(খণ্ড: ১) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: -)
قوة العقيدة سبيل النصر في غزوة بدر الكبرى   (محمد عبد المقصود جاب الله)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: قوة العقيدة سبيل النصر في غزوة بدر الكبرى

المؤلف: محمد عبد المقصود جاب الله

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মহা বদর যুদ্ধে বিজয়ের পথ হিসেবে আকিদার শক্তি   (মুহাম্মাদ আব্দ আল-মাকসুদ জাব আল্লাহ)

বিভাগ: সীরাত আন-নাবাবিয়্যাহ


বই: মহা বদর যুদ্ধে বিজয়ের পথ হিসেবে আকিদার শক্তি

লেখক: মুহাম্মাদ আব্দ আল-মাকসুদ জাব আল্লাহ

প্রকাশক: মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০১)
‌‌مدخل

…

قوة العقيدة سبيل النصر في غزوة بدر الكبرى

د/ محمد عبد المقصود جاب الله المدرس في كلية الدعوة بالجامعة

الحلقة الأولى

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين سيدنا محمد بن عبد الله خير خلق الله، اللهم صل وسلم وبارك عليه وعلى آله وأصحابه ومن والاه، ومن اهتدى بهديه وسار على سنته وشريعته إلى يوم الدين.

وبعد:

فإن الأمة الإسلامية من أقصاها إلى أقصاها مستنفرة الآن للدفاع عن حقوقها ضد أعدائها الذين يتربصون بها، ويتكالبون عليها تكالب الأكلة على قصاعها.

ولن يدفع هؤلاء الأعداء عنها، ويصدهم عن سبيلها، إلا إعلان الجهاد المقدس، ورفع رايته تلك الدعوة التي وجهها سمو ولي عهد المملكة العربية السعودية الأمير فهد بن عبد العزيز، فكان لها صدى عميق في جميع الأقطار الإسلامية، واستجابت لها بالتأييد والدعم، وباركتها قلوب الملايين من المسلمين.

ولابد من بيان المثل والقدوة في رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأسلافنا الأوائل في جهادهم وقتالهم لأعدائهم لنترسم طريقهم، ونمشي على منوالهم، وأمثل طريق للإقتداء هو غزوة بدر الكبرى تلك الغزوة التي انتصر فيها المسلمون بقوة عقيدتهم، وتفانيهم في الذود عن الإسلام، والدفاع عن حياضه ضد المشركين، وأعداء الدين.

هذه الموقعة الفاصلة في تاريخ الإسلام والمسلمين، بل في تاريخ البشرية كلها إلى يوم الدين، هذه الموقعة التي قدر المسلمون أن تكون غايتها غنيمة أموال المشركين، وقدَّر ربُّ العالمين أن تكون فيصلاً بين الحق والباطل، وأن تكون مفرق الطريق في تاريخ الإسلام، ومن ثمَّ تكون مفرق الطريق في خط سير التاريخ الإنساني العام، والتي ظهرت فيها الآماد
ভূমিকা

…

মহা বদর যুদ্ধে বিজয়ের পথ: আকিদার শক্তি

ড. মুহাম্মদ আব্দুল মাকসুদ জাব আল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অনুষদের শিক্ষক

প্রথম কিস্তি

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম, আল্লাহর সৃষ্টির সেরা ব্যক্তিত্ব আমাদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর উপর। হে আল্লাহ! তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও যারা তাঁকে ভালোবাসে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াত গ্রহণ করে এবং তাঁর সুন্নাহ ও শরীয়তের পথে চলে, তাদের সকলের উপর শান্তি, রহমত ও বরকত নাযিল করুন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইসলামি উম্মাহ এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত এখন তাদের অধিকার রক্ষার জন্য সেই শত্রুদের বিরুদ্ধে জাগ্রত, যারা তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং তাদের ওপর সেভাবেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে যেভাবে ক্ষুধার্তরা আহারের পাত্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আর এই শত্রুদেরকে তাদের থেকে দূরে সরানো এবং তাদের পথ থেকে প্রতিহত করা সম্ভব হবে না পবিত্র জিহাদ ঘোষণা করা এবং তার পতাকা উত্তোলন করা ছাড়া—যেই আহ্বানটি সৌদি আরব রাজ্যের তৎকালীন ক্রাউন প্রিন্স ফাহদ বিন আব্দুল আজিজ জানিয়েছিলেন। ইসলামি বিশ্বের সকল প্রান্তে এর গভীর প্রতিধ্বনি হয়েছিল এবং তারা সমর্থন ও সাহায্যের মাধ্যমে এর প্রতি সাড়া দিয়েছিল এবং লক্ষ লক্ষ মুসলিমের অন্তর একে বরকতময় মনে করেছিল।

আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আমাদের পূর্বসূরিদের জিহাদ ও শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আদর্শ ও দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা অপরিহার্য, যাতে আমরা তাদের পথ অনুসরণ করতে পারি এবং তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলতে পারি। অনুসরণের জন্য সর্বোত্তম পথ হলো মহা বদর যুদ্ধ—যেই যুদ্ধে মুসলিমরা তাদের আকিদার শক্তি এবং ইসলামের সুরক্ষা ও মুশরিক ও দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে এর সীমানা রক্ষায় আত্মনিবেদনের মাধ্যমে বিজয় লাভ করেছিল।

ইসলাম ও মুসলিমদের ইতিহাসে, বরং কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির ইতিহাসে এটি একটি ফয়সালাকারী যুদ্ধ। এটি এমন এক যুদ্ধ যেটিতে মুসলিমরা লক্ষ্য স্থির করেছিল মুশরিকদের ধন-সম্পদ গনিমত হিসেবে লাভ করা, কিন্তু রাব্বুল আলামীন ফয়সালা করেছিলেন সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করার এবং ইসলামের ইতিহাসে একে একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে নির্ধারণ করার। ফলশ্রুতিতে এটি সাধারণ মানব ইতিহাসের গতিপথেরও একটি সন্ধিক্ষণ হয়ে দাঁড়ায়, যাতে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যসমূহ ফুটে উঠেছিল।
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০২)
البعيدة بين تدبير البشر لأنفسهم فيما يحسبونه الخير، وتدبير ربِّ البشر لهم ولو كرهوه في أول الأمر.

والباطل مهما طال أمده، وقريت شوكته، لابد له -على كثرة أنصاره وقوة عوده- من يوم يخر فيه صريعاً أمام روعة الحق، وقوة الإيمان {كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَاءً وَأَمَّا مَا يَنْفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الأَرْضِ كَذَلِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الأَمْثَالَ} (الرعد آية 17) .

وليست غزوة بدر الكبرى التي قام بها المسلمون في السنة الثانية من الهجرة وفي رمضان المبارك إلا تطبيقاً عملياً لهذه السُّنَّة التي وضعها الله سبحانه وتعالى في صراع الحق للباطل، وهي من السنن التي لا تتبدل ولا تتغير، وليس الحديث عنها حديثاً عن مجرد معركة قامت بين فريقين اختصما على بعير أو قطعة من الأرض، أو على قتل نفس بريئة فانتصر أحدهما على الآخر، وإنما هو حديث كيف يصرع الحقُّ بجلاله الباطل بعدته.

والصراع بين الحق والباطل ليس صراع وقت دون وقت، ولا مكان دون مكان، وإنما هو شأن بشريٌّ عام ما دام الإنسان، وما دام في الإنسان إيمان ورحمة، وتقى وصلاح، وفيه كفر وقسوة، وفجور وانحراف.

وتلك طبيعة الإنسان لم يخلقه الله حين خلقه إلا كان من جنده قوى الخير تدفعه إلى الإيمان وإلى الكفاح في سبيله، وكان من جنده قوى الشر تدفعه إلى الطغيان وإلى الكفاح في سبيله قال الله سبحانه وتعالى: {وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا} (الشمس آية 7-10) .

وقال سبحانه وتعالى: {إِنَّا خَلَقْنَا الإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ أَمْشَاجٍ نَبْتَلِيهِ فَجَعَلْنَاهُ سَمِيعاً بَصِيراً إِنَّا هَدَيْنَاهُ السَّبِيلَ إِمَّا شَاكِراً وَإِمَّا كَفُوراً} (الإنسان آية 2-3) وسأتناول الحديث عنها في النقاط الآتية:

1- مقدمة الغزوة.

2- سبب الغزوة ووصف المعركة وفضل الله على المسلمين فيها.

3- تسجيل لمواقف الخزي والعار بالنسبة لقريش ورجالها.

4- أسباب النصر وعوامله.

5- الأسرى وموقف الرسول صلى الله عليه وسلم منهم.

6- الخاتمة.
মানুষ নিজেদের জন্য যা কল্যাণকর মনে করে সেই পরিকল্পনা এবং তাদের জন্য মানুষের রবের পরিকল্পনার মধ্যে যে দুস্তর ব্যবধান, যদিও তারা শুরুতে তা অপছন্দ করে।

বাতিল বা মিথ্যা যতই দীর্ঘস্থায়ী হোক এবং তার শক্তি যতই বৃদ্ধি পাক—তার অগণিত সাহায্যকারী এবং কাঠামোগত শক্তি থাকা সত্ত্বেও—অবশ্যই এমন একদিন আসবে যখন তা সত্যের মহিমা এবং ঈমানের শক্তির সামনে ধরাশায়ী হয়ে নিক্ষিপ্ত হবে। "এভাবেই আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার উদাহরণ পেশ করেন। যা ফেনা তা তো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে তা জমিনে টিকে থাকে। এভাবেই আল্লাহ উপমাসমূহ বর্ণনা করেন।" (সূরা আর-রাদ, আয়াত ১৭)।

দ্বিতীয় হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসে মুসলিমদের পরিচালিত 'বদরুল কুবরা' বা বদরের মহাযুদ্ধ সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্বে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত এই শাশ্বত নিয়মের একটি বাস্তব প্রয়োগ ছাড়া আর কিছুই নয়। এটি এমন এক নিয়ম যা কখনো পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয় না। আর এই যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা কেবল দুটি দলের নিছক কোনো লড়াইয়ের কাহিনী নয়—যারা একটি উট বা একখণ্ড জমি নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল, কিংবা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে একজন অপরজনের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিল; বরং এটি হলো সত্য তার মহিমা দ্বারা কীভাবে রণসম্ভারে সজ্জিত বাতিলকে পরাস্ত করে সেই আলোচনার বিষয়।

সত্য ও মিথ্যার এই দ্বন্দ্ব কোনো বিশেষ সময়ের বা বিশেষ কোনো স্থানের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষ যতক্ষণ আছে এবং মানুষের মধ্যে যতক্ষণ ঈমান ও রহমত, তাকওয়া ও নেক আমল এবং কুফর ও কঠোরতা, পাপাচার ও বিচ্যুতি বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি একটি সার্বজনীন মানবিক বিষয় হিসেবে অব্যাহত থাকবে।

আর এটাই মানুষের প্রকৃতি; আল্লাহ যখন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তখন তার মধ্যে কল্যাণের এক শক্তি রেখেছেন যা তাকে ঈমানের দিকে ও আল্লাহর পথে সংগ্রামের দিকে ধাবিত করে, আবার তার মধ্যে অকল্যাণের শক্তিও রেখেছেন যা তাকে অবাধ্যতা ও তার পথে লড়াইয়ের দিকে প্ররোচিত করে। মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "শপথ প্রাণের এবং তাঁর, যিনি তাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন। অতঃপর তাকে তার অসততা ও তার তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন। অবশ্যই সে সফল হয়েছে যে তাকে পবিত্র করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে যে তাকে কলুষিত করেছে।" (সূরা আশ-শামস, আয়াত ৭-১০)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র বীর্য থেকে, যাতে আমি তাকে পরীক্ষা করি; তাই আমি তাকে শ্রবণকারী ও দর্শনকারী বানিয়েছি। আমি তাকে পথ প্রদর্শন করেছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে নতুবা অকৃতজ্ঞ হবে।" (সূরা আল-ইনসান, আয়াত ২-৩)। আমি নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে এ নিয়ে আলোচনা করব:

১- যুদ্ধের ভূমিকা।

২- যুদ্ধের কারণ, যুদ্ধের বর্ণনা এবং এতে মুসলিমদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ।

৩- কুরাইশ ও তাদের লোকদের অপমান ও লাঞ্ছনার পরিস্থিতির বিবরণ।

৪- বিজয়ের কারণ ও প্রভাবকসমূহ।

৫- যুদ্ধবন্দী এবং তাদের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থান।

৬- উপসংহার।
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০৩)
أولاً:‌‌ مقدمة الغزوة:

مكث النبي صلى الله عليه وسلم بضع عشرة سنة ينذر بالدعوة من غير قتال صابراً على شدة إيذاء العرب بمكة المكرمة واليهود بالمدينة المنورة، فكان يأتيه أصحابه ما بين مضروب ومجروح. يشكون إليه حالهم، ويطلبون منه السماح لرد العدوان بالمثل، فيقول لهم النبي صلى الله عليه وسلم: "اصبروا لأنيِّ لم أومر بالقتال"، حتى أن بعض أصحابه قتل من جراء العذاب، منهم سمية أم عمار بن ياسر، وزوجها ياسر، عذَّبهما المغيرة على إسلامهما ليرجعا عنه وماتا تحت العذاب1.

ثم تطورت الأحداث بعد ذلك، وتفنن المشركون في إيذاء المسلمين حتى أجمعوا أمرهم على قتل النبي صلى الله عليه وسلم فلما علم بقصدهم هاجر إلى المدينة المنورة، حيث استقبله أهلها بالترحاب وبايعوه على الإسلام.

ولم يكتف المشركون بمحاولتهم قتل النبي صلى اله عليه وسلم، بل ألبوا عليه القبائل الجاهلية لإبطال دعوته والقضاء عليها.

ومنع المستضعفون من المسلمين من الهجرة إلى المدينة فراراً بدينهم وانضماماً إلى إخوانهم. فكان أمام هذه المحاولات أن أذن للنبي صلى الله عليه وسلم بالقتال من قبل الله سبحانه وتعالى.

وإذا أمعنا النظر في النصوص القرآنية التي أمر الرسول فيها بالقتال رأيناها تعترف بأن الحرب وسيلة لدفع العدوان. اعترفت بها لأن طبيعة البشر كثيراً ما تقتضي إلى التنازع والبغي، والاعتداء على الحريات.

وإلى هذا يشير القرآن الكريم في قوله سبحانه وتعالى: {أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَى نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَاّ أَنْ يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ وَلَوْلا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لَهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيراً وَلَيَنْصُرَنَّ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ} (الحج آية 39-40) .

ففي هاتين الآيتين إذنٌ بالقتال، وتعليل له بما مني به المسلمون من الظلم والاعتداء، وما أكرهوا عليه من الإخراج من الديار والأوطان بغير حق، ويقول الله سبحانه وتعالى: {وَمَا لَكُمْ لا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ

--------------------------------------------

1 سيرة ابن هشام القسم الأول ص 320 الطبعة الثانية مطبعة الحلبي 1375-1955.
প্রথমত:‌‌ যুদ্ধের ভূমিকা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশ বছরেরও বেশি সময় কোনো যুদ্ধ ছাড়াই দাওয়াতের মাধ্যমে সতর্ক করার কাজে অতিবাহিত করেন। মক্কা মুকাররমায় আরবদের এবং মদিনা মুনাওয়ারায় ইহুদিদের তীব্র নির্যাতনের ওপর তিনি ধৈর্য ধারণ করেন। তখন তাঁর সাহাবীগণ আহত ও প্রহৃত অবস্থায় তাঁর কাছে আসতেন। তাঁরা তাঁর কাছে নিজেদের অবস্থার অভিযোগ করতেন এবং সমপরিমাণ পাল্টা আক্রমণের অনুমতি প্রার্থনা করতেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বলতেন: "তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, কারণ আমাকে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়নি।" এমনকি তাঁর কোনো কোনো সাহাবী নির্যাতনের কারণে শহীদ হন, যাঁদের মধ্যে আম্মার ইবনে ইয়াসিরের মাতা সুমাইয়া এবং তাঁর পিতা ইয়াসির রয়েছেন। মুগীরা তাঁদের ইসলাম গ্রহণের কারণে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালায় যাতে তাঁরা ইসলাম ত্যাগ করেন এবং তাঁরা সেই নির্যাতনের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন১।

এরপর পরিস্থিতির আরও পরিবর্তন ঘটে এবং মুশরিকরা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করতে থাকে, এমনকি তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার ব্যাপারে একমত হয়। যখন তিনি তাদের এই সংকল্পের কথা জানতে পারেন, তখন তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় হিজরত করেন, যেখানে মদিনাবাসী তাঁকে সাদরে গ্রহণ করে এবং ইসলামের ওপর তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করে।

মুশরিকরা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার প্রচেষ্টাতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা তাঁর দাওয়াতকে নস্যাৎ ও নির্মূল করার জন্য জাহেলী গোত্রগুলোকে তাঁর বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলে।

আর অসহায় মুসলমানদের নিজেদের দ্বীন রক্ষার্থে হিজরত করে মদিনায় ভাইদের সাথে যোগ দিতে বাধা প্রদান করা হয়। এই সকল অপপ্রয়াসের প্রেক্ষাপটে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যুদ্ধের অনুমতি প্রদান করা হয়।

আমরা যদি সেই সব কুরআনী বাণীর প্রতি গভীরভাবে লক্ষ্য করি যেখানে রাসূলকে যুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে, তবে দেখব যে সেগুলোতে যুদ্ধকে আক্রমণ প্রতিহত করার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে কারণ মানুষের স্বভাব প্রায়ই বিবাদ, সীমালঙ্ঘন এবং স্বাধীনতা হরণের দিকে ধাবিত হয়।

কুরআন মাজীদে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণীতে এরশাদ হয়েছে: {যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো হচ্ছে, তাদেরকে (যুদ্ধের) অনুমতি দেওয়া হলো, কারণ তারা নির্যাতিত হয়েছে; এবং আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করতে সক্ষম। যাদেরকে অন্যায়ভাবে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে শুধু এই কারণে যে, তারা বলে ‘আমাদের রব আল্লাহ’। আল্লাহ যদি মানুষের এক দলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে বিধ্বস্ত হয়ে যেত সন্ন্যাসীদের আশ্রম, গির্জা, সিনাগগ এবং মসজিদসমূহ, যাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন যে তাঁকে সাহায্য করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।} (সূরা হজ, আয়াত ৩৯-৪০)।

এই আয়াত দুটিতে যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং তার কারণ হিসেবে মুসলমানদের ওপর সংঘটিত জুলুম-অবিচার এবং অন্যায়ভাবে তাদের ঘরবাড়ি ও স্বদেশ থেকে বিতাড়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: {আর তোমাদের কী হলো যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং সেই সব অসহায় পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য যুদ্ধ করছ না যারা...

--------------------------------------------

১. সিরাতে ইবনে হিশাম, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২০, দ্বিতীয় সংস্করণ, আল-হালাবি প্রেস, ১৩৭৫-১৯৫৫।
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০৪)
يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَلْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ وَلِيّاً وَاجْعَلْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ نَصِيراً} (النساء آية 75) .

يلفت الله سبحانه وتعالى إلى أن الحرب في الإسلام ليست للتحكم في الرقاب ولإذلال العباد، بل هي في سبيل الله، وفي سبيل المستضعفين من المؤمنين الساكنين في مكة، الذين استذلوا ومنعوا من الهجرة ليفتنوهم عن دينهم.

فالإسلام في جهادٍ دائم لا ينقطع أبداً لتحيقيق كلمة الله في الأرض ولرفع الظلم عن الأفراد والجماعات في أقطار الأرض.

ومكة التي أكره الرسول صلى الله عليه وسلم على الهجرة منها فراراً بدينه، والتي ترك المسلمون فيها أموالهم وديارهم، تَعْتَمِد في معيشتها على التجارة. وعمل قريش الأول هو التجارة مع الشام، وطريق التجارة إلى الشام محفوف بالخطر، فالمسلمون في طريقه، ولقد أدرك الرسول صلى الله عليه وسلم أهمية القضاء على قوة العدو الاقتصادية ووضعها في المقام الأول، لأن القضاء عليها قضاءً على القوة العسكرية. واهتمام الرسول عليه الصلاة والسلام بذلك يظهر من الغزوات الأولى والسرايا التي بعث بها الرسول عليه الصلاة والسلام قبل بدر، فقد كان هدفه الأول منها القضاء على تجارة قريش ومنع قوافلها من الخروج إلى الشام.

ونحن في عصرنا هذا نسمع عن الحرب الاقتصادية والحصار الاقتصادي وهما ذات السلاح الذي استخدمه الرسول صلى الله عليه وسلم.

وكانت هذه الغزوات والسرايا التي قام الرسول صلى الله عليه وسلم بنفسه بقيادة بعضها، بمثابة الاستكشاف والاستطلاع لمعرفة قوة عدوه، والوقوف على ما يدبره القرشيون من المكايد له صلى الله عليه وسلم، وللمسلمين في المدينة.... ولقد ظن الكثيرون أن الرسول عليه الصلاة والسلام كان يهدف بتلك السرايا والغزوات إلى جر قريش إلى الحرب.

والواقع أن الرسول صلى الله عليه وسلم كان يرمي إلى غرضين نبيلين هما:

1- رغبته في أن تشعر قريش أن المسلمين في المدينة المنورة قوة، وأن في استطاعتهم قطع طريق القوافل إلى الشام وأن هذا معناه ضرورة إعادة النظر في موقف قريش من محمد صلى الله عليه وسلم ورجاله، وأن على قريش أن تفكر جدِّياً في أن مصلحتها تقتضي التفاهم مع المسلمين، فتكفل لهم حرية الدعوة إلى الدين في نظير سلامة تجارتهم وقوافلهم.
তারা বলে, "হে আমাদের রব! আমাদের এই জনপদ থেকে বের করে দিন যার অধিবাসীরা জালিম, আর আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক নিযুক্ত করুন এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী নিযুক্ত করুন।" (নিসা, আয়াত ৭৫)।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন যে, ইসলামে যুদ্ধ মানুষের ঘাড়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য কিংবা বান্দাদের লাঞ্ছিত করার জন্য নয়; বরং তা আল্লাহর পথে এবং মক্কায় বসবাসকারী মুমিনদের মধ্য থেকে সেই সব দুর্বলদের জন্য, যাদেরকে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল এবং হিজরত করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল যাতে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করা যায়।

সুতরাং ইসলাম যমীনে আল্লাহর কালিমা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ওপর থেকে জুলুম দূর করার জন্য এক অবিরাম জিহাদের মধ্যে রয়েছে যা কখনও বিচ্ছিন্ন হয় না।

মক্কা, যেখান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দ্বীন রক্ষার জন্য হিজরত করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং যেখানে মুসলমানরা তাদের ধন-সম্পদ ও ঘরবাড়ি রেখে এসেছিলেন, তার অর্থনীতি ছিল বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। কুরাইশদের প্রধান কাজ ছিল শামের সাথে বাণিজ্য করা, আর শামের বাণিজ্য পথটি ছিল বিপদে ঘেরা, কারণ মুসলমানরা সেই পথেই অবস্থান করছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুর অর্থনৈতিক শক্তি ধ্বংস করার গুরুত্ব অনুধাবন করেছিলেন এবং একে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, কারণ অর্থনৈতিক শক্তি ধ্বংস করা মানেই সামরিক শক্তি ধ্বংস করা। বদর যুদ্ধের পূর্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব প্রাথমিক যুদ্ধ ও অভিযান পাঠিয়েছিলেন, তা থেকে এ বিষয়ে তাঁর গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এগুলোর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল কুরাইশদের বাণিজ্য ধ্বংস করা এবং তাদের কাফেলাগুলোকে শামের উদ্দেশ্যে বের হতে বাধা দেওয়া।

বর্তমান যুগে আমরা অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ সম্পর্কে শুনে থাকি, যা আসলে সেই একই অস্ত্র যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবহার করেছিলেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং যে সকল যুদ্ধ ও অভিযানের কোনো কোনোটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেগুলো ছিল শত্রুর শক্তি সম্পর্কে জানার জন্য অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মতো, যাতে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মদীনার মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুরাইশদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। অনেকে মনে করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই অভিযান ও যুদ্ধগুলোর মাধ্যমে কুরাইশদের যুদ্ধের দিকে টেনে আনতে চেয়েছিলেন।

বাস্তবতা হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি মহৎ উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, সেগুলো হলো:

১- তাঁর এই ইচ্ছা যে, কুরাইশরা যেন বুঝতে পারে মদীনা মুনাওয়ারায় মুসলমানরা একটি শক্তি, এবং তাদের শামের বাণিজ্য কাফেলার পথ বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। এর অর্থ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাথীদের ব্যাপারে কুরাইশদের অবস্থানের পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন এবং কুরাইশদের গুরুত্বের সাথে চিন্তা করা উচিত যে, তাদের স্বার্থই মুসলমানদের সাথে সমঝোতা দাবি করে। ফলে তারা তাদের বাণিজ্য ও কাফেলার নিরাপত্তার বিনিময়ে মুসলমানদের জন্য দ্বীনের দাওয়াত প্রচারের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে।
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০৫)
وكان هذا بمثابة إنذار لقريش وبيان عقبى طيشها، فقد حاربت الإسلام ولا تزال تحاربه، ونكلت بالمسلمين في مكة ثم ظلت ماضية في غيِّها لا تسمح لأحد من أهل مكة أن يدخل في دين الله، ولا تسمح لهذا الدين أن يجد قراراً في بقعة أخرى من الأرض.

فأحب الرسول صلى الله عليه وسلم أن يشعر زعماء مكة بأن هذه الخطة الجائرة ستلحقُ الأضرار الفادحة بهم، وأنه قد مضى إلى غير عودة ذلك العصر الذي يعتدون فيه على المؤمنين، وهم بمأمن من القصاص، لأن المؤمنين قد تخلصوا من ضعفهم القديم. ذلك الضعف الذي مكن قريشاً من مصادرة حرياتهم، واغتصاب دورهم وأموالهم.

ومن حق المسلمين أن يُعْنَوا بهذه المظاهرات العسكرية على ضآلة شأنها، فإن المتربصين بالإسلام كثروا ولن يصدهم عن النيل منهم إلا الخوف وحده.

وهذا تفسير قوله سبحانه وتعالى: {تُرْهِبُونَ بِهِ عَدُوَّ اللَّهِ وَعَدُوَّكُمْ وَآخَرِينَ مِنْ دُونِهِمْ لا تَعْلَمُونَهُمُ اللَّهُ يَعْلَمُهُمْ} (الأنفال آية 60) .

وهذا ما عرفته الجيوش الحديثة باسم المناورات العسكرية، والاستعراضات التي تقوم بها بين الحين والحين.

2- والغرض الثاني رغبته صلى الله عليه وسلم في أن يعقد الصلح والمعاهدات مع القبائل التي تقطن بجوار المدينة، وسيظهر ذلك في خلال الحديث عن هذه السرايا والغزوات التي سأكتفي بذكر بعضها …

1- في صفر من السنة الثانية من الهجرة خرج الرسول صلى الله عليه وسلم بنفسه بعد أن جمع جموعه من المهاجرين دون الأنصار بعد أن علم أن تجارة لقريش ستمر بطريق الشام، ومضى بجيشه حتى بلغ ودَّان1.

إلا أن عير قريش كانت قد مرت من قبله، فلم يحدث اشتباك، وصالح بني ضمرة وحالفها، وكان بينه وبينها كتاب جاء فيه "بسم الله الرحمن الرحيم: هذا كتاب من محمد رسول الله لبني ضمرة بأنهم آمنوا على أموالهم وأنفسهم، وأن لهم النصرة على من رامهم إلا أن يحاربوا في دين الله ما بل بحر صوفة، وأن النبي صلى الله عليه وسلم إذا دعاهم إلى لنصره أجابوه. عليهم بذلك ذمة الله، وذمة رسوله".

--------------------------------------------

1 ودّان: قرية جامعة من أمهات القرى من عمل الفرع، وقيل: واد على الطريق يقطعه المصعدون من حجاج المدينة.
এটি কুরাইশদের জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং তাদের হঠকারিতার পরিণতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কাজ করেছিল। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল এবং তখনও তা চালিয়ে যাচ্ছিল। তারা মক্কায় মুসলমানদের ওপর চরম নির্যাতন চালিয়েছিল এবং তাদের পথভ্রষ্টতায় অবিচল ছিল। তারা মক্কাবাসীদের কাউকেই আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দিচ্ছিল না এবং এই দ্বীন যাতে পৃথিবীর অন্য কোনো ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, সেই প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল।

তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার নেতাদের এটি উপলব্ধি করাতে চেয়েছিলেন যে, তাদের এই অবিচারমূলক পরিকল্পনা তাদের ওপর মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনবে। মুমিনদের ওপর তারা আক্রমণ করবে আর তার কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হবে না—এমন নিরাপদ দিন চিরতরে গত হয়েছে। কারণ মুমিনরা তাদের সেই পূর্বতন দুর্বলতা কাটিয়ে উঠেছেন; যে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কুরাইশরা তাদের স্বাধীনতা হরণ করেছিল এবং তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পদ দখল করে নিয়েছিল।

এই সামরিক মহড়াগুলো ক্ষুদ্র পরিসরে হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা মুসলমানদের জন্য সংগত ছিল। কারণ ইসলামের বিরুদ্ধে ওত পেতে থাকা শত্রুর সংখ্যা ছিল অনেক এবং ভয় ছাড়া আর কোনো কিছুই তাদের মুসলমানদের অনিষ্ট করা থেকে বিরত রাখতে পারত না।

আর এটিই মহান আল্লাহর বাণীর ব্যাখ্যা: "এর মাধ্যমে তোমরা আতঙ্কিত করবে আল্লাহর শত্রুকে এবং তোমাদের শত্রুকে আর তারা ছাড়া অন্যদেরও, যাদের তোমরা চেনো না, কিন্তু আল্লাহ তাদের চেনেন।" (সূরা আল-আনফাল, আয়াত ৬০)।

আধুনিক সেনাবাহিনীগুলো মাঝে মাঝে যে 'সামরিক মহড়া' বা 'শক্তি প্রদর্শন' করে থাকে, এটি মূলত তাই।

২- দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল মদীনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসরত গোত্রগুলোর সাথে শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করার প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইচ্ছা। এই সারিয়া (অভিযান) এবং গাযওয়া (যুদ্ধ) সমূহের বর্ণনায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে, যার মধ্য থেকে আমি কেবল কয়েকটির কথা উল্লেখ করছি…

১- হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষের সফর মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের ছাড়াই কেবল মুহাজিরদের একটি দল নিয়ে নিজে অভিযানে বের হলেন। তিনি সংবাদ পেয়েছিলেন যে, কুরাইশদের একটি বাণিজ্যিক কাফেলা সিরিয়ার পথে যাতায়াত করবে। তিনি তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হয়ে 'ওয়াদ্দান' নামক স্থানে পৌঁছালেন।১

কিন্তু কুরাইশদের কাফেলা তাঁর পৌঁছানোর আগেই চলে গিয়েছিল, ফলে কোনো সংঘর্ষ ঘটেনি। তিনি বনু দামরার সাথে সন্ধি ও মিত্রতা স্থাপন করলেন। তাঁদের মাঝে একটি লিখিত চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, যাতে উল্লেখ ছিল: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদের পক্ষ থেকে বনু দামরার জন্য একটি চুক্তিপত্র—তারা তাদের ধন-সম্পদ ও জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে। যারা তাদের ওপর আক্রমণ করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য করা হবে; যতক্ষণ না তারা আল্লাহর দ্বীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং যতক্ষণ সমুদ্রে পশম ভেজানোর মতো পানি অবশিষ্ট থাকে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই তাদের সাহায্যের জন্য ডাকবেন, তারা তাতে সাড়া দেবে। এর ওপর তাদের জন্য আল্লাহর জিম্মাদারি এবং তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি রইল।"

--------------------------------------------

১ ওয়াদ্দান: এটি আল-ফারা' অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রধান গ্রাম। অন্যমতে, এটি রাস্তার ওপর অবস্থিত একটি উপত্যকা যা মদীনা থেকে আসা হাজীরা অতিক্রম করে থাকেন।
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০৬)
وكانت هذه الغزوة أول غزوة للرسول صلى الله عليه وسلم غاب فيها عن المدينة خمس عشرة ليلة1.

2- وفي العام الثاني من الهجرة وفي شهر رجب بعث الرسول صلى الله عليه وسلم عبد الله بن جحشً الأسدي، ومعه جماعة من المهاجرين. وقال الرسول صلى الله عليه وسلم عند ما بعثه على رأس السرية: "لأبعثن إليكم رجلا أصبركم على الجوع والعطش" وأطلق عليه الرسول صلى الله عليه وسلم لقب أمير المؤمنين، فكان أول من تسمى به في الإسلام. ودفع إليه بكتاب وأمره ألا ينظر فيه إلا بعد يومين من مسيره، فإذا نظر فيه ووعى ما كلفه الرسول به، مضى في تنفيذه غير مستكرهٍ أحداً من أصحابه.

فسار عبد الله ثم قرأ الكتاب بعد يومين فإذا فيه: امض حتى تنزل نخلة بين مكة والطائف فترصد بها قريشاً وتعلم لنا أخبارهم.

فقال عبد الله: "سماع وطاعة" وأطلع أصحابه على كتاب الرسول صلى الله عليه وسلم قائلاً: إنه نهاني أن أستكره أحدا منكم فمن كان يريد الشهادة ويرغب فيها فلينطلق معي، ومن كره ذلك فليرجع، فأما أنا فماضٍ لأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم. فمضى ومضى معه أصحابه لم يتخلف منهم أحد، إلَاّ أن سعد بن أبي وقاص، وعتبة بن غزوان ذهبا يبحثان عن بعير كانا يعقبانه وكان قد ندَّ فأسرتهما قريش …

ومضى عبد الله برفاقه حتى نزل أرض نخلة. فمرت عير قريش، فهاجهما عبد الله ومن معه، فقتل في هذه المعركة عمرو بن الخضرمي، وأسر اثنان من المشركين، وعاد عبد الله إلى المدينة ومعه العير والأسيران.

وهكذا عرف الرسول صلى الله عليه وسلم أن السَّرِّية فيها النصر والغلبةُ على الأعداء.

وقد وقع هذا القتال في آخر شهر رجب أي في الشهر الحرام، فلما قدم عبد الله وأصحابه على رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ما أمرتكم بقتال في الشهر الحرام" ووقف التصرف في العير والأسيرين، ووجد المشركون فيما حدث فرصة لاتهام المسلمين بأنهم قد أحلوا ما حرم الله وكثر في ذلك القيل والقال حتى نزل الوحي حاسماً هذه الأقاويل، ومؤيداً مسلك عبد الله تجاه المشركين2.

--------------------------------------------

1 السيرة لابن هشام القسم الأول ص 591، أبو الفداء 3/ 243، فتح الباري 7/ 279.

2 السيرة لابن هشام 1/ 601-605، أبو الفداء 3/ 248-252، فتح الباري 7/280.
এই যুদ্ধটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথম যুদ্ধ, যাতে তিনি মদিনা থেকে পনের রাত অনুপস্থিত ছিলেন।১

২- হিজরির দ্বিতীয় বছরে রজব মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে জাহশ আল-আসাদিকে একদল মুহাজিরসহ প্রেরণ করেন। এই অভিযানের প্রধান হিসেবে তাঁকে পাঠানোর সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "আমি তোমাদের কাছে এমন এক ব্যক্তিকে পাঠাচ্ছি যে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে 'আমিরুল মুমিনিন' উপাধি প্রদান করেন; তিনিই ছিলেন ইসলামের প্রথম ব্যক্তি যাঁকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছিল। তিনি তাঁকে একটি পত্র প্রদান করেন এবং নির্দেশ দেন যে, তাঁর যাত্রার দুই দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে যেন তিনি তাতে দৃষ্টিপাত না করেন। যখন তিনি এটি দেখবেন এবং রাসূলুল্লাহ তাঁকে যে কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন তা উপলব্ধি করবেন, তখন যেন তিনি তাঁর সঙ্গীদের কাউকে বাধ্য না করে তা বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হন।

অতঃপর আব্দুল্লাহ যাত্রা শুরু করলেন এবং দুই দিন পর পত্রটি পাঠ করলেন, যাতে লিখা ছিল: মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী নাখলা নামক স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত চলতে থাকো। সেখানে তুমি কুরাইশদের ওপর নজর রাখবে এবং আমাদের জন্য তাদের সংবাদ সংগ্রহ করবে।

আব্দুল্লাহ বললেন: "শুনলাম ও মান্য করলাম।" তিনি তাঁর সঙ্গীদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পত্রটি সম্পর্কে অবহিত করে বললেন: "তিনি আমাকে তোমাদের কাউকে বাধ্য করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে শাহাদাত কামনা করে এবং এর প্রতি আগ্রহী, সে যেন আমার সাথে চলে। আর যে তা অপছন্দ করে, সে ফিরে যেতে পারে। আর আমি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ পালনে অগ্রসর হচ্ছি।" অতঃপর তিনি চললেন এবং তাঁর সাথে তাঁর সঙ্গীরাও চললেন, তাঁদের কেউ পিছপা হননি। তবে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং উতবাহ ইবনে গাজওয়ান তাঁদের একটি হারানো উট খুঁজতে গিয়েছিলেন যেটি পালাচ্ছিল, ফলে কুরাইশরা তাঁদের বন্দী করে নেয়...

আব্দুল্লাহ তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে নাখলা ভূমিতে পৌঁছানো পর্যন্ত এগিয়ে চললেন। তখন কুরাইশদের একটি বাণিজ্য কাফেলা সেখান দিয়ে অতিক্রম করল। আব্দুল্লাহ ও তাঁর সাথীরা তাদের ওপর আক্রমণ করলেন। এই যুদ্ধে আমর ইবনুল হাদরামি নিহত হয় এবং মুশরিকদের দুইজন বন্দী হয়। আব্দুল্লাহ সেই কাফেলা ও দুইজন বন্দীকে নিয়ে মদিনায় ফিরে আসেন।

এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলেন যে, এই অভিযানে শত্রুদের ওপর বিজয় ও প্রাধান্য লাভ হয়েছে।

এই যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল রজব মাসের শেষে অর্থাৎ হারাম মাসে। আব্দুল্লাহ ও তাঁর সঙ্গীরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন, তখন তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে হারাম মাসে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিইনি।" তিনি কাফেলা ও বন্দীদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্থগিত রাখলেন। মুশরিকরা এই ঘটনাকে মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল যে, তারা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল করে নিয়েছে। এ নিয়ে নানা কানাঘুষা ও বিতর্ক চলতে থাকে, যতক্ষণ না এই সকল অপবাদের অবসান ঘটিয়ে এবং মুশরিকদের বিরুদ্ধে আব্দুল্লাহর গৃহীত পদক্ষেপকে সমর্থন করে ওহি অবতীর্ণ হয়।২

--------------------------------------------

১ আস-সিরাহ লি ইবনে হিশাম, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৯১; আবুল ফিদা ৩/২৪৩; ফাতহুল বারি ৭/২৭৯।

২ আস-সিরাহ লি ইবনে হিশাম ১/৬০১-৬০৫; আবুল ফিদা ৩/২৪৮-২৫২; ফাতহুল বারি ৭/২৮০।
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০৭)
فقال سبحانه وتعالى: {يَسْأَلونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ وَصَدٌّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَكُفْرٌ بِهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَإِخْرَاجُ أَهْلِهِ مِنْهُ أَكْبَرُ عِنْدَ اللَّهِ وَالْفِتْنَةُ أَكْبَرُ مِنَ الْقَتْلِ} (البقرة آية 217) .

وبنزول هذه الآية سعد المسلمون وأمر الرسول صلى الله عليه وسلم قضاء عبد الله في الغنيمة، وقبض على الأسيرين وهما عثمان بن عبد الله، والحكم بن كيسان، فبعثت قريش تطلب فداءهما فقال الرسول صلى الله عليه وسلم: "لا نفديكموهما حتى يقدم صاحبانا فإنا نخشاكم عليهما -يعني سعدا وعتبة- فإن تقتلوهما نقتل صاحبيكم".

وقدم سعد وعتبة، فسلم النبي عليه الصلاة والسلام الأسيرين، وأعلن أحدهما وهو الحكم بن كيسان إسلامه وبقي بالمدينة، ومات شهيداً في مؤتة. أما عثمان بن عبد الله فقد عاد إلى مكة ومات بها كافراً.

وهذه الضجة التي افتعلها المشركون لإثارة الريبة في سيرة المقاتلين المسلمين لا مساغ لها فإن الحرمات المقدسة قد انتهكت كلها في محاربة الإسلام واضطهاد أهله فما الذي أعاد لهذه الحرمات قداستها فجأة، فأصبح انتهاكها معرة وشناعة.

ألم يكن المسلمين مقيمين بالبلد الحرام حين قرر المشركون قتل نبيهم وسلب أموالهم. لكن بعض الناس يرفع القوانين إلى السماء عندما تكون في مصلحته فإذا رأى هذه المصلحة مهددة بما ينتقصها هدم القوانين والدساتير جميعاً.

ولقد زكَّى القرآن عمل عبد الله وصحبه رضي الله عنه فقد نفذوا أوامر الرسول بأمانة وشجاعة، وتوغلوا في أرض العدوِّ مسافاتٍ شاسعة متعرضين للقتل في سيبل الله، متطوعين لذلك من غير إكراه أو حرج فكيف يجزون على هذا بالتقريع والتخويف.

كيف وقد قال الله سبحانه وتعالى فيهم: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أُولَئِكَ يَرْجُونَ رَحْمَتَ اللَّهِ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (البقرة آية 218) .

والمستشرقون الأوربيون ينظرون إلى هذه السرايا كأنها ضرب من قطع الطريق، وهذه النظرية صورة للحقد الذي يعمي عن الحقائق، ويتيح للهوى أن يتكلم، ويحكم كيف شاء، وهذا الاستشراق المغرض يذكرنا بما حدث عند قمع الإنجليز لثورة الأهلين في إفريقيا الوسطى "كينيا" وهم يطلبون الحرية لوطنهم ويحاولون إجلاء الأجانب عنه. إذ قال جندي
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: "তারা তোমাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, তাতে যুদ্ধ করা বড় (পাপ), কিন্তু আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া, তাঁর সাথে কুফরি করা, মসজিদুল হারামে বাধা দেওয়া এবং তার অধিবাসীদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর কাছে আরও বড় (পাপ)। আর ফিতনা হত্যার চেয়েও গুরুতর।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২১৭)।

এই আয়াত নাযিলের মাধ্যমে মুসলিমগণ আনন্দিত হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গনীমতের মালের ব্যাপারে আব্দুল্লাহর ফয়সালা কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন। তিনি দুইজন বন্দীকে গ্রহণ করলেন, তাঁরা হলেন উসমান বিন আব্দুল্লাহ এবং হাকাম বিন কায়সান। এরপর কুরাইশরা তাদের মুক্তিপণ দেওয়ার প্রস্তাব পাঠালো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আমাদের দুইজন সাথী ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা তোমাদের এই দুইজনকে মুক্তি দেব না, কারণ আমরা তাদের ব্যাপারে তোমাদের পক্ষ থেকে শঙ্কিত—অর্থাৎ সাদ ও উতবা—যদি তোমরা তাদের হত্যা করো, তবে আমরাও তোমাদের এই দুইজন সাথীকে হত্যা করব।"

এরপর সাদ ও উতবা ফিরে এলেন, ফলে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বন্দীদের মুক্তি দিলেন। তাঁদের একজন অর্থাৎ হাকাম বিন কায়সান ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন এবং মদীনায় থেকে গেলেন। তিনি মুতার যুদ্ধে শহীদ হলেন। আর উসমান বিন আব্দুল্লাহ মক্কায় ফিরে গেলেন এবং সেখানেই কাফের অবস্থায় মারা গেলেন।

মুশরিকরা মুসলিম যোদ্ধাদের কর্মপন্থার প্রতি সন্দেহ সৃষ্টির লক্ষ্যে যে হট্টগোল সৃষ্টি করেছিল, তার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেননা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং এর অনুসারীদের ওপর নির্যাতনের সময় সকল পবিত্র মর্যাদাই লুণ্ঠিত হয়েছিল। তবে এখন হঠাৎ করে কী এমন ঘটলো যা এই মর্যাদাগুলোকে পুনরায় পবিত্র করে তুলল, ফলে এর লঙ্ঘন এখন কলঙ্ক ও ঘৃণ্য বিষয়ে পরিণত হলো?

মুসলিমগণ কি সেই পবিত্র শহরেই অবস্থান করছিলেন না, যখন মুশরিকরা তাদের নবীকে হত্যার এবং তাদের ধন-সম্পদ লুণ্ঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল? কিন্তু কিছু মানুষ আইনকে আকাশে তুলে ধরে যখন তা তাদের স্বার্থের অনুকূলে হয়, আর যখনই দেখে যে এই স্বার্থ হুমকির মুখে বা তা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তখন সে সকল আইন ও সংবিধান ধূলিসাৎ করে দেয়।

কুরআন আব্দুল্লাহ ও তাঁর সাথীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) কর্মকে পবিত্র ও সঠিক বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। কারণ তাঁরা বিশ্বস্ততা ও সাহসিকতার সাথে রাসূলের নির্দেশ পালন করেছিলেন এবং আল্লাহর পথে শাহাদাতের ঝুঁকি নিয়ে শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরে বিশাল দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। কোনো বাধ্যবাধকতা বা সংকীর্ণতা ছাড়াই তাঁরা স্বেচ্ছায় এ কাজ করেছিলেন। তাহলে কীভাবে তাঁদের এর বিনিময়ে তিরস্কার ও ভীতি প্রদর্শন করা যেতে পারে?

কীভাবে তা সম্ভব, অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁদের সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা হিজরত করেছে ও আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারাই আল্লাহর রহমতের আশা রাখে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২১৮)।

ইউরোপীয় প্রাচ্যবিদরা এই সামরিক অভিযানগুলোকে এক ধরনের দস্যুতা হিসেবে দেখে থাকেন। এই তত্ত্বটি মূলত সেই বিদ্বেষের প্রতিচ্ছবি যা সত্যকে আড়াল করে দেয় এবং প্রবৃত্তিকে নিজের ইচ্ছামতো কথা বলতে ও বিচার করতে প্ররোচিত করে। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রাচ্যবাদ আমাদের সেই ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন ব্রিটিশরা মধ্য আফ্রিকার কেনিয়ার আদিবাসীদের বিপ্লব দমন করেছিল, যখন তারা তাদের দেশের স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছিল এবং বিদেশিদের বিতাড়নের চেষ্টা করছিল। তখন এক সৈনিক বলেছিল...
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০৮)
إنجليزي لآخر -يصف هؤلاء الإفريقيين- إنهم وحوش تصور أن أحدهم عضني وأنا أقتله1.

إن هذه الأضحوكة صورة من تفكير المستشرقين في إنصاف أهل مكة والنَّعي على الإسلام وأهله …

ولقد حققت هذه السرايا أهدافها ووصلت إلى غرضها -ولم يكن ذلك إلا بقوة الإيمان وثبات العقيدة.

--------------------------------------------

1 فقه السيرة ص 225.
জনৈক ইংরেজ অন্য একজনের নিকট -এই আফ্রিকানদের বর্ণনা দিতে গিয়ে- বলেছে যে, তারা বন্য পশু; কল্পনা করো যে, তাদের একজন আমাকে কামড়ে দিয়েছিল যখন আমি তাকে হত্যা করছিলাম১।

নিশ্চয়ই এই প্রহসন হলো মক্কাবাসীদের প্রতি ন্যায়বিচার এবং ইসলাম ও তার অনুসারীদের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে প্রাচ্যবিদদের চিন্তাধারার একটি প্রতিচ্ছবি …

আর এই বাহিনীসমূহ তাদের লক্ষ্যসমূহ অর্জন করেছে এবং তাদের উদ্দেশ্যে পৌঁছেছে—আর তা সম্ভব হয়েছে কেবল ঈমানের শক্তি এবং আকিদার দৃঢ়তার মাধ্যমে।

--------------------------------------------

১ ফিকহুস সিরাত, পৃষ্ঠা ২২৫।
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০৮)
ثانيا:‌‌ سبب الغزوة، ووصف المعركة، وفضل الله على المسلمين فيها:

كان الرسول عليه الصلاة والسلام يرمي إلى القضاء على اقتصاديات قريش كما بينت، وكان يرى في ذلك إضعافاً لقوتها العسكرية. وكان قد علم بخروج قافلة كبيرة لقريش قيل أنها جمعت جميع أموالها حتى أنه لم يبق بمكة قرشي ولا قريشة يملك مثقالاً فصاعداً إلا بعث به في تلك القافلة …

وقدرت أموالها بخمسين ألف دينار، وحملت تجارتها على ألف بعير يقودها أبو سفيان ومعه سبعة وعشرون رجلاً وفي رواية أخرى تسعة وثلاثون منهم مخرمة بن نوفل، وعمرو بن العاص، ورأى الرسول صلى الله عليه وسلم أن القضاء على هذه القافلة فيه هدم لاقتصاديات قريش بالإضافة إلى إضعاف مركزها العسكري، وما ينتج عن ذلك من زيادة قوة المسلمين، ورفع روحهم المعنوية.

وبهذا سار الرسول صلى الله عليه وسلم إلى العشيرة. إلا أن القافلة كانت قد مرت فرأى عليه الصلاة والسلام أن ينتظر عودتها، وبعث الرسول عليه الصلاة والسلام طلحة بن عبيد الله، وسعيد بن زيد ينتظران عودة القافلة فنزل على كشد الجهني بالحوراء، وأقاما عنده في خباء حتى مرت العير، فأسرعا إلى الرسول صلى الله عليه وسلم يفيضان إليه بأمرها، وما رأيا منها.

ولم ينتظر الرسول صلى الله عليه وسلم عودة رسوليه إلى الحوراء، فقد كان يخشى أن تفوته في عودتها كما فاتته في ذهابها إلى الشام.
দ্বিতীয়ত: যুদ্ধের কারণ, যুদ্ধের বর্ণনা এবং এতে মুসলিমদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ:

যেমনটি আমি বর্ণনা করেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের অর্থনীতির বিনাশ ঘটানোর লক্ষ্য স্থির করেছিলেন এবং তিনি এর মাধ্যমে তাদের সামরিক শক্তি দুর্বল করার সম্ভাবনা দেখেছিলেন। তিনি কুরাইশদের একটি বিশাল বাণিজ্য কাফেলার বের হওয়ার কথা জানতে পেরেছিলেন; বলা হয়ে থাকে যে, এটি তাদের যাবতীয় সম্পদ সংগ্রহ করেছিল, এমনকি মক্কায় এমন কোনো কুরাইশ পুরুষ বা নারী অবশিষ্ট ছিল না যার এক মিসকাল বা তার অধিক পরিমাণ সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তা এই কাফেলায় পাঠায়নি ...

এই সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার দিনার ছিল এবং এক হাজার উটের পিঠে পণ্যসামগ্রী বহন করা হচ্ছিল। কাফেলাটির নেতৃত্বে ছিলেন আবু সুফিয়ান এবং তাঁর সাথে ছিলেন সাতাশ জন ব্যক্তি; অন্য একটি বর্ণনা অনুযায়ী উনচল্লিশ জন, যাদের মধ্যে মাখরামা ইবনে নাওফাল এবং আমর ইবনুল আস অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনে করেছিলেন যে, এই কাফেলাটি নির্মূল করার মধ্যে কুরাইশদের অর্থনীতির ধ্বংস নিহিত রয়েছে, সেই সাথে এটি তাদের সামরিক অবস্থানকে দুর্বল করবে এবং এর ফলে মুসলিমদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে ও তাদের মনোবল সুদৃঢ় হবে।

এ লক্ষ্যেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উশাইরার অভিমুখে যাত্রা করেন। কিন্তু কাফেলাটি ততক্ষণে চলে গিয়েছিল, তাই তিনি এর ফেরার প্রতীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ এবং সাঈদ ইবনে যায়েদকে কাফেলার ফেরার অপেক্ষায় পাঠালেন। তাঁরা হাওরা নামক স্থানে কাশাদ আল-জুহানির নিকট অবতরণ করলেন এবং একটি তাঁবুতে অবস্থান করতে লাগলেন যতক্ষণ না কাফেলাটি সেখান দিয়ে অতিক্রম করল। অতঃপর তাঁরা দ্রুত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ফিরে এসে তাঁকে কাফেলার সমস্ত সংবাদ এবং যা যা প্রত্যক্ষ করেছেন তা বিস্তারিত জানালেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাওরায় তাঁর দুই দূতের ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করেননি; কেননা তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে, সিরিয়া যাওয়ার পথে যেভাবে কাফেলাটি হাতছাড়া হয়েছিল, ফেরার পথেও হয়তো তা একইভাবে নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২০৯)
ولهذا دعا المسلمين وقال لهم: "هذه عير قريش فيها أموالهم فاخرجوا إليها لعلَّ الله ينفلكموها" 1.

ولم يعزم الرسول صلى الله عليه وسلم على أحد بالخروج، ولم يستحث متخلفاً فخف بعضهم وثقل بعضهم2.

ثم سار الرسول صلى الله عليه وسلم بمن أمكنه الخروج، وكان الذين صحبوا الرسول هذه المرة يحسبون أن مضيهم في هذا الوجه لن يعدوَ ما ألفوا في السرايا الماضية، ولم يدر بخلد واحد منهم أنه مقبل على يوم من أخطر أيام الإسلام، ولو علموا لاتخذوا أهبتهم كاملة، ولتسابقوا في الخروج ولم يبق منهم أحد …

وكان أبو سفيان قد استنفر حين دنا من الحجاز يتحسس الأخبار، فعلم من بعض الركبان أن محمداً قد استنفر أصحابه لك ولعيرك فحذر عند ذلك.

واستأجر ضمضم بن عمرو الغفاري فبعثه إلى أهل مكة، وأمره أن يأتي قريشاً فيستنفرهم إلى أموالهم، ويخبرهم أن محمداً قد عرض لها في أصحابه، فخرج ضمضم بن عمرو مسرعاً إلى مكة3.

وخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في أصحابه، وكان عددهم 313 ثلاثمائة وثلاثة عشر رجلاً، ثلاثة وسبعين من المهاجرين، ومائتان وأربعون من الأنصار وكان خروجهم من المدينة في رمضان، وجعل عمرو بن أم مكتوم ليصلي بالناس، واستعمل عليها أبا لبابة الأنصاري، وارتفعت أمام المسلمين رايتان سوداوان وكانت إبلهم سبعين بعيراً يتبادلون ركوبها، كل ثلاثة أو أربعة يتعاقبون بعيراً، وكان حظ الرسول صلى الله عليه وسلم كحظ سائر أصحابه فكان هو وعلي، ومرثد بن أبي مرثد الغنوي يتعاقبون بعيراً، وكان رفيقا الرسول صلى الله عليه وسلم يدعوانه ليركب ويقولان له: "اركب حتى نمشي معك" فكان يرفض منهما هذه الدعوة ويقول: "ما أنتما بأقوى مني على المشي، وما أنا بأغنى عن الأجر منكما" 4 ولم يقبل أن يتميز عليهما.

--------------------------------------------

1 السيرة النبوية لابن هشام 1/ 607.

2 فتح الباري 7/ 285-286، ابن هشام 1/ 607، أبو الفداء 3/ 256.

3 المصدر السابق، أبو الفداء 3/ 257.

4 أبو الفداء 3/ 261.
এজন্য তিনি মুসলিমদের আহ্বান করলেন এবং তাদের বললেন: "এটি কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলা, যাতে তাদের ধন-সম্পদ রয়েছে; সুতরাং তোমরা এর উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ো, হয়তো আল্লাহ তোমাদেরকে তা গণিমত হিসেবে দান করবেন।" ১।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হওয়ার ব্যাপারে কারো ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করেননি এবং যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তাদের জোরাজুরি করেননি; ফলে তাদের কেউ তৎপর হয়ে বেরিয়ে পড়ল আবার কেউ অলসতা বা স্থবিরতা দেখাল। ২।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন যাদের পক্ষে বের হওয়া সম্ভব ছিল। যারা এই দফায় রাসূলুল্লাহর সঙ্গী হয়েছিলেন, তারা ধারণা করেছিলেন যে তাদের এই যাত্রা অতীতে তাদের অভ্যস্ত ছোট ছোট যুদ্ধাভিযানগুলোর (সারিয়্যা) চেয়ে ভিন্ন কিছু হবে না। তাদের কারোর মনেই এই ধারণা ছিল না যে, তারা ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম এক সংকটাপন্ন দিনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তারা যদি তা জানতেন, তবে তারা পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং বের হওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতেন এবং তাদের একজনও অবশিষ্ট থাকত না ...

আবু সুফিয়ান যখন হিজাজের নিকটবর্তী হলো, তখন সে সংবাদ সংগ্রহের জন্য অনুসন্ধান করতে শুরু করল। সে কতিপয় আরোহীর নিকট থেকে জানতে পারল যে, মুহাম্মাদ তোমার এবং তোমার বাণিজ্য কাফেলার বিরুদ্ধে তার সাথীদের সমবেত করেছেন; তখন সে সতর্ক হয়ে গেল।

সে দমদম ইবনে আমর আল-গিফারিকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োজিত করল এবং তাকে মক্কাবাসীদের কাছে পাঠাল। সে তাকে নির্দেশ দিল যেন সে কুরাইশদের কাছে গিয়ে তাদের ধন-সম্পদ রক্ষার জন্য তাদের আহ্বান জানায় এবং তাদের সংবাদ দেয় যে মুহাম্মাদ তার সাথীদের নিয়ে কাফেলার গতিরোধ করেছেন। অতঃপর দমদম ইবনে আমর দ্রুত মক্কার দিকে রওনা হলো। ৩।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে বের হলেন। তাঁদের সংখ্যা ছিল ৩১৩ (তিনশ তেরো) জন; তিয়াত্তর জন মুহাজির এবং দুইশ চল্লিশ জন আনসার। মদিনা থেকে তাঁদের বের হওয়ার সময়টি ছিল রমজান মাস। তিনি আমর ইবনে উম্মে মাকতুমকে মানুষের সালাতে ইমামতি করার দায়িত্ব দিলেন এবং মদিনার শাসনকর্তা হিসেবে আবু লুবাবা আল-আনসারীকে নিযুক্ত করলেন। মুসলিমদের সামনে দুটি কালো পতাকা উড্ডীন ছিল। তাঁদের উটের সংখ্যা ছিল সত্তরটি, যা তাঁরা পালাক্রমে ব্যবহার করতেন। প্রতি তিন বা চার জন একটি উটে পর্যায়ক্রমে আরোহণ করতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অংশও ছিল অন্য সব সাহাবীদের মতোই। তিনি, আলী এবং মারসাদ ইবনে আবি মারসাদ আল-গানাবি—এই তিনজন একটি উটে পালাক্রমে সওয়ার হতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুই সঙ্গী তাঁকে আরোহণ করতে বলতেন এবং বলতেন: "আপনি আরোহণ করুন, আমরা আপনার সাথে হেঁটে যাব।" তিনি তাঁদের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলতেন: "তোমরা হাঁটার শক্তিতে আমার চেয়ে অধিক শক্তিশালী নও, আর সওয়াবের ক্ষেত্রে আমিও তোমাদের চেয়ে অমুখাপেক্ষী নই।" ৪। তিনি তাঁদের ওপর কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার বা স্বাতন্ত্র্য গ্রহণ করতে রাজি হননি।

--------------------------------------------

১. ইবনে হিশামের আস-সিরাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ১/ ৬০৭।

২. ফাতহুল বারি ৭/ ২৮৫-২৮৬, ইবনে হিশাম ১/ ৬০৭, আবুল ফিদা ৩/ ২৫৬।

৩. পূর্বোক্ত উৎস, আবুল ফিদা ৩/ ২৫৭।

৪. আবুল ফিদা ৩/ ২৬১।
(খণ্ড: ৪৯) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ২১০)
وأسرع رسول الله صلى الله عليه وسلم وصحبه خوفاً من أن يفلت أبو سفيان منهم هذه المرة.

ونزل المسلمون في وادي ذَفْران، وهناك علموا بخروج قريش بأجمعها لتحمي قافلتها في أثناء عودتها.

وكانت قريش ترى في استيلاء محمد على القافلة هزيمة منكرة لها وتثبيتاً لمركزه وتأكيداً لصدق دعوته؛ ولهذا قررت أن تحاربه وتناضله، لتحمي قافلتها؛ ولتقضي على قوته فلا يعود ثانية إلى الوقوف في وجه قوافلها.

(يتبع)
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সঙ্গীগণ এই আশঙ্কায় দ্রুত অগ্রসর হলেন যেন এবার আবু সুফিয়ান তাদের হাত থেকে ফসকে না যায়।

মুসলিমগণ জাফরান উপত্যকায় অবতরণ করলেন এবং সেখানে তারা জানতে পারলেন যে, কুরাইশরা তাদের বাণিজ্য কাফেলাটি ফেরার পথে রক্ষা করার জন্য সদলবলে বেরিয়ে পড়েছে।

কুরাইশরা মনে করত যে, মুহাম্মাদ কর্তৃক কাফেলাটি হস্তগত হওয়া তাদের জন্য এক চরম পরাজয় এবং তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় হওয়া ও তাঁর দাওয়াতের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার নামান্তর; এই কারণে তারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও লড়াইয়ের সংকল্প করল, যাতে তারা তাদের কাফেলা রক্ষা করতে পারে এবং তাঁর শক্তিকে চূর্ণ করে দিতে পারে, যেন তিনি ভবিষ্যতে আর কখনও তাদের কাফেলাগুলোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারেন।

(চলবে)
(খণ্ড: ১) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: -)
قوة العقيدة سبيل النصر في غزوة بدر الكبرى   (محمد عبد المقصود جاب الله)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: قوة العقيدة سبيل النصر في غزوة بدر الكبرى

المؤلف: محمد عبد المقصود جاب الله

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মহান বদর যুদ্ধে আকিদার শক্তিই বিজয়ের পথ   (মুহাম্মদ আব্দুল মাকসুদ জাবুল্লাহ)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


বই: মহান বদর যুদ্ধে আকিদার শক্তিই বিজয়ের পথ

লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল মাকসুদ জাবুল্লাহ

প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ، এবং খণ্ড নম্বরটি সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর হিসেবে গণ্য]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
قوة العقيدة سبيل المصر في غزوة بدر الكبرى

…

قوة العقيدة سبيل النصر في غزوة بدر الكبرى -3-

د. محمد عبد المقصود جاب الله المدرس في كلية الدعوة بالجامعة

وانطلق سواد مكة وهو يغلي يمتطي الصعب والذلول فكانوا تسعمائة وخمسين مقاتلاً معهم مائتا فرس يقودونها، وسبعمائة بعير ومعهم القيان يضربن بالدفوف ويغنين بشعر فيه ذم للمسلمين.

وزين الشيطان للمشركين أعمالهم، وأوحى إليهم بأحلام النصر، وماذا على الشيطان لو انهزموا سوى أن يتركهم وخزيهم. {وَإِذْ زَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ وَقَالَ لا غَالِبَ لَكُمُ الْيَوْمَ مِنَ النَّاسِ وَإِنِّي جَارٌ لَكُمْ فَلَمَّا تَرَاءَتِ الْفِئَتَانِ نَكَصَ عَلَى عَقِبَيْهِ وَقَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِنْكُمْ إِنِّي أَرَى مَا لا تَرَوْنَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَاللَّهُ شَدِيدُ الْعِقَابِ} (الأنفال آية 48) .

ولكن أبا سفيان استطاع أن ينجو من الخطر المحدق به بتعديل سيره عن طريق ساحل البحر تاركا بدراً إلى يساره، ورأى أبو سفيان أنه أحرز القافلة فأرسل إلى قريش يقول: إنما خرجتم لتمنعوا عيركم ورحالكم وأموالكم وقد نجاها الله، فارجعوا.

فقال أبو جهل: "والله لا نرجع حتى نرد بدراً فنقيم فيها ثلاثا ننحر الجزور، ونطعم الطعام، ونسقي الخمر، وتعزف علينا القيان، وتسمع بنا العرب وبمسيرنا وجمعنا فلا يزالون يهابوننا أبداً"1.

--------------------------------------------

1 أبو الفداء عن ابن إسحاق 3/266، ابن هشام 1/618-619.
মহা বদর যুদ্ধে বিজয়ের পথ সুদৃঢ় আকিদা

…

মহা বদর যুদ্ধে বিজয়ের পথ সুদৃঢ় আকিদা -৩-

ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মাকসুদ জাব আল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অনুষদের শিক্ষক

মক্কার জনস্রোত প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়ল এবং তারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। তারা ছিল ৯৫০ জন যোদ্ধা, সাথে ছিল ২০০টি চালিত ঘোড়া এবং ৭০০টি উট। তাদের সঙ্গে ছিল গায়িকা নারী দল, যারা দফ বাজিয়ে মুসলমানদের নিন্দা করে কবিতা গেয়ে শোনাচ্ছিল।

আর শয়তান মুশরিকদের কাছে তাদের কাজগুলোকে সুশোভিত করে দেখাল এবং তাদের বিজয়ের স্বপ্ন দেখাল। তাদের পরাজয়ে শয়তানেরই বা কী আসে যায়, কেবল তাদেরকে তাদের অপমানের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া। {আর স্মরণ করো, যখন শয়তান তাদের কাছে তাদের কার্যাবলীকে সুশোভিত করে দেখাল এবং বলল: আজ মানুষের মধ্যে কেউ তোমাদের ওপর বিজয়ী হতে পারবে না এবং নিশ্চয়ই আমি তোমাদের আশ্রয়দাতা। অতঃপর যখন উভয় দল মুখোমুখি হলো, তখন সে পিছু হটে গেল এবং বলল: নিশ্চয়ই তোমাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, আমি এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ না। আমি আল্লাহকে ভয় করি, আর আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর।} (আল-আনফাল, আয়াত ৪৮)।

কিন্তু আবু সুফিয়ান সমুদ্র উপকূলের পথ দিয়ে নিজের গতিপথ পরিবর্তন করে তাকে ঘিরে থাকা বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সক্ষম হলেন এবং বদরকে তার বাম পাশে রেখে চলে গেলেন। আবু সুফিয়ান যখন দেখলেন যে তিনি কাফেলাটিকে রক্ষা করতে পেরেছেন, তখন তিনি কুরাইশদের কাছে বার্তা পাঠালেন: "তোমরা তো কেবল তোমাদের উট, মালপত্র ও সম্পদ রক্ষা করার জন্যই বেরিয়েছিলে, আর আল্লাহ তা রক্ষা করেছেন। সুতরাং তোমরা ফিরে যাও।"

তখন আবু জাহল বলল: "আল্লাহর কসম, আমরা ফিরে যাব না যতক্ষণ না আমরা বদরে পৌঁছাই। সেখানে আমরা তিন দিন অবস্থান করব, উট যবেহ করব, লোকজনকে খাওয়াব, মদ পান করব এবং গায়িকারা আমাদের গান শোনাবে। আর আরবরা আমাদের এবং আমাদের এই অভিযাত্রা ও সমাবেশ সম্পর্কে জানতে পারবে, ফলে তারা চিরকাল আমাদের ভয় করতে থাকবে।"১

--------------------------------------------

১. ইবনে ইসহাক থেকে আবুল ফিদা ৩/২৬৬, ইবনে হিশাম ১/৬১৮-৬১৯।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
وهذا الذي عالن به أبو جهل هو ما كان يحاذره الرسول صلى الله عليه وسلم فإن دعم مكانة قريش، وامتداد سطوتها في هذه البقاع بعد أن فعلت بالمسلمين ما فعلت يعتبر خطراً على الإسلام ووقفا لنفوذه؛ لذلك لم يلتفت الرسول صلى الله عليه وسلم لفرار القافلة التفاته لضرورة التجوال المسلح في هذه الأنحاء إعلاءً لكلمة الله وتوهينا لكلمة الشرك، وإظهاراً لعبدة الأصنام بمظهر الذي لا يملك نفعا ولا ضراً.

ومضت قريش في سيرها مستجيبة لرأي أبي جهل حتى نزلت بالعدوة القصوى من وادي بدر.

وكان المسلمون قد انتهوا من رحيلهم المضني إلى العدوة الدنيا بعد أن قطعوا في مسيرهم مسافة تربو على مائةٍ وستين كيلومتراً (160) وهكذا اقترب كلا الفريقين من الآخر وهو لا يدري ما وراء هذا اللقاء الرهيب.

وهبط الليل فأرسل النبي صلى الله عليه وسلم عليا، والزبير، وسعداً يتحسسون الأحوال ويلتمسون الأخبار، فأصابوا غلامين لقريش كانا يَمدّانِهم بالماء. فأتوا بهما وسألوهما- ورسول الله قائم يصلي- فقالا نحن سقاة قريش بعثونا نسقيهم الماء، فكره القوم هذا الخبر، ورَجوْا أن يكونا لأبي سفيان- لا تزال في نفوسهم بقايا أمل للاستيلاء على القافلة- فضربوهما ضربا موجعا حتى اضطر الغلامان أن يقولا نحن لأبي سفيان فتركوهما، ولما فرغ الرسول عليه الصلاة والسلام من صلاته قال: "إذا صدقاكم ضربتموهما وإذا كذباكم تركتموهما1 صدقا والله إنهما لقريش" وناقشهما الرسول عليه الصلاة والسلام حتى استنتج عدد القوم وهو ما بين التسعمائة والألف وعرف مكانهم، وعرف أن أشراف قريش قد خرجوا جميعا.

فأقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم على الناس فقال: "هذه مكة قد ألقت إليكم أفلاذ كبدها" 2 وانكشف وجه الجد في الأمر. إن اللقاء المرتقب سوف يكون مُرً المذاق. لقد أقبلت قريش تخب في خيلائها تريد أن تعمل العمل الذي يرويه القصيد، وتذرع المطايا به البطاح، وتحسم به صراع خمسة عشر عاما مع الإسلام؛ لتنفرد بعدها الوثنية بالحكم النافذ.

--------------------------------------------

1 صحيح مسلم بشرح النووي 12/125، مسند أحمد رقم 948، ابن هشام 1/618،أبو الفداء 3/265.

2 ابن هشام1/618، أبو الفداء 3/265.
আবু জেহেল প্রকাশ্যে যা ঘোষণা করল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটিই আশঙ্কা করছিলেন। কেননা মুসলমানদের ওপর ইতিপূর্বে তারা যা যা করেছে, তার পর এই অঞ্চলে কুরাইশদের মর্যাদার সুদৃঢ়করণ এবং তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তির বিস্তার ইসলামের জন্য এক হুমকি এবং এর দাওয়াহ বিস্তারের পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। সে কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণিজ্যিক কাফেলার পলায়নের দিকে ততটা ভ্রুক্ষেপ করেননি যতটা গুরুত্ব দিয়েছিলেন এই অঞ্চলে সশস্ত্র টহলের প্রয়োজনীয়তার ওপর; যেন আল্লাহর বাণী সমুন্নত হয়, শিরকের ভিত্তি দুর্বল হয় এবং মূর্তিপূজারীদের এমন এক রূপে প্রকাশ করা যায় যে, তাদের কোনো উপকার বা অপকার করার সামান্য শক্তিও নেই।

কুরাইশরা আবু জেহেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখল এবং বদর উপত্যকার দূরবর্তী প্রান্তে (আল-আদওয়াতুল কুসওয়া) অবতরণ করল।

ইতোমধ্যে মুসলমানরা একশ ষাট (১৬০) কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে তাদের ক্লান্তিকর সফর শেষে নিকটবর্তী প্রান্তে (আল-আদওয়াতুদ দুনইয়া) উপস্থিত হয়েছিলেন। এভাবে উভয় পক্ষ একে অপরের অতি সন্নিকটে চলে এল, অথচ এই ভয়াবহ আমুখো-সাক্ষাতের পরিণাম সম্পর্কে কারো কোনো ধারণা ছিল না।

রাত নেমে এলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী, যুবাইর এবং সাদকে অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহের জন্য পাঠালেন। তাঁরা কুরাইশদের দুজন বালককে দেখতে পেলেন যারা কুরাইশ বাহিনীকে পানি সরবরাহ করছিল। তাঁরা তাদের ধরে নিয়ে এলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলেন—তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন—তারা বলল: "আমরা কুরাইশদের পানি সরবরাহকারী, তারা আমাদের পানি সংগ্রহের জন্য পাঠিয়েছে।" উপস্থিত লোকেরা এই সংবাদ অপছন্দ করল এবং তারা আশা করছিল যে বালক দুটি সম্ভবত আবু সুফিয়ানের কাফেলার লোক হবে—তখনও তাদের অন্তরে কাফেলাটি হস্তগত করার আশার অবশিষ্টাংশ রয়ে গিয়েছিল। ফলে তারা বালক দুটিকে প্রচণ্ড প্রহার করল, শেষ পর্যন্ত তারা বাধ্য হয়ে বলল: "আমরা আবু সুফিয়ানের লোক", তখন তারা তাদের ছেড়ে দিল। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: "যখন তারা তোমাদের কাছে সত্য বলছিল তখন তোমরা তাদের প্রহার করলে, আর যখন তারা তোমাদের কাছে মিথ্যা বলল তখন তাদের ছেড়ে দিলে! আল্লাহর কসম, তারা সত্যই বলেছে, তারা কুরাইশ বাহিনীরই লোক।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বের করলেন যে শত্রুবাহিনীর সংখ্যা নয়শ থেকে এক হাজারের মধ্যে। তিনি তাদের অবস্থান নিশ্চিত হলেন এবং এটিও জানতে পারলেন যে কুরাইশদের সমস্ত নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যুদ্ধে বেরিয়ে এসেছে।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত লোকজনের দিকে অগ্রসর হয়ে বললেন: "এই যে মক্কা, সে তার কলিজার টুকরোগুলোকে তোমাদের সামনে নিক্ষেপ করেছে।" ২ এভাবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গম্ভীর রূপ ধারণ করল। আসন্ন এই মোকাবেলা হবে অত্যন্ত তিক্ত। কুরাইশরা অত্যন্ত দম্ভের সাথে এগিয়ে এসেছে এমন কিছু করতে যা নিয়ে চারণকবিরা কবিতা রচনা করবে, যার কথা মরুভূমির প্রান্তরে উষ্ট্রারোহীরা আলোচনা করবে এবং যার মাধ্যমে ইসলামের সাথে গত পনেরো বছরের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে মূর্তিপূজাকে চূড়ান্ত কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করবে।

--------------------------------------------

১ ইমাম নববী কর্তৃক শারহ সহীহ মুসলিম ১২/১২৫, মুসনাদে আহমাদ নং ৯৪৮, ইবনে হিশাম ১/৬১৮, আবুল ফিদা ৩/২৬৫।

২ ইবনে হিশাম ১/৬১৮, আবুল ফিদা ৩/২৬৫।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
ونظر الرسول صلى الله عليه وسلم حوله، فوجد أولئك المؤمنين بين مهاجر باع في سبيل الله نفسه وماله، وأنصاري ربط مصيره، وحاضره بهذا الدين الذي افتداه وآوى أصحابه.

فأحب أن يشعر القوم بحقيقة الموقف، حتى يبصروا على ضوئه ما يفعلون. والمسلمون الذين خرجوا لأمر يسير ما لبثوا أن ألفوا أنفسهم أمام امتحان شاق، تيقظت له مشاعرهم، فشرعوا يقلبون الأمر على عجل، تكاليفه ونتائجه، وثار منطق اليقين القديم فأهاج القوم إلى الخطة الفذة التي لا محيص عنها لمؤمن.

استشار رسول الله صلى الله عليه وسلم أصحابه فقام أبو بكر رضي الله عنه فقال وأحسن، ثم قام عمر بن الخطاب رضي الله عنه فقال وأحسن، ثم قام المقداد بن عمرو رضي الله عنه فقال: يا رسول الله امض لما أمرك الله فنحن معك. والله لا نقول لك ما قال بنو إسرائيل لموسى: اذهب أنت وربك فقاتلا إنا ههنا قاعدون، ولكن اذهب أنت وربك فقاتلا إنا معكما مقاتلون مادامت عين تطرف- فوالذي بعثك بالحق- لو سرت بنا إلى برك الغماد (مدينة بالحبشة) لجالدنا معك من دونه حتى نبلغه فقال له الرسول: "خيرا ودعا له".

وروي أن الرسول صلى الله عليه وسلم ضحك وأشرق وجهه عندما سمع مقالة المقداد وبايعه الناس جميعا فقال الرسول صلى الله عليه وسلم: "أشيروا علَّي أيها الناس؟ " فقال عمر رضى الله عنه: "يا رسول الله إنها قريش وعزُّها والله ما ذلت منذ عزت، ولا آمنت منذ كفرت والله لتقاتلنك فتأهبْ لذلك أهبته، وأعد لذلك عدته".

وأعاد الرسول صلى الله عليه وسلم بعد أن فرغ عمر من قوله سؤاله قائلاً: "أشيروا علي أيها الناس"؟ ففهم الأنصار أن الرسول عليه الصلاة والسلام يقصدهم، فهم كانوا قد بايعوه يوم العقبة على أن يمنعوه مما يمنعون منه أبناءهم ونساءهم، ولم يبايعوه على اعتداء يقع خارج مدينتهم، فلما أحسوا أنه يريدهم قام سعد بن معاذ سيد الأوس وقال: "لعلك تريدنا معاشر الأنصار يا رسول الله؟ " فقال عليه الصلاة والسلام: "أجل" قال سعد رضي الله عنه: "قد آمنا بك وصدقناك وشهدنا أن ما جئت به هو الحق، وأعطيناك على ذلك عهودنا ومواثيقنا على السمع والطاعة، ولعلك يا رسول الله تخشى أن تكون الأنصار ترى عليها أن لا ينصروك إلا في ديارهم، وإني أقول عن الأنصار وأجيب عنهم، فاطعن حيث شئت، وصل حبل من شئت، واقطع حبل من شئت، وسالم من شئت، وعادِ من شئت، وخذ من أموالنا ما شئت، وما أخذت منَّا كان أحب إلينا مما تركت، وما أمرت فينا من أمر فامرنا نتّبِع
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চারপাশে দৃষ্টিপাত করলেন এবং সেই মুমিনদের দেখতে পেলেন—যাদের মধ্যে ছিলেন এমন মুহাজির যারা আল্লাহর পথে নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেছেন, এবং এমন আনসার যারা নিজেদের ভাগ্য ও বর্তমানকে এই দ্বীনের সাথে একীভূত করেছেন, যার জন্য তারা আত্মত্যাগ করেছেন এবং এর অনুসারীদের আশ্রয় দিয়েছেন।

তিনি চাইলেন যেন এই জনতা পরিস্থিতির প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে, যাতে সেই বাস্তবতার আলোকে তারা তাদের করণীয় স্থির করতে পারে। যে মুসলিমরা একটি সাধারণ অভিযানের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, তারা শীঘ্রই নিজেদের এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন দেখতে পেলেন। এতে তাদের চেতনা জাগ্রত হলো এবং তারা দ্রুত বিষয়টি নিয়ে এবং এর দায়বদ্ধতা ও ফলাফল সম্পর্কে চিন্তা করতে শুরু করলেন। তাদের চিরাচরিত দৃঢ় বিশ্বাসের যুক্তি আলোড়িত হলো এবং তাদেরকে এমন এক অনন্য কর্মপন্থার দিকে উদ্বুদ্ধ করল যা থেকে বিচ্যুত হওয়া কোনো মুমিনের পক্ষে সম্ভব নয়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের নিকট পরামর্শ চাইলেন। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সুন্দর বক্তব্য পেশ করলেন। এরপর উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে অত্যন্ত সুন্দর কথা বললেন। এরপর মিকদাদ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ আপনাকে যা নির্দেশ দিয়েছেন সেদিকে অগ্রসর হোন, আমরা আপনার সাথে আছি। আল্লাহর কসম, আমরা আপনাকে তা বলব না যা বনী ইসরাঈল মুসাকে বলেছিল—'তুমি এবং তোমার রব যাও এবং যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে রইলাম।' বরং আপনি এবং আপনার রব যান এবং যুদ্ধ করুন, আমরাও আপনাদের সাথে লড়াই করব যতক্ষণ আমাদের চোখের পলক পড়ে—সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন—আপনি যদি আমাদের নিয়ে বারকুল গিমাদ (হাবশার একটি শহর) পর্যন্তও যাত্রা করেন, তবে আমরা লক্ষ্যস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত আপনার হয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।" তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন।

বর্ণিত আছে যে, মিকদাদের কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন এবং তাঁর পবিত্র চেহারা মোবারক উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এরপর সকল মানুষ তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেন: "হে লোকসকল! আমাকে পরামর্শ দিন।" তখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! এটি কুরাইশ এবং তাদের আভিজাত্যের প্রশ্ন। আল্লাহর কসম, তারা যখন থেকে প্রতাপশালী হয়েছে কখনো লাঞ্ছিত হয়নি, আর যখন থেকে কুফরি বেছে নিয়েছে তখন থেকে ঈমান আনেনি। আল্লাহর কসম, তারা অবশ্যই আপনার সাথে যুদ্ধ করবে। সুতরাং আপনি এর জন্য যুদ্ধের প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম গ্রহণ করুন।"

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা শেষ হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় তাঁর প্রশ্নটি উত্থাপন করে বললেন: "হে লোকসকল! আমাকে পরামর্শ দিন।" তখন আনসাররা বুঝতে পারলেন যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরই উদ্দেশ্য করছেন। কারণ আকাবার বায়আতের দিন তাঁরা এই মর্মে অঙ্গীকার করেছিলেন যে, তাঁরা তাঁকে সেভাবেই রক্ষা করবেন যেভাবে তাঁরা নিজেদের সন্তান ও স্ত্রীদের রক্ষা করেন। তাঁদের শহরের সীমানার বাইরে গিয়ে কোনো আক্রমণের জন্য তাঁরা বায়আত হননি। যখন তাঁরা অনুভব করলেন যে তিনি তাঁদের অভিমত চাইছেন, তখন আওস গোত্রের নেতা সাদ ইবন মুআদ রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! সম্ভবত আপনি আমাদের অর্থাৎ আনসারদের উদ্দেশ্য করছেন?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হ্যাঁ।" সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "আমরা আপনার প্রতি ঈমান এনেছি, আপনাকে সত্য বলে স্বীকার করেছি এবং সাক্ষ্য দিয়েছি যে আপনি যা নিয়ে এসেছেন তা-ই পরম সত্য। আর এর ওপর ভিত্তি করে আমরা আপনাকে শ্রবণ ও আনুগত্যের দৃঢ় অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। হে আল্লাহর রাসুল! আপনি হয়তো আশঙ্কা করছেন যে আনসাররা কেবল নিজ জনপদেই আপনাকে সাহায্য করা আবশ্যক মনে করে। আমি আনসারদের পক্ষ থেকে বলছি এবং তাঁদের পক্ষ থেকে উত্তর দিচ্ছি—আপনি যেখানে ইচ্ছা যাত্রা করুন, যার সাথে ইচ্ছা সম্পর্ক যুক্ত করুন, যার সাথে ইচ্ছা সম্পর্ক ছিন্ন করুন, যার সাথে ইচ্ছা সন্ধি করুন, যার সাথে ইচ্ছা শত্রুতা পোষণ করুন এবং আমাদের সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করুন; আপনি আমাদের থেকে যা গ্রহণ করবেন তা আমাদের কাছে সেই সম্পদের চেয়ে বেশি প্রিয় হবে যা আপনি আমাদের কাছে রেখে দেবেন। আপনি আমাদের বিষয়ে যে নির্দেশ দেবেন, আমরা তা-ই অনুসরণ করব।"
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
أمرك. فامض يا رسول الله لما أردت فنحن معك والذي بعثك بالحق لو استعرضت بنا هذا البحر فخضته لخضناه معك، ما تخلف منا رجل واحد، وما نكره أن تلقى بنا عدونا، وإنا لصُبُرٌ في الحرب صدُق عند اللقاء، لعلّ الله يريك منَّا ما تقر به عينك فسر بنا على بركة الله تعالى فنحن عن يمينك وشمالك وبين يديك ومن خلفك".

فسُرَّ الرسول صلى الله عليه وسلم بقول سعد ونشطه، ثم قال: "سيروا وأبشروا فإن الله تعالى قد وعدني إحدى الطائفتين فوالله لكأني أنظر إلى مصارع القوم"1.

ولكن هذا الذي قاله المقداد والذي قاله سعد- رضي الله عنهما لم يكن هو مقالة جميع الذين خرجوا من المدينة مع الرسول- صلى الله عليه وسلم.

فلقد كره بعضهم القتال، وعارض فيه، لأنهم لم يستعدوا لقتال، إنَّما خرجوا لمقابلة الفئة الضعيفة التي تحرس البعير، فلما علموا أن قريشا قد نفرت بخيلها ورجلها وشجعانها، وفرسانها وركبانها، كرهوا لقاءها كراهية شديدة حتى قال أحد الحاضرين: إلى مذبحة تقودنا يا محمد.

روي عن أبي أيوب الأنصاري- رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ونحن بالمدينة-: "إني أخبرت عن عير أبي سفيان أنها مقبلة فهل لكم أن نخرج قبل هذه العير لعل الله أن يغنمناها؟ " فقلنا: نعم. فخرج وخرجنا، فلما سرنا يوما أو يومين قال لنا: " ما ترون في قتال القوم؟ إنهم أخبروا بخروجكم" ، فقلنا: لا والله مالنا طاقة بقتال العدو، ولكنا أردنا العير. ثم قال: "ما ترون في قتال القوم؟ " فقلنا: مثل ذلك. فقال المقداد بن عمرو: "إذن لا نقول لك يا رسول الله كما قال قوم موسى لموسى: اذهب أنت وربك فقاتلا إنا ههنا قاعدون، ولكن اذهب أنت وربك فقاتلا إنا معكما مقاتلون ".

قال: فتمنينا معشر الأنصار أن لو قلنا كما قال المقداد أحب إلينا من أن يكون لنا مال عظيم.

قال: فأنزل الله على رسوله صلى الله عليه وسلم {كَمَا أَخْرَجَكَ رَبُّكَ مِنْ بَيْتِكَ بِالْحَقِّ وَإِنَّ فَرِيقاً مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لَكَارِهُونَ} 2 (الأنفال آية 5) .

فهذا ما حاك في نفوس فريق من المؤمنين يومئذ وما كرهوا من أجله القتال حتى ليقول عنهم القرآن الكريم: {كَأَنَّمَا يُسَاقُونَ إِلَى الْمَوْتِ وَهُمْ يَنْظُرُونَ} (الأنفال آية 6) .

--------------------------------------------

1 ابن هشام 1/614 – 615،أبو الفداء 3/ 264،فتح الباري7/287.

2 فتح الباري 7/278-288.
আপনার আদেশ শিরোধার্য। হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যা সংকল্প করেছেন তা বাস্তবায়নে এগিয়ে যান, আমরা আপনার সাথে আছি। সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আপনি যদি আমাদের নিয়ে এই সমুদ্রে ঝাঁপ দেন এবং তা পাড়ি দেন, তবে আমরাও আপনার সাথে তাতে ঝাঁপ দেব; আমাদের একজন লোকও পেছনে পড়ে থাকবে না। আমরা আমাদের শত্রুর মুখোমুখি হওয়াকে অপছন্দ করি না। নিশ্চয়ই আমরা যুদ্ধে ধৈর্যশীল এবং যুদ্ধের ময়দানে সত্যনিষ্ঠ। সম্ভবত আল্লাহ আমাদের মাধ্যমে আপনাকে এমন কিছু দেখাবেন যা আপনার চক্ষু শীতল করবে। সুতরাং আল্লাহর বরকতের ওপর ভরসা করে আমাদের নিয়ে এগিয়ে চলুন; আমরা আপনার ডানে, বামে, সামনে এবং পেছনে থাকব।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ-এর কথায় আনন্দিত ও উৎসাহিত হলেন। এরপর তিনি বললেন: "তোমরা এগিয়ে যাও এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে দুটি দলের যেকোনো একটির (বিজয়) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহর কসম! আমি যেন এখনই কওমের (শত্রুদের) ধরাশায়ী হওয়ার স্থানগুলো দেখতে পাচ্ছি।"১

কিন্তু মিকদাদ এবং সা’দ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) যা বলেছিলেন, তা মদীনা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হওয়া সকলের কথা ছিল না।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ যুদ্ধ করা অপছন্দ করেছিলেন এবং এর বিরোধিতা করেছিলেন। কারণ তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তারা তো কেবল উটের কাফেলা পাহারারত দুর্বল দলটির মুখোমুখি হওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। কিন্তু যখন তারা জানতে পারলেন যে, কুরাইশরা তাদের ঘোড়সওয়ার, পদাতিক, বীর যোদ্ধা এবং সওয়ারী নিয়ে বের হয়ে এসেছে, তখন তারা তাদের মোকাবিলা করাকে চরমভাবে অপছন্দ করলেন। এমনকি উপস্থিতদের একজন বলে উঠলেন: "আপনি কি আমাদের জবাইখানায় নিয়ে যাচ্ছেন, হে মুহাম্মদ?"

আবু আইয়ুব আনসারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমরা মদীনায় ছিলাম, তখন বললেন: "আমাকে আবু সুফিয়ানের কাফেলা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে তা আসছে। তোমরা কি চাও যে আমরা এই কাফেলার উদ্দেশ্যে বের হই, যাতে আল্লাহ তা আমাদের গনীমত হিসেবে দান করেন?" আমরা বললাম: "হ্যাঁ"। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং আমরাও বের হলাম। যখন আমরা এক বা দুই দিন পথ চললাম, তখন তিনি আমাদের বললেন: "লোকদের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে তোমাদের মত কী? তাদের কাছে তোমাদের বের হওয়ার খবর পৌঁছে গেছে।" আমরা বললাম: "না, আল্লাহর কসম! শত্রুর সাথে যুদ্ধ করার শক্তি আমাদের নেই; বরং আমরা তো কাফেলার উদ্দেশ্যেই বের হয়েছিলাম।" তিনি আবারও বললেন: "লোকদের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে তোমাদের মত কী?" আমরা আগের মতোই উত্তর দিলাম। তখন মিকদাদ ইবনুল আমর বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে তেমন কিছু বলব না যেমন মূসার সম্প্রদায় মূসাকে বলেছিল: 'তুমি এবং তোমার প্রতিপালক গিয়ে যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে রইলাম'। বরং আপনি এবং আপনার প্রতিপালক গিয়ে যুদ্ধ করুন, আমরাও আপনাদের সাথে যুদ্ধ করব।"

তিনি (আবু আইয়ুব) বলেন: তখন আমরা আনসার সম্প্রদায় কামনা করেছিলাম যে, আমরা যদি মিকদাদের মতো কথা বলতে পারতাম, তবে তা আমাদের কাছে বিশাল ধন-সম্পদ পাওয়ার চেয়েও প্রিয় হতো।

তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করলেন: {যেমন তোমার প্রতিপালক তোমাকে তোমার ঘর থেকে সত্যসহ বের করেছেন, অথচ মুমিনদের একটি দল তা অপছন্দ করছিল}২ (সূরা আনফাল, আয়াত: ৫)।

এটিই সেদিন মুমিনদের একটি দলের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল এবং যার কারণে তারা যুদ্ধ অপছন্দ করেছিল, এমনকি পবিত্র কুরআন তাদের সম্পর্কে বলেছে: {তারা যেন মৃত্যুর দিকে তাড়িত হচ্ছে আর তারা তা তাকিয়ে দেখছে} (সূরা আনফাল, আয়াত: ৬)।

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশাম ১/৬১৪-৬১৫, আবুল ফিদা ৩/২৬৪, ফাতহুল বারী ৭/২৮৭।

২ ফাতহুল বারী ৭/২৭৮-২৮৮।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
وذلك بعد ما تبين الحق وعلموا أن الله وعدهم إحدى الطائفتين وأنه لم يبق لهم خيار، وأن عليهم أن يلقوا الطائفة التي قدر الله لهم لقاءها كائنة ما كانت. كانت العير أو كانت النفير. كانت الضعيفة التي لا شوك لها. أم كانت القوية ذات الشوكة والمنعة.

ولقد بقي المسلمون يودون أن لو كانت غير ذات الشوكة هي التي كتب الله عليهم لقاءها: {وَإِذْ يَعِدُكُمُ اللَّهُ إِحْدَى الطَّائِفَتَيْنِ أَنَّهَا لَكُمْ وَتَوَدُّونَ أَنَّ غَيْرَ ذَاتِ الشَّوْكَةِ تَكُونُ لَكُمْ} (الأنفال آية7) 1.

هذا ما أراده المسلمون لأنفسهم يومذاك. أما ما أراده الله لهم فكان أمرا آخر {وَيُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُحِقَّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَيَقْطَعَ دَابِرَ الْكَافِرِينَ، لِيُحِقَّ الْحَقَّ وَيُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ} (الأنفال آية 7،8) .

أراد الله أن تكون ملحمة لا غنيمة وأن تكون موقعة بين الحق والباطل، ليحق الحق ويثبته، ويبطل الباطل ويزهقه. نعم أراد الله للفئة المؤمنة أن تصبح أمة وأن تصبح دولة، وأن يصبح لها سلطان وقوة، وأراد لها أن تقيس قوتها الحقيقية إلى قوة أعدائها فترجح ببعض قوتها على قوة أعدائها، وأن تعلم أن النصر ليس بالعدد، وليس بالمال والخيل والزاد، وليس بالعدة، وإنما هو بمقدار اتصالها بالقوة الكبرى التي لا تقف لها في الأرض قوة، وأن يكون هذا عن تجربة واقعية لا كلاماً واعتقادا، لتزود الفئة المؤمنة من هذه التجربة لواقعها كله.

بعد أن استشار النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه وعرف مقدار استعدادهم للقاء عدوهم. وجد أنه يجب على المسلمين- مهما كان الثمن- أن يسبقوا إلى آبار بدر فاخذوا في السير حتى وصلوا إِلى أعلى الوادي، وكان الوادي من الجدب بحيث لم يجدوا فيه قطرة ماء- ونَفِدَ ما كان مع المسلمين من الماء، فلما كان الغد بلغ بهم الظمأ حداً أليماً من العذاب، وانتهز الشيطان هذه الفرصة فوسوس إليهم: "انظروا إلى ما قادكم إِليه ذلكم الذي يزعم أنه رسول الله القادر.

هاهم أولاء الأعداء لا يحصيهم العَدُّ يحيطون بكم، ولا ينتظرون إلا أن تخور قواكم من شدة الظمأ، فليلتهموكم التهام الفريسة السهلة التي لا تجد من يحميها"، وأخذت وسوسة الشيطان تدور برءوسهم، ومن حسن الحظ أن تعودهم على الظمأ في صيام شهر رمضان قوّى من صبرهم، وفي الوقت الذي بلغت فيه الحرارة أشُدَها، وأرسلت الشمس شعاعها كشواظ من

--------------------------------------------

1 أبو الفداء 3/264.
আর এটি সত্য সুস্পষ্ট হওয়ার পর এবং তারা যখন জানতে পারল যে আল্লাহ তাদেরকে দুটি দলের একটির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট ছিল না; আর আল্লাহ তাদের জন্য যে দলের সাথে মুকাবিলা নির্ধারণ করেছেন তাদের সাথেই তাদের লড়তে হবে, সেটি যাই হোক না কেন—চাই তা বাণিজ্য কাফেলা হোক কিংবা রণপ্রস্তুত সৈন্যবাহিনী। সেটি শক্তিহীন দুর্বল দল হোক, অথবা শক্তি ও শক্তিমত্তাসম্পন্ন প্রভাবশালী দল হোক।

আর মুসলমানরা চাচ্ছিল যে যদি শক্তিহীন দলটিই হতো যাদের সাথে মুকাবিলা করা আল্লাহ তাদের জন্য অবধারিত করেছেন: "আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন যে দুই দলের এক দল তোমাদের আয়ত্তে আসবে এবং তোমরা চাচ্ছিলে যে শক্তিহীন দলটি তোমাদের জন্য হোক" (আল-আনফাল, আয়াত: ৭)। ১।

সেই দিন মুসলমানরা নিজেদের জন্য এটিই কামনা করেছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের জন্য যা চেয়েছিলেন তা ছিল ভিন্নতর: "আর আল্লাহ চেয়েছিলেন তাঁর বাণী দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং কাফিরদের মূল উৎপাটন করতে, যাতে তিনি সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বাতিলকে বাতিল হিসেবে প্রতিপন্ন করেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে" (আল-আনফাল, আয়াত: ৭, ৮)।

আল্লাহ চেয়েছিলেন এটি যেন কেবল গনীমত লাভের সুযোগ না হয়ে একটি মহাসমর হয় এবং সত্য ও বাতিলের মধ্যে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ হয়, যাতে তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত ও সুদৃঢ় করেন এবং বাতিলকে নস্যাৎ ও নিঃশেষ করেন। হ্যাঁ, আল্লাহ মুমিন দলের জন্য চেয়েছিলেন যে তারা একটি উম্মত এবং একটি রাষ্ট্রে পরিণত হোক, আর তাদের কর্তৃত্ব ও শক্তি অর্জিত হোক; তিনি চেয়েছিলেন তারা যেন তাদের প্রকৃত শক্তিকে শত্রুদের শক্তির সাথে তুলনা করে দেখে এবং নিজেদের সামান্য শক্তি দিয়ে শত্রুদের শক্তির ওপর বিজয়ী হয়। আর তারা যেন জানতে পারে যে বিজয় কেবল সংখ্যাধিক্য, সম্পদ, ঘোড়া, পাথেয় বা যুদ্ধ সরঞ্জাম দিয়ে আসে না, বরং এটি অর্জিত হয় সেই মহাশক্তির সাথে সম্পর্কের গভীরতা অনুযায়ী যার সামনে জমিনের কোনো শক্তি টিকে থাকতে পারে না। আর এটি যেন নিছক কোনো কথা বা বিশ্বাস না হয়ে বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে অর্জিত হয়, যাতে মুমিন দলটি এই অভিজ্ঞতা থেকে তাদের জীবনের সমগ্র বাস্তবতার জন্য রসদ লাভ করতে পারে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করার পর এবং শত্রুর মুকাবিলার জন্য তাদের প্রস্তুতির মাত্রা অনুধাবন করার পর দেখলেন যে, মুসলমানদের জন্য—যে কোনো মূল্যে—বদরের কূয়াগুলোর দিকে আগে পৌঁছানো প্রয়োজন। অতঃপর তারা পথ চলতে শুরু করলেন যতক্ষণ না উপত্যকার উপরিভাগে পৌঁছালেন। উপত্যকাটি এতটাই শুষ্ক ছিল যে সেখানে তারা এক ফোঁটা পানিও পাননি—আর মুসলমানদের কাছে যা পানি ছিল তাও ফুরিয়ে গিয়েছিল। পরদিন তৃষ্ণা তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক কষ্টের চরম সীমায় পৌঁছে দিল এবং শয়তান এই সুযোগ গ্রহণ করে তাদের মনে কুমন্ত্রণা দিতে লাগল: "দেখো, সেই ব্যক্তি তোমাদের কোথায় নিয়ে এসেছে যে নিজেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর রাসূল বলে দাবি করে।

ঐ যে শত্রু বাহিনী যাদের সংখ্যা গণনা করা যায় না, তোমাদের ঘিরে ধরেছে; তারা কেবল তোমাদের তৃষ্ণার তীব্রতায় শক্তি হারিয়ে ফেলার অপেক্ষা করছে, যেন তোমাদেরকে এমন এক সহজ শিকারের মতো গিলে ফেলে যার কোনো রক্ষাকারী নেই।" শয়তানের কুমন্ত্রণা তাদের মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল। তবে সৌভাগ্যবশত রমজান মাসের রোজা পালনের মাধ্যমে পিপাসার প্রতি তাদের অভ্যস্ততা তাদের ধৈর্যকে শক্তিশালী করেছিল। এমন এক সময়ে যখন উত্তাপ চরম সীমায় পৌঁছেছিল এবং সূর্য তার রশ্মিকে আগুনের শিখার মতো বিকিরণ করছিল—

--------------------------------------------

১ আবুল ফিদা ৩/২৬৪।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
نار وكاد ينفد الصبر، أرسل الله سبحانه وتعالى إليهم السحب تتوج القمم والآكام، وتفجرت عن الغيث المنعش، حتى سال الوادي، فشرب المؤمنون وملأوا الأسقية، وسقوا الركاب، واغتسلوا من الجنابة فجعل الله في ذلك طهوراً وثبت به الأقدام، وذلك أنه كانت بينهم وبين القوم رملة، فبعث الله المطار فضربها حتى اشتدت، وثبتت عليها الأقدام، ولم تمنعهم من السير {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ وَيُذْهِبَ عَنْكُمْ رِجْزَ الشَّيْطَانِ وَلِيَرْبِطَ عَلَى قُلُوبِكُمْ وَيُثَبِّتَ بِهِ الأَقْدَامَ} (الأنفال آية 11) .

وعلى العكس كانت هذه العاصفة ضرراً على المشركين فقد أصابهم منها ما أعجزهم 1 عن التحول فقد كانوا في أرض سبخة، وكانت إبلهم تنزلق، وتخر على الأرض وأرجلها الطويلة ممدودة وراءها في صورة تبعث على الضحك، وكانت قوائم الخيل تغوص في الأرض، وتَعْجِزُ عن إخراجها، ويحاول الفارس تخليصها من الأرض فترتمي عليه الفرس. وساد الاضطراب وعمت الفوضى، وعرقل كل ذلك من سيرهم2.

والمدد على هذا النحو مدد مزدوج مادي وروحي فالماء في الصحراء مادة الحياة فضلاً عن أن يكون أداة النصر، والجيش الذي يفقد الماء في الصحراء يفقد أعصابه قبل أن يفقد حياته، والتحرج من أداء الصلاة على غير طهور بالماء لعدم وجود الماء، ولم يكن قد رخص لهم بعد في التيمم، ويدخل الشيطان من باب الإيمان، ليزيد حرج النفوس ووجل القلوب، والنفوس التي تدخل المعركة في مثل هذا الحرج وفي مثل هذا القلق تدخلها مزعزعة مهزومة من داخلها.

وهنا يجيء المدد والنجدة {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ وَيُذْهِبَ عَنْكُمْ رِجْزَ الشَّيْطَانِ وَلِيَرْبِطَ عَلَى قُلُوبِكُمْ وَيُثَبِّتَ بِهِ الأَقْدَامَ} (الأنفال آية،11) .

ذلك أن فوق ما أوحى الله سبحانه وتعالى إلى الملائكة؛ ليثبتوا الذين أمنوا فوق وعدهم بإلقاء الرعب في قلوب الكفار.

وكان النوم قد جافى عيون المؤمنين من شدة الخوف حينما بلغهم أنهم سيقاتلون جيشاً يزيد على عددهم ثلاثة أضعاف سيحاربهم غداً وهو أشد منهم قوة وأعظم عدة، فكان من مقتضى العادة أن يناموا على بساط الأرق والسهاد ويضربون أخماسا في أسداس، ويفكرون فيما سيلاقونه في غدهم من الشدة والبأس، ولكن الله رحمهم بما أنزل عليهم من النعاس،

--------------------------------------------

1 الروض الآنف 5/97، فقه السيرة ص 236، أبو الفداء 3/266.

2 الروض الآنف 5/97، فقه السيرة ص 236، أبو الفداء 3/266.
আগুন এবং ধৈর্য প্রায় শেষ হয়ে আসছিল, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের কাছে মেঘমালা পাঠালেন যা পাহাড়ের চূড়া ও টিলাগুলোকে আবৃত করে ফেলেছিল এবং তা থেকে সতেজকারী বৃষ্টি বর্ষিত হলো, এমনকি উপত্যকা প্রবাহিত হলো। ফলে মুমিনগণ পানি পান করলেন, পানির পাত্রগুলো পূর্ণ করলেন, আরোহী পশুদের পান করালেন এবং অপবিত্রতা থেকে গোসল করলেন। আল্লাহ একে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করলেন এবং এর দ্বারা পাগুলো দৃঢ় করলেন। আর তা এভাবে যে, তাদের ও শত্রু বাহিনীর মাঝে বালুময় ভূমি ছিল, আল্লাহ বৃষ্টি পাঠালেন ফলে তা শক্ত হয়ে গেল এবং তার উপর পা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো এবং তা তাদের চলতে বাধা দিল না। "এবং তিনি আকাশ থেকে তোমাদের উপর পানি বর্ষণ করেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করেন, তোমাদের থেকে শয়তানের অপবিত্রতা দূর করেন, তোমাদের অন্তরগুলোকে সুদৃঢ় করেন এবং এর মাধ্যমে পাগুলো দৃঢ় রাখেন।" (আল-আনফাল, আয়াত: ১১) ।

অন্যদিকে এই ঝড়টি মুশরিকদের জন্য ক্ষতিকর ছিল, এর ফলে তারা এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল যা তাদের চলাচলে অক্ষম করে দিয়েছিল। কারণ তারা একটি লোনা ও কর্দমাক্ত ভূমিতে ছিল। তাদের উটগুলো পিছলে যাচ্ছিল এবং মাটিতে আছড়ে পড়ছিল, আর তাদের লম্বা পাগুলো পেছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ছিল যা একটি হাস্যকর দৃশ্যের অবতারণা করছিল। ঘোড়াগুলোর পা মাটিতে ডেবে যাচ্ছিল এবং সেগুলো বের করতে তারা অক্ষম হয়ে পড়ছিল। কোনো অশ্বারোহী যখন তার ঘোড়াকে মাটি থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছিল, তখন ঘোড়াটি তার ওপরই পড়ে যাচ্ছিল। ফলে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা বিরাজ করছিল এবং এসব কিছু তাদের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছিল।

এভাবে সাহায্য ছিল দ্বিমুখী—বস্তুগত এবং আধ্যাত্মিক। মরুভূমিতে পানি হলো জীবনের মূল উপাদান, পাশাপাশি এটি বিজয়ের একটি হাতিয়ারও বটে। যে বাহিনী মরুভূমিতে পানি হারায়, সে তার জীবন হারানোর আগেই মনোবল হারিয়ে ফেলে। পানি না থাকায় পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত সালাত আদায় করার বিষয়ে যে দ্বিধাবোধ তৈরি হয়েছিল—কারণ তখন পর্যন্ত তায়াম্মুমের অনুমতি দেয়া হয়নি—শয়তান সেই ঈমানের পথ ধরে প্রবেশ করছিল যাতে মনের সংকীর্ণতা এবং হৃদয়ের ভয় বৃদ্ধি পায়। আর যে সত্তাসমূহ এ ধরনের সংকীর্ণতা ও উদ্বেগের মধ্যে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, তারা ভেতর থেকেই নড়বড়ে ও পরাজিত অবস্থায় থাকে।

ঠিক তখনই সাহায্য ও উদ্ধার আসল: "এবং তিনি আকাশ থেকে তোমাদের উপর পানি বর্ষণ করেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করেন, তোমাদের থেকে শয়তানের অপবিত্রতা দূর করেন, তোমাদের অন্তরগুলোকে সুদৃঢ় করেন এবং এর মাধ্যমে পাগুলো দৃঢ় রাখেন।" (আল-আনফাল, আয়াত: ১১) ।

এটি ছিল আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ফেরেশতাদের প্রতি যা ওহি করেছিলেন তার অতিরিক্ত; যাতে তারা মুমিনদের দৃঢ় রাখেন এবং কাফেরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চারের যে ওয়াদা করেছিলেন তা পূর্ণ করেন।

মুমিনদের চোখ থেকে ঘুম চলে গিয়েছিল চরম ভয়ের কারণে, যখন তাদের কাছে খবর পৌঁছাল যে তারা এমন এক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করবে যারা সংখ্যায় তাদের তিন গুণেরও বেশি, শক্তিতে তাদের চেয়ে প্রবল এবং যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। স্বাভাবিকভাবে তাদের অনিদ্রা ও দুশ্চিন্তায় রাত কাটানোর কথা ছিল এবং তারা আগামীকালের সেই কঠিন ও ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা করছিল। কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রতি রহমতস্বরূপ তন্দ্রা অবতীর্ণ করলেন।

--------------------------------------------

১. আর-রওদুল উনুফ ৫/৯৭, ফিকহুস সিরাহ পৃ. ২৩৬, আবুল ফিদা ৩/২৬৬।

২. আর-রওদুল উনুফ ৫/৯৭, ফিকহুস সিরাহ পৃ. ২৩৬, আবুল ফিদা ৩/২৬৬।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৬০)
غشيهم فناموا واثقين بالله تعالى مطمئنين لوعده، وأصبحوا على همة ونشاط في لقاء عدوهم وعدوه. ولكن محمداً صلى الله عليه وسلم بقي متيقظا مستغرقا في الصلاة {إِذْ يُغَشِّيكُمُ النُّعَاسَ أَمَنَةً مِنْهُ.....} (الأنفال آية 11) .

وجاءت الساعة التي سيتقرر فيها مصير الإسلام، وكان ذلك يوم الجمعة السابع عشر من شهر رمضان، وكان الحباب بن المنذر مشهوراً بجودة الرأي وإخلاص النصيحة، فخاطب الرسول عليه الصلاة والسلام قائلاً: "يا رسول الله أرأيت هذا المنزل أمنزلاً أنزلكه الله أم هو الرأي والحرب والمكيدة؟ ". فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا بل هو الرأي والحرب والمكيدة"، فقال: يا رسول الله، فإن هذا ليس بمنزل. امض بالناس حتى تأتي أدنى ماء من القوم فننزله، ثم نغوِّر (نطمس ونردم) ما وراءه من القلب (الآبار) ثم نبني عليه حوضا فنملؤه ماء ثم نقاتل القوم فنشرب ولا يشربون، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أشرت بالرأي" ثم أخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم ينفذ النصيحة خطوة فخطوة، فلم يجئ نصف الليل1 حتى تحولوا كما رأى الحباب وامتلكوا مواقع الماء.....

وتحدد بذلك مكان الموقعة، فسيضطَرُّ المشركون بلا شك إلى الحضور، لينازعوا المسلمين على الماء فليس في الوادي غيره.

وبنى المسلمون عريشا للنبي صلى الله عليه وسلم؛ ليجلس فيه بناءً على اقتراح سعد ابن معاذ، وكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يتفقد الرجال، وينظم الصفوف، ويُسْدِي النصائح، ويذكر بالله والدار الآخرة، ثم يعود إلى العريش الذي هيء له، فيستغرق في الدعاء الخاشع، ويستغيث بأمداد الرحمن.....

ووقف أبو بكر بجوار الرسول صلى الله عليه وسلم وهو يكثر الابتهال والتضرع بعد أن شاهد قوة المشركين وكثرة عددهم، وينشد الله ما وعده به، وأخذ يردد "اللهم هذه قريش قد أتت بخيلائها تحاول أن تكذب رسولك. اللهم فنصرك الذي وعدتني. اللهم إن تهلك هذه العصابة اليوم لا تعبد بعدها في الأرض".

وما زال يدعو ربه حتى سقط رداؤه، وجاء أبو بكر يرد الرداء على منكبيه ويقول له: "يا نبي الله بعض مناشدتك ربك، فإن الله منجز لك ما وعدك" 2.

--------------------------------------------

1 ابن هشام 1/620، أبو الفداء 3/267 عن ابن إسحاق.

2 أبو الفداء 3/272، 275. فتح الباري 7/278، الروض الأنف 5/98-130.
তাদের উপর তন্দ্রা আচ্ছন্ন হলো, ফলে তারা মহান আল্লাহর উপর আস্থা রেখে এবং তাঁর ওয়াদার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। তারা তাদের শত্রু ও আল্লাহর শত্রুর সাথে সাক্ষাতের জন্য উচ্চ মনোবল ও উদ্দীপনা নিয়ে ভোরে জাগ্রত হলেন। কিন্তু মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাগ্রত থেকে সালাতে মগ্ন ছিলেন। "স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য তন্দ্রাচ্ছন্ন করেছিলেন..." (আল-আনফাল, আয়াত: ১১)।

ইসলামের ভাগ্য নির্ধারিত হওয়ার সেই মুহূর্তটি ঘনিয়ে এলো। আর সেটি ছিল রমজান মাসের সতেরো তারিখ, শুক্রবার। হুবাব ইবনুল মুনযির সঠিক সিদ্ধান্ত দান এবং একনিষ্ঠ নসিহতের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি রাসূল (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-কে সম্বোধন করে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি এই স্থানটি নির্বাচন করেছেন আল্লাহর নির্দেশে, না কি এটি নিছক যুদ্ধকৌশল ও পরিকল্পনা?" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "না, বরং এটি নিছক যুদ্ধকৌশল ও পরিকল্পনা।" তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, এটি (যুদ্ধের জন্য) উপযুক্ত স্থান নয়। আপনি লোকদের নিয়ে যাত্রা করুন যতক্ষণ না শত্রুদের সবচেয়ে কাছের পানির কূপের কাছে পৌঁছান। আমরা সেখানে অবতরণ করব। এরপর এর পেছনের সব কূপ ভরাট করে দেব। তারপর আমরা সেখানে একটি হাউজ নির্মাণ করে তা পানিতে পূর্ণ করব। এরপর আমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করব; আমরা পানি পান করব কিন্তু তারা করতে পারবে না।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তুমি চমৎকার পরামর্শ দিয়েছ।" এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধাপে ধাপে সেই পরামর্শ বাস্তবায়ন করতে শুরু করলেন। মধ্যরাত হওয়ার আগেই তারা হুবাবের পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থান পরিবর্তন করলেন এবং পানির উৎসগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করলেন...

এর মাধ্যমে যুদ্ধের স্থান নির্ধারিত হয়ে গেল। ফলে মুশরিকরা নিঃসন্দেহে সেখানে আসতে বাধ্য হবে, যাতে তারা পানির অধিকার নিয়ে মুসলিমদের সাথে লড়াই করতে পারে। কারণ সেই উপত্যকায় এটি ছাড়া আর কোনো পানির উৎস ছিল না।

সা'দ ইবনে মুআযের প্রস্তাব অনুযায়ী মুসলিমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বসার জন্য একটি ছাউনি তৈরি করল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সৈন্যদের দেখাশোনা করছিলেন, কাতার বিন্যস্ত করছিলেন, নসিহত দিচ্ছিলেন এবং আল্লাহ ও পরকাল সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন। এরপর তিনি তাঁর জন্য প্রস্তুতকৃত ছাউনিতে ফিরে গিয়ে বিনীতভাবে দুয়ায় মগ্ন হলেন এবং রহমানের সাহায্যের প্রার্থনা করতে লাগলেন...

আবু বকর (রা.) রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। মুশরিকদের শক্তি ও বিশাল সৈন্যবাহিনী দেখে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অত্যন্ত আকুল হয়ে বিনয়াবনত প্রার্থনা করছিলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার প্রার্থনা করছিলেন। তিনি বারবার বলছিলেন: "হে আল্লাহ! এই যে কুরাইশরা তাদের দম্ভ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে আপনার রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে। হে আল্লাহ! আপনার সেই সাহায্য পাঠান যার প্রতিশ্রুতি আপনি আমাকে দিয়েছেন। হে আল্লাহ! আজ যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে এরপর পৃথিবীতে আর আপনার ইবাদত করা হবে না।"

তিনি তাঁর রবের কাছে দুয়া করতেই থাকলেন, এমনকি তাঁর চাদরটি পড়ে গেল। তখন আবু বকর এসে চাদরটি তাঁর কাঁধে তুলে দিলেন এবং তাঁকে বললেন: "হে আল্লাহর নবী! আপনার রবের প্রতি আপনার এই আকুতিই যথেষ্ট, নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার সাথে কৃত ওয়াদা পূরণ করবেন।"

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশাম ১/৬২০, আবু আল-ফিদা ৩/২৬৭, ইবনে ইসহাক থেকে।

২ আবু আল-ফিদা ৩/২৭২, ২৭৫। ফাতহুল বারী ৭/২৭৮, আর-রাওদুল উনুফ ৫/৯৮-১৩০।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৬১)
والتقى الجمعان، وبدأ الهجوم من قبل المشركين إِذ برز الأسود المخزومي وكان معجبا بقوته، وصرخ بحيث يسمعه المسلمون والمشركون قائلاً: "وحق اللات والعزى لأشربن من حوضهم أو لأهْدِمَنَّه، أو لأموتن دونه". وخرج له من صفوف المسلمين حمزة بن عبد المطلب فلما التقيا ضربه حمزة ضربةً أطاحت بنصف ساقه، ووقع على ظهره والدم يسيل من رجله، ثم حبا إلى الحوض في مهارة مدهشة، وأسرع نحوه يريد أن يشرب منه، ولكن حمزة أدركه فقضى عليه.

وخرج عتبة بن ربيعة بين أخيه شيبة وابنه الوليد فدعا للمبارزة فخرج له ثلاثة إخوة من الأنصار هم: معوذ ومعاذ وعوف. فقال لهم عتبة: من أنتم؟ فقالوا: رهط من الأنصار، فقال لهم: مالنا بكم حاجة نريد قومنا، يا محمد أخرج إلينا أكفاءنا من قومنا.

وقيل: إِن الرسول صلى الله عليه وسلم نفسه هو الذي استرجع أولئك الأنصار رغبة منه أن تكون عشيرته أول من يواجه العدو في مثل هذا الموقف. فقال: "قم يا عبيدة بن الحارث، وقم يا حمزة بن عبد المطلب، وقم يا علي بن أبي طالب ،قوموا يا بني هاشم فقاتلوا بحقكم الذي بعث به نبيكم إِذ جاءوا ببطلانهم؛ ليطفئوا نور الله..".

فبارز عبيدة عتبة، وحمزة شيبة وعلي الوليد. فأما حمزة فلم يمهل شيبة أن قتله، وكذلك فعل علي مع خصمه، وأما عبيدة وعتبة فقد جرح كلاهما الآخر فكرَّ حمزة وعلي على عتبة فأجهزا عليه، واحتملا صاحبهما فجاءوا به إِلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأفرشه الرسول عليه الصلاة والسلام قدمه، فوضع خده على قدمه الشريفة، وقال يا رسول الله: لو رآني أبو طالب لعلم أني أحق بقوله:

ونسلمه حتى نصرع دونه … ونذهل عن أًبنائنا والحلائل

فقال له الرسول عليه الصلاة والسلام: "أشهد أنك شهيد" ثم أسلم الروح1.

بعد هذه المبارزة الفردية التي أثارت العواطف الحربية بين جوانح المحاربين لا يمكن أن يطول انتظار الغزاة، وأخذ الرسول صلى الله عليه وسلم يعدل جيشه كتفا بكتف في صفوف متلاصقة كالبنيان المرصوص. وأخذ يكبح شكيمة هؤلاء المتعجلين الذين يريدون أن يتقدموا الجميع إلى القتال فيلاقوا مصرعهم دون فائدة تعود على المسلمين، ومن هؤلاء سواد بن غزيَّة، فقد برز من صفه فضربه رسول الله صلى الله عليه وسلم بقدح (سهم) كان في يده

--------------------------------------------

1 أبو الفداء 3/279،الروض الأنف 5/103، فقه السيرة ص 237.
উভয় দল একে অপরের মুখোমুখি হলো এবং মুশরিকদের পক্ষ থেকে আক্রমণ শুরু হলো। তখন আসওয়াদ আল-মাখযুমি সামনে এগিয়ে এল, সে নিজের শক্তি নিয়ে খুব অহংকারী ছিল। সে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলল, যেন মুসলিম এবং মুশরিক সবাই শুনতে পায়: "লাত ও উজ্জার কসম, আমি অবশ্যই তাদের হাউজ থেকে পান করব অথবা ওটা ধ্বংস করে দেব, নয়তো এর জন্য প্রাণ দেব।" মুসলিমদের কাতার থেকে হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব তার দিকে বেরিয়ে এলেন। যখন তাদের দুইজনের মোকাবিলা হলো, হামজা তাকে এমন এক আঘাত করলেন যা তার পায়ের নলার অর্ধেক উড়িয়ে দিল। সে পিঠের ওপর পড়ে গেল এবং তার পা থেকে রক্ত ঝরছিল। এরপর সে অত্যন্ত বিস্ময়কর কৌশলে হাউজের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেল এবং সেখান থেকে পান করার জন্য দ্রুত অগ্রসর হতে চাইল। কিন্তু হামজা তাকে ধরে ফেললেন এবং তাকে হত্যা করলেন।

এরপর উতবাহ ইবনে রাবিয়াহ তার ভাই শাইবাহ এবং পুত্র ওয়ালিদকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে এল এবং দ্বন্দ্বযুদ্ধের আহ্বান জানাল। তখন আনসারদের মধ্য থেকে তিন ভাই—মুয়াজ, মুআওয়াজ এবং আওফ তার মোকাবিলায় বেরিয়ে এলেন। উতবাহ তাদের জিজ্ঞেস করল: "তোমরা কারা?" তারা বললেন: "আনসারদের একটি দল।" সে তাদের বলল: "তোমাদের সাথে আমাদের কোনো কাজ নেই, আমরা আমাদের কওমের লোক চাই। হে মুহাম্মদ, আমাদের কওম থেকে আমাদের সমকক্ষদের আমাদের সামনে বের করে দাও।"

বলা হয় যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই আনসারদের ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই আকাঙ্ক্ষায় যে, তার নিকটাত্মীয়রাই যেন এমন পরিস্থিতিতে প্রথম শত্রুর মোকাবিলা করে। তিনি বললেন: "হে উবাইদাহ ইবনে হারিস ওঠো, হে হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ওঠো, এবং হে আলী ইবনে আবি তালিব ওঠো। হে বনী হাশিম, তোমরা তোমাদের সেই হকের পক্ষে লড়াই করতে ওঠো যা দিয়ে তোমাদের নবিকে পাঠানো হয়েছে, কারণ তারা তাদের বাতিল নিয়ে এসেছে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দেওয়ার জন্য...।"

এরপর উবাইদাহ উতবাহর সাথে, হামজা শাইবাহর সাথে এবং আলী ওয়ালিদের সাথে দ্বন্দ্বযুদ্ধ করলেন। হামজা শাইবাহকে কোনো সুযোগ না দিয়েই হত্যা করলেন, এবং আলীও তার প্রতিপক্ষের সাথে তাই করলেন। আর উবাইদাহ এবং উতবাহ উভয়েই একে অপরকে আহত করলেন। তখন হামজা ও আলী উতবাহর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে শেষ করে দিলেন এবং তাদের সাথীকে তুলে নিলেন। তারা তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য নিজের পা বিছিয়ে দিলেন এবং তিনি (উবাইদাহ) তার বরকতময় পায়ের ওপর নিজের গাল রাখলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল: যদি আবু তালিব আমাকে দেখতেন তবে তিনি জানতেন যে তার এই কবিতার আমিই সবচেয়ে বেশি হকদার:

আমরা তাকে শত্রুর হাতে সঁপে দেব না যতক্ষণ না আমরা তার সামনে ধরাশায়ী হই … আর আমরা আমাদের সন্তানদের ও স্ত্রীদের কথা ভুলে যাব

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমি একজন শহীদ।" এরপর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।

এই একক লড়াইয়ের পর যা যোদ্ধাদের মনে যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল, আক্রমণকারীদের জন্য আর অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বাহিনীকে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় নিবিড় সারিবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিন্যস্ত করতে লাগলেন। তিনি সেই অতিউৎসাহীদের নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করলেন যারা সবার আগে যুদ্ধের দিকে এগিয়ে গিয়ে মুসলিমদের কোনো উপকার ছাড়াই প্রাণ হারাতে চাইছিল। তাদেরই একজন ছিলেন সাওয়াদ ইবনে গাজিয়্যাহ; তিনি কাতার থেকে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার হাতে থাকা একটি তীর দিয়ে তাকে আঘাত করলেন।

--------------------------------------------

১. আবু আল-ফিদা ৩/২৭৯, আর-রাওদ আল-উনুফ ৫/১০৩, ফিকহুস সিরাহ পৃষ্ঠা ২৩৭।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৬২)
وقال: "استو يا سواد". فقال: يا رسول الله أوجعتني وقد بعثك الله بالحق والعدل فَأقِدْني، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اقتصً مني" فقال سواد كيف وقد ضربتني على بطني العريان.

- وهنا يتجلى حرص الرسول صلى الله عليه وسلم على إقامة العدل بين أمته، ليبين أنه لا فرق بين حاكم ومحكوم ولا بين الرسول صلى الله عليه وسلم وواحد من قومه في ميزان العدل لنأخذ منه عليه الصلاة والسلام الأسوة الحسنة:

فيكشف له الرسول صلى الله عليه وسلم عن بطنه ويقول: "استقد يا سواد"؟ فاعتنقه سواد فقبل بطنه. فقال صلى الله عليه وسلم: "ما حملك على هذا يا سواد"؟ فقال: يا رسول الله حضر ما ترى فأردت أن يكون آخر العهد بك أن يمس جلدي جلدك" فدعا له رسول الله بخير 1.

واستشاط الكفار غضبا للبداية السيئة التي صادفتهم فأمطروا المسلمين وابلاً من سهامهم ثم حمي الوطيس، وتهاوت السيوف وتصايح المسلمون أحد أحدٌ. وأمرهم الرسول صلى الله عليه وسلم أن يكسروا هجمات المشركين وهم يرابطون في مواقعهم وقال: "إن اكتنفكم القوم فانضحوهم عنكم بالنّبل ولا تحملوا عليهم حتى تؤذنوا". فلما اتسع نطاق المعركة واقتربت من قمتها كان المسلمون قد استنفدوا جهد أعدائهم وألحقوا بهم خسائر جسيمة. والنبي صلى الله عليه وسلم في عريشه يدعو الله سبحانه وتعالى، ويرقب بطولة رجاله وجلدهم قال ابن إسحاق: "خفق النبي خفقة في العريش ثم انتبه فقال: أبشر يا أبا بكر أتاك نصر الله، هذا جبريل آخذ بعنان فرسه يقوده على ثنايا النقع" 2.

لقد انعقد الغبار فوق رءوس المقاتلين وهم بين كرٍّ وفرٍّ، جند الحق يستبسلون لنصرة الرحمن، وجند الباطل قد ملكهم الغرور، فأغراهم أن يغالبوا القدر.

فلا عجب إِذا نزلت ملائكة الخير تنفث في قلوب المسلمين روحَ اليقين وتحضهم على الثبات والإقدام.

--------------------------------------------

1 أيو الفداء3/271،الروض الأنف 5/104.

2 ابو الفداء 3/276.فقه السيرة ص238، الروض الأنف 5/105.
এবং তিনি বললেন: "হে সাওয়াদ, সোজা হয়ে দাঁড়াও।" তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে ব্যথা দিয়েছেন, অথচ আল্লাহ আপনাকে সত্য ও ন্যায়ের সাথে পাঠিয়েছেন, তাই আমাকে এর প্রতিশোধ নিতে দিন।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আমার থেকে প্রতিশোধ নাও।" সাওয়াদ বললেন: "কীভাবে, অথচ আপনি আমার খালি পেটে আঘাত করেছেন?"

- এবং এখানে নিজের উম্মতের মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঐকান্তিক আগ্রহ প্রকাশ পায়, যাতে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ন্যায়বিচারের পাল্লায় শাসক ও শাসিতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সম্প্রদায়ের কোনো একজনের মধ্যেও কোনো ব্যবধান নেই; যাতে আমরা তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে উত্তম আদর্শ গ্রহণ করতে পারি:

অতঃপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উদর উন্মুক্ত করলেন এবং বললেন: "হে সাওয়াদ! প্রতিশোধ গ্রহণ করো।" তখন সাওয়াদ তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং তাঁর উদরে চুম্বন করলেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে সাওয়াদ, কিসে তোমাকে এমন করতে উদ্বুদ্ধ করল?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, যা সমাগত তা তো আপনি দেখছেনই, তাই আমি চাইলাম আপনার সাথে আমার শেষ মুহূর্তটি এমন হোক যেন আমার চামড়া আপনার চামড়াকে স্পর্শ করে।" এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য কল্যাণের দুআ করলেন ১।

কাফেররা তাদের সামনে আসা এই মন্দ সূচনায় রাগে ফেটে পড়ল এবং তারা মুসলিমদের ওপর তীরের বৃষ্টি বর্ষণ করল, এরপর যুদ্ধ চরম আকার ধারণ করল। তলোয়ারগুলো আছড়ে পড়তে লাগল এবং মুসলিমরা 'আহাদ আহাদ' (আল্লাহ এক, এক) বলে চিৎকার করে উঠল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তারা নিজ নিজ অবস্থানে অটল থেকে মুশরিকদের আক্রমণ প্রতিহত করে এবং বললেন: "যদি তারা তোমাদের ঘিরে ফেলে, তবে তীরের সাহায্যে তাদের হটিয়ে দাও এবং অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তাদের ওপর আক্রমণ করো না।" যখন যুদ্ধের ব্যাপ্তি বেড়ে গেল এবং তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল, তখন মুসলিমরা তাদের শত্রুদের শক্তি নিঃশেষ করে ফেলেছিল এবং তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন করেছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর শিবিরের ভেতরে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট দুআ করছিলেন এবং তাঁর বীর যোদ্ধাদের বীরত্ব ও ধৈর্য পর্যবেক্ষণ করছিলেন। ইবনে ইসহাক বলেন: "শিবিরের ভেতর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন, এরপর সজাগ হয়ে বললেন: হে আবু বকর! সুসংবাদ গ্রহণ করো, আল্লাহর সাহায্য তোমার নিকট পৌঁছেছে; এই যে জিবরাঈল তাঁর ঘোড়ার লাগাম ধরে ধুলোবালির মধ্য দিয়ে তাকে পরিচালনা করে নিয়ে আসছেন" ২।

যোদ্ধাদের মাথার উপরে ধুলিকণা উড়ছিল যখন তারা আক্রমণ ও পিছুহটার মাঝে লিপ্ত ছিল; সত্যের সৈনিকরা রহমানের সাহায্যের জন্য অসীম সাহসিকতার সাথে লড়াই করছিল, আর মিথ্যার সৈনিকদের ওপর অহংকার সওয়ার হয়েছিল, যা তাদের তাকদীরের সাথে লড়াই করতে প্রলুব্ধ করেছিল।

তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যদি কল্যাণের ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়ে মুসলিমদের অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাসের চেতনা ফুঁকে দেন এবং তাদের অটল থাকা ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

--------------------------------------------

১ আবুল ফিদা ৩/২৭১, আর-রওদুল উনুফ ৫/১০৪।

২ আবু আল-ফিদা ৩/২৭৬, ফিকহুস সিরাহ পৃ. ২৩৮, আর-রওদুল উনুফ ৫/১০৫।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
ونزل قول الله تعالى: {إِذْ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى الْمَلائِكَةِ أَنِّي مَعَكُمْ فَثَبِّتُوا الَّذِينَ آمَنُوا سَأُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ فَاضْرِبُوا فَوْقَ الأَعْنَاقِ وَاضْرِبُوا مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ} (الأنفال آية 13) .

وخرج رسول الله- صلى الله عليه وسلم من مكانه إِلى الناس فحرضهم قائلاً: "والذي نفس محمد بيده لا يقاتلهم اليوم رجل فيقتل صابراً محتسباً إِلا أدخله الله الجنة". وأخذ الرسول- صلى الله عليه وسلم حفنة من حصباء فرمى بها في وجوه القوم وقال: "شاهت الوجوه".

ثم قال لأصحابه: "شدُّوا" 1، فشدُّوا فنزل قول الله تعالى: {فَلَمْ تَقْتُلُوهُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ قَتَلَهُمْ وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَمَى} (الأنفال آية 17) .

ولما دنا المشركون قال الرسول صلى الله عليه وسلم لأصحابه: "قوموا إلى جنة عرضها السموات والأرض" والتأميل في الآخرة هو بضاعة الأنبياء. وهل لأصحاب العقائد، وفداء الحق من راحة إلا هناك، وعمل هذا التحريض عمله في القلوب المؤمنة.

فقال عمير بن الحمام الأنصاري: "لا يا رسول الله جنة عرضها السموات والأرض: قال: "نعم". قال: بخ بخ. قال رسول الله- صلى الله عليه وسلم: ما يحملك على قول: بخ بخ، قال: لا والله يا رسول الله إلاّ رجاء أن أكون من أهلها؟. فقال الرسول- صلى الله عليه وسلم: "فِإنك من أهلها".

فأخرج تمرات من قرنه فجعل يأكل منهن. ثم قال: "لئن أًنا حييت حتى آكل تمراتي هذه إِنها حياة طويلة، فرمى ما كان معه من التمر ثم قاتلهم وهو يقول رضي الله عنه:

ركضا إلى الله بغير زاد … إلا التقى وعمل المعاد

والصبر في الله على الجهاد … وكل زاد عرضة النفاد

غير التقى والبر والرشاد2 …

فما زال حتى قتل رحمه الله3.

واشتد القتال، وقتل سادات قريش، لأن المسلمين كان هَمُّهم الأكبر هو استئصال سادات قريش، فقد عذبوهم بمكة، وصدوهم عن المسجد الحرام. وقُتل من قُتل، وفرّ من

--------------------------------------------

1 أبو الفداء 3/284.

2 أبو الفداء 3/277، الروض الأنف 5/105-106،فقه السيرة ص239.

3 أبو الفداء3/277.
আল্লাহ তাআলার এই বাণী অবতীর্ণ হলো: "স্মরণ করো যখন তোমার রব ফেরেশতাদের প্রতি ওহী পাঠালেন যে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং তোমরা মুমিনদের অবিচল রাখো। আমি অচিরেই কাফেরদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করব; অতএব তোমরা তাদের গর্দানের ওপর আঘাত করো এবং আঘাত করো তাদের প্রতিটি আঙ্গুলের জোড়ায়।" (আল-আনফাল, আয়াত ১৩)।

আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের স্থান থেকে লোকজনের নিকট বেরিয়ে এলেন এবং তাদের উৎসাহিত করে বললেন: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ নিহিত, আজ যে ব্যক্তিই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং ধৈর্যশীল ও সওয়াবের আশায় যুদ্ধরত অবস্থায় নিহত হবে, আল্লাহ তাকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক মুষ্টি কঙ্কর নিলেন এবং তা কওমের (শত্রুদের) মুখের দিকে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: "চেহারাগুলো বিকৃত হোক।"

এরপর তিনি তাঁর সাহাবীদের বললেন: "আক্রমণ করো" ১, ফলে তাঁরা আক্রমণ করলেন। তখন আল্লাহ তাআলার এই বাণী অবতীর্ণ হলো: "তোমরা তাদের হত্যা করোনি, বরং আল্লাহই তাদের হত্যা করেছেন। আর তুমি যখন নিক্ষেপ করেছিলে, তখন তুমি নিক্ষেপ করোনি বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন।" (আল-আনফাল, আয়াত ১৭)।

যখন মুশরিকরা নিকটবর্তী হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বললেন: "তোমরা এমন এক জান্নাতের দিকে এগিয়ে চলো যার প্রশস্ততা আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সমান।" আর পরকালের আশা পোষণ করাই হলো নবীদের সম্বল। আর ঈমানদার ও সত্যের জন্য আত্মউৎসর্গকারীদের জন্য সেখানে ছাড়া আর কোথায় স্বস্তি আছে? আর এই উৎসাহবাণী মুমিনদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলল।

তখন উমাইর ইবনুল হুমাম আল-আনসারী বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, এমন জান্নাত যার প্রশস্ততা আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সমান?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি (উমাইর) বললেন: "বাহ্! বাহ্!" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমাকে কিসে 'বাহ্ বাহ্' বলতে উদ্বুদ্ধ করল?" তিনি বললেন: "আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল, আমি কেবল এই আশায় এটি বলেছি যে আমি যেন তার অধিবাসীদের একজন হতে পারি।" রাসূলুল্লাহ (সালล์লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি তার অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।"

অাতঃপর তিনি তাঁর তূণীর থেকে কিছু খেজুর বের করলেন এবং তা থেকে খেতে লাগলেন। এরপর বললেন: "আমি যদি এই খেজুরগুলো খাওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তবে তা হবে এক দীর্ঘ জীবন।" সুতরাং তাঁর সাথে থাকা অবশিষ্ট খেজুরগুলো তিনি ছুড়ে ফেলে দিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে লাগলেন। তিনি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলছিলেন:

কোনো পাথেয় ছাড়াই আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া … তাকওয়া ও পরকালের আমল ছাড়া

আল্লাহর জন্য জিহাদে ধৈর্য ধারণ … আর সকল পাথেয়ই শেষ হয়ে যাওয়ার সম্মুখীন

তাকওয়া, পুণ্য ও সঠিক পথনির্দেশনা ছাড়া২ …

তিনি এভাবেই লড়াই চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না তিনি শহীদ হলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন৩।

যুদ্ধ তীব্রতর হলো এবং কুরাইশ নেতাদের হত্যা করা হলো; কারণ মুসলমানদের প্রধান লক্ষ্য ছিল কুরাইশ নেতাদের নির্মূল করা, কেননা তারা মক্কায় তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল এবং তাদের মসজিদে হারাম থেকে বাধা দিয়েছিল। যারা নিহত হওয়ার তারা নিহত হলো এবং যারা পালিয়ে যাওয়ার তারা পালিয়ে গেল...

--------------------------------------------

১ আবুল ফিদা ৩/২৮৪।

২ আবুল ফিদা ৩/২৭৭, আর-রওযুল উনুফ ৫/১০৫-১০৬, ফিকহুস সিরাহ পৃ. ২৩৯।

৩ আবুল ফিদা ৩/২৭৭।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
فر، وانتصر جيش المسلمين وكانت معركة بدر في صالح محمد- صلى الله عليه وسلم ورجاله وولى أهل مكة الأدبار كاسفا بالهم، خاشعة من الذل أبصارهم لا يكاد أحدهم يلتقي بنظر صاحبه حتى يواري وجهه خجلاً من سوء ما حل بهم جميعا.

ثالثا: تسجيل لمواقف الخزي والعار بالنسبة لقريش ورجالها

قال الله سبحانه وتعالى: {إِنْ تَسْتَفْتِحُوا فَقَدْ جَاءَكُمُ الْفَتْحُ وَإِنْ تَنْتَهُوا فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَإِنْ تَعُودُوا نَعُدْ وَلَنْ تُغْنِيَ عَنْكُمْ فِئَتُكُمْ شَيْئاً وَلَوْ كَثُرَتْ وَأَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ} (الأنفال آية 19) .

حينما خرج المشركون من مكة إلى بدر- أخذوا بأستار الكعبة فاستنصروا الله قائلين: "اللهم انصر أعلى الجندين، وأكرم الفئتين وخير القبيلتين".

وروي أن أبا جهل قال يوم بدر "اللهم أينا كان أقطع للرحم وآتانا بما لا نعرف فاحنه الغداة".

وأنه قال عندما التقى الجمعان في ذلك اليوم: "اللهم ربً ديننا القديم ودين محمد الحديث فأي الدينين كان أحب إليك وأرضى عندك فانصر أهله اليوم"1.

وتحقق طلب قريش وأبي جهل، فجعل الله الدائرة عليهم تصديقاً لاستفتاحهم؛ لأنهم طلبوا من الله أن يفتح عليهم وأن يهلك الضالين، وهذه حقيقة فقد دارت الدائرة على الفريق الضال الصاد عن سبيل الله وهزموا هزيمة منكرة.

وهذا نموذج للإجابة لا يسر ولا يشجع على إعادة الاستفتاح من جديد.

ولقد كان أبو جهل أشد المشركين عداوة للإسلام ولما وجد سيل الهزيمة النازل بقومه من المشركين- أقبل يصرخ فيهم، وغباوة الغرور لا تزال ضاربة على عينيه "واللات والعزى لا نرجع حتى نفرِّقهم في الجبال … خذوهم أخذاً"2.

ولقد كان أبو جهل تمثالاً للطيش والعناد إلى آخر رمق، وكان يقاتل في شراسة وغضب وهو يقول:

بازل عامين حديث سني … ما تنقم الحرب الشموس مني

لمثل هذا ولدتني أمي

…

--------------------------------------------

1 أبو الفداء 3/282-283.

2 أبو الفداء 3/283.
তারা পালিয়ে গেল এবং মুসলিম বাহিনী বিজয়ী হলো। বদরের যুদ্ধ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাথীদের অনুকূলে ছিল। মক্কাবাসীরা বিমর্ষ চিত্তে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল; অপমানে তাদের দৃষ্টি ছিল অবনত। তাদের একজন অন্যজনের চোখের দিকে তাকাতে পারছিল না, বরং তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে তার লজ্জায় প্রত্যেকে মুখ লুকাচ্ছিল।

তৃতীয়ত: কুরাইশ ও তাদের পুরুষদের লাঞ্ছনা ও অপমানের ঘটনাবলীর বিবরণ

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: "তোমরা যদি ফয়সালা প্রার্থনা করো, তবে তোমাদের কাছে ফয়সালা এসে গেছে; আর যদি তোমরা বিরত থাকো তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। কিন্তু তোমরা যদি পুনরায় একই কাজ করো, তবে আমিও পুনরায় শাস্তি দেবো। তোমাদের দল সংখ্যায় অনেক হলেও তা তোমাদের কোনো কাজে আসবে না; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন।" (আল-আনফাল, আয়াত ১৯)।

যখন মুশরিকরা মক্কা থেকে বদরের দিকে বের হলো, তারা কাবার গিলাফ ধরে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে বলেছিল: "হে আল্লাহ! দুই বাহিনীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাহিনীকে বিজয়ী করুন, দুই দলের মধ্যে অধিক সম্মানিত দলকে মর্যাদা দিন এবং দুই গোত্রের মধ্যে উত্তম গোত্রকে সাহায্য করুন।"

বর্ণিত আছে যে, আবু জাহেল বদরের দিন বলেছিল: "হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে যে আত্মীয়তার সম্পর্ক অধিক ছিন্নকারী এবং আমাদের কাছে এমন কিছু নিয়ে এসেছে যা আমরা চিনি না, তাকে আজ সকালেই ধ্বংস করুন।"

সে দিন যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হলো, তখন সে আরও বলেছিল: "হে আল্লাহ, আমাদের পুরাতন দ্বীন এবং মুহাম্মদের নতুন দ্বীনের প্রভু! এই দুই দ্বীনের মধ্যে যেটি আপনার কাছে অধিক প্রিয় এবং অধিক সন্তোষজনক, আজ তার অনুসারীদের বিজয় দান করুন।"১

আর কুরাইশ ও আবু জাহেলের প্রার্থনা কবুল হলো। আল্লাহ তাদের ফয়সালা কামনার সত্যতা স্বরূপ বিপর্যয়কে তাদের দিকেই ঘুরিয়ে দিলেন; কারণ তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিল যেন তিনি ফয়সালা করে দেন এবং পথভ্রষ্টদের ধ্বংস করেন। আর এটিই বাস্তবতা যে, বিপর্যয় সেই পথভ্রষ্ট দলের ওপরই আপতিত হলো যারা আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করত এবং তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলো।

এটি ছিল প্রার্থনার এমন এক উত্তর যা মোটেই আনন্দদায়ক নয় এবং পুনরায় ফয়সালা প্রার্থনায় উৎসাহিত করে না।

ইসলামের প্রতি আবু জাহেল ছিল মুশরিকদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর শত্রু। যখন সে তার কওম তথা মুশরিকদের ওপর পরাজয়ের প্লাবন নেমে আসতে দেখল, তখন সে তাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করতে লাগল, অথচ অহংকারের মূর্খতা তখনও তার চোখ আচ্ছন্ন করে রেখেছিল: "লাত ও উযযার কসম! আমরা ফিরে যাব না যতক্ষণ না তাদের পাহাড়ে বিক্ষিপ্ত করে দিচ্ছি... তোমরা তাদের শক্তভাবে পাকড়াও করো।"২

আবু জাহেল শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত হঠকারিতা ও একগুঁয়েমির মূর্ত প্রতীক ছিল। সে অত্যন্ত উগ্রতা ও রাগের সাথে যুদ্ধ করছিল এবং বলছিল:

দুই বছরের উটের মতো শক্তিশালী আমি, যদিও বয়সে তরুণ … প্রখর যুদ্ধ আমার কাছ থেকে কী প্রতিশোধ নেবে?

এমন দিনের জন্যই আমার মা আমাকে জন্ম দিয়েছেন

…

--------------------------------------------

১ আবুল ফিদা ৩/২৮২-২৮৩।

২ আবুল ফিদা ৩/২৮৩।
(খণ্ড: ৫২) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
وكان المسلمون يعلمون أن أبا جهل هو المحرك لكل المؤامرات التي تحاك ضد رسول الله- صلى الله عليه وسلم فاخذوا يبحثون عنه، وتمكن معاذُ بن عمرو من الوصول إِليه وضربه ضربةً أطارت قدمه بنصف ساقه، وأسرع عكرمة بن أبي جهل لإنقاذ أبيه، فضرب معاذاً على عاتقه فطوحت يده....

ثم مر بأبي جهل فتيان من الأنصار وهما ولدا عفراء وهو على فرسه فطعناه حتى هوى عن فرسه واهتم الرسول- صلى الله عليه وسلم بالبحث عن مصير أبي جهل وأمر أن يلتمس في القتلى فذهب عبد الله بن مسعود للبحث عنه فوجده بآخر رمق، فوضع رجله على عنقه كما يضع الإنسان رجله على أفعى يريد أن يقضي عليه، وتحرك أبو جهل يسأل عن الدائرة اليوم؟. قال: "لله ورسوله"، ثم استتلى عبد الله قائلا له: "هل أخزاك الله يا عدو الله؟ " قال: وبماذا أخزاني هل أعمد من رجل قتله قومه؟ وتفرس في عبد الله ثم قال له: "لقد ارتقيت مرتقى صعبا يا رويعي الغنم"، فجعل عبد الله يهوي عليه بسيفه حتى خمد. وجزّ رأسه وجاء بها رسول الله- صلى الله عليه وسلم وحينما رأى رسول الله- صلى الله عليه وسلم وجه عدوه الدامي قال: "الله الذي لا إله غيره" ثم قال: "هذا فرعون هذه الأمة" 1.

ولقي مثل هذا المصير المفجع أمية بن خلف وغيره من صناديد قريش حتى بلغوا سبعين صنديداً من رؤوس الكفر بمكة دارت عليهم الدائرة، وتجرعوا كؤوس الردى صاغرين، وسقط في الأسر سبعون كذلك، وفر بقية التسعمائة والخمسين يرددون لمن خلفهم أن الظلم مرتعه وخيم، وأن البطر يجر في أعقابه الخزي والعار، وهذا جزاؤهم في الدنيا ولهم في الآخرة عذاب النار ويقال لهم: {ذَلِكُمْ فَذُوقُوهُ وَأَنَّ لِلْكَافِرِينَ عَذَابَ النَّارِ} (الأنفال آية 14) .

وانتصرت القلة المؤمنة على الكثرة الكافرة، والقلة الضعيفة على الكثرة القوية المستعدة.

وسيحدث ذلك في كل معركة بين الحق والباطل، بين الكفر والإيمان، لأن الله مع المؤمنين بمعونته وولايته وتوفيقه فمن ذا الذي ينتصر على من كان الله معينه وناصره؟ من يهزم جمعا معه الله.

الجواب على هذا لا أحد إن شاء الله {إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} (محمد آية7) .

--------------------------------------------

1 أبو الفداء3/287-290 ورواه أبو داود والنسائي بإسنادهما والبخاري ومسلم عن أنس بن مالك. الروض الأنف 5/113-115 142-145.
মুসলিমরা জানতেন যে আবু জাহলই ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে পরিচালিত সকল ষড়যন্ত্রের মূল হোতা, তাই তারা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। মুআয ইবনে আমর তার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হলেন এবং তাকে এমনভাবে আঘাত করলেন যে তার পায়ের অর্ধেক অংশসহ পা বিচ্ছিন্ন হয়ে উড়ে গেল। আবু জাহলের পুত্র ইকরিমা তার পিতাকে উদ্ধারের জন্য দ্রুত এগিয়ে এলেন এবং মুআযের কাঁধে আঘাত করলেন, যার ফলে তার হাতটি ঝুলে পড়ল...।

এরপর আবু জাহলের পাশ দিয়ে আনসারদের দুই যুবক—আফরার দুই পুত্র—অতিক্রম করছিলেন, সে তখন তার ঘোড়ার পিঠে ছিল। তারা তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করলেন যার ফলে সে ঘোড়া থেকে পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু জাহলের পরিণতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হলেন এবং নিহতদের মাঝে তাকে খোঁজার নির্দেশ দিলেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাকে খুঁজতে গেলেন এবং তাকে অন্তিম মুহূর্তে মুমূর্ষু অবস্থায় পেলেন। তিনি তার ঘাড়ের ওপর পা রাখলেন যেভাবে মানুষ কোনো সাপকে শেষ করে দেওয়ার জন্য তার ওপর পা রাখে। আবু জাহল নড়ে উঠে জিজ্ঞেস করল, "আজকের বিজয় কার?" তিনি বললেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের।" এরপর আবদুল্লাহ তাকে বললেন, "হে আল্লাহর শত্রু, আল্লাহ কি তোকে লাঞ্ছিত করেননি?" সে বলল, "তিনি আমাকে কিসে লাঞ্ছিত করলেন? যাকে তার নিজ জাতি হত্যা করেছে, তার চেয়ে বড় আর কে আছে?" সে আবদুল্লাহর দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল এবং তাকে বলল, "হে ছোট মেষপালক, তুই অনেক কঠিন জায়গায় চড়ে বসেছিস।" এরপর আবদুল্লাহ তার তলোয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকলেন যতক্ষণ না সে নিথর হয়ে গেল। তিনি তার মাথাটি কেটে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে এলেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর শত্রুর রক্তাক্ত মুখমন্ডল দেখলেন, তখন বললেন, "আল্লাহ, যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।" অতঃপর তিনি বললেন, "এ হচ্ছে এই উম্মতের ফেরাউন।" ১।

উমাইয়া ইবনে খালাফ এবং কুরাইশদের অন্যান্য সর্দাররাও এই একই করুণ পরিণতির সম্মুখীন হয়েছিল। এভাবে মক্কার কুফরের নেতাদের মধ্য থেকে সত্তরজন সর্দার পর্যুদস্ত হলো, তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় মৃত্যুর পেয়ালা পান করল এবং একইভাবে সত্তরজন বন্দি হলো। অবশিষ্ট নয়শ পঞ্চাশজন এই কথা বলতে বলতে পালিয়ে গেল যে, জুলুমের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ এবং অহংকার কেবল অপমান ও লজ্জা বয়ে আনে। এটি দুনিয়াতে তাদের শাস্তি এবং আখেরাতে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তাদের উদ্দেশ্যে বলা হবে: "এটাই তোমাদের শাস্তি, সুতরাং তোমরা এর স্বাদ গ্রহণ করো; আর নিশ্চিতভাবেই কাফেরদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব।" (সূরা আনফাল, আয়াত ১৪)।

এভাবে মুমিনদের একটি ক্ষুদ্র দল কাফেরদের এক বিশাল বাহিনীর ওপর এবং দুর্বল সংখ্যালঘু দল শক্তিশালী ও সুসজ্জিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ওপর বিজয়ী হলো।

সত্য ও মিথ্যার মধ্যে, কুফর ও ঈমানের মধ্যে প্রতিটি যুদ্ধে এমনটিই ঘটবে; কারণ আল্লাহ তাঁর সাহায্য, অভিভাবকত্ব এবং তাওফীক দিয়ে মুমিনদের সাথে আছেন। সুতরাং যার সাহায্যকারী এবং রক্ষক স্বয়ং আল্লাহ, তার ওপর কে বিজয়ী হতে পারে? যার সাথে আল্লাহ আছেন, সেই দলকে কে পরাজিত করতে পারে?

এর উত্তর হলো—ইনশাআল্লাহ কেউ নয়। "যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন।" (সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত ৭)।

--------------------------------------------

১ আবু আল-ফিদা ৩/২৮৭-২৯০; আবু দাউদ ও নাসায়ী তাদের সনদে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বুখারি ও মুসলিম আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-রাওদুল উনুফ ৫/১১৩-১১৫, ১৪২-১৪৫।
(খণ্ড: ১) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: -)
قوة العقيدة سبيل النصر في غزوة بدر الكبرى   (محمد عبد المقصود جاب الله)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: قوة العقيدة سبيل النصر في غزوة بدر الكبرى

المؤلف: محمد عبد المقصود جاب الله

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আকিদার শক্তি: মহা বদর যুদ্ধে বিজয়ের পথ   (মুহাম্মদ আব্দুল মাকসুদ জাব আল্লাহ্)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


বই: আকিদার শক্তি: মহা বদর যুদ্ধে বিজয়ের পথ

লেখক: মুহাম্মদ আব্দুল মাকসুদ জাব আল্লাহ্

প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ, এবং খণ্ড নম্বরটি সাময়িকীর সংখ্যা নির্দেশক]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ৫৩) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮২)
‌‌رابعا: أسباب النصر وعوامله

‌‌مدخل

…

قوة العقيدة سبيل النصر في غزوة بدر الكبرى

د. محمد عبد المقصود جاب الله المدرس في كلية الدعوة بالجامعة

رابعا: أسباب النصر وعوامله:

فتح المسلمون عيونهم على بشاشة الفوز تضحك لهم خلال الأرض والسماء، لأن هذا الظفر المتاح لهم ردّ عليهم الحياة والأمل والكرامة، وخلصهم من أغلال ثقال {وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنْتُمْ أَذِلَّةٌ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} (آل عمران آية 123) .

وكانت عدة من استشهد منهم أربعة عشر رجلا استأثرت بهم رحمة الله فذهبوا إلى عليين ثبت عن أنس بن مالك. أن حارثة بن سراقة قتل يوم بدر وكان في النظّارة أصابه سهم طائش فقتله فجاءت أمه فقالت: يا رسول الله أخبرني عن حارثة فإن كان في الجنة صبرت، وإلا فليرين الله ما أصنع - تعني النياحة - وكانت لم تحرم بعد … فقال لها الرسول عليه الصلاة والسلام: "ويحك أوهبلت إنها جنان ثمان وإن ابنك أصاب الفردوس الأعلى"1.

فإن كان هذا جزاء النظارة الذين اختطفتهم سهام طائشة، فكيف بمن خاض إلى المنايا الغمرات2 الصعاب.

ولقد كان نصر الله للمؤمنين في بدر بالقوة المعنوية وحدها، فالتدبير تدبير الله، والنصر بيد الله، والكثرة العددية ليست هي التي تكفل النصر، والعدة المادية ليست هي التي تقرر مصير المعركة.

--------------------------------------------

1 أبو الفداء 3/317،328-329 والبخاري.

2 غمرات الموت: شدائده.
চতুর্থত: বিজয়ের কারণ ও প্রভাবকসমূহ

ভূমিকা

...

মহা বদরের যুদ্ধে বিজয়ের পথ আকিদার শক্তি

ড. মুহাম্মদ আব্দুল মাকসুদ জাবুল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অনুষদের শিক্ষক

চতুর্থত: বিজয়ের কারণ ও প্রভাবকসমূহ:

মুসলমানগণ বিজয়ের সেই প্রসন্নতার দিকে চোখ মেললেন যা আসমান ও জমিনের দিগন্তে তাদের প্রতি হাসছিল; কেননা এই লব্ধ বিজয় তাদের নিকট জীবন, আশা ও মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছিল এবং তাদেরকে ভারী শৃঙ্খল থেকে মুক্তি দিয়েছিল। {আর অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের বদরে সাহায্য করেছেন যখন তোমরা হীনবল ছিলে। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।} (আল ইমরান, আয়াত: ১২৩)।

তাদের মধ্যে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দ জন। আল্লাহর রহমত তাদেরকে গ্রহণ করে নিয়েছিল, ফলে তারা উচ্চ মাকাম ইল্লিয়্যিনে গমন করেন। আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, হারিসাহ ইবনে সুরাকাহ বদরের দিন শহীদ হন, তিনি দর্শকদের দলে ছিলেন এবং একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট তীর এসে তাকে বিদ্ধ করে। তখন তার মা এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে হারিসাহ সম্পর্কে বলুন; সে যদি জান্নাতে থাকে তবে আমি ধৈর্য ধরব, অন্যথায় আমি কী করি আল্লাহ তা দেখবেন—অর্থাৎ তিনি বিলাপ করবেন—আর তখনো বিলাপ করা নিষিদ্ধ হয়নি... তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন: "তোমার জন্য পরিতাপ! তুমি কি পাগল হয়েছো? জান্নাত তো আটটি, আর তোমার ছেলে তো জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ স্তর লাভ করেছে।"১।

যদি সেই দর্শকদের প্রতিদান এই হয় যাদেরকে লক্ষ্যভ্রষ্ট তীর ছিনিয়ে নিয়েছিল, তবে তাদের অবস্থা কেমন হবে যারা মৃত্যুর কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল?২।

আর বদরে মুমিনদের প্রতি আল্লাহর সাহায্য ছিল নিছক আত্মিক শক্তির মাধ্যমে। কেননা পরিকল্পনা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে, বিজয় আল্লাহরই হাতে; সংখ্যার আধিক্য বিজয় নিশ্চিত করে না এবং বস্তুগত সরঞ্জাম যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণ করে না।

--------------------------------------------

১ আবু আল-ফিদা ৩/৩১৭, ৩২৮-৩২৯ এবং বুখারি।

২ মৃত্যুর সংকটসমূহ: এর কঠোরতা ও ভয়াবহতা।
(খণ্ড: ৫৩) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
ولقد وضع الله للمؤمنين الموادّ في دستور هذه القوة التي لا يستغني عنها جيش يحرص على الفوز، وأرشدهم إلى طريق النصر وقانونه.

قال الله سبحانه وتعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ وَلا تَكُونُوا كَالَّذِينَ خَرَجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ بَطَراً وَرِئَاءَ النَّاسِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطٌ} (الأنفال آية 45-47) .

هذه عوامل النصر الحقيقية: الثبات عند لقاء العدو، والاتصال بالله بالذكر الكثير، والطاعة لله والرسول، واطراح النزاع والشقاق، والصبر على تكاليف المعركة، وعدم البطر والبغي والعدوان.
আল্লাহ মুমিনদের জন্য এই শক্তির সংবিধানে এমন সব উপকরণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা বিজয়ী হতে আগ্রহী কোনো সেনাবাহিনীর জন্য অপরিহার্য। তিনি তাদেরকে বিজয়ের পথ ও এর নিয়মনীতির দিকে দিশা প্রদান করেছেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ, যখন তোমরা কোনো বাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হও, তখন অবিচল থাকো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো যাতে তোমরা সফল হতে পারো। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে। আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা অহংকারবশত এবং লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছে এবং তারা আল্লাহর পথে বাধা দেয়। আর তারা যা কিছু করে আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন।" (আল-আনফাল ৪৫-৪৭)।

এগুলিই হলো বিজয়ের প্রকৃত উপাদানসমূহ: শত্রুর সম্মুখীন হওয়ার সময় অবিচল থাকা, অধিক জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা, বিবাদ ও বিভেদ বর্জন করা, যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতির ওপর ধৈর্য ধারণ করা এবং দম্ভ, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন থেকে বিরত থাকা।
(খণ্ড: ৫৩) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
‌‌أولا: الثبات عند لقاء العدو:

إن الثبات هو المادة الأولى في قانون النصر، لأنه بدء الطريق إليه فأثبت الفريقين أغلبهما، وما يدري المؤمنين أن عدوهم يعاني أشد مما يعانون، وأنهم لو ثبتوا للحظة فسينهار عدوهم، وينخذل، وما الذي يزلزل أقدام المؤمنين، وهم واثقون من إحدى الحسنين: الشهادة أو النصر.

والثبات محله القلب ولا يتأتى إلا بقوة العقيدة ورساخة الإيمان، وهي لازمة للمؤمنين في ميدان القتال، وفي كل ميدان فتقابل فيه قوة إيمانية، وأية قوة أخرى من قوى الأرض، وفي كل مجال ينازل فيه خصما، وهو الثبات على العقيدة مهما فتن، وعلى الطريقة مهما لاقى، وعلى الكيد مهما يدبر الكائدون.

وما وقفه الشعب الأفغاني المسلم أمام قوى الكفر والطغيان، وجحافل الشيوعية الباغية التي احتلت أرضه ودنست ثراه ولا تريد أن تعترف بحقه في تصريف أموره، وتقرير ما يراه مما يتناسب مع تاريخه وعراقة إيمانه. إلا ثبات في المعركة.

لقد واجه العدوان في صلابة واستبسال، وصبر وإيمان لا يعرف الخور ولا الهوان، فنراه في القرى والمدن وفوق قمم الجبال يقابل الطائرات المغيرة بوحشية وضراوة أعزل من السلاح. ولكنه بإيمانه بحقه ويقينه بالله وقف في وجههم وكأنه يملك الصواريخ المضادة لها وسينتصر الشعب الأفغاني بثباته وبيقينه بوعد الله الذي ينصر المؤمنين الواثقين بنصره، والعاملين بكتابه.
প্রথমত: শত্রুর মোকাবিলায় অবিচলতা:

বিজয়ের আইনের প্রথম উপাদান হলো অবিচলতা, কারণ এটি বিজয়ের পথের সূচনা। তাই দুই দলের মধ্যে যারা অধিকতর অবিচল থাকে, তারাই মূলত জয়ী হয়। মুমিনরা জানে না যে, তাদের শত্রুরা তাদের চেয়েও বেশি কষ্ট ভোগ করছে এবং তারা যদি মুহূর্তের জন্য অবিচল থাকে, তবে তাদের শত্রু ভেঙে পড়বে এবং পরাজিত হবে। আর মুমিনদের পা কেনই বা টলবে, যখন তারা দু’টি কল্যাণের যেকোনো একটির ব্যাপারে নিশ্চিত: শাহাদাত অথবা বিজয়।

অবিচলতার স্থান হলো অন্তর। আর এটি আকিদাহর শক্তি ও ঈমানের দৃঢ়তা ছাড়া অর্জিত হয় না। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই মুমিনদের জন্য অপরিহার্য, যেখানে ঈমানি শক্তি পৃথিবীর অন্য যেকোনো শক্তির মোকাবিলা করে এবং প্রতিটি ময়দানে যেখানে প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই হয়। এটি হলো আকিদাহর ওপর অবিচল থাকা, ফিতনা যতই আসুক না কেন; এবং দ্বীনের পথে অবিচল থাকা, সামনে যা-ই আসুক না কেন; এবং ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের মুখেও অবিচল থাকা।

কুফরি ও সীমালঙ্ঘনকারী শক্তির সামনে এবং তাদের ভূখণ্ড দখলকারী ও পবিত্র মাটিকে কলুষিতকারী বিদ্রোহী কমিউনিস্ট বাহিনীর মোকাবিলায় মুসলিম আফগান জনগণের যে অবস্থান—যারা তাদের নিজেদের বিষয়াদি পরিচালনা এবং তাদের ইতিহাস ও সুদৃঢ় ঈমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারকে স্বীকার করতে চায় না—তা যুদ্ধের ময়দানে অবিচলতা ছাড়া আর কিছু নয়।

তারা কঠোরতা ও বীরত্বের সাথে এবং এমন ধৈর্য ও ঈমানের সাথে আগ্রাসনের মোকাবিলা করেছে, যেখানে কোনো দুর্বলতা বা হীনমন্যতা নেই। তাই আমরা তাদের গ্রামে, শহরে এবং পাহাড়ের চূড়ায় দেখি যে, তারা কোনো অস্ত্র ছাড়াই বন্য ও হিংস্রভাবে আক্রমণকারী বিমানগুলোর মোকাবিলা করছে। কিন্তু নিজের অধিকারের ওপর ঈমান এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে তারা তাদের সামনে এমনভাবে দাঁড়িয়েছে যেন তাদের কাছে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। আফগান জনগণ তাদের অবিচলতা এবং আল্লাহর ওয়াদার ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমে অবশ্যই বিজয়ী হবে; কারণ আল্লাহ সেই মুমিনদের সাহায্য করেন যারা তাঁর সাহায্যের ওপর আস্থাশীল এবং তাঁর কিতাব অনুযায়ী আমলকারী।
(খণ্ড: ৫৩) কুওয়াতুল আকিদাহ সাবীলুন নাসরি ফী গাযওয়াতি বদরিল কুবরা (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
وهل ما يفعله الشعب الفلسطيني المجاهد، والشعب الإريتري المكافح والشعب الصومالي الصامد من ثبات في المعركة ووقوف صلب في وجه العدوان ومجابهة لقوى البغي والطغيان من الصهيونية والصليبية والشيوعية إلا تمسكا بهذا المبدأ الذي وضعه الله سبحانه وتعالى من فوق سبع سماوات وستنتصر الشعوب المسلمة المكافحة بعون الله وسيخذل أعداؤهم ويرجعون مدحورين أذيال الخزي والعار، ويبوءون بالبوار والخسران.

আর জিহাদরত ফিলিস্তিনি জাতি, সংগ্রামী ইরিত্রীয় জাতি এবং অবিচল সোমালি জাতি যুদ্ধের ময়দানে যে দৃঢ়তা প্রদর্শন করছে, আগ্রাসনের মুখে যে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করছে এবং জায়নবাদ, ক্রুসেডবাদ ও সাম্যবাদের মতো অন্যায় ও স্বৈরাচারী শক্তির মোকাবিলা করছে, তা কি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সাত আসমানের ওপর থেকে যে মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন তা আঁকড়ে ধরা ছাড়া আর কিছু? আল্লাহর সাহায্যে এই সংগ্রামী মুসলিম জাতিসমূহ অচিরেই বিজয়ী হবে এবং তাদের শত্রুরা লাঞ্ছিত হবে ও চরম অপমান ও লজ্জার গ্লানি নিয়ে বিতাড়িত অবস্থায় ফিরে যাবে এবং তারা ধ্বংস ও ক্ষতির শিকার হবে।