(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: -)
نسخة وكيع عن الأعمش   (وكيع بن الجراح)

القسم: كتب السنة


الكتاب: نسخة وكيع عن الأعمش

المؤلف: أبو سفيان وكيع بن الجراح بن مليح بن عدي بن فرس بن سفيان بن الحارث بن عمرو ابن عبيد بن رؤاس الرؤاسي (ت 197هـ)

المحقق: عبد الرحمن عبد الجبار الفريوائي

الناشر: الدار السلفية - الكويت

الطبعة: الثانية، 1406 هـ

عدد الصفحات: 101

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আ’মাশ থেকে ওয়াকি‘র বর্ণনা   (ওয়াকি‘ ইবনুল জাররাহ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: আ’মাশ থেকে ওয়াকি‘র বর্ণনা

লেখক: আবু সুফিয়ান ওয়াকি‘ ইবনুল জাররাহ ইবনে মালিহ ইবনে আদী ইবনে ফারাস ইবনে সুফিয়ান ইবনুল হারিস ইবনে আমর ইবনে উবায়েদ ইবনে রুয়াস আর-রুয়াসি (মৃত্যু ১৯৭ হি.)

সম্পাদক: আবদুর রহমান আবদুল জাব্বার আল-ফারইউয়ায়ি

প্রকাশক: আদ-দার আস-সালাফিয়্যাহ - কুয়েত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০১

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[نسخة وكيع عن الأعمش]ـ

المؤلف: أبو سفيان وكيع بن الجراح بن مليح بن عدي بن فرس بن سفيان بن الحارث بن عمرو ابن عبيد بن رؤاس الرؤاسي (المتوفى: 197هـ)

المحقق: عبد الرحمن عبد الجبار الفريوائي

الناشر: الدار السلفية - الكويت

الطبعة: الثانية، 1406 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة تخريج الأحاديث]
[আ’মাশ থেকে বর্ণিত ওয়াকি’র পাণ্ডুলিপি]

লেখক: আবু সুফিয়ান ওয়াকি’ বিন আল-জাররাহ বিন মালিহ বিন আদি বিন ফারাস বিন সুফিয়ান বিন আল-হারিস বিন আমর ইবনে উবাইদ বিন রুআস আর-রুআসি (মৃত্যু: ১৯৭ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুর রহমান আব্দুল জব্বার আল-ফারিওয়াই

প্রকাশক: আদ-দার আস-সালাফিয়্যাহ - কুয়েত

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৬ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ এবং এটি হাদিস তাহরিজ সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه

 

قيل لَهُ أخْبركُم الشَّيْخ أَبُو طَاهِر بَرَكَات بن ابراهيم بن طَاهِر الْقرشِي الخشوعي عَن قِرَاءَة عَلَيْهِ وَأَنت تسمع فِي يَوْم الِاثْنَيْنِ رَابِع ذِي الْحجَّة سنة خمس وَتِسْعين وَخَمْسمِائة قَالَ أبنا الشَّيْخ أَبُو مُحَمَّد عبد الْكَرِيم بن حَمْزَة ابْن الْخضر السّلمِيّ ثَنَا الْفَقِيه أَبُو الْحُسَيْن طَاهِر بن أَحْمد بن على بن مَحْمُود المحمودي القايني الشَّافِعِي أبنا أَبُو الْفضل مَنْصُور بن نصر بن عبد الرَّحِيم بن مت بن بحير الكاغدي السَّمرقَنْدِي بسمرقند فِي دَاره فِي شهر رَمَضَان سنة ثَلَاث وَثَلَاثِينَ وثلاثمئة ثَنَا ابراهيم بن عبد الله بن عمر بن بكير بن الْحَارِث الْعَبْسِي فِي سنة ثَمَان وَسبعين وَمِائَتَيْنِ ثَنَا وَكِيع بن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

 

তাঁকে বলা হলো: ৫৯৫ হিজরি সনের জিলহজ মাসের চার তারিখ সোমবার দিনে শাইখ আবু তাহির বারাকাত ইবনে ইবরাহিম ইবনে তাহির আল-কুরাশি আল-খশুয়ি আপনার নিকট বর্ণনা করেছেন যখন তাঁর সামনে পাঠ করা হচ্ছিল এবং আপনি তা শুনছিলেন। তিনি বললেন: শাইখ আবু মুহাম্মদ আব্দুল কারিম ইবনে হামযাহ ইবনুল খিজর আস-সুলামি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ফকিহ আবু আল-হুসাইন তাহির ইবনে আহমাদ ইবনে আলী ইবনে মাহমুদ আল-মাহমুদি আল-কাইনি আশ-শাফিয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। আবুল ফজল মানসুর ইবনে নাসর ইবনে আব্দুর রাহিম ইবনে মাত ইবনে বুহাইর আল-কাগদি আস-সামারকান্দি ৩৩৩ হিজরি সনের রমজান মাসে সামারকান্দে তাঁর নিজ গৃহে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে বুকাইর ইবনুল হারিস আল-আবাসি ২৭৮ হিজরি সনে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। অকি ইবনে... আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
الْجراح بن مليح بن عدي بن الْفرس الرُّؤَاسِي
আল-জাররাহ ইবনে মালিহ ইবনে আদি ইবনুল ফারাস আর-রুয়াসি।
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
1 - عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: ‌‌«لَيْسَ فِي الْجَنَّةِ مِنْ شَيْءٍ فِي الدُّنْيَا إِلَّا الْأَسْمَاءُ»
১ - সুলাইমান আল-আমাশ হতে, তিনি আবু জবিয়ান হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার মধ্য থেকে জান্নাতে কেবল নামসমূহ ব্যতীত আর কিছুই নেই»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
2 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ ذُكِرَ عِنْدَهُ الْوُضُوءُ مِنَ الطَّعَامِ، وَقَالَ الْأَعْمَشُ مَرَّةً: وَالْحِجَامَةَ لِلصَّائِمِ، فَقَالَ: ‌‌«إِنَّمَا الْوُضُوءُ مِمَّا خَرَجَ، وَلَيْسَ مِمَّا دَخَلَ، وَإِنَّمَا الْفِطْرُ مِمَّا دَخَلَ، وَلَيْسَ مِمَّا خَرَجَ»
২ - আল-আ'মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু জাবইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর নিকট খাবার গ্রহণের ফলে অযু করার বিষয়টি আলোচিত হলো। আল-আ'মাশ একবার বলেছেন: এবং রোযাদারের হিজামা (রক্তমোক্ষণ) সম্পর্কেও। তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই অযু কেবল তা থেকেই হয় যা (দেহ থেকে) বের হয়, যা প্রবেশ করে তা থেকে নয়। আর রোযা ভঙ্গ হয় তা থেকে যা (দেহে) প্রবেশ করে, যা বের হয় তা থেকে নয়।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
3 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ هَذَا الْحَرْفَ: ‌‌{فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ} [الْحَج: 36] فَيَقُولُ: «مَعْقُولَةً عَلَى ثَلَاثٍ، يَقُولُ: بِاسْمِ اللَّهِ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ، قَالَ: فَسُئِلَ عَنْ جُلُودِهَا؟ فَقَالَ: يُتَصَدَّقُ بِهَا أَوْ يُنْتَفَعُ بِهَا»
৩ - আল-আ’মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু জাবইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এই পাঠরীতিটি পাঠ করতেন: {অতএব তোমরা সেগুলোর ওপর সারিবদ্ধ অবস্থায় আল্লাহর নাম স্মরণ করো} [আল-হাজ্জ: ৩৬]। অতঃপর তিনি বলতেন: "তিনটি পায়ের ওপর বাঁধা অবস্থায়। তিনি বলতেন: আল্লাহর নামে, এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; হে আল্লাহ, আপনার পক্ষ থেকেই এবং আপনারই জন্য। তিনি বলেন: তাকে সেগুলোর চামড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো? তখন তিনি বললেন: "তা সদকা করে দেওয়া হবে অথবা তা থেকে উপকৃত হওয়া যাবে।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
4 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: ‌‌«إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ الْقَلَمُ، فَقَالَ: اكْتُبْ، ⦗ص: 57⦘ فَقَالَ: أَيْ رَبِّ، وَمَا أَكْتُبُ؟ قَالَ: اكْتُبِ الْقَدَرَ، قَالَ: فَجَرَى بِمَا هُوَ كَائِنٌ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمِ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ، قَالَ: ثُمَّ خَلَقَ النُّونَ، فَدَحَا الْأَرْضَ عَلَيْهَا، فَارْتَفَعَ بُخَارُ الْمَاءِ، فَفَتَقَ مِنْهُ السَّمَوَاتِ، وَاضْطَرَبَتِ النُّونُ، فَمَادَتِ الْأَرْضُ، فَأُثْبِتَتْ بِالْجِبَالِ، وَإِنَّ الْجِبَالَ لَتَفْخَرُ عَلَى الْأَرْضِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ»
৪ - আমাশ থেকে, তিনি আবু যাবইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বপ্রথম যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা হলো কলম। অতঃপর তিনি বললেন: লেখো, ⦗পৃষ্ঠা: ৫৭⦘ সে বলল: হে আমার রব, আমি কী লিখব? তিনি বললেন: তুমি লেখো তাকদীর। তিনি বলেন: অতঃপর সেদিন থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লিপিবদ্ধ হয়ে গেল। তিনি বলেন: এরপর তিনি 'নুন' (বিশাল মাছ) সৃষ্টি করলেন এবং তার ওপর জমিনকে বিছিয়ে দিলেন। তখন পানির বাষ্প উপরে উঠল এবং তা থেকে আকাশমন্ডলী পৃথক করলেন। তখন নুন নড়াচড়া শুরু করল, ফলে জমিন দুলতে লাগল, অতঃপর পাহাড় দিয়ে তাকে স্থির করা হলো। আর নিশ্চয়ই পাহাড়সমূহ কিয়ামত পর্যন্ত জমিনের ওপর গর্ব করতে থাকবে।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
5 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، قَالَ: «كُنَّا نَعْرِضُ الْمَصَاحِفَ عِنْدَ عَلْقَمَةَ بْنِ قَيْسٍ، فَمَرَّ بِهَذِهِ الْآيَةِ: ‌‌{مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ} [التغابن: 11] قَالَ: فَسَأَلْنَاهُ عَنْهَا؟ فَقَالَ:» هُوَ الرَّجُلُ تُصِيبُهُ الْمُصِيبَةُ، فَيَعْلَمُ أَنَّهَا مِنَ اللَّهِ، فَيَرْضَى وَيُسَلِّمُ "
৫ - আমাশ হতে বর্ণিত, আবু জাবইয়ান হতে, তিনি বলেন: "আমরা আলকামা ইবন কায়েসের নিকট মাসহাফসমূহ পেশ করতাম। অতঃপর তিনি এই আয়াতটির নিকট পৌঁছালেন: {আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কোনো বিপদই আপতিত হয় না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হেদায়েত দান করেন} [আত-তাগাবুন: ১১]। তিনি বলেন: অতঃপর আমরা তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম? তখন তিনি বললেন: "এ হলো সেই ব্যক্তি যাকে কোনো বিপদ স্পর্শ করে, আর সে জানে যে তা আল্লাহর পক্ষ হতে, ফলে সে সন্তুষ্ট থাকে এবং আত্মসমর্পণ করে"।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
6 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: ‌‌«الرُّؤْيَا ثَلَاثَةٌ: حُضُورُ الشَّيْطَانِ، وَالرَّجُلُ يُحَدِّثُ نَفْسَهُ بِالنَّهَارِ، وَمَا يَعْنِي فَيَرَاهُ بِاللَّيْلِ، وَالرُّؤْيَا الَّتِي هِيَ الرُّؤْيَا»
6 - আমাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু জাবইয়ান থেকে, তিনি আলকামা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: «স্বপ্ন তিন প্রকার: শয়তানের উপস্থিতি, মানুষ দিনের বেলা নিজের মনে যা কল্পনা করে অতঃপর রাতে তা দেখে, আর সেই স্বপ্ন যা প্রকৃতই স্বপ্ন।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৬০)
7 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ،‌‌ لَا تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا، أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذْا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ؟ أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ»
৭ - আল-আ’মাশ হতে, তিনি আবু সালিহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না ঈমান আনো, আর তোমরা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না একে অপরকে ভালোবাসো। আমি কি তোমাদের এমন বিষয়ের কথা বলব না যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৬০)
8 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«انْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ أَسْفَلُ مِنْكُمْ، وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ؛ فَإِنَّهُ أَجِدَرُ أَنْ لَا ⦗ص: 61⦘ تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَيْكُمْ»
৮ - আল-আ'মাশ হতে, তিনি আবু সালিহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তাদের দিকে তাকাও যারা তোমাদের নিচে রয়েছে এবং তাদের দিকে তাকিও না যারা তোমাদের উপরে রয়েছে; কেননা এটিই অধিক সমীচীন যাতে তোমরা ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ তোমাদের প্রতি মহান আল্লাহর নিয়ামতকে তুচ্ছ জ্ঞান না করো।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৬২)
9 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ لِعَبْدِهِ: عَبْدِي، وَلَكِنْ لِيَقُلْ: فَتَايَ، وَلَا يَقُولُونَ لِمَوْلَاهُ: مَوْلَايَ، وَلَكِنْ لِيَقُلْ: سَيِّدِي»
৯ - আল-আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন তার দাসের উদ্দেশ্যে ‘আমার দাস’ না বলে, বরং সে যেন বলে ‘আমার যুবক সেবক’; এবং তারা যেন তাদের মনিবের প্রতি ‘আমার মওলা’ না বলে, বরং সে যেন বলে ‘আমার সায়্যিদ (মনিব)’।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
10 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ، وَمَنْ أَطَاعَ الْإِمَامَ فَقَدْ أَطَاعَنِي، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ ⦗ص: 64⦘ عَصَى اللَّهَ، وَمَنْ عَصَى الْإِمَامَ فَقَدْ عَصَانِي»
১০ - আমাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ‌‌«যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে ব্যক্তি ইমামের আনুগত্য করল সে আমারই আনুগত্য করল; আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হলো সে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ আল্লাহরই অবাধ্য হলো, এবং যে ব্যক্তি ইমামের অবাধ্য হলো সে আমারই অবাধ্য হলো।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
11 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِنَّ أَثْقَلَ الصَّلَاةِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ صَلَاةُ الْعِشَاءِ وَالْفَجْرِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا، وَلَوْ حَبْوًا»
১১ - আল-আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ‌‌“নিশ্চয়ই মুনাফিকদের জন্য ইশা ও ফজরের সালাত অপেক্ষা অধিক ভারী আর কোনো সালাত নেই। যদি তারা জানত এই দুই সালাতে কী (মর্যাদা ও নেকি) রয়েছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও অবশ্যই তাতে উপস্থিত হতো।”
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
12 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«خَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ السُّفْلَى، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ»
১২ - আমাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «শ্রেষ্ঠ সদকা হলো যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়, আর উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম; এবং যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তোমার ওপর, তাদের দিয়ে শুরু করো»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
13 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«كُلُّ عَمِلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا، إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّهُ لِي، وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ طَعَامَهُ، وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي. لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ: فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ، وَلَخُلُوفُ فِيهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رَائِحَةِ الْمِسْكِ الْأَذْفَرِ، الصَّوْمُ جُنَّةٌ، الصَّوْمُ جُنَّةٌ»
১৩ - আ’মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আদম সন্তানের প্রতিটি আমলই বৃদ্ধি করা হয়; প্রতিটি নেকি দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত। মহান আল্লাহ বলেন: রোজা ব্যতীত, কেননা তা কেবল আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। সে আমার জন্যই নিজের খাদ্য ও প্রবৃত্তি বর্জন করে। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি আনন্দ তার ইফতারের সময়, আর অপরটি তার রবের সাথে সাক্ষাতের সময়। আর রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর সুগন্ধির চাইতেও অধিক সুগন্ধযুক্ত। রোজা ঢাল স্বরূপ, রোজা ঢাল স্বরূপ।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৭১)
14 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَأَنْ يَمْتَلِئَ الرَّجُلُ قَيْحًا يَرِيهِ، خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا»
১৪ - আ'মাশ থেকে, আবু সালিহ থেকে, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কোনো ব্যক্তির উদর পুঁজ দ্বারা পূর্ণ হয়ে তা পচে যাওয়া, তার কবিতা দ্বারা পূর্ণ হওয়ার চেয়ে উত্তম।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৭২)
15 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ أَنْ يَجِدَ فِيهِ ثَلَاثَ خَلِفَاتٍ عِظَامٍ سِمَانٍ؟» قُلْنَا: نَعَمْ قَالَ: «فَثَلَاثُ آيَاتٍ، يَقْرَؤُهُنَّ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ ثَلَاثِ خَلِفَاتٍ عِظَامٍ سِمَانٍ»
১৫ - আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করে যে, যখন সে তার পরিবারের নিকট ফিরে যাবে, তখন সেখানে তিনটি বড় ও স্থূলকায় গর্ভবতী উটনী পাবে?» আমরা বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: «তবে তিনটি আয়াত, যা তোমাদের কেউ তার সালাতে পাঠ করে, তা তার জন্য তিনটি বড় ও স্থূলকায় গর্ভবতী উটনীর চেয়েও উত্তম।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
16 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ:‌‌ الرَّهْنُ مَرْكُوبٌ وَمَحْلُوبٌ "
16 - আল-আ’মাশ হতে, তিনি আবু সালিহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বন্ধকী পশু আরোহণযোগ্য এবং দহনযোগ্য।
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
17 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَوْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، شَكَّ الْأَعْمَشُ قَالَ:‌‌ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ وَارْقَ، فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا
১৭ - আ’মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা অথবা আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন—আ’মাশ এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছেন—তিনি বলেন: কুরআনের সাথীকে বলা হবে: ‘তুমি পাঠ করো এবং উপরে আরোহণ করো; কেননা তোমার মর্যাদা হবে তোমার পঠিত সর্বশেষ আয়াতের নিকট।’
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
18 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، وَأَبِي رَزِينٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - قَالَ الْأَعْمَشُ، يَرْفَعْهُ - قَالَ: ‌‌«إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ، فَلَا يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ، حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا؛ فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ»
১৮ - আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ এবং আবু রাজীন থেকে, তাঁরা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন - আ’মাশ এটি মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন - তিনি বলেন: «তোমাদের কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন তার হাত পাত্রের মধ্যে না ডুবায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধৌত করে; কেননা সে জানে না কোথায় তার হাত রাত অতিবাহিত করেছে।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৭৭)
19 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: ‌‌{أَطِيعُوا اللَّهَ، وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ، وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النِّسَاء: 59] قَالَ: الْأُمَرَاءُ. قَالَ وَكِيعٌ: أُمَرَاءُ السَّرَايَا الَّذِينَ كَانُوا يَبْعَثُهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.

 

⦗ص: 78⦘

 

20 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: الْفُقَهَاءُ
১৯ - আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো} [আন-নিসা: ৫৯] তিনি বলেন: তাঁরা হলেন আমিরগণ। ওয়াকি বলেন: তাঁরা হলেন সেই সব ক্ষুদ্র বাহিনীর আমির যাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ করতেন।

 

⦗পৃষ্ঠা: ৭৮⦘

 

২০ - আ'মাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তাঁরা হলেন ফকীহগণ।
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৭৯)
21 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَوْ عَنْ كَعْبٍ، شَكَّ الْأَعْمَشُ قَالَ: ‌‌«تُعْرَضُ أَعْمَالُ الْعِبَادِ كُلَّ اثْنَيْنِ وَخَمِيسٍ، فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلَّا عَبْدًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ»
২১ - আমাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ অথবা কাব থেকে—আমাশ সন্দেহ করেছেন—তিনি বলেন: «প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দাদের আমলসমূহ পেশ করা হয়। অতঃপর এমন প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় যে আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করে না, কেবল সেই বান্দা ব্যতীত যার ও তার ভাইয়ের মধ্যে শত্রুতা রয়েছে।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৮০)
22 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ كَعْبٍ، قَالَ: ‌‌«مَنْ قَرَأَ فِي لَيْلَةٍ مِائَةَ آيَةٍ، كُتِبَ مِنَ الْقَانِتِينَ»
২২ - আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি এক রাতে একশত আয়াত পাঠ করবে, তাকে অনুগত ইবাদতকারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে।"
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৮০)
23 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَوْ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، شَكَّ الْأَعْمَشُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، مَنْ لَقِيَ اللَّهَ بِهِمَا غَيْرَ شَاكٍّ، لَمْ يُحْجَبُ عَنِ الْجَنَّةِ»
২৩ - আল-আ’মাশ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ অথবা আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন—আল-আ’মাশ (রাবী সম্পর্কে) সন্দেহ পোষণ করেছেন—তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। যে ব্যক্তি এই দু’টি সাক্ষ্যের ওপর কোনো প্রকার সন্দেহ পোষণ না করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, তাকে জান্নাত থেকে বাধা প্রদান করা হবে না।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৮১)
24 - وَبِالْإِسْنَادِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَوْ أَنَّ ⦗ص: 82⦘ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ، وَلَا نَصِيفَهُ»
২৪ - এবং এই সনদে আবু সাঈদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, যদি ⦗পৃষ্ঠা: ৮2⦘ তোমাদের কেউ ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ ব্যয় করো, তবে তাদের একজনের এক মুদ (অঞ্জলি) বা তার অর্ধেকের সমপরিমাণেও পৌঁছাতে পারবে না।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৮৩)
25 - وَبِهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لَا تُسَافِرِ امْرَأَةٌ سَفَرًا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، فَصَاعِدًا، إِلَّا مَعَ أَبِيهَا، أَوِ ابْنِهَا، أَوْ أَخِيهَا، أَوْ زَوْجِهَا، أَوْ ذِي مَحْرِمٍ»
২৫ - এবং একই সূত্রে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কোনো নারী তিন দিন বা তদূর্ধ্ব সময়ের সফর করবে না; তবে তার পিতা, অথবা তার পুত্র, অথবা তার ভাই, অথবা তার স্বামী, অথবা কোনো মাহরামের সাথে ছাড়া।»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৮৪)
26 - وَبِالْإِسْنَادِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«يُدْعَى نُوحٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ بَلَّغْتَ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ فَيُدْعَى قَوْمُهُ، فَيُقَالُ لَهُمْ: هَلْ بَلَّغَكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: مَا أَتَانَا مِنْ نَذِيرٍ، وَمَا أَتَانَا مِنْ أَحَدٍ، قَالَ: فَيُقَالُ لِنُوحٍ عليه السلام: مَنْ يَشْهَدُ لَكَ؟ فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم وَأُمَّتُهُ، قَالَ: فَذَلِكَ قَوْلُهُ {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} [الْبَقَرَة: 143] قَالَ: الْوَسَطُ: الْعَدْلُ»
২৬ - এবং একই সনদে আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন নূহকে ডাকা হবে, অতঃপর তাঁকে বলা হবে: আপনি কি (বাণী) পৌঁছে দিয়েছিলেন? তিনি বলবেন: হ্যাঁ। তখন তাঁর সম্প্রদায়কে ডাকা হবে এবং তাদের বলা হবে: তিনি কি তোমাদের নিকট (বাণী) পৌঁছে দিয়েছিলেন? তারা বলবে: আমাদের নিকট কোনো সতর্ককারী আসেনি এবং আমাদের নিকট কেউ আসেনি। তিনি বলেন: তখন নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে বলা হবে: আপনার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? তিনি বলবেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর উম্মত। তিনি বলেন: আর এটাই হলো মহান আল্লাহর বাণী {আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি} [আল-বাকারাহ: ১৪৩]। তিনি বলেন: ‘ওয়াসাত’ (মধ্যপন্থী) অর্থ হলো: ন্যায়পরায়ণ।’»
(খণ্ড: ১) নুসখাতু ওয়াকি আনিল আমাশ (পৃষ্ঠা: ৮৫)
27 - عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«يَقُولُ اللَّهُ تبارك وتعالى يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِآدَمَ: يَا آدَمُ قُمْ، فَابْعَثْ بَعْثَ النَّارِ، قَالَ: فَيَقُولُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، وَالْخَيْرُ بِيَدَيْكَ، وَمَا بَعْثُ النَّارِ؟ قَالَ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعُمِائَةٌ وَتِسْعَةٌ وَتِسْعِينَ، قَالَ: ⦗ص: 86⦘ فَحِينَئِذٍ يَشِيبُ الْمَوْلُودُ {وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمَلٍ حَمْلَهَا، وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى، وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ} [الْحَج: 2] ، قَالَ: فَيَقُولُونَ: وَأَيُّنَا ذَلِكَ الْوَاحِدُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:» تِسْعُمِائَةٌ وَتِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ مِنْ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ، وَمِنْكُمْ وَاحِدٌ، فَقَالَ النَّاسُ: اللَّهُ أَكْبَرُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُوَ أَنْ تَكُونُوا رُبُعَ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُوَ أَنْ تَكُونُوا ثُلُثَ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُوَ أَنْ تَكُونُوا نِصْفَ أَهْلِ الْجَنَّةِ «فَكَبَّرَ النَّاسُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:» مَا أَنْتُمْ فِي النَّاسِ إِلَّا كَالشَّعْرَةِ الْبَيْضَاءِ فِي الثَّوْرِ الْأَسْوَدِ، أَوْ كَالشَّعْرَةِ السَّوْدَاءِ فِي الثَّوْرِ الْأَبْيَضِ "
২৭ - আমাশ হতে, তিনি আবু সালিহ হতে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আদমকে বলবেন: হে আদম, দাঁড়ান, অতঃপর জাহান্নামের দল বের করুন। তিনি বলবেন: আমি আপনার দরবারে উপস্থিত ও আপনার আনুগত্যে ধন্য, এবং সকল কল্যাণ আপনার দুই হাতে, আর জাহান্নামের দল কী? তিনি বলবেন: প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন। ⦗পৃষ্ঠা: ৮৬⦘ সেই সময়ে নবজাতক বৃদ্ধ হয়ে যাবে এবং {প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করবে, আর আপনি মানুষকে দেখবেন মাতাল সদৃশ, অথচ তারা মাতাল নয়; বরং আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠিন} [আল-হাজ্জ: ২]। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তারা (সাহাবীগণ) বললেন: আমাদের মধ্যে সেই একজন কে হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «নয়শত নিরানব্বই জন ইয়াজুজ ও মাজুজ থেকে হবে, আর তোমাদের মধ্য হতে হবে একজন। তখন তারা বলল: আল্লাহু আকবার। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি আশা করি তোমরা জান্নাতবাসীদের এক-চতুর্থাংশ হবে। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি আশা করি তোমরা জান্নাতবাসীদের এক-তৃতীয়াংশ হবে। আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আমি আশা করি তোমরা জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে।» তখন লোকেরা তাকবীর ধ্বনি দিল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «অন্যান্য মানুষের তুলনায় তোমাদের অবস্থান তো ঠিক তেমন, যেমন একটি কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা লোম অথবা একটি সাদা ষাঁড়ের গায়ে একটি কালো লোম থাকে।»