(খণ্ড: ১)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: -)
رخصة الفطر في سفر رمضان وما يترتب عليها من الآثار القسم: مسائل فقهية
الكتاب: رخصة الفطر في سفر رمضان وما يترتب عليها من الآثار
المؤلف: أحمد علي طه ريان
الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রমজান মাসের সফরে সিয়াম ভঙ্গের অবকাশ এবং এর আনুষঙ্গিক বিধানসমূহ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: রমজান মাসের সফরে সিয়াম ভঙ্গের অবকাশ এবং এর আনুষঙ্গিক বিধানসমূহ
লেখক: আহমদ আলী ত্বহা রায়য়ান
প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকী
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং খণ্ড নম্বরটি সাময়িকীর সংখ্যা হিসেবে গণ্য]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮২)
رُخصَة الفِطر في سَفر رَمَضَانَ وَمَا يَتَرَتَّبُ عَلَيْهَا مِنَ الآَثَارِ
لفضيلة الدكتور أحمد طه ريان الأستاذ المساعد بكلية الحديث
الحلقة الأولى
تقديم:الحمد لله رب العالمين، وسعت رحمته كل شيء من خلقه، وتجلت رأفته لأهل طاعته ومحبته، حيث وفقهم لعبادته، ثم أحسن إليهم بقبولها، وأجزل لهم المثوبة عليها، ففازوا بالسعادتين نعمة الطاعة في الدنيا، ونعمة الرضا والتكريم في دار النعيم، والصلاة والسلام على الرسول الأمين، سيدنا محمد المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وأصحابه الطيبين الطاهرين، وعلى من تبعه بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد: فإننا سنعرض في هذا التقديم -بإيجاز- لبيان أهمية هذا البحث ثم لدور السنة فيه، ثم بعد ذلك نعالج موضوع البحث في ثلاثة أصول، يشتمل كل منها على عدة مطالب، نتناول في الفصل الأول: رخصة الفطر في السفر، مبيناً كل جوانبها الهامة، ثم نتناول في الفصل الثاني: كيفية العمل بهذه الرخصة من بداية السفر إلى نهايته، وبعد ذلك نتناول في الفصل الثالث: بيان أهم الآثار المترتبة على الآخذ بهذه الرخصة، ثم نختم البحث بذكر أهم النتائج التي أمكن الوصول إليها من خلال هذا البحث، فتقول: وبالله التوفيق.
রমজান মাসের সফরে রোজা ত্যাগের অবকাশ এবং এর ফলে উদ্ভূত বিধানসমূহ
ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর আহমদ ত্বহা রাইয়ান, হাদিস অনুষদের সহকারী অধ্যাপক
প্রথম পর্ব
ভূমিকা:যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যাঁর রহমত তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং যাঁর করুণা তাঁর অনুগত ও প্রিয় বান্দাদের প্রতি সুষ্পষ্ট হয়েছে; যেহেতু তিনি তাঁদেরকে তাঁর ইবাদতের তাওফিক দিয়েছেন, অতঃপর তা কবুল করার মাধ্যমে তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং এর বিনিময়ে তাঁদেরকে প্রচুর পুরস্কার দান করেছেন। ফলে তাঁরা উভয় জগতের সৌভাগ্য লাভ করেছেন—দুনিয়াতে আনুগত্যের নেয়ামত এবং জান্নাতের চিরসুখময় আবাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সম্মানের নেয়ামত। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমানতদার রাসূল, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যাঁকে বিশ্বজগতের রহমতস্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে, এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবারবর্গ ও সাহাবাগণের ওপর, আর কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাঁদের সবার ওপর।
অতঃপর: আমরা এই ভূমিকায় সংক্ষেপে এই গবেষণার গুরুত্ব এবং এতে সুন্নাহর ভূমিকা তুলে ধরব। এরপর আমরা মূল বিষয়টি তিনটি মূল অংশে আলোচনা করব, যার প্রত্যেকটি কয়েকটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত। প্রথম অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব: সফরে রোজা ত্যাগের অবকাশ এবং এর সকল গুরুত্বপূর্ণ দিক। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব: সফর শুরু হওয়া থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত এই অবকাশ অনুযায়ী আমল করার পদ্ধতি। এরপর তৃতীয় অধ্যায়ে আমরা আলোচনা করব: এই অবকাশ গ্রহণকারীর ওপর বর্তানো গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও প্রভাবসমূহ। পরিশেষে এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করে আমরা ইতি টানব। অতএব আমরা বলছি: আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮২)
أهمية هذا البحث:تتبين أهمية هذا البحث من خلال ارتباطه بالأمور الثلاثة الآتية:
এই গবেষণার গুরুত্ব:এই গবেষণার গুরুত্ব নিম্নোক্ত তিনটি বিষয়ের সাথে এর সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়:
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
الأمر الأول:
إنه يتناول بالتفصيل رخصة الفطر في السفر باعتبارها تطبيقاً جزئياً لقاعدة هامة من قواعد الشريعة الإسلامية، ألا وهي قاعدة رفع الحرج، تلك القاعدة التي تعتبر من الحصون المنيعة التي أقامها رب العزة تبارك وتعالى للدفاع عن الشريعة الإسلامية ضد أعدائها الرامين لها بكثرة التكاليف وشدتها، كما أنها من جملة البراهين الساطعة الدالة على سماحة تعاليم الإسلام ويسرها، ومناسبتها لكل الظروف والأحوال، لذلك كانت هذه القاعدة وما تشتمل عليه من تطبيقات جديرة بأن يسجلها القرآن الكريم في كثير من آياته، مثل قوله تعالى: {لا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْساً إِلَاّ وُسْعَهَا} (البقرة/286) ، وقوله تعالى: {وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ} (الحج/78) ، وقوله تعالى: {وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} (البقرة/185) ، وقوله تعالى: {وَإِذَا ضَرَبْتُمْ فِي الأَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلاةِ} (النساء/101) وقوله تعالى: {وَلَنْ تَسْتَطِيعُوا أَنْ تَعْدِلُوا بَيْنَ النِّسَاءِ وَلَوْ حَرَصْتُمْ فَلا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ} (النساء/179) .
الأمر الثاني:
إن هذا البحث يتناول أهم الأحكام المتصلة بجانب حيوي من جوانب الحياة الإنسانية، وهو السفر، وهو جانب لا يمكن الاستغناء عنه، وكيف يمكن الاستغناء عنه وقد جعله الإسلام واجباً في كثير من التشريعات العملية، فالحج فريضة على كل مسلم مستطيع، ولا يمكن تأديته لأكثر المسلمين إلا بالسفر، والوسيلة إلى تحقيق الواجب واجبة، ويقال هذا أيضا في الجهاد لمن تعين عليه.
كما أن السفر ضرورة من ضرورات الحياة، إذ هو الوسيلة لتنمية التجارات، وتشغيل الصناعات، وطلب العلوم والمعارف، كما أنه من أهم الوسائل الموصلة إلى العلم بالله والتعرف على آياته، {قُلْ سِيرُوا فِي الأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ..} (العنكبوت/20) .
ومع ضرورته ولزومه، فإنه لا يمكن فصله أو تجريده من المشقات التي تصاحبه في كل مرحلة من مراحله، من بدء التفكير فيه إلى الانتهاء منه، لذلك منَّ الله على الخلق بتهيئة السبل والوسائل التي تيسر لهم تحقيق غايتهم منه، قال تعالى: {وَتَحْمِلُ أَثْقَالَكُمْ إِلَى بَلَدٍ لَمْ تَكُونُوا بَالِغِيهِ إِلَاّ بِشِقِّ الأَنْفُسِ إِنَّ رَبَّكُمْ لَرَؤُوفٌ رَحِيمٌ} (النحل/7) .
فلولا ما اقتضته رحمته تعالى بخلقه ورأفته بهم، من شرعية هذه التيسيرات –المتمثلة
প্রথম বিষয়টি হলো:
এটি ইসলামের শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি অর্থাৎ ‘সংকীর্ণতা বা কষ্ট দূরীকরণ’ (রাফউল হারাজ) মূলনীতির একটি আংশিক প্রয়োগ হিসেবে সফরে সিয়াম ভঙ্গের অনুমতির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে। এই মূলনীতিটি সেই সব দুর্ভেদ্য দুর্গের অন্তর্ভুক্ত যা মহান পরাক্রমশালী ও বরকতময় রব ইসলামি শরীয়তের প্রতিরক্ষায় এর সেই শত্রুদের বিরুদ্ধে স্থাপন করেছেন, যারা শরীয়তের ওপর বিধানের আধিক্য ও কঠোরতার অভিযোগ আনে। পাশাপাশি এটি ইসলামের শিক্ষার উদারতা, সহজতা এবং সকল পরিস্থিতি ও অবস্থার সাথে এর সামঞ্জস্যতার এক উজ্জ্বল প্রমাণ। এজন্যই এই মূলনীতি এবং এর অন্তর্ভুক্ত প্রয়োগসমূহ পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে স্থান পেয়েছে, যেমন আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ কোনো প্রাণীর ওপর তার সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না} (আল-বাকারা/২৮৬), এবং আল্লাহর বাণী: {এবং তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি} (আল-হাজ্জ/৭৮), এবং আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে} (আল-বাকারা/১৮৫), এবং আল্লাহর বাণী: {আর যখন তোমরা জমিনে সফর করবে, তখন সালাত সংক্ষিপ্ত (কসর) করলে তোমাদের কোনো গুনাহ হবে না} (আন-নিসা/১০১), এবং আল্লাহর বাণী: {তোমরা যতই ইচ্ছা করো না কেন, স্ত্রীদের মধ্যে কখনো পূর্ণ সমতা রক্ষা করতে পারবে না; তবে তোমরা কোনো একজনের দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়ো না, যাতে অন্যজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে দাও} (আন-নিসা/১৭৯)।
দ্বিতীয় বিষয়টি হলো:
এই গবেষণাটি মানবজীবনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ দিক অর্থাৎ সফর বা ভ্রমণের সাথে সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিধানগুলো নিয়ে আলোচনা করে। এটি এমন একটি বিষয় যা পরিহার করা অসম্ভব। আর তা পরিহার করা সম্ভবই বা কীভাবে যেখানে ইসলাম অনেক ব্যবহারিক বিধানে একে আবশ্যক করেছে? যেমন হজ প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর ফরজ, যা অধিকাংশ মুসলমানের পক্ষে সফর ছাড়া আদায় করা সম্ভব নয়। আর কোনো ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয় অর্জনের মাধ্যমও ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হয়। যাদের ওপর জিহাদ নির্ধারিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
তেমনিভাবে সফর জীবনের অন্যতম প্রয়োজনীয় বিষয়, কারণ এটি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, শিল্প-কারখানা পরিচালনা এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞান অন্বেষণের মাধ্যম। এছাড়াও এটি আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ এবং তাঁর নিদর্শনাবলি চেনার অন্যতম প্রধান পথ। {বলুন, তোমরা জমিনে পরিভ্রমণ করো, অতঃপর দেখো কীভাবে তিনি সৃষ্টির সূচনা করেছেন...} (আল-আনকাবুত/২০)।
সফরের প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতা থাকা সত্ত্বেও, এর প্রতিটি স্তরে—ভ্রমণের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত—যে কষ্ট ও ক্লেশ এর সাথে মিশে থাকে, তা থেকে একে আলাদা করা সম্ভব নয়। তাই আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির ওপর দয়া করে এমন সব উপায় ও মাধ্যম সুগম করে দিয়েছেন যা তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহজ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তারা তোমাদের ভারী বোঝা এমন দেশে বহন করে নিয়ে যায়, যেখানে তোমরা জানপ্রাণ কষ্ট করা ছাড়া পৌঁছাতে পারতে না। নিশ্চয়ই তোমাদের রব পরম স্নেহশীল ও দয়ালু} (আন-নাহল/৭)।
সুতরাং সৃষ্টির প্রতি মহান আল্লাহর রহমত ও মমতা যা দাবি করে, সেই অনুযায়ী এই সহজিকরণগুলোর বিধান দেওয়া না হলে—যা প্রতিফলিত হয়েছে...
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
في رخصتي الفطر والقصر وما يتعلق بهما- لقعد المسلمون عن السفر، وتعطلت كثير من الفرائض، وكسدت التجارات وجمدت العقول.
ثم يأتي الأمر الثالث:
والذي يمسس هذا البحث جانباً هاماً منه وهو الصوم، تلك الشعيرة الربانية، والعبادة الصمدانية، التي أضافها الرب تبارك وتعالى إلى نفسه تعظيماً لها، وتشريفاً لفاعلها، ووعد المتصفين بها، بأنه سيتولى مثوبتهم بنفسه، ولن يوكل أمرهم إلى أحد من ملائكته.
فهذه العناية الإلهية بأمر الصوم والصائمين، تلزم أهل العلم -كل على قدر طاقته- أن يعطوا هذه الفريضة ما تستحقه ما اهتمام سواء بإيضاح ما تنطوي عليه من أسرار عظيمة، أو ببيان ما تشتمل عليه من أحكام جزئية، أو مسائل فرعية.
لذلك كله وغيره كان هذا الموضوع جديراً بما يبذل فيه من جهد أو ينفق فيه من وقت، ونسأله سبحانه أن يجعله عملاً خالصاً لوجهه الكريم، وأن يوفقنا إلى تحقيق الغاية المرجوة منه وأن ينفع المسلمين به.
রোজা ভঙ্গ ও নামাজ কসর করার অবকাশ এবং এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি যদি না থাকত—তবে মুসলিমগণ সফর করা থেকে বিরত থাকত, অনেক ফরজ ইবাদত বিঘ্নিত হতো, ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসত এবং বুদ্ধিবৃত্তি নিথর হয়ে পড়ত।
অতঃপর তৃতীয় বিষয়টি আসে:
যা এই গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্পর্শ করে, আর তা হলো রোজা; সেই রব্বানি নিদর্শন ও সামদানি ইবাদত, যাকে রব তাবারাকা ওয়া তাআলা এর মহিমা প্রকাশের জন্য এবং পালনকারীকে সম্মানিত করার নিমিত্তে নিজের দিকে নিসবত করেছেন। আর যারা এই গুণে গুণান্বিত, তিনি তাদের ওয়াদা দিয়েছেন যে, তিনি নিজেই তাদের প্রতিদান প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং তাদের বিষয়টি তাঁর কোনো ফেরেশতার কাছে সোপর্দ করবেন না।
রোজা ও রোজাদারদের প্রতি এই যে ঐশী যত্ন, তা ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য আবশ্যক করে দেয়—প্রত্যেকে তার সাধ্যানুযায়ী—যেন তারা এই ফরজ ইবাদতটির প্রতি যথাযথ গুরুত্বারোপ করেন; চাই তা এর মাঝে নিহিত মহান রহস্যগুলো উন্মোচনের মাধ্যমে হোক কিংবা এর অন্তর্ভুক্ত আংশিক বিধানসমূহ অথবা শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলাসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে হোক।
এই সবকিছুর কারণে এবং আরও অন্যান্য কারণে এই বিষয়টি এতে ব্যয়িত প্রচেষ্টা ও সময়ের উপযুক্ত ছিল। আমরা সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ আমল হিসেবে কবুল করেন, আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে তাওফিক দান করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন।
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
دور السنة في هذه الرخصة:تعتبر آية البقرة: {وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} الآية، هي الأصل الأصيل لهذه الرخصة، ولم يقتصر دورها على التأصيل والتأسيس، بل إننا سنرى ضوؤها يشع في كثير من الفروع والآثار التي انبثقت عنها أو ترتبت عليها.
أما دور السنة في هذه الرخصة، فقد كان في أكثر الأحايين هو التبيين والتوضيح لما أجملته الآية السابقة من قواعد وأحكام، كبيان المراد من السفر الذي يباح فيه القصر أو الفطر، أو دور التقييد والتخصيص لما جاء مطلقاً أو عاماً من الفروع والجزئيات، كتحديد بداية العمل بالرخصة ونهايته.
كما أننا سنجد أنها قامت بدور التأكيد لما أفادته الآية، فقد جاء في حديث حمزة ابن عمرو الأسلمي حينما سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الصيام في السفر قال: "هي رخصة من الله" 1، وهو نفس المعنى المستفاد من الآية السابقة.
وأخيرا فإننا سنجد أنها قامت بدور التأسيس أو الإنشاء لأحكام لم تستفد من الآية3
--------------------------------------------
এই অবকাশের (রুখসত) ক্ষেত্রে সুন্নাহর ভূমিকা:সুরা বাকারার আয়াত: {আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তবে অন্য দিনগুলোতে সেই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে} এই আয়াতটিই এই অবকাশের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। এর ভূমিকা কেবল মূলনীতি ও ভিত্তি স্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমরা দেখব যে এর আলো এমন বহু শাখা-প্রশাখা ও বিধানের ওপর বিচ্ছুরিত হচ্ছে যা এই আয়াত থেকে উৎসারিত হয়েছে বা এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
আর এই অবকাশের ক্ষেত্রে সুন্নাহর ভূমিকা অধিকাংশ সময়েই ছিল পূর্বোক্ত আয়াতে সংক্ষেপে বর্ণিত নিয়ম ও বিধানগুলোর বিশদ ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ করা; যেমন—সেই সফরের ধরন স্পষ্ট করা যাতে নামাজ কসর করা বা রোজা ভঙ্গ করা বৈধ হয়, অথবা এমন সব শাখা-প্রশাখা ও খুঁটিনাটি বিষয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধকরণ ও সুনির্দিষ্টকরণের ভূমিকা পালন করা যা সাধারণভাবে বা ব্যাপক অর্থে বর্ণিত হয়েছে; যেমন—অবকাশ অনুযায়ী আমল শুরু ও শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা।
তেমনিভাবে আমরা দেখতে পাই যে, সুন্নাহ আয়াতের নির্দেশিত অর্থকে সুদৃঢ় করার ভূমিকাও পালন করেছে। হামযা ইবনে আমর আল-আসলামী-র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সফরে রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অবকাশ (রুখসত)" ১, যা পূর্বোক্ত আয়াত থেকে প্রাপ্ত অর্থের অনুরূপ।
পরিশেষে আমরা দেখব যে, সুন্নাহ এমন কিছু বিধানের প্রবর্তন বা ভিত্তি স্থাপনের ভূমিকা পালন করেছে যা আয়াত থেকে পাওয়া যায় না।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
كتحديد المدة التي إذا أجمع المسافر على إقامتها في مكان ما من سفره، فإن حكم السفر يرتفع عنه.
لذلك كان دخول هذا البحث ضمن نطاق فقه السنة أولى من دخوله في مجال فقه الكتاب العزيز، إذ هي تشمل ما جاء في الكتاب الكريم وزيادة.
যেমন সেই সময়সীমা নির্ধারণ করা, যে পরিমাণ সময় সফরের কোনো এক স্থানে অবস্থানের দৃঢ় সংকল্প করলে মুসাফিরের ওপর থেকে সফরের বিধান রহিত হয়ে যায়।
একারণেই এই আলোচনাটিকে 'ফিকহুস সুন্নাহ'-এর আওতাভুক্ত করা 'ফিকহুল কিতাবিল আজিজ'-এর অন্তর্ভুক্ত করার চেয়ে অধিকতর উপযোগী; কারণ তা পবিত্র কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তা এবং তার অতিরিক্ত বিষয়াদিকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
الفصل الأول: رخصة الفطر في السفر
معنى الرخصة لغة وشرعا:يقال رخص له في الأمر، أذن له فيه بعد النهي عنه، والاسم: الرخصة والرخصة -بتسكين الخاء وضمها- والرخصة- ترخيص الله للعبد في أشياء خففها عنه1.
ومن هنا أطلق الفقهاء لفظ الرخصة على كل معنى خاص -روعي في تشريعه التخفيف سبب ما- إذا ما كان هذا المعنى مستثنى من حكم عام، وذلك كإباحة الفطر في السفر بسبب المشقة، وهذا الأمر مستثنى من الحكم العام، وهو وجوب الصوم على كل مسلم بالغ صحيح مقيم.
وعلى هذا فالرخصة شرعاً مستعملة في نفس المعنى اللغوي التي وضعت له.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সফরে সিয়াম ভঙ্গের অনুমতিঅভিধান ও শরয়ি পরিভাষায় রুখসতের (অনুমতি) অর্থ:বলা হয়, তাকে কোনো বিষয়ে 'রুখসত' বা অনুমতি দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ নিষেধ করার পর তাকে সে বিষয়ে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এর বিশেষ্য পদ হলো: আর-রুখসাহ এবং আর-রুখাসাহ—'খা' বর্ণটি সাকিন বা পেশ যোগে—আর 'রুখসাহ' হলো আল্লাহ কর্তৃক বান্দার জন্য কিছু বিষয়ে ছাড় প্রদান করা যা তিনি তার জন্য সহজ করে দিয়েছেন ১।
এখান থেকেই ফকিহগণ 'রুখসাহ' শব্দটি এমন প্রতিটি বিশেষ বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন—যার বিধানে কোনো কারণে শিথিলতা বিবেচনা করা হয়েছে—যখন সেই বিষয়টি কোনো সাধারণ বিধান থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়। যেমন কষ্টের কারণে সফরে সিয়াম ভঙ্গের বৈধতা; আর এই বিষয়টি সাধারণ বিধান থেকে ব্যতিক্রম, যা হলো প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম (স্বস্থানে অবস্থানকারী) মুসলিমের ওপর সিয়াম পালন করা আবশ্যক হওয়া।
এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, শরয়ি পরিভাষায় 'রুখসাহ' শব্দটি ঠিক সেই আভিধানিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে যার জন্য এটি মূলগতভাবে নির্ধারিত হয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
معنى السفر لغة وشرعا:السفر -بفتح السين والفاء- يطلق في اللغة على عدة معان، من بينها: الكشف والذهاب والسعي بالإصلاح، يقال: سفر شعره: استأصله وكشف عن رأسه، وسفرت الريح التراب والورق كنسته وذهبت به كل مذهب، وسفرت المرأة وجهها إذا كشفت النقاب عنه، وسفرت بين القوم أي سعيت بينهم بالإصلاح، ومنه قول علي لعثمان رضي الله عنهما: إن الناس قد استسفروني بينك وبينهم، والجمع أسفار وسافرة وسفر وسفار، وفي الحديث: "صلوا أربعا فإنا قوم سفر" 2 والرجل المسفر كثير الأسفار القوي عليها، والأنثى مسفرة، وقد اشتق لفظ السفر المستعمل في لسان الشرع، وهو الضرب في الأرض من هذا المعنى.
وقد ربط الأزهري بين المعنى اللغوي والشرعي للسفر بقوله: لكشفه قناع الكن عن
--------------------------------------------
সফরের আভিধানিক ও শরয়ী অর্থ:সফর —সিন এবং ফা বর্ণের ফাতহা (যবর) সহ— আভিধানিক ভাষায় বেশ কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: উন্মোচন করা, প্রস্থান করা এবং সংশোধনের জন্য প্রচেষ্টা করা। বলা হয়ে থাকে: সে তার চুল ‘সফর’ করেছে, অর্থাৎ তা উপড়ে ফেলেছে এবং তার মাথা উন্মোচিত করেছে। বাতাস ধুলোবালি ও পাতাসমূহকে ‘সফর’ করেছে অর্থাৎ তা ঝাড়ু দিয়ে সব দিকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। নারী তার চেহারা ‘সফর’ করেছে যখন সে তার চেহারার নেকাব উন্মোচন করেছে। আমি কওমের মাঝে ‘সফর’ করেছি অর্থাৎ আমি তাদের মধ্যে সংশোধনের প্রচেষ্টা চালিয়েছি। এ থেকেই উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: “নিশ্চয়ই লোকেরা আমাকে আপনার ও তাদের মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে।” এর বহুবচন হলো আসফার, সাফারাহ, সফর এবং সিফার। হাদীসে এসেছে: “তোমরা চার রাকাত পড়ো, কারণ আমরা সফরকারী সম্প্রদায়।” যে ব্যক্তি অধিক সফর করে এবং সফরের ধকল সইতে সক্ষম তাকে ‘মুসফির’ বলা হয়, আর নারীকে বলা হয় ‘মুসফিরাহ’। শরীয়তের পরিভাষায় ব্যবহৃত ‘সফর’ শব্দটি—যার অর্থ জমিনে বিচরণ করা—এই অর্থ থেকেই উদ্ভূত হয়েছে।
আল-আযহারী সফরের আভিধানিক ও শরয়ী অর্থের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করে বলেছেন: কারণ এটি লোকচক্ষুর অন্তরালের আবরণ উন্মোচন করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
وجهه، ومنازل الحضر عن مكانه، ومنازل الخفض عن نفسه: وبروزه إلى الأرض الفضاء
… ولأنه يسفر عن وجزه المسافرين وأخلاقهم فيظهر ما كان خافياً منها1.
--------------------------------------------
তাঁর অভিমুখ, এবং স্বীয় স্থান থেকে স্থায়িত্বের আবাসস্থলসমূহকে ও নিজের থেকে স্বাচ্ছন্দ্যের আবাসস্থলসমূহকে (পৃথক করা): এবং উন্মুক্ত প্রান্তরে তাঁর বহির্গমন
… এবং যেহেতু এটি ভ্রমণকারীদের চেহারা ও তাদের চরিত্রসমূহকে উন্মোচিত করে, ফলে তাদের যা কিছু গোপন ছিল তা প্রকাশ পায়।১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
المطلب الأول: الفطر في السفر رخصة عامةيرى جمهور أهل العلم أن الفطر في السفر رخصة عامة، سواء حضر المسلم بداية الشهر مقيماً أو مسافراً، وقد نقل هذا القول عن مالك وأبي حنيفة والشافعي والثوري والأوزاعي وأحمد، والعلماء كافة ما عدا بعض التابعين.
وقد استند الجمهور فيما ذهبوا إليه على ما يلي:
1- قوله تعالى: {وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} الآية، وجه الدلالة: أن الله سبحانه وتعالى: قد أعطى الإذن في الفطر لكل مريض أو مسافر على أن يقضي الأيام التي أفطرها بعد ذلك.
2- ما روي عن حمزة بن عمرو الأسلمي رضي الله عنه أنه قال: "يا رسول الله أجد بي قوة على الصيام في السفر فهل علي جناح؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هي رخصة من الله، فمن أخذ بها فحسن ومن أحب أن يصوم فلا جناح عليه" 2. وجه الدلالة: قوله صلى الله عليه وسلم هي رخصة.. إلى آخره. يفيد العموم، لأن الشأن في الرخصة العموم، كما أنه عبر "بمن" المفيدة للعموم في جانب المستفيدين بالرخصة.
3- عن عبيد الله بن عبد الله بن عتبة عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم "خرج إلى مكة في رمضان فصام، حتى بلغ الكديد أفطر فأفطر الناس"3.
وجه الدلالة: أن الرسول صلى الله عليه وسلم خرج إلى مكة خلال شهر رمضان، أي بعد أن استهل عليه الشهر وهو مقيم صائم بالمدينة المنورة، ومع ذلك أفطر في بعض مراحل سفره.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সফরে সিয়াম ভঙ্গ করা একটি সাধারণ শিথিলতাঅধিকাংশ আলিম মনে করেন যে, সফরে সিয়াম ভঙ্গ করা একটি সাধারণ শিথিলতা (রুকসত); চাই মুসলমান ব্যক্তি মাসের শুরুতে মুকীম (অবস্থানকারী) থাকুক বা মুসাফির। এই মতটি ইমাম মালিক, আবু হানিফা, শাফেয়ী, সাওরী, আওযাঈ, আহমাদ এবং কতিপয় তাবিঈ ব্যতীত সকল আলিম থেকে বর্ণিত হয়েছে।
জুমহুর (অধিকাংশ) আলিম তাদের এই মতের সপক্ষে নিম্নলিখিত দলিলসমূহের ওপর ভিত্তি করেছেন:
১- আল্লাহর বাণী: {আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে} আয়াত। দলিলের ধরণ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রত্যেক অসুস্থ ব্যক্তি ও মুসাফিরকে সিয়াম ভঙ্গের অনুমতি দিয়েছেন, এই শর্তে যে সে পরবর্তীতে সিয়াম ভঙ্গ করা দিনগুলো কাযা করবে।
২- হযরত হামযা ইবনে আমর আল-আসলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি সফরে সিয়াম পালনের শক্তি অনুভব করি, এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি শিথিলতা (রুকসত), সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করবে সেটি উত্তম; আর যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করতে পছন্দ করবে তার কোনো গুনাহ নেই।" ২। দলিলের ধরণ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী—"এটি একটি শিথিলতা..." শেষ পর্যন্ত। এটি ব্যাপকতা নির্দেশ করে, কারণ শিথিলতার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো এটি ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য হওয়া। তদ্রূপ তিনি "মান" (যে কেউ) শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা এই শিথিলতা গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ব্যাপকতা বুঝায়।
৩- উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ থেকে বর্ণিত, ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) "রমযান মাসে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং সিয়াম পালন করলেন। যখন তিনি কাদীদ নামক স্থানে পৌঁছালেন তখন সিয়াম ভঙ্গ করলেন, ফলে অন্য লোকেরাও সিয়াম ভঙ্গ করল।" ৩।
দলিলের ধরণ: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমযান মাসের চলাকালীন সময়ে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, অর্থাৎ মদীনা মুনাওয়ারায় মুকীম ও রোযাদার অবস্থায় মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর। তা সত্ত্বেও তিনি তার সফরের কিছু পর্যায়ে সিয়াম ভঙ্গ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
المخالفون ووجهتهم:نقل عن أبي مجلز التابعي أن من أدركه الشهر مقيماً فعليه أن يتمه مقيماً صائماً، ولا يسافر في أثنائه، فإنه إن سافر لزمه الصوم وحرم عليه الفطر1.
وما نقله عبد الرزاق عن معمر عن أيوب عن ابن سيرين عن عبيدة السلماني -بفتح العين-: من سافر في رمضان وكان قد صام أوله مقيما فليصم آخره، ألا تسمع أن الله يقول: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} (البقرة/185) .
كما نقل هذا القول أيضا عن سويد بن غفلة2.
وما نقله عبد الرزاق عن معمر عن أيوب، أن أم ذر دخلت على عائشة تسلم عليها وذلك في رمضان فقالت لها عائشة: "أتسافرين في رمضان؟ ما أحب أن أسافر في رمضان، ولو أدركني وأنا مسافرة لأقمت"3.
وما نقله أيضا عبد الرزاق عن معمر عن قتادة قال علي رضي الله عنه: "لا أرى الصوم عليه -أي على من بدأه مقيماً صائماُ- إلا واجباً قال الله تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} 4.
وقد نقل البيهقي الأثر السابق عن عبيدة السلماني بسنده.. إلى أبي البختري بنفس اللفظ السابق تقريباً إلا أنه عقبه بقول أبي البختري: قال ابن عباس -وكان أفقه منا- من شاء صام ومن شاء أفطر5.
وقد حرصت على نقل أسماء القائلين بهذا الرأي مع ذكر وجهتهم بالسند الصحيح إليهم، لأن ما ذكر عن هذا الرأي وعن القائلين به ووجهتهم لم يكن محققاً، ولنأخذ على سبيل المثال ما ذكره صاحب الفتح نقلاً عن ابن المنذر "روي عن علي بإسناد ضعيف، وقال به عبيدة بن عمرو وأبو مجلز وغيرهما، ونقله النووي، عن أبي مجلز وحده"6.
واضح من رجال السند إلى علي رضي الله عنهم أنهم ثقات: فقد قال الحافظ ابن حجر في كل من معمر وقتادة: إنه ثقة ثبت7 وأما عبد الرزاق صاحب المصنف فهو معروف. وقد
--------------------------------------------
বিরোধিতাকারীদের মতামত ও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি:তাবিঈ আবু মিজলায থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি মুকিম (বাসস্থানরত) অবস্থায় মাসটি পাবে, তার জন্য আবশ্যক হলো মুকিম ও রোজা অবস্থায় তা পূর্ণ করা। সে এই মাসের মাঝামাঝি সময়ে সফর করতে পারবে না; কারণ যদি সে সফর করে তবে রোজা রাখা তার জন্য আবশ্যক এবং রোজা ভঙ্গ করা তার জন্য হারাম।১
আর আব্দুর রাজ্জাক মা’মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি ইবনে সিরিন থেকে এবং তিনি উবায়দাহ আস-সালমানি (আইন বর্ণে ফাতহসহ) থেকে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি রমজানে সফর করে এবং মাসের শুরুতে মুকিম অবস্থায় রোজা রেখেছিল, সে যেন মাসের শেষেও রোজা রাখে। তোমরা কি শোনোনি যে আল্লাহ বলেন: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে} (আল-বাকারাহ: ১৮৫)।
এই মতটি সুওয়াইদ ইবনে গাফালাহ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।২
আব্দুর রাজ্জাক মা’মার থেকে এবং তিনি আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মু যার আয়েশা (রা.)-এর নিকট তাকে সালাম দিতে আসলেন এবং তা ছিল রমজান মাসে। তখন আয়েশা (রা.) তাকে বললেন: "তুমি কি রমজানে সফর করবে? আমি রমজানে সফর করা পছন্দ করি না, আর যদি সফররত অবস্থায়ও রমজান আমার নিকট আসত তবে আমি মুকিম হয়ে যেতাম।"৩
আব্দুর রাজ্জাক আরও বর্ণনা করেছেন মা’মার থেকে এবং তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি বলেন, আলী (রা.) বলেছেন: "আমি তার ওপর—অর্থাৎ যে ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় রোজা শুরু করেছে—রোজা রাখাকে ওয়াজিব ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না। মহান আল্লাহ বলেছেন: {সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে} ৪।
ইমাম বায়হাকি উবায়দাহ আস-সালমানি থেকে পূর্বোক্ত বর্ণনাটি তার সনদে... আবু আল-বাখতারি পর্যন্ত প্রায় একই শব্দে বর্ণনা করেছেন, তবে এর শেষে তিনি আবু আল-বাখতারির একটি উক্তি যোগ করেছেন: "ইবনে আব্বাস—যিনি আমাদের চেয়ে অধিক ফকিহ ছিলেন—বলেছেন, যার ইচ্ছা রোজা রাখবে এবং যার ইচ্ছা রোজা ভঙ্গ করবে" ৫।
আমি এই মত পোষণকারীদের নামসমূহ তাদের সহিহ সনদে তাদের দলিলসহ উল্লেখ করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি, কারণ এই মত এবং এর প্রবক্তা ও তাদের দলিল সম্পর্কে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিকভাবে যাচাইকৃত ছিল না। উদাহরণস্বরূপ আমরা ফাতহুল বারীর লেখক যা ইবনুল মুনযির থেকে বর্ণনা করেছেন তা গ্রহণ করতে পারি: "আলী (রা.) থেকে দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে এবং উবায়দাহ ইবনে আমর, আবু মিজলায ও অন্যান্যরা এটি বলেছেন; আর নববী এটি কেবল আবু মিজলায থেকে বর্ণনা করেছেন" ৬।
আলী (রা.) পর্যন্ত সনদের বর্ণনাকারীদের থেকে এটা স্পষ্ট যে তারা নির্ভরযোগ্য (সিকাহ): হাফিজ ইবনে হাজার মা’মার ও কাতাদাহ উভয়ের ব্যাপারে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারী ৭। আর মুসান্নাফ গ্রন্থকার আব্দুর রাজ্জাক তো সুপরিচিত। এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
قال فيه ابن حجر: إنه ثقة حافظ1. كما أن النووي لم يقتصر في نقله عن أبي مجلز وحده، بل نقله أيضاً عن أبي عبيدة السلماني وسويد بن غفلة كما أشرنا إلى ذلك فيما سبق.
ويتلخص مستند هذا الفريق في الاستدلال بقوله تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} . ووجه الدلالة، أن من شهد الشهر حاضراً مقيماً وجب عليه صومه، ولفظ الشهر يطلق على الكل وعلى البعض، فيكون المعنى، فمن شهد منكم الشهر -كله أو بعضه- حاضراً مقيماً صائماً فإنه يجب عليه تكملة صيامه سواء أكمله حاضراً أم مسافراً.
ولكن الجمهور: يرون أن المعنى أن من أدرك الشهر أي حضره كله حاضراً غير مسافر وجب عليه صومه. وأما المسافر فله حكم آخر جاء به في الجزء التالي في الآية، وهو قوله تعالى: {وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} الآية2.
ولكني أرى -والله أعلم- أن المعنى: أن كل من شهد الشهر وجب عليه صومه سواء شهده مقيماً أو مسافراً، صحيحاً أو مريضاً، ثم استثنى الله سبحانه وتعالى من هذا العموم المريض والمسافر واختصهما بحكم خاص بهما، وهو إباحة الفطر لمن شاء منهما على أن يقضيه بعد ذلك في أيام أخر.
وهذا المعنى وإن كان يتفق مع المعنى الذي قصده الجمهور. لكنه يختلف عنه من حيث الدلالة فإن الآية على تقدير الجمهور: نزلت بحكمين مختلفين كل جزء منها نزل بحكم خاص منقطع الصلة عن الجزء الآخر، الجزء الأول نزل بحكمٍ للمقيم والصحيح، والجزء الآخر نزل بحكمٍ للمسافر والمريض. مع أن لفظ (من) في قوله تعالى {فَمَنْ شَهِدَ} بفيد العموم، و (شهد الشهر) بمعنى حضره أي أدركه، وكل حي موجود يدرك هذا الشهر لا فرق بين مقيم ومسافر وصحيح ومريض، فمن أين لهم قصر معنى (من) على بعض الأفراد وهم المقيمون دون غيرهم ممن أدرك الشهر.
ويمكن أن يعتذر لهم بأنهم لجأوا إلى هذا التقدير ليتفقوا مع ما قاله أهل اللغة في الآية، فقد جاء في لسان العرب: تعليقاً على الآية السابقة: "معناه: من شهد منكم المصر في الشهر -لا يكون إلا ذلك3- لأن الشهر يشهده كل حي فيه، قال الفراء: الشهر نصب بنزع الصفة ولم ينصب بوقوع الفعل عليه، المعنى: فمن شهد منك في الشهر أي كان حاضراً غير غائب في سفرة"4 والتكلف هنا ظاهر.
--------------------------------------------
ইবনে হাজার তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও হাফিজ। ১ অনুরূপভাবে ইমাম নববী কেবল আবু মিজলাজ থেকেই এটি উদ্ধৃত করেননি, বরং তিনি এটি আবু উবাইদাহ আস-সালমানি এবং সুওয়াইদ বিন গাফালাহ থেকেও বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
এই দলের দলিল মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সংক্ষেপে ফুটে ওঠে: “তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।” দলিলের ধরণ হলো, যে ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় মাসটি প্রত্যক্ষ করবে, তার ওপর রোজা রাখা আবশ্যক। আর ‘মাস’ শব্দটি পূর্ণ বা আংশিক উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। ফলে অর্থটি দাঁড়ায়: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মাসটি—পুরো বা আংশিক—মুকিম ও রোজাদার অবস্থায় পাবে, তার ওপর রোজা পূর্ণ করা আবশ্যক, চাই সে তা মুকিম অবস্থায় পূর্ণ করুক বা মুসাফির অবস্থায়।
কিন্তু জুমহুর (অধিকাংশ আলেম) মনে করেন যে, এর অর্থ হলো যে ব্যক্তি মাসটি পাবে—অর্থাৎ যে পুরো মাস মুসাফির না হয়ে উপস্থিত (মুকিম) থাকবে—তার ওপর রোজা রাখা ওয়াজিব। আর মুসাফিরের জন্য ভিন্ন বিধান রয়েছে, যা আয়াতের পরবর্তী অংশে এসেছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আর যে অসুস্থ থাকে অথবা সফরে থাকে, তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।” ২
তবে আমি মনে করি—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—অর্থটি হলো: যে ব্যক্তিই মাসটি পাবে, তার ওপর রোজা রাখা আবশ্যক, চাই সে মুকিম হোক বা মুসাফির, সুস্থ হোক বা অসুস্থ। এরপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই ব্যাপকতা থেকে অসুস্থ ও মুসাফিরকে ব্যতিক্রম করেছেন এবং তাদের জন্য একটি বিশেষ বিধান দিয়েছেন; আর তা হলো তাদের মধ্য থেকে যে চায় তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা বৈধ, এই শর্তে যে পরবর্তীতে অন্য দিনগুলোতে সেটির কাজা আদায় করতে হবে।
এই অর্থটি জুমহুর যে অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন তার সাথে সংগতিপূর্ণ হলেও দলিলের দিক থেকে ভিন্ন। কেননা জুমহুরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী আয়াতটি দুটি ভিন্ন বিধান নিয়ে নাজিল হয়েছে, যেখানে প্রতিটি অংশ অপর অংশের সাথে সম্পর্কহীন হয়ে নিজস্ব বিধান প্রদান করে। প্রথম অংশটি মুকিম ও সুস্থ ব্যক্তির বিধান নিয়ে নাজিল হয়েছে, আর অপর অংশটি মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তির বিধান নিয়ে। অথচ আল্লাহর বাণী “যে ব্যক্তি” (মান)-এর মধ্যে ‘মান’ শব্দটি ব্যাপক অর্থ প্রদান করে এবং “মাস প্রত্যক্ষ করা” (শাহিশাশ শাহরা) অর্থ হলো তা পাওয়া। প্রত্যেক জীবিত ব্যক্তিই এই মাস পায়, সেখানে মুকিম ও মুসাফির অথবা সুস্থ ও অসুস্থের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এমতাবস্থায় তারা ‘মান’ শব্দের অর্থকে কেবল নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি অর্থাৎ মুকিমদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অবকাশ কোথায় পেলেন, যারা মাস পেয়েছে তাদের মধ্য থেকে অন্যদের বাদ দিয়ে?
তাদের পক্ষ থেকে ওজর হিসেবে এটি বলা যেতে পারে যে, তারা এই ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছেন ভাষাবিদগণ এই আয়াতের ব্যাপারে যা বলেছেন তার সাথে মিল রাখার জন্য। ‘লিসানুল আরব’-এ পূর্বোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় এসেছে: “এর অর্থ হলো: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মাসে শহরে উপস্থিত থাকবে—এটি ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না ৩—কারণ মাসে থাকা প্রত্যেক জীবিত ব্যক্তিই তা প্রত্যক্ষ করে। আল-ফাররা বলেন: ‘শহর’ (মাস) শব্দটি এখানে উহ্য অব্যয় যোগে মানসুব হয়েছে, ক্রিয়ার সরাসরি কর্ম হিসেবে নয়। অর্থ হলো: তোমাদের মধ্যে যে মাসে উপস্থিত থাকবে, অর্থাৎ সফরে না থেকে স্বস্থানে থাকবে।” ৪ আর এখানে কৃত্রিমতা বা কষ্টকল্পনা স্পষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
أما على تقدير: بأن كل من شهد الشهر وجب عليه صومه إلا المسافر والمريض فقد رخص لهما في فطره، فهو متفق مع سياق المعنى في الآية، وربما يعترض على هذا التقدير: بالصبي والمجنون ونحوهما من غير المكلفين إذ هم يشهدون الشهر، ومع ذلك لا يجب عليهم صومه، فيجاب عن ذلك: بأن أمثال هؤلاء يخرجون من الوجوب بنصوص أخرى، مثل قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث المشهور: "رفع القلم عن ثلاثة، عن الصبي حتى يحتلم وعن المجنون حتى يفيق وعن النائم حتى يستيقظ" وغيره.
وعلى فرض أن الآية تحتمل التأويلين، فإن الرسول صلى الله عليه وسلم قد بين المراد منها بفعله في غزوة الفتح، إذ صام أول الشهر بالمدينة، وخرج منها صائماً حتى بلغ الكديد ثم أفطر، قال الزهري -في رواية أخرى لحديث ابن عباس السابق-: "فصبح رسول الله صلى الله عليه وسلم مكة لثلاث عشرة ليلة خلت من رمضان"1.
وفي حديث آخر عن أبي سعيد الخدري -ولعله في غزوة بدر- قال: "غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم لست عشرة مضت من رمضان، فمنا من صام ومنا من أفطر، فلم يعب الصائم على المفطر ولا المفطر على الصائم"2.
وفعله صلى الله عليه وسلم في غزوة الفتح -وكانت في العام الثامن من الهجرة- يعتبر من التشريعات المحكمة لما جاء في حديث ابن عباس السابق -في رواية ثالثة له-: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج عام الفتح في رمضان فصام حتى بلغ الكديد ثم أفطر، قال وكان صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم يتبعون الأحدث فالأحدث من أمره"3.
فهذه الأحاديث الواردة في محل النزاع تقطع كل احتمال يتوهمه البعض من الآية وترفع كل لبسة قد يحوم حول دلالتها على عموم الرخصة، سواء لمن شهد بداية الشهر مقيماً أو مسافراً فقد قال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (الحشر/7) ، وقال جل من قائل: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} (النحل/44) .
لذلك كان هذا هو الرأي المختار والله أعلم.
أما ما نقل عن علي رضي الله عنه من القول بوجوب إتمام الشهر صائماً فلعله كان
--------------------------------------------
এই অনুমানের ভিত্তিতে যে: যে ব্যক্তিই মাসটি প্রত্যক্ষ করবে তার ওপর সিয়াম পালন করা ওয়াজিব, তবে মুসাফির এবং অসুস্থ ব্যক্তি ব্যতীত—তাদের জন্য সিয়াম না রাখার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে—এটি আয়াতের প্রসঙ্গের সাথে সংগতিপূর্ণ। তবে এই অনুমানের ওপর হয়তো এই আপত্তি তোলা হতে পারে যে: শিশু, পাগল এবং এ জাতীয় যারা শরয়ি বিধানের দায়বদ্ধ নয়, তারাও তো মাসের উপস্থিতি প্রত্যক্ষ করে, অথচ তাদের ওপর সিয়াম পালন ওয়াজিব নয়। এর উত্তরে বলা হয় যে: এই শ্রেণির ব্যক্তিবর্গ অন্যান্য দলিলের মাধ্যমে ওয়াজিবের বিধান থেকে বহির্ভূত হয়েছে, যেমন বিখ্যাত হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: "তিন ধরনের ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে: শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় এবং ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়" ইত্যাদি।
এবং যদি ধরে নেয়া হয় যে আয়াতটি দুটি ব্যাখ্যারই অবকাশ রাখে, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের অভিযানে নিজের কর্মের মাধ্যমে এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কেননা তিনি মাসের শুরুতে মদিনায় সিয়াম পালন করেছিলেন এবং সিয়াম অবস্থায় সেখান থেকে বের হয়েছিলেন, যতক্ষণ না তিনি কাদিদ নামক স্থানে পৌঁছেন, অতঃপর তিনি সিয়াম ভঙ্গ করেন। ইমাম যুহরি—ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদিসের অন্য একটি বর্ণনায়—বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের তেরো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর মক্কায় ভোরে পদার্পণ করেন"১।
আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে—সম্ভবত এটি বদরের যুদ্ধের কথা—তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে রমজানের ষোল দিন অতিবাহিত হওয়ার পর যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে কেউ সিয়াম পালন করেছিলেন এবং কেউ সিয়াম ভঙ্গ করেছিলেন। এমতাবস্থায় সিয়াম পালনকারী সিয়াম ভঙ্গকারীর সমালোচনা করেনি এবং সিয়াম ভঙ্গকারীও সিয়াম পালনকারীর কোনো সমালোচনা করেনি"২।
মক্কা বিজয়ের অভিযানে—যা হিজরি অষ্টম সনে সংঘটিত হয়েছিল—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই কর্মটি সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান হিসেবে বিবেচিত। কেননা ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এর পূর্ববর্তী হাদিসের তৃতীয় একটি বর্ণনায় এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর রমজানে বের হয়েছিলেন। তিনি কাদিদ পর্যন্ত পৌঁছা পর্যন্ত সিয়াম পালন করেছিলেন, এরপর তিনি সিয়াম ভঙ্গ করেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণ তাঁর নির্দেশের মধ্যে সর্বশেষ বিষয়গুলোকেই অনুসরণ করতেন"৩।
সুতরাং বিরোধপূর্ণ বিষয়ে বর্ণিত এই হাদিসগুলো সেই সমস্ত সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয় যা কেউ কেউ আয়াতের ক্ষেত্রে কল্পনা করে থাকেন। এগুলো সেই অস্পষ্টতাকেও দূর করে যা এই অনুমতির ব্যাপকতার ক্ষেত্রে উদয় হতে পারে, চাই কেউ মাসের শুরুতে মুকিম থাকুক বা মুসাফির। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো" (আল-হাশর: ৭)। মহান সত্তা আরও বলেছেন: "আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা বর্ণনা করে দেন" (আন-নাহল: ৪৪)।
সে কারণেই এটিই হচ্ছে মনোনীত মত, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে পূর্ণ মাস সিয়াম পালন ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে, সম্ভবত তা ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৪৯)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৯০)
اجتهاداً منه، ومعلوم أن النص الثابت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قولاً أو فعلاً أقوى من اجتهاد الصحابي مهما كان قدره.
ومما يقوي أنه كان اجتهاداً منه، إشارته للآية بعد قوله بالوجوب مما يدل على أن ذلك كان استنباطاً منه للحكم من نص الآية. وقد قلنا: إن الآية وإن كان فيها احتمال لكن السنة قد رفعت عنها هذا الاحتمال.
أما ما نقل عن السيدة عائشة رضي الله عنها من كراهتها للسفر في رمضان، فلما في صومه من عظيم الثواب، وما في قيام ليله من المغفرة والرحمة فالمسافر وإن رخص له في الفطر، لكنه سيفوته ثواب الصيام في نفس الشهر، وسيفوته قيام ليله المؤدي للمغفرة والرحمة، مما ينبغي الحرص عليه.
وهذا في حق من كان يمكنه تأجيل سفره، أما من كان لا يمكنه، وكان التأجيل سيترتب عليه ضرر كبير على المسلم في أهله أو ماله، فليس هناك ما يمنعه، وما قلناه في حق علي رضي الله عنه، يقال فيما نقل عن عبيدة السلماني وغيره من التابعين رضي الله تعالى عنهم.
এটি তাঁর ব্যক্তিগত ইজতিহাদ, আর এটি সুপরিচিত যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কথা বা কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত অকাট্য পাঠ (নস), কোনো সাহাবীর মর্যাদা যত বড়ই হোক না কেন, তাঁর ইজতিহাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী।
যে বিষয়টি এটি তাঁর ইজতিহাদ হওয়ার মতকে জোরালো করে, তা হলো ওয়াজিব হওয়ার কথা বলার পর তাঁর পক্ষ থেকে আয়াতের দিকে ইঙ্গিত করা; যা প্রমাণ করে যে এটি ছিল আয়াতের নস থেকে হুকুমের ব্যাপারে তাঁর একটি ইস্তিনবাত (উদ্ঘাটন)। আমরা ইতিপূর্বেও বলেছি যে, আয়াতে যদিও একাধিক সম্ভাব্যতা ছিল, কিন্তু সুন্নাহ সেই সম্ভাবনা দূর করে দিয়েছে।
আর সায়্যিদাহ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে রমজান মাসে সফর করা অপছন্দ করার যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা হলো এই মাসের রোজা পালনের মহান সওয়াব এবং রাতের কিয়ামে নিহিত ক্ষমা ও রহমতের কারণে। সুতরাং মুসাফিরকে রোজা ভঙ্গের অনুমতি দেওয়া হলেও সে ওই মাসের নির্দিষ্ট সময়ের রোজার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে এবং ক্ষমা ও রহমত লাভের মাধ্যম রাতের কিয়ামও তার ছুটে যাবে, যার প্রতি যত্নবান হওয়া আবশ্যক।
এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার পক্ষে সফর বিলম্বিত করা সম্ভব। কিন্তু যার পক্ষে তা সম্ভব নয় এবং সফর পিছিয়ে দেওয়ার ফলে মুসলিম ব্যক্তির পরিবার বা সম্পদের বড় কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তবে তার জন্য সফরে কোনো বাধা নেই। আর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর ক্ষেত্রে আমরা যা বলেছি, উবাইদাহ আস-সালমানী ও অন্যান্য তাবিঈগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত বক্তব্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: -)
رخصة الفطر في سفر رمضان وما يترتب عليها من الآثار القسم: مسائل فقهية
الكتاب: رخصة الفطر في سفر رمضان وما يترتب عليها من الآثار
المؤلف: أحمد علي طه ريان
الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রমজানে সফরের সময় রোজা ভঙ্গের অনুমতি এবং এর থেকে উদ্ভূত বিধানসমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: রমজানে সফরের সময় রোজা ভঙ্গের অনুমতি এবং এর থেকে উদ্ভূত বিধানসমূহ
লেখক: আহমদ আলী তাহা রাইয়ান
প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড সংখ্যা হলো সাময়িকীর সংখ্যা]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
رخصة الفطر في سفر رمضان وَما يترتب عليها من الآثار 2
الدكتور أحمد طه ريان أستاذ مساعد بجامعة الأزهر
هل الفطر في السفر رخصة أم عزيمة:بعد أن عرفنا مقدار المسافة التي يشرع فيها الفطر للمسافر إذا عزم على قطعها أو تجاوزها، ننتقل الآن إلى بيان مدى هذه المشروعية. وبمعنى أوضح، هل هذه المشروعية تقف عند حدها الأدنى، وهو الإباحة، فيكون المسافر له حرية الفطر مع القضاء في أيام أخر، أو الصيام مع الإجزاء بدون أدنى حرج عليه في فعل أي منهما؟ أو أن هذه المشروعية ترتفع عن هذا الحد إلى مستوى أعلى قليلا عن الإباحة، فتصل إلى حد الندب أو الأفضلية للفطر على الصيام، فيكون من صام في سفره قد ارتكب أمرا مكروها، والمكروه وإن كان لا يعاقب على تركه، لكنه لا يثاب على فعله، كما عرفه بذلك كثير من الفقهاء، أو أن هذه المشروعية للفطر ترتفع إلى درجتها العليا، فتصل إلى درجة الوجوب، فيكون الصائم قد ارتكب أمرا قد حرمه الشارع وبالتالي، يثبت لصومه حكم البطلان، ويجب عليه قضاء هذه الأيام التي صامها في السفر لعدم احتساب الشارع لها.
রমজান মাসের সফরে রোজা ভঙ্গের অনুমতি এবং এর থেকে উদ্ভূত ফলাফল ২
আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আহমদ ত্বহা রাইয়ান
সফরে রোজা ভঙ্গ করা কি রুখসত (অনুমতি) নাকি আজিমত (আবশ্যকতা):মুসাফির যখন নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করার বা তা অতিক্রমের সংকল্প করে, তখন তার জন্য রোজা ভঙ্গ করা যে দূরত্বে শরিয়তসম্মত হয়, তা জানার পর এখন আমরা এই বিধানের সীমা বর্ণনার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। আরও স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এই বৈধতা কি তার সর্বনিম্ন পর্যায়ে অর্থাৎ কেবল অনুমতির (ইবাহাত) মধ্যে সীমাবদ্ধ? ফলে মুসাফিরের জন্য অন্য দিনে কাজা করার শর্তে রোজা ভঙ্গ করার স্বাধীনতা থাকবে, অথবা রোজা রাখারও সুযোগ থাকবে এবং এর কোনোটি করার মধ্যেই তার কোনো প্রকার অসুবিধা থাকবে না? নাকি এই বৈধতা এই স্তর থেকে উঠে অনুমতির চেয়ে কিছুটা উচ্চতর স্তরে পৌঁছাবে, যা রোজা ভঙ্গের মুস্তাহাব হওয়া বা রোজা রাখার চেয়ে রোজা ভঙ্গ করা উত্তম হওয়ার পর্যায়ে পড়বে? এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি সফরে রোজা রাখবে সে একটি মাকরূহ কাজ সম্পাদনকারী হিসেবে গণ্য হবে; আর মাকরূহ এমন কাজ যা ত্যাগ করলে শাস্তির বিধান নেই ঠিকই, কিন্তু সম্পাদনে কোনো সওয়াব নেই—যেভাবে অনেক ফকিহ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন। অথবা রোজা ভঙ্গের এই বৈধতা কি তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ওয়াজিব বা আবশ্যকতার স্তরে উপনীত হবে? এমতাবস্থায় রোজাদার এমন এক কাজ সম্পাদনকারী হবে যা শরিয়ত প্রণেতা হারাম করেছেন। ফলে তার রোজার ক্ষেত্রে বাতিল হওয়ার হুকুম সাব্যস্ত হবে এবং সফরে রোজা রাখা এই দিনগুলোর কাজা আদায় করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে, কারণ শরিয়ত প্রণেতা এগুলোকে রোজা হিসেবে গণ্য করেননি।
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
لبيان ما هو الحق في ذلك نقول:
نقل عن عدد كبير من الصحابة والتابعين والفقهاء عدم مشروعية الصيام في السفر، إلا أن بعضهم قد نقل ذلك عنه بلفظ الكراهة وبعضهم قد نقل عنه بلفظ عدم الإجزاء أو بوجوب القضاء.
এ বিষয়ে সত্য কী তা বিবৃত করার উদ্দেশ্যে আমরা বলছি:
বিপুল সংখ্যক সাহাবী, তাবেয়ী এবং ফকীহগণের নিকট হতে সফরে রোজা রাখা শরয়িভাবে বৈধ না হওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে, তবে তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টি 'মাকরূহ' (অপছন্দনীয়) হওয়ার শব্দে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের কেউ কেউ তা 'যথেষ্ট না হওয়া' কিংবা 'কাজা করা ওয়াজিব হওয়া'র শব্দে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
فروى نافع عن ابن عمر رضي الله عنهما "لأن أفطر في رمضان في السفر أحب إلي من أن أصوم" 1.
وقال ابن المنذر: كان ابن عمر وسعيد بن جبير يكرهان صوم المسافر وقال: روينا عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال: "إن صام قضاه" وقال: وروي عن ابن عباس قوله: " لا يجزئه الصيام"2.
كما نقل عن عبد الرحمن بن عوف قوله: "الصائم في السفر كالمفطر في الحضر" 3.
وروى عبد الرزاق عن ابن عيينة، قال أخبرني عاصم بن عبيد الله بن عاصم عن ابن عبد الله بن عامر بن ربيعة "أن عمر بن الخطاب أمر رجلا صام رمضان في السفر أن يقضيه، قال: وأخبرنيه عمرو بن دينار عن كلثوم بن جبر عن عمر" 4.
وروي عن أبي سعيد مولى المهري، قال: " أقبلت مع صاحب لي من العمرة فوافينا الهلال هلال رمضان فنزلنا في أرض أبي هريرة في يوم شديد الحر فأصبحنا مفطرين إلا رجلا منا واحدا، فدخل علينا أبو هريرة نصف النهار فوجد صاحبنا يلتمس برد النخل. فقال: ما بال صاحبكم؟ قالوا صائم، قال: ما حمله على ألا يفطر؟ قد رخص الله له، لو مات ما صليت عليه". قال الحافظ ابن حجر- عن هذا الأثر- "موقوف صحيح". ونقل محقق المطالب العالية، عن البوصيري قوله عنه: "رجاله ثقات" 5.
وقد نقل هذا القول أيضا- بالإضافة إلى سعيد بن جبير- عن عدد من التابعين، كالزهري والنخعي وغيرهما 6.
وقد ذهب إلى ذلك من الفقهاء بعض أصحاب داود الظهري والشيعة الإمامية كما أشرنا من قبل إلى ما قاله ابن حزم بشأن وجوب الفطر على الصائم المسافر إذا بلغ ميلا أو تجاوزه 7.
ويتلخص رأي هذا الفريق، بأن الفطر في السفر عزيمة فمن خالفها وصام فقد اقترف إثما ولا يعتد بما صامه شرعا ويجب عليه قضاء هذه الأيام بعد انتهاء رمضان وانقضاء سفره.
--------------------------------------------
নাফে' ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, "সফরকালে রমযানে আমার রোযা না রাখাটা রোযা রাখার চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয়।" ১।
ইবনুল মুনযির বলেন: ইবনে উমর এবং সাঈদ ইবনে জুবাইর মুসাফিরের রোযা রাখাকে অপছন্দ করতেন। তিনি বলেন: আমরা ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন: "যদি সে (সফরকালে) রোযা রাখে, তবে তাকে তা কাযা করতে হবে।" তিনি আরও বলেন: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাঁর কথা: "এই রোযা তার জন্য যথেষ্ট হবে না।" ২।
যেমনটি আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "সফরে রোযাদার ব্যক্তি হলো মুকিম অবস্থায় রোযা ভঙ্গকারীর ন্যায়।" ৩।
আব্দুর রাজ্জাক ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আসেম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে আসেম, ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমের ইবনে রাবিয়াহ থেকে জানিয়েছেন যে, "উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এক ব্যক্তিকে সফরকালে রমযানের রোযা রাখার কারণে তা পুনরায় কাযা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন: আমাকে আমর ইবনে দীনার, কুলসুম ইবনে জাবর থেকে উমরের সূত্রে এটি সংবাদ দিয়েছেন।" ৪।
মুহরির আযাদকৃত গোলাম আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি আমার এক সাথীসহ উমরাহ থেকে ফিরছিলাম, তখন আমরা রমযানের চাঁদ দেখতে পেলাম। আমরা প্রচণ্ড গরমের দিনে আবু হুরায়রার জমিতে অবতরণ করলাম। আমাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই রোযা ভঙ্গ অবস্থায় ভোর অতিবাহিত করলাম। দ্বিপ্রহরের সময় আবু হুরায়রা আমাদের কাছে আসলেন এবং আমাদের ওই সাথীকে খেজুর গাছের ছায়ায় শীতলতা খুঁজতে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমাদের সাথীর কী হয়েছে? তারা বলল: সে রোযা রেখেছে। তিনি বললেন: তাকে রোযা না ভাঙতে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? অথচ আল্লাহ তাকে অনুমতি দিয়েছেন। সে যদি মারা যেত, তবে আমি তার জানাযার নামায পড়াতাম না।" হাফেজ ইবনে হাজার এই আসর সম্পর্কে বলেছেন— "মওকুফ সহীহ"। আল-মাতালিবুল আলিয়ার মুহাক্কিক আল-বুসিরি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে তিনি এর সম্পর্কে বলেছেন: "এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।" ৫।
সাঈদ ইবনে জুবাইর ছাড়াও এই মতটি আরও অনেক তাবিঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমন যুহরী, নাখঈ এবং অন্যান্যদের থেকে। ৬।
ফকিহদের মধ্যে দাউদ জাহেরীর কিছু অনুসারী এবং শিয়া ইমামিয়াগণও এই মত পোষণ করেছেন, যেমনটি আমরা পূর্বে ইবনে হাযমের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছি যে, মুসাফির রোযাদারের জন্য রোযা ভঙ্গ করা ওয়াজিব যখন সে এক মাইল বা তার বেশি পথ অতিক্রম করে। ৭।
এই দলের মতামতের সারকথা হলো, সফরে রোযা না রাখা একটি সুদৃঢ় বিধান (আযীমত); সুতরাং যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করে রোযা রাখবে, সে গুনাহগার হবে এবং শরয়ি দৃষ্টিতে তার সেই রোযা গণ্য হবে না। রমযান শেষ হওয়ার পর এবং সফর সমাপ্ত হওয়ার পর তাকে এই দিনগুলোর কাযা আদায় করা ওয়াজিব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
وأهم الأدلة التي استند إليها هذا الفريق ما يلي:
1- قال تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ، وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} (البقرة: آية 185) .
وجه الدلالة: من المعلوم أن هذه الآية محكمة بإجماع المسلمين لم يرد عليها نسخ ولا تخصيص وقد أَوجبت الصيام على من شهد الشهر صحيحا مقيما، وعلى من شهد الشهر وكان مريضا أو مسافرا، عدة من أيام أخر. ووجوب قضاء أيام السفر بعد رمضان يستلزم وجوب الفطر في رمضان أثناء السفر، وحتى لو عاند وخالف وصام، فإنه لا يعتد بذلك الصيام، بل يجب عليه قضاء هذه الأيام التي صامها 1.
ويناقش هذا الاستدلال بأن الآية قد تضمنت دلالة اقتضاء، وهو تقدير بعض الألفاظ التي لا يتضح المعنى بدونها. والمقدر هنا: عبارة (فَأفطر) فيكون المعنى الإجمالي: ومن كان مريضا أو على سفر- فأفطر- فعدة من أيام أخر- وقد أوضحت السنة هذا المعنى بجلاء تام في أكثر من حديث، فقد جاء في حديث حمزة بن عمرو الأسلمي رضي الله عنه أنه قال يا رسول الله: أجد بي قوة على الصيام في السفر، فهل علي جناح؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هي رخصة من الله فمن أخذ بها فحسن ومن أحب أن يصوم فلا جناح عليه" 2 ورفع الجناح يقتضي صحة الصوم وإجزاءه ورفع الإثم عن الصائم.
قد يقال: إن نفي الجناح قد يكون المراد منه نفي الحرمة عن الصائم في السفر لكنه لا يقتضي الاعتداد بما صامه شرعا، أو يكون المراد: لا جناح عليه لو صام في سفره تطوعا أو قضاء لصوم سابق كان عليه.
ويجاب عن ذلك بأن نفي الجناح يقتضي الإباحة والشيء المباح إذا فعل بنية العبادة، فإنه يثاب عليه، حتى الأكل والشرب إذا فعلهما الشخص بنية التقوي على العبادة، فإنه يثاب عليهما.
أما تأويل الحديث على أنه لا جناح عليه في صيام هذه الأيام تطوعا أو قضاء، فهو بعيد، لأن التعبير عن الفطر بكونه رخصة يقتضي جواز العمل بها، أو تركها والعمل بالعزيمة هذا هو المعروف من معنى الرخصة، وإن كان العمل بها أفضل، لأن الله يحب أن تؤتى رخصه كما يحب أن تؤتى عزائمه.
3- الدليل الثاني من أدلة هذا الفريق على وجوب الفطر في السفر وعدم الاعتداد
--------------------------------------------
এই দল যে প্রধান দলিলগুলোর ওপর ভিত্তি করেছে তা নিম্নরূপ:
১- আল্লাহ তাআলা বলেন: “অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।” (সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৫)।
দলিলের দিক: এটি সুবিদিত যে, মুসলিমদের ঐকমত্য (ইজমা) অনুযায়ী এই আয়াতটি মুহকাম (সুস্পষ্ট)। এতে কোনো মানসুখ (রহিতকরণ) বা তাখসিস (বিশেষায়ন) ঘটেনি। আয়াতটি যে ব্যক্তি সুস্থ ও মুকিম অবস্থায় মাসটি পাবে তার ওপর রোজা ফরজ করেছে; আর যে ব্যক্তি মাসটি পাবে কিন্তু সে অসুস্থ বা মুসাফির হবে, তার ওপর অন্য দিনগুলোতে সমসংখ্যক রোজা রাখা ওয়াজিব করেছে। রমজানের পর সফরের দিনগুলোর কাজা ওয়াজিব হওয়া সফরকালীন সময়ে রমজানে রোজা ভঙ্গ করা ওয়াজিব হওয়াকে অবধারিত করে। এমনকি যদি কেউ একগুঁয়েমি করে এর বিরোধিতা করে রোজা রাখে, তবে সেই রোজা ধর্তব্য হবে না; বরং সে যে দিনগুলোতে রোজা রেখেছে, সেগুলোর কাজা করা তার ওপর ওয়াজিব হবে। ১।
এই দলিলের বিপরীতে আলোচনা করা হয়েছে যে, আয়াতটি ‘দালালাতুল ইক্তিজা’ (উহ্য শব্দের প্রয়োজনীয়তা) অন্তর্ভুক্ত করে, যা এমন কিছু শব্দের প্রাক্কলন (তাকদির) যার ব্যতিরেকে অর্থ স্পষ্ট হয় না। এখানে প্রাক্কলিত শব্দগুচ্ছ হলো: (অতএব সে রোজা ভঙ্গ করল)। তখন সামগ্রিক অর্থ দাঁড়াবে: “আর যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে—অতঃপর সে রোজা ভঙ্গ করবে—তবে অন্য দিনগুলোতে সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।” সুন্নাহ একাধিক হাদিসে এই অর্থটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে। হামজা ইবনে আমর আল-আসলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি সফরে রোজা রাখার শক্তি পাই, এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি রুখসত (সহজ সুযোগ); সুতরাং যে তা গ্রহণ করল তা উত্তম, আর যে রোজা রাখতে পছন্দ করল তার কোনো গুনাহ নেই।” ২। গুনাহ না থাকার অর্থ হলো রোজার বিশুদ্ধতা, এর গ্রহণযোগ্যতা এবং রোজাদারের ওপর থেকে পাপ অপসারিত হওয়া।
বলা হতে পারে যে: গুনাহ না থাকার উদ্দেশ্য হতে পারে সফরে রোজাদারের ওপর থেকে হারাম হওয়া নাকচ করা, কিন্তু এর মানে এই নয় যে শরয়িভাবে তার রোজাটি ধর্তব্য হবে। অথবা এর অর্থ হতে পারে: তার ওপর কোনো গুনাহ নেই যদি সে তার সফরে নফল রোজা রাখে অথবা পূর্বের কোনো কাজা রোজা আদায় করে।
এর উত্তর হলো—গুনাহ না থাকা ‘ইবাহাত’ (বৈধতা) প্রমাণ করে। আর বৈধ কাজ যদি ইবাদতের নিয়তে করা হয়, তবে তাতে সওয়াব পাওয়া যায়। এমনকি পানাহারও যদি কোনো ব্যক্তি ইবাদতের শক্তি অর্জনের নিয়তে করে, তবে সে তাতে সওয়াব পাবে।
আর হাদিসের এই ব্যাখ্যা করা যে—এই দিনগুলোতে নফল বা কাজা রোজা রাখলে গুনাহ নেই, তা দূরবর্তী (দুর্বল) সম্ভাবনা। কারণ রোজা ভঙ্গের বিষয়টিকে ‘রুখসত’ (অনুমতি) হিসেবে ব্যক্ত করা তা গ্রহণ করার বৈধতাকে অথবা তা ত্যাগ করে ‘আজিমত’ (মূল বিধান) পালন করার অবকাশকে অপরিহার্য করে। রুখসতের পরিচিত অর্থ এটাই, যদিও তা গ্রহণ করা উত্তম; কারণ আল্লাহ যেভাবে তাঁর আজিমতসমূহ পালন করা পছন্দ করেন, তেমনি তাঁর রুখসতসমূহ গ্রহণ করাও পছন্দ করেন।
৩- সফরে রোজা ভঙ্গ করা ওয়াজিব হওয়া এবং রোজা ধর্তব্য না হওয়ার বিষয়ে এই দলের দ্বিতীয় দলিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
بالصيام فيه: حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه: " أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج عام الفتح إلى مكة في رمضان فصام حتى بلغ كراع الغميم1 فصام الناس ثم دعا بقدح من ماء فرفعه حتى نظر الناس إليه ثم شرب، فقيل له بعد ذلك: إن بعض الناس قد صام، فقال: أولئك العصاة أولئك العصاة" 2.
وجه الدلالة: وصف الصائمين في السفر بالعصاة، يقتضي أنهم آثمون، ويقتضي كونهم آثمين أن صومهم غير مجزئ وبالتالي: يجب عليهم القضاء.
ويناقش هذا الاستدلال، بأن وصف الصائمين بالعصيان لا يلزم منه أن يكون الوصف منصبا على الصوم، بل قد يكون منصبا على مخالفتهم أمره صلى الله عليه وسلم بالفطر، وقد أمر الله تعالى بطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (الحشر الآية 7) . وقال تعالى أيضا: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (النور الآية 63) .
قد يقال: إن تركهم طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم في أمره لهم بالفطر، يقتضي أَنهم عاصون بالصيام أيضا إلى جانب عصيانهم بمخالفة أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالفطر.
فيجاب عن ذلك بأن تشديد الرسول عليه الصلاة والسلام في أمر الفطر ووصف التاركين بالعصيان إنما كان لسبب خاص وهو ملاقاة الأعداء، ومعلوم أن القتال يحتاج إلى قوة. وأن الفطر مما يساعد على إيجاد هذه القوة، ومن هنا يدخل الفطر في وسائل القوة التي أمر الله بإعدادها، بقوله تعالى: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ} (الأنفال الآية 60) .
ويقوي هذا المعنى ما جاء في حديث أبى سعيد الخدري رضي الله عنه "سافرنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى مكة ونحن صيام، قال: فنزلنا منزلا، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إنكم قد دنوتم من عدوكم والفطر أقوى لكم، فكانت رخصة، فمنا من صام ومنا من أفطر، ثم نزلنا منزلا آخر، فقال: إنكم مصبحو عدوكم والفطر أقوى لكم فأفطروا، وكانت عزمة فأفطرنا، ثم قال: لقد رأيتنا نصوم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك في السفر" 3.
--------------------------------------------
সফর অবস্থায় রোজা রাখার বিষয়ে: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা বিজয়ের বছর রমজান মাসে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তিনি রোজা রাখলেন। এমনকি যখন তিনি 'কুরা আল-গামিম' নামক স্থানে পৌঁছালেন, তখন মানুষও রোজা রাখল। এরপর তিনি এক পেয়ালা পানি চাইলেন এবং তা উঁচুতে তুললেন যাতে মানুষ তা দেখতে পায়, তারপর তিনি তা পান করলেন। এরপর তাঁকে বলা হলো: কিছু মানুষ তো রোজা রেখেছে। তিনি বললেন: 'তারাই নাফরমান, তারাই নাফরমান'।"
দলিল উপস্থাপনের ধরণ: সফর অবস্থায় রোজা পালনকারীদের 'নাফরমান' হিসেবে বর্ণনা করা এই দাবি করে যে তারা গুনাহগার। আর তাদের গুনাহগার হওয়া একথার দাবি রাখে যে, তাদের রোজা যথেষ্ট বা গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে: তাদের ওপর কাজা আদায় করা ওয়াজিব।
এই দলিলের উত্তরে বলা হয় যে, রোজা পালনকারীদের নাফরমানি বা অবাধ্যতার বিশেষণে বিশেষিত করার অর্থ এই নয় যে, এই বিশেষণটি কেবল রোজার ওপরই বর্তায়; বরং এটি হতে পারে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইফতার করার নির্দেশ অমান্য করার কারণে। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো" (সূরা হাশর, আয়াত ৭)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে তাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আসবে" (সূরা নূর, আয়াত ৬৩)।
বলা হতে পারে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইফতার করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা পালনে তাদের অনীহা বা বর্জন করার বিষয়টি একথার দাবি রাখে যে, তারা রোজা পালনের মাধ্যমেও নাফরমানি করেছে, পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ইফতার করার নির্দেশ অমান্য করার নাফরমানি তো রয়েছেই।
এর জবাবে বলা হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইফতারের নির্দেশের ব্যাপারে যে কঠোরতা দেখিয়েছেন এবং যারা ইফতার করেনি তাদের নাফরমান বলেছেন, তা ছিল একটি বিশেষ কারণে—আর তা হলো শত্রুর মোকাবিলা করা। এটা জানা কথা যে, যুদ্ধের জন্য শক্তির প্রয়োজন। আর রোজা ভঙ্গ করা সেই শক্তি অর্জনে সহায়ক হয়। এখান থেকেই ইফতার করা সেই শক্তির উপকরণের অন্তর্ভুক্ত হয় যা প্রস্তুত করার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন তাঁর এই বাণীতে: "আর তোমরা তাদের মোকাবিলার জন্য তোমাদের সাধ্যমতো শক্তি প্রস্তুত করো" (সূরা আনফাল, আয়াত ৬০)।
এই অর্থটিকে আরও শক্তিশালী করে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে রোজা রাখা অবস্থায় মক্কার উদ্দেশ্যে সফর করলাম। তিনি বলেন: এরপর আমরা একটি যাত্রাবিরতি স্থলে অবতরণ করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা তোমাদের শত্রুর নিকটবর্তী হয়েছ, আর ইফতার করা তোমাদের জন্য অধিক শক্তিশালী হওয়ার কারণ। ফলে এটি ছিল একটি অবকাশ (রুকসত); আমাদের মধ্যে কেউ রোজা রাখল এবং কেউ ইফতার করল। এরপর আমরা অন্য একটি বিরতিস্থলে অবতরণ করলাম। তখন তিনি বললেন: তোমরা সকালে তোমাদের শত্রুর মোকাবিলা করবে, আর ইফতার করা তোমাদের জন্য অধিক শক্তিশালী হওয়ার কারণ, সুতরাং তোমরা ইফতার করো। এটি ছিল একটি চূড়ান্ত নির্দেশ (আযিমাহ), তাই আমরা সবাই ইফতার করলাম। এরপর তিনি বললেন: আমি আমাদের দেখেছি যে, আমরা এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সফরে রোজা রাখতাম" ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৭০)
فأمره صلى الله عليه وسلم بالفطر عند قربهم من لقاء عدوهم إنما كان يقصد بذلك تقويتهم في مواجهة عدوهم والأخذ بأسباب هذه التقوية واجب فيكون تركها معصية.
ويتضح من حديث أبي سعيد أيضا، أنهم في حالة بعدهم من عدوهم، أن الفطر ليس بلازم، فمن شاء صام ومن شاء أفطر. وقد فهم الصحابة ذلك، ففي حديث أبي سعيد هذا "فكانت رخصة فمنا من صام ومنا من أفطر".
ومن باب أولى إذا كان السفر لغير الجهاد، فيكون الفطر فيه لمشيئة المسلم إن شاء صام وإن شاء أفطر. وقد ثبت ذلك من حديث أبي سعيد رضي الله عنه أيضا، فقد جاء فيه: " لقد رأيتنا نصوم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك في السفر".
قد يقال: إن هذه الصيغة- نصوم مع رسوله الله صلى الله عليه وسلم يفهم منها أنهم كانوا يصومون وهم في صحبة رسول الله صلى الله عليه وسلم دون أن يشاركهم الرسول صلى الله عليه وسلم في الصيام، وفعل الصحابة في حياته صلى الله عليه وسلم ليس حجة.
فيجاب عن ذلك، بأنه يكفي في حجية هذا الفعل، اطلاع رسول الله صلى الله عليه وسلم عليه دون أن ينكره، فيكون سنة تقريرية وهي حجة قد يقال: يحتمل أنه لم يطلع عليهم حتى يكون ذلك سنة تقريرية.
فيجاب عن ذلك: بأنه وإن كان فيه بعد، لكن يكفي في الحجية حدوث هذا الفعل زمن نزول الوحي، لأنه لو كان فيه مخالفة لنزل الوحي ببيانها.
3- الدليل الثالث: عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما، قال: " كان رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فرأى رجلا قد اجتمع الناس عليه وقد ظلل عليه، فقال: ماله، قالوا: رجل صائم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ليس البر أن تصوموا في السفر" 1.
وجه الدلالة: أن النبي صلى الله عليه وسلم نفى البر- بكسر الباء- يعني الطاعة والعبادة عن الصيام في السفر، أَي ليس من الطاعة والعبادة، أن تصوموا في السفر، وإذا انتفى كان الصيام في السفر من البر، فإن من خالف وصام، فإنه يكون آثما وبالتالي لا يجزئ عنه هذا الصيام.
وقد أجيب عن ذلك، بأن هذا الحديث، قصد بلفظه شخص معين- وهو المذكور في
--------------------------------------------
শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় তাদের রোজা ভাঙার বিষয়ে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল মূলত শত্রুর মোকাবিলায় তাদের শক্তিশালী করা। আর এই শক্তি অর্জনের উপায়গুলো গ্রহণ করা ওয়াজিব, তাই তা বর্জন করা গুনাহের কাজ।
আবু সাঈদ রাযিআল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীস থেকে ইহাও স্পষ্ট হয় যে, তারা যখন শত্রু থেকে দূরে থাকতেন তখন রোজা ভাঙা আবশ্যক ছিল না; ফলে যার ইচ্ছা রোজা রাখতেন এবং যার ইচ্ছা রোজা ভাঙতেন। সাহাবীগণ বিষয়টি এভাবেই বুঝেছিলেন, তাই আবু সাঈদের এই হাদীসে রয়েছে: "এটি ছিল একটি অনুমতি, ফলে আমাদের মধ্যে কেউ রোজা রেখেছিলেন এবং কেউ রোজা ভেঙেছিলেন।"
যদি সফর জিহাদ ছাড়া অন্য কোনো কারণে হয়, তবে সেখানে রোজা ভাঙার বিষয়টি মুসলিমের ইচ্ছাধীন হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত; সে চাইলে রোজা রাখবে আর চাইলে রোজা ভাঙবে। আবু সাঈদ রাযিআল্লাহু আনহুর হাদীস থেকেও বিষয়টি প্রমাণিত, তাতে এসেছে: "আমি আমাদের দেখেছি এরপরেও আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সফরে রোজা পালন করতে।"
বলা হতে পারে যে, 'আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে রোজা রাখতাম'—এই বর্ণনাভঙ্গি থেকে বোঝা যায় যে, তারা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সান্নিধ্যে থাকা অবস্থায় রোজা রাখতেন কিন্তু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে তাদের সাথে রোজা পালনে অংশগ্রহণ করতেন না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় সাহাবীগণের কাজ কোনো দলিল বা হুজ্জাত নয়।
এর জবাবে বলা হবে যে, এই কর্মটি দলিল হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তিনি তা অস্বীকার বা নিষেধ করেননি। ফলে এটি সুন্নতে তাকরীরী (মৌনসম্মতিমূলক সুন্নাহ) হিসেবে গণ্য হবে যা একটি দলিল। আবার বলা হতে পারে: এমন সম্ভাবনা আছে যে তিনি তাদের সম্পর্কে অবগত হননি যার ফলে একে সুন্নতে তাকরীরী বলা যাবে না।
এর জবাবে বলা হবে যে: যদিও এই সম্ভাবনাটি দূরবর্তী, তবুও দলিল হওয়ার জন্য ওহী নাজিলের সময়কালে এই কাজটি সংঘটিত হওয়াই যথেষ্ট। কারণ যদি এতে কোনো শরঈ বিরোধিতা থাকত, তবে ওহী নাজিলের মাধ্যমে তা অবশ্যই স্পষ্ট করে বর্ণনা করা হতো।
৩- তৃতীয় দলিল: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাযিআল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সফরে ছিলেন, তিনি দেখলেন একজন মানুষের চারপাশে মানুষ ভিড় করে আছে এবং তার ওপর ছায়া দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: তার কী হয়েছে? তারা বলল: সে রোজা রেখেছে। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: সফরে রোজা রাখা কোনো পুণ্য বা নেকির কাজ নয়।" ১।
দলিল হওয়ার ধরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সফরের রোজা থেকে 'বিরর' (ব-এর নিচে যেরসহ) তথা আনুগত্য ও ইবাদতকে অস্বীকার করেছেন। অর্থাৎ সফরে রোজা রাখা আনুগত্য ও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যদি পুণ্য হওয়া নাকচ হয়ে যায়, তবে যে ব্যক্তি এর বিরুদ্ধাচরণ করে রোজা রাখবে সে গুনাহগার হবে এবং ফলশ্রুতিতে এই রোজা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না।
এর জবাবে বলা হয়েছে যে, এই হাদীসের শব্দ দ্বারা নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে—যিনি উল্লিখিত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৭১)
الحديث- وما يكون مماثلا له. والمعنى: ليس من البر أن يبلغ الإنسان بنفسه هذا المبلغ بعد أن رخص الله عز وجل له في الفطر1.
ولكن تناقش هذه الإجابة، بما قيل في علم الأصول، بأن العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب.
وترد هذه المناقشة بأن الحديث واقعة عين، ووقائع الأعيان لا يستدل بها على عموم الأحكام، والدليل على عدم قصد العموم في هذا الحديث، ما ثبت من صوم الرسول صلى الله عليه وسلم في رمضان في حديث أم الدرداء عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: "خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في شهر رمضان في حر شديد حتى إن كان أحدنا ليضع يده على رأسه من شدة الحر وما فينا صائم إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم وعبد الله بن رواحة" 2.
وقد حمل بعض العلماء هذا الحديث على القاعدة الشرعية، في رفع مالا يطاق عن هذه الأمة، فيكون مؤداه: أن المريض المقيم، والمسافر المرهق، ومن أجهده الصوم، عليهم أن يفطروا، فإن لم يأخذوا بالرخصة واستمروا على صومهم، حتى خشي عليهم التلف، فإنهم يكونون عصاة بصومهم واستحق من يفعل مثل هذا الفعل، أن يوصف صومه، بأنه ليس من البر، والله أعلم3.
وقد أجاب ابن حزم على ذلك، بأن هذه الحال- المشار إليها في القاعدة السابقة-محرم البلوغ إليها باختيار المرء للصوم في الحضر والسفر، وقد خصص النبي صلى الله عليه وسلم المنع من الصيام في السفر مطلقا بهذا الحديث، فيجب أخذ كلامه عليه الصلاة والسلام على عمومه 4.
ويجاب عن ادعاء العموم من الحديث، بأن فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم وفعل أصحابه بعد ذلك، قد بين أن هذا العموم غير مراد، فقد ثبت عنهم الصوم والفطر بعد هذه الواقعة وقد وضحت ذلك في تعليقي على حديث أبي سعيد الخدري الذي جاء فيه: " لقد
--------------------------------------------
হাদিসটি এবং এর সমতুল্য বিষয়গুলো। এর অর্থ হলো: মহান আল্লাহ যখন রোজা ভঙ্গের অনুমতি দিয়েছেন, তখন মানুষের জন্য নিজেকে এই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কোনো পুণ্যের কাজ নয়।১।
তবে উসুলুল ফিকহের একটি নিয়ম দ্বারা এই উত্তরের ব্যাপারে আলোচনা করা হয় যে, বিধান গ্রহণের ক্ষেত্রে শব্দের ব্যাপকতাই বিবেচ্য, কোনো নির্দিষ্ট কারণ নয়।
আর এই আলোচনার উত্তর এই যে, এই হাদিসটি একটি বিশেষ ঘটনা কেন্দ্রিক, আর বিশেষ ঘটনার মাধ্যমে সাধারণ বিধান সাব্যস্ত করা হয় না। এই হাদিসে ব্যাপকতা উদ্দেশ্য না হওয়ার প্রমাণ হলো রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোজা রাখার বিষয়টি, যা আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত উম্মুদ দারদার হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন: "আমরা প্রচণ্ড গরমে রমজান মাসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম, এমনকি প্রচণ্ড গরমের কারণে আমাদের কেউ কেউ নিজের হাত মাথার ওপর রাখছিল। তখন আমাদের মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ছাড়া আর কেউ রোজাদার ছিলেন না।" ২।
কোনো কোনো আলেম এই হাদিসটিকে এই শরয়ী মূলনীতির ওপর প্রয়োগ করেছেন যে, এই উম্মত থেকে অসহনীয় বিষয়গুলো উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এর নির্যাস হলো: অসুস্থ ব্যক্তি যে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে, ক্লান্ত মুসাফির এবং যার জন্য রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে, তাদের জন্য রোজা ভঙ্গ করা উচিত। যদি তারা এই অবকাশ গ্রহণ না করে এবং তাদের রোজা চালিয়ে যায়, এমনকি তাদের জীবননাশের আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে তারা তাদের এই রোজার কারণে অবাধ্য বা গুনাহগার হিসেবে গণ্য হবে। আর যে এমন কাজ করবে, তার রোজাকে "পুণ্যের কাজ নয়" বলে অভিহিত করা যথার্থ। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।৩।
ইবনে হাজম এর উত্তরে বলেছেন যে, পূর্বের মূলনীতিতে নির্দেশিত এই অবস্থায় পৌঁছানো মানুষের জন্য নিজ ইচ্ছায় রোজা রাখার মাধ্যমে হারাম, চাই সে নিজ এলাকায় থাকুক বা সফরে থাকুক। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিসের মাধ্যমে সফরে রোজা রাখাকে সাধারণভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। তাই তাঁর কথাকে এর ব্যাপক অর্থেই গ্রহণ করা ওয়াজিব। ৪।
হাদিসটিকে ব্যাপক অর্থে গ্রহণের দাবির উত্তরে বলা হয় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল এবং এরপর তাঁর সাহাবীদের আমল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ব্যাপকতা উদ্দেশ্য নয়। কেননা এই ঘটনার পর তাদের থেকে রোজা রাখা এবং রোজা ভঙ্গ করা উভয়টিই প্রমাণিত হয়েছে। আমি আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের ওপর আমার টিকায় এটি স্পষ্ট করেছি, যাতে এসেছে: "নিশ্চয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৭২)
رأيتنا نصوم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد ذلك في السفر" 1 والشريعة كل لا يتجزأ.
وقد رد ابن القيم على أصحاب هذا الاتجاه وهو الاستدلال بعموم النص مع قطع النظر عن فعله صلى الله عليه وسلم وفعل أصحابه المخصص له، فقال: "وهذا موضع يغلط فيه كثير من قاصري العلم يحتجون بعموم نص على حكم ويغفلون عن عمل صاحب الشريعة وعمل أَصحابه الذي يبين مراده" 2.
4- الدليل الرابع: من أدلة هذا الفريق الموجب للفطر في السفر: ما رواه أبو سلمة قال: أخبرني عمرو بن أمية الضمري، قال: "قدمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم من سفر فقال: انتظر الغداء يا أبا أمية، فقلت: إني صائم، فقال: تعال ادن مني حتى أخبرك عن المسافر أن الله عز وجل وضع عنه الصيام ونصف الصلاة" 3.
ويناقش هذا الاستدلال من وجهين:
الوجه الأول:
أنه قد اختلف في سند هذا الحديث اختلافا كثيرا، فقد اختلف فيه على الأوزاعي، حيث رواه الأوزاعي عن يحي عن أبي سلمة عن أبي أمية الضمري ثم رواه الأوزاعي عن يحي عن أبي قلابة عن أبي المهاجر عن أبي أمية الضمري ثم رواه الأوزاعي عن يحي عن أبي قلابة عن أبي أمية الضمري4.
كما اختلف فيه أيضا على معاوية بن سلام وعلي بن المبارك: فقد رواه عثمان عن معاوية عن يحي بن أبي كثير عن أبي قلابة: أن أبا أمية الضمري.. كما رواه عثمان عن علي بن يحي عن أبي قلابة عن رجل أن أبا أمية أخبره 5.
ولهذا الحديث شاهد من حديث أنس بن مالك الكعبي،إلا أنه أَيضا مختلف في إسناده، فقد رواه سفيان الثوري عن أيوب عن قلابة عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "إن الله وضع عن المسافر نصف الصلاة، والصوم وعن الحبلى والمرضع" 6.
--------------------------------------------
"আমি দেখেছি যে, আমরা এরপরেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সফরে রোজা রাখতাম" ১ এবং শরীয়ত একটি অবিভাজ্য একক।
ইবনুল কাইয়্যিম এই মতাবলম্বীদের প্রতিবাদ করেছেন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল এবং তাঁর সাহাবীদের আমল—যা সাধারণ নসকে (পাঠ্যকে) সুনির্দিষ্ট করে—তা উপেক্ষা করে কেবল নসের ব্যাপকতার মাধ্যমে দলিল পেশ করেন। তিনি বলেন: "এটি এমন একটি স্থান যেখানে অনেক স্বল্পজ্ঞানী ব্যক্তি ভুল করেন; তারা কোনো বিধানের ক্ষেত্রে নসের ব্যাপকতা দিয়ে দলিল পেশ করেন এবং শরীয়ত প্রবর্তকের আমল ও তাঁর সাহাবীদের আমল সম্পর্কে গাফেল থাকেন, যা তাঁর উদ্দেশ্যকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে।" ২।
৪- চতুর্থ দলিল: সফরে রোজা ভঙ্গ করা ওয়াজিব মনেকারী দলের দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে আবু সালামা বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: আমর ইবনে উমাইয়া আদ-দামরি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: "আমি সফর থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম। তিনি বললেন: হে আবু উমাইয়া, দুপুরের খাবারের জন্য অপেক্ষা করো। আমি বললাম: আমি রোজা রেখেছি। তখন তিনি বললেন: কাছে এসো, আমি তোমাকে মুসাফির সম্পর্কে বলি যে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর থেকে রোজা এবং অর্ধেক নামাজ তুলে নিয়েছেন।" ৩।
এই দলিলের আলোচনা দুইভাবে করা যায়:
প্রথম দিক:
এই হাদিসের সনদে অনেক মতভেদ রয়েছে। আওজায়ীর সূত্রে এতে মতভেদ হয়েছে; আওজায়ী এটি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু উমাইয়া আদ-দামরি থেকে বর্ণনা করেছেন। পুনরায় আওজায়ী এটি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবুল মুহাজির থেকে, তিনি আবু উমাইয়া আদ-দামরি থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার আওজায়ী এটি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবু উমাইয়া আদ-দামরি থেকে বর্ণনা করেছেন। ৪।
একইভাবে মুয়াবিয়া ইবনে সালাম এবং আলী ইবনুল মুবারকের সূত্রেও এতে মতভেদ হয়েছে: উসমান এটি মুয়াবিয়া থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু উমাইয়া আদ-দামরি... আবার উসমান এটি আলী ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু উমাইয়া তাকে সংবাদ দিয়েছেন। ৫।
এই হাদিসের সমর্থনে আনাস ইবনে মালিক আল-কাব্বী বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে, তবে সেটির সনদেও মতভেদ আছে। সুফিয়ান আস-সাওরি এটি আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুসাফিরের ওপর থেকে অর্ধেক নামাজ ও রোজা এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলার ওপর থেকে রোজা তুলে নিয়েছেন।" ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
وعن ابن حبان عن عبد الله عن ابن عيينة عن أيوب شيخ من قشير عن عمه.
وعن عبد الله عن خالد الحذاء عن أبي قلابة عن رجل قال: أتيت النبي صلى الله عليه وسلم وهكذا..1.
وقد روى أبو داود هذا الحديث عن طريق شيبان بن فروخ عن أبي هلال الراسبي عن أبي سواد القشيري عن أنس بن مالك- رجل من بني عبد الله بن كعب أخوة بني قشير- وقد رواه بلفظ "أغارت علينا خيل لرسول الله صلى الله عليه وسلم فانتهيت- أو قال- فانطلقت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يأكل فقال: اجلس فأصب من طعامنا هذا، فقلت: إني صائم، قال:- فقال- اجلس أحدثك عن الصلاة وعن الصيام: إن الله وضع شطر الصلاة- أو نصف الصلاة والصوم عن المسافر وعن المرضع أو الحبلى- والله لقد قالهما جميعا أو أحدهما- قال: فتلهفت نفسي ألا أكون أكلت من طعام رسول الله صلى الله عليه وسلم" 2 وقد سكت عنه أبو داود.
وقد رواه الترمذي بنفس اللفظ الذي أورده به أبو داود ثم قال: "حديث حسن" 3.
الوجه الثاني:
إن لفظ (وضع) في الحديث يفسر بمعنيين، أولهما: وضع: بمعنى أسقط بلا مقابل وهذا خاص بالنسبة لشطر الصلاة في السفر. وهذا القول مستفاد من الكتاب والسنة، فقد ورد فيهما قصر الصلاة في السفر بلا مقابل.
المعنى الثاني: أن وضع: أي أسقط الوجوب في الحال مع القضاء في المستقبل وهو بالنسبة للصوم للمسافر والمرضع والحامل وإنما قلنا بذلك أيضا للإجماع على أن المسافر والمرضع والحامل إن أفطر كل منهم في رمضان وجب عليه القضاء بعد زوال عذره.
فإسقاط الصوم هنا عن المسافر ليس بإطلاق، بل هو إسقاط للوجوب الفوري مع وجوب القضاء بعد ذلك، إنْ أفطر عملا بالرخصة، أي أن إسقاط الوجوب الفوري هنا رخصة فمن شاء أخذ بها وأفطر، ومن شاء عمل بالعزيمة وترك العمل بالرخصة، وهذا هو مدلول الرخصة، فللمكلف الأخذ بها وهو أفضل، أو العمل بالعزيمة ولا جناح عليه. وقد فسرها صلى الله عليه وسلم بذلك في حديث حمزة بن عمرو الأسلمي رضي الله عنه حيث قال: يا رسول الله: أجد بي قوة على الصيام في السفر فهل علي جناح فقال رسول الله صلى الله
--------------------------------------------
ইবনে হিব্বান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে, তিনি ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি কুশায়র গোত্রের একজন শাইখ আইয়ুব থেকে, তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবং আবদুল্লাহ থেকে, তিনি খালিদ আল-হাদ্দা থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলাম... এভাবেই। ১।
ইমাম আবু দাউদ এই হাদীসটি শায়বান ইবনে ফাররুখ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হিলাল আল-রাসিবি থেকে, তিনি আবু সাওয়াদ আল-কুশায়রি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক—যিনি বনু কুশায়র গোত্রের ভ্রাতৃপ্রতিম বনু আবদুল্লাহ ইবনে কাব গোত্রের এক ব্যক্তি—তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল অশ্বারোহী বাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ করল, তখন আমি পৌঁছালাম—অথবা বললেন—আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলাম, তখন তিনি খাচ্ছিলেন। তিনি বললেন: বসো এবং আমাদের এই খাবার থেকে আহার করো। আমি বললাম: আমি তো রোজা রাখা অবস্থায় আছি। তিনি বললেন: বসো, আমি তোমাকে সালাত এবং সিয়াম সম্পর্কে বলছি: নিশ্চয়ই আল্লাহ মুসাফিরের জন্য সালাতের অর্ধেক—বা সালাতের অর্ধাংশ এবং সিয়াম স্থগিত করেছেন এবং দুগ্ধদানকারী নারী অথবা গর্ভবতী নারী থেকেও (সিয়াম স্থগিত করেছেন)। আল্লাহর কসম, তিনি এ দুটির উভয়ই বলেছিলেন অথবা এর একটি বলেছিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: তখন আমার মনে আক্ষেপ হলো যে, আমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাবার থেকে আহার করতাম!" ২। আর আবু দাউদ এ বিষয়ে নীরব থেকেছেন।
ইমাম তিরমিজিও এটি সেই একই শব্দে বর্ণনা করেছেন যা আবু দাউদ উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "হাদীসটি হাসান"। ৩।
দ্বিতীয় দিক:
হাদীসে বর্ণিত 'ওয়াদা' (স্থগিত করা) শব্দটিকে দুই অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়। প্রথমটি হলো: 'ওয়াদা' অর্থ কোনো বিনিময় ছাড়াই বিলুপ্ত করা, আর এটি সফরের ক্ষেত্রে সালাতের অর্ধাংশের সাথে নির্দিষ্ট। এই বক্তব্যটি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে গৃহীত হয়েছে, কেননা এ দুই উৎসে কোনো বিনিময় ছাড়াই সফরে সালাত কসর (সংক্ষিপ্ত) করার বিধান এসেছে।
দ্বিতীয় অর্থটি হলো: 'ওয়াদা' অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আবশ্যকতা স্থগিত করা, তবে ভবিষ্যতে তা কাযা করতে হবে। এটি মুসাফির, দুগ্ধদানকারী এবং গর্ভবতী নারীর রোজার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমরা একারণেই এটি বলেছি যে, এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) রয়েছে যে—মুসাফির, দুগ্ধদানকারী এবং গর্ভবতী নারী যদি রমজানে রোজা ভঙ্গ করেন, তবে ওজর দূর হওয়ার পর তাদের ওপর তা কাযা করা ওয়াজিব।
সুতরাং এখানে মুসাফিরের ওপর থেকে রোজা স্থগিত করা নিরঙ্কুশ নয়; বরং এটি তাৎক্ষণিক আবশ্যকতা স্থগিত করা এবং পরবর্তীতে কাযা করা ওয়াজিব হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, যদি কেউ রুকসত (অনুমতি) অনুযায়ী রোজা ভঙ্গ করে। অর্থাৎ, এখানে তাৎক্ষণিক আবশ্যকতা স্থগিত হওয়া একটি রুকসত বা ছাড়; সুতরাং যে ইচ্ছা করবে সে তা গ্রহণ করে রোজা ভঙ্গ করবে, আর যে ইচ্ছা করবে সে আজীমত (মূল বিধান) পালন করবে এবং ছাড় বর্জন করবে। এটিই হলো রুকসতের মূল অর্থ; সুতরাং শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি চাইলে সেটি গ্রহণ করতে পারে এবং সেটিই উত্তম, অথবা সে আজীমত অনুযায়ী আমল করতে পারে, তাতে তার কোনো গুনাহ নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হামজা ইবনে আমর আল-আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে রোজা রাখার শক্তি পাই, এতে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
صلى الله عليه وسلم: "هي رخصة من الله فمن أخذ بها فحسن ومن أحب أن يصوم فلا جناح عليه" 1.
الدليل الخامس: عن ابن عباس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج عام الفتح في رمضان فصام حتى بلغ الكديد ثم أفطر.. قال: "وكان صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم يتبعون الأحدث فالأحدث من أمره" 2.
وفي رواية أخرى عن طريق الزهري أيضا- جاء فيها " قال الزهري: وكان الفطر آخر الأمرين، وإنما يؤخذ من أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالآخر فالآخر" 3.
وفي رواية ثالثة: قال ابن شهاب: "فكانوا يتبعون الأحدث فالأحدث من أمره ويرونه الناسخ المحكم"4.
واضح من الحديث أن الفطر في السفر كان آخر الأمرين وأنه قد نسخ حكم جواز الصيام فيه، الذي كان موجودا قبل ذلك.
ويناقش هذا الاستدلال بما يلي:
أولا: أن عبارة: (فكان الفطر آخر الأمرين) ، من قول ابن شهاب الزهري، وقد أشار إلى ذلك الإمام مسلم من خلال عرضه لسند الحديث، كما أوضحناه في ذكرنا لروايات الحديث الثلاث.
ثانيا: ينبغي أن يفهم أن مراد الزهري من الأمرين: هما عزيمة الصيام في السفر والرخصة في الفطر فيه، وعلى هذا يكون الدليل متمشيا مع رأي الجمهور.
أما أن يحمل الأمران على عزيمة الصيام في السفر، وعزيمة الفطر فيه دائما فلا، لأنه يتناقض مع فهم راوي الحديث نفسه، وهو ابن عباس رضي الله عنهما فقد ورد عنه في الصحيحين "سافر رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فصام حتى بلغ عسفان، ثم دعا بإناء فيه شراب فشربه نهارا ليراه الناس ثم أفطر حتى دخل مكة. قال ابن عباس- عقب ذلك مباشرة- فصام رسول الله صلى الله عليه وسلم وأَفطر فمن شاء صام ومن شاء أفطر" 5.
--------------------------------------------
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সুযোগ (রুকসাত), সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করে সেটি উত্তম, আর যে রোজা রাখতে পছন্দ করে তার কোনো গুনাহ নেই।" ১।
পঞ্চম দলীল: ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের বছর রমজান মাসে সফরে বের হলেন এবং রোজা রাখলেন যতক্ষণ না কাদীদ নামক স্থানে পৌঁছালেন, তারপর তিনি ইফতার করলেন। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ তাঁর সর্বশেষ নির্দেশনাবলির অনুসরণ করতেন।" ২।
যুহরী থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "যুহরী বলেন: ইফতার করাই ছিল (দুটি নির্দেশের মধ্যে) সর্বশেষ বিষয়, আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশাবলির মধ্যে সর্বশেষটিই গ্রহণ করা হয়।" ৩।
তৃতীয় এক বর্ণনায় ইবনে শিহাব বলেন: "তারা তাঁর পরবর্তী নির্দেশাবলির অনুসরণ করতেন এবং সেটাকেই রহিতকারী ও সুপ্রতিষ্ঠিত (নাসিখ ও মুহকাম) মনে করতেন।" ৪।
হাদীস থেকে এটি স্পষ্ট যে, সফরে ইফতার করাই ছিল সর্বশেষ বিষয় এবং এটি সফরে রোজা রাখার বৈধতার বিধানকে রহিত করে দিয়েছে, যা এর আগে বিদ্যমান ছিল।
এই দলীল উপস্থাপনের বিষয়ে নিম্নোক্ত আলোচনা করা যায়:
প্রথমত: 'ইফতার করাই ছিল সর্বশেষ বিষয়'—এই উক্তিটি ইবনে শিহাব যুহরীর। ইমাম মুসলিম হাদীসের সনদ উপস্থাপনের সময় এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেমনটি আমরা হাদীসের তিনটি বর্ণনা উল্লেখ করার সময় স্পষ্ট করেছি।
দ্বিতীয়ত: এটি বোঝা উচিত যে, যুহরীর উদ্দেশ্য 'দুটি বিষয়' দ্বারা হলো: সফরে রোজা রাখার মূল বিধান (আযীমত) এবং তাতে ইফতার করার সুযোগ (রুকসাত)। আর এই ভিত্তিতে দলীলটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।
কিন্তু যদি 'দুটি বিষয়' বলতে সফরে রোজা রাখার আবশ্যকতা এবং তাতে সর্বদা ইফতারের আবশ্যকতা বোঝানো হয়, তবে তা সঠিক হবে না। কারণ এটি খোদ হাদীস বর্ণনাকারী ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বুঝের সাথে সাংঘর্ষিক। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমজান মাসে সফরে বের হলেন এবং রোজা রাখলেন যতক্ষণ না উসফান নামক স্থানে পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি একটি পাত্র চাইলেন যাতে পানীয় ছিল এবং তা দিনের বেলায় পান করলেন যাতে মানুষ তা দেখতে পায়। এরপর তিনি মক্কায় প্রবেশ করা পর্যন্ত রোজা ভঙ্গ অবস্থায় ছিলেন। ইবনে আব্বাস এর পরপরই বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোজা রেখেছেন এবং ইফতারও করেছেন, সুতরাং যার ইচ্ছা রোজা রাখবে এবং যার ইচ্ছা ইফতার করবে।" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
فقول ابن عباس: "فمن شاء صام ومن شاء أفطر" أدل على فهم فعل رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأدق من فهم ابن شهاب رضي الله عنه، وأولى بالاعتبار منه. وأما الآثار التي نقلت عن بعض أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم في شأن وجوب الفطر في السفر، ففي بعضها ضعف من جهة سندها أو هي معارضة بما هو أقوى منها، وبعضها الآخر، إما أن يكون قد ذكر على سبيل التغليظ والتشديد وإما ن يكون على سبيل الاجتهاد الشخصي من صاحبه في فهم النصوص، ونبين ذلك بشيء من الإيضاح فنقول:
(أ) - ما روي عن ابن عباس رضي الله عنهما، من قوله: لا يجزئه الصيام وما ورد بمعناه عنه، فإنه يتعارض مع ما هو أقوى منه، وهو رواية ابن عباس لحديث صيامه صلى الله عليه وسلم في غزوة الفتح حتى بلغ الكديد ثم أفطر- وقد قال ابن عباس معقباً على الحديث: لقد صام رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفطر فمن شاء صام ومن شاء أفطر.. وقد تقدم ذلك قريبا، وهذا الحديث مخرج في الصحيحين وغيرهما فهو أقوى.
(ب) - وأما ما نقل عن عبد الرحمن بن عوف من قوله: "الصائم في السفر كالمفطر في الحضر". فقد قال البيهقي: "هو موقوف، في إسناده انقطاع، وقد روى مرفوعا وإسناده ضعيف" 1وقد نقل النووي قول البيهقي هذا في المجموع واحتج به على من تمسك بهذا الأثر. لكن صاحب الجوهر النقي قد تعقب قول البيهقي السابق: فذكر أن هذا الأثر، قد رواه أبو سلمة بن عبد الرحمن عن أبيه، وقد قال ابن معين والنسائي: لم يسمع من أبيه، فهذا معنى قول البيهقي: وفي إسناده انقطاع: إلا أن ابن حزم صرح بسماعه من أبيه، وتابع حميد بن عبد الرحمن أَخاه أبا سلمة فرواه عن أبيه كذلك. كذا أخرجه النسائي في سننه بسند صحيح، وذكر ابن حزم أن سنده في غاية الصحة وعلى فرض صحة نسبة هذا القول إلى عبد الرحمن بن عوف رضي الله عنه، فإنه يحمل، إما على التشديد في قبوله الرخصة ردا على من تركها رغبة عنها، أو على أن ذلك اجتهاد منه في فهم النص القرآني. وعليه، فلا يكون حجة لأنه يتعارض مع تفسير الرسول صلى الله عليه وسلم للرخصة والذي أشرنا إليه قريبا..
(ج) - أما ما نقل عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه: "من أن رجلا صام رمضان في السفر فأمره عمر أن يقضيه"، ففي سنده عاصم بن عبيد الله بن عاصم، قال عنه ابن حجر في التقريب: "ضعيف".
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাসের কথা: "যার ইচ্ছা সে রোজা রাখবে এবং যার ইচ্ছা সে রোজা ভাঙবে" - এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল বোঝার ক্ষেত্রে অধিকতর নির্দেশক, ইবনে শিহাব (রা.)-এর বুঝের চেয়েও সূক্ষ্ম এবং তার চেয়ে অধিক বিবেচনার যোগ্য। আর সফর অবস্থায় রোজা ভাঙা ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় সাহাবী থেকে যে সকল বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর কোনো কোনোটির সনদে দুর্বলতা রয়েছে অথবা সেগুলো তার চেয়ে শক্তিশালী দলিলের বিরোধী। আবার অন্য কোনোটি কঠোরতা ও কাঠিন্য আরোপের অর্থে বর্ণিত হয়েছে অথবা সেটি সংশ্লিষ্ট সাহাবীর ব্যক্তিগত ইজতিহাদ বা নস বোঝার ক্ষেত্রে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। আমরা কিছুটা স্পষ্ট করে বিষয়টি তুলে ধরছি এবং বলছি:
(ক) - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, "রোজা তার জন্য যথেষ্ট হবে না" এবং এই অর্থের যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা তার চেয়েও শক্তিশালী দলিলের সাথে সাংঘর্ষিক। আর তা হলো মক্কা বিজয়ের অভিযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রোজা রাখার হাদিস সম্পর্কে ইবনে আব্বাসের নিজস্ব বর্ণনা, যেখানে তিনি কাদিদ নামক স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত রোজা রেখেছিলেন এবং তারপর রোজা ভেঙেছিলেন। এই হাদিসের প্রেক্ষিতে ইবনে আব্বাস বলেছিলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রেখেছেন এবং ভেঙেছেনও; সুতরাং যার ইচ্ছা রোজা রাখবে এবং যার ইচ্ছা ভাঙবে। এই বিষয়টি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। এই হাদিসটি সহীহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে, তাই এটি অধিক শক্তিশালী।
(খ) - আর আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত তাঁর এই উক্তি যে: "সফরে রোজা পালনকারী ব্যক্তি মুকিম অবস্থায় রোজা ভঙ্গকারীর ন্যায়।" ইমাম বায়হাকি বলেছেন: "এটি মাওকুফ, এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। এটি মারফু হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে কিন্তু তার সনদ দুর্বল।" ইমাম নববী 'আল-মাজমু' গ্রন্থে বায়হাকির এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন এবং যারা এই বর্ণনার ওপর নির্ভর করেন তাদের বিপক্ষে এটি দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। তবে 'আল-জাওহারুন নাকি' এর লেখক বায়হাকির পূর্বোক্ত বক্তব্যের পর্যালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই বর্ণনাটি আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমান তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে মাঈন এবং নাসাঈ বলেছেন: তিনি তাঁর পিতা থেকে শোনেননি। বায়হাকির কথার অর্থ এটাই যে, 'এর সনদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে'। তবে ইবনে হাজম তাঁর পিতা থেকে শোনার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। হুমাইদ বিন আবদুর রহমানও তাঁর ভাই আবু সালামাহর অনুসরণ করেছেন এবং তিনিও তাঁর পিতা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। নাসাঈ তাঁর সুনান গ্রন্থে এটি সহীহ সনদে সংকলন করেছেন এবং ইবনে হাজম উল্লেখ করেছেন যে এর সনদ অত্যন্ত সহীহ। আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.)-এর প্রতি এই উক্তির সম্বন্ধ যদি সহীহ বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবে তাকে হয় রুখসত বা ছাড় গ্রহণ করার ক্ষেত্রে কঠোরতা হিসেবে ধরা হবে (তাদের খণ্ডন করার জন্য যারা অনীহা বশত ছাড় বর্জন করে), অথবা এটি কুরআনের আয়াত বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর ব্যক্তিগত ইজতিহাদ। এমতাবস্থায়, এটি দলিল হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ এটি রুখসতের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই ব্যাখ্যার পরিপন্থী যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
(গ) - ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে: "এক ব্যক্তি সফর অবস্থায় রমজানের রোজা রাখলে ওমর তাকে তা কাজা করার নির্দেশ দেন," এর সনদে আসিম বিন উবায়দুল্লাহ বিন আসিম রয়েছেন, যার সম্পর্কে ইবনে হাজার 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "দুর্বল"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ৫২)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
(د) أما ما نقل عن أبي هريرة، عن قوله: في حق الرجل الذي صام في السفر، "لو مات ما صليت عليه"، فإنه قد تبين من خلال القصة، ضعف الرجل عن الصيام في السفر، ومن كان هذا حاله فإنه ينبغي أن يشدد عليه في الأخذ بالرخصة، فحاله هذه قريبة الشبه بحالة الرجل الذي قال صلى الله عليه وسلم في حقه: "ليس من البر الصيام في السفر"، أي أن من ضعف عن الصيام في السفر، فلا ينبغي أن يشدد على نفسه حتى يفضي إلى هلاكها، فإن هذا الفعل ليس من البر في شيء.
أحوال القلب
قال أبو بكر الوراق:
للقلب ستة أشياء:
حياة، وموت، وصحة، وسقم، ويقظة، ونوم. فحياته الهدى.. وموته الضلالة.. وصحته الصفاء، وعلته العلاقة، ويقظته الذكر، ونومه الغفلة.
وقال أبو حاتم: موت القلب من أربعة أشياء: فضول الكلام ومجالسة الجهال وأكل الشبهة وكثرة الضحك.
(দ) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত সেই উক্তি সম্পর্কে, যা তিনি সফরে রোজা রাখা ব্যক্তির ব্যাপারে বলেছিলেন: "যদি সে মারা যেত, তবে আমি তার জানাজা পড়তাম না," তবে ঘটনার প্রেক্ষাপটে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, লোকটি সফরে রোজা রাখার ক্ষেত্রে দুর্বল ছিল। যার অবস্থা এমন, তাকে ছাড় (রুখসত) গ্রহণ করার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করা উচিত। তার এই অবস্থাটি সেই ব্যক্তির অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সফরে রোজা রাখা কোনো পুণ্য নয়।" অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সফরে রোজা রাখতে অক্ষম বা দুর্বল হয়ে পড়ে, তার নিজের ওপর এমন কঠোরতা করা উচিত নয় যা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। কেননা এই আচরণ পুণ্যের কোনো কিছুই নয়।
অন্তরের অবস্থাসমূহ
আবু বকর আল-ওয়াররাক বলেন:
অন্তরের জন্য ছয়টি বিষয় রয়েছে:
জীবন, মৃত্যু, সুস্থতা, অসুস্থতা, সতর্কতা এবং নিদ্রা। সুতরাং এর জীবন হলো হিদায়াত, এর মৃত্যু হলো পথভ্রষ্টতা, এর সুস্থতা হলো স্বচ্ছতা, এর অসুস্থতা হলো জাগতিক আসক্তি, এর সতর্কতা হলো জিকির এবং এর নিদ্রা হলো উদাসীনতা।
আবু হাতিম বলেন: চারটি কারণে অন্তরের মৃত্যু ঘটে: অতিরিক্ত কথা বলা, মূর্খদের সাথে উঠাবসা করা, সন্দেহযুক্ত বস্তু ভক্ষণ করা এবং অধিক পরিমাণে হাসাহাসি করা।
(খণ্ড: ১)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: -)
رخصة الفطر في سفر رمضان وما يترتب عليها من الآثار القسم: مسائل فقهية
الكتاب: رخصة الفطر في سفر رمضان وما يترتب عليها من الآثار
المؤلف: أحمد علي طه ريان
الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রমাযানের সফরে রোজা ভঙ্গের অবকাশ এবং এর ফলে উদ্ভূত প্রভাবসমূহ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: রমাযানের সফরে রোজা ভঙ্গের অবকাশ এবং এর ফলে উদ্ভূত প্রভাবসমূহ
লেখক: আহমদ আলী ত্বহা রাইয়ান
প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারাহ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী
[বইয়ের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড নম্বর হলো সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ৫৩)
রুখসাতুল ফিতরি ফী সাফারি রামাদান ওয়া মা ইয়াতারাত্তাবু আলাইহা মিনাল আসার
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
رخصة الفطر في سفر رمضان وما يترتب عليها من الآثار
الدكتور أحمد طه ريان أستاذ مساعد بجامعة الأزهر
وإتماما لما سبق نشره في حلقتين سابقتين في موضوع (رخصة الفطر في سفر رمضان وما يترتب عليه من آثار) بسوق هذه الحلقة الثالثة فيما يلي:
رأي جمهور الفقهاء:يرى جمهور الفقهاء وهو عدا من ذكرنا في الرأي السابق أن الفطر في السفر خلال شهر رمضان رخصة يجوز الأخذ بها ويجوز تركها والصيام عملا بالعزيمة..
وأهم الأدلة التي استند إليها هذا الفريق ما يلي:
الأول: قوله تعالى: {.. وَمَنْ كَانَ مَرِيضاً أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} .. الآية وقد تقدم أن تقرير الآية على رأي هذا الفريق: ومن كان مريضا أو على سفر فأفطر فعليه عدة من أيام أخر..
كما سبقت الإشارة إلى أن الفريق الأول: يرى أن هذا التقرير من شأنه تخصيص الآية، وليس خناك دليل على التخصيص، بل يجب أن تبقى الآية عامة كما جاءت، وقد سبق الرد عليه مفصلا..
الثاني: حديث ابن عباس المتقدم في صيام رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزوة الفتح حتى بلغ الكديد ثم أفطر. ثم قول ابن عباس تعليقا عليه: "لقد صام رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفطر، فمن شاء صام ومن شاء أفطر"..
রমজান মাসের সফরে রোজা ভঙ্গের অনুমতি এবং এর ফলে উদ্ভূত বিধানসমূহ
ড. আহমদ ত্বহা রাইয়ান, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক
"রমজান মাসের সফরে রোজা ভঙ্গের অনুমতি এবং এর থেকে উদ্ভূত বিধানসমূহ" শীর্ষক বিষয়ে ইতিপূর্বে প্রকাশিত পূর্ববর্তী দুটি পর্বের ধারাবাহিকতায় নিচে এই তৃতীয় পর্বটি উপস্থাপন করা হলো:
জুমহুর ফকিহগণের মতামত:জুমহুর ফকিহগণ—যাঁরা পূর্ববর্তী মতামতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বাইরে—মনে করেন যে, রমজান মাসে সফর চলাকালীন রোজা ভঙ্গ করা একটি অনুমতি বা সহজতা (রুখসাত), যা গ্রহণ করাও বৈধ এবং তা বর্জন করে মূল বিধানের (আযিমাত) ওপর আমল করে রোজা রাখাও বৈধ...
এই দল যে প্রধান দলীলসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন তা নিম্নরূপ:
প্রথম: মহান আল্লাহর বাণী: {.. আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তবে তাকে অন্য দিনগুলোতে সেই সংখ্যা পূরণ করতে হবে} .. আয়াতাংশ। এই দলের মতানুসারে আয়াতের ব্যাখ্যাটি ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে যে: "আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে এবং রোজা ভঙ্গ করবে, তবে তাকে অন্য দিনগুলোতে সেই সংখ্যা পূরণ করতে হবে..."
ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, প্রথম দলটি মনে করেন: এই ব্যাখ্যা আয়াতটিকে নির্দিষ্ট (তাখসিস) করে দেয়, অথচ এই সীমাবদ্ধকরণের কোনো দলীল নেই; বরং আয়াতটি যেভাবে অবতীর্ণ হয়েছে সেভাবেই তাকে সাধারণ (আম) রাখা আবশ্যক। এ বিষয়ে বিস্তারিত উত্তর ইতিপূর্বেই প্রদান করা হয়েছে...
দ্বিতীয়: মক্কা বিজয়ের অভিযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোজা রাখা সংক্রান্ত ইবনে আব্বাসের ইতিপূর্বে উল্লিখিত হাদিসটি, যেখানে তিনি 'কাদিদ' নামক স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত রোজা রেখেছিলেন এবং এরপর রোজা ভঙ্গ করেছিলেন। অতঃপর ইবনে আব্বাস এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রেখেছেন এবং রোজা ভঙ্গও করেছেন; সুতরাং যার ইচ্ছা সে রোজা রাখবে আর যার ইচ্ছা সে রোজা ভঙ্গ করবে..."