(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
دراسات في السنة النبوية   (محمد ضياء الرحمن الأعظمي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: دراسات في السنة النبوية

المؤلف: محمد ضياء الرحمن الأعظمي

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ সংক্রান্ত অধ্যয়নসমূহ   (মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আল-আজমী)

বিভাগ: উলূমুল হাদীস


কিতাব: সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ সংক্রান্ত অধ্যয়নসমূহ

লেখক: মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আল-আজমী

প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকী

[কিতাবটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড নম্বর হলো সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১৪) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
دراسات في السنَّة النبوِيَّة

بقلم الشيخ محمد ضياء الرحمان الأعظمي

السنة في اللغة: الطريقة حسنة كانت أمْ سيئة يقال فلان من أهل السنة قال نصيب:

من الناس إذ أحببت بينهم وحدي … كأني سننت الحب أوَّل عاشق

ومن معانيها: السيرة حسنة كانت أمْ سيئة قال خالد بن عتبة الهذلي:

فأوَّل راض سنة من يسيرها … فلا تجزعن عن سيرة أنت سرتها

ومن معانيها: الوجه أي الشيء البارز من الجسم قال ذو الرمة:

تريك سنة وجه غير مقرفة … ملساء ليس بها خال ولا ندب

وبهذا المعنى أنشد ثعلب:

بيضاء في المرآة سنتها … في البيت تحت مواضع اللمس

ومثله قول الأعشى:

كريماً شمائله من بني … معاوية الأكرمين السنن

ومن معانيها التصوير يقال أسنُّه سنّاً إذا صورته. قد أنشد عبد الرحمن ابن حسان:

ثم خاصرتها إلى القبة الخضراء … تمشي في مرمر مسنون

وقال في اللسان: "كل من ابتدأ أمراً عمل به قوم بعده هو السنة"1

--------------------------------------------

1 - ج 13 ص 225.
সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ সম্পর্কিত গবেষণা

শাইখ মুহাম্মাদ জিয়াউর রহমান আল-আ’জমী-র লেখনীতে

অভিধানে সুন্নাহর অর্থ: পদ্ধতি বা পথ, তা ভালো হোক কিংবা মন্দ। বলা হয়ে থাকে, অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর অনুসারী। নাসীব বলেছেন:

মানুষের মাঝে যখন আমি একাকী তাদের ভালোবাসলাম … যেন আমিই প্রথম প্রেমিক হিসেবে ভালোবাসার পদ্ধতি প্রবর্তন করলাম

এর অন্য একটি অর্থ হলো: জীবনচরিত বা আচরণ, তা ভালো হোক বা মন্দ। খালিদ বিন উতবা আল-হুযালী বলেছেন:

যে ব্যক্তি কোনো সুন্নাহ প্রবর্তন করে সেই তার প্রতি প্রথম সন্তুষ্ট থাকে … সুতরাং তুমি যে আচরণ নিজে পরিচালনা করেছ তা নিয়ে বিচলিত হয়ো না

এর আরেকটি অর্থ হলো: চেহারা, অর্থাৎ শরীরের প্রক্ষিপ্ত বা প্রকাশ্য অংশ। যু-রুম্মাহ বলেছেন:

সে তোমাকে তার মুখমণ্ডলের এমন এক অবয়ব দেখায় যা কুরুচিপূর্ণ নয় … মসৃণ, যাতে কোনো তিল বা দাগ নেই

এই অর্থেই ছা’লাব পাঠ করেছেন:

আয়নার সামনে তার চেহারার গড়ন উজ্জ্বল শুভ্র … ঘরের ভেতরে স্পর্শের জায়গার নিচে

এর অনুরূপ আল-আ’শার উক্তি:

তার গুণাবলি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, তিনি বনু মুআবিয়াহর বংশধর … যারা অত্যন্ত সম্মানিত বংশধারার অধিকারী

এর অন্যতম অর্থ হলো চিত্রায়ন বা রূপদান করা। বলা হয়, ‘আমি তাকে রূপ দিয়েছি’ যখন আমি তাকে চিত্রিত করেছি। আব্দুর রহমান ইবনে হাসসান পাঠ করেছেন:

অতঃপর আমি তার কোমর ধরে তাকে সবুজ গম্বুজের দিকে নিয়ে গেলাম … সে মসৃণ ও খোদাইকৃত মার্বেল পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটছিল

এবং ‘লিসান’ (লিসানুল আরব) গ্রন্থে বলা হয়েছে: "যে ব্যক্তিই কোনো বিষয়ের সূচনা করে এবং পরবর্তীতে কোনো সম্প্রদায় তা অনুসরণ করে, সেটিই সুন্নাহ।" ১

--------------------------------------------

১ - খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২২৫।
(খণ্ড: ১৪) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
ويمكن أن نحمل قول نصيب الماضي على هذا.

قال شيخ الإسلام بن تيمية في (اقتضاء الصراط المستقيم) : "السنة هي العادة وهي الطريقة التي تبتكر لنوع من الناس مما يعدُّونه عبادة أولا يعدُّونه عبادة".

فهذه المعاني الكثيرة كلها تنطبق على السنة النبوية وهي متوفرة في الكتاب والسنة مثل قوله تعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلاً} 1. ومثل قوله تعالى: {وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلا أَنْ تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الأَوَّلِينَ} 2 يعني العذاب كما قال الزجاج: "سنة الأولين أنهم عاينوا العذاب فطلب المشركون إذ قالوا اللهم إن كان هذا هو الحق من عندك فأمطر علينا حجارة من السماء"3.

ومنه قوله تعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَراً مَقْدُوراً} 4. ومنه قوله تعالى: {سُنَّتَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ} 5. وغيرها من الآيات البينات فإنها تدل على معنى الطريقة والعادة والأمر والعذاب وما شاكل ذلك فالآن نرجع إلى الحديث النبوي لنرى فيه معاني السنة.

أخرج مسلم عن أبي سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى اله عليه وسلم: "لتتبعن سنن الذين من قبلكم شبرا بشبر وذراعا بذراع حتى لو دخلوا جحر ضب لاتبعتموهم". قلنا يا رسول الله: اليهود والنصارى قال: "فمن." 6. وفيه عن جرير بن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من سنَّ في الإسلام سُنَّة حسنة فعُمِل بها بعده كتب له مثل أجر من عمل بها ولا ينقص من أجورهم شيء، ومن سن في الإسلام سنة سيئة فعُمل بها بعده كتب عليه مثل وزر من عمل بها ولا ينقص من أوزارهم شيء".7

ففي هذا الحديث الشريف حثٌّ على إبداع سنَّة حسنة محمودة وكذلك

--------------------------------------------

1 - الفتح 32

2 - الكهف: 55

3 - اللسان ج 13ص 225.

4 - الأحزاب: 38.

5 - غافر: 85.

6 - مسلم كتاب العلم باب اتباع اليهود والنصارى ص 57 ج 8.

7 - مسلم كتاب العلم باب من سن سنة حسنة أو سيئة ص61 ج8.
আমরা নাসিবের পূর্ববর্তী উক্তিটিকে এর ওপর প্রয়োগ করতে পারি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম'-এ বলেছেন: "সুন্নাহ হলো অভ্যাস এবং এমন এক পথ যা কোনো একদল মানুষের জন্য উদ্ভাবন করা হয়, চাই তারা একে ইবাদত মনে করুক বা না করুক।"

এই বহুবিধ অর্থগুলো সবই সুন্নাহে নববীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এগুলো কিতাব ও সুন্নাহতে বিদ্যমান রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর সেই নীতি, যা অতীতেও গত হয়েছে। আর আপনি আল্লাহর নীতিতে কোনো পরিবর্তন পাবেন না} ১। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {লোকদের কাছে হিদায়াত আসার পর ঈমান আনা এবং তাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে কোনো কিছুই বিরত রাখেনি, কেবল পূর্ববর্তীদের রীতি তাদের ওপর আসার প্রতীক্ষা ছাড়া} ২। অর্থাৎ আজাব, যেমনটি আয-যাজ্জাজ বলেছেন: "পূর্ববর্তীদের সুন্নাহ হলো এই যে, তারা আজাব প্রত্যক্ষ করেছিল; তাই মুশরিকরা তা-ই চেয়েছিল যখন তারা বলেছিল: হে আল্লাহ, যদি এটি আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয়, তবে আমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করুন" ৩।

এর অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর সেই বিধান যা পূর্বে গত হওয়াদের ক্ষেত্রেও ছিল। আর আল্লাহর আদেশ সুনির্ধারিত ভাগ্যলিপি} ৪। এর অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর সেই পদ্ধতি যা তাঁর বান্দাদের মধ্যে গত হয়েছে; আর সেখানেই কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল} ৫। এ ছাড়াও অন্যান্য সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পথ, অভ্যাস, আদেশ, আজাব এবং এ জাতীয় অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে। এখন আমরা সুন্নাহর অর্থসমূহ দেখার জন্য হাদিসে নববীর দিকে ফিরে যাই।

ইমাম মুসলিম আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতির অনুসরণ করবে বিঘত প্রতি বিঘত এবং হাত প্রতি হাত হিসেবে। এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে তাদের অনুসরণ করবে।" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কি ইহুদি ও নাসারা? তিনি বললেন: "তবে আর কারা?" ৬। এবং এতে জারীর ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো রীতির সূচনা করবে এবং পরবর্তীতে তার ওপর আমল করা হবে, তার জন্য সেই আমলকারীর সমান সওয়াব লেখা হবে, অথচ তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির সূচনা করবে এবং পরবর্তীতে তার ওপর আমল করা হবে, তার ওপর সেই আমলকারীর সমান পাপভার বর্তাবে, অথচ তাদের পাপ থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না" ৭।

এই সম্মানিত হাদিসটিতে কোনো উত্তম ও প্রশংসনীয় রীতি প্রবর্তনের ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং তেমনিভাবে

--------------------------------------------

১ - আল-ফাতহ: ৩২

২ - আল-কাহফ: ৫৫

৩ - আল-লিসান, খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২২৫।

৪ - আল-আহযাব: ৩৮।

٥ - গাফির: ৮৫।

٦ - মুসলিম, কিতাবুল ইলম, ইহুদি ও নাসারাদের অনুসরণের পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ৫৭, খণ্ড ৮।

৭ - মুসলিম, কিতাবুল ইলম, যে ব্যক্তি ভালো বা মন্দ সুন্নাহর সূচনা করে তার পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ৬১, খণ্ড ৮।
(খণ্ড: ১৪) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
حثٌّ على إتباعها وهي بمعنى الطريقة والعادة والمنهاج القويم.

وفي اللسان: "إن رسول الله صلى الله عليه وسلم حض على الصدقة فقال رجل قبيح السُنَّة: أي قبيح الصورة"1. وفي صحيح البخاري قال: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "فكان خبيب هو الذي سنَّ الركعتين لكل امرئ مسلم" 2. وفي موطأ الإمام مالك قال: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في أمر المجوس: "سَنُّوا بهم سُنَّة أهل الكتاب" 3 يعني خذوا منهم الجزية. وفي صحيح البخاري أيضا قال: "قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أبغض الناس مبتغ في الإسلام سُنَّة الجاهلية" 4. وأخرج الترمدي عن أبي واقد الليثي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما خرج إلى خيبر مر بشجرة للمشركين يقال لها ذات أنواط يعلقون عليها أسلحتهم فقالوا: "يا رسول الله اجعل لنا ذات أنواط"، فقال عليه الصلاة والسلام: "سبحان الله.. هذا كما قال قوم موسى: اجعل لنا إلها كما لهم آلهة. والذي نفسي بيده لتركبن سَنَنَ من كان قبلكم" 5. أي لتتبعن البدعات والخرافات. وفيه أيضا عن ابن جرير بن عبد الله عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من سَنَّ سُنَّة خير فاتبع عليها فله أجره ومثل أجور من اتبعه غير منقوص من أجورهم شيئاً ومن سن سنة شر فاتُّبِع عليها كان عليه وزره ومثل أوزار من اتبعه غير منقوص من أوزارهم شيئاً" 6. واللفظ للترمذي. إلى غيرها من الأحاديث الكثيرة المروية في الجوامع والسنن والمسانيد وكلها تشير إلى أن السنة قد استعملت بمعنى الطريقة والعادة والبدعة والخرافات والصورة والتقاليد وما شابه ذلك. فإن هذه المعاني كلها معانٍ لغوية لكلمة السنة في القرآن والحديث.

--------------------------------------------

1 - ج 13 ص 224.

2 - البخاري جهاد ص 170، مغازي 10، 27.

3 - الموطأ زكاة 43.

4 - ديات 9.

5 - الترمذي أبواب الفتن 18.

6 - الترمذي أبواب العلم 15، أحمد 2: 505.
এটি অনুসরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং এর অর্থ হলো পথ, অভ্যাস ও সুদৃঢ় কর্মপন্থা।

এবং 'আল-লিসান' গ্রন্থে রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি বলল: 'তার সুন্নাহ কদর্য', অর্থাৎ তার চেহারা বা রূপ কদর্য।" ১। এবং সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'খুবাইব-ই সেই ব্যক্তি ছিলেন যিনি প্রত্যেক মুসলিমের জন্য (হত্যার পূর্বে) দুই রাকাত নামাযের রীতি প্রবর্তন করেছিলেন'।" ২। এবং ইমাম মালিকের মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অগ্নিউপাসকদের বিষয়ে বলেছেন: 'তোমরা তাদের ক্ষেত্রে আহলে কিতাবদের রীতি অনুসরণ করো'।" ৩ অর্থাৎ তাদের নিকট থেকে জিযয়া গ্রহণ করো। সহীহ বুখারীতে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'মানুষের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত সেই ব্যক্তি যে ইসলামের মধ্যে জাহেলিয়াতের রীতির অনুসন্ধান করে'।" ৪। এবং তিরমিযী আবু ওয়াকিদ আল-লাইসি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বারের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন তিনি মুশরিকদের একটি গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যাকে 'জাতু আনওয়াত' বলা হতো, যেখানে তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র ঝুলিয়ে রাখত। তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্যও একটি 'জাতু আনওয়াত' নির্ধারণ করে দিন।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সুবহানাল্লাহ! এটি তো ঠিক তেমনি যেমনটি মূসার কওম বলেছিল: 'তাদের যেমন উপাস্য রয়েছে আমাদের জন্যও তেমনি একটি উপাস্য নির্ধারণ করে দিন'। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম করে বলছি, অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করবে।" ৫। অর্থাৎ তোমরা অবশ্যই বিদআত ও কুসংস্কারের অনুসরণ করবে। এবং এতে ইবনে জারীর ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো রীতির প্রবর্তন করল এবং পরবর্তীতে তার অনুসরণ করা হলো, তবে তার জন্য রয়েছে তার নিজস্ব প্রতিদান এবং যারা তার অনুসরণ করবে তাদের প্রতিদানের অনুরূপ প্রতিদান, এতে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির প্রবর্তন করল এবং পরবর্তীতে তার অনুসরণ করা হলো, তবে তার ওপর বর্তাবে তার পাপের বোঝা এবং যারা তার অনুসরণ করবে তাদের পাপের বোঝার অনুরূপ বোঝা, এতে তাদের পাপের বোঝা থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না।" ৬। উদ্ধৃতিটি তিরমিযীর। এ জাতীয় আরও অসংখ্য হাদীস যা জাওয়ামে', সুনান ও মাসানীদ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর সবই এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করে যে, সুন্নাহ শব্দটি পথ, অভ্যাস, বিদআত, কুসংস্কার, আকৃতি, প্রথা এবং এই জাতীয় অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা এই সকল অর্থই কুরআন ও হাদীসে 'সুন্নাহ' শব্দের আভিধানিক অর্থ।

--------------------------------------------

১ - খণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২২৪।

২ - বুখারী, জিহাদ পৃষ্ঠা ১৭০, মাগাযী ১০, ২৭।

৩ - মুয়াত্তা, যাকাত ৪৩।

৪ - দিয়াত ৯।

৫ - তিরমিযী, ফিতনা অধ্যায় ১৮।

৬ - তিরমিযী, ইলম অধ্যায় ১৫, আহমাদ ২: ৫০৫।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
دراسات في السنة النبوية   (محمد ضياء الرحمن الأعظمي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: دراسات في السنة النبوية

المؤلف: محمد ضياء الرحمن الأعظمي

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহুন নববিয়্যাহ বিষয়ক গবেষণা   (মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আল-আযমী)

বিভাগ: উলুমুল হাদিস


গ্রন্থ: সুন্নাহুন নববিয়্যাহ বিষয়ক গবেষণা

লেখক: মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আল-আযমী

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকী

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড নম্বর হলো সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১৬) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬২)
دراسات في السنة النبوية

بقلم الشيخ/ محمد ضياء الرحمن الأعظمي

السنة اصطلاحا:

يختلف معنى السنة اصطلاحا حسب اختلاف الأعراض والمقاصد التي لأجلها توجه العلماء في البحث عنها. فالسنة بالنسبة إلى القرآن هي ما كانت منقولة عن النبي صلى الله عليه وسلم مما لم ينص عليها في الكتاب العزيز. وهي إما أن تكون بيانا لكتاب الله عز وجل أو تخصيصا له ولهذا السبب أطلق عليها الحديث بمقابلة القديم وهو كلام الله والعلم عند علام الغيوب.

وعند المحدثين: ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خَلقية أو خُلقية سواء قبل البعثة أو بعدها.

وعند الأصوليين: السنة هي ما نقل عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير. والأمثلة على ذلك:

من قول النبي صلى الله عليه وسلم: ما أخرجه الترمذي عن عثمان بن عفان قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من بنى
সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ সংক্রান্ত গবেষণা

শায়খ মুহাম্মাদ জিয়াউর রহমান আল-আ’জমী-র লেখনীতে

পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহ:

পণ্ডিতগণ যেসকল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সামনে রেখে সুন্নাহ নিয়ে গবেষণা করেছেন, সেই লক্ষ্যের ভিন্নতা অনুযায়ী পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহর সংজ্ঞায় পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। কুরআনের তুলনায় সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত সেই সকল বিষয়, যা সুমহান কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এটি হয় মহান আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা অথবা এর বিশেষায়ন; আর এই কারণেই একে আল্লাহর কালাম তথা 'কাদীম' (অবিনশ্বর)-এর বিপরীতে 'হাদীস' (নবীন) হিসেবে অভিহিত করা হয়। আর প্রকৃত জ্ঞান অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট।

মুহাদ্দিসগণের নিকট: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি অথবা তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলি, তা নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে হোক বা পরে।

উসুলবিদগণের নিকট: সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ অথবা মৌনসম্মতি। এর উদাহরণসমূহ নিম্নরূপ:

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর মধ্য থেকে: ইমাম তিরমিযী উসমান ইবনে আফফান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি নির্মাণ করবে..."
(খণ্ড: ১৬) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
لله مسجدا بنى الله مثله في الجنة" 1 قال الترمذي هذا حديث حسن صحيح. ومن فعله صلى الله عليه وسلم: ما أخرجه الترمذي أيضا عن البراء بن عازب قال: "كانت صلاة رسول الله صلى عليه وسلم إذا ركع وإذا رفع رأسه من الركوع وإذا سجد وإذا رفع رأسه من السجود قريبا من السواء" 2.

ومن تقريره صلى الله عليه وسلم ما أخرجه أبو داود عن أبي سعيد الخدري قال: "خرج رجلان في سفر. فحضرت الصلاة وليس معهما ماء فتيمما صعيدا فصليا ثم وجدا الماء في الوقت فأعاد أحدهما الصلاة والوضوء ولم يُعد الآخر، ثم أتيا رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرا ذلك له فقال للذي لم يعد: "أصبت السنة وأجزأتك صلاتك" وقال للذي توضأ وأعاد: "لك أجر مرتين" 3.

ومن صفة النبي صلى الله عليه وسلم: ما أخرجه الترمذي عن عبد الله بن الحارث بن جزء قال: "ما رأيت أحدا أكثر تبسما من رسول الله صلى الله عليه وسلم" قال الترمذي هذا حديث غريب4.

ومن خلق النبي صلى الله عليه وسلم ما أخرجه الترمذي أيضا عن علي بن أبي طالب قال: "لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم بالطويل ولا بالقصير، شثن5 القدمين والكفين. ضخم الرأس. ضخم الكراديس، طويل المشرُبَة، إذا مشى تكفّى تكفيا كأنما ينحط من صبب. لم أر قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم" قال الترمذي هذا حديث حسن صحيح6.

وجه التفريق في معنى السنة عند الأصوليين والمحدثين هو راجع إلى الأغراض والمقاصد. فمثلا الأصولي جل همه أن يدور حول الأحكام الشرعية ليستنبطها من الأمر والنهي. فأوصاف النبي صلى الله عليه وسلم وأخلاقه وسيرته خارجة عن دائرة بحثه.

والسنة بهذا المعنى المذكور مطلوبة

--------------------------------------------

1 تحفة الأحوذي ج2 ص262.

2 المصدر السابق ص153.

3 أبو داود ج1 ص143.

4 تحفة الأحوذي ج10 ص124.

5 قال في النهاية إنهما يمييلان إلى الغلط والقصر وقيل هو الذي في أنامله غلظ بلا قصر يحمد ذلك في الرجال لأنه أشد لقبضتهم ويذم في النساء ج2 ص204.

6 تحفة _ ج10 _ ص116.
"যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরুপ একটি ঘর নির্মাণ করবেন।" ১ ইমাম তিরমিজি বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্মগত সুন্নাহর উদাহরণ হলো যা ইমাম তিরমিজি বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত যখন তিনি রুকু করতেন, রুকু থেকে মাথা তুলতেন, সিজদা করতেন এবং সিজদা থেকে মাথা তুলতেন, তখন তা প্রায় সমান দৈর্ঘ্যের হতো।" ২।

আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমর্থনমূলক সুন্নাহর উদাহরণ হলো যা ইমাম আবু দাউদ আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "দুই ব্যক্তি সফরে বের হলেন। সালাতের সময় হলো কিন্তু তাঁদের কাছে পানি ছিল না। তখন তাঁরা পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করলেন। এরপর তাঁরা সময়ের ভেতরেই পানি পেয়ে গেলেন। তখন তাঁদের একজন সালাত ও অজু পুনরায় আদায় করলেন এবং অন্যজন তা করলেন না। পরে তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি যিনি পুনরায় আদায় করেননি তাঁকে বললেন: 'তুমি সুন্নাহ মোতাবেক কাজ করেছ এবং তোমার সালাত যথেষ্ট হয়েছে'। আর যিনি অজু করেছেন এবং পুনরায় সালাত আদায় করেছেন তাঁকে বললেন: 'তোমার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে'।" ৩।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত সুন্নাহর উদাহরণ হলো যা ইমাম তিরমিজি আবদুল্লাহ ইবনে হারিস ইবনে জায থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে বেশি হাস্যোজ্জ্বল আর কাউকে দেখিনি।" ইমাম তিরমিজি বলেন, এটি একটি গরিব হাদিস। ৪।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠন সংক্রান্ত সুন্নাহ হলো যা ইমাম তিরমিজি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক দীর্ঘদেহী ছিলেন না এবং খুব খাটোও ছিলেন না। তাঁর হাত ও পায়ের তালু ছিল ৫ পুরু। মাথা ছিল বড়। হাড়ের জোড়াগুলো ছিল স্থুল। বুকের পশম ছিল দীর্ঘ। তিনি যখন হাঁটতেন তখন সামনের দিকে ঝুঁকে দুলকি চালে হাঁটতেন, যেন কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচে নামছেন। আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি।" ইমাম তিরমিজি বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহিহ। ৬।

উসূলবিদ এবং মুহাদ্দিসগণের নিকট সুন্নাহর সংজ্ঞার পার্থক্যের কারণ হলো তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিন্নতা। উদাহরণস্বরূপ, একজন উসূলবিদের প্রধান চিন্তা হলো শরয়ি বিধানসমূহ আবর্তিত হওয়া, যাতে তিনি আদেশ ও নিষেধ থেকে তা উদ্ভাবন করতে পারেন। তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক বৈশিষ্ট্য, চরিত্র এবং জীবনী তাঁর গবেষণার বিষয়ের বাইরে।

আর উল্লিখিত অর্থে সুন্নাহ কাঙ্ক্ষিত বা অন্বেষণযোগ্য।

--------------------------------------------

১ তুহফাতুল আহওয়াযী, ২য় খণ্ড, ২৬২ পৃষ্ঠা।

২ প্রাগুক্ত উৎস, ১৫৩ পৃষ্ঠা।

৩ আবু দাউদ, ১ম খণ্ড, ১৪৩ পৃষ্ঠা।

৪ তুহফাতুল আহওয়াযী, ১০ম খণ্ড, ১২৪ পৃষ্ঠা।

৫ 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এর অর্থ হলো হাত-পায়ের আঙ্গুলগুলো মোটা ও ছোট হওয়া। আবার বলা হয়েছে, এটি এমন যাঁর আঙুলগুলো ছোট না হয়েও পুরু, পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি প্রশংসনীয় কারণ এটি তাঁদের হাতের মুষ্টিকে শক্তিশালী করে, তবে নারীদের ক্ষেত্রে এটি নিন্দনীয়; ২য় খণ্ড, ২০৪ পৃষ্ঠা।

৬ তুহফাতুল আহওয়াযী, ১০ম খণ্ড, ১১৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১৬) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
شرعا والأمة مأمورة باتباعها. فمن القرآن نذكر بعض الآيات المحرضة على اتباع السنة:

قال عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} 1 روى عن عبد الرزاق قال أخبرني الثوري عن منصور عن إبراهيم عن علقمة قال عبد الله ابن مسعود: "لعن الله الواشمات والمستوشمات والمتنمصات والمتفلجات للحسن المغيرات خلق الله" قال بلغ ذلك امرأة من بني أسد يقال لها أم يعقوب. فقال يا أبا عبد الله بلغني أنك لعنت كيت وكيت. فقال: ومالي لا ألعن من لعنه رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في كتاب الله. قالت: إني لأقرأ ما بين اللوحتين فما أجده. قال: إن كنت قارئة لقد وجدتيه. أما قرأت قوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} قالت: بلى. قال: فإنه قد نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم2.

قال تعالى: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلالاً مُبِيناً} 3.

قال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} 4.

قال ابن كثير: "أي ردوا الخصومات والجهالات إلى كتاب الله وسنة رسوله فتحاكموا إليهما فيما شجر بينكم"، ثم قال: "فدل على أن من لم يتحاكم في محل النزاع إلى الكتاب والسنة ومن لا يرجع إليهما في ذلك فليس مؤمنا بالله ولا باليوم الآخر"5.

قد يخيل إلى أحد أن الرد كما وجب إلى الله والرسول كذلك وجب إلى أولي الأمر. فهل أولو الأمر في مرتبة الله والرسول في التشريع! فأجاب العلماء على هذا السؤال بأقوال منها:

إن لفظ الطاعة ذكر مع الله والرسول

--------------------------------------------

1 الحشر: 7.

2 جامع بيان العلم وفضله ج2 ص188_ فتح الباري ج1 ص317.

3 الأحزاب 36.

4 النساء 59.

5 ابن كثير ج1 ص551.
শরীয়তসম্মতভাবে এবং উম্মতকে এটি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআন থেকে আমরা সুন্নাহ অনুসরণে উৎসাহিত করে এমন কিছু আয়াত উল্লেখ করছি:

মহান আল্লাহ বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" ১ আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আস-সাওরি আমাকে মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে এবং তিনি আলকামা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: "আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক ঐসব নারীদের উপর যারা উল্কি অঙ্কন করে এবং যারা উল্কি করায়, আর যারা ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যারা সৌন্দর্যের জন্য দাঁত ঘষে ফাঁকা করে—যারা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনে।" বর্ণনাকারী বলেন, বনু আসাদ গোত্রের এক মহিলার কাছে এই খবর পৌঁছাল, যাকে উম্মে ইয়াকুব বলা হতো। তিনি এসে বললেন, হে আবু আব্দুল্লাহ! আমি জানতে পেরেছি যে আপনি অমুক অমুক কাজ করেছেন (অর্থাৎ লানত করেছেন)। তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে লানত করেছেন এবং যা আল্লাহর কিতাবে আছে, তাকে আমি কেন লানত করব না?" মহিলাটি বললেন: "আমি দুই মলাটের মধ্যবর্তী পুরো কুরআন পড়েছি, কিন্তু কোথাও তো এটি পাইনি।" তিনি বললেন: "তুমি যদি পাঠিকা হতে তবে অবশ্যই তা পেতে। তুমি কি মহান আল্লাহর এই বাণী পড়নি: 'রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো'?" মহিলাটি বললেন: "হ্যাঁ, অবশ্যই।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কাজগুলো করতে নিষেধ করেছেন।" ২

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন কোনো বিষয়ে ফয়সালা করেন, তখন কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের নিজদের ব্যাপারে কোনো অধিকার থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়, সে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হলো।" ৩

আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা কর্তৃত্বশীল তাদেরও। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখো। এটিই শ্রেষ্ঠতর এবং পরিণামে সর্বোত্তম।" ৪

ইবনে কাসির বলেন: "অর্থাৎ ঝগড়া-বিবাদ ও অজ্ঞতা প্রসূত বিষয়গুলোকে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর দিকে ফিরিয়ে দাও এবং তোমাদের মাঝে যা ঘটে গেছে সে ব্যাপারে উভয়ের মাধ্যমে ফয়সালা গ্রহণ করো।" অতঃপর তিনি বলেন: "এটি প্রমাণ করে যে, বিবাদের স্থলে যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে ফয়সালা গ্রহণ করে না এবং সেদিকে ফিরে যায় না, সে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি মুমিন নয়।" ৫

কারো মনে হতে পারে যে, ফয়সালা যেমন আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া ওয়াজিব, তেমনি হয়তো কর্তৃত্বশীলদের (উলুল আমর) দিকেও ওয়াজিব। তবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কর্তৃত্বশীলরা কি আল্লাহ ও রাসূলের সমপর্যায়ে! আলেমগণ এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে:

আনুগত্য শব্দটি আল্লাহ ও রাসূলের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে

--------------------------------------------

১ আল-হাশর: ৭।

২ জামে বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, ২য় খণ্ড, ১৮৮ পৃষ্ঠা; ফাতহুল বারি, ১ম খণ্ড, ৩১৭ পৃষ্ঠা।

৩ আল-আহজাব: ৩৬।

৪ আন-নিসা: ৫৯।

৫ ইবনে কাসির, ১ম খণ্ড, ৫৫১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১৬) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
فقط ولم يُعَد مع أولي الأمر. إذا فالطاعة المطلقة مختصة بالله والرسول، أما أولوا الأمر فهم تبع لهما وإلى هذا أشار رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: "لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق" 1.

ومنها: أن الرد لم يكرر مع أولي الأمر ويفيد هذا كذلك أن الرد لم يصح إلى أولي الأمر بل هو مختص بالله والرسول. ويؤيد هذا المعنى ما أخرجه البخاري ومسلم في صحيحيهما عن الأعمش والإمام أحمد في مسنده عن أبي عبد الرحمن السلمي عن علي قال: بعث رسول الله صلى عليه وسلم سرية واستعمل عليهم رجلا من الأنصار. فلما خرجوا وجد عليهم في شيء، قال فقال لهم: "أليس قد أمركم رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تطيعوني؟ " قالوا: "بلى"، قال: "فاجمعوا إليّ حطبا" ثم دعا بنار فأضرمها فيه ثم قال: "عزمت عليكم لتدخلنها" قال: فقال لهم شاب منهم: "إنما فررتم إلى رسول الله من النار، فلا تعجلوا حتى تلقوا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فإن أمركم أن تدخلوها فادخلوها" قال: فرجعوا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبروه بذلك فقال لهم: "لو دخلتموها ما خرجتم منها أبدا إنما الطاعة في المعروف" 2.

قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ} 3 فأعلمهم بأن مبايعتهم لرسول الله هي مبايعتهم له عز وجل.

قال تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} 4 قال الحافظ ابن كثير: "يخبر تعالى عن عبده ورسوله محمد صلى الله عليه وسلم بأن من أطاعه فقد أطاع الله ومن عصاه فقد عصى الله، وما ذاك إلا لأنه ما ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى"5.

أخرج الشيخان عن الأعمش عن

--------------------------------------------

1 بالمعنى تفسير ابن كثير ج1 ص549.

2 نقلا من تفسير ابن كثير ج1 ص549.

3 النساء 80.

4 الفتح 10.

5 تفسير ابن كثير ج1 ص562.
শুধুমাত্র এবং উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) সাথে তা পুনরায় উল্লেখ করা হয়নি। সুতরাং নিঃশর্ত আনুগত্য একমাত্র আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট, আর উলুল আমরগণ তাঁদের অনুগামী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এরই ইঙ্গিত দিয়েছেন: "সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোনো আনুগত্য নেই" ১।

এর মধ্যে একটি হলো: 'ফিরিয়ে দেওয়া'র (বিচার-ফয়সালার জন্য) বিষয়টি উলুল আমরের সাথে পুনরায় উল্লেখ করা হয়নি। এটিও এই অর্থ প্রদান করে যে, উলুল আমরের কাছে বিষয়টি ফিরিয়ে দেওয়া সঠিক নয়, বরং এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট। ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহদ্বয়ে আমাশ থেকে এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, যা এই অর্থকে সমর্থন করে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ক্ষুদ্র সেনাদল প্রেরণ করলেন এবং জনৈক আনসারী ব্যক্তিকে তাদের আমীর নিযুক্ত করলেন। যখন তারা বেরিয়ে পড়ল, তিনি কোনো বিষয়ে তাদের ওপর রাগান্বিত হলেন। তিনি তাদের বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদের আমার আনুগত্য করার নির্দেশ দেননি?" তারা বলল: "হ্যাঁ"। তিনি বললেন: "আমার জন্য কাঠ সংগ্রহ করো।" এরপর তিনি আগুন চাইলেন এবং তাতে আগুন জ্বালিয়ে দিলেন। তারপর বললেন: "আমি তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমরা অবশ্যই এতে প্রবেশ করবে।" তিনি বলেন: তখন তাদের মধ্য থেকে এক যুবক বলল: "তোমরা তো আগুন থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আশ্রয় নিয়ে পলায়ন করেছ। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করো না। তিনি যদি তোমাদের এতে প্রবেশ করার নির্দেশ দেন, তবেই প্রবেশ করো।" তিনি বলেন: অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে এসে তাঁকে এ বিষয়ে অবগত করলেন। তিনি তাদের বললেন: "যদি তোমরা তাতে প্রবেশ করতে, তবে আর কখনোই সেখান থেকে বের হতে পারতে না। আনুগত্য কেবল ন্যায়সঙ্গত কাজের ক্ষেত্রেই" ২।

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় যারা আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করে, তারা তো আল্লাহর কাছেই বায়আত গ্রহণ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে} ৩। অতঃপর তিনি তাদের জানিয়ে দিলেন যে, রাসূলুল্লাহর কাছে তাদের বায়আত গ্রহণ করাই হলো মহান আল্লাহর কাছে বায়আত গ্রহণ।

মহান আল্লাহ বলেন: {কেউ রাসূলের আনুগত্য করলে সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল} ৪। হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন: "মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে তাঁর অবাধ্য হলো সে আল্লাহরই অবাধ্য হলো। এটি এ কারণেই যে, তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না, তা তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়" ৫।

শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

১ মর্মগত অর্থে, তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১ম খণ্ড, ৫৪৯ পৃষ্ঠা।

২ তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১ম খণ্ড, ৫৪৯ পৃষ্ঠা থেকে উদ্ধৃত।

৩ আন-নিসা ৮০।

৪ আল-ফাতহ ১০।

৫ তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১ম খণ্ড, ৫৬২ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১৬) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من أطاعني فقد أطاع الله ومن عصاني فقد عصى الله، ومن أطاع الأمير فقد أطاعني ومن عصى الأمير فقد عصاني" 1.

إلى غير ذلك من الآيات الكثيرة الدالة على الأخذ بالسنة النبوية الناطقة بالحق المبينة للكتاب ولهذا أجمع المسلمون جيلا بعد جيل وعصرا بعد عصر على أن السنة هي المصدر الثاني للتشريع الإسلامي، وهي مبينة لكتاب الله عز وجل ومخصصة له، لأن الكتاب جاء مجملا ومعجزا فاقتضت حكمة الله العليا ان يرسل رسولا يفسر للناس كتابه ويوضح مراده بقوله وفعله وتقريره لقيم الحجة على عباده.

فقد قال الإمام الشافعي: "لا حجة في أحد خالف قولُه السنة"2 فلنذكر هنا بعض الأحاديث الدالة على حجية السنة.

أخرج أبو داود عن المقدام بن معد يكرب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "ألا إني أُوتيت الكتاب ومثله معه. لا يوشك رجل شبعان على أريكته يقول: عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه. ألا لا يحل لكم لحم الحمار الأهلي ولا كل ذي ناب من السبع ولا لقطة معاهد إلاّ أن يستغني عنها صاحبها. ومن نزل بقوم فعليهم أن يقروه فإن لم يقروه فله أن يعاقبهم (يعقبهم) بمثل قراه" 3.

وأخرج البخاري عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "دعوني ما تركتكم. إنما هلك من كان قبلكم بسؤالهم واختلافهم على أنبيائهم فإذا نهيتكم عن شيء فاجتنبوه وإذا أمرتكم بأمر فاتوا منه ما استطعتم" 4.

وأخرج الدارمي عن عرباض بن سارية قال: صلى لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلاة الفجر ثم وعظنا موعظة بليغة ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب، فقال قائل: يا رسول الله كأنها موعظة مودع،

--------------------------------------------

1 خ كتاب الجهاد 109 م كتاب الإمارة 32.

2 الرسالة ص576.

3 دج4 ص279.

4 خ ج9 ص77.
আবু সালিহ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল; আর যে আমার অবাধ্য হলো, সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্য হলো। এবং যে আমিরের (নেতার) আনুগত্য করল, সে আমারই আনুগত্য করল; আর যে আমিরের অবাধ্য হলো, সে আমারই অবাধ্য হলো।" ১।

এরূপ আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা সত্যের বাহক ও কিতাবের বর্ণনাকারী সুন্নাতে নববীকে গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়। এ কারণেই যুগের পর যুগ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুসলিমরা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সুন্নাহ হলো ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। আর এটি মহান আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যাকারী এবং এর সাধারণ বিধানগুলোকে সুনির্দিষ্টকারী। কেননা কিতাব (কুরআন) সংক্ষিপ্ত এবং অলৌকিক ভঙ্গিতে অবতীর্ণ হয়েছে, তাই আল্লাহর সুউচ্চ প্রজ্ঞা দাবি করে যে, তিনি এমন একজন রাসূল পাঠাবেন যিনি মানুষের কাছে তাঁর কিতাব ব্যাখ্যা করবেন এবং তাঁর কথা, কাজ ও মৌন সম্মতির মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করবেন, যাতে বান্দাদের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইমাম শাফেয়ী (র.) বলেছেন: "সুন্নাহর বিপরীত কোনো ব্যক্তির বক্তব্যে কোনো দলিল নেই।" ২। সুতরাং আমরা এখানে সুন্নাহর প্রামাণিকতার ওপর গুরুত্বদানকারী কিছু হাদিস উল্লেখ করছি।

আবু দাউদ মিকদাম ইবনে মা'দী কারিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জেনে রাখো, আমাকে কিতাব এবং এর সাথে এর অনুরূপ (সুন্নাহ) প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! অচিরেই এমন এক তৃপ্ত ব্যক্তি আসবে, যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে: 'তোমরা এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল পাবে কেবল তাকেই হালাল মানবে এবং এতে যা হারাম পাবে কেবল তাকেই হারাম হিসেবে গণ্য করবে।' অথচ সাবধান! তোমাদের জন্য গৃহপালিত গাধার মাংস হালাল নয়, শিকারি হিংস্র পশুর ছেদন দন্তবিশিষ্ট কোনো প্রাণীও হালাল নয় এবং চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিকের (মুয়াহিদ) হারিয়ে যাওয়া বস্তুও হালাল নয়, যদি না তার মালিক তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয় (অর্থাৎ মালিক নিজেই তা ত্যাগ করে)। আর যদি কেউ কোনো কওমের নিকট মেহমান হয়, তবে তাদের উচিত তার আতিথেয়তা করা। যদি তারা আতিথেয়তা না করে, তবে তার অধিকার রয়েছে তাদের কাছ থেকে মেহমানদারির সমপরিমাণ শাস্তি আদায় করে নেওয়ার।" ৩।

বুখারি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি যতক্ষণ তোমাদের কোনো বিষয়ে ছাড় দিই, তোমরাও আমাকে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকো। তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতভেদ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো কিছু নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো; আর যখন কোনো বিষয়ে আদেশ করি, তখন সাধ্যমতো তা পালন করো।" ৪।

দারিমি ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন, তারপর আমাদের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী উপদেশ প্রদান করলেন, যাতে চোখ ফেটে পানি আসছিল এবং অন্তরগুলো কেঁপে উঠছিল। তখন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এটি যেন কোনো বিদায়কালীন উপদেশ।

--------------------------------------------

১. বুখারি, কিতাবুল জিহাদ ১০৯; মুসলিম, কিতাবুল ইমারাহ ৩২।

২. আর-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৫৭৬।

৩. আবু দাউদ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৭৯।

৪. বুখারি, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৭৭।
(খণ্ড: ১৬) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
فأوصنا. فقال: "أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة وإن كان عبدا حبشيا فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كثيرا فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين عضوا عليها بالنواجذ، وإياكم والمحدثات فإن كل محدثة بدعة. وقال أبو عاصم مرة وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل بدعة ضلالة" 1.

وفي سنن النسائي قال النضر بن شيبان قال قلت لأبي سلمة بن عبد الرحمن حدثني بشيء سمعته من أبيك سمعه أبوك من رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس بين أبيك وبين رسول الله صلى الله عليه وسلم أحد: نعم. حدثني أبي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الله تبارك وتعالى فرض صيام رمضان عليكم وسننت لكم قيامه، فمن صامه وقامه إيمانا واحتسابا خرج من ذنوبه كيوم ولدته أمه" 2. وفي سنده أيضا عن عبد الله المزني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "صلوا قبل المغرب ركعتين، ثم قال صلوا قبل المغرب ركعتين، ثم قال صلوا قبل المغرب ركعتين، ثم قال عن الثالثة: لمن شاء" قال الراوي: كراهية أن يتخذها الناس سنة3 وإلي غير ذلك من السنن المذكورة في كتب الأحاديث فلو لم يكن للسنة قيمة ذاتية رفيعة في نظر الشارع لما وردت هذه الآثار إلى هذا الحد الكبير.

--------------------------------------------

1 الدارمي ج1 ص44 اللفظ له، واعتصام 5، ت كتاب العلم 16.

2 ن ج 4 ص158.

3 حم ج5 ص55.
আমাদেরকে উপদেশ দিন। তখন তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং (নেতার কথা) শোনার ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে একজন হাবশী ক্রীতদাসও হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে এবং এগুলোকে মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা দ্বীনের নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত। আবু আসিম একবার বলেছেন: তোমরা দ্বীনের নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা" ১।

সুনানে নাসায়ীতে নযর বিন শায়বান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু সালামাহ বিন আবদুর রহমানকে বললাম: "আপনার পিতার কাছ থেকে শোনা এমন একটি হাদীস আমাকে বর্ণনা করুন যা তিনি সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন এবং আপনার পিতা ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাঝে আর কেউ নেই।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ। আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তোমাদের ওপর রমযানের রোজা ফরয করেছেন আর আমি তোমাদের জন্য এর কিয়ামকে (রাত্রিকালীন ইবাদত) সুন্নাত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমযানের রোজা রাখবে এবং কিয়াম করবে, সে তার গুনাহ থেকে সেদিনের মতো নিষ্কলুষ হয়ে বের হবে যেদিন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল'" ২। এর সনদেই আরও বর্ণিত হয়েছে আব্দুল্লাহ আল-মুযানী থেকে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা মাগরিবের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করো।" এরপর তিনি পুনরায় বললেন, "তোমরা মাগরিবের আগে দুই রাকাত সালাত আদায় করো।" এরপর তৃতীয়বার বললেন: "যার ইচ্ছা।" বর্ণনাকারী বলেন: লোকেরা যাতে একে সুন্নাত (আবশ্যক নিয়ম) হিসেবে গ্রহণ না করে, সেই অপছন্দ থেকেই তিনি এমনটি বলেছেন ৩। এ ছাড়াও হাদীসের কিতাবসমূহে এ জাতীয় আরও অনেক সুন্নাত বর্ণিত হয়েছে। শরীয়তদাতার দৃষ্টিতে সুন্নাতের যদি সুউচ্চ নিজস্ব মূল্য ও মর্যাদা না থাকত, তবে এই পরিমাণ আসার (বর্ণনা) এত বিপুলভাবে বর্ণিত হতো না।

--------------------------------------------

১. আদ-দারিমি, ১ম খণ্ড, ৪৪ পৃষ্ঠা, শব্দগুলো তার; ইতিসাম ৫; তিরমিযী, কিতাবুল ইলম ১৬।

২. নাসায়ী, ৪র্থ খণ্ড, ১৫৮ পৃষ্ঠা।

৩. আহমাদ, ৫ম খণ্ড, ৫৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
دراسات في السنة النبوية   (محمد ضياء الرحمن الأعظمي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: دراسات في السنة النبوية

المؤلف: محمد ضياء الرحمن الأعظمي

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ বিষয়ক গবেষণা   (মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আল-আজমি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ বিষয়ক গবেষণা

লেখক: মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আল-আজমি

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ, এবং খণ্ড সংখ্যাটি সাময়িকীর সংখ্যা নির্দেশ করে]

শামেলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮৯)
دراسات في السنة النبوية

…

الأمور التي ألغاها الإسلام وأنكرها فهي كثيرة جدا يطول بنا القول لو ذكرناها في العقيدة والعبادة والمعاملات والأخلاق والزواج والطلاق والحرب والقتال وغيرها من العادات والتقاليد.

وأما الأمور التي عدلها الإسلام من شريعة الجاهلية فهي كذلك باب واسع مبثوث في كتب الحديث والتفسير والفقه والعقيدة فمن شاء فليرجع إليها.

هذا هو موقف الإسلام الصحيح من الجاهلية لا كما يزعم بعض المخدوعين والدجاجلة الكفرة من أن السنة ليست لها قيمة شرعية ولا منزلة ذاتية بل هي من العادات الجاهلية التي أبقى عليها الإسلام تطييبا لخواطرهم وتعظيما لتقاليدهم فشرع الإسلام بعقائده وعباداته وأحكامه ونواهيه تام أكمله الله من فوق سبع سماوات من غير احتياج إلى العادات والتقاليد. وقد عز الله القائل:

{إِذْ جَعَلَ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي قُلُوبِهِمُ الْحَمِيَّةَ حَمِيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَى رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ} 1.

أما شبهات شاخت فهي نتيجة لعدم اطلاعه على تاريخ التشريع
সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ বিষয়ক গবেষণা

…

ইসলাম যেসব বিষয় বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করেছে তা সংখ্যায় অনেক; আকিদাহ, ইবাদত, লেনদেন, চরিত্র, বিবাহ, তালাক, যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং অন্যান্য আচার-প্রথা ও ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে সেগুলো উল্লেখ করতে গেলে আমাদের বক্তব্য দীর্ঘ হয়ে যাবে।

আর জাহেলিয়াতের বিধানসমূহ থেকে ইসলাম যে বিষয়গুলো সংশোধন করেছে সেগুলোও একটি বিস্তৃত অধ্যায় যা হাদিস, তাফসির, ফিকহ ও আকিদাহর কিতাবসমূহে ছড়িয়ে রয়েছে; সুতরাং যে চায় সে যেন সেগুলোর দিকে ফিরে যায়।

জাহেলিয়াতের ব্যাপারে এটিই ইসলামের সঠিক অবস্থান; কতিপয় বিভ্রান্ত ব্যক্তি ও কাফির দাজ্জালদের দাবির মতো নয় যে, সুন্নাহর কোনো শারয়ি মূল্য বা নিজস্ব মর্যাদা নেই, বরং এটি জাহেলি রীতিনীতির অংশ যা ইসলাম তাদের মনস্তুষ্টি ও তাদের ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে বহাল রেখেছে। অথচ ইসলামের শরিয়ত তার আকিদাহ, ইবাদত, বিধি-বিধান ও নিষেধসহ পূর্ণাঙ্গ; আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে একে পরিপূর্ণ করেছেন, কোনো আচার-প্রথা বা ঐতিহ্যের মুখাপেক্ষী হওয়া ছাড়াই। আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন:

{যখন কাফিররা তাদের অন্তরে অহমিকা পোষণ করেছিল—জাহেলিয়াতের অহমিকা—তখন আল্লাহ তাঁর রাসুল ও মুমিনদের ওপর তাঁর প্রশান্তি নাজিল করলেন।} ১।

আর শাখতের সংশয়গুলো মূলত শরিয়ত প্রণয়নের ইতিহাসের ওপর তার সঠিক অবগতি না থাকারই ফলাফল।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯০)
الإسلامي فجعل الإمام الشافعي مثلا أول قائل بحجية السنة واستشهد على ذلك ببعض النصوص التي أوردها الإمام في كتابه الأم1حيث يذكر أن الإمام مالكا وأبا حنيفة ومحمد بن الحسن الشيباني أخذوا بالقياس والرأي في مقابلة السنة في بعض المواضع. ولكن الأمر الذي فات شاخت هو هل هذا الترك كان لعدم وقوفهم على السنة؟ أو لعدم احتجاجهم بالسنة؟ فإذا عجز شاخت عن فهم هذه الأصول فلماذا أقدم على أمر هو بعيد عن إدراكه؟. نحن نجيب عن هذه الأسئلة إن شاء الله ولو بقليل من التفصيل: ونسلك في هذا طريقة المنطقية:

لم يعرف أحد من أئمة أهل السنة الذي قال بعدم حجية السنة ونحن نقيم على هذا أدلة قاطعة من كتب الحديث والفقه وتاريخ المسلمين إن شاء الله تعالى.

فهذا إمام من أئمة أهل السنة إمام دار الهجرة أبو عبد الله مالك بن أنس الذي شدت إليه الرحال وضربت له أكباد الإبل وازدحم الناس حوله، لقد عرف رحمه الله تعالى فقيها ومحدثا وهذا الوصف المطابق لم يزل ملازما الإمام مالك حتى انتقل إلى رحمة الله ورضوانه.

لقد توهم بعض الباحثين فقالوا إن مالكا كان يقدم القياس والرأي في مقابلة السنة، وهذا اتهام وبهتان فقد نقل عبد الوهاب الشعراني على لسان مالك قوله " إياكم رأي الرجال إلا إن أجمعوا عليه واتبعوا ما أنزل إليكم من ربكم وما جاء عن نبيكم وإن لم تفهموا المعنى وسلموا لعلمائكم، ولا تجادلوا، فإن الجدال في الدين من بقايا النفاق"2.

وفيه أيضا نقلا عن ابن حزم قوله: "أنه لما حضرته الوفاة قال وددت الآن أني أضرب على كل مسألة قلتها برأي سوطا ولا ألقى رسول الله صلى الله عليه وسلم بشيء زدته، في شريعته

--------------------------------------------

1 راجع اختلاف مالك والشافعي ج/7 ص177، كتاب جماع العلم ص250 كتاب الرد على محمد بن الحسن ص277، كتاب إبطال الإحسان ص267.

(2) الميزان ج1 ص64.
ইসলামী [প্রেক্ষাপটে] তিনি ইমাম শাফিয়ীকে উদাহরণস্বরূপ সুন্নাহর প্রামাণিকতার প্রথম প্রবক্তা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং এর স্বপক্ষে ইমামের 'আল-উম্ম' কিতাব থেকে কিছু উদ্ধৃতি পেশ করেছেন ১ যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মালিক, আবু হানিফা এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী কিছু ক্ষেত্রে সুন্নাহর বিপরীতে কিয়াস ও রা'য় (ব্যক্তিগত অভিমত) গ্রহণ করেছেন। কিন্তু যে বিষয়টি শাখতের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে তা হলো—সুন্নাহ পরিহারের এই বিষয়টি কি তাদের নিকট সুন্নাহ না পৌঁছানোর কারণে ছিল? নাকি তারা সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ না করার কারণে এমনটি করেছিলেন? শাখত যদি এই মূলনীতিগুলো বুঝতেই অক্ষম হন, তবে তিনি এমন বিষয়ে কেন অগ্রসর হলেন যা তাঁর অনুধাবনের বাইরে? আমরা ইনশাআল্লাহ কিছুটা বিস্তারিতভাবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেব এবং এ ক্ষেত্রে একটি যৌক্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করব:

আহলুস সুন্নাহর ইমামগণের মধ্যে এমন কাউকেই জানা নেই যিনি সুন্নাহর প্রামাণিকতা অস্বীকার করেছেন। আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা হাদীস, ফিকহ এবং মুসলিম ইতিহাসের গ্রন্থাবলি থেকে এ বিষয়ে অকাট্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করব।

তিনি হলেন আহলুস সুন্নাহর অন্যতম ইমাম, ইমামু দারিল হিজরাহ আবু আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আনাস, যাঁর কাছে পৌঁছানোর জন্য মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে সফর করত এবং যাঁর চারপাশ মানুষের ভিড়ে মুখরিত থাকত। তিনি (রহিমাহুল্লাহ তাআলা) ফকীহ ও মুহাদ্দিস হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। এই যথার্থ বিশেষণটি ইমাম মালিকের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল তাঁর আল্লাহর রহমত ও সন্তুষ্টির দিকে পাড়ি জমানোর পূর্ব পর্যন্ত।

কিছু গবেষক ভুল ধারণা পোষণ করেছেন এবং বলেছেন যে, মালিক সুন্নাহর বিপরীতে কিয়াস ও রা'য়কে প্রাধান্য দিতেন। এটি একটি অপবাদ ও মিথ্যাচার। আব্দুল ওয়াহহাব আশ-শায়রানী ইমাম মালিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন, "তোমরা মানুষের রায় বা ব্যক্তিগত মতামত থেকে বেঁচে থাকো, যদি না তারা কোনো বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল হয়েছে এবং তোমাদের নবীর পক্ষ থেকে যা এসেছে তা অনুসরণ করো—যদিও তোমরা তার অর্থ না বোঝো। তোমাদের আলেমদের নিকট আত্মসমর্পণ করো এবং বিতর্ক করো না; কেননা দ্বীনের বিষয়ে বিতর্ক করা মুনাফেকির অবশিষ্টাংশ।" ২

সেখানে ইবনে হাজমের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও বলা হয়েছে: "যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, তিনি বললেন, ‘আমি এখন আকাঙ্ক্ষা করি যে, প্রতিটি মাসআলা যে ক্ষেত্রে আমি নিজ মতানুসারে বলেছি, তার বদলে যদি আমাকে একটি করে দোররা মারা হতো! আমি যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এমন কিছু নিয়ে সাক্ষাৎ না করি যা আমি তাঁর শরীয়তে বৃদ্ধি করেছি।’"

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: ইখতিলাফু মালিক ওয়াশ শাফিয়ী, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১৭৭; কিতাবু জামিইল ইলম, পৃষ্ঠা ২৫০; কিতাবুর রাদ্দ আলা মুহাম্মদ ইবনিল হাসান, পৃষ্ঠা ২৭৭; কিতাবু ইবতালিল ইহসান, পৃষ্ঠা ২৬৭।

(২) আল-মিযান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৪।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯১)
وخالفت فيه ظاهرها"1 ومن هنا أخذ بعض الناس منع رواية الحديث بالمعنى للعارف خوفا أن يزيد الراوي في الحديث أو ينقص.

وقال الإمام مالك في رسالته الخالدة إلى الليث بن سعد2 "وفقنا الله وإياك لطاعته وطاعة رسوله في كل أمر وعلى كل حال"3 ومن منا لا يعرف قول الإمام مالك المشهور: كل يؤخذ بقوله ويرد إلا صاحب هذا القبر (مشيرا إلى قبر النبي صلى الله عليه وسلم فهذه بعض النصوص حجة صريحة على من يتهم الإمام مالكا. نعم لقد تحير بعض الناس لما وقفوا على موطأ مالك ووجدوا أنه كتاب فقه وحديث، كتاب رواية ودراية، كتاب رأي وفتوى وهو مشهور بين أهل العلم بكتاب السنة، فكيف يجمع هذا في كتاب واحد وفي رجل واحد.

فنقول هذا الانتقاد صحيح في حد ذاته ولكن المدقق البصير لتاريخ التشريع الإسلامي يعثر على شيء جمعه مالك دون غيره وهو اجتماع الرواية والفقه عنده، والسبب في ذلك أن الناس ما كانوا يفرقون بين الرواية والدراية في عصره، فالمحدث هو الفقيه والفقيه هو المحدث لقرب أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم. فإن الأمر المعروف في أصول الفقه أن قول الصحابي ينزل منزلة الرفع إذا لم يكن موضع اجتهاد، ولهذا كان من عادة الأئمة في استنباط الأحكام الشرعية أن يرجعوا إلى كتاب الله أولا ثم إلى سنة رسوله صلى الله عليه وسلم ثم إلى قول أصحابه المتفق عليه ثم إلى أقضية الخلفاء الراشدين، هكذا روي عن الإمام أبي حنيفة فإذا وصل إلى رأي التابعين قال هم رجال ونحن رجال.

وقد جاء عن بعض السلف قولهم "إن مالكا جمع بين الحديث والفقه ما لم يجمع غيره قط". قال ابن جرير الطبري أن أحمد بن حنبل لم يكن فقيها

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص65.

(2) توفي سنة 175هـ.

(3) ترتيب المدارك ج1 ص65.
...এবং এর প্রকাশ্য রূপের খেলাফ করেছেন।"১ আর এখান থেকেই কিছু লোক বিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য হাদীসকে শব্দ পরিবর্তন করে মর্মার্থে বর্ণনা করা নিষিদ্ধ করেছেন, এই ভয়ে যে বর্ণনাকারী হাদীসে কোনো কিছু বাড়িয়ে দিবে বা কমিয়ে দিবে।

ইমাম মালিক লাইস ইবনে সা'দ২-এর কাছে প্রেরিত তাঁর অমর পত্রে বলেন, "আল্লাহ প্রতিটি বিষয়ে এবং সকল অবস্থায় আমাদের এবং আপনাকে তাঁর আনুগত্য ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করার তাওফীক দান করুন।"৩ আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে ইমাম মালিকের সেই বিখ্যাত উক্তিটি জানে না: "এই কবরের অধিবাসী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরের দিকে ইশারা করে) ব্যতীত প্রত্যেকের কথা গ্রহণ করা যেতে পারে অথবা প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।" সুতরাং এই উদ্ধৃতিগুলো ইমাম মালিককে যারা অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে এক সুস্পষ্ট দলিল। হ্যাঁ, কিছু লোক যখন মালিকের মুয়াত্তা গ্রন্থটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দেখেছেন যে এটি একই সাথে ফিকহ ও হাদীসের কিতাব, বর্ণনা ও গবেষণার কিতাব, ব্যক্তিগত রায় ও ফতোয়ার কিতাব—যা আলেমদের কাছে 'কিতাবুস সুন্নাহ' হিসেবেও প্রসিদ্ধ—তখন তারা বিস্মিত হয়েছেন যে, কীভাবে এই সবকিছু একজন ব্যক্তির মধ্যে এবং একটি কিতাবে একত্রিত হতে পারে।

আমরা বলি, এই সমালোচনাটি আপন সত্তায় সঠিক, তবে ইসলামী শরীয়তের ইতিহাসের একজন সূক্ষ্মদর্শী পর্যবেক্ষক এমন একটি জিনিসের সন্ধান পাবেন যা মালিক অন্য সবার চেয়ে আলাদাভাবে অর্জন করেছিলেন; আর তা হলো তাঁর নিকট হাদীস বর্ণনা ও ফিকহ শাস্ত্রের সমন্বয়। এর কারণ হলো, তাঁর যুগে মানুষ হাদীস বর্ণনা ও গবেষণার মধ্যে পার্থক্য করত না। তখন মুহাদ্দিসই ছিলেন ফকীহ আর ফকীহ-ই ছিলেন মুহাদ্দিস, কারণ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের যুগ খুব নিকটবর্তী ছিল। কেননা উসূলে ফিকহের একটি সুপরিচিত বিষয় হলো, সাহাবীর বক্তব্য যখন ইজতিহাদের (গবেষণার) বিষয় হয় না, তখন তা মারফূ হাদীসের মর্যাদা লাভ করে। একারণেই শরীয়তের বিধান আহরণ করার ক্ষেত্রে ইমামদের নিয়ম ছিল প্রথমে আল্লাহর কিতাবের দিকে ফিরে যাওয়া, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর দিকে, এরপর সাহাবীগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রদত্ত বক্তব্যের দিকে এবং তারপর খোলাফায়ে রাশেদীনের ফয়সালাসমূহের দিকে। ইমাম আবু হানিফা সম্পর্কেও এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন তাবিঈদের মতামতের পর্যায়ে পৌঁছাতেন, তখন বলতেন, "তারাও মানুষ, আমরাও মানুষ।"

পূর্বসূরীদের কারো কারো পক্ষ থেকে এমন উক্তি এসেছে যে, "ইমাম মালিক হাদীস ও ফিকহকে এমনভাবে একত্রিত করেছেন যা অন্য কেউ কখনও করতে পারেনি।" ইবনে জারীর তাবারী বলেছেন যে, আহমাদ ইবনে হাম্বল ফকীহ ছিলেন না।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬৫।

(২) মৃত্যু ১৭৫ হিজরী।

(৩) তারতীবুল মাদারিক, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৫।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯২)
بل إنه كان محدثا ومالك وحده هو المحدث الذي يعد في الرعيل الأول بالإجماع والفقيه البصير بمواضع الفتوى ومصادرها بالإجماع. فهذا كتاب الموطأ الذي يحتوي على ألف وسبعمائة وعشرين حديثا برواية أبي بكر الأبهري قال السيوطي عنه "إن الأحاديث الموصلة المرفوعة إلى النبي صلى الله عليه وسلم صحاح كلها بل هي في الصحة كأحاديث الصحيحين"1. وقال الإمام الشافعي "لا أعلم كتابا في أكثر صوابا من كتاب مالك"2 حتى أن الإمام البخاري الذي يُعد كتابه أصح كتب الحديث وأقواها يعتبر سند مالك في بعض مروياته التي رواها أصح الأسانيد وهو مالك عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة. وأصح الأسانيد عن أبي داود مالك عن نافع عن ابن عمر ولهذا استغرب الشافعي من مالك مسألة خيار المجلس، والحديث مروي عن مالك عن نافع عن ابن عمر فقال:" لا أدري هل أتهم مالك نفسه أو نافعا"3. فكأنه اعتبر هذا السند من سلسلة الذهب. فهذه شهادات تدل على أنه كان عدلا ضابطا لا مجال للطعن فيه فكيف لأحد أن يعده من منكري السنة وغير المحتجين بها!.

هذه هي منزلة السنة عند مالك من حيث الأصول، وبحثنا مقتصر على الأصول وأما في الفروع فقد تلحقه شبهة وأعذار نذكر منها البعض في باب عمل أهل المدينة إن شاء الله تعالى.

أما من ناحية تقديم القياس على بعض السنة فنقول بعون الله تعالى:

لقد تضافرت الأدلة القاطعة على أن القياس أصل من أصول الفقه الإسلامي ولم يعارضه أحد إلا طائفة من الظاهرية وجماعة من الشيعة وشبهاتهم مذكورة في كتبهم ولا حاجة بنا إلى إعادة ذكرها.

القياس على قسمين: قياس يخالف الكتاب والسنة وهو مردود ومذموم لم يأخذ به أحد، وقياس لا يخالف الكتاب والسنة، وهو إلحاق أمر غير

--------------------------------------------

1على هامش الباعث الحثيث ص32.

2 المصدر السابق ص31.

3 المغني ج3 ص504.
বস্তুত তিনি একজন মুহাদ্দিস ছিলেন এবং এককভাবে মালিকই এমন একজন মুহাদ্দিস যাকে সর্বসম্মতিক্রমে প্রথম প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তিনি ছিলেন ফতোয়ার ক্ষেত্র ও উৎসসমূহ সম্পর্কে সর্বসম্মতভাবে প্রাজ্ঞ ফকিহ। এটি হলো আল-মুওয়াত্ত্তা গ্রন্থ যা আবু বকর আল-আবহারীর বর্ণনা অনুযায়ী এক হাজার সাতশ বিশটি হাদিস সংবলিত। সুয়ূতী এর সম্পর্কে বলেছেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে এমন মারফু হাদিসগুলোর সবই সহিহ, বরং এগুলো বিশুদ্ধতার দিক থেকে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর হাদিসগুলোর মতোই।"১ ইমাম শাফিঈ বলেছেন, "আমি ইমাম মালিকের কিতাব অপেক্ষা অধিক বিশুদ্ধ কোনো কিতাব সম্পর্কে জানি না।"২ এমনকি ইমাম বুখারি, যার কিতাবকে হাদিসের কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী মনে করা হয়, তিনিও তাঁর কিছু বর্ণনায় মালিকের সনদকে সবচেয়ে শক্তিশালী সনদ হিসেবে গণ্য করেছেন, আর তা হলো—মালিক থেকে আবুয যিনাদ, তিনি আল-আ'রাজ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে। আবার আবু দাউদের মতে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হলো—মালিক থেকে নাফে, তিনি ইবনে উমর থেকে। এ কারণেই ইমাম শাফিঈ 'মজলিসের ইখতিয়ার' (খিয়ারুল মজলিস) সংক্রান্ত মাসআলায় ইমাম মালিকের অবস্থানে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে হাদিসটি মালিক স্বয়ং নাফে থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছিলেন: "আমি জানি না আমি কি খোদ মালিককে অভিযুক্ত করব নাকি নাফেকে।"৩ যেন তিনি এই সনদকে স্বর্ণসূত্র (সিলসিলাতুয যাহাব) হিসেবে বিবেচনা করতেন। এই সাক্ষ্যগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও অত্যন্ত নিখুঁত বর্ণনাকারী, যাতে আপত্তির কোনো অবকাশ নেই। সুতরাং কেউ কীভাবে তাঁকে সুন্নাহর অস্বীকারকারী বা সুন্নাহকে দলিল হিসেবে গ্রহণ না কারীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করতে পারে!

মূলনীতির (উসুল) দিক থেকে ইমাম মালিকের নিকট সুন্নাহর মর্যাদা এমনই। আমাদের এই আলোচনা কেবল মূলনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ, আর শাখা-প্রশাখার (ফুরু) ক্ষেত্রে তাঁর ব্যাপারে কিছু সংশয় ও ওজর থাকতে পারে যার কিছু আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা ‘মদিনাবাসীদের আমল’ পরিচ্ছেদে উল্লেখ করব।

সুন্নাহর কিছু অংশের ওপর কিয়াসকে (সাদৃশ্যমূলক অনুমান) প্রাধান্য দেওয়ার প্রসঙ্গে আমরা আল্লাহর সাহায্য নিয়ে বলছি:

অকাট্য দলিলসমূহ একমত হয়েছে যে, কিয়াস হলো ইসলামি ফিকহের মূলনীতিগুলোর অন্যতম একটি মূলনীতি। জাহিরিয়াদের একটি দল এবং শিয়াদের একটি গোষ্ঠী ছাড়া আর কেউ এর বিরোধিতা করেনি। তাদের সংশয়গুলো তাদের কিতাবসমূহে বর্ণিত আছে, যা পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।

কিয়াস দুই প্রকার: এমন কিয়াস যা কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী, যা প্রত্যাখ্যাত ও নিন্দনীয় এবং তা কেউ গ্রহণ করেনি। আর এমন কিয়াস যা কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী নয়, যা মূলত এমন কোনো বিষয়কে যুক্ত করা যা...

--------------------------------------------

১. আল-বাইসুল হাসিস-এর টীকা, পৃষ্ঠা ৩২।

২. পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৩১।

৩. আল-মুগনি, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০৪।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯৩)
منصوص على حكمه بأمر منصوص على حكمه لعلة جامعة بينهما. وهو أمر ضروري لا بد منه لوقوع كثرة الحوادث وعدم انتهاء المساءل وإلى هذا أشار معاذ بن جبل وأقره عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم1 والعلماء والفقهاء من القرون المشهود لها بالخير إلى يومنا هذا لم يستغنوا عن استعمال المقاييس في أمور دينهم إذا لم يجدوا أمرا صريحا من الشارع لأن نظير الحق حق ونظير الباطل باطل، وعلى هذا الأساس فإن مالكا استعمل القياس وقال بما دل عليه قياسه متمسكا بشروطه وآدابه. وكيف لا يقول به مالك وقد قال به رسول الله صلى الله عليه سلم في مواضع كثيرة منها ما يروى عن عمر بن الخضاب قال: "صنعت يا رسول الله أمرا عظيما قبّلت وأنا صائم فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أرأيت لو تمضمضت بماء وأنت صائم"؟ فقلت لا بأس فقال: "فصم" 2 فقاس رسول الله صلى الله عليه وسلم القبلة على المضمضة لأن كلا منهما مقدمة للإفطار فلا ذنب على مالك إن قاس الأمور الحادثة على أصولها.

نعم وقد يظن قياسه مخالفا للسنة الثابتة فما السبب في ذلك؟ فنقول: هناك عدة أعذار عد بينها شيخ الإسلام ابن تيمية في رسالته (رفع الملام عن الأئمة الأعلام) وقال: جميع الأعذار ثلاثة أصناف. أحدها عدم اعتقاده أن النبي صلى الله عليه وسلم قاله، والثاني عدم اعتقاده إرادة تلك المسألة بذلك القول، والثالث اعتقاده أن ذلك الحكم منسوخ. ثم فرع الأسباب على تلك الأصناف فجعل السبب الأول هو أن لا يكون الحديث قد بلغه ومن لم يبلغه الحديث لم يكلف إن يكون عالما بموجبه كما حصل لعمر وابنه فإنهما كانا ينهيان المحرم عن التطيب قبل الإحرام قبل الإفاضة إلى مكة بعد رمي جمرة العقبة ولم يبلغهما

--------------------------------------------

1 أخرجه الترمذي وقال: حديث لا نعرفه إلا من هذا الوجه وليس إسناده عندي بمتصل. وقال البخاري في التاريخ الكبير: الحرث بن عود بن أخي المغيرة عن أصحاب معاذ عن معاذ روي عنه أبو عون ولا يصح ولا يعرف إلا بهذا. جمع الفوائد 4923.

2 أبو داود صوم 33، الدارمي صوم 21 سند أحمد 1/ 21.
যে বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধান বর্ণিত হয়েছে, সেটির হুকুমের ভিত্তিতে এমন একটি বিষয় সম্পর্কে বিধান প্রদান করা যার বিধানও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত, উভয়ের মাঝে একটি সাধারণ কারণের (ইল্লত) উপস্থিতির কারণে। এটি একটি অপরিহার্য বিষয়, যা ঘটনার প্রাচুর্য এবং সমস্যার অন্তহীনতার কারণে অনিবার্য হয়ে পড়ে। মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন এবং আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁকে সমর্থন করেছেন। সর্বোত্তম যুগের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত আলেম ও ফকিহগণ থেকে শুরু করে আজ অবধি আলেমগণ যখনই শরিয়তদাতার পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশ খুঁজে পাননি, তখনই তাদের দ্বীনি বিষয়ে কিয়াস বা অনুমান পদ্ধতি ব্যবহার করা থেকে বিমুখ হননি; কারণ সত্যের সাদৃশ্য সত্য এবং মিথ্যার সাদৃশ্য মিথ্যা। এই ভিত্তিতেই ইমাম মালিক কিয়াস ব্যবহার করেছেন এবং কিয়াসের শর্ত ও আদবসমূহ মেনে চলে এর দ্বারা যা নির্দেশিত হয়েছে তাই বলেছেন। ইমাম মালিক কেন এটি বলবেন না, যেখানে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা.) বহু স্থানে এটি ব্যবহার করেছেন; যার মধ্যে একটি হলো যা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি আজ এক গুরুতর কাজ করে ফেলেছি, আমি রোজা থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করেছি।" তখন আল্লাহর রাসূল (সা.) তাকে বললেন: "তোমার কী মনে হয়, যদি তুমি রোজা থাকা অবস্থায় পানি দিয়ে কুলি করতে (তবে কি রোজা ভেঙে যেত)?" আমি বললাম: "তাতে কোনো সমস্যা নেই।" তখন তিনি বললেন: "তাহলে রোজা পূর্ণ করো।" আল্লাহর রাসূল (সা.) এখানে কুলি করার সাথে চুম্বনের কিয়াস করেছেন, কারণ এই দুটির প্রতিটিই রোজা ভঙ্গের প্রাথমিক ধাপ মাত্র। সুতরাং ইমাম মালিকের ওপর কোনো দোষ নেই যদি তিনি নতুন উদ্ভূত বিষয়গুলোকে সেগুলোর মূলনীতির সাথে কিয়াস করে থাকেন।

হ্যাঁ, কখনও কখনও মনে হতে পারে যে তাঁর কিয়াস সাব্যস্ত সুন্নাহর পরিপন্থী; এর কারণ কী? আমরা বলি: এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু ওজর বা কারণ রয়েছে যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়য়াহ তাঁর পুস্তিকা 'রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম'-এ গণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: সকল ওজর মূলত তিনটি শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। প্রথমটি হলো—রাসূলুল্লাহ (সা.) কথাটি বলেছেন বলে তাঁর বিশ্বাস না হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো—উক্ত কথা দ্বারা সেই নির্দিষ্ট মাসআলাটি উদ্দেশ্য বলে তাঁর বিশ্বাস না হওয়া। আর তৃতীয়টি হলো—সেই বিধানটি মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে বলে তাঁর বিশ্বাস করা। এরপর তিনি এই শ্রেণিগুলোর অধীনে কারণগুলো শাখা-প্রশাখায় বিন্যস্ত করেছেন এবং প্রথম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, হাদীসটি তাঁর নিকট না পৌঁছানো। আর যার কাছে হাদীস পৌঁছেনি, তাকে সেই অনুযায়ী আমল করতে বাধ্য করা যায় না; যেমনটি উমর ও তাঁর পুত্রের ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তাঁরা জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের পর মক্কায় তাওয়াফে ইফাযাহর জন্য যাওয়ার আগে ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন, কারণ তাদের কাছে এ সংক্রান্ত হাদীস পৌঁছেনি।

--------------------------------------------

১. তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদীসটি আমরা কেবল এই সূত্রেই চিনি এবং এর সনদ আমার নিকট অবিচ্ছিন্ন নয়। ইমাম বুখারী তারিখুল কাবীরে বলেন: হারিস বিন উমর বিন আখিল মুগীরা, মুয়াযের সঙ্গীদের থেকে, মুয়ায থেকে বর্ণিত; তাঁর থেকে আবু আউন বর্ণনা করেছেন, এটি সহীহ নয় এবং এই সূত্র ছাড়া এটি পরিচিত নয়। জামউল ফাওয়াইদ ৪৯২৩।

২. আবু দাউদ, রোজা অধ্যায় ৩৩; দারেমী, রোজা অধ্যায় ২১; মুসনাদে আহমাদ ১/২১।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯৪)
حديث عائشة رضي الله عنها أنها طيبت رسول الله صلى الله عليه وسلم لإحرامه قبل أن يحرم ولحله قبل أن يطوف، وغيره من الأمثلة الكثيرة ذكرها ابن تيمية1 رحمه الله تعالى وإلى هذا أشار الإمام الشافعي في قوله "لو صح حديث لحوم الإبل قلت به" ذكره الحافظ في التلخيص2 فلماذا لا نحمل مالكا على أحد هذا الأعذار؟ فالأئمة المجتهدون والمحدثون الحاذقون والفقهاء المبصرون كلهم معذورون إذا قالوا شيئا يخالف سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم بل هم مأجورون على ذلك. فقد ثبت في الصحيحين عن عمرو بن العاص أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران وإذا اجتهد فأخطأ فله أجر" 3 فتبين أن المجتهد له مع خطئه أجر وذلك لأجل اجتهاده، فإن إحاطة واحد لجميع أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر لا يمكن ادعاؤه حتى أن الخلفاء الراشدين الذين هم أعلم الأمة وأفقه الفقهاء وباشروا رسول الله سفرا وحضرا لم يكونوا قد بلغوا الكمال في العلم، فهذا أبو بكر رضي الله عنه لما سئل عن ميراث الجدة قال مالك في كتاب الله من شيء وما علمت لك في سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم من شيء، ولكن أسأل الناس فقال المغيرة بن شعبة وشهد له محمد بن مسلمة بأن النبي صلى الله عليه وسلم أعطاها السدس.

وروي عن عمران بن حصين مثل ذلك. فإذا كان هذا من حال أبي بكر وعمر وابنه الذين شاهدوا التنزيل فأين أبو حنيفة ومالك وابن أبي ليلى وغيرهم من الأئمة رضوان الله عليهم أجمعين!

لقد تخبط بعض الباحثين من المستشرقين من أمثال جولد زهير في معنى السنة فظنوا أنها من باب العادات والتقاليد الموروثة من الجاهلية، واستشهدوا على ما ذهبوا إليه ببعض

--------------------------------------------

1رفع الملام ص1.

2 نقلا من تحفة الأحوذي ج1 ص263.

3 خ اعتصام باب 21.

م، اقضية15، واقضية2، حم ج2/187.
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদীস যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইহরাম বাঁধার পূর্বে তাঁর ইহরামের জন্য এবং (হজ্জের সময়) ইহরাম খোলার পর তাওয়াফ করার পূর্বে সুগন্ধি মাখিয়ে দিয়েছিলেন। এই প্রকারের আরও অনেক উদাহরণ ইবনে তাইমিয়্যাহ১ (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। ইমাম শাফিঈ তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে এরই দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, "যদি (উটের গোশত সংক্রান্ত) হাদীসটি সহীহ হতো, তবে আমি সেটিই গ্রহণ করতাম।" হাফিয (ইবনে হাজার) 'আত-তালখীস'২ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং কেন আমরা ইমাম মালিককে এই সকল ওজরের (অপারগতার কারণ) কোনো একটির ওপর প্রয়োগ করব না? কেননা মুজতাহিদ ইমামগণ, প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ফকীহগণ—তাঁরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর পরিপন্থী কোনো কথা বলেন, তখন তাঁরা সকলেই ওজরপ্রাপ্ত (মার্জনীয়), বরং তাঁরা এর জন্য সওয়াবপ্রাপ্ত হন। সহীহাইন-এ আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ করে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়, তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। আর যখন সে ইজতিহাদ করে এবং ভুল করে, তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে।"৩ সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, মুজতাহিদ তার ভুল সত্ত্বেও সওয়াব পান, আর তা হলো তার ইজতিহাদের কারণে। কেননা কোনো একজনের পক্ষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমস্ত হাদীস আয়ত্ত করা এমন একটি বিষয় যা দাবি করা অসম্ভব। এমনকি খুলাফায়ে রাশিদুন—যাঁরা উম্মতের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ও শ্রেষ্ঠ ফকীহ এবং সফর ও আবাসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্য লাভ করেছেন—তাঁরাও ইলমের পূর্ণতায় (অর্থাৎ সকল হাদীস আয়ত্তের স্তরে) পৌঁছেননি। এই যেমন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু), যখন তাঁকে দাদীর মীরাস (উত্তরাধিকার) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য আমি কিছুই পাচ্ছি না এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহতেও তোমার সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। তবে আমি লোকজনকে জিজ্ঞাসা করব।" অতঃপর মুগীরা ইবনে শু'বা বললেন এবং মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামাহ তাঁর সপক্ষে সাক্ষ্য দিলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে (দাদীকে) এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন।

ইমরান ইবনে হুসাইন থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং যদি আবু বকর, উমর এবং তাঁর পুত্রের অবস্থা এমন হয়—যাঁরা ওহী নাযিল হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন—তবে সেখানে আবু হানিফা, মালিক, ইবনে আবি লায়লা এবং অন্যান্য ইমামদের (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) অবস্থা কী হতে পারে!

গোল্ডজিহারের মতো কিছু প্রাচ্যবিদ গবেষক 'সুন্নাহ'-এর অর্থের ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। তাঁরা ধারণা করেছেন যে, এটি জাহিলী যুগ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত প্রথা ও ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা তাঁদের এই মতের সপক্ষে কিছু...

--------------------------------------------

১. রাফউল মালাম, পৃষ্ঠা ১।

২. তুহফাতুল আহওয়াযী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৬৩ থেকে উদ্ধৃত।

৩. বুখারী: কিতাবুল ইতিসাম, অধ্যায় ২১।

মুসলিম: কিতাবুল আকদিয়াহ ১৫ এবং ২; আহমাদ, ২/১৮৭।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯৫)
العادات التي أبقاها الإسلام من العادات القديمة. وقالوا أن السنة ليست من مصادر التشريع في الإسلام، فإن الأوائل لم يكونوا يرجعون إليها في المسائل الدينية والفتاوى الشرعية حتى ظهر بعض المسلمين في أواخر القرن الثاني وأوائل القرن الثالث، ونادوا بحجية السنة، وملأوا كتبهم بالأدلة والبراهين، وممن اشتهر في هذا العصر الإمام الشافعي فإنه قام بالرد على الإمامين السابقين أبي حنيفة ومالك رحمهما الله1.

وأخذ هؤلاء الباحثون ببعض الآثار المروية في هذا الباب، منها قول عمر ابن الخطاب "حسبنا كتاب الله " وحديث حدث به المهلب بن أبي صفرة ثنا ابن مناس ثنا محمد بن مسرور القيرواني ثنا يونس بن عبد الأعلى عن ابن وهب أخبرني شمر بن نمير عن حسين بن عبد الله بن عبيد الله بن العباس عن أبيه عن جده عن علي بن أبي طالب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "سيأتي ناس يحدثون عني حديثا فمن حدثكم حديثا يضارع القرآن فأنا قلته ومن حدثكم بحديث لا يضارع القرآن فلم أقله. إنما هو حسوة من النار" 2.

وهذا أثر ضعيف بل أوهن من بيت العنكبوت أخذوا به دليلا إلى ما ذهبوا إليه _ وقد قال عبد الرحمن بن مهدي "الزنادقة والخوارج وضعوا هذا الحديث". وقال محمد بن حزم: "الحسين بن عبد الله ساقط متهم بالزندقة"3 ورد الشافعي والبيهقي هذا الحديث كليا. وبمثل هذه الأحاديث المكذوبة أوردها ابن حزم ورد عليها واحدة بعد واحدة. أما قول عمر بن الخطاب وهو ما أخرجه البخاري عن ابن عباس قال: لما حُضر رسول الله صلى الله عليه وسلم وفي البيت رجال فيهم عمر بن الخطاب قال النبي صلى

--------------------------------------------

1 هكذا يريد المستشرق ((شاخت)) أن يرد حجية السنة وسيأتي التفصيل عن هذا إن شاء الله تعالى.

2 الإحكام لابن حزم ج2 ص76.

3 الإحكام لابن حزم ج2 ص76.
সেইসব অভ্যাস যা ইসলাম প্রাচীন রীতিনীতি থেকে বহাল রেখেছে। তারা বলেন যে, সুন্নাহ ইসলামের বিধানের উৎসসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, কেননা পূর্ববর্তীগণ ধর্মীয় বিষয়াবলি এবং শরয়ি ফতোয়ার ক্ষেত্রে এর দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে এবং তৃতীয় শতাব্দীর শুরুতে কিছু মুসলিমের আবির্ভাব ঘটে যারা সুন্নাহর প্রামাণ্যতার দাবি তোলেন এবং তাদের কিতাবসমূহ দলিল ও প্রমাণে পূর্ণ করে দেন। এই যুগে যারা প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম শাফেঈ, কেননা তিনি তাঁর পূর্ববর্তী দুই ইমাম আবু হানিফা এবং মালিক (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)-এর মতের প্রতিবাদ করেছিলেন ১।

এই গবেষকরা এ বিষয়ে বর্ণিত কিছু আছার গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে উমর ইবনুল খাত্তাবের উক্তি "আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট" এবং মুহাল্লাব বিন আবি সুফরা বর্ণিত একটি হাদিস, যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে মানাস, তিনি মুহাম্মদ বিন মাসরুর আল-কায়রাওয়ানি থেকে, তিনি ইউনুস বিন আব্দুল আলা থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি বলেন আমাকে শিমর বিন নুমাইর সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "অচিরেই এমন লোক আসবে যারা আমার পক্ষ থেকে হাদিস বর্ণনা করবে; সুতরাং যে তোমাদের নিকট এমন হাদিস বর্ণনা করবে যা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা আমি বলেছি। আর যে তোমাদের নিকট এমন হাদিস বর্ণনা করবে যা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তা আমি বলিনি। তা তো কেবল আগুনের একটি চুমুক" ২।

এটি একটি দুর্বল বর্ণনা, বরং মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল যা তারা তাদের দাবির পক্ষে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছে। আব্দুর রহমান বিন মাহদী বলেছেন, "যিন্দিক এবং খারিজিরা এই হাদিসটি তৈরি করেছে।" মুহাম্মদ বিন হাজম বলেছেন: "হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ পরিত্যক্ত এবং যিন্দিকতার অভিযোগে অভিযুক্ত" ৩। ইমাম শাফেঈ এবং বায়হাকী এই হাদিসটিকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ জাতীয় মিথ্যা হাদিসগুলো ইবনে হাজম উল্লেখ করেছেন এবং একে একে সেগুলোর খণ্ডন করেছেন। আর উমর বিন খাত্তাবের উক্তিটি ইমাম বুখারী ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্তিম সময় উপস্থিত হলো এবং ঘরে উমর ইবনুল খাত্তাবসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু...

--------------------------------------------

১. এভাবেই প্রাচ্যবিদ "শাখত" সুন্নাহর প্রামাণ্যতাকে অস্বীকার করতে চান এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।

২. আল-ইহকাম, ইবনে হাজম, ২য় খণ্ড, ৭৬ পৃষ্ঠা।

৩. আল-ইহকাম, ইবনে হাজম, ২য় খণ্ড, ৭৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯৬)
الله عليه وسلم هلمّ أكتب لكم كتابا لا تضلوا بعده. فقال عمر: إن النبي صلى الله عليه وسلم قد غلب عليه الوجع وعندكم القرآن. حسبنا كتاب الله1 وفيه قال ابن عباس: إن الرزية كل الرزية ما حال بين رسول الله صلى الله عليه وسلم وبين أن يكتب لهم ذلك الكتاب من اختلافهم ولغطهم2 هذا القول لا يدل على الاستغناء بالسنة لأن عمر ابن الخطاب أراد أن يخفف على رسول الله صلى الله عليه وسلم وجعه ولهذا سكت عليه النبي صلى الله عليه وسلم وقد عاش بعده بأيام ولم يرد على عمر قوله، فلما وجد التخفيف والراحة أملى عليهم كما أخرج مسلم أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في أوائل مرضه وهو عند عائشة: "ادعي لي أباك وأخاك حتى أكتب كتابا فإني أخاف يتمنى متمن ويقول قائل ويأبى الله والمؤمنون إلا أبا بكر" 3. وهذا المعنى يؤيد سلوك عمر بن الخطاب في زمن خلافته فإنه كان يحرص على الأخذ بالسنة، وهذا باب واسع لا أرى الحاجة إلى إيراده.

بمثل هذه الأدلة أخذ منكرو السنة، فمن المستشرقين الذين اشتهروا بهذا الطعن جولد سهير قد قال في دائرة المعارف الإسلامية تحت كلمة (الحديث) وفي كتابه:

(MUHAMMAD STUDY) ج1 ص41 واللفظ من الدائرة "كان السير على سنة الآباء الأولين (السنة هي المنهج القديم المأثور الذي يعتاده المرء في المبادلة والأخذ والعطاء) حتى يعد عند الكفار من العرب فضيلة من الفضائل ولما جاء الإسلام لم تستطع السنة أن تبقى على قديمها وهو اتباع عادات الآباء الكفار وأقوالهم، وكان لا بد للمسلمين من أن ينشئوا لهم سنة جديدة. فأصبح واجبا على المؤمن أن يتخذ من خلق الرسول صلى الله عليه وسلم وصحابته مثلا يحتذيه في

--------------------------------------------

1 خ ج 7 ص 104.

2 المصدر السابق.

3 نقلا من فتح الباري ج1 ص186.
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি কিতাব লিখে দেই যার পর তোমরা আর পথভ্রষ্ট হবে না।" তখন উমর বললেন: "নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ব্যথার তীব্রতা প্রবল হয়েছে এবং তোমাদের কাছে কুরআন রয়েছে। আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট।"১ এবং এ প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাস বলেছেন: "সবচেয়ে বড় বিপর্যয় তো সেটিই যা তাদের মতভেদ এবং হট্টগোলের কারণে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই কিতাবটি লিখে দেওয়ার পথে অন্তরায় হয়েছিল।"২ এই উক্তিটি সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়ার প্রমাণ বহন করে না; কারণ উমর ইবনুল খাত্তাব চেয়েছিলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যথার কষ্ট লাঘব করতে। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে নীরব ছিলেন। তিনি এর পরেও কয়েকদিন জীবিত ছিলেন এবং উমরের উক্তির কোনো প্রতিবাদ করেননি। অতঃপর যখন তিনি কিছুটা সুস্থতা ও আরাম বোধ করলেন, তখন তিনি তাঁদেরকে তা লিখে নিতে বললেন, যেমনটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুস্থতার শুরুর দিকে যখন আয়েশার কাছে ছিলেন, তখন বললেন: "তোমার পিতা এবং ভাইকে আমার কাছে ডাকো যাতে আমি একটি কিতাব লিখে দিতে পারি। কেননা আমি আশঙ্কা করি যে কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে এবং কোনো বক্তা কিছু বলবে, অথচ আল্লাহ এবং মুমিনরা আবু বকর ছাড়া আর কাউকে মেনে নেবে না।"৩ আর এই বিষয়টি খিলাফতের সময়ে উমর ইবনুল খাত্তাবের কর্মপন্থারই সমর্থন করে, কেননা তিনি সুন্নাহ গ্রহণে অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। এটি একটি বিস্তৃত বিষয়, যা এখানে উপস্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা আমি বোধ করছি না।

এই ধরনের প্রমাণাদিই সুন্নাহ অস্বীকারকারীরা আঁকড়ে ধরেছে। প্রাচ্যবিদদের মধ্যে যারা এই অপবাদের জন্য সুপরিচিত, তাদের একজন হলেন গোল্ডজিহার। তিনি 'ইসলামি বিশ্বকোষ'-এ (হাদিস) শব্দের অধীনে এবং তাঁর কিতাবে বলেছেন:

(মুহাম্মদ স্টাডি) ১ম খণ্ড, ৪১ পৃষ্ঠা এবং মূল বক্তব্যটি বিশ্বকোষ থেকে নেওয়া: "পূর্বপুরুষদের সুন্নাহ বা রীতির ওপর চলা (সুন্নাহ হলো প্রাচীন ঐতিহ্যগত পথ যাতে মানুষ আদান-প্রদান ও লেনদেনে অভ্যস্ত ছিল) আরবের কাফিরদের নিকট একটি শ্রেষ্ঠ গুণ হিসেবে বিবেচিত হতো। যখন ইসলাম এলো, তখন সুন্নাহ তার সেই প্রাচীন অবস্থায় অর্থাৎ কাফির পূর্বপুরুষদের অভ্যাস ও উক্তি অনুসরণের ওপর অটল থাকতে পারল না। মুসলমানদের জন্য একটি নতুন সুন্নাহ গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। ফলে একজন মুমিনের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের চরিত্রকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা যাতে সে তাঁদের অনুসরণ করতে পারে..."

--------------------------------------------

১ সহীহ বুখারী, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ১০৪।

২ পূর্বোক্ত উৎস।

৩ ফাতহুল বারী থেকে উদ্ধৃত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৬।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯৭)
جميع أحوال معاشه، ولهذا بذل كل جهد ممكن في سبيل جمع أخبار النبي صلى الله عليه وسلم وصحابته1.

فالفكرة التي يريد جولد سهير أن يعطيها لنا هي أن السنة ليس لها قيمة ذاتية نفسية بل جاءت من قبل العادات والتقاليد الجامعية. ولكن الأمر ليس كما يظن المستشرق فسوف نبين خطأ فكره في باب العادات الجاهلية بعون الله تعالى. ثم جاء بعده جوزيف شاخت فجعل السنة وليدة البيئة والمجتمع الإسلامي وعمل الخلفاء، وأنها ليست أمرا ثبتا في القرنين الأول والثاني حتى جاء الإمام الشافعي ونادى بحجية السنة وشن الغارات على منكريها2.

ثم رأيت المرحوم الدكتور السباعي يُورد فصلا كاملا في كتابه (السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي) بعنوان ((السنة مع من ينكر حجيتها حديثا)) فأحببت أن ألخص كلامه هنا في أسطر لما فيه من الفوائد لطالب السنة.

يقول المرحوم: "وقد نشرت مجلة المنار للمرحوم السيد رشيد رضا في العددين 7_12 من السنة التاسعة مقالين للدكتور توفيق صدقي تحت عنوان (الإسلام هو القرآن وحده) وشبهته:

أولا _ قوله: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} .

{وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ} .

ثانيا _ قوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} فالله تعالى تكفل بحفظ القرآن دون السنة.

ثالثا _ لو كان الحديث حجة لأمر النبي صلى الله عليه وسلم بكتابته.

رابعا _ بعض الآثار المروية التي تدل على بعدم حجية السنة.

تلك هي خلاصة ما أورده الدكتور صدقي من الشبهات حول حجية السنة

--------------------------------------------

1 دائرة المعارف الإسلامية ج7 ص330.

2 هذه هي الفكرة الرئيسية في تأليفه. (MUHAMMADAN JURISPRUDENU)

وخاصة في الباب السابع SUNNA PRACTIEEND LIVING TRADITION) P58.
তাঁর জীবনযাপনের সকল অবস্থা, আর এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের সংবাদ সংগ্রহের পথে সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে।১

গোল্ডজিহার আমাদের যে ধারণাটি দিতে চান তা হলো, সুন্নাহর নিজস্ব কোনো তাত্ত্বিক বা আত্মিক মূল্য নেই, বরং এটি সামাজিক রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে এসেছে। কিন্তু বিষয়টি এই প্রাচ্যবিদ যেমনটি মনে করেন তেমন নয়; আমরা মহান আল্লাহর সাহায্যে 'জাহেলি রীতিনীতি' অধ্যায়ে তাঁর চিন্তাধারার ভ্রান্তি স্পষ্ট করব। এরপর জোসেফ শাখত এসে সুন্নাহকে ইসলামি পরিবেশ, সমাজ এবং খলিফাদের কর্মতৎপরতার ফসল হিসেবে সাব্যস্ত করেন। তাঁর মতে, প্রথম ও দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে সুন্নাহ কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত বিষয় ছিল না, যতক্ষণ না ইমাম শাফেয়ী এসে সুন্নাহর প্রামাণিকতার (হুজ্জিয়াত) ডাক দেন এবং এর অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেন।২

এরপর আমি মরহুম ডক্টর আস-সিবাঈকে তাঁর 'আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত-তাশরী’ আল-ইসলামী' (ইসলামি বিধানে সুন্নাহ ও তার অবস্থান) গ্রন্থে "আধুনিক যুগে যারা সুন্নাহর প্রামাণিকতা অস্বীকার করে তাদের সাথে সুন্নাহর অবস্থান" শিরোনামে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় উল্লেখ করতে দেখেছি। সুন্নাহর শিক্ষার্থীদের জন্য এতে অনেক উপকারিতা থাকায় আমি তাঁর কথাগুলো এখানে কয়েক লাইনে সংক্ষেপে তুলে ধরা পছন্দ করেছি।

মরহুম আস-সিবাঈ বলেন: "মরহুম সাইয়্যিদ রশীদ রিদা আল-মানার ম্যাগাজিনের নবম বর্ষের ৭ম থেকে ১২তম সংখ্যায় ডক্টর তৌফিক সিদকির 'ইসলাম কেবল কুরআনই' শিরোনামে দুটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সংশয়গুলো ছিল:

প্রথম - আল্লাহর বাণী: "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি।"

"আর আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ।"

দ্বিতীয় - মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আমিই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষক।" সুতরাং আল্লাহ তাআলা সুন্নাহ ব্যতীত কেবল কুরআন সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

তৃতীয় - যদি হাদীস দলিল হিসেবে গণ্য হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা লিখে রাখার নির্দেশ দিতেন।

চতুর্থ - বর্ণিত কিছু আছার বা বর্ণনা যা সুন্নাহর প্রামাণিকতা না থাকার ওপর প্রমাণ পেশ করে।

সুন্নাহর প্রামাণিকতা নিয়ে ডক্টর সিদকি যেসব সংশয় উত্থাপন করেছেন, এগুলোই তার সারসংক্ষেপ।

--------------------------------------------

১ দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৩০।

২ এটিই তাঁর রচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় (মোহাম্মদান জুরিসপ্রুডেন্স)।

এবং বিশেষভাবে সপ্তম অধ্যায়ে (সুন্নাহ প্র্যাকটিসড লিভিং ট্র্যাডিশন), পৃষ্ঠা ৫৮।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯৮)
وقد قام المرحوم الدكتور السباعي بالرد على هذه الشبهات واحدة فواحدة، ولا أريد أن أطيل البحث فمن أراد الوقوف عليها فليرجع إلى كتابه1 فإنه جاء بجواب مسكت مقحم فجزاه الله خيرا وتقبل سعيه.

فالآن نعود إلى موضوعنا وهو: (مقدار العادات الجاهلية في الإسلام) .

معنى الجاهلية وموقف الإسلام منها:

الجهل لغة: نقيض العلم، يقال جهل فلان جهلا وجهالة، والجهالة: أن تفعل فعلا بغير العلم ومنه المجاهل جمع مجهل.

قال مضرس بن ربعي:

أنا لنصفح عن مجاهل قومنا … ونقيم سالفة العدو الأصيد2

قال الراغب: الجهل على ثلاثة أقسام:

1 _ خلو النفس من العلم ومثاله قول خولة بنت حكيم امرأة عثمان رضي الله عنهما قالت: خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم وهو محتضن أحد ابني ابنته وهو يقول: "والله إنكم لتجبنون وتبخلون وتجهلون وإنكم لمن ريحان الله" أي يُشغل بهم الآباء عن طلب العلم.

2 _ اعتقاد الشيء بخلاف ما هو عليه مثاله: "إن من العلم جهلا. قيل هو أن يعلم ما لا يحتاج إليه من دينه".

3 _ فعل الشيء بخلاف ما حقه أن يفعل سواء اعتقد فيه اعتقادا صحيحا أم فاسدا كقوله تعالى: {أَتَتَّخِذُنَا هُزُواً قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ} 3 فجعل فعل الهزو جهلا4.

وقد يأتي الجهل بمعنى ضد الخبر كقوله تعالى: {يَحْسَبُهُمُ الْجَاهِلُ أَغْنِيَاءَ} أي الذي ليس عنده خبرة.

--------------------------------------------

1 السنة ص165.

2لسان العرب ج11 ص129.

3 البقرة: 67.

4 البقرة: 273.
মরহুম ডক্টর আস-সিবায়ী এই সংশয়গুলোর একটি একটি করে জবাব দিয়েছেন। আমি আলোচনা দীর্ঘ করতে চাই না, তাই যারা এগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান, তারা যেন তার কিতাবের১ দিকে প্রত্যাবর্তন করেন। কারণ তিনি সেখানে অত্যন্ত অকাট্য ও দাঁতভাঙ্গা জবাব প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তার প্রচেষ্টাকে কবুল করুন।

এখন আমরা আমাদের মূল বিষয়ে ফিরে আসি, আর তা হলো: (ইসলামে জাহেলী রীতিনীতির মাত্রা)।

জাহেলিয়াতের অর্থ এবং এ ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান:

শাব্দিক অর্থে জাহল (অজ্ঞতা): এটি ইলম বা জ্ঞানের বিপরীত। বলা হয়, অমুক ব্যক্তি অজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। আর জাহালাত হলো: জ্ঞান ব্যতিরেকে কোনো কাজ করা। 'মাজাহিল' শব্দটি এখান থেকেই আগত, যা 'মাজহাল'-এর বহুবচন।

মুদাররিস বিন রিবঈ বলেন:

আমরা আমাদের গোত্রের লোকদের অজ্ঞতাপূর্ণ আচরণকে ক্ষমা করি … আর অহংকারী শত্রুদের ঘাড় সোজা করে দিই২

ইমাম রাগিব বলেন: জাহল বা অজ্ঞতা তিন প্রকার:

১ _ অন্তর জ্ঞানশূন্য হওয়া। এর উদাহরণ হলো উসমান (রাযিআল্লাহু আনহুমা)-এর স্ত্রী খাওলা বিনতে হাকিম-এর উক্তি। তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কন্যার দুই পুত্রের একজনকে কোলে নিয়ে বের হলেন এবং বলছিলেন: "আল্লাহর কসম! তোমরা (সন্তানরা) মানুষকে ভীরু, কৃপণ ও অজ্ঞ বানিয়ে দাও, অথচ তোমরা আল্লাহর দেওয়া সুগন্ধি।" অর্থাৎ, সন্তানদের কারণে পিতারা জ্ঞান অন্বেষণ থেকে বিমুখ হয়ে পড়ে।

২ _ কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে বিশ্বাস করা। এর উদাহরণ হলো: "নিশ্চয়ই কিছু জ্ঞান অজ্ঞতা স্বরূপ।" বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো দ্বীনের এমন বিষয় শিক্ষা করা যার কোনো প্রয়োজন নেই।

৩ _ কোনো কাজকে তার হকের বিপরীত পন্থায় সম্পাদন করা, চাই সে বিষয়ে তার বিশ্বাস সঠিক হোক বা ভুল। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি কি আমাদের সাথে উপহাস করছেন? তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যাতে আমি জাহিল বা অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না হই।}৩ এখানে উপহাস করাকে জাহল বা অজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে৪।

আবার কখনও জাহল শব্দটি অবগত না থাকার বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অজ্ঞ ব্যক্তিরা তাদেরকে ধনী মনে করে।} অর্থাৎ যার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে কোনো ধারণা বা অভিজ্ঞতা নেই।

--------------------------------------------

১ আস-সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ১৬৫।

২ লিসানুল আরব, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ১২৯।

৩ আল-বাকারা: ৬৭।

৪ আল-বাকারা: ২৭৩।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯৯)
هذه هي معاني كلمة الجاهلية فهل يستطيع جولد سهير ومن معه أن يطبق هذه المعاني على السنة النبوية. فالمنتصح الدقيق يجد الفرق بينهما بينا باعتبار التضاد والتناقض. وقد حذر الشارع من اتباع سنن الجاهلية في مواطن كثيرة.

قال تعالى: {يَظُنُّونَ بِاللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ ظَنَّ الْجَاهِلِيَّة} 1!

وفي صحيح البخاري عن نافع عن جبير بن مطعم عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أبغض الناس إلى الله ثلاث: ملحد في الحرم، ومبتغ في الإسلام سنة الجاهلية، ومطلّب دم امرئ بغير حق بهريق دمه". وفي سند الإمام أحمد عن أبي بن كعب عال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من تعزى بعزاء الجاهلية فاعضوه بهن أبيه ولا تكنوا" 2 وفي مسلم أيضا عن أبي مالك الأشعري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أربع في أمتي من أمر الجاهلية لا يتركهن: الفخر بالأنساب والطعن في الأنساب والاستسقاء بالنجوم والنياحة" 3، ومن هذا الباب ما أخرجه الشيخان عن عمرو بن دينار عن جابر بن عبد الله قال: غزونا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد ثاب معه ناس من المهاجرين حتى كثروا وكان من المهاجرين رجل لعاّب فكسع أنصاريا فغضب الأنصاري غضبا شديدا حتى تداعوا، وقال الأنصاري: يا للأنصار. وقال المهاجري: يا للمهاجرين! فخرج النبي صلى الله عليه وسلم وقال: "ما بال دعوى الجاهلية … دعوها فإنها مُنتنة" 4. ومنه قول النبي صلى الله عليه وسلم "إنك امرأ فيك جاهلية" 5، وأخرج أبو داود عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن الله قد أذهب عنكم غبية الجاهلية وفخرها بالآباء:

--------------------------------------------

1 آل عمران: 154.

2 خ تفسير سورة المنافقون.

3 مسلم جنائز 29، حم5/342.

4 خ تفسير سورة المنافقون.

5 خ أدب 44، إيمان22، م إيمان38.
এগুলো হলো জাহিলিয়্যা শব্দের অর্থ; সুতরাং গোল্ডজিহার এবং তার অনুসারীরা কি এই অর্থগুলো সুন্নাহর ওপর প্রয়োগ করতে সক্ষম? একজন সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষক বৈপরীত্য ও বিরোধের বিচারে এ দুয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য দেখতে পাবেন। শরীয়ত প্রণেতা বহু স্থানে জাহিলিয়্যার রীতিনীতি অনুসরণের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহ সম্পর্কে জাহিলিয়্যার ধারণার মতো অসত্য ধারণা পোষণ করছিল} ১!

সহীহ বুখারীতে নাফে' হতে, তিনি জুবাইর ইবনে মুতয়িম হতে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি তিনজন: হারামের সীমানায় ধর্মদ্রোহী, ইসলামের মধ্যে জাহিলিয়্যার রীতিনীতি অন্বেষণকারী এবং যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো রক্ত প্রবাহিত করার জন্য তাকে হত্যা করতে চায়।" ইমাম আহমদের সনদে উবাই ইবনে কাব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জাহিলিয়্যার ন্যায় বংশীয় আভিজাত্যের দোহাই দেয়, তাকে তার পিতার জননেন্দ্রিয় কামড়ে ধরতে বলো এবং এ ক্ষেত্রে তোমরা কোনো অস্পষ্ট বা রূপক শব্দ ব্যবহার করো না" ২। মুসলিমেও আবু মালেক আশ'আরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে জাহিলিয়্যার চারটি স্বভাব বিদ্যমান যা তারা বর্জন করবে না: বংশীয় আভিজাত্য নিয়ে অহংকার করা, বংশ পরিচয় তুলে খোটা দেওয়া, নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করা এবং বিলাপ করে কান্নাকাটি করা" ৩। এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো যা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) আমর ইবনে দীনার হতে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। মুহাজিরদের মধ্য থেকে অনেক লোক তাঁর সাথে একত্রিত হয়েছিল এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। মুহাজিরদের মধ্যে এক ক্রীড়াপ্রিয় ব্যক্তি ছিল, সে একজন আনসারীকে আঘাত করল। এতে আনসারী ব্যক্তিটি প্রচণ্ড রাগান্বিত হলেন এবং উভয় পক্ষ নিজেদের লোকদের আহ্বান জানাতে লাগল। আনসারী বলল: হে আনসারগণ! আর মুহাজির বলল: হে মুহাজিরগণ! তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হয়ে এলেন এবং বললেন: "জাহিলিয়্যার এই ডাক কেন? ... এটি বর্জন করো, কারণ এটি দুর্গন্ধময়" ৪। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "নিশ্চয়ই তুমি এমন এক ব্যক্তি যার মধ্যে জাহিলিয়্যা বিদ্যমান" ৫। আবু দাউদ আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের থেকে জাহিলিয়্যার আভিজাত্যের দম্ভ এবং পূর্বপুরুষদের নিয়ে গর্ব করার প্রথা দূর করে দিয়েছেন:

--------------------------------------------

১ আলে ইমরান: ১৫৪।

২ বুখারী, সূরা আল-মুনাফিকুন-এর তাফসীর।

৩ মুসলিম, জানাযা ২৯, আহমদ ৫/৩৪২।

৪ বুখারী, সূরা আল-মুনাফিকুন-এর তাফসীর।

৫ বুখারী আদব ৪৪, ঈমান ২২, মুসলিম ঈমান ৩৮।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০০)
مؤمن تقي أو فاجر شقي أنتم بنو آدم وآدم من تراب ليدعن رجال فخرهم بأقوام إنما هم فحم من فحم جهنم أو ليكونُنّ أهون على الله من الجعلان التي تدفع بأنفها النتن" 1، وأخرج مسلم عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من خرج من الطاعة وارق الجماعة فمات ميتة جاهلية" 2 وغيرها من الأحاديث المروية في كتب السنة التي لا تُعد ولا تُحصى فتدل هذه الأحاديث على تقبيح أمور الجاهلية وذمها، وبالتالي تقتضي المنع من اتباعها. ولهذا قسم العلماء الزمان قسمين: قسم زمن الفترة قبل الإسلام يُسمى فترة الجاهلية، وهي الحال التي كانت عليها العرب قبل الإسلام من الجهل بالله ورسوله وشرائع الدين والمفاخرة بالأنساب والتكبر والتجبر. وقسم فترة الإسلام وهو زمن بزغت فيه شمس الإسلام وأشرقت الأرض بنور ربها وخرج الناس من الجاهلية الجهلاء إلى هدى الله وشرعه.

فهل يُعقل بعد هذه النصوص البينة أن يكون اتباع السنة النبوية من باب التقاليد الجاهلية؟ تعالى الله عمّا يقولون.

نعم هناك أمر ضروري لا بد أن عليه ولو بعبارة موجزة وهو أن الإسلام لم يأت بشرع جديد مطلق يخالف شرائع الأنبياء والمرسلين، بل جاء بالملة الحنيفة السمحة التي حرفها أهل الزيغ والضلال. بل أعلن الله تعالى على لسان خاتم الأنبياء محمد بن عبد الله صلوات الله وسلامه عليه: {قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعاً مِنَ الرُّسُلِ} 3 وقال تعالى: {فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ} 4 وقال تعالى: {يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا} 5 وغيرها من الآيات والآثار.

إذا فما هو موقف الإسلام من أمور الجاهلية وعاداتها؟ فنقول بعون الله تعالى: إن العرب كانوا في الجاهلية

--------------------------------------------

1 أبو داود: أدب 111.

2 مسلم أمارة: 53.

3 الأحقاف: 9.

4 الأنعام: 90.

5 المائدة: 44.
একজন মুমিন পরহেযগার অথবা একজন দুর্ভাগা পাপাচারী। তোমরা সবাই আদমের সন্তান আর আদম মাটি থেকে তৈরি। লোকেরা যেন অবশ্যই তাদের কওম বা গোত্র নিয়ে অহংকার করা ছেড়ে দেয়, তারা তো কেবল জাহান্নামের কয়লাসমূহের অন্তর্ভুক্ত; অন্যথায় তারা আল্লাহর কাছে সেই গুবরে পোকার চেয়েও তুচ্ছ হবে যা তার নাক দিয়ে দুর্গন্ধ ঠেলে নিয়ে যায়। ১ এবং ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেল এবং জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন হলো, অতঃপর সে জাহেলি মৃত্যুতে মারা গেল।" ২ এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহে বর্ণিত অগণিত হাদিস রয়েছে যা জাহেলিয়াতের বিষয়সমূহের কদর্যতা ও নিন্দার প্রমাণ দেয় এবং এর ফলশ্রুতিতে তা অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়। এ কারণেই আলেমগণ সময়কে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: এক ভাগ হলো ইসলাম-পূর্ব সময় যাকে জাহেলিয়াত যুগ বলা হয়। আর তা হলো ইসলামের পূর্বে আরবদের সেই অবস্থা যাতে তারা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও দ্বীনের শরীয়ত সম্পর্কে অজ্ঞতা, বংশীয় আভিজাত্য নিয়ে গর্ব, অহংকার এবং ঔদ্ধত্যের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। দ্বিতীয় ভাগ হলো ইসলামি যুগ, এটি এমন এক সময় যখন ইসলামের সূর্য উদিত হয়েছে এবং পৃথিবী তার রবের নূরে উদ্ভাসিত হয়েছে এবং মানুষ ঘোর জাহেলিয়াত থেকে আল্লাহর হেদায়াত ও তাঁর শরীয়তের দিকে বেরিয়ে এসেছে।

এই সুস্পষ্ট প্রমাণাদির পর কি এটা যুক্তিসঙ্গত যে নবীজির সুন্নাহর অনুসরণ করা জাহেলি রীতিনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে? তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অতি উচ্চ ও পবিত্র।

হ্যাঁ, এখানে একটি জরুরি বিষয় আছে যা সংক্ষেপে বর্ণনা করা প্রয়োজন, তা হলো ইসলাম এমন কোনো সম্পূর্ণ নতুন শরীয়ত নিয়ে আসেনি যা নবী ও রাসূলগণের শরীয়তবিরোধী, বরং এটি সেই সহজ-সরল সত্যনিষ্ঠ মিল্লাত নিয়ে এসেছে যাকে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট লোকেরা বিকৃত করেছিল। বরং আল্লাহ তাআলা শেষ নবী মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর মুখে ঘোষণা করেছেন: {বলুন, আমি রাসূলদের মধ্যে নতুন কেউ নই} ৩ এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং আপনি তাদের হেদায়াতের অনুসরণ করুন} ৪ এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নবীগণ যারা আত্মসমর্পণ করেছিলেন তারা এর মাধ্যমে ফয়সালা করতেন} ৫ এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত ও বর্ণনা।

তাহলে জাহেলিয়াতের বিষয় ও রীতিনীতির ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান কী? আমরা আল্লাহর সাহায্যে বলছি: আরবরা জাহেলিয়াত যুগে ছিল

--------------------------------------------

১ আবু দাউদ: আদব ১১১।

২ মুসলিম: ইমারাহ ৫৩।

৩ আল-আহকাফ: ৯।

৪ আল-আনআম: ৯০।

৫ আল-মায়িদাহ: ৪৪।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০১)
بدو أو شبه بدو لم يكن عندهم قانون مدون ولا قواعد معروفة يرجعون إليها إلا ما حصل عندهم من العرف والتقاليد والتجارب والمعتقدات المحرفة من اليهودية والنصرانية، فجاء الإسلام وأقر بعضا وأنكر على بعض وعدل بعضا إذا وافق اللوح المحفوظ.

مثال ما أقره الإسلام القسامة فقد أخرج مسلم عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أن رسول الله أمر القسامة على ما كانت عليه في الجاهلية وقضى بها بين أناس من الأنصار1، وصوم يوم عاشوراء، فقد أخرج الشيخان عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قدم المدينة فوجد اليهود يصومون صوم عاشوراء فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما هذا اليوم الذي تصومونه؟ قالوا هذا يوم عظيم أنجى الله فيه موسى وقومه وأغرق فيه فرعون وقومه فصامه موسى شكرا لله فنحن نصومه تعظيما له. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فنحن أحق بموسى منكم. فصامه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأمر بصيامه"2. وقد أمر الإسلام بقرى الضيف وابن السبيل وحمل الكل وصلة الأرحام والإعانة في نوائب الحق، وهذه الأوصاف كانت تعتبر مزية من مزايا الجاهلية، وغيرها من أمور العبادة والطهارة من الجنابة وخصال الفطرة مثل الختان. ويروى أن أبا ذر كان يصوم ويصلي قبل أن يقدم إلى النبي صلى الله عليه وسلم بثلاث سنين، وكذلك قس بن ساعدة الإيادي. وكان أهل الجاهلية يحجون بيت الله الحرام ويعظمون شعائره وكان فيهم من يوحد الله مثل ورقة بن نوفل الأسدي من أسد بن عبد العزى وزيد بن عمر وابن نفيل العدوي من عدي بن كعب وعثمان بن الحويرث الأسدي من أسد بن عبد العزى. هؤلاء من قريش وعبيد الله بن الجحش الأسدي من أسد بن خزيمة من حُلفاء قريش. يروى أنهم اجتمعوا مرة يوم عيد لأحد أصنامهم فقالوا: نعلن

--------------------------------------------

1 مسلم قسامة: 7، النسائي قسامة2، حم 5/ 432.

2 البخاري صوم: 69.
তারা ছিল বেদুইন বা আধা-বেদুইন, যাদের কোনো লিখিত আইন বা পরিচিত নিয়ম ছিল না যার দিকে তারা ফিরে তাকাতে পারে, কেবল তাদের মধ্যে বিদ্যমান প্রচলিত রীতি-নীতি, ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা এবং ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্ম থেকে আসা বিকৃত বিশ্বাসগুলো ছাড়া। এরপর ইসলাম এল এবং এর কিছু অংশকে স্বীকৃতি দিল, কিছু অংশকে অস্বীকার করল এবং কিছু অংশ সংশোধন করল যদি তা লাওহে মাহফুজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

ইসলাম যা স্বীকৃতি দিয়েছে তার একটি উদাহরণ হলো 'কাসামাহ্' (রক্তপণ বা শপথের বিধান)। ইমাম মুসলিম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলি যুগে প্রচলিত নিয়মানুসারেই কাসামাহ্ করার আদেশ দিয়েছিলেন এবং আনসারদের এক সম্প্রদায়ের মধ্যে এর মাধ্যমে ফয়সালা করেছিলেন১। এবং আশুরার দিনের রোজা; ইমাম বুখারি ও মুসলিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আসার পর ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন: "এই দিনটি কী, যে দিনে তোমরা রোজা রাখো?" তারা বলল, "এটি একটি মহান দিন, এই দিনে আল্লাহ মুসা এবং তাঁর কওমকে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউন ও তার কওমকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। তাই আল্লাহর শুকরিয়া হিসেবে মুসা রোজা রেখেছিলেন এবং আমরাও সম্মানের সাথে এই রোজা পালন করি।" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমাদের চেয়ে মুসার ওপর আমাদের অধিকার বেশি।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে রোজা রাখলেন এবং তা পালনের নির্দেশ দিলেন২। ইসলাম মেহমানদারি, মুসাফিরদের সেবা, অক্ষমদের দায়িত্ব গ্রহণ, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এবং বিপদে সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছে। এই গুণাবলী জাহেলি যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য হতো। এছাড়া ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়াদি, জানাবাত (নাপাকি) থেকে পবিত্রতা অর্জন এবং খতনা করার মতো ফিতরাতের বৈশিষ্ট্যসমূহও এতে অন্তর্ভুক্ত। বর্ণিত আছে যে, আবু যার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসার তিন বছর আগে থেকেই রোজা রাখতেন এবং সালাত আদায় করতেন। কাস বিন সাঈদা আল-ইয়াদিও অনুরূপ করতেন। জাহেলি যুগের লোকেরা আল্লাহর পবিত্র ঘরের হজ করত এবং এর নিদর্শনগুলোকে সম্মান করত। তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিল যারা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী ছিল, যেমন আসাদ বিন আবদিল উজ্জা বংশের ওয়ারাফা বিন নাওফাল আল-আসাদি, আদি বিন কাব বংশের জায়েদ বিন আমর এবং ইবনে নুফাইল আল-আদাবি এবং আসাদ বিন আবদিল উজ্জা বংশের ওসমান বিন আল-হুয়াইরিস আল-আসাদি। তারা ছিলেন কুরাইশ বংশের এবং আসাদ বিন খুজাইমা বংশের উবায়দুল্লাহ বিন জাহাশ আল-আসাদি যিনি কুরাইশদের মিত্র ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তারা একবার তাদের কোনো এক মূর্তির উৎসবের দিনে একত্রিত হয়ে বলেছিলেন: আমরা ঘোষণা করছি

--------------------------------------------

১ মুসলিম কাসামাহ: ৭, নাসাঈ কাসামাহ ২, আহমাদ ৫/ ৪৩২।

২ বুখারি রোজা: ৬৯।
(খণ্ড: ২১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০২)
والله ما قومكم على شيء. لقد أخطأوا دين أبيهم إبراهيم. هذا حجر لا يبصر ولا يضر ولا ينفع. يا قوم التمسوا لأنفسكم فإنكم والله ما أنتم على شيء1. ولقد سار عمرو بن لحي الخزاعي إلى بلاد الشام ورأى ما يفعله أهلها من تعظيم التماثيل والتقرب بها فمالت نفسه إلى الاقتداء بهم فأخذ بعض هذه التماثيل وأقامها على الكعبة التي كان هو سادنها ودعى العرب إلى تعظيمها فأجابوه، وقد رآه رسول الله صلى الله عليه وسلم يجر قصبته (الأمعاء) في النار وقال: "إنه كان أول من غير دين إسماعيل فنصب الأوثان وبحر البحيرة وسيب السائبة ووصل الوصيلة وحمى الحامي" 2

ومن هنا تتضح لنا بعض الأمور التي أقرها الإسلام بدون تحريف وتبديل، وإلى هذا يشير قوله تعالى: {مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ} وقوله صلى الله عليه وسلم: "بعثت بالملة السمحة الحنيفية البيضاء".

--------------------------------------------

1 البداية والنهاية، ج2 ص238.

2 ابن هشام ج1 ص79.
আল্লাহর শপথ, তোমাদের কওম সঠিক কোনো কিছুর ওপর নেই। তারা তাদের পিতা ইবরাহিমের দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এই পাথরটি দেখে না, কারো কোনো ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না। হে আমার কওম, তোমরা নিজেদের জন্য (সত্য) সন্ধান করো; কারণ আল্লাহর শপথ, তোমরা সঠিক কোনো কিছুর ওপর নেই।১ আমর ইবনে লুহাই আল-খুজায়ি শাম অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে মূর্তিদের সম্মান প্রদর্শন ও সেগুলোর মাধ্যমে নৈকট্য অন্বেষণের ক্ষেত্রে সেখানকার অধিবাসীদের কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষ করেন। ফলে তার মন তাদের অনুসরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং তিনি এই মূর্তিগুলোর কিছু সাথে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি সেগুলো কাবার ওপর স্থাপন করেন, যার তত্ত্বাবধায়ক তিনি নিজেই ছিলেন। তিনি আরবদের সেগুলোকে সম্মান করার আহ্বান জানান এবং তারাও তার ডাকে সাড়া দেয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে জাহান্নামের আগুনে তার নাড়িভুঁড়ি টেনে বেড়াতে দেখেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই সে প্রথম ব্যক্তি যে ইসমাইলের দ্বীনকে পরিবর্তন করেছিল; সে-ই মূর্তি স্থাপন করেছিল এবং বাহিরাহ, সাইবাহ, ওয়াসিলাহ ও হামি প্রথার প্রচলন করেছিল।"২

এখান থেকেই আমাদের নিকট এমন কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যা ইসলাম কোনো বিকৃতি ও পরিবর্তন ছাড়াই বহাল রেখেছে। আর এরই প্রতি মহান আল্লাহর বাণী ইঙ্গিত করে: {তোমাদের পিতা ইবরাহিমের ধর্মাদর্শ} এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "আমি উদার ও একনিষ্ঠ সত্য দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।"

--------------------------------------------

১ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ২য় খণ্ড, ২৩৮ পৃষ্ঠা।

২ ইবনে হিশাম, ১ম খণ্ড, ৭৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
دراسات في السنة النبوية   (محمد ضياء الرحمن الأعظمي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: دراسات في السنة النبوية

المؤلف: محمد ضياء الرحمن الأعظمي

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ সম্পর্কিত গবেষণাসমূহ   (মুহাম্মাদ যিয়াউর রহমান আল-আ'জামী)

বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র


বই: সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ সম্পর্কিত গবেষণাসমূহ

লেখক: মুহাম্মাদ যিয়াউর রহমান আল-আ'জামী

প্রকাশক: মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড নম্বর হলো সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহাজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ২৩) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০৬)
‌‌دراسات في السُّنَّة النبوِيَّة

بقلم الشيخ/ محمد ضياء الرحمن الأعظمي

ولد مالك بالمدينة في قرب نهاية القرن الأول1 وتلقى العلم على جماعة من التابعين وأهل الفتوى وصرف همه إليه في جد ونشاط وصبر على شدة الحر والجوع، وقد وهبه الله ذاكرة قوية يميز بها الضعفاء من الثقاة على حين كَثُر الكذابون والدجالون الذين يضعون الأحاديث على لسان رسول الله صلى الله عليه وسلم. لقد أثر عنه أنه قال: "إن هذا العلم دين فانظروا عمّن تأخذونه. لقد أدركت سبعين ممن يقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم عند هذه الأساطين فما أخذت عنهم شيئا، وإن أحدهم لو أؤتمن على بيت مال لكان أميناً إلا أنهم لم يكونوا من أهل هذا الشأن2 ".

وفي رواية ابن وهب وحبيب وابن عبد الحكم عند مطرف عنه قال: " أدركت جماعة من أهل المدينة ما أخذت عنهم شيئا من العلم "3. هكذا كان مالك يتحرى في أخذ الحديث فما كان يتصدى لأخذه إلا إذا تيقن من صحته، واجتمع عليه أهل المدينة ثقة بدينه وتحرزه من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم كما قال زيد بن ثابت: " إذا

--------------------------------------------

1 ترتيب المدارك ج1 ص123.

2 المصدر نفسه.

3 المصدر السابق.
সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহর ওপর গবেষণাসমূহ

শায়খ মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান আল-আজমীর কলমে

ইমাম মালিক প্রথম শতাব্দীর শেষ দিকে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং একদল তাবিঈ ও ফতোয়াদানকারী আলিমদের নিকট জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি তাঁর সমস্ত মনোযোগ অত্যন্ত নিষ্ঠা, তৎপরতা এবং তীব্র গরম ও ক্ষুধার ওপর ধৈর্যের সাথে এই জ্ঞানের দিকে নিবদ্ধ করেন। আল্লাহ তাঁকে এক শক্তিশালী স্মৃতিশক্তি দান করেছিলেন যার মাধ্যমে তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে দুর্বলদের পৃথক করতে পারতেন, এমন এক সময়ে যখন মিথ্যুক ও প্রতারকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে হাদিস জাল করত। তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই জ্ঞানই দীন, সুতরাং তোমরা দেখো কার কাছ থেকে তোমাদের দীন গ্রহণ করছ। আমি এই স্তম্ভগুলোর (মসজিদে নববীর খুঁটি) নিকট সত্তরজন এমন ব্যক্তিকে পেয়েছি যারা বলতেন 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন', কিন্তু আমি তাদের কাছ থেকে কিছুই গ্রহণ করিনি। যদিও তাদের কাউকে বায়তুল মালের আমানতদার করা হলে তারা বিশ্বস্ত সাব্যস্ত হতেন, কিন্তু তারা এই শাস্ত্রের (হাদিস শাস্ত্রের) উপযুক্ত ছিলেন না।"

মুতাররিফের সূত্রে ইবনে ওয়াহাব, হাবীব এবং ইবনে আব্দুল হাকামের বর্ণনায় ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি মদিনার এমন একদল লোককে পেয়েছি যাদের কাছ থেকে আমি জ্ঞানের কিছুই গ্রহণ করিনি।" এভাবেই মালিক হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত যাচাই-বাছাই করতেন। তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো হাদিস গ্রহণ করতে অগ্রসর হতেন না যতক্ষণ না এর বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন। তাঁর দ্বীনদারী এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যারোপের ব্যাপারে তাঁর সতর্কতার প্রতি আস্থার কারণে মদিনার অধিবাসীগণ তাঁর কাছে সমবেত হতেন, যেমনটি যায়েদ বিন সাবিত বলেছিলেন: "যখন

--------------------------------------------

১. তারতীবুল মাদারিক, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৩।

২. একই উৎস।

৩. পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ২৩) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০৭)
رأيت أهل المدينة على شيء فاعلم أنه السنّة "1.

وقد جاءت الآثار الكثيرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في اختصاص المدينة بفضل العلم، فمنها ما روى كثير بن عبد الله عن أبيه عن جده أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن الدين ليأرز إلى المدينة كما تأرز الحية إلى جحرها" 2 ومعنى هذا الحديث أن الإسلام يقوم بأهل المدينة كما قال القاضي عياض:"والله ما يأرز إلا إلى أهله الذين يقومون به ويشرعون شرائعه ويعرفون تأويله ويقومون بأحكامه، وفي ذلك من مدح رسول الله صلى الله عليه وسلم لا للأرض والدور ولكن لأهلها"3. وقال ابن أبي أويس سمعت مالكاً يقول في معنى هذا الحديث: "بدأ الإسلام غريباً وسيعود غريباً كما بدأ" أي يعود إلى المدينة كما بدأ منها"4 فمن هنا أخذ مالك قوله بعمل أهل المدينة. والباب واسع ما أردت الإحاطة ولكن ليس معنى ذلك أن السنة الثابتة إذا جاءت من ثقاة ضابطين وخالفها عمل المدينة فكان مالك يقدم العمل حاشا وكلا أن يكون هذا مراد مالك، بل معناه أن مخالفة عمل أهل المدينة للسنة الثابتة المتواترة أمر مستحيل لما كان لهم من فضل وتقدم ومشاهدة التنزيل وكيف تجتمع الأمة على ضلاله بعد خبر النبي صلى الله عليه وسلم، فإن قلنا إن المراد بالأمة هنا الأمة الإسلامية عامة يجاب عنه بأن أهل المدينة أولى بهذا لقرب عهد الصحابة ووجودهم بالمدينة بكثرة هائلة كبيرة لم يرَ مثلها في أي بلد من البلاد، فقد عاش السائب بن يزيد بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم 84 عاماً ومرثد بن عبد الله 79 عاماً وسهل بن سعد 81 عاماً وعبد الله بن جعفر 80، وسلمة بن الأكوع 64، ورافع بن خديج64، وسعيد بن خالد الجهني 63، وأسماء بنت أبي بكر 63، وعبد الله بن عمر 63، وعوف بن مالك الأشجعي 63، والبراء بن عازب 62، وجابر بن عبد الله

--------------------------------------------

1 المصدر السابق.

2 ترتيب المدارك ج1 ص61.

3 حم ج1 ص184، خ مدينة 6.

4 المصدر السابق ج1 ص61.
১.

আমি মদীনার অধিবাসীদের কোনো বিষয়ের ওপর (অটল) দেখেছি, সুতরাং জেনে রেখো যে সেটিই সুন্নাহ। ইলমের ফযিলতের ক্ষেত্রে মদীনার বিশেষত্বের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু বর্ণনা এসেছে। তার মধ্যে একটি হলো যা কাসীর বিন আব্দুল্লাহ তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই দ্বীন মদীনার দিকে সংকুচিত হয়ে ফিরে আসবে যেমন সাপ তার গর্তের দিকে সংকুচিত হয়ে ফিরে আসে।" ২ আর এই হাদীসের মর্মার্থ হলো, মদীনার অধিবাসীদের মাধ্যমেই ইসলাম প্রতিষ্ঠিত থাকে, যেমনটি কাজী ইয়াজ বলেছেন: "আল্লাহর কসম, দ্বীন কেবল তার সেই অনুসারীদের কাছেই ফিরে আসে যারা একে প্রতিষ্ঠিত রাখে, এর শরীয়তসমূহ প্রবর্তন করে, এর ব্যাখ্যা জানে এবং এর বিধানসমূহ পালন করে। এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার মাটি বা ঘরবাড়ির প্রশংসা করেননি, বরং এর অধিবাসীদের প্রশংসা করেছেন।" ৩ ইবনে আবি উওয়াইস বলেন, আমি মালিককে এই হাদীসের অর্থ সম্পর্কে বলতে শুনেছি: "ইসলামের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত হিসেবে এবং তা পুনরায় অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে যেভাবে তার সূচনা হয়েছিল।" ৪ অর্থাৎ, এটি মদীনায় ফিরে আসবে যেখান থেকে এর সূচনা হয়েছিল। এখান থেকেই মালিক 'আমলে আহলে মদীনা' (মদীনার অধিবাসীদের আমল)-এর বক্তব্যটি গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত বিস্তৃত, আমি সবটুকু পরিবেষ্টন করতে চাইনি; তবে এর অর্থ এই নয় যে, যদি নির্ভরযোগ্য ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারীদের কাছ থেকে কোনো সাব্যস্ত সুন্নাহ বর্ণিত হয় এবং মদীনার আমল তার পরিপন্থী হয়, তবে মালিক আমলকেই অগ্রাধিকার দিতেন। মালিকের উদ্দেশ্য এমন হওয়া তো দূরের কথা, বরং এর অর্থ হলো সাব্যস্ত ও মুতাওয়াতির সুন্নাহর সাথে মদীনার অধিবাসীদের আমলের বৈপরীত্য থাকা অসম্ভব। কারণ তাদের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং তারা ওহী নাযিল হওয়ার প্রত্যক্ষদর্শী। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর পর উম্মত কীভাবে গোমরাহীর ওপর ঐক্যবদ্ধ হতে পারে? যদি আমরা বলি যে এখানে উম্মত বলতে সাধারণ মুসলিম উম্মতকে বোঝানো হয়েছে, তবে তার উত্তর হলো মদীনার অধিবাসীরাই এর জন্য অধিক উপযুক্ত; কারণ তাদের সময়কাল ছিল সাহাবীদের যুগের নিকটবর্তী এবং সেখানে সাহাবীদের এমন বিশাল ও ব্যাপক উপস্থিতি ছিল যা অন্য কোনো জনপদে দেখা যায়নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর সায়েব বিন ইয়াযিদ ৮৪ বছর, মারসাদ বিন আব্দুল্লাহ ৭৯ বছর, সাহল বিন সাদ ৮১ বছর, আব্দুল্লাহ বিন জাফর ৮০ বছর, সালামাহ বিন আকওয়া ৬৪ বছর, রাফে বিন খাদীজ ৬৪ বছর, সাঈদ বিন খালিদ জুহানী ৬৩ বছর, আসমা বিনতে আবু বকর ৬৩ বছর, আব্দুল্লাহ বিন উমর ৬৩ বছর, আউফ বিন মালিক আশজায়ী ৬৩ বছর, বারা বিন আযিব ৬২ বছর এবং জাবির বিন আব্দুল্লাহ জীবিত ছিলেন।

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস।

২ তারতীবুল মাদারিক, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬১।

৩ আহমাদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৮৪; বুখারী, মদীনা অধ্যায় ৬।

৪ পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬১।
(খণ্ড: ২৩) দিরাসাতুন ফিস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০৮)
الأنصاري 68 وغيرهم من الصحابة. ثم وجود الفقهاء السبعة: عروة بن الزبير والقاسم بن محمد وخارجة بن زيد، وأبو بكر بن عبد الرحمن وسليمان بن يسار وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة، ثم من أهل الفتوى: أبان بن عثمان وسالم ونافع وأبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف وعلي بن الحسين وأبو بكر بن حزم ومحمد بن المنكدر ومحمد بن شهاب الزهري وغيرهم من التابعين رضوان الله عليهم أجمعين فقد عاش هؤلاء في القرن الأول في المدينة المنورة، فهذا الفضل العظيم لم تجمعه أرض تحت السماء إلى يومنا هذا وإلى هذا أشار الإمام مالك في رسالته إلى الليث بن سعد فقال: "إن الله تعالى يقول في كتابه: {وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ..} فإنما الناس تبع لأهل المدينة إليها كانت الهجرة وبها نزل القرآن وأحل الحلال وحرم الحرام إذ رسول الله بين أظهرهم يحضرون الوحي والتنزيل ويأمرهم فيطيعونه ويسن لهم فيتبعونه"1.

هذه بعض وجهة نظر مالك ولست الآن في صدد ذكر أدلته وإقامة الحجة لأصولهن فإن هذا بحث مستقل ولكن أردت أن أنبه شاخت وأمثاله بأن مالكاً لم يكن منكراً لحجية السنة كيف وقد روي عن الإمام يقول:"إنما أنا بشر أُخطئ وأصيبُ فانظروا في رأيي فما وافق الكتاب والسنة فخذوا به وما لم يوافق الكتاب والسنة فاتركوه"2 ونكتفي بهذا القدر من الدفاع عن مالك.

ونبدأ بالرد على شاخت في الطعن على الحنفية فنقول: قد أثر عن الإمام أبي حنيفة أنه قال: "إياكم وآراء الرجال. ودخل عليه رجل والحديث يُقرأ عنده فقال الرجل دعونا من هذه الأحاديث. فزجره الإمام أشد الزجر وقال له لولا السنة ما فهم أحد منا القرآن، ثم قال للرجل ما تقول في لحم القرد وأين دليله في القرآن فأفحم الرجل. وكان من عادة الإمام أن يقول:"حرام على من لم يعرف دليلي أن يفتي بكلامي"3 وقد روى أبو جعفر الشيزاماري بسنده المتصل إلى الإمام أبي حنيفة أنه كان يقول:

--------------------------------------------

1 ترتيب المدارك ج1 ص64.

2 الميزان للشعراني ج1 ص63.

3 المصدر السابق ج1 ص147.
আনসারী ৬৮ এবং অন্যান্য সাহাবীগণ। এরপর সাতজন ফকীহের উপস্থিতি: উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর, কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ, খারিজাহ ইবনু যাইদ, আবু বকর ইবনু আবদির রহমান, সুলাইমান ইবনু ইয়াসার এবং উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনু উতবাহ; এরপর ফতোয়া প্রদানকারীদের মধ্য থেকে: আবান ইবনু উসমান, সালিম, নাফি', আবু সালামাহ ইবনু আবদির রহমান ইবনু আওফ, আলী ইবনুল হুসাইন, আবু বকর ইবনু হাযম, মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির, মুহাম্মাদ ইবনু শিহাব আয-যুহরী এবং অন্যান্য তাবিঈগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। তাঁরা হিজরী প্রথম শতাব্দীতে মদিনা মুনাওয়ারায় বসবাস করতেন। আকাশের নিচে বর্তমান দিন পর্যন্ত কোনো ভূমি এই মহান ফযিলত অর্জন করতে পারেনি। ইমাম মালিক লাইস ইবনু সা'দের কাছে লেখা তাঁর পত্রে এই বিষয়টিই ইঙ্গিত করে বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী...}। মানুষ কেবল মদিনাবাসীদের অনুসারী। এখানেই হিজরত হয়েছিল, এখানেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে এবং হালালকে হালাল ও হারামকে হারাম করা হয়েছে। কেননা রাসুলুল্লাহ তাঁদের মাঝেই ছিলেন, তাঁরা ওহী ও প্রত্যাদেশ অবতীর্ণ হওয়ার সময় উপস্থিত থাকতেন; তিনি তাঁদের আদেশ দিতেন এবং তাঁরা তা পালন করতেন, তিনি তাঁদের জন্য সুন্নাহ নির্ধারণ করতেন আর তাঁরা তা অনুসরণ করতেন।"১

এটি ছিল ইমাম মালিকের দৃষ্টিভঙ্গির কিয়দংশ। আমি এখন তাঁর দলিলসমূহ উল্লেখ করা বা তাঁর উসূলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের পর্যায়ে নেই, কারণ এটি একটি স্বতন্ত্র গবেষণা। তবে আমি শ্যাখট ও তাঁর মতো ব্যক্তিদের সতর্ক করতে চেয়েছি যে, ইমাম মালিক সুন্নাহর প্রামাণিকতা অস্বীকারকারী ছিলেন না। ইমাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন: "আমি তো একজন মানুষ মাত্র, ভুলও করি আবার সঠিকও বলি। সুতরাং তোমরা আমার মতামতের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করো; এর মধ্যে যা কিতাব ও সুন্নাহর অনুকূলে পাও তা গ্রহণ করো, আর যা কিতাব ও সুন্নাহর প্রতিকূলে পাও তা বর্জন করো।"২ ইমাম মালিকের পক্ষে এই পরিমাণ প্রতিরক্ষাটুকুই যথেষ্ট।

এবার আমরা হানাফী মাযহাবের প্রতি শ্যাখটের আপত্তির জবাব দেওয়া শুরু করব। আমরা বলি: ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলতেন: "তোমরা মানুষের ব্যক্তিগত মতামত থেকে বেঁচে থাকো।" তাঁর কাছে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল যখন তাঁর সামনে হাদিস পাঠ করা হচ্ছিল। লোকটি বলল, 'আমাদের এই হাদিসগুলো বাদ দিয়ে কথা বলুন।' ইমাম তাকে কঠোরভাবে ধমক দিলেন এবং বললেন, "সুন্নাহ না থাকলে আমাদের কেউ কুরআন বুঝতে পারত না।" এরপর তিনি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, "বানরের গোশতের ব্যাপারে তোমার অভিমত কী এবং কুরআনে এর দলিল কোথায়?" এতে লোকটি নিরুত্তর হয়ে গেল। ইমামের অভ্যাস ছিল এই বলা যে: "যে ব্যক্তি আমার দলিল জানে না, তার জন্য আমার কথা দিয়ে ফতোয়া দেওয়া হারাম।"৩ আবু জাফর আশ-শায়যামারী তাঁর অবিচ্ছিন্ন সনদে ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলতেন:

--------------------------------------------

১ তারতীবুল মাদারিক, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৪।

২ আল-মিযানুশ শা'রানী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৬৩।

৩ পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৭।