(খণ্ড: ১) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
صيغة فعلان واستعمالاتها في اللغة العربية   (مصطفى أحمد النماس)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: صيغة فعلان واستعمالاتها في اللغة العربية

المؤلف: مصطفى أحمد النماس

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আরবি ভাষায় ফালান রূপ এবং এর ব্যবহারসমূহ   (মুস্তফা আহমদ আন-নাম্মাস)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আরবি ভাষায় ফালান রূপ এবং এর ব্যবহারসমূহ

লেখক: মুস্তফা আহমদ আন-নাম্মাস

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড সংখ্যাটি সাময়িকীর সংখ্যা নির্দেশ করে]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০৬)
‌‌‌‌مدخل

مدخل

…

صيغة فعلان واستعمالاتها في اللغة العربية

لفضيلة الدكتور مصطفى أحمد النماس الأستاذ المساعد بكلية الدعوة وأصول الدين

المتتبع لصيغة (فعلان) بفتح الأول وسكون الثاني، أو بضم الأول أو كسره في اللغة العربية يجد أنها من الصيغ العملية التي يدور استعمالها في كثير من أبواب النحو والصرف وقد أثرت البحث في هذه الصيغة كي أجمع حبات العقد المنفرط هنا وهناك وما يستتبع الأحكام الخاصة بما ورد على هذا الوزن تبعا لنوعية استعماله عند العرب فأقول وبالله التوفيق.

صيغة (فَعْلان) 1 الملحوظ فيها أنها ختمت بألف ونون زائدتين، وهذه الزيادة مطردة في كل صفة مؤثنها على وزن (فَعْلَى) لأن الصفات تشبه الأفعال والفعل أقعد في باب الزيادة وإذا وجدنا بعض الأعلام وأسماء الأجناس على صيغة (فَعْلان) فهي بالحمل على الصفات فابن يعيش يقول في شرح المفصل2 (فالأول وقوعها (أي النون) آخرا بعد ألف زائدة نحو سكران وعطشان ومروان وقحطان وأصل هذه النون أن تلحق الصفات مما مؤنثه (فعلى) لأن الصفات بالزيادة أولى لشبهها بالأفعال والأفعال أقعد في باب الزيادة من الأسماء لتصرفها، والأعلام من نحو: مروان وقحطان محمولة عليها في ذلك وقد كثرت الزيادة آخرا على هذا

1 وزيادة الألف والنون آخر الاسم ودلالتها على النسب تعد من الظواهر التي تشارك فيها بعض اللغات الشرقية والغربية.

--------------------------------------------

2 شرح المفصل ج 9 ص 154، 155.
‌‌‌ভূমিকা

ভূমিকা

…

আরবি ভাষায় 'ফালান' রূপকাঠামো এবং এর ব্যবহারবিধি

মাননীয় ডক্টর মোস্তফা আহমদ আন-নাম্মাস, সহযোগী অধ্যাপক, দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদ

আরবি ভাষায় যারা প্রথম বর্ণে ফাতহা ও দ্বিতীয় বর্ণে সুকুনবিশিষ্ট, অথবা প্রথম বর্ণে দাম্মা বা কাসরাবিশিষ্ট 'ফালান' রূপকাঠামোটি পর্যবেক্ষণ করেন, তারা দেখতে পাবেন যে এটি এমন এক প্রায়োগিক রূপকাঠামো যার ব্যবহার নাহু ও সরফের অনেক অধ্যায়ে পরিব্যাপ্ত। আমি এই রূপকাঠামোটি নিয়ে গবেষণার বিষয় পছন্দ করেছি যাতে এখানে-সেখানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তদানাগুলো একত্রিত করতে পারি এবং আরবদের মাঝে এর ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী এই ওজনের অন্তর্ভুক্ত শব্দাবলির বিশেষ বিধানসমূহ উপস্থাপন করতে পারি। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করে বলছি।

'ফালান' ১ রূপকাঠামোটির ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো যে এটি শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নুন দ্বারা সমাপ্ত হয়েছে। এই বৃদ্ধি প্রতিটি এমন গুণের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘটে যার স্ত্রীলিঙ্গ 'ফা'লা' ওজনে আসে; কারণ গুণসমূহ ক্রিয়ার সদৃশ, আর ক্রিয়া অতিরিক্ত বর্ণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ্যের তুলনায় অধিকতর সংগতিপূর্ণ। যদি আমরা কিছু নামবাচক বিশেষ্য এবং শ্রেণিবাচক বিশেষ্যকে 'ফালান' রূপকাঠামোতে পাই, তবে তা গুণের ওপর ভিত্তি করেই ধরা হয়। ইবনে ইয়ায়িশ 'শারহুল মুফাসসাল' ২-এ বলেন: (প্রথমত, শেষে অতিরিক্ত আলিফের পরে নুনের অবস্থান; যেমন সাকরান, আতশান, মারওয়ান এবং কাহতান। এই নুনের মূল উৎস হলো সেইসব গুণের সাথে যুক্ত হওয়া যার স্ত্রীলিঙ্গ 'ফা'লা' ওজনে আসে; কারণ গুণসমূহ ক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য। আর ক্রিয়াসমূহ তাদের রূপান্তরের সক্ষমতার কারণে বিশেষ্যের তুলনায় অতিরিক্ত বর্ণ গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকতর মূলগত। মারওয়ান ও কাহতানের মতো নামবাচক বিশেষ্যগুলো এ ক্ষেত্রে গুণের ওপরই কিয়াস করা হয়েছে এবং এভাবে শেষে অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বহুল প্রচলিত হয়েছে।)

১ নামের শেষে আলিফ ও নুন বৃদ্ধি এবং নিসবত বা সম্বন্ধের ক্ষেত্রে এর নির্দেশক হওয়া এমন এক বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য যা কিছু প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাষার মধ্যেও বিদ্যমান রয়েছে।

--------------------------------------------

২ শারহুল মুফাসসাল, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৫৪, ১৫৫।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০৭)
الحد ولا يحمل شيء منه على الأصل إلا بدليل) 1.

--------------------------------------------

1 ومن الملحوظ أننا نشاهد استعمال هذا الوزن كثيرا في اللهجة الدارجة فقالوا فلان بخلان، بردان، بطران، بهتان، جربان، جحدان، حلمان، خدران، زعلان، زهقان، زوران، سرحان، طرشان، شرقان، صفقان، عميان، فجعان، كحيان، عمشان، مرضان، شقيان.. إلخ.
সীমানা এবং এর কোনো কিছুই দলীল ব্যতীত মূলের ওপর প্রয়োগ করা যাবে না) ১।

--------------------------------------------

১ এটি লক্ষ্যণীয় যে আমরা প্রচলিত উপভাষায় এই ওজনের প্রচুর ব্যবহার দেখতে পাই; যেমন তারা বলে অমুক: কৃপণ, শীতাতুর, দাম্ভিক, অপবাদ দানকারী, চর্মরোগাক্রান্ত, অস্বীকারকারী, স্বপ্নদ্রষ্টা, অবশ, রাগান্বিত, বিরক্ত, মিথ্যাবাদী, অন্যমনস্ক, বধির, কণ্ঠনালীতে আটকে যাওয়া, বিচলিত, অন্ধ, অতিভোজী, জরাজীর্ণ, ঝাপসা দৃষ্টিসম্পন্ন, অসুস্থ, পরিশ্রান্ত... ইত্যাদি।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০৭)
‌‌صيغة فعلان ومعانيها

‌‌فعلان المصدر

…

صيغة فعلان ومعانيها:

وردت صيغة (فَعْلان) متعددة المعاني والدلالة وهاك أنواعها:

1- فعلان المصدر:

قال في اللسان قال أبو الهيثم لم يجئ من المصادر على (فعلان) (بفتح فسكون) إلا (ليَّان) وقال ابن الحاجب2: وأما فعلان فنادر نحو لوى ليَّاناً3 وقد ذكره أبو زيد بكسر اللام، وجاء شنآن وقرئ في التنزيل بهما. وجاء في القاموس4 الزيدان بمعنى الزيادة فتكون فعلان جاءت مصدرا نادرا في ثلاثة معان …

قال ذو الرمة:

تُطيلَن ليًّاني وأنتِ مليئة … وأُحْسنُ يا ذات الوشاحِ التقاضيا

وقال زيادة العنبري5:

قد كنت داينت بها حسَّانا … مخافة الإفلاس والليَّانا

وأصل ليَّان لَوْيان اجتمعت الواو والياء وسبقت إحداهما بالسكون فقلبت الواو ياء الخ فهو قليل في المصادر وكثير في الصفات.

--------------------------------------------

2انظر الشافية ج 1ص 159، وشرح المفصل ج 6 ص 45.

3 تقول: لواه دينه، ولواه بدينه إذا مطله.

4 انظر القاموس مادة (الزيد) .

5 البيت لزيادة العنبري ونسبوه في كتاب سيبويه ج 1 ص 97 إلى رؤبة بن العجاج.
'ফালান' ছাঁচ এবং এর অর্থসমূহ

মাসদার হিসেবে 'ফালান'

...

'ফালান' ছাঁচ এবং এর অর্থসমূহ:

'ফালান' ছাঁচটি বিভিন্ন অর্থ ও তাৎপর্যে বর্ণিত হয়েছে, এর প্রকারগুলো নিম্নরূপ:

১- মাসদার হিসেবে 'ফালান':

লিসানুল আরব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, আবুল হাইসাম বলেছেন: (প্রথম বর্ণে ফাতহা ও দ্বিতীয় বর্ণে সুকুনসহ) 'ফালান' ওজনে 'লাইয়ান' ব্যতীত অন্য কোনো মাসদার আসেনি। ইবনুল হাজিব ২ বলেন: আর 'ফালান' ওজনটি বিরল, যেমন 'লাওয়া লাইয়ানান' ৩। আবু যায়েদ এটি লাম বর্ণে কাসরা (লিইয়ান) যোগে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও 'শানআন' শব্দটি এসেছে এবং পবিত্র কুরআনে উভয়ভাবেই (হরকতসহ) পঠিত হয়েছে। আল-কামুস ৪ গ্রন্থে এসেছে: 'যায়দান' শব্দটি 'যিয়াদাহ' (বৃদ্ধি) অর্থে ব্যবহৃত হয়; সুতরাং 'ফালান' ওজনটি তিনটি অর্থে বিরল মাসদার হিসেবে এসেছে ...

যুর রুম্মাহ বলেছেন:

তুমি আমার পাওনা পরিশোধে টালবাহানা দীর্ঘ করছ অথচ তুমি সামর্থ্যবান ... হে অলঙ্কারধারিণী, আমি সুন্দরভাবে পাওনা তলব করছি।

যিয়াদাহ আল-আনবারী ৫ বলেছেন:

আমি হাসসানের সাথে লেনদেন করেছিলাম ... দেউলিয়া হওয়া এবং টালবাহানা করার ভয়ে।

'লাইয়ান' এর মূল রূপ হলো 'লাওয়ান'; এখানে ওয়াও এবং ইয়া একত্রে এসেছে এবং তাদের একটি সাকিন হওয়ায় ওয়াও-কে ইয়া দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে ইত্যাদি। সুতরাং এটি মাসদারের ক্ষেত্রে স্বল্প এবং সিফাতের ক্ষেত্রে অধিক।

--------------------------------------------

২. দেখুন: আশ-শাফিয়া, ১ম খণ্ড, ১৫৯ পৃষ্ঠা; এবং শারহুল মুফাসসাল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা।

৩. আপনি বলবেন: সে তার পাওনা আদায়ে টালবাহানা করেছে, যখন সে তা আদায়ে বিলম্ব করে।

৪. দেখুন: আল-কামুস, 'যাইদ' মূলশব্দ।

৫. কবিতাটি যিয়াদাহ আল-আনবারীর, তবে সিবওয়াইহ-এর কিতাবে (১ম খণ্ড, ৯৭ পৃষ্ঠা) একে রু'বাহ ইবনুল আজজাজের দিকে নিসবত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
2-‌‌ فَعْلان العلم 1

وردت صيغة فَعْلان علما للإنسان وغيره نحو: بدران، سعدان، ومروان، ورغدان (اسم قصر بالأردن) وشعبان علم على الشهر المعروف كما وردت اسماً للجنس مثل سعدان نبت من أفضل المراعي كما يقول القاموس ومنهم قولهم في المثل: (مرعى ولا كالسَّعدان) وقد اتفق العلم واسم الجنس.

--------------------------------------------

1 كثير من الأوصاف قد استعمله أسلافنا أعلاما ومنه ما يستعمل حتى الآن مثل حسان بن ثابت شاعر النبي وحمدان (بنو حمدان) ومنهم سيف الدولة الحمداني وحيان ومنهم أبو حيان التوحيدي البغدادي، وأبو حيان الأندلسي النحوي وسحبان الخطيب المشهور يضرب المثل بفصاحته، شعبان وشرهان، وعدنان عفان، غسان غيلان (اسم الشاعر ذو الرمة) قحطان وكهلان وهمدان (قبائل عربية) وردان (مولى عمرو بن العاص وحامل لوائه) يقظان (حي بن يقظان) ومن الكنايات عن مجهول النسب (هيان بن بيان) .

* كذلك صفوان وصفا لمن ينفق ماله رياء في قوله تعالى {كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌ} .

فصفوان في الأصل حجر وقد يستعمل علما مثل خالد بن صفوان.
২-‌‌ সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য হিসেবে 'ফালান' রূপের ব্যবহার ১

মানুষ এবং অন্যান্য বস্তুর নাম হিসেবে 'ফালান' রূপটির ব্যবহার পাওয়া যায়। যেমন: বদরান, সা'দান, মারওয়ান এবং রাগদান (জর্দানের একটি প্রাসাদের নাম)। শাবান একটি সুপরিচিত মাসের নাম। এটি জাতিবাচক বিশেষ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন 'সা'দান' একটি উদ্ভিদ যা সর্বোত্তম চারণভূমিগুলোর অন্যতম, যেমনটি 'আল-কামুস' অভিধানে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অর্থেই একটি প্রবাদে বলা হয়: "চারণভূমি বটে, তবে তা সা'দানের মতো নয়।" এখানে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য এবং জাতিবাচক বিশেষ্য একই রূপ ধারণ করেছে।

--------------------------------------------

১ আমাদের পূর্বসূরিরা অনেক গুণবাচক শব্দকে নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে কিছু নাম এখনও ব্যবহৃত হয়। যেমন: নবীজির কবি হাসান ইবনে সাবিত; হামদান (বনু হামদান), যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন সাইফুদ দাওলা আল-হামদানি; হাইয়ান, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হাইয়ান আত-তাওহিদি আল-বাগদাদি এবং বৈয়াকরণ আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি; বিখ্যাত বাগ্মী সাহবান, যাঁর বাগ্মিতা প্রবাদতুল্য; শাবান এবং শারহান; আদনান, আফফান, গাসসান, গাইলান (কবি যুর রুম্মার নাম); কাহতান, কাহলান এবং হামদান (আরব গোত্রসমূহ); ওয়ারদান (আমর ইবনুল আসের মুক্তদাস এবং তাঁর পতাকাবাহী); ইয়াকযান (হায়্য ইবনে ইয়াকযান)। আর বংশপরিচয়হীন অজ্ঞাত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয় 'হাইয়ান বিন বায়্যান'।

* একইভাবে 'সাফওয়ান' শব্দটি ঐ ব্যক্তির বর্ণনায় এসেছে যে লোকদেখানোর জন্য সম্পদ ব্যয় করে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "একটি মসৃণ পাথরের মতো যার ওপর কিছু মাটি ছিল।"

মূলগতভাবে 'সাফওয়ান' হলো পাথর, তবে এটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বা নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন: খালিদ বিন সাফওয়ান।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
3-‌‌ فعلان الصفة:

تستعمل صيغة فعلان صفة مشبهة من الفعل اللازم المكسور العين قياسا بشرط أن يدل على الامتلاء كسكران وريان2 والشبع كشبعان والخلو مثل غرثان (للجائع) وصديان وحرارة البطن كغضبان وثكلان وحران قال عروة بن حزام:

لَئن كان برد الماء حَرّان صاديا … إلَّى حبيبا إنَّها لحبيبُ

والمؤنث لفَعْلان يكون صفة ممتنعة من التاء بأن يكون المؤنث على (فَعْلى) مثل جوعان، وسكران وهذا هو المطرد الغالب وقد يخرج عن هذا الأصل وعده علماء اللغة شاذا كقولهم نعس3 بالفتح فهو نعسان ومثله جوعان من جاع وقد يكون صفة لا تمتنع من التاء مثل سفيان للطويل ومؤنثه سفيانة وقد حصر ابن مالك الألفاظ التي مؤنثها بالتاء ومذكرها على صيغة فَعْلان وهي كما نظمها في كتابه الفرائد في قوله:

--------------------------------------------

2 قال سيبويه ج 2 ص 221: (وقالوا قدح نصفان وجمجمة نصفى، وقدح قربان وجمجمة قربى إذا قارب الامتلاء جعلوا ذلك بمنزلة الملآن، لأن ذلك معناه معنى الامتلاء لأن النصف قد امتلاء والقربان ممتلئ أيضا إلى حيث بلغ ولم نسمعهم قالوا: قرب ولا نصف اكتفوا بقارب وناصف ولكنهم جاءوا به كأنهم يقولون قرب ونصف كما قالوا مذاكير ولم يقولوا: مذكير ولا مذكار) انتهى كلام سيبويه.

3 انظر القاموس مادة (نعس) .
৩-‌‌ সিফাত হিসেবে ফালান (Fa'lan) রূপ:

ফালান (Fa'lan) রূপটি সাধারণত ঐ সকল লাজিম (অকর্মক) ক্রিয়া থেকে সিফাতে মুশাব্বাহ হিসেবে নিয়মানুসারে ব্যবহৃত হয় যেগুলোর আইন কালিমা কাসরাযুক্ত। এর জন্য শর্ত হলো এটি পূর্ণতা বুঝাবে যেমন— সাকরান (মাতাল) ও রাইয়ান (পরিতৃপ্ত), অথবা তৃপ্তি বুঝাবে যেমন— শাবআন (পেটভরা), অথবা শূন্যতা বুঝাবে যেমন— গারসান (ক্ষুধার্ত), সদিয়ান (পিপাসার্ত), এবং পেটের অভ্যন্তরীণ উত্তাপ বুঝাবে যেমন— গদবান (রাগান্বিত), সাকলান (সন্তানহারা) ও হাররান (তৃষ্ণার্ত)। উরওয়াহ ইবন হিজাম বলেছেন:

যদি শীতল পানির পরশ অত্যন্ত উত্তপ্ত ও পিপাসার্ত ব্যক্তির নিকট... প্রিয়তমার সান্নিধ্যের মতো হয়, তবে নিশ্চয়ই সে প্রিয়তমা।

ফালান (Fa'lan) ওজনের স্ত্রীলিঙ্গ বিশেষণটি 'তা' (ﺓ) গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে, অর্থাৎ এর স্ত্রীলিঙ্গ 'ফাওলা' (Fa’la) ওজনে হয়। যেমন: জাওয়ান (ক্ষুধার্ত) এবং সাকরান (মাতাল)। এটিই হলো নিয়মসিদ্ধ ও অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য পদ্ধতি। তবে কখনো কখনো এটি মূল নিয়ম থেকে বের হয়ে যায় এবং ভাষাবিদগণ একে শায বা বিরল হিসেবে গণ্য করেন। যেমন তাদের কথা: ফাতহা যোগে 'নাআসা', ফলে এর বিশেষণ হয় 'না'সান' (তন্দ্রাচ্ছন্ন)। এর অনুরূপ হলো 'জায়া' (ক্ষুধার্ত হওয়া) থেকে 'জাওয়ান'। আবার এটি এমন বিশেষণও হতে পারে যা 'তা' গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে না। যেমন দীর্ঘকায় ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'সুফইয়ান' এবং এর স্ত্রীলিঙ্গ 'সুফইয়ানাহ'। ইবন মালিক ঐ শব্দগুলোকে সীমাবদ্ধ করেছেন যেগুলোর স্ত্রীলিঙ্গ 'তা' যোগে এবং পুংলিঙ্গ 'ফালান' ওজনে হয়। তিনি তার 'আল-ফারাইদ' গ্রন্থে এগুলোকে কাব্য আকারে এভাবে বর্ণনা করেছেন:

--------------------------------------------

২. সিবওয়াইহি (২য় খণ্ড, ২২১ পৃষ্ঠা) বলেন: (তারা বলে 'অর্ধেক পূর্ণ পাত্র' এবং 'অর্ধেক পূর্ণ মস্তক', এবং 'পূর্ণপ্রায় পাত্র' ও 'পূর্ণপ্রায় মস্তক'; যখন তা পূর্ণ হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছায়। তারা একে পূর্ণ হওয়ার সমপর্যায়ে গণ্য করে। কারণ এর অর্থ পূর্ণতারই অর্থ বহন করে। কেননা অর্ধেকটাও পূর্ণ হয়েছে এবং 'কুরবান' বা পূর্ণপ্রায় বস্তুও যতটুকু পৌঁছেছে ততটুকু পূর্ণ। আমরা তাদের 'কুরাব' বা 'নিসাফ' বলতে শুনিনি, তারা 'কারিব' ও 'নাসিফ' শব্দদ্বয়কেই যথেষ্ট মনে করেছে। তবে তারা এগুলোকে এমনভাবে ব্যবহার করেছে যেন তারা 'কুরব' ও 'নিসফ' বলছে, যেমন তারা 'মাযাকীর' বলেছে অথচ তারা 'মাযকীর' বা 'মিযকার' বলেনি)। সিবওয়াইহির বক্তব্য সমাপ্ত।

৩. আল-কামুস দেখুন, 'না-আ-সা' অধ্যায়।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০৯)
- كل ما جاء على (فَعْلان) فمؤنثه على (فَعْلى) غير اثني عشر اسما فإنها جاءت على (فعلانة) ثم نظمها فقال:-

أجز فَعْلَى لفَعْلانا

…

إذا استثنيت حَبْلانا

ودَخْنانا وسَخْنانا

…

وسَفْيانا وضَحْيانا

وصَوْجانا وعَلاّنا

…

وقَشْوانا ومَصَّانا

ومَوْتانا ونَدْمانا

…

وأتبعهن نصرانا

انظر المزهر للسيوطي ج 2 ص 113.

1- (الحبلان) الرجل الكبير البطن قال في القاموس حبل من الشراب والماء فهو حبلان وهي حبلى ومن الغضب وهو حبلان وهي حبلانة.

2- (الدخان) يوم دخنان كثير الدخان.

3- (يوم سخنان) كثير السخونة.

4- (سفيان) الرجل الطويل الممشوق الضامر انظر القاموس.

5- (ضحيان) يوم ضحيان ضاحي قال في القاموس رجل ضحيان يأكل في الضحى، يوم ضحيان: لاغيم فيه.

6- (الصوجان) من الإبل والدواب الشديد الصلب.

قال في القاموس: الصوجان كل يابس وصلب من الداوب والناس ونخلة صوجانة يابسة كزة السعف، وأي صوجان؟ هو أي الناس.

7- (غلان) الرجل الكثير النسيان وقال في القاموس:

الغَلَل محركه وكأمير العطش أو شدة حرارة الجوف وقد غُل بالضم فهو غليل ومغلول ومغتل ومعبر غل (وغلان) (وغَل يَغَل) بفتحهما الحقد كالغلِ بالكسر، وقد غَلَّ صدري يَغِلّ (من باب ضرب يضرب) من حرارة الحب والحزن، والعلَاّن (بالعين) الصغير الحقير كما في المرجع ج 1 ص 96.

8- (القشوان) القليل اللحم وقي القاموس: القشوان الدقيق الضعيف وهي بهاء.

9- (المصان) اللئيم.

10- (الموتان) الضعيف الفؤاد قال في القاموس: رجل موتان الفؤاد بليد.

11- (ندمان) النديم: ندم فهو ندمان أي نادم، ونادمني فلان على الشراب فهو نديمي وندماني وجمع النديم ندام وجمع الندمان ندامى والمرأة ندمانه والنسوة ندامى أيضا.
'ফা'লান' ওজনে আগত প্রতিটি শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ 'ফা'লা' ওজনে হয়, কেবল বারোটি বিশেষ্য ব্যতীত; কেননা সেগুলো 'ফা'লানাহ্' ওজনে এসেছে। অতঃপর তিনি তা পদ্যাকারে বর্ণনা করে বলেছেন:-

ফা'লান ওজনের জন্য ফা'লা ওজনকে বৈধ করো

…

যদি তুমি হাবলানকে ব্যতিক্রম করো

এবং দাখনান ও সাখনানকে

…

এবং সাফইয়ান ও দাহইয়ানকে

এবং সাওজান ও আল্লানকে

…

এবং কাশওয়ান ও মাসসানকে

এবং মাওতান ও নাদমানকে

…

আর সেগুলোর অনুগামী করো নাসরানকে

সুয়ূতী রচিত আল-মুযহির, ২য় খণ্ড, ১১৩ পৃষ্ঠা দেখুন।

১- (হাবলান) বড় পেটবিশিষ্ট ব্যক্তি। আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: পানীয় বা পানি দ্বারা পূর্ণ হওয়ার কারণে সে 'হাবলান' এবং স্ত্রীলিঙ্গে তা 'হাবলা'। আবার ক্রোধের কারণে সে 'হাবলান' হলে স্ত্রীলিঙ্গ হবে 'হাবলানাহ্'।

২- (দাখনান) 'ইয়াওমু দাখনান' অর্থ অধিক ধোঁয়াচ্ছন্ন দিন।

৩- (ইয়াওমু সাখনান) অধিক উত্তপ্ত বা গরম দিন।

৪- (সাফইয়ান) দীর্ঘদেহী, সুঠাম ও কৃশকায় ব্যক্তি। আল-কামুস দেখুন।

৫- (দাহইয়ান) 'ইয়াওমু দাহইয়ান' অর্থ রৌদ্রোজ্জ্বল দিন। আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'রাজুলুন দাহইয়ান' অর্থ এমন ব্যক্তি যে পূর্বাহ্নে আহার করে। 'ইয়াওমু দাহইয়ান' অর্থ এমন দিন যাতে কোনো মেঘ নেই।

৬- (সাওজান) উট ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে যা অত্যন্ত শক্ত ও মজবুত।

আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'আস-সাওজান' অর্থ চতুষ্পদ জন্তু ও মানুষের মধ্যে যা কিছু শুষ্ক ও কঠিন। আর 'নাখলাতুুন সাওজানাহ্' অর্থ শুষ্ক খেজুর গাছ যার ডালপালা শক্ত হয়ে গেছে। আর 'আইয়ু সাওজান?' অর্থ সে কোন ধরনের মানুষ?

৭- (গাল্লান) অধিক বিস্মৃতিপরায়ণ ব্যক্তি। আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে:

'আল-গালাল' (লাম বর্ণে যবরসহ) এবং 'আমীর' ওজনের শব্দের মতো অর্থ তৃষ্ণা বা পেটের অভ্যন্তরের তীব্র দহন। শব্দটি পেশযোগে 'গুল্লা' হলে সে 'গালীল', 'মাগলূল' ও 'মাগতাল' এবং অর্থ হবে 'মুতাব্বার'। 'গাল্লান' এবং 'গাল্লা ইয়াগাল্লু' (উভয় বর্ণে যবরসহ) অর্থ বিদ্বেষ, যেমন জেরযোগে 'গিল্লুন' হয়ে থাকে। আমার অন্তর 'গাল্লা ইয়াগিল্লু' (দরাবা-ইয়াদরিবু অনুচ্ছেদ থেকে) অর্থ ভালোবাসা ও দুঃখের উত্তাপে দগ্ধ হওয়া। আর 'আল্লান' (আইন বর্ণ যোগে) অর্থ তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র, যেমনটি সংশ্লিষ্ট গ্রন্থের ১ম খণ্ড, ৯৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

৮- (কাশওয়ান) স্বল্প মাংসবিশিষ্ট ব্যক্তি। আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'কাশওয়ান' অর্থ সূক্ষ্ম ও দুর্বল, আর এর স্ত্রীলিঙ্গ 'হা' (গোল ত) সহযোগে গঠিত হয়।

৯- (মাসসান) নীচ বা কৃপণ ব্যক্তি।

১০- (মাওতান) দুর্বল চিত্তের অধিকারী। আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'রাজুলুন মাওতানুল ফুয়াদ' অর্থ নির্বোধ ব্যক্তি।

১১- (নাদমান) সঙ্গী বা সহচর: সে লজ্জিত হলো বিধায় সে 'নাদমান' অর্থাৎ লজ্জিত। অমুক ব্যক্তি আমার সাথে পানীয় পানে সঙ্গ দিয়েছে, তাই সে আমার 'নাদীম' ও 'নাদমান'। 'নাদীম'-এর বহুবচন হলো 'নিদাম' এবং 'নাদমান'-এর বহুবচন হলো 'নাদামা'। এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'নাদমানাহ্' এবং নারীদের ক্ষেত্রেও বহুবচন 'নাদামা' ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১০)
12- (نصران) نصراني والجمع نصارى والنصرانة واحدة النصارى قد استدرك عليه لفظان وهما خَمْصان لغة في خُمْصان بضم الخاء وأليان في كبش أليان أي كبير الالية فذيل الشارح المرادي أبياته بقول:

وزد فيهن خمصانا … على لغة وأليانا

ومما يجدر ملاحظته أن النحاة يمثلون (لفَعْلان) الذي مؤنثه على (فعلى) بعطشان وغضبان وسكران مع أن كتب اللغة كالقاموس تذكر للثلاثة مؤنثا مختوما بالتاء ومؤنثا آخر ليس مختوما بها وَمَرَدُّ ذلك أن كتب اللغة تذكر ذلك تبعا للغة بني أسد التي تلحق التاء في مؤنث فَعْلان اطراد مثل سكران ونظائرها قال ابن جني في المحتسب1:

(يقال رجل سكران وامرأة سكرى كغضبان وغضبى، وقد قال بعضهم (يعنى لغة بني أسد) سكرانة كما قال بعضهم غضبانة (والأول أقوى وأفصح) انتهى.

ونظرا لكثرة ما ورد في ذلك أخذ المجمع اللغوي القاهري بلغة بني أسد في جواز إلحاق تاء التأنيث بكلمة سكرانة ونظائرها وفيما يلي نص القرار كما قدمته اللجنة المختصة2 ووافق عليه المجمع وأخذ به نهائيا (أن تأنيث (فعلان) بالتاء لغة كما في بني أسد (كما في الصحاح) – أو لغة بني أسد (كما في المخصص) 3 وقياس هذه اللغة صرفها في النكره (كما في المفصل*)) .

والناطق على قياس لغة من لغات العرب مصيب غير مخطئ وإن كان غير ما جاء خيرا (كما في قول ابن حني) لذا يجوز أن يقال: عطشانة وغضبانة وأشباهها ومن ثم يصرف (فعلان) وصفا ويجمع (فعلان) ومؤنثه (فعلانة) جمع تصحيح ولعلك تدرك الآن أن الجمهور من النحاة يأخذ بما أطرد عن جمهور العرب وهو أن فَعْلان مؤنثه الغالب المطرد على (فَعْلى) وورد من غير الغالب الأسماء التي ذكرتها تبعا لابن مالك في منظومته.

فعلان وصف لمذكر ولا مؤنث له:

وقد تكون صيغة (فعلان) دالة على المذكر الذي لا مؤنث له في الواقع لا على (فَعْلى) ولا على (فَعْلانة) مثل: (رحمان) علم على الله جل شأنه، و (لحيان) لكثير اللحية.

--------------------------------------------

1 انظر المحتسب ج 2 ص 72.

2 انظر المجلد الشامل للمحاضرات والبحوث ص 83، 91 التي ألقيت في مؤتمر الدورة الثانية والثلاثين المنعقد ببغداد سنة 1965.

3 المخصص لابن سيدة.

* شرح المفصل لابن يعيش ج 1ص 66.
১২- (নাসরান) নাসরানি এবং এর বহুবচন হলো নাসারা। আর নাসরানা হলো নাসারা-এর একবচন। এর ওপর আরও দুটি শব্দ সংযোজিত হয়েছে, আর তা হলো খামসান—যা খুমসান-এর (খ বর্ণে পেশ দিয়ে) একটি ভাষাগত রূপ—এবং আলইয়ান যা বড় লেজবিশিষ্ট ভেড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তাই ভাষ্যকার আল-মুরাদি তার পঙক্তিতে এটি সংযোজন করে বলেছেন:

এগুলোর সাথে একটি উপভাষা অনুযায়ী খামসান এবং আলইয়ান শব্দ দুটি যোগ করুন...

এটা লক্ষ্য করা জরুরি যে, ব্যাকরণবিদগণ (ফালান) ওজনের শব্দগুলোর স্ত্রীলিঙ্গ (ফা'লা) হিসেবে উপস্থাপন করতে আতিশান (তৃষ্ণার্ত), গাদবান (রাগান্বিত) এবং সাকরান (মাতাল) শব্দগুলোকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেন। অথচ 'আল-কামুস'-এর মতো অভিধান গ্রন্থগুলোতে এই তিনটির জন্য 'তা' যুক্ত একটি স্ত্রীলিঙ্গ রূপ এবং 'তা' বিহীন অন্য একটি স্ত্রীলিঙ্গ রূপ উল্লেখ করা হয়েছে। এর কারণ হলো, অভিধান গ্রন্থসমূহ বনু আসাদ গোত্রের উপভাষার অনুকরণে এটি উল্লেখ করে থাকে, যারা 'ফালান' ওজনের স্ত্রীলিঙ্গ শব্দে নিয়মিতভাবে 'তা' যুক্ত করে থাকে, যেমন সাকরান এবং এর সমগোত্রীয় শব্দগুলো। ইবন জিন্নি 'আল-মুহতাসিব' গ্রন্থে বলেছেন:

(বলা হয় সাকরান ব্যক্তি এবং সাকরা নারী যেমন গাদবান ও গাদবা। তবে কেউ কেউ—অর্থাৎ বনু আসাদ গোত্র—সাকরানা এবং গাদবানা-ও বলেছেন। তবে প্রথমটিই অধিক শক্তিশালী ও প্রাঞ্জল)। সমাপ্ত।

এর প্রয়োগ প্রচুর হওয়ায় কায়রো ভাষাতত্ত্ব একাডেমি সাকরানা এবং এই জাতীয় শব্দগুলোতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' যুক্ত করার বৈধতার ক্ষেত্রে বনু আসাদ গোত্রের উপভাষাকে গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রস্তাবিত এবং একাডেমির চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত সিদ্ধান্তের পাঠ্য নিম্নরূপ: ((ফালান) ওজনের শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ 'তা' যোগে হওয়া একটি উপভাষা, যা বনু আসাদ গোত্রের মধ্যে প্রচলিত—যেমনটি আস-সিহাহ-তে আছে—অথবা এটি বনু আসাদ গোত্রের ভাষা—যেমনটি আল-মুখাসসাস-এ আছে। এই উপভাষার নিয়ম অনুযায়ী অনির্দিষ্ট অবস্থায় এগুলো তনবীন গ্রহণ করবে—যেমনটি আল-মুফাসসাল-এ আছে)।

আরবদের যেকোনো উপভাষার নিয়ম অনুযায়ী বক্তা যদি কথা বলেন, তবে তিনি সঠিক, ভুল নন—যদিও অন্যটি অধিকতর উত্তম হয়ে থাকে (যেমনটি ইবন জিন্নির বক্তব্যে এসেছে)। তাই আতিশানা, গাদবানা এবং এই জাতীয় শব্দগুলো বলা বৈধ। সুতরাং (ফালান) ওজনের বিশেষণগুলো তনবীন গ্রহণ করবে এবং (ফালান) ও এর স্ত্রীলিঙ্গ (ফালানা) নিয়মিত বহুবচন হিসেবে গঠিত হবে। সম্ভবত আপনি এখন বুঝতে পারছেন যে, অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ আরবদের অধিকাংশের মধ্যে যা নিয়মিতভাবে প্রচলিত তা-ই গ্রহণ করেছেন। আর তা হলো, (ফালান)-এর স্ত্রীলিঙ্গ সাধারণত ও নিয়মিতভাবে (ফা'লা) ওজনে হয়। আর সাধারণ নিয়মের বাইরে যে শব্দগুলো এসেছে, তা আমি ইবন মালিকের পঙক্তির অনুকরণে উল্লেখ করেছি।

ফালান বিশেষণ যা কেবল পুংলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এর কোনো স্ত্রীলিঙ্গ নেই:

কখনো কখনো (ফালান) ওজনটি এমন পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় বাস্তবে যার কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপ নেই—তা (ফা'লা) বা (ফালানা) কোনো ওজনই হোক না কেন। যেমন: (রাহমান) যা মহান আল্লাহর নাম, এবং (লিহইয়ান) যা ঘন দাড়িবিশিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

--------------------------------------------

১ আল-মুহতাসিব, ২য় খণ্ড, ৭২ পৃষ্ঠা দেখুন।

২ ১৯৬৫ সালে বাগদাদে অনুষ্ঠিত ৩২তম অধিবেশনের সম্মেলনে উপস্থাপিত লেকচার ও গবেষণাপত্রের সংকলন, ৮৩ ও ৯১ পৃষ্ঠা দেখুন।

৩ ইবন সিদাহ প্রণীত আল-মুখাসসাস।

* ইবন ইয়াঈশ প্রণীত শারহুল মুফাসসাল, ১ম খণ্ড, ৬৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১১)
‌‌‌‌جمع فعلان

جمع فعلان

…

جمع فعلان

(فَعْلان) المذكر الذي مؤنثه على (فَعْلى) لا يجمع جمع التصحيح وإنما يجمع جمع التكسير وذلك لأنه وصف غير جار على فعله وذلك أن الصفات على ضربين أحدهما ما كان جاريا على الفعل كضارب وضاربة وثانيهما ما ليس جاريا على الفعل كأحمر وحمراء، وسكران وسكرى فما كان من الأول فإنه يجمع جمع السلامة أي بالواو والنون في جمع المذكر السالم وبالألف والتاء في جمع المؤنث السالم تقول: قائمون وقائمات وضاربون وضاربات وذلك لأنه لما جرى على الفعل شبه بلفظ الفعل الذي يتصل به ضمير الجمع للمذكر والمؤنث لأن الفعل يسلم ويتغير بما يتصل به فقولك ضاربون مثل يضربون وضاربات بمنزلة يضربن.

وما كان1 من الثاني وهو غير الجاري على الفعل فلا يجمع جمع السلامة مثل (فَعْلان ومؤنثه فعلى) (وأفعل ومؤنثه فعلاء) إلا في ضرورة الشعر مثل قول حكيم الأعور يهجو امرأة الكميت بن زيد باهل وكان مولعا بهجاء مضر؛ لأنه من بني كلاب.

فما وَجَدتْ بناتُ بني نزارٍ … حَلَائِلَ أحمْرِين وأَسْودَيِنا

ولا يجوز هذا إلا ابن كيسان فيقول لا أرى بأسا به ولكن مذهب الجمهور يمنعه ويجعله ضرورة لا يصح لنا ارتكابها ولذلك لا يجمع (فعلان: فعلى) جمع السلامة فإن سميت بشيء من ذلك جاز أن تجمعه جمع السلامة لأنه اسم … وقال الرضي في شرح2 الكافية مفصِّلا هذا الحكم:

((وأما الخاص من شروط الجمع بالواو والنون فشيئان: العلمية وقبول تاء التأنيث أما العلمية فمختصة بالأسماء وأما قبول التاء فمختص بالصفات فلم يجمع هذا الجمع (أفعل فعلاء) (وفعلان فعلى) وما يستوي مذكره ومؤنثه كما ذكرنا في باب التذكير والتأنيث، وإنما اعتبر في الصفات قبول التاء لأن الغالب في الصفات أن يفرق بين مذكرها ومؤنثها بالتاء لتأديتها معنى الفعل، والفعل يفرق بينهما فيه بالتاء، نحو الرجل قام، والمرأة قامت وكذا في المضارع التاء وإن كان في

--------------------------------------------

1 انظر شرح المفصل لابن يعيش ج 5ص 60.

2 انظر شرح الكافية ج 1ص 182 طبعة بيروت.
‌‌‌ফায়লান-এর বহুবচন

ফায়লান-এর বহুবচন

…

ফায়লান-এর বহুবচন

(ফায়লান) এমন পুংলিঙ্গ শব্দ যার স্ত্রীলিঙ্গ রূপ (ফায়লা)-এর ওজনে আসে, তাকে ‘জমায়ে তাসহিহ’ (সঠিক বহুবচন) করা হয় না; বরং একে ‘জমায়ে তাকসির’ (ভগ্ন বহুবচন) করতে হয়। কারণ, এটি এমন এক বিশেষণ যা তার মূল ক্রিয়ার (ফেল) ধারায় চলে না। বিশেষণ মূলত দুই প্রকার: প্রথমত, যা ক্রিয়ার ধারায় চলে যেমন— ‘দারিব’ (আঘাতকারী) এবং ‘দারিবা’ (আঘাতকারিনী)। দ্বিতীয়ত, যা ক্রিয়ার ধারায় চলে না যেমন— ‘আহমার’ (লাল) ও ‘হামরা’, এবং ‘সাকরান’ (মাতাল) ও ‘সাকরা’। প্রথম প্রকারের শব্দগুলোকে ‘জমায়ে সালামাহ’ (সুস্থ বহুবচন) করা হয়, অর্থাৎ জমায়ে মুযাক্কার সালেম-এর ক্ষেত্রে ‘ওয়াও’ ও ‘নূন’ যোগে এবং জমায়ে মুয়ান্নাস সালেম-এর ক্ষেত্রে ‘আলিফ’ ও ‘তা’ যোগে গঠিত হয়। আপনি বলবেন: ‘কায়িমুন’, ‘কায়িমাত’, ‘দারিবুন’ ও ‘দারিবাতি’। এর কারণ হলো, যখন এটি ক্রিয়ার ধারায় চলে, তখন এটি সেই ক্রিয়ার শব্দের সদৃশ হয় যার সাথে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের বহুবচনের সর্বনাম যুক্ত থাকে। কেননা ক্রিয়া তার সাথে যুক্ত হওয়া বস্তুর প্রেক্ষিতে অপরিবর্তিত থাকে কিংবা পরিবর্তিত হয়। সুতরাং আপনার বলা ‘দারিবুন’ শব্দটি ‘ইয়াদরিবুন’-এর মতো এবং ‘দারিবাতি’ শব্দটি ‘ইয়াদরিবনা’-এর স্থলাভিষিক্ত।

আর যা দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ যা ক্রিয়ার ধারায় চলে না—তাকে ‘জমায়ে সালামাহ’ করা হয় না, যেমন (ফায়লান এবং এর স্ত্রীলিঙ্গ ফায়লা) এবং (আফআলু এবং এর স্ত্রীলিঙ্গ ফায়লাউ)। তবে কাব্যের বিশেষ প্রয়োজনে (দোরুরাতে শে’র) এর ব্যতিক্রম হতে পারে, যেমন হাকিম আল-আওয়ার-এর উক্তি, যিনি কুমাইত ইবনে যায়িদ বাহিল-এর স্ত্রীকে বিদ্রূপ করছিলেন এবং তিনি মুদার গোত্রের নিন্দায় মগ্ন থাকতেন; কারণ তিনি ছিলেন বনু কিলাব গোত্রের।

বনু নিযারের কন্যারা পায়নি... ‘লাল’ ও ‘কালো’দের মতো কোনো স্বামী।

ইবনে কায়সান ব্যতীত অন্য কেউ একে বৈধ মনে করেন না। তিনি বলেন, “আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না।” কিন্তু জমহুর (অধিকাংশ আলেম)-এর মাযহাব একে নিষিদ্ধ করে এবং তারা একে কাব্যের আবশ্যকতা হিসেবে গণ্য করেন যা আমাদের জন্য গ্রহণ করা সঠিক নয়। এই কারণে (ফায়লান: ফায়লা) ওজনকে ‘জমায়ে সালামাহ’ করা হয় না। তবে যদি আপনি এদের কোনোটি দ্বারা কারো নামকরণ করেন, তবে তাকে ‘জমায়ে সালামাহ’ করা জায়েজ হবে, কারণ তখন এটি একটি বিশেষ্য বা নামে পরিণত হয়... ইমাম রাযী ‘শরহুল কাফিয়া’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এই বিধানটি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে বলেছেন:

((আর ‘ওয়াও’ এবং ‘নূন’ যোগে বহুবচন করার শর্তাবলির মধ্যে বিশেষ দুটি বিষয় হলো: ‘আলমিয়্যাহ’ (নাম হওয়া) এবং স্ত্রীলিঙ্গের ‘তা’ গ্রহণ করার যোগ্যতা। ‘আলমিয়্যাহ’ বিষয়টি বিশেষ্য বা ইসমের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর ‘তা’ গ্রহণ করার বিষয়টি বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাই (আফআলু-ফায়লাউ) এবং (ফায়লান-ফায়লা) এবং যেগুলোর পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ সমান হয়—সেগুলোকে এভাবে বহুবচন করা হয় না, যেমনটি আমরা মুযাক্কার (পুংলিঙ্গ) ও মুয়ান্নাস (স্ত্রীলিঙ্গ) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি। বিশেষণের ক্ষেত্রে ‘তা’ গ্রহণ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে কারণ বিশেষণের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো—ক্রিয়ার অর্থ প্রদানের সুবিধার্থে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে ‘তা’ দ্বারা পার্থক্য করা হয়। আর ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও ‘তা’ দ্বারাই উভয়ের পার্থক্য করা হয়, যেমন: পুরুষটি দাঁড়িয়েছে (কামা), আর মহিলাটি দাঁড়িয়েছে (কামত)। একইভাবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (মুদারে) ক্ষেত্রেও ‘তা’ ব্যবহৃত হয়, যদিও...

--------------------------------------------

১. ইবন ইয়ায়িশের ‘শরহুল মুফাসসাল’ খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬০ দেখুন।

২. বৈরুত থেকে প্রকাশিত ‘শরহুল কাফিয়া’ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮২ দেখুন।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১২)
الأول نحو: تقوم والغالب في الأسماء الجوامد أن يفرق بين مذكرها ومؤنثها بوضع صيغة مخصوصة لكل منها (كعير وأتان) وجمل وناقة (وحصان وحجر) 1 ويستوي مذكرها ومؤنثها كبشر وفرس هذا هو الغالب في الموضعين وقد جاء العكس أيضا في كليهما نحو أحمر وحمراء والأفضل والفضلى وسكران وسكرى في الصفات وكامرئ وامرأة ورجل ورجلة في الأسماء فكل صفة لا يلحقها التاء فكأنها من قبيل الأسماء، فلذا لم يجمع هذا الجمع (أفعل فعلاء) (وفعلان وفعلى) وأجاز ابن كيسان أحمرون وسكرانون واستل بقوله:

فما وَجَدتْ بناتُ بين نزارٍ … حَلَائِلَ وأحمْرِين وأَسْودَيِنا

وهو عند غيره شاذ وأيضا حمروات وسكريات بناء على تصحيح جمع المذكر والأصل ممنوع وكذا الفرع وأجاز سيبويه قياسا لا سماعا ندمانون في قولهم:

ندمان لقبوله التاء كندمانة وكذا سيفانون لقولهم: سيفانة قال سيبويه: لا يقولون ذلك وذلك لأن الأغلب في (فَعْلان) الصفة أن لا يلحقه التاء فندمانة وسيفانة كأنهما من قبيل الشذوذ فالأولى أن لا يجمعا هذا الجمع حملا على الأعم الأغلب انتهى.

ومن هذه النصوص يتبين أن (فَعْلان) الذي مؤنثه على فَعْلى لا يجمع جمع التصحيح وإنما يجمع جمع التكسير2 وقد جمع (فعلان) تكسيرا على صيغ كثيرة منها:

--------------------------------------------

1 هي بالأصل حجر بكسر الحاء.

2 انظر الشافية ج 2 ص 174.
প্রথমটি যেমন: ‘তাকূমু’। অপরিবর্তনীয় বিশেষ্যগুলোর (জমিদ) ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় তাদের পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গের মধ্যে পার্থক্য করা হয় প্রত্যেকের জন্য বিশেষ রূপ নির্ধারণের মাধ্যমে (যেমন: ‘আইর’ ও ‘আতান’ [গাধা ও গাধী]) এবং ‘জামাল’ ও ‘নাকাহ’ [উট ও উষ্ট্রী] (‘হিসান’ ও ‘হিজর’ [ঘোড়া ও ঘোটকী]) ১। আবার কিছু ক্ষেত্রে পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ই অভিন্ন থাকে যেমন: ‘বাশার’ (মানুষ) এবং ‘ফারাস’ (ঘোড়া)। উভয় ক্ষেত্রেই এটিই অধিকাংশ সময়ে ঘটে থাকে। তবে উভয় ক্ষেত্রেই এর বিপরীতটিও পরিলক্ষিত হয়। গুণবাচক শব্দের (সিফাত) ক্ষেত্রে যেমন: ‘আহমার’ ও ‘হামরা’ (লাল), ‘আল-আফদাল’ ও ‘আল-ফুদলা’ (সর্বশ্রেষ্ঠ), এবং ‘সাকরান’ ও ‘সাকরা’ (মাতাল)। আবার বিশেষ্যের (ইসম) ক্ষেত্রে যেমন: ‘ইমরু’ ও ‘ইমরাআ’ (পুরুষ ও নারী), এবং ‘রাজুল’ ও ‘রাজুলাহ’ (পুরুষ ও পুরুষালি নারী)। সুতরাং যে সকল গুণবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ যুক্ত হয় না, সেগুলো যেন বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণে (আফআলু-ফা’লাউ) এবং (ফালানু-ফা’লা) ওজনের শব্দগুলোর এই প্রকারের বহুবচন (জমা সালেম) হয় না। তবে ইবনে কাইসান ‘আহমারুন’ এবং ‘সাকরানুন’ শব্দগুলোকে বৈধ মনে করেছেন এবং তিনি এই উক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:

নিজার বংশের কন্যারা তাদের স্বামীদের মধ্যে লাল ও কালো বর্ণের কাউকেই খুঁজে পায়নি...

অন্যদের নিকট এটি বিরল (শায)। একইভাবে ‘হামরাওয়াত’ এবং ‘সাকরায়াত’ শব্দগুলোও বিরল, যা পুংলিঙ্গ বহুবচনের শুদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে। কিন্তু যেখানে মূল নিষিদ্ধ, সেখানে শাখাটিও নিষিদ্ধ হবে। সিবওয়াইহ কিয়াসের ভিত্তিতে ‘নাদমানুন’ শব্দটিকে বৈধ বলেছেন (শুনে নয়), কারণ ‘নাদমান’ শব্দটি ‘নাদমানাহ’ এর মতো ‘তা’ গ্রহণ করতে পারে। একইভাবে ‘সাইফানুন’ শব্দটিও বৈধ বলেছেন যেহেতু তারা ‘সাইফানাহ’ বলে থাকে। সিবওয়াইহ বলেন: তারা এটি বলে না। এর কারণ হলো (ফালান) ওজনের গুণবাচক শব্দগুলোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় শেষে ‘তা’ যুক্ত হয় না। তাই ‘নাদমানাহ’ এবং ‘সাইফানাহ’ শব্দ দুটি যেন বিরল প্রকৃতির। সুতরাং অধিকাংশের নিয়মানুসারে এই শব্দগুলোর এই প্রকারের বহুবচন না করাই শ্রেয়। সমাপ্ত।

এই উদ্ধৃতিগুলো থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, (ফালান) ওজনটি যার স্ত্রীলিঙ্গ (ফা’লা) ওজনে আসে, তার জমা তাসহিহ (সালেম) হয় না, বরং তার জমা তাকসির হয় ২। এবং (ফালান) ওজনটির জমা তাকসির অনেকগুলো রূপে আসে, যার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

১ মূলত এটি ‘হিজর’, হা বর্ণে কাসরা (জের) সহকারে।

২ দেখুন আশ-শাফিয়া, ২য় খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১২)
1- ‌‌(فِعّال)

شاع فِعَال (بكسر الفاء) في وصف على فَعْلان ومؤنثيه فَعْلى وفعلانة تقول: غضبان وغضاب، وغضبى وغضاب وندمان وندام، وغَرْثان4 وغِراث.

--------------------------------------------

3 قال ابن مالك في الألفية حيث يتحدث عن الأسماء والصفات التي تجمع على فعال: وشاع في وصف على فعلانا وأنثيية أو على فعلانا وانظر شرح الأشموني ج 4 ص 98 والشافية ج 3 ص 173.

انظر سيبويه ج 2 ص 212.

4 غراث جمع غرثان كعطشان وهو الجرعان وتقول غرث الرجل كفرح يفرح فهو غرث وغرثان وامرأة غرثى وغرثان والجمع غرثى كجرحى، وغراثى كسكارى، وغراث كعطشان. قال الشاعر: غراث الوشح صافية البرين أي دقيقة الخصر لا يملأ وشاحها فكأنه غرثان والبرين كل حلقة من سوار وقرط وهذا كناية عن كونها سمينة.
১- ‌‌(ফি'আল)

'ফালান' ওজনের বিশেষণ এবং এর দুটি স্ত্রীলিঙ্গ রূপ 'ফা'লা' ও 'ফালানাহ'-এর ক্ষেত্রে 'ফি'আল' (ফা বর্ণে কাসরা যোগে) ওজনের ব্যবহার ব্যাপক হয়েছে। আপনি বলবেন: গাদবান (ক্রুদ্ধ) থেকে গিদাব, এবং গাদবা থেকে গিদাব; নাদমান (অনুতপ্ত) থেকে নিদাম; এবং গারসান (ক্ষুধার্ত) থেকে গিরাছ।

--------------------------------------------

৩ ইবন মালিক তাঁর 'আলফিয়্যাহ' গ্রন্থে যেখানে 'ফি'আল' ওজনে জমাকৃত বিশেষ্য ও বিশেষণগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন, সেখানে বলেছেন: "এবং এটি (ফি'আল) 'ফালানা' ওজনের বিশেষণ এবং এর দুটি স্ত্রীলিঙ্গ রূপের ক্ষেত্রে অথবা 'ফালানা' ওজনের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে।" দেখুন: 'শারহুল আশমুনি', ৪র্থ খণ্ড, ৯৮ পৃষ্ঠা এবং 'আশ-শাফিয়া', ৩য় খণ্ড, ১৭৩ পৃষ্ঠা।

দেখুন: 'সিবাওয়াইহ', ২য় খণ্ড, ২১২ পৃষ্ঠা।

৪ 'গিরাছ' হলো 'গারসান'-এর বহুবচন যেমন 'আতশান' (তৃষ্ণার্ত)। এর অর্থ হলো ক্ষুধার্ত। বলা হয়, 'গারিসার রাজুলু' (ব্যক্তিটি ক্ষুধার্ত হয়েছে) যেমন 'ফারিহা-ইয়াফরাহু' ওজনে, তখন সে হলো 'গারিস' ও 'গারসান'। আর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'গারসা' ও 'গারসানা'। এর বহুবচনগুলো হলো: 'গারসা' (যেমন জুরহা), 'গারাছা' (যেমন সুকারা) এবং 'গিরাছ' (যেমন 'আতশান'-এর বহুবচন)। কবি বলেছেন: "গারছাল বিশহি সাফিয়াতাল বারাইনি" অর্থাৎ তার কোমর অত্যন্ত সূক্ষ্ম যে তার অলংকার-কোমরবন্ধটি পূর্ণ হয় না, যেন সেটি ক্ষুধার্ত। আর 'বারাইনি' হলো কঙ্কণ ও কানের দুলের প্রতিটি রিং। এটি তার সুঠাম দেহের প্রতি একটি রূপক বর্ণনা।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৩)
2-‌‌ فعلى وجمع فَعْلان على (فَعْلى) تقول:

وجياع جمع جوعان إلا أنه لا يطرد فيه وجعله ابن مالك في التسهيل مطردا فيه.

رجل سكران ورجال سكرى1، ورجل روبان 2 وقوم روبى قال بشر:

فأما تميم تميم بن مر … فألفاهم القوم روبى نياما

قال الرضي3: (ولا يبعد أن يكون سكرى وروبى) في مثل هذا الموضع مفرداً مؤنثاً (لفعلان) وذلك لأن مؤنث فعلان الصفة من باب فعل يفعِل قيامه (فعلى) وصفة المفرد المؤنث تصلح للجمع المؤنث.

--------------------------------------------

1 وبه قرأ حمزة والكسائي {وترى الناس سكرى وما هم بسكرى} مع الأمالة.

وانظر الأشموني جزء 4 ص 97.

2 قال في اللسان: راب الرجل روباً تحير وفترت نفسه من شبع أو نعاس، وقيل سكر من النوم وقيل إذا قام من النوم خائر البدن والنفس، ورجل رائب وأروب وروبان والأنثى رائبة عن اللحياني لم يزد على من قوم روبى إذا كانوا كذلك، وقال سيبويه: هم الذين أتخنهم السفر والوجع فاستلقوا نوماً وهو في الجمع شبيه بهلكى وسكرى، وأحدهم روبان، وقال الأصمعي: واحدهم رائب مثل مائق وموقى وهالك وهلكى.

انظر سيبويه ج 2 ص 214.

3 انظر الشافية ج 2 ص 140 والأشموني ج 4 ص 97.
২-‌‌ ফাউলা (Fa'la) এবং ফাউলান (Fa'lan)-এর বহুবচন ফাউলা (Fa'la) ছাঁচে আপনি বলবেন:

জিয়াউন (Jiya') হলো জাওয়ান (Jau'an)-এর বহুবচন, তবে এটি এই ক্ষেত্রে নিয়মিত (কিয়াসি) নয়। ইবনে মালিক 'আত-তাসহিল' গ্রন্থে একে নিয়মিত বলে গণ্য করেছেন।

সাকরান লোক এবং সাকরা পুরুষগণ১, এবং রাওবান লোক ও রাওবা সম্প্রদায়২। বিশর বলেছেন:

আর তামীম, তামীম বিন মুর … সম্প্রদায় তাদের রাওবা (ক্লান্ত) ও ঘুমন্ত অবস্থায় পেল।

আর-রাযী৩ বলেন: (এটি অসম্ভব নয় যে সাকরা এবং রাওবা) এই জাতীয় স্থানে 'ফাউলান'-এর একবচন স্ত্রীবাচক রূপ। কারণ, ফাউলান গুণবাচক শব্দের স্ত্রীবাচক রূপ মূলত 'ফাউলা' (Fa'la) হয়ে থাকে, আর একবচন স্ত্রীবাচক গুণবাচক শব্দ বহুবচন স্ত্রীবাচকের জন্য উপযুক্ত হয়।

--------------------------------------------

১. হামযাহ এবং আল-কিসায়ী এই শব্দেই পাঠ করেছেন: {আপনি মানুষকে দেখবেন মাতাল সদৃশ, অথচ তারা মাতাল নয়} ইমালাসহ।

আল-আশমুনি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৯৭ দেখুন।

২. 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ব্যক্তিটি 'রাবা-রাওবান' হয়েছে অর্থাৎ সে বিভ্রান্ত হয়েছে এবং অতি ভোজন বা তন্দ্রার কারণে তার প্রাণ নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। কেউ বলেছেন: ঘুমের ঘোরে মাতাল হওয়া। আবার কেউ বলেছেন: যখন সে শরীর ও মনে অবসাদ নিয়ে ঘুম থেকে ওঠে। তাকে রায়েব, আরওয়াব এবং রাওবান বলা হয়। আল-লিহয়ানি থেকে বর্ণিত এর স্ত্রীবাচক হলো 'রায়েবাহ'। তিনি এর বেশি কিছু বলেননি যে, তারা যখন এমন হয় তখন তাদের 'কাওমুন রাওবা' বলা হয়। সিবওয়াইহি বলেছেন: তারা হলো ঐ সকল লোক যাদেরকে সফর ও কষ্ট ক্লান্ত করে দিয়েছে, ফলে তারা চিৎ হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। এটি বহুবচনের ক্ষেত্রে হালকা (মৃতপ্রায়) এবং সাকরা-এর সদৃশ। এদের একবচন হলো রাওবান। আল-আসাময়ী বলেছেন: এদের একবচন হলো রায়েব, যেমন: মায়েক ও মাওকা এবং হালেক ও হালকা।

সিবওয়াইহি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২১৪ দেখুন।

৩. আশ-শাফিয়াহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৪০ এবং আল-আশমুনি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৯৭ দেখুন।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৩)
3- (فَعَالَى) وجمع (فعلان) 4 على فَعَالَى تقول:

سكران وسكارى. وغضبان وغضابي ومثلهما سكرى وغضبى وتقول: شاة حرمى أي مشتهية للنكاح وشياه حرامى. وإنما جمع فعلان كسكران على فَعَالَى تشبيهاً للألف والنون بالألف الممدودة فسكران وسكارى كصحراء وصحارى.

وجاء الضم في جمع بعض فعلان الذي مؤنثه فعلى خاصة وهو في كسالى وسكارى أرجح من الفتح، وإنما ضم في جمع فعلان خاصة لكون تكسيره على أقصى الجموع خلاف الأصل؛ وذلك لأنه إنما كسر عليه لمشابهة الألف والنون فيه لألف التأنيث فغير أول الجمع غير القياسي عما كان ينبغي أن يكون عليه لينبه من أول الأمر على أنه مخالف للقياس وأوجب الضم في قدامى جمع قادمة وأسارى جمع أسير وإلزام الضم فيهما دلالة على شدة مخالفتهما لما كان ينبغي أن يكسرا عليه.

وفي المفصل أن بعض العرب يقول: كسالى وسكارى وعجالى، وغيارى كل هذا يضم أوله.

--------------------------------------------

4 انظر سيبويه ج 2 ص 212 والأشموني ج 4 ص 105.

والشافية ج 2 ص 167، 174.
৩- (ফা‘আলা) এবং (ফালান)-এর বহুবচন ৪ (ফা‘আলা) ওজনে আসে, আপনি বলবেন:

সাকরান এবং সুকারা। এবং গাদবান ও গাদাবা এবং তাদের মতোই স্ত্রীলিঙ্গে সুকরা ও গাদবা। এবং আপনি বলবেন: শাহাতুন হুরমা অর্থাৎ সংগমে ইচ্ছুক ভেড়ি এবং এর বহুবচন শিয়াহুন হারামা। মূলত সাকরান-এর মতো ‘ফালান’ ওজনকে যে ‘ফা‘আলা’ ওজনে বহুবচন করা হয়েছে, তা এতে বিদ্যমান আলিফ ও নুন-কে আলিফে মামদুদার সাথে সাদৃশ্য দেওয়ার কারণে। ফলে সাকরান ও সুকারা-এর দৃষ্টান্ত সাহরা ও সাহারা-এর মতো।

ফালান ওজনের এমন কিছু শব্দের বহুবচনে প্রথম অক্ষরে পেশ (যম্ম) এসেছে যার স্ত্রীলিঙ্গ কেবল ‘ফু‘লা’ ওজনে আসে, বিশেষ করে ‘কুসালা’ এবং ‘সুকারা’-তে জবর (ফাতহা)-এর তুলনায় পেশ (যম্ম) অধিক অগ্রগণ্য। ফালান ওজনের বহুবচনে বিশেষভাবে যে পেশ দেওয়া হয়েছে, তা এজন্য যে এর বহুবচনে রূপান্তর (তাকসির) ‘আক্বসাল জুমু’ ওজনে হওয়াটা মূল নিয়মের পরিপন্থী। আর তা এজন্য যে, একে এই ওজনে রূপান্তর করা হয়েছে এতে বিদ্যমান আলিফ ও নুন-এর সাথে আলিফে তানিছ-এর (স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক আলিফ) সাদৃশ্যের কারণে। ফলে এই অ-কিয়াসি (অ-নিয়মতান্ত্রিক) বহুবচনের প্রথম অক্ষরকে তার যা হওয়া উচিত ছিল তা থেকে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে, যাতে শুরু থেকেই এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় যে এটি নিয়মের পরিপন্থী। আর ‘কাদিমা’-এর বহুবচন ‘ক্বুদামা’ এবং ‘আসীর’-এর বহুবচন ‘উসারা’-তে পেশ প্রদানকে আবশ্যক করা হয়েছে; এই দুই ক্ষেত্রে পেশের আবশ্যকতা মূলত তাদের স্বাভাবিক নিয়মের কঠোর লঙ্ঘনের দিকে ইঙ্গিত করে।

‘আল-মুফাসসাল’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো কোনো আরব বলেন: কুসালা, সুকারা, উজ্বালা এবং গিয়ারা—এসবগুলোরই প্রথম অক্ষরে তারা পেশ প্রদান করেন।

--------------------------------------------

৪ দেখুন: সীবওয়াইহি, ২য় খণ্ড, ২১২ পৃষ্ঠা এবং আল-আশমুনি, ৪র্থ খণ্ড, ১০৫ পৃষ্ঠা।

এবং আশ-শাফিয়া, ২য় খণ্ড, ১৬৭, ১৭৪ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৪)
جمع (عُريان)

ومما تجدر ملاحظته أن بعض الناس يقعون في أخطاء شائعة فيشيع على الألسنة جمع عريان على عرايا وهذا الجمع للعريان غير صحيح وإنما للعرايا جمع (العرية) وهي النخلة يمنحها الغني للفقير لينتفع بثمرها.

فأما عريان فيجمع في التصحيح إذا كان للعقلاء على عريانون وفي التكسير يجمع على عراة وقد جاء الخطأ في جمع عريان على عرايا من قبل شبهه بخزيان وندمان وهما يجمعان على خزايا وندامى.

وإني أقدم إليك نصاً من سيبويه قال في الكتاب ج 2 ص 212 (وإن شئت قلت في عريان عريانون فصار بمنزلة قولك: ظريفون وظريفات، لأن الهاء ألحقت بناء التذكير حين أردت بناء التأنيث فلم يغيروا ولم يقولوا في عريان: عراء، ولا عرايا، استغنوا بعراة لأنهم مما يستغنون بالشيء عن الشيء حتى لا يدخلوه في كلامهم) .

وقوله (لم يقولوا: عراء) أي كما قالوا خمُصان وخِماص فكان هذا سائغا لهم في القياس أن يقولوا: (عراء) ولكنهم أطرحوه استغناء عنه بعراة، وقوله (ولا عرايا) أي كما قالوا: خزيان وخزايا وسكران وسكارى، لأن عريان ليس من باب خزيان) .

وقد بان من كلام سيبويه أن عراة ليس في القياس جمعا لعريان وإنما هو قام مقام جمعه وهو عراء كخماص، وذلك أن عراة جمع لعار كقضاة جمع لقاض غير أنه لما كان عريان في معنى عار جعل عراة جمعا لعريان في الاستعمال واستغنى به عن عراء وهذا كما استغنوا بكماة في جمع كمي عن (اكمياء) لما كان (كمي) في معنى كام (وفي اللسان) والكمي الشجاع المتكمي في سلاحه لأنه كمى نفسه أي سترها بالدرع والبيضة، والجمع كماة كأنهم جمعوا كاميا مثل قاضيا وقضاة)) .

--------------------------------------------

1 مكنون فائله: الدم.
'উরিয়ান' (উলঙ্গ)-এর বহুবচন

একটি বিষয় লক্ষ্য করা প্রয়োজন যে, কিছু মানুষ সাধারণ ভুলে পতিত হন এবং তাদের মুখে মুখে 'উরিয়ান' শব্দের বহুবচন হিসেবে 'আরায়া' বহুল প্রচলিত হয়ে গেছে। অথচ 'উরিয়ান'-এর জন্য এই বহুবচনটি সঠিক নয়। বরং 'আরায়া' হলো 'আল-আরিয়্যাহ' শব্দের বহুবচন, আর তা হলো সেই খেজুর গাছ যা কোনো ধনী ব্যক্তি দরিদ্র ব্যক্তিকে দান করে যেন সে তার ফল থেকে উপকৃত হতে পারে।

পক্ষান্তরে, 'উরিয়ান' শব্দের নিয়মিত বহুবচন (জমে সালেম) যখন বিবেকসম্পন্নদের ক্ষেত্রে হয় তখন তা 'উরিয়ানুন' হয় এবং অনিয়মিত বহুবচন (জমে তাকসীর) হিসেবে 'উরাত' ব্যবহৃত হয়। 'উরিয়ান'-এর বহুবচন হিসেবে 'আরায়া' বলার ভুলটি মূলত 'খাযইয়ান' ও 'নাদমান' শব্দদ্বয়ের সাথে এর সাদৃশ্য থাকার কারণে তৈরি হয়েছে; কারণ এই দুটি শব্দের বহুবচন যথাক্রমে 'খাযায়া' ও 'নাদামা' হয়ে থাকে।

আমি আপনার নিকট সিবওয়াইহ-এর একটি পাঠ্য তুলে ধরছি, তিনি তাঁর কিতাবের ২য় খণ্ড, ২১২ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (এবং আপনি চাইলে 'উরিয়ান' শব্দের বহুবচন হিসেবে 'উরিয়ানুন' বলতে পারেন, ফলে তা আপনার 'যারিফুন' ও 'যারিফাত' বলার মতো হয়ে যাবে। কারণ আপনি যখন স্ত্রীলিঙ্গ গঠন করতে চাইলেন, তখন পুংলিঙ্গ কাঠামোর সাথে 'হা' যুক্ত করা হয়েছে। তারা শব্দটিকে পরিবর্তন করেনি এবং 'উরিয়ান'-এর বহুবচন হিসেবে 'উরা’' বা 'আরায়া' বলেনি; বরং তারা 'উরাত' শব্দের মাধ্যমেই এর অভাব পূরণ করেছে। কারণ তারা কোনো জিনিসের পরিবর্তে অন্য জিনিসের মাধ্যমে প্রয়োজন মেটায় যাতে করে তা তাদের কথাবার্তায় অন্তর্ভুক্ত করতে না হয়)।

তাঁর উক্তি—(তারা 'উরা’' বলেনি)—অর্থাৎ যেভাবে তারা 'খুমুসান' থেকে 'খিমাছ' বলেছে, সেই ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মে (কিয়াস) তাদের জন্য 'উরা’' বলা বৈধ ছিল, কিন্তু 'উরাত' ব্যবহারের মাধ্যমে এর প্রয়োজন মিটে যাওয়ায় তারা এটি বর্জন করেছে। আর তাঁর উক্তি—(এবং 'আরায়া'ও বলেনি)—অর্থাৎ যেভাবে তারা 'খাযইয়ান' থেকে 'খাযায়া' এবং 'সাকরান' থেকে 'সুকারা' বলেছে; কারণ 'উরিয়ান' শব্দটি 'খাযইয়ান'-এর পর্যায়ভুক্ত নয়।

সিবওয়াইহ-এর বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মানুসারে 'উরাত' শব্দটি 'উরিয়ান'-এর বহুবচন নয়, বরং এটি তার মূল বহুবচন 'উরা’' (যা 'খিমাছ'-এর ওজনে)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। বিষয়টি এমন যে, 'উরাত' হলো 'আর'-এর বহুবচন, যেমন 'কাদি'-এর বহুবচন হলো 'কুদাত'। তবে যেহেতু 'উরিয়ান' শব্দটি 'আর' শব্দের অর্থ প্রদান করে, তাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে 'উরাত'-কে 'উরিয়ান'-এর বহুবচন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে 'উরা’'-এর প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে ফেলা হয়েছে। এটি ঠিক তেমন, যেমন তারা 'কুমিয়্যুন'-এর বহুবচন হিসেবে 'আকমিয়া'-এর পরিবর্তে 'কুমাহ' ব্যবহার করে প্রয়োজন মিটিয়েছে; কারণ 'কুমিয়্যুন' শব্দটি 'কাম' শব্দের অর্থে ব্যবহৃত হয়। ('লিসানুল আরব' অভিধানে এসেছে): 'কুমিয়্যুন' হলো সেই বীর যে তার অস্ত্রের মধ্যে নিজেকে লুকিয়ে রাখে, কারণ সে নিজেকে 'কামাহ' (গোপন) করেছে অর্থাৎ বর্ম ও হেলমেট দিয়ে নিজেকে আবৃত করেছে। এর বহুবচন হলো 'কুমাহ', যেন তারা 'কামি' (যেমন কাদি ও কুদাত)-এর বহুবচন গঠন করেছে।

--------------------------------------------

১ গোপন রাখা ফায়েল বা কর্তাটি হলো: রক্ত।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৪)
‌‌جمع فعلان اسم الجنس والعلم:

4- (فعالين) وقد جمع (فعلان) على فعالين بشرط أن يكون اسما تقول في شيطان شياطين لأنه من شاط يشيط إذا بطل وهلك قال الأعشى:-

قد تخْضَبُ العيرُ من مَكْنون1 فَائِله … وقد يَشِط على أرماحنا البطلُ

--------------------------------------------

1 مكنون فائله: الدم.
ফালান ওজনের জাতিবাচক ও নামবাচক বিশেষ্যের বহুবচন:

৪- (ফায়ালীন) আর ফালান ওজনকে ফায়ালীন রূপে বহুবচন করা হয়েছে এই শর্তে যে, সেটি বিশেষ্য হতে হবে। যেমন আপনি শয়তান-এর বহুবচন হিসেবে শায়াতীন বলবেন; কারণ এটি ‘শাতা ইয়াশীতু’ থেকে নির্গত, যার অর্থ যখন কোনো কিছু বাতিল ও ধ্বংস হয়ে যায়। আল-আশা বলেছেন:-

বন্য গাধাটি তার শিরার লুকায়িত রক্ত দ্বারা রঞ্জিত হতে পারে... আর আমাদের বর্শার আঘাতে বীর যোদ্ধা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

--------------------------------------------

১ মাকনুন ফাইলিহি: রক্ত।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৫)
فِعلان بكسر الفاء وضمها:

ويشارك (فعلان بالفتح ما كان مكسورا الفاء أو مضمومها تقول: سِرحان وسراحين وسُلطان وسلاطين قال في المفصَّل1: أعلم أن ما كان من الأسماء على وزن فَعُلان فإنه يكسر على فعالين ولا فرق في ذلك بين المفتوح الأول والمضمومة والمكسورة) .

وقال الرضي2: (كل اسم على فعلان مثلث الفاء ساكن العين كان أو متحركة كَوَرشَان والسَبعُان والظَرِبان بجمع على فعالين إلا أن يكون علما مرتجلا كسلمان، وعثمان وعفان، وحمدان وغطفان وذلك لأن التكسير في المرتجل مستغرب بخلافه في المنقول إذ له عهد بالتكسير ولا سيما إذا كان في المرتجل ما ينبغي أن يحافظ عليه من الألف والنون لشبهه بألف التأنيث) .

--------------------------------------------

1 انظر شرح المفصل لابن يعيش ج 5 ص 64.

2 انظر شرح المفصل لشافية ج 2 ص 172.
ফা বর্ণে কাসরাহ ও যাম্মাহযুক্ত ফিলা-ন ও ফুলা-ন ওযন:

ফা বর্ণে ফাতহাযুক্ত ‘ফালান’ ওযনের শব্দগুলো ঐ সকল শব্দের সাথে অন্তর্ভুক্ত হয় যেগুলোর ফা বর্ণ কাসরাহ বা যাম্মাহযুক্ত। আপনি বলবেন: সিরহান ও তার বহুবচন সারাহিন এবং সুলতান ও তার বহুবচন সালাতিন। 'আল-মুফাসসাল' গ্রন্থে বলা হয়েছে১: জেনে রাখুন, যেসব বিশেষ্য ‘ফালান’ ওযনে আসে, সেগুলোর বহুবচন ‘ফায়ালিন’ ওযনে করা হয়। আর এক্ষেত্রে শব্দের প্রথম বর্ণটি ফাতহা, যাম্মাহ বা কাসরাহ—যে কোনোটি হওয়ার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

আর রাযী রহ. বলেছেন২: (ফাতহা, কাসরাহ ও যাম্মাহ—এই তিন হরকতবিশিষ্ট ফা এবং সাকিন বা হরকতবিশিষ্ট আইনযুক্ত প্রত্যেক ‘ফালান’ ওযনের বিশেষ্য ‘ফায়ালিন’ ওযনে বহুবচন করা হয়। যেমন: ওয়ারশান, সাবআন এবং যারিবান। তবে সেই সব শব্দ এর ব্যতিক্রম যা ‘মুরতাজাল’ বা মৌলিক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন—সালমান, উসমান, আফফান, হামদান এবং গাতফান। কারণ মৌলিক নামের ক্ষেত্রে বহুবচন করাটা অস্বাভাবিক, যা ‘মানকুল’ বা স্থানান্তরিত বিশেষ্যের ক্ষেত্রে নয়; কেননা মানকুল শব্দের বহুবচনের পূর্ব-প্রথা রয়েছে। বিশেষ করে মৌলিক নামের ক্ষেত্রে আলিফ ও নুনকে অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি, কারণ তা তানীস বা স্ত্রীলিঙ্গের আলিফের সদৃশ হয়ে থাকে।)

--------------------------------------------

১ ইবনুল ইয়ায়িশ কৃত শারহুল মুফাসসাল দেখুন, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬৪।

২ শাফিয়ার শারহুল মুফাসসাল দেখুন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭২।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৫)
‌‌(فعلان) الممنوع من الصرف

1 -‌‌ صيغة (فَعْلان) إذا كانت صفة:

فإنها تمنع من الصرف وذلك بشرطين أن تكون وصفيته أصلية (غير طارئة) وأن يكون تأنيثه بغير التاء وذلك صادق على نوعين أحدهما أن يكون تأنيثه الشائع عند العرب بألف التأنيث المقصورة، والثاني أن يكون خاصا بالمذكر فلا مؤنث له كلحيان، ورحمان ومثال الأول عطشان وغضبان وسكران، صديان فأشهر مؤنثاتها على (فعلى) فإن كان الغالب المسموع على مؤنثه وجود تاء التأنيث في آخره لم يمنع من الصرف تقول: نظرت إلى سيفان بالجر بالكسرة، وكذلك لا يمنع من الصرف إذا كانت الوصفية طارئة غير أصلية مثل كلمة صفوان والتي معناها الحجر قد تستعمل استعمال الصفان فتقول: لا حبذا رجل صفوان قلبه فكلمة صفوان هنا لا تمنع من الصرف، وإذا كان من الصفو فتقول يوم صاف وصفوان أي بارد وبلا غيم فحينئذ بمنع من الصرف فهي في الأول عارضة الوصفية فصرفت بخلافه في الثاني.
(ফালানু) রূপান্তর-অযোগ্য বিশেষ্য

১ -‌‌ (ফালানু) রূপটি যখন বিশেষণ হয়:

এটি রূপান্তর-অযোগ্য (মামনু' মিনাস সারফ) হয় দুটি শর্তে; তার বিশেষণ হওয়ার গুণটি মৌলিক (অস্থায়ী নয়) হতে হবে এবং তার স্ত্রীলিঙ্গ রূপটি ‘তা’ (تاء) যুক্ত হওয়া ব্যতিরেকে হতে হবে। এটি দুই ধরনের শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রথমত: আরবে যে শব্দগুলোর স্ত্রীলিঙ্গ রূপ সাধারণত ‘আলিফে মাকসুরা’ যোগে গঠন করা হয়। দ্বিতীয়ত: যা কেবল পুংলিঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট এবং তার কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপ নেই; যেমন: লিহ্ইয়ান এবং রাহমান। প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো: আত্শান (তৃষ্ণার্ত), গাদবান (রাগান্বিত), সাকরান (মাতাল) এবং সদিইয়ান (তৃষ্ণার্ত); এগুলোর প্রসিদ্ধ স্ত্রীলিঙ্গ রূপ ‘ফাউলা’ ওজনে হয়ে থাকে। তবে যদি কোনো শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপের শেষে সাধারণত ‘তা-এ-তানিছ’ যুক্ত হওয়া শ্রুত হয়, তবে সেটি রূপান্তর-অযোগ্য হবে না। আপনি বলবেন: ‘নজারতু ইলা সাইফানিন’ (আমি একজন দীর্ঘদেহী ব্যক্তির দিকে তাকালাম) এখানে কাসরা সহকারে ‘জার’ হবে। একইভাবে এটি রূপান্তর-অযোগ্য হবে না যদি তার বিশেষণ হওয়ার গুণটি মৌলিক না হয়ে বরং আকস্মিক বা অস্থায়ী হয়; যেমন ‘সাফওয়ান’ শব্দটি, যার মূল অর্থ হলো পাথর, কিন্তু এটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন আপনি বলবেন: ‘লা হাব্বাজা রাজুলুন সাফওয়ানুন কালবুহু’ (ঐ ব্যক্তি কতই না মন্দ যার অন্তর পাথরের মতো কঠিন)। এখানে ‘সাফওয়ান’ শব্দটি রূপান্তর-অযোগ্য নয়। আর যদি শব্দটি ‘সাফ্উ’ (পরিচ্ছন্নতা) থেকে নির্গত হয় এবং এর দ্বারা এমন দিন বোঝানো হয় যা শীতল ও মেঘমুক্ত, তবে সেক্ষেত্রে এটি রূপান্তর-অযোগ্য হবে। কারণ প্রথম উদাহরণটিতে বিশেষণ হওয়ার বিষয়টি ছিল অস্থায়ী, তাই সেটি পূর্ণ রূপান্তরযোগ্য (মুনসারিফ) হয়েছে, যা দ্বিতীয় উদাহরণের বিপরীত।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৬)
2- و‌‌صيغة (فعلان) إذا كانت علما1:

فإنها تمنع من الصرف كذلك للعلمية وزيادة الألف والنون سواء كان علما على الإنسان أم علما على غيره نحو بدران، قحطان، عدنان، شعبان.

ويشارك (فعلان) بالفتح والسكون ما بغيره كرمضان، غطفان2، عِمْران وعُثمان.

فإن كان الألف والنون صالحين للزيادة والأصالة جاز في الاسم الصرف وعدمه بهذين الاعتبارين نحو (حسان) علما على شخص فيجوز أن يكون مشتقا من الحسّ بمعنى الشعور فيمنع من الصرف لأن الحرفين زائدان، وإن كان مشتقا من الحُسنْ وهو الجمال فلا يمنع من الصرف لأن وزنه حينئذ فعّال لا (فعلان) ومثله (غسان) قد يكون من الغسّ بمعنى الدخول في البلاد فيمنع من الصرف وقد يكون من الغَسنْ بمعنى المضغ فلا يمنع لأن وزنه (فعال) وكذلك عفان من العفة وحيان من الحين وهو الهلاك ومن الحياة.

وكذلك قبان من قبن في الأرض إذا ذهب فيها وعلى هذا يصرف لأن النون فيه أصلية ووزنه (فعال) ويجوز أن يكون من القب وهو شدة الخصومة، وقب بطنه أي قطع وحينئذ يمنع من الصرف لأن وزنه (فعلان) .

يقول ابن يعيش3 وأما الألف والنون المضارعتان لألفي التأنيث4 فهي من الأسباب المانعة من الصرف من حيث كانتا زائدتين والزائد فرع على المزيد عليه وهما مع ذلك مضارعتان لألفي التأنيث نحو حمراء وصحراء، والألف في حمراء وصحراء يمنع الصرف فكذلك ما أشبه وذلك نحو عطشان وسكران وغرثان وغضبان واعتباره أن يكون (فعلان) ومؤنثه (فعلى) نحو قولك: في المذكر عطشان وفي المؤنث عطشى وسكران، وفي المؤنث سكرى وغرثان وفي المؤنث

--------------------------------------------

1 قال ابن مالك:

كذلك حاوى زائدي فعلانا … كغطفان وكاصبهانا

وفي أصبهان لغات كثيرة: منها كسر الهمزة، ومنها إبدال بائها فاء ولا تكون الألف والنون زائدتين إلا على اعتبار أن أصل الكلمة عربي أما على الرأي القائل إنها أعجمية وهو الصواب فلا تمنع للعلمية مع الزيادة وإنما تمنع للعلمية والعجمة.

2 الغطف: اتساع النعة.

3 انظر شرح المفصل ج 1 ص 66، شرح الكافية ج 1 ص 60.

4 فالسبب في منع (فعلان) من الصرف فيه خلاف إما لأنه ينتهي بزيادة تشبه ألف التأنيث وهذا عند سيبويه، والمبرد يقول امتنع فعلان من الصرف لكون النون بعد الألف مبدلة من ألف التأنيث، والكوفيون يقولون امتنع (فعلان) لكون النون بعد الألف زائدتين لا يقبلان الهاء. انظر شرح الأشموني ج 3 مبحث الممنوع من الصرف للزيادة.
২- এবং (ফালানু) রূপটি যখন নামবাচক (আলাম) হয়১:

এটিও নামবাচকতা (আলামিয়্যাহ) এবং আলিফ ও নূনের আধিক্যের (জিয়াদাহ) কারণে রূপান্তরহীন (মামনু মিনাস সারফ) হয়; চাই সেটি মানুষের নাম হোক কিংবা অন্য কিছুর নাম, যেমন: বাদরান, কাহতান, আদনান, শাবান।

ফাতহাহ এবং সুকুন বিশিষ্ট (ফালানু) ওজনের সাথে অন্যান্য স্বরচিহ্নযুক্ত শব্দও যুক্ত হয়, যেমন: রামাদান, গাতফান২, ইমরান এবং উসমান।

যদি আলিফ এবং নূন অতিরিক্ত হওয়া এবং মূল অক্ষর হওয়ার—উভয়টিরই যোগ্য হয়, তবে নামটিতে এই দুই বিবেচনায় রূপান্তরযোগ্য হওয়া বা না হওয়া উভয়ই বৈধ। যেমন কারো নাম যদি (হাসসান) হয়, তবে এটি যদি 'হিস' (অনুভূতি) শব্দ থেকে উদ্ভূত ধরা হয়, তবে এটি রূপান্তরহীন হবে; কারণ সেক্ষেত্রে অক্ষর দুটি অতিরিক্ত। আর যদি এটি 'হুসন' (সৌন্দর্য) থেকে উদ্ভূত ধরা হয়, তবে এটি রূপান্তরহীন হবে না; কারণ তখন এর ওজন হবে (ফাউআল), (ফালানু) নয়। তেমনিভাবে (গাসসান) শব্দটি 'গাস' (দেশে প্রবেশ করা) থেকে উদ্ভূত হলে রূপান্তরহীন হবে, আর যদি এটি 'গাসান' (চিবানো) থেকে হয় তবে রূপান্তরহীন হবে না; কারণ তখন এর ওজন হবে (ফাউআল)। অনুরূপভাবে ইম্মাহ (পবিত্রতা) থেকে 'আফফান' এবং হাইন (ধ্বংস) অথবা হায়াত (জীবন) থেকে 'হাইয়ান' শব্দটিও একই রূপ।

তেমনিভাবে 'কাব্বান' শব্দটি যদি যমিনে চলে যাওয়া অর্থে 'কাবানা' থেকে হয়, তবে এটি রূপান্তরযোগ্য হবে; কারণ এক্ষেত্রে নূন মূল অক্ষর এবং এর ওজন হবে (ফাউআল)। আবার এটি 'কাব' (তীব্র শত্রুতা) থেকেও হতে পারে, অথবা পেট কেটে ফেলা অর্থে; সেক্ষেত্রে এটি রূপান্তরহীন হবে কারণ তখন এর ওজন হবে (ফালানু)।

ইবনে ইয়াইশ৩ বলেন: আর আলিফ ও নূন যা স্ত্রীলিঙ্গবাচক দুই আলিফের (আলিফে তানিস) সদৃশ, তা রূপান্তরহীন হওয়ার অন্যতম কারণ; যেহেতু সেগুলো অতিরিক্ত এবং অতিরিক্ত অংশটি মূলের শাখা স্বরূপ। তা সত্ত্বেও এগুলো স্ত্রীলিঙ্গবাচক দুই আলিফের সদৃশ যেমন 'হামরা' এবং 'সাহরা'। 'হামরা' এবং 'সাহরা' শব্দে আলিফটি রূপান্তরহীন করে, তাই এর সদৃশ শব্দগুলোও অনুরূপ হবে; যেমন 'আতশান' (তৃষ্ণার্ত), 'সাকরান' (মাতাল), 'গারসান' (ক্ষুধার্ত) এবং 'গাদবান' (রাগান্বিত)। এর নিয়ম হলো যে এটি (ফালানু) ওজনে হতে হবে এবং এর স্ত্রীলিঙ্গ হতে হবে (ফা'লা) ওজনে। যেমন আপনি পুরুষলিঙ্গের ক্ষেত্রে বলবেন 'আতশান' এবং স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'আতশা', এবং পুরুষলিঙ্গে 'সাকরান' ও স্ত্রীলিঙ্গে 'সাকরা', এবং পুরুষলিঙ্গে 'গারসান' ও স্ত্রীলিঙ্গে

--------------------------------------------

১ ইবনে মালিক বলেছেন:

তেমনিভাবে অতিরিক্ত আলিফ ও নূন যুক্ত ফালানু... যেমন গাতফান এবং আসবাহান।

আসবাহান শব্দের উচ্চারণে অনেক ভিন্নতা রয়েছে: যেমন হামযাহ-তে কাসরাহ দেওয়া, আবার এর 'বা' অক্ষরকে 'ফা' দ্বারা পরিবর্তন করা। আলিফ ও নূন তখনই অতিরিক্ত হবে যখন শব্দের মূলকে আরবী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে যদি বলা হয় এটি অনারব (আ'জামি) শব্দ—যা সঠিক মত—তবে তা নামবাচকতা ও অতিরিক্ত হওয়ার কারণে রূপান্তরহীন হবে না, বরং তা নামবাচকতা ও অনারব হওয়ার কারণে রূপান্তরহীন হবে।

২ গাতফ: নেয়ামতের প্রাচুর্য।

৩ দেখুন: শারহুল মুফাসসাল খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৬; শারহুল কাফিয়াহ খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬০।

৪ (ফালানু) ওজনটি রূপান্তরহীন হওয়ার কারণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। হয় এটি এমন এক অতিরিক্ত অংশ দিয়ে শেষ হয়েছে যা স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফের সদৃশ, এটি সিবওয়াইহ-র মত। মুবাররাদ বলেন, আলিফের পরে নূনটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে এটি রূপান্তরহীন হয়েছে। কুফীগণ বলেন, আলিফের পরের নূনটি অতিরিক্ত হওয়ার কারণে এটি রূপান্তরহীন হয়েছে যা স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'হা' গ্রহণ করে না। দেখুন: শারহুল আশমুনি খণ্ড ৩, অতিরিক্ততার কারণে রূপান্তরহীন হওয়ার অধ্যায়।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৭)
غرثى لا تقول: سكرانة ولا عطشانة ولا غرثانة في اللغة الفصحى، وإنما قلنا: (فعلان ومؤنثه فعلى) احتراز من فعلان آخر لا فعلى له في الصفات قالوا رجل سيفان للطويل الممشوق، وقالوا امرأة سيفانة ولم يقولوا (سيفى) ووجه المضارعة بين الألف والنون في سكران وبابه وبين ألفي التأنيث في حمراء وقصباء أنهما زيدتا معا كما أنهما في حمراء كذلك وأن الأول من الزائدتين في كل منهما ألف، وأن صيغة المذكر مخالفة لصيغة المؤنث وأن الآخر من كل واحد منهما يمتنع من إلحاق التاء للتأنيث، ثم يقول: أما الأعلام نحو: مروان وعدنان، وغيلان فهي أسماء لا تنصرف للتعريف وزيادة الألف والنون وأعلم أن هذه الألف والنون في هذه الأعلام وما كان نحوها محمولات على باب عطشان وسكران لقرب ما بينهما ألا ترى أنهما زائدتان كزيادتهما وأنه لا يدخل عليها تاء التأنيث لا نقول: مروانة ولا عدنانة لأن العلمية تحظر الزيادة كما تحظر النقص وليس المانع من الصرف كونه على فعلان بفتح وسكون ألا ترى أن عثمان وزبيان وشعبان حكمهما حكم عدنان وغيلان) انتهى.

وقال الرضي1: (أعلم أن الألف والنون إنما تؤثران لمشابهتهما ألف التأنيث الممدودة من جهة امتناع دخول تاء التأنيث عليهما معا وبفوات هذه الجهة يسقط الألف والنون عن التأثير..)

ثم إنهم بعد اتفاقهم على أن تأثير الألف والنون لأجل مشابهة ألف التأنيث اختلفوا، وقال الأكثرون تحتاج إلى سبب آخر ولا تقوم بنفسها مقام سببين كالألف لنقصان المشبه عن المشبه به وذلك الأخر إما العلمية (كعمران) وإما الصفة كما في (سكران) .

وذهب بعضهم إلى أنها كالألف غير محتاجة إلى سبب آخر فالعلمية عندهم في نحو (عمران) ليست سببا بل شرط الألف والنون، إذ بها يمتنع عن زيادة التاء وهذا الانتفاء هو شرطها سواء كانت مع العلمية أو الوصف والوصف عندهم في نحو (سكران) لا سبب ولا شرط، والأول أولى لضعفها فلا تقوم مقام علتين.

--------------------------------------------

1 انظر شرح الكافية ج 1 ص 60 وما ينصرف وما لا ينصرف للزجاج ص 35، 36.
ঘারসা; উচ্চাঙ্গের আরবি ভাষায় সাকরানাহ (মাতাল নারী), আতশানাহ (তৃষ্ণার্ত নারী) বা ঘারসানাহ (ক্ষুধার্ত নারী) বলা হয় না। আমরা যে বলেছি: (ফালান এবং এর স্ত্রীলিঙ্গ ফালা), তা ফালান ওজনের সেই সকল শব্দ হতে সতর্কতাস্বরূপ যেগুলোর বিশেষণীয় রূপে কোনো ফালা নেই। ভাষাবিদগণ সুঠাম ও দীর্ঘদেহী পুরুষের ক্ষেত্রে সাইফান বলেছেন এবং নারীর ক্ষেত্রে সাইফানাহ বলেছেন, তারা সাইফা বলেননি। সাকরান ও এর সমগোত্রীয় শব্দগুলোর আলিফ ও নুন এবং হামরা ও কাসবা এর দুই স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফের মধ্যে সাদৃশ্যের দিক হলো—উভয় ক্ষেত্রেই এই দুটি অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যেমনটি হামরা শব্দে হয়েছে। এছাড়া উভয় ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত দুটি বর্ণের প্রথমটি হলো আলিফ, এবং পুংলিঙ্গ রূপটি স্ত্রীলিঙ্গ রূপ থেকে ভিন্ন। আর এগুলোর কোনোটির শেষেই স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' যুক্ত হতে পারে না। এরপর তিনি বলেন: আর মারওয়ান, আদনান এবং গাইলান এর মতো নামগুলো হলো এমন বিশেষ্য যা নামবাচকতা এবং আলিফ ও নুন অতিরিক্ত হওয়ার কারণে রূপান্তরহীন (মামনু মিনাস সারফ)। জেনে রাখুন যে, এই নামগুলোতে এবং এর সমজাতীয় শব্দগুলোতে যে আলিফ ও নুন রয়েছে, সেগুলোকে আতশান ও সাকরান এর সমগোত্রীয় ধরা হয় তাদের মধ্যকার নিকটবর্তী সম্পর্কের কারণে। আপনি কি দেখছেন না যে, ঐ দুটির মতো এগুলোও অতিরিক্ত এবং এগুলোতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' প্রবেশ করে না? আমরা মারওয়ানাহ বা আদনানাহ বলি না। কারণ নামবাচকতা যেমন বৃদ্ধিকে বাধা দেয়, তেমনি হ্রাসকেও বাধা দেয়। আর রূপান্তরহীনতার কারণ কেবল ফাতহা ও সুকুনসহ 'ফালান' ওজনে হওয়া নয়; আপনি কি দেখছেন না যে উসমান, যুবইয়ান এবং শাবান এর বিধান আদনান ও গাইলান এর বিধানের মতোই? সমাপ্ত।

আর রাজী (১) বলেন: (জেনে রাখুন যে, আলিফ ও নুন কেবল তখনই প্রভাব ফেলে যখন সেগুলো স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফ মামদুদাহর সাথে সাদৃশ্য রাখে, এই দিক থেকে যে উভয়ের সাথেই স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' যুক্ত হওয়া অসম্ভব। আর যখন এই দিকটি অনুপস্থিত থাকে, তখন আলিফ ও নুন তার প্রভাব হারায়...।)

অতঃপর আলিফ ও নুন এর প্রভাব যে স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফের সাথে সাদৃশ্যের কারণে—এ বিষয়ে একমত হওয়ার পর তারা মতভেদ করেছেন। অধিকাংশ ভাষাবিদ বলেন, এটি অন্য একটি কারণের মুখাপেক্ষী এবং এটি আলিফের মতো নিজে দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না; কারণ যাকে তুলনা করা হচ্ছে (আলিফ ও নুন) তা যার সাথে তুলনা করা হচ্ছে (আলিফ তানিস) তার চেয়ে অপূর্ণ। আর সেই অন্য কারণটি হয় নামবাচকতা (যেমন: ইমরান) অথবা বিশেষণ (যেমন: সাকরান)।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই মত পোষণ করেছেন যে, এটি আলিফের মতোই অন্য কোনো কারণের মুখাপেক্ষী নয়। তাই তাদের নিকট 'ইমরান' এর মতো শব্দে নামবাচকতা কোনো কারণ নয়, বরং আলিফ ও নুন এর জন্য শর্ত। কারণ এর মাধ্যমেই 'তা' যুক্ত হওয়া প্রতিরোধ করা হয়। আর এই প্রতিরোধই হলো এর শর্ত, তা নামবাচকতার সাথেই হোক বা বিশেষণের সাথেই হোক। আর 'সাকরান' এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে বিশেষণ তাদের নিকট কারণও নয়, শর্তও নয়। তবে প্রথম মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য, কারণ এটি দুর্বল, তাই এটি দুটি কারণের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না।

--------------------------------------------

১. দেখুন: শারহুল কাফিয়া, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬০; এবং আয-যাজ্জাজ রচিত 'মা ইয়ানসারিফ ওয়া মা লা ইয়ানসারিফ', পৃষ্ঠা ৩৫, ৩৬।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৮)
‌‌‌‌هل المؤثر انتفاء التاء أم وجود فعلى؟

هل المؤثر انتفاء التاء أم وجود فعلى؟

…

هل المؤثر انتفاء التاء أم وجود فعلى؟

الرأي السائد أن المزيد بالألف والنون إنما يمنع من الصرف بشرط ألا يكون مؤنثه بالتاء، فانتفاء التاء هو الشرط الضروري للمنع من الصرف.

وقول بعضهم إن الشرط هو أن يكون مؤنثه على فعلى أي يكون مؤنثه على غير لفظه، قال ابن الحاجب في الكافية عارضا هذين الرأيين (أو صفة فانتفاء فعلانة وقيل وجود فعلى ومن ثم اختلف في رحمان دون سكران وندمان) قال الرضي معقبا عليه: وقوله: (وقيل وجود فعلى) والأول أولى لأن وجود (فعلى) ليس مقصوداً لذاته بل المطلوب منه انتفاء التاء، لأن كل ما يجئ منه (فعلى) لا يجئ منه فعلانة في لغتهم إلا عند بعض بني أسد فإنهم يقولون في كل فعلان جاء منه فعلى: (فعلانة) أيضا نحو: غضبان وسكران فيصرفون إذن (فعلان فعلى) وهذا دليل قوي على أن المعتبر في تأثير الألف والنون انتفاء التاء لا وجود فعلى، ثم يدلل على قوله ببعض الألفاظ التي لا يكون مؤنثها على (فعلى) ومع هذا فهي ممنوعة من الصرف.

يقول الرضي: (فإذا كان المقصود من وجود (فعلى) انتفاء التاء وقد حصل هذا المقصود في (رحمان) لا بواسطة وجود (رحمى) بل لأنهم خصصوا هذه اللفظة بالبارئ تعالى فلم يطلقوه على غيره ولم يضعوا منه مؤنثا لا من لفظه أعني بالتاء ولا من غير لفظة أعني (فعلى) فيجب أن يكون غير منصرف) .

فإن قلت لا نسلم أن وجود (فعلى) مطلوب ليطرق به إلى انتفاء فعلانة بل هو مقصود بذاته لأنه يحصله بوجودها مشابهة بين الألف والنون وبين ألف التأنيث لكون مؤنث هذا على غير لفظه كما أن مذكر ذاك على غير لفظه قلت هذا الوجه وإن كان يحصل به بينهما مشابهة إلا أنه ليس وجها للمشابهة ضروريا بحيث لا يؤثر الألف والنون بدونه بل الوجه الضروري كما ذكرنا في التأثير انتفاء فعلانة ألا ترى إلى عدم انصراف مروان وعثمان بمجرد انتفاء التاء من دون وجود (فعلى) انتهى كلام الرضي.

ويقول الإمام بدر1 الدين محمد الزركشي في التنبيه الثالث في معرض الحديث عن لفظة (رحمان) : أنه لو جرد عن الألف واللام لم يصرف لزيادة

--------------------------------------------

1 انظر البرهان في علوم القرآن ج 2 ص 509 التنبيه الثالث.
‌‌‌‌প্রভাবক বিষয়টি কি 'তা' এর অনুপস্থিতি নাকি 'ফা'লা' ওজনের বিদ্যমানতা?

প্রভাবক বিষয়টি কি 'তা' এর অনুপস্থিতি নাকি 'ফা'লা' ওজনের বিদ্যমানতা?

…

প্রভাবক বিষয়টি কি 'তা' এর অনুপস্থিতি নাকি 'ফা'লা' ওজনের বিদ্যমানতা?

প্রচলিত অভিমত হলো যে, আলিফ ও নুন অতিরিক্ত থাকা শব্দ তখনই অপরিবর্তনীয় (মানউ মিনাস সারফ) হয় যখন শর্ত থাকে যে এর স্ত্রীলিঙ্গ 'তা' (গোল তা) যোগে হবে না। সুতরাং, 'তা' এর অনুপস্থিতিই হলো শব্দটিকে অপরিবর্তনীয় করার জন্য অপরিহার্য শর্ত।

কারো কারো মতে শর্ত হলো এর স্ত্রীলিঙ্গ 'ফা'লা' ওজনে হওয়া, অর্থাৎ এর স্ত্রীলিঙ্গটি মূল শব্দের রূপের থেকে ভিন্ন রূপে হওয়া। ইবনে হাজিব তার 'কাফিয়া' গ্রন্থে এই দুটি মত উপস্থাপন করে বলেন: (অথবা যদি গুণবাচক শব্দ হয়, তবে 'ফালানা' ওজনের অনুপস্থিতি শর্ত; আবার বলা হয়েছে 'ফা'লা' ওজনের বিদ্যমান থাকা শর্ত। এ কারণেই 'রাহমান' শব্দের ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে, যা 'সাকরان' ও 'নাদমান' এর মতো নয়)। আল-রাজি এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: তার উক্তি— (এবং বলা হয়েছে 'ফা'লা' ওজনের বিদ্যমান থাকা শর্ত)— এর বিপরীতে প্রথম মতটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য। কারণ 'ফা'লা' ওজনের বিদ্যমান থাকা স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'তা' এর অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা। কারণ তাদের ভাষায় যে সকল শব্দ 'ফা'লা' ওজনে আসে, সেগুলো 'ফালানা' ওজনে আসে না; কেবল বনু আসাদ গোত্রের কিছু লোক ব্যতীত। তারা প্রতিটি 'ফালান' শব্দের ক্ষেত্রে যার স্ত্রীলিঙ্গ 'ফা'লা' ওজনে আসে, সেটিকে 'ফালানা' ওজনেও ব্যবহার করে। যেমন: তারা 'গাদবান' ও 'সাকরান' এর ক্ষেত্রে 'গাদবানা' ও 'সাকরানা' বলে। এমতাবস্থায় তারা 'ফালান-ফা'লা' ওজনকে পরিবর্তনশীল (মুনসারিফ) হিসেবে গণ্য করে। এটি একটি শক্তিশালী প্রমাণ যে, আলিফ ও নুন এর প্রভাবের ক্ষেত্রে 'তা' এর অনুপস্থিতিই প্রধান বিবেচ্য বিষয়, 'ফা'লা' এর উপস্থিতি নয়। এরপর তিনি এমন কিছু শব্দের উদাহরণ দিয়ে তার বক্তব্য প্রমাণ করেন যার স্ত্রীলিঙ্গ 'ফা'লা' ওজনে হয় না, তবুও সেগুলো অপরিবর্তনীয় (মানউ মিনাস সারফ)।

আল-রাজি বলেন: (যদি 'ফা'লা' ওজনের উপস্থিতির উদ্দেশ্য হয় 'তা' এর অনুপস্থিতি নিশ্চিত করা, তবে 'রাহমান' শব্দের ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যটি অর্জিত হয়েছে। এটি 'রাহমা' ওজন বিদ্যমান থাকার কারণে নয়, বরং এজন্য যে তারা এই শব্দটি মহান আল্লাহ তাআলার জন্য সুনির্দিষ্ট করেছেন। ফলে তারা এটি অন্য কারো ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন না এবং এর কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপও তারা তৈরি করেননি— না 'তা' যোগে অর্থাৎ 'ফালানা' ওজনে, আর না মূল রূপের পরিবর্তন ঘটিয়ে অর্থাৎ 'ফা'লা' ওজনে। সুতরাং এটি অবশ্যই অপরিবর্তনীয় হতে হবে)।

আপনি যদি বলেন, আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে 'ফা'লা' এর বিদ্যমান থাকা কেবল 'ফালানা' এর অনুপস্থিতির মাধ্যম হিসেবে চাওয়া হয়েছে; বরং এটি স্বয়ং উদ্দেশ্য। কারণ এর উপস্থিতির মাধ্যমে আলিফ-নুন এবং স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফ (আলিফুত তানিছ) এর মধ্যে একটি সাদৃশ্য তৈরি হয়, যেহেতু এর স্ত্রীলিঙ্গটি মূল রূপের সদৃশ নয়, যেমনটি আলিফুত তানিছ যুক্ত শব্দের পুংলিঙ্গটি তার মূল রূপের সদৃশ নয়। উত্তরে আমি বলব: যদিও এই দিক থেকে একটি সাদৃশ্য তৈরি হয়, তবে এটি সাদৃশ্যের এমন কোনো অপরিহার্য দিক নয় যে এটি ছাড়া আলিফ ও নুন কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। বরং আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, প্রভাব বিস্তারের অপরিহার্য দিক হলো 'ফালানা' ওজনের অনুপস্থিতি। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, 'মারওয়ান' ও 'উসমান' শব্দ দুটি 'ফা'লা' ওজন ছাড়াই কেবল 'তা' এর অনুপস্থিতির কারণে অপরিবর্তনীয় হয়েছে? — আল-রাজির বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত।

ইমাম বদরুদ্দীন মুহাম্মদ আল-যাররাকাশি তার 'আত-তানবিহ আস-সালিছ' (তৃতীয় সতর্কতা) অধ্যায়ে 'রাহমান' শব্দ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: যদি শব্দটিকে আলিফ-লাম থেকে মুক্ত করা হয়, তবে অতিরিক্ত বর্ণমালার কারণে এটি অপরিবর্তনীয় হবে।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন, ২য় খণ্ড, পৃ. ৫০৯, তৃতীয় সতর্কতা।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১৯)
الألف والنون في آخره مع العلمية أو الصفة.

وأورد الزمخشري1 بأنه لا يمنع (فعلان) صفة من الصرف إلا إذا كان مؤنثه على (فعلى) كغضبان وغضبى وما لم يكن مؤنثه على (فعلى) ينصرف كندمان وندمانة وتبعه2 ابن عساكر بأن رحمن، وإن لم يكن له مؤنث على فعلى فليس له مؤنث على فعلانة لأنه اسم مختص بالله تعالى فلا مؤنث له من لفظه. فإذا عدم ذلك رجع فيه إلى القياس وكل ألف ونون زائدتين فهما محمولتان على منع الصرف.

قال الجويني وهذا فيه ضعف في الظاهر وإن كان حسنا في الحقيقة لأنه إذا لم يشبه غضبان ولم يشبه ندمان من جهة التأنيث فلماذا ترك صرفه مع أن أصل الصرف كان ينبغي أن يقال ليس هو كغضبان فلا يكون غير منصرف ولا يصح أن يقال هو كندمان فلا يكون منصرفا لأن الصرف ليس بالشبه إنما هو بالأصل وعدم الصرف بالشبه ولم يوجد ولعل تقدير ابن عساكر السابق يؤيد إنكار ابن مالك على ابن الحاجب تمثيله ب ((رحمن)) .

لزيادة الألف والنون مع منع الصرف وقال لم يمثل به غيره ولا ينبغي التمثيل به فإنه اسم علم بأغلبه لله مختص به وما كان كذلك لك يجرد من (أل) 3 ولم يسمع مجردا من (أل) إلا في النداء قليلا مثل (يا رحمن الدنيا ورحيم الآخرة) .

وقد أنكر الزمخشري4 على شاعر اليمامة قوله:

سموتَ بالمجدِ بابنِ الأكرمين أباَ … وأنتَ غيثُ الوَرَى لازلتَ رَحْمانَا

--------------------------------------------

1 انظر الكشاف للزمخرشي ج 1 ص 6.

2 انظر التكميل والإفهام لابن عساكر.

3 والذي يدل على أن العرب كانت تعرف هذا الاسم قوله تعالى: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيّاً مَا تَدْعُوا فَلَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} وقوله: {الْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ لِلرَّحْمَن} .

وقوله: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اسْجُدُوا لِلرَّحْمَنِ قَالُوا وَمَا الرَّحْمَنُ} فجهلوا الصفة دون الموصوف ولذلك لم يقولوا ومن الرحمن.

انظر البرهان ج 2 ص 503 ويقول أبو حيان في البحر المحيط ج 1 ص 17 الرحمن فعلان من الرحمة واصل بنائه من اللازم من المبالغة وشذ من المتعد (وال) فيه للغلبة كهي في الصعق فهو وصف لم يستعمل في غير الله كما لم يستعمل اسمه في غيره وسمعنا مناقبة قالوا: رحمن الدنيا والآخرة، ووصف غير الله من تعنت الملحدين، وإذا قلت الله رحمان ففي صرفه قولان يسند أحدهما إلى أصل عام وهو أن أصل الاسم الصرف، والآخر إلى خاص وهو أن أصل (فعلان) المنع لغلبته فيه. ومن غريب ما قيل فيه أنه أعجمي بالخاء المعجمة فعرب بالحاء قاله ثعلب وذهب إلا علم وابن الطراوة وغيرهم إلى أنه اسم علم مشتق من المتعدي كما اشتقوا الدبران من دبر صيغ للعلمية ويدل على علميته وروده غير تابع لاسم قبله في أكثر الكلام فعلى قول هؤلاء يكون الرحمن بدلا من اسم الله.

4 مشاهد الإنصاف على شواهد الكشاف ج 1 ص 5.
শেষে আলিফ ও নুন থাকা এবং তা নির্দিষ্ট নাম বা গুণবাচক হওয়া সম্পর্কে।

যামাখশারী উল্লেখ করেছেন যে, 'ফালান' (فعلان) রূপের কোনো গুণবাচক শব্দ কেবল তখনই অপরিবর্তনীয় (মামনু মিনাস সারফ) হবে যদি তার স্ত্রীলিঙ্গ রূপটি 'ফা'লা' (فعلى) ওজনে হয়, যেমন- গাদবান এবং তার স্ত্রীলিঙ্গ গাদবা। আর যার স্ত্রীলিঙ্গ রূপ 'ফা'লা' ওজনে নয় তা পরিবর্তনীয় (মুনসারিফ) হবে, যেমন- নাদমান এবং তার স্ত্রীলিঙ্গ নাদমানা। ইবনে আসাকির তাকে অনুসরণ করে বলেছেন যে, 'রাহমান' শব্দের যদিও 'ফা'লা' ওজনে কোনো স্ত্রীলিঙ্গ নেই, তবুও এর 'ফালানা' ওজনেও কোনো স্ত্রীলিঙ্গ নেই; কারণ এটি মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট একটি নাম, তাই এর নিজ শব্দ থেকে কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপ নেই। যখন এই বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে, তখন মূল নিয়মের (কিয়াস) দিকে ফিরে যেতে হয়; আর প্রতিটি অতিরিক্ত আলিফ ও নুন যুক্ত শব্দকে অপরিবর্তনীয় হওয়ার বিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

জুয়াইনী বলেছেন যে, বাহ্যিকভাবে এতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে, যদিও বাস্তবে এটি চমৎকার। কারণ, এটি যদি স্ত্রীলিঙ্গের দিক থেকে গাদবানের সদৃশ না হয় এবং নাদমানেরও সদৃশ না হয়, তবে কেন এর পরিবর্তনশীলতাকে ত্যাগ করা হলো? অথচ শব্দের মূল অবস্থা হলো পরিবর্তনীয় হওয়া। এমতাবস্থায় বলা উচিত ছিল যে, এটি গাদবানের মতো নয় তাই এটি অপরিবর্তনীয় হবে না; আবার এটি বলাও সঠিক নয় যে এটি নাদমানের মতো তাই এটি পরিবর্তনীয় হবে। কারণ পরিবর্তনীয় হওয়া সাদৃশ্যের কারণে নয় বরং মূল নিয়মের কারণে, আর অপরিবর্তনীয় হওয়া সাদৃশ্যের কারণে যা এখানে পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ইবনে আসাকিরের পূর্বোক্ত বিশ্লেষণটি ইবনে হাজিবের প্রতি ইবনে মালিকের সেই আপত্তির সমর্থন করে, যেখানে ইবনে হাজিব অপরিবর্তনীয় আলিফ ও নুন যুক্ত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে 'রাহমান' শব্দটিকে ব্যবহার করেছিলেন।

অতিরিক্ত আলিফ ও নুন থাকার সাথে অপরিবর্তনীয় হওয়ার উদাহরণ প্রসঙ্গে ইবনে মালিক বলেছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ একে উদাহরণ হিসেবে পেশ করেননি এবং একে উদাহরণ হিসেবে পেশ করা উচিতও নয়। কেননা এটি আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট একটি নাম হিসেবেই অধিক পরিচিত। আর যা এমন হয়, তাকে আলিফ-লাম (আল) মুক্ত করা যায় না। আর এটি আহ্বান (নিদা) ছাড়া অন্য কোথাও আলিফ-লাম মুক্ত ব্যবহৃত হওয়া শোনা যায়নি, যেমন বিরল ক্ষেত্রে বলা হয় (হে দুনিয়ার রহমান এবং আখিরাতের রহীম)।

যামাখশারী ইয়ামামার কবির নিম্নোক্ত উক্তির কঠোর সমালোচনা করেছেন:

তুমি শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে সর্বশ্রেষ্ঠদের সন্তানের পিতার ন্যায় উচ্চমর্যাদায় আরোহণ করেছ … আর তুমি সৃষ্টির জন্য বৃষ্টিস্বরূপ, তুমি সর্বদা রহমান হিসেবেই থাকো।

--------------------------------------------

১. যামাখশারীর আল-কাশশাফ, ১ম খণ্ড, ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠা দেখুন।

২. ইবনে আসাকিরের আত-তাকমিল ওয়াল ইফহাম দেখুন।

৩. আরবরা যে এই নামটি চিনত তার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো, যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই রয়েছে সব সুন্দর নাম} এবং তাঁর বাণী: {সেদিন সত্য রাজত্ব হবে পরম দয়ালু রহমানের}।

এবং তাঁর বাণী: {আর যখন তাদের বলা হয় রহমানকে সিজদা করো, তারা বলে রহমান আবার কী?} তারা গুণটি সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল, গুণী (যাঁর গুণ) সম্পর্কে নয়, তাই তারা বলেনি যে রহমান কে (বরং বলেছে রহমান কী)।

আল-বুরহান, ২য় খণ্ড, ৫০৩ পৃষ্ঠা দেখুন। আবু হাইয়্যান আল-বাহরুল মুহিত-এ (১ম খণ্ড, ১৭ পৃষ্ঠা) বলেন: রহমান শব্দটি রহমত ধাতু থেকে 'ফালান' ওজনে এসেছে, এর মূল গঠন আধিক্য বুঝানোর জন্য অকর্মক ক্রিয়া থেকে গঠিত হয়েছে, আর সকর্মক থেকে আসাটা বিরল। এতে আলিফ-লাম যুক্ত হওয়াটা এই শব্দের প্রাধান্যের কারণে, যেমনটি 'আস-সায়িক' শব্দের ক্ষেত্রে হয়। সুতরাং এটি এমন একটি গুণ যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য ব্যবহৃত হয়নি, যেমন তাঁর নামও অন্য কারও জন্য ব্যবহৃত হয় না। আমরা তাঁর প্রশংসা সম্পর্কে শুনেছি তারা বলত: দুনিয়া ও আখিরাতের রহমান। আল্লাহ ছাড়া অন্যকে রহমান হিসেবে বিশেষায়িত করা নাস্তিকদের হঠকারিতার অন্তর্ভুক্ত। যখন আপনি বলবেন 'আল্লাহু রহমান', তখন এর পরিবর্তনশীলতা নিয়ে দুটি মত রয়েছে। একটি মতকে সাধারণ মূলনীতির দিকে সম্বন্ধ করা হয়, আর তা হলো শব্দের মূল ভিত্তি হলো পরিবর্তনীয় হওয়া। অপরটি বিশেষ নীতির দিকে, আর তা হলো 'ফালান' ওজনটি এর প্রাধান্যের কারণে অপরিবর্তনীয় হওয়া। এই শব্দের ব্যাপারে একটি অদ্ভুত কথা বলা হয়েছে যে, এটি আজমি (অনারব) শব্দ যা 'খা' বর্ণ দিয়ে ছিল, পরে 'হা' বর্ণ দিয়ে একে আরবি করা হয়েছে; এটি সালাব বলেছেন। আর আলাম, ইবনুত তারওয়াহ এবং অন্যান্যরা মনে করেন যে, এটি একটি নাম (আলম) যা সকর্মক ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন, যেমন তারা 'দাবরান' শব্দটিকে 'দাবারা' থেকে নাম হিসেবে গঠন করেছে। এটি নাম হওয়ার প্রমাণ হলো অধিকাংশ কথাবার্তায় এটি পূর্ববর্তী কোনো নামের অনুগামী না হয়ে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহৃত হওয়া। সুতরাং তাদের মতে, 'আর-রহমান' শব্দটি আল্লাহর নামের বদল (পরিবর্তিত রূপ) হবে।

৪. মুশাহাদাতুল ইনসাফ আলা শাওয়াহিদিল কাশশাফ, ১ম খণ্ড, ৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ৩৯) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২০)
وأجاب ابن مالك بأن الشاعر أراد (لازلت ذا رحمة) ولم يرد الاسم المستعمل بالغلبة وحينئذ يستعملونه مضافا ومنكرا وقد أنكر على الشاطبي قوله في أول أرجوزته المعروفة في القراءات والمسماة حرز الأماني ووجه التهاني.

بدأت ببسم الله في النظم أولا … تبارك رحمانا رحيما وموئلا

لأنه أراد الاسم المستعمل بالغلبة وكان ينبغي عليه أن يعرفه بالألف واللام، ولما كان الرحمن علما لا صفة كما يقول:

الأعلم وابن مالك وصف بقوله في البسملة (الرحمن الرحيم) وليس الرحيم مرادفا للرحمن1 فالرحمن كالعلم لا يوصف به إلا الله تعالى فلهذا قدم، لأن حكم الأعلام وغيرها من المعارف أن يبدأ بها ثم يتبع الأنكر أي الأقل في الصفة وما كان في التعريف أنقص.

وهذا مذهب سيبويه وغيره من النحويين فجاء هذا على منهاج كلام العرب ومثل (رحمان) ، (لحيان) 2 لكبير اللحية وفيه الخلاف المذكور والصحيح منع صرفه أيضا، لأنه وإن لم يكن له (فعلى) وجودا فله (فَعْلى) تقديرا لأنا لو فرضنا له مؤنثا لكان (فعلى) أولى به من (فَعْلانةُ) لأن باب فَعْلان فَعْلى أوسع من باب فعلان فعلانة فالأولى أن يحمل على أوسع البابين انتشارا عند العرب، والتقدير في حكم الوجود بدليل الإجماع على منع أكمر3 وآدر4 مع أنه لا مؤنث له ولو فرض له مؤنث لأمكن أن يكون كمؤنث أرمل وأن يكون كمؤنث أحمر لكن حمله على أحمر أولى لكثرة نظائره.

ويقول أبو حيان الصحيح فيه الصرف لأنا جهلنا فيه النقل عن العرب والأصل في الاسم الصرف فوجب العمل به فهذه المسألة مما تعارض فيها الأصل والغالب.

(وللحديث بقية)

--------------------------------------------

1 قال الإمام محمد عبده في تفسيره لسورة الفاتحة وقد ميز بين صيغتي الرحمن الرحيم فعنده أن الرحمن من يكثر من الأفعال الرحيمة فهي صيغة مبالغة، والرحيم من طبيعته الرحمة فالرحيم كسائر ما نسميه في الصرف صفة مشبهة تدل على الطبيعة الملازمة لصاحبها.

2 انظر شرح الأشموني ج 3 ص 174، وما لا ينصرف للزجاج ص 35، 36.

3 الأكمر وصف على أفعل لا مؤنث له يقال لكبير الحشقة.

4 الآدر وصف على أفعل لا مؤنث له يقال لكبير الخصيتين.

انظر البحر المحيط ج 1 ص 7.
ইবনে মালিক উত্তর দিয়েছেন যে, কবি বুঝাতে চেয়েছেন "আপনি সর্বদা দয়ার অধিকারী থাকুন" এবং তিনি সেই নামটি বুঝাতে চাননি যা ব্যবহারের আধিক্যের কারণে নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় তারা একে 'মুদাফ' (সংযুক্ত) এবং 'নাকিরাহ' (অনির্দিষ্ট) হিসেবে ব্যবহার করেন। শাত্বিবীর ক্বিরাআত শাস্ত্রের বিখ্যাত কবিতা 'হির্জুল আমানি ওয়া ওয়াজহুত তাহানি'-এর শুরুতে তার বক্তব্যের উপর আপত্তি তোলা হয়েছে।

আমি শুরুতে কাব্যের মধ্যে আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি... তিনি বরকতময় অত্যন্ত দয়ালু, পরম দয়ালু এবং আশ্রয়স্থল হিসেবে।

কেননা তিনি সেই নামটি উদ্দেশ্য করেছেন যা প্রধানত ব্যবহৃত হয়, অথচ তার উচিত ছিল একে আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট করা। আর যেহেতু 'আর-রহমান' একটি নাম (আলম), গুণবাচক শব্দ (সিফাত) নয়—যেমনটি বলেন:

আল-আ'লাম এবং ইবনে মালিক। বিসমিল্লাহ-তে "আর-রহমান আর-রহিম" দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছে, তবে 'আর-রহিম' শব্দটি 'আর-রহমান' এর সমার্থক নয় ১। কেননা 'আর-রহমান' একটি নির্দিষ্ট নামের মতো, যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কারো জন্য বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। এই কারণেই একে আগে আনা হয়েছে, কারণ নির্দিষ্ট নাম এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট বিশেষ্যসমূহের বিধান হলো সেগুলো প্রথমে আসবে এবং এরপর অপেক্ষাকৃত কম নির্দিষ্ট অর্থাৎ গুণাগুণের দিক থেকে কম বা নির্দিষ্টকরণের ক্ষেত্রে অপূর্ণ শব্দগুলো আসবে।

এটি সিবওয়াইহ এবং অন্যান্য ব্যাকরণবিদদের মতাদর্শ। সুতরাং এটি আরবদের বাকপদ্ধতি অনুযায়ী এসেছে। 'রহমান' এর দৃষ্টান্ত হলো 'লিহয়ান' ২—যা লম্বা দাড়িওয়ালা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এতে উল্লিখিত মতভেদ রয়েছে এবং সঠিক মত হলো এটিকেও অপরিবর্তনশীল (গাইরে মুনসারিফ) রাখা। কারণ যদিও বাস্তবে এর কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপ নেই, তবুও ব্যাকরণগত অনুমানে এর স্ত্রীলিঙ্গ রূপ বিদ্যমান। কারণ আমরা যদি এর কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপ কল্পনা করি, তবে তা 'ফালানা' এর তুলনায় 'ফা'লা' হওয়াই বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। কারণ 'ফালান-ফা'লা' পরিচ্ছেদটি 'ফালান-ফালানা' পরিচ্ছেদের তুলনায় অধিক বিস্তৃত। সুতরাং আরবদের কাছে অধিক প্রচলিত পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত করাই উত্তম। আর অনুমিত রূপটি অস্তিত্বের বিধানভুক্ত হওয়ার প্রমাণ হলো 'আকমর' ৩ এবং 'আদার' ৪ শব্দ দুটিকে অপরিবর্তনশীল রাখার ব্যাপারে ঐকমত্য, যদিও এদের কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপ নেই। যদি এদের কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপ কল্পনা করা হতো, তবে তা 'আরমাল' এর স্ত্রীলিঙ্গ অথবা 'আহমার' এর স্ত্রীলিঙ্গের মতো হতে পারতো, কিন্তু সদৃশ উদাহরণ বেশি হওয়ার কারণে একে 'আহমার' এর ওজনে ধরাই অধিক শ্রেয়।

আবু হাইয়ান বলেন, এক্ষেত্রে সঠিক হলো একে পরিবর্তনশীল (মুনসারিফ) রাখা, কারণ আরবদের থেকে এক্ষেত্রে কোনো ভিন্ন বর্ণনা আমাদের জানা নেই। আর বিশেষ্যের মূল বৈশিষ্ট্য হলো পরিবর্তনশীল হওয়া, তাই এর ওপর আমল করা আবশ্যক। সুতরাং এটি এমন একটি মাসআলা যেখানে মূলনীতি এবং প্রচলিত রীতির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

(আলোচনা অবশিষ্টাংশ পরে আসবে)

--------------------------------------------

১ ইমাম মুহাম্মদ আবদুহ সূরা ফাতিহার তাফসীরে 'আর-রহমান' ও 'আর-রহিম' শব্দ দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তার মতে, 'আর-রহমান' হলেন তিনি যিনি অনেক বেশি দয়া প্রদর্শন করেন, এটি একটি আতিশয্যবোধক রূপ। আর 'আর-রহিম' হলেন তিনি যার প্রকৃতিই হলো দয়া করা। সুতরাং 'আর-রহিম' ব্যাকরণগতভাবে গুণবাচক বিশেষণের মতো, যা কর্তার সাথে অবিচ্ছেদ্য গুণকে নির্দেশ করে।

২ দ্রষ্টব্য: শারহুল আশমুনি, ৩য় খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠা; এবং আয-যাজ্জাজ প্রণীত 'মা লা ইয়ানসারিফ', ৩৫, ৩৬ পৃষ্ঠা।

৩ 'আকমর' হলো 'আফ'আল' ওজনে একটি বিশেষণ যার কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপ নেই। এটি লিঙ্গমুণ্ডের বিশালতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।

৪ 'আদার' হলো 'আফ'আল' ওজনে একটি বিশেষণ যার কোনো স্ত্রীলিঙ্গ রূপ নেই। এটি অণ্ডকোষের বিশালতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়।

দ্রষ্টব্য: আল-বাহরুল মুহিত, ১ম খণ্ড, ৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
صيغة فعلان واستعمالاتها في اللغة العربية   (مصطفى أحمد النماس)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: صيغة فعلان واستعمالاتها في اللغة العربية

المؤلف: مصطفى أحمد النماس

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আরবি ভাষায় ফালান রূপ এবং এর ব্যবহারসমূহ   (মুস্তফা আহমাদ আন-নামমাস)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: আরবি ভাষায় ফালান রূপ এবং এর ব্যবহারসমূহ

লেখক: মুস্তফা আহমাদ আন-নামমাস

প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ, এবং খণ্ড নম্বর হলো সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৪০) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪০)
صيغة فعلان واستعمالاتها في اللغة العربية

لفضيلة الدكتور مصطفى أحمد النماس

‌‌فعلان في باب التصغير

_ 2 _

ما ختم بالألف والنون الزائدتين مثلث الفاء سواء تحركت عينه أم سكنت يأخذ أحكاما عند التصغير، وهاأنذا أفصلها لك تبعا لنوعية كل صيغة كالتالي: 1

1 _ ما ختم بألف ونون زائدتين إذا كان علما مرتجلا لا تقلب ألفه ياء عند التصغير تقول في تصغير مروان، عثمان، عمران، وغَطَفان وسَلمان، مريان وعثيمان، وعُميران، وغطيفان، وسليمان فلوحظ أنك فتحت ما بعد ياء التصغير ولم تقلب الألف ياء وذلك لأن علماء الصرف شبهوا ما فيه ألف ونون زائدتان بما فيه ألف التأنيث الممدودة مثل حمراء يقول الرضي2:

وليس كل ألف ونون زائدتين تشبهان بألف التأنيث الممدودة فيمتنع قلب ألفه في التصغير ياء فإذا أردت تمييز ما يقلب ألفه ياء مما لا يقلب فاعلم أنهما أي الألف والنون المزيدتان إذا كانتا في علم مرتجل نحو: عثمان، وعمران

--------------------------------------------

1 العلم المرتجل: ما وضع من أول أمره ولم يستعمل قبل ذلك في غير العلمية ومثاله الأعلام التي اخترعها العرب لمسميات عندهم مثل سعاد علم امرأة، وادد علم رجل، وعمران، وغطفان ومروان.. الخ.

2 انظر شرح الشافية ج1 ص196، ص197.
আরবি ভাষায় ‘ফালান’ রূপকাঠামো এবং এর ব্যবহারবিধি

ডক্টর মুস্তাফা আহমাদ আন-নামমাস

‌‌তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপান্তর অধ্যায়ে ‘ফালান’

_ ২ _

অতিরিক্ত আলিফ ও নুন দ্বারা সমাপ্ত শব্দের প্রথম বর্ণে (ফা-কালিমা) যদি তিন হরকতের যেকোনোটি (যবর, যের, পেশ) থাকে, চাই তার দ্বিতীয় বর্ণ (আইন-কালিমা) হরকতযুক্ত হোক কিংবা সাকিন—তা তাসগিরের সময় নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম গ্রহণ করে। প্রতিটি রূপকাঠামোর ধরন অনুযায়ী আমি নিচে আপনার জন্য তা বিস্তারিত বর্ণনা করছি: ১

১ _ অতিরিক্ত আলিফ ও নুন দ্বারা সমাপ্ত শব্দটি যদি ‘আলম মুরতাজাল’ (মৌলিক বিশেষ্য) হয়, তবে তাসগিরের সময় এর আলিফটি ‘ইয়া’ বর্ণে রূপান্তরিত হবে না। যেমন—মারওয়ান, উসমান, উমরান, গাতফান এবং সালমানের তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হিসেবে আপনি বলবেন—মুরাইয়ান, উসাইমান, উমাইরান, গুতাফিয়ান এবং সুলাইমান। এখানে লক্ষ্যণীয় যে, আপনি তাসগিরের ‘ইয়া’ বর্ণের পরবর্তী বর্ণে ফাতহাহ (যবর) দিয়েছেন এবং আলিফটিকে ‘ইয়া’ বর্ণে রূপান্তর করেননি। এর কারণ হলো, সরফবিদ বা রূপতত্ত্ববিদগণ অতিরিক্ত আলিফ ও নুন সম্বলিত শব্দকে ‘আলিফে তানিছ মামদুদা’ (যেমন—হামরা) যুক্ত শব্দের সদৃশ গণ্য করেছেন। আল-রাজি বলেন (২):

সব অতিরিক্ত আলিফ ও নুন ‘আলিফে তানিছ মামদুদা’র সদৃশ নয় যে তাসগিরের সময় এর আলিফকে ‘ইয়া’ বর্ণে রূপান্তর করা নিষিদ্ধ হবে। সুতরাং, যে আলিফটি ‘ইয়া’ বর্ণে রূপান্তরিত হয় আর যেটি হয় না—তাদের মধ্যে যদি আপনি পার্থক্য করতে চান, তবে জেনে রাখুন: এই অতিরিক্ত আলিফ ও নুন যদি ‘আলম মুরতাজাল’ বা মৌলিক বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন—উসমান ও উমরান...

--------------------------------------------

১. আলম মুরতাজাল: সেই বিশেষ্য যা তার সূচনালগ্ন থেকেই নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নাম হিসেবে ব্যবহারের পূর্বে অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, আরবরা তাদের পরিচিত বিভিন্ন বিষয়ের জন্য যে নামগুলো উদ্ভাবন করেছিল, যেমন—সুয়াদ (নারীর নাম), আদাদ (পুরুষের নাম), উমরান, গাতফান, মারওয়ান ইত্যাদি।

২. দ্রষ্টব্য: শারহুশ শাফিয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৬-১৯৭।
(খণ্ড: ৪০) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪১)
وسعدان وغطفان وسلمان ومروان شابهت الألف والنون ألف التأنيث في عدم القلب، لأن تاء التأنيث لا تلحقها لا قبل العلمية ولا معها أما قبلها فلفرض ارتجالها، وأما معها فلأن العلمية مانعة، وأما عثمان في فرخ الحبارى على ما قيل وسعدان في نبت فتصغيرها عثيمين، وسعيدين بقلب الألف ياء لأنهما جنس وليسا أصلين لسعدان وعثمان علمين بل اتفق العلم المرتجل واسم الجنس.

العلم المنقول:1 وأما العلم المنقول فحكمه حكم ما نقل عنه فإن نقل عن صفة فلا يكسر ما بعد ياء التصغير وبالتالي تبقى الألف نحو سكران مسمى به نقول في تصغيره سكيران وإن نقل عن اسم جنس فيكسر ما بعد ياء التصغير وتقلب الألف ياء تقول في تصغير سلطان مسمى به: سليطين. وكذلك إذا سميت إنسانا بِسِرْحان تقول فيه سريحين.

(2) وأما فعلان إذا كان صفة فلا تقلب ألفه ياء عند التصغير وتبعا لذلك يفتح ما بعد ياء التصغير سواء كان مؤنثها خاليا من التاء وهو الأصل أو بالتاء حملا على الصفات التي تمنع من الصرف نقول في نحو سكران سكيران، وجوعان جويعان وعريان عريّان، وندمان نديمان، وقطوان2 قطيان.

يقول صاحب شذا العرف3: وتحقيق تصغير ما ختم بألف ونون أن يقال: لا تقلب الألف ياء فيما يأتي:

أولا: الصفات مطلقا أي سواء كان مؤنثها خاليا من التاء أو بالتاء.

ويقول الرضيُ 4: "ومثل العلم المرتجل الصفة المنتهية بالألف والنون

--------------------------------------------

1 انظر شذا العرف في فن الصرف للأستاذ الشيخ الحملاوي ص120 والمراد بالعلم المنقول أحد شيئين: أما العلم الذي لم يستعمل لفظه أول الأمر علما مطلقا وإنما استعمل في شيء غير العلمية، ثم نقل بعده إلى العلمية إذا سمينا إنسانا: عريان فمثل هذا كان صفة في أول الأمر يؤدي معنى آخر ثم نقل وأصبح علما لفرد في نوع ثم صار علما لفرد في نوع آخر شخص معين، وأما العلم المنقول الذي استعمل أول مرة يخالف الأول مثل سعاد علم امرأة إذا نقل واستعمل علم قرية لا علم امرأة ومثل غطفان إذا استعمل علما على حي من أحياء العرب مثلا..

2 القطوان البطيء.

3 انظر شذ العرف ص120.

4 انظر الشافية ج1 ص196.
সা'দান, গাতাফান, সালমান এবং মারওয়ান—এগুলোর আলিফ ও নুন পরিবর্তনের অনুপস্থিতিতে আলিফে তানিছ (স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফ)-এর সদৃশ। কারণ তানিছ-এর 'তা' এগুলোর সাথে যুক্ত হয় না, নাম হিসেবে ব্যবহারের পূর্বেও না, পরেও না। পূর্বে না হওয়ার কারণ হলো এগুলো মৌলিকভাবে নাম হিসেবেই গঠিত (মুর্তাজাল)। আর সাথে না হওয়ার কারণ হলো এগুলোর নামবাচকতা (আলামিয়াত) 'তা' যুক্ত হতে বাধা প্রদান করে। তবে হুবরা পাখির বাচ্চার ক্ষেত্রে 'উসমান' (যেমনটি বলা হয়েছে) এবং লতাপাতার ক্ষেত্রে 'সা'দান'-এর তাসগির (ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ) হলো 'উসাইমিন' এবং 'সুয়াইদিন'। এখানে আলিফটি 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়েছে কারণ এগুলো জাতিবাচক বিশেষ্য (ইসমুল জিনস) এবং এগুলো 'সা'দান' ও 'উসমান' নামক মৌলিক নাম দুটির উৎস নয়; বরং মৌলিক নাম ও জাতিবাচক বিশেষ্যটির শব্দগত মিল ঘটেছে মাত্র।

স্থানান্তরিত নাম: ১ আর স্থানান্তরিত নামের বিধান হলো যে শব্দ থেকে এটি স্থানান্তরিত হয়েছে তার অনুরূপ। যদি কোনো গুণবাচক শব্দ (সিফাত) থেকে নাম নেওয়া হয়, তবে তাসগিরের 'ইয়া'-এর পরবর্তী অক্ষরে কাসরা (জের) হবে না, ফলে আলিফটি অপরিবর্তিত থাকবে। যেমন 'সাকরান' কারো নাম রাখা হলে তার তাসগিরের ক্ষেত্রে আমরা বলব 'সুকাইরান'। আর যদি কোনো জাতিবাচক বিশেষ্য থেকে নাম নেওয়া হয়, তবে তাসগিরের 'ইয়া'-এর পরবর্তী অক্ষরে কাসরা হবে এবং আলিফটি 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হবে। যেমন 'সুলতান' কারো নাম রাখা হলে তার তাসগিরের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: 'সুলাইতিন'। একইভাবে যদি কোনো ব্যক্তির নাম 'সিরহান' রাখা হয়, তবে আপনি তার ক্ষেত্রে বলবেন 'সুরাইহিন'।

(২) আর 'ফালান' ওজনে যদি কোনো গুণবাচক শব্দ (সিফাত) থাকে, তবে তাসগিরের সময় তার আলিফ 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হবে না। এর অনুগামী হিসেবে তাসগিরের 'ইয়া'-এর পরবর্তী অক্ষরে ফাতহা (জবর) হবে; চাই তার স্ত্রীলিঙ্গবাচক রূপটি 'তা' মুক্ত হোক—যা মূল নিয়ম—অথবা 'তা' যুক্ত হোক; যা ঐ সকল গুণবাচক শব্দের অনুকরণে করা হয় যেগুলো রূপান্তরযোগ্য নয় (গায়রে মুনসারিফ)। আমরা 'সাকরান'-এর ক্ষেত্রে 'সুকাইরান', 'জাওয়ান'-এর ক্ষেত্রে 'জুওয়াইয়ান', 'আরইয়ান'-এর ক্ষেত্রে 'উরাইইয়ান', 'নাদমান'-এর ক্ষেত্রে 'নুদাইমান' এবং 'কাতওয়ান' ২ এর ক্ষেত্রে 'কুতাইয়ান' বলি।

শাযা আল-আরফ ৩ গ্রন্থের লেখক বলেন: আলিফ ও নুন দ্বারা সমাপ্ত শব্দের তাসগিরের প্রকৃত বিশ্লেষণ হলো—নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোতে আলিফ 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হবে না:

প্রথমত: সাধারণভাবে সকল গুণবাচক শব্দ (সিফাত), চাই তার স্ত্রীলিঙ্গবাচক রূপটি 'তা' মুক্ত হোক বা 'তা' যুক্ত হোক।

আর ইমাম রাযী ৪ বলেন: "মৌলিক নামের (আলম মুর্তাজাল) মতোই হলো আলিফ ও নুন দ্বারা সমাপ্ত গুণবাচক শব্দসমূহ।"

--------------------------------------------

১ উস্তাদ শেখ হামলাভী রচিত 'শাযা আল-আরফ ফি ফান্নিস সারফ' পৃষ্ঠা ১২০ দেখুন। স্থানান্তরিত নাম (আলম মানকুল) বলতে দুটি বিষয়ের একটি বোঝায়: হয় এমন নাম যার শব্দ প্রথমে সাধারণভাবে নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়নি, বরং অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অতঃপর তাকে নাম হিসেবে স্থানান্তর করা হয়েছে। যেমন আমরা যদি কারো নাম 'আরইয়ান' রাখি; তবে এটি প্রথমে একটি গুণবাচক শব্দ ছিল যা অন্য অর্থ প্রদান করত, পরে তা স্থানান্তরিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অথবা এমন স্থানান্তরিত নাম যা প্রথম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমটির বিপরীত। যেমন 'সুয়াদ' একজন মহিলার নাম, যদি তাকে স্থানান্তর করে কোনো গ্রামের নাম রাখা হয়। অথবা যেমন 'গাতাফান', যদি এটি কোনো আরব গোত্রের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়...

২ কাতওয়ান অর্থ মন্থর গতিসম্পন্ন।

৩ শাযা আল-আরফ পৃষ্ঠা ১২০ দেখুন।

৪ আশ-শাফিয়া খণ্ড ১ পৃষ্ঠা ১৯৬ দেখুন।
(খণ্ড: ৪০) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪২)
إذا كانت ممتنعة من التاء مثل: جوعان وسكران تشابهانها (أي ما ختم بألف التأنيث الممدودة) بانتفاء التاء فلا تقلب الألف ياء عند التصغير، وكذلك الصفة التي لا تمتنع من التاء كالعريان والندمان والصميان للشجاع والقطوان تشبه بالألف والنون في باب سكران لكونها صفات مثله اهـ" فمن الملحوظ أن الصفات الأخيرة في باب التصغير اتفقت في الحكم وهذا بخلافها في مبحث الممنوع من الصرف1، وإن كان الصبان لم يسو بينهما في الحكم وفرق بين ماله مؤنث بالتاء وبين غيره.

(3) وأما فعلان إذا كان اسم جنس2 فلا يخلو: إما أن تكون ألفه رابعة في اسم جنس على فعلان مثلث الفاء ساكن العين كحومان للنبت. واحده (حومانة) وسلطان وسرحان فإنك تكسر ما بعد ياء التصغير وتقلب الألف ياء تقول في تصغير ما مر: حويمين، وسليطين وسريحين تشبيها لها بزلزال وزليزيل، وقرطاس وقريطيس وسربال وسريبيل.

أما إذا كانت ألفة رابعة في اسم جنس (ليس على فعلان مثلث الفاء ساكن العين) كظربان، وسبعان فإنك لا تكسر ما بعد ياء التصغير وتبعا لذلك تبقى الألف دون قلب تقول في تصغير ما مر: ظريبان وسبيعان.

قال الرضي: "وإن كانتا في الأمم الصريح (أي اسم الجنس) غير العلم لا يشبه ما فيه الألف والنون الزائدتان بالألف والنون في باب سكران مطلقا بل ينظر. هل الألف رابعة أو فوقها؟ فإن كانت رابعة في اسم له نظير مختوم بلام قبلها ألف زائدة قلت الألف في التصغير ياء تشبيها بالألف مثل النظير وذلك في ثلاثة أوزان فقط: فعلال كحومان (بفتح

--------------------------------------------

1 قال ابن مالك: كذاك ما مدة أفعال سبق.. أو مد سكران وما به التحق أي انفتح انحتم للحرف الذي قبل ألف فعلان كسكران وما ألحق به مما هو على وزن فعلان مضموم الفاء أو مفتوحها أو مكسورها مع سكون العين.

2 اسم الجنس هو كل ما يدل على الماهية المجردة أي الحقيقة الذهنية وهو أنواع:

أ _ اسم جنس جمعي وهو ما يفرق بينه وبين واحدة بالتاء أو بالياء مثل نخل ونخلة وروم ورومي.

ب _ اسم جنس إفرادي وهو الذي يصدق على القليل والكثير من الماهية مثل: هواء ماء دم.

ج _ اسم جنس أحادي وهو الذي يدل على الماهية ممثلة في فرد غير معين من أفرادها مثل: أسامة للأسد وسرحان للذئب وحومان لنبت وسعدان لنبت الخ.
যদি তা (تاء) গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে যেমন: জাওয়ান (ক্ষুধার্থ) এবং সাকরান (মাতাল), তবে সেগুলো (অর্থাৎ যা আলিফে তানিছ মামদুদা দ্বারা সমাপ্ত হয়েছে) তা-এর অনুপস্থিতির কারণে তার সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। সুতরাং তাসগির (ক্ষুদ্রার্থকরণ) করার সময় আলিফটিকে ইয়া-তে রূপান্তর করা হবে না। তদ্রূপ ঐ সকল বিশেষণ যা তা (تاء) গ্রহণ থেকে বিরত থাকে না, যেমন: উরইয়ান (উলঙ্গ), নাদমান (অনুতপ্ত/সঙ্গী), সাহসী অর্থে সুমাইয়ান এবং ক্বাতাওয়ান; এগুলোকে সাকরান-এর পরিচ্ছেদে আলিফ ও নুন-এর সাথে সাদৃশ্য দেওয়া হয়, কারণ এগুলো তার মতোই বিশেষণ। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। লক্ষণীয় যে, তাসগির-এর অধ্যায়ে শেষের বিশেষণগুলো হুকুম বা বিধানের ক্ষেত্রে একমত হয়েছে, যা মামনু’ মিনাস সারফ (অব্যয়ী শব্দ) আলোচনার বিপরীত। যদিও সাব্বান উভয়কে বিধানের ক্ষেত্রে সমান করেননি এবং যার স্ত্রীলিঙ্গ তা (تاء) দ্বারা হয় আর যার হয় না, তাদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

(৩) আর 'ফালান' (فعلان) যদি ইসম জিনস (জাতিবাচক বিশেষ্য) হয়, তবে তা দুই অবস্থার বাইরে নয়: হয় তার আলিফটি চতুর্থ বর্ণ হবে এমন ইসম জিনস-এর মধ্যে যা 'ফালান' ওজনে আসে (যার ফা-বর্ণে তিন হারাকাত সম্ভব এবং আইন-বর্ণ সাকিন), যেমন উদ্ভিদের ক্ষেত্রে 'হাওমান'। এর একবচন হলো (হাওমানাহ)। আর যেমন সুলতান এবং সিরহান। এক্ষেত্রে আপনি তাসগির-এর ইয়া-এর পরবর্তী বর্ণে কাসরা (জের) দেবেন এবং আলিফটিকে ইয়া-তে রূপান্তর করবেন। উপরের উদাহরণগুলোর তাসগির-এ আপনি বলবেন: হুওয়াইমিন, সুলাইতিন এবং সুরাইহিন; এগুলোকে জিলজাল ও জিলিজিল, ক্বিরতাস ও ক্বুরাইতিস এবং সিরবাল ও সুরিইবিলের সাথে সাদৃশ্য দেওয়ার কারণে।

কিন্তু যদি আলিফটি ইসম জিনস-এর মধ্যে চতুর্থ বর্ণ হয় (যা ফা-বর্ণে তিন হারাকাত ও আইন-বর্ণে সাকিন বিশিষ্ট 'ফালান' ওজনে নয়), যেমন যারবান এবং সাব’আন, তবে আপনি তাসগির-এর ইয়া-এর পরবর্তী বর্ণে কাসরা দেবেন না এবং এরই অনুকরণে আলিফটি পরিবর্তন ছাড়াই বহাল থাকবে। পূর্বোক্ত শব্দগুলোর তাসগির-এ আপনি বলবেন: জুরাইবান এবং সুবাইআন।

ইমাম রাযী বলেন: “যদি আলিফ ও নুন স্পষ্ট ইসম জিনস-এর মধ্যে হয় যা আলম (সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য) নয়, তবে যে শব্দে অতিরিক্ত আলিফ ও নুন আছে তাকে ঢালাওভাবে সাকরান-এর পরিচ্ছেদের আলিফ ও নুন-এর সাথে সাদৃশ্য দেওয়া হবে না। বরং দেখতে হবে যে, আলিফটি কি চতুর্থ না কি তার উপরে? যদি এমন একটি বিশেষ্যের মধ্যে চতুর্থ বর্ণ হয় যার সদৃশ এমন শব্দ রয়েছে যার শেষে লাম এবং তার পূর্বে অতিরিক্ত আলিফ আছে, তবে তাসগির-এ আলিফটিকে ইয়া-তে রূপান্তর করা হবে সদৃশ শব্দটির আলিফের সাথে তুলনা করে। আর এটি মাত্র তিনটি ওজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: যেমন 'ফিলাল' হিসেবে হাওমান (ফাতহ বা যবর যোগে)

--------------------------------------------

১. ইবনে মালিক বলেন: তদ্রূপ যা আফ’আল (أفعال)-এর মদ্-এর পূর্বে আসে... অথবা সাকরান-এর মদ্ এবং যা এর সাথে যুক্ত। অর্থাৎ 'ফালান' (فعلان)-এর আলিফের পূর্ববর্তী বর্ণে ফাতহা হওয়া আবশ্যক, যেমন সাকরান এবং এর সাথে যা যুক্ত হয়েছে, যা 'ফালান' ওজনে ফা-বর্ণে পেশ, যবর বা জের এবং আইন-বর্ণে সাকিন যোগে গঠিত।

২. ইসম জিনস (জাতিবাচক বিশেষ্য) হলো এমন প্রত্যেক শব্দ যা নিছক সত্তা বা নির্যাসকে বুঝায় অর্থাৎ মানসিক হাকিকত। এটি কয়েক প্রকার:

ক) ইসম জিনস জামঈ (সমষ্টিবাচক): যার এবং যার একবচনের মধ্যে পার্থক্য করা হয় 'তা' (ة) অথবা 'ইয়া' (ي) দ্বারা। যেমন নাখল (খেজুর গাছ) এবং নাখলাহ, রুম এবং রুমি।

খ) ইসম জিনস ইফরাদি: যা সত্তার সামান্য বা অধিক উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। যেমন: বাতাস, পানি, রক্ত।

গ) ইসম জিনস আহাদি: যা সত্তার এমন কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বুঝায় যা তার ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত। যেমন: সিংহের জন্য উসামা, নেকড়ের জন্য সিরহান, উদ্ভিদের জন্য হাওমান এবং সাদআন ইত্যাদি।
(খণ্ড: ৪০) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
الحاء) ، وفعلان كسلطان، وفعلان كسرحان (بكسر السين) فإن نون حومان موقعها اللام في جبار وزلزال وموقع سلطان كلام قرطاس وزنار وطومار، وموقع نون سرحان كلام سربال ومفتاح تقول في الثلاثة حويمين، سليطين، سريحين كزليزيل، وقريطيس ومفيتيح.

وإن لم يكن الاسم مساويا لآخر في زيادة الألف قبل لام تشبه الألف والنون في باب سكران فلا تقلب الألف ياء تقول في ظربان1 ظريبان وفي السبعان2 السبيعان.

وكان قياس نحو ورشان3 وكروان4 أن يكون كظربان إذ لا يقع موقع نونه لام كما لم يقع نون ظربان وسبعان لكن لما جاء على هذا الوزن الصفات كالصميان والقطوان وشبهت ألفها بألف سكران فلم تقلب قصدوا الفرق بينهما فقلبت في الاسم فقيل وريشين وكريوين أو كرتَّين لأن تشبيه الصفة بالصفة أنسب وأولى من تشبيه الاسم لها " (انتهى كلام الرضي) .

وإذا كانت الألف في اسم الجنس خامسة أو في حكم الخامسة وذلك بحذف بعض الأحرف التي قبلها نحو زعفران، وعقربان وأفعوان وصليان (للحية) فلا تقلب الألف ياء إذ لا تقلب تلك الألف ياء إلا رابعة عند التصغير كمفتاح ومصباح تقول فيما مر من أسماء الجنس زعيفران، عقيربان أفيعيان، وصليليان، وفي قرعبلانه (دويبه) تقول: قريعبة.

ملاحظة: إذا ورد ما آخره ألف ونون مزيدتان ولم يعرف هل قلبت العرب ألفه ياء فجمع على فعالين أم لا؟ حمل على باب سكران ولا يقلب لأنه أوسع وأكثر.

--------------------------------------------

1 الظربان: (بفتح فكسر) دابة تشبه القرد على قدر الهر طويلة الخرطوم سوداء الظهر بيضاء البطن منتنة الرائحة تفسو في ثوب أحدهم إذا صادها فلا تذهب الرائحة حتى يبلى الثوب.

2 السبعان: (بفتح فضم) موضع معروف في ديار قيس: قال الشاعر: ألا يا ديار الحي بالسبعان أمل عليها بالبلا الملوان قال في اللسان: ولا يعرف في كلامهم اسم على فعلان بفتح فضم غيره.

3 الورشان: بفتحات طائر يشبه الحمامة والأنثى ورشانة وجمع على ورشان بالكسر ووراشين، والورشان أيضا الجزء الذي يغطيه الجفن الأعلى من بياض المقلة.

4 الكروان: طائر وجمع على كراوين، وكروان بالكسر جمع نادر.
হা অক্ষরযুক্ত শব্দ, এবং 'ফুলান' ওজনে যেমন 'সুলতান', এবং 'ফিলান' ওজনে যেমন 'সিরহান' (সীন বর্ণে কাসরা সহ)। 'হাওমান' শব্দের 'নুন' এর অবস্থান 'জাব্বার' এবং 'যিলযাল' শব্দের 'লাম' অক্ষরের ন্যায়; আর 'সুলতান' শব্দের 'নুন' এর অবস্থান 'কিরতাস', 'যিননার' এবং 'তুউমার' শব্দের 'লাম' অক্ষরের ন্যায়; এবং 'সিরহান' শব্দের 'নুন' এর অবস্থান 'সিরবাল' এবং 'মিফতাহ' শব্দের 'লাম' অক্ষরের ন্যায়। এই তিনটির ক্ষুদ্রার্থে (তাসগীর) আপনি বলবেন— 'হুওয়াইমীন', 'সুলাইতীন', 'সুরাইহীন', যেমন 'যুল্যায়যীল', 'কুরাইতীয়স' এবং 'মুফাইতীহ'।

যদি বিশেষ্যটি অন্য কোনো শব্দের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হয় যেখানে 'লাম' অক্ষরের আগে অতিরিক্ত 'আলিফ' থাকে— যা 'সাকরান' অধ্যায়ের 'আলিফ' ও 'নুন' এর সদৃশ— তবে সেই 'আলিফ' 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হবে না। যেমন আপনি 'যারিবান' ১ এর ক্ষুদ্রার্থে বলবেন 'যুরাইবান' এবং 'সাবউয়ান' ২ এর ক্ষেত্রে বলবেন 'সুবাইউয়ান'।

'ওয়ারশান' ৩ এবং 'কারাওয়ান' ৪ এর কিয়াস বা নিয়ম অনুযায়ী 'যারিবান'-এর মতো হওয়া উচিত ছিল, কারণ এগুলোর 'নুন' 'লাম' অক্ষরের স্থলাভিষিক্ত নয়, যেমন 'যারিবান' ও 'সাবউয়ান'-এর নুনও নয়। কিন্তু যখন এই ওজনে গুণবাচক শব্দ আসলো, যেমন 'সামাইয়ান' এবং 'কাতাওয়ান', এবং এগুলোর 'আলিফ' 'সাকরান' এর 'আলিফ'-এর সাথে সদৃশ হলো বিধায় তা রূপান্তরিত হয়নি, তখন তারা (আরবগণ) এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করার ইচ্ছা করলেন। ফলে বিশেষ্য পদের ক্ষেত্রে তা রূপান্তরিত হলো। তাই বলা হয়— 'ওয়ারাইশীন' এবং 'কুরাইওয়ীন' অথবা 'কুরাইতাইন'; কারণ গুণবাচক শব্দকে গুণবাচক শব্দের সাথে তুলনা করা বিশেষ্যের সাথে তুলনা করার চেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ও উত্তম।" (রাদীর বক্তব্য সমাপ্ত)।

যখন জাতিবাচক বিশেষ্যে 'আলিফ' পঞ্চম স্থানে থাকে অথবা এর আগের কিছু অক্ষর বিলুপ্ত হওয়ার কারণে পঞ্চমটির স্থলাভিষিক্ত হয়— যেমন 'যাফরান', 'আকরাবান', 'উফউওয়ান' এবং 'সুলইয়ান' (সর্প বিশেষ)— তখন সেই 'আলিফ' 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হবে না। কারণ ক্ষুদ্রার্থ প্রকাশের সময় সেই 'আলিফ' চতুর্থ স্থানে না থাকলে 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয় না, যেমন 'মিফতাহ' এবং 'মিসবাহ' শব্দের ক্ষেত্রে হয়। উল্লেখিত জাতিবাচক নামগুলোতে আপনি বলবেন— 'যুআইফিরান', 'উয়াকাইরিবান', 'উফাইয়িয়ান' এবং 'সুলাইলিয়ান'। আর 'কারআবলানাহ' (একটি ক্ষুদ্র প্রাণী) এর ক্ষেত্রে বলবেন: 'কুরাইইবাহ'।

দ্রষ্টব্য: যদি এমন শব্দ পাওয়া যায় যার শেষে অতিরিক্ত 'আলিফ' ও 'নুন' রয়েছে কিন্তু এটি জানা নেই যে আরবগণ এর 'আলিফ'কে 'ইয়া' তে রূপান্তর করে 'ফায়া-লীন' ওজনে বহুবচন করেছেন কি না, তবে একে 'সাকরান' এর নিয়মে গণ্য করা হবে এবং এটি রূপান্তরিত হবে না; কারণ এটিই অধিক ব্যাপক ও প্রচলিত।

--------------------------------------------

১. যারিবান: (য-তে ফাতহা ও র-তে কাসরা) এটি একটি প্রাণী যা বানরের মতো, বিড়ালের আকৃতির, এর নাসিকা লম্বা, পিঠ কালো ও পেট সাদা। এটি অত্যন্ত দুর্গন্ধযুক্ত; কেউ একে শিকার করলে এটি তার কাপড়ে এমন দুর্গন্ধ ছাড়ে যা কাপড় ছিঁড়ে না যাওয়া পর্যন্ত দূর হয় না।

২. সাবউয়ান: (সীন-এ ফাতহা ও বা-তে যাম্মাহ) এটি কায়স গোত্রের এলাকায় একটি পরিচিত স্থান। জনৈক কবি বলেছেন: "হায়! সাবউয়ানের বসতি, দিন ও রাতের আবর্তন একে ধ্বংস করে দিয়েছে।" লিসানুল আরব গ্রন্থে বলা হয়েছে: তাদের ভাষায় 'ফাউলান' ওজনে এটি ছাড়া আর কোনো বিশেষ্য জানা নেই।

৩. ওয়ারশান: (সব অক্ষরে ফাতহা) এটি কবুতর সদৃশ একটি পাখি। এর স্ত্রীবাচক হলো 'ওয়ারশানাহ'। এর বহুবচন 'উরুশান' (কাসরা সহ) এবং 'ওয়ারাশীন'। এছাড়াও 'ওয়ারশান' বলতে চোখের মণির সাদা অংশের সেই ভাগকে বোঝায় যা উপরের চোখের পাতা দিয়ে ঢাকা থাকে।

৪. কারাওয়ান: এটি একটি পাখি; এর বহুবচন 'কারাওয়ীন'। আর 'কিরওয়ান' (কাসরা সহ) বিরল বহুবচন।
(খণ্ড: ৪০) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
تنبيه: إذا صغرت ما كان منتهيا بالألف والنون المزيدتين وكان على وزن من أوزان جمع الكثرة مثل عُقبان: لم يصغر على لفظه لا بفعيلان، ولا بفعيلين وإن كان يجمع على فعالن بل يرد إلى القلة ثم يصغر فيقال: أعيقب1.

--------------------------------------------

1 انظر التسهيل لابن مالك مبحث التصغير.
সতর্কীকরণ: আপনি যখন এমন শব্দের তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপান্তর) করবেন যার শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নুন রয়েছে এবং সেটি জাম'উল কাসরাত (আধিক্যসূচক বহুবচন)-এর কোনো ওজনে রয়েছে—যেমন 'উকবান'—তখন তা মূল শব্দরূপে 'ফুআইলান' বা 'ফুআইলিন' ওজনে তাসগির করা হবে না, যদিও শব্দটির বহুবচন 'ফাআলিন' ওজনে হয়ে থাকে; বরং একে জাম'উল কিল্লাত (স্বল্পতাসূচক বহুবচন)-এর দিকে ফিরিয়ে নিয়ে এরপর তাসগির করা হবে। এমতাবস্থায় বলা হবে: 'উআইকিব'।

--------------------------------------------

১. দ্রষ্টব্য: ইবনে মালিকের আত-তাসহিল, তাসগির (ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপান্তর) অধ্যায়।
(খণ্ড: ৪০) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
‌‌فِعلان، وفُعلان الجمع

ذكرنا قبل أن وزن فعلان بالكسر والسكون أو فعلان بالضم والسكون كان دالا على المفرد وفي هذا الفصل نعرضه دالا على الجمع للكثرة.

(فِعلان بالكسر الدال على الجمع القياسي)

يكون فِعلان بكسر الفاء دالا على الجمع باطراد في كل اسم مفرد على أوزان معينة وهي كالتالي:

(1) كل اسم على وزن فعل بضم أوله وفتح ثانية مثل صُرَد2 وجمعه صِردان، ونُغر3 وجمعه نغران يقول الرضي4: لما اختص (فُعل) بالضم فالفتح بنوع من المسميات وهو الحيوان خصوه بجمع، وأيضا كأنه منقولٌ من فعال (بضم أوله) كغُراب وغِرْبان أو مشبه به قال ابن مالك في ألفيته:

وغالبا أغناهم فِعلانُ-في فُعَل كقولهم صِردان

(2) كل اسم يكون على وزن فعال بضم أوله مثل غًراب وغِربان وغلام وغِلمان وحُوار5 وحيران قال ابن مالك:

وللفُعال فِعلان حصل

--------------------------------------------

2 الصرد بضم ففتح _ طائر فوق العصفور وقيل طائر أبقع ضخم الرأس يكون في الشجر بصفة أبيض ونصفه أسود ضخم المنقار قال الأزهري بصيد العصافير وفي الحديث الشريف: "نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن قتل أربع النملة والنحلة والصرد والهدهد".

3 النغران جمع نغر بضم ففتح وهو طير كالعصافير حمر المناقير ومؤنثه نغرة (كهمزة) وأهل المدينة يسمونه البلبل وبتصغيره جاء الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم حيث قال النبي لأبي طلحة الأنصاري وكان له نغر يلعب به فمات "فما فعل النغير يا أبا عمير".

4 انظر: الشافية ج2 ص99 _ وارتشاف الضرب من لسان العرب لأبي حيان وهو من تحقيقنا ج1 ص15.

5 الحوار بضم أوله ولد الناقة ساعة يولد وقيل أن يفصل عن أمه وجمعه أحورة وحيران، وحوران وفي المثل حرك لها حوارها.
ফি'লান এবং ফু'লান (বহুবচন হিসেবে)

আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, প্রথম বর্ণে কাসরা ও দ্বিতীয় বর্ণে সুকুনযুক্ত 'ফি'লান' ওজন অথবা প্রথম বর্ণে দাম্মা ও দ্বিতীয় বর্ণে সুকুনযুক্ত 'ফু'লান' ওজন একবচন নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত হতো। এই অধ্যায়ে আমরা অধিকবাচক বহুবচন (জাম' আল-কাসরাহ) নির্দেশক হিসেবে এই ওজনগুলো উপস্থাপন করছি।

(নিয়মিত বহুবচন নির্দেশক কাসরাযুক্ত 'ফি'লান')

নির্ধারিত কিছু ওজনের প্রতিটি একবচন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে 'ফি'লান' (প্রথম বর্ণে কাসরা যোগে) নিয়মিতভাবে বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা নিম্নরূপ:

(১) প্রতিটি বিশেষ্য যা 'ফু'আল' ওজনে (প্রথম বর্ণে দাম্মা ও দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা) গঠিত; যেমন: 'সুরাদ' এবং এর বহুবচন 'সিরদান', এবং 'নুঘার' এবং এর বহুবচন 'নুঘরান'। ইমাম আর-রাযী বলেন: যেহেতু 'ফু'আল' ওজনটি এক ধরণের নির্দিষ্ট নাম অর্থাৎ প্রাণীদের জন্য বিশিষ্ট, তাই তারা একে একটি বিশেষ বহুবচনের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। এছাড়াও এটি যেন 'ফু'আল' (প্রথম বর্ণে দাম্মা) ওজন থেকে রূপান্তরিত হয়েছে—যেমন 'গুরাব' থেকে 'গিরবান'—অথবা তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইবনে মালিক তার আলফিয়াহ কাব্যে বলেছেন:

এবং প্রায়শই 'ফি'লান' তাদেরকে 'ফু'আল' ওজনের ক্ষেত্রে অমুখাপেক্ষী করেছে, যেমন তাদের উদাহরণ 'সিরদান'।

(২) প্রতিটি বিশেষ্য যা 'ফু'আল' (প্রথম বর্ণে দাম্মা) ওজনে গঠিত; যেমন: 'গুরাব' ও 'গিরবান', 'গুলাম' ও 'গিলমান', এবং 'হুওয়ার' ও 'হিরান'। ইবনে মালিক বলেছেন:

এবং 'ফু'আল' ওজনের জন্য 'ফি'লান' বহুবচনটি লাভ হয়েছে।

--------------------------------------------

২ 'সুরাদ' (প্রথম বর্ণে দাম্মা ও দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা)—এটি চড়ুই পাখির চেয়ে কিছুটা বড় এক প্রকার পাখি। বলা হয় এটি একটি ছোপযুক্ত বড় মাথাওয়ালা পাখি যা গাছে থাকে, এর গায়ের রঙ সাদা এবং অর্ধেক অংশ কালো ও ঠোঁট বেশ বড়। আল-আযহারী বলেন, এটি চড়ুই শিকার করে। হাদীস শরীফে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার প্রকার প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করেছেন: পিঁপড়া, মৌমাছি, সুরাদ এবং হুদহুদ।"

৩ 'নুঘরান' হলো 'নুঘার'-এর বহুবচন। এটি চড়ুইয়ের মতো লাল ঠোঁট বিশিষ্ট এক প্রকার পাখি। এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'নুঘারাহ'। মদিনাবাসীরা একে বুলবুল বলে ডাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর তাসগির (ক্ষুদ্রার্থ রূপ) হিসেবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহা আনসারীকে বলেছিলেন—যার একটি নুঘার পাখি ছিল যা নিয়ে সে খেলত এবং সেটি মারা গিয়েছিল— "হে আবু উমায়ের! নুঘাইর (ছোট পাখিটি) কী করল?"

৪ দেখুন: আশ-শাফিয়াহ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৯; এবং আবু হাইয়্যান রচিত 'ইরতিশাফ আদ-দারাব মিন লিসান আল-আরব', যা আমাদের সম্পাদিত, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫।

৫ 'হুওয়ার' (প্রথম বর্ণে দাম্মা) হলো উষ্ট্রীর বাচ্চা জন্ম নেওয়ার মুহূর্তের নাম। বলা হয় যতক্ষণ না সে তার মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ততক্ষণ তাকে এই নামে ডাকা হয়। এর বহুবচন হলো 'আহবিরাহ', 'হিরান' এবং 'হুরান'। প্রবাদে আছে: "তার জন্য তার উষ্ট্রীর বাচ্চাটিকে নাড়া দাও।"
(খণ্ড: ৪০) সিগাতু ফালান ওয়াসতিমালাতুহা ফিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
(3) كل اسم يكون على وزن فَعَل بفتح أوله وثانيه الصحيح العين نحو خَرَبٍ1 وخِربان وشَبَثِ2 وشبثان.

أو الأجوف مثل تاج وتيجان، وقاع وقيعان وجار وجيران قال الرضي3وأما الأجوف فالقياس فيه الفعلان كالتيجان والجيران والقيعان وكذلك فعل المعتل الآخر مثل فتى وفتيان وأخ وإخوان.

(4) كل اسم على وزن فُعْل (بضم فسكون) واوي العين مثل حوت وحيتان، وكُوز وكيزان وعود وعيدان قال ابن مالك:

وشاع في حوت وقاع مع ما … ضاهاهما وقل في غيرهما

وقال الرضي4: (وباب عود على عيدان يعني أن فُعلان (بضم فسكون) إذا كان أجوف لا يجمع في الكثرة إلا على فعلان (بكسر أوله) كعيدان وحيتان قال أبو حيان في كتابه ارتشاف الضَّرِب من لسان العرب فِعلان (بالكسر) لاسم على فعل نحو صرد وصردان وفعل خرب وخربان وخال وخيلان وفتى وفتيان وأخ وإخوان، وفعال غراب وغربان وغلام وغلمان، وفعل واوي العين: حوت وحيتان) .

فِعلان جمع سماعي فيما يأتي:

يحفظ فعلان بكسر الفاء سماعيا في اسم على فِعْل مثلِ قنو وقنوان5، وصِنْو

--------------------------------------------

1 الخربان: بكسر أوله جمع خرب بفتح أوله وثانيه وهو ذكر الحبارى ويطلق على الشعر يكون في الخاصرة ووسط المرفق.

2 الشبث بقتح الشين والباء: دويبة ذات ست قوائم طوال صفراء الظهر وظهور القوائم سوداء الرأس زرقاء العين.

3 انظر: الشافية ج2 ص96.

وبالنسبة للصحيح العين قال في الأشموني وشرح الكافية أن الخرب بفتحتين لا يطرد على فعلان بالكسر ولكنه قال في التسهيل يطرد جمعه على فعلان بالكسر.

4 انظر: الشافية ج2 ص94.

5 القنو: وهو من التمر بمنزلة العنقود من العنب.
(৩) প্রতিটি বিশেষ্য যা ফাউআল (প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা বা জবর বিশিষ্ট) ওজনে আসে এবং যার আইন বর্ণ (মধ্যবর্ণ) সহীহ বা ত্রুটিমুক্ত, যেমন: খরাব ও খিরবান এবং শাবাস ও শাবাসান।

অথবা আজওয়াফ (মধ্য বর্ণে দুর্বল বর্ণ বিশিষ্ট) শব্দসমূহ, যেমন: তাজ ও তিজান, কা’ ও কী’আন এবং জার ও জিরান। রাজি বলেন: আর আজওয়াফের ক্ষেত্রে নিয়ম বা কিয়াস হলো ফুইলান ওজন, যেমন: তিজান, জিরান এবং কী’আন। একইভাবে যার শেষ বর্ণে হরফে ইল্লত (দুর্বল বর্ণ) রয়েছে, যেমন: ফাতা ও ফিতইয়ান এবং আখ ও ইখওয়ান।

(৪) প্রতিটি বিশেষ্য যা ফু’ল (প্রথম বর্ণে পেশ ও দ্বিতীয় বর্ণে সাকিন) ওজনে আসে এবং যার আইন বর্ণে ওয়াও থাকে, যেমন: হুত ও হিতান, কুজ ও কিজান এবং উদ ও ঈদান। ইবনে মালিক বলেন:

হুত এবং কা’ ও তাদের সদৃশ শব্দগুলোতে এটি বহুল প্রচলিত, তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে কম।

রাজি বলেন: (এবং উদ থেকে ঈদান এর পরিচ্ছেদ বুঝায় যে, ফু’ল ওজনটি যদি আজওয়াফ হয়, তবে এর আধিক্যবাচক বহুবচন কেবল প্রথম বর্ণে কাসরা বা যের যুক্ত ফুইলান ওজনেই হবে, যেমন: ঈদান ও হিতান। আবু হাইয়ান তার ‘ইরতশাফুদ দারাব মিন লিসানিল আরব’ গ্রন্থে বলেন: ফুইলান ওজনটি ফাউল ওজনের বিশেষ্যের জন্য আসে, যেমন: সুরাদ ও সুরদান; এবং ফাউআল ওজনের জন্য আসে, যেমন: খরাব ও খিরবান, খাল ও খীলান, ফাতা ও ফিতইয়ান এবং আখ ও ইখওয়ান; এছাড়া ফি’আল ওজনের জন্য আসে, যেমন: গুরাব ও গুরবান এবং গুলাম ও গুলমান; এবং আইন বর্ণে ওয়াও যুক্ত ফু’ল ওজনের শব্দের জন্য আসে, যেমন: হুত ও হিতান)।

ফুইলান নিম্নে বর্ণিত শব্দগুলোর ক্ষেত্রে সামায়ী (যা ব্যাকরণিক নিয়ম বহির্ভূত এবং আরবদের থেকে শ্রুতির ওপর নির্ভরশীল) বহুবচন হিসেবে আসে:

ফি’ল (যের ও সাকিনযুক্ত) ওজনের বিশেষ্যগুলোর ক্ষেত্রে সামায়ীভাবে ফাউ বর্ণে কাসরাসহ ফুইলান ওজনটি সংরক্ষিত করা হয়, যেমন: কিনউ ও কিনওয়ান, এবং সিনউ...

--------------------------------------------

১ খিরবান: প্রথম বর্ণে কাসরাযুক্ত শব্দটি হলো খরাব শব্দের বহুবচন, যার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা রয়েছে। এটি পুরুষ হাবারী পাখিকে বোঝায়। এছাড়া কুঁচকি বা কনুইয়ের মাঝখানের চুলকেও এটি বলা হয়।

২ শাবাস (শীন ও বা বর্ণে ফাতহা বিশিষ্ট): এটি ছয়টি লম্বা পা বিশিষ্ট একটি ছোট পতঙ্গ, যার পিঠ হলদেটে, পায়ের উপরিভাগ কালো, মাথা কালো এবং চোখ নীল।

৩ দেখুন: আশ-শাফিয়া, ২য় খণ্ড, ৯৬ পৃষ্ঠা।

আর সহীহুল আইনের ব্যাপারে আল-আশমুনি এবং শারহুল কাফিয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, দুই ফাতহা বিশিষ্ট খরাব শব্দটি কাসরাযুক্ত ফুইলান ওজনে নিয়মিতভাবে আসে না। তবে তিনি আত-তাসহিল গ্রন্থে বলেছেন যে, এর বহুবচন ফুইলান ওজনে আসা নিয়মিত।

৪ দেখুন: আশ-শাফিয়া, ২য় খণ্ড, ৯৪ পৃষ্ঠা।

৫ কিনউ: খেজুরের ক্ষেত্রে এর অবস্থান আঙ্গুরের থোকার মতো।