(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: -)
الدعاء - الضبي (محمد بن فضيل الضبي)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الدعاء
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد بن فضيل بن غزوان بن جرير الضبي مولاهم الكوفي (ت 195هـ)
المحقق: د عبد العزيز بن سليمان بن إبراهيم البعيمي
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض
الطبعة: الأولى، 1419هـ - 1999م
عدد الصفحات: 364
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আদ-দুআ - আদ-দাব্বি (মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল আদ-দাব্বি)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আদ-দুআ
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল ইবনে গাজওয়ান ইবনে জারির আদ-দাব্বি মাওলাহুম আল-কুফি (মৃত্যু ১৯৫ হিজরি)
তাহকিক: ড. আব্দুল আজিজ ইবনে সুলাইমান ইবনে ইব্রাহিম আল-বাঈমি
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৪
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الدعاء]ـالمؤلف: أبو عبد الرحمن محمد بن فضيل بن غزوان بن جرير الضبي مولاهم الكوفي (المتوفى: 195هـ)المحقق: د عبد العزيز بن سليمان بن إبراهيم البعيميالناشر: مكتبة الرشد - الرياضالطبعة: الأولى، 1419هـ - 1999معدد الأجزاء: 1[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة تخريج الأحاديث]
[আদ-দুআ]লেখক: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ বিন ফুদাইল বিন গাজওয়ান বিন জারির আদ-দাব্বি, তাঁদের মাওলা, আল-কুফি (মৃত্যু: ১৯৫ হিজরি)গবেষক: ড. আবদুল আজিজ বিন সুলাইমান বিন ইব্রাহিম আল-বাইমিপ্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদসংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দখণ্ড সংখ্যা: ১[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি হাদিস তাহরিজ পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّرِيفُ الْإِمَامُ أَبُو الْبَرَكَاتِ عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ حَمْزَةَ بْنِ يَحْيَى بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ زَيْدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ الْكُوفِيُّ النَّحْوِيُّ، بِقِرَاءَتِي عَلَيْهِ بِالْكُوفَةِ فِي مَسْجِدِ أَبِي إِسْحَاقَ السَّبِيعِيِّ بِمَحِلَّةِ السَّبِيعِ فِي الْعَاشِرِ مِنْ ذِي الْقِعْدَةِ سَنَةَ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَخَمْسِمِائَةٍ فَأَقَرَّ بِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَرَجِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلَّانَ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْخَازِنِ الْمُعَدِّلُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ ثَمَانٍ وَسِتِّينَ وَأَرْبَعِمِائَةِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْجُعْفِيُّ، قِرَاءَةُ عَلَيْهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ بْنِ رِيَاحٍ الْأَشْجَعِيُّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ مِنْ أَصْلِهِ، وَأَقَرَّ بِهِ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُنْذِرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ ⦗ص: 158⦘ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، وَمُجَاهِدٍ قَالَا: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَعْرَابِيٌّ ، فَشَكَا إِلَيْهِ الْجُوعَ، فَدَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ خَرَجَ فَقَالَ: «مَا أَجِدُ لَكَ فِي آلِ مُحَمَّدٍ طَعَامًا أُطْعِمُكَاهُ» . فَقَامَ أَحَدُهُمَا ، فَأَهْدَى لَهُ شَاةً مَصْلِيَّةً، وَقَالَ الْآخَرُ: حِفْنَةٌ مِنْ ثَرِيدٍ ، فَوُضِعَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ ، فَقَالَ: «اطْعَمْ» ، فَطَعِمَ ، فَلَمَّا شَبِعَ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَصَابَنِي مَا أَصَابَنِي ، فَأَتَيْتُكَ، فَرَزَقَنِي اللَّهُ هَذَا عَلَى يَدَيْكَ، أَفَرَأَيْتَ إِنْ أَصَابَنِي هَذَا ، وَلَسْتُ عِنْدَكَ، فَكَيْفَ أَصْنَعُ؟ قَالَ: قُلِ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ، وَرَحْمَتِكَ ، فَإِنَّهُ لَا يَمْلِكُهَا إِلَّا أَنْتَ، فَإِنَّ اللَّهَ رَازِقُكَ»
১ - আমাদের অবহিত করেছেন শরিফ ইমাম আবু আল-বারাকাত উমর ইবন ইবরাহিম ইবন মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমদ ইবন আলী ইবন আল-হুসাইন ইবন আলী ইবন হামজা ইবন ইয়াহইয়া ইবন আল-হুসাইন ইবন যাইদ ইবন আলী ইবন আল-হুসাইন ইবন আলী ইবন আবি তালিব আল-কুফি আন-নাহবি; কুফায় সাবি’ মহল্লায় আবু ইসহাক আস-সাবি’র মসজিদে পাঁচশ একুশ হিজরি সনের দশই জিলকদ তারিখে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু আল-ফারাজ মুহাম্মাদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল্লান, যিনি ইবনুল খাজিন আল-মুআদ্দিল নামে পরিচিত; চারশ আটষট্টি হিজরি সনের জিলহজ মাসে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন বিচারক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আল-হুসাইন আল-জু'ফি; তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন জাফর ইবন মুহাম্মাদ ইবন রিয়াহ আল-আশজায়ি; তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে পাঠের মাধ্যমে এবং তিনি তা স্বীকার করে নিয়েছেন। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন মুনজির। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন ফুযাইল। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবন ⦗পৃষ্ঠা: ১৫৮⦘ আবদুর রহমান আস-সুলামি; ইবরাহিম এবং মুজাহিদ থেকে, তাঁরা উভয়ে বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জনৈক বেদুইন আসল এবং তাঁর কাছে ক্ষুধার অভিযোগ করল। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভেতরে প্রবেশ করলেন, অতঃপর বের হয়ে এসে বললেন: “মুহাম্মাদের পরিবারবর্গের কাছে আমি এমন কোনো খাবার পাচ্ছি না যা তোমাকে খাওয়াবো।” তখন তাঁদের একজন উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁকে একটি ভুনা বকরি উপহার দিলেন। অন্যজন বললেন: এক অঞ্জলি সারীদ (ঝোল ভেজানো রুটি)। অতঃপর তা তাঁর সামনে রাখা হলো। তিনি বললেন: “আহার করো।” সে আহার করল। যখন সে তৃপ্ত হলো, তখন বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমার যা হওয়ার ছিল তা হয়েছে (অর্থাৎ আমি ক্ষুধার্ত হয়েছিলাম), অতঃপর আমি আপনার কাছে এসেছি এবং আল্লাহ আপনার হাতের মাধ্যমে আমাকে এই রিজিক দান করেছেন। আচ্ছা, যদি এমন হয় যে আমার এই দশা আবার হলো অথচ আমি আপনার কাছে নেই, তবে আমি কী করব? তিনি বললেন: তুমি বলো: “হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আপনার অনুগ্রহ ও আপনার রহমত প্রার্থনা করছি, কেননা আপনি ব্যতীত আর কেউ এর মালিক নয়।” তবে আল্লাহ অবশ্যই তোমাকে রিজিক দান করবেন।
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
2 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَعْدٍ الْأَنْصَارِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو الْغُصَيْنِ الطَّائِيُّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَا هُوَ يُصَلِّي ، فَسَمِعَ رَجُلًا مِنْ خَلْفِهِ وَهُوَ يُصَلِّي، وَهُوَ يَقُولُ: اللَّهُمَّ أَرِنِي الدُّنْيَا كَمَا تَرَاهَا، فَلَمَّا انْصَرَفَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الصَّلَاةِ قَالَ: «مَنْ صَاحِبُ الدَّعْوَةِ؟» قَالَ الرَّجُلُ: أَنَا. قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَرَى الدُّنْيَا كَالَّذِي تَرَاهَا، فَإِذَا كُنْتَ سَائِلًا فَقُلِ: اللَّهُمَّ أَرِنِي الدُّنْيَا كَالَّذِي يَرَاهَا صَالِحُو عِبَادِكَ»
২ - ইবনুল ফুযাইল আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন সা'দ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আল-গুসাইন আত-তাঈ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা সালাত আদায় করছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাঁর পেছনে সালাত আদায়রত এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: হে আল্লাহ! আমাকে দুনিয়াকে তেমনভাবে দেখান যেভাবে আপনি তা দেখেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি বললেন: «এই দোয়াকারী কে?» লোকটি বলল: আমি। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ দুনিয়াকে সেভাবে দেখেন না যেভাবে তুমি তা দেখছ। সুতরাং তুমি যদি প্রার্থনা করতে চাও তবে বলো: হে আল্লাহ! আমাকে দুনিয়া তেমনভাবে দেখান যেভাবে আপনার নেককার বান্দাগণ তা দেখেন।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
3 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: كَانَ أَسِيرٌ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ امْرَأَةٍ ، فَانْفَلَتَ، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «مَا لَهَا؟ قَطَعَ اللَّهُ يَدَهَا» . فَبَلَغَ ذَلِكَ الْمَرْأَةَ ، فَعَلِمَتْ أَنَّهَا مَقْطُوعَةٌ يَدُهَا، فَرَفَعَتْ يَدَهَا إِلَى السَّمَاءِ تَدْعُو، فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «ضَعِي يَدَيْكِ ، فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَقْطَعُ يَدَيْكِ» ، ثُمَّ قَالَ: «اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ، فَأَيُّمَا عَبْدٍ مُسْلِمٍ ، أَوِ امْرَأَةٍ مَسْلَمَةٍ ، دَعَوْتُ عَلَيْهِ بِدَعْوَةٍ، فَاجْعَلْهَا لَهُ صَلَاةً وَبَرَكَةً»
৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবন ফুদায়েল, তিনি আশআস থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো এক পরিজনের নিকট—জনৈক মহিলার কাছে—একজন যুদ্ধবন্দী ছিল, যে পালিয়ে গেল। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "তার কী হয়েছে? আল্লাহ তার হাত কেটে দিন।" এই কথাটি সেই মহিলার নিকট পৌঁছালে তিনি জানতে পারলেন যে তার হাত কেটে ফেলা হবে। তখন তিনি আকাশের দিকে নিজের হাত তুলে দুআ করতে লাগলেন। এ সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "তোমার হাত নামাও, কারণ আল্লাহ তোমার হাত কাটবেন না।" অতঃপর তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, আমি তো কেবল একজন বান্দা। সুতরাং আমি কোনো মুসলিম পুরুষ বা কোনো মুসলিম নারীর বিরুদ্ধে যদি কোনো বদদুআ করে থাকি, তবে তুমি সেটাকে তার জন্য রহমত ও বরকত বানিয়ে দাও।"
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
4 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «شِعَارُ الْمُسْلِمِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى الصِّرَاطِ: اللَّهُمَّ سَلِّمْ سَلِّمْ»
4 - ইবনু ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক থেকে, তিনি নুমান ইবনু সাদ থেকে, তিনি মুগিরা ইবনু শু'বা থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন সিরাতের ওপর মুসলিমদের স্লোগান হবে: হে আল্লাহ! আপনি নিরাপদ রাখুন, নিরাপদ রাখুন»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
5 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُكَيْمٍ، قَالَ: أَهْدَيْتُ لِعَائِشَةَ جِرَابًا مِنْ قُسْطِ عَنْبَرٍ ، فَدَخَلْتُ بِهِ عَلَيْهَا ، فَقُلْتُ: يَا أُمَّتَاهُ، هَذَا جِرَابٌ مِنْ قُسْطٍ أَهْدَيْتُهُ لَكِ. قَالَتْ: يَا جَارِيَةُ ، خُذِيهِ مِنْهُ، وَأَعْطِيهِ ذَلِكَ الْبُرْدَ الْأَحْمَرَ، فَقُلْتُ: هَذَا خَيْرٌ مِنَ الَّذِي جِئْتُ بِهِ. فَقَالَتْ: إِنَّكَ لِذَلِكَ أَهْلٌ. فَقُلْتُ: عَلِّمِينِي دُعَاءً سَمِعْتِيهِ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: نَعَمْ ، دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا فَقَالَ: «يَا عَائِشَةُ، شَعَرْتُ أَنِّي عَلِمْتُ الِاسْمَ الَّذِي دَعَا بِهِ صَاحِبُ سُلَيْمَانَ» . قَالَتْ: فَمَا مَلَكْتُ نَفْسِيَ أَنِ اعْتَنَقْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: عَلِّمْنِيهِ. فَقَالَ: «لَا يَصْلُحُ يَا ⦗ص: 163⦘ عَائِشَةُ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَالَتْ: فَقُمْتُ ، فَتَوَضَّأْتُ ، وَدَخَلْتُ الْمَسْجِدَ، فَقُلْتُ: أَدْعُوكَ اللَّهُمَ، وَأَدْعُوكَ الرَّحْمَنَ، وَأَدْعُوكَ الْبَرَّ الرَّحِيمَ، وَأَسْأَلُكَ بِأَسْمَائِكَ الْحُسْنَى كُلِّهَا ، مَا عَلِمْتُ مِنْهَا ، وَمَا لَمْ أَعْلَمْ ، أَنْ تَغْفِرَ لِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَصَبْتِ يَا عَائِشَةُ» ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
৫ - ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ আল-কুরাশী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উকাইম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়িশার জন্য আম্বার মিশ্রিত কুস্ত-এর একটি থলে উপহার হিসেবে নিয়ে গেলাম। আমি এটি নিয়ে তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: হে আম্মাজান! এটি কুস্ত-এর একটি থলে যা আমি আপনাকে উপহার হিসেবে দিয়েছি। তিনি বললেন: হে বালিকা! এটি তার থেকে গ্রহণ করো এবং তাকে ওই লাল চাদরটি দিয়ে দাও। তখন আমি বললাম: এটি (চাদরটি) আমি যা নিয়ে এসেছি তার চেয়ে উত্তম। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তুমি এর যোগ্য। আমি বললাম: আপনি আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: «হে আয়িশা! আমি অনুভব করছি যে, আমাকে সেই নামটি শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে যার মাধ্যমে সুলায়মানের সাথী দোয়া করেছিলেন»। তিনি (আয়েশা) বললেন: তখন আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলাম না এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জড়িয়ে ধরলাম। আমি বললাম: আমাকে তা শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: «হে ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৩⦘ আয়িশা! এটি সংগত হবে না» —একথা তিনি তিনবার বললেন। তিনি (আয়েশা) বলেন: এরপর আমি উঠে অজু করলাম এবং মসজিদে (নামাজের স্থানে) প্রবেশ করলাম, এরপর বললাম: হে আল্লাহ! আমি আপনাকে ‘আল্লাহ’ বলে ডাকছি, আপনাকে ‘আর-রাহমান’ বলে ডাকছি এবং আপনাকে ‘আল-বাররুর রাহিম’ (সদাচারী ও পরম দয়ালু) বলে ডাকছি। আর আমি আপনার নিকট আপনার সকল সুন্দর নামের অসিলায় প্রার্থনা করছি—যা আমি জানি এবং যা আমি জানি না— যাতে আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে আয়িশা! তুমি সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছেছ» —একথা তিনি তিনবার বললেন।
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
6 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا أَصَابَ أَحَدَكُمْ هَمٌّ ، أَوْ حَزَنٌ فَلْيَقُلِ: اللَّهُمَّ ، إِنِّي عَبْدُكَ ، وَابْنُ عَبْدِكَ ، وَابْنُ أَمَتِكَ ، وَفِي قَبْضَتِكَ ، نَاصِيَتِي فِي يَدَيْكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ: أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي ، وَنُورَ صَدْرِي، وَجِلَاءَ حُزْنِي ، وَذَهَابَ هَمِّي» . قَالَ: «فَمَا قَالَهُنَّ عَبْدٌ قَطُّ إِلَّا أَذْهَبَ اللَّهُ هَمَّهُ، وَأَبْدَلَهُ مَكَانَ حُزْنِهِ فَرَحًا» . قَالُوا: أَفَلَا نَتَعَلَّمُهُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: ⦗ص: 164⦘ «بَلَى، فَإِنَّهُ يَنْبَغِي لِكُلِّ مُسْلِمٍ سَمِعَهُنَّ أَنْ يَتَعَلَّمَهُنَّ»
৬ - ইবনু ফুদাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক থেকে, তিনি কাসিম ইবনু আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের কারো যখন কোনো দুশ্চিন্তা বা দুঃখ-বেদনা স্পর্শ করে, তখন সে যেন বলে: হে আল্লাহ, আমি আপনার বান্দা, আপনার এক বান্দার পুত্র এবং আপনার এক দাসীর পুত্র, আমি আপনার হাতের মুঠোয়, আমার ললাট আপনার দুই হাতে, আমার ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমার সম্পর্কে আপনার ফয়সালা ইনসাফপূর্ণ। আমি আপনার কাছে আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যে নাম আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার নিকট অদৃশ্যের জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন: আপনি কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত, আমার বক্ষের নূর, আমার দুঃখের অপসারণকারী এবং আমার দুশ্চিন্তা দূরকারী বানিয়ে দিন»। তিনি বললেন: «কোনো বান্দা যখনই এই কথাগুলো বলে, আল্লাহ অবশ্যই তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেন এবং তার দুঃখের পরিবর্তে সেখানে আনন্দ দান করেন»। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি এগুলো শিখে নেব না? তিনি বললেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৪⦘ «অবশ্যই, কারণ যে ব্যক্তি এগুলো শুনবে, তার উচিত সেগুলো শিখে নেওয়া»।
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
7 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ الْهَجَرِيُّ، عَنْ أَبِي عِيَاضٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ، أَغْضَبُ كَمَا ⦗ص: 165⦘ يَغْضَبُ الْبَشَرُ، وَأَلْعَنُ كَمَا يَلْعَنُ الْبَشَرُ، فَأَيُّمَا عَبْدٍ غَضِبْتُ عَلَيْهِ ، أَوْ سَبَبْتُهُ فِي غَيْرِ كُنْهِهِ فَاجْعَلْهَا لَهُ صَلَاةً وَرَحْمَةً»
৭ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে ফুহাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম আল-হাজারী, তিনি আবু ইয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি তো কেবল একজন মানুষ, মানুষ যেভাবে ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৫⦘ রাগান্বিত হয় আমিও সেভাবে রাগান্বিত হই, এবং মানুষ যেভাবে অভিশাপ দেয় আমিও সেভাবে অভিশাপ দিই; সুতরাং আমি যে কোনো বান্দার প্রতি রাগান্বিত হই কিংবা তাকে তার যথার্থতা ব্যতীত গালি দেই, আপনি সেটাকে তার জন্য দোয়া ও রহমত বানিয়ে দিন।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
8 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الْعَلَاءُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ بُرَيْدَةَ، قَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ مَنْ أَرَادَ اللَّهُ بِهِ ⦗ص: 166⦘ خَيْرًا عَلَّمَهُنَّ إِيَّاهُ، ثُمَّ لَمْ يُنْسِهِنَّ إِيَّاهُ أَبَدًا؟ قُلِ: اللَّهُمَّ إِنِّي ضَعِيفٌ ، فَقَوِّ فِي رِضَاكَ ضَعْفِي، وَخُذْ إِلَى الْخَيْرِ بِنَاصِيَتِي، وَاجْعَلِ الْإِسْلَامَ مُنْتَهَى رِضَائِي، اللَّهُمَّ إِنِّي ضَعِيفٌ فَقَوِّنِي، وَإِنِّي ذَلِيلٌ فَأَعِزَّنِي، وَإِنِّي فَقِيرٌ فَارْزُقْنِي»
৮ - ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আলা ইবনুল মুসাইয়াব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ থেকে, তিনি বুরাইদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: «আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দেব না, যা আল্লাহ যার ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৬⦘ কল্যাণ চান তাকে তা শিখিয়ে দেন, অতঃপর তিনি তাকে তা কখনো ভুলিয়ে দেন না? তুমি বলো: হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি দুর্বল, সুতরাং আপনার সন্তুষ্টির পথে আমার দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করুন, আমার কপাল ধরে কল্যাণের দিকে নিয়ে যান এবং ইসলামকে আমার সন্তুষ্টির চূড়ান্ত লক্ষ্য বানিয়ে দিন, হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আমি দুর্বল, সুতরাং আমাকে শক্তি দান করুন; আমি হীন, সুতরাং আমাকে সম্মানিত করুন; এবং আমি অভাবী, সুতরাং আমাকে রিজিক দান করুন।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
9 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الْأَجْلَحُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ، قَالَ: قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى شَيْءٍ تَفْعَلُهُ؟ إِنْ أَنْتَ مُتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ دَخَلْتَ الْجَنَّةَ، وَإِنْ عِشْتَ عِشْتَ بِخَيْرٍ؟ إِذَا أَنْتَ نِمْتَ فَاجْعَلْ يَدَكَ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِّكَ الْأَيْمَنِ، ثُمَّ قُلِ: اللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ نَفْسِي إِلَيْكَ، وَوَجَّهْتُ وَجْهِي إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِي إِلَيْكَ رَغْبَةً وَرَهْبَةً إِلَيْكَ ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا ⦗ص: 168⦘ إِلَيْكَ، آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِي أَنْزَلْتَ ، وَبِرَسُولِكَ الَّذِي أَرْسَلْتَ»
৯ - ইবনু ফুযাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আজলাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাকাম থেকে বর্ণিত, তিনি উসাইদ ইবনু হুদাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন: «আমি কি তোমাকে এমন একটি কাজ শিখিয়ে দেব না যা তুমি করবে? যদি তুমি এই রাতে মারা যাও তবে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যদি বেঁচে থাকো তবে কল্যাণের সাথে বেঁচে থাকবে? যখন তুমি ঘুমাতে যাবে তখন তোমার ডান হাত তোমার ডান গালের নিচে রাখবে, তারপর বলবে: হে আল্লাহ! আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ করলাম, আপনার দিকে আমার মুখমন্ডল ফিরালাম, আপনার নিকট আমার সকল বিষয় সোপর্দ করলাম এবং আপনার প্রতি অনুরাগ ও ভীতি নিয়ে আমার পিঠ আপনার আশ্রয়ে সঁপে দিলাম; আপনি ছাড়া কোনো আশ্রয়স্থল নেই এবং আপনার শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো স্থান নেই ⦗পৃষ্ঠা: ১৬৮⦘ কেবল আপনার নিকটেই; আমি আপনার অবতীর্ণ কিতাবের ওপর ঈমান এনেছি এবং আপনার প্রেরিত রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
10 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ سَوَّارٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ: «الْمُوجِبَتَانِ: مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ لَقِيَهُ يُشْرِكُ بِهِ دَخَلَ النَّارَ» . قِيلَ: وَمَا بَيَانُ كُفْرِهِ؟ قَالَ: «تَرْكُ الصَّلَاةِ»
১০ - ইবনে ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আশআস বিন সাওয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যুবায়ের থেকে, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «দুটি বিষয় অবধারিতকারী: যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে ব্যক্তি তাঁর সাথে শরিক করা অবস্থায় তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।» জিজ্ঞেস করা হলো: এবং কিসে তাঁর কুফরির প্রকাশ ঘটে? তিনি বললেন: «সালাত বর্জন করা»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
11 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ شُبْرُمَةَ، عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ، عَنِ الْأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لَا يَشْكُرُ اللَّهَ مَنْ لَا يَشْكُرُ النَّاسَ»
১১ - ইবনে ফুদায়েল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনে শুবরুমাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু মা'শার থেকে, তিনি আশআস ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
12 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْمُثَنَّى، عَنْ رِيَاحِ بْنِ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ: بَيْنَا أَنَا وَاقِفٌ فِي السُّوقِ فِي إِمَارَةِ ⦗ص: 172⦘ زِيَادٍ إِذْ ضَرَبْتُ إِحْدَى يَدَيَّ عَلَى الْأُخْرَى تَعَجُّبًا، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ قَدْ كَانَ لِوَالِدِهِ صُحْبَةٌ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: مِمَّ تَعْجَبُ يَا أَبَا بُرْدَةَ؟ قُلْتُ: أَعْجَبُ مِنْ قَوْمٍ ، دِينُهُمْ وَاحِدٌ، وَنَبِيُّهُمْ وَاحِدٌ، وَدَعْوَتُهُمْ وَاحِدَةٌ، وَحَجُّهُمْ وَاحِدٌ، وَغَزْوُهُمْ وَاحِدٌ ، يَسْتَحِلُّ بَعْضُهُمْ قَتْلَ بَعْضٍ قَالَ: فَلَا تَعْجَبْ، فَإِنِّي سَمِعْتُ وَالِدِي أَخْبَرَنِي أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «إِنَّ أُمَّتِي أُمَّةٌ مَرْحُومَةٌ ، لَيْسَ عَلَيْهَا فِي الْآخِرَةِ حِسَابٌ ، وَلَا عَذَابٌ، إِنَّمَا عَذَابُهَا فِي الْقَتْلِ وَالزَّلَازِلِ وَالْفِتَنِ»
১২ - ইবনুল ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাদাকাহ বিন আল-মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রিয়াহ বিন আল-হারিস থেকে বর্ণিত, আবু বুর্দাহ থেকে বর্ণিত: যিয়াদের শাসনকালে ⦗পৃষ্ঠা: ১৭২⦘ আমি যখন বাজারে দাঁড়িয়ে ছিলাম, তখন বিস্ময়ে এক হাতের ওপর অন্য হাত মারলাম। তখন আনসারদের একজন লোক—যার পিতার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহচর্য ছিল—বললেন: হে আবু বুর্দাহ! আপনি কিসের জন্য বিস্মিত হচ্ছেন? আমি বললাম: আমি এমন এক কওমের ব্যাপারে বিস্মিত হচ্ছি যাদের দ্বীন এক, নবী এক, দাওয়াত এক, হজ এক এবং যুদ্ধাভিযান এক; অথচ তারা একে অপরের রক্তপাতকে বৈধ মনে করছে। তিনি বললেন: আপনি বিস্মিত হবেন না। কারণ আমি আমার পিতাকে আমাকে সংবাদ দিতে শুনেছি যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «নিশ্চয়ই আমার এই উম্মত একটি দয়াপ্রাপ্ত উম্মত। পরকালে তাদের ওপর কোনো হিসাব নেই এবং কোনো আযাবও নেই। তাদের আযাব কেবল (দুনিয়ার) হত্যা ও ভূমিকম্প এবং ফিতনা-ফ্যাসাদের মাধ্যমেই হয়ে যায়।’»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
13 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِهِ ، فَقَالَ لِأَبِي الدَّرْدَاءِ: «اخْرُجْ ، فَنَادِ فِي النَّاسِ أَنَّهُ مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، مُخْلِصًا بِهِمَا مِنْ قِبَلِ قَلْبِهِ ، فَقَدْ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ، وَأَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ» فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: وَإِنْ ⦗ص: 174⦘ زَنَا، وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَإِنْ زَنَا، وَإِنْ سَرَقَ، وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أَبِي الدَّرْدَاءِ» قَالَ: فَخَرَجَ ، فَلَقِيَ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه ، فَقَالَ: يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ: مَا أَخْرَجَكَ عَنْ بَيْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: أَمَرَنِي أَنْ أَخْرُجَ؛ فَأُأَذِّنَ فِي النَّاسِ أَنَّهُ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، مُخْلِصًا بِهِمَا مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ ، فَقَدْ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ، وَأَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ» . قَالَ: قُلْتُ: وَإِنْ زَنَا، وَإِنْ سَرَقَ ، يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَإِنْ زَنَا، وَإِنْ سَرَقَ، وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أَبِي الدَّرْدَاءِ» . قَالَ: إِنِّي أَطْلُبُ إِلَيْكَ حَاجَةً. قَالَ: وَمَا هِيَ؟ قَالَ: تَقْعُدُ هَاهُنَا ، حَتَّى أَخْرُجَ إِلَيْكَ مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَدَخَلَ عُمَرُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: إِنِّي لَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ خَارِجًا ، فَقُلْتُ: مَا أَخْرَجَكَ مِنْ بَيْتِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؟ فَقَالَ: أَمَرَنِي أَنْ أُنَادِيَ فِي النَّاسِ أَنَّهُ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، مُخْلِصًا بِهِمَا ، فَقَدْ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ، وَأَدْخَلَهُ الْجَنَّةَ» . قَالَ: فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ، وَإِنْ زَنَا ، وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «نَعَمْ، وَإِنْ زَنَا ، وَإِنْ سَرَقَ، وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أَبِي الدَّرْدَاءِ» . فَقُلْتُ لَهُ: هَذَا يَا نَبِيَّ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ» . فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنْ رَأَيْتَ أَنْ تَرُدَّهُ ، وَتَتْرُكَ النَّاسَ يَقُولُونَهَا، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَقُولَهَا الْإِنْسَانُ مَرَّةً وَاحِدَةً ، وَيَتَّكِلَ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِعُمَرَ: «نِعِمَّا رَأَيْتَ» ، فَرَدَّهُ، فَخَرَجَ عُمَرُ إِلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ فَقَالَ لَهُ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَكَ: «ارْجِعْ» ، فَرَجَعَ أَبُو الدَّرْدَاءِ
১৩ - ইবনে ফুদাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন উবাইদুল্লাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে (রা.) বলতে শুনেছেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর ঘরে উপস্থিত ছিলাম, তখন তিনি আবু আদ-দারদাকে বললেন: «বেরিয়ে যাও এবং মানুষের মধ্যে ঘোষণা করে দাও যে, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে একনিষ্ঠভাবে এই সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করেছেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন।» তখন আবু আদ-দারদা বললেন: যদিও সে ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৪⦘ ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে, আর যদিও তা আবু আদ-দারদার জন্য অপছন্দনীয় হয় (তার নাক ধূলিধূসরিত হয়)।’ বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো। উমর (রা.) বললেন: হে আবু আদ-দারদা! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘর থেকে আপনাকে কিসে বের করল? তিনি বললেন: তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে আমি বেরিয়ে গিয়ে মানুষের মাঝে ঘোষণা করি: «যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, স্বীয় অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে এই সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করেছেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন।» আবু আদ-দারদা বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে, আর যদিও তা আবু আদ-দারদার জন্য অপছন্দনীয় হয়।’ তিনি (আবু আদ-দারদা) বললেন: আমি (উমর) আপনার কাছে একটি আবেদন করছি। তিনি বললেন: তা কী? উমর (রা.) বললেন: আপনি এখানে অবস্থান করুন, যতক্ষণ না আমি আপনার পক্ষ হয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে ফিরে আসি। অতঃপর উমর (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: আমি বাইরে আবু আদ-দারদার সাথে সাক্ষাৎ করেছি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘর থেকে কিসে বের করল? তিনি বললেন: তিনি আমাকে মানুষের মাঝে ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন যে: «যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, একনিষ্ঠভাবে এই সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নাম হারাম করেছেন এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন।» উমর (রা.) বলেন: তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী! যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে, আর যদিও তা আবু আদ-দারদার জন্য অপছন্দনীয় হয়।’ আমি তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর নবী! সত্যিই কি তাই? তিনি বললেন: «হ্যাঁ’। তখন উমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি সঙ্গত মনে করেন তবে তাকে ফিরিয়ে নিন এবং মানুষকে (স্বাভাবিক অবস্থায়) ছেড়ে দিন; কেননা আমি আশঙ্কা করছি যে মানুষ কেবল একবার এটি বলবে এবং এর ওপরই নির্ভর করে (আমল বর্জন করে) বসে থাকবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর (রা.)-কে বললেন: «তুমি চমৎকার অভিমত দিয়েছ’, অতঃপর তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর উমর (রা.) আবু আদ-দারদার কাছে বেরিয়ে এলেন এবং তাঁকে বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে বলছেন: «ফিরে আসুন’, তখন আবু আদ-দারদা ফিরে এলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
14 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ ⦗ص: 176⦘ الْمَدِينَةِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: بَيْنَمَا أَنَا أَمْشِي فِي نَخْلِ الْمَدِينَةِ، إِذْ نَادَانِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ خَلْفِي: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، تَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا» . ثُمَّ قَالَ: «يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، تَدْرِي مَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «فَإِنَّ حَقَّ الْعِبَادِ عَلَى اللَّهِ إِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ أَنْ لَا يُعَذِّبَهُمْ»
১৪ - ইবনু ফুদায়েল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মদীনার অধিবাসীদের ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৬⦘ জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যখন মদীনার খেজুর বাগানের মধ্য দিয়ে হাঁটছিলাম, এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার পিছন থেকে আমাকে ডাক দিলেন: «হে আবু হুরায়রা! তুমি কি জানো বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক কী?» আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক হলো তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। অতপর তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা! তুমি কি জানো বান্দাদের আল্লাহর ওপর কী হক রয়েছে যখন তারা তা করবে?» আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর ওপর বান্দাদের হক হলো, তারা যখন তা করবে, তিনি তাদের আযাব দেবেন না।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
15 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ ⦗ص: 177⦘ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ: «يَدْرُسُ الْإِسْلَامُ كَمَا يَدْرُسُ وَشْيُ الثَّوْبِ، فَيُصْبِحُ النَّاسُ لَا يَدْرُونَ مَا صَلَاةٌ وَلَا صِيَامٌ ، وَلَا نُسُكٌ غَيْرَ أَنَّ الرَّجُلَ وَالْعَجُوزَ يَقُولُونَ: قَدْ أَدْرَكْنَا النَّاسَ وَهُمْ يَقُولُونَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، فَنَحْنُ نَقُولُ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ» . فَقَالَ صِلَةُ: وَمَا تُغْنِي عَنْهُمْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَهُمْ لَا يَدْرُونَ مَا صَلَاةٌ ، وَلَا صِيَامٌ ، وَلَا نُسُكٌ؟ فَقَالَ حُذَيْفَةُ: «مَا تُغْنِي عَنْهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَا صِلَةُ؟ يَنْجُونَ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِنَ النَّارِ»
১৫ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবনে ফুযাইল, তিনি আবু মালিক আল-আশজাঈ থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৭৭⦘ রিবঈ ইবনে হিরাশ থেকে, তিনি হুযাইফাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “ইসলাম এমনভাবে বিলীন হয়ে যাবে যেমন কাপড়ের নকশা বিলীন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে মানুষ জানবে না সালাত কী, সিয়াম কী এবং ইবাদতের নিয়মাবলি কী। তবে কেবল বৃদ্ধ ও বৃদ্ধারা বলবে: আমরা আমাদের পূর্ববর্তীদের এই কথা বলতে দেখেছি যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’, তাই আমরাও বলছি ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’।” তখন সিলাহ বললেন: তাদের জন্য ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’ বলা কী উপকারে আসবে, অথচ তারা জানে না সালাত কী, সিয়াম কী এবং ইবাদতের নিয়মাবলি কী? তখন হুযাইফাহ বললেন: “হে সিলাহ! ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’ তাদের কী উপকারে আসবে? এটিই তাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবে।”
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৭৮)
16 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ - يَرْفَعُ الْحَدِيثَ - قَالَ: «الِابْتِهَالُ هَكَذَا: وَقَلَبَ كَفَّيْهِ إِلَى الْأَرْضِ، وَالْمَسْأَلَةُ هَكَذَا: وَبَسَطَ كَفَّيْهِ، وَالْإِخْلَاصُ أَنْ تُشِيرَ بِأُصْبُعٍ وَاحِدَةٍ تَدْعُو بِهَا»
১৬ - ইবনে ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরিমা থেকে — তিনি হাদীসটি মারফূ হিসেবে (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে) বর্ণনা করেছেন — তিনি বলেন: «আকুতিভরে প্রার্থনা (ইবতিহাল) হলো এভাবে: এবং তিনি তাঁর দুই হাতের তালু যমীনের দিকে উল্টে দিলেন; যাচনা (মাসআলাহ) হলো এভাবে: এবং তিনি তাঁর দুই হাতের তালু প্রসারিত করলেন; আর ইখলাস (একনিষ্ঠতা) হলো এই যে, তুমি একটি আঙুল দিয়ে ইশারা করবে যার মাধ্যমে তুমি দুআ করবে।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
17 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا} [المزمل: 8] قَالَ: «أَخْلِصْ إِلَيْهِ إِخْلَاصًا»
১৭ - ইবনে ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল ইবনে আবু খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালিহ থেকে মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {এবং তাঁর প্রতি একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করুন} [আল-মুজ্জাম্মিল: ৮] তিনি বলেন: «তাঁর প্রতি পূর্ণ ইখলাস অবলম্বন করুন»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
18 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، قَالَ: ⦗ص: 180⦘ كَانَ سَعْدٌ يَدْعُو ويُشِيرُ بِأُصْبُعَيْهِ ، فَقَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَا سَعْدُ أَحِّدْ أَحِّدْ»
১৮ - ইবনু ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আ’মাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৮০⦘ সা’দ দু’আ করছিলেন এবং তাঁর দুই আঙুল দিয়ে ইশারা করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে সা’দ! একটি (আঙুল) দিয়ে করো, একটি (আঙুল) দিয়ে করো»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
19 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا جُوَيْبِرٌ، عَنِ الضَّحَّاكِ فِي قَوْلِهِ: {وَتَبَتَّلْ إِلَيْهِ تَبْتِيلًا} [المزمل: 8] قَالَ: «إِخْلَاصًا»
১৯ - ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুওয়াইবির আমাদের নিকট আদ-দাহহাক থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {এবং আপনি তাঁর প্রতি একাগ্রচিত্তে নিবেদিত হোন} [আল-মুজ্জাম্মিল: ৮] তিনি বলেন: «একনিষ্ঠতা»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
20 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنِ ⦗ص: 182⦘ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَلِيٍّ عليه السلام ، قَالَ: كَانَ عَلِيٌّ إِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ فَضْلِكَ ، أَوْ رَحْمَتِكَ» . وَإِذَا خَرَجَ قَالَ: «اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ فَضْلِكَ»
২০ - ইবন ফুদায়েল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১৮২⦘ নুমান ইবন সাদ থেকে, তিনি আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রা.) যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ, আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের অথবা আপনার রহমতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দিন।" আর যখন তিনি বের হতেন তখন বলতেন: "হে আল্লাহ, আপনি আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দিন।"
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
21 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «يُؤْمَرُ بِالدُّعَاءِ عِنْدَ أَذَانِ الْمُؤَذِّنِينَ»
২১ - ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহারিব বিন দিসার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «মুয়াজ্জিনদের আজানের সময় দোয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
22 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ ⦗ص: 184⦘ حَفْصَةَ بِنْتِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِيهَا أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ: عَلَّمَتْنِي أُمُّ سَلَمَةَ قَالَتْ: عَلَّمَنِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «قُولِي يَا أُمَّ سَلَمَةَ عِنْدَ أَذَانِ الْمَغْرِبِ: اللَّهُمَّ عِنْدَ اسْتِقْبَالِ لَيْلِكَ، وَإِدْبَارِ نَهَارِكَ، وَأَصْوَاتِ دُعَاتِكَ، وَحُضُورِ صَلَوَاتِكَ ، أَسْأَلُكَ أَنْ تَغْفِرَ لِي»
২২ - আমাদের নিকট ইবনে ফুযায়ল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৪⦘ হাফসাহ বিনতে আবি কাসীর থেকে, তিনি তাঁর পিতা আবু কাসীর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাকে উম্মু সালামাহ শিখিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছেন, তিনি বললেন: «হে উম্মু সালামাহ, তুমি বলো মাগরিবের আযানের সময়: হে আল্লাহ, আপনার রাত্রির আগমনকালে, আপনার দিনের প্রস্থানকালে, আপনার দিকে আহ্বানকারীদের আওয়াযের সময় এবং আপনার সালাতসমূহের উপস্থিতিকালে, আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেন।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮৫)
23 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، قَالَ: «تُفْتَحُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ لِخَمْسٍ: لِلِقَاءِ الزَّحْفِ، وَالْغَيْثِ إِذَا نَزَلَ، وَالنِّدَاءِ بِالصَّلَاةِ، وَلِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ وَالدُّعَاءِ»
২৩ - ইবনে ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে সাবিত থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «পাঁচটি সময়ে আসমানের দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হয়: যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সম্মুখীন হওয়ার সময়, বৃষ্টি বর্ষণের সময়, সালাতের আযানের সময় এবং কুরআন তিলাওয়াতের সময় ও দুআর সময়।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
24 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يَقُولُ اللَّهُ: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي، وَأَنَا مَعَهُ حَيْثُ يَدْعُونِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَإٍ ذَكَرْتُهُ فِيمَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُمْ، وَإِنِ اقْتَرَبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا اقْتَرَبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ جَاءَنِي يَمْشِي جِئْتُهُ أُهَرْوِلُ، وَإِنْ جَاءَنِي يُهَرْوِلُ جِئْتُهُ أَسْعَى، وَإِنْ سَأَلَنِي أَعْطَيْتُهُ، وَإِنْ لَمْ يَسْأَلْنِي غَضِبْتُ عَلَيْهِ»
২৪ - ইবন ফুযাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবন উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটবর্তী থাকি, এবং আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমাকে ডাকে। যদি সে আমাকে তার মনে মনে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের অপেক্ষা উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি। আর সে যদি আমার দিকে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হয়, তবে আমি তার দিকে এক বাহু পরিমাণ নিকটবর্তী হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, তবে আমি তার দিকে দ্রুত গতিতে আসি। আর সে যদি আমার দিকে দ্রুত গতিতে আসে, তবে আমি তার দিকে দৌড়ে আসি। আর যদি সে আমার কাছে প্রার্থনা করে, তবে আমি তাকে দান করি। আর যদি সে আমার কাছে প্রার্থনা না করে, তবে আমি তার প্রতি রাগান্বিত হই।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
25 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّهُ ⦗ص: 187⦘ قَالَ: بَلَغَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يَزَالُ الْعَبْدُ بِخَيْرٍ مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَكَيْفَ يَسْتَعْجِلُ؟ قَالَ: «يَقُولُ: قَدْ دَعَوْتُ اللَّهَ ، فَمَا أَرَى اللَّهَ يَسْتَجِيبُ لِي»
২৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনু ফুযাইল, তিনি ইসমাইল বিন মুসলিম থেকে, তিনি হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেন যে, ⦗পৃষ্ঠা: ১৮৭⦘ তিনি বলেন: তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকে যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া না করে।’ জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সে কীভাবে তাড়াহুড়া করে? তিনি বললেন: «সে বলে: আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি, কিন্তু আমি আল্লাহকে আমার দোয়া কবুল করতে দেখছি না।’
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
26 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، أَنَّهُ بَلَغَهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: قَالَ رَبُّكُمْ: «أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا دَعَانِي»
২৬ - ইবনে ফুযাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি হাসান থেকে, তাঁর নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সংবাদ পৌঁছেছে যে তিনি বলতেন: তোমাদের রব বলেছেন: «আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটেই থাকি এবং সে যখন আমাকে ডাকে, আমি তার সাথেই থাকি»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
27 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ الْأَحْوَلُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَرْجِسَ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَعَوَّذُ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ، وَالْحَوْرِ بَعْدَ الْكَوْرِ، وَدَعْوَةِ الْمَظْلُومِ، وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ»
২৭ - ইবনু ফুদায়েল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসিম আল-আহওয়াল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনু সারজিস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরের ক্লান্তি, ফিরে আসার বিষণ্নতা, প্রাচুর্যের পর অভাব, মজলুমের বদদোয়া এবং অশুভ দৃশ্য দেখা হতে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন পরিবার ও সম্পদ।»
(খণ্ড: ১)
আদ দুআ - আদ দ্বব্বি
(পৃষ্ঠা: ১৮৯)
28 - حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: «كَانُوا يَقُولُونَ فِي السَّفَرِ، إِذَا سَافَرَ الرَّجُلُ: اللَّهُمَّ بَلَاغٌ يَبْلُغُ خَيْرًا ، مَغْفِرَةً مِنْكَ وَرِضْوَانًا، بِيَدِكَ الْخَيْرُ، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ ، وَالْخَلِيفَةُ فِي الْأَهْلِ، اللَّهُمَّ هَوِّنْ ⦗ص: 190⦘ عَلَيْنَا السَّفَرَ، وَاطْوِ لَنَا الْأَرْضَ، اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ، وَكَآبَةِ الْمُنْقَلَبِ، وَسُوءِ الْمَنْظَرِ فِي الْأَهْلِ وَالْمَالِ»
২৮ - ইবনে ফুযাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুগীরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «তারা সফরের সময় বলতেন, যখন কোনো ব্যক্তি সফরে বের হয়: হে আল্লাহ, এমন গন্তব্য দান করুন যা কল্যাণে পৌঁছে দেয়, আপনার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি দান করুন, আপনার হাতেই যাবতীয় কল্যাণ, নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আপনিই সফরে সঙ্গী এবং পরিবার-পরিজনের রক্ষক। হে আল্লাহ, আমাদের জন্য ⦗পৃষ্ঠা: ১৯০⦘ সফরকে সহজ করে দিন এবং আমাদের জন্য জমিনকে সংকুচিত করে দিন। হে আল্লাহ, আমরা আপনার নিকট সফরের কষ্ট, ফেরার সময়ের বিষণ্ণতা এবং পরিবার ও সম্পদের অশুভ দৃশ্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।»