(খণ্ড: ১) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: -)
إبطال التأويلات - ط إيلاف   (القاضي أبو يعلى ابن الفراء)

القسم: العقيدة


الكتاب: إبطال التأويلات لأخبار الصفات

المؤلف: القاضي أبو يعلى محمد بن الحسين بن الفراء (ت 458 هـ)

تحقيق ودراسة: أبي عبد الله محمد بن حمد الحمود النجدي

الناشر: دار إيلاف الدولية - الكويت

الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1995 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

هذه الطبعة: ينقصها الجزء 3، وقد أعاد المحقق طبع الكتاب كاملا لدى دار غراس (وهي بالشاملة)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবতালুত তাবীলত - ইলাফ সংস্করণ   (আল-কাজী আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা)

বিভাগ: আক্বিদা


বই: ইবতালুত তাবীলত লি আখবারিস সিফাত (আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহের ব্যাখ্যার অসারতা প্রমাণ)

লেখক: আল-কাজী আবু ইয়ালা মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনুল ফারা (মৃত্যু ৪৫৮ হি.)

তাহকীক ও গবেষণা: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন হামাদ আল-হামুদ আন-নাজদী

প্রকাশক: দারু ইলাফ আদ-দুওয়ালিয়্যাহ - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৬ হি. - ১৯৯৫ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

এই সংস্করণ: এতে ৩য় খণ্ডটি নেই, এবং গবেষক দারু গিলাস থেকে পূর্ণাঙ্গ বইটি পুনরায় মুদ্রণ করেছেন (যা শামিলা লাইব্রেরিতে রয়েছে)

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٤١)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمَحْمُودِ عَلَى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ، الْمُتَفَرِّدِ بِالْعِزِّ وَالْعَظَمَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ، الْعَالِمِ قَبْلَ وُجُودِ الْمَعْلُومَاتِ، وَالْبَاقِي بَعْدَ فَنَاءِ الْمَوْجُودَاتِ، الْمُبْتَدِئِ بِالنِّعَمِ قَبْلَ اسْتِحْقَاقِهَا، الْمُتَكَفِّلِ لِلْبَرِيَّةِ بِأَرْزَاقِهَا، أَحْمَدُهُ حَمْدًا يُرْضِيهِ، وَأَسْتَعِينُهُ عَلَى حَبْسِ خَوَاطِرِ النَّفْسِ عَنْ هَوَاهَا، وَمَنْعِ بَوَادِرِهَا مِنَ السَّطْوَةِ عَلَى مُرَادِهَا، وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، أَرْسَلَهُ اللَّهُ بِالْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكِونَ، فَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَعَلَى أَصْحَابِهِ وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَسَلَّمَ.

أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّنِي وَقَفْتُ عَلَى حَاجَتِكُمْ إِلَى شَرْحِ كِتَابٍ نَذْكُرُ فِيهِ مَا اشْتُهِرَ مِنَ الأَحَادِيثِ الْمَرْوِيَّةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، فِي الصِّفَاتِ، وَصَحَّ سَنَدُهُ مِنْ غَيْرِ طَعْنٍ فِيهِ ما يوهم ظواهرها التشبيه، وَأَذْكُرُ الإِسْنَادَ فِي بَعْضِهَا وَأَعْتَمِدُ عَلَى الْمَتْنِ فِيمَا اشْتُهِرَ مِنْهَا طَلَبًا لِلاخْتِصَارِ وَسَأَلْتُمْ أَنْ أَتَأَمَّلَ مُصَنَّفَ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ فُورَكٍ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুসময় ও দুঃসময় সর্বাবস্থায় প্রশংসিত, যিনি সম্মান, মহত্ত্ব ও গরিমানায় একক, যিনি কোনো কিছু অস্তিত্বে আসার পূর্বেই সে সম্পর্কে পরিজ্ঞাত এবং অস্তিত্বশীল সকল বস্তুর বিনাশের পরেও চিরস্থায়ী। যিনি কোনো অধিকার অর্জনের পূর্বেই অনুগ্রহ দান শুরু করেন এবং সৃষ্টিজগতের জীবিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করছি যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে এবং নফসের কুমন্ত্রণাকে তার প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত রাখতে এবং লক্ষ্য অর্জনে তার আকস্মিক চড়াও হওয়া রোধ করতে তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল; আল্লাহ তাঁকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন যেন তিনি একে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ ও তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলি সম্পর্কে বর্ণিত এমন সব প্রসিদ্ধ হাদিসের ব্যাখ্যা সংবলিত একটি গ্রন্থের প্রতি আপনাদের প্রয়োজনীয়তা আমি অবগত হয়েছি, যেগুলোর সনদ সহিহ এবং কোনো প্রকার ত্রুটিমুক্ত, যদিও সেগুলোর বাহ্যিক শব্দাবলি সাদৃশ্যের ভ্রম সৃষ্টি করতে পারে। আমি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে কোনো কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে সনদ উল্লেখ করব এবং প্রসিদ্ধ হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে কেবল মূল পাঠের ওপর নির্ভর করব। আপনারা আমাকে মুহাম্মদ বিন হাসান বিন ফুরাকের সংকলনটি গভীরভাবে পর্যালোচনার অনুরোধ করেছেন।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
الَّذِي سَمَّاهُ كِتَابَ تَأْوِيلِ الأَخْبَارِ جَمَعَ فِيهِ هَذِهِ الأَخْبَارَ وَتَأَوَّلَهَا، فَتَأَمَّلْنَا ذَلِكَ وَبَيَّنَّا مَا ذَهَبَ فِيهِ عَنِ الصَّوَابِ فِي تَأْوِيلِهِ، وَأَوْهَمَ خِلافَ الْحَقِّ فِي تَخْرِيجِهِ، وَلَوْلا مَا أَخَذَ اللَّهُ عَلَى الْعُلَمَاءِ مِنَ الْمِيثَاقِ عَلَى تَرْكِ كِتْمَانِ الْعِلْمِ، لَقَدْ كَانَ التَّشَاغُلُ بِغَيْرِ ذَلِكَ أَوْلَى.

 

1 - لِلْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ جَعْفَرٍ مِنْ أَصْحَابِنَا بِإِسْنَادِهِ فِيمَا وَقَعَ إِلَيَّ فِي جَوَابَاتِ مَسَائِلَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ قَوْمًا سَأَلُوا النَّبِيَّ، صلى الله عليه وسلم، عَنْ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الرَّبِّ، تبارك وتعالى، فَلَعَنَهُمْ.

 

2 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم: " لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُكْفَرَ بِاللَّهِ جَهْرَةً " وَذَلِكَ عِنْدَ كَلامِهِمْ فِي رَبِّهِمْ وَفِي تَرْكِ التَّشَاغُلِ بِذَلِكَ كِتْمَانٌ لِلْعِلْمِ
যাকে তিনি 'কিতাবু তাওয়ীলিল আখবার' নামকরণ করেছেন, তাতে তিনি এই সংবাদগুলো একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন। অতঃপর আমরা তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তার ব্যাখ্যায় যা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তা স্পষ্ট করেছি, যা এর বিশ্লেষণে সত্যের বিপরীত ধারণার উদ্রেক করেছিল। আর আল্লাহ যদি আলেমদের কাছ থেকে ইলম গোপন না করার ব্যাপারে অঙ্গীকার না নিতেন, তবে এ ছাড়া অন্য কিছুতে মনোনিবেশ করাই শ্রেয় হতো।

 

১ - সেই হাদিসের প্রেক্ষিতে যা আমাদের সহকর্মীদের মধ্য থেকে আবু বকর আব্দুল আজিজ বিন জাফর তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন—যা মাসআলার উত্তর হিসেবে আমার কাছে পৌঁছেছে—আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বরকতময় ও সুউচ্চ রবের কোনো বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল, ফলে তিনি তাদের অভিশাপ দিয়েছিলেন।

 

২ - এবং তাঁর সনদে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না প্রকাশ্যে আল্লাহর সাথে কুফরি করা হবে।" আর তা হবে তাদের রব সম্পর্কে তাদের আলোচনার সময়; এমতাবস্থায় এ বিষয়ে আলোচনা বর্জন করা হবে ইলম গোপন করার শামিল।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
لا يُنَافِي بَيْنَ نَافِي لِجَمِيعِ الصِّفَاتِ وَهُمُ الْقَدَرِيَّةِ وَبَيْنَ مُثْبِتٍ لِبَعْضِهَا وَنَافٍ لِبَعْضِهَا، وَنَهَى النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم، عَنِ الْكَلامِ فِي ذَلِكَ، مَحْمُولٌ عَلَى مَنْ تَكَلَّمَ بِمَا يُنَافِي مَا وَرَدَ بِهِ الْقُرْآنُ، وَجَاءَتْ بِهِ الأَخْبَارُ كَالنَّصَارَى الَّذِينَ وَصَفُوهُ سُبْحَانَهُ بِالْجَوْهَرِ، وَالْمُجَسَّمَةِ الَّذِينَ وَصَفُوهُ بِالْجِسْمِ، وَالْمُشَبَّهَةِ الَّذِينَ شَبَّهُوا صِفَاتِهِ بِصِفَاتِ خَلْقِهِ.

 

3 - وَقَدْ أَنْكَرَ أَحْمَدُ التَّشْبِيهَ، فَقَالَ فِي رِوَايَةِ حَنْبَلٍ: الْمُشَبَّهَةُ تَقُولُ: بَصَرٌ كَبَصَرِي، وَيَدٌ كَيَدِي، وَقَدَمٌ كَقَدَمِي، وَمَنْ قَالَ ذَلِكَ فَقَدْ شَبَّهَ اللَّهَ بِخَلْقِهِ.

 

4 - وَقَالَ فِي رِوَايَةِ يُوسُف بْنِ مُوسَى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (الشورى: 12).

 

وَلا يَجُوزُ أَنْ يُحْمَلَ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ عَلَى ذَمِّ مُثْبِتِي الصِّفَاتِ لأَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ وَقَدْ وَصَفَ نَفْسَهُ فِي كِتَابِهِ فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ، وَوَصَفَهُ رَسُولُهُ بِالأَحَادِيثِ الصِّحَاحِ، وَأَثْبَتَ ذَلِكَ سَلَفُ هَذِهِ الأُمَّةِ، عَلَى مَا نُبَيِّنُهُ فَلَمْ يَبْقَ إِلا أَنْ يُحْمَلَ عَلَى مَا ذَكَرْنَا مِمَّنْ تَكَلَّمَ فِيهِ بِمَا لَمْ يَرِدْ بِهِ الشَّرْعُ.

وَأَعْلَمُ أَنَّهُ لا يَجُوزُ رَدُّ هَذِهِ الأَخْبَارِ عَلَى مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ جَمَاعَةٌ مِنَ الْمُعْتَزِلَةِ، وَلا التَّشَاغُلُ بِتَأْوِيلِهَا عَلَى مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ الأَشْعَرِيَّةُ وَالْوَاجِبُ حَمْلُهَا عَلَى ظَاهِرِهَا، وَأَنَّهَا صِفَاتٌ لِلَّهِ تَعَالَى لا تُشْبِهُ سَائِرَ الْمَوْصُوفِينَ بِهَا مِنَ الْخَلْقِ، وَلا نَعْتَقِدُ التَّشْبِيهَ فِيهَا، لَكِنْ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ شَيْخِنَا وَإِمَامِنَا أَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ، وَغَيْرِهِ مِنْ
সকল সিফাত অস্বীকারকারী কাদারিয়্যাহ এবং কিছু সাব্যস্তকারী ও কিছু অস্বীকারকারীদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বিষয়ে আলোচনা করতে নিষেধ করেছেন, যা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা কুরআন ও হাদিসে যা এসেছে তার পরিপন্থী কথা বলে; যেমন খ্রিস্টানরা যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে 'মৌলকণা' হিসেবে বর্ণনা করেছে, এবং মুজাসসিমা যারা তাঁকে 'দেহ' হিসেবে বর্ণনা করেছে, আর মুশাব্বিহা যারা তাঁর সিফাতসমূহকে তাঁর সৃষ্টির সিফাতের সাথে তুলনা করেছে।

 

৩ - আহমদ সাদৃশ্য প্রদানকে অস্বীকার করেছেন। তিনি হাম্বল-এর বর্ণনায় বলেছেন: মুশাব্বিহারা বলে: 'দৃষ্টি আমার দৃষ্টির মতো, আল্লাহর হাত আমার হাতের মতো, আল্লাহর পা আমার পায়ের মতো।' যে ব্যক্তি এমনটি বলবে সে আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল।

 

৪ - আর তিনি ইউসুফ ইবনে মূসা-র বর্ণনায় বলেছেন: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা" (আশ-শূরা: ১১)।

 

আবু হুরাইরাহ-র হাদিসকে সিফাত সাব্যস্তকারীদের নিন্দার ক্ষেত্রে গ্রহণ করা জায়েজ নয়। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে বিভিন্ন স্থানে নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর রাসুল সহিহ হাদিসের মাধ্যমে তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন, আর এই উম্মতের সালাফগণ তা সাব্যস্ত করেছেন। আমরা যা বর্ণনা করব সে অনুযায়ী এটি তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই যারা এ বিষয়ে এমন কথা বলেছে যা শরিয়তে আসেনি।

জেনে রাখুন যে, একদল মুতাজিলাদের মতানুসারে এই বর্ণনাগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা জায়েজ নয়, এবং আশআরিদের মতানুসারে এগুলোর ব্যাখ্যার পেছনে পড়াও জায়েজ নয়। বরং ওয়াজিব হলো এগুলোকে তাদের প্রকাশ্য অর্থের ওপর রাখা এবং বিশ্বাস করা যে এগুলো আল্লাহ তাআলার সিফাত যা সেই সিফাতধারী সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য রাখে না। আমরা এগুলোতে কোনো সাদৃশ্য প্রদানে বিশ্বাস করি না, বরং আমাদের শায়খ ও ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল এবং অন্যান্যদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সেই অনুযায়ী (বিশ্বাস করি)।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٤٤)
أَئِمَّةِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ، أَنَّهُمْ قَالُوا فِي هَذِهِ الأَخْبَارِ: أَمِرُّوهَا كَمَا جَاءَتْ، فَحَمَلُوهَا عَلَى ظَاهِرِهَا فِي أَنَّهَا صِفَاتٌ لِلَّهِ تَعَالَى لا تُشْبِهُ سَائِرَ الْمَوْصُوفِينَ

 

5 - فَقَالَ أَحْمَدُ فِي رِسَالَةِ عَبْدُوسِ بْنِ مَالِكٍ الْعَطَّارِ: يَجِبُ الإِيمَانُ بِالْقَدَرِ، وَبِالأَحَادِيثِ فِيهِ، وَمِثْلِ أَحَادِيثِ الرُّؤْيَةِ كُلِّهَا، وَإِنْ ثَبَتَ عَنِ الأَسْمَاعِ وَاسْتَوْحَشَ مِنْهَا الْمُسْتَمِعُ.

 

6 - وَقَالَ فِي رِوَايَةِ حَنْبَلٍ: وَلا نُزِيلُ عَنْهُ صِفَةً مِنْ صِفَاتِهِ لِشَنَاعَاتٍ شُنِّعَتْ.

 

7 - وَقَالَ فِي رِوَايَةِ الْمَرُّوذِيِّ: أَحَادِيثُ الصِّفَاتِ تَمُرُّ كَمَا جَاءَتْ.
হাদিস বিশারদ ইমামগণ—তাঁরা এই বর্ণনাগুলো সম্পর্কে বলেছেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই এগুলোকে অতিবাহিত করো। অতঃপর তাঁরা এগুলোকে এগুলোর বাহ্যিক অর্থের ওপর প্রয়োগ করেছেন এই হিসেবে যে, এগুলো মহান আল্লাহর গুণাবলি যা অন্যান্য গুণান্বিতদের সদৃশ নয়।

 

৫ - ইমাম আহমাদ আবদুস বিন মালিক আল-আত্তারের পত্রে বলেছেন: তাকদির এবং এ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ, এবং রুইয়াত বা আল্লাহর দর্শন সংক্রান্ত সকল হাদিসের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব; যদিও তা শ্রবণে বিরূপ মনে হয় এবং শ্রবণকারী তা শুনে শঙ্কা বোধ করে।

 

৬ - হানবালের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: কোনো নিন্দুকের নিন্দার কারণে আমরা আল্লাহর কোনো গুণকেই তাঁর সত্তা থেকে অপসারিত করি না।

 

৭ - আল-মাররুজীর বর্ণনায় তিনি বলেছেন: গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিসগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিবাহিত করতে হবে।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٤٥)
8 - وَقَالَ فِي رِوَايَةِ أَبِي طَالِبٍ: " قَلْبُ الْعَبْدِ بَيْنَ أُصْبُعَيْنِ "، " وَخَلَقَ آدَمَ بِيَدِهِ "، وَكُلَّمَا جَاءَ الْحَدِيثُ مِثْلَ هَذَا قُلْنَا بِهِ

 

9 - وَقَالَ فِي رِوَايَةِ حَنْبَلٍ فِي الأَحَادِيثِ الَّتِي تُرْوَى: " إِنَّ اللَّهَ، تبارك وتعالى، يَنْزِلُ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا " وَاللَّهُ يُرَى " وَأَنَّهُ يَضَعُ قَدَمَهُ " وَمَا أَشْبَهُ بِذَلِكَ، نُؤْمِنُ بِهَا وَنُصَدِّقُ بِهَا وَلا كَيْفَ وَلا مَعْنَى وَلا نَرُدُّ شَيْئًا مِنْهَا، وَنَعْلَمُ أَنَّ مَا قَالَهُ الرَّسُولُ، صلى الله عليه وسلم، حَقٌّ إِذَا كَانَتْ بِأَسَانِيدَ صِحَاحٍ

 

10 - وَقَالَ فِي رِوَايَةِ حَنْبَلٍ: يَضْحَكُ اللَّهُ، وَلا نَعْلَمُ كَيْفَ ذَلِكَ إِلا بِتَصْدِيقِ الرَّسُولِ وَقَالَ: الْمُشَبَّهَةُ تَقُولُ: بَصَرٌ كَبَصَرِي، وَيَدٌ كَيَدِي، وَقَدَمٌ كَقَدَمِي، وَمَنْ قَالَ ذَلِكَ فَقَدْ شَبَّهَ اللَّهَ بِخَلْقِهِ فَقَدْ نَصَّ أَحْمَدُ عَلَى الْقَوْلِ بِظَاهِرِ الأَخْبَارِ مِنْ غَيْرِ تَشْبِيهٍ وَلا تَأْوِيلٍ

 

11 - وَذَكَرَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَنْدَهْ فِي كِتَابِ الإِسْلامِ، فَقَالَ: أنا يُوسُفُ بْنُ مُحَمَّدٍ السُّلَمِيُّ، بِأَصْبَهَانَ، أنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ النُّهَاوَنْدِيُّ، نا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، نا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ
8 - আবু তালিবের বর্ণনায় তিনি (ইমাম আহমাদ) বলেছেন: "বান্দার অন্তর (আল্লাহর) দুটি আঙুলের মাঝখানে", "এবং তিনি আদমকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন"; আর যখনই এ ধরনের হাদিস এসেছে আমরা তা মেনে নিয়েছি।

 

9 - হানবালের বর্ণনায় বর্ণিত হাদিসসমূহ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন", "আল্লাহকে দেখা যাবে", "এবং তিনি তাঁর পা রাখেন" এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো; আমরা এগুলোর ওপর ঈমান আনি, এগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করি, কোনো ধরন (কায়ফিয়াত) ব্যতীত এবং কোনো (অপ)ব্যাখ্যা ব্যতীত। আমরা এগুলোর কোনো কিছু প্রত্যাখ্যান করি না এবং আমরা জানি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা সত্য, যদি সেগুলোর সনদ সহিহ হয়।

 

10 - হানবালের বর্ণনায় তিনি বলেছেন: আল্লাহ হাসেন, আর তা কেমন তা আমরা জানি না; কেবল রাসূলের সত্যায়নের মাধ্যমেই তা জানা যায়। তিনি আরও বলেছেন: মুসাব্বিহারা (সাদৃশ্যদানকারীরা) বলে: (আল্লাহর) দৃষ্টি আমার দৃষ্টির মতো, হাত আমার হাতের মতো, পা আমার পায়ের মতো। যে ব্যক্তি এ কথা বলল, সে আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল। ইমাম আহমাদ হাদিসের প্রকাশ্য অর্থের ওপর অটল থাকার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন কোনো প্রকার তুলনা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই।

 

11 - আবদুর রহমান ইবনে মানদাহ 'কিতাবুল ইসলাম'-এ উল্লেখ করে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আস-সুলামি আসফাহানে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আদ-দিমাশকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর আন-নুহাওয়ান্দী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে...
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٤٦)
يَعْقُوبَ الْفَارِسِيُّ قَالَ: قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ: وَقَدْ رَأَيْتُ لأَهْلِ الأَهْوَاءِ وَالْبِدَعِ وَالْخِلافِ أَسْمَاءً شُنْعَةً قَبِيحَةً يُسَمُّونَ بِهَا أَهْلَ السُّنَّةِ يُرِيدُونَ بِذَلِكَ عَيْبَهُمْ وَالطَّعْنَ عَلَيْهِمْ، وَالْوَقِيعَةَ فِيهِمْ، وَالإِزْرَاءَ بِهِمْ عِنْدَ السُّفَهَاءِ وَالْجُهَّالِ، أَمَّا الْجَهْمِيَّةُ فَإِنَّهُمْ يُسَمُّونَ أَهْلَ السُّنَّةِ الْمُشَبِّهَةَ، وَكَذَبَ الْجَهْمِيَّةُ أَعْدَاءُ اللَّهِ بَلْ هُمْ أَوْلَى بِالتَّشْبِيهِ، فَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ.

 

12 - قَالَ: وأنا سُفْيَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ، نا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ، نا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الآدَمِيُّ، نا الْفَضْلُ بْنُ زِيَادٍ، سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ، يَقُولُ: امْتَحَنَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْقَوْمَ مَرَّةً مَرَّةً وَامْتَحَنَنِي مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، فَقَالَ لِي: مَا تَقُولُ فِي الْقُرْآنِ؟ قُلْتُ: كَلامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، فَأَقَامَنِي فَأَجْلَسَنِي فِي نَاحِيَةٍ ثُمَّ سَأَلَنِي ثُمَّ رَدَّنِي ثَانِيَةً فَسَأَلَنِي، فَقُلْتُ: الْقُرْآنُ كَلامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ، فَأَخَذَنِي فِي التَّشْبِيهِ، فَقُلْتُ: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ}، فَقَالَ لِي: وَمَا السَّمِيعُ الْبَصِيرُ؟ فَقُلْتُ: هَكَذَا قَالَ: السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

 

13 - وَذَكَرَ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي أَخْبَارِ الصِّفَاتِ بِإِسْنَادِهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ قَالَ: شَهِدْتُ زَكَرِيَّا بْنَ عَدِيٍّ سَأَلَ وَكِيعًا، فَقَالَ: يَا أَبَا سُفْيَانَ، هَذِهِ الأَحَادِيثُ يَعْنِي مِثْلَ: " الْكُرْسِيُّ مَوْضِعُ الْقَدَمَيْنِ، وَنَحْوُ هَذَا؟ فَقَالَ وَكِيعٌ: أَدْرَكْنَا إِسْمَاعِيلَ بْنَ أَبِي خَالِدٍ، وَسُفْيَانَ، وَمِسْعَرًا يُحَدِّثُونَ هَذِهِ الأَحَادِيثَ وَلا يُفَسِّرُونَ شَيْئًا.
ইয়াকুব আল-ফারিসি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হানবাল বলেছেন: আমি প্রবৃত্তিপূজারী, বিদআতী ও বিরোধিতাকারীদের আহলুস সুন্নাহর জন্য এমন কিছু বীভৎস ও কুৎসিত নাম ব্যবহার করতে দেখেছি যার মাধ্যমে তারা তাদের দোষ অন্বেষণ করতে চায়, তাদের ওপর অপবাদ দিতে চায়, তাদের চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করতে চায় এবং নির্বোধ ও জাহিলদের নিকট তাদেরকে তুচ্ছ করতে চায়। আর জাহমিয়াহরা তো আহলুস সুন্নাহকে 'মুসাব্বিহা' (সদৃশকারী) নামে ডাকে। আল্লাহর শত্রু জাহমিয়াহরা মিথ্যা বলেছে, বরং তারাই সদৃশ করার জন্য অধিক যোগ্য। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদেরকে এর হিদায়াত দিয়েছেন, আর আল্লাহ আমাদেরকে হিদায়াত না দিলে আমরা হিদায়াত পেতাম না। নিশ্চয়ই আমাদের রবের রাসুলগণ সত্য নিয়ে এসেছেন।

 

12 - তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে মুহাম্মাদ আল-হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উমর ইবনে আহমাদ ইবনে উসমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-আদামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফাদল ইবনে যিয়াদ, আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হানবালকে বলতে শুনেছি: ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম লোকেদের একবার একবার করে পরীক্ষা করত, কিন্তু আমাকে দুইবার দুইবার করে পরীক্ষা করেছে। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল: কুরআন সম্পর্কে আপনি কী বলেন? আমি বললাম: আল্লাহর কালাম, মাখলুক নয়। এরপর সে আমাকে দাঁড় করাল এবং এক পাশে বসিয়ে দিল, পুনরায় আমাকে জিজ্ঞেস করল এবং দ্বিতীয়বার ফিরিয়ে এনে প্রশ্ন করল। আমি বললাম: কুরআন আল্লাহর কালাম, মাখলুক নয়। তখন সে আমাকে সদৃশ করার (তাশবিহ) দায়ে অভিযুক্ত করল। আমি বললাম: "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" সে আমাকে বলল: সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা এর অর্থ কী? আমি বললাম: তিনি যেমন বলেছেন তেমনই: সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

 

13 - আদ-দারাকুতনি 'আখবারুস সিফাত'-এ তাঁর সনদে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি যাকারিয়া ইবনে আদি-কে ওয়াকি-এর কাছে প্রশ্ন করতে দেখেছি। তিনি বললেন: হে আবু সুফিয়ান, এই হাদিসগুলো সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী? যেমন: "কুরসি হলো আল্লাহর দুই পায়ের জায়গা" এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিস? তখন ওয়াকি বললেন: আমরা ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ, সুফিয়ান এবং মিসআর-কে দেখেছি যে, তাঁরা এই হাদিসগুলো বর্ণনা করতেন এবং এর কোনো ব্যাখ্যা করতেন না।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٤٧)
14 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ، قَالَ: سَأَلْتُ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ عَنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم: " إِن اللَّهَ يَضَعُ السَّمَوَاتِ عَلَى إِصْبَعٍ "، وَحَدِيثِ " إِنَّ قُلُوبَ بَنِي آدَمَ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَنِ "، وَحَدِيثِ " إِنَّ اللَّهَ يَعْجَبُ وَيَضْحَكُ " فَقَالَ سُفْيَانُ: هِيَ كَمَا جَاءَتْ نقربها وَنُحَدِّثُ بِلا كَيْفَ.

 

15 - وَذَكَرَ أَبُو بَكْرٍ الْخَلالُ فِي كِتَابِ السُّنَّةِ، بِإِسْنَادِهِ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، قَالَ: سُئِلَ مَكْحُولٌ، وَالزُّهْرِيُّ عَنْ تَفْسِيرِ الأَحَادِيثِ، فَقَالا: أَمِرَّهَا عَلَى مَا جَاءَتْ.

 

16 - وَقَالَ الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ: سَأَلْتُ الأَوْزَاعِيَّ، وَمَالِكًا، وَسُفْيَانَ، وَلَيْثًا عَنْ هَذِهِ الأَحَادِيثِ الَّتِي فِيهَا الصِّفَةُ، فَقَالُوا: أَمِرُّوهَا بِلا كَيْفَ.
১৪ - এবং তাঁর সনদসহ আহমদ ইবনে নাসর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়নাকে আবদুল্লাহর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানসমূহকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন", এবং এই হাদিস: "নিশ্চয়ই আদমসন্তানের অন্তরসমূহ রহমানের আঙুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙুলের মাঝে অবস্থিত", এবং এই হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বিস্মিত হন এবং হাসেন"। তখন সুফিয়ান বললেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই; আমরা এগুলোকে স্বীকার করি এবং কোনো ধরণ বর্ণনা করা ছাড়াই বর্ণনা করি।

 

১৫ - আবু বকর আল-খাল্লাল তাঁর 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে তাঁর সনদসহ আওজায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাকহুল ও যুহরিকে হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা বললেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিবাহিত করো।

 

১৬ - ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বলেন: আমি আওজায়ি, মালিক, সুফিয়ান ও লাইসকে সিফাত বা গুণাবলী সম্বলিত এই হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তাঁরা বললেন: তোমরা এগুলো কোনো ধরণ বর্ণনা করা ছাড়াই অতিবাহিত করো।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٤٨)
17 - وَذَكَرَ أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلالُ، فِيمَا خَرَّجَهُ مِنْ أَخْبَارِ الصِّفَاتِ، قَالَ: ذَكَرَ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الْحَافِظُ يَعْنِي: الدَّارَقُطْنِيَّ، وَرَأَيْتُهُ فِي كِتَابِ الصِّفَاتِ، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ: نا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدٍ الْقَاسِمَ بْنَ سَلامٍ، وَذَكَرَ الْبَابَ الَّذِي يُرْوَى فِي الرُّؤْيَةِ وَالْكُرْسِيِّ، وَمَوْضِعِ الْقَدَمَيْنِ، وَضَحِكِ رَبِّنَا، وَأَيْنَ كَانَ رَبُّنَا، وَيَضَعُ الرَّبُّ قَدَمَهُ فِيهَا، وَأَشْبَاهُ هَذَا، فَقَالَ: هَذِهِ أَحَادِيثُ صِحَاحٌ، حَمَلَهَا أَصْحَابُ الْحَدِيثِ وَالْفُقَهَاءِ بَعْضُهُمْ عَنْ بَعْضٍ، وَهِيَ عِنْدَنَا حَقٌّ لا شَكَّ فِيهِ، وَلَكِنْ إِذَا قِيلَ كَيْفَ وَضَعَ قَدَمَهُ وَكَيْفَ ضَحِكَ؟ قُلْنَا: لا نُفَسِّرُ هَذَا وَلا سَمِعْنَا أَحَدًا يُفَسِّرُهَا

 

18 - وَقَالَ زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ لِوَكِيعٍ: يَا أَبَا سُفْيَانَ، هَذِهِ الأَحَادِيثُ يَعْنِي: مِثْلَ: " الْكُرْسِيُّ مَوْضِعُ الْقَدَمَيْنِ "، وَنَحْوُ هَذَا؟ فَقَالَ وَكِيعٌ: أَدْرَكْنَا إِسْمَاعِيلَ بْنَ أَبِي خَالِدٍ، وَسُفْيَانَ، وَمِسْعَرًا يُحَدِّثُونَ بِهَذِهِ الأَحَادِيثِ وَلا يُفَسِّرُونَ

 

19 - وَذَكَرَ أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ الطَّبَرِيِّ فِي كِتَابِ التَّبْصِيرِ فِي مَعَالِمِ
১৭ - আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবন মুহাম্মাদ আল-খাল্লাল সিফাত সংক্রান্ত যে বর্ণনাগুলো সংকলন করেছেন সেখানে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবন উমর আল-হাফিয অর্থাৎ আদ-দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন—এবং আমি তা কিতাবুস সিফাত-এ দেখেছি—তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবন মাখলাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আব্বাস ইবন মুহাম্মাদ আদ-দুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লামকে সেই অধ্যায় সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছি যা আল্লাহর দিদার, কুরসি, আল্লাহর দুই পায়ের স্থান, আমাদের রবের হাসি, আমাদের রব কোথায় ছিলেন, রব সেখানে তাঁর পা রাখবেন এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তিনি বললেন: এগুলো সহীহ হাদীস, হাদীস বিশারদ ও ফকীহগণ একে অপরের নিকট থেকে এগুলো বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট এগুলো সত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যখন জিজ্ঞেস করা হয়: তিনি কীভাবে তাঁর পা রাখলেন এবং কীভাবে হাসলেন? আমরা বলি: আমরা এর ব্যাখ্যা করি না এবং কাউকে এর ব্যাখ্যা করতেও শুনিনি।

 

১৮ - যাকারিয়া ইবন আদি ওয়াকী’কে বললেন: হে আবু সুফিয়ান, এই হাদীসগুলো—অর্থাৎ যেমন: "কুরসি হলো আল্লাহর দুই পায়ের স্থান" এবং এই জাতীয় হাদীসগুলো? তখন ওয়াকী’ বললেন: আমরা ইসমাইল ইবন আবি খালিদ, সুফিয়ান এবং মিসআরকে পেয়েছি, তাঁরা এই হাদীসগুলো বর্ণনা করতেন এবং কোনো ব্যাখ্যা করতেন না।

 

১৯ - আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত-তাবারী তাঁর ‘আত-তাবসীর ফী মা’আলিম’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٤٩)
الدِّينِ بَعْدَ أَوْرَاقٍ مِنْ أَوَّلِهِ الْقَوْلَ فِيمَا أُدْرِكَ عَمَلُهُ مِنْ صَفَحَاتِ الصَّانِعِ، خَبَرًا لا اسْتِدْلالا، وَذَكَرَ كَلامًا إِلَى أَنْ قَالَ: وَذَلِكَ نَحْوَ إِخْبَارِ اللَّهِ، تَعَالَى ذِكْرُهُ، أَنَّهُ سَمِيعٌ بَصِيرٌ، وَأَنَّ لَهُ يَدَيْنِ بِقَوْلِهِ: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ}.

وَأَنَّ لَهُ يَمِينًا بِقَوْلِهِ: {وَالسَّمَوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ} وَأَنَّ لَهُ وَجْهًا بِقَوْلِهِ: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلا وَجْهَهُ} {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ} وَأَنَّ لَهُ قَدَمًا بِقَوْلِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم: " حَتَّى يَضَعَ الرَّبُّ فِيهَا قَدَمَهُ يَعْنِي: جَهَنَّمَ "، وَأَنَّهُ يَضْحَكُ إِلَى عَبْدِهِ الْمُؤْمِنِ بِقَوْلِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، لِلَّذِي قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ: " إِنَّهُ لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ يَضْحَكُ إِلَيْهِ "، وَأَنَّهُ يَهْبِطُ كُلَّ لَيْلَةٍ وَيَنْزِلُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا بِخَبَرِ رَسُولِ اللَّهِ بِذَلِكَ، وَأَنَّهُ لَيْسَ بِأَعْوَرَ بِقَوْلِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم: " إِذَا ذَكَرَ الدَّجَّالَ فَقَالَ: إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ "، وَأَنَّ الْمُؤْمِنِينَ يَرَوْنَ رَبَّهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَبْصَارِهِمْ كَمَا يَرَوْنَ الْقَمَرَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ بِقَوْلِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم، ذَلِكَ، وَأَنَّ لَهُ إِصْبَعًا بِقَوْلِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم: " مَا مِنْ قَلْبٍ إِلا وَهُوَ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَنِ " بِأَنَّ هَذِهِ الْمَعَانِيَ الَّتِي وُصِفَتْ وَنَظَائِرَهَا مِمَّا وَصَفَ اللَّهُ تَعَالَى نَفْسَهُ أَوْ وَصَفَهُ بِهَا رَسُولُهُ مِمَّا لا يُدْرَكُ حَقِيقَةُ عِلْمِهِ بِالْفِكْرِ وَالرُّؤْيَةِ وَلا نُكَفِّرُ بِالْجَهْلِ بِهَا أَحَدًا إِلا بَعْدَ انْتِهَائِهَا إِلَيْهِ.

ثُمَّ ذَكَرَ بَعْدَ ذَلِكَ بِأَوْرَاقٍ: فَالصَّوَابُ مِنَ الْقَوْلِ فِي ذَلِكَ عِنْدَنَا أَنَّهُ كَلامُ اللَّهِ غَيْرُ مَخْلُوقٍ كَيْفَ كُتِبَ؟ وَكَيْفَ تُلِيَ؟ وَفِي أَيِّ مَوْضِعٍ قُرِئَ؟ فِي السَّمَاءِ وُجِدَ أَمْ فِي الأَرْضِ حُفِظَ؟ فِي اللَّوْحِ الْمَحْفُوظِ كَانَ مَكْتُوبًا أَوْ فِي أَلْوَاحِ صِبْيَانِ الْكَتَاتِيبِ مَرْسُومًا؟ فِي حَجَرٍ نُقِشَ أَوْ فِي وَرَقٍ خُطَّ أَوْ بِاللِّسَانِ لُفِظَ؟ فَمَنْ قَالَ غَيْرَ ذَلِكَ أَوِ ادَّعَى أَنَّ قُرْآنًا فِي الأَرْضِ أَوْ فِي السَّمَاءِ سِوَى الْقُرْآنِ الَّذِي نَتْلُوهُ بِأَلْسِنَتِنَا أَوْ نَكْتُبُه فِي مَصَاحِفِنَا، أَوِ اعْتَقَدَ ذَلِكَ بِقَلْبِهِ أَوْ أَضْمَرَهُ فِي نَفْسِهِ وَقَالَهُ بِلِسَانِهِ فَهُوَ بِاللَّهِ كَافِرٌ، حَلالُ الدَّمِ وَبَرِئَ مِنَ اللَّهِ، وَاللَّهُ مِنْهُ بَرِيءٌ.
দ্বীনের আলোচনার শুরুর কয়েক পৃষ্ঠা পর সৃষ্টিকর্তার কার্যক্রম সম্পর্কে যা অবগত হওয়া যায় সেই বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন সংবাদ হিসেবে, যুক্তিনির্ভর অনুমানের ভিত্তিতে নয়। তিনি কিছু কথা উল্লেখ করেছেন যতক্ষণ না তিনি বলেছেন: আর তা হলো মহান আল্লাহর সংবাদ প্রদানের মতো, যে তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা এবং তাঁর দুটি হাত রয়েছে, তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "বরং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত।"

এবং তাঁর ডান হাত রয়েছে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আর আকাশমণ্ডলী তাঁর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে।" এবং তাঁর চেহারা রয়েছে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "তাঁর চেহারা ব্যতীত সব কিছু ধ্বংসশীল" এবং "আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে।" এবং তাঁর পা রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মাধ্যমে: "যতক্ষণ না রব তাতে তাঁর পা রাখবেন, অর্থাৎ জাহান্নামে।" এবং তিনি তাঁর মুমিন বান্দার প্রতি হাসেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির সম্পর্কে যে আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে: "সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছে এমন অবস্থায় যে তিনি তার প্রতি হাসছিলেন।" এবং তিনি প্রতি রাতে অবতরণ করেন এবং দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন আল্লাহর রাসূলের এ সংক্রান্ত সংবাদের মাধ্যমে। আর তিনি কানা নন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মাধ্যমে, যখন তিনি দাজ্জালের আলোচনা করেন তখন বলেন: "নিশ্চয়ই সে একচোখা, আর তোমাদের রব একচোখা নন।" এবং মুমিনরা কিয়ামতের দিন তাদের রবকে তাদের চোখের সাহায্যে দেখতে পাবে যেমন তারা পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে দেখে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মাধ্যমে। এবং তাঁর আঙুল রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মাধ্যমে: "এমন কোনো অন্তর নেই যা রহমানের আঙুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙুলের মাঝে অবস্থিত নয়।" এই বর্ণিত অর্থসমূহ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল তাঁর গুণ বর্ণনা করেছেন, যার প্রকৃত জ্ঞান চিন্তা-গবেষণা বা চাক্ষুষ দর্শনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়; এবং এ বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে আমরা কাউকে ততক্ষণ পর্যন্ত কাফির বলি না যতক্ষণ না তার নিকট এর জ্ঞান পৌঁছে যায়।

অতঃপর তিনি এর কয়েক পৃষ্ঠা পরে উল্লেখ করেছেন: এ বিষয়ে আমাদের নিকট সঠিক কথা হলো যে, তা আল্লাহর কালাম, যা সৃষ্টি নয়; তা যেভাবে লিখিত হোক না কেন, যেভাবে তিলাওয়াত করা হোক না কেন, এবং যে স্থানেই পাঠ করা হোক না কেন; তা আসমানে পাওয়া যাক বা জমিনে মুখস্থ করা হোক; লাওহে মাহফুজে লিখিত থাক অথবা মক্তবের শিশুদের তক্তিতে অঙ্কিত থাক; পাথরে খোদাই করা হোক অথবা কাগজে লেখা হোক কিংবা মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা হোক। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বাইরে কিছু বলবে অথবা দাবি করবে যে জমিনে বা আসমানে এমন কোনো কুরআন আছে যা আমরা আমাদের মুখ দিয়ে তিলাওয়াত করি বা মাসহাফে লিখি তা ব্যতীত অন্য কিছু, অথবা হৃদয়ে এমন বিশ্বাস পোষণ করবে কিংবা মনে গোপন রাখবে এবং মুখে তা প্রকাশ করবে, তবে সে আল্লাহর প্রতি কুফরকারী, তার রক্ত বৈধ এবং সে আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন আর আল্লাহও তার থেকে বিচ্ছিন্ন।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥٠)
ثُمَّ قَالَ بَعْدَ ذَلِكَ: فَمَنْ رَدَّ عَلَيْنَا أَوْ حَكَى عَنَّا أَوْ تَقَوَّلَ عَلَيْنَا وَادَّعَى أَنَّا قُلْنَا غَيْرَ ذَلِكَ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَهِ وَغَضَبِهِ وَلَعْنَةُ اللاعِنِينَ وَالْمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، وَلا قَبَلَ اللَّهُ لَهُ صَرْفًا وَلا عَدْلا، وَهَتَكَ سِتْرَهُ وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الأَشْهَادِ يَوْم لا يَنْفَعُ الظَّالِمِينَ مَعْذِرَتُهُمْ، وَلَهُمُ اللَّعْنَةُ وَلَهُمْ سُوءُ الدَّارِ.

فَهَذَا كَلامُ ابْنِ جَرِيرٍ وَهُوَ مِمَّنْ يُشَارُ إِلَيْهِ وَيُعَوَّلُ عَلَيْهِ

 

20 - وَذَكَرَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْجُنَيْدِ الْخُتُّلِيُّ فِي كِتَابِ الْعَظَمَةِ بِإِسْنَادِهِ، عَنْ أَبِي عُمَرَ، وَالْبَصْرِيِّ، وَاسْمُهُ سَهْلُ بْنُ هَارُونَ، قَالَ: كَانَ أَوَّلُ مَنْ خَرَّجَ هَذِهِ الأَحَادِيثَ أَحَادِيثَ الرُّؤْيَةِ، وَجَمَعَهَا مِنَ الْبَصْرِيِّينَ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، فَقَالَ لَهُ بَعْضُ إِخْوَانِهِ: يَا أَبَا سَلَمَةَ، لَقَدْ سَبَقْتَ إِخْوَانَكَ بِجَمْعِ هَذِهِ الأَحَادِيثِ فِي الْوَصْفِ، قَالَ: سَمِعْتُ حَمَّادَ بْنَ سَلَمَةَ، يَقُولُ: إِنَّهُ وَاللَّهِ مَا دَعَتْنِي نَفْسِي إِلَى إِخْرَاجِ ذَلِكَ إِلا أَنِّي رَأَيْتُ الْعِلْمَ يَخْرُجُ رَأَيْتُ الْعِلْمَ يَخْرُجُ رَأَيْتُ الْعِلْمَ يَخْرُجُ، يَقُولُهَا ثَلاثًا وَهُوَ يَنْفُضُ كَفَّهُ، فَأَحْبَبْتُ إِحْيَاءَهُ وَبَثَّهُ فِي الْعَامَّةِ لِئَلا يَطْمَعَ فِي خُرُوجِهِ أَهْلُ الأَهْوَاءِ

 

21 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ وَكِيعِ بْنِ الْجَرَّاحِ، قَالَ: وَذَكَرَ الأَحَادِيثَ الَّتِي فِيهَا الإِثْبَاتُ فِي الصِّفَةِ وَالرُّؤْيَةِ، ثُمَّ قَالَ لَنَا: بِخُرَاسَانَ جَهْمِيَّةٌ، إِذَا أَنْكَرُوا هَذِهِ الأَحَادِيثَ عَلَيْكُمْ فَقُولُوا: هَكَذَا سَمِعْنَا مَشْيَخَتَنَا يَقُولُونَ

 

22 - وَأَخْرَجَ إِلَيَّ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْكَرِيمِ مَقَالَةً فِي أَخْبَارِ الصِّفَاتِ،
অতঃপর তিনি এর পরে বললেন: সুতরাং যে ব্যক্তি আমাদের কথা প্রত্যাখ্যান করবে, কিংবা আমাদের পক্ষ থেকে কোনো (ভুল) বর্ণনা করবে, কিংবা আমাদের নামে মিথ্যা রটনা করবে এবং দাবি করবে যে আমরা এছাড়া অন্য কিছু বলেছি, তবে তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ, তাঁর ক্রোধ এবং অভিশাপদানকারীদের অভিশাপ এবং ফেরেশতা ও সকল মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হোক। আল্লাহ তার কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না। আর তিনি তার পর্দা ফাঁস করে দেবেন এবং সাক্ষীদের সামনে তাকে লাঞ্ছিত করবেন সেই দিন, যেদিন জালিমদের ওজর-আপত্তি কোনো কাজে আসবে না; তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।

এটি ইবনে জারীরের কথা, আর তিনি এমন এক ব্যক্তি যাঁর দিকে (পাণ্ডিত্যের ক্ষেত্রে) ইঙ্গিত করা হয় এবং যাঁর ওপর নির্ভর করা হয়।

 

২০ - এবং ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-জুনাইদ আল-খুত্তুলি তাঁর 'কিতাবুল আজমা' গ্রন্থে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন আবু উমর ও আল-বসরি থেকে—যাঁর নাম সাহল ইবনে হারুন—তিনি বলেন: বসরার অধিবাসীদের মধ্যে এই হাদিসগুলো, অর্থাৎ (আল্লাহকে) দেখার হাদিসসমূহ প্রথম যিনি সংকলন ও একত্রিত করেছিলেন তিনি হলেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ। তাঁর কোনো এক ভাই তাঁকে বললেন: হে আবু সালামাহ, আপনি আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত এই হাদিসগুলো একত্রিত করার মাধ্যমে আপনার সমসাময়িকদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: আমি হাম্মাদ ইবনে সালামাহকে বলতে শুনেছি: আল্লাহর কসম, আমার প্রবৃত্তি আমাকে এটি প্রকাশ করতে প্ররোচিত করেনি, বরং আমি দেখেছি যে ইলম (জ্ঞান) বিদায় নিচ্ছে, আমি দেখেছি যে ইলম বিদায় নিচ্ছে, আমি দেখেছি যে ইলম বিদায় নিচ্ছে—তিনি কথাটি তিনবার বললেন এবং তাঁর হাতের তালু ঝাড়লেন—তাই আমি সাধারণ মানুষের মাঝে এটি পুনরুজ্জীবিত ও প্রচার করতে পছন্দ করেছি, যাতে প্রবৃত্তিপূজারিরা একে বিলুপ্ত করার লালসা করতে না পারে।

 

২১ - এবং তাঁর সনদে ওয়াকি ইবনে আল-জাররাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তিনি সেই হাদিসগুলো উল্লেখ করলেন যাতে (আল্লাহর) গুণাবলি সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং (আল্লাহকে) দেখার বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতঃপর তিনি আমাদের বললেন: খোরাসানে জাহমিয়া সম্প্রদায় রয়েছে; তারা যদি তোমাদের সামনে এই হাদিসগুলো অস্বীকার করে, তবে তোমরা বলো: আমরা আমাদের শায়খদের এভাবেই বলতে শুনেছি।

 

২২ - এবং আবু আল-কাসিম আব্দুল কারিম আমার কাছে গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ পেশ করেছেন,
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥١)
فَرَوَى بِإِسْنَادِهِ قَالَ: ذَكَرَ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الأَبَّارُ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ طَاهِرٍ، قَالَ لإِسْحَاقَ بْنِ رَاهُوَيْهِ: مَا هَذِهِ الأَحَادِيثُ الَّتِي تُحَدِّثُ بِهَا: أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِلُ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، وَاللَّهُ يَصْعَدُ وَيَتَحَرَّكُ؟ قَالَ: فَقَالَ لَهُ إِسْحَاقُ: تَقُولُ: إِنَّ اللَّهَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يَنْزِلَ وَيَصْعَدَ وَلا يَتَحَرَّكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَلِمَ تُنْكِرُ؟

 

23 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي عُثْمَانَ الطَّيَالِسِيُّ، قَالَ: قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ: إِذَا قَالَ لَكَ الْجَهْمِيُّ: كَيْف يَنْزِلُ؟ فَقُلْ لَهُ: كَيْفَ صَعِدَ؟.
তিনি তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবন আলী আল-আববার উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন তাহির ইসহাক ইবন রাহওয়াইহকে বললেন: আপনি এ কেমন হাদিস বর্ণনা করছেন যে: আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন, এবং আল্লাহ উপরে ওঠেন ও নড়াচড়া করেন? তিনি বলেন: তখন ইসহাক তাকে বললেন: আপনি কি মনে করেন যে আল্লাহ নেমে আসতে এবং উপরে উঠতে সক্ষম অথচ নড়াচড়া করেন না? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি (ইসহাক) বললেন: তবে আপনি কেন অস্বীকার করছেন?

 

23 - এবং তাঁর সনদে জাফর ইবন আবি উসমান আত-তায়ালিসি হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবন মাঈন বলেছেন: যখন কোনো জাহমি আপনাকে বলবে: তিনি কীভাবে নেমে আসেন? তখন আপনি তাকে বলুন: তিনি কীভাবে উপরে উঠেছেন?
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥٢)
24 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الْبَلْخِيِّ، قَالَ: قَالَ الْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ: إِذَا قَالَ لَكَ الْجَهِمُّي: أَنَا كَافِرٌ بِرَبٍّ يَنْزِلُ، فَقُلْ لَهُ: أَنَا مُؤْمِنٌ بِرَبٍّ يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ

 

25 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ عَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ، قَالَ: قَدِمَ عَلَيْنَا شَرِيكٌ بِوَاسِطَ، فَقُلْنَا لَهُ: إِنَّ عِنْدَنَا قَوْمًا يُنْكِرُونَ هَذِهِ الأَحَادِيثَ: الصِّفَاتِ، وَأَنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا، فَقَالَ شَرِيكٌ: إِنَّمَا جَاءَنَا بِهَذِهِ الأَحَادِيثِ مَنْ جَاءَنَا بِالسُّنَنِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، الصَّلاةِ وَالصِّيَامِ وَالزَّكَاةِ وَالْحَجِّ، وَإِنَّمَا عَرَفْنَا اللَّهَ بِهَذِهِ الأَحَادِيثِ

 

26 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ أَنَسٍ، يَقُولُ: إِذَا ذُكِرَ عِنْدَهُ مَنْ يَدْفَعُ أَحَادِيثَ الصِّفَاتِ يَقُولُ: قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ: سَنَّ رَسُولُ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، وَوُلاةُ الأَمْرِ بَعْدَهُ سُنَنًا، وَسَنَّ الأَخْذَ بِهَا اتِّبَاعًا لِكِتَابِ اللَّهِ، وَاسْتِكْمَالا لِطَاعَةِ اللَّهِ، وَقُوَّةً عَلَى دِينِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ، لَيْسَ لأَحَدٍ مِنَ الْخَلْقِ تَفْسِيرُهَا، وَلا النَّظَرُ فِي شَيْءٍ خَالَفَهَا، مَنِ اهْتَدَى بِهَا فَهُوَ مُهْتَدٍ، وَمَنِ اسْتَنْصَرَ بِهَا فَهُوَ مَنْصُورٌ، وَمَنْ تَرَكَهَا اتَّبَعَ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ، وَوَلاهُ اللَّهُ مَا تَوَلَّى، وَأَصْلاهُ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا.
২৪ - এবং তাঁর সনদে আবু মুহাম্মদ আল-বালখি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ফুদাইল ইবন ইয়াদ বলেছেন: যদি কোনো জাহমি তোমাকে বলে: "আমি এমন রবে বিশ্বাস করি না যিনি নিচে নামেন", তবে তাকে বলো: "আমি এমন রবে বিশ্বাস করি যিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।"

 

২৫ - এবং তাঁর সনদে আব্বাদ ইবনুল আওয়াম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শারিক আমাদের নিকট ওয়াসিত নামক স্থানে আসলেন। আমরা তাঁকে বললাম: "আমাদের এখানে এমন একদল লোক আছে যারা এই হাদিসগুলো অস্বীকার করে: আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিসসমূহ এবং আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নিচে নামেন—এই বিষয়গুলো।" তখন শারিক বললেন: "যাঁরা আমাদের নিকট আল্লাহর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পক্ষ থেকে সালাত, সিয়াম, জাকাত ও হজের সুন্নাহসমূহ নিয়ে এসেছেন, তাঁরাই আমাদের নিকট এই হাদিসগুলো নিয়ে এসেছেন। আর আমরা তো এই হাদিসগুলোর মাধ্যমেই আল্লাহকে চিনেছি।"

 

২৬ - এবং তাঁর সনদে মুতাররিফ ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবন আনাসকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁর কাছে এমন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হতো যে আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিসগুলো প্রত্যাখ্যান করে, তখন তিনি বলতেন: ওমর ইবন আব্দুল আজিজ বলেছেন: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরবর্তী কর্তৃপক্ষ অনেক সুন্নাহ প্রবর্তন করেছেন। আল্লাহর কিতাবের অনুসরণ, আল্লাহর আনুগত্যের পূর্ণতা এবং মহান আল্লাহর দ্বীনের ওপর অটল থাকার শক্তি হিসেবে সেই সুন্নাহগুলোকে গ্রহণ করা অপরিহার্য। সৃষ্টির কারোরই সেই সুন্নাহগুলোর (মনগড়া) ব্যাখ্যা করার বা তার বিরোধী কোনো কিছুর প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার অবকাশ নেই। যে ব্যক্তি এর দ্বারা হেদায়েত অন্বেষণ করবে সে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে, আর যে এর দ্বারা সাহায্য প্রার্থনা করবে সে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর যে ব্যক্তি এগুলো বর্জন করবে সে মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে; আল্লাহ তাকে সেদিকেই পরিচালিত করবেন যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য।"
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥٣)
27 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَهْدِيٍّ، وَذُكِرَ عِنْدَهُ الْجَهْمِيَّةُ يَنْفُونَ أَحَادِيثَ الصِّفَاتِ الْيَدِ وَالرِّجْلِ، وَيَقُولُونَ: اللَّهُ أَعْظَمُ مِنْ أَنْ يُوصَفَ بِشَيْءٍ قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ: قَدْ هَلَكَ قَوْمٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ يَعْنِي: مِنْ وَجْهِ التَّعْظِيمِ، قَالُوا: اللَّهُ أَعْظَمُ مِنْ أَنْ يُنَزِّلَ كِتَابًا أَوْ يُرْسِلَ رَسُولا ثُمَّ قَرَأَ: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِذْ قَالُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ} ثُمَّ قَالَ: فَهَلْ هَلَكَتِ الْمَجُوسُ إِلا مِنْ جِهَةِ التَّعْظِيمِ، قَالُوا: اللَّهُ أَعْظَمُ مِنْ أَنْ نَعْبُدَهُ، وَلَكِنْ نَعْبُدُ مَنْ هُوَ أَقْرَبُ إِلَيْنَا فَعَبَدُوا الشَّمْسَ وَسَجَدُوا لَهَا، فَأَنْزَلَ اللَّهُ: {وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} هَذَا الْكَلامُ أَوْ نَحْوُهُ

 

28 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ أَحْمَدَ الْفَارِسِيِّ، سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ، يَقُولُ: هَذِهِ الأَحَادِيثُ مُتَوَاتِرَةٌ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ، أَمِرُّوهَا كَمَا جَاءَتْ بِلا كَيْفَ

 

29 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، قَالَ: مَنْ رَأَيْتُمُوهُ يُنْكِرُ هَذِهِ الأَحَادِيثَ فَاتَّهِمُوهُ عَلَى الدِّينِ

 

30 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، أَنَّهُ سَأَلَهُ رَجُلٌ عَنْ هَذِهِ الأَحَادِيثِ الصِّفَاتِ، فَقَالَ: تَمُرُّ كَمَا جَاءَتْ بِلا كَيْفَ

 

31 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ أَسْوَدَ بْنِ سَالِمٍ، قَالَ فِي أَحَادِيثِ الصِّفَاتِ: أَحْلِفُ عَلَيْهَا بِالطَّلاقِ وَالْمَشْيِ أَنَّهَا حَقٌّ.
২৭ - এবং তাঁর সনদে আবদুর রহমান ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবনে মাহদীকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁর নিকট জাহমিয়্যাহদের কথা উল্লেখ করা হলো—যারা আল্লাহর হাত ও আল্লাহর পা সংক্রান্ত সিফাতের হাদিসগুলো অস্বীকার করে এবং বলে: আল্লাহ কোনো কিছু দ্বারা বিশেষিত হওয়ার চেয়েও মহান। তখন আবদুর রহমান ইবনে মাহদী বললেন: একদল লোক এই পথ দিয়েই ধ্বংস হয়েছে অর্থাৎ অতি-গৌরব করার পথ দিয়ে। তারা বলেছিল: আল্লাহ কিতাব অবতীর্ণ করা বা রাসূল প্রেরণ করার চেয়েও মহান। তারপর তিনি পাঠ করলেন: {তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দান করেনি, যখন তারা বলেছিল: আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই অবতীর্ণ করেননি।} অতঃপর তিনি বললেন: মজুসরা (অগ্নিউপাসক) কি অতি-গৌরব প্রদর্শনের দিক থেকেই ধ্বংস হয়নি? তারা বলেছিল: আল্লাহ আমাদের ইবাদত গ্রহণ করার চেয়েও মহান, তবে আমরা তাদের ইবাদত করি যারা আমাদের নিকটবর্তী। তাই তারা সূর্যের ইবাদত শুরু করল এবং তার উদ্দেশ্যে সিজদা করল। ফলে আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {যারা তাঁকে ছাড়া অন্যদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে তারা বলে, আমরা তো এদের ইবাদত এই জন্যই করি যেন এরা আমাদের আল্লাহর অতি নিকটবর্তী করে দেয়।} এটিই তাঁর কথা অথবা অনুরূপ কিছু।

 

২৮ - এবং তাঁর সনদে ইসহাক ইবনে আহমদ আল-ফারিসি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু যুরআকে বলতে শুনেছি: এই হাদিসগুলো আল্লাহর রাসূল থেকে মুতাওয়াতির বা ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত। এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই কোনো ধরণ (কেমন) বর্ণনা ছাড়াই অতিবাহিত করো।

 

২৯ - এবং তাঁর সনদে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যাকে তোমরা এই হাদিসগুলো অস্বীকার করতে দেখবে, তাকে দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত করো।

 

৩০ - এবং তাঁর সনদে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তাঁকে সিফাত সংক্রান্ত এই হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই কোনো ধরণ (কেমন) বর্ণনা ছাড়াই অতিবাহিত হবে।

 

৩১ - এবং তাঁর সনদে আসওয়াদ ইবনে সালিম থেকে বর্ণিত, তিনি সিফাতের হাদিসগুলো সম্পর্কে বলেন: আমি এগুলোর ওপর তালাক এবং হেঁটে যাওয়ার কসম খেয়ে বলছি যে, এগুলো সত্য।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥٤)
32 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ عَدِيٍّ، أَنَّهُ سَأَلَ وَكِيعًا: يَا أَبَا سُفْيَانَ، هَذِهِ الأَحَادِيثُ الَّتِي جَاءَتْ فِي الصِّفَاتِ وَالرُّؤْيَةِ وَنَحْوِ ذَلِكَ، فَقَالَ وَكِيعٌ: أَدْرَكْنَا إِسْمَاعِيلَ بْنَ أَبِي خَالِدٍ، وَسُفْيَانَ، وَمِسْعَرًا يُحَدِّثُونَ بِهَذِهِ الأَحَادِيثِ وَلا يُفَسِّرُونَ شَيْئًا مِنْهَا

 

33 - وَقَالَ وَكِيعٌ: سَلِّمْ هَذِهِ الأَحَادِيثَ الَّتِي فِي الصِّفَاتِ كَمَا جَاءَتْ وَلا تَقُلْ كَيْفَ كَذَا وَلا مِثْلَ كَذَا مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ: " إِنَّ اللَّهَ يَجْعَلُ السَّمَوَاتِ عَلَى إِصْبَعٍ وَالْجِبَالُ عَلَى إِصْبَعٍ "، " وَقَلْبُ الْمُؤْمِنِ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَنِ "، وَنَحْوُ هَذِهِ الأَحَادِيثِ نُمِرُّهَا كَمَا جَاءَتْ بِلا كَيْفَ

 

34 - وَبِإِسْنَادِهِ قِيلَ لابْنِ عُيَيْنَةَ: هَذِهِ الأَحَادِيثُ الَّتِي تُرْوَى فِي الصِّفَاتِ، فَقَالَ: حَقٌّ عَلَى مَا سَمِعْنَاهَا مِمَّنْ نَثِقُ بِهِ وَنَرْضَاهُ نُمِرُّهَا كَمَا جَاءَتْ بِلا كَيْفَ

 

35 - وَقَالَ أَحْمَدُ بْنُ نَصْرٍ: سَأَلْتُ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ وَأَنَا فِي مَنْزِلِهِ بَعْدَ الْعَتَمَةِ فَجَعَلْتُ أَلُحُّ عَلَيْهِ فِي الْمَسْأَلَةِ وَهُوَ يَأْبَى، فَقُلْتُ: لا بُدَّ أَنْ أَسْأَلَكَ، إِذَا لَمْ أَسْأَلْكَ فَمَنْ أَسْأَلُ؟ فَقَالَ: هَاتِ، فَقُلْتُ: كَيْفَ حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ: " إِنَّ اللَّهَ يَحْمِلُ السَّمَوَاتِ عَلَى إِصْبَعٍ وَالأَرَضِينَ عَلَى إِصْبَعٍ "، وَحَدِيثُ: " إِنَّ قَلْبَ بَنِي آدَمَ بَيْنَ إِصْبَعَيْنِ مِنْ أَصَابِعِ الرَّحْمَنِ "، وَحَدِيثُ: " إِنَّ اللَّهَ يَعْجَبُ وَيَغْضَبُ وَيَضْحَكُ " وَأَشْبَاهُ ذَلِكَ، فَقَالَ سُفْيَانُ: هِيَ كَمَا جَاءَتْ نُؤْمِنُ بِهَا وَنُحَدِّثُ بِهَا كَمَا جَاءَتْ بِلا كَيْفَ وَلا تَوَقُّفٍ

 

36 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ أَبِي مَعْمَرٍ الْهُذَلِيِّ: مَنْ زَعَمَ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى لا يَتَكَلَّمُ وَلا يُبْصِرُ وَلا يَسْمَعُ وَلا يَعْجَبُ وَلا يَضْحَكُ وَلا يَغْضَبُ، وَذَكَرَ أَحَادِيثَ الصِّفَاتِ
৩২ - এবং তাঁরই সূত্রে যাকারিয়া ইবনে আদি থেকে বর্ণিত যে, তিনি ওকী'কে জিজ্ঞেস করলেন: হে আবু সুফিয়ান, সিফাত (গুণাবলি), রুইয়াত (দর্শন) এবং এই জাতীয় বিষয়ে যেসব হাদিস এসেছে (সেগুলো সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী)? ওকী' বললেন: আমরা ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ, সুফিয়ান এবং মিসআরকে পেয়েছি, তাঁরা এই হাদিসগুলো বর্ণনা করতেন এবং এগুলোর কোনো ব্যাখ্যা (তাফসির) করতেন না।

 

৩৩ - এবং ওকী' বললেন: সিফাত সংক্রান্ত এই হাদিসগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই সমর্পণ করো (মেনে নাও)। বলো না যে 'এটি কীভাবে এমন' বা 'কিসের মতো'। যেমন ইবনে মাসউদের হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানসমূহকে একটি আঙ্গুলের ওপর এবং পাহাড়সমূহকে একটি আঙ্গুলের ওপর রাখবেন", এবং "মুমিনের অন্তর রহমানের আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙ্গুলের মাঝে রয়েছে"; এই জাতীয় হাদিসগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই আমরা কোনো ধরণ-প্রকৃতি নির্ধারণ (বিলা কাইফ) ছাড়াই অতিবাহিত করি।

 

৩৪ - এবং তাঁর সূত্রে বর্ণিত যে, ইবনে উয়াইনাহকে জিজ্ঞেস করা হলো: সিফাত সম্পর্কে বর্ণিত এই হাদিসগুলো সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: আমরা যাদের ওপর ভরসা করি এবং যাদের প্রতি সন্তুষ্ট—তাদের থেকে যেভাবে এগুলো শুনেছি, সে অনুযায়ী এগুলো সত্য। এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই কোনো ধরণ-প্রকৃতি নির্ধারণ ছাড়াই আমরা অতিবাহিত করি।

 

৩৫ - এবং আহমদ ইবনে নাসর বলেন: আমি সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহকে তাঁর বাড়িতে এশার নামাজের পর জিজ্ঞেস করলাম। আমি এ বিষয়ে তাঁকে বারংবার পিড়াপিড়ি করতে থাকলাম কিন্তু তিনি উত্তর দিতে চাচ্ছিলেন না। তখন আমি বললাম: আমাকে আপনাকে জিজ্ঞেস করতেই হবে, আমি আপনাকে প্রশ্ন না করলে আর কাকে করব? তিনি বললেন: বলো। আমি বললাম: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত এই হাদিসটি সম্পর্কে কী বলবেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানসমূহকে একটি আঙ্গুলের ওপর এবং জমিনসমূহকে একটি আঙ্গুলের ওপর বহন করবেন", এবং এই হাদিসটি: "নিশ্চয়ই আদম সন্তানের অন্তর রহমানের আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙ্গুলের মাঝে রয়েছে", এবং এই হাদিসটি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আশ্চর্যান্বিত হন, রাগান্বিত হন এবং হাসেন" এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিস? তখন সুফিয়ান বললেন: এগুলো যেভাবে এসেছে ঠিক তেমনই; আমরা এগুলোর ওপর ঈমান আনয়ন করি এবং এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই বর্ণনা করি—কোনো ধরণ-প্রকৃতি নির্ধারণ করা ছাড়াই এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই।

 

৩৬ - এবং তাঁর সূত্রে আবু মা'মার আল-হুজালি থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, মহান আল্লাহ কথা বলেন না, দেখেন না, শোনেন না, আশ্চর্যান্বিত হন না, হাসেন না এবং রাগান্বিত হন না—এবং তিনি সিফাতের হাদিসগুলো উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥٥)
فَهُوَ كَافِرٌ بِاللَّهِ، وَمَنْ رَأَيْتُمُوهُ عَلَى بِئْرٍ وَاقِفٍ فَأَلْقُوهُ فِيهَا

 

37 - وَبِإِسْنَادِهِ عَنْ يَزِيدَ بْنِ هَارُونَ: مَنْ كَذَّبَ بِأَحَادِيثِ الصِّفَاتِ فَهُوَ بَرِيءٌ مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ مِنْهُ بَرِيءٌ

 

38 - وَبَإِسْنَادِهِ قَالَ: قَالَ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ: مَثَلُ الْجَهْمِيَّةِ مَثَلُ رَجُلٍ قِيلَ لَهُ: فِي دَارِكَ نَخْلَةٌ؟ قَالَ: نَعَمْ، قِيلَ: فَلَهَا خُوصٌ؟ قَالَ: لا، قِيلَ: فَلَهَا سَعَفٌ؟ قَالَ: لا، قِيلَ: فَلَهَا كَرَبٌ؟ قَالَ: لا، قِيلَ: فَلَهَا جِذْعٌ؟ قَالَ: لا، قِيلَ: فَلَهَا أَصْلٌ؟ قَالَ: لا، قِيلَ: فَلا نَخْلَةَ فِي دَارِكَ.

هَؤُلاءِ الْجَهْمِيَّةُ قِيلَ لَهُمْ: لَكُمْ رَبٌّ يَتَكَلَّمُ؟ قَالُوا: لا، قِيلَ: فَلَهُ يَدٌ؟ قَالُوا: لا، قِيلَ: فَلَهُ قَدَمٌ؟ قَالُوا: لا، قِيلَ: لَهُ إِصْبَعٌ؟ قَالُوا: لا، قِيلَ: فَيَرْضَى وَيَغْضَبُ؟ قَالُوا: لا، قِيلَ: فَلا رَبَّ لَكُمْ.

وَإِذَا تُتُبِّعَ كَلامُ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ فِي هَذَا وُجِدَ فِيهِ مَا يَطُولُ شَرْحُهُ فَإِنْ قِيلَ: فَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَحْمَدَ، وَغَيْرِهِ مَا يَدُلُّ عَلَى التَّفْسِيرِ.

فَقَالَ أَحْمَدُ فِي رِوَايَةِ عَبْدُوسِ بْنِ مَالِكٍ الْعَطَّارِ: وَمِنَ السُّنَّةِ اللازِمَةِ الَّتِي مَنْ تَرَكَ مِنْهَا خَصْلَةً لَمْ يقلها وَلَمْ يُؤْمِنْ بِهَا لَمْ يَكُنْ مِنْ أَهْلِهَا: الإِيمَانُ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ، وَالتَّصْدِيقُ بِالأَحَادِيثِ فِيهِ، وَمَنْ لَمْ يَعْرِفْ تَفْسِيرَ الْحَدِيثِ وَيُبَلِّغُهُ عَقْلَهُ فَقَدْ كُفِيَ ذَلِكَ وَأُحْكِمَ لَهُ فَعَلَيْهِ الإِيمَانُ وَالتَّسْلِيمُ.

 

39 - قَالُوا: فَقَوْلُ أَحْمَدَ: وَمَنْ لَمْ يَعْرِفْ تَفْسِيرَ الْحَدِيثَ وَيُبَلِّغُهُ عَقْلَهُ فَقَدْ كُفِيَ ذَلِكَ وَأُحْكِمَ لَهُ مَعْنَاهُ قَدْ كَفَاهُ ذَلِكَ أَهْلُ الْعِلْمِ، وَأَحْكَمُوا لَهُ عِلْمَهُ، فَدَلَّ عَلَى التَّفْسِيرِ

 

40 - وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَالْحَسَنِ، وَغَيْرِهِمَا فِي قَوْلِهِ: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ}
সে আল্লাহর সাথে কুফরি করল। আর তোমরা যাকে কোনো কূপের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে, তাকে তাতে নিক্ষেপ করো।

 

৩৭ - এবং তার সনদে ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে বর্ণিত: যে ব্যক্তি সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে অস্বীকার করল, সে আল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আল্লাহও তার থেকে বিচ্ছিন্ন।

 

৩৮ - এবং তার সনদে তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যায়েদ বলেছেন: জাহমিয়াদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যাকে বলা হলো: "তোমার বাড়িতে কি কোনো খেজুর গাছ আছে?" সে বলল: "হ্যাঁ"। বলা হলো: "সেটির কি কচি পাতা আছে?" সে বলল: "না"। বলা হলো: "সেটির কি ডালপালা আছে?" সে বলল: "না"। বলা হলো: "সেটির কি ডাল কাটার অবশিষ্টাংশ আছে?" সে বলল: "না"। বলা হলো: "সেটির কি কাণ্ড আছে?" সে বলল: "না"। বলা হলো: "সেটির কি মূল আছে?" সে বলল: "না"। তখন বলা হলো: "তাহলে তোমার বাড়িতে কোনো খেজুর গাছই নেই।"

এই জাহমিয়াদেরও যখন বলা হয়: "তোমাদের কি এমন কোনো রব আছেন যিনি কথা বলেন?" তারা বলে: "না"। বলা হয়: "তাঁর কি হাত আছে?" তারা বলে: "না"। বলা হয়: "তাঁর কি পা আছে?" তারা বলে: "না"। বলা হয়: "তাঁর কি আঙুল আছে?" তারা বলে: "না"। বলা হয়: "তিনি কি সন্তুষ্ট হন এবং রাগান্বিত হন?" তারা বলে: "না"। তখন বলা হয়: "তাহলে তোমাদের কোনো রবই নেই।"

এই বিষয়ে যদি হাদিস বিশারদগণের বক্তব্য অনুসন্ধান করা হয়, তবে এমন অনেক বর্ণনা পাওয়া যাবে যার ব্যাখ্যা দীর্ঘ হবে। যদি বলা হয়: ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্যদের থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়েছে যা ব্যাখ্যার (তাফসির) প্রতি নির্দেশ করে।

আবদুস ইবনে মালিক আল-আত্তারের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ বলেন: "অপরিহার্য সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত—যার কোনো একটি অংশ কেউ ত্যাগ করলে, মুখে স্বীকার না করলে এবং বিশ্বাস না করলে সে সুন্নাহর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে না—তা হলো: ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা, এই বিষয়ের হাদিসগুলোকে সত্য বলে মানা। আর যার কাছে কোনো হাদিসের ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয় এবং তার বুদ্ধি সেখানে পৌঁছাতে পারে না, তার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট ও সুনির্ধারিত করা হয়েছে যে, তার ওপর কেবল ঈমান আনা এবং আত্মসমর্পণ করা আবশ্যক।"

 

৩৯ - তারা বলেন: ইমাম আহমাদের কথা—"আর যার কাছে কোনো হাদিসের ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয় এবং তার বুদ্ধি সেখানে পৌঁছাতে পারে না, তার জন্য তা যথেষ্ট ও সুনির্ধারিত করা হয়েছে"—এর অর্থ হলো আলেমগণ তার পক্ষ থেকে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তার জন্য জ্ঞান সুদৃঢ় করেছেন; সুতরাং এটি ব্যাখ্যার অস্তিত্বের প্রতিই নির্দেশ করে।

 

৪০ - এবং ইবনে আব্বাস, হাসান ও অন্যান্যদের থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: {যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে}।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥٦)
الْمُرَادُ بِهِ الشِّدَّةُ، وَهَذِهِ تَأْوِيلٌ مِنْهُمْ
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কঠোরতা, এবং এটি তাদের পক্ষ থেকে কৃত একটি ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥٧)
41 - وَرُوِيَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ قَوْلِهِ: " يَنْزِلُ اللَّهُ تَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا "، فَقَالَ: يَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ.

فَقَدْ تَأَوَّلَ ذَلِكَ عَلَى أَنَّهُ فِعْلٌ مِنْ أَفْعَالِ اللَّهِ، يَظْهَرُ مِنْهُ بِقُدْرَتِهِ.

قِيلَ: أَمَّا قَوْلُ أَحْمَدَ قَدْ كَفَى ذَلِكَ مَعْنَاهُ: قَدْ كُفِيَ طَلَبُ التَّأْوِيلِ وَالْبَحْثِ عَنْهُ، وَقَوْلُهُ: وَأُحْكِمَ لَهُ مَعْنَاهُ: أُحْكِمَتْ لَهُ الْكِفَايَةُ فِي تَرْكِ الْبَحْثِ وَطَلَبِ التَّأْوِيلِ، وَيُبَيِّنُ صِحَّةَ هَذَا مَا قَالَهُ بَعْدَ ذَلِكَ: فَعَلَيْهِ الإِيمَانُ وَالتَّسْلِيمُ، وَالإِيمَانُ وَالتَّسْلِيمُ لا يَكُونُ مَعَ التَّأْوِيلِ، وَأَمَّا مَا رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي تَأْوِيلِ السَّاقِ فَقَدْ خَالَفَهُ ابْنُ مَسْعُودٍ وَحَمَلَ السَّاقَ عَلَى أَنَّهُ صِفَةٌ، وَيُمْكِنُ أَنْ يُحْمَلَ قَوْلُ ابْنِ
৪১ - আওযায়ী থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের) এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন।" তিনি বলেছিলেন: আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন।

তিনি বিষয়টিকে আল্লাহর কাজসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি কাজ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা তাঁর কুদরতের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

বলা হয়েছে: ইমাম আহমাদের উক্তি "তা-ই যথেষ্ট" এর অর্থ হলো: ব্যাখ্যা অন্বেষণ ও তা নিয়ে গবেষণা করা থেকে বিরত থাকাই যথেষ্ট। আর তাঁর উক্তি "তার জন্য সুদৃঢ় করা হয়েছে" এর অর্থ হলো: গবেষণা বর্জন ও ব্যাখ্যা অন্বেষণ না করার ওপর যথেষ্ট হওয়ার বিষয়টি সুদৃঢ় হয়েছে। এরপর তিনি যা বলেছেন তা-ই এর সঠিকতা প্রমাণ করে: "সুতরাং তার ওপর ঈমান আনা এবং আত্মসমর্পণ করা কর্তব্য।" আর ঈমান ও আত্মসমর্পণ ব্যাখ্যার সাথে সম্ভব নয়। আর আল্লাহর পা (সাক) এর ব্যাখ্যার বিষয়ে ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, ইবনে মাসউদ তার বিরোধিতা করেছেন এবং আল্লাহর পা-কে তাঁর একটি গুণ হিসেবে গণ্য করেছেন। আর ইবনে... এর বক্তব্যকে এভাবে গ্রহণ করা সম্ভব যে-
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥٨)
عَبَّاسٍ عَلَى أَنَّ حَدَّ السَّاقِ فِي اللُّغَةِ: الشِّدَّةُ، فَحَكَى قَوْلَ أَهْلِ اللُّغَةِ فِي ذَلِكَ، لا أَنَّهُ قَصَدَ حِدَّةً فِي الشَّرْعِ.

وَأَمَّا قَوْلُ الأَوْزَاعِيِّ: يَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ فَلا يَجُوزُ أَنْ يُحْمَلَ هَذَا مِنْ قَوْلِهِ عَلَى أَنَّهُ قَصَدَ بِذَلِكَ أَنَّ النُّزُولَ مِنْ صِفَاتِ الْفِعْلِ لأَنَّهُ لَمْ يُصَرِّحْ بِهِ، وَعَلَى أَنَّا قَدْ حَكَيْنَا عَنْ جَمَاعَةٍ مِنَ السَّلَفِ خِلافَ

ذَلِكَ
আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, ভাষাগতভাবে 'সাক' (আল্লাহর পা)-এর সংজ্ঞা হলো: তীব্রতা; তিনি এ বিষয়ে ভাষাবিদদের বক্তব্যই কেবল বর্ণনা করেছেন, শরয়ি কোনো সংজ্ঞা প্রদান করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।

আর আওজায়ির কথা: "আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন", তাঁর এই বক্তব্যকে এভাবে গ্রহণ করা বৈধ হবে না যে, তিনি এর দ্বারা অবতরণ করাকে আল্লাহর কর্মগত গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন; কারণ তিনি তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি। তাছাড়া আমরা সালাফদের এক জামাত থেকে এর বিপরীত

বিষয়টি বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٥٩)
‌‌فَصْلٌ فِي الدَّلالَةِ عَلَى أَنَّهُ لا يَجُوزُ الاشْتِغَالُ بِتَأْوِيلِهَا وَتَفْسِيرِهَا

مِنْ وُجُوهٍ أَحَدُهَا: أَنَّ آيَ الْكِتَابِ قِسْمَانِ: أَحَدُهُمَا مُحْكَمٌ تَأْوِيلُهُ تَنْزِيلُهُ يُفْهَمُ الْمُرَادُ مِنْهُ بِظَاهِرِهِ وَقِسْمٌ هُوَ مُتَشَابِهٌ لا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلا اللَّهُ وَلا يُوقَفُ عَلَى مَعْنَاهُ بِلُغَةِ الْعَرَبِ بِدَلِيلِ قَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلا اللَّهُ} وَقَوْلِهِ: {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ} فَالْوَاوُ هَهُنَا لِلاسْتِئْنَافِ وَلَيْسَتْ عَاطِفَةً.

كَذَلِكَ أَخْبَارُ الرَّسُولِ، صلى الله عليه وسلم، جَارِيَةٌ هَذَا الْمَجْرَى وَمُنَزَّلَةٌ عَلَى هَذَا التَّنْزِيلِ مِنْهَا الْبَيِّنُ الْمُسْتَقِلُّ فِي بَيَانِهِ بِنَفْسِهِ، وَمِنْهَا مَا لا يُوقَفُ عَلَى مَعْنَاهُ بِلُغَةِ الْعَرَبِ.

فَإِنْ قِيلَ مِنْ أَصْحَابِنَا مَنْ قَالَ: لا مُتَشَابِهَ فِي الْقُرْآنِ إِلا وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَعْلَمُونَ تَأْوِيلَهُ، وَالْوَاوُ هَهُنَا لِلْعَطْفِ عَلَى قَوْلِهِ: {إِلا اللَّهَ} وَقَدْ ذَكَر هَذَا ابْنُ قُتَيْبَةَ فِي كِتَابِهِ الْمُسَمَّى بِ الْمُشْكِلِ فَسَقَطَ هَذَا الدَّلِيلُ.
পরিচ্ছেদ: এ বিষয়ে প্রমাণ যে এগুলোর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে লিপ্ত হওয়া বৈধ নয়

কয়েকটি দিক থেকে এটি প্রমাণিত, যার প্রথমটি হলো: কিতাবের আয়াতসমূহ দুই প্রকার। এর একটি হলো মুহকাম (সুস্পষ্ট), যার অবতীর্ণ রূপই তার ব্যাখ্যা এবং এর বাহ্যিক শব্দ থেকেই উদ্দেশ্য বোঝা যায়। আর অন্য প্রকারটি হলো মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট), যার ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না এবং কেবল আরবী ভাষার মাধ্যমে এর মর্মার্থ অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এর দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ ছাড়া এর ব্যাখ্যা কেউ জানে না" এবং তাঁর বাণী: "আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি"। এখানে 'ওয়াও' অক্ষরটি প্রারম্ভসূচক, এটি সংযোজক নয়।

অনুরুপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহও একইভাবে প্রযোজ্য এবং একই ধারায় অবতীর্ণ। এগুলোর মধ্যে কিছু বিষয় সুস্পষ্ট যা নিজেই নিজের অর্থ প্রকাশে স্বয়ংসম্পূর্ণ, আবার এগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা আরবী ভাষার মাধ্যমে অনুধাবন করা যায় না।

যদি বলা হয় যে, আমাদের সাথীদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: কুরআনে এমন কোনো মুতাশাবিহ নেই যার ব্যাখ্যা জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিগণ জানেন না; এবং এখানে 'ওয়াও' অক্ষরটি "আল্লাহ ছাড়া" অংশের উপর সংযোজক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ইবনে কুতাইবা তাঁর "আল-মুশকিল" নামক গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, ফলে (তাদের মতে) এই দলীলটি অসার হয়ে যায়।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦٠)
قِيلَ: هَذَا قَوْلٌ يُخَالِفُ إِجْمَاعَ الصَّحَابَةِ

 

42 - قَالَ أَبُو بَكْرٍ الأَنْبَارِيُّ فِي كِتَابِ الرَّدِّ عَلَى أَهْلِ الإِلْحَادِ: قَدْ ذَهَبَ إِلَى هَذَا الَّذِي أَنْكَرَهُ يَعْنِي: ابْنَ قُتَيْبَةَ، جَمَاعَةٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، مِنْهُمْ أُبَيٌّ وَابْنُ مَسْعُودٍ وَابْنُ عَبَّاسٍ، فَفِي قِرَاءَةِ عَبْدِ اللَّهِ: إِنْ تَأْوِيلُهُ إِلا عِنْدَ اللَّهِ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ، وَفِي قِرَاءَةِ أُبَيٍّ: وَيَقُولُ الرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ، وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ: وَيَقُولُ الرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ قَالَ: وَكَانَ الْفَرَّاءُ وَأَبُو عُبَيْدٍ يَقُولانِ: الرَّاسِخُونَ مستأنفون وَاللَّهُ هُوَ الْمُتَفَرِّدُ بِعِلْمِ التَّأْوِيلِ.

قَالَ: وَسَمِعْتُ أَبَا الْعَبَّاسِ، يَقُولُ: الْوَقْفُ عَلَى قَوْلِهِ: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلا
বলা হয়েছে: এটি এমন একটি বক্তব্য যা সাহাবীগণের ইজমার (ঐক্যমত্যের) পরিপন্থী।

 

৪২ - আবু বকর আল-আনবারি তাঁর ‘আর-রাদ্দু আলা আহলিল ইলহাদ’ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি (অর্থাৎ ইবনে কুতাইবাহ) যা অস্বীকার করেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবী সেই মতটিই গ্রহণ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উবাই, ইবনে মাসউদ এবং ইবনে আব্বাস। আব্দুল্লাহর কিরাআতে রয়েছে: “এর ব্যাখ্যা কেবল আল্লাহর নিকট এবং জ্ঞানে পরিপক্করা বলেন,” আর উবাইয়ের কিরাআতে রয়েছে: “এবং জ্ঞানে পরিপক্করা বলেন,” এবং ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত যে, তিনি পড়তেন: “এবং জ্ঞানে পরিপক্করা বলেন।” তিনি বলেন: আল-ফাররা এবং আবু উবাইদ বলতেন: ‘আর-রাসিখুন’ (জ্ঞানে পরিপক্করা) হলো নতুন বাক্যের সূচনা, আর আল্লাহ তাআলাই ব্যাখ্যার জ্ঞানে একক।

তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাসকে বলতে শুনেছি: বিরতি (ওয়াকফ) হবে তাঁর এই বাণীর ওপর: {এবং এর ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না...
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦١)
اللَّهُ}، وَالابْتِدَاءُ {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ}
আল্লাহ} এবং প্রারম্ভ {আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলে, ‘আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি’}
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦٢)
43 - وَيُبَيِّنُ صِحَّةَ هَذَا مَا رَوَاهُ ابْنُ الْمُظَفَّرِ الْحَافِظُ فِي أَوَّلِ كِتَابِ السُّنَنِ بِإِسْنَادِهِ،
৪৩ - এবং এর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে হাফিজ ইবনুল মুজাফ্ফার তাঁর ‘কিতাবুস সুনান’-এর শুরুতে স্বীয় সনদসহ যা বর্ণনা করেছেন,
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦٣)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى أَرْبَعَةِ أَحْرُفٍ: حَلالٌ وَحَرَامٌ لا يُعْذَرُ أَحَدٌ بِالْجَهَالَةِ بِهِ، وَتَفْسِيرٌ تُفَسِّرُهُ الْعَرَبُ، وَتَفْسِيرٌ تُفَسِّرُهُ الْعُلَمَاءُ، وَمُتَشَابِهٌ لا يَعْلَمُهُ إِلا اللَّهُ، مَنِ ادَّعَى عِلْمَهُ سِوَى اللَّهِ فَهُوَ كَاذِبٌ".

وَلأَنَّ اللَّهَ قَالَ: {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ} وَمَعْنَاهُ: صَدَّقْنَا بِهِ لأَنَّ الإِيمَانَ هُوَ التَّصْدِيقُ، وَلَمْ يَقُلْ: وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ عَلِمْنَا بِهِ، فَلَمْ يَقْتَضِ الْعَطْفُ الْمُشَارَكَةَ فِي الْعِلْمِ كَقَوْلِ الْقَائِلِ: مَا يَعْلَمُ مَا فِي هَذَا الْبَيْتِ إِلا زَيْدٌ وَعُمَرُ، يَقُولُ: آمَنَّا بِهِ مَعْنَاهُ أَنَّهُ مُصَدِّقٌ لَهُ، وَلا يَقْتَضِي مُشَارَكَتَهُ فِي الْعِلْمِ، وَلأَنَّهُ إِذَا كَانَتِ الْوَاوُ عَاطِفَةً فِي الْمُشَارَكَةِ فِي الْعِلْمِ احْتَاجَ الْكَلامُ إِلَى إِضْمَارِ وَاوٍ أُخْرَى، فَتَقْدِيرُهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ وَيَقُولُونَ: آمَنَّا بِهِ وَالإِضْمَارِ تَرْكُ حَقِيقَةٍ.

 

44 - وَقَدْ ذَكَر أَبُو سُلَيْمَانَ حَمْدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْخَطَّابِ الْبُسْتِيُّ هَذَا
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কুরআন চারটি বিষয়ের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে: হালাল ও হারাম, যে বিষয়ে কারো অজ্ঞতার অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়; এমন তাফসীর যা আরবরা (ভাষাগত কারণে) ব্যাখ্যা করে; এমন তাফসীর যা আলেমগণ ব্যাখ্যা করেন; এবং মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট আয়াতসমূহ) যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত এগুলোর জ্ঞান রাখার দাবি করবে, সে একজন মিথ্যাবাদী।"

এবং যেহেতু আল্লাহ বলেছেন: {আর জ্ঞানে যারা সুগভীর তারা বলে: আমরা এতে ঈমান এনেছি}। এর অর্থ হলো: আমরা একে সত্য বলে বিশ্বাস করেছি, কেননা ঈমান হলো সত্য বলে স্বীকার করা। তিনি এটি বলেননি যে: "আর জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিগণ বলে: আমরা এটি জানি।" সুতরাং এখানে সংযোজক অব্যয় (ওয়াও) জ্ঞানের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব দাবি করে না, যেমন কারো কথা: "এই ঘরে কী আছে তা যায়েদ ও উমর ছাড়া আর কেউ জানে না।" তারা বলে: "আমরা এতে ঈমান এনেছি", এর অর্থ হলো তারা একে সত্য বলে বিশ্বাসকারী। এটি জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাদের অংশীদারিত্বের দাবি রাখে না। আর যদি 'ওয়াও' জ্ঞানের অংশীদারিত্ব বুঝানোর জন্য সংযোজক হতো, তবে বাক্যে অন্য একটি 'ওয়াও' উহ্য রাখার প্রয়োজন হতো। সেক্ষেত্রে বাক্যটির সম্ভাব্য রূপ হতো: "এবং জ্ঞানে যারা সুগভীর (তারাও জানে) এবং তারা বলে: আমরা এতে ঈমান এনেছি।" অথচ কোনো কিছু উহ্য রাখা মূল বা হাকীকত পরিত্যাগ করার নামান্তর।

 

৪৪ - আবু সুলায়মান হামদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল খাত্তাব আল-বুস্তি এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦٤)
السُّؤَالَ فِي كِتَابِ الْغُنْيَةِ عَنِ الْكَلامِ فَقَالَ: أَعْلَمُ أَنَّ الْمُتَشَابِهَ مِنَ الْقُرْآنِ قَدِ اسْتَأْثَرَ اللَّهُ بِعِلْمِهِ فَلا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ أَحَدٌ غَيْرُهُ.

قَالَ: وَمَذْهَبُ أَكْثَرِ الْعُلَمَاءِ أَنَّ الْوَقْفَ التَّامَّ فِي هَذِهِ الآيَةِ إِنَّمَا هُوَ عِنْدَ قَوْلِهِ: {وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلا اللَّهُ} وَمَا بَعْدَهُ اسْتِئْنَافُ كَلامٍ آخَرَ، وَحَكَى فِي ذَلِكَ قَوْلَ ابْنِ مَسْعُودٍ وَأُبَيٍّ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَائِشَةَ، وَقَالَ: وَإِنَّمَا رُوِيَ عَنْ مُجَاهِدٍ وَحْدَهُ أَنَّهُ نَسَقَ الرَّاسِخِينَ عَلَى مَا قَبْلَهُ، وَزَعَمَ أَنَّهُمْ يَعْلَمُونَهُ.

وَأَجَابَ بِجَوَابٍ آخَرَ، فَقَالَ: لا يَجُوزُ أَنْ يَنْفِيَ اللَّهُ، عز وجل، شَيْئًا عَنِ الْخَلْقِ وَيُثْبِتُهُ لِنَفْسِهِ فَيَكُونُ لَهُ فِي ذَلِكَ شَرِيكٌ، أَلا تَرَى إِلَى قَوْلِهِ: {قُلْ لا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ الْغَيْبَ إِلا اللَّهُ}، وَقَوْلِهِ: {لا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلا هُوَ}، وَقَوْلِهِ: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلا وَجْهَهُ} فَكَانَ هَذَا كُلُّهُ مِمَّا اسْتَأْثَرَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ بِهِ لا يُشْرِكُهُ فِيهِ غَيْرُهُ كَذَلِكَ هَهُنَا.

قَالَ: فَإِنْ قِيلَ: كَيْفَ يَصِحُّ الإِيمَانُ بِمَا لا نُحِيطُ عِلْمًا بِحَقِيقَتِهِ، وَنَصِفُهُ بِشَيْءٍ لا دَرَكَ لَهُ فِي عُقُولِنَا؟ قِيلَ: قَدْ أُمِرْنَا أَنْ نُؤْمِنَ بِمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَبِالْجَنَّةِ وَنَعِيمِهَا وَبِالنَّارِ وَأَلِيمِ عَذَابِهَا، وَمَعْلُومٌ أَنَّا لا نُحِيطُ عِلْمًا بِكُلِّ شَيْءٍ مِنْهَا عَلَى التَّفْصِيلِ، وَإِنَّمَا

كُلِّفْنَا الإِيمَانَ بِهَا جُمْلَةً.

أَلا تَرَى أَنَّا لا نَعْرِفُ أَسْمَاءَ عِدَّةٍ مِنَ الأَنْبِيَاءِ وَكَثِيرٍ مِنَ الْمَلائِكَةِ وَلا نُحِيطُ بِصِفَاتِهِمْ، ثُمَّ لَمْ يَقْدَحْ ذَلِكَ فِيمَا أُمْرِنَا أَنْ نُؤْمِنَ بِهِ.

وَقَدْ قَالَ النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم، فِي صِفَةِ الْجَنَّةِ: " يَقُولُ اللَّهُ: أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لا عَيْنٌ رَأَتْ، وَلا أُذُنٌ سَمِعَتْ، وَلا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ " إِلَى هَاهُنَا كَلامُ أَبِي سُلَيْمَانَ.
'আল-গুনইয়াহ' কিতাবে ইলমে কালাম সম্পর্কে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: জেনে রাখো যে, কুরআনের মুতাশাবিহ আয়াতসমূহের জ্ঞান আল্লাহ নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন, তাই তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না।

তিনি বলেছেন: অধিকাংশ আলিমের মাযহাব হলো এই যে, এই আয়াতে 'ওয়াকফে তাম' বা পূর্ণ বিরতি হবে তাঁর এই বাণীর নিকট: "আর আল্লাহ ব্যতীত কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না।" এবং এর পরবর্তী অংশটি একটি নতুন কথার সূচনা। তিনি এই বিষয়ে ইবনে মাসউদ, উবাই, ইবনে আব্বাস এবং আয়েশার অভিমত বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও বলেছেন: কেবল মুজাহিদ থেকেই বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'জ্ঞানে সুগভীর' ব্যক্তিদের শব্দটিকে পূর্ববর্তী অংশের সাথে যুক্ত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তারা এর ব্যাখ্যা জানে।

তিনি অন্য একটি উত্তর দিয়ে বলেছেন: এটি বৈধ নয় যে, মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ কোনো বিষয় মাখলুক বা সৃষ্টির নিকট থেকে অস্বীকার করবেন এবং তা নিজের জন্য সাব্যস্ত করবেন, আর তাতে তাঁর কোনো শরিক থাকবে। তুমি কি তাঁর এই বাণীর দিকে লক্ষ্য করো না: "বলুন, আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা কেউ অদৃশ্যের খবর জানে না আল্লাহ ব্যতীত", এবং তাঁর বাণী: "তিনি ব্যতীত কেউ যথাসময়ে তা প্রকাশ করবে না", এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।" সুতরাং এই সব কিছুই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন, এতে অন্য কেউ তাঁর শরিক নয়; এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ।

তিনি বলেছেন: যদি প্রশ্ন করা হয়: যার হাকিকত বা প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আমাদের পূর্ণ জ্ঞান নেই, তার প্রতি ঈমান আনা কীভাবে সঠিক হতে পারে? এবং আমরা তাঁকে এমন বিষয়ের মাধ্যমে গুণান্বিত করছি যা অনুধাবন করার ক্ষমতা আমাদের বুদ্ধির নেই? উত্তরে বলা হয়: আমাদের তাঁর ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, শেষ দিবস, জান্নাত ও তার নিয়ামতসমূহ এবং জাহান্নাম ও তার যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির প্রতি ঈমান আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা জানা কথা যে, আমরা এসবের প্রতিটি বিষয় বিস্তারিতভাবে পুরোপুরি অবগত নই; বরং

আমাদের কেবল সামগ্রিকভাবে সেগুলোর ওপর ঈমান আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তুমি কি দেখছ না যে, আমরা অনেক নবীর নাম এবং বহু ফেরেশতার নাম জানি না এবং তাদের গুণাবলীও পুরোপুরি পরিবেষ্টন করতে পারি না? কিন্তু তা আমাদের যে বিষয়ের ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাতে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না।

জান্নাতের বর্ণনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ বলেন: আমি আমার নেককার বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরেও তা কখনো কল্পনা আসেনি।" আবু সুলায়মানের বক্তব্য এখানেই শেষ হলো।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦٥)
45 - وَقَدْ أَجَابَ قَوْمٌ آخَرُونَ عَنْ هَذَا السُّؤَالِ بِأَجْوِبَةٍ أُخَرَ بِأَنَّهُ لَوْ كَانَتِ الْوَاوُ عَاطِفَةً وَالرَّاسِخُونَ يَعْلَمُونَ تَأْوِيلَهُ لَمْ يَكُنْ فِيهِ مُتَشَابِهٌ وَكَانَ جَمِيعُهُ مُحْكَمًا، وَقَدْ أَخْبَرَ تَعَالَى أَنَّ فِيهِ مُحْكَمًا وَفِيهِ مُتَشَابِهًا، وَالْمُتَشَابِهُ مَا احْتَاجَ إِلَى بَيَانٍ.

وَلأَنَّهُ لَوْ كَانَتِ الْوَاوُ عَطْفًا عَلَى اسْمِ اللَّهِ لَكَانَ تَقْدِيرِ الْكَلامِ: اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ، وَلا يَجُوزُ إِضَافَةُ هَذَا الْقَوْلِ إِلَى اللَّهِ.

وَلأَنَّهُ لَوْ كَانَتْ عَاطِفَةً عَلَى اسْمِ اللَّهِ لَحَصَلَ قَوْلُهُ: {يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ} مُبْتَدَأً، وَلا يَصِحُّ الابْتِدَاءُ بِهِ لأَنَّهُ غَيْرُ مُفِيدٍ لِتَعَلُّقِهِ بِمَا قَبْلَهُ، وَإِذَا كَانَتِ الْوَاوُ لِلاسْتِئْنَافِ حَصَلَ الْمُبْتَدَأُ: {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ} فَيَكُونُ كَلامًا مُفِيدًا لأَنَّهُ غَيْرُ مُتَعَلِّقٍ بِمَا قَبْلَهُ.

وَلأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى مَدَحَ مَنْ وُكِّلَ عِلْمَ ذَلِكَ إِلَى عَالِمِهِ بِقَوْلِهِ: {وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا} وَلَوْ شَرِكُوهُ فِي عِلْمِهِ لَكَانَ مِنْ عِنْدِهِمْ وَلأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى مَدَحَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ بِقَوْلِهِ: {الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ
৪৫ - অন্য এক দল এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ভিন্ন কিছু জওয়াব দিয়ে। তা হলো— যদি 'ওয়াও' অক্ষরটি সংযোজক হতো এবং জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিগণ এর ব্যাখ্যা জানতেন, তবে তাতে কোনো অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) বিষয় থাকত না এবং এর পুরোটাই সুস্পষ্ট (মুহকাম) হতো। অথচ আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তাতে সুস্পষ্ট আয়াতও রয়েছে এবং অস্পষ্ট আয়াতও রয়েছে। আর অস্পষ্ট বিষয় তা-ই যা বর্ণনার মুখাপেক্ষী।

আর এ কারণেও যে, যদি 'ওয়াও' আল্লাহর নামের ওপর সংযোজক হতো, তবে বাক্যের মর্মার্থ হতো: আল্লাহ এবং জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিগণ বলছেন, 'আমরা এতে ঈমান এনেছি'। অথচ এই বক্তব্যটি আল্লাহর দিকে নিসবত করা বৈধ নয়।

এবং এজন্য যে, যদি এটি আল্লাহর নামের ওপর সংযোজক হতো, তবে তাঁর বাণী: {তারা বলে আমরা এতে ঈমান এনেছি} অংশটি প্রারম্ভিক পদ (মুক্তাদা) হিসেবে গণ্য হতো। অথচ এর মাধ্যমে বাক্য শুরু করা শুদ্ধ নয়, কারণ পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে এটি কোনো পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে না। আর যখন 'ওয়াও' প্রারম্ভিক ব্যবহারের জন্য হবে, তখন মুক্তাদা হবে: {আর জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিগণ বলেন আমরা এতে ঈমান এনেছি}; তখন এটি একটি অর্থবহ বাক্য হবে, যেহেতু তা পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

আর যেহেতু আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির প্রশংসা করেছেন যে সেই অস্পষ্ট বিষয়ের জ্ঞানকে তার প্রকৃত জ্ঞানীর নিকট সোপর্দ করে, তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিগণ বলে আমরা এর ওপর ঈমান এনেছি, সবকিছুই আমাদের রবের পক্ষ থেকে}। যদি তারা আল্লাহর সাথে সেই জ্ঞানে অংশীদার হতেন, তবে তা তাদের নিকট থেকেও হতো। আর যেহেতু আল্লাহ তাআলা অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারীদের প্রশংসা করে বলেছেন: {যারা ঈমান আনে...
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦٦)
بِالْغَيْبِ} وَلَوْ كَانُوا يَشْرَكُونَهُ سُبْحَانَهُ فِي عِلْمِ جَمِيعِ الأَشْيَاءِ لَمْ يَكُنْ هُنَاكَ غَيْبٌ يُؤْمِنُونَ بِهِ لأَنَّ ذَلِكَ مَعْلُومٌ عِنْدَهُمْ وَغَيْرُ مُمْتَنِعٌ صِحَّةُ الإِيمَانِ بِمَا لا نَعْلَمُ حَقِيقَتَهُ كَإِيمَانِهِ بِالْمَلائِكَةِ وَالْكُتُبِ وَالرُّسُلِ.

فَإِنْ قِيلَ: فَإِذَا لَمْ نَعْلَمْ تَأْوِيلَهُ لَمْ يُفِدِ الْخِطَابَ فَائِدَةً، كَمَا إِذَا خَاطَبَ الْعَرَبِيُّ بِالزِّنْجِيَّةِ قِيلَ: فِيهِ فَائِدَةٌ وَهُوَ اخْتِبَارُ الْعِبَادِ لِيُؤْمِنَ بِهِ الْمُؤْمِنُ فَيَسْعَدَ، وَيَكْفُرَ بِهِ الْكَافِرُ فَيَشْقَى لأَنَّ سَبِيلَ الْمُؤْمِنِ إِذَا قَرَأَ مِنْ هَذَا شَيْئًا أَنْ يُصَدِّقَ رَبَّهُ وَلا يَعْتَرِضَ فِيهِ بِسُؤَالٍ وَإِنْكَارٍ فَيَعْظُمَ ثَوَابُهُ

 

46 - وَقَدْ جَاءَ هَذَا مُفَسَّرًا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: مَا آمَنَ مُؤْمِنٌ أَفْضَلَ مِنْ إِيمَانٍ بِغَيْبٍ، ثُمَّ قَرَأَ: {الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ} وَلَئِنْ جَازَ أَنْ يُقَالَ: إِنَّ هَذَا لا يُفِيدُ جَازَ أَنْ يُقَالَ: إِنَّ أَمْرَنَا بِالإِيمَانِ بِمَلائِكَتِه وَرُسُلِهِ وَنَعِيمِ الْجَنَّةِ لا يُفِيدُ لأَنَّا لا نَعْلَمُهُ.

فَإِنْ قِيلَ: فَمَا وَجَدْنَا أَحَدًا مِنَ الْمُفَسِّرِينَ وَقَفَ عَلَى تَفْسِيرِ شَيْءٍ مِنَ الْقُرْآنِ بَلْ مَضَوْا فِي تَفْسِيرِهِ كُلِّهِ حَتَّى فَسَّرُوا الْحُرُوفَ الْمُقَطَّعَةَ فِي أَوَائِلِ السُّوَرِ مِثْلَ: الم وحم وص وق.
{অদৃশ্যের প্রতি}। আর তারা যদি সকল বিষয়ের জ্ঞানের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর শরিক হতো, তবে সেখানে বিশ্বাস করার মতো কোনো অদৃশ্য বিষয় থাকত না; কারণ তখন তা তাদের নিকট জানা থাকত। আর যে বিষয়ের হাকিকত (প্রকৃত স্বরূপ) আমরা জানি না, তার প্রতি ঈমানের বিশুদ্ধতা অসম্ভব নয়, যেমন ফেরেশতাগণ, কিতাবসমূহ এবং রাসূলগণের প্রতি তার ঈমান রাখা।

অতঃপর যদি বলা হয়: তবে যখন আমরা এর ব্যাখ্যা জানলাম না, তখন এই সম্বোধন কোনো উপকার প্রদান করল না, যেমন কোনো আরবের সাথে জাঞ্জি (একটি বিদেশী ভাষা) ভাষায় কথা বলা হলে ঘটে। এর উত্তরে বলা হবে: এতে উপকার রয়েছে, আর তা হলো বান্দাদের পরীক্ষা করা; যাতে মুমিন ব্যক্তি এর প্রতি ঈমান এনে সৌভাগ্যবান হয় এবং কাফির একে অস্বীকার করে হতভাগ্য হয়। কারণ মুমিনের নীতি হলো, যখন সে এ থেকে কিছু পাঠ করে, তখন সে তার রবের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং কোনো প্রশ্ন বা অস্বীকৃতির মাধ্যমে এতে আপত্তি করে না, ফলে তার প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

 

৪৬ - আর এটি আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) হতে ব্যাখ্যাসহ বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: "কোনো মুমিন অদৃশ্যের প্রতি ঈমানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো ঈমান আনেনি।" এরপর তিনি পাঠ করলেন: {যারা অদৃশ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে}। আর যদি এটি বলা বৈধ হয় যে: "এটি কোনো উপকার দেয় না," তবে এটাও বলা বৈধ হবে যে: "আল্লাহর ফেরেশতাগণ, রাসূলগণ এবং জান্নাতের নেয়ামতসমূহের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ আমাদের কোনো উপকার দেয় না, কারণ আমরা তা সরাসরি জানি না।"

অতঃপর যদি বলা হয়: আমরা তো এমন কোনো মুফাসসির পাইনি যিনি কুরআনের কোনো অংশের তাফসির না করে থেমে গিয়েছেন, বরং তারা এর সবকিছুরই তাফসির করে গিয়েছেন, এমনকি তারা সূরার শুরুর হুরূফে মুকাত্তাআতসমূহেরও তাফসির করেছেন যেমন: আলিফ-লাম-মীম, হা-মীম, সোয়াদ এবং ক্বফ।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦٧)
قِيلَ: هَذَا وَهْمٌ عَلَى السَّلَفِ لأَنَّ الأَجِلاءَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ، صلى الله عليه وسلم، وَالْمُتَقَدِّمِينَ فِي الْعِلْمِ كَانُوا يَسْأَلُونَ عَنِ الآيَةِ مِنَ الْقُرْآنِ فَلا يُجِيبُونَ عَنْهَا، وَيَقُولُونَ: مَا نَعْرِفُ تَأْوِيلَهَا مِنْهُمْ

: أَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ، وَابْنُ عَبَّاسٍ

 

47 - أما أَبُو بكر ذكر الأب عنده فقيل له: هو الرعي، واختلفوا فيه، فقال: لا تختلفوا أي سماء تظلني وأي أرض تقلني إذا قلت فِي كتاب الله بما لا أعلم

 

48 - وَقَالَ حميد، عن أنس: تلى عمر عَلَى المنبر: {وَفَاكِهَةً وَأَبًّا} فقال: هَذِهِ الفاكهة قد عرفناها فما الأب؟ ثم رجع عَلَى نفسه فقال: لعمرك يا ابن الخطاب إن هَذَا لهو التكلف.
বলা হয়েছে: এটি পূর্বসূরিদের (সালাফ) ব্যাপারে একটি ভুল ধারণা, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মহান সাহাবীগণ এবং ইলমের ক্ষেত্রে অগ্রগামীগণ যখন কুরআনের কোনো আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতেন, তখন তাঁরা তার উত্তর দিতেন না। তাঁরা বলতেন: আমরা এর ব্যাখ্যা জানি না। তাঁদের মধ্যে ছিলেন

: আবু বকর, উমর এবং ইবনে আব্বাস।

 

৪৭ - আবু বকরের নিকট যখন ‘আব্ব’ (তৃণলতা) এর কথা উল্লেখ করা হলো, তখন তাঁকে বলা হলো: এটি হলো গবাদিপশুর চারণভূমি; আর তারা এ নিয়ে মতভেদ করল। তখন তিনি বললেন: তোমরা মতভেদ করো না। কোন আকাশ আমাকে ছায়া দেবে এবং কোন জমিন আমাকে বহন করবে, যদি আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এমন কিছু বলি যা আমি জানি না?

 

৪৮ - হুমাইদ আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন: উমর মিম্বরে দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত করলেন: {ফলমূল এবং তৃণলতা}। এরপর তিনি বললেন: ফলমূল তো আমরা চিনেছি, কিন্তু ‘আব্ব’ কী? তারপর তিনি নিজের নফসের দিকে ফিরে বললেন: হে ইবনুল খাত্তাব, তোমার জীবনের কসম! এটি তো নিশ্চিতভাবেই অনর্থক বাড়াবাড়ি।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦٨)
49 - وعن ابن أَبِي مليكة قَالَ: دخلت عَلَى ابن عباس أنا وعبد الله بن فيروز مولى عثمان، فقال له عبد الله: يا أَبَا العباس {تَعْرُجُ الْمَلائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ} أي يوم هَذَا؟ فقال ابن عباس: من أنت؟ فانتسب له فلما عرفه قَالَ: مرحبا بك، {يُدَبِّرُ الأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ أَلْفَ سَنَةٍ} أي يوم هَذَا؟ قَالَ: أنا سألتك يا ابن العباس لتخبرني؟ قَالَ: أيام سماها الله، عز وجل، هو أعلم بها كيف تكون، أكره أن أقول فِي كتاب الله، عز وجل، بما لا أعلم

والذي فسره بعض المفسرين مما توقف ابن عباس فإنه لم يذكر مراد الله فيها بل قَالَ: يظهر لي فيها كذا، ويسنح كذا والله هو العالم بالتأويل فإن قيل: فقد قَالَ: {تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} قيل كما قَالَ: {تُدَمِّرُ كُلَّ شَيْءٍ} ولم تدمر السموات والأرض، وَقَالَ: {وَأُوتِيَتْ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ} ولم تؤت مثل فرج الرجل ولحيته.
৪৯ - ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এবং উসমানের মুক্ত দাস আব্দুল্লাহ ইবনে ফিরোজ ইবনে আব্বাসের নিকট প্রবেশ করলাম। তখন আব্দুল্লাহ তাকে বললেন: হে আবুল আব্বাস, {ফেরেশতারা এবং রূহ তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর}—এটি কোন দিন? ইবনে আব্বাস বললেন: তুমি কে? তিনি নিজের পরিচয় দিলেন। যখন তিনি তাকে চিনতে পারলেন, তখন বললেন: তোমাকে স্বাগতম। {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন, এরপর তা তাঁর দিকে আরোহণ করে এমন এক দিনে, যার পরিমাণ এক হাজার বছর}—এটি কোন দিন? আব্দুল্লাহ বললেন: হে ইবনে আব্বাস, আমি তো আপনার কাছেই জিজ্ঞেস করেছি যাতে আপনি আমাকে এ বিষয়ে অবগত করেন। তিনি বললেন: এগুলো এমন দিন যেগুলোর নামকরণ আল্লাহ মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী করেছেন, সেগুলো কেমন হবে সে সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন। আমি আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে এমন কিছু বলা অপছন্দ করি যা আমি জানি না।

আর ইবনে আব্বাস যে বিষয়ে মৌনতা অবলম্বন করেছেন, মুফাসসিরদের মধ্যে যারা সেটির ব্যাখ্যা করেছেন, তারা সেখানে আল্লাহর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বর্ণনা করেননি, বরং বলেছেন: আমার কাছে বিষয়টি এমন মনে হয়, কিংবা এমনটি প্রতিভাত হয়; আর আল্লাহই এর প্রকৃত ব্যাখ্যা সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। যদি বলা হয়: আল্লাহ তো বলেছেন: {প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে}, তবে উত্তরে বলা হবে: যেমনটি তিনি বলেছেন: {যা সবকিছু ধ্বংস করে দেয়}, অথচ তা আসমান ও জমিনকে ধ্বংস করেনি। আবার তিনি বলেছেন: {এবং তাকে সবকিছু থেকে দেওয়া হয়েছিল}, অথচ তাকে পুরুষের গোপনাঙ্গ বা দাড়ির মতো বিষয়গুলো দেওয়া হয়নি।
(খণ্ড: ١) ইবতালুত তাবীলাত - তাবা ইলাফ (পৃষ্ঠা: ٦٩)
فإن قيل: إذا لم يدخل الراسخون مع الله فِي العلم لم يكن لهم فضل عَلَى من لم يرسخ فِي العلم، لأن كل المسلمين يقولون آمنا به.

قيل: فضل الراسخين عَلَى غيرهم أنهم يعرفون الأحكام المحكمات مالا يعرفه غيرهم، وقد قيل: إن فضيلتهم تحصل بإيمانهم بالغيب عَلَى من لم يؤمن به، وقد قَالَ تَعَالَى: {بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ} وهذا يدل عَلَى أن هناك من لم يؤمن به فكانت فضيلتهم بالإيمان به.

فإن قيل: فنسلم لكم فِي القرآن مالا يعلم تأويله غير الله، لكن فائدته التلاوة التي هي طاعة وهي مندوب إليها يثاب عَلَى فعلها، فأما الأخبار فمتى لم يعرف معناها بلغة العرب عريت عن فائدة، لأنها لا تفيد عملا ولا تثبت علما ولا ثواب فِي فعلها.

قيل: لا تعرى عن فائدة لما بينا فيما قبل وهو اختبار العباد ليؤمن به المؤمن فيسعد، ويكفر به الكافر فيشقى، لأن سبيل المؤمن أن يصدق بما جاء به الرسول

 

50 - ودليل آخر ما روى أَبُو هُرَيْرَةَ وعبد الله بن عمرو، عن النبي، صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " يحمل هَذَا العلم من كل خلف عدوله ينفون عنه تحريف الغالين، وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين " فوجه الدلالة أنه منع التأويل فِي ذَلِكَ.
যদি বলা হয়: যদি ইলমে প্রাজ্ঞ ব্যক্তিগণ (রাসিখুন) ইলমের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে যারা ইলমে প্রাজ্ঞ নয় তাদের ওপর তাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব থাকে না, কারণ সকল মুসলিমই বলে থাকে 'আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি'।

বলা হয়েছে: অন্যদের ওপর প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের শ্রেষ্ঠত্ব হলো এই যে, তারা এমন সব দ্ব্যর্থহীন বিধান (মুহকামাত) জানেন যা অন্যরা জানে না। আরও বলা হয়েছে: অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনার মাধ্যমে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয় সেই ব্যক্তির ওপর যে ঈমান আনে না। মহান আল্লাহ বলেছেন: "বরং তারা সেই বিষয়কে অস্বীকার করেছে যার জ্ঞান তারা আয়ত্ত করতে পারেনি এবং যার ব্যাখ্যা এখনও তাদের কাছে আসেনি।" এটি নির্দেশ করে যে, এমন লোক রয়েছে যারা এর প্রতি ঈমান আনেনি, তাই এর প্রতি ঈমান আনার কারণেই তাদের শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হয়েছে।

যদি বলা হয়: আমরা আপনাদের এই বিষয়ে ছাড় দিচ্ছি যে, কুরআনে এমন কিছু রয়েছে যার ব্যাখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, তবে এর উপযোগিতা হলো তিলাওয়াত করা, যা একটি ইবাদত এবং এটি একটি পছন্দনীয় কাজ যার আমলের জন্য সওয়াব পাওয়া যায়। কিন্তু বর্ণনাসমূহের (আخبار) ক্ষেত্রে, যখন আরবি ভাষায় এগুলোর অর্থ জানা যায় না, তখন তা উপকারিতা বর্জিত হয়ে যায়; কারণ তা কোনো আমলের দিকনির্দেশনা দেয় না, কোনো জ্ঞান প্রতিষ্ঠিত করে না এবং এর দ্বারা কোনো সওয়াবও অর্জিত হয় না।

বলা হয়েছে: এটি উপকারিতা বর্জিত নয়, যেমনটি আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি। আর তা হলো বান্দাদের পরীক্ষা করা, যাতে মুমিন ব্যক্তি এর ওপর ঈমান এনে সৌভাগ্যবান হয় এবং কাফির একে অস্বীকার করে দুর্ভাগা হয়। কারণ মুমিনের পথ হলো রাসূল যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য বলে বিশ্বাস করা।

 

50 - আরেকটি প্রমাণ হলো যা আবু হুরায়রা ও আবদুল্লাহ ইবনে আমর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "প্রত্যেক প্রজন্মের ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা এই ইলম বহন করবেন। তারা এটি থেকে চরমপন্থীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন।" এর দলীল হওয়ার দিকটি হলো—তিনি এতে অপব্যাখ্যা (তাউইল) করতে নিষেধ করেছেন।