(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: -)
إتحاف الأنام بأحكام ومسائل الصيام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: إتحاف الأنام بأحكام ومسائل الصيام (ومعه مسائل صدقة الفطر وأحكام العيدين)
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن علي بن حزام الفضلي البعداني
الناشر: مكتبة العلوم السلفية - إب
الطبعة: الخامسة، 1442 هـ - 2021 م
عدد الصفحات: 327
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1442
ইতহাফুল আনাম বি আহকাম ওয়া মাসাইলুস সিয়াম বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইতহাফুল আনাম বি আহকাম ওয়া মাসাইলুস সিয়াম (এবং সাথে রয়েছে সাদাকাতুল ফিতর ও দুই ঈদের বিধানসমূহ)
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন হিজাম আল-ফাদলি আল-বাদানি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলুম আস-সালাফিয়্যাহ - ইব্ব
সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪৪২ হি. - ২০২১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৭
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১)
إِتْحَافُ الأَنَامِ
بِأَحكَامِ وَمَسَائِلِ الصِّيامِ
(ومعه مسائل صدقة الفطر وأحكام العيدين)
تأليف
فضيلة الشيخ الفقيه
أبي عبد الله محمد بن علي بن حزام الفضلي البعداني
(غفر الله له ورحمه)
طبعة جديدة منقحة ومزيدة
دار الحديث السلفية بإب
ইতহাফুল আনাম
সিয়ামের বিধান ও মাসআলাসমূহ সম্পর্কে
(এবং সাথে রয়েছে সদকাতুল ফিতরের মাসআলা ও দুই ঈদের বিধানসমূহ)
সংকলনে
বিজ্ঞ শায়খ ও ফকীহ
আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হিজাম আল-ফাদলী আল-বাদানী
(আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন এবং তার প্রতি দয়া করুন)
নতুন পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ
দারুল হাদিস আস-সালাফিয়্যাহ, ইব্ব
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
المُقَدِّمَةُالحمد لله الذي كتب على عباده الصيام، وشرع لهم الاعتكاف والقيام، وجعل ذلك سببًا لتحقيق التقوى من الأنام.
الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، نحمده عدد خلقه ورضا نفسه، وزنة عرشه، ومداد كلماته. الحمد لله ملء السماوات، وملء الأرض، وملء ما بينهما، وملء ما شاء من شاء ربنا من شيء بعد.
وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه، وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. أما بعد:
فمن فضل الله المنان الكريم علينا أن أكرمنا ومنَّ علينا بتأليف هذا الكتاب الذي بين أيدينا "إتحاف الأنام بأحكام ومسائل الصيام".
فقد وفقنا ربنا جل وعلا لجمع هذه المسائل والأحكام التي تتعلق بركن من أركان الإسلام وهو صوم رمضان، فانتفعنا بذلك، ونرجو أن ينتفع بذلك سائر المسلمين.
وقد اجتهدت في ترتيب الأحكام والمسائل ترتيبًا متناسبًا،
(1) ولم أتقيد بترتيب
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর সিয়াম (রোজা) ফরজ করেছেন, তাঁদের জন্য ইতিকাফ ও কিয়ামের (রাতের ইবাদত) বিধান প্রবর্তন করেছেন এবং একে সৃষ্টিজগতের তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম বানিয়েছেন।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। আমরা তাঁর প্রশংসা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা সমপরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টির সমপরিমাণ, তাঁর আরশের ওজন সমপরিমাণ এবং তাঁর বাণীসমূহ লিপিবদ্ধ করার কালির সমপরিমাণ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা আকাশমন্ডলী পূর্ণ করে, পৃথিবী পূর্ণ করে, এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে এবং এরপর আমাদের প্রতিপালক যা ইচ্ছা করেন তা পূর্ণ করে।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:
মহা দাতা ও দয়াময় আল্লাহর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তিনি আমাদের ওপর দয়া করেছেন এবং আমাদের সামনে বিদ্যমান এই গ্রন্থটি—"ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম"—রচনার তৌফিক দান করেছেন।
আমাদের মহান প্রতিপালক আমাদের এই মাসআলা ও বিধানগুলো সংকলন করার তৌফিক দান করেছেন, যা ইসলামের অন্যতম রুকন তথা রমজানের রোজার সাথে সংশ্লিষ্ট। এর মাধ্যমে আমরা উপকৃত হয়েছি এবং আমরা আশা করি যে অন্য সকল মুসলিমও এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন।
আমি এই বিধান ও মাসআলাগুলোকে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ বিন্যাসে সাজানোর চেষ্টা করেছি,
(১) আর আমি কোনো বিশেষ বিন্যাসে সীমাবদ্ধ থাকিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৩)
أحد قبلي، وأرجو أن أكون قد وُفِّقْتُ في ذلك، وبالله التوفيق.
فأحمد الله الحي القيوم، الذي لا إله غيره، ولا رب سواه، وهو الرحمن الرحيم، الكريم المنان الوهاب؛ فهو جل وعلا الذي أنعم علينا بذلك، ولا حول لنا في ذلك ولا قوة إلا به سبحانه وتعالى.
فأسأل الله جل وعلا الذي لا إله إلا هو الأحد الصمد، الذي لم يلد ولم يولد، أن يبارك لي في هذا الكتاب، وأن يخلد نفعه إلى يوم الحساب، وأن يجزل لي به الأجر والثواب، وأن يجعله خالصًا لوجهه الكريم؛ فهو الرحيم التواب.
وأسأل الله عز وجل أن يغفر لي ولوالدي ولمشايخي أجمعين، وأخص منهم من أرى له علي حقًّا عظيمًا، وهما فضيلة الشيخ الإمام مقبل بن هادي الوادعي رحمه الله والشيخ الجليل النبيل سَرُور بن أحمد الوادعي غفر الله له، وأحسن إليه وأكرمه في الدنيا والآخرة.
اللهم آتنا في الدنيا حسنة، وفي الآخرة حسنة، وقنا عذاب النار. والحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه/ أبو عبد الله محمد بن علي بن حزام الفضلي البعداني
يوم السبت الموافق 23/صفر/1442 هـ
دار الحديث السلفية بإب.
...আমার পূর্বে অন্য কেউ [অতিক্রম করেনি], এবং আমি আশা করি যে আমি এতে সফল হয়েছি। আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক বা সফলতা কামনা করছি।
অতএব আমি সেই চিরঞ্জীব ও অনাদি-অনন্ত আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো প্রতিপালক নেই। তিনি পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু, মহান দাতা, অনুগ্রহকারী ও অবারিত দানকারী। তিনি প্রতাপশালী ও মহান, যিনি আমাদের প্রতি এই নেয়ামত দান করেছেন। আমাদের কোনো উপায় বা শক্তি নেই একমাত্র মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্য ব্যতিরেকে।
আমি মহান ও প্রতাপশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি—যিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি এক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি—তিনি যেন এই কিতাবটিতে আমার জন্য বরকত দান করেন, বিচার দিবস পর্যন্ত এর কল্যাণকে স্থায়ী করেন, এর মাধ্যমে আমাকে প্রচুর সওয়াব ও প্রতিদান প্রদান করেন এবং একে একান্তই তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে এবং আমার সকল উস্তাদকে ক্ষমা করে দেন। বিশেষভাবে তাঁদের কথা উল্লেখ করছি যাঁদের মহান হক আমার ওপর রয়েছে; তাঁরা হলেন—শায়খ আল-ইমাম মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ (রহিমাহুল্লাহ) এবং মহান ও মর্যাদাবান শায়খ সারুর বিন আহমদ আল-ওয়াদিঈ, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, তাঁর প্রতি ইহসান করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁকে সম্মানিত করুন।
হে আল্লাহ! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন আর আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। সকল প্রশংসা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর ওপর।
এটি লিখেছেন/ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন হিজাম আল-ফাদলী আল-বাদানী
শনিবার, ২৩শে সফর, ১৪৪২ হিজরী
দারুল হাদিস আস-সালাফিয়্যাহ, ইব্ব।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
مسائل تتعلق بمقدمات عن الصوم ورؤية الهلال
مسألة: تعريف الصوم:لغة: الإمساك، ومنه قوله تعالى: {إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا} [مريم:27].
ومنه قول النابغة:
خَيْلٌ صيام وخيل غير صائمة
… تحت العَجَاج وأخرى تَعْلُكُ اللُّجُما
أي: خيل ممسكة عن الجري، وخيل غير ممسكة.
وشرعًا: قال النووي رحمه الله في "المجموع" (6/ 247): إمساك مخصوص عن شيء مخصوص في زمن مخصوص من شخص مخصوص. اهـ
وتبعه الحافظ على هذا التعريف في "الفتح" (1891)، إلا أنه قال: بشرائط مخصوصة. بدل قوله: من شخص مخصوص.
وقال أبو عبد الله القرطبي رحمه الله: هو الإمساك عن المفطرات مع اقتران النية به من طلوع الفجر إلى غروب الشمس. اهـ من "تفسيره" لسورة البقرة [آية: 183].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
রোজা এবং চাঁদ দেখা সংক্রান্ত ভূমিকা বিষয়ক মাসয়ালাসমূহ
মাসয়ালা: রোজার সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থ: বিরত থাকা। মহান আল্লাহর বাণীও এর অন্তর্ভুক্ত: {আমি পরম করুণাময়ের উদ্দেশ্যে রোজা (মানত) করেছি} [মারইয়াম: ২৭]।
নাবিগার উক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত:
কিছু ঘোড়া বিরত (স্থির) এবং কিছু ঘোড়া বিরত নয়... ধূলিধূসরিত পরিবেশে, আর কিছু ঘোড়া লাগাম চিবুচ্ছে।
অর্থাৎ: এমন ঘোড়া যা দৌড়ানো থেকে বিরত রয়েছে এবং এমন ঘোড়া যা বিরত নেই।
শরয়ি পরিভাষায়: ইমাম নববী (রহ.) 'আল-মাজমু' গ্রন্থে (৬/ ২৪৭) বলেছেন: বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক বিশেষ সময়ে বিশেষ কিছু বস্তু থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে বিরত থাকা। সমাপ্ত।
হাফেজ (الحافظ) এই সংজ্ঞার ক্ষেত্রে 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে (১৮৯১) তাঁর অনুসরণ করেছেন, তবে তিনি 'বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক' কথাটির পরিবর্তে 'বিশেষ শর্তাবলি সাপেক্ষে' বলেছেন।
আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবী (রহ.) বলেছেন: এটি হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা। সূরা বাকারার [আয়াত: ১৮৩] 'তাফসির' থেকে সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مسألة: أَسْمَاءُ أُخْرَى لِلصَّوْمِ:وقد سُمِّي الصيامُ "صبرًا"، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: «صَومُ شَهْرِ الصَّبْرِ وَثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ تَعْدِلُ صَومَ الدَّهْرِ».
(1)كذا ذكر شيخ الإسلام، والذي يظهر أن الصبر تسمية للشهر لا للصوم؛ لوجود الصبر فيه، والله أعلم.
وَسُمِّي أيضًا (سياحة)، ومنه قوله تعالى: {التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ السَّاجِدُونَ} [براءة:112]، الآية من سورة براءة.
وقوله تعالى: {عَسَى رَبُّهُ إِنْ طَلَّقَكُنَّ أَنْ يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِنْكُنَّ مُسْلِمَاتٍ مُؤْمِنَاتٍ قَانِتَاتٍ تَائِبَاتٍ عَابِدَاتٍ سَائِحَاتٍ ثَيِّبَاتٍ وَأَبْكَارًا} [التحريم].
انظر: "التمهيد" (7/ 307)، "كتاب الصيام" من "شرح العمدة" لشيخ الإسلام (1/ 24).
مسألة: أَنْوَاعُ الصَّوْمِ:قال شيخ الإسلام رحمه الله في "كتاب الصيام" من "شرح العمدة" (1/ 26): الصوم خمسة أنواع: الصوم المفروض بالشرع وهو صوم شهر رمضان أداءً وقضاءً، والصوم الواجب في الكفارات، والواجب بالنذر، وصوم التطوع. اهـ
--------------------------------------------
মাসয়ালা: সিয়ামের অন্যান্য নাম:সিয়ামকে "ধৈর্য" (صبر) হিসেবেও নামকরণ করা হয়েছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "ধৈর্যের মাসের সিয়াম এবং প্রতি মাসের তিন দিনের সিয়াম সারাবছরের সিয়ামের সমতুল্য।"
(1)শাইখুল ইসলাম এমনই উল্লেখ করেছেন। তবে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, 'ধৈর্য' হচ্ছে মাসটির নাম, সিয়ামের নয়; কারণ এতে ধৈর্য রয়েছে। আল্লাহ্ই ভালো জানেন।
একে "ভ্রমণ" (سياحة) হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, রোজা পালনকারী বা ভ্রমণকারী (السائحون), সেজদাকারী...} [বারাআত: ১১২], সূরা বারাআতের আয়াত।
এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তিনি তোমাদের তালাক দিয়ে দেন, তবে তাঁর প্রতিপালক তাকে তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ স্ত্রী দান করবেন, যারা হবে মুসলিম, মুমিন, অনুগত, তওবাকারী, ইবাদতকারী, রোজা পালনকারিণী বা ভ্রমণকারিণী (سائحات), বিধবা ও কুমারী} [আত-তাহরীম: ৫]।
দেখুন: "আত-তামহীদ" (৭/ ৩০৭), শাইখুল ইসলামের "শারহুল উমদাহ" এর "কিতাবুস সিয়াম" (১/ ২৪)।
মাসয়ালা: সিয়ামের প্রকারভেদ:শাইখুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ "শারহুল উমদাহ" এর "কিতাবুস সিয়াম" (১/ ২৬) এ বলেছেন: সিয়াম পাঁচ প্রকার: শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত ফরজ (فرض) সিয়াম যা হলো রমজান মাসের সিয়াম—আদায় (أداء) ও কাজা (قضاء) হিসেবে, কাফফারা হিসেবে ওয়াজিব (واجب) সিয়াম, মানত হিসেবে ওয়াজিব (واجب) সিয়াম এবং নফল (تطوع) সিয়াম। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৬)
مسألة: صوم رمضان:صيام رمضان فرض على كل مسلمٍ، بالغٍ، عاقلٍ، مقيم، قادرٍ على الصوم، وقد دلَّ على ذلك الكتابُ، والسنةُ، والإجماعُ.
أما من الكتاب: فقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ * أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ * شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} [البقرة:185].
وأما من السنة: فقوله صلى الله عليه وسلم في حديث ابن عمر رضي الله عنهما، في "الصحيحين": «بني الإسلام على خمس»، وذكر منها: «وصيام رمضان».
وفي "الصحيحين" من حديث طلحة بن عبيد الله رضي الله عنه، أن رجلًا جاء يسأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الإسلام
… ، فذكر الحديث، وفيه: «وصيام رمضان»، فقال الرجل: هل عليَّ غيره؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لا، إلَّا أن تطوع».
وفي السنة أحاديث كثيرة تدل على ذلك.
وأما الإجماع: فقد أجمعت الأمة إجماعًا ظاهرًا على وجوب صيام شهر رمضان، وعلى أن منأنكر وجوبه كفر.
মাসআলা: রমজানের রোজা:রমজানের রোজা রাখা প্রত্যেক মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, মুকিম (নিজ আবাসে অবস্থানকারী) এবং রোজা পালনে সক্ষম ব্যক্তির ওপর ফরজ (فرض)। কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা (إجماع) দ্বারা এটি প্রমাণিত হয়েছে।
কুরআনের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার। নির্দিষ্ট কয়েক দিন। তবে তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা কষ্টকর, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাবার দান করবে। আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় সৎকাজ করবে, তা তার জন্য কল্যাণকর। আর রোজা রাখাই তোমাদের জন্য অধিকতর উত্তম, যদি তোমরা জানতে। রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়াতস্বরূপ এবং হেদায়াত ও সত্য-মিথ্যা পার্থক্যের সুস্পষ্ট দলিল হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।} [সূরা আল-বাকারা: ১৮৩-১৮৫]।
সুন্নাহর দলিল হলো "সহিহাইন"-এ বর্ণিত ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত», এবং সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন: «রমজানের রোজা রাখা»।
"সহিহাইন"-এ তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এলেন
… , অতঃপর বর্ণনাকারী হাদিসটি উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে: «এবং রমজানের রোজা রাখা», তখন ওই ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন: আমার ওপর কি এ ছাড়া অন্য কোনো রোজা আছে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «না, তবে তুমি নফল (تطوع) হিসেবে যা আদায় করবে তা ভিন্ন কথা»।
সুন্নাহর মধ্যে আরও অনেক হাদিস রয়েছে যা এর প্রমাণ দেয়।
আর ইজমা (إجماع) হলো: উম্মাহ রমজান মাসের রোজা ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে ঐকমত্য বা ইজমা (إجماع) পোষণ করেছে এবং এই বিষয়ে একমত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি এর আবশ্যকতাকে অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৭)
انظر: "المغني" (3/ 85)، "المجموع" (6/ 248)، "كتاب الصيام" (1/ 26 - 29)، تفسير القرطبي سورة البقرة آية [183]، "توضيح الأحكام" (3/ 129).
مسألة: متى فرض شهر رمضان؟
قال الإمام النووي رحمه الله في "شرح المهذب" (6/ 250): صام رسول الله صلى الله عليه وسلم رمضان تسع سنين؛ لأنه فرض في شهر شعبان في السنة الثانية من الهجرة وتوفي النبي صلى الله عليه وسلم في شهر ربيع الأول سنة إحدى عشرة من الهجرة. اهـ
قال الشيخ عبد الله البسام -وفقه الله في "توضيح الأحكام" (3/ 129): وفُرِضَ صوم رمضان في شعبان في السنة الثانية من الهجرة فصام رسول الله صلى الله عليه وسلم تسعة رمضانات إجماعًا. اهـ
وقد نقل الإجماع المرداوي رحمه الله في "الإنصاف"، في أول كتاب الصوم، والبهوتي في "الروض المربع" (1/ 157)، وابن مفلح في "المبدع" (2/ 405).
مسألة: أحوال فرضية الصيام:أُمِرَ المسلمون أولًا بصيام يوم عاشوراء كما في "الصحيحين"
(1) من حديث عائشة، وابن عمر رضي الله عنهما، ثم فرض الله شهر رمضان، فصار صيام يوم عاشوراء مستحبًّا، وعند أن فرض شهر رمضان كان الناس مخيرين بين الصيام والإطعام كما قال الله تعالى: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَهُ وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [البقرة:184]، ثم نسخ
--------------------------------------------
দেখুন: "আল-মুগনি" (৩/ ৮৫), "আল-মাজমু" (৬/ ২৪৮), "কিতাবুস সিয়াম" (১/ ২৬ - ২৯), তাফসিরে কুরতুবি, সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত [১৮৩], "তাওদিহুল আহকাম" (৩/ ১২৯)।
মাসআলা: রমজান মাস কখন ফরজ করা হয়েছে?
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) "শারহুল মুহাজ্জাব" (৬/ ২৫০) গ্রন্থে বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নয় বছর রমজানের রোজা পালন করেছেন; কারণ এটি হিজরি দ্বিতীয় সালের শাবান মাসে ফরজ করা হয়েছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিজরি এগারো সালের রবিউল আউয়াল মাসে ইন্তেকাল করেন। (সমাপ্ত)
শায়খ আবদুল্লাহ আল-বাসসাম (হাফিজাহুল্লাহ) "তাওদিহুল আহকাম" (৩/ ১২৯) গ্রন্থে বলেছেন: রমজানের রোজা হিজরি দ্বিতীয় সালের শাবান মাসে ফরজ করা হয়েছিল, ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐকমত্যের ভিত্তিতে (إجماعًا) নয়টি রমজান রোজা পালন করেছেন। (সমাপ্ত)
ঐক্যমত্যের (الإجماع) বিষয়টি ইমাম আল-মারদাভি (রাহিমাহুল্লাহ) "আল-ইনসাফ" গ্রন্থের কিতাবুস সাওমের শুরুতে, আল-বাহুতি "আর-রওদুল মুরবি" (১/ ১৫৭) গ্রন্থে এবং ইবনে মুফলিহ "আল-মুবদি" (২/ ৪০৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
মাসআলা: রোজা ফরজ হওয়ার পর্যায়সমূহ:মুসলিমদেরকে প্রথমে আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যেমনটি আয়েশা ও ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদিস হিসেবে "সহিহাইন"-এ
(১) উল্লেখ রয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা রমজান মাস ফরজ করেন, ফলে আশুরার রোজা রাখা পছন্দনীয় (مستحب) হয়ে যায়। আর যখন রমজান মাস ফরজ করা হয়, তখন মানুষ রোজা রাখা অথবা খাদ্য দান করার মধ্যে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত (مخيرين) ছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যাদের জন্য তা কষ্টকর, তাদের কর্তব্য ফিদয়া—একজন মিসকিনকে খাবার দান করা। তবে যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভালো কাজ করে, তা তার জন্য কল্যাণকর। আর রোজা রাখাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।} [সুরা আল-বাকারাহ: ১৮৪], অতঃপর এটি রহিত (نسخ) করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৮)
الله ذلك فأوجب الصيام بقوله: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} [البقرة:185].
والدليل على ذلك حديث سلمة بن الأكوع رضي الله عنه، في "الصحيحين"
(1) قال: لَمَّا نزلت هذه الآية: {وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ} كان من أراد أن يفطر يفتدي، حتى نزلت الآية التي بعدها فنسختها.
وفي رواية لمسلم: كنا في رمضان على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم من شاء صام ومن شاء أفطر، فافتدى بطعام مسكين حتى نزلت هذه الآية: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ}.
فائدة:
كان في أول الإسلام يحرم على الصائم الأكل، والشرب، والجماع من حين ينام أو يصلي العشاء الآخرة، فأيهما وجد أولًا حصل به التحريم، ثم نسخ ذلك وأبيح له إلى طلوع الفجر، سواءٌ نام أم لا.
ويدل علىه حديث البراء بن عازب رضي الله عنهما عند البخاري برقم (1915)، قال: كان أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم إذا كان الرجل صائمًا، فحضر الإفطار، فنام قبل أن يفطر، لم يأكل ليلته ولا يومه حتى يُمْسِي، وإن قيس بن صِرمة الأنصاري رضي الله عنه كان صائمًا، فلما حضر الإفطار أتى امرأته، فقال لها: أعندك طعام؟ قالت: لا، ولكن أنطلقُ فأطلبُ لك. وكان يومه يعمل، فغلبته عيناه فجاءته امرأته، فلما رأته قالت: خيبة لك! فلما انتصف النهار غشي عليه، فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم؛ فنزلت هذهالآية:
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা তা সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে সিয়ামকে আবশ্যক করেছেন: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে} [আল-বাকারাহ: ১৮৫]।
এর প্রমাণ হলো সালামাহ ইবনে আকওয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস, যা সহিহাইন-এ
(১) বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো— {আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাবার দেওয়া}—তখন যে ব্যক্তি রোজা না রাখতে চাইত, সে ফিদয়া দিত; যতক্ষণ না এর পরবর্তী আয়াতটি অবতীর্ণ হয়ে একে রহিত (نسخ) করে দেয়।
সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনা (رواية)-এ রয়েছে: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে রমজান মাসে যার ইচ্ছা রোজা রাখতাম এবং যার ইচ্ছা রোজা ভঙ্গ করতাম এবং বিনিময়ে একজন মিসকিনের খাবার ফিদয়া দিতাম। পরিশেষে এই আয়াতটি নাজিল হলো: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে}।
জ্ঞাতব্য বিষয়:
ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে রোজাদারের জন্য ঘুমিয়ে পড়া মাত্রই অথবা এশার নামাজ আদায়ের পর থেকেই পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস হারাম হয়ে যেত। এই দুটির মধ্যে যা আগে ঘটত, তাতেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতো। পরবর্তীতে তা রহিত (نسخ) করা হয় এবং ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত তা বৈধ করা হয়, চাই সে ঘুমাক বা না ঘুমাক।
এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো বারা ইবনে আজেব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত সহিহ বুখারির ১৯১৫ নম্বর হাদিস। তিনি বলেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের নিয়ম ছিল যে, কোনো ব্যক্তি রোজা থাকা অবস্থায় যখন ইফতারের সময় উপস্থিত হতো এবং তিনি ইফতার করার পূর্বেই ঘুমিয়ে পড়তেন, তবে তিনি সেই রাতে এবং পরবর্তী দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত আর কিছু খেতেন না। আর কায়েস ইবনে সিরমাহ আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রোজা ছিলেন। যখন ইফতারের সময় হলো, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে বললেন: তোমার কাছে কি কোনো খাবার আছে? তিনি বললেন: না, তবে আমি যাচ্ছি আপনার জন্য তালাশ করে আনতে। তিনি সারাদিন কাজ করেছিলেন, তাই তাঁর চোখ দুটি ঘুমে জড়িয়ে পড়ল। অতঃপর তাঁর স্ত্রী যখন ফিরে এলেন এবং তাঁকে (ঘুমন্ত) দেখলেন, তখন বললেন: আপনার জন্য আক্ষেপ! এরপর যখন দুপুর হলো, তিনি মূর্ছা গেলেন। বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করা হলো; তখন এই আয়াতটি নাজিল হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ৯)
{أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ} [البقرة:187]، ففرحوا بها فرحًا شديدًا، ونزلت {وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ} [البقرة:187].
فهذا الحديث يدل على أن ذلك كان محرَّمًا عقب النوم، وأما تحريمه عقب صلاة العشاء، فقد ثبت ذلك من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، بإسنادٍ صحيح. أخرجه ابن جرير كما في "الدر المنثور"، وكما في "تفسير ابن كثير" [آية:187] من سورة البقرة.
وأخرجه أبو داود (2313)، من حديث ابن عباس رضي الله عنهما، وفي إسناده: علي بن حسين بن واقد، وفيه ضعفٌ، وله طريق أخرى عند ابن جرير (2/ 96) من طريق: عبد الله بن صالح كاتب الليث، عن معاوية بن صالح، عن علي بن أبي طلحة، عن ابن عباس رضي الله عنهما، به، وهذا السند ضعيفٌ؛ لضعف عبد الله بن صالح؛ ولانقطاعه بين علي بن أبي طلحة، وابن عباس، وهو يزيد الحديث قوَّةً.
انظر: "الفتح" (1915)، "شرح المهذب" (6/ 251).
مسألة: سبب تسمية رمضان بهذا الاسم؟
قيل: لأنه يَرْمَض الذنوب، أي: يحرقها، أو يهلكها.
وقيل: لارْتِمَاض الناس فيه من حر الجوع، ومقاساة الشدة.
وقيل: لما نقلوا أسماء الشهور عن اللغة القديمة سموها بالأزمنة التي وقعت فيها، فوافق هذا الشهر أيام رَمَضِ الحر؛ فَسُمِّيَ بذلك.
انظر: "الفتح" (1900)، "كتاب الصيام" (1/ 35)، "توضيح الأحكام" (3/ 131).
{সিয়ামের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে} [আল-বাকারাহ: ১৮৭], এতে তারা অত্যন্ত আনন্দিত হলেন। এবং অবতীর্ণ হলো: {আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা রাতের কালো রেখা থেকে তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়} [আল-বাকারাহ: ১৮৭]।
এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, তা ঘুমের পর নিষিদ্ধ ছিল। আর ইশার নামাজের পর তার নিষিদ্ধতা আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে সাব্যস্ত হয়েছে, যার সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)। এটি ইবনে জারির 'আদ-দুররুল মানসুর' এবং সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতের অধীনে 'তাফসিরে ইবনে কাসির'-এ উদ্ধৃত করেছেন।
আবু দাউদ (২৩১৩) এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে (إسناد) আলী ইবনে হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ রয়েছেন, যার মধ্যে দুর্বলতা (ضعف) আছে। ইবনে জারিরের (২/৯৬) নিকট এর অন্য একটি সূত্র (طريق) রয়েছে যা লাইসের লেখক আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালহা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। এই সনদটি (السند) দুর্বল (ضعيف); আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহের দুর্বলতার (ضعف) কারণে এবং আলী ইবনে আবি তালহা ও ইবনে আব্বাসের মধ্যবর্তী বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) কারণে। তবে এটি হাদিসটিকে শক্তিশালী করে।
দেখুন: 'ফাতহুল বারি' (১৯১৫), 'শারহুল মুহাযযাব' (৬/২৫১)।
মাসয়ালা: রমজানকে এই নামে ডাকার কারণ কী?
বলা হয়েছে: কারণ এটি গুনাহসমূহকে দগ্ধ করে, অর্থাৎ তা পুড়িয়ে ফেলে বা ধ্বংস করে দেয়।
আরও বলা হয়েছে: ক্ষুধার তীব্রতা এবং কাঠিন্যের মোকাবিলা করার কারণে মানুষের অস্থির হওয়ার কারণে।
বলা হয়ে থাকে: যখন তারা প্রাচীন ভাষা থেকে মাসগুলোর নামগুলো সরিয়েছিল, তখন যে ঋতুতে মাসগুলো আপতিত হয়েছিল সেই ঋতুর নামে নামকরণ করেছিল। এই মাসটি প্রচণ্ড গরমের দিনগুলোতে পড়েছিল, তাই এর নাম রমজান রাখা হয়েছে।
দেখুন: 'ফাতহুল বারি' (১৯০০), 'কিতাবুস সিয়াম' (১/৩৫), 'তাওজিহুল আহকাম' (৩/১৩১)।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১০)
مسألة: هل يقال: رمضان، أم شهر رمضان؟
ذهب الجمهور من أهل العلم إلى جواز إطلاق رمضان دون التقييد بـ (شهر).
واستدلوا:
بقوله صلى الله عليه وسلم: «من صام رمضان إيمانًا واحتسابًا غفر له ما تقدم من ذنبه».
(1)وقوله صلى الله عليه وسلم: «من صام رمضان ثم أتبعه ستًّا من شوال كان كصيام الدهر».
(2)وقوله صلى الله عليه وسلم: «إذا جاء رمضان فتحت أبو اب الجنة، وأغلقت أبو اب النار، وَصُفِّدَت الشياطين».
(3)والأحاديث في هذا الباب كثيرة جدًّا.
وقد بَوَّبَ الإمام البخاري رحمه الله على الجواز في "صحيحه"، وكذا النسائي، ورجحه النووي وغيره من أهل العلم.
وقد نُقِل عن أصحاب مالك الكراهية، وكذا عن ابن الباقلَّاني وأكثر الشافعية، إلا أن هؤلاء قيدوا الكراهة بما إذا لم يكن هناك قرينة تصرفه إلى الشهر، أما إذا وجدت قرينة فلا يكره عندهم.
وعمدتهم في ذلك: حديث أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعًا: «لا تقولوا: جاء
--------------------------------------------
মাসআলা: কেবল 'রমজান' (رمضان) বলা যাবে কি, নাকি 'রমজান মাস' (شهر رمضان) বলতে হবে?অধিকাংশ আলিম (جمهور) 'মাস' (شهر) শব্দটির সাথে যুক্ত করা ছাড়াই কেবল 'রমজান' (رمضان) শব্দটির একক ব্যবহারের বৈধতার (جواز) দিকে গিয়েছেন।
তাঁরা দলিল পেশ করেছেন:
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী দ্বারা: "যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের (رمضان) রোজা রাখে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।"
(১)এবং তাঁর বাণী দ্বারা: "যে ব্যক্তি রমজানের (رمضان) রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, তা যেন সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।"
(২)এবং তাঁর বাণী দ্বারা: "যখন রমজান (رمضان) আসে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়।"
(৩)এই বিষয়ের হাদিসসমূহ সংখ্যায় অনেক।
ইমাম বুখারি রহিমাহুল্লাহ তাঁর সহিহ বুখারি গ্রন্থে এর বৈধতার (جواز) সপক্ষে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন, ইমাম নাসায়িও অনুরূপ করেছেন এবং ইমাম নববিসহ অন্যান্য আলিমগণ একেই প্রাধান্য (ترجيح) দিয়েছেন।
মালিকি মাজহাবের অনুসারীদের থেকে এটি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে; অনুরূপ ইবনুল বাকিলানি এবং অধিকাংশ শাফিঈ আলিমদের থেকেও। তবে তাঁরা এই অপছন্দনীয়তাকে (كراهة) তখনই শর্তযুক্ত করেছেন যখন সেখানে এমন কোনো ইঙ্গিত (قرينة) না থাকে যা মাসকে নির্দেশ করে। কিন্তু যদি কোনো ইঙ্গিত (قرينة) পাওয়া যায়, তবে তাঁদের নিকট তা অপছন্দনীয় (مكروه) নয়।
এই ক্ষেত্রে তাঁদের প্রধান ভিত্তি (عمدة) হলো আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিস: "তোমরা বলো না: (রমজান) এসেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১১)
رمضان؛ فإن رمضان اسم الله، ولكن قولوا: جاء شهر رمضان».
أخرجه ابن عدي في "الكامل" (7/ 53)، وضعفه بأبي مَعْشَر نَجِيْح بن عبدالرحمن، قال البيهقي: وقد روي عن أبي معشر عن محمد بن كعب، وهو أشبه.
والراجح القول الأول.
انظر: "الفتح" (1898)، "شرح المهذب" (6/ 248)، "سبل السلام" (4/ 104).
مسألة: متى يجب صيام شهر رمضان؟
ويجب صوم رمضان برؤية هلاله أو إكمال عدة شعبان ثلاثين يومًا؛ لما جاء في "الصحيحين"
(1) من حديث ابن عمر رضي الله عنهما، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا رأيتموه فصوموا وإذا رأيتموه فأفطروا، فإن غُمَّ عليكم فَاقْدُرُوا له»، وفي رواية لمسلم: «فاقدروا له ثلاثين»، وفي "الصحيحين"
(2) عن أبي هريرة رضي الله عنه نحوه.
وأخرج أبو داود (2325)، بإسناد صحيح عن عائشة رضي الله عنها، أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يتحفظ من شعبان ما لا يتحفظ من غيره، ثم يصوم لرؤية رمضان فإذا غُمَّ عليه عدَّ ثلاثين يومًا ثم صام. انظر: "المجموع" (6/ 269 - 270).
مسألة: معرفة دخول الشهر بطريقة الحساب:تقدم في الأحاديث أن النبي صلى الله عليه وسلم علق الصوم بالرؤية، وفي ذلك إبطالٌ لطريقة
--------------------------------------------
রমজান; কারণ রমজান হলো আল্লাহর একটি নাম, বরং তোমরা বলো: রমজান মাস এসেছে।’
এটি ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৭/ ৫৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং আবু মা’শার নাজিহ ইবনে আবদুর রহমানের কারণে এটিকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন। বায়হাকি বলেন: এটি আবু মা’শার থেকে মুহাম্মদ ইবনে কাবের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আর এটিই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ (أشبه)।
আর প্রথম মতটিই প্রাধান্যযোগ্য (راجح)।
দেখুন: "আল-ফাতহ" (১৮৯৮), "শারহুল মুহাযযাব" (৬/ ২৪৮), "সুবুলুস সালাম" (৪/ ১০৪)।
মাসআলা: রমজান মাসের রোজা কখন আবশ্যক (واجب) হয়?
রমজানের চাঁদ দেখার মাধ্যমে অথবা শাবান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করার মাধ্যমে রমজানের রোজা রাখা আবশ্যক (واجب) হয়; কারণ "সহিহাইন"
(১)-এ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন তোমরা তা (চাঁদ) দেখবে তখন রোজা রাখবে এবং যখন তোমরা তা দেখবে তখন রোজা ভঙ্গ করবে; আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে তার পরিমাণ নির্ধারণ করো», আর মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: «তোমরা তার জন্য ত্রিশ দিন নির্ধারণ করো», এবং "সহিহাইন"
(২)-এ আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
আবু দাউদ (২৩২৫) একটি সঠিক (صحيح) সনদে (إسناد) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাবান মাসের (দিন গণনার) ক্ষেত্রে যতটা যত্নবান হতেন অন্য মাসের ক্ষেত্রে ততটা হতেন না। অতঃপর তিনি রমজানের চাঁদ দেখে রোজা রাখতেন। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকত তবে তিনি ত্রিশ দিন গণনা করতেন এবং তারপর রোজা রাখতেন। দেখুন: "আল-মাজমু" (৬/ ২৬৯ - ২৭০)।
মাসআলা: হিসাব পদ্ধতির মাধ্যমে মাস শুরু হওয়া জানা:পূর্বোক্ত হাদিসগুলোতে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোজাকে চাঁদ দেখার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন, আর এর মধ্যে বাতিল (إبطال) হওয়ার প্রমাণ রয়েছে সেই পদ্ধতির...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১২)
أهل الحساب.
قال ابن دقيق العيد رحمه الله: الذي أقول: إن الحساب لا يجوز أن يُعْتمد عليه في الصوم؛ لمقارنة القمر للشمس على ما يراه المنجمون؛ فإنهم قد يقدمون الشهر بالحساب على الرؤية بيوم أو يومين وفي اعتبار ذلك إِحْداث شرع لم يأذن به الله. انتهى المراد من "شرحه للعمدة" (2/ 206).
قال ابن بطال رحمه الله كما في "السبل" (4/ 110): في الحديث دفع لمراعاة المنجمين، وإنما المُعَوَّل عليه رؤية الهلال، وقد نُهِينا عن التَّكلف.
وقال ابن بزيزة رحمه الله كما في "السبل" (4/ 110): هو مذهب باطل، وقد نهت الشريعة عن الخوض في علم النجوم؛ لأنها حَدْس وتخمين ليس فيها قطع.
ثم قال الصنعاني رحمه الله: والجواب الواضح عليهم ما أخرجه البخاري عن ابن عمر رضي الله عنهما، أنه صلى الله عليه وسلم قال: «إنَّا أمة أُمِّيَّة؛ لا نكتب ولا نحسب، الشهر هكذا وهكذا وهكذا»، وعقد في الثالثة أصبعًا، «والشهر هكذا وهكذا وهكذا» يعني تمام الثلاثين.
قلتُ: وقد أخرج الحديثَ مسلمٌ أيضًا.
(1)وقال صديق بن حسن رحمه الله في "الروضة الندية" (1/ 224): والتوقيت في الأيام والشهور بالحساب للمنازل القمرية بدعة باتفاق الأمة. اهـ
وَسُئِلت اللجنة الدائمة عن هذه المسألة رقم (386)، فأجابت بجوابٍ فيه:
--------------------------------------------
গণনাকারী বিশেষজ্ঞগণ।
ইবনে দাকীকুল ঈদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমি যা বলি তা হলো: সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে গণনার ওপর নির্ভর করা বৈধ নয়; কারণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সূর্যের সাথে চাঁদের সংযোগ ঘটে। তারা গণনার মাধ্যমে চাঁদ দেখার এক বা দুই দিন আগেই মাস শুরু করে দিতে পারে, আর একে গ্রহণযোগ্য মনে করা এমন এক নতুন শরীয়ত প্রবর্তন করা যার অনুমতি আল্লাহ দেননি।" 'শারহুল উমদাহ' (২/২০৬) থেকে উদ্দিষ্ট অংশ সমাপ্ত।
ইবনে বাত্তাল (রহিমাহুল্লাহ) যেমনটি 'সুবুলুস সালাম' (৪/১১০)-এ বর্ণিত হয়েছে, বলেছেন: "হাদিসের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতামতের প্রতি লক্ষ্য রাখার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। মূল নির্ভরযোগ্য ভিত্তি কেবল চাঁদ দেখার ওপর, আর আমাদেরকে অহেতুক কড়াকড়ি থেকে নিষেধ করা হয়েছে।"
ইবনে বাযীযাহ (রহিমাহুল্লাহ) যেমনটি 'সুবুলুস সালাম' (৪/১১০)-এ বর্ণিত হয়েছে, বলেছেন: "এটি একটি বাতিল মতবাদ। শরীয়ত জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গভীর চর্চায় লিপ্ত হতে নিষেধ করেছে; কারণ এটি ধারণা ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে, যাতে কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণ নেই।"
অতঃপর সান'আনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট উত্তর হলো যা বুখারি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আমরা এক নিরক্ষর জাতি; আমরা লিখি না এবং গণনাও করি না। মাস হলো এইভাবে, এইভাবে এবং এইভাবে'—তৃতীয়বার তিনি একটি আঙুল গুটিয়ে ধরলেন—'আর মাস হলো এইভাবে, এইভাবে এবং এইভাবে' অর্থাৎ পূর্ণ ত্রিশ দিন।"
আমি বলছি: এই হাদিসটি মুসলিমও বর্ণনা করেছেন।
(১)সিদ্দিক হাসান খান (রহিমাহুল্লাহ) 'আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ' (১/২২৪)-তে বলেছেন: "চাঁদের কক্ষপথের গণনার মাধ্যমে দিন ও মাসের সময় নির্ধারণ করা উম্মতের ঐকমত্যে একটি বিদআত।" সমাপ্ত।
স্থায়ী কমিটিকে (আল-লাজনা আদ-দায়িমাহ) এই মাসআলা (নং ৩৮৬) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা উত্তরে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فالرجوع في إثبات الشهور القمرية إلى علم النجوم في بدء العبادات والخروج منها دون الرؤية من البدع التي لا خير فيها ولا مستند لها من الشريعة. اهـ
وقد ذهب إلى القول بحساب المنازل: مُطَرِّف بن عبد الله من التابعين، وابن قتيبة.
قال ابن عبد البر رحمه الله: لا يصح عن مطرف، وأما ابن قتيبة فهو ممن لا يُعرَّج عليه في مثل هذا. اهـ
انظر: "التمهيد" (7/ 156)، "الفتح" (1911)، "سبل السلام" (4/ 110)، "مجموع الفتاوى" (25/ 132 - 133).
مسألة: استعمال المنظار المقرب للرؤية:قال الإمام ابن عثيمين رحمه الله: وأما استعمال ما يسمى بـ (الدربيل) وهو المنظار المقرب في رؤية الهلال فلا بأس به، ولكن ليس بواجب؛ لأن الظاهر من السنة أنَّ الاعتماد على الرؤية المعتادة لا على غيرها، ولكن لو اسْتُعْمِل فرآه من يُوثَق به فإنه يُعمَل بهذه الرؤية، وقد كان الناس قديمًا يستعملون ذلك لما كانوا يصعدون المنائر في ليلة الثلاثين من شعبان، أو ليلة الثلاثين من رمضان فيتراءونه بواسطة هذا المنظار، على كل حال متى ثبتت رؤيته بأي وسيلة؛ فإنه يجب العمل بمقتضى هذه الرؤية؛ لعموم قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا رأيتموه فصوموا، وإذا رأيتموه فأفطروا»
(1). اهـ
انظر: "فتاوى رمضان" (1/ 62) جمع/ أشرف، "فتاوى العثيمين" (19/ 37).
--------------------------------------------
চন্দ্রমাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইবাদত শুরু এবং শেষ করার জন্য চাঁদ দেখা ব্যতিরেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের (علم النجوم) ওপর নির্ভর করা এমন এক বিদআত (بدعة), যার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই এবং শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। সমাপ্ত।
আর চন্দ্রের কক্ষপথের হিসাব (حساب المنازل) গ্রহণের মত পোষণ করেছেন: তাবেয়ি (تابعي) মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং ইবনে কুতাইবা।
ইবনে আব্দুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: মুতাররিফ থেকে এটি সহিহ (صحيح) নয়। আর ইবনে কুতাইবার কথা যদি বলি, তবে তিনি এমন ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত যাদের কথা এই জাতীয় বিষয়ে আমলযোগ্য নয়। সমাপ্ত।
দেখুন: "আত-তামহিদ" (৭/১৫৬), "আল-ফাতহ" (১৯১১), "সুবুলুস সালাম" (৪/১১০), "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২৫/১৩২-১৩৩)।
মাসআলা: চাঁদ দেখার জন্য দূরবীন ব্যবহার করা:ইমাম ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আর চাঁদ দেখার জন্য যাকে 'দারবিল' বলা হয় অর্থাৎ দূরবীন বা দুরবীক্ষণ যন্ত্র, তার ব্যবহারে কোনো দোষ নেই। তবে এটি ওয়াজিব (واجب) নয়; কেননা সুন্নাহ (سنة) থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, সাধারণ দৃষ্টির ওপর নির্ভর করাই নিয়ম, অন্য কিছুর ওপর নয়। তবে যদি এটি ব্যবহার করা হয় এবং কোনো নির্ভরযোগ্য (موثوق به) ব্যক্তি এর মাধ্যমে চাঁদ দেখেন, তবে সেই দেখার ওপর ভিত্তি করে আমল করা হবে। অতীতে মানুষ যখন শাবান মাসের ত্রিশ তারিখ রাতে বা রমজান মাসের ত্রিশ তারিখ রাতে মিনারে আরোহণ করত, তখন তারা এই যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদ তালাশ করত। যাই হোক, যে কোনো মাধ্যমেই চাঁদ দেখা প্রমাণিত হোক না কেন, সেই দেখার দাবি অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব (واجب); রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ বাণীর কারণে: «যখন তোমরা তা দেখবে তখন রোজা রাখো, আর যখন তোমরা তা দেখবে তখন রোজা ভঙ্গ করো»
(১)। সমাপ্ত।
দেখুন: "ফাতাওয়া রমজান" (১/৬২) সংকলন/ আশরাফ, "ফাতাওয়া উসাইমিন" (১৯/৩৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مسألة: إذا رأى الهلال أهل بلدة فهل يلزم بقية البلاد الصوم؟
اختلف في هذه المسألة اختلافًا كثيرًا حتى تفرقوا في ذلك إلى ما يقارب ثمانية أقوال كما ذكر ذلك صديق بن حسن في "الروضة الندية" (1/ 224).
وقد ألَّف الإمام الشوكاني رحمه الله في هذه المسألة رسالة سماها "إْطَلاع أرباب الكمال على ما في رسالة الجلال في الهلال من الاختلال".
وأقوى هذه المذاهب ثلاثة:
الأول: أنه يلزم بقية البلدان الصوم.
وهو قول مالك، والشافعي، وأحمد، والليث، وغيرهم، وهو ترجيح جمع من المحققين كشيخ الإسلام ابن تيمية كما في "مجموع الفتاوى"، والإمام الشوكاني وصديق بن حسن خان، والألباني، وابن باز رحمة الله عليهم أجمعين.
واستدلوا بقوله صلى الله عليه وسلم: «صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته».
(1)قال الشوكاني رحمه الله: وهذا لا يختص بأهل ناحية على جهة الانفراد، بل هو خطاب لكل من يصلح له من المسلمين، فالاستدلال به على لزوم رؤية أهل بلد لغيرهم من أهل البلاد أظهر من الاستدلال به على عدم اللزوم؛ لأنه إذا رآه أهل بلد فقد رآه المسلمون فيلزم غيرهم ما لزمهم. اهـ من "نيل الأوطار" (4/ 194).
الثاني: أنه يلزم بقية البلدان التي توافق البلدة التي رأته في مطالع الهلال.
--------------------------------------------
মাসআলা: যদি কোনো এক ভূখণ্ডের অধিবাসী চাঁদ দেখে, তবে কি বাকি দেশগুলোর জন্য রোজা রাখা আবশ্যক?
এই মাসআলায় প্রচুর মতভেদ রয়েছে, এমনকি এ ক্ষেত্রে তারা প্রায় আটটি মতে বিভক্ত হয়েছেন, যেমনটি সিদ্দিক বিন হাসান "আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ" (১/২২৪) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
ইমাম শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) এই মাসআলায় একটি রিসালা (পুস্তিকা) রচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন "ইতলাউ আরবাবিল কামালি আলা মা ফী রিসালাতিল জালালি ফিল হিলালি মিনাল ইخতিলাল"।
আর এই মাযহাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো তিনটি:
প্রথম: বাকি সকল দেশের ওপর রোজা রাখা আবশ্যক।
এটি মালিক, শাফিঈ, আহমাদ, লাইস এবং অন্যদের অভিমত। এটি একদল গবেষক মুহাক্কিকগণের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (ترجيح) মত, যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ "মাজমুউল ফাতাওয়া" গ্রন্থে, ইমাম শাওকানী, সিদ্দিক বিন হাসান খান, আলবানী এবং ইবনে বায (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহমত বর্ষণ করুন) একে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: «তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ (ঈদ) করো।»
(১)শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য এককভাবে নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি সেই সকল মুসলিমের প্রতি সম্বোধন যারা এর যোগ্য। সুতরাং এক ভূখণ্ডের অধিবাসীদের চাঁদ দেখা অন্য ভূখণ্ডের অধিবাসীদের জন্য আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা, এটি আবশ্যক না হওয়ার স্বপক্ষে দলিল পেশ করার চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট; কারণ যখন কোনো এক ভূখণ্ডের মানুষ চাঁদ দেখে, তখন তা মুসলিমরাই দেখেছে বলে গণ্য হয়, ফলে তাদের ওপর যা আবশ্যক হয়েছে অন্যদের ওপরও তা আবশ্যক হয়ে যায়। - নাইলুল আওতার (৪/১৯৪) থেকে সমাপ্ত।
দ্বিতীয়: এটি কেবল সেই সকল দেশের জন্য আবশ্যক হবে যারা চাঁদ উদয়ের স্থলের (مطالع الهلال) ক্ষেত্রে উক্ত ভূখণ্ডের সাথে একমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهو مذهب الشافعية، وقول عن أحمد، واختاره ابن عبد البر في "التمهيد"، وشيخ الإسلام في "الاختيارات"، وهو ترجيح شيخنا مقبل بن هادي الوادعي، والشيخ ابن عثيمين، وغيرهما من أهل العلم رحمة الله عليهم أجمعين.
واستدلوا بما يلي:
1 - قوله تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} [البقرة:185]، قالوا: والذين لا يوافقون من شاهده في المطالع لا يقال: إنهم شاهدوه لا حقيقة ولا حكمًا، والله تعالى: أوجب الصوم على من شاهده.
2 - قوله صلى الله عليه وسلم: «صوموا لرؤيته وأفطروا لرؤيته»، فعلق الصوم بالرؤية ومن يخالف من رآه في المطالع لا يقال: إنه رآه لا حقيقة ولا حكمًا.
3 - حديث ابن عباس رضي الله عنهما، في "صحيح مسلم" برقم (1087)، أنه سأل كُرَيبًا متى رأى الهلال - وكان بالشام- فقال: رأيناه ليلة الجمعة، فقال ابن عباس: لكنا رأيناه ليلة السبت؛ فلا نزال نصوم حتى نرى الهلال، أو نكمل العدة. فقال كريب: أفلا تكتفي برؤية معاوية؟ قال: لا، هكذا أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم.
الثالث: أنه لا يلزم أهل بلد رؤية غيرهم إلا أن يثبت ذلك عند الإمام الأعظم فيلزم الناس كلهم؛ لأن البلاد في حقه كالبلد الواحد؛ إذ حكمه نافذ في الجميع، وهو قول ابن المَاجشون.
وقال الإمام ابن عثيمين رحمه الله: وعمل الناس اليوم على هذا، وهو من الناحية الاجتماعية قول قوي.
এটি শাফেয়ী মাজহাবের অভিমত এবং ইমাম আহমদের একটি বর্ণনা; ইবনে আব্দুল বার এটি "আত-তামহীদ" গ্রন্থে এবং শাইখুল ইসলাম এটি "আল-ইখতিয়ারাত" গ্রন্থে গ্রহণ করেছেন। এটি আমাদের শাইখ মুকবিল ইবনে হাদি আল-ওয়াদিয়ি, শাইখ ইবনে উসাইমিন এবং অন্যান্য আলেমদের—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—প্রাধান্যপ্রাপ্ত (ترجيح) অভিমত।
তাঁরা নিম্নলিখিত দলিলগুলো পেশ করেছেন:
1 - মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যে এই মাসটি প্রত্যক্ষ করবে, সে যেন অবশ্যই এতে রোজা রাখে} [আল-বাকারা: ১৮৫]। তাঁরা বলেন: যাদের উদয়স্থল চাঁদ প্রত্যক্ষকারীদের সাথে মেলে না, তাদের সম্পর্কে এ কথা বলা যাবে না যে তারা চাঁদ প্রত্যক্ষ করেছে—বাস্তবিক অর্থেও নয়, বিধানগত (حكمًا) অর্থেও নয়। আর আল্লাহ তাআলা রোজা ফরজ করেছেন তার ওপর, যে এটি প্রত্যক্ষ করেছে।
2 - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো», এখানে তিনি রোজাকে চাঁদ দেখার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। আর যারা উদয়স্থলের ভিন্নতার কারণে চাঁদ প্রত্যক্ষকারীর সাথে ভিন্নমত পোষণ করে, তাদের ক্ষেত্রে বলা যাবে না যে তারা চাঁদ দেখেছে—বাস্তবিক অর্থেও নয়, বিধানগত (حكمًا) অর্থেও নয়।
3 - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস, যা সহীহ মুসলিমে ১০৮৭ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত হয়েছে; তিনি কুরাইবকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—যিনি সিরিয়ায় ছিলেন—কখন তিনি নতুন চাঁদ দেখেছেন? কুরাইব বললেন: আমরা জুমার রাতে চাঁদ দেখেছি। তখন ইবনে আব্বাস বললেন: কিন্তু আমরা দেখেছি শনিবার রাতে; তাই আমরা রোজা রাখতেই থাকব যতক্ষণ না আমরা চাঁদ দেখি অথবা গণনার সংখ্যা পূর্ণ করি। তখন কুরাইব বললেন: আপনি কি মুয়াবিয়ার দেখাকেই যথেষ্ট মনে করেন না? তিনি বললেন: না, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।
তৃতীয়: এক অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য অন্য অঞ্চলের দেখা চাঁদ অনুসরণ করা আবশ্যক নয়, যদি না এটি প্রধান ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধান) নিকট প্রমাণিত (ثبت) হয়; সেক্ষেত্রে এটি সকল মানুষের ওপর আবশ্যক হবে। কারণ তাঁর বিচারে সকল ভূখণ্ড একটি অঞ্চলের মতো; যেহেতু তাঁর সিদ্ধান্ত সবার ওপর কার্যকর। এটি ইবনুল মাজিশুনের অভিমত।
ইমাম ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: বর্তমানে মানুষের আমল এরই ওপর এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি শক্তিশালী (قوي) মত।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والقولان الأولان قويان، إلا أنَّ الذي يظهر والله أعلم أن الأول أقوى؛ لعموم الدليل الذي استدلوا به، والشرع عام، ولو كان الحكم على غير ذلك لَبَيَّنَه.
وقد ردوا على القول الثاني بما يلي:
1 - إن اختلاف المطالع أمرٌ لا ينضبط بحد محدود، فما هو الضابط الذي يفصل بين كل مطلع وآخر.
2 - قال الإمام الألباني رحمه الله في "تمام المنة": والمطالع أمور نسبية ليس لها حدود مادية يمكن للناس أن يتبينوها. اهـ
قال شيخ الإسلام رحمه الله: كما في "مجموع الفتاوى": إذا اعتبرنا حدًّا كمسافة القصر أو الأقاليم، فكان رجل في آخر المسافة والإقليم؛ فعليه أن يصوم ويفطر وينسك، وآخر بينه وبينه غَلْوَة سهم لا يفعل شيئًا من ذلك، وهذا ليس من دين المسلمين. اهـ المراد
3 - المقصود بالآية والحديث الذي استدل بهما أصحاب القول الثاني هو العلم بحلول شهر رمضان، وقد حصل ذلك برؤية أهل بلد معين، وكما أنه يلزم أهل البلد الواحد الصوم برؤية بعض أفرادهم، فكذلك يلزم أهل البلدان الأخرى الصوم برؤية أهل هذا البلد.
4 - استدلالهم بحديث ابن عباس رضي الله عنهما، أجيب عنه بأجوبة:
الأول: أن ابن عباس رضي الله عنهما لم يصرح بأن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم بأن لا يعملوا برؤية غيرهم من أهل الأقطار، بل أراد ابن عباس أنه أمرهم بإكمال الثلاثين أو
প্রথম দুটি মতই শক্তিশালী (قوي), তবে যা প্রতীয়মান হয় এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ যে, প্রথম মতটিই অধিক শক্তিশালী; কারণ তারা যে দলীল (دليل) দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন তার ব্যাপকতা এবং শরীয়ত সকলের জন্য সাধারণ। যদি বিধানটি এর ভিন্ন কিছু হতো তবে অবশ্যই তিনি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেন।
এবং তাঁরা দ্বিতীয় মতটির খণ্ডন নিচের বিষয়গুলোর মাধ্যমে করেছেন:
১ - উদয়স্থলের ভিন্নতা (اختلاف المطالع) এমন একটি বিষয় যা কোনো নির্দিষ্ট সীমানা দ্বারা সুসংজ্ঞায়িত নয়। সুতরাং প্রতিটি উদয়স্থলের মাঝে পার্থক্য করার মানদণ্ড (ضابط) কী?
২ - ইমাম আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) "তামামুল মিন্নাহ" গ্রন্থে বলেছেন: উদয়স্থলসমূহ (المطالع) হলো আপেক্ষিক বিষয়, যার এমন কোনো বস্তুগত সীমানা নেই যা মানুষ স্পষ্টভাবে নিরূপণ করতে পারে। সমাপ্ত।
শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) যেমনটি "মাজমুউল ফাতাওয়া"-তে বলেছেন: আমরা যদি কসরের দূরত্ব (مسافة القصر) বা কোনো অঞ্চলের মতো কোনো নির্দিষ্ট সীমানা বিবেচনা করি, আর কোনো ব্যক্তি যদি সেই দূরত্ব বা অঞ্চলের শেষ প্রান্তে অবস্থান করে; তবে তার ওপর রোজা রাখা, ইফতার করা এবং ইবাদত পালন করা আবশ্যক হবে, অথচ অন্য একজন যার এবং তার মাঝে মাত্র এক তীরের পাল্লা (غلوة سهم) পরিমাণ ব্যবধান রয়েছে, সে এর কিছুই করবে না—এটি মুসলিমদের দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। মর্মার্থ সমাপ্ত।
৩ - দ্বিতীয় মতের প্রবক্তারা যে আয়াত এবং হাদিস দ্বারা দলীল (دليل) পেশ করেছেন, তার উদ্দেশ্য হলো রমজান মাস শুরু হওয়ার জ্ঞান লাভ করা। আর নির্দিষ্ট কোনো দেশের অধিবাসীদের চাঁদ দেখার মাধ্যমেই তা অর্জিত হয়েছে। এবং যেভাবে একই দেশের কিছু ব্যক্তির চাঁদ দেখার কারণে সেই দেশের সকল অধিবাসীর ওপর রোজা রাখা আবশ্যক হয়, ঠিক তেমনি অন্য সকল দেশের অধিবাসীদের জন্যও এই দেশের লোকদের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখা আবশ্যক হবে।
৪ - ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বর্ণিত হাদিস দ্বারা তাঁদের দলীল (دليل) পেশ করার উত্তরে কয়েকটি জবাব দেওয়া হয়েছে:
প্রথমত: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) স্পষ্টভাবে এ কথা বলেননি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে অন্য অঞ্চলের অধিবাসীদের চাঁদ দেখা অনুযায়ী আমল না করার নির্দেশ দিয়েছেন। বরং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বুঝাতে চেয়েছেন যে, তিনি তাঁদেরকে তিরিশ দিন পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন অথবা...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يروه كما في الأحاديث الأُخَر.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: في "كتاب الصيام" (1/ 174): ويجوز أن يكون ذلك؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم أن يصوموا لرؤيته ويفطروا لرؤيته، ولا يفطروا حتى يروه أو يكملوا العدة كما قد رواه ابن عباس وغيره مفسرًا فاعتقد ابن عباس أن أهل كل بلد يصومون حتى يروه أو يكملوا العدة وقد تقدم عنه صلى الله عليه وسلم ما يبين أنه قصد رؤية بعض الأمة في الجملة؛ لأن الخطاب لهم، وهذا عمل برؤية قوم في غير مِصْرِه. اهـ
وقد أجاب بهذا الجواب أيضًا ابن دقيق العيد، والشوكاني في "النيل"، وصديق بن حسن في "الروضة الندية".
الثاني: قال الإمام الألباني رحمه الله في "تمام المنة": إنَّ حديث ابن عباس ورد في من صام على رؤية بلده ثم بلغه في أثناء رمضان أنهم رأوا الهلال في بلد آخر قبله بيوم، ففي هذه الحالة يستمر في الصيام مع أهل بلده حتى يكملوا العدة أو يروا الهلال. اهـ
وقد سبق شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله إلى الإشارة إلى مثل هذا الجواب كما في "مجموع الفتاوى" (25/ 109).
الثالث: أن هذه شهادة من كُرْيب وهو واحد، وقد أمرهم النبي صلى الله عليه وسلم أن يفطروا بشهادة اثنين، ولو عملوا بخبره؛ لأفطروا بشهادة واحد، كذا أجاب شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في "شرح العمدة".
وأشار إلى هذا الجواب الإمام النووي رحمه الله في "شرح مسلم"، والله أعلم.
قلتُ: ويبين أن الحديث ليس فيه وجه لما استدلوا به أن مطلع الشام والمدينة النبوية لا يختلف، بل هو مطلع واحد، والله أعلم.
...তাঁরা সেটি প্রত্যক্ষ করেন, যেমনটি অন্যান্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর "কিতাবুস সিয়াম" (১/১৭৪)-এ বলেছেন: "এটি হওয়া সম্ভব; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন তাঁরা চাঁদ দেখে রোজা রাখে এবং চাঁদ দেখে ইফতার করে। তাঁরা যেন ইফতার না করে যতক্ষণ না তাঁরা তা দেখে অথবা গণনা পূর্ণ করে, যেমনটি ইবনে আব্বাস ও অন্যান্যগণ ব্যাখ্যা (مفسرًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফলে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বিশ্বাস করতেন যে, প্রতিটি ভূখণ্ডের অধিবাসীরা রোজা রাখবে যতক্ষণ না তারা তা (চাঁদ) দেখে অথবা গণনা পূর্ণ করে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে ইতিপূর্বে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা স্পষ্ট করে যে, তিনি মূলত সাধারণভাবে উম্মাহর একাংশের চাঁদ দেখাকেই উদ্দেশ্য করেছেন; কারণ সম্বোধনটি ছিল তাদের প্রতি, আর এটি হলো নিজের শহর ব্যতীত অন্য জনপদের লোকের চাঁদ দেখার ওপর আমল করা।" (সংক্ষেপিত)
ইবনে দাকীকুল ঈদ, "নাইলুল আওতার" গ্রন্থে শাওকানী এবং "আর-রওদাতুন নাদিয়্যাহ" গ্রন্থে সিদ্দিক বিন হাসানও এই একই উত্তর দিয়েছেন।
দ্বিতীয়ত: ইমাম আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) "তামামুল মিন্নাহ" গ্রন্থে বলেছেন: "নিশ্চয়ই ইবনে আব্বাসের হাদিসটি এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে তার নিজ ভূখণ্ডের চাঁদ দেখা অনুযায়ী রোজা রেখেছে, অতঃপর রমজানের মাঝে তার নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, অন্য কোনো ভূখণ্ডে তার একদিন আগে চাঁদ দেখা গিয়েছে। এমতাবস্থায় সে তার নিজ ভূখণ্ডের অধিবাসীদের সাথেই রোজা রাখা চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না তারা গণনা পূর্ণ করে অথবা চাঁদ দেখে।" (সংক্ষেপিত)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) ইতিপূর্বে "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২৫/১০৯)-তে এ ধরনের উত্তরের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
তৃতীয়ত: এটি ছিল কুরাইবের সাক্ষ্য (شهادة), আর তিনি ছিলেন একজন। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে দুইজনের সাক্ষ্যের (شهادة) ভিত্তিতে ইফতার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি তাঁরা তাঁর সংবাদের (خبر) ভিত্তিতে আমল করতেন, তবে একজন মাত্র ব্যক্তির সাক্ষ্যের (شهادة) ভিত্তিতেই ইফতার করা হয়ে যেত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) "শারহুল উমদাহ" গ্রন্থে এভাবেই উত্তর দিয়েছেন।
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) "শারহু মুসলিম"-এ এই উত্তরের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
আমি বলছি: এটি স্পষ্ট করে যে, হাদিসটিতে তাঁদের সেই দলিলের সপক্ষে কোনো ভিত্তি নেই যাতে দাবি করা হয় যে সিরিয়া এবং মদিনা মুনাওয়ারাহর উদয়স্থল (مطلع) ভিন্ন নয়, বরং এটি অভিন্ন উদয়স্থল (مطلع)। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قلتُ: لكن قال شيخ الإسلام رحمه الله كما في مجموع الفتاوى (25/ 103): حكى ابن عبد البر الإجماع على أن الاختلاف فيما يمكن اتفاق المطالع فيه، فأما ما كان مثل الأندلس وخراسان؛ فلا خلاف أنه لا يعتبر.
وعلى هذا فرؤية أهل المغرب لا تعتبر على أهل المشرق، إلا مع اتحاد المطلع، ولكن يظهر أن رؤية أهل المشرق تعتبر على أهل المغرب وإن اختلفت المطالع؛ لأن مطلعهم بعدهم؛ فإذا رأى الهلال أهل المشرق كانت رؤيتهم معتبرة على كل من كان بعدهم في المطلع، وإن تباعدوا، والله أعلم.
انظر: "المجموع" (6/ 273 - 274)، "المغني" (3/ 5)، "كتاب الصيام" من "شرح العمدة" (1/ 170 - 175)، "المُفْهم" (3/ 142)، "الفتح" (1911)، "شرح مسلم" (7/ 197)، "نيل الأوطار" (4/ 194)، "مجموع الفتاوى" (25/ 103)، "الروضة الندية" (1/ 224 - 225)، "تمام المنة" (ص 398)، "الشرح الممتع" (6/ 320 - 323)، "توضيح الأحكام" (3/ 140).
مسألة: رؤية الهلال بالنهار:أما إذا كانت الرؤية بعد الزوال، فقد نقل ابن حزم الإجماع على أنه لا يجب الصوم إلا من الغد.
وأما قبل الزوال، ففيه مذاهب:
الأول: أنه لِلَّيلة الماضية، وهو قول الثوري، وأبي يوسف، وسلمان بن ربيعة،
আমি বলছি: তবে শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) যেমনটি মাজমুউল ফাতাওয়া (২৫/ ১০৩) গ্রন্থে বলেছেন: ইবনে আব্দুল বার এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন যে, মতভেদ কেবল সেই সব স্থানেই সম্ভব যেখানে উদয়স্থল (مطالع) এক হওয়া সম্ভব। আর আন্দালুস ও খোরাসানের মতো দূরবর্তী অঞ্চলের ক্ষেত্রে; এতে কোনো দ্বিমত নেই যে তা ধর্তব্য (معتبر) হবে না।
এর ওপর ভিত্তি করে, পশ্চিমবাসীদের চাঁদ দেখা পূর্ববাসীদের জন্য ধর্তব্য (معتبر) হবে না, যদি না উদয়স্থল (مطلع) এক হয়। তবে এটি স্পষ্ট যে, পূর্ববাসীদের চাঁদ দেখা পশ্চিমবাসীদের জন্য ধর্তব্য (معتبر) হবে যদিও উদয়স্থল (مطالع) ভিন্ন হয়; কারণ তাদের উদয়কাল তাদের পরেই আসে। সুতরাং যখন পূর্ববাসীরা নতুন চাঁদ (هلال) দেখবে, তখন তাদের সেই দেখা তাদের পরবর্তী সকল উদয়স্থলের মানুষের জন্য ধর্তব্য (معتبر) হবে, তারা যতই দূরে হোক না কেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
দেখুন: "আল-মাজমু" (৬/ ২৭৩ - ২৭৪), "আল-মুগনি" (৩/ ৫), "শারহুল উমদাহ" এর "কিতাবুস সিয়াম" (১/ ১৭০ - ১৭৫), "আল-মুফহিম" (৩/ ১৪২), "আল-ফাতহ" (১৯১১), "শারহু মুসলিম" (৭/ ১৯৭), "নাইলুল আওতার" (৪/ ১৯৪), "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২৫/ ১০৩), "আর-রওদাতুন নাদিয়্যাহ" (১/ ২২৪ - ২২৫), "তামামুল মিন্নাহ" (পৃ. ৩৯৮), "আশ-শারহুল মুমতি" (৬/ ৩২০ - ৩২৩), "তাওদিহুল আহকাম" (৩/ ১৪০)।
মাসআলা: দিনের বেলায় নতুন চাঁদ (هلال) দেখা:যদি চাঁদ দেখা সূর্য ঢলে পড়ার (زوال) পর হয়, তবে ইবনে হাজম এই মর্মে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন যে, পরবর্তী দিন ছাড়া রোজা রাখা আবশ্যক হবে না।
আর সূর্য ঢলে পড়ার (زوال) পূর্বের চাঁদ দেখার ব্যাপারে কয়েকটি মতবাদ (مذاهب) রয়েছে:
প্রথম: এটি বিগত রাতের জন্য গণ্য হবে। এটি সাওরী, আবু ইউসুফ এবং সালমান বিন রাবিয়াহ-এর অভিমত,
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وابن حبيب الأندلسي، ورواية عن عمر بن عبدالعزيز، ورواية عن أحمد، وهو ترجيح ابن حزم.
قالوا: فإن كانت الرؤية في أول الشهر أمسكوا وقضوا، وإن كانت آخر الشهر أفطروا وعيدوا؛ لأن وقت العيد باقٍ [إلا أن ابن حزم لم يذكر القضاء].
وقد استدلوا على ذلك بما رواه عبدالرزاق (4/ 163)، وابن أبي شيبة (3/ 66)، والبيهقي في "الكبرى" (4/ 213) من طريق إبراهيم النَّخعي، أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه كتب إلى عتبة بن فَرْقَد: إذا رأيتم الهلال في آخر النهار فأتموا صومكم؛ فإنه لليلة المقبلة، وإذا رأيتموه في أول النهار فأفطروا؛ فإنه لليلة الماضية. يعني هلال شوال.
الثاني: كالمذهب الأول إلا أن الهلال في آخر الشهر للمقبلة احتياطًا للصوم، وهو رواية عن أحمد نقلها الأثرم والميموني.
الثالث: أنه لليلة المقبلة، وهو رواية عن أحمد اختارها الخرقي، وهو مذهب مالك، والشافعي، وأبي حنيفة، وإسحاق، والليث، والأوزاعي، ومحمد بن الحسن، ورواية عن عمر بن عبدالعزيز، ورجحه ابن عبدالبر، ونقله عن أكثر العلماء ورجح ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، ثم الإمام ابن عثيمين رحمه الله.
واستدلوا على ذلك بما أخرجه عبدالرزاق (4/ 162 - 163)، وابن أبي شيبة (3/ 67)، والدارقطني (2/ 168 - 169)، والبيهقي (4/ 213) بأسانيد صحيحة عن أبي وائل، قال: جاءنا كتاب عمر بن الخطاب، ونحن بِخَانِقِين أن الأَهِلَّة بعضها
এবং ইবন হাবিব আল-আন্দালুসি, এটি উমর ইবন আবদুল আজিজ থেকে একটি বর্ণনা (رواية) এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية), আর এটিই ইবন হাজমের অগ্রাধিকার (ترجيح)।
তারা বলেছেন: যদি মাসের শুরুতে চাঁদ দেখা যায় তবে তারা পানাহার থেকে বিরত থাকবে এবং কাজা (قضاء) করবে, আর যদি মাসের শেষে দেখা যায় তবে তারা রোজা ভঙ্গ করবে এবং ঈদ করবে; কারণ ঈদের সময় তখনও বাকি থাকে [তবে ইবন হাজম কাজার (قضاء) কথা উল্লেখ করেননি]।
আর তারা এর স্বপক্ষে আবদুর রাজ্জাক (৪/১৬৩), ইবন আবি শায়বাহ (৩/৬৬) এবং আল-বায়হাকি তাঁর আল-কুবরা (৪/২১৩) গ্রন্থে ইব্রাহিম আল-নাখায়ির সূত্রে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু উতবাহ ইবন ফারকাদের নিকট লিখেছিলেন: তোমরা যদি দিনের শেষভাগে চাঁদ দেখ তবে তোমাদের রোজা পূর্ণ করো; কেননা তা পরবর্তী রাতের জন্য। আর যদি তোমরা দিনের শুরুতে চাঁদ দেখ তবে ইফতার করো; কেননা তা বিগত রাতের জন্য। অর্থাৎ শাওয়ালের চাঁদ।
দ্বিতীয় মত: এটি প্রথম মাযহাবের (مذهب) মতোই, তবে রোজার বিষয়ে সতর্কতা (احتياط) স্বরূপ মাসের শেষের চাঁদ পরবর্তী রাতের জন্য গণ্য হবে। এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية), যা আল-আছরাম ও আল-মায়মুনি বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয় মত: চাঁদ পরবর্তী রাতের জন্য গণ্য হবে। এটি আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية) যা আল-খিরাকি পছন্দ করেছেন। এটি মালিক, শাফিঈ, আবু হানিফা, ইসহাক, আল-লায়স, আল-আওযায়ি এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের মাযহাব (مذهب)। এটি উমর ইবন আবদুল আজিজ থেকেও বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية)। ইবন আবদিল বার একে অগ্রাধিকার (ترجيح) দিয়েছেন এবং অধিকাংশ আলেম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং অতঃপর ইমাম ইবন উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) একেই অগ্রাধিকার (ترجيح) দিয়েছেন।
আর তারা এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন যা আবদুর রাজ্জাক (৪/১৬২-১৬৩), ইবন আবি শায়বাহ (৩/৬৭), আদ-দারাকুতনি (২/১৬৮-১৬৯) এবং আল-বায়হাকি (৪/২১৩) বিশুদ্ধ (صحيح) সনদসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাবের পত্র আমাদের নিকট পৌঁছাল যখন আমরা খানিকিনে ছিলাম যে, নিশ্চয়ই চাঁদসমূহ কোনোটি কোনোটির চেয়ে...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২০)
أكبر من بعض، فإذا رأيتم الهلال؛ فلا تفطروا حتى تمسوا، إلا أن يشهد رجلان مسلمان أنهما أهَلَّاه بالأمس عشيًّا.
وقد ثبت ذلك عن عثمان رضي الله عنه، كما في مصنف ابن أبي شيبة (3/ 65)
وجاء ذلك أيضًا عن ابن مسعود رضي الله عنه، أخرجه ابن أبي شيبة (3/ 66) من طريق: القاسم بن عبدالرحمن عنه، أنه قال: إذا رأيتم الهلال نهارًا فلا تفطروا؛ فإن مجراه في السماء، لعله أن يكون قد أهل ساعتئذٍ.
وإسناده ضعيف بسبب انقطاعه بين القاسم، وعبد الله.
وقد جاء عن ابن عمر رضي الله عنهما، القول بذلك، أخرجه عبدالرزاق (4/ 166) بإسناد صحيح عنه، وجاء ذلك أيضًا عن أنس بن مالك رضي الله عنه، أخرجه ابن أبي شيبة (3/ 65) بإسناد صحيح عنه.
قالوا: والتفريق بين رؤيته قبل الزوال وبعد الزوال لا يستند إلى كتاب ولا سنة.
وهذا القول هو الراجح؛ للاحتمال الذي ذُكِر في أثر ابن مسعود المتقدم.
وأما أثر عمر المتقدم الذي استدل به أهل القول الأول فهو منقطع؛ لأن إبراهيم النَّخعي لم يدرك عمر رضي الله عنه.
قال البيهقي رحمه الله: هكذا رواه إبراهيم النخعي منقطعًا، وحديث أبي وائل أصَحُّ.
انظر: "كتاب الصيام" من "شرح العمدة" (1/ 161 - 170)، "التمهيد" (7/ 177 - 178)، "الفتح" (1911)، "الروضة الندية" (1/ 224)، "المجموع" (6/ 272 - 273)، "المحلى" (6/ 239) رقم (758)، "الشرح الممتع" (6/ 319)، "السنن الكبرى" (4/ 213).
...একটির চেয়ে অন্যটি বড় হতে পারে। সুতরাং যখন তোমরা চাঁদ দেখবে, সন্ধ্যা না হওয়া পর্যন্ত ইফতার করো না (রোজা ভেঙো না); তবে যদি দুজন মুসলিম ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে তারা গত দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছে।
উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে, যেমনটি ইবনে আবি শাইবাহর মুসান্নাফ (৩/৬৫) গ্রন্থে রয়েছে।
এটি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আবি শাইবাহ (৩/৬৬) কাসেম ইবনে আবদুর রহমানের সূত্রে তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যদি তোমরা দিনের বেলা চাঁদ দেখ, তবে ইফতার করো না; কারণ আকাশে এর একটি কক্ষপথ রয়েছে, সম্ভবত এটি সেই মুহূর্তেই উদিত হয়েছে।"
আর এর সনদ (إسناد) কাসেম ও আবদুল্লাহর মাঝে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর কারণে দুর্বল (ضعيف)।
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকেও এই অভিমতটি বর্ণিত হয়েছে, যা আবদুর রাজ্জাক (৪/১৬৬) তাঁর থেকে একটি সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) বর্ণনা করেছেন। আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে আবি শাইবাহ (৩/৬৫) তাঁর থেকে একটি সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) এটি বর্ণনা করেছেন।
তাঁরা বলেছেন: সূর্য ঢলে পড়ার (যাওয়ালে) আগে এবং পরে চাঁদ দেখার মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়টি কুরআন বা সুন্নাহর কোনো ভিত্তি রাখে না।
আর এই অভিমতটিই অগ্রগণ্য (الراجح); কারণ ইবনে মাসউদের পূর্বোল্লিখিত বর্ণনায় (أثر) যে সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পক্ষান্তরে উমরের যে বর্ণনা (أثر) দ্বারা প্রথম মত পোষণকারীরা দলিল পেশ করেছেন, তা বিচ্ছিন্ন (منقطع); কারণ ইব্রাহিম নাখয়ি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে পাননি।
ইমাম বায়হাকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এভাবে ইব্রাহিম নাখয়ি এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) ভাবে বর্ণনা করেছেন, আর আবু ওয়াইলের হাদিসটি অধিকতর সহিহ (أصح)।"
দেখুন: "শারহুল উমদাহ"র "কিতাবুস সিয়াম" (১/১৬১ - ১৭০), "আত-তামহিদ" (৭/১৭৭ - ১৭৮), "আল-ফাতহ" (১৯১১), "আর-রওদাতুন নাদিয়্যাহ" (১/২২৪), "আল-মাজমু" (৬/২৭২ - ২৭৩), "আল-মুহাল্লা" (৬/২৩৯) নং (৭৫৮), "আশ-শারহুল মুমতি" (৬/৩১৯), "আস-সুনানুল কুবরা" (৪/২১৩)।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২১)
مسألة: ما يثبت به الصوم والفطر من الشهود؟
اختلف في ذلك على ثلاثة مذاهب:
الأول: أن المعتبر شهادة اثنين عند الصوم والإفطار.
وهو قول مالك، والليث، والأوزاعي، والثوري، والشافعي في أحد قوليه، وهو رواية غير مشهورة عن أحمد.
واستدلوا بما أخرجه أحمد (4/ 321) عن عبدالرحمن بن زيد بن الخطاب أنه خطب في اليوم الذي يشك فيه، فقال: ألا إني جالست أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم وسألتهم، وإنهم حدثوني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «صوموا لرؤيته، وأفطروا لرؤيته وانسكوا لها؛ فإنْ غُمَّ عليكم فأكملوا ثلاثين؛ فإنْ شهد شاهدان مسلمان؛ فصوموا وأفطروا».
وإسناده ضعيف؛ لأن فيه حجاج بن أَرْطَاة، وهو ضعيف ومدلس، وقد سقط حجاج بن أرطاة من سند النسائي (4/ 132 - 133)، وهو وهم من سعيد ابن شَبِيب كما ذكر ذلك الحافظ المزي في "تحفة الأشراف" (11/ 178)، وكذلك ابن عبدالهادي في "التنقيح" (3/ 216).
ولكن للحديث شاهد يحسن به فقد أخرج أبو داود (2338)، والدارقطني (2/ 167) من حديث أمير مكة الحارث بن حاطب رضي الله عنه، أنه قال: عهد إلينا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن ننسك للرؤية؛ فإن لم نره وشهِدَ شاهدا عَدْلٍ؛ نسكنا بشهادتهما. وأقره ابن عمر رضي الله عنهما، وإسناده حسن.
الثاني: أن المعتبر عند الصيام شهادة واحد، وعند الإفطار شهادة اثنين، وهو
মাসআলা: কতজন সাক্ষীর মাধ্যমে রোজা রাখা ও ইফতার করা প্রমাণিত হয়?এ বিষয়ে তিনটি মতভেদ (مذهب) রয়েছে:
প্রথম: রোজা রাখা ও ইফতার করার ক্ষেত্রে দুই জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য (معتبر)।
এটি ইমাম মালিক, লাইস, আওযায়ী, সাওরী এবং ইমাম শাফেয়ীর অন্যতম মত, আর এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি অখ্যাত বর্ণনা (رواية)।
তাঁরা ইমাম আহমাদ (৪/৩২১) কর্তৃক বর্ণিত আব্দুর রহমান বিন যায়িদ বিন খাত্তাব থেকে দলিল গ্রহণ করেছেন যে, তিনি সন্দেহের দিনে খুতবা প্রদানকালে বলেছিলেন: জেনে রেখো, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের সাথে বসেছি এবং তাঁদের নিকট জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁরা আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো, চাঁদ দেখে ইফতার করো এবং ইবাদত করো; যদি আকাশ মেঘলা থাকে তবে ত্রিশ দিন পূর্ণ করো। আর যদি দুই জন মুসলিম সাক্ষী সাক্ষ্য দেয় তবে তোমরা রোজা রাখো এবং ইফতার করো।”
এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف); কারণ এতে হাজ্জাজ বিন আরতাহ রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف) এবং তাদলীসকারী (مدلس)। ইমাম নাসায়ীর (৪/১৩২-১৩৩) সনদ (سند) থেকে হাজ্জাজ বিন আরতাহ বাদ পড়েছেন, যা সাঈদ ইবনে শাবীবের একটি ভুল (وهم), যেমনটি হাফিজ মিযযী ‘তুহফাতুল আশরাফ’ (১১/১৭৮) গ্রন্থে এবং ইবনে আব্দুল হাদী ‘আত-তানকীহ’ (৩/২১৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু এই হাদিসের একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা এর মানকে উন্নত করে, কারণ আবু দাউদ (২৩৩৮) ও দারাকুতনী (২/১৬৭) মক্কার আমীর হারিস বিন হাতিব (রা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন চাঁদ দেখে ইবাদত করি; যদি আমরা তা দেখতে না পাই এবং দুই জন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষী সাক্ষ্য দেয়, তবে আমরা তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ইবাদত পালন করব। ইবনে উমর (রা.) এটি সমর্থন করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)।
দ্বিতীয়: রোজা শুরু করার ক্ষেত্রে এক জনের সাক্ষ্য এবং ইফতার করার ক্ষেত্রে দুই জনের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য (معتبر), আর এটি...
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২২)
قول أحمد، والشافعي في أحد قوليه، وابن المبارك.
واستدلوا بالأحاديث التي استدل بها أصحاب القول الأول.
قالوا: وأما عند الصوم فقد أخرج أبو داود (2342) بإسناد صحيح عن ابن عمر رضي الله عنهما، قال: ترآى الناس الهلال، فأخبرت النبي صلى الله عليه وسلم أَنِّي رأيته، فصام وأمر بصيامه. وثبت عن ابن عمر رضي الله عنهما، أنه أجاز شهادة رجل في الهلال كما في "تهذيب الآثار" (2/ 762 - ) مسند ابن عباس رضي الله عنهما.
وأخرج أبو داود (2340)، والنسائي (2113)، والترمذي (691)، وابن ماجه (1652)، وغيرهم من طريق سِماك عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما، أن أعرابيًّا شهد عند النبي صلى الله عليه وسلم أنه رأى الهلال، فقبل النبي صلى الله عليه وسلم شهادته بعد أن تأكد من إسلامه.
قالوا: وهذا إخبار بعبادة لا يتعلق بها حق آدمي؛ فقبل فيها قول الواحد.
الثالث: أنه يكفي شهادة رجل عند الصوم وعند الإفطار.
وهو قول أبي ثور وابن حزم والشوكاني واستدلوا بحديث ابن عمر، وابن عباس المذكورين قريبًا، وقاسوا عليه شهادة الفطر، وقال بهذا القول الصنعاني أيضًا.
ورُجِّح القول الأول؛ لدلالة الأحاديث التي استدلوا بها؛ ولأنه هلال من الأَهِلَّة فلم يثبت إلا بشاهدين كسائر الأهلة؛ ولأنه إيجاب حق على الناس، فلم يجب إلا بشاهدين كسائر الحقوق؛ ولأن رواية الواحد معرضة للغلط، ولاسيما إن كان بين الناس والسماء مُصْحِية، وربما يتهم في ذلك، فلابدَّ من إزالة الشبهة باثنين.
এটি ইমাম আহমাদ, ইমাম শাফিঈর দুই মতের একটি এবং ইবনুল মুবারকের অভিমত।
তাঁরা সেই সকল হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা প্রথম মতাবলম্বীরা দলিল হিসেবে পেশ করেছিলেন।
তাঁরা বলেন: রোজা শুরুর বিষয়ের ক্ষেত্রে আবু দাউদ (২৩৪২) ইবনে উমর (রা.) থেকে একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মানুষ চাঁদ দেখার চেষ্টা করল, তখন আমি নবী (সা.)-কে সংবাদ দিলাম যে আমি তা দেখেছি। ফলে তিনি রোজা রাখলেন এবং (অন্যদেরও) রোজা রাখার নির্দেশ দিলেন। আর ইবনে উমর (রা.) থেকে এটি প্রমাণিত যে, তিনি চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে একজনের সাক্ষ্যকে বৈধতা দিয়েছেন, যেমনটি ‘তাহজীবুল আসার’ (২/৭৬২) মুসনাদ ইবনে আব্বাসে বর্ণিত হয়েছে।
আবু দাউদ (২৩৪০), নাসাঈ (২১১৩), তিরমিজি (৬৯১), ইবনে মাজাহ (১৬৫২) এবং অন্যান্যগণ সিমাক-এর সূত্রে ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একজন বেদুঈন নবী (সা.)-এর নিকট সাক্ষ্য দিল যে সে চাঁদ দেখেছে। তখন নবী (সা.) তার ইসলাম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর তার সাক্ষ্য গ্রহণ করলেন।
তাঁরা বলেন: এটি একটি ইবাদত সংক্রান্ত সংবাদ যার সাথে মানুষের হকের কোনো সম্পর্ক নেই; তাই এতে একজনের কথা গ্রহণ করা হয়েছে।
তৃতীয় মত: রোজা এবং ইফতার (ঈদ) উভয় ক্ষেত্রেই একজনের সাক্ষ্য যথেষ্ট।
এটি আবু সাওর, ইবনে হাজম এবং শাওকানির অভিমত। তাঁরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাসের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে রোজা ভঙ্গের (ঈদের) সাক্ষ্যকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সানআানিও এই মত ব্যক্ত করেছেন।
তবে প্রথম মতটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে; কারণ তাঁদের পেশকৃত হাদিসসমূহের প্রমাণ বলিষ্ঠ; আর যেহেতু এটি অন্যান্য চাঁদের মতোই একটি চাঁদ, তাই অন্য সকল চাঁদের মতো দুইজন সাক্ষী ছাড়া এটি প্রমাণিত হয় না। তদুপরি এটি মানুষের ওপর একটি হক (অধিকার বা দায়িত্ব) আবশ্যক করে, তাই অন্যান্য হকের মতো দুইজন সাক্ষী ছাড়া এটি সাব্যস্ত হয় না। এছাড়া একজনের বর্ণনা (رواية) ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, বিশেষ করে যখন আকাশ মেঘমুক্ত থাকে। এমতাবস্থায় সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে, তাই দুইজনের মাধ্যমে সেই সন্দেহ দূর করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد أجيب عن أدلة القول الثاني بأن حديث ابن عباس رضي الله عنهما الراجح أنه من مراسيل عكرمة كما جزم بذلك النسائي، والترمذي، وأبو داود.
انظر "نصب الراية" (2/ 443)، و"التلخيص الحبير" (2/ 358)، و"الإرواء" (613).
وأما حديث ابن عمر رضي الله عنهما، فليس فيه أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بالصيام؛ لشهادة ابن عمر وحده، بل يحتمل أنه قد شهد غيره عند النبي صلى الله عليه وسلم.
وأما قولهم: (إنه إخبار بعبادة لا يتعلق بها حق الآدميين) فلا يسلم هذا؛ فإنه يتعلق بهذا الهلال سائر حقوق الآدميين من الآجال، والإجارات، والطلاق، والعِتَاق، وغير ذلك.
وقد أجيب عن أدلة القول الأول:
بأن أدلتهم لا تدل على ما استدلوا به إلا بطريق المفهوم، وحديث ابن عمر رضي الله عنهما منطوق؛ فَيُقَدَّم عليه.
قال ابن القيم رحمه الله في "الطرق الحكمية" (ص 146): ولا يقوى ما يتوهم من عموم المفهوم على معارضة هذين الخبرين -يعني حديث ابن عمر، وابن عباس رضي الله عنهم.
قال: وأصول الشرع تشهد للاكتفاء بقول الواحد؛ فإنَّ ذلك خبر عن دخول وقت الصيام، فاكتُفي فيه الشاهد الواحد، كالإخبار عن دخول وقت الصلاة بالأذان، ولا فرق بينهما. اهـ
وقال شيخ الإسلام رحمه الله: المفهوم عارضه نصٌّ، والمنطوق مقدم على المفهوم؛
দ্বিতীয় মতের দলীলসমূহের ব্যাপারে উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসটির ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য (الراجح) বিষয় হলো এটি ইকরামা-এর মুরসাল (مراسيل) হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি নাসাঈ, তিরমিযী এবং আবু দাউদ নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন।
দেখুন "নাসবুর রায়াহ" (২/ ৪৪৩), "আত-তালখিসুল হাবির" (২/ ৩৫৮), এবং "আল-ইরওয়া" (৬১৩)।
আর ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের ব্যাপারে বক্তব্য হলো, এতে এমন কিছু নেই যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল ইবনে উমরের একার সাক্ষ্যের (شهادة) ভিত্তিতেই সিয়ামের আদেশ দিয়েছিলেন; বরং এটি হওয়ার সম্ভাবনা (يحتمل) রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট অন্য কেউও সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
আর তাদের এই কথা: (এটি এমন একটি ইবাদতের সংবাদ যাতে মানুষের অধিকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই), এটি সঠিক হিসেবে গ্রহণ করা যায় না; কারণ এই চাঁদ দেখার সাথে মানুষের অপরাপর সকল অধিকার যেমন—ঋণের মেয়াদ, ইজারা, তালাক, দাসমুক্তি এবং অন্যান্য বিষয়াদি সংশ্লিষ্ট।
প্রথম মতের দলীলসমূহের ব্যাপারেও উত্তর দেওয়া হয়েছে:
তাদের দলীলসমূহ মাফহুম (المفهوم) বা পরোক্ষ অর্থের মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনোভাবে উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে না, পক্ষান্তরে ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসটি মানতুক (منطوق) বা প্রত্যক্ষ অর্থবোধক; সুতরাং একেই তার ওপর অগ্রাধিকার (يقدم) প্রদান করা হবে।
ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) "আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ" (পৃ. ১৪৬) গ্রন্থে বলেন: মাফহুমের (المفهوم) সাধারণ অর্থ থেকে যা ধারণা করা হয়, তা এই দুটি খবরের (الخبرين) —অর্থাৎ ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাদিসের— বিরোধিতার বিপরীতে শক্তিশালী নয়।
তিনি বলেন: শরীয়তের মূলনীতিসমূহ (أصول) একজনের বক্তব্যে সন্তুষ্ট থাকার সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়; কারণ এটি সিয়ামের সময় শুরু হওয়ার সংবাদ (خبر), তাই এতে একজন সাক্ষীর (الشاهد) সংবাদকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে, যেমন আযানের মাধ্যমে সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সংবাদ দেওয়া হয়; আর এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সমাপ্ত।
শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মাফহুম (المفهوم) তথা পরোক্ষ অর্থের বিপরীতে এখানে নাস (نص) তথা অকাট্য পাঠ বিদ্যমান রয়েছে, আর মানতুক (المنطوق) তথা প্রত্যক্ষ অর্থ মাফহুমের (المفهوم) ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য (مقدم);
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فإن المفهوم أحسن أحواله أن يكون كالعام مع الخاص، وكالقياس مع النص، وهذا يترك من غير نسخ، والنص لا يترك إلا بناسخ. انتهى المراد من "شرح الصيام" (1/ 147).
والراجح -والله أعلم- هو القول الثاني، وبالله التوفيق.
انظر: "نيل الأوطار" (4/ 187)، "المحلى" رقم (757)، "كتاب الصيام" (1/ 135)، "سبل السلام" (4/ 111 - 112)، "شرح المهذب" (6/ 282).
مسألة: من رأى الهلال وحده هل يلزمه الصوم والفطر؟
في هذه المسألة ثلاثة مذاهب:
الأول: أنه يلزمه الصوم والفطر - أعني الصوم إذا رآه في أول الشهر، والفطر إذا رآه في آخر الشهر- ويفطر سرًا، وهو مذهب الشافعي، والحسن بن حي، ورواية عن أحمد، ورجحه ابن حزم؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «صوموا لرؤيته، وأفطروا لرؤيته»، فهذا قد تيقن أنَّ رمضان قد دخل أو قد خرج فوجب عليه العمل به.
الثاني: أنه يصوم ولا يفطر، وهو المشهور عن أحمد، ومالك، وأبي حنيفة، واستدلوا بما استدل به الفريق الأول، وقالوا: لا يفطر؛ احتياطًا لرمضان.
الثالث: يصوم مع الناس، ويفطر مع الناس، وهو مذهب الشعبي، والحسن، وابن سيرين، ورواية عن أحمد، ورجح ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية، والشيخ ابن باز، والشيخ الألباني رحمة الله عليهم.
واستدلوا بحديث أبي هريرة رضي الله عنه، مرفوعًا: «صومكم يوم تصومون،
কারণ ব্যঞ্জনাধর্মী অর্থের (مفهوم) সর্বোত্তম অবস্থা হলো এটি সাধারণ (عام) এবং বিশেষ (خاص)-এর সম্পর্কের মতো হওয়া, অথবা অনুমাননির্ভর সাদৃশ্য (قياس) এবং অকাট্য পাঠের (نص) সম্পর্কের মতো হওয়া। আর এটি রহিতকরণ (نسخ) ছাড়াই পরিত্যাগ করা যায়, কিন্তু অকাট্য পাঠ (نص) কোনো রহিতকারী (ناسخ) ছাড়া বর্জন করা যায় না। 'শারহুস সিয়াম' (১/ ১৪৭) থেকে উদ্দিষ্ট অংশ সমাপ্ত।
আর অধিকতর গ্রহণযোগ্য (راجح) মত হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—দ্বিতীয় বক্তব্যটি। আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি।
দেখুন: 'নাইলুল আওতার' (৪/ ১৮৭), 'আল-মুহাল্লা' নম্বর (৭৫৭), 'কিতাবুস সিয়াম' (১/ ১৩৫), 'সুবুলুস সালাম' (৪/ ১১১ - ১১২), 'শারহুল মুহাযযাব' (৬/ ২৮২)।
মাসআলা: যে ব্যক্তি একাকী নতুন চাঁদ দেখল, তার ওপর কি রোজা রাখা ও রোজা ভঙ্গ করা আবশ্যক?
এই মাসআলায় তিনটি মাযহাব রয়েছে:
প্রথমটি: তার ওপর রোজা রাখা ও রোজা ভঙ্গ করা উভয়ই আবশ্যক—অর্থাৎ মাসের শুরুতে দেখলে রোজা রাখা এবং মাসের শেষে দেখলে রোজা ভঙ্গ করা—এবং সে গোপনে রোজা ভঙ্গ করবে। এটি ইমাম শাফিঈ, হাসান ইবনে হাই-এর মত এবং ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা। ইবনে হাজম একেই প্রাধান্য দিয়েছেন; নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: «তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো», কেননা এই ব্যক্তি নিশ্চিত হয়েছে যে রমজান প্রবেশ করেছে অথবা শেষ হয়েছে, ফলে এর ওপর আমল করা তার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
দ্বিতীয়টি: সে রোজা রাখবে কিন্তু রোজা ভঙ্গ করবে না। এটি ইমাম আহমাদ, মালিক ও আবু হানিফার প্রসিদ্ধ মত। তারা প্রথম দলের ন্যায় একই দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন: রমজানের সতর্কতামূলক (احتياطًا) ব্যবস্থা হিসেবে সে রোজা ভঙ্গ করবে না।
তৃতীয়টি: সে মানুষের সাথে রোজা রাখবে এবং মানুষের সাথেই রোজা ভঙ্গ করবে। এটি শাবি, হাসান ও ইবনে সিরিনের মত এবং ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, শায়খ ইবনে বায এবং শায়খ আলবানী (রহিমাহুমুল্লাহ) একেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
তারা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত নবি পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: «তোমাদের রোজা ওই দিন, যে দিন তোমরা রোজা রাখো...»
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وفطركم يوم تفطرون»، أخرجه الترمذي (697)، وإسناده حسن.
وثبت عن أنس رضي الله عنه، أنه كره مخالفة الأمير، وصام معه قبل دخول الشهر. أخرجه أحمد كما في مسائل الفضل بن زياد، كما في "زاد المعاد" (2/ 43) بإسنادٍ حسنٍ.
والراجح -والله أعلم- القول الأول، وقد أجابوا عن هذا الحديث بِحَمْلِهِ على من لم يعلم خلاف ما عليه الناس، ولم يتيقن من رؤية الهلال كما ذكر ذلك الصنعاني رحمه الله في "سبل السلام"، والله أعلم.
انظر: "مجموع الفتاوى" (25/ 114 - 118)، "المغني" (3/ 47)، "التمهيد" (7/ 158 - 159)، "سبل السلام" (3/ 217 - 218)، "المحلى" (757)، "كتاب الصيام" (1/ 154)، "الشرح الممتع" (6/ 328 - 330).
مسألة: إذا أخبره من يثق بقوله أنه رأى الهلال، فهل يصوم أم يفطر؟
قطع جماعة من الشافعية، والحنابلة أنه يلزمه الصوم وإن لم يثبت ذلك عند الحاكم؛ لأن رد الحاكم يجوز أن يكون لعدم علمه بالمُخْبر وحاله، ولا يتعين ذلك في عدم العدالة، وقد يجهل الحاكم عدالة من يعلم غيره عدالته.
انظر: "شرح المهذب" (6/ 277)، "المغني" (3/ 48)، "المحلى" (757).
مسألة: شهادة النساء للهلال؟
أما في هلال شوال: فقد قال أبو عمر بن عبد البر رحمه الله: أما الشهادة على رؤية الهلال، فأجمع العلماء على أنه لا تقبل في شهادة شوال في الفطر إلا رجلان
"এবং তোমাদের ইফতারের দিন হলো সেই দিন যেদিন তোমরা সকলে ইফতার করো।" এটি তিরমিজি (৬৯৭) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান (حسن)।
আনাস (রা.) থেকে প্রমাণিত যে, তিনি আমিরের বিরোধিতা করা অপছন্দ করতেন এবং মাস শুরু হওয়ার পূর্বেই আমিরের সাথে রোজা রেখেছিলেন। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন যেমনটি মাসায়েল আল-ফজল ইবনে জিয়াদ-এ রয়েছে এবং 'যাদুল মাআদ' (২/৪৩)-এ হাসান (حسن) সনদে বর্ণিত হয়েছে।
এবং অগ্রগণ্য (راجح) মত—আল্লাহই ভালো জানেন—প্রথমটি। তাঁরা এই হাদিসের উত্তর দিয়েছেন এভাবে যে, এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে মানুষের আমল ছাড়া ভিন্ন কিছু জানে না এবং চাঁদ দেখার বিষয়ে নিশ্চিত হয়নি, যেমনটি ইমাম সানআনী (রহ.) 'সুবুলুস সালাম'-এ উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞাত।
দেখুন: "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২৫/১১৪ - ১১৮), "আল-মুগনি" (৩/৪৭), "আত-তামহিদ" (৭/১৫৮ - ১৫৯), "সুবুলুস সালাম" (৩/২১৭ - ২১৮), "আল-মুহাল্লা" (৭৫৭), "কিতাবু সিয়াম" (১/১৫৪), "আশ-শারহুল মুমতি" (৬/৩২৮ - ৩৩০)।
মাসআলা: যাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) মনে করা হয় সে যদি তাকে সংবাদ দেয় যে সে চাঁদ দেখেছে, তবে সে কি রোজা রাখবে নাকি ইফতার করবে?
শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের একদল ফকিহ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, তার ওপর রোজা রাখা আবশ্যক, যদিও বিচারকের নিকট তা প্রমাণিত না হয়। কারণ বিচারক কর্তৃক তা প্রত্যাখ্যান করার কারণ সংবাদদাতার পরিচয় ও অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত হওয়া হতে পারে, তবে এটি সংবাদদাতার বিশ্বস্ততাহীনতা (عدم العدالة) বোঝায় না। কেননা কোনো ব্যক্তির বিশ্বস্ততা (عدالة) সম্পর্কে বিচারক অজ্ঞাত থাকলেও অন্য কেউ তা জানতে পারেন।
দেখুন: "শারহুল মুহাযযাব" (৬/২৭৭), "আল-মুগনি" (৩/৪৮), "আল-মুহাল্লা" (৭৫৭)।
মাসআলা: চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে নারীদের সাক্ষ্য?
শাওয়ালের চাঁদের ব্যাপারে আবু উমর ইবনে আব্দুল বার (রহ.) বলেছেন: চাঁদ দেখার সাক্ষ্যের বিষয়ে উলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, শাওয়ালের ইফতার বা ঈদের ক্ষেত্রে দুইজন পুরুষ ছাড়া অন্য কারো সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
عدلان. اهـ
قال ابن قدامة رحمه الله: ولا يقبل فيه شهادة رجل وامرأتين، ولا شهادة النساء مفردات وإن كَثُرْن، وكذلك سائر الشهور؛ لأنه مما يطلع عليه الرجال، وليس بمال، ولا يقصد به المال؛ فأشبه القصاص، وكان القياس يقتضي مثل ذلك في رمضان، ولكن تركناه احتياطًا للعبادة. اهـ
قلتُ: أما الإجماع الذي نقله ابن عبد البر فلا يصح؛ فقد خالف ابن حزم كما في "المحلى" وقبله أبو ثور ومال إليه ابن رُشْد، وهو اختيار شيخ الإسلام، والعلامة العثيمين، وهو الصحيح، وليس هناك دليل على تخصيص شهادة النساء بالأموال وبما لا يَطَّلع عليه الرجال غالبًا فحسب، والله أعلم.
انظر: "التمهيد" (7/ 157)، "المغني" (3/ 149)، "بداية المجتهد" (5/ 136)، "المحلى" (757).
وأما هلال رمضان: ففي ذلك خلاف مبني على أن الإخبار بدخول رمضان هل هو من باب الشهادة أم من باب الإخبار؟ ورُجِّح الأول بقول النبي صلى الله عليه وسلم: «فإن شهد شاهدان مسلمان؛ فصوموا وأفطروا»، وقد تقدم.
ولذلك فقد ذهب الشافعي في "الأم" وعليه أكثر الشافعية، وذهب إليه بعض الحنابلة أنه لا تقبل شهادتها؛ لأن هذا مما يطلع عليه الرجال، وليس بمال، ولا يقصد به المال، وهو مذهب الليث، وابن المَاجشون المالكي.
والمشهور عند الحنابلة وهو قول أبي حنيفة، وهو ترجيح ابن حزم أنه يعمل بقولها.
দুইজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدلان)। সমাপ্ত।
ইবনে কুদামা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এক্ষেত্রে একজন পুরুষ ও দুইজন নারীর সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করা হবে না, আর নারীদের একক সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করা হবে না যদিও তারা সংখ্যায় অনেক হয়। অন্যান্য মাসের ক্ষেত্রেও একই বিধান; কারণ এটি এমন একটি বিষয় যা পুরুষরা অবগত হতে পারে এবং এটি কোনো সম্পদ নয় কিংবা এর দ্বারা সম্পদ উদ্দেশ্য নয়; ফলে এটি কিসাসের সদৃশ। কিয়াস (قياس) অনুযায়ী রমজানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হওয়া আবশ্যক ছিল, কিন্তু ইবাদতের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলকভাবে আমরা তা পরিত্যাগ করেছি।" সমাপ্ত।
আমি বলছি: ইবনে আব্দিল বার যে সর্বসম্মত ঐক্য (إجماع)-এর কথা বর্ণনা করেছেন তা সঠিক (صحيح) নয়; কারণ ইবনে হাজম 'আল-মুহাল্লা' গ্রন্থে এর বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর পূর্বে আবু সাওরও এর বিরোধিতা করেছেন। ইবনে রুশদও এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন। আর এটিই শাইখুল ইসলাম ও আল্লামা উসাইমিনের পছন্দনীয় মত এবং এটিই সঠিক (صحيহ)। নারীদের সাক্ষ্যকে (شهادة) কেবল সম্পদ এবং সাধারণত পুরুষরা যা অবগত হতে পারে না—এমন বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট করার কোনো দলিল নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
দেখুন: "আত-তামহিদ" (৭/১৫৭), "আল-মুগনি" (৩/১৪৯), "বিদায়াতুল মুজতাহিদ" (৫/১৩৬), "আল-মুহাল্লা" (৭৫৭)।
আর রমজানের চাঁদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যার ভিত্তি হলো—রমজান শুরু হওয়ার সংবাদ প্রদান করা কি সাক্ষ্য (شهادة)-এর অন্তর্ভুক্ত নাকি সংবাদ (إخبار)-এর অন্তর্ভুক্ত? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে প্রথম মতটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: «যদি দুইজন মুসলিম প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য (شهد) দেয়, তবে তোমরা রোজা রাখো এবং রোজা ভঙ্গ করো», এটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
এজন্য ইমাম শাফিঈ 'আল-উম্ম' গ্রন্থে এই মত পোষণ করেছেন এবং অধিকাংশ শাফিঈ আলেম এর ওপর রয়েছেন। কতিপয় হাম্বলি আলেমও এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, তাদের সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করা হবে না; কারণ এটি এমন বিষয় যা পুরুষরা অবগত হতে পারে এবং এটি সম্পদ নয় কিংবা এর দ্বারা সম্পদ উদ্দেশ্য নয়। এটি লাইস এবং মালিকি মাযহাবের ইবনে মাজিশুনেরও অভিমত।
হাম্বলি মাযহাবের প্রসিদ্ধ (مشهور) মত এবং ইমাম আবু হানিফার বক্তব্য এটিই, আর ইবনে হাজমও এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, তাদের কথা অনুযায়ী আমল করা হবে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والراجح -والله أعلم-: هو قبول شهادة النساء في ذلك؛ لأن الراجح كما في "باب الشهادات" أن الشهادة مقبولة في غير الحدود، وهو اختيار شيخ الإسلام والعلامة العثيمين رحمه الله.
وهذا على التسليم بأنها شهادة، وإلا فالأظهر أن ذلك خبر ديني كما اختاره شيخ الإسلام وابن القيم، ويؤيده قبول النبي صلى الله عليه وسلم لشهادة ابن عمر رضي الله عنهما، وهو واحدٌ كما تقدم.
انظر: "المجموع" (6/ 277)، "المغني" (3/ 48)، "كتاب الصيام" (1/ 145)، "تفسير القرطبي" سورة البقرة [آية 281]، "المجموع" (6/ 284).
مسألة: شهادة الصبي المميز الموثوق بخبره؟
قال الإمام النووي رحمه الله: وأما الصبي المميز الموثوق بخبره فلا يقبل قوله إن شرطنا اثنين أو قلنا شهادة، وهذا لا خلاف فيه، وإن قلنا روايةً فطريقان: الأول: المذهب، وبه قطع الجمهور: لايقبل قطعًا. والثاني: فيه وجهان، بناء على الوجهين المشهورين في قبول روايته، إن قبلناها قُبِل هذا، وإلا فلا، وبهذا الطريق قطع إمام الحرمين. انتهى من "شرح المهذب" (6/ 277).
ومذهب الحنفية، والأصح عند الحنابلة عدم العمل بشهادته.
قلتُ: والراجح عدم قبول قوله؛ لأنه غير مكلف، ولا يوصف بالعدالة قبل التكليف. "الموسوعة الفقهية الكويتية" (19/ 16)، و"الإنصاف" (3/ 195).
এবং অগ্রগণ্য মত (الراجح) —আর আল্লাহই ভালো জানেন— হলো এই ক্ষেত্রে নারীদের সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করা; কারণ 'সাক্ষ্য অধ্যায়'-এ যেমন বর্ণিত হয়েছে, হুদুদ (শাস্তি) ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে নারীদের সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণযোগ্য হওয়াটাই অগ্রগণ্য মত (الراجح)। আর এটিই শায়খুল ইসলাম এবং আল্লামা উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর মনোনীত মত।
আর এটি তখনই কার্যকর হবে যদি একে সাক্ষ্য (شهادة) হিসেবে মেনে নেওয়া হয়, অন্যথায় অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) মত হলো এটি একটি দ্বীনি সংবাদ (خبر ديني), যেমনটি শায়খুল ইসলাম এবং ইবনুল কাইয়্যিম গ্রহণ করেছেন। ইতিপূর্বে যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি একাই ছিলেন —এই বিষয়টি এই মতকে সমর্থন করে।
দেখুন: 'আল-মাজমু' (৬/২৭৭), 'আল-মুগনি' (৩/৪৮), 'কিতাবুসি সিয়াম' (১/১৪৫), 'তাফসিরে কুরতুবি' সূরা আল-বাকারাহ [আয়াত ২৮১], 'আল-মাজমু' (৬/২৮৪)।
মাসআলা: যার সংবাদের ওপর আস্থা রাখা যায় এমন বিচক্ষণ শিশুর (الصبي المميز) সাক্ষ্য (شهادة)?ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আর যার সংবাদের ওপর আস্থা রাখা যায় এমন বিচক্ষণ শিশুর (الصبي المميز) কথা গ্রহণযোগ্য হবে না যদি আমরা দুইজন (সাক্ষী) হওয়ার শর্তারোপ করি অথবা আমরা একে সাক্ষ্য (شهادة) বলি, এবং এই বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। আর যদি আমরা একে বর্ণনা (رواية) হিসেবে গণ্য করি, তবে এক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি (طريقان) রয়েছে: প্রথমত: মাযহাবের সিদ্ধান্ত (المذهب), এবং জুমহুর (الجمهور) উলামাগণ একে অকাট্যভাবে গ্রহণ করেছেন যে, তা নিশ্চিতভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্বিতীয়ত: এতে দুটি অভিমত (وجهان) রয়েছে, যা তার বর্ণনা (رواية) কবুল করার ক্ষেত্রে দুটি প্রসিদ্ধ অভিমতের (الوجهين المشهورين) ওপর ভিত্তি করে। যদি আমরা তা কবুল করি তবে এটিও কবুল করা হবে, অন্যথায় নয়। আর ইমামুল হারামাইন এই পদ্ধতিটিই (الطريق) অকাট্যভাবে বর্ণনা করেছেন। 'শারহুল মুহাজ্জাব' (৬/২৭৭) হতে সমাপ্ত।
হানাফি মাযহাব এবং হাম্বলি মাযহাবের অধিকতর বিশুদ্ধ (الأصح) মত অনুযায়ী তার সাক্ষ্য (شهادة) অনুযায়ী আমল করা হবে না।
আমি বলছি: অগ্রগণ্য মত (الراجح) হলো তার কথা কবুল না করা; কারণ সে শরয়ি দায়িত্বশীল (مكلف) নয়, আর দায়িত্বশীল হওয়ার পূর্বে কাউকে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) গুনে গুণান্বিত করা যায় না। 'আল-মাওসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ' (১৯/১৬) এবং 'আল-ইনসাফ' (৩/১৯৫)।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مسألة: شهادة الكافر، والفاسق، والمغفل؟
قال الإمام النووي رحمه الله: لا يُقبل قولهم فيه بلا خلاف. انتهى من "شرح المهذب" (6/ 277).
مسألة: إذا أصبح الرجل مُفْطِرًا يعتقد أنه من شعبان، ثم قامت البَيِّنة أن اليوم من رمضان، وأن الهلال قد أُهلَّ بالأمس؟
في هذه المسألة أقوال:
الأول: أنه لا يصوم، وليس عليه القضاء، وهو قول داود، والظاهرية إلا ابن حزم؛ لأنه لم يدرك زمن صوم ذلك اليوم من أوله.
الثاني: أنه يأكل بقية يومه ثم يقضيه، وهذا القول مروي عن عطاء.
الثالث: أنه يمسك فيه عما يمسك الصائم ولا يجزئه وعليه قضاؤه، وهو قول أحمد، ومالك، والشافعي، والجمهور؛ لأنه لم يصم يومًا كاملًا.
الرابع: أنه يمسك، ولا يجزئه، وعليه قضاؤه إن أكل، أو علم بعد الزوال أكل أو لم يأكل، وهو قول أبي حنيفة.
الخامس: أنه يصوم يومه ويجزئه، وهو قول عمر بن عبدالعزيز، وابن حزم، وشيخ الإسلام ابن تيمية، والشوكاني.
واستدلوا بحديث سلمة بن الأكوع، والرُّبيِّع بنت مُعوذ، وغيرهما من الصحابة رضي الله عنهم، في صيام يوم عاشوراء، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من أصبح صائما
মাসআলা: কাফির, পাপিষ্ঠ (فاسق) এবং অসতর্ক (مغفل) ব্যক্তির সাক্ষ্য؟
ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তাদের কথা এতে কোনো মতভেদ ছাড়াই গ্রহণযোগ্য নয়। "শারহুল মুহাযযাব" (৬/২৭৭) থেকে সমাপ্ত।
মাসআলা: যদি কোনো ব্যক্তি সকালে রোজা না রাখা (مفطر) অবস্থায় এই বিশ্বাস করেন যে দিনটি শাবান মাসের, অতঃপর প্রমাণ (بينة) প্রতিষ্ঠিত হয় যে দিনটি রমজানের এবং গত রাতেই চাঁদ দেখা গিয়েছিল؟
এই মাসআলায় একাধিক অভিমত রয়েছে:
প্রথম: তিনি রোজা রাখবেন না এবং তার ওপর কাজা (قضاء) করাও আবশ্যক নয়। এটি দাউদ এবং ইবনে হাজম ব্যতীত সকল যাহিরিপন্থীদের অভিমত; কারণ তিনি সেই দিনের রোজার সময়টি শুরু থেকে পাননি।
দ্বিতীয়: তিনি দিনের অবশিষ্টাংশ আহার করবেন এবং পরবর্তীতে তার কাজা (قضاء) করবেন। এই অভিমতটি আতা থেকে বর্ণিত।
তৃতীয়: তিনি সেই দিনে রোজা পালনকারীর ন্যায় পানাহার থেকে বিরত থাকবেন, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট (مجزئ) হবে না এবং তার ওপর কাজা (قضاء) করা আবশ্যক। এটি আহমাদ, মালিক, শাফেয়ি এবং জমহুর (جمهور) ফকিহগণের অভিমত; কারণ তিনি পূর্ণ একদিন রোজা রাখেননি।
চতুর্থ: তিনি বিরত থাকবেন, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট (مجزئ) হবে না এবং তার ওপর কাজা (قضاء) করা আবশ্যক হবে যদি তিনি আহার করে থাকেন, অথবা সূর্য ঢলে যাওয়ার (زوال) পর যদি তিনি জানতে পারেন—চাই তিনি আহার করে থাকুন বা না থাকুন। এটি আবু হানিফার অভিমত।
পঞ্চম: তিনি সেই দিন রোজা পালন করবেন এবং এটিই তার জন্য যথেষ্ট (مجزئ) হবে। এটি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, ইবনে হাজম, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং শাওকানির অভিমত।
তারা সালামাহ ইবনুল আকওয়া, রুবাইয়্যি বিনতে মুআউওয়ায এবং অন্যান্য সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত আশুরার রোজা সম্পর্কিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সকালে রোজা না রাখা অবস্থায় (مفطر) অতিবাহিত করল..."
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল আনাম বি-আহকামি ওয়া মাসাইলিস সিয়াম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فليتم صومه، ومن أصبح مفطرًا فليتم بقية يومه».
(1)وهذا القول هو الصحيح، وهو ظاهر ترجيح صديق بن حسن رحمه الله في "الروضة الندية".
قال ابن حزم رحمه الله: فلا يخلو هذا الإمساك الذي أمروه به من أن يكون صائمًا ويجزئه -وَهُم لا يقولون بهذا- أو لا يكون صومًا ولا يجزئه؛ فمن أين وقع لهم أن يأمروه بعمل يتعب فيه ويتكلفه ولا يجزئه؟! وأيضًا: فإنه لا يخلو من أن يكون مفطرًا، أو صائمًا؛ فإن كان صائمًا فَلِمَ يقضيه إذن؟ فيصوم يومين، وليس عليه إلا واحد، وإن كان مفطرًا فَلِمَ أمروه بعمل الصوم؟! وهذا عجب جدًّا، وحسبنا الله ونعم الوكيل. اهـ
قال أبو عبد الله رحمه الله: هذا القول هو الصحيح، والأحوط أن يقضي يومًا كما قال الجمهور، وبالله التوفيق.
انظر: "المغني" (3/ 33)، "المجموع" (6/ 271)، "المحلى" (4/ 293 - 294) (729)، "الإنصاف" (3/ 254).
مسألة: إذا لم يعلم بالرؤية إلا بعد غروب الشمس؟
ذهب الجمهور إلى أنه يلزمه القضاء، وذهب شيخ الإسلام، وابن حزم إلى أنه لا قضاء عليه.
قال ابن حزم رحمه الله: وأما من لم يعلم بوجوب صوم ذلك اليوم عليه إلا بعد
--------------------------------------------
«...সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে, আর যে ব্যক্তি সকালে ইফতার (রোজাহীন) অবস্থায় ছিল সে যেন দিনের বাকি অংশ পূর্ণ করে।»
(১)আর এই মতটিই সঠিক (الصحيح), এবং এটিই সিদ্দিক বিন হাসান (রহিমাহুল্লাহ)-এর "আর-রওদাতুন নাদিয়্যাহ" গ্রন্থে মত প্রদানের ক্ষেত্রে প্রকাশমান।
ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: তারা তাকে যে বিরত থাকার (ইমসাক) আদেশ দিয়েছেন, তা হয় সে রোজা পালনকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তার জন্য যথেষ্ট হবে—অথচ তারা নিজেরাও এ কথা বলেন না—অথবা এটি রোজা হবে না এবং তার জন্য যথেষ্টও হবে না। তবে তারা কোথা থেকে এমন কাজের আদেশ দেওয়ার সুযোগ পেলেন যাতে সে কষ্ট করবে এবং শ্রম দেবে অথচ তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না?! এছাড়াও, সে হয়তো ইফতারকারী (রোজাহীন) হবে নতুবা রোজা পালনকারী হবে। যদি সে রোজা পালনকারী হয়, তবে কেন সে এর কাজা করবে? ফলে সে দুটি রোজা পালন করল, অথচ তার ওপর মাত্র একটি ওয়াজিব ছিল। আর যদি সে ইফতারকারী হয়, তবে কেন তারা তাকে রোজার কাজ করার আদেশ দিলেন?! এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর বিষয়, আর আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সমাপ্ত।
আবু আব্দুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই মতটিই সঠিক (الصحيح), তবে অধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হলো একটি রোজা কাজা করা যেমনটি জমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরাম বলেছেন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তৌফিক আসে।
দেখুন: "আল-মুগনি" (৩/ ৩৩), "আল-মাজমু" (৬/ ২৭১), "আল-মুহাল্লা" (৪/ ২৯৩ - ২৯৪) (৭২৯), "আল-ইনসাফ" (৩/ ২৫৪)।
মাসআলা: যদি সূর্যাস্তের আগে চাঁদ দেখার খবর না পায় তবে কী হবে?জমহুর (الجمهور) ওলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করেছেন যে তার ওপর কাজা করা আবশ্যক, আর শায়খুল ইসলাম এবং ইবনে হাজম এই মত পোষণ করেছেন যে তার ওপর কোনো কাজা নেই।
ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আর যার কাছে সেই দিনের রোজা ওয়াজিব হওয়ার সংবাদ পৌঁছেনি যতক্ষণ না...
--------------------------------------------