(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: -)
غريب القرآن للسجستاني القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب : غريب القرآن المسمى بنزهة القلوب
المؤلف : محمد بن عُزير السجستاني، أبو بكر العُزيري (المتوفى : 330هـ)
المحقق : محمد أديب عبد الواحد جمران
الناشر : دار قتيبة - سوريا
الطبعة : الأولى ، 1416 هـ - 1995 م
عدد الصفحات: 540
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সিজিস্তানি বিরচিত গরিবুল কুরআন বিভাগ: কুরআন বিষয়ক বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতি (أصول)
গ্রন্থ : গরিবুল কুরআন যা নুযহাতুল কুলুব নামে পরিচিত
লেখক : মুহাম্মদ ইবন উযাইর আস-সিজিস্তানি, আবু বকর আল-উযাইরি (মৃত্যু : ৩৩০ হিজরি)
মুহাক্কিক (محقق) : মুহাম্মদ আদিব আবদুল ওয়াহিদ জামরান
প্রকাশক : দার কুতাইবাহ - সিরিয়া
সংস্করণ : প্রথম , ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪০
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[غريب القرآن المسمى بنزهة القلوب]ـ
المؤلف: محمد بن عُزير السجستاني، أبو بكر العُزيري (المتوفى: 330هـ)
المحقق: محمد أديب عبد الواحد جمران
الناشر: دار قتيبة - سوريا
الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1995 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
--------------------------------------------
[কুরআনের বিরল (غريب) শব্দাবলি যা ‘নুযহাতুল কুলুব’ নামে পরিচিত]
লেখক: মুহাম্মদ বিন উযাইর আস-সিজিস্তানি, আবু বকর আল-উযাইরি (মৃত্যু: ৩৩০ হিজরি)
মুহাক্কিক: মুহাম্মদ আদীব আব্দুল ওয়াহিদ জামরান
প্রকাশক: দার কুতাইবা - সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৪১)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين، وَصلى الله على مُحَمَّد وعَلى آله أَجْمَعِينَ.
قَرَأت كتاب غَرِيب الْقرن على حُرُوف المعجم، لأبي بكر مُحَمَّد بن عُزَيْر السجسْتانِي رحمه الله من أَوله إِلَى آخِره على الشَّيْخ أبي مُحَمَّد جَعْفَر بن أَحْمد بن الْحُسَيْن السراج الْمُقْرِئ.
وَأَخْبرنِي أَن أَبَا الْحسن عبد الْبَاقِي بن فَارس بن أَحْمد الْمُقْرِئ الْمصْرِيّ، أخبرهُ بِهِ بِمصْر. قَالَ: أخبرنَا أَحْمد بن عبد الله بن الْحُسَيْن بن حسنون الْمُقْرِئ قَالَ: أخبرنَا أَبُو بكر مُحَمَّد بن عُزَيْر.
وَكنت قرأته قبل على الشَّيْخ أبي الْحُسَيْن الْمُبَارك بن عبد الْجَبَّار بن أَحْمد الصَّيْرَفِي، وَذكر لي أَنه سمع إِسْنَاده من أبي الْحُسَيْن أَحْمد بن مُحَمَّد بن أَحْمد بن مَنْصُور العتيقي قَالَ: أخبرنَا أَبُو عبد الله عبيد الله بن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن حمدَان بن بطة العكبراوي، قَالَ: أخبرنَا ابْن عُزَيْر.
قَالَ: وَأَخْبرنِي بِهِ أَيْضا أَبُو بكر مُحَمَّد بن عَليّ بن مُحَمَّد الْخياط
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ও তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর।
আমি আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে উযাইর আস-সিজিস্তানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) রচিত বর্ণানুক্রমিক ‘গারীবুল কুরআন’ গ্রন্থটি এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শাইখ আবু মুহাম্মাদ জাফর ইবনে আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন আস-সাররাজ আল-মুকরির নিকট পাঠ করেছি।
তিনি আমাকে অবহিত করেছেন যে, আবু আল-হাসান আব্দুল বাকি ইবনে ফারিস ইবনে আহমাদ আল-মুকরি আল-মিসরি মিসরে তাকে এটি জানিয়েছেন (أخبره)। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে হাসনুন আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে উযাইর।
আমি ইতিপূর্বে এটি শাইখ আবু আল-হুসাইন আল-মুবারক ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে আহমাদ আস-সাইরাফির নিকট পাঠ করেছিলাম। তিনি আমার নিকট উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এর সনদ (إسناد) আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে মানসুর আল-আতিকির নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আব্দুল্লাহ উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হামদান ইবনে বাত্তাহ আল-উকবারাওয়ি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) ইবনে উযাইর।
তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ আল-খাইয়াতও আমাকে এটি জানিয়েছেন (أخبرني)।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৪২)
الْمُقْرِئ، قَالَ: أخبرنَا أَبُو الْفَتْح مُحَمَّد بن أَحْمد بن أبي الفوارس، قَالَ: أخبرنَا أَبُو عَمْرو عُثْمَان بن أَحْمد بن سمْعَان الرزاز عَنهُ أَنه قَالَ: -
আল-মুকরি (المقرئ), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবু আমর উসমান ইবনে আহমদ ইবনে সামআন আর-রাজজাজ, তাঁর সূত্রে যে তিনি বলেছেন: -
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
مُقَدّمَة المُصَنّف
[الْحَمد لله رب الْعَالمين. وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد خَاتم النَّبِيين وَالْمُرْسلِينَ، وعَلى آله الطاهرين وَسلم تَسْلِيمًا] .
هَذَا تَفْسِير غَرِيب الْقُرْآن. ألف على حُرُوف المعجم، ليقرب تنَاوله، ويسهل حفظه على من أَرَادَهُ. وَبِاللَّهِ جلّ ثَنَاؤُهُ التَّوْفِيق والعون، وَله الْقُوَّة والحول. وحسبنا الله وَحده.
লেখকের ভূমিকা
[সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি নবী ও রাসূলগণের (المرسلين) সমাপ্তি আনয়নকারী, এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর।]
এটি কুরআনের বিরল শব্দাবলির (غريب) ব্যাখ্যা। এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে (حروف المعجم) সংকলন করা হয়েছে, যেন এটি সহজে বোধগম্য হয় এবং যারা এটি আয়ত্ত করতে চায় তাদের জন্য মুখস্থ করা সহজ হয়। মহান আল্লাহর নিকটই তাওফিক (التوفيق) ও সাহায্য প্রার্থনা করছি, এবং সকল শক্তি ও সামর্থ্য কেবল তাঁরই। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
(بَاب الْهمزَة وَصورتهَا الْألف)
(
[فصل] الْهمزَة الْمَفْتُوحَة)/ الم: وَسَائِر حُرُوف الهجاء فِي أَوَائِل السُّور، كَانَ بعض الْمُفَسّرين يَجْعَلهَا أَسمَاء للسور، تعرف كل سُورَة بِمَا افتتحت بِهِ. وَبَعْضهمْ يَجْعَلهَا أقساما، أقسم الله جلّ وَعز بهَا لشرفها وفضلها، لِأَنَّهَا [مبادي] كتبه الْمنزلَة، ومباني أَسْمَائِهِ الْحسنى، وَصِفَاته العلى. وَبَعْضهمْ يَجْعَلهَا حروفا مَأْخُوذَة من صِفَات الله جل جلاله كَقَوْل ابْن عَبَّاس رضي الله عنه فِي {كهيعص} : إِن الْكَاف من كَاف، وَالْهَاء من هاد، وَالْيَاء من
(হামযা (الهمزة) অধ্যায় এবং এর রূপ হলো আলিফ)
(
[পরিচ্ছেদ] (فصل) ফাতহা-যুক্ত হামযা (الهمزة المفتوحة))
/ আলিফ-লাম-মিম: এবং সূরাসমূহের প্রারম্ভে ব্যবহৃত বর্ণমালার অবশিষ্ট অক্ষরসমূহ; কিছু মুফাসসির (المفسرين) এগুলোকে সূরাসমূহের নাম হিসেবে গণ্য করতেন, যার মাধ্যমে প্রতিটি সূরা যা দ্বারা শুরু হয়েছে তা দ্বারা পরিচিতি লাভ করে। আবার তাদের কেউ কেউ এগুলোকে শপথ হিসেবে গণ্য করেন; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এগুলোর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এগুলোর শপথ করেছেন, কারণ এগুলো তাঁর অবতীর্ণ কিতাবসমূহের প্রারম্ভ [مبادي] এবং তাঁর সুন্দরতম নাম ও সুউচ্চ গুণাবলির ভিত্তি। আবার কেউ কেউ এগুলোকে মহান আল্লাহর গুণাবলি থেকে গৃহীত অক্ষর হিসেবে গণ্য করেন, যেমন {কাফ-হা-ইয়া-আইন-সদ} এর ব্যাপারে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি: নিশ্চয়ই ‘কাফ’ হলো ‘কাফি’ (পর্যাপ্তকারী) থেকে, ‘হা’ হলো ‘হাদি’ (পথপ্রদর্শক) থেকে এবং ‘ইয়া’ হলো...
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
حَكِيم، وَالْعين من عليم، وَالصَّاد من صَادِق. أأنذرتهم: أأعلمتهم بِمَا تحذرهم مِنْهُ. وَلَا يكون الْمعلم منذرا حَتَّى يحذر بإعلامه. وكل مُنْذر معلم، وَلَيْسَ كل معلم منذرا. أندادا: أَمْثَالًا ونظراء. واحدهم ند [ونديد. وَقَالَ جرير:
(أَتَيْماً تجعلونَ إِليَّ نِداً؟
… وَمَا تَيْمٌ لذِي حَسَبٍ نَدِيدٌ)
أزلهما الشَّيْطَان: استنزلهما. يُقَال: أزللته فزل [وقرىء: (أزالهما) أَي: نحاهما] . يُقَال: أزلته فَزَالَ. آل فِرْعَوْن: قومه وَأهل دينه.
প্রজ্ঞাময়, আর ‘আইন’ বর্ণটি সর্বজ্ঞ থেকে এবং ‘সোয়াদ’ বর্ণটি সত্যবাদী (صادق) থেকে সংগৃহীত। ‘আপনি কি তাদের সতর্ক করেছেন’: অর্থাৎ আপনি কি তাদের এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেছেন যা থেকে আপনি তাদের সতর্ক করছেন। আর একজন শিক্ষক ততক্ষণ পর্যন্ত সতর্ককারী হতে পারেন না যতক্ষণ না তিনি তাঁর অবহিতকরণের মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন করেন। প্রত্যেক সতর্ককারীই শিক্ষক, কিন্তু প্রত্যেক শিক্ষকই সতর্ককারী নন। সমকক্ষসমূহ: সদৃশ ও সমতুল্য। এদের একবচন হলো ‘নিদ’ [এবং ‘নাদীদ’। আর জারীর বলেছেন:
(তোমরা কি তাইম গোত্রকে আমার সমকক্ষ বানাচ্ছ?
… অথচ আভিজাত্যসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে তাইম কোনো প্রতিরূপ নয়)
শয়তান তাদের পদস্খলন ঘটিয়েছে: অর্থাৎ সে তাদের বিচ্যুত করেছে। বলা হয়ে থাকে: ‘আমি তাকে পদস্খলিত করেছি, ফলে সে বিচ্যুত হয়েছে’। [আর ভিন্ন কিরাআতে ‘তিনি তাদের সরিয়ে দিয়েছেন’ অর্থাৎ: ‘তিনি তাদের পৃথক করেছেন’ পঠিত হয়েছে]। বলা হয়: ‘আমি তাকে সরিয়ে দিয়েছি, ফলে সে সরে গিয়েছে’। ফেরাউনের অনুসারীবৃন্দ: তার সম্প্রদায় এবং তার ধর্মাদর্শের অনুসারীগণ।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
آيَات: عَلَامَات وعجائب أَيْضا. وَآيَة الْقُرْآن كَلَام مُتَّصِل إِلَى انْقِطَاعه. وَقيل: معنى آيَة من الْقُرْآن أَي جمَاعَة حُرُوف. يُقَال: خرج الْقَوْم بأيتهم أَي بجماعتهم. [قَالَ الشَّاعِر:
(خَرَجْنا مِنَ النَّقْبَيْنِ لَا حيَّ مثلُنا
… بآيتِنا نُزْجي اللِّقاحَ المَطَافِلا)
أَي بجماعتنا] . أماني: جمع أُمْنِية، وَهِي التِّلَاوَة. وَمِنْه قَوْله جلّ ثَنَاؤُهُ: {إِذا
আয়াতসমূহ (آيات): নিদর্শনসমূহ (علامات) এবং বিস্ময়কর বিষয়াদিও (عجائب)। আর কুরআনের আয়াত (آية) হলো বিরতি পর্যন্ত একটি সংযুক্ত বক্তব্য। আরও বলা হয়েছে: কুরআনের আয়াত (آية)-এর অর্থ হলো বর্ণের সমষ্টি। বলা হয়ে থাকে: সম্প্রদায়টি তাদের 'আয়াহ' (آية) নিয়ে বের হয়েছে অর্থাৎ তাদের দলসহ। [কবি বলেছেন:
(আমরা দুই গিরিপথ থেকে বের হয়েছি এমতাবস্থায় যে আমাদের মতো কোনো গোত্র নেই
… আমাদের দলসহ (بآيتنا) আমরা দুগ্ধবতী উট ও তাদের শাবকগুলোকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম)
অর্থাৎ আমাদের দলসহ] । আমানি (أماني): উমনিয়্যাহ (أمنية)-এর বহুবচন, আর তা হলো তিলাওয়াত (تلاوة)। এর থেকেই যাঁর প্রশংসা সুমহান তাঁর বাণী: {যখন
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
تمنى ألْقى الشَّيْطَان فِي أمْنِيته} أَي إِذا تَلا ألْقى الشَّيْطَان فِي تِلَاوَته. والأماني: الأكاذيب أَيْضا. وَمِنْه قَول عُثْمَان: ((مَا تمنيت مُنْذُ أسلمت)) . أَي مَا كذبت. وَقَول بعض الْعَرَب ((لِابْنِ دأب وَهُوَ يحدث: ((أَهَذا شَيْء رويته / أم شَيْء تمنيته)) أَي افتعلته. والأماني أَيْضا مَا يتمناه الْإِنْسَان ويشتهيه. أيدناه: قويناه. [والأيد: الْقُوَّة] . أكننتم: أخفيتم وسترتم] . أسلمت لرب الْعَالمين: سلم ضميري لَهُ. وَمِنْه اشتقاق الْمُسلم.
...আকাঙ্ক্ষা করল তখন শয়তান তাঁর আকাঙ্ক্ষার মাঝে (কিছু) নিক্ষেপ করল} অর্থাৎ যখন তিনি তিলাওয়াত করলেন, তখন শয়তান তাঁর তিলাওয়াতের মাঝে (কিছু) নিক্ষেপ করল। 'আমানি' (الأماني) অর্থ মিথ্যাও হয়। এ থেকেই উসমান (রা.)-এর উক্তি: “আমি ইসলাম গ্রহণের পর কখনো মিথ্যা বলিনি (مَا تمنيت)।” অর্থাৎ আমি মিথ্যা বলিনি। জনৈক আরবের উক্তি ইবনে দাব-এর প্রতি, যখন তিনি হাদিস বর্ণনা করছিলেন: “এটি কি কোনো বর্ণিত (رويته) বিষয়, নাকি তোমার নিজের বানানো (تمنيته) কিছু?” অর্থাৎ তুমি কি তা নিজে উদ্ভাবন (افتعلته) করেছ? 'আমানি' বলতে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও কামনা-বাসনাকেও বোঝায়। আমরা তাকে শক্তিশালী করেছি (أيدناه): অর্থাৎ আমরা তাকে শক্তি প্রদান করেছি (قويناه)। [আর 'আইদ' (الأيد) মানে শক্তি (القوة)]। তোমরা গোপন করেছ (أكننتم): অর্থাৎ তোমরা লুকিয়েছ এবং আবৃত করেছ (أخفيتم وسترتم)]। আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম (أسلمت): অর্থাৎ আমার অন্তর তাঁর প্রতি অনুগত হলো। এখান থেকেই 'মুসলিম' শব্দের উৎপত্তি।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
آبَائِك إِبْرَاهِيم وَإِسْمَاعِيل وَإِسْحَاق: الْعَرَب تجْعَل الْعم أَبَا وَالْخَالَة أما وَمِنْه قَوْله جلّ وَعز: {وَرفع أَبَوَيْهِ على الْعَرْش} يَعْنِي أَبَاهُ وخالته، وَكَانَت أمه قد مَاتَت. الأسباط: فِي بني يَعْقُوب كالقبائل فِي بني إِسْمَاعِيل. واحدهم: سبط، وهم اثْنَا عشر سبطا من اثْنَي عشر ولدا ليعقوب صلى الله على مُحَمَّد وعَلى آله وَعَلِيهِ. وَإِنَّمَا [سمي] هَؤُلَاءِ بالأسباط، وَهَؤُلَاء بالقبائل ليفصل بَين ولد إِسْمَاعِيل وَولد إِسْحَاق صلى الله على مُحَمَّد وَعَلَيْهِمَا. الْأَسْبَاب: الوصلات. الْوَاحِد سَبَب ووصلة. وأصل السَّبَب الْحَبل يشد بالشَّيْء فيجذب بِهِ، ثمَّ جعل كل مَا جر شَيْئا سَببا.
আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল এবং ইসহাক: আরবরা চাচাকে পিতা এবং খালাকে মাতা হিসেবে গণ্য করে। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: {তিনি তাঁর পিতা-মাতাকে সিংহাসনে আরোহণ করালেন} অর্থাৎ তাঁর পিতা এবং খালা, কেননা তাঁর মা ইতিপূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন। আল-আসবাত (الأسباط): বনী ইয়াকুবের মধ্যে আসবাত হলো বনী ইসমাইলের গোত্রসমূহের (القبائل) অনুরূপ। এদের একবচন হলো সিবত (سبط); তারা ইয়াকুবের বারোজন সন্তানের মাধ্যমে গঠিত বারোটি বংশধর (سبط)। মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং ইয়াকুবের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। মূলত ইসমাইল এবং ইসহাকের সন্তানদের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এদের বংশধরগণ (الأسباط) এবং অন্যদের গোত্রসমূহ (القبائل) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। মুহাম্মদ এবং তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আল-আসবাব (الأسباب): সংযোগসমূহ। এর একবচন হলো কারণ (سبب) ও সংযোগ। সাবাব-এর মূল অর্থ হলো সেই রশি যা কোনো বস্তুর সাথে বেঁধে তা আকর্ষণ করা হয়, পরবর্তীতে যা কিছু কোনো বিষয়কে টেনে আনে বা ঘটায় তাকেই কারণ (سبب) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫০)
أصبرهم: وصبرهم وَاحِد. وَقَوله عز وجل: {فَمَا أصبرهم على النَّار} أَي أَي شَيْء صبرهم على النَّار ودعاهم إِلَيْهَا. وَيُقَال: ((مَا أصبرهم على النَّار)) أَي مَا أجرأهم على النَّار. ألفينا: وجدنَا. أهلة: جمع هِلَال. يُقَال للهلال فِي أول لَيْلَة إِلَى الثَّالِثَة هِلَال، ثمَّ يُقَال لَهُ الْقَمَر إِلَى آخر الشَّهْر. أَفَضْتُم من عَرَفَات: دفعتم بِكَثْرَة. الْأَيَّام المعلومات: عشر ذِي الْحجَّة. وَالْأَيَّام المعدودات: أَيَّام التَّشْرِيق. الْحَج أشهر مَعْلُومَات: شَوَّال وَذُو الْقعدَة وَعشر ذِي الْحجَّة.
'আসবরাহুম' (তারা কতই না ধৈর্যশীল): তাদের ধৈর্য অভিন্ন। এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {তারা আগুনের ওপর কতই না ধৈর্যশীল!} অর্থাৎ কোন বিষয়টি তাদের জাহান্নামের আগুনের ওপর ধৈর্য ধারণ করতে এবং তার দিকে ধাবিত হতে প্ররোচিত করল। আবার বলা হয়: ((তারা আগুনের ওপর কতই না ধৈর্যশীল)) অর্থাৎ তারা আগুনের ব্যাপারে কতই না দুঃসাহসী। 'আলফাইনা': আমরা পেয়েছি। 'আহিল্লাহ': এটি 'হিলাল' (অর্ধচন্দ্র)-এর বহুবচন। প্রথম রাত থেকে তৃতীয় রাত পর্যন্ত চাঁদকে 'হিলাল' বলা হয়, এরপর মাসের শেষ পর্যন্ত একে 'কামার' (চাঁদ) বলা হয়। 'আফাদতুম মিন আরাফাত': তোমরা (আরাফাত থেকে) বিপুল সংখ্যায় প্রস্থান করেছ। 'আল-আইয়ামুল মালুমাত' (সুবিদিত দিনসমূহ): জিলহজ্জ মাসের (প্রথম) দশ দিন। 'আল-আইয়ামুল মাদুদাত' (গণনাকৃত দিনসমূহ): আইয়ামে তাশরিকের দিনসমূহ। হজ্জের মাসসমূহ সুবিদিত: শাওয়াল, জিলকদ এবং জিলহজ্জ মাসের (প্রথম) দশ দিন।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫১)
أَي خُذُوا فِي أَسبَاب الْحَج، وتأهبوا لَهُ فِي هَذِه الْأَوْقَات من التَّلْبِيَة وَغير ذَلِك. الْأَشْهر الْحرم: أَرْبَعَة أشهر /: رَجَب وَذُو الْقعدَة وَذُو الْحجَّة 3 / وَالْمحرم وَاحِد فَرد، وَثَلَاثَة سرد، أَي متتابعة. الْأَلْبَاب: الْعُقُول. وَاحِدهَا لب. أَلد الْخِصَام: شَدِيد الْخُصُومَة. أفرغ علينا صبرا: أَي اصبب، كَمَا تفرغ الدَّلْو أَي تصب. الْأَذَى: مَا يكره ويغتم بِهِ. أقسط عِنْد الله: أَي أعدل عِنْد الله. آتت أكلهَا ضعفين: أَعْطَتْ ثَمَرهَا ضعْفي مَا يُعْطي غَيرهَا من الْأَرْضين.
অর্থাৎ, তোমরা হজের উপকরণসমূহ গ্রহণ করো এবং এই সময়ে তালবিয়াহ ও অন্যান্য ইবাদতের মাধ্যমে হজের প্রস্তুতি গ্রহণ করো। পবিত্র মাসসমূহ (الأشهر الحرم): চারটি মাস /: রজব, জিলকদ ও জিলহজ ৩ / এবং মহররম; একটি পৃথক এবং তিনটি ধারাবাহিক (سرد) অর্থাৎ একটির পর একটি পরস্পর সংলগ্ন। আল-আলবাব (الألباب): এর অর্থ হলো প্রজ্ঞা বা বুদ্ধি। এর একবচন হলো লুব্ব। চরম কলহপ্রিয় (ألد الخصام): এর অর্থ হলো কঠোর ঝগড়াটে। আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন (أفرغ علينا صبرا): অর্থাৎ বর্ষণ করা বা ঢেলে দেওয়া, যেমনভাবে বালতি খালি করার সময় পানি ঢালা হয়। কষ্ট বা অপকার (الأذى): যা অপছন্দ করা হয় এবং যা দ্বারা মানুষ দুঃখিত বা ব্যথিত হয়। আল্লাহর নিকট অধিক ন্যায়সঙ্গত (أقسط عند الله): অর্থাৎ আল্লাহর নিকট অধিক ইনসাফপূর্ণ (أعدل)। তা দ্বিগুণ ফল দান করেছে (آتت أكلها ضعفين): অর্থাৎ অন্যান্য ভূমির তুলনায় তা দ্বিগুণ পরিমাণ ফল বা ফসল উৎপাদন করেছে।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫২)
أسلمت وَجْهي لله: أخلصت عبادتي لله. أَنى لَك هَذَا؟ : من أَيْن لَك هَذَا؟ . وَقَوله جلّ وَعز: {أَنى شِئْتُم} : كَيفَ شِئْتُم، وَمَتى شِئْتُم، وَحَيْثُ شِئْتُم. فَتكون (أَنى) على ثَلَاثَة معَان. أقلامهم: أَي قداحهم، يَعْنِي سِهَامهمْ الَّتِي كَانُوا بجيلونها عِنْد الْعَزْم على الْأَمر. الأكمه: الَّذِي يُولد أعمى. أحس: علم وَوجد. أولى النَّاس بإبراهيم: أَي أحقهم بِهِ. أَنْصَارِي: أعواني. أَلِيم: مؤلم. أَي موجع [وَقَالَ ذُو الرمة:
আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজেকে সমর্পণ করেছি: আমি আমার ইবাদতকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করেছি। তোমার জন্য এটি কোত্থেকে এল?: তোমার নিকট এটি কোথা হতে এসেছে? এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {যেভাবে তোমরা চাও}: অর্থাৎ যেভাবে তোমরা ইচ্ছা করো, যখন তোমরা ইচ্ছা করো এবং যেখানে তোমরা ইচ্ছা করো। সুতরাং 'আন্না' শব্দটি তিনটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাদের কলমসমূহ: অর্থাৎ তাদের ভাগ্য নির্ধারণী তীরসমূহ; উদ্দেশ্য হলো সেই তীরগুলো যা তারা কোনো বিষয়ে সংকল্প করার সময় লটারি হিসেবে পরিচালনা করত। জন্মান্ধ: যে ব্যক্তি অন্ধ হয়ে জন্মগ্রহণ করে। উপলব্ধি করা: অবগত হওয়া এবং খুঁজে পাওয়া। ইব্রাহিমের সর্বাধিক নিকটবর্তী মানুষ: অর্থাৎ তাঁর প্রতি যারা সর্বাধিক হকের অধিকারী। আমার সাহায্যকারীগণ: আমার সহায়তাকারীগণ। যন্ত্রণাদায়ক: পীড়াদায়ক, অর্থাৎ যা যাতনা প্রদান করে। [এবং যু-রুম্মাহ বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
(ويَرْفَعُ منْ صُدورِ شَمَرْدلاتٍ
… يَصُكُّ وُجُوهَهَا وَهْجٌ أَليمُ] )
أنقذكم مِنْهَا: أَي خلصكم مِنْهَا. أخزيته: أهلكته. قَالَ أَبُو عمر: باعدته من الْخَيْر. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {يَوْم لَا يخزي الله النَّبِي} . [الأنامل من الغيظ: يَعْنِي أَطْرَاف الْأَصَابِع] . الْأَرْحَام: الْقرَابَات. واحدتها رحم. وَالرحم فِي غير هَذَا مَا
(এবং তা সুঠামদেহী উষ্ট্রীদের বক্ষদেশ থেকে উঁচিয়ে ধরছিল
… তাদের মুখমণ্ডলে এক যন্ত্রণাদায়ক উত্তাপ আঘাত করছিল] )
তোমাদেরকে তা থেকে উদ্ধার করেছেন: অর্থাৎ তিনি তোমাদেরকে তা থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছেন। তাকে লাঞ্ছিত করেছি: অর্থাৎ তাকে ধ্বংস করেছি। আবু উমর বলেন: আমি তাকে কল্যাণ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছি। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যেদিন আল্লাহ নবীকে অপদস্থ করবেন না}। [ক্রোধবশত আঙুলের ডগা: অর্থাৎ আঙুলের অগ্রভাগ]। আল-আরহাম: আত্মীয়-স্বজন। এর একবচন হলো 'রাহিম'। আর এ ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে 'রাহিম' বলতে যা...
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
يشْتَمل على مَاء الرجل من الْمَرْأَة وَيكون فِيهِ الْحمل. آنستم مِنْهُم رشدا: أَي علمْتُم ووجدتم. أنست نَارا: أبصرتها. والإيناس الرُّؤْيَة وَالْعلم والإحساس بالشَّيْء. أفْضى بَعْضكُم إِلَى بعض: انْتهى إِلَيْهِ، فَلم يكن بَينهمَا حاجز، وَهُوَ كِنَايَة عَن الْجِمَاع. أخدان: أصدقاء. واحدهم خدن [وخدين] . أحصن: تَزَوَّجن، وَأحْصن: زوجن. أذاعوا بِهِ: أفشوه وتحدثوا بِهِ أركسهم: نكسهم وردهم فِي كفرهم.
এতে নারীর গর্ভে পুরুষের বীর্য অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে বোঝায় এবং সেখানে গর্ভধারণ (الحمل) সম্পন্ন হয়। "তোমরা তাদের মধ্যে বিচক্ষণতা প্রত্যক্ষ করলে (آنستم منهم رشداً)": অর্থাৎ তোমরা জানতে পারলে এবং তা দেখতে পেলে। "আমি আগুন দেখতে পেলাম (أنست ناراً)": আমি তা প্রত্যক্ষ করলাম। আর দর্শন ও উপলব্ধি (الإيناس) বলতে দর্শন (الرؤية), জ্ঞান (العلم) এবং কোনো কিছু অনুভব (الإحساس) করাকে বোঝায়। "তোমাদের একে অপরের সাথে মিলিত হওয়া (أفضى بعضكم إلى بعض)": অর্থাৎ একজনের নিকট অন্যজনের পৌঁছে যাওয়া, এমতাবস্থায় যে তাদের মাঝে কোনো অন্তরায় থাকে না; এটি সহবাসের (الجماع) একটি রূপক (كناية) বর্ণনা। আখদান (أخدان): এর অর্থ বন্ধু (أصدقاء); এর একবচন হলো 'খিদন' (خدن) [ও 'খাদিন' (خدين)]। "তারা বিবাহ করেছে (أحصن)": অর্থাৎ তারা বিবাহিত হয়েছে; আর "তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে (أُحصن)": অর্থাৎ তাদের বিবাহ সম্পাদন করা হয়েছে। "তারা তা প্রচার করল (أذاعوا به)": তারা তা প্রকাশ করে দিল এবং তা নিয়ে আলোচনা করল। "তিনি তাদের উল্টে দিয়েছেন (أركسهم)": অর্থাৎ তিনি তাদের অধঃপতিত করেছেন এবং তাদের কুফরিতে (كفر) ফিরিয়ে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
آمين الْبَيْت: عَامِدين الْبَيْت. وَأما [قَوْلهم] فِي الدُّعَاء /: آمين رب الْعَالمين. فبتخفيف الْمِيم. وتمد وتقصر. وَتَفْسِيره اللَّهُمَّ استجب. وَيُقَال: آمين. اسْم من أَسمَاء الله جلّ وَعز. الأزلام: القداح الَّتِي كَانُوا يضْربُونَ بهَا على الميسر، وَاحِدهَا زلم وزلم. من أجل ذَلِك: [من] جِنَايَة ذَلِك. وَيُقَال: من أجل ذَلِك، وَمن جرى ذَلِك، وَمن جراء ذَلِك. بِالْمدِّ وَالْقصر. وَقيل: من أجل ذَلِك: أَي من سَبَب ذَلِك. أَحْبَار: عُلَمَاء. واحدهم حبر [وَحبر] . أَذِلَّة على الْمُؤمنِينَ: أَي يلينون لَهُم. من قَوْلك: دَابَّة ذَلُول. أَي
আমীন আল-বাইত (آمين البيت): অর্থ বায়তুল্লাহর অভিমুখে গমনকারী। আর দোয়ার ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য ‘আমীন রাব্বাল আলামীন’ (آمين رب العالمين); এতে ‘মীম’ বর্ণটি হালকা বা তাসদিদহীন (تخفيف) উচ্চারিত হয়। এটি দীর্ঘ (مد) এবং হ্রস্ব (قصر) উভয়ভাবেই পড়া যায়। এর ব্যাখ্যা হলো: ‘হে আল্লাহ! আপনি কবুল করুন’। আরও বলা হয় যে, আমীন (آمين) মহান আল্লাহর নামসমূহের একটি। আল-আযলাম (الأزলাম): সেই ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ যা দিয়ে তারা জুয়া (الميسر) খেলত; এর একবচন হলো যালাম (زلم) এবং যুলুম (زلم)। মিন আজলি যালিকা (من أجل ذلك): অর্থ সেই অপরাধের কারণে। বলা হয়ে থাকে: ‘মিন আজলি যালিকা’ (من أجل ذلك), ‘মিন জারা যালিকা’ (من جرى ذلك) এবং ‘মিন জারা-ই যালিকা’ (من جراء ذلك); যা দীর্ঘ এবং হ্রস্ব উভয়ভাবেই পঠিত হয়। আরও বলা হয়েছে: ‘মিন আজলি যালিকা’ (من أجل ذلك) অর্থাৎ সেই কারণে। আহবার (أحبار): অর্থ আলেমগণ (علماء)। এর একবচন হলো হাবর (حبر) বা হিবর (حبر)। মুমিনদের প্রতি অনুগত বা নম্র (أذلة على المؤمنين): অর্থাৎ তারা তাদের প্রতি কোমল আচরণ করে। এটি ‘বাধ্য পশু’ (دابة ذلول) কথাটি থেকে এসেছে। অর্থাৎ
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
لين، منقاد، سهل، لَيْسَ هَذَا من الهوان، إِنَّمَا هُوَ من الرِّفْق. أعزه على الْكَافرين: أَي يعازون الْكَافرين. [أَي] يغالبونهم ويمانعونهم. وَيُقَال: عزه يعزه عزا إِذا غَلبه. أوحيت إِلَى الحواريين: ألقيت فِي قُلُوبهم. و {أوحى رَبك إِلَى النَّحْل} : ألهمها. وَأوحى: كلم مشافهة، من قَوْله: {فَأوحى إِلَى عَبده مَا أوحى} . أغرينا بَينهم الْعَدَاوَة والبغضاء: هيجناها. وَيُقَال: أغرينا: ألصقنا بهم وَذَلِكَ مَأْخُوذ من الغراء. قَالَ: والعداوة: تبَاعد الْقُلُوب والنيات. والبغضاء: البغض. الأوليان: [واحدهما] الأولى، وَالْجمع الْأَولونَ، وَالْأُنْثَى الولياء وَالْجمع الوليات والولى.
কোমল বা শিথিল (لين), অনুগত, সহজ; এটি হীনম্মন্যতা থেকে নয়, বরং এটি হলো নম্রতা ও দয়ার বহিঃপ্রকাশ। ‘অবিশ্বাসীদের ওপর প্রভাবশালী’: অর্থাৎ তারা অবিশ্বাসীদের সাথে কঠোরতা বা শক্তি প্রদর্শন করে। [অর্থাৎ] তারা তাদের ওপর জয়লাভ করে এবং তাদের প্রতিহত করে। আর বলা হয়: কেউ কাউকে প্রবলভাবে পরাভূত করেছে—যখন সে তার ওপর জয়লাভ করে। ‘আমি হাওয়ারীদের প্রতি প্রত্যাদেশ করেছি’: অর্থাৎ আমি তাদের অন্তরে তা ঢেলে দিয়েছি। আর ‘আপনার প্রতিপালক মৌমাছিকে প্রত্যাদেশ করেছেন’: অর্থাৎ তাকে ইলহাম বা সহজাত প্রেরণা দিয়েছেন। আর প্রত্যাদেশ করা: সরাসরি কথা বলা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ‘অতঃপর তিনি তাঁর দাসের প্রতি যা প্রত্যাদেশ করার তা প্রত্যাদেশ করলেন।’ ‘আমি তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ প্রজ্জ্বলিত করেছি’: অর্থাৎ আমি তা উসকে দিয়েছি। আর বলা হয়: ‘আমরা লেপে দিয়েছি’ অর্থ: আমি তাদের সাথে তা সেঁটে দিয়েছি এবং এটি ‘আঠা’ শব্দ থেকে গৃহীত। তিনি বলেন: শত্রুতা হলো অন্তর ও সংকল্পের পারস্পরিক দূরত্ব। আর বিদ্বেষ হলো ঘৃণা। ‘আল-আওলাইয়ান’: [এদের একজন] ‘আল-আওলা’, এর বহুবচন হলো ‘আল-আওলাউন’, আর স্ত্রীলিঙ্গ হলো ‘আল-উলিয়া’ এবং এর বহুবচন হলো ‘আল-উলিইয়াত’ ও ‘আল-উলা’।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
أنباء: أَخْبَار، وَاحِدهَا نبأ. أكنة: أغطية، وَاحِدهَا كنان. أساطير الْأَوَّلين: أباطيل وترهات وَاحِدهَا أسطورة وإسطارة. وَيُقَال: أساطير الْأَوَّلين: مَا سطره الْأَولونَ من الْكتب. أوزارهم على ظُهُورهمْ: أَي أثقالهم وآثامهم. وَقَوله جلّ وَعز: {حملنَا أوزارا من زِينَة الْقَوْم} أَي أثقالا من حليهم. وَقَوله جلّ وَعز: / {حَتَّى تضع الْحَرْب أَوزَارهَا} أَي حَتَّى يضع أهل الْحَرْب السِّلَاح، أَي حَتَّى لَا يبْقى إِلَّا مُسلم أَو مسالم. وأصل الْوزر مَا
সংবাদসমূহ: সংবাদসমূহ (أخبار), যার একবচন হলো ‘নাবা’। আবরণসমূহ: ঢাকনা বা আবরণসমূহ, যার একবচন হলো ‘কিনান’। পূর্ববর্তীদের উপকথা: অলীক ও অসার ভিত্তিহীন কথা, যার একবচন হলো ‘উসতুরাহ’ ও ‘ইস্তারা’। আরও বলা হয়: পূর্ববর্তীদের উপকথা হলো তা-ই, যা পূর্ববর্তীরা কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করে গেছেন। তাদের পিঠের ওপর তাদের বোঝা: অর্থাৎ তাদের ভার ও পাপসমূহ। মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদের কওমের অলংকারের বোঝা বহন করতে দেওয়া হয়েছিল}, অর্থাৎ তাদের অলংকারের ভারসমূহ। এবং মহান আল্লাহর বাণী: / {যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা নামিয়ে রাখে}, অর্থাৎ যতক্ষণ না যুদ্ধরত পক্ষসমূহ তাদের অস্ত্রসমূহ ত্যাগ করে; এর অর্থ হলো যতক্ষণ না কেবল মুসলিম অথবা সন্ধি স্থাপনকারী ব্যতীত আর কেউ অবশিষ্ট থাকে। আর ‘উযর’ শব্দের মূল ভিত্তি হলো যা...
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
حمله الْإِنْسَان، فَسُمي السِّلَاح أوزارا؛ لِأَنَّهُ يحمل. وَقَوله: {وَلَا تزر وَازِرَة وزر أُخْرَى} أَي لَا تحمل حاملة ثقل أُخْرَى؛ أَي لَا تُؤْخَذ نفس بذنب غَيرهَا. وَلم يسمع لأوزار الْحَرْب بِوَاحِد، إِلَّا أَنه على هَذَا التَّأْوِيل وزر. وَقد فسر الْأَعْشَى أوزار الْحَرْب بقوله:
(وأَعْدَدْتُ للحربِ أَوزارَها
… رماحاً طوَالًا، وخيلاً ذُكُورا)
(ومِنْ نَسْجِ داودَ تُحْدَى بهَا
… على أَثرِ الحرْبِ عِيراً فعِيرا)
أَي تحدى بهَا الْإِبِل. أفل: غَابَ. أنشأكم: ابتدأكم وخلقكم. أكَابِر: عُظَمَاء. [وَالْوَاحد أكبر] . الْأَعْرَاف: سور بَين الْجنَّة وَالنَّار، سمي بذلك لارتفاعه. وكل
মানুষ তা বহন করে, বিধায় যুদ্ধাস্ত্রকে ‘আওযার’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে; কারণ তা বহন করা হয়। আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর কোনো ভারবাহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না} অর্থাৎ কোনো বহনকারী অন্য কারো ভার বহন করবে না; এর অর্থ হলো, একজনের পাপের জন্য অন্য কোনো ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হবে না। যুদ্ধের ‘আওযার’-এর ক্ষেত্রে কোনো একবচন শব্দ ব্যবহারের কথা শোনা যায়নি, তবে এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী এর একবচন হলো ‘বিযর’। কবি আল-আশা যুদ্ধের ‘আওযার’-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন:
(আমি যুদ্ধের জন্য তার সরঞ্জামসমূহ প্রস্তুত করেছি
… দীর্ঘ বর্শাসমূহ এবং তেজি পুরুষ ঘোড়াগুলো)
(এবং দাউদ আ.-এর বুনন করা বর্মসমূহ, যা যুদ্ধের শেষে
… কাফেলার পর কাফেলা হাঁকিয়ে নেওয়া হয়)
অর্থাৎ এর মাধ্যমে উটগুলোকে হাঁকিয়ে নেওয়া হয়। আফালা: অদৃশ্য হওয়া বা অস্তমিত হওয়া। আনশাআকুম: তোমাদের সূচনা করেছেন ও সৃষ্টি করেছেন। আকাবির: মহান ব্যক্তিবর্গ। [এর একবচন হলো আকবার]। আল-আ'রাফ: জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী একটি প্রাচীর, উচ্চতার কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে। আর প্রতিটি
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
مُرْتَفع من الأَرْض أعراف وَاحِدهَا عرف. وَمِنْه عرف الديك سمي عرفا لارتفاعه. وَيسْتَعْمل فِي الشّرف وَالْمجد وَأَصله فِي الْبناء. أقلت سحابا ثقالا: يَعْنِي الرّيح حملت سحابا ثقالا بِالْمَاءِ. يُقَال: أقل فلَان الشَّيْء واستقل بِهِ إِذا أطاقه وَحمله. وَفُلَان لَا يسْتَقلّ بِحمْلِهِ [أَي لَا يُطيق] وَإِنَّمَا سميت الكيزان قلالا لِأَنَّهَا تقل بِالْأَيْدِي أَي تحمل فيشرب مِنْهَا. آلَاء الله: نعمه وَاحِدهَا إِلَى وألى وإلي. فَكيف آسى: أَحْزَن. أرجئه: أَخّرهُ، أَي احبسه وَأخر أمره. [آسفونا: أغضبونا. وَالْمعْنَى: آسفوا أولياءنا. كَقَوْلِه: {يُؤْذونَ الله وَرَسُوله} أَي يُؤْذونَ أَوْلِيَاء الله وَرُسُله] . آسفا: شَدِيد الْغَضَب [وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {غَضْبَان
ভূমির উঁচু অংশকে আরাফ বলা হয়, যার একবচন হলো উরুফ। উচ্চতার কারণেই মোরগের ঝুঁটিকে উরুফ বলা হয়। এটি মর্যাদা ও মহিমার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, তবে এর মূল ব্যুৎপত্তি কোনো কিছুর উচ্চতা বা নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট। ‘তিনি ভারী মেঘ বহন করলেন’: অর্থাৎ বাতাস পানিভর্তি ভারী মেঘমালা বহন করে নিয়ে এল। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি বস্তুটি বহন করল বা তা নিয়ে উঠে দাঁড়াল, যখন সে তা বহন করার সামর্থ্য রাখে এবং তা বহন করে। আর অমুক ব্যক্তি তা বহনে সক্ষম নয় [অর্থাৎ তার সামর্থ্য নেই]। মূলত পানপাত্রগুলোকে ‘কিলাল’ বলা হয় কারণ এগুলো হাত দিয়ে বহন করা বা উঠানো হয় এবং তা থেকে পান করা হয়। আল্লাহর নেয়ামতসমূহ: এর অর্থ তাঁর অনুগ্রহরাজি, যার একবচন হলো ইলা, আলান অথবা ইলিন। ‘আমি কীভাবে দুঃখিত হব’: অর্থাৎ আমি ব্যথিত হই। ‘তাকে অবকাশ দাও’: অর্থাৎ তাকে বিলম্বিত করো; তথা তাকে আটকে রাখো এবং তার বিষয়টি পিছিয়ে দাও। [তারা আমাদের ক্রোধান্বিত করেছে: অর্থাৎ তারা আমাদের রাগান্বিত করেছে। এর মর্মার্থ হলো: তারা আমাদের প্রিয়ভাজনদের রাগান্বিত করেছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়} অর্থাৎ তারা আল্লাহর ওলী ও তাঁর রাসূলগণকে কষ্ট দেয়]। অত্যন্ত রাগান্বিত: অর্থাৎ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ [এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {ক্রোধান্বিত... ]।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬০)
أسفا} ] . والأسف والأسيف الحزين. أخلد إِلَى الأَرْض: اطْمَأَن إِلَيْهَا ولزمها وتقاعس. وَيُقَال فلَان مخلد أَي بطيء الشيب كَأَنَّهُ تقاعس عَن أَن يشيب، وتقاعس شعره عَن الْبيَاض فِي الْوَقْت الَّذِي شَاب فِيهِ نظراؤه. [أَيَّانَ: مَعْنَاهَا أَي حِين؟ ، وَهُوَ سُؤال / عَن زمَان، مثل مَتى. وإيان بِكَسْر الْهمزَة لُغَة سليم، حَكَاهَا الْفراء، وَبِه قَرَأَ السّلمِيّ {إيان يبعثون} ] . أَيَّانَ مرْسَاها: [أَي] مَتى مثبتها. من: أرساها الله، أَي أثبتها. أَي مَتى الْوَقْت الَّذِي تقوم عِنْده. وَلَيْسَ هَذَا من الْقيام على
...আক্ষেপ (أسفا)} ]। ‘আসাফ’ (الأسف) এবং ‘আসীফ’ (الأسيف) অর্থ হলো দুঃখাতুর। ‘আখলাদা ইলাল আরদ’ (أخلد إلى الأرض): এর প্রতি প্রশান্তি লাভ করা, একে আঁকড়ে ধরা এবং স্থবির হয়ে পড়া। বলা হয়, অমুক ব্যক্তি ‘মুখলাদ’ (مخلد) অর্থাৎ যার বার্ধক্য অত্যন্ত বিলম্বে আসে; যেন সে বৃদ্ধ হতে অনীহা প্রকাশ করেছে এবং তার সমসাময়িকদের চুল যখন পেকেছে তখন তার চুল সাদা হতে পিছুটান দিয়েছে। [আইয়্যানা (أيان): এর অর্থ হলো—কোন সময়? এটি সময় সম্পর্কে একটি প্রশ্ন (سؤال عن زمان), যেমন ‘মাতা’ (متى)। আর হামজায় কাসরা (জের) দিয়ে ‘ইয়ান’ (إيان) হলো সালীম গোত্রের ভাষা, যা আল-ফাররা বর্ণনা করেছেন এবং আল-সুলামী এভাবে পাঠ করেছেন: {ইয়ান ইয়ুবআছুন (إيان يبعثون)}]। ‘আইয়্যানা মুরসাহা’ (أيان مرساها): [অর্থাৎ] কখন এটি স্থির হবে। এটি ‘আরসাহাল্লাহ’ (أرساها الله) থেকে আগত, যার অর্থ—আল্লাহ একে সুদৃঢ় করেছেন। অর্থাৎ, এটি সংঘটিত হওয়ার সময়টি কখন। আর এটি ‘আল-কিয়াম আলা’ (القيام على) থেকে নয়...
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬১)
الرجل [إِنَّمَا هُوَ من الْقيام على الْحق من قَوْلك] : قَامَ الْحق، أَي ظهر وَثَبت. أنفال: غَنَائِم. وَاحِدهَا نفل. وَالنَّفْل الزِّيَادَة، والأنفال مِمَّا زَاد عز وجل هَذِه الْأمة فِي الْحَلَال، لِأَنَّهُ كَانَ محرما على من كَانَ قبلهم وَبِهَذَا سميت النَّافِلَة من الصَّلَاة لِأَنَّهَا زِيَادَة على الْفَرْض. وَيُقَال لولد الْوَلَد النَّافِلَة لِأَنَّهُ زِيَادَة على الْوَلَد. وَقيل فِي قَوْله عز وجل: {وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاق وَيَعْقُوب نَافِلَة} . أَنه دَعَا بإسحق فاستجيب لَهُ وَزيد يَعْقُوب كَأَنَّهُ تفضل] من الله عز وجل، وَإِن كَانَ كل بتفضله. أَمَنَة: مصدر أمنت أَمَنَة وأمانا وَأمنا. كُلهنَّ سَوَاء. أمطرنا عَلَيْهِم: يُقَال لكل شَيْء من الْعَذَاب أمْطرت بِالْألف وللرحمة مطرَت.
মানুষটি [এটি মূলত তোমার কথা 'সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে' থেকে সত্যের ওপর অটল থাকার অংশ] : সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, অর্থাৎ তা প্রকাশিত ও সুদৃঢ় (ثبت) হয়েছে। আনফাল: যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (غنائম)। এর একবচন হলো নাফল (نفل)। আর নাফল অর্থ হলো অতিরিক্ত (زيادة)। আর আনফাল হলো সেই সব বিষয় যা মহান আল্লাহ এই উম্মতের জন্য হালাল হিসেবে বৃদ্ধি করেছেন, কারণ তা তাদের পূর্ববর্তীদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। আর এ কারণেই নামাজের অতিরিক্ত অংশকে নফল (نافلة) বলা হয়, কেননা তা আবশ্যিক (فرض) বিধানের অতিরিক্ত। সন্তানের সন্তানকেও নফল (نافلة) বলা হয় কারণ সে সন্তানের অতিরিক্ত। মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও অতিরিক্ত (نافلة) হিসেবে ইয়াকুব} সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি ইসহাকের জন্য দোয়া করেছিলেন এবং তাঁর দোয়া কবুল করা হয়েছিল এবং ইয়াকুবকে অতিরিক্ত হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল, যেন এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ (تفضل)] ; যদিও সবকিছুই তাঁর অনুগ্রহে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আমানাহ (أمنة): এটি 'আমানতু' শব্দের ক্রিয়ামূল (مصدر); নিরাপত্তা (أمنة), শান্তি (أমানা) এবং অভয় (أمنا)—এগুলো সবই অভিন্ন। 'আমি তাদের ওপর বর্ষণ করেছি' (أمطرنا عليهم): শাস্তি (عذاب) সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে আলিফ যোগে 'আমতারাত' (أمطرت) বলা হয় এবং রহমত (رحمة) বা করুণার ক্ষেত্রে 'মাতারাত' (مطرت) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬২)
أَذَان من الله: إِعْلَام من الله. وَالْأَذَان والإيذان والتأذين الْإِعْلَام. وَأَصله من الْأذن. يُقَال آذنتك بِالْأَمر يُرِيد أوقعته فِي أُذُنك. أَقَامُوا الصَّلَاة: أداموها فِي مواقيتها. وَيُقَال: إِقَامَتهَا أَن يُؤْتى بهَا بحقوقها كَمَا فرض الله. يُقَال: قَامَ بِالْأَمر، وَأقَام الْأَمر إِذا جَاءَ بِهِ معطى حُقُوقه. آتوا الزَّكَاة: أعطوها. يُقَال: آتيته: أَي أَعْطيته. وأتيته جِئْته. أَواه: [حَلِيم أَي] دُعَاء. وَيُقَال: كثير التأوه، أَي التوجع شفقاً وفرقا. والتأوه أَن يَقُول أوه. وأوه فِيهِ خمس لُغَات: [أوه، وآه، وأوه، وأه، وأوه] وَيُقَال: هُوَ يتأوه ويتأوى. أسلفت: قدمت / [وَقَوله تَعَالَى: {هُنَالك تبلو كل نفس مَا أسلفت} تبلو: أَي تذوق وبال مَا قدمت وعملت] .
আল্লাহর পক্ষ থেকে আজান (أذان): আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা (إعلام)। আজান (أذান), ঈযান (إيذان) এবং তা'যীন (تأذين) হলো ঘোষণা প্রদান (إعلام)। এর মূল শব্দ কান (أذن) থেকে উদ্ভূত। বলা হয়, 'আমি তোমাকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছি (آذنتك)', এর অর্থ হলো আমি বিষয়টি তোমার কর্ণগোচর করেছি। তারা সালাত কায়েম করেছে (أقاموا الصلاة): তারা এর নির্ধারিত সময়ে তা নিয়মিত আদায় করেছে। বলা হয়: সালাত কায়েম করা (إقامتها) হলো আল্লাহর বিধান অনুযায়ী এর যথাযথ হকসমূহ আদায়ের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা। বলা হয়: 'সে দায়িত্ব পালন করেছে (قام بالأمر)' এবং 'সে বিষয়টিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে (أقام الأمر)' যখন সে তার প্রাপ্য হকসমূহ প্রদানের মাধ্যমে তা সম্পাদন করে। তারা জাকাত প্রদান করেছে (آتوا الزكاة): তারা তা দান করেছে। বলা হয়: 'আমি তাকে দিয়েছি (آتيته)': অর্থাৎ আমি তাকে দান করেছি (أعطيته)। আর 'আমি তার নিকট এসেছি (أتيتُه)'। আওয়াহ (أواه): [সহনশীল (حليم) অর্থাৎ] দোয়া বা প্রার্থনা (دعاء)। বলা হয়: অধিক বিলাপকারী (كثير التأوه), অর্থাৎ মমতা ও ভীতি থেকে ব্যথিত হওয়া (التوجع)। আর বিলাপ করা (التأوه) হলো 'আহ' (أوه) শব্দ উচ্চারণ করা। 'আহ' (أوه) শব্দটির ক্ষেত্রে পাঁচটি ভাষারীতি (لغات) রয়েছে: [আওহু (أوه), আহ্ (آه), আউওয়াহু (أوه), আহ্হা (أه), এবং উউহু (أوه)]। বলা হয়: সে বিলাপ করছে (يتأوه) এবং আর্তনাদ করছে (يتأوى)। তুমি অতীতে যা করেছ (أسلفت): তুমি যা অগ্রিম পাঠিয়েছ (قدمت)। / [আল্লাহ তাআলার বাণী: {সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি পরীক্ষা করবে (تبلو) যা সে আগে পাঠিয়েছে (أسلفت)}। পরীক্ষা করা (تبلو) অর্থ: সে তার কৃতকর্ম ও অগ্রিম যা পেশ করেছে তার পরিণাম আস্বাদন করবে।]
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
الْآن: أَي فِي هَذَا الْوَقْت. والآن هُوَ الْوَقْت الَّذِي أَنْت فِيهِ. أخبتوا إِلَى رَبهم: أَي تواضعوا وخشعوا لرَبهم. وَيُقَال: أخبتوا إِلَى رَبهم: أطمأنوا وسكنت قُلُوبهم ونفوسهم إِلَيْهِ. والخبت مَا اطْمَأَن من الأَرْض. أراذلنا: الناقصو الْقدر فِينَا. أوجس فِي نَفسه خيفة: أحس وأضمر فِي نَفسه خوفًا. أسر بأهلك: سر بهم لَيْلًا. وَيُقَال: سرى وَأسرى لُغَتَانِ. آوي إِلَى ركن شَدِيد: أنضم إِلَى عشيرة منيعة. وَقَوله: {فَتَوَلّى بركنه} أَي بجانبه، أَي أعرض. أدلى دلوه: أرسلها ليملأها، ودلاها: أخرجهَا.
এখন (الآن): অর্থাৎ এই সময়ে। আর 'এখন' হলো সেই সময় যাতে আপনি বর্তমানে অবস্থান করছেন। তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনীত হয়েছে (أخبتوا): অর্থাৎ তারা তাদের রবের সমীপে বিনম্র ও ভয়ার্ত হয়েছে। আরও বলা হয়: তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনীত হয়েছে (أخبتوا) অর্থাৎ তারা প্রশান্ত হয়েছে এবং তাদের অন্তর ও আত্মা তাঁর প্রতি স্থির হয়েছে। আর নিচু সমতল ভূমি (الخبت) হলো জমিনের ওই অংশ যা নিচু ও সমতল। আমাদের মধ্যকার হীন ব্যক্তিরা (أراذلنا): অর্থাৎ আমাদের মধ্যে যাদের মর্যাদা কম। সে তার মনে কিছুটা ভীতি অনুভব করল (أوجس في نفسه خيفة): সে নিজের মধ্যে ভয় অনুভব করল এবং তা মনে গোপন রাখল। তোমার পরিবার নিয়ে রাতের বেলা বেরিয়ে পড়ো (أسر بأهلك): তাদের নিয়ে রাতে সফর করো। বলা হয়ে থাকে যে, 'সারা' (سرى) এবং 'আসরা' (أسرى) একই অর্থের দুটি ভাষাগত রূপ (لغتان)। আমি যদি কোনো শক্তিশালী আশ্রয়ে আশ্রয় নিতে পারতাম (آوي إلى ركن شديد): অর্থাৎ আমি যদি কোনো প্রভাবশালী ও শক্তিশালী গোত্রের সাথে মিলিত হতে পারতাম। আর মহান আল্লাহর বাণী: 'সে তার শক্তিমত্তার দাপটে বিমুখ হলো' (فتولى بركنه): অর্থাৎ সে পার্শ্ব পরিবর্তন করল তথা বিমুখ হলো। সে তার বালতি নিচে নিক্ষেপ করল (أدلى دلوه): সে তা পানি পূর্ণ করার জন্য নিচে প্রেরণ করল, আর 'সে তা টেনে বের করল' (دلاها): অর্থাৎ সে তা বের করে আনল।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
أشده: مُنْتَهى شبابه وقوته، وَاحِدهَا شدّ مثل فلس وأفلس، وَشد كَقَوْلِهِم: فلَان ود، وَالْقَوْم أودي. وَشدَّة مثل نعْمَة وأنعم. وَيُقَال: الأشد اسْم وَاحِد لَا جمع لَهُ بِمَنْزِلَة الآنك وَهُوَ الرصاص والأسرب. وَذكر عَن مُجَاهِد فِي قَوْله تَعَالَى: {وَلما بلغ أشده} قَالَ: ثَلَاثِينَ و {اسْتَوَى} . قَالَ: أَرْبَعِينَ سنة [وَأَشد الْيَتِيم. قَالُوا: ثَمَان عشرَة سنة] . أكبرنه: أعظمنه [وَيجوز: أكبرنه أَي وجدنه كَبِيرا. كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَا تُطِع من أعفلنا قلبه عَن ذكرنَا} أَي وَجَدْنَاهُ غافلا. وَيُقَال فِي التَّفْسِير: حضن لما رأينه] .
আশুদ্দাহু: এর অর্থ হলো তার যৌবন ও শক্তির পূর্ণতা। এর একবচন হলো ‘শুদ্দ’, যেমন ‘ফালস’ ও ‘আফলুস’; এবং ‘শাদ্দ’, যেমন তাদের কথা: ‘অমুক ব্যক্তি প্রেমময়’, এবং ‘সম্প্রদায়টি ধ্বংসপ্রাপ্ত’। আবার ‘শিদ্দাহ’, যেমন ‘নি’মাহ’ ও ‘আন’উম’। আরও বলা হয়: ‘আল-আশুদ্দ’ একটি একক বিশেষ্য যার কোনো বহুবচন নেই, এটি ‘আল-আনুক’-এর সমপর্যায়ী, যা হলো সীসা ও দস্তা। মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন সে তার পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হলো} প্রসঙ্গে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ত্রিশ বছর। এবং {পরিপূর্ণ বিকশিত হলো} সম্পর্কে তিনি বলেছেন: চল্লিশ বছর। [আর ইয়াতীমের পূর্ণ শক্তি প্রসঙ্গে তারা বলেছেন: আঠারো বছর]। ‘আকবারনাহু’: অর্থাৎ তারা তাকে অত্যন্ত মহান জ্ঞান করল। [এটিও জায়েয যে, ‘আকবারনাহু’ অর্থ তারা তাকে মহান হিসেবে পেল। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তার আনুগত্য করো না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি} অর্থাৎ আমি তাকে গাফেল হিসেবে পেয়েছি। তাফসিরের ক্ষেত্রে বলা হয়: তারা যখন তাকে দেখল তখন তারা ঋতুবতী হয়ে পড়ল]।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
أصب إلَيْهِنَّ: أمل إلَيْهِنَّ. يُقَال: أصباني فصبوت، أَي حَملَنِي على الْجَهْل وَمَا يفعل الصَّبِي فَفعلت. أضغاث أَحْلَام: [أخلاط أَحْلَام] مثل أضغاث الْحَشِيش يجمعها الْإِنْسَان فَتكون فِيهَا ضروب مُخْتَلفَة. وَاحِدهَا ضغث، وَهُوَ ملْء كف مِنْهُ. أعصر خمرًا: أستخرج الْخمر؛ [لِأَنَّهُ إِذا عصر الْعِنَب فَإِنَّمَا يستخرح مِنْهُ الْخمر] . وَيُقَال: الْخمر [هُوَ] الْعِنَب بِعَيْنِه. حكى الْأَصْمَعِي عَن مُعْتَمر بن سُلَيْمَان [أَنه] / قَالَ لقِيت أَعْرَابِيًا وَمَعَهُ عِنَب فَقلت [لَهُ] مَا مَعَك؟ . فَقَالَ: خمر. آوى إِلَيْهِ: ضم إِلَيْهِ. وَأَوَى إِلَيْهِ: انْضَمَّ إِلَيْهِ.
তাদের প্রতি আসক্ত হওয়া: তাদের প্রতি আগ্রহী হওয়া। বলা হয়ে থাকে: ‘সে আমাকে মোহাচ্ছন্ন করেছে ফলে আমি মোহাচ্ছন্ন হয়েছি’, অর্থাৎ সে আমাকে অজ্ঞতা এবং শিশুরা যা করে সেই কার্যের প্রতি চালিত করেছে এবং আমিও তা-ই করেছি। এলোমেলো স্বপ্ন: [মিশ্রিত স্বপ্ন] যেমন ঘাসের আঁটি যা মানুষ একত্রিত করে এবং তাতে বিভিন্ন প্রকারের ঘাস থাকে। এর একবচন হলো ‘দিগছ’, যা মূলত এক মুষ্টি পরিমাণ। আমি মদ নিঙড়াচ্ছি: আমি মদ নিষ্কাশন করছি; [কেননা যখন আঙুর নিঙড়ানো হয়, তখন তা থেকে মদই নিষ্কাশিত হয়]। বলা হয়ে থাকে: মদ [হলো] স্বয়ং আঙুর। আসমায়ি মুতামির ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন [যে তিনি] / বলেছেন: আমি এক বেদুইনের সাথে সাক্ষাৎ করলাম যার সাথে আঙুর ছিল। আমি [তাকে] জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার সাথে ওটা কী?’ সে উত্তর দিল, ‘মদ’। তাকে আশ্রয় দেওয়া: তাকে নিজের সাথে মিলিয়ে নেওয়া। আর তার কাছে আশ্রয় নেওয়া: তার সাথে মিলিত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
آثرك [الله] علينا: فضلك الله علينا. وَيُقَال: لَهُ عَليّ أَثَره، أَي فضل. أناب: تَابَ. والإنابة الرُّجُوع عَن مُنكر. أشق: أَشد. أصنام: جمع صنم. والصنم مَا كَانَ مصورا من حجر أَو صفر أَو نَحْو ذَلِك. والوثن مَا كَانَ من غير صَخْرَة. أصفاد: أغلال وأحدها صفد أسقيناكموه يُقَال لما كَانَ من يدك إِلَى فِيهِ سقيته. فَإِذا جعلت لَهُ شربا، أَو عرضته لِأَن يشرب بِفِيهِ [أَو يسْقِي زرعه] قلت: أسقيته. وَيُقَال: سقى وأسقى بِمَعْنى وَاحِد. وَقَالَ لبيد:
আল্লাহ আপনাকে [আল্লাহ] আমাদের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন: অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকে আমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। এবং বলা হয়: ‘তার আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে’, অর্থাৎ অনুগ্রহ। আনাবা: তিনি তওবা করেছেন। আর ইনাবাহ হলো কোনো অস্বীকৃত (منكر) বিষয় থেকে ফিরে আসা। আশাক্কু: অধিকতর কঠোর। আসনাম: এটি সানাম-এর বহুবচন। আর সানাম হলো যা পাথর, তামা বা অনুরূপ বস্তু দ্বারা নির্মিত প্রতিকৃতি। আর ওয়াসান হলো যা পাথর ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে তৈরি। আসফাদ: বেড়ি বা শৃঙ্খল এবং এর একবচন হলো সাফাদ। আসকাইনাকুমুহু: এটি তখন বলা হয় যখন পানীয় আপনার হাত থেকে সরাসরি কারো মুখে যায় তখন তাকে ‘সাকাইতুহু’ বলা হয়। আর যখন আপনি কারো পানের ব্যবস্থা করেন অথবা তার সামনে পান করার জন্য পেশ করেন [অথবা তার ফসলে পানি সেচ দেন], তখন বলা হয়: ‘আসকাইতুহু’। এবং বলা হয়: সাকা এবং আসকা একই অর্থবোধক। এবং লাবিদ বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
(سَقَى قَوْمي بني مَجْدٍ، وَأَسْقى
… نُمَيْراً، والقبائِلَ منْ هِلالِ)
أرذل الْعُمر: الْهَرم الَّذِي ينقص قوته وعقله [ويصيره] إِلَى الخرف وَنَحْوه. أثاث: مَتَاع الْبَيْت. وَاحِدهَا أثاثه. أكنان: جمع كن، وَهُوَ مَا ستر [وَوقى] من الْحر وَالْبرد. أنكاث: جمع نكث وَهُوَ مَا نقض من غزل الشّعْر وَغَيره. أَن تكون أمة هِيَ أربى من أمة: أَي أَزِيد عددا. وَمن هَذَا سمي الرِّبَا [لِأَنَّهُ زِيَادَة على المَال] . أمرنَا وآمرنا: بِمَعْنى وَاحِد. أَي كَثرْنَا. وأمرنا: جعلناهم أُمَرَاء.
(আমার সম্প্রদায় বনী মাজদকে তিনি সিক্ত করেছেন, এবং সিক্ত করেছেন
… নুমায়রকে ও হিলাল গোত্রসমূহকে)
নিকৃষ্টতম বয়স (أرذل العمر): এমন বার্ধক্য যা মানুষের শক্তি ও বুদ্ধিকে হ্রাস করে এবং [তাকে] ভীমরতি বা বার্ধক্যজনিত জড়তা ও অনুরূপ অবস্থার দিকে নিয়ে যায়। আসবাবপত্র (أثاث): ঘরের সরঞ্জাম বা সামগ্রী; এর একবচন হলো ‘আসাশাহ’। আশ্রয়স্থলসমূহ (أكنان): এটি ‘কিন’ শব্দের বহুবচন, আর তা হলো এমন বস্তু যা উত্তাপ ও শৈত্য থেকে আবৃত [ও রক্ষা] করে। ছিন্ন তন্তু (أنكاث): এটি ‘নিকস’ শব্দের বহুবচন, আর তা হলো পশম বা অন্য কিছুর পাকানো সুতা যা ছিঁড়ে বা খুলে ফেলা হয়েছে। এক জাতি অন্য জাতির তুলনায় অধিক সংখ্যাধিক্য (أربى) হওয়া: অর্থাৎ সংখ্যায় বেশি হওয়া। আর এখান থেকেই ‘রিবা’ বা সুদ নামকরণ করা হয়েছে [কেননা এটি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত বৃদ্ধি]। আমরা সংখ্যা বৃদ্ধি করেছি (أمرنا) এবং আমরা সংখ্যায় বাড়িয়েছি (آمرنا): উভয়টি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ আমরা সংখ্যায় বৃদ্ধি করেছি। আর ‘আমরা তাদের শাসক বানিয়েছি’ (أمرنا): অর্থাৎ আমরা তাদেরকে আমির বা শাসক নিযুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَيُقَال: أمرناهم، من الْأَمر أَي أمرناهم بِالطَّاعَةِ إعذارا وإنذارا وتخويفا ووعيدا، {ففسقوا} أَي فَخَرجُوا عَن أمرنَا عاصين لنا، {فَحق عَلَيْهَا القَوْل} : فَوَجَبَ عَلَيْهَا الْوَعيد. أوابين: توابين. أجلب عَلَيْهِم: أجمع عَلَيْهِم. أسفا: غَضبا. وَيُقَال: حزنا. أبْصر بِهِ وأسمع: مَا أبصره وأسمعه. أعثرنا عَلَيْهِم: أطْلعنَا عَلَيْهِم. أساور: جمع أسورة. وأسورة جمع سوار، وسوار وَهُوَ الَّذِي يلبس فِي الذِّرَاع من ذهب فَإِن كَانَ من فضَّة فَهُوَ قلب وَجمعه قلبه، وَإِن كَانَ من قرن أَو عاج فَهُوَ مسكة وَجَمعهَا / مسك. أرائك: أسرة فِي الحجال، وَاحِدهَا أريكة. [أجاءها] الْمَخَاض: جَاءَ بهَا، وَيُقَال: ألجأها.
এবং বলা হয়: ‘আমরা তাদের নির্দেশ দিয়েছি’, যা ‘আদেশ’ শব্দ থেকে উদ্ভূত; অর্থাৎ আমরা ওজর পেশ করা, সতর্ক করা, ভীতি প্রদর্শন এবং শাস্তির হুমকির মাধ্যমে তাদের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছি। {অতঃপর তারা পাপাচার করেছে (فسقوا)}, অর্থাৎ তারা আমাদের অবাধ্য হয়ে আমাদের নির্দেশের সীমা লঙ্ঘন করেছে। {অতঃপর তার ওপর কথা অবধারিত হলো}: অর্থাৎ তার ওপর শাস্তির প্রতিশ্রুতি কার্যকর হওয়া আবশ্যক হয়ে গেল। ‘আওয়াবিন’ অর্থ তওবাকারীগণ। ‘আজলিব আলাইহিম’ অর্থ তাদের বিরুদ্ধে সমবেত করো। ‘আসাফা’ অর্থ ক্রোধ; আবার বলা হয়: দুঃখ। ‘আবসির বিহি ওয়া আসমি’ এর অর্থ হলো তিনি কতই না চমৎকার দেখেন ও শোনেন! ‘আ’থারনা আলাইহিম’ অর্থ আমরা তাদের সংবাদ গোচরীভূত করলাম। ‘আসাবির’ হলো ‘আসওয়িরাহ’ শব্দের বহুবচন, আর ‘আসওয়িরাহ’ হলো ‘সিওয়ার’ শব্দের বহুবচন। ‘সিওয়ার’ হলো সেই অলঙ্কার যা বাহুতে পরিধান করা হয় এবং তা স্বর্ণের তৈরি। যদি তা রুপার হয় তবে তাকে ‘কাল্ব’ বলা হয় এবং এর বহুবচন হলো ‘কিলাবাহ’। আর যদি তা শিং বা হাতির দাঁতের হয় তবে তাকে ‘মাসকাহ’ বলা হয় এবং এর বহুবচন হলো ‘মাসাক’। ‘আরাইক’ হলো পর্দাঘেরা পালঙ্কসমূহ, যার একবচন হলো ‘আরিকা’। [আজায়াহা] আল-মাখাদ: প্রসব বেদনা তাকে নিয়ে এল; আবার বলা হয়: তাকে বাধ্য করল।
(খণ্ড: ১)
গারীবুল কুরআন লিস সিজিস্তানি
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
أهش بهَا على غنمي: أضْرب بهَا الأغصان ليسقط الْوَرق على غنمي فتأكله. أزري: عوني وظهري. وَمِنْه [قَوْله تَعَالَى] : {فآزره} أَي أَعَانَهُ. آنَاء اللَّيْل: ساعاته. وَاحِدهَا أَنى وإنى وَإِنِّي. أمثلهم طَريقَة: أعدلهم قولا عِنْد نَفسه. أمتا: ارتفاعا وهبوطا. وَيُقَال نبكا [ونبكا جمع نبكة وَهُوَ الِارْتفَاع خَاصَّة] . آذنتكم على سَوَاء: أعلمتكم فاستوينا فِي الْعلم. قَالَ الْحَارِث [بن حلزة] :
(آذَنَتْنَا بِيَنِهَا أَسْمَاءُ
… رُبَّ ثاوٍ يُمَلُّ مِنْهُ الثَّوَاءُ)
আমি এটি দিয়ে আমার বকরির পালের জন্য ডালপালা ঝেড়ে দিই: আমি এটি দিয়ে গাছের ডালপালায় আঘাত করি যাতে পাতাগুলো আমার বকরির ওপর পড়ে এবং তারা তা ভক্ষণ করতে পারে। আমার শক্তি: আমার সহায়তা ও পৃষ্ঠবল। এ থেকেই [আল্লাহ তাআলার বাণী]: {অতঃপর তিনি তাকে শক্তিশালী করলেন} অর্থাৎ তিনি তাকে সাহায্য করলেন। রাতের প্রহরসমূহ: এর মুহূর্তগুলো। এর একবচন হলো আনা, ইনি এবং ইন্নি। তাদের মধ্যে উত্তম পথের অনুসারী: নিজের মতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি। উঁচু-নিচু: উচ্চতা ও নিম্নতা। একে নাবকাও বলা হয় [নাবকা হলো নাবাকাহ শব্দের বহুবচন যা বিশেষত উচ্চতা বোঝায়]। আমি তোমাদেরকে সমতার ভিত্তিতে জানিয়ে দিয়েছি: আমি তোমাদেরকে অবহিত করেছি ফলে আমরা জ্ঞানের ক্ষেত্রে সমান হয়েছি। হারিস [বিন হিল্লিজা] বলেছেন:
(আসমা আমাদের নিকট তার বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছে
… কতই না এমন অবস্থানকারী আছে যার দীর্ঘ অবস্থানে মানুষ বিরক্ত হয়ে যায়)