(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: -)
مختصر معارج القبول   (هشام آل عقدة)

القسم: العقيدة


الكتاب : مختصر معارج القبول

المؤلف : أبو عاصم هشام بن عبد القادر بن محمد آل عقدة

الناشر : مكتبة الكوثر - الرياض

الطبعة : الخامسة ، 1418 هـ

عدد الصفحات: 436

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع ]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাআরিজুল কবুলের সংক্ষিপ্তসার   (হিশাম আল উকদাহ)

বিভাগ: আকীদা


গ্রন্থ : মাআরিজুল কবুলের সংক্ষিপ্তসার

লেখক : আবু আসিম হিশাম বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আল উকদাহ

প্রকাশক : মাকতাবাতুল কাওসার - রিয়াদ

সংস্করণ : পঞ্চম ، ১৪১৮ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مختصر معارج القبول]ـ

المؤلف: أبو عاصم هشام بن عبد القادر بن محمد آل عقدة

الناشر: مكتبة الكوثر - الرياض

الطبعة: الخامسة، 1418 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
[মাআরিজুল কবুল-এর সংক্ষিপ্তসার]

লেখক: আবু আসিম হিশাম বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ আল উকদাহ

প্রকাশক: মাকতাবাতুল কাওসার - রিয়াদ

সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪১৮ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা যুক্ত করা হয়েছে]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة مختصر معارج القبول

 

إن الْحَمْدُ للَّه نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ باللَّه من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّه فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هادي لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّه وَحْدَهُ لا شريك له وأشهد أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صلى الله عليه وسلم.

(يا أيها الذين آمنوا اتقوا الفَه حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون) (1)

(يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالًا كثيرا ونساء واتقوا اللَّه الذي تساءلون به والأرحام إن اللَّه كان عليكم رقيبًا) (2) .

(يا أيها الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّه وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّه وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا) (3) .

أما بعد:

فإن كتاب مَعَارِجَ الْقَبُولِ بِشَرْحِ سُلَّمِ الْوُصُولِ إِلَى عِلْمِ الأصول في التوحيد من الكتب العظيمة النافعة في أمر العقيدة الصحيحة، عقيدة السلف الصالح رضوان اللَّه عليهم، وهو من الكتب المحببة إلى نفسي، وكذا مؤلفه الشيخ الفاضل حافظ بن أحمد حكمي رحمه الله رحمة واسعة، فقد كنت أشعر أثناء قراءتي لهذا الكتاب القيم أنني أقرأ لعالم من علماء السلف الأولين، وطريقة

التصنيف وما فيها من الحشد الهائل للنصوص والآثار توحيِ بذلك، فجزى اللَّه الشيخ خير الجزاء وجعل عمله ذلك في ميزان حسناته.

--------------------------------------------

(1) آل عمران: 102.

(2) النساء: 1.

(3) الأحزاب: 71.
মুখতাসার মা'আরিজুল কবুল-এর ভূমিকা

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।) (১)

(হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধনকেও ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।) (২) ।

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে।) (৩) ।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই তাওহীদ বিষয়ক ‘মা’আরিজুল কবুল বি-শারহি সুল্লামিল উসুল ইলা ইলমিল উসুল’ গ্রন্থটি সঠিক আকীদা তথা সালাফে সালেহীনের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আকীদার বর্ণনায় এক মহান ও উপকারী গ্রন্থ। এটি আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি কিতাব এবং এর লেখক ফজিলতুশ শাইখ হাফেজ ইবনে আহমদ হাকামী (রাহিমাহুল্লাহ)-ও আমার অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্ব। এই মূল্যবান কিতাবটি পাঠ করার সময় আমি অনুভব করতাম যে, আমি যেন প্রথম যুগের সালাফদের কোনো এক আলেমের লেখা পাঠ করছি। এর রচনা শৈলী এবং এতে কুরআন-সুন্নাহর নস ও আছারের যে বিশাল সমাহার রয়েছে, তা সেই সাক্ষ্যই দেয়। আল্লাহ শাইখকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর এই কাজকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় ভারী করে দিন।

--------------------------------------------

(১) আল-ইমরান: ১০২।

(২) আন-নিসা: ১।

(৩) আল-আহযাব: ৭১।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد كنت أثناء دراستي لهذا الكتاب أقوم بتلخيصه، حتى اكتمل عندي ملخص له، ثم قدر اللَّه عز وجل أن اطَّلع عليه بعض إخواني في اللَّه فأعجبهم وحثوني على طبعه ونشره ليكون فيه تقريب للأصل (معارج القبول) لعدد أكبر من المسلمين في هذا العصر، فعزمت على ذلك متوكلًا على اللَّه عز وجل، وقمت بإعادة كتابة ذلك التلخيص بصورة أفضل وراعيت فيه الأمور التالية

إتمامًا للفائدة:

- حرصت على أن يكون ما في هذا المختصر من أَحَادِيثِ رَسُولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم

من الأحاديث المقبولة، فما عزاه المؤلف للصحيحين- صحيحي البخاري ومسلم- أو أحدهما اكتفيت فيه بمراجعة مكتب التحقيق العلمي بدار الصفوة بالقاهرة للحديث فيهما فما كان من استدراك أُشِير إليه في الهامشة، وما عزاه لغيرهما أو لم يذكر تخريجه اكتفيت ببيان العلماء لدرجته من الصحة، وإن وجدته في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بنسبته إليهما مع بيان موضعه، وفي أغلب التحقيقات كنت أنقل كلام المحدث الفاضل الشيخ الألباني حفظه اللَّه لسهولة الأخذ من كتبه ولتوفر كثير منها بين يدي.

وكان هدفي في هذا المحتصر بالنسبة للأحاديث بيان درجتها من الصحة، ولم أقم بتخريجها خشية الإطالة التي قد لا تتناسب مع هذا المختصر.

- أضفت قليلاً من التعليقات لبعض العلماء في بعض المواضع لما فيها من الفائدة التي يحتاج إليها، وبينت معاني بعض الكلمات حيث دعت الحاجة إلى ذلك، وضبطت بعضها بالشكل.

- حرصت على الإبقاء على أسلوب المؤلف وعباراته- في الغالب- ليكون أبعد لي عن الخطأ والافتئات عليه رحمه الله، ولما كنت غير ملتزم بشرح أبيات المتن جعلت الأبيات في آخر كل موضوع أو عدد من الموضوعات كشواهد لما سبق. ولم أكن ملتزمًا في تقسيم الموضوعات بنفس طريقة الكتاب.
এই কিতাবটি অধ্যয়ন করার সময় আমি এর একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করছিলাম, একপর্যায়ে আমার নিকট এর একটি পূর্ণাঙ্গ সংক্ষিপ্তসার তৈরি হয়ে যায়। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ফয়সালা করেন যে, আল্লাহর পথে আমার কতিপয় দ্বীনি ভাই এটি দেখেন এবং তা তাঁদের পছন্দ হয়। তাঁরা আমাকে এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যাপারে উৎসাহিত করেন, যেন বর্তমান যুগের অধিক সংখ্যক মুসলিমের নিকট মূল কিতাবের (মাআরিজুল কবুল) বিষয়বস্তু সহজবোধ্য ও নিকটবর্তী হয়। তখন আমি মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে এর সংকল্প করি এবং উক্ত সারসংক্ষেপটি আরও উত্তম রূপে পুনরায় রচনা করি এবং এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখি:

উপকারিতা পরিপূর্ণ করার লক্ষ্যে:

- আমি এই সংক্ষিপ্তসারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে সকল হাদিস রয়েছে, তা যেন গ্রহণযোগ্য হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হয় সে ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম। লেখক যে সকল হাদিসকে সহীহাইন—সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম—বা এই দুইয়ের কোনো একটির দিকে সম্বন্ধ করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি কায়রোর ‘দারুস সাফওয়া’র বৈজ্ঞানিক তাহকীক দপ্তরের পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করেছি; সেখানে কোনো সংশোধনী থাকলে তা পাদটীকায় উল্লেখ করা হয়েছে। আর যেগুলো এই দুই কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে অথবা যেগুলোর উৎস বা তাহরীজ উল্লেখ করা হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি হাদিসের বিশুদ্ধতার মান সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের বর্ণনা উল্লেখ করার ওপর যথেষ্ট করেছি। যদি আমি তা সহীহাইনের কোনো একটিতে পেয়ে থাকি, তবে সেটির অবস্থান উল্লেখপূর্বক এই দুই কিতাবের দিকেই তা নিসবত করেছি। অধিকাংশ তাহকীকের ক্ষেত্রে আমি বিজ্ঞ মুহদ্দিস শায়খ আলবানী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি, কারণ তাঁর কিতাবসমূহ থেকে তথ্য গ্রহণ করা সহজ এবং আমার নিকট তাঁর অনেক কিতাব সহজলভ্য ছিল।

হাদিসের ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্তসারে আমার উদ্দেশ্য ছিল কেবল সেগুলোর বিশুদ্ধতার মান বর্ণনা করা, আমি বিস্তারিত উৎস অনুসন্ধান বা তাহরীজ করিনি—দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়, যা এই সংক্ষিপ্তসারের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো না।

- আমি কিছু স্থানে কতিপয় আলেমের কিছু টীকা যুক্ত করেছি যাতে প্রয়োজনীয় উপকারিতা রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন মনে হয়েছে সেখানে কিছু শব্দের অর্থ স্পষ্ট করেছি এবং কিছু শব্দের উচ্চারণ হরকত দিয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছি।

- আমি লেখকের বর্ণনাভঙ্গি ও তাঁর ব্যবহৃত শব্দাবলি—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করেছি, যেন তা ভুলভ্রান্তি এবং তাঁর (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) প্রতি অনধিকার হস্তক্ষেপ থেকে দূরে থাকে। যেহেতু আমি মূল মতনের কবিতাগুলোর ব্যাখ্যার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করিনি, তাই আমি কবিতাগুলোকে প্রতিটি বিষয় বা কয়েকটি বিষয়ের শেষে পূর্ববর্তী আলোচনার সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে যুক্ত করেছি। আর বিষয়সমূহ বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমি মূল কিতাবের হুবহু পদ্ধতি অনুসরণ করিনি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৭)
- ذيلت كل موضوع أو عدد من الموضوعات ببعض الأسئلة لإعانة القارئ أو الدارس على مراجعة استيعابه وتحصيله وتركيز معلوماته (1) .

هذا وأوصي من يقرأ هذا المختصر أن لا يهمل الأصل أعني كتاب معارج القبول فهو أشمل وأغزر في مادته العلمية ولتكن فائدة المختصر التمهيد لقراءة الأصل واستيعاب ما فيه، وإني لأعلم أنه ما من كتاب إلا وفيه نقص أو عليه استدراك ولذا فأنتظر من أساتذتنا وعلمائنا المحبين لعقيدة السلف أي تنبيه أو نصيحة أو تصحيح لخطأ، كما أنتظر ذلك أيضًا من إخواني طلبة العلم، ويرسل ذلك على عنوان الناشر ليمكن تداركه فيما يجدّ من طبعات إن شاء اللَّه عز وجل.

 

وختامًا أسأل اللَّه عز وجل أن يكون هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفع به كاتبه وقارئه يوم يقوم الناس لرب العالمين، وأن يُجري علي ثوابه بعد موتي، وأن يجزي كل من ساعدني من الإخوة الأحباب على إتمامه خير الجزاء، وأن يجزل الثواب لوالديّ اللذين حببا إليّ الدين في طفولتي، وللدعاة الذين حببوا إليّ العلم وعقيدة السلف الصالح وربّوني على منهج أهل السنة

والجماعة منذ الصبا.

(ربنا اغفر لي ولوالدي وللمؤمنين يوم يقوم الحساب) (2) .

وصلى اللَّه وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

أبو عاصم

دمنهور/ في:

مساء الجمعة 21 رجب 1410 هـ

16 فبراير 1990 م

--------------------------------------------

(1) أما ما كان من تعليقات مكتب التحقيق فقد أشير إليها بـ (مكتب) أو (م) .

(2) إبراهيم: 41.
আমি প্রতিটি বিষয় বা কয়েকটি বিষয়ের শেষে কিছু প্রশ্ন যুক্ত করেছি যাতে পাঠক বা শিক্ষার্থী তার উপলব্ধি, অর্জিত জ্ঞান এবং তথ্যসমূহ ঝালাই করার ক্ষেত্রে সহায়তা পায় (১)।

আর আমি এই সংক্ষিপ্তসারটি পাঠকারীকে নসিহত করছি যেন সে মূল কিতাব অর্থাৎ 'মাআরিজুল কবুল'-কে অবহেলা না করে। কারণ এটি বিষয়বস্তুর দিক থেকে অধিকতর ব্যাপক ও সমৃদ্ধ। আর এই সংক্ষিপ্তসারটির উপযোগিতা যেন হয় মূল কিতাবটি পাঠ করার এবং তাতে যা আছে তা আত্মস্থ করার একটি ভূমিকা স্বরূপ। আমি জানি যে, এমন কোনো কিতাব নেই যাতে কোনো অপূর্ণতা নেই বা সংশোধনের অবকাশ নেই। তাই আমি আমাদের উস্তাদ এবং সালাফদের আকিদা অনুরাগী আলেমদের পক্ষ থেকে যেকোনো সতর্কতা, নসিহত বা ভুল সংশোধন প্রত্যাশা করছি। অনুরূপভাবে আমি ইলমে দ্বীনের ছাত্র ভাইদের কাছ থেকেও তা আশা করি। এগুলো যেন প্রকাশকের ঠিকানায় পাঠানো হয় যাতে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী সংস্করণগুলোতে তা সংশোধন করা সম্ভব হয়।

 

পরিশেষে আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এই আমলটি কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্যই হয় এবং যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের রবের সামনে দাঁড়াবে, সেদিন যেন এটি এর লেখক ও পাঠকের জন্য উপকারী হয়। আর আমার মৃত্যুর পর যেন এর সওয়াব আমার জন্য জারি থাকে। আর এই কাজ সম্পন্ন করতে যে সকল প্রিয় ভাই আমাকে সাহায্য করেছেন আল্লাহ যেন তাদেরকে সর্বোত্তম বিনিময় দান করেন। আর আল্লাহ যেন আমার পিতা-মাতাকে প্রচুর সওয়াব দান করেন যারা শৈশবে আমার অন্তরে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করেছিলেন, এবং সেই সকল দাঈদেরও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন যারা আমার নিকট ইলম ও সালাফে সালেহীনের আকিদাকে প্রিয় করে তুলেছিলেন এবং শৈশব থেকেই আমাকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল

জামাআতের মানহাজের ওপর গড়ে তুলেছিলেন।

(হে আমাদের রব, আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মুমিনদেরকে ক্ষমা করুন যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে) (২)।

আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

আবু আসিম

দামানহুর / তারিখ:

শুক্রবার সন্ধ্যা, ২১ রজব ১৪১০ হিজরি

১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ

--------------------------------------------

(১) তাহকীক ডেস্কের পক্ষ থেকে যে সকল টীকা প্রদান করা হয়েছে সেগুলোকে (ডেস্ক) বা (ড) লিখে চিহ্নিত করা হয়েছে।

(২) ইবরাহিম: ৪১।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم

(مقدمة)

 

‌‌مقدمة كتاب معارج القبول

هذه المقدمة تضمنت عدة مسائل وهي:

 

‌‌أ-أن الله تعالى خلق الخلق لعبادته: والأدلة على ذلك كثيرة، منها:

1-قوله تَعَالَى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} (1) .

2-أن ذلك مقتضى حكمته سبحانه وتعالى، فمحال أن يخلق هذا الخلق ويزوده بالروح والعقل عبثاً دون عمل ودون بعث وحساب على ذلك العمل، قال تعالى: {أفحسبتم أنما خلقنانكم عبثاً....} (2) .

 

‌‌ب-أنه سبحانه وتعالى سيبعث هؤلاء الخلق بعد الموت ليحاسبهم بمقتضى تلك العبادة:

فذلك بمقتضى عدله، قال تعالى: {أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ اجْتَرَحُوا السَّيِّئَاتِ أَنْ نَجْعَلَهُمْ كَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَوَاءً مَحْيَاهُمْ وَمَمَاتُهُمْ ساء ما يحكمون * وَخَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَلِتُجْزَى كُلُّ نفس بما كسبت وهم لا يظلمون} (3) ، {وَمَا خَلَقْنَا السَّمَاءَ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا بَاطِلًا ذَلِكَ ظَنُّ الَّذِينَ كَفَرُوا فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ كَفَرُوا من النار * أَمْ نَجْعَلُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَالْمُفْسِدِينَ في الأرض أم نجعل المتقين كالفجار} .

--------------------------------------------

(1) الذاريات:56.

(2) المؤمنون: 115.

(3) الجاثية: 21، 22
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

(ভূমিকা)

 

‌‌মাআরিজুল কবুল কিতাবের ভূমিকা

এই ভূমিকাটি বেশ কিছু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, সেগুলো হলো:

 

‌‌ক- আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন: এর স্বপক্ষে দলিল অনেক, যার মধ্যে রয়েছে:

১-আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} (১) ।

২-নিশ্চয় এটি সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রজ্ঞার দাবি। সুতরাং, এ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করা এবং তাদের প্রাণ ও বুদ্ধি দিয়ে সজ্জিত করার পর কোনো কর্ম ছাড়া এবং সেই কর্মের পুনরুত্থান ও হিসাব ছাড়া অনর্থক ছেড়ে দেওয়া অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি...} (২) ।

 

‌‌খ- সুবহানাহু ওয়া তাআলা মৃত্যুর পর এই মাখলুকাতকে পুনরুত্থিত করবেন, যাতে উক্ত ইবাদতের প্রেক্ষিতে তাদের হিসাব গ্রহণ করা হয়:

এটি তাঁর ন্যায়ের দাবি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যারা মন্দ কাজ করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তাদের সমান করে দেব—তাদের জীবন ও মৃত্যু কি সমান হবে? তাদের সিদ্ধান্ত কতই না মন্দ! আর আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিন যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং যাতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার উপার্জনের প্রতিফল দেওয়া হয়, আর তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না} (৩) , {আমি আসমান, জমিন ও তাদের মধ্যবর্তী কোনো কিছুই অনর্থক সৃষ্টি করিনি। এটি কাফিরদের ধারণা; সুতরাং কাফিরদের জন্য রয়েছে আগুনের ধ্বংস। আমি কি তাদের যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তাদের জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের সমান করে দেব? নাকি আমি মুত্তাকিদের পাপাচারীদের সমান করে দেব?}।

--------------------------------------------

(১) আদ-যারিয়াত: ৫৬।

(২) আল-মুমিনুন: ১১৫।

(৩) আল-জাছিয়াহ: ২১, ২২।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌ج-تعريف الْعِبَادَةَ:

اسْمٌ جَامِعٌ لِكُلِّ مَا يُحِبُّهُ اللَّهُ ويرضاه من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة (1) . وَجُمَّاعُ الْعِبَادَةِ كَمَالُ الْحُبِّ مَعَ كَمَالِ الذُّلِّ (2) .

 

‌‌د-أخذ الله تعالى على بني آدم ثلاثة مواثيق:

1- الميثاق الأول: الذي أخذه الله عَلَيْهِمْ حِينَ أَخْرَجَهُمْ مِنْ ظَهْرِ أَبِيهِمْ آدَمَ ثم من ظهور بعضهم بعضاً، وهو المذكور فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أنفسهم ألست بربكم قالوا بلى شهدنا} (3) . أو {..قالوا بلى} وتكون كلمة {شهدنا} من كلام الله تعالى، بمعنى أنه سبحانه شهد عليهم وملائكته {شَهِدْنَا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عن هذا غافلين} .

2- ميثاق الفطرة: أَنَّهُ تبارك وتعالى فَطَرَهُمْ شَاهِدِينَ بِمَا أَخَذَهُ عَلَيْهِمْ فِي الْمِيثَاقِ الْأَوَّلِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا * فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} (4) وهو الثابت في الصحيحين فِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ) ، وَفِي رِوَايَةٍ: (عَلَى هَذِهِ الْمِلَّةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِّرَانِهِ وَيُمَجِّسَانِهِ، كَمَا تُولَدُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ، هَلْ تحسون فيها من جدعاء) وَفِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: إِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ فَجَاءَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ) .

--------------------------------------------

(1) وذلك كما عرفها شيخ الإسلام ابن تيمية.

(2) فالعبادة من حيث أنواعها وأفرادها اسْمٌ جَامِعٌ لِكُلِّ مَا يُحِبُّهُ اللَّهُ وَيَرْضَاهُ من الأقوال والأعمال الظاهرة والباطنة. ومن حيث معناها وأدائها هي الطاعة المقرونة بكمال الحب وكمال الذل لله تعالى. والله أعلم.

(3) الأعراف: 172.

(4) الروم: 30.
‌গ-ইবাদতের সংজ্ঞা:

আল্লাহ যা পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন—এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজের একটি সামগ্রিক নাম হলো ইবাদত (১)। আর ইবাদতের মূল নির্যাস হলো পূর্ণ ভালোবাসার সাথে পূর্ণ বিনম্রতার সমন্বয় (২)।

 

‌‌ঘ-আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানদের নিকট থেকে তিনটি প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছেন:

১- প্রথম প্রতিশ্রুতি: যা আল্লাহ তাদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন যখন তিনি তাদের পিতা আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বের করেছিলেন, অতঃপর একে অপরের পৃষ্ঠদেশ থেকে; আর এটিই আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {আর যখন আপনার প্রতিপালক বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষ্য রাখলেন যে, আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিলাম} (৩)। অথবা {..তারা বলল, অবশ্যই} এবং {আমরা সাক্ষ্য দিলাম} কথাটি মহান আল্লাহর বাণী হতে পারে, যার অর্থ হলো তিনি এবং তাঁর ফেরেশতাগণ তাদের ওপর সাক্ষ্য দিলেন যে {আমরা সাক্ষ্য দিলাম যেন কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পারো যে, আমরা এ বিষয়ে অসতর্ক ছিলাম}।

২- ফিতরাতের প্রতিশ্রুতি: তা হলো মহান আল্লাহ তাদের এমন প্রকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন যে তারা প্রথম প্রতিশ্রুতিতে যা গ্রহণ করেছিল সে বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদানকারী, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন; এটিই আল্লাহর ফিতরাত (প্রকৃতি), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই} (৪)। আর এটিই বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে প্রমাণিত, আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে), অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (এই মিল্লাতের ওপর, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক বানায়; যেমন একটি চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়, তোমরা কি সেখানে কোনো কানকাটা জন্তু দেখতে পাও?)। আর সহীহ মুসলিমে ইয়াজ ইবনে হিমার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি আমার বান্দাদের একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর শয়তানরা তাদের কাছে এসে তাদের দীন থেকে বিচ্যুত করে দেয় এবং আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছি তা তাদের ওপর হারাম করে দেয়)।

--------------------------------------------

(১) যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

(২) ইবাদত তার প্রকার ও একক কার্যাবলীর দিক থেকে আল্লাহ যা পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন—এমন সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজের একটি সামগ্রিক নাম। আর এর অর্থ ও আদায়ের দিক থেকে এটি হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা ও পূর্ণ বিনম্রতা মিশ্রিত আনুগত্য। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(৩) আল-আরাফ: ১৭২।

(৪) আর-রুম: ৩০।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ১৩)
3- الميثاق الثالث: وهو مَا جَاءَتْ بِهِ الرُّسُلُ وَأُنْزِلَتْ بِهِ الْكُتُبُ تَجْدِيدًا لِلْمِيثَاقِ الْأَوَّلِ، وَتَذْكِيرًا بِهِ {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بعد الرسل} (1) ، فالحجة قائمة على بني آدم بإرسال الرسل الذين ذكروا بذلك الميثاق لا بالميثاق نفسه إذ ذاك فهم لا يذكرونه، فكيف يحتج سبحانه على أحد بشيء لا يذكره. وقد أيد الله رسله بالمعجزات والبراهين على صدقهم فَمَنْ أَدْرَكَ هَذَا الْمِيثَاقَ وَهُوَ بَاقٍ عَلَى فطرته قبله وقام به دون تردد، ومن كان قد انحرف عن فطرته فتلك المعجزات والبراهين مع الرسل، وما لديهم من إقناع فيها الحجة الكافية عليهم إن لم يؤمنوا، فمن وفى بالميثاق دخل الجنة وإلاّ فالنار أولى به. وأما من لم يدرك الْمِيثَاقَ بِأَنْ مَاتَ صَغِيرًا قَبْلَ التَّكْلِيفِ مَاتَ عَلَى الْمِيثَاقِ الْأَوَّلِ عَلَى الْفِطْرَةِ فَإِنْ كَانَ مِنْ أَوْلَادِ الْمُسْلِمِينَ فَهُمْ مَعَ آبَائِهِمْ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَوْلَادِ الْمُشْرِكِينَ فَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانَ عَامِلًا لَوْ أَدْرَكَهُ كَمَا فِي الصَّحِيحَيْنِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَوْلَادِ الْمُشْرِكِينَ فَقَالَ صلى الله عليه وسلم: (اللَّهُ تَعَالَى إِذْ خَلَقَهُمْ أَعْلَمُ بِمَا كانوا عاملين) (2) .

--------------------------------------------

(1) النساء: 165.

(2) اعلم أن من لم يدرك هذا الميثاق فهو أحد خمسة أنواع: أصم أو هرم أو أحمق أو من أهل الفترة أو طفل مات صغيراً.

 

فأما الأربعة الأولون فحكمهم مبين في حديث الأسود بن سريع وأبي هريرة: (أربعة يجتجون يوم القيامة: رجل أصم لا يسمع شيئاً، ورجل أحمق، ورجل هرم، ورجل مات في فترة. فأما الأصم فيقول: رب لقد جاء الإسلام وما أسمع شيئاً، وأما الأحمق فيقول: رب جاء الإسلام وما أعقل شيئاً والصبيان يحذفونني بالبعر، وأما الهرم فيقول: رب لقد جاء الإسلام وما أعقل شيئاً، وأما الذي مات في الفترة فيقول: رب ما أتاني لك رسول فيأخذ مواثيقهم ليطيعنه فيرسل إليهم أن ادخلوا النار، فمن دخلها كانت عليه برداً وسلاماً، ومن لم يدخلها سحب إليها) رواه أحمد وابن حبان. وصححه الألباني، انظر صحيح الجامع الصغير، الطبعة الأولى رقم 894. وأما الطفل، فإن كان من أولاد المسلمين فمن أهل الجنة بغير خلاف لأنه مات على الفطرة وقد رآهم الرسول صلى الله عليه وسلم في الجنة، ول يرد ما يعكر على ذلك إلا ما ذكر في حديث عائشة رضي الله عنها قالت: قلت يا رسول الله طوبى لهذا، لم يعمل شرًا ولم يدر به، (أو: لم يدرِه) فقال: (أَوْ غَيْرَ ذَلِكَ يَا عَائِشَةُ، إِنَّ اللَّهَ خلق الجنة وخلق لها أهلاً، وخلقها لهم وهم في أصلاب آبائهم، وخلق النار وخلق لها أهلاً وخلقها لهم وهم في أصلاب آبائهم) فهذا الحديث رواه أبو داود، ورواه الإمام أحمد وطعن فيه وقال: من يشك أن أولاد المسلمين في الجنة، وقال أيضاً: إنهم لا اختلاف فيهم، وأما مسلم فأورده في صحيحه وقال النووي: أجمع من يعتد به علماء المسلمين أن من مات من أطفال المسلمين فهو من أهل الجنة لأنه ليس مكلفاً، وتوقف بعض من لا يعتد به لحديث عائشة هذا، وأجاب العلماء بأنه لعلّه نهاها عن المسارعة إلى القطع من غير أن يكون عندها دليل قاطع، ويحتمل أنه صلى الله عليه وسلم قال هذا قبل أن يعلم أن أطفال المسلمين في هذه الجنة. اهـ.

= وأما إن كان الطفل من أطفال المشركين ففيه ثمانية أقوال، ذكرها ابن القيم رحمه الله ورجح أنهم يمتحنون في الآخرة فمن أطاع منهم أدخله الله الجنة ومن عصى عذبه، واستأنس لهذا بما سبق أن ذكرنا من حديث الأسود وأبي هريرة في الأربعة الذين يحتجون يوم القيامة، قال: وهي أحاديث يشد بعضها بعضاً.

*وهناك قول آخر من تلك الأقوال - ولعلّه الصواب والله أعلم- وهو أنهم في الجنة. قال النووي: وهو الصحيح الذي ذهب إليه المحققون، واحتج هؤلاء بقوله تعالى: {وما كنا معذبين حتى نبعث رسولاً} [الإسراء:15] ، وبحديث سمرة الصريح الذي رواه البخاري في الرؤيا التي رآها عليه الصلاة والسلام، وفي آخره: (وأما الرجل الطويل الذي في الروضة فإنه إبراهيم - على نبينا وعليه الصلاة والسلام - وأما الولدان الذين حوله فكل مولود مات على الفطرة) . قال: فقال بعض المسلمين: يا رسول الله، وأولاد المشركين؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (وأولاد المشركين) وأجابوا عن حديث: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الدار من المشركين يبيتون فيصيبون من نسائهم وذراريهم، فقال (هو منهم) - والحديث في الصحيحين، وفي لفظ لهما: (هم من آبائهم) - قالوا: هذا ليس فيه أنهم في النار، وإنما فيه أنهم تبع لآبائهم في الحكم، وأنهم إذا أصيبوا في البيات - لا على الانفراد - لم يضمنوا بدية ولا كفارة.

وأما قوله صلى الله عليه وسلم في الصحيحين: (الله أعلم بما كانوا عاملين) فلعله قال ذلك قبل أن يعرفه الله حكمهم- كما قالوا في حديث عائشة والله أعلم -.

وأما حديث خديجة الذي سألت فيه عن أولادها الذين ماتوا قبل الإسلام فقال لها: (إن شئت أسمعتك تضاغيهم في النار) . فحديث باطل لا يصح، وقال ابن تيمية: موضوع.

انظر شرح ابن قيم الجوزية على سنن أبي داود الجزء الثاني عشر من عون المعبود ص483-493.

وقد صحح بعض العلماء حديث: (أطفال المشركين خدم أهل الجنة) .

انظر صحيح الجامع الصغير / الطبعة الأولى / حديث 1035.
৩- তৃতীয় অঙ্গীকার: এটি হলো সেই বিষয় যা রাসূলগণ নিয়ে এসেছেন এবং যা কিতাবসমূহে নাযিল করা হয়েছে প্রথম অঙ্গীকারকে নবায়ন করার জন্য এবং তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য; {রাসূলগণ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন, যাতে রাসূলদের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে} (১)। সুতরাং রাসূল প্রেরণের মাধ্যমেই বনী আদমের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যারা ওই অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন; শুধু সেই অঙ্গীকারের মাধ্যমে নয়, কারণ তারা তা স্মরণ করে না। মহান আল্লাহ কীভাবে কারো বিরুদ্ধে এমন কিছুর মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করবেন যা সে স্মরণই করতে পারে না? আল্লাহ তাঁর রাসূলদের সত্যতার স্বপক্ষে মুজিযা ও প্রমাণাদি দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি এই অঙ্গীকারের সন্ধান পেয়েছে এবং সে তার ফিতরাত বা সহজাত স্বভাবের ওপর অটল ছিল, সে কোনো দ্বিধা ছাড়াই তা গ্রহণ করেছে এবং তা পালন করেছে। আর যে ব্যক্তি তার ফিতরাত থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে রাসূলদের সাথে থাকা সেই মুজিযা, দলিল-প্রমাণ এবং তাদের কাছে থাকা যৌক্তিক উপস্থাপনাগুলোই যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে যদি তারা ঈমান না আনে। সুতরাং যে ব্যক্তি অঙ্গীকার পূর্ণ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, অন্যথায় জাহান্নামই তার জন্য অধিকতর উপযোগী। আর যে ব্যক্তি এই অঙ্গীকারের সময় পায়নি যেমন শরীয়তের বিধান কার্যকর হওয়ার আগে শিশু অবস্থায় মারা গেছে, সে প্রথম অঙ্গীকার অর্থাৎ ফিতরাতের ওপরই মারা গেছে। যদি সে মুসলিমদের সন্তান হয় তবে তারা তাদের পিতামাতার সাথেই থাকবে। আর যদি মুশরিকদের সন্তান হয় তবে আল্লাহই ভালো জানেন যে, তারা বেঁচে থাকলে কী আমল করত, যেমনটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: (আল্লাহ তাআলা যখন তাদের সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকেই তিনি ভালো জানেন তারা কী আমল করত) (২)।

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ১৬৫।

(২) জেনে রাখুন, যারা এই অঙ্গীকারের সময় পায়নি তারা পাঁচ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত: বধির, অতিবৃদ্ধ জরাগ্রস্ত, নির্বোধ, ফাতরাহ বা দুই নবীর অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের লোক অথবা শৈশবে মারা যাওয়া শিশু।

 

প্রথম চার প্রকারের লোকের বিধান আসওয়াদ বিন সারী ও আবু হুরায়রার বর্ণিত হাদিসে স্পষ্ট করা হয়েছে: (কিয়ামতের দিন চার প্রকার লোক আল্লাহর কাছে অজুহাত পেশ করবে: এক বধির ব্যক্তি যে কিছুই শুনতে পেত না, এক নির্বোধ ব্যক্তি, এক অতিবৃদ্ধ জরাগ্রস্ত ব্যক্তি এবং এমন ব্যক্তি যে ফাতরাহ বা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মারা গেছে। বধির বলবে: হে রব, ইসলাম এসেছিল কিন্তু আমি কিছুই শুনতে পাইনি। নির্বোধ বলবে: হে রব, ইসলাম এসেছিল কিন্তু আমি কিছুই বুঝতাম না, আর শিশুরা আমাকে গোবর ছুড়ে মারত। অতিবৃদ্ধ জরাগ্রস্ত ব্যক্তি বলবে: হে রব, ইসলাম এসেছিল কিন্তু আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। আর ফাতরাহ বা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের লোক বলবে: হে রব, আপনার পক্ষ থেকে আমার কাছে কোনো রাসূল আসেননি। অতঃপর আল্লাহ তাদের থেকে আনুগত্যের অঙ্গীকার গ্রহণ করবেন এবং তাদের কাছে (বার্তা পাঠিয়ে) নির্দেশ দেবেন যেন তারা আগুনে প্রবেশ করে। যে ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করবে তা তার জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাবে, আর যে প্রবেশ করবে না তাকে টেনে হিঁচড়ে আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে) এটি আহমাদ ও ইবনে হিব্বান বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী একে সহীহ বলেছেন, দেখুন সহীহুল জামি আস-সগীর, প্রথম সংস্করণ, নম্বর ৮৯৪। আর শিশুর ক্ষেত্রে কথা হলো, সে যদি মুসলিমদের সন্তান হয় তবে কোনো মতভেদ ছাড়াই তারা জান্নাতি, কারণ সে ফিতরাতের ওপর মারা গেছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জান্নাতে দেখেছেন। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসটি ছাড়া এর বিপরীতে অন্য কিছু পাওয়া যায় না, যাতে তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল, এই শিশুর জন্য সুসংবাদ, সে কোনো মন্দ কাজ করেনি এবং তা জানতও না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (হে আয়েশা, বিষয়টি কি অন্যরূপ হতে পারে না? নিশ্চয়ই আল্লাহ জান্নাত সৃষ্টি করেছেন এবং এর জন্য একদল অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের পিতাদের পৃষ্ঠদেশে ছিল, আর তিনি জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন এবং এর জন্য একদল অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন যখন তারা তাদের পিতাদের পৃষ্ঠদেশে ছিল)। এই হাদিসটি আবু দাউদ ও ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এবং বলেছেন: মুসলিমদের শিশুরা যে জান্নাতি এ বিষয়ে কে সন্দেহ করে? তিনি আরও বলেছেন: এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। মুসলিম এটি তার সহীহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইমাম নববী বলেন: মুসলিম আলেমদের মধ্যে যাদের কথা গ্রহণযোগ্য তারা একমত হয়েছেন যে, মুসলিমদের মধ্যে যারা শিশু অবস্থায় মারা যাবে তারা জান্নাতি, কারণ তারা মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনের উপযুক্ত ছিল না। তবে আয়েশার এই হাদিসের কারণে কেউ কেউ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থেকেছেন। আলেমরা এর জবাবে বলেছেন যে, সম্ভবত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পর্যাপ্ত দলিল ছাড়া কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দিতে নিষেধ করেছিলেন। অথবা এমনও হতে পারে যে, মুসলিম শিশুদের জান্নাতি হওয়ার বিষয়টি জানার আগেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই কথা বলেছিলেন। সমাপ্ত।

= আর শিশুটি যদি মুশরিকদের সন্তান হয়, তবে এ বিষয়ে আটটি মতামত রয়েছে যা ইবনে কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন এবং তিনি এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, পরকালে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। তাদের মধ্যে যে আনুগত্য করবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন আর যে অবাধ্য হবে তাকে শাস্তি দেবেন। তিনি এর সমর্থনে আসওয়াদ ও আবু হুরায়রার সেই হাদিসটিকে গ্রহণ করেছেন যেখানে চার প্রকার লোকের কিয়ামতের দিন অজুহাত পেশ করার কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন: এই হাদিসগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে।

*সেখানে অন্য একটি মতও রয়েছে—যা সম্ভবত সঠিক এবং আল্লাহই ভালো জানেন—তা হলো তারা জান্নাতি। ইমাম নববী বলেন: এটিই সঠিক মত যা গবেষক আলেমগণ গ্রহণ করেছেন। তারা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: {আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেই না} [আল-ইসরা: ১৫], এবং সামুরার বর্ণিত সুস্পষ্ট হাদিসের মাধ্যমে যা ইমাম বুখারী স্বপ্ন সংক্রান্ত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, যার শেষে আছে: (বাগানে থাকা দীর্ঘকায় ব্যক্তিটি হলেন ইবরাহিম—আমাদের নবী ও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম—আর তাঁর চারপাশে থাকা শিশুরা হলো সেই সব শিশু যারা ফিতরাতের ওপর মারা গেছে)। বর্ণনাকারী বলেন: তখন কোনো কোনো মুসলিম জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, মুশরিকদের শিশুরাও কি? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: (মুশরিকদের শিশুরাও)। আর তারা 'মুশরিকদের ঘরবাড়িতে রাতের বেলা আক্রমণ করলে তাদের নারী ও শিশুরা আক্রান্ত হওয়া' সংক্রান্ত হাদিসের জবাবে—যা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আছে এবং যার এক বর্ণনায় আছে: (তারা তাদের পিতাদেরই অন্তর্ভুক্ত)—বলেছেন: এর অর্থ এই নয় যে তারা জাহান্নামী, বরং এর অর্থ হলো দুনিয়ার হুকুমের ক্ষেত্রে তারা তাদের পিতাদের অনুগামী। অর্থাৎ যদি তারা আলাদাভাবে নয় বরং রাতের আকস্মিক আক্রমণে আক্রান্ত হয় তবে তাদের জন্য কোনো রক্তপণ বা কাফফারা দিতে হবে না।

আর সহীহ বুখারী ও মুসলিমের সেই হাদিস—(আল্লাহ ভালো জানেন তারা কী আমল করত)—সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাদের বিধান জানানোর আগে হয়তো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি বলেছিলেন, যেমনটি আয়েশার হাদিসের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর খাদিজার সেই হাদিস যাতে তিনি তাঁর ইসলামপূর্ব যুগে মারা যাওয়া সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: (তুমি চাইলে আমি তোমাকে জাহান্নামে তাদের কান্নার শব্দ শোনাতে পারি), এটি একটি বাতিল হাদিস যা সহীহ নয়। ইবনে তাইমিয়্যাহ একে জাল বা মওজু বলেছেন।

দেখুন: সুনানে আবু দাউদের ওপর ইবনে কাইয়িম আল-জাওযীয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ আউনুল মাবুদ-এর ১২তম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৮৩-৪৯৩।

কোনো কোনো আলেম এই হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন: (মুশরিকদের শিশুরা জান্নাতিদের খাদেম হবে)।

দেখুন: সহীহুল জামি আস-সগীর / প্রথম সংস্করণ / হাদিস ১০৩৫।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ১৫)
هذا وقد خص النبيون بميثاق رابع، وهو المذكور في قَوْلَهُ تَعَالَى {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ ومنك ومن نوح وإبراهيم وموسى وعيسى بن مريم} (1) . وهو ميثاق أخذ عليهم بعد إرسالهم، وهو يتضمن ثلاثة أشياء:

1-إقامة دينه تعالى وإبلاغ رسالته.

2-أن يؤمن كل نبي بمن بعده ولا يمنعه مكانه وما معه من الكتاب والحكمة من الإيمان بمن بعده ونصرته.

3-الإيمان بمحمد صلى الله عليه وسلم إن أدركوه، ووصية أمتهم بالإيمان به إن أدركوه.

وهذا الميثاق هو نفسه المذكور في قوله تَعَالَى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لما معكم لتؤمنن به ولتنصرنه … ) (2) .

***

وفيما يلي

 

‌‌الأبيات المتعلقة بما سبق من منظومة "سلم الوصول إلى مباحث علم الأصول" للشيخ حافظ بن أحمد حكمي رحمه الله:

 

أَبْدَأُ بِاسْمِ اللَّهِ مُسْتَعِينَا … راض به مدبر مُعِينَا

وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَمَا هَدَانَا … إِلَى سَبِيلِ الْحَقِّ وَاجْتَبَانَا

أَحْمَدُهُ سُبْحَانَهُ وَأَشْكُرُهْ … وَمِنْ مَسَاوِي عَمَلِي أَسْتَغْفِرُهْ

وَأَسْتَعِينُهُ عَلَى نَيْلِ الرِّضَا … وَأَسْتَمِدُّ لُطْفَهُ فِي مَا قَضَى

وَبَعْدُ: إِنِّي بِالْيَقِينِ أَشْهَدُ … شَهَادَةَ الْإِخْلَاصِ أَنْ لَا يُعْبَدُ

--------------------------------------------

(1) الأحزاب: 7.

(2) آل عمران: 81.
নবীগণ চতুর্থ একটি চুক্তির মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন, যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লিখিত হয়েছে: "আর স্মরণ করুন, যখন আমি নবীগণের কাছ থেকে তাঁদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকেও এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মারইয়াম তনয় ঈসার কাছ থেকেও" (১)। এটি এমন এক অঙ্গীকার যা তাঁদেরকে রাসূল হিসেবে প্রেরণের পর তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল এবং এটি তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

১-মহান আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা এবং তাঁর বার্তা (রিসালাত) পৌঁছে দেওয়া।

২-প্রত্যেক নবী তাঁর পরবর্তী নবীর প্রতি ঈমান আনবেন এবং তাঁর মর্যাদা ও তাঁর নিকট থাকা কিতাব ও হিকমত তাঁকে তাঁর পরবর্তী নবীর প্রতি ঈমান আনতে ও তাঁকে সাহায্য করতে বাধা দেবে না।

৩-মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেলে তাঁর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁদের উম্মতদেরকে অসিয়ত করা যাতে তারা তাঁকে পেলে তাঁর প্রতি ঈমান আনে।

আর এই অঙ্গীকারটিই মহান আল্লাহর এই বাণীতে উল্লিখিত হয়েছে: "আর স্মরণ করুন, যখন আল্লাহ নবীগণের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে যখন কোনো রাসূল তোমাদের কাছে আসবে, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে..." (২)।

***

নিম্নে বর্ণিত হলো

 

‌পূর্বোক্ত আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট পঙক্তিমালা, যা শেখ হাফিজ বিন আহমদ হাকামী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "সুল্লামুল উসুল ইলা মাবাহিছি ইলমিল উসুল" কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে:

 

আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি সাহায্য প্রার্থনা করে... পরিচালক ও সাহায্যকারী হিসেবে তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থেকে।

আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যেভাবে তিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন... সত্যের পথের দিকে এবং আমাদের মনোনীত করেছেন।

আমি তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে তাঁর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করছি... এবং আমার মন্দ আমলগুলো থেকে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আর আমি তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে তাঁর সাহায্য কামনা করছি... এবং তাঁর নির্ধারিত ফয়সালায় তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।

অতঃপর: আমি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সাক্ষ্য দিচ্ছি... একনিষ্ঠতার সাক্ষ্য যে, কোনো ইবাদত করা যাবে না...

--------------------------------------------

(১) আল-আহযাব: ৭।

(২) আলে ইমরান: ৮১।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ১৬)
بِالْحَقِّ مَأْلُوهٌ سِوَى الرَّحْمَنِ … مَنْ جَلَّ عَنْ عَيْبٍ وَعَنْ نُقْصَانِ

وَأَنَّ خَيْرَ خَلْقِهِ مُحَمَّدَا … مَنْ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى

رَسُولُهُ إِلَى جَمِيعِ الْخَلْقِ … بِالنُّورِ وَالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ

صَلَّى عَلَيْهِ رَبُّنَا وَمَجَّدَا … وَالْآلِ وَالصَّحْبِ دَوَامًا سَرْمَدَا

وَبَعْدُ هَذَا النَّظْمُ فِي الْأُصُولِ … لِمَنْ أَرَادَ مَنْهَجَ الرَّسُولِ

سَأَلَنِي إِيَّاهُ مَنْ لَا بُدَّ لِي … مِنِ امْتِثَالِ سُؤْلِهِ الْمُمْتَثَلِ

فَقُلْتُ مَعْ عَجْزِي وَمَعْ إِشْفَاقِي … مُعْتَمِدًا عَلَى الْقَدِيرِ الْبَاقِي:

تُعَرِّفُ الْعَبْدَ بِمَا خُلِقَ لَهُ، وَبِأَوَّلِ مَا فَرَضَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَيْهِ

وَبِمَا أَخَذَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِهِ الْمِيثَاقَ فِي ظَهْرِ أَبِيهِ آدَمَ، وَبِمَا هُوَ صَائِرٌ إِلَيْهِ

اعْلَمْ بِأَنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا … لَمْ يَتْرُكِ الْخَلْقَ سُدًى وَهَمَلَا

بَلْ خَلَقَ الْخَلْقَ لِيَعْبُدُوهُ … وَبِالْإِلَهِيَّةِ يُفْرِدُوهُ

أَخْرَجَ فِيمَا قَدْ مَضَى مِنْ ظَهْرِ … آدَمَ ذُرِّيَّتَهُ كَالذَّرِّ

وَأَخَذَ الْعَهْدَ عَلَيْهِمْ أَنَّهُ … لَا رَبَّ مَعْبُودٌ بِحُقٍّ غَيْرَهُ

وَبَعْدَ هَذَا رُسْلَهُ قَدْ أَرْسَلَا … لَهُمْ وَبِالْحَقِّ الْكِتَابَ أَنْزَلَا

لِكَيْ بِذَا الْعَهْدِ يُذَكِّرُوهُمْ … وَيُنْذِرُوهُمْ وَيُبَشِّرُوهُمْ

كَيْ لَا يَكُونَ حُجَّةٌ لِلنَّاسِ بَلْ … لِلَّهِ أَعْلَى حُجَّةٍ عز وجل

فَمَنْ يُصَدِّقْهُمْ بِلَا شِقَاقِ … فَقَدْ وَفَى بِذَلِكَ الْمِيثَاقِ

وَذَاكَ نَاجٍ مِنْ عَذَابِ النَّارِ … وَذَلِكَ الْوَارِثُ عُقْبَى الدَّارِ

وَمَنْ بِهِمْ وَبِالْكِتَابِ كَذَّبَا … وَلَازَمَ الْإِعْرَاضَ عَنْهُ وَالْإِبَا

فَذَاكَ نَاقِضٌ كِلَا الْعَهْدَيْنِ … مُسْتَوْجِبٌ لِلْخِزْيِ فِي الدَّارَيْنِ

•

 

‌‌أسئلة:

1- لماذا خلق اللَّه الخلق، وما مصيرهم بعد موتهم، مع الأدلة؟

2- اذكر تعريف العبادة؟

3- ما هي المواثيق التي أخذها اللَّه على بني آدم؟

***
সত্যের সাথে রহমান ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই … যিনি ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে সুমহান

এবং তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ … যিনি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন

সমস্ত সৃষ্টির প্রতি তিনি তাঁর রাসূল … নূর, হিদায়াত এবং সত্য দীনসহ

আমাদের পালনকর্তা তাঁর ওপর রহমত ও মহিমা বর্ষণ করুন … এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর চিরকাল ও সর্বদা

অতঃপর, এই কাব্যগাথা মূলনীতিসমূহের বর্ণনায় … যে রাসূলের পথ কামনা করে তার জন্য

আমার কাছে এটি এমন এক ব্যক্তি চেয়েছেন যার … অনুরোধ রাখা আমার জন্য অপরিহার্য

তাই আমি আমার অক্ষমতা ও শঙ্কা সত্ত্বেও বললাম … চিরস্থায়ী সর্বশক্তিমানের ওপর ভরসা করে:

বান্দাকে সেই সম্পর্কে জানানো যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম তার ওপর যা ফরজ করেছেন

এবং আল্লাহ তার পিতা আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তার নিকট যে অঙ্গীকার নিয়েছেন এবং সে যাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে

জেনে রেখো যে আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা … সৃষ্টিজগতকে বৃথা ও উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি

বরং তিনি সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা তাঁর ইবাদত করে … এবং উলুহিয়্যাতের ক্ষেত্রে তাঁকে একক সাব্যস্ত করে

তিনি অতীতকালে আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে … তাঁর বংশধরদের ক্ষুদ্র অণুর ন্যায় বের করেছেন

এবং তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছেন যে … তিনি ছাড়া সত্য কোনো ইবাদতযোগ্য রব নেই

অতঃপর তিনি তাদের নিকট তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন … এবং সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন

যাতে এই অঙ্গীকারের কথা তাঁরা তাদের স্মরণ করিয়ে দেন … এবং তাদের সতর্ক করেন ও সুসংবাদ প্রদান করেন

যাতে মানুষের জন্য কোনো অজুহাত না থাকে, বরং … সুমহান আল্লাহর জন্যই সর্বোচ্চ প্রমাণ সাব্যস্ত হয়

সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বিরোধ ছাড়াই তাঁদের বিশ্বাস করবে … সে সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করল

আর সেই ব্যক্তিই জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত … এবং সেই পরকালের গৃহের উত্তরাধিকারী

আর যে ব্যক্তি তাঁদের ও কিতাবকে অস্বীকার করল … এবং তা থেকে বিমুখতা ও অবাধ্যতা অবলম্বন করল

সেই ব্যক্তিই উভয় অঙ্গীকার ভঙ্গকারী … উভয় জাহানে লাঞ্ছনার যোগ্য

•

 

‌‌প্রশ্নসমূহ:

১- আল্লাহ কেন সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন এবং মৃত্যুর পর তাদের পরিণতি কী হবে, দলিলসহ উল্লেখ করুন?

২- ইবাদতের সংজ্ঞা উল্লেখ করুন?

৩- বনী আদমের নিকট থেকে আল্লাহ কী কী অঙ্গীকার নিয়েছেন?

***
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ১৯)
(الباب الأول)

التوحيد وأقسامه

يقسم التوحيد تقسيمين (أي بطريقتين) :

الطريقة الأولى:

1-توحيد الربوبية. 2-توحيد الألوهية. 3-توحيد الأسماء والصفات.

الطريقة الثانية:

1- توحيد المعرفة والإثبات: ويتضمن: أ-توحيد الربوبية. ب-توحيد الأسماء والصفات.

وهو المسمى التوحيد العلمي الخبري الاعتقادي.

2-توحيد الطلب والقصد: وهو توحيد الألوهية (1) أو التوحيد الطلبي القصدي الإرادي (2) .

وقد اعتمد الشيخ رحمه الله التقسيم الثاني.

وقبل أن نأخذ في تفصيل القول في أقسام التوحيد لابد من التنويه بما للتوحيد من شأن عظيم ومكانة رفيعة في دين الله عز وجل ونذكر في ذلك أمرين:

1-أن الرسل لم تدع إِلَى شَيْءٍ قَبْلَهُ وَلَمْ تَنْهَ عَنْ شَيْءٍ قبل ضده، وجعله الله عز وجل شرط دخول الجنة (3) . والعتق من النار.

--------------------------------------------

(1) أو توحيد العبادة.

(2) إذ أن الموحد لا يريد بعبادته غير وجهه تعالى، فإرادته وقصده وطلبه كل ذلك لله وحده.

(3) قال تعالى: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عليه الجنة} [المائدة:72] .
(প্রথম অধ্যায়)

তাওহীদ ও এর প্রকারভেদ

তাওহীদকে দুই প্রকারে (অর্থাৎ দুই পদ্ধতিতে) ভাগ করা হয়:

প্রথম পদ্ধতি:

১-তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ। ২-তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ। ৩-তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত।

দ্বিতীয় পদ্ধতি:

১- তাওহীদুল মা'রিফাহ ওয়াল-ইসবাত (পরিচয় ও সাব্যস্তকরণের তাওহীদ): এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: ক-তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ। খ-তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত।

একে তাওহীদুল ইলমি আল-খাবারি আল-ই'তিকাদি (জ্ঞানগত, সংবাদভিত্তিক ও বিশ্বাসগত তাওহীদ) বলা হয়।

২-তাওহীদুত তালাব ওয়াল-কাসদ (চাওয়া ও সংকল্পের তাওহীদ): আর তা হলো তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ (১) অথবা তাওহীদুল তালাবি আল-কাসদি আল-ইরাদি (২)।

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) দ্বিতীয় প্রকারভেদটি গ্রহণ করেছেন।

তাওহীদের প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে আল্লাহর দ্বীনে তাওহীদের মহান গুরুত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করা আবশ্যক; এ বিষয়ে আমরা দুটি বিষয় উল্লেখ করছি:

১-রাসূলগণ এর পূর্বে অন্য কোনো কিছুর দিকে দাওয়াত দেননি এবং এর বিপরীত (শিরক) ছাড়া অন্য কোনো কিছু থেকে পূর্বে নিষেধ করেননি। মহান আল্লাহ একে জান্নাতে প্রবেশের (৩) এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির শর্ত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) অথবা তাওহীদুল ইবাদাহ।

(২) যেহেতু একত্ববাদী ব্যক্তি তার ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর চেহারা ব্যতীত অন্য কিছু কামনা করেন না; সুতরাং তার ইচ্ছা, সংকল্প এবং প্রার্থনা—সবই একমাত্র আল্লাহর জন্য।

(৩) মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন} [সূরা আল-মায়িদাহ: ৭২]।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ২০)
2-أن القرآن كله في تقرير التوحيد بأنواعه، لأنه:

أ-إِمَّا خَبَرٌ عَنِ اللَّهِ عز وجل وَمَا يَجِبُ أَنْ يُوصَفَ بِهِ، وَمَا يَجِبُ أَنْ يُنَزَّهَ عَنْهُ، وَهُوَ التَّوْحِيدُ الْعِلْمِيُّ الْخَبَرِيُّ الِاعْتِقَادِيُّ.

ب-وَإِمَّا دَعْوَةٌ إِلَى عِبَادَتِهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ له وخلع ما يعبد من دونه، وهو التوحيد الطلبي الإرادي.

جـ-وَإِمَّا أَمْرٌ وَنَهْيٌ وَإِلْزَامٌ بِطَاعَتِهِ فَذَلِكَ مِنْ حقوق التوحيد ومكملاته.

د-وَإِمَّا خَبَرٌ عَنْ إِكْرَامِهِ لِأَهْلِ التَّوْحِيدِ وَمَا فَعَلَ بِهِمْ فِي الدُّنْيَا مِنَ النَّصْرِ وَالتَّأْيِيدِ وَمَا يُكْرِمُهُمْ بِهِ فِي الْآخِرَةِ، وَهُوَ جَزَاءُ توحيده، أو خَبَرٌ عَنْ أَهْلِ الشِّرْكِ وَمَا فَعَلَ بِهِمْ فِي الدُّنْيَا مِنَ النَّكَالِ، وَمَا يَفْعَلُ بِهِمْ فِي الْعُقْبَى مِنَ الْعَذَابِ فَهُوَ جَزَاءُ مَنْ خرج عن حكم توحيده.
২-নিশ্চয়ই সম্পূর্ণ কুরআন তার সকল প্রকারের তাওহীদ সাব্যস্ত করার বর্ণনায় সমৃদ্ধ, কারণ এটি:

ক-হয় এটি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ এবং তাঁর যেসব গুণাবলি সাব্যস্ত করা আবশ্যক এবং যা থেকে তাঁকে পবিত্র রাখা আবশ্যক তার বর্ণনা, আর এটি হলো ইলমি খবরী ও ইতিকাদী তাওহীদ (জ্ঞানগত, সংবাদভিত্তিক ও বিশ্বাসগত একত্ববাদ)।

খ-অথবা এটি হলো এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান যাঁর কোনো শরিক নেই এবং তিনি ছাড়া অন্য যা কিছুর উপাসনা করা হয় তা বর্জন করার নির্দেশ; আর এটি হলো তাওহীদুল তালাবী আল-ইরাদী (আহ্বানমূলক ও ইচ্ছামূলক একত্ববাদ)।

গ-অথবা এটি হলো তাঁর আনুগত্যের আদেশ, নিষেধ এবং বাধ্যবাধকতা, যা তাওহীদের হক ও এর পরিপূরকসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

ঘ-অথবা এটি তাওহীদপন্থীদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে সম্মান প্রদর্শন এবং দুনিয়াতে তাঁদের প্রতি সাহায্য ও সহযোগিতার সংবাদ, এবং আখেরাতে তাঁদেরকে যে মর্যাদা দান করা হবে তার বর্ণনা, যা তাঁর তাওহীদের প্রতিদান। অথবা এটি মুশরিকদের সংবাদ এবং দুনিয়াতে তাদের জন্য যে লাঞ্ছনা ও শাস্তি দেওয়া হয়েছে তার সংবাদ, এবং পরকালে তাদের যে আজাব ভোগ করতে হবে তার সংবাদ, যা মূলত তাঁর তাওহীদের বিধান থেকে বিচ্যুত হওয়ার প্রতিদান।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ২৩)
(الفصل الأول)

 

‌‌القسم الأول من أقسام التوحيد: التوحيد الخبري الاعتقادي (توحيد المعرفة والإثبات)

وهو يتضمن أمرين:

الأول: إثبات ذاته تعالى (توحيد الربوبية) .

الثاني: إثبات أسمائه وصفاته (توحيد الأسماء والصفات) .

 

*‌‌أولاً: إثبات ذاته تعالى (البراهين على وجود الله عز وجل :

والقرآن يعالج ذلك بالتوجيه لتدبر آيات الله في الكون والنفس، وفيما يلي بعض البراهين والشواهد على وجود الله عز وجل (1) :

1-أقام الله تعالى الحجة وأفحم الخصم في آية واحدة فقال: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الخالقون} (2) ؟

في الصَّحِيحَيْنِ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ، فَلَمَّا بَلَغَ هَذِهِ الْآيَةَ: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ * أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَل لَا يُوقِنُونَ *أَمْ عِنْدَهُمْ خَزَائِنُ ربك أم هم المصيطرون} (3) كاد قلبي أن يطير.

2-الأطوار العجيبة المختلفة التي مر بها الإنسان من تراب إلى نطفة فعلقة فمضغة ثم إنسان سوي ذي روح وعقل، ينشيء المدائن، ويركب متون البحار، ويجمع الأموال، ويحارب ويقاتل، وينشر مبادئ وأفكاراً،

--------------------------------------------

(1) وفي بعضها تصرف في الأسلوب لإيضاح بعض ما ذكره المؤلف وبيان وجه الإعجاز فيه.

(2) الطور: 35: 37.

(3) الطور: 35-37.
(প্রথম পরিচ্ছেদ)

 

‌‌তাওহীদের প্রকারসমূহের মধ্যে প্রথম প্রকার: তাওহীদে খবরী ও ইতিকাদী (তাওহীদে মারেফাত ওয়া ইসবাত)

এটি দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম: মহান আল্লাহর সত্তার সাব্যস্তকরণ (তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ)।

দ্বিতীয়: তাঁর নাম ও গুণাবলির সাব্যস্তকরণ (তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত)।

 

*‌‌প্রথমত: মহান আল্লাহর সত্তার সাব্যস্তকরণ (আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের প্রমাণসমূহ):

কুরআন মহাবিশ্ব এবং মানুষের নিজের সত্তার মধ্যে আল্লাহর নিদর্শনগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার নির্দেশনার মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা করে। আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের ওপর কিছু প্রমাণ ও সাক্ষ্য নিচে দেওয়া হলো (১):

১-আল্লাহ তাআলা একটিমাত্র আয়াতে দলিল পেশ করেছেন এবং প্রতিপক্ষকে নির্বাক করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {তারা কি কোনোরূপ স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা?} (২)?

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) গ্রন্থে জুবায়ের ইবন মুতয়িম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মাগরিবের সালাতে সূরা আত-তূর তিলাওয়াত করতে শুনেছি। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছালেন: {তারা কি কোনোরূপ স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের স্রষ্টা? নাকি তারা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে না। নাকি তাদের কাছে আপনার রবের ভান্ডারসমূহ রয়েছে? নাকি তারা এর নিয়ন্ত্রক?} (৩), তখন আমার অন্তর যেন উড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো।

২-মানুষের অতিবাহিত বিভিন্ন বিস্ময়কর স্তরসমূহ, যেমন— মাটি থেকে বীর্য, তারপর আলাক (রক্তপিণ্ড), এরপর মুদগাহ (গোশতপিণ্ড), অতঃপর এক পূর্ণাঙ্গ মানুষ— যার রয়েছে রুহ ও আকল (বিবেক-বুদ্ধি), যে শহর-নগর গড়ে তোলে, সমুদ্রের বুকে বিচরণ করে, সম্পদ আহরণ করে, যুদ্ধ-বিগ্রহ করে এবং বিভিন্ন নীতি ও মতাদর্শ প্রচার করে।

--------------------------------------------

(১) এর কোনো কোনোটিতে লেখকের উল্লিখিত বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং তাতে অলৌকিকত্বের দিকটি স্পষ্ট করার জন্য বর্ণনায় কিছুটা পরিমার্জন করা হয়েছে।

(২) আত-তূর: ৩৫-৩৭।

(৩) আত-তূর: ৩৫-৩৭।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وينظم شعراً ويصيغ أدباً … الخ فسبحان من أقدره على ذلك!!

وهذا فضلاً عن العجائب في خلقه الكائنات الأخرى كالحشرات والحيوانات.

3-خلق زوجين من كل شيء في الكون (1) .

4-بسط الأرض للخلائق، وخلق السماوات والأجرام العلوية، وإمساك كل عن الزوال أو الارتطام بغيره.

5-الليل والنهار وثبات طولها مجموعين معاً، فلم يحدث مرة واحدة أن كان هناك يوم من الأيام (نهاره مع ليله) أقل أو أكثر طولاً من الآخر ولو بجزء من الثانية، فسبحانه من نظم تلك الدورة الفلكية بهذه الدقة.

6-إيداع الماء خاصية حمل الأخشاب والأجسام ذات الكثافة الخفيفة فبذلك سهلت حياة البشر باستخدام الفلك التي تجري في البحر (2) .

7-إقدار الإنسان على كثير من الأمور، وتسخير الكائنات له حتى أن البعير الضخم ليقوده الطفل الصغير.

8-تسخير الرياح تارة للرحمة وتارة للعذاب.

9-اختلاف ألسنة الناس وألوانهم وهيئاتهم حتى ولو وقع التشابه الشديد، فمع أن لكل إنسان عينين وحاجبين وأنفاً واحداً وخدين وغير ذلك فلابد من شيء يميز كل إنسان عن الآخر، فكل إنسان خلقة فريدة بذاته لا يمكن أن تتكرر تماماً، فسبحان من جعل لكل إنسان شخصيته المتميزة، بسمت أو هيئة أو كلام أو لهجة أو …

--------------------------------------------

(1) حتى أن الذرة التي عرفها العلماء الآن، قالوا: إنها مركبة من زوجين من الجسيمات سالب وموجب.

(2) والتي لا تستطيع الطائرات أن تحل محلها في كثير من الأعمال، ناهيك عما في تيسير طيران الطائرات في الجو من الإعجاز.
এবং তিনি কবিতা রচনা করেন ও সাহিত্য সৃষ্টি করেন … ইত্যাদি। অতএব পবিত্রতা সেই সত্তার, যিনি তাকে এর সক্ষমতা দান করেছেন!!

আর এটি পতঙ্গ ও চতুষ্পদ জন্তুর মতো অন্যান্য সৃষ্টিরাজির ক্ষেত্রে তাঁর সৃষ্টির বিস্ময়কর নিদর্শনাদি ব্যতিরেকেই।

৩-মহাবিশ্বের প্রতিটি বস্তু থেকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করা (১)।

৪-সৃষ্টিকুলের জন্য জমিনকে বিস্তৃত করা, আকাশমন্ডলী ও ঊর্ধ্বজগত সৃষ্টি করা এবং প্রতিটি বস্তুকে ধ্বংস হওয়া বা অন্যটির সাথে সংঘর্ষ হওয়া থেকে রক্ষা করা।

৫-রাত ও দিন এবং উভয়ের সম্মিলিত সময়ের স্থায়িত্ব। কখনও এমনটি ঘটেনি যে, কোনো একদিন (দিন ও রাত মিলিয়ে) অন্য দিনের চেয়ে সময়ের দিক থেকে সামান্য সেকেন্ডের ভগ্নাংশ পরিমাণও কম বা বেশি হয়েছে। সুতরাং পবিত্রতা সেই সত্তার, যিনি এই মহাজাগতিক চক্রকে এমন নিখুঁতভাবে বিন্যস্ত করেছেন।

৬-পানির মধ্যে কাঠ ও হালকা ঘনত্বের বস্তুকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য দান করা। এর মাধ্যমেই সমুদ্রে চলাচলকারী নৌযান ব্যবহারের দ্বারা মানুষের জীবন সহজতর হয়েছে (২)।

৭-মানুষকে বহু বিষয়ে সক্ষমতা দান করা এবং তার জন্য সৃষ্টিরাজিকে অনুগত করে দেয়া, এমনকি বিশালকায় উটকেও যেন ছোট শিশু পরিচালিত করে।

৮-বায়ুকে কখনও রহমত হিসেবে আবার কখনও আযাব হিসেবে নিয়োজিত করা।

৯-মানুষের ভাষা, বর্ণ ও অবয়বের ভিন্নতা, যদিও সেখানে প্রবল সাদৃশ্য থাকে। প্রত্যেক মানুষের দুটি চোখ, দুটি ভ্রু, একটি নাক, দুটি গাল ও অন্যান্য অঙ্গ থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি মানুষকে অন্যজন থেকে পৃথক করার মতো কিছু না কিছু অবশ্যই থাকে। তাই প্রতিটি মানুষ নিজস্ব সত্তায় এক অনন্য সৃষ্টি যা হুবহু পুনরায় ঘটা অসম্ভব। সুতরাং পবিত্রতা সেই সত্তার, যিনি প্রতিটি মানুষের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ব্যক্তিত্ব দান করেছেন; তা চলন-বলন, আকৃতি, কথা, বাচনভঙ্গি বা …

--------------------------------------------

(১) এমনকি বর্তমানে বিজ্ঞানীরা যে পরমাণুর কথা জানেন, সে সম্পর্কে তারা বলেছেন: এটি ঋণাত্মক ও ধনাত্মক—এই দুই জোড়া কণা দ্বারা গঠিত।

(২) যা অনেক কাজে উড়োজাহাজ স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। তাছাড়া আকাশে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন সহজ করার মধ্যে যে অলৌকিকতা রয়েছে তা তো বলাই বাহুল্য।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ২৫)
10-خاصية النوم التي خلقها الله تعالى، فهي ضرورية لتجديد طاقة الإنسان ونشاطه وفيها راحة نفسه وأعصابه.

11-إحياء الأرض بالماء فإذا هذه الأرض الهامدة الجامدة تخرج نباتاً مختلفاً ألوانه وطعومه مع أن الكل يسقى بماء واحد، ثم من الذي أودع في الأرض هذه الخاصية وهي الإنبات، ثم من جعل هذا التوافق بين وجود هذه الخاصية في الأرض وخلق البشر المحتاجين إلى ذلك النبات عليها، هذا فضلاً عن الخصائص الأخرى في الأرض والجو التي لا يعيش البشر بدونها.

12-وبعد ذلك وقبله فإن الفطرة نفسها شاهدة بوجود الله تعالى، والنفس لا تستطيع الفرار من تلك الحقيقة، وهي الشعور بوجود الخالق القدير (1) .

 

*‌‌بيان أن الاستدلال على وجوده تعالى وربوبيته بمخلوقاته وعظيم ملكه هو منهج الأنبياء والأئمة والعقلاء وأصحاب الفطرة الصافية.

ويتبين ذلك من الأمثلة التالية:

1-قول الرسل لأقوامهم: {أفي الله شك فاطر السماوات والأرض} (2) ؟

2-قول إبراهيم للنمرود: {ربي الذي يحيي ويميت} (3) ، وقوله - على نبينا وعليه الصلاة والسلام -: {فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بها من المغرب} (4) .

3-إجابة موسى عليه السلام على أسئلة فرعون: قال تعالى: {قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ * قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا إِنْ كُنْتُمْ مُوقِنِينَ *قال

--------------------------------------------

(1) حتى من ينكره فإنه إما أن يثبت صفة الخلق لغيره من المعبودات الزائفة كما يقول الشيوعيون عن الطبيعة (تخلق كل شيء ولا حد لقدرتها) قبحهم الله، وإما أن ينكر وجوده تعالى استكباراً وعناداً ونفسه تتيقن عكس ذلك.

(2) إبراهيم:10.

(3) البقرة: 258.

(4) البقرة: 258.
১০-আল্লাহ তাআলা ঘুমের যে বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করেছেন; এটি মানুষের শক্তি ও কর্মোদ্যম নবায়নের জন্য অপরিহার্য এবং এতে তার আত্মা ও স্নায়ুর প্রশান্তি রয়েছে।

১১-পানির মাধ্যমে জমিনকে সজীব করা; ফলে এই নির্জীব নিথর জমিন থেকে বিভিন্ন বর্ণ ও স্বাদের উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়, অথচ সবকটিকেই একই পানি দ্বারা সেচন করা হয়। অতঃপর কে এই জমিনে উদ্ভিজ্জ উৎপাদনের এই বিশেষ গুণটি গচ্ছিত রেখেছেন? এরপর কে জমিনের এই বিশেষ গুণের উপস্থিতি এবং সেই উদ্ভিদের মুখাপেক্ষী মানুষের সৃষ্টির মাঝে এই সামঞ্জস্য বিধান করেছেন? এ তো কেবল জমিন ও বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বাদ রেখেই বলা হলো, যা ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না।

১২-এর আগে এবং পরে মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি নিজেই মহান আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয়; আর আত্মা এই সত্য থেকে পলায়নে সক্ষম নয়, যা হলো সর্বশক্তিমান স্রষ্টার অস্তিত্বের অনুভূতি (১)।

 

*‌‌আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব এবং তাঁর রুবুবিয়্যাহর (প্রভুত্ব) সপক্ষে তাঁর সৃষ্টিরাজি ও সুমহান রাজত্বের মাধ্যমে দলিল পেশ করা যে নবীগণ, ইমামগণ, বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ এবং নির্মল স্বভাবের অধিকারীদের পদ্ধতি—তার বর্ণনা।

নিচের উদাহরণগুলো থেকে তা স্পষ্ট হয়:

১-নিজ কওমের প্রতি রাসূলগণের উক্তি: {আল্লাহর ব্যাপারে কি কোনো সন্দেহ আছে, যিনি আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা?} (২)

২-নমরুদের প্রতি ইবরাহীমের উক্তি: {আমার রব তিনি যিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান} (৩); এবং তাঁর উক্তি—আমাদের নবী ও তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে আনেন, অতএব তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে নিয়ে এসো} (৪)।

৩-ফেরাউনের প্রশ্নের উত্তরে মুসা আলাইহিস সালামের জবাব: মহান আল্লাহ বলেন: {ফেরাউন বলল, আর রব্বুল আলামীন (বিশ্বজগতের প্রতিপালক) কে? তিনি বললেন, তিনি আসমানসমূহ, জমিন এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও। তিনি বললেন...}

--------------------------------------------

(১) এমনকি যারা তাঁকে অস্বীকার করে, তারাও হয় সৃষ্টির গুণটি অন্য কোনো মিথ্যা উপাস্যের জন্য সাব্যস্ত করে, যেমনটি কমিউনিস্টরা প্রকৃতির ব্যাপারে বলে থাকে (প্রকৃতিই সবকিছু সৃষ্টি করে এবং এর ক্ষমতার কোনো সীমা নেই)—আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন; অথবা তারা অহংকার ও একগুঁয়েমিবশত আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব অস্বীকার করে, অথচ তাদের আত্মা এর বিপরীত বিষয়ে নিশ্চিত।

(২) ইবরাহীম: ১০।

(৩) আল-বাকারাহ: ২৫৮।

(৪) আল-বাকারাহ: ২৫৮।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ২৬)
لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ * قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ * قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ * قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بينهما إن كنتم تعقلون} (1) .

4-دعوة محمد صلى الله عليه وسلم ومخاطبته للناس بهذا القرآن الذي يتجلى فيه هذا المنهج من بدايته إلى ختامه، وهو مملوء بالتوجيه إلى النظر فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ من شيء، وقد مر شيء من ذلك فيما سبق ذكره من الآيات.

5-استدلال الإمام أبي حنيفة بسير الموجودات وفق تدبير ونظام محكم وأن ذلك لا يمكن حدوثه بدون رب قادر مدبر، وضرب لذلك مثلاً بالسفينة التي تسير دون قائد، وتنقل البضائع، هل يعقل ذلك؟

6-إجابة الإمام مالك لمّا سأله الرشيد مستدلاً باختلاف الأصوات والنغمات واللغات.

7-استدلال الإمام الشافعي بورق التوت تأكله الدود فيخرج من الإبرِيسَم (2) ، وَتَأْكُلُهُ النَّحْلُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْعَسَلُ، وَتَأْكُلُهُ الشاء (3) والبقر والأنعام فتلقيه بعرًا وروثاً.

8-استلال الإمام أحمد بخروج الديك من البيضة، وذلك بمقام خروج حيوان ذي سمع وبصر وصوت وشكل حسن من حصن أملس ليس له منفذ، هل يحدث ذلك بلا خالق؟

9-استدلال الأعرابي بالسماء ذات الأبراج والأرض ذات الفجاج والبحار ذات الأمواج وأن دلالة ذلك على الله عز وجل من باب دلالة الأثر على المؤثر.

ومثل لذلك بدلالة الأثر على المسير والبعر على البعير.

--------------------------------------------

(1) الشعراء: 25-28.

(2) الحرير، وهي كلمة معربة. (لسان العرب) .

(3) جمع شاة.
(তার চারপাশের লোকদের উদ্দেশ্যে ফেরাঊন বলল) তোমরা কি শুনছ না? * (মূসা) বললেন, তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও পালনকর্তা। * (ফেরাঊন) বলল, তোমাদের নিকট প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল অবশ্যই একজন পাগল। * (মূসা) বললেন, তিনি পূর্ব, পশ্চিম এবং এই দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বুঝতে পার। (১)।

৪-মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাওয়াত এবং এই কুরআনের মাধ্যমে মানুষের প্রতি তাঁর সম্বোধন, যার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই পদ্ধতি ফুটে ওঠে। এটি আসমান ও জমিনের রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সেগুলোর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার নির্দেশনায় ভরপুর। ইতিপূর্বে উল্লিখিত আয়াতগুলোতে এর কিছু অংশ অতিক্রান্ত হয়েছে।

৫-ইমাম আবু হানিফার দলিল পেশ করা—বিদ্যমান বস্তুসমূহের সুনিপুণ পরিচালনা ও সুসংবদ্ধ ব্যবস্থার মাধ্যমে চলাচলের দ্বারা। আর এটি একজন সক্ষম ও পরিচালক রব ব্যতীত ঘটা সম্ভব নয়। তিনি এর উদাহরণ হিসেবে এমন একটি নৌকার কথা উল্লেখ করেছেন যা কোনো চালক ছাড়াই চলে এবং পণ্য বহন করে; এটি কি বুদ্ধিগ্রাহ্য হতে পারে?

৬-ইমাম মালিকের উত্তর, যখন হারুনুর রশিদ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি কণ্ঠস্বর, সুর এবং ভাষার ভিন্নতাকে দলিল হিসেবে পেশ করেছিলেন।

৭-ইমাম শাফিঈর তুত পাতা দিয়ে দলিল পেশ করা—পোকা তা খায় এবং তা থেকে রেশম (২) বের হয়, মৌমাছি তা খায় এবং তা থেকে মধু বের হয়, আর বকরি (৩), গরু ও চতুষ্পদ জন্তু তা খায় এবং তা গোবর ও বিষ্ঠা হিসেবে ত্যাগ করে।

৮-ইমাম আহমদের ডিম থেকে মোরগ বের হওয়ার মাধ্যমে দলিল পেশ করা; আর তা হলো একটি মসৃণ ও ছিদ্রহীন দুর্গ থেকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, কণ্ঠস্বর এবং সুন্দর আকৃতি বিশিষ্ট একটি প্রাণীর বের হওয়া। এটি কি কোনো স্রষ্টা ছাড়া ঘটতে পারে?

৯-একজন গ্রাম্য মরুবাসীর দলিল পেশ করা—নক্ষত্ররাজিশোভিত আকাশ, প্রশস্ত পথবিশিষ্ট জমিন এবং উত্তাল তরঙ্গমালা বিশিষ্ট সমুদ্রের মাধ্যমে। আর এ সবকিছু মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ওপর এমনভাবে প্রমাণ বহন করে যেমন চিহ্ন চিহ্নের কর্তার ওপর প্রমাণ দেয়।

তিনি এর উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন যে, পদচিহ্ন পথচারীর এবং উটের বিষ্ঠা উটের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়।

--------------------------------------------

(১) আশ-শুআরা: ২৫-২৮।

(২) রেশম, এটি একটি আরবিকৃত শব্দ (লিসানুল আরব)।

(৩) বকরি-এর বহুবচন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ২৭)
10-خطبة قس بن ساعدة الإيادي (1) وفيها لفت الأنظار لمختلف العجائب في الكون والحياة ليكون ذلك دافعاً للرجوع إلى الله صاحب هذه التقديرات والعجائب.

ومن أمثلة الشعر الموافق لهذا المنهج - بغض النظر عن قائله -:

تأمل في نبات الْأَرْضِ وَانْظُرْ … إِلَى آثَارِ مَا صَنَعَ الْمَلِيكُ

عيون من لجين شاخصات … بأحداق هِيَ الذَّهَبُ السَّبِيكُ

عَلَى قُضُبِ الزَّبَرْجَدِ شَاهِدَاتٌ … بأن الله ليس له شريك (2)

فَيَا عَجَبًا كَيْفَ يُعْصَى الْإِلَهُ … أَمْ كَيْفَ يَجْحَدُهُ الْجَاحِدُ

وَلِلَّهِ فِي كُلِّ تَحْرِيكَةٍ … وَفِي كُلِّ تَسْكِينَةٍ شَاهِدُ

وَفِي كُلِّ شَيْءٍ لَهُ آية … تدل على أنه واحد (3)

 

* * *

وفيما يلي

 

‌‌الأبيات المتعلقة بما سبق من منظومة (سلم الوصول) :

 

أَوَّلُ وَاجِبٍ عَلَى الْعَبِيدِ … مَعْرِفَةُ الرَّحْمَنِ بِالتَّوْحِيدِ

إِذْ هُوَ مِنْ كُلِّ الْأَوَامِرِ أَعْظَمُ … وَهْوَ نَوْعَانِ أَيَا مَنْ يَفْهَمُ

إِثْبَاتُ ذَاتِ الرَّبِّ جَلَّ وَعَلَا … أَسْمَائِهِ الْحُسْنَى صِفَاتِهِ الْعُلَى

 

•

 

‌‌أسئلة:

1- ما هي أقسام التوحيد؟

2- بين مرتبة التوحيد في دعوة الرسل وفي القرآن الكريم؟

3- بين منهج القرآن في إثبات ذاته تعالى، واذكر بعض الشواهد الدالة على

الله عز وجل؟

4- بين بالأمثلة أن الاستدلال على وجوده تعالى وربوبيته بمخلوقاته وعظيم

ملكه وصنعه هو منهج الأنبياء والأئمة والعقلاء؟

--------------------------------------------

(1) وذلك قبل بعثته صلى الله عليه وسلم.

(2) نسبه في الكتاب لأبي نواس.

(3) قاله ابن المعتز، ويروى عن أبي العتاهية رحمهما الله. كما ذكر المؤلف رحمه الله.
১০-কুস বিন সায়েদাহ আল-ইয়াদি-এর ভাষণ (১); এতে মহাবিশ্ব এবং জীবনের বিভিন্ন বিস্ময়কর নিদর্শনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যাতে তা এই সমস্ত পরিমাপ ও বিস্ময়ের অধিকারী আল্লাহর দিকে ফিরে আসার চালিকাশক্তি হয়।

এই মানহাজ বা পদ্ধতির অনুকূলে কবিতার কিছু উদাহরণ - তার রচয়িতা যে-ই হোক না কেন -:

জমিনের উদ্ভিদের প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করো এবং লক্ষ্য করো … সেই বাদশাহর (আল্লাহর) সৃষ্টির নিদর্শনের দিকে

রুপার তৈরি স্থির দৃষ্টির চোখের ন্যায় (ফুলসমূহ) … যার মণিগুলো বিগলিত স্বর্ণের মতো

পান্নার ডাঁটার উপর দাঁড়িয়ে সেগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছে … যে আল্লাহর কোনো শরিক নেই (২)

হায় বিস্ময়! কীভাবে মাবুদের অবাধ্যতা করা হয় … অথবা অস্বীকারকারী কীভাবে তাঁকে অস্বীকার করে

আর আল্লাহর জন্য প্রতিটি স্পন্দনে … এবং প্রতিটি স্তব্ধতায় একজন সাক্ষী রয়েছে

প্রতিটি বস্তুর মধ্যেই তাঁর নিদর্শন রয়েছে … যা প্রমাণ করে যে তিনি এক (৩)

 

* * *

নিম্নে বর্ণিত হলো

 

‌‌(সুল্লামুল উসুল) কাব্যগ্রন্থ থেকে পূর্বোক্ত প্রসঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট পঙক্তিমালা:

 

বান্দার ওপর প্রথম ওয়াজিব হলো … তাওহীদের মাধ্যমে দয়াময় আল্লাহকে চেনা

যেহেতু এটি সমস্ত নির্দেশের মধ্যে মহানতম … হে অনুধাবনকারী, তা দুই প্রকার

মহান ও উচ্চমর্যাদাবান রবের সত্তাকে সাব্যস্ত করা … এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও উচ্চতর গুণাবলীকে

 

•

 

‌‌প্রশ্নাবলী:

১- তাওহীদের প্রকারভেদগুলো কী কী?

২- রাসুলদের দাওয়াতে এবং পবিত্র কুরআনে তাওহীদের মর্যাদা বর্ণনা করো।

৩- আল্লাহ তাআলার সত্তাকে সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কুরআনের মানহাজ (পদ্ধতি) বর্ণনা করো এবং মহান আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণস্বরূপ কিছু নিদর্শন উল্লেখ করো।

৪- উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করো যে, মহান আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁর বিশাল রাজত্ব ও নৈপুণ্যের মাধ্যমে তাঁর অস্তিত্ব ও রুবুবিয়্যাতের দলিল পেশ করা নবীগণ, ইমামগণ এবং জ্ঞানীদের অনুসৃত পদ্ধতি।

--------------------------------------------

(১) এটি তাঁর (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বের ঘটনা।

(২) কিতাবটিতে এটি আবু নুওয়াসের প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে।

(৩) এটি ইবনুল মুতায বলেছেন, এবং আবুল আতাহিয়া (রহিমাহুমাল্লাহ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। যেমনটি লেখক (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌ثانياً: أسماء الله الحسنى وصفاته العلى:

‌‌1-تعريف أسماء الله الحسنى:

هي الأسماء التي أثبتها الله تَعَالَى لِنَفْسِهِ وَأَثْبَتَهَا لَهُ عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم وَآمَنَ بِهَا جَمِيعُ المؤمنين.

 

‌‌2-عددها:

لا يعلمه إلاّ الله، ودليل ذلك حديث ابْنِ مَسْعُودٍ عِنْدَ أَحْمَدَ وَغَيْرِهِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال: (ما أصاب أحداً هَمٌّ وَلَا حَزَنٌ فَقَالَ: اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ وَابْنُ عَبْدِكَ وَابْنُ أَمَتِكَ نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، ماضٍ فيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فيَّ قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ أَوِ اسْتَأْثَرَتْ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ الْعَظِيمَ رَبِيعَ قَلْبِي وَنُورَ صَدْرِي وَجَلَاءَ حُزْنِي وَذَهَابَ هَمِّي إِلَّا أذهب الله حزنه وهمه وأبدله مكانه فرجاً) (1) .

 

‌‌3-فضل من تعلم تسعة وتسعين منها:

من أسماء الله الحسنى تسعة وتسعون اسماً من أحصاها دخل الجنة، ففي الصَّحِيحَيْنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: (إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَهُوَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ) .

وقد وردت أحاديث ضعيفة في تحديدها (2) ، وقد حررها الحافظ ابن حجر تسعة وتسعين اسماً من الكتاب العزيز هكذا:

--------------------------------------------

(1) وانظر الحديث في صحيح الكلم الطيب - مع اختلاف يسير في الألفاظ - رقم 105، الطبعة الأولى، المكتب الإسلامي.

(2) انظر ضعيف الجامع الصغير 1943، 1944 / الطبعة الثانية. المكتب الإسلامي.
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ ও তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি:

১- আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের সংজ্ঞা:

এগুলো সেই সমস্ত নাম যা আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং সমস্ত মুমিন তার ওপর ঈমান এনেছে।

 

২- এগুলোর সংখ্যা:

আল্লাহ ছাড়া এগুলোর সংখ্যা কেউ জানে না। এর প্রমাণ হলো আহমাদ ও অন্যান্যদের কিতাবে বর্ণিত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস, তিনি বলেছেন: (যখনই কোনো ব্যক্তি কোনো দুশ্চিন্তা বা দুঃখের শিকার হয় এবং বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনার বান্দার পুত্র ও আপনার দাসীর পুত্র। আমার কপালের চুল আপনার হাতে, আমার ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ন্যায়সঙ্গত। আমি আপনার কাছে আপনার সেই প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন অথবা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন অথবা আপনার কাছে অদৃশ্যের জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন; আপনি মহান কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার দুঃখের অপসারক এবং আমার দুশ্চিন্তা দূরকারী বানিয়ে দিন। তখন আল্লাহ অবশ্যই তার দুঃখ ও দুশ্চিন্তা দূর করে দেবেন এবং তার পরিবর্তে তাকে স্বস্তি দান করবেন।) (১)।

 

৩- এগুলোর মধ্য থেকে নিরানব্বইটি নাম শেখার ফজিলত:

আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের মধ্যে নিরানব্বইটি নাম এমন রয়েছে যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তিনি বেজোড়, তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন)।

এগুলো নির্দিষ্ট করার ব্যাপারে কিছু দুর্বল হাদিস বর্ণিত হয়েছে (২), আর হাফেজ ইবনে হাজার মহাগ্রন্থ কুরআন থেকে নিরানব্বইটি নাম এভাবে চয়ন করেছেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সহীহুল কালিমিত তায়্যিব - শব্দের সামান্য পার্থক্যসহ - নম্বর ১০৫, প্রথম সংস্করণ, আল-মাকতাবুল ইসলামী।

(২) দেখুন: জয়ীফ আল-জামি আস-সাগীর ১৯৪৩, ১৯৪৪ / দ্বিতীয় সংস্করণ। আল-মাকতাবুল ইসলামী।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ২৯)
اللَّهُ، الرَّبُّ، الْإِلَهُ، الْوَاحِدُ، الرَّحْمَنُ، الرَّحِيمُ، الْمَلِكُ، القدوس، السلام، المؤمن، المهيمن، العزيز، الجبار المتكبر، الْخَالِقُ، الْبَارِئُ، الْمُصَوِّرُ، الْأَوَّلُ، الْآخِرُ، الظَّاهِرُ، الْبَاطِنُ، الْحَيُّ، الْقَيُّومُ، الْعَلِيُّ، الْعَظِيمُ، التَّوَّابُ، الْحَلِيمُ، الْوَاسِعُ، الْحَكِيمُ، الشَّاكِرُ، الْعَلِيمُ، الْغَنِيُّ، الْكَرِيمُ، الْعَفُوُّ، الْقَدِيرُ، اللَّطِيفُ، الْخَبِيرُ، السَّمِيعُ، الْبَصِيرُ، الْمَوْلَى، النَّصِيرُ، الْقَرِيبُ، الْمُجِيبُ، الرَّقِيبُ، الْحَسِيبُ، الْقَوِيُّ، الشَّهِيدُ، الْحَمِيدُ، الْمَجِيدُ، الْحَفِيظُ، الْحَقُّ، الْمُبِينُ، الْغَفَّارُ، الْقَهَّارُ، الْخَلَّاقُ، الْفَتَّاحُ، الْوَدُودُ، الْغَفُورُ، الرَّءُوفُ، الشَّكُورُ، الْكَبِيرُ، الْمُتَعَالِ، المُقيت، الْمُسْتَعَانُ، الْوَهَّابُ، الْحَفِيُّ، الْوَارِثُ، الْوَلِيُّ، الْقَائِمُ، الْقَادِرُ، الْغَالِبُ، الْقَاهِرُ، الْبَرُّ، الْحَافِظُ، الْأَحَدُ، الصَّمَدُ، الْمَلِيكُ، الْمُقْتَدِرُ، الْوَكِيلُ، الْهَادِي، الْكَفِيلُ، الْكَافِي، الْأَكْرَمُ، الْأَعْلَى، الرزاق، ذو القوة، المتين، غافر الذنب، قابل التوب، شديد العقاب، ذي الطول، رفيع الدرجات، سريع الحساب، فاطر السموات والأرض، بديع السموات والأرض، نور السموات والأرض، مالك الملك، ذو الجلال والإكرام (1) .

وقد عدّها غير ابن حجر كسفيان بن عيينة وابن حزم القرطبي وغيرهم. وأسماء الله الحسنى غير منحصرة في التسعة والتسعين كما سبق.

4-معنى الإيمان بما وصف الله تعالى بِهِ نَفْسَهُ وَوَصَفَهُ بِهِ رَسُولُهُ صلى الله عليه وسلم من الأسماء

--------------------------------------------

(1) ولا شك أن هذا اجتهاد من ابن حجر رحمه الله ولا يمكننا القطع بأن هذه هي التسعة والتسعون اسماً المقصودة إذ أنه يمكن لآخر أن يضع فيها مثلاً (ذوالرحمة) ويحذف منها (ذوالقوة) أو غير ذلك، إذ ما الملزم لاعتبار (ذو القوة) من التسعة والتسعين وعدم اعتبار (ذوالرحمة) منها، وكلاهما في القرآن الكريم؟! .. قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات: 58] ، وقال: {وربك الغفور ذو الرحمة} [الكهف: 58] .
আল্লাহ, রব, ইলাহ, অদ্বিতীয়, রহমান, রহীম, মালিক, কুদ্দুস, সালাম, মুমিন, মুহাইমিন, আযীয, জাব্বার, মুতাকাব্বির, খালিক, বারী, মুসাব্বির, আউয়াল, আখির, যাহির, বাতিন, হাইয়্যু, কাইয়্যুম, আলী, আযীম, তাওয়াব, হালীম, ওয়াসি, হাকীম, শাকির, আলীম, গানী, কারীম, আফুউ, কাদীর, লতীফ, খাবীর, সামী, বাসীর, মাওলা, নাসীর, কারীব, মুজীব, রাকীব, হাসীব, কাভী, শাহীদ, হামীদ, মাজীদ, হাফীয, হাক্ক, মুবীন, গাফফার, কাহহার, খাল্লাক, ফাত্তাহ, ওয়াদূদ, গাফুর, রাউফ, শাকূর, কাবীর, মুতাআল, মুকীত, মুস্তাআন, ওয়াহহাব, হাফীঈ, ওয়ারিস, ওয়ালী, কায়েম, কাদির, গালিব, কাহির, বার্র, হাফিয, আহাদ, সামাদ, মালীক, মুক্তাদির, ওয়াকীল, হাদী, কাফীল, কাফী, আকরাম, আলা, রাজ্জাক, মহাশক্তিধর, সুদৃঢ়, গুনাহ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা, অফুরন্ত দাতা, সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, আসমান ও যমীনের অভিনব স্রষ্টা, আসমান ও যমীনের নূর, সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী (১)।

ইবনে হাজার ব্যতীত অন্যান্য আলিমগণও এগুলো গণনা করেছেন, যেমন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, ইবনে হাযম আল-কুরতুবী এবং আরও অনেকে। আর আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ নিরানব্বইটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

৪-আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যে সকল নামের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে সকল নামের মাধ্যমে তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন, সেগুলোর প্রতি ঈমান আনার অর্থ

--------------------------------------------

(১) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি ব্যক্তিগত গবেষণা (ইজতিহাদ)। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে এগুলোই সেই নির্দিষ্ট নিরানব্বইটি নাম। কারণ অন্য কারো পক্ষে সম্ভব ছিল যে তিনি এখানে উদাহরণস্বরূপ (দয়ার অধিকারী) অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং এখান থেকে (মহাশক্তিধর) বাদ দেবেন অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু করবেন। কেননা (মহাশক্তিধর) নামটিকে নিরানব্বইটির অন্তর্ভুক্ত করা এবং (দয়ার অধিকারী) নামটিকে অন্তর্ভুক্ত না করার পিছনে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, অথচ উভয়টিই পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে?! মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই রিযিকদাতা, মহাশক্তিধর, সুদৃঢ়} [আয-যারিয়াত: ৫৮], এবং তিনি বলেন: {আর আপনার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, দয়ার অধিকারী} [আল-কাহাফ: ৫৮]।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩০)
الحسنى والصفات العلى وإمرارها كما جاءت (1) .

*تنبيهان:

أ-أسماء الله تعالى توقيفية، أي أنه ليس كل فعل يتعلق بالله يشتق له منه اسم إلا ما أثبته الله تعالى لِنَفْسِهِ وَأَثْبَتَهُ لَهُ رَسُولُهُ صلى الله عليه وسلم.

مثال: قوله تعالى: {ولو شاء الله لذهب بسمعهم وأبصارهم..} (2) فإنه لا يجوز اشتقاق اسم الذاهب على أنه اسم له تعالى ما دام أن الله لم يذكر ذلك اسماً له في كتابه، ولم يذكره رسوله صلى الله عليه وسلم.

ب-ورد في القرآن أفعال أطلقها الله على نفسه على سبيل الجزاء والعدل والمقابلة، وهي فيما سيقت له مدح وكمال، ولكن لا تطلق عليه عز وجل مجردة بدون ذكر ما تتعلق به..

مثال قوله تعالى: {ويمكرون ويمكر الله..} (3) ، وقوله تَعَالَى: {إِنَّ الْمُنَافِقِينَ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَهُوَ خَادِعُهُمْ..} (4) ، وقوله تعالى: {الله يستهزئ بهم..} (5) فلا يقال أنه سبحانه يمكر ويستهزئ ويخادع، ومن باب أولى لا يقال أن من أسمائه الماكر والمخادع و.. تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً، لكن يصح أن يقال أنه تعالى يمكر بالكافرين، ويستهزئ بالمنافقين … وهكذا في

--------------------------------------------

(1) وليس معنى إمرارها كما جاءت، تركها بدون معرفة معناها، فهذا مذهب المفوضة، وفيه اتهام للرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه أنهم كانوا يقرءون كلاماً لا يفهمونه كما لو كان أعجمياً، ولكن المراد إمرارها كما جاءت بلا كيف مع إثبات الصفة، فقوله تعالى - على سبيل المثال - {وهو السميع البصير} [الشورى:11] معناه مفهوم، وهو إثبات السمع والبصر لله تعالى ولكن دون تكييف.

(2) البقرة: 20.

(3) الأنفال: 30.

(4) النساء: 142.

(5) البقرة: 15.
সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি এবং সেগুলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই বহাল রাখা (১)।

*দুটি সতর্কতা:

ক- মহান আল্লাহর নামসমূহ ‘তাওকীফিয়্যাহ’ (অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল)। এর অর্থ হলো, আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কাজ বা ক্রিয়া থেকে তাঁর জন্য কোনো নাম উদ্ভূত করা যাবে না; কেবল তা ছাড়া, যা আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন।

উদাহরণ: মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে অবশ্যই তাদের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি হরণ করতেন...} (২)। এখানে ‘হরণকারী’ শব্দটি মহান আল্লাহর নাম হিসেবে উদ্ভূত করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর কিতাবে একে নিজের নাম হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তা উল্লেখ করেননি।

খ- কুরআনে এমন কিছু ক্রিয়া বা কর্ম বর্ণিত হয়েছে যা আল্লাহ তাআলা প্রতিদান, ন্যায়বিচার এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে নিজের প্রতি আরোপ করেছেন। যে উদ্দেশ্যে এগুলো বর্ণিত হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে এগুলো প্রশংসা ও পূর্ণতার গুণ। তবে সংশ্লিষ্ট বিষয় উল্লেখ করা ছাড়া নিরঙ্কুশভাবে মহান আল্লাহর প্রতি এগুলো প্রয়োগ করা যাবে না।

উদাহরণস্বরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা চক্রান্ত করে এবং আল্লাহও চক্রান্ত করেন...} (৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, আর তিনিও তাদের সাথে প্রতারণা করেন...} (৪), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন...} (৫)। সুতরাং এমন বলা যাবে না যে, তিনি পবিত্র সত্তা হিসেবে চক্রান্ত করেন, উপহাস করেন বা প্রতারণা করেন। বরং আরও জোরালোভাবে বলা যায় যে, তাঁর নামসমূহের মধ্যে ‘চক্রান্তকারী’ বা ‘প্রতারণকারী’ ইত্যাদি বলা যাবে না; আল্লাহ তাআলা এসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে। তবে এভাবে বলা সঠিক হবে যে, তিনি কাফেরদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেন, মুনাফিকদের সাথে উপহাস করেন... এবং এভাবেই...

--------------------------------------------

(১) ‘যেভাবে এসেছে সেভাবেই বহাল রাখা’—এর অর্থ এই নয় যে, অর্থ না জেনেই সেগুলোকে ছেড়ে দেওয়া। কারণ এটি হলো ‘মুফাউয়িযা’ (তাফবীদপন্থী) সম্প্রদায়ের মতবাদ। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের প্রতি এই অপবাদ দেওয়া হয় যে, তাঁরা এমন সব বাণী পাঠ করতেন যা তাঁরা বুঝতেন না, যেন সেগুলো কোনো অনারব ভাষা। বরং এর উদ্দেশ্য হলো, গুণাবলি (সিফাত) সাব্যস্ত করার পাশাপাশি সেগুলোর কোনো ধরণ বা প্রকৃতি নির্ধারণ না করে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই বহাল রাখা। উদাহরণস্বরূপ মহান আল্লাহর বাণী—{আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [শূরা: ১১]—এর অর্থ সুষ্পষ্ট; আর তা হলো মহান আল্লাহর জন্য শ্রবণ ও দর্শন গুণ সাব্যস্ত করা, তবে কোনো ধরণ নির্ধারণ ছাড়াই।

(২) আল-বাকারাহ: ২০।

(৩) আল-আনফাল: ৩০।

(৪) আন-নিসা: ১৪২।

(৫) আল-বাকারাহ: ১৫।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩১)
كل ما ذكره الله تعالى عن نفسه من اسم أو فعل متعلقاً أو مقيداً بشيء، أو مقترناً بمقابله بحيث يوهم ذكره بدونه نقصاً لم يجز إطلاقه عليه تعالى مجرداً دون ذكر متعلقه، ومن ذلك قوله تعالى: {إنا من المجرمين منتقمون} (1) ، وقوله تعالى: {والله عزيز ذو انتقام} (2) ولم يرد إطلاق المنتقم.

ومن ذلك المعطي المانع، والضار النافع، فلا يطلق على الله المانع الضار على الانفراد، بل لابد من ازدواجها بمقابلاتها، فإنها لم تطلق على الله في الوحي منفردة.

 

‌‌5-دلالة الأسماء الحسنى في حق الله تعالى:

1-تدل على الذات مطابقة.

2-تدل على الصفات المشتقة تضمناً، وهذه أربعة أقسام:

*الأول: الاسم العلم (الله) المتضمن لجميع معاني الأسماء.

*الثاني: ما يتضمن صفة ذات كاسمه (السميع) .

*الثالث: ما يتضمن صفة فعل كاسمه (الخالق) .

*الرابع: ما يتضمن تنزهه تعالى وتقدسه عن النقائص والعيوب، مثل: (القدوس) و (السلام) .

3-تدل على الصفات غير المشتقة التزاماً.

مثال: دلالة اسْمِهِ تَعَالَى (الرَّحْمَنِ) عَلَى ذَاتِهِ عز وجل مطابقة، وعلى الرحمة تضمناً، وعلى صفة الحياة وغيرها التزاماً.

أما أسماء غيره تعالى فلا تدل على الذات، فقد يسمى الرجل حكيماً وهو جاهل، وعزيزاً وهو حقير، وشجاعاً وهو جبان، وأسداً وحماراً وكلباً وحنظلة

--------------------------------------------

(1) السجدة: 22.

(2) آل عمران: 4، المائدة:95.
আল্লাহ তাআলা নিজের সম্পর্কে যেসব নাম বা কাজ কোনো কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করে উল্লেখ করেছেন, অথবা সেটির বিপরীত কোনো গুণের সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করেছেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি ছাড়া উল্লেখ করলে কোনো ত্রুটির বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে, সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি উল্লেখ না করে তা কেবল আল্লাহ তাআলার জন্য সাধারণভাবে প্রয়োগ করা বৈধ নয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী" (১), এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী" (২)। কিন্তু সাধারণভাবে 'প্রতিশোধ গ্রহণকারী' নামটির ব্যবহার আসেনি।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো দাতা ও বঞ্চিতকারী এবং ক্ষতিসাধনকারী ও উপকারকারী। সুতরাং আল্লাহর ক্ষেত্রে এককভাবে 'বঞ্চিতকারী' বা 'ক্ষতিসাধনকারী' নাম প্রয়োগ করা যাবে না, বরং এগুলোকে অবশ্যই তাদের বিপরীত নামসমূহের সাথে জোড়া হিসেবে ব্যবহার করতে হবে; কেননা ওহীতে এগুলো আল্লাহর জন্য এককভাবে ব্যবহৃত হয়নি।

 

‌‌৫- আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে সুন্দর নামসমূহের তাৎপর্য:

১- এগুলো সরাসরি আল্লাহর সত্তাকে নির্দেশ করে (মুতাবাকাত)।

২- এগুলো অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে (তাদাম্মুন) উদ্ভূত গুণাবলিকে নির্দেশ করে, আর এটি চার প্রকার:

*প্রথম: মূল নাম (আল্লাহ), যা সমস্ত নামের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে।

*দ্বিতীয়: যা সত্তাগত গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন তাঁর নাম (সর্বশ্রোতা)।

*তৃতীয়: যা কর্মগত গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন তাঁর নাম (সৃষ্টিকর্তা)।

*চতুর্থ: যা আল্লাহ তাআলার সকল প্রকার ত্রুটি ও দোষ থেকে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন: (অতি পবিত্র) ও (শান্তিদাতা)।

৩- এগুলো অপরিহার্যভাবে (ইলতিজাম) অ-উদ্ভূত গুণাবলিকে নির্দেশ করে।

উদাহরণ: আল্লাহ তাআলার নাম (পরম করুণাময়) সরাসরিভাবে তাঁর সত্তাকে নির্দেশ করে, অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে দয়া গুণকে নির্দেশ করে এবং অপরিহার্যভাবে জীবন ও অন্যান্য গুণকে নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, আল্লাহ ছাড়া অন্যদের নাম তাদের সত্তার প্রকৃত পরিচয় বহন করে না; যেমন কোনো ব্যক্তির নাম প্রজ্ঞাবান রাখা হতে পারে অথচ সে অজ্ঞ, সম্মানিত রাখা হতে পারে অথচ সে হীন, সাহসী রাখা হতে পারে অথচ সে কাপুরুষ, অথবা তাকে সিংহ, গাধা, কুকুর বা তিক্ত ফল নামে ডাকা হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আস-সাজদাহ: ২২।

(২) আলে ইমরান: ৪, আল-মায়িদাহ: ৯৫।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩২)
وعلقمة وليس كذلك. أما الله تعالى فلا يُخَالِفُ اسْمٌ لَهُ صِفَتَهُ وَلَا صِفَتُهُ اسْمًا.

*تنبيه:

أسماء الله تعالى غير مخلوقة، وليست أسماء الله غيره كما يقوله بشر المريسي وابن الثلجي وغيرهما من أهل الضلال حيث زعموا أن أسماء الله تعالى مستعارة مخلوقة ابتدعها البشر لله. وضلال هذا القول ظاهر جداً من وجوه:

*الأول: أن كل مخلوق كان معدوماً كما أنه معرض للفناء وهذا يقتضي أنه سبحانه لم يكن القوي ولا الكريم من أسمائه ثم أصبح كذلك، وقد تزول عنه تلك الأسماء مرة أخرى، تعالى الله عن إفكهم وأباطيلهم.

*الثاني: أن القول بأن أسماءه غيره يقتضي الشرك، فالله تعالى يقول: {قل ادعوا الله أو ادعوا الرحمن..} (1) ، فيلزم هؤلاء أن يقولوا إن الله تعالى أجاز عبادته ودعاءه كما أجاز عبادة غيره، تعالى الله عن ذلك، بل الآية تدل على أن أسماءه تعالى ليست غيره.

*الثالث: أن الله تعالى ذكر في كتابه ما يفيد أن آدم والملائكة لم يعلموا أسماء المخلوقين حتى علمهم الله من عنده، فكذا أسماؤه تعالى، من أين علمها الخلق قبل تعليمه إياهم ما يفيد أن الله هو الذي علم البشر بأسمائه وأسماء غيره لا أنهم هم الذين ابتدعوا له تلك الأسماء، قال تَعَالَى: {وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ * قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} (2) ، كذلك ورد في حديث الرسول صلى الله عليه وسلم مَا يَدُلُّ عَلَى أن البشر إنما يعلمون أسماء الله من لدنه تعالى لا أنهم هم الذين يسمونه، وذلك في قوله صلى الله عليه وسلم: (أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ سَمَّيْتَ بِهِ نفسك أو أنزلته في كتبك أو علمته أحداً من خلقك أو

--------------------------------------------

(1) الإسراء: 110.

(2) البقرة: 31، 32.
এবং আলকামা, অথচ তা তেমন নয়। মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে তাঁর কোনো নাম তাঁর গুণের (সিফাত) বিরোধিতা করে না এবং তাঁর কোনো গুণও তাঁর নামের বিরোধিতা করে না।

*সতর্কীকরণ:

মহান আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্টি নয় এবং আল্লাহর নামসমূহ তাঁর সত্তা হতে পৃথক কিছু নয়, যেমনটি বিশর আল-মারিসি, ইবনুত থালজি এবং অন্যান্য ভ্রান্ত লোকেরা বলে থাকে। তারা দাবি করেছে যে, আল্লাহর নামসমূহ রূপক ও সৃষ্টি, যা মানুষ আল্লাহর জন্য উদ্ভাবন করেছে। এই উক্তির ভ্রান্তি কয়েকটি দিক থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট:

*প্রথমত: প্রতিটি সৃষ্টিই একসময় অস্তিত্বহীন ছিল এবং তা ধ্বংসশীল। এটি এই অর্থই প্রদান করে যে, মহান আল্লাহ (যিনি পবিত্র) আগে তাঁর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত ‘শক্তিশালী’ কিংবা ‘মহানুভব’ ছিলেন না, বরং পরবর্তীতে এমন হয়েছেন এবং পুনরায় তাঁর থেকে এই নামসমূহ অপসারিত হতে পারে। আল্লাহ তাদের অপবাদ ও বাতিল কথাবার্তা থেকে অনেক উর্ধ্বে।

*দ্বিতীয়ত: আল্লাহর নামসমূহ তাঁর সত্তা হতে ভিন্ন—এই কথা শিরকের দিকে নিয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা ‘আল্লাহ’ নামে ডাকো বা ‘রাহমান’ নামে ডাকো...} (১)। ফলে এদের দাবি অনুযায়ী এটি বলা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদত ও তাঁর কাছে প্রার্থনা করাকে বৈধ করেছেন যেভাবে তিনি অন্যের ইবাদতকে বৈধ করেছেন—আল্লাহ তা হতে অনেক উর্ধ্বে। বরং এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহর নামসমূহ তাঁর সত্তা থেকে ভিন্ন কিছু নয়।

*তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এমন বিষয় উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, আদম ও ফেরেশতাগণ সৃষ্টির নামসমূহ জানতেন না যতক্ষণ না আল্লাহ নিজের পক্ষ থেকে তাঁদেরকে তা শিক্ষা দিয়েছেন। মহান আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তেমনই; আল্লাহ শিক্ষা দেওয়ার আগে সৃষ্টির পক্ষে তা জানা কীভাবে সম্ভব ছিল? এটি একথাই প্রমাণ করে যে, আল্লাহই মানুষকে তাঁর নিজ নামসমূহ এবং অন্যদের নামসমূহ শিক্ষা দিয়েছেন; এমন নয় যে মানুষ তাঁর জন্য ওই নামগুলো উদ্ভাবন করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এগুলোর নাম জানাও’। তারা বলল, ‘আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’} (২)। অনুরূপভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসেও এমন বিষয় বর্ণিত হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, মানুষ আল্লাহর নামসমূহ কেবল মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই জানতে পারে, এমন নয় যে তারা নিজেরা তাঁর নামকরণ করে। তা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণী: (আমি আপনার কাছে আপনার এমন প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনার, যা দ্বারা আপনি নিজের নামকরণ করেছেন অথবা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিক্ষা দিয়েছেন অথবা...

--------------------------------------------

(১) আল-ইসরা: ১১০।

(২) আল-বাকারা: ৩১, ৩২।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
استأثرت به في علم الغيب عندك) (1) . كذا قوله تعالى: {إني أنا الله رب العالمين} (2) ، {إنه أنا الله العزيز الحكيم} (3) فيه تسميته لنفسه بذلك.

الرابع: أن المعير أغنى من المستعير، فالذين جعلوا أسماء الله مستعارة جعلوا الله عز وجل مفتقراً إلى البشر محتاجاً إليهم حيث جعلوه مستعيراً - تعالى الله عن ذلك - وجعلوا البشر معيرين.

الخامس: أن هذه الدعوى فيها استجهال الخالق سبحانه إذ كان بزعمهم هملاً لا يدري ما اسمه.

السادس: قوله تعالى في كتابه: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ * الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ * مَالِكِ يوم الدين} (4) فجعل رب العالمين هو الرحمن الرحيم وهو مالك يوم الدين، ولو كانت دعواهم صحيحة لقال: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ الْمُسَمَّى الرَّحْمَنَ الرَّحِيمَ.

فأسماؤه تعالى من حيث دلالتها على الذات بمعنى واحد وكلها هي الله، و (الله) هو أحد هذه الأسماء وبأي اسم دعوت فإنك قد دعوت الله نفسه ز

قال عثمان بن سعيد الدارمي: (وَلَنْ يَدْخُلَ الْإِيمَانُ قَلْبَ رَجُلٍ حَتَّى يَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَزَلْ إِلَهًا وَاحِدًا بجميع أسمائه وصفاته لَمْ يَحْدُثْ لَهُ مِنْهَا شَيْءٌ كَمَا لَمْ ينزل وحدانيته) .

 

‌‌6-معنى إحصاء أسماء الله تعالى التسعة والتسعين المؤدي إلى دخول الجنة:

معناه القيام بحقها والعمل بمقتضاها جميعها، وهذا المعنى يستلزم معرفتها كلها، والإحاطة بمعانيها.

--------------------------------------------

(1) حديث صحيح رواه أحمد وغيره وقد سبق، وانظر صحيح الكلم الطيب رقم 105. الطبعة الأولى - المكتب الإسلامي.

(2) القصص: 30.

(3) النمل: 9.

(4) الفاتحة: 2-4.
আপনার নিকট গায়েবি জ্ঞানে যা আপনি নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন) (১)। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, বিশ্বজগতের রব} (২), {নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, মহা প্রতাপশালী, প্রজ্ঞাময়} (৩) এতে তিনি নিজেকে এই নামে নামাঙ্কিত করেছেন।

চতুর্থ: ঋণদানকারী ঋণগ্রহীতার চেয়ে অধিক সচ্ছল হয়ে থাকে। সুতরাং যারা আল্লাহর নামসমূহকে ধার করা (রূপক) হিসেবে গণ্য করেছে, তারা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লাকে মানুষের মুখাপেক্ষী ও অভাবী সাব্যস্ত করেছে, যেহেতু তারা তাঁকে ঋণগ্রহীতা বানিয়েছে — আল্লাহ তাআলা এ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে — এবং মানুষকে তারা ঋণদানকারী বানিয়েছে।

পঞ্চম: এই দাবির মধ্যে স্রষ্টা সুবহানাহুকে অজ্ঞ প্রতিপন্ন করার বিষয়টি রয়েছে; কেননা তাদের দাবি অনুযায়ী তিনি উপেক্ষিত ছিলেন এবং জানতেন না তাঁর নাম কী।

ষষ্ঠ: তাঁর কিতাবে মহান আল্লাহর বাণী: {সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের রব। পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক} (৪)। এখানে তিনি বিশ্বজগতের রব-কে পরম করুণাময়, অতি দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। যদি তাদের দাবি সত্য হতো তবে তিনি বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজগতের রব, যাঁর নাম রাখা হয়েছে পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।"

সুতরাং আল্লাহ তাআলার নামসমূহ সত্তার ওপর নির্দেশনার দিক থেকে একই অর্থের ধারক এবং এগুলোর সবই আল্লাহ। আর 'আল্লাহ' হলো এই নামসমূহেরই একটি এবং আপনি যে নামেই ডাকুন না কেন, আপনি খোদ আল্লাহকেই ডেকেছেন।

উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি বলেছেন: (ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির অন্তরে ঈমান প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না সে বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকে তাঁর সকল নাম ও গুণাবলি সহকারে একমাত্র ইলাহ হিসেবে আছেন। তাঁর জন্য এগুলোর কোনোটিই নতুনভাবে সৃষ্টি হয়নি, যেমনিভাবে তাঁর একত্ববাদ অনাদি-অনন্ত)।

 

‌‌৬- আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি নাম আয়ত্ত করার অর্থ যা জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম হয়:

এর অর্থ হলো এগুলোর হক আদায় করা এবং এগুলোর দাবি অনুযায়ী সামগ্রিকভাবে আমল করা। আর এই অর্থটি সেগুলোর সব কটি জানা এবং সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করাকে অপরিহার্য করে।

--------------------------------------------

(১) সহিহ হাদিস, এটি আহমাদ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং ইতিপূর্বে এটি আলোচিত হয়েছে; দেখুন: সহিহুল কালিমিত তায়্যিব, নং ১০৫। প্রথম সংস্করণ - আল-মাকতাবুল ইসলামি।

(২) আল-কাসাস: ৩০।

(৩) আন-নামল: ৯।

(৪) আল-ফাতিহা: ২-৪।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
مثال: من عرف عِلم الله الْمُحِيطِ الَّذِي لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ تعبّد بمقتضى ذلك بحراسة أقواله وأفعاله وإراداته عن كل ما يغضب الله إذ كل شيء خفي أم ظهر مكشوف له سبحانه.

 

‌‌7-الإلحاد في الأسماء والصفات:

أ-معناه:

لغة: الْعُدُولُ عَنِ الْقَصْدِ، وَالْمَيْلُ وَالْجَوْرُ وَالِانْحِرَافُ، وَمِنْهُ اللَّحْدُ فِي الْقَبْرِ لِانْحِرَافِهِ إِلَى جِهَةِ الْقِبْلَةِ عن سمة الحفر.

واصطلاحاً: العدول والميل بأسمائه تعالى وصفاته عن معانيها.

 

‌‌ب-وأقسامه:

1-إلحاد المشركين المتضمن تنزيل المخلوق منزلة الخالق كتسميتهم أصنامهم آلهة واشتقاقهم أسماء لها من أسماء الله عز وجل، كالعزى من العزيز، ومناة من المنان.

2-إلحاد المشبهة تشبيه الخالق بالمخلوق، وذلك بتكييف صفاته تعالى وتشبيهها بصفات خلقه.

3-إِلْحَادُ النُفَاةِ، وَهُمْ قِسْمَانِ: قِسْمٌ أَثْبَتُوا أَلْفَاظَ أسمائه دُونَ مَا تَضَمَّنَتْهُ مِنْ صِفَاتِ الْكَمَالِ، فَقَالُوا: رَحْمَنٌ رَحِيمٌ بِلَا رَحْمَةٍ، عَلِيمٌ بِلَا عِلْمٍ، سميع بلا سمع (1) وقسم صرحوا بنفي الأسماء والمعاني (2) .

 

‌‌8-صفات الله العلي:

وهي من ناحية تعلقها بأسماء الله تعالى
(3) تنقسم إلى نوعين:

--------------------------------------------

(1) وهي عقيدة المعتزلة.

(2) وهي عقيدة الجهمية.

(3) وقد سبق تقسيمها من ناحية دلالتها في حق الله تعالى وأن منها ما هو صفة ذات، ومنها ما هو صفة فعل. انظر ص:31.
উদাহরণ: যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান সম্পর্কে অবগত হলো, যার থেকে অণু পরিমাণ বস্তুও গোপন থাকে না, সে তার কথা, কাজ এবং ইচ্ছাকে আল্লাহর ক্রোধ উদ্রেককারী সকল বিষয় থেকে রক্ষা করার মাধ্যমে ইবাদত করে; কেননা গোপন বা প্রকাশ্য সবকিছুই মহান আল্লাহর কাছে উন্মুক্ত।

 

‌‌৭- নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে ইলহাদ (বিচ্যুতি):

ক- এর অর্থ:

আভিধানিক অর্থ: উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া, ঝোঁকা, অবিচার এবং পথভ্রষ্ট হওয়া। কবরের 'লাহদ' শব্দটি এখান থেকেই এসেছে, কারণ এটি গর্তের মাঝখান থেকে কিবলার দিকে সরে যায়।

পারিভাষিক অর্থ: মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে তাদের প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং বিচ্যুত হওয়া।

 

‌‌খ- এর প্রকারভেদ:

১-মুশরিকদের ইলহাদ: যা সৃষ্টিকে স্রষ্টার স্থানে বসানোকে অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন তাদের মূর্তিদের উপাস্য নামকরণ করা এবং আল্লাহর নামসমূহ থেকে তাদের জন্য নাম বের করা। উদাহরণস্বরূপ: 'আজিজ' থেকে 'উজ্জা' এবং 'মান্নান' থেকে 'মানাত' নাম রাখা।

২-মুসাব্বিহাহদের (সাদৃশ্যদানকারী) ইলহাদ: স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা। আর তা হলো মহান আল্লাহর গুণাবলির ধরণ নির্ধারণ করা এবং সেগুলোকে সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সদৃশ করা।

৩-অস্বীকারকারীদের ইলহাদ: তারা দুই প্রকার: এক দল আল্লাহর নামের শব্দগুলোকে স্বীকার করে কিন্তু নামগুলো যে পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি অন্তর্ভুক্ত করে তা স্বীকার করে না। তারা বলে: তিনি রহমান ও রহীম কিন্তু তাঁর কোনো রহমত (দয়া) নেই, তিনি আলিম কিন্তু তাঁর কোনো ইলম (জ্ঞান) নেই, তিনি সামি' কিন্তু তাঁর কোনো শ্রবণেন্দ্রিয় নেই (১)। অন্য দল স্পষ্টভাবে নাম এবং অর্থ উভয়ই অস্বীকার করে (২)।

 

‌‌৮- মহান আল্লাহর গুণাবলি:

আল্লাহর নামের সাথে সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে
(৩) এগুলো দুই ভাগে বিভক্ত:

--------------------------------------------

(১) এটি মুতাজিলাদের আকিদা।

(২) এটি জাহমিয়াদের আকিদা।

(৩) মহান আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে এর অর্থ প্রকাশের দিক থেকে এর প্রকারভেদ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এগুলোর মধ্যে কিছু সত্তাগত গুণ এবং কিছু কর্মগত গুণ। দেখুন পৃষ্ঠা: ৩১।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أ-صفات تضمنتها أسماؤه تعالى بالاشتقاق كالعلم من العليم، والبصر من البصير، والسمع من السميع، فكل اسم من هذه الأسماء يجمع اسماً وصفة.

ب-صفات أخبر الله تعالى عن نفسه وأخبر بها رَسُولُهُ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يَشْتَقَّ منها أسماء، كحبة تعالى للمؤمنين، وكراهته انبعاث المنافقين، ومن ذلك إثبات الوجه ذي الجلال والإكرام، ويديه المبسوطتين بالإنفاق، واليد والعين والقدم.... إلخ.

 

‌‌9-معاني بعض الأسماء والصفات:

‌‌1-الرب: المالك الذي لا منازع له، والفعال لما يريد، ذو التصرف التام والتدبير المطلق لكل شيء.

 

‌‌2-ذو الجلال: الْمُتَّصِفُ بِجَمِيعِ نُعُوتِ الْجَلَالِ وَصِفَاتِ الْكَمَالِ، الْمُنَزَّهُ عن النقائص.

 

‌‌3-الكبير: أكبر [من] كل شيء، الذي السموات وَالْأَرْضُ وَمَا فِيهِنَّ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي كَفِّهِ كخردلة في كف أحد عباده، والذي له العظمة المطلقة والكبرياء.

 

‌‌4-الخالق: المقدر لإيجاد الشيء.

 

‌‌5-الباريء: المنشيء للشيء من العدم إلى الوجود، أي المنفذ لما قدره.

 

‌‌6-المصور: الممثل للمخلوقات بالعلامات التي يتميز بها بَعْضُهَا عَنْ بَعْضٍ، أَيِ الَّذِي يُنَفِّذُ مَا يريد إيجاده على الصفة التي يريدها، فأول الأمر الخلق ثم البرء ثم التصوير.

 

‌‌7-الأول: الذي ليس قبله شيء.

 

‌‌8-الآخر: الذي ليس بعده شيء.

 

‌‌9-الظاهر: الذي فوقيته وعلوه فوق كل شيء.

 

‌‌10-الباطن: المحيط بِكُلِّ شَيْءٍ بِحَيْثُ يَكُونُ أَقْرَبَ إِلَيْهِ مِنْ نفسه.
ক- মহান আল্লাহর নামসমূহ থেকে বুৎপত্তিগতভাবে গৃহীত গুণাবলি (সিফাত); যেমন ‘আল-আলীম’ (সর্বজ্ঞ) থেকে ‘ইলম’ (জ্ঞান), ‘আল-বাসীর’ (সর্বদ্রষ্টা) থেকে ‘বাসার’ (দেখা), এবং ‘আস-সামি’ (সর্বশ্রোতা) থেকে ‘সাম’ (শোনা)। সুতরাং এই নামগুলোর প্রতিটিই একটি নাম এবং একটি গুণের সমষ্টি।

খ- এমন কিছু গুণাবলি যা আল্লাহ তাআলা নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, কিন্তু সেগুলো থেকে কোনো নাম গৃহীত হয়নি। যেমন: মুমিনদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা এবং মুনাফিকদের অভিযানে বের হওয়াকে আল্লাহর অপছন্দ করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহিমা ও সম্মানের অধিকারী চেহারার (মুখমণ্ডল) স্বীকৃতি, দান করার জন্য প্রসারিত আল্লাহর দুই হাত, এবং আল্লাহর হাত, চোখ ও পা... ইত্যাদি।

 

‌‌৯- কিছু নাম ও গুণের অর্থ:

‌‌১- আর-রব: তিনি সেই মালিক বা অধিপতি যার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, এবং যিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তিনি সবকিছুর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরঙ্কুশ পরিচালনার অধিকারী।

 

‌‌২- যুল জালাল: তিনি সকল মহিমান্বিত বৈশিষ্ট্য ও পূর্ণতা দানকারী গুণের অধিকারী এবং সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র।

 

‌‌৩- আল-কাবীর: তিনি সবকিছুর চেয়ে বড়। আসমান ও জমিন এবং এগুলোর মাঝে যা কিছু আছে, তা আল্লাহর হাতের তালুতে ঠিক তেমনই, যেমন তাঁর বান্দাদের কারো হাতের তালুতে একটি সরিষার দানা। তিনি নিরঙ্কুশ মহানুভবতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।

 

‌‌৪- আল-খালিক্ব: কোনো কিছু সৃষ্টির জন্য তার পরিমাপ নির্ধারণকারী।

 

‌‌৫- আল-বারী: যিনি কোনো কিছুকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, অর্থাৎ তিনি যা নির্ধারণ করেছেন তা বাস্তবায়নকারী।

 

‌‌৬- আল-মুসাব্বির: যিনি সৃষ্টিজগতকে এমন সব বৈশিষ্ট্য দিয়ে রূপ দান করেন যার মাধ্যমে একটি থেকে অন্যটি পৃথক করা যায়। অর্থাৎ, তিনি যা সৃষ্টি করতে চান তা তাঁর পছন্দমতো আকৃতিতে বাস্তবায়ন করেন। সুতরাং প্রথম পর্যায় হলো নির্ধারণ বা পরিকল্পনা (খলক), এরপর অস্তিত্বে আনা (বারই), এরপর আকৃতি প্রদান (তাসবীর)।

 

‌‌৭- আল-আউয়াল: তিনি এমন সত্তা যাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না।

 

‌‌৮- আল-আখির: তিনি এমন সত্তা যাঁর পরে কিছুই থাকবে না।

 

‌‌৯- আয-যাহির: তিনি এমন সত্তা যাঁর উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব সবকিছুর উপরে।

 

‌‌১০- আল-বাতিন: তিনি সবকিছুর পরিবেষ্টনকারী, এমনকি তিনি কোনো সত্তার প্রতি তার নিজের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩৬)
*تنبيه: مدار هذه الأسماء الأربعة (الأول والآخر والظاهر والباطن) على الإحاطة وهي إحاطتان: زمانية (الأول والآخر) ، ومكانية (الظاهر والباطن) ، كذا ذكره ابن القيم رحمه الله.

 

‌‌11-الأحد: الَّذِي لَا ضِدَّ لَهُ وَلَا نِدَّ لَهُ وَلَا شَرِيكَ لَهُ فِي إِلَهِيَّتِهِ وَرُبُوبِيَّتِهِ، وَلَا مُتَصَرِّفَ مَعَهُ فِي ذَرَّةٍ مِنْ مَلَكُوتِهِ، وَلَا شبيه له ولا نظير في شيء من أسمائه وصفاته.

 

‌‌12-الصمد: (لهذا الاسم عدة معان كلها من صفاته تعالى) :

أ-الذي لا جوف له (1)

ب-السيد الذي يصمد إليه في الحوائج (2) .

د-الذي انتهى سؤدده وكمل في أنواع الشرف والسؤدد.

هـ- الباقي بعد خلقه.

 

‌‌13-البر:

أ-قال ابن عباس: اللطيف.

-وفي لسان العرب: العطوف الرحيم اللطيف الكريم.

--------------------------------------------

(1) قال ابن تيمية: وهو قول أكثر السلف وطائفة من أهل اللغة من أعيانهم. مجموع الفتاوى 17/214 - 215.

(2) وهو قول طائفة من السلف وأكثر الخلف، وجمهور اللغويين. وهذا القول وسابقه هما القولان المشهوران، وللسلف في اسم الصمد أقوال متعددة قد يظن أنها مختلفة وليست كذلك بل كله صواب. المصدر السابق.
সতর্কবার্তা: এই চারটি নামের (আল-আউয়াল, আল-আখির, আজ-জাহির এবং আল-বাতিন) মূল ভিত্তি হলো পরিব্যাপ্তি, যা দুই প্রকার: কালগত পরিব্যাপ্তি (আল-আউয়াল ও আল-আখির) এবং স্থানগত পরিব্যাপ্তি (আজ-জাহির ও আল-বাতিন); ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এরূপই উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌১১- আল-আহাদ: যাঁর কোনো বিরোধী নেই, কোনো সমকক্ষ নেই এবং যাঁর উলুহিয়্যত ও রুবুবিয়্যতে কোনো শরিক নেই; তাঁর রাজত্বের অণু পরিমাণ অংশেও তাঁর সাথে অন্য কোনো পরিচালক নেই এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির কোনো কিছুতেই তাঁর কোনো সদৃশ বা উপমা নেই।

 

‌‌১২- আস-সামাদ: (এই নামের বেশ কিছু অর্থ রয়েছে যার সবগুলোই মহান আল্লাহর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত):

ক- যাঁর কোনো উদর বা শূন্যগর্ভ নেই (১)

খ- সেই মহান অধিপতি, প্রয়োজন পূরণে যাঁর অভিমুখী হওয়া হয় (২)।

ঘ- যাঁর মহত্ত্ব চরম সীমায় পৌঁছেছে এবং সকল প্রকার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বে যিনি পূর্ণতা লাভ করেছেন।

ঙ- সৃষ্টির বিনাশের পরও যিনি অবশিষ্ট থাকবেন।

 

‌‌১৩- আল-বারর:

ক- ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন: পরম দয়ালু।

- এবং ‘লিসানুল আরব’ অভিধানে বলা হয়েছে: স্নেহশীল, পরম করুণাময়, সদয়, মহানুভব।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়া বলেন: এটি অধিকাংশ সালাফ এবং ভাষাবিদদের একটি বিশিষ্ট দলের অভিমত। মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/২১৪ - ২১৫।

(২) এটি সালাফদের একটি দল, অধিকাংশ পরবর্তী আলিম এবং অধিকাংশ ভাষাবিদদের অভিমত। এই উক্তিটি এবং এর পূর্বেরটি হলো প্রসিদ্ধ দুটি মত। ‘আস-সামাদ’ নামের ব্যাখ্যায় সালাফদের আরও অনেক বক্তব্য রয়েছে যা ভিন্ন মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে তা নয় বরং সবকটিই সঠিক। পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ب-وقال الضحاك: الصادق فيما وعد.

قال ابن الأثير: البر والبار بمعنى، وإنما جاء في القرآن البر دون البار.

 

‌‌14-الْمُهَيْمِنُ:

قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَمُجَاهِدٌ وَقَتَادَةُ وَالسُّدِّيُّ وَمُقَاتِلٌ: هُوَ الشَّهِيدُ عَلَى عِبَادِهِ بِأَعْمَالِهِمْ، يُقَالُ: هَيْمَنَ يُهَيْمِنُ فَهُوَ مُهَيْمِنٌ إِذَا كَانَ رَقِيبًا على الشيء.

 

‌‌15-العلي: فكل معاني العلو ثابتة له:

أ-علو القهر: فلا مغالب له ولا منازع.

ب-علو الشأن: فهو المتعالي عَنْ جَمِيعِ النَّقَائِصِ وَالْعُيُوبِ الْمُنَافِيَةِ لِإِلَهِيَّتِهِ وَرُبُوبِيَّتِهِ وأسمائه وصفاته.

جـ- علو الذات: وهو فوقيته تعالى مستوياً على عرشه.

وهذا النوع الأخير من العلو هو الذي ضل فيه من ضل، أما الأولان فلم يُخَالِفْ فِيهِمَا أَحَدٌ مِمَّنْ يَدَّعِي الْإِسْلَامَ وَيَنْتَسِبُ إليه.

 

*‌‌الأدلة على فوقيته سبحانه وتعالى من الكتاب والسنة:

علو الذات ثابت عند أهل السنة والجماعة بأدلة كثيرة منها:

1-الأسماء الحسنى الدالة على العلو بكل معانية، كاسمه العلي واسمه الأعلى وغيرهما.

2-التصريح باستوائه تعالى على عرشه في آيات كثيرة (1) وأحاديث متعددة.

3-التصريح بفوقيته تعالى، كما في قوله تعالى: {يخافون ربهم من

--------------------------------------------

(1) ذكر الله تعالى استواءه على عرشه في سبعة مواضع منها قوله تَعَالَى فِي سُورَةِ طه: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ استوى} آية 5، وقوله: {ثم استوى على العرش} في ستة مواضع الأعراف: 54، يونس: 3، الرعد: 2، الفرقان: 59، السجدة 4، الحديد 4.
খ- দাহহাক বলেছেন: তিনি তাঁর ওয়াদায় সত্যবাদী।

ইবনুল আসীর বলেছেন: আল-বারর এবং আল-বার একই অর্থবোধক, তবে কুরআনে শুধু আল-বারর শব্দটিই এসেছে, আল-বার আসেনি।

 

‌‌১৪- আল-মুহাইমিন:

ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ, কাতাদাহ, সুদ্দী এবং মুকাতিল বলেছেন: তিনি তাঁর বান্দাদের আমলের ওপর সাক্ষী। বলা হয়: 'হাইমানা ইউহাইমিনু ফাহুওয়া মুহাইমিন' যখন কেউ কোনো কিছুর ওপর পর্যবেক্ষক হয়।

 

‌‌১৫- আল-আলী: উচ্চতার সকল অর্থ তাঁর জন্য সাব্যস্ত:

ক- পরাক্রমের উচ্চতা: তাঁর কোনো বিজয়ী বা প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

খ- মর্যাদাগত উচ্চতা: তিনি তাঁর ইলাহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির পরিপন্থী সকল ত্রুটি ও বিচ্যুতি থেকে ঊর্ধ্বে।

গ- সত্তাগত উচ্চতা: আর তা হলো মহান আল্লাহর তাঁর আরশের ওপর উঠে অবস্থান করার মাধ্যমে তাঁর উচ্চতা।

উচ্চতার এই শেষ প্রকারটি নিয়েই বিভ্রান্তরা বিভ্রান্ত হয়েছে; আর প্রথম দুই প্রকারের ক্ষেত্রে ইসলাম দাবিদার বা ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত কেউই দ্বিমত পোষণ করেনি।

 

*‌‌কুরআন ও সুন্নাহ থেকে মহান আল্লাহর উচ্চতার প্রমাণাদি:

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট সত্তাগত উচ্চতা অনেক প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত, যার মধ্যে রয়েছে:

১-উচ্চতার সকল অর্থ বহনকারী সুন্দর নামসমূহ, যেমন তাঁর নাম আল-আলী এবং তাঁর নাম আল-আ'লা সহ অন্যান্য।

২-অনেক আয়াতে (১) এবং বিভিন্ন হাদীসে মহান আল্লাহর আরশের ওপর উঠার সুস্পষ্ট বর্ণনা।

৩-মহান আল্লাহর উচ্চতার সুস্পষ্ট বর্ণনা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে যারা তাদের উপর...

--------------------------------------------

(১) মহান আল্লাহ তাঁর আরশের ওপর উঠার কথা সাতটি স্থানে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে সূরা ত্বহা-তে মহান আল্লাহর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন} আয়াত ৫, এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠলেন} যা অন্য ছয়টি স্থানে রয়েছে: আল-আ'রাফ: ৫৪, ইউনুস: ৩, আর-রাদ: ২, আল-ফুরকান: ৫৯, আস-সাজদাহ: ৪, আল-হাদীদ: ৪।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩৮)
فوقهم} (1) ، وكما في صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: كَانَتْ زَيْنَبُ رضي الله عنها تَفْتَخِرُ عَلَى أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَتَقُولُ: "زوَّجكن أَهَالِيكُنَّ وَزَوَّجَنِي اللَّهُ مِنْ فَوْقِ سبع سموات" (2) .

4-التصريح بأنه تعالى في السماء: قال تَعَالَى: {أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ ربكم الأرض فإذا هي تمور} (3) ، وقوله تعالى: {من في السماء} أي: عليها أو فوقها، كما قال تعالى: {فسيحوا في الأرض} (4) أي: عليها. وكما في قوله تعالى حكاية عن فرعون: {ولأصلبنكم في جذوع النخل} (5) أي: عليها.

ومن ذلك حديث رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ سأل الجارية: (أَيْنَ اللَّهُ) ؟ قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ. قَالَ: (مَنْ أَنَا) ؟ قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ - اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فقال لسيدها معاوية بن الحكم: (أَعْتِقْهَا فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ) . أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ وَأَبُو دَاوُدَ والنسائي وغير واحد من الأئمة.

5-التصريح باختصاص بعض الأشياء بأنها عنده كقوله تَعَالَى: {إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عن عبادته} (6) ، وَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: (إِنَّ اللَّهَ لَمَّا قَضَى الْخَلْقَ كَتَبَ عِنْدَهُ فَوْقَ عَرْشِهِ إن رحمتي سبقت غضبي) رواه البخاري ومسلم.

--------------------------------------------

(1) النحل: 50.

(2) وقد ذكر المصنف رحمه الله قوله صلى الله عليه وسلم لسعد (لَقَدْ حَكَمْتَ فِيهِمْ بِحُكْمِ الْمَلِكِ مِنْ فَوْقِ سبعة أرقعة) - أي سماوات - وقال: وأصله في الصحيحين ولكن أخرجاه عن أبي سعيد الخدري دون قوله: (من فوق سبعة أرقعة) فهذا ضعيف … انظر تعليق الشيخ الألباني على فقه السيرة ص336.

(3) الملك: 16.

(4) التوبة: 2.

(5) طه: 71.

(6) الأعراف: 206.
তাদের উপরে} (১), এবং যেমনটি সহীহ বুখারীতে আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: যয়নব (রা.) নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের সামনে গর্ব করে বলতেন: "তোমাদের পরিবার তোমাদের বিয়ে দিয়েছে, আর আল্লাহ সাত আসমানের উপর থেকে আমার বিয়ে দিয়েছেন" (২)।

৪-আল্লাহ তাআলা যে আকাশে আছেন তার সুস্পষ্ট বর্ণনা: আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা কি তাঁর থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ যিনি আকাশে আছেন যে, তিনি তোমাদেরকে জমিনে ধসিয়ে দেবেন না? এমতাবস্থায় যে, তা প্রকম্পিত হতে থাকবে} (৩)। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {যিনি আকাশে আছেন} এর অর্থ হলো: তার উপরে বা তার ঊর্ধ্বে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {জমিনে বিচরণ করো} (৪) অর্থাৎ তার উপরে। এবং যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে ফেরাউনের উক্তি হিসেবে এসেছে: {এবং আমি অবশ্যই তোমাদেরকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়াবো} (৫) অর্থাৎ তার উপরে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস, যখন তিনি দাসীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: (আল্লাহ কোথায়?) সে বলল: আকাশে। তিনি বললেন: (আমি কে?) সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল (সা.)। তখন তিনি তার মালিক মুআবিয়া বিন হাকামকে বললেন: (তাকে মুক্ত করে দাও, কেননা সে মুমিনাহ)। এটি মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং আরও একাধিক ইমাম বর্ণনা করেছেন।

৫-কিছু বিষয় নির্দিষ্টভাবে তাঁর কাছে থাকার সুস্পষ্ট বর্ণনা, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই যারা তোমার রবের কাছে আছে তারা তাঁর ইবাদত থেকে অহংকার করে না} (৬), এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন সৃষ্টি নির্ধারণ করলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে আরশের উপরে লিখে রাখলেন যে: নিশ্চয়ই আমার দয়া আমার ক্রোধের ওপর অগ্রগামী হয়েছে) বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আন-নাহল: ৫০।

(২) লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) সাদ (রা.)-এর প্রতি নবী (সা.)-এর উক্তি উল্লেখ করেছেন: (তুমি তাদের ব্যাপারে সাত স্তরের আসমানের উপর থেকে মালিকের ফয়সালা অনুযায়ী বিচার করেছ)। তিনি বলেন: এর মূল সহীহায়নে রয়েছে, কিন্তু তারা এটি আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে (সাত স্তরের আসমানের উপর থেকে) কথাটি ছাড়া। সুতরাং এটি দুর্বল... দেখুন ফিকহুস সীরাহ-এর ওপর শেখ আলবানীর টীকা, পৃ. ৩৩৬।

(৩) আল-মুলক: ১৬।

(৪) আত-তাওবাহ: ২।

(৫) ত্বহা: ৭১।

(৬) আল-আরাফ: ২০৬।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৩৯)
6-الرفع والصعود والعروج إليه تبارك وتعالى، فمن ذلك:

أ-رفع عيسى عليه السلام كما في قوله تعالى: {بل رفعه الله إليه} (1) .

ب-صعود الأعمال إليه، كما في قَوْلِهِ: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يرفعه} (2) .

جـ- صعود الأرواح إليه، كما في حديث البراء الطويل الصحيح، وفيه أن الملائكة تصعد بروح المؤمن حتى السماء السابعة فيقول الله تعالى: (أعيدوه … ) الحديث (3) .

د-عروج الملائكة والروح إليه:

قال تعالى: {تعرج الملائكة والروح إليه} (4) ، وفي حديث الصحيحين (يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل والنهار وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْعَصْرِ وَصَلَاةِ الْفَجْرِ ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بهم … ) الحديث.

هـ-مِعْرَاجُ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم إِلَى سِدْرَةِ الْمُنْتَهَى وَإِلَى حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ كما ثبت في الأحاديث الصحيحة المشهورة. وسيأتي بيان ذلك في الباب الأخير من الكتاب إن شاء الله تعالى.

7-التَّصْرِيحُ بِنُزُولِهِ تبارك وتعالى، كَمَا فِي الصَّحِيحَيْنِ: (ينزل ربنا كل ليلة إلى سماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر فيقول: من يدعوني فاستجب لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ له) .

8-تَنَزُّلُ الْمَلَائِكَةِ وَنُزُولُ الْأَمْرِ مِنْ عِنْدِهِ وَتَنْزِيلُ الكتاب من كما في كثير من الآيات.

--------------------------------------------

(1) النساء: 158.

(2) فاطر: 10.

(3) صححه الألباني. انظر التعليق على شرح الطحاوية ص385، أحكام الجنائز ص156-159، ومختصر العلو حديث 36.

(4) المعارج: 4.
৬-তাঁর (আল্লাহর) দিকে উঠানো, আরোহণ করা এবং ঊর্ধ্বগমন করা, যার মধ্যে রয়েছে:

ক- ঈসা আলাইহিস সালামকে উপরে উঠানো, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বরং আল্লাহ তাঁকে তাঁর নিজের দিকে উঠিয়ে নিয়েছেন} (১)।

খ- আমলসমূহ তাঁর দিকে আরোহণ করা, যেমন তাঁর বাণীতে রয়েছে: {তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্ম সেটিকে উন্নীত করে} (২)।

গ- রূহ বা আত্মাসমূহ তাঁর দিকে আরোহণ করা, যেমন বারা ইবনে আযিব বর্ণিত দীর্ঘ সহীহ হাদীসে এসেছে, তাতে রয়েছে যে ফেরেশতারা মুমিনের রূহ নিয়ে সপ্তম আকাশ পর্যন্ত আরোহণ করেন, তখন মহান আল্লাহ বলেন: (তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও … ) হাদীস (৩)।

ঘ- ফেরেশতাগণ এবং রূহ (জিবরীল)-এর তাঁর দিকে ঊর্ধ্বগমন করা:

মহান আল্লাহ বলেন: {ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাঁর দিকে ঊর্ধ্বগমন করে} (৪), এবং বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে রয়েছে (তোমাদের নিকট রাতে ও দিনে পালাক্রমে ফেরেশতাগণ যাতায়াত করেন এবং তাঁরা আসর ও ফজরের সালাতে একত্রিত হন, অতঃপর যারা তোমাদের মাঝে রাত যাপন করেছিলেন তাঁরা ঊর্ধ্বগমন করেন, তখন তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন—অথচ তিনি তাঁদের সম্পর্কে সম্যক অবগত— … ) হাদীস।

ঙ- আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত এবং আল্লাহ যেখানে চেয়েছেন সেখানে মিরাজ বা ঊর্ধ্বগমন, যেমনটি প্রসিদ্ধ সহীহ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ কিতাবের শেষ পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

৭-মহান আল্লাহর (নিচে) নামার সুস্পষ্ট বর্ণনা, যেমনটি বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে রয়েছে: (আমাদের রব প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বলেন: কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে যে আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?)।

৮-ফেরেশতাদের অবতরণ, তাঁর পক্ষ থেকে নির্দেশের অবতরণ এবং তাঁর পক্ষ থেকে কিতাব অবতীর্ণ হওয়া, যেমনটি অনেক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আন-নিসা: ১৫৮।

(২) ফাতির: ১০।

(৩) আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন: শারহুত তাহাবিয়্যাহ-এর টীকা পৃ. ৩৮৫, আহকামুল জানাইয পৃ. ১৫৬-১৫৯ এবং মুখতাসারুল উলু হাদীস ৩৬।

(৪) আল-মাআরিজ: ৪।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু মাআরিজিল কবুল (পৃষ্ঠা: ৪০)
9-رفع الأيدي إليه تعالى في الدعاء: وقد ورد فيه أَكْثَرُ مِنْ مِائَةِ حَدِيثٍ فِي وَقَائِعَ مُتَفَرِّقَةٍ، وكذلك رفع البصر إليه كما في حديث ابن مسعود: (يجمع الله الأولين والآخرين لميقات يوم معلوم أَرْبَعِينَ سَنَةً شَاخِصَةً أَبْصَارُهُمْ إِلَى السَّمَاءِ يَنْتَظِرُونَ فصل القضاء … ) الحديث. قال الذهبي: إسناده حسن (1) .

وفي حديث ابن عباس عند البخاري فِي خُطْبَتِهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ النحر: ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: (اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ، اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ) الْحَدِيثَ.

10-النُّصُوصُ الْوَارِدَةُ فِي ذكر العرش وإضافته غالباً إلى خلقه تبارك وتعالى، وأنه تعالى فوقه {رفيع الدرجات ذو العرش} (2) ، {الرحمن على العرش استوى} (3) ، وَفِي الصَّحِيحِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِهِ كُلُّ دَرَجَتَيْنِ مَا بَيْنَهُمَا كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَسَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ وأعلى الجنة وفوق عرش الرحمن ومنه تفجر أنهار الجنة".

11-مَا قَصَّهُ اللَّهُ تَعَالَى عَنْ فِرْعَوْنَ لَعَنَهُ الله في تكذيبه موسى عليه السلام أَنَّ إِلَهَهُ اللَّهُ عز وجل الْعَلِيُّ الْأَعْلَى، قال تعالى: {وقال فرعون يا هامان ابْنِ لِي صَرْحًا لَعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ أَسْبَابَ السموات فأطلع إلى إله موسى} (4) . ففرعون كذب موسى في أن رب السموات وَالْأَرْضِ وَرَبَّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا هُوَ اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ فَوْقَ جَمِيعِ خَلْقِهِ مُبَايِنٌ لَهُمْ لَا تَخْفَى عَلَيْهِ مِنْهُمْ خَافِيَةٌ.

12-ما قصه تعالى في قصة تكليمه لموسى حين تجلى للجبل فاندك الجبل.

--------------------------------------------

(1) قال الألباني: هو كما قال أو أعلى. مختصر العلو ص111.

(2) غافر: 15.

(3) طه: 5.

(4) غافر: 36، 37.
৯-দোয়ার সময় মহান আল্লাহর দিকে হাত তোলা: এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে একশরও বেশি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে তাঁর দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করা, যেমনটি ইবনে মাসউদের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: (আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে এক নির্দিষ্ট সময়ের উপস্থিতির জন্য একত্রিত করবেন; চল্লিশ বছর পর্যন্ত তাদের দৃষ্টি আকাশের দিকে স্থির হয়ে থাকবে এবং তারা চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য অপেক্ষা করবে...) হাদিসটি। ইমাম যাহাবি বলেন: এর সনদ হাসান (১)।

সহিহ বুখারিতে ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানির দিনের খুতবায় তাঁর মাথা তুললেন এবং বললেন: (হে আল্লাহ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?) - হাদিসটি।

১০-আরশ সম্পর্কে বর্ণিত নসসমূহ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে একে মহান আল্লাহর সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত করা, আর আল্লাহ তাআলা স্বয়ং এর উপরে রয়েছেন; যেমন মহান আল্লাহ বলেন: "উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন, আরশের মালিক।" (২), "পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন।" (৩)। আর সহিহ হাদিসে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে যা আল্লাহ তাঁর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছেন। প্রতি দুই স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। সুতরাং তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন জান্নাতুল ফিরদাউস চাইবে। কারণ এটি জান্নাতের মধ্যবর্তী ও সর্বোচ্চ স্তর এবং এর উপরেই রয়েছে পরম করুণাময়ের আরশ, আর সেখান থেকেই জান্নাতের নদীসমূহ প্রবাহিত হয়।"

১১-মুসা আলাইহিস সালাম যখন বলেছিলেন যে তাঁর উপাস্য হলেন সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ, তখন ফিরাউন (আল্লাহ তাকে লানত করুন) কর্তৃক তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার যে ঘটনা আল্লাহ বর্ণনা করেছেন; মহান আল্লাহ বলেন: "ফিরাউন বলল, হে হামান! আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি অবলম্বনসমূহ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারি—আকাশমন্ডলীর অবলম্বনসমূহ—যাতে আমি মুসার উপাস্যকে উঁকি দিয়ে দেখতে পারি।" (৪)। সুতরাং ফিরাউন মুসা আলাইহিস সালামকে এ বিষয়ে মিথ্যাবাদী বলেছিল যে, আসমান-জমিন, পূর্ব-পশ্চিম ও তাদের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব হচ্ছেন সেই আল্লাহ, যিনি আকাশের উপরে তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ঊর্ধ্বে রয়েছেন, যিনি সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক এবং তাদের কোনো বিষয়ই তাঁর কাছে গোপন নয়।

১২-মুসা আলাইহিস সালামের সাথে তাঁর কথা বলার ঘটনায় আল্লাহ তাআলা যা বর্ণনা করেছেন—যখন তিনি পাহাড়ের নিকট আপন জ্যোতি প্রকাশ করলেন এবং পাহাড় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল।

--------------------------------------------

(১) আলবানি বলেন: বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি (যাহাবি) বলেছেন অথবা তার চেয়েও উচ্চতর। মুখতাসারুল উলুউ, পৃষ্ঠা ১১১।

(২) সুরা গাফির: ১৫।

(৩) সুরা ত্বহা: ৫।

(৪) সুরা গাফির: ৩৬, ৩৭।