(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: -)
تحفة المودود بأحكام المولود - ط عطاءات العلم القسم: مسائل فقهية
الكتاب: تحفة المودود بأحكام المولود
[آثار الإمام ابن قيم الجوزية وما لحقها من أعمال (22)]
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن قيم الجوزية (691 - 751)
المحقق: عثمان بن جمعة ضميرية
راجعه: خلدون بن محمد الأحدب - محمد أجمل الإصلاحي - سليمان بن عبد الله العمير
الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)
الطبعة: الرابعة، 1440 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)
عدد الصفحات: 562
قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 6 شوّال 1442
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - আতাআতিল ইলম সংস্করণ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ (নবজাতকের বিধি-বিধান সম্পর্কিত উপহার)
[ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর রচনাবলি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসমূহ (২২)]
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (৬৯১ - ৭৫১)
সম্পাদক: উসমান বিন জুমুআহ দুমাইরিয়্যাহ
নিরীক্ষক: খালদুন বিন মুহাম্মদ আল-আহদাব - মুহাম্মদ আজমাল আল-ইসলাহি - সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর
প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দারু ইবনে হাযম (বৈরুত)
সংস্করণ: চতুর্থ, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দারু ইবনে হাযমের জন্য প্রথম সংস্করণ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬২
শামেলাতে উপস্থাপনা: «আতাআতিল ইলম» ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৬ শাওয়াল ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১)
آثار الإمام ابن قيم الجوزية وما لحقها من أعمال (22)
تحفة المودود بأحكام المولود
تأليف
الإمام أبي عبد الله محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن قيم الجوزية (691 - 751)
تحقيق
عثمان بن جمعة ضميرية
وفق المنهج المعتمد من الشيخ العلامة
بكر بن عبد الله أبو زيد
رحمه الله تعالى
دار عطاءات العلم - دار ابن حزم
ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর রচনাবলি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মসমূহ (২২)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ
রচনায়
ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব ইবনুল কাইয়িম আল-জাওজিয়াহ (৬৯১ - ৭৫১)
সম্পাদনা ও গবেষণা
উসমান বিন জুমুআহ দুমাইরিয়্যাহ
বিশিষ্ট পণ্ডিত শাইখ কর্তৃক অনুমোদিত মানদণ্ড অনুযায়ী
বকর বিন আবদুল্লাহ আবু যায়েদ
আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
দার আতাআতিল ইলম - দার ইবনে হাজম
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২)
راجع هذا الجزء
خلدون بن محمد الأحدب
محمد أجمل الإصلاحي
سليمان بن عبد الله العمير
এই অংশটি পর্যালোচনা করেছেন
খালদুন ইবনে মুহাম্মদ আল-আহদাব
মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি
সুলাইমান ইবনে আবদুল্লাহ আল-উমাইর
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة التحقيقالحمد لله، وسلامٌ على عباده الذين اصطفى، وبعد:
(1)فقد اهتمَّ علماء الأمة الإسلامية بالتأليف والتصنيف في كل الفنون والعلوم الدينية والأدبية والتاريخية والتربوية والتطبيقية وغيرها، وكان علم الفقه من أول العلوم التي أولاها العلماء عنايتهم في كل العصور، وتنوَّعت مناهجهم وطرائقهم في ذلك؛ فهناك كتب شاملة لأبواب الفقه كلِّها، من العبادات و المعاملات والمناكحات والعقوبات وغيرها، وهناك كتب في علم أصول الفقه، وفي القواعد الفقهية والأشباه والنظائر، وفي علم الخلاف. وهذه كلُّها تتناول موضوعات و أبوابًا تتصف بالشمول للأحكام العملية في جوانب الحياة كلها.
ومن العلماء من أفرد بعض الأبواب والمسائل الفقهية بالتصنيف والتأليف ابتداءً، أو تلبية لحاجة طارئة، أو إجابة على سؤال أو استفتاء، فنشأت كتب الفتاوى والرسائل والكتب المفردة في باب معيّن من أبواب الفقه أوفي مسألة من مسائله، يتناولها المصنّف بالدراسة الواسعة، فيحدِّد موضوع بحثه، ويبيِّن منهجه، وسبب تأليفه أو كتابته، ويرسم خطَّته التي تنطوي ــ أحيانًا ــ على أبواب وفصول و مباحث أو
সম্পাদনা পরিচিতিসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর:
(১)ইসলামি উম্মাহর আলেমগণ দ্বীনি, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, শিক্ষামূলক, ব্যবহারিক এবং অন্যান্য সকল শিল্প ও বিজ্ঞানে গ্রন্থ রচনা ও শ্রেণিবিভাগে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন। ফিকহ শাস্ত্র ছিল প্রথম সারির জ্ঞানগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেগুলোতে আলেমগণ প্রতিটি যুগে তাঁদের যত্ন বিলিয়ে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁদের কর্মপদ্ধতি ও পন্থাসমূহ ছিল বৈচিত্র্যময়; ফলে সেখানে ইবাদত, মুয়ামালাত (লেনদেন), মুনাকাহাত (বিবাহ-শাদি), উকুবাত (দণ্ডবিধি) এবং অন্যান্য সকল ফিকহী অধ্যায় সম্বলিত ব্যাপক গ্রন্থাদি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে উসূলে ফিকহ (ফিকহের মূলনীতি), কাওয়ায়েদুল ফিকহিয়্যাহ (ফিকহী মূলনীতি), আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর এবং ইলমুল খিলাফ (মতের ভিন্নতা সংক্রান্ত শাস্ত্র) বিষয়ক কিতাবসমূহ। এসকল কিতাব জীবনের সকল ক্ষেত্রের আমলী আহকামের ব্যাপকতা সম্পন্ন বিষয়বস্তু ও অধ্যায়সমূহ নিয়ে আলোচনা করে।
আবার আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু অধ্যায় ও ফিকহী মাসআলাকে স্বতন্ত্রভাবে বিন্যাস ও রচনার জন্য বেছে নিয়েছেন—তা শুরু থেকেই হোক, কিংবা কোনো জরুরি প্রয়োজন মেটাতে অথবা কোনো প্রশ্ন বা ফতোয়ার জবাব দিতে। ফলে ফতোয়াগ্রন্থ, রিসালাহ এবং ফিকহের কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায় বা মাসআলার ওপর রচিত স্বতন্ত্র কিতাবসমূহের উদ্ভব হয়েছে। গ্রন্থকার সেখানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন, গবেষণার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেন, তাঁর কর্মপদ্ধতি এবং রচনার কারণ বর্ণনা করেন এবং তাঁর পরিকল্পনাটি ফুটিয়ে তোলেন যা কখনও কখনও বিভিন্ন অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ও অনুচ্ছেদ বা
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৬)
فروع و مسائل و تنبيهات. وقد تكون هذه الدراسة ضمن مذهب فقهي أو مدرسة فقهية معينة
(1).
وقد تتسع دائرة البحث في الدراسة للمسألة أو الموضوع، فيتناولها المؤلف في المذاهب الفقهية المشهورة وغيرها من مذاهب السلف ــ رحمهم الله جميعًا ــ. وأثناء ذلك يعرض أقوال العلماء ومذاهبهم والروايات المنقولة عنهم، ويستقصي الأدلَّة لكلِّ قول، ثم يناقش و يوازن ليرجِّح ما تطمئنُّ إليه نفسه، اتِّباعًا للدليل الصحيح والنص الصريح، وإعمالاً للقواعد والأصول في الاستنباط. وهذا مجال واسع للآراء والأقوال والترجيح للرأي النجيح.
ونجد أمثلة كثيرة على هذه الطريقة عند علمائنا في القديم والحديث، في شتى العلوم والفنون. ولا يغيب عن الذهن «مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيميَّة»، و «المعيار المُعْرِب» للونشريسي، و «الحاوي للفتاوى» للسيوطيِّ، و «فتاوى السُّبْكي»، و «رسائل ابن نُجَيم» الحنفيّ، و «مجموع رسائل الملَّا علي القاري الهَرَوِيّ»، و «الفتح
--------------------------------------------
শাখা-প্রশাখা, মাসআলা ও সতর্কবার্তা। এই গবেষণা কোনো নির্দিষ্ট ফিকহি মাযহাব বা ফিকহি ঘরানার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে
(১)।
আবার কোনো মাসআলা বা বিষয়ের ক্ষেত্রে গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে, ফলে লেখক তা প্রসিদ্ধ ফিকহি মাযহাবসমূহ এবং সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন) অন্যান্য মাযহাবের আলোকে আলোচনা করেন। সেই প্রক্রিয়ায় তিনি ওলামাদের মতামত, তাঁদের মাযহাব এবং তাঁদের থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো তুলে ধরেন এবং প্রতিটি মতের স্বপক্ষে দলিলাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেন। এরপর তিনি আলোচনা ও তুলনা করেন যাতে সেই মতটিকে প্রাধান্য দিতে পারেন যার ব্যাপারে তাঁর মন আশ্বস্ত হয়; এটি তিনি করেন সঠিক দলিল ও স্পষ্ট নসের অনুসরণে এবং ইস্তিনবাত (বিধান আহরণ)-এর মূলনীতি ও উসূল প্রয়োগের মাধ্যমে। এটি বিভিন্ন মতামত, উক্তি এবং সঠিক মতটি নির্বাচনের এক প্রশস্ত ক্ষেত্র।
আমাদের প্রাচীন ও বর্তমান ওলামাদের মাঝে বিভিন্ন ইলম ও শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির বহু উদাহরণ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-র ‘মাজমুউ ফাতাওয়া’, ওনশারিসীর ‘আল-মি’ইয়ারুল মুরিব’, সুয়ূতী-র ‘আল-হাউয়ী লিল-ফাতাওয়া’, সুবকী-র ‘ফাতাওয়া আস-সুবকী’, হানাফী আলেম ইবনে নুজাইম-এর ‘রাসায়িলু ইবনে নুজাইম’, মোল্লা আলী কারী আল-হারাবীর ‘মাজমুউ রাসায়িলিল মোল্লা আলী আল-কারী’ এবং ‘আল-ফাতহ...’ এর কথা সহজেই স্মরণে আসে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৭)
الرباني» للشوكاني، ومجموعة «رسائل أبي الحسنات اللَّكْنَوي»، و «فتاوى الشيخ محمد عليش»، و «فتاوى ورسائل الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ» و «فتاوى ورسائل الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز» وغيرها كثير.
فهذه الكتب والفتاوى والمجاميع لا تقتصر على الإجابة على السؤال باختصار حسب حاجة السائل أحيانًا، بل تتضمن مسائل أُفردت بالكتابة والبحث برسالة مستقلة.
وتلك الطريقة التي أشرت إليها، هي التي تسير عليها الجامعات العصرية والمعاهد العليا والكليَّات العلميَّة في مناهجها ودراساتها العليا، حيث تشترط لتخريج الطالب في مرحلة التخصص الأولى (الماجستير) وفي مرحلة العالمِيَّة العالية (الدكتوراه) أن يكتب أطروحة أو رسالة مبتكرة في موضوع تخصصه، لها شروطها ومواصفاتها.
(2)تأتي هذه الكلمات بين يدي كتاب «تحفة المودود بأحكام المولود» للإمام العلامة المتفنن، شمس الدين، محمَّد بن أبي بكر، ابن قيِّم الجوزيّة المتوفى سنة (751 هـ) رحمه الله تعالى. وهو نموذج لتلك الدراسة والأسلوب الذي أشرت إليه.
وهذا الكتاب سبق له أن طبع عدة طبعات في كثير من البلاد الإسلامية، وكان لانتشاره أثر كبير في الإفادة منه ــ على اختلاف منهج
শওকানী-র «আস-সাইলুল জাররার», «আবু হাসানাত আল-লাকনভীর পত্রাবলী», «শাইখ মুহাম্মদ আলিশের ফাতাওয়া», «শাইখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আলুশ-শাইখের ফাতাওয়া ও পত্রাবলী», এবং «শাইখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাজের ফাতাওয়া ও পত্রাবলী» ও এর বাইরে আরও অনেক।
এই বইসমূহ, ফাতাওয়া এবং সংকলনগুলো কখনও কখনও প্রশ্নকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী সংক্ষেপে উত্তর প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা স্বতন্ত্র গবেষণা ও আলোচনার মাধ্যমে পৃথক প্রবন্ধ হিসেবে রচিত হয়েছে।
আমি যে পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করেছি, আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়, উচ্চতর ইনস্টিটিউট এবং বিজ্ঞান অনুষদসমূহ তাদের পাঠ্যক্রম ও উচ্চতর গবেষণায় সেই পদ্ধতিই অনুসরণ করে থাকে; যেখানে বিশেষায়িত প্রথম স্তর (মাস্টার্স) এবং উচ্চতর বিশেষজ্ঞ স্তর (ডক্টরেট) থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষার্থীর ওপর তার বিশেষায়িত বিষয়ে একটি মৌলিক থিসিস বা গবেষণাপত্র লেখার শর্তারোপ করা হয়, যার নির্দিষ্ট শর্ত ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
(২)এই কথাগুলো ইমাম, আল্লামা, বহু বিদ্যায় পারদর্শী, শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়া (মৃত্যু ৭৫১ হি.), আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন, তাঁর রচিত «তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ» গ্রন্থের উপক্রমণিকা হিসেবে এসেছে। এটি আমি ইতিপূর্বে যে ধরনের গবেষণা ও শৈলীর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তারই একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
এই বইটি ইতিপূর্বে অনেক মুসলিম দেশে কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এর ব্যাপক প্রসারের ফলে এটি থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব পড়েছে—মানহাজের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও...
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৮)
تلك الطبعات في الإخراج والنشر ـ والتحقيق ــ وتأتي هذه النشرة المحققة على أصول خطية جيدة، في هذا المشروع الرائد، وهو (آثار الإمام ابن قيِّم الجوزيّة وما لحقها من أعمال) لتكون حلقة في هذه السلسلة المباركة، وتكون ضمن مطبوعات مجمع الفقه الإسلامي الدولي.
(3)ونقدِّم بين يدي هذه الطبعة دراسة موجزة في فقرتين اثنتين؛ تتناول (إحداهما) تربية الأولاد في الإسلام، وأهم الكتب والمراجع القديمة في أحكام الأولاد، استكمالاً لتلك الفصول النافعة التي كتبها المصنّف ــ رحمه الله ــ في كتابه هذا، لعل فيها ما يساعد القارئ الكريم على الاطلاع ومتابعة البحث في هذه الجوانب.
وتتناول الفقرة (الثانية) الكتاب نفسه بالتعريف، ومنهج التحقيق.
وأما ترجمة المصنف وما يتصل بذلك؛ فإنها استُوعبت بالكتابة والدراسة في كتب كثيرة متخصصة. مع ما سيطبع ضمن هذا المشروع من ترجمته، ففيها الغناء والكفاية.
(4)وأسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، متقبَّلاً عنده في صالح العمل، وأن ينفع به الأمة والملَّة، وأن يجعله في
সম্পাদনা, প্রকাশনা ও তাহকীকের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ঐ সকল মুদ্রণের ধারাবাহিকতায় এই সম্পাদিত সংস্করণটি একটি অগ্রণী প্রকল্পের অধীনে উত্তম হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে উপস্থাপিত হচ্ছে। প্রকল্পটি হলো (ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর রচনাবলি ও সংশ্লিষ্ট কাজসমূহ), যা এই বরকতময় সিরিজের একটি অংশ হিসেবে এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমির প্রকাশনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।
(৩)আমরা এই মুদ্রণের শুরুতে দুটি অনুচ্ছেদে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা উপস্থাপন করছি; যার (একটি) ইসলামে সন্তান লালন-পালন এবং সন্তানদের বিধিবিধান বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন গ্রন্থ ও উৎসসমূহ নিয়ে আলোচনা করে। লেখক —রাহিমাহুল্লাহ— তার এই কিতাবে যে সকল উপকারী অধ্যায়সমূহ লিখেছেন, তার পূর্ণতাদানের লক্ষ্যে এটি করা হয়েছে; যাতে সম্মানিত পাঠক এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগতি লাভ করতে পারেন এবং এই দিকগুলোতে গবেষণা অব্যাহত রাখতে পারেন।
আর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদটিতে কিতাবটির পরিচিতি এবং তাহকীক বা সম্পাদনার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আর লেখকের জীবনী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে অসংখ্য বিশেষায়িত গ্রন্থে বিস্তারিত লেখা ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া এই প্রকল্পের অধীনে তাঁর যে জীবনী প্রকাশিত হবে, তাতে যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত তথ্য থাকবে।
(৪)আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, তাঁর নিকট সৎকর্ম হিসেবে গৃহীত করেন এবং এর মাধ্যমে উম্মত ও মিল্লাতকে উপকৃত করেন, আর একে যেন রাখেন...
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৯)
ميزان أعمالنا يوم العرض عليه، يوم لا ينفع مال ولا بنون إلا من أتى الله بقلب سليم.
وأسأله ــ سبحانه ــ أن يجزي كلَّ من كان سببًا فيه، و كلَّ من ساعد فيه، وبخاصة أهل بيتي وأولادي وبناتي جميعهم، الذين ساعدوا في المقابلة والمراجعة، وأدعو الله تعالى أن يحفظهم وأن يجعلهم قرة عين في الدنيا والآخرة.
وأما الأساتذة الكرام: الدكتور خلدون الأحدب، والدكتور محمد أجمل الإصلاحي، والشيخ علي بن محمد العمران، والدكتور سليمان العمير، الذين كان لقراءتهم الدقيقة وملاحظاتهم السديدة خير عون على الوصول بهذا العمل إلى ما نصبو إليه من الإتقان، فما أنا ببالغ ما أريد من الثناء، فجزاهم الله خير الجزاء. وكذا أشكر الأخ الشيخ عدنان البخاري على قيامه بصنع فهارس الكتاب، فجزاه الله خيرًا.
و الحمد لله ربِّ العالمين، والصلاة والسلام على سيِّدنا ونبيِّنا محمّدٍ، وعلى آله وصحبه أجمعين.
عثمان بن جمعة ضميرية
جامعة الشارقة
في: 20 رجب 1430 هـ
আমাদের আমলের মিযান তাঁর কাছে পেশ করার দিন, যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না, কেবল সে ব্যতীত যে আল্লাহর কাছে বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।
আমি তাঁর —সুবহানাহু— কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর পেছনে প্রতিটি কারণ ও এতে সাহায্যকারী সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করেন; বিশেষ করে আমার পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং আমার সকল পুত্র ও কন্যাদের, যারা পাণ্ডুলিপি মেলানো ও পর্যালোচনায় সাহায্য করেছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাদের হেফাজত করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের চোখের শীতলতা বানান।
আর সম্মানিত উস্তাদবৃন্দের ব্যাপারে: ডক্টর খালদুন আল-আহদাব, ডক্টর মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি, শেখ আলি বিন মুহাম্মদ আল-উমরান এবং ডক্টর সুলাইমান আল-উমাইর, যাঁদের সূক্ষ্ম পাঠ এবং সঠিক পর্যবেক্ষণসমূহ এই কাজটিকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত নিপুণতায় পৌঁছাতে সর্বোত্তম সহায়িকা হয়েছে, আমি তাদের প্রশংসায় নিজের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পৌঁছাতে সক্ষম নই। আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। অনুরূপভাবে, আমি ভাই শেখ আদনান আল-বুখারিকে ধন্যবাদ জানাই কিতাবটির সূচিপত্র তৈরির কাজ সম্পন্ন করার জন্য, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদের ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
উসমান বিন জুমআ যুমাইরিয়্যাহ
শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়
তারিখ: ২০ রজব ১৪৩০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১০)
أولاً: تربية الأولادالأسس والعوامل المؤثرة
كانت الكلمة الأولى التي أُنزلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم في آخر اتصال للسماء بالأرض هي كلمة «اقرأ»: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ (1) خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ (2) اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ (3) الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} [العلق:
1 - 5]. 1 - التربية في مدرسة النبوة:وتتابع الوحي على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبدأ صلى الله عليه وسلم يدعو قومه للإسلام، ويقوم بتربية النخبة المختارة من بني البشر، التي أراد الله لها أن تمسك بزمام القيادة العالمية، وأن تكون {خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} [آل عمران:110] لتقوم بأعباء الرسالة الخاتمة، التي أعدَّها الله تعالى للقيام بها، فقد ربَّاهم صلى الله عليه وسلم في مدرسة النبوة على الإيمان بالله تعالى وحده، وبعث في نفوسهم العزة والأمل، ربَّاهم في مكة المكرمة أولاً: على الإيمان والصبر والمجاهدة
… ليتلقوا دعوة الإسلام بكل تكاليفها، ثم تابع صلى الله عليه وسلم المسيرة التربوية: إيمانًا وإخلاصًا وتضحيةً وعبودية لله، ليسموَ بنفوس تلك النخبة الممتازة، من الجيل المثالي الذي تخرَّج على يديه.
প্রথমত: সন্তান প্রতিপালনমূলভিত্তি ও প্রভাবক বিষয়সমূহ
আকাশের সাথে জমিনের সর্বশেষ সংযোগের সময় আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর ওপর অবতীর্ণ প্রথম শব্দটি ছিল «পাঠ করো»: {১. পাঠ করো তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। ২. তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। ৩. পাঠ করো, আর তোমার রব মহা দয়ালু। ৪. যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। ৫. তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না।} [আল-আলাক: ১-৫]।
১ - নবুওয়াতের মাদরাসায় প্রতিপালন:
আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর ওপর ওহী অবতীর্ণ হওয়া অব্যাহত থাকে এবং তিনি তাঁর কওমকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে শুরু করেন। তিনি মানবজাতির মধ্য থেকে এক মনোনীত বিশেষ দলকে গড়ে তুলতে থাকেন, যাদের জন্য আল্লাহ চেয়েছিলেন বিশ্ব নেতৃত্বের লাগাম ধারণ করতে এবং তারা যেন হয় {সর্বোত্তম উম্মত, যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে} [আলে ইমরান: ১১০], যাতে তারা সর্বশেষ রিসালাতের গুরুদায়িত্ব পালন করতে পারে, যা পালনের জন্য আল্লাহ তাআলা তাদের প্রস্তুত করেছিলেন। তিনি তাঁদেরকে নবুওয়াতের মাদরাসায় একমাত্র আল্লাহর ওপর ঈমানের ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন এবং তাঁদের অন্তরে আত্মমর্যাদা ও আশার সঞ্চার করেছেন। তিনি তাঁদেরকে মক্কাতুল মোকাররমায় প্রথমে ঈমান, ধৈর্য ও সংগ্রামের ওপর গড়ে তুলেছেন... যাতে তাঁরা ইসলামের দাওয়াতকে এর সকল দায়-দায়িত্বসহ গ্রহণ করতে পারেন। এরপর তিনি ঈমান, ইখলাস, ত্যাগ ও আল্লাহর দাসত্বের এই শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন, যাতে তাঁর হাতে গড়ে ওঠা সেই আদর্শ প্রজন্মের সেই অনন্য দলের আত্মাগুলোকে সমুন্নত করা যায়।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১১)
منهج متكامل للتربية:
وقد قامت هذه التربية على أساسين عظيمين هما: كتاب الله تعالى وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وهما المصدران الأساسيان لهذا الدين، وقد حفل كلٌّ منهما بمنهجٍ متكامل للتربية الإسلامية المثالية، يشمل غايات التربية، ومنهجها، ووسائلها، وطرقها، وعواملها.
منهج يتناسق مع جميع مراحل النمو:
و هو منهج يعطي كلَّ مرحلة من مراحل النمو الإنسانيِّ ما يناسبها من التربية المتوازنة الشاملة المتكاملة، إذِ اقتضتْ حكمة الله تعالى: أن يمرَّ الإنسان بمراحل مختلفة، ويتقلَّب في هذه الحياة أطواراً؛ فهو «جَنِين» في بطن أمه، متكامل الخلق، بعد أن كان قبلها «نُطْفَة» ثم «عَلَقة» ثم «مُضْغة»، كما أشار إلى ذلك سبحانه وتعالى في كتابه الكريم فقال: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِنَ الْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ مِنْ مُضْغَةٍ مُخَلَّقَةٍ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍ لِنُبَيِّنَ لَكُمْ وَنُقِرُّ فِي الْأَرْحَامِ مَا نَشَاءُ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى ثُمَّ نُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ وَمِنْكُمْ مَنْ يُتَوَفَّى وَمِنْكُمْ مَنْ يُرَدُّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ لِكَيْلَا يَعْلَمَ مِنْ بَعْدِ عِلْمٍ شَيْئًا وَتَرَى الْأَرْضَ هَامِدَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ وَأَنْبَتَتْ مِنْ كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ (5)} [الحج: 5].
ثم هو بعد ذلك- بعد مرحلة الجنين- «طفلٌ»، ثم «نَاشِئ»،
ينتقل لمرحلة «المُراهَقة» فمرحلة «الفُتُوَّة» فمرحلة «الشَّباب»،
শিক্ষার একটি পূর্ণাঙ্গ মানহাজ (রূপরেখা):
আর এই শিক্ষা দুটি মহান ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, তা হলো: মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ। এ দুটিই এই দ্বীনের মৌলিক উৎস। এই উভয়ের প্রতিটিই আদর্শ ইসলামি শিক্ষার একটি পূর্ণাঙ্গ মানহাজ সমৃদ্ধ, যা শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, পদ্ধতি, মাধ্যম, পথ ও উপাদানসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।
একটি মানহাজ যা বিকাশের সকল স্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
এটি এমন একটি মানহাজ যা মানুষের বিকাশের প্রতিটি স্তরে তার জন্য উপযুক্ত ভারসাম্যপূর্ণ, ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রদান করে। কেননা মহান আল্লাহর হিকমত এটিই দাবি করেছে যে, মানুষ বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হবে এবং এই জীবনে বিভিন্ন অবস্থায় আবর্তিত হবে। সে তার মায়ের গর্ভে পূর্ণাঙ্গ সৃষ্টি হিসেবে একটি 'ভ্রূণ', অথচ তার পূর্বে সে ছিল 'বীর্য', অতঃপর 'আলাকাহ' (জমাট রক্ত), এরপর 'মুদগাহ' (মাংসপিণ্ড)। যেমনটি মহান আল্লাহ তাঁর সম্মানিত কিতাবে এ সম্পর্কে ইঙ্গিত করে বলেছেন: {হে মানুষ! যদি তোমরা পুনরুত্থানের বিষয়ে সন্দেহে থাকো, তবে (জেনে রেখো) আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি, এরপর বীর্য থেকে, এরপর আলাকাহ থেকে, এরপর মাংসপিণ্ড থেকে—যা পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট হয় আবার কখনও পূর্ণাকৃতি বিশিষ্ট হয় না—যাতে আমি তোমাদের কাছে (আমার ক্ষমতা) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করি। আর আমি মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা করি তা এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত স্থির রাখি। তারপর আমি তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করে আনি, যাতে পরবর্তীতে তোমরা তোমাদের পূর্ণ শক্তিতে পদার্পণ করো। আর তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হয়, আবার কাউকে নিকৃষ্টতম বয়সে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সে জ্ঞান লাভের পর আবার কিছুই না জানে। আর তুমি ভূমিকে শুষ্ক-মৃত দেখতে পাও, অতঃপর যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি, তখন তা সজীব হয়ে ওঠে, স্ফীত হয় এবং প্রত্যেক প্রকারের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উৎপন্ন করে। (৫)} [হজ: ৫]।
অতঃপর সে—ভ্রূণ পর্যায়ের পর—একজন 'শিশু', তারপর একজন 'কিশোর' হয়,
সে 'বয়ঃসন্ধি' পর্যায়ে, এরপর 'যৌবনোন্মেষ' পর্যায়ে এবং এরপর 'যৌবন' পর্যায়ে পদার্পণ করে।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثم «الكُهُولَة» و «الشَّيخُوخَة».
وهو في كلِّ مرحلة من هذه المراحل: يتَّسم بصفات وسِمَاتٍ جسميَّة ونفسيَّة وخُلقيَّة تختلف عن الأخرى، وله في كل مرحلةٍ وطور حاجاتٌ ودوافع، ولكل مرحلة مشكلات خاصة وأساليب في التكيُّف والنموِّ والتربية، يجب أن تؤخذ بعين الاعتبار، عند تربية هذا الكائن.
والإسلام ــ دين الله الخالد ــ يضع لكل مرحلة من مراحل عمر الإنسان خطة تربوية فذة، ترتقي بهذا الإنسان إلى مدارج عالية وآفاق سامية، نلمحها في علاقة هذا الإنسان وتعامله مع ربه تبارك وتعالى، ومع نفسه، ومع الآخرين من حوله.
المنهج التربوي المتميز:
واليوم نجد كثيرًا من المثقفين وغير المثقفين يديرون كلمة «التربية» على ألسنتهم صباحَ مساء، وينظرون إلى مناهج التربية في بلاد الغرب على أنها هي التربية المثالية الفذة، التي تجعل من الإنسان نموذجًا مثاليًا يُشار إليه بالبنان
… و ينسون- وهم في غرة البريق الخادع - أصالةَ دينهم، وشخصيتَهم الإسلامية، ومنهجَهم التربويَّ المتميز
…فكان من الوفاء لهذا الدِّين ولهذه الأمة وأجيالها المؤمنة: أن نعود بالأمر إلى نصابه، وبالفضل لأهله وذويه، وهذا ما دفعني لكتابة هذه الكلمات في تقديم هذا الكتاب، و الصلة بينهما وثيقة ومتينة.
এরপর ‘প্রৌঢ়ত্ব’ এবং ‘বার্ধক্য’।
আর মানুষ এই প্রতিটি স্তরে এমন কিছু শারীরিক, মানসিক এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয় যা একটি থেকে অন্যটি ভিন্ন। প্রতিটি স্তর ও ধাপে তার বিশেষ কিছু প্রয়োজন ও প্রেরণা থাকে। আর প্রতিটি স্তরের রয়েছে নিজস্ব সমস্যা এবং খাপ খাইয়ে নেওয়া, বিকাশ ও লালন-পালনের বিশেষ পদ্ধতি, যা এই সত্তার প্রতিপালনের সময় অবশ্যই বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
আর ইসলাম—আল্লাহর শাশ্বত দ্বীন—মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরের জন্য একটি অনন্য শিক্ষামূলক ও চারিত্রিক পরিকল্পনা নির্ধারণ করে দেয়, যা এই মানুষকে উচ্চতর সোপান এবং মহান দিগন্তের দিকে উন্নীত করে। আমরা এটি লক্ষ্য করি তার প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তাআলার সাথে, নিজের সাথে এবং তার চারপাশের অন্যদের সাথে এই মানুষের সম্পর্ক ও আচরণের ক্ষেত্রে।
স্বতন্ত্র শিক্ষামূলক ও চারিত্রিক পদ্ধতি:
আজ আমরা অনেক শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত মানুষকে দেখি যারা সকাল-সন্ধ্যা তাদের মুখে ‘তরবিয়ত’ (শিক্ষা ও লালন-পালন) শব্দটির পুনরাবৃত্তি করে এবং তারা পশ্চিমা দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থাকে এমন এক আদর্শ ও অনন্য শিক্ষা হিসেবে দেখে, যা মানুষকে এক অনুকরণীয় মডেলে পরিণত করে যার দিকে মানুষ আঙুল দিয়ে ইশারা করে
… অথচ তারা—প্রতারণাপূর্ণ চাকচিক্যের মোহে পড়ে—তাদের দ্বীনের মৌলিকত্ব, তাদের ইসলামি ব্যক্তিত্ব এবং তাদের স্বতন্ত্র চারিত্রিক ও শিক্ষামূলক পদ্ধতির কথা ভুলে যায়
…তাই এই দ্বীনের প্রতি এবং এই উম্মাহ ও এর মুমিন প্রজন্মের প্রতি আনুগত্যের দাবি হলো: বিষয়টিকে তার সঠিক স্থানে ফিরিয়ে আনা এবং এর কৃতিত্বকে তার প্রকৃত হকদারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর এটিই আমাকে এই বইটির ভূমিকায় এই কথাগুলো লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে, কারণ উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও সুদৃঢ়।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
2 - عوامل التربية:يقصد بعوامل التربية كلَّ المؤثرات التي تؤثر في النشأة والنمو، من النواحي الجسمية والعقلية والخلقية والدينية.
ويُعنَى الباحثون في التربية بتصنيف هذه العوامل وتعدادها، إلا أنه يمكن رَجْعُها إلى طائفتين اثنتين:
(الطائفة الأولى): عوامل التربية المقصودة، وهي الوسائل المدبَّرة التي يقوم بها الكبار حيال الصغار للتأثير في أجسامهم وعقولهم وأخلاقهم، لإعدادهم للحياة المستقبلة. وأهم مواطن هذا النوع من التربية: الأسرة (البيت) والمدرسة. ولما كانت المساجد تقوم بوظيفة المدرسة قبل إنشائها ، فإننا نضيف هذا العامل الهام وهو المسجد ، وكذلك المنهج الدراسي الذي يقوم بوظيفة كبرى في تقديم ما ينبغي للأبناء في دراستهم.
(الطائفة الثانية): عوامل التربية غير المقصودة، وهي العوامل التي تؤثر في نشأة الأطفال والمراهقين ونموهم دون أن يكون للكبار دخل في توجيهها نحو هذه الغاية، ولا في أدائها هذه الوظائف. وتنقسم هذه الطائفة إلى أقسام كثيرة، أهمها ما يلي:
أ- عوامل طبيعية، كالوراثة والبيئة والجغرافية.
ب- الأمور التي يقوم بها الطفل مدفوعًا إليها بعامل ميوله الفطرية، ومن أظهر هذه العوامل: الألعاب الحرة والتقليد.
২ - প্রতিপালনের উপাদানসমূহ:প্রতিপালনের উপাদানসমূহ বলতে সেই সমস্ত প্রভাবকসমূহকে বোঝানো হয়, যা শারীরিক, মানসিক, চারিত্রিক ও ধর্মীয় দিক থেকে লালন-পালন ও বিকাশের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে।
শিক্ষা গবেষকগণ এই উপাদানগুলোর শ্রেণিবিন্যাস ও সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন, তবে এগুলোকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা যেতে পারে:
(প্রথম শ্রেণি): উদ্দেশ্যমূলক প্রতিপালনের উপাদানসমূহ; এগুলো হলো সেই সুপরিকল্পিত মাধ্যম যা বড়রা ছোটদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যে তাদের শরীর, বুদ্ধি ও চরিত্রের ওপর প্রভাব ফেলার জন্য গ্রহণ করে থাকেন। এই প্রকার প্রতিপালনের প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো: পরিবার (ঘর) এবং বিদ্যালয়। যেহেতু বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে মসজিদসমূহ বিদ্যালয়ের ভূমিকা পালন করত, তাই আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটিকেও যুক্ত করছি, আর তা হলো মসজিদ। এর পাশাপাশি পাঠ্যক্রমও একটি বড় ভূমিকা পালন করে, যা সন্তানদের শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের যা প্রয়োজন তা প্রদান করে।
(দ্বিতীয় শ্রেণি): পরোক্ষ প্রতিপালনের উপাদানসমূহ; এগুলো হলো সেই উপাদান যা শিশু ও কিশোরদের লালন-পালন ও বিকাশের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে, যেখানে এই লক্ষ্য অর্জনে বা এই কাজগুলো সম্পাদনে বড়দের কোনো সরাসরি পরিচালনা বা হস্তক্ষেপ থাকে না। এই শ্রেণিকে অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত করা যায়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ক- প্রাকৃতিক উপাদান, যেমন: বংশগতি, পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থা।
খ- এমন বিষয়সমূহ যা শিশু তার সহজাত প্রবৃত্তি দ্বারা তাড়িত হয়ে সম্পাদন করে; এই উপাদানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট হলো: উন্মুক্ত খেলাধুলা এবং অনুকরণ।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ج - عوامل اجتماعية، كحضارة الأمة المنبثقة عن معتقداتها، وما إلى ذلك مما تشمله البيئة الاجتماعية العامة، ويندرج فيها ما يكوِّن الرأي العام، كوسائل الإعلام ونحوها
(1).
فأهم عوامل التربية هي: الأسرة، والمدرسة، والمسجد، الوراثة، والبيئة الجغرافية، واللعب والتقليد، والبيئة الاجتماعية العامة، ووسائل الإعلام. و العامل الأول فيها هو أهم هذه العوامل وأكثرها تأثيرًا وصلة بموضوع هذا الكتاب، فيحسن أن نخصّه بالتنويه وبشيء من التفصيل.
دور الأسرة في التربية:
الأسرة هي الخلية الاجتماعية الأولى في المجتمع، وعلى صلاحها وقوَّتها واستقامتها يتوقف صلاح المجتمع وقوَّته وتماسكه، فالمرأة والرجل هما عماد الأسرة؛ إذا صلح كلٌّ منهما استطاع أن يكوِّن بيتًا نموذجيًا على القواعد التي وضعها الإسلام، وقد وضع الإسلام قواعد هذا البيت فأحكم وضعها، فقد أرشد الزوجين إلى حسن الاختيار، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تنكح المرأة لأربع: لدينها ولمالها ولحسبها ولجمالها، فاظفر بذات الدين تربت يداك»
(2).
--------------------------------------------
গ - সামাজিক উপাদানসমূহ, যেমন উম্মাহর বিশ্বাস থেকে উদ্ভূত সভ্যতা এবং এর মতো যা কিছু সাধারণ সামাজিক পরিবেশের অন্তর্ভুক্ত, আর এর মধ্যে জনমত গঠনকারী বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেমন গণমাধ্যম ও অনুরূপ বিষয়সমূহ
(১)।
তরবিয়ত বা শিক্ষার প্রধান উপাদানগুলো হলো: পরিবার, বিদ্যালয়, মসজিদ, বংশগতি, ভৌগোলিক পরিবেশ, খেলাধুলা ও অনুকরণ, সাধারণ সামাজিক পরিবেশ এবং গণমাধ্যম। আর এগুলোর মধ্যে প্রথম উপাদানটিই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এই কিতাবের বিষয়ের সাথে সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ও সম্পর্কযুক্ত। তাই একে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এবং কিছুটা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা সমীচীন হবে।
তরবিয়তে পরিবারের ভূমিকা:
পরিবার হলো সমাজের প্রথম সামাজিক একক, আর এর সংশোধন, শক্তি ও দৃঢ়তার ওপরই সমাজের সংশোধন, শক্তি ও সংহতি নির্ভর করে। নারী ও পুরুষ হলো পরিবারের স্তম্ভ; যদি তারা উভয়েই সৎ ও আদর্শবান হয়, তবে তারা ইসলামের দেওয়া নিয়মনীতির ওপর ভিত্তি করে একটি আদর্শ ঘর গঠন করতে সক্ষম হবে। আর ইসলাম এই গৃহের নিয়মাবলী নির্ধারণ করে সেগুলোকে সুসংহত করেছে। ইসলাম স্বামী-স্ত্রী উভয়কে উত্তম জীবনসঙ্গী নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ রেখে নারীকে বিবাহ করা হয়: তার দ্বীনদারী, তার ধন-সম্পদ, তার বংশমর্যাদা এবং তার সৌন্দর্য। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকে বিবাহ করেই সফল হও, অন্যথায় তোমার দুই হাত ধূলিমলিন হোক»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وبيَّن الطريق الفطري في لقاء الرجل بالمرأة، فقال الله سبحانه وتعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} [الروم:21].
وحدَّد الحقوق والواجبات على كل من الطرفين، وما يتميز به كل واحد منهما، فقال الله تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} [البقرة:228].
وأوجب على الطرفين رعاية ثمرات الزواج (الأطفال) حتى تينع وتنضج في غير عبث ولا إهمال، فقال الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلَائِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} [التحريم: 6].
وقال الله سبحانه و تعالى: {وَالْوَالِدَاتُ يُرْضِعْنَ أَوْلَادَهُنَّ حَوْلَيْنِ كَامِلَيْنِ لِمَنْ أَرَادَ أَنْ يُتِمَّ الرَّضَاعَةَ وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ لَا تُكَلَّفُ نَفْسٌ إِلَّا وُسْعَهَا لَا تُضَارَّ وَالِدَةٌ بِوَلَدِهَا وَلَا مَوْلُودٌ لَهُ بِوَلَدِهِ وَعَلَى الْوَارِثِ مِثْلُ ذَلِكَ} [البقرة: 233].
وعالج ما يعترض هذه الحياة الزوجية من مشكلات أدقَّ علاج، واختط في كل نظراته طريقًا وسطًا، لا إفراط فيه ولا تفريط، فقال الله تعالى: {وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا وَالصُّلْحُ خَيْرٌ وَأُحْضِرَتِ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ وَإِنْ تُحْسِنُوا وَتَتَّقُوا فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا} [النساء: 128].
তিনি নারী ও পুরুষের মিলনের স্বভাবজাত পথ বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে" [রুম: ২১]।
তিনি উভয় পক্ষের অধিকার ও কর্তব্য এবং প্রত্যেকের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর নারীদেরও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের ওপর পুরুষদের অধিকার রয়েছে" [বাকারা: ২২৮]।
তিনি দাম্পত্য জীবনের ফল (সন্তানসন্ততি)-এর যত্ন নেওয়া উভয় পক্ষের জন্য আবশ্যক করেছেন, যাতে তারা কোনো অবহেলা বা হেলাফেলা ছাড়াই বেড়ে ওঠে ও পরিপক্ক হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো সেই আগুন থেকে, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর; যাতে নিয়োজিত আছে কঠোর ও শক্তিশালী ফেরেশতাগণ, আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ দেন তারা তা অমান্য করে না এবং তারা যা আদিষ্ট হয় তা-ই পালন করে" [তাহরীম: ৬]।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেন: "আর মাতাগণ তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে, যদি কেউ দুধ পানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়। আর যার সন্তান (পিতা), তার কর্তব্য হলো বিধি মোতাবেক তাদের (মাতাদের) ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছদ প্রদান করা। কোনো ব্যক্তিকেই তার সাধ্যাতীত কষ্টের ভার দেওয়া হবে না। কোনো মাকে তার সন্তানের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না এবং কোনো পিতাকেও তার সন্তানের জন্য (ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না)। আর উত্তরাধিকারীর ওপরও অনুরূপ দায়িত্ব ন্যস্ত" [বাকারা: ২৩৩]।
তিনি এই দাম্পত্য জীবনে আসা সমস্যাবলির সূক্ষ্মতম সমাধান দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতিটি নির্দেশনায় একটি মধ্যম পন্থা অবলম্বন করেছেন, যাতে নেই কোনো অতিরঞ্জন কিংবা অবহেলা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যদি কোনো নারী তার স্বামীর পক্ষ থেকে দুর্ব্যবহার কিংবা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তারা উভয়ে নিজেদের মধ্যে কোনো প্রকার আপস-নিষ্পত্তি করলে তাদের কোনো গুনাহ নেই; আর আপস-নিষ্পত্তিই শ্রেষ্ঠ। মানুষের মন স্বভাবগতভাবেই সংকীর্ণতার বশীভূত। আর যদি তোমরা সদাচরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবগত" [নিসা: ১২৮]।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال الله سبحانه وتعالى: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا (34) وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا} [النساء: 34 - 35].
والإسلام يعتبر نظام الأسرة هو النظام الطبيعي الفطري المنبثق من أصل التكوين الإنساني، بل من أصل الأشياء كلِّها في الكون الذي يقوم على قاعدة الزوجية.
والأسرة هي المحضن الطبيعي الذي يتولى حماية الناشئة ورعايتها وتنمية أجسادها وعقولها وأرواحها، وفي ظله تتلقى مشاعر الحب والرحمة والتكافل، وتنطبع بالطابع الذي يلازمها مدى الحياة، وعلى هديه ونوره تتفتح للحياة وتتعامل معها
(1).
والأسرة منذ القديم كانت تقوم بوظائف اجتماعية كثيرة، ثم بدأت هذه الوظائف تتطور سعة وشمولاً، وتضييقًا وتحديدًا، حيث أصبحت كثير من المؤسسات الاجتماعية والتعليمية والثقافية تنازع الأسرة هذه الوظائف الاجتماعية والتربوية إلا أنها لازالت ــ وستبقى ــ عاملاً من
--------------------------------------------
এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {পুরুষরা নারীদের উপর তদারককারী, কারণ আল্লাহ তাদের মধ্যে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং নেককার নারীরা অনুগত এবং আল্লাহর হিফাযতে (স্বামীদের অনুপস্থিতিতে) অদৃশ্যের রক্ষণাবেক্ষণকারী। আর যাদের অবাধ্যতার তোমরা আশঙ্কা করো, তাদের উপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ করো এবং তাদের প্রহার করো। অতঃপর যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো পথ খুঁজো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহান। (৩৪) আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তবে পুরুষের পরিবার থেকে একজন সালিস এবং নারীর পরিবার থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করো। যদি তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চায়, তবে আল্লাহ তাদের মধ্যে সমঝোতা করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত।} [আন-নিসা: ৩৪ - ৩৫]।
আর ইসলাম পারিবারিক ব্যবস্থাকে একটি প্রাকৃতিক ও সহজাত ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করে যা মানব সৃষ্টির মূল উৎস থেকে উৎসারিত, বরং মহাবিশ্বের সকল বস্তুর মূল ভিত্তি থেকেই তা উৎসারিত যা জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টির নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আর পরিবার হলো সেই প্রাকৃতিক লালনভূমি যা নতুন প্রজন্মের সুরক্ষা, যত্ন এবং তাদের দেহ, মন ও আত্মার বিকাশের দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর ছায়াতলে তারা ভালোবাসা, দয়া ও পারস্পরিক সহমর্মিতার অনুভূতি লাভ করে এবং এমন এক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে রঞ্জিত হয় যা জীবনভর তাদের সঙ্গী থাকে। আর এর আদর্শ ও আলোকবর্তিকার সাহায্যেই তারা জীবনের পথে বিকশিত হয় এবং জগতের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে
(১)।
আর পরিবার প্রাচীনকাল থেকেই অনেক সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছিল, এরপর এই দায়িত্বসমূহ ব্যাপকতা ও পরিব্যাপ্তির দিক থেকে এবং কখনও সীমাবদ্ধতা ও সুনির্দিষ্টকরণের দিক থেকে বিবর্তিত হতে শুরু করে। বর্তমানে অনেক সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিবারের এই সামাজিক ও শিক্ষামূলক দায়িত্ব পালনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, তবে পরিবার এখনও রয়ে গেছে—এবং ভবিষ্যতেও থাকবে—এমন একটি উপাদান যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أهم عوامل التربية على الإطلاق، وترجح على بقية العوامل
الأخرى مجتمعة
(1).
تأثير الأسرة في العوامل التربوية:
والأسرة تؤثر في العملية التربوية من ناحيتين اثنتين:
(الأولى) تأثيرها في عوامل التربية الأخرى، فإن للمنزل آثارًا بليغة في مختلف عوامل التربية الأخرى المقصودة وغير المقصودة.
و (الثانية) آثارها التربوية الخاصة بها. فالطفل الإنساني هو أطول الأحياء طفولة، ومن ثم كانت حاجته لملازمة أبويه أشدَّ من حاجة أي طفل لحيوان أخر، وكانت الأسرة المستقرة الهادئة ألزم للنظام الإنساني وألصق بفطرة الإنسان وتكوينه ودوره في هذه الحياة، وعلى المنزل يقع قسط كبير من واجب التربية الخُلُقية والوجدانية والدينية في جميع مراحل الطفولة، بل في المراحل التالية لها كذلك؛ ففي المنزل تشيد أسس العقيدة و العبادة والأخلاق، فإن كان الأساس متينًا كان البناء قويًا متينًا، وإلا انهار البناء.
--------------------------------------------
এটি নিঃসন্দেহে শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ এবং অন্য সকল অনুষঙ্গের সম্মিলিত প্রভাবের চেয়েও এটি অধিক প্রভাবশালী
অন্যান্য সামগ্রিক অনুষঙ্গসমূহের তুলনায়
(১)।
শিক্ষামূলক অনুষঙ্গসমূহের ওপর পরিবারের প্রভাব:
শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় পরিবার প্রধানত দুটি দিক থেকে প্রভাব বিস্তার করে:
(প্রথমত) অন্যান্য শিক্ষামূলক অনুষঙ্গের ওপর এর প্রভাব; প্রকৃতপক্ষে পরিকল্পিত হোক বা অপরিকল্পিত, শিক্ষার বিভিন্ন অনুষঙ্গের ওপর গৃহের অত্যন্ত গভীর প্রভাব রয়েছে।
এবং (দ্বিতীয়ত) এর নিজস্ব শিক্ষামূলক প্রভাবসমূহ। মানব শিশুর শৈশবকাল অন্যান্য সকল প্রাণীর শৈশবকালের তুলনায় দীর্ঘতম, ফলে বাবা-মায়ের সান্নিধ্যে থাকার প্রয়োজনীয়তা অন্য যে কোনো প্রাণীর শাবকের তুলনায় তার ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রবল। তাই একটি স্থিতিশীল ও শান্ত পরিবার মানব ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য এবং এটি মানুষের ফিতরাত (প্রবৃত্তি), গঠন ও জীবনযাত্রার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শৈশবের প্রতিটি স্তরে, এমনকি পরবর্তী পর্যায়গুলোতেও নৈতিক, আবেগীয় এবং ধর্মীয় শিক্ষার এক বিশাল দায়িত্ব পরিবারের ওপর বর্তায়। কেননা গৃহেই আকীদা, ইবাদত এবং আখলাকের ভিত্তি নির্মিত হয়; যদি এই ভিত্তি মজবুত হয় তবে এর ওপর গড়ে ওঠা ইমারতও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হয়, অন্যথায় তা ভেঙে পড়ে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
3 - وسائل التربية:أ ـ الوسيلة الأولى: القدوة الحسنة، وهي الوسيلة الفعالة في التربية، ولها التأثير الكبير فيها بجميع نواحيها، إذْ لا بد للطفل في البيت أو الطالب في المدرسة من مثل أعلى يقتدي به ويترسم خطاه، فلنقدم له القدوة الحسنة متمثلة برسول الله صلى الله عليه وسلم: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} [الأحزاب:21 [، ومتمثلة بالجيل الأول من الصحابة، ومن أبطال الإسلام وقادته على مرِّ العصور.
والرسول صلى الله عليه وسلم لم يكن يربِّي أصحابه بالكلام يديره على لسانه، وإنما كان يربيهم بأفعاله، فقد كان -عليه الصلاة و السلام- قرآنًا يمشي على الأرض، و «كان خلقه القرآن»؛ لذا مدحه الله تعالى فقال: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4].
والمسلم يربِّي بسلوكه و عمله قبل أن يربي بلسانه وكلامه. والإسلام انتشر في كثير من بقاع العالم بواسطة التجار المسلمين الذين كانوا أمثلة طيبة وقدوة صالحة.
ولذلك نجد الطفل الذي يرى أبويه يقفان في جوف الليل، يناجيان الله تعالى بالعبادة والصلاة والدعاء
… يتعلم السموّ الروحي عمليًّا منهما .. ولن يتعلم الفضيلة طفل يرى أبويه أو أحدهما منغمسًا في الرذيلة والشهوات؛ لأنهما قدوة له، وهو يتأثر بهما، ولن يتعلم
৩ - শিক্ষা ও প্রতিপালনের মাধ্যমসমূহ:ক — প্রথম মাধ্যম: উত্তম আদর্শ। এটি শিক্ষা ও প্রতিপালনের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মাধ্যম এবং এর সকল দিকে এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কারণ ঘরে শিশুর জন্য কিংবা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর জন্য এমন একজন শ্রেষ্ঠ আদর্শ থাকা অপরিহার্য যাকে সে অনুসরণ করবে এবং যার পদচিহ্ন অনুসরণ করে চলবে। অতএব আমরা যেন তার সামনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝে বিদ্যমান উত্তম আদর্শ উপস্থাপন করি: “তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” [আল-আহযাব: ২১], এবং সাহাবীগণের প্রথম প্রজন্ম ও যুগ যুগ ধরে ইসলামের বীর ও নেতৃবৃন্দের আদর্শ উপস্থাপন করি।
আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে কেবল মুখ নিঃসৃত কথার মাধ্যমে শিক্ষা দিতেন না, বরং তিনি তাঁদেরকে নিজের কর্মের মাধ্যমে গড়ে তুলতেন। তিনি —তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক— ছিলেন জমিনে বিচরণকারী এক জীবন্ত কুরআন, আর ‘তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন’; এই কারণেই মহান আল্লাহ তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: “নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।” [আল-কালাম: ৪]।
একজন মুসলিম তার জিহ্বা ও কথার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার আগে তার আচরণ ও কর্মের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়ে থাকে। আর বিশ্বের অনেক প্রান্তে ইসলাম ছড়িয়ে পড়েছে সেইসব মুসলিম বণিকদের মাধ্যমে যারা ছিলেন উত্তম উদাহরণ ও সৎ আদর্শ।
এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে শিশু তার পিতামাতাকে রাতের গভীরে দাঁড়িয়ে ইবাদত, সালাত ও দুআর মাধ্যমে মহান আল্লাহর সাথে একান্ত আলাপে নিমগ্ন থাকতে দেখে
… সে তাদের কাছ থেকে ব্যবহারিকভাবেই আধ্যাত্মিক উচ্চতা শিক্ষা লাভ করে। আর সেই শিশু কখনো সচ্চরিত্রতা শিখবে না যে তার পিতামাতাকে বা তাদের কোনো একজনকে মন্দ কাজ ও লালসায় নিমজ্জিত থাকতে দেখে; কারণ তারা তার জন্য আদর্শ এবং সে তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়, আর সে শিখবে না...
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الإنسانية والخلق السامي طفل يجد صدر أبيه ممتلئًا حقدًا أو بغضًا وحسدًا وضغينة على الآخرين.
ب ـ والوسيلة الثانية: هي التربية بالموعظة، وذلك كي تتفتَّح النفس ويتذكر القلب، بعد أن يكون قد شرد عن الله وغفل عنه لسبب من الأسباب التي تصرف الإنسان وتبعده عن الله وعن منهجه وعن دينه، وفي القرآن الكريم نماذج كثيرة رائعة للتربية بالموعظة منها موعظة لقمان لابنه، قال تعالى: {وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَابُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ (13) وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ (14)
… } إلى آخر الآيات] لقمان: 13 - 19].
وما أكثر مواعظ الرسول ^؛ وما أشدَّ تأثيرها في النفوس! فمواعظه تتفتّح لها القلوب والعقول وتذرف لها العيون. وقد كان عليه الصلاة والسلام يتخوَّل أصحابه بالموعظة بين الحين والآخر، ومن ذلك حديث العرباض بن سارية: «وعظنا رسولُ الله صلى الله عليه وسلم موعظة وَجِلَت منها القلوب وذرفت منها العيون، فقلنا: يا رسول الله! كأنها موعظة مودِّع فأوْصِنا. قال: «أوصيكم بتقوى الله عز وجل والسمع والطاعة .. »
(1).
--------------------------------------------
মানবিকতা ও উন্নত চরিত্র (ব্যাহত হয় যখন) এক শিশু তার পিতার হৃদয় অন্যের প্রতি বিদ্বেষ, ঘৃণা, হিংসা ও শত্রুতায় পূর্ণ দেখতে পায়।
খ — দ্বিতীয় মাধ্যমটি হলো: উপদেশের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান; আর তা এই জন্য যেন আত্মা উন্মোচিত হয় এবং অন্তর উপদেশ গ্রহণ করতে পারে, এমন অবস্থার পর যখন সে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল এবং বিভিন্ন কারণে তাঁর প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েছিল, যা মানুষকে আল্লাহ, তাঁর জীবনবিধান এবং তাঁর দ্বীন থেকে বিমুখ ও দূরে সরিয়ে দেয়। আর পবিত্র কুরআনে উপদেশের মাধ্যমে শিক্ষার অনেক চমৎকার উদাহরণ রয়েছে, যার মধ্যে লোকমানের তাঁর পুত্রকে দেওয়া উপদেশ অন্যতম। মহান আল্লাহ বলেন: {স্মরণ করো, যখন লোকমান উপদেশ দিতে গিয়ে তার পুত্রকে বলেছিল: হে বৎস! আল্লাহর সাথে কোনো শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক এক মহা জুলুম। (১৩) আর আমি মানুষকে তার পিতামাতার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছি; তার মা কষ্টের ওপর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। (আমি নির্দেশ দিয়েছি যে,) আমার প্রতি এবং তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও; প্রত্যাবর্তন তো আমারই কাছে। (১৪)
… } আয়াতের শেষ পর্যন্ত [সূরা লোকমান: ১৩ - ১৯]।
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উপদেশ কতই না বেশি এবং নফসের ওপর সেগুলোর প্রভাব কতই না শক্তিশালী! তাঁর উপদেশাবলির মাধ্যমে অন্তর ও বিবেক জাগ্রত হয় এবং চোখসমূহ অশ্রু বিসর্জন দেয়। তিনি (সা.) সময় সময় উপদেশের মাধ্যমে তাঁর সাহাবিদের তদারকি করতেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইরবাদ ইবনে সারিয়াহ-এর হাদিস: «রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন এক উপদেশ দিলেন যাতে অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো এবং চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো। তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি যেন কোনো বিদায়কালীন উপদেশ, সুতরাং আপনি আমাদের কিছু অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: «আমি তোমাদেরকে মহান আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং কথা শ্রবণ ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি...»
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২০)
وكان عليه الصلاة والسلام يعظ أصحابه عند ما يشاهد خطأ، وينبِّه إليه بطريقة تربوية فذة، حيث يصعد المنبر ويقول: «ما بال أقوام يفعلون كذا وكذا، أو ما بال أقوام يتنزهون عن كذا»
(1) .. أو «لينتهينَّ أقوام عن كذا .. »
(2)جـ ـ والقصة هي الوسيلة الثالثة: وهي وسيلة فعالة، لأن الإنسان يتطلع دائمًا ويتشوق إلى معرفة المجهول، ويتطلع إلى المفاجآت، والقصة تحتوي على كل هذه العناصر المشوقة، ومن هنا كان تأثيرها الكبير في النفس، حتى إن القرآن الكريم قد ذكر كثيراً من القصص بهدف التربية وأخذ العبرة والعظة {لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} [يوسف:111].
وقد أخضع القرآنُ الكريم القصةَ بجميع أنواعها للغرض الديني التربوي. فليكن هذا حافزًا لاستعمال القصص الناجحة الموجهة في تربيتنا لأولادنا وطلابنا.
د ـ التربية بالأحداث والوقائع: وهي وسيلة بارزة، حيث يستطيع المربي الماهر أن يتلقف كل حادث يقع ليغرس في أعقابه مباشرة ما يريد
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো ভুল লক্ষ্য করতেন তখন তাঁর সাহাবীগণকে উপদেশ দিতেন এবং এক অনন্য শিক্ষামূলক পদ্ধতিতে সে বিষয়ে সতর্ক করতেন। তিনি মিম্বারে আরোহণ করে বলতেন: «সেই সব লোকদের কী হলো যারা এমন এমন কাজ করে, অথবা সেই সব লোকদের কী হলো যারা অমুক বিষয় থেকে বেঁচে থাকে»
(১) .. অথবা «লোকেরা যেন অবশ্যই অমুক কাজ থেকে নিবৃত্ত হয় .. »
(২)গ— গল্প বা কাহিনী হলো তৃতীয় মাধ্যম: এটি একটি কার্যকর মাধ্যম, কারণ মানুষ সর্বদা অজানাকে জানার জন্য কৌতূহলী ও আগ্রহী থাকে এবং চমকপ্রদ বিষয়ের প্রত্যাশা করে। কাহিনীর মধ্যে এই সকল আকর্ষণীয় উপাদান বিদ্যমান থাকে, আর এখান থেকেই অন্তরের ওপর এর ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি হয়। এমনকি পবিত্র কুরআন শিক্ষা প্রদান এবং শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে অনেক কাহিনী বর্ণনা করেছে: {নিশ্চয়ই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে} [ইউসুফ: ১১১]।
পবিত্র কুরআন সব ধরনের কাহিনীকে ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যের অনুগত করেছে। সুতরাং আমাদের সন্তানদের এবং শিক্ষার্থীদের লালন-পালনের ক্ষেত্রে সফল ও দিকনির্দেশনামূলক গল্পসমূহ ব্যবহারের বিষয়ে এটি একটি উদ্দীপক হওয়া উচিত।
ঘ— ঘটনা ও পরিস্থিতির মাধ্যমে শিক্ষা দান: এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম, যেখানে একজন দক্ষ শিক্ষক বা অভিভাবক প্রতিটি ঘটে যাওয়া ঘটনাকে লুফে নিতে পারেন যাতে তার পরপরই সরাসরি কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাটি গেঁথে দিতে পারেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২১)
من المُثل والأخلاق والأحكام في نفوس من يعلِّمهم ويربيهم؛ لأن النفس في أعقاب الحادثة تكون مستعدة لتلقى الدرس، كما فعل القرآن الكريم في تربية الجيل الأول، ونجد أمثلة لذلك في الآيات التي تنزلت في أعقاب غزوة بدر وأحد وحنين .. إلخ، ونجد لهذا أمثلة رائعة في السيرة النبوية كما في موعظة النبي صلى الله عليه وسلم للأنصار عقب توزيع غنائم هوازن
…هـ ـ ونأتي أخيرًا إلى العقوبة والمثوبة ومكانهما في التربية، فإن المثوبة أو الجزاء الطيب على العمل الطيب والتشجيع عليه بكل طريقة، وسيلة ناجحة تحمل على السعي الحثيث نحو الخير والفضيلة، وما أكثر الآيات القرآنية التي يرغِّبنا الله تعالى فيها بجنته وثوابه.
والعقوبة أيضًا تقابل المثوبة وتسير معها، فليست كل نفس تنفع فيها المثوبة أو الموعظة، وعندئذ نلجأ إلى العقوبة وسيلةً أخيرة في التربية، وهي تتدرج من النظرة إلى الكلمة الطيبة ثم الكلمة العنيفة القاسية حتى إنها لتصل أحيانًا إلى الضرب .. وخيرُ عقوبةٍ هو الحرمان من المثوبة والجزاء.
وغنيٌّ عن البيان أن كُلًّا من المثوبة والعقوبة تتنوع إلى مادية وأدبية، ولكل منهما تأثير في النفوس. وحسبنا هذه الإشارات السريعة، و للتفصيل مجال آخر
(1).
--------------------------------------------
আদর্শ, চরিত্র ও বিধানাবলি তাদের অন্তরে বদ্ধমূল করা যাদের তিনি শিক্ষা দান করেন ও গড়ে তোলেন; কারণ কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে মানুষের মন শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে। যেমনটি পবিত্র কুরআন প্রথম প্রজন্মের লালন-পালনের ক্ষেত্রে করেছে এবং এর উদাহরণ আমরা বদর, উহুদ ও হুনাইনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ আয়াতসমূহে দেখতে পাই। এছাড়াও সীরাতে নববীতে এর চমৎকার উদাহরণ রয়েছে, যেমন হাওয়াযিনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের পর আনসারদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নসিহত
…৫- সবশেষে আমরা লালন-পালন ও শিক্ষা পদ্ধতিতে শাস্তি ও পুরস্কারের স্থান নিয়ে আলোচনা করছি। সৎকাজের জন্য পুরস্কার বা উত্তম প্রতিদান প্রদান এবং সব উপায়ে উৎসাহ দেওয়া একটি সফল মাধ্যম যা কল্যাণ ও ফযিলতের পথে নিরন্তর প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ করে। কুরআনের এমন অনেক আয়াত রয়েছে যেখানে আল্লাহ তাআলা জান্নাত ও তাঁর পুরস্কারের প্রতি আমাদের উৎসাহিত করেছেন।
আবার শাস্তি পুরস্কারের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। কেননা সব হৃদয়ে পুরস্কার বা উপদেশ কার্যকর হয় না, সেক্ষেত্রে আমরা লালন-পালনের সর্বশেষ মাধ্যম হিসেবে শাস্তির পথ বেছে নিই। এটি দৃষ্টিপাত থেকে শুরু করে ভালো কথা, এরপর কঠোর ও রূঢ় কথা, এমনকি কখনও প্রহার পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে। তবে সর্বোত্তম শাস্তি হলো পুরস্কার ও প্রতিদান থেকে বঞ্চিত রাখা।
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পুরস্কার ও শাস্তি উভয়ই বৈষয়িক ও মানসিক—উভয় প্রকার হতে পারে এবং উভয়েরই মনের ওপর প্রভাব রয়েছে। আমাদের জন্য এই সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিতটুকুই যথেষ্ট, বিস্তারিত আলোচনার জন্য ভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২২)
4 ـ أُسُس التربية في البيت المسلم:وفيما يلي عرض موجز لبعض الأسس والقواعد التي تقوم عليها التربية الإسلامية، و هي في الحقيقة من مقومات المنهج التربوي في الإسلام.
أ ـ التربية الخلقية:
إن التربية الخلقية من المثل السامية للتربية في الإسلام، وهي تعمل على تكوين رجال مهذبين ونساء مهذبات، ذوي نفوس أبية، وعزيمة صادقة، وأخلاق عالية، وعندما امتدح الله تعالى نبيه عليه الصلاة و السلام قال: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ} [القلم: 4]. وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق»
(1). و روي عنه أنه قال: «أدَّبني ربي فأحسن تأديبي»
(2).
والأخلاق يجب أن تكون قرين العلم، بل تاجه، لأن العلم إن لم يصحبه الخلق، كان وسيلة هدم وشر، وفي هذا يقول الشاعر:
لا تحسبنّ العلمَ ينفعُ وَحْدَه
… ما لم يُتَوَّجْ ربُّه بخَلاقِ
--------------------------------------------
৪ ـ মুসলিম পরিবারে লালন-পালনের ভিত্তি:নিম্নে ইসলামি লালন-পালনের (তরবিয়তের) কিছু ভিত্তি ও নিয়মের সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা করা হলো, যা মূলত ইসলামের শিক্ষা পদ্ধতির মৌলিক উপাদানসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
ক ـ চারিত্রিক লালন-পালন:
চারিত্রিক লালন-পালন ইসলামি শিক্ষার অন্যতম মহান আদর্শ। এটি মার্জিত পুরুষ ও নারী গঠন করতে কাজ করে, যারা হবে আত্মমর্যাদাশীল, সত্যনিষ্ঠ সংকল্পের অধিকারী এবং সুউচ্চ চরিত্রের অধিকারী। মহান আল্লাহ যখন তাঁর নবী (সা.)-এর প্রশংসা করেছেন, তখন তিনি বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত} [আল-কলম: ৪]। এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি কেবল চরিত্রের পূর্ণতা প্রদানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি»
(১)। এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «আমার রব আমাকে আদব শিখিয়েছেন এবং তিনি আমাকে সর্বোত্তম আদব শিক্ষা দিয়েছেন»
(২)।
চরিত্রকে অবশ্যই ইলমের (জ্ঞানের) সঙ্গী হতে হবে, বরং তা হতে হবে ইলমের মুকুট। কারণ, ইলমের সাথে যদি চরিত্র না থাকে, তবে তা ধ্বংস ও অনিষ্টের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। এ সম্পর্কে কবি বলেন:
জ্ঞান একাকী ফলদায়ক হবে—এমনটি কখনোই ভেবো না
… যতক্ষণ না তার অধিকারী চরিত্রের মুকুটে ভূষিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فلا بد إذن من شيء آخر بعد العلم والمعرفة، اسمه التهذيب والتربية الخلقية، فينبغي أن يكون دائمًا لوزارة المعارف رسالة مزدوجة، جامعة بين التربية والتعليم جميعًا
…ولهذا عدَّلت كثير من الدول اسم وزارة المعارف إلى وزارة التربية، لأن التربية لها المحل الأول من العناية، والتعليم وسيلة لا غاية، كما أن التربية تتضمن أيضًا العلم والمعرفة.
وقد عُنِي الإسلام بالتربية الخلقية منذ طفولة الناشئ حتى تتكون لديه العادات الحسنة منذ الصغر، إذ يشيب المرء على ما يشبُّ عليه.
والطفل كالنفس، إن تهمله شبَّ على
… حبِّ الرضاع وإن تفطمْه ينفطِم
ب ـ تربية الضمير الديني:
إن القرآن الكريم يقف بكل شخص من المسلمين أمام ثلاث محاكم أدبية؛ محكمة الضمير في قلوبنا، ومحكمة الرأي العام من حولنا، ومحكمة السماء من فوقنا، وفي هذا يقول الله تعالى: {وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ وَسَتُرَدُّونَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [التوبة: 105].
وقد هيَّأنا القرآن الكريم وأعدَّنا للوقوف أمام هذه المحاكم بأنواع ثلاثة من التربية لوجداننا: تربية الوجدان الخلقي، وتربية الوجدان الاجتماعي، وتربية الوجدان الأدبي.
সুতরাং জ্ঞান ও পরিচয়ের পর অন্য কিছু হওয়া অপরিহার্য, যার নাম হলো চরিত্র সংশোধন ও নৈতিক শিক্ষা। সুতরাং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বদা একটি দ্বিমুখী লক্ষ্য থাকা উচিত, যা শিক্ষা ও দীক্ষা উভয়কেই একত্রিত করবে
…এই কারণে অনেক রাষ্ট্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে শিক্ষা ও দীক্ষা মন্ত্রণালয় রেখেছে, কারণ দীক্ষা বা তারবিয়ত যত্ন ও গুরুত্বের ক্ষেত্রে প্রথম স্থানের অধিকারী, আর শিক্ষা বা তালীম হলো একটি মাধ্যম মাত্র, লক্ষ্য নয়; তদুপরি দীক্ষা বা তারবিয়ত জ্ঞান ও মারেফাতকেও অন্তর্ভুক্ত করে।
ইসলাম শৈশব থেকেই নৈতিক দীক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে যাতে ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে উত্তম অভ্যাসসমূহ গড়ে ওঠে। কেননা মানুষ যে অভ্যাসের ওপর বেড়ে ওঠে, সেটির ওপরই বার্ধক্যে উপনীত হয়।
আর শিশু হলো নফসের মতো; যদি তুমি তাকে অবহেলা করো তবে সে
… স্তন্যপানের আসক্তির ওপর বেড়ে উঠবে, আর যদি তার দুধ ছাড়িয়ে দাও তবে সে বিরত হবে।
খ — ধর্মীয় বিবেকের শিক্ষা:
পবিত্র কুরআন প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তিকে তিনটি নৈতিক আদালতের সামনে দাঁড় করায়; আমাদের অন্তরের বিবেকের আদালত, আমাদের চারপাশের জনমতের আদালত এবং আমাদের ওপরের আসমানের আদালত। এই বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর আপনি বলুন, তোমরা আমল করো, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও। আর অচিরেই তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতার নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে, তখন তিনি তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করবেন।" [আত-তাওবা: ১০৫]।
আর পবিত্র কুরআন আমাদের বিবেককে তিন প্রকারের দীক্ষার মাধ্যমে এই আদালতগুলোর সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত ও তৈরি করেছে: নৈতিক বিবেকের দীক্ষা, সামাজিক বিবেকের দীক্ষা এবং শিষ্টাচারমূলক বিবেকের দীক্ষা।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
جـ ـ بناء الشخصية السويَّة:
ومنهج الإسلام في بناء شخصية المسلم، يجعلها شخصية سوية، تتمتع بكل مظاهر الصحة النفسية وأركانها. فالإسلام إذا خالطت بشاشته القلوب: يشيع فيها الطمأنينة والثبات و الاتزان الانفعالي والعاطفي والعقلي، ويقيها من القلق و الخوف و الاضطرابات. كما يُعنى الإسلام بغرس أركان الصحة النفسية في المسلم منذ المراحل الأولى لحياته، ويوجهه إلى المرونة في مواجهة الواقع، والصبر عند البلاء، ويحثه على التعاون مع جماعة، المسلمين، ويحثه على القناعة والرضا والتفاؤل.
د ـ الإقناع وحرية الفكر:
يدعو الإسلام إلى توليد الرغبة والدافع، وتحري الإقناع، والحلم وسعة الصدر، وترك المجاهرة بالتوبيخ؛ ولذلك أمر أن تكون الدعوة بالحسنى والرفق، فقال الله تعالى: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} [النحل: 125].
كما احترم الإسلام الفكر وأعطاه الحرية في العمل، ولكنه أحاطه بضوابط كثيرة لئلا يضلّ، ومن هنا كانت حرية العقيدة، بمعنى عدم الإكراه على الدين بالنسبة لأهل الكتاب من اليهود و النصارى:
{لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ} [البقرة: 256].
গ— সুষম ব্যক্তিত্ব গঠন:
মুসলিম ব্যক্তিত্ব গঠনে ইসলামের কর্মপন্থা তাকে একটি সুষম ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের সকল বহিঃপ্রকাশ ও স্তম্ভসমূহ দ্বারা সমৃদ্ধ। সুতরাং ইসলামের মাধুর্য যখন হৃদয়ে মিশে যায়, তখন তা সেখানে প্রশান্তি, স্থিতি এবং আবেগীয়, অনুভূতিমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভারসাম্য ছড়িয়ে দেয় এবং তাকে উদ্বেগ, ভয় ও অস্থিরতা থেকে রক্ষা করে। তেমনিভাবে ইসলাম মুসলিমের জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তার মাঝে মানসিক স্বাস্থ্যের স্তম্ভগুলো গেঁথে দেওয়ার ব্যাপারে যত্নশীল হয় এবং তাকে বাস্তবতার মোকাবিলায় নমনীয়তা ও বিপদে ধৈর্যের দিকনির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি তাকে মুসলিম জামাতের সাথে সহযোগিতা এবং অল্পে তুষ্টি, সন্তুষ্টি ও আশাবাদের প্রতি উৎসাহিত করে।
ঘ— প্রণোদনা এবং চিন্তার স্বাধীনতা:
ইসলাম আকাঙ্ক্ষা ও প্রেষণা তৈরি, যুক্তিগ্রাহ্য উপস্থাপনা, ধৈর্য ও উদারতা এবং জনসম্মুখে তিরস্কার বর্জন করার আহ্বান জানায়; একারণেই দাওয়াত যেন উত্তম ও কোমল পন্থায় হয় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি তোমার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো} [আন-নাহল: ১২৫]।
একইভাবে ইসলাম চিন্তাশক্তিকে সম্মান করেছে এবং তাকে কর্মের স্বাধীনতা দিয়েছে, কিন্তু তা যেন পথভ্রষ্ট না হয় সেজন্য একে অনেক বিধিবিধান দ্বারা বেষ্টিত করেছে। এখান থেকেই এসেছে আকিদাগত স্বাধীনতা, যার অর্থ হলো আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও নাসারাদের ক্ষেত্রে দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই:
{দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; নিশ্চয়ই সত্য পথ ভ্রান্তি থেকে সুস্পষ্ট হয়েছে} [আল-বাকারাহ: ২৫৬]।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
هـ ـ النهي عن التقليد الأعمى:
يهاجم الإسلام التقليد، وينعى على المقلدين في كثير من آيات القرآن، ويسخر منهم ويجعلهم كالحيوانات التي لا إرادة لها ولا إدراك. قال الله تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا أَوَلَوْ كَانَ آبَاؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْئًا وَلَا يَهْتَدُونَ} [البقرة:170].
وقال الله تعالى: {وَمَثَلُ الَّذِينَ كَفَرُوا كَمَثَلِ الَّذِي يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَاءً وَنِدَاءً صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُونَ} [البقرة: 171].
وقال عليه الصلاة و السلام: «من تشبّه بقوم فهو منهم»
(1).
و ـ المساواة وتكافؤ الفُرَص:
ومن أسس التربية الإسلامية المساواة في الحقوق والواجبات. قال الله تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} [الحجرات: 13].
وقال عليه الصلاة والسلام: «لا فضل لعربي على أعجمي .. إلا بالتقوى»
(2).
--------------------------------------------
ঙ — অন্ধ অনুকরণের নিষেধাজ্ঞা:
ইসলাম অন্ধ অনুকরণের বিরোধিতা করে এবং কুরআনের বহু আয়াতে অন্ধ অনুকরণকারীদের নিন্দা জানায়, তাদের বিদ্রূপ করে এবং তাদের এমন প্রাণীর মতো সাব্যস্ত করে যাদের কোনো ইচ্ছা বা বোধশক্তি নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার অনুসরণ করো’, তারা বলে, ‘না, বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যে আদর্শের ওপর পেয়েছি তারই অনুসরণ করব।’ এমনকি তাদের পিতৃপুরুষরা যদি কিছুই না বুঝত এবং তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত না হতো, তবুও কি তারা তাই করবে?} [বাকারা: ১৭০]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আর যারা কুফরি করেছে তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে এমন কিছুকে ডাকছে যা আহ্বান ও চিৎকার ছাড়া আর কিছুই শোনে না। তারা বধির, বোবা ও অন্ধ; তাই তারা কিছুই বোঝে না।} [বাকারা: ১৭১]।
এবং তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত»
(১)।
চ — সাম্য ও সুযোগের সমতা:
ইসলামী শিক্ষার অন্যতম ভিত্তি হলো অধিকার ও কর্তব্যের ক্ষেত্রে সমতা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে এবং তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।} [হুজুরাত: ১৩]।
এবং তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক তিনি বলেছেন: «কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই... কেবল তাকওয়া ব্যতীত»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهذه المساواة لا تغفل عوامل الذكاء والاستعدادات والملكات الفطرية، واختلاف القدرات العامة والخاصة وأثر ذلك كله في النشاط العام وترقية الحياة.
ز ـ الدعوة إلى العمل:
إن القرآن الكريم يدعو إلى العمل الذي يجلب الخير للناس، ويؤدي إلى زيادة وتنمية الحصيلة الإنتاجية للأفراد والجماعات، ولذلك يجب أن توجه العناية إلى تدريب القوى البشرية للارتفاع بمستوى الحياة من جميع نواحيها. قال الله تعالى: {فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [الجمعة:10].
ح ـ الدعوة إلى العلم:
وليست الدعوة إلى العلم مقصورة على العلم الديني فحسب، ولكنها تتناول جميع العلوم والمعارف التي تساعد على النهوض بمستوى الحياة الاجتماعية والاقتصادية والعسكرية، وبذلك فتح الإسلام آفاقًا رحيبة أمام العقل الإنساني ودعاه إلى الفكر والنظر. والآيات والأحاديث في العلم و فضله والحث عليه، وفي النظر والفكر والتفكر والمطالبة بالدليل، كثيرة تعزُّ على الحصر، كقول الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قِيلَ لَكُمْ تَفَسَّحُوا فِي الْمَجَالِسِ فَافْسَحُوا يَفْسَحِ اللَّهُ لَكُمْ وَإِذَا قِيلَ انْشُزُوا فَانْشُزُوا يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} [المجادلة: 11].
আর এই সমতা মেধা, প্রস্তুতি ও সহজাত প্রতিভা এবং সাধারণ ও বিশেষ সক্ষমতার পার্থক্য এবং জনজীবন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে এ সবকিছুর প্রভাবকে উপেক্ষা করে না।
জ — কর্মের প্রতি আহ্বান:
নিশ্চয়ই পবিত্র কুরআন এমন কাজের প্রতি আহ্বান জানায় যা মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে এবং ব্যক্তি ও সমষ্টির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই জীবনের সর্বক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে মানবসম্পদকে প্রশিক্ষিত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো যাতে তোমরা সফলকাম হও।” [আল-জুমুআহ: ১০]।
হ — ইলম বা জ্ঞানের প্রতি আহ্বান:
আর ইলম বা জ্ঞানের প্রতি এই আহ্বান কেবল ধর্মীয় জ্ঞানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা এমন সব জ্ঞান ও বিজ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক জীবনের মানোন্নয়নে সহায়ক। এর মাধ্যমে ইসলাম মানুষের বিবেকের সামনে এক বিশাল দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং তাকে চিন্তা ও গবেষণার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে। জ্ঞান, এর মর্যাদা ও এর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং পর্যবেক্ষণ, চিন্তা, গবেষণা ও দলিল অনুসন্ধানের ব্যাপারে আয়াত ও হাদিসসমূহ সংখ্যায় এত অধিক যে তা গণনা করা দুঃসাধ্য। যেমন মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের বলা হয়, ‘মজলিসগুলোতে জায়গা প্রশস্ত করে দাও’, তখন তোমরা জায়গা করে দিও, আল্লাহ তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দেবেন। আর যখন বলা হয়, ‘উঠে দাঁড়াও’, তখন তোমরা উঠে দাঁড়িয়ে যেয়ো; তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের মর্যাদায় উন্নত করবেন। আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।” [আল-মুজাদালাহ: ১১]।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ط ـ الوسطية والاعتدال:
استمدت التربية الإسلامية روحها من روح الإسلام فكانت تربية وسطاً في النواحي المادية والروحية، أو الدنيوية والأخروية، فهي تدعو إلى الأخذ من كلٍّ منهما بنصيب. قال الله تعالى: {وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ} [القصص: 77].
ي ـ الرفق والحب:
يوجِّه الإسلام أتباعه إلى المعاملة بالرفق والحب، والبعد عن العنف بكل صوره، قال عليه الصلاة و السلام: «إن الرفق لا يكون في شيء إلا زانه ولا ينزع من شيء إلا شانه»
(1). وفي سيرة النبي عليه الصلاة و السلام، وفي سيرة أصحابه أمثلةٌ رائعة للتربية برفقٍ على أساس الحب والمودة.
ك ـ التكليف بالوسع:
يوجه الإسلام إلى أن تكون معاملتنا لمن نربيهم قائمة على سياسة واعية تقدر طبيعة المرحلة التي يمرون بها وما يتناسب مع قدراتهم وإمكاناتهم، فلا نكلفهم فوق ما يطيقون، مما يعجزون عن تنفيذه والالتزام به، قال الله تعالى: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286].
--------------------------------------------
ত – মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য:
ইসলামি শিক্ষা তার প্রাণশক্তি লাভ করেছে ইসলামের আদর্শ থেকে। ফলে এটি জাগতিক ও আধ্যাত্মিক কিংবা পার্থিব ও পরকালীন—উভয় দিক থেকেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা। এটি উভয় জগৎ থেকে নিজ নিজ অংশ গ্রহণের আহ্বান জানায়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তা দিয়ে পরকালীন আবাস অনুসন্ধান করো এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়ো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না" [আল-কাসাস: ৭৭]।
য – কোমলতা ও ভালোবাসা:
ইসলাম তার অনুসারীদের কোমলতা ও ভালোবাসার সাথে আচরণ করার এবং সব ধরনের সহিংসতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই কোমলতা কোনো জিনিসে থাকলে তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে, আর কোনো জিনিস থেকে তা ছিনিয়ে নেওয়া হলে তাকে কলঙ্কিত করে"
(১)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী এবং তাঁর সাহাবীগণের জীবনীতে ভালোবাসা ও মমতার ভিত্তিতে কোমলতাপূর্ণ শিক্ষার চমৎকার সব উদাহরণ রয়েছে।
ক – সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব অর্পণ:
ইসলাম আমাদের নির্দেশ দেয় যেন আমরা যাদের লালন-পালন বা শিক্ষিত করছি, তাদের সাথে আমাদের আচরণ এমন একটি সচেতন নীতির ওপর ভিত্তি করে হয়, যা তাদের অতিক্রম করা স্তরের প্রকৃতি এবং তাদের সামর্থ্য ও যোগ্যতার প্রতি লক্ষ্য রাখে। সুতরাং আমরা তাদের ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেব না যা তাদের সাধ্যের বাইরে, এবং যা বাস্তবায়ন বা পালন করতে তারা অক্ষম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না" [আল-বাকারা: ২৮৬]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
هذه لمحات عن بعض أسس التربية في الإسلام، نكتفي بها في هذا المقام، تاركين التفصيل والتوسع للمراجع المختصة بالتربية الإسلامية.
وفي ختام هذه الفقرة: من الواجب أن نؤكد على توجيه الأبناء توجيهاً سليماً واضحاً، والابتعاد عن السطحية والضحالة في تقديم الأفكار الدينية لهم وتعليمهم إياها؛ إذ يجب أن نوسِّع ثقافتهم من الناحية الدينية حتى ننهض بمستواهم الروحي، ونرى أثر هذه الثقافة في أخلاقهم وسلوكهم.
والذي ينبغي تأكيده من أجل أن تقوم الأسرة بدورها في تربية الأبناء: هو أن نسعى لتوفير البيئة النظيفة الصالحة كي تتضافر العوامل كلها على عملية البناء، ولذلك فإن كل من بيده الأمر ــ قدرة وعلمًا وسلطاناً ــ يجب عليه أن يقف في وجه وسائل الإعلام الهدّامة التي تدعو إلى الخنا والفجور والرذيلة، لأنها أسرع فتكًا و أعون على الهدم من غيرها. وهنا تأتي أهمية المحاضن النظيفة المؤثرة كالمراكز الشبابية و المراكز الصيفية والنوادي العلمية و الاجتماعية.
وهذا هو الطريق السوي السليم ــ فيما أحسب ــ في توجيه الأبناء دينيًا واجتماعيًا وخلقيًا، بحيث نبعث في نفوسهم السكينة والاطمئنان، والثقة بالنفس، مع القناعة العقلية والوجدانية، والمباعدة بينهم وبين الغرور، وبهذا نحفظهم من رياح الإلحاد والاستهتار
এগুলো হলো ইসলামে শিক্ষার কিছু মূলনীতির সংক্ষিপ্ত আভাস, এই স্থানে আমরা এটুকুতেই ক্ষান্ত হচ্ছি, আর বিস্তারিত ও বিশদ আলোচনাকে ইসলামি শিক্ষা বিষয়ক বিশেষায়িত কিতাবসমূহের জন্য রেখে দিচ্ছি।
এই অনুচ্ছেদের শেষে: সন্তানদেরকে সঠিক ও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া আবশ্যক, এবং তাদের কাছে ধর্মীয় চিন্তাধারা উপস্থাপন ও তা শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাসাভাসা ও অগভীর জ্ঞান থেকে দূরে থাকা জরুরি; কেননা ধর্মীয় দিক থেকে আমাদের তাদের সংস্কৃতির পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে যাতে আমরা তাদের আধ্যাত্মিক মান উন্নত করতে পারি এবং তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আচরণের ওপর এই সংস্কৃতির প্রভাব দেখতে পাই।
সন্তানদের লালন-পালনের ক্ষেত্রে পরিবার যেন তার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে সেজন্য যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন তা হলো: একটি পরিচ্ছন্ন ও নেক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা যাতে সকল উপাদান এই গঠন প্রক্রিয়ায় সম্মিলিতভাবে কাজ করে। তাই যার হাতেই কর্তৃত্ব রয়েছে—ক্ষমতা, জ্ঞান বা প্রভাব-প্রতিপত্তি যা-ই হোক—তার উচিত সেই ধ্বংসাত্মক প্রচারমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যা অশ্লীলতা, পাপাচার ও নীচতার দিকে আহ্বান করে; কারণ এগুলো অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে দ্রুত বিনাশকারী এবং ধ্বংসের কাজে অধিক সহায়ক। আর এখানেই যুব কেন্দ্র, গ্রীষ্মকালীন কেন্দ্র এবং বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক ক্লাবগুলোর মতো পরিচ্ছন্ন ও প্রভাবশালী লালনকেন্দ্রগুলোর গুরুত্ব প্রকাশ পায়।
আর আমার মতে এটিই হলো সন্তানদের ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিকভাবে দিকনির্দেশনা দেওয়ার সঠিক ও নির্ভুল পথ, যার মাধ্যমে আমরা তাদের অন্তরে প্রশান্তি, স্থিরতা এবং আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করতে পারি, সাথে সাথে বুদ্ধিভিত্তিক ও আবেগীয় তুষ্টি নিশ্চিত করতে পারি এবং তাদের ও অহংকারের মাঝে দূরত্ব বজায় রাখতে পারি। এভাবেই আমরা তাদেরকে নাস্তিক্যবাদ ও অবজ্ঞার হাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারব।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والانحلال، ونؤهلهم للقيام بالدور الذي تنتظره منهم أمتهم ومجتمعهم. والله غالب على أمره، ولكن أكثر الناس لا يعلمون.
5 ـ أهم الكتب في أحكام الأولاد وتربيتهم:حفلت المكتبة الإسلامية بجملة وافرة من كتب التراث الإسلامي في أحكام الصبيان وتربية الأبناء وما يتصل بذلك من المباحث التي عرض لها المصنف ــ رحمه الله ــ كالختان والعقيقة وثواب الصبر على فقد الأولاد من البنين والبنات. وفيما يلي طائفة من هذه الكتب ملتقطة من «معجم الموضوعات المطروقة في التأليف الإسلامي»، ومن «كشف الظنون» و ذيله: «إيضاح المكنون»، مما يجعلني أكتفي بهذه الإشارة إليهما دون إكثار من الحواشي والإحالات عند كل كتاب منها. ومن هذه الكتب:
- الاحتفال بالأطفال، للشيخ جلال الدين عبدالرحمن بن أبي بکر السيوطي، المتوفي سنة (911 هـ)، وهي رسالة أوردها بتمامها في «الحاوي للفتاوى». وهو مطبوع.
- أخبار الصبيان، لمحمد بن مخلد بن حفص العطار الدوري المتوفي سنة (331 هـ).
- ارتياح الأکباد بأرباح فَقْد الأولاد، للشيخ شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي المتوفى سنة (902 هـ).
- الإرشاد إلي حکم موت الأولاد، لجمال الدين يوسف بن حسن ابن أحمد المعروف بابن عبدالهادي المتوفي سنة (909 هـ).
এবং বিচ্যুতি, এবং আমরা তাদেরকে সেই ভূমিকা পালনের যোগ্য করে তুলছি যা তাদের উম্মাহ ও সমাজ তাদের কাছে প্রত্যাশা করে। আর আল্লাহ তাঁর কাজের ওপর প্রবল, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।
৫ — সন্তানদের বিধিবিধান ও তাদের লালন-পালন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলি:ইসলামি লাইব্রেরি শিশুদের বিধিবিধান, সন্তানদের লালন-পালন এবং এ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট আলোচনা—যা লেখক (রহিমাহুল্লাহ) উপস্থাপন করেছেন—যেমন খতনা, আকিকা এবং ছেলে ও মেয়ে সন্তান হারানোর ফলে ধৈর্যের সওয়াব বিষয়ে ইসলামি ঐতিহ্যের বিপুল সংখ্যক গ্রন্থে সমৃদ্ধ। নিচে এ জাতীয় গ্রন্থাবলির একটি তালিকা দেওয়া হলো যা 'মু’জামুল মাওদুআত আল-মাতরুকা ফিত তালিফ আল-ইসলামি', 'কাশফুজ জুনুন' এবং এর পরিশিষ্ট 'ইদাহুল মাকনুন' থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি বইয়ের ক্ষেত্রে প্রচুর টীকা ও উদ্ধৃতি না দিয়ে আমি কেবল এগুলোর উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করছি। সে সব বইয়ের মধ্যে রয়েছে:
- আল-ইহতিফাল বিল-আতফাল, শেখ জালালুদ্দিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর আস-সুয়ুতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) রচিত। এটি একটি পুস্তিকা যা তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে 'আল-হাউয়ি লিল-ফাতাওয়া' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এটি মুদ্রিত।
- আখবারুস সিবইয়ান, মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বিন হাফস আল-আত্তার আদ-দুরি (মৃত্যু ৩৩১ হিজরি) রচিত।
- ইরতিয়াহুল আকবাদ বি আরবাহি ফাকদিল আওলাদ, শেখ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আস-সাখাবি (মৃত্যু ৯০২ হিজরি) রচিত।
- আল-ইরশাদ ইলা হুকমি মাউতিল আওলাদ, জামালুদ্দিন ইউসুফ বিন হাসান ইবনে আহমদ—যিনি ইবনে আবদুল হাদি নামে পরিচিত—(মৃত্যু ৯০৯ হিজরি) রচিত।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
- أسني المقاصد في معرفة حقوق الولد علي الوالد، لزين الدين برکات بن أحمد بن محمد بن يوسف الدمشقي معروف بابن الکيّال المتوفي سنة (929 هـ).
- برد الأکباد عند فقد الأولاد، للحافظ شمس الدين محمد بن ناصر الدين الدمشقي المتوفي سنة (842 هـ). مطبوع.
- البرهان في أصح أقوال الختان، لأبي المواهب البكري.
- البستان في مسألة الختان، لمحمد بن عبد الرحمن السخاوي المتوفى سنة (902 هـ).
- تبريد حرارة الأکباد في الصبر علي فقد الاولاد، لکمال الدين أبي حفص عمر بن أحمد بن العديم الحلبي المتوفي سنة (660 هـ).
- تبيين الامتنان بالأمر بالاختتان، لأبي القاسم علي بن الحسن بن هبة الله بن عساكر الدمشقي، المتوفى سنة (571 هـ).
- تحرير المقال في آداب وأحکام مؤدبي الأطفال، لشهاب الدين أحمد بن محمد بن محمد بن علي بن حجر الهيتمي المکي الشافعي المتوفي سنة (974 هـ). و هو مطبوع.
- تحفة أهل الإحسان لفضائل سنة الختان، لأبي عبد الله محمد بن محمد بن يوسف.
- تحفة الصبيان، لمحمد توفيق بن شيخ عثمان بن الشيخ مصطفي الأنقروي المتوفي (1319 هـ).
- আসনা আল-মাকাসিদ ফি মা'রিফাতি হুকুকিল ওয়ালাদি আলাল ওয়ালিদ, জয়নুদ্দিন বারাকাত ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আদ-দিমাশকি রচিত, যিনি ইবনুল কাইয়াল নামে পরিচিত, মৃত্যু (৯২৯ হিজরি)।
- বারদুল আকবাদ ইনদা ফাকদিল আওলাদ, হাফেজ শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ ইবনে নাসিরুদ্দিন আদ-দিমাশকি রচিত, মৃত্যু (৮৪২ হিজরি)। এটি মুদ্রিত।
- আল-বুরহান ফি আসাহহি আকওয়ালিল খিতান, আবু আল-মাওয়াহিব আল-বাকরি রচিত।
- আল-বুস্তান ফি মাসআলাতিল খিতান, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান আস-সাখাবি রচিত, মৃত্যু (৯০২ হিজরি)।
- তাবরিদ হারারাতিল আকবাদ ফিস সাবরি আলা ফাকদিল আওলাদ, কামালুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবনে আহমাদ ইবনুল আদিম আল-হালাবি রচিত, মৃত্যু (৬৬০ হিজরি)।
- তাবয়ীনুল ইমতিনান বিল আমরি বিল ইখতিতান, আবু আল-কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকির আদ-দিমাশকি রচিত, মৃত্যু (৫৭১ হিজরি)।
- তাহরিরুল মাকাল ফি আদাবি ওয়া আহকামি মুয়াদ্দিবিল আতফাল, শিহাবুদ্দিন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-হাইতামি আল-মাক্কি আশ-শাফিঈ রচিত, মৃত্যু (৯৭৪ হিজরি)। এটি মুদ্রিত।
- তুহফাতু আহলিল ইহসান লি ফাদাইলি সুন্নাতিল খিতান, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ রচিত।
- তুহফাতুস সিবইয়ান, মুহাম্মাদ তাওফিক ইবনে শায়খ উসমান ইবনে শায়খ মুস্তফা আল-আনকারাভি রচিত, মৃত্যু (১৩১৯ হিজরি)।
(খণ্ড: ১)
তুহফাতুল মাওদুদ বি-আহকামিল মাওলুদ - ত আতাআতিল ইলম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
- تسلية الحزين في موت البنين، لشهاب الدين أحمد بن يحيي بن حجلة (التلمساني الحنفي) المتوفي سنة (776 هـ).
- التعريف والتبيين في ثواب فقد البنين، لکمال الدين محمد بن يحيي الهمداني المصري الشافعي.
- التغلغل والإطفا لنارٍ لاتُطْفا، في موت الأطفال، لجلال الدين عبدالرحمن بن أبي بکر السيوطي المتوفي (911 هـ).
- التلقين لأولاد المؤمنين، لأبي الفتح محمد بن علي بن عثمان الکراجکي نزيل الرملة المتوفي سنة (449 هـ).
- تنبيه الغبي علي حکم کفالة الصبي، لأحمد بن سيد محمد مکي الحسيني الحموي شهاب الدين المصري المتوفي (1098 هـ).
- ثواب المصاب بالولد، للحافظ أبي القاسم علي ابن عساکر الدمشقي، المتوفي سنة (571 هـ).
- جامع أحكام الصغار لمحمد بن محمود بن الحسين الأسروشني الحنفي، المتوفى سنة (632 هـ). وهو مطبوع بالقاهرة.
- الحرز المعدّ لمن فَقَد الولد، لتاج الدين السعدي عبد الغفار بن محمد المتوفى سنة (722 هـ).
- رشف الحقيقة في كشف العقيقة، لمستقيم زاده الرومي.
- سلوان الجلد عند فقدان الولد، لسليمان بن خلف المصري المتوفى سنة (614 هـ).
- সন্তানদের মৃত্যুতে শোকার্তের সান্ত্বনা, শিহাবুদ্দীন আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন হাজলা (আল-তিলিমসানি আল-হানাফি), মৃত্যু বছর (৭৭৬ হি.)।
- সন্তান হারানোর সওয়াব সংক্রান্ত পরিচয় ও বর্ণনা, কামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-হামদানি আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি।
- শিশুদের মৃত্যুতে অনির্বাণ আগুন প্রশমন ও তাতে প্রবেশ, জালালুদ্দীন আবদুর রহমান বিন আবু বকর আস-সুয়ুতি, মৃত্যু (৯১১ হি.)।
- মুমিনদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা (তালকিন), আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আলি বিন উসমান আল-কারাজাকি, রামলার অধিবাসী, মৃত্যু বছর (৪৪৯ হি.)।
- শিশুর লালন-পালনের বিধান সম্পর্কে নির্বোধের সতর্কীকরণ, আহমদ বিন সাইয়্যেদ মুহাম্মদ মক্কি আল-হুসাইনি আল-হামাউয়ি শিহাবুদ্দীন আল-মিসরি, মৃত্যু (১০৯৮ হি.)।
- সন্তান শোকে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতিদান, হাফেজ আবুল কাসিম আলি ইবন আসাকির আদ-দামেশকি, মৃত্যু বছর (৫৭১ হি.)।
- শিশুদের বিধানাবলির সংকলন, মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন আল-হুসাইন আল-উশরুশানি আল-হানাফি, মৃত্যু বছর (৬৩২ হি.)। এটি কায়রোতে মুদ্রিত।
- সন্তান হারানো ব্যক্তির জন্য প্রস্তুতকৃত রক্ষাকবচ, তাজউদ্দীন আস-সাদি আবদুল গাফফার বিন মুহাম্মদ, মৃত্যু বছর (৭২২ হি.)।
- আকিকার রহস্য উন্মোচনে সত্যের আস্বাদন, মুস্তাকিম জাদেহ আর-রুমি।
- সন্তান বিয়োগে ধৈর্যশীলের সান্ত্বনা, সুলাইমান বিন খালাফ আল-মিসরি, মৃত্যু বছর (৬১৪ হি.)।