের লালচে ভাব। অথবা এটি ফাতহা যুক্ত হয় এবং তাতে মিম অতিরিক্ত হয়; এক্ষেত্রেও মিমটি ফাতহা ছাড়া অন্য কিছু হয় না, যেমন প্রথম পরিচ্ছেদ থেকে ‘মাদখাল’। অথবা এটি কাসরা যুক্ত হয় এবং তাতে মিম অতিরিক্ত হয়; এক্ষেত্রেও মিমটি ফাতহা ছাড়া অন্য কিছু হয় না, যেমন দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ থেকে ‘মারজি’। অথবা এটি কাসরা যুক্ত হয় এবং তাতে মিম ও তায়া অতিরিক্ত হয়; এক্ষেত্রেও মিমটি ফাতহা ছাড়া অন্য কিছু হয় না, যেমন তৃতীয় পরিচ্ছেদের ‘সাআ’ ক্রিয়া থেকে ‘মাসআহ’; এর মূল ছিল ‘মাসয়িয়াহ’, ইয়া-টি হরকাহযুক্ত এবং তার পূর্ববর্ণ ফাতহা হওয়ায় সেটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। ‘মুখতারুস সিহাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘আল-মাসআহ’ হলো আভিজাত্য ও দানে শ্রেষ্ঠত্বের একক। অথবা এটি কাসরা যুক্ত হয় এবং তাতে মিম ও তায়া অতিরিক্ত হয়; এক্ষেত্রেও মিম ফাতহা ছাড়া অন্য কিছু হয় না, যেমন চতুর্থ পরিচ্ছেদ থেকে ‘মাহমাদাহ’। আর সুলাসী মুজাররাদ থেকে মাসদার ইসমুল ফাঈল ও ইসমুল মাফঊলের ওজনেও আসে। অর্থাৎ এর ওজন এবং সে দুটির ওজন এক হয়ে যায়, যদিও তা প্রকৃতগতভাবে মাসদার। যেমন: ‘কুমতু ক্বয়িমান’ (আমি দাঁড়িয়েছি দণ্ডায়মান হিসেবে); এখানে ‘ক্বয়িমান’ হলো মাসদার যা ‘ক্বিয়ামান’ অর্থে ব্যবহৃত, যদিও এর ওজন ইসমুল ফাঈলের ওজনে। বিষয়টি এমন নয় যে এটি প্রকৃতই ফাঈল বা কর্তা এবং তা দ্বারা মাসদারের অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে—যেমনটি মাসদার উল্লেখ করে ফাঈল বা কর্তা বোঝানো হয়, যেমন ‘রাজুলুন আদলুন’ অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে কে বিকারগ্রস্ত (মাফতুন)}। এখানে ‘মাফতুন’ শব্দটি ‘ফিতনাহ’ অর্থে ব্যবহৃত মাসদার, যদি তায়া অতিরিক্ত না ধরা হয়। যদিও এর ওজন মাফঊলের ওজনে, কিন্তু এটি প্রকৃত মাফঊল বা কর্মবাচক নয় যা দ্বারা মাসদারের অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। যেমন কোনো শব্দ উল্লেখ করে মাফঊল বোঝানো হয়, যেমন আল্লাহর বাণী: {এটি আল্লাহর সৃষ্টি (খালক্ব)} অর্থাৎ তার ‘মাখলুক্ব’ বা সৃষ্ট বস্তু। এটি ইমাম সিবওয়াইহ ব্যতীত অন্যদের মত। সিবওয়াইহ-এর মতে, মাফঊলের ওজনে মাসদার আসা বৈধ নয়। ‘মুখতারুস সিহাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ‘মাফতুন’ মানে ফিতনাহ, আর এটি ‘মা’কুল’ ও ‘মাখলুক্ব’-এর মতো একটি মাসদার। আরও বলা হয়েছে: ‘মা’কুল’ হলো ‘আক্বালা’ ক্রিয়ার মাসদার। কিন্তু সিবওয়াইহ বলেছেন: এটি একটি গুণবাচক শব্দ (সিফাত); মাসদার কখনোই মাফঊলের ওজনে আসে না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ধারণা করেছেন—আর কিছু কিছু ধারণা তো পাপ—যে ‘মাসদার ইসমুল ফাঈল ও মাফঊলের ওজনে আসে’ কথাটির অর্থ হলো, ফাঈল ও মাফঊল উল্লেখ করা হবে কিন্তু তা দ্বারা মাসদার উদ্দেশ্য নেওয়া হবে, যেমন মাসদার উল্লেখ করে ফাঈল ও মাফঊল বোঝানো হয় (রাজুলুন আদলুন ও হাযা খালকুল্লাহ)। আপনি ভালোভাবেই জানেন যে, কিতাবের ইবারত বা বাক্য থেকে এই অর্থ বোঝা যায় না এবং তা এই স্থানের জন্য উপযুক্তও নয়; অধিকন্তু উল্লিখিত উদাহরণটি তাদের ধারণা অনুযায়ী ভাষাতাত্ত্বিকভাবে যা প্রমাণিত তার বিপরীত। আর আল্লাহ মুমিনদের শাশ্বত বা সুদৃঢ় বাণীর ওপর অবিচল রাখেন।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌[شرح ديكنقوز]

استعمال السماع، بل يجوز كل مصدر في معنى اسم الفاعل واسم المفعول إذا قصد فائدة المجاز "ويجيء" المصدر أيضا "للمبالغة" في الفعل والتكثير فيه قياسا مطردا عند سيبويه من الثلاثي المجرد وعند الزمخشري قياسا مطردا في الثلاثي وغيره؛ لأنه قال حين سئل عنه هذا الباب كثير الاستعمال فينبغي أن يكون قياسا ولذلك ذكر في الأمثلة الرميا، وقال: هي الرمي الكثير وهو على ضربين أحدهما التفعال بفتح التاء وسكون الفاء "نحو التهذار" بمعنى الهذر الكثير "والتلعاب" بمعنى اللعب الكثير والترداد والتجوال والتقتال والتسيار للمبالغة للرد والجولان والقتل والسير وثانيهما الفعيلي بكسر الفاء والعين وبتشديده وفتح اللام نحو الحثيثي بمعنى الحث الكثير "والدليلي" بمعنى كثرة العلم بالدلالة والرسوخ فيها والفتيتي بمعنى كثرة النميمة. ولما فرغ من المصدر الثلاث شرع في مصدر غير الثلاثي فقال: "ومصدر" كل واحد من أبواب "غير الثلاثي" رباعيا مجردا كان أو مزيدا فيه أو ثلاثيا مزيدا فيه وسواء كان المصدر ميميا أو غير ميمي "يجيء على سنن" أي طريق "واحد" على حدة ولم يبين أبنية مصادر تلك الأبواب اعتمادا على أساميها في غير الرباعي المجرد وأما فيه فطردا للباب "إلا في كلم" يجيء المصدر "كلاما" على وزن فعالا بكسر الفاء وبتشديد العين على لغة أهل اليمن فإنه قياس لغتهم ولذلك شاع واطرد فعال بمعنى التفعيل في كلام الفصحاء، وفي التنزيل {وَكَذَّبُوا بِآَيَاتِنَا كِذَّابًا} "و" إلا "في قاتل" يجيء "قتالا" بكسر القاف وتخفيف العين "وقيتالا" بالياء على لغة من قال في كلم كلاما فإنه أيضا قياس لغتهم، قال سيبويه في قتال: كأنهم حذفوا الياء التي جاء به أولئك في قيتال، ولذلك قيل إن قتالا فرع قيتالا من حيث إن حروف الفعل ثابتة فيه إلا أن الألف قلبت ياء لانكسار ما قبلها وعكس السكاكي حيث جعل الياء إشباع كسرة الفاء "و" ألا يجيء "في تحمل تحمالا" بكسر التاء والحاء وتشديد الميم فيمن قال كلاما فإنه قياس لغتهم أيضا؛ لأنه كسر الأول وزيد قبل الآخر ألف "و" إلا "في ززلزل" يجيء "زلزالا" بفتح الأول فإنه يجوز في مصدر مضاعف الرباعي المجرد فتح الأول وكسره قياسا مطردا لثقل المضاعف بخلاف صحيحه فإنه بالكسر لا غير، إلا أن الكسر أفصح؛ لأنه أصل. ولما فرغ من بيان أبنية الأصل الذي هو المصدر شرع في بيان أبنية الفرع الذي هو الفعل فقال "الأفعال التي تشتق" على صيغة المبني للمفعول أي تؤخذ "من المصدر" وتستعمل مبنية للفاعل ومبنية للمفعول إما بنفسها أو بزيادة حرف الجر، وإنما لم يقل على مذهب البصريين؛ إشارة إلى أنه الحق فكأنه لا خلاف فيه كما ذكرنا وإنما

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"ويجيء" المصدر "للمبالغة" في الفعل والكثرة فيه على وزن التفعال بفتح الأول وسكون الثاني "نحو التهذار" مبالغة الهذر وهو الهذيان "والتلعاب" أي اللعب الكثير، وكذا الترداد والتجوال بمعنى الرد والجولان، وكذا التعداد والتذكار والتكرار، وأما التبيان والتلقاء بكسر التاء فيهما فشاذان من هذا الوزن كما صرحوا به "و" على وزن فعيلي بكسرتين وتشديد العين "نحو الحثيثي" بكسرتين أي الحث الكثير من الجانبين "والدليلي" مبالغة الدليل، وكذا الرميا تقول كان بينهم رميا أي الترامي الكثير من الجانبين، "والخليفي" قال عمرو رضي الله تعالى عنه زمن خلافته: لولا الخليفي لأذنت أي لولا كثرة الاشتغال بأمر الخلافة والذهول بسببها عن تفقد أوقات الأذان لأذنت، قيل: سئل الزمخشري أهو قياس أم سماعي؟ فقال: هذا الباب كثير الاستعمال فينبغي أن يكون قياسيا، قال سيبويه: أوزان المبالغة لا تجيء إلا من ثلاثي، وأما جمهور الصرفيين فقد جوزوا ذلك مطلقا قيل إن ذكر المصدر للمبالغة استطراد؛ لأن المراد بيان مصدر يشتق منه فعل مشتمل على معناه وزيادة كما يدل عليه السباق والسياق وهو ليس كذلك؛ لأنه ليس في فعله دلالة على هذا التكثير والمبالغة فافهم "ومصدر غير الثلاثي" المجرد "يجيء على سنن" أي طريق "واحد" يعني يجيء قياسا فلكل باب قياس على حدة فتقول مثلا: كل ما كان ماضيه على فعلل فمصدره على فعللة، وكل ما كان ماضه على فعل فأفعال، وكل ما كان ماضيه على فعل فتفعيل، وكل ما كان ماضيه على فاعله فمفاعلة وفعال، وكل ما كان ماضيه افتعل فافتعال وكل ما كان ماضيه فعل فافعلال، وكل ما كان ماضيه تفعل فتفعل، وكل ما كان ماضيه تفاعل فتفاعل، وكل ما كان ماضيه استفعل فاستفعال، وكل ما كان ماضيه افعوعل فافعيعال، وكل ما كان ماضيه أفعول فأفعوال، وكل ما كان ماضيه افعنلل فافعنلال، وكل ما كان ماضيه افعنلي فافعنلاء، وكل ما كان ماضيه تفعلل فتفعلل، وكل ما كان ماضيه افعلل فافعلال وفيه قياس واحد لجميع الرباعي والمزيد، لكن لا يليق بيانه بهذا المختصر "إلا في كلم" فإنه لا يجيء مصدره قياسا وهو تكليما بل بجيء "كلاما" بكسر الكاف وتشديد اللام "و" كذا "في قاتل قتالا وقيتالا" والقياس المشهور المقاتلة والمفهوم من عبارة الرضي أنهما قياسان أيضا حيث قال: وأما فعال في مصدر فاعل كقتال فهو مخفف القياس إذ أصله قيتالا "و" كذا "في تحمل تحمالا" بكسرتين وتشديد الميم والقياس تحملا "و" كذا "في زلزل زلزالا" بفتح الأول والقياس بكسره إلا أنهم جوزوا الفتح لثقل المضاعف. ولما بين أن المصدر أصل في الاشتقاق وأن المصدر قسمان سماعي وقياسي، وبين السماعي والقياسي منه شرع في المقصود فقال "الأفعال التي تشتق من المصدر" كما هو المذهب.
[শারহে দিকনকুয]

শুধু শ্রুত ব্যবহারের ক্ষেত্রেই নয়, বরং রূপক অর্থের সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকলে কর্তৃবাচক বিশেষ্য ও কর্মবাচক বিশেষ্য অর্থে প্রতিটি মূলধাতুর ব্যবহার বৈধ। সিবাওয়াইহ-এর মতে, তিন অক্ষরবিশিষ্ট আদি রূপের ক্ষেত্রে আতিশয্য এবং প্রাচুর্য বোঝাতে মূলধাতুর ব্যবহার একটি নিয়মিত বিধিবদ্ধ নিয়ম। অন্যদিকে যামাখশারীর মতে, এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট এবং তার অধিক—উভয় ক্ষেত্রেই বিধিবদ্ধ নিয়ম। কারণ, তাকে যখন এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন যে, এই বিষয়টি অত্যন্ত বহুল ব্যবহৃত, তাই একে বিধিবদ্ধ নিয়ম হওয়াই সমীচীন। এই কারণেই তিনি উদাহরণের মধ্যে 'রামইয়া' শব্দটির উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি হলো প্রচুর নিক্ষেপ করা। এটি দুই প্রকার: প্রথমটি হলো তা-বর্ণে ফাতাহ এবং ফা-বর্ণে সুকুন যোগে 'তিফ'আল' ওজনে, যেমন 'তাহযার' যার অর্থ হলো প্রচুর প্রলাপ বকা, এবং 'তিল'আব' যার অর্থ প্রচুর খেলাধুলা করা। তদ্রূপ আতিশয্য বোঝাতে 'তারদাদ', 'তাজওয়াল', 'তাকতাল' এবং 'তায়ইসার' শব্দগুলো যথাক্রমে বারবার ফিরে আসা, অধিক পরিভ্রমণ, অধিক লড়াই এবং অধিক পথচলা অর্থে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো ফা এবং আইন বর্ণে কাসরা এবং তাতে তাশদীদ সহযোগে এবং লাম বর্ণে ফাতাহ যোগে 'ফুআইলি' ওজনে, যেমন 'হাসসিসি' যার অর্থ অধিক উৎসাহিত করা, এবং 'দালিলি' যার অর্থ দলিলের বিষয়ে গভীর ও সুপ্রতিষ্ঠিত জ্ঞান থাকা এবং 'ফিত্তিতি' যার অর্থ অধিক চোগলখুরি করা। যখন তিনি তিন অক্ষরবিশিষ্ট মূলধাতুর আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিন অক্ষরের অধিক ধাতুগুলোর মূলধাতু নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন এবং বললেন: 'তিন অক্ষরের অধিক' প্রতিটি অধ্যায়ের মূলধাতু, তা চার অক্ষরবিশিষ্ট আদি রূপ হোক বা বৃদ্ধিকৃত, অথবা তিন অক্ষরবিশিষ্ট বৃদ্ধিকৃত রূপ হোক এবং সেই মূলধাতু 'মিমি' হোক বা না হোক—তা 'একটি নির্দিষ্ট রীতিতে' অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পথে আসে। তিনি চার অক্ষরবিশিষ্ট আদি রূপ ছাড়া অন্য অধ্যায়গুলোর মূলধাতুর গঠনপ্রণালী তাদের নামের ওপর ভিত্তি করেই স্পষ্ট করেননি। আর চার অক্ষরবিশিষ্ট রূপের ক্ষেত্রে একে নিয়মিত বিধিবদ্ধ নিয়ম হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে 'কাল্লামা' এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হিসেবে ইয়ামেনবাসীদের ভাষা অনুযায়ী ফা-বর্ণে কাসরা এবং আইন-বর্ণে তাশদীদ যোগে 'ফিয়া'আল' ওজনে 'কালাম' শব্দটি মূলধাতু হিসেবে আসে। কারণ এটি তাদের ভাষায় বিধিবদ্ধ নিয়ম, তাই এটি শুদ্ধভাষীদের বক্তব্যেও ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে। যেমন পবিত্র কুরআনে অবতীর্ণ হয়েছে: {এবং তারা আমার নিদর্শনাবলিকে পুরোপুরি অস্বীকার করেছিল}। আর 'কাতালা' এর ক্ষেত্রে কাফ-বর্ণে কাসরা এবং আইন-বর্ণে ফাতাহ বা পাতলা উচ্চারণ যোগে 'কিতাল' এবং ইয়া সহযোগে 'কীতাল' আসে। এটি মূলত তাদের ভাষা অনুযায়ী যারা 'কালাম' বলেন। সিবাওয়াইহ 'কিতাল' সম্পর্কে বলেছেন: যেন তারা সেই 'ইয়া' বর্ণটিকে বিলুপ্ত করেছেন যা 'কীতাল' শব্দে ব্যবহৃত হয়। এই কারণেই বলা হয় যে, 'কিতাল' শব্দটি 'কীতাল' এর একটি শাখা। কারণ এতে ক্রিয়ার বর্ণগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে, তবে পূর্ববর্তী বর্ণের কাসরার কারণে আলিফটি ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়েছে। অন্যদিকে সাক্কাকী এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন এবং ইয়া-কে ফা বর্ণের কাসরার দীর্ঘায়ন হিসেবে গণ্য করেছেন। এছাড়া 'তাহাম্মালা' শব্দের ক্ষেত্রে যারা 'কালাম' বলেন তাদের মতে 'তিহাম্মাল' ব্যবহৃত হয়। কারণ এটিও তাদের ভাষার নিয়ম; তারা প্রথম বর্ণে কাসরা দেয় এবং শেষের বর্ণের আগে একটি আলিফ যুক্ত করে। আর 'যালযালা' এর ক্ষেত্রে প্রথম বর্ণে ফাতাহ যোগে 'যালযাল' আসে। কেননা চার অক্ষরবিশিষ্ট আদি রূপের দ্বিত্ববর্ণের ক্ষেত্রে প্রথম বর্ণে ফাতাহ এবং কাসরা উভয়টিই বিধিবদ্ধভাবে জায়েয, কারণ দ্বিত্ববর্ণ উচ্চারণ করা কিছুটা ভারী। তবে সহীহ বর্ণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কাসরা হয়। অবশ্য কাসরা সহযোগে উচ্চারণ করাই অধিক প্রাঞ্জল, কারণ এটিই মূল ভিত্তি। যখন তিনি মূল ভিত্তি অর্থাৎ মূলধাতুর গঠনপ্রণালী বর্ণনা শেষ করলেন, তখন শাখা অর্থাৎ ক্রিয়ার গঠনপ্রণালী বর্ণনা শুরু করলেন এবং বললেন: 'যেসব ক্রিয়া গঠিত হয়' অর্থাৎ গৃহীত হয় 'মূলধাতু থেকে' এবং তা কর্তৃবাচ্য ও কর্মবাচ্য উভয় রূপে ব্যবহৃত হয়, চাই তা সরাসরি হোক বা হরফে জার যোগে। তিনি এখানে বসরাবাসীদের মাযহাবের কথা সরাসরি উল্লেখ করেননি, এটিই যে সত্য সেদিকে ইঙ্গিত করার জন্য। যেন এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই...

--------------------------------------------

[ইবনে কামাল পাশার 'আল-ফালাহ শারহুল মারাহ']

'মূলধাতু আতিশয্য' এবং প্রাচুর্য বোঝাতে প্রথম বর্ণে ফাতাহ এবং দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন যোগে 'তিফ'আল' ওজনে আসে। যেমন 'তাহযার' অর্থাৎ অধিক প্রলাপ বকা। 'তিল'আব' অর্থাৎ অধিক খেলাধুলা করা। অনুরূপভাবে 'তারদাদ' এবং 'তাজওয়াল' যথাক্রমে ফিরে আসা এবং পরিভ্রমণ করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। তদ্রূপ 'তা'দাদ', 'তাযকার' এবং 'তাকরার' শব্দগুলোও। তবে 'তিবইয়ান' এবং 'তিলকা' শব্দ দুটিতে তা-বর্ণে কাসরা হওয়া এই ওজনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, যেমনটি ভাষাবিদগণ স্পষ্ট করেছেন। এছাড়া দুই কাসরা এবং আইন বর্ণে তাশদীদ যোগে 'ফুআইলি' ওজনেও আসে। যেমন 'হাসসিসি' অর্থাৎ উভয় পক্ষ থেকে প্রচুর উৎসাহ প্রদান করা। 'দালিলি' যা দলিলের আতিশয্য বোঝায়। তদ্রূপ 'রামইয়া' শব্দটিও; যেমন বলা হয় তাদের মধ্যে 'রামইয়া' হয়েছে অর্থাৎ উভয় পক্ষ থেকে প্রচুর তীর নিক্ষেপ হয়েছে। 'খলিফি' সম্পর্কে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর খেলাফতকালে বলেছিলেন: 'যদি খেলাফতের দায়িত্ব না থাকত তবে আমি আযান দিতাম'। অর্থাৎ খেলাফতের কার্যাবলীতে অধিক ব্যস্ততা এবং এর ফলে আযানের সময় রক্ষণাবেক্ষণে অসাবধানতার আশঙ্কা না থাকলে আমি আযান দিতাম। বলা হয় যে, যামাখশারীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—এটি কি বিধিবদ্ধ না শ্রুত? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: এই বিষয়টি অধিক ব্যবহৃত হয়, তাই একে বিধিবদ্ধ হওয়াই শ্রেয়। সিবাওয়াইহ বলেছেন: আতিশয্যের ওজনগুলো কেবল তিন অক্ষরবিশিষ্ট ধাতু থেকেই আসে। তবে অধিকাংশ সরফবিদ একে নিঃশর্তভাবে জায়েয বলেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, আতিশয্যের জন্য মূলধাতুর উল্লেখ করা হয়েছে প্রাসঙ্গিকভাবে; কারণ উদ্দেশ্য হলো এমন মূলধাতু বর্ণনা করা যা থেকে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং যা অর্থ ও বৃদ্ধির ধারক। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; কারণ উক্ত ক্রিয়াতে আতিশয্য বা প্রাচুর্যের কোনো অর্থ থাকে না। বিষয়টি অনুধাবন করুন। তিন অক্ষরবিশিষ্ট আদি রূপ ব্যতীত অন্য সব ক্রিয়ার 'মূলধাতু একটি নির্দিষ্ট রীতিতে' অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পথে আসে। অর্থাৎ সেগুলো বিধিবদ্ধভাবে গঠিত হয়। প্রতিটি অধ্যায়ের জন্য পৃথক পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ম রয়েছে। যেমন আপনি বলতে পারেন: যে ক্রিয়ার অতীত কাল 'ফায়লালা' ওজনে হবে, তার মূলধাতু হবে 'ফায়লালাহ' ওজনে। যার অতীত কাল 'আফ'আলা' ওজনে, তার মূলধাতু 'ইফ'আল'। যার অতীত 'ফায়'আলা', তার মূলধাতু 'তাফ'ঈল'। যার অতীত 'ফাআলা', তার মূলধাতু 'মুফায়আলাহ' ও 'ফিয়া'আল'। যার অতীত 'ইফতয়ালা', তার মূলধাতু 'ইফতি'আল'। যার অতীত 'ইফ'আল্লা', তার মূলধাতু 'ইফ'ইলাল'। যার অতীত 'তাফায়'আলা', তার মূলধাতু 'তাফায়'উল'। যার অতীত 'তাফায়আলা', তার মূলধাতু 'তাফায়'উল'। যার অতীত 'ইস্তাফ'আলা', তার মূলধাতু 'ইস্তিফ'আল'। যার অতীত 'ইফ'আও'আলা', তার মূলধাতু 'ইফ'ঈ'আল'। যার অতীত 'ইফ'আউয়ালা', তার মূলধাতু 'ইফ'ঈউয়াল'। যার অতীত 'ইফ'আনলালা', তার মূলধাতু 'ইফ'ইনলাল'। যার অতীত 'ইফ'আনলা', তার মূলধাতু 'ইফ'ইনলা'। যার অতীত 'তাফায়লালা', তার মূলধাতু 'তাফায়লুল'। যার অতীত 'ইফ'আলালা', তার মূলধাতু 'ইফ'ইলাল'। চার অক্ষরবিশিষ্ট এবং বৃদ্ধিকৃত সকল ক্রিয়ার জন্য একটি সাধারণ বিধিবদ্ধ নিয়ম রয়েছে, তবে এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে তার আলোচনা সমীচীন নয়। তবে 'কাল্লামা' এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে, এর মূলধাতু বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী 'তাকলীমান' হওয়ার কথা থাকলেও তা 'কিলাল' ওজনে 'কালাম' হিসেবে আসে। তদ্রূপ 'কাতালা' এর ক্ষেত্রে 'কিতাল' এবং 'কীতাল' আসে। অথচ প্রসিদ্ধ বিধিবদ্ধ নিয়ম হলো 'মুকাতাল্লাহ'। আল্লামা রযী-র বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, এ দুটিও বিধিবদ্ধ নিয়ম; কারণ তিনি বলেছেন: 'ফাআলা' এর মূলধাতু হিসেবে 'ফিয়া'আল' (যেমন কিতাল) হলো বিধিবদ্ধ নিয়মেরই সহজ রূপ, কারণ এর মূল রূপ ছিল 'কীতাল'। তদ্রূপ 'তাহাম্মালা' এর ক্ষেত্রে দুই কাসরা এবং মিম বর্ণে তাশদীদ যোগে 'তিহাম্মাল' আসে, যদিও বিধিবদ্ধ নিয়ম হলো 'তাহাম্মুল'। তদ্রূপ 'যালযালা' এর ক্ষেত্রে প্রথম বর্ণে ফাতাহ যোগে 'যালযাল' আসে, যদিও বিধিবদ্ধ নিয়ম হলো কাসরা যোগে। তবে দ্বিত্ববর্ণের ভার লাঘব করার জন্য তারা ফাতাহ দেওয়া জায়েয রেখেছেন। যখন তিনি স্পষ্ট করলেন যে, শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে মূলধাতুই হলো উৎস এবং মূলধাতু শ্রুত ও বিধিবদ্ধ—এই দুই প্রকার, তখন তিনি মূল উদ্দেশ্যের দিকে ফিরে আসলেন এবং বললেন: 'সেই সব ক্রিয়া যা মূলধাতু থেকে গঠিত হয়', যেমনটি প্রধান মতবাদ।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌[شرح ديكنقوز]

قيد بقولنا تستعمل احترازا عن باب فعل يفعل على صيغة المبني للمفعول فيهما؛ لأن المقصود من ذكر الأفعال بيان أحكامها. ولما لم يختلف حكم هذا الباب بالمعلومية والمجهولية، بل كان مبينا للمفعول أبدا للعلم بفاعلها في غالب العادة أنه هو الله تعالى تركه المصنف، وأيضا لما كان المبني للمفعول فرعا للمبني للفاعل؛ لأن الأول معلوم للثاني والغرض ذكر الأصول تركه وقال "خمسة وثلاثون بابا ستة منها" كائنة "للثلاثي المجرد" وإلا فله سبعة قدم الثلاثي على الرباعي لتقدمه الطبيعي، ووجه ضبطه أن لماضيه ثلاثة أبنية أحدهما فعل يفعل؛ لأن أوله لا يكون إلا مفتوحا حالا لامتناع الابتداء بالسكون واستثقال الضمة والكسرة عليه، والثاني منه لا يكون إلا متحركا لاستلزام سكونه اختلاط الأبنية، وما قيل والالتقاء الساكنين عند اتصال الضمير المرفوع البارز المتحرك بالفعل فلا يخلو عن دور وحركاته لا تزيد على ثلاثة فإن كانت فتحة فلا يلخو من أن يكسر عين مضارعة أو يضم أو يفتح، وإن كانت كسرة فأما أن يفتح عين مضارعه أو يكسر وإن كانت ضمة فعين مضارعه لا يكون إلا مضموما لحصر بحسب الوقوع في ستة وهي "نحو ضرب يضرب" بفتح العين في الماضي وكسرها في الغابر "وقتل يقتل" بفتح العين في الماضي وضم عين المضارع "وعلم يعلم" يكسر العين في الماضي وفتحه في المستقبل "وفتح يفتح" بفتحه فيهما "وكرم يكرم" بضمه فيهما "وحسب يحسب" بكسره فيهما "وتسمى الثلاثة الأول دعائم الأبواب" جمع دعامه وهي عموم البيت أي أصولها "لاختلاف حركاتهن في عين الماضي والمستقبل" فكما أن معنى الماضي مخالف لمعنى المستقبل، كذلك ينبغي أن يكون لفظه مخالفا للفظه ليطابق اللفظ والمعنى في الاختلاف فلا شك أن ما وقع فيه المخالفة أصل بالنسبة إلى غيره "وكثرتهن" أي ولكثرة استعمالهن فإنها سبب لفصاحة الكلمة فيكون سببا لأصالتها ولذلك قدمها على الثلاثة الأخر، وأما تقديم بعض الأول على بعضها؛ فلأن الاختلاف في الأول أكثر؛ لأن مخالفة الفتح للكسر أكثر من مخالفة الفتح للضم؛ لأن الفتح علوي والكسر سفلي والضم بينهما يشهد به الوجدان؛ وأما تقديم الثاني على الثالث فلفتح عين ماضيه ومن قدم الثاني على الأول نظر إلى أن الضم علوي وأنه أقوى أو قصد التدريج في النزول من العلوي إلى السفلي الذي هو الأصل بخفته فهو أحق بالتقديم، وأما تقديم بعض الأخر على بعضها فلفتح عين الأول في الماضي والمضارع ولكثرة استعماله بالنسبة إلى الثاني، وأما الثاني فللنظر إلى أن الضم فوقي

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"خمسة وثلاثون بابا" باتفاق منهم بالاستقراء "ستة منها للثلاثي المجرد" والمراد عن الثلاثي المجرد ما كان ماضيه على ثلاثة أحرف أصول ووجا تقديمه على ما عداه ظاهر، ووجه الضبط فيها أنهم فتحوا أول الماضي للخفة ولامتناع الابتداء بالساكن ولا يشكل بالمجهول ولا بفعل مكسور الأول كشهد كعروض الضم والكسر فيهما ولأن الضم في المجهول للفرق واعتبر في العين ثلاث حركات؛ إذ لو كان ساكنا يلزم التقاء الساكنين عند اتصال الضمير المرفوع مثل ضربت ولم يعتبروا حركة اللام لكونها محل التغيير فكانت للماضي ثلاثة أبنية والتزموا سكون الفاء في المضارع فرارا من توالي الحركات الأربع كما سيأتي في فصله، واعتبروا في عينه أيضا ثلاث حركات؛ لأنه لو كان ساكنا يلزم التقاء الساكنين عند دخول الجوازم عليه مثل لم يضرب فضربوا الثلاثة في الثلاثة فحصل تسعة ثلاثة منها بفتح الأول مع الحركات الثلاث في الثاني وثلاثة بكسر الأول مع الحركات الثلاث في الثاني، لكن لم يعتبروا الكسر مع الضم؛ لأن الكسر مع الضم ثقيل فبقي اثنان وثلاثة بضم الأول مع الحركات الثلاث في الثاني، لكنهم لم يعتبروا الضم مع الكسر وكذا مع الفتح؛ لأن الضم معهما ثقيل فبقي واحد وهو الضم مع الضم فبقي من التسعة الستة، فإن قلت: الكسر مع الكسر وكذا الضم مع الضم ثقيل أيضا، قلت: ما كان الكسر مع الكسر من جنس واحد وكذا الضم مع الضم لم يكن ثقيلا؛ إذ الثقل في اختلافها فتدبر "نحو ضرب يضرب" على وزن فعل يفعل بفتح العين في الماضي وكسرها في الغابر، وهو الباب الثاني لكن قدمه في الذكر لزيادة الاختلاف بين الفتح والكسر؛ لأن الأول علي والثاني سفلي والضم متوسط، وإنما استحق التقديم بزيادة اختلاف حركتها؛ لأنها تدل على زيادة اختلاف معناهما فيصير عريقا في كونه من الدعائم "وقتل يقتل" على وزن فعل يفعل بفتح العين في الماضي وضمها في الغابر وهو الباب الأول "وعلم يعلم" على وزن فعل يفعل بكسر العين في الماضي وفتحها في الغابر وهو الباب الرابع، "و" لكن قدمه على "فتح يفتح" على وزن فعل يفعل بفتح العين فيهما وهو الباب الثالث لدخوله في الدعائم "وكرم يكرم" على وزن فعل يفعل بضم العين فيهما وهو الباب الخامس "وحسب يحسب" على وزن فعل يفعل بكسر العين فيهما وهو الباب السادس "وسمى الثلاثة الأول" وهو الباب الثاني والأول والرابع دعائم "الأبواب" أي أصولها وهي جمع دعامة بالكسر، وهي عمود البيت "لاختلاف حركاتهن في عين الماضي والمستقبل" فإن قلت: لِمَ اشترط اختلاف حركة الماضي حركة المضارع في دعائم الأبواب؟ قلت: لأن معنى الماضي لما كان مخالفا لمعنى المستقبل اقتضى ذلك أن يكون لفظ الماضي مخالفا للفظ المستقبل؛ ليطابق اللفظ المعنى على ما هو الأصل في كلامهم "وكثرتهن" أي في الاستعمال فبهذين الشرطين معا يدخل الباب في الدعائم لا بواحد منهما
[শরহ দিকনুকূয]

আমাদের ‘ব্যবহৃত হয়’ কথাটি দ্বারা শর্তারোপ করার উদ্দেশ্য হলো উভয় ক্ষেত্রে ‘ফাআলা ইয়াফআলু’ তথা কর্মবাচ্যের (মাজহুল) গঠন থেকে বেঁচে থাকা; কেননা ক্রিয়াসমূহ উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো সেগুলোর বিধান বর্ণনা করা। যেহেতু এই বাবের বিধান কর্তৃবাচ্য (মা’লুম) ও কর্মবাচ্য হওয়ার কারণে ভিন্ন হয় না, বরং সাধারণ রীতি অনুযায়ী এর কর্তা আল্লাহ তাআলা হওয়া সুস্পষ্ট বিধায় এটি সর্বদা কর্মবাচ্যের রূপেই থাকে, তাই গ্রন্থকার এটি বর্জন করেছেন। এছাড়াও যেহেতু কর্মবাচ্য হলো কর্তৃবাচ্যের একটি শাখা—কারণ প্রথমটি দ্বিতীয়টির মাধ্যমে পরিচিত হয়—এবং উদ্দেশ্য হলো মূল বিষয়গুলো উল্লেখ করা, তাই তিনি এটি বর্জন করেছেন এবং বলেছেন, “পঁয়ত্রিশটি বাব, তার মধ্যে ছয়টি” হলো “সুলাছি মুজাররাদের” (তিন বর্ণবিশিষ্ট মূল ধাতু) জন্য। অন্যথায় বাবের সংখ্যা সাতটি। তিনি সুলাছিকে রুবায়ি (চার বর্ণবিশিষ্ট) এর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এর স্বাভাবিক অগ্রগণ্যতার কারণে। এর বিন্যাসের পদ্ধতি হলো, মাযীর তিনটি রূপ রয়েছে। একটি হলো ‘ফাআলা ইয়াফইলু’; কেননা মাযীর প্রথম বর্ণটি কেবল ফাতহাহ (যবর) বিশিষ্টই হতে পারে, কারণ সুকুন দ্বারা শুরু করা অসম্ভব এবং এর ওপর যম্মাহ (পেশ) ও কাসরাহ (জের) প্রদান করা কষ্টকর। দ্বিতীয় বর্ণটি কেবল হরকতযুক্তই হতে পারে, কারণ একে সাকিন করলে বাবসমূহের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটে যাবে। আর ক্রিয়ার সাথে যখন যমীরে মারফু বারিজ মুতাহাররিক (সর্বনাম) যুক্ত হয় তখন দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার যে কথা বলা হয়, তাতে ‘দওর’ বা চক্রদোষের অবকাশ থেকে যায়। এর হরকত তিনটির বেশি নয়। যদি তা ফাতহাহ হয়, তবে মুযারের আইন কালিমা হয় কাসরাহ হবে, অথবা যম্মাহ হবে, নতুবা ফাতহাহ হবে। আর যদি মাযীর আইন কালিমা কাসরাহ হয়, তবে মুযারের আইন কালিমা ফাতহাহ হবে অথবা কাসরাহ হবে। আর যদি মাযীর আইন কালিমা যম্মাহ হয়, তবে মুযারের আইন কালিমা কেবল যম্মাহ-ই হবে। ব্যবহারের দিক থেকে এগুলোকে ছয়টি ভাগে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যা হলো: “যেমন যারাবা ইয়াদরিবু”—মাযীতে আইন কালিমায় ফাতহাহ এবং ভবিষ্যতে (মুযারেতে) কাসরাহ যোগে। “এবং কাতাল্লা ইয়াকতুলু”—মাযীতে আইন কালিমায় ফাতহাহ এবং মুযারেতে যম্মাহ যোগে। “এবং আলিমা ইয়া’লামু”—মাযীতে কাসরাহ এবং ভবিষ্যতে ফাতহাহ যোগে। “এবং ফাতাহা ইয়াফতাহু”—উভয় ক্ষেত্রে ফাতহাহ যোগে। “এবং কারুমা ইয়াকুরুমু”—উভয় ক্ষেত্রে যম্মাহ যোগে। “এবং হাসিবা ইয়াহসিবু”—উভয় ক্ষেত্রে কাসরাহ যোগে। “প্রথম তিনটিকে বাবের স্তম্ভ বা মূল ভিত্তি বলা হয়”, যা ‘দিআমাহ’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ ঘরের খুঁটি অর্থাৎ বাবের মূলসমূহ। “মাযী ও মুস্তাকবিল (ভবিষ্যৎ) এর আইন কালিমার হরকতের ভিন্নতার কারণে” এটি হয়েছে। কেননা মাযীর অর্থ যেহেতু মুস্তাকবিলের অর্থের বিপরীত, তাই এর শব্দও বিপরীত হওয়া উচিত যাতে শব্দ ও অর্থের মধ্যে বৈচিত্র্যের মিল থাকে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যাতে বৈচিত্র্য বা ভিন্নতা রয়েছে তা অন্যটির তুলনায় মূল হিসেবে গণ্য। “এবং সেগুলোর আধিক্যের কারণে” অর্থাৎ সেগুলোর ব্যবহার অধিক হওয়ার কারণে, যা শব্দের প্রাঞ্জলতার (ফাসাহাত) কারণ হয়ে থাকে এবং এটি তার মৌলিকত্বেরও কারণ। এই কারণেই তিনি একে অন্য তিনটির ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আর প্রথম তিনটির একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো, প্রথমটির মধ্যে ভিন্নতা বেশি; কেননা ফাতহাহ ও কাসরাহ-র মধ্যে ভিন্নতা ফাতহাহ ও যম্মাহ-র ভিন্নতার চেয়ে বেশি। কারণ ফাতহাহ হলো উচ্চস্বর বিশিষ্ট এবং কাসরাহ হলো নিম্নস্বর বিশিষ্ট, আর যম্মাহ হলো এই দুটির মধ্যবর্তী, যা অনুভবের মাধ্যমে প্রমাণিত। দ্বিতীয়টিকে তৃতীয়টির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো এর মাযীর আইন কালিমায় ফাতহাহ থাকা। আর যিনি দ্বিতীয়টিকে প্রথমটির ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, যম্মাহ হলো উচ্চস্বর এবং এটি শক্তিশালী, অথবা তিনি উচ্চস্তর থেকে নিম্নস্তরে অর্থাৎ মূলের দিকে ধাপে ধাপে অবতরণ করার ইচ্ছা করেছেন যা লঘু হওয়ার কারণে অগ্রগণ্য হওয়ার অধিক যোগ্য। অন্য বাবগুলোর একটিকে অপরটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো প্রথমটির মাযী ও মুযারের আইন কালিমায় ফাতহাহ থাকা এবং দ্বিতীয়টির তুলনায় এর ব্যবহার অধিক হওয়া। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যে যম্মাহ হলো উচ্চতর হরকত।

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শরহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কর্তৃক

“পঁয়ত্রিশটি বাব” তাদের গবেষণালব্ধ ঐকমত্য অনুযায়ী। “এর মধ্যে ছয়টি সুলাছি মুজাররাদের জন্য”; সুলাছি মুজাররাদ বলতে এমন শব্দকে বোঝানো হয়েছে যার মাযীতে তিনটি মূল বর্ণ থাকে। একে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ স্পষ্ট। এর বিন্যাসের পদ্ধতি হলো, তারা মাযীর প্রথম বর্ণে লঘু করার জন্য এবং সাকিন দ্বারা শুরু করা অসম্ভব হওয়ার কারণে ফাতহাহ প্রদান করেছেন। এটি কর্মবাচ্য (মাজহুল) কিংবা ‘শাহিদা’-র মতো প্রথম বর্ণ কাসরাহ বিশিষ্ট শব্দের সাথে কোনো জটিলতা তৈরি করে না, কারণ মাজহুলের ক্ষেত্রে যম্মাহ প্রদান করা হয় পার্থক্যের জন্য। আইন কালিমার ক্ষেত্রে তিনটি হরকত বিবেচনা করা হয়েছে; কারণ এটি সাকিন হলে ‘যারাবতু’-র মতো যমীরে মারফু যুক্ত হওয়ার সময় দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার আবশ্যকতা দেখা দিত। তারা লাম কালিমার হরকতকে বিবেচনায় নেননি কারণ এটি পরিবর্তনের স্থান। ফলে মাযীর তিনটি রূপ দাঁড়িয়েছে। তারা মুযারের ফা কালিমাকে সাকিন রাখা আবশ্যক করেছেন যাতে চার হরকতের ধারাবাহিকতা থেকে বাঁচা যায়, যেমনটি সামনে নিজ পরিচ্ছেদে আসবে। তারা এর আইন কালিমাতেও তিনটি হরকত বিবেচনা করেছেন; কারণ এটি সাকিন হলে জাযম প্রদানকারী অব্যয় প্রবেশের সময় ‘লাম ইয়াদরিব’-এর মতো দুই সাকিন একত্রিত হওয়া আবশ্যক হতো। সুতরাং তিনকে তিন দিয়ে গুণ করলে নয়টি রূপ পাওয়া যায়। তার মধ্যে তিনটি হলো প্রথম বর্ণের ফাতহাহ-র সাথে দ্বিতীয় বর্ণের তিনটি হরকত। আর তিনটি হলো প্রথম বর্ণের কাসরাহ-র সাথে দ্বিতীয় বর্ণের তিনটি হরকত, তবে তারা কাসরাহ-র সাথে যম্মাহ-কে বিবেচনা করেননি কারণ কাসরাহ-র পর যম্মাহ উচ্চারণ করা কঠিন; তাই এখানে দুটি বাকি রইল। আর তিনটি হলো প্রথম বর্ণের যম্মাহ-র সাথে দ্বিতীয় বর্ণের তিনটি হরকত, তবে তারা যম্মাহ-র সাথে কাসরাহ এবং ফাতহাহ-কেও বিবেচনা করেননি কারণ যম্মাহ-র পর এ দুটি কঠিন; তাই একটি বাকি রইল যা হলো যম্মাহ-র সাথে যম্মাহ। এভাবে নয়টি থেকে ছয়টি বাকি থাকল। আপনি যদি বলেন: কাসরাহ-র পর কাসরাহ এবং যম্মাহ-র পর যম্মাহ-ও তো কঠিন। আমি বলব: যেহেতু কাসরাহ-র পর কাসরাহ একই জাতীয় এবং যম্মাহ-র পর যম্মাহ একই জাতীয়, তাই তা কঠিন নয়; বরং কাঠিন্য হলো বৈচিত্র্য বা ভিন্নতার মধ্যে। বিষয়টি অনুধাবন করুন। “যেমন যারাবা ইয়াদরিবু”—এটি ‘ফাআলা ইয়াফইলু’ এর ওজনে, মাযীতে আইন কালিমার ফাতহাহ এবং ভবিষ্যতে (মুযারেতে) কাসরাহ যোগে। এটি দ্বিতীয় বাব, কিন্তু ফাতহাহ ও কাসরাহ-র মধ্যে ভিন্নতা বেশি হওয়ার কারণে একে আগে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ প্রথমটি উচ্চ এবং দ্বিতীয়টি নিম্ন আর যম্মাহ হলো মধ্যবর্তী। হরকতের ভিন্নতা বেশি হওয়ার কারণেই এটি অগ্রগণ্য হওয়ার যোগ্য হয়েছে; কারণ এটি তাদের অর্থের ভিন্নতা বেশি হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে, ফলে এটি মূল ভিত্তি বা ‘দাআইম’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সুদৃঢ় হয়। “এবং কাতাল্লা ইয়াকতুলু”—‘ফাআলা ইয়াফউলু’ এর ওজনে, মাযীতে আইন কালিমার ফাতহাহ এবং ভবিষ্যতে যম্মাহ যোগে, যা প্রথম বাব। “এবং আলিমা ইয়া’লামু”—‘ফাআলা ইয়াফআলু’ এর ওজনে, মাযীতে আইন কালিমার কাসরাহ এবং ভবিষ্যতে ফাতহাহ যোগে, যা চতুর্থ বাব। “তবে” একে “ফাতাহা ইয়াফতাহু”—যা ‘ফাআলা ইয়াফআলু’ এর ওজনে এবং উভয় ক্ষেত্রে আইন কালিমার ফাতহাহ যোগে তৃতীয় বাব—তার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে কারণ এটি ‘দাআইম’ বা মূল ভিত্তির অন্তর্ভুক্ত। “এবং কারুমা ইয়াকুরুমু”—‘ফাআলা ইয়াফউলু’ এর ওজনে উভয় ক্ষেত্রে আইন কালিমার যম্মাহ যোগে, যা পঞ্চম বাব। “এবং হাসিবা ইয়াহসিবু”—‘ফাআলা ইয়াফইলু’ এর ওজনে উভয় ক্ষেত্রে আইন কালিমার কাসরাহ যোগে, যা ষষ্ঠ বাব। “প্রথম তিনটিকে”—অর্থাৎ দ্বিতীয়, প্রথম ও চতুর্থ বাবকে—“বাবের স্তম্ভ (দাআইমুল আবওয়াব)” বা মূল ভিত্তি বলা হয়েছে। ‘দাআইমাহ’ শব্দের অর্থ হলো ঘরের খুঁটি। “মাযী ও মুস্তাকবিলের আইন কালিমার হরকতের ভিন্নতার কারণে” এটি হয়েছে। আপনি যদি বলেন: বাবের স্তম্ভ হওয়ার জন্য মাযী ও মুযারের হরকতের ভিন্নতাকে কেন শর্ত করা হলো? আমি বলব: মাযীর অর্থ যেহেতু মুস্তাকবিলের অর্থের বিপরীত, তাই এটি দাবি করে যে মাযীর শব্দও মুস্তাকবিলের শব্দের বিপরীত হবে; যাতে তাদের কালামের মূল নীতি অনুযায়ী শব্দের সাথে অর্থের মিল থাকে। “এবং সেগুলোর আধিক্যের কারণে” অর্থাৎ ব্যবহারের দিক থেকে। সুতরাং এই দুটি শর্ত একত্রে পাওয়া গেলে একটি বাব স্তম্ভ বা ‘দাআইম’-এর অন্তর্ভুক্ত হবে, কেবল একটির মাধ্যমে নয়।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌[شرح ديكنقوز]

وقوي وإلى أن استعماله أكثر بالنسبة إلى الثالث، وإنما لم يجئ من مكسور العين في الماضي مضموم العين في المضارع لئلا يتحرك حرف واحد بالأثقل بعد الثقيل، ولم يجئ من مضموم العين في الماضي مفتوح العين في المضارع لئلا يكون كالطفرة بسبب انتفاء التدريج في الانتقال من الأثقل إلى الأخف، ولا مكسور العين فيه لئلا يلزم الجمع بين الضم الثابت والكسر لا لضرورة. ولما كان سبب دخول الأبواب الثلاثة الأول في الدعائم أمرين اختلاف الحركات وكثرة الاستعمال، وكان انتفاء أحدهما فقط كافيا في عدم الدخول فيها أشار إلى أن عدم دخول الثلاثة الأخر فيها إنما هو لانتفاء الأمرين معا في نفس الأمر، لا لانتفاء أحدهما فقط؛ إذ لو لم يتعرض لذلك لم يعلم أن عدم الدخول فيها في نفس الأمر لانتفاء أحدهما فقط أو لانتفائهما جميعا، ولما كان انتفاء الأمر الأول فيها ظاهرا اكتفى بذكره مرة في أولها وقال "وفتح يفتح لا يدخل في الدعائم لانعدام اختلاف الحركات في عين الماضي والمستقبل ولعدم مجيئه" أي مجيء باب فتح يفتح "بغير حرف الحلق" عينا أو لاما والتزموا فيه فتح العين في الماضي والمضارع؛ ليقاوم خفة فتحة العين ثقالة حرف الحلق، ولذلك لم يدخلوا الفاء في الترديد ولم يقولوا أو فاء لزوال ثقل الفاء بسكونه في المضارع، ولا يرد مثل دخل يدخل؛ لأنه دليل بعد الوقوع، ولما لم يجئ بغير حرف الحلق انعدم كثرة الاستعمال أيضا "وأما ركن يركن وأبى يأبى" بفتح العين في الماضي والمضارع فيهما من غير حرف الحلق هذا لف وقوله "فمن اللغات المتداخلة والشواذ" نشره على ترتيبه يعني أن ركن يركن بفتح العين في الماضي وضمها في الغابر وركن يركن بكسرها في الماضي وفتحها في الغابر لغتان، فأخذ الماضي من الأولى والمضارع من الثاني فقيل ركن يكن بالفتح فيهما؛ لأنه من باب فتح يفتح فلا نقض، وعد الزمخشري ركن يركن من الشواذ وأبى يأبى من الشواذ الثابتة عن المواضع فهي في حكم المستثناة فكأنه قال القياس كذا إلا في هذه الصورة فلا نقض "وأما بقى يبقى وفنى يفنى وقلى يقلى" بفتح عين المضارع والمضارع في الكل من غير حرف الحلق "فلغات" قبيلة "طيء قد فروا" أي فارين "من الكسرة

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"وفتح يفتح لا يدخل في الدعائم" وكذا سائر ما يجيء من الباب الثالث "لانعدام اختلاف الحركات في الماضي والمستقبل والعدم" كثرة الاستعمال لانعدام "مجيئه بغير حرف الحلق" أما في عينه أو في لامه فيصير مقيد، أو المقيد أقل وجودا من المطلق فانتفى الشرطان معا وعدم دخوله في الدعائم، وإن كان معلوما بالالتزام عما قبلها من الشرطين لكنه صرح به تقريرا وتوضيحا وليترتب عليه قوله، وأما ركن يركن إلخ وحروف الحلق الهمزة والهاء والعين والحاء والغين والخاء وإنما فتحوا عين المضارع إذا كان عينه أو لامه حرفا من الحروف؛ لأنها ثقيلة فأعطوها وما قبلها الفتحة للخفة لامتناع السكون في عين المضارع كما مروا، إنما قلنا إذا كان عينه أو لامه؛ لأنه إذا وقع حرف منها فاء نحو أمر يأمر لم يلزم الفتح في مضارعه لسكون حرف اللحق فيه، والساكن لا يجب فتح ما بعده لضعفه بالسكوت، ولا يشكل بمثل يدخل؛ لأن المراد أن شرط الفتح أن يوجد في العين واللام حرف منها لا أن كل ما فيه حرف يكون مفتوحا. فإن قلت: إن الألف من حروف الحلق أيضا باتفاق منهم فلِمَ لَمْ يعدوه ها هنا؟ قلت: الألف لا تخلو إما أن يقع عينا أو لاما وأيا ما كان لا يمكن فتح العين لأجله، أما إن وقع عينا فللزوم سكونه وأما إن وقع لاما فلأنه إما واو أو ياء في الأصل إذا الألف الأصلي لا يقع في لام الفعل بالاستقراء وإذا كان واوا أو ياء فقلبهما ألف يتوقف على فتح ما قبلها وهو العين فثبت أن فتح العين موجود قبل وجود الألف فلم يكن الفتح لأجل الألف وإلا يلزم الدور وهو المطلوب ثم إن هذا الفتح في العين لما وجد من غير شرط وهو وجود حرف الحلق كان شاذا، ولهذا حكموا بأن أبى يأبى شاذ كذا حققوه. ولما توجه أن يقال إن عدم مجيء الباب الثالث بغير مجيء الباب الثالث بغير حرف الحلق مشكل بركن يركن وأبى يأبى؛ لأنهما من هذا الباب وليس فيهما حرف الحلق أجاب عنهما بقوله: "وأما ركن يركن وأبى يأبى فمن اللغات المتداخلة والشواذ" يعني أن المثال الأول من المتداخل، والمثال الثاني من الشواذ ففي الكلام لف ونشر مرتب، وقد عرفت آنفا معنى كونه شاذا، ومعنى تداخل اللغتين فيه أن ركن يركن أي مال يميل كنصر ينصر لغة، وركن يركن كعلم يعلم فيه لغة أيضا فأخذ الماضي من الأول والمضارع من الثاني، والمراد بالشاذ في استعمالهم ما يكون بخلاف القياس من غير نظر إلى قلة وجوده وكثرته كالقود. والنادر ما قل وجوده وإن لم يكن بخلاف القياس، وما قيل من أن أبى بمعنى امتنع وهو فرع منع وفيه حرف حلق فحمل عليه فضعيف؛ لأن وجود حرف الحلق في لفظ معنى الكلمة لا يوجب ثقل تلك الكلمة على اللسان حتى يضطر إلى أن يحمل على فرعه ويفتح لأجله ما بعده. ولما توجه الإشكال المذكور أيضا بالأمثلة التي ذكرها أجاب بقوله: "وأما بقى يبقى وفنى يفنى وقلى يقلى فلغات طيء" يعني أن بقي يبقى وفني يفنى من باب علم يعلم فعين ماضيهما مكسورة، وقلى يقلي من باب ضرب يضرب فعين مضارعه مكسورة لكن قبيلة طيء "قد فروا من الكسرة" أي من كسرة عين الماضي في الأول والثاني ومن كسرة عين المضارع في الثالث
‌‌[শরহে দিকুনকুয]

এবং এটি শক্তিশালী। আর তৃতীয় প্রকারের তুলনায় এর ব্যবহার অধিক। অতীতকালে আইন বর্ণ কাসরাযুক্ত (জের) হলে বর্তমানকালে তা যম্মাহযুক্ত (পেশ) হয়ে আসে না, যাতে একটি বর্ণের নড়াচড়া ভারী হরকতের পর অধিকতর ভারী হরকতের মাধ্যমে না হয়। অতীতকালে আইন বর্ণ যম্মাহযুক্ত হলে বর্তমানকালে তা ফাতহাযুক্ত (যবর) হয়ে আসে না, যাতে ভারী থেকে হালকা হরকতের দিকে গমনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতার অনুপস্থিতির কারণে তা হঠাৎ উল্লম্ফনের মতো না হয়। আবার সেখানে আইন বর্ণ কাসরাযুক্তও হয় না, যাতে কোনো প্রয়োজন ছাড়াই বিদ্যমান যম্মাহ ও কাসরার একত্রিত হওয়া আবশ্যক না হয়ে পড়ে। প্রথম তিনটি পরিচ্ছেদ স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ যেহেতু দুটি বিষয়—হরকতের ভিন্নতা এবং ব্যবহারের প্রাচুর্য—এবং এর যে কোনো একটির অনুপস্থিতিই অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার জন্য যথেষ্ট, তাই তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, শেষ তিনটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণ হলো বাস্তবে দুটি বিষয়েরই একসাথেই অনুপস্থিতি, কেবল একটির অনুপস্থিতি নয়। কারণ, তিনি যদি এটি উল্লেখ না করতেন, তবে জানা যেত না যে বাস্তবে এগুলোর অন্তর্ভুক্ত না হওয়া কি কেবল একটির অনুপস্থিতির কারণে, নাকি উভয়ের অনুপস্থিতির কারণে। যেহেতু এগুলোর ক্ষেত্রে প্রথম বিষয়টি (হরকতের ভিন্নতা) অনুপস্থিত থাকা স্পষ্ট, তাই তিনি সেগুলোর শুরুতে একবার উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছেন এবং বলেছেন, "ফাতাহা-ইয়াফতাহু স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ অতীত ও বর্তমানকালের আইন বর্ণের হরকতে ভিন্নতার অভাব এবং এর না আসা।" অর্থাৎ ফাতাহা-ইয়াফতাহু পরিচ্ছেদটি আইন বর্ণ বা লাম বর্ণে "কণ্ঠনালীর বর্ণ (হরফে হলকী) ব্যতিরেকে আসে না"। তারা এতে অতীত ও বর্তমানকালে আইন বর্ণকে ফাতহাযুক্ত রাখা আবশ্যক করেছেন যাতে ফাতহার হালকাভাব কণ্ঠনালীর বর্ণের ভারীভাবকে প্রতিহত করতে পারে। একারণেই তারা পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে 'ফা' বর্ণকে অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং 'অথবা ফা বর্ণ' বলেননি; কারণ বর্তমানকালে ফা বর্ণ সাকিন হওয়ার কারণে তার ভারীভাব দূরীভূত হয়ে যায়। আর 'দাখালা-ইয়াদখুলু'-এর মতো শব্দ দ্বারা এর ওপর আপত্তি আসবে না; কারণ এটি ঘটার পরের প্রমাণ। আর যেহেতু এটি কণ্ঠনালীর বর্ণ ব্যতিরেকে আসে না, তাই ব্যবহারের প্রাচুর্যও সেখানে অনুপস্থিত। "আর রানা-ইয়ারকানু এবং আবা-ইয়া'বা-এর ক্ষেত্রে" যেখানে কণ্ঠনালীর বর্ণ ছাড়াই উভয়টিতে আইন বর্ণ ফাতহাযুক্ত—এটি একটি 'লাফ' (সংক্ষিপ্ত বর্ণনা)। আর তার উক্তি "তা পরস্পর মিশ্রিত উপভাষা ও ব্যতিক্রমসমূহের অন্তর্ভুক্ত"—এটি তার বিন্যাস অনুযায়ী 'নাশর' (ব্যাখ্যা)। অর্থাৎ, 'রানা-ইয়ারকানু' অতীতকালে আইন বর্ণ ফাতহাযুক্ত এবং বর্তমানকালে যম্মাহযুক্ত হওয়া এক উপভাষা, আর 'রানা-ইয়ারকানু' অতীতকালে কাসরাযুক্ত এবং বর্তমানকালে ফাতহাযুক্ত হওয়া অন্য একটি উপভাষা। অতঃপর প্রথমটি থেকে অতীতকাল এবং দ্বিতীয়টি থেকে বর্তমানকাল গ্রহণ করে উভয়টিতে ফাতহা সহকারে 'রানা-ইয়ারকানু' বলা হয়েছে; কারণ এটি ফাতাহা-ইয়াফতাহু পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত, তাই এখানে কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়নি। যামাখশারী 'রানা-ইয়ারকানু'-কে শায (ব্যতিক্রম) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং 'আবা-ইয়া'বা'-কে মূল নিয়ম বহির্ভূত শায গণ্য করেছেন যা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রসমূহে প্রমাণিত, ফলে তা স্বতন্ত্র নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। যেন তিনি বলেছেন: ব্যাকরণিক নিয়ম এমনটিই, তবে এই সুরত বা ক্ষেত্রটি ব্যতিক্রম, তাই এখানে নিয়ম ভঙ্গ হবে না। "আর বাকিয়া-ইয়াবকা, ফানিয়া-ইয়াফনা এবং কালিয়া-ইয়াকলা-এর ক্ষেত্রে"—যেখানে কণ্ঠনালীর বর্ণ ছাড়াই সবগুলোতে অতীত ও বর্তমানকালের আইন বর্ণ ফাতহাযুক্ত—এগুলো "তাই গোত্রের উপভাষা, যারা পলায়ন করেছে" অর্থাৎ পলায়নকারী হিসেবে "কাসরা থেকে..."

--------------------------------------------

‌‌ইবনে কামাল পাশা রচিত [আল-ফালাহ শারহুল মারাহ]

"ফাতাহা-ইয়াফতাহু স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়" এবং তৃতীয় পরিচ্ছেদ থেকে যা কিছু আসে সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। "কারণ অতীত ও বর্তমানকালে হরকতের ভিন্নতার অভাব এবং অনুপস্থিতি" ব্যবহারের প্রাচুর্যের। কারণ এটি "কণ্ঠনালীর বর্ণ ব্যতিরেকে আসে না", হয় তার আইন বর্ণে অথবা লাম বর্ণে, ফলে এটি সীমাবদ্ধ বা শর্তযুক্ত হয়ে পড়ে। আর শর্তযুক্ত বিষয় শর্তহীন বিষয়ের তুলনায় অস্তিত্বের দিক থেকে কম, তাই উভয় শর্তই একসাথে অনুপস্থিত হলো এবং স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো না। যদিও পূর্ববর্তী দুটি শর্ত থেকে এটি অবধারিতভাবে জানা যায়, তবুও তিনি এটি সাব্যস্তকরণ ও স্পষ্টকরণের জন্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যাতে তার পরবর্তী বক্তব্য "আর রানা-ইয়ারকানু ইত্যাদি" এর ওপর ভিত্তি করে আসতে পারে। কণ্ঠনালীর বর্ণগুলো হলো: হামজা, হা, আইন, হা, গাইন এবং খা। তারা বর্তমানকালের আইন বর্ণকে তখনই ফাতহাযুক্ত করেন যখন তার আইন বর্ণ বা লাম বর্ণ কণ্ঠনালীর বর্ণগুলোর কোনো একটি হয়; কারণ সেগুলো ভারী, তাই তারা সেটিকে এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণকে হালকা করার জন্য ফাতহা প্রদান করেছেন, যেহেতু বর্তমানকালের আইন বর্ণে সাকিন হওয়া অসম্ভব, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আমরা কেন বললাম "যখন তার আইন বা লাম বর্ণ হবে"? কারণ যদি এগুলোর কোনো একটি বর্ণ 'ফা' বর্ণ হিসেবে আসে, যেমন: আমারা-ইয়ামুরু, তবে বর্তমানকালে ফাতহা হওয়া আবশ্যক নয়, কারণ সেখানে কণ্ঠনালীর বর্ণটি সাকিন থাকে। আর সাকিন বর্ণ তার পরবর্তী বর্ণকে ফাতহা করা আবশ্যক করে না, কারণ সাকিন হওয়ার কারণে সেটি দুর্বল হয়ে যায়। আর 'ইয়াদখুলু'-এর মতো শব্দ দ্বারা কোনো সংশয় তৈরি হবে না; কারণ উদ্দেশ্য হলো ফাতহা হওয়ার শর্ত হলো আইন বা লাম বর্ণে এগুলোর কোনো একটি বর্ণ থাকা, এর অর্থ এই নয় যে যাতে এই বর্ণ থাকবে তার সবকিছুই ফাতহাযুক্ত হতে হবে। আপনি যদি বলেন: আলিফ-ও তো তাদের ঐকমত্যে কণ্ঠনালীর বর্ণসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তবে কেন তারা এখানে তা গণনা করেননি? আমি বলব: আলিফ হয় আইন বর্ণ হবে অথবা লাম বর্ণ হবে, আর যাই হোক না কেন, তার কারণে আইন বর্ণকে ফাতহা দেওয়া সম্ভব নয়। যদি তা আইন বর্ণ হয়, তবে তার সাকিন হওয়া আবশ্যক হওয়ার কারণে (ফাতহা সম্ভব নয়)। আর যদি তা লাম বর্ণ হয়, তবে সেটি মূলত ওয়াও অথবা ইয়া ছিল; কেননা অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে ক্রিয়ামূলের লাম বর্ণে মৌলিক আলিফ আসে না। আর যখন তা ওয়াও বা ইয়া হয়, তখন সেগুলোকে আলিফে রূপান্তরিত করা তার পূর্ববর্তী বর্ণ অর্থাৎ আইন বর্ণের ফাতহাযুক্ত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, আলিফ আসার পূর্বেই আইন বর্ণের ফাতহা বিদ্যমান ছিল, তাই ফাতহাটি আলিফের কারণে হয়নি, অন্যথায় চক্রগতি (দাওর) লাযিম আসবে। আর এটিই উদ্দেশ্য। অতঃপর এই আইন বর্ণের ফাতহা যখন কোনো শর্ত (কণ্ঠনালীর বর্ণ) ছাড়াই পাওয়া গেল, তখন তা শায বা ব্যতিক্রম বলে গণ্য হলো। একারণেই তারা ফয়সালা করেছেন যে 'আবা-ইয়া'বা' ব্যতিক্রমধর্মী, এভাবেই তারা এটি যাচাই করেছেন। আর যখন এই আপত্তি উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো যে, তৃতীয় পরিচ্ছেদ কণ্ঠনালীর বর্ণ ছাড়া না আসার বিষয়টি 'রানা-ইয়ারকানু' এবং 'আবা-ইয়া'বা' দ্বারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়—যেহেতু এ দুটি এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত অথচ এতে কোনো কণ্ঠনালীর বর্ণ নেই—তখন তিনি এ দুটির উত্তর দিয়ে বলেছেন: "আর রানা-ইয়ারকানু এবং আবা-ইয়া'বা পরস্পর মিশ্রিত উপভাষা ও ব্যতিক্রমসমূহের অন্তর্ভুক্ত"। অর্থাৎ প্রথম উদাহরণটি পরস্পর মিশ্রিত হওয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং দ্বিতীয় উদাহরণটি শায বা ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এখানে বিন্যস্তভাবে সংক্ষেপ ও বিস্তারিত আলোচনা (লাফ্ফ ওয়া নাশর মুরত্তাব) রয়েছে। আপনি ইতিপূর্বে এর শায হওয়ার অর্থ জেনেছেন। আর এখানে দুটি উপভাষা মিশ্রিত হওয়ার অর্থ হলো: 'রানা-ইয়ারকানু' অর্থাৎ ঝুঁকে পড়া—এটি 'নাসারা-ইয়ানসুরু'-এর মতো একটি উপভাষা, আবার 'রানা-ইয়ারকানু' এটি 'আলিমা-ইয়া'লামু'-এর মতো আরেকটি উপভাষা। অতঃপর প্রথমটি থেকে অতীতকাল এবং দ্বিতীয়টি থেকে বর্তমানকাল গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের পরিভাষায় শায বা ব্যতিক্রম বলতে এমন কিছুকে বোঝায় যা ব্যাকরণিক নিয়মের পরিপন্থী, সেটি অস্তিত্বে কম হোক বা বেশি, যেমন 'আল-কাওয়াদ' শব্দ। আর 'নাদের' বা বিরল হলো যার অস্তিত্ব কম, যদিও তা নিয়মবহির্ভূত না হয়। কেউ কেউ যে বলেছেন, 'আবা' অর্থ 'মানায়া' (বিরত থাকা) আর এটি 'মানা'আ' (বাধা দেওয়া)-এর একটি শাখা, যাতে কণ্ঠনালীর বর্ণ রয়েছে, তাই একে তার ওপর কিয়াস করে ফাতহা দেওয়া হয়েছে—এ মতটি দুর্বল। কারণ কোনো শব্দের অর্থের মধ্যে কণ্ঠনালীর বর্ণ থাকা সেই শব্দটিকে জিহ্বার ওপর ভারী করে দেয় না যে তার কারণে একে তার শাখার ওপর কিয়াস করে পরবর্তী বর্ণকে ফাতহা দিতে হবে। আর যখন উল্লিখিত উদাহরণগুলোর কারণেও আপত্তির সম্ভাবনা দেখা দিল, তখন তিনি এই বলে উত্তর দিলেন: "আর বাকিয়া-ইয়াবকা, ফানিয়া-ইয়াফনা এবং কালিয়া-ইয়াকলা হলো তাই গোত্রের উপভাষা"। অর্থাৎ বাকিয়া-ইয়াবকা এবং ফানিয়া-ইয়াফনা মূলত 'আলিমা-ইয়া'লামু' পরিচ্ছেদের, তাই এ দুটির অতীতকালের আইন বর্ণ কাসরাযুক্ত। আর কালিয়া-ইয়াকলা মূলত 'দবারাবা-ইয়াদরিবু' পরিচ্ছেদের, তাই এর বর্তমানকালের আইন বর্ণ কাসরাযুক্ত। কিন্তু তাই গোত্র "কাসরা থেকে পলায়ন করেছে", অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় উদাহরণে অতীতকালের আইন বর্ণের কাসরা থেকে এবং তৃতীয় উদাহরণে বর্তমানকালের আইন বর্ণের কাসরা থেকে।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌[شرح ديكنقوز]

إلى الفتحة" يعني أن الأصل فيها كسر العين في الماضي فقلبوا الكسرة فتحة؛ لأن من القياس عندهم أن يقلبوا الكسرة التي قبل الياء فتحة ثم يقلبوا الياء ألفا للتخفيف "و" باب "كرم يكرم لا يدخل في الدعائم لانعدام اختلاف الحركات و" انعدام "كثرة الاستعمال؛ لأنه لا يجيء إلا من الطبائع" أي الأفعال الطبيعية أي الغريزية التي جبل أي خلق الفاعل عليها من غير اختيار منه كالحسن والكرم "و" إلا "من النعوت" أي الصفات اللازمة ولأجل أن هذا الباب للصفات اللازمة اختير للماضي والمضارع منه حركة لا تحصل إلا بلزوم إحدى الشفتين للأخرى وانضمامها بها أعني الضم رعاية للتناسب بين الألفاظ ومعانيها "و" باب "حسب يحسب لا يدخل في الدعائم" لانعدام الاختلاف و"لقلته" في الاستعمال فيه إشارة إلى أن قلة استعمال هذا الباب لذاته لا بسبب من الأسباب ولا بشرط من الشروط "وقد جاء فعل يفعل" بضم العين في الماضي وفتحها في الغابر "على لغة من قال كدت تكاد" أصلهما كودت تكود بضم الماضي وفتح المضارع "وهي شاذة" والقياس كدت تكاد بكسر الكاف في الماضي من باب علم "كفضل يفضل" بكسر العين في الماضي وضمها في المضارع "ودمت" بكسر الدال "تدوم" بضمها يعني كما أن فضل يفضل ودمت تدوم شاذان، والقياس فضل يفضل من باب نصر ودمت تدوم من باب حسن كذلك كدت تكاد شاذا، وقال الزمخشري ثالثها في المتداخلة فكأن المصنف لم يظفر بكدت تكود بالضم فيهما وفضل يفضل بالكسر في الماضي والفتح في الغابر وبدمت تدام بالكسر في الماضي والفتح في المضارع فحكم بشذوذها. واعلم أن بعضهم قدم الرباعي المجرد على المنشعبات نظرا إلى أن الثلاثي المجرد

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"إلى الفتحة" طلبا للخفة، وكذا فروا من كل كسرة قبل ياء مفتوحة فتحة بناء إلى الفتحة، ثم قلبوا الياء ألفا فقالوا في بني على صيغة المجهول بنى، قال في مختار الصحاح: بقي الشيء بالكسرة بقاء، وكذا بقي الرجل زمانا طويلا أي عاش، وطيء يقول: بقى وبقت مكان بقي وبقيت وكذا أخواتها من المعتل، وقال: فني الشيء بالكسر فناء، وقال: القلى البغض تقول قلاة يقليه وقلاء بالفتح والمد ويقلاه لغة طيء. ا. هـ. إذا عرفت ما تلوناه عليك فاعلم أن بعض الشارحين قالوا: إن بقى يبقي وفنى يفني وقلى يقلي بكسر العين في المضارع في الكل أما طيء فروا إلخ، وبعضهم قالوا بكسر العين في الماضي في الكل، أما طيء فروا إلخ، وكل ذلك غلط نشأ من عدم الاهتداء في علم اللغة الحمد لله الذي هدانا لهذا اعلم أنه استصعب على الشارحين ارتباط قوله قد فروا إلخ بما قبله من حيث المعنى، والأمر هين لأنه استئناف لبيان لغة طيء فيقع جوابا للسؤال، فكأن قائلا يقول: ما فعلوا فيها؟ فقال: قد فروا إلخ، "ونحو كرم يكرم لا يدخل في الدعائم؛ لأنه لا يجيء إلا من الطبائع" جمع طبيعة وهي القوة الموجودة في الشيء التي لا شعور لها بما يصدر عنها ويكون الصادر منها أثرا واحدا واقعا على نهج واحد "والنعوت" جمع نعت وهي الصفة أي لا يجيء فعل يفعل بضم العين فيهما إلا من الأفعال الصادرة عن الطبائع من غير شعور واختيار الدالة على صفاتها اللازمة لها كالحسن، فإن المراد بالحسن الحسن الطبيعي وهو كون الأعضاء متناسبة على ما ينبغي أن يكون لا ما يمكن اكتسابه بالزينة من صفاء اللون ولين الملمس، فلا يكثر استعمالها لكونها مقيدة ولا يختلف حركاتها في الماضي والمضارع أيضا؛ لأن هذا البناء لما خالف بقية الأبنية لكونه خلقة وطبيعة صادرة على نهج واحد من غير اختيار خولف في الحركة أيضا بأن يكونا مضمومين إيذانا بعدم اختلاف معناه في نفسه، كما جعلوا الضم علامة لبناء المجهول، ولما كان وضع هذا البناء لمثل هذه الأفعال لا يقتضي متعلقا ومفعولا فيكون لازما أبدا فقوله: لا يجيء إلا من الطبائع دليل على انتفاء كثرة الاستعمال أصالة، وعلى عدم اختلاف الحركة إشارة فافهم "وحسب يحسب لا يدخل" أيضا "في الدعائم" لقلته في الاستعمال ولعدم اختلاف حركتهما "وقد جاء فعل يفعل" بضم العين في الماضي وفتحها في الغابر، يعني إذا كان العين مضموما في الماضي يجب أن يكون مضموما في المضارع أيضا قياسا، لكن قد جاء "على لغة من قال كدت تكاد" لاف ذلك وهو ضم العين في الماضي وكسرها في الغابر؛ لأن أصل كدت كودت بضم الواو فنقلت ضمتها إلى ما قبلها بعد سلب حركته؛ لتدل على أن البناء من مضموم العين وأصل تكاد تكود بفتح الواو فأعل بالنقل والقلب فأجاب بقوله: "وهي" أي هذه اللغة "شاذة" أي خارجة عن القياس "كفضل" بالكسر "يفضل" بالضم أي كما يكون هذا شاذا يعني إن كان العين مكسورا في الماضي وجب أن يكون إما مفتوحا أو مكسور في المضارع قياسا، لكن جاء هذا بخلافه فيكون شاذا وبعض المحققين قالوا: إن فضل يفضل من تداخل اللغتين وذلك لأن العرب تقول فضل بالفتح والكسر ومضارع الفتح بالضم ومضارع الكسر بالفتح فإذا سمع بعد ذلك فضل يفضل علم أنه من التداخل، وبعض الشارحين حكموا بمخالفة القولين وأقول: لا مخالفة بينهما لأن تداخل اللغتين ليس بقياس؛ إذ القياس عدم التداخل فيكون شاذا لا محالة قال في مختار الصحاح: الفضلة والفضالة ما فضل من الشيء وفضل منه شيء من باب نصر وفيه لغة ثانية من باب فهم وفيه لغة ثالثة مركبة منهما فضل بالكسر يفضل بالضم وهو شاذ لا نظير له. ا. هـ. فعلى هذا لا يتوجه أن يقال إن الفضل من الأفعال الطبيعية كالكرم فلم جاز فيه غير الضم في الماضي والمضارع؛ لأنه من الفضلة لا من الفضل "ودمت تدوم" أي وكما يكون هذا شاذ لأن أصله
[শরহ দিকনিক্বয]

"ফাতহাহ-র দিকে" অর্থাৎ এর মূল রূপ ছিল অতীতকালে (মাযী) আইন কালেমার কাসরাহ, অতঃপর তারা কাসরাহকে ফাতহাহ-তে রূপান্তর করেছে; কারণ তাদের ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী তারা ইয়া-এর পূর্ববর্তী কাসরাহ-কে লঘু করার জন্য ফাতহাহ-তে রূপান্তর করে, অতঃপর ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে। "এবং" 'কারুমা ইয়াক রুমু' বাবটি (ক্রিয়াধারা) মূল স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, হারাকাতের (স্বরচিহ্ন) ভিন্নতা না থাকার কারণে এবং "এবং" ব্যবহারের আধিক্য না থাকার কারণে; কারণ এটি কেবল স্বভাবজাত বিষয়সমূহ" অর্থাৎ স্বাভাবিক বা সহজাত ক্রিয়াসমূহ থেকে আসে, যার ওপর কর্তা কোনো ইখতিয়ার বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সৃষ্ট বা স্বভাবজাত হয়েছেন, যেমন সৌন্দর্য ও মহানুভবতা। "এবং" এছাড়া এটি "গুণাবলি" অর্থাৎ অপরিহার্য গুণাবলি থেকে আসে। আর যেহেতু এই বাবটি অপরিহার্য গুণাবলির জন্য নির্ধারিত, তাই এর অতীত ও বর্তমান কালের জন্য এমন হারাকাত নির্বাচন করা হয়েছে যা উভয় ঠোঁটকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করা এবং গোল করা ব্যতীত অর্জিত হয় না—অর্থাৎ যম্মাহ; এটি করা হয়েছে শব্দ ও অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য। "এবং" 'হাসিবা ইয়াহসিবু' বাবটি মূল স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়" ভিন্নতা না থাকা এবং ব্যবহারের "স্বল্পতার কারণে"। এখানে ইঙ্গিত রয়েছে যে, এই বাবের ব্যবহারের স্বল্পতা তার নিজস্ব সত্তার কারণে, অন্য কোনো কারণ বা শর্তের কারণে নয়। "এবং কখনো কখনো 'ফা'ুলা ইয়াফ'আলা'" অতীতকালে আইন কালেমার যম্মাহ এবং ভবিষ্যৎ কালে (মুযারি) ফাতহাহ সহকারে "তাদের ভাষায় এসেছে যারা বলে 'কুদতু তাকা-দু' "। এর মূল ছিল 'কাউয়ুদতু তাকউয়ুদু' মাযীতে যম্মাহ এবং মুযারি'তে ফাতহাহ সহকারে। "এটি বিরল (শায)" এবং নিয়ম অনুযায়ী 'কালিমা'র বাব থেকে কাফ-এর নিচে কাসরাহ সহকারে 'কিদতু তাকা-দু' হওয়া উচিত ছিল। "যেমন 'ফাযিলা ইয়াফযুলু' " মাযীতে আইন কালেমার কাসরাহ এবং মুযারি'তে যম্মাহ সহকারে, "এবং 'দুমতু' " দাল-এর কাসরাহ সহকারে " 'তাদূমু' " যম্মাহ সহকারে। অর্থাৎ যেমন 'ফাযিলা ইয়াফযুলু' এবং 'দুমতু তাদূমু' বিরল বা নিয়মবহির্ভূত, এবং নিয়ম অনুযায়ী 'নাসারা'র বাব থেকে 'ফাযালা ইয়াফযুলু' এবং 'হাসুনা'র বাব থেকে 'দুমতু তাদূমু' হওয়া উচিত ছিল, তেমনি 'কুদতু তাকা-দু' শব্দটিও বিরল। আল-যামাখশারী বলেন, এটি তাদাখুল (এক বাবের সাথে অন্য বাবের মিশ্রণ) এর ক্ষেত্রে তৃতীয় প্রকার। যেন গ্রন্থকার উভয় ক্ষেত্রে যম্মাহ সহকারে 'কুদতু তাকউদু', মাযীতে কাসরাহ ও মুযারি'তে ফাতহাহ সহকারে 'ফাযিলা ইয়াফযালু' এবং মাযীতে কাসরাহ ও মুযারি'তে ফাতহাহ সহকারে 'দুমতু তাদামু' খুঁজে পাননি, তাই তিনি এগুলোকে বিরল হিসেবে গণ্য করেছেন। জেনে রাখুন যে, কেউ কেউ রুবায়ী মুজাররাদকে (চার অক্ষরবিশিষ্ট মূল ক্রিয়া) মুনশা'ইবাত (শাখা-প্রশাখা) এর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন এই বিবেচনায় যে, থুলাসী মুজাররাদ (তিন অক্ষরবিশিষ্ট মূল ক্রিয়া)...

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শরহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা রচিত

"ফাতহাহ-র দিকে" লঘুতা বা সহজতা অর্জনের উদ্দেশ্যে। অনুরূপভাবে তারা ফাতহাহ-যুক্ত ইয়া-এর পূর্ববর্তী প্রতিটি কাসরাহ থেকে পলায়ন করে ফাতহাহ-র দিকে ফিরে আসে, অতঃপর ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করে; যেমন তারা মাজহুল (কর্মবাচ্য) রূপে 'বুনিয়া' না বলে 'বানা' বলে। 'মুখতারুস সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'বাকিয়াশ শাইয়ু' কাসরাহ সহকারে অর্থ কোনো কিছু অবশিষ্ট থাকা। অনুরূপভাবে 'বাকিয়ার রাজুলু যামানান তাবীলা' অর্থাৎ ব্যক্তিটি দীর্ঘকাল বেঁচে থাকল। তায়ি গোত্র বলে: 'বাকা' এবং 'বকাত' অর্থাৎ 'বাকিয়া' এবং 'বাকিয়াত' এর স্থলে। অনুরূপভাবে মো'তাল (দুর্বল বর্ণযুক্ত) ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। তিনি আরও বলেন: 'ফানিয়াশ শাইয়ু' কাসরাহ সহকারে অর্থ কোনো কিছু বিলীন হওয়া। তিনি বলেন: 'আল-কিলা' অর্থ ঘৃণা করা, আপনি বলবেন 'কিলাতু ইয়াকলিহি' এবং ফাতহাহ ও মাদ্দ সহকারে 'কিলা' এবং 'ইয়াকলাহু' যা তায়ি গোত্রের ভাষা। (সংক্ষেপিত)। আপনি যখন আমাদের বর্ণিত বিষয়গুলো বুঝতে পারলেন, তখন জেনে রাখুন যে, কিছু ব্যাখ্যাকার বলেছেন: 'বাকিয়া ইয়াবকি', 'ফানিয়া ইয়াফনি' এবং 'কিলা ইয়াকলি' সকল ক্ষেত্রে মুযারি'তে আইন কালেমার কাসরাহ সহকারে হবে। আর তায়ি গোত্র পলায়ন করেছে... ইত্যাদি। আবার কেউ কেউ বলেছেন সকল ক্ষেত্রে মাযীতে আইন কালেমার কাসরাহ হবে, আর তায়ি গোত্র পলায়ন করেছে... ইত্যাদি। এর সবই ভাষাতত্ত্বে সঠিক দিকনির্দেশনা না পাওয়ার কারণে সৃষ্ট ভুল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের এই সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। জেনে রাখুন যে, ব্যাখ্যাকারদের নিকট লেখকের উক্তি "তারা পলায়ন করেছে" ইত্যাদির সাথে পূর্ববর্তী কথার অর্থগত সম্পর্ক নির্ণয় করা কঠিন মনে হয়েছে। অথচ বিষয়টি অতি সহজ, কারণ এটি তায়ি গোত্রের ভাষা বর্ণনার জন্য একটি প্রারম্ভিক বাক্য যা একটি প্রশ্নের উত্তর হিসেবে এসেছে। যেন কেউ প্রশ্ন করছে: তারা এতে কী করেছে? উত্তরে তিনি বললেন: তারা পলায়ন করেছে... ইত্যাদি। "এবং 'কারুমা ইয়াক রুমু' এর ন্যায় শব্দগুলো মূল স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এটি কেবল স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য (তাবাই') থেকে আসে"। 'তাবাই' হলো 'তাবি'আহ' এর বহুবচন, যা বস্তুর মধ্যে বিদ্যমান এমন একটি শক্তি যা নিজের থেকে নির্গত কার্যাবলি সম্পর্কে সচেতন নয় এবং তা থেকে নির্গত ফলাফল একক এবং অভিন্ন নিয়মে ঘটে থাকে। "এবং গুণাবলি (নু'উত)" এটি 'নাত' এর বহুবচন যার অর্থ বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রে আইন কালেমার যম্মাহ সহকারে 'ফা'ুলা ইয়াফ'উলু' কেবল সেই সব ক্রিয়া থেকেই আসে যা স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য থেকে সচেতনতা ও ইখতিয়ার ব্যতীত নির্গত হয় এবং যা ব্যক্তির অপরিহার্য গুণের ওপর প্রমাণ পেশ করে, যেমন সৌন্দর্য। এখানে সৌন্দর্য বলতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের এমন সুসমন্বয় যা হওয়া বাঞ্ছনীয়, অলঙ্কার বা কৃত্রিম সাজসজ্জার মাধ্যমে অর্জিত গায়ের রং বা কমনীয়তা নয়। তাই এর ব্যবহারের আধিক্য নেই কারণ এটি সীমাবদ্ধ, এবং মাযী ও মুযারি'তে এর হারাকাতও ভিন্ন হয় না। কেননা এই গঠনটি যখন অন্যান্য গঠন থেকে ভিন্ন হলো এর সৃষ্টিগত ও স্বভাবজাত হওয়ার কারণে এবং ইখতিয়ার বা নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত একটি নির্দিষ্ট নিয়মে নির্গত হওয়ার কারণে, তখন এর হারাকাতকেও ভিন্ন রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মাযী ও মুযারি উভয় ক্ষেত্রেই যম্মাহ প্রদান করা হয়েছে যাতে এটি নিজের অর্থের অভিন্নতার পরিচয় দেয়। যেমন তারা মাজহুলের (কর্মবাচ্য) জন্য যম্মাহকে আলামত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আর যেহেতু এই রূপটি এই ধরণের ক্রিয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনো কর্ম (মাফ'উল) প্রয়োজন হয় না, বরং তা সর্বদা লাযিম (অকর্মক) হয়, তাই লেখকের কথা "এটি কেবল স্বভাবজাত বিষয়সমূহ থেকে আসে" ব্যবহারের আধিক্য না থাকার মৌলিক প্রমাণ এবং হারাকাতের ভিন্নতা না হওয়ার প্রতি একটি ইঙ্গিত। বিষয়টি অনুধাবন করুন। "এবং 'হাসিবা ইয়াহসিবু'ও প্রবেশ করবে না" "মূল স্তম্ভসমূহের অন্তর্ভুক্ত হবে না" ব্যবহারের স্বল্পতার কারণে এবং তাদের হারাকাতের ভিন্নতা না থাকার কারণে। "এবং কখনো কখনো 'ফা'ুলা ইয়াফ'আলা' এসেছে" মাযীতে আইন কালেমার যম্মাহ এবং মুযারি'তে ফাতহাহ সহকারে। অর্থাৎ যখন মাযীতে আইন কালেমা যম্মাহযুক্ত হয়, তখন নিয়ম অনুযায়ী মুযারি'তেও সেটি যম্মাহযুক্ত হওয়া ওয়াজিব। কিন্তু "তাদের ভাষায় যারা 'কুদতু তাকা-দু' বলে" এর ব্যতিক্রম এসেছে, যা হলো মাযীতে আইন কালেমার যম্মাহ এবং মুযারি'তে ফাতহাহ। কারণ 'কুদতু' এর মূল ছিল 'কাউয়ুদতু' ওয়াও-এর যম্মাহ সহকারে, অতঃপর ওয়াও-এর হারাকাতকে তার পূর্ববর্তী বর্ণে স্থানান্তর করা হয়েছে পূর্ববর্তী বর্ণের হারাকাত বিলুপ্ত করার পর, যাতে এটি প্রমাণ করে যে শব্দটি 'ফা'ুলা' (যম্মাহযুক্ত আইন কালেমা) থেকে গঠিত। আর 'তাকা-দু' এর মূল ছিল 'তাকউয়াদু' ওয়াও-এর ফাতহাহ সহকারে, অতঃপর হারাকাত স্থানান্তর ও পরিবর্তনের মাধ্যমে এর রূপান্তর করা হয়েছে। লেখক এর উত্তরে বলেছেন: "এটি" অর্থাৎ এই ভাষাটি "বিরল (শায)" অর্থাৎ নিয়মবহির্ভূত। "যেমন 'ফাযিলা'" কাসরাহ সহকারে " 'ইয়াফযুলু' " যম্মাহ সহকারে। অর্থাৎ এটি যেমন বিরল। এর অর্থ হলো, যদি মাযীতে আইন কালেমা কাসরাহযুক্ত হয়, তবে নিয়ম অনুযায়ী মুযারি'তে সেটি ফাতহাহ বা কাসরাহযুক্ত হওয়া ওয়াজিব। কিন্তু এটি তার বিপরীতে এসেছে, তাই এটি বিরল হবে। কিছু গবেষক বলেছেন যে, 'ফাযিলা ইয়াফযুলু' হলো দুটি ভাষার মিশ্রণ (তাদাখুলুল লুগাতাইন)। কারণ আরবরা 'ফাযালা' (ফাতহাহ সহকারে) এবং 'ফাযিলা' (কাসরাহ সহকারে) উভয়টিই বলে থাকে। ফাতহাহ-যুক্তটির মুযারি যম্মাহ সহকারে এবং কাসরাহ-যুক্তটির মুযারি ফাতহাহ সহকারে হয়। অতঃপর যখন 'ফাযিলা ইয়াফযুলু' শোনা যায়, তখন বোঝা যায় এটি দুটি ভাষার সংমিশ্রণ। কিছু ব্যাখ্যাকার এই দুই উক্তির মধ্যে বিরোধ আছে বলে রায় দিয়েছেন। আমি বলি: তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই, কারণ দুটি ভাষার সংমিশ্রণ হওয়া নিয়মিত নিয়ম নয়; বরং নিয়ম হলো সংমিশ্রণ না হওয়া, সুতরাং এটি অবশ্যই বিরল (শায) হবে। 'মুখতারুস সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আল-ফাযলাহ' এবং 'আল-ফাযালাহ' অর্থ অবশিষ্ট অংশ। 'ফাযালা মিনহু শাইউন' এটি 'নাসারা'র বাব থেকে, এতে দ্বিতীয় একটি ভাষা রয়েছে যা 'ফাহিমা'র বাব থেকে এবং তৃতীয় একটি ভাষা রয়েছে যা এই দুটির সংমিশ্রণ, আর তা হলো 'ফাযিলা' (কাসরাহ সহকারে) 'ইয়াফযুলু' (যম্মাহ সহকারে) যা বিরল এবং এর কোনো নজির নেই। (সংক্ষেপিত)। এর ভিত্তিতে এই প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই যে, 'ফাযল' তো 'কারুমা'র ন্যায় একটি স্বভাবজাত ক্রিয়া, তবে কেন মাযী ও মুযারি'তে যম্মাহ ব্যতীত অন্য হারাকাত জায়েয হলো? কারণ এটি 'ফাযলাহ' (অতিরিক্ত হওয়া) থেকে উদ্ভূত, 'ফাযল' (মর্যাদা) থেকে নয়। "এবং 'দুমতু তাদূমু' " অর্থাৎ যেমন এটিও বিরল, কারণ এর মূল ছিল...
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌[شرح ديكنقوز]

والرباعي المجرد أصلان فراعى مناسبة الأصالة بينهما فلم يفصل بينهما، والمصنف قدم منشعبة الثلاثي المجرد على الرباعي المجرد؛ رعاية لمناسبة الأصالة والفرعية بينهما فقال: "واثنا عشر لمنشبعة الثلاثي" أي المتفرعة عليه إما بزيادة حرف أو حرفين أو ثلاثة أحرف ولم يزد الزيادة على الثلاثة؛ لئلا يلزم زيادة الزائد على الأصل، ثم قدم ما زيد فيه حرف واحد على ما زيد فيه حرفان، وقدم ما زيد فيه حرفان على ما زيد فيه ثلاثة أحرف؛ رعاية للترتيب الطبيعي، فما زيد فيه حرف واحد فثلاثة أبواب وذلك "نحو أكرم" يكرم "إكراما" بزيادة الهمزة المفتوحة في أوله وإنما كسرت في المصدر فرقا بينه وبين الجمع على أفعال ولم يعكس لثقل الجمع وخفة الفتحة، وهذا باب الأفعال قدم؛ لأن الزيادة في الأول "و" نحو "قطع" تقطيعا بتضعيف العين قيل الزيادة هي الأولى؛ لأن الحكم بزيادة الساكن أولى وقيل الثانية؛ لأن الزيادة بالآخر أنسب، وسيبويه أجاز الوجهين لتعارض الدليلين وهذا باب التفعيل قدم؛ لأن الزيادة في الأصول "و" نحو "قاتل" مقاتلة بزيادة الألف بين الفاء والعين وهذا باب المفاعلة "و" ما زيد فيه حرفان فخمسة أبواب نحو "تفضل" تفضيلا بزيادة التاء في أوله وتضعيف العين، وهذا باب التفعل قدمه؛ لأن إحدى الزيادتين من جنس الأصول "وتضارب" تضاربا بزيادة التاء في أوله والألف بين الفاء والعين

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

دومت تدوم بكسر الواو في الأول وضمها في الثاني فأعل الأول بنقل حركة الواو إلى ما قبلها بعد سلب حركته ثم حذفها لالتقاء الساكنين والثاني بنقل حركة الواو إلى ما قبلها "واثنا عشر بابا" منها "لمنشعبة الثلاثي" أي لمزيد الثلاثي بالمجرد والمنشعبة الأبنية المتفرعة من أصل بزيادة حرف أو أكثر ليس من جنس الحروف الأصلية أو بتكرير حرف منهما أو بهن معا لقصد زيادة معنى من التعدية والتكثير وغيرهما، مثل: أخرج وفرح زيد في الأول همزة للتعدية وتكرر العين في الثاني للتكثير، وهو ثلاثة أقسام؛ الأول: ما يزاد فيه حرف واحد، وهو ثلاثة أبواب الأول باب الأفعال "نحو أكرم إكراما" الهمزة زائدة وكسرت في مصدره فرقا بينه وبين الجمع على أفعال نحو إعمال وأعمال، ولم ينعكس لثقل الجمع وبناؤه للتعدية غالبا نحو أجلسته وأكرمته، وللصيرورة نحو أجرب الرجل أي صار ذا جرب وللوجدان نحو أبخلته وأحمدته، أي وجدته بخيلا ومحمودا وللسلب والإزالة نحو أشكيته، أي أزلت عنه الشكاية وللتعريض نحو باع الجارية، أي عرضها للبيع وللحينونة نحو أحصد الزرع أي حان وقت حصادهن وقد يكون بمعنى فعل نحو أقلت البيع فعلته "و" الثاني باب التفعيل "نحو قطع تقطيعا" كررت العين الثاني وهو الزائد عند الجمهور والأول عند الخليل؛ لأن الساكن كالمعدوم فالتصرف فيه أولى وكلاهما شائع عند سيبويه وهذا البناء للتكثير غالبا، وهو إما في الفعل نحو جولت وطوفت وفي الفاعل نحو موت الإبل، وفي المفعول نحو غلقت الأبواب وقطعت الثوب فإن فقد ذلك لم يجز استعمال فلذلك كان موت الشاة لشاة واحدة خطأ؛ لأن هذا الفعل لا يستقيم تكثيره بالنسبة إلى الشاة؛ إذ لا يمكن تكثير الواحد، وليس ثمة مفعول ليكون التكثير له وعدم إمكان تكثير الفعل ظاهر كذا قيل، وللتعدية نحو فرحته، وللسلب نحو جلدت البعير، أي أزلت جلده "و" الثالث: باب المفاعلة نحو "قاتل مقاتلة" الألف زائدة، وهذا البناء للمشاركة بين أمرين في أصل الفعل الذي هو مصدر فعله الثلاثي كالقتل فينسب ذلك الفعل إلى أحد الأمرين متعلقا بالآخر صريحا ويجيء عكس ذلك ضمنا، وهو نسبته إلى الأمر الآخر متعلقا بالأول، مثلا إذا قلت: قاتل زيد عمرا فإنه يدل صريحا على نسبة القتل إلى زيد متعلق بعمرو، وضمنا على نسبته إلى عمرو متعلق بزيد، وقد يجيء للتكثير نحو ضاعفت بمعنى ضعفت وبمعنى فعل أي لنسبة الفعل إلى الفاعل لا غير كقولك سافرت بمعنى نسبة السفر إلى المسافر وعافاك الله بمعنى نسبة العفو إلى الله "و" القسم الثاني ما زيد فيه حرفان وهو خمسة أبواب الأول باب التفعل "نحو تفضل تفضلا" أصله فضل فزيدت التاء في أوله وكررت العين وبناؤه لمطاوعة فعل بالتشديد نحو كسرته فتكسر ولهذا يصير لازما لمطاوعة تقتضي اللزوم ومعنى كون الفعل مطاوعا كونه دالا على معنى حصل عن تعلق فعل آخر متعد، كقولك باعدته فتباعد فقولك تباعد عبارة عن معنى حصل عن تعلق فعل متعدو وهو باعدته، أي هذا الذي قام به تباعد، وقد يتلفظ بالمطاوع وإن لم يكن معه مطاوع، كقولك: انكسر الإناء، وقد يجيء للتكلف ومعناه أن الفاعل تكلف ذلك الفعل ليحصل باستعماله كتشجع زيد؛ إذ معناه استعمل الشجاعة وكلف نفسه إياها لتحصل، وقد يجيء للعمل أي ليدل على أن أصل الفعل حصل مرة بعد مرة نحو تجرع أي شرب جرعة بعد جرعة، وقد يجيء للطلب نحو تكبر أي طلب أن يكون كبيرا، وللاتخاذ أي يجعل الفعل المفعول أصل الفعل نحو توسدت التراب، أي اتخذته وسادة وللتجنب أي ليدل على أن الفعل جانب أصل الفعل نحو تأثم أي جانب الإثم "و" الثاني باب التفاعل "نحو تضارب تضاربا" أصله ضرب فزيد في أوله تاء وبين العين والفاء ألف وبناؤه لمشاركة أمرين أو أكثر والفرق بين فاعل وتفاعل من حيث اللفظ أن وضع فاعل لنسبة الفعل إلى الفاعل متعلقا بغيره، مع أن الغير مثل ذلك ووضع تفاعل نسبة الفعل إلى أمرين مشتركين في ذلك الفعل من غير قصد إلى تعلقه بغيره، ففي الأول يرفع بالفعل ما ينسب الفعل إليه صريحا وينصب المتعلق، وفي الثاني يرفعان معا بطريق العطف مثل قاتل زيد عمر أو تضارب زيد وعمرو، لهذا جاء الأول زائدا على الثاني بمفعول أبدا، ومن حيث المعنى أن بادئ الفعل في فاعل معلوم دون تفاعل ولذلك يقال
[শারহুন দিকনুকুয]

রুবায়ী মুজাররাদ (চতুর্মূলীয় মূলরূপ) হলো দুটি মূল, তাই তিনি এ দুটির মধ্যকার মৌলিকত্বের সামঞ্জস্য রক্ষা করেছেন এবং তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাননি। গ্রন্থকার সুলাসি মুজাররাদের (ত্রিমূলীয় মূলরূপ) শাখাসমূহকে রুবায়ী মুজাররাদের আগে স্থান দিয়েছেন; তাদের মধ্যকার মূল ও শাখার সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য। তিনি বলেছেন: "সুলাসি মুজাররাদের শাখার জন্য বারোটি পরিচ্ছেদ।" অর্থাৎ যা থেকে শাখা নির্গত হয়েছে, তা একটি, দুটি বা তিনটি অক্ষর বৃদ্ধির মাধ্যমে হতে পারে। তিনি তিনটির বেশি অক্ষর বৃদ্ধি করেননি; যাতে মূলের ওপর অতিরিক্তের আধিক্য না ঘটে। এরপর তিনি এক অক্ষর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শব্দকে দুই অক্ষর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত শব্দের আগে এবং দুই অক্ষর বৃদ্ধিপ্রাপ্তকে তিন অক্ষর বৃদ্ধিপ্রাপ্তের আগে স্থান দিয়েছেন; প্রাকৃতিক ক্রম বজায় রাখার জন্য। যেগুলোতে এক অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে তার জন্য তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। যেমন: "আকরামা" (সম্মান করল), "ইউকরিমা", "ইকরামান", এর শুরুতে একটি জবরযুক্ত হামজা বৃদ্ধির মাধ্যমে। মাসদারে একে যের দেওয়া হয়েছে যাতে এটি 'আফ’আল' ওজনের বহুবচনের সাথে মিশে না যায়। এর বিপরীতটি করা হয়নি কারণ বহুবচনের ওজন ভারী এবং জবরের উচ্চারণ হালকা। এটি হলো 'ইফ’আল' পরিচ্ছেদ, যা প্রথমে আনা হয়েছে কারণ এর বৃদ্ধি ঘটেছে শব্দের শুরুতে। আর "কাত্তা’আ" (টুকরো টুকরো করল), "তাকতী’আন", এখানে আইন অক্ষরের দ্বিত্ব করার মাধ্যমে। বলা হয়ে থাকে যে, প্রথমটি অতিরিক্ত; কারণ সাকিনকে অতিরিক্ত গণ্য করাই উত্তম। আবার বলা হয় দ্বিতীয়টি অতিরিক্ত; কারণ শেষের দিকে বৃদ্ধি করা বেশি মানানসই। সিবওয়াইহি উভয় মতকেই বৈধ বলেছেন কারণ উভয় দিকেই প্রমাণ রয়েছে। এটি 'তাফ’ইল' পরিচ্ছেদ, যা আগে আনা হয়েছে কারণ এর বৃদ্ধি ঘটেছে মূল অক্ষরের মাঝেই। আর "কাতলা" (লড়াই করল), "মুকা তালাতান", ফা এবং আইন অক্ষরের মাঝে আলিফ বৃদ্ধির মাধ্যমে। এটি হলো 'মুফা’আলাহ' পরিচ্ছেদ। যেগুলোতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি পেয়েছে তার জন্য পাঁচটি পরিচ্ছেদ। যেমন: "তাফাদদলা" (অনুগ্রহ করল), "তাফাদদুলান", শুরুতে 'তা' বৃদ্ধি এবং আইন অক্ষরের দ্বিত্ব করার মাধ্যমে। এটি 'তাফাউল' পরিচ্ছেদ, তিনি একে আগে এনেছেন কারণ এর দুটি অতিরিক্ত অক্ষরের একটি মূল অক্ষরের স্বগোত্রীয়। আর "তাদারবা" (পরস্পর প্রহার করল), "তাদারুবান", শুরুতে 'তা' এবং ফা ও আইন অক্ষরের মাঝে আলিফ বৃদ্ধির মাধ্যমে।

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কর্তৃক

"দুমতা তাদুমু", প্রথমটিতে ওয়াও-এর নিচে যের এবং দ্বিতীয়টিতে পেশ যোগে। প্রথমটির ক্ষেত্রে ওয়াও-এর হরকত তার পূর্ববর্তী অক্ষরে স্থানান্তর করার মাধ্যমে এবং এরপর দুই সাকিনের মিলনের ফলে ওয়াও বিলুপ্ত করে রূপান্তর করা হয়েছে। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ওয়াও-এর হরকত তার পূর্ববর্তী অক্ষরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে "বারোটি পরিচ্ছেদ" হলো "সুলাসি মুজাররাদের শাখাগুলোর" জন্য। অর্থাৎ সুলাসি মুজাররাদের সাথে অতিরিক্ত যুক্ত হওয়া শব্দ। 'মুনশা’বিআহ' হলো সেই রূপান্তরগুলো যা কোনো মূল থেকে এক বা একাধিক অক্ষর বৃদ্ধির মাধ্যমে গঠিত হয় যা মূল অক্ষরের অন্তর্ভুক্ত নয়, অথবা দুটির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে, অথবা উভয় প্রক্রিয়ায়; যা করা হয় অর্থগত বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে, যেমন কর্মবাচ্য করা (তা’দিয়াহ), আধিক্য বুঝানো (তাকসীর) ইত্যাদি। যেমন: 'আখরাজা' (বের করল) এবং 'ফাররাহা' (আনন্দিত করল)। প্রথমটিতে সকর্মক করার জন্য হামজা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে আধিক্য বুঝানোর জন্য আইন অক্ষরের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এটি তিন প্রকার। প্রথম প্রকার: যাতে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়, এটি তিনটি পরিচ্ছেদ। প্রথমটি হলো 'ইফ’আল' পরিচ্ছেদ। যেমন: "আকরামা ইকরামান"। এখানে হামজাটি অতিরিক্ত এবং এর মাসদারে যের দেওয়া হয়েছে যাতে এটি 'আফ’আল' ওজনের বহুবচনের সাথে পৃথক করা যায়, যেমন: ই’মাল এবং আমাল। এর বিপরীতটি করা হয়নি কারণ বহুবচন ভারী। এই গঠনটি সাধারণত সকর্মক করার জন্য আসে, যেমন: 'আমি তাকে বসালাম' এবং 'আমি তাকে সম্মান করলাম'। আবার কোনো অবস্থায় উপনীত হওয়া অর্থেও আসে, যেমন: 'লোকটি চর্মরোগাক্রান্ত হয়েছে'। আবার কোনো কিছু খুঁজে পাওয়া অর্থেও আসে, যেমন: 'আমি তাকে কৃপণ হিসেবে পেলাম' এবং 'আমি তাকে প্রশংসিত হিসেবে পেলাম'। আবার কোনো কিছু দূর করা অর্থেও আসে, যেমন: 'আমি তার অভিযোগ দূর করলাম'। আবার বিক্রির জন্য প্রদর্শন করা অর্থেও আসে, যেমন: 'সে দাসীটিকে বিক্রির জন্য প্রদর্শন করল'। আবার সময় হওয়া অর্থেও আসে, যেমন: 'ফসল কাটার সময় হয়েছে'। কখনও কখনও এটি মূল ক্রিয়ার অর্থ প্রদান করে, যেমন: 'আমি বিক্রয় সম্পন্ন করলাম'। দ্বিতীয়টি হলো 'তাফ’ইল' পরিচ্ছেদ। যেমন: "কাত্তা’আ তাকতী’আন"। এখানে দ্বিতীয় আইনটিকে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং অধিকাংশের মতে এটিই অতিরিক্ত, তবে খলিলের মতে প্রথমটি অতিরিক্ত; কারণ সাকিন অক্ষরটি মৃত অক্ষরের মতো, তাই এতে পরিবর্তন আনাই উত্তম। সিবওয়াইহির নিকট উভয়টিই প্রচলিত। এই গঠনটি সাধারণত আধিক্য বুঝানোর জন্য আসে। এটি কখনও ক্রিয়ার ক্ষেত্রে হয়, যেমন: 'আমি প্রচুর পরিভ্রমণ করলাম'। কখনও কর্তার ক্ষেত্রে হয়, যেমন: 'উটের পালে মহামারি হওয়া'। কখনও কর্মের ক্ষেত্রে হয়, যেমন: 'আমি সব দরজা বন্ধ করলাম' এবং 'আমি কাপড়টি টুকরো টুকরো করলাম'। যদি এই আধিক্যের অর্থ না পাওয়া যায় তবে এই রূপটি ব্যবহার করা জায়েজ নয়। তাই একটি মাত্র ভেড়ার ক্ষেত্রে 'ভেড়ার মৃত্যু' (আধিক্যের ওজনে) বলা ভুল; কারণ একটি ভেড়ার ক্ষেত্রে আধিক্য সম্ভব নয়; যেহেতু এককে বহু করা যায় না। সেখানে কোনো কর্মও নেই যার জন্য আধিক্য বুঝানো যেতে পারে। ক্রিয়ার আধিক্য সম্ভব না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট, যেমনটি বলা হয়েছে। এটি সকর্মক করার জন্যও আসে, যেমন: 'আমি তাকে আনন্দিত করলাম'। আবার কোনো কিছু সরিয়ে ফেলা অর্থেও আসে, যেমন: 'আমি উটের চামড়া ছাড়িয়ে নিলাম'। তৃতীয়টি হলো 'মুফা’আলাহ' পরিচ্ছেদ। যেমন: "কাতলা মুকাতালতান"। এখানে আলিফ অতিরিক্ত। এই গঠনটি মূলত দুটি পক্ষের মধ্যে অংশীদারিত্ব বুঝানোর জন্য আসে, যেমন যুদ্ধ। ফলে সেই ক্রিয়াটি স্পষ্টভাবে একটি পক্ষের দিকে সম্পৃক্ত হয় এবং অন্য পক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, আর পরোক্ষভাবে এর বিপরীতটি ঘটে। যেমন আপনি যখন বলেন: 'যায়েদ আমরের সাথে লড়াই করল', তখন এটি স্পষ্টভাবে লড়াইকে যায়েদের দিকে নিসবত করে যা আমরের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর পরোক্ষভাবে লড়াইকে আমরের দিকে নিসবত করে যা যায়েদের সাথে সংশ্লিষ্ট। কখনও এটি আধিক্য বুঝাতে আসে এবং কখনও মূল ক্রিয়ার অর্থে আসে, অর্থাৎ কেবল কর্তার সাথে ক্রিয়ার নিসবত করা হয়, অন্য কিছু নয়। যেমন আপনার উক্তি: 'আমি সফর করলাম', এখানে সফরকে কেবল মুসাফিরের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আর 'আল্লাহ তোমাকে সুস্থতা দিন', এখানে সুস্থতাকে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রকার হলো যাতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি পায়, এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ। প্রথমটি হলো 'তাফাউল' পরিচ্ছেদ। যেমন: "তাফাদদলা তাফাদদুলান"। এর মূল হলো 'ফাদলা', যার শুরুতে 'তা' বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আইন অক্ষরের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এর গঠনটি কোনো সকর্মক ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া বুঝানোর জন্য আসে। যেমন: 'আমি এটি ভেঙে ফেললাম, ফলে এটি ভেঙে গেল'। এই কারণে এটি অকর্মক হয়ে যায়। প্রতিক্রিয়া হওয়ার অর্থ হলো এটি এমন একটি অর্থ প্রকাশ করে যা অন্য একটি সকর্মক ক্রিয়ার সংশ্লিষ্টতার ফলে অর্জিত হয়। যেমন আপনার উক্তি: 'আমি তাকে দূরে সরালাম, ফলে সে দূরে সরে গেল'। এখানে 'দূরে সরে যাওয়া' শব্দটি এমন একটি অর্থ যা 'দূরে সরানো' নামক সকর্মক ক্রিয়ার প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে। কখনও কখনও এই রূপটি উচ্চারিত হয় যদিও তার সাথে কোনো মূল সকর্মক ক্রিয়া উল্লেখ থাকে না, যেমন: 'পাত্রটি ভেঙে গেল'। কখনও এটি কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টার জন্য আসে, যার অর্থ হলো কর্তা সেই কাজটি অর্জন করার জন্য নিজেকে কষ্ট দেয়, যেমন: 'যায়েদ বীরত্ব প্রদর্শন করল'; এর অর্থ হলো সে বীরত্বকে ব্যবহার করল এবং তা অর্জনের জন্য নিজেকে বাধ্য করল। কখনও এটি ধারাবাহিক কাজের জন্য আসে, অর্থাৎ মূল কাজটি বারবার সম্পন্ন হওয়া বুঝায়। যেমন: 'সে চুমুক দিয়ে পান করল', অর্থাৎ সে এক চুমুকের পর আরেক চুমুক পান করল। কখনও এটি প্রার্থনার জন্য আসে, যেমন: 'সে বড় হতে চাইল'। কখনও কোনো কিছু গ্রহণ করা অর্থে আসে, যেমন: 'আমি মাটিকে বালিশ বানালাম', অর্থাৎ আমি তাকে বালিশ হিসেবে গ্রহণ করলাম। কখনও কোনো কিছু পরিহার করা অর্থে আসে, যেমন: 'সে গুনাহ পরিহার করল'। দ্বিতীয়টি হলো 'তাফাউল' পরিচ্ছেদ। যেমন: "তাদারবা তাদারুবান"। এর মূল হলো 'দরাবা', যার শুরুতে 'তা' এবং আইন ও ফা অক্ষরের মাঝে 'আলিফ' বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর গঠনটি দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে অংশীদারিত্ব বুঝানোর জন্য আসে। শব্দগত দিক থেকে 'ফা’আলা' এবং 'তাফাউল' এর মধ্যে পার্থক্য হলো, 'ফা’আলা' শব্দটি গঠিত হয়েছে ক্রিয়াকে কর্তার দিকে নিসবত করার জন্য যা অন্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, যদিও অন্য পক্ষটিও অনুরূপ কাজ করছে। আর 'তাফাউল' শব্দটি গঠিত হয়েছে এমন দুটি পক্ষের দিকে ক্রিয়ার নিসবত করার জন্য যারা সেই কাজে অংশীদার, অন্য কারো সাথে সংশ্লিষ্ট করার উদ্দেশ্য ছাড়াই। তাই প্রথমটিতে স্পষ্টভাবে যার দিকে ক্রিয়া নিসবত করা হয় তাকে 'পেশ' দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যটিকে 'জবর' দেওয়া হয়। আর দ্বিতীয়টিতে উভয়কেই সংযোজনের মাধ্যমে 'পেশ' দেওয়া হয়। যেমন: 'যায়েদ আমরের সাথে লড়াই করল' এবং 'যায়েদ ও আমর পরস্পর প্রহার করল'। এই কারণে প্রথমটি দ্বিতীয়টির চেয়ে সর্বদা একটি কর্মপদ (মাফউল) বেশি নিয়ে আসে। আর অর্থগত দিক থেকে পার্থক্য হলো, 'ফা’আলা' এর ক্ষেত্রে ক্রিয়া কে শুরু করেছে তা জানা যায়, কিন্তু 'তাফাউল' এর ক্ষেত্রে তা জানা যায় না। এই কারণেই বলা হয়...
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌[شرح ديكنقوز]

وهذا باب التفاعل قدمه لمشاركته الأول في زيادة التاء في الأول "و" نحو "انصرف" انصرافا بزيادة الهمزة والنون في أوله، وهذا باب الانفعال قدمه؛ لأن الزيادتين في الأول "و" نحو "احتقر" احتقارا بزيادة الهمزة في الأول والتاء بين الفاء والعين، وهذا باب الافتعال وستعرف وجه تقديمه على باب الأفعال إن شاء الله تعالى "و" ما زيد فيه ثلاثة أحرف فأربعة أبواب نحو "استخرج" استخراجا بزيادة الهمزة والسين والتاء في الأول، وهذا باب الاستفعال قدم؛ لأن الزوائد فيه في الأول "و" نحو "اخشوشن" اخشيشانا بزيادة الهمزة في الأول والواو بين العين واللام وبحرف من جنس العين بعدا الواو بالاتفاق لانعدام سكون الأول وهو باب الافعيعال قدمه؛ لأن إحدى الزوائد من جنس الأصول "و" نحو "اجلوذ" اجلو إذا بزيادة الهمزة في الأول والواوين بين اللام العين، وهذا الباب الافعوال قدمه؛ لأن كل الزوائد فيه قبل الآخر وليلزم تأخر احمار؛ إذ له بحث "ونحوا حمار" احميرارا بزيادة الهمزة في أوله والألف بين العين واللام وحرف من جنس اللام في آخره اتفاقا؛ لأن سكون الأول هنا للإدغام بخلاف سكون فعل وتفعل فإنه للفرار عن توالي الحركات الأربع من أول الأمر، وهذا باب الافعيلال قدمه؛ لأنه في قسمه ولكونه أبلغ من احمر في المعنى "ونحو احمر" احمرارا بزيادة الهمزة في أوله وحرف من جنس اللام في الآخر أيضا، وهذا باب الافعلال، وإنما ذكره في القسم الذي زيد فيه ثلاثة أحرف مع أن الزائد فيه حرفان لمناسبة احمار في البحث والمعنى وتكرار اللام، بل هو منقوص منه ولهذا "قال أصلها" أي أصل احمار واحمر "احمرار واحمرر فأدغما" أي الحرفان المتجانسان أعني الراءين بعد سلب حركة أوليهما في تينك الصيغتين "للجنسية ويدل عليه" أي على أن أصلهما احمارر واحمرر بفك الإدغام على ما صرح به صاحب المفتاح، وهو الظاهر من كلام المصنف أيضا "ارعوى وهو ناقص من باب افعل" فإنه لو كان أصلهما احمارر واحمرر من الأصل بلا إدغام لوجب أن

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

ضارب زيدا عمرا أم ضارب عمرو زيدا بطريق الانكار، ولا يقال ذلك في تضارب، وقد يجيء لإظهار ما ليس فيه نحو تجاهل زيد في كذا أي أظهر الجهل من نفسه وليس عليه في الحقيقة، بل هو عالم له وكذلك تمارض زيد ولمطاوعة فاعل نحو باعدته فتباعد، وبمعنى فعل نحو توانيت، أي ونيت من الونى وهو الضعف "و" الثالث باب الانفعال نحو "انصراف" أصله صرف فزيد في أوله ألف ونون وبناؤه لمطاوعة فعل نحو قطعته فانقطع فيصير لازما، وقد جاء لمطاوعة أفعل قليلا نحو أزعجته، أي أبعدته فانزعج، وهذا البناء مختص بالعلاج والتأثير يعني لا ينبني إلا من بفعال الجوارح المعلومة بالحس كالضرب والكسر فلا يقال علمته فانعلم، وقال في شرح المفصل: عدمته فانعدم ليس بجيد وذلك أنهم لما خصوه للمطاوعة خصوه بالعلاج حتى يكون معنى المطاوعة جليا واضحا "و" الرابع باب الافتعال نحو "احتقر" احتقار؛ أي صغر أصله حقر فزيدت في أوله همزة وبين الفاء والعين تاء وبناؤه للمطاوعة، وقد عرفت معناها، وقد يجيء للاتخاذ نحو اشتوى؛ أي أخذ الشواء لنفسه، وقد يجيء بمعنى التفاعل نحو اجتوروا واختصموا بمعنى تجاوروا وتخاصموا، والخامس باب الافعلال لكن أخر مثاله عن أمثلة السداسي ليجاور ما يناسبه في التكرار فسنبينه ثمة "و" القسم الثالث ما زيد فيه ثلاثة أحرف، وهو أربعة أبواب الأول الاستفعال نحو "استخرج" استخراجا أصله خرج فزيدت في أوله همزة وسين وتاء وبناؤه للطلب ومعناه طلب مصدر الفعل الثلاث الذي ينشعب وهو منه، وذلك قد يكون تخفيفا نحو استكتبته؛ أي طلبت الكتابة منه، وقد يكون تقديرا نحو استخرجت الوتد من الحائط فليس هنا طلب صريح، بل المعنى لم أزل أتلطف وأنحيل حتى خرج، وقد يجيء للتحول نحو استحجر الطين؛ أي تحول إلى الحجر، وقد يجيء بمعنى فعل بالتخفيف نحو استقر بالمكان؛ أي قربه قال أبو سعيد: ومثل هذا يحفظ ولا يقاس عليه "و" الثاني باب الافعيعال نحو "اخشوشن" اخشيشانا أصله خشن من الخشونة، وهي ضد اللين فزيدت في أوله ألف وبين العين واللام واو وشين وبناؤه للبالغة يقال: اخشوشن الشيء اشتد خشونته "اخشوشن الرجل" تعود لبس الخشن وهو لازم أبدا "و" الثالث باب الافعوال نحو "اجلوذ" اجلواذا يقال: اجلوذبهم السير اجلواذا؛ أي دام مع السرعة، وهو من سير الإبل أصله جلذ فزيدت في أوله همزة وبين العين واللام واوان وبناؤه للمبالغة قال: في شرح الهادي إن افعول للمبالغة كافعوعل نحوا خروط بهم السير؛ أي امتد واجلوذبهم السير؛ أي دام مع السرعة واعلوط؛ أي لزم قال الجوهري: وإنما لم تنقلب الواو ياء في مصدر هذا الباب كما انقلبت في اعشوشب اعشيشابا؛ لأنها مشددة "و" الرابع باب الافعيلال نحو "احمار" احميرارا أصله حمر فزيدت في أوله همزة وبين العين واللام ألف وكررت اللام والزائد هو الثاني "واحمار" احمرارا هذا هو الموعد بالبيان أصله حمر زيدت في أوله همزة وكررت اللام والزائد هو الثاني أيضا وهما مختصان بالألوان والعيوب وبناؤه للمبالغة، لكن الأول أبلغ من الثاني قال في مختار الصحاح: تقول شهب الشيء بالكسر شهبا؛ أي صار ذا بياض غالب على السواد ولو قصدت المبالغة قلت: أشهب اشهبابا وإذا قصدت زيادتها قلت: اشهاب اشهيبابا "أصلهما احمار واحمرر" بفك الادغام فيهما "فأدغمتا للجنسية" لأن الجنسية تقتضي الإدغام والتقاء الساكنين في الأول على حده وهو جائز "ويدل عليه" أي على كون الإدغام للجنسية عدم إعلال "ارعوى" يقال ارعوى عن القبيح أي كف "وهو ناقص" أي والحال أن ارعوى ناقص "من باب افعل" كاحمر
[শারহু দিকনুকুয]

এটি হলো তাফাউল (تفاعل) এর পরিচ্ছেদ। শুরুতে 'তা' (ت) অতিরিক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমটির (তাফাউল) সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে তিনি একে আগে উল্লেখ করেছেন। "এবং" যেমন: 'ইনসারাফা' (انصرف) থেকে 'ইনসিরাফান' (انصرافا), এর শুরুতে হামযাহ ও নুন অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এটি ইনফি'আল (انفعال) এর পরিচ্ছেদ। তিনি একে আগে এনেছেন কারণ অতিরিক্ত অক্ষর দুটি শুরুতেই অবস্থিত। "এবং" যেমন: 'ইহুতাকিরা' (احتقر) থেকে 'ইহতিকারান' (احتقارا), এর শুরুতে হামযাহ এবং 'ফা' ও 'আইন' কালিমার মাঝে 'তা' অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এটি ইফতি'আল (افتعال) এর পরিচ্ছেদ। ইনশাআল্লাহ তা'আলা অচিরেই আপনি একে ইফ'ইলাল (افعلال) পরিচ্ছেদের আগে সংস্থাপনের কারণ জানতে পারবেন। "এবং" যে শব্দে তিনটি অক্ষর অতিরিক্ত হয়, তা চারটি পরিচ্ছেদ; যেমন: 'ইস্তাকরাজা' (استخرج) থেকে 'ইস্তিখরাজান' (استخراجا), এর শুরুতে হামযাহ, সিন ও তা অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এটি ইসতিফ'আল (استفعال) এর পরিচ্ছেদ। একে আগে আনা হয়েছে কারণ এতে অতিরিক্ত অক্ষরগুলো শুরুতে থাকে। "এবং" যেমন: 'ইখশাউশানা' (اخشوشن) থেকে 'ইখশীশানান' (اخشيشانا), এর শুরুতে হামযাহ, 'আইন' ও 'লাম' কালিমার মাঝে 'ওয়াও' এবং সর্বসম্মতভাবে 'ওয়াও' এর পরে 'আইন' কালিমার সমজাতীয় একটি অক্ষর অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। কারণ এখানে প্রথমটির সাকিন হওয়া অনুপস্থিত। এটি ইফ'ই'আল (افعيال) এর পরিচ্ছেদ। তিনি একে আগে এনেছেন কারণ এর অন্যতম অতিরিক্ত অক্ষরটি মূল অক্ষরের সমজাতীয়। "এবং" যেমন: 'ইজলুওয়াদা' (اجلوذ) থেকে 'ইজলুইওয়াযান' (اجلوإذا), এর শুরুতে হামযাহ এবং 'লাম' ও 'আইন' কালিমার মাঝে দুটি 'ওয়াও' অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। এটি ইফ'উওয়াল (افعوال) এর পরিচ্ছেদ। তিনি একে আগে এনেছেন কারণ এর সমস্ত অতিরিক্ত অক্ষর শেষের অক্ষরের আগে অবস্থিত এবং যাতে 'ইহমারা' (احمار) শব্দটি শেষে আসাও অনিবার্য হয়, কারণ সেটির আলোচনা ভিন্ন। "এবং যেমন ইহমারা" (احمار) থেকে 'ইহমীরাঁন' (احميرارا), এর শুরুতে হামযাহ, 'আইন' ও 'লাম' কালিমার মাঝে আলিফ এবং সর্বসম্মতভাবে শেষে 'লাম' কালিমার সমজাতীয় একটি অক্ষর অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। কারণ এখানে প্রথমটির সাকিন হওয়া হলো ইদগাম বা সন্ধির কারণে, যা 'ফা'আলা' ও 'তাফা'আলা' এর সাকিন হওয়া থেকে ভিন্ন; কেননা সেখানে সাকিন হওয়া ছিল শুরু থেকেই চারটি নড়াচড়া বা হারাকাত পরপর আসাকে পরিহার করার জন্য। এটি ইফ'ঈলাল (افعيلال) এর পরিচ্ছেদ। তিনি একে আগে এনেছেন কারণ এটি তার স্বজাতীয় পরিচ্ছেদে অবস্থিত এবং অর্থের দিক থেকে এটি 'ইহমাররা' (احمر) অপেক্ষা অধিক অর্থবহ। "এবং যেমন ইহমাররা" (احمر) থেকে 'ইহমিরারান' (احمرارا), এর শুরুতে হামযাহ এবং শেষে 'লাম' কালিমার সমজাতীয় একটি অক্ষর অতিরিক্ত হওয়ার মাধ্যমে। তিনি একে সেই বিভাগে উল্লেখ করেছেন যাতে তিনটি অক্ষর অতিরিক্ত হয়, যদিও এতে অতিরিক্ত অক্ষর দুটি; আর এটি করা হয়েছে আলোচনা, অর্থ এবং 'লাম' কালিমার পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে 'ইহমারা' (احمار) এর সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য। বরং এটি সেটির একটি সংক্ষিপ্ত রূপ। আর এই কারণেই "তিনি বলেছেন যে এ দুটির মূল হলো" অর্থাৎ 'ইহমারা' ও 'ইহমাররা' এর মূল হলো "ইহমীরার ও ইহমারার, অতঃপর সন্ধি করা হয়েছে" অর্থাৎ সমজাতীয় দুটি অক্ষর তথা দুটি 'রা' এর প্রথমটির হারাকাত বিলুপ্ত করার পর সন্ধি করা হয়েছে ওই দুটি শব্দরূপে। "এর প্রমাণ হলো" অর্থাৎ তাদের মূল যে ইহমীরার ও ইহমারার এবং সন্ধিবিচ্ছেদ করা অবস্থায় ছিল—যেমনটি মিফতাহ গ্রন্থকার স্পষ্ট করেছেন এবং গ্রন্থকারের বক্তব্য থেকেও এটিই প্রতীয়মান হয়—তাহলো "ইরআওয়া (ارعوى), যা ইফ'আল্লা (افعل) পরিচ্ছেদের নাতিস বা শেষাক্ষর দুর্বল রূপ"। কারণ যদি এ দুটির মূল সন্ধিহীনভাবে ইহমীরার ও ইহমারার হতো, তবে অবশ্যই তা...

--------------------------------------------

ইবনে কামাল পাশা রচিত [আল-ফাল্লাহ শারহুল মারাহ]

যায়েদ কি আমরকে প্রহারকারী নাকি আমর যায়েদকে প্রহারকারী—তা অস্বীকৃতিজ্ঞাপক পন্থায় বলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে 'তাদারুবা' (تضارب) এর ক্ষেত্রে এমনটি বলা হয় না। কখনও কখনও এটি যা বাস্তবে নেই তা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'তাজাহালা যায়েদুন' (تجاهل زيد) অর্থাৎ যায়েদ অজ্ঞতা প্রকাশ করল, অথচ বাস্তবে সে অজ্ঞ নয় বরং সে জ্ঞানী। অনুরূপভাবে 'তামারাযা যায়েদুন' (যায়েদ অসুস্থতার ভান করল)। এছাড়া 'ফা'আলা' (فاعل) এর অনুগামী হিসেবেও আসে, যেমন: 'বা'আদতুহু ফাতাবা'আদা' (আমি তাকে দূর করলাম ফলে সে দূর হলো)। কখনও 'ফা'আলা' (فعل) এর অর্থেও আসে, যেমন: 'তাওয়ানাইতু' (توانيت) অর্থাৎ আমি দুর্বল হয়েছি যা 'ওয়ানা' (الونى) থেকে উদ্ভূত যার অর্থ দুর্বলতা। "এবং" তৃতীয়টি হলো ইনফি'আল (انفعال) পরিচ্ছেদ, যেমন: 'ইনসিরাফ' (انصراف); এর মূল হলো 'সারাফা' (صرف), এর শুরুতে আলিফ ও নুন অতিরিক্ত করা হয়েছে। এর গঠন মূলত 'ফা'আলা' এর অনুগামীতা বা ক্রিয়ার ফল গ্রহণের জন্য হয়, যেমন: 'কাতা'তুহু ফানকাতা'আ' (আমি এটি কাটলাম ফলে তা কেটে গেল), যা লাযিম বা অকর্মক ক্রিয়ায় পরিণত হয়। কখনও কখনও এটি সামান্য পরিমাণে 'আফ'আলা' এর অনুগামী হিসেবেও আসে, যেমন: 'আয'আজতুহু' (আমি তাকে সরিয়েছি) থেকে 'ফানযা'আজা' (সে সরে গেল)। এই গঠনটি বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ ও প্রভাবের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয়, যেমন: প্রহার করা বা ভেঙে ফেলা। তাই 'আল্লামতুহু ফা'আলামা' (আমি তাকে শিখিয়েছি ফলে সে শিখেছে) বলা যায় না। শারহুল মিফতাহ-এ বলা হয়েছে: 'আদামতুহু ফান'আদামা' (আমি একে ধ্বংস করেছি ফলে এটি ধ্বংস হয়েছে) বলা ভালো নয়। কারণ তারা যখন একে অনুগামীতার জন্য নির্দিষ্ট করেছে, তখন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কাজের সাথেই নির্দিষ্ট করেছে যাতে অনুগামীতার অর্থ সুস্পষ্ট ও প্রতীয়মান হয়। "এবং" চতুর্থটি হলো ইফতি'আল (افتعال) পরিচ্ছেদ, যেমন: 'ইহুতাকিরা' (احتقر) থেকে 'ইহতিকার' অর্থাৎ তুচ্ছ করা; এর মূল হলো 'হাকুরা' (حقر), এর শুরুতে হামযাহ এবং 'ফা' ও 'আইন' কালিমার মাঝে 'তা' অতিরিক্ত করা হয়েছে। এর গঠন অনুগামীতার জন্য হয়, যার অর্থ আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন। কখনও কখনও এটি কোনো কিছু গ্রহণ বা ধারণ করার অর্থেও আসে, যেমন: 'ইশতওয়া' (اشتوى) অর্থাৎ সে নিজের জন্য কাবাব বা ঝলসানো গোশত নিল। আবার কখনও কখনও এটি তাফাউল (تفاعل) এর অর্থেও আসে, যেমন: 'ইজাতাওয়ারা' (اجتوروا) ও 'ইখতাসামু' (اختصموا) যা 'তাজাওয়ারা' ও 'তাখাসামু' (পরস্পর প্রতিবেশী হওয়া ও বিবাদে লিপ্ত হওয়া) এর অর্থে ব্যবহৃত। পঞ্চমটি হলো ইফ'ইলাল (افعلال) পরিচ্ছেদ, তবে এর উদাহরণকে ষষ্ঠাক্ষর বিশিষ্ট শব্দের উদাহরণের পরে রাখা হয়েছে যাতে পুনরাবৃত্তির দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের সাথে মিল থাকে; সুতরাং আমরা সেখানে তা বর্ণনা করব। "এবং" তৃতীয় বিভাগ হলো যাতে তিনটি অক্ষর অতিরিক্ত হয় এবং তা চারটি পরিচ্ছেদ। প্রথমটি ইসতিফ'আল (استفعال), যেমন: 'ইস্তাকরাজা' (استخرج) থেকে 'ইস্তিখরাজান'; এর মূল হলো 'খারাজা' (خرج), এর শুরুতে হামযাহ, সিন ও তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর গঠন মূলত প্রার্থনার জন্য এবং এর অর্থ হলো মূল ত্রাক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়ার উৎস (মাসদার) প্রার্থনা করা যা থেকে এটি শাখা হিসেবে বের হয়েছে। এটি কখনও আক্ষরিকভাবে চাওয়া হয়, যেমন: 'ইস্তাকতাবতুহু' (আমি তার কাছে লেখা প্রার্থনা করলাম); আবার কখনও পরোক্ষভাবে হয়, যেমন: 'ইস্তাকরাজতুল ওয়াতাদা মিনাল হায়িত' (আমি দেয়াল থেকে খুঁটিটি বের করলাম), এখানে কোনো স্পষ্ট প্রার্থনা নেই, বরং এর অর্থ হলো—আমি কৌশলে চেষ্টা করতে থাকলাম যতক্ষণ না তা বেরিয়ে এলো। কখনও এটি রূপান্তরের অর্থেও আসে, যেমন: 'ইস্তাহজারাত তীন' (কাদা পাথরে রূপান্তরিত হলো)। কখনও এটি সহজিকরণ বা লাঘবের জন্য 'ফা'আলা' এর অর্থে আসে, যেমন: 'ইস্তাকাররা বিল মাকান' (সে স্থানে অবস্থান করল) অর্থাৎ সেটির নিকটবর্তী হলো। আবু সাঈদ বলেন: এই জাতীয় উদাহরণগুলো মুখস্থ রাখতে হয়, এগুলোর ওপর কিয়াস বা অনুমান চলে না। "এবং" দ্বিতীয়টি হলো ইফ'ঈ'আল (افعيعال) পরিচ্ছেদ, যেমন: 'ইখশাউশানা' (اخشوشن) থেকে 'ইখশীশানান'; এর মূল হলো 'খাশুনা' (خشن), যার অর্থ কর্কশ হওয়া বা মসৃণতার বিপরীত। এর শুরুতে আলিফ এবং 'আইন' ও 'লাম' কালিমার মাঝে 'ওয়াও' ও 'শিন' অতিরিক্ত করা হয়েছে। এর গঠন মূলত আধিক্য বা অতিরঞ্জনের জন্য হয়। বলা হয়: 'ইখশাউশানাল শাইউ' অর্থাৎ বস্তুটি অত্যন্ত কর্কশ হয়েছে। "ইখশাউশানার রাজুলু" অর্থ লোকটি মোটা কাপড় পরিধানে অভ্যস্ত হয়েছে, আর এটি সর্বদা লাযিম বা অকর্মক হয়। "এবং" তৃতীয়টি হলো ইফ'উওয়াল (افعوال) পরিচ্ছেদ, যেমন: 'ইজলুওয়াদা' (اجلوذ) থেকে 'ইজলুইওয়াযান'। বলা হয়: 'ইজলুওয়াদা বিহিমুস সায়িরু' অর্থাৎ দ্রুতগতিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে পথ চলল। এটি উটের চলার গতির সাথে সম্পর্কিত। এর মূল হলো 'জালাযা' (جلذ), এর শুরুতে হামযাহ এবং 'আইন' ও 'লাম' কালিমার মাঝে দুটি 'ওয়াও' যুক্ত করা হয়েছে। এর গঠন আধিক্যের জন্য। শারহুল হাদিতে বলা হয়েছে যে, ইফ'উওয়াল (افعول) আধিক্যের জন্য ব্যবহৃত হয় যেমনটি ইফ'াউ'আলা (افعوعل) হয়। যেমন: 'ইখরাওয়াতা বিহিমুস সায়িরু' অর্থাৎ পথ দীর্ঘ হলো; 'ইজলুওয়াদা বিহিমুস সায়িরু' অর্থাৎ দ্রুতগতিতে পথ চলা স্থায়ী হলো; এবং 'ই'লুওয়াতা' (اعلوط) অর্থাৎ সে লেগে থাকল। জাওহারী বলেন: এই পরিচ্ছেদের মাসদারে 'ওয়াও' অক্ষরে কেন 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন হয়নি যেমনটি 'ই'শাউশাবা' (اعشوشب) থেকে 'ই'শীশাবান' (اعشيشابا) এর ক্ষেত্রে হয়েছিল—তার কারণ হলো এটি তাশদীদযুক্ত বা দ্বিত্বাক্ষর। "এবং" চতুর্থটি হলো ইফ'ঈলাল (افعيلال) পরিচ্ছেদ, যেমন: 'ইহমারা' (احمار) থেকে 'ইহমীরাঁন'; এর মূল হলো 'হামুরা' (حمر), এর শুরুতে হামযাহ, 'আইন' ও 'লাম' কালিমার মাঝে আলিফ এবং 'লাম' কালিমার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টি হলো অতিরিক্ত অক্ষর। "এবং ইহমাররা" (احمار) থেকে 'ইহমিরারান', এটিই সেই উদাহরণ যা পরে বর্ণনা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর মূল 'হামুরা', শুরুতে হামযাহ ও শেষে 'লাম' কালিমার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত অক্ষরটি হলো দ্বিতীয়টি। এ দুটি পরিচ্ছেদ রঙ এবং খুঁত বা দোষের জন্য নির্দিষ্ট এবং এগুলোর গঠন আধিক্য বোঝাতে আসে। তবে প্রথমটি দ্বিতীয়টির চেয়েও বেশি আধিক্য প্রকাশ করে। মুখতারুস সিহাহ-এ বলা হয়েছে: আপনি বলবেন 'শাহিবাল শাইউ' (বস্তুটি ছাই রঙের হয়েছে) যখন সাদার ওপর কালো রঙ প্রবল হয়। আর যদি আপনি এতে আধিক্য প্রকাশ করতে চান তবে বলবেন 'ইশহাব্বা' (اشهب), আর যখন আরও বেশি বৃদ্ধি করতে চান তখন বলবেন 'ইশহাব্বা' (اشهاب)। "এ দুটির মূল হলো ইহমীরার ও ইহমারার" অর্থাৎ সন্ধিবিচ্ছেদ অবস্থায়। "অতঃপর স্বজাতীয় হওয়ার কারণে সন্ধি করা হয়েছে" কারণ সমজাতীয়তা সন্ধি বা ইদগাম দাবি করে, আর প্রথমটিতে নিয়মানুযায়ী দুই সাকিনের মিলন হওয়া বৈধ। "এর ওপর প্রমাণ হলো" অর্থাৎ ইদগাম যে সমজাতীয়তার কারণে হয়েছে তার প্রমাণ হলো "ইরআওয়া" (ارعوى) শব্দে কোনো পরিবর্তন না হওয়া। বলা হয় 'ইরআওয়া আনিল কাবিহি' অর্থাৎ সে মন্দ কাজ থেকে বিরত হয়েছে। "এটি হলো নাতিস" অর্থাৎ এমতাবস্থায় যে 'ইরআওয়া' শব্দটি শেষাক্ষর দুর্বল "ইফ'আল্লা (افعل) পরিচ্ছেদ থেকে" যেমনটি 'ইহমাররা' (احمر)।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌[شرح ديكنقوز]

يقال: ارعوى؛ لأنه من بابها فلما قيل ارعوى بلا إدغام لمانع منه علم أن أصلهما احمارر واحمرر، وفائدة كون أصلهما بالفك تظهر في تقطيع الشعر إذا وقعا فيه، وهذا الدليل مخصوص باحمر وأما احمار فحكمه يعلم بالمقايسة عليه؛ لأنه منقوص احمار، وأيضا يدل عليه وجود النظائر وهي افعول وافعوعل وافعلل، يعني لو جعلنا الأصل احمارر ثم سير إلى الإدغام بترك المناسبة بينه وبين نظائره بخلاف ما لو جعلناه مدغما من الأصل، ويحتمل أن يوجه بأن يقال؛ أي على أن أصلهما احمارر واحمرر بفتح ما قبل الآخر حملا على الأخوات بدليل فتح ما قبل الآخر فيما لم يدغم لمانع نحو ارعوى ويحال معرفة حال ما قبل الآخر في المضارع على الحمل على الأخوات، فيكون قوله فأدغمتا للجنسية، وقوله: "لا يدغم لانعدام الجنسية" بيانا للواقع؛ أي لا يقع الإدغام في ارعوى لأن أصله ارعو وقدم الإعلال على الإدغام؛ لأن الإعلال قبل الإدغام فلم تبق المجانسبة؛ وإنما قلنا الإعلال قبل الإدغام؛ لأن سبب الإعلال موجب للإعلال يعني كلما وجد سبب الإعلال وجد الإعلال، وسبب الإدغام ليس بموجب الإدغام ليس بموجب الإدغام؛ يعني ليس كلما وجد سبب الإدغام وجد الإدغام، بل يجوزه ويدل عليه امتناع التصحيح في شيء من باب رضي؛ أي لا يجوز أن لا يعل كلمة من باب رضي، ويقال رضوو وقرو وطرو وغيرها مثلا على الأصل وجواز الفك في باب حيي، ولأن الإعلال فيه تخفيف بالنسبة إلى الإدغام، ولأن الإعلال قد ينظر فيه إلى حرف واحد بخلاف الإدغام فإنه ينظر فيه إلى حرفين ألبتة "و" باب "واحد" من تلك الأبواب الخمسة والثلاثين "للرباعي المجرد" ولم يضعوا له إلا بابا واحدا؛ لأنه لما كثر حروفه التزموا فيه الفتحات طلبا للخفة فلم يبق للتعدد فيه مجال؛ إذ التعدد إنما يكون باختلاف الحركات، ثم لما لم يكن في كلامهم أربع حركات متوالية سكنوا الثاني؛ إذ في إسكان غيره مانع لا يخفى "نحو دحرج" دحرجة ودحراجا "و" أبواب "ثلاثة" منها "لمنشعبة الرباعي" المجرد ولم يضعوا لها أكثر من ثلاثة أبنية طلبا للتخفيف وزادوا فيها حرفا أو حرفين دون أكثر لئلا تخرج عن الاعتدال وقدم ما زيد فيه حرفان؛ لأنه اثنان فهما غالبا "نحو احرنجم" احرنجاما بزيادة الهمزة في الأول والنون بين العين واللام الأولى، وهذا باب الافعنلال قدمه لتقدمه الزيادة فيه "و" نحو "اقشعر" اقشعرارا بزيادة الهمزة في الأول وتكرار اللام الثانية، وهذا باب الافعلال "و" ما زيد فيه حرف واحد "نحو تدحرج" تدحرجا بزيادة التاء في الأول وهذا باب التفعلل "وستة" منها "لملحق دحرج" أي

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

لا يدغم لانعدام الجنسية" ولو حذف قيدنا قص، وقيل: وهو باب أفعل لكفى في المفقود فافهم، وتحقيق انعدام الجنسية أن أصل ارعوى ارعووا بواوين فاجتمع فيه سبب الإدغام كما في احمرر وهو ظاهر وسبب الإعلال بقلب الواو الثانية ياء وهو وقوعها خامسة في الطرف، وبعد الإعلال الثاني لم يجز الإعلال الأول لئلا يلزم الإعلال فأعل بموجب الإعلال؛ لأن الإعلال مقدم على الإدغام فلما انقلبت الواو المتطرفة ياء لم يبق سبب الإدغام لانعدام الجنسية بين الواو والياء فلم يدغم، وإنما قلنا الإعلال مقدم؛ لأن سبب الإعلال موجب وسبب الإدغام ليس بموجب، بل مجوز يدل عليه امتناع التصحيح في باب رمى وجواز الفك في باب حيي كما سيجيء حققه الجار بردى، وما قيل إن الإعلال سابق على الإدغام؛ لأن الإعلال يجب بمجرد النظر إلى الحرف الواحد من حروف العلة بخلاف الإدغام فإنه لم يجب ما لم ينظر إليهما معا فخطأ؛ لأن الإعلال أيضا لم يجب بمجرد النظر إلى الحرف الواحد من حروف العلة وإلا لوجب إعلال وعد، بل يجب النظر إلىما قبلها فلهذا لم تختلف وجوه الإعلال كالحذف والقلب والإسكان وقد وقع في بعض ناقص وهو لفيف وهو النسخ بدل وهو جائز أيضا؛ إذ معناه لفيف بالمعنى اللغوي لا بالمعنى المصطلح، وهذا أولى من نسبته إلى السهو ولما فرغ من بيان المنشعبة للثلاثي المجرد شرع في الرباعي فقال "وواحد" أي باب واحد منها "للرباعي" المجرد اعلم أنهم جوزوا في الاسم رباعيا وخماسيا أصلين للتوسع ولم يجوزوا سداسيا لئلا يتوهم أنه كلمتان، إذ الأصل أن يكون على ثلاثة أحرف ولم يجوزوا في الفعل خماسيا لكثرة تصرفه ولأنه يتصل به الضمير المرفوع المتصل به الضمير المرفوع المتصل وتصير كالجزء منه بدليل إسكان ما قبله مثل دحرجت فالخماسي فيه كالسداسي في الاسم، وقد علمت أنه مرفوض ولم يتصرفوا كما تصرفوا في الثلاثي المجرد من فتح عينه وكسرها وضمها، بل التزموا فيه الفتحات لخفتها وثقل الرباعي، لكن لما لم يكن في كلامهم أربع حركات متوالية في كلمة واحدة سكنوا الثاني؛ لأن إسكانه أولى من إسكان الأول والرابع لامتناع الابتداء بالساكن ووجوب فتح الآخر إذا لم يتصل به الضمير المرفوع ومن إسكان الثالث أيضا؛ لأن الرابع قد يسكن لاتصال الضمير فيلزم التقاء الساكن ووجوب فتح الآخر إذا لم يتصل به الضمير المرفوع ومن إسكان الثالث أيضا؛ لأن الرابع قد يسكن لاتصال الضمير فيلزم التقاء الساكنين "نحو دحرج" يقال دحرجته بمعنى دورته والمدحرج المدور، وهذا الباب يتعدى ويلزم "وثلاثة لمنشعبة الرباعي" المجرد وهو قسمان القسم الأول ما زيد فيه حرف واحد وهو باب واحد وهو باب تفعلل "نحو تدحرج" تدحرجا أصله دحرج فزيدت في أوله تاء "و" القسم الثاني ما زيد فيه حرفان وهو بابان أحدهما باب الافعنلال نحو احرنجم احرنجاما؛ أي اجتمع أصله حرجم فزيدت في أوله همزة وبين العين واللام الأولى نون "و" ثانيهما باب الافعلال نحو "اقشعر" اقشعرارا أصله فزيدت في أوله همزة وكررت اللام والزائد هو الثاني، وهذه الأبواب الثلاثة كلها لوازم ولما فرغ من الرباعي ومنشعبته شرع في الملحق بالرباعي المجرد فقال: "وستة" أبواب منها "لملحق دحرج"
[শারহু দিকনুকুয]

বলা হয়ে থাকে: ‘ইরআওয়া’; কারণ এটি সেই একই পরিচ্ছেদভুক্ত। সুতরাং যখন কোনো প্রতিবন্ধকের কারণে দ্বিত্বকরণ (ইদগাম) ছাড়াই ‘ইরআওয়া’ বলা হলো, তখন বোঝা গেল যে এই দুটির মূল রূপ হলো ‘ইহমারারা’ এবং ‘ইহমারারা’। এই দুটির মূল রূপ বিশ্লিষ্ট অবস্থায় থাকার উপকারিতা কাব্যছন্দের মাত্রা বিন্যাসে প্রকাশ পায় যখন শব্দ দুটি কাব্যের মধ্যে ব্যবহৃত হয়। এই প্রমাণটি ‘ইহমাররা’ শব্দের জন্য নির্দিষ্ট, আর ‘ইহমারা’ শব্দের বিধানটি এর ওপর কিয়াস বা অনুমানের মাধ্যমে জানা যায়; কারণ এটি ‘ইহমারা’ এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এছাড়া এর সপক্ষে সমজাতীয় অন্যান্য রূপের অস্তিত্বও প্রমাণ দেয়, আর তা হলো ‘ইফআওউলা’, ‘ইফআওআলা’ এবং ‘ইফআল্লা’। অর্থাৎ, আমরা যদি এর মূল ‘ইহমারারা’ ধরি এবং পরে তার সমজাতীয় রূপগুলোর সাথে সামঞ্জস্য ত্যাগ করে দ্বিত্বকরণের দিকে নিয়ে যাই, তবে তা সেই অবস্থার বিপরীত হবে যখন আমরা তাকে শুরু থেকেই দ্বিত্বকৃত বা সন্ধিযুক্ত ধরব। আর এটি এভাবেও ব্যাখ্যা করা সম্ভব যে: অর্থাৎ এই দুটির মূল হলো ‘ইহমারারা’ এবং ‘ইহমারারা’—শেষের আগের অক্ষরে ফাতহা বা জবর হওয়ার ভিত্তিতে, যাতে অন্যান্য সমজাতীয় রূপগুলোর সাথে মিল থাকে। এর প্রমাণ হলো সেই শব্দগুলোতে শেষের আগের অক্ষরে ফাতহা থাকা যেগুলোতে কোনো প্রতিবন্ধকের কারণে দ্বিত্বকরণ হয়নি, যেমন ‘ইরআওয়া’। আর বর্তমান কালে (মুজারি) শেষের আগের অক্ষরের অবস্থা অন্যান্য সমজাতীয় রূপের ওপর কিয়াসের মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং তার বক্তব্য—‘অতঃপর সমজাতীয় হওয়ার কারণে দ্বিত্বকরণ করা হয়েছে’ এবং তার কথা—‘লিঙ্গগত বা সমজাতীয়তার অভাবে দ্বিত্বকরণ হয় না’—তা মূলত বাস্তব অবস্থার বর্ণনা। অর্থাৎ ‘ইরআওয়া’ শব্দে দ্বিত্বকরণ ঘটে না কারণ এর মূল হলো ‘ইরআওয়াওয়া’। এখানে রূপান্তরকে (ইলাল) দ্বিত্বকরণের (ইদগাম) ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে; কারণ দ্বিত্বকরণের পূর্বেই রূপান্তর সম্পন্ন হয়ে যায়, ফলে সমজাতীয়তা আর অবশিষ্ট থাকে না। আমরা রূপান্তরকে দ্বিত্বকরণের ওপর প্রাধান্য দিয়েছি এই কারণে যে, রূপান্তরের কারণটি রূপান্তরকে অনিবার্য (ওয়াজিব) করে তোলে; অর্থাৎ যখনই রূপান্তরের কারণ পাওয়া যাবে, তখনই রূপান্তর ঘটবে। কিন্তু দ্বিত্বকরণের কারণ দ্বিত্বকরণকে অনিবার্য করে না; অর্থাৎ দ্বিত্বকরণের কারণ পাওয়া গেলেই যে দ্বিত্বকরণ ঘটবে এমনটি নয়, বরং এটি কেবল দ্বিত্বকরণকে বৈধ করে। এর প্রমাণ হলো ‘রাদিয়া’ পরিচ্ছেদের কোনো শব্দে সহীহ বা অবিকৃত রাখা নিষিদ্ধ হওয়া; অর্থাৎ ‘রাদিয়া’ পরিচ্ছেদের কোনো শব্দকে রূপান্তর না করা জায়েজ নেই। যেমন মূল রূপ অনুযায়ী ‘রাদাওওয়া’, ‘কারুওয়া’, ‘তারুওয়া’ ইত্যাদি বলা জায়েজ নয়। অথচ ‘হাইয়্যি’ পরিচ্ছেদে দ্বিত্বকরণ না করে বিশ্লিষ্ট রাখা জায়েজ। এছাড়া দ্বিত্বকরণের তুলনায় রূপান্তরের মধ্যে লাঘব বা উচ্চারণ সহজ করার বিষয়টি বিদ্যমান। তাছাড়া রূপান্তরের ক্ষেত্রে কখনও একটি মাত্র অক্ষরের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়, যা দ্বিত্বকরণের বিপরীত, কারণ সেখানে অবশ্যই দুটি অক্ষরের দিকে দৃষ্টি দিতে হয়। এই পঁয়ত্রিশটি পরিচ্ছেদের মধ্যে ‘একটি’ পরিচ্ছেদ হলো ‘চতুরক্ষর বিশিষ্ট মূল ক্রিয়ার (রুবায়ি মুজাররাদ)’ জন্য। ভাষাবিদগণ এর জন্য কেবল একটিই পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন; কারণ যখন এর অক্ষরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তখন তারা উচ্চারণের লাঘব বা সহজতার জন্য এতে ফাতহা বা জবর প্রদান অপরিহার্য করে নিয়েছেন। ফলে এতে বৈচিত্র্যের আর সুযোগ থাকেনি; কারণ বৈচিত্র্য কেবল হরকত বা স্বরচিহ্নের পরিবর্তনের মাধ্যমেই সম্ভব হয়। অতঃপর যখন তাদের ভাষায় টানা চারটি স্বরচিহ্নযুক্ত অক্ষরের সমাবেশ ঘটল না, তখন তারা দ্বিতীয় অক্ষরটিকে সাকিন বা স্থির করে দিলেন; কারণ অন্য কোনো অক্ষরকে সাকিন করার ক্ষেত্রে এমন সব বাধা রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়। ‘যেমন: দাহরাজা’ (গড়িয়ে দেওয়া), দাহরাজাতান এবং দিহরাজান। আর পঁয়ত্রিশটি পরিচ্ছেদের মধ্যে ‘তিনটি’ পরিচ্ছেদ হলো ‘চতুরক্ষর বিশিষ্ট মূল ক্রিয়ার বর্ধিত রূপের (মানশায়িবা)’ জন্য। ভাষাবিদগণ উচ্চারণের সহজতার জন্য এর জন্য তিনটির বেশি কাঠামো নির্ধারণ করেননি। তারা এতে একটি বা দুটি অক্ষর বৃদ্ধি করেছেন, তার বেশি নয়, যাতে এটি ভারসাম্য থেকে বিচ্যুত না হয়। আর যাতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে তাকে প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ এতে বর্ধিত অংশ দুটি। ‘যেমন: ইহরাঞ্জামা’ (একত্রিত হওয়া), ইহরাঞ্জামান; এখানে শুরুতে হামজা এবং আইন ও প্রথম লামের মাঝে নুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি হলো ‘ইফআনলাল’ পরিচ্ছেদ; এতে বর্ধিত অক্ষরের আধিক্যের কারণে একে আগে আনা হয়েছে। ‘এবং’ যেমন ‘ইকশাআরা’ (শিহরিত হওয়া), ইকশাআরারান; এখানে শুরুতে হামজা এবং দ্বিতীয় লামটি দ্বিত্ব করা হয়েছে। এটি হলো ‘ইফইলাল’ পরিচ্ছেদ। আর যাতে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে ‘যেমন: তাদাহরাজা’ (গড়িয়ে পড়া), তাদাহরাজান; এখানে শুরুতে ‘তা’ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটি হলো ‘তাফাললুল’ পরিচ্ছেদ। আর পঁয়ত্রিশটির মধ্যে ‘ছয়টি’ পরিচ্ছেদ হলো ‘দাহরাজা’ এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) শব্দগুলোর জন্য; অর্থাৎ—

--------------------------------------------

‌‌[ইবনু কামাল পাশার আল-ফালাহ শারহুল মারাহ]

সমজাতীয়তার অভাবে দ্বিত্বকরণ হয় না। যদি আমাদের শর্তটি বাদ দেওয়া হতো তবে তা সংক্ষেপ হতো। বলা হয়েছে: এটি ‘আফআলা’ পরিচ্ছেদ, যা অনুপস্থিতির বর্ণনায় যথেষ্ট হতো, সুতরাং বুঝে নিন। সমজাতীয়তার অভাবের প্রকৃত বিষয়টি হলো, ‘ইরআওয়া’ এর মূল ছিল ‘ইরআওয়াওয়া’—দুটি ওয়াও যোগে। ফলে এতে দ্বিত্বকরণের কারণ একত্রিত হয়েছিল যেমনটি ‘ইহমারারা’ শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছিল এবং এটি স্পষ্ট। আবার দ্বিতীয় ওয়াওটি শেষে পঞ্চম স্থানে হওয়ার কারণে তাকে ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করার মাধ্যমে রূপান্তরের কারণও তৈরি হয়েছিল। দ্বিতীয় রূপান্তরের পর প্রথম রূপান্তরটি আর জায়েজ হয়নি যাতে রূপান্তরের আধিক্য না ঘটে; ফলে রূপান্তরের কারণ অনুযায়ীই রূপান্তর করা হয়েছে। যেহেতু রূপান্তর দ্বিত্বকরণের আগে আসে, তাই প্রান্তস্থ ওয়াওটি যখন ইয়াতে রূপান্তরিত হলো, তখন ওয়াও এবং ইয়ার মধ্যে সমজাতীয়তা না থাকায় দ্বিত্বকরণের কারণ আর অবশিষ্ট থাকল না, ফলে দ্বিত্বকরণ হয়নি। আমরা কেন রূপান্তরকে অগ্রগণ্য বললাম তার কারণ হলো, রূপান্তরের কারণটি রূপান্তরকে অনিবার্য করে, কিন্তু দ্বিত্বকরণের কারণ দ্বিত্বকরণকে অনিবার্য করে না বরং তা কেবল বৈধ করে। এর প্রমাণ হলো ‘রামা’ পরিচ্ছেদে রূপান্তর না করে সহীহ রাখা নিষিদ্ধ হওয়া এবং ‘হাইয়্যি’ পরিচ্ছেদে দ্বিত্বকরণ না করে বিশ্লিষ্ট রাখা জায়েজ হওয়া, যা সামনে আসবে। আল-জারবারাদি এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আর যে কথা বলা হয়েছে যে, রূপান্তর দ্বিত্বকরণের আগে আসে কারণ ইল্লত বা দুর্বল অক্ষরের একটির দিকে নজর দিলেই রূপান্তর ওয়াজিব হয়ে যায়, পক্ষান্তরে দ্বিত্বকরণের জন্য দুটির দিকে নজর দিতে হয়—তা ভুল। কারণ রূপান্তরও কেবল একটি দুর্বল অক্ষরের দিকে নজর দিলেই ওয়াজিব হয় না, অন্যথায় ‘ওয়াদা’ শব্দের রূপান্তরও ওয়াজিব হতো। বরং তার পূর্বের অক্ষরের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। এই কারণেই রূপান্তরের বিভিন্ন রূপ যেমন বিলোপ (হাফজ), পরিবর্তন (কালব) এবং সাকিন করা (ইসকান) এর মধ্যে পার্থক্য হয় না। কখনও কখনও কোনো অপূর্ণ (নাকিস) ক্রিয়ায় যা লফীফ, সেখানে নসখ বা অনুলিপি পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে এবং তাও জায়েজ; কারণ এর অর্থ আভিধানিক অর্থে লফীফ, পারিভাষিক অর্থে নয়। একে ভুল বা বিচ্যুতি বলার চেয়ে এটিই অধিক উত্তম। যখন তিনি ত্র্যক্ষর বিশিষ্ট মূল ক্রিয়ার বর্ধিত রূপের বর্ণনা শেষ করলেন, তখন চতুরক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়া শুরু করে বললেন: ‘এবং একটি’ অর্থাৎ এই পরিচ্ছেদগুলোর মধ্যে একটি পরিচ্ছেদ হলো ‘চতুরক্ষর’ মূল ক্রিয়ার জন্য। জেনে রাখুন যে, তারা বিশেষ্য পদের ক্ষেত্রে প্রসারের উদ্দেশ্যে মূল চার অক্ষর ও পাঁচ অক্ষরের শব্দ জায়েজ রেখেছেন। কিন্তু ছয় অক্ষরের শব্দ জায়েজ করেননি যাতে তা দুটি শব্দ বলে ভ্রম না হয়; কারণ মূল হলো শব্দ তিন অক্ষরের হওয়া। ক্রিয়ার ক্ষেত্রে তারা মূল পাঁচ অক্ষরের শব্দ জায়েজ করেননি কারণ ক্রিয়ার রূপান্তর অনেক বেশি এবং এর সাথে সর্বনাম (জমির) যুক্ত হয় যা শব্দের অংশ হয়ে যায়। এর প্রমাণ হলো সর্বনাম যুক্ত হওয়ার সময় তার পূর্বের অক্ষরটি সাকিন হওয়া যেমন ‘দাহরাজতু’। সুতরাং ক্রিয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ অক্ষর হওয়া বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ছয় অক্ষর হওয়ার মতো। আপনি জেনেছেন যে এটি পরিত্যক্ত। তারা চতুরক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়াকে ত্র্যক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়ার মতো আইন অক্ষরে জবর, যের বা পেশ দিয়ে রূপান্তর করেননি, বরং চতুরক্ষরের ভারী হওয়া এবং ফাতহা বা জবরের হালকা হওয়ার কারণে তারা সবগুলোতে ফাতহা দেওয়া আবশ্যক করে নিয়েছেন। কিন্তু তাদের ভাষায় একটি শব্দে টানা চারটি স্বরচিহ্ন না থাকায় তারা দ্বিতীয় অক্ষরটিকে সাকিন করেছেন। কারণ প্রথম বা চতুর্থ অক্ষরকে সাকিন করার চেয়ে দ্বিতীয় অক্ষরকে সাকিন করা অধিকতর উত্তম। প্রথম অক্ষরকে সাকিন করা অসম্ভব কারণ সাকিন দিয়ে শব্দ শুরু করা যায় না। আর চতুর্থ অক্ষরকে ফাতহা দেওয়া ওয়াজিব যখন তার সাথে সর্বনাম যুক্ত হয় না। এছাড়া তৃতীয় অক্ষরকে সাকিন করার চেয়েও দ্বিতীয়টিকে সাকিন করা উত্তম, কারণ চতুর্থ অক্ষরটি সর্বনামের কারণে সাকিন হতে পারে, ফলে দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ‘যেমন: দাহরাজা’। বলা হয় ‘দাহরাজতুহু’ যার অর্থ আমি একে ঘুরিয়েছি বা গড়িয়েছি, আর ‘আল-মুদাহরাজ’ মানে বৃত্তাকার। এই পরিচ্ছেদটি সকর্মক (মুতাআদ্দি) ও অকর্মক (লাজিম) উভয়ই হয়। ‘এবং তিনটি পরিচ্ছেদ চতুরক্ষর বিশিষ্ট বর্ধিত ক্রিয়ার জন্য’। এটি দুই প্রকার: প্রথম প্রকার যাতে একটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এটি একটিই পরিচ্ছেদ আর তা হলো ‘তাফাললুল’ পরিচ্ছেদ। ‘যেমন: তাদাহরাজা’ এর মূল ছিল ‘দাহরাজা’, অতঃপর শুরুতে একটি ‘তা’ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ‘এবং’ দ্বিতীয় প্রকার হলো যাতে দুটি অক্ষর বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এটি দুটি পরিচ্ছেদ। তার একটি হলো ‘ইফআনলাল’ পরিচ্ছেদ যেমন ‘ইহরাঞ্জামা’ অর্থাৎ একত্রিত হওয়া। এর মূল ছিল ‘হারজামা’, অতঃপর শুরুতে হামজা এবং আইন ও প্রথম লামের মাঝে নুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ‘এবং’ দ্বিতীয়টি হলো ‘ইফইলাল’ পরিচ্ছেদ যেমন ‘ইকশাআরা’। এর মূলে শুরুতে হামজা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং লাম অক্ষরটিকে দ্বিত্ব করা হয়েছে, যেখানে দ্বিতীয়টি অতিরিক্ত। এই তিনটি পরিচ্ছেদই হলো অকর্মক (লাজিম)। যখন তিনি চতুরক্ষর ও তার বর্ধিত রূপের আলোচনা শেষ করলেন, তখন চতুরক্ষর মূল ক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) শব্দগুলোর আলোচনা শুরু করে বললেন: এর মধ্যে ‘ছয়টি’ পরিচ্ছেদ হলো ‘দাহরাজা’ এর সাথে সংযুক্ত শব্দগুলোর জন্য।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌[شرح ديكنقوز]

مزيد على الثلاثي المجرد للإلحاق بدحرج "نحو شملل" شملة بزيادة حرف من جنس اللام في آخره، وهذا باب الفعللة قدم الزائد فيه من جنس حروفه الأصول "و" نحو "حوقل" حوقلة بزيادة الواو بين الفاء والعين، وهذا باب الفوعلة قدمه لقوة الواو "و" نحو "بيطر" بيطرة بزيادة الياء بين الفاء العين، وهذا باب الفعيلة قدمه لتقدم الزائد "ونحو جهور" جهورة بزيادة الواو بين العين واللام، وهذا باب فعول قدمه لاشتراكه مع حول في نفس الزائد ومع بيطر في كونه حرف علة، وأما تقدمهما على ما تقدم عليه جهور فلتقدم الزائد فيهما "و" نحو "قلنس" قلنسة بزيادة النون بين العين واللام، وهذا باب الفعنلة قدم لتقدم الزائد "و" نحو "قلسى" قلساة بزيادة الياء في الآخر ثم القلب ألفا ولا يبطل به الإلحاق لكونه محل التغيير وهذا باب الفعلاة "وخمسة" منها مزيدة على الثلاثي المجرد وهي "لمحلق تدحرج نحو تجلبب" تجلببا بزيادة التاء في الأول وحروف من جنس اللام في الآخر، وهذا باب التفعلل "و" نحو "تجورب" تجوربا بزيادة التاء والواو، وهذا باب تفوعل "و" نحو "تشيطن" تشيطنا بزيادة التاء والياء، وهذا باب التفعيل وجوه تقديمات هذه الثلاثة كوجوه تقديمات الثلاثة الأول ملحقات دحرج "و" نحو "ترهوك" ترهو كابزدة التاء والواو، وهذا باب التفعول قدمه لاشتراكه مع سوابقه في كون الزيادة في الأول، وأما تقديم السوابق على ما تقدم عليه ترهوك فلكثرتها "و" نحو "تمسكن" تمسكنا بزيادة التاء والميم في الأول، وهذا باب التمفعل "واثنان" منهما مزيد على الثلاثي المجرد وهما "لملحق احرنجم نحو اقعنسس" اقعنساسا بزيادة الهمزة في الأول والنون بين العين واللام وحرف من جنس اللام في الآخر، وهذا باب الافعنلال قدمه لتقدم الزائد "و" نحو "اسلنقى" اسلنقاء بزيادة الهمزة في الأول والنون بين العين واللام والياء في الآخر ثم القلب ألفا ولا يبطل به الإلحاق لما مر، وهذا باب الافعنلاء وإنما قدم ملحقات دحرج على ملحقات تدحرج لتقدم دحرج على تدحرج وقدم ملحقات تدحرج على ملحق احرنجم

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

اعلم أن المراد بالإلحاق جعل مثال مساويا لمثال أزيد منه بزيادة حرف أو أكثر ليعامل معاملته في جميع تصرفاته، وذلك قد يكون في الفعل كما هو المراد ها هنا مثلا يجعل شمل مساويا بدحرج بزيادة حرف وهو اللام، فيصير شملل فيعامل معاملة دحرج في جميع تصرفاته من الماضي والمضارع وغيرهما، فيقال: شملل يشملل شمللة، كما يقال: دحرج يدحرج دحرجة، فالمثال الأول الملحق والثاني الملحق به، وقد يكون في الاسم مثلا يجعل قردا مساويا بجعفر بزيادة حرف وهو الدال فيصير قردد، وهو المكان الغليظ فيعامل معاملة جعفر في التصغير والتكبير وغيرهما، فيقال: قردد وقرادد وقريدد، كما يقال: جعفر وجعافر وجعيفر هذا هو حقيقة الإلحاق، فإن قلت: ما الفرق بين منشعبة الثلاثي وبين الملحق بالرباعي مع أن أصلهما ثلاثي زيد فيه حرف أو أكثر، فإن فاعل مثلا ثلاثي زيد فيه الألف وشملل ثلاثي زيد فيه اللام؟ قلت: الفرق أن زيادة الحرف المنشعبة لقصد زيادة معنى كما مرو في الملحق لقصد موافقة لفظ للفظ آخر؛ ليعامل معاملته لا لزيادة معنى، وعلى هذا سائر الملحقات، وهذه هي الستة التي هي ملحق دحرج نوع واحد، وهو ما زيد فيه حرف واحد "نحو شملل" شمللة؛ أي أسرع اللام الثانية زائدة "وحوقل" حوقلة؛ أي ضعف وهرم الواو زائدة "وبيطر" بيطرة؛ أي عمل البيطرة من البطر وهو الشق الباء زائدة "وجهور" جهورة؛ أي جهر الواو زائدة "وقلنس" قلنسة؛ أي لبس القلنسوة النون زائدة "وقلسى" قلساة؛ أي لبس القلنسوة أيضا زيدت الياء بعد اللام، ثم قلبت ألفا ولم يبطل الإلحاق به؛ لأنه في محل التغيير وأصل قلسة قلسية فقلبت الياء ألفا، ولما فرغ من ملحق دحرج شرع في ملحق تدحرج فقال "وخمسة" أبواب منها "لملحق تدحرج" وهو نوع واحد وهو ما زيد فيه حرفان "نحو تجلبب" تجلببا؛ أي لبس الجلباب؛ أي الملحقة التاء والباء الأخيرة زادتان "وتجورب" تجوربا؛ أي لبس الجورب التاء والواو زائدتان "وتشيطن" تشيطنا؛ أي فعل فعلا مكروها والتاء والياء زائدتان "وترهوك" ترهوكا؛ أي تبختر التاء والواو وزائدتان "وتمسكن" تمسكنا؛ أي أظهر الذل والحاجة التاء والميم زائدتان، وينبغي أن يعلم أن تحقق الإلحاق في تجلبب إنما هو بتكرار الباء، وأما التاء إنما دخل لمعنى المطاوعة كما كانت كذلك في تدحرج؛ لأن الإلحاق لا يكون من أول الكلمة، وفي تجورب وتشيطن وترهوك بالواو والياء لا بالتاء بعين ما ذكرنا، وأما تحقق الإلحاق في تمسكن ففيه إشكال، ولذلك قال في شرح الهادي: إنه شاذ ولما فرغ من ملحق تدحرج شرع في ملحق احرنجم فقال: "واثنان" منها "لملحق احرنجم" وهو نوع واحد وهو ما زيد فيه ثلاثة أحرف "نحو اقعنسس" اقعنساسا؛ أي تأخر ورجع إلى خلف من القعس، وهو خروج الصدر ودخول الظهر ضد الحدب زيدت في أوله همزة وبين العين واللام نون وكررت اللام والزائد هو الثاني "واسلنقى" اسلنقاء؛ أي وقع على القفا زيدت في أوله همزة وبين العين واللام نون وبعد اللام ياء فقلبت ألفا ولا يبطل الإلحاق به لما مر وقلبت الياء في مصدره همزة لوقوعها في الطرف بعد ألف زائدة، وإنما حكمنا على اقعنسس بأنه ملحق باحرنجم وعلى استخرج بأنه غير ملحق به مع أنه يوافقه في جميع تصرفاته؛ لأنا لم نعن بالإلحاق مجرد صورة حركات وسكنات بل عنينا به وقوع الفاء والعين واللام في الفرع موقعها في الأصل الملحق به، وإذ كان ثمة زيادة فلا بد من مماثلة في الملحق واستخرج بالنسبة إلى احرنجم خلاف ما ذكرناه في الأصلية والزيادة جميعا أما في الأصلية؛ فلأن الخاء
[শরহে দিকনুকূজ]

সুলাসি মুজাররাদের সাথে অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করে ‘দাহরাজা’ (دحرج) এর সাথে ইলহাক (সাদৃশ্যকরণ) করার জন্য; যেমন ‘শামলালা’ (شملل)। এর শেষে ‘লাম’ কালিমার সমজাতীয় একটি বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘শামলালা’ হয়েছে। এটি হলো ‘ফাইল্লাহ’ (الفعللة) পরিচ্ছেদ। এখানে মূল বর্ণের সমজাতীয় বর্ণটি শেষে বাড়িয়ে একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। “এবং” যেমন ‘হাওকালা’ (حوقل); এখানে ‘ফা’ ও ‘আইন’ কালিমার মাঝে ‘ওয়াও’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘হাওকালাহ’ হয়েছে। এটি হলো ‘ফাওআলাহ’ (الفوعلة) পরিচ্ছেদ। ‘ওয়াও’ এর শক্তির কারণে একে আগে আনা হয়েছে। “এবং” যেমন ‘বাইতারা’ (بيطر); এখানে ‘ফা’ ও ‘আইন’ কালিমার মাঝে ‘ইয়া’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘বাইতারাহ’ হয়েছে। এটি হলো ‘ফাইয়ালাহ’ (الفعيلة) পরিচ্ছেদ। অতিরিক্ত বর্ণটি আগে থাকায় একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। “এবং যেমন জাহওয়ারা” (جهور); এখানে ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘ওয়াও’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘জাহওয়ারাহ’ হয়েছে। এটি হলো ‘ফাউয়ালা’ (فعول) পরিচ্ছেদ। ‘হাওকালা’ এর সাথে একই অতিরিক্ত বর্ণ এবং ‘বাইতারা’ এর সাথে হরফে ইল্লাত হওয়ার বিষয়ে সাদৃশ্য থাকায় একে আগে আনা হয়েছে। তবে পূর্বোক্ত দুটিকে ‘জাহওয়ারা’ এর আগে আনার কারণ হলো সেগুলোতে অতিরিক্ত বর্ণটি আগে এসেছে। “এবং” যেমন ‘কালনাসা’ (قلنس); এখানে ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘নুন’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘কালনাসাহ’ হয়েছে। এটি ‘ফাইনাল্লাহ’ (الفعنلة) পরিচ্ছেদ, অতিরিক্ত বর্ণটি আগে হওয়ায় একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। “এবং” যেমন ‘কালসা’ (قلسى); শেষে ‘ইয়া’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘কালসায়াহ’ হয়েছে, এরপর ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে ইলহাক বাতিল হয় না, কারণ এটি পরিবর্তনের স্থান। এটি ‘ফাইলাহ’ (الفعلاة) পরিচ্ছেদ। “এবং পাঁচটি” পরিচ্ছেদ এমন যা সুলাসি মুজাররাদের ওপর অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করে “তাদাহরাজা এর সাথে ইলহাক করার জন্য; যেমন তাজালবাবা” (تجلبب)। শুরুতে ‘তা’ এবং শেষে ‘লাম’ কালিমার সমজাতীয় বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তাজালবুবা’ হয়েছে। এটি ‘তাফাউলুল’ (التفعلل) পরিচ্ছেদ। “এবং” যেমন ‘তাজাওরাবা’ (تجورب); এখানে ‘তা’ এবং ‘ওয়াও’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তাজাওরুবা’ হয়েছে। এটি ‘তাফাউআল’ (تفوعل) পরিচ্ছেদ। “এবং” যেমন ‘তাশাইতানা’ (تشيطن); এখানে ‘তা’ এবং ‘ইয়া’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তাশাইতুনা’ হয়েছে। এটি ‘তাফাইআল’ (التفعيل) পরিচ্ছেদ। এই তিনটি পরিচ্ছেদকে আগে আনার কারণ ঠিক তেমনই যেমন দাহরাজা-এর সাথে ইলহাককৃত প্রথম তিনটি পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে ছিল। “এবং” যেমন ‘তারাহওয়াকা’ (ترهوك); এখানে ‘তা’ এবং ‘ওয়াও’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তারাহউকা’ হয়েছে। এটি ‘তাফাউউল’ (التفعول) পরিচ্ছেদ। শুরুতে অতিরিক্ত বর্ণ থাকার বিষয়ে পূর্ববর্তীগুলোর সাথে সাদৃশ্য থাকায় একে আগে আনা হয়েছে। তবে পূর্ববর্তীগুলোকে ‘তারাহওয়াকা’ এর ওপর প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো সেগুলোর ব্যবহারিক আধিক্য। “এবং” যেমন ‘তামাসকানা’ (تمسكن); শুরুতে ‘তা’ এবং ‘মীম’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘তামাসকুনা’ হয়েছে। এটি ‘তামাফআল’ (التمفعل) পরিচ্ছেদ। “এবং দুটি” পরিচ্ছেদ এমন যা সুলাসি মুজাররাদের ওপর অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত করে “ইহরাঞ্জামা এর সাথে ইলহাক করার জন্য; যেমন ইকআনসাসা” (اقعنسس)। শুরুতে ‘হামজা’, ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘নুন’ এবং শেষে ‘লাম’ কালিমার সমজাতীয় একটি বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘ইকআনসাস’ হয়েছে। এটি ‘ইফইনলাল’ (الافعنلال) পরিচ্ছেদ। অতিরিক্ত বর্ণটি আগে হওয়ায় একে অগ্রগণ্য করা হয়েছে। “এবং” যেমন ‘ইসলাঙ্কা’ (اسلنقى); শুরুতে ‘হামজা’, ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘নুন’ এবং শেষে ‘ইয়া’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘ইসলাঙ্কা’ হয়েছে, এরপর ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। পূর্বোক্ত কারণে এখানেও ইলহাক বাতিল হবে না। এটি ‘ইফইনলা’ (الافعنلاء) পরিচ্ছেদ। দাহরাজা-এর ইলহাকসমূহকে তাদাহরাজা-এর ইলহাকসমূহের আগে আনা হয়েছে কারণ দাহরাজা শব্দটি তাদাহরাজা-এর আগে আসে। একইভাবে তাদাহরাজা-এর ইলহাকসমূহকে ইহরাঞ্জামা-এর ইলহাকসমূহের আগে আনা হয়েছে।

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

জেনে রাখুন যে, ইলহাক দ্বারা উদ্দেশ্য হলো একটি শব্দরূপকে (মিছাল) তার চেয়ে অধিক বর্ণবিশিষ্ট অন্য একটি শব্দরূপের সমান করা, যেন সেটির সমস্ত রূপান্তরে (তাসরিফ) এর সাথে একই আচরণ করা হয়। এটি কখনো ক্রিয়ার (ফেল) ক্ষেত্রে হয়, যেমনটি এখানে উদ্দেশ্য। উদাহরণস্বরূপ, ‘শামলা’ (شمل) শব্দটিকে একটি বর্ণ অর্থাৎ ‘লাম’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘দাহরাজা’ এর সমান করা হয়েছে। ফলে তা ‘শামলালা’ (شملل) হয়েছে। এখন এর মাজি (অতীতকাল), মুজারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎ) এবং অন্যান্য রূপান্তরে ‘দাহরাজা’ এর মতো আচরণ করা হবে। যেমন বলা হয়: ‘শামলালা ইউশামলিলু শামলালাতান’, ঠিক যেমন বলা হয়: ‘দাহরাজা ইউদাহরিজু দাহরাজাতান’। এখানে প্রথম উদাহরণটি হলো ‘মুলহাক’ (যাকে সংযুক্ত করা হয়েছে) এবং দ্বিতীয়টি হলো ‘মুলহাক বিহি’ (যার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে)। ইলহাক কখনো বিশেষ্যের (ইসম) ক্ষেত্রেও হয়। যেমন—একটি বর্ণ অর্থাৎ ‘দাল’ বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘কারদুন’ (قرد) শব্দটিকে ‘জা'ফার’ (جعفر) এর সমান করে ‘কারদাদুন’ (قردد) বানানো হলো (যার অর্থ শক্ত ভূমি)। এখন তাজগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক) ও তাকবির (বৃহদার্থবোধক) সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এর সাথে ‘জা'ফার’ এর মতো আচরণ করা হবে। যেমন বলা হয়: ‘কারদাদুন’, ‘কারাদিদু’ এবং ‘কুরাইদিদুন’, ঠিক যেমন বলা হয়: ‘জা'ফারুন’, ‘জা'আফিরু’ এবং ‘জুইয়াইফিরুন’। এটিই হলো ইলহাকের প্রকৃত রূপ। যদি আপনি প্রশ্ন করেন: সুলাসি মুজাররাদের শাখা বা রূপান্তরিত রূপ (মানশা’ইবাহ) এবং রুবাই-এর সাথে ইলহাককৃত শব্দের মধ্যে পার্থক্য কী, যেখানে উভয়ের মূলই সুলাসি এবং উভয়টিতে এক বা একাধিক বর্ণ বৃদ্ধি করা হয়েছে? যেমন—‘ফায়ালা’ (فاعل) শব্দে আলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ‘শামলালা’ (شملل) শব্দে লাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। উত্তরে আমি বলব: পার্থক্য হলো, রূপান্তরিত রূপের (মানশা’ইবাহ) ক্ষেত্রে বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় অর্থের আধিক্যের জন্য (যেমনটি আগে গত হয়েছে), কিন্তু ইলহাকের ক্ষেত্রে বর্ণ বৃদ্ধি করা হয় এক শব্দের রূপকে অন্য শব্দের রূপের অনুরূপ করার জন্য; যেন তার মতো রূপান্তর করা যায়, অর্থের বৃদ্ধির জন্য নয়। অন্যান্য সকল ইলহাকের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। এই ছয়টি পরিচ্ছেদ দাহরাজা-এর ইলহাক এবং এগুলো একই প্রকারভুক্ত, অর্থাৎ যাতে একটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। “যেমন শামলালা” (شملل) ‘শামলালাতান’; অর্থাৎ সে দ্রুততা করল। এখানে দ্বিতীয় ‘লাম’টি অতিরিক্ত। “এবং হাওকালা” (حوقل) ‘হাওকালাতান’; অর্থাৎ সে দুর্বল ও বৃদ্ধ হলো। এখানে ‘ওয়াও’ অতিরিক্ত। “এবং বাইতারা” (بيطر) ‘বাইতারাতান’; অর্থাৎ সে পশুর চিকিৎসা করল। এটি ‘বাত্রুন’ থেকে নির্গত যার অর্থ বিদীর্ণ করা। এখানে ‘বা’ (মূলত ইয়া) অতিরিক্ত। “এবং জাহওয়ারা” (جهور) ‘জাহওয়ারাতান’; অর্থাৎ সে উচ্চৈঃস্বরে বলল। এখানে ‘ওয়াও’ অতিরিক্ত। “এবং কালনাসা” (قلنس) ‘কালনাসাতান’; অর্থাৎ সে টুপি পরিধান করল। এখানে ‘নুন’ অতিরিক্ত। “এবং কালসা” (قلسى) ‘কালসাতান’; অর্থাৎ সে টুপি পরিধান করল। এখানে ‘লাম’ এর পরে ‘ইয়া’ বৃদ্ধি করা হয়েছে, এরপর তাকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে ইলহাক বাতিল হয়নি, কারণ এটি পরিবর্তনের স্থানে ঘটেছে। ‘কালসাহ’ এর মূল ছিল ‘কালসাইয়াহ’, এরপর ইয়া-কে আলিফ করা হয়েছে। যখন দাহরাজা-এর ইলহাক বর্ণনা শেষ হলো, তখন তিনি তাদাহরাজা-এর ইলহাক বর্ণনা শুরু করলেন। তিনি বললেন: “এবং পাঁচটি” পরিচ্ছেদ “তাদাহরাজা-এর ইলহাকের জন্য”। এটি এক প্রকারের যাতে দুটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। “যেমন তাজালবাবা” (تجلبب) ‘তাজালুবান’; অর্থাৎ সে জিলবাব বা চাদর পরিধান করল। এখানে শুরুতে ‘তা’ এবং শেষে ‘বা’ অতিরিক্ত। “এবং তাজাওরাবা” (تجورب) ‘তাজাওরুবান’; অর্থাৎ সে মোজা পরিধান করল। এখানে ‘তা’ এবং ‘ওয়াও’ অতিরিক্ত। “এবং তাশাইতানা” (تشيطن) ‘তাশাইতুনান’; অর্থাৎ সে অপছন্দনীয় কাজ করল। এখানে ‘তা’ এবং ‘ইয়া’ অতিরিক্ত। “এবং তারাহওয়াকা” (ترهوك) ‘তারাহউকান’; অর্থাৎ সে দম্ভভরে হেললে-দুলে চলল। এখানে ‘তা’ এবং ‘ওয়াও’ অতিরিক্ত। “এবং তামাসকানা” (تمسكن) ‘তামাসকুনান’; অর্থাৎ সে বিনয় ও অভাব প্রকাশ করল। এখানে ‘তা’ এবং ‘মীম’ অতিরিক্ত। জেনে রাখা উচিত যে, ‘তাজালবাবা’ এর মধ্যে ইলহাক মূলত ‘বা’ বর্ণটির পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে হয়েছে। আর ‘তা’ বর্ণটি ‘মুতায়ায়াত’ (পরিণাম গ্রহণ) এর অর্থ প্রকাশের জন্য এসেছে, যেমনটি ‘তাদাহরাজা’ এর শুরুতে এসে থাকে। কারণ শব্দের শুরু থেকে ইলহাক হয় না। একইভাবে ‘তাজাওরাবা’, ‘তাশাইতানা’ ও ‘তারাহওয়াকা’ শব্দে ইলহাক হয়েছে ওয়াও ও ইয়া এর মাধ্যমে, তা-এর মাধ্যমে নয়, যা আমরা উল্লেখ করলাম। তবে ‘তামাসকানা’ এর মধ্যে ইলহাকের বিষয়টি জটিল। এই কারণেই ‘শরহুল হাদি’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে এটি বিরল (শাজ)। যখন তিনি তাদাহরাজা-এর ইলহাক শেষ করলেন, তখন ইহরাঞ্জামা-এর ইলহাক শুরু করলেন। তিনি বললেন: “এবং দুটি” পরিচ্ছেদ “ইহরাঞ্জামা-এর ইলহাকের জন্য”। এটি এক প্রকারের যাতে তিনটি বর্ণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। “যেমন ইকআনসাসা” (اقعنسس) ‘ইকআনসাসান’; অর্থাৎ সে পিছু হটল এবং পেছনে ফিরে গেল। এটি ‘কা’সুন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ বুক বেরিয়ে আসা এবং পিঠ ঢুকে যাওয়া—যা কুঁজো হওয়ার বিপরীত। এর শুরুতে ‘হামজা’, ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘নুন’ এবং ‘লাম’ কালিমার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। অতিরিক্ত বর্ণটি হলো দ্বিতীয়টি। “এবং ইসলাঙ্কা” (اسلنقى) ‘ইসলাঙ্কায়ান’; অর্থাৎ সে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল। এর শুরুতে ‘হামজা’, ‘আইন’ ও ‘লাম’ কালিমার মাঝে ‘নুন’ এবং ‘লাম’ কালিমার পরে ‘ইয়া’ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরপর ইয়া আলিফ হয়ে গেছে। পূর্বোক্ত কারণে ইলহাক বাতিল হয়নি। এর মাসদারের (মূলশব্দ) শেষে ‘ইয়া’ বর্ণটি অতিরিক্ত আলিফ এর পরে হওয়ার কারণে হামজা হয়ে গেছে। আমরা ‘ইকআনসাসা’ কে ‘ইহরাঞ্জামা’ এর মুলহাক (অনুরূপ) হিসেবে গণ্য করি, কিন্তু ‘ইস্তাখরাজা’ কে মুলহাক বলি না, যদিও এর সমস্ত রূপান্তর তার সাথে মিলে যায়। এর কারণ হলো, ইলহাক বলতে আমরা শুধু হরকত (স্বরচিহ্ন) ও সুকুনের মিল বুঝাই না, বরং মুলহাক শব্দটিতে ফা, আইন ও লাম কালিমা যে স্থানে থাকে, মূল শব্দেও (মুলহাক বিহি) সেগুলো সেই নির্দিষ্ট স্থানে থাকতে হবে। যেহেতু সেখানে অতিরিক্ত বর্ণ আছে, তাই মুলহাক শব্দে সেটির অনুরূপ অবস্থান থাকতে হবে। ‘ইহরাঞ্জামা’ এর তুলনায় ‘ইস্তাখরাজা’ এর অবস্থা আমাদের বর্ণিত নিয়মের বিপরীত—মূল বর্ণ এবং অতিরিক্ত বর্ণ উভয় ক্ষেত্রেই। মূল বর্ণের ক্ষেত্রে কারণ হলো, ‘খা’ বর্ণটি...
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[شرح ديكنقوز]

‌‌ فصل في بيان أمثلة الماضي:

لكثرة ملحق تدحرج. ولما ذكر أن فعلا يلحق بفعل أراد بيان ما به يعرف ذلك فقال: "ومصداق" حكم "الإلحاق" والمصداق اسم آلة؛ أي آلة صدق الحكم بالحاق فعل يفعل؛ أي طريق معرفة صدق ذلك الحكم "اتحاد المصدرين"؛ أي مصدري ذينك الفعلين فكأنه آلة بين القوة العاقلة وبين صدق الحكم بالحاق؛ وإنما لم يحكم على أخرج بالإلحاق بدحرج مع اتحاد مصدريهما؛ لأنه كما يقال: دحرج دحراجا، يقال: أخرج إخراجا؛ لأن الاعتبار في دحرج بالفعللة لعمومها واطرادها في جميع صور فعلل دون الفعلال لعدم مجيئه في بعض الصور منه، فإنهم لم يقولوا في قحطب وعربد قحطابا وعربا دابل قالوا قحطبة وعربدة ولأن الشرط توافق المصادر أجمع. واعلم أن المراد بالإلحاق جعل مثال على مثال أزيد منه بزيادة حرف أو أكثر؛ أي جعله موازنا له في عدد الحروف في الحركات والسكنات، ولذلك لا يجوز الإدغام مطلقا في الملحق ولا الإعلال في غير الآخر وبجعل ذلك الحرف الزائد في المزيد فيه مقابلا للأصل في الملحق به فيعامل الملحق معاملة الملحق به في أحكامه من التصغير والتكبير وغيرهما فلا بد أن يكون الملحق مماثلا وموازنا للملحق به، ومعنى الموازنة وقوع الفاء والعين واللام في الفرع موقعها في الأصل الملحق به، وإن كان ثمة حرف زائد فلا بد من مماثلة في الملحق لا مجرد التوافق في الحركات والسكنات، ولذلك حكم على اقعنسس بأنه ملحق باحرنجم ولم يحكم على استخرج؛ لأن الاستخراج بالنسبة إلى احرنجم على خلاف ما ذكرنا في الأصلية والزيادة جميعا أما في الأصلية فلأن الخاء وهو فاء وقعت موقع النون الزائدة في الأصل، وأما في الزيادة؛ فلأن النون واقعة في الأصل بعد الفاء والعين وليس في الفرع نون في موضعها، والفرق بين الأصل والملحق به أن الملحق يجب أن يكون فيه ما زيد للإلحاق دون الملحق به، مثلا يجب في باب حوقل بزيادة الواو بين الفاء والعين دون باب دحرج وفي باب اقعنسس وتجلبب وجلبب تكرير اللام دون باب احرنجم وتدحرج ودحرج وعلى هذا القياس، ثم اعلم أن أحكام الأبواب كلها موكولة على السماع، وأن المصنف لما لم يتعرض لبيان معاني الأبواب اقتفينا أثره، وأيضا لما لم يتعلق الغرض من متعلم هذا الفن لمعاني الأمثلة لم نذكرها "فصل" أي هذا فصل "في" بيان أمثلة "الماضي" هو فعل دل وضعا على معنى وجد قبل زمان أخبارك "وهو يجيء على أربعة عشر وجها" لما يجيء وإن كان القياس يقتضي أن يكون ثمانية عشر وجها، ولم يتعرض لتعريف الماضي والمستقبل؛ لشهرة أمرهما لكونهما أصلي المشتقات من المصدر أو لإغناء اسميهما اللغويين عنه، وإنما قدم الماضي على المستقبل؛ لأنه أصل بالنسبة إليه؛ لأن الماضي مزيد عليه والمستقبل مزيد "نحو ضرب" تقول ضرب ضربا ضربوا ضربت ضربتا ضربن ضربت ضربتما ضربتم ضربت ضربتما ضربتن ضربت منتهيا "إلى ضربنا" وإنما بدأ في اطراد الأمثلة بالغائب نظرا إلى عدم الزيادة فيه، ومن بدأ بالمتكلم نظرا إلى أنه الأصل، ولما كان البحث عن أحوال أواخر بعض وجوه الماضي حركة وسكونا مبنيا على بناء الماضي إذا لم يعرف أن الأصل في آخره ما إذا لم يتصور بيان سبب العدول عن هذا الأصل في بعض وجوه تعرض لبنائه وتعرض أيضا لإعراب المستقبل، وبناء الأمر على سبيل الاستطراد تأييدا لبناء الماضي، وإلا فليس شيء منها من وظيفته فقال: "وإنما بني الماضي لفوات موجب الإعراب فيه" أي الفاعلية والمفعولية والإضافة؛ لأنه فعل والفعل لا يكون عرضة لاعتوار هذه

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

هو فاء وقعت موقع النون الزائدة في الأصل، وأما في الزيادة واقعة في الأصل بعد الفاء والعين وليس في الفرع نون في موقعها تدبر "ومصداق الإلحاق" أي في الفعل؛ أي ما يصدقه ويدل عليه "اتحاد المصدرين" أي اتحاد مصدر الملحق بمصدر الملحق به وزنا، مثل: دحرجة وشمللة، ووجه دلالته عليه أن اتحاد المصدرين يستلزم الاتحاد في جميع التصرفات، وليس المراد من الإلحاق إلا هذا كما مر، فإن قلت: إن أخرج قد يتحد مصدره لمصدر دحرج، فيقال: أخرج إخراجا كما يقال: دحرج دحراجا، فلِمَ لَمْ يقولوا بإلحاقه؟ قلت: إن الاعتبار إنما هو بالفعللة لإطرادها وعمومها في جميع صور فعلل، وأما الفعلان فلا اعتبار به أيضا أن زيادة الهمزة لقصد معنى التعدية لا لمساواته له في تصرفاته اللفظية، وأيضا حرف الإلحاق لا يزيد في الأول كما مر، وقيل: إن الشرط اتحاد المصدر أجمع ولما فرغ من تعداد الأبواب بأنواعها شرع في تصاريفها. فقال: "فصل في" بيان "الماضي" الفصل مصدر فصل بمعنى قطع وها هنا بمعنى الفاعل وقع خبر المبتدإ محذوف تقديره هذا فصل؛ أي فاصل، وعرفوا الماضي بأنه ما دل على زمان قبل زمانك فقولنا: دل على زمان؛ أي بمجرد صيغته ليتناول الماضي، وبقولنا: قبل زمانك؛ أي قبل زمان تلفظك به خرج منه المضارع، وإنما قلنا بمجرد صيغته ليخرج منه مثل: أمس، فإنه يدل على زمان قبل زمانك لكن لا بصيغته، بل بجوهر حروفه، وإنما قدم الفعل على الاسم لكثرة تصرفات الفعل بالنسبة إلى الاسم، وقدم الماضي منه؛ لأنه مجرد عن الزوائد، ولأنه يدل على الزمان الماضي، ولهذا سمى بالماضي "وهو يجيء على أربعة عشر وجها نحو ضرب إلى ضربنا" أي ضرب ضربا ضربوا ضربت ضربتا ضربن ضربت ضربتما ضربتم ضربت ضربتما ضربتن ضربتن ضربت ضربنا، والقياس ثمانية عشر وجها ستة في الغيبة وستة في الخطاب وستة في التكلم، لكنه اكتفى بلفظين لعدم الالتباس فبقي أربعة عشر وجها كما سيجيء "وإنما بني الماضي لفوات موجب الإعراب فيه" وهو توارد المعاني المختلفة
[শরাহ দিকনুকুয]

অতীতকালীন ক্রিয়ার (মাজি) উদাহরণসমূহের বর্ণনায় একটি পরিচ্ছেদ:

তাদাহরাজা (تدحرج)-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) ক্রিয়াগুলোর আধিক্যের কারণে। আর যখন তিনি উল্লেখ করলেন যে, একটি ক্রিয়া অন্য একটি ক্রিয়ার সাথে সংযুক্ত হয়, তখন তিনি সেই বিষয়টি বর্ণনা করতে চাইলেন যার মাধ্যমে তা চেনা যায়। তাই তিনি বললেন: আর "সংযুক্তির" হুকুমের "প্রমাণ" (মিসদাক)—এবং মিসদাক হলো একটি যন্ত্রবাচক বিশেষ্য (ইসমে আলা); অর্থাৎ একটি ক্রিয়া অন্যটির সাথে সংযুক্ত হওয়ার হুকুমের সত্যতা প্রমাণের মাধ্যম বা পথ—হলো "উভয় ক্রিয়ামূলের (মাসদার) অভিন্নতা"; অর্থাৎ ওই দুটি ক্রিয়ার মাসদারদ্বয় অভিন্ন হওয়া। যেন এটি বুদ্ধিবৃত্তিক অন্বেষা এবং সংযুক্তির সত্যতার মাঝে একটি মাধ্যম। তবে উভয় মাসদার অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও 'আখরাজা' (أخرج)-কে 'দাহরাজা' (دحرج)-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) হিসেবে গণ্য করা হয়নি; যদিও বলা হয়: দাহরাজা দাহরাজান (دحرج دحراجا), তেমনি বলা হয়: আখরাজা ইখরাজান (أخرج إخراجا)। কারণ, 'দাহরাজা'র ক্ষেত্রে 'ফা'লালাহ' (فعللة) ওজনেরই মূল বিবেচনা করা হয়, কারণ এটি 'ফা'লাল' (فعلل) ওজনের সকল রূপের ক্ষেত্রে ব্যাপক ও নিয়মিত। পক্ষান্তরে 'ফিলাল' (فعلال) ওজনের বিবেচনা করা হয় না, কারণ এর কিছু রূপের ক্ষেত্রে এই ওজনটি আসে না। যেমন তারা 'কাহতবা' (قحطب) এবং 'আরবাদা' (عربد) এর ক্ষেত্রে 'কহিতাবান' (قحطابا) বা 'ইরবিদান' (عربادا) বলে না, বরং তারা বলে 'কাহতাবাতান' (قحطبة) এবং 'আরবাদাতান' (عربدة)। এছাড়া শর্ত হলো সকল মাসদারের মাঝে সামঞ্জস্য থাকা। জেনে রাখুন যে, সংযুক্তির (ইলহাক) উদ্দেশ্য হলো—কোনো একটি শব্দের গঠনকে তার চেয়ে অতিরিক্ত বর্ণবিশিষ্ট অন্য একটি শব্দের গঠনের অনুরূপ করে দেওয়া, একটি বা একাধিক বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে। অর্থাৎ, স্বরচিহ্ন (হরকত) ও স্থিতিচিহ্নের (সুকুন) সংখ্যায় বর্ণগুলোকে তার সমান্তরাল করে তোলা। এই কারণেই 'মুলহাক' বা সংযুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই 'ইদগাম' (বর্ণের মিলন) বৈধ নয় এবং শেষ বর্ণ ছাড়া অন্য কোথাও 'ইলাল' (বর্ণের পরিবর্তন) বৈধ নয়। আর ওই অতিরিক্ত বর্ণটিকে যার সাথে সংযুক্ত করা হচ্ছে (মুলহাক বিহি) তার মূল বর্ণের সমান্তরাল ধরা হয়। ফলে সংযুক্ত শব্দটিকে তার রূপান্তর, তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক) এবং তাকবির ইত্যাদি হুকুমের ক্ষেত্রে যার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে তারই অনুরূপ গণ্য করা হয়। সুতরাং এটি আবশ্যক যে, সংযুক্ত শব্দটি তার মূল শব্দের (মুলহাক বিহি) সদৃশ ও সমান্তরাল হবে। সমান্তরাল হওয়ার অর্থ হলো—শাখা শব্দে ফা, আইন এবং লাম বর্ণগুলো মূল শব্দের সেই একই অবস্থানে থাকবে। যদি সেখানে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ থাকে, তবে সংযুক্ত শব্দে তার সাদৃশ্য থাকা জরুরি, কেবল হরকত ও সুকুনের মিল থাকাই যথেষ্ট নয়। এই কারণেই 'ইকআনসাসা' (اقعنسس)-কে 'ইহরানজামা' (احرنجم)-এর সাথে সংযুক্ত বলে গণ্য করা হয়, কিন্তু 'ইসতাখরাজা' (استخرج)-কে নয়। কারণ 'ইহরানজামা'র তুলনায় 'ইসতাখরাজা'র মূল বর্ণ এবং অতিরিক্ত বর্ণের বিন্যাস আমরা যা উল্লেখ করেছি তার পরিপন্থী। মূল বর্ণের ক্ষেত্রে পরিপন্থী হওয়ার কারণ হলো, 'খ' বর্ণটি—যা এখানে 'ফা' বর্ণ—তা মূল শব্দের অতিরিক্ত 'নূন'-এর স্থলে পড়েছে। আর অতিরিক্ত বর্ণের ক্ষেত্রে পরিপন্থী হওয়ার কারণ হলো, মূল শব্দে 'নূন' বর্ণটি 'ফা' এবং 'আইন' বর্ণের পরে অবস্থিত, কিন্তু শাখা শব্দে সেই স্থানে কোনো 'নূন' নেই। মূল এবং যার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে (মুলহাক বিহি) তাদের মধ্যে পার্থক্য হলো—সংযুক্ত শব্দে অবশ্যই এমন কিছু থাকতে হবে যা সংযুক্তির জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা মূল শব্দে নেই। উদাহরণস্বরূপ, 'হাওকালা' (حوقل) অধ্যায়ে 'ফা' এবং 'আইন' বর্ণের মাঝে 'ওয়াও' বৃদ্ধি করা জরুরি, যা 'দাহরাজা' অধ্যায়ে নেই। আবার 'ইকআনসাসা' (اقعنسس), 'তাজালবাবা' (تجلبب) এবং 'জালবাবা' (جلبب) অধ্যায়ে 'লাম' বর্ণের পুনরাবৃত্তি জরুরি, যা 'ইহরানজামা' (احرنجم), 'তাদাহরাজা' (تدحرج) এবং 'দাহরাজা' (دحرج) অধ্যায়ে নেই। এই নিয়মেই অন্যান্যগুলো বুঝতে হবে। এরপর জেনে রাখুন যে, এসকল অধ্যায়ের হুকুমসমূহ শ্রুতির (সামা' বা আরবরা যেভাবে বলেছে তার) ওপর নির্ভরশীল। আর যেহেতু মূল লেখক অধ্যায়গুলোর অর্থের বর্ণনায় প্রবৃত্ত হননি, তাই আমরাও তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। এছাড়া, এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর মূল উদ্দেশ্য উদাহরণগুলোর অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় বলে আমরা সেগুলো উল্লেখ করিনি। "পরিচ্ছেদ" অর্থাৎ এটি একটি পরিচ্ছেদ "অতীতকালীন ক্রিয়া" (মাজি)-এর উদাহরণসমূহের বর্ণনায়। মাজি হলো এমন একটি ক্রিয়া যা গঠনগতভাবে এমন একটি অর্থের ওপর দালালত করে যা আপনার সংবাদ দেওয়ার সময়ের পূর্বে বিদ্যমান ছিল। "এবং তা চৌদ্দটি রূপে আসে"—যদিও নিয়ম অনুযায়ী এটি আঠারোটি রূপে আসার কথা ছিল। লেখক মাজি (অতীত) এবং মুস্তাকবিল (ভবিষ্যৎ)-এর সংজ্ঞা দেননি কারণ এগুলোর পরিচয় অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, যেহেতু এগুলো মাসদার থেকে নির্গত শব্দগুলোর মূল, অথবা এগুলোর আভিধানিক অর্থই সংজ্ঞার কাজ চালিয়ে দেয়। তিনি মাজি-কে মুস্তাকবিলের আগে এনেছেন কারণ এটি মুস্তাকবিলের জন্য মূলস্বরূপ; কেননা মাজি হলো মুস্তাকবিলের মূল ভিত্তি আর মুস্তাকবিলে অতিরিক্ত বর্ণ যোগ করা হয়। "যেমন দরাবা" (ضرب); আপনি বলবেন—দরাবা, দরাবা, দরাবু, দরাবাত, দরাবাতা, দরাবনা, দরাবতা, দরাবতুমা, দরাবতুমন, দরাবতি, দরাবতুমা, দরাবতুন্না, দরাবতু—এভাবে শেষ পর্যন্ত "দরাবনা" (ضربنا) পর্যন্ত। তিনি উদাহরণগুলোর ক্রমবিন্যাসে নামপুরুষ (গায়িব) থেকে শুরু করেছেন কারণ এতে কোনো অতিরিক্ত বর্ণ নেই। আর যারা উত্তম পুরুষ (মুতাকাল্লিম) থেকে শুরু করেন তারা একেই মূল হিসেবে বিবেচনা করেন। যেহেতু মাজির বিভিন্ন রূপের শেষের হরকত ও সুকুনের অবস্থা বর্ণনা করা মাজির গঠনতন্ত্রের (বিনা) ওপর নির্ভরশীল, এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না জানা যাবে যে এর শেষে মূল অবস্থা কী এবং কেন কিছু ক্ষেত্রে সেই মূল অবস্থা থেকে বিচ্যুত হওয়া হয়েছে, ততক্ষণ এর বর্ণনা সম্ভব নয়, তাই তিনি এর গঠনতন্ত্র (বিনা) আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি মুস্তাকবিলের ইরাব এবং আমরের গঠনতন্ত্র সম্পর্কেও প্রাসঙ্গিকভাবে আলোচনা করেছেন মাজির গঠনতন্ত্রকে সমর্থন করার জন্য; নতুবা এগুলো তাঁর মূল আলোচনার বিষয় ছিল না। তিনি বললেন: "মাজিকে মাবনি (অপরিবর্তনীয়) করা হয়েছে কারণ এতে ইরাব হওয়ার কারণসমূহ অনুপস্থিত"; অর্থাৎ এতে ফায়িল (কর্তা), মাফউল (কর্ম) বা ইদাফত (সম্বন্ধ) হওয়ার যোগ্যতা নেই; কারণ এটি একটি ক্রিয়া আর ক্রিয়া এসকল অবস্থার সম্মুখীন হয় না।

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কর্তৃক

এটি হলো 'ফা' বর্ণ যা মূলে অতিরিক্ত নূনের স্থলে পড়েছে। আর অতিরিক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে, এটি মূলে 'ফা' ও 'আইন' বর্ণের পরে অবস্থিত অথচ শাখা শব্দে তার স্থানে কোনো নূন নেই—বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করুন। "সংযুক্তির প্রমাণ" অর্থাৎ ক্রিয়ার ক্ষেত্রে; অর্থাৎ যা একে সত্য প্রতিপন্ন করে এবং এর ওপর দালালত করে তা হলো "উভয় মাসদারের অভিন্নতা"। অর্থাৎ সংযুক্ত শব্দের মাসদার এবং যার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে তার মাসদার ওজনে এক হওয়া; যেমন: দাহরাজাহ (دحرجة) এবং শামলালাহ (شمللة)। এর দালালতের কারণ হলো, মাসদারদ্বয়ের অভিন্নতা সকল প্রকার রূপান্তরের অভিন্নতাকে অনিবার্য করে তোলে। আর ইলহাক বা সংযুক্তির উদ্দেশ্যও এটিই, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আপনি যদি বলেন: 'আখরাজা' শব্দের মাসদার কখনও 'দাহরাজা'র মাসদারের ওজনে আসে, যেমন বলা হয়: 'আখরাজা ইখরাজান' এবং 'দাহরাজা দাহরাজান', তবে কেন তারা একে ইলহাক বা সংযুক্তি বলেন না? আমি বলব: মূল বিবেচনা হলো 'ফা'লালাহ' (فعللة) ওজনের, কারণ এটি 'ফা'লাল' (فعلل)-এর সকল ক্ষেত্রে নিয়মিত ও ব্যাপক। আর 'ফিলাল' (فعلان) ওজনের কোনো বিশেষ বিবেচনা নেই। এছাড়া শুরুতে হামজা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্য হলো অর্থকে 'তা'দিয়াহ' (সকর্মক) করা, শব্দগত রূপান্তরে সমতা আনা নয়। আরও একটি বিষয় হলো, সংযুক্তির জন্য বর্ণ শুরুতে বৃদ্ধি পায় না যেমনটি আগে বলা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, শর্ত হলো সকল মাসদারের অভিন্ন হওয়া। যখন তিনি প্রকারভেদসহ সকল অধ্যায়ের আলোচনা শেষ করলেন, তখন সেগুলোর রূপান্তর (তাসরিফ) আলোচনা শুরু করলেন। তিনি বললেন: "মাজির বর্ণনায় একটি পরিচ্ছেদ"। 'ফাসল' শব্দটি একটি মাসদার যা 'ফাতল' (বিচ্ছিন্ন করা) অর্থে ব্যবহৃত হয়, এখানে এটি 'ফায়িল' বা কর্তা অর্থে ব্যবহৃত হয়ে উহ্য মুবতাদার খবর হয়েছে, যার تقدير বা অনুমিত রূপ হলো: "এটি একটি পৃথককারী পরিচ্ছেদ"। আলিমগণ মাজির সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে—যা তোমার বর্তমান সময়ের পূর্বের কোনো সময়ের ওপর দালালত করে। আমাদের কথা "যা সময়ের ওপর দালালত করে" অর্থাৎ কেবল তার রূপের মাধ্যমেই যেন তা অতীতকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর আমাদের কথা "তোমার সময়ের পূর্বে" অর্থাৎ তোমার উচ্চারণের সময়ের পূর্বে হওয়ার মাধ্যমে মুজারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ) এর সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে। আমরা কেন বলেছি "কেবল তার রূপের মাধ্যমে"? যাতে 'আমসি' (গতকাল) এর মতো শব্দগুলো এর বাইরে থাকে, কারণ এটিও তোমার সময়ের পূর্বের সময়ের ওপর দালালত করে কিন্তু তা তার রূপের মাধ্যমে নয় বরং তার বর্ণের মূল সত্তার মাধ্যমে। বিশেষ্যের (ইসমে) তুলনায় ক্রিয়ার রূপান্তর অধিক হওয়ার কারণে ক্রিয়াকে বিশেষ্যের আগে আনা হয়েছে। আর মাজিকে আগে আনা হয়েছে কারণ এটি অতিরিক্ত বর্ণ থেকে মুক্ত এবং এটি অতীত সময়ের ওপর দালালত করে, এ কারণেই একে মাজি বলা হয়। "এবং তা চৌদ্দটি রূপে আসে, যেমন দরাবা থেকে দরাবনা পর্যন্ত"; অর্থাৎ দরাবা, দরাবা, দরাবু, দরাবাত, দরাবাতা, দরাবনা, দরাবতা, দরাবতুমা, দরাবতুম, দরাবতি, দরাবতুমা, দরাবতুন্না, দরাবতু, দরাবনা। যুক্তি অনুযায়ী এটি আঠারোটি রূপ হওয়ার কথা ছিল—ছয়টি নামপুরুষের (গায়িব), ছয়টি মধ্যম পুরুষের (হাজির) এবং ছয়টি উত্তম পুরুষের (মুতাকাল্লিম) জন্য। কিন্তু বিভ্রান্তি না থাকার কারণে তিনি কয়েকটি শব্দের ওপর নির্ভর করেছেন, ফলে চৌদ্দটি রূপ বাকি থাকে যেমনটি সামনে আসবে। "মাজিকে মাবনি করা হয়েছে কারণ এতে ইরাব হওয়ার কারণসমূহ অনুপস্থিত", আর তা হলো বিভিন্ন অর্থের পরস্পর আগমন।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌[شرح ديكنقوز]

المعاني عليه "وبنى على الحركة" مع أن الأصل في البناء السكون؛ لأنه ضد الإعراب كما أن الحركة ضد السكون والأصل في الإعراب الحركة لتدل كل حركة على معنى من المعاني الموجبة للإعراب فأعطى السكون للبناء تحقيقا للتضاد بينهما "لمشابهته بالاسم" في الجملة يعني "في وقوعه صفة للنكرة" وهي ما وضع لشيء لا بعينه كرجل "نحو مررت برجل ضرب أو" مررت برجل "ضارب" قدم ضرب للاهتمام بوقوعه صفة للنكرة وإن كان الأصل فيه الاسم "وبنى على الفتح لأنه" أي الفتح "أخو السكون؛ لأن الفتحة جزء الألف" لما تقرر من أن الألف مركب من الفتحتين "والألف أخو السكون" يعني أن بين الفتح والسكون مناسبة وبين الألف والسكون مناسبة أيضا؛ لأن الألف ملزوم السكون؛ لأنه ساكن أبدا فيكون بين الفتح والسكون مناسبة وحيث تعذر السكون صير إلى ما يناسبه من الحركات عملا بالأصل بقدر الإمكان، ولا يرد على هذا نحو ضربوا وضربن ودعا؛ لأن أحكامها مذكورة بعد هذا، وقوله: "ولم يعرب الماضي" إشارة إلى سؤال وهو أن المستقبل أعرب مع فوات موجب الإعراب فيه، ولم يعرب الماضي، ولو كان سبب بناء الفعل انتفاء موجب الإعراب فيه لوجب أن لا يعرب المستقبل لانتفائه فيه أيضا وأجاب بقوله: "لأن اسم الفاعل لم يأخذ منه" أي من الماضي "العمل" أي لم يعمل إذا كان بمعناه؛ لأن عمله مشروط بكونه بمعنى الحال أو الاستقبال بدليل الاستقراء وحكمه أن اسم الفاعل يشبه المستقبل صورة ومعنى لموافقته له في ذلك، وإذا كان بمعنى الماضي لم يكن موافقا للمضارع في المعنى ولا للماضي في اللفظ يعني لا يكون موافقا في المعنى لما كان موافقا له في اللفظ، ولا يكون موافقا في اللفظ لما كان موافقا له في المعنى فسقطت قوة المشابهة وضعفت في كلا الجانبين حاله فلم يعمل، ولما لم يأخذ منه العمل لم يعطه الإعراب "بخلاف المستقبل" فإنه أعرب وإن كان موجب الإعراب فائتا فيه "لأن اسم الفعل أخذ منه العمل" أي يعمل إذا كان بمعناه "فأعطى" اسم الفاعل "الإعراب له" أي للمستقبل واللام في له زائدة "عوضا" أي لأجل العوض عما أخذ "منه" وهو العمل أو من جهة العوض "أو" تقول بنى الماضي وأعرب المستقبل مع فوات موجب الإعراب فيهما "لكثرة مشابهته له" ولما فهم من ظاهر كلامه أن المقصود الأصلي بيان سبب إعراب المضارع وأن بيان سبب بناء الماضي استطراد مع أن الحال على العكس كما أشرنا إليه فسر كلامه متدرجا في التنزل في شأن المشابهة فقال "يعني يعرب المضارع" وإن كان موجب الإعراب فائتا فيه "لكثرة مشابهته اسم الفاعل" حيث يشابهه في الحركات والسكنات ووقوعه صفة لنكرة وخبرا للمبتدأ ودخول لام اسم الفاعل مع فوات موجب الإعراب فيه نظرا إلى إعراب المضارع لمشابهته الكثيرة باسم الفاعل، وقوله لقلة باعتبار

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

عليه من الفاعلية والمفعولية والإضافية فإن الفعل لا يقع فاعلا ولا مفعولا ولا مضافا إليه كما بين في النحو، وبهذا الدليل حكموا بأن الأصل في الأفعال كلها البناء، وأصل البناء السكون، وإنما أعرب منها ما أعرب كالمضارع لعارض وهو المشابهة التامة للمعرب كما بينه المصنف، هذا هو المراد في هذا المقام وبعض الشارحين قالوا المراد بموجب الإعراب المشابهة التامة لا الفاعلية والمفعولية والإضافة وإلا يلزم أن يكون المضارع مبنيا أيضا لقصور نظرهم عن إحاطة المراد فتدبر "وبني على الحركة" مع أن الأصل في البناء السكون لأنه ضد الإعراب وأصله الحركة وضد الحركة السكون "لمشابهته بالاسم" أي اسم الفاعل "في وقوعه" موقعه في كونه "صفة للنكرة" يعني كما أن اسم الفاعل يقع صفة للنكرة يقع الماضي أيضا صفة لها "نحو مررت برجل ضرب أو ضارب" وقيل: بني الماضي على الحركة لوقوعه موقع المضارع، وهذا الكلام مبني على أن المضارع معرب بالأصالة لا بالمشابهة، كما هو مذهب الكوفيين وستطلع عليه، نحو: مررت برجل ضرب ويضرب "وعلى الفتح" إذا كان مع غير الضمير المتحرك وغير الواو؛ لأنه مع الأول ساكن ومع الثاني مضموم كما يجيء "لأنه" أي الفتح "أخو السكون" أي لا يفارقه، بل يقارنه ويلازمه ذلك "لأن الفتحة جزء الألف" وهو ساكن أبدا وجزء الساكن ساكن، وقيل إنما خص بالفتح لثقل الفعل لفظا؛ إذ لا تجد فعلا ثلاثيا ساكن الأوسط بالأصالة، ومعنى لدلالته على المصدر والزمان ولطلبه المرفوع دائما والمنصوب كثيرا، ولما توجه أن يقال: إن الفعل إذا شابه الاسم المعرب يكون معربا كما في المضارع وأنتم قلتم: إن الماضي يشبه اسم الفاعل وهو معرب، فلِمَ لَمْ يعرب؟ أجاب عنه بقوله: "ولم يعرب لأن اسم الفاعل لم يأخذ منه العمل" يعني أن مجرد المشابهة لا يكفي في كون الفعل معربا، بل لا بد فيه من شرط آخر وذلك الشرط إما أن يأخذ الاسم المعرب الذي شابه الفعل العمل منه، وإما أن تكون تلك المشابهة تامة فإن كان الشرط الأمر الأول لم يعرب الماضي لانتفائه فيه "بخلاف المستقبل؛ لأن اسم الفاعل أخذ منه العمل" فوجد هذا الشرط فيه "فأعطي الإعراب له عوضا عن العمل" الذي أخذ هو منه وإن كان الشرط الثاني لم يعرب الماضي أيضا لانتفائه فيه بخلاف المستقبل وإليه أشار بقوله: "ولكثرة" وجوه "مشابهته له" أي للاسم من حيث اللفظ والمعنى كما سيجيء في بابه، ولما كان هذا كلاما إجماليا فصله وفسره بقوله: "يعني يعرب المضارع لكثرة مشابهته للاسم" مع قطع النظر عن أخذه العمل منه "وبني الماضي" على الحركة "لقلة مشابهته له" لأنها من جهة وقوعه صفة للنكرة فقط فينتفي الشرط فلم يعرب، بل على بني الحركة قال الفاضل الرضي: المضارع لما شابهه بالمشابهة التامة استحق الإعراب، والماضي لمشابهته الناقصة استحق البناء على
[শারহু দিকনুফুজ]

এর অর্থগুলো হলো: "এবং তা হরকতের ওপর ভিত্তি করে গঠিত," যদিও নির্মাণের মূল নিয়ম হলো সুকুন; কারণ নির্মাণ হলো ইরাবের বিপরীত, যেমনটি হরকত সুকুনের বিপরীত। আর ইরাবের মূল ভিত্তি হলো হরকত, যাতে প্রতিটি হরকত ইরাবকে আবশ্যককারী অর্থসমূহের কোনো একটির ওপর প্রমাণ বহন করতে পারে। সুতরাং নির্মাণ ও ইরাবের মধ্যে বৈপরীত্য নিশ্চিত করার জন্য নির্মাণের জন্য সুকুন নির্ধারণ করা হয়েছে। "বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে" অর্থাৎ কোনোভাবে "অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকেরা) গুণবাচক শব্দ (সিফাত) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ক্ষেত্রে"। নাকেরা হলো এমন শব্দ যা নির্দিষ্ট নয় এমন কোনো বিষয়ের জন্য নির্ধারিত, যেমন 'পুরুষ'। "যেমন: আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে প্রহার করেছে অথবা" আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে "প্রহারকারী"। এখানে 'প্রহার করেছে' (যরাবা) শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে কারণ এটি নাকেরার সিফাত হওয়ার গুরুত্ব বুঝাতে, যদিও মূল হলো বিশেষ্য হওয়া। "এবং তা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত কারণ তা" অর্থাৎ ফাতহা হলো "সুকুনের ভ্রাতা; কেননা ফাতহা হলো আলিফের অংশ।" যেমনটি প্রতিষ্ঠিত যে আলিফ দুটি ফাতহার সমন্বয়ে গঠিত। "আর আলিফ হলো সুকুনের ভ্রাতা" অর্থাৎ ফাতহা ও সুকুনের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে এবং আলিফ ও সুকুনের মধ্যেও একটি সম্পর্ক বিদ্যমান; কারণ আলিফ হলো সুকুনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেহেতু আলিফ সর্বদা সাকিন থাকে। সুতরাং ফাতহা ও সুকুনের মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে। আর যেখানে সুকুন অসম্ভব হয়ে পড়ে, সেখানে যথাসম্ভব মূল নিয়মের ওপর আমল করার জন্য সুকুনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হরকতের দিকে ধাবিত হওয়া হয়। এর ওপর 'যরাবু' (তারা প্রহার করেছে), 'যরাবনা' (আমরা প্রহার করেছি) বা 'দা'আ' (সে ডেকেছে)-এর মতো উদাহরণগুলো আপত্তি হিসেবে আসবে না, কারণ এগুলোর বিধান পরবর্তীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এবং তার কথা: "অতীতকাল (মাযী) ইরাব গ্রহণ করেনি" এটি একটি প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত দেয়। প্রশ্নটি হলো: ভবিষ্যৎকাল (মুস্তাকবিল/মুযারি) ইরাব গ্রহণ করেছে যদিও তাতে ইরাব আবশ্যককারী কারণ অনুপস্থিত, অথচ অতীতকাল ইরাব গ্রহণ করেনি। যদি ক্রিয়া মাবনি হওয়ার কারণ ইরাব আবশ্যককারী বিষয়ের অনুপস্থিতি হয়, তবে তো ভবিষ্যৎকালও মাবনি হওয়া উচিত ছিল কারণ তাতেও তা অনুপস্থিত। তিনি এর উত্তর দিয়ে বলেছেন: "কারণ ইসম ফায়িল তার থেকে" অর্থাৎ অতীতকাল থেকে "আমল (ক্রিয়াক্ষমতা) গ্রহণ করেনি।" অর্থাৎ যখন ইসম ফায়িল অতীতকালের অর্থে হয় তখন তা আমল করে না; কারণ ইসম ফায়িল আমল করার জন্য শর্ত হলো তা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালের অর্থে হতে হবে, যা গবেষণালব্ধ প্রমাণের মাধ্যমে প্রমাণিত। এর বিধান হলো ইসম ফায়িল আকৃতি ও অর্থের দিক থেকে ভবিষ্যৎকালের সাদৃশ্য রাখে কারণ এ ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে মিল রয়েছে। আর যখন তা অতীতকালের অর্থে হয়, তখন তা অর্থে মুযারি-এর সাথে মিল রাখে না এবং শব্দে অতীতকালের সাথে মিল রাখে না। অর্থাৎ শব্দের দিক থেকে যার সাথে মিল রয়েছে তার সাথে অর্থের মিল নেই, আর অর্থের দিক থেকে যার সাথে মিল রয়েছে তার সাথে শব্দের মিল নেই। ফলে সাদৃশ্যের শক্তি বিলুপ্ত হয়ে উভয় দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই তা আমল করেনি। আর যেহেতু ইসম ফায়িল অতীতকাল থেকে আমল গ্রহণ করেনি, তাই সে তাকে ইরাবও প্রদান করেনি। "ভবিষ্যৎকালের বিষয়টি ভিন্ন," কারণ তা ইরাব গ্রহণ করেছে যদিও তাতে ইরাব আবশ্যককারী বিষয় অনুপস্থিত। "কেননা ইসম ফায়িল তার থেকে আমল গ্রহণ করেছে" অর্থাৎ যখন তা ভবিষ্যৎকালের অর্থে হয় তখন আমল করে। "ফলে প্রদান করা হয়েছে" ইসম ফায়িলের পক্ষ থেকে "তাকে ইরাব" অর্থাৎ ভবিষ্যৎকালকে, আর 'তাকে' শব্দের পূর্বে বিদ্যমান অব্যয়টি অতিরিক্ত। "বিনিময় হিসেবে" অর্থাৎ যা গ্রহণ করা হয়েছে তার বিনিময়ে, "তার থেকে" অর্থাৎ আমল থেকে, অথবা বিনিময়ের দিক থেকে। "অথবা" আপনি বলতে পারেন অতীতকাল মাবনি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎকাল ইরাব গ্রহণ করেছে উভয়ের মধ্যে ইরাব আবশ্যককারী বিষয় অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও "তার সাথে তার সাদৃশ্যের আধিক্যের কারণে।" যেহেতু তার কথার বাহ্যিক দিক থেকে বোঝা যায় যে, মূল উদ্দেশ্য হলো মুযারি-এর ইরাব হওয়ার কারণ বর্ণনা করা এবং অতীতকালের মাবনি হওয়ার কারণ বর্ণনা করা হলো প্রসঙ্গক্রমে আসা একটি আলোচনা, যদিও বিষয়টি এর বিপরীত যা আমরা আগে ইঙ্গিত করেছি। তাই তিনি তার বক্তব্যকে সাদৃশ্যের স্তরের ক্রমানুসারে ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "অর্থাৎ মুযারি ইরাব গ্রহণ করে" যদিও তাতে ইরাব আবশ্যককারী বিষয় অনুপস্থিত "ইসম ফায়িলের সাথে তার সাদৃশ্যের আধিক্যের কারণে।" যেহেতু এটি হরকত ও সুকুনের ক্ষেত্রে, নাকেরার সিফাত হওয়া ও মুবতাদার খবর হওয়ার ক্ষেত্রে এবং ইসম ফায়িলের লাম প্রবেশের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রাখে। মুযারি ইরাব গ্রহণ করার বিষয়টি ইসম ফায়িলের সাথে তার অধিক সাদৃশ্যের দিকে বিবেচনা করে। আর তার কথা "অল্পতার কারণে" বিবেচনা সাপেক্ষে...

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শারহুল মারহ] ইবন কামাল পাশা রচিত

কর্তৃপদ (ফায়িলিয়্যাত), কর্মপদ (মাফউলিইয়্যাত) এবং সম্বন্ধপদ (ইযাফিয়্যাত)-এর বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে; কারণ ক্রিয়া কখনো ফায়িল, মাফউল বা মুযাফ ইলাইহি হয় না যেমনটি নাহু শাস্ত্রে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এই প্রমাণের ভিত্তিতে তারা হুকুম দিয়েছেন যে সকল ক্রিয়ার মূল প্রকৃতি হলো মাবনি হওয়া, আর নির্মাণের মূল ভিত্তি হলো সুকুন। এগুলোর মধ্যে কেবল মুযারি-এর মতো শব্দগুলো ইরাব গ্রহণ করেছে কোনো বিশেষ কারণবশত, আর তা হলো মু'রাব শব্দের সাথে পূর্ণ সাদৃশ্য থাকা যেমনটি গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন। এই স্থানে এটাই উদ্দেশ্য। কিছু ব্যাখ্যাকার বলেছেন যে, ইরাব আবশ্যককারী বিষয় দ্বারা পূর্ণ সাদৃশ্য উদ্দেশ্য, ফায়িলিয়্যাত বা মাফউলিইয়্যাত নয়। অন্যথায় মুযারি শব্দটিও মাবনি হওয়া আবশ্যক হতো। এটি তাদের চিন্তার সীমাবদ্ধতার কারণে হয়েছে, তাই বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করুন। "এবং তা হরকতের ওপর ভিত্তি করে গঠিত" যদিও নির্মাণের মূল হলো সুকুন; কারণ তা ইরাবের বিপরীত, যার মূল হলো হরকত, আর হরকতের বিপরীত হলো সুকুন। "বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে" অর্থাৎ ইসম ফায়িলের সাথে সাদৃশ্য "তার হওয়ার ক্ষেত্রে" অর্থাৎ তার স্থানে আসার ক্ষেত্রে "নাকেরা এর সিফাত হওয়ার ক্ষেত্রে।" অর্থাৎ যেমন ইসম ফায়িল নাকেরার সিফাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তেমনি অতীতকালও তার সিফাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। "যেমন: আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে প্রহার করেছে অথবা প্রহারকারী।" বলা হয়ে থাকে: অতীতকাল হরকতের ওপর মাবনি হয়েছে কারণ তা মুযারি-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। আর এই কথাটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে মুযারি মূলত ইরাব গ্রহণকারী, সাদৃশ্যের কারণে নয়। যেমনটি কুফাবাসীদের অভিমত এবং আপনি তা জানতে পারবেন। উদাহরণ: আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে প্রহার করেছে এবং প্রহার করছে। "এবং ফাতহার ওপর" যখন তা হরকতবিশিষ্ট সর্বনাম এবং 'ওয়াও' ব্যতীত অন্য কিছুর সাথে থাকে; কারণ প্রথমটির ক্ষেত্রে তা সাকিন এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে পেশযুক্ত হয় যেমনটি সামনে আসছে। "কেননা তা" অর্থাৎ ফাতহা হলো "সুকুনের ভ্রাতা" অর্থাৎ তা সুকুন থেকে পৃথক হয় না বরং তার সাথে সংগতিপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য থাকে। "কেননা ফাতহা হলো আলিফের অংশ" আর আলিফ সর্বদা সাকিন থাকে এবং সাকিনের অংশও সাকিন সদৃশ। বলা হয়ে থাকে যে, ফাতহাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে শব্দগতভাবে ক্রিয়ার ভারী হওয়ার কারণে; কেননা আপনি এমন কোনো ত্রিমাত্রিক ক্রিয়া পাবেন না যার মধ্যাক্ষরটি মূলগতভাবে সাকিন। আর অর্থের দিক থেকে ক্রিয়াটি মাসদার ও সময়ের ওপর প্রমাণ বহন করার কারণে এবং সর্বদা মারফু ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানসুব দাবি করার কারণে তা ভারী। যখন এই প্রশ্ন তোলা হয় যে: ক্রিয়া যদি মু'রাব বিশেষ্যের সাদৃশ্য রাখে তবে তা মুযারি-এর মতো মু'রাব হওয়া উচিত, আর আপনারা বলেছেন যে অতীতকাল ইসম ফায়িলের সাদৃশ্য রাখে যা মু'রাব, তবে কেন তা মু'রাব হলো না? তিনি এর উত্তর দিয়ে বলেছেন: "এবং তা ইরাব গ্রহণ করেনি কারণ ইসম ফায়িল তার থেকে আমল গ্রহণ করেনি।" অর্থাৎ ক্রিয়া মু'রাব হওয়ার জন্য কেবল সাদৃশ্যই যথেষ্ট নয় বরং তাতে অন্য একটি শর্ত থাকতে হবে। সেই শর্তটি হলো—হয় সেই মু'রাব বিশেষ্যটি যার সাথে ক্রিয়াটি সাদৃশ্য রাখছে সে যেন ক্রিয়া থেকে আমল গ্রহণ করে, অথবা সেই সাদৃশ্য যেন পূর্ণাঙ্গ হয়। যদি শর্তটি প্রথমটি হয়, তবে অতীতকাল মু'রাব হবে না কারণ তাতে এই শর্তটি অনুপস্থিত। "ভবিষ্যৎকালের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ ইসম ফায়িল তার থেকে আমল গ্রহণ করেছে" ফলে তাতে এই শর্তটি পাওয়া গেছে। "তাই আমলের বিনিময় হিসেবে তাকে ইরাব প্রদান করা হয়েছে" যা সে তার থেকে গ্রহণ করেছে। আর যদি শর্তটি দ্বিতীয়টি হয়, তবে অতীতকালও মু'রাব হবে না কারণ তাতে তা অনুপস্থিত। ভবিষ্যৎকালের বিষয়টি ভিন্ন এবং তিনি সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন তার এই কথার মাধ্যমে: "এবং সাদৃশ্যের আধিক্যের কারণে" যা শব্দ ও অর্থের দিক থেকে বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য রাখে যেমনটি তার নিজ অধ্যায়ে আসবে। যেহেতু এটি একটি সংক্ষিপ্ত কথা ছিল, তাই তিনি তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "অর্থাৎ মুযারি ইরাব গ্রহণ করে বিশেষ্যের সাথে তার সাদৃশ্যের আধিক্যের কারণে" তার থেকে আমল গ্রহণ করার বিষয়টি বিবেচনা না করেই। "আর অতীতকাল মাবনি হয়েছে" হরকতের ওপর "বিশেষ্যের সাথে তার সাদৃশ্যের অল্পতার কারণে।" কারণ তা কেবল নাকেরার সিফাত হওয়ার দিক থেকে সাদৃশ্য রাখে, ফলে শর্তটি অনুপস্থিত থাকে এবং তা মু'রাব হয় না। বরং তা হরকতের ওপর মাবনি হয়। ফাযেল রযী বলেছেন: মুযারি যখন পূর্ণাঙ্গ সাদৃশ্য রাখল তখন সে ইরাব পাওয়ার যোগ্য হলো, আর অতীতকাল অপূর্ণাঙ্গ সাদৃশ্যের কারণে মাবনি হওয়ার যোগ্য হলো...
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌[شرح ديكنقوز]

إضافته إلى المشابهة نظر إلى البناء، وقوله: مشابهته لا من حيث إنه مضاف إليه لقلة نظرا إلى البناء على الحركة فتدبر "وبنى الأمر" بالصيغة فإنه المتبادر عند الإطلاق "على السكون لعدم" بقاء "مشابهته له" بوجه ما بحذف حرف المضارعة "وزيدت الألف" في آخر الماضي للتثنية مطلقا نحو ضربا وضربتا وضربتما "و" زيدت "الواو" في آخر الجمع المذكر الغائب "و" زيدت "النون" في آخر الجمع المؤنث الغائبة والمخاطبة "حتى يدللن" أي الحروف المذكورة "على هما وهمو وهن" أي يدل الألف على هما والواو على همو والنون على هن. واعلم أن أولى الحروف بالزيادة حروف المد لخفتها، ولذلك كثر دورها وخص الألف بالمثنى والواو بالجمع؛ لأن الألف قبل الواو؛ لأنها من أول المخارج أعني الحلق والواو من آخرها؛ أعني الشفة، كما أن المثنى قبل الجمع فاختير الأول للأول والآخر للآخر، ولأن المثنى أكثر استعمالا من الجمع فاختير له ما هو أخف؛ أعني الألف فتعين الواو للجمع؛ إذ لا يمكن زيادة الياء له صونا للفعل عن أخي الجر الذي هو الياء، ولما لم يبق من حروف المد شيء يمكن زيادته زادوا لجمع المؤنث النون التي هي شبيهة بحروف المد في اللين والمد والخفاء ولذلك؛ أي ولأن في حروف المد خفاء يمكن مدها إذا لقبت بعدها همزة مخافة أن لا يظهر في جنب شدة الهمزة لا أنهم لما قالوا: إن الفاعل في زيد ضرب هو لضيق العبارة عليهم كما سيجيء تحقيقه إن شاء الله تعالى، فكأنهم قالوا: إن الفاعل في زيد ضرب هو هو لضيق العبارة عليهم كما سيجيء تحقيقه إن شاء الله تعالى، فكأنهم قالوا: إن الفاعل في زيدان ضربا هو هما، وفي زيدون ضربوا هو همو، وفي الهندات ضربن هو هن، فبنى المصنف الكلام على هذا، فقال: زيدت الألف في ضربا ليدل على أن تحته هما، وزيدت الواو في ضربوا ليدل على أن تحته همو، وزيدت النون في ضربن ليدل على أن تحته هن، ويدل على ما ذكرنا قوله فيما سيأتي وخصت الميم في ضربتما؛ لأن تحته أنتما مضمر مع أن فاعل ضربتما بارز لا مستكن "وضم الباء في" مثل "ضربوا" وإن كان مقتضى القياس المذكور أن يفتح "لأجل الواو" لأن الضمة جنس الواو والجنس إلى الجنس أنسب "بخلاف رموا" أي لم يضم ما قبل الواو "لأن الميم ليست ما قبلها" حقيقة وإن كانت ما قبلها صورة؛ لأن أصله رميوا فما قبله مضموم تقديرا "وضم" ما قبل الواو "في رضوا وإن لم يكن الضاد ما قبلها"

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

الحركة "وبنى الأمر" بغير اللام "على السكون" كما هو الأصل في البناء "لعدم مشابهته للاسم" بوجه من الوجوه فبالحرى أن يبقى على أصل البناء، هذا هو الحق فلا يلتفت إلى ما قيل: إن قوله ولم يعرب شروع في الدليل الثاني على بناء الماضي فافهم. اعلم أن إعراب المضارع للمشابهة إنما هو عند البصريين، وأما عند الكوفيين فبالأصالة لا بالمشابهة فاختار المصنف مذهب البصريين كما اختاره في الاشتقاق، قال الفاضل الرضي: المضارع معرب للمشابهة عند البصريين لا لأجل توارد المعاني المختلفة عليه كما في الاسم، وقال الكوفيون: أعرب المضارع بالأصالة لا للمشابهة؛ وذلك لأنه قد يتوارد أيضا المعاني المختلفة عليه بسبب اشتراك الحروف الداخلة عليه فيحتاج إلى إعرابه ليتبين ذلك الحرف المشترك، فتعين المضارع تبعا لتعينه وذلك كقولك: لا يضرب فإن رفعه دليل على كون للنفي، وجزمه دليل على كونها للنهي، قوله: "زيدت الألف والواو والنون في آخره" شروع في كيفية استعمال الماضي يعني زيدت الألف في آخر ضرب مثلا إذا قصدت التثنية مذكرا كان أو مؤنثا فصار ضربا وضربتا، والواو إذا قصد الجمع للمذكر فصار ضربوا، والنون إذا قصد الجمع للمؤنث فصار ضربن "حتى يدللن على هما وهمو وهن" يعني يدل الألف على هما والواو على همو والنون على هن، ففي الكلام لف ونشر على الترتيب، فإن قلت: إن كل واحد من الحروف المذكورة ضمير بارز وفاعل للفعل كما سيجيء فإذا كان هما وهمو وهن فاعلا لذلك الفعل أيضا، كما يدل عليه ظاهر العبارة يلزم أن يكون لفعل واحد فاعلان وهو غير جائز، قلت: معنى قوله: حتى يدللن على هما وهمو إلخ، يدل عليه هما وهمو وهن من التثنية والجمع فلا محذور، لكن تسامح بناء على ظهور المراد قال صاحب النجاح: وإنما اختصت هذه الحروف بالزيادة؛ لأن الأصل أن يزاد في الفعل حروف اللين؛ لأن في الزيادة ثقلا وهي أخف الحروف لاعتياد الألسنة لها واستئناس السامع بها لكثرة دورها في الكلام فخصت الألف للتثنية والواو للجمع؛ لأن الألف من أول المخارج والواو من آخرها، والاثنان قبل الجماعة فاختص المقدم بالمقدم والمؤخر بالمؤخر، واخترزوا عن زيادة الياء في جمع النساء؛ لئلا يلزم دخول الكسرة التي هي أخت الجر على الفعل؛ لأن الياء الساكنة تستدعي كثرة ما قبلها فزادوا فيه حرفا شبيها بحروف المد واللين من حيث الخفاء واللين، وهي النون وحركوها لما فيها من قوة الاسمية "وضم الياء في ضربوا" أي وضم ما قبل الواو في مثل ضربوا مع أن الأصل في الماضي البناء على الفتح "لأجل الواو" أي ليكون الواو التي هي مدة محفوظة على مدتها بسبب مجانسة حركة ما قبلها لها "بخلاف رموا" أي الحال بخلاف ذلك في رموا؛ فإن ما قبل الواو وفيه مفتوح لا مضموم "لأن الميم فيه" وإن كانت ما قبلها صور لكنها "ليست بما قبلها" حقيقة؛ لأن أصله رميوا بضم الياء فقلبت ألفا فالتقى الساكنان فحذفت الألف؛ لأن الواو علامة الفاعل فبقي رموا، وكذا الحال في كل ناقص عين ماضيه مفتوح فافهم، ولما توجه أن يقال: إن الضاد في رضوا ليست بما قبل الواو حقيقة فلِمَ ضمت؟ أجاب عنه بقوله: "وضم" ما قبل الواو والذي هو الضاد صورة "في رضوا وإن لم تكن" تلك "الضاد ما قبلها" حقيقة؛ لأن أصله رضيوا بكسر الضاد وضم الباء
[শারহে দিকনুকুয]

সাদৃশ্যের দিকে এর সম্বন্ধকরণটি গঠনের প্রতি লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে। আর তাঁর কথা—"তার সাদৃশ্য"—তা সম্বন্ধপদ হিসেবে নয়, বরং হরকতের ওপর ভিত্তি করার স্বল্পতার কারণে; সুতরাং এটি অনুধাবন করুন। এবং "আমর" (অনুজ্ঞা বা আদেশবাচক ক্রিয়া)-কে সুকুনের ওপর ভিত্তি করা হয়েছে (মাবনি করা হয়েছে), কারণ এটিই সাধারণ প্রয়োগে স্বতস্ফূর্তভাবে বুঝে আসে। আর তা সুকুনের ওপর হওয়ার কারণ হলো, মুদারি'-এর হরফ বিলুপ্ত হওয়ার ফলে কোনো প্রকারেই তার (বিশেষ্যের সাথে) সাদৃশ্য অবশিষ্ট না থাকা। দ্বিবচনের জন্য অতীতকালীন ক্রিয়ার শেষে সর্বাবস্থায় আলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেমন: তারা দুজন পুরুষ প্রহার করল, তারা দুজন মহিলা প্রহার করল এবং তোমরা দুজন প্রহার করলে। এবং বহুবচন পুংলিঙ্গ নামপুরুষের শেষে "ওয়াও" বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবং বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ নামপুরুষ ও মধ্যম পুরুষের শেষে "নুন" বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে এই উল্লিখিত হরফগুলো হুমা (তারা দুজন), হুমু (তারা সব পুরুষ) এবং হুন্না (তারা সব মহিলা)-এর অর্থ প্রদান করে। অর্থাৎ আলিফ "হুমা", ওয়াও "হুমু" এবং নুন "হুন্না"-এর ওপর প্রমাণ বহন করে। জেনে রাখুন যে, হরফে মাদ্দসমূহ হালকা হওয়ার কারণে সেগুলি বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত, আর এই কারণেই এগুলোর ব্যবহারও অধিক। আলিফকে দ্বিবচনের জন্য এবং ওয়াও-কে বহুবচনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে; কারণ আলিফ ওয়াও-এর পূর্বে অবস্থিত। কেননা আলিফ মাখরাজ বা উচ্চারণস্থলের শুরু থেকে অর্থাৎ হলক বা কণ্ঠনালী থেকে উচ্চারিত হয়, আর ওয়াও উচ্চারণস্থলের শেষ থেকে অর্থাৎ ঠোঁট থেকে উচ্চারিত হয়; যেমন দ্বিবচন বহুবচনের আগে আসে। সুতরাং প্রথমটির জন্য প্রথমটি এবং শেষটির জন্য শেষটি নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া দ্বিবচনের ব্যবহার বহুবচনের চেয়ে বেশি, তাই তার জন্য যা অধিক হালকা অর্থাৎ আলিফকে পছন্দ করা হয়েছে। ফলে বহুবচনের জন্য ওয়াও নির্ধারিত হয়ে গেল। কারণ এখানে "ইয়া" বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়, যাতে ক্রিয়াটি "ইয়া" নামক যা জরের (জের) ভাই, তা থেকে রক্ষা পায়। যখন হরফে মাদ্দের মধ্য থেকে বৃদ্ধি করার মতো আর কিছু অবশিষ্ট থাকল না, তখন তারা স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচনের জন্য "নুন" বৃদ্ধি করল, যা কোমলতা, মাদ্দ এবং অস্পষ্টতায় হরফে মাদ্দের সদৃশ। আর এই কারণেই অর্থাৎ হরফে মাদ্দে অস্পষ্টতা থাকার কারণে, তার পর হামযা আসলে তাকে দীর্ঘ করা (মাদ্দ করা) সম্ভব হয়, পাছে হামযার কঠোরতার পাশে তা প্রকাশ না পায়। বিষয়টি এমন নয় যে, তারা যখন বলে: "যায়েদ প্রহার করেছে"-এর মধ্যে কর্তা হলো "সে" (হুয়া), তা তাদের বর্ণনার সংকীর্ণতার কারণে—যেমনটি ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে প্রমাণিত হবে। যেন তারা বলছে: "যায়েদদ্বয় প্রহার করেছে"-তে কর্তা হলো "তারা দুজন" (হুমা), "যায়েদগণ প্রহার করেছে"-তে কর্তা হলো "তারা সব পুরুষ" (হুমু), এবং "হিন্দগণ প্রহার করেছে"-তে কর্তা হলো "তারা সব মহিলা" (হুন্না)। গ্রন্থকার তাঁর বক্তব্যকে এর ওপর ভিত্তি করেই সাজিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "তারা দুজন প্রহার করল"-এ আলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে এটি নির্দেশ করে যে এর নিচে "হুমা" রয়েছে, "তারা সব পুরুষ প্রহার করল"-এ ওয়াও বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে এটি নির্দেশ করে যে এর নিচে "হুমু" রয়েছে, এবং "তারা সব মহিলা প্রহার করল"-এ নুন বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে এটি নির্দেশ করে যে এর নিচে "হুন্না" রয়েছে। আমাদের এই বক্তব্যের প্রমাণ হলো ভবিষ্যতে তাঁর এই কথা যে: "তোমরা দুজন প্রহার করলে"-তে "মীম"কে নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ এর নিচে "আনতুমা" উহ্য আছে, যদিও "তোমরা দুজন প্রহার করলে"-এর কর্তা প্রকাশ্য, উহ্য নয়। এবং "তারা সব পুরুষ প্রহার করল"-এর মতো শব্দে "বা" হরফে পেশ (জম্মাহ) দেওয়া হয়েছে, যদিও উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী এটি জবর (ফাতহা) হওয়ার কথা ছিল; আর তা করা হয়েছে "ওয়াও"-এর খাতিরে। কারণ পেশ হলো ওয়াও-এর স্বজাতীয় আর স্বজাতীয়র সাথে স্বজাতীয়র সম্পর্কই অধিক উপযুক্ত। "তারা নিক্ষেপ করল"-এর বিষয়টি ভিন্ন, অর্থাৎ এখানে ওয়াও-এর পূর্বের হরফে পেশ দেওয়া হয়নি। কারণ প্রকৃতপক্ষে "মীম" তার ঠিক পূর্বের হরফ নয়, যদিও দৃশ্যত তা পূর্বের হরফ মনে হয়। কারণ এর মূল রূপ ছিল "রামিয়ু", তাই তাকদিরি বা উহ্যভাবে এর পূর্বের হরফ পেশযুক্ত ছিল। এবং "তারা সন্তুষ্ট হলো"-তে ওয়াও-এর পূর্বের হরফে পেশ দেওয়া হয়েছে, যদিও "দাদ" প্রকৃতপক্ষে তার পূর্বের হরফ নয়।

--------------------------------------------

ইবনে কামাল পাশা রচিত [আল-ফালাহ শারহে আল-মারাহ]

হরকত। এবং "লাম" (আদেশবাচক অব্যয়) ছাড়াই "আমর"-কে সুকুনের ওপর ভিত্তি করা হয়েছে, যেমনটি বিন্যাসের মূল নীতি। বিশেষ্যের সাথে কোনোভাবেই সাদৃশ্য না থাকার কারণে সুকুনের ওপর মাবনি হওয়াই এর জন্য অধিক যুক্তিযুক্ত। এটিই সঠিক মত; সুতরাং অতীতকালীন ক্রিয়া মাবনি হওয়ার দ্বিতীয় দলীলের সূচনা হিসেবে তাঁর এই কথা—"এবং ই'রাব দেওয়া হয়নি"—যা বলা হয়েছে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। জেনে রাখুন যে, মুদারি' (বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)-এর মু'রাব হওয়া কেবল বসরীদের নিকট সাদৃশ্যের কারণে; কিন্তু কুফীদের নিকট তা মূলগতভাবেই (আসালত), সাদৃশ্যের কারণে নয়। গ্রন্থকার বসরীদের মতটিই গ্রহণ করেছেন যেমনটি তিনি ইশতিকাক বা শব্দমূল নির্ণয়ের ক্ষেত্রে করেছেন। ফাজিল রাজী বলেন: বসরীদের নিকট মুদারি' বিশেষ্যের সাথে সদৃশ হওয়ার কারণে মু'রাব হয়েছে, কিন্তু বিশেষ্যের মতো এর ওপর বিভিন্ন অর্থ আপতিত হওয়ার কারণে নয়। কুফীগণ বলেন: মুদারি' মূলগতভাবেই মু'রাব হয়েছে, সাদৃশ্যের কারণে নয়। কারণ ক্রিয়ার ওপর প্রবেশকারী হরফসমূহের অংশীদারিত্বের ফলে এখানেও বিভিন্ন অর্থ আপতিত হতে পারে, তাই সেই অংশীদারিত্বমূলক হরফটিকে স্পষ্টভাবে চেনার জন্য এর ই'রাব প্রয়োজন হয়। ফলে হরফটির সুনির্দিষ্ট হওয়ার অনুসরণে মুদারি'ও সুনির্দিষ্ট হয়। যেমন আপনার কথা: "সে প্রহার করছে না", এখানে পেশ (রফ) হওয়া প্রমাণ করে যে এটি নফি বা না-বাচক; আর জযম হওয়া প্রমাণ করে যে এটি নেহি বা নিষেধবাচক। তাঁর কথা: "এর শেষে আলিফ, ওয়াও এবং নুন বৃদ্ধি করা হয়েছে"—এটি অতীতকালীন ক্রিয়ার ব্যবহারের পদ্ধতির আলোচনা। অর্থাৎ "প্রহার করল"-এর শেষে আলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে যখন দ্বিবচন উদ্দেশ্য হয়, তা পুংলিঙ্গ হোক বা স্ত্রীলিঙ্গ; ফলে তা দ্বিবচন পুংলিঙ্গ ও দ্বিবচন স্ত্রীলিঙ্গ রূপ ধারণ করে। আর ওয়াও যুক্ত হয় যখন পুংলিঙ্গ বহুবচন উদ্দেশ্য হয়, তখন তা বহুবচন পুংলিঙ্গ রূপ নেয়। আর নুন যুক্ত হয় যখন স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন উদ্দেশ্য হয়, তখন তা বহুবচন স্ত্রীলিঙ্গ হয়। যাতে এগুলো "হুমা", "হুমু" এবং "হুন্না"-এর ওপর প্রমাণ বহন করে। অর্থাৎ আলিফ "হুমা"-এর ওপর, ওয়াও "হুমু"-এর ওপর এবং নুন "হুন্না"-এর ওপর দালালত করে। এখানে ক্রমানুসারে সংক্ষেপণ ও বিস্তারিত বর্ণনা (লফ্ফ ওয়া নাশর) রয়েছে। আপনি যদি বলেন: উল্লিখিত প্রতিটি হরফই তো একটি প্রকাশ্য সর্বনাম এবং ক্রিয়ার কর্তা (ফাইল), যেমনটি সামনে আসবে; এখন "হুমা", "হুমু" এবং "হুন্না" যদি সেই ক্রিয়ার কর্তা হয়—যেমনটি ইবারতের বাহ্যিক পাঠ থেকে বোঝা যাচ্ছে—তবে একই ক্রিয়ার জন্য দুজন কর্তা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা জায়েজ নয়। আমি বলব: তাঁর কথা—যাতে তারা হুমা ও হুমু ইত্যাদির ওপর দালালত করে—এর অর্থ হলো তা দ্বিবচন ও বহুবচনের "হুমা", "হুমু" এবং "হুন্না"-এর অর্থ নির্দেশ করে। সুতরাং কোনো সমস্যা নেই, তবে উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়ার কারণে এখানে কিছুটা শিথিলতা অবলম্বন করা হয়েছে। নাজাহ গ্রন্থের লেখক বলেন: কেবল এই হরফগুলোকেই বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ ক্রিয়ার মধ্যে হরফে লীন (কোমল হরফ) বৃদ্ধি করাই হলো মূল নিয়ম। কেননা বৃদ্ধি করার মধ্যে একটি ভার আছে, আর এই হরফগুলো জিহ্বায় সহজ এবং বারংবার ব্যবহারের কারণে শ্রোতার কাছে পরিচিত হওয়ায় এগুলোই সবচেয়ে হালকা হরফ। আলিফকে দ্বিবচনের জন্য এবং ওয়াও-কে বহুবচনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ আলিফ হলো প্রথমদিকের উচ্চারণস্থল থেকে এবং ওয়াও হলো শেষদিকের উচ্চারণস্থল থেকে। আর দুই সংখ্যাটি জামাত বা দলের আগে আসে, তাই পূর্ববর্তীকে পূর্ববর্ততীর জন্য এবং পরবর্তীকে পরবর্ততীর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তারা নারীদের বহুবচনের ক্ষেত্রে "ইয়া" বৃদ্ধি করা থেকে বিরত থেকেছেন যাতে ক্রিয়ার মধ্যে জরের (জের) বোন কাসরা প্রবেশ করতে না পারে। কারণ সাকিন "ইয়া" তার পূর্বের হরফে কাসরা দাবি করে। তাই তারা এর পরিবর্তে এমন একটি হরফ বৃদ্ধি করেছেন যা অস্পষ্টতা ও কোমলতার দিক থেকে হরফে মাদ্দ ও লীনের সদৃশ, আর তা হলো "নুন"। তারা এটিকে হরকত দিয়েছেন কারণ এর মধ্যে বিশেষ্য হওয়ার শক্তি রয়েছে। "তারা সব পুরুষ প্রহার করল"-এ পেশ হওয়া অর্থাৎ অতীতকালীন ক্রিয়া মূলত ফাতহার ওপর মাবনি হওয়া সত্ত্বেও "তারা সব পুরুষ প্রহার করল"-এর মতো শব্দে ওয়াও-এর পূর্বের হরফে পেশ দেওয়া হয়েছে ওয়াও-এর খাতিরে। অর্থাৎ যাতে ওয়াও নামক মাদ্দটি তার পূর্বের হরফের স্বজাতীয় হরকতের কারণে তার দীর্ঘতা বজায় রাখতে পারে। "তারা নিক্ষেপ করল"-এর বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ এখানে ওয়াও-এর পূর্বের হরফ জবরযুক্ত, পেশযুক্ত নয়। কারণ এতে "মীম" দৃশ্যত পূর্ববর্তী হরফ হলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয়। এর মূল ছিল "রামিয়ু" (ইয়া-এর ওপর পেশসহ), এরপর ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, ফলে দুই সাকিন একত্রে মিলিত হওয়ায় আলিফটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কারণ এখানে ওয়াও হলো কর্তার চিহ্ন, ফলে "রামাও" অবশিষ্ট রইল। প্রত্যেক নাকিস (দুর্বল বর্ণ বিশিষ্ট) ক্রিয়া যার অতীতকালের আইন কালিমা জবরযুক্ত, তার ক্ষেত্রে একই নিয়ম; সুতরাং এটি অনুধাবন করুন। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে, "তারা সন্তুষ্ট হলো"-তে "দাদ" তো প্রকৃতপক্ষে ওয়াও-এর পূর্বের হরফ নয়, তবে কেন সেখানে পেশ দেওয়া হলো? তিনি এর উত্তরে বলেন: "তারা সন্তুষ্ট হলো"-তে ওয়াও-এর দৃশ্যত পূর্ববর্তী হরফ "দাদ"-এ পেশ দেওয়া হয়েছে যদিও সেই দাদ প্রকৃতপক্ষে তার পূর্বের হরফ নয়; কারণ এর মূল রূপ ছিল "রাদিয়ু", দাদ-এর নিচে যের এবং বা-এর ওপর পেশসহ।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌[شرح ديكنقوز]

حقيقة كالميم في رموا "لئلا يلزم الخروج من الكسرة التحقيقية إلى الضمة التقديرية" أعني الواو وهو صعب؛ لأنه صعود؛ أي يلزم الخروج من الكسرة إلى الضمة على تقدير عدم ضم الضاد؛ لأن أصله رضيوا فبعد إسكان الياء لثقل الضمة عليها وحذفها لالتقاء الساكنين يلزم ذلك الخروج فضمت الضاد لئلا يلزم ذلك الخروج، لا لأنها ما قبل الواو حقيقة، واختير الضمة للمناسبة وإن كان ذلك الخروج يندفع بالفتحة بخلاف رموا فلأن الفتحة فيه أصلية "وكتب الألف" بعد واو الجمع "في مثل ضربوا" أي فيما لم يتصل به الضمير، وأما إذا اتصل به الضمير فلا يكتب لعدم الالتباس حينئذ "للفرق بين واو الجمع وواو العطف في مثل حضر وتكلم زيد" ولولا قاعدة كتابة الألف بعد واو الجمع لم يعلم أنه حضر وتكلم زيد بضم الراء وسكون الواو ومده والواو للجمع أو حضر وتكلم زيد بفتح الراء وفتح الواو والواو للعطف وكتبت فيما لا يلتبس نحو ضربوا إذ واو العطف لا يتصل لاطراد الباب، ومنهم من يحذف الألف ويلتزم الالتباس لندوره ولزواله بالقرائن "وقيل" كتبت الألف بعدها "للفرق بين واو الجمع و" بين "وواو الواحد في مثل لم يدعوا ولم يدعو" على لغة من لا يسقط الجازم عنده حرف العلة وكتبت في غيره طردا للباب وجاء على هذا قول الشاعر:

هجوت زبان ثم جئت معتذرا … من هجو زبان لم تهجو ولم تدع

حيث أثبت الواو في لم تهجو هجوت وجئت بفتح التاء على الخطاب، وزبان اسم رجل، ومعتذرا حال من ضمير جئت، لم تهجو؛ أي كأنك لم تهج حيث اعتذرت منه، ولم تدع؛ أي لم تترك الهجو؛ إذ قد هجوته في الواقع "جعلت التاء علامة للمؤنث في مثل ضربت" فرقا بين المذكر والمؤنث كما جعلت علامة له في ضاربة إلا أنهم خصوا المتحركة بالاسم والساكنة بالفعل تعاد لا بينهما إذ الفعل أثقل بحسب المعنى كما عرفت "لأن التاء من المخرج الثاني" من المخارج الكلية وهو الوسط "والمؤنث أيضا" أي كالتاء "ثان في التخليق" مصدر

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

فاستثقلت الضمة عليها فأسكنت فحذفت لالتقاء الساكنين فبقي رضوا بكسر الضاد ثم ضمت "لئلا يلزم الخروج من الكسرة" الحقيقية "إلى الضمة" التقديرية ولم تفتح لتناسب الواو، ولتدل على الضمة المحذوفة للياء "وكتبت الألف بعد واو الجمع في" مثل "ضربوا" ولم يضربوا إلا في مثل ضربوه ولم يضربوه لعدم الالتباس؛ إذ واو العطف لا يدخل على الضمير المتصل فيعلم أنها واو الجمع "للفرق بين واو الجمع وواو العطف في مثل حضر وتكلم زيد" وفي مثل لم يحضر ويتكلم زيد؛ يعني إذا لم يكتب الألف بعد الواو ولم يعلم أن حضر مفرد عطف عليه تكلم أو جمع لم يعطف عليه تكلم زيد؛ لأن واو العطف لا تتصل بما قبلها إلا أنهم حملوهما عليهما طردا للباب. فإن قلت: لِمَ لَمْ يحملوا مثل ضربوه ولم يضربوه عليهما أيضا طردا للباب مع أنهما من هذا الباب؟ قلت: لأنه يلزم إدخال الفاصل بين الضمير المتصل وبين ما يتصل به من غير ضرورة، وهو غير جائز هذا هو المراد لكن في عبارته نوع قصور لعدم تناوله للمضارع "وقيل" كتبت الألف بعد واو الجمع "للفرق بين واو الجمع وواو الواحد في مثل لم يدعوا" إذا كان جمعا "ولم يدعو" إذا كان واحدا على لغة من قال: إن الجازم لا يسقط الحروف في الناقص بل يسقط الحركة فقط كما في الصحيح وعليه قول الشاعر:

هجوت زبان ثم جئت معتذرا … من هجو زبان لم تهجو ولم تدع

بإثبات الواو في تهجوه مع أنه واحد يعني إذا قيل: لم يدعو بغير ألف لم يعلم أنه جمع حذف نونه للجزم أو مفرد لم يحذف واوه على هذه اللغة، بل أسقطت حركته فإذا كتبت الألف زال الالتباس، فإن قلت: إن الواو في يدعو ساكن قبل دخول الازم عليه فكيف يمكن إسقاط الحركة منه على هذه اللغة؟ قلت: قال ابن جني إنه قدر أن يكون في الرفع هو يدعو ويهجو بإثبات الضمة على الواو، كما تقول: هو يضرب فجاء الجازم وأسقط الحركة وبقيت الواو ساكنا، وقال ابن الحاجب: وأما قول قيس بن زهير:

ألم يأتيك والأنباء تنمي … بما لاقت لبون بني زياد

بإثبات الياء مع الجازم فيه وجهان: أحدهما أن الياء إشباع كأن الكسرة أشبعت فنشأت عنها الياء، والآخر أنه أجرى الفعل المعتل مجرى الصحيح كأنه قال: هو يأتيك بضم الياء، كما يقول: هو يضربك؛ لأنه من لغة تحريك الياء في الرفع وإسكاته في الجزم حملا للمعتل على الصحيح، وأنت تعلم أن هذا الدليل لا يدل على كتابة الألف بعد الواو في مثل ضربوا؛ أي في الماضي مطلقا، ولا في مثل لم يضربوا؛ أي في المضارع الصحيح، ولا في مثل لم يرموا؛ أي في الناقص اليائي لعدم جريانه فيها اللهم إلا أن يحمل على الإطراد، لكن ضعفه ظاهر ولهذا عبر المصنف عن هذا الدليل بقوله: قيل "جعلت التاء علامة للمؤنث في مثل ضربت" دون سائر الحروف "لأن التاء من المخرج الثاني" وهو الوسط "والمؤنث أيضا" أي كالتاء "ثان في التخليق" لما روي "إن الله تعالى خلق آدم عليه السلام أولا من طين ثم خلق حواء رضي الله عنها من ضلعه الأيسر" فبهذه المناسبة جعلت علامة له ليحصل الفرق بين فعل المذكر والمؤنث نحو: ضرب وضربت، كما جعلت علامة له في الاسم نحو: قائم وقائمة ولم يعكس الأمر كما لا يعكس في الاسم؛ لأن المجرد أصل وذو الزيادة فرع، وكذا المذكر أصل والمؤنث فرع، فعين الأصل للأصل والفرع والفرع للفرع وأسكنت
[শারহ দিকনুকুয]

প্রকৃতপক্ষে 'রামূ' শব্দের মীমের মতো; "যাতে প্রকৃত কাসরা (জের) থেকে আনুমানিক দাম্মা (পেশ)-এর দিকে যাওয়া আবশ্যক না হয়" অর্থাৎ 'ওয়াও'-এর দিকে, যা অত্যন্ত কঠিন; কারণ এটি আরোহণতুল্য। অর্থাৎ, যদি 'রাদ' (ض) বর্ণটিতে পেশ দেওয়া না হতো, তবে কাসরা থেকে দাম্মার দিকে যাওয়া আবশ্যক হতো; কারণ এর মূল রূপ ছিল 'রাযিয়ূ' (رضيوا)। অতঃপর 'ইয়া' বর্ণের ওপর দাম্মা উচ্চারণ করা কঠিন হওয়ায় তাকে সাকিন করা হয়েছে এবং দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে 'ইয়া' বর্ণটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, যার ফলে উক্ত পরিবর্তনটি আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। তাই 'রাদ' বর্ণটিতে পেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সেই কঠিন উচ্চারণটি করতে না হয়; এমনটি নয় যে 'রাদ' বর্ণটি প্রকৃতপক্ষে 'ওয়াও'-এর পূর্ববর্তী বর্ণ হওয়ার কারণে পেশ পেয়েছে। আর সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য পেশকেই নির্বাচন করা হয়েছে, যদিও যবর (ফাতহা) দ্বারাও সেই কঠিন উচ্চারণ রোধ করা সম্ভব ছিল—যা 'রামূ' শব্দের ক্ষেত্রে ভিন্ন (সেখানে যবরটি মূলগত)। "এবং আলিফ লেখা হয়েছে" জমা বা বহুবচনের ওয়াও-এর পরে "যেমন 'দারাবূ' (ضربوا) শব্দে", অর্থাৎ যে সকল শব্দের সাথে যমীর বা সর্বনাম যুক্ত হয়নি। তবে যখন যমীর যুক্ত হয়, তখন আর অস্পষ্টতার অবকাশ থাকে না বলে আলিফ লেখা হয় না। "বহুবচনের ওয়াও এবং আতফ বা সংযোজক ওয়াও-এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য, যেমন 'হাদারা ওয়া তাকাল্লামা যাইদুন' (যাইদ উপস্থিত হলো এবং কথা বলল) বাক্যে।" যদি বহুবচনের ওয়াও-এর পরে আলিফ লেখার নিয়ম না থাকত, তবে 'হাদারা ওয়া তাকাল্লামা যাইদুন' বাক্যটিতে 'রা' বর্ণে পেশ এবং 'ওয়াও' সাকিন করে টেনে পড়ার মাধ্যমে এটি বহুবচন কি না, অথবা 'রা' বর্ণে যবর এবং 'ওয়াও' বর্ণে যবর দিয়ে এটি আতফ বা সংযোজক কি না, তা বোঝা সম্ভব হতো না। আর যেখানে অস্পষ্টতার ভয় নেই, যেমন 'দারাবূ' (ضربوا) শব্দে, সেখানেও নিয়মের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আলিফ লেখা হয়েছে; কারণ আতফ-এর ওয়াও শব্দের সাথে সংযুক্ত হয়ে আসে না। কারো কারো মতে, তারা আলিফ বিলুপ্ত করে দেন এবং অস্পষ্টতাকেই মেনে নেন, কারণ এমন অস্পষ্টতা বিরল এবং প্রেক্ষাপট দ্বারা তা দূর হয়ে যায়। "এবং বলা হয়েছে" ওয়াও-এর পরে আলিফ লেখা হয়েছে "বহুবচনের ওয়াও এবং একবচনের ওয়াও-এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য, যেমন 'লাম ইয়াদউ' (لم يدعوا - তারা ডাকেনি) এবং 'লাম ইয়াদউ' (لم يدعو - সে ডাকেনি) শব্দে।" এটি সেই সকল ভাষাভাষীদের রীতি অনুযায়ী যারা জযম প্রদানকারী অব্যয়ের কারণে হরফে ইল্লত (দুর্বল বর্ণ) বিলুপ্ত করেন না। আর অন্যান্য ক্ষেত্রে এটি নিয়মের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য লেখা হয়। এই প্রসঙ্গে কবির উক্তিটি প্রণিধানযোগ্য:

তুমি যাবানকে নিন্দা করলে, তারপর ক্ষমা প্রার্থনা করতে আসলে … যাবানকে নিন্দা করা থেকে তুমি নিবৃত্ত হওনি এবং ছেড়েও দাওনি।

এখানে তিনি 'লাম তাহজু' (لم تهجو) শব্দে 'ওয়াও' বহাল রেখেছেন। 'হাজাওতা' ও 'জিত্তা' শব্দ দুটিতে 'তা' বর্ণে যবর দিয়ে সম্বোধন বোঝানো হয়েছে। 'যাবান' একজন ব্যক্তির নাম। 'মুতায়যিরান' শব্দটি 'জিত্তা'-এর সর্বনাম থেকে হাল বা অবস্থা হিসেবে এসেছে। 'লাম তাহজু' অর্থাৎ যেন তুমি তাকে নিন্দাই করোনি অথচ তুমি ক্ষমা প্রার্থনা করছ; 'লাম তাদা' অর্থাৎ তুমি নিন্দা করা ছাড়োনি, কারণ বাস্তবে তুমি তাকে নিন্দা করেছ। " 'তা' বর্ণটিকে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন করা হয়েছে যেমন 'দারাবাত' (ضربت) শব্দে", যাতে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য করা যায়, যেমনটি 'দারিবাতুন' (ضاربة) শব্দে করা হয়েছে। তবে তারা হরকতবিশিষ্ট 'তা' বর্ণটিকে ইসমে (বিশেষ্য) এবং সাকিন 'তা' বর্ণটিকে ফেলে (ক্রিয়া) নির্দিষ্ট করেছেন যাতে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বজায় থাকে; কারণ অর্থগত দিক থেকে ফেল বা ক্রিয়া অধিক ভারী যেমনটি তুমি জেনেছ। "কারণ 'তা' বর্ণটি দ্বিতীয় মাখরাজ বা উচ্চারণস্থল থেকে উচ্চারিত হয়" যা হলো মধ্যম মাখরাজ, "এবং স্ত্রীলিঙ্গও সৃষ্টির ক্রমে দ্বিতীয়।"

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

অতঃপর তার (ইয়া-এর) ওপর পেশ উচ্চারণ করা কঠিন মনে হওয়ায় তাকে সাকিন করা হয়েছে, ফলে দুই সাকিন একত্রিত হওয়ায় তা বিলুপ্ত হয়েছে। এতে 'রাদ' বর্ণে কাসরাসহ 'রাযূ' অবশিষ্ট থাকে। এরপর 'রাদ' বর্ণে পেশ দেওয়া হয় "যাতে প্রকৃত কাসরা থেকে আনুমানিক দাম্মার দিকে যাওয়া আবশ্যক না হয়" এবং 'ওয়াও'-এর সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য সেখানে যবর দেওয়া হয়নি, বরং 'ইয়া' বর্ণ থেকে বিলুপ্ত হওয়া পেশের প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য পেশ দেওয়া হয়েছে। "এবং বহুবচনের ওয়াও-এর পরে আলিফ লেখা হয়েছে যেমন 'দারাবূ' (ضربوا) এবং 'লাম ইয়াদারিবূ' (لم يضربوا) শব্দে", তবে 'দারাবূহু' (ضربوه) এবং 'লাম ইয়াদারিবূহু' (لم يضربوه) এর মতো শব্দে তা লেখা হয়নি অস্পষ্টতা না থাকার কারণে; কারণ আতফ-এর ওয়াও সংযুক্ত সর্বনামের ওপর দাখিল হয় না, ফলে সহজেই বোঝা যায় এটি বহুবচনের ওয়াও। "এটি করা হয়েছে বহুবচনের ওয়াও এবং আতফ-এর ওয়াও-এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য যেমন: 'হাদারা ওয়া তাকাল্লামা যাইদুন' (حضر وتكلم زيد)" এবং 'লাম ইয়াহদুরু ওয়া ইয়াতাকাল্লাম যাইদুন' বাক্যে। অর্থাৎ যদি ওয়াও-এর পরে আলিফ লেখা না হতো, তবে 'হাদারা' একবচন কি না যার ওপর 'তাকাল্লামা' আতফ হয়েছে, নাকি এটি বহুবচন যার ওপর 'তাকাল্লামা যাইদুন' আতফ হয়নি—তা চেনা যেত না। কারণ আতফ-এর ওয়াও তার পূর্ববর্তী শব্দের সাথে মিলে আসে না, তবে নিয়মের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য তারা একে তার ওপর কিয়াস করেছেন। এখন যদি তুমি প্রশ্ন করো: কেন তারা 'দারাবূহু' এবং 'লাম ইয়াদারিবূহু' শব্দ দুটিকেও নিয়মের ধারাবাহিকতা রক্ষার খাতিরে এর অন্তর্ভুক্ত করল না, অথচ সেগুলোও এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত? আমি বলব: কারণ এর ফলে কোনো প্রয়োজন ছাড়াই সংযুক্ত সর্বনাম এবং যার সাথে সে যুক্ত হয়েছে তার মধ্যে একটি ব্যবধানকারী বর্ণ প্রবেশ করানো আবশ্যক হয়ে পড়ত, যা জায়েয নেই। এটাই উদ্দেশ্য, তবে তার ইবারত বা প্রকাশভঙ্গিতে কিছুটা অপূর্ণতা রয়েছে কারণ এটি মুদারে বা বর্তমানকালীন ক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেনি। "এবং বলা হয়েছে" বহুবচনের ওয়াও-এর পরে আলিফ লেখা হয়েছে "বহুবচনের ওয়াও এবং একবচনের ওয়াও-এর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য যেমন 'লাম ইয়াদউ' (لم يدعوا)" যখন তা বহুবচন হয়, "এবং 'লাম ইয়াদউ' (لم يدعو)" যখন তা একবচন হয়। এটি সেই সকল ভাষাভাষীদের রীতি অনুযায়ী যারা মনে করেন যে, জযম দাতা অব্যয় 'নাকিস' (দুর্বল বর্ণান্ত) ক্রিয়ার শেষে হরফ বিলুপ্ত করে না বরং 'সহীহ' ক্রিয়ার মতোই শুধু হরকত বিলুপ্ত করে। কবির এই উক্তিটি সেই অনুযায়ীই হয়েছে:

তুমি যাবানকে নিন্দা করলে, তারপর ক্ষমা প্রার্থনা করতে আসলে … যাবানকে নিন্দা করা থেকে তুমি নিবৃত্ত হওনি এবং ছেড়েও দাওনি।

এখানে 'তাহজুহু' শব্দে 'ওয়াও' বহাল রাখা হয়েছে অথচ এটি একবচন। অর্থাৎ যদি আলিফ ছাড়া 'লাম ইয়াদউ' বলা হয়, তবে এই রীতি অনুযায়ী এটি কি নূন বিলুপ্ত হওয়া বহুবচন নাকি হরকত বিলুপ্ত হওয়া একবচন তা চেনা যাবে না। কিন্তু আলিফ লিখলে সেই অস্পষ্টতা দূর হয়ে যায়। যদি তুমি প্রশ্ন করো: 'ইয়াদউ' শব্দের ওয়াও তো জযম আসার পূর্বেই সাকিন থাকে, তবে এই রীতি অনুযায়ী তার হরকত বিলুপ্ত হওয়া কীভাবে সম্ভব? উত্তরে আমি বলব: ইবনে জিন্নি বলেছেন, রফ-এর অবস্থায় তিনি 'হুয়া ইয়াদউ' ও 'ইয়াহজু' শব্দে ওয়াও-এর ওপর পেশ কল্পনা করে নিয়েছেন যেমন 'হুয়া ইয়াদারিবু' বলা হয়। অতঃপর জযম দাতা এসে সেই হরকত বিলুপ্ত করে দিয়েছে এবং ওয়াও সাকিন অবস্থায় রয়ে গেছে। ইবনে হাজিব বলেছেন: কাইস ইবনে যুহাইরের উক্তি:

সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কি তোমার কাছে আসেনি … যা যিয়াদের বংশধরের দুগ্ধবতী উটগুলো ভোগ করেছে।

এখানে জযম থাকা সত্ত্বেও 'ইয়া' বহাল রাখার ব্যাপারে দুটি মত আছে: একটি হলো 'ইয়া' বর্ণটি মূলত 'ইশবায়ে হারাকাত' বা স্বরধ্বনির দীর্ঘায়ন থেকে সৃষ্টি হয়েছে। অন্যটি হলো তিনি 'মুতাল' বা দুর্বল বর্ণযুক্ত ক্রিয়াকে 'সহীহ' ক্রিয়ার অনুরূপ গণ্য করেছেন; যেন তিনি বলেছেন 'হুয়া ইয়া'তীকু' (ইয়া-তে পেশসহ), যেমন বলা হয় 'হুয়া ইয়াদারিবুকা'। কারণ এটি রফ-এর অবস্থায় ইয়া-তে হরকত দেওয়া এবং জযম-এর অবস্থায় তা সাকিন করার একটি ভাষাভঙ্গি, যেখানে দুর্বল বর্ণকে সহীহ বর্ণের ওপর কিয়াস করা হয়। তুমি তো জানো যে, এই দলিলটি 'দারাবূ' এর মতো মাদী (অতীতকাল) শব্দের ক্ষেত্রে অথবা 'লাম ইয়াদারিবূ' এর মতো সহীহ মুদারে শব্দের ক্ষেত্রে অথবা 'লাম ইয়ারমূ' এর মতো ইয়া-যুক্ত নাকিস শব্দের ক্ষেত্রে আলিফ লেখার কারণ হিসেবে কাজ করে না। তবে একে নিয়মের ধারাবাহিকতা বা 'ইততিরাদ' হিসেবে ধরা যেতে পারে, কিন্তু এর দুর্বলতা স্পষ্ট। এই কারণেই গ্রন্থকার এই দলিলটি উল্লেখ করতে গিয়ে "বলা হয়েছে" (ক্বীলা) শব্দ ব্যবহার করেছেন। " 'তা' বর্ণটিকে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন করা হয়েছে যেমন 'দারাবাত' (ضربت) শব্দে" অন্য বর্ণের পরিবর্তে; "কারণ 'তা' বর্ণটি দ্বিতীয় মাখরাজ বা উচ্চারণস্থল থেকে উচ্চারিত হয়" যা হলো মধ্যম স্থান, "এবং স্ত্রীলিঙ্গও সৃষ্টির ক্রমে দ্বিতীয়।" কারণ বর্ণিত আছে যে, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রথমে আদম আলাইহিস সালামকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাঁর বাম পাঁজরের হাড় থেকে হাওয়া রাযিয়াল্লাহু আনহাকে সৃষ্টি করেছেন।" এই সামঞ্জস্যের কারণেই একে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন করা হয়েছে যাতে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য করা যায়, যেমন: 'দারাবা' ও 'দারাবাত'। যেমনটি ইসম বা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে চিহ্ন করা হয়েছে, যেমন: 'কায়িমুন' ও 'কায়িমাতুন'। এর বিপরীত করা হয়নি যেমনটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও করা হয় না; কারণ মূল শব্দটি ভিত্তি আর বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অংশ তার শাখা। তেমনি পুংলিঙ্গ হলো মূল আর স্ত্রীলিঙ্গ হলো শাখা। তাই মূলকে মূলের জন্য এবং শাখাকে শাখার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং একে সাকিন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌[شرح ديكنقوز]

من المبني للمفعول؛ أي المخلوقية؛ لأن الله خلق آدم أولا ثم خلق حواء على نبينا وعليهما الصلاة والسلام من ضلع من أضلاعه، كما قال الله تعالى: {خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا} فناسب التاء المؤنث، ولو جعل زيادة العلامة للمذكر يحصل الفرق أيضا إلا أنهم راعوا مناسبة الفرعية بين الزيادة والمؤنث "وهذه التاء" التي في ضربت "ليست بضمير كما سيجيء" في آخر بحث المضمرات "وأسكنت الباء" أي اللام "في مثل ضربن" بفتح النون "وضربت" بحركات التاء؛ أي إذا اتصل بالفعل ضمير مرفوع متحرك في الثلاثي المجرد وإنما أورد مثالين إشارة إلى أن حركة ذلك الضمير قد تكون للضرورة، نحو: ضربت لما يجيء إن شاء الله تعالى، وقد تكون للتبعية، نحو: ضربن فإنه لا ضرورة في تحريكه؛ إذ لو قيل: ضربن بسكون النون وفتح الباء على الأصل لصح إلا أنهم حركوها طردا على مثل ضربت مع قابليتها للحركة من غير ضعف، واختاروا الفتح لخفتها وإنما أسكنت لام الكلمة في مثل ما ذكر ولم تترك على حركتها "حتى لا يجتمع أربع حركات متواليات" فإنه مستهجن "فيما هو كالكلمة الواحدة" نحو ضربت، فإن التاء فيه كلمة على حدة؛ لأنه ضمير فاعل للفعل إلا أن الفاعل من الفعل بمنزلة الجزء خصوصا إذا كان ضميرا متصلا لشدة اتصاله به لفظا ومعنى، فلو لم يسكن الباء، بل أبقى على الحركة لزم ذلك الاجتماع وأسكن اللام في الرباعي أيضا نحو دحرجت وإن لم يلزم ذلك الاجتماع على تقدير بقائها على الحركة طردا للباب "ومن ثمة" أي ومن أجل أن مثل ضربن كالكلمة الواحدة "لا يجوز العطف على ضميره" أي على ضمير مثل: ضربن أي على الضمير المرفوع المتصل "بغير التوكيد" أي بغير تأكيد ذلك الضمير بمضمر منفصل لئلا يلزم عطف الاسم على جزء الفعل "لا يقال ضربت وزيد" بغير التأكيد "بل يقال: ضربت أنا وزيد" بتأكيد التاء بأنا لأن العطف كأنه على المنفصل، ولما اشترك التأكيد والفصل بغيره في أن العطف فيهما على غير الضمير المذكور صورة اكتفى المصنف بذكر التأكيد، وإنما خصه بالذكر ولم يقل بغير الفصل مع أنه أشمل؛ لأن التأكيد فصل أيضا إشعارا بأن التأكيد هو الأصل في جواز العطف؛ إذ بذلك يظهر أن ذلك المتصل منفصل من حيث الحقيقة بدليل جواز إفراده مما اتصل بتأكيده فيحصل له نوع الاستقلال، ولذلك قال ابن الحاجبي: إلا أن يقع فصل فيجوز تركه ولا يحصل بالفصل نوع استقلاله؛ إذ لا يظهر بذلك أن ذلك المتصل منفصل من حيث الحقيقة وإنما يجوز ترك التأكيد مع الفصل؛ لأن طول الكلام يغني عما هو الواجب فيحذف طلبا للاختصار، نحو قولك: حضر القاضي امرأة والحافظ عورة العشيرة بالنصب، ولذلك لم يذكر الزمخشري في جواز العطف عليه الفصل "بخلاف ضربتا" أي لم يلزم فيه بعدم إسكان التاء وإبقائها على الحركة ذلك الاجتماع المحظور

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

في الفعل فرقا بينه وبين ما كان في الاسم، ولم يعكس لثقل الفعل وخفة الاسم "وهذه التاء" التي جعلت علامة للمؤنث في ضربت "ليست بضمير" كما كانت الألف والواو والنون فيما مر، بل هي حرف جيء به للفرق بين المذكر والمؤنث، قيل: ولهذا أسكنت؛ لأن الأصل في الحروف البناء والأصل في البناء السكون "كما يجيء" عدم كونه ضميرا مع دليله في آخر بحث الضمائر "وأسكنت الباء" مع أن الأصل البناء على الفتح "في مثل ضربت وضربن" أي عند إلحاق الضمائر المتحركة للماضي وهي تسعة أوجه: ضربن ضربت ضربتما ضربتم ضربت ضربتما ضربتن ضربت ضربنا "حتى لا يجتمع أربع حركات متواليات فيما هو كالكلمة الواحدة" يعني كما لا يجوز أن يجتمع أربع حركات متواليات في كلمة واحدة فعلا كان أو اسما لثقلها على اللسان كذلك لا يجوز فيما هو بمنزلة كلمة واحدة لتلك العلة أيضا، والفعل مع ضمير الفاعل كذلك؛ لأنه متصل بالفعل لفظا ومعنى وحكما فيصير كالجزء أما لفظا فظاهر، وأما معنى فمن حيث إنه فاعل والفاعل كالجزء من الفعل لشدة احتياج الفعل إليه، وأما حكما فبدليل وقوعه بين الكلمة المعربة وبين ما قام مقام حركتها الإعرابية من الحروف وهو النون في يفعلان ويفعلون وتفعلين "ومن ثم" بالفتح والتشديد، وقد يكتب بالهاء فرقا بينه وبين ثم العاطفة ولم يعكس؛ لأن العاطفة مضمومة وأكثر استعمالا فالخفة فيها بترك الهاء أولى؛ أي ومن أجل أن الفعل مع تلك الضمائر كالكلمة الواحدة "لا يجوز العطف على ضميره" أي ضمير مثل ضربن ضربت "بغير التأكيد" أي بمنفصل مرفوع آخر فيقال ضربن هن وزيد وضربت أنت وزيدا "لايقال ضربت وزيد" يعني كما لا يجوز العطف على بعض حروف الكلمة، كذلك لا يجوز على ما هو بمنزلتها من غير تأكيد بمنفصل؛ لأنه لو أكده يظهر بذلك أن ذلك المتصل منفصل من حيث الحقيقة بدليل جواز إفراده مما اتصل به بتأكيده فيحصل له نوع استقلال، ولا يظن أن يكون هذا العطف على هذا التأكيد؛ لأن المعطوف في حكم المعطوف عليه فكان يلزم أن يكون هذا المعطوف أيضا تأكيدا للمتصل وهو محال، كذا حققه الرضي فظهر بطلان ما ذهب إليه الشارحون من أنه لو عطف عليه بلا تأكيد يلزم عطف الاسم على الفعل وهو غير جائز "بخلاف ضربتا" أي الحال في ضربتا بخلاف ما ذكرنا في مثل ضربن من إسكان الباء فرارا عن اجتماع حركات متواليات، وإن وجد فيه ذلك الاجتماع صورة
[শরাহ দিকনাকুজ]

এটি কর্মবাচ্য থেকে গৃহীত; অর্থাৎ সৃষ্টিগত অবস্থা; কারণ আল্লাহ তাআলা প্রথমে আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এরপর আমাদের নবী এবং তাঁদের উভয়ের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর পাঁজরের একটি হাড় থেকে হাওয়াকে সৃষ্টি করেছেন, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন}। ফলে 'তা' অক্ষরটি স্ত্রীলিঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। যদি চিহ্নের অতিরিক্ত অংশটি পুংলিঙ্গের জন্য নির্ধারণ করা হতো, তবে তাতেও পার্থক্য সূচিত হতো, কিন্তু তারা (ভাষাবিদগণ) অতিরিক্ত অংশ এবং স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে শাখা হওয়ার সামঞ্জস্য রক্ষা করেছেন। "আর এই 'তা' অক্ষরটি" যা 'দারাবাত' শব্দে রয়েছে "তা কোনো সর্বনাম নয়, যেমনটি সামনে আসবে" সর্বনামের আলোচনার শেষে। "এবং 'বা' অক্ষরটিকে সাকিন করা হয়েছে" অর্থাৎ পদের শেষ বর্ণকে " 'দারাবনা' এর মতো শব্দে" নুন অক্ষরে জবর দিয়ে "এবং 'দারাবতু' শব্দে" 'তা' অক্ষরের বিভিন্ন হরকতের সাথে; অর্থাৎ যখন সুলাসি মুজাররাদ বা তিন অক্ষর বিশিষ্ট খাঁটি ক্রিয়ার সাথে কোনো স্বরযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনাম যুক্ত হয়। এখানে দুটি উদাহরণ দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো এই ইঙ্গিত দেওয়া যে, সেই সর্বনামের হরকত কখনও অপরিহার্য কারণে হতে পারে, যেমন: 'দারাবতু' যখন এটি আসবে ইনশাআল্লাহ তাআলা। আবার কখনও তা অনুগত্যের কারণে হতে পারে, যেমন: 'দারাবনা', কারণ এতে হরকত দেওয়ার কোনো অপরিহার্যতা নেই; কেননা যদি মূল নিয়ম অনুযায়ী 'বা' অক্ষরে জবর এবং 'নুন' অক্ষরে সাকিন দিয়ে 'দারাবনা' বলা হতো, তবে তা সঠিক হতো। কিন্তু তারা একে 'দারাবতু' এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বরযুক্ত করেছেন, কারণ এটি দুর্বলতা ছাড়াই স্বরগ্রহণে সক্ষম। আর তারা হালকা হওয়ার কারণে জবরকে বেছে নিয়েছেন। উল্লিখিত উদাহরণগুলোতে পদের শেষ বর্ণকে সাকিন করা হয়েছে এবং একে স্বরযুক্ত অবস্থায় রাখা হয়নি "যাতে পরপর চারটি হরকত একত্রিত না হয়" কারণ এটি "একটি শব্দের মতো বিষয়ের মধ্যে" শ্রুতিকটু। যেমন 'দারাবতু', এখানে 'তা' অক্ষরটি একটি স্বতন্ত্র শব্দ; কারণ এটি ক্রিয়ার কর্তৃবাচক সর্বনাম (ফায়েল), কিন্তু ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কর্তা একটি অংশের সমতুল্য, বিশেষ করে যখন সেটি শব্দগত ও অর্থগত নিবিড় সম্পর্কের কারণে সংযুক্ত সর্বনাম হয়। সুতরাং যদি 'বা' অক্ষরকে সাকিন না করা হতো, বরং স্বরযুক্ত রাখা হতো, তবে সেই চারটি হরকতের সমাবেশ ঘটত। রুবায়ী বা চার অক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও শেষ বর্ণকে সাকিন করা হয়েছে, যেমন 'দাহরাজতু', যদিও স্বরযুক্ত অবস্থায় রাখলে সেখানে চারটি হরকতের সমাবেশ ঘটত না, তবুও একই নিয়মের অনুবর্তিতার খাতিরে এটি করা হয়েছে। "আর সেখান থেকেই" অর্থাৎ 'দারাবনা' এর মতো শব্দগুলো একটি শব্দের ন্যায় হওয়ার কারণেই "তার সর্বনামের ওপর সংযোজন (আতিফ) করা জায়েজ নয়" অর্থাৎ 'দারাবনা' এর মতো শব্দের সর্বনামের ওপর বা সংযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনামের ওপর "তাকিদ ব্যতীত" অর্থাৎ সেই সর্বনামকে একটি পৃথক সর্বনামের মাধ্যমে তাকিদ বা দৃঢ়তা প্রদান করা ছাড়া, যাতে ক্রিয়ার একটি অংশের ওপর বিশেষ্যের সংযোজন করা লাজেম না আসে। তাকিদ ছাড়া "দারাবতু ওয়া যাইদুন" বলা যাবে না, "বরং বলতে হবে: দারাবতু আনা ওয়া যাইদুন" (আমি এবং জায়েদ প্রহার করেছি), এখানে 'আনা' এর মাধ্যমে 'তা' কে তাকিদ দেওয়া হয়েছে। কারণ এভাবে সংযোজন করলে মনে হয় যেন সেটি পৃথক সর্বনামের ওপর করা হয়েছে। যেহেতু তাকিদ এবং তাকিদ ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে পৃথক করা—উভয় ক্ষেত্রেই দৃশ্যত উল্লিখিত সর্বনাম ছাড়া অন্য কিছুর ওপর সংযোজন করা হয়, তাই গ্রন্থকার কেবল তাকিদ উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। তিনি অন্য কোনো ব্যবধানের কথা না বলে কেবল তাকিদকে সুনির্দিষ্ট করেছেন যদিও অন্যটি আরও ব্যাপক; কারণ তাকিদও একটি ব্যবধান। এটি এই ইঙ্গিত দেওয়ার জন্য যে তাকিদই হলো সংযোজন জায়েজ হওয়ার মূল ভিত্তি; কারণ এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয় যে, সেই সংযুক্ত সর্বনামটি প্রকৃতপক্ষে একটি পৃথক সত্তা, যার প্রমাণ হলো তাকিদের মাধ্যমে একে পৃথক করা সম্ভব এবং এর ফলে এতে এক প্রকার স্বাতন্ত্র্য সৃষ্টি হয়। এই কারণেই ইবনুল হাজিব বলেছেন: তবে যদি কোনো ব্যবধান ঘটে তবে তাকিদ ছেড়ে দেওয়া জায়েজ, যদিও ব্যবধানের মাধ্যমে স্বাতন্ত্র্য অর্জিত হয় না; কারণ এর দ্বারা এটি প্রকাশ পায় না যে সংযুক্ত সর্বনামটি প্রকৃতপক্ষে পৃথক। তবে ব্যবধান থাকলে তাকিদ বর্জন করা জায়েজ হওয়ার কারণ হলো, কথার দীর্ঘতা ওয়াজিব বিষয়ের অভাব পূরণ করে দেয়, ফলে সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে তা বিলুপ্ত করা হয়। যেমন আপনার কথা: "হাজিরাল কাদিয়া ইমরাআতুন", এখানে 'আল-কাদিয়া' শব্দটি নসব (যবর) যুক্ত। এই কারণেই যামাখশারী এতে সংযোজন জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবধানের কথা উল্লেখ করেননি। "দারাবতা এর ব্যতিক্রম" অর্থাৎ এতে 'তা' অক্ষরকে সাকিন না করে স্বরযুক্ত রাখলে সেই নিষিদ্ধ চারটি হরকতের সমাবেশ ঘটে না।

--------------------------------------------

‌‌[আল-ফালাহ শরাহ আল-মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

ক্রিয়া এবং বিশেষ্যের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য ক্রিয়াতে এটি করা হয়েছে। এর বিপরীত করা হয়নি ক্রিয়ার ভারী হওয়া এবং বিশেষ্যের হালকা হওয়ার কারণে। "আর এই 'তা' অক্ষরটি" যা 'দারাবাত' শব্দে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে "তা কোনো সর্বনাম নয়" যেমনটি আলিফ, ওয়াও এবং নুন ছিল যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। বরং এটি একটি বর্ণ যা পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য আনা হয়েছে। বলা হয়ে থাকে: এই কারণেই একে সাকিন করা হয়েছে; কারণ বর্ণের মূল বিধান হলো ভিত্তি বা মাবনি হওয়া, আর মাবনি হওয়ার মূল হলো সাকিন হওয়া। "যেমনটি সামনে আসবে" এর সর্বনাম না হওয়া এবং এর দলিল সর্বনামের আলোচনার শেষে বর্ণিত হবে। "এবং 'বা' অক্ষরটিকে সাকিন করা হয়েছে" যদিও এর মূল বিধান ছিল জবরের ওপর ভিত্তি করা "দারাবতু এবং দারাবনা এর মতো শব্দে" অর্থাৎ অতীতকালীন ক্রিয়ার সাথে যখন স্বরযুক্ত সর্বনামগুলো যুক্ত হয়, যা নয়টি সুরত হতে পারে: দারাবনা, দারাবতু, দারাবতুমা, দারাবতুম, দারাবতি, দারাবতুমা, দারাবতুন্না, দারাবতু (একবচন উত্তম পুরুষ), দারাবনা (বহুবচন উত্তম পুরুষ)। "যাতে একটি শব্দের মতো বিষয়ের মধ্যে পরপর চারটি হরকত একত্রিত না হয়" অর্থাৎ যেমন একটি একক শব্দের মধ্যে পরপর চারটি হরকত একত্রিত হওয়া জায়েজ নয়, তা ক্রিয়া হোক বা বিশেষ্য, জিহ্বায় তা উচ্চারণ করা ভারী হওয়ার কারণে; তেমনি যা একটি শব্দের স্থলাভিষিক্ত তাতেও ওই একই কারণে তা জায়েজ নয়। ক্রিয়া এবং তার কর্তৃবাচক সর্বনাম ঠিক তেমনই; কারণ এটি শব্দগতভাবে, অর্থগতভাবে এবং বিধানগতভাবে ক্রিয়ার সাথে যুক্ত। শব্দগতভাবে তা স্পষ্ট; আর অর্থগতভাবে এই কারণে যে সেটি কর্তা (ফায়েল), আর কর্তা ক্রিয়ার জন্য অত্যাবশ্যকীয় হওয়ার কারণে ক্রিয়ার একটি অংশের মতো। আর বিধানগতভাবে এর প্রমাণ হলো, এটি মু'রাব বা পরিবর্তনশীল শব্দ এবং তার হরকতের স্থলাভিষিক্ত বর্ণের মাঝখানে পতিত হয়, যেমন 'ইয়াফআলা-নি', 'ইয়াফআলু-না' এবং 'তাফআলী-না' এর নুন। "আর সেখান থেকেই" (তাম্মা শব্দটিকে যবর ও তাশদিদ যোগে), কখনও কখনও একে 'হা' বর্ণ দিয়েও লেখা হয় 'সুম্মা' (অতঃপর) থেকে পার্থক্য করার জন্য। এর উল্টোটা করা হয়নি কারণ সংযোজক 'সুম্মা' পেশযুক্ত এবং এর ব্যবহার অধিক, তাই 'হা' বর্জন করে একে হালকা রাখাই উত্তম। অর্থাৎ যেহেতু সেই সর্বনামগুলোর সাথে ক্রিয়াটি একটি শব্দের মতো হয়ে যায়, তাই "তার সর্বনামের ওপর সংযোজন করা জায়েজ নয়" অর্থাৎ 'দারাবনা' ও 'দারাবতু' এর মতো শব্দের সর্বনামের ওপর "তাকিদ ব্যতীত" অর্থাৎ অন্য একটি পৃথক কর্তৃবাচক সর্বনাম যুক্ত করা ছাড়া। যেমন বলা হয়, 'দারাবনা হুন্না ওয়া যাইদুন' এবং 'দারাবতু আনতা ওয়া যাইদান'। "দারাবতু ওয়া যাইদুন বলা যাবে না" অর্থাৎ যেমন একটি শব্দের কোনো বর্ণের ওপর সংযোজন করা জায়েজ নয়, তেমনি তার সমতুল্য বিষয়ের ওপরও পৃথক সর্বনামের তাকিদ ছাড়া সংযোজন জায়েজ নয়। কারণ যখন এটিকে তাকিদ দেওয়া হয়, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে সেই সংযুক্ত সর্বনামটি প্রকৃতপক্ষে পৃথক, যার প্রমাণ হলো তাকিদের সাথে একে এককভাবে ব্যবহার করার বৈধতা, যার ফলে এটি এক ধরণের স্বাতন্ত্র্য লাভ করে। আর এমনটি ভাবা যাবে না যে, এই সংযোজনটি তাকিদের ওপর হয়েছে; কারণ যাকে সংযোজন করা হয় সে যার ওপর সংযোজন করা হয় তারই হুকুম লাভ করে, ফলে যাকে সংযোজন করা হয়েছে তাকেও সংযুক্ত সর্বনামের তাকিদ হতে হতো, যা অসম্ভব। এভাবেই ইমাম রাযী একে তড়িৎ বিশ্লেষণ করেছেন। এর মাধ্যমেই অন্য ব্যাখ্যাকারীদের মতের অসারতা স্পষ্ট হয়েছে, যারা মনে করতেন যে তাকিদ ছাড়া সংযোজন করলে ক্রিয়ার একটি অংশের ওপর বিশেষ্যের সংযোজন লাজেম হয় যা জায়েজ নয়। "দারাবতা এর ব্যতিক্রম" অর্থাৎ 'দারাবতা' এর অবস্থা আমরা যা 'দারাবনা' এর ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি তার বিপরীত। অর্থাৎ পরপর হরকতের সমাবেশ থেকে বাঁচার জন্য 'বা' অক্ষরকে সাকিন করার বিষয়টি এখানে ভিন্ন, যদিও সেখানে দৃশ্যত সেই সমাবেশ পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌[شرح ديكنقوز]

"لأن التاء فيه" في حكم الساكن لأن حركته "في حكم السكون" لأنها كانت ساكنة فحركت لألف التثنية فحركتها عارضة والعارض كالمعدوم فتكون في حكم السكون فلم يلزم ذلك المحذور "ومن ثمة" أي ومن أجل أن حركة التاء في ضربتا في حكم السكون "تسقط الألف" في كل اللغات "في مثل رمتا أصله رميتا قلبت الباء ألفا ثم حذف لسكونها وسكون التاء "لكون الحركة فيه عارضة" بسبب ألف التثنية كما مر ولا اعتبار للعارض إلا في الضرورة، وكذلك اعتبر حركة التاء في رمتا؛ إذ لا يجوز حذف أحد الساكنين، أما التاء؛ فلأنه علامة التأنيث، وأما الألف؛ فلأنه علامة التثنية فاعتبر صورة الحركة ضرورة "إلا في لغة ردية" أصله رديئة قلبت الهمزة ياء وأدغمت مثل خطية من ردؤ بالضم ضد جاد من الجيد فإن الألف لا تسقط فيها "إذ يقول أهلها رماتا" بإثبات الألف نظرا إلى الحركة الصورية "وبخلاف" مثل "ضربك" أي لم يلزم فيه على تقدير عدم إسكان الباء وإبقائها على الحركة ذلك لاجتماع المستهجن "لأنه" أي مثل ضربك "ليس كالكلمة الواحدة" واستهجان ذلك الاجتماع إنما هو فيما هو كالكلمة الواحدة، وإنما قلنا إنه ليس كالكلمة الواحدة "لأن ضميره" أي كاف الخطاب في ضربك ليس ضمير فاعل، بل "هو ضمير منصوب" والضمير المنصوب ليس كالجزء من الفعل، لأنه مفعول والمفعول فضلة في الكلام يتم الكلام بدونه بخلاف الفاعل "وبخلاف هدبد" وهو اللبن الغليظ "وعلبط" وهو قطيع من الغنم؛ أي لم يلزم من عدم إسكان أحد حروفهما وإبقائهما على الحركة ذلك الاجتماع الممنوع "لأن أصلهما هدابد وعلابط" بالألف "ثم قصرا" أي حذف الألف منهما للتخفيف والتوسعة في الكلام يعني أن ذلك الاجتماع وإن كان ثابتا في الصورة إلا أنه منتف في التقدير فكأنه لم يكن ثابتا وللقصر نظير "كما في مخبط أصله مخياط" بالألف قصر للتخفيف والتوسعة والمقصور القصيرة من الإبرة وخلافه خلافها "وحذفت التاء في ضربن" أصله ضربتن، فلما حذفت التاء أسكنت الباء لما مر "حتى لا يجتمع علامتا التأنيث" إحداهما التاء والأخرى النون فإن النون وإن كان ضميرا إلا أنه ضمير جمع المؤنث "كما حذف التاء في مسلمات" أصله مسلمتان حذفت التاء الأولى لئلا يجتمع علامتا التأنيث من جنس واحد وخصت الأولى بالحذف فيهما؛ لأن في الثانية زيادة معنى وهي الدلالة على الجمعية، فكان حذف الأولى أولى وإنما حذفت في ضربن "وإن لم تكونا" أي العلامتان فيه

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"لأن التاء فيه في حكم السكون" أي الساكن فلا يلزم اجتماع الحركات حكما "ومن ثمة" أي ومن أجل أن التاء في حكم السكون "سقط الألف" المنقلبة من الياء "في رمتا" أصله رميتا قلبت الياء ألفا لتحركها وانفتاح ما قبلها فصار رماتا "لكون الحركة" أي حركة التاء "عارضة فيه" لأن هذه التاء هي تاء رمت، وقد عرفت أنها ساكنة فإذا اتصل به ضمير التثنية وهي الألف الساكنة حركت تلك التاء لأجل ذلك الألف؛ إذ إلحاق الساكن بالساكن محال فيكون حرمتها عارضة والعارض المعدوم. فإن قلت: فعلى هذا يلزم التقاء الساكنين أيضا وهما التاء وألف الضمير، قلت: لحركة التاء اعتبار أن اعتبار عدمها حكما واعتبار وجودها لفظا، فاعتبر عدمها مع ما قبلها لعدم الاحتياج إليها؛ إذ يجوز حذف ما قبلها، واعتبر وجودها مع ما بعدها للاحتياج إليها لامتناع حذف إحداهما؛ إذ التاء علامة والألف فاعل "إلا في لغة ردية" أي غير فصيحة فعية من ردأ بمعنى فسد قلبت همزته ياء فأدغمت كما في خطية "يقول أهلها رماتا" بإثبات الألف اعتبارا بوجود الحرمة في التاء لفظا ولا يعتبر هذا؛ لأن كلامنا في كلام البلغاء لا في المولدين "بخلاف مثل ضربك" أي لم يلزم فيه على تقدير عدم إسكان الباء وإبقائها على الحركة ذلك الاجتماع المستهجن "لأنه" أي في مثل ضربك "ليس كالكلمة الواحدة" واستهجان ذلك الاجتماع لا يكون إلا فيما هو كالكلمة الواحدة وإنما قلنا إنه ليس كالكلمة الواحدة "لأن ضميره" أي الكاف في ضربك ليس ضمير فاعل، بل هو "ضمير منصوب" هذا دليل على عدم استقباح ذلك الاجتماع في مثل ضربك؛ لأن الضمير المنصوب ليس كالجزء من الفعل لعدم شدة اتصاله به؛ لأنه مفعول والمفعول فضلة في الكلام يتم الكلام بدونه بخلاف الفاعل "وبخلاف هدبد" وهو اللبن الغليظ "وعلبط" أصلهما هدابد وعلابط "ثم قصرا" للتخفيف بحذف ألفه تخفيفا وتوسعة كما قصر "في محيط أصله مخياط" المخيط بالقصر الإبرة القصيرة وبالمد الإبرة الكبيرة "قاعدة" إذا اجتمع علامتا التأنيث في كلمة فإن كانتا من جنس واحد تحذف إحداهما سواء كانتا في فعل أو في اسم، وإن كانتا من جنسين تحذف إحداهما أيضا إذا كانتا في فعل ولم تحذف إذ كانتا في اسم لثقل الفعل وخفة الاسم، قوله: "وحذفت التاء في ضربن" جواب عن سؤال مقدر وهو أن يقال إذا جعلت التاء علامة للمؤنث فلم حذفت في ضربن فأجاب عنه به يعني حذفت التاء في ضربن "حتى لا يجتمع علامتا التأنيث" من جنسين في الفعل فإن أصل ضربن ضربتن بسكون التاء فاجتمع علامتا التأنيث إحداهما التاء والأخرى النون فهي وإن كانت ضمير الفاعل لكنها تفيد التأنيث أيضا فحذفت التاء؛ لأنها للتأنيث فقط "كما" حذفت إحدى العلامتين من الاسم "في مسلمات" أصله مسلمات؛ لأن مفرده مسلمة فجمعت بالألف والتاء فاجتمع علامتان من جنس واحد، وهما التاءان فحذفت الأولى؛ لأن الثانية علامة الجمع أيضا "وإن لم تكونا" أي وحذفت التاء في مثل ضربن وإن لم تكن العلامتان فيه
[শরহ দিকনুকুয]

“কেননা এতে বিদ্যমান ‘তা’” সাকিন বা স্থিরবর্ণের বিধানের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এর হরকত বা স্বরচিহ্ন “সাকিনের বিধানভুক্ত”। যেহেতু এটি মূলত সাকিন ছিল, অতঃপর দ্বিবচনের ‘আলিফ’-এর কারণে এতে হরকত প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং এর এই হরকত হলো আগন্তুক, আর আগন্তুক বিষয় অস্তিত্বহীনের সমতুল্য। ফলে এটি সাকিনের বিধানভুক্ত হবে এবং সেই অপছন্দনীয় বিষয়টি (চারটি হরকত একত্র হওয়া) আবশ্যক হবে না। “আর এখান থেকেই” অর্থাৎ যেহেতু ‘যারবাতা’ শব্দে ‘তা’-এর হরকত সাকিনের বিধানভুক্ত, তাই সকল ভাষাতেই “আলিফ বিলুপ্ত হয়”; যেমন “রামাতা-এর মতো শব্দে। এর মূল রূপ ছিল ‘রামায়াতা’, এখানে ‘ইয়া’-কে ‘আলিফ’-এ রূপান্তরিত করা হয়েছে, অতঃপর সেই ‘আলিফ’ এবং ‘তা’-এর সাকিন হওয়ার কারণে (প্রথম আলিফটি) বিলুপ্ত করা হয়েছে।” “যেহেতু এতে হরকত আগন্তুক” যা দ্বিবচনের আলিফের কারণে হয়েছে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত আগন্তুক বিষয়ের কোনো গুরুত্ব নেই। অনুরূপভাবে ‘রামাতা’ শব্দে ‘তা’-এর হরকতকে বিবেচনা করা হয়েছে; যেহেতু দুটি সাকিনের কোনো একটিকে বিলুপ্ত করা জায়েজ নয়। ‘তা’-এর ক্ষেত্রে কারণ হলো এটি স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন, আর ‘আলিফ’-এর ক্ষেত্রে কারণ হলো এটি দ্বিবচনের চিহ্ন; তাই নিরুপায় হয়ে দৃশ্যত হরকতকে বিবেচনা করা হয়েছে। “তবে একটি মন্দ ভাষা ব্যতীত” যার মূল হলো ‘রাদীআহ’। এখানে ‘হামযাহ’-কে ‘ইয়া’-তে রূপান্তর করে ইদগাম করা হয়েছে, যেমন ‘খাতীয়াহ’ শব্দটি পেশযুক্ত ‘রাদুয়া’ থেকে এসেছে যা ‘জায়্যিদ’ (উত্তম)-এর বিপরীত। নিশ্চয়ই এই মন্দ ভাষায় আলিফ বিলুপ্ত হয় না। “কেননা সেই ভাষার লোকেরা দৃশ্যমান হরকতের দিকে লক্ষ্য করে আলিফ বহাল রেখে ‘রামাতা’ বলে থাকে।” আর “যারবাকা”-এর মতো শব্দের বিষয়টি ভিন্ন। অর্থাৎ, ‘বা’ বর্ণকে সাকিন না করে হরকত বহাল রাখার তকদিরেও সেই অপছন্দনীয় সমাবেশ (চারটি হরকত একত্র হওয়া) আবশ্যক হয় না। “কেননা এটি” অর্থাৎ ‘যারবাকা’-এর মতো শব্দ “একক শব্দের মতো নয়।” আর সেই সমাবেশের অপছন্দনীয়তা কেবল সেই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা একক শব্দের মতো। আমরা কেন বলেছি যে এটি একক শব্দের মতো নয়? “কারণ এর জমির” অর্থাৎ ‘যারবাকা’ শব্দের সম্বোধনের ‘কাফ’ ফায়িল বা কর্তার জমির নয়, বরং “এটি একটি মানসুব (কর্মবাচক) জমির।” আর মানসুব জমির ক্রিয়ার অংশের মতো নয়, কারণ এটি মাফউল বা কর্ম; আর বাক্যে মাফউল হলো অতিরিক্ত অংশ যা ছাড়াই বাক্য পূর্ণতা পায়, ফায়িল বা কর্তার বিষয়টি এর বিপরীত। “অনুরূপভাবে ‘হাদবাদ’ (ঘন দুধ) এবং ‘আলবাত’ (ভেড়ার পাল)-এর বিষয়টি ভিন্ন।” অর্থাৎ তাদের কোনো বর্ণকে সাকিন না করে হরকত বহাল রাখলেও সেই নিষিদ্ধ সমাবেশ আবশ্যক হয় না। “কেননা তাদের মূল রূপ ছিল আলিফসহ ‘হাদাবাদ’ ও ‘আলাবাত’,” অতঃপর সেগুলোকে “সংক্ষিপ্ত (কাসর) করা হয়েছে।” অর্থাৎ উচ্চারণে সহজ করা এবং ভাষার প্রসারের জন্য উভয়টি থেকে আলিফ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, সেই সমাবেশ দৃশ্যত বিদ্যমান থাকলেও তকদিরি বা কাঠামোগতভাবে তা অনুপস্থিত, ফলে এটি যেন বিদ্যমানই নেই। সংক্ষিপ্তকরণের নজির রয়েছে “যেমন ‘মাখবিত’ শব্দে, যার মূল ছিল আলিফসহ ‘মাখইয়াত’।” সহজ করার জন্য এবং ভাষার প্রসারের জন্য একে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ‘মাকসুর’ বলতে ছোট সুঁইকে বোঝায় আর এর বিপরীতটি হলো বড় সুঁই। “এবং ‘যারাবনা’ শব্দে ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে,” এর মূল ছিল ‘যারাবাতনা’। যখন ‘তা’ বিলুপ্ত করা হলো, তখন পূর্বে বর্ণিত কারণে ‘বা’ বর্ণকে সাকিন করা হয়েছে। “যাতে স্ত্রীলিঙ্গের দুটি চিহ্ন একত্র না হয়,” যার একটি হলো ‘তা’ এবং অপরটি হলো ‘নুন’। কারণ ‘নুন’ যদিও একটি জমির বা সর্বনাম, তবুও এটি স্ত্রীবাচক বহুবচনের জমির। “যেমন ‘মুসলিমাত’ শব্দে ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে,” এর মূল ছিল ‘মুসলিমানতানি’। একই জাতীয় স্ত্রীলিঙ্গের দুটি চিহ্ন যাতে একত্র না হয় সেজন্য প্রথম ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর উভয় ক্ষেত্রে প্রথমটিকেই বিলুপ্তির জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে কারণ দ্বিতীয়টিতে অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে, আর তা হলো বহুবচনের অর্থ প্রকাশ করা। তাই প্রথমটি বিলুপ্ত করাই অধিকতর সংগত ছিল। আর ‘যারাবনা’ শব্দে এটি বিলুপ্ত করা হয়েছে “যদিও চিহ্ন দুটি এতে বিদ্যমান না থাকে...”

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শরহুল মারাহ] ইবনে কামাল পাশা কৃত

“কেননা এতে বিদ্যমান ‘তা’ সাকিনের বিধানভুক্ত” অর্থাৎ সাকিন বর্ণের ন্যায়, ফলে হুকুমগতভাবে হরকতের সমাবেশ আবশ্যক হয় না। “আর এখান থেকেই” অর্থাৎ যেহেতু ‘তা’ সাকিনের বিধানভুক্ত, তাই ‘ইয়া’ থেকে রূপান্তরিত “আলিফ বিলুপ্ত হয়েছে” “রামাতা শব্দে।” এর মূল রূপ ছিল ‘রামায়াতা’, ‘ইয়া’ বর্ণটি হরকতযুক্ত হওয়ায় এবং তার পূর্ববর্ণ যবরযুক্ত হওয়ায় তাকে আলিফে রূপান্তর করা হয়েছে, ফলে তা ‘রামাতা’ হয়েছে। “হরকত অর্থাৎ ‘তা’-এর হরকত আগন্তুক হওয়ার কারণে;” কারণ এই ‘তা’ মূলত ‘রামাত’ শব্দের সাকিন ‘তা’। আপনি জেনেছেন যে এটি সাকিন ছিল, অতঃপর যখন এর সাথে দ্বিবচনের সাকিন ‘আলিফ’ জমির যুক্ত হলো, তখন সেই আলিফের কারণে ‘তা’-তে হরকত দেওয়া হয়েছে; কারণ দুটি সাকিন বর্ণকে একত্র করা অসম্ভব। সুতরাং এর হরকত হলো আগন্তুক, আর আগন্তুক বিষয় অস্তিত্বহীনের মতো। যদি আপনি বলেন: তবে তো এখানেও দুটি সাকিন বর্ণ অর্থাৎ ‘তা’ এবং জমির ‘আলিফ’-এর একত্র হওয়া আবশ্যক হয়, আমি বলব: ‘তা’-এর হরকতের দুটি বিবেচনা রয়েছে—হুকুমগতভাবে এর অনুপস্থিতি বিবেচনা করা এবং শব্দগতভাবে এর উপস্থিতি বিবেচনা করা। এর পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে এর অনুপস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে কারণ সেখানে এর প্রয়োজন নেই; যেহেতু পূর্ববর্তী বর্ণকে বিলুপ্ত করা জায়েজ। আর এর পরবর্তী বর্ণের সাথে এর উপস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে কারণ সেখানে এর প্রয়োজন রয়েছে, যেহেতু দুটির কোনোটি বিলুপ্ত করা অসম্ভব; কারণ ‘তা’ হলো চিহ্ন এবং ‘আলিফ’ হলো ফায়িল বা কর্তা। “একটি মন্দ ভাষা ব্যতীত” অর্থাৎ যা বিশুদ্ধ নয়, এটি ‘রাদাআ’ থেকে এসেছে যার অর্থ নষ্ট হওয়া। এর হামযাহকে ‘ইয়া’ করে ইদগাম করা হয়েছে যেমন ‘খাতীয়াহ’ শব্দে। “সেই ভাষার লোকেরা ‘রামাতা’ বলে থাকে” আলিফ বহাল রেখে, ‘তা’-এর শব্দগত উপস্থিতিকে বিবেচনা করে। তবে এটি গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ আমাদের আলোচনা হলো প্রাঞ্জলভাষীদের ভাষা নিয়ে, অর্বাচীনদের ভাষা নিয়ে নয়। “যারবাকা-এর মতো শব্দের বিষয়টি ভিন্ন;” অর্থাৎ ‘বা’ বর্ণকে সাকিন না করে হরকত বহাল রাখার তকদিরেও সেই অপছন্দনীয় সমাবেশ আবশ্যক হয় না। “কেননা এটি” অর্থাৎ ‘যারবাকা’-এর মতো শব্দে “একক শব্দের মতো নয়।” আর সেই সমাবেশের অপছন্দনীয়তা কেবল সেই ক্ষেত্রেই হয় যা একক শব্দের মতো। আমরা কেন বলেছি যে এটি একক শব্দের মতো নয়? “কারণ এর জমির” অর্থাৎ ‘যারবাকা’ শব্দের ‘কাফ’ ফায়িলের জমির নয়, বরং এটি একটি “মানসুব জমির।” এটি ‘যারবাকা’-এর মতো শব্দে সেই সমাবেশের কদর্যতা না থাকার দলিল; কারণ মানসুব জমির ক্রিয়ার সাথে অতি নিবিড়ভাবে যুক্ত না হওয়ার কারণে ক্রিয়ার অংশের মতো নয়। যেহেতু এটি মাফউল বা কর্ম, আর বাক্যে মাফউল হলো অতিরিক্ত অংশ যা ছাড়াই বাক্য পূর্ণ হতে পারে, ফায়িল বা কর্তার বিষয়টি এর বিপরীত। “অনুরূপভাবে ‘হাদবাদ’ (ঘন দুধ) এবং ‘আলবাত’ (ভেড়ার পাল)-এর বিষয়টি ভিন্ন।” এদের মূল ছিল ‘হাদাবাদ’ ও ‘আলাবাত’। “অতঃপর সহজ করার জন্য সেগুলোকে সংক্ষিপ্ত (কাসর) করা হয়েছে” আলিফ বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সহজীকরণ ও প্রসারের উদ্দেশ্যে। যেমন “মাখিত শব্দে কাসর করা হয়েছে, এর মূল ছিল মাখইয়াত।” কাসরসহ ‘মাখিত’ মানে ছোট সুঁই এবং আলিফসহ ‘মাখিয়াত’ মানে বড় সুঁই। “একটি নিয়ম:” যদি এক শব্দে স্ত্রীলিঙ্গের দুটি চিহ্ন একত্র হয়, তবে সেগুলো যদি একই জাতীয় হয় তবে একটি বিলুপ্ত হবে, তা সে ক্রিয়া হোক বা বিশেষ্য। আর যদি ভিন্ন জাতীয় হয় এবং ক্রিয়া পদে থাকে তবে একটি বিলুপ্ত হবে, কিন্তু বিশেষ্য পদে থাকলে বিলুপ্ত হবে না; কারণ ক্রিয়া পদ ভারী এবং বিশেষ্য পদ হালকা। লেখকের উক্তি: “এবং যারাবনা শব্দে ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে” এটি একটি সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর। প্রশ্নটি হলো—যদি ‘তা’-কে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন করা হয়, তবে ‘যারাবনা’ শব্দে তা বিলুপ্ত করা হলো কেন? তিনি এর উত্তর দিয়েছেন এভাবে যে, ‘যারাবনা’ শব্দে ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে “যাতে স্ত্রীলিঙ্গের দুটি চিহ্ন একত্র না হয়।” ক্রিয়া পদে ভিন্ন জাতীয় দুটি চিহ্ন একত্র হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। ‘যারাবনা’-এর মূল ছিল ‘যারাবাতনা’ যেখানে ‘তা’ সাকিন ছিল। ফলে স্ত্রীলিঙ্গের দুটি চিহ্ন একত্র হয়েছিল, একটি ‘তা’ এবং অন্যটি ‘নুন’। ‘নুন’ যদিও ফায়িলের জমির কিন্তু এটি স্ত্রীলিঙ্গের অর্থও প্রদান করে। তাই ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে কারণ এটি কেবল স্ত্রীলিঙ্গ বোঝানোর জন্যই আসে। “যেমনটি” বিশেষ্য থেকে একটি চিহ্ন বিলুপ্ত করা হয়েছে “মুসলিমাত শব্দে।” এর মূল ছিল ‘মুসলিমাতুন’; কারণ এর একবচন হলো ‘মুসলিমা’। যখন একে আলিফ ও ‘তা’ যোগে বহুবচন করা হলো, তখন একই জাতীয় দুটি চিহ্ন অর্থাৎ দুটি ‘তা’ একত্র হলো। ফলে প্রথম ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে; কারণ দ্বিতীয়টি বহুবচনেরও চিহ্ন। “যদিও না হয়” অর্থাৎ ‘যারাবনা’-এর মতো শব্দে ‘তা’ বিলুপ্ত করা হয়েছে যদিও চিহ্ন দুটি এতে...
(খণ্ড: ১) শারহানি আলা মারাহিল আরওয়াহ ফী ইলমিস সরফ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌[شرح ديكنقوز]

"ومن جنس واحد" لأن التاء ليست من جنس النون ولم يوجد ثقل التكرار اللفظي كما كانتا من جنس واحد في مسلمتان؛ لأنهما تاءان فيه ووجد ثقل التكرار اللفظي فيه كالمعنوي "لثقل الفعل" فكرهوا اجتماعهما فيه مطلقا "بخلاف حبليات لعدم الجنسية" أي لم يحذف إحدى العلامتين الألف والياء المنقلبة من ألف التأنيث، بل جوزوا اجتماعهما فيه لعدم كونهما من جنس واحد وخفة الاسم، وإنما وجب قلب ألف حبلى ياء في الجمع لئلا يجتمع الساكنان، ولم يجز حذف أحدهما؛ لأن الثانية للجمع والأولى لمعنى في الكلمة وهو لزوم تأنيثها وليست مثل فاء بعد وعين قل ولام غزيت، فإنها ليست لمعنى زائد على كونها أجزاء من الكلمة فافهم، ولا مثل تاء مسلمة فإن الكلمة لم توضع معها، بل هي عارضة على مسلم إذا لم يكن حبل حتى زيد عليه ألف التأنيث، بل وضعت هكذا بالألف فلو حذفت الألف لفات الغرض، ولما جاء الياء للتأنيث في هذي وكانت بالنسبة إلى الواو خفيفة بخلاف الواو قلبت ياء "وسوى بين تثنيتي المخاطب والمخاطبة" لأنك تقول: ضربت ضربتما وضربت ضربتما ولا ينافي هذا قوله في صدر الفصل يجيء على أربعة عشر وجها؛ لأن ضربتما باعتبار كونه تثنية ضربت بفتح التاء صيغة وباعتبار كونه تثنية ضربت بكسر التاء صيغة أخرى تقديرا، وأما نحون فهو تثنية أنا أو جمعه مذكرا أو مؤنثا فلا فرق في التقدير، فلذلك يقال: ضربت ضربتما ضربتم ضربت ضربتما ضربتن بذكر ضربتما مرتين، وهو هما هم هي هما هن أنت أنتما أنتم أنت أنتما أنتن بذكر التثنيتين، بخلاف أنا نحن؛ إذ لا يقال أنا نحن يذكر نحن مرتين "و" سوى "بين الإخبارات" أي كما سوى بين تثنيتي المخاطب والمخاطبة أيضا؛ أي نفس المتكلم وحده مذكرا كان أو مؤنثا حيث يقال فيهما ضربت ومعه غيره مذكرا أو مؤنثا وتثنية وجمعا؛ إذ يقال في كلها ضربنا "لقلة الاستعمال في التثنية" بالنسبة إلى المفرد، وحكمها احتياجها في حصولها إلى ضم أحد المثلين إلى الآخر بخلاف المفرد وبالنسبة إلى الجمع أيضا لعدم الاتساع فيها؛ إذ لا تستعمل حقيقة إلا في الاثنين فقط بخلاف الجمع، فإن صيغة قلته تستعمل في الثلاثة وفي الأربعة وفي الخمسة وفي الستة وفي السبعة إلى العشرة، وصيغة كثرته تستعمل فيما فوق العشرة بالغا ما بلغ فلا تعيين فيما يستعمل فيه الجمع ففيه اتساع وكثرة استعمال بخلاف التثنية. والحاصل أن في صيغة التثنية نوع حرج ليس في الجمع ذلك وهو حصر المراد على فردين وفيه كلفة بينة، بخلاف الجمع؛ فإن فيه إرسالة المراد، ولما كان استعمال الثتنية قليلا لم يبال بالالتباس فيها بخلاف المفرد والجمع؛ فإنه لما كثر استعمالهما بالنسبة إليها لم يستحسن الالتباس فيهما "و" سوى أيضا بين تثنيتهما لكون "وضع الضمائر للإيجاز" فإن هما مثلا أخصر من زيدان فالتسوية بين الشيئين أن لا يجعل لكل واحد منهما صيغة على حدة تناسب غرض الإيجاز "و" سوى بين الإخبارات لحصول "عدم الالتباس في الإخبارات" لأن المتكلم يرى في أكثر الأحوال أو يسمع صوته فيعلم أنه مذكر أو مؤنث واحد أو جمع كما يجيء، ولم يذكر التسوية بين تثنيتي الغائب والغائبة اكتفاء بذكر التسوية بين تثنيتي المخاطب والمخاطبة أو اكتفاء بذكرها في بحث المضمرات لعدم بحث لهما، وأما تثنيتا المخاطب والمخاطبة والإخبارات فلما كان لهما بحث استوفى أحكامهما ها هنا من التسوية وغيرها، ولم يكتف بذكرها على سبيل الاستطراد

--------------------------------------------

‌‌[الفلاح شرح المراح] لابن كمال باشا

"من جنس واحد كما" كانتا من جنس واحد في مسلمات؛ لأن إحداهما التاء والثانية النون "لثقل الفعل بخلاف حبليات" فإن إحدى العلامتين لم تحذف فيها لخفة الاسم ولعدم الجنسية فإن إحدى العلامتين فيها الياء المنقلبة من الألف وإنما انقلبت؛ لأنه لو لم تقلب يلزم الحذف لالتقاء الساكنين، ولم تقلب واوا لثقلها والثانية التاء "وسوى" أي لم يفرق لفظا "بين تثنيتي المخاطب والمخاطبة" حيث يقال فيهما: ضربتما "و" سوى أيضا "بين الإخبارات" أي نفس المتكلم صيغ الإخبارات على مقتضى القيس ستة ثلاثة للمذكر مفردا ومثنى ومجموعا وثلاثة للمؤنث كذلك، لكن سوى بين مفردي المذكر والمؤنث فقيل فيهما ضربتن وسوى بين الأربعة الباقية فقيل فيها ضربنا "لقلة الاستعمال في التثنية" أي تثنيتي المخاطب والمخاطبة بالنسبة إلى المفردن فإن قلت: لما سوى بينهما في التثنية وجب أن يسوي بينهما في الجمع بعين ما ذكرت، قلت: إنما لم يسو بينهما في الجمع ليكون اختلاف الصيغة دليلا على تفاوت معنى الجمع باعتبار قلة الأفراد وكثرتها، بخلاف التثنية فإن مفهومها لا يتفاوت بالقلة والكثرة، بل هو نص في فردين كذا قيل "ووضع الضمائر للإيجاز" يعني أنهم وضعوا لتثنية المذكر وتثنية المؤنث ضميرا واحدا وهو أنتما للإيجاز فلما كان ضمير التثنيتين واحدا وجب أن يكون لفظهما الظاهر واحدا وهو ضربتما؛ لأن الضمير قائم مقام الظاهر، وكذا أنهم وضعوا للمفرد المذكر والمفرد المؤنث في الإخبار ضميرا واحدا وهو أنا، ولتثنيتهما وجمعهما ضميرا واحدا آخر وهو نحن للإيجاز والاقتصار، فلما كان ضمير الإخبارات منحصرا فيهما يلزم أن ينحصر الظاهر في لفظين وهما ضربت وضربنا؛ لأن الضمير قائم مقام الظاهر فافهم، فقوله: ووضع الضمائر للإيجاز دليل لتسوية التثنيتين ولتسوية الإخبارات معا، وإن كان المتبادر من ظاهر سوق العبارات أنه دليلا للإخبارات فقط "وعدم الالتباس" عند السامع في الأغلب "في الإخبارات"؛ لأن المخبر المتكلم يرى في أكثر الأحوال فيعلم أنه مذكر أو مؤنث أو مثنى أو مجموع أو يعلم بصوته فذلك أو بغيرهما من القرائن
[দিকনুকূয-এর ব্যাখ্যা]

"এবং একই জাতীয় হওয়ার কারণে" কারণ 'তা' অক্ষরটি 'নুন'-এর সমজাতীয় নয় এবং সেখানে উচ্চারণগত পুনরাবৃত্তির ভারও পাওয়া যায়নি, যেমনটি 'মুসলিমাতানি' শব্দে উভয়টি একই জাতীয় হওয়ায় বিদ্যমান ছিল; কারণ সেখানে দুটি 'তা' রয়েছে এবং সেখানে অর্থের মতো শব্দগত পুনরাবৃত্তির ভারও বিদ্যমান। "ক্রিয়ার ভার হওয়ার কারণে" তাই তারা ক্রিয়ার মধ্যে এ দুটির একত্র হওয়াকে নিরঙ্কুশভাবে অপছন্দ করেছেন। "পক্ষান্তরে 'হুবলায়াত'-এর ক্ষেত্রে সমজাতীয়তা না থাকায় ভিন্ন হুকুম" অর্থাৎ সেখানে দুটি চিহ্নের একটি—আলিফ এবং আলিফে তানিছ থেকে পরিবর্তিত 'ইয়া'—কে বিলুপ্ত করা হয়নি। বরং তারা এ দুটির একত্র হওয়াকে বৈধ রেখেছেন, যেহেতু তারা উভয়টি একই জাতীয় নয় এবং বিশেষ্যটি (ইসম) হালকা বা সহজবোধ্য। 'হুবলা' শব্দের আলিফকে জমা (বহুবচন)-এর ক্ষেত্রে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা ওয়াজিব হয়েছে যাতে দুটি সাকিন বর্ণ একত্র না হয়। আর এ দুটির কোনোটিকে বিলুপ্ত করা জায়েয হয়নি; কারণ দ্বিতীয়টি বহুবচনের জন্য এবং প্রথমটি শব্দের মূল অর্থের জন্য, আর তা হলো শব্দটির স্ত্রীবাচক হওয়া আবশ্যক হওয়া। এটি 'বাদু' (بعد) এর 'ফা' বর্ণ, 'কুল্লু' (قل) এর 'আইন' বর্ণ বা 'গুযিয়াতু' (غزيت) এর 'লাম' বর্ণের মতো নয়; কেননা এ বর্ণগুলো শব্দের অংশ হওয়া ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত অর্থের জন্য নয়, বিষয়টি বুঝে নিন। তদ্রূপ এটি 'মুসলিমা' শব্দের 'তা'-এর মতোও নয়; কারণ শব্দটি এর সাথে গঠিত হয়নি, বরং এটি 'মুসলিম' শব্দের ওপর আপতিত হয় যখন সেটি 'হুবলা'র মতো নয় যাতে এর সাথে আলিফে তানিছ যুক্ত করা হয়েছে। বরং এটি আলিফসহ এভাবেই গঠিত হয়েছে, তাই আলিফ বিলুপ্ত করলে মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হতো। যেহেতু 'হা-যিহি' (هذي) শব্দে 'ইয়া' অক্ষরটি স্ত্রীবাচকতার জন্য এসেছে এবং এটি 'ওয়াও'-এর তুলনায় হালকা ছিল, তাই 'ওয়াও' এর বিপরীতে একে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। "এবং তিনি সম্বোধিত পুরুষ ও সম্বোধিত স্ত্রীবাচক দ্বিবচনের মধ্যে সমতা রক্ষা করেছেন" কারণ আপনি বলেন: 'দ্বরাবতা দ্বরাবতুমা' এবং 'দ্বরাবতি দ্বরাবতুমা'। এটি পরিচ্ছেদের শুরুতে তাঁর এই বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে, 'এটি চৌদ্দটি রূপে আসে'; কারণ 'দ্বরাবতুমা' শব্দটি 'তা' বর্ণে যবরযুক্ত 'দ্বরাবতা'-এর দ্বিবচন হওয়ার বিবেচনায় একটি রূপ, আর 'তা' বর্ণে যেরযুক্ত 'দ্বরাবতি'-এর দ্বিবচন হওয়ার বিবেচনায় রূপকভাবে এটি অন্য একটি রূপ। আর 'নাহনু' (نحن) শব্দটি 'আনা' (أنا) এর দ্বিবচন অথবা এর বহুবচন, চাই তা পুরুষবাচক হোক বা স্ত্রীবাচক; তাই রূপক বিচারে এখানে কোনো পার্থক্য নেই। এই কারণেই বলা হয়: 'দ্বরাবতু দ্বরাবতুমা দ্বরাবতুম দ্বরাবতি দ্বরাবতুমা দ্বরাবতুন্না'—এখানে 'দ্বরাবতুমা' দুইবার উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি হলো: 'হুয়া হুমা হুম হিয়া হুমা হুন্না আন্তা আন্তুমা আন্তুম আন্তি আন্তুমা আন্তুন্না'—এখানেও দ্বিবচন দুটি উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে 'আনা নাহনু' এর বিষয়টি ভিন্ন; কারণ সেখানে 'আনা নাহনু' বলে 'নাহনু' দুইবার উল্লেখ করা হয় না। "এবং" তিনি সমতা রক্ষা করেছেন "সংবাদ প্রদানকারী রূপগুলোর (উত্তম পুরুষ) মধ্যে" অর্থাৎ যেভাবে সম্বোধিত পুরুষ ও স্ত্রীর দ্বিবচনের মধ্যে সমতা রক্ষা করেছেন তেমনি; অর্থাৎ বক্তা নিজে একা হোক, সে পুরুষ হোক বা স্ত্রী, উভয় ক্ষেত্রে 'দ্বরাবতু' বলা হয়। আর তার সাথে অন্য কেউ থাকলে, চাই তারা পুরুষ হোক বা স্ত্রী, দ্বিবচন হোক বা বহুবচন; সব ক্ষেত্রেই 'দ্বরাবনা' বলা হয়। "দ্বিবচনের ব্যবহার কম হওয়ার কারণে" একবচনের তুলনায়; আর এর বিধান হলো এর অস্তিত্ব লাভের জন্য দুটি সদৃশ বস্তুকে একটির সাথে অন্যটি যুক্ত করার প্রয়োজন হয়, যা একবচনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না। বহুবচনের তুলনায়ও দ্বিবচনের ব্যবহার কম কারণ এতে প্রশস্ততা নেই; কেননা এটি প্রকৃতপক্ষে কেবল দুইয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়, বহুবচনের বিষয়টি তার বিপরীত। কারণ স্বল্পতার বহুবচন (জমা কিল্লাত)-এর রূপ তিন, চার, পাঁচ, ছয় থেকে সাত ও দশ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। আর আধিক্যের বহুবচন (জমা কাসরাত) দশের অধিক যে কোনো সংখ্যা পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। সুতরাং বহুবচন যে ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তাতে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই, তাই এতে প্রশস্ততা ও ব্যবহারের আধিক্য রয়েছে যা দ্বিবচনে নেই। সারকথা হলো, দ্বিবচনের রূপে এক ধরনের সংকীর্ণতা রয়েছে যা বহুবচনে নেই, আর তা হলো উদ্দেশ্যকে নির্দিষ্ট করে দুইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা এবং এতে স্পষ্ট কষ্টসাধ্যতা রয়েছে। পক্ষান্তরে বহুবচনের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যটি অবারিত থাকে। আর যেহেতু দ্বিবচনের ব্যবহার কম, তাই এতে অস্পষ্টতার পরোয়া করা হয়নি। একবচন ও বহুবচনের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ দ্বিবচনের তুলনায় এ দুটির ব্যবহার যেহেতু বেশি, তাই এগুলোতে অস্পষ্টতা রাখা সমীচীন মনে করা হয়নি। "এবং" তিনি এ দুটির দ্বিবচনের মধ্যেও সমতা রক্ষা করেছেন কারণ "সর্বনামগুলো সংক্ষিপ্তকরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে"। উদাহরণস্বরূপ 'হুমা' শব্দটি 'যাইদানি' অপেক্ষা অধিক সংক্ষিপ্ত। সুতরাং দুটি বিষয়ের মধ্যে সমতা রক্ষা করা যাতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা রূপ নির্ধারণ না করতে হয়, তা সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। "এবং" তিনি উত্তম পুরুষের রূপগুলোর মধ্যে সমতা রক্ষা করেছেন "উত্তম পুরুষের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা তৈরি না হওয়ার কারণে"; কারণ বক্তাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় অথবা তার কণ্ঠস্বর শোনা যায়, ফলে সে পুরুষ না স্ত্রী, একজন না একাধিক—তা জানা যায় যেমনটি সামনে আসবে। তিনি অনুপস্থিত পুরুষ ও অনুপস্থিত স্ত্রীর দ্বিবচনের মধ্যে সমতার কথা উল্লেখ করেননি, কারণ সম্বোধিত পুরুষ ও স্ত্রীর দ্বিবচনের মধ্যে সমতার উল্লেখ করাই যথেষ্ট ছিল অথবা সর্বনামের আলোচনায় তা উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছেন যেহেতু সেখানে এ নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা নেই। আর সম্বোধিত পুরুষ ও স্ত্রী এবং উত্তম পুরুষের দ্বিবচনের ক্ষেত্রে যেহেতু আলোচনার অবকাশ ছিল, তাই তিনি এখানে সমতাবিধানসহ সেগুলোর বিধান পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আনুষঙ্গিক আলোচনার মাধ্যমে এটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি।

--------------------------------------------

[আল-ফালাহ শারহুল মারাহ] ইবনুল কামাল পাশা রচিত

"একই জাতীয় হওয়ার কারণে যেমনটি" 'মুসলিমাত' শব্দে উভয়টি সমজাতীয় ছিল; কারণ এ দুটির একটি হলো 'তা' এবং দ্বিতীয়টি 'নুন'। "ক্রিয়ার ভার হওয়ার কারণে, যা 'হুবলায়াত'-এর বিপরীত", কারণ শব্দ হালকা হওয়ার কারণে এবং সমজাতীয়তা না থাকায় সেখানে দুটি চিহ্নের একটি বিলুপ্ত করা হয়নি। কেননা সেখানে দুটি চিহ্নের একটি হলো 'ইয়া' যা আলিফ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। আর এটি পরিবর্তিত হওয়ার কারণ হলো, যদি পরিবর্তিত না করা হতো তবে দুই সাকিন বর্ণ একত্র হওয়ার কারণে বিলুপ্তি আবশ্যক হতো। আর 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তন করা হয়নি এর ভার হওয়ার কারণে, আর দ্বিতীয় চিহ্নটি হলো 'তা'। "এবং তিনি সমতা বিধান করেছেন" অর্থাৎ শব্দগত কোনো পার্থক্য করেননি "সম্বোধিত পুরুষ ও সম্বোধিত স্ত্রীবাচক দ্বিবচনের মধ্যে", যেখানে উভয় ক্ষেত্রে বলা হয়: 'দ্বরাবতুমা'। "এবং" সমতা রক্ষা করেছেন "উত্তম পুরুষের রূপগুলোর (ইখবারাত) মধ্যে"; অর্থাৎ বক্তা নিজে। কিয়াস বা নিয়মানুযায়ী উত্তম পুরুষের রূপ ছয়টি হওয়া উচিত ছিল: পুরুষের জন্য তিনটি—একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন, এবং স্ত্রীর জন্য তদ্রূপ তিনটি। কিন্তু পুরুষ ও স্ত্রীর একবচনের মধ্যে সমতা রক্ষা করে উভয় ক্ষেত্রে 'দ্বরাবতু' বলা হয়েছে। আর অবশিষ্ট চারটির মধ্যে সমতা রক্ষা করে সেগুলোর ক্ষেত্রে 'দ্বরাবনা' বলা হয়েছে। "দ্বিবচনের ব্যবহার কম হওয়ার কারণে" অর্থাৎ সম্বোধিত পুরুষ ও স্ত্রীর দ্বিবচন একবচনের তুলনায় কম ব্যবহৃত হয়। আপনি যদি বলেন: যখন দ্বিবচনের ক্ষেত্রে এ দুটির মধ্যে সমতা রক্ষা করা হয়েছে, তখন আপনার বর্ণিত কারণে বহুবচনের ক্ষেত্রেও সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব ছিল। আমি বলব: বহুবচনের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা হয়নি যাতে রূপের ভিন্নতা সংখ্যার কম বা বেশির কারণে বহুবচনের অর্থের ভিন্নতার প্রমাণ হয়। দ্বিবচনের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এর অর্থ কম বা বেশি হওয়ার কারণে পরিবর্তিত হয় না, বরং এটি সুনির্দিষ্টভাবে দুইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; এমনই বলা হয়েছে। "এবং সর্বনামগুলো সংক্ষিপ্তকরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে" অর্থাৎ তারা পুরুষবাচক দ্বিবচন ও স্ত্রীবাচক দ্বিবচনের জন্য একটিই সর্বনাম 'আন্তুমা' নির্ধারণ করেছেন সংক্ষিপ্তকরণের জন্য। যখন দ্বিবচনদ্বয়ের সর্বনাম এক হয়েছে, তখন তাদের প্রকাশ্য রূপও এক হওয়া আবশ্যক ছিল, আর তা হলো 'দ্বরাবতুমা'; কারণ সর্বনাম প্রকাশ্য শব্দের স্থলাভিষিক্ত। তদ্রূপ তারা উত্তম পুরুষের ক্ষেত্রে পুরুষ একবচন ও স্ত্রী একবচনের জন্য একটি সর্বনাম 'আনা' নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের দ্বিবচন ও বহুবচনের জন্য অন্য একটি সর্বনাম 'নাহনু' নির্ধারণ করেছেন সংক্ষিপ্তকরণ ও সংক্ষেপ করার জন্য। যখন উত্তম পুরুষের সর্বনাম এই দুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ হলো, তখন প্রকাশ্য শব্দও দুটি রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ল, আর তা হলো 'দ্বরাবতু' ও 'দ্বরাবনা'; কারণ সর্বনাম প্রকাশ্য শব্দের স্থলাভিষিক্ত, বিষয়টি বুঝে নিন। সুতরাং লেখকের কথা: "এবং সর্বনামগুলো সংক্ষিপ্তকরণের জন্য তৈরি করা হয়েছে"—এটি দ্বিবচনদ্বয়ের সমতা এবং উত্তম পুরুষের রূপগুলোর সমতা উভয়টির জন্যই দলিল। যদিও বাহ্যিক বর্ণনাভঙ্গি থেকে মনে হতে পারে যে এটি কেবল উত্তম পুরুষের রূপগুলোর জন্য দলিল। "এবং অস্পষ্টতা না থাকা" অধিকাংশ ক্ষেত্রে শ্রোতার নিকট "উত্তম পুরুষের বর্ণনায়"; কারণ সংবাদ প্রদানকারী বক্তাকে অধিকাংশ অবস্থায় দেখা যায়, ফলে সে পুরুষ না স্ত্রী, দ্বিবচন না বহুবচন—তা জানা যায়। অথবা তার কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো আলামত বা ইঙ্গিতের মাধ্যমে তা জানা যায়।