(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: -)
الكتاب لسيبويه القسم: النحو والصرف
الكتاب: الكتاب
المؤلف: عمرو بن عثمان بن قنبر الحارثي بالولاء، أبو بشر، الملقب سيبويه (ت 180هـ)
المحقق: عبد السلام محمد هارون
الناشر: مكتبة الخانجي، القاهرة
الطبعة: الثالثة، 1408 هـ - 1988 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সিবওয়াইহ-এর আল-কিতাব বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: আল-কিতাব
লেখক: আমর ইবনে উসমান ইবনে কানবার আল-হারিসী (মাওলা), আবু বিশর, উপাধি সিবওয়াইহ (মৃত্যু ১৮০ হিজরী)
সম্পাদক: আবদুস সালাম মুহাম্মদ হারুন
প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজী, কায়রো
সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪০৮ হিজরী - ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الجزء الأول
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه نستعين
وصلى الله على محمد وعلى آله وسلمقال أبو عبيد الله محمد بن يحيى: قرأت على ابن وَلَاّد، وهو ينظر
প্রথম খণ্ডপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেএবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করিআল্লাহ মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুনআবু উবাইদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বলেন: আমি ইবনুল ওয়াল্লাদের সামনে পাঠ করেছি, এমতাবস্থায় যে তিনি তা পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
في كتاب أبيه. وسمعته يُقرأ على أبي جعفر أحمدَ بن محمدٍ، المعروف بابن النَّحَّاس.
وأخذَه أبو القاسم بن ولاد عن أبيه عن المبرد.
وأخذه المبرد عن المازني عن الأخفش عن سيبويه.
তাঁর পিতার কিতাবে। এবং আমি এটি আবু জাফর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ, যিনি ইবনুন্ নাহহাস নামে পরিচিত, তাঁর নিকট পঠিত হতে শুনেছি।
আর আবুল কাসিম ইবনে ওয়াল্লাদ এটি তাঁর পিতার নিকট থেকে, তিনি আল-মুবররাদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন।
এবং আল-মুবররাদ এটি আল-মাযিনির নিকট থেকে, তিনি আল-আখফাশের নিকট থেকে এবং তিনি সিবাওয়াইহির নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد لله الذي افتتح بالحمد كتابه، وجعله آخر دعاء أهل الجنة فقال جلّ ثناؤه: " وآخر دعواهم أن الحمد لله رب العالمين ". وصلى الله على محمد خاتم النبيين وعلى آله الطَّيبين.
قال لنا أبو جعفر أحمد بن محمد: لم يزل أهل العربّية يفضَلون كتابَ أبي بشر عمرو بن عثمان بن قنبر؛ المعروف بسيبوية، حتّى لقد قال محمد بن يزيد: " لم يُعْمَل كتابٌ في علم من العلوم مثلُ كتاب سيبويه، وذلك أن الكتب المصنَّفة في العلوم مُضْطَّرة إلى غيرها، وكتاب سيبويه لا يحتاج من فهمه إلى غيره ".
وقال: سمعت أبا بكر بن شُقَير يقول: حدثني أبو جعفر الطبري قال: سمعتُ الجَرْمىَّ يقول: أنا مُذْ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর কিতাব শুরু করেছেন এবং একে জান্নাতবাসীদের শেষ প্রার্থনা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাঁর মহিমা অত্যন্ত উচ্চ, তিনি বলেছেন: "আর তাঁদের শেষ প্রার্থনা হলো: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।" এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর।
আবু জাফর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের বলেছেন: আরবি ভাষাবিদগণ সর্বদা আবু বিশর আমর ইবনে উসমান ইবনে কানবার—যিনি সিবওয়াইহ নামে পরিচিত—তাঁর কিতাবকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে আসছেন। এমনকি মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াজিদ বলেছেন: "জ্ঞানের কোনো শাখায় সিবওয়াইহ-এর কিতাবের মতো কোনো কিতাব রচিত হয়নি। কারণ অন্যান্য জ্ঞানের ওপর রচিত কিতাবগুলো অন্য কিতাবের মুখাপেক্ষী হয়, কিন্তু সিবওয়াইহ-এর কিতাবটি বোঝার জন্য অন্য কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় না।"
তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইবনে শুকাইরকে বলতে শুনেছি: আবু জাফর আত-তাবারী আমাকে বলেছেন: আমি আল-জারমিকে বলতে শুনেছি: আমি যখন থেকে...
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثلاثون أُفتِى الناس في الفقه من كتاب سيبويه.
قال: فحدَّثت به محمد يزيدَ على وجه التعجُّب والإِنكار فقال: " أنا سمعت الجرمىَّ يقول هذا - وأومأ بيديه إلى أذنيه. وذلك أن أبا بكر عُمر الجرمى كان صاحبَ حديث، فلما علِم كتاب سيبويه تفقّه في الحديث؛ إذ كان كتاب سيبويه يتعلَّم منه النظر والتَّفتيش ". انتهى.
قال أبو جعفر: وقد حكى بعضُ النحويين أن الكسائي قرأ الأخفش كتاب سيبويه ودفع له مائتي دينار.
وحكى أحمد بن جعفر أن كتاب سيبويه وجد بعضه تحت وسادة الفرَّاء التي كان يجلس عليها.
وأصل ما جاء به سيبويه عن الخليل.
قال أبو جعفر: وسمعت أبا إسحاق يقول: إذا قال سيبويه بعد قول
তিরিশ বছর আমি সিবওয়াইহ-এর কিতাব থেকে মানুষের কাছে ফিকহ বিষয়ে ফতোয়া দিয়েছি।
তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইয়াযিদকে বিস্ময় ও অস্বীকৃতির ভঙ্গিতে এ সম্পর্কে বর্ণনা করলাম, তখন তিনি বললেন: "আমি জুরমিকে এটি বলতে শুনেছি—এবং তিনি নিজের দুই হাত দিয়ে কানের দিকে ইশারা করলেন। বিষয়টি হলো, আবু বকর উমর আল-জুরমি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস। যখন তিনি সিবওয়াইহ-এর কিতাব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করলেন, তখন তিনি হাদিসের গভীর প্রজ্ঞা (ফিকহ) অর্জন করলেন; কারণ সিবওয়াইহ-এর কিতাব থেকে বিচার-বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান করার পদ্ধতি শেখা যায়।" সমাপ্ত।
আবু জাফর বলেন: কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ বর্ণনা করেছেন যে, আল-কিসায়ি আল-আখফাশের কাছে সিবওয়াইহ-এর কিতাব পাঠ করেছেন এবং তাকে দুইশ দিনার প্রদান করেছেন।
আহমদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন যে, সিবওয়াইহ-এর কিতাবের কিছু অংশ আল-ফাররার বালিশের নিচে পাওয়া গিয়েছিল, যেটির ওপর তিনি বসতেন।
সিবওয়াইহ যা কিছু উপস্থাপন করেছেন, তার মূল ভিত্তি হলো আল-খালিল।
আবু জাফর বলেন: আমি আবু ইসহাককে বলতে শুনেছি: সিবওয়াইহ যখন কোনো বক্তব্যের পর বলেন...
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الخليل: " وقال غيره " فإنّما يعنى نفسه، لأنه أجلَّ الخليل عن أن يذكر نفسه معه. وإذا قال: " وسألته " فإنما يعنى الخليل.
وقال أبو إسحاق: إذا تأمّلتَ الأمثلةَ من كتاب سيبويه تبينتَ أنه أعلمُ الناس باللغة.
قال أبو جعفر: وحدثني علي بن سليمان قال حدثنى محمد بن يزيد أن المفتَّشين من أهل العربية ومَن له المعرفُة باللُّغة، تتبعوا على سيبويه الأمثلةَ فلم يَجدوه ترك من كلام العرب إلَاّ ثلاثة أَمثلة: منها الهُنْدَلعِ، وهي بقلة. والدراقس، وهو عظمٌ في القفا. وشَمَنْصِير، وهو اسمُ أرض.
وقال أبو إسحاق: حدثني القاضي إسماعيل بن إسحاق قال: حدثني
আল-খালিল: "এবং তিনি ব্যতীত অন্য কেউ বলেছেন" বলতে তিনি নিজেকেই বুঝিয়েছেন, কেননা তিনি আল-খালিলকে এতই মহিমান্বিত মনে করতেন যে তাঁর সাথে নিজের নাম উল্লেখ করতে সংকোচ বোধ করতেন। আর যখন তিনি বলেন: "এবং আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছি," তখন তিনি আল-খালিলকেই উদ্দেশ্য করেন।
আবু ইসহাক বলেন: আপনি যদি সিবাওয়াইহ-এর কিতাবের উদাহরণগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন, তবে আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, তিনি ভাষাবিজ্ঞানে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী।
আবু জাফর বলেন: আলি বিন সুলাইমান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বিন ইয়াজিদ আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আরবি ভাষার গবেষক এবং ভাষাজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিগণ সিবাওয়াইহ-এর উদাহরণসমূহ অনুসন্ধান করেছেন এবং তাঁরা দেখতে পেয়েছেন যে তিনি আরবদের ভাষা থেকে মাত্র তিনটি উদাহরণ ব্যতীত আর কিছুই বাদ দেননি: তার মধ্যে একটি হলো 'আল-হুন্দালা', যা একটি শাকবিশেষ। দ্বিতীয়টি হলো 'আদ-দিরাকস', যা ঘাড়ের পশ্চাৎভাগের একটি হাড়। এবং তৃতীয়টি হলো 'শামানসির', যা একটি ভূখণ্ডের নাম।
আবু ইসহাক বলেন: বিচারক ইসমাঈল বিন ইসহাক আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
نصر بن علي قال: سمعت الأخفش يقول: يُعدُّ من أصحاب الخليل في النحو أربعة: سيبويه، والنضر بن شميل، وعلى بن نصر - وهو أبو نصر ابن على - ومؤرَّج السَّدوسى.
قال: وسمعت نصراً يحكي عن أبيه قال: قال لي سيبويه حين أراد أن يضع كتابه: تعال حتى نتعاونَ على إحياء علم الخليل.
قال أبو جعفر: وقد رأيت أبا جعفر بن رستم يروي كتاب سيبويه عن المازِنّى غير أن الذي اعتمد عليه أبو جعفر في كتاب سيبويه إبراهيم ابن السرىّ؛ لمعرفته به وضبطه إياه.
নাসর ইবনে আলি বলেন: আমি আখফাশকে বলতে শুনেছি: নাহুশাস্ত্রে খলিলের সাথীদের মধ্যে চারজনকে গণ্য করা হয়: সিবওয়াইহি, নযর ইবনে শুমাইল, আলি ইবনে নাসর—যিনি হলেন আবু নাসর ইবনে আলি—এবং মুআররিজ আস-সাদুসি।
তিনি বলেন: আমি নাসরকে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: সিবওয়াইহি যখন তার কিতাব রচনা করার সংকল্প করলেন, তখন আমাকে বললেন: এসো, আমরা খলিলের জ্ঞানকে পুনরুজ্জীবিত করতে একে অপরকে সহযোগিতা করি।
আবু জাফর বলেন: আমি আবু জাফর ইবনে রুস্তমকে মাজিনির সূত্রে সিবওয়াইহির কিতাব বর্ণনা করতে দেখেছি, তবে আবু জাফর সিবওয়াইহির কিতাবের ক্ষেত্রে ইব্রাহিম ইবনে সারির ওপর নির্ভর করেছেন; এই বিষয়ে তার প্রজ্ঞা এবং নির্ভুলভাবে এটি আয়ত্ত করার কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وذكر أن علي بن سليمان حكى أنَّ أبا العباس كان لا يكاد يقرئ أحداً كتابَ سَيبويه حتى يقرأه على أبي إسحاق، لصحة نسخته، ولذكر أسماء الشعراء فيها.
قال الجَرمىّ: نظرتُ في كتاب سيبويه فإذا فيه ألف وخمسون بيتا. فأمّا ألفّ فَعَرَفت أسماء قائليها فأثبتُّ أسماءهم، وأما خمسون فلم أعرف قائليها.
قال أبو جعفر: وسمعت محمد بن الوليد يقول: نظرت في نسخة كتاب سيبويه التي أُمِليتْ بمصر فإذا فيها مائتا حرف خطأ. قال: ورأيت أبا إسحاق قد أنكر الإسناد الذي في أولها إنكاراً شديداً. وقال: لم يقرأ أبو العباس محمد بن يزيد كتابَ سيبويه كلَّه على الجرمّى، ولكن قال أبو إسحاق: قرأته أَنا على أبي العباس محمد بن يزيد وقال لنا أبو العباس: قرأت نحو ثلثه على أبي عُمَر الجرمىّ، فتوفَي أبو عمر فابتدأت قراءته على أبي الحسن سَعيد بن مَسعدة الأخفش، وقال الأخفش: كنت أسأل سيبويه عمّا أشكلَ عليَّ منه، فإن تعصّب علّى الشيءُ منه قرأته عليه.
উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলী বিন সুলাইমান বর্ণনা করেছেন যে, আবুল আব্বাস সিবওয়াইহের কিতাব কাউকে পড়াতেন না যতক্ষণ না সে সেটি আবু ইসহাকের কাছে পাঠ করত; এর কারণ ছিল তার অনুলিপিটির নির্ভুলতা এবং তাতে কবিদের নামসমূহের উল্লেখ থাকা।
আল-জারমী বলেছেন: আমি সিবওয়াইহের কিতাবটি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তাতে এক হাজার পঞ্চাশটি কাব্যপঙ্ক্তি পেয়েছি। তন্মধ্যে এক হাজারের রচয়িতাদের নাম আমি জানতে পেরেছি এবং তাদের নামগুলো লিপিবদ্ধ করেছি, আর বাকি পঞ্চাশটির রচয়িতাদের আমি চিনতে পারিনি।
আবু জাফর বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদকে বলতে শুনেছি: আমি মিশরে শ্রুতিলিখনকৃত সিবওয়াইহের কিতাবটির একটি অনুলিপি পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তাতে দুইশত ভুল পেয়েছি। তিনি বলেন: আমি দেখেছি আবু ইসহাক এর শুরুতে থাকা সনদটিকে অত্যন্ত কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন: আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ সিবওয়াইহের সম্পূর্ণ কিতাবটি জারমীর কাছে পাঠ করেননি। বরং আবু ইসহাক বলেছেন: আমি এটি আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদের কাছে পড়েছি এবং আবুল আব্বাস আমাদের বলেছেন: আমি এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আবু উমর আল-জারমীর কাছে পড়েছি। অতঃপর আবু উমর ইন্তেকাল করলে আমি এটি আবুল হাসান সাঈদ বিন মাসআদাহ আল-আখফাশের কাছে পাঠ করা শুরু করি। আর আল-আখফাশ বলেছেন: আমি সিবওয়াইহকে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম যা আমার কাছে অস্পষ্ট লাগত; আর যদি কোনো কিছু আমার কাছে অত্যন্ত দুর্বোধ্য হয়ে দাঁড়াত, তবে আমি তা তার কাছে পাঠ করে নিতাম।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
وأما أبو القاسم بن ولاّد فإنه حدّثنا عن أبيه أبي الحُسَين قال: حدَّثني أبو العباس المبرد قال: قرأ المازنيّ كتاب سيبويه على الجَرمى وساءلَ الأخفشَ عنه، وقرأه الجرمىّ على الأخفش.
قال: وحدثني المبرد قال: قرأت بعض هذا الكتاب على الجرمى، وبعضه على المازنيّ، ومنه ما قرأته عليهما جميعاً.
قال: وسمعت المبرد يقول: قد أدرك أبو عُمَر من أخذ عنه سيبويه، واختلف إلى حَلْقة يونس.
وحدثنا أبو القاسم بن ولاد عن أبيه قال: حدثنا أبو العباس قال: حدثني الزيادىُّ أبو إسحاق قال: عَمَدت إلى أبي عُمَر الجرمىَّ أقرأ عليه كتاب سيبويه، ووافيت المازنَّى يقرأ عليه في أثناء " هذا باب ما يرتفع بين الجزأين " فكنَّا نَعجب من حِذقه وجودة ذهنه. وكان قد بلغ من أوّل الكتاب إلى هذا الموضع.
قال أبو الحُسين بن ولاّد: يعنى أن المازنىّ كان قد بلغ على الأخفش إلى هذا الموضع.
وسمعت أبا القاسم بن ولاّد يقول: كان أبي قد قِدم على أبي العباس المبَرد
আর আবুল কাসেম বিন ওয়াল্লাদ সম্পর্কে কথা হলো, তিনি আমাদের নিকট তাঁর পিতা আবুল হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাকে আবুল আব্বাস আল-মুবররাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-মাজিনী আল-জারমীর নিকট সিবাওয়াইহির কিতাবটি পাঠ করেছেন এবং আল-আখফাশকে সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন, আর আল-জারমী তা আল-আখফাশের নিকট পাঠ করেছেন।
তিনি বলেছেন: আল-মুবররাদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি এই কিতাবের কিছু অংশ আল-জারমীর নিকট এবং কিছু অংশ আল-মাজিনীর নিকট পাঠ করেছি, আর এর কিছু অংশ আমি তাঁদের উভয়ের নিকট একত্রে পাঠ করেছি।
তিনি বলেছেন: আমি আল-মুবররাদকে বলতে শুনেছি: আবু উমর (আল-জারমী) এমন ব্যক্তিদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন যাদের নিকট থেকে সিবাওয়াইহি জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, এবং তিনি ইউনুসের জ্ঞানচক্রে যাতায়াত করতেন।
আর আবুল কাসেম বিন ওয়াল্লাদ তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবুল আব্বাস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আয-যিয়াদী আবু ইসহাক আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবু উমর আল-জারমীর নিকট সিবাওয়াইহির কিতাব পাঠ করার সংকল্প করলাম, এবং আমি আল-মাজিনীকে তাঁর নিকট পাঠ করা অবস্থায় পেলাম যখন তিনি "এটি হলো দুই অংশের মাঝে যা রাফা (পেশ) হয় সেই সম্পর্কিত অধ্যায়" শীর্ষক অংশে ছিলেন। তখন আমরা তাঁর প্রখর মেধা ও বুদ্ধিমত্তার উৎকর্ষ দেখে বিস্মিত হতাম। তিনি কিতাবের শুরু থেকে এই স্থান পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।
আবুল হুসাইন বিন ওয়াল্লাদ বলেছেন: অর্থাৎ আল-মাজিনী আল-আখফাশের নিকট এই স্থান পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।
আর আমি আবুল কাসেম বিন ওয়াল্লাদকে বলতে শুনেছি: আমার পিতা আবুল আব্বাস আল-মুবররাদের নিকট এসেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ليأخذ منه كتاب سيبويه، فكان المبّرد لا يمكَّن أحداً من أصله، وكان يضنّ به ضنّة شديدة، فكلّمَ ابنه عَلَى أن يَجْعلَ له في كل كتابٍ منها جُعلاً قد سمَّاه. فأكملَ نَسْخَه. ثم إنّ أبا العباس ظَهَر على ذلك بعدُ، فكان قد سعى بأبي الحُسَين إلى بعض خَدَمة السلطان ليحبسَه له ويعاقبه في ذلك، فامتنع أبو الحسين منه بصاحب خراج بغداد يومئذ - وكان أبو الحسين يؤدّب ولده - فأجاره منه. ثم إن صاحب الخراج ألظَّ بأبي العباس يطلب إليه أن يقرأ عليه الكتابَ حتّى فعل.
قال أبو عبد الله: فقرأته أنا على أبي القاسم وهو ينظر في ذلك الكتاب بعينه، وقال لي: قرأته على أبي مراراً.
যেন তিনি তার কাছ থেকে সিবওয়াইহ-এর কিতাবটি নিতে পারেন। মুবাররাদ কাউকে তার মূল পাণ্ডুলিপি ব্যবহারের সুযোগ দিতেন না এবং এর প্রতি তিনি অত্যন্ত কৃপণতা (অধিক রক্ষণশীলতা) প্রদর্শন করতেন। ফলে তিনি (আগ্রহী ব্যক্তি) তার পুত্রের সাথে কথা বললেন যেন কিতাবটির প্রতিটি খণ্ডের বিনিময়ে তিনি তার জন্য একটি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দেন। এভাবে তিনি এর অনুলিপি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে আবুল আব্বাস বিষয়টি জানতে পারলেন এবং তিনি সুলতানের কিছু কর্মচারীর মাধ্যমে আবু আল-হুসাইনকে বন্দী ও শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু আবু আল-হুসাইন তৎকালীন বাগদাদের খাজনা আদায়কারীর (সাহিবুল খারাজ) আশ্রয়ে তার হাত থেকে রক্ষা পেলেন—আবু আল-হুসাইন তার সন্তানকে শিষ্টাচার শিক্ষা দিতেন—ফলে তিনি তাকে নিরাপত্তা প্রদান করলেন। অতঃপর সেই খাজনা আদায়কারী আবুল আব্বাসের কাছে কিতাবটি পাঠ করে শোনানোর জন্য পিড়াপিড়ি করতে থাকলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি তা করলেন।
আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আমি এটি আবুল কাসিমের কাছে পাঠ করেছি এমতাবস্থায় যে তিনি সেই মূল কিতাবটির দিকেই তাকিয়ে ছিলেন। তিনি আমাকে বললেন: আমি এটি আমার পিতার কাছে বহুবার পাঠ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
هذا باب علم الكَلِمُ من العربيةفالكَلِم: اسمٌ، وفِعْلٌ، وحَرْفٌ جاء لمعنّى ليس باسم ولا فعل.
فالاسمُ: رجلٌ، وفرسٌ، وحائط.
وأما الفعل فأمثلة أُخذتْ من لفظ أحداث الأسماء، وبُنيتْ لما مضى، ولما يكون ولم يقع، وما هو كائن لم ينَقطع.
فأما بناء ما مضى فذَهَبَ وسَمِعِ ومِكُث وحُمِدَ. وأما بناء ما لم يقع فإنّه قولك آمِراً: اذهَب واقتُلْ واضرِبْ، ومخبراً: يَقْتُلُ ويَذهَبُ ويَضرِبُ ويُقْتَلُ ويُضرَبُ. وكذلك بناء ما لم يَنقطع وهو كائن إذا أخبرتَ.
فهذه الأمثلة التي أُخذت من لفظ أحداث الأسماء، ولها أبنية كثيرة ستبيَّن إن شاء الله.
والأحداث نحو الضَّرْبِ والحمد والقتل.
وأما ما جاء لمعنّى وليس باسم ولا فعلٍ فنحو: ثُمَّ، وسَوْف، وواو القسم ولام الإضافة، ونحوها.
এটি আরবি ভাষার শব্দ প্রকরণ সম্পর্কিত জ্ঞান বিষয়ক পরিচ্ছেদশব্দসমূহ হলো: বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয় যা কোনো নির্দিষ্ট অর্থের জন্য আসে কিন্তু তা বিশেষ্য বা ক্রিয়া নয়।
বিশেষ্য যেমন: ব্যক্তি, ঘোড়া এবং প্রাচীর।
আর ক্রিয়া হলো এমন সব রূপ যা কাজের নাম (ক্রিয়ামূল) থেকে গৃহীত হয়েছে এবং যা অতীতকাল, যা ভবিষ্যতে ঘটবে কিন্তু এখনও ঘটেনি এবং যা বর্তমানে চলমান ও নিরবচ্ছিন্ন—এরকম সময়ের জন্য গঠন করা হয়েছে।
অতীতকালের রূপগুলো হলো: সে গেল, সে শ্রবণ করল, সে অবস্থান করল এবং সে প্রশংসিত হলো। আর যা এখনও ঘটেনি তার রূপ হলো আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে আপনার বলা: তুমি যাও, তুমি হত্যা করো এবং তুমি প্রহার করো; এবং সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে: সে হত্যা করে বা করবে, সে যায় বা যাবে, সে প্রহার করে বা করবে, সে নিহত হয় বা হবে এবং সে প্রহৃত হয় বা হবে। তদ্রূপ যা বর্তমানে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান রয়েছে তার রূপও সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে একই রকম হয়ে থাকে।
এই উদাহরণগুলোই কাজের নাম বা ক্রিয়ামূল থেকে সংগৃহীত হয়েছে এবং এগুলোর বহুবিধ রূপ রয়েছে যা আল্লাহ চাহেন তো পরবর্তীতে স্পষ্ট করা হবে।
আর কাজ বা ঘটনাসমূহ হলো যেমন: প্রহার করা, প্রশংসা করা এবং হত্যা করা।
আর যা কোনো অর্থের জন্য আসে অথচ তা বিশেষ্য বা ক্রিয়া নয়, তা হলো যেমন: 'অতঃপর', 'শীঘ্রই', শপথের 'ওয়াও', সম্বন্ধসূচক 'লাম' এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
هذا باب مجارى أواخر الكلم من العربيةوهي تجري على ثمانية مجارٍ: على النصب والجرَّ والرفع والجزم، والفتح والضمّ والكسر والوقف.
وهذه المجارى الثمانيةُ يَجمعهنّ في اللفظ أربعةُ أضرب: فالنصبُ والفتح في اللفظ ضربٌ واحد، والجرّ والكسر فيه ضرب واحد، وكذلك الرفع والضمّ، والجزم والوقف.
وإنّما ذكرتُ لك ثمانية مجار لأفُرقَ بين ما يدخله ضربٌ من هذه الأربعة لما يُحِدثُ فيه العامل - وليس شيء منها إلا وهو يزول عنه - وبين ما يُبْنَى عليه الحرفُ بناءً لا يزول عنه لغير شيء أحدثَ ذلك فيه من العوامل، التي لكلّ منها ضربٌ من اللفظ في الحرف، وذلك الحرفُ حرف الإعراب.
فالرفع والجر والنصب والجزم لحروفِ الإعراب. وحروفُ الإعراب للأسماء المتمكّنة، وللأفعال المضارِعة لأسماء الفاعلين التي في أوائلها الزوائدُ الأربع: الهمزة، والتاء، والياء، والنون. وذلك قولك: أفْعَلُ أنا، وتَفعل أنتَ أو هي، ويَفعل هو، ونَفعل نحن.
এটি আরবি ভাষায় শব্দের অন্তিম বিন্যাসের ধারাগুলোর অধ্যায়এগুলো আটটি ধারায় আবর্তিত হয়: নসব, জর, রফ' ও জজম; এবং ফাতহা, দম্মা, কাসরা ও ওয়াকফ।
এই আটটি ধারাকে উচ্চারণের দিক থেকে চারটি প্রকার একত্রিত করে: উচ্চারণের ক্ষেত্রে নসব ও ফাতহা এক প্রকার, জর ও কাসরা এক প্রকার, এবং একইভাবে রফ' ও দম্মা এবং জজম ও ওয়াকফ।
আমি আপনার নিকট আটটি ধারার কথা এই জন্য উল্লেখ করেছি যাতে আমি সেই অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করতে পারি যাতে কোনো আমেল বা প্রভাবকের কারণে এই চার প্রকারের কোনো একটি দাখিল হয়—আর এগুলোর কোনটিই স্থায়ী নয় বরং তা পরিবর্তনশীল—এবং সেই অবস্থার মধ্যে যার ওপর হরফটি স্থায়ীভাবে গঠিত হয় যা কোনো আমেলের কারণে পরিবর্তিত হয় না, যে আমেলগুলোর প্রত্যেকটির জন্য হরফের উচ্চারণে একটি নির্দিষ্ট রূপ থাকে; আর সেই হরফটি হলো ইরাবের হরফ।
সুতরাং রফ', জর, নসব ও জজম হলো ইরাবের হরফসমূহের জন্য। আর ইরাবের হরফসমূহ হলো সুদৃঢ় বিশেষ্যসমূহের জন্য এবং সেই সকল বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার জন্য যা কর্তৃবাচক বিশেষ্যের সদৃশ এবং যেগুলোর শুরুতে এই চারটি অতিরিক্ত হরফ থাকে: হামজা, তা, ইয়া এবং নুন। যেমন আপনার কথা: আমি করি, তুমি করো বা সে করে, সে করে এবং আমরা করি।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والنصب في الأسماء: رأيت زيداً، والجرّ: مررت بزيد، والرفع: هذا زيدٌ. وليس في الأسماء جزم، لتمكنها وللحاق التنوين، فإذا ذهب التنوين لم يَجمعوا على الاسم ذهابَه وذهاب الحركة.
والنصب في المضارع من الأفعال: لن يَفعلَ، والرفع: سيَفعل، والجزم: لم يفعلْ. وليس في الأفعال المضارعة جرٌّ كما أنّه ليس في الأسماء جزم؛ لأن لمجرور داخلٌ في المضاف إليه معاقبٌ للتنوين، وليس ذلك في هذه الأفعال. وإنما ضارعتْ أسماء الفاعلينَ أنَّك تقول: إن عبد الله لَيَفعلُ، فيوافِقُ قولَك: لفاعل، حتَّى كأنّك قلت: إن زيداً لفاعلٌ فيما تُريد من المعنى. وتلحقه هذه اللام كما لحقت الاسمَ، ولا تلحق فَعَل اللامُ. وتقول سيفعلُ ذلك وسوفَ يفعل ذلك فُتلحِقهُا هذين الحرفين لمعنى كما تَلحق الألف واللام الأسماء للمعرفة.
ويبّن لك أنَّها ليست بأسماءٍ أنّك لو وضعتَها مواضعَ الأسماء لم يجزْ ذلك. ألَا ترى أنّك لو قلت إنَّ يَضْرِبَ يأتينا وأشباه هذا لم يكن كلاماً؟! إلاّ أنّها ضارعت الفاعل لاجتماعهما في المعنى. وسترى ذلك أيضاً في موضعه.
বিশেষ্যপদসমূহে (ইসমে) নসব (যবর) হলো: "আমি যায়দকে দেখেছি", এবং জর (যের) হলো: "আমি যায়দের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি", আর রফ’ (পেশ) হলো: "এই হয় যায়দ"। বিশেষ্যপদসমূহে কোনো জযম হয় না, কারণ এগুলো সুদৃঢ় এবং এগুলোতে তানভীন যুক্ত হয়। সুতরাং যখন তানভীন বিলুপ্ত হয়, তখন তারা (আরবগণ) বিশেষ্যপদে তানভীন এবং হরকত (স্বরচিহ্ন) উভয়ের বিলুপ্তিকে একত্রে জমা করেনি।
আর ক্রিয়াপদসমূহের মধ্যে মুদারে’তে (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল) নসব হলো: "সে কক্ষনো করবে না", রফ’ হলো: "সে শীঘ্রই করবে", এবং জযম হলো: "সে করেনি"। মুদারে’ ক্রিয়াপদসমূহে কোনো জর (যের) হয় না, যেমনটি বিশেষ্যপদসমূহে কোনো জযম হয় না; কারণ মজুর (জেরযুক্ত শব্দ) মুদাফ ইলাইহ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় যা তানভীনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকে, আর এই বৈশিষ্ট্য এই ক্রিয়াপদগুলোতে নেই। মূলত এগুলো ইসমে ফায়িল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য)-এর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে এ কারণে যে, আপনি বলেন: "নিশ্চয়ই আব্দুল্লাহ অবশ্যই করছে", যা আপনার এই উক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়: "অবশ্যই সে একজন কর্তা", এমনকি আপনি অর্থের ক্ষেত্রে যা বোঝাতে চান সে হিসেবে যেন আপনি বললেন: "নিশ্চয়ই যায়দ অবশ্যই একজন কর্তা"। আর এই 'লাম' অক্ষরটি এতে যুক্ত হয় যেমনটি তা বিশেষ্যপদে যুক্ত হয়ে থাকে, কিন্তু 'ফা-আলা' (অতীতকালীন ক্রিয়া) রূপে এই 'লাম' যুক্ত হয় না। আর আপনি বলেন "সে অচিরেই তা করবে" এবং "সে শীঘ্রই তা করবে", ফলে বিশেষ অর্থের প্রয়োজনে আপনি এই দুটি হরফ এতে যুক্ত করেন, যেমনটি 'আলিফ ও লাম' বিশেষ্যপদকে নির্দিষ্ট (মারেফা) করার জন্য যুক্ত করা হয়।
আর আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এগুলো বিশেষ্যপদ নয়; কারণ আপনি যদি সেগুলোকে বিশেষ্যপদের স্থলে স্থাপন করেন তবে তা বৈধ হবে না। আপনি কি দেখছেন না যে, আপনি যদি বলেন "নিশ্চয়ই 'প্রহার করছে' আমাদের নিকট আসে" এবং এই জাতীয় শব্দমালা, তবে তা কোনো পূর্ণাঙ্গ বাক্যই হবে না?! তবে এগুলো ইসমে ফায়িল-এর সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে অর্থের দিক থেকে উভয়ের মাঝে মিল থাকার কারণে। আর আপনি শীঘ্রই এ বিষয়টি এর যথাস্থানে বিস্তারিত দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولدخول اللام قال الله جلّ ثناؤه: " وإن ربك ليحكم بينهم " أي لحاكمٌ.
ولِمَا لحقها من السين وسوف كما لحقت الاسم والألف واللام للمعرفة. وأمْا الفتح والكسر والضم والوقف فللأسماء غير المتمكَّنة المضارعة عندهم ما ليس باسم ولا فعل مما جاء لمعنًى ليس غيُر، نحو سَوْفَ وقَدْ، وللأفعال التي لم تَجر مجرى المضارِعة، وللحروف التي ليست بأسماءٍ ولا أفعال ولم تجئْ إلاّ لمعنى.
فالفتح في الأسماء قولهم: حيثَ وأينَ وكيفَ. والكسر فيها نحو: أولاد وحذار وبداد. والضم نحو: حيثُ وقبلُ وبعدُ. والوقف نحو: مَنْ وكمْ وقطْ وإذْ.
'লাম' এর প্রবেশের কারণে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: "আর নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক তাদের মাঝে বিচার করবেন," অর্থাৎ অবশ্যই তিনি বিচারকারী।
আর এর সাথে 'সীন' ও 'সাওফা' যুক্ত হওয়ার বিষয়টি হলো যেমন বিশেষ্যের শুরুতে পরিচিতিজ্ঞাপক 'আলিফ' ও 'লাম' যুক্ত হয়। আর ফাতহ (জবর), কাসরা (জের), দাম্মা (পেশ) এবং ওয়াকফ (স্থিরতা) হলো সেসব অপরিবর্তনীয় বিশেষ্যের জন্য যা তাদের নিকট বিশেষ্য কিংবা ক্রিয়া সদৃশ নয়, বরং তা কেবল বিশেষ অর্থ প্রদানের জন্য আসে, যেমন: 'সাওফা' এবং 'কাদ'। এছাড়া এটি সেসব ক্রিয়ার জন্য প্রযোজ্য যা মুদারির (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) রীতি অনুযায়ী চলে না এবং সেসব অব্যয়ের (হরফ) জন্য যা বিশেষ্য বা ক্রিয়া নয় এবং কেবল অর্থ প্রকাশের জন্যই আসে।
বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ফাতহ বা জবরের উদাহরণ হলো: 'হাইসা', 'আইনা' এবং 'কাইফা'। এতে কাসরা বা জেরের উদাহরণ হলো যেমন: 'আওলাদি', 'হাযারি' এবং 'বিদাদি'। দাম্মা বা পেশের উদাহরণ হলো যেমন: 'হাইসু', 'কাবলু' এবং 'বাদু'। আর ওয়াকফ বা স্থিরতার উদাহরণ হলো যেমন: 'মান', 'কাম', 'কাত' এবং 'ইয'।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
والفتح في الأفعال التي لم تَجْرِ مجرى المضارعة قولهم: ضرب، وكذلك كلُّ بناء من الفعل كان معناه فعل. ولم يسكنو آخِر فَعَلَ لأنّ فيها بعض ما في المضارعَة، تقول: هذا رجلٌ ضَربَنَا، فتَصف بها النكرة، وتكون في موضع ضاربٍ إذا قلت هذا رجلٌ ضارب. وتقول: إن فَعَل فعلتُ، فيكون في معنى إن يَفْعَلْ أفعلْ، فهي فعْلٌ كما أنَّ المضارع فِعْلٌ وقد وقعتْ موقعها في إنْ، ووقعت موقعَ الأسماء في الوصف كما تقع المضارعَة في الوصف، فلم يسكّنوها كما لم يسكنو من الأسماء ما ضارع المتمكَّن ولا ما صيُرِّ من المتمكَّن في موضعٍ بمنزلة غير المتمكّن. فالمضارع: مِنْ عَلُ، حرَّكوه لأنّهم قد يقولون من عَلٍ فُيجْروُنه. وأمَّا المتمكن الذي جُعل بمنزلة غير المتمكَّن في موضع فقولك ابدأ بهذا أول، ويا حكم.
যে সকল ক্রিয়া বর্তমান বা অনাগতকালীন ক্রিয়ার (মুদারে) রূপ গ্রহণ করে না, সেগুলোতে ফাতহা (যবর) হওয়া; যেমন তাদের কথা: সে প্রহার করল (দারাবা)। তদ্রূপ ক্রিয়ার প্রতিটি গঠন যার অর্থ অতীতকাল। তারা অতীতকালীন ক্রিয়ার শেষ অক্ষরে সুকুন দেয়নি, কারণ এতে বর্তমান বা অনাগতকালীন ক্রিয়ার কিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। যেমন তুমি বল: ইনি এমন এক ব্যক্তি যিনি আমাদের প্রহার করেছেন; এর মাধ্যমে তুমি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের গুণ বর্ণনা করছ। আর এটি প্রহারকারী (দারিবুন) শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয় যখন তুমি বল: ইনি একজন প্রহারকারী ব্যক্তি। আর তুমি বল: যদি সে করত তবে আমি করতাম; যা যদি সে করে তবে আমি করি—এই অর্থে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এটি একটি ক্রিয়া যেমন বর্তমান বা অনাগতকালীন শব্দটিও একটি ক্রিয়া। শর্তবাচক শব্দের ক্ষেত্রে এটি তার স্থান দখল করেছে এবং গুণ বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যেমন বর্তমান বা অনাগতকালীন ক্রিয়া গুণ বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তাই তারা একে সাকিন (স্বরহীন) করেনি, যেমন তারা বিশেষ্যসমূহের মধ্য থেকে সেই শব্দগুলোকে সাকিন করেনি যা পরিবর্তনশীল বিশেষ্যের সদৃশ, কিংবা যে সকল পরিবর্তনশীল শব্দকে কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে অপরিবর্তনশীল শব্দের মর্যাদায় রাখা হয়েছে। সদৃশ হলো: ‘উপর থেকে’ (মিন আলু); তারা একে স্বরচিহ্ন প্রদান করেছে কারণ তারা ‘উপর থেকে’ (মিন আলিন) বলেও ব্যক্ত করে থাকে, ফলে তারা একে পরিবর্তনশীল হিসেবেই গণ্য করে। আর সেই পরিবর্তনশীল শব্দ যা কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে অপরিবর্তনশীল শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, তার উদাহরণ হলো তোমার কথা: এটি দিয়ে প্রথম শুরু কর এবং হে হাকাম।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
والوقف قولهم: اضرب في الأمر، ولم يحرِّكوها لأنها لا يوصف بها ولا تقع موقع المضارعة، فبعدت من المضارعة بعدكم وإذ من المتمكنة.
وكذلك كل بناء من الفعل كان معناه افْعَلْ.
والفتح في الحروف التي ليست إلا لمعنى وليست بأسماء ولا أفعال، قولهم: سوف، وثم.
والكسر فيها قولهم في باء الإضافة ولامها: بزيدٍ ولزيد.
والضم فيها: منذ، فيمن جرّبها، لأنها بمنزلة مِنْ في الأيام.
والوقف فيها قولهم: مِنْ، وهَلْ، وبل، وقد.
ولا ضَمَّ في الفعل؛ لأنه لم يجيء ثالثٌ سوى المضارع. وعلى هذين المعنيين بناءُ كل فعل بعد المضارع.
واعلم أنك إذا ثنَّيت الواحدَ لحقتْه زيادتان: الأولى منهما حرف المد والين وهو حرف الإعراب غير متحرِّك ولا منوَّن، يكون في الرفع ألفاً، ولم يكن واواً ليفصل بين التثنية والجمع الذي على حد التثنية، ويكون في الجرّ ياء مفتوحا ما قبلها، ولم يكسَرْ ليُفْصَل بين التثنية والجمع الذي على حدّ التثنية. ويكون في النصب كذلك، ولم يجعلوا النصب ألفاً ليكون مثله في الجمع، وكان مع ذا أنْ يكون تابعاً لما الجَرُّ منه أولى، لأنَّ الجرَّ للاسم لا يجاوِزه، والرفُع قد ينتقل إلى الفعل، فكان هذا أغلبَ وأقوى. وتكون الزيادة الثانية نوناً
ওয়াকফ বা স্থবিরতা হলো তাদের উক্তি: আদেশসূচক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে 'ইদ্বরিব' (আঘাত কর)। তারা এতে কোনো স্বরচিহ্ন প্রদান করেনি কারণ এর মাধ্যমে কোনো বর্ণনা প্রদান করা যায় না এবং এটি মুদারে (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) এর স্থলাভিষিক্ত হয় না। ফলে এটি মুদারে থেকে ততটাই দূরত্ব বজায় রাখে যতটা 'কাম' এবং 'ইদ' সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য থেকে দূরে।
অনুরূপভাবে প্রতিটি ক্রিয়া কাঠামো যার অর্থ হয় 'ইফআল' (কর)।
আর সেই সকল অব্যয়ের ক্ষেত্রে ফাতহা (যবর) হয় যা কেবল অর্থের জন্য আসে এবং যা বিশেষ্য কিংবা ক্রিয়া নয়; যেমন তাদের উক্তি: 'সাওফা' এবং 'সুম্মা'।
আর সেগুলোতে কাসরা (জের) হয় তাদের উক্তিতে সম্বন্ধযুক্ত 'বা' এবং 'লাম'-এর ক্ষেত্রে: 'বিযাইদিন' এবং 'লিযাইদিন'।
আর সেগুলোতে দাম্মা (পেশ) হয়: 'মুনযু', তাদের মতে যারা একে জার প্রদানকারী অব্যয় হিসেবে গণ্য করে; কারণ দিনগুলোর ক্ষেত্রে এটি 'মিন' (হতে) এর স্থলাভিষিক্ত।
আর সেগুলোতে ওয়াকফ (স্থবিরতা) হলো তাদের উক্তি: 'মিন', 'হাল', 'বাল' এবং 'কাদ'।
আর ক্রিয়ার মধ্যে কোনো দাম্মা (পেশ) নেই; কারণ মুদারে ব্যতীত তৃতীয় কোনো প্রকার আসেনি। আর এই দুটি অর্থের ওপরই মুদারে পরবর্তী প্রতিটি ক্রিয়ার গঠন নির্ভরশীল।
জেনে রেখো, তুমি যখন কোনো একবচন শব্দকে দ্বিবচন করবে, তখন তাতে দুটি অতিরিক্ত অংশ যুক্ত হবে: তার প্রথমটি হলো মাদ্দ ও লীন-এর বর্ণ, যা একটি এ'রাব-এর বর্ণ, এটি স্বরচিহ্নহীন এবং তানউইনমুক্ত। রফ-এর অবস্থায় এটি আলিফ হয়; আর এটি 'ওয়াও' হয়নি যাতে দ্বিবচন এবং দ্বিবচনের অনুরূপ বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য করা যায়। জার-এর অবস্থায় এটি এমন 'ইয়া' হয় যার পূর্ববর্তী বর্ণটি ফাতহা (যবর) যুক্ত, এবং একে কাসরা (জের) দেওয়া হয়নি যাতে দ্বিবচন এবং দ্বিবচনের অনুরূপ বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য করা যায়। নাসব-এর অবস্থাতেও এটি অনুরূপ হয়; তারা নাসব-কে আলিফ করেনি যাতে এটি বহুবচনের মতো হয়। এর সাথে সাথে একে এমন কিছুর অনুগামী করা হয়েছে যার জন্য জার হওয়াই অধিকতর সমীচীন; কারণ জার কেবল বিশেষ্যের জন্যই নির্ধারিত, তা অন্য কিছুতে যায় না, অন্যদিকে রফ কখনো কখনো ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে। ফলে এটিই ছিল অধিকতর প্রচলিত ও শক্তিশালী। আর দ্বিতীয় অতিরিক্ত অংশটি হলো নুন।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كأنها عوضٌ لما منع من الحركة والتنوين، وهي النون وحركتها الكسر، وذلك قولك: هما الرجلانِ، ورأيت الرجلَينِ، ومررت بالرجلَيْنِ.
وإذا جمعتَ على حدَّ التثنية لحقتْها زائدتان: الأولى منهما حرف المد والين، والثانية نون. وحال الأولى في السكون وتركِ التنوين وأنّها حرف الإعراب، حال الأولى في التثنية، إلا أنها واو ومضموم ما قبلها في الرفع، وفي الجر والنصب ياءٌ مكسورٌ ما قبلها ونونها مفتوحة، فرقوا بينها وبين نون الاثنين كما أنَّ حرف اللين الذي هو حرف الإعراب مختلِفٌ فيهما. وذلك قولك: المسلمُوَن، ورأيت المسلِمينَ ومررت بالمسلمين. ومن ثَمّ جعَلوا تاء الجمْع في الجرَّ والنصب مكسورة، لأنهم جعلوا التاء التي هي حرف الإعراب كالواو والياء، والتنوينَ بمنزلة النُّون لأنها في التأنيث نظيرة الواو والياء في التذكير فأجروها مجراها.
এটি যেন সেই হরকত এবং তানভীনের স্থলাভিষিক্ত যা বর্জিত হয়েছে; আর তা হলো নুন এবং এর স্বরচিহ্ন হলো জের। এর উদাহরণ আপনার এই কথা: তারা দুইজন পুরুষ, আমি দুইজন পুরুষকে দেখেছি এবং আমি দুইজন পুরুষের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি।
আর যখন আপনি দ্বিবচনের পদ্ধতিতে বহুবচন গঠন করবেন, তখন তার সাথে দুটি অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হবে: তাদের প্রথমটি হলো দীর্ঘস্বর ও কোমল বর্ণ, আর দ্বিতীয়টি হলো নুন। স্থিরতা, তানভীন বর্জন এবং বিভক্তির বর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমটির অবস্থা ঠিক দ্বিবচনের প্রথম বর্ণটির অবস্থার মতোই। তবে পার্থক্য হলো, কর্তৃকারক অবস্থায় এটি 'ওয়াও' এবং তার পূর্বের বর্ণটি পেশ-যুক্ত হয়, আর সম্বন্ধ ও কর্মকারক অবস্থায় এটি 'ইয়া' এবং তার পূর্বের বর্ণটি জের-যুক্ত হয় এবং এর নুনটি জবর-যুক্ত হয়। তারা এই নুন এবং দ্বিবচনের নুনের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, যেমনিভাবে বিভক্তির বর্ণ হিসেবে ব্যবহৃত কোমল বর্ণটিও উভয়ের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়। আর এর উদাহরণ আপনার এই কথা: মুসলিমগণ, আমি মুসলিমদের দেখেছি এবং আমি মুসলিমদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি। সেই সূত্র ধরেই তারা বহুবচনের 'তা' বর্ণটিকে সম্বন্ধ ও কর্মকারক অবস্থায় জের-যুক্ত করেছেন; কারণ তারা বিভক্তির বর্ণ হিসেবে এই 'তা'-কে 'ওয়াও' এবং 'ইয়া'-এর সমতুল্য গণ্য করেছেন এবং তানভীনকে নুনের মর্যাদায় রেখেছেন। যেহেতু স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে এটি পুংলিঙ্গের 'ওয়াও' এবং 'ইয়া'-এর অনুরূপ, তাই তারা একে সেই নিয়মেই পরিচালনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
واعلم أنّ التثنية إذا لحقت الأفعال المضارعة علامةً للفاعلين لحقتها ألف ونون، ولم تكن الألف حرفَ الإعراب لأنك لم ترد أن تثنِّى يَفْعَلُ هذا البناءَ فتَضمَّ إليه يفعل آخَرَ، ولكنك إنما ألحقته هذا علامة للفاعلين، ولم تكن منونة، ولا يَلزمها الحركةُ لأنّه يدُرِكُها الجزمُ والسكونُ فتكون الأولى حرف الإعراب، والثانية كالتنوين، فكلما كانت حالها في الواحد غير حال الاسم وفي التثنية لم تكن بمنزلته، فجعلوا إعرابه في الرَّفع ثباتَ النون لتكون له في التثنية علامةً للرَّفع كما كان في الواحد إذْ مُنع حرفَ الإعراب.
وجعلوا النون مكسورةً كحالها في الاسم، ولم يجعلوها حرف الإعراب إذْ كانت متحَرّكة لا تثُبتُ في الجزم ولم يكونوا ليحذفوا الألفَ لأنّها علامةُ الإضمار والتثنية في قول من قال: أكلوني البراغيثُ، وبمنزلة التاء في قلتُ وقالتْ، فأثبتوها في الرفع وحذفوها في الجزم كما حذفوا الحركة في الواحد.
ووافَق النصبُ الجزمَ في الحذف كما وافَق النصبُ الجرَّ في الأسماء؛ لأن الجزم في الأفعال نظير الجر في الأسماء، والأسماء ليس لها في الجزم نصيبٌ كما أنه ليس للفعل في الجر نصيب. وذلك قولك: هما يَفعَلَانِ، ولم يَفعَلَا، ولن يَفعَلَا.
وكذلك إذا لحقت الأفعالَ علامةُ للجمع لحقتها زائدتان، إلا أنّ الأولى واو مضموم ما قبلها لئلا يكون الجمع كالتثنية، ونونُها مفتوحة بمنزلتها في الأسماء كما فعلتَ ذلك في التثنية، لأنّهما وقعتا في التثنية والجمع ههنا كما أنّهما في الأسماء كذلك، وهو قولك: هم يَفْعَلُونَ ولم يَفعلوا ولن يفعلوا.
জেনে রাখুন যে, যখন দ্বিবচনের চিহ্ন দুইজন কর্তার পরিচায়ক হিসেবে মুজারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালবাচক) ক্রিয়াসমূহের সাথে যুক্ত হয়, তখন তাতে আলিফ ও নুন যুক্ত হয়। এখানে আলিফটি ইরাব (শব্দার্থভেদে শেষাংশের পরিবর্তন) প্রকাশের বর্ণ নয়; কারণ আপনি এই 'ইয়াফআলু' গঠনটিকে দ্বিবচন করতে চাননি যে এর সাথে অন্য একটি 'ইয়াফআলু' যুক্ত করবেন, বরং আপনি এটিকে কেবল কর্তাদের চিহ্ন হিসেবে যুক্ত করেছেন। এতে তানউইন হয় না এবং এর জন্য হরকত (স্বরচিহ্ন) অপরিহার্য নয়, কারণ এতে জজম ও সুকুন (স্থিরতা) আপতিত হয়। ফলে (বিশেষ্যের ক্ষেত্রে) প্রথমটি হয় ইরাবের বর্ণ এবং দ্বিতীয়টি হয় তানউইনের মতো। যেহেতু একবচনের ক্ষেত্রে ক্রিয়ার অবস্থা বিশেষ্যের অবস্থার মতো নয়, তাই দ্বিবচনের ক্ষেত্রেও এটি বিশেষ্যের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়নি। ফলে তারা 'রফ' (পেশযুক্ত অবস্থা) বোঝাতে নুন-এর স্থির থাকাকে ইরাব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যাতে দ্বিবচনে এটি রফ-এর চিহ্ন হয়, ঠিক যেমনটি একবচনে ছিল যখন একে ইরাব গ্রহণের মূল বর্ণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
তারা নুন-কে কাসরা (জের) যুক্ত করেছেন যেমনটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তবে তারা একে ইরাবের বর্ণ করেননি, কারণ এটি পরিবর্তনশীল এবং জজমের অবস্থায় স্থির থাকে না। আর তারা আলিফকে বিলুপ্ত করেননি কারণ এটি সর্বনাম এবং দ্বিবচনের চিহ্ন; যেমনটি কারো এই উক্তিতে দেখা যায়: 'আকালুনিল বারগিসু' (আমাকে মাছিরা খেয়ে ফেলেছে)। এটি 'কুলতু' এবং 'কালাত' শব্দদ্বয়ের 'তা' বর্ণের স্থলাভিষিক্ত। তাই তারা রফ-এর অবস্থায় একে বহাল রেখেছেন এবং জজমের অবস্থায় বিলুপ্ত করেছেন, ঠিক যেমন একবচনের ক্ষেত্রে তারা হরকত বিলুপ্ত করেন।
বিলুপ্তির ক্ষেত্রে নসব (যবরযুক্ত অবস্থা) জজমের অনুগামী হয়েছে, যেমনটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রে নসব জরের (জেরযুক্ত অবস্থা) অনুগামী হয়। কারণ ক্রিয়ার ক্ষেত্রে জজম হলো বিশেষ্যের জরের প্রতিরূপ। বিশেষ্যের যেমন জজমে কোনো অংশ নেই, তেমনি ক্রিয়ারও জরে কোনো অংশ নেই। এর উদাহরণ হলো আপনার এই উক্তি: 'হুমা ইয়াফআলানি' (তারা দুইজন করছে), 'লাম ইয়াফআলা' (তারা দুইজন করেনি) এবং 'লান ইয়াফআলা' (তারা দুইজন কখনোই করবে না)।
একইভাবে যখন ক্রিয়াসমূহের সাথে বহুবচনের চিহ্ন যুক্ত হয়, তখন দুটি অতিরিক্ত বর্ণ যুক্ত হয়। তবে পার্থক্য হলো, প্রথম বর্ণটি হয় ওয়াও এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি পেশযুক্ত হয় যাতে বহুবচন দ্বিবচনের সাথে মিলে না যায়। আর এর নুনটি বিশেষ্যের ন্যায় ফাতহাহ (জবর) যুক্ত হয়, যেমনটি আপনি দ্বিবচনের ক্ষেত্রে করেছিলেন। কারণ দ্বিবচন ও বহুবচনে এই দুটি বর্ণ এখানে সেভাবেই এসেছে যেভাবে বিশেষ্যের ক্ষেত্রে আসে। এটি আপনার এই উক্তির মতো: 'হুম ইয়াফআলুনা' (তারা করছে), 'লাম ইয়াফআলু' (তারা করেনি) এবং 'লান ইয়াফআলু' (তারা কখনোই করবে না)।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكذلك إذا ألحقتَ التأنيثَ في المخاطبة، إلاّ أنّ الأولى ياء وتَفتَحُ النونَ لأنّ الزيادة التي قبلها بمنزلة الزيادة التي في الجمع، وهي تكون في الأسماء في الجرّ والنصب، وذلك قولك: أنت تَفْعَلين ولم تفعِلى ولن تفعَلى.
وإذا أردتَ جمعَ المؤنَّث في الفعل المضارع ألحقتَ للعلامة نونَّا، وكانت علامةَ الإضمار والجمع فيمن قال أكلوني البراغيث، وأسكنتَ ما كان في الواحد حرفَ الأعراب، كما فعلت ذلك في فَعَلَ حين قلت فَعَلْت وفَعَلْنَ، فأُسكنَ هذا ههنا وبنى على هذه العلامة، كما أُسكن فَعَلَ، لأنّه فِعلٌ كما إنه فَعْلٌ، وهو متحرَّك كما أنّه متحرك، فليس هذا بأبعد فيها - إذا كانت هي وفعَلَ شيئاً واحداً - مِن يَفعَلُ، إذ جاز لهم فيها الإعراب حين ضارعت الأسماء وليست باسم، وذلك قولك: هن يَفْعَلْنَ ولن يفعلن ولم يفعَلْنَ. وتفتحها لأنّها نون جمع، ولا تُحذَف لأنها علامةُ إضمار وجمع في قول من قال أكلوني البراغيث. فالنون ههنا في يَفعَلْنَ بمنزلتها في فَعَلْنَ. وفُعل بلام يَفْعَلُ ما فُعل بلام فَعَلَ لما ذكرتُ لك، ولأنّها قد تُبنَى مع ذلك على الفتحة في قولك هل تفعلن. وألزموا لام فعل السكون وبنوها على العلامة وحذفوا الحركة لمّا زادوا، لأنها في الواحد ليست في آخرها حرفَ إعراب لما ذكرت لك.
وأعلم أنَّ بعض الكلام أثقلُ من بعض، فالأفعالُ أثقلُ من الأسماء لأنّ الأسماء هي الأُولَى، وهي أشدُّ تمكّنا، فِمن ثم لم يَلحقها تنوينٌ ولحقها الجزْم
একইভাবে যখন আপনি সম্বোধনের ক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্ন যুক্ত করবেন, তবে এক্ষেত্রে প্রথমটি হলো ‘ইয়া’ এবং আপনি ‘নুন’ বর্ণটিকে ফাতহা (জবর) প্রদান করবেন। কারণ এর পূর্ববর্তী অতিরিক্ত অংশটি বহুবচনের অতিরিক্ত চিহ্নের সমপর্যায়ভুক্ত, যা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে যার (জের) এবং নাসব (জবর) অবস্থায় হয়ে থাকে। আর তা হলো আপনার উক্তি: ‘তুমি করছ’ (আন্তি তাফআলীনা), ‘তুমি করোনি’ (লাম তাফআলী) এবং ‘তুমি কখনোই করবে না’ (লান তাফআলী)।
আর আপনি যখন বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ায় স্ত্রীলিঙ্গবাচক বহুবচন গঠন করতে চাইবেন, তখন চিহ্নের জন্য একটি ‘নুন’ যুক্ত করবেন। যারা ‘আকালুনীল বারাকীস’ (পোকামাকড়গুলো আমাকে খেয়ে ফেলেছে—এই রীতিতে কথা বলে) তাদের মতে এটি সর্বনাম ও বহুবচনের চিহ্ন। আর একবচনের ক্ষেত্রে যা বিভক্তির বর্ণ (হরফে ইরাব) ছিল, তাকে আপনি সাকিন করে দেবেন, যেভাবে আপনি ‘ফায়ালা’ শব্দের ক্ষেত্রে করেছিলেন যখন আপনি বলেছিলেন ‘ফায়ালতু’ এবং ‘ফায়ালনা’। সুতরাং একে এখানে সাকিন করা হয়েছে এবং এই চিহ্নের ওপর ভিত্তি করে মাবনি (অপরিবর্তনীয়) করা হয়েছে, যেমনটি ‘ফায়ালা’ শব্দকে সাকিন করা হয়েছিল। কেননা এটিও একটি ক্রিয়া যেমনটি সেটিও একটি ক্রিয়া, এবং এটিও হরকতযুক্ত যেমনটি সেটিও হরকতযুক্ত। অতএব ‘ইয়াফআলু’ থেকে এটি খুব একটা ভিন্ন নয়—যদি একে এবং ‘ফায়ালা’ কে একই প্রকৃতির ধরা হয়—যেহেতু বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে তাদের জন্য এতে বিভক্তি (ইরাব) গ্রহণ করা বৈধ হয়েছে যদিও এটি কোনো বিশেষ্য নয়। আর তা হলো আপনার উক্তি: ‘তারা (মহিলারা) করছে’ (হুন্না ইয়াফআলনা), ‘তারা কখনোই করবে না’ (লান ইয়াফআলনা) এবং ‘তারা করেনি’ (লাম ইয়াফআলনা)। আপনি একে ফাতহা (জবর) দেবেন কারণ এটি বহুবচনের ‘নুন’। আর এটি বিলুপ্ত হবে না কারণ যারা ‘আকালুনীল বারাকীস’ রীতি অনুসরণ করে তাদের নিকট এটি সর্বনাম ও বহুবচনের চিহ্ন। সুতরাং ‘ইয়াফআলনা’ শব্দের নুনটি এখানে ‘ফায়ালনা’ শব্দের নুনের সমপর্যায়ভুক্ত। আমি আপনার কাছে যা উল্লেখ করেছি সেই কারণে ‘ইয়াফআলু’-এর শেষ বর্ণের সাথে তাই করা হয়েছে যা ‘ফায়ালা’-এর শেষ বর্ণের সাথে করা হয়েছিল। তদুপরি আপনার উক্তি ‘হাল তাফআলান্না’-এর মতো ক্ষেত্রে এটি ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হতে পারে। তারা ক্রিয়ার শেষ বর্ণকে সাকিন করা আবশ্যক করেছেন এবং একে এই চিহ্নের ওপর ভিত্তি করে গঠন করেছেন এবং অতিরিক্ত অংশ যুক্ত করার সময় স্বরচিহ্ন বিলুপ্ত করেছেন। কারণ একবচনের ক্ষেত্রে এর শেষে কোনো বিভক্তির বর্ণ ছিল না, যার কারণ আমি আপনার নিকট বর্ণনা করেছি।
জেনে রাখুন যে, ভাষার কিছু অংশ অন্য অংশের চেয়ে অধিক ভারী। ক্রিয়া বিশেষ্যের চেয়ে অধিক ভারী, কারণ বিশেষ্য হলো মূল এবং এটি ব্যাকরণিক অবস্থানে অধিক সুদৃঢ়। এ কারণেই ক্রিয়াতে তানউইন যুক্ত হয় না এবং এতে জজম (সাকিন) যুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
والسكون، وإنَّما هي من الأسماء. ألا تَرى أنّ الفعل لا بدّ له من الاسم وإلاّ لم يكن كلاماً، والاسمُ قد يَستغنى عن الفعل، تقول: اللهُ إلهُنا، وعبدُ الله أخونا.
واعلم أن ما ضارع الفعلَ المضارِعَ من الأسماء في الكلام ووافقه في البناء أُجرَى لفظُه مُجرى ما يَستثقِلون ومنعوه ما يكون لَما يَستخفُّونَ وذلك نحو أَبْيَضَ وأَسْوَدَ وأَحْمَرَ وأَصفرَ، فهذا بناء أذْهَبُ وأَعْلَم فيكون في موضع الجرَّ مفتوحا، استثقلوه حين قارب في الكلام ووافق في البناء.
وأما مضارعته في الصفة فإنك لو قلت: أتأتني اليومَ قويٌّ، وأَلَا بارداً ومررت بجميل، كان ضعيفاً، ولم يكن في حُسنِ أتاني رجلٌ قويّ وألاّ ماءَ بارداً، ومررت برجل جميل. أفلا ترى أنّ هذا يقبح ههنا كما أن الفعل المضارع لا يُتكلَّم به إلاّ ومعه الاسم؛ لأنّ الاسم قبل الصفة، كما أنّه قبل الفعل. ومع هذا أنّك ترى الصفة تَجرى في معنى يَفْعَلُ، يعني هذا رَجلٌ ضاربٌ زيداً، وتَنْصِب كما ينصِب الفعلُ. وسترى ذلك إن شاء الله.
فإن كان اسماً كان أخفَّ عليهم، وذلك نحو أفْكَلٍ وأَكْلبٍ، ينَصرفانِ في النكرة.
ومضارعةُ أفعلَ الذي يكون صفةً للاسم أنّه يكون وهو اسمٌ صفة
...এবং স্থিরতা, বরং এগুলো বিশেষ্যেরই অন্তর্ভুক্ত। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, ক্রিয়ার জন্য বিশেষ্য অপরিহার্য, অন্যথায় তা বাক্য হয় না? অথচ বিশেষ্য কখনো কখনো ক্রিয়া থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে; যেমন আপনি বলেন: আল্লাহ আমাদের ইলাহ, এবং আল্লাহর বান্দা আমাদের ভাই।
জেনে রাখুন, বাক্যের মধ্যে যে সকল বিশেষ্য বর্তমানকালীন ক্রিয়ার সদৃশ হয় এবং গঠনে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেগুলোর উচ্চারণকে তারা (আরবরা) সেই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা তারা ভারী মনে করেন। ফলে তারা সেগুলোকে সেই সহজসাধ্যতা থেকে বঞ্চিত করেছেন যা তারা হালকা মনে করা শব্দের ক্ষেত্রে দিয়ে থাকেন। আর তা হলো যেমন: সাদা, কালো, লাল এবং হলুদ। এটি মূলত 'আমি যাচ্ছি' এবং 'আমি জানি'-এর গঠন। ফলে এটি যর-এর স্থানে যবরযুক্ত হয়; যখন এটি বাক্যে (ক্রিয়ার) নিকটবর্তী হলো এবং গঠনে সদৃশ হলো, তখন তারা এটিকে ভারী মনে করলেন।
আর গুণবাচকতার ক্ষেত্রে এর সাদৃশ্য হলো এই যে, আপনি যদি বলেন: "আজ কি আমার কাছে শক্তিশালী আসবে?", "কেন ঠান্ডা নয়?" এবং "আমি সুন্দরের পাশ দিয়ে গেলাম", তবে তা দুর্বল হবে। এটি "আমার কাছে একজন শক্তিশালী ব্যক্তি এসেছে", "কেন ঠান্ডা পানি নয়?" এবং "আমি একজন সুন্দর ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম"-এর মতো সাবলীল হবে না। আপনি কি দেখছেন না যে, এটি এখানে অশোভন ঠেকছে? যেমনটি বর্তমানকালীন ক্রিয়া বিশেষ্য ছাড়া উচ্চারিত হয় না; কারণ গুণের পূর্বে গুণান্বিত বিশেষ্য থাকে, যেমনটি ক্রিয়ার পূর্বেও বিশেষ্য থাকে। এর পাশাপাশি আপনি লক্ষ্য করবেন যে, গুণবাচক শব্দ বর্তমানকালীন ক্রিয়ার অর্থে পরিচালিত হয়, অর্থাৎ—"এই ব্যক্তিটি যায়িদকে প্রহারকারী", এবং এটি ক্রিয়ার মতোই নসব প্রদান করে। ইনশাআল্লাহ আপনি অচিরেই তা দেখতে পাবেন।
যদি তা বিশেষ্য হয় তবে তা তাদের কাছে সহজতর হয়, যেমন: 'আফকাল' এবং 'আকলুব'; এগুলো অনির্দিষ্ট অবস্থায় পূর্ণ রূপান্তরশীল হয়।
আর 'আফআল' ওজনের শব্দের সাদৃশ্য—যা বিশেষ্যের গুণ হিসেবে আসে—তা হলো এটি বিশেষ্য হওয়া সত্ত্বেও গুণবাচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
كما يكون الفعل صفة، وأمَّا يشكر فإنّه لا يكون صفة وهو اسم، وإنما يكون صفة وهو فعل.
وأعلم أن النكرة أخفُّ عليهم من المعرفة، وهي أشدُّ تمكُّنا؛ لأنّ النكرة أولّ، ثم يَدْخلُ عليها ما تُعَرَّف به. فمن ثَمّ أكثرُ الكلام ينصرف في النكرة.
وأعلم أن الواحد أشدُّ تمكنا من الجميع، لأنّ الواحد الأوّل، ومن ثم لم يَصْرِفوا ما جاء من الجميع ما جاء على مثال ليس يكون للواحد، نحو مَساجِدَ ومَفاتيحَ.
واعلم أن المذكَّر أخفّ عليهم من المؤنّث لأنّ المذكر أوّل، وهو أشدُّ تمكنا، وإنّما يخرج التأنيثُ من التذكير. ألا ترى أنّ " الشيء " يقع على كلَّ ما أخبر عنه من قبل أن يُعْلَم أذكرٌ هو أو أُنثى، والشيء ذكر، فالتنوين علامة للأمكن عندهم والأخفَّ عليهم، وتركُه علامةٌ لما يستثقلون. وسوف يُبَيَّن ما ينصرف وما لا ينصرف إن شاء الله.
وجميع ما لا ينصرف إذا أدخلتَ عليه الألفَ واللام أو أضيف انجرَّ؛ لأنها
যেমন ক্রিয়া বিশেষণ হয়, কিন্তু 'ইয়াশকুরু' (নাম হিসেবে) বিশেষণ হয় না যখন তা বিশেষ্য হয়, বরং এটি বিশেষণ হয় যখন তা ক্রিয়া হিসেবে থাকে।
জেনে রাখুন যে, অনির্দিষ্ট বিশেষ্য তাদের কাছে নির্দিষ্ট বিশেষ্য অপেক্ষা অধিকতর হালকা এবং এটি অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত; কারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যই মূল, এরপর তাতে এমন কিছু প্রবেশ করে যার মাধ্যমে তা নির্দিষ্ট হয়। এই কারণেই অধিকাংশ কথা অনির্দিষ্ট অবস্থায় রূপান্তরযোগ্য হয়।
জেনে রাখুন যে, একবচন বহুবচন অপেক্ষা অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত; কারণ একবচনই মূল। এই কারণে বহুবচনের এমন রূপ যা একবচনের জন্য প্রযোজ্য নয় (যেমন: মাসাজিদ এবং মাফাতিহ), সেগুলোকে তারা রূপান্তরযোগ্য হিসেবে গণ্য করেন না।
জেনে রাখুন যে, পুংলিঙ্গ তাদের নিকট স্ত্রীলিঙ্গ অপেক্ষা হালকা; কারণ পুংলিঙ্গই মূল এবং তা অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত। স্ত্রীলিঙ্গ মূলত পুংলিঙ্গ থেকেই উদ্ভূত হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, কোনো বিষয় পুরুষবাচক নাকি স্ত্রীবাচক তা জানার পূর্বেই 'বস্তু' শব্দটি প্রতিটি সংবাদকৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়? আর 'বস্তু' শব্দটি পুংলিঙ্গ। সুতরাং তানভীন তাদের নিকট অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত ও হালকা হওয়ার লক্ষণ, আর তা পরিত্যাগ করা তাদের নিকট ভারী হওয়ার লক্ষণ। যা রূপান্তরযোগ্য এবং যা রূপান্তরযোগ্য নয়, তা ইনশাআল্লাহ অচিরেই ব্যাখ্যা করা হবে।
আর সমস্ত অ-রূপান্তরযোগ্য শব্দে যখন আলিফ-লাম যুক্ত করা হয় অথবা তা সম্বন্ধযুক্ত হয়, তখন তা মাজরুর (জের বিশিষ্ট) হয়; কারণ এটি...
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أسماء أدخل عليها ما يدخل على المنصرف. ودخل فيها الجر كما يَدخلُ في المنصرف، ولا يكون ذلك في الأفعال، وأمِنوا التنوينَ. فجميع ما يتْرَكُ صرفهُ مضارَعٌ به الفعل، لأنّه إنما فُعِل ذلك به لأنه ليس له تمكُّنُ غيره، كما أنَّ الفعل ليس له تمكّنُ الاسم.
وأعلم أن الآخِرَ إذا كان يسكن في الرفع حُذف في الجزْم، لئلا يكون الجزم بمنزلة الرفع، فحذفوا كما حذفوا الحركة ونون الاثنين والجَمِيع. وذلك قولك لم يَرْمِ ولم يَغْزُ ولم يَخْشَ. وهو في الرفع ساكن الآخر، تقول: هو يَرْمِي ويَغْزُو ويَخْشَى.
هذا باب المسند والمسند إليهوهما ما لا يَغْنَى واحدٌ منهما عن الآخر، ولا يَجد المتكلّمُ منه بداً. فمن ذلك الاسم المتدأ والمبنىُّ عليه. وهو قولك عبدُ الله أخوك، وهذا أخوك.
ومثل ذلك يذهب عبد الله، فلا بدَّ للفعل من الاسم كما لم يكن للاسم الأوَّلِ بدٌ من الآخرِ في الابتداء.
ومما يكون بمنزلة الابتداء قولك: كانَ عبدُ الله منطلقا، ولَيْتَ زيدا منطلقٌ؛ لأن هذا يَحتاج إلى ما بعده كاحتياج المبتدأ إلى ما بعده.
واعلم أن الاسم أولُ أحواله الابتداء، وإنما يَدخل الناصبُ والرافع
এমন কিছু বিশেষ্য যার মধ্যে পূর্ণ রূপান্তরশীল (মুনসারিফ) বিশেষ্যের ন্যায় পরিবর্তন ঘটে। এর মধ্যে ‘জর’ (ষষ্ঠী বিভক্তি) প্রবেশ করে যেমনটি তা মুনসারিফ শব্দের মধ্যে প্রবেশ করে, আর এটি ক্রিয়ার (ফেল) ক্ষেত্রে ঘটে না; এবং তারা তানউইন থেকে নিরাপদ থাকে। সুতরাং যে সকল শব্দের রূপান্তর বর্জন করা হয় (গায়রে মুনসারিফ) তা ক্রিয়ার সদৃশ, কেননা এর সাথে এমন আচরণ করা হয়েছে কারণ এর অন্যান্য শব্দের ন্যায় স্থায়িত্ব (তামাক্কুন) নেই, ঠিক যেমন ক্রিয়ার বিশেষ্যের ন্যায় স্থায়িত্ব নেই।
এবং জেনে রাখুন যে, রফ্ (প্রথমা বিভক্তি) অবস্থায় শব্দের শেষাক্ষর যদি সাকিন (ব্যঞ্জনান্ত) হয়, তবে জজম্ (অনুজ্ঞা বা শর্তমূলক অবস্থা) অবস্থায় তা বিলুপ্ত হয়ে যায়, যাতে জজম্ রফ্-এর সমপর্যায়ের না হয়ে যায়। ফলে তারা (আরবগণ) তা বিলোপ করেছেন যেমন তারা হরকত এবং দ্বিবচন ও বহুবচনের নুন বিলোপ করেছেন। তার উদাহরণ হলো আপনার বলা: ‘লাম ইয়ারমি’, ‘লাম ইয়াগজু’ এবং ‘লাম ইয়াখশা’। অথচ রফ্ অবস্থায় এগুলোর শেষাক্ষর সাকিন থাকে; যেমন আপনি বলেন: ‘হুয়া ইয়ারমি’, ‘ইয়াগজু’ ও ‘ইয়াখশা’।
এটি মুসনাদ (বিধেয়) ও মুসনাদ ইলাইহি (উদ্দেশ্য) সংক্রান্ত অনুচ্ছেদএ দুটি এমন বিষয় যার একটি অন্যটি ছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় এবং বক্তার জন্য এ দুটি ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং যার ওপর ভিত্তি করা হয়েছে (খবর বা বিধেয়)। যেমন আপনার কথা: ‘আবদুল্লাহ আপনার ভাই’ এবং ‘ইনি আপনার ভাই’।
এর অনুরূপ হলো ‘আবদুল্লাহ যাচ্ছে’; সুতরাং ক্রিয়ার জন্য বিশেষ্য অপরিহার্য, যেমনটি প্রারম্ভিক অবস্থায় (ইবতিদা) প্রথম বিশেষ্যের জন্য দ্বিতীয়টি অপরিহার্য ছিল।
এবং যা ইবতিদা বা প্রারম্ভিক অবস্থার স্থলাভিষিক্ত হয় তার উদাহরণ হলো আপনার বলা: ‘কানা আবদুল্লাহু মুনতালিকান’ (আবদুল্লাহ প্রস্থানকারী ছিল) এবং ‘লাইতা যাইদান মুনতালিকুন’ (হায়, যাইদ যদি প্রস্থানকারী হতো); কারণ এটি তার পরবর্তী অংশের মুখাপেক্ষী, যেমন মুবতাদা তার পরবর্তী অংশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে।
জেনে রাখুন যে, বিশেষ্যের প্রাথমিক অবস্থা হলো ইবতিদা, আর এর ওপর কেবল নাসিব (নসব প্রদানকারী) ও রাফি‘ (রফ্ প্রদানকারী) প্রবেশ করে...
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
سوى الابتداء والجارُّ على المبتدأ. ألا ترى أن ما كان مبتدأ قد تَدخل عليه هذه الأشياء حتى يكون غير مبتدأ، ولا تصل إلى الابتداء ما دام مع ما ذكرت لك إلا أن تَدعَه. وذلك أنّك إذا قلت عبدُ الله منطلقٌ إن شئت أدخلت رأيتُ عليه فقلت رأيتُ عبدَ الله منطلقا، أو قلت كان عبدُ الله منطلقا، أو مررتُ بعبد الله منطلقا، فالمبتدأ أول جزء كما كان الواحدُ أول العدد، والنكرةُ قبل المعرفة.
هذا باب اللفظ للمعانياعلم أنّ من كلامِهم اختلاف اللفظينِ لاختلاف المعنيينِ، واختلافَ اللفظينِ والمعنى واحدٌ، واتفاق اللفظين واختلاف المعنيين. وسترى ذلك إن شاء الله تعالى.
فاختلافُ اللفظين لاختلاف المعنيين هو نحو: جلسَ وذهبَ. واختلاف اللفظين والمعنى واحدٌ نحو: ذهبَ وانطلقَ. واتفاق اللفظين والمعنى مختلِف قولك: وجَدتُ عليه من المَوْجِدة، ووجَدت إذا أردت وجِدان الضّالَّة. وأشباه هذا كثيرٌ.
هذا باب ما يكون في اللفظ من الأعراضاعلم أنّهم مما يَحذفون الكلم وإنْ كان أصلُه في الكلام غير ذلك،
প্রারম্ভিক অবস্থা ব্যতীত এবং যার-মাজরুর মুবতাদার ওপর নির্ভরশীল। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যা মুবতাদা ছিল তার ওপর এই বিষয়গুলো এমনভাবে প্রবেশ করতে পারে যে তখন তা আর মুবতাদা থাকে না? আর আপনি প্রারম্ভিক অবস্থায় পৌঁছাতে পারবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি যা উল্লেখ করেছি তা বিদ্যমান থাকে, যদি না আপনি তা বর্জন করেন। এর উদাহরণ হলো, যখন আপনি বলেন ‘আবদুল্লাহ প্রস্থানকারী’, আপনি চাইলে এর আগে ‘আমি দেখেছি’ যুক্ত করে বলতে পারেন ‘আমি আবদুল্লাহকে প্রস্থানকারী অবস্থায় দেখেছি’, অথবা বলতে পারেন ‘আবদুল্লাহ প্রস্থানকারী ছিল’, কিংবা ‘আমি প্রস্থানরত আবদুল্লাহর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’। সুতরাং মুবতাদা হলো প্রথম অংশ, যেমন এক হলো সংখ্যার প্রথম অংশ; আর অনির্দিষ্ট বিশেষ্য নির্দিষ্ট বিশেষ্যের পূর্বে আসে।
এটি অর্থের সাপেক্ষে শব্দের ব্যবহার বিষয়ক অধ্যায়জেনে রাখুন যে, আরবদের বাচনভঙ্গিতে রয়েছে: ভিন্ন ভিন্ন অর্থের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শব্দের ব্যবহার, আবার ভিন্ন ভিন্ন শব্দ কিন্তু অর্থ অভিন্ন হওয়া, এবং শব্দ অভিন্ন কিন্তু অর্থ ভিন্ন হওয়া। ইনশাআল্লাহ আপনি অচিরেই তা দেখতে পাবেন।
ভিন্ন ভিন্ন অর্থের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহারের উদাহরণ হলো যেমন: ‘সে বসেছে’ এবং ‘সে গিয়েছে’। ভিন্ন ভিন্ন শব্দ কিন্তু অর্থ অভিন্ন হওয়ার উদাহরণ যেমন: ‘সে গিয়েছে’ এবং ‘সে প্রস্থান করেছে’। আর শব্দ অভিন্ন কিন্তু অর্থ ভিন্ন হওয়ার উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: ‘আমি তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছি’ (ক্ষোভ প্রকাশ অর্থে), এবং ‘আমি খুঁজে পেয়েছি’ (হারানো বস্তু পাওয়া অর্থে)। এই জাতীয় আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।
এটি শব্দের বাহ্যিক রূপান্তর ও পরিবর্তন বিষয়ক অধ্যায়জেনে রাখুন যে, আরবরা অনেক সময় শব্দ বিলোপ করে থাকে, যদিও বাক্যে শব্দটির মূল রূপ অন্যরকম ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويحذفون ويعوِّضون، ويَستغنون بالشيء عن الشيء الذي أصله في كلامهم أن يستعمل حتَّى يصير ساقطاً. وسترى ذلك إن شاء الله.
فما حُذف وأصله في الكلام غير ذلك. لَمْ يَكُ ولا أَدْرِ، وأشباهُ ذلك. وأما استغناؤهم بالشيء عن الشيء فإنّهم يقولون يَدَعُ ولا يقولون وَدَع، استغنوا عنها بتَرَكَ. وأشباهُ ذلك كثير.
والعوض قولهم: زنادقة وزناديق، وفرازنة وفرازين، حذفوا الياء وعوّضوها الهاءَ. وقولهم أسْطاع يُسْطيعُ وإنّما هي أطاع يُطيع، زادوا السينَ عوضا من ذهاب حركة العين من أَفْعَلَ. وقولهم الّلهُم، حذفوا " يا " وألحقوا الميمَ عوضاً.
هذا باب الاستقامة من الكلام والإحالةفمنه مستقيم حسنٌ، ومحال، ومستقيم كذب، ومستقيم قبيح، وما هو محال كذب.
فأما المستقيم الحسن فقولك: أتيتُك أمْسِ وسآتيك غداً، وسآتيك أمس.
তারা বিলোপ করে এবং স্থলাভিষিক্ত করে, আর তারা এক বিষয়ের পরিবর্তে অন্য বিষয়ের মাধ্যমে এমন শব্দ থেকে অমুখাপেক্ষী হয় যার মূল তাদের ভাষায় ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল, যতক্ষণ না তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর তুমি তা ইনশাআল্লাহ দেখতে পাবে।
যা বিলুপ্ত করা হয়েছে অথচ বাক্যে তার মূলরূপ ছিল ভিন্ন। যেমন: 'লাম ইয়াকু' এবং 'লা আদরি' এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। আর এক জিনিসের পরিবর্তে অন্য জিনিসের মাধ্যমে তাদের অমুখাপেক্ষী হওয়ার বিষয়টি হলো, তারা 'ইয়াদাউ' বলে কিন্তু 'ওয়াদা' বলে না; তারা এর পরিবর্তে 'তারাআকা' ব্যবহারের মাধ্যমে অমুখাপেক্ষী হয়েছে। আর এই জাতীয় উদাহরণ অনেক।
আর স্থলাভিষিক্তকরণের উদাহরণ হলো তাদের উক্তি: 'যানাদিকাহ' ও 'যানাদিক', এবং 'ফারাজিনাহ' ও 'ফারাজিন'; তারা 'ইয়া' বিলোপ করেছে এবং তার পরিবর্তে 'হা' নিয়ে এসেছে। আর তাদের উক্তি 'আসতাআ' 'ইউসতিউ', অথচ এটি মূলত ছিল 'আতাআ' 'ইউতিউ'; তারা 'আফআলা' ওজনের 'আইন' বর্ণের হরকত বিলুপ্ত হওয়ার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'সিন' বৃদ্ধি করেছে। এবং তাদের উক্তি 'আল্লাহুম্মা'; তারা 'ইয়া' বিলোপ করেছে এবং তার পরিবর্তে শেষে 'মিম' যুক্ত করেছে।
এটি বাক্যের সঠিকতা ও অসম্ভাব্যতা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদতার মধ্যে রয়েছে সঠিক-সুন্দর, অসম্ভব, সঠিক-মিথ্যা, সঠিক-কদর্য এবং যা অসম্ভব-মিথ্যা।
সঠিক ও সুন্দরের উদাহরণ হলো তোমার কথা: "আমি গতকাল তোমার কাছে এসেছি" এবং "আমি আগামীকাল তোমার কাছে আসব", (আর অসম্ভবের উদাহরণ হলো) "আমি গতকাল তোমার কাছে আসব"।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأما المستقيم الكذب فقولك: حَمَلتُ الجبلَ، وشربت ماء البحر " ونحوه.
وأما المستقيم القبيح فأنْ تضع اللفظ في غير موضعه، نحو قولك: قد زيداً رأيت، وكي زيداً يأتيك، وأشباه هذا.
وأما المحال الكذب فأن تقول: سوف أشرب ماء البحر أمسٍ.
هذا باب ما يحتمل الشعر اعلم أنه يجوز في الشعر ما لا يجوز في الكلام من صرف ما لا ينصرف، يشبهونه بما قد حُذف واستعمل محذوفا، كما قال العجَّاج:
قَواطِناً مكةَ من وُرْقِ الحَمِى
আর যা সঠিক অথচ মিথ্যা, তা হলো তোমার উক্তি: "আমি পাহাড় বহন করেছি" এবং "আমি সমুদ্রের পানি পান করেছি" এবং এ জাতীয় কথা।
আর যা সঠিক অথচ কুৎসিত, তা হলো শব্দকে তার নিজ স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে স্থাপন করা। যেমন তোমার উক্তি: "নিশ্চয়ই জায়েদকে আমি দেখেছি" এবং "যাতে জায়েদ তোমার নিকট আসে", এবং এর সদৃশ বিষয়সমূহ।
আর যা অসম্ভব মিথ্যা, তা হলো তোমার এ কথা বলা: "আমি গতকাল সমুদ্রের পানি পান করব।"
এটি কাব্যে যা অনুমোদিত সেই সংক্রান্ত অধ্যায়। জেনে রাখো যে, কাব্যে এমন কিছু জায়েজ যা সাধারণ গদ্যে জায়েজ নয়; যেমন যা অপরিবর্তনীয় (গায়রে মুনসারিফ) তাকে পরিবর্তনশীল (মুনসারিফ) করা। তারা একে এমন শব্দের সাথে তুলনা করে যা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং বিলুপ্ত অবস্থাতেই ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন আল-আজ্জাজ বলেছেন:
মক্কায় বসবাসকারী ধূসর রঙের কবুতরসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يريد الحمام. وقال خُفاَف بن نُدْبة السُّلَمىّ:
كنواح ريش حمامة نجدية
… ومسحت بالثتين عصف الإثمد
وكما قال:
دارٌ لسُعْدَى إذْهِ من هَواكا
وقال:
فَطِرتُ بمُنْصُلِى في يَعْمَلاتٍ
… دَوامِى الأَيِد يَخْبِطْنَ السَّريحاَ
وكما قال النَّجاشّي:
فلستُ بآتِيه ولا أَستطِيعُه
… ولاكِ أسْقِني إِن كان ماؤُكِ ذا فضل
তিনি এর দ্বারা কবুতর উদ্দেশ্য করেছেন। খুফাফ ইবনে নুদবাহ আস-সুলামী বলেন:
নাজদীয় কবুতরের পাখার বিলাপের ন্যায়
… এবং আমি দুই গন্ডদেশে ইসমদ সুরমার চূর্ণ লেপন করেছি
যেমনটি তিনি বলেছেন:
সু’দার এক গৃহ, যখন তা ছিল তোমার ভালোবাসার অংশ
এবং তিনি বলেছেন:
আমি আমার তরবারি নিয়ে কর্মঠ উষ্ট্রীগুলোর মাঝে ক্ষিপ্রবেগে চললাম
… যাদের রক্তাক্ত হাতগুলো পাদুকাকে আঘাত করছিল
এবং নাজাশি যেমন বলেছেন:
আমি তার কাছে আসছি না এবং আমি তা করতে সক্ষমও নই
… তবে তোমার নিকট অতিরিক্ত পানি থাকলে আমাকে পান করাও
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وكما قال مالك بن خُرَيْمٍ الهمْدانيّ:
فإنْ يَكُ غَثَا أو سَميناً فإنّنى
… سأَجْعَلُ عينَيْه لنفسه مَقنْعَاَ
وقال الأعشى:
وأخو الغَوانِ متَى يشأ يصرمنه
… ويَعُدْنَ أَعداءً بُعَيْدَ وِدادِ
وربَّما مَدُّوا مثل مَساجد ومَنابر، فيقولون مَساجيد ومنابير، شبّهوه بما جُمع على غير واحدهِ في الكلام، كما قال الفرزدق:
تَنْفِي يَداها الحَصَى في كلَّ هاجرة
… نَفْىَ الدَّناَنيرِ تَنقادُ الصَّياريفِ
যেমনটি মালিক ইবন খুরাইম আল-হামদানি বলেছেন:
তা অসার হোক কিংবা সারগর্ভ হোক, আমি অবশ্যই
… তার চোখকে তার নিজের জন্য সন্তুষ্টকারী করে তুলব।
এবং আল-আ'শা বলেছেন:
আর সুন্দরীদের সঙ্গী, তারা যখনই ইচ্ছা করে তাকে ত্যাগ করে
… এবং বন্ধুত্বের অল্পকাল পরেই তারা শত্রুতে পরিণত হয়।
কখনও কখনও তারা 'মাসাজিদ' এবং 'মানাবির'-এর মতো শব্দগুলোকে দীর্ঘায়িত করে, ফলে তারা বলে 'মাসাজীদ' এবং 'মানাবীর'; তারা একে ভাষাশৈলীর এমন শব্দের সাথে তুলনা করেছে যা তার একবচন থেকে ভিন্নরূপে বহুবচন করা হয়, যেমনটি আল-ফারাজদাক বলেছেন:
প্রতিটি মধ্যাহ্নের খরতাপে তার সম্মুখপদগুলো পাথরগুলোকে এমনভাবে দূরে সরিয়ে দেয়
… যেমনটি মুদ্রা পরীক্ষকগণ দিনারগুলোকে বাছাই করার সময় সরিয়ে দেন।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد يبلغون بالمعتلّ الأصل فيقولون رداد في رادّ، وضننوا في ضنّوا، ومررتم بجواري قبل. قال قَعْنَبُ بن أمّ صاحب:
مَهْلاً أَعاذِلَ قد جربت من خلقى
… أنى أجود لأقوام وإن ضَنِنوا
ومن العرب من يثقَّل الكلمةَ إذا وقف عليها ولا يثقِّلها في الوصل، فإذا كان في الشعر فهم يُجرونه في الوصل على حاله في الوقف نحو: سَبْسَبَّا وكَلْكلاّ لأنهم قد يثقلونه في الوقف، فأثبتوه في الوصل كما أثبتوا الحذف في قوله لنفسه مقنعا، وإنما حذفُه في الوقف. قال رؤبة:
ضَخْمٌ يُحِبُّ الخُلُقَ الأَضْخَمَّا
يُروى بكسر الهمزة وفتحها. وقال بعضهم: " الضَّخَمَّا " بكسر الضاد.
অনেক সময় তারা ইল্লতযুক্ত মূল শব্দকে তার আসল রূপের দিকে নিয়ে যায়। ফলে তারা 'রাদ্দ' এর স্থলে 'রাদা-দ' বলে এবং 'দান্নূ' এর স্থলে 'দানিনূ' বলে। (যেমন তারা বলে) "তোমরা ইতোপূর্বে আমার দাসীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিলে"। কা'নাব ইবনে উম্মে সাহিব বলেন:
থামো হে তিরস্কারকারী! তুমি তো আমার স্বভাব পরীক্ষা করেছ
… যে আমি মানুষের প্রতি বদান্যতা প্রদর্শন করি যদিও তারা কার্পণ্য করে।
আরবদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা কোনো শব্দের ওপর বিরতি দিলে (ওয়াকফ করলে) শব্দটিকে দ্বিত্ব বা তাশদীদযুক্ত করেন, কিন্তু মিলিয়ে পড়ার (ওয়াসল) সময় তা করেন না। তবে কবিতার ক্ষেত্রে তারা মিলিয়ে পড়ার সময়ও বিরতির অবস্থার ন্যায় শব্দটিকে দ্বিত্ব উচ্চারণ করেন; যেমন: 'সাবসাব্বা' এবং 'কালকাল্লা'। যেহেতু তারা বিরতির সময় শব্দগুলোকে দ্বিত্ব করেন, তাই তারা মিলিয়ে পড়ার সময়ও তা বহাল রেখেছেন, যেমনটি তারা বিরতির অবস্থার বিলুপ্তিকেও বহাল রেখেছিলেন... অথচ তার বিলুপ্তি কেবল বিরতির ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। রু'বাহ বলেন:
বিশালদেহী, তিনি সবচেয়ে মহান চরিত্র পছন্দ করেন।
এটি হামযার কাসরা এবং ফাতহাহ—উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তাদের কেউ কেউ যদ বর্ণে কাসরা যোগে 'আদ-দিকাম্মা' বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال أيضاً ي مثله، وهو الشمَّاخ:
له زَجَلٌ كأنهُ صوتُ حادٍ
… إذا طَلب الوَسيقَة أو زَميرُ
وقال حَنظلة بن فاتك:
وأَيْقَنَ أنّ الخيلَ إنْ تَلتبِسْ به
… يكنْ لفَسيلِ النّخلِ بعدَهُ آبِرُ
وقال رجلٌ من باهلة:
أو مُعْبَرُ الظّهْرِ يُنْبِي عن وَلِيتهِ
… ما حجّ رَبَّهُ في الدنيا ولا اعتمروا
وقال الأعشى:
وما لَهُ من مجدٍ تليدٍ وما لَهُ
… من الريح حظ لا الجنوب ولا الصبا
তিনি অনুরূপ বিষয়ে আরও বলেছেন, আর তিনি হলেন আশ-শাম্মাখ:
তার রয়েছে এমন উচ্চৈঃস্বর যা যেন কোনো উটচালকের গান
… যখন সে বিতাড়িত পশুপালের অন্বেষণ করে অথবা কোনো বাঁশির সুর।
হানজালা ইবনে ফাতিক বলেছেন:
এবং সে নিশ্চিত হলো যে, যদি অশ্বারোহী বাহিনী তাকে ঘিরে ফেলে
… তবে তার পরে খেজুরের চারাগুলোর পরাগায়ন করার জন্য অন্য কেউ থাকবে।
বাহিলা গোত্রের এক ব্যক্তি বলেছেন:
অথবা এমন বলিষ্ঠ পিঠের উট যা তার জিনের গদি সম্পর্কে সংবাদ দেয়
… সে দুনিয়াতে তার রবের উদ্দেশ্যে হজ করেনি এবং তারা উমরাহও করেনি।
আল-আশা বলেছেন:
এবং তার কোনো প্রাচীন মর্যাদা নেই এবং তার জন্য
… বায়ুর কোনো অংশ নেই, না দক্ষিণ বায়ু আর না পুবালি হাওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল কিতাব লিসিবাওয়াইহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقال:
بيناهُ في دار صدقٍ قد أقام بها
… حيناً يُعَلَّلُناَ وما نُعلَّلهُ
ويحتمِلون قُبحَ الكلام حتَّى يضعوه في غير موضعه، لأنه مستقيم ليس فيه نقيض فمن ذلك قوله:
صَددْتِ فأطولتِ الصُّدودَ وقلّما
… وصال على طُولِ الصُّدود يَدومُ
وإنما الكلام: وقلَّ ما يَدوم وصالٌ.
وجعلوا ما لا يَجرى في الكلام إلَاّ ظرفاً بمنزلة غيره من الأسماء، وذلك قول المَّرار بن سَلَامة العِجلىّ:
ولا يَنْطِقُ الفحشاءَ مَنْ كْان منهْم
… إذا جلسوا مِنَّا ولا مِنْ سَوائنا
এবং তিনি বলেছেন:
আমরা তাকে সত্যের আলয়ে পেয়েছিলাম যেখানে সে অবস্থান করছিল
… কিছু সময় সে আমাদের আশ্বস্ত করছিল অথচ আমরা তাকে আশ্বস্ত করছিলাম না।
এবং তারা বাক্যের বাহ্যিক কাঠিন্য সহ্য করে নেয় যতক্ষণ না তারা একে তার সঠিক স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে স্থাপন করে, কারণ এটি সঠিক এবং এতে কোনো স্ববিরোধিতা নেই। এর উদাহরণ হলো তাঁর উক্তি:
তুমি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছ এবং বিমুখতাকে দীর্ঘায়িত করেছ, আর বিমুখতা দীর্ঘ হলে
… সখ্যতা খুব কমই স্থায়ী হয়।
মূলত বাক্যটি হলো: এবং সখ্যতা খুব কমই স্থায়ী হয়।
আর তারা এমন শব্দকে যা বাক্যে কেবল অধিকরণ (জরফ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, অন্যান্য বিশেষ্যের (ইসম) সমপর্যায়ে গণ্য করেছে। আর এটি হলো আল-মাররার ইবনে সালামাহ আল-ইজলির উক্তি:
তাদের মধ্যে কেউ যখন আমাদের সাথে অথবা আমাদের ব্যতীত অন্য কারো সাথে বসে,
… তখন সে অশ্লীল কথা বলে না।