(খণ্ড: ১) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: -)
التراويح أكثر من ألف عام في المسجد النبوي   (عطية سالم)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: التراويح أكثر من ألف عام في المسجد النبوي

المؤلف: عطية بن محمد سالم (ت 1420هـ)

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাসজিদুন নববীতে এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে তারাবিহ   (আতিয়্যাহ সালিম)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রীয় মাসায়েল

গ্রন্থ: মাসজিদুন নববীতে এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে তারাবিহ

লেখক: আতিয়্যাহ ইবনে মুহাম্মাদ সালিম (মৃ. ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকী

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং খণ্ড নম্বর হলো সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৫৮)
‌‌أولا: العهد النبوي

‌‌مدخل

…

التراويح أكثر من ألف عام

بقلم الشيخ عطية محمد سالم القاضي بالمحكمة الكبرى بالمدينة

بحث تاريخي يحمل روح الفقهاء يقدمه فضيلة الكاتب للقراء. والموضوع في الحقيقة حساس يتقبل كثيرا من المناقشة ولا يزال يحتاج إلى كثيرا من البحث والتنقيب ولذلك فإن فضيلة المؤلف ببحثه هذا الجديد يثير الفرصة مرة أخرى لإيفاء (التراويح) حقها والهدف الأول والأخير هو الحق ولذلك فإنه ينتظر بفارغ الصبر آراء القراء وملاحظاتهم وفوائدهم حول الموضوع الذي سيستمر في حلقات متتابعة إن شاء الله.

(المجلة)

أولا: العهد النبوي:

لا شك أن ميدان التشريع وأصله إنما هو ما يكون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وأن العصر النبوي هو عصر التشريع لقوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} ، ولقوله تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} إلى غير ذلك من النصوص ويلحق بذلك عصر الخلفاء الراشدين لقوله صلى الله عليه وسلم: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي".
প্রথম: নববী যুগ

ভূমিকা

…

হাজার বছরেরও বেশি সময়ের তারাবিহ

মদিনার গ্র্যান্ড কোর্টের বিচারক শায়খ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিমের লেখনী

ফকিহদের দৃষ্টিভঙ্গিসমৃদ্ধ একটি ঐতিহাসিক গবেষণা সম্মানিত লেখক পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অনেক আলোচনার অবকাশ রাখে এবং এটি এখনও ব্যাপক অনুসন্ধান ও গবেষণার দাবি রাখে। তাই সম্মানিত লেখক তার এই নতুন গবেষণার মাধ্যমে 'তারাবিহ'-এর হক আদায়ের আরেকটি সুযোগ তৈরি করেছেন। এর প্রথম ও শেষ লক্ষ্য হলো সত্য উদঘাটন। অতএব, তিনি এই বিষয়ের ওপর পাঠকদের মতামত, পর্যবেক্ষণ এবং তাত্ত্বিক সংযোজনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, যা ইনশাআল্লাহ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে।

(সাময়িকী)

প্রথম: নববী যুগ:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, শরয়ি বিধানের ক্ষেত্র ও এর মূল উৎস হলো তা-ই যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এসেছে। আর নববী যুগই হলো বিধান প্রণয়নের যুগ; কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।" - এ জাতীয় আরও অনেক দলিল রয়েছে। এর সাথে খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগও অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো।"
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
والتراويح وإن اختصت برمضان فإنها داخلة في عموم قيام الليل، وقد جاءت النصوص في عموم قيام الليل، وفي خصوص تراويح رمضان.

فمن عموم التهجد بالليل قوله تعالى: {وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَك} ، {يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمِ اللَّيْلَ إِلَاّ قَلِيلاً} .

أما خصوص قيام رمضان فالواقع أنها وإن كانت أخص من قيام الليل من حيث الزمن، فهي أعم منه من جهة الطلب.
তারাবিহ যদিও রমজানের সাথে নির্দিষ্ট, তবুও তা রাতের সাধারণ কিয়ামের (তাহাজ্জুদ) অন্তর্ভুক্ত। আর রাতের কিয়ামের সাধারণ ফজিলাত এবং রমজানের তারাবিহ’র বিশেষত্ব সম্পর্কে শরয়ি দলিলসমূহ বর্ণিত হয়েছে।

রাতের সাধারণ তাহাজ্জুদ সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: “আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন, যা আপনার জন্য অতিরিক্ত কর্তব্য,” এবং “হে চাদর আবৃত! রাতের সল্প সময় বাদে সালাতে দণ্ডায়মান হোন।”

আর রমজানের বিশেষ কিয়ামের ব্যাপারে বাস্তবতা হলো, সময়ের বিচারে এটি সাধারণ রাতের কিয়াম অপেক্ষা অধিকতর সুনির্দিষ্ট হলেও, শরয়ি নির্দেশ বা কাম্য হওয়ার দিক থেকে এটি তার চেয়েও অধিকতর ব্যাপক।
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌التدرج في مشروعية التراويح:

وبالتأمل في نصوص التراويح يظهر أنها أخذت سبيل التدرج والتطور التصاعدي وذلك كالآتي:

أ - الترغيب المطلق: كما في حديث أبي هريرة عند مسلم وساقه البيهقي ج2ص492 ما نصه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "من قام رمضان إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه". قال البيهقي: "رواه مسلم في الصحيح عن يحي بن يحي، ورواه البخاري عن عبد الله بن يوسف عن مالك". ومثله عن أبي هريرة عند البيهقي، وقال: "رواه البخاري عن يحي بن بكير". فهذا ترغيب من غير تحديد بعدد ولا إلزام بفعل ولهذا قال أبو هريرة في سنن البيهقي: "إن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يرغبهم في قيام رمضان من غير أن يأمرهم فيها بعزيمة فيقول: "من قام رمضان إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه".

ب- ثم جاء التنصيص على أن قيامه سنة مفروضة بفرضية صيامه كما في حديث عبد الرحمن بن عوف أن رسول الله صلى الله عليه ذكر شهر رمضان فقال: "إن رمضان شهر افترض الله صيامه وإني سننت للمسلمين قيامه فمن صامه وقامه إيمانا واحتسابا خرج من الذنوب كيوم ولدته أمه". ففي هذا النص تدرج من مطلق الطلب إلى أنه سنة وزاد في قوتها اقتران سنية قيامه بفرضية صيامه كما تفيده دلالة الاقتران المعروفة في الأصول.
তারাবিহ্-র শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা:

তারাবিহ্ সংক্রান্ত পাঠ্যসমূহ (নস) পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, এটি একটি ধারাবাহিক এবং ক্রমবর্ধমান পর্যায়ক্রমিক পথ অনুসরণ করেছে, যা নিম্নরূপ:

ক - নিঃশর্ত উৎসাহ দান: যেমনটি মুসলিম-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে এবং ইমাম বায়হাকি ২য় খণ্ড ৪৯২ পৃষ্ঠায় যা উল্লেখ করেছেন, তার ভাষ্য হলো—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম (সালাত) আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" ইমাম বায়হাকি বলেন: "ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম বুখারি এটি আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে ইমাম মালেকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।" অনুরূপ একটি হাদিস ইমাম বায়হাকি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "ইমাম বুখারি এটি ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর থেকে বর্ণনা করেছেন।" এটি কোনো সংখ্যা নির্ধারণ বা কোনো কাজের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই কেবল উৎসাহ প্রদান। এই কারণেই আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সুনানে বায়হাকিতে বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে রমজানের কিয়ামের প্রতি উৎসাহিত করতেন, তবে তিনি তাঁদেরকে এ ব্যাপারে কোনো কঠোর আদেশ দিতেন না। তিনি বলতেন: 'যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম (সালাত) আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে'।"

খ- এরপর এই মর্মে স্পষ্ট বর্ণনা এলো যে, এর কিয়াম বা সালাত হলো একটি সুন্নাত যা এর সিয়াম ফরজ হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত। যেমনটি আবদুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসের উল্লেখ করে বলেছেন: "নিশ্চয়ই রমজান এমন একটি মাস যার সিয়াম আল্লাহ ফরজ করেছেন এবং আমি মুসলমানদের জন্য এর কিয়ামকে সুন্নাত করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় সিয়াম পালন করবে এবং কিয়াম করবে, সে গুনাহ থেকে এমনভাবে নিষ্কলুষ হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন।" সুতরাং এই পাঠে সাধারণ আহ্বান থেকে সুন্নাত হওয়ার দিকে একটি ধারাবাহিকতা প্রকাশ পেয়েছে। আর কিয়াম সুন্নাত হওয়াকে সিয়াম ফরজ হওয়ার সাথে যুক্ত করা এর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যেমনটি উসুল শাস্ত্রের সুপরিচিত 'দালালাতুল ইকতীরান' (সহাবস্থানজনিত অর্থবোধকতা) থেকে প্রতিভাত হয়।
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌نتيجة هذا الترغيب:

كانت نتيجة هذا الترغيب أن بادر الناس إلى قيامه أفرادا وجماعات يأتمون بمن معهم شيء من القرآن لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: "كان الناس يصلون في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان بالليل أوزاعا يكون مع الرجل شيء من القرآن فيكون معه النفر الخمسة أو الستة أو أقل من ذلك أو أكثر يصلون بصلاته"، قالت:
এই উদ্বুদ্ধকরণের ফলাফল:

এই উদ্বুদ্ধকরণের ফলাফল ছিল এই যে, মানুষ ব্যক্তিগতভাবে এবং দলবদ্ধ হয়ে এর (কিয়ামের) দিকে দ্রুত অগ্রসর হলো এবং তারা এমন ব্যক্তির ইক্তিদা করত যার কাছে কুরআনের কিছু অংশ (মুখস্থ) ছিল। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: "মানুষ রমজানের রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে সালাত আদায় করত। কারো কাছে কুরআনের কিছু অংশ থাকত, তখন তার সাথে পাঁচ-ছয় জন বা তার চেয়ে কম অথবা বেশি লোক থাকত যারা তার সালাত অনুযায়ী সালাত আদায় করত।" তিনি বলেন:
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৬০)
فأمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلة من ذاك أن أنصب له حصيرا على باب حجرتي ففعلت فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد أن صلى العشاء الآخرة فاجتمع إليه من في المسجد فصلى بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم ليلا طويلا، ثم انصرف فدخل وتركت الحصير على حاله، فلما أصبح النهار تحدثوا بصلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم بمن كان بالمسجد تلك الليلة، فأمسى المسجد زاخا بالناس فصلى بهم صلى الله عليه وسلم صلاة العشاء الآخرة ثم دخل بيته، وثبت الناس فقال لي: "ما شأن الناس" فقلت له: "سمع الناس بصلاتك البارحة بمن كان في المسجد فحشدوا لذلك لتصلي بهم". قال: "اطو عنا حصيرك يا عائشة". ففعلت، فبات رسول الله صلى الله عليه وسلم غير غافل وثبت الناس مكانهم حتى خرج إليهم إلى الصبح فقال: "أيها الناس أما والله ما بت والحمد لله ليلتي غافلا ما خفي عليَّ مكانكم ولكني تخوفت أن يفرض عليكم اكفلوا من العمل ما تطيقون فإن الله لا يمل حتى تملوا ". رواه المروزي بهذا اللفظ ورواه البيهقي وذكر الليالي ثلاثا أو أربعا. وفي مجمع الزوائد عن جابر قال: "صلى بنا رسولا لله صلى الله عليه وسلم في رمضان ثمان ركعات وأوتر فلما كان القابلة اجتمعنا في المسجد ورجونا أن يخرج إلينا فلم نزل فيه حتى أصبحنا ثم دخلنا.." الحديث. وأصل الحديث في البخاري ومسلم. وفيه وفي السنن للبيهقي أن رسول الله عليه الصلاة والسلام صلى في رمضان عشرين ركعة ولكنه ضعيف بأبي شيبة.

ففي هذا الحديث على رواية المروزي قيام الناس مع من معه شيء من القرآن فهو تدرج من الترغيب إلى الاستناد المقرون بفرضية الصيام، إلى القيام بالفعل في المسجد مع من معه شيء من القرآن ثم خطوة أخرى وهي القيام مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بصلاته وإن كان لم يشعر بهم على الصحيح كما في سؤاله عائشة: "ما شأن الناس" وقوله: "اطو عنا حصيرك ".

وأصرح من هذا حديث أنس عند المروزي: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي في رمضان فجئت فقمت إلى جنبه ثم جاء آخر ثم جاء آخر حتى كنا رهطا، فلما أحس رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا خلفه تجوز في صلاته، ثم دخل منزله، فلما دخل منزله صلى صلاة لم يصلها عندنا فلما أصبحنا قلنا يا رسول الله: أو
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাতে আমাকে তাঁর জন্য আমার কক্ষের দরজায় একটি চাটাই বিছিয়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন, আমি তা করলাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এশার নামায শেষ করে বের হলেন এবং মসজিদে যারা ছিলেন তারা তাঁর কাছে সমবেত হলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিয়ে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত নামায পড়লেন। তারপর তিনি ফিরে গেলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করলেন, আমি চাটাইটি তার পূর্বের অবস্থায় রেখে দিলাম। যখন সকাল হলো, তখন লোকেরা সেই রাতে মসজিদে যারা ছিল তাদের সাথে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামায পড়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করল। ফলে সন্ধ্যায় মসজিদ লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিয়ে এশার নামায আদায় করলেন, তারপর তিনি নিজের ঘরে প্রবেশ করলেন। কিন্তু মানুষ সেখানেই অবস্থান করতে লাগল। তখন তিনি আমাকে বললেন: "মানুষের কী হয়েছে?" আমি তাঁকে বললাম: "গতরাতে আপনি মসজিদে থাকা লোকদের নিয়ে নামায পড়েছেন শুনে তারা আজ সমবেত হয়েছে যাতে আপনি তাদের নিয়ে নামায পড়েন।" তিনি বললেন: "হে আয়েশা, আমাদের থেকে তোমার চাটাইটি গুটিয়ে নাও।" আমি তা করলাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই রাতটি বেখবর হয়ে কাটাননি, আর মানুষও তাদের স্থানে অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি সকালের দিকে তাদের কাছে বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "হে লোকসকল! আল্লাহর কসম, আল্লাহর প্রশংসাসহ বলছি, আমি রাতে বেখবর হয়ে রাত কাটাইনি এবং তোমাদের অবস্থানও আমার কাছে গোপন ছিল না। কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম যে, এটি তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হবে। তোমরা ততটুকুই আমল করো যতটুকু সামর্থ্য রাখো, কেননা আল্লাহ তাআলা ক্লান্ত হন না যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হও।" মারওয়াযী এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে রাতের সংখ্যা তিন বা চার উল্লেখ করা হয়েছে। মাজমাউয যাওয়ায়েদে জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানে আমাদের নিয়ে আট রাকাত এবং বিতর নামায পড়েছিলেন। যখন পরবর্তী রাত এলো, আমরা মসজিদে সমবেত হলাম এবং আশা করছিলাম যে তিনি আমাদের কাছে বের হয়ে আসবেন, কিন্তু আমরা সকাল পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করলাম তারপর আমরা প্রবেশ করলাম.." (হাদীস)। এই হাদীসের মূল বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে। আর বায়হাকীর সুনানে এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানে বিশ রাকাত নামায পড়েছেন, কিন্তু আবু শাইবার কারণে এটি দুর্বল।

মারওয়াযীর বর্ণনা অনুযায়ী এই হাদীসে কুরআন সম্পর্কে জ্ঞান আছে এমন ব্যক্তির সাথে মানুষের কিয়াম বা নামাযে দাঁড়ানোর বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এটি উৎসাহ প্রদান থেকে শুরু করে রোজা ফরজ হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত আইনি ভিত্তির দিকে যাওয়ার একটি পর্যায়ক্রমিক ধারা। এরপর মসজিদে কুরআন জানা ব্যক্তির সাথে বাস্তবে কিয়াম করা এবং পরবর্তী ধাপ হলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামাযের সাথে কিয়াম করা—যদিও সহীহ মতানুসারে তিনি শুরুতে তাদের উপস্থিতি টের পাননি, যেমনটি আয়েশাকে জিজ্ঞেস করা তাঁর এই প্রশ্নে স্পষ্ট হয়: "মানুষের কী হয়েছে?" এবং তাঁর এই উক্তি: "আমাদের থেকে তোমার চাটাইটি গুটিয়ে নাও।"

এর চেয়েও স্পষ্ট হলো মারওয়াযীর সংকলনে বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদীসটি: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানে নামায পড়ছিলেন, তখন আমি এসে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তারপর অন্য একজন এলো, এরপর আরও একজন এলো, এভাবে আমরা একটি ছোট দলে পরিণত হলাম। যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুভব করলেন যে আমরা তাঁর পেছনে আছি, তিনি তাঁর নামায সংক্ষেপ করলেন। তারপর তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। ঘরে ঢুকে তিনি এমন নামায পড়লেন যা আমাদের সামনে পড়েননি। পরদিন সকালে আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল: আপনি কি..."
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৬১)
فطنت لنا البارحة"، فقال: "نعم، وذلك الذي حملني على ما صنعت". ففي هذا الحديث ما يفيد أنه صلى الله عليه وسلم لم يشعر بهم في أول صلاته لقول أنس: "فلما أحس رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا خلفه"، كما أن فيه ما يشعر أنه صلى الله عليه وسلم بدأ صلاته تلك في المسجد بدليل قوله: "تجوز في الصلاة ثم دخل منزله". وكما يشعر بأنه صلى الله عليه وسلم علم بصلاتهم خلفه ولم ينكر عليهم، وأصرح من ذلك دلالة على صلاته صلى الله عليه وسلم في المسجد حديث عائشة عند البيهقي عن عروة بن الزبير رضي الله عنه عن عائشة رضي الله عنها أخبرته أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج ليلة من جوف الليل يصلي في المسجد فصلى رجال يصلون بصلاته، فأصبح الناس يتحدثون بذلك. وساقت قصة صلاته اليالي إلى الليلة الرابعة. قالت: "عجز المسجد عن أهله فلم يخرج إليهم". ففيه دلالة صريحة أنه صلى الله عليه وسلم خرج إلى الصلاة في المسجد، وفيه دلالة على امتلاء المسجد بالمصلين.

وهده خطوة أخرى وهي امتلاء المسجد بعد أن كانوا أوزاعا فقد عجز المسجد عن أهله ولكنه صلى الله عليه وسلم لم يخرج إليهم خشية أن تفرض عليهم.

إذن فقد كان من الممكن أن يخرج إليهم لولا تلك العلة التي هي خشية أن تفرض عليهم. وكأن الصلاة بهم والاجتماع إليها أمر جائز لولا الشفقة عليهم وخشية تكليفهم بها ثم يعجزون ولقد أقر صلاة غيره بجماعة من الناس سواء في البيوت أو في المسجد.

أما في البيوت فلحديث أبي بن كعب عند المروزي قال عن جابر رضي الله عنه جاء أبي بن كعب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فقال: " يا رسول الله كان معي الليلة شيء". قال: "وما ذاك؟ " قال: "نسوة داري قلن إنا لا نقرأ القرآن فنصلي خلفك بصلاتك فصليت بهن ثمان ركعات فسكت عنه، وكان شبه الرضاء".

وأما في المسجد فحديث أبي هريرة عند المروزي أيضا قال: "خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم وإذا أناس في رمضان يصلون في ناحية المسجد" فقال: "ما هؤلاء؟ " قيل: "هؤلاء أناس ليس معهم قرآن، وأبي بن كعب يصلي بهم فهم يصلون بصلاته". فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أصابوا" أو "نعم ما صنعوا".
"তুমি কি গত রাতে আমাদের কথা টের পেয়েছিলে?", তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আর সেটিই আমাকে আমি যা করেছি তা করতে বাধ্য করেছে।" এই হাদীসে এমন কিছু রয়েছে যা বুঝায় যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সালাতের শুরুতে তাদের উপস্থিতি অনুভব করেননি; কারণ আনাস (রা.)-এর উক্তি হলো: "যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুভব করলেন যে আমরা তাঁর পেছনে আছি"। তেমনি এতে এমন ইঙ্গিতও রয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সালাত মসজিদে শুরু করেছিলেন, যার প্রমাণ হলো তাঁর কথা: "তিনি সালাত সংক্ষেপ করলেন, এরপর তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন।" এটিও প্রকাশ করে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পেছনে তাদের সালাত আদায়ের কথা জানতেন এবং তাদের প্রতি কোনো আপত্তি করেননি। আর মসজিদে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাত আদায়ের বিষয়ে এর চেয়েও সুস্পষ্ট প্রমাণ হলো বাইহাকীতে বর্ণিত উরওয়াহ বিন যুবায়ের (রা.)-এর মাধ্যমে আয়েশা (রা.) থেকে প্রাপ্ত হাদীসটি। আয়েশা (রা.) তাকে অবহিত করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাতে মধ্যরাতে বের হয়ে মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তখন কিছু লোক তাঁর সাথে সালাত আদায় করতে লাগল। পরদিন সকালে লোকেরা এই বিষয়ে আলোচনা করতে লাগল। এরপর তিনি চতুর্থ রাত পর্যন্ত সালাত আদায়ের ঘটনাটি বর্ণনা করেন। আয়েশা (রা.) বলেন: "মসজিদ তার মুসুল্লিদের স্থান দিতে সংকীর্ণ হয়ে পড়ল, তাই তিনি তাদের কাছে বের হয়ে আসলেন না।" এতে স্পষ্ট দলিল রয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সালাতের জন্য মসজিদে বের হতেন এবং এতে আরও দলিল রয়েছে যে মসজিদ মুসুল্লিদের দ্বারা পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।

এটি ছিল আরও একটি ধাপ, আর তা হলো বিক্ষিপ্তভাবে থাকার পর মসজিদের কানায় কানায় পূর্ণ হওয়া। ফলে মসজিদ তার মুসুল্লিদের জায়গা দিতে পারছিল না, কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের প্রতি তা ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাদের কাছে বের হয়ে আসলেন না।

সুতরাং, সেই কারণটি না থাকলে তাদের নিকট বের হওয়া সম্ভব ছিল, যা ছিল তাদের ওপর বিষয়টি ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। তাদের নিয়ে সালাত আদায় করা এবং একত্রিত হওয়া জায়েয বিষয় ছিল, যদি না তাদের প্রতি করুণা এবং তাদের ওপর এটি আবশ্যক হওয়ার পর তাদের অক্ষম হয়ে যাওয়ার ভয় থাকত। অধিকন্তু, তিনি ঘরবাড়িতে হোক বা মসজিদে হোক, অন্যদের জামাতে সালাত আদায় করাকে অনুমোদন দিয়েছেন।

ঘরে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে মারওয়াযীর নিকট জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত উবাই ইবনে কাব (রা.)-এর হাদীসটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, উবাই ইবনে কাব (রা.) রমযানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাতে আমার সাথে একটি বিষয় ঘটেছে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তা কী?" উবাই বললেন: "আমার ঘরের মহিলারা বলল যে তারা কুরআন পড়তে জানে না, তাই তারা আমার পেছনে আমার সালাতের সাথে সালাত আদায় করবে। আমি তাদের নিয়ে আট রাকাত সালাত আদায় করলাম।" তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) নিরব থাকলেন, যা অনেকটা সন্তুষ্টির সদৃশ ছিল।

আর মসজিদের ক্ষেত্রে মারওয়াযীর নিকট আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীসটি রয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হলেন এবং দেখলেন রমযানে কিছু লোক মসজিদের এক কোণে সালাত আদায় করছে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এরা কারা?" বলা হলো: "এরা এমন লোক যাদের কাছে কুরআন নেই, আর উবাই ইবনে কাব তাদের ইমামতি করছেন এবং তারা তাঁর সালাতের সাথে সালাত আদায় করছে।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তারা সঠিক করেছে" অথবা "তারা যা করেছে তা কতই না চমৎকার!"
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৬২)
ثم كانت المرحلة قبل الأخيرة وهي ما جاء في حديث أنس. وحديث أنس عند المروزي "كان النبي صلى الله عليه يجمع أهله ليلة إحدى وعشرين، ويصلي بهم إلى ثلث الليل، ثم يجمعهم ليلة اثنين وعشرين فيصلي بهم إلى
এরপর ছিল সর্বশেষ পর্যায়ের পূর্ববর্তী ধাপ, আর তা হলো যা আনাস (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। মারওয়াযীর নিকট বর্ণিত আনাস (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একুশতম রাতে তাঁর পরিবারবর্গকে একত্রিত করতেন এবং রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তিনি বাইশতম রাতেও তাঁদের একত্রিত করতেন এবং তাঁদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন... পর্যন্ত।"
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৬৩)
نصف الليل، ثم يجمعهم ليلة الثالث والعشرين فيصلي بهم إلى ثلثي الليل. ثم يأمرهم ليلة الرابع والعشرين أن يغتسلوا ويصلي بهم حتى يصبح ثم لا يجمعهم". فهذا الحديث نص في أنه صلى الله عليه وسلم قام بأهل بيته ثلاث ليال مددا متفاوتة. ويتدرج الأولى إلى الثلث الليل والثانية إلى نصفه والثالثة إلى ثلثيه.

وليس ببعيد أن يوحي هذا العمل بين الرغبة في الخير وبين الخوف من أن تفرض، لما يفهم من أنه كان في العشر الأواخر وهي محل الرغبة أكثر وكذلك التدرج في إطالة المدة استجابة لتلك الرغبة. كما يفهم من عدم المواصلة إلى آخر الشهر خشية أن يفرض.

ثم جاءت المرحلة الأخيرة في التدرج من حديث أبي ذر قال في المنتقى: "رواه الخمسة وصححه الترمذي" ورواه أيضا البيهقي ونصه في السنن: "صمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم رمضان فلم يقم بنا من الشهر شيئا حتى كانت ليلة ثلاث وعشرين قام بنا حتى ذهب نحو ثلث الليل ثم لم يقم بنا من الليلة الرابعة وقام بنا من الليلة الخامسة حتى ذهب نحو من نصف الليل، فقلنا: "يا رسول الله لو نفلتنا بقية الليل". فقال: "إن الإنسان إذا قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له بقية ليلته"، ثم لم يقم بنا ليلة السادسة وقام السابعة وبعث إلى أهله، واجتمع الناس حتى خشينا أن يفوتنا الفلاح".

قال البيهقي: "ورواه مهيب عن داود قال: "ليلة الرابع وعشرين والسابع مما يبقي، وقال ليلة ست وعشرين الخامس مما يبقي وليلة ثمان وعشرين الثالث مما يبقى".

ففي هذا الحديث وصول بصلاة التراوح إلى حد التجمع والتقرير عليه من رسول الله صلى الله عليه وسلم بدليل قولهم له: "لو نفلتتا بقية الليلة". وفي هذا دلائل على أمرين:

أ- الأول: أنه صلى الله عليه وسلم علم بهم وأقرهم على تجمعهم في المسجد كما أنه في السابعة وعشرين بعث إلى أهله ويشهد لهذا الجزء ما في الصحيح أنه صلى الله عليه وسلم إذا كان العشر الأواخر شد المئزر وطوى فراشه وأيقظ أهله.

ب- الأمر الثاني: أنه وإن لم يحدد صلى الله عليه وسلم عددا من الركعات إلا أنه أقرهم على طلبهم الزيادة عما كان وإلى بقية ليلتهم. فلم ينكر عليهم طلب الزيادة ولكنه أرشدهم إلى ما يعوض عنها وهو
...মধ্যরাত পর্যন্ত, অতঃপর তেইশতম রাতে তিনি তাদের একত্রিত করলেন এবং রাতের দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর চব্বিশতম রাতে তিনি তাদের গোসল করার নির্দেশ দিলেন এবং সুবহে সাদিক হওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, এরপর তিনি আর তাদের একত্রিত করেননি।" এই হাদিসটি স্পষ্ট দলিল যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবারবর্গকে নিয়ে তিন রাত বিভিন্ন সময়কালব্যাপী কিয়াম করেছেন। এতে পর্যায়ক্রমিক ধারা ছিল: প্রথম রাতে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত, দ্বিতীয় রাতে অর্ধেক পর্যন্ত এবং তৃতীয় রাতে দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত।

এটি অসম্ভব নয় যে, এই আমলটি কল্যাণের প্রতি আকাঙ্ক্ষা এবং তা ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যবর্তী অবস্থার ইঙ্গিত দেয়; কারণ এটি বোঝা যাচ্ছে যে, এই ঘটনাটি শেষ দশকে ঘটেছিল যা অধিক আকাঙ্ক্ষার সময়। অনুরূপভাবে, সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতি সাড়া দিতেই সময়কাল দীর্ঘ করার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। যেমনটি বোঝা যায় যে, মাসের শেষ পর্যন্ত তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে না যাওয়ার কারণ ছিল তা ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

এরপর পর্যায়ক্রমিক ধারার সর্বশেষ পর্যায়টি আবু যার (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে। 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "পাঁচজন ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে সহিহ বলেছেন।" বায়হাকিও এটি বর্ণনা করেছেন এবং 'আস-সুনান'-এ এর পাঠ্য হলো: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে রমজানের রোজা পালন করলাম, কিন্তু মাসের কোন অংশেই তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম (সালাত) আদায় করেননি, যতক্ষণ না তেইশতম রাত এলো। তখন তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন যতক্ষণ না রাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলো। এরপর চব্বিশতম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে দাঁড়াননি। পঁচিশতম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে কিয়াম করলেন যতক্ষণ না রাতের প্রায় অর্ধেক অতিবাহিত হলো। তখন আমরা বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি রাতের অবশিষ্ট অংশও আমাদের নিয়ে নফল সালাত আদায় করতেন!' তখন তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যখন ইমামের সাথে তিনি শেষ করা পর্যন্ত সালাত আদায় করে, তখন তার জন্য পুরো রাত সালাত আদায়ের সওয়াব লিখে দেওয়া হয়।' এরপর ছাব্বিশতম রাতে তিনি আমাদের নিয়ে দাঁড়াননি, কিন্তু সাতাশতম রাতে দাঁড়ালেন এবং তাঁর পরিবারবর্গকে ডেকে পাঠালেন। ফলে মানুষজন এত বিপুল সংখ্যায় সমবেত হলো যে, আমরা 'ফালাহ' (সাফল্য তথা সাহরি) ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করলাম।"

বায়হাকি বলেন: "মুহিব এটি দাউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: 'চব্বিশতম রাত এবং অবশিষ্টের মধ্যে সপ্তম (অর্থাৎ সাতাশতম) রাত; এবং তিনি বলেছেন ছাব্বিশতম রাত যা অবশিষ্টের মধ্যে পঞ্চম এবং আটাশতম রাত যা অবশিষ্টের মধ্যে তৃতীয়'।"

এই হাদিসে তারাবিহর সালাত জামাতবদ্ধ হওয়া এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে তার অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রমাণ পাওয়া যায়, যার দলিল হলো তাঁর প্রতি তাদের এই উক্তি: "যদি আপনি রাতের অবশিষ্ট অংশও আমাদের নিয়ে নফল সালাত আদায় করতেন।" এতে দুটি বিষয়ের নির্দেশনা রয়েছে:

ক- প্রথমত: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং মসজিদে তাদের সমবেত হওয়াকে অনুমোদন দিয়েছিলেন। যেমনটি সাতাশতম রাতে তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। হাদিসের এই অংশের সপক্ষে 'সহিহ' গ্রন্থে বর্ণিত সেই বর্ণনাটি সাক্ষ্য দেয় যে, যখন শেষ দশ দিন আসত, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লুঙ্গি শক্ত করে বাঁধতেন, বিছানা গুটিয়ে রাখতেন এবং তাঁর পরিবারবর্গকে জাগিয়ে তুলতেন।

খ- দ্বিতীয় বিষয়: যদিও তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাকাতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করে দেননি, তবে তিনি যা আদায় করা হয়েছিল তার চেয়ে বেশি এবং রাতের অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত সালাত আদায়ের দাবির ওপর তাদের অনুমোদন দিয়েছিলেন। তিনি অতিরিক্ত সময় সালাত আদায়ের এই চাহিদাকে প্রত্যাখ্যান করেননি, বরং তিনি তাদের এমন একটি বিষয়ের দিকে নির্দেশ দিয়েছেন যা এর বিকল্প হতে পারে, আর তা হলো—
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
قيامهم مع الإمام حتى ينصرف. وهذا مثل قصة (زينب) لما مر عليها صلى الله عليه وسلم وهي تسبح على حصى أو نوى حتى رجع فوجدها على تلك الحالة فقال لها: "لقد قلت كلمات تعدل كل ما قلت سبحان الله وبحمده عدد خلقه ورضا نفسه وزنة عرشه". فلم ينكر عملها وأرشدها إلى ما هو خير منه وهكذا هنا لم ينكر طلبهم الزيادة وأرشدهم إلى ما هو خير منه بل إلى ما يساويه فحسب.

وعليه فهنا صلاة في جماعة بإمام ومأمومين في المسجد وهذا غاية الإثبات لصلاة التراوح في المسجد جماعة وبإمامته صلى الله عليه وسلم.

ثم جاءت الليلة السابعة والعشرون فكانت عامة شاملة شملت أهله صلى الله عليه وسلم مع عامة الناس.
ইমাম শেষ করা পর্যন্ত তাঁর সাথে তাঁদের দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। এটি যায়নাবের ঘটনার মতো, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তিনি তখন নুড়ি পাথর বা খেজুরের আঁটি দিয়ে তাসবিহ পাঠ করছিলেন। তিনি ফিরে আসা পর্যন্ত তাঁকে ওই অবস্থায় পেলেন এবং তাঁকে বললেন: "আমি এমন কিছু বাক্য বলেছি যা তোমার বলা সমস্ত কথার সমান হবে: আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা ঘোষণা করছি তাঁর সৃষ্টির সংখ্যার সমান, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান এবং তাঁর আরশের ওজনের সমান।" তিনি তার আমলকে অস্বীকার করেননি, বরং তাকে এর চেয়ে উত্তম কাজের দিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। ঠিক তেমনিভাবে এখানেও তিনি তাদের অতিরিক্ত সালাত আদায়ের আবেদনকে অস্বীকার করেননি এবং তাদেরকে এর চেয়ে উত্তম বিষয়ের দিকে, বরং যা এর সমতুল্য কেবল সেদিকেই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

অতএব, এখানে মসজিদে ইমাম ও মুক্তাদিদের নিয়ে জামাতে সালাত আদায় করা হয়েছে। আর এটি মসজিদে জামাতে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইমামতিতে তারাবিহ সালাত আদায়ের চূড়ান্ত প্রমাণ।

এরপর সাতাশতম রাত এলো, যা ছিল ব্যাপক ও সর্বজনীন, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের সদস্যগণ সাধারণ মানুষের সাথে শামিল ছিলেন।
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌عدد الركعات في ذلك العصر:

‌‌1- جاء عن جابر أربع ركعات

‌‌2- جاء في بعض النصوص أنه صلى الله عليه وسلم صلى ثمان ركعات.

‌‌3- وجاء في نص ضعيف عشرين ركعة.

‌‌4- وجاء الإطلاق بدون تحديد مع التقرير على طلب الزيادة إلى بقية ليلتهم.

‌‌5- وجاء التدرج من ثلث الليل ثم نصف الليل ثم ثلثي الليل. وهل كان ذلك بزيادة في عدد الركعات أم بإطالة في القراءة مع عدم الزيادة في عدد الركعات طيلة الليالي الثلاث وإلى أي حد كانت إطالة القراءة والقيام.
সেই যুগে রাকাত সংখ্যা:

১- জাবের (রা.) থেকে চার রাকাতের বর্ণনা এসেছে।

২- কিছু বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আট রাকাত সালাত আদায় করেছেন।

৩- একটি দুর্বল বর্ণনায় বিশ রাকাতের কথা এসেছে।

৪- রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট না করে বিষয়টি সাধারণভাবেও বর্ণিত হয়েছে, সাথে রাতের অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত ইবাদত বৃদ্ধির চাহিদার প্রতি অনুমোদনের বিষয়টি এসেছে।

৫- পর্যায়ক্রমে রাতের এক-তৃতীয়াংশ, তারপর অর্ধেক রাত, অতঃপর রাতের দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সময়ের ব্যাপ্তির বর্ণনা এসেছে। আর এটি কি রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে ছিল, নাকি তিন রাত ব্যাপী রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধি না করে কেবল কিরাআত দীর্ঘ করার মাধ্যমে ছিল? এবং কিরাআত ও কিয়ামের দীর্ঘতা কতটুকু ছিল?
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌كيفية صلاتها:

جاء عن حذيفة رضي الله عنه أنه صلى مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات ليلة في رمضان فركع فقال في ركوعه: "سبحان ربي العظيم مثل ما كان قائما، ثم سجد فقال في سجوده: سبحان ربي الأعلى مثل ما كان قائما، ثم جلس يقول: ربي اغفر لي، ربي اغفر لي مثل ما كان قائما، ثم سجد فقال: سبحان ربي الأعلى مثل ما كان قائما، فما صلى إلا أربع ركعات حتى جاء بلال إلى الغداة ". فهذا نص في بيان تطويل الصلاة في أربع ركعات في رمضان خاصة.

أما عموم قيام الليل: فقد عقد البخاري بابا بعنوان: كيف صلاة النبي صلى الله عليه وسلم وكم كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل وساق حديث عبد الله بن عمر أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم " يا رسول الله كيف صلاة الليل؟ " قال: "مثنى مثنى فإذا خفت الصبح فأوتر بواحدة".
সালাত আদায়ের পদ্ধতি:

হুযায়ফাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রমজানের এক রাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সালাত আদায় করেছেন। তিনি রুকু করলেন এবং রুকুতে বললেন: "আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি", আর তাঁর রুকু ছিল তাঁর কিয়ামের (দাঁড়ানোর) দৈর্ঘ্যের সমান। অতঃপর তিনি সাজদাহ করলেন এবং সাজদাহয় বললেন: "আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি", আর এটিও তাঁর কিয়ামের অনুরূপ দীর্ঘ ছিল। এরপর তিনি (দুই সাজদাহর মাঝে) বসলেন এবং বলতে লাগলেন: "হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন; হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন", এটিও তাঁর কিয়ামের সমান দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তিনি পুনরায় সাজদাহ করলেন এবং বললেন: "আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি", যা ছিল কিয়ামের অনুরূপ দীর্ঘ। এভাবে তিনি মাত্র চার রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন এমন সময় ভোর হয়ে গেল এবং বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উপস্থিত হলেন। সুতরাং এটি বিশেষভাবে রমজান মাসে চার রাকাত সালাত দীর্ঘ করার বর্ণনার একটি দলিল।

আর সাধারণ কিয়ামুল লাইল বা রাতের সালাতের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারী একটি অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন যার শিরোনাম: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত কেমন ছিল এবং তিনি রাতে কত রাকাত সালাত আদায় করতেন"। সেখানে তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! রাতের সালাত পদ্ধতি কেমন?" তিনি বললেন: "দুই রাকাত দুই রাকাত করে। অতঃপর যখন তোমরা ভোরের আশংকা করবে, তখন এক রাকাত আদায়ের মাধ্যমে বিতর সম্পন্ন করবে।"
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৭৮)
‌‌تطورها في العصر النبوي:

‌‌1- أولا: بدأت بالترغيب فيها دون أن يعزم عليهم.

‌‌2- ثانيا: انتقلت إلى السنة والندب مقرونة بفرضية الصيام.

‌‌3- ثالثا: أديت بالفعل أداها أوزاع من الناس.
নবী যুগে এর ক্রমবিকাশ:

১- প্রথমত: এটি তাদের ওপর অপরিহার্য না করে কেবল উৎসাহিত করার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল।

২- দ্বিতীয়ত: এটি সিয়াম ফরয হওয়ার বিধানের সাথে সাথে সুন্নাত ও মুস্তাহাবে রূপান্তরিত হয়।

৩- তৃতীয়ত: এটি বাস্তবে পালন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এটি আদায় করেছিলেন।
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৭৯)
‌‌4- رابعا: تسلل الناس إلى مصلاه صلى الله عليه وسلم فأتموا به صلى الله عليه وسلم وهو لا يشعر بهم وهو لا يقر على باطل.

‌‌5- خامسا: تقريره صلوات الله وسلامه عليه لمن يصلى بالناس سواء في المسجد أو في البيت.

‌‌6- سادسا: صلاته هو صلى الله عليه وسلم بالفعل بأهل بيته.

‌‌7- سابعا: صلاته هو صلى الله عليه وسلم بالفعل بأهل بيته وبالناس عدة ليال متفرقة.

أما العدد أي عدد الركعات:

أ- فقد صلى أربع ركعات استغرقت الليل كله.

ب- وصلى ثمان ركعات.

جـ- وصلى إحدى عشر ركعة لا تسل عن حسنهن وطولهن.

د- وصلى ثلاث عشرة ركعة.

وهذا ما يقتصر عليه بعض المتأخرين ولكن:

‌‌1- جاء الإطلاق بدون حد من قام رمضان إيمانا واحتسابا.

‌‌2- جاء تقريره على طلب الزيادة لو نفلتنا بقية ليلتنا؟

‌‌3- وهناك مبحث لم يتطرق إليه أحد فيما أعلم وهو:

أن عائشة رضي الله عتها قالت: "ما صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم العشاء قط ودخل بيتي إلا وصلى أربعا أو ستا". وجاء عنها أنه كان يفتتح صلاة الليل بركعتين خفيفتين.

فلو جمعنا حديث ابن عباس (13) ركعة مع حديث عائشة (6) ركعات بعد العشاء مع (2) ركعتين يفتتح بهما صلاة الليل لكان مجموع ذلك كله (13 + 6 = 19 +2= 21) إحدى وعشرون ركعة. وهو العدد الذي جمع عمر رضي الله عنه الناس عليه مع أُبَي ابن كعب ويكون هذا العدد مستندا إلى سنة لا مجرد اختيار عمر رضي الله عته والله أعلم.

وبعد هذا فلا يحق لأحد أن يمنع الزيادة على ثمان ركعات وقوفا عند حديث مسروق عن عائشة رضي الله عنها أو يعيب فعل عمر متهما إياه بمخالفة السنة حاشاه رضي الله عنه.

عهد أبي بكر الصديق رضي الله عنه:

كان عهد الصديق رضي الله عنه غير طويل، وكان الناس حدثاء عهد بعهد النبوة فلم تتكون عوامل تغيير تذكر بالنسبة للتراويح. ولهذا لم يذكر أحد أن التراويح في عهد الصديق رضي الله عنه طرأ عليها جديد مستدلين بحديث أبي هريرة رضي الله عنه: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يُرَغب في قيام
‌৪- চতুর্থত: মানুষ গোপনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের স্থানে প্রবেশ করত এবং তাঁর পেছনে ইক্তিদা করত, অথচ তিনি তাদের উপস্থিতি টের পেতেন না; আর তিনি কোনো ভুল বা অন্যায়ের ওপর কাউকে অটল থাকতে দিতেন না (অর্থাৎ তিনি তা সমর্থন করতেন না)।

‌৫- পঞ্চমত: মসজিদে হোক বা বাড়িতে, যারা মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করত, তাদের প্রতি আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) মৌন সম্মতি বা অনুমোদন।

‌৬- ষষ্ঠত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বাস্তবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সালাত আদায় করা।

‌৭- সপ্তমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক বাস্তবে তাঁর পরিবার ও অন্যান্য লোকজনকে নিয়ে বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন রাতে সালাত আদায় করা।

আর সংখ্যা অর্থাৎ রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে:

ক- তিনি চার রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন যা পুরো রাত জুড়ে ছিল।

খ- তিনি আট রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন।

গ- তিনি এগারো রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন; সেগুলোর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না (অর্থাৎ সেগুলো অত্যন্ত চমৎকার ও দীর্ঘ ছিল)।

ঘ- তিনি তেরো রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন।

আর এটিই সেই সংখ্যা যার ওপর পরবর্তী যুগের কেউ কেউ সীমাবদ্ধ থাকেন, কিন্তু:

‌১- কোনো নির্দিষ্ট সীমা ছাড়াই সাধারণভাবে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম (সালাত) করবে।"

‌২- রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধির আবেদনের প্রতি তাঁর মৌন সম্মতি প্রমাণিত হয়েছে: "যদি আপনি আমাদের জন্য রাতের অবশিষ্ট অংশেও নফল সালাত পড়াতেন?"

‌৩- সেখানে এমন একটি গবেষণার বিষয় রয়েছে যা আমার জানামতে ইতিপূর্বে কেউ আলোচনা করেননি, আর তা হলো:

নিশ্চয়ই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইশার সালাত আদায়ের পর যখনই আমার ঘরে প্রবেশ করেছেন, তখনই তিনি চার অথবা ছয় রাকাত সালাত আদায় করেছেন।" আর তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ) দুটি সংক্ষিপ্ত রাকাত দিয়ে শুরু করতেন।

সুতরাং আমরা যদি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণিত (১৩) রাকাতের হাদিসকে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণিত ইশার পরের (৬) রাকাত এবং রাতের সালাত শুরুর (২) রাকাতের সাথে যোগ করি, তবে এর মোট যোগফল দাঁড়াবে (১৩ + ৬ = ১৯ + ২ = ২১) একুশ রাকাত। আর এটিই সেই সংখ্যা যার ওপর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মাধ্যমে মানুষকে একত্রিত করেছিলেন। আর এই সংখ্যাটি সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করেই ছিল, এটি কেবল উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিজস্ব কোনো চয়ন ছিল না। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর পর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে মাসরুকের বর্ণিত হাদিসের ওপর ভিত্তি করে আট রাকাতের বেশি রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাধা দেওয়া কারো জন্য সংগত নয়, কিংবা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাজকে সুন্নাহ বিরোধী বলে অপবাদ দিয়ে তাঁকে দোষারোপ করাও সঠিক নয়; আল্লাহ তাঁকে এ থেকে রক্ষা করুন এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।

আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগ:

সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগ দীর্ঘ ছিল না এবং মানুষও নবুওয়াতের যুগের খুব কাছাকাছি ছিল। ফলে তারাবিহর ক্ষেত্রে উল্লেখ করার মতো কোনো পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়নি। এ কারণেই আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে তারাবিহর ক্ষেত্রে নতুন কিছু ঘটার কথা কেউ উল্লেখ করেননি। তাঁরা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেন যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের কিয়ামের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন..."
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৮০)
رمضان من غير أن يأمرهم فيه بعزيمة فيقول: "من قام رمضان إيمانا واحتسابا غفر له ما تقدم من ذنبه"، فتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم والأمر على ذلك وكان الأمر على ذلك". قال البيهقي: "زاد أحمد بن منصور الرمادي في روايته في خلافة أبي بكر وصدر من خلافة عمر رواه مسلم في الصحيح. ورواه مالك بسنده إلى ابن شهاب وتوفي رسول الله صلى الله عليه وسلم والأمر على ذلك في صدر خلافة أبي بكر وصدر من خلافة عمر رضي الله عنهما".

ولكن حديث عائشة عند البيهقي قالت: "كنا نأخذ الصبيان من الكُتَّاب ليقوموا بنا في شهر رمضان فنعمل لهم (القلية) و (الخشكنانج) " وعند المروزي: "فنعمل لهم (القلية) و (الخشكار) وهو خبز سمراء".

فهو نص على إقامة التراويح بإمامة الصبيان. وقطعا لم يكن ذلك في عهد النبي صلى الله عليه وسلم فهل كان في عهد الصديق فيكون تطويرا جديدا أم في عهد عمر؟ والذي يظهر أنه كان في عهد الصديق رضي الله عنه لأنه كان في عهد عمر كما سيأتي ترتيب أئمة للرجال وإمام للنساء وعلى كل ففيه تطوير جديد، فإن كان في عهد الصديق فهو جديد عما كان من قبل وهو الراجح وإن كان في عهد عمر فيغلب على الظن أن ذلك كان في البيوت لأنهن لن يأخذن الصبيان من الكتاب وعمر جاعل إمام لهن، ولا سيما عائشة رضي الله عنها فأحرى بها رضي الله عنها أن تصلي في بيتها وقد يجتمع لها من النساء.

القراءة زمن الصديق:

وقد ظلت القراءة طويلة في زمن الصديق رضي الله عنه لما في حديث عبد الله ولد الصديق، فعن مالك عن عبد الله بن أبي بكر سمعت أبي يقول: "كنا ننصرف في رمضان من القيام فنستعجل الخدم بالطعام مخافة الفجر".

وقد طرأ في هذا العصر أيضا نوع مقارنة بين القراء. فكان الناس يميلون إلى من كان حسن الصوت بالقراءة كما سيأتي إيضاحه إن شاء الله في عهد عمر رضي الله عنه.

في عهد عمر رضي الله عنه:

جاء عهد عمر رضي الله عنه والحال كما كان عليه من قبل يصلون أوزاعا فُرادى وجماعات في البيوت وفي المسجد يصور ذلك أكمل تصوير أثران هما: أثر إياس الهذلي، وأثر عبد الرحمن بن عبد.

أ - الأثر الأول: عن نوفل قال
রমজান মাসে তাদের কোনো কঠোর আদেশ প্রদান ছাড়াই তিনি বলতেন: "যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম (নামাজ) পালন করবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন এবং বিষয়টি এই অবস্থাতেই ছিল। বাইহাকী বলেন: "আহমদ ইবনে মনসুর আল-রামাদি তার বর্ণনায় যোগ করেছেন যে, এটি আবু বকরের খিলাফত এবং উমরের খিলাফতের শুরুর দিক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। মুসলিম এটি সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। মালিক তার সনদসহ ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন এবং বিষয়টি আবু বকরের খিলাফতের প্রারম্ভে এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের প্রারম্ভে এই অবস্থাতেই ছিল।"

কিন্তু বাইহাকীর নিকট আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন: "আমরা মক্তব থেকে বালকদের নিয়ে আসতাম যাতে তারা রমজান মাসে আমাদের নিয়ে কিয়াম (নামাজ) পড়ে। তখন আমরা তাদের জন্য ‘কালিয়াহ’ এবং ‘খুশকানানজ’ তৈরি করতাম।" মারওয়াযীর বর্ণনায় রয়েছে: "আমরা তাদের জন্য ‘কালিয়াহ’ এবং ‘খুশকার’ তৈরি করতাম, যা হলো লাল আটার রুটি।"

এটি বালকদের ইমামতিতে তারাবিহ কায়েম করার একটি সুস্পষ্ট দলিল। নিশ্চিতভাবে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল না। তবে কি এটি সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ছিল, যা কি না একটি নতুন বিবর্তন ছিল, নাকি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে? যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এটি সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগেই ছিল। কারণ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে পুরুষদের জন্য পৃথক ইমাম এবং নারীদের জন্য পৃথক ইমাম নির্ধারণের ব্যবস্থা পরবর্তীতে আসবে। যাই হোক না কেন, এতে একটি নতুন বিবর্তন রয়েছে। যদি এটি সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে হয়ে থাকে, তবে তা পূর্বের অবস্থার তুলনায় নতুন এবং এটিই অগ্রগণ্য মত। আর যদি এটি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে হয়, তবে প্রবল ধারণা এই যে এটি ঘরোয়া পরিবেশে ছিল; কারণ মহিলারা মক্তব থেকে বালকদের নিয়ে আসতেন না যখন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের জন্য ইমাম নিযুক্ত করেছিলেন। বিশেষ করে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য যে তিনি তার ঘরেই নামাজ পড়তেন এবং তার কাছে অন্যান্য মহিলারা একত্রিত হতেন।

সিদ্দীকের যুগে কিরাআত:

সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে কিরাআত দীর্ঘ ছিল, যেমনটি সিদ্দীক-পুত্র আবদুল্লাহর হাদিসে এসেছে। মালিক (র.) থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "আমরা রমজানে কিয়াম (নামাজ) শেষ করে ফিরতাম এবং ফজর হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভৃত্যদের খাবারের জন্য তাড়া দিতাম।"

এই যুগে ক্বারী বা পাঠকদের মধ্যে এক ধরণের তুলনামূলক প্রবণতাও লক্ষ্য করা যেত। মানুষ সুন্দর কণ্ঠের অধিকারীদের কিরাআতের প্রতি ঝুঁকে পড়ত, যা ইনশাআল্লাহ উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগের আলোচনায় স্পষ্ট করা হবে।

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে:

উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগ আসলো এবং অবস্থা আগের মতোই ছিল; মানুষ বিচ্ছিন্নভাবে একাকী এবং জামাতে ঘরে ও মসজিদে নামাজ পড়ত। দুটি বর্ণনা এই চিত্রটিকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে: ইয়াস আল-হুযালীর বর্ণনা এবং আব্দুর রহমান ইবনে আব্দ-এর বর্ণনা।

ক - প্রথম বর্ণনা: নাওফাল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন সমাপ্ত।
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৮১)
إياس الهذلي: كان الناس يقومون في رمضان في المسجد وكانوا إذا سمعوا قارئا حسن القراءة مالوا إليه. فقال عمر رضي الله تعالى عنه: "قد اتخذوا القرآن أغاني والله لئن استطعت لأغيرن هذا"، فلم تمر ثلاث حتى جمع الناس على أبي ابن كعب. وقال عمر: "إن كانت هذه بدعة فنعمت البدعة". رواه المروزي.

ب - الأثر الثاني: وهو أثر عبد الرحمن بن عبيد - بالتنوين - (القارّي) خرجت مع عمر بن الخطاب رضي الله عنه في رمضان إلى المسجد فإذا الناس أوزاعا متفرقون يصلي الرجل لنفسه ويصلي الرجل فيصلي بصلاته الرهط فقال عمر: "إني أرى لو جمعت هؤلاء على قارئ واحد لكان أمثل" ثم عزم فجمعهم على أبي بن كعب ثم خرجت معه ليلة أخرى والناس يصلون بصلاة قارئهم: "نعمت البدعة هذه والتي ينامون عنها أفضل من التي يقومون" يعني آخر الليل وكان الناس يقومون أوله. رواه البخاري.

التطور الجديد:

نجد في الأثرين السابقين تطويرا جديدا على يد عمر رضي الله عنه وهو جمع الأوزاع والأشتات على قارئ واحد. وهذا التطور وإن تعددت أسبابه فقد جمع عدة مصالح.

فالأثر الأول يشير إلى أن السبب له صلة بحسن القراءة وفي هذا مجال فسيح لمنافسة القراء وتسابق المصلين، وهو أمر لو طال به المدى لابتعدت الشقة بسببه بين المصلين، فوحد القارئ لتتوحد القراءة. وقد يؤخذ منها درء المفسدة على جلب المصلحة؛ لأن تتبع المصلين لمن هو أحسن صوتا مجال لتحسين الصوت بالقراءة وهو أمر مرغوب فيه غير أنه قد يكون مدعاة إلى التغالي حتى يصل إلى التغني كما أشار عمر رضي الله عنه من قبل فجمعهم على قارئ واحد سدا للذريعة ودرءا للمفسدة.

والأثر الثاني يشير إلى وجود جماعات وأفراد لا تربطهم عوامل موحدة، ولو طال بهم المدى أيضا لافتقدوا عامل الائتلاف والاتحاد وضاعت ثمرة الجماعة فوحد الإمام ليجتمع المأموم وكانت نعمة البدعة في كلا الأمرين. وإلى هنا تم توحيد المصلين للتراويح على إمام واحد وهو أبي بن كعب.

تعدد الأئمة:

وقد جاء عنه رضي الله عنه أنه جعل إمامين للرجال وهما أبي بن كعب وتميم الداري، وكانا يقومان في الليلة الوحدة يتناوبان. يبتدئ الثاني حيث ينتهي الأول كما جاء في رواية السائب
ইয়াস আল-হুযালি: মানুষ রমজান মাসে মসজিদে (সালাত) আদায় করত এবং যখনই তারা সুন্দর তিলাওয়াতকারী কোনো কারীর কণ্ঠ শুনত, তখন তার দিকে ঝুঁকে পড়ত। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: "তারা কুরআনকে সংগীতে পরিণত করেছে। আল্লাহর কসম, আমি সক্ষম হলে অবশ্যই এটি পরিবর্তন করব।" এরপর তিন দিন পার হওয়ার আগেই তিনি মানুষকে উবাই ইবনে কাবের পেছনে সমবেত করলেন। উমর বললেন: "এটি যদি বিদআত হয়, তবে এটি কতই না উত্তম বিদআত।" আল-মারওয়াযি এটি বর্ণনা করেছেন।

খ - দ্বিতীয় বর্ণনা: এটি আব্দুর রহমান বিন উবাইদ আল-কারি থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রমজান মাসে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে মসজিদের দিকে বের হলাম। গিয়ে দেখলাম মানুষ বিচ্ছিন্ন দলে বিভক্ত; কেউ একাকী সালাত আদায় করছে, আবার কেউ সালাত আদায় করছে এবং তার সাথে একদল লোক সালাত পড়ছে। তখন উমর বললেন: "আমি মনে করি যদি আমি এদের সকলকে একজন কারীর পেছনে সমবেত করি, তবে তা অধিকতর উত্তম হতো।" এরপর তিনি দৃঢ় সংকল্প করলেন এবং তাদেরকে উবাই ইবনে কাবের পেছনে সমবেত করলেন। অতঃপর অন্য এক রাতে আমি তাঁর সাথে বের হলাম এবং দেখলাম মানুষ তাদের ইমামের পেছনে সালাত আদায় করছে। তিনি বললেন: "এই বিদআতটি কতই না চমৎকার! তবে তারা যে সময়টিতে (রাতের শেষভাগে) ঘুমিয়ে থাকে, তা তারা যে সময়ে সালাত আদায় করছে (রাতের প্রথমাংশে) তার চেয়ে উত্তম।" অর্থাৎ রাতের শেষভাগ। আর মানুষ তখন রাতের প্রথমাংশে সালাত আদায় করত। বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

নতুন বিবর্তন:

আমরা উপরের দুটি বর্ণনায় উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে একটি নতুন বিবর্তন দেখতে পাই, আর তা হলো বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত জনতাকে একজন কারীর পেছনে সমবেত করা। এই বিবর্তনের কারণ একাধিক হলেও এটি বেশ কিছু কল্যাণকে একত্রিত করেছিল।

প্রথম বর্ণনাটি নির্দেশ করে যে, এর কারণটি সুন্দর তিলাওয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে কারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং মুসল্লিদের আগ্রহের এক বিশাল অবকাশ ছিল। দীর্ঘকাল এভাবে চলতে থাকলে এর ফলে মুসল্লিদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হতো। তাই তিনি কারীকে একক করলেন যেন তিলাওয়াত অভিন্ন হয়। এখান থেকে অকল্যাণ দূর করাকে কল্যাণ অর্জনের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার মূলনীতি গ্রহণ করা যেতে পারে; কারণ মুসল্লিদের সুকণ্ঠী কারীর অনুসরণ করা তিলাওয়াতে কণ্ঠস্বর সুন্দর করার একটি মাধ্যম—যা একটি প্রশংসনীয় বিষয়। তবে এটি অতিরঞ্জনের দিকে নিয়ে যেতে পারে, এমনকি তা গান গাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে, যেমনটি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছিলেন। তাই তিনি অকল্যাণের পথ রুদ্ধ করতে এবং অনিষ্ট দূর করার জন্য তাদেরকে একজন কারীর পেছনে সমবেত করেছিলেন।

দ্বিতীয় বর্ণনাটি এমন কিছু জামাত ও ব্যক্তির অস্তিত্বের দিকে নির্দেশ করে যাদের মধ্যে কোনো ঐক্যবদ্ধকারী যোগসূত্র ছিল না। যদি দীর্ঘকাল এভাবে অতিবাহিত হতো, তবে তারা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের উপাদান হারিয়ে ফেলত এবং জামাতের সুফল নষ্ট হয়ে যেত। তাই তিনি ইমামকে এক করলেন যেন মুক্তাদিগণ ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন, আর উভয় ক্ষেত্রেই এটি ছিল "উত্তম বিদআত"। এভাবে তারাবির মুসল্লিদের একজন ইমাম—উবাই ইবনে কাবের—পেছনে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ সম্পন্ন হয়েছিল।

ইমামদের সংখ্যাধিক্য:

তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটিও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি পুরুষদের জন্য দু'জন ইমাম নিযুক্ত করেছিলেন—উবাই ইবনে কাব এবং তামিম আদ-দারি। তাঁরা একই রাতে পালাক্রমে সালাত পরিচালনা করতেন। সায়েব-এর বর্ণনায় যেমনটি এসেছে, প্রথমজন যেখানে শেষ করতেন, দ্বিতীয়জন সেখান থেকেই শুরু করতেন।
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৮২)
بن يزيد قال: أمر عمر بن الخطاب أبي بن كعب وتميم الداري رضي الله عنهما أن يقوما للناس بإحدى عشرة ركعة، وذلك مع المحافظة على طول القراءة كما في الرواية الأخرى له: كنا نصلي زمن عمر بن الخطاب رضي الله عنه في رمضان ثلاث عشرة ركعة، ولكن والله ما كنا نخرج إلا وجاه الصبح كان القارئ يقرأ في كل ركعة بخمسين، آية ستين آية. وكما في رواية السائب أيضا أنهم كانوا يقرؤون بالمئين من القرآن وأنهم كانوا يعتمدون على العصا في زمن عمر بن الخطاب رضي الله عنه.

فالذي تحدد في هذين الأثرين هو:

أ – تعدد الأئمة بعد إمام واحد. وهو أُبَي، وسواء كان ذلك رفقا بالإمام الأول فجعل معه آخر يساعده، أو كان ترويحا للمأمومين وتنشيطا للمصلين ولا سيما وقد كانوا حدثاء عهد بتعدد الأئمة حينما كانوا يصلون أوزاعا.

وقد مضى عمر رضي الله عنه إلى أبعد من هذا فجعل إماما للنساء، وانتخب أكثر من إمام للتراويح، أما إمام النساء فهو سليمان بن أبي حتمة. فكما جاء عند المروزي قال: وعن هشام بن عروة عن أبيه: جعل عمر بن الخطاب للناس قارئين فكان أبي بن كعب يصلي بالرجال وكان بن أبي حتمة يصلي بالنساء. فهذا الأثر يفيد أن إمامة سليمان ابن أبي حتمة بالنساء كانت أثناء إمامة أبي للرجال، أي أنهما كانا يصليان في وقت. هذا لهؤلاء وهذا لؤلائي.

وقد كان ذلك أقصى ما وصلت إليه التراويح من حيث النشاط والصبر وطول القيام وكثرة القراءة.

ثم أخذت قي التدرج إلى الأسهل فتعددت الأئمة وخففت القراءة وكثرت الركعات.

أما تعدد الأئمة أكثر من ذلك فهو كما في رواية عاصم عن أبي عثمان رحمه الله أن عمر رضي الله عنه جمع القرآن في رمضان فأمر أخفهم قراءة أن يقرأ ثلاثين آية وأوسطهم خمسا وعشرين وأثقلهم قراءة عشرين.

فنرى هنا تعدد الأئمة وهو أكثر ترويحا وتخفيفا على نفس الإمام وعلى المأمومين، ثم نرى أيضا تخفيف القراءة فأقصاها ثلاثون بعد أن كانت تصل إلى الستين والمئين. بل نجد أثرا آخر وهو أن عمر رضي الله عنه أمر أبيا فأمهم في رمضان فكانوا ينامون ربع الليل ويقومون ربعه وينصرفون بربع لسحورهم وحوائجهم. وكان يقرأ بهم خمس آيات ست آيات في كل ركعة ويصلي بهم ثمان عشر ركعة شفعا
বিন ইয়াজিদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) উবাই ইবনে কাব এবং তামিম আদ-দারি (রা.)-কে নির্দেশ প্রদান করেন যেন তারা মানুষকে এগারো রাকাত নামাজ পড়ান। এটি ছিল কিরাআতের দীর্ঘতা বজায় রাখার সাথে, যেমনটি তার অপর এক বর্ণনায় এসেছে: আমরা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে রমজানে তেরো রাকাত নামাজ পড়তাম, তবে আল্লাহর কসম, আমরা সুবহে সাদিকের নিকটবর্তী সময় ছাড়া বের হতাম না। ক্বারী (ইমাম) প্রতি রাকাতে পঞ্চাশ থেকে ষাটটি আয়াত পাঠ করতেন। যেমনটি সায়েবের বর্ণনায় এসেছে যে, তারা কুরআনের শত শত আয়াত সংবলিত সুরাগুলো পাঠ করতেন এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে তারা লাঠির উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতেন।

এই দুটি আছার (বর্ণনা) থেকে যা নির্ধারিত হয় তা হলো:

ক – এক ইমামের পর একাধিক ইমামের উপস্থিতি। তিনি হলেন উবাই। এটি প্রথম ইমামের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে হতে পারে যাতে তার সাথে অন্য একজন সাহায্যকারী থাকে, অথবা এটি মুক্তাদিদের আরাম প্রদান এবং মুসল্লিদের উজ্জীবিত করার জন্য হতে পারে; বিশেষ করে তারা যখন বিচ্ছিন্নভাবে নামাজ পড়তেন তখন তারা একাধিক ইমামের সাথে নতুন পরিচিত হয়েছিলেন।

উমর (রা.) এর চেয়েও অগ্রসর হয়ে মহিলাদের জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করেছিলেন এবং তারাবিহর জন্য একাধিক ইমাম নির্বাচিত করেছিলেন। মহিলাদের ইমাম ছিলেন সুলাইমান ইবনে আবি হাতমাহ। যেমনটি আল-মারওয়াযির বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মানুষের জন্য দুইজন ক্বারী নিযুক্ত করেছিলেন; উবাই ইবনে কাব পুরুষদের নামাজ পড়াতেন এবং ইবনে আবি হাতমাহ মহিলাদের নামাজ পড়াতেন। এই বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, সুলাইমান ইবনে আবি হাতমাহ-এর মহিলাদের ইমামতি উবাই-এর পুরুষদের ইমামতি চলাকালীন সময়েই ছিল। অর্থাৎ তারা একই সময়ে নামাজ পড়াতেন। তিনি এদের জন্য এবং তিনি তাদের জন্য।

এটি ছিল উদ্যম, ধৈর্য, দীর্ঘ কিয়াম এবং কিরাআতের আধিক্যের দিক থেকে তারাবিহর সর্বোচ্চ পর্যায়।

অতঃপর তা ক্রমান্বয়ে সহজতর পদ্ধতির দিকে ধাবিত হয়, ফলে ইমামের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, কিরাআত সংক্ষেপ করা হয় এবং রাকাতের সংখ্যা বাড়ানো হয়।

আর এর চেয়েও বেশি ইমামের সংখ্যা সম্পর্কে আসিম হতে আবু উসমান (রহ.)-এর বর্ণনায় এসেছে যে, উমর (রা.) রমজানে কুরআন একত্রিত করেছিলেন। তিনি তাদের মধ্যে যার কিরাআত দ্রুত তাকে ত্রিশটি আয়াত, যার কিরাআত মাঝারি তাকে পঁচিশটি এবং যার কিরাআত ধীরস্থির তাকে বিশটি আয়াত পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এখানে আমরা একাধিক ইমামের উপস্থিতি দেখতে পাই যা ইমাম ও মুক্তাদি উভয়ের জন্যই অধিক আরামদায়ক ও সহজতর। এরপর আমরা কিরাআত সংক্ষেপ করার বিষয়টিও দেখতে পাই, যেখানে সর্বোচ্চ সীমা ছিল ত্রিশ আয়াত, অথচ আগে তা ষাট বা শত শত আয়াত পর্যন্ত পৌঁছাত। এমনকি আমরা অন্য একটি বর্ণনা পাই যেখানে উমর (রা.) উবাই-কে নির্দেশ দিলে তিনি রমজানে তাদের ইমামতি করেন। তারা রাতের এক চতুর্থাংশ ঘুমাতেন, এক চতুর্থাংশ কিয়াম করতেন এবং এক চতুর্থাংশ সময় সেহরি ও নিজেদের প্রয়োজনে ব্যয় করার জন্য অবসর নিতেন। তিনি প্রতি রাকাতে তাদের নিয়ে পাঁচ থেকে ছয়টি আয়াত পাঠ করতেন এবং তাদের নিয়ে জোড়ায় জোড়ায় আঠারো রাকাত নামাজ পড়তেন।
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৮৩)
يسلم في كل ركعتين، ويروحهم قدر ما يتوضأ المتوضئ ويقضي حاجته، بهذا يتضح إلى أي مدى حدث تغيير وتجفيف في الكيفية والقراءة.

أما عدد الركعات فكالآتي:

‌‌1- فتقدم أن أول ما أمر عمر أُبَيًّا أن يقوم بالناس أنه أمره بثمان ركعات. وكان يقرأ فيها بالمئين، وكانوا لا ينصرفون إلا ي وجه الفجر.

‌‌2- وتقدم أن عمر أمر أُبَيًّا وتَمِيماً أن يقوما للناس ثلاث عشرة ركعة. وهذا بالنسبة إلى ما جاء من ثمان ركعات يكون معها ثلاث وترا. وقد جاءت رواية محمد بن سرين أن معاذا أبا حليمة القاري كان يصلي بالناس إحدى وأربعون ركعة. ومعاذ أبو حليمة هذا، قال في التقريب: "هو معاذ بن الحارث الأنصاري البخاري القاري أحد من أقامه عمر بمصلى التراويح. وقيل هو آخر يكنى أبا الحارث صحابي صغير استشهد بالحرة … " اهـ.

والحرة كانت سنة 63 يؤيد هذا العدد ويفصله رواية أبي زيد عن صالح مولى التوأمة قال: "أدركت الناس قبل الحرة يقومون بإحدى وأربعين ركعة يوترون فيها بخمسة، فكانت الترويح إحدى وأربعون ينقصها أي ستة وثلاثون ركعة.

وصالح هذا قال في التقريب: "هو صالح بن نبهان المدني مولى التوأمة بفتح المشناة وسكون الواو وبعدها همزة مفتوحة، صدوق اختلط في أخر أمره".

قال بن عدي: "لا بأس برواية القدماء عنه كابن أبي زيد وابن جرير، من الرابعة مات سنة 125. والرواية هنا عنه من رواية الأقدمين. وهو ابن أبي ذئب كما مثل ابن عدي لما لا بأس به عنه. فهو هنا يقول: أدركت الناس قبل الحرة يقومون بإحدى وأربعون ركعة ويوترون منها بخمسة. وهذا موافق لما قاله محمد بن سرين أن معاذا بن حليمة القاري كان يصلي بالناس إحدى وأربعين ركعة أي ستا وثلاثين قياما وخمسة وترا.

أ - فتكون التراويح زمن عمر رضي الله عنه بدأت بثلاث عشرة ركعة أي بما فيها الوتر.

ب - ثم إلى ثلاث وعشرين بما فيها الوتر ثلاث.

ج - ثم بست وثلاثين ومعها خمس ركعات وترا. والمجموع إحدى وأربعين ركعة إلا أننا نلاحظ أن كثرة الركعات معها تخفيف القراءة لأنه:

أولا: ثمان ركعات، أو ثمان عشرة ركعة، يقرؤون بالمئين. وكانوا
প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফেরাতেন এবং কোনো ওজুকারী ব্যক্তি যেভাবে ওজু করে ও তার প্রয়োজন পূরণ করে, সে পরিমাণ সময় তাদেরকে বিশ্রাম দিতেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এর পদ্ধতি ও কিরাআতের ক্ষেত্রে কতটুকু পরিবর্তন ও সংক্ষিপ্তকরণ ঘটেছে।

আর রাকাত সংখ্যার বিবরণ নিম্নরূপ:

‌‌১- ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, ওমর (রা.) যখন প্রথম উবাই (রা.)-কে মানুষের ইমামতি করার নির্দেশ দেন, তখন তাঁকে আট রাকাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তাতে শত শত আয়াত বিশিষ্ট সূরাসমূহ (মিঈন) পাঠ করতেন এবং তারা ফজরের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ফিরতেন না।

‌‌২- ইতিপূর্বে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, ওমর (রা.) উবাই ও তামীম (রা.)-কে মানুষের জন্য তের রাকাত নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর এটি সেই আট রাকাত বর্ণনার সাপেক্ষে যেখানে সাথে তিন রাকাত বিতর থাকে। মুহাম্মদ ইবনে সিরীন থেকে একটি বর্ণনা এসেছে যে, মুআয আবু হালীমা আল-কারি মানুষের সাথে একচল্লিশ রাকাত নামাজ পড়তেন। আর এই মুআয আবু হালীমা সম্পর্কে 'তাকরীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "তিনি হলেন মুআয বিন আল-হারিস আল-আনসারী আল-বুখারী আল-কারি, যাঁদেরকে ওমর (রা.) তারাবিহর নামাজের জন্য নিযুক্ত করেছিলেন। কেউ কেউ বলেন তিনি অন্য একজন, যার উপনাম ছিল আবু হারিস, তিনি একজন ছোট সাহাবী এবং হাররার যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন..." সমাপ্ত।

আর হাররার যুদ্ধ হয়েছিল ৬৩ হিজরীতে। এই সংখ্যাটিকে সমর্থন ও বিশ্লেষণ করে আবু যাইদ থেকে বর্ণিত সালিহ মাওলা আত-তাওআমাহ-এর বর্ণনা। তিনি বলেন: "আমি হাররার ঘটনার আগে লোকদের দেখেছি যে তারা একচল্লিশ রাকাত নামাজ পড়ত এবং তাতে পাঁচ রাকাত বিতর আদায় করত।" সুতরাং তারাবিহ ছিল একচল্লিশ রাকাত বিয়োগ (বিতর), অর্থাৎ ছত্রিশ রাকাত।

আর এই সালিহ সম্পর্কে 'তাকরীব' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "তিনি হলেন সালিহ বিন নাবহান আল-মাদানী, মাওলা আত-তাওআমাহ (তাওআমাহ শব্দের 'তা' বর্ণে যবর, 'ওয়াও' বর্ণে সাকিন এবং এরপর 'হামজা' বর্ণে যবর), তিনি সত্যবাদী কিন্তু শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল।"

ইবনে আদি বলেন: "পূর্ববর্তী বর্ণনাকারীদের সূত্রে তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই, যেমন ইবনে আবু যাইদ এবং ইবনে জারীর। তিনি চতুর্থ স্তরের এবং ১২৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।" আর এখানে তাঁর থেকে এই বর্ণনাটি পূর্ববর্তী বর্ণনাকারীদের মাধ্যমেই এসেছে। তিনি হলেন ইবনে আবু যিব, যেমনটি ইবনে আদি তাঁর বর্ণনার বিশুদ্ধতার উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন। সুতরাং তিনি এখানে বলছেন: "আমি হাররার ঘটনার আগে লোকদের দেখেছি যে তারা একচল্লিশ রাকাত নামাজ পড়ত এবং তাতে পাঁচ রাকাত বিতর আদায় করত।" এটি মুহাম্মদ ইবনে সিরীন এর বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, মুআয বিন হালীমা আল-কারি লোকদের নিয়ে একচল্লিশ রাকাত নামাজ পড়তেন, অর্থাৎ ছত্রিশ রাকাত কিয়াম (তারাবিহ) এবং পাঁচ রাকাত বিতর।

ক - অতএব, ওমর (রা.)-এর যুগে তারাবিহ শুরু হয়েছিল তের রাকাত দিয়ে, যার মধ্যে বিতরও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

খ - তারপর তেইশ রাকাত পর্যন্ত (হয়েছিল), যার মধ্যে তিন রাকাত বিতর ছিল।

গ - এরপর ছত্রিশ রাকাত এবং সাথে পাঁচ রাকাত বিতর। সর্বমোট একচল্লিশ রাকাত। তবে আমরা লক্ষ্য করি যে, রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে কিরাআত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। কারণ:

প্রথমত: আট রাকাত বা আঠারো রাকাতের ক্ষেত্রে তারা শত শত আয়াত বিশিষ্ট সূরাসমূহ (মিঈন) পাঠ করতেন। এবং তারা...
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৮৪)
لا ينصرفون إلا على وجه الفجر. وعليه قلنا تكون القراءة لست وثلاثين ركعة كالقراءة لثمان أو لست عشرة ركعة.

بل وجدنا عمليا أن عمر رضي الله عنه جمع القراء فأمر من كان أخف قراءة أن يقرأ بثلاثين بينما كانت القراءة بخمسين بستين كما تقدم.

وعليه لا يكون تعارض بين الروايات الواردة وعدد الركعات للتراويح زمن عمر رضي الله عنه. كما قال الباجي رحمه الله في شرح الموطأ ج1ص208 ما ملخصه: قد اختلفت الروايات فيما كان يصلى به في رمضان في زمان عمر رضي الله عنه. فروى السائب بن يزيد إحدى عشرة ركعة، وروى يزيد بن رومان ثلاثا وعشرين ركعة، وروى نافع مولى ابن عمر أنه أدرك الناس يصلون بتسع وثلاثين ركعة يوترون فيها بثلاث.

فيحتمل أن يكون عمر رضي الله عنه بدأ بثمان على ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم كما أفاده حديث عائشة رضي الله عنها المتقدم: "ما زاد رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان ولا في غيره على ثمان ركعات". وأمرهم مع ذلك بطول القراءة يقرأ القارئ بالمئين في الركعة فلما ضعف الناس عن ذلك أمرهم بثلاث وعشرين ركعة على وجه التخفيف عنهم من طول القيام، واستدرك بعض الفضيلة بزيادة الركعات وكان يقرأ البقرة في ثمان ركعات أو اثني عشرة ركعة، وقد قيل: إنه كان يقرأ من ثلاثين آية إلى عشرين آية. وكان الأمر على ذلك إلى يوم الحرة، فثقل عليهم القيام فنقصوا في القراءة وزادوا في عدد الركعات فجاءت ستة وثلاثين ركعة والوتر بثلاث فمضى الأمر على ذلك ولعل التخفيف إلى ستة وثلاثين وقع قبل الحرة كما جاء في رواية محمد بن سرين أن معاذ أبا حليمة كان يقوم بهم إحدى وأربعين ركعة. وهو ما مات إلا في وقعة الحرة.

والذي يهمنا ما ظهر من التدرج في التراويح في زمن عمر رضي الله عنه بالتخفيف من القراءة وزيادة عدد الركعات فكانت قلة الركعات معها كثرة القراءة وكثرة القراءة معها قلة الركعات.

مناقشة "نعمة البدعة":

وقبل أن ننتقل من عهد عمر إلى عهد عثمان رضي الله عنهما يحسن إيراد الجواب على قول عمر رضي الله عنه: "نعمت البدعة" لجمعه الناس على قارئ واحد وصلاتهم إياها في جماعة. فما مراده بقوله هذا وما الجمع بين قوله: "نعمت" وبين كونها بدعة؟

وخير ما نسوق في ذلك هو كلام شيخ الإسلام بن تيمية رحمه الله في
তারা ফজর পর্যন্ত বিদায় নিত না। আর এর ওপর ভিত্তি করেই আমরা বলেছি যে, ছত্রিশ রাকাতের কিরাত আট বা ষোলো রাকাতের কিরাতের মতোই হবে।

বরং আমরা বাস্তবিকভাবেই পেয়েছি যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু কিরাত পাঠকারীদের একত্র করেছিলেন এবং যার কিরাত সংক্ষিপ্ত ছিল তাকে ত্রিশ আয়াত পড়তে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে কিরাত পঞ্চাশ বা ষাট আয়াত পর্যন্ত হতো যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

সুতরাং উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগে তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকে না। যেমনটি বাজি রহমতুল্লাহি আলাইহি শারহুল মুওয়াত্তার ১ম খণ্ড ২০৮ পৃষ্ঠায় সংক্ষেপে বলেছেন: উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর আমলে রমজানে কত রাকাত নামাজ পড়া হতো সে বিষয়ে বর্ণনাগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে। সায়িব বিন ইয়াযিদ এগারো রাকাত বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ বিন রুমান তেইশ রাকাত বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি লোকদের ঊনচল্লিশ রাকাত নামাজ পড়তে দেখেছেন যার মধ্যে তিন রাকাত বিতর ছিল।

সম্ভবত উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে আট রাকাত দিয়ে শুরু করেছিলেন, যেমনটি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার পূর্বে উল্লিখিত হাদিস থেকে বোঝা যায়: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানে বা রমজানের বাইরে আট রাকাতের বেশি পড়তেন না।" এর পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ কিরাত পড়ার নির্দেশ দিতেন যেখানে কারী প্রতি রাকাতে শত শত আয়াত পড়তেন। যখন মানুষ এতে দুর্বল হয়ে পড়ল, তখন তিনি দীর্ঘ কিয়ামের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে তাদের তেইশ রাকাত পড়ার নির্দেশ দিলেন। রাকাত সংখ্যা বাড়িয়ে তিনি কিরাতের দীর্ঘতার কিছু ফযিলত অর্জনের চেষ্টা করেছিলেন এবং তিনি আট রাকাত বা বারো রাকাতে সূরা বাকারা পড়তেন। বলা হয়েছে যে, তিনি ত্রিশ থেকে বিশ আয়াত পর্যন্ত পড়তেন। হাররার ঘটনা পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই ছিল। এরপর কিয়াম যখন তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে গেল, তখন তারা কিরাত কমিয়ে রাকাত সংখ্যা বাড়িয়ে দিল। ফলে ছত্রিশ রাকাত এবং তিন রাকাত বিতর প্রচলিত হলো। বিষয়টি এভাবেই চলতে থাকল। সম্ভবত ছত্রিশ রাকাতের এই সহজীকরণ হাররা ঘটনার আগেই ঘটেছিল, যেমনটি মুহাম্মদ বিন সিরিনের বর্ণনায় এসেছে যে, মুয়াজ আবু হালিমা তাদের নিয়ে একচল্লিশ রাকাত পড়তেন। আর তিনি হাররা যুদ্ধেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগে তারাবিহতে পর্যায়ক্রমে কিরাত কমিয়ে রাকাত সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া। সুতরাং রাকাত সংখ্যা যখন কম ছিল তখন কিরাত দীর্ঘ ছিল এবং যখন রাকাত সংখ্যা বেশি ছিল তখন কিরাত সংক্ষিপ্ত ছিল।

"চমৎকার বিদআত" বিষয়ে আলোচনা:

উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগ থেকে উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহুর যুগে যাওয়ার আগে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর এই উক্তি—"এটি কতই না চমৎকার বিদআত"—এর উত্তর প্রদান করা সমীচীন হবে, যা তিনি মানুষকে একজন কারীর পেছনে সমবেত করা এবং জামাতে তাদের সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে বলেছিলেন। এই কথার মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তাঁর "কতই না চমৎকার" বলা এবং "বিদআত" হওয়ার মধ্যে সমন্বয় কী?

এক্ষেত্রে আমরা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ যা পেশ করতে পারি তা হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমতুল্লাহি আলাইহির বক্তব্য...
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৮৫)
كتابه (اقتضاء صراط المستقيم) ص 275 ما نصه قال: "فأما صلاة التراويح فليست بدعة في الشريعة، بل هي سنة بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم وفعله، فإنه قال: "إن الله فرض عليكم صيام رمضان وسننت لكم قيامه". ولا صلاتها جماعة بدعة بل هي سنة في الشريعة بل قد صلها رسول الله صلى الله عليه وسلم في جماعة في أول شهر رمضان ليلتين، بل ثلاثا. وصلاها كذلك في العشر الأواخر في جماعة مرات. وقال: "إن الرجل إذا صلى مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة". لما قام بهم حتى خشوا أن يفوتهم الفلاح. رواه أهل السنن.

وبهذا الحديث احتج أحمد وغيره على أن فعلها في الجماعة أفضل من فعلها على حال الانفراد. وفي قوله هذا ترغيب في قيام شهر رمضان خلف الإمام وذلك أوكد من أن يكون سنة مطلقة.

وكان الناس يصلون جماعة في المسجد على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ويقرهم وإقراره سنة منه صلى الله عليه وسلم وأما قول عمر رضي الله عنه: "نعمت البدعة هذه" فأكثر المحتجين بهذا لو أردنا أن نثبت حكما بقول عمر الذي لم يخالف فيه لقالوا: "الصاحب ليس بحجة".

فكيف يكون حجة لهم في خلاف قول الرسول صلى الله عليه وسلم؟ ومن اعتقد أن قول الصاحب حجة فلا يعتقده إذا خالف الحديث.

فعلى التقديرين لا تصلح معارضة الحديث بقول الصاحب. نعم يجوز تخصيص عموم الحديث بقول الصاحب الذي لم يخالف على إحدى الروايتين فيفيدهم هذا (حسن تلك البدعة) أما غيرها فلا.

ثم نقول أكثر ما في هذا تسمية عمر تلك بدعة مع حسنها، وهذه تسمية لغوية لا تسمية شرعية، وذلك أن البدعة في اللغة تعم كل ما فعل ابتداء من غير مثال سابق وأما البدعة الشرعية فكل ما لم يدل عليه دليل شرعي.

فإذا كان نص رسول الله صلى الله عليه وسلم قد دل على استحباب فعل أو إيجابه بعد موته أو دل عليه مطلقا ولم يعمل به إلا بعد موته ككتاب الصدقة الذي أخرجه أبو بكر الصديق رضي الله عنه فإذا عمل أحد ذلك العمل بعد موته صح أن يسمى ((بدعة)) في اللغة لأنه عمل مبتدأ كما أن نفس
তার গ্রন্থ (ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম) পৃষ্ঠা ২৭৫-এ যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "তবে তারাবীহ সালাত শরীয়তে কোনো বিদআত নয়, বরং এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী ও কর্ম দ্বারা প্রমাণিত একটি সুন্নাত। কেননা তিনি বলেছেন: 'নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর রমজানের সিয়াম ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য এর কিয়ামকে (রাতের সালাত) সুন্নাত করেছি।' আর এই সালাত জামাতে আদায় করাও বিদআত নয়, বরং তা শরীয়তে সুন্নাত। এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শুরুতে দুই রাত, বরং তিন রাত জামাতে তা আদায় করেছেন। অনুরূপভাবে তিনি শেষ দশকেও কয়েকবার জামাতে তা আদায় করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: 'নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যদি ইমামের সাথে তিনি ফিরে যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করে, তবে তার জন্য সারা রাতের কিয়ামের সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়।' তিনি এটি তখন বলেছিলেন যখন তিনি তাদের নিয়ে কিয়াম করেছিলেন এবং তারা 'ফালাহ' (সাহরি) ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। এটি সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন।"

এই হাদিসের মাধ্যমে আহমাদ ও অন্যান্যগণ এই দলিল পেশ করেছেন যে, একাকী পড়ার চেয়ে জামাতে এই সালাত আদায় করা উত্তম। আর তার এই বাণীর মধ্যে ইমামের পেছনে রমজানের কিয়াম আদায়ের প্রতি উৎসাহ রয়েছে এবং এটি সাধারণ সুন্নাত হওয়ার চেয়েও অধিক গুরুত্ব বহন করে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মানুষ মসজিদে জামাতে সালাত আদায় করত এবং তিনি তাদের মৌনসম্মতি প্রদান করতেন। আর তার মৌনসম্মতি প্রদান করাও তার পক্ষ থেকে একটি সুন্নাত। আর ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কথা: "এটি কতই না চমৎকার বিদআত"—এর মাধ্যমে যারা দলিল পেশ করেন তাদের অধিকাংশের অবস্থা এমন যে, আমরা যদি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এমন কোনো কথার মাধ্যমে কোনো হুকুম সাব্যস্ত করতে চাই যে বিষয়ে কেউ তার বিরোধিতা করেননি, তবে তারা বলে বসবেন: "সাহাবীর কথা কোনো দলিল নয়।"

তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিপরীতে এটি তাদের জন্য কীভাবে দলিল হতে পারে? আর যারা বিশ্বাস করেন যে সাহাবীর কথা দলিল, হাদিসের পরিপন্থী হলে তারাও তা গ্রহণ করেন না।

সুতরাং উভয় অবস্থাতেই সাহাবীর কথা দ্বারা হাদিসের বিরোধিতা করা সঠিক নয়। হ্যাঁ, দুই বর্ণনার একটি অনুযায়ী হাদিসের সাধারণ অর্থকে এমন সাহাবীর কথা দ্বারা নির্দিষ্ট করা জায়েজ হতে পারে যে ক্ষেত্রে কেউ তার বিরোধিতা করেননি; ফলে এটি তাদের জন্য (সেই বিদআতটি উত্তম হওয়ার ক্ষেত্রে) ফলপ্রসূ হতে পারে, তবে তা ছাড়া অন্য কিছুতে নয়।

অতঃপর আমরা বলব, এর মধ্যে বড়জোর যা আছে তা হলো ওমর (রা.) সেই আমলটিকে 'বিদআত' হিসেবে নামকরণ করেছেন তার উত্তম হওয়া সত্ত্বেও। আর এটি একটি আভিধানিক নামকরণ, শরীয়তগত নামকরণ নয়। কারণ আভিধানিক অর্থে 'বিদআত' বলতে এমন প্রতিটি কাজকে বোঝায় যা কোনো পূর্ব উদাহরণ ছাড়াই নতুনভাবে শুরু করা হয়েছে। আর শরয়ী বিদআত হলো এমন প্রতিটি বিষয় যার সপক্ষে কোনো শরয়ী দলিল নেই।

অতএব, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো বাণী তাঁর ইন্তেকালের পরে কোনো কাজ মুস্তাহাব বা ওয়াজিব হওয়ার ওপর দলিল প্রদান করে, অথবা নিরঙ্কুশভাবে দলিল প্রদান করে কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় তার ওপর আমল করা হয়নি—যেমন সাদাকাহ সংক্রান্ত কিতাব যা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বের করেছিলেন—তবে তাঁর ইন্তেকালের পর যদি কেউ সেই আমলটি করে, তবে আভিধানিক অর্থে তাকে "বিদআত" বলা সঠিক হবে; কারণ এটি একটি নতুন শুরু করা আমল, যেমনটি খোদ...
(খণ্ড: ৫) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৮৬)
الدين الذي جاء به النبي صلى الله عليه وسلم يسمى بدعة ويسمى محدثا في اللغة. كما قالت رسل قريش للنجاشي عن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم المهاجرون إلى الحبشة "وإن هؤلاء خرجوا من دين آبائهم ولم يدخلوا في دين الملك وجاءوا بدين محدث لا يعرف".

ثم ذلك العمل الذي يدل عليه الكتاب والسنة ليس بدعة في الشريعة وإن سمي بدعة في اللغة أعم من لفظ البدعة في الشريعة، وإن سمي بدعة في اللغة. فلفظ "البدعة" في اللغة أعم من لفظ "البدعة" في الشريعة.

وقد علم أن قول النبي صلى الله عليه وسلم: "كل بدعة ضلالة" لم يُرِد به كل عمل مبتدأ، فإن دين الإسلام بل كل دين جاءت به الرسل فهو عمل مبتدأ. وإنما أراد ما ابتدئ من الأعمال التي لم يشرعها هو صلى الله عليه وسلم. وإذا كان كذلك فالنبي صلى الله عليه وسلم قد كانوا يصلون قيام رمضان على عهده جماعة وفرادى. وقد قال لهم في الليلة الثالثة أو الرابعة لما اجتمعوا: "إنه لم يمنعني أن أخرج إليكم إلا كراهة أن يفرض عليكم فصلوا في بيوتكم فإن أفضل صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة".

فعلل النبي صلى الله عليه وسلم عدم الخروج بخشية الافتراض، وخوف الافتراض قد زال بموته صلى الله عليه وسلم فانتفى المعارض".

وساق بعد ذلك أدلة أخرى كجمع القرآن ونفى عمر ليهود خيبر، وقتال أبي بكر لمانعي الزكاة. ثم قال مبينا ضابط البدعة الحسنة من السيئة بما نصه: "والضابط في هذا والله أعلم أن يقال: إن الناس لا يحدثون شيئا إلا لأنهم يرونه مصلحة، إذ لو اعتقدوه مفسدة لم يحدثوه. فإنه لا يدعو إليه عقل ولا دين فما رآه المسلمون مصلحة نظر في السبب المحوج إليه، فإن كان السبب المحوج إليه أمرا حدث بعد النبي صلى الله عليه وسلم فهنا قد يجوز إحداث ما تدعوا إليه الحاجة إليه - قال رحمه الله عبارة مفادها أن ترك النبي صلى الله عليه وسلم لهذا الأمر من غير تفريط -.

وكذلك إن كان المقتضى لفعله قائما على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ولكن تركه النبي صلى الله عليه وسلم لمعارض وقد زال بموته".أهـ

هذا هو كلام شيخ الإسلام بن تيمية بنصه في بيان كلمة عمر رضي الله عنه "نعمت البدعة". وأعتقد أنه واضح في الرد على من يحتج بها على أن صلاة التراويح جماعة بدعة أو أن العدد الذي ورد عن عمر فيها 21 ركعة بدعة.

غير أن البحث في إثبات ذلك العدد عنه أو عدم إثباته ويكفي في ذلك روايات مالك في الموطأ والله تعالى أعلم.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে দ্বীন নিয়ে এসেছেন, আভিধানিক অর্থে তাকে বিদআত এবং 'মুহদাস' (নতুন উদ্ভাবন) বলা হয়। যেমনটি কুরাইশদের প্রতিনিধিরা নাজ্জাশীর কাছে আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীদের সম্পর্কে বলেছিল: "নিশ্চয়ই তারা তাদের পিতৃপুরুষদের ধর্ম ত্যাগ করেছে, বাদশাহর ধর্মেও প্রবেশ করেনি এবং এমন এক নতুন ধর্ম নিয়ে এসেছে যা কারো পরিচিত নয়।"

অতঃপর কিতাব ও সুন্নাহ যে আমলের প্রতি নির্দেশ করে, তা শরীয়তের পরিভাষায় বিদআত নয়; যদিও আভিধানিক অর্থে তাকে বিদআত বলা হয়। আভিধানিক অর্থে 'বিদআত' শব্দটি শরীয়তের 'বিদআত' শব্দের চেয়ে অধিক ব্যাপক। সুতরাং ভাষাগতভাবে 'বিদআত' শব্দটি শরীয়তের পরিভাষার চেয়ে ব্যাপকতর অর্থে ব্যবহৃত হয়।

এটি সুবিদিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা" - এর দ্বারা তিনি প্রতিটি নতুন শুরু হওয়া আমলকে বুঝাননি। কারণ ইসলাম ধর্ম, বরং রাসূলগণ যে ধর্মই নিয়ে এসেছেন, তা ছিল একটি নতুন সূচিত আমল। তিনি মূলত সেই আমলগুলো বুঝিয়েছেন যা নতুনভাবে উদ্ভাবন করা হয়েছে অথচ তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা শরীয়তভুক্ত করেননি। যদি বিষয়টি তেমনই হয়, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে সাহাবীগণ রমজানের রাতে জামাতে এবং একাকী সালাত আদায় করতেন। তৃতীয় বা চতুর্থ রাতে যখন তারা একত্রিত হলেন, তখন তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: "তোমাদের নিকট বেরিয়ে আসতে আমাকে কেবল এই আশঙ্কাই বাধা দিয়েছে যে, পাছে এটি তোমাদের ওপর ফরজ করে দেয়া হয়। সুতরাং তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করো, কারণ ফরজ সালাত ব্যতীত মানুষের জন্য ঘরে সালাত আদায় করাই উত্তম।"

সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাইরে না আসার কারণ হিসেবে ফরজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইন্তেকালের পর ফরজ হওয়ার সেই আশঙ্কা দূরীভূত হয়েছে, ফলে প্রতিবন্ধকটিও অপসারিত হয়েছে।

এরপর তিনি আরও কিছু দলিল উপস্থাপন করেন যেমন—কুরআন সংকলন করা, উমর কর্তৃক খায়বারের ইহুদিদের বহিষ্কার এবং আবু বকর কর্তৃক জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। অতঃপর তিনি উত্তম বিদআত ও মন্দ বিদআতের মানদণ্ড বর্ণনা করে বলেন: "এ বিষয়ে মূলনীতি হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—বলা যেতে পারে যে, মানুষ কোনো নতুন কিছু উদ্ভাবন করে না যতক্ষণ না তারা তাতে কোনো কল্যাণ দেখতে পায়। কারণ তারা যদি একে ক্ষতিকর মনে করত তবে তা উদ্ভাবন করত না। কেননা বুদ্ধি বা ধর্ম কেউই এর প্রতি আহ্বান জানায় না। সুতরাং মুসলিমগণ যা কিছু কল্যাণকর মনে করেন, তা যে কারণে প্রয়োজন হয়েছে সেই কারণটির দিকে তাকাতে হবে। যদি প্রয়োজনীয় সেই কারণটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত কোনো বিষয় হয়, তবে এখানে প্রয়োজনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা জায়েজ হতে পারে - তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এমন এক বক্তব্য দিয়েছেন যার অর্থ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো প্রকার অবহেলা ছাড়াই এই বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছিলেন -।

অনুরূপভাবে, যদি আমলটি করার প্রেক্ষাপট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে বিদ্যমান থাকে কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো বিশেষ প্রতিবন্ধকের কারণে তা বর্জন করেন এবং তাঁর ইন্তেকালের পর সেই প্রতিবন্ধক দূর হয়ে যায়।" [সমাপ্ত]

এটিই শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার মূল বক্তব্য, যা তিনি উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি "এটি কতই না উত্তম বিদআত" এর ব্যাখ্যায় প্রদান করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, যারা এই উক্তিকে দলিল হিসেবে পেশ করে জামাতে তারাবিহর সালাতকে বিদআত অথবা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত ২১ রাকাতের সংখ্যাকে বিদআত বলতে চান, তাদের জন্য এটি একটি সুস্পষ্ট জবাব।

তবে সেই সংখ্যাটি তাঁর থেকে প্রমাণিত কি না সে বিষয়ে গবেষণার অবকাশ রয়েছে, আর এ ক্ষেত্রে মুয়াত্তা মালেক-এর বর্ণনাগুলোই যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: -)
التراويح أكثر من ألف عام في المسجد النبوي   (عطية سالم)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: التراويح أكثر من ألف عام في المسجد النبوي

المؤلف: عطية بن محمد سالم (ت 1420هـ)

الناشر: مجلة الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، ورقم الجزء هو رقم العدد من المجلة]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মসজিদে নববীতে এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে তারাবিহ   (আতিয়্যাহ সালিম)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

গ্রন্থ: মসজিদে নববীতে এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে তারাবিহ

লেখক: আতিয়্যাহ ইবনে মুহাম্মাদ সালিম (মৃত্যু ১৪২০ হিজরি)

প্রকাশক: মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকী

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এবং খণ্ড নম্বরটি সাময়িকীর সংখ্যা নম্বর হিসেবে গণ্য]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ৬) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
التراويح أكثر من ألف عام في المسجد النبوي

بقلم الشيخ عطية محمد سالم القاضي بالمحكمة الكبرى بالمدينة

‌‌الحلقة الثانية:

‌‌عهد عثمان وعلي رضي الله عنهما:

أما في عهد عثمان رضي الله عنه فإن عليا بنفسه كان يؤم الناس في التراويح أكثر ليالي الشهر، كما في سنن البيهقي رحمه الله عن قتادة عن الحسن قال: "أمّنا علي بن أبي طالب في زمن عثمان بن عفان رضي الله عنه عشرين ليلة، ثم احتبس، فقال بعضهم: قد تفرغ لنفسه، ثم أمهم أبو حليمة معاذ القارئ، فكان يقنت".

ففي هذا العهد تولى علي رضي الله عنه بنفسه إمامة الناس عشرين ليلة، وفيه أيضا كان القنوت في العشر الأواخر.

أما مسألة القنوت فكان كذلك "أبيّ" يقنت في النصف الأخير من رمضان رواه البيهقي.

ولم نجد جديدا في عدد الركعات، وأغلب الظن أنها كانت على ما كانت عليه زمن عمر رضي الله عنه، لما سيأتي من عدد ركعاتها في عهد علي رضي الله عنه.

الدعاء في ختم القرآن:

غير أننا وجدنا هنا في عهد عثمان
মসজিদে নববীতে এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে তারাবিহ

মদীনাতুর মুনাওয়ারাহর গ্র্যান্ড কোর্টের বিচারক শায়খ আতিয়্যাহ মুহাম্মদ সালিমের কলমে

‌‌দ্বিতীয় পর্ব:

‌‌উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর যুগ:

উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিজেই মাসের অধিকাংশ রাতে তারাবিহতে মানুষের ইমামতি করতেন। যেমন ইমাম বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে কাতাদাহ থেকে এবং তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সময়ে আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বিশ রাত আমাদের ইমামতি করেছেন, তারপর তিনি বিরত থাকেন। তখন কেউ কেউ বললেন: তিনি নিজের ইবাদতের জন্য অবসর নিয়েছেন। অতঃপর আবু হালিমা মুয়াজ আল-কারি তাদের ইমামতি করেন এবং তিনি কুনুত পড়তেন।"

সুতরাং এই যুগে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) নিজেই বিশ রাত মানুষের ইমামতির দায়িত্ব পালন করেন এবং এ সময় শেষ দশদিনেও কুনুত পড়ার প্রচলন ছিল।

কুনুতের মাসআলার ক্ষেত্রে উবাই (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-ও রমজানের শেষার্ধে কুনুত পড়তেন, যা বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।

আর রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে আমরা নতুন কিছু খুঁজে পাইনি। প্রবল ধারণা এই যে, তা উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে যেমন ছিল তেমনই ছিল, কারণ আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে যা সামনে আসবে।

কুরআন খতমের দোয়া:

তবে আমরা এখানে উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে খুঁজে পেয়েছি
(খণ্ড: ৬) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
رضي الله عنه عملا يكاد يكون جديدا في التراويح وهو الدعاء بختم القرآن في نهاية الختمة، وذلك لما ذكره ابن قدامة رحمه الله في المغني ج2 ص171 قال: "فصل في ختم القرآن، قال الفضل بن زياد سألت أبا عبد الله فقلت: أختم القرآن، أجعله في الوتر أو في التراويح؟، قال: اجعله في التراويح حتى يكون لنا دعاء بين اثنين، قلت: كيف أصنع؟ قال: إذا فرغت من آخر القرآن فارفع يديك قبل أن تركع وادع بنا ونحن في الصلاة وأطل القيام، قلت بما أدعو؟ قال: بما شئت، قال: ففعلت بما أمرني، وهو خلفي يدعو قائما ويرفع يديه".

قال حنبل: "سمعت أحمد يقول: في ختم القرآن إذا فرغت من قراءة {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} فارفع يديك في الدعاء قبل الركوع، قلت إلى أي شيء تذهب في هذا؟ قال: رأيت أهل مكة يفعلونه، وكان سفيان بن عيينة يفعله معهم بمكة"، قال العباس بن عبد العظيم: "وكذلك أدركنا الناس بالبصرة وبمكة، ويروي أهل المدينة في هذا شيئا وذكر عن عثمان بن عفان".

فقوله رأيت أهل مكة يفعلونه وفعل سفيان بن عيينة معهم، ثم قول العباس بن عبد العظيم أدركنا الناس بالبصرة وبمكة وبروي أهل المدينة في هذا شيئا وذكر عن عثمان بن عفان يدل أنّه كان عملا عاما في تلك الأمصار مكة والبصرة والمدينة، ويشير إلى أنّه لم يكن قبل زمن عثمان.

كما يدل على أنّه من عمل عثمان رضي الله عنه إن صحت عبارته، ويروي أهل المدينة في هذا شيئا…الخ.

وعلى كل فقد فعله أحمد رحمه الله مستدلا بفعل أهل الثلاثة المذكورة ومستأنسا بما يروي أهل المدينة في هذا عن عثمان رضي الله عنه، مما يدل على أنّه كان موجودا بالمدينة عمل دعاء الختم الذي يعمل اليوم في التراويح مع طول القيام، وسيأتي نصه في سياق مذهب أحمد رحمه الله تعالى إن شاء الله.

العباس بن عبد العظيم:

أما العباس بن عبد العظيم الذي أسند إليه القول سابقا: أدركنا الناس بالبصرة ومكة ويوي أهل المدينة في هذا شيئا وذكر عن عثمان بن عفان؛ فإنّ العباس هذا قد ترجم له في التهذيب ج5 ص122 مستهلا يقول: "عباس بن عبد العظيم بن إسماعيل بن توبة العنبري أبو الفضل البصري الحافظ"، وعدّ من روى عنهم نحو العشرين، ثم قال: "وجماعة، وعند الجماعة ولكن البخاري تعليقا"، ثم عدّ عشرة أشخاص ممن أخذوا عنه ثم قال وغيرهم.
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তিনি তারাবিহর সালাতে এমন একটি আমল করেন যা প্রায় নতুন ছিল, আর তা হলো খতমের শেষে কুরআন সমাপ্তির দোয়া। এ সম্পর্কে ইবনে কুদামা রাহিমাহুল্লাহ 'আল-মুগনি'র ২য় খণ্ডের ১৭১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "কুরআন খতম সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ: ফজল ইবনে যিয়াদ বলেন, আমি আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বললাম—আমি কুরআন খতম করব, এটি কি বিতর সালাতে করব নাকি তারাবিহর সালাতে? তিনি বললেন: এটি তারাবিহর সালাতে করো যাতে আমাদের জন্য দুটির মাঝখানে একটি দোয়া করার সুযোগ থাকে। আমি বললাম: আমি কীভাবে করব? তিনি বললেন: যখন কুরআনের শেষ অংশ থেকে অবসর হবে, তখন রুকুতে যাওয়ার আগে তোমার হাত তোলো এবং আমাদের নিয়ে দোয়া করো, আর আমরা তখন সালাতে থাকব। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকো। আমি বললাম: আমি কী বলে দোয়া করব? তিনি বললেন: তোমার যা ইচ্ছা। ফজল বলেন: তিনি আমাকে যা আদেশ করেছিলেন আমি তাই করলাম, আর তিনি আমার পেছনে দাঁড়িয়ে হাত তুলে দোয়া করছিলেন।"

হানবাল বলেন: "আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি: কুরআন খতমের ক্ষেত্রে যখন তুমি 'কুল আউযু বিরাব্বিন নাস' তিলাওয়াত শেষ করবে, তখন রুকুর আগে দোয়ার জন্য তোমার হাত তোলো। আমি বললাম: এ বিষয়ে আপনি কোন মতের দিকে যাচ্ছেন? তিনি বললেন: আমি মক্কাবাসীদের এটি করতে দেখেছি, আর সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা মক্কায় তাদের সাথে এটি করতেন।" আব্বাস ইবনে আব্দুল আজিম বলেন: "একইভাবে আমরা বসরা ও মক্কায় লোকদের এই আমল করতে পেয়েছি। মদিনাবাসীরা এ বিষয়ে কিছু বর্ণনা করেন এবং সেখানে উসমান ইবনে আফফানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।"

সুতরাং তাঁর এই কথা যে, "আমি মক্কাবাসীদের এটি করতে দেখেছি" এবং তাদের সাথে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনার আমল করা, অতঃপর আব্বাস ইবনে আব্দুল আজিমের উক্তি যে, "আমরা বসরা ও মক্কায় লোকদের পেয়েছি এবং মদিনাবাসীরা এ বিষয়ে উসমান ইবনে আফফানের সূত্রে কিছু বর্ণনা করেন"—এসবই প্রমাণ করে যে, এটি মক্কা, বসরা ও মদিনার মতো প্রধান শহরগুলোতে একটি সাধারণ আমল ছিল। এটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে, উসমানের সময়ের আগে এই আমলটি ছিল না।

এটি আরও প্রমাণ করে যে, যদি বর্ণনাটি সঠিক হয় তবে এটি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমল ছিল; আর মদিনাবাসীরা এ সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করেন... ইত্যাদি।

যাই হোক, ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখিত তিনটি শহরের অধিবাসীদের আমলকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে এবং মদিনাবাসীদের পক্ষ থেকে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে যা বর্ণিত হয়েছে তার দ্বারা সমর্থন লাভ করে এই আমলটি করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, বর্তমানে তারাবিহর সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কুরআন খতমের যে দোয়ার আমল করা হয়, তা মদিনায় বিদ্যমান ছিল। ইনশাআল্লাহ ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহর মাযহাবের বর্ণনার প্রাসঙ্গিকে সামনে এর মূল পাঠ আসবে।

আব্বাস ইবনে আব্দুল আজিম:

যে আব্বাস ইবনে আব্দুল আজিমের দিকে পূর্বের উক্তিটি সম্বন্ধ করা হয়েছে যে, "আমরা বসরা ও মক্কায় লোকদের পেয়েছি এবং মদিনাবাসীরা এ বিষয়ে উসমান ইবনে আফফানের সূত্রে কিছু বর্ণনা করেন"; সেই আব্বাসের জীবনী 'আত-তাহজিব' গ্রন্থের ৫ম খণ্ডের ১২২ পৃষ্ঠায় এভাবে শুরু হয়েছে: "আব্বাস ইবনে আব্দুল আজিম ইবনে ইসমাইল ইবনে তওবা আল-আনবারি আবু আল-ফজল আল-বাসরি আল-হাফিজ"। সেখানে তিনি যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন এমন প্রায় বিশজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে: "এবং একটি জামাত, তারা সবাই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তবে বুখারি কেবল তালীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন"। এরপর তাঁর থেকে যারা ইলম অর্জন করেছেন এমন দশজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে "এবং আরও অনেকে"।
(খণ্ড: ৬) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ثم قال: قال أبو حاتم: "صدوق"، وقال النسائي: "مأمون"، وذكر ثناء العلماء عليه، وأخيرا قال: قال البخاري والنسائي: "ومات سنة256" ثم قال: "قلت - أي صاحب التهذيب - وقال مسلمة: "بصري ثقة".

وقال عنه في التقريب: "عباس بن عبد العظيم بن إسماعيل العنبري أبو الفضل البصري ثقة حافظ من كبار الحادية عشرة مات سنة40 - حث م عم".

ورمزه بحرف: (خت) أي للبخاري تعليقا، وحرف (م) أي لمسلم، وحرف (عم) أي للجماعة سوى الشيخين.

فتبين بذلك أن نقله عن أهل المدينة نقل ثقة حافظ، والله تعالى أعلم.

فيكون الجديد في التراويح في عهد عثمان رضي الله عنه أنّ عليا بنفسه كان يؤم الناس فيها عشرين ليلة، وأنّه وجد دعاء ختم القرآن.
এরপর তিনি বলেন: আবু হাতিম বলেছেন: "সত্যবাদী", এবং নাসায়ী বলেছেন: "বিশ্বস্ত", এবং তিনি তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা উল্লেখ করেছেন, অবশেষে তিনি বলেন: বুখারি এবং নাসায়ী বলেছেন: "তিনি ২৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন", এরপর তিনি বলেন: "আমি বলছি—অর্থাৎ তাহজিব-এর লেখক—এবং মাসলামাহ বলেছেন: 'বসরার নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী'।"

এবং 'তাকরিব' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: "আব্বাস বিন আব্দুল আজিম বিন ইসমাইল আল-আনবারি আবুল ফজল আল-বসরি; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজ এবং একাদশ স্তরের বড়দের অন্তর্ভুক্ত, তিনি ২৪০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন—বুখারি (তা'লিক), মুসলিম ও জামাআহ।"

আর তিনি তাঁকে সংকেত দিয়েছেন নিম্নোক্ত বর্ণ দিয়ে: (খাত) অর্থাৎ বুখারিতে তা'লিক (ঝুলন্ত) বর্ণনা হিসেবে, (মিম) বর্ণ দ্বারা মুসলিম, এবং (আইন মিম) বর্ণ দ্বারা শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) ব্যতীত জামাআতের ইমামগণকে বুঝিয়েছেন।

এর দ্বারা এটি স্পষ্ট হয় যে, মদিনাবাসীদের পক্ষ থেকে তাঁর বর্ণনা করা রেওয়ায়েত একজন নির্ভরযোগ্য হাফেজের বর্ণনা, আর মহান আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন।

অতএব উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে তারাবিহ নামাজের ক্ষেত্রে নতুন বিষয়টি ছিল এই যে, আলি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজে বিশ রাত পর্যন্ত মানুষের ইমামতি করতেন এবং সেখানে কুরআন খতমের দোয়া পাওয়া গিয়েছিল।
(খণ্ড: ৬) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌عهد علي رضي الله عنه:

أما عهد علي رضي الله عنه فجاء في سنن البيهقي أنّه رضي الله عنه جعل للرجال إماما وللنساء إماما، ولكنه كان يؤمهم بنفسه في الوتر؛ فعن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي عن علي رضي الله عنه قال: "دعا القراء في رمضان فأمر منهم رجلا أن يصلي بالناس عشرين ركعة، قال وكان علي رضي الله عنه يوتر بهم"، قال البيهقي: "وروى هذا من وجه آخر عن علي".

فقد وجدنا هنا تجديدا في زمن علي حيث أنّه كان في عهد عثمان رضي الله عنه يصلي بهم التراويح وفي العشر الأخير يقتصر لنفسه، وهنا نجد عليا رضي الله عنه يصلي بهم الوتر.

أما إمام النساء في زمن علي رضي الله عنه فهو عرفجة الثقفي كما عند المروزي، قال عرفجة الثقفي: "أمرني علي رضي الله عنه فكنت إمام النساء في قيام رمضان".

ففي زمن علي رضي الله عنه كانت التراويح عشرين والوتر ثلاث، وهذا أغلب الظن كما كانت في عهد عثمان رضي الله عنه، وعهد عمر رضي الله عنه، وأن الزيادة إنما أحدثت بعد عهد علي رضي الله عنه أي الست والثلاثين المتقدمة.

وفي زمنه أيضا تولى هو الإمامة في صلاة الوتر على خلاف عثمان وعمر رضي الله عنهما.
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগ:

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগের বর্ণনায় সুনানুল বায়হাকীতে এসেছে যে, তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু পুরুষদের জন্য একজন ইমাম এবং নারীদের জন্য একজন ইমাম নিযুক্ত করেছিলেন, কিন্তু তিনি নিজে বিতর নামাজে তাঁদের ইমামতি করতেন। আতা ইবনুল সায়িব আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে এবং তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "তিনি রমজান মাসে কারীদের ডাকলেন এবং তাঁদের একজনকে লোকদের নিয়ে বিশ রাকাত নামাজ পড়ার নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজে তাঁদের নিয়ে বিতর পড়তেন।" বায়হাকী বলেন: "এটি আলীর সূত্রে অন্য দিক থেকেও বর্ণিত হয়েছে।"

আমরা এখানে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে একটি নতুনত্ব দেখতে পাই, কারণ উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে তিনি তাঁদের নিয়ে তারাবিহ পড়তেন এবং শেষ দশকে নিজের জন্য সীমাবদ্ধ থাকতেন, কিন্তু এখানে আমরা দেখছি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁদের নিয়ে বিতর নামাজ পড়ছেন।

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে নারীদের ইমাম ছিলেন আরফাজা আস-সাকাফী, যেমনটি মারওয়াযীর বর্ণনায় রয়েছে। আরফাজা আস-সাকাফী বলেন: "আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, ফলে আমি রমজানের কিয়ামে নারীদের ইমামতি করতাম।"

সুতরাং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে তারাবিহ ছিল বিশ রাকাত এবং বিতর ছিল তিন রাকাত। প্রবল ধারণা অনুযায়ী এটি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগের মতোই ছিল। আর রাকাত সংখ্যার আধিক্য মূলত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগের পরে সূচিত হয়েছিল, অর্থাৎ পূর্বে উল্লিখিত ছত্রিশ রাকাত।

তাঁর যুগে তিনি নিজেও বিতর নামাজের ইমামতি করতেন, যা উসমান ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার আমলের ব্যতিক্রম ছিল।
(খণ্ড: ৬) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ما بين عمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم إلى عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه:

مما تقدم يظهر للمتأمل أن عدد ركعات التراويح كان مستقرا إلى ثلاث وعشرين، منها ثلاث ركعات وترا
উমর, উসমান ও আলী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে শুরু করে উমর ইবনে আব্দুল আজীজ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) এর মধ্যবর্তী সময়কাল:

পূর্বোক্ত আলোচনা হতে অভিনিবেশকারীর নিকট এটি প্রতিভাত হয় যে, তারাবীহ নামাজের রাকাত সংখ্যা তেইশ রাকাতে সুস্থিত ছিল, যার মধ্যে তিন রাকাত ছিল বিতর।
(খণ্ড: ৬) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
كما في رواية يزيد بن الرومان عند مالك كما تقدم، قال: "كان الناس يقومون زمن عمر بن الخطاب في رمضان بثلاث وعشرين ركعة؛ وهو كما قال عنه في التقريب: يزيد بن الرومان المدني مولى آل الزبير ثقة من الخامسة، مات سنة ثلاثين أي بعد المائة، فيكون قد عني بزمن عمر فقط، وإلا لقال: "وعثمان وعلي".

وعليه تكون الزيادة التي وردت في روايات كل من معاذ القارئ وصالح مولى التوأمة أنها وجدت بعد عمر وعثمان وعلي رضي الله تعالى عنهم، لأنها محددة بما قبل الحرة، ولم تعين أي وقت كان قبلها.

فإذا كانت النصوص تحدد بثلاث وعشرين زمن عمر، وتظل تنص على ثلاث وعشرين أيضا من فعل علي في عهد علي فيكون من البين أن هذا العدد كان مستقرا وثابتا إلى زمن علي رضي الله عنه، وأن الزيادة إنما جاءت بعده، وقد استمرت إلى عمر بن عبد العزيز فيما بعد.

تحديد الزيادة التي طرأت على عهد علي رضي الله عنه:

‌‌1- أولا: جاءت رواية نافع مولى ابن عمر رضي الله عنه كما تقدم عند الباجي أنّه قال: "أدركت الناس يصلون بسبع وثلاثين ركعة يوترون منها بثلاث".

أي أن التراويح زادت من عشرين إلى ست وثلاثين ماعدا الوتر ثلاث؛ ونافع مات سنة 117 أي بعد وفاة عمر بن عبد العزيز رحمه الله بست عشرة سنة، لأنّ عمر مات سنة 101.

وقوله: أدركت الناس، يشير إلى أنّ ذلك من قبل خلافة عمر بن عبد العزيز، وقد صرح بهذا العدد في عهد عمر بن العزيز رحمه الله أبان بن عثمان أيضا، وداود بن قيس عند المروزي؛ قال: "أدركت المدينة في زمن أبان بن عثمان وعمر بن عبد العزيز يصلون ستا وثلاثين ركعة يوترون بثلاث، وفي بعض الروايات ويوترون بخمس".

وبالنظر في رواية داود بن قيس وإحدى روايتي نافع يتبين أن التروايح كانت في عهد عمر بن عبد العزيز ستا وثلاثين ركعة.

وبالنظر في رواية معاذ القارئ وإحدى روايتي نافع الأخرى يتبين لنا أن تلك الزيادة وجدت قبل عمر بن عبد العزيز، لأنّ فيها أنّه كان يصلي إحدى وأربعين ركعة..

وإحدى روايتي نافع أنّه أدرك الناس يصلون ستا وثلاثين ويوترون بخمس ومجموعها إحدى وأربعون، فتتفق روايات كل من نافع وداود بن قيس وصالح مولى التوأمة على وجود إحدى وأربعين ركعة، منها الوتر بخمس،
যেমনটি মালিকের নিকট ইয়াজিদ ইবনে রুমানের বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, তিনি বলেন: "উমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে রমজানে মানুষ তেইশ রাকাত (সালাত) কায়েম করত।" আর তিনি (বর্ণনাকারী) যেমনটি 'তাকরিব' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে: ইয়াজিদ ইবনে রুমান আল-মাদানি, আল-জুবাইর পরিবারের আযাদকৃত গোলাম, পঞ্চম স্তরের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী, তিনি একশ ত্রিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। সুতরাং তিনি কেবল উমরের যুগকেই উদ্দেশ্য করেছেন, অন্যথায় তিনি "উসমান ও আলী"-র কথাও উল্লেখ করতেন।

সেই অনুযায়ী, মুয়াজ আল-কারি এবং সালেহ মাওলা আত-তাওয়ামার বর্ণনাগুলোতে যে রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধির কথা এসেছে, তা উমর, উসমান ও আলী (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম)-এর পরবর্তী সময়ের; কারণ তা হাররার যুদ্ধের পূর্ববর্তী সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ, এবং এর আগে ঠিক কোন সময় থেকে তা শুরু হয়েছিল তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।

সুতরাং যদি টেক্সটসমূহ উমরের যুগে তেইশ রাকাত নির্ধারণ করে এবং আলীর যুগে আলীর আমল থেকেও তেইশ রাকাতেরই বর্ণনা পাওয়া যেতে থাকে, তবে এটি স্পষ্ট হয় যে এই সংখ্যাটি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগ পর্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্থির ছিল এবং রাকাত সংখ্যার বৃদ্ধি মূলত তাঁর পরবর্তী সময়ে এসেছে এবং পরে তা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগের পরে রাকাত সংখ্যায় যে আধিক্য ঘটেছে তার নির্ধারণ:

‌‌১- প্রথমত: ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আযাদকৃত গোলাম নাফে’-এর বর্ণনা বাজি-এর নিকট পূর্বে যেমনটি এসেছে যে তিনি বলেছেন: "আমি মানুষকে সাতত্রিশ রাকাত সালাত আদায় করতে দেখেছি, যার মধ্যে তারা তিন রাকাত বিতর পড়তেন।"

অর্থাৎ তারাবিহ বিশ রাকাত থেকে বেড়ে ছত্রিশ রাকাত হয়েছিল, তিন রাকাত বিতর ব্যতীত; আর নাফে' ১১৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, অর্থাৎ উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইন্তেকালের ষোল বছর পর, কারণ উমর ১০১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

এবং তাঁর কথা: "আমি মানুষকে পেয়েছি", এটি নির্দেশ করে যে তা উমর ইবনে আব্দুল আজিজের খিলাফতের পূর্ব থেকেই ছিল। আর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর যুগে আবান ইবনে উসমান এবং মারওয়াযির নিকট বর্ণিত দাউদ ইবনে কাইসও এই সংখ্যার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেছেন: "আমি মদিনাবাসীকে আবান ইবনে উসমান ও উমর ইবনে আব্দুল আজিজের যুগে ছত্রিশ রাকাত সালাত পড়তে দেখেছি যেখানে তারা তিন রাকাত বিতর পড়তেন, এবং কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে তারা পাঁচ রাকাত বিতর পড়তেন।"

দাউদ ইবনে কাইসের বর্ণনা এবং নাফে’-এর বর্ণনা দুটির একটির দিকে দৃষ্টিপাত করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজের যুগে তারাবিহ ছত্রিশ রাকাত ছিল।

মুয়াজ আল-কারি এবং নাফে’-এর অপর বর্ণনাটির দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, রাকাত সংখ্যার সেই বৃদ্ধি উমর ইবনে আব্দুল আজিজের পূর্বেই ঘটেছিল, কারণ সেখানে উল্লেখ আছে যে, তিনি (অর্থাৎ মানুষ) একচল্লিশ রাকাত সালাত আদায় করতেন।

নাফে’-এর বর্ণনা দুটির একটিতে আছে যে, তিনি মানুষকে ছত্রিশ রাকাত পড়তে এবং পাঁচ রাকাত বিতর পড়তে দেখেছেন, যার সমষ্টি একচল্লিশ। ফলে নাফে’, দাউদ ইবনে কাইস এবং সালেহ মাওলা আত-তাওয়ামার বর্ণনাগুলো একচল্লিশ রাকাতের অস্তিত্বের ব্যাপারে একমত হয়, যার মধ্যে বিতর ছিল পাঁচ রাকাত,
(খণ্ড: ৬) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وأن ذلك من قبل عهد عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه، وأنّه أقرها على ذلك.

وقد استمرت إلى ما بعده كما سيأتي من رواية وهب بن كيسان.

وقد قال الشافعي رحمه الله في كتابه الأم: ج1ص142 ما نصه: "ورأيتهم بالمدينة يقومون بتسع وثلاثين، وأحب إلى عشرين لأنّه روي عن عمر، وكذلك يقومون بمكة، ويوترون بثلاث".
এবং এটি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগের পূর্ব থেকেই ছিল এবং তিনি এটি বহাল রেখেছিলেন।

এটি তাঁর পরবর্তী সময় পর্যন্তও অব্যাহত ছিল যেমনটি ওয়াহাব ইবনে কায়সানের বর্ণনা থেকে সামনে আসবে।

ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-উম্ম' কিতাবে (১ম খণ্ড, ১৪২ নং পৃষ্ঠা) যা বলেছেন তার ভাষ্য হলো: "আমি তাদের মদিনায় উনচল্লিশ রাকাত (তারাবিহ) পড়তে দেখেছি, তবে বিশ রাকাত আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় কারণ এটি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে; একইভাবে তারা মক্কায় কিয়াম করে এবং তিন রাকাত বিতর আদায় করে।"
(খণ্ড: ৬) আত তারাবীহ আকসারু মিন আলফি আমিন ফিল মাসজিদিন নববী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌عهد الأئمة الأربعة رحمهم الله

أولا: عهد مالك رحمه الله إمام دار الهجرة:

لقد أدرك مالك رحمه الله عمر بن عبد العزيز، وأدرك من حياته ثمان سنوات لأنّ عمر رحمه الله مات سنة101، ومالك ولد سنة93، فكانت وفاة عمر بعد ولادة مالك بثمان سنوات أي حين كان مالك في أوائل طلب العلم، وقد جاءت النصوص أنّ عدد ركعات التراويح ستا وثلاثين أثناء وجود مالك؛ بل كانت موجودة وعمره أربع وثلاثون سنة كما في رواية وهب بن كيسان، قال: "ما زال الناس يقومون بست وثلاثين ركعة ويوترون بثلاث إلى اليوم في رمضان" وقد مات وهب سنة127.

وقد نص مالك رحمه الله بما هو أصرح من ذلك حيث جاء عن ابن أيمن عند المروزي قال مالك: "أستحب أن يقوم الناس في رمضان بثمان وثلاثين ركعة ثم يسلم الإمام والناس، ثم يوتر بهم بواحدة"، وهذا العمل بالمدينة قبل الحرة منذ بضع ومائة سنة؛ فيفهم من قول مالك هنا: "وهذا العمل قبل الحرة منذ بضع ومائة سنة"، أنّ التسع والثلاثين بما فيها الوتر كانت قبل عمر بن عبد العزيز، وأنّه العدد الذي أقره واستحبه مالك وأخذ به.

ولذا كان يكره أن ينقص عن هذا العدد، كما روى ابن القاسم عنه قال: "سمعت مالكا يذكر أن جعفر بن سليمان أرسل عليه يسأله أننقص من قيام رمضان فنهاه عن ذلك، فقيل له: قد كره ذلك؟ أي قيل لابن القاسم قد كره مالك ذلك، قال: نعم…"راجع المدونةج1ص222.

وقد قام الناس هذا القيام قديما، قيل له: فكم القيام؟ فقال: تسع وثلاثون ركعة بالوتر، وسيأتي نص مذهب مالك مفصلا في ذلك على حدة إن شاء الله، مع نصوص المذاهب الأربعة بعد، والمراد هنا ذكر حالة التراويح في عصره في المسجد النبوي.
চার ইমামের যুগ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি দয়া করুন)

প্রথমত: মদীনার ইমাম (ইমাম দারুল হিজরাহ) ইমাম মালিক (রহ.)-এর যুগ:

ইমাম মালিক (রহ.) উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সময়কাল পেয়েছেন। তিনি তাঁর জীবনের আট বছর পেয়েছিলেন, কারণ উমর (রহ.) ১০১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইমাম মালিক ৯৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। সুতরাং উমরের মৃত্যু হয়েছিল মালিকের জন্মের আট বছর পর, অর্থাৎ যখন ইমাম মালিক ইলম অন্বেষণের প্রারম্ভিক পর্যায়ে ছিলেন। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, ইমাম মালিকের উপস্থিতিতে তারাবির রাকাত সংখ্যা ছিল ছত্রিশ; বরং তাঁর বয়স যখন চৌত্রিশ বছর তখনও এটি বিদ্যমান ছিল, যেমনটি ওয়াহাব ইবনে কায়সানের বর্ণনায় পাওয়া যায়। তিনি বলেন: "মানুষ রমজানে আজ পর্যন্ত ছত্রিশ রাকাত সালাত আদায় করে আসছে এবং তিন রাকাত বিতর পড়ছে।" ওয়াহাব ১২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

ইমাম মালিক (রহ.) এর চেয়েও স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছেন। মারওয়াযী সূত্রে ইবনে আয়মান বর্ণনা করেন যে, ইমাম মালিক বলেছেন: "আমি পছন্দ করি যে রমজানে মানুষ আটত্রিশ রাকাত সালাত আদায় করবে, এরপর ইমাম ও মুক্তাদিগণ সালাম ফিরাবেন, অতঃপর ইমাম তাঁদের নিয়ে এক রাকাত বিতর পড়বেন।" মদীনার এই আমলটি হাররার যুদ্ধের একশ বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে প্রচলিত ছিল। ইমাম মালিকের এই উক্তি—"এবং এই আমলটি হাররার ঘটনার একশ বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে"—থেকে বোঝা যায় যে, বিতরসহ ঊনচল্লিশ রাকাতের এই নিয়ম উমর ইবনে আব্দুল আজিজের সময়কালেরও আগে থেকে ছিল এবং এটিই সেই সংখ্যা যা ইমাম মালিক অনুমোদন করেছেন, পছন্দ করেছেন এবং গ্রহণ করেছেন।

একই কারণে তিনি এই সংখ্যার চেয়ে কমানো অপছন্দ করতেন। যেমন ইবনুল কাসিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিককে বলতে শুনেছি যে, জাফর ইবনে সুলাইমান তাঁর কাছে এই মর্মে লোক পাঠালেন যে আমরা কি রমজানের কিয়াম (তারাবি) থেকে কিছু রাকাত কমিয়ে দেব? তিনি তাঁকে তা করতে নিষেধ করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: তিনি কি তা অপছন্দ করেছেন? অর্থাৎ ইবনুল কাসিমকে জিজ্ঞেস করা হলো যে ইমাম মালিক কি তা অপছন্দ করেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ..." দ্রষ্টব্য: আল-মুদাওওয়ানা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২২।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ এভাবে সালাত আদায় করত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: কিয়াম (তারাবির রাকাত) কত? তিনি বললেন: বিতরসহ ঊনচল্লিশ রাকাত। ইনশাআল্লাহ, পরবর্তীতে এ বিষয়ে মালিকি মাযহাবের বক্তব্য স্বতন্ত্রভাবে বিস্তারিত আসবে এবং সাথে চার মাযহাবের বক্তব্যও থাকবে। এখানে উদ্দেশ্য হলো তাঁর যুগে মসজিদে নববীতে তারাবির অবস্থা বর্ণনা করা।