(খণ্ড: ১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
الرق في الجاهلية والإسلام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الرق في الجاهلية والإسلام
المؤلف: إبراهيم محمد حسن الجمل
الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাহিলিয়াত ও ইসলামে দাসত্ব বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: জাহিলিয়াত ও ইসলামে দাসত্ব
গ্রন্থকার: ইব্রাহিম মুহাম্মদ হাসান আল-জামাল
প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড নম্বর হলো সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
الرق في الجاهلية والإسلام
للشيخ إبراهيم محمد حسن الجمل
هل في الإسلام رق؟
الإسلام لا يبيح أن يسترق مسلم مسلما مهما كانت الدوافع العدائية بينهما، فالمسلم المولود من أبوين حرين لا يجوز استرقاقه في أي حال من الأحوال، فالاسترقاق لا يجوز بين أهل الدين الواحد، بل لقد جاء في القرآن الكريم النهي عن مقاتلة المسلمين بعضهم بعضا.
يقول المولى سبحانه وتعالى: {وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ فَإِنْ فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} (الحجرات الآية 9) .
وكذلك لا يبيح الإسلام للمسلمين استرقاق أهل الكتاب الذين يعيشون بينهم والذين أمنّهم على أنفسهم وأهلهم وأموالهم.
وكذلك الذين ليس لهم كتاب كعبدة الأوثان، والذين لم نحاربهم فالصحيح أن استرقاقهم لا يجوز مطلقا.
ولقد أغلق الإسلام كل أبواب الرق التي كان السابقون يتخذونها ذريعة إلى الاستعباد والتحكم الأعمى في رقاب بني آدم الذين كرمهم الله وفضلهم على جميع المخلوقات وأَحل لهم الطيبات وجعل فيها رزقهم: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلاً} (الإسراء الآية 70)
জাহেলিয়াত ও ইসলামে দাসপ্রথা
শায়খ ইবরাহিম মুহাম্মদ হাসান আল-জামাল
ইসলামে কি দাসপ্রথা আছে?ইসলাম কোনো মুসলমানের পক্ষে অন্য কোনো মুসলমানকে দাস বানানো বৈধ করে না, তাদের মধ্যে শত্রুতার কারণ যাই হোক না কেন। স্বাধীন পিতামাতার ঘরে জন্ম নেওয়া একজন মুসলমানকে কোনো অবস্থাতেই দাসে পরিণত করা জায়েজ নয়। একই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে দাসপ্রথা অনুমোদিত নয়; বরং পবিত্র কুরআনে মুমিনদের একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
মহান প্রভু সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: “যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের একদল অন্য দলের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তবে তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা আল্লাহর আদেশের দিকে ফিরে আসে। যদি তারা ফিরে আসে, তবে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়বিচারের সাথে মীমাংসা করো এবং ইনসাফ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।” (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ৯)।
তেমনিভাবে ইসলাম মুসলমানদের জন্য তাদের মধ্যে বসবাসকারী আহলে কিতাবদের দাস বানানো বৈধ করে না, যাদের জান, পরিবার ও মালের নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে।
একইভাবে যাদের কোনো কিতাব নেই, যেমন মূর্তিপূজক, যাদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করিনি; সঠিক অভিমত হলো তাদের দাস বানানো একেবারেই জায়েজ নয়।
ইসলাম দাসপ্রথার সেই সমস্ত পথ বন্ধ করে দিয়েছে, যা পূর্ববর্তীরা আদম সন্তানদের দাস বানানো এবং তাদের ওপর অন্ধ আধিপত্য বিস্তারের অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করত; অথচ আল্লাহ আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছেন এবং অন্য সকল সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেছেন এবং তাতে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করেছেন: “আর আমি তো আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি এবং তাদের স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দিয়েছি এবং তাদের উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি এবং আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।” (সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৭০)
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
فلا أسر بدون حرب، ولا نهب للناس، ولا استعباد بالدَّيْن أو المراهنة أو القوة أو الاستحسان.
ولقد حاول الإسلام جهده أن يلغي ذلك النظام ويحول دون انتشار الرق بشتى الوسائل فقد قال فقهاء الإسلام:
"إن كل من أسلم قبل الأسر في الحروب بين المسلمين وغير المسلمين عصم نفسه وماله وإن مجرد دخول العدو المحارب دار الإسلام أمان له من السبي وإذن فالرق الموجود في الإسلام إنما يكون في حالة واحدة هي الحرب التي شرعها الإسلام لحماية الدعوة والدفاع عن أنفس المسلمين كما جاء في قوله تعالى: {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ، الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَاّ أَنْ يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ وَلَوْلا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيراً وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ، الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الأُمُورِ} (الحج الآيات 39- 41) .
فهذه الآيات تفيد ما يأتي:
أولا: أن تشريع القتال في الإسلام إنما كان لحماية الدعوة، وحماية المؤمنين المضطهدين فهو دفاع لا هجوم ووسيلة لغاية شريفة.
ثانيا: أن القتال من هذا النوع هو من باب ما يقال (القتل أنفى للقتل) فالمراد به هو استقرار السلام وضمان الحريات العامة، فالحرب التي يقوم بها المسلمون لحماية دعوتهم تستوجب ظهور الإيمان ونصرة العقيدة، بدون إكراه لغيرهم، فلقد كانت بيوت العبادة لليهود وللنصارى قائمة بجانب المساجد وكانت هناك دائما حرية العبادة للجميع.
ثالثا: أن الغاية من حرب الإسلام هي أن يتمكن المسلمون من إقامة شعائر الدين بكل حرية ويأمروا بالمعروف وينهوا عن المنكر.
ومعنى ذلك أن يتحقق وجود العالم الأفضل الذي أراده الله لعباده وتستأصل الرذائل والشرور من هذه الأرض 1.
فإذا قامت الحرب واشتدت وتعرض الطرفان للقتل والأسر فماذا سيصنع الأعداء بأسرى المسلمين؟
--------------------------------------------
যুদ্ধ ব্যতিরেকে কোনো বন্দিত্ব নেই, মানুষের কোনো লুণ্ঠন নেই, আর ঋণ, জুয়া, জোরজবরদস্তি বা খেয়ালখুশিমতো দাস বানানো নেই।
ইসলাম তার সাধ্যমতো সেই প্রথা বিলুপ্ত করতে এবং নানা উপায়ে দাসপ্রথা বিস্তার রোধ করতে সচেষ্ট হয়েছে। ইসলামের ফকিহগণ বলেছেন:
"মুসলিম ও অমুসলিমদের যুদ্ধের ময়দানে বন্দি হওয়ার আগে যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে, সে নিজের জান ও মাল নিরাপদ করে নেয়। আর শত্রু যোদ্ধার কেবল ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশ করাই তাকে বন্দি হওয়া থেকে নিরাপত্তা দান করে। সুতরাং ইসলামে অনুমোদিত দাসত্ব কেবল একটি বিশেষ ক্ষেত্রেই হতে পারে, আর তা হলো সেই যুদ্ধ যা ইসলাম দাওয়াত রক্ষা এবং মুসলিমদের আত্মরক্ষার জন্য বিধিবদ্ধ করেছে। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে তাদেরকে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তারা নির্যাতিত। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম। যারা তাদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত হয়েছে কেবল এই কারণে যে, তারা বলে—আমাদের রব আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে বিধ্বস্ত হয়ে যেত সন্ন্যাসীদের মঠ, গির্জা, উপাসনালয় ও মসজিদসমূহ—যেখানে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আর আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সাহায্য করবেন যে তাঁকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিশালী ও পরাক্রমশালী। তারা এমন লোক যাদেরকে আমি জমিনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহর হাতে।} (সূরা আল-হজ: ৩৯-৪১)।
এই আয়াতসমূহ থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো প্রতিভাত হয়:
প্রথমত: ইসলামে যুদ্ধের বিধান কেবল দাওয়াতের সুরক্ষা এবং নির্যাতিত মুমিনদের রক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে। সুতরাং এটি আক্রমণ নয় বরং আত্মরক্ষা এবং এক মহান উদ্দেশ্য সাধনের মাধ্যম।
দ্বিতীয়ত: এই জাতীয় যুদ্ধ সেই নীতির অন্তর্ভুক্ত যাকে বলা হয় (হত্যাই হত্যাকে অধিকতর রোধ করে)। এর উদ্দেশ্য হলো শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। মুসলিমরা তাদের দাওয়াত রক্ষার জন্য যে যুদ্ধ পরিচালনা করে, তাতে অন্যকে বাধ্য না করেই ঈমানের প্রকাশ এবং আকিদার বিজয় আবশ্যক হয়ে পড়ে। ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টানদের উপাসনালয়গুলো মসজিদের পাশেই দণ্ডায়মান ছিল এবং সেখানে সর্বদা সকলের জন্য ইবাদতের স্বাধীনতা ছিল।
তৃতীয়ত: ইসলামে যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মুসলিমরা যেন পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে দ্বীনের নিদর্শনসমূহ কায়েম করতে পারে এবং সৎকাজের আদেশ ও মন্দকাজের নিষেধ করতে পারে।
এর অর্থ হলো, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে উন্নত বিশ্বের ইচ্ছা করেছেন তা বাস্তবায়ন করা এবং এই জমিন থেকে সকল পাপাচার ও অনিষ্ট নির্মূল করা। ১
অতঃপর যদি যুদ্ধ শুরু হয় ও তীব্রতর হয় এবং উভয় পক্ষ হত্যা ও বন্দিত্বের সম্মুখীন হয়, তবে শত্রুরা মুসলিম যুদ্ধবন্দিদের সাথে কী আচরণ করবে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
لا شك في أنهم سيأخذونهم رقيقا عندهم. فهل يطلق المسلمون الحرية لأسرى أعدائهم بينما المسلمون الأسرى هم عبيد لغيرهم يباعون ويشترون؟.
لذلك نجد الإسلام جعل هذه الحالة ضرورة وقتية تزول بزوال أسبابها ودوافعها.
وجعل أيضا معاملة العدو بمثل معاملته، وحيث أنه لم تكن هناك قوانين عامة تحمي أسرى الحرب من الاسترقاق، فليس هناك وسيلة للضغط على العدو من أجل تحسين معاملة الأسرى الذين يقعون في يده ومحاولة استخلاصهم من الرق.
والإسلام لم يوجب هذا الاسترقاق الذي جاء عن طريق الحرب، بل أباح الخيار بين أن يقبل الفداء من أسرى العدو أو يمن عليهم بإطلاق سراحهم بدون فداء، وهذا ما صرحت به الآية الكريمة. فقال تعالى: {حَتَّى إِذَا أَثْخَنْتُمُوهُمْ فَشُدُّوا الْوَثَاقَ فَإِمَّا مَنّاً بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً حَتَّى تَضَعَ الْحَرْبُ أَوْزَارَهَا} (محمد الآية 4) .
ولقد تأسى الخلفاء الراشدون والصالحون من بعدهم بما جاء به القرآن الكريم وما فعله الرسول الأمين، فكثيرا ما كانوا يمنون على الأعداء المقاتلين بالفداء أو بدونه ويتركونهم ابتغاء وجه الله وكثيرا ما كانت هذه المعاملة الحسنة تأسر قلوبهم.
ولقد وجدنا البطل المغوار صلاح الدين الأيوبي قائد الحروب ضد الصليبيين يطلق آلاف الأسرى من أعداء الإسلام الذين أتوا من أوروبا يقصدون الاستيلاء على البلاد وإهلاك العباد والذين هاجموا بلاد المسلمين وكبدوها من الخسائر في النفوس والأموال الكثير 1.
ولن ينس التاريخ ما فعله الرسول الأعظم بأسرى غزوة بدر فقد جعل المفاداة لهم بالمال أو بأسرى مسلمين أو بالقيام بعمل شريف نبيل كتعليم العلم فقد جعل الرسول صلى الله عليه وسلم فداء كل أسير تعليم عشرة من صبيان المسلمين القراءة والكتابة.
وتغنى شعراء المسلمين بالمن على الأسرى وإطلاق سراحهم وجعله من أكرم الصفات وأنبل الأفعال إذ يقول شاعرهم:
ولا نقتل الأسرى ولكن نفكهم
… إذا أثقل الأعناق حمل المغارم
--------------------------------------------
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা তাদের কাছে এদের দাস হিসেবে গ্রহণ করবে। এমতাবস্থায় মুসলিমরা কি তাদের শত্রু যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি দেবে, যেখানে বন্দী মুসলিমরা অন্যদের কাছে দাস হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং তাদের কেনাবেচা করা হচ্ছে?
এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে ইসলাম এই অবস্থাকে একটি সাময়িক প্রয়োজন হিসেবে গণ্য করেছে, যা এর কারণ ও উদ্দেশ্য বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে শেষ হয়ে যায়।
এটি শত্রুর সাথে অনুরূপ আচরণের নীতিও গ্রহণ করেছে; যেহেতু তখন যুদ্ধবন্দীদের দাসত্ব থেকে রক্ষা করার জন্য কোনো সাধারণ আইন ছিল না, তাই শত্রুর হাতে পড়া বন্দীদের সাথে ভালো আচরণ নিশ্চিত করার এবং তাদের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার জন্য শত্রুর ওপর চাপ সৃষ্টি করার আর কোনো উপায় ছিল না।
আর ইসলাম যুদ্ধের মাধ্যমে আসা এই দাসত্বকে আবশ্যক করেনি, বরং শত্রু বন্দীদের কাছ থেকে মুক্তিপণ গ্রহণ করা অথবা তাদের প্রতি অনুগ্রহ করে বিনা মুক্তিপণে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ রেখেছে। পবিত্র আয়াতে এটিই স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন: "অবশেষে যখন তোমরা তাদের সম্পূর্ণরূপে পরাস্ত করবে, তখন তোমরা তাদের শক্ত করে বেঁধে ফেলবে। এরপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ করবে অথবা মুক্তিপণ গ্রহণ করবে, যতক্ষণ না যুদ্ধ তার যুদ্ধের সরঞ্জাম নামিয়ে ফেলে।" (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত ৪)।
খুলাফায়ে রাশেদিন এবং তাদের পরবর্তী সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ পবিত্র কুরআন এবং বিশ্বস্ত রাসূলের আদর্শ অনুসরণ করেছেন; তারা প্রায়ই যুদ্ধরত শত্রুদের প্রতি অনুগ্রহ করে মুক্তিপণসহ বা মুক্তিপণ ছাড়াই তাদের আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ছেড়ে দিতেন এবং প্রায়ই এই সুন্দর আচরণ তাদের অন্তর জয় করে নিত।
আমরা দেখেছি অকুতোভয় বীর সালাহউদ্দিন আইয়ুবীকে, যিনি ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সেনাপতি ছিলেন, তিনি ইসলামের শত্রু ইউরোপ থেকে আসা হাজার হাজার বন্দীকে মুক্তি দিয়েছিলেন। সেই শত্রুরা দেশ দখল এবং আল্লাহর বান্দাদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এসেছিল এবং যারা মুসলিম ভূখণ্ডে আক্রমণ চালিয়ে জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছিল। ১।
বদর যুদ্ধের বন্দীদের সাথে মহান রাসূল যা করেছিলেন তা ইতিহাস কখনো ভুলবে না। তিনি তাদের জন্য অর্থের বিনিময়ে, অথবা মুসলিম বন্দীদের বিনিময়ে, অথবা শিক্ষা প্রদানের মতো কোনো মহৎ কাজের মাধ্যমে মুক্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতিটি বন্দীর মুক্তিপণ হিসেবে দশজন মুসলিম বালককে পড়তে ও লিখতে শেখানো নির্ধারণ করেছিলেন।
মুসলিম কবিরা বন্দীদের প্রতি অনুগ্রহ এবং তাদের মুক্তি দেওয়াকে অত্যন্ত সম্মানিত গুণ এবং মহৎ কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের একজন কবি বলেন:
আমরা বন্দীদের হত্যা করি না বরং তাদের মুক্ত করে দিই
… যখন ঋণের বোঝা তাদের গর্দানকে ভারী করে তোলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
الإسلام يدعو لتحرير الرقيق:اعتبر الإسلام الرق عارضا حتى قال العقاد رحمه الله: "شرع الإسلام العتق ولم يشرع الرق؛ إذ كان الرق مشروعا قبل الإسلام في القوانين الوضعية والدينية بجميع أنواعه: رق الأسر في الحروب، ورق السبي في غارات القبائل بعضها على بعض، ورق الاستدانة أو الوفاء بالدين" 1 وغير ذلك مما كان القوم يستحدثونه.
ولهذا شرع الإسلام وسائل كثيرة إن حصل رق في حرب وذلك مساعدة للأرقاء على استرداد حريتهم، واستقلالهم، فأوصى الله سبحانه وتعالى بالأرقاء وبالدعوة إلى إطلاق سراحهم. وكما أوصد الإسلام كل أبواب الرق المحرمة فإنه فتح أبواب التحرير على مصاريعها لأنه يدعو إلى الحرية ورفع نير الاستعباد والاضطهاد وإزالة كل وسائل الامتهان والاحتقار والسخرية والازدراء، وبهذا ألغى جميع صور ومصادر الرق الأخرى المبنية على الظلم والجور والحيف والتعسف واعتبرها محرمة شرعا لا تحل بحال.
دعا الإسلام إلى مكاتبة الأرقاء، وندب إلى إعتاقهم وحث على ذلك فقال تعالى في كتابه العزيز: {وَالَّذِينَ يَبْتَغُونَ الْكِتَابَ مِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْراً وَآتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ} (النور الآية 33) .
ومما ورد في سبب نزولها ما أخرجه ابن السكن في معرفة الصحابة عن عبد الله بن صبيح عن أبيه قال: "كنت مملوكا لحويطب بن عبد العزى فسألته الكتاب فأبى فنزلت الآية" 2.
بل لقد نهى الشرع الحكيم عن استخدام الرقيق فيما حرم الله: {وَلا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّناً لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} (النور الآية 33) .
ومما ورد في سبب نزول هذه الآية ما روي عن ابن عباس بسند صحيح قال: " كانت لعبد الله بن أبيّ جارية تزني في الجاهلية فلما حُرّم الزنا قالت: لا والله لا أزني أبدا فنزلت" 3.
وجعل الشرع الحكيم وسائل فردية تحرى فيها الإسلام العتق وتعجيل فكاك الأسرى ومن ذلك جعله العتق كفارة عن كثير من الذنوب كالقتل الخطأ فقال تعالى: {وَمَنْ قَتَلَ
--------------------------------------------
ইসলাম দাসমুক্তির আহ্বান জানায়:ইসলাম দাসপ্রথাকে একটি আপতিক বিষয় হিসেবে গণ্য করেছে, এমনকি আল-আক্কাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইসলাম দাসমুক্তির বিধান প্রবর্তন করেছে এবং দাসত্বের বিধান প্রবর্তন করেনি; কারণ ইসলামের পূর্বে প্রচলিত মানবরচিত ও ধর্মীয় আইনসমূহে সকল প্রকার দাসত্বই বৈধ ছিল: যুদ্ধে বন্দিত্বের মাধ্যমে দাসত্ব, এক গোত্র কর্তৃক অন্য গোত্রের উপর অতর্কিত আক্রমণের ফলে দাসত্ব এবং ঋণ গ্রহণ বা ঋণ পরিশোধের দায়ে দাসত্ব।" ১ এবং এ ছাড়া অন্যান্য উপায় যা সেই জাতি উদ্ভাবন করত।
আর একারণেই ইসলাম যুদ্ধে দাসত্ব সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক উপায় নির্দিষ্ট করেছে, যাতে দাসদের স্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করা যায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা দাসদের ব্যাপারে এবং তাদের মুক্ত করার আহ্বানের ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। ইসলাম যেমন দাসত্বের সকল নিষিদ্ধ পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে, তেমনি মুক্তির সকল দরজা প্রশস্ত করে দিয়েছে। কারণ ইসলাম স্বাধীনতার দিকে আহ্বান জানায় এবং দাসত্ব ও নিপীড়নের জোয়াল অপসারণ এবং অবমাননা, তুচ্ছজ্ঞান, উপহাস ও ঘৃণার সকল উপায় দূর করার আহ্বান জানায়। এভাবে ইসলাম জুলুম, অবিচার, অন্যায় ও জবরদস্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দাসত্বের অন্যান্য সকল রূপ ও উৎসকে বিলুপ্ত করেছে এবং সেগুলোকে শরয়িভাবে হারাম হিসেবে গণ্য করেছে যা কোনো অবস্থাতেই হালাল নয়।
ইসলাম দাসদের সাথে মুক্তিপণ চুক্তির (মুকাতাবা) দিকে আহ্বান জানিয়েছে এবং তাদের মুক্ত করার বিষয়ে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর মহান কিতাবে বলেন: {তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে যারা মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চায়, তাদের সাথে চুক্তি করো যদি তোমরা তাদের মাঝে কল্যাণ দেখতে পাও। আর আল্লাহ তোমাদেরকে যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তাদের দান করো} (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩৩)।
এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইবনে আস-সাকান 'মা‘রিফাতুস সাহাবা' গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে সবিহ হতে এবং তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি হুওয়াইতিব ইবনে আবদুল উযযার দাস ছিলাম। আমি তার কাছে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মুক্তির আবেদন জানালাম কিন্তু সে অস্বীকার করল, তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।" ২।
অধিকন্তু প্রজ্ঞাময় শরিয়ত দাসদের আল্লাহর হারামকৃত কাজে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছে: {তোমাদের দাসীরা সতীত্ব রক্ষা করতে চাইলে দুনিয়ার জীবনের ধন-সম্পদ লাভের আশায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে বাধ্য করো না} (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩৩)।
এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের এক দাসী ছিল যে জাহেলি যুগে ব্যভিচার করত। যখন ব্যভিচার হারাম করা হলো তখন সে বলল: না, আল্লাহর কসম! আমি আর কখনোই ব্যভিচার করব না। তখন এই আয়াতটি নাযিল হয়।" ৩।
প্রজ্ঞাময় শরিয়ত ব্যক্তিগত কিছু মাধ্যম নির্ধারণ করেছে যার মাধ্যমে ইসলাম দাসমুক্তি ও বন্দিদের দ্রুত মুক্তির চেষ্টা করেছে। এরই অংশ হিসেবে ইসলাম অনেক পাপের কাফফারা হিসেবে দাসমুক্তিকে নির্ধারণ করেছে, যেমন ভুলবশত হত্যা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: {এবং যে ব্যক্তি হত্যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
مُؤْمِناً خَطَأً فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ إِلَاّ أَنْ يَصَّدَّقُوا فَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ عَدُوٍّ لَكُمْ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ وَإِنْ كَانَ مِنْ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ مِيثَاقٌ فَدِيَةٌ مُسَلَّمَةٌ إِلَى أَهْلِهِ وَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مُؤْمِنَةٍ} (النساء الآية 93) .
فمما ورد في سبب نزول هذه الآية أن الحارث بن يزيد من بني عامر بن لؤي كان يعذب عياش بن أبي ربيعة مع أبي جهل ثم خرج الحارث مهاجرا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فلقيه عياش بالحرة فعلاه بالسيف وهو يحسب أنه كافر ثم جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فأخبره فنزلت الآية.1.
كذلك إذا حنث المسلم بيمينه فإن كفارته أيضا عتق رقبة قال تعالى: {لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ} (المائدة الآية89) .
وكذلك الذين يظاهرون من نسائهم ثم يعودون لما قالوا فتحرير رقبة من قبل أن يتماسا قال تعالى: {وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا} (المجادلة الآية3) .
روت عائشة قالت: "تبارك الله الذي وسع سمعه كل شيء، إني لأسمع كلام خولة بنت ثعلبة، ويخفى عليّ بعضه وهي تشتكي زوجها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتقول: يا رسول الله أكل شبابي ونثرت له بطني حتى إذا كبرت سني وانقطع ولدي ظاهر مني اللهم إني أشكو إليك فما برحت حتى نزل جبريل بهؤلاء الآيات {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا} " 2.
أيضا يحسب من الرذائل المأخوذة على الإنسان السيئ أنه لا يقتحم هذه العقبة أو لا ينهض بهذه الفدية المؤكدة، إنها سبيل إلى رحمة الله، وطريق إلا جنته: {فَلا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ. وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ. فَكُّ رَقَبَةٍ أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ. يَتِيماً ذَا مَقْرَبَةٍ. أَوْ مِسْكِيناً ذَا مَتْرَبَةٍ} (البلد الآيات 11- 15)
وأيضا فقد جعل الشرع الحكيم للإعتاق بابا من أبواب الزكاة، وقسمها سبحانه وتعالى بنفسه وجعل فيها سهما مفروضا لتحرير الرقاب.
--------------------------------------------
...একজন মুমিনকে ভুলবশত হত্যা করলে একজন মুমিন দাস মুক্ত করা এবং তার পরিজনদের নিকট রক্তপণ সমর্পণ করা আবশ্যক, যদি না তারা তা সদকা (ক্ষমা) করে দেয়। আর যদি সে তোমাদের শত্রু কওমের লোক হয় এবং সে মুমিন হয়, তবে একজন মুমিন দাস মুক্ত করা আবশ্যক। আর যদি সে এমন কওমের হয় যাদের সাথে তোমাদের চুক্তি রয়েছে, তবে তার পরিজনদের নিকট রক্তপণ সমর্পণ করা এবং একজন মুমিন দাস মুক্ত করা আবশ্যক। (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৯৩)।
এই আয়াতের শানে নুযূল প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো—বনু আমির ইবনে লুআই গোত্রের হারিস ইবনে ইয়াযিদ আবু জেহেলের সাথে মিলে আয়্যাশ ইবনে আবি রাবিআহকে নির্যাতন করত। পরবর্তীতে হারিস হিজরত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসার উদ্দেশ্যে বের হলো। হাররা নামক স্থানে আয়্যাশের সাথে তার দেখা হলে তিনি তাকে কাফের মনে করে তরবারি দ্বারা আঘাত করে হত্যা করেন। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বিষয়টি অবহিত করলে এই আয়াতটি নাযিল হয়। ১।
অনুরূপভাবে, কোনো মুসলিম যদি তার কসম ভঙ্গ করে, তবে তার কাফফারা হিসেবেও দাস মুক্ত করতে হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমাদের নিরর্থক কসমের জন্য আল্লাহ তোমাদের পাকড়াও করবেন না; কিন্তু যে কসম তোমরা দৃঢ়ভাবে করো, তার জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন। এর কাফফারা হলো দশজন মিসকীনকে মধ্যম মানের খাদ্য দান করা যা তোমরা তোমাদের পরিবারকে খাইয়ে থাকো, অথবা তাদের বস্ত্রদান করা কিংবা একজন দাস মুক্ত করা। আর যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন রোজা রাখবে। এটিই তোমাদের কসমের কাফফারা যখন তোমরা কসম করবে।" (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৮৯)।
অনুরূপভাবে, যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে এবং পরে তাদের উক্তি হতে ফিরে আসতে চায়, তবে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একজন দাস মুক্ত করা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে যিহার করে এবং পরে তাদের উক্তি হতে ফিরে আসতে চায়, তবে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একজন দাস মুক্ত করা আবশ্যক।" (সূরা আল-মুজাদিলা, আয়াত ৩)।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "বরকতময় সেই আল্লাহ যাঁর শ্রবণশক্তি প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। আমি খাওলা বিনতে সা'লাবার কথা শুনছিলাম, যার কিছু অংশ আমার কাছে অস্পষ্ট ছিল; অথচ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তার স্বামীর বিষয়ে অভিযোগ করছিল এবং বলছিল: হে আল্লাহর রাসূল! সে আমার যৌবন নিঃশেষ করেছে এবং আমার গর্ভ তার জন্য উজাড় করে দিয়েছি, অবশেষে যখন আমি বৃদ্ধা হলাম এবং আমার সন্তান হওয়া বন্ধ হলো, তখন সে আমার সাথে যিহার করল। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অভিযোগ করছি। তিনি সেই স্থান ত্যাগ করার পূর্বেই জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এই আয়াতগুলো নিয়ে অবতীর্ণ হলেন: 'অবশ্যই আল্লাহ সেই মহিলার কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল'।" ২।
এছাড়াও কোনো পাপাচারী মানুষের দোষগুলোর মধ্যে এটিও গণ্য করা হয় যে, সে এই দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করে না অথবা এই সুনিশ্চিত মুক্তিপণের দায়িত্ব পালন করে না। এটি আল্লাহর রহমতের পথ এবং তাঁর জান্নাতে যাওয়ার রাস্তা: "কিন্তু সে তো দুর্গম গিরিপথে প্রবেশ করেনি। আপনি কি জানেন সেই দুর্গম গিরিপথ কী? তা হলো দাস মুক্ত করা, অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান করা—নিকটাত্মীয় এতিমকে অথবা ধূলিধূসরিত মিসকীনকে।" (সূরা আল-বালাদ, আয়াত ১১-১৫)।
তাছাড়া প্রজ্ঞাময় শরিয়ত দাস মুক্তির বিষয়টিকে জাকাতের একটি খাত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বয়ং এটি বণ্টন করেছেন এবং এতে দাস মুক্ত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অংশ ধার্য করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
قال تعالى: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} (التوبة الآية 60) .
ففي الرقاب إنما يكون العتق.
وبجانب القرآن نجد السنة توضح وتبين أسبابا للعتق فمن أوجب على نفسه تحرير رقبة بالنذر وجب عليه الوفاء به متى تحقق له مقصوده وتم له مراده.
قال صلى الله عليه وسلم: "من نذر أن يطيع الله فليطعه، ومن نذر أن يعصي الله فلا يعصه".
كذلك من أعتق نصيبه من مملوك عتق عليه كله بالسراية وسلَّم قيمته لشركائه إن كان موسرا، فعن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: "من أعتق شقصا من مملوك فعليه خلاصه كله في ماله فإن لم يكن له مال قوم المملوك قيمة عدل ثم استسعى العبد غير مشقوق عليه".
وكذلك من ملك ذا رحم محرم عليه كأبيه وأخيه وعمه وخاله، وأمه وعمته وخالته عتق عليه قهرا لقوله صلى الله عليه وسلم: "من ملك ذا رحم محرم فهو حر" رواه أهل السنن.
أيضا من جرح مملوكه عتق عليه، فقد جاء في الحديث: أن رجلا جدع أنف غلامه فقال صلى الله عليه وسلم: "اذهب فأنت حر" فقال: يا رسول الله فمولى من أنا؟ قال صلى الله عليه وسلم: "مولى الله ورسوله".
وأيضا التدبير وهو تعليق عتق الرقيق بموت مالكه روى جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: "دبر رجل من الأنصار غلاما له وفى لفظ بلغ النبي صلى الله عليه وسلم أن رجلا من أصحابه أعتق غلاما له عن دبر لم يكن له مال غيره فباعه رسول الله صلى الله عليه وسلم بثمانمائة درهم ثم أرسل بثمنه إليه".
وإذا وطئ حر أمته فأتت منه بولد صارت أم ولد له تعتق بموته لحديث ابن عباس يرفعه: "من وطئ أمته فولدت فهي معتقة عن دبر عنه" رواه أحمد وابن ماجه.
القول يتبعه العمل:
لقد ضرب لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم المثل لنقتدي به فكثيرا ما كان يحث الصحابة على حسن معاملة الرقيق وهي القلة الباقية ثم حضهم على العتق والحرية.
فعن واصل الأحدب قال: سمعت المعمور بن سويد قال: "رأيت أبا ذر الغفاري وعليه حلة وعلى غلامه حلة فسألناه عن ذلك فقال: ساببت رجلا فشكاني إلى رسول الله صلى الله
মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই সদকা (যাকাত) হলো ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তির ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরয। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।" (আত-তাওবা, আয়াত ৬০)।
সুতরাং দাসমুক্তির খাতেই কেবল গোলাম আযাদ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
কুরআনের পাশাপাশি আমরা সুন্নাহকেও দাসমুক্তির বিভিন্ন কারণ ব্যাখ্যা ও বর্ণনা করতে দেখি। সুতরাং যে ব্যক্তি মানতের মাধ্যমে কোনো দাস মুক্ত করা নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়, তার লক্ষ্য অর্জিত হলে এবং কাঙ্ক্ষিত বিষয় সফল হলে সেই মানত পূরণ করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানি করার মানত করে, সে যেন তাঁর নাফরমানি না করে।"
একইভাবে, কেউ যদি কোনো দাসের মধ্য থেকে নিজের অংশ আযাদ করে দেয়, তবে 'সারায়াহ' (সংক্রমণ) নীতির ভিত্তিতে পুরো দাসটিই তার পক্ষ থেকে আযাদ হয়ে যাবে এবং সে সচ্ছল হলে তার অংশীদারদের দাসের ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করে দেবে। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো দাসের একটি অংশ আযাদ করে দেবে, তবে তার নিজস্ব সম্পদ থেকে পুরো দাসটিকে মুক্ত করা তার দায়িত্ব। যদি তার কাছে সম্পদ না থাকে, তবে সেই দাসের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং দাসটিকে কষ্ট না দিয়ে তার মুক্তির জন্য উপার্জনের শ্রম দিতে বলা হবে।"
তদ্রূপ, কেউ যদি তার এমন কোনো আত্মীয়ের মালিক হয় যার সাথে বিবাহ হারাম (মাহরাম)—যেমন তার পিতা, ভাই, চাচা, মামা এবং মা, ফুফু ও খালা—তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে সে বাধ্যতামূলকভাবে মুক্ত হয়ে যাবে: "যে ব্যক্তি কোনো মাহরাম আত্মীয়ের মালিক হবে, সে স্বাধীন।" (সুনান গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন)।
তদতিরিক্ত, কেউ যদি তার দাসকে আঘাত বা জখম করে, তবে তাকে আযাদ করে দিতে হবে। হাদিসে এসেছে যে, এক ব্যক্তি তার গোলামের নাক কেটে ফেলেছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যাও, তুমি স্বাধীন।" সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কার মাওলা (মুক্ত দাস) হিসেবে গণ্য হব? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মাওলা।"
আরও রয়েছে 'তাদবীর', যা হলো দাসের মুক্তিকে মালিকের মৃত্যুর সাথে ঝুলিয়ে রাখা। জাবির বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আনসারদের এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে মুদাব্বার (মৃত্যুর পর আযাদ হওয়ার ঘোষণা) করেছিল।" অন্য বর্ণনায় আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে খবর পৌঁছাল যে, তাঁর সাহাবীদের মধ্যে এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে তার মৃত্যুর পর আযাদ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অথচ তার কাছে এটি ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি আটশত দিরহামে বিক্রি করলেন এবং সেই অর্থ তার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
আর যদি কোনো স্বাধীন ব্যক্তি তার দাসীর সাথে সহবাস করে এবং তার মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তবে সে 'উম্মে ওয়ালাদ' (সন্তানের জননী) হয়ে যাবে এবং মালিকের মৃত্যুর পর সে মুক্ত হয়ে যাবে। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত মারফু হাদিস অনুযায়ী: "যে ব্যক্তি তার দাসীর সাথে সহবাস করল এবং সে সন্তান প্রসব করল, তবে সে মালিকের মৃত্যুর পর আযাদ বলে গণ্য হবে।" (আহমদ ও ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন)।
কথার অনুগামী কর্ম:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য আদর্শ স্থাপন করেছেন যাতে আমরা তাঁর অনুসরণ করি। তিনি প্রায়শই সাহাবায়ে কেরামকে দাসদের সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিতেন (যারা সেই সময়ের অবশিষ্ট সংখ্যালঘু ছিল) এবং অতঃপর তাদের আযাদ ও স্বাধীন করার জন্য উৎসাহিত করতেন।
ওয়াসিল আল-আহদাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মা'মুর ইবনে সুয়াইদকে বলতে শুনেছি: "আমি আবু যর আল-গিফারিকে দেখলাম, তাঁর পরনে এক জোড়া পোশাক (হুল্লা) এবং তাঁর গোলামের পরনেও এক জোড়া একই রকম পোশাক। আমরা তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম, ফলে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল..."
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
عليه وسلم فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم: أعيرته بأمه؟! ثم قال: إخوانكم خولكم جعلهم الله تحت أيديكم فمن كان أخوه تحت يده فليطعمه مما يأكل وليلبسه مما يلبس ولا تكلفوهم ما يغلبهم فإن كلفتموهم ما يغلبهم فأعينوهم".
وقال صلى الله عليه وسلم: "إذا أتى أحدكم خادمه بطعامه فإن لم يجلسه معه فليناوله لقمة أو لقمتين أو أكلة أو أكلتين
… ".
وعن ابن مسعود قال: "بينما أنا أضرب غلاما لي إذ سمعت صوتا من خلفي: إعلم يا ابن مسعود مرتين فالتفت فإذا رسول الله صلى الله عليه وسلم فألقيت السوط من يدي فقال: والله لَلّه أقدر عليك منك على هذا".
وبلغ من رحمة رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه كان لا يطيق أحدا أن يقول: كان عبدي وأمتي وأنه أمر المسلمين أن يكفوا عن ذلك، وأن يقولوا فتاي وفتاتي.
وكان لهذه التربية أحسن الأثر في تحرير الأرقاء ونشر المساواة بين المسلمين.
وروي عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى رجلا على دابة وغلامه يسعى خلفه فقال: "يا عبد الله احمله خلفك فإنما هو أخوك روحه مثل روحك فحمله".
وروي عن ابن عباس رضي الله عنهما عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "أيما مؤمن أعتق مؤمنا في الدنيا أعتق الله تعالى بكل عضو منه عضوا من النار".
وعن واثلة بن الأسقع رضي الله عنه قال: "أتينا رسول الله صلى الله عليه وسلم في صاحب لنا قد أوجب، فقال صلى الله عليه وسلم: اعتقوا عنه يعتق الله تعالى بكل عضو منه عضوا من النار".
وعن البراء بن عازب رضي الله عنه قال: "جاء أعرابي إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله علمني عملا يدخلني الجنة فقال صلى الله عليه وسلم: اعتق النسمة، وفك الرقبة فقال: أو ليسا واحدا؟ قال صلى الله عليه وسلم: لا، عتق النسمة أن تنفرد بعتقها، وفك الرقبة: أن تعين على فكاكها".
ولعل ما عبر عنه القرآن الكريم في سورة البلد فيه خير كثير، فقد منّ الله على عباده بالنعم التي أنعم بها عليهم فقال سبحانه وتعالى: {أَلَمْ نَجْعَلْ لَهُ عَيْنَيْنِ. وَلِسَاناً وَشَفَتَيْنِ. وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ} ثم قال بعد ذلك جل وعلا: {فَلا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ. وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ. فَكُّ رَقَبَةٍ أَوْ إِطْعَامٌ فِي يَوْمٍ ذِي مَسْغَبَةٍ. يَتِيماً ذَا مَقْرَبَةٍ. أَوْ مِسْكِيناً ذَا مَتْرَبَةٍ} (البلد الآيات 11- 16) .
...এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: "তুমি কি তাকে তার মায়ের নামে লজ্জিত করলে?! এরপর তিনি বললেন: "তোমাদের খাদেমগণ তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদের তোমাদের হাতের অধীনে দিয়েছেন। অতএব যার ভাই তার অধীনে রয়েছে, সে যেন তাকে তা-ই খাওয়ায় যা সে নিজে খায় এবং তা-ই পরিধান করায় যা সে নিজে পরিধান করে। তাদের ওপর এমন কোনো কাজ চাপিয়ে দিও না যা তাদের সাধ্যের বাইরে; আর যদি তাদের ওপর এমন কোনো কাজ চাপিয়ে দাও যা তাদের সাধ্যাতীত, তবে তোমরা নিজেরা তাদের সাহায্য করো।"
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "তোমাদের কারো খাদেম যখন তার জন্য খাবার নিয়ে আসে, তখন সে যদি তাকে নিজের সাথে বসিয়ে না নেয়, তবে সে যেন তাকে এক লোকমা বা দুই লোকমা অথবা এক গ্রাস বা দুই গ্রাস খাবার দেয়
… "।
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একদা আমি আমার এক গোলামকে প্রহার করছিলাম, তখন পেছন থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলাম: 'হে ইবনে মাসউদ, জেনে রেখো' - কথাটি দুইবার বলা হলো। আমি তাকিয়ে দেখি তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমি তখন আমার হাত থেকে চাবুকটি ফেলে দিলাম। এরপর তিনি বললেন: 'আল্লাহর কসম, তুমি এই গোলামের ওপর যতটুকু ক্ষমতা রাখো, আল্লাহ তোমার ওপর তার চেয়েও বেশি ক্ষমতা রাখেন'।"
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রহমত ও দয়া এতোটাই ছিল যে, কেউ 'আমার দাস' বা 'আমার দাসী' বলা তিনি সহ্য করতে পারতেন না। তিনি মুসলমানদেরকে এ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদেরকে 'আমার কিশোর' বা 'আমার কিশোরী' বলার আদেশ দিয়েছিলেন।
এই শিক্ষার ফলে দাসদের মুক্তি এবং মুসলমানদের মধ্যে সাম্য প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত চমৎকার প্রভাব পড়েছিল।
আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক ব্যক্তিকে একটি পশুর ওপর সওয়ার হতে দেখলেন এবং তার গোলাম তার পেছনে দৌড়াচ্ছিল। তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর বান্দা, তাকে তোমার পেছনে সওয়ার করে নাও, কারণ সে তো তোমার ভাই, তার প্রাণ তোমার প্রাণের মতোই।" তখন ওই ব্যক্তি তাকে সওয়ার করে নিলেন।
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "যে মুমিন দুনিয়াতে কোনো মুমিনকে মুক্ত করবে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে মুক্তকারীর প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।"
ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা আমাদের এক সঙ্গীর ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলাম যে (পাপের কারণে জাহান্নাম) অবধারিত করে ফেলেছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তার পক্ষ থেকে একজন দাস মুক্ত করো, আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে ওই ব্যক্তির প্রতিটি অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন'।"
বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এক গ্রাম্য লোক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে এমন একটি আমল শিক্ষা দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'প্রাণ মুক্ত করো এবং দাসত্ব থেকে ঘাড় মুক্ত করো'। তখন সে বলল: এ দুটো কি একই বিষয় নয়? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'না, প্রাণ মুক্ত করার অর্থ হলো তুমি একাকী তাকে মুক্তি দেবে, আর ঘাড় মুক্ত করার অর্থ হলো তার মুক্তির জন্য অন্যকে সাহায্য করবে'।"
সম্ভবতঃ পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বালাদে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে প্রভূত কল্যাণ নিহিত আছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর অর্পিত নিয়ামতরাজির কথা উল্লেখ করে বলেন: {আমি কি তাকে দুটি চোখ দেইনি? এবং একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট? আর আমি তাকে দুটি পথ প্রদর্শন করেছি।} এরপর মহান আল্লাহ বলেন: {কিন্তু সে তো বন্ধুর গিরিপথে প্রবেশ করেনি। আর কিসে তোমাকে জানাবে যে বন্ধুর গিরিপথটি কী? তা হলো দাসমুক্ত করা। অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে খাদ্যদান করা; নিকটাত্মীয় এতিমকে অথবা ধূলিধূসরিত মিসকিনকে।} (সূরা আল-বালাদ, আয়াত ১১-১৬)।
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯০)
ولقد ضرب لنا الصحابة المثل الأعلى في معاملة أرقائهم، فساووهم بأنفسهم بل أحيانا كان يفضل الواحد منهم عبده على نفسه.
فقد روي أن عليّ بن أبي طالب رضي الله عنه قال: "إني لأستحي أن أستعبد إنسانا يقول ربي الله".
ومما روي عن علي أنه أعطى غلاما دراهم ليشتري بها ثوبين متفاوتي القيمة، فلما أحضرهما أعطاه أَرقهما نسيجا وأغلاهما قيمة وحفظ لنفسه الآخر وقال له: "أنت أحق مني بأجودهما لأنك شاب وتميل نفسك للتجمل أما أنا فقد كبرت".
ولقد عني الإسلام بنفسية الأسير والرقيق عناية خاصة فقال سبحانه وتعالى يطيب خاطرهم ويفتح باب الأمل في المغفرة وحسن الجزاء {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِمَنْ فِي أَيْدِيكُمْ مِنَ الأَسْرَى إِنْ يَعْلَمِ اللَّهُ فِي قُلُوبِكُمْ خَيْراً يُؤْتِكُمْ خَيْراً مِمَّا أُخِذَ مِنْكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (الأنفال الآية 70) .
ولقد أثنى على الإسلام ومعاملته للرقيق كثير من المنصفين من الأوروبيين والمستشرقين، فقد وصف المستشرق (فان دنبرغ) معاملة الإسلام للرقيق في هذه العبارة: "لقد وضع للرقيق في الإسلام قواعد كثيرة تدل على ما كان ينطوي عليه محمد وأتباعه نحوهم من الشعور الإنساني النبيل ففيها تجد من محامد الإسلام ما يناقض كل المناقضة الأساليب التي كانت تتخذها إلى عهد قريب شعوب تدعي أنها تسير في طليعة الحضارة".
نعم إن الإسلام لم يلغ الرق الذي كان شائعا في العالم، ولكنه عمل على كثير من إصلاح حاله، وأبقى حكم الأسير ولكنه أمر بالرفق.
يقول جوستاف لوبون: "إن الرق عند المسلمين غيره عند النصارى فيما مضى، وإن حالة الأرقاء في الشرق أفضل من حال الخدم في أوروبا، فالأرقاء يؤلفون جزءاً من الأسرة ويستطيعون الزواج ببنات سادتهم أحيانا- أي بعد أن يُعتقوا- ويقدرون أن يتسنموا أعلى الرتب، وفى الشرق لا يرون في الرقيق عارا، والرقيق فيه أكثر صلة لسيده من الأجير في بلادنا" 1.
لماذا لم يبدأ الإسلام بإلغاء الرق؟
إن الإسلام قد وضع الأساس الأول لإلغاء الرقيق منذ خمسة عشر قرنا من الزمن، ولم يحاول أن يلغيه كما يقولون: بجرة قلم؛ لأن الإسلام دين إصلاح لا هدم، ولو دعا إلى
--------------------------------------------
সাহাবীগণ তাঁদের দাসদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য এক সর্বোচ্চ আদর্শ স্থাপন করেছেন। তাঁরা তাঁদেরকে নিজেদের সমান করে নিয়েছিলেন, এমনকি কখনো কখনো তাঁদের কেউ কেউ নিজের দাসের প্রয়োজনকে নিজের ওপর প্রাধান্য দিতেন।
বর্ণিত আছে যে, আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) বলতেন: "আমি এমন একজন মানুষকে দাস বানিয়ে রাখতে লজ্জা বোধ করি যে বলে: আমার রব আল্লাহ।"
আলীর (রা.) ব্যাপারে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর এক ভৃত্যকে দুটি ভিন্ন মূল্যের পোশাক কেনার জন্য কিছু দিরহাম দিয়েছিলেন। যখন সে সেগুলো নিয়ে এল, তিনি তাকে উন্নত বুনন এবং অধিক মূল্যের পোশাকটি দিয়ে দিলেন এবং নিজের জন্য অন্যটি রাখলেন। তিনি তাকে বললেন: "উন্নত পোশাকটির হকদার আমার চেয়ে তুমিই বেশি, কারণ তুমি যুবক এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত হওয়ার প্রতি তোমার ঝোঁক আছে, আর আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি।"
ইসলাম যুদ্ধবন্দী ও দাসদের মানসিক অবস্থার প্রতি বিশেষ যত্নশীল হয়েছে। তাই মহান আল্লাহ তাদের মন তুষ্ট করতে এবং ক্ষমা ও উত্তম প্রতিদানের আশার দ্বার উন্মুক্ত করতে বলেছেন: "হে নবী, তোমাদের অধিকারে থাকা যুদ্ধবন্দীদের বলো, যদি আল্লাহ তোমাদের অন্তরে কোনো কল্যাণ দেখেন, তবে তোমাদের কাছ থেকে যা নেওয়া হয়েছে তার চেয়ে উত্তম কিছু তিনি তোমাদের দান করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন; আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (আল-আনফাল: ৭০)।
ইউরোপীয় ও প্রাচ্যবিদদের মধ্যে অনেক ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি ইসলাম এবং দাসদের প্রতি এর আচরণের প্রশংসা করেছেন। প্রাচ্যবিদ (ভ্যান ডেনবার্গ) ইসলামে দাসদের প্রতি আচরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে এই বাক্যটি ব্যবহার করেছেন: "ইসলামে দাসদের জন্য এমন অনেক নিয়ম কানুন নির্ধারণ করা হয়েছে যা দাসদের প্রতি মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের সুমহান মানবিক অনুভূতির প্রমাণ দেয়। এর মধ্যে আপনি ইসলামের এমন সব প্রশংসনীয় দিক খুঁজে পাবেন যা সেই সব জাতির অনুসৃত পদ্ধতির সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা অতি সম্প্রতি পর্যন্ত নিজেদের সভ্যতার অগ্রদূত বলে দাবি করত।"
হ্যাঁ, ইসলাম বিশ্বে প্রচলিত দাসপ্রথাকে সমূলে বাতিল করেনি, তবে এটি তাদের অবস্থার অনেক সংস্কার সাধন করেছে। এটি যুদ্ধবন্দীর বিধান বহাল রেখেছে ঠিকই, কিন্তু তাদের প্রতি নম্র আচরণের নির্দেশ দিয়েছে।
গুস্তাভ লো বঁ বলেন: "মুসলিমদের মধ্যে দাসপ্রথা ছিল অতীতে খ্রিস্টানদের মধ্যে বিদ্যমান দাসপ্রথা থেকে ভিন্ন। প্রাচ্যে দাসদের অবস্থা ইউরোপের ভৃত্যদের অবস্থার চেয়ে অনেক উন্নত। কেননা দাসরা সেখানে পরিবারের একটি অংশ হিসেবে পরিগণিত হয় এবং তারা কখনো কখনো তাদের মালিকদের কন্যাদের বিয়ে করতে সক্ষম হয়—অর্থাৎ মুক্ত হওয়ার পর—এবং তারা সর্বোচ্চ পদমর্যাদায় আসীন হতে পারে। প্রাচ্যে দাস হওয়াকে কোনো লজ্জার বিষয় মনে করা হয় না এবং সেখানে একজন দাস তার মালিকের সাথে আমাদের দেশের ভাড়াটে শ্রমিকের চেয়েও বেশি নিবিড়ভাবে যুক্ত।" ১।
ইসলাম কেন শুরুতেই দাসপ্রথা বাতিল করেনি?
ইসলাম পনেরো শতাব্দী আগেই দাসপ্রথা বিলুপ্তির প্রাথমিক ভিত্তি স্থাপন করেছিল। তারা যেমনটি বলে থাকে, কলমের এক খোঁচায় এটি বাতিল করার চেষ্টা ইসলাম করেনি; কারণ ইসলাম সংস্কারের ধর্ম, ধ্বংসের নয়। যদি এটি আহ্বান জানাত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯১)
تحرير كل العبيد لاهتز كيان العالم وفسدت المصالح وتعطلت حاجات الناس، وما استطاعوا في ذلك الوقت أن يأخذوا سيرهم في الحياة، فكانت الظروف الاجتماعية التي كانت موجودة عند ظهور الإسلام تحتم على كل مشرع حكيم أن يقر الرق في صورة ما، وتجعل محاولة إلغائه تصاب بالفشل والإخفاق.
وأيضا فإن الإسلام لم يقر الرق إلاّ في صورة تؤدي نفسها إلى القضاء عليه بالتدريج.
يقول الأستاذ د. علي عبد الواحد وافي: "ظهر الإسلام في عصر كان نظام الرق فيه دعامة ترتكز عليهما جميع نواحي الحياة الاقتصادية، وتعتمد عليها جميع فروع الإنتاج في مختلف أمم العالم، فلم يكن من الإصلاح الاجتماعي في شيء أن يحاول مُشرّع تحريمه تحريما باتا لأول وهلة؛ لأن محاولة كهذه كان من شأنها أن تعرض أوامر المشرع للمخالفة والامتهان، وإذا أتيح لهذا المشروع من وسائل القوة والقهر ما يكفل به إرغام العالم على تنفيذ ما أمر به فإنه بذلك يعرض الحياة الاجتماعية والاقتصادية لهزة عنيفة، ويؤدي تشريعه إلى أضرار بالغة لا تقل في سوء مغبتها عما تتعرض له حياتنا في العصر الحاضر إذا الغي بشكل مفاجىء نظام البنوك أو الشركات المساهمة فيكون ضررها أكثر بكثير من نفعها" 1.
ولقد استخدم الإسلام في بعض الأحيان طريق التدرج في تحريم الخمر، وقد كان العرب من أكثر الناس تناولا لها، فلو حرمت مرة واحدة لأدى ذلك إلا تفكك المجتمع وتمسك البعض بها. فبين الشارع الحكيم ضررها أولا ولم يحرمها في بادئ الأمر ثم حرمها عند إرادة الصلاة {لا تَقْرَبُوا الصَّلاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَى حَتَّى تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ} (النساء الآية 43) .
وفي المرتين امتنع بعض الناس عن تناولها ثم بعد ذلك حرمها مطلقا.
{إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنْصَابُ وَالأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} (المائدة الآية 90) .
ثم يقول الأستاذ د. عبد الواحد وافي: "وبذلك كفل الإسلام القضاء على الرق في صورة سليمة هادئة وأتاح للعالم فترة للانتقال يتخلص فيها شيئا فشيئا من هذا النظام"2.
--------------------------------------------
সমস্ত দাসকে মুক্ত করে দিলে বিশ্বের কাঠামো কেঁপে উঠত, স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হতো এবং মানুষের প্রয়োজনগুলো অচল হয়ে পড়ত। সে সময় মানুষ তাদের জীবনপ্রবাহ সচল রাখতে সক্ষম হতো না। ইসলামের আবির্ভাবের সময় বিদ্যমান সামাজিক পরিস্থিতি যেকোনো প্রজ্ঞাবান আইনপ্রণেতার জন্য দাসপ্রথাকে কোনো না কোনো রূপে স্বীকৃতি দেওয়া অপরিহার্য করে তুলেছিল এবং একে একবারে বিলুপ্ত করার চেষ্টাকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছিল।
তদুপরি, ইসলাম দাসপ্রথাকে এমন একটি রূপেই কেবল বহাল রেখেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাকে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যায়।
অধ্যাপক ড. আলী আবদুল ওয়াহেদ ওয়াফী বলেন: "ইসলাম এমন এক যুগে আবির্ভূত হয়েছিল যখন দাসপ্রথা ছিল একটি স্তম্ভ, যার ওপর অর্থনৈতিক জীবনের সমস্ত দিক এবং বিশ্বের বিভিন্ন জাতির উৎপাদনের সমস্ত শাখা নির্ভরশীল ছিল। তাই কোনো আইনপ্রণেতার জন্য প্রথমবারেই একে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা সামাজিক সংস্কারের অনুকূল ছিল না; কারণ এ ধরনের প্রচেষ্টা আইনপ্রণেতার নির্দেশকে লঙ্ঘন এবং অবমাননার সম্মুখীন করত। আর যদি এই বিধান প্রয়োগের জন্য এমন শক্তি ও জবরদস্তির উপায় থাকত যার মাধ্যমে বিশ্বকে তা পালনে বাধ্য করা যেত, তবে তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনকে এক প্রচণ্ড ঝাঁকুনির মুখে ঠেলে দিত। তার এই বিধান এমন গুরুতর ক্ষতির কারণ হতো, যার অশুভ পরিণাম বর্তমান যুগে হঠাৎ করে ব্যাংক ব্যবস্থা বা যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলো বিলুপ্ত করে দিলে আমাদের জীবনে যে ক্ষতি হতো তার চেয়ে কম হতো না; ফলে এর উপকারের চেয়ে ক্ষতিই হতো অনেক বেশি।" ১।
ইসলাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে মদ্যপান নিষিদ্ধ করার পদ্ধতিতেও পর্যায়ক্রমিক ধারা অনুসরণ করেছে। আরবরা ছিল এর অত্যধিক সেবনকারী, তাই যদি একে একবারে নিষিদ্ধ করা হতো, তবে তা সমাজকে বিশৃঙ্খল করে দিত এবং অনেকে এর ওপর জেদ ধরে বসে থাকত। ফলে প্রজ্ঞাবান শরীয়ত প্রণেতা প্রথমে এর ক্ষতি বর্ণনা করেছেন এবং শুরুতে একে নিষিদ্ধ করেননি। এরপর নামাজের সময় হলে তা নিষিদ্ধ করেছেন: {তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেও না, যতক্ষণ না তোমরা কী বলছ তা বুঝতে পারো} (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৩)।
এই দুই পর্যায়ে কিছু মানুষ তা পান করা থেকে বিরত রইল, এরপর একে চূড়ান্তভাবে হারাম করা হলো।
{নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের কাজ ও অপবিত্র বস্তু। সুতরাং তোমরা এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৯০)।
এরপর অধ্যাপক ড. আব্দুল ওয়াহেদ ওয়াফী বলেন: "এভাবেই ইসলাম একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় দাসপ্রথা নির্মূল করা নিশ্চিত করেছে এবং বিশ্বকে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময় দিয়েছে, যাতে তারা ধীরে ধীরে এই প্রথা থেকে মুক্তি পেতে পারে।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯১)
أثر الرق في الإسلام:كان سبب الرق في الإسلام وقوع الكافر أَسيرا في يد المسلمين عند الحرب، فإذا حارب المسلمين الكفارُ فمن وقع أسيرا في يد المسلمين عند الحرب جاز للإمام أن يسترقه
ইসলামে দাসত্বের প্রভাব:ইসলামে দাসত্বের কারণ ছিল যুদ্ধের সময় কাফিরদের মুসলিমদের হাতে বন্দি হওয়া। সুতরাং যখন কাফিররা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করত, তখন যুদ্ধের সময় যারা মুসলিমদের হাতে বন্দি হতো, ইমামের জন্য তাদের দাস বানানো বৈধ ছিল।
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯২)
رجالا كانوا أو نساء وكان الأرقاء يوزعون على المسلمين غنائم حرب كما نص عليه الشرع الحكيم وكما جاء في القرآن الكريم: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى عَبْدِنَا يَوْمَ الْفُرْقَانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعَانِ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (الأنفال الآية 41) .
ولما كان الإسلام يستبيح الرق في حالة الحرب، وقد انتصر في المعارك التي خاضها في أول العهد بالدعوة فقد كثر الأسرى والرقيق، وكان وجودهم مع العرب بالكيفية التي حث الإسلام على اتباعها معهم له أكبر الأثر في عملية المزج بين العرب وغير العرب حيث فتحت بلاد كثيرة من غير العرب في الشام والعراق وبلاد فارس ومصر وشمال إفريقيا على مر العصور والأزمنة.
ووجد العرب في الإماء والرقيق خير عون على الحياة، وتزوج كثير من الأرقاء- بعد عتقهم- بالعربيات، ولم يروا في ذلك عيباً ولا غبار عليه، وبالتالي تسرى وتزوج كثير من العرب بالإماء من غير العرب وحصل مزج كان له أكبر الأثر في الحياة العقلية، ودخل البيت العربي عناصر فارسية، ورومانية، وسورية، ومصرية، وبربرية، وبطريق التناسل اختلط الدم العربي بغيره من الدماء، فأنتج أعظم العقول المفكرة.
يقول الزمخشري في كتابه ربيع الأبرار: "إن الصحابة رضي الله عنهم لما أتوا المدينة بسبي فارس في خلافة عمر بن الخطاب كان فيهم ثلاث بنات ليزدجرد ملك الفرس، فباعوا السبايا وأمر عمر ببيع بنات يزدجرد أيضا، فقال له علي بن أبي طالب: إن بنات الملوك لا يعاملن معاملة غيرهن، فقال: كيف الطريق إلى العمل معهن؟ قال يُقَوّمن، ومهما بلغ ثمنهن قام به من يختارهن، فقوّمن فأخذهن علي بن أبي طالب فدفع واحدة لعبد الله بن عمر وأخرى لولده الحسين وأخرى لمحمد بن أبي بكر الصديق فأولد عبد الله بن عمر ولده سالما وأولد الحسين زين العابدين وأولد محمد ولده القاسم فهؤلاء الثلاثة بنو خالة وأمهاتهم بنات يزدجرد" 1.
ويقول المبرد في كتابه الكامل: "وكان أهل المدينة يكرهون اتخاذ أمهات الأولاد حتى نشأ فيهم علي بن الحسين وقاسم بن محمد وسالم بن عبد الله ففاقوا أهل المدينة فقها وورعا فرغب الناس في السراري" 2
ويقول أحمد أمين رحمه الله: "هؤلاء الأرقاء والموالي أنجبوا في الجيل الثاني لعهد
--------------------------------------------
পুরুষ হোক বা নারী, দাসেরাও যুদ্ধের গনীমত হিসেবে মুসলমানদের মধ্যে বণ্টিত হতো, যেমনটি প্রজ্ঞাপূর্ণ শরীয়তে বিধান দেওয়া হয়েছে এবং আল-কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা জেনে রাখ যে, যুদ্ধে তোমরা যা কিছু গনীমত হিসেবে লাভ করো, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর, তাঁর রাসূলের, রাসূলের স্বজনদের, ইয়াতীমদের, মিসকীনদের এবং মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমরা আল্লাহতে এবং সেই দিনে যা আমি আমার বান্দার ওপর নাযিল করেছি—যাকে ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী দিন) বলা হয়—তাতে ঈমান আনো, যেদিন দুই পক্ষ (মুসলমান ও কাফির) যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিল। আর আল্লাহ সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।" (সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৪১)।
যেহেতু ইসলাম যুদ্ধের ক্ষেত্রে দাসপ্রথাকে বৈধতা দিয়েছিল এবং ইসলামের প্রচারের শুরুর দিকের যুদ্ধগুলোতে বিজয় অর্জিত হয়েছিল, তাই যুদ্ধবন্দি ও দাসের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আরবদের সাথে তাদের সহাবস্থান এবং তাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ইসলাম যে নির্দেশিকা প্রদান করেছিল, তা আরব ও অনারবদের সংমিশ্রণ প্রক্রিয়ায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। কারণ বিভিন্ন যুগে ও সময়ে সিরিয়া, ইরাক, পারস্য, মিশর এবং উত্তর আফ্রিকার বহু অনারব ভূখণ্ড বিজিত হয়েছিল।
আরবরা দাস-দাসীদের মধ্যে জীবনের শ্রেষ্ঠ সহায়ক খুঁজে পেয়েছিল। অনেক দাস মুক্ত হওয়ার পর আরব নারীদের বিয়ে করেছিল এবং তারা এতে কোনো দোষ বা ত্রুটি দেখত না। ফলস্বরূপ, অনেক আরব অনারব দাসীদের উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করে বা বিয়ে করে এবং এর ফলে একটি সংমিশ্রণ ঘটে যা বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনে বিশাল প্রভাব ফেলে। আরব পরিবারগুলোতে পারস্য, রোমান, সিরীয়, মিশরীয় এবং বার্বার উপাদান প্রবেশ করে। বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে আরব রক্ত অন্যান্য রক্তের সাথে মিশে যায়, যা মহান সব চিন্তাবিদদের জন্ম দেয়।
ইমাম যামাখশারী তাঁর ‘রাবীউল আবরার’ গ্রন্থে বলেন: "উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকালে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যখন পারস্যের যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে মদীনায় আসেন, তখন তাদের মধ্যে পারস্য সম্রাট ইয়াজদগিরদের তিন মেয়ে ছিল। তারা বন্দিদের বিক্রি করে দিচ্ছিলেন এবং উমর ইয়াজদগিরদের মেয়েদেরও বিক্রি করার নির্দেশ দেন। তখন আলী ইবনে আবি তালিব তাকে বললেন: রাজকন্যাদের সাথে সাধারণদের মতো আচরণ করা উচিত নয়। তিনি (উমর) বললেন: তাহলে তাদের ব্যাপারে কী করা যায়? তিনি (আলী) বললেন: তাদের মূল্য নির্ধারণ করা হোক, আর যে ব্যক্তি তাদের পছন্দ করবে সে সেই মূল্য পরিশোধ করবে। অতঃপর তাদের মূল্য নির্ধারিত হলো এবং আলী ইবনে আবি তালিব তাদের গ্রহণ করলেন। তিনি তাদের একজনকে আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে, অন্যজনকে তাঁর পুত্র হোসাইনকে এবং অপরজনকে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দীককে প্রদান করলেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমরের ঘরে তাঁর পুত্র সালিম, হোসাইনের ঘরে যয়নুল আবেদিন এবং মুহাম্মদের ঘরে তাঁর পুত্র কাসিম জন্মগ্রহণ করেন। এই তিনজনই খালাতো ভাই এবং তাদের মায়েরা ছিলেন ইয়াজদগিরদের কন্যা।" ১।
ইমাম মুবাররাদ তাঁর ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে বলেন: "মদীনাবাসীগণ ‘উম্মে ওয়ালাদ’ (সন্তান প্রসবকারী দাসী) গ্রহণ করা অপছন্দ করতেন, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে আলী বিন আল-হুসাইন, কাসিম বিন মুহাম্মদ এবং সালিম বিন আবদুল্লাহর বেড়ে উঠলেন। তারা ফিকহ ও তাকওয়ায় মদীনাবাসীদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন, ফলে মানুষ দাসীদের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে।" ২
আহমদ আমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এই দাস ও মওয়ালীগণ দ্বিতীয় প্রজন্মের যুগে জন্ম দিয়েছিলেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الفتح عددا عديدا، يعد من بعد، من سادات التابعين وخيرة المسلمين، ومن حملة لواء العلم في الإسلام" 1ولما كان عدد الزوجات في الإسلام مقيدا بالأربع وليس مقيدا بالنسبة للإماء، فقد عاشر المسلمون كثيرا من الإماء، وأنجبوا كثيرا من الأولاد والبنات وكثيرا ما كان العرب ينجبون لأنهم يفتخرون بكثرة الأولاد وبذلك اختفى النظام القبلي الذي كان أساس المجتمع العربي من القديم، ولم يقيموا وزنا للدم العربي، ولم يعد لانتقاء الزوجة العربية أي أثر، ووصل بعد ذلك الذين أمهاتهم من الرقيق إلى الخلافة مثل يزيد الثالث في الخلافة الأموية فإن أمه غير عربية، فقد كانت فارسية أسرها القائد قتيبة في الصغد ثم أهداها إلى الوليد فولدت له يزيد.
وكذلك العباسيون فالمنصور ابن أمة من البربر والمأمون ابن أمة فارسية، ومثله الواثق والمهتدي، وكانت أم المنتصر يونانية أو حبشية، وأم المستعين صقلية وأم المكتفي والمقتدر كانتا تركيتين وأم المستضئ أرمنية، وكانت الخيزران نفسها أم الرشيد أجنبية وهي أول امرأة اضطلعت بسلطة واسعة في شئون الدولة العباسية 2.
ولقد أثر الرقيق في حياة الدولة في جميع مناحي الحياة السياسية والدينية والعلمية والأدبية، توصل بعضهم إلى الوزارة والكتابة إلا أن الدولة اتجهت بالرقيق غير الاتجاه الإسلامي الصحيح فدخلوا في سوق النخاسين يشترون العبيد المخطوفين والمنهوبين، والذين يؤتى بهم بطريق غير شرعي، فاشتروا كثيرا من العبيد من أوروبا وأطلقوا عليهم المماليك، ووصل إليهم الكثير من بلاد الروم وغيرها من الصرب والممالك المجاورة ومن بلاد فارس، واتخذوا منهم العسكر والجيوش التي يحاربون بها بعضهم بعضا أو يحاربون بها الأعداء إلا أنهم في النهاية يقتلون الأسياد والخلفاء ويستولون على الحكم كما حصل في أواخر الدولة العباسية.
ولا يحتج بهم على التشريع للرق في الإسلام لأن أعمالهم وعمل من أتى من بعدهم ليست من الإسلام والإسلام بريء منها لأن معظم الرقيق والجواري لم يكونوا عن طريق حرب إسلامية يدافع فيها المسلمون عن عقيدتهم، وإنما كان عن طريق شراء المخطوفين والمخطوفات والراغبين والراغبات وغير ذلك مما يتبرأ منه الإسلام والمسلمون.
--------------------------------------------
বিজয়ের পর বিপুল সংখ্যায় তারা আবির্ভূত হন, তারা তাবেঈদের প্রধান ব্যক্তিত্ব ও সর্বোত্তম মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ইসলামে ইলমের পতাকাবাহীদের অন্যতম ছিলেন" ১। যেহেতু ইসলামে স্ত্রীর সংখ্যা চারটিতে সীমাবদ্ধ হলেও দাসীদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সীমা ছিল না, তাই মুসলিমগণ অনেক দাসীর সাথে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং বিপুল সংখ্যক পুত্র ও কন্যাসন্তান জন্ম দিয়েছেন। আরবগণ প্রায়শই অধিক সন্তান লাভ করতেন, কারণ তারা সন্তানের আধিক্য নিয়ে গর্ববোধ করতেন। এর ফলে প্রাচীনকাল থেকে আরব সমাজের ভিত্তি হিসেবে বিদ্যমান গোত্রীয় প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তারা আরব রক্তের আভিজাত্যকে আর কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এমনকি আরব স্ত্রী নির্বাচনের প্রভাবও আর অবশিষ্ট থাকেনি। পরবর্তীতে এমন ব্যক্তিগণ খিলাফতের আসনে আসীন হন যাদের মায়েরা ছিলেন ক্রীতদাসী; যেমন উমাইয়া খিলাফতের তৃতীয় ইয়াজিদ, যার মা আরব ছিলেন না বরং পারস্যীয় ছিলেন। সেনাপতি কুতায়বা সোগদিয়া থেকে তাকে বন্দী করেন এবং পরবর্তীতে ওয়ালিদের নিকট উপহার হিসেবে পাঠান, যার গর্ভে ইয়াজিদের জন্ম হয়।
একইভাবে আব্বাসীয়দের ক্ষেত্রেও দেখা যায়—আল-মানসুর ছিলেন একজন বার্বার দাসীর পুত্র এবং আল-মামুন ছিলেন এক পারস্যীয় দাসীর পুত্র; আল-ওয়াছিক এবং আল-মুহতাদির ক্ষেত্রেও তাই। আল-মুনতাসিরের মা ছিলেন গ্রিক অথবা হাবশী, আল-মুস্তাঈনের মা ছিলেন সিশিলীয় এবং আল-মুকতাফী ও আল-মুকতাদিরের মা ছিলেন তুর্কি। আল-মুস্তাদ্বীর মা ছিলেন আর্মেনীয়। এমনকি হারুনুর রশীদের মা আল-খায়জুরান নিজেও ছিলেন একজন অনারব, যিনি আব্বাসীয় রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে ব্যাপক ক্ষমতা অর্জনকারী প্রথম নারী ছিলেন ২।
রাষ্ট্রীয় জীবনের রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জ্ঞানতাত্ত্বিক এবং সাহিত্যিক সকল ক্ষেত্রে ক্রীতদাসদের প্রভাব ছিল। তাদের কেউ কেউ মন্ত্রিত্ব এবং সচিব পদেও আসীন হয়েছিলেন। তবে রাষ্ট্র ক্রীতদাসদের ক্ষেত্রে সঠিক ইসলামি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল। তারা দাস বাজারে প্রবেশ করে অপহৃত, লুণ্ঠিত এবং অবৈধ উপায়ে সংগৃহীত দাসদের ক্রয় করতে শুরু করে। তারা ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যক দাস ক্রয় করে এবং তাদের 'মামলুক' হিসেবে অভিহিত করে। রোমীয় ভূখণ্ড, সার্বিয়া এবং পার্শ্ববর্তী অন্যান্য রাজ্য ও পারস্য থেকে অনেক দাস তাদের হাতে আসে। তারা এদের দ্বারা সেনাবাহিনী গঠন করে একে অপরের বিরুদ্ধে অথবা শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হতো। কিন্তু পরিশেষে তারা তাদের মুনিব ও খলিফাদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে নেয়, যেমনটি আব্বাসীয় খিলাফতের শেষ যুগে পরিলক্ষিত হয়েছিল।
ইসলামে দাসপ্রথার বিধানের স্বপক্ষে তাদের এই কার্যক্রমকে দলিল হিসেবে পেশ করা যায় না; কারণ তাদের এবং তাদের পরবর্তী অনুসারীদের কর্মকাণ্ড ইসলামের অংশ নয় এবং ইসলাম এসব থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত। কেননা অধিকাংশ দাস-দাসী কোনো বৈধ ইসলামি যুদ্ধের মাধ্যমে আসেনি যেখানে মুসলিমরা তাদের আকিদা রক্ষার জন্য লড়াই করেছিলেন। বরং তাদের সংগ্রহ করা হয়েছিল অপহৃতদের কেনাবেচার মাধ্যমে এবং এমন সব উপায়ে যা থেকে ইসলাম ও মুসলিম সমাজ পবিত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: -)
الرق في الجاهلية والإسلام القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الرق في الجاهلية والإسلام
المؤلف: إبراهيم محمد حسن الجمل
الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাহেলিয়াত ও ইসলামে দাসপ্রথা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: জাহেলিয়াত ও ইসলামে দাসপ্রথা
লেখক: ইবরাহিম মুহাম্মদ হাসান আল-জামাল
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারাহ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকী
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং খণ্ড নম্বর হলো সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
معنى الرق ونشأته…الرَّق
في الجَاهليّة والإسلام
للشيخ إبراهيم محمد الحسن الجمل
مدرس بالمعهد الثانوي بالجامعة
معنى الرقي ونشأته:
الرق في اللغة: العبودية، وسمى العبيد رقيقا، لأنهم يرقون لمالكهم، ويذلون ويخضعون، والرقيق هو المملوك.
وقيل: الرق في اللغة: الضعف ومنه رقة القلب 1 وهو نظام اجتماعي معروف بين الشعوب القديمة، واستمر قائما حتى أخريات القرن التاسع عشر، وكان يعتبر بين تلك الشعوب نظاما مشروعا تحميه قوانين الدولة 2. وعرف أيضا بأنه حرمان الشخص من حريته الطبيعية، وصيرورته ملكا لغيره 3، وهذا ما كان مصطلحا عليه عند الأمم القديمة.
ولقد عرف الرق من قديم، وكانت الحرب بادئ الأمر عاملا على نشأة الرق. وذلك أن القوي حينما كان يظهر بالضعيف يقتله، ولا يقبل بغير القتل بديلا، وكان الناس في ذلك الوقت يعملون لأنفسهم فكان الرجال يقومون بالصيد والحروب وكان النساء والأبناء يقومون بغير ذلك من الأعمال.
--------------------------------------------
দাসত্বের অর্থ ও এর উৎপত্তি…জাহিলিয়াত ও ইসলামে দাসত্ব
শায়খ ইব্রাহিম মুহাম্মদ আল-হাসান আল-জামাল কর্তৃক
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষক
দাসত্বের অর্থ ও এর উৎপত্তি:
আভিধানিক অর্থে দাসত্ব (রিক্ক): এর অর্থ হলো গোলামি। দাসদের 'রকীক' বলা হয় কারণ তারা তাদের মালিকের সামনে নমনীয় হয় এবং তারা বশীভূত ও অনুগত থাকে। আর 'রকীক' হলো মালিকানাধীন ব্যক্তি।
বলা হয়েছে: আভিধানিক অর্থে রিক্ক অর্থ হলো দুর্বলতা; আর এ থেকেই এসেছে অন্তরের কোমলতা ১। এটি প্রাচীন জাতিগুলোর মধ্যে একটি সুপরিচিত সামাজিক ব্যবস্থা ছিল এবং উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত এটি প্রচলিত ছিল। ঐ সকল জাতির মধ্যে এটি একটি বৈধ ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য হতো যা রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা সুরক্ষিত ছিল ২। একে এভাবেও সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তিকে তার স্বাভাবিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা এবং অন্য কারো মালিকানাধীন ব্যক্তিতে পরিণত করা ৩। প্রাচীন জাতিগুলোর নিকট এটিই ছিল এর পারিভাষিক অর্থ।
প্রাচীনকাল থেকেই দাসপ্রথা সুপরিচিত ছিল। যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়টি দাসত্ব উদ্ভবের একটি কারণ হিসেবে কাজ করেছিল। এর কারণ ছিল এই যে, শক্তিশালী পক্ষ যখন দুর্বলের ওপর বিজয়ী হতো, তখন সে তাকে হত্যা করত এবং হত্যা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প গ্রহণ করত না। সেই সময়ে মানুষ নিজের জন্যই কাজ করত; ফলে পুরুষেরা শিকার ও যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত থাকত আর নারী ও সন্তানরা অন্যান্য কাজগুলো সম্পাদন করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
وحينما اتجه الإنسان إلى الزراعة، كان في حاجة إلى العناية بالأرض عناية تتكرر كل يوم، وإلى تنظيم العمل، كما أنه كان مع حاجة إلى من يساعده، وهذه المساعدة كانت تعتمد في النهاية على القوة والإرغام، وحدوث التعاون بين الناس، انتهى إلى استخدام الضعفاء بواسطة الأقوياء ثم فكر القوى الظافر في القتال أن الأسير الذي يقتله يمكن أن يبقيه حيا. فيستخدمه في زراعة الأرض. وبهذا قلت المجاور وقل أكل الناس لحوم بعضهم بعضا. وحين أمتنع الإنسان المنتصر عن قتل المغلوب اعتبر هذا تقدما عظيما للإنسان من حيث الأخلاق، حين أقلع عن قتل زميله أو أكله واكتفى من أعدائه باسترقاقهم، وإعمالهم في الأرض وفي الزراعة1 ثم انتقل استرقاق الغير من الزراعة إلى الصناعة، حتى إذا زادت الثروة، ومال الأغنياء إلى الدعة والراحة، واستغلال الآخرين في ذلك جعل الناس ينظرون إليه كأنه نظام فطري لا غنى عنه.
وكانت الجماعات البدائية لا ترى فارقا بين الحر والعبد، ولا تجد رقا ولا طبقات، ولا تدرك من الفوارق بين الرئيس وتابعيه إلا قدرا ضئيلا وبالتدريج، أخذ تقسيم العمل. وما يقتضيه الاختلاف بين الناس، يستبدل شيئا فشيئا المساواة بقليل من التحكم الذي زاد على مرور الأيام، ثم لما ازدادت الآلات والصناعات تعقدا، عمل ذلك على إخضاع الضعيف لمشيئة القوى، وكلما ظهر سلاح جديد في أيدي الأقوياء زاد من سلطانهم على الضعفاء واستغلالهم إياهم.
ثم عمل نظام التوريث على اتساع الهوة بأن أضاف إلى الامتياز في الفرص السانحة امتيازا في الأملاك.
وقسمت المجتمعات التي كانت يوما متجانسة إلى عدد لا يحصى من طبقات وأوساط، وأحس الأغنياء والفقراء بغناهم أو فقرهم إحساسا يؤدى إلى التشاحن، وأخذت حرب الطبقات تسرب خلال التاريخ حتى انتهت إلى وجود طبقة من الناس تُستخدم وكأنها آلة تتحرك بغير إرادتها يحركها الغير، وكأنها دمية توجه حسب ما يريد لها سيدها2.
ولم يستطع الفلاسفة القدامى أن يغيروا شيئا من الواقع، وإنما زادوه تثبيتا، وكأنما هذا الصنف من الناس إنما خلق بغير إرادة ولا حول ولا قوة، فأفلاطون يقضي في جمهوريته الفاضلة بحرمان الرقيق حق المواطنة وإجبارهم على الطاعة والخضوع للأحرار من ساداتهم أو
--------------------------------------------
যখন মানুষ কৃষির দিকে মনোনিবেশ করল, তখন প্রতিদিন ভূমির পরিচর্যা করা এবং কাজের সুশৃঙ্খল বিন্যাসের প্রয়োজন দেখা দিল। সেই সাথে তার সাহায্যকারীরও প্রয়োজন হলো। আর এই সাহায্য শেষ পর্যন্ত শক্তি এবং জবরদস্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল। মানুষের মধ্যে সহযোগিতার উদ্ভব দুর্বলদের ওপর শক্তিশালী ব্যক্তিদের কর্তৃত্বের মাধ্যমে সমাপ্ত হলো। অতঃপর যুদ্ধে বিজয়ী শক্তিশালী ব্যক্তি চিন্তা করল যে, সে যে বন্দিকে হত্যা করছে, তাকে সে জীবিতও রাখতে পারে। সে তাকে কৃষিকাজে ব্যবহার করবে। এর ফলে প্রতিবেশীদের ওপর আক্রমণ ও মানুষের মাংস খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পেল। বিজয়ী মানুষ যখন বিজিতকে হত্যা করা থেকে বিরত হলো, তখন একে নৈতিক দিক থেকে মানুষের এক মহান অগ্রগতি হিসেবে গণ্য করা হলো; কারণ তখন সে তার সহকর্মীকে হত্যা করা বা খাওয়ার পরিবর্তে তাকে দাস হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাকে জমি ও কৃষিকাজে নিয়োগ করার ওপর সন্তুষ্ট থাকল। এরপর অন্যের দাসত্ব কৃষিকাজ থেকে শিল্পকারখানায় স্থানান্তরিত হলো। এমনকি যখন সম্পদ বৃদ্ধি পেল এবং ধনীরা আরাম-আয়েশের দিকে ঝুঁকে পড়ল ও অন্যের শ্রম শোষণ করতে শুরু করল, তখন মানুষ একে একটি অপরিহার্য প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখতে লাগল।
আদিম গোষ্ঠীগুলো স্বাধীন এবং দাসের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখত না; তারা দাসত্ব বা শ্রেণিভেদ খুঁজে পেত না। প্রধান এবং তার অনুসারীদের মধ্যে খুব সামান্য পার্থক্যই তারা অনুভব করত। ক্রমান্বয়ে শ্রমবিভাজন শুরু হলো। মানুষের মধ্যকার এই পার্থক্যের প্রয়োজনীয়তা ধীরে ধীরে সাম্যের পরিবর্তে সামান্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে থাকল, যা সময়ের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেল। অতঃপর যখন যন্ত্র ও শিল্পের জটিলতা বাড়তে থাকল, তখন তা দুর্বলকে শক্তিশালী ব্যক্তির ইচ্ছার অধীনে নিয়ে এল। শক্তিমানদের হাতে যতবারই নতুন নতুন অস্ত্র এসেছে, ততবারই দুর্বলদের ওপর তাদের কর্তৃত্ব এবং শোষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এরপর উত্তরাধিকার প্রথা এই ব্যবধানকে আরও প্রশস্ত করল, কেননা এটি সুযোগ-সুবিধার বিশেষ অধিকারের সাথে সম্পদের মালিকানার বিশেষ অধিকারকেও যুক্ত করল।
একসময়ের সমজাতীয় সমাজগুলো অসংখ্য শ্রেণি ও স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ল। ধনী এবং দরিদ্ররা তাদের ধনাঢ্যতা বা দারিদ্র্যকে এমনভাবে অনুভব করতে শুরু করল যা বিদ্বেষের জন্ম দিল। ইতিহাসের পরিক্রমায় শ্রেণিযুদ্ধ প্রবাহিত হতে থাকল, যা শেষ পর্যন্ত এমন এক শ্রেণির অস্তিত্ব তৈরি করল যাদেরকে যন্ত্রের মতো ব্যবহার করা হতো; তারা নিজ ইচ্ছাশক্তিহীন এবং অন্যের দ্বারা চালিত, যেন তারা তাদের মালিকের ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত পুতুল।
প্রাচীন দার্শনিকগণ এই বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন করতে পারেননি, বরং তারা একে আরও সুদৃঢ় করেছেন। যেন এই শ্রেণির মানুষ কোনো ইচ্ছা, সামর্থ্য বা শক্তি ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্লেটো তার আদর্শ রাষ্ট্রে (রিপাবলিক) ক্রীতদাসদের নাগরিকত্বের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন এবং তাদের মালিকদের অনুগত ও আজ্ঞাবহ থাকতে বাধ্য করেছেন অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
من السادة الغرباء، ومن تطاول منهم على سيد غريب أسلمته الدولة إليه ليقتصَّ منه كما يريد.
ومذهب أرسطو في الرق أن فريقا من الناس مخلوقين للعبودية؛ لأنهم يعملون عمل الآلات التي يتصرف فيها الأحرار ذوو الفكر والمشيئة، فهم آلات حية تُلحق في عملها بالآلات الجامدة. ويحمد من السادة الذين يستخدمون تلك الآلات الحية أن يتوسموا فيها القدرة على الاستقلال والتمييز فيشجعوها ويرتقوا بها من منزلة الأداة المسخرة إلى منزلة الكائن العاقل الرشيد 1.
তারা ছিলেন বিদেশী অভিজাতদের অন্তর্ভুক্ত; এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ যদি কোনো বিদেশী অভিজাতের প্রতি চড়াও হতো, তবে রাষ্ট্র তাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট সোপর্দ করে দিত যাতে সে আপন ইচ্ছানুসারে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারে।
দাসত্ব প্রসঙ্গে অ্যারিস্টটলের মতবাদ হলো, মানুষের একটি গোষ্ঠী জন্মগতভাবেই দাসত্বের জন্য সৃজিত; কেননা তারা এমন যন্ত্রের ন্যায় কাজ করে যা চিন্তা ও ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন স্বাধীন ব্যক্তিবর্গ পরিচালনা করে থাকেন। সুতরাং তারা হলো জীবন্ত যন্ত্র, যাদের কর্মতৎপরতাকে জড় যন্ত্রের কাজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। আর ঐ সকল মনিবগণের প্রশংসা করা হয়, যারা এই জীবন্ত যন্ত্রগুলোর মাঝে স্বাধীনতা ও বিচারবুদ্ধির সক্ষমতা প্রত্যক্ষ করেন এবং তাদের উৎসাহিত করে আজ্ঞাবহ হাতিয়ারের পর্যায় থেকে একজন বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ সত্তার পর্যায়ে উন্নীত করেন ১।
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
الرق قبل الإسلامكان الرق من دعائم المجتمع عند قدماء المصريين، وكانوا يتخذون الإماء للخدمة، وللزينة. ولمظاهر الأبهة، فكانوا بقصور الملوك، وبيوت الكهان والأعيان، وهم إن كانوا يسيئون معاملة رقيق الخدمة، بحيث يعتبرونهم كآلة صماء، فإنّ رقيق الزينة على العكس. فقد كانوا يلقون معاملة حسنة كما يدل على ذلك قول العزيز لامرأته في حق يوسف عليه السلام. {وَقَالَ الَّذِي اشْتَرَاهُ مِنْ مِصْرَ لامْرَأَتِهِ أَكْرِمِي مَثْوَاهُ عَسَى أَنْ يَنْفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَداً} (يوسف آية1 3)
ولقد أباح العبرانيون الرق، وذكر في التوراة في مواضع 2، وكان الرق عندهم نوعين: استرقاق الأفراد لارتكاب خطيئة محظورة، واسترقاق غير اليهود في الحروب 3. وكذلك أباحته المسيحية، وأمر بولس مدعي الرسالة العبيد بطاعة سادتهم كما يطيعون السيد المسيح. فقال في رسالته إلى أهل أفسس:
"أيها العبيد! أطيعوا سادتكم حسب الجسد، بخوف ورعدة في بساطة قلوبكم كما للمسيح، ولا بخدمة العين كمن يرضى الناس، بل كعبيد المسيح عاملين مشيئة الله من القلب خادمين بنية صالحة كما للرب ليس للناس عالمين، أنه مهما عمل واحد من الخير فذلك يناله من الرب عبدا كان أم حرا".
--------------------------------------------
ইসলামপূর্ব যুগে দাসপ্রথাপ্রাচীন মিশরীয়দের নিকট দাসপ্রথা ছিল সমাজের অন্যতম ভিত্তি। তারা সেবা ও শোভাবর্ধনের জন্য এবং আভিজাত্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দাসী গ্রহণ করত। তারা রাজপ্রাসাদ এবং পুরোহিত ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের গৃহে অবস্থান করত। তারা সেবা প্রদানকারী দাসদের সাথে যদিও দুর্ব্যবহার করত—এমনকি তাদের একটি প্রাণহীন যন্ত্র হিসেবে গণ্য করত—শোভাবর্ধক দাসদের অবস্থা ছিল এর বিপরীত। তারা ভালো ব্যবহার লাভ করত, যেমনটি ইউসুফ আলাইহিস সালামের ব্যাপারে আযীযে মিশরের নিজ স্ত্রীর প্রতি উক্তি থেকে প্রমাণিত হয়: “মিশরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করেছিল, সে তার স্ত্রীকে বলল, ‘তার থাকার স্থানটি মর্যাদাপূর্ণ করো; হতে পারে সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে নেব’।” (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ২১)
হিব্রুরাও দাসপ্রথাকে বৈধ করেছিল এবং তাওরাতের বিভিন্ন স্থানে এর উল্লেখ রয়েছে। তাদের নিকট দাসপ্রথা ছিল দুই প্রকার: নিষিদ্ধ কোনো অপরাধ করার কারণে ব্যক্তিদের দাস বানানো এবং যুদ্ধে অ-ইহুদিদের দাস করা। একইভাবে খ্রিস্টধর্মও একে বৈধ ঘোষণা করেছে। রিসালাতের দাবিদার পল ক্রীতদাসদের তাদের মনিবদের আনুগত্য করার আদেশ দিয়েছেন, ঠিক যেমন তারা প্রভু খ্রিস্টের আনুগত্য করে। ইফিসীয়দের প্রতি তার পত্রে তিনি বলেছেন:
“হে ক্রীতদাসগণ! তোমরা তোমাদের পার্থিব মনিবদের প্রতি সশঙ্কচিত্তে ও সরল হৃদয়ে অনুগত থাকো, যেমনটি তোমরা খ্রিস্টের প্রতি হয়ে থাকো। তা কেবল লোক দেখানোর জন্য নয়—যেন মানুষের সন্তুষ্টি অর্জিত হয়—বরং খ্রিস্টের দাস হিসেবে অন্তর থেকে আল্লাহর ইচ্ছা পালন করার মাধ্যমে। তোমরা নেক নিয়তে সেবা করো, যেন তা রবের জন্য হয়, মানুষের জন্য নয়; এটা জেনে যে, যে ব্যক্তিই কোনো ভালো কাজ করবে, সে তার প্রতিদান রবের নিকট থেকে লাভ করবে—সে দাস হোক বা স্বাধীন।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
وأوصى مدعى الرسالة بطرس بمثل هذه الوصية، وأوصاها آباء الكنيسة، لأن الرق كفارة من ذنوب البشر يؤديها العبيد لما استحقوا من غضب السيد الأعظم 1.
ونص في الإنجيل على أن الناس كلهم إخوان، ولكنه لم ينص على منع الاسترقاق، لذلك أقرته جميع الكنائس على اختلاف أنواعها ولم ترفيه أقل حرج.
ولم ير من جاء من باباوات النصارى ولا قديسيهم حرجا من إقرار الرق حتى قال باسيليوس، في كتابه القواعد الأدبية، بعد أن أورد ما جاء في رسالة بولس إلى أهل افسس: " هذا يدل على أن العبد تجب عليه طاعة مواليه تعظيما لله عز وجل" إن الطبيعة (هكذا قول بولس) قضت على بعض الناس بأن يكونوا أرقاء، واستشهد على نظريته (كما يرى هو أي بولس) بالشريعة الطبيعية والشريعتين الوضعية والإلهية.
وقال القسيس المشهور بوسويت الفرنسي: "إن من حق المحارب المنتصر قتل المقهور فإن استعبده واسترقه فذلك مِنهُ مِنّةٌ وفضل ورحمة".
وقد بقى الاسترقاق معتبرا من الأمور المشروعة لدى المسيحيين؛ فقد جاء في دائرة معارف لاروس أن رجال الدين الرسميين يقرون صحة الاسترقاق ويسلمون بشرعيته 2.
وإذا كانت الأديان التي سبقت الإسلام، قد أباحت الرق، فإن جميع الأمم المعروفة لنا في القديم قد أباحته كذلك.
ففي الهند قسمت الشرائع البرهمية القديمة الأشخاص الملزمين بالخدمة إلى قسمين وهما الخادمون والأرقاء، فالأعمال الطاهرة من خصائص الخادمين، والأعمال النجسة على عواتق الأرقاء 3.
وكانت الشريعة الهندية تقضى على أن الرقيق لم يُخلَق إلا لخدمة البرهمي- وهم الطبقة المقدسة عندهم- فكانوا يتخذون الرقيق من إحدى طبقات المجتمع التي تعتبر صفة العبودية لازمة لها حتى لو تخل السيد عن عبده فإنه يبقى رقيقا لا يصلح أن يتمتع بحريته كغيره من الناس، وكانت القوانين عندهم تقضى بقتل العبد لأقل هفوة يرتكبها، أما التنكيل به والانتقام منه بسائر الوسائل الوحشية فحدث ولا حرج 4
--------------------------------------------
নবুওয়তের দাবিদার পিতর অনুরূপ উপদেশ দিয়েছেন এবং গির্জার পিতাগণও এই উপদেশ দিয়েছেন, কারণ দাসত্ব হলো মানুষের পাপের কাফফারা, যা দাসরা মহান প্রভুর ক্রোধের উপযুক্ত হওয়ার কারণে আদায় করে থাকে ১।
ইঞ্জিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে সকল মানুষ ভাই ভাই, কিন্তু এতে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে কোনো বর্ণনা নেই। এ কারণেই বিভিন্ন ধারার সকল গির্জা এটিকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এতে সামান্যতম দ্বিধাবোধ করেনি।
খ্রিস্টান পোপ বা তাদের সন্তদের মধ্যে যারা এসেছেন, তারা দাসপ্রথাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সংকোচ বোধ করেননি। এমনকি বাসিলিউস তার 'আল-কাওয়ায়িদ আল-আদাবিয়্যাহ' গ্রন্থে ইফেসাসের অধিবাসীদের প্রতি পৌলের পত্রের উদ্ধৃতি দেওয়ার পর বলেছেন: "এটি প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহর মহিমা প্রচারের উদ্দেশ্যে দাসের ওপর তার মনিবদের আনুগত্য করা আবশ্যক।" প্রকৃতি (পৌলের কথা অনুযায়ী এভাবেই) কিছু মানুষের জন্য দাস হওয়া অবধারিত করেছে এবং তিনি তার মতবাদের স্বপক্ষে (যেমনটি তিনি অর্থাৎ পৌল মনে করেন) প্রাকৃতিক আইন এবং মানব রচিত ও ঐশী উভয় আইনের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন।
বিখ্যাত ফরাসি পাদ্রী বোসুয়েট বলেছেন: "বিজয়ী যোদ্ধার অধিকার রয়েছে পরাজিত ব্যক্তিকে হত্যা করার; সুতরাং সে যদি তাকে দাসে পরিণত করে, তবে সেটি হবে তার পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ, শ্রেষ্ঠত্ব ও দয়া।"
খ্রিস্টানদের নিকট দাসপ্রথা একটি বৈধ বিষয় হিসেবে গণ্য ছিল; লারুস বিশ্বকোষে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ দাসপ্রথার বৈধতাকে স্বীকার করেন এবং এর আইনগত ভিত্তি মেনে নেন ২।
ইসলামের পূর্ববর্তী ধর্মগুলো যদি দাসপ্রথাকে বৈধ করে থাকে, তবে আমাদের জানা প্রাচীনকালের সকল জাতিও একইভাবে একে বৈধ মনে করত।
ভারতেও প্রাচীন ব্রাহ্মণ্য আইন সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের দুই ভাগে বিভক্ত করেছিল: সেবক ও দাস। পবিত্র কাজগুলো ছিল সেবকদের বৈশিষ্ট্য এবং অপবিত্র কাজগুলোর দায়িত্ব ছিল দাসদের কাঁধে ৩।
ভারতীয় আইন অনুযায়ী দাসদের সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল ব্রাহ্মণদের সেবার জন্য—যারা তাদের নিকট পবিত্র শ্রেণি হিসেবে গণ্য। তারা সমাজের এমন এক শ্রেণি থেকে দাস গ্রহণ করত যাদের জন্য দাসত্বের বৈশিষ্ট্য আবশ্যক ছিল; এমনকি মনিব যদি তার দাসকে পরিত্যাগও করত, তবুও সে দাসই থেকে যেত এবং অন্য মানুষের মতো স্বাধীনতা ভোগ করার যোগ্য হতো না। তাদের আইন অনুযায়ী দাসের সামান্যতম ত্রুটির জন্য তাকে হত্যা করার বিধান ছিল, আর তার ওপর নির্যাতন ও বিভিন্ন পাশবিক উপায়ে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়ে তো কোনো সীমা ছিল না ৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
وكان الرق عند الفرس بدولتهم العظيمة التي امتدت في حدود آسيا المعروفة كثيرة، فكان الأرقاء الرعاة، والأرقاء المختصون بحاجات الزينة والثروة واليسار، ومنهم من خُصص لعمل القبائح المنكرة التي قضت بها خرافات القوم.
قال هيرودت: "ولا يجوز لأي قاس أن يعاقب عبده على ذنب واحد اقترفه بعقاب بالغ في الشدة والصرامة لكن إذا عاد العبد لارتكاب هذا الذنب بعدما أصابه من العقاب. فَلِمَولَاه حينئذ أن يعدمه الحياة أو أن يعاقبه بجميع ما يتصور من أنواع العذاب" 1.
ولعل الصين كانت في القديم من أكثر الدول اعتدَالا في معاملة رقيقها، فكان يستخدم للمنفعة العامة، وكانوا يجلبون الرقيق من الخارج بواسطة الحروب والأسلاب، أو يأخذونهم من البلاد بسبب الفقر والحاجة، لأن الفقير كان يضطر لبيع نفسه أو لبيع أولاده، وكان الاسترقاق في تلك البلاد قليل الشدة والصعوبة؛ لأن الشرائع والعرف والأخلاق كانت تساعد على تلطيف حاله. وقد ورد في أثارهم:
" إن الإنسان هو أفضل وأشرف المخلوقات التي في السماء والتي على الأرض، فمن قتل رقيقه فليس له من سبيل في إخفاء جرمه، ومن أخذت به الجرأة فكوى رقيقه بالنار، حُوكِم على ذلك بمقتضى الشريعة، ومن كواه سيده بالنار دخل في عدد الوطنيين الأحرار"2.
وإذا تركنا آسيا وانتقلنا إلى أوربا لم يكن حال الرقيق بأحسن مما كان عليه الحال في بلاد فارس أو الهند.
فلقد كان المجتمع اليوناني المقسم إلى سادة وعبيد يبالغ في احتقار العبيد على الرغم من استخدامهم في سائر المرافق، وكانوا يعتقدون أن الأرقاء إنما خلقوا لخدمة السادة والأمراء، وكانوا يعتبرونهم جزءاً من الأرض يباعون ويشترون، وكان المورد الأساسي للعبيد عندهم الأسر في الحروب، وأهل البلاد المغلوبة التي يعملون فيها، وكانت القرصنة هي المورد الثاني للعبيد.
وعندما نشطت تجارة الرقيق في أثينا لم تقف مطامع النخاسين عند حد، وصار القرصان اليونانيون يخطفون المسافرين، والسكان الآمنين في الشواطئ الأفريقية والأوربية ويبيعونهم للناس في الأسواق من غير خجل ولا تكبر 3.
--------------------------------------------
পারস্যের বিশাল সাম্রাজ্যে, যা পরিচিত এশিয়ার সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, দাসের সংখ্যা ছিল প্রচুর। তাদের মধ্যে ছিল রাখাল দাস, বিলাসিতা, সম্পদ ও সচ্ছলতার প্রয়োজনে নিয়োজিত বিশেষ দাস, এবং তাদের মধ্যে এমনও ছিল যাদেরকে সেই জাতির কুসংস্কার দ্বারা নির্ধারিত জঘন্য ও নিন্দনীয় কাজগুলো করার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল।
হেরোডোটাস বলেছেন: "কোনো কঠোর হৃদয়ের ব্যক্তির জন্য এটি বৈধ নয় যে, সে তার ক্রীতদাসকে তার করা একটি মাত্র অপরাধের জন্য অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠুর শাস্তি প্রদান করবে। কিন্তু দাস যদি একবার শাস্তি পাওয়ার পর পুনরায় সেই একই অপরাধ করে, তবে তার মালিকের অধিকার রয়েছে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অথবা কল্পনা করা যায় এমন সব ধরনের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেওয়ার।" ১।
সম্ভবত প্রাচীনকালে চীন তাদের দাসদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে মধ্যমপন্থী রাষ্ট্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেখানে দাসদের জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত করা হতো। তারা যুদ্ধের মাধ্যমে এবং যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে বিদেশ থেকে দাস নিয়ে আসত, অথবা দারিদ্র্য ও অভাবের কারণে নিজ দেশ থেকেই তাদের সংগ্রহ করত; কারণ দরিদ্র ব্যক্তিরা নিজেকে বা নিজের সন্তানদের বিক্রি করতে বাধ্য হতো। সেই দেশে দাসপ্রথা তুলনামূলক কম কঠোর ও কঠিন ছিল; কারণ সেখানকার আইন, প্রথা এবং নৈতিকতা তাদের অবস্থা লাঘব করতে সাহায্য করত। তাদের প্রাচীন নিদর্শনগুলোতে বর্ণিত হয়েছে:
"নিশ্চয়ই মানুষ আকাশ ও পৃথিবীতে বিদ্যমান সকল সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে সম্মানিত। সুতরাং যে ব্যক্তি তার ক্রীতদাসকে হত্যা করবে, তার অপরাধ গোপন করার কোনো পথ থাকবে না। আর যে ব্যক্তি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে তার দাসকে আগুনের ছ্যাকা দেবে, তাকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে। আর যার মালিক তাকে আগুনের ছ্যাকা দেবে, সে স্বাধীন নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।" ২।
আমরা যদি এশিয়া ছেড়ে ইউরোপের দিকে যাই, তবে দেখব সেখানে দাসদের অবস্থা পারস্য বা ভারতের তুলনায় ভালো ছিল না।
গ্রিক সমাজ, যা মনিব ও দাসে বিভক্ত ছিল, তারা দাসদের সমস্ত কাজে ব্যবহার করা সত্ত্বেও তাদের চরমভাবে ঘৃণা করত। তারা বিশ্বাস করত যে, দাসদের সৃষ্টিই করা হয়েছে মনিব ও অভিজাতদের সেবা করার জন্য। তারা তাদেরকে ভূমির অংশ মনে করত এবং তারা ক্রয়-বিক্রয়যোগ্য ছিল। তাদের কাছে দাসের মূল উৎস ছিল যুদ্ধবন্দী এবং বিজিত দেশের অধিবাসী যারা সেখানে কাজ করত। আর দস্যুবৃত্তি ছিল দাসের দ্বিতীয় প্রধান উৎস।
যখন এথেন্সে দাস ব্যবসা চাঙা হয়ে উঠল, তখন দাস ব্যবসায়ীদের লোভের কোনো সীমা রইল না। গ্রিক জলদস্যুরা আফ্রিকা ও ইউরোপের উপকূলীয় অঞ্চলের মুসাফির ও নিরাপদ অধিবাসীদের অপহরণ করতে শুরু করল এবং কোনো প্রকার লজ্জা বা দ্বিধা ছাড়াই বাজারে মানুষের কাছে তাদের বিক্রি করতে লাগল। ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
وكان حق المولى على عبده أنه جزء من أملاكه وأمتعته، فله رهنه أو بيعه، والتصرف فيه كما يشتهى لا يمنعه مانع 1.
ولم يكن الحال عند الرومان بأقل مما كان عليه غيرهم من حيث استخدامهم في الأعمال الجسمانية، ومساواتهم بالأمتعة والفرش، فكانوا يباعون بالمزاد. وكانوا يوقفون على مكان عال بحيث يتيسر لكل واحد أن يراهم ويمسهم بيده، ولو لم يكن له نية في شرائه. أحيانا كانوا يشاهدون كيوم ولدتهم أمهاتهم، وكان الرق في نظرهم نتيجة الأسر والسبي، أو الميلاد، أو الدين أو الفرار من الجيش2. ومن العجيب أن الدولة كانت تسترق بعض الأفراد بسلطة القانون مثل أن يمتنع الشخص من أداء الضريبة، أو بعيب عندما يطلب منه الحضور، فيمتنع فيصبح حينئذ في عداد الأرقاء. وكذلك كان المجرمون والثوار يسترقون للدولة، أما الملحدون في الدين فكانوا يسترقون للمعاد.
وكان الإسبرطيون يكَروُن العبيد لمن يرغب في ذلك، ويشغلونهم في الحروب والقتال زيادة في الخدمة، وفلاحة الأراضي وحراستها وغير ذلك من أنواع العمل الشاق.
وكانت القرون الوسطى مسرحا للاسترقاق. وتكاد كلها تتشابه مع الرومان.
ويعتبر الرقيق كجزء من متاع البيت فهو بمنزلة الفرس والثور، وغيرهما من الحيوانات المستخدمة الأهلية، فكان المولى في شرعهم يتصرف بعبده كما يتصرف بما عنده من الأشياء ذات القيمة، وكان لا يجوز له قتله لأنه شيء من الأشياء التي تملكها يمينه، ولم يختلف الاسترقاق عن سابقه عند الغاليين وهم السكان المعروفون في فرنسا وأمام جبال الألب في إيطاليا الشمالية. وأقاليم الغاليا في الجزر البريطانية وإسبانيا وكذلك سكان جرمانيا- ألمانيا- فكانوا يحتكمونهم بطريقة الشراء أو الميراث، وكانوا يكلفون بخدمة المنازل، وكان الولي يفرض عليه مقدارا من القمح أو الماشية أو الملابس كأنه من مؤاجريه، وكان سكان نَهر الرين الأسفل إذا تزوج أحد الأهالي برقيقة أجنبية وقع في الرق والاستعباد. وكذلك المرأة الحرة التي تتزوج برقيق تفقد حريتها، وينالها العقاب.
وكان عند القوط أن المرأة الحرة إذا تزوجت برقيقها، كانت عقوبتها أن تحرق هي وإياه وهما على قيد الحياة، وإذا كانت لا تمتلك العبد يفسخ النكاح، ويجلد كل منهما
--------------------------------------------
দাসের ওপর মালিকের অধিকার ছিল এমন যে, সে তার মালিকানাধীন সম্পদ ও আসবাবপত্রের একটি অংশ হিসেবে গণ্য হতো। সুতরাং মালিকের জন্য তাকে বন্ধক রাখা বা বিক্রি করা এবং তার ব্যাপারে নিজের ইচ্ছামতো আচরণ করার অধিকার ছিল, কোনো কিছুই তাকে বাধা দিত না ১।
রোমানদের কাছেও অবস্থা অন্যদের তুলনায় কোনো অংশে কম ছিল না; কায়িক শ্রমে তাদের ব্যবহার এবং আসবাবপত্র ও বিছানাপত্রের সাথে তাদের সমতুল্য করার ক্ষেত্রে তারা একই রকম ছিল। ফলে তাদের নিলামে বিক্রি করা হতো। তাদের উঁচ কোনো স্থানে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো যাতে প্রত্যেকের জন্য তাদের দেখা এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করা সহজ হয়, এমনকি যদি তার কেনার কোনো ইচ্ছাও না থাকে। কখনো কখনো তাদের এমনভাবে দেখা হতো যেন তাদের মায়েরা তাদের আজই জন্ম দিয়েছেন। তাদের দৃষ্টিতে দাসত্ব ছিল যুদ্ধবন্দী হওয়া, জন্মগত সূত্র, ঋণ অথবা সেনাবাহিনী থেকে পলায়নের ফল ২। বিস্ময়কর বিষয় হলো, রাষ্ট্র আইনের ক্ষমতাবলে কিছু ব্যক্তিকে দাসে পরিণত করত; যেমন কোনো ব্যক্তি কর দিতে অস্বীকার করলে, অথবা উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কোনো ত্রুটির কারণে উপস্থিত না হলে, সে তখন দাসদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত। একইভাবে অপরাধী ও বিদ্রোহীদের রাষ্ট্রের দাস বানানো হতো, আর ধর্মত্যাগীদের খনিগুলোতে কাজের জন্য দাসে পরিণত করা হতো।
স্পার্টানরা দাসদের ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছে ভাড়া দিত এবং অতিরিক্ত সেবা হিসেবে তাদের যুদ্ধ ও লড়াইয়ে নিযুক্ত করত। এছাড়া জমি চাষাবাদ, পাহারা দেওয়া এবং অন্যান্য কঠোর শ্রমে তাদের নিয়োজিত করা হতো।
মধ্যযুগ ছিল দাসত্বের এক রঙ্গমঞ্চ। এর প্রায় সবটুকুই রোমানদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল।
দাসকে ঘরের আসবাবপত্রের অংশ হিসেবে গণ্য করা হতো; সে ঘোড়া, বলদ এবং অন্যান্য গৃহপালিত পশুর সমপর্যায়ের ছিল। তাদের আইনে মালিক তার দাসের সাথে তেমন আচরণই করত যেমনটি সে তার মূল্যবান বস্তুগুলোর সাথে করত। তবে তার জন্য তাকে হত্যা করা বৈধ ছিল না, কারণ সে তার অধিকারভুক্ত বস্তুসমূহেরই একটি ছিল। গল জাতি (যারা ফ্রান্সে এবং উত্তর ইতালির আল্পস পর্বতমালার সামনে বসবাসকারী হিসেবে পরিচিত ছিল), ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ ও স্পেনের গল অঞ্চলসমূহ এবং জার্মানির অধিবাসীদের কাছেও দাসত্ব পূর্ববর্তীদের থেকে ভিন্ন ছিল না। তারা ক্রয় বা উত্তরাধিকার সূত্রে তাদের ওপর কর্তৃত্ব করত। তাদের গৃহস্থালির কাজে নিযুক্ত করা হতো। মালিক তাদের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণ গম, গবাদি পশু বা পোশাকের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিত, যেন সে তার ভাড়াটিয়াদেরই একজন। নিম্ন রাইন নদীর অববাহিকার বাসিন্দাদের মধ্যে যদি কোনো স্থানীয় লোক কোনো বিদেশী দাসীকে বিয়ে করত, তবে সে নিজেও দাসত্বে পতিত হতো। একইভাবে কোনো স্বাধীন নারী যদি কোনো দাসকে বিয়ে করত, তবে সে তার স্বাধীনতা হারাত এবং শাস্তির সম্মুখীন হতো।
গোথদের কাছে নিয়ম ছিল যে, যদি কোনো স্বাধীন নারী তার নিজস্ব দাসকে বিয়ে করত, তবে তার শাস্তি ছিল তাকে এবং ওই দাসকে জীবিত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা। আর যদি সে দাসের মালিক না হতো, তবে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দেওয়া হতো এবং তাদের প্রত্যেককে দোররা মারা হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
بالسياط، ولكن التصرف في العبد بالموت، كان يلجأ السيد إلى القاضي، ليحكم حكمه، ثم يسلمه لسيده ليفعل به ما يريد، وكانت قبائل الويز يغوط تشدد النكير في مسألة تزواج الأحرار بالأرقاء، حتى نص القانون على أن المرأة الحرة إذا تزوجت بعبدها فعقابها أن تحرق هي وهو حيين، وكذلك كانت قبائل الاستورغوط، فقد كانوا يقتلون المرأة التي تتزوج بعبد1.
وكان الأنجلو ساكسون يقسمون الرقيق إلى نوعين هما الرقيق المشبهون بالمنقولات والمشبهون بالعقارات، فالصنف الأول يجوز بيعهم أما الآخرون فكانوا لا ينفكون عن الأرض يقومون بحراثتها وزراعتها 2.
من هذا يتبين أن الأرقاء لم يكن لهم أي تصرف في أنفسهم، ولا أمل لهم في حياة إنسانية أو شبه إنسانية.
وكانت تجارة الرقيق نشطة في أسواق أوربا، ومواني جنوة والبندقية وليفورن في إيطاليا، تعج بالمراكب التي تحمل أبناء السود من الجنسين المخطوفين من إفريقيا، وبعض دول آسيا، وكان أكثر القائمين على هذه التجارة من اليهود.
ولم يكن الحال في أمريكا بأقل منه في الدنيا القديمة، فلقد كانت بواخرها تنتقل بين شاطئ أفريقية وبين أمريكا حاملة الألوف من أهل إفريقية للاتجار، وللزراعة، وكانت حالتهم شبيهة بحال إخوانهم في الدنيا القديمة، فهم بين العمل، والاحتقار، والمهانة فكان على غاية الشدة والقسوة، وكان مقتضى القانون الأسود أن الحرّ إذا تزوج بأمة صار غير جدير بأن يشغل وظيفة في المستعمرات.
وكانت القوانين تصرح بأن للسيد كل حق على عبده حتى حق الاستحياء والإماته. وكَان يجوز للمالك رهن عبده، وإجارته، والمغامرة عليه وبيعه، كأنه بهيمة وكان لا حق للأسود أن يخرج من الغيط، ويطوف بشوارع المدن إلا بتصريح قانوني، ولكن إذا اتفق واجتمع في شارع واحدٍ أكثر من سبعة من الأرقاء ولو بتصريح قانوني، كان لكل أبيض إلقاء القبض عليهم وجلدهم، وقد صرح قانونهم على أن ليس للعبد روح ولا عقل وأن حياتهم محصورة في أذرعهم 3.
--------------------------------------------
চাবুক দ্বারা প্রহার করা হতো, তবে দাসের মৃত্যুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মালিককে বিচারকের শরণাপন্ন হতে হতো, যাতে বিচারক তার রায় প্রদান করেন এবং এরপর তাকে মালিকের হাতে সোপর্দ করতেন তার ইচ্ছামতো ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। উইজিগোথ গোত্রসমূহ স্বাধীন ব্যক্তিদের সাথে ক্রীতদাসদের বিবাহের বিষয়ে কঠোর নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞা জ্ঞাপন করত। এমনকি আইনে বর্ণিত ছিল যে, কোনো স্বাধীন নারী যদি তার ক্রীতদাসকে বিবাহ করে, তবে তার শাস্তি হলো তাকে এবং সেই দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা। একইভাবে অস্ট্রো-গথ গোত্রগুলো সেই নারীকে হত্যা করত যে কোনো ক্রীতদাসকে বিবাহ করত ১।
অ্যাংলো-স্যাক্সনরা ক্রীতদাসদের দুই ভাগে বিভক্ত করত: অস্থাবর সম্পত্তির সদৃশ ক্রীতদাস এবং স্থাবর সম্পত্তির সদৃশ ক্রীতদাস। প্রথম শ্রেণির ক্রীতদাসদের ক্রয়-বিক্রয় করা চলত, কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণির ক্রীতদাসরা ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারত না, তারা ভূমি কর্ষণ ও চাষাবাদের কাজ করত ২।
এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ক্রীতদাসদের নিজেদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না এবং তাদের মানবিক বা প্রায়-মানবিক জীবনের কোনো আশাও ছিল না।
ইউরোপের বাজারগুলোতে ক্রীতদাস ব্যবসা ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। ইতালির জেনোয়া, ভেনিস ও লিভোর্নো বন্দরগুলো আফ্রিকা ও এশিয়ার কিছু দেশ থেকে অপহৃত উভয় লিঙ্গের কৃষ্ণাঙ্গদের বহনকারী জাহাজে পরিপূর্ণ থাকত। এই ব্যবসার অধিকাংশ পরিচালক ছিল ইহুদিরা।
আমেরিকার অবস্থাও প্রাচীন বিশ্বের চেয়ে কম ছিল না। আফ্রিকার উপকূল ও আমেরিকার মাঝে জাহাজগুলো হাজার হাজার আফ্রিকানকে ব্যবসা ও কৃষিকাজের জন্য বহন করে আনত। তাদের অবস্থা প্রাচীন বিশ্বের তাদের ভাইদের মতোই ছিল; পরিশ্রম, ঘৃণা ও লাঞ্ছনার মাঝে তারা চরম কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতার শিকার হতো। 'কালো আইন' অনুযায়ী কোনো স্বাধীন ব্যক্তি যদি কোনো দাসীকে বিবাহ করত, তবে সে উপনিবেশগুলোতে কোনো পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার যোগ্যতা হারাত।
আইনসমূহ ঘোষণা করত যে, দাসের ওপর মালিকের সর্বময় অধিকার রয়েছে, এমনকি তাকে বাঁচিয়ে রাখা বা মেরে ফেলার অধিকারও। মালিকের জন্য তার দাসকে বন্ধক রাখা, ভাড়া দেওয়া, তাকে বাজি হিসেবে ধরা এবং গবাদি পশুর মতো বিক্রি করা বৈধ ছিল। কোনো কৃষ্ণাঙ্গ দাসের খামার থেকে বের হওয়ার বা শহরের রাস্তায় চলাফেরা করার অধিকার ছিল না আইনি অনুমতি ব্যতীত। তবে যদি কখনো সাতজনের বেশি ক্রীতদাস একই রাস্তায় একত্রিত হতো—এমনকি আইনি অনুমতি থাকলেও—তবে যেকোনো শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির জন্য তাদের গ্রেপ্তার করা এবং চাবুকপেটা করা বৈধ ছিল। তাদের আইন স্পষ্ট করে দিত যে, ক্রীতদাসের কোনো আত্মা বা বিবেক নেই এবং তাদের জীবন কেবল তাদের বাহুর শক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
ولقد بدأ إلغاء الرق في أمريكا في منتصف القرن الثامن عشر، وفي سنة 1788م نشبت الحروب بين الولايات الشمالية والجنوبية من أجل إعلان حرية العبيد، ولم يتحقق إلا سنة 1865م بعد انتصار الشماليين على الجنوبيين وقد ظلت التفرقة العنصرية شائعة سنوات عديدة، ولم يكن من الممكن أن يدخل العبيد في الأماكن التي فيها الأسياد ولا أن يركبوا مراكبهم، وكثيرا ما كان البيض يثورون ضدهم، ويشبعونهم ضربا وتقتيلا، وكان القانون دائما في صف البيض.
ومع مرور الأيام بدأ يخف هذا النمط من المعاملة حتى أخذ العبيد أو السود كما يسمونهم شيئا من المشاركة في الحياة العامة.
ولقد بقي الرق على شرعيته عند غير المسلمين إلى أن قررت الثورة الفرنسية إلغاءه سنة 1779 م ومع ذلك فإن عامة البلاد الأوربية والأمريكية ظلت تمارسه إلى نهاية القرن التاسع عشر؛ أي بعد الثورة الفرنسية التي أعلنت مبادئ الحرية والمساواة بين الناس بما يزيد على قرن كامل من الزمن.
وكان الرق في الجزيرة العربية لا يختلف كثيرا عما كان عليه في الأمم الأخرى. وكانت الحروب الدعامة الكبرى للرق، فعندما تقوم الحرب. ويأسر الغالب المغلوب يأخذه أسيرا عنده. وأيضا كان الرق نتيجة للثراء بعد أن يخطف الرقيق؛ فلقد خطف زيد بن حارثة وهو صغير في أثناء لعبه بعيدا عن أمه وهو عند أخواله، ثم بيع في إحدى الأسواق القريبة من مكة واشتراه حكيم بن حزام ابن أخي السيدة خديجة بنت خويلد، ثم أهداه حكيم إلى عمته ولما رأت رضى الله عنها رغبة زوجها الأمين محمد بن عبد الله قبل البعثة أن يلازمه فيقوم بخدمته، قدمته إليه هدية فلزم الرسول صلى الله عليه وسلم قبل الرسالة وبعدها.
وكانت تجارة الرقيق من أهم موارد الثروة عند أهل مكة في الجاهلية ومن أشهر تجار الرقيق عبد الله بن جدعان. وكان ذا تجارة واسعة في الرقيق.
ولقد حرم الأرقاء في الجاهلية من كافة الحقوق المدنية، ومن التصرف في شئونهم الخاصة وغالبا ما كنوا يطلقون كلمة السبايا على النساء خاصة وفي ذلك يقول الشاعر:
فعادوا بالغنائم حافلات
… وعدنا بالأسارى والسبايا 1
--------------------------------------------
আমেরিকায় দাসপ্রথা বিলোপের প্রক্রিয়া আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়েছিল এবং ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে ক্রীতদাসদের স্বাধীনতা ঘোষণার লক্ষ্যে উত্তর ও দক্ষিণ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দের আগে তা বাস্তবায়িত হয়নি, যা উত্তরাঞ্চলীয়দের দক্ষিণাঞ্চলীয়দের ওপর বিজয়ের পর সম্ভব হয়। এরপরও বহু বছর ধরে বর্ণবৈষম্য ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। দাসদের পক্ষে মনিবদের উপস্থিতির স্থানে প্রবেশ করা কিংবা তাদের যানবাহনে আরোহণ করা সম্ভব ছিল না। শ্বেতাঙ্গরা প্রায়ই তাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হতো এবং তাদের ওপর অমানুষিক প্রহার ও হত্যাযজ্ঞ চালাত। আইন সর্বদা শ্বেতাঙ্গদের পক্ষেই থাকত।
দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে এই ধরনের আচরণের কঠোরতা কমতে শুরু করে, এমনকি দাস বা কৃষ্ণাঙ্গরা—যে নামে তারা পরিচিত ছিল—জনজীবনে কিছুটা অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করে।
অমুসলিমদের নিকট দাসপ্রথা তার বৈধতা বজায় রেখেছিল যতক্ষণ না ফরাসি বিপ্লব ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে এটি বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয়। তা সত্ত্বেও ইউরোপ ও আমেরিকার অধিকাংশ দেশে উনিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত এর চর্চা অব্যাহত ছিল; অর্থাৎ ফরাসি বিপ্লব—যা মানুষের মাঝে স্বাধীনতা ও সাম্যের নীতি ঘোষণা করেছিল—তারও পূর্ণ এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর পর্যন্ত।
আরব উপদ্বীপে দাসপ্রথা অন্য জাতিগুলোর তুলনায় খুব একটা ভিন্ন ছিল না। যুদ্ধ ছিল দাসপ্রথার মূল ভিত্তি; যখন যুদ্ধ সংঘটিত হতো এবং বিজয়ী পক্ষ বিজিতদের বন্দী করত, তখন তারা তাদের দাস হিসেবে গ্রহণ করত। এছাড়া অপহরণের মাধ্যমে অর্জিত দাসত্বও ছিল ধনাঢ্যতার একটি উৎস। যেমন, যায়েদ ইবনে হারিসাহকে শৈশবে তার মামার বাড়িতে মায়ের থেকে দূরে খেলাধুলা করার সময় অপহরণ করা হয়েছিল। এরপর মক্কার নিকটবর্তী একটি বাজারে তাকে বিক্রি করা হয় এবং সায়্যিদা খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ-এর ভ্রাতুষ্পুত্র হাকিম বিন হিযাম তাকে ক্রয় করেন। পরবর্তীতে হাকিম তাকে তার ফুফুর নিকট উপহার দেন। যখন তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে তার আমানতদার স্বামী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর তাকে নিজের কাছে রাখা ও সেবা গ্রহণের আগ্রহ লক্ষ্য করলেন, তখন তিনি তাকে নবীজীর নিকট উপহার হিসেবে প্রদান করেন। ফলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে ও পরে অবস্থান করেন।
জাহেলিয়াত যুগে মক্কাবাসীদের নিকট দাস ব্যবসা ছিল সম্পদের অন্যতম প্রধান উৎস এবং আব্দুল্লাহ বিন জুদআন ছিলেন অন্যতম প্রসিদ্ধ দাস ব্যবসায়ী। দাস ব্যবসায় তার বিশাল কারবার ছিল।
জাহেলিয়াত যুগে ক্রীতদাসরা সকল প্রকার নাগরিক অধিকার এবং নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয়াদি পরিচালনার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তারা নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে 'সাবায়া' (যুদ্ধবন্দিনী) শব্দটি প্রয়োগ করত। এ বিষয়ে জনৈক কবি বলেন:
তারা প্রচুর গনিমত নিয়ে ফিরে এল
… আর আমরা ফিরে এলাম যুদ্ধবন্দী ও দাসীদের নিয়ে। ১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
وكان العبد أحيانا ينال حريته؛ وذلك إذا أظهر شجاعة فائقة في الحروب والقتال ضد من يعتدي على سيده وعلى قبيلته، ويحفظ لنا التاريخ قصة عنترة المشهورة وعتق وليه وأبوه له، وجعله حُرًّا يتصرف تصرف الأحرار بعد أن كان عبدا يرعى الغنم، وأيضا فقد يكون الإخلاص الشديد سببا في العتق.
ومهما يكنا من وجود طريق إلى حرية الرقيق فقد كانت قليلة بل نادرة، وكانت معاملة الرقيق لا تضرج عما كان متبعا في الدول الأخرى.
কোনো কোনো সময় দাস তার স্বাধীনতা লাভ করত; আর তা ছিল যখন সে তার মনিব ও গোত্রের ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও লড়াইয়ে অসাধারণ সাহসিকতা প্রদর্শন করত। ইতিহাস আমাদের কাছে অন্তারার প্রসিদ্ধ কাহিনী এবং তার অভিভাবক ও পিতার পক্ষ থেকে তাকে মুক্ত করে দেওয়ার ঘটনাটি সংরক্ষিত রেখেছে; যা তাকে মেষ চড়ানো দাসের জীবন থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাধীন ব্যক্তিদের মতো জীবনযাপনের সুযোগ করে দিয়েছিল। তদুপরি, গভীর আনুগত্য ও একনিষ্ঠতাও কখনো কখনো মুক্তির কারণ হতো।
দাসদের স্বাধীনতার পথ যাই থাকুক না কেন, তা ছিল সীমিত বরং বিরল; আর দাসদের প্রতি আচরণ অন্যান্য রাষ্ট্রে প্রচলিত রীতির চেয়ে ভিন্ন ছিল না।
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
الرق في الإسلامجاء الإسلام والعالم تتحكم فيه قوتان كبيرتان هما الفرس في أسيا والروم في أوربا، والفوارق الطبقية بلغت مداها، وما يزال الرق منتشرا، والرقيق يعاملون وكأنهم جزء من المتاع لا يملكون من أنفسهم شيئا.
جاء الرسول الأعظم محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم في الجزيرة العربية بشريعة رب العالمين، فيها سعادة البشر في الدنيا والآخرة، ولم تكن دعوته لقوم دون قوم، أو لطائفة وحدها وإنما هي دعوة لجميع البشر، في أنحاء المعمورة لا تتقيد بمكان أو زمان إلى يوم القيامة: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيراً وَنَذِيراً} (سورة سبأ 38) .
وأول ما دعا إليه الإسلام حفظ كرامة المسلم، وتحريره من كل القيود لا فرق بين أسود وأبيض أو غني وفقير أو حاكم ومحكوم، الكل أمام الله سواء.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوباً وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُم} (سورة الحجرات 13) .
ومما يروى في سبب نزول هذه الآية: ما روي أنها نزلت في أبي هند، أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بني بياضة أن يزوجوه امرأة منهم، فقالوا يا رسول الله ونزوج بناتنا موالينا فنزلت الآية.
ويقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا فضل لعربي على عجمي ولا لأحمر على أسود إلا بتقوى الله"1.
--------------------------------------------
ইসলামে দাসপ্রথাইসলাম যখন আবির্ভূত হয়, তখন বিশ্ব দুটি বৃহৎ শক্তির কর্তৃত্বে ছিল—এশিয়ায় পারস্য এবং ইউরোপে রোম। তখন শ্রেণি বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল, দাসপ্রথা ছিল সর্বত্র বিস্তৃত এবং দাসদের সাথে এমন আচরণ করা হতো যেন তারা আসবাবপত্রের অংশ, নিজেদের জীবনের ওপর তাদের কোনো অধিকার ছিল না।
মহান রাসূল মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আরব উপদ্বীপে রাব্বুল আলামীনের শরীয়ত নিয়ে আগমন করেন, যাতে নিহিত রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে মানুষের পরম সুখ ও কল্যাণ। তাঁর দাওয়াত কোনো বিশেষ জাতি বা গোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল কিয়ামত পর্যন্ত বিশ্বের সকল প্রান্তের মানুষের জন্য এক সার্বজনীন আহ্বান, যা কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা কালের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়: "আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই পাঠিয়েছি।" (সূরা সাবা ৩৮)।
ইসলাম সর্বপ্রথম যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তা হলো মুসলিমের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাকে সকল প্রকার গোলামির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা; যেখানে সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্র কিংবা শাসক-শাসিতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহর দরবারে সকলেই সমান।
"হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী।" (সূরা আল-হুজুরাত ১৩)।
এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে: এটি আবু হিন্দ-এর ব্যাপারে নাজিল হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বনু বায়াদাহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তারা তাদের বংশের কোনো এক মহিলার সাথে তাঁর বিয়ে দেয়। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আমাদের কন্যাদেরকে আমাদের আযাদকৃত দাসদের সাথে বিয়ে দেব? তখন এই আয়াতটি নাজিল হয়।
রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেন: "আল্লাহর প্রতি তাকওয়া ছাড়া অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কালোর ওপর লালের (শ্বেতাঙ্গ) কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫০৫১)
আর রিককু ফিল জাহিলিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
ولقد عامل الإسلام في أول عهده الرقيق الذين أسلموا- وما يزالون قريبين من العهد الجاهلي- أحسن معاملة، ولم يلغ ما سبق في الجاهلية حتى لا تفسد أمور الناس، وينشغلوا عن أصل الرسالة بأمور جانبية.
لقد عاملهم معاملة حسنة، وكان إسلامهم طريقا إلى التخلص من الرق بطريق مشروع؛ كأن يُشتَرى العبد المسلم من سيده ويعتق، كما حصل للعبد بلال بن رباح، فقد أسلم، ولكنه ما يزال عبدا لسيده أمية بن خلف الذي أذاق بلالاً كل أصناف التعذيب، فكان يتركه في حرارة الشمس القاتلة ساعات الظهيرة كي يرجع عن إسلامه، ولكنه كان قوي الإيمان فتحمل العذاب الأليم إلى أن جاء أبو بكر الصديق واشتراه وأعتقه.
ولقد وجد الرقيق في الإسلام عزا وكرامة، ووجدوا في أخوة الإسلام ما جعلهم يعيشون أحرارا، يرتقون بهذه الأخوة إلى أسمى الرتب ولنضرب لذلك مثلا بزيد بن حارثة وابنه أسامة الذي ولى قيادة جيش المسلمين، ولما يناهز الثامنة عشرة وقد ولاه الرسول صلى الله عليه وسلم في آخر حياته، ونفذه كبار الصحابة بعد وفاته، ومشى أبو بكر الخليفة رضي الله عنه وهو راكبـ، وكان تحت قيادته الصحابة من أمثال عمر وعلى وغيرهما رضي الله عنهم أجمعين
…ولقد افتخر المسلمون بأن رابع الذين أسلموا كان زيد بن حارثة، فقد أسلم بعد السيدة خديجة زوج الرسول علية الصلاة والسلام وأبى بكر وعلى رضي الله عنهما.
الإسلام المنقذ
إن من حق الإسلام أن يترك ابتداء، فالإسلام ليس نحلة قوم، ولا نظام وطن، ولكنه منهج إله، ونظام عالم.. ومن حقه أن يتحرك ليحطم الحواجز من الأنظمة والأوضاع التي تغل من حرية الإنسان في الاختيار. وحسبه أنه يهاجم الأفراد ليكرههم على اعتناق عقيدته، إنما يهاجم الأنظمة والأوضاع ليحرر الأفراد من التأثيرات الفاسدة للفطرة، المقيدة لحرية الاختيار.
سيد قطب
ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম সেইসব দাসদের সাথে সর্বোত্তম আচরণ করেছিল যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল—যারা তখনও জাহেলিয়াতের যুগের খুব কাছাকাছি ছিল। জাহেলিয়াতের পূর্ববর্তী প্রথাগুলোকে ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করেনি যাতে মানুষের জীবনযাত্রায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং তারা মূল বার্তার দিক থেকে বিচ্যুত হয়ে গৌণ বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে না পড়ে।
ইসলাম তাদের সাথে অত্যন্ত সদয় আচরণ করেছে এবং তাদের ইসলাম গ্রহণই ছিল বৈধ উপায়ে দাসত্ব থেকে মুক্তির পথ; যেমন কোনো মুসলিম দাসকে তার মনিবের কাছ থেকে কিনে মুক্ত করে দেওয়া, যেমনটি ঘটেছিল দাস বেলাল বিন রাবাহর ক্ষেত্রে। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তখনও তিনি তার মনিব উমাইয়া বিন খালাফের দাস ছিলেন। উমাইয়া বেলালকে সব ধরনের অমানুষিক নির্যাতন করত। সে তাকে দুপুরের প্রখর ও মরণঘাতী রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেলে রাখত যাতে তিনি ইসলাম ত্যাগ করেন, কিন্তু তিনি ঈমানে অত্যন্ত অটল ছিলেন এবং সেই যন্ত্রণাদায়ক কষ্ট সহ্য করেছিলেন। অবশেষে আবু বকর সিদ্দিক এসে তাকে কিনে নেন এবং মুক্ত করে দেন।
ইসলামে দাসগণ মর্যাদা ও সম্মান খুঁজে পেয়েছিল এবং তারা ইসলামী ভ্রাতৃত্বের মাঝে এমন কিছু পেয়েছিল যা তাদের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছিল। এই ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে তারা সর্বোচ্চ সম্মানের স্তরে উন্নীত হয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ আমরা জায়েদ বিন হারেসা এবং তার পুত্র উসামার কথা বলতে পারি, যাকে মুসলিম সেনাবাহিনীর সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল যখন তার বয়স ছিল মাত্র আঠারো বছরের কাছাকাছি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবনের শেষ দিকে তাকে এই দায়িত্ব প্রদান করেন এবং তাঁর ইন্তেকালের পর প্রবীণ সাহাবীগণ তা কার্যকর করেন। খলীফা আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পায়ে হেঁটে চলছিলেন যখন উসামা সওয়ারীর উপরে ছিলেন, আর উসামার নেতৃত্বে উমর, আলী এবং অন্যান্য (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন) সাহাবীগণ নিয়োজিত ছিলেন
…মুসলমানরা এই নিয়ে গর্ব বোধ করত যে, ইসলাম গ্রহণকারী চতুর্থ ব্যক্তি ছিলেন জায়েদ বিন হারেসা। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিনী খাদিজা, আবু বকর এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পরেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
ত্রাতা ইসলাম
ইসলামের এটি অধিকার যে তাকে অবাধে চলতে দেওয়া হবে। ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ধর্ম নয়, কিংবা কোনো বিশেষ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়; বরং এটি একটি খোদায়ী জীবনবিধান এবং একটি বিশ্বজনীন ব্যবস্থা। মানুষের স্বাধীন ইচ্ছার পথে বাধা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো এবং পরিস্থিতির শৃঙ্খল ভেঙে ফেলার জন্য অগ্রসর হওয়া ইসলামের অধিকার। এটি ব্যক্তিদের তাদের ধর্ম বিশ্বাস গ্রহণে বাধ্য করার জন্য আক্রমণ করে না, বরং এটি বিভিন্ন ব্যবস্থা ও পরিস্থিতির ওপর আঘাত হানে যাতে মানুষকে ফিতরাত বা মানুষের সহজাত স্বভাবের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত করা যায়, যা মানুষের নির্বাচনের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে।
সাইয়্যেদ কুতুব