(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: -)
شرح العقيدة الواسطية - الهراس   (محمد خليل هراس)

القسم: العقيدة


الكتاب: شرح العقيدة الواسطية، ويليه ملحق الواسطية

المؤلف: محمد بن خليل حسن هرّاس (ت 1395هـ)

ضبط نصه وخرَّج أحاديثه ووضع الملحق: علوي بن عبد القادر السقاف

الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع - الخبر

الطبعة: الثالثة، 1415 هـ

عدد الأجزاء:1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

_________

(تنبيه) :

1- النص الإلكتروني بحواشيه مأخوذ عن الطبعة الرابعة (دار الهجرة، 1422هـ)

2- وتم تمييز المتن عن الشرح بلون مختلف، وكلاهما مشكول

3- أضيفت تعليقات الشيخ الأنصاري (ط الإفتاء) ، وكذا تعليقات الشيخ عبد الرزاق عفيفي (ط الجامعة الإسلامية) إلى هوامش هذه النسخة الإلكترونية..

وأرقام الصفحات المعزوّة إليها تلك التعليقات، هي للطبعات التالية:

- ط «الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد» : الطبعة الأولى، 1413هـ - 1992م

- ط «الجامعة الإسلامية» : الطبعة الخامسة.

4- في آخر الكتاب، تجد «ملحق الواسطية» ، وضعه المحقق حفظه الله لاستدراك مسائل العقيدة التي لم ترد في الواسطية

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহুল আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আল-হাররাস   (মুহাম্মদ খলিল হাররাস)

বিভাগ: আকীদা


বই: শারহুল আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ, এবং এর সাথে রয়েছে আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র পরিশিষ্ট

লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিল হাসান হাররাস (মৃত্যু ১৩৯৫ হিজরি)

মূলপাঠ বিন্যাস, হাদিস যাচাইকরণ এবং পরিশিষ্ট সংযোজন: আলাউয়ি বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

প্রকাশক: দারুল হিজরাহ প্রকাশনা ও বিতরণ - আল-খobar

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৫ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

_________

(সতর্কতা) :

১- পাদটীকা সহ ইলেকট্রনিক মূলপাঠটি চতুর্থ সংস্করণ (দারুল হিজরাহ, ১৪২২ হিজরি) থেকে নেওয়া হয়েছে

২- মূল ইবারত (মাতন) এবং ব্যাখ্যাকে ভিন্ন রঙের মাধ্যমে আলাদা করা হয়েছে এবং উভয়টিতেই হরকত দেওয়া হয়েছে

৩- শায়খ আল-আনসারীর মন্তব্য (ইফতা সংস্করণ) এবং শায়খ আব্দুর রাজ্জাক আফিফীর মন্তব্য (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংস্করণ) এই ইলেকট্রনিক কপির মার্জিনে যুক্ত করা হয়েছে।

উক্ত মন্তব্যগুলো যেসব পৃষ্ঠার বরাতে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো নিম্নোক্ত সংস্করণসমূহের জন্য:

- সংস্করণ «বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি» : প্রথম সংস্করণ, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

- সংস্করণ «ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়» : পঞ্চম সংস্করণ.

৪- বইয়ের শেষে আপনি «আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র পরিশিষ্ট» পাবেন, যা মুহাক্কিক (গবেষক) হাফিজাহুল্লাহ সেই আকীদা সংক্রান্ত মাসআলাগুলো পূরণের জন্য যুক্ত করেছেন যা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-তে উল্লেখ করা হয়নি

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح العقيدة الواسطية، ويليه ملحق الواسطية]ـ

المؤلف: محمد بن خليل حسن هرّاس (المتوفى: 1395هـ)

ضبط نصه وخرَّج أحاديثه ووضع الملحق: علوي بن عبد القادر السقاف

الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع - الخبر

الطبعة: الثالثة، 1415 هـ

عدد الأجزاء:1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

--------------------------------------------

(تنبيه) :

1- النص الإلكتروني بحواشيه مأخوذ عن الطبعة الرابعة (دار الهجرة، 1422هـ)

2- وتم تمييز المتن عن الشرح بلون مختلف، وكلاهما مشكول

3- أضيفت تعليقات الشيخ الأنصاري (ط الإفتاء) ، وكذا تعليقات الشيخ عبد الرزاق عفيفي (ط الجامعة الإسلامية) إلى هوامش هذه النسخة الإلكترونية..

وأرقام الصفحات المعزوّة إليها تلك التعليقات، هي للطبعات التالية:

- ط «الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد» : الطبعة الأولى، 1413هـ - 1992م

- ط «الجامعة الإسلامية» : الطبعة الخامسة.

4- في آخر الكتاب، تجد «ملحق الواسطية» ، وضعه المحقق حفظه الله لاستدراك مسائل العقيدة التي لم ترد في الواسطية
শরহে আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ, এবং এর সাথে রয়েছে আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র পরিশিষ্ট

লেখক: মুহাম্মদ বিন খলীল হাসান হাররাস (মৃত্যু: ১৩৯৫ হিজরী)

মূল পাঠ্য বিন্যাস, হাদিস চয়ন এবং পরিশিষ্ট সংযোজন করেছেন: আলাভী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

প্রকাশক: দারুল হিজরাহ প্রকাশনা ও বিতরণ - আল-খবর

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৫ হিজরী

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

--------------------------------------------

(সতর্কবার্তা) :

১- ইলেকট্রনিক পাঠ্য ও এর টীকাগুলো চতুর্থ সংস্করণ (দারুল হিজরাহ, ১৪২২ হিজরী) থেকে নেওয়া হয়েছে।

২- মূল পাঠ্যকে ব্যাখ্যা থেকে আলাদা করার জন্য ভিন্ন রং ব্যবহার করা হয়েছে এবং উভয়টিই হরকতযুক্ত।

৩- এই ইলেকট্রনিক কপির টীকায় শাইখ আল-আনসারী (ইফতা সংস্করণ) এবং শাইখ আব্দুর রাজ্জাক আফিফী (ইসলামিক ইউনিভার্সিটি সংস্করণ)-এর মন্তব্যগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

আর সেই মন্তব্যগুলোতে উল্লিখিত পৃষ্ঠা নম্বরগুলো নিম্নোক্ত সংস্করণগুলোর জন্য প্রযোজ্য:

- 'বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ফতোয়া, দাওয়াত ও ইরশাদ বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি' সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ, ১৪১৩ হিজরী - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ।

- 'ইসলামিক ইউনিভার্সিটি' সংস্করণ: পঞ্চম প্রকাশ।

৪- বইয়ের শেষে আপনি 'আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র পরিশিষ্ট' পাবেন, যা মুহাক্কিক (আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন) আকিদাহর সেই বিষয়গুলো পূরণ করার জন্য যুক্ত করেছেন যা মূল ওয়াসিতিয়্যাহ-তে উল্লেখ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مقدمة الطبعة الرابعة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، محمَّدٍ، عبدِ الله ورسوله، وعلى آله وصحبه ومَن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين.

أما بعد:

فهذه هي الطبعة الرابعة (*) من كتاب ((شرح العقيدة الواسطيَّة)) للعلَاّمة محمد خليل هرَّاس، ويليه ((ملحق الواسطيَّة)) ، حيث تمتاز عن سابقتها بما يلي:

 

- مراجعة ضبط النَّص والتحقيق والتخريج.

- إضافات في هوامش التعليق وبخاصة على الفرق الضالة.

- إضافات في مسائل الإيمان والكفر وعلامات الإرجاء والغلو.

- التشريع العام وعلاقته بمسألة الحكم بغير ما أنزل الله.

- وضع نص المتن كاملاً مضبوطاً بالشكل في بداية الكتاب.

- وضع ملخص لمتن العقيدة في صفحتين آخر الكتاب.

- وضع فهرس للمفردات.

 

هذا وأسأل الله عز وجل أن يتقبله خالصاً لوجهه الكريم.

أبو محمد

علوي بن عبد القادر السَّقَّاف

aasaggaf@hotmail.com

 

‌‌[عن ملحق الواسطية:] (**)

 

بعض الإخوة الأفاضل أشار عليَّ أن أضم مع هذا الشرح المبارك أهم مسائل العقيدة التي لم يتطرق لها شيخ الإسلام ابن تيمية في ((العقيدة الواسطية)) ، وكذلك شارحها الشيخ محمد خليل هرَّاس، وذلك تسهيلاً لمن يُدَرِّسُ أو يَدْرُسُ هذه العقيدة.

 

وبعد تفكير طويل استجبت لرغبة الإخوة؛ بعد أن علمت أن كثيرًا ممن يدرسون ((العقيدة الواسطية)) يضطرون إلى أن يفتشوا في غيرها من كتب العقيدة ليستخرجوا منها ما لم يذكره شيخ الإسلام من مسائل مهمَّة في العقيدة، فأردت بهذه الزيادة (الملحق) إتمام أبواب العقيدة؛ بحيث

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدّ الكتاب للشاملة: النص الإلكتروني هو للطبعة الرابعة (من موقع الشيخ المؤلف) ، أما النسخة المصورة فهي للطبعة الثالثة فليُعلم

(**) قال مُعِدّ الكتاب للشاملة: كل ما جاء تحت هذا العنوان في هذه الصفحة والصفحات التالية، نقلتُه عن المصورة (ط الثالثة)
চতুর্থ সংস্করণের ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও রাসূলদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুহাম্মাদ—যিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল—এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর।

অতঃপর:

এটি হলো আল্লামা মুহাম্মাদ খলীল হাররাস রচিত ‘শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিঁতিয়্যাহ’ (আকিদাহ ওয়াসিঁতিয়্যাহর ব্যাখ্যা) গ্রন্থের চতুর্থ সংস্করণ (*), যার সাথে ‘মুলহাকুল ওয়াসিঁতিয়্যাহ’ (ওয়াসিঁতিয়্যাহর পরিশিষ্ট) যুক্ত করা হয়েছে। এটি তার পূর্ববর্তী সংস্করণ থেকে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে স্বতন্ত্র:

 

- মূল পাঠের নির্ভুলতা যাচাই, তাহকীক এবং তাখরীজ (উৎসনির্দেশ) পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

- টীকাভাষ্যের পাদটীকাতে বিশেষ করে ভ্রান্ত দলগুলোর বিষয়ে নতুন কিছু সংযোজন করা হয়েছে।

- ঈমান ও কুফর সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ এবং ইরজা ও বাড়াবাড়ির (গুলুউ) আলামতসমূহের বিষয়ে সংযোজন করা হয়েছে।

- সাধারণ আইন প্রণয়ন এবং আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতীত অন্য বিধান দ্বারা ফয়সালা করার মাসআলার সাথে এর সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা।

- গ্রন্থের শুরুতে হরকতসহ পূর্ণাঙ্গ মূল পাঠ (মাতন) স্থাপন করা হয়েছে।

- গ্রন্থের শেষে দুই পৃষ্ঠায় আকিদাহর মূল পাঠের একটি সারসংক্ষেপ প্রদান করা হয়েছে।

- শব্দকোষ বা নির্ঘণ্ট যুক্ত করা হয়েছে।

 

পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করে নেন।

আবু মুহাম্মাদ

আলাভী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

aasaggaf@hotmail.com

 

[ওয়াসিঁতিয়্যাহর পরিশিষ্ট সম্পর্কে:] (**)

 

কিছু সম্মানিত দ্বীনি ভাই আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন আমি এই বরকতময় ব্যাখ্যার সাথে আকিদাহর সেই গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলো যুক্ত করি যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘আকিদাহ ওয়াসিঁতিয়্যাহ’-তে উল্লেখ করেননি এবং এর ব্যাখ্যাকার শাইখ মুহাম্মাদ খলীল হাররাসও তা আলোচনা করেননি। এটি করা হয়েছে যাতে যারা এই আকিদাহটি পড়ছেন বা পড়াচ্ছেন তাদের জন্য সহজ হয়।

 

দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর আমি ভাইদের অনুরোধে সাড়া দিয়েছি; কারণ আমি জানতে পেরেছি যে, যারা ‘আকিদাহ ওয়াসিঁতিয়্যাহ’ পড়েন তাদের অনেককেই আকিদাহর অন্যান্য কিতাব খুঁজতে হয় যাতে শাইখুল ইসলাম আকিদাহর যেসব গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা উল্লেখ করেননি তা বের করা যায়। তাই আমি এই বর্ধিত অংশের (পরিশিষ্ট) মাধ্যমে আকিদাহর অধ্যায়গুলো পূর্ণাঙ্গ করতে চেয়েছি; যাতে

--------------------------------------------

(*) কিতাবটি শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারী বলেছেন: ইলেকট্রনিক পাঠটি চতুর্থ সংস্করণের (লেখক শাইখের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত), তবে স্ক্যান কপিটি তৃতীয় সংস্করণের—এটি যেন জানা থাকে।

(**) কিতাবটি শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারী বলেছেন: এই পৃষ্ঠায় এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে এই শিরোনামের অধীনে যা কিছু এসেছে, তা আমি স্ক্যান কপি (৩য় সংস্করণ) থেকে নকল করেছি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ২)
يجد الباحث أو المدرس لهذه المادة جميع أبواب العقيدة التي يحسن دراستها وتدريسها للناس، وجعلتها في ملحق خاص آخر الكتاب.

 

‌‌عملي في الملحق:

نظرت في المطبوع من كتب العقيدة التي بين أيدينا، وطفقت أبحث عن مسائل العقيدة التي لم يذكرها شيخ الإسلام في ((الواسطية)) ، فوجدتها لا تزيد عن [تسع] مسائل؛ كلها ذكرها أبو جعفر الطحاوي رحمه الله في ((متنه)) المشهور، أو ذكرها شارحه ابن أبي العز، وهي كالتالي (1) :

1- أنواع التوحيد (*)

2- الجماعة والفرقة.

3- الموالاة والمعاداة.

4- الحكم بغير ما أنزل الله.

5- عدم الخروج على الأئمة.

6- الميثاق.

--------------------------------------------

(1) لم أذكر في هذا الملحق المسائل المتعلقة بالشرك كالشرك الأكبر والأصغر والرياء والرقى والتمائم والذبح والنذر. . . لغير الله والسحر والكهانة والتنجيم وغيرها لأن هذه المسائل مظانُّها كتب التوحيد وشروحها، وبذكرها يتضاعف الكتاب ويخرج عن أصله. فليُعلم

(*) قال مُعِدّ الكتاب للشاملة: هذا المبحث حذفه المؤلف من الطبعة الرابعة فصارت مباحث الملحق تسعة مباحث
এই বিষয়ের গবেষক বা শিক্ষক আকীদার এমন সব অধ্যায় পাবেন যা মানুষের জন্য অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করা সমীচীন এবং আমি তা গ্রন্থের শেষে একটি বিশেষ পরিশিষ্টে যুক্ত করেছি।

 

‌‌পরিশিষ্টে আমার কর্মপদ্ধতি:

আমাদের নিকট বিদ্যমান মুদ্রিত আকীদার কিতাবসমূহ আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং আকীদার সেই মাসয়ালাগুলো অনুসন্ধান করতে শুরু করেছি যা শাইখুল ইসলাম তাঁর 'ওয়াসিতিয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেননি। আমি দেখলাম সেগুলো [নয়টি] বিষয়ের অধিক নয়; যার সবগুলোই আবু জাফর তাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রসিদ্ধ 'মাতন'-এ অথবা তার ব্যাখ্যাকার ইবনু আবিল ইয বর্ণনা করেছেন। সেগুলো নিম্নরূপ (১):

১- তাওহীদের প্রকারভেদ (*)

২- জামাআত ও বিভক্তি।

৩- বন্ধুত্ব ও শত্রুতা।

৪- আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতীত বিচার-ফয়সালা করা।

৫- ইমামদের (শাসকদের) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করা।

৬- অঙ্গীকার (আল-মীসাক)।

--------------------------------------------

(১) আমি এই পরিশিষ্টে শিরক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উল্লেখ করিনি, যেমন: বড় শিরক, ছোট শিরক, রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত), ঝাড়ফুঁক, তাবীজ, আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে যবেহ ও মানত করা... যাদু, গণনাবিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র ইত্যাদি। কেননা এই মাসয়ালাগুলোর প্রকৃত স্থান হলো তাওহীদের কিতাব ও তার ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহ। এগুলো এখানে উল্লেখ করলে গ্রন্থের কলেবর বহুগুণ বৃদ্ধি পেত এবং তা তার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হতো। অতএব এটি অবগত হওয়া প্রয়োজন।

(*) শামেলা সংস্করণ প্রস্তুতকারী বলেছেন: লেখক চতুর্থ সংস্করণে এই অনুচ্ছেদটি বাদ দিয়েছেন, যার ফলে পরিশিষ্টের আলোচ্য বিষয় নয়টি হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ৩)
7- الإسراء والمعراج.

8- أشراط الساعة.

8- الجنة والنار.

10- ذم الكلام ووجوب التسليم لنصوص الكتاب والسنة.

 

ولما كانت هذه المسائل [التسع] (*) أهم المسائل التي عدها من كتب في العقيدة من أبواب العقيدة، ولما كانت كلها موجودة كما أسلفت في ((شرح)) ابن أبي العز لـ ((العقيدة الطحاوية)) ؛ فقد سِرتُ على طريقة تشبه طريقة شيخ الإسلام في ((الواسطية)) وشارحها الهراس؛ من حيث الاختصار والإيجاز، وذلك على النحو التالي:

أ - أذكر متن الطحاوي.

ب- أذكر في الهامش الموضع الذي ذكر فيه المتن من ((شرح الطحاوية)) ؛ لابن أبي العز الحنفي (تحقيق الألباني، الطبعة الثامنة) ، والموضع الذي ذكر فيه شيخ الإسلام نحو كلام الطحاوي في أيٍ من كتبه.

ج - أذكر شرح ابن أبي العز لكلام الطحاوي مختصرًا مع ذكر الصفحة.

د- علقت تعليقات يسيرة، وخرَّجت الأحاديث؛ متبعًا الطريقة نفسها في أصل الشرح.

هـ- أدخلت الآيات والأحاديث والمراجع وغيرها في مواضعها من الفهارس العامة.

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدّ الكتاب للشاملة: هي عشر في الطبعة الثالثة، وتسع في الطبعة الرابعة كما مرّ في الحاشية السابقة
৭- ইসরা ও মিরাজ।

৮- কিয়ামতের আলামতসমূহ।

৮- জান্নাত ও জাহান্নাম।

১০- ইলমুল কালামের নিন্দা এবং কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যের প্রতি আত্মসমর্পণ করা ওয়াজিব হওয়া।

 

যেহেতু এই [নয়টি] (*) মাসআলা আকিদা বিষয়ক গ্রন্থপ্রণেতাদের নিকট আকিদার অধ্যায়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা হিসেবে গণ্য, এবং যেহেতু এগুলো সবই ইবনে আবিল ইয-এর 'শারহুল আকিদাতিত্ব ত্বহাবিইয়্যাহ' গ্রন্থে বিদ্যমান—যা আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি—তাই আমি সংক্ষিপ্তকরণ ও সারসংক্ষেপের ক্ষেত্রে 'আল-ওয়াসিতিয়্যাহ' গ্রন্থে শাইখুল ইসলাম এবং এর ব্যাখ্যাকার আল-হাররাসের পদ্ধতির ন্যায় একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; যা নিম্নরূপ:

ক - আমি ইমাম ত্বহাবির মূল পাঠ (মাতন) উল্লেখ করি।

খ - আমি টীকায় ইবনে আবিল ইয আল-হানাফি কৃত 'শারহুত ত্বহাবিইয়্যাহ' (আলবানী তাহকীককৃত, অষ্টম সংস্করণ) থেকে সেই স্থানটির কথা উল্লেখ করি যেখানে মূল পাঠটি বর্ণিত হয়েছে, এবং শাইখুল ইসলাম তাঁর কোনো কিতাবে ইমাম ত্বহাবির ন্যায় যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার স্থান নির্দেশ করি।

গ - আমি ইমাম ত্বহাবির বক্তব্যের বিপরীতে ইবনে আবিল ইয-এর ব্যাখ্যাটি পৃষ্ঠা নম্বরসহ সংক্ষেপে উল্লেখ করি।

ঘ - আমি কিছু সংক্ষিপ্ত টীকা প্রদান করেছি এবং মূল ব্যাখ্যার অনুরূপ পদ্ধতি অনুসরণ করে হাদিসের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করেছি।

ঙ - আমি আয়াত, হাদিস ও তথ্যসূত্রসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়াবলি সাধারণ নির্ঘণ্টের স্ব স্ব স্থানে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

--------------------------------------------

(*) শামেলা সংস্করণের সংকলক বলেন: তৃতীয় সংস্করণে এটি দশটি এবং চতুর্থ সংস্করণে এটি নয়টি, যেমনটি পূর্ববর্তী টীকায় অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ৪)
هذا؛ وأسأل الله عز وجل أن أكون قد وفقت في عملي هذا، وأن يكون هذا العمل نافعًا ومفيدًا للأساتذة والمربين الذين نذروا أنفسهم لتعليم الناس عقيدة السلف أهل السنة والجماعة.

والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

المؤلِّف
এটি; এবং আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন আমি আমার এই কাজে সফল হতে পারি, এবং এই কর্মটি সেই সকল শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের জন্য ফলপ্রসূ ও কল্যাণকর হয় যারা মানুষের মাঝে সালাফ তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন।

আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়, এবং আমাদের শেষ কথা হলো সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

গ্রন্থকার
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

إنَّ الحمد لله؛ نحمدُه، ونستعينُه، ونستغفرُه، ونعوذ بالله من شرور أنفسِنا ومن سيِّئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومَن يُضلِل فلا هادي له، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهدُ أن محمَّدًا عبده ورسوله.

أما بعد؛ فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمَّد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثَاتُها، وكلَّ محدثة بدعة، وكلَّ بدعةٍ ضلالة، وكلَّ ضلالة في النار.

ثمَّ إنَّ من نعم الله على هذه الأمة أن أكمل لها دينها، وأتمَّ عليها نعمته، ورضي لها الإسلام دينًا.

وإنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم ما قُبِضَ إلا وقد تركها على المحجَّةِ البيضاء؛ ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك، وما ترك خيرًا يقرِّبها إلى الجنة ويُبْعِدها عن النار؛ إلا ودلَّها عليه، ولا شرًّا إلا وحذرها منه؛ ليَهْلِكَ من هلك عن بيِّنَةٍ ويَحْيَا من حَيَّ عن بيِّنة.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

অতঃপর এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর অন্যতম নেয়ামত হলো যে, তিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করেছেন, তাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং ইসলামকে তাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন।

আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাত ততক্ষণ পর্যন্ত হয়নি, যতক্ষণ না তিনি এই উম্মতকে এক উজ্জ্বল স্বচ্ছ পথের ওপর রেখে গেছেন; যার রাত তার দিনের মতোই পরিষ্কার। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তিনি এমন কোনো কল্যাণ বাকি রাখেননি যা তাদের জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে—বরং তিনি তাদের তা বাতলে দিয়েছেন। এবং এমন কোনো অকল্যাণ নেই যা থেকে তিনি তাদের সতর্ক করেননি; যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد أمرنا الله عز وجل أن نرجعَ عند الاختلاف ونتحاكَمَ عند النزاع إليه وإلى رسوله صلى الله عليه وسلم فقال عزَّ من قائل:

{فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} (1) .

وعلى هذا النَّهج سار سلف هذه الأمة من الصحابة والتابعين، ومَن سلك نهجَهم وخطى خطاهُم.

 

‌‌أهميَّة العقيدة السلفية بين العقائد الأخرى:

إن أهمية دراسة العقيدة السلفيَّة تنبع من أهمية العقيدة نفسها، وضرورة العمل الجاد الدّؤوب لإعادة الناس إليها، وذلك لأمور:

أولاً: أنه بها تتوحَّد صفوف المسلمين والدُّعاة، وعليها تجتمع كلمتهم، وبدونها تتفكَّك؛ ذلك أنها عقيدة الكتاب والسنة والجيل الأول من الصحابة، وكل تجمُّع على غيرها مصيره الفشل والتفكُّك.

ثانيًا: أن العقيدة السلفية تجعل المسلم يعظِّم نصوص الكتاب والسنة، وتعْصِمُه من ردِّ معانيها، أو التّلاعب في تفسيرها بما يوافق الهوى.

ثالثًا: أنها تربط المسلم بالسَّلف من الصحابة ومَن تبعهم، فتزيده عزَّة وإيمانًا وافتخارًا، فهم سادةُ الأولياء، وأئمَّة الأتقياء، والأمر كما قال ابن مسعود رضي الله عنه:

((إن الله نظرَ في قلوب العباد، فوجَد قلبَ محمّدٍ صلى الله عليه وسلم خيرَ قلوب العباد، فاصطفاهُ لنفسه، فابتعثه برسالته، ثم نظر في قلوب العباد بعد قلب

--------------------------------------------

(1) النساء: 59.
আল্লাহ তাআলা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, মতভেদের সময় আমরা যেন তাঁর ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিকে ফিরে যাই এবং বিবাদের সময় তাঁদেরকেই ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করি। মহান আল্লাহ বলেন:

{অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা বিবাদে প্রবৃত্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} (১) ।

আর এই পথেই পরিচালিত হয়েছেন এই উম্মতের সালাফ তথা সাহাবী, তাবেঈন এবং যারা তাঁদের পথ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।

 

‌‌অন্যান্য আকিদাহর মাঝে সালাফি আকিদাহর গুরুত্ব:

সালাফি আকিদাহ অধ্যয়নের গুরুত্ব খোদ আকিদাহর গুরুত্ব থেকেই উৎসারিত। আর মানুষকে এর দিকে ফিরিয়ে আনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এর কারণসমূহ নিম্নরূপ:

প্রথমত: এর মাধ্যমেই মুসলিম ও দাঈদের কাতারসমূহ ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তাঁদের ঐক্য সুদৃঢ় হয়। এটি ব্যতিরেকে মুসলিম উম্মাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কেননা এটিই হচ্ছে কুরআন, সুন্নাহ এবং প্রথম প্রজন্মের সাহাবীগণের আকিদাহ। আর একে বাদ দিয়ে অন্য কোনো ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠা ঐক্যের পরিণতি হলো ব্যর্থতা ও বিশৃঙ্খলা।

দ্বিতীয়ত: সালাফি আকিদাহ একজন মুসলিমের হৃদয়ে কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের প্রতি মহানুভবতা ও সম্মানবোধ জাগ্রত করে এবং তাকে এর অর্থসমূহ অস্বীকার করা কিংবা খেয়াল-খুশিমতো অপব্যাখ্যা করার বিকৃতি থেকে রক্ষা করে।

তৃতীয়ত: এটি একজন মুসলিমকে সালাফ তথা সাহাবী ও তাঁদের অনুসারীদের সাথে সম্পৃক্ত করে, যা তার সম্মান, ঈমান ও গৌরবকে বৃদ্ধি করে। তাঁরাই ছিলেন ওলীগণের শিরোমণি এবং মুত্তাকীদের ইমাম। বিষয়টি তেমনই, যেমন ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন:

((নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। অতঃপর তিনি তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করেছেন এবং স্বীয় রিসালাত দিয়ে পাঠিয়েছেন। এরপর তিনি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অন্তরের পর বান্দাদের অন্তরের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ৫৯।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ৭)
محمد صلى الله عليه وسلم، فوجد قلوب أصحابه خير قلوب العباد، فجعلهم وزراء نبيِّه، يقاتِلون على دينه، فما رَأى المسلمون حسنًا فهو عند الله حسنٌ، وما رأوْهُ سيِّئًا فهو عند الله سيئ)) (1) .

أو كما رُوِيَ عن ابن عمر رضي الله عنهما أنه قال:

((مَن كان مستنًّا؛ فليستنَّ بمَن قد مات، أولئك أصحاب محمّد صلى الله عليه وسلم؛ كانوا خيرَ هذه الأمة؛ أبرَّها قلوبًا، وأعمقَها علمًا، وأقلَّها تكلُّفًا، قومٌ اختارهم الله لصحبة نبيِّه صلى الله عليه وسلم، ونقل دينه، فتشبهوا بأخلاقهم وطرائقهم، فهم أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم كانوا على الهدى المستقيم، والله ربِّ الكعبة)) (2) .

رابعًا: تميُّزُهَا بالوضوح؛ حيث إنها تتَّخذ الكتاب والسنة منطلقًا في التصوُّر والفهم، بعيدًا عن التأْويل والتعطيل والتَّشْبيه، وتنجي المتمسِّك بها من هَلَكةِ الخوض في ذات الله، وردِّ نصوص كتاب الله وسنَّة نبيِّه صلى الله عليه وسلم، ومن ثَمَّ تكسب صاحبها الرِّضا والاطمئنان لقدر الله، وتقدير عِظَمِ الله، ولا تكلِّف العقل التَّفكير فيما لا طاقة له به من الغيبيَّات؛ فالعقيدة السلفيَّة سهلةٌ ميسَّرة، بعيدة عن التّعقيد والتّعجيز.

 

‌‌أهميَّة ((العقيدة الواسطية)) بين العقائد السّلفيّة:

إن ((العقيدة الواسطية)) لشيخ الإسلام ابن تيميّة من أكثر العقائد السلفية سهولة ويسرًا، مع وضوحٍ في العبارة، وصحَّةٍ في الاستدلال،

--------------------------------------------

(1) رواه الإمام أحمد في ((المسند)) (1/379) ، وصحّح إسناده الشيخ أحمد شاكر (رقم3600) .

(2) انظر: ((الحلية)) لأبي نعيم (1/305) .
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর [অন্তরকে সর্বোত্তম অন্তর হিসেবে পেয়েছেন]। অতঃপর তিনি তাঁর সাহাবীদের অন্তরসমূহকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম অন্তর হিসেবে পেয়েছেন। ফলে তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর উজির (সহযোগী) বানিয়েছেন, যাঁরা তাঁর দ্বীনের জন্য লড়াই করেন। সুতরাং মুসলমানরা যা উত্তম মনে করে তা আল্লাহর নিকটও উত্তম, আর তারা যা মন্দ মনে করে তা আল্লাহর নিকটও মন্দ।)) (১) ।

অথবা যেমন ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:

((যে ব্যক্তি কারো পথ অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাঁদের অনুসরণ করে যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ। তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ; তাঁদের অন্তর ছিল সবচেয়ে পুণ্যবান, তাঁদের জ্ঞান ছিল সবচেয়ে গভীর এবং তাঁরা লৌকিকতা বর্জিত ছিলেন। তাঁরা এমন এক জাতি যাঁদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহচর্য ও তাঁর দ্বীন প্রচারের জন্য মনোনীত করেছিলেন। অতএব তোমরা তাঁদের চরিত্র ও পথ অনুসরণ করো; কেননা তাঁরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী এবং তাঁরা সঠিক হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, কাবার রবের কসম।)) (২) ।

চতুর্থত: এটি স্পষ্টতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; যেহেতু এটি আকিদাহগত ধারণা ও বুঝের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে, যা অপব্যাখ্যা (তাউয়িল), অর্থহীন করা (তা’তিল) ও সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) থেকে মুক্ত। এটি এর অনুসারীকে আল্লাহর সত্তা নিয়ে অহেতুক বিতর্কের ধ্বংসলীলা এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর নসসমূহ (দলিল) প্রত্যাখ্যান করা থেকে রক্ষা করে। এর ফলে এটি তার অধিকারীকে আল্লাহর তাকদিরের প্রতি সন্তুষ্টি ও প্রশান্তি এবং আল্লাহর মহত্ত্বের উপলব্ধি দান করে। এটি মানুষের বুদ্ধিকে এমন সব গায়বি (অদৃশ্য) বিষয়ে চিন্তা করার বোঝা চাপিয়ে দেয় না যা বহন করার ক্ষমতা তার নেই। সুতরাং সালাফি আকিদাহ অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল এবং জটিলতা ও দুর্বোধ্যতা থেকে মুক্ত।

 

‌‌সালাফি আকিদাহসমূহের মধ্যে ‘আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ’-এর গুরুত্ব:

নিশ্চয়ই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ’ হলো অন্যতম সহজবোধ্য সালাফি আকিদাহর গ্রন্থ, যার ভাষা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং দলিলের উপস্থাপনা সঠিক,

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ এটি ‘আল-মুসনাদ’ (১/৩৭৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং শাইখ আহমাদ শাকির এর সনদকে সহিহ বলেছেন (নম্বর ৩৬০০)।

(২) দেখুন: আবু নুআইম রচিত ‘আল-হিলইয়াহ’ (১/৩০৫)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ৮)
واختصارٍ في الكلمات، وقد وُضِعَ لها القَبول في الأرض، فتلقَّفها طلاب العلم ودرسوها وتدارَسوها ثم درَّسوها، وحفظوها جيلاً بعد جيل، وهي بحقٍّ من أجمع وأخصر ما كُتِب في عقيدة أهل السنة والجماعة.

 

أما‌‌ لماذا سُمِّيَت بـ ((العقيدة الواسطية)) ؟ فهذا سؤال يجيب عليه مؤلِّفها وواضعها شيخ الإسلام رحمه الله، فيقول:

((قدم عليَّ من أرض واسطٍ بعض قضاة نواحيها ـ شيخٌ يقال له: رضي الدين الواسطي، من أصحاب الشافعي ـ، قدِم علينا حاجًّا، وكان من أهل الخير والدِّين، وشكا ما الناس فيه بتلك البلاد وفي دولة التَّتر؛ من غلبة الجهل والظلم، ودُروس (1) الدِّين والعلم، وسألني أن أكتب له عقيدة تكون عمدةً له ولأهل بيته، فاستعفيتُ من ذلك، وقلتُ: قد كتب الناس عقائد متعدِّدة، فخذ بعض عقائد أئمة السُّنّة. فألحَّ في السؤال، وقال: ما أحبُّ إلا عقيدة تكتبها أنت. فكتبت له هذه العقيدة وأنا قاعدٌ بعد العصر، وقد انتشرت بها نسخٌ كثيرة؛ في مصر والعراق، وغيرِهما)) (2) .

ومن توفيق الله وقدره أن كان هذا الرجل من واسط، فسميت العقيدة الواسطية.

--------------------------------------------

(1) دَرَسَ العلمُ: انمحى، وزالت أعلامه.

(2) ((مجموع الفتاوى)) (3/164)

و (واسط) : بلدة أنشأها الحجَّاج بن يوسف الثقفي، عامل الخليفة الأموي عبد الملك بن مروان، في موضع جنوبي العراق، يتوسط بين الكوفة والبصرة، وسميت واسطًا لتوسطها.

انظر: ((تاريخ واسط)) لبحشل (ص22) .
এবং শব্দের সংক্ষিপ্ততা, এবং পৃথিবীতে এর গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে ইলম অন্বেষণকারীরা একে গ্রহণ করেছেন, অধ্যয়ন করেছেন, পারস্পরিক আলোচনা করেছেন, অতঃপর শিক্ষা দিয়েছেন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি মুখস্থ করেছেন। এটি প্রকৃতপক্ষেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার বিষয়ে লিখিত সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং সংক্ষিপ্ত গ্রন্থগুলোর অন্যতম।

 

আর কেন একে "আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ" নামকরণ করা হয়েছে? এটি এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর দিয়েছেন এর লেখক ও সংকলক শাইখুল ইসলাম -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন-। তিনি বলেন:

“ওয়াসিত ভূখণ্ড থেকে সেখানকার কিছু অঞ্চলের একজন বিচারক আমার কাছে আসলেন। তিনি একজন শাইখ যাকে রাদ্বিউদ্দীন আল-ওয়াসিতী বলা হয়, তিনি শাফেয়ী অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি আমাদের নিকট হাজি হিসেবে এসেছিলেন এবং তিনি ছিলেন কল্যাণ ও দ্বীনের অধিকারী। তিনি সেই সকল দেশগুলোতে এবং তাতারীদের শাসনামলে মানুষের যে অবস্থা ছিল, তা নিয়ে অভিযোগ করলেন; সেখানে মূর্খতা ও জুলুমের আধিপত্য এবং দ্বীন ও ইলমের নিদর্শন বিলুপ্ত (১) হওয়ার কথা জানালেন। তিনি আমার কাছে অনুরোধ করলেন যেন আমি তাঁর জন্য একটি আকিদাহ লিখে দেই যা তাঁর এবং তাঁর পরিবারের জন্য মূল ভিত্তি হয়ে থাকবে। আমি এ থেকে অব্যাহতি চাইলাম এবং বললাম: মানুষ ইতোমধ্যেই অনেক আকিদাহ গ্রন্থ লিখেছে, আপনি সুন্নাহর ইমামদের লিখিত কিছু আকিদাহ গ্রহণ করুন। কিন্তু তিনি অত্যন্ত জোরাজুরি করলেন এবং বললেন: আপনি নিজে যা লিখবেন তা ছাড়া আমি অন্য কিছু পছন্দ করব না। অতঃপর আসরের নামাজের পর বসা অবস্থায় আমি তাঁর জন্য এই আকিদাহটি লিখলাম। পরবর্তীতে এর অনেক অনুলিপি মিশর, ইরাক এবং অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে।” (২)।

আল্লাহর তাওফিক এবং তাঁর ফয়সালা ছিল যে এই ব্যক্তিটি ছিলেন ওয়াসিত অঞ্চলের, তাই এর নাম রাখা হয়েছে আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ।

--------------------------------------------

(১) ইলম বিলুপ্ত হওয়া: অর্থাৎ তা মুছে যাওয়া এবং এর নিদর্শনসমূহ বিলীন হয়ে যাওয়া।

(২) “মাজমুউল ফাতাওয়া” (৩/১৬৪)

এবং (ওয়াসিত): এটি হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শহর, যিনি উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের গভর্নর ছিলেন। এটি দক্ষিণ ইরাকের একটি স্থানে অবস্থিত যা কুফা ও বসরার মাঝামাঝি, এবং মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থানের কারণে এর নাম ওয়াসিত রাখা হয়েছে।

দেখুন: বাহশাল রচিত “তারিখে ওয়াসিত” (পৃষ্ঠা ২২)।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ৯)
وهي ـ أيضًا ـ كما قال شيخ الإسلام في أولها: ((بل هم ـ يعني: أهل السنة والجماعة ـ وسطٌ في فرق الأمة؛ كما أن الأمة هي الوسط في الأمم، فهم وسطٌ في باب صفات الله سبحانه وتعالى بين أهل التّعطيل الجهميّة وأهل التّمثيل المشبّهة، وهم وسطٌ في باب أفعال الله بين الجبريّة والقَدَريّة وغيرهم.. إلخ)) ؛ فهي ـ إذن ـ واسطيّة وسطيّة.

 

‌‌أهميّة شرح الشيخ هرّاس لـ ((العقيدة الواسطيّة)) بين شروحها:

يمتاز شرح العلاّمة محمّد خليل هرَّاس لـ ((العقيدة الواسطية)) بالوضوح والاختصار، وكما قال الشيخ عبد الرزاق عفيفي: إنه:

((من أنفس الشروح، وأوضحها بيانًا، وأخصرها عبارة)) . اهـ

فالشيخ رحمه الله لم يترك كلمة في العقيدة إلا وشرحها ووضَّحها ـ في الغالب الأعم ـ، واستشهد في مواضع كثيرة بالقرآن الكريم، وبأحاديث المصطفى صلى الله عليه وسلم، وبأقوال الصحابة والمفسرين، وبأقوال السلف؛ كالإمام أحمد، والبخاري، ونُعَيْم بن حماد.. وغيرهم ممَّن جاء بعدهم واقتفى أثرهم؛ كشيخ الإسلام في مواضع أخرى من كتبه، وتلميذيه ابن القيّم والذهبي، وبالمتأخرين؛ كالشيخ عبد الرحمن بن سعدي، ومحمد بن مانع؛ كما أنه ذكر مقالات الفرق، وردّ على شبههم؛ كالجهميّة، والقدريّة، والجبريّة، والمعتزلة، والأشاعرة.. وغيرهم، وبيَّن ضلال أئمتهم في القديم؛ كغيلان الدمشقي، وبشر المَريسي.. وغيرهما، ثم مَن بعدهما؛ كالرازي، والغزالي، ثم رافع راية التجهُّم في عصرنا هذا المدعو زاهد الكوثري، كل ذلك في هذا الشرح الصغير، السهل الميسَّر.
এটিও ঠিক তেমনই, যেমনটি শাইখুল ইসলাম এর শুরুতে বলেছেন: "বরং তারা—অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত—উম্মতের দলগুলোর মধ্যে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী; যেমনটি এই উম্মত অন্যান্য উম্মতদের মাঝে মধ্যপন্থী। সুতরাং তারা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার গুণাবলির ক্ষেত্রে গুণাবলি অস্বীকারকারী জাহমিয়্যা এবং উপমাদানকারী মুশাব্বিহাহদের মাঝে মধ্যপন্থী; এবং তারা আল্লাহর কার্যাবলির ক্ষেত্রে জাবরিয়া ও কাদরিয়া এবং অন্যদের মাঝে মধ্যপন্থী... ইত্যাদি।" সুতরাং এটি আকিদাহ ওয়াসিতিয়্যাহ এবং মধ্যপন্থা সম্বলিত একটি গ্রন্থ।

 

‌‌'আকিদাহ ওয়াসিতিয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে শাইখ হাররাসের ব্যাখ্যার গুরুত্ব:

আল্লামা মুহাম্মদ খলীল হাররাস কর্তৃক রচিত 'আকিদাহ ওয়াসিতিয়্যাহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থটি স্পষ্টতা ও সংক্ষিপ্ততার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। শাইখ আবদুর রাজ্জাক আফীফী যেমনটি বলেছেন: "এটি অন্যতম মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ, বর্ণনায় অত্যন্ত স্পষ্ট এবং বক্তব্যে সংক্ষিপ্ততম।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)

শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) এই আকিদাহ-এর প্রায় প্রতিটি শব্দেরই ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন—যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য—এবং অনেক স্থানে পবিত্র কুরআন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস, সাহাবায়ে কেরাম ও মুফাসসিরগণের বক্তব্য এবং সালাফদের বাণীর মাধ্যমে দলিল উপস্থাপন করেছেন; যেমন— ইমাম আহমাদ, বুখারি, নুআইম বিন হাম্মাদ এবং পরবর্তীকালের যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন—যেমন শাইখুল ইসলাম (তার অন্যান্য গ্রন্থে), তাঁর দুই ছাত্র ইবনুল কায়্যিম ও যাহাবি এবং পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে শাইখ আবদুর রহমান ইবনে সাদী ও মুহাম্মদ বিন মানি প্রমুখ। একইভাবে তিনি বিভিন্ন ফিরকার মতবাদসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং তাদের সংশয়সমূহের খণ্ডন করেছেন; যেমন— জাহমিয়্যা, কাদরিয়া, জাবরিয়া, মুতাযিলা, আশায়েরা ও অন্যান্য। তিনি তাদের প্রাচীন ইমামদের পথভ্রষ্টতাও বর্ণনা করেছেন—যেমন গায়লান দিমাস্কি, বিশর আল-মারিসি প্রমুখ—এবং তাদের পরবর্তীকালের যেমন আল-রাযি ও আল-গাযালি। এমনকি বর্তমান যুগে তাজাহহুম (জাহমি মতবাদ)-এর পতাকাবাহী জাহিদ আল-কাওসারি নামক ব্যক্তির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। এসব কিছুই এই সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১০)
فحُقَّ لهذا الشرح أن يكون من أنفس الشروح، وأخصرها، ولا يعرف حقيقة ذلك إلا من طالعه، ودرسه، وتدارسه، واطَّلع على غيره من الشروح.

 

‌‌((العقيدة الواسطيَّة)) وشروحها:

للعقيدة الواسطية ـ عقيدة الفرقة الناجية ـ طبعات عدَّة، وشروح كثيرة، فمن ذلك مثلاً:

1- ((التنبيهات اللطيفة فيما احتوت عليه الواسطية من المباحث المنيفة)) :

تأليف العلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي، وعليها منتخبات من تقارير الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز، وقد قام بنشرها أولاً وأشرف على طبعها الأستاذان: عبد الرحمن بن رويشد، وسليمان بن حماد، وقد طبعت في (64 صفحة) من الحجم المتوسط، بدون تاريخ.

ثم طبعت طبعة أخرى مضبوطة النص والأحاديث، ونُشِرَت بدار ابن القيم بالدمّام، وعدد صفحاتها (107 صفحة) من القطع الكبير، وذلك في عام (1410 هـ) .

2- ((العقيدة الواسطية)) :

علَّق على حواشيها وأشرف على تصحيحها فضيلة العلاّمة محمد بن عبد العزيز بن مانع؛ مدير المعارف العام سابقًا؛ وهو تعليق مختصر جدًا، بلغت صفحاته (32 صفحة) من الحجم المتوسط، وطُبعت الطبعة الأولى في مطبوعات سعد الراشد بالرياض، بدون تاريخ.

3- ((شرح العقيدة الواسطية)) :

للعلَاّمة محمد خليل هرَّاس ـ وهو كتابنا هذا ـ وراجعه الشيخ
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সবচেয়ে মূল্যবান এবং সংক্ষিপ্ততম ব্যাখ্যাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবিদার; এর প্রকৃত স্বরূপ কেবল তিনিই বুঝতে পারবেন, যিনি এটি পাঠ করেছেন, অধ্যয়ন করেছেন, পর্যালোচনা করেছেন এবং অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোও প্রত্যক্ষ করেছেন।

 

‌‌((আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ)) এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ:

আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ — নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকিদাহ — এর অনেকগুলো সংস্করণ এবং বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, উদাহরণস্বরূপ:

১- ((আত-তানবিহাতুল লাতিফাহ ফিমা ইহতাওয়াত আলাইহিল ওয়াসিতিয়্যাহ মিনাল মাবাহিসিল মুনিফাহ)):

এটি আল্লামাহ আবদুর রহমান বিন নাসির আস-সাদির রচনা, এবং এর ওপর শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায-এর বক্তব্যের সারাংশ সংযোজিত রয়েছে। এটি প্রথম প্রকাশ ও মুদ্রণ তত্ত্বাবধান করেছেন জনাব আবদুর রহমান বিন রুয়াইশিদ এবং সুলাইমান বিন হাম্মাদ। এটি কোনো তারিখ ছাড়াই মাঝারি আকারে (৬৪ পৃষ্ঠায়) মুদ্রিত হয়েছিল।

পরবর্তীতে মূল পাঠ এবং হাদিসসমূহ যাচাইকৃত আরেকটি সংস্করণ মুদ্রিত হয় এবং এটি দাম্মামের দার ইবনিল কাইয়্যিম থেকে প্রকাশিত হয়। বড় আকারে এর পৃষ্ঠা সংখ্যা হলো (১০৭ পৃষ্ঠা), যা (১৪১০ হিজরি) সালে প্রকাশিত হয়েছে।

২- ((আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ)):

এর পাদটীকা লিখেছেন এবং সংশোধন তত্ত্বাবধান করেছেন বিশিষ্ট আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মানি'; তিনি সাবেক শিক্ষা মহাপরিচালক ছিলেন। এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি টীকা, যা মাঝারি আকারের (৩২ পৃষ্ঠায়) সমাপ্ত হয়েছে। প্রথম সংস্করণটি রিয়াদের সাদ আল-রাশিদ প্রেসে কোনো তারিখ ছাড়াই মুদ্রিত হয়েছিল।

৩- ((শারহু আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ)):

এটি আল্লামাহ মুহাম্মদ খলিল হাররাস-এর রচনা — যা আমাদের এই কিতাবটি — এবং এটি পর্যালোচনা করেছেন শাইখ...
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১১)
عبد الرزاق عفيفي (*) ، طُبع في الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة في (176 صفحة) من الحجم الصغير، ثم طُبع مرة أخرى طبعةً قام بتصحيحها والتعليق عليها الشيخ إسماعيل الأنصاري، وقامت بنشرها الرئاسة العامَّة لإدارات البحوث العلميَّة والإفتاء والدعوة والإرشاد في (187 صفحة) من الحجم الصغير، وذلك عام (1403هـ) ، وهي لا تختلف عن سابقتها كثيرًا؛ إلا في مواضع يسيرة، علَّق عليها الشيخ إسماعيل الأنصاري (*) .

4- ((التَّنبيهات السنيَّة على العقيدة الواسطية)) :

للشيخ عبد العزيز الناصر الرشيد، رئيس محكمة التمييز بالرياض، وهو شرحٌ موسَّع، يقع في (388 صفحة) من الحجم الكبير، كتبه نزولاً على رغبة طلبته في المعهد العلمي، وقام بنشره دار الرشيد للنشر والتوزيع؛ بدون تاريخ.

5- ((الكواشف الجليَّة عن معاني الواسطية)) :

للشيخ عبد العزيز المحمد السلمان، المدرس في معهد إمام الدعوة بالرياض (سابقًا) ، وهو شرحٌ كبير، يقع في (471 صفحة) ، وقد طُبع عدة طبعات، وُزِّعَت مجانًا، آخرها الطبعة السابعة عشرة عام (1410هـ) ، وتقع في (807 صفحة) .

 

6- ((الأسئلة والأجوبة الأصولية على العقيدة الواسطية)) :

له أيضًا، وهو على طريقة السؤال والجواب، ويقع في (340 صفحة) من الحجم الكبير، ووزِّع مجانًا مراتٍ عديدة على نفقة بعض المحسنين، وقد اختصره المؤلف نفسه.

7- ((شرح العقيدة الواسطية)) :

للشيخ صالح بن فوزان الفوزان، مدير المعهد العالي للقضاء

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: وقد نَقَلْتُ تعليقات الشيخ الأنصاري (ط الإفتاء) ، وكذا تعليقات الشيخ عبد الرزاق عفيفي (ط الجامعة الإسلامية) إلى هوامش هذه النسخة الإلكترونية..

وأرقام الصفحات المعزوّة إليها تلك التعليقات، هي للطبعات التالية:

- ط "الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد": الطبعة الأولى، 1413هـ - 1992م

- ط الجامعة الإسلامية: الطبعة الخامسة.
আবদুর রাজ্জাক আফীফী (*), যা মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৭৬ পৃষ্ঠা) ছোট আকারে মুদ্রিত হয়েছে, এরপর শাইখ ইসমাইল আল-আনসারী কর্তৃক সংশোধিত ও টীকাবদ্ধ একটি সংস্করণ পুনরায় মুদ্রিত হয়েছে এবং তা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি কর্তৃক (১৮৭ পৃষ্ঠা) ছোট আকারে ১৪০৩ হিজরীতে প্রকাশিত হয়েছে। এটি পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় খুব একটা ভিন্ন নয়; কেবল সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত যেখানে শাইখ ইসমাইল আল-আনসারী (*) মন্তব্য করেছেন।

৪- ((আত-তানবীহাতুস সানিয়্যাহ আলাল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ)):

রিয়াদের কাসেশন আদালতের প্রধান শাইখ আবদুল আজিজ আন-নাসের আর-রশীদের লিখিত। এটি একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা বড় আকারে (৩৮৮ পৃষ্ঠা) সংকলিত। তিনি এটি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স-এর ছাত্রদের অনুরোধে লিখেছিলেন এবং এটি কোনো তারিখ ছাড়াই দারুর রশীদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন প্রকাশ করেছে।

৫- ((আল-কাওয়াশিফুল জালিয়্যাহ আন মাআনিল ওয়াসিতিয়্যাহ)):

রিয়াদের ইমাম আদ-দাওয়াহ ইনস্টিটিউটের (সাবেক) শিক্ষক শাইখ আবদুল আজিজ আল-মুহাম্মদ আস-সালমানের লিখিত। এটি একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা ৪৭১ পৃষ্ঠায় রচিত। এটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর সর্বশেষ সংস্করণ হলো ১৪১০ হিজরীর সপ্তদশ সংস্করণ, যা ৮০৭ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত।

 

৬- ((আল-আসইলাতু ওয়াল আজওয়িবাতুল উসুলিয়্যাহ আলাল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ)):

এটিও তাঁরই লেখা, যা প্রশ্নোত্তর পদ্ধতিতে রচিত। এটি বড় আকারে ৩৪০ পৃষ্ঠায় সংকলিত এবং কয়েকজন দানশীল ব্যক্তির অর্থায়নে অনেকবার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। লেখক স্বয়ং এটি সংক্ষেপ করেছেন।

৭- ((শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ)):

উচ্চ বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউটের পরিচালক শাইখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজানের লিখিত।

--------------------------------------------

(*) কিতাবটি শামেলার জন্য প্রস্তুতকারী বলেছেন: আমি শাইখ আন-আনসারীর (ইফতা সংস্করণ) টীকা এবং শাইখ আবদুর রাজ্জাক আফীফীর (ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সংস্করণ) টীকা এই ডিজিটাল কপির পাদটীকায় যুক্ত করেছি।

আর সেই টীকাগুলোতে উল্লেখিত পৃষ্ঠা নম্বরগুলো নিম্নোক্ত সংস্করণগুলোর জন্য প্রযোজ্য:

- 'বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি' সংস্করণ: প্রথম প্রকাশ, ১৪১৩ হিজরী - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ।

- ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সংস্করণ: পঞ্চম প্রকাশ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১২)
بالرياض، وهو شرحٌ مُيسَّرٌ ومختصرٌ؛ يقع في (222 صفحة) ، اعتمد فيه مؤلِّفه على ((التَّنبيهات السَّنيَِّة)) للشيخ عبد العزيز الرشيد، و ((الروضة الندية شرح العقيدة الواسطية)) للشيخ زيد بن عبد العزيز بن فيّاض، وقد طُبِعَ في مكتبة المعارف بالرياض عدة طبعات.

8- ((العقيدة الواسطية)) :

للعلاّمة محمد بن صالح العثيمين، وهو شرح مختصرٌ لبعض الكلمات صغيرٌ جدًّا، وتعريفٌ لبعض المصطلحات الواردة في الكتاب، ويقع في (55صفحة) من الحجم المتوسط، وقد طُبع الطبعة الأولى عام (1406هـ) في مكتبة الهدى بمدينة الثقبة في المنطقة الشرقية.

((التعليقات المفيدة على العقيدة الواسطية)) :

تعليق وتخريج عبد الله بن عبد الرحمن بن علي الشريف، وهو أحسن ما رأيت في ضبط متن العقيدة، مع إحالة آياتها وتخريج أحاديثها تخريجًا مختصرًا، وبعض التعليقات المختصرة المفيدة؛ كما سمّاها صاحبها، ويقع في (89 صفحة) من الحجم المتوسِّط، وكانت الطبعة الأولى منه في عام (1404هـ) بدار طيبة بالرياض.

10- ((العقيدة الواسطية ومجلس المناظرة فيها بين شيخ الإسلام ابن تيمية وعلماء عصره)) :

تحقيق الأستاذ/ زهير الشاويش، وهو تحقيقٌ للمتن فقط، وقد اعتمد ـ كما يقول ـ على مخطوطة عنده، وكان إخراجه لها إخراجًا جيِّدًا؛ أحال فيه الآيات إلى مواضعها من القرآن الكريم، وخرَّج الأحاديث تخريجًا مختصرًا جدًا، ثم أعقب ذلك بذكر المناظرة التي جرت بين شيخ الإسلام
এটি রিয়াদে প্রকাশিত, যা একটি সহজবোধ্য এবং সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা; এটি ২২২ পৃষ্ঠার। এর লেখক শেখ আব্দুল আজিজ আর-রশিদের 'আত-তানবিহাত আস-সানিয়্যাহ' এবং শেখ জায়েদ বিন আব্দুল আজিজ বিন ফাইয়াজের 'আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ'-এর ওপর নির্ভর করেছেন। এটি রিয়াদের মাকতাবাতুল মাআরিফ থেকে বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।

৮- আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ:

আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীনের লেখা, এটি কিছু শব্দের অত্যন্ত ছোট ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা এবং বইটিতে উল্লিখিত কিছু পরিভাষার সংজ্ঞা। এটি মাঝারি আকারের ৫৫ পৃষ্ঠার। এর প্রথম সংস্করণ ১৪০৬ হিজরিতে পূর্ব অঞ্চলের আস-সুকবাহ শহরের মাকতাবাতুল হুদায় মুদ্রিত হয়।

আত-তালিকাতুল মুফিদা আলাল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ:

আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আলী আশ-শরীফের টীকা ও হাদিস বিশ্লেষণ (তাখরিজ)। আকিদাহর মূল পাঠ (মাতন) বিন্যাসের ক্ষেত্রে এটি আমার দেখা অন্যতম সেরা কাজ। এতে আয়াতগুলোর উদ্ধৃতি এবং হাদিসগুলোর সংক্ষিপ্ত তাখরিজ রয়েছে এবং লেখকের দেওয়া নাম অনুযায়ী এতে কিছু সংক্ষিপ্ত ও উপকারী টীকা যুক্ত হয়েছে। এটি মাঝারি আকারের ৮৯ পৃষ্ঠার এবং এর প্রথম সংস্করণ ১৪০৪ হিজরিতে রিয়াদের দারু তাইয়িবাহ থেকে প্রকাশিত হয়।

১০- আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মধ্যে অনুষ্ঠিত মুনাজারা (বিতর্ক মজলিস):

উস্তাদ জুহাইর আশ-শাভীশের সম্পাদনা (তাহকিক)। এটি শুধুমাত্র মূল পাঠের একটি সম্পাদনা। সম্পাদক যেমনটি বলেছেন যে, তিনি তাঁর নিকট থাকা একটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করেছেন। এর বিন্যাস ও মুদ্রণ অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে। এতে তিনি আয়াতগুলোকে পবিত্র কুরআনের মূল অবস্থানে নির্দেশ করেছেন এবং হাদিসগুলোর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত তাখরিজ করেছেন। এরপর তিনি শায়খুল ইসলামের মধ্যে সংঘটিত সেই বিতর্কের বিবরণ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১৩)
وخصومه بسبب هذه العقيدة، وقد بلغ عدد صفحات المتن مع المناظرة (100 صفحة) من القطع المتوسط، وقد طبعها في مكتبه الإسلامي عام (1405هـ) .

11- ((شرح العقيدة الواسطية)) :

للشيخ سعيد بن علي بن وهف القحطاني، راجعه له الشيخ الدكتور عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين، وهو شرح مختصر وسهلٌ وميسَّر، يقع في (87 صفحة) من الحجم الصغير، اعتمد فيها صاحبه على من سبقه ممّن ذكرناهم، وقد طُبع عام (1409 هـ) .

12- ((الروضة النديَّة شرح العقيدة الواسطية)) :

للشيخ زيد بن عبد العزيز بن فياض، وهو شرح موسع جدًا، طُبعت الطبعة الأولى منه عام (1377هـ) ، والطبعة الثانية عام (1378هـ) ، وتقع في (516 صفحة) .

13- ((شرح الواسطية)) :

للشيخ الحجة محمد بن صالح العثيمين، وهو مسجل على أشرطة ((كاسيت)) ، ثم كتبه أحد تلامذته، وتداوله طلبة العلم، وهو شرح نفيس لا يُعلى عليه (1) .

14- ((التعليقات الزكية على العقيدة الواسطية)) :

للشيخ عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين، وهو شرح موسَّع جدًّا، وطبعت الطبعة الأولى منه عام (1419هـ) ، وتقع في مجلدين عدد صفحاتهما (618صفحة) بدار الوطن بالرياض، باعتناء الأخ أبي أنس علي بن حسين أبو لوز.

15- ((شرح العقيدة الواسطية من كلام شيخ الإسلام ابن تيمية)) :

جمع وترتيب الأخ خالد بن عبد الله المصلح، وهو جمع لطيف لكلام شيخ الإسلام ابن تيمية يوضح ما اشتملت عليه العقيدة الواسطية، ويقع في (216 صفحة) ، طبعت الطبعة الأولى منه عام (1421هـ) بدار ابن الجوزي بالدمام.

 

* * *

من هنا نعلم أهميَّة هذه العقيدة؛ حيث قام بعض أهل العلم بضبطها، وآخرون بتخريج أحاديثها، وآخرون بالتعليق عليها، أو شرحها شرحًا مختصرًا، أو شرحًا مطوَّلاً؛ كل هذا خدمة للعقيدة السلفيّة المتمثّلة في ((العقيدة الواسطية)) .

إلا أنني لم أجد من قام بخدمة شرحها الذي ألّفه الشيخ

--------------------------------------------

(1) وقد طُبع مؤخرًا بمكتبة طبرية باعتناء الأخ أبي محمد أشرف بن عبد المقصود طبعة جيدة، ثم طُبع مرة أخرى عام (1415هـ) بعد أن راجعها الشيخ نفسه باعتناء الأخ سعد بن فواز الصُّميل، وتقع هذه الطبعة في مجلدين عدد صفحاتهما (894صفحة) ، نشر دار ابن الجوزي بالدمام.
এবং এই আকিদার কারণে তাঁর প্রতিপক্ষগণ। বিতর্কসহ মূল পাঠের পৃষ্ঠা সংখ্যা মাঝারি আকারে ১০০ পৃষ্ঠায় পৌঁছেছে এবং এটি ১৪০৫ হিজরিতে আল-মাকতাবুল ইসলামী থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

১১- ((শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ)):

শেখ সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহফ আল-কাহতানি প্রণীত, এটি শেখ ডক্টর আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জিবরীন পর্যালোচনা করেছেন। এটি একটি সংক্ষিপ্ত, সহজ ও প্রাঞ্জল ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা ছোট আকারের ৮৭ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত। এতে লেখক তাঁর পূর্বে উল্লিখিত আলেমদের ওপর নির্ভর করেছেন এবং এটি ১৪০৯ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।

১২- ((আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ)):

শেখ যায়েদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে ফাইয়াদ প্রণীত, এটি একটি অত্যন্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এর প্রথম সংস্করণ ১৩৭৭ হিজরিতে এবং দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৭৮ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে এবং এটি ৫১৬ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত।

১৩- ((শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ)):

হুজ্জাতুল ইসলাম শেখ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উসাইমিন প্রণীত। এটি প্রথমে ক্যাসেট ফিতায় ধারণ করা হয়েছিল, পরবর্তীতে তাঁর এক ছাত্র এটি লিপিবদ্ধ করেন এবং ইলম অন্বেষণকারীদের মাঝে এটি সমাদৃত হয়। এটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার সমকক্ষ আর কিছু নেই (১)।

১৪- ((আত-তালিকাতুজ জাকিইয়্যাহ আলাল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ)):

শেখ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জিবরীন প্রণীত, এটি অত্যন্ত বিস্তারিত একটি ব্যাখ্যা। এর প্রথম সংস্করণ ১৪১৯ হিজরিতে রিয়াদের দারুল ওয়াতান থেকে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে যার মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬১৮। এটি ভাই আবু আনাস আলী ইবনে হুসাইন আবু লাওজ-এর তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত।

১৫- ((শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ মিন কালামি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ)):

এটি ভাই খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুসলিহ কর্তৃক সংগৃহীত ও বিন্যস্ত। এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার বক্তব্যের একটি চমৎকার সংকলন যা আকিদায়ে ওয়াসিতিয়্যাহর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলিকে স্পষ্ট করে। এটি ২১৬ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত এবং এর প্রথম সংস্করণ ১৪২১ হিজরিতে দাম্মামের দারু ইবনিল জাওজি থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

 

* * *

এখান থেকে আমরা এই আকিদার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারি; যেহেতু একদল আলেম এর পাঠ শুদ্ধকরণে নিয়োজিত হয়েছেন, অন্যরা এর হাদিসসমূহের তাখরিজ করেছেন এবং অপর একদল এতে টীকা যুক্ত করেছেন কিংবা সংক্ষিপ্ত বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। এ সমস্ত কিছুই আকিদায়ে সালাফিয়া তথা 'আকিদায়ে ওয়াসিতিয়্যাহ'-এর খিদমতের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

তবে আমি এমন কাউকে খুঁজে পাইনি যিনি শেখ প্রণীত এর ব্যাখ্যাটির খিদমত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) এটি সম্প্রতি মাকতাবাতু তাবরিয়্যাহ থেকে ভাই আবু মুহাম্মদ আশরাফ ইবনে আব্দুল মাকসুদের তত্ত্বাবধানে একটি সুন্দর সংস্করণে মুদ্রিত হয়েছে। পরবর্তীতে শেখ নিজে এটি পর্যালোচনা করার পর ভাই সাদ ইবনে ফাওয়াজ আস-সুমাইলের তত্ত্বাবধানে ১৪১৫ হিজরিতে পুনরায় মুদ্রিত হয়। এই সংস্করণটি দুই খণ্ডে মোট ৮৯৪ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত এবং দাম্মামের দারু ইবনিল জাওজি থেকে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১৪)
الهرّاس رحمه الله؛ إلا ما قام به الشيخان؛ عبد الرزاق عفيفي، وإسماعيل الأنصاري (رحمهما الله) من مراجعة وتعليقات قصيرة.

لذلك؛ فإنني رغبت في أن أحظى بشرف الاعتناء بهذا الشرح، وأسأل الله أن يكون عملاً نافعًا متقبلاً عنده.

 

‌‌وصف النسخة الخطيّة للمتن:

توجد هذه النسخة في برلين الغربية.

وهناك صورة منها في مركز المخطوطات والتراث والوثائق بجمعيّة إحياء التراث الإسلامي بالكويت برقم (2/12147ـ عقيدة) ، وقد قام المركز بإرسالها لي مشكورًا.

وعدد أوراق هذه النسخة (11) ورقة، ومقاسها (10.5×18.5) سم، وأسطرها (23) سطرًا.

وقد كُتِبت بخط نسخ جيد وواضح داخل إطارات، واستمر الخط ـ الذي لا يُعْلَم ناسخُه، ولا متى نُسِخَ ـ من أول الكتاب إلى آخره.

وهذه النسخة ـ رغم جودة خطها ـ كثيرة السقطات والأغلاط، حتى في الآيات، ولذلك ما استطعت أن أجعلها أصلاً ـ كما هو المعتاد عند التحقيق ـ، بل جعلت النص المطبوع مع الشرح هو الأصل (1) ؛ لأن الشرح

--------------------------------------------

(1) إلا في حالات نادرة يكون ما في المخطوط أضبط مما في المطبوع، أو لا يستقيم المعنى إلا به، فأعتمد ما في المخطوط، وبخاصة إذا لم يعتمده الشارح في الشرح.
আল-হাররাস (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন); তবে দুই শায়খ—আব্দুল রাজ্জাক আফীফী এবং ইসমাঈল আল-আনসারী (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) কর্তৃক সম্পাদিত পর্যালোচনা ও সংক্ষিপ্ত টীকা ব্যতীত।

এ কারণে, আমি এই ব্যাখ্যার (শারহ) যত্ন নেওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে আগ্রহী হয়েছি, এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এটি তাঁর নিকট একটি উপকারী ও কবুলকৃত আমল হিসেবে গণ্য হয়।

 

‌‌মূল পাঠ্যের (মাতন) পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:

এই পাণ্ডুলিপিটি পশ্চিম বার্লিনে সংরক্ষিত রয়েছে।

কুয়েতের জামঈয়া ইহয়াউত তুরাসিল ইসলামীর পাণ্ডুলিপি, ঐতিহ্য ও দলিলপত্র কেন্দ্রে এর একটি অনুলিপি রয়েছে যার নম্বর (২/১২১৪৭-আকীদা), এবং কেন্দ্রটি কৃতজ্ঞতার সাথে এটি আমার কাছে পাঠিয়েছে।

এই পাণ্ডুলিপিটির পৃষ্ঠা সংখ্যা (১১) টি, এর আকার (১০.৫×১৮.৫) সেন্টিমিটার এবং এর লাইন সংখ্যা (২৩) টি।

এটি ফ্রেমের ভেতরে সুন্দর ও স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে এবং এই একই হস্তলিপি—যার অনুলিপিকারক বা অনুলিপি করার সময়কাল জানা নেই—বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান।

এই পাণ্ডুলিপিটি—এর সুন্দর হস্তলিপি সত্ত্বেও—প্রচুর বিচ্যুতি ও ভুলে ভরা, এমনকি আয়াতের ক্ষেত্রেও। তাই আমি এটিকে মূল ভিত্তি (আসল) হিসেবে গ্রহণ করতে পারিনি—যেমনটি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকিক) ক্ষেত্রে সচরাচর করা হয়—বরং আমি ব্যাখ্যাসহ মুদ্রিত পাঠ্যটিকেই মূল ভিত্তি (১) হিসেবে গ্রহণ করেছি; কারণ ব্যাখ্যাটি...

--------------------------------------------

(১) তবে বিরল কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত যেখানে পাণ্ডুলিপির পাঠ্যটি মুদ্রিত পাঠ্যের চেয়ে অধিক নির্ভুল ছিল অথবা সেটি ছাড়া অর্থ সঠিক হচ্ছিল না, সেক্ষেত্রে আমি পাণ্ডুলিপির পাঠ্যটিই গ্রহণ করেছি, বিশেষ করে যদি ব্যাখ্যাকারক তাঁর ব্যাখ্যায় সেটি গ্রহণ না করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১৫)
تابعٌ له متمشٍّ معه، وَجعلتُ هذه النسخة كالمرجِّح بين الطبعات عند اختلافها، وخاصةً الاختلاف الواقع بين الطبعة التي جعلتُها أصلاً والطبعة التي هي ضمن مجموع الفتاوى، فاكتفيتُ بالإشارة إلى الاختلافات المهمة التي قد يتغيَّر بها المعنى، وأعرضت عن كثير من الاختلافات التي لا جدوى من ذكرها، وقد يشوِّش إيرادها على القارئ.
এটি তার অনুসারী এবং এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বিভিন্ন সংস্করণের মধ্যে পার্থক্যের সময় আমি এই কপিটিকে একটি নির্ধারক মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছি, বিশেষ করে আমার গৃহীত মূল সংস্করণ এবং 'মাজমুউল ফাতাওয়া'-র অন্তর্গত সংস্করণের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যের ক্ষেত্রে। তাই আমি কেবল সেই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যা অর্থের পরিবর্তন ঘটাতে পারে; আর এমন অনেক পার্থক্য বর্জন করেছি যা উল্লেখ করার কোনো উপকারিতা নেই এবং যা উল্লেখ করলে পাঠকের বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌عملي في الكتاب:

1- ضبطتُ نص المتن ضبطًا متقنًا من خلال الطبعات الكثيرة له المستقلة والمقرونة ببعض التعليقات أو الشروح آنفة الذكر، وقابلته بالمخطوط؛ كما جعلته مجموعًا في أول الكتاب وضبطتُه بالشكل حتى تسهُل قراءتُه وحفظه، ثم متفرقًا حسب الشرح (*) ، ثم لخصته في صفحتين آخر الكتاب.

2- تتبّعت الاختلاف في نصّ الشرح ـ وهو قليل جدًا ـ بين طبعتي الجامعة الإسلامية والإفتاء، وبيّنت ذلك في مواضعه.

3- ضبطتُ الألفاظ المُشكلة والموهمة في الشرح بالشكل؛ ليسهل على القارئ فهمها.

4- ضبطتُ الآيات، وعزوتُها إلى مواضعها من القرآن الكريم.

5- خرَّجتُ جميع الأحاديث والآثار.

وطريقتي في التخريج هي:

- أبدأ بالحكم على الحديث من حيث الصحة والضعف، وأجعله بين قوسين.

- ثم أذكر من خرَّجه؛ مبتدئًا بالبخاري ومسلم، ثم بقية الستة، ثم أحمد في ((المسند)) أو مالك في ((الموطأ)) ، ثم غيرهم؛ كالبيهقي، أو الحاكم.. أو غيرهما، وقد أكتفي أحيانًا بذكر موضعه في ثلاثة كتب أو أربعة؛ مبتدئًا بالترتيب السابق؛ إلا ما ندر.

- وإذا كان الحديث موجودًا في الكتب الستة أو بعضها؛ فأشير إلى موضعه بذكر الكتاب والباب؛ لاختلاف الطبعات، وبذكر موضعه في

--------------------------------------------

(*) [قال مُعِدّ الكتاب للشاملة] : وفي هذه النسخة الإلكترونية فإن المتن والشرح كله مضبوط بالشكل الكامل، والحمد لله
এই কিতাবে আমার কাজ:

১- আমি কিতাবটির মূল পাঠ (মাতন) অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সম্পাদিত করেছি। এ ক্ষেত্রে আমি এর স্বতন্ত্র এবং পূর্বে উল্লেখিত বিভিন্ন টীকা বা ব্যাখ্যা সংবলিত অসংখ্য সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি এবং পাণ্ডুলিপির সাথে তা মিলিয়ে দেখেছি। এছাড়াও আমি পাঠকদের পাঠ ও মুখস্থ করার সুবিধার্থে কিতাবের শুরুতে পূর্ণ মূল পাঠটি একত্রে হরকতসহ প্রদান করেছি, এরপর ব্যাখ্যার সাথে সাথে তা বিচ্ছিন্নভাবে উল্লেখ করেছি (*), এবং কিতাবের শেষে দুই পৃষ্ঠায় তার একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ তুলে ধরেছি।

২- আমি ব্যাখ্যা অংশের (শরহ) পাঠগত ভিন্নতাগুলো—যা খুবই নগণ্য—ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইফতা সংস্করণের মাঝে অনুসন্ধান করেছি এবং যথা স্থানে তা বর্ণনা করেছি।

৩- আমি ব্যাখ্যার কঠিন ও অস্পষ্ট শব্দগুলোতে হরকত প্রদান করেছি, যাতে পাঠকের পক্ষে তা বোঝা সহজ হয়।

৪- আমি আয়াতসমূহ সঠিকভাবে বিন্যস্ত করেছি এবং কুরআন মাজিদে তাদের অবস্থান নির্দেশ করেছি।

৫- আমি সকল হাদিস এবং আছারের উৎস (তাখরিজ) উল্লেখ করেছি।

উৎস বর্ণনার ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি হলো:

- আমি হাদিসটি সহিহ নাকি জঈফ সেই হুকুম বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করি এবং তা প্রথম বন্ধনীর মধ্যে রাখি।

- এরপর আমি এর সংকলকদের নাম উল্লেখ করি; প্রথমে বুখারি ও মুসলিম, তারপর কুতুবে সিত্তার বাকি কিতাবগুলো, তারপর ইমাম আহমাদ এর ‘মুসনাদ’ অথবা ইমাম মালিক এর ‘মুওয়াত্ত্বা’, এরপর অন্যান্য ইমামগণ; যেমন বায়হাকি, হাকিম... অথবা অন্যরা। খুব অল্প ক্ষেত্র ব্যতীত কখনো কখনো আমি পূর্বোক্ত ধারানুক্রম বজায় রেখে মাত্র তিন বা চারটি কিতাবে এর অবস্থান উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।

- আর যদি হাদিসটি কুতুবে সিত্তা বা তার কয়েকটিতে পাওয়া যায়, তবে বিভিন্ন সংস্করণের ভিন্নতার কারণে আমি কিতাব ও অধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে এর অবস্থান নির্দেশ করেছি এবং এর অবস্থান...

--------------------------------------------

(*) [শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক বলেছেন]: এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে মূল পাঠ এবং ব্যাখ্যা পুরোটাই পূর্ণ হরকতসহ দেয়া হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১৮)
أماكن شروحه، فإن كان في البخاري؛ فإنني أذكر موضعه في ((الفتح)) (الطبعة السلفية) ، وإن كان في مسلم؛ ففي ((شرح النووي)) ، وإن كان في الترمذي؛ ففي ((تحفة الأحوذي)) ، وإن كان في أبي داود؛ ففي ((عون المعبود)) ، وإن كان في النسائي؛ ففي النسخة التي حقَّقها أبو غدة وعليها شرح السيوطي وحاشية السندي، وإن كان في ابن ماجة؛ فنسخة عبد الباقي، وإن كان في ((المسند)) ؛ ففي ((الفتح الرباني)) ، وقد أكتفي بموضعين أو ثلاثة.

- أما بالنسبة للحكم على الحديث؛ فإن كان في البخاري ومسلم أو أحدهما؛ فأكتفي بالعزو إليهما، وإن كان في غيرهما؛ أذكر من صحَّح الحديث أو ضعَّفه من أئمة هذا الفن؛ كالذهبي، وابن حجر، والألباني، أو غيرهم أحيانًا؛ كالأرناؤوط مثلاً. وقد أضطر أحيانًا إلى الكلام على السند بما تقتضيه الصناعة الحديثية، وهذا قليل جدًّا.

6- أحلتُ أغلب الأقوال التي نسبها الشارح لأصحابها إلى مواضعها من كتبهم أو كتب غيرهم.

7- ترجمتُ لأهم الأعلام الذين ورد ذكرهم ولم أترجِم للمعروفين المشهورين؛ كالصحابة، وبعض التابعين والمتأخرين.

8- عرَّفتُ بجميع الفرق التي ورد ذكرها في المتن أو الشرح؛ كالجهمية، والمعتزلة، والأشاعرة.. وغيرهم.

9- شرحتُ بعض الكلمات الغريبة؛ ككلمة: (الدستور) ، و (المِلِّي) ، وغيرها مما هو قليل جدًا.

10- علَّقتُ تعليقات قليلة رأيت أنها ضرورية.
এর ব্যাখ্যার স্থানসমূহ: হাদীসটি যদি বুখারীতে থাকে, তবে আমি ‘ফাতহুল বারী’ (সালাফী মুদ্রণ) থেকে এর স্থান উল্লেখ করেছি; যদি মুসলিমে থাকে, তবে ‘শরহে নববী’ থেকে; যদি তিরমিজীতে থাকে, তবে ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’ থেকে; যদি আবু দাউদে থাকে, তবে ‘আওনুল মাবুদ’ থেকে; যদি নাসায়ীতে থাকে, তবে আবু গুদ্দাহ সম্পাদিত কপি থেকে, যাতে সুয়ূতী-র ব্যাখ্যা ও সিন্ধী-র টীকা রয়েছে; যদি ইবনে মাজাহ-তে থাকে, তবে আব্দুল বাকী সম্পাদিত কপি থেকে; আর যদি ‘মুসনাদ’-এ থাকে, তবে ‘ফাতহুর রব্বানী’ থেকে উল্লেখ করেছি। কখনও কখনও আমি দুই বা তিনটি স্থানের উল্লেখ করেই যথেষ্ট মনে করেছি।

- হাদীসের মানের (হুকুম) বিষয়ে: যদি হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম অথবা এ দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি কেবল তাদের দিকে সম্বন্ধ করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি। আর যদি এ দুটির বাইরে অন্য কোনো কিতাবে থাকে, তবে এই শাস্ত্রের ইমামদের মধ্যে যারা হাদীসটিকে সহীহ বা যয়ীফ বলেছেন তাদের কথা উল্লেখ করেছি; যেমন যাহাবী, ইবনে হাজার, আলবানী অথবা কখনও কখনও অন্য কেউ যেমন আরনাউত। কখনও কখনও হাদীস শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী সনদের ওপর আলোচনা করতে বাধ্য হয়েছি, তবে তা খুবই নগণ্য।

৬- ব্যাখ্যাকার যে সকল উক্তি তাদের প্রবক্তাদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, আমি সেগুলোর অধিকাংশকে তাদের নিজস্ব কিতাব অথবা অন্য কিতাব থেকে মূল সূত্রের বরাতে উল্লেখ করেছি।

৭- উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনা করেছি, তবে যারা সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ তাদের জীবনী উল্লেখ করিনি; যেমন সাহাবীগণ এবং কতিপয় তাবিঈ ও পরবর্তী যুগের ব্যক্তিবর্গ।

৮- মূল পাঠ বা ব্যাখ্যায় উল্লিখিত সকল ফিরকার পরিচয় প্রদান করেছি; যেমন জাহমিয়া, মুতাজিলা, আশআরিয়া... এবং অন্যান্য।

৯- কিছু বিরল শব্দের ব্যাখ্যা করেছি; যেমন: ‘দাস্তুর’, ‘মিল্লি’ এবং এ জাতীয় অন্যান্য শব্দ, যা সংখ্যায় খুবই কম।

১০- সামান্য কিছু টীকা যোগ করেছি যা আমি প্রয়োজনীয় মনে করেছি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ১৯)
11- أبقيتُ النَّص كما هو؛ سواء المتن أم الشرح؛ إلا في مواضع قليلة جدًا سببها أخطاء مطبعية في النسخ السابقة.

12- وضعت عناوين لبعض الفقرات، وذلك تيسيرًا على القارئ، وجعلتها خارج النص في أطراف الصفحات حتى لا أدخل على النص شيئًا من عندي.

13- وتخلُّصًا من مشكلة عدم تطابق مواضع الشرح والمتن في الطبعات السابقة للكتاب؛ فقد قسَّمتُ متن العقيدة إلى أقسام متعددة؛ كل قسم منها هو فكرة كاملة في حد ذاته، ثم جعلتُ شرحه بعده مباشرة مسبوقًا بحرف /ش/، وجعلت حرفَ كلٍّ منهما مختلفًا عن حرف الآخر (*) ، حتى يستطيع القارئ أن يتابع شرح كل قسم من أقسام المتن بسهولة ويسرٍ ومطابقة تامَّةً.

14- ترجمتُ لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله ترجمة موجزة.

15- ترجمتُ للشارح العلَاّمة محمد خليل هرَّاس ترجمة موجزة جدًا.

16- قمتُ بعمل بعض الفهارس الفنيَّة، وهي كالتالي:

فهرس للآيات حسب موضعها في القرآن الكريم.

فهرس للأحاديث والآثار على حروف المعجم.

فهرس للفرق.

فهرس للأعلام المترجَم لهم.

فهرس للمفردات.

فهرس للمصادر والمراجع.

فهرس للموضوعات.

--------------------------------------------

(*) [قال مُعِدّ الكتاب للشاملة] : في هذه النسخة الإلكترونية يتميز المتن بلون مختلف عن الشرح
১১- আমি মূল পাঠ এবং ব্যাখ্যা উভয়কেই অপরিবর্তিত রেখেছি; কেবল পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর মুদ্রণজনিত ত্রুটির কারণে খুব সামান্য কিছু স্থান ব্যতীত।

১২- পাঠকদের সুবিধার্থে আমি কিছু অনুচ্ছেদের শিরোনাম দিয়েছি এবং সেগুলো মূল পাঠের বাইরে পৃষ্ঠার পার্শ্বদেশে রেখেছি, যাতে মূল পাঠের ভেতরে আমার পক্ষ থেকে কোনো কিছু প্রবিষ্ট না হয়।

১৩- বইটির পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোতে মূল পাঠ ও ব্যাখ্যার অবস্থানের অসামঞ্জস্যতা দূর করার জন্য আমি আকীদার মূল পাঠকে (মতন) একাধিক অংশে বিভক্ত করেছি; যার প্রতিটি অংশ স্বতন্ত্রভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা প্রকাশ করে। অতঃপর আমি এর ব্যাখ্যাটি সরাসরি তার পরেই যুক্ত করেছি এবং এর শুরুতে 'শ' অক্ষরটি ব্যবহার করেছি। আমি উভয়ের ফন্ট একে অপর থেকে ভিন্ন রেখেছি (*), যাতে পাঠক মূল পাঠের প্রতিটি অংশের ব্যাখ্যা সহজভাবে, স্বাচ্ছন্দ্যে এবং পূর্ণ সামঞ্জস্যের সাথে অনুসরণ করতে পারেন।

১৪- আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী বর্ণনা করেছি।

১৫- আমি ব্যাখ্যাকার আল্লামা মুহাম্মাদ খলীল হাররাস-এর একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবনী বর্ণনা করেছি।

১৬- আমি কিছু প্রযুক্তিগত নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) তৈরি করেছি, যা নিম্নরূপ:

পবিত্র কুরআনের ক্রম অনুযায়ী আয়াতের নির্ঘণ্ট।

বর্ণানুক্রম অনুযায়ী হাদিস ও আছারের নির্ঘণ্ট।

দল ও উপদলসমূহের নির্ঘণ্ট।

যাঁদের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাঁদের নামের নির্ঘণ্ট।

শব্দকোষের নির্ঘণ্ট।

উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহের নির্ঘণ্ট।

বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট।

--------------------------------------------

(*) [শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক বলেছেন]: এই ইলেকট্রনিক সংস্করণে মূল পাঠের রঙ ব্যাখ্যা থেকে আলাদা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ২০)
هذا؛ وأسأل الله العلي الكريم ربَّ العرش العظيم أن يجعل هذا العمل في ميزان حسناتي يوم القيامة، وأن ينفع به إخواني طلبة العلم والمسلمين، وهو جهدُ المقل، ((فليُمْعِن الناظرُ فيه النظر، وليوسع العذر؛ إن اللبيب من عَذَر، ويأبى الله العصمة لكتاب غير كتابه، والمنصف من اغتفر قليل خطأ المرء في كثير صوابه)) (1) .

والله أعلم، وصلى الله على نبيِّنا محمَّد وعلى آله وصحبه وسلَّم.

--------------------------------------------

(1) من كلام الحافظ ابن رجب في مقدمة "القواعد الفقهية"
পরিশেষে; আমি মহান ও সম্মানিত আল্লাহ, বিশাল আরশের রবের নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে কিয়ামতের দিনে আমার নেক আমলের পাল্লায় স্থান দেন এবং এর দ্বারা আমার ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের ও মুসলিমদের উপকৃত করেন। এটি একজন স্বল্প পুঁজির অধিকারীর সামান্য প্রচেষ্টা মাত্র। ((অতএব পাঠক যেন এতে নিবিষ্টভাবে দৃষ্টিপাত করেন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষেত্রে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন; কেননা প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি তো সেই যে ওজর কবুল করে। আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে অস্বীকার করেছেন। আর ইনসাফকারী তো সেই যে কারো অনেক নির্ভুল বিষয়ের মাঝে সামান্য ভুলকে ক্ষমা করে দেয়)) (১)।

আর আল্লাহই অধিক অবগত। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ ইবনে রজব-এর উক্তি, ‘আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ’ গ্রন্থের ভূমিকা থেকে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌ترجمة موجزة للشيخ محمد خليل هرَّاس (1)

- هو العلَاّمة، السلفيُّ، المحقِّق، محمد خليل هرَّاس.

- من محافظة الغربيَّة بجمهورية مصر العربية.

- ولد بطنطا عام (1916م) ، وتخرَّج من الأزهر في الأربعينات من كلية أصول الدين، وحاز على الشهادة العالمية العالية (الدكتوراه) في التوحيد والمنطق.

- عمل أستاذًا بكلِّيَّة أصول الدين في جامعة الأزهر.

- أُعير إلى المملكة العربية السعودية، ودرَّس في جامعة الإمام محمد ابن سعود الإسلامية بالرياض، ثمّ أُعير مرَّةً أخرى، وأصبح رئيسًا لشعبة العقيدة في قسم الدِّراسات العليا في (كلية الشريعة سابقًا / جامعة أم القرى حاليًا) بمكة المكرمة.

- عاد إلى مصر، وشغل منصب نائب الرئيس العام لجماعة أنصار السنة النبوية، ثم الرئيس العام لها بالقاهرة.

--------------------------------------------

(1) أفادنا بها الشيخان السلفيان عبد الرزاق عفيفي، وعبد الفتاح سلامة، وهما من معاصريه.
শায়খ মুহাম্মদ খলীল হাররাস-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী (১)

- তিনি হলেন প্রখ্যাত আলিম, সালাফি, গবেষক, মুহাম্মদ খলীল হাররাস।

- তিনি আরব প্রজাতন্ত্র মিশরের গারবিয়া প্রদেশের অধিবাসী।

- তিনি ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে তান্তায় জন্মগ্রহণ করেন এবং চল্লিশের দশকে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ দীন অনুষদ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তিনি তাওহীদ ও যুক্তিবিদ্যায় উচ্চতর বৈশ্বিক সনদ (পিএইচডি) অর্জন করেন।

- তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ দীন অনুষদে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- তিনি সৌদি আরব রাজ্যে প্রেষণে প্রেরিত হন এবং রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি পুনরায় প্রেষণে মক্কা মুকাররমায় (তৎকালীন শরীয়াহ অনুষদ / বর্তমানে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়) উচ্চতর শিক্ষা বিভাগের আকীদা শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- তিনি মিশরে ফিরে আসেন এবং জামাআতে আনসারুস সুন্নাহ আন-নববীয়্যাহ-এর সাধারণ সহ-সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হন, পরবর্তীতে কায়রোতে এর সাধারণ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

--------------------------------------------

(১) এটি আমাদের জানিয়েছেন দুই সালাফি শায়খ আব্দুর রাজ্জাক আফীফী এবং আব্দুল ফাত্তাহ সালামাহ, যাঁরা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: ৪২)
- وفي عام (1973م) ـ قبل وفاته بسنتين ـ اشترك مع الدكتور عبد الفتاح سلامة في تأسيس جماعة الدعوة الإسلامية في محافظة الغربية، وكان أول رئيس لها.

- توفي رحمه الله تعالى عام (1975م) عن عُمر يناهز الستين.

- كان رحمه الله سلفي المعتقد، شديدًا في الحقّ، قويّ الحجّة والبيان، أفنى حياته في التعليم والتأليف ونشر السنة وعقيدة أهل السنة والجماعة.

- له مؤلفات عدة؛ منها:

1- تحقيق كتاب ((المغني)) لابن قدامة، وقد طُبع لأول مرة في مطبعة الإمام بمصر.

2- تحقيق وتعليق على كتاب ((التوحيد)) لابن خزيمة.

3- تحقيق وتعليق على كتاب ((الأموال)) لأبي عُبيد القاسم بن سلام.

4- تحقيق ونقد كتاب ((الخصائص الكبرى)) للسيوطي.

5- تحقيق وتعليق على كتاب ((السيرة النبوية)) لابن هشام.

6- شرح ((القصيدة النونية)) لابن القيم في مجلّدين.

7- تأليف كتاب ((ابن تيمية ونقده لمسالك المتكلمين في مسائل الإلهيات)) .

8- شرح ((العقيدة الواسطية)) لابن تيمية، وهو كتابنا هذا.
- এবং ১৯৭৩ সালে—তাঁর ইন্তেকালের দুই বছর পূর্বে—তিনি ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ সালামার সাথে গারবিয়া প্রদেশে জামাআতুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়্যাহ প্রতিষ্ঠায় শরিক হন এবং তিনি ছিলেন এর প্রথম সভাপতি।

- আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি ১৯৭৫ সালে প্রায় ষাট বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

- আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি আকিদাগতভাবে সালাফি ছিলেন, হকের ব্যাপারে আপোসহীন ছিলেন এবং বলিষ্ঠ দলিল ও বাগ্মিতার অধিকারী ছিলেন। তিনি তাঁর জীবনকে শিক্ষাদান, গ্রন্থরচনা এবং সুন্নাহ ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহর আকিদা প্রচারে বিলীন করে দিয়েছিলেন।

- তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে; তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

১- ইবনে কুদামার 'আল-মুগনি' গ্রন্থের তাহকিক, যা প্রথমবারের মতো মিশরের মাতবাআতুল ইমাম থেকে মুদ্রিত হয়েছিল।

২- ইবনু খুজাইমার 'কিতাবুত তাওহিদ' গ্রন্থের তাহকিক ও তালীক।

৩- আবু উবাইদ কাসিম বিন সালামের 'কিতাবুল আমওয়াল' গ্রন্থের তাহকিক ও তালীক।

৪- সুয়ূতির 'আল-খাসাইসুল কুবরা' গ্রন্থের তাহকিক ও সমালোচনা।

৫- ইবনে হিশামের 'আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ' গ্রন্থের তাহকিক ও তালীক।

৬- দুই খণ্ডে ইবনুল কায়্যিমের 'আল-কাসিদাতুন নুরিয়্যাহ'-এর শারহ।

৭- 'ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইলাহিয়্যাত সংক্রান্ত বিষয়াবলিতে মুতাকাল্লিমদের মানহাজের প্রতি তাঁর সমালোচনা' নামক গ্রন্থ রচনা।

৮- ইবনে তাইমিয়্যাহর 'আল-আকিদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ'-এর শারহ, যা আমাদের এই বর্তমান গ্রন্থটি।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: -)
‌‌متن العقيدة الواسطية (*)

 

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الَّذي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللهِ شَهِيدًا.

وأَشْهَدُ أَن لَاّ إلَهَ إِلَاّ اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ إِقْرَارًا بِهِ وَتَوْحِيدًا.

وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تسليمًا مَزِيدًا.

أَمَّا بَعْدُ؛ فَهَذَا اعْتِقَادُ الْفِرْقَةِ النَّاجِيَةِ الْمَنْصُورَةِ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ: أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ:

وَهُوَ الإِيمانُ بِاللهِ وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، والإِيمَانِ بِالْقَدَرِ خِيْرِهِ وَشَرِّهِ.

وَمِنَ الإيمَانِ بِاللهِ: الإِيمَانُ بِمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ فِي كِتِابِهِ الْعَزِيزِ، وَبِمَا وَصَفَهُ بِهِ رَسُولُهُ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم؛ مِنْ غَيْرِ تَحْرِيفٍ وَلَا تَعْطِيلٍ، وَمِنْ غَيْرِ تَكْيِيفٍ وَلَا تَمْثِيلٍ.

 

بَلْ يُؤْمِنُونَ بِأَنَّ اللهَ {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} .

فَلَا يَنْفُونَ عَنْهُ مَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ، وَلَا يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ، وَلَا يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَاءِ اللهِ وآيَاتِهِ، وَلَا يُكَيِّفُونَ وَلَا يُمَثِّلُونَ صِفَاتِهِ بِصِفَاتِ خَلْقِهِ.

لأَنَّهُ سُبْحَانَهُ: لَا سَمِيَّ لَهُ، وَلَا كُفْءَ لَهُ، وَلَا نِدَّ لهُ.

ولَا يُقَاسُ بِخَلْقِهِ سبحانه وتعالى.

فَإنَّهُ أَعْلَمُ بِنَفْسِهِ وَبِغَيْرِهِ، وَأَصْدَقُ قِيلاً، وَأَحْسَنُ حَدِيثًا مِنْ خَلْقِهِ. ثُمَّ رُسُلُه صَادِقُونَ مُصَدَّقُون؛ بِخِلَافِ الَّذِينَ يَقُولُونَ عَلَيْهِ مَا لَا يَعْلَمُونَ.

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدّ الكتاب للشاملة: هذا هو متن العقيدة الواسطية كما ضبط نصّه الشيخ علوي السقاف محقق الكتاب، أوردتُه كاملا هنا، بالإضافة لوروده مفرقا أثناء الشرح
আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র মূল পাঠ (*)

 

পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তাকে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন; আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; তাঁর প্রতি স্বীকৃতিস্বরূপ এবং তাঁর তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে।

আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাথীদের ওপর অধিক পরিমাণে রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর, এটি কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত ও নাজাতপ্রাপ্ত দলের বিশ্বাস (আকীদা), যারা হলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত:

আর তা হলো— আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকূল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনা।

আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত হলো— আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর ওপর কোনো ধরনের অর্থগত বিকৃতি ও অস্বীকার করা ব্যতিরেকে এবং ধরণ নির্ধারণ ও সাদৃশ্য প্রদান করা ছাড়াই ঈমান আনা।

 

বরং তারা ঈমান রাখে যে, আল্লাহর সদৃশ কিছুই নেই, এবং তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

সুতরাং তারা আল্লাহ নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তা অস্বীকার করে না, শব্দসমূহকে তার নিজস্ব স্থান থেকে বিকৃত করে না, আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে সত্যবিচ্যুতি অবলম্বন করে না এবং তাঁর গুণাবলির ধরণ নির্ধারণ করে না কিংবা তাঁর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করে না।

কারণ তিনি পবিত্র ও মহান; তাঁর সমনামের কেউ নেই, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

আর তাঁর সৃষ্টির সাথে তাঁর তুলনা করা যায় না।

কেননা তিনি নিজের সম্পর্কে এবং অন্যের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত, এবং তাঁর কথা তাঁর সৃষ্টির কথার চেয়ে অধিক সত্য ও উত্তম। তদুপরি তাঁর রাসূলগণ সত্যবাদী এবং (আল্লাহর পক্ষ থেকে) সত্য বলে সমর্থিত; তাদের বিপরীতে যারা আল্লাহর ব্যাপারে এমন কথা বলে যা তারা জানে না।

--------------------------------------------

(*) শামেলার জন্য গ্রন্থটি প্রস্তুতকারক বলেছেন: এটি হলো আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-র মূল পাঠ যেমনটি গ্রন্থটির গবেষক শায়খ আলাভী আস-সাক্কাফ এর পাঠ বিন্যাস করেছেন। আমি এটি এখানে সম্পূর্ণ উল্লেখ করেছি, পাশাপাশি ব্যাখ্যার মাঝে বিভিন্ন স্থানে এটি বিচ্ছিন্নভাবেও উদ্ধৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: -)
وَلِهَذَا قَالَ: {سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ وَسَلامٌ عَلَى الْمُرْسَلِين - وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} . فَسَبَّحَ نَفْسَهُ عَمَّا وَصَفَهُ بِهِ الْمُخَالِفُونَ لِلرُّسُلِ، وَسَلَّمَ عَلَى الْمُرْسَلِينَ؛ لِسَلَامَةِ مَا قَالُوهُ مِنَ النَّقْصِ وَالْعَيْبِ.

وَهُوَ سُبْحَانَهُ قَدْ جَمَعَ فِيما وَصَفَ وَسَمَّى بِهِ نَفْسَهُ بينَ النَّفْيِ وَالإِثْبَاتِ.

فَلَا عُدُولَ لأَهْلِ السُّنَّةٌ وَالْجَمَاعَةِ عَمَّا جَاءَ بِهِ الْمُرْسَلُونَ؛ فَإِنَّهُ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ، صِرَاطُ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِم مِّنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ والصَالِحِينَ.

وَقَدْ دَخَلَ فِي هِذِهِ الْجُمْلَةِ مَا وَصَفَ اللهُ بِهِ نَفْسَهُ فِي سُورَةِ الإِخْلَاصِ الَّتِي تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ، حَيثُ يَقُولُ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَد - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَد - وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ} .

وَمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ فِي أَعْظَمِ آيَةٍ فِي كِتِابِهِ؛ حَيْثُ يَقُولُ: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَاّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَاّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلَا يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} .

وَقَوْلُهُ سُبْحَانَهُ: {هُوَ الأَوَّلُ وَالآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} .

وَقَوْلُهُ سُبْحَانَهُ: {وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لا يَمُوتُ} .
এজন্যই তিনি বলেছেন: {আপনার প্রতিপালক, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসুলগণের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।} সুতরাং তিনি রাসুলগণের বিরোধীরা তাঁর যে গুণগান করত তা থেকে নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন এবং রাসুলগণের ওপর শান্তি বর্ষণ করেছেন; কারণ তাঁরা যা বলেছেন তা সব ধরণের ত্রুটি ও দোষ থেকে মুক্ত।

আর তিনি সুবহানাহু নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং নিজেকে যে নামে অভিহিত করেছেন তাতে তিনি নেতিবাচক বর্জন ও ইতিবাচক সাব্যস্তকরণের সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

সুতরাং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের জন্য রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো পথ নেই; কারণ এটিই হলো সরল পথ—সেই ব্যক্তিদের পথ যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন; অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং পুণ্যবানগণ।

আর এই সামগ্রিক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ সুরা ইখলাসে নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন, যা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য। যেখানে তিনি বলেছেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।}।

এবং তাঁর কিতাবের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াতে তিনি নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন; যেখানে তিনি বলেছেন: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রিা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর তিনি যা ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর কুরসী আসমান ও যমীনব্যাপী পরিব্যাপ্ত। আর এ দুটির রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না। আর তিনি অতি উচ্চ, অতি মহান।}।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই প্রকাশ্য এবং তিনিই অপ্রকাশ্য। আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।}।

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি সেই চিরঞ্জীবের ওপর ভরসা করুন যাঁর মৃত্যু নেই।}।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: -)
وَقَوْلُهُ: {وَهُوَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} ، {وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِير - يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاء وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا} ، {وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَاّ هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَاّ يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَاّ فِي كِتَابٍ مُّبِين} وَقَوْلُهُ: {وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَى وَلا تَضَعُ إِلَاّ بِعِلْمِه} ، وَقَوْلُهُ: {لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا} .

 

وَقَوْلُهُ: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} .

وَقَوْلُهُ: {ِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ} .

وَقَوْلُهُ: {إِنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا}

وَقَوْلُهُ: {وَلَوْلا إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَاء اللَّهُ لا قُوَّةَ إِلَاّ بِاللَّهِ} ، وَقَوْلُهُ: {وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلُواْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ} ، وَقَوْلُهُ: {ِ أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الأَنْعَامِ إِلَاّ مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ} ،وَقَوْلُهُ: {فَمَن يُرِدِ اللَّهُ أَن يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلإِسْلَامِ وَمَن يُرِدْ أَن يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاء} .
এবং তাঁর বাণী: {আর তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।}, {আর তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত—তিনি জানেন যা জমিনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে নির্গত হয়, আর যা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে।}, {আর তাঁর নিকটেই রয়েছে অদৃশ্যের চাবিকাঠি, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা জানে না। স্থলে ও জলে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর অগোচরে একটি পাতাও ঝরে না। জমিনের অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণা নেই এবং আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কোনো বস্তু নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে।} এবং তাঁর বাণী: {কোনো নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না তাঁর জ্ঞান ব্যতীত।}, এবং তাঁর বাণী: {যাতে তোমরা জানতে পারো যে, নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দিয়ে সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন।} .

 

এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহই হলেন রিযিকদাতা, প্রবল শক্তিধর, সুদৃঢ়।} .

এবং তাঁর বাণী: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছু নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} .

এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে যা উপদেশ দেন তা কতই না উৎকৃষ্ট! নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।}

এবং তাঁর বাণী: {আর তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন বললে না—আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়েছে), আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি নেই?}, এবং তাঁর বাণী: {আর আল্লাহ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে তারা লড়াই করত না; কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন।}, এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, তবে সে সব ছাড়া যা তোমাদের কাছে পাঠ করা হয়, ইহরাম অবস্থায় শিকারকে হালাল মনে না করে। নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা বিধান দেন।} ,এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করার ইচ্ছা করেন, ইসলামের জন্য তার বক্ষ উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে সংকীর্ণ ও অতি সংকুচিত করে দেন, যেন সে অতি কষ্টে আকাশে আরোহণ করছে।} .
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: -)
وَقَوْلُهُ: {وَأَحْسِنُوَاْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} ، {وَأَقْسِطُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} ، {ْ فَمَا اسْتَقَامُواْ لَكُمْ فَاسْتَقِيمُواْ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ} ، {إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} ، وَقَوْلُهُ: {قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} ، وَقَوْلُهُ: {فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} ، وَقَوْلُهُ: {إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُم بُنيَانٌ مَّرْصُوصٌ} .

وَقَوْلُهُ: {وَهُوَ الْغَفُورُ الْوَدُودُ} ، وَقَوْلُهُ: {بسم الله الرحمن الرحيم} ، {رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا} .

{وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا} ، {ِ وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْء} {ْكَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ} ، {ِوَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} ، {ِفَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظًا وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ} .

قَوْلُهُ: {ِرَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} ، {ِوَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ} ، وَقَولُهُ: {ِذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ} ، {ِفَلَمَّا آسَفُونَا انتَقَمْنَا مِنْهُمْ} ، وَقَوْلُهُ: {وَلَكِن كَرِهَ اللَّهُ انبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ} ،وَقَوْلُهُ: {ِكَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ أَن تَقُولُوا مَا لا تَفْعَلُونَ} .
এবং তাঁর বাণী: {আর তোমরা ইহসান করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন}, {আর তোমরা ইনসাফ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন}, {যতক্ষণ তারা তোমাদের জন্য অটল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য অটল থাকো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালোবাসেন}, {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন}, এবং তাঁর বাণী: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন}, এবং তাঁর বাণী: {অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে}, এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে, যেন তারা সিসাঢালা প্রাচীর}।

এবং তাঁর বাণী: {আর তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম প্রেমময়}, এবং তাঁর বাণী: {পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে}, {হে আমাদের রব! আপনি প্রতিটি বস্তুকে রহমত ও জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন}।

{আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু}, {আর আমার রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে}, {তোমাদের রব নিজের ওপর রহমত অবধারিত করে নিয়েছেন}, {আর তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু}, {সুতরাং আল্লাহই শ্রেষ্ঠ হিফাজতকারী এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু}।

তাঁর বাণী: {আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে}, {আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিফল হবে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে এবং আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হয়েছেন ও তাকে লানত করেছেন}, এবং তাঁর বাণী: {তা এজন্য যে, তারা এমন বিষয়ের অনুসরণ করেছে যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করেছে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছে}, {অতঃপর যখন তারা আমাকে রাগান্বিত করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম}, এবং তাঁর বাণী: {কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিযানে বের হওয়া অপছন্দ করলেন, তাই তিনি তাদের বিরত রাখলেন}, এবং তাঁর বাণী: {তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর নিকট চরম অসন্তোষের বিষয়}।
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: -)
وَقَولُهُ: {ِهَلْ يَنظُرُونَ إِلَاّ أَن يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِّنَ الْغَمَامِ وَالْمَلآئِكَةُ وَقُضِيَ الأَمْرُ} ، {هَلْ يَنظُرُونَ إِلَاّ أَن تَأْتِيهُمُ الْمَلآئِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ} ، {كَلَاّ إِذَا دُكَّتِ الأَرْضُ دَكًّا دَكًّا وَجَاء رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا} ، {وَيَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَاء بِالْغَمَامِ وَنُزِّلَ الْمَلائِكَةُ تَنزِيلاً} .

وَقَوْلُهُ: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ} ، {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَاّ وَجْهَهُ} .

وَقَوْلُهُ: {مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} ، {وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُواْبِمَا قَالُواْ بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَان ِ يُنفِقُ كَيْفَ يَشَاء} .

وَقَولُهُ: {وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا} ، {وَحَمَلْنَاهُ عَلَى ذَاتِ أَلْوَاحٍ وَدُسُرٍ - تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا جَزَاء لِّمَن كَانَ كُفِرَ} ، {وَأَلْقَيْتُ عَلَيْكَ مَحَبَّةً مِّنِّي وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} .

وَقَوْلُهُ: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ}
এবং তাঁর বাণী: {তারা কি শুধু এরই অপেক্ষা করছে যে, আল্লাহ মেঘের ছায়ার মধ্যে তাদের কাছে আসবেন এবং ফেরেশতারাও, আর সব বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাবে?} {তারা কি শুধু এরই অপেক্ষা করছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে অথবা আপনার রব আসবেন কিংবা আপনার রবের কোনো নিদর্শন আসবে?} {কখনো নয়, যখন জমিন চূর্ণ-বিচূর্ণ করে সমান করে দেওয়া হবে এবং আপনার রব আসবেন ও ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে।} {এবং যেদিন আকাশ মেঘমালাসহ বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের নামিয়ে আনা হবে।}

এবং তাঁর বাণী: {আর আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে।} {আল্লাহর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।}

এবং তাঁর বাণী: {আমি যা আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাহ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} {এবং ইয়াহুদিরা বলে, আল্লাহর হাত রুদ্ধ; তাদের হাতই রুদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের এ কথার জন্য তাদের ওপর অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। বরং তাঁর উভয় হাতই প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা দান করেন।}

এবং তাঁর বাণী: {আপনি আপনার রবের ফয়সালার জন্য ধৈর্য ধারণ করুন, কারণ আপনি তো আমার চোখের সামনে রয়েছেন।} {এবং আমি তাকে (নূহকে) কাঠ ও পেরেক নির্মিত নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম, যা আমার চোখের সামনে চলত, এটি তার জন্য পুরস্কার স্বরূপ যাকে অস্বীকার করা হয়েছিল।} {এবং আমি তোমার ওপর আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম যাতে তুমি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হও।}

এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করছিল এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছিল। আল্লাহ আপনাদের কথোপকথন শুনছিলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।}
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: -)
،وَقَوْلُهُ: {لَّقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُواْ إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاء} ، وَقَوْلُهُ: {أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُم بَلَىوَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ} ، {إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} ، {أَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى} ، {الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} ، {وَقُلِ اعْمَلُواْ فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ} .

وَقَوْلُهُ: {وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَال} ، وَقَوْلُهُ: {وَمَكَرُواْ وَمَكَرَ اللَّهُ وَاللَّهُ خَيْرُ الْمَاكِرِينَ} ، وَقَوْلُهُ: {وَمَكَرُوا مَكْرًا وَمَكَرْنَا مَكْرًا وَهُمْ لا يَشْعُرُونَ} ، وَقَوْلُهُ: {إِنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا - وَأَكِيدُ كَيْدًا} .

وَقَوْلُهُ: {إِن تُبْدُواْ خَيْرًا أَوْ تُخْفُوهُ أَوْ تَعْفُواْ عَن سُوَءٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِيرًا} ، {ِوَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} .

وَقَوْلُهُ: {وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ} ، وَقَوْلُهُ عَنْ إِبْلِيسَ: {فَبِعِزَّتِكَ لأغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ} .

وَقَوْلُهُ: {تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ} .
এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহ অবশ্যই তাদের কথা শুনেছেন যারা বলেছিল যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ দরিদ্র এবং আমরা ধনী", এবং তাঁর বাণী: "নাকি তারা মনে করে যে আমি তাদের গোপন কথা ও তাদের কানাকানি শুনি না? অবশ্যই (শুনি), এবং আমার প্রেরিত দূতগণ তাদের নিকটেই অবস্থান করে লিখে রাখছেন", "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি", "সে কি জানে না যে নিশ্চয়ই আল্লাহ দেখেন?", "যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি (নামাজে) দাঁড়ান, এবং সিজদাকারীদের মাঝে আপনার উঠাবসা লক্ষ্য করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ", "এবং আপনি বলুন: তোমরা আমল করো, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসুল ও মুমিনগণও।"

এবং তাঁর বাণী: "আর তিনি কঠোর কৌশলী", এবং তাঁর বাণী: "এবং তারা ষড়যন্ত্র করেছিল, আর আল্লাহও কৌশল করেছিলেন; আর আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী", এবং তাঁর বাণী: "এবং তারা এক ষড়যন্ত্র করেছিল আর আমরাও এক কৌশল অবলম্বন করেছিলাম, অথচ তারা উপলব্ধি করতে পারেনি", এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই তারা ভীষণ চক্রান্ত করে, এবং আমিও এক সূক্ষ্ম কৌশল অবলম্বন করি।"

এবং তাঁর বাণী: "তোমরা যদি কোনো সৎকাজ প্রকাশ করো কিংবা তা গোপন করো অথবা কোনো মন্দ কাজ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, ক্ষমতাশালী", "আর তারা যেন ক্ষমা করে এবং মার্জনা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।"

এবং তাঁর বাণী: "আর সমস্ত সম্মান তো আল্লাহরই, এবং তাঁর রাসুলের ও মুমিনদের জন্য", এবং ইবলিস সম্পর্কে তাঁর বাণী: "(সে বলল:) আপনার সম্মানের শপথ! আমি অবশ্যই তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব।"

এবং তাঁর বাণী: "বরকতময় আপনার রবের নাম, যিনি মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী।"
(খণ্ড: ১) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ - আল হাররাস (পৃষ্ঠা: -)
وَقَوْلُهُ: {فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} ، {وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ} ، وَقَوْلُهُ: {فَلَا تَجْعَلُواْ لِلّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ} ، {وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَاداً يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ} ، وَقَوْلُهُ: {وَقُلِ الْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَم يَكُن لَّهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُ وَلِيٌّ مِّنَ الذُّلَّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا} ، {يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} ، وَقَوْلُهُ: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا - الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} ، وَقَوْلُهُ: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ - عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} ، {فَلَا تَضْرِبُواْ لِلّهِ الأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} ، {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُواْ بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} .
এবং তাঁর বাণী: {অতএব আপনি তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে ধৈর্যশীল থাকুন। আপনি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানেন?}, {এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই}, এবং তাঁর বাণী: {অতএব তোমরা জেনেশুনে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করো না}, {আর মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদের আল্লাহকে ভালোবাসার মতো ভালোবাসে}, এবং তাঁর বাণী: {এবং বলুন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যাঁর কোনো শরিক নেই এবং যিনি হীনতাজনিত কারণে কোনো সাহায্যকারীর মুখাপেক্ষী নন। আর আপনি তাঁর মাহাত্ম্য সগৌরবে ঘোষণা করুন}, {আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে; রাজত্ব তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসা তাঁরই; আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাশালী}, এবং তাঁর বাণী: {পরম বরকতময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারেন—যিনি সেই সত্তা, যাঁর জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব; তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই এবং তিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন}, এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; থাকলে প্রত্যেক ইলাহ আপন সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র—তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা; তারা যাকে শরিক করে তিনি তার থেকে ঊর্ধ্বে}, {অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো উপমা পেশ করো না; নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না}, {বলুন: আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ—যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন—আর গুনাহ ও অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না}।