(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
المعجزة الكبرى القرآن   (محمد أبو زهرة)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: المعجزة الكبرى القرآن

المؤلف: محمد بن أحمد بن مصطفى بن أحمد المعروف بأبي زهرة (ت 1394هـ)

الناشر: دار الفكر العربي

عدد الصفحات: 432

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মহাসম্মোহনী মুজিজা কুরআন   (মুহাম্মদ আবু জাহরা)

বিভাগ: কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান এবং তাফসীর শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: মহাসম্মোহনী মুজিজা কুরআন

লেখক: মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুস্তফা বিন আহমাদ, যিনি আবু জাহরা নামে পরিচিত (মৃত্যু ১৩৯৪ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-আরাবি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمات

‌‌الافتتاحية

…

الافتتاحية:

بسم الله الرحمن الرحيم

{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجًا، قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا، مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا، وَيُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا، مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِنْ يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا} [الكهف: 1-5] .

والصلاة والسلام على محمد الذي أرسل للعالمين بشيرًا ونذيرًا، وأنزل عليه الكتاب المبين حجة باقية شامخة إلى يوم الدين. ورضي الله عن صحابته الأكرمين، الذين بلغوا من بعده شريعة القرآن، ومعه العدل والقسطاس المستقيم.

1- أما بعد: فقد اتجهت النفس متسامية إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أتعرَّف سيرته الطاهرة العطرة لأقتبس من نور هديه، وأتنسَّم نسيم عرفه، ولا شاهد إرهاصات النبوة، بل الإعجاز في حياته الأولى، كما أيده الله تعالى بالمعجزات في حياته الثانية بعد أن بعث رحمة للعالمين، وقد تابعنا حياته عليه السلام الأولى، ثم تسامينا إلى متابعة حياته الثانية بعد أن نادَى في الجزيرة العربية بصوته القوي العميق يدعو إلى التوحيد في وسط الوثنية، وهو يصبر ويصابر، ويجاهد ويناضل، ويلاقي الأذى، والمؤمنون الصادقون الذين معه يعذَّبون، وقلوبهم بالإيمان لا ينطقون بالكفر، ولو مزّق الأذى أجسامهم، وطواغيت الشرك يتمتعون بالإيذاء، بينما أهل الإيمان يرضون بالعذاب عن الكفران، وقد أخذ النبي من بعد ذلك يعرض نفسه على القبائل، تمهيدًا لبناء دولة الإسلام الفاضلة في غير مكة، وأخذ النور يسري في ظلمات الجاهلية منبثقًا من مكة، وإن لم يستضئ أهلها بنوره لعمى البصائر، {فَإِنَّهَا لَا تَعْمَى الْأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ} [سورة الحج: 46] .

والمعجزة الخالدة التي يتحدَّى بها قريشًا وسائر العرب هي "القرآن الكريم"، رأينا من مساوقة الحوادث أن نتكلم في هذه المعجزة الكبرى، على أن يكون كلامنا فيها تبعيًّا وليس أصليّا، وبالعرض لا بالذات.
‌‌উপক্রমনিকা

‌‌প্রারম্ভিকা

…

প্রারম্ভিকা:

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

{সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি; যা সুপ্রতিষ্ঠিত, যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠোর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিতে পারেন, যারা সৎকর্ম করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান; সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে। আর তিনি তাদেরকে সতর্ক করতে পারেন যারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না; তাদের মুখ থেকে নির্গত হওয়া শব্দটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল মিথ্যাই বলছে।} [আল-কাহফ: ১-৫] ।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি, যাকে বিশ্বজগতের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠানো হয়েছে এবং যাঁর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে সুস্পষ্ট কিতাব, যা কিয়ামত পর্যন্ত এক অবিনশ্বর ও সমুন্নত দলিল হিসেবে বিদ্যমান থাকবে। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর সম্মানিত সাহাবীবৃন্দের প্রতি, যারা তাঁর পর কুরআনের শরীয়ত এবং সেই সাথে ইনসাফ ও সুপ্রতিষ্ঠিত মানদণ্ড পৌঁছে দিয়েছেন।

১- অতঃপর: আমার মন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র ও সুগন্ধময় সীরাত বা জীবনচরিত সম্পর্কে জানার জন্য এক উচ্চতর আকাঙ্ক্ষায় ধাবিত হয়েছে, যেন আমি তাঁর হিদায়াতের আলো থেকে কিছু গ্রহণ করতে পারি এবং তাঁর পবিত্র সৌরভ আস্বাদন করতে পারি। আমি নবুওয়াতের প্রারম্ভিক নিদর্শনসমূহ, বরং তাঁর নবুওয়াত-পূর্ব জীবনের অলৌকিকত্ব প্রত্যক্ষ করতে চেয়েছি, ঠিক যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরণের পর তাঁর জীবনের পরবর্তী অংশে বিভিন্ন মুজিযা বা অলৌকিক নিদর্শনের মাধ্যমে তাঁকে শক্তিশালী করেছেন। আমরা তাঁর জীবনের প্রথম অংশ অনুসরণ করেছি, অতঃপর তাঁর জীবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুসরণের দিকে ধাবিত হয়েছি, যখন তিনি আরব উপদ্বীপে তাঁর বলিষ্ঠ ও গভীর কণ্ঠে পৌত্তলিকতার মাঝে তাওহীদের বা একত্ববাদের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অবলম্বন করেছেন, জিহাদ ও সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এবং অশেষ দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন। আর তাঁর সাথে থাকা সত্যনিষ্ঠ মুমিনদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল, কিন্তু তাদের অন্তর ঈমানে ভরপুর থাকায় তারা কুফরি বাক্য উচ্চারণ করেনি, এমনকি যদিও নির্যাতনে তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল। শিরকের তাগুতরা যখন নির্যাতন উপভোগ করছিল, তখন ঈমানদাররা কুফরির চেয়ে বরং নির্যাতন সহ্য করে নেয়াকেই পছন্দ করেছিলেন। এরপর নবী (সা.) মক্কার বাইরে ইসলামের একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন গোত্রের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করতে শুরু করেন। মক্কা থেকে নির্গত সেই আলো জাহেলিয়াতের অন্ধকারের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে, যদিও মক্কাবাসীরা তাদের অন্তর্দৃষ্টির অন্ধত্বের কারণে সেই আলোয় আলোকিত হতে পারেনি। {বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না, বরং বক্ষস্থিত হৃদয়সমূহ অন্ধ হয়।} [সূরা আল-হাজ্জ: ৪৬] ।

আর যে চিরন্তন মুজিযার মাধ্যমে তিনি কুরাইশ এবং সমগ্র আরব জাতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন, তা হলো "আল-কুরআনুল কারীম"। ঘটনাক্রমের পরিক্রমায় আমরা এই মহান মুজিযা নিয়ে আলোচনা করা সঙ্গত মনে করেছি; তবে আমাদের এই আলোচনাটি হবে আনুষঙ্গিক বা গৌণ, মৌলিক নয়; এবং এটি আসবে প্রসঙ্গক্রমে, স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে নয়।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
2- ولكن ما إن قاربنا نوره حتى بهرنا ضياؤه، واستغرض نفوسنا سناؤه، وانتقلت نفوسنا إلى الاتجاه إليه قاصدين ذاته أصلًا، لا تبعًا للسيرة، ولو كانت سيرة من نزل عليه القرآن وخاطب في ظله الأجيال، سيدنا الهادي رسول الله رب العالمين.

وقد حاولنا أن نملأ نفوسنا من ينابيع الهداية فيه، وأن نشفي أمراض قلوبنا بما فيه من دواء، وأن نكشف الغمة بما فيه من حكم وعبر.

لذلك صار القرآن وعلم القرآن، وكل ما يتعلق به هدفًا لنا مقصودًا، وأملًا منشودًا لا نبغي سواه، ولا نطلب غيره.

فكان لزامًا علينا أن نخص كتاب الله ببحث ودراسة، وأن نخرج من ذلك البحث كتابًا نرجو أن يكون قيمًا في ذاته، وإن كان لا يعلو إلى حيث يكون مناسبًا لموضوعه، فموضوعه أعلى من أن تناهده همتنا، وأن تتسامى إليه عزيمتنا؛ لأنه كتاب الله تعالى، وأنَّى لضعيف مثلي أن يصل إلى وصفه أو التعريف به، إنه فوق منال أعلى القوى إدراكًا، وأعظم النفوس إشراقًا.

"أ" وقد اتجهت ابتداء إلى بيان نزول القرآن منجمًا، وحكمته مستمدًّا هذه الحكمة من نص القرآن، وما أحاط بالتنزيل ووجوب حفظه في الصدور، ثم بينت أنه كتب في حياة الرسول، وأنَّ النبي عليه السلام كان يملي الآية أو الآيات التي تنزل عليه على كتَّاب الوحي، حتى إذا تمَّ نزوله كانت كتابته قد تمَّت، وقراءته بهذا الترتيب الذي نراه في الآيات والسور قد كملت، وقد تكلمت من بعد ذلك في جمع المكتوب في عهد الصديقين أبي بكر وعمر -رضي الله تعالى عنهما، ثم في عهد ذي النورين عثمان رضي الله تعالى عنه.

"ب" وقد اتجهت إلى الحق في وسط ما أثاره بعض العلماء من خلافات حول أحرف القرآن الكريم، وقراءته ونزوله، وقد أسرف بعض العلماء على أنفسهم وعلى الحق، فأثاروا أقوالًا باطلة ما كان من المعقول إثارتها، حتى إنَّ بعض المغرمين بالجمع ونقل الخلاف قالوا أمورًا تخالف نص القرآن الكريم، فيما ذكر من نزلوه، وتهافتت الأقوال حتى وجدنا الذين لا يرجون للإسلام وقارًا يتعلقون بأقوال ذكرت لهؤلاء، كقول بعضهم: إن هناك رأيًا يقول: إن القرآن نزل على قلب النبي صلى الله عليه وسلم بالمعنى واللفظ للنبي، ونسوا قوله تعالى معلمًا للنبي صلى الله عليه وسلم القراءة والنطق بها: {لَا تُحَرِّكْ بِه
২- কিন্তু যখনই আমরা তাঁর জ্যোতির নিকটবর্তী হয়েছি, তখনই তাঁর দ্যুতি আমাদের অভিভূত করেছে এবং তাঁর মহিমা আমাদের সত্তাকে আবিষ্ট করেছে। আমরা মূলত তাঁর সত্তাকেই লক্ষ্য বানিয়ে তাঁর দিকে ধাবিত হয়েছি, কেবল জীবনচরিতের অনুসরণে নয়; যদিও তা এমন এক মহান সত্তার জীবনচরিত যাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং যাঁর ছায়াতলে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে সম্বোধন করেছেন—তিনি আমাদের পথপ্রদর্শক নেতা, বিশ্বজগতের রবের রাসূল।

আমরা চেষ্টা করেছি তাঁর হিদায়াতের উৎসধারা থেকে আমাদের অন্তরসমূহকে পরিপূর্ণ করতে, তাঁর মাঝে বিদ্যমান ঔষধ দ্বারা আমাদের হৃদয়ের ব্যাধিগুলোর নিরাময় করতে এবং তাঁর হিকমত ও উপদেশমালার মাধ্যমে সকল সংকট দূর করতে।

এই কারণে কুরআন, কুরআনের ইলম এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে এবং আকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে, যা ব্যতিরেকে আমরা অন্য কিছু কামনা করি না এবং অন্য কিছুর অনুসন্ধান করি না।

তাই আল্লাহর কিতাবকে বিশেষ গবেষণা ও পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত করা আমাদের জন্য অপরিহার্য ছিল; আর সেই গবেষণার ফসল হিসেবে এমন একটি কিতাব রচনা করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল যা নিজস্ব সত্তায় মূল্যবান হবে বলে আমরা আশা করি—যদিও তা বিষয়ের গাম্ভীর্য অনুযায়ী যথাযথ উচ্চতায় উন্নীত হতে পারবে না। কারণ এর বিষয়বস্তু আমাদের হিম্মতের মোকাবিলায় অনেক ঊর্ধ্বে এবং আমাদের সংকল্পের নাগালের বাইরে। এটি মহান আল্লাহর কিতাব; আর আমার মতো একজন দুর্বল মানুষের পক্ষে এর যথাযথ বর্ণনা বা পরিচয় প্রদান করা কীভাবে সম্ভব? এটি তো অনুধাবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শক্তি এবং আলোকপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে মহত্তম আত্মাগুলোরও নাগালের ঊর্ধ্বে।

"ক" শুরুতে আমি কুরআনের পর্যায়ক্রমিক অবতরণ এবং কুরআনের অকাট্য ভাষ্য থেকে সংগৃহীত এর হিকমত বা রহস্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছি। সেই সাথে ওহী অবতরণকালীন পরিস্থিতি এবং এটি অন্তরে মুখস্থ রাখার আবশ্যকতা বর্ণনা করেছি। অতঃপর আমি স্পষ্ট করেছি যে, এটি রাসূলুল্লাহর জীবদ্দশাতেই লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল এবং নবী (আলাইহিস সালাম) তাঁর ওপর অবতীর্ণ আয়াত বা আয়াতসমূহ ওহী লেখকদের দিয়ে লিখিয়ে নিতেন। ফলে যখন ওহী অবতরণ সম্পন্ন হয়েছিল, তখন এর লিপিবদ্ধকরণও সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং আয়াত ও সূরাসমূহের যে বিন্যাস আমরা এখন দেখি, সেই বিন্যাস অনুযায়ী এর তিলাওয়াতও পূর্ণতা পেয়েছিল। এরপর আমি সিদ্দীক আকবর আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগে এবং পরবর্তীতে যুন-নূরাইন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে সংগৃহীত পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

"খ" কুরআনে কারিমের অক্ষরসমূহ (আহরুফ), এর তিলাওয়াত ও অবতরণ সম্পর্কে কোনো কোনো আলিম যেসব মতভেদ সৃষ্টি করেছেন, তার মধ্যে আমি সত্য ও সঠিক বিষয়টি তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছি। কোনো কোনো আলিম নিজেদের ওপর ও সত্যের ওপর অবিচার করেছেন এবং এমন কিছু অসার উক্তি উত্থাপন করেছেন যা উত্থাপন করা যুক্তিগ্রাহ্য ছিল না। এমনকি সংকলন ও মতভেদ বর্ণনার প্রতি অতি অনুরাগী কেউ কেউ এমন সব কথা বলেছেন যা কুরআনের অবতরণ সম্পর্কে কুরআনের স্পষ্ট ভাষ্যেরই পরিপন্থী। এই উক্তিগুলোর অসারতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যারা ইসলামের মর্যাদাকে পরোয়া করে না, তারা এই সমস্ত উক্তির ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছে। যেমন কারো কারো এই বক্তব্য যে: একটি মত এমনও আছে যে কুরআন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরে কেবল অর্থের সাথে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এর শব্দসমূহ ছিল নবীর নিজের। অথচ তারা মহান আল্লাহর সেই বাণী ভুলে গেছে যা নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিরাআত ও উচ্চারণের শিক্ষা দেওয়ার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে: {আপনি এই কুরআন নিয়ে দ্রুত পড়ার জন্য আপনার জিহ্বা সঞ্চালন করবেন না...}
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ، إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ، ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة: 16-19] ، فإن ذلك صريح في أنَّ القرآن نزل على النبي صلى الله عليه وسلم باللفظ والمعنى والقراءة، وأنَّ ذلك عليه إجماع المسلمين، والعلم به علم ضروري، ومن يخالفه يخرج من إطار الإسلام، وقد صرَّح القرآن الكريم بأنَّ الله تعالى هو الذي رتل القرآن، فقال تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا} [الفرقان: 32] .

"ج" ولقد تكلمنا من بعد ذلك في إعجاز القرآن، وبيَّنَّا وجوه الإعجاز، ودفعنا القول بالصرفة دفعًا، ثم تكلمنا في علم الكتاب، وجدل القرآن، وتفسير القرآن، ومناهج التفسير، وبيَّنَّا التفسير بالأثر، ومقامه من التفسير بالرأي، وأنَّ الرأي يجب ألَّا يناقض المأثور، وأن التفسير باللغة والأثر مفتاح التفسير بالرأي.

"د" وتكلمنا في الغناء بالقرآن وتحريمه، والتغنِّي الجائز المأثور، وإبطال ما سواه، وسرنا في طرق الحق الذي لا عوج فيه ولا أمت.

3- وإنا نحمد الله تعالى على ما اختبرنا به في أثناء كتابه ما كتبناه، لقد اختبرنا الله تعالى في أول كتابة ما كتبنا عن القرآن، فانقطعنا عن الاتصال بالصحف السيارة، نخاطب المسلمين من فوق منبرها، وقطعنا عن المجلات العلمية نوجّه الفكر الإسلامي من طريقها، ومن كل طرق الإعلام فلا نصل إليها، وكان الهمّ الأكبر أن انقطعنا عن دروسنا، وعن المحاضرات العامة.

ولكن القرآن آنسنا في وحدتنا، وأزال غربتنا، فكان العزاء النفسي والجلاء الروحي، واختبرنا الله تعالى بالضر كما اختبر نبيه أيوب؛ إذ قال: {أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ} [الأنبياء: 83] ، وإنه وإن تشابه المرض فإنه يختلف المقام، فهذا نبي يوحى إليه، ونحن من الأتباع، ونرجو أن نكون من الأبرار في اتباع النبيين، لزمنا المرض المقعد نحو شهرين، فكان ألم الابتعاد عن القرآن أكبر من ألم المرض الممضّ، ولقد منَّ الله تعالى بالشفاء، فخرجنا من الداء العقام، وما منعتنا وعثاء المرض، فعدنا إلى القرآن نقبس من نوره، ونعيق من عرفه، هو أنس المستوحش، وسمير المستغرب، فأنسنا بعد طول الغياب، ومنحنا الله تعالى به العافية، فوفقنا لأنَّ نقطع كل ما أردنا عرضه في مدة المرض، وكأنَّا في مجموع ما بلينا في طول المدة أصحَّاء في أبداننا؛ لأنه سلمت نفوسنا من السقام، بفضل القرآن.
আপনার জিহ্বা নাড়বেন না এটি (অহী) দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য। নিশ্চয় এর সংরক্ষণ এবং পাঠ করানো আমাদেরই দায়িত্ব। অতএব আমরা যখন তা পাঠ করি, তখন আপনি তার পাঠ অনুসরণ করুন। এরপর নিশ্চয় এর ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব আমাদেরই। [আল-কিয়ামাহ: ১৬-১৯]। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর শব্দ, অর্থ এবং কিরাআতসহ অবতীর্ণ হয়েছে। এর ওপর মুসলমানদের ঐকমত্য রয়েছে এবং এই জ্ঞান রাখা অপরিহার্য। যে এর বিরোধিতা করবে, সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে। কুরআন মজিদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ নিজেই কুরআন সুন্দর বিন্যাসে পাঠ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর কাফিররা বলে, কেন তার প্রতি কুরআন একবারে নাযিল করা হলো না? এভাবেই (অল্প অল্প করে নাযিল করেছি) যাতে এর মাধ্যমে আমি আপনার অন্তরকে সুদৃঢ় করি এবং আমি তা স্পষ্টভাবে সুন্দর বিন্যাসে পাঠ করেছি।" [আল-ফুরকান: ৩২]।

"গ" এরপর আমরা কুরআনের মুজিজা (অলৌকিকত্ব) নিয়ে আলোচনা করেছি, অলৌকিকত্বের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করেছি এবং ‘সারফা’ (মানুষকে কুরআন তৈরিতে অক্ষম করার মতবাদ) মতবাদকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছি। এরপর আমরা আসমানি কিতাবের জ্ঞান, কুরআনের বিতর্ক বা যুক্তিপদ্ধতি, কুরআনের তাফসীর এবং তাফসীরের পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করেছি। আমরা বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর (তাফসীর বিল আসার) এবং যুক্তিভিত্তিক তাফসীরের (তাফসীর বির রায়) বিপরীতে এর অবস্থান স্পষ্ট করেছি। এটিও ব্যাখ্যা করেছি যে, যুক্তি যেন কখনো বর্ণিত রিওয়ায়াতের পরিপন্থী না হয় এবং ভাষা ও রিওয়ায়াতই হলো যুক্তিভিত্তিক তাফসীরের চাবিকাঠি।

"ঘ" আমরা কুরআনকে গানের সুরে গাওয়া এবং এর নিষিদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়া অনুমোদিত সুমধুর আবৃত্তি এবং তা ছাড়া অন্য সবকিছুর অসারতা নিয়ে কথা বলেছি। আমরা সত্যের পথে চলেছি, যাতে কোনো বক্রতা বা অমসৃণতা নেই।

৩- আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি সেই পরীক্ষার জন্য, যা তিনি তাঁর এই কিতাব রচনার সময় আমাদের নিয়েছেন। কুরআন নিয়ে আমাদের এই পাণ্ডুলিপি রচনার শুরুতে আল্লাহ তাআলা আমাদের পরীক্ষা করেছেন। আমরা সংবাদপত্রগুলোর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম, যার মাধ্যমে আমরা মুসলমানদের উদ্দেশে কথা বলতাম। আমরা বৈজ্ঞানিক ও তাত্ত্বিক ম্যাগাজিনগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিলাম, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা ইসলামি চিন্তাধারাকে দিশা দিতাম। প্রচারের সকল মাধ্যম থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন ছিলাম, এমনকি সেখানে পৌঁছানোর কোনো উপায় ছিল না। আমাদের বড় চিন্তা ছিল যে, আমরা আমাদের পাঠদান এবং সাধারণ বক্তৃতা থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম।

কিন্তু কুরআন আমাদের একাকীত্বের সাথী হয়েছে এবং আমাদের নিঃসঙ্গতা দূর করেছে। এটি ছিল আমাদের মানসিক সান্ত্বনা ও আধ্যাত্মিক স্বচ্ছতা। আল্লাহ তাআলা আমাদের রোগ-ব্যথা দিয়ে পরীক্ষা করেছেন যেমন তিনি তাঁর নবী আইয়ুব (আলাইহিস সালাম)-কে পরীক্ষা করেছিলেন; যখন তিনি বলেছিলেন: "আমি রোগাক্রান্ত হয়েছি আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু" [আল-আম্বিয়া: ৮৩]। যদিও রোগের ধরন একই হতে পারে, কিন্তু মর্যাদার পার্থক্য রয়েছে। তিনি ছিলেন একজন নবী যার প্রতি অহী আসত, আর আমরা হলাম সাধারণ অনুসারী। আমরা নবীদের অনুসরণের মাধ্যমে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা রাখি। প্রায় দুই মাস অসুস্থতা আমাদের শয্যাশায়ী করে রেখেছিল। কুরআন থেকে দূরে থাকার বেদনা এই যন্ত্রণাদায়ক রোগের যন্ত্রণার চেয়েও তীব্র ছিল। আল্লাহ তাআলা সুস্থতা দান করেছেন, ফলে আমরা মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পেয়েছি। রোগের ক্লান্তি আমাদের দমাতে পারেনি। আমরা আবারও কুরআনের দিকে ফিরেছি যাতে এর আলো থেকে আলো গ্রহণ করতে পারি এবং এর সৌরভ আস্বাদন করতে পারি। এটি একাকী বোধ করা ব্যক্তির বন্ধু এবং নিঃসঙ্গ মুসাফিরের সাথী। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর কুরআন আমাদের আনন্দ দিয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে আমাদের সুস্থতা দান করেছেন। তিনি আমাদের তাওফিক দিয়েছেন যাতে অসুস্থতার সময়ের সকল নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করতে পারি। মনে হচ্ছিল এই দীর্ঘ সময়ের অসুস্থতার ধকল সত্ত্বেও আমরা শারীরিকভাবে সুস্থই ছিলাম; কারণ কুরআনের বদৌলতে আমাদের আত্মা রোগমুক্ত ছিল।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
واختبرنا الله تعالى من بعد بهم واصب بأن أصاب رفيقة حياتي بكسر أقعدها، وأقعدني بالغم الشديد والكرب البعيد الأثر، العميق في النفس.

ولكن أنس القرآن خفف همي، وكشف غمي؛ لأنه ملأها إيمانًا بقضاء الله وقدره، ووضع في نفوسنا الصبر الجميل من غير أنين ولا ضجر، ولكن برضا لما أراد، وهو اللطيف الخبير، وهو الشافي في المرض، والجابر في الكسر، والمعين في الشدة، ولا رجاء في غيره.

هذه أمور جرت لنا، ونحن نكتب في المعجزة الكبرى، فما عوَّقت وما منعت، وما أيأست.

اللهم احفظنا بالقرآن، وآنسنا بنوره، ووفقنا للقيام بحقِّه آحادًا وجماعات، وإنك وحدك القائم على كل شيء، اللهم قنا شر نفوسنا، واحفظ الأمة من فساد يعم، وشر يطم، اللهم إنك عفوٌّ قدير فاعف عنا، ولا تؤاخذنا بما تكسب أيدينا، وارفع عنا المقت الذي حلَّ بنا، إنك عوننا وأنت نعم المعين.

محمد أبو زهرة

أول رمضان سنة 1390هـ.

31 أكتوبر سنة 1970م.

এরপর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এক দীর্ঘস্থায়ী কষ্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করলেন; তিনি আমার জীবনসঙ্গিনীকে এমন এক হাড়ভাঙ্গা আঘাত দিলেন যা তাকে শয্যাশায়ী করে দিল, আর আমাকেও গভীর বিষণ্ণতা ও সুদূরপ্রসারী এবং অন্তরের অন্তস্তলে প্রোথিত এক তীব্র কষ্টের মাধ্যমে স্থবির করে দিল।

কিন্তু কুরআনের সান্নিধ্য আমার দুশ্চিন্তা লাঘব করল এবং আমার বিষণ্ণতা দূর করে দিল; কারণ তা অন্তরকে আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি ঈমানে পরিপূর্ণ করে দিল এবং কোনো প্রকার আর্তনাদ বা বিরক্তি ছাড়াই আমাদের অন্তরে সুন্দর ধৈর্য স্থাপন করল; বরং যা তিনি চেয়েছেন তার প্রতি সন্তুষ্টির উদয় ঘটাল। আর তিনি পরম সূক্ষ্মদর্শী ও সর্বজ্ঞ, তিনিই অসুস্থতায় আরোগ্য দানকারী, বিপর্যয়ে জোড়া দানকারী এবং বিপদে সাহায্যকারী; তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে কোনো প্রত্যাশা নেই।

এই বিষয়গুলো আমাদের সাথে তখন ঘটছিল যখন আমরা মহা মোজেজা (আল-কুরআন) সম্পর্কে লিখছিলাম, কিন্তু তা কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি, নিবৃত্ত করেনি এবং হতাশও করেনি।

হে আল্লাহ! কুরআনের মাধ্যমে আমাদেরকে হিফাজত করুন, এর নূরের মাধ্যমে আমাদের প্রশান্তি দান করুন এবং একক ও সামষ্টিকভাবে এর হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি একাই সবকিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। হে আল্লাহ! আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং এই উম্মতকে সর্বব্যাপী ফাসাদ ও সর্বগ্রাসী অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও পরম শক্তিমান, অতএব আমাদের ক্ষমা করুন; আমাদের হাত যা অর্জন করেছে তার জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন না এবং আমাদের ওপর যে ক্রোধ নেমে এসেছে তা তুলে নিন। নিশ্চয়ই আপনি আমাদের সাহায্যকারী এবং আপনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী।

মুহাম্মদ আবু জাহরা

১লা রমজান, ১৩৯০ হিজরি।

৩১ অক্টোবর, ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ।

(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌تمهيد

المعجزة الكبرى

1- يسير الكون على سنن قد سنَّت، ونظمٍ قد أُحكِمَت، وارتباطٍ بين الأسباب والمسببّات العادية لا يتخلَّف، وإن تخلَّفت المسببات عن أسبابها ووجدت الأمور منفكة عن علتها، كالولد يولد من غير أبٍ، وكالحركة تجيء من جامد لا يتحرَّك كعصا،، ونار تنطفئ وقد أوقدت، إذا كان ذلك الانقطاع بين الأسباب العادية ومسبباتها حكم العقل بأن الذي فعل ذلك فوق الأسباب العادية ومسبباتها، ولو ساير العقل منطقه إلى أقصى مداه "وليس بعيدًا في حكم المنطق العقلي المستقيم الذي يصل إلى المدى من أقرَّ به"، فإنَّه لا بُدَّ واصل إلى أن الذي خرق العادات وخالف أساببها ومسبباتها لا بُدَّ أن يكون خالقها وموجدها، وإذا كان القصور العقلي لا يصل إلى هذه الغاية، فإنه لا بُدَّ واصل إلى أن خرق هذه العادات، لا بُدَّ أن يكون لغاية، وأنَّه إذا وجدت هذه الغاية وبينت مقاصدها، وعلم أنَّ ذلك الخرق لهذه الغاية تبين معه صدق ما يدعى، وأنه يعلم من وراء ذلك الخالق الحكيم، المسيطر على كل شيء، الذي يفعل ما يرد، ولا يقيده نظام خلقه، ولا عادات أوجدها.

لذلك كان الأمر الخارق للعادة حجة الصدق لمن يدَّعي أنه يتكلم عن الخالق الحكيم الفعَّال لما يريد؛ لأنه لا يغير العادات سواه، وإن الصادق يعلن دعواه، ويقيم ذلك برهانًا عليها، ويتحدَّى الناس أن يفعلوا مثلها، ويسمَّى في هذا الحال أنه معجزة.

ولذلك عرفوها بأنها: المرّ الخارق للعادة الذي يدَّعي به من جرى على يديه أن نبي من عند الله تعالى، ويتحداهم أن يأتوا بمثله إن كانوا صادقين، وأن المعجزة المادية تتحدَّى بنفسها مع ادِّعَاء الرسالة، فإن النار لا تنطفئ من تلقاء نفسها؛ إذ يلقى فيها إبراهيم عليه السلام فتكون بردًا وسلامًا عليه فلا يحترق، وكالعصا التي تتحرك وتتلوَّى كأنها ثعبان مبين، وليست سحرًا كما أدرك الساحرون، وكانوا أول المؤمنين، وكإبراء عيسى للأكمه والأبرص بإذن الله، وكإحيائه الموتى بإذن الله، فما كان له أن يطلب منهم أن يأتوا بمثلها، والقصور بَيِّن والعجز واضح، ومع ذلك فالتحدي قائم، والعجز ثابت، والحجة قائمة، وكان عليهم أن يؤمنوا بالحق إذا جاءهم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

শ্রেষ্ঠ মুজিজা

১- এই মহাবিশ্ব কিছু নির্ধারিত সুন্নাত বা বিধির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয় যা সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, এবং এমন এক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার ওপর চলে যেখানে সাধারণ কারণ ও ফলাফলের মধ্যকার সম্পর্ক কখনো ব্যাহত হয় না। তবে যদি কখনো ফলাফলগুলো তাদের কারণ থেকে বিচ্যুত হয় এবং বিষয়গুলো তাদের কার্যকারণ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়—যেমন পিতা ছাড়াই সন্তানের জন্ম হওয়া, অথবা লাঠির মতো জড় বস্তু থেকে নড়াচড়া তৈরি হওয়া, কিংবা প্রজ্বলিত আগুন নিভে যাওয়া—তবে সাধারণ কারণ ও ফলাফলের মধ্যকার এই বিচ্ছেদ দেখে বিবেক ফয়সালা দেয় যে, যিনি এটি করেছেন তিনি সাধারণ কারণ ও ফলাফলের ঊর্ধ্বে। বিবেক যদি তার যুক্তির চূড়ান্ত সীমা পর্যন্ত পৌঁছায় (আর সুস্থ বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি যা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়, তার জন্য এটি অসম্ভব কিছু নয়), তবে সে অবশ্যই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হবে যে, যিনি এই স্বাভাবিক প্রথা ভেঙেছেন এবং এর কারণ ও ফলাফলের বিরোধিতা করেছেন, তিনি অবশ্যই এর স্রষ্টা ও উদ্ভাবক। আর যদি বুদ্ধিবৃত্তিক সীমাবদ্ধতা এই চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারে, তবুও সে অবশ্যই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে যে, স্বাভাবিক প্রথা বা নিয়ম ভঙ্গের এই ঘটনার পেছনে অবশ্যই কোনো লক্ষ্য রয়েছে। যখন সেই লক্ষ্য প্রকাশ করা হয় এবং তার উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা করা হয়, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, প্রথা ভঙ্গের এই ঘটনার মাধ্যমে যা দাবি করা হচ্ছে তা সত্য। এর মাধ্যমে সেই মহাপ্রজ্ঞাবান স্রষ্টা সম্পর্কে জানা যায়, যিনি সবকিছুর ওপর আধিপত্যশীল, যিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন এবং তাঁর সৃষ্টির কোনো ব্যবস্থা বা তাঁর তৈরি কোনো নিয়ম তাঁকে সীমাবদ্ধ করতে পারে না।

সেজন্য প্রথা-বিরোধী বা অলৌকিক ঘটনা সেই ব্যক্তির সত্যতার দলিল হিসেবে গণ্য হয়, যিনি দাবি করেন যে তিনি সেই মহাপ্রজ্ঞাবান স্রষ্টার পক্ষ থেকে কথা বলছেন যিনি যা ইচ্ছা তা-ই করতে সক্ষম; কেননা তিনি ছাড়া আর কেউ স্বাভাবিক প্রথা বা নিয়ম পরিবর্তন করতে পারেন না। যখন একজন সত্যবাদী ব্যক্তি তাঁর দাবি ঘোষণা করেন এবং প্রথা-বিরোধী ঘটনাকে সেই দাবির প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন, এবং মানুষকে এর অনুরূপ কিছু করার চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন, তখন সেই অবস্থাকে 'মুজিজা' বলা হয়।

এ কারণেই তাঁরা মুজিজাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: এটি এমন এক প্রথা-বিরোধী বিষয় যাঁর হাতে এটি প্রকাশ পায় তিনি দাবি করেন যে তিনি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন নবী; এবং তিনি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন যে, তারা সত্যবাদী হলে যেন এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসে। বস্তুগত মুজিজা নবুওয়তের দাবির সাথে সাথে নিজেই একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করে। কেননা আগুন নিজে থেকে নিভে যায় না; যখন ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে তাতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তা তাঁর জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি দগ্ধ হননি। যেমন সেই লাঠি যা নড়াচড়া করছিল এবং কুণ্ডলী পাকিয়ে বড় সাপের রূপ ধারণ করেছিল; এটি কোনো জাদু ছিল না, যেমনটা জাদুকররা বুঝতে পেরেছিলেন এবং তারাই প্রথম ঈমান এনেছিলেন। ঠিক তেমনি আল্লাহর অনুমতিতে ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা এবং আল্লাহর অনুমতিতে মৃতকে জীবিত করা। তাঁর জন্য তাদের কাছে এর অনুরূপ কিছু দাবি করার প্রয়োজন ছিল না, কারণ মানুষের সীমাবদ্ধতা ও অক্ষমতা ছিল সুস্পষ্ট। তা সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান ছিল এবং অক্ষমতা প্রমাণিত ছিল, আর দলিলও সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। তাদের কর্তব্য ছিল সত্য যখন তাদের কাছে এসেছে, তখন তা মেনে নেওয়া ও বিশ্বাস করা।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
وهناك بجوار المعجزة المادية معجزة هي شيء قائم بذاته ثابت، ولكن الإعجاز فيه أمر لا يدرك بالحس، ولكن يدرك بالدراسة والفحص، وقد يدَّعي بعض من لا يسبر غوره، ويعرف أمره، أنه يستطيع أن يأتي بمثله، وما هو بمستطيع، وأنه في قدرته، وليس بقادر عليه، وهو من غرور النفس، أو ادِّعاء القدرة أو اللجاجة في الأفكار، والمباهتة المناهضة للحقائق.

وإن ذلك يكون في المعجزة التي تكون من نوع الكلام، وهي معجزة القرآن الكريم، فقد كان الغرور يوهم بعض المخاطبين به أن عندهم القدرة على الإتيان بمثله، فكان لا بُدَّ من كشف هذا الغرور، وإزالة تلك الغشية الباطلة، ليتبين وضح الحق، ولذلك طالهم الله تعالى بأن يأتوا بمثله إن كانوا صادقين في مثل قوله تعالى: {وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [سورة البقرة: 23] ، وتحداهم أن يأتوا بعشر سور مثله مفتريات، وقرَّر سبحانه أن البشر يعجزون عن أن يأتوا بمثله، فقال تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} [الإسراء: 88] .

2- وهنا يسأل سائل: لماذا كانت معجزة إبراهيم نارًا موقدة صارت بردًا وسلامًا، ومعجزة موسى عليه السلام كانت عصا صارت حية تسعى، وغيرها أيده الله به إلى تسع آيات كلها كانت مادية حسية، وكذلك كانت معجزة عيسى عليه السلام إبراء الأكمه والأبرص وإحياء الموتى بإذن الله، وإنزال مائدة من السماء، بل كانت ولادته ذاتها معجزة حسية؛ إذ ولد من غير أب، وتكلم في المهد صبيًّا، إذ قال: {إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا، وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا، وَبَرًّا بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا، وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا} [مريم: 30-33] .

لماذا كانت معجزات الأنبياء السابقة حسية على ذلك النحو، ومعجزة محمد صلى الله عليه وسلم معنوية، فقد كانت بيانًا يتلى، وذكرًا حكيمًا، يحفظ فيه بيان الشراع المحكمة الخالدة.

قبل أن نخوض في الإجابة عن السؤال الوارد في موضعه، نقرر أن كون المعجزة مادية حسية تبهر الأعين بادئ الرأي لا يدل على علوِّ المنزلة، أو عكسها، ولكنها حكمة الله تعالى العليم بكل شيء، القادر على كل شيء، والله تعالى فضل بعض الرسل على بعض، فمنهم من كلَّم الله ورفع بعضهم فوق بعض درجات، ولكن ليست
আর বস্তুগত মুজিযার পাশাপাশি সেখানে এমন এক মুজিযা রয়েছে যা স্বকীয় সত্তায় বিদ্যমান ও সুদৃঢ়, তবে এর অলৌকিকত্ব এমন এক বিষয় যা ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না; বরং তা অনুধাবন করতে হয় অধ্যয়ন ও পর্যালোচনার মাধ্যমে। যারা এর গভীরতা পরিমাপ করতে পারে না এবং এর স্বরূপ জানে না, তাদের কেউ কেউ দাবি করতে পারে যে সে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম, অথচ সে মোটেও সক্ষম নয়। সে ধারণা করতে পারে এটি তার সাধ্যায়ত্ত, অথচ সে এর ওপর শক্তি রাখে না। এটি মূলত নফসের ধোঁকা, অথবা সক্ষমতার মিথ্যা দাবি কিংবা চিন্তার ক্ষেত্রে হঠকারিতা এবং সত্যের বিরুদ্ধে একরোখা অপবাদ মাত্র।

আর এটি মূলত সেই মুজিযার ক্ষেত্রে ঘটে যা বাচনিক বা শব্দগত প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো পবিত্র কুরআনের মুজিযা। আত্মম্ভরিতা কিছু মানুষকে এই ভ্রান্ত ধারণায় ফেলেছিল যে, তারা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার ক্ষমতা রাখে। তাই এই দম্ভ উন্মোচন করা এবং এই বাতিলের আবরণ দূর করা অপরিহার্য ছিল, যাতে সত্যের স্পষ্টতা প্রকাশ পায়। এজন্যই মহান আল্লাহ তাদের প্রতি এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে, তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে যেন এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তা নিয়ে যদি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে, তবে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাহায্যকারীদের ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।” [সূরা আল-বাকরাহ: ২৩]। তিনি তাদের প্রতি এর অনুরূপ দশটি অলীক সূরা নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন। মহান আল্লাহ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, মানবজাতি এর অনুরূপ কিছু আনতে অক্ষম। মহান আল্লাহ বলেন: “বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।” [আল-ইসরা: ৮৮]।

২- এখানে জনৈক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন: কেন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মুজিযা ছিল প্রজ্জ্বলিত আগুন যা শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে গিয়েছিল, এবং মুসা আলাইহিস সালামের মুজিযা ছিল লাঠি যা সচল সাপে পরিণত হয়েছিল—তথা আল্লাহ তাঁকে যে নয়টি নিদর্শন দিয়ে শক্তিশালী করেছিলেন তার সবই ছিল বস্তুগত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য? একইভাবে ঈসা আলাইহিস সালামের মুজিযা ছিল জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা এবং আল্লাহর নির্দেশে মৃতকে জীবিত করা, আসমান থেকে দস্তরখান অবতীর্ণ করা; এমনকি তাঁর জন্মই ছিল এক ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মুজিযা, যেহেতু তিনি পিতা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং দোলনায় থাকা অবস্থায় শিশু হিসেবে কথা বলেছেন। যখন তিনি বলেছিলেন: “আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন আমি যেখানেই থাকি না কেন এবং আমাকে সালাত ও যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন যতদিন আমি জীবিত থাকি। আর আমাকে আমার মায়ের প্রতি সদাচারী করেছেন এবং আমাকে উদ্ধত ও হতভাগ্য করেননি। আমার ওপর শান্তি যেদিন আমি জন্মেছি, যেদিন আমি মারা যাব এবং যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব।” [মারইয়াম: ৩০-৩৩]।

কেন পূর্ববর্তী নবীদের মুজিযাসমূহ সেভাবে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ছিল, অথচ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিযা হলো বুদ্ধিগত বা অর্থগত? কেননা তা ছিল পঠিত এক বর্ণনা এবং এক প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ, যার মধ্যে সুদৃঢ় ও চিরন্তন শরীয়তের বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে।

যথাস্থানে উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা এটি নিশ্চিত করছি যে, মুজিযা বস্তুগত ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হওয়া যা প্রথম দেখায় দৃষ্টিকে ধাঁধিয়ে দেয়, তা উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ নয়, আবার এর বিপরীতও কিছু নয়। বরং এটি সব বিষয়ে সম্যক অবগত ও সব বিষয়ে সক্ষম মহান আল্লাহর এক প্রজ্ঞা। মহান আল্লাহ রাসূলগণের কাউকে কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন; তাঁদের মধ্যে কারো সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কাউকে অন্যের ওপর উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। তবে এটি...
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
الرفعة بكون الآيات مادية أو حسية، بل بأمور قدَّرها الحكيم العليم الذي له وحده حق نوع التفضيل والرفعة.

ونعود بعد ذلك إلى الإجابة عن السؤال الوارد، فنقول: إن العلماء قالوا: إن كل معجزة مناسبة للعصر الذي أرسل فيه كل نبي؛ إذ تكون هادية ومرشدة، وخرقها للعادات الجارية يكون أوضح، ومناسبتها لرسالة النبي المبعوث يكون دليلًا على كمال الرسالة وعموم شمولها لكلّ الأزمنة.

وقد نخالفهم في بعض ما ذكروا أو نوافقهم، فنرى أنَّ إبراهيم جاء في قوم كانوا على مقربة من عبدة النار، فكان في إطفاء الله تعالى للنار من غير سبب ظاهر بيان بعجز النار التي تعبد.

ونوافقهم في أنَّ معجزات موسى عليه السلام كانت مناسبة لأهل مصر؛ لأن السحر والكهانة كانا فيهم، وقد كان للسحرة مكانة عندهم، وبقية المعجزات كانت متعلقة بالزرع وآفاته، وهم أهل زرع وضرع من أقدم العصور، كما قال تعالى: {فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الطُّوفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ آيَاتٍ مُفَصَّلَاتٍ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ، وَلَمَّا وَقَعَ عَلَيْهِمُ الرِّجْزُ قَالُوا يَا مُوسَى ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِنْدَكَ لَئِنْ كَشَفْتَ عَنَّا الرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِي إِسْرَائِيلَ، فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الرِّجْزَ إِلَى أَجَلٍ هُمْ بَالِغُوهُ إِذَا هُمْ يَنْكُثُونَ} [الأعراف: 133-135] .

وهكذا كانت تسع آيات حسية مناسبة لأهل مصر، وبني إسرائيل، فكانوا يقولون: إنه سحر. واقرأ قوله تعالى: {وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى تِسْعَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ فَاسْأَلْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِذْ جَاءَهُمْ فَقَالَ لَهُ فِرْعَوْنُ إِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا مُوسَى مَسْحُورًا، قَالَ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ وَإِنِّي لَأَظُنُّكَ يَا فِرْعَوْنُ مَثْبُورًا} [الإسراء: 101-102] .

3- هذه معجزات إبراهيم وموسى -عليهما الصلاة والسلام، وهي مناسبة لزمنهما، وكذلك معجزة عيسى عليه الصلاة والسلام كانت مناسبة لعصره، لا لأن عصره شاع فيه علم الطب كما يقول بعض علماء الكلام؛ لأن علم الطب لم يكن رائجًا بين بني إسرائيل، فلم يكن بينهم علم أبقراط، كما قرر رينان في كتابه "حياة يسوع"، بل إن معجزاته كانت من ذلك النوع لسبب آخر يجب أن نتلمَّسه من غضون التاريخ، ومن حال بني إسرائيل، ذلك أن العصر كان عصرًا ماديًّا يؤمن بالمادة ولا يؤمن بالغيب، بل كان من اليهود من لا يؤمن باليوم الآخر، وإنك لترى أن التوراة التي بأيدينا، وهي ميراثهم من التوراة التي حرفت، تقرر أن نفس الإنسان هي دمه.
মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্ব নিদর্শনসমূহ বস্তুগত বা দৃশ্যমান হওয়ার কারণে নয়, বরং এমন সব বিষয়ের কারণে যা সেই প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তা নির্ধারণ করেছেন, যাঁর কেবল একচ্ছত্র অধিকার রয়েছে কোনো কিছুর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা নির্ধারণ করার।

এরপর আমরা উত্থাপিত প্রশ্নের উত্তরে ফিরে আসি এবং বলি: নিশ্চয়ই আলিমগণ বলেছেন যে, প্রতিটি মুজিজাই সেই সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল যে সময়ে সংশ্লিষ্ট নবীকে প্রেরণ করা হয়েছিল; কারণ তা পথপ্রদর্শক ও হিদায়াতকারী হয় এবং প্রচলিত অভ্যাসের ব্যতিক্রম হওয়াটা তখন অধিকতর স্পষ্ট হয়। আর প্রেরিত নবীর রিসালাতের সাথে মুজিজার সামঞ্জস্যতা রিসালাতের পূর্ণতা এবং সর্বকালের জন্য এর ব্যাপকতার প্রমাণস্বরূপ হয়।

তাঁদের উল্লিখিত কিছু বিষয়ে আমরা ভিন্নমত পোষণ করতে পারি আবার কোনো কোনো বিষয়ে একমতও হতে পারি। আমরা মনে করি যে, ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এমন এক জাতির নিকট এসেছিলেন যারা অগ্নি-পূজকদের ঘনিষ্ঠ ছিল। ফলে দৃশ্যমান কোনো কারণ ছাড়াই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই আগুন নিভিয়ে দেওয়ার মধ্যে তাদের উপাস্য আগুনের অক্ষমতারই সুস্পষ্ট বর্ণনা ছিল।

আমরা তাঁদের সাথে এই বিষয়ে একমত যে, মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর মুজিজাসমূহ মিশরের অধিবাসীদের জন্য উপযোগী ছিল; কারণ তাদের মধ্যে জাদু ও গণকগিরির ব্যাপক প্রচলন ছিল এবং জাদুকরদের তাদের নিকট বিশেষ সামাজিক মর্যাদা ছিল। আর অবশিষ্ট মুজিজাসমূহ ছিল কৃষি ও তার আপদ সংক্রান্ত, কারণ তারা প্রাচীনকাল থেকেই কৃষি ও পশুপালনে অভ্যস্ত ছিল। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব আমি তাদের ওপর প্লাবন, পঙ্গপাল, উঁকুন, ব্যাঙ ও রক্ত প্রেরণ করলাম সুস্পষ্ট নিদর্শন হিসেবে; কিন্তু তারা অহংকার করল এবং তারা ছিল এক অপরাধী কওম। আর যখনই তাদের ওপর কোনো আযাব আপতিত হতো, তারা বলত, হে মুসা! তোমার রবের কাছে আমাদের জন্য সেই অঙ্গীকারের উসিলায় দোয়া করো যা তিনি তোমার সাথে করেছেন। তুমি যদি আমাদের ওপর থেকে আযাব সরিয়ে দাও, তবে আমরা অবশ্যই তোমার ওপর ঈমান আনব এবং বনী ইসরাঈলকে তোমার সাথে পাঠিয়ে দেব। অতঃপর যখনই আমি তাদের ওপর থেকে আযাব একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরিয়ে নিতাম যে পর্যন্ত তারা পৌঁছাবে, তখনই তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করত।} [আল-আরাফ: ১৩৩-১৩৫] ।

এভাবেই নয়টি দৃশ্যমান নিদর্শন মিশরের অধিবাসী ও বনী ইসরাঈলের জন্য উপযোগী ছিল, কিন্তু তারা বলত: এটি জাদু। মহান আল্লাহর বাণী পড়ুন: {অবশ্যই আমি মুসাকে নয়টি সুস্পষ্ট নিদর্শন দান করেছিলাম। অতএব তুমি বনী ইসরাঈলকে জিজ্ঞাসা করো, যখন তিনি তাদের নিকট এসেছিলেন। তখন ফেরাউন তাকে বলেছিল, হে মুসা! আমি তো তোমাকে জাদুগ্রস্ত মনে করি। তিনি বললেন, তুমি অবশ্যই জানো যে, আসমান ও যমিনের রব ছাড়া অন্য কেউ এই চাক্ষুষ নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেননি এবং হে ফেরাউন! আমি অবশ্যই তোমাকে ধ্বংসপ্রাপ্ত মনে করি।} [আল-ইসরা: ১০১-১০২] ।

৩- এগুলো ছিল ইব্রাহিম ও মুসা (আলাইহিমাস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মুজিজা, যা তাঁদের সময়ের জন্য উপযোগী ছিল। একইভাবে ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মুজিজাও তাঁর যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে তা এই কারণে নয় যে, তাঁর যুগে চিকিৎসাবিজ্ঞান ব্যাপক প্রসার লাভ করেছিল যেমনটি কিছু কালাম শাস্ত্রবিদ বলে থাকেন; কারণ বনী ইসরাঈলের মাঝে চিকিৎসাবিজ্ঞানের তেমন প্রচলন ছিল না। রেনান তাঁর "লাইফ অব জেসাস" গ্রন্থে যেমনটি উল্লেখ করেছেন, হিপোক্রেটিসের চিকিৎসাবিদ্যা তাদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল না। বরং তাঁর মুজিজাসমূহ সেই ধরনের হওয়ার পেছনে অন্য একটি কারণ ছিল, যা আমাদের ইতিহাসের প্রেক্ষাপট এবং বনী ইসরাঈলের অবস্থা থেকে খুঁজে বের করতে হবে। আর তা হলো, সেই যুগটি ছিল একটি চরম বস্তুবাদী যুগ যা কেবল বস্তুতেই বিশ্বাস করত এবং অদৃশ্যে বিশ্বাস করত না। এমনকি ইহুদিদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা পরকালেই বিশ্বাস করত না। বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা তাওরাত—যা তাদের সেই বিকৃত তাওরাত থেকে প্রাপ্ত উত্তরাধিকার—তা এই সিদ্ধান্তই দেয় যে, মানুষের আত্মা হলো তার রক্ত।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
وكان بجوار هذه الروح المادية التي سادت بني إسرائيل استجابة لما هو سائد في عصرهم الروماني الذي كان يؤمن بالمادة، كان بجوار هذا إيمان بالأسباب العادية والمسببات، بحيث يعتقدون أنه لا يمكن أن ينفكَّ السبب عن مسببه، واللازم عن ملزومه، فلا توجد نتائج من غير سبب عادي، فهلَّا ولد من غير والد، ولا حياة تكون بعد موت من يموت، فلا يرتد حيًّا، وقد عجزت الأسباب عن أن يرتدَّ حيًّا من يموت، وعجزت الأسباب عن أن يرتدَّ بصيرًا من يولد أعمى.

لقد سادت الفلسفة الأيونبه، والفلسفة اليونانية التي تقرر لزوم الأسباب العادية، حتى لقد فرضوا أن الأشياء نشأت عن الخالق لها بقانون السببية، فقالوا: إن الكون نشأ عن المنشئ الأول نشوء المسبب عن سببه بلا إرادة مختارة منشئة. لقد قرروا أن قانون الأسباب هو الذي يحكم كل شيء.

لذلك كانت معجزات عيسى عليه السلام متضمنة الرد والتنبيه في أمرين:

أولهما: بيان سلطان الروح، فقد ظهرت الروح مسيطرة موجهة مرشدة في أنه كان ينبئهم بما يأكلون وما يدخرون في بيوتهم، وفي أنه عليه السلام أحيا الموتى بإذن الله، وأخرجهم من قبورهم بإذن الله، وأنزل عليه مائدة من السماء بإذن الله تعالى.

وثانيهما: أنه كانت معجزاته عليه السلام هادمة لارتباط الأسباب العادية بمسبباتها، لقد ولد من غير أب، والأسباب العادية تقرر أنه لا مولود من غير والد، وتكلَّم في المهد صبيًّا، وذلك غير المقرر في الأسباب والمسببات، وأخبر عن بعض المغيب عنه، وذلك غير الأسباب العادية التي توجب المعاينة في صدق الأخبار، وأحيا الموتى بإذن الله، وذلك ما لا يتحقق في الأسباب العادية.
বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিরাজমান এই বস্তুবাদী চেতনার পাশাপাশি—যা তাদের সমসাময়িক রোমান যুগের বস্তুবাদী চিন্তাধারার প্রভাবে গড়ে উঠেছিল—সাধারণ কার্যকারণ সম্পর্কের (আসবাব ও মুসাব্বাবাত) প্রতি এক গভীর বিশ্বাস বিদ্যমান ছিল। তারা মনে করত যে, কারণ ও ফলাফলের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য এবং অবধারিত বিষয় থেকে তার সংশ্লিষ্ট বিষয়কে কোনোভাবেই পৃথক করা সম্ভব নয়। ফলে জাগতিক কারণ ব্যতীত কোনো ফলাফল সৃষ্টি হতে পারে না। তারা প্রশ্ন তুলত, পিতা ছাড়া কি সন্তান জন্মানো সম্ভব? মৃত্যুর পর কি পুনরায় জীবন লাভ করা যায়? মৃত ব্যক্তি কখনো জীবিত হয়ে ফিরে আসে না, কারণ সাধারণ উপায়-উপকরণ মৃতকে পুনর্জীবিত করতে অক্ষম। তেমনিভাবে জন্মগত অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতেও সাধারণ পার্থিব উপায়গুলো ব্যর্থ।

সেই সময়ে আইওনীয় ও গ্রিক দর্শন ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছিল, যা সাধারণ কার্যকারণ সম্পর্কের আবশ্যকতাকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করত। এমনকি তারা ধারণা করত যে, সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে বস্তুসমূহের উৎপত্তিও কার্যকারণ নিয়মের অধীনেই ঘটেছে। তারা বলত: আদি উৎস থেকে মহাবিশ্বের উদ্ভব ঘটেছে কোনো সৃজনশীল স্বাধীন ইচ্ছা ছাড়াই, ঠিক যেমন কারণ থেকে অবধারিতভাবে ফলাফল উৎপন্ন হয়। তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল যে, কার্যকারণ নীতিই মহাবিশ্বের সবকিছু পরিচালনা করে।

একারণেই ঈসা আলাইহিস সালামের মুজিজাসমূহ দুটি বিশেষ ক্ষেত্রে খণ্ডন ও সতর্কবার্তা অন্তর্ভুক্ত করেছিল:

প্রথমত: রূহের (আত্মার) কর্তৃত্বের স্পষ্ট বর্ণনা। রূহ এখানে একটি নিয়ন্ত্রণকারী, পরিচালক ও পথপ্রদর্শক শক্তি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। যেমন—তিনি তাদের বলে দিতেন তারা কী আহার করে এবং নিজ গৃহে কী সঞ্চয় করে রাখে; আল্লাহর অনুমতিতে তিনি মৃতদের জীবিত করতেন ও তাদের কবর থেকে বের করে আনতেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর ওপর আসমান থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতীর্ণ হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত: তাঁর মুজিজাসমূহ ছিল সাধারণ কার্যকারণ ও ফলাফলের সম্পর্কের শৃঙ্খলকে চূর্ণকারী। তিনি পিতা ব্যতিরেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, অথচ জাগতিক নিয়ম অনুযায়ী পিতা ছাড়া সন্তান হওয়া অসম্ভব। তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় কথা বলেছিলেন, যা সাধারণ কার্যকারণ নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি এমন কিছু অদৃশ্যের সংবাদ দিতেন যা তাঁর চোখের সামনে ছিল না, অথচ সাধারণ নিয়মে সংবাদের সত্যতার জন্য চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ আবশ্যক। তদুপরি, তিনি আল্লাহর অনুমতিতে মৃতকে জীবিত করতেন, যা জাগতিক উপায়-উপকরণের মাধ্যমে অর্জন করা অসম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌معجزة القرآن:

وكل معجزات الأنبياء إبراهيم وموسى وعيسى وغيرهم -سواء أكانت مادية في كونها، أم كانت متضمنة معاني روحية- كانت من النوع الذي يحسّ بالرؤية، ويكون من بعدها التأمل، وليس من النوع الذي يكون بالتأمل، ولا يدرك إلا بالتأمل، وإن كان قائمًا ثابتًا في الوجود من غير ريب، وكانت حوادث تقع، ولا تبقى، ولا يبقى منها إلا الإخبار بها، فلا يعرفها على اليقين إلا من عاينها.

4- ولكن معجزة محمد صلى الله عليه وسلم كانت من نوع آخر، لم تكن حادثة تقع، وتزول من غير بقاء لها إلا بالخبر، بل كانت قائمة تخاطب الأجيال، يراها ويقرؤها الناس في كل عصر، ونقول: إنها مناسبة لرسالة النبي محمد صلى الله عليه وسلم، لعمومها في الأجيال، ولمكانته بين الرسل، ومقامه في هذا الوجود الإنساني إلى يوم القيامة.

إن معجزات الأنبياء السابقين لا يعلم وقوعها على وجه اليقين إلا من القرآن، فهو الذي سجل معجزات نوح وإبراهيم وموسى وعيسى -عليهم الصلاة والسلام، ولولا أنه سجلها ما علمها الناس، وإذا كانت بعض الكتب القائمة اليوم ذكرت بعضها فقد ذكرته مشوبًا بأمور غير صادقة؛ كإخبارهم بأن لوطًا كان مخمورًا فوقع على ابنتيه، وما يكتب فيه مثل هذا عن بعض النبيين لا يمكن أن يكون مقبول الخبر عن سائرهم ومعجزاتهم.

ونقول: إن معجزة محمد صلى الله عليه وسلم كانت القرآن، لقد أجرى الله تعالى على يديه خوارق وعادات أخرى، مثل: إخباره عن بعض ما يغيب عن حسه، ومثل حنين الجذع إليه، ومثل بكاء الناقة عنده، ومثل الإسراء والمعراج، ولكن لم يتحد إلّا بالقرآن الكريم، ولم ير المشركون صرحًا شامخًا يتحداهم به سوى القرآن الكريم.

ولمذا كانت معجزة محمد صلى الله عليه وسلم القرآن، وما كان يرجو الاتباع إلا به، ولقد روي أنه صلى الله عليه وسلم قال: "ما من نبي إلا أوتي ما مثله آمن به البشر، وإنما كان الذي أوتيته وحيًا أوحي به إليَّ، وإني لأرجو أن أكون أكثرهم تابعًا يوما لقيامة"، ومن هذا يتبين جواب ذلك السؤال، وهذا لأنه رسالة النبي صلى الله عليه وسلم خالدة، لأنه صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين، ولا نبي بعده، فيجب أن تكون معجزته مناسبة لهذه الرسالة الخالدة الباقية التي لا يحدُّها زمان في المستقبل، بل تبقى إلى يوم القيامة، ولا تكون معجزته واقعة تنقضي وتنتهي بانتهاء الزمن الذي وُجدَت فيه، بل تبقى الحجة ما بقيت الشريعة، وذلك محقق في القرآن، فهو حجة قائمة على العرب والعجم إلى يوم الدين، وهو معجز لكل الخلائق، وذلك ما نتصدى لبعضه، والله هو المعين.

المعجزة الخالدة:

5- تلك المعجزة الخالدة هي القرآن الذي يتحدى الأجيال كلها أن يأتوا بمثله، ولو اجتمعت الجن والإنس على أن يأتوا بمثله لا يأتون بمثله، ولو كان بعضهم لبعض ظهيرًا، كما ذكر الله سبحانه وتعالى في محكم التنزيل الذي لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه، هو حجة الله على خلقه، وحجة النبي صلى الله عليه وسلم في رسالته، وسجل الشريعة المحكم في بيانه، وهو المرجع عند الاختلاف، والحكم العدل عند الافتراق، وهو الطريق المستقيم المرشد عن الأعوجاج، من سلكه وصل، ومن لجأ إليه اهتدى.
কুরআনের মোজেজা:

ইব্রাহিম, মুসা, ঈসা এবং অন্যান্য নবীগণের সমস্ত মোজেজাসমূহ—তা সত্তাগতভাবে বস্তুগত হোক কিংবা আধ্যাত্মিক অর্থবহ হোক—সেগুলো ছিল এমন ধরনের যা দর্শনের মাধ্যমে অনুভূত হয় এবং এরপর তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা যায়। সেগুলো এমন ধরনের ছিল না যা কেবল চিন্তার মাধ্যমেই অর্জিত হয় এবং চিন্তা ছাড়া যার উপলব্ধি সম্ভব নয়, যদিও তা অস্তিত্বের দিক থেকে নিঃসন্দেহে সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্থির ছিল। সেগুলো ছিল এমন কিছু ঘটনা যা সংঘটিত হয়েছিল কিন্তু স্থায়ী হয়নি; বরং সেগুলো সম্পর্কে কেবল সংবাদই অবশিষ্ট রয়েছে। তাই যারা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে তারা ছাড়া আর কেউ নিশ্চিতভাবে তা জানতে পারে না।

৪- কিন্তু মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মোজেজা ছিল অন্য ধরনের। এটি এমন কোনো ঘটনা ছিল না যা সংঘটিত হয়ে সংবাদ ছাড়া আর কোনো চিহ্ন না রেখেই বিলীন হয়ে যায়; বরং এটি ছিল বিদ্যমান ও চিরস্থায়ী যা যুগের পর যুগ মানুষকে সম্বোধন করে, এবং প্রতিটি যুগের মানুষ তা দেখে ও পড়ে। আমরা বলি যে, এটি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের জন্য উপযুক্ত, কারণ এটি সকল প্রজন্মের জন্য ব্যাপক এবং রাসূলগণের মধ্যে তাঁর যে মর্যাদা ও কিয়ামত পর্যন্ত এই মানব অস্তিত্বে তাঁর যে স্থান রয়েছে, তার সাথে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পূর্ববর্তী নবীগণের মোজেজাসমূহ নিশ্চিতভাবে ঘটার বিষয়টি কুরআন ছাড়া আর কিছু থেকে জানা যায় না। কারণ কুরআনই নূহ, ইব্রাহিম, মুসা ও ঈসা আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম-এর মোজেজাসমূহ লিপিবদ্ধ করেছে। যদি কুরআন এগুলো লিপিবদ্ধ না করত, তবে মানুষ তা জানতে পারত না। বর্তমানে বিদ্যমান কিছু কিতাবে যদি এগুলোর কিছু উল্লেখ থেকেও থাকে, তবে তা অসংলগ্ন ও অসত্য বিষয়ের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় বর্ণিত হয়েছে; যেমন তাদের এই সংবাদ যে—লুত মাতাল ছিলেন এবং তাঁর দুই কন্যার সাথে লিপ্ত হয়েছিলেন; কোনো নবী সম্পর্কে যেখানে এই ধরনের বিষয় লেখা হয়, সেখানে অন্যান্য নবী ও তাঁদের মোজেজা সম্পর্কে তাদের দেওয়া সংবাদ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আমরা বলি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মোজেজা ছিল কুরআন। আল্লাহ তাআলা তাঁর হাত দিয়ে আরও অনেক অলৌকিক ও অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটিয়েছেন, যেমন: তাঁর ইন্দ্রিয়গোচর নয় এমন কিছু গায়বি বিষয়ের সংবাদ প্রদান, খেজুর গাছের কাণ্ডের ক্রন্দন, তাঁর নিকট উটের কান্না এবং ইসরা ও মিরাজ। কিন্তু তিনি কেবল আল-কুরআন দিয়েই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, এবং মুশরিকরা আল-কুরআন ছাড়া অন্য কোনো সুউচ্চ স্মারক দেখেনি যা তাদের চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

আর কেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মোজেজা কুরআন ছিল এবং কেন তিনি কেবল এর মাধ্যমেই অনুসারী পাওয়ার আশা করেছিলেন? বর্ণিত আছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক নবীকেই এমন কিছু দেওয়া হয়েছিল যার কারণে মানুষ তাঁর ওপর ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে তা হলো ওহি, যা আমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব আমি আশা করি কিয়ামতের দিন তাদের সবার চেয়ে আমার অনুসারী বেশি হবে।" এর থেকেই সেই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হয়। এর কারণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত চিরস্থায়ী, যেহেতু তিনি নবীগণের সমাপ্তিকারী এবং তাঁর পরে কোনো নবী নেই। সুতরাং তাঁর মোজেজাও এই চিরস্থায়ী ও অবশিষ্ট রিসালাতের উপযুক্ত হওয়া আবশ্যক, যা ভবিষ্যতে কোনো সময়ের দ্বারা সীমাবদ্ধ হবে না; বরং কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবে। তাঁর মোজেজা এমন কোনো ঘটনা হবে না যা যে সময়ে তা সংঘটিত হয়েছিল সেই সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়। বরং যতক্ষণ শরিয়ত অবশিষ্ট থাকবে ততক্ষণ প্রমাণও অবশিষ্ট থাকবে। আর এটি কুরআনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। সুতরাং এটি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আরব ও অনারব সবার জন্য এক জ্যান্ত প্রমাণ এবং এটি সকল সৃষ্টির জন্য এক অলৌকিক নিদর্শন। আমরা এর কিছু অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করব, আর আল্লাহই সাহায্যকারী।

চিরস্থায়ী মোজেজা:

৫- সেই চিরস্থায়ী মোজেজা হলো কুরআন, যা সকল প্রজন্মকে এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ জানায়। যদি সমস্ত জিন ও মানুষ এর সমতুল্য কিছু নিয়ে আসার জন্য সমবেত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ কিছুই আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়। যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সুদৃঢ় অবতীর্ণ কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যার সামনে বা পিছন থেকে কোনো মিথ্যা আসার সুযোগ নেই। এটি তাঁর সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রমাণ, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতের দলিল। এটি শরিয়তের একটি সুদৃঢ় দলিল যা তার বর্ণনায় নিখুঁত। মতভেদের সময় এটিই হলো মূল রেফারেন্স এবং বিভক্তির সময় এটিই হলো ন্যায়নিষ্ঠ ফয়সালাকারী। এটিই সেই সরল পথ যা বক্রতা থেকে মুক্তি দিয়ে সঠিক পথ দেখায়। যে ব্যক্তি এই পথে চলবে সে গন্তব্যে পৌঁছাবে এবং যে এর আশ্রয় নেবে সে হিদায়াত পাবে।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
روى الترمذي بسنده عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه وكرَّم وجهه في الجنة- أنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "ستكون فِتَنٌ كقطع الليل المظلم"، قلت: يا رسول الله، وما المخرج منها؟ قال: "كتاب الله تبارك وتعالى، فيه نبأ من قبلكم، وخبر ما بعدكم، وحكم ما بينكم، هو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله، هو حبل الله المتين، ونوره المبين، والذكر الحكيم، والصراط المستقيم، وهو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسنة، ولا تتشعب معه الآراء، ولا يشبع منه العلماء، ولا يمله الأتقياء، ولا يخلق على كثرة الرد، ولا تنقضي عجائبه، وهو الذي لم تنته الجن إذ سمعته أن قالوا: إنا سمعنا قرآنًا عجبا يهدي إلى الرشد، من علم علمه سبق، ومن قال به صدق، ومن حكم به عدل، ومن عمل به أجر، ومن دعا إليه هدي إلى صراط مستقيم، خذها إليك يا أعور".

وقد رواه الحارث الهمذاني برواية الترمذي، وقد حسَّن رواية الحارث كثيرون من المحدثين، منهم الفقيه المحدث ابن عبد البر، وإن الذين اتهموا حارثًا فيهم نزعة أموية، ومنهم الشعبي، وقد قال فيه ابن عبد البر: "أظن الشعبي عوقب لقوله في الحارث الهمذاني: حدثني الحارث وكان أحد الكاذبين".

وإنه في معنى هذا الحديث ما روي عن عبد الله بن مسعود -رضي الله تعالى عنه؛ إذ جاء أنَّه فيما روي عنه "إن هذا القرآن مأدبة الله تعالى فتعلموا من مأدبته ما استطعتم، إن هذا القرآن هو حبل الله والنور المبين، والشفاء النافع، عصمة من تمسك به، ونجاة من اتبعه، لا يعوج فيقوم، ولا يزيغ فيستعتب، ولا تنقضي عجائبه، فاتلوه، فإن الله يأجركم على تلاوته بكل حرف عشر حسنات".

وإن هذا الأخبار ومثلها كثير تدل على منزلة القرآن في الإسلام، وأنه العصمة من الزيغ، وأنه المرجع المتبع، وأن يشتمل على شرائع الإسلام كلها، وأنه بذلك هو الحكم بين الناس الذي لا يضل حكمه، وأن من تركه من جبار قصم الله تعالى ظهره، وأنه لا تشعب الآراء في حقيقته إذا استقامت الأفهام، ولم تضل المدارك.

والعلماء يجدون فيه المعين الذي لا ينضب، والثروة الإسلامية التي لا تنفد، فيه حكم الأمور كلها ما وقع ما لم يقع، وأن كل ما فيه حق، وأنه مصلحة الدنيا والأخرى، ما من خبر إلَّا له في القرآن أصل معتمد، ونص يمكن الحمل عليه، فما ترك الله الإنسان سدًى. وقد قال تعالى وقوله الحق: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38] . وفيه عبر الماضيين وأخبار كل النبيين، فهو كتاب الله الكامل،
তিরমিযী তাঁর সানাদসহ আলী ইবনে আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে সম্মানিত করুন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনা সংঘটিত হবে"। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তা থেকে নিষ্কৃতির উপায় কী? তিনি বললেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার কিতাব। এতে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়ের ফয়সালা। এটিই চূড়ান্ত ফয়সালা, এটি কোনো কৌতুক নয়। কোনো স্বৈরাচারী একে ত্যাগ করলে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেবেন, আর যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত খুঁজবে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, তাঁর সুস্পষ্ট নূর, প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ এবং সরল পথ। এটি এমন যা দ্বারা কুপ্রবৃত্তিগুলো বিপথগামী হয় না, যার প্রভাবে জিহ্বাগুলো জড়তাগ্রস্ত হয় না এবং এর সংস্পর্শে মতগুলো ভিন্ন ভিন্ন পথে ছড়িয়ে পড়ে না। আলিমগণ এটি পাঠ করে তৃপ্ত হন না, মুত্তাকীরা এটি পাঠে বিরক্ত হয় না এবং বারবার পাঠেও এটি পুরোনো হয় না। এর বিস্ময়কর দিকগুলো শেষ হয় না। এটি এমন যা শুনে জিন জাতি শেষ পর্যন্ত এই কথা না বলে পারেনি যে: 'আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি যা সঠিক পথের দিশা দেয়'। যে ব্যক্তি এর জ্ঞান অর্জন করল সে অগ্রগামী হলো, যে ব্যক্তি এর মাধ্যমে কথা বলল সে সত্য বলল, যে এর দ্বারা ফয়সালা করল সে ইনসাফ করল, যে এর অনুযায়ী আমল করল সে পুণ্য লাভ করল এবং যে এর দিকে দাওয়াত দিল সে সরল পথের দিশা পেল। হে আওয়ার, এটি গ্রহণ করো।"

আর এটি হারিস আল-হামদানী তিরমিযীর বর্ণনানুসারে বর্ণনা করেছেন। মুহাদ্দিসগণের অনেকে হারিসের বর্ণনাকে উত্তম বলেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন ফকীহ ও মুহাদ্দিস ইবনে আবদিল বার। আর যারা হারিসকে অভিযুক্ত করেছেন তাদের মাঝে উমাইয়া প্রভাব ছিল, তাদের মধ্যে একজন হলেন শাবী। ইবনে আবদিল বার তার সম্পর্কে বলেছেন: "আমি মনে করি শাবী হারিস আল-হামদানী সম্পর্কে এই কথা বলার কারণে শাস্তি পেয়েছেন: 'হারিস আমাকে হাদীস শুনিয়েছে অথচ সে ছিল বড় মিথ্যাবাদীদের একজন'।"

এই হাদীসের অর্থের অনুরূপ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে; তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "নিশ্চয়ই এই কুরআন আল্লাহর মেহমানদারি, সুতরাং তোমরা তাঁর মেহমানদারি থেকে সাধ্যমতো শিক্ষা গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই এই কুরআন আল্লাহর রশি, সুস্পষ্ট নূর এবং উপকারী শিফা। যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরল তার জন্য এটি সুরক্ষা এবং যে একে অনুসরণ করল তার জন্য এটি মুক্তি। এটি বক্র হয় না যে সোজা করতে হবে, এটি বিচ্যুত হয় না যে ফিরে আসার আবেদন করতে হবে এবং এর বিস্ময়গুলো শেষ হবে না। সুতরাং তোমরা এটি পাঠ করো, কারণ আল্লাহ তোমাদের এর তিলওয়াতের বিনিময়ে প্রতিটি হরফে দশটি নেকি দান করবেন।"

এই সকল সংবাদ এবং এই জাতীয় আরও অনেক সংবাদ ইসলামে কুরআনের উচ্চ মর্যাদাকে নির্দেশ করে। এটি হচ্ছে বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষা এবং এটিই প্রধান অনুসৃত মারজা বা উৎস। এটি ইসলামের সমস্ত শরীআতকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মাধ্যমে এটি মানুষের মধ্যে এমন ফয়সালাকারী যার ফয়সালা কখনও ভ্রষ্ট হয় না। আর কোনো স্বৈরাচারী একে বর্জন করলে আল্লাহ তাআলা তাকে ধ্বংস করে দেন। যদি মানুষের বুঝ সঠিক থাকে এবং উপলব্ধিগুলো বিভ্রান্ত না হয়, তবে এর হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে মতের ভিন্নতা তৈরি হবে না।

আলিমগণ এতে এমন এক প্রস্রবণ খুঁজে পান যা কখনও শুকিয়ে যায় না এবং এমন এক ইসলামী সম্পদ লাভ করেন যা কখনও ফুরায় না। এতে সকল বিষয়ের ফয়সালা রয়েছে—যা ঘটেছে তার এবং যা ঘটেনি তারও। এর মধ্যে যা আছে সবই সত্য এবং এটি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ স্বরূপ। এমন কোনো খবর নেই যার মূল উৎস কুরআনে বিদ্যমান নেই অথবা এমন কোনো পাঠ নেই যার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। আল্লাহ মানুষকে নিরর্থক ছেড়ে দেননি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন এবং তাঁর কথা সত্য: {আমরা কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি} [আনআম: ৩৮]। এতে অতীত জাতিগুলোর শিক্ষা এবং সকল নবীর সংবাদ রয়েছে। সুতরাং এটি আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কিতাব।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
فيه معاني كل الكتب المنزَّلة على الرسل، وفيه أخبار أولئك الرسل مع أقوامهم، وفيه المثلات المرشدة، والعظات الموجهة، وفيه أعلى الآداب الإنسانية وأقوم السلوم الكامل للخلق أجمعين، وفيه تعليم الإنسان الاتجاه إلى الكون وتعرف ما فيه، والأخذ بالعلم من قوادمه وخوافيه، وفيه الدعوة إلى العلم بكل ضروبه؛ علم الإنسان، وعلم النفس، وعلم الكون، وإلى العلم بالنجوم في مسالكها، والسماوات وأفلاكها، والأرض في طبقاتها، فيه الدعوة إلى العلم بما لم يعلم، وطلبه فيكل مداراته.

خاطب الله تعالى به أولياءه فعرفوه، وأصحاب العقول المستقيمة فأدركوه، وكان حقًّا كما قال تعالى: {وَلَوْ أَنَّ قُرْآنًا سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْأَرْضُ أَوْ كُلِّمَ بِهِ الْمَوْتَى بَلْ لِلَّهِ الْأَمْرُ جَمِيعًا} [الرعد: 31] . ذلك هو كتاب الله تعالى بما حمل من معان وتكليف، وما كساه الله تعالى به من روعة وتشريف، وهو كما وصفه الله تعالى بقوله: {اللَّهُ نَزَّلَ أَحْسَنَ الْحَدِيثِ كِتَابًا مُتَشَابِهًا مَثَانِيَ تَقْشَعِرُّ مِنْهُ جُلُودُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ ثُمَّ تَلِينُ جُلُودُهُمْ وَقُلُوبُهُمْ إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} [الزمر: 23] .
এতে রাসূলগণের প্রতি অবতীর্ণ সকল কিতাবের মর্মার্থ বিদ্যমান, এবং এতে রয়েছে সেই সকল রাসূল ও তাঁদের কওমের সংবাদ। এতে রয়েছে পথনির্দেশক দৃষ্টান্ত এবং সঠিক দিশা প্রদানকারী উপদেশসমূহ। এতে রয়েছে সর্বোচ্চ মানবীয় আদব এবং সমগ্র সৃষ্টির জন্য সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনপদ্ধতি। এতে রয়েছে মহাবিশ্বের প্রতি মানুষের দৃষ্টি নিবদ্ধ করার এবং এর মধ্যস্থ বিষয়সমূহ জানার শিক্ষা, এবং জ্ঞানের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সবদিক থেকে তা আহরণ করার শিক্ষা। এতে রয়েছে জ্ঞানের সকল শাখার প্রতি আহ্বান; যেমন মানবতত্ত্ব, মনোবিজ্ঞান ও মহাবিশ্বতত্ত্ব, এবং নক্ষত্ররাজির গতিপথ, আকাশসমূহ ও তাদের কক্ষপথ এবং পৃথিবীর স্তরসমূহ সংক্রান্ত জ্ঞানের প্রতি আহ্বান। এতে রয়েছে যা জানা নেই তা জানার আহ্বান এবং জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে তা অনুসন্ধানের তাগিদ।

মহান আল্লাহ এর মাধ্যমে তাঁর ওলীদের সম্বোধন করেছেন ফলে তাঁরা তা চিনেছেন, এবং সুস্থ বিবেকের অধিকারীদের সম্বোধন করেছেন ফলে তাঁরা তা অনুধাবন করেছেন। আর বিষয়টি তেমনই সত্য যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {যদি কোনো কুরআনের মাধ্যমে পাহাড়কে গতিশীল করা হতো, অথবা যমীনকে বিদীর্ণ করা হতো, অথবা তার মাধ্যমে মৃতদের সাথে কথা বলানো হতো (তবুও তারা ঈমান আনত না); বরং সকল বিষয় আল্লাহরই ইখতিয়ারে।} [রা'দ: ৩১]। এটিই মহান আল্লাহর কিতাব যা গভীর অর্থ ও বিধানের ভার বহন করে, এবং যাতে মহান আল্লাহ গাম্ভীর্য ও মর্যাদার আবরণ পরিয়েছেন। এটি তেমনই যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে বর্ণনা করেছেন: {আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব, যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বারবার পঠিত হয়। এতে তাদের চামড়া রোমাঞ্চিত হয় যারা তাদের রবকে ভয় করে, অতঃপর তাদের চামড়া ও অন্তর আল্লাহর স্মরণে বিনম্র হয়।} [যুমার: ২৩]।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌القسم الأول:‌‌ نزول القرآن

نزول القرآن

…

القسم الأول:

نزول القرآن:

6- من وقت أن منَّ الله تعالى على الإنسانية بالبعث المحمدي ابتدأ نزول القرآن، فأول آية نزلت كانت الخطاب من الله تعالى بالتكليف الذي كلفه تعالى لنبيه صلى الله عليه وسلم بحمل الرسالة إلى خلقه، فقد نزلت أول آية وهي: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ، الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ، عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق: 1-5] ، فكان هذا إيذانًا بأن دين العلم قد وجب تبليغه، وأن كتاب العلم قد ثبت تنزيله، وأن إعلاء شان الفكر قد جاء به خاتم النبيين وسيد المرسلين، وفيه إيماء إلى أن الإسلام والعلم يجتمعان، ولا يتناقضان أبدًا.

توالي نزول القرآن منجَّمًا في مدة الرسالة المحمدية التي استمرَّت ثلاثًا وعشرين سنة يدعو فيها بالحق، وإلى صراط مستقيم، ينير السبيل، ويهدي للتي هي أقوم.

فكانت الآيات القرآنية تنزل وقتًا بعد آخر، وكان التحدي بما نزل وإن لم يكن ما نزل كل القرآن؛ لأن كل جزء منه ينطبق عليه اسم الكتاب، بل القرآن؛ إذ إنَّ التحدي يقع به، والمعجزة تتحقق فيه، فقد تحدى أهل مكة أن يأتوا بمثله، ولم يكن قد نزل كله، فقد قال تعالى في سورة يونس، وهي مكية: {قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلَا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِنْ قَبْلِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ، فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الْمُجْرِمُونَ} [يونس: 16، 17] ، وجاء التحدي في هذه السورة أيضًا فقال تعالى: {وَمَا كَانَ هَذَا الْقُرْآنُ أَنْ يُفْتَرَى مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ تَصْدِيقَ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتَابِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ، أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [يونس: 37، 38] ، وجاء في سورة هود وهي مكية: {أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ قُلْ فَأْتُوا ِسُورَةٍ مِثْلِهِ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [هود: 13] .

ومن هذا كله يتبين أن بعض القرآن قرآن يتحدى فيه، فهو الكتاب الكامل في كله، والكامل في جزئه، وهو معجز في أجزائه، كما هو معجز في ذاته، وإن شئت فقل إنه معجزات متضافرة، وإذا كان لموسى تسع آيات بينات فلمحمد مئات من المعجزات البينات.
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনের অবতরণ

কুরআনের অবতরণ

...

প্রথম পরিচ্ছেদ:

কুরআনের অবতরণ:

৬- আল্লাহ তাআলা যখন মুহাম্মদী রিসালাতের মাধ্যমে মানবতার ওপর অনুগ্রহ করলেন, তখন থেকেই কুরআনের অবতরণ শুরু হয়। সর্বপ্রথম অবতীর্ণ আয়াতটি ছিল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সেই দায়িত্ব অর্পণ সংক্রান্ত সম্বোধন, যা তিনি তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সৃষ্টির কাছে রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার জন্য দিয়েছিলেন। প্রথম যে আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছিল তা হলো: {পাঠ করো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে। পাঠ করো, আর তোমার রব পরম দয়ালু, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।} [আলাক: ১-৫]। এটি এই ঘোষণা ছিল যে, জ্ঞানের দ্বীন প্রচার করা আবশ্যক হয়ে গেছে, জ্ঞানের কিতাবের অবতরণ সুনিশ্চিত হয়েছে এবং শেষ নবী ও রাসূলদের সরদার চিন্তার মর্যাদা উচ্চ করার পয়গাম নিয়ে এসেছেন। এতে আরও ইঙ্গিত রয়েছে যে, ইসলাম ও বিজ্ঞান একত্রে অবস্থান করে এবং তারা কখনও একে অপরের পরিপন্থী নয়।

মুহাম্মদী রিসালাতের তেইশ বছর সময়কালে কুরআন ধারাবাহিকভাবে কিস্তিতে কিস্তিতে অবতীর্ণ হতে থাকে, যেখানে তিনি সত্যের দিকে এবং সরল পথের দিকে দাওয়াত দিচ্ছিলেন, যা পথকে আলোকিত করে এবং সবচেয়ে সুদৃঢ় পথের দিশা দেয়।

কুরআনের আয়াতগুলো সময়ের ব্যবধানে একে একে অবতীর্ণ হচ্ছিল। আর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা দিয়েই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল, যদিও অবতীর্ণ হওয়া অংশটি পুরো কুরআন ছিল না; কারণ এর প্রতিটি অংশের ওপরই 'কিতাব' বরং 'কুরআন' শব্দটি প্রযোজ্য হয়। কেননা এর মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ প্রদান করা হয় এবং এর মধ্যেই মুজিজা বা অলৌকিকত্ব বাস্তবায়িত হয়। তিনি মক্কাবাসীদের এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন অথচ তখনো পুরো কুরআন অবতীর্ণ হয়নি। আল্লাহ তাআলা মক্কী সূরা ইউনুসে বলেছেন: {বলো, যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমি তোমাদের কাছে এটি তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনি তোমাদের এটি জানাতেন না। এর আগে তো আমি তোমাদের মধ্যে দীর্ঘকাল অবস্থান করেছি; তবুও কি তোমরা বুঝতে পারছ না? তবে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে অথবা তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে? নিশ্চয়ই অপরাধীরা সফলকাম হবে না।} [ইউনুস: ১৬, ১৭]। এই সূরাতেই পুনরায় চ্যালেঞ্জ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এই কুরআন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও দ্বারা রচিত হওয়া সম্ভব নয়, বরং এটি যা এর আগে এসেছে তার সত্যায়নকারী এবং কিতাবের বিশদ ব্যাখ্যা, এতে কোনো সন্দেহ নেই, যা বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে। নাকি তারা বলে যে তিনি এটি রচনা করেছেন? তুমি বলো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাদের পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} [ইউনুস: ৩৭, ৩৮]। মক্কী সূরা হুদেও এই চ্যালেঞ্জ এসেছে, আল্লাহ তাআলা বলেন: {নাকি তারা বলে যে তিনি এটি রচনা করেছেন? তুমি বলো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া যাদের পারো ডাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।} [হুদ: ১৩]।

এ সব কিছু থেকে স্পষ্ট হয় যে, কুরআনের কিয়দংশও ‘কুরআন’, যা দ্বারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সুতরাং এটি সামগ্রিকভাবেও একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব এবং এর প্রতিটি অংশও পূর্ণাঙ্গ। এটি যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অলৌকিক, তেমনি এর অংশবিশেষের ক্ষেত্রেও অলৌকিক। আপনি চাইলে বলতে পারেন যে এটি অসংখ্য অলৌকিক নিদর্শনের সমষ্টি। মূসা (আ.)-এর জন্য যদি নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন থেকে থাকে, তবে মুহাম্মাদ (সা.)-এর জন্য রয়েছে শত শত স্পষ্ট অলৌকিক নিদর্শন।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌حكمة نزوله منجَّمًا:

7- وقد يسأل سائل: لماذا نزل القرآن منجمًا ولم ينزل دفعة واحدة كما نزلت الألواح العشر على موسى عليه السلام، وكما نزل الزبور على داوود؟ وإن مثل هذا السؤال جاء على ألسنة المشركين معترضين، متخذين منه سبيلًا للجاجتهم، وقد نقل القرآن الكريم عنهم ذلك وردَّه، فقد قال تعالى: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً كَذَلِكَ لِنُثَبِّتَ بِهِ فُؤَادَكَ وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا} [الفرقان: 32] .

ونرى أن الن الكريم قد نقل اعتراض المشركين، ورده سبحانه وتعالى عليهم، وقد تضمَّن الرد ثلاثة أمور تومئ إلى السبب في نزوله منجمًا:

أولها: تثبيت فؤاد الرسول بموالاة الوحي بالقرآن، فإن موالاته فيها أنس للنبي صلى الله عليه وسلم، وتثبيت لعزيمته، وتأيد مستمر له، فيقوم بحق الدعوة بالجهاد في سبيلها، وإذا الروح الأمين الذي يجيئه بكلام رب العالمين في موالاة مستمرة.

ثانيها: إن تثبيت الفؤاد بنزول القرآن يكون بحفظ ما ينزل عليه جزءًا جزءًا؛ ذلك أن هذا القرآن نزل ليحفظ في الأجيال كلها جيلًا بعد جيل، وما يحفظ في الصدور لا يعتريه التغيير ولا التبديل، وما يكتب في السطور قد يعتريه المحو والإثبات والتحريف والتصحيف؛ ولأنَّ الله تعالى كتب للقرآن أن يحفظ، كان يحفظ جزءًا جزءًا، وكان ينزل مجزءًا ليسهل ذلك الحفظ، وكان النبي صلى الله عليه وسلم حريصًا على أن يحفظه عند نزوله، فكان يردد ما يتلوه عليه جبريل، ويتعجَّل حفظه، وقد قال الله سبحانه وتعالى لنبيه في ذلك: {لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ، إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ، فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ، ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ} [القيامة: 16-19] ، ونرى من هذا النص حرص النبي صلى الله عليه وسلم على أن يحفظ ما يوحَى إليه، فيحرِّك به لسانه مستعجلًا الحفظ، فينبهه الله تعالى إلى أنه يتولى جمعه وإقراءه له، وأنه مبينه وحافظه، كما قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] .

الأمر الثالث: هو ترتيل القرآن بتعليم تلاوته، وإنَّ هذا النص يستفاد منه أن تلاوة القرآن وطريقة ترتيله هما من تعليم الله تعالى؛ إذ إنه سبحانه وتعالى ينسب الترتيل إليه تعالت قدرته وكلماته، وعظم بيانه. فنحن بقراءتنا وترتيلنا إن أحكمناه، إنما نتبع ما علم الله تعالى نبيه من ترتيل محكم جاء به التنزيل، وأمر به النبي صلى الله عليه وسلم في قوله تعالى: {وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا} [المزمل: 4] ، وما كان تعليم هذا الترتيل المنزل من عند الله تعالى ليتوافر إذا لم ينزل القرآن منجمًا، فلما نزل جملة واحدة ما تمكَّن النبي صلى الله عليه وسلم من تعلم الترتيل، ولو علمه الله تعالى بغير تنجيمه ما كان في الإمكان أن يعلمه قومه وهم حملته إلى الأجيال من بعده.

هذا ما يستفاد من النص الكريم المتلوّ، وعبارته السامية فيه واضحة بينة تشرق بمعانيه العالية الهادية الموجهة المرشدة.

وهناك سبب آخر لنزول القرآن منجمًا نلمسه من حال العرب ومن شئونهم؛ ذلك أن العرب كانوا أمَّة أمية، والكتابة فيهم ليست رائجة، بل يندر فيهم من يعرفها، وأندر منه من يتقنها، فما كان في استطاعتهم أن يكتبوا القرآن كله إذا نزل جملة واحدة؛ إذ يكون بسوره وآياته عسيرًا عليهم أن يكتبوه، وإن كتبوه لا يعدموا الخطأ والتصحيف والتحريف.

ولقد كان من فائدة إنزال القرآن منجَّمًا أنه كان ينزل لمناسبات ولأحداث، فيكون في هذه الأحداث بعض البيان لأحكامه، والمبيِّن الأول هو النبي صلى الله عليه وسلم كما قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44] .
‌‌পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হওয়ার রহস্য:

৭- কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন: কুরআন কেন অল্প অল্প করে নাযিল হলো এবং কেন তা মুসা আলাইহিস সালামের প্রতি দশ আজ্ঞার ফলকসমূহ কিংবা দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি যাবুর অবতীর্ণ হওয়ার মতো একবারে অবতীর্ণ হলো না? মূলত এই জাতীয় প্রশ্ন মুশরিকদের পক্ষ থেকেই আপত্তির সুরে উত্থাপিত হয়েছিল, যা তারা তাদের হঠকারিতার পথ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। পবিত্র কুরআন তাদের সেই কথা উদ্ধৃত করেছে এবং এর উত্তরও দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর কাফিররা বলে, ‘তার প্রতি পুরো কুরআন একবারে নাযিল করা হলো না কেন?’ এভাবেই (আমি নাযিল করেছি) তোমার অন্তরকে এর মাধ্যমে সুদৃঢ় করার জন্য এবং আমি তা ক্রমে ক্রমে সুবিন্যস্তভাবে পাঠ করেছি।} [আল-ফুরকান: ৩২]।

আমরা লক্ষ্য করি যে, কুরআন কারীম মুশরিকদের আপত্তিটি উদ্ধৃত করেছে এবং মহান আল্লাহ তাদের সেই আপত্তির জবাব দিয়েছেন। সেই উত্তরের মাঝে তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হওয়ার কারণের দিকে ইঙ্গিত করে:

প্রথমত: ওহীর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে রাসূলের অন্তরকে সুদৃঢ় করা। কারণ ওহীর ধারাবাহিক অবতরণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল, যা তাঁর সংকল্পকে দৃঢ় করত এবং তাঁর জন্য এক নিরন্তর সমর্থন হিসেবে কাজ করত। এর ফলে তিনি ওহীর পথে জিহাদ ও দাওয়াতের হক আদায় করতে পারতেন, কারণ জিবরীল আলাইহিস সালাম রাব্বুল আলামীনের বাণী নিয়ে তাঁর কাছে ধারাবাহিকভাবে আসতেন।

দ্বিতীয়ত: পর্যায়ক্রমে কুরআন নাযিলের মাধ্যমে অন্তর সুদৃঢ় করার আরেকটি দিক হলো যা নাযিল হচ্ছে তা অংশ অংশ করে মুখস্থ করা। কারণ, এই কুরআন নাযিল হয়েছে যুগ যুগ ধরে সকল প্রজন্মের মাঝে সংরক্ষিত থাকার জন্য। আর যা অন্তরে সংরক্ষিত থাকে, তাতে কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন ঘটে না। অন্যদিকে যা পাতায় লেখা থাকে, তাতে মোছা, নতুন করে যোগ করা, বিকৃতি বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা কুরআনকে সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই তা অংশ অংশ করে মুখস্থ করা হতো এবং সহজভাবে মুখস্থ করার উদ্দেশ্যে তা খণ্ড খণ্ড করে নাযিল করা হতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন নাযিলের সময় তা মুখস্থ করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। জিবরীল আলাইহিস সালাম যা পাঠ করতেন, তিনি তা বারবার আওড়াতেন এবং দ্রুত তা মুখস্থ করতে চাইতেন। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে লক্ষ্য করে বলেন: {তাড়াতাড়ি মুখস্থ করার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা এর সাথে নাড়াচাড়া করো না। নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন তুমি সেই পাঠ অনুসরণ করো। অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্বও আমারই।} [আল-কিয়ামা: ১৬-১৯]। এই পাঠ থেকে আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওহী মুখস্থ করার প্রবল আগ্রহ লক্ষ্য করি, যার কারণে তিনি দ্রুত মুখস্থ করার জন্য জিহ্বা নাড়াচাড়া করতেন। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে অবগত করেন যে, তিনিই তা একত্রিত করার, তাঁকে পাঠ করানোর, এর ব্যাখ্যা করার এবং একে সংরক্ষিত রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় আমিই উপদেশগ্রন্থ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।} [আল-হিজর: ৯]।

তৃতীয় বিষয়: কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষার মাধ্যমে তা সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে পাঠ করা (তারতীল)। এই পাঠ থেকে বোঝা যায় যে, কুরআন তিলাওয়াত এবং এর তারতীলের পদ্ধতি স্বয়ং আল্লাহ তাআলার শিক্ষা। কারণ আল্লাহ তাআলা এই তারতীলের কৃতিত্ব নিজের দিকেই সম্বন্ধ করেছেন, মহান তাঁর ক্ষমতা ও বাণী এবং মহান তাঁর বর্ণনাভঙ্গি। সুতরাং আমাদের তিলাওয়াত ও তারতীল যদি আমরা নির্ভুলভাবে আদায় করি, তবে আমরা কেবল আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে যে নির্ভুল তারতীল শিখিয়েছেন তারই অনুসরণ করি যা ওহীর মাধ্যমে এসেছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ বিষয়ে আদেশ প্রদান করে আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং কুরআন তিলাওয়াত করো সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে।} [আল-মুয্যাম্মিল: ৪]। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত এই তারতীলের শিক্ষা অর্জিত হওয়া সম্ভব হতো না যদি কুরআন পর্যায়ক্রমে নাযিল না হতো। কারণ কুরআন যদি একবারে নাযিল হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে তারতীল শেখার সুযোগ পেতেন না। আর যদি আল্লাহ তাআলা তাকে পর্যায়ক্রমে নাযিল করা ছাড়াও এটি শিখিয়ে দিতেন, তবুও তাঁর কওম বা জাতির পক্ষে তা শেখা সম্ভব হতো না, অথচ তারাই ছিল পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এটি পৌঁছে দেওয়ার বাহক।

উপরে আলোচিত পবিত্র আয়াত থেকে এই শিক্ষাগুলোই পাওয়া যায়। এর মহান শব্দাবলী অত্যন্ত স্পষ্ট ও উজ্জ্বল, যা উচ্চতর হেদায়াত ও সঠিক পথের দিশা প্রদানকারী অর্থ বহন করে।

কুরআন পর্যায়ক্রমে নাযিল হওয়ার আরেকটি কারণ রয়েছে যা আমরা আরবদের তৎকালীন অবস্থা থেকে অনুভব করতে পারি। আরবরা ছিল মূলত এক নিরক্ষর জাতি। তাদের মধ্যে লেখার প্রচলন ছিল না, বরং যারা লিখতে জানত তাদের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত নগণ্য এবং যারা এতে পারদর্শী ছিল তারা ছিল আরও বিরল। তাই কুরআন যদি একবারে নাযিল হতো, তবে তাদের পক্ষে পুরো কুরআন লিখে রাখা সম্ভব ছিল না। কারণ এর বিপুল সংখ্যক সূরা ও আয়াত একবারে লিখে রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতো এবং লিখে রাখলেও তাতে ভুলভ্রান্তি ও বিকৃতির সম্ভাবনা এড়ানো যেত না।

পর্যায়ক্রমে কুরআন নাযিলের আরেকটি উপকারিতা ছিল এই যে, তা বিভিন্ন প্রেক্ষাপট ও ঘটনার প্রেক্ষিতে নাযিল হতো। ফলে এই ঘটনাগুলো এর বিধিবিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে সহায়ক হতো। আর এর প্রথম ব্যাখ্যাকারী ছিলেন স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আমি তোমার প্রতি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি মানুষের কাছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করো যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে।} [আন-নাহল: ৪৪]।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المكي والمدني:

8- كان نزول القرآن منجمًا سببًا في أن بعضه نزل بمكة وبعضه نزل بالمدينة، فكان منه المكي ومنه المدني، فالمكي ما نزل قبل الهجرة، والمدني ما نزل بعد الهجرة، فما نزل بعد الهجرة ولو بمكة يسمَّى مدنيًّا، وما نزل قبل الهجرة يسمَّى مكيًّا، فالتقييم زماني وليس بمكاني، ليست العبرة بمكان النزول، إنَّمَا العبرة فيه بزمانه.

والآيات المكية فيها بيان العقيدة الإسلامية، وبطلان عبادة الأوثان ومجادلة المشركين والدعوة إلى التوحيد، ومخاطبة العرب، وفيها قصص الأنبياء الذين جاءوا إلى بلاد العرب ولهم آثار في أجزائها تنادي بما صنع أقوامهم، وما أصابهم الله تعالى بكفرهم من حاصب، ومن خسف جعل عالي ديارهم سافلها، ومن ريح صرصر عاتية.

ولم يكن في الآيات المكية أحكام للمعاملات، وإن كان فيها إشارات إلى المحرمات كالخمر والربا، فقد قال تعالى مشيرًا إلى أن الخمر أمر غير حسن: {وَمِنْ ثَمَرَاتِ النَّخِيلِ وَالْأَعْنَابِ تَتَّخِذُونَ مِنْهُ سَكَرًا وَرِزْقًا حَسَنًا إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} [النحل: 67] ، فإن هذا النص الكريم يشير إلى أن الخمر ليست أمرًا حسنًا؛ لأنه سبحانه وتعالى جعلها مقابلة للأمر الحسن، ولا يقابل الحسن إلّا القبيح، أو على الأقل الأمر غير الحسن.

ولقد جاء أيضًا في سورة الروم ما يشير إلى أن الربا أمر غير مستحسن، فقد قال تعالى في سورة الروم: {وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِبًا لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ} [الروم: 39] .

وإن عدم وجود أحكام للمعاملات في مكة سببه أن الدولة التي كانت قائمة كانت دولة شرك، وأن من المستحيل أن تنفذ أحكام المعاملات الإسلامية في ظلها، وكان
মক্কী ও মাদানী:

৮- কুরআন পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ হওয়ার কারণে এর কিছু অংশ মক্কায় এবং কিছু অংশ মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে এর কিছু অংশ মক্কী এবং কিছু অংশ মাদানী। হিজরতের পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা মক্কী, আর হিজরতের পরে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা মাদানী। সুতরাং হিজরতের পরে যা অবতীর্ণ হয়েছে—তা মক্কায় হলেও—সেটিকে মাদানী বলা হয়, আর হিজরতের পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাকে মক্কী বলা হয়। অতএব, এই মূল্যায়নটি সময়ভিত্তিক, স্থানভিত্তিক নয়। এখানে বিবেচ্য বিষয় অবতরণের স্থান নয়, বরং এর সময়ই হচ্ছে মূল ধর্তব্য।

মক্কী আয়াতসমূহে ইসলামী আকীদার বর্ণনা, মূর্তিপূজার অসারতা, মুশরিকদের সাথে বিতর্ক, তাওহীদের দাওয়াত এবং আরবদের প্রতি সম্বোধন রয়েছে। এতে সেইসব নবীদের কাহিনী রয়েছে যারা আরব ভূখণ্ডে এসেছিলেন এবং এই ভূখণ্ডের বিভিন্ন অংশে তাঁদের এমন কিছু নিদর্শন রয়েছে যা তাঁদের সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ড এবং তাদের কুফরির কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর যে শাস্তি নাজিল করেছিলেন তা ঘোষণা করে—যেমন প্রস্তরবৃষ্টি, ভূমিধস যা তাদের জনপদকে উল্টে দিয়েছিল এবং প্রচণ্ড শক্তিশালী হিমশীতল বায়ু।

মক্কী আয়াতসমূহে লেনদেন সংক্রান্ত বিধিবিধান (মুআমালাত) ছিল না, যদিও তাতে মদ ও সুদের মতো নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর প্রতি ইঙ্গিত ছিল। যেমন আল্লাহ তাআলা মদ যে ভালো কোনো বিষয় নয় সেই ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন: "আর খেজুর গাছ ও আঙুর ফল থেকে তোমরা মাদক ও উত্তম খাদ্য গ্রহণ করো; নিশ্চয়ই এতে বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।" [আন-নাহল: ৬৭]। এই পবিত্র বাণীটি ইঙ্গিত দেয় যে মদ কোনো উত্তম বস্তু নয়; কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একে উত্তম রিযিকের বিপরীতে উল্লেখ করেছেন। আর উত্তমের বিপরীতে কেবল মন্দ বা অন্ততপক্ষে যা ভালো নয় তা-ই থাকতে পারে।

সূরা আর-রূমেও এমন কিছু এসেছে যা নির্দেশ করে যে সুদ একটি অপছন্দনীয় বিষয়। মহান আল্লাহ সূরা আর-রূমে বলেছেন: "মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমরা যে জাকাত দাও, মূলত তারাই বহুগুণ লাভকারী।" [আর-রূম: ৩৯]।

মক্কায় লেনদেন সংক্রান্ত বিধিবিধান না থাকার কারণ হলো, তখন যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল তা ছিল শিরকভিত্তিক রাষ্ট্র, আর সেই ব্যবস্থার অধীনে ইসলামী লেনদেনের বিধানগুলো বাস্তবায়ন করা অসম্ভব ছিল। এবং...
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
الاتجاه الأول إلى إخراجها من الشرك وإدخالها في التوحيد أولًا، ثم من بعد ذلك تكون الدولة الإسلامية المنفذة، ولكن المحرمات كانت ثابتة في أول تشريع الإسلام، وإن كان مسكوتًا عنها، فلم تكن موضع إباحة، بل كانت موضع سكوت وعفو حتى ينزل التشريع بتحريمها تحريمًا قاطعًا، فما كانت الخمر مباحة، ولكن كان مسكوتًا عنها، أو كانت في مرتبة العفوِ كما يقول علماء الأصول، حتى إذا كان المنع الصريح في المدينة كان معه العقاب، وهكذا كل ما كان مسكوتًا عنه لم يكن موضع إباحة.

ولما انتقل النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة كان التنظيم الكامل للمعاملات؛ لأنه وجدت دولة إسلامية فاضلة، تنظِّم العلاقات بين الناس، وتقوم على تنفيذها، والقضاء بها، فنظم التعامل، وابتدأ بأعلى أنواع التعاون بين الناس وهو الإخاء الذي آخى فيه النبي صلى الله عليه وسلم بين المهاجرين والأنصار، والأنصار بعضهم مع بعض، والمهاجرين بعضهم مع بعض، وشرعت النظم الاجتماعية، والمعاملات الإنسانية؛ من أحكام للبيوع والمزارعات، وتحريم للربويات وغيرها. وفرضية الصدقات وتنظيمها، وإعطاء الفقير حقه، والتنظيم الاجتماعي الكامل، وشرعت الزواجر الاجتماعية من حدود وقصاص، وسُنَّت الأحكام الفاصلة بين الحقوق، وفتح باب الجهاد، ووضعت نظم الحرب، وقامت العلاقات الدولية على أسس متينة محكمة، يراعى فيها حق العدو، كما يلاحظ حق الولي على سواء؛ لأن المبادئ المدنية في الإسلام قامت على إعطاء كل ذي حق حقه من غير بخس ولا شطط، ولا مجاوزة للحد ولا اعتداء.

ويلاحظ أن مبادئ العدالة جاءت مع وجود الشريعة الإسلامية، وقد دعا إليها القرآن الكريم في مكة والمدينة؛ لأن العدالة حق ابتدائي لا يختلف في دولة عن دولة، فهو يتعلق بالنفس الإنسانية في ذاتها.

فالأمر بالعدالة والإحسان والوفاء بالعهد جاء في سورة النحل، وهي مكبة عند نظر الأكثرين؛ لأن الله تعالى يقول فيها وهو أحكم القائلين: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ يَعِظُكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ، وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلَا تَنْقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ، وَلَا تَكُونُوا كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا مِنْ بَعْدِ قُوَّةٍ أَنْكَاثًا تَتَّخِذُونَ أَيْمَانَكُمْ دَخَلًا بَيْنَكُمْ أَنْ تَكُونَ أُمَّةٌ هِيَ أَرْبَى مِنْ أُمَّةٍ} [النحل: 90-92] .

ولقد أحصى القرطبي في تفسيره الجامع لأحكام القرآن السور المدنية فقال: "عن قتادة نزل بالمدينة من القرآن: البقرة، وآل عمران، والنساء، والمائدة، والأنفال، وبراءة، والرعد، والنحل، والحج، والنور، والأحزاب، ومحمد، والفتح، والحجرات والرحمن، والحديد، والمجادلة، والحشر، والممتحنة، والصف، والجمعة، والمنافقون، والتغابن، والطلاق، ويا أيها النبي لم تحرّم إلى رأس العشر، وإذا زلزلت، وإذا جاء نصر الله، هذه السور نزلت بالمدينة، وسائر القرآن نزل بمكة".

ويلاحظ أنَّه جعل سورة النحل من السور المدنية، ولكن المذكور في المصاحف التي بين أيدينا أنها مكية، ولعلَّ فيها روايتين.
প্রথম লক্ষ্য ছিল তাদের শিরক থেকে বের করে আনা এবং প্রথমে তাওহিদে প্রবেশ করানো, এরপর একটি কার্যকর ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করা। তবে ইসলামের প্রাথমিক শরীয়াহ বিধানে হারাম বিষয়গুলো নির্ধারিত ছিল, যদিও সে সম্পর্কে তখন নীরবতা পালন করা হয়েছিল। তার মানে এই নয় যে সেগুলো বৈধ ছিল, বরং সেগুলো ছিল নীরবতা ও ক্ষমার আওতায়, যতক্ষণ না সেগুলো চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ করে শরীয়াহ অবতীর্ণ হয়। যেমন মদ বৈধ ছিল না, তবে সে বিষয়ে নীরবতা পালন করা হয়েছিল অথবা উসুলবিদদের পরিভাষায় তা ক্ষমার স্তরে ছিল। পরবর্তীতে যখন মদিনায় এর ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আসে, তখন তার সাথে শাস্তির বিধানও কার্যকর হয়। এভাবে যে সকল বিষয়ে নীরবতা পালন করা হয়েছিল, সেগুলোর কোনোটিই বৈধতার পর্যায়ে ছিল না।

যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় হিজরত করলেন, তখন লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন হলো; কারণ তখন একটি আদর্শ ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করত এবং তা বাস্তবায়ন ও বিচারকার্য পরিচালনা করত। ফলে লেনদেনের ব্যবস্থাপনা সুসংগঠিত হলো এবং তিনি মানুষের মধ্যে সহযোগিতার সর্বোচ্চ স্তর 'ভ্রাতৃত্ব' স্থাপনের মাধ্যমে এর সূচনা করলেন, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে এবং আনসারদের নিজেদের মধ্যে ও মুহাজিরদের নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করে দিলেন। এরপর সামাজিক ব্যবস্থা ও মানবিক লেনদেনের বিধিবিধান প্রবর্তিত হলো; যার মধ্যে ছিল ক্রয়-বিক্রয় ও বর্গা চাষের বিধান এবং সুদসহ অন্যান্য হারামের নিষেধাজ্ঞা। যাকাত ফরয হওয়া ও এর ব্যবস্থাপনা, দরিদ্রদের তাদের প্রাপ্য অধিকার প্রদান এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক কাঠামো তৈরি হলো। তদুপরি হুদুদ ও কিসাসের মতো সামাজিক দণ্ডবিধি প্রবর্তিত হলো এবং অধিকারের বিষয়ে চূড়ান্ত মীমাংসাকারী বিধানসমূহ বিধিবদ্ধ হলো। জিহাদের পথ উন্মুক্ত হলো এবং যুদ্ধের নীতিমালা প্রণীত হলো। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একটি সুদৃঢ় ও মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হলো, যেখানে শত্রুর অধিকার যেমন রক্ষা করা হতো, তেমনি বন্ধুর অধিকারকেও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হতো; কারণ ইসলামের নাগরিক নীতিমালার ভিত্তি ছিল প্রত্যেক হকদারের হক আদায় করা কোনো প্রকার কমতি, অবিচার, সীমা লঙ্ঘন বা অন্যায় ছাড়াই।

লক্ষণীয় যে, ইনসাফের মূলনীতিসমূহ ইসলামী শরীয়াহর অস্তিত্বের সাথেই এসেছিল এবং পবিত্র কুরআন মক্কা ও মদিনা উভয় স্থানেই এর দাওয়াত দিয়েছে; কারণ ইনসাফ বা ন্যায়বিচার হলো একটি প্রাথমিক অধিকার যা রাষ্ট্রভেদে ভিন্ন হয় না, বরং এটি সরাসরি মানবসত্তার সাথেই সম্পৃক্ত।

ইনসাফ, ইহসান এবং অঙ্গীকার পূরণের আদেশ সূরা আন-নাহলে এসেছে, যা অধিকাংশের মতে মক্কী সূরা; কারণ আল্লাহ তাআলা সেখানে বলেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ বক্তা: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফ, ইহসান এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার আদেশ দিচ্ছেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করছেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো। আর যখন তোমরা আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করো, তখন আল্লাহর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং তোমরা কসম দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না, অথচ তোমরা আল্লাহকে তোমাদের জামিন নিযুক্ত করেছ। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন। আর তোমরা সেই নারীর মতো হয়ো না, যে তার সূতা মজবুত করে পাকানোর পর তা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে। তোমরা তোমাদের কসমগুলোকে একে অপরের সাথে প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করো যাতে এক জাতি অন্য জাতির চেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে} [আন-নাহল: ৯০-৯২]।

ইমাম কুরতুবী তাঁর তাফসীর 'আল-জামি লি আহকামিল কুরআন'-এ মাদানী সূরাগুলো গণনা করে বলেছেন: "কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, কুরআন থেকে মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে: আল-বাকারাহ, আল-ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদাহ, আল-আনফাল, বারাআত, আর-রাদ, আন-নাহল, আল-হাজ্জ, আন-নূর, আল-আহযাব, মুহাম্মাদ, আল-ফাতহ, আল-হুজুরাত, আর-রাহমান, আল-হাদীদ, আল-মুজাদালাহ, আল-হাশর, আল-মুমতাহানাহ, আস-সাফ, আল-জুমুআহ, আল-মুনাফিকুন, আত-তাগাবুন, আত-তালাক, এবং 'হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা কেন আপনি হারাম করছেন' থেকে দশম আয়াতের শুরু পর্যন্ত, এবং 'ইযা যুলযিলাত', এবং 'ইযা জাআ নাসরুল্লাহ'। এই সূরাগুলো মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং কুরআনের বাকি অংশ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।"

লক্ষণীয় যে, তিনি সূরা আন-নাহলকে মাদানী সূরার অন্তর্ভুক্ত করেছেন, কিন্তু আমাদের হাতে থাকা মুসহাফগুলোতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো এটি মক্কী সূরা। সম্ভবত এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌كتابة القرآن وجمعه:

9- منذ ابتداء نزول القرآن الكريم على الرسول الأمين، والنبي صلى الله عليه وسلم يحفظه، ويأمر من حوله ممن يحسنون الكتابة أن يكتبوه، وقد سمي أولئك الذين كتبوا القرآن بكتاب الوحي، ومنهم: عبد الله بن مسعود، وعلي بن أبي طالب، وزيد بن ثابت، وغيرهم كثير ممن كانوا يحضرون إلى النبي صلى الله عليه وسلم قبل نزول الوحي بالقرآن عليه، فيملي عليهم ما نزل، ويعلمون ما حفظه في حف ظه الكثيرون من الصحابة، وخصوصًا من كانوا له عليه الصلاة والسلام ملازمين، وعلى مقربة منه صلى الله عليه وسلم.

وكان زوال القرآن على غير الترتيب الذي نقرؤه الآن في السور الكريمة، بل كان ذلك الترتيب من بعد النزول بعمل النبي صلى الله عليه وسلم بوحي من الله تعالى، فكان يقول صلى الله عليه وسلم: ضعوا آية كذا في موضع كذا من سورة كذا، فتكون بجوارها متسقة متلاحقة المعنى مترابطة، متناسقة اللفظ، تلتقي بها كأنها تقف معها، وكأنهما كلام واحد قبل في زمن واحد، أحدهما لاحق، والآخر سابق، وكأن المتكلم قالهما في نفس واحد، من غير زمن بينهما يتراخى، أو يتباعد، وذلك من سر الإعجاز، ولا غرابة في ذلك؛ لأن القائل واحد، وهو الله سبحانه وتعالى العليم الخبير الذي لا تجري عليه الأزمان، ولا يحد قوله بالأوقات والأحيان؛ لأنه هو خالق الأزمان، والمحيط بكل شيء علمًا.

ولذلك كان ترتيب القرآن الكريم في كل سورة بتنزيل من الله تعالى.

وكان من الصحابة من يحفظه كله، فكان عبد الله بن مسعود يحفظه المكي، ويحفظ المدني، ولكن الرواة قالوا: إنه عرض على رسول الله صلى الله عليه وسلم المكي فقط، وكذلك جمع أُبَيُّ المدنيّ، وقالوا: إنه عرض على النبي صلى الله عليه وسلم ما جمعه بعد الهجرة، وأكبر العرض هو عرض زيد بن ثابت -رضي الله تبارك وتعالى عنه، فقد كان سنة وفاة النبي صلى الله عليه وسلم، وقد كان بعد أن قرأ الرسول الأمين على روح القدس جبريل القرآن مرتَّبًا ذلك الترتيب الموحى به الذي نقرأ به القرآن الكريم.

وإنَّ النبي صلى الله عليه وسلم لم ينتقل إلى الرفيق الأعلى إلَّا وقد جمع القرآن في صدر طائفة من الصحابة، قيل: إن عددهم مائة أو يزيدون، ونحن نرى أنهم كانوا أكثر من ذلك عددًا، فإنه قتل من القرَّاء في إحدى مواقع الردة عدد يزيد على السبعين، وقيل: على سبعمائة، وربما كان الأول أدق، فإذا كان ذلك العدد مقتولًا فالباقي بحمد الله تعالى
কুরআন লিখন ও এর সংকলন:

৯- বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার শুরু থেকেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা মুখস্থ করতেন এবং তাঁর চারপাশের যারা লিখনশৈলীতে পারদর্শী ছিলেন তাঁদের তা লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন। যারা কুরআন লিখেছিলেন তাঁদের ‘ওহী লেখক’ হিসেবে অভিহিত করা হতো। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আলী ইবনে আবি তালিব, জায়েদ ইবনে সাবিত এবং আরও অনেকে যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় উপস্থিত থাকতেন। তিনি তাঁদের ওপর যা অবতীর্ণ হতো তা পাঠ করে শোনাতেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা মুখস্থ করেছেন সে সম্পর্কে তাঁরা অবগত হতেন। অনেক সাহাবীও তা মুখস্থ করতেন, বিশেষ করে যারা তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর খুব সান্নিধ্যে থাকতেন।

পবিত্র কুরআনের অবতরণ বর্তমানে আমরা সূরাসমূহে যে বিন্যাস দেখি সেই ক্রমে ছিল না। বরং এই বিন্যাসটি অবতরণের পর মহান আল্লাহর ওহীর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশনায় সম্পন্ন হয়েছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: অমুক সূরাতে অমুক স্থানে অমুক আয়াতটি স্থাপন করো। ফলে আয়াতগুলো পাশাপাশি সুবিন্যস্ত হতো, অর্থের দিক থেকে অনুগামী ও পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হতো এবং শব্দশৈলীর দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। আয়াতগুলো একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশে যেত যেন তারা একসাথে দাঁড়িয়ে আছে এবং যেন তারা একই সময়ে বলা একটিমাত্র বক্তব্য। একটির পরে আরেকটি এসেছে, কিন্তু মনে হয় যেন বক্তা সেগুলো এক নিঃশ্বাসে বলেছেন, মাঝখানে সময়ের কোনো ব্যবধান বা দূরত্ব নেই। এটিই হলো অলৌকিকত্বের রহস্য। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ বক্তা একজনই, আর তিনি হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, যিনি মহাজ্ঞানী ও সম্যক অবগত। তাঁর ওপর সময়ের কোনো আবর্তন চলে না এবং তাঁর কথা কোনো সময় বা কালের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; কারণ তিনিই সময়ের স্রষ্টা এবং জ্ঞানের মাধ্যমে সবকিছু পরিবেষ্টনকারী।

তাই পবিত্র কুরআনের প্রতিটি সূরার বিন্যাস মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী অনুযায়ী হয়েছে।

সাহাবীদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ রাখতেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ মক্কী ও মাদানী উভয় অংশ মুখস্থ রাখতেন। তবে বর্ণনাকারীগণ বলেন: তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কেবল মক্কী অংশই পেশ করেছিলেন। একইভাবে উবাই (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মাদানী অংশ সংকলন করেছিলেন এবং বলা হয় যে, হিজরতের পর তিনি যা সংগ্রহ করেছিলেন তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পেশ করেছিলেন। তবে সবচাইতে বড় পেশকরণ (উপস্থাপন) ছিল যায়েদ ইবনে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তেকালের বছর সম্পন্ন হয়েছিল। এটি ছিল বিশ্বস্ত রাসূল কর্তৃক পবিত্র রূহ জিবরাঈলের কাছে ওহীপ্রাপ্ত সেই বিন্যাস অনুযায়ী কুরআন পাঠ করার পর, যে বিন্যাসে আজ আমরা পবিত্র কুরআন পাঠ করি।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে গমন করার পূর্বেই সাহাবীদের একটি দলের অন্তরে পূর্ণ কুরআন সংকলিত হয়ে গিয়েছিল। বলা হয় তাঁদের সংখ্যা ছিল একশত বা ততোধিক। আমাদের মতে তাঁদের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি ছিল। কারণ রিদ্দার যুদ্ধগুলোর একটিতে সত্তর জনেরও বেশি ক্বারী শহীদ হয়েছিলেন; কারো মতে এই সংখ্যা সাতশরও বেশি ছিল। সম্ভবত প্রথম তথ্যটিই অধিকতর নির্ভুল। যদি নিহতের সংখ্যাই এমন হয়, তবে আল্লাহর প্রশংসায় অবশিষ্টদের সংখ্যা ছিল বিপুল।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
أكثر، وإن كان قتل سبعين قد هال المؤمن الثاقب النظر عمر بن الخطاب رضي الله عنه تعالى عنه وجزاه عن الإسلام خيرًا.

وإن كان بعض الكاتبين ذكر أنَّ الحافظ للقرآن من الصحابة أربعة هم: علي بن أبي طالب -كرَّم الله تعالى وجهه، ومعاذ بن جبل، وعبد الله بن مسعود، وزيد بن ثابت، فذلك ليس من قبيل الإحصاء ولا قبيل التعيين العادي، فإن العدد أكبر من ذلك.

والأمر الآخر الذي يجب التنبيه إليه هو أن القرآن كله كان مكتوبًا عند الصحابة، وإذا كان لم يكن كله مكتوبًا عند بعضهم، أو عند واحد منهم بعينه، فإن ذلك لم يكن منفيًّا عن جميعهم، فهو مكتوب كله عند جميعهم، وما ينقص من عند واحد يكمله ما عند الآخرين، وهكذا تضافروا جميعًا على نقله مكتوبًا، وإن تقاصر بعضهم عن كتابته كمل الأخر، وكان الكمال النقلي جماعيًّا وليس أحاديًّا.

وقد يسأل سائل: لماذا كان الجامعون له في الصدور كثيرين، وقد حفظوه كاملًا غير منقوص، ولم يوجد من جمعه في السطور جمعًا كاملًا؟

ونجيب عن ذلك بجوابين:

أحدهما: من واقع حياة العرب، فقد كانوا أميين، والمجيد منهم للكتابة قليل، وأدوات الكتابة غير متوافرة، وما يكتب عليه غير معد لها، فكانوا يكتبون على الأديم، وعلى لخاف الأشجار، وعلى العسب، وغير ذلك مما لا يعد للكتابة، فكان الغريب أن تكون كتابة، فضلًا عن أن تكون كتابة كاملة للقرآن عند الواحد من الصحابة، وكتابته كاملة عند الجميع كانت بتوفيق الله تعالى ومن عنايته بكتابه الكريم.

والجواب الثاني: إن ذلك من عمل الله تعالى؛ لأنَّ الله تعالى العليم الحكيم جعل حفظ القرآن الكريم في الصدور ابتداءً وانتهاءً، وفي السطور احتياطًا، ولا تحريف، وإنَّ تواتر القرآن الكريم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون كما تلقاه عن ربه العليم الحكيم، والتواتر يكون بالتلقي في الصدور لا في السطور، ولا يكون تواترًا في مكتوب إلَّا إذا قرئ المكتوب على من أخذ عنه وأجازه، فالمكتوب يحتاج في نقله إلى الإجازة القولية، والإجازة القولية لا تحتاج إلى كتابة إلَّا بمقدار تسجيل الإجازة.

ترك محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم الدنيا والأمة على بينة من أمر القرآن، قد استحفظوه وحفظوه وكتبوه، وحمله رسول الحقيقة أمانة الخليقة، وهو القرآن الحكم في هذا الوجود الإنساني، فماذا كان من بعده.
অধিক, যদিও সত্তর জনের শহীদ হওয়া তীক্ষ্ণদৃষ্টি সম্পন্ন মুমিন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিচলিত করেছিল এবং আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইসলামের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর যদিও কোনো কোনো লেখক উল্লেখ করেছেন যে সাহাবীদের মধ্যে কুরআনের হাফেজ ছিলেন চারজন: আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাবান করুন), মুআয ইবনে জাবাল, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং যায়েদ ইবনে সাবিত; তবে এটি কোনো গাণিতিক সংখ্যায়ন বা সাধারণ সীমাবদ্ধকরণের অন্তর্ভুক্ত নয়, কেননা প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।

অন্য যে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করা আবশ্যক তা হলো, পূর্ণাঙ্গ কুরআন সাহাবীদের নিকট লিখিত অবস্থায় ছিল। আর যদি তা তাঁদের কারো কারো নিকট বা নির্দিষ্ট কোনো একজনের নিকট এককভাবে পূর্ণাঙ্গরূপে লিখিত না-ও থেকে থাকে, তবে তা তাঁদের সকলের নিকট থেকে অনুপস্থিত ছিল না। বরং সামগ্রিকভাবে তাঁদের সকলের নিকটই তা পূর্ণাঙ্গভাবে লিখিত ছিল। একজনের কাছে যা অসম্পূর্ণ থাকত, অন্যজনের কাছে থাকা অংশ তা পূর্ণ করত। এভাবে তাঁরা সকলে মিলে কুরআনকে লিখিত আকারে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করেছেন। যদি কেউ তা লেখায় পিছিয়ে থাকতেন, তবে অন্যজন তা পূর্ণ করতেন। আর বর্ণনামূলক এই পূর্ণতা ছিল সামষ্টিক, একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়।

কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করতে পারেন: কেন কুরআন অন্তরে মুখস্থকারী হাফেজদের সংখ্যা এত বেশি ছিল এবং তাঁরা তা কোনো বিচ্যুতি ছাড়াই পূর্ণাঙ্গভাবে মুখস্থ করেছিলেন, অথচ পঙক্তিমালায় (লিখিত আকারে) পূর্ণাঙ্গভাবে সংকলনকারী কেন পাওয়া গেল না?

আমরা এর উত্তরে দুটি জবাব দেব:

একটি হলো: আরবদের বাস্তব জীবনধারা থেকে; কারণ তাঁরা ছিলেন নিরক্ষর, তাঁদের মধ্যে লিখতে পারার মতো পারদর্শী লোক ছিল সামান্য, আর লেখার উপকরণসমূহ পর্যাপ্ত ছিল না। এমনকি যেগুলোর ওপর লেখা হতো সেগুলোও লেখার জন্য প্রস্তুতকৃত ছিল না। ফলে তাঁরা চামড়া, মসৃণ সাদা পাথর, খেজুরের ডাল এবং এই জাতীয় অন্যান্য জিনিসের ওপর লিখতেন যা লেখার জন্য আদর্শ মাধ্যম নয়। এমতাবস্থায় কোনো লেখা বিদ্যমান থাকাটাই ছিল এক বিস্ময়কর ব্যাপার, সেখানে কোনো একজন সাহাবীর কাছে কুরআনের পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি থাকা তো পরের কথা। তবে সামগ্রিকভাবে সকলের কাছে এর পূর্ণাঙ্গ লিখিত রূপ থাকাটা ছিল মহান আল্লাহ তাআলার তাওফিক এবং তাঁর সম্মানিত কিতাবের প্রতি বিশেষ যত্নের বহিঃপ্রকাশ।

দ্বিতীয়ত: এটি মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই নির্ধারিত ছিল; কারণ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন সংরক্ষণের বিষয়টি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্তরে (মুখস্থের) মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন, আর সতর্কতামূলকভাবে ও বিকৃতি রোধকল্পে তা পঙক্তিমালায় (লিখিত আকারে) রেখেছেন। আর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে পবিত্র কুরআনের মুতাওয়াতির বর্ণনা ঠিক সেভাবেই সাব্যস্ত হয়েছে যেভাবে তিনি তাঁর সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় রবের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন। আর এই নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনা হয়ে থাকে মূলত অন্তরের মুখস্থ বিদ্যার মাধ্যমে, কাগজের লেখার মাধ্যমে নয়। লিখিত কোনো কিছুর গ্রহণযোগ্যতা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয় না, যতক্ষণ না তা মূল সূত্র থেকে পাঠ করে তাঁর কাছ থেকে মৌখিক স্বীকৃতি বা অনুমতি নেওয়া হয়। সুতরাং লিখিত বিষয় হস্তান্তরের ক্ষেত্রে মৌখিক অনুমতির মুখাপেক্ষী হতে হয়, কিন্তু মৌখিক অনুমতির ক্ষেত্রে লিখে রাখার প্রয়োজনীয়তা পড়ে না, কেবল সেই অনুমতির রেকর্ড রাখা ছাড়া।

মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই উম্মতকে কুরআনের বিষয়ের এক সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর রেখে ইহকাল ত্যাগ করেছেন। তাঁরা তা মুখস্থ করেছেন, সংরক্ষণ করেছেন এবং লিপিবদ্ধ করেছেন। সত্যের এই রাসুল সৃষ্টির আমানত হিসেবে সেই কুরআন বহন করেছেন যা মানব অস্তিত্বের জন্য ফয়সালাকারী। অতঃপর তাঁর ইন্তেকালের পর কী ঘটেছিল?
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
جمع القرآن الكريم بعد الرسول -صلى الله عليه وسلم:

10- انتقل النبي صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى، وقد حفظ عدد كبير من الصحابة يبلغ حدَّ التواتر القرآن كله كاملًا غير منقوص، لم يتركوا منه كلمة إلا حفظوها، وعلموا أين نزلت، ومتى نزلت، وعلموا معناها من صاحب الرسالة -صلى الله عليه وسلم، حتى إنَّه ليروى عن عثمان بن عفان أنَّه كان يقول: كنا إذا حفظنا عشر آيات من القرآن سألنا الرسول صلى الله عليه وسلم عن معناها فيبينها لنا.

ترك الرسول صلى الله عليه وسلم لصاحبته القرآن، وهو أعظم ثروة إنسانية مثرية في هذا الوجود، وقد أدركوا حق الأمانة وأنهم حاملوها إلى الأخلاف من بعدهم كاملة كما تسلَّموها، فكان حرصهم عليها أشدَّ من حرصهم على أنفسهم؛ لأنهم فانون وهي الباقية، وهي تراث النبوة، وسجل الرسالات الإلهية، لذلك كانوا يحافظون عليها وعلى الذين حملوها في صدورهم.

ولقد هال عمر بن الخطاب أنه قد استحر القتال بين المؤمنين الأولين -وكثير منهم من حفظة القرآن الكريم، وبين أهل الردة في موقعة اليمامة، وقتل منهم فيما قيل: سبعمائة -كما جاء في الجامع الكبير للقرطبي، فأشار عمر بن الخطاب -رضي الله تعالى عنه- على أبي بكر يجمع القرآن مخافة أن يموت أشياخ القراء كأُبَيّ وابن مسعود وزيد، فندبا زيد بن ثابت إلى ذلك، فجمعه بعد تعب شديد.

روى البخاري عن زيد بن ثابت قال: "أرسل إليَّ أبو بكر بعد مقتل أهل اليمامة، وعنده عمر، فقال أبو بكر: إنَّ عمر أتاني فقال: إنَّ القتل قد استحر يوم القيامة بالناس، وإني أخشى أن يستحر القتل بالقراء في المواطن كلها، فيذهب كثير من القرآن إلَّا أن تجمعوه، وإني لأرى أن يجمع القرآن، قال أبو بكر: فقلت لعمر: كيف أفعل شيئًا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ فقال: هو والله خير، فلم يزل يراجعني حتى شرح الله لذلك صدري، ورأيت الذي رأى عمر، قال زيد: وعنده عمر جالس لا يتكلّم، فقال لي أبو بكر: إنك رجل شاب عاقل ولا نتهمك، كنت تكتب الوحي لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فتتبَّع القرآن فاجمعه. فوالله لو كلفني نقل جبل من الجبال ما كان أثقل عليَّ مما أمرني به من جمع القرآن، قلت: كيف تفعلان شيئًا لم يفعله رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! فقال أبو بكر: هو والله خير، فلم أزل أراجعه حتى شرح الله صدري للذي شرح له صدر أبي بكر وعمر".

اختار أبو بكر كما ترى في رواية البخاري ورواية غيره من أصحاب الصحاح زيدًا ليقوم مع من يستعين به من حفظة القرآن، وكان اختياره لزيد لأسباب جمَّة:

أولها: ما اشتُهِرَ به بين الصحابة من العلم والفقه.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর কুরআনুল কারীম সংকলন:

১০- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রফীকে আ'লার সান্নিধ্যে (পরলোকে) গমন করেছেন। সাহাবীদের এক বিশাল জামাত, যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাঁরা পূর্ণ কুরআন সম্পূর্ণ ও অবিকলভাবে মুখস্থ রেখেছিলেন। তাঁরা এর একটি শব্দও বাদ দেননি বরং তা মুখস্থ রেখেছেন, এবং তাঁরা জানতেন কোথায় তা অবতীর্ণ হয়েছে, কখন অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁরা এর অর্থ ওহীর বাহক রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে জেনে নিয়েছিলেন। এমনকি উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলতেন: আমরা যখন কুরআন থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করতাম, তখন আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এর অর্থ জিজ্ঞাসা করতাম এবং তিনি তা আমাদের নিকট বর্ণনা করতেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট কুরআন রেখে গেছেন, যা এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে মহান ও সমৃদ্ধশালী মানবিক সম্পদ। তাঁরা এই আমানতের যথাযথ গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন এবং এটিও জানতেন যে, তাঁরা এই আমানতকে অবিকল সেভাবেই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বশীল যেমনটি তাঁরা গ্রহণ করেছিলেন। তাই এই কুরআনের প্রতি তাঁদের আগ্রহ ও সংরক্ষণবোধ নিজেদের প্রাণের চেয়েও প্রবল ছিল; কেননা তাঁরা নশ্বর কিন্তু কুরআন চিরস্থায়ী, এটিই নবুওয়তের মিরাস এবং ঐশী রিসালাতসমূহের মহা-নথি। তাই তাঁরা কুরআন এবং কুরআন ধারণকারী হাফেজদের পরম যত্ন ও সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করতেন।

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এই বিষয়টি বিচলিত করেছিল যে, ইয়ামামার যুদ্ধে প্রথম দিককার মুমিনদের মাঝে—যাদের মধ্যে অনেক হাফেজে কুরআন ছিলেন—এবং মুরতাদদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে একটি বর্ণনা অনুযায়ী প্রায় সাতশত লোক শহীদ হয়েছিলেন (যেমনটি ইমাম কুরতুবীর আল-জামি' আল-কাবীর-এ বর্ণিত হয়েছে)। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কুরআন সংকলন করার পরামর্শ দেন এই আশঙ্কায় যে, উবাই, ইবনে মাসউদ এবং জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মতো প্রবীণ কারীগণ মৃত্যুবরণ করতে পারেন। অতঃপর তাঁরা জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুকে এই কাজের জন্য আহ্বান করেন এবং তিনি কঠোর পরিশ্রমের পর তা সংকলন করেন।

ইমাম বুখারী জায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "ইয়ামামার যুদ্ধে অনেক সাহাবী শহীদ হওয়ার পর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার নিকট লোক পাঠালেন, তখন তাঁর নিকট উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বসা ছিলেন। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: উমর আমার নিকট এসে বললেন, ইয়ামামার যুদ্ধে মানুষের মাঝে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে এবং আমি আশঙ্কা করছি যে সকল রণক্ষেত্রে কারীগণের (হাফেজদের) শাহাদাত উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে, ফলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে যেতে পারে যদি না আপনারা তা সংকলন করেন। আমি মনে করি কুরআন সংকলন করা উচিত। আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি উমরকে বললাম, আমি এমন কাজ কীভাবে করব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি? উমর বললেন: আল্লাহর কসম, এটি একটি কল্যাণকর কাজ। এরপর উমর বারবার আমার নিকট বিষয়টি পেশ করতে থাকলেন যতক্ষণ না আল্লাহ এই কাজের জন্য আমার অন্তর উন্মোচিত করে দিলেন এবং উমর যা সঙ্গত মনে করেছিলেন আমিও তা সঙ্গত মনে করলাম। জায়েদ বলেন: উমর সেখানে বসা ছিলেন কিন্তু তিনি কোনো কথা বলছিলেন না। এরপর আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন: আপনি একজন বুদ্ধিমান যুবক এবং আপনার ব্যাপারে আমাদের কোনো সংশয় নেই, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওহী লেখক ছিলেন। সুতরাং আপনি কুরআন অনুসন্ধান করে তা সংকলন করুন। জায়েদ বলেন: আল্লাহর কসম, যদি তিনি আমাকে কোনো পাহাড় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিতেন তবে তা আমার নিকট কুরআন সংকলনের আদেশের চেয়ে অধিক ভারী মনে হতো না। আমি বললাম: আপনারা এমন কাজ কীভাবে করবেন যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করেননি? আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আল্লাহর কসম, এটি কল্যাণকর কাজ। এরপর আমি তাঁর সাথে এ নিয়ে আলোচনা করতে থাকলাম যতক্ষণ না আল্লাহ আমার অন্তরকে সেভাবে উন্মোচিত করে দিলেন যেভাবে আবূ বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার অন্তরকে আল্লাহ উন্মোচিত করেছিলেন।"

আপনি ইমাম বুখারী ও অন্যান্য সিহাহ গ্রন্থকারদের বর্ণনায় যেমনটি দেখছেন, আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরআন হাফেজদের মধ্য থেকে জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে তাঁর সহযোগীদের নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন করেছিলেন। জায়েদকে নির্বাচনের বহু কারণ ছিল:

প্রথমত: সাহাবীদের মাঝে ইলম ও ফিকহ (প্রজ্ঞা) বিষয়ে তাঁর সুখ্যাতি।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وثانيها: لأنَّه من كتبة الوحي الملازمين، لا الذين كتبوا مرة أو مرتين وأخذوا لقب كاتب الوحي شرفًا.

وثالثها: إنه ممن حفظوا القرآن وجمعوه في صدورهم، فكان حقيقًا أن يجمعه مسطورًا بعد أن جمعه محفوظًا.

ورابعها: إنه عرض القرآن على النبي صلى الله عليه وسلم في السنة التي انتقل فيها النبي صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى كما قدمنا.

11- حمل زيد ما هو أشد حملًا من الجبال؛ لأنه يحمل أثقل موازين الهداية في هذا الوجوه الإنساني، وهو وديعة الله تعالى إلى الوجود الإنساني إلى أن تزول السماوات والأرض.

وما كان لمن يحمل مثل هذا الحمل أن ينفرد بالعبء، فقد استعان بالحفظة الكرام من صحابة النبي صلى الله عليه وسلم الأعلام، وسلك في سبيل الجمع الخطة المثلى، فما كان ليعتمد على حفظه، وإنه لحافظ، ولا على حفظ من استعان بهم، وإنهم لحفاظ أمناء، ولكنه كان لا بُدَّ أن يعتمد على أمر مادي يُرَى بالحسِّ لا يحفظ بالقلب وحده، فكان لا بُدَّ أن يرى ما حفظه مكتوبًا في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وأن يشهد شاهدان بأنهما هكذا رأوا ذلك المكتوب في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وبإملائه صلى الله عليه وسلم، وقد تتبع القرآن بذلك آية آية، لا يكتب إلَّا ما رآه مكتوبًا عن النبي صلى الله عليه وسلم في عهده، ويشهد شاهدان أنهما هكذا رأيا ذلك المكتوب في عهد النبي صلى الله عليه وسلم ونقلاه، أو يرى ذلك المكتوب عند اثنين، فهو شهادة كاملة منهما، وقد حصل على القرآن كله مكتوبًا بنصاب الشهادة في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، فما كان إلَّا أن نقل المكتوب في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، ولكنه وجد آيتين لم يشهد اثنان بأنهما كتبتا في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، بل شهد واحد فقط، وهو خزيمة بن ثابت الأنصاري، وهو قوله تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ، فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} [التوبة: 128، 129] ، لم يجدهما إلا عند خزيمة، وقد قال له النبي صلى الله عليه وسلم تكريمًا له: "شهادتك باثنين".

وروي أنه لم يجد آية أخرى إلَّا عند خريمة، وهي قوله تعالى: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ وَمِنْهُمْ مَنْ يَنْتَظِرُ وَمَا بَدَّلُوا تَبْدِيلًا} [الأحزاب: 23] .

هذا هو المسلك الذي سلكه المؤمن الحافظ الذي اختاره أبو بكر لحمل التبعة مع من اختاره، ولنترك الكلمة له -أي: لزيد- فهو يشير إلى ما سلكه، فهو يقول فيما رواه البخاري: "قمت فتتبَّعت القرآن أجمعه من الرقاع والأكتاف والعسب وصدور الرجال،
দ্বিতীয়ত: কারণ তিনি ছিলেন অহী লেখকদের মধ্যে এমন একজন যারা সবসময় এই কাজে নিয়োজিত থাকতেন, এমন কেউ নন যারা কেবল সম্মান অর্জনের জন্য এক বা দুবার লিখে 'অহী লেখক' উপাধি লাভ করেছিলেন।

তৃতীয়ত: তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা কুরআন হিফজ করেছিলেন এবং তা নিজেদের অন্তরে একত্রিত করেছিলেন, তাই মুখস্থ করে হৃদয়ে ধারণ করার পর তা লিখিত আকারে সংকলন করা তাঁর জন্যই অধিক সমীচীন ছিল।

চতুর্থত: আমরা যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বছর 'রফিকুুল আলা' তথা পরম বন্ধুর (আল্লাহর) সান্নিধ্যে চলে যান, সেই বছর যায়িদ (রা.) তাঁর কাছে কুরআন পেশ করেছিলেন।

১১- যায়িদ পাহাড়ের চেয়েও ভারী এক বোঝা বহন করেছিলেন; কারণ তিনি মানবজাতির এই অস্তিত্বে হিদায়াতের সর্বাপেক্ষা ভারী মানদণ্ড বহন করছিলেন, যা আসমান ও জমিন বিলীন হওয়া পর্যন্ত মানব অস্তিত্বের প্রতি মহান আল্লাহর এক পরম আমানত।

যিনি এ ধরণের বোঝা বহন করেন, তাঁর পক্ষে একাকী এই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব ছিল না। তাই তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের মধ্য থেকে প্রথিতযশা হাফেজদের সাহায্য গ্রহণ করেছিলেন এবং সংকলনের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম কর্মপন্থা অবলম্বন করেছিলেন। তিনি কেবল নিজের হিফজের ওপর নির্ভর করেননি - যদিও তিনি একজন হাফেজ ছিলেন - কিংবা যাদের সাহায্য নিয়েছিলেন তাদের হিফজের ওপরও কেবল নির্ভর করেননি - যদিও তারা ছিলেন বিশ্বস্ত হাফেজ। বরং তাঁকে এমন এক বস্তুগত নিদর্শনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছিল যা ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায়, যা কেবল অন্তরেই সংরক্ষিত নয়। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যা লিখিত হয়েছিল, তা স্বচক্ষে দেখা তাঁর জন্য অপরিহার্য ছিল। পাশাপাশি দুজন সাক্ষীর এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করাও জরুরি ছিল যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং তাঁরই নির্দেশে তা লিখিত হতে দেখেছেন। এভাবে তিনি আয়ত ধরে ধরে পুরো কুরআন অনুসন্ধান করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে লিখিত রূপ না দেখে তিনি কোনো কিছুই লিখতেন না। আর সাক্ষীদ্বয় সাক্ষ্য দিতেন যে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সেটি লিখিত অবস্থায় দেখেছেন এবং তা নকল করেছেন, অথবা সেই লিখিত লিপিটি তিনি দুজন ব্যক্তির কাছে পেতেন, যা তাদের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হতো। এভাবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের সাক্ষ্যের পূর্ণ নিসাব (পরিমাপ) অনুযায়ী সমগ্র কুরআন লিখিত আকারে প্রাপ্ত হন। ফলে তিনি কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের সেই লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলোই অনুলিপি করছিলেন। তবে তিনি দুটি আয়াত এমন পেয়েছিলেন যার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে লিখিত হওয়ার বিষয়ে দুজন সাক্ষ্য দেননি, বরং কেবল একজনই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন; আর তিনি হলেন খুযায়মা ইবনে সাবিত আল-আনসারী। আয়াত দুটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে কোনো কষ্ট তাঁর নিকট অতি কঠিন মনে হয়। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি পরম দয়ালু ও পরম করুণাময়। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলো, 'আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব'।} [আত-তাওবাহ: ১২৮, ১২৯]। তিনি এই আয়াত দুটি কেবল খুযায়মার কাছেই পেয়েছিলেন, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সম্মান জানিয়ে বলেছিলেন: "তোমার সাক্ষ্য দুজনের সমান"।

বর্ণিত আছে যে, তিনি অপর একটি আয়াতও কেবল খুযায়মার নিকট পেয়েছিলেন, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে, আর তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেনি।} [আল-আহযাব: ২৩]।

এটিই ছিল সেই আমানতদার হাফেজ মুমিনের অনুসৃত পথ, যাকে আবু বকর (রা.) তাঁর মনোনীত ব্যক্তিবর্গের সাথে এই গুরুভার বহনের জন্য নির্বাচিত করেছিলেন। এখন আমরা কথা বলার সুযোগ যায়িদকেই দিই, তিনি নিজেই তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করে বুখারীর বর্ণিত এক বর্ণনায় বলেন: "আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং চামড়া বা কাপড়ের টুকরো, উটের হাড়ের ফলক, খেজুরের ডাল ও মানুষের হৃদয় থেকে কুরআন অনুসন্ধান করে তা সংকলন করতে শুরু করলাম।"
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
حتى وجدت آيتين من سورة التوبة مع خزيمة الأنصاري، لم أجدهما مع غيره {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ} [التوبة: 128] .

والآية الأخرى التي لم يجدها إلا عند خزيمة أيضًا جاء فيها عنه في رواية البخاري أيضًا: وعن زيد بن ثابت لمَّا نسخنا في المصاحف فقدت آية من سورة الأحزاب كنت أسمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقرؤها، لم أجدها مع أحد إلَّا مع خزيمة الأنصاري الذي جعل الله تعالى شهادته بشهادة رجلين: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ} [الأحزاب: 23] ، وقد علَّق على ذلك القرطبي: فكانت الأولى من سورة براءة في الجمع الأول على ما قاله البخاري والترمذي، وفي الجمع الثاني فقدت آية من سورة الأحزاب.

وهذا يدل على أنَّ الجمع الثاني اتبع فيه ما اتبع في الجمع الأول بالبحث عن الآيات مكتوبة في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وأن يشهد اثنان بكتابتها في عصره، أو توجد عند اثنين، فوجودها عندهما شهادتان، والجمع الثاني كان في عهد عثمان.

ولكن قد يسأل سائل: لماذا كان نصاب الشهادة كاملًا في الجمع الذي حدث في عهد أبي بكر، ثم لم يوجد النصاب في بعض الآي عند الجمع الثاني؟

نقول: إن فرض ذلك يتحقق بغياب أحد ركني النصاب عن المدينة أو موته، ولكن الله تعالى حافظ كتابه في هذا الوجود كوعده بحفظه وأنه منجز ما وعد: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] ، ولذلك كان الشاهد في الثاني هو الشاهد في الأول، وهو خزيمة الأنصاري الذي جعل النبي صلى الله عليه وسلم شهادته باثنين، فالنصاب كان كاملًا.

12- ولا نترك الكلام في هذا العمل الجليل الذي اشترك فيه أبو بكر وعمر، وحمل عنه زيد بن ثابت مع جمع من المهاجرين والأنصار، من غير أن نقرر حقيقتين ثابتتين تدلان على إجماع الأمة كلها على حماية القرآن الكريم من التحريف والتغير والتبديل، وأنه مصون بصيانة الله سبحانه وتعالى له، ومحفوظ بحفظه، وإلهام المؤمنين بالقيام عليه وحياطته.

الحقيقة الأولى: إن عمل زيد رضي الله عنه لم يكن كتابة مبتدأة، ولكن إعادة لمكتوب، فقد كتب كله في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وعمل زيد الابتدائي هو البحث عن الرقاع والعظام التي كان قد كتب عليها والتأكد من سلامتها، بأمرين: بشهادة اثنين على الرقعة التي توجد فيها الآية أو الآيتان أو الآيات، ويحفظ زيد نفسه وبالحافظين من الصحابة، وقد كانوا الجم الغفير والعدد الكبير، فما كان لأحد أن يقول: إن زيدًا كتب من غير أصل مادي قائم، إنه أخذ من أصل قائم ثابت مادي.
এমনকি আমি সূরা আত-তাওবার শেষ দুটি আয়াত খুজাইমা আল-আনসারির কাছে পেলাম, যা আমি অন্য কারো কাছে পাইনি। {নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন} [তাওবা: ১২৮]।

আর অন্য যে আয়াতটিও খুজাইমা ব্যতীত অন্য কারো কাছে পাওয়া যায়নি, সে সম্পর্কে বুখারি শরীফের একটি বর্ণনায় যায়িদ ইবনে সাবিত থেকে বর্ণিত হয়েছে: যখন আমরা মাসহাফসমূহ প্রতিলিপি করছিলাম, তখন আমি সূরা আল-আহযাবের একটি আয়াত খুঁজে পাচ্ছিলাম না, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পড়তে শুনেছিলাম। আমি সেটি খুজাইমা আল-আনসারি ব্যতীত অন্য কারো কাছে পাইনি, যাঁর সাক্ষ্যকে আল্লাহ তাআলা দুইজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান নির্ধারণ করেছিলেন: {মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে} [আহযাব: ২৩]। এ প্রসঙ্গে ইমাম কুরতুবি মন্তব্য করেছেন: বুখারি ও তিরমিযির বর্ণনা অনুযায়ী প্রথম সংকলনে সূরা বারায়াতের (তাওবা) আয়াতটি এবং দ্বিতীয় সংকলনে সূরা আল-আহযাবের একটি আয়াত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

এটি প্রমাণ করে যে, দ্বিতীয় সংকলনেও সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল যা প্রথম সংকলনে করা হয়েছিল; অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে লিখিত আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করা এবং দুইজন সাক্ষী থাকা যে এটি তাঁর যুগে লিখিত হয়েছে, অথবা দুইজনের কাছে সেটি বিদ্যমান থাকা, ফলে তাদের কাছে থাকাটাই দুইটি সাক্ষ্য হিসেবে গণ্য হতো। আর এই দ্বিতীয় সংকলনটি উসমানের যুগে সম্পন্ন হয়েছিল।

তবে কেউ প্রশ্ন করতে পারেন: আবু বকরের যুগে সম্পন্ন সংকলনে সাক্ষ্যের নিসাব (ন্যূনতম সংখ্যা) পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় সংকলনের সময় কিছু আয়াতের ক্ষেত্রে সেই নিসাব কেন পাওয়া যায়নি?

আমরা বলি: এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যদি সাক্ষ্যের নিসাবভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ মদিনার বাইরে থাকেন অথবা মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এই জগতে তাঁর কিতাবকে হেফাযত করার যে ওয়াদা করেছেন, সেই ওয়াদা অনুযায়ী তিনি তা রক্ষা করেছেন এবং তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণকারী: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক} [হিজর: ৯]। এই কারণেই দ্বিতীয় সংকলনের সাক্ষী ছিলেন সেই একই ব্যক্তি যিনি প্রথম সংকলনে সাক্ষী ছিলেন, অর্থাৎ খুজাইমা আল-আনসারি, যাঁর সাক্ষ্যকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইজনের সাক্ষ্যের সমান করেছিলেন; ফলে নিসাব পূর্ণই ছিল।

১২- আবু বকর ও উমর যে মহান কাজে শরিক ছিলেন এবং যায়িদ ইবনে সাবিত মুহাজির ও আনসারদের এক জামাতের সাথে যে দায়িত্ব বহন করেছিলেন, সে বিষয়ে আলোচনা শেষ করার আগে আমরা দুটি সুপ্রতিষ্ঠিত সত্যকে সাব্যস্ত করতে চাই। যা প্রমাণ করে যে, কুরআনুল কারীমকে বিকৃতি, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন থেকে রক্ষা করার বিষয়ে সমগ্র উম্মাহ একমত ছিল এবং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সুরক্ষিত, তাঁর মাধ্যমে সংরক্ষিত এবং মুমিনদের অন্তরে এটি সংরক্ষণ ও পাহারাদারি করার অনুপ্রেরণা প্রদানের মাধ্যমে হিফাযতকৃত।

প্রথম সত্যটি হলো: যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাজ কোনো নতুন লিখন ছিল না, বরং তা ছিল পূর্বে লিখিত বিষয়ের পুনঃলিখন। কারণ পুরো কুরআন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগেই লিখিত ছিল। যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রাথমিক কাজ ছিল সেইসব চামড়ার টুকরো ও হাড়গুলো খুঁজে বের করা যাতে কুরআন লেখা হয়েছিল এবং সেগুলোর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা। এটি দুটি উপায়ে করা হতো: প্রথমত, প্রতিটি আয়াত বা আয়াতসমূহের লিখিত লিপির ব্যাপারে দুইজনের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং দ্বিতীয়ত, স্বয়ং যায়িদ এবং হাফেজ সাহাবীদের মুখস্থ স্মৃতির সাথে মিলিয়ে দেখা, যাঁদের সংখ্যা ছিল অগণিত। সুতরাং কারো পক্ষে এটা বলা সম্ভব নয় যে, যায়িদ কোনো বিদ্যমান মূল ভিত্তি বা পাণ্ডুলিপি ছাড়াই তা লিখেছেন; বরং তিনি একটি প্রতিষ্ঠিত ও বস্তুগত মূল ভিত্তি থেকেই তা গ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
وبذلك نقرر أن ما كتبه زيد هو تمام ما كتب في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وأنه ليس كتابة زيد، بل هو ما كتب في عصره صلى الله عليه وسلم، وما أملاه، وما حفظه عن الروح القدس.

وإذا كان ما كتبه عثمان من بعد ذلك قد قوبل بما كتب في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، فالمصحف العثماني الذي بقي بخطه إلى اليوم هو مطابق تمام المطابقة لما كتب في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وأنه يجب ألا يخرج عنه قارئ في قراءة بزيادة حرف أو نقص، قد تكون القراءات متغيرة في أصوات المقروء وأشكال النطق، ولكن لا يمكن أن تكون متغيرة بزيادة أو نقص، فذلك هو الخروج عن الرسم الذي وضع في عصر محمد صلى الله عليه وسلم بإقراره صلى الله عليه وسلم.

الحقيقة الثانية: إنَّ عمل زيد لم يكن عملًا أحاديًّا، بل كان عملًا جماعيًّا من مشيتخة صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ ذلك أنَّ زيدًا بطبيعة عمله أعلن بين الناس ما يريد؛ ليأتيه كل من عنده من القرآن ما هو مكتوب بما عنده، وقد علموا مقدار ما ينبغي لكتاب الله من عناية، فذهبوا إليه وذهب إليهم، وتضافر معه من كانوا يعاونونه غير مدخِّرين جهدًا إلَّا بذلوه في عناية المؤمن بكتاب الله تعالى الذي يؤمن به.

ولما أتمَّ زيد ما كتب تذاكره الناس وتعرَّفوه وأقرّوه، فكان المكتوب متواترًا بالكتابة ومتواترًا بالحفظ في الصدور، وما تمَّ هذا لكتاب في الوجود غير القرآن، ولا يهمنا أن يقرَّ ذلك المعاندون أم لا يقروه، فذلك إيماننا، والحجة القاطعة لا يضيرها ارتياب في غير موضعه، بل الحقائق ناصعة، والبينات قائمة ثابتة، وهي في حكم البدهيات القاطعة، ومن يرتاب في أمر عقلي لا ريب فيه فهو يضل نفسه، ولا يضر غيره، والحق أبلج، والباطل لجلج، وإذن فلا عجب في أمر المعاندين الضالين.

إنما العجب كل العجب في أمر الذين يضلون في طلب الحق، فيتيهون في ظلمات الروايات المدسوسة المكذوبة، ولا حول ولا قوة إلا بالله.
এর দ্বারা আমরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি যে, যায়েদ যা লিখেছিলেন তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যা লিখিত হয়েছিল তার পূর্ণ রূপ। আর এটি যায়েদের ব্যক্তিগত লিখন নয়, বরং তা ছিল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগেই লিখিত বিষয়, যা তিনি লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন এবং যা তিনি রুহুল কুদুস থেকে মুখস্থ করেছিলেন।

আর পরবর্তীতে উসমান যা লিখেছিলেন তা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যা লেখা হয়েছিল তার সাথে তুলনা করা হয়, তবে দেখা যায় যে, উসমানী মুসহাফ যা আজ পর্যন্ত তাঁর সেই লিখনরীতিতে টিকে আছে, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যা লেখা হয়েছিল তার সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর কোনো পাঠকের জন্য একটি বর্ণ বাড়ানো বা কমানোর মাধ্যমে এই লিখনরীতির বাইরে যাওয়া বৈধ নয়। কিরাআত বা পঠনপদ্ধতি পঠিত শব্দের ধ্বনি বা উচ্চারণভঙ্গির দিক থেকে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই বৃদ্ধি বা হ্রাসের মাধ্যমে ভিন্ন হতে পারে না। কারণ তা হবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তাঁর অনুমোদনের মাধ্যমে নির্ধারিত লিখনরীতির বহির্ভূত কাজ।

দ্বিতীয় সত্যটি হলো: যায়েদের এই কাজ কোনো একক কাজ ছিল না, বরং এটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রবীণ সাহাবীগণের একটি সম্মিলিত প্রয়াস। এর কারণ হলো, যায়েদ তাঁর কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী মানুষের মাঝে ঘোষণা করেছিলেন তিনি কী চান; যাতে যার কাছে কুরআনের কোনো অংশ লিখিত অবস্থায় আছে, সে যেন তা তাঁর কাছে নিয়ে আসে। আর আল্লাহর কিতাবের প্রতি কতটুকু যত্নশীল হওয়া উচিত সে সম্পর্কে তাঁদের সম্যক ধারণা ছিল, ফলে তাঁরা তাঁর নিকট গিয়েছিলেন এবং তিনিও তাঁদের নিকট গিয়েছিলেন। আর যারা তাঁকে সহযোগিতা করছিলেন তারা তাদের সকল সামর্থ্য উজাড় করে দিয়ে তাতে আত্মনিয়োগ করেছিলেন এবং আল্লাহর কিতাবের প্রতি মুমিনের যে যত্ন থাকা প্রয়োজন, তাতে কোনো ত্রুটি করেননি।

যখন যায়েদ তাঁর লিখন সম্পন্ন করলেন, তখন মানুষ তা নিয়ে পারস্পরিক আলোচনা করল, তা অনুধাবন করল এবং এর স্বীকৃতি দিল। ফলে এই লিখিত রূপটি লিখন ও অন্তরের হিফজ উভয় মাধ্যমেই মুতাওয়াতির বা অবিচ্ছিন্নভাবে প্রমাণিত হলো। কুরআন ছাড়া জগতের আর কোনো কিতাবের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেনি। আর কোনো হঠকারী ব্যক্তি তা স্বীকার করল কি করল না তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না, কারণ এটাই আমাদের ঈমান। আর অহেতুক সংশয় কোনো অকাট্য দলিলের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। বরং সত্যসমূহ অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত ও সুদৃঢ়, যা স্বতঃসিদ্ধ অকাট্য বিষয়ের পর্যায়ভুক্ত। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো যৌক্তিক বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই, সে মূলত নিজেকেই পথভ্রষ্ট করে এবং অন্যের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। সত্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট এবং বাতিল দ্বিধাগ্রস্ত; অতএব, পথভ্রষ্ট হঠকারীদের এই আচরণে আশ্চর্যের কিছু নেই।

বরং চরম বিস্ময় তো ঐসব লোকেদের ক্ষেত্রে যারা সত্য অন্বেষণ করতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে এবং প্রক্ষিপ্ত ও মিথ্যা বর্ণনার অন্ধকারে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌جمع القرآن في عهد عثمان أو الأحرف السبعة:

13- جمع القرآن كله في عهد الشيخين أبي بكر وعمر، وقد أودعه عمر حفصة أم المؤمنين، ليكون مصونًا يرجع إليه لا ليتلى منه، فالتلاوة استمرَّت كما كانت في عصر النبي صلى الله عليه وسلم تتلقَّى من أفواه الرجال مرتَّلة، كما تلقوها عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ ليبقى القرآن محفوظًا في صدور المؤمنين بنصِّه وتلاوته.

وإن النصَّ المكتوب واحد لا تغير فيه، وهو يحتمل عدة قراءات، وقد ذكروا أن القراءة المتواترة لا تكون مقبولة إلَّا إذا كانت موافقة للنص المكتوب غير زائدة، ولا ناقصة، فهي شاملة للقراءات كلها.

ولقد أجيز في أول نزول القرآن أن يقرأ على لغاتٍ سبع من لهجات العرب كلها يمنيها ونزارها؛ لأن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يجهل شيئًا منها، ولذلك روى البخاري أنَّ القرآن نزل على سبعة أحرف، نُسِخَت ست وبقيت واحدة، ويروي مسلم عن أُبَيّ بن كعب أن النبي صلى الله عليه وسلم كان عند أضاءة بني غفار -وهو غدير صغير عندهم، فأتاه جبريل عليه السلام فقال له: $"إن الله يأمرك أن تقرئ أمتك القرآن على حرف، فقال: أسأل الله معافاته ومغفرته، وإن أمتي لا تطيق ذلك"، ثم أتاه الثانية فقال: "إن الله يأمرك أن تقرئ أمتك القرآن على حرفين، فقال: أسأل الله معافاته ومغفرته، وإن أمتي لا تطيق ذلك"، ثم جاء الثالثة فقال: "إن الله يأمرك أن تقرئ أمتك القرآن على ثلاثة أحرف، فقال: أسأل الله تعالى معافاته ومغفرته، وإن أمتي لا تطيق ذلك"، ثم جاء الرابعة، فقال: "إن الله تعالى يأمرك أن تقرئ أمتك على سبعة أحرف، فأيما حرف قد قرءوا عليه فقد أصابوا"، وروى الترمذي عن أُبَيّ بن كعب، قال: "لقى رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل فقال: "يا جبريل، إني بعثت لأمة أمية منها العجوز والشيخ الكبير والغلام والجارية والرجل الذي لا يقرأ كتابًا قط، فقال لي: يا محمد، إن القرآن أنزل على سبعة أحرف" وهذا حديث صحيح.

وقد قال القرطبي في كتابه "الجامع الكبير لأحكام القرآن": "ثبت في الأمهات البخاري ومسلم والموطأ وأبي داود والنسائي وغيرها من المصنَّفات والمسندات قصة عمر مع هشام بن حكيم، وهو الذي صرَّح فيه بأنَّ عمر سمع هشامًا يقرأ بحروف لم يسمعها، فأخذه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأقرَّ ما قرأ هشام، وأقرَّ ما قرأ عمر، ثم قال: "إن هذا القرآن أنزل على سبعة أحرف".

14- وإننا إذا تأملنا ما جاء في هذه الأخبار الصحاح ننتهي إلى أنَّ العرب ما كانت تطاوع ألسنتهم حرف القرآن، ففيهم الرجل الشيخ والمرأة العجوز اللذان جمد لسانهما على لهجتهما، فلا يطاوعهما على النطق الصحيح بلهجة لم يعرفوها ولم يلوكوها من قبل، فكان لا بُدَّ أن تمرن ألسنتهم أمدًا على لغة القرآن حتى تلين، وتألف النطق بكلماته على اللغة التي بقيت.

وتفسير الأحرف باللهجات أو اللغات العرب ما بين مضرية وربعية ونزارية وقرشية وغيرها، هو التفسير الذي اختاره ابن جرير الطبري، وكثيرون من الرواة، وهو الذي يتفق مع النسق التاريخي في الجمع الذي اضطر ذو النورين عثمان -رضي الله تعالى عنه- لِأَنْ يقوم به، وارتضاه الصحابة، وقال علي بن أبي طالب -كرَّم الله وجهه: لو كنت مكانه ما عملت إلّا ما عمل.

ولقد ذكر القرطبي أنَّ هذه الأحرف باقية في القرآن لم ينسخ منها حرف، ولكني أرى أن النَّسَق التاريخي الذي أشرنا إليه من قبل يوجب أن يكون حرف واحد قد بقي، وهو لغة قريش، وهو الذي كتب عثمان مصحفه عليه، وكان من قبل مكتوبًا عليه كما
উসমান (রা.)-এর যুগে কুরআন সংকলন অথবা সাত হরফ:

১৩- দুই শায়খ আবু বকর ও উমরের যুগে সমগ্র কুরআন সংকলন করা হয়েছিল এবং উমর (রা.) এটি মুমিন জননী হাফসা (রা.)-এর নিকট গচ্ছিত রেখেছিলেন, যেন এটি সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজনে এর দিকে ফিরে আসা যায়, কেবল এখান থেকে পাঠ করার জন্য নয়। কারণ তিলাওয়াত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের মতোই অব্যাহত ছিল, যা মানুষের মুখ থেকে তারতীলসহ গ্রহণ করা হতো, যেভাবে তারা তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে লাভ করেছিলেন; যেন কুরআন তার মূল পাঠ্য ও তিলাওয়াতসহ মুমিনদের হৃদয়ে সংরক্ষিত থাকে।

আর লিখিত পাঠ্যটি এক এবং এতে কোনো পরিবর্তন নেই, তবে এটি একাধিক কিরাআতের (পাঠরীতি) সম্ভাবনা রাখে। উলামাগণ উল্লেখ করেছেন যে, মুতাওয়াতির কিরাআত কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন তা লিখিত পাঠ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, যেখানে কোনো আধিক্য বা ঘাটতি থাকবে না; ফলে এটি সমস্ত কিরাআতকে অন্তর্ভুক্ত করে।

কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার শুরুতে আরবের সমস্ত উপভাষা—ইয়ামানি ও নিজারি নির্বিশেষে সাতটি ভাষায় পাঠ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল; কারণ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোর কোনোটি সম্পর্কেই অনবহিত ছিলেন না। এই কারণেই বুখারী বর্ণনা করেছেন যে, কুরআন সাতটি হরফে অবতীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি রহিত হয়ে গেছে এবং একটি অবশিষ্ট রয়েছে। মুসলিম উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু গিফারের একটি জলাশয়ের নিকট ছিলেন—যা তাদের একটি ছোট জলাধার ছিল—এমতাবস্থায় জিবরাঈল (আ.) তাঁর নিকট এসে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনার উম্মতকে এক হরফে কুরআন পাঠ করান।" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর নিকট তাঁর ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই আমার উম্মত এর সামর্থ্য রাখে না।" অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার আসলেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনার উম্মতকে দুই হরফে কুরআন পাঠ করান।" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহর নিকট তাঁর ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই আমার উম্মত এর সামর্থ্য রাখে না।" এরপর তিনি তৃতীয়বার এসে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনার উম্মতকে তিন হরফে কুরআন পাঠ করান।" তিনি বললেন: "আমি আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই আমার উম্মত এর সামর্থ্য রাখে না।" এরপর তিনি চতুর্থবার এসে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনার উম্মতকে সাত হরফে কুরআন পাঠ করান; সুতরাং তারা এর যে হরফেই পাঠ করুক না কেন, তারা সঠিক পথেই থাকবে।" তিরমিযী উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈল (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: "হে জিবরাঈল! আমি এক উম্মি বা নিরক্ষর জাতির নিকট প্রেরিত হয়েছি, যাদের মধ্যে বৃদ্ধা নারী, অতি বৃদ্ধ পুরুষ, কিশোর-কিশোরী এবং এমন ব্যক্তি রয়েছে যে কখনো কোনো কিতাব পড়েনি।" তখন জিবরাঈল বললেন: "হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই কুরআন সাতটি হরফে অবতীর্ণ হয়েছে।" এটি একটি সহীহ হাদীস।

কুরতুবী তাঁর 'আল-জামি আল-কাবীর লি-আহকামিল কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন: "মূল গ্রন্থসমূহ তথা বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং অন্যান্য মুসান্নাফ ও মুসনাদ গ্রন্থগুলোতে হিশাম বিন হাকিমের সাথে উমর (রা.)-এর সেই ঘটনাটি সাব্যস্ত হয়েছে, যাতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, উমর (রা.) হিশামকে এমন কিছু হরফে পাঠ করতে শুনেছিলেন যা তিনি কখনো শুনেননি। অতঃপর তিনি তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে গেলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিশামের পাঠকেও অনুমোদন দিলেন এবং উমরের পাঠকেও অনুমোদন দিলেন। এরপর তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই এই কুরআন সাতটি হরফে অবতীর্ণ হয়েছে'।"

১৪- আমরা যদি এই সহীহ বর্ণনাসমূহ নিয়ে চিন্তা করি, তবে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, আরবের সবার জিহ্বা কুরআনের নির্ধারিত হরফের সাথে সহজে মানিয়ে নিতে পারছিল না। তাদের মধ্যে এমন বৃদ্ধ পুরুষ ও বৃদ্ধা নারী ছিলেন যাদের জিহ্বা দীর্ঘকাল ধরে নিজেদের উপভাষায় আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে যে উপভাষার সাথে তারা পরিচিত ছিল না এবং যা তারা ইতিপূর্বে উচ্চারণ করেনি, তাতে সঠিক উচ্চারণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই এটি অপরিহার্য ছিল যে, তাদের জিহ্বা কুরআনের ভাষার ওপর কিছুকাল অনুশীলন করুক যতক্ষণ না তা নমনীয় হয় এবং অবশিষ্ট থাকা ভাষার শব্দগুলোর উচ্চারণে অভ্যস্ত হয়।

আর হরফের ব্যাখ্যা আরবের উপভাষা বা ভাষাগুলোর (মাদারি, রাবঈ, নিজারি, কুরাইশি ইত্যাদি) মাধ্যমে করা—এটিই সেই ব্যাখ্যা যা ইবনে জারীর তাবারী এবং অনেক বর্ণনাকারী গ্রহণ করেছেন। আর এটিই সেই ঐতিহাসিক ধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা যুন-নুরাইন উসমান (রা.) সংকলন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং সাহাবাগণ যাতে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। আলী বিন আবি তালিব (রা.) বলেছিলেন: "আমি যদি তাঁর স্থলে থাকতাম, তবে তিনি যা করেছেন আমিও তা-ই করতাম।"

কুরতুবী উল্লেখ করেছেন যে, এই হরফগুলো কুরআনে অবশিষ্ট আছে এবং এগুলোর কোনোটিই রহিত হয়নি। কিন্তু আমি মনে করি যে, পূর্বে আমরা যে ঐতিহাসিক ধারার প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তা দাবি করে যে একটিমাত্র হরফই অবশিষ্ট রয়েছে, আর তা হলো কুরাইশের ভাষা। এটিই সেই ভাষা যার ওপর ভিত্তি করে উসমান (রা.) তাঁর মুসহাফ লিখেছিলেন এবং এর আগেও এটি এভাবেই লিখিত ছিল।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
سنبين أنه لم يأت قط بما يخالف المصحف المحفوظ عند أم المؤمنين حفصة عندما قابله به.

وقبل أن ننتقل إلى ما فعل الإمام عثمان -رضي الله تبارك وتعالى عنه، لا بُدّ أن نذكر حقيقتين دلَّ عليهما المأثور عن النبي صلى الله عليه وسلم، والسياق التاريخي:

أولهما: إنَّ الذي كُتِبَ في عصر النبي صلى الله عليه وسلم لم يعتره تغيير، ولم تجر عليه الحروف السبعة، وإنَّ الحروف السبعة كانت في قراءة القرآن لا في كتابته، وأن استئذان النبي صلى الله عليه وسلم كان في القراءة لا في الكتابة.

ثانيتهما: إنَّ استئذان النبي صلى الله عليه وسلم كان ليسهل على أمته حتى تلين ألسنتهم، وتستقيم على النطق باللغة التي اختارها الله تعالى لقرآنه المنزل من عنده وهو العليم، وهي لغة قريش في جلّ ما أنزل الله تعالت كلماته، فكانت لغة قريش لغة الأدب في الجاهلية والإسلام، فكان من منطق الحوادث أن يكون أعلى الكلام ينزل في ثوب أعلى اللغات العربية؛ إذ كانت لغة الشعر والأدب.

15- ولنتنقل بعد ذلك إلى جمع ذي النورين عثمان رضي الله عنه، ومكانه من جمع الشيخين أبي بكر وعمر -رضي الله تعالى عنهما، وجزاهما عن الإسلام خيرًا.

تفرَّق الصحابة من المهاجرين والأنصار، وقد كان عمر -رضي الله تبارك وتعالى عنه- آخذًا بحجزات الصحابة، وخصوصًا كبارهم، يمنعهم من مغادرة الحرمين، فاختلف الناس في القراءة، ومنهم من كان يقرأ بالقراءات أو اللغات المختلفة التي ما كانت القراءة بها إلّا ترخيصًا مؤقتًا حتى تلين الألسنة إلى لغة القرآن، وإنها لواحدة، وإن اختلفت القراءات المتواترة، فيظلها ما بين حذف الهمزة في النطق، وإن كانت بقاية في مصحف عثمان تقرأ فيه مثبتة وغير مثتبة، كالأرض -مهموزة، والأرض -من غير همزة، ومن اختلاف في الشكل يدل في كل شكل على معنى صحيح يصلح أن يكون مقصودًا في القرآن، ويكون الجمع صحيحًا، مثل: أنفسكم -بضم الفاء، وأنفسكم -بفتحها، ومثل: فتبينوا -بالباء بعد التاء، أو فتثبتوا -بالثاء بعد التاء وبعدها باء ثم تاء.

وما كان اختلاف القراء في الأمصار في عهد عثمان في هذه القراءات المشهورة بيننا الآن، إنما كان الاختلاف في اللغات التي كان مرخَّصًا بها، فمنهم من لم يعلم نسخها عند قراءة جبريل للنبي صلى الله عليه وسلم في العرضات الأخيرة.

لقد اشتدّ الأمر في ذلك، وعظم اختلافهم، وتشبَّث كل فريق بما يقرأ، زاعمًا أن غيره هو الباطل الذي لا ريب فيه، ووقع الخلاف بين أهل العراق وأهل الشام عندما اجتمعوا في غزوة أرمينية، فقرأت كل طائفة بما روي لها، وتنازعوا أمرهم بينهم، وأظهر بعضهم تكفير بعض، وتبرأ بعضهم من بعض، وكان معهم حذيفة بن اليمان كما
আমরা স্পষ্ট করব যে, তিনি যখন উম্মুল মুমিনীন হাফসার নিকট সংরক্ষিত মুসহাফের সাথে এটি মিলিয়েছিলেন, তখন এমন কোনো বিষয় আসেনি যা তার পরিপন্থী ছিল।

ইমাম উসমান (রাদিয়াল্লাহু তাবারাকা ওয়া তাআলা আনহু) যা করেছিলেন সেদিকে যাওয়ার আগে আমাদের অবশ্যই দুটি ধ্রুব সত্য উল্লেখ করতে হবে, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত আছার এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দ্বারা প্রমাণিত:

প্রথমটি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে যা লেখা হয়েছিল তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং তাতে ‘সাত হরফ’ (সাত উপভাষা) কার্যকর হয়নি। মূলত ‘সাত হরফ’ ছিল কুরআন পাঠের ক্ষেত্রে, লেখার ক্ষেত্রে নয়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুমতি প্রদানের বিষয়টিও ছিল তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে, তা লেখার ক্ষেত্রে ছিল না।

দ্বিতীয়টি: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুমতি প্রদানের উদ্দেশ্য ছিল উম্মতের জন্য সহজ করা, যাতে তাদের জিহ্বা সাবলীল হয় এবং তারা সেই ভাষার উচ্চারণে অভ্যস্ত হতে পারে যা মহান আল্লাহ তাঁর নিকট থেকে অবতীর্ণ কুরআনের জন্য পছন্দ করেছেন—আর তিনি সর্বজ্ঞ। আল্লাহ যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন তার অধিকাংশ বিষয়ই ছিল কুরাইশদের ভাষায়। জাহেলিয়াত ও ইসলাম উভয় যুগেই কুরাইশদের ভাষা ছিল সাহিত্যের ভাষা। সুতরাং ঘটনার পরিক্রমায় এটাই স্বাভাবিক ছিল যে, সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী (কুরআন) সর্বশ্রেষ্ঠ আরবি ভাষার পোশাকে অবতীর্ণ হবে; যেহেতু সেটি ছিল কবিতা ও সাহিত্যের ভাষা।

১৫- এরপর আমরা জুন-নুরাইন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কুরআন সংকলন এবং শাইখাইন আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমা)-এর সংকলনের তুলনায় এর গুরুত্বের আলোচনায় প্রবেশ করব; আল্লাহ তাঁদের উভয়কে ইসলামের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। অথচ উমর (রাদিয়াল্লাহু তাবারাকা ওয়া তাআলা আনহু) সাহাবীদের, বিশেষ করে তাঁদের বড়দেরকে দুই হারাম (মক্কা ও মদিনা) ত্যাগ করতে বাধা দিয়ে আটকে রাখতেন। ফলে মানুষের মধ্যে তিলাওয়াত নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন বিভিন্ন কিরাত বা ভাষায় পড়তেন যেগুলোর তিলাওয়াত ছিল কেবল সাময়িক অনুমতি মাত্র, যাতে তাদের জিহ্বা কুরআনের ভাষার প্রতি অভ্যস্ত হয়। অথচ কুরআনের মূল ভাষা একটিই, যদিও মুতাওয়াতির কিরাতগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বৈচিত্র্য ছিল উচ্চারণে হামযা বিলোপ করা সংক্রান্ত, যদিও উসমানের মুসহাফে তা অবশিষ্ট ছিল এবং সেটি মূল আকারে বা হামযা ছাড়া উভয়ভাবেই পড়ার অবকাশ ছিল—যেমন ‘আল-আরদ’ (হামযাসহ) এবং ‘আল-আরদ’ (হামযা ছাড়া)। আবার হরকতের পার্থক্যের ক্ষেত্রেও এমনটি হতো যেখানে প্রতিটি রূপই একটি সঠিক অর্থ প্রদান করত যা কুরআনের উদ্দেশ্য হতে সক্ষম এবং সংকলনটি তাতে সঠিক থাকে। যেমন: ‘আনফুসুকুম’ (ফা বর্ণে পেশসহ) এবং ‘আনফুসাকুম’ (ফা বর্ণে যবরসহ), এবং যেমন: ‘ফাতাবাইয়ানু’ (তা-এর পর বা-সহ) অথবা ‘ফাতাসাব্বাতু’ (তা-এর পর সা এবং এরপর বা ও তা-সহ)।

উসমানের যুগে বিভিন্ন জনপদে পাঠকদের মতভেদ আমাদের বর্তমানের এই প্রসিদ্ধ কিরাতগুলোর মতো ছিল না। বরং মতভেদ ছিল সেই সব ভাষায় যেগুলোর অনুমতি সাময়িকভাবে দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকে জানতেন না যে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) যখন শেষ দফায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কুরআন শুনিয়েছিলেন, তখন সেই ভিন্ন ভাষাগুলো রহিত হয়ে গিয়েছিল।

এ বিষয়টি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছিল এবং তাদের মতভেদ প্রকট হয়েছিল। প্রতিটি দল তাদের নিজেদের পঠিত কিরাতের ওপর অটল ছিল এবং দাবি করছিল যে অন্যদের কিরাত সন্দেহাতীতভাবে বাতিল। ইরাক ও সিরিয়াবাসীদের মধ্যে এই বিরোধ তখন চরম রূপ ধারণ করে যখন তারা আরমিনিয়া যুদ্ধে একত্রিত হয়েছিল। প্রতিটি দল তাদের নিকট যা বর্ণিত হয়েছিল সেই অনুযায়ী তিলাওয়াত করত। তারা নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হলো এবং তাদের কেউ কেউ অন্যকে কাফির আখ্যা দিতে শুরু করল এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল। তাদের সাথে হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-ও ছিলেন যেমনটি...
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
ذكر البخاري والترمذي، وقد ذكرا أنَّ حذيفة عندما آب من هذه الغزوة دخل إلى عثمان قبل أن يدخل إلى أهله فقال: أدرك هذه الأمة قبل أن تهلك، قال عثمان: في ماذا؟ قال: في كتاب الله، إني حضرت هذه الغزوة، وجمعت ناسًا من العراق والشام والحجاز، ووصف له ما كان من الاختلاف والتكفير، وقال: إني أخشى عليهم أن يختلفوا في كتابهم كما اختلف اليهود.

أفزع هذا الأمر عثمان التقيّ كما أفزع المؤمنين الذي علموا ذلك النبأ الخطير، ولكن الفزع لم يوهن العزيمة بل شحذها، ولم يضعف الإرادة بل حفزها، وكانت عزمة ذي النورين عثمان.

لقد أحضر النسخة المحفوظة عند أم المؤمنين حفظة؛ لتكون الإمام الذي يحتكم إليه فيما هو مقدَّم عليه، وجمع من الصحابة الحافظين الكرام بضعة على رأسهم زيد بن ثابت الجامع الأول، والثقة الثبت الذي كان له فضل التثبت في كل كلمة وآية.

وقد قال له عثمان -رضي الله تعالى عنه- عندما ندبه لذلك العمل الجليل: إني مدخل معك رجلًا فصيحًا لبيبًا فاكتباه، وما اختلفتما فيه فارفعاه إليّ، فجعل معه أبان وسعيد بن العاص، فلمَّا بلغا في الكتابة قوله تعالى: {إِنَّ آيَةَ مُلْكِهِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ} [البقرة: 248] . قال زيد: فقلت: التابوه، وقال سعيد بن العاص التابوت، فرفعنا الأمر إلى عثمان، فكتب التابوت.

وكان جملة من ضمَّهم إلى زيد ثلاثة هم: عبد الله بن الزبير، وسعيد بن العاص الذي ذكرناه، وعبد الرحمن بن الحارث، وقال لهذا الرهط من قريش: ما اختلفتم فيه أنتم وزويد، فاكتبوه بلسان قريش، فإنه نزل بلسانهم.

ويظهر أنَّ سيدنا عثمان لم يكتف بهؤلاء الأربعة، بل كان يضمّ إلى معاونتهم من يكون عنده علم بالقرآن يعاونهم في كتابته، ولقد روى ابن عساكر أنَّ عثمان دعا إلى هذه المعاونة فقال: إن عثمان خطب يومئذ في الناس، وعزم على كل رجل عنده شيء من كتاب الله لما جاء به، ويقول ابن عساكر: فكان الرجل يجئ بالورقة والأديم فيه القرآن، حتى جمع من ذلك كثرة، ثم دعاهم رجلًا رجلًا، فناشدهم: أسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو أملاه عليك، وهكذا كان يتثبت في الرواية، كما كان التثبت من زيد ومن معه، والذي كتب المصحف الأول الذي أودع أمَّ المؤمنين حفصة رضي الله عنها وعن أبيها فاروق الإسلام.

وقد أتمَّ زيد ومن معه جمع القرآن، ولكن عثمان لا يكتفي، بل إنَّه يسير في الاستيثاق إلى أقص مداه، فيحضر مصحف أم المؤمنين حفصة، ويعرض المصحف الجديد، فيجدهما يتوافقها تمام التوافق، لا يزيد أحدهما عن الآخر حرفًا ولا ينقص
বুখারী ও তিরমিযী উল্লেখ করেছেন, আর তাঁরা বর্ণনা করেছেন যে, হুজাইফা যখন এই যুদ্ধ থেকে ফিরে আসলেন, তখন তিনি তাঁর নিজের পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার পূর্বেই উসমানের নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: এই উম্মত ধ্বংস হওয়ার আগেই একে রক্ষা করুন। উসমান বললেন: কোন বিষয়ে? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাবের বিষয়ে। আমি এই যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম এবং সেখানে ইরাক, শাম ও হিজাজের লোকজন সমবেত হয়েছিল। এরপর তিনি তাঁর কাছে কুরআন পাঠের মতভেদ ও একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়টি বর্ণনা করলেন এবং বললেন: আমি তাদের ব্যাপারে এই আশঙ্কা করছি যে, তারা তাদের কিতাব নিয়ে সেভাবেই মতবিরোধে লিপ্ত হবে যেমনিভাবে ইয়াহুদীরা মতবিরোধ করেছিল।

এই বিষয়টি মুত্তাকী উসমানকে বিচলিত করে তুলল যেভাবে সেই মুমিনদের বিচলিত করেছিল যারা এই ভয়াবহ সংবাদটি জানতে পেরেছিল। কিন্তু এই বিচলন তাঁর সংকল্পকে দুর্বল করেনি বরং তা আরও শাণিত করেছিল এবং তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে হীনবল করেনি বরং তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল; আর এটাই ছিল যুন-নূরাইন উসমানের দৃঢ় সিদ্ধান্ত।

তিনি উম্মুল মুমিনীন হাফসার নিকট সংরক্ষিত মূল পাণ্ডুলিপিটি আনিয়ে নিলেন, যাতে সেটি এমন এক নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হতে পারে যার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর মীমাংসা করা যায়। তিনি হাফেজ ও সম্মানিত সাহাবীদের মধ্য থেকে একদলকে সমবেত করলেন যাদের নেতৃত্বে ছিলেন প্রথম সংকলক যায়েদ বিন সাবিত—সেই নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ব্যক্তি, প্রতিটি শব্দ ও আয়াতের সত্যতা যাচাই করার ক্ষেত্রে যাঁর অসামান্য অবদান ছিল।

উসমান (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) যখন তাঁকে এই মহান কাজের জন্য নিয়োজিত করলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: আমি তোমার সাথে একজন বাগ্মী ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে যুক্ত করছি, তোমরা উভয়ে এটি লেখো। আর কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে তা আমার কাছে পেশ করো। তিনি তাঁর সাথে আবান ও সাঈদ ইবনুল আসকে যুক্ত করে দিলেন। অতঃপর যখন তাঁরা লেখার সময় মহান আল্লাহর এই বাণীতে পৌঁছালেন: {নিশ্চয়ই তাঁর রাজত্বের নিদর্শন এই যে, তোমাদের কাছে সেই সিন্দুকটি আসবে যাতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে প্রশান্তি রয়েছে} [বাকারা: ২৪৮]। যায়েদ বললেন: আমি বললাম ‘আত-তাবুহ’, আর সাঈদ ইবনুল আস বললেন ‘আত-তাবুত’। তখন আমরা বিষয়টি উসমানের নিকট উত্থাপন করলাম এবং তিনি ‘আত-তাবুত’ লিখলেন।

যায়েদের সাথে তিনি যাদের যুক্ত করেছিলেন তারা সংখ্যায় ছিলেন তিনজন: আবদুল্লাহ ইবনুল যুবাইর, সাঈদ ইবনুল আস (যাঁর কথা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি) এবং আবদুর রহমান ইবনুল হারিস। তিনি কুরাইশ বংশীয় এই দলটিকে বললেন: তোমরা এবং যায়েদ যে বিষয়ে মতবিরোধ করবে, তা কুরাইশদের ভাষায় লিপিবদ্ধ করো; কারণ এটি তাদের ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে।

প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের নেতা উসমান কেবল এই চারজনের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি এই কাজে সহযোগিতার জন্য কুরআন সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করতেন। ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন যে, উসমান সেদিন জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং যার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোনো অংশ আছে তা নিয়ে আসার জন্য প্রত্যেকের ওপর তা অপরিহার্য করে দিলেন। ইবনে আসাকির বলেন: তখন লোকজন চামড়া ও কাগজ নিয়ে আসতে লাগল যাতে কুরআন লিপিবদ্ধ ছিল, এভাবে প্রচুর উপাদান সংগৃহীত হলো। এরপর তিনি তাঁদের একে একে ডাকতেন এবং কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করতেন: আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এটি আপনার কাছে পাঠ করে শোনাতে শুনেছেন? এভাবেই তিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও সত্যতা যাচাই করতেন, যেমনটি সতর্কতা অবলম্বন করতেন যায়েদ ও তাঁর সঙ্গীরা; যাঁরা প্রথম মুসহাফটি লিখেছিলেন যা উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এবং তাঁর পিতা ইসলামের ফারুকের নিকট গচ্ছিত ছিল।

যায়েদ ও তাঁর সঙ্গীরা কুরআন সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করলেন, কিন্তু উসমান এতেই সন্তুষ্ট হননি। বরং তিনি নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত গেলেন। তিনি উম্মুল মুমিনীন হাফসার মুসহাফটি আনিয়ে নতুন মুসহাফের সাথে তা মিলিয়ে দেখলেন এবং দেখলেন যে, উভয়টি একে অপরের সাথে পূর্ণমাত্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ; একটির থেকে অন্যটির একটি অক্ষরেরও কমবেশি নেই।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
عنه، حتى لقد فهم بعض العلماء أنَّ جمع عثمان كان نسخًا لما جاء في الصحف المحفوظة عند أم المؤمنين حفصة رضي الله عنها وعن أبيها الفاروق، وجاء ذكر ذلك في بعض الروايات تسامحًا، ولكن الحقيقة أنَّه ما كان نسخًا، بل قام بالتحريات كلها، حتى جمع ما جمع، وكان التوافق الكامل الذي يدل دلالة قاطعة على صدق الجمعين، وعلى تواتر القرآن الكريم مكتوبًا ومحفوظًا، وبذلك حفظه الله تعالى وصانه.

ولقد قال الطبري: إنَّ المصحف التي كانت عند حفصة جعلت إمامًا في هذا الجمع الأخير، ويقول الطبري: "هذا صحيح"، ومعنى صحته أنَّه بعد الجمع الذي قام به زيد بأمر عثمان، وعاونه المؤمنين الحافظون قد روجع على مصحف حفصة رضي الله عنها، وكانت هي المقياس لصحته، فبالمقابلة بينهما بعد الجمع تبينت صحتهما بصفة قاطعة لا ريب فيها، فكانت هذه الإمامة، حتى ظنَّ أنه نسخ منها.

16- ويلاحظ أمران:

أولهما: إنَّ عثمان رضي الله عنه كان غرضه من إعادة جمع المصحف هو أن يكتبه على حرف واحد من الحروف السبعة، أي: اللهجات واللغات السبع، فما كان جمعه إلَّا لإثبات الحرف الباقي الذي روي مكتوبًا عن النبي صلى الله عليه وسلم، ليجتمع عليه المسلمون، ولا يكونوا متفرقين، أن يكون ذلك موافقًا للمكتوب في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم.

جاء في القرطبي: "قال كثير من علمائنا كالداودي، وابن أبي صفرة: هذه القراءات السبع التي تنسب لهؤلاء القراء السبعة ليست هي الأحرف السبعة التي اتسعت الصحابة في القراءة بها، وإنما هي راجعة إلى حرف واحد من تلك السبعة، وهو الذي جمع عليه عثمان، ذكره ابن النحاس وغيره".

الأمر الثاني: إنَّ عثمان -رضي الله تبارك وتعالى عنه- حسم مادة الفتنة بذلك الجمع، وعمل ما كان ينبغي أن يعمل، ولذلك نسخ من هذا الذي جمعه نسخًا على قدر الأقاليم العربية، فأرسل إلى كل إقليم نسخة كانت هي الأصل لهذا الإقليم، فأرسل إلى مصر، وإلى الشام، وإلى مكة واليمن والبحرين والبصرة، والكوفة، وحبس بالمدينة مصحفًا كان هو الإمام لكل هذه النسخ، وهو المرجع الأول في الدولة، ترجع إليه كل المصاحف، وهو الحاكم عليها.

وإذا كان هو الأصل لكلِّ هذه المصاحف فيجب القول بأنه لا اختلاف بينها؛ لأنه الحكم، وأنها صور لنسخة واحدة، ويلاحظ أنَّ الإمام العظيم عثمان قد كتب المصحف خاليًا من النقط والشكل، كما كان المصحف الموجود عند حفصة خاليًا من النقط والشكل، ولم يكن نقط وشكل إلا بعد ذلك.
তাঁর থেকে, এমনকি কোনো কোনো আলেম বুঝেছেন যে উসমানের সংকলন ছিল উম্মুল মুমিনীন হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এবং তাঁর পিতা ফারুকের নিকট সংরক্ষিত সহীফাসমূহের একটি অনুলিপি মাত্র। কিছু বর্ণনায় তা শিথিলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো এটি নিছক অনুলিপি ছিল না, বরং তিনি যাবতীয় অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই পরিচালনা করেন, যে পর্যন্ত না তিনি তা সংকলন করেন যা তিনি করেছিলেন; এবং সেখানে পূর্ণ সংগতি বিদ্যমান ছিল যা উভয় সংকলনের সত্যতা এবং লিখিত ও মুখস্থ উভয়ভাবে আল-কুরআনুল কারীমের নিরবচ্ছিন্নতার (তাওয়াতুর) ওপর অকাট্য প্রমাণ বহন করে। আর এভাবেই আল্লাহ তাআলা একে সংরক্ষণ ও রক্ষা করেছেন।

ইমাম তাবারী বলেছেন: হাফসার কাছে যে মুসহাফটি ছিল তা এই সর্বশেষ সংকলনের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। তাবারী আরও বলেন: "এটি সঠিক", আর এর সঠিকতার অর্থ হলো উসমানের নির্দেশে যায়েদ যে সংকলন সম্পন্ন করেছিলেন এবং হাফেজ মুমিনগণ তাঁকে সহায়তা করেছিলেন, তা হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মুসহাফের সাথে পুনরায় মিলিয়ে দেখা হয়েছিল এবং সেটিই ছিল এর সঠিকতার মানদণ্ড। সংকলনের পর উভয়ের মধ্যে তুলনার মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে এবং অকাট্যভাবে তাদের সঠিকতা স্পষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই এটি মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল, এমনকি ধারণা করা হয়েছিল যে এটি সেখান থেকেই অনুলিপি করা হয়েছে।

১৬- এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয়:

প্রথমত: উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসহাফ পুনরায় সংকলনের উদ্দেশ্য ছিল একে সাত হরফের মধ্যে একটি হরফের ভিত্তিতে লেখা, অর্থাৎ সাতটি উপভাষা ও ভাষার ভিত্তিতে। তাঁর এই সংকলন ছিল কেবল সেই অবশিষ্ট হরফটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে লিখিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, যাতে মুসলমানরা এর ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তারা বিভক্ত না হয়; আর যেন তা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে লিখিত পান্ডুলিপির অনুকূলে হয়।

তাফসীরে কুরতুবীতে এসেছে: "আমাদের অনেক আলেম যেমন দাউদী এবং ইবনে আবি সাফরাহ বলেছেন: এই সাত ক্বিরাত যা এই সাতজন ক্বারীর দিকে নিসবত করা হয়, তা সেই 'আহরুফে সাবআ' বা সাত হরফ নয় যার মাধ্যমে সাহাবীগণ পাঠে প্রশস্ততা লাভ করেছিলেন; বরং এগুলো সেই সাতটির মধ্য হতে একটি হরফের দিকেই ফিরে যায়, যার ওপর উসমান উম্মতকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। ইবনে আন-নাহহাস এবং অন্যান্যেরা এটি উল্লেখ করেছেন।"

দ্বিতীয় বিষয়: উসমান -রাদিয়াল্লাহু তাবারাকা ওয়া তাআলা আনহু- এই সংকলনের মাধ্যমে ফিতনার পথ রুদ্ধ করেন এবং যা করা উচিত ছিল তাই করেন। আর একারণেই তিনি যা সংকলন করেছিলেন তা থেকে আরব প্রদেশগুলোর সংখ্যা অনুযায়ী কয়েকটি অনুলিপি তৈরি করেন। এরপর তিনি প্রতিটি প্রদেশে একটি করে অনুলিপি পাঠান যা সেই প্রদেশের জন্য মূল সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি মিশর, শাম, মক্কা, ইয়েমেন, বাহরাইন, বসরা এবং কুফায় কপি পাঠান। আর মদিনায় একটি মুসহাফ রেখে দেন যা ছিল এই সকল কপির জন্য 'ইমাম' বা মূল আদর্শ। এটি ছিল রাষ্ট্রের প্রধান রেফারেন্স, যার দিকে সকল মুসহাফ প্রত্যাবর্তন করত এবং এটি ছিল সেগুলোর ওপর চূড়ান্ত মানদণ্ড।

যেহেতু এটি এই সকল মুসহাফের জন্য মূল উৎস ছিল, তাই বলা আবশ্যক যে এগুলোর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য ছিল না; কারণ এটিই ছিল মীমাংসাকারী এবং এগুলো ছিল একক অনুলিপিরই প্রতিচ্ছবি। লক্ষণীয় যে, মহান ইমাম উসমান মুসহাফটি নুক্তা (বিন্দু) ও হরকত (চিহ্ন) বিহীন অবস্থায় লিখেছিলেন, যেমন হাফসার কাছে রক্ষিত মুসহাফটিও নুক্তা ও হরকত বিহীন ছিল; আর নুক্তা ও হরকতের প্রচলন কেবল এর পরেই হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولكن لماذا خلا من ذلك؟ والجواب عن ذلك: إنَّ القرآن له قراءات مختلفة هي سبع قراءات، وليست هي الحروف كما ذكرنا من قبل، ولكي يكون المكتوب محتملًا لهذه القراءات المرويّة بطرق متواترة كلها، كان لا بُدَّ أن يكون غير منقوط ولا مشكول، كما ذكرنا في اختلاف القراءة في {أَنْفُسِكُم} وكما ذكرنا في اختلاف القراءة في {فَتَبَيَّنُوا} ، وما كان يمكن أن يحتمل النص القراتين إذا كان منقوطًا ومشكولًا.

ومن جهة أخرى: إنَّ الأساس في تواتر القرآن هو الحفظ في الصدور لا في السطور، حتى لا يعتريه المحو والإثبات، فلو كان القرآن منقوطًا ومشكولًا لاستغنى طالب القرآن عن أن يقرئه مقرئ، فلا يكون التواتر الصحيح الذي يقتضي الإجازة ممن أقرأه، ولقد جاء التحريف في الكتب الأخرى لاعتمادها على المكتوب في السطور لا المحفوظ في الصدور.

ومن جهة ثالثة: إنَّ ترتيل القرآن كما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم لا بُدَّ منه كما قال تعالى: {وَرَتَّلْنَاهُ تَرْتِيلًا} [الفرقان: 32] ، وإنَّ ذلك لا يتمّ إلَّا إذا كان القرآن يقرأ على مقرئ يجيزه حفظًا وقراءة وترتيلًا.

17- وإن الرواية الصحيحة بينة مستقيمة لا مجال للشك فيها، وهي تدل على أمور ثلاثة قطعية في ثبوتها، وهي:

أولًا: على أنَّ النص الذي كان عند حفصة هو النص المكتوب في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وهو ذاته النص المكتوب في مصحف عثمان رضي الله عنه، فلا يصحّ الزيادة عليه، ولا يصح النقص.

ثانيًا: على أنَّ القرآن كتب بلغة قريش، وهي الحرف الذي استقرَّت القراءة عليه، وما كان الترخيص بالقراءة بالحروف الأخرى إلَّا مؤقتًا حتى تطوع الألسنة لحرف قريش، ولقد جاء في القرطبي: "إن القرآن نزل بلغة قريش" معناه عندي في الأغلب والله أعلم: لأنَّ غير لغة قريش موجود في صحيح القراءات من تحقيق الهمزة ونحوها، وقريش لا تهمز".

ومؤدَّى هذا الكلام أنَّ الألفاظ والأساليب والمنهج القرآني أنزل على لغة قريش، ولكن الحركات التي تعتري بنية الكلمة من همز أو إمالة أو نحو ذلك جاء على لهجات من غير قريش، ورويت كلها عن النبي صلى الله عليه وسلم.

ثالثًا: إنَّ مصحف عثمان -رضي الله تبارك وتعالى عنه- يجب أن تكون كل قراءة قرآنية متفقة مع نصه، وأن الشك فيه كفر، وأن الزيادة عليه لا تجوز، وإنه القرآن المتواتر الخالد إلى يوم القيامة.
কিন্তু কেন তা এসব থেকে মুক্ত ছিল? এর উত্তর হলো: কুরআনের বিভিন্ন কিরাত রয়েছে যা সংখ্যায় সাতটি, এবং এগুলো সেই হরফ নয় যা আমরা আগে উল্লেখ করেছি। আর লিখিত রূপটি যাতে মুতাওয়াতির পদ্ধতিতে বর্ণিত এই সকল কিরাতকে ধারণ করার উপযোগী হয়, সেজন্য একে নুকতা ও হরকতবিহীন রাখা আবশ্যক ছিল। যেমনটি আমরা 'আনফুসিকুম' এবং 'ফাতাবায়্যানু'-এর কিরাতের পার্থক্যের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি; যদি পাঠ্যটি নুকতা ও হরকতযুক্ত হতো, তবে তা উভয় কিরাতকে ধারণ করতে সক্ষম হতো না।

অন্য দিক থেকে: কুরআনের তাওয়াতুরের মূল ভিত্তি হলো অন্তরে সংরক্ষণ করা, পাতায় লেখা নয়; যাতে এতে কোনো মোচন বা সংযোজন প্রবেশ করতে না পারে। কুরআন যদি নুকতা ও হরকতযুক্ত হতো, তবে কুরআন শিক্ষার্থী কোনো কারীর কাছে পড়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করত না। ফলে সেই সঠিক তাওয়াতুর অর্জিত হতো না যা কারীর কাছ থেকে অনুমতি গ্রহণের দাবি রাখে। আর অন্যান্য কিতাবে বিকৃতি এসেছে মূলত পাতায় লিখিত বিষয়ের ওপর নির্ভর করার কারণে, অন্তরে সংরক্ষিত বিষয়ের ওপর নয়।

তৃতীয় দিক থেকে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী কুরআন সুবিন্যস্তভাবে পাঠ করা অপরিহার্য, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আমি তা সুবিন্যস্তভাবে ক্রমে ক্রমে পাঠ করেছি" [আল-ফুরকান: ৩২]। আর এটি ততক্ষণ পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না কুরআন এমন একজন কারীর কাছে পড়া হয় যিনি মুখস্থ রাখা, কিরাত ও পাঠ পদ্ধতির ক্ষেত্রে তাকে অনুমতি প্রদান করবেন।

১৭- আর সহীহ বর্ণনা সুস্পষ্ট ও ঋজু, যাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। এটি প্রমাণিত হওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি নিশ্চিত বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে, সেগুলো হলো:

প্রথমত: হাফসা রাযিয়াল্লাহু আনহার কাছে যে পাঠ্যটি ছিল, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে লিখিত পাঠ্যই ছিল। আর সেটিই উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর মাসহাফে লিখিত পাঠ্য। সুতরাং এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করা বা হ্রাস করা বৈধ নয়।

দ্বিতীয়ত: কুরআন কুরাইশদের ভাষায় লিখিত হয়েছে এবং এটিই সেই হরফ যার ওপর কিরাত স্থির হয়েছে। অন্য হরফগুলোতে পড়ার অনুমতি কেবল সাময়িকভাবে দেওয়া হয়েছিল যতক্ষণ না জিহ্বা কুরাইশদের ভাষার সাথে অভ্যস্ত হয়। আল-কুরতুবীতে এসেছে: "নিশ্চয়ই কুরআন কুরাইশদের ভাষায় নাযিল হয়েছে" এর অর্থ আমার মতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—আল্লাহই ভালো জানেন। কারণ কুরাইশদের ভাষা ব্যতীত অন্য ভাষাগুলো সহীহ কিরাতসমূহে বিদ্যমান রয়েছে, যেমন হামযা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করা ইত্যাদি, অথচ কুরাইশরা হামযা উচ্চারণ করত না।

এই কথার সারমর্ম হলো, কুরআনের শব্দাবলি, শৈলী ও পদ্ধতি কুরাইশদের ভাষায় নাযিল হয়েছে, কিন্তু শব্দের গঠনে যে সকল পরিবর্তন দেখা যায়—যেমন হামযা বা ইমালাহ বা এই জাতীয় বিষয়গুলো—তা কুরাইশ বহির্ভূত উপভাষা অনুসারে এসেছে এবং এ সবগুলোই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয়ত: উসমান রাযিয়াল্লাহু তাবারাকা ওয়া তাআলা আনহুর মাসহাফের সাথে প্রতিটি কুরআনিক কিরাত সংগতিপূর্ণ হওয়া আবশ্যক। এতে সন্দেহ করা কুফরি এবং এতে কোনো কিছু বৃদ্ধি করা জায়েয নয়। এটিই সেই মুতাওয়াতির কুরআন যা কিয়ামত পর্যন্ত শাশ্বত।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩২)
18- إذا كانت هذه حقائق ثابتة تواترت في الأجيال، فلماذا كانت الروايات الغريبة البعيدة عن معنى تواتر القرآن الكريم التي احتوتها بطون بعض الكتب كالبرهان للزركشي، والإتقان للسيوطي، التي تجمع كما تجمع حاطب ليل يجمع الحطب والأفاعي، مع أنَّ القرآن كالبناء الشامخ الأملس الذي لا يعلق به غبار؟

قد أجاب عن ذلك الكاتب الكبير المسلم المرحوم مصطفى صادق الرافعي1، فقال في كتابه إعجاز القرآن: "ونحن ما رأينا الروايات تختلف في شيء من الأشياء فضل اختلاف، وتتسم في الرد والتأويل كل طريق وعر، كما رأينا من أمرها فيما عدا نصوص ألفاظ القرآن، فإن هذه الألفاظ متواترة إجماعًا، لا يتدارأ فيها الرواة من علا منهم ومن نزل، إنما كان ذلك لأنَّ القرآن أصل الدين، وما اختلفوا فيه إلّا من بعد اتساع الفتن، وحين تألف الأحداث، وحين رجع بعض الناس من النفاق إلى أشد من الأعرابية الأولى، وزاغ أكثرهم عن موقع اليقين من نفسه، فاجترءوا على حدود الله تعالى، وضربتهم الفتن والشبهات، مقبلًا بمدبر، ومدبرًا بمقبل، فصار كل من نزع إلى الخلاف يريد أن يجد من القرآن ما يختلف معه، أو يختلف به، وهيهات ذلك، إلَّا أن يتدسَّس في الرواية بمكروه يكون معه التأويل والأباطيل، وإلا أن يفتح الكلمة السيئة، ويبالغ في الحمل على ذمته، والعنف بها في أشياء لا ترد إلى الله ولا إلى الرسول، ولا يعرفها الذين يستنبطون من الحق، بل لا يعرفون لها في الحق وجهًا.. ونحسب أن أكثر هذا مما افترته الملحدة، وتزيدت به الفئة الغالية، وهم فرق كثيرة يختلفون فيه بغيًا بينهم، وكلهم يرجع إلى القرآن بزعمه، ويرى فيه حجته على مذهبه، وبينته على دعواه، ثم أهل الزيغ والعصبية لآرائهم بالحق والباطل، ثم ضعاف الرواة ممن لا يميزون، أو ممن تعارضهم لغفلة في التمييز. وذلك سواد كله ظلمات بعضها فوق بعض، ومن لم يجعل الله له نورًا فما له من نور"2.

وإن ذلك الذي ذكره الكاتب الإسلامي الكبير حق لا ريب فيه، فإن هذه الروايات التي جمعها من لا يفرق بين الحابل والنابل، وبين الحطب والأفعى، إنما كانت بعد الفتن، ولعل للإسرائيليات دورها الخفي المسموم، وإن الذين تولوها غلاة الفرق، والرواة الذين لا يميزون أو يغفلون ما لا يدركون.

ألم تر إلى أولئك الغلاة يطعنون في عثمان رضي الله عنه، ويجعلون من أسباب الطعن أنه جمع المصحف وجعل له إمامًا، عندما رأى الاختلاف قد تفاقهم، وأنه جمعهم على ما كتب في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ورأى علي رضي الله عنه مثيري الفتنة بعد مقتل الشهيد عثمان، فقال رضي الله عنه وكرم الله وجهه: "يا معشر الناس، اتقوا الله، وإياكم والغلوِّ في عثمان، وقولكم حرق المصاحف، فوالله ما حرقها إلَّا على ملأ منَّا أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم"، وروي عن عمر بن سعيد أنه قال: "قال على بن أبي طالب: لو كنت الوالي وقت عثمان لفعلت مثل الذي فعل عثمان".

--------------------------------------------

1 توفي سنة 1937م.

2 إعجاز القرآن للرافعي ص42.
১৮- যদি এগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বর্ণিত অকাট্য বাস্তবতা হয়ে থাকে, তবে কেন কুরআনের মুতাওয়াতির (অবিচ্ছিন্ন) বর্ণনার অর্থের চেয়ে বহু দূরের এমন সব অদ্ভুত বর্ণনা কিছু কিতাবের ভেতরে স্থান পেল—যেমন যারকাশীর 'আল-বুরহান' এবং সুয়ূতী-র 'আল-ইতকান'? এই কিতাবগুলো যেন রাতের আঁধারে জ্বালানি সংগ্রহকারীর মতো, যে কাঠের সাথে বিষধর সাপও কুড়িয়ে নেয়; অথচ কুরআন এক সুউচ্চ মসৃণ অট্টালিকার মতো যাতে কোনো ধূলিকণা আটকে থাকে না।

বিখ্যাত মুসলিম লেখক মরহুম মোস্তফা সাদিক আল-রাফেয়ী১ এর উত্তর দিয়েছেন। তিনি তাঁর 'ইজাযুল কুরআন' গ্রন্থে লিখেছেন: "আমরা কোনো বিষয়েই বর্ণনাসমূহের মধ্যে এত অধিক মতভেদ দেখিনি এবং তা প্রত্যাখ্যান ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এত বন্ধুর পথ অনুসরণ করতে দেখিনি, যতটা কুরআনের সুস্পষ্ট শব্দের পাঠ ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে দেখেছি। কেননা এই শব্দগুলো সর্বসম্মতিক্রমে মুতাওয়াতির; এতে বর্ণনাকারীদের উচ্চ বা নিম্ন মর্যাদা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এর কারণ হলো কুরআন হচ্ছে দ্বীনের মূল ভিত্তি। লোকেরা এতে কেবল তখনই মতভেদ করেছে যখন ফিতনা-বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছিল এবং নতুন নতুন অশুভ ঘটনার উদ্ভব হয়েছিল; যখন কিছু মানুষ নিফাক (কপটতা) থেকে ফিরে আদি জাহিলিয়াতের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থায় চলে গিয়েছিল। তাদের অধিকাংশেরই অন্তর থেকে সুনিশ্চিত বিশ্বাসের ভিত্তি বিচ্যুত হয়েছিল। ফলে তারা মহান আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করার ধৃষ্টতা দেখাল এবং ফিতনা ও সংশয় তাদের সামনে ও পেছনে সবদিক থেকে আচ্ছন্ন করল। ফলে যারা বিরোধ করতে চাইল, তারা কুরআনের মধ্যে এমন কিছু খুঁজে পেতে চাইল যার মাধ্যমে তারা দ্বিমত পোষণ করতে পারে। কিন্তু তা অসম্ভব! তবে তারা বর্ণনার ভেতরে এমন সব অপছন্দনীয় বিষয় ঢুকিয়ে দিল যাতে ভুল ব্যাখ্যা ও বাতিলের অনুপ্রবেশ ঘটে। তারা কুরুচিপূর্ণ কথার অবতারণা করল এবং সত্য আহরণের যোগ্যতা যাদের নেই তাদের ওপর ভিত্তিহীন বিষয় চাপিয়ে দিয়ে বাড়াবাড়ি করল—যা আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয় না, এমনকি সত্যের মাঝেও এর কোনো ভিত্তি তারা চিনে না। আমাদের ধারণা, এর অধিকাংশই নাস্তিকদের মিথ্যা অপবাদ এবং চরমপন্থী দলগুলোর অতিরঞ্জন। তারা অনেক দলে বিভক্ত এবং নিজেদের মধ্যে বিদ্বেষবশত মতভেদ করে। তাদের প্রত্যেকেই দাবি করে যে তারা কুরআনের দিকেই ফিরছে এবং প্রত্যেকেই নিজের মাযহাবের সপক্ষে এতে দলিল ও প্রমাণ দেখতে পায়। এরপর রয়েছে সত্য-মিথ্যার তোয়াক্কা না করা বক্র মনের অধিকারী ও অন্ধ অনুসারীরা এবং সেই সব দুর্বল বর্ণনাকারী যারা সঠিক-বেঠিক পার্থক্য করতে পারে না অথবা অসাবধানতার কারণে ভুল করে। এগুলো মূলত ঘনীভূত অন্ধকার, যার একটির ওপর অন্যটি স্তরীভূত। আর আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না, তার জন্য কোনো নূর নেই২।"

বিখ্যাত এই ইসলামী লেখক যা উল্লেখ করেছেন তা নিঃসন্দেহে সত্য। কারণ যারা ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারে না এবং কাঠ ও সাপের মধ্যে তফাৎ বুঝে না, তাদের সংগৃহীত এই বর্ণনাগুলো ফিতনার পরেই তৈরি হয়েছে। সম্ভবত ইসরাঈলী বর্ণনাগুলোরও এখানে এক প্রচ্ছন্ন বিষাক্ত ভূমিকা রয়েছে। যারা এগুলো প্রচার করেছে তারা মূলত চরমপন্থী বিভিন্ন দল এবং সেই সব বর্ণনাকারী যারা সঠিক-বেঠিক চিনে না অথবা যা বুঝে না তা নিয়ে অসতর্ক।

আপনি কি সেই চরমপন্থীদের দেখেননি যারা উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমালোচনা করে? তারা তাঁর সমালোচনার অন্যতম কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে যে তিনি মাসহাফ একত্রিত করেছেন এবং একটি মূল কপি নির্ধারণ করেছেন—যখন তিনি দেখলেন যে মতভেদ প্রকট হয়ে উঠেছে এবং তিনি লোকজনকে সেই পাণ্ডুলিপির ওপর একত্রিত করেছিলেন যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে লিপিবদ্ধ হয়েছিল।

শহীদ উসমানের শাহাদাতের পর আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন ফিতনাকারীদের দেখলেন, তখন তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু ওয়া কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) বললেন: "হে লোকসকল! আল্লাহকে ভয় করো এবং উসমানের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাকো। তোমাদের এই অভিযোগ যে তিনি মাসহাফসমূহ পুড়িয়ে ফেলেছেন—আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের উপস্থিতিতে ও পরামর্শক্রমেই তা পুড়িয়েছিলেন।" উমর বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে আলী ইবনে আবি তালিব বলেছেন: "আমি যদি উসমানের সময়ে শাসক হতাম, তবে উসমান যা করেছেন আমিও তাই করতাম।"

--------------------------------------------

১ মৃত্যু ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দ।

২ রাফেয়ী রচিত ইজাযুল কুরআন, পৃষ্ঠা ৪২।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌تحريق غير المصحف الإمام وغير ما نسخ منه:

19- كانت الفتنة قد بلغت ذروتها وخبَّ فيها الذين يؤيدونها ووضعوا، وكان قد دخل في الإسلام الذين يريدون أن ينتقموا منه لدولهم التي غزاها نور الإسلام، وانفتح في قلوب الأكثرين باب الهداية، ووجدوا في القرآن السبيل إلى ما أرادوا أن يهدموه وهو الإسلام، ليقتلعوه من جذوره، ويأتوه من قواعده، فجاءوا من القرآن عماده ونور الله المبين وحبله المتين.

وكان السبيل إحياء الأحرف التي نُسِخَت، فاندسُّوا بين المسلمين يحيون المقبور، ويروجون المهجور، ويبثون روح الشك والريب فيما هو متواتر ثابت.

وقد انبرى لهم ذو النورين، واجتثَّ شرهم، فجمع المصحف الإمام على الطريق المأمون الذي كان مستوثقًا غير متظنّن، ومتأكدًا غير متشكك، فكان ما كتب في عهده هو عين ما كتب في عهد الشيخين أبي بكر وعمر، وما كتب في عهد الشيخين هو عين ما أملي في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وما حفظه أصحابه في صدورهم.

حتى إذا تمَّ له ما احتسبه عند الله على ملأ من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين شاهدوا وعاينوا واتبعوا عن بينة، وفيهم الكثيرون ممن حفظوا القرآن كله كعليّ -كرَّم الله وجهه، ومعاذ بن جبل، فكان التواتر الكامل والصيانة الكاملة والاستحفاظ على كتب الله تعالى.

فلم يبق إلَّا أن يزيلوا غيره من المصاحف؛ لأنها كتبت بغير حرف قريش أو به وبحروف أخرى، فأحرقها جميعًا، ولم يبق إلَّا المصحف الإمام وما نُسِخَ منه، فلا يرجع إلى سواه، ولا يعتمد على غيره، ولو بقيت مصاحف غيره لكان الاحتجاج بها، ولعادت الفتنة جذعًا، وكان التشكيك والريب، وقد حفظ الله تعالى كتابه.

حرق عثمان المكتوب كله، ولم يبق منه شيئًا، وردَّ إلى السيدة أم المؤمنين حفصة المصحف الذي كان مودعًا عندها، والذي كان إمامًا لمصحف عثمان، كما قرَّر بحق ابن جرير الطبري، وقد ردَّه إليها لموعدة وعدها إياها فوفَّى بوعده، ولكنّها لما توفيت أمر عبد الله بن عمر أن يحرق المصحف الذي كان عندها، وروي أنَّها توفيت رضي الله عنها في عهد معاوية بن أبي سفيان، وأن الذي حرق المصحف الذي عندها
মূল মাসহাফ (আল-মাসহাফ আল-ইমাম) এবং তা থেকে অনুলিপি করা কপিগুলো ছাড়া অন্য সব পুড়িয়ে ফেলা:

১৯- ফিতনা তখন চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল এবং এর মদদদাতারা তাতে পূর্ণোদ্যমে জড়িয়ে পড়েছিল। যারা ইসলামের কাছে পরাজিত হওয়া তাদের পূর্বতন রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল, তারা ইসলামে প্রবেশ করেছিল। অধিকাংশ মানুষের অন্তরে হিদায়াতের দুয়ার উন্মোচিত হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এই ষড়যন্ত্রকারীরা কুরআনকেই তাদের কাঙ্ক্ষিত ধ্বংসযজ্ঞের উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছিল, যাতে তারা ইসলামকে তার মূল থেকে উপড়ে ফেলতে পারে এবং এর ভিত্তিগুলো ধসিয়ে দিতে পারে। তাই তারা কুরআনের দিকে হাত বাড়াল, যা ইসলামের স্তম্ভ, আল্লাহর সুস্পষ্ট নূর এবং তাঁর সুদৃঢ় রশি।

তাদের সেই পথটি ছিল রহিত হয়ে যাওয়া হরফগুলোকে পুনর্জীবিত করা। তাই তারা মুসলিমদের মধ্যে মিশে গিয়ে বিলুপ্ত হওয়া বিষয়গুলোকে জীবিত করতে লাগল, বর্জিত বিষয়গুলোর প্রচার শুরু করল এবং যা মুতাওয়াতির ও সুপ্রমাণিত, সেগুলোর ব্যাপারে সন্দেহ ও সংশয়ের বীজ বপন করতে লাগল।

এমতাবস্থায় যুন-নুরাইন তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন এবং তাদের অনিষ্ট নির্মূল করলেন। তিনি এমন এক নিরাপদ পন্থায় 'মাসহাফ আল-ইমাম' সংকলন করলেন যা ছিল সুনিশ্চিত ও সন্দেহাতীত। ফলে তাঁর যুগে যা লিখিত হয়েছিল তা ছিল হুবহু তা-ই, যা দুই শায়খ আবু বকর ও উমরের যুগে লিখিত হয়েছিল। আর দুই শায়খের যুগে যা লিখিত হয়েছিল তা ছিল হুবহু তা-ই, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে শ্রুতিলিপি করা হয়েছিল এবং যা তাঁর সাহাবীগণ তাঁদের অন্তরে মুখস্থ রেখেছিলেন।

অবশেষে যখন আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশায় তাঁর সেই মহান কাজ সম্পন্ন হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের এক বিরাট জামাত সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যারা পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে অনুসরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা পূর্ণ কুরআন মুখস্থ রেখেছিলেন, যেমন—আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন) এবং মুয়ায ইবনে জাবাল। ফলে এটি পূর্ণ মাত্রার অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা (তাওয়াতুর), নিখুঁত সংরক্ষণ এবং আল্লাহর কিতাবের হেফাযতের নিশ্চয়তা লাভ করল।

এখন কেবল অন্যান্য মাসহাফগুলো দূর করাই বাকি ছিল; কারণ সেগুলো কুরাইশদের উপভাষা ছাড়া অন্য উপভাষায় কিংবা কুরাইশ ও অন্যান্য উপভাষা মিলিয়ে লিখিত হয়েছিল। তাই তিনি সেই সবকটি পুড়িয়ে দিলেন। কেবল 'মাসহাফ আল-ইমাম' এবং তা থেকে অনুলিপি করা কপিগুলোই অবশিষ্ট রইল। ফলে অন্য কোনো কপির দিকে ফিরে যাওয়ার বা অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করার সুযোগ থাকল না। যদি অন্য মাসহাফগুলো অবশিষ্ট থাকত, তবে সেগুলো দিয়ে বিতর্ক করা হতো, ফিতনা আবার নতুন করে চাড়া দিয়ে উঠত এবং সন্দেহ-সংশয় দেখা দিত। আর এভাবেই মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবকে রক্ষা করেছেন।

উসমান লিখিত সব কপি পুড়িয়ে দিলেন এবং এর কিছুই অবশিষ্ট রাখলেন না। তিনি উম্মুল মুমিনীন হাফসার কাছে সেই মাসহাফটি ফেরত দিলেন যা তাঁর কাছে রক্ষিত ছিল এবং যা ছিল উসমানের মাসহাফের মূল ভিত্তি, যেমনটি ইবনে জারীর তাবারী সঠিকভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি এটি তাঁকে একটি ওয়াদার কারণে ফেরত দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর ওয়াদা পূর্ণ করেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর তাঁর কাছে থাকা সেই মাসহাফটি পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহা) মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের শাসনামলে ইন্তেকাল করেন এবং তখনই তাঁর কাছে থাকা মাসহাফটি পুড়িয়ে ফেলা হয়।
(খণ্ড: ১) আল মুজিজাতুল কুবরা আল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
والى المدينة مروان بن الحكم، ومهما يكن اختلاف الرواية في تاريخ وفاتها، فإنَّ عثمان رضي الله عنه قد قرَّر أن يحرق بعد وفاتها.

وهنا يسأل المؤرّخ: إذا حرق عثمان المصاحف الأخرى لما أثارته من فتنة، ولأنه كان فيها حروف أخرى غير حرف قريش، فلماذا قرر حرق المصحف الذي عند حفصة، وقد كان إمام مصحفه، والمرجع الذي وزن به صحة ما كتب في عهده، حتى إنه قيل: إن المصحف الذي كتب في عهده قد نسخ منه نسخًا؟

ونقول في الجواب عن ذلك: إنَّ المصحف أودع حفصة رضي الله عنها وعن أبيها؛ لأنَّها كانت حريصة على أن يبقى عندها، وما أراد الرجل الطيب عثمان أن يحرمها مما أرادت، فأعاده إليها، ولكنَّه الحريص على القرآن خشي أن يقع في يد أحد، فيمحو فيه ويثبث، ويقول: قد غيَّر ما عندكم، وها هو ذا الأصل، فاحتكموا إليه، ويكون صالحًا للاحتكام، فأمر أن يحرق بعد وفاتها، وما أبقاه عندها في حياتها إلا مرضاة لها، فاحتاط للقرآن، وما أعنتها -رضي الله تعالى- عن ذي النورين بما صنع -وأكرمه في مثواه ورضي عنه وأرضاه.
মদীনার গভর্নর ছিলেন মারওয়ান বিন আল-হাকাম। আর তার মৃত্যুর তারিখ নিয়ে বর্ণনায় যে মতভেদই থাকুক না কেন, উসমান (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তার মৃত্যুর পর সেটি পুড়িয়ে ফেলা হবে।

এখানে ঐতিহাসিক প্রশ্ন করেন: উসমান যদি অন্যান্য মুসহাফগুলো ফিতনা সৃষ্টির আশঙ্কায় এবং কুরাইশদের রীতি ছাড়া অন্য রীতি থাকার কারণে পুড়িয়ে দিয়ে থাকেন, তবে তিনি হাফসার কাছে থাকা মুসহাফটি পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছিলেন? অথচ সেটিই ছিল তার সংকলিত মুসহাফের মূল ভিত্তি এবং তার যুগে যা লেখা হয়েছিল তার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের মানদণ্ড; এমনকি বলা হয় যে, তার যুগে লিখিত মুসহাফগুলো এখান থেকেই অনুলিপি করা হয়েছিল।

এর জবাবে আমরা বলি: মুসহাফটি হাফসা (আল্লাহ তার ও তার পিতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কাছে গচ্ছিত রাখা হয়েছিল; কারণ তিনি এটি নিজের কাছে রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। সজ্জন ব্যক্তি উসমান তাকে তার আকাঙ্ক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে চাননি, তাই তিনি এটি তাকে ফেরত দিয়েছিলেন। কিন্তু কুরআনের সংরক্ষণে অতি যত্নশীল হওয়ার কারণে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, এটি হয়তো ভবিষ্যতে এমন কারো হাতে পড়বে যে এতে কোনো কিছু মুছবে বা যোগ করবে এবং বলবে: তোমাদের কাছে যা আছে তা পরিবর্তিত হয়ে গেছে, আর এই তো মূল পাণ্ডুলিপি, এর মাধ্যমেই ফয়সালা করো; এবং তখন সেটি তর্কের ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। তাই তিনি হাফসার মৃত্যুর পর এটি পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। তার জীবদ্দশায় তিনি কেবল তার সন্তুষ্টির জন্যই এটি তার কাছে রেখেছিলেন। এভাবে তিনি কুরআনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেন। যুন-নুরাইন যা করেছেন তার মাধ্যমে আল্লাহ তাকে কষ্ট দেননি—আল্লাহ তার অবস্থানকে সম্মানিত করুন এবং তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাকে সন্তুষ্ট করুন।