(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: -)
الصحيح المسبور من التفسير بالمأثور القسم: التفسير
الكتاب : موسوعة الصحيح المسبور من التفسير بالمأثور
المؤلف : أ. د. حكمت بن بشير بن ياسين
الناشر : دار المآثر للنشر والتوزيع والطباعة- المدينة النبوية
الطبعة : الأولى ، 1420 هـ - 1999 م
عدد الأجزاء : 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আছ-ছহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীর বিল মা'সুর (নির্ভরযোগ্য বর্ণনাভিত্তিক বিশুদ্ধ তাফসীর বিশ্বকোষ) বিভাগ: তাফসীর
গ্রন্থ : আছ-ছহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীর বিল মা'সুর বিশ্বকোষ
লেখক : প্রো. ড. হিকমত বিন বশীর বিন ইয়াসীন
প্রকাশক : দারুল মাআছির প্রকাশনা, পরিবেশনা ও মুদ্রণ সংস্থা- মদীনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ : প্রথম , ১৪২০ হিজরী - ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা : ৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[موسوعة الصحيح المسبور من التفسير بالمأثور]ـ
المؤلف: أ. د. حكمت بن بشير بن ياسين
الناشر: دار المآثر للنشر والتوزيع والطباعة- المدينة النبوية
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي، وضمن خدمة مقارنة التفاسير]
[মাওসুয়াতুস সহীহিল মাসবুর মিনাত তাফসিরিল মা'সুর (ঐতিহ্যবাহী বর্ণনাভিত্তিক বিশুদ্ধ তাফসির বিশ্বকোষ)]
লেখক: অধ্যাপক ড. হিকমত বিন বশীর বিন ইয়াসিন
প্রকাশক: দারুল মাআসির প্রকাশনা, বিতরণ ও মুদ্রণ - মদিনাতুন নববী (মদিনা মুনাওয়ারা)
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ, এটি পাদটীকা সংবলিত এবং তাফসির তুলনা সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الطبري مصنف "جامع البيان":
إني لأعجب ممن قرأ القرآن ولم يعلم تأويله كيف يلتذ بقراءته؟.
انظر معجم الأدباء 18/63
وقال ابن أبي حاتم الرازي مصنف "تفسير القرآن العظيم مسنداً عن الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين":
فلما لم نجد سبيلاً إلى معرفة شيء من معاني كتاب الله ولا من سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا من جهة النقل والرواية وجب أن نميز بين عدول الناقلة والرواة وثقاتهم وأهل الحفظ والثبت والإتقان منهم وبين أهل الغفلة والوهم وسوء الحفظ والكذب واختراع الأحاديث الكاذبة.
وقال أيضاً:
فإن قيل كيف السبيل إلى معرفة ما ذكرت من معاني كتاب الله عز وجل ومعالم دينه؟ قيل: بالآثار الصحيحة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وعن أصحابه النجباء الألباء الذين شهدوا التنزيل وعرفوا التأويل رضي الله عنهم. فإن قيل فبماذا تعرف الآثار الصحيحة والسقيمة؟ قيل: بنقد العلماء الجهابذة الذين خصهم الله عز وجل بهذه الفضيلة، ورزقهم هذه المعرفة، في كل دهر وزمان.
تقدمة الجرح والتعديل ص 2، 5
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
'জামেউল বয়ান'-এর রচয়িতা ইমাম তাবারী (রহ.) বলেন:
আমি ঐ ব্যক্তির কথা ভেবে বিস্মিত হই, যে কুরআন পাঠ করে অথচ তার ব্যাখ্যা জানে না; সে কীভাবে পাঠের স্বাদ আস্বাদন করে?
দেখুন: মু’জামুল উদাবা ১৮/৬৩
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী ও তাবিঈদের সূত্রে বর্ণিত 'তাফসীরুল কুরআনিল আযীম'-এর রচয়িতা ইবনে আবি হাতেম আর-রাযী (রহ.) বলেন:
যেহেতু মহান আল্লাহর কিতাবের অর্থসমূহ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভের জন্য বর্ণনা ও রেওয়ায়েত ব্যতিত অন্য কোনো পথ নেই, তাই বর্ণনাকারী ও রাবীদের মধ্যে যারা ন্যায়পরায়ণ, নির্ভরযোগ্য এবং মুখস্থ ও নির্ভুলতায় পারদর্শী, তাদেরকে গাফেল, সন্দিহান, দুর্বল স্মৃতিসম্পন্ন, মিথ্যাবাদী এবং মিথ্যা হাদীস রটনাকারীদের থেকে পৃথক করা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন:
যদি প্রশ্ন করা হয় যে, মহান আল্লাহর কিতাবের অর্থ এবং তাঁর দ্বীনের নিদর্শনসমূহ জানার পথ কী? তবে উত্তর হবে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সেই সকল সম্মানিত ও বুদ্ধিদীপ্ত সাহাবীদের থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে, যাঁরা ওহী নাজিল হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এর নিগূঢ় ব্যাখ্যা জানতেন (আল্লাহ তাঁদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)। যদি পুনরায় প্রশ্ন করা হয় যে, সহীহ (বিশুদ্ধ) ও সাকীম (অশুদ্ধ) বর্ণনা কীভাবে চেনা যাবে? উত্তরে বলা হবে: সেই সকল অভিজ্ঞ ও পারদর্শী আলেমদের সুক্ষ্ম পর্যালোচনার মাধ্যমে, আল্লাহ তাআলা যাঁদেরকে এই অনন্য মর্যাদা দান করেছেন এবং প্রতিটি যুগে এই বিশেষ জ্ঞান রিযিক হিসেবে দান করেছেন।
তাকদিমাতুল জারহি ওয়াত তা’দীল, পৃষ্ঠা ২, ৫
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
[[أهمية علم التفسير بالمأثور]]أما بعد: فإن علم التفسير من أجلِّ العلوم وأفضلها وأشرفها باعتبار أساسه وتاريخه وموضوعه وغايته، فأساسه: القرآن الكريم والحديث الشريف، وتاريخه: أول العلوم الإسلامية. وموضوعه: كلام الله تعالى. وغايته: معرفة معانيه وإدراك مراميه. وسنام هذه المعرفة: التفسير بالمأثور لأهميته الكبرى في فهم القرآن العظيم، لأنه تفسير من رب العالمين، أو من رسوله الأمين، أو تفسير صحابي شهد التنزيل وعرف التأويل، (1) أو تفسير تابعي نهل من مدرسة النبوة عن الصحابة المفسرين النابغين.
فلابد من التفسير بالمأثور لمن أراد أن يستجيب لله تعالى فيتدبر كلام الله، وكذا لمن أراد أن يفسر بالرأي يتحتم عليه أن يطلع على معرفة: أسباب النزول، والناسخ والمنسوخ، والمكي والمدني، والغريب، والمشكل، والوقف والابتداء، والقراءات وأوجهها، والقراءات الشاذة التفسيرية، والأحاديث المبينة للمجمل والمبهم، والأحاديث المخصصة للعام، والمقيدة للمطلق
… وهذه العلوم لا تؤخذ إلا بالنقل الصحيح ولا تنفك عن التفسير بالمأثور بل هي نابعة منه
ولما أوجب الله عز وجل علينا أن نعمل بهذا القرآن بالاستجابة لأوامره والازدجار عن نواهيه والاعتبار بقصص الأمم السالفة
… فقد كان لزاماً أن نتدبر معاني هذا القرآن وأن ندرك مراميه لنعمل به ونتحرى ما ثبت في تفسيره لنستقيم على نهجه.
--------------------------------------------
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল।
[[তাফসীর বিল মা’সুর-এর গুরুত্ব]]অতঃপর: নিশ্চয়ই তাফসীর শাস্ত্র এর ভিত্তি, ইতিহাস, বিষয়বস্তু ও লক্ষ্যের বিবেচনায় অন্যতম মহান, শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান। এর ভিত্তি হলো কুরআনুল কারীম ও হাদীস শরীফ; এর ইতিহাস হলো এটি সর্বপ্রথম ইসলামী জ্ঞান; এর বিষয়বস্তু হলো মহান আল্লাহর কালাম; এবং এর লক্ষ্য হলো কুরআনের অর্থ অনুধাবন ও এর উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা। আর এই জ্ঞানের সর্বোচ্চ শিখর হলো তাফসীর বিল মা’সুর (বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর), কেননা মহান কুরআন বুঝার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এটি হয় জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা, অথবা তাঁর বিশ্বস্ত রাসূলের পক্ষ থেকে, অথবা এমন কোনো সাহাবীর ব্যাখ্যা যিনি ওহী নাযিল হতে দেখেছেন এবং এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবগত ছিলেন, (১) অথবা এমন কোনো তাবিঈর ব্যাখ্যা যিনি প্রাজ্ঞ মুফাসসির সাহাবীগণের নিকট থেকে নবুয়তের পাঠশালায় জ্ঞান অর্জন করেছেন।
অতএব, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তাঁর কালাম নিয়ে গবেষণা করতে চায়, তার জন্য তাফসীর বিল মা’সুর অপরিহার্য। তেমনিভাবে যে ব্যক্তি নিজ রায়ের (সুচিন্তিত মতামত) মাধ্যমে তাফসীর করতে চায়, তার জন্য শান-এ-নুযূল (নাযিলের প্রেক্ষাপট), নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিতকৃত), মাক্কী ও মাদানী, আল-গারীব (দুর্বোধ্য শব্দাবলি), আল-মুশকিল (জটিল বিষয়াবলি), ওয়াকফ ও ইবতিদা (থামা ও শুরু করা), কিরাত ও এর বিভিন্ন রূপভেদ, ব্যাখ্যামূলক বিরল কিরাতসমূহ, মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) ও মুবহাম (অস্পষ্ট) বিষয়ের বর্ণনাকারী হাদীসসমূহ, আম (সাধারণ) কে খাস (বিশেষিত)কারী এবং মুতলাক (নিঃশর্ত) কে মুকাইয়াদ (শর্তযুক্ত)কারী হাদীসসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যিক। আর এই জ্ঞানসমূহ কেবল বিশুদ্ধ বর্ণনার মাধ্যমেই লাভ করা যায় এবং এগুলো তাফসীর বিল মা’সুর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং এগুলো তা থেকেই উৎসারিত।
যেহেতু আল্লাহ তায়ালা তাঁর নির্দেশসমূহ পালনের মাধ্যমে, তাঁর নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের কাহিনী থেকে শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে এই কুরআনের ওপর আমল করা আমাদের জন্য আবশ্যক করেছেন... তাই আমাদের জন্য এই কুরআনের মর্মার্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর গূঢ় রহস্য অনুধাবন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, যেন আমরা সে অনুযায়ী আমল করতে পারি এবং এর ব্যাখ্যায় যা সাব্যস্ত হয়েছে তা অনুসন্ধান করতে পারি, যাতে আমরা এর সঠিক পথে অবিচল থাকতে সক্ষম হই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ৬)
ولهذه الأمة تجربة خالدة حينما تدبرت هذا القرآن وأخذته بقوة، حيث أسعفها في طفرتها الكبرى حينما انتشلها من دياجير الجاهلية إلى مشاعل النور (إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ) (1) فلما التزمت بهدية هداها، ولما تركته تركها كما نرى الحال في هذا الزمان.
وبما أن العلماء هم الذين ينصحون الأمة ويحذرونها من مغبَّة البعد عن كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم فقد صدرت نداءاتهم المتكررة في كل زمان وحثهم الأمة على العودة إلى القرآن والسنة وغالباً ما يواكب هذه النداءات الدعوة لتنقية التفسير من الدخيل بأنواعه أو تصنيف تفسير نقلي بعدما ثبت فشل المدرسة العقلية -عندما زهدت بالأحاديث والآثار الصحيحة إذ لابد من الاستفادة منها- (2) ، وذلك من خلال نصائح العلماء وطلاب العلم والمثقفين، وهو مطلب مهم لأن التفسير علم جامع للقرآن والسنة.
وإن جندياً من جنود القرآن والسنة ليدرك من غير شك أهمية هذا المطلب الإسلامي والمسؤولية التي تناط به وخصوصاً في عصرنا الحاضر، وآمل ساعياً أن أحقق أملاً من الآمال التي تعقد على طلاب العلم.
من أجل هذا المنطلق جاءت فكرة تصنيف هذا الكتاب حيث قررت أن أجمع كل ما صح إسناده من التفسير بالمأثور؛ لأن الرواية التفسيرية الصحيحة تتقبلها النفوس -إن كانت صادقة- بكل اطمئنان وتأخذها بقوة وجدية، وخصوصاً إذا كانت الرواية من الصحيحين أو على شرطهما أو على شرط
--------------------------------------------
এই উম্মাহর একটি শাশ্বত অভিজ্ঞতা রয়েছে যখন তারা এই কুরআনের প্রতি গভীরভাবে প্রণিধান করেছিল এবং একে দৃঢ়ভাবে গ্রহণ করেছিল। এটি তাদের সেই মহাজাগরণের সময় সাহায্য করেছিল যখন এটি তাদেরকে জাহেলিয়াতের অন্ধকার থেকে আলোর মশালগুলোর দিকে টেনে এনেছিল (নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাধিক সুদৃঢ়) (১)। সুতরাং যখন তারা এর হিদায়াতকে আঁকড়ে ধরেছিল, তখন এটি তাদের সঠিক পথ দেখিয়েছিল; আর যখন তারা একে বর্জন করল, তখন এটিও তাদের ছেড়ে গেল, যেমনটি আমরা বর্তমান যুগে প্রত্যক্ষ করছি।
যেহেতু উলামায়ে কেরামই উম্মাহকে উপদেশ প্রদান করেন এবং আল্লাহ তাআলার কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়ার অশুভ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন, তাই প্রত্যেক যুগে তাঁদের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান এবং উম্মাহকে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার তাকিদ এসেছে। প্রায়শই এই আহ্বানগুলোর সাথে তাফসীরকে বিভিন্ন ধরণের অনুপ্রবেশিত বিষয় থেকে মুক্ত করার অথবা একটি বিশুদ্ধ বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর সংকলন করার ডাকও শামিল থাকে—বিশেষ করে যখন তথাকথিত যুক্তিবাদী ধারার ব্যর্থতা প্রমাণিত হয়েছে, কারণ তারা সহীহ হাদীস ও আছারসমূহ গ্রহণে অনীহা প্রদর্শন করেছিল অথচ এগুলো থেকে উপকৃত হওয়া অপরিহার্য (২)—এবং এটি আলেম সমাজ, ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থী ও বুদ্ধিজীবীদের নসীহতের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি, কেননা তাফসীর হলো কুরআন ও সুন্নাহর সমন্বিত একটি ইলম।
কুরআন ও সুন্নাহর একজন খাদেম হিসেবে এই ইসলামী দাবির গুরুত্ব এবং অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে আমি নিঃসন্দেহে অবগত, বিশেষত আমাদের বর্তমান যুগে। আমি সচেষ্ট রয়েছি যাতে ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থীদের প্রতি যে উচ্চাশা পোষণ করা হয়, তার একটি অংশ হলেও পূরণ করতে পারি।
এই প্রেক্ষাপট থেকেই অত্র কিতাবটি সংকলনের চিন্তা জাগ্রত হয়েছে, যেখানে আমি বর্ণনাভিত্তিক তাফসীরের মধ্য থেকে সহীহ সনদপ্রাপ্ত সকল বর্ণনা সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। কেননা, তাফসীর সংক্রান্ত সহীহ বর্ণনাগুলো—যদি অন্তর সত্যনিষ্ঠ হয়—তবে তা পূর্ণ প্রশান্তির সাথে গ্রহণ করে এবং দৃঢ়তা ও গাম্ভীর্যের সাথে আঁকড়ে ধরে; বিশেষত যদি সেই বর্ণনাটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হয় অথবা তাদের শর্তানুযায়ী কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট শর্তে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ৭)
أحدهما، أو صحح تلك الرواية بعض النقاد المعتمدين. ويكفينا تجربة تقبل الصحيحين (1) . وهذا التقبل والأخذ يقوي صلة المسلم بالقرآن والسنة وأقوال الصحابة رضوان الله عليهم، وفي الوقت نفسه إن جمع الروايات التفسيرية الصحيحة يؤدي إلى تنقية التفسير من الدخيل بأنواعه، وفي هذا الجمع غربلة لجميع الروايات التفسيرية الثابتة الموجودة في كتب التفسير المسندة المطبوعة والمخطوطة، والموجودة في الكتب المسندة في العلوم الأخرى والتي سيأتي ذكرها في الحواشي والمصادر، وطريقة هذه الغربلة بنقد جميع الأسانيد لتلك الروايات وخصوصاً للأسانيد المتكررة كثيراً، فقد أفردت لها دراسة نقدية خاصة بها كما سيأتي في آخر هذه الديباجة.
هذا ومن فضل الله تعالى ومَنِّه أن هيأ الأسباب لهذا العمل حيث قيض لهذه الأمة في كل عصر ومصر من يقوم بنشر هذا العلم والعناية به، فخلفوا لنا تركة من كتب التفسير المسندة التي خزنت وحفظت كتب السابقين، وهذه من خصائص هذه الأمة.
وإن تكفلَ الله تعالى القرآن بالحفظ والبيان لمن أعظم ما خص الله تعالى هذه الأمة من الفضيلة والشرف حيث قال: (إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ) (2) وقال أيضاً: (إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ) . (3) وَعَدَ سبحانه -ووعده حق-، فبَيّن وفصّل بأدق أساليب الفصاحة والبلاغة، قال تعالى (كِتَابٌ فُصِّلَتْ آيَاتُهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ) (4) .
--------------------------------------------
তাদের কোনো একজনের শর্তানুসারে, অথবা নির্ভরযোগ্য কোনো সমালোচক সেই বর্ণনাটিকে সহীহ হিসেবে গণ্য করেছেন। আর আমাদের জন্য সহীহাইন-এর সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট (১)। এই গ্রহণ ও অনুসরণ মুসলিমদের সাথে কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কিরামের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বাণীর সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে। একই সাথে সহীহ তাফসীরী বর্ণনাগুলো সংকলন করার ফলে তাফসীর শাস্ত্র সকল প্রকার বাহিরাগত ও ভিত্তিহীন বিষয় থেকে পরিচ্ছন্ন হয়। এই সংকলনের মাধ্যমে মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান সকল মুসনাদ তাফসীর গ্রন্থ এবং অন্যান্য শাস্ত্রের মুসনাদ গ্রন্থগুলোতে (যার উল্লেখ টীকা ও উৎস তালিকায় আসবে) বিদ্যমান প্রমাণিত তাফসীরী বর্ণনাগুলোর একটি সূক্ষ্ম যাচাই বা ছাঁকন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই যাচাইয়ের পদ্ধতি হলো সেই বর্ণনাগুলোর সকল সনদ বিশেষ করে বারবার আসা সনদগুলোর সমালোচনামূলক পর্যালোচনা করা; যার জন্য আমি একটি স্বতন্ত্র গবেষণামূলক অধ্যায় নিবদ্ধ করেছি, যা এই মুখবন্ধের শেষে আসবে।
এটি আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহ ও করুণা যে তিনি এই কাজের অনুকূল উপায় ও উপকরণ তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি যুগে এবং প্রতিটি জনপদে এই উম্মতের মাঝে এমন ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন যারা এই ইলমের প্রচার ও প্রসারে বিশেষ যত্নশীল ছিলেন। ফলে তাঁরা আমাদের জন্য এমন সব মুসনাদ তাফসীর গ্রন্থের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন যা পূর্ববর্তীদের জ্ঞানভাণ্ডারকে সংরক্ষণ করেছে; আর এটি এই উম্মতের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কুরআনের সংরক্ষণ ও ব্যাখ্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যা এই উম্মতের জন্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ মর্যাদা ও সম্মানের বিষয়। তিনি ইরশাদ করেছেন: (নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশবাণী অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী) (২)। তিনি আরও বলেছেন: (নিশ্চয়ই এর সংকলন ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন। অতঃপর এর বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্বও আমারই) (৩)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ওয়াদা করেছেন—আর তাঁর ওয়াদা সত্য—তাই তিনি অত্যন্ত নিখুঁত অলঙ্কারশাস্ত্র ও প্রাঞ্জলতার সাথে তা বর্ণনা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: (এটি এমন এক কিতাব, যার আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবী ভাষার কুরআনরূপে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা জ্ঞান রাখে) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقال عز وجل أيضاً: (كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللهُ لَكُمُ الآياتِ لَعَلَّكُمْ تَتَفَكَّرُونَ) (1) .
[[نبذة عن نشأة التفسير بالمأثور]]كما جعل الله تعالى سنة رسوله صلى الله عليه وسلم بياناً للقرآن وتطبيقاً له في أقواله صلى الله عليه وسلم وأفعاله، ليكون الرسول صلى الله عليه وسلم الأسوة الحسنة كما قال تعالى: (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيراً) (2) .
وأوحى الله تعالى إلى رسوله صلى الله عليه وسلم أن يبين للأمة ما تحتاج إلى بيانه فقال تعالى: (وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ) (3) . وقد قام الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم بأداء الأمانة فبلغ الرسالة ونصح الأمة وكشف الغمة. (فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم هو المبيِّن عن الله عز وجل أمره، وعن كتابه معاني ما خوطب به الناس، وما أراد الله عز وجل به وعنى فيه، وما شرع من معاني دينه وأحكامه وفرائضه وموجباته وآدابه ومندوبه وسننه التي سنَّها، وأحكامه التي حكم بها وآثاره التي بثها. فلبث صلى الله عليه وسلم بمكة والمدينة ثلاثاً وعشرين سنة، يقيم للناس معالم الدين، يفرض الفرائض، ويسن السنن، ويمضي الأحكام ويحرم الحرام ويحل الحلال، ويقيم الناس على منهاج الحق بالقول والفعل. فلم يزل على ذلك حتى توفاه الله عز وجل وقبضه إليه صلى الله عليه وسلم وعلى آله أفضل صلاة وأزكاها، وأكملها وأذكاها، وأتمها وأوفاها فثبت عليه السلام حجة الله عز وجل على خلقه بما أدى عنه وبين، وما دل عليه من محكم كتابه ومتشابهه، وخاصه وعامه، وناسخه ومنسوخه، وما بشر وأنذر.
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: (এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-গবেষণা করতে পারো) (১)।
[[তাফসীর বিল মাসূরের উদ্ভব ও বিকাশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]]একইভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে কুরআনের ব্যাখ্যা এবং তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে তার বাস্তব প্রয়োগ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে গণ্য হন; যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ) (২)।
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ওহী নাযিল করেছেন যেন তিনি উম্মতের কাছে প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। তিনি ইরশাদ করেছেন: (আর আমি আপনার প্রতি এই যিকর নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে) (৩)। ‘সাদিকুল মাসদুক’ (যিনি সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃত) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানত আদায় করেছেন, রিসালাতের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, উম্মতকে সদুপদেশ প্রদান করেছেন এবং বিভ্রান্তির অন্ধকার দূর করেছেন। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নির্দেশের বর্ণনাকারী এবং তাঁর কিতাবের সেই সমস্ত অর্থের ব্যাখ্যাদাতা যার মাধ্যমে মানুষকে সম্বোধন করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এর দ্বারা যা ইচ্ছা করেছেন ও উদ্দেশ্য নিয়েছেন, এবং তিনি তাঁর দ্বীনের অর্থ, বিধান, ফরজসমূহ, আবশ্যকীয় বিষয়াদি, শিষ্টাচার, মুস্তাহাব ও তাঁর প্রবর্তিত সুন্নাহসমূহ, তাঁর ফয়সালাকৃত বিধানসমূহ এবং তিনি যেসব নিদর্শন প্রচার করেছেন—এ সবই তিনি বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা ও মদিনায় তেইশ বছর অবস্থান করেন, মানুষের জন্য দ্বীনের নিদর্শনসমূহ প্রতিষ্ঠা করেন, ফরজসমূহ নির্ধারণ করেন, সুন্নাহসমূহ প্রবর্তন করেন, বিধানসমূহ কার্যকর করেন, হারামকে হারাম এবং হালালকে হালাল ঘোষণা করেন এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষকে সত্যের পথে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি এভাবেই দায়িত্বরত ছিলেন যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তাঁর ওফাত দান করেন এবং তাঁকে নিজের সান্নিধ্যে নিয়ে নেন। তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম, পবিত্রতম, পূর্ণাঙ্গতম, সুবাসিত এবং অতি উত্তম দরুদ ও সালাম। সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু আদায় ও বর্ণনা করেছেন, এবং আল্লাহর কিতাবের মুহকাম (সুস্পষ্ট), মুতাশাবিহ (অস্পষ্ট), খাস (বিশেষ), আম (সাধারণ), নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) এবং তিনি যে সুসংবাদ ও সতর্কবাণী প্রদান করেছেন—সেসবের মাধ্যমে তিনি সৃষ্টির ওপর আল্লাহর অকাট্য প্রমাণ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال الله عز وجل (رُسُلاً مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلاّ يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ)) (1) (2) .
[[نبذة عن مراحل التفسير بالمأثور ومنهج الصحابة والتابعين فيه]]وما أن فاضت روحه صلى الله عليه وسلم لتلحق بالرفيق الأعلى إلا ومدرسة النبوة قد بدأت تتحمل هذه المسؤولية من خلال تلك الصفوة التي تهذبت وتربت ونهلت من ذلك البيان، واشتهر منهم في علم التفسير جماعة كالخلفاء الراشدين وابن عباس وابن مسعود وزيد بن ثابت وأُبي بن كعب وأبي موسى الأشعري وعبد الله ابن الزبير (3) ، ومنهم المكثرون كابن عباس وابن مسعود، ومنهم من لم يكثر وذلك بسبب تقدم وفاتهم أو انشغالهم في الإعداد والإدارة والجهاد، وقد نالوا -رضوان الله عليهم- الحظ الأوفر من ذلك الهدي والبيان النبوي، فتلقوه بكل همة وحفظوه وطبقوه بدقة وأمانة، ثم قدموه إلى من بعدهم من التابعين فنشروا ما علموه بحكمة وصيانة مع التحري والتدقيق.
(وتلقى التابعون التفسير عن الصحابة كما تلقوا عنهم علم السنة) (4) ، وقد قام التابعون الذين تحملوا هذا العلم بواجبهم تجاه هذا القرآن العظيم، فكرسوا اهتمامهم وبذلوا جهودهم لتلقي ما ورد من آثار لبيان معاني ومرامي هذا القرآن الكريم، فعرفوا تفسيره وأسباب نزوله، وفضائله وأمثاله، وأحكامه وأقسامه، وغريبه ومعربه، وبينوا المحكم من المتشابه، والناسخ والمنسوخ، والعموم من الخصوص، والمفصل من المجمل، والمقدم من المؤخر، والمطلق من المقيد.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "(আমি পাঠিয়েছি) সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসূলগণকে, যাতে রাসূলদের আগমনের পর আল্লাহর কাছে মানুষের কোনো অজুহাত অবশিষ্ট না থাকে।" (১) (২)।
[[তাফসীর বিল মাসুর-এর স্তরসমূহ এবং এতে সাহাবী ও তাবিঈগণের কর্মপদ্ধতি সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা]]নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র রূহ যখন রফীকুল আ’লার (মহান বন্ধুর) সান্নিধ্যে চলে গেল, তখনই নবুওয়াতের পাঠশালা এই মহান দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে শুরু করেছিল। এই দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল সেই মনোনীত একদল শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির ওপর, যারা ঐশী বর্ণনার সুধাপান করে পরিশুদ্ধ ও লালিত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একদল ব্যক্তি তাফসীর শাস্ত্রে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, যেমন: খুলাফায়ে রাশিদীন, ইবনে আব্বাস, ইবনে মাসউদ, যায়েদ ইবনে সাবিত, উবাই ইবনে কা’ব, আবু মূসা আল-আশআরী এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল যুবায়ের (৩)। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন প্রচুর বর্ণনাকারী (মুকসিরুন), যেমন ইবনে আব্বাস ও ইবনে মাসউদ। আবার কেউ কেউ অধিক বর্ণনা করেননি, যার কারণ ছিল তাঁদের ইন্তেকাল নিকটবর্তী হওয়া অথবা রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসনিক কাজ ও জিহাদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকা। তাঁরা—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—নবুওয়াতের সেই হিদায়েত ও বর্ণনার সিংহভাগ লাভ করেছিলেন। তাঁরা অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তা গ্রহণ করেছিলেন এবং তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নিখুঁত আমানতদারিতার সাথে বাস্তবায়ন করেছিলেন। এরপর তাঁরা তা পরবর্তী প্রজন্মের তাবিঈগণের কাছে পৌঁছে দেন এবং যা শিখেছিলেন, তা প্রজ্ঞা ও সতর্কতা এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রচার করেন।
(তাবিঈগণ সাহাবীগণের কাছ থেকে তাফসীর শিক্ষা করেছিলেন, যেমনিভাবে তাঁরা তাঁদের কাছ থেকে সুন্নাহর ইলম অর্জন করেছিলেন) (৪)। এই ইলমের ধারক তাবিঈগণ এই মহান কুরআনের প্রতি তাঁদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। তাঁরা পবিত্র কুরআনের অর্থ ও লক্ষ্যসমূহ বর্ণনায় প্রাপ্ত আছার বা বর্ণনাগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে গভীর মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছিলেন। ফলে তাঁরা এর তাফসীর, শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট), ফযীলত, উপমা, বিধিবিধান ও এর বিন্যাস এবং এর বিরল ও আরবিকৃত শব্দাবলি সম্পর্কে অবগত হন। তাঁরা মুহকাম (সুস্পষ্ট) ও মুতাশাবিহ (রূপক), নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত), আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ), মুফাসসাল (বিস্তারিত) ও মুজমাল (সংক্ষিপ্ত), মুকাদ্দাম (অগ্রবর্তী) ও মুআখখার (পশ্চাৎবর্তী) এবং মুতলাক (শর্তহীন) ও মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত) বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১০)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: وكان من أعظم ما أنعم الله عليهم اعتصامهم بالكتاب والسنة، فكان من الأصول المتفق عليها بين الصحابة والتابعين لهم بإحسان أنه لا يقبل من أحد قط أن يعارض القرآن، لا برأيه ولا ذوقه، ولا معقوله، ولا قياسه، ولا وجده، فإنهم ثبت عنهم بالبراهين القطعيات والآيات البينات أن الرسول جاء بالهدى ودين الحق، وأن القرآن يهدي للتي هي أقوم: فيه نبأ من قبلهم، وخبر ما بعدهم، وحكم ما بينهم، هو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن ابتغى الهدى في غيره أضله الله، هو حبل الله المتين، وهو الذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، وهو الذي لا تزيغ به الأهواء، ولا تلتبس به الألسن، فلا يستطيع أن يزيغه إلى هواه، ولا يحرف به لسانه، ولا يخلق عن كثرة الترداد، فإذا ردد مرة بعد مرة لم يخلق ولم يمل كغيره من الكلام، ولا تنقضي عجائبه، ولا تشبع عنه العلماء، من قال به صدق، ومن عمل به أجر، ومن حكم به عدل، ومن دعي إليه هدي إلى صراط مستقيم. فكان القرآن هو الإمام الذي يقتدى به، ولهذا لا يوجد في كلام أحد من السلف أنه عارض القرآن بعقل ورأي وقياس، ولا بذوق ووجد ومكاشفة، ولا قال قط قد تعارض في العقل والنقل، فضلاً عن أن يقول: فيجب تقديم العقل. والنقل -يعني القرآن والحديث وأقوال الصحابة والتابعين- إما أن يفوض وإما أن يؤول. ولا فيهم من يقول: إن له ذوقاً أو وجداً أو مخاطبة أو مكاشفة، تخالف القرآن والحديث
… (1) .
وهذا أنموذج من النماذج الدقيقة التي تدل على رصانة المنهج المتبع عند الصحابة والتابعين في تفسير القرآن الكريم والعمل به، وقد نشروا منهجهم في أصقاع الخلافة آنذاك فحينما بدأت الفتوح على أيديهم في الجزيرة العربية وما جاورها انتشر الصحابة للدعوة إلى الله وتوحيده يفقهون الناس بما أنزل
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর যে সকল শ্রেষ্ঠ নেয়ামত দান করেছেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা। সাহাবায়ে কেরাম এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীনদের মাঝে এটি একটি সর্বসম্মত মূলনীতি ছিল যে, কারো পক্ষ থেকেই কুরআনের বিরোধিতা কখনো গ্রহণ করা হবে না; না নিজের মতামতের মাধ্যমে, না আধ্যাত্মিক অনুভূতির মাধ্যমে, না বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির মাধ্যমে, না কিয়াসের (তুলনামূলক অনুমান) মাধ্যমে এবং না আধ্যাত্মিক উপলব্ধির মাধ্যমে। কেননা অকাট্য প্রমাণ ও সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে তাঁদের নিকট এটি সুসাব্যস্ত ছিল যে, রাসূল হিদায়াত ও সত্য দ্বীন নিয়ে এসেছেন এবং কুরআন সেই পথের দিকেই পরিচালিত করে যা অধিকতর সুদৃঢ়: এতে রয়েছে পূর্ববর্তীদের সংবাদ, পরবর্তীদের খবর এবং তাদের মধ্যকার বিষয়াদির ফয়সালা। এটি সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী, কোনো নিরর্থক বিষয় নয়। কোনো স্বৈরাচারী অহংকারবশত একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন এবং যে ব্যক্তি একে ছাড়া অন্য কোথাও হিদায়াত তালাশ করে আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করেন। এটি আল্লাহর মজবুত রশি, এটি প্রজ্ঞাময় যিকির এবং এটিই সরল পথ। এটি এমন এক কিতাব যার প্রভাবে কুপ্রবৃত্তি বিচ্যুত হয় না এবং ভাষাসমূহ বিভ্রান্তিতে পড়ে না; ফলে কেউ একে নিজের খেয়ালখুশি মতো পরিবর্তন করতে পারে না, না জিহ্বা একে বিকৃত করতে পারে। বারবার পাঠ করলেও এটি পুরনো হয় না; অর্থাৎ বারবার পাঠের ফলেও অন্যান্য বাণীর মতো তা ক্লান্তি বা একঘেয়েমি সৃষ্টি করে না। এর বিস্ময়কর দিকগুলো কখনো শেষ হয় না এবং উলামায়ে কেরাম এটি থেকে কখনো তৃপ্ত হন না। যে ব্যক্তি এর ভিত্তিতে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর ওপর আমল করে সে প্রতিদানপ্রাপ্ত হয়, যে এর মাধ্যমে বিচার ফয়সালা করে সে ইনসাফ করে এবং যাকে এর দিকে আহ্বান জানানো হয় সে সরল পথের দিশা পায়। সুতরাং কুরআনই ছিল সেই ইমাম যার অনুসরণ করা হতো। এই কারণেই সালাফদের কারো বাণীতে এমনটি পাওয়া যায় না যে, তিনি যুক্তি, মতামত, কিয়াস কিংবা আধ্যাত্মিক স্বাদ, উপলব্ধি ও অতিন্দ্রীয় দর্শনের মাধ্যমে কুরআনের বিরোধিতা করেছেন। আর তাঁদের কেউ কখনো বলেননি যে, বিবেক ও শ্রুত প্রমাণের (ওহী) মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে; বরং এ কথা তো বহু দূরের বিষয় যে—'বিবেককে অগ্রাধিকার দিতে হবে'। আর নকল—অর্থাৎ কুরআন, হাদীস এবং সাহাবা ও তাবেয়ীনদের বাণীসমূহ—হয় তা আল্লাহর ওপর সোপর্দ করতে হবে নতুবা তার রূপক ব্যাখ্যা করতে হবে। তাঁদের মাঝে এমন কেউ ছিলেন না যিনি বলতেন যে, তাঁর এমন কোনো আধ্যাত্মিক স্বাদ, উপলব্ধি, দৈববাণী বা অতিন্দ্রীয় উন্মোচন রয়েছে যা কুরআন ও হাদীসের পরিপন্থী ... (১)।
এটি সাহাবা এবং তাবেয়ীনদের কুরআনের তাফসীর ও তদানুযায়ী আমলের ক্ষেত্রে অনুসৃত সুদৃঢ় মানহাজের সূক্ষ্ম নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে একটি নমুনা। তাঁরা তৎকালীন খিলাফতের বিভিন্ন প্রান্তে তাঁদের এই মানহাজ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। যখন তাঁদের হাত ধরে আরব উপদ্বীপ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে বিজয় শুরু হয়, তখন সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর দিকে দাওয়াত ও তাঁর তাওহীদ প্রচারের জন্য ছড়িয়ে পড়েন এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে মানুষকে জ্ঞান দান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১১)
إليهم، فكان ابن عباس في مكة والبصرة، وابن مسعود في الكوفة، والخلفاء الأربعة وزيد بن ثابت وأبي بن كعب في المدينة، وأبو موسى الأشعري باليمن، وعمرو بن العاص بمصر، وكان من منهجهم في التعليم: الفهم والتطبيق العملي لما قرأوا وتعلموا من القرآن الكريم.
أخرج الطبري بسند صحيح عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: كان الرجل منا إذا تعلم عشر آيات لم يجاوزهن حتى يعرف معانيهن، والعمل بهن (1) .
وكان بعضهم إذا أشكل عليه مسألة سأل من هو أعلم منه في تلك المسألة، ويتكاتبون فيما بينهم إذا كانوا متباعدين.
فقد كتب ابن عباس رضي الله عنه إلى علي بن أبي طالب رضي الله عنه يسأله عن ستة إخوة وجد فكتب إليه أن اجعله كأحدهم وامح كتابي
… أخرجه ابن أبي شيبة ومحمد بن نصر بسند صحيح عن الشعبي. قاله الحافظ ابن حجر ثم قال: وأخرج الدارمي بسند قوي عن الشعبي قال: كتب ابن عباس إلى علي -وابن عباس بالبصرة- أني أتيت بجد وستة إخوة، فكتب إليه أن أعط الجد سدساً (2) ولا تعطه أحداً بعده (3) .
وقد أثَّر هؤلاء الصحابة -رضوان الله عليهم- في تلاميذهم من التابعين رحمهم الله حيث اجتمع في كل بلد لفيف من التابعين (4) حول هؤلاء الصحابة
--------------------------------------------
তাদের নিকট; ফলে ইবনে আব্বাস মক্কা ও বসরায় ছিলেন, ইবনে মাসউদ কুফায় ছিলেন, আর চার খলীফা এবং যায়েদ ইবনে সাবিত ও উবাই ইবনে কাব মদীনায় ছিলেন, আবু মুসা আল-আশআরী ইয়ামেনে এবং আমর ইবনুল আস মিশরে ছিলেন। তাঁদের শিক্ষাদান পদ্ধতি ছিল: পবিত্র কুরআন থেকে তাঁরা যা পাঠ করতেন ও শিখতেন, তার সঠিক উপলব্ধি ও বাস্তব প্রয়োগ।
ইমাম তাবারী একটি সহীহ সনদে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যখন দশটি আয়াত শিখতেন, তখন যতক্ষণ না সেগুলোর অর্থ এবং সে অনুযায়ী আমল করা সম্পর্কে সম্যক অবগত হতেন, ততক্ষণ তিনি সেগুলোকে অতিক্রম করে সামনে বাড়তেন না (১)।"
তাঁদের মধ্যে কারোর কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হলে তিনি ওই বিষয়ে যিনি তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন। আর তাঁরা যদি একে অপরের থেকে দূরে থাকতেন তবে পত্র বিনিময়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন।
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট ছয়জন ভাই ও একজন দাদার উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে পত্র লিখলেন। উত্তরে তিনি লিখলেন যে, দাদাকে তাদেরই একজন হিসেবে গণ্য করো এবং আমার এই পত্রটি মুছে ফেলো...। ইবনে আবি শাইবা এবং মুহাম্মদ ইবনে নাসর একটি সহীহ সনদে আশ-শা’বী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। হাফিজ ইবনে হাজার এটি উল্লেখ করে বলেন: আদ-দারেমী একটি শক্তিশালী সনদে শা’বী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস আলীর কাছে পত্র লিখলেন—তখন ইবনে আব্বাস বসরায় অবস্থান করছিলেন—যে, "আমার নিকট একজন দাদা এবং ছয়জন ভাইয়ের উত্তরাধিকারের বিষয় এসেছে।" উত্তরে তিনি লিখলেন যে, দাদাকে এক-ষষ্ঠাংশ (২) প্রদান করো এবং তার পরে আর কাউকে দিও না (৩)।
এই সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁদের উত্তরসূরি তাবেঈদের (রাহিমাহুমুল্লাহ) ওপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, ফলে প্রতিটি জনপদে একদল তাবেঈ (৪) এই সাহাবীদের সান্নিধ্যে একত্রিত হয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১২)
فكان من أصحاب ابن عباس الذين يقولون بقوله ويفتون ويذهبون مذهبه: سعيد بن جبير وجابر بن زيد وطاووس ومجاهد وعطاء بن أبي رباح وعكرمة (1) .
ومن أصحاب ابن مسعود الذين يفتون بفتواه ويقرأون بقراءته علقمة ابن قيس والأسود ابن يزيد ومسروق وعبيد السلماني والحارث بن قيس وعمرو بن شرحبيل (2) .
هذا بالنسبة لابن عباس وابن مسعود وهما مكثران، وهكذا الحال بالنسبة للآخرين من الصحابة المذكورين فلهم تلاميذ سطرت أسمائهم في تراجم الصحابة ومسانيدهم، وقد تتلمذ هؤلاء التابعون على الصحابة المفسرين قراءة وحفظاً وتفسيراً وعملاً.
وكان من منهج الصحابة الدقيق في تعليم التابعين العرض والتفسير والكتابة.
أخرج الطبري بسند صحيح عن ابن أبي مليكة قال: رأيت مجاهداً يسأل ابن عباس في تفسير القرآن ومعه ألواحه، فيقول له ابن عباس: أكتب. قال: حتى سأله عن التفسير كله (3) .
وقال محمد بن إسحاق: حدثنا أبان بن صالح، عن مجاهد قال: عرضت المصحف على ابن عباس ثلاث عرضات من فاتحته إلى خاتمته أوقفه عند كل آية منه وأسأله عنها (4) . وأخرجه الطبري من طريق ابن إسحاق معنعناً به (5) ، وإسناده حسن لأنه ثبت تصريح محمد بن إسحاق بالسماع. فقد أخرجه الحاكم
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাসের সেই সকল সাথী যারা তাঁর মতানুসারে কথা বলতেন, ফতোয়া দিতেন এবং তাঁর মাযহাব অনুসরণ করতেন তারা হলেন: সাঈদ ইবনে জুবায়ের, জাবির ইবনে যায়েদ, তাউস, মুজাহিদ, আতা ইবনে আবি রাবাহ এবং ইকরিমা (১)।
আর ইবনে মাসউদের সাথীদের মধ্যে যারা তাঁর ফতোয়া অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন এবং তাঁর কিরাত অনুযায়ী পাঠ করতেন তারা হলেন: আলকামা ইবনে কায়েস, আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ, মাসরুক, উবাইদ আস-সালমানি, আল-হারিস ইবনে কায়েস এবং আমর ইবনে শুরাহবিল (২)।
এটি ইবনে আব্বাস ও ইবনে মাসউদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং তাঁরা উভয়েই ছিলেন অধিক বর্ণনাদানকারী। উল্লিখিত অন্যান্য সাহাবীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ, কারণ তাঁদের এমন অনেক ছাত্র ছিলেন যাদের নাম সাহাবীদের জীবনীগ্রন্থ ও মুসনাদসমূহে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই তাবিঈগণ মুফাসসির সাহাবীদের নিকট কিরাত, হিফজ, তাফসীর ও আমলের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।
তাবিঈদের শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের অনুসৃত সূক্ষ্ম পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত ছিল পাঠ উপস্থাপন (আরদ), ব্যাখ্যা প্রদান এবং তা লিখে নেওয়া।
তাবারী একটি সহীহ সনদে ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে দেখেছি যে তিনি ইবনে আব্বাসের নিকট কুরআনের তাফসীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন এবং তাঁর সাথে তাঁর লেখার তক্তি ছিল। তখন ইবনে আব্বাস তাঁকে বলতেন: 'লেখ'। তিনি বলেন: এভাবে তিনি তাঁকে পূর্ণ তাফসীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন (৩)।
মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেন: আমাদের নিকট আবান ইবনে সালিহ মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের নিকট পূর্ণ কুরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনবার উপস্থাপন করেছি। আমি প্রতিটি আয়াতের নিকট থামতাম এবং সে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম (৪)। তাবারী এটি ইবনে ইসহাকের সূত্র ধরে 'আন' শব্দযোগে বর্ণনা করেছেন (৫), আর এর সনদ হাসান পর্যায়ের, কারণ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের সরাসরি শ্রবণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। হাকিমও এটি বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১৩)
من طريق محمد بن إسحاق سمع أبان بن صالح يحدث عن مجاهد قال: عرضت القرآن على ابن عباس ثلاث عرضات أوقفه على كل آية أسأله فيما نزلت وكيف كانت
… (1) .
وكذا كان سعيد بن جبير حريصاً على الكتابة عن ابن عباس. قال الدارمي: أخبرنا مالك بن إسماعيل، ثنا مندل بن علي العنزي، حدثني جعفر بن أبي المغيرة عن سعيد بن جبير قال: كنت أجلس إلى ابن عباس فأكتب في الصحيفة حتى تمتلئ ثم أقلب نعلي فأكتب في ظهورها (2) . وأخرجه بن سعد والدارمي أيضاً من طريق يعقوب القمي عن جعفر به مختصراً (3) ، وأخرجه الرامهرمزي من طريق مندل به (4) .
وأخرجه الخطيب البغدادي من طريق حبان عن جعفر بن أبي المغيرة به (5) .
وأخرج الدارمي أيضاً عن أبي النعمان، ثنا عبد الواحد، ثنا عثمان بن حكيم قال: سمعت سعيد بن جبير يقول: كنت أسير مع ابن عباس في طريق مكة ليلاً، وكان يحدثني بالحديث في واسطة الرحل حتى أصبح فأكتبه (6) ، أخرجه الخطيب البغدادي من طريق طارق عن سعيد بن جبير بنحوه (7) .
وكان عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يعرض المصحف على بعض تلاميذه ويبين سبب نزول بعض الآيات فقد روى النسائي بسند صحيح عن كعب بن علقمة عن أبي النضر عن نافع مولى ابن عمر قال: أن ابن عمر كان عرض المصحف يوما وأنا عنده حتى بلغ (نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى
--------------------------------------------
মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি আবান বিন সালিহ-কে মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের নিকট কুরআন তিনবার পেশ করেছি; আমি তাঁকে প্রতিটি আয়াতের কাছে থামাতাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম যে এটি কী বিষয়ে নাযিল হয়েছে এবং তা কেমন ছিল
… (১)।
একইভাবে সাঈদ বিন জুবাইর ইবনে আব্বাসের নিকট থেকে লিখে রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। দারেমী বলেন: মালিক বিন ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মানদাল বিন আলী আল-আনাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর বিন আবু মুগীরা সাঈদ বিন জুবাইর থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাসের নিকট বসতাম এবং কাগজে লিখে নিতাম যতক্ষণ না সেটি পূর্ণ হয়ে যেত, এরপর আমি আমার জুতা উল্টে নিতাম এবং সেটির পিঠে লিখতাম (২)। এটি ইবনে সাদ এবং দারেমীও ইয়াকুব আল-কুম্মী-এর সূত্র ধরে জাফরের মাধ্যমে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন (৩), এবং আর-রামাহুরমুযী মানদালের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন (৪)।
আর খতীব আল-বাগদাদী এটি হিব্বানের সূত্র ধরে জাফর বিন আবু মুগীরা থেকে বর্ণনা করেছেন (৫)।
দারেমী আবু নুমান থেকে আরও বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন হাকিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাঈদ বিন জুবাইরকে বলতে শুনেছি: আমি মক্কার পথে রাতে ইবনে আব্বাসের সাথে সফর করছিলাম, আর তিনি বাহনের ওপর থাকা অবস্থায় আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করছিলেন যতক্ষণ না ভোর হলো, তখন আমি তা লিখে নিলাম (৬)। খতীব আল-বাগদাদী তারিক-এর সূত্র ধরে সাঈদ বিন জুবাইর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (৭)।
আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁর কিছু ছাত্রের নিকট কুরআন পেশ করতেন এবং কিছু আয়াতের অবতীর্ণ হওয়ার কারণ বর্ণনা করতেন। ইমাম নাসায়ী সহীহ সনদে কাব বিন আলকামা থেকে, তিনি আবু নাযর থেকে, তিনি ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উমর একদিন কুরআন পেশ করছিলেন এবং আমি তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমনকি যখন তিনি এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছালেন: (তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো...)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১৪)
شِئْتُم) فقال: يا نافع هل تعلم من أمر هذه الآية؟ قلت: لا. قال: إنا كنا معشر قريش نجبي النساء، فلما دخلنا المدينة ونكحنا نساء الأنصار أردنا منهن مثل ما كنا نريد، فآذاهن فكرهن ذلك وأعظمنه، وكانت نساء الأنصار قد أخذن بحال اليهود إنما يؤتين على جنوبهن، فأنزل الله: (نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُم) (1) . وذكره ابن كثير ثم قال: وهذا إسناد صحيح، وقد رواه ابن مردويه عن الطبراني عن الحسين ابن إسحاق عن زكريا بن يحيى الكاتب العمري عن مفضل بن فضالة عن عبد الله بن عياش عن كعب ابن علقمة فذكره (2) .
وأما ابن مسعود رضي الله عنه فقد كان يقرأ على تلاميذه السورة ثم يفسرها في وقت كاف. فقد أخرج الطبري بسنده عن مسروق قال: كان عبد الله يقرأ علينا السورة ثم يحدثنا فيها ويفسرها عامة النهار (3) . ولهذا نرى التابعين الذين تحملوا هذا العلم من أفواه الصحابة رضوان الله عليهم كانوا يرحلون من بلد إلى بلد في طلب تفسير آية واحدة، فهذا سعيد بن جبير يرى أهل الكوفة قد اختلفوا في قول الله تعالى (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ) (4) . فيرحل إلى ترجمان القرآن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما فيسأله عنها فيجيبه بقوله: نزلت هذه الآية (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِناً مُتَعَمِّداً فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ) وهي أخر ما نزل وما نسخها شيء.
أخرجه الشيخان واللفظ للبخاري (5) .
--------------------------------------------
...তোমরা যেভাবে ইচ্ছা) অতঃপর তিনি বললেন: হে নাফে, তুমি কি এই আয়াতের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানো? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: আমরা কুরাইশরা নারীদের সাথে বিশেষ ভঙ্গিতে সংগম করতে অভ্যস্ত ছিলাম। অতঃপর যখন আমরা মদীনায় আসলাম এবং আনসারী নারীদের বিয়ে করলাম, তখন তাদের থেকেও আমরা তাই চেয়েছিলাম যা আমরা সচরাচর করে আসতাম। এতে তারা কষ্ট পেল এবং বিষয়টিকে অপছন্দ ও গুরুতর মনে করল। আনসারী নারীরা ইহুদিদের রীতি গ্রহণ করেছিল, যারা কেবল পার্শ্বদেশ দিয়ে (পাশ ফিরে শুয়ে) সংগম করত। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: (তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র স্বরূপ, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো) (১)। ইবনে কাসীর এটি উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: এটি একটি সহীহ সনদ। ইবনে মারদুবাইহ এটি তাবারানি থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-কাতিব আল-উমারি থেকে, তিনি মুফাদদাল ইবনে ফাদালা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি কাব ইবনে আলকামা থেকে বর্ণনা করেছেন (২)।
আর ইবনে মাসউদ (রা.)-এর ব্যাপারে বলা যায় যে, তিনি তাঁর ছাত্রদের কাছে সূরা তিলাওয়াত করতেন এবং পর্যাপ্ত সময় নিয়ে তার ব্যাখ্যা প্রদান করতেন। ইমাম তাবারী তাঁর সনদে মাসরূক থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আবদুল্লাহ (রা.) আমাদের সামনে সূরা পাঠ করতেন এবং দিনের অধিকাংশ সময় ধরে আমাদের কাছে তার বিষয়বস্তু আলোচনা ও ব্যাখ্যা করতেন (৩)। এই কারণেই আমরা দেখি যে তাবেয়িগণ, যারা সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর সান্নিধ্যে থেকে এই জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, তাঁরা একটিমাত্র আয়াতের তাফসীর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এক দেশ থেকে অন্য দেশে সফর করতেন। যেমন—সাঈদ ইবনে জুবায়ের লক্ষ্য করলেন যে কুফাবাসীগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে মতভেদ করছেন: (আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিফল হবে জাহান্নাম) (৪)। তখন তিনি কুরআনের ভাষ্যকার আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছে সফর করলেন এবং তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। জবাবে তিনি বললেন: এই আয়াত (আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিফল হবে জাহান্নাম) অবতীর্ণ হয়েছে এবং এটি এই বিষয়ে অবতীর্ণ সর্বশেষ আয়াত, যা কোনো কিছু দ্বারা রহিত (মানসুখ) হয়নি।
শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দবিন্যাস বুখারীর (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وهذا مسروق رحل إلى البصرة في طلب تفسير آية فقيل له: الذي يفسرها رجع إلى الشام فتجهز ورحل إليه حتى علم تفسيرها (1) .
وأما زر بن حبيش فيقول: وفدت في خلافة عثمان بن عفان وإنما حملني على الوفادة لقي أبي بن كعب وأصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم. رواه الخطيب البغدادي بسنده عن زر (2) .
وكان من منهجهم الرائع التورع في التحمل والرواية فيبحثون عن علو الإسناد وعمن هو أهل للرواية، فهذا أبو العالية يقول: كنت أرحل إلى الرجل مسيرة أيام لأسمع منه فأول ما أتفقد صلاته فإن أجده يقيمها أقمت وسمعت منه، وإن أجده يضيعها رجعت ولم أسمع منه، وقلت: هو لغير الصلاة أضيع".
رواه الخطيب البغدادي بسنده عن أبي العالية (3) . وهو القائل أيضاً: كنا نسمع الرواية بالبصرة عن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلم نرض حتى ركبنا إلى المدينة فسمعناها من أفواههم. رواه ابن سعد (4) والبغدادي (5) بسنديهما عنه واللفظ لابن سعد.
وقد ظفر أبو العالية بعَرضه القرآن على أُبي بن كعب وزيد بن ثابت وابن عباس، وصح أنه عرض على عمر رضي الله عن الجميع (6) ، كما حظي برواية نسخة أُبي بن كعب في التفسير كما سيأتي في عرض أشهر الأسانيد في التفسير.
--------------------------------------------
আর এই মাসরুক, তিনি একটি আয়াতের তাফসিরের সন্ধানে বসরায় সফর করেছিলেন। তাকে বলা হলো: যিনি এই আয়াতের তাফসির জানেন তিনি শামে ফিরে গেছেন। অতঃপর তিনি প্রস্তুতি নিলেন এবং তার কাছে সফর করলেন, যতক্ষণ না তিনি এর তাফসির জানতে পারলেন (১)।
আর যির বিন হুবাইশ বলেন: আমি উসমান বিন আফফানের খিলাফতকালে আগমন করেছিলাম; আর আমাকে এই আগমনে যা উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো উবাই বিন কাব এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করা। খতিব বাগদাদী স্বীয় সনদে যির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
আর ইলম গ্রহণ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের চমৎকার এক পদ্ধতি ছিল ‘তাওয়াররু’ বা সতর্কতা অবলম্বন করা; তারা উচ্চতর সনদ এবং কে বর্ণনার যোগ্য তা তালাশ করতেন। এই যেমন আবুল আলিয়া বলেন: "আমি কোনো ব্যক্তির নিকট থেকে (হাদিস) শোনার জন্য দিনের পর দিন সফর করতাম। তার কাছে পৌঁছে সর্বপ্রথম আমি তার সালাত পর্যবেক্ষণ করতাম; যদি দেখতাম সে তা যথাযথভাবে আদায় করছে, তবে আমি অবস্থান করতাম এবং তার থেকে শুনতাম। আর যদি দেখতাম সে সালাত নষ্ট করছে, তবে আমি ফিরে আসতাম এবং তার থেকে কিছুই শুনতাম না। আমি বলতাম: সে সালাত ছাড়া অন্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি অবহেলাকারী হবে।"
খতিব বাগদাদী স্বীয় সনদে আবুল আলিয়া থেকে এটি বর্ণনা করেছেন (৩)। তিনিই আবার বলেছেন: "আমরা বসরায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের সূত্রে বর্ণনা শুনতাম, কিন্তু আমরা তাতে সন্তুষ্ট হতাম না যতক্ষণ না সওয়ার হয়ে মদিনায় যেতাম এবং তাদের মুখ থেকে সরাসরি তা শুনতাম।" ইবনে সাদ (৪) ও বাগদাদী (৫) স্বীয় সনদে তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি ইবনে সাদের।
আবুল আলিয়া উবাই বিন কাব, যায়িদ বিন সাবিত এবং ইবনে আব্বাসের নিকট কুরআন পেশ করার (তিলাওয়াত করে শোনানোর) সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন। আর এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, তিনি উমরের (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নিকটও কুরআন পেশ করেছিলেন (৬)। এছাড়া তিনি তাফসিরের ক্ষেত্রে উবাই বিন কাবের পাণ্ডুলিপি বর্ণনার সৌভাগ্যও অর্জন করেছিলেন, যা তাফসিরের প্রসিদ্ধ সনদসমূহের আলোচনায় সামনে আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وأما مسروق فيحذر من التساهل في التفسير فروى أبو عبيد القاسم بن سلام عن هشيم أنبأنا عمرو بن أبي زائدة عن الشعبي عن مسروق قال: اتقوا التفسير فإنما هو الرواية عن الله (1) .
وفي هذه الفترة برزت جماعة من التابعين اشتهروا بمعرفة التفسير فبرعوا ونبغوا فيه ومنهم سعيد بن جبير ت 95 هـ وعكرمة ت 107 هـ ومجاهد ت 101 أو 102 أو 103 أو 104 هـ وأبو العالية ت 90 هـ وقتادة ت 110هـ وعامر الشعبي ت 105هـ ومسروق ت 63 هـ والحسن البصري ت 110 هـ والضحاك بن مزاحم ت 105 أو 106هـ وغيرهم.
وقد استفادوا من تلك المنهجية العلمية الدقيقة التي بوأتهم مكانة مرموقة، فتصدروا مجالس العلم وبدأ بعضهم بتدوين التفسير فكانوا طليعة الفرسان في هذا الميدان، ففي عصرهم بدأ تدوين التفسير، وأول من قام بذلك سعيد ابن جبير الأسدي ت 95 هـ عندما كتب الخليفة الأموي عبد الملك بن مروان يسأل سعيد ابن جبير أن يكتب إليه بتفسير القرآن وقد استجاب له فصنف التفسير وقد وجد عطاء بن دينار هذا التفسير في الديوان، فرواه عن سعيد وجادة (2) .
وفي هذا العصر انتشرت كتابة التفسير، روى الدارمي عن عمرو بن عون، أنا فضيل، عن عبيد المكتب قال: رأيتهم يكتبون التفسير عن مجاهد. (3)
وأخرجه الخطيب البغدادي من طريق وكيع بن فضيل ابن عياض به (4) .
وأخرج الخطيب البغدادي بسنده عن أبي يحيى الكناسي قال: كان مجاهد يصعد بي إلى غرفته فيخرج إليّ كتبه فأنسخ منها (5) .
--------------------------------------------
আর মাসরূকের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, তিনি তাফসীরের ব্যাপারে শিথিলতা অবলম্বনের বিষয়ে সতর্ক করতেন। আবূ উবাইদ আল-কাসিম ইবনুল সাল্লাম হুশাইম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনু আবী যাইদাহ আশ-শা’বী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মাসরূক থেকে বর্ণনা করেন, মাসরূক বলেন: তোমরা তাফসীরের ব্যাপারে সতর্ক থাকো, কারণ এটি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করা (১)।
এই যুগে তাবিঈগণের একদল আত্মপ্রকাশ করেন যারা তাফসীর শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁরা এই বিদ্যায় পারদর্শিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: সাঈদ ইবনু জুবাইর (ওফাত ৯৫ হি.), ইকরিমাহ (ওফাত ১০৭ হি.), মুজাহিদ (ওফাত ১০১, ১০২, ১০৩ বা ১০৪ হি.), আবূল আলিইয়াহ (ওফাত ৯০ হি.), কাতাদাহ (ওফাত ১১০ হি.), আমির আশ-শা’বী (ওফাত ১০৫ হি.), মাসরূক (ওফাত ৬৩ হি.), হাসান বসরী (ওফাত ১১০ হি.), দাহহাক ইবনু মুযাহিম (ওফাত ১০৫ বা ১০৬ হি.) এবং আরও অনেকে।
তাঁরা সেই সুক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক কর্মপদ্ধতি থেকে উপকৃত হয়েছিলেন যা তাঁদের এক মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। ফলে তাঁরা জ্ঞানচর্চার মজলিসগুলোতে নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং তাঁদের কেউ কেউ তাফসীর লিপিবদ্ধ করা শুরু করেন। তাঁরা ছিলেন এই ময়দানের অগ্রগামী অশ্বারোহী। মূলত তাঁদের যুগেই তাফসীর সংকলন শুরু হয়। সর্বপ্রথম যিনি এই কাজ সম্পন্ন করেন তিনি হলেন সাঈদ ইবনু জুবাইর আল-আসাদী (ওফাত ৯৫ হি.); যখন উমাইয়া খলীফা আব্দুল মালিক ইবনু মারওয়ান সাঈদ ইবনু জুবাইরের কাছে কুরআনুল কারীমের একটি তাফসীর লিখে পাঠানোর জন্য পত্র লেখেন। তিনি খলীফার আহবানে সাড়া দিয়ে তাফসীরটি সংকলন করেন। পরবর্তীকালে আতা ইবনু দীনার এই তাফসীরটি রাষ্ট্রীয় দপ্তরে (দিওয়ান) খুঁজে পান এবং তিনি সাঈদ থেকে ‘উইজাদাহ’ (লিখিত পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি) সূত্রে তা বর্ণনা করেন (২)।
এই যুগে তাফসীর লিপিবদ্ধ করার প্রথা ছড়িয়ে পড়ে। আদ-দারেমী আমর ইবনু আউন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফুদ্বাইল, উবাইদ আল-মাকতাব থেকে; তিনি বলেন: আমি তাঁদের মুজাহিদের নিকট থেকে তাফসীর লিখে নিতে দেখেছি (৩)।
আল-খাতীব আল-বাগদাদী ওয়াকী’ ইবনু ফুদ্বাইল ইবনু ইয়াদ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন (৪)।
আল-খাতীব আল-বাগদাদী তাঁর নিজস্ব সনদে আবূ ইয়াহইয়া আল-কুনাসীর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুজাহিদ আমাকে নিয়ে তাঁর চিলেকোঠায় উঠতেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ বের করে আমাকে দিতেন, আর আমি সেগুলো থেকে অনুলিপি তৈরি করতাম (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১৭)
[[أشهر تفاسير أتباع التابعين وما بعدهم]]وقد واكب هذا التدوينُ الفتحَ الإسلامي الذي امتدت أطرافه شرقاً وغرباً وشمالاً وجنوباً مما أدى إلى اتساع انتشار هذا العلم إضافة إلى ذلك ازدياد الرحلات العلمية، وكان لتدوينه أيضاً أثر كبير في انتشاره وتداوله عند أهل العلم من صغار التابعين وأتباع التابعين مثل:
الضحاك بن مزاحم الهلالي ت 105 هـ أو 106 هـ.
ومقاتل بن سليمان البلخي ت 105هـ وقد طبع تفسيره (1) .
وطاوس بن كيسان اليماني ت 106هـ.
وقتادة بن دعامة السدوسي ت 110هـ.
ومحمد بن كعب القرظي ت 118هـ.
والسدي الكبير 127هـ.
وعبد الله بن يسار المعروف بابن أبي نجيح ت 131 هـ.
وعطاء الخراساني ت 135 هـ وقد حققتُ قطعة من تفسيره (2) .
وزيد بن أسلم العدوي ت 136هـ.
والربيع بن أنس البكري ت 140هـ.
وعلي بن أبي طلحة ت 143هـ استخرج السيوطي أغلب صحيفة علي بن أبي طلحة من تفسيري الطبري وابن أبي حاتم (3) .
وكل هذه التفاسير قد أفرد لكل تفسير مؤلف جمعت في مرويات كل مفسر، وأغلبها رسائل جامعية.
--------------------------------------------
[[আতবাউত তাবিয়ীন এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের প্রসিদ্ধ তাফসীরসমূহ]]এই সংকলন প্রক্রিয়াটি ইসলামী বিজয়ের সমসাময়িক ছিল, যার সীমানা পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণে বিস্তৃত হয়েছিল। এর ফলে এই ইলমের (জ্ঞানের) প্রচার ও প্রসার ব্যাপকতা লাভ করে এবং এর পাশাপাশি ইলমী সফরসমূহের হারও বৃদ্ধি পায়। এটি লিপিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কনিষ্ঠ তাবিয়ীন এবং আতবাউত তাবিয়ীনদের মতো বিদগ্ধ আলেমদের মাঝে এর প্রচার ও প্রসারের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। যেমন:
আদ-দাহহাক ইবনে মুজাহিম আল-হিলালী (ওফাত ১০৫ হি. অথবা ১০৬ হি.)।
মুকাতিল ইবনে সুলাইমান আল-বালখী (ওফাত ১০৫ হি.), তাঁর তাফসীরটি মুদ্রিত হয়েছে (১)।
তাউস ইবনে কাইসান আল-ইয়ামানী (ওফাত ১০৬ হি.)।
কাতাদাহ ইবনে দি'আমাহ আস-সাদুসী (ওফাত ১১০ হি.)।
মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাযী (ওফাত ১১৮ হি.)।
আস-সুদ্দী আল-কাবীর (ওফাত ১২৭ হি.)।
আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াসার, যিনি ইবনে আবি নাজীহ নামে পরিচিত (ওফাত ১৩১ হি.)।
আতা আল-খুরাসানী (ওফাত ১৩৫ হি.), আমি তাঁর তাফসীরের একটি অংশ তাহকীক করেছি (২)।
যায়েদ ইবনে আসলাম আল-আদাবী (ওফাত ১৩৬ হি.)।
আর-রাবী ইবনে আনাস আল-বাকরী (ওফাত ১৪০ হি.)।
আলী ইবনে আবি তালহা (ওফাত ১৪৩ হি.)। ইমাম সুয়ুতী আলী ইবনে আবি তালহার সহীফার অধিকাংশ বর্ণনা তাবারী এবং ইবনে আবি হাতিমের তাফসীর থেকে সংগ্রহ করেছেন (৩)।
এই প্রতিটি তাফসীরের ক্ষেত্রেই পৃথক গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে, যেখানে প্রত্যেক মুফাসসিরের বর্ণনাগুলো একত্রিত করা হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উচ্চতর গবেষণাপত্র (থিসিস) হিসেবে রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والأعمش سليمان بن مهران ت 147هـ أو 148هـ (1) .
وغيرهم من المفسرين المتقدمين فقام هؤلاء بجمع نسخ وروايات وصحف كبار التابعين وتدوينها فسطع قبس التفسير في أرجاء العالم الإسلامي آنذاك ثم أزداد تألقاً في النصف الثاني من القرن الثاني الهجري حيث استنار العلماء الذين تلقوا هذا العلم من شيوخهم واعتنوا به فحفظوه أو كتبوه ثم رووه لتلاميذهم فتوسعت حركة تدوين التفسير وظهرت تفاسير مشابهة للتفاسير المتقدمة وقد تكون أوسع منها مثل: تفسير سفيان الثوري ت 161هـ (2) .
وتفسير معاوية بن صالح ت 158 هـ أو ت 172هـ وهو الراوي لصحيفة علي بن أبي طلحة.
وتفسير شيبان بن عبد الرحمن النحوي ت 164 هـ وهو راوي التفسير عن قتادة.
وتفسير نافع بن أبي نعيم القارئ ت 167هـ أو 169هـ وقد حققتُ قطعة من تفسيره (3) .
وتفسير أسباط بن نصر الهمداني ت 170 هـ وهو الراوي لتفسير السدي.
وتفسير مالك بن أنس إمام دار الهجرة ت 179 هـ.
وتفسير مسلم بن خالد الزنجي ت 179 هـ وقد حققتُ قطعة من تفسيره (4) .
وتفسير عبد الله بن المبارك المروزي ت 181هـ.
--------------------------------------------
এবং আল-আমাশ সুলাইমান ইবন মিহরান (মৃত্যু ১৪৭ হি. অথবা ১৪৮ হি.) (১)।
এবং অন্যান্য পূর্ববর্তী মুফাসসিরগণ। তারা বরেণ্য তাবিঈগণের পাণ্ডুলিপি, বর্ণনা এবং সহীফাসমূহ সংগ্রহ ও তা সংকলনের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের চতুর্দিকে তাফসীরের আলো বিচ্ছুরিত হয়। অতঃপর দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে এর উজ্জ্বলতা আরও বৃদ্ধি পায়, যখন সেই সকল আলিমগণ আলোকিত হন যারা তাদের শায়খদের কাছ থেকে এই ইলম অর্জন করেছিলেন এবং এর প্রতি সবিশেষ যত্নবান হয়েছিলেন। তারা তা মুখস্থ করেন অথবা লিপিবদ্ধ করেন এবং পরবর্তীতে তাদের ছাত্রদের নিকট বর্ণনা করেন। এভাবে তাফসীর সংকলনের আন্দোলন বিস্তৃত হয় এবং পূর্ববর্তী তাফসীরগুলোর অনুরূপ তাফসীরসমূহ আত্মপ্রকাশ করে, যা সম্ভবত সেগুলোর চেয়েও অধিক বিস্তৃত ছিল। যেমন: সুফিয়ান আস-সাওরী (মৃত্যু ১৬১ হি.)-এর তাফসীর (২)।
এবং মুয়াবিয়া ইবন সালিহ (মৃত্যু ১৫৮ হি. অথবা ১৭২ হি.)-এর তাফসীর, যিনি আলী ইবন আবি তালহার সহীফার বর্ণনাকারী।
এবং শাইবান ইবন আবদুর রহমান আন-নাহবী (মৃত্যু ১৬৪ হি.)-এর তাফসীর, যিনি কাতাদাহ থেকে তাফসীর বর্ণনাকারী।
এবং নাফি ইবন আবি নুআইম আল-কারি (মৃত্যু ১৬৭ হি. অথবা ১৬৯ হি.)-এর তাফসীর, আমি যার তাফসীরের একটি অংশ সম্পাদনা করেছি (৩)।
এবং আসবাত ইবন নাসর আল-হামদানি (মৃত্যু ১৭০ হি.)-এর তাফসীর, যিনি আস-সুদ্দীর তাফসীরের বর্ণনাকারী।
এবং ইমাম দারুল হিজরাহ মালিক ইবন আনাস (মৃত্যু ১৭৯ হি.)-এর তাফসীর।
এবং মুসলিম ইবন খালিদ আজ-জানজি (মৃত্যু ১৭৯ হি.)-এর তাফসীর, আমি যার তাফসীরের একটি অংশ সম্পাদনা করেছি (৪)।
এবং আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আল-মারওয়াযী (মৃত্যু ১৮১ হি.)-এর তাফসীর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وتفسير عبد الرحمن بن زيد بن أسلم ت 182 هـ.
وتفسير هشيم بن بشير السلمي ت 183 هـ.
وتفسير يحيى بن يمان العجلي ت 189 هـ، وقد حققتُ قطعة من تفسيره (1) .
وتفسير إسماعيل بن علية ت 193 هـ.
وتفسير يحيى بن سلام البصري ت 200 هـ (2) .
وفي هذا العصر ازدادت كتب التفسير وبقيت على هيئة أجزاء ونسخ كتفسير الإمام مالك بن أنس فقد وصفه ابن كثير (3) والذهبي (4) وابن حجر (5) والروداني (6) بأنه جزء وكذلك التفاسير التي تقدمت في القائمة السابقة حيث ذكرت الموجودة منها وكلها على هيئة أجزاء ونسخ.
[[أشهر تفاسير القرن الثالث والرابع]]وفي القرن الثالث والرابع الهجري دخل التفسير في مرحلة جديدة وهي مرحلة الموسوعات الجامعة في التفسير، فظهرت تفاسير ضخمة مروية ومستوعبة لكثير من الأجزاء والنسخ المبثوثة في رحاب العالم الإسلامي آنذاك ذلك العالم الذي استطاعت حضارته أن تجمع وتؤلف بين العرب والعجم والبربر تحت راية لا إله إلا الله محمد رسول الله، ولهذا جاءت بعض تفاسير العلماء حافلة بتفاسير السابقين وشاملة للقرآن كله وذلك بسبب انتشار العجمى ومن هذه التفاسير:
--------------------------------------------
এবং আবদুর রহমান ইবনে যাইদ ইবনে আসলাম (মৃত্যু ১৮২ হিজরি)-এর তাফসীর।
এবং হুশাইম ইবনে বাশির আস-সুলামি (মৃত্যু ১৮৩ হিজরি)-এর তাফসীর।
এবং ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান আল-ইজলি (মৃত্যু ১৮৯ হিজরি)-এর তাফসীর, আমি তাঁর তাফসীরের একটি অংশ সম্পাদনা করেছি (১)।
এবং ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ (মৃত্যু ১৯৩ হিজরি)-এর তাফসীর।
এবং ইয়াহইয়া ইবনে সালাম আল-বাসরি (মৃত্যু ২০০ হিজরি)-এর তাফসীর (২)।
এই যুগে তাফসীর গ্রন্থাবলির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং সেগুলো খণ্ড ও পান্ডুলিপি আকারে রয়ে যায়, যেমন ইমাম মালিক ইবনে আনাস-এর তাফসীর। ইবনে কাসির (৩), আজ-জাহাবি (৪), ইবনে হাজার (৫) এবং আর-রুদানি (৬) এটিকে একটি খণ্ড হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে পূর্ববর্তী তালিকায় উল্লিখিত তাফসীরসমূহও, যেখানে আমি বিদ্যমানগুলোর কথা উল্লেখ করেছি এবং সেগুলো সবই খণ্ড ও পান্ডুলিপি আকারে রয়েছে।
[[তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীর প্রসিদ্ধ তাফসীরসমূহ]]হিজরি তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দীতে তাফসীর একটি নতুন যুগে পদার্পণ করে, আর তা হলো তাফসীর শাস্ত্রের সংকলিত বিশ্বকোষের যুগ। ফলে তৎকালীন ইসলামি বিশ্বের দিগন্ত জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু খণ্ড ও পান্ডুলিপিকে আত্মস্থ করে বিশাল বর্ণনানির্ভর তাফসীর গ্রন্থাবলি আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন সেই বিশ্ব যার সভ্যতা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ' পতাকাতলে আরব, অনারব ও বারবারদের একত্রিত ও সমন্বিত করতে সক্ষম হয়েছিল। এই কারণেই ওলামায়ে কেরামের কিছু তাফসীর পূর্ববর্তীদের তাফসীরসমূহে সমৃদ্ধ এবং সমগ্র কুরআনের জন্য পরিব্যাপ্ত রূপ লাভ করে, আর এর অন্যতম কারণ ছিল অনারবদের বিস্তার। এসব তাফসীরের মধ্যে রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২০)
تفسير عبد بن حميد الكشي ت 240 هـ (1) .
تفسير ابن جرير الطبري ت 310 هـ.
تفسير ابن المنذر النيسابوري ت 318 هـ (2) [[وقد اتحفني الشيخ عاصم قارئ بوريقات منه]] (*) .
تفسير ابن أبي حاتم الرازي ت 327 هـ (3) .
وقد ذكر الحافظ ابن حجر هذه التفاسير عند كلامه عن الذين اعتنوا بجمع التفسير المسند من طبقة الأئمة الستة فساق أسماءهم -وذكر أولهم بأنه من طبقة شيوخهم- ثم قال: فهذه التفاسير الأربعة قل أن يشذ عنها شيء من التفسير المرفوع والموقوف على الصحابة والمقطوع عن التابعين، وقد أضاف الطبري إلى النقل المستوعب أشياء لم يشاركوه فيها
… (4) .
وكذلك ابن أبي حاتم فقد حاول أن يفسر كل آية بل كل كلمة وحرف وقد يسوق أكثر من عشرة أوجه في الكلمة الواحدة (5) .
ومن هذه التفاسير الموسوعية أيضاً:
1 - تفسير الإمام أحمد بن حنبل الشيباني ت 241هـ.
وتفسيره ضخم حافل بمائة وعشرين ألف رواية، صرح بهذا الرقم أبو الحسين بن المنادي في تأريخه فيما رواه عنه القاضي أبو الحسين أبو يعلى حيث ذكر عبد الله وصالح ابني الإمام أحمد فقال: كان صالح قليل الكتاب عن أبيه، فأما عبد الله فلم يكن في الدنيا أحد أروى عن أبيه أكثر منه لأنه سمع المسند
--------------------------------------------
আবদ বিন হুমাইদ আল-কাশশি-র তাফসির (মৃত্যু ২৪০ হি.) (১)।
ইবনে জারির আত-তাবারির তাফসির (মৃত্যু ৩১০ হি.)।
ইবনে মুনযির আন-নিশাপুরির তাফসির (মৃত্যু ৩১৮ হি.) (২) [[শাইখ আসিম কারী আমাকে এর কিছু অংশ উপহার দিয়েছেন]] (*)।
ইবনে আবি হাতিম আর-রাজির তাফসির (মৃত্যু ৩২৭ হি.) (৩)।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) এই তাফসিরগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন যখন তিনি ওই সকল ইমামদের ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন যারা ছয় ইমামের স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং সনদসহ তাফসির সংকলনে বিশেষ যত্ন নিয়েছিলেন। তিনি তাদের নাম উল্লেখ করেছেন—এবং তাদের মধ্য থেকে প্রথমজনকে তাদের উস্তাদদের স্তরের বলে অভিহিত করেছেন—অতঃপর বলেছেন: এই চারটি তাফসির এমন যে, মারফু তাফসির (রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত), সাহাবীদের ওপর মওকুফ বর্ণনা এবং তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত মাকতু বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে খুব অল্প কিছুই এর বাইরে রয়েছে। আর তাবারী (রহ.) এই ব্যাপক বর্ণনার সাথে আরও এমন কিছু বিষয় যুক্ত করেছেন যাতে অন্য গ্রন্থকারগণ অংশীদার নন
… (৪)।
একইভাবে ইবনে আবি হাতিম (রহ.) প্রতিটি আয়াত, এমনকি প্রতিটি শব্দ ও হরফের ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন এবং কখনো কখনো তিনি একটি শব্দের ব্যাখ্যায় দশটিরও বেশি মত পেশ করেছেন (৫)।
এই বিশ্বকোষীয় তাফসিরগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে:
১ - ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানি-র তাফসির (মৃত্যু ২৪১ হি.)।
তাঁর তাফসিরটি অত্যন্ত বিশাল এবং এক লক্ষ বিশ হাজার বর্ণনায় সমৃদ্ধ। আবুল হুসাইন ইবনে আল-মুনাদি তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে এই সংখ্যার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যা কাযী আবুল হুসাইন আবু ইয়ালা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। সেখানে তিনি ইমাম আহমাদের দুই পুত্র আবদুল্লাহ ও সালিহর কথা উল্লেখ করে বলেন: সালিহ তাঁর পিতা থেকে খুব অল্পই লিপিবদ্ধ করেছিলেন, কিন্তু আবদুল্লাহর চেয়ে তাঁর পিতার বর্ণনাসমূহ বেশি জানতেন এমন কেউ পৃথিবীতে ছিল না, কারণ তিনি আল-মুসনাদ শ্রবণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২১)
وهو ثلاثون ألفاً، والتفسير وهو مئة ألف وعشرون ألفاً سمع منها ثمانين ألفاً والباقي وجادة
… (1) ونقله أيضاً الخطيب البغدادي (2) والذهبي (3) ، وأبو موسى المديني في خصائص المسند (4) ، وصرح بهذا الرقم ابن الجوزي (5) .
وقد ذكر هذا التفسير ابن النديم (6) ، وشيخ الإسلام ابن تيمية (7) ، والداوودي (8) ، ومحمد السعدي الحنبلي ت900 هـ (9) ، وحصل الروداني المغربي على إجازة روايته فذكره في ثبته ثم ساق إسناده إلى الإمام أحمد بن جعفر القطيعي عن عبد الله بن الإمام أحمد عن أبيه (10) .
ولكن الإمام الذهبي أنكر وجود هذا التفسير، فبعد أن ذكر قول ابن المنادي قال: لكن ما رأينا أحدا أخبرنا عن وجود هذا التفسير ولا بعضه ولا كراسة منه ولو كان له وجود أو لشيء منه لنسخوه
… (11) .
ويبدو أن الإمام الذهبي لم يحظ بجزء أو كراسة من تفسير الإمام أحمد علما بأن جزءا من تفسير أحمد كان موجودا في زمنه حيث نقله بنصه وفصه الإمام ابن قيم الجوزية -وهو معاصر للذهبي وتوفي ابن القيم سنة751 هـ أي بعد وفاة الذهبي بثلاث سنوات- فقال ابن القيم في بدائع الفوائد: ومن خط
--------------------------------------------
এটি ছিল ত্রিশ হাজার (হাদিসসম্বলিত), আর তাফসীর গ্রন্থটি ছিল এক লক্ষ বিশ হাজার (বর্ণনাসম্বলিত); তিনি তার মধ্যে আশি হাজার শ্রবণ করেছেন এবং অবশিষ্টাংশ প্রাপ্তি (উইজাদা) সূত্রে
… (১)। এটি খতীব আল-বাগদাদী (২), আয-যাহাবী (৩) এবং আবু মুসা আল-মাদীনী তাঁর 'খাসাইসুল মুসনাদ' (৪) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। ইবনুল জাওযী (৫) স্পষ্টভাবে এই সংখ্যাটি উল্লেখ করেছেন।
ইবনুন নাদীম (৬), শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৭), আদ-দাউদী (৮) এবং মুহাম্মদ আল-সাদী আল-হানবালী (ওফাত ৯০০ হিজরি) (৯) এই তাফসীরটির কথা উল্লেখ করেছেন। আর-রুদানী আল-মাগরিবী এটি বর্ণনার অনুমতি (ইজাজত) লাভ করেছিলেন এবং তাঁর 'সাবাত'-এ এটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি ইমাম আহমদ বিন জাফর আল-কাতিয়ী হতে ইমাম আহমদের পুত্র আব্দুল্লাহর মাধ্যমে তাঁর পিতার (ইমাম আহমদ) সনদটি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন (১০)।
কিন্তু ইমাম যাহাবী এই তাফসীরটির অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। ইবনুল মুনাদীর বক্তব্য উল্লেখ করার পর তিনি বলেছেন: কিন্তু আমরা এমন কাউকে দেখিনি যিনি আমাদের এই তাফসীর বা এর কোনো অংশ অথবা একটি পুস্তিকা বিদ্যমান থাকার সংবাদ দিয়েছেন। যদি এর কোনো অস্তিত্ব থাকতো তবে তা অবশ্যই প্রতিলিপি করা হতো
… (১১)।
প্রতীয়মান হয় যে, ইমাম যাহাবী ইমাম আহমদের তাফসীরের কোনো অংশ বা পুস্তিকা পাননি। অথচ এটা জানা কথা যে, ইমাম আহমদের তাফসীরের একটি অংশ তাঁর সময়ে বিদ্যমান ছিল, যা ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ হুবহু উদ্ধৃত করেছেন—যিনি ইমাম যাহাবীর সমসাময়িক ছিলেন এবং ৭৫১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, অর্থাৎ ইমাম যাহাবীর মৃত্যুর তিন বছর পর। ইবনুল কাইয়্যিম 'বাদাইউল ফাওয়াইদ' গ্রন্থে বলেছেন: এবং হাতের লেখা থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২২)
القاضي من جزء فيه تفسير آيات من القرآن عن الإمام أحمد. ثم ساقه بأكمله في تسع صفحات (1) إضافة إلى ذلك أن الحافظ ابن حجر أفاد من تفسير أحمد وصرح بنقله منه (2) .
والحق أن تفسير الإمام أحمد لم يشتهر كشهرة مسنده الذي ذاع صيته في الآفاق وكثر قصاده إلى العراق.
2- التفسير الكبير لأمير المؤمنين محمد بن إسماعيل البخاري صاحب الصحيح ت 256 هـ.
ذكر بروكلمان نسخة منه في باريس -المكتبة الوطنية- وقطعة منه في الجزائر في المكتبة الوطنية أيضاً (3) . ولعلها من صحيح البخاري.
وقد سألت عن هاتين النسختين فلم أجد أحدا رآهما!! ويبدو من عنوانه أنه تفسير كبير.
3- تفسير أبي مسعود أحمد بن الفرات الرازى ت 258 هـ.
قال إبراهيم بن محمد الطيان: سمعت أبا مسعود يقول: كتبت عن ألف وسبعمائة وخمسين رجلا أدخلت في تصنيفي ثلاث مئة وعشرة وعطلت سائر ذلك وكتبت ألف ألف حديث وخمس مئة ألف حديث فأخذت من ذلك ثلاث مئة ألف في التفسير والأحكام والفوائد وغيره (4) .
4- تفسير القرآن الكريم لابن ماجة القزويني ت 273 هـ.
وصفه ابن كثير بالحافل فقال: ولابن ماجة تفسير حافل (5) .
--------------------------------------------
আল-কাদি এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত কুরআনের কিছু আয়াতের তাফসীর সম্বলিত একটি অংশ (জুয) থেকে উদ্ধৃত করেছেন। অতঃপর তিনি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে নয় পৃষ্ঠাব্যাপী বর্ণনা করেছেন (১)। এর পাশাপাশি হাফেজ ইবনু হাজারও ইমাম আহমাদের তাফসীর থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (২)।
প্রকৃতপক্ষে ইমাম আহমাদের তাফসীরগ্রন্থটি তাঁর 'মুসনাদ'-এর মতো প্রসিদ্ধি লাভ করেনি, যার খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং যার অন্বেষণে ইরাকে অগণিত জ্ঞানপিপাসুর সমাগম ঘটত।
২- আমীরুল মুমিনীন ফীল হাদীস মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারীর 'আত-তাফসীরুল কাবীর', যিনি 'সহীহ' বুখারীর রচয়িতা, মৃত্যু ২৫৬ হিজরী।
ব্রোকলম্যান এর একটি পাণ্ডুলিপির কথা প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে এবং একটি অংশের কথা আলজেরিয়ার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতেও উল্লেখ করেছেন (৩)। সম্ভবত এটি সহীহ বুখারী থেকেই সংগৃহীত।
আমি এই পাণ্ডুলিপি দুটি সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছি, কিন্তু এমন কাউকে পাইনি যিনি সেগুলো দেখেছেন!! আর এর শিরোনাম দেখে প্রতীয়মান হয় যে, এটি একটি বৃহৎ তাফসীরগ্রন্থ।
৩- আবু মাসউদ আহমাদ ইবনুল ফুরাত আর-রাযীর তাফসীর, মৃত্যু ২৫৮ হিজরী।
ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাইয়ান বলেন: আমি আবু মাসউদকে বলতে শুনেছি: "আমি এক হাজার সাতশত পঞ্চাশজন ব্যক্তির নিকট থেকে হাদীস লিখেছি। আমার সংকলনে তাদের মধ্য থেকে তিনশত দশজনের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং বাকিদের বর্ণনা বর্জন করেছি। আমি পনেরো লক্ষ হাদীস লিখেছিলাম, সেখান থেকে আমি তিন লক্ষ হাদীস তাফসীর, আহকাম (বিধান), ফাওয়ায়েদ ও অন্যান্য বিষয়ে গ্রহণ করেছি (৪)।"
৪- ইবনু মাজাহ আল-কাযভীনীর 'তাফসীরুল কুরআনিল কারীম', মৃত্যু ২৭৩ হিজরী।
ইবনু কাসীর এটিকে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "ইবনু মাজাহর একটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ তাফসীরগ্রন্থ রয়েছে (৫)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والحافل الكثير الممتلئ (1) ، وذكره ابن خلكان والمزي والذهبي والداوودي (2) ، وللمزيد عن هذا الكتاب راجع مقالي بعنوان: استدراكات على تاريخ التراث العربي (3) ، والكتاب مفقود وقد جمعت روايات تفسيرية كثيرة من سننه، ومن الدر المنثور، ومن تهذيب الكمال في مواضع تراجم الرجال الذين رمز لهم المزي (فق) أي رجال ابن ماجة في التفسير.
5- التفسير الكبير لإسحاق بن إبراهيم بن مخلد المروزي المشهور بابن راهويه ت 238هـ.
ويبدو أنه كبير من عنوانه. ذكره ابن النديم والخطيب البغدادي والسمعاني والداوودي (4) .
6- التفسير لإبراهيم بن إسحاق الحربي ت 285 هـ قال الذهبي في ترجمته: مصنف التفسير الكبير (5) . وهو كسابقه وذكره ابن حجر والداوودي (6) .
7- التفسير لابن أبي داود عبد الله بن سليمان بن الأشعث السجستاني ت 316 هـ. روى المفسر أبو بكر النقاش أنه سمع أبا بكر بن أبي داود يقول: إن في تفسيره مائة ألف وعشرين ألف حديث (7) .
وذكر هذا التفسير الخطيب البغدادي والعليمي والداوودي (8) .
--------------------------------------------
এবং ‘আল-হাফিল’ অর্থ হলো অধিক ও পরিপূর্ণ (১)। ইবনে খাল্লিকান, আল-মিযযি, আয-যাহাবি এবং আদ-দাউদি এর উল্লেখ করেছেন (২)। এই গ্রন্থ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার "ইস্তিদরাকাত আলা তারিখিত তুরাছিল আরাবি" (আরবি ঐতিহ্যের ইতিহাসের ওপর পরিমার্জন) শীর্ষক নিবন্ধটি দেখুন (৩)। গ্রন্থটি বর্তমানে বিলুপ্ত, তবে আমি তাঁর ‘সুনান’, ‘আদ-দুররুল মানসুর’ এবং ‘তাহজিবুল কামাল’-এর সেই সব রাবিদের জীবনবৃত্তান্ত থেকে প্রচুর তাফসির ভিত্তিক বর্ণনা সংগ্রহ করেছি, যাদের ক্ষেত্রে আল-মিযযি (ফাক-কাফ) সংকেত ব্যবহার করেছেন; অর্থাৎ তাফসির শাস্ত্রে ইবনে মাজাহর রাবিগণ।
৫- আত-তাফসির আল-কাবির; গ্রন্থকার: ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন মাখলাদ আল-মারওয়াজি, যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত, মৃত্যু ২৩৮ হিজরি।
এর শিরোনাম দেখেই বোঝা যায় যে এটি একটি বিশাল গ্রন্থ ছিল। ইবনুন নাদিম, আল-খতিব আল-বাগদাদি, আস-সামআনি এবং আদ-দাউদি এর কথা উল্লেখ করেছেন (৪)।
৬- আত-তাফসির; গ্রন্থকার: ইব্রাহিম বিন ইসহাক আল-হারবি, মৃত্যু ২৮৫ হিজরি। আয-যাহাবি তাঁর জীবনবৃত্তান্তে বলেছেন: তিনি বিশাল তাফসির গ্রন্থের রচয়িতা (৫)। এটিও পূর্ববর্তী গ্রন্থের ন্যায় এবং ইবনে হাজার ও আদ-দাউদি এর কথা উল্লেখ করেছেন (৬)।
৭- আত-তাফসির; গ্রন্থকার: ইবনে আবি দাউদ আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আল-আশআস আস-সিজিস্তানি, মৃত্যু ৩১৬ হিজরি। মুফাসসির আবু বকর আন-নাককাশ বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু বকর বিন আবি দাউদকে বলতে শুনেছেন: তাঁর তাফসির গ্রন্থে এক লক্ষ বিশ হাজার হাদিস রয়েছে (৭)।
আল-খতিব আল-বাগদাদি, আল-উলাইমি এবং আদ-দাউদি এই তাফসিরের কথা উল্লেখ করেছেন (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
8- التفسير لسليمان بن أحمد بن أيوب الطبراني ت 360 هـ.
قال الداوودي في طبقات المفسرين: وله تفسير كبير. ا. هـ.
وقد جمعت روايات تفسيرية من معاجمه الثلاثة وكتاب الدعاء، ومكارم الأخلاق، وجزء من سمع من عطاء. كلها للطبراني المذكور.
9- تفسير القاضي أبي محمد إسحاق بن إبراهيم بن إسحاق البستي ت 307 هـ.
توجد منه نسخة في مكتبة البلدية بالإسكندرية بمصر وقد وصل إلى النصف الثاني ويبدأ من سورة الكهف إلى نهاية التفسير، وصورته من مكتبة فضيلة الشيخ حماد الأنصاري رحمه الله.
وقد قرأت هذا التفسير الجليل ولاحظت عدم التصريح باسم المؤلف في الغلاف ولكن صرح باسمه في الورقة 126 ب، ومما يؤكد أن هذا التفسير لهذا المؤلف ما نقله العيني من هذا التفسير بأسانيد مماثلة له كما صرح باسم المؤلف أيضاً (1) .
ووجدت لهذا التفسير مزايا كبرى:
أولها: أن [[أغلب]] (*) أسانيده على شرط الصحيحين.
ثانيها: أن مؤلفه طويل النفس في إيراد الأحاديث والآثار وعمله كصنيع ابن أبي حاتم في التفسير بالمأثور المجرد من أي قول آخر.
ومن أجل ذلك اقترحت تحقيقه على فضيلة د. عوض العمري وفضيلة د. عثمان المعلم وقد حققاه ونالا به درجة الدكتوراه.
10- تفسير عمر بن أحمد بن عثمان المشهور بابن شاهين ت 385 هـ.
قال الخطيب البغدادي في ترجمته: له التفسير الكبير. ا. هـ.
--------------------------------------------
৮- সুলাইমান বিন আহমাদ বিন আইয়ুব আত-তাবারানি (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরি) এর তাফসির।
আদ-দাউদি 'তাবাকাতুল মুফাসসিরিন' গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর একটি বৃহৎ তাফসির গ্রন্থ রয়েছে। (সমাপ্ত)
উল্লিখিত ইমাম তাবারানির তিনটি 'মু'জাম', 'কিতাবুদ দুআ', 'মাকারিমুল আখলাক' এবং 'জুজউ মান সামিয়া মিন আতা' গ্রন্থসমূহ থেকে তাফসির সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। এই সবকটি গ্রন্থই তাঁর রচনা।
৯- কাজি আবু মুহাম্মদ ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন ইসহাক আল-বুসতি (মৃত্যু: ৩০৭ হিজরি) এর তাফসির।
মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের 'মাকতাবাতুল বালাদিয়্যাহ'-তে এর একটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে। এর কেবল দ্বিতীয় অর্ধাংশ পাওয়া গেছে, যা সূরা আল-কাহফ থেকে শুরু হয়ে তাফসিরের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর অনুলিপিটি শায়খ হাম্মাদ আল-আনসারি (রাহিমাহুল্লাহ)-র ব্যক্তিগত পাঠাগার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
আমি এই মহান তাফসির গ্রন্থটি পাঠ করেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে, এর প্রচ্ছদে লেখকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি; তবে পাণ্ডুলিপির ১২৬ (খ) পৃষ্ঠায় তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উদ্ধৃত হয়েছে। এছাড়া এই তাফসিরটি যে উল্লিখিত লেখকেরই রচনা, তা ইমাম আল-আইনির উদ্ধৃতি থেকেও নিশ্চিত হওয়া যায়। আল-আইনি এই তাফসির থেকে লেখকের নাম উল্লেখপূর্বক একই সনদে বিভিন্ন বর্ণনা পেশ করেছেন (১)।
আমি এই তাফসিরটির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করেছি:
প্রথমত: এর অধিকাংশ সনদের মানই বুখারি ও মুসলিম (সহিহাইন)-এর শর্তানুযায়ী।
দ্বিতীয়ত: এর লেখক হাদিস ও আসার (সাহাবী-তাবেয়ীদের বর্ণনা) উল্লেখ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দীর্ঘ পরিসর অবলম্বন করেছেন। তাঁর কর্মপদ্ধতি অনেকটা ইবনে আবি হাতিমের মতো, যিনি কেবল বিশুদ্ধ বর্ণনার ভিত্তিতেই তাফসির করেছেন এবং নিজের পক্ষ থেকে অন্য কোনো উক্তি যোগ করেননি।
এই কারণেই আমি ড. আওয়ায আল-উমরি এবং ড. উসমান আল-মুআল্লিমকে এটি সম্পাদনা (তাহকিক) করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। তাঁরা উভয়ই এটি সম্পাদনা করেছেন এবং এর মাধ্যমে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
১০- ইবনে শাহিন নামে পরিচিত উমর বিন আহমাদ বিন উসমান (মৃত্যু: ৩৮৫ হিজরি) এর তাফসির।
খতিব আল-বাগদাদি তাঁর জীবনীতে বলেছেন: তাঁর একটি বৃহৎ তাফসির গ্রন্থ রয়েছে। (সমাপ্ত)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وتفسيره كبير كما وصف حيث احتوى على تفاسير منها تفسير أبي الجارود (1) .
وقال الكتاني: وهو في ألف جزء ووجد بواسط في نحو من ثلاثين مجلدا (2) .
فهذه نماذج من كتب التفسير في ذلك العصر الذي برز فيه صرح التفسير بالمأثور شامخا مسندا كاملا للقرآن الكريم، فقد تكاملت أسسه التي أرسيت بثمار تلك الجهود المباركة السابقة، فاجتمعت مع جهود المتقدمين عنايةُ اللاحقين حيث جمعوا وأضافوا ونقدوا، وكان جميعهم عاكفين على هذا العلم، وعضوا عليه بالنواجذ لأنه جمع بين القرآن والسنة، وقد زاد اهتمامهم عندما تلوث هذا العلم بالدخيل بسبب تساهل بعض العلماء في إيرادهم الإسرائيليات بأنواعها، وبسبب صنيع الزنادقة والقصاص والكذابين وأهل الأهواء فوقع التحريف والتأويل والوضع.
فما ورد عن المفسرين الكذابين طرح وفضح كتفسير محمد بن السائب (3) الكلبي وتفسير محمد بن مروان السدي الصغير (4) ، وكذلك ما ورد عن أهل الأهواء كصالح بن محمد الترمذي فقد كان مرجئا جهميا داعية يقول بخلق القرآن (5) ، وكمقاتل بن سليمان البلخي وقد نسبوه إلى الكذب، وقال الشافعي مقاتل قاتله الله تعالى. قال الحافظ ابن حجر: وإنما قال الشافعي فيه ذلك لأنه
--------------------------------------------
এবং বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর তাফসিরটি অত্যন্ত বিশাল, কারণ এতে আবু জারুদের তাফসিরসহ (১) অন্যান্য অনেক তাফসির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কাত্তানি বলেন: এটি এক হাজার খণ্ডে বিস্তৃত ছিল এবং ওয়াসিত শহরে এর প্রায় ত্রিশটি খণ্ড পাওয়া গিয়েছিল (২)।
এগুলো হলো সেই যুগের তাফসির গ্রন্থের কিছু নমুনা, যখন বর্ণনাভিত্তিক তাফসির বা ‘তাফসির বিল-মা’সুর’-এর সুউচ্চ সৌধ পূর্ণাঙ্গ সনদের ভিত্তিতে পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল। পূর্ববর্তী বরকতময় প্রচেষ্টাসমূহের ফসল হিসেবে এর যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল তা পূর্ণতা লাভ করে। ফলে পূর্ববর্তীদের প্রচেষ্টার সাথে পরবর্তীদের গভীর মনোযোগ ও যত্নশীল উদ্যোগের সমন্বয় ঘটে, যেখানে তাঁরা সংকলন, সংযোজন এবং পর্যালোচনার কাজ সম্পন্ন করেন। তাঁরা সকলেই এই ইলমের প্রতি নিবিষ্ট ছিলেন এবং এটিকে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন, কারণ এটি কুরআন ও সুন্নাহর এক অনন্য সমন্বয়। এই ইলমের প্রতি তাঁদের গুরুত্ব ও সতর্কতা তখন আরও বৃদ্ধি পায় যখন বিভিন্ন প্রকার ইসরাঈলি বর্ণনা উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে কিছু আলিমের শিথিলতা এবং যিনদিক, কিসসাগো, মিথ্যাবাদী ও প্রবৃত্তি পূজারীদের কারসাজির কারণে এই ইলমটি বহিরাগত ও বানোয়াট বিষয়ের মাধ্যমে দূষিত হওয়ার উপক্রম হয়। এর ফলে সেখানে বিকৃতি, অপব্যাখ্যা ও জাল বর্ণনার অনুপ্রবেশ ঘটেছিল।
ফলে মিথ্যাবাদী মুফাসসিরদের থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা বর্জন করা হয়েছে এবং তাদের স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে; যেমন মুহাম্মদ ইবনুল সাইব আল-কালবি (৩)-এর তাফসির এবং মুহাম্মদ ইবনু মারওয়ান আস-সুদ্দি আস-সাগির (৪)-এর তাফসির। একইভাবে প্রবৃত্তি পূজারীদের থেকে বর্ণিত বিষয়গুলোও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যেমন সালিহ ইবনু মুহাম্মদ আত-তিরমিজি—যিনি একজন মুরজিআ ও জাহমিয়াপন্থী প্রচারক ছিলেন এবং কুরআন সৃষ্টির আকিদা পোষণ করতেন (৫)। তদ্রূপ মুকাতিল ইবনু সুলাইমান আল-বালখি—যাঁকে আলিমগণ মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। ইমাম শাফেয়ি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা মুকাতিলকে ধ্বংস করুন। হাফিজ ইবনু হাজার বলেন: ইমাম শাফেয়ি তার সম্পর্কে এমন কঠোর মন্তব্য করেছেন কারণ তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
اشتهر عنه القول بالتجسيم (1) . قال إبراهيم الحربي مصنف التفسير الكبير (2) : وإنما جمع مقاتل تفسير الناس وفسر عليه من غير سماع. قال إبراهيم: لم أدخل في تفسيري منه شيئا (3) .
وكذا الحال بالنسبة للزنادقة فقد وضعوا روايات وأحاديث كثيرة ومن المعروف أن كثيرا من هذه الروايات والأحاديث لها علاقة وطيدة بالتفسير.
أخرج ابن عساكر عن ابن علية قال: أخذ هارون الرشيد زنديقا فأمر بضرب عنقه فقال له الزنديق: لم تضرب عنقي؟ قال له: أريح العباد منك قال: فأين أنت من ألف حديث وضعتها على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم كلها ما فيها حرف نطق به؟ قال: فأين أنت يا عدو الله من أبي إسحاق الفزاري وعبد الله بن المبارك ينخلانها فيخرجانها حرفا حرفا (4) ؟.
ولهذا انبرى جهابذة السلف إلى نقد الروايات والتفتيش عن الأسانيد، وقد بدأ هذا التحري بعد اندلاع الفتنة في خلافة عثمان رضي الله عنه أو في زمن ابن الزبير وقد رجح الرأي الأخير مؤرخ السيرة أ. د. أكرم ضياء العمري (5) .
أخرج مسلم في صحيحه بسنده عن محمد بن سيرين: قال: لم يكونوا يسألون عن الإسناد. فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم. فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم (6) . فكان أهل السنة بالمرصاد لكل من تسول له نفسه أن يأتي بدخيل ولهذا وضعوا ضوابط محكمة وقواعد دقيقة للرواية.
--------------------------------------------
তাঁর সম্পর্কে তাজসিম (দেহবাদ) (১) মতবাদের প্রসিদ্ধি রয়েছে। আত-তাফসীর আল-কাবীর-এর রচয়িতা ইবরাহীম আল-হারবী (২) বলেন: মুকাতিল মূলত মানুষের তাফসীরসমূহ সংগ্রহ করেছেন এবং কোনো শ্রবণ (সরাসরি বর্ণনা) ছাড়াই সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। ইবরাহীম বলেন: আমি আমার তাফসীরে তাঁর থেকে কোনো কিছুই অন্তর্ভুক্ত করিনি (৩)।
অনুরূপ অবস্থা যিন্দিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; তারা বহু বর্ণনা ও হাদীস জাল করেছে এবং এটি সুবিদিত যে, এই বর্ণনা ও হাদীসগুলোর একটি বড় অংশের সাথে তাফসীরের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
ইবনে আসাকির ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন আল-রশীদ এক যিন্দিককে পাকড়াও করলেন এবং তার শিরশ্ছেদের নির্দেশ দিলেন। তখন যিন্দিকটি তাঁকে বলল: আপনি কেন আমার শিরশ্ছেদ করছেন? তিনি তাকে বললেন: আমি বান্দাদেরকে তোমার হাত থেকে মুক্তি দিতে চাই। সে বলল: তবে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে যে এক হাজার হাদীস জাল করেছি সেগুলোর কী হবে, যার একটি অক্ষরও তিনি উচ্চারণ করেননি? তিনি বললেন: হে আল্লাহর শত্রু! তুমি আবু ইসহাক আল-ফাযারী এবং আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের ব্যাপারে কী ভাবছ? তারা এগুলোকে এমনভাবে চালুনী দিয়ে ছাঁকবেন যে, প্রতিটি অক্ষর আলাদা করে বের করে আনবেন (৪)?
এই কারণেই সালাফদের প্রাজ্ঞ মনীষীগণ বর্ণনাগুলোর সমালোচনা এবং সনদ অনুসন্ধানে তৎপর হয়েছিলেন। উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতকালে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার পর অথবা ইবনুল যুবাইরের সময়ে এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু হয়। সীরাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. আকরাম জিয়া আল-উমারী পরবর্তী মতটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন (৫)।
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে নিজ সনদে মুহাম্মদ ইবনে সীরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: পূর্বে তাঁরা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না। কিন্তু যখন ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন তাঁরা বলতে লাগলেন: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম প্রকাশ করো। অতঃপর আহলে সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতীদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদীস গ্রহণ করা হতো না (৬)। সুতরাং আহলে সুন্নাহ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর কড়া নজর রাখতেন, যার মন তাকে কোনো বহিরাগত বিষয় অনুপ্রবেশ করাতে প্ররোচিত করত। আর এই কারণেই তাঁরা বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদৃঢ় মানদণ্ড ও সূক্ষ্ম নীতিমালা প্রণয়ন করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قال محمد بن حاتم بن المظفر:
… وهذه الأمة إنما تنص الحديث عن الثقة المعروف في زمانه المشهور بالصدق والأمانة عن مثله حتى تناهى أخبارهم ثم يبحثون أشد البحث حتى يعرفوا الأحفظ فالأحفظ والأضبط فالأضبط والأطول مجالسة لمن فوقه ممن كان أقل مجالسة ثم يكتبون الحديث من عشرين وجها أو أكثر حتى يهذبوه من الغلط والزلل ويضبطون حروفه ويعدوه عدا
… (1) .
هكذا كان منهجهم في الرواية والتصنيف واستمر الحال على ذلك إلى القرن الثالث والرابع الهجري وكان أكثر المفسرين المصنفين يروون بالإسناد، فبرأوا ذمتهم لأنهم سموا شيوخهم ورواتهم وكانوا يميزون بين الصحيح والسقيم، وبعضهم يرى وجوب هذا التمييز بل وجوب نقد الرواة لمعرفة الثقة من الضعيف مثل ابن أبي حاتم وهو الذي صنف موسوعته في الجرح والتعديل من أجل بيان الثابت من التفسير ومن سنن البشير النذير صلى الله عليه وسلم التي تبين القرآن الكريم، فها هو يقول في تقدمة الجرح والتعديل: فلما لم نجد سبيلا إلى معرفة شيء من معاني كتاب الله ولا من سنن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا من جهة النقل والرواية وجب أن نميز بين عدول الناقلة والرواة وثقاتهم وأهل الحفظ والثبت والإتقان منهم وبين أهل الغفلة والوهم وسوء الحفظ والكذب واختراع الأحاديث الكاذبة (2) .
إن هذا المنهج الدقيق وتلك الحلقات التفسيرية كانت متصلة من القرن الأول الهجري إلى القرن الرابع الهجري، وبدخول القرن الخامس الهجري بدأ تدريجيا إهمال الأسانيد بحذفها أو باختصارها مما ساعد على شيوع الإسرائيليات ورواج الأحاديث الواهية والموضوعة ونسب الأقوال الباطلة إلى الصحابة والتابعين، وهم برآء منها، وكانت فرصة سانحة للكذابين والوضاعين والزنادقة وأهل الأهواء، فاختلط الصحيح بالسقيم والحق بالباطل وانتشر ذلك في كتب
--------------------------------------------
মুহাম্মদ ইবনে হাতিম ইবনুল মুজাফফর বলেন:
… আর এই উম্মত হাদিস বর্ণনা করে কেবল এমন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির নিকট থেকে যিনি নিজ যুগে সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার জন্য সুপরিচিত, তিনিও বর্ণনা করেন তাঁর মতো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির থেকে—এভাবেই তাঁদের সংবাদসমূহ শেষ পর্যন্ত পৌঁছে। অতঃপর তাঁরা কঠোর অনুসন্ধান চালান যাতে সর্বাধিক মুখস্থকারী ও সবচেয়ে সুনিপুণ বর্ণনাকারীদের চিহ্নিত করা যায় এবং কে তাঁর উস্তাদের কাছে দীর্ঘকাল অবস্থান করেছেন আর কে অল্প সময় অবস্থান করেছেন তা যাচাই করা যায়। এরপর তাঁরা একটি হাদিস বিশটি বা তারও বেশি সূত্র থেকে লিপিবদ্ধ করেন যাতে সেটিকে ভুলভ্রান্তি ও বিচ্যুতি থেকে মুক্ত করা যায় এবং তাঁরা এর প্রতিটি অক্ষর সুচারুরূপে সংরক্ষণ করেন ও তা গণনা করেন
… (১)।
বর্ণনা ও সংকলনের ক্ষেত্রে এটিই ছিল তাঁদের মানহাজ বা পদ্ধতি এবং হিজরি তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিল। অধিকাংশ মুফাসসির-সংকলক সনদসহ বর্ণনা করতেন, ফলে তাঁরা তাঁদের দায়মুক্ত করেছেন কারণ তাঁরা তাঁদের শিক্ষক ও বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁরা সহিহ (বিশুদ্ধ) ও সাকিম (অসুস্থ বা দুর্বল) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতেন। তাঁদের কেউ কেউ এই পার্থক্য করাকে এমনকি নির্ভরযোগ্য ও দুর্বল বর্ণনাকারীকে চেনার জন্য রাবিদের সমালোচনা করাকে আবশ্যক মনে করতেন, যেমন ইবনে আবি হাতিম। তিনি তাঁর ‘আল-জারহ ওয়াত তাদিল’ নামক বিশ্বকোষটি সংকলন করেছেন তাফসিরের প্রমাণিত অংশ এবং সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ—যা পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে—তা সুস্পষ্ট করার জন্য। তিনি ‘আল-জারহ ওয়াত তাদিল’-এর মুখবন্ধে বলেন: যখন আমরা আল্লাহর কিতাবের মর্মার্থ কিংবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভের কোনো পথ কেবল বর্ণনা ও রেওয়ায়েত ছাড়া খুঁজে পাইনি, তখন আমাদের জন্য ইনসাফগার বর্ণনাকারী ও রাবিদের মধ্যে যারা নির্ভরযোগ্য এবং যারা মুখস্থ শক্তি, দৃঢ়তা ও নিপুণতার অধিকারী, তাঁদেরকে ওইসব লোক থেকে পৃথক করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে যারা অমনোযোগী, বিভ্রান্ত, দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন, মিথ্যাবাদী এবং যারা মিথ্যা হাদিস উদ্ভাবন করে (২)।
এই সূক্ষ্ম পদ্ধতি এবং তাফসিরের এই ধারাগুলো হিজরি প্রথম শতাব্দী থেকে চতুর্থ শতাব্দী পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন ছিল। তবে হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে পদার্পণের সাথে সাথে সনদগুলো বর্জন বা সংক্ষিপ্ত করার মাধ্যমে ক্রমশ সেগুলোর প্রতি অবহেলা শুরু হয়। এটি ইসরাইলি বর্ণনাগুলোর ব্যাপকতা এবং দুর্বল ও জাল হাদিসের প্রসারে সহায়তা করে এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের প্রতি এমন সব বাতিল উক্তি আরোপ করা হয় যা থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন। এটি ছিল মিথ্যাবাদী, জালিয়াতকারী, জিন্দিক এবং প্রবৃত্তি পূজারীদের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। ফলে শুদ্ধের সাথে অশুদ্ধ এবং সত্যের সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটে এবং তা কিতাবসমূহে ছড়িয়ে পড়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
التفسير بالمأثور، ولم يسلم منها إلا القليل كتفسير البغوي (1) وابن كثير وعبد الرزاق بن رزق الرسعني ت 661هـ (2) الذي روى أغلب تفسيره بإسناده واستمر الحال على ذلك إلى يومنا هذا.
[[من أسباب تأليف هذا التفسير]]وقد تعالت صيحات وتوصيات لكثير من الغيورين في الأوساط العلمية لتنقية التفسير من الدخيل ولتمييز الصحيح من السقيم، وقد بذلت جهود لا بأس بها لغربلة بعض كتب التفسير من الدخيل وخصوصا في جامعة الأزهر، ولكن لم يقم أحد بنقد التفاسير بتمييز الصحيح من السقيم أو بجمع ما أثر من الصحيح المسند في التفسير، وكنت أفكر بهذا العمل منذ سنة 1404 هـ ولكني كنت أتردد بسبب ضخامة الموضوع وتعدد شعابه، وغزارة مصادره المطبوعة والمخطوطة القريبة والبعيدة، وعندما أسند إليَّ تدريس مادة التفسير ومناهج المفسرين في كلية القرآن الكريم بالجامعة الإسلامية ومادة طبقات المفسرين ومادة مناهج المفسرين والتفسير الموضوعي في شعبة التفسير بقسم الدراسات العليا والإشراف على رسائل الدكتوراه والماجستير ومناقشتها، رأيت الحاجة ماسّة لتصنيف تفسير بالمأثور ينتقى من الصحيح المسند من كتب التفسير المسندة ومن كتب الفنون الأخرى التي حوت التفسير بالمأثور المسند والتي سيأتي ذكرها في الهوامش وفي قائمة المصادر إن شاء الله، وكان لابد لي من القيام بشيء من هذا في تحضيري للطلاب وخصوصا لطلاب كلية القرآن الكريم باعتبارها كلية تخصص في التفسير إضافة إلى القراءات. فكان من ضمن التحضير نقد الكثير من الروايات التفسيرية معتمدا على أقوال كبار النقاد المشهورين كشيخ الإسلام ابن تيمية وأمير التفسير ابن كثير والحافظ ابن حجر العسقلاني والحافظ الذهبي ومستأنسا بأقوال النقاد المعاصرين، وكان هذا النقد في تفسير السور التالية: سورة الفاتحة والبقرة وآل عمران والمائدة والأنعام والأنفال والحج والإسراء والنور، وتشكل هذه السور ثلث القرآن تقريباً.
--------------------------------------------
তাফসীর বিল-মা'সুর, এবং এর মধ্য থেকে খুব অল্পসংখ্যকই তা থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে, যেমন ইমাম বাগাউয়ী (১), ইবনে কাসীর এবং আব্দুর রাজ্জাক বিন রিযক আল-রাসআনী (মৃত ৬৬১ হি.) (২)-এর তাফসীর। তিনি তার তাফসীরের অধিকাংশ বর্ণনা স্বীয় সনদে উল্লেখ করেছেন এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
[[এই তাফসীর রচনার অন্যতম কারণসমূহ]]তাফসীরকে বিজাতীয় অনুপ্রবেশ থেকে পবিত্র করতে এবং বিশুদ্ধ ও দুর্বল বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণের জন্য ইলমী পরিমন্ডলে অনেক নিষ্ঠাবান ব্যক্তিবর্গের জোরালো আহ্বান ও সুপারিশ উঠে এসেছে। তাফসীরের কিছু কিতাব থেকে বিজাতীয় অনুপ্রবেশসমূহ ছেঁকে ফেলার জন্য বেশ কিছু প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, বিশেষ করে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু বিশুদ্ধ ও দুর্বলের পার্থক্য নিরূপণ করে তাফসীর গ্রন্থসমূহের সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ করা অথবা তাফসীরের ক্ষেত্রে বর্ণিত বিশুদ্ধ মুসনাদ বর্ণনাগুলোকে একত্রিত করার কাজ কেউ করেননি। আমি ১৪০৪ হিজরী সাল থেকেই এই কাজটির কথা ভাবছিলাম, কিন্তু বিষয়টির বিশালতা, এর বহুমুখী শাখা-প্রশাখা এবং মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে থাকা নিকট ও দূরের উৎসসমূহের প্রাচুর্যের কারণে আমি দ্বিধান্বিত ছিলাম। যখন মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতুল কুরআন আল-কারীমে আমাকে তাফসীর ও মানাহিজুল মুফাসসিরীন (মুফাসসিরগণের মূলনীতি) বিষয় এবং উচ্চতর গবেষণা বিভাগে তাবাকাতুল মুফাসসিরীন, মানাহিজুল মুফাসসিরীন ও তাফসীরে মাওদুয়ী (বিষয়ভিত্তিক তাফসীর) পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হলো এবং পিএইচডি ও মাস্টার্স থিসিস তত্ত্বাবধান ও মূল্যায়নের ভার অর্পণ করা হলো, তখন আমি অনুভব করলাম যে, তাফসীর বিল-মা'সুরের একটি সংকলন তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি, যা মূল মুসনাদ তাফসীর গ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য শাস্ত্রের কিতাব—যেগুলোতে সনদসহ তাফসীর বিল-মা'সুর বর্ণিত হয়েছে—সেগুলো থেকে সংগৃহীত বিশুদ্ধ মুসনাদ বর্ণনার আলোকে চয়ন করা হবে। এসব উৎসের কথা ইনশাআল্লাহ টীকা ও উৎস তালিকায় উল্লেখ করা হবে। বিশেষ করে কুল্লিয়াতুল কুরআনের ছাত্রদের জন্য—যা কিরাত ও তাফসীর বিশেষজ্ঞ তৈরির একটি অনুষদ—পাঠদানের প্রস্তুতি গ্রহণকালে আমাকে এ জাতীয় কাজ করতে হয়েছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমি অনেক তাফসীরী বর্ণনার সমালোচনা ও বিশ্লেষণ করেছি, যেখানে আমি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, আমীরুত তাফসীর ইবনে কাসীর, হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী এবং হাফেজ যাহাবীর মতো প্রখ্যাত সমালোচকদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছি এবং সমকালীন সমালোচকদের বক্তব্যের মাধ্যমেও সহায়তা নিয়েছি। এই সমালোচনা ও বিশ্লেষণ নিম্নোক্ত সূরাগুলোর তাফসীরে করা হয়েছে: সূরা আল-ফাতিহা, আল-বাকারা, আল-ইমরান, আল-মায়িদা, আল-আনআম, আল-আনফাল, আল-হজ, আল-ইসরা এবং আন-নূর। এই সূরাগুলো কুরআনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد سبق هذا التحضير عملي في تحقيق المجلد الثاني من تفسير ابن أبي حاتم الرازي (ت 327 هـ) وفيه سورتا آل عمران والنساء وقد بلغ عدد الروايات (4602) رواية فيها المرفوع والموقوف والمرسل، وعند هذا التحقيق لمست أن معظم كتب التفسير بالمأثور للمصنفين المتقدمين مفقودة، ولهذا قررت أن أجمع الروايات التفسيرية لهؤلاء المفسرين، وقد قمت بذلك بعد الانتهاء من التحقيق فجمعت مرويات أشهر المفسرين من أصحاب التفاسير المفقودة كالإمام مالك والشافعي وأحمد ومحمد بن إسحاق وعبد الله بن المبارك ووكيع والدارمي وابن خزيمة وابن ماجة والطبراني ومحمد بن يوسف الفريابي وعبد بن حميد كما جمعت روايات من تفسير ابن أبي حاتم من القسم المفقود من تفسيره، كما قمت بتحقيق تفسير يحيى ابن يمان ونافع بن أبي نعيم ومسلم ابن خالد الزنجي وعطاء الخراساني، برواية أبي جعفر محمد بن أحمد بن نصر الرملي ت 295 هـ (1) .
وقد واكب هذا العمل اكتشاف تفسير آدم بن أبي إياس العسقلاني ت 220 هـ (2) . والاشراف والمناقشة على رسائل الدكتوراه والماجستير في علم التفسير وعلوم القرآن التي ناف عددها على الأربعين رسالة. وظهور بعض التحقيقات في التفسير وعلوم القرآن كتفسير عبد الرزاق الصنعاني وتفسير سعيد بن منصور والنسائي وابن أبي حاتم الرازي ت 327 هـ (3) ، وأبي بكر محمد بن علي بن أحمد الأدفوي ت 388 هـ ويسمى تفسيره (الاستغناء في علوم القرآن) وقد حقق منه سورة الفاتحة، وتفسير (الوسيط بين المقبوض والبسيط) للواحدي ت 468 هـ، كما ظهرت كتب أخرى كموسوعة في فضائل القرآن تصنيف الشيخ محمد رزق الطرهوني، وتحقيق فضائل القرآن للنسائي والفريابي وابن الضريس، والعجاب في بيان الأسباب للحافظ ابن حجر، والصحيح المسند في أسباب النزول لمقبل الوادعي، وتحقيق الناسخ والمنسوخ للنحاس، وتحقيق نواسخ القرآن، وتحقيق تخريج أحاديث الكشاف للزيلعي.
--------------------------------------------
এই প্রস্তুতির আগে ইবনু আবি হাতিম আর-রাজি (মৃত্যু ৩২৭ হিজরি)-এর তাফসীরের দ্বিতীয় খণ্ডের তাহকীক বা সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন হয়, যাতে সূরা আল-ইমরান ও সূরা আন-নিসা রয়েছে। এতে মোট বর্ণনার সংখ্যা ৪৬০২টি, যার মধ্যে মারফু, মাওকুফ ও মুরসাল বর্ণনা রয়েছে। এই তাহকীক বা সম্পাদনার সময় আমি উপলব্ধি করি যে, প্রাচীন সংকলকদের অধিকাংশ 'তাফসীর বিল মাসুর' (বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর) বিষয়ক গ্রন্থাবলী বর্তমানে বিলুপ্ত। তাই আমি সেই সকল মুফাসসিরগণের তাফসীর সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সম্পাদনার কাজ শেষ করার পর আমি এটি সম্পন্ন করি এবং যাদের তাফসীর গ্রন্থ বর্তমানে বিলুপ্ত, এমন প্রখ্যাত মুফাসসিরগণের বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করি; যেমন—ইমাম মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, ওয়াকী, দারেমী, ইবনে খুযায়মা, ইবনে মাজাহ, তাবারানী, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরয়াবী এবং আবদ ইবনে হুমাইদ। এছাড়াও আমি ইবনু আবি হাতিমের তাফসীরের হারানো অংশ থেকে বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করেছি। পাশাপাশি আমি ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান, নাফে ইবনে আবি নুআইম, মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-জানজি এবং আতা আল-খুরাসানীর তাফসীরের তাহকীক বা সম্পাদনা সম্পন্ন করেছি, যা আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে নাসর আর-রামলী (মৃত্যু ২৯৫ হিজরি) কর্তৃক বর্ণিত (১)।
এই কাজের পাশাপাশি আদম ইবনে আবি ইয়াস আল-আসকালানী (মৃত্যু ২২০ হিজরি)-এর তাফসীরটি আবিষ্কৃত হয় (২)। এর সাথে সাথে তাফসীর শাস্ত্র ও উলূমুল কুরআনের উপর চল্লিশটিরও বেশি পিএইচডি ও মাস্টার্স থিসিসের তত্ত্বাবধান ও পর্যালোচনার কাজও চলতে থাকে। সেই সময়ে তাফসীর ও উলূমুল কুরআনের কিছু সম্পাদিত গ্রন্থও প্রকাশিত হয়, যেমন—আব্দুর রাজ্জাক আস-সানআনী, সাঈদ ইবনে মানসুর, নাসায়ী এবং ইবনু আবি হাতিম আর-রাজি (মৃত্যু ৩২৭ হিজরি) (৩)-এর তাফসীরসমূহ; এবং আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ আল-আদফুওয়ী (মৃত্যু ৩৮৮ হিজরি)-এর তাফসীর, যার নাম 'আল-ইস্তিগনা ফি উলূমিল কুরআন' এবং এর সূরা আল-ফাতিহা অংশটি সম্পাদিত হয়েছে। আরও প্রকাশিত হয় ওয়াহিদী (মৃত্যু ৪৬৮ হিজরি) রচিত তাফসীর 'আল-ওয়াসীত বাইনাল মাকবুদ ওয়াল বাসীত'। এছাড়াও অন্যান্য গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যেমন—শায়খ মুহাম্মাদ রিযক আত-তারহুনী সংকলিত কুরআনের ফাযায়েল বিষয়ক বিশ্বকোষ, নাসায়ী, ফিরয়াবী ও ইবনুয যুরাইসের 'ফাযায়েলুল কুরআন'-এর তাহকীক, হাফেজ ইবনে হাজার রচিত 'আল-উজাব ফি বায়ানিল আসবাব', মুকবিল আল-ওয়াদীয়ী রচিত 'আস-সহীহুল মুসনাদ ফি আসবাবিন নুযূল', নাহহাসের 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসূখ'-এর তাহকীক, 'নাওয়াসিখুল কুরআন'-এর তাহকীক এবং যাইলায়ী রচিত 'তাখরীজু আহাদীসিল কাশশাফ'-এর তাহকীক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كما وقفت على قطع نادرة من تفسير عبد بن حميد ت 249 هـ وتفسير ابن المنذر النيسابوري ت 318 هـ (1) وتفسير القاضي أبي محمد إسحاق بن إبراهيم البستي ت 307 هـ (2) وتفسير يحيى ابن سلام (3) ، وقد بلغني أنه حقق في بلاد المغرب، وتفسير عبد الرازق الرسعني ت 660 هـ وهو تفسير أغلبه مسند (4) . وأحكام القرآن لإسماعيل بن إسحاق الجهضمي ت 282 هـ. ومن فضل الله تعالى أن أتاح لي بلوغ الإطلاع والاقتناء لهذه الكتب قبل أن تطبع، وقد طبع أغلبها.
إن اجتماع هذه العوامل المتقدمة من تحضير وتحقيق وجمع وإطلاع واقتناء شجعني على أن أخوض غمار موضوع الصحيح المسبور من التفسير بالمأثور فانتقلت من مرحلة التردد إلى مرحلة التنفيذ، فاقتنيت ما يلزم من مصادر مطبوعة، وحصلت وصورت ما يلزم من المخطوطات والرسائل العلمية المكتوبة بالآلة الكاتبة ومنها ما تقدم ذكره آنفا، ولم أظفر ببعض كتب التفسير الهامة فكلفت بعض الزملاء لتصويرها، كتفسير ابن المنذر ت 318 هـ (*) ، وأحكام القرآن للطحاوي ت 123 هـ (*) ، وتوجد قطعة من الأول في مكتبة جوتا بألمانيا الشرقية وقطعة من الثاني في القيروان في تونس وأما كتاب الطحاوي فبلغني أنه يقوم بتحقيقه باحثان تركيان في مكة المكرمة، ولازلت أنتظر تصوير هذه الكتب.
--------------------------------------------
একইভাবে আমি আবদ ইবনে হুমাইদ (মৃত্যু ২৪৯ হি.), ইবনুল মুনযির আন-নায়সাবুরী (মৃত্যু ৩১৮ হি.) (১), কাজী আবু মুহাম্মদ ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-বুস্তি (মৃত্যু ৩০৭ হি.) (২) এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাল্লামের (৩) তাফসীরের কিছু দুর্লভ খণ্ড প্রত্যক্ষ করেছি। আমি জানতে পেরেছি যে, এটি (ইয়াহইয়া ইবনে সাল্লামের তাফসীর) মাগরেব (মরক্কো) অঞ্চলে সম্পাদিত হয়েছে। এছাড়াও আবদুর রাজ্জাক আর-রাসআনীর (মৃত্যু ৬৬০ হি.) তাফসীরটিও দেখেছি, যার অধিকাংশ বর্ণনাই সনদসহ (মুসনাদ) বর্ণিত (৪)। আরও দেখেছি ইসমাইল বিন ইসহাক আল-জাহদামি (মৃত্যু ২৮২ হি.) রচিত 'আহকামুল কুরআন'। আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ অনুগ্রহ যে, এই কিতাবগুলো মুদ্রিত হওয়ার পূর্বেই তিনি আমাকে এগুলোর ওপর নজর বুলানোর এবং সংগ্রহের সুযোগ করে দিয়েছেন, যদিও বর্তমানে এগুলোর অধিকাংশই মুদ্রিত হয়েছে।
প্রস্তুতি, তাহকীক (গবেষণা), সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ এবং গ্রন্থ সংগ্রহের মতো পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর সমন্বয় আমাকে 'আস-সহীহ আল-মাসবুর মিনাত তাফসীর বিল মা’সুর' বিষয়ক গবেষণায় অবতীর্ণ হতে উৎসাহিত করেছে। ফলে আমি দ্বিধা কাটিয়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হই। আমি প্রয়োজনীয় মুদ্রিত উৎসসমূহ সংগ্রহ করি এবং পাণ্ডুলিপি ও টাইপরাইটারে লিখিত গবেষণাপত্রগুলোর প্রয়োজনীয় অনুলিপি সংগ্রহ ও ফটোকপি করি, যার কিছু অংশ ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাফসীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম না হওয়ায় সেগুলো ফটোকপি করার জন্য কয়েকজন সহকর্মীকে দায়িত্ব প্রদান করি; যেমন—ইবনুল মুনযির (মৃত্যু ৩১৮ হি.)-এর তাফসীর (*) এবং ইমাম তহাবীর (মৃত্যু ৩২১ হি.) 'আহকামুল কুরআন' (*)। প্রথমোক্ত কিতাবটির একটি খণ্ড পূর্ব জার্মানির গোথা লাইব্রেরিতে এবং দ্বিতীয়টির একটি খণ্ড তিউনিসিয়ার কাইরোয়ানে সংরক্ষিত আছে। ইমাম তহাবীর কিতাবটির ব্যাপারে আমি জানতে পেরেছি যে, মক্কা মুকাররমায় দুইজন তুর্কি গবেষক এর সম্পাদনার কাজ করছেন। আমি এখনও এই কিতাবগুলোর ফটোকপি পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস সহীহুল মাসবুর মিনাত তাফসীরি বিল মাসুর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المنهج في الجمع والتخريج والاختصار:وقد قمت بجولة علمية باحثا عن الكتب المتعلقة بهذا المشروع، فاستكملت مكتبتي حسب الحاجة، وجمعت ما تفرق من الشوارد والفرائد من تحضيراتي وتقييداتي الصالحة لهذا الباب، حيث انتخبت منها الصفو واللباب، ورتبتها حسب سور القرآن الكريم وآياته، ثم بدأت بالتفسير مصدرا السورة بفضائلها إن صحت الرواية، ثم بتفسير القرآن بالقرآن إن وجد وهو قمة البيان وغالبا ما أعتمد على كتاب أضواء البيان ثم تفسير ابن كثير وتفسير القاسمي.
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: فإن قال قائل: فما أحسن طريق التفسير؟ فالجواب: إن أصح الطرق في ذلك أن يفسر القرآن بالقرآن، فما أُجمل في مكان فإنه قد فسر في موضع آخر وما اختصر في مكان فقد بسط في موضع آخر، فإن أعياك ذلك فعليك بالسنة فإنها شارحة للقرآن وموضحة له (1) .
وقد سلكت هذا الطريق متحرياً ما ثبت عن رسوله الله صلى الله عليه وسلم القائل: "ألا إني أوتيت هذا الكتاب ومثله معه" (2) ، وقدمت ما اتفق عليه الشيخان في صحيحيهما، ثم ما انفرد به أحدهما ولا داعي لتخريج الحديث من مصادر أخرى لأن هدفي من التخريج التوصل إلى صحة الحديث وكفى بإطباق الأمة على صحتهما.
قال الزركشي: لطالب التفسير مآخذ كثيرة أمهاتها أربعة: الأول: النقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وهذا هو الطراز الأول ولكن يجب الحذر من الضعيف والموضوع فإنه كثير وإن سواد الأوراق سواد في القلب
… (3) .
--------------------------------------------
সংকলন, তথ্যসূত্র যাচাই ও সংক্ষিপ্তকরণ পদ্ধতি:আমি এই প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাবলি অনুসন্ধানে একটি তাত্ত্বিক সফর সম্পন্ন করেছি এবং প্রয়োজনানুযায়ী আমার পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করেছি। এই বিষয়ের উপযোগী আমার পূর্বপ্রস্তুতকৃত ও সংগৃহীত বিক্ষিপ্ত ও দুর্লভ টীকাগুলো একত্র করেছি এবং সেখান থেকে সারনির্যাস ও মূল অংশগুলো নির্বাচন করেছি। অতঃপর পবিত্র কুরআনের সূরা ও আয়াত অনুযায়ী সেগুলো বিন্যস্ত করেছি। আমি তাফসীর শুরু করেছি বর্ণনার বিশুদ্ধতা সাপেক্ষে সূরার ফযীলতসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে; এরপর 'কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসীর' যদি পাওয়া যায় তবে তা উল্লেখ করেছি—যা ব্যাখ্যার সর্বোচ্চ স্তর। এক্ষেত্রে আমি প্রধানত 'আদওয়াউল বায়ান' গ্রন্থের ওপর, এরপর 'তাফসীরে ইবনে কাসীর' ও 'তাফসীরে কাসিমী'র ওপর নির্ভর করেছি।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, তাফসীরের সর্বোত্তম পদ্ধতি কোনটি? তবে উত্তর হলো: এক্ষেত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ পদ্ধতি হলো কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআনের মাধ্যমেই করা। কারণ যা এক স্থানে সংক্ষেপে বলা হয়েছে, অন্য স্থানে তার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে; এবং যা এক স্থানে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, অন্য স্থানে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। যদি তুমি এতে অপারগ হও, তবে সুন্নাহর শরণাপন্ন হও; কেননা সুন্নাহ কুরআনের ভাষ্যকার ও ব্যাখ্যাকারী।" (১)
আমি এই পথই অনুসরণ করেছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে তা অনুসন্ধানে সচেষ্ট থেকেছি, যিনি বলেছেন: "জেনে রেখো! আমাকে এই কিতাব এবং এর সাথে এর অনুরূপ আরেকটি জিনিস প্রদান করা হয়েছে।" (২) আমি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) তাঁদের 'সহীহ' গ্রন্থদ্বয়ে যা ঐক্যবদ্ধভাবে বর্ণনা করেছেন তা আগে উল্লেখ করেছি, এরপর তাঁদের যেকোনো একজনের একক বর্ণনা গ্রহণ করেছি। অন্য কোনো উৎস থেকে হাদীসের তথ্যসূত্র যাচাই বা তাখরীজ করার প্রয়োজন বোধ করিনি, কারণ আমার উদ্দেশ্য হলো হাদীসের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা; আর এই দুই গ্রন্থের বিশুদ্ধতার ওপর উম্মতের ঐকমত্যই এ জন্য যথেষ্ট।
ইমাম যারকাশী বলেন: "তাফসীর অন্বেষণকারীর জন্য অনেক উৎস রয়েছে যার মূল ভিত্তি হলো চারটি: প্রথমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বর্ণনা। এটিই প্রথম স্তর, তবে যয়ীফ (দুর্বল) ও মওযূ (বানোয়াট) বর্ণনা সম্পর্কে সতর্ক থাকা আবশ্যক; কারণ এর সংখ্যা অনেক, আর কাগজের এই কালিমা হৃদয়ের কালিমা স্বরূপ
… (৩)।
--------------------------------------------