(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: -)
مسند ابن المبارك (ابن المبارك)
القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند الإمام عبد الله بن المبارك
المؤلف: أبو عبد الرحمن عبد الله بن المبارك بن واضح الحنظلي، التركي ثم المرْوزي (ت 181 هـ)
المحقق: صبحي البدري السامرائي [ت 1434 هـ]
الناشر: مكتبة المعارف - الرياض
الطبعة: الأولى، 1407 هـ
عدد الصفحات: 166
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুসনাদ ইবনুল মুবারক (ইবনুল মুবারক)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের মুসনাদ
লেখক: আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক বিন ওয়াদিহ আল-হানজালি, আত-তুর্কি অতঃপর আল-মারওয়াযি (মৃ. ১৮১ হি.)
গবেষক: সুবহি আল-বাদরি আস-সামাররায়ি [মৃ. ১৪৩৪ হি.]
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৬
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[مُسْند الإِمَام عبد الله بن الْمُبَارك]ـالْمُؤلف: أَبُو عبد الرَّحْمَن عبد الله بن الْمُبَارك بن وَاضح الْحَنْظَلِي، التركي ثمَّ المرْوزي (الْمُتَوفَّى: 181هـ)الْمُحَقق: صبحي البدري السامرائيالناشر: مكتبة المعارف - الرياضالطبعة: الأولى، 1407 هـعدد الْأَجْزَاء: 1[ترقيم الْكتاب مُوَافق للمطبوع، وَهُوَ ضمن خدمَة تَخْرِيج الْأَحَادِيث]
—[ইমাম আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারকের মুসনাদ]—লেখক: আবু আব্দুর রহমান আবদুল্লাহ বিন আল-মুবারক বিন ওয়াদিহ আল-হানজালি, আত-তুর্কি অতঃপর আল-মারওয়াযি (মৃত্যু: ১৮১ হিজরি)সম্পাদক: সুবহি আল-বাদরি আস-সামাররায়িপ্রকাশক: মাকতাবাতুল মাআরিফ - রিয়াদসংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরিখণ্ড সংখ্যা: ১[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি হাদিস তাহরিজ সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٣)
1 - أَخْبَرَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ رَاشِدٍ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «يَطْلُعُ الْآنَ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» ، فَطَلَعَ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ تَنْطِفُ لِحْيَتُهُ مِنْ مَاءِ وُضُوئِهِ ، قَدْ عَلَّقَ نَعَلَيْهِ بِيَدِهِ الشِّمَالِ ، فَلَمَّا كَانَ الْغَدُ ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ ذَلِكَ ، فَطَلَعَ ذَلِكَ الرَّجُلُ مِثْلَ الْمَرَّةِ الْأُولَى ، فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الثَّالِثُ ، قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَ مَقَالَتِهِ أَيْضًا ، فَطَلَعَ ذَلِكَ الرَّجُلُ عَلَى مِثْلِ حَالِهِ الْأَوَّلِ ، فَلَمَّا قَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم تَبِعَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو ? فَقَالَ: إِنِّي لَاحَيْتُ أَبِي ، فَأَقْسَمْتُ أَنِّي لَا أَدْخُلُ عَلَيْهِ ثَلَاثًا ، فَإِنْ ⦗ص: 4⦘ رَأَيْتَ أَنْ تُؤْوِيَنِي إِلَيْكَ حَتَّى تَمْضِيَ فَعَلْتَ. قَالَ: «نَعَمْ» . قَالَ أَنَسٌ: فَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يُحَدِّثُ أَنْ بَاتَ مَعَهُ تِلْكَ الثَّلَاثَ اللَّيَالِيَ فَلَمْ يَرَهُ يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ شَيْئًا ، غَيْرَ أَنَّهُ إِذَا تَعَارَّ تَقَلَّبَ عَلَى فِرَاشِهِ ذَكَرَ اللَّهَ عز وجل ، وَكَبَّرَ حَتَّى صَلَاةِ الْفَجْرِ ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: غَيْرَ أَنِّي لَمْ أَسْمَعْهُ يَقُولُ إِلَّا خَيْرًا ، فَلَمَّا مَضَتِ الثَّلَاثُ اللَّيَالِي وَكِدْتُ أَنْ أَحْتَقِرَ عَمَلَهُ ، قُلْتُ: يَا عَبْدَ اللَّهِ ، لَمْ يَكُنْ بَيْنِي وَبَيْنَ أَبِي غَضَبٌ وَلَا هِجْرَةٌ ، وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ: «يَطْلُعُ عَلَيْكُمُ الْآنَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ» فَطَلَعْتَ أَنْتَ الثَّلَاثَ الْمَرَّاتِ ، فَأَرَدْتُ أَنْ آوِيَ إِلَيْكَ فَأَنْظُرَ مَا عَمِلْتَ فَأَقْتَدِيَ بَكَ ، فَلَمْ أَرَ عَمِلْتَ كَبِيرَ عَمَلٍ ، فَمَا الَّذِي بَلَغَ بِكَ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: مَا هُوَ إِلَّا مَا رَأَيْتَ. فَلَمَّا وَلَّيْتُ دَعَانِي ، فَقَالَ: مَا هُوَ إِلَّا مَا رَأَيْتَ ، غَيْرَ أَنِّي لَا أَجِدُ فِي نَفْسِي لِأَحَدٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ غِشًّا ، وَلَا أَحْسُدُهُ عَلَى شَيْءٍ أَعْطَاهُ اللَّهُ إِيَّاهُ. فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو هَذَا الَّذِي بَلَغَتْ بِكَ ، وَهِيَ الَّتِي لَا نُطِيقُ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাব্বান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, মা'মার ইবনে রাশিদ থেকে, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসা ছিলাম, তখন তিনি বললেন: «এখন তোমাদের সামনে জান্নাতি এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে», অতঃপর আনসারদের একজন লোক উপস্থিত হলেন যার দাড়ি থেকে ওযুর পানি টপকাচ্ছিল এবং তিনি ঝুলিয়ে রেখেছিলেন নিজের জুতো জোড়া তার বাম হাতে। যখন পরদিন হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় একই কথা বললেন, এবং সেই ব্যক্তিটি প্রথম বারের মতোই উপস্থিত হলেন। যখন তৃতীয় দিন হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারও তার পূর্বের ন্যায় কথা বললেন এবং সেই ব্যক্তিটি তার পূর্বের অবস্থার ন্যায় আবারও উপস্থিত হলেন। যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন, আবদুল্লাহ ইবনে আমর তাকে অনুসরণ করলেন এবং বললেন: আমি আমার পিতার সাথে বিতণ্ডা করেছি এবং শপথ করেছি যে তিন দিন তার কাছে প্রবেশ করব না। সুতরাং ⦗পৃষ্ঠা: ৪⦘ আপনি যদি আমাকে আপনার নিকট আশ্রয় দেওয়া সমীচীন মনে করেন যতক্ষণ না এই সময় অতিবাহিত হয়, তবে আমি তা করব। তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। আনাস বলেন: আবদুল্লাহ বর্ণনা করতেন যে, তিনি তার সাথে সেই তিন রাত অতিবাহিত করেন কিন্তু তাকে রাতে (সালাতের জন্য) দাঁড়াতে দেখেননি। তবে তিনি যখনই ঘুম থেকে জাগতেন এবং বিছানায় পাশ ফিরতেন, তখন মহান আল্লাহর যিকির করতেন এবং তাকবীর পাঠ করতেন যতক্ষণ না ফজরের সালাতের সময় হতো। আবদুল্লাহ বলেন: এছাড়া আমি তাকে ভালো কথা ছাড়া অন্য কিছু বলতে শুনিনি। যখন তিন রাত অতিবাহিত হলো এবং আমি তার আমলকে প্রায় নগণ্য মনে করতে লাগলাম, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর বান্দা, আমার এবং আমার পিতার মধ্যে কোনো ক্রোধ বা সম্পর্কচ্ছেদ ছিল না। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আপনার ব্যাপারে তিনবার বলতে শুনেছি যে: «এখন তোমাদের সামনে জান্নাতি এক ব্যক্তির আগমন ঘটবে» এবং আপনিই সেই তিনবার উপস্থিত হয়েছিলেন। তাই আমি আপনার নিকট আশ্রয় নিতে চেয়েছিলাম যাতে আপনার আমল দেখতে পারি এবং আপনাকে অনুসরণ করতে পারি। কিন্তু আমি আপনাকে বিশাল কোনো আমল করতে দেখলাম না। তাহলে কোন বিষয়টি আপনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বলা সেই মর্যাদায় পৌঁছে দিল? তিনি বললেন: আমি যা করি তা আপনি যা দেখেছেন তার বেশি কিছু নয়। অতঃপর যখন আমি ফিরে যাচ্ছিলাম, তিনি আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: আমি যা করি তা কেবল তাই যা আপনি দেখেছেন, তবে আমি নিজের অন্তরে কোনো মুসলমানের প্রতি কোনো প্রকার বিদ্বেষ পোষণ করি না এবং আল্লাহ কাউকে যা দান করেছেন তার জন্য আমি তার প্রতি হিংসা করি না। তখন আবদুল্লাহ ইবনে আমর তাকে বললেন: এটিই আপনাকে সেই পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে এবং এটিই আমরা করতে সক্ষম হই না।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٤)
2 - أَخْبَرَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، أَنَّهُمْ ذَكَرُوا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلًا ، فَقَالُوا: لَا يَأْكُلُ حَتَّى يَطْعَمَ ، وَلَا يَرْحَلَ حَتَّى يُرْحَلَ لَهُ. فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «اغْتَبْتُمُوهُ» ، فَقَالُوا: إِنَّمَا حَدَّثَنَا مَا فِيهِ ، قَالَ: «فَحَسْبُكَ إِذَا ذَكَرْتَ أَخَاكَ بِمَا فِيهِ»
২ - আমার দাদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-মুসান্না বিন আস-সাব্বাহ থেকে, তিনি আমর বিন শুআইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন: সে ততক্ষণ আহার করে না যতক্ষণ তাকে আহার করানো হয়, এবং সে ততক্ষণ যাত্রা করে না যতক্ষণ তার জন্য বাহন প্রস্তুত করে দেওয়া হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তোমরা তার গীবত করেছ», তাঁরা বললেন: আমরা কেবল তা-ই বলেছি যা তার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে, তিনি বললেন: «তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যখন তুমি তোমার ভাইয়ের এমন বিষয়ের উল্লেখ করলে যা তার মধ্যে রয়েছে।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي سِنَانٍ الشَّامِيِّ ، ⦗ص: 5⦘ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سَوْدَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «إِذَا عَادَ الْمُسْلِمُ أَخَاهُ أَوْ زَارَهُ ، قَالَ اللَّهُ لَهُ: طِبْتَ وَطَابَ مَمْشَاكَ وَبَوَّأَكَ مَنْزِلًا فِي الْجَنَّةِ»
৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাব্বান, তিনি বলেন: আমাদের জানিয়েছেন আবদুল্লাহ, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আবু সিনান আশ-শামী থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৫⦘ তিনি উসমান ইবনে আবি সাওদা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «যখন কোনো মুসলিম তার ভাইয়ের অসুস্থতায় তাকে দেখতে যায় অথবা তার সাথে সাক্ষাৎ করতে যায়, তখন আল্লাহ তাকে বলেন: "তুমি ধন্য হয়েছো, তোমার পথচলাও কল্যাণময় হয়েছে এবং তুমি জান্নাতে নিজের জন্য একটি আবাসস্থল প্রস্তুত করে নিয়েছো।"»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٥)
4 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ ، عَنْ ثَابِتٍ ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، إِنَّ رَجُلًا زَارَ أَخَاهُ فِي قَرْيَةٍ أُخْرَى ، فَأَرْصَدَ اللَّهُ لَهُ عَلَى مَدْرَجَتِهِ مَلَكًا ، فَلَمَّا أَتَى عَلَيْهِ ، قَالَ: أَيْنَ تُرِيدُ؟ قَالَ: أُرِيدُ أَنْ أَزُورَ أَخًا لِي فِي هَذِهِ الْقَرْيَةِ ، قَالَ: هَلْ لَكَ عَلَيْهِ مِنْ نِعْمَةٍ تَرُبُّهَا؟ قَالَ: لَا ، إِلَّا أَنِّي أَحْبَبْتُهُ فِي اللَّهِ. قَالَ: فَإِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكَ ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَبَّكَ كَمَا أَحْبَبْتَهُ
৪ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ হতে, তিনি সাবিত হতে, তিনি আবু রাফে হতে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি অন্য এক গ্রামে তার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা তার গমনপথে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করলেন। যখন তিনি ফেরেশতার নিকট পৌঁছলেন, ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করলেন: "আপনি কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করছেন?" তিনি বললেন: "আমি এই গ্রামে আমার এক ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই।" ফেরেশতা বললেন: "তার নিকট কি আপনার কোনো অনুগ্রহ আছে যা আপনি তদারকি করছেন?" তিনি বললেন: "না, কেবল একারণেই যে আমি তাঁকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসি। ফেরেশতা বললেন: নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট আল্লাহর প্রেরিত দূত; (এই মর্মে যে) আল্লাহ আপনাকে ভালোবেসেছেন ঠিক যেমন আপনি তাঁকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবেসেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٥)
5 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، قَالَ: «يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ: أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِي ، الْيَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي»
৫ - আমার দাদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন: আমার মহত্ত্বের কারণে একে অপরকে ভালোবাসাকারীরা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার ছায়ায় ছায়া দান করব, যে দিন আমার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া নেই।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٥)
6 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، ⦗ص: 6⦘ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سَالِمٍ الْجَيْشَانِيَّ ، أَتَى أَبَا أُمَيَّةَ فِي مَنْزِلِهِ ، فَقَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ أَبَا ذَرٍّ يَقُولُ: إِنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «إِذَا أَحَبَّ أَحَدُكُمْ صَاحِبَهُ فَلْيَأْتِهِ فِي مَنْزِلِهِ فَيُخْبِرْهُ أَنَّهُ يُحِبُّهُ لِلَّهِ، فَقَدْ جِئْتُكَ فِي مَنْزِلِكَ»
৬ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাব্বান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৬⦘ তিনি তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সালিম আল-জাইশানি আবু উমাইয়্যার নিকট তাঁর গৃহে আসলেন এবং বললেন: আমি আবু যার (রা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “তোমাদের কেউ যখন তার সঙ্গীকে ভালোবাসবে, তখন সে যেন তার বাড়িতে গিয়ে তাকে সংবাদ দেয় যে, সে তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে। সুতরাং আমি আপনার বাড়িতে এসেছি।”
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٦)
7 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ بَهْرَامَ ، نَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ غَنْمٍ ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ الْأَشْعَرِيِّ ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ أَقْبلَ إِلَى النَّاسِ بِوجْهِهِ ? فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ ، اسْمَعُوا وَاعْقِلُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ لِلَّهِ عِبَادًا لَيْسُوا بِأَنْبِيَاءَ ، وَلَا شُهَدَاءَ ، يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ عَلَى مَجَالِسِهِمْ وَقُرْبِهِمْ مِنَ اللَّهِ» ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْأَعْرَابِ مِنْ قَاصِيَةِ النَّاسِ ، وَأَلْوَى بِيَدِهِ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ ، مِنَ النَّاسِ لَيْسُوا بِأَنْبِيَاءَ وَلَا شُهَدَاءَ يَغْبِطُهُمُ النَّبِيُّونَ وَالشُّهَدَاءُ عَلَى مَجَالِسِهِمْ ، وَقُرْبِهِمْ مِنَ اللَّهِ؟ انْعَتْهُمْ لَنَا، صِفْهُمْ لَنَا، فَسُرَّ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِسُؤَالِ الْأَعْرَابِيِّ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «هُمْ نَاسٌ مِنْ أَفْنَاءِ النَّاسِ ، وَنَوَازِعِ الْقَبَائِلِ ، لَمْ تَصِلْ بَيْنَهُمْ أَرْحَامٌ مُتَقَارِبَةٌ ، تَحَابُّوا فِي اللَّهِ وَتَصَافَوْا فِيهِ ، يَضَعُ اللَّهُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنَابِرَ مِنْ نُورٍ فَيُجْلِسُهُمْ عَلَيْهَا ، فَيَجْعَلُ وُجُوهَهُمْ وَثِيَابَهُمْ نُورًا ، يَفْزَعُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، وَلَا يَفْزَعُونَ ، وَهُمْ أَوْلِيَاءُ اللَّهِ الَّذِينَ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ ، وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ»
৭ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবদুল হামিদ ইবনে বাহরাম থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি বলেন যে আবদুর রহমান ইবনে গানম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু মালেক আল-আশআরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাঁর সালাত সম্পন্ন করলেন, তখন মানুষের দিকে নিজ চেহারা ঘুরিয়ে বসলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «হে লোকসকল! শোনো, বোঝো এবং জেনে রাখো যে, আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা নবীও নন, আবার শহীদও নন; কিন্তু তাদের মজলিসসমূহ এবং আল্লাহর নৈকট্যের কারণে নবীগণ ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষা করবেন (অর্থাৎ তাদের উচ্চ মর্যাদা দেখে আকাঙ্ক্ষা করবেন)।» তখন দূরবর্তী মানুষের মধ্য থেকে একজন গ্রাম্য ব্যক্তি (বেদুইন) এগিয়ে আসলেন এবং আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন: হে আল্লাহর নবী! মানুষের মধ্য থেকে এমন কিছু লোক যারা নবীও নন এবং শহীদও নন, অথচ তাদের মজলিস এবং আল্লাহর নৈকট্যের কারণে নবী ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষা করবেন? আপনি আমাদের নিকট তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন, আমাদের নিকট তাদের পরিচয় দিন। এতে গ্রাম্য লোকটির প্রশ্নে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা মুবারক খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «তারা হলো বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন গোত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসা লোক, যাদের মধ্যে কোনো নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক নেই; তারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছেন এবং তাঁরই খাতিরে পরস্পরের সাথে একনিষ্ঠ ও স্বচ্ছ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের জন্য নূরের মিম্বরসমূহ স্থাপন করবেন এবং তাদের সেখানে বসাবেন। তিনি তাদের চেহারা এবং পোশাকসমূহকে নূরে পরিণত করবেন। কিয়ামতের দিন যখন মানুষ চরম আতঙ্কিত থাকবে, তখন তারা আতঙ্কিত হবে না। তারাই আল্লাহর সেই ওলী বা বন্ধু, যাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٦)
8 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ ، نَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ ، نَا ⦗ص: 7⦘ عَائِذُ اللَّهِ ، قَالَ عَبْدُ الْحَمِيدِ وَهُوَ أَبُو إِدْرِيسَ ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ حَدَّثَهُ ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «إِنَّ الَّذِينَ يَتَحَابُّونَ مِنْ جَلَالِ اللَّهِ فِي ظِلِّ عَرْشِ اللَّهِ ، يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ»
৮ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল হামীদ থেকে বর্ণিত, শাহর ইবনে হাওশাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘ আইযুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আবদুল হামীদ—যিনি হলেন আবু ইদরীস—বলেন, মুআয ইবনে জাবাল তাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর মহত্ত্বের কারণে একে অপরকে ভালোবাসে, তারা আল্লাহর আরশের ছায়াতলে থাকবে, যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٧)
9 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، أَنا عَبْدُ الْحَمِيدِ ، نَا شَهْرُ بْنُ حَوْشَبٍ ، حَدَّثَنِي أَبُو ظَبْيَةَ ، أَنَّ شُرَحْبِيلَ بْنَ السِّمْطِ ، دَعَا عَمْرَو بْنَ عَبَسَةَ السُّلَمِيَّ ? قَالَ: يَا ابْنَ عَبَسَةَ ، هَلْ أَنْتَ مُحَدِّثِي حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعْتَهُ أَنْتَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، لَيْسَ فِيهِ تَزَيُّدٌ وَلَا كَذِبٌ ، وَلَا تُحَدِّثْنِيهِ عَنْ آخَرَ سَمِعَهُ مِنْهُ غَيْرُكَ؟ قَالَ: نَعَمْ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ: قَدْ حَقَّقْتُ مَحَبَّتِي لِلَّذِينَ يَتَحَابُّونَ مِنْ أَجْلِي ، وَقَدْ حَقَّقْتُ مَحَبَّتِي لِلَّذِينَ يَتَصَافُّونَ مِنْ أَجْلِي ، وَقَدْ حَقَّقْتُ مَحَبَّتِي لِلَّذِينَ يَتَزَاوَرُونَ مِنْ أَجْلِي ، وَقَدْ حَقَّقْتُ مَحَبَّتِي لِلَّذِينَ يَتَبَاذَلُونَ مِنْ أَجْلِي ، وَقَدْ حَقَّقْتُ مَحَبَّتِي لِلَّذِينَ يَتَنَاصَرُونَ مِنْ أَجْلِي»
৯ - আমাদের নিকট আমাদের দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল হামিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শাহর ইবনে হাওশাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাবিয়াহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, শুরাহবিল ইবনুল সিমত আমর ইবনে আবাসা আস-সুলামীকে ডাকলেন এবং বললেন: হে ইবনে আবাসা! আপনি কি আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করবেন যা আপনি নিজে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, যাতে কোনো অতিরঞ্জন বা মিথ্যা নেই এবং আপনি আমার কাছে এটি এমন অন্য কারো সূত্রে বর্ণনা করবেন না যিনি এটি তাঁর থেকে শুনেছেন আপনি ছাড়া? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন: আমি আমার ভালোবাসা তাদের জন্য সুনিশ্চিত করেছি যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসে, এবং আমি আমার ভালোবাসা তাদের জন্য সুনিশ্চিত করেছি যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরের প্রতি আন্তরিক হয়, এবং আমি আমার ভালোবাসা তাদের জন্য সুনিশ্চিত করেছি যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে, এবং আমি আমার ভালোবাসা তাদের জন্য সুনিশ্চিত করেছি যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরের তরে ব্যয় করে, এবং আমি আমার ভালোবাসা তাদের জন্য সুনিশ্চিত করেছি যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে সাহায্য করে।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٧)
10 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ شُعْبَةَ ، حَدَّثَنِي أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ يُقَالُ لَهُ طَلْحَةُ ، قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ ⦗ص: 8⦘ لِي جَارَيْنِ فَإِلَى أَيِّهِمَا أُهْدِي؟ قَالَ: «إِلَى أَقْرَبِهِمَا مِنْكِ بَابًا»
১০ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শু'বা হতে বর্ণিত, আবু ইমরান আল-জাওনী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কুরাইশ বংশের তালহা নামক এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয় ⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘ আমার দুইজন প্রতিবেশী আছে, তবে তাদের মধ্যে কাকে আমি উপহার প্রদান করব? তিনি বললেন: «তাদের মধ্যে যার দরজা তোমার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী (তাকে দাও)।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٨)
11 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ شُعْبَةَ ، حَدَّثَنِي أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ ، أَنَّ أَبَا ذَرٍّ ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، الرَّجُلُ يَعْمَلُ لِلَّهِ وَيُحِبُّهُ النَّاسُ؟ قَالَ: «تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ»
১১ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাব্বান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ থেকে, তিনি বলেন: আবু ইমরান আল-জাওনী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আস-সামিত থেকে, আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: হে আল্লাহর রাসূল! কোনো ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাজ করে এবং মানুষ তাকে ভালোবাসে (এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?)। তিনি বললেন: "এটি মুমিনের জন্য দুনিয়াতে দ্রুত প্রাপ্ত সুসংবাদ।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٨)
12 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ شُعْبَةَ ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ: كَانَ يُعْجِبُنَا أَنْ يَجِيءَ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ يَسْأَلُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَأَتَاهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، مَتَى قِيَامُ السَّاعَةِ؟ فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ ، فَنَهَضَ فَصَلَّى ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ ، قَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ عَنِ السَّاعَةِ؟» قَالَ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ: «وَمَا أَعْدَدْتَ لَهَا؟» قَالَ: مَا أَعْدَدْتُ لَهَا مِنْ كَبِيرِ صَلَاةٍ وَلَا صِيَامٍ ، إِلَّا أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ. فَقَالَ: «الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ» ، قَالَ: فَمَا رَأَيْتُ الْمُسْلِمِينَ فَرِحُوا بِشَيْءٍ بَعْدَ الْإِسْلَامِ فَرَحَهُمْ بِهِ
১২ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শু'বাহ থেকে, তিনি হুমাইদ আত-তাবীল থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট এটি অত্যন্ত পছন্দনীয় ছিল যে, মরুঅঞ্চল থেকে কোনো লোক এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করবে। একদা এক বেদুঈন তাঁর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? অতঃপর সালাতের ইকামত দেওয়া হলো, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি তাঁর সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: «কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়?» সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি। তিনি বললেন: «তুমি এর জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছ?» সে বলল: আমি এর জন্য অনেক সালাত কিংবা সিয়ামের প্রস্তুতি নিতে পারিনি, তবে আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তিনি বললেন: «মানুষ তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে»। তিনি (আনাস) বলেন: ইসলাম গ্রহণের পর মুসলিমদের আমি আর কোনো বিষয়ে এতটা আনন্দিত হতে দেখিনি, যতটা তারা আনন্দিত হয়েছিল এতে।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٨)
13 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «مَا تَوَادَّ اثْنَانِ فِي الْإِسْلَامِ ، فَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا إِلَّا بِذَنْبٍ يُحْدِثُهُ أَحَدُهُمَا»
১৩ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাব্বান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন: «ইসলামের ভিত্তিতে যখনই দুইজন ব্যক্তি পরস্পরকে ভালোবাসে, অতঃপর তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে, তবে তা তাদের কোনো একজনের কৃত কোনো পাপের কারণেই ঘটে থাকে।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٩)
14 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو الْفُقَيْمِيِّ ، عَنِ الشَّعْبِيِّ ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ ، يَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ تَرَاحَمُوا ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِأُذُنَيَّ يَقُولُ: «الْمُسْلِمُونَ كَالرَّجُلِ الْوَاحِدِ إِذَا اشْتَكَى عُضْوٌ مِنْ أَعْضَائِهِ تَدَاعَى لَهُ سَائِرُ جَسَدِهِ»
১৪ - আমাদের নিকট আমাদের দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আমর আল-ফুকাইমি থেকে, তিনি আশ-শা'বী থেকে, তিনি বলেন: আমি নুমান ইবনে বাশীরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: হে লোকসকল, তোমরা একে অপরের প্রতি দয়া করো, কারণ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্বকর্ণে বলতে শুনেছি: «মুসলিমগণ একজন ব্যক্তির ন্যায়; যখন তার শরীরের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন তার শরীরের অবশিষ্টাংশ তার জন্য সাড়া দেয়»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٩)
15 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ عُيَيْنَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْغَطَفَانِيِّ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِّلَ اللَّهُ لِصَاحِبِهِ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا ، مَعَ مَا يُدَّخَرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْبَغْيِ ، وَقَطِيعَةِ الرَّحِمِ»
১৫ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাব্বান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন উয়াইনা ইবনে আব্দুর রহমান আল-গাতফানী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু বাকরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «বিদ্রোহের চেয়ে এমন কোনো গুনাহ নেই যার শাস্তি আল্লাহ দুনিয়াতে দ্রুত প্রদান করা অধিক সমীচীন মনে করেন, আখেরাতে তার জন্য যা জমা রাখা হয় তা ছাড়াও এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ٩)
16 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ ⦗ص: 10⦘ أَبِي ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «دَخَلَ عَبْدٌ الْجَنَّةَ بِغُصْنٍ مِنْ شَوْكٍ كَانَ عَلَى ظَهْرِ الْمُسْلِمِينَ ، فَأَمَاطَهُ عَنْهُ»
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাব্বান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘ আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «এক বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করেছে একটি কাঁটাযুক্ত ডালের কারণে যা মুসলিমদের যাতায়াতের পথে ছিল, অতঃপর সে তা সরিয়ে দিয়েছিল»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٠)
17 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «وَيْلٌ لِمَنْ يُحَدِّثُ فَيَكْذِبُ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ ، وَيْلٌ لَهُ ، وَيْلٌ لَهُ ، وَيْلٌ لَهُ»
১৭ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বাহয ইবনে হাকিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «দুর্ভোগ তার জন্য যে কথা বলে এবং মানুষকে হাসানোর জন্য মিথ্যা বলে; তার জন্য দুর্ভোগ, তার জন্য দুর্ভোগ, তার জন্য দুর্ভোগ»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٠)
18 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْعَبْدَ لَيَقُولُ الْكَلِمَةَ لَا يَقُولُهَا إِلَّا لِيُضْحِكَ النَّاسَ ، يَهْوِي بِهَا أَبْعَدَ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ، وَإِنَّهُ لَيَزِلُّ عَنْ لِسَانِهِ أَشَدَّ مِمَّا يَزِلُّ عَنْ قَدَمَيْهِ»
১৮ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাব্বান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবদুল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই বান্দা এমন কথা বলে, যা সে কেবল মানুষকে হাসানোর জন্যই বলে থাকে, যার কারণে সে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও অধিক নিচে নিক্ষিপ্ত হয়। আর নিশ্চয়ই সে তার দুই পায়ের পদস্খলনের চেয়েও কঠিনভাবে তার জিহ্বার মাধ্যমে পদস্খলিত হয়।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٠)
19 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ ⦗ص: 11⦘ أَبِي ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «كَفَى بِالْمَرْءِ جُرْمًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ»
১৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, আমাদের বর্ণনা করেছেন হাব্বান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, ইয়াহইয়া বিন উবাইদুল্লাহর সূত্রে, তিনি বলেন: আমি শুনেছি ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘ আমার পিতাকে বলতে: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «একজন ব্যক্তির অপরাধী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই বর্ণনা করে»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١١)
20 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، أَنا عُبَيْدُ اللَّهِ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا اجْتَمَعَ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ ، فَيُقَالُ: هَذِهِ غَدْرَةُ فُلَانِ بْنِ فُلَانٍ»
২০ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন নাফে‘ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যখন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ একত্রিত হবে, তখন বলা হবে: এটি হলো অমুকের পুত্র অমুকের বিশ্বাসভঙ্গ»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١١)
21 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْأَقْمَرِ ، عَنْ أَبِي حُذَيْفَةَ، رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: حَكَيْتُ امْرَأَةً أَوْ رَجُلًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أُحِبُّ أَنِّي حَكَيْتُ أَحَدًا ، وَإِنَّ لِي كَذَا وَكَذَا أُعْظِمُ ذَلِكَ»
২১ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আলী ইবনুল আকমার থেকে, তিনি আব্দুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) সাথীদের একজন আবু হুযাইফা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কোনো এক নারী অথবা পুরুষের (ব্যঙ্গাত্মক) অনুকরণ করছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আমি কারো অনুকরণ করা পছন্দ করি না, যদিও এর বিনিময়ে আমাকে অনেক বেশি কিছু দেওয়া হয়»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٢)
22 - حَدَّثَنَا جَدِّي، ثَنَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ ، أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ زَحْرٍ حَدَّثَهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ ، عَنِ الْقَاسِمِ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ دَعَا بِقَمِيصٍ لَهُ جَدِيدٍ فَلَبِسَهُ ، فَلَا أَحْسَبُهُ بَلَغَ تَرَاقِيَهُ ، حَتَّى قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي كَسَانِي مَا أُوَارِي بِهِ عَوْرَتِي ، وَأَتَجَمَّلُ بِهِ فِي حَيَاتِي ، ثُمَّ قَالَ: أَتَدْرُونَ لِمَ قُلْتُ هَذَا؟ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دَعَا بِثِيَابٍ لَهُ جُدُدٍ فَلَبِسَهَا فَلَا أَحْسَبُهَا بَلَغَتْ تَرَاقِيَةُ حَتَّى قَالَ مِثْلَ مَا قُلْتُ ، ثُمَّ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَلْبَسُ ثَوْبًا جَدِيدًا ، ثُمَّ يَقُولُ مِثْلَ مَا قُلْتُ ، ثُمَّ يَعْمِدُ إِلَى سَمَلٍ مِنْ أَخْلَاقِهِ الَّتِي وَضَعَ ، فَيَكْسُوهُ إِنْسَانًا مِسْكِينًا فَقِيرًا مُسْلِمًا لَا يَكْسُوهُ إِلَّا لِلَّهِ ، إِلَّا كَانَ فِي حِرْزِ اللَّهِ ، وَفِي ضَمَانِ اللَّهِ ، وَفِي جِوَارِ اللَّهِ ، مَا دَامَ عَلَيْهِ مِنْهَا سِلْكٌ وَاحِدٌ حَيًّا وَمَيِّتًا ، حَيًّا وَمَيِّتًا ، حَيًّا وَمَيِّتًا»
22 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাব্বান, তিনি বলেন আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, ইয়াহইয়া ইবনে আইউব থেকে, ওবায়দুল্লাহ ইবনে যাহর তাকে আলী ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব একটি নতুন জামা আনালেন এবং তা পরিধান করলেন। আমার মনে হয় না তা তাঁর কণ্ঠাস্থি পর্যন্ত পৌঁছেছিল, তার আগেই তিনি বললেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এমন পোশাক পরিধান করিয়েছেন যা দিয়ে আমি আমার সতর ঢাকি এবং আমার জীবনে সৌন্দর্য লাভ করি। এরপর তিনি বললেন: তোমরা কি জানো আমি কেন এটি বললাম? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি তিনি তাঁর কিছু নতুন কাপড় আনালেন এবং তা পরিধান করলেন। আমার মনে হয় না তা তাঁর কণ্ঠাস্থি পর্যন্ত পৌঁছেছিল, তার আগেই তিনি আমি যা বলেছি তার অনুরূপ বললেন। এরপর তিনি বললেন: “সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যে কোনো মুসলিম বান্দা যখন নতুন পোশাক পরিধান করে এবং আমি যা বলেছি তার অনুরূপ বলে, অতঃপর সে তার পুরোনো জীর্ণ পোশাকটি কোনো অভাবী দরিদ্র মুসলিমকে পরিধান করায়—আর সে তা কেবল আল্লাহর জন্যই পরিধান করায়—তবে সে আল্লাহর হেফাজতে, আল্লাহর জামানতে এবং আল্লাহর আশ্রয়ে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই পোশাকের একটি সুতাও তার গায়ে থাকে, জীবিত ও মৃত অবস্থায়, জীবিত ও মৃত অবস্থায়, জীবিত ও মৃত অবস্থায়।”
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٢)
23 - حَدَّثَنَا جَدِّي، ثَنَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ ، نَا الْحَارِثُ بْنُ يَزِيدَ ، ⦗ص: 13⦘ عَنْ جُنْدَبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، أَنَّهُ سَمِعَ سُفْيَانَ بْنَ عَوْفٍ الْقَارِيَّ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ ، وَنَحْنُ عِنْدَهُ: «طُوبَى لِلْغُرَبَاءِ ، طُوبَى لِلْغُرَبَاءِ» . فَقِيلَ: وَمَنِ الْغُرَبَاءُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَاسٌ صَالِحُونَ قَلِيلٌ فِي نَاسِ سَوْءٍ كَثِيرٍ ، مَنْ يَعْصِيهِمْ أَكْثَرُ مِمَّنْ يُطِيعُهُمْ» ، وَكُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا آخَرَ حِينَ طَلَعَتِ الشَّمْسُ ، فَقَالَ: «سَيَأْتِي نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ نُورُهُمْ كَضَوْءِ الشَّمْسِ» . قُلْنَا: وَمَنْ أُولَئِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ يُتَّقَى بِهِمُ الْمَكَارِهُ ، يَمُوتُ أَحَدُهُمْ وَحَاجَتُهُ فِي صَدْرِهِ يُحْشَرُونَ مِنْ أَقْطَارِ الْأَرْضِ»
২৩ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার দাদা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাব্বান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি হারিস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ তিনি জুনদাব ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে আউফ আল-কারীকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, এমতাবস্থায় যে আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম: "অচেনা অল্পসংখ্যক নেককার লোকেদের জন্য সুসংবাদ, অচেনা অল্পসংখ্যক নেককার লোকেদের জন্য সুসংবাদ।" জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! এই অচেনা অল্পসংখ্যক নেককার লোক কারা? তিনি বললেন: "তারা হলো একদল নেককার মানুষ, যারা অনেক মন্দ মানুষের মধ্যে সংখ্যায় অল্প; যারা তাদের অবাধ্য হয় তাদের সংখ্যা যারা তাদের আনুগত্য করে তাদের চেয়ে বেশি।" এবং আমরা অন্য একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম যখন সূর্য উদিত হচ্ছিল, তখন তিনি বললেন: "কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের মধ্য থেকে এমন কিছু লোক আসবে যাদের নূর হবে সূর্যের আলোর মতো।" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "তারা হলো দরিদ্র মুহাজিরগণ, যাদের মাধ্যমে বিপদ-আপদ প্রতিহত করা হতো; তাদের কেউ মৃত্যুবরণ করে অথচ তার প্রয়োজন তার বুকের মধ্যেই থেকে যায়; তাদের পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত করা হবে।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٣)
24 - حَدَّثَنَا جَدِّي، ثَنَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ ، عَنْ مُعَاذَةَ ⦗ص: 14⦘ الْعَدَوِيَّةِ ، قَالَتْ: سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ عَامِرٍ ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، يَقُولُ: «لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ مُسْلِمًا فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ ، فَإِنَّهُمَا نَاكِبَانِ عَنِ الْحَقِّ مَا دَامَا عَلَى صِرَامِهِمَا ، وَأَوَّلُهُمَا فَيْئًا يَكُونُ سَبْقُهُ بِالْفَيْءِ كَفَّارَةً لَهُ ، وَإِنْ سَلَّمَ فَلَمْ يُقْبِلْ ، وَرَدَّ عَلَيْهِ سَلَامَهُ رَدَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ ، وَرَدَّ عَلَى الْآخَرِ الشَّيْطَانُ ، وَإِنْ مَاتَا عَلَى صِرَامِهِمَا لَمْ يَدْخُلَا الْجَنَّةَ جَمِيعًا» ، أَرَاهُ قَالَ: أَبَدًا
২৪ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাব্বান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শুবা থেকে, তিনি ইয়াজিদ আর-রিশক থেকে, তিনি মুয়াজাহ ⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘ আল-আদাওয়িয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হিশাম ইবনে আমেরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «কোনো মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইকে তিন রাতের অধিক বর্জন করে রাখা বৈধ নয়। কেননা যতক্ষণ তারা তাদের বিচ্ছেদে অটল থাকে, তারা সত্য পথ হতে বিচ্যুত থাকে। আর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি প্রথমে ফিরে আসবে (সমঝোতা করবে), তার এই অগ্রগামী হওয়াটা তার জন্য কাফফারা হবে। আর যদি সে সালাম দেয় কিন্তু অপরজন তা গ্রহণ না করে, তবে ফেরেশতারা তার সালামের উত্তর দেন এবং শয়তান অপরজনের উত্তর দেয়। আর যদি তারা বিচ্ছেদের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে তারা একত্রে জান্নাতে প্রবেশ করবে না»। বর্ণনাকারী বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছেন: «কখনোই নয়»।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٤)
25 - حَدَّثَني جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُبَيْدَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدَةَ ، عَنْ سَهْلٍ السَّاعِدِيِّ ، قَالَ: بَيْنَا نَحنُ نَقْتَرِئُ إِذْ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ كِتَابٌ وَاحِدٌ وَفِيكُمُ الْأَخْيَارُ ، وَفِيكُمُ الْأَحْمَرُ وَالْأَسْوَدُ ، اقْرَءُوا قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَ أَقْوَامٌ يَقْرَءُونَ ، يُقِيمُونَ حُرُوفَهُ كَمَا يُقَامُ السَّهْمُ ، لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ ، يَتَعَجَّلُونَ أَجْرَهُ وَلَا يَتَأَجَّلُونَهُ»
২৫ - আমার দাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মূসা বিন উবায়দাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন উবায়দাহ থেকে, তিনি সাহল আস-সা’ঈদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা যখন কুরআন পাঠ করছিলাম এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, কিতাব একটাই, আর তোমাদের মাঝে নেককাররা রয়েছে এবং তোমাদের মাঝে লাল ও কালো বর্ণের মানুষ রয়েছে। তোমরা কুরআন পাঠ করো এমন এক সম্প্রদায় আসার আগে যারা কুরআন পাঠ করবে, তারা এর অক্ষরসমূহকে তীরের ন্যায় সোজা রাখবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা এর প্রতিদান দুনিয়াতে দ্রুত পেতে চাইবে এবং আখিরাতের জন্য বিলম্বিত করবে না।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٤)
26 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ: ⦗ص: 15⦘ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ ، يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ النَّاسِ ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ ، حَتَّى إِذَا لَمْ يَتْرُكْ عَالِمًا ، اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالًا ، فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا»
২৬ - আমাদের নিকট আমার দাদা হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাব্বান হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের মধ্য থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন না, বরং তিনি আলেমদের উঠিয়ে নেওয়ার (মৃত্যু ঘটানোর) মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন; এমনকি যখন তিনি আর কোনো আলেম বাকি রাখবেন না, তখন মানুষ মূর্খদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদেরকে প্রশ্ন করা হবে এবং তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।»
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٥)
27 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «رَأَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي رِجَالًا تُقْرَضُ شِفَاهُهُمْ بِمَقَارِيضَ مِنْ نَارٍ ، فَقُلْتُ: مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ؟ فَقَالَ: خُطَبَاءُ أُمَّتِكَ الَّذِينَ يَأْمُرونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ ، وَيَنْسَوْنَ أَنْفُسَهُمْ ، وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا يَعْقِلُونَ»
২৭ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি আলী ইবনে যাইদ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "যে রাতে আমাকে নৈশভ্রমণ করানো হয়েছিল, আমি এমন কিছু ব্যক্তিকে দেখলাম যাদের ঠোঁট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম: হে জিবরাঈল, এরা কারা? তিনি বললেন: আপনার উম্মতের সেই সব বক্তা যারা মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং নিজেদের কথা ভুলে যায়, অথচ তারা কিতাব পাঠ করে। তারা কি তবে বোঝে না?"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদু ইবনিল মুবারক
(পৃষ্ঠা: ١٥)
28 - حَدَّثَنَا جَدِّي، نَا حَبَّانُ، أَنا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَعْمَرٍ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ ، عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلَّامٍ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ ، يَقُولُ: سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم: مَا الْإِثْمُ؟ قَالَ: «مَا حَاكَ فِي صَدْرِكَ فَدَعْهُ» . قَالَ: فَمَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «إِذَا سَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ ، وَسَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ»
২৮ - আমাদের নিকট আমার দাদা বর্ণনা করেছেন, হাব্বান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন মা’মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসীর থেকে, তিনি যায়িদ ইবনে সাল্লাম থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু উমামাহ-কে বলতে শুনেছি, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: পাপ কী? তিনি বললেন: «যা তোমার অন্তরে খটকা সৃষ্টি করে তা বর্জন করো»। তিনি বললেন: তাহলে ঈমান কী? তিনি বললেন: «যখন তোমার মন্দ কাজ তোমাকে ব্যথিত করে এবং তোমাকে আনন্দিত করে তোমার নেক কাজ, তবেই তুমি মুমিন»