(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: -)
صفات الله عز وجل الواردة في الكتاب والسنة القسم: العقيدة
الكتاب : صفات الله عز وجل الواردة في الكتاب والسنة
المؤلف : علوي بن عبد القادر السَّقَّاف
الناشر : الدرر السنية - دار الهجرة
الطبعة : الثالثة ، 1426 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 392
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع ]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত মহান আল্লাহর গুণাবলি বিভাগ: আক্বীদা
কিতাব : কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত মহান আল্লাহর গুণাবলি
লেখক : আলাভী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ
প্রকাশক : আদ-দুরারুস সুন্নিয়্যাহ - দারুল হিজরাহ
সংস্করণ : তৃতীয় , ১৪২৬ হিজরী - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[صفات الله عز وجل الواردة في الكتاب والسنة]ـ
المؤلف: علوي بن عبد القادر السَّقَّاف
الناشر: الدرر السنية - دار الهجرة
الطبعة: الثالثة، 1426 هـ - 2006 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
--------------------------------------------
ـ[কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত মহান আল্লাহর গুণাবলি]ـ
লেখক: আলবী বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ
প্রকাশক: আদ-দোরার আস-সানিয়্যাহ - দারুল হিজরাহ
সংস্করণ: তৃতীয় সংস্করণ, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ডের সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা যুক্ত রয়েছে]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمة الطبعة الثانية((الحَمْدُ للهِ ربِّ العالمينَ، والعاقبةُ للمتقينَ، ولا عدوانَ إلا على الظالمينَ، وأشهدُ ألَاّ إله إلا اللهُ وحده لا شريك له، الموصوفُ بصفاتِ الجلالِ، المنعوتُ بنعوتِ الكمالِ، المنَزَّهُ عمَّا يضادُّ كمالِه من سلبِ حقائقِ أسمائِهِ وصفاتِهِ، المستلزمِ لوصْفِه بالنقائصِ وشَبَهِ المخلوقين، فنفْيُ حقائقِ أسمائِهِ متضمنٌ للتعطيلِ والتشبيهِ، وإثباتُ حقائقِها على وجهِ الكمالِ الذي لا يستحقه سواه هو حقيقةُ التوحيدِ والتنزيه، فالمعطِّلُ جاحدٌ لكمالِ المعبودِ، والممثِّلُ مشَبِّهٌ له بالعبيدِ، والموحِّدُ مبينٌ لحقائقِ أسمائِهِ وكمالِ أوصافِهِ، وذلك قطبُ رحى التوحيدِ، فالمعطِّلُ يعبدُ عَدَمَاً، والممثلُ يعبدُ صنماً، والموحِّدُ يعبدُ رباً ليس كمثلِهِ شيءٌ، له الأسماء الحسنى، والصفاتُ العلى، وَسِعَ كلَّ شيءٍ رحمةً وعلماً، وأشهد أنَّ محمداً عبدُه ورسولُه، وأمينُه على وحيه، وخيرتُه من خلقه، وحجتُه على عبادِه، فهو رحمتُهُ المهداةُ إلى العالمين، ونعمتُه التي أتمَّها على أتباعه من المؤمنين)) (1)
--------------------------------------------
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা((সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য, এবং যালিমরা ব্যতীত আর কারও প্রতি শত্রুতা নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি মহিমাপূর্ণ গুণাবলীতে গুণান্বিত এবং পূর্ণতার বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত। তিনি তাঁর পূর্ণতার পরিপন্থী সকল বিষয় হতে পবিত্র—যেমন তাঁর নাম ও গুণাবলীর হাকীকত বা প্রকৃত অর্থ অস্বীকার করা, যা তাঁকে ত্রুটিপূর্ণ বিশেষণে বিশেষিত করা এবং সৃষ্টির সাদৃশ্য প্রদানের নামান্তর। কারণ তাঁর নামসমূহের হাকীকত বা বাস্তবতাকে অস্বীকার করা মূলত 'তাতীল' (গুণহীন করা) এবং 'তাশবীহ' (সাদৃশ্য প্রদান)-কে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তাঁর নাম ও গুণাবলীর হাকীকতকে এমন পূর্ণতার সাথে সাব্যস্ত করা, যার যোগ্য তিনি ছাড়া আর কেউ নন—এটাই হলো তাওহীদ ও তানযীহ-এর মূল হাকীকত। অতএব 'মুআত্তিল' (আল্লাহর গুণাবলী অস্বীকারকারী) মা’বূদের পূর্ণতাকে অস্বীকারকারী, আর 'মুমাসসিল' (সাদৃশ্য প্রদানকারী) তাঁকে তাঁর বান্দাদের সাথে সাদৃশ্য প্রদানকারী। পক্ষান্তরে 'মুয়াহহিদ' (তাওহীদপন্থী) আল্লাহর নামসমূহের হাকীকত এবং তাঁর গুণাবলীর পূর্ণতাকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন; আর এটাই হলো তাওহীদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। সুতরাং 'মুআত্তিল' এক অনস্তিত্ব বা শূন্যতার ইবাদত করে, আর 'মুমাসসিল' ইবাদত করে এক মূর্তির। আর 'মুয়াহহিদ' ইবাদত করেন এমন এক রবের, যাঁর সদৃশ কিছুই নেই, যাঁর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলী; যিনি তাঁর রহমত ও ইলম দ্বারা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম এবং তাঁর বান্দাদের উপর তাঁর অকাট্য দলীল। তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি প্রেরিত উপহারস্বরূপ রহমত এবং তাঁর সেই নিয়ামত যা তিনি তাঁর অনুসারী মুমিনদের উপর পূর্ণ করেছেন।)) (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أمَّا بعد:
[[فهذه هي الطبعة الثانية من كتاب ((صِفَاتِ اللهِ عز وجل الْوَارِدَةِ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ)) بعد مرور سبع سنوات على الطبعة الأولى، استدركت فيها بعض الجمل والكلمات، وأضفت عدداً من الأدلة لبعض الصفات، كما أضفت عدداً من الصفات وهي: استطابة الروائح، الإِيجاب والتحليل والتحريم، البَطْش، التَّجَلِّي، التَّدَلِّي، التشريع، الدِّلالة أو الدَّلِيل، الدَّيَّان، العَمَل والفِعْل، القرآن، الهُبُوط، الوَصْل والقَطْع.
أمَّا أسماء الله الحسنى فقد أضفت ثلاثة أسماء ترجَّح لي بالدليل أنها من أسماء الله عز وجل وهي: الدَّيَّان والمقيت والهادي، وتوقفت في اسمين فلم أُوردهما في هذه الطبعة وهما: العالم والوارث.
وأخيراً فإني أشكر الله عز وجل الذي تَمَّمَ هذا الكتاب وأعان عليه، ثم أشكر كلَّ الأخوة الذين قاموا بمقابلة هذه الطبعة بسابقتها، فمن لم يشكر الناس لم يشكرِ الله.]] (*)
والله أعلم وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم
كتبه
أبو محمد
علوي بن عبد القادر السَّقَّاف
البريد الإلكتروني
aasaggaf@hotmail.com
--------------------------------------------
অতঃপর:
[[এটি হলো 'কিতাব ও সুন্নাহে বর্ণিত মহান আল্লাহর গুণাবলি' নামক গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ। প্রথম সংস্করণের সাত বছর পর এটি প্রকাশিত হলো। এতে আমি কিছু বাক্য ও শব্দ সংশোধন করেছি এবং কিছু গুণের পক্ষে বেশ কিছু দলিল যোগ করেছি। এছাড়াও আমি নতুন কিছু গুণ যোগ করেছি, যেগুলো হলো: সুগন্ধ গ্রহণ করা, ওয়াজিব করা, হালাল ও হারাম করা, কঠোরভাবে পাকড়াও করা, জ্যোতি প্রকাশ করা (তাজাল্লি), নিচে নামা (তাদাল্লি), বিধান প্রণয়ন করা, পথপ্রদর্শন বা দলিল হওয়া, বিচারক (আদ-দাইয়ান), কাজ ও কর্ম, কুরআন, অবতরণ করা এবং যুক্ত করা ও বিচ্ছিন্ন করা।
মহান আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে আমি তিনটি নাম যোগ করেছি যা দলিলের ভিত্তিতে আমার নিকট মহান আল্লাহর নাম হিসেবে অগ্রগণ্য সাব্যস্ত হয়েছে, সেগুলো হলো: আদ-দাইয়ান, আল-মুকিত এবং আল-হাদি। আর আমি দুটি নামের ব্যাপারে বিরত থেকেছি, ফলে এই সংস্করণে সেগুলো উল্লেখ করিনি; নাম দুটি হলো: আল-আলিম এবং আল-ওয়ারিস।
পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি যিনি এই গ্রন্থটি সম্পন্ন করার সামর্থ্য ও সাহায্য দান করেছেন। অতঃপর আমি সেই সকল ভাইদের ধন্যবাদ জানাই যারা এই সংস্করণটিকে পূর্ববর্তী সংস্করণের সাথে মিলিয়ে দেখার কাজ করেছেন। কেননা, যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।]] (*)
আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
আবু মুহাম্মদ
আলউয়ি বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ
ইমেইল
aasaggaf@hotmail.com
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمة الطبعة الأولىإنَّ الحمدَ للهِ نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذُ بالله من شُرور أنفسنا وسيئاتِ أعمالنا، مَن يهدهِ الله فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضلل فلا هاديَ له، وأشهدُ ألَاّ إله إلَاّ الله وحده لا شريك له وأشهد أنَّ محمَّداً عبدُه ورسولُه؛
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إلا وأنْتُمْ مُسْلمُون} [آل عمران: 102] .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيماً} [الأحزاب: 70 -71] .
أما بعد؛ فإنَّ خيرَ الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
اعلم - رحمني الله وإياك - أن النبي صلى الله عليه وسلم أمرنا أن
প্রথম সংস্করণের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল;
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আল-ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি প্রাণ হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা হতে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় হতে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাঞ্চা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সদা পর্যবেক্ষণকারী} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো - তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} [আল-আহযাব: ৭০-৭১]।
অতঃপর; নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
জেনে রাখুন - আল্লাহ আমার ও আপনার ওপর রহম করুন - নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
نسأل الله علماً نافعاً، ونتعوذ به من علم لا ينفع، فقال فيما رواه عنه جابر بن عبد الله رضي الله عنه: ((سلوا الله علماً نافعاً، وتعوذوا بالله من علم لا ينفع)) (1) وكان صلى الله عليه وسلم يعلمنا ذلك، فيقول: ((اللهم إني أعوذ بك من علم لا ينفع، ومن قلب لا يخشع، ومن نفس لا تشبع، ومن دعوة لا يستجاب لها)) (2) .
واعلم أن أنفع العلوم علم التوحيد، ومنه علم الأسماء والصفات، وذلك لأن ((شرف العلم بشرف المعلوم، والباري أشرف المعلومات؛ فالعلم بأسمائه (وصفاته) أشرف العلوم)) (3) .
و ((العلم النافع ما عرَّف العبدَ بربه، ودلَّه عليه حتى عرفه ووحَّده وأنس به واستحى من قربه وعَبَده كأنه يراه)) (4) .
((فأصل العلم بالله الذي يوجب خشيته ومحبته والقرب منه والأنس به والشوق إليه، ثم يتلوه العلم بأحكام الله، وما يحبه ويرضاه من العبد من
--------------------------------------------
আমরা আল্লাহর নিকট উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করছি এবং এমন জ্ঞান থেকে তাঁর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি যা কোনো উপকারে আসে না। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: ((তোমরা আল্লাহর নিকট উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করো এবং অপকারী জ্ঞান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও)) (১)। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের তা শেখাতেন এবং বলতেন: ((হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এমন জ্ঞান থেকে আশ্রয় চাই যা কোনো উপকারে আসে না, এমন অন্তর থেকে যা ভীত হয় না, এমন নফস থেকে যা তৃপ্ত হয় না এবং এমন দুআ থেকে যা কবুল করা হয় না)) (২)।
জেনে রাখুন যে, সবচেয়ে উপকারী জ্ঞান হলো তাওহীদের জ্ঞান, যার অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর জ্ঞান। এর কারণ হলো, ((জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে যার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হচ্ছে তার মর্যাদার ওপর, আর স্রষ্টা (বারী) হলেন সকল জ্ঞাত বিষয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম; সুতরাং তাঁর নামসমূহ (ও গুণাবলী) সম্পর্কিত জ্ঞানই হলো শ্রেষ্ঠতম জ্ঞান)) (৩)।
আর ((উপকারী জ্ঞান হলো যা বান্দাকে তার রবের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং তাঁর দিকে পথ প্রদর্শন করে, যতক্ষণ না সে তাঁকে চিনতে পারে, তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করে, তাঁর সান্নিধ্যে প্রশান্তি লাভ করে, তাঁর নৈকট্যের কারণে লজ্জাবোধ করে এবং এমনভাবে তাঁর ইবাদত করে যেন সে তাঁকে দেখছে)) (৪)।
((সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞানের মূল হলো তা-ই যা তাঁর ভয়, মহব্বত, নৈকট্য লাভ, তাঁর প্রতি প্রশান্তি এবং তাঁর প্রতি ব্যাকুলতাকে আবশ্যক করে দেয়। এরপর আসে আল্লাহর বিধানাবলী (আহকাম) এবং বান্দার পক্ষ থেকে তিনি যা পছন্দ করেন ও যাতে সন্তুষ্ট হন সেই সম্পর্কিত জ্ঞান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
قول أو عمل أو حال أو اعتقاد، فمن تحقق بهذين العلمين كان علمه نافعاً، وحصل له العلم النافع والقلب الخاشع والنفس القانعة والدعاء المسموع، ومن فاته هذا العلم النافع، وقع في الأربع التي استعاذ منها النبي صلى الله عليه وسلم، وصار علمه وبالاً وحجة عليه، فلم ينتفع به؛ لأنه لم يخشع قلبه لربه، ولم تشبع نفسه من الدنيا، بل ازداد عليها حرصاً ولها طلباً ولم يُسمع دعاؤه؛ لعدم امتثاله لأوامر ربه وعدم اجتنابه لما يسخطه ويكرهه، هذا إن كان علمه علماً يمكن الانتفاع به، وهو المتلقي عن الكتاب والسنة، فإن كان متلقي عن غير ذلك؛ فهو غير نافع في نفسه، ولا يمكن الانتفاع به، بل ضره أكثر من نفعه)) (1)
و ((العلم النافع يدل على أمرين:
أحدهما: على معرفة الله وما يستحقه من الأسماء الحسنى والصفات العلى والأفعال الباهرة، وذلك يستلزم إجلاله وإعظامه وخشيته ومهابته ومحبته ورجاءه والتوكل عليه والرضا بقضائه والصبر على بلائه.
والأمر الثاني: المعرفة بما يحبه ويرضاه، وما يكرهه ويسخطه من الاعتقادات والأعمال الظاهرة والباطنة والأقوال.
--------------------------------------------
কথা বা কাজ বা অবস্থা বা বিশ্বাস, যে ব্যক্তি এই দুই প্রকার জ্ঞানের মাধ্যমে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে, তার জ্ঞান হবে উপকারী। আর সে অর্জন করবে উপকারী জ্ঞান, বিনম্র অন্তর, পরিতৃপ্ত নফস এবং কবুলযোগ্য দোয়া। আর যার এই উপকারী জ্ঞান অর্জিত হলো না, সে সেই চারটি বিষয়ের মধ্যে পতিত হলো যা থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। ফলে তার জ্ঞান তার জন্য বোঝা ও তার বিরুদ্ধে দলিল হয়ে দাঁড়াল, সে তা থেকে উপকৃত হতে পারল না; কারণ তার অন্তর তার রবের জন্য বিনম্র হয়নি, দুনিয়া থেকে তার নফস তৃপ্ত হয়নি, বরং দুনিয়ার প্রতি তার লোভ ও অন্বেষণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তার দোয়া শোনা হয়নি; কেননা সে তার রবের আদেশসমূহ পালন করেনি এবং তাঁর অসন্তুষ্টি ও অপছন্দনীয় বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকেনি। এটি তো তখন যখন তার জ্ঞান এমন হয় যা থেকে উপকার লাভ সম্ভব, আর তা হলো কিতাব ও সুন্নাহ থেকে আহরিত জ্ঞান। কিন্তু যদি তা এছাড়া অন্য উৎস থেকে আহরিত হয়, তবে তা সত্তাগতভাবেই অনুপকারী এবং তা থেকে উপকার লাভ করা সম্ভব নয়, বরং তার ক্ষতির দিকটিই উপকারের চেয়ে বেশি।)) (১)
এবং ((উপকারী জ্ঞান দুটি বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে:
প্রথমত: আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহ, সুউচ্চ গুণাবলি ও বিস্ময়কর কার্যাবলির মধ্যে যা তাঁর প্রাপ্য তা জানা। আর এটি তাঁকে শ্রদ্ধা করা, মহিমান্বিত করা, ভয় করা, তাঁর প্রতাপ অনুভব করা, তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর কাছে আশা রাখা, তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা এবং তাঁর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা ও তাঁর বিপদে ধৈর্য ধারণ করার দাবি রাখে।
দ্বিতীয়ত: আকিদা-বিশ্বাস, প্রকাশ্য ও গোপন আমল এবং কথাবার্তার মধ্যে যা কিছু তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন এবং যা কিছু তিনি অপছন্দ করেন ও যাতে তিনি অসন্তুষ্ট হন, সে সম্পর্কে অবগত হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فيوجب ذلك لمن علمه المسارعة إلى ما فيه محبة الله ورضاه والتباعد عما يكرهه ويسخطه، فإذا أثمر العلم لصاحبه هذا؛ فهو علم نافع، فمتى كان العلم نافعاً، ووقر في القلب؛ فقد خشع القلب لله، وانكسر له وذل هيبة وإجلالاً وخشية ومحبة وتعظيماً، ومتى خشع القلب لله وذل وانكسر له؛ قنعت النفس بيسير الحال من الدنيا، وشبعت به، فأوجب لها ذلك القناعة والزهد في الدنيا، وكل ما هو فان لا يبقى، من المال والجاه وفضول العيش الذي ينقص به حظ صاحبه عند الله من نعيم الآخرة وإن كان كريماً على الله)) (1)
ولذلك قال ابن القيم:
((إن أولى ما يتنافس به المتنافسون، وأحرى ما يتسابق في حَلْبَة سباقه المتسابقون: ما كان بسعادة العبد في مَعاشه ومَعاده كفيلاً، وعلى طريق هذه السعادة دليلاً، وذلك العلم النافع، والعمل الصالح، اللذان لا سعادة للعبد إلا بهما، ولا نجاة له إلا بالتعلق بسببهما، فمن رُزِقَهما؛ فقد فاز وغنم، ومن حُرِمهما؛ فالخير كله حُرِم، وهما مورد انقسام العباد إلى مَرْحوم ومَحْروم، وبهما يتميز البَرٌ من الفاجر، والتقيُّ من الغوِيِّ، والظالم من المظلوم، ولما كان العلم للعمل قريناً وشافعاً، وشرَفه لشرف معلومه تابعاً؛
--------------------------------------------
এটি এমন ব্যক্তিকে যে তা জানে, আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি যাতে রয়েছে সেই দিকে দ্রুত ধাবিত হতে এবং যা তিনি অপছন্দ ও ঘৃণা করেন তা থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করে। যখন জ্ঞান তার অধিকারীর জন্য এই ফল প্রদান করে, তখন তা উপকারী জ্ঞান। সুতরাং যখন জ্ঞান উপকারী হয় এবং হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়; তখন অন্তর আল্লাহর জন্য বিনীত হয়, তাঁর সামনে ভেঙে পড়ে এবং সম্ভ্রম, মহিমা, ভীতি, ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে অবনত হয়। আর যখন অন্তর আল্লাহর জন্য বিনম্র, অবনত ও বিদীর্ণ হয়; তখন নফস দুনিয়ার সামান্য অবস্থাতেই তুষ্ট হয় এবং তাতেই পরিতৃপ্ত থাকে। ফলে তা তাকে দুনিয়ার প্রতি অল্পেতুষ্টি ও বিরাগ দান করে এবং যা কিছু নশ্বর ও অবশিষ্ট থাকবে না—যেমন সম্পদ, পদমর্যাদা এবং জীবনযাপনের অতিরিক্ত বিলাসিতা যা আল্লাহর নিকট আখেরাতের নেয়ামত থেকে তার অংশ কমিয়ে দেয়, যদিও সে আল্লাহর কাছে সম্মানিত হয়—সেসবের প্রতি তাকে নির্লিপ্ত করে দেয়। (১)
আর এ কারণেই ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন:
((নিশ্চয়ই প্রতিযোগীদের জন্য প্রতিযোগিতার সবচেয়ে যোগ্য বিষয় এবং দৌড়বিদদের জন্য তাদের দৌড়ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রগণ্য বিষয় হলো সেটিই, যা বান্দার ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যের নিশ্চয়তা প্রদান করে এবং এই সৌভাগ্যের পথের দিশারী হয়। আর তা হলো সেই উপকারী জ্ঞান ও নেক আমল, যে দুটি ছাড়া বান্দার জন্য কোনো সৌভাগ্য নেই এবং এ দুটির উসিলার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়া তার কোনো নাজাত নেই। যাকে এ দুটি দান করা হয়েছে, সে-ই সফল হয়েছে এবং গনীমত লাভ করেছে। আর যে এ দুটি থেকে বঞ্চিত হলো, সে সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। এ দুটিই হলো বান্দাদেরকে রহমতপ্রাপ্ত ও বঞ্চিত—এই দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার মানদণ্ড। এ দুটির মাধ্যমেই পুণ্যবান ও পাপাচারী, পরহেযগার ও পথভ্রষ্ট এবং জালেম ও মজলুমের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। যেহেতু জ্ঞান হলো আমলের সঙ্গী ও সুপারিশকারী এবং জ্ঞানের মর্যাদা হলো তার বিষয়ের মর্যাদার অনুগামী;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كان أشرف العلوم على الإطلاق علم التوحيد، وأنفعُها علم أحكام أفعال العبيد، ولا سبيل إلى اقتباس هذين النورين وتلقِّي هذين العلمين إلا من مشكاة من قامت الأدلة القاطعة على عصمته، وصرَّحت الكتب السماوية بوجوب طاعته ومتابعته، وهو الصادق المصدوق، الذي لا ينطق عن الهوى، إن هو إلا وحي يوحى)) (1) .
لذلك فقد أفرد كثير من السلف في هذا الباب كتباً ومصنفات، وخاصة في أسماء الله عز وجل؛ إحصاءاً وشرحاً (2) ؛ إلا أنه - ومع هذه الكثرة - لا أعرف كتاباً أحصى وخَصَّ صفاتِ الله عز وجل بالذكر والتدليل والشرح على المعتقد السلفي؛ معتقد أهل السنة والجماعة؛ كما هو الحال في أسماء الله تعالى، وإن كانت هناك كتبٌ قد أوردت جملة من الصفات لا على سبيل الإحصاء والحصر؛ مثل: ((كتاب السنة)) لابن أبي عاصم (ت 287هـ) و ((كتاب التوحيد)) لإمام الأئمة ابن خزيمة (ت 311هـ) و ((كتاب التوحيد)) للحافظ ابن منده (ت 395هـ) ، وكتاب ((إبطال التأويلات لأخبار الصفات)) للقاضي أبي يعلى محمد بن الحسين
--------------------------------------------
নিঃসন্দেহে তাওহীদের জ্ঞানই হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান, আর বান্দাদের কর্মকাণ্ডের বিধান সংক্রান্ত জ্ঞানই হচ্ছে সর্বাধিক উপকারী। এই দুটি নূর আহরণ করার এবং এই দুটি জ্ঞান লাভ করার কোনো পথ নেই সেই আলোকবর্তিকা ব্যতীত যাঁর নিষ্পাপ হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আসমানী কিতাবসমূহ যাঁর আনুগত্য ও অনুসরণের আবশ্যকতা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে। তিনি হলেন সত্যবাদী ও সত্য প্রতিপন্নকারী, যিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না; তা কেবল প্রত্যাদেশ (ওহী), যা তাঁর নিকট অবতীর্ণ হয় (১)।
এ কারণেই সালাফগণের অনেকে এই বিষয়ে পৃথক গ্রন্থ ও সংকলন প্রস্তুত করেছেন, বিশেষ করে মহান আল্লাহর নামসমূহের গণনা ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে (২); তবে এই প্রাচুর্য সত্ত্বেও আমি এমন কোনো গ্রন্থ সম্পর্কে জানি না যা মহান আল্লাহর গুণাবলিকে সালাফী আকিদা তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা অনুযায়ী গণনা করেছে এবং বিশেষভাবে সেগুলোর উল্লেখ, দলীল ও ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নিবেদিত হয়েছে; যেমনটি মহান আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে হয়েছে। যদিও এমন কিছু গ্রন্থ রয়েছে যা অনেকগুলো সিফাত বা গুণাবলি উল্লেখ করেছে কিন্তু তা পূর্ণাঙ্গ গণনা বা সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে নয়; যেমন: ইবনে আবী আসিম (মৃত্যু ২৮৭ হি.)-এর ‘কিতাবুস সুন্নাহ’, ইমামুল আইম্মাহ ইবনে খুযাইমাহ (মৃত্যু ৩১১ হি.)-এর ‘কিতাবুত তাওহীদ’, হাফেয ইবনে মানদাহ (মৃত্যু ৩৯৫ হি.)-এর ‘কিতাবুত তাওহীদ’ এবং কাযী আবু ইয়ালা মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইনের ‘ইবতালুত তাবিলাত লি আখবারিস সিফাত’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
بن الفراء (ت 458هـ) - على هفواتٍ فيه -، و ((كتاب الحجة في بيان المَحجَّة)) لقَوَّام السُّنَّة الأصبهاني (ت 535هـ) ، وكتاب ((قطف الثمر في بيان معتقد أهل الأثر)) لصديق حسن خان (ت 1307هـ)
… وغيرها. أما كتاب ((الأسماء والصفات)) للبيهقي (ت 458هـ) ؛ ففيه تأويلاتٌ كثيرةٌ، تخرجه عن هذه الدائرة.
وكنت كلما وَقَعَتْ عيني على ذكر صفة من صفات الله عز وجل والذاتِيَّة خاصة - مقيدة أو مشروحة في كتاب؛ قيدت ذلك، حتى أصبحت عندي جملة من صفات الله الذاتِيَّة والفعليَّة، فهممت أن أنشرها، لكني لما تفكرت في الأمر، ووجدت أن هذا أول مصنف خاص بصفات الله عز وجل؛ رأيت أن يكون شاملاً، فعكفت على آي القرآن الكريم؛ مستخرجاً كل صفة لله عز وجل فيه، ثم ثنيَّت بكتب السنة المشهورة؛ كـ ((الصحيحين)) و ((السنن الأربعة)) و ((المسند)) للإمام أحمد وغيرها، وما تركت فيها صفة أضيفت إلى الله عز وجل إلا وقيدتها، ثم طفقت أبحث في كتب العقيدة، مستخرجاً أقوال السلف وفهمهم لها، وهكذا ظللت فترة طويلة كلما سنحت فرصة أقرأ وأستخرج وأقيد، حتى اطمأنت نفسي إلى أن هذا كل ما يمكن عمله، فجمعتها ورتبتها على حروف الهجاء، وسلكت سبيل الحافظ ابن منده في ((كتاب التوحيد)) (الجزء الثاني من
ইবনুল ফাররা (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি) —তাতে কিছু বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও—, এবং কাওয়ামুস সুন্নাহ আল-আসফাহানি (মৃত্যু: ৫৩৫ হিজরি) রচিত "কিতাবুল হুজ্জাহ ফি বয়ানিল মাহাজ্জাহ", ও সিদ্দিক হাসান খান (মৃত্যু: ১৩০৭ হিজরি) রচিত "কতফুস সামার ফি বয়ানি মুতাকাদি আহলিল আসার"
… ইত্যাদি। পক্ষান্তরে ইমাম বায়হাকি (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি) রচিত "আল-আসমা ওয়াস সিফাত" গ্রন্থটির ক্ষেত্রে বলা যায়; এতে প্রচুর তাবিল (ব্যাখ্যা) রয়েছে, যা একে এই গণ্ডির বাইরে নিয়ে যায়।
আর আমি যখনই কোনো কিতাবে মহান আল্লাহর কোনো সিফাত (গুণ), বিশেষ করে সত্তাগত (জাতী) সিফাতসমূহ লিপিবদ্ধ বা ব্যাখ্যা করা হয়েছে দেখেছি, আমি তা টুকে নিয়েছি; যতক্ষণ না আমার নিকট মহান আল্লাহর সত্তাগত ও কর্মগত (জাতী ও ফেলি) সিফাতসমূহের একটি সমষ্টি তৈরি হলো। তখন আমি তা প্রকাশ করার সংকল্প করলাম। কিন্তু যখন আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবলাম এবং দেখলাম যে এটিই হতে যাচ্ছে মহান আল্লাহর সিফাতসমূহের ওপর বিশেষায়িত প্রথম গ্রন্থ, তখন আমি একে পূর্ণাঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। ফলে আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোর ওপর মনোনিবেশ করলাম এবং তাতে বর্ণিত আল্লাহর প্রতিটি সিফাত বের করে আনলাম। অতঃপর আমি সুন্নাহর প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর দিকে মনোনিবেশ করলাম; যেমন: "সহিহাইন" (বুখারি ও মুসলিম), "সুনানে আরবা" (চারটি সুনান গ্রন্থ), ইমাম আহমদের "মুসনাদ" ইত্যাদি। সেগুলোতে আল্লাহর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে এমন কোনো সিফাতই আমি বাদ দিইনি, বরং সবই লিপিবদ্ধ করেছি। এরপর আমি আকিদাহর কিতাবসমূহে অনুসন্ধান শুরু করলাম এবং এ বিষয়ে সালাফদের বক্তব্য ও তাদের অনুধাবন বের করে আনলাম। এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে যখনই সুযোগ পেয়েছি আমি পড়েছি, চয়ন করেছি এবং লিপিবদ্ধ করেছি, যতক্ষণ না আমার মন আশ্বস্ত হলো যে এ বিষয়ে সাধ্যমতো সবকিছুই করা হয়েছে। অতঃপর আমি সেগুলো একত্রিত করলাম এবং বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজালাম, আর এ ক্ষেত্রে আমি হাফেজ ইবনু মান্দাহর "কিতাবুত তাওহিদ" (এর দ্বিতীয় খণ্ডের) অনুসৃত পদ্ধতি অবলম্বন করেছি।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المطبوع) الخاص بأسماء الله تعالى، فهو رحمه الله قد رتَّب هذه الأسماء على حروف الهجاء، واستشهد لكل اسم بدليل أو أكثر من القرآن الكريم ثم بدليل أو أكثر من السنة، وذكر بعض أقوال السلف في ذلك؛ فاستهوتني هذه الطريقة، ورأيت فيها من الترتيب والتنسيق ما يسهل على القارئ الكريم الرجوع إلى الصفة بأسهل طريق؛ غير أنني خالفت هذا الترتيب في موضعين اثنين، فابتدأت الصفات بصفة (الأولِيَّة) ، وختمتها بصفة (الآخرِيَّة) ؛ مراعاة لحسن الاستهلال وحسن الختام، ولي سلفٌ في ذلك.
وإني اشترطت على نفسي ألَاّ أُورد إلا حديثاً ثابتاً عن النبي صلى الله عليه وسلم، وأكتفي بما رواه البخاري ومسلم أو أحدهما بما تثبت الصفة به، فإن لم أجد؛ أوردتُ حديثاً أو أكثر من غيرهما، واشترطت ألا أثبت صفة إلا وأُورد من أثبتها من سلف هذه الأمة؛ إلا أن يكون دليلها من الكتاب أو السنة ظاهر الدلالة.
وكان عملي في الكتاب كما يلي:
1- أحصيت جميع الصفات الذاتِيَّة: الخبرية منها؛ كالوجه واليدين والأصابع والساق والقدمين وغيرها، والسمعية العقلية؛ كالحياة والقدرة والعلم وغيرها.
(মুদ্রিত) যা মহান আল্লাহর নামসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এই নামগুলোকে বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন এবং প্রত্যেকটি নামের স্বপক্ষে কুরআন কারীম থেকে এক বা একাধিক দলীল এবং সুন্নাহ থেকে এক বা একাধিক দলীল পেশ করেছেন। সেইসাথে তিনি এ বিষয়ে সালাফদের কিছু বক্তব্যও উল্লেখ করেছেন। এই পদ্ধতিটি আমাকে মুগ্ধ করেছে এবং আমি এতে এমন বিন্যাস ও শৃঙ্খলা দেখতে পেয়েছি যা সম্মানিত পাঠকের জন্য অত্যন্ত সহজ উপায়ে কোনো গুণের দিকে ফিরে যাওয়াকে সুগম করে। তবে আমি দুটি স্থানে এই বিন্যাসের ব্যতিক্রম করেছি; আমি গুণাবলির বর্ণনা ‘অনাদিত্ব’ (আল-আউওয়ালিয়্যাহ) গুণ দিয়ে শুরু করেছি এবং ‘অনন্তত্ব’ (আল-আখিরিয়্যাহ) গুণ দিয়ে শেষ করেছি, যাতে প্রারম্ভ ও সমাপ্তি সুন্দর হয়; আর এ বিষয়ে আমার পূর্বসূরিও রয়েছেন।
আমি নিজের ওপর এই শর্তারোপ করেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত প্রমাণিত হাদীস ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করব না। যে বিষয়ের মাধ্যমে আল্লাহর গুণ প্রমাণিত হয়, সে ক্ষেত্রে আমি বুখারী ও মুসলিম অথবা তাঁদের যে কোনো একজনের বর্ণিত হাদীসের ওপরই যথেষ্ট থাকব। যদি সেখানে না পাই, তবে এ দুটির বাইরে থেকে এক বা একাধিক হাদীস উল্লেখ করব। আর আমি এই শর্তারোপ করেছি যে, এই উম্মতের সালাফদের মধ্যে যারা কোনো গুণকে সাব্যস্ত করেছেন তাদের উদ্ধৃতি দেওয়া ছাড়া আমি তা সাব্যস্ত করব না; তবে কুরআন বা সুন্নাহ থেকে তার দলীল সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলে ভিন্ন কথা।
কিতাবটিতে আমার কর্মপদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
১- আমি আল্লাহর সকল সত্তাগত গুণাবলি গণনা করেছি: তার মধ্যে খবরী বা শ্রবণনির্ভর গুণাবলি রয়েছে; যেমন— আল্লাহর মুখমণ্ডল, আল্লাহর দুই হাত, আল্লাহর আঙুলসমূহ, আল্লাহর পা, আল্লাহর দুই পা এবং অন্যান্য; এছাড়া শ্রবণনির্ভর বুদ্ধিগ্রাহ্য গুণাবলি; যেমন— জীবন, ক্ষমতা, জ্ঞান এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
2- أحصيت جميع الصفات المشتقة من أسماء الله تعالى: الذاتِيَّة منها؛ كالسمع والبصر والعزة والعظمة وغيرها، والفعليَّة؛ كالخلق والرزق والستر وغيرها، وبهذا أكون قد أحصيت أسماء الله تعالى الواردة في الكتاب والسنة، ونبهت على ذلك؛ كما أنني نبهت على ما يُظن أنه من أسماء الله تعالى، وأخطأ فيه أقوام، وهو ليس كذلك، ولا يجوز التعبد به، كالصبور، والناصر، والسَّتَّار، ونحوها.
3- أحصيت جميع الصفات الفعليَّة الخبرية؛ كالضحك، والبشبشة والغضب والحب والبغض والكيد والمكر وغيرها، وبعضاً من الصفات السمعية، أما بقية الصفات الفعليَّة - السمعية العقلية -؛ فهذه لا منتهى لها، وأنَّى لأحدٍ أن يحصيها، {وَيَفْعَلُ اللهُ مَا يَشَاءُ} .
4- أوردت ما ليس بصفة لله عز وجل ويصح الإخبار عن الله به؛ كلفظة (شيء) ، و (ذات) و (شخص) ، ونحوها؛ لثبوتها بالدليل، وللتمييز بينها وبين الصفة.
5- أوردت ما ليس بصفة، ويصح الإخبار عن الله به بعد التفصيل؛ كلفظة (الجهة) و (الحركة) ، مع التنبيه على أن الأولى استخدام اللفظ الشرعي؛ كالعلو والنُّزُول، لثبوته بالدليل؛ بدلاً من هذا اللفظ المجمل الحادث.
২- আমি আল্লাহ তাআলার নামসমূহ থেকে উদ্ভূত সকল গুণাবলী গণনা করেছি: তার মধ্যে সত্তাগত গুণাবলী; যেমন শ্রবণ, দর্শন, পরাক্রম, মহিমা ও অন্যান্য, এবং কর্মগত গুণাবলী; যেমন সৃষ্টি করা, রিযিক দান করা, দোষ গোপন করা ও অন্যান্য। এর মাধ্যমে আমি কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত আল্লাহ তাআলার নামসমূহ গণনা করেছি এবং সে বিষয়ে নির্দেশ করেছি। পাশাপাশি আমি এমন কিছু শব্দ সম্পর্কেও সতর্ক করেছি যেগুলোকে আল্লাহ তাআলার নাম বলে মনে করা হয় এবং এ ব্যাপারে অনেক সম্প্রদায় ভুল করেছে, অথচ সেগুলো আল্লাহর নাম নয় এবং সেগুলোর মাধ্যমে ইবাদত করা বৈধ নয়; যেমন আস-সাবুর, আন-নাসির, আস-সাত্তার এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।
৩- আমি সকল কর্মগত ও বর্ণনামূলক গুণাবলী গণনা করেছি; যেমন হাসা, আনন্দিত হওয়া, রাগান্বিত হওয়া, ভালোবাসা, ঘৃণা করা, কৌশল করা, মকর (কৌশল) করা ও অন্যান্য, এবং শ্রবণনির্ভর কিছু গুণাবলীও উল্লেখ করেছি। আর অবশিষ্ট কর্মগত গুণাবলী—যা শ্রবণ ও যুক্তিনির্ভর—সেগুলোর কোনো শেষ নেই, আর কারো পক্ষে সেগুলো গণনা করা কীভাবে সম্ভব! "আর আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন।"
৪- আমি এমন কিছু শব্দ উল্লেখ করেছি যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র গুণ নয়, তবে আল্লাহ সম্পর্কে তা দ্বারা সংবাদ দেওয়া বা অভিহিত করা সঠিক; যেমন 'বস্তু', 'সত্তা' ও 'ব্যক্তি' ইত্যাদি শব্দসমূহ; দলিলের মাধ্যমে এগুলোর প্রমাণ থাকার কারণে এবং গুণ ও এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার জন্য।
৫- আমি এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছি যা গুণ নয়, তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যার পর আল্লাহ সম্পর্কে তা দ্বারা সংবাদ দেওয়া সঠিক; যেমন 'দিক' ও 'গতি' শব্দসমূহ। তবে এর সাথে এই বিষয়ে সতর্ক করেছি যে, দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত শরয়ি শব্দসমূহ ব্যবহার করাই উত্তম; যেমন উচ্চতা ও অবতরণ; এই অস্পষ্ট ও নবউদ্ভাবিত শব্দগুলোর পরিবর্তে দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত শরয়ি শব্দ ব্যবহার করাই শ্রেয়।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
6- أوردت ما ثبتت إضافته إلى الله عز وجل وظنَّه بعضهم إضافة صفة إلى موصوف، وهو ليس كذلك؛ كـ (الجنب) و (الظل) ، ونبهت على ذلك، وجعلت هذه الثلاثة الأخيرة مسبوقة بهذه العلامة [-] ، لتتميز عن الصفات الثابتة بالكتاب والسنة، أمَّا ما لم يثبت في القرآن الكريم أو السنة الصحيحة، وإن عده بعضهم صفة لله عز وجل؛ كـ (الساعد) و (الاستلقاء) ونحوهما؛ فلم أورده في هذا الكتاب؛ لأنه ليس على شرط التأليف.
7- حرَّرت بعض المسائل التي وقع فيها الخلاف من قديم؛ مثل: هل
يوصف الله بأن إحدى يديه شمال، أم أن كلتاهما يمين لا شمال فيهما؟ وهل يثبت لله اسم المحسن أم لا؟ وغيرها من المسائل.
8- قدَّمت الصفات بأربع مباحث:
أ - المبحث الأول في (معنى الاسم والصفة والفرق بينهما) .
ب - المبحث الثاني في (قواعد عامة في الصفات) ، ذكرت فيه إحدى وعشرين قاعدة، مدار الصفات جميعها عليها.
ج - المبحث الثالث في (أنواع الصفات) .
د - المبحث الرابع في (ثمرات الإيمان بصفات الله عز وجل .
৬- আমি সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সাথে সম্পৃক্ত হওয়া প্রমাণিত হয়েছে, অথচ কেউ কেউ সেগুলোকে গুণীর প্রতি গুণের (সিফাত) নিসবত বলে ধারণা করেছেন, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; যেমন- (পার্শ্ব) ও (ছায়া)। আমি এ ব্যাপারে সতর্ক করেছি এবং এই শেষোক্ত বিষয়গুলোর আগে এই চিহ্নটি [-] যুক্ত করেছি, যাতে এগুলো কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত গুণাবলী থেকে পৃথকভাবে চেনা যায়। আর যা মহাগ্রন্থ কুরআন বা সহীহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়, যদিও কেউ কেউ সেগুলোকে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণ হিসেবে গণ্য করেছেন; যেমন- (বাহু) এবং (চিত হয়ে শোয়া) ও এই জাতীয় বিষয়গুলো; সেগুলো আমি এই গ্রন্থে উল্লেখ করিনি; কারণ তা গ্রন্থ রচনার শর্তানুযায়ী নয়।
৭- আমি এমন কিছু মাসআলা যাচাই-বাছাই করেছি যেগুলোতে প্রাচীনকাল থেকেই মতভেদ রয়েছে; যেমন: আল্লাহর গুণ কি এমনভাবে বর্ণনা করা হবে যে আল্লাহর হাত দুটির একটি বাম হাত, নাকি আল্লাহর উভয় হাতই ডান হাত যাতে কোনো বাম নেই? এবং আল্লাহর জন্য 'আল-মুহসিন' নামটি প্রমাণিত কি না? এছাড়াও অন্যান্য মাসআলা।
৮- আমি গুণাবলীর আলোচনার আগে চারটি পরিচ্ছেদ উপস্থাপন করেছি:
ক - প্রথম পরিচ্ছেদ: (নাম ও গুণের অর্থ এবং এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য) প্রসঙ্গে।
খ - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: (গুণাবলী সংক্রান্ত সাধারণ নীতিমালা) প্রসঙ্গে, এতে আমি একুশটি নীতি উল্লেখ করেছি, যার উপর সমস্ত গুণাবলীর ভিত্তি।
গ - তৃতীয় পরিচ্ছেদ: (গুণাবলীর প্রকারভেদ) প্রসঙ্গে।
ঘ - চতুর্থ পরিচ্ছেদ: (আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনার ফলাফল) প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد عرضته على عددٍ من العلماء وطلاب العلم، فاستحسنوه، ومازلتُ أحذفُ منه وأضيف أخذاً برأي هذا وبنصيحة ذا، حتى ظهر بالصورة التي تراها بين يديك، وإني لأشكر وأدعو الله بظهر الغيب كل من خدم هذا الكتاب وساهم في نشره، وأسأل الله عز وجل أن ينفع به كاتبه ومراجعه وقارئه.
وقد سميته: ((صِفَاتِ اللهِ عز وجل الْوَارِدَةِ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ)) .
فما كان فيه من صواب؛ فهو بتوفيق الله عز وجل، وما كان فيه من خطأ ومجانبةٍ للصواب؛ فإني أبرأ إلى الله منه، وأنا راجعٌ عنه إلى ما وافق الحق وأما أنت أيها القاريء الكريم؛ فاضرب به عرض الحائط، ولا تلتفت إليه، ولا تنسبه إليَّ؛ فقد أبى الله أن يتمَّ إلا كتابه.
وصلَّى الله وسلَّم على نبيِّنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
আমি এটি একদল আলিম ও ইলম অন্বেষণকারীর নিকট পেশ করেছি, তাঁরা একে পছন্দ করেছেন। আমি এর থেকে বিভিন্ন অংশ বিয়োজন এবং সংযোজন অব্যাহত রেখেছি—কারও মতামত বা কারও উপদেশের ভিত্তিতে—যাবত না এটি আপনার সামনে বিদ্যমান রূপটি লাভ করেছে। এই কিতাবটির খিদমত এবং এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাঁদের অগোচরে তাঁদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করছি। আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর লেখক, পর্যালোচনাকারী এবং পাঠককে এর দ্বারা উপকৃত করেন।
আমি এর নামকরণ করেছি: ((কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর গুণাবলি))।
এতে যা কিছু সঠিক রয়েছে, তা মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীকস্বরূপ। আর যা কিছু ভুল বা সত্যবিচ্যুত, তা থেকে আমি আল্লাহর নিকট দায়মুক্তি প্রকাশ করছি এবং যা সত্যের অনুকূলে, সেদিকে তা থেকে প্রত্যাবর্তন করছি। হে সম্মানিত পাঠক! আপনি (ভুল বিষয়কে) দেয়ালে ছুড়ে ফেলুন, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করবেন না এবং তা আমার দিকে সম্বন্ধ করবেন না; কেননা আল্লাহ স্বীয় কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে ত্রুটিমুক্ত বা পরিপূর্ণ হতে দেননি।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأولمعنى الاسم والصفة والفرق بينهما--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদনাম ও গুণের অর্থ এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الاسم: ((هو ما دل على معنى في نفسه)) (1) ، و ((أسماء الأشياء هي الألفاظ الدالة عليها)) (2)
[[ ((وقيل: الاسم ما أنبأ عن المسمى، والفعل ما أنبأ عن حركة المسمى، والحرف ما أنبأ عن معنى ليس باسم ولا فعل)) (3) .
الصفة: ((هي الاسم الدال على بعض أحوال الذات
… وهي الأمارة اللازمة بذات الموصوف الذي يُعرف بها)) (4) ، ((وهي ما وقع الوصف مشتقاً منها، وهو دالٌ عليها، وذلك مثل العلم والقدرة ونحوه)) (5) .
وقال ابن فارس: ((الصفة: الأمارة اللازمة للشيء)) (6) ، وقال: ((النعت: وصفك الشيء بما فيه من حسن)) (7) .
الفرق بين الاسم والصفة:]] (*)
سُئلت اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء بالسعودية عن الفرق بين الاسم والصفة؟ فأجابت بما يلي:
((أسماء الله كل ما دل على ذات الله مع صفات الكمال القائمة به؛ مثل: القادر، العليم، الحكيم، السميع، البصير؛ فإن هذه الأسماء دلَّت على ذات الله، وعلى ما قام بها من العلم والحكمة والسمع والبصر، أما الصفات؛ فهي نعوت الكمال القائمة بالذات؛ كالعلم والحكمة والسمع والبصر؛ فالاسم دل على أمرين، والصفة دلت على أمر واحد، ويقال: الاسم متضمن للصفة، والصفة مستلزمة للاسم
… )) (8) .
ولمعرفة ما يُميِّز الاسم عن الصفة، والصفة عن الاسم أمور، منها:
أولاً: ((أن الأسماء يشتق منها صفات، أما الصفات؛ فلا يشتق منها أسماء، فنشتق من أسماء الله الرحيم والقادر والعظيم، صفات الرحمة والقدرة والعظمة، لكن لا نشتق من صفات الإرادة والمجيء والمكر اسم المريد والجائي والماكر)) (9) .
--------------------------------------------
নাম (ইসিম): ((যা নিজের সত্তাগত কোনো অর্থ প্রকাশ করে)) (১), এবং ((বস্তুর নামসমূহ হলো এমন শব্দ যা সেই বস্তুর ওপর দালালত করে (নির্দেশ করে))) (২)
[[ ((বলা হয়েছে: নাম হলো তা যা নামধারী সত্তা সম্পর্কে তথ্য দেয়, আর ক্রিয়া (ফে’ল) হলো তা যা নামধারী সত্তার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য দেয়, এবং অব্যয় (হরফ) হলো তা যা এমন একটি অর্থ প্রকাশ করে যা নাম বা ক্রিয়া কোনটিই নয়)) (৩)।
গুণ (সিফাত): ((এটি হলো এমন নাম যা সত্তার কোনো কোনো অবস্থার ওপর দালালত করে
… আর এটি হলো সেই গুণান্বিত সত্তার সাথে অবিচ্ছেদ্য চিহ্ন যার মাধ্যমে তাকে চেনা যায়)) (৪), ((এবং এটি হলো সেই উৎস যেখান থেকে বর্ণনাটি উদ্ভূত হয়েছে এবং যা সেই গুণের ওপর দালালত করে, যেমন জ্ঞান, ক্ষমতা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ)) (৫)।
ইবনে ফারিস বলেন: ((সিফাত: কোনো বস্তুর সাথে আবশ্যিকভাবে লেগে থাকা চিহ্ন)) (৬), এবং তিনি বলেন: ((নাত: কোনো বস্তুর মধ্যে থাকা সৌন্দর্য দিয়ে তার গুণ বর্ণনা করা)) (৭)।
নাম ও গুণের মধ্যে পার্থক্য:]] (*)
সৌদি আরবের ফাতাওয়া ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার স্থায়ী কমিটিকে (লাজনা দায়েমা) নাম ও গুণের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তারা উত্তরে নিম্নলিখিত কথাগুলো বলেছেন:
((আল্লাহর নামসমূহ হলো এমন প্রত্যেক শব্দ যা আল্লাহর সত্তার পাশাপাশি তাঁর সাথে বিদ্যমান পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির ওপর দালালত করে; যেমন: ক্ষমতাধর, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা; কারণ এই নামগুলো আল্লাহর সত্তার ওপর এবং তাঁর সাথে বিদ্যমান জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শ্রবণ ও দর্শনের ওপর দালালত করে। আর গুণাবলি (সিফাত) হলো সত্তার সাথে বিদ্যমান পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্যসমূহ; যেমন জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শ্রবণ ও দর্শন। সুতরাং নাম দুটি বিষয়ের ওপর দালালত করে, আর গুণ একটি বিষয়ের ওপর দালালত করে। এবং বলা হয়: নাম গুণের ধারক, আর গুণ নামের দাবি রাখে
… )) (৮)।
নাম থেকে গুণ এবং গুণ থেকে নামকে আলাদা করে চেনার জন্য কিছু বিষয় রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো:
প্রথমত: ((নামসমূহ থেকে গুণাবলি উদ্ভূত হয়, কিন্তু গুণাবলি থেকে নামসমূহ উদ্ভূত হয় না। সুতরাং আমরা আল্লাহর নাম দয়ালু, ক্ষমতাধর এবং মহান থেকে দয়া, ক্ষমতা এবং মহানুভবতা গুণগুলো গ্রহণ করি। কিন্তু আমরা আল্লাহর ইচ্ছা, আসা এবং কৌশল গুণগুলো থেকে ‘ইচ্ছাকারী’, ‘আগমনকারী’ বা ‘কৌশলী’ নাম গ্রহণ করি না)) (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
فأسماؤه سبحانه وتعالى أوصاف؛ كما قال ابن القيم في ((النونية)) :
أسماؤُهُ أوْصافُ مَدْحٍ كُلُّها
… مُشْتَقَّةٌ قَدْ حُمِّلَتْ لِمَعان
ِ
ثانياً: ((أن الاسم لا يُشتق من أفعال الله؛ فلا نشتق من كونه يحب ويكره ويغضب اسم المحب والكاره والغاضب، أما صفاته؛ فتشتق من أفعاله فنثبت له صفة المحبة والكره والغضب ونحوها من تلك الأفعال، لذلك قيل: باب الصفات أوسع من باب الأسماء)) (1) .
ثالثاً: أن أسماء الله عز وجل وصفاته تشترك في الاستعاذة بها والحلف بها (2) ، لكن تختلف في التعبد والدعاء، فيتعبد الله بأسمائه، فنقول: عبد الكريم، وعبد الرحمن، وعبد العزيز، لكن لا يُتعبد بصفاته؛ فلا نقول: عبد الكرم، وعبد الرحمة، وعبد العزة؛ كما أنه يُدعى اللهُ بأسمائه، فنقول: يا رحيم! ارحمنا، ويا كريم! أكرمنا، ويا لطيف! الطف بنا، لكن لا ندعو صفاته فنقول: يا رحمة الله! ارحمينا، أو: يا كرم الله! أو:يا لطف الله! ذلك
--------------------------------------------
সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহ হলো গুণাবলি; যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম 'নূনিয়্যাহ'-তে বলেছেন:
তাঁর নামসমূহ সবটুকুই প্রশংসাসূচক গুণাবলি
… যা ব্যুৎপত্তিগতভাবে অর্থবহ করা হয়েছে
।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর নাম তাঁর কার্যাবলি থেকে ব্যুৎপন্ন হয় না; সুতরাং তাঁর ভালোবাসা, অপছন্দ করা এবং রাগান্বিত হওয়া থেকে আমরা 'মুহিব্ব' (ভালোবাসাকারী), 'কারিহ' (অপছন্দকারী) বা 'গদিব' (রাগান্বিত) নাম গ্রহণ করি না। তবে তাঁর গুণাবলি তাঁর কার্যাবলি থেকে ব্যুৎপন্ন হয়; ফলে আমরা তাঁর জন্য ভালোবাসা, অপছন্দ এবং ক্রোধের মতো গুণাবলি এবং এ জাতীয় অন্যান্য কার্যাবলি থেকে গুণ সাব্যস্ত করি। এজন্য বলা হয়েছে: গুণাবলির ক্ষেত্র নামের ক্ষেত্রের চেয়ে অধিক প্রশস্ত (১)।
তৃতীয়ত: মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি উভয়ের মাধ্যমেই আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং শপথ করার বিষয়টি এক ও অভিন্ন (২), কিন্তু দাসত্ব প্রকাশ এবং দোয়ার ক্ষেত্রে এদের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। আল্লাহর নামের সাথে সম্বন্ধ করে দাসত্ব প্রকাশ করা হয়, তাই আমরা বলি: আব্দুল কারিম, আব্দুর রহমান এবং আব্দুল আজিজ। কিন্তু তাঁর গুণের সাথে সম্বন্ধ করে দাসত্ব প্রকাশ করা হয় না; তাই আমরা 'আব্দুল কারাম', 'আব্দুর রাহমাহ' বা 'আব্দুল ইজ্জাহ' বলি না। একইভাবে, আল্লাহকে তাঁর নামের মাধ্যমে ডাকা হয়, তাই আমরা বলি: হে রাহিম! আমাদের রহম করুন; হে কারিম! আমাদের অনুগ্রহ করুন; হে লতিফ! আমাদের প্রতি সদয় হোন। কিন্তু আমরা তাঁর গুণের কাছে দোয়া করি না, যেমন বলি না: হে আল্লাহর রহমত! আমাদের রহম করো; অথবা: হে আল্লাহর কারাম! অথবা: হে আল্লাহর লুৎফ! সেটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أن الصفة ليست هي الموصوف؛ فالرحمة ليست هي الله، بل هي صفةٌ لله، وكذلك العزة، وغيرها؛ فهذه صفات لله، وليست هي الله، ولا يجوز التعبد إلا لله، ولا يجوز دعاء إلا الله؛ لقوله تعالى: {يَعْبُدُونَنِي لا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئًا} [النور: 55] ، وقوله تعالى {ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر:60] وغيرها من الآيات (1) .
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই গুণ (সিফাত) স্বয়ং গুণান্বিত সত্তা (মাওসুফ) নয়; সুতরাং দয়া (রহমত) স্বয়ং আল্লাহ নন, বরং তা আল্লাহর একটি গুণ। একইভাবে মর্যাদা (ইজ্জত) ও অন্যান্য বিষয়গুলোও; এগুলো আল্লাহর গুণাবলি, এগুলো স্বয়ং আল্লাহ নন। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করা বৈধ নয় এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকা বা দুআ করাও বৈধ নয়; কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না} [আন-নূর: ৫৫], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী {তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব} [গাফির: ৬০] এবং এ জাতীয় অন্যান্য আয়াতসমূহ (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثانيقواعد عامَّة في الصفات
القاعدة الأولى:((إثباتُ ما أثبته الله لنفسه في كتابه، أو أثبته له رسوله صلى الله عليه وسلم؛ من غير تحريف ولا تعطيل، ومن غير تكييف ولا تمثيل)) (1) .
لأن الله أعلم بنفسه من غيره، ورسوله صلى الله عليه وسلم أعلم الخلق بربه.
القاعدة الثانية:((نفيُ ما نفاه الله عن نفسه في كتابه، أو نفاه عنه رسوله صلى الله عليه وسلم، مع اعتقاد ثبوت كمال ضده لله تعالى)) (2) .
لأن الله أعلم بنفسه من خلقه، ورسوله أعلم الناس بربه؛ فنفي الموت عنه يتضمن كمال حياته، ونفي الظلم يتضمن كمال عدله، ونفي النوم يتضمن كمال قيُّوميَّته.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত সাধারণ মূলনীতিসমূহ
প্রথম মূলনীতি:((আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য তাঁর কিতাবে যা সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তা কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ) ও অস্বীকার (তা’তিল) ছাড়াই এবং কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ (তাকিয়িফ) ও সদৃশ করা (তামসিল) ছাড়াই সাব্যস্ত করা)) (১) ।
কারণ আল্লাহ নিজের সম্পর্কে অন্য সবার চেয়ে অধিক অবগত, এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সৃষ্টিজগতের মধ্যে তাঁর প্রতিপালক সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন।
দ্বিতীয় মূলনীতি:((আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য তাঁর কিতাবে যা অস্বীকার করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে যা অস্বীকার করেছেন, তা অস্বীকার করা; সেই সাথে আল্লাহ তাআলার জন্য এর বিপরীত গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়ার বিশ্বাস রাখা)) (২) ।
কারণ আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি অপেক্ষা নিজের সম্পর্কে অধিক অবগত এবং রাসূল মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতিপালক সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানেন। সুতরাং তাঁর থেকে মৃত্যু অস্বীকার করা তাঁর জীবনের পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যুলুম অস্বীকার করা তাঁর ইনসাফ বা ন্যায়ের পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং ঘুম অস্বীকার করা তাঁর চিরস্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণকারী হওয়ার (কাইয়ুমিয়্যাত) পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
القاعدة الثالثة:((صفات الله عز وجل توقيفية؛ فلا يُثبت منها إلا ما أثبته الله لنفسه، أو أثبتهله رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا يُنفى عن الله عز وجل إلا ما نفاه عن نفسه، أو نفاه عنه رسوله صلى الله عليه وسلم) (1) .
لأنه لا أحد أعلم بالله من نفسه تعالى، ولا مخلوقٌ أعلم بخالقه من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
القاعدة الرابعة:((التوقف في الألفاظ المجملة التي لم يرد إثباتها ولا نفيها، أما معناها؛ فَيُسْتفصل عنه، فإن أريد به باطل يُنَزَّه الله عنه؛ رُدَّ، وإن أريد به حق لا يمتنع على الله؛ قُبِلَ، مع بيان ما يدلُّ على المعنى الصواب من الألفاظ الشرعية، والدعوة إلى استعماله مكان هذا اللفظ المجمل الحادث)) (2) .
مثاله: لفظة (الجهة) : نتوقف في إثباتها ونفيها، ونسأل قائلها: ماذا تعني بالجهة؟ فإن قال: أعني أنه في مكان يحويه. قلنا: هذا معنى باطل يُنَزَّه الله عنه، ورددناه. وإن قال: أعني جهة العلو المطلق؛ قُلْنا: هذا حق لا يمتنع على الله. وقبلنا منه المعنى، وقلنا له: لكن الأولى أن تقول: هو في
--------------------------------------------
তৃতীয় নীতি:((আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র গুণাবলী তাওকিফিয়্যাহ (দলিল নির্ভর); সুতরাং তাঁর জন্য কেবল তা-ই সাব্যস্ত করা যাবে যা আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন। আর আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা থেকে কেবল তা-ই অস্বীকার করা যাবে যা তিনি নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর থেকে অস্বীকার করেছেন।) (১)।
কারণ আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে স্বয়ং আল্লাহ অপেক্ষা অধিক অবগত কেউ নেই, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা তাঁর স্রষ্টা সম্পর্কে অধিক অবগত কোনো সৃষ্টি নেই।
চতুর্থ নীতি:((এমন অস্পষ্ট শব্দাবলির ক্ষেত্রে থমকে যাওয়া (বা চুপ থাকা) যা সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করার ব্যাপারে কোনো বর্ণনা আসেনি। তবে এর অর্থের ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করা হবে। যদি তা দ্বারা এমন কোনো বাতিল অর্থ উদ্দেশ্য হয় যা থেকে আল্লাহ পবিত্র, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। আর যদি তা দ্বারা এমন কোনো সত্য উদ্দেশ্য হয় যা আল্লাহর ক্ষেত্রে অসম্ভব নয়, তবে তা গ্রহণ করা হবে; সাথে সাথে সঠিক অর্থের ওপর দলীল প্রদানকারী শরয়ি শব্দাবলি বর্ণনা করতে হবে, এবং এই নতুন উদ্ভাবিত অস্পষ্ট শব্দের পরিবর্তে সেই শরয়ি শব্দ ব্যবহার করার দাওয়াত দিতে হবে)) (২)।
উদাহরণস্বরূপ: (দিক) শব্দটি: আমরা এটি সাব্যস্ত করার বা অস্বীকার করার ক্ষেত্রে থমকে যাবো এবং এর প্রবক্তাকে জিজ্ঞেস করবো: আপনি দিক দ্বারা কী বুঝাতে চাচ্ছেন? যদি তিনি বলেন: আমি বুঝাতে চাচ্ছি যে তিনি এমন কোনো স্থানে আছেন যা তাঁকে পরিবেষ্টন করে আছে। আমরা বলবো: এটি একটি বাতিল অর্থ যা থেকে আল্লাহ পবিত্র, এবং আমরা তা প্রত্যাখ্যান করলাম। আর যদি তিনি বলেন: আমি এর দ্বারা পরম উচ্চতার দিক বুঝাচ্ছি; তবে আমরা বলবো: এটি সত্য যা আল্লাহর জন্য অসম্ভব নয়। এবং আমরা তাঁর থেকে অর্থটি গ্রহণ করলাম এবং তাঁকে বললাম: তবে উত্তম হলো আপনার বলা: তিনি আছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
السماء، أو في العلو؛ كما وردت به الأدلة الصحيحة، وأما لفظة (جهة) ؛ فهي مجملة حادثة، الأولى تركها.
القاعدة الخامسة:((كل صفة ثبتت بالنقل الصحيح؛ وافقت العقل الصريح، ولابد)) (1) .
القاعدة السادسة:((قطع الطمع عن إدراك حقيقة الكيفية)) (2) ؛ لقوله تعالى: {وَلا يُحِيطُونَ
بِهِ عِلْمًا} .
القاعدة السابعة:((صفات الله عز وجل تُثبت على وجه التفصيل، وتنفى على وجه الإجمال)) (3) .
فالإثبات المفصل؛ كإثبات السمع والبصر وسائر الصفات، والنفي المجمل كنفي المثلية في قوله تعالى: {ليسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} .
--------------------------------------------
আসমান, অথবা উচ্চতায়; যেমনটি সহিহ দলিলসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর 'দিক' (জিহা) শব্দটি অস্পষ্ট ও নবউদ্ভাবিত; এটি বর্জন করাই উত্তম।
পঞ্চম নীতি:((সহিহ বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত প্রতিটি গুণ অবশ্যই সুস্পষ্ট বিবেকের অনুকূল হবে)) (১)।
ষষ্ঠ নীতি:((কাইফিয়্যাত বা গুণের প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধির আকাঙ্ক্ষা ছিন্ন করা)) (২); কেননা মহান আল্লাহর বাণী: {তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে
পরিবেষ্টন করতে পারে না}।
সপ্তম নীতি:((মহান আল্লাহর গুণাবলী বিস্তারিতভাবে সাব্যস্ত করা হয় এবং সাধারণভাবে নাকচ করা হয়)) (৩)।
বিস্তারিত সাব্যস্তকরণ হলো শ্রবণ, দর্শন ও অন্যান্য সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করা। আর সাধারণ বা সংক্ষিপ্ত নাকচ হলো সাদৃশ্য অস্বীকার করা, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
القاعدة الثامنة:((كل اسم ثبت لله عز وجل؛ فهو متضمن لصفة، ولا عكس)) (1) .
مثاله: اسم الرحمن متضمن صفة الرحمة، والكريم يتضمن صفة الكرم، واللطيف يتضمن صفة اللطف
… وهكذا، لكن صفاته: الإرادة، والإتيان، والاستواء، لا نشتق منها أسماء، فنقول: المريد، والآتي، والمستوي 00 وهكذا
القاعدة التاسعة:((صفات الله تعالى كلها صفات كمال، لا نقص فيها بوجهٍ من الوجوه)) (2) .
القاعدة العاشرة:((صفات الله عز وجل ذاتِيَّة وفعليَّة، والصفات الفعليَّة متعلقة بأفعاله، وأفعاله لا منتهى لها)) (3) ، {وَيَفْعَلُ اللهُ مَا يَشَاءُ} .
القاعدة الحادية عشرة:((دلالة الكتاب والسنة على ثبوت الصفة: إما التصريح بها، أو
--------------------------------------------
অষ্টম নিয়ম:((আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত প্রতিটি নামই একটি গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, কিন্তু এর বিপরীত নয়)) (১) ।
উদাহরণস্বরূপ: আর-রাহমান নামটি রহমত (দয়া) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, আল-কারীম কারাম (বদান্যতা) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং আল-লাতিফ লুৎফ (সূক্ষ্মতা/দয়া) গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে
… এভাবেই। কিন্তু তাঁর গুণাবলি যেমন: ইচ্ছা, আগমন এবং উঠা—এগুলো থেকে আমরা নাম উদ্ভূত করি না; সুতরাং আমরা বলি না: আল-মুরীদ (ইচ্ছাকারী), আল-আতী (আগমনকারী), আল-মুসতাওয়ী (উপরে উঠা ব্যক্তি) এভাবেই।
নবম নিয়ম:((আল্লাহ তাআলার সমস্ত গুণাবলিই পরিপূর্ণতার গুণ, এতে কোনো দিক থেকেই কোনো অপূর্ণতা নেই)) (২) ।
দশম নিয়ম:((আল্লাহর গুণাবলি সত্তাগত ও কর্মগত; আর কর্মগত গুণাবলি তাঁর কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং তাঁর কার্যাবলির কোনো শেষ নেই)) (৩) , {এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন}।
একাদশ নিয়ম:((গুণ সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে কিতাব ও সুন্নাহর প্রমাণাদি: হয় সেটির স্পষ্ট উল্লেখ, অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تضمن الاسم لها، أو التصريح بفعلٍ أو وصفٍ دالٍّ عليها)) (1) .
مثال الأول: الرحمة، والعزة، والقوة، والوجه، واليدين، والأصابع
… ونحو ذلك.
مثال الثاني: البصير متضمن صفة البصر، والسميع متضمن صفة السمع.. ونحو ذلك.
مثال الثالث: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} : دالٌّ على الاستواء، {إِنَّا مِنْ الْمُجْرِمِينَ مُنتَقِمُونَ} : دالٌّ على الانتقام
… ونحو ذلك.
القاعدة الثانية عشرة:((صفات الله عز وجل يستعاذ بها ويُحلف بها)) (2) .
ومنها قوله صلى الله عليه وسلم: ((أعوذ برضاك من سخطك، وبمعافاتك من عقوبتك..)) . رواه مسلم (486) ، ولذلك بوب البخاري في كتاب الأيمان والنذور: ((باب: الحلف بعزة الله وصفاته وكلماته)) .
القاعدة الثالثة عشرة:((الكلام في الصفات كالكلام في الذات))--------------------------------------------
নাম তার (গুণের) অন্তর্ভুক্ত হওয়া, অথবা এমন কোনো কাজ বা বর্ণনা সরাসরি উল্লেখ থাকা যা তার ওপর প্রমাণ বহন করে)) (১) ।
প্রথমটির উদাহরণ: রহমত (দয়া), ইজ্জত (মহা প্রতাপ), কুওয়াত (শক্তি), মুখমণ্ডল, দুই হাত, আঙ্গুলসমূহ
… এবং এই জাতীয়।
দ্বিতীয়টির উদাহরণ: 'আল-বাসীর' (সর্বদ্রষ্টা) নামটি দেখার গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং 'আস-সামীয়' (সর্বশ্রোতা) নামটি শোনার গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে... এবং এই জাতীয়।
তৃতীয়টির উদাহরণ: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন}: এটি উঠার ওপর প্রমাণ বহন করে, {নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী}: এটি প্রতিশোধ গ্রহণের ওপর প্রমাণ বহন করে
… এবং এই জাতীয়।
দ্বাদশ নিয়ম:((আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র গুণাবলির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা যায় এবং সেগুলোর মাধ্যমে শপথ করা যায়)) (২) ।
এর মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি হতে...))। এটি মুসলিম (৪৮৬) বর্ণনা করেছেন, আর এই কারণেই বুখারী শপথ ও মানত অধ্যায়ে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন: ((পরিচ্ছেদ: আল্লাহর ইজ্জত, তাঁর গুণাবলি ও তাঁর বাণীর মাধ্যমে শপথ করা))।
ত্রয়োদশ নিয়ম:((গুণাবলি সম্পর্কে আলোচনা সত্তা সম্পর্কে আলোচনার মতোই))--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(1) .
فكما أن ذاته حقيقية لا تشبه الذوات؛ فهي متصفة بصفات حقيقية لا تشبه الصفات، وكما أن إثبات الذات إثبات وجود لا إثبات كيفية، كذلك إثبات الصفات.
القاعدة الرابعة عشرة:((القول في بعض الصفات كالقول في البعض الآخر)) (2) .
فمن أقر بصفات الله؛ كالسمع، والبصر، والإرادة، يلزمه أن يقر بمحبة الله، ورضاه، وغضبه، وكراهيته.
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: ((ومن فرق بين صفة وصفة، مع تساويهما في أسباب الحقيقة والمجاز؛ كان متناقضاً في قوله، متهافتاً في مذهبه، مشابهاً لمن آمن ببعض الكتاب وكفر ببعض)) (3) .
القاعدة الخامسة عشرة:((ما أضيف إلى الله مما هو غير بائنٍ عنه؛ فهو صفة له غير مخلوقة، وكلُّ شيء أضيف إلى الله بائن عنه؛ فهو مخلوق؛ فليس كل ما أضيف إلى الله يستلزم أن يكون صفةً له)) (4) .
--------------------------------------------
(১) ।
যেমন তাঁর সত্তা প্রকৃত এবং অন্য কোনো সত্তার সদৃশ নয়; তদ্রূপ তা এমন প্রকৃত গুণাবলীতে গুণান্বিত যা অন্য কোনো গুণের সদৃশ নয়। আর সত্তার সাব্যস্তকরণ যেমন কেবল অস্তিত্বের সাব্যস্তকরণ, কোনো স্বরূপ বা পদ্ধতির সাব্যস্তকরণ নয়; তদ্রূপ গুণাবলীর সাব্যস্তকরণও একই রূপ।
চতুর্দশ মূলনীতি:((কিছু গুণাবলীর ব্যাপারে বক্তব্য অন্য গুণাবলীর বক্তব্যের মতোই)) (২) ।
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর শ্রবণ, দর্শন ও ইচ্ছার ন্যায় গুণাবলী স্বীকার করে, তার জন্য আল্লাহর ভালোবাসা (মহব্বত), সন্তুষ্টি, ক্রোধ ও অপছন্দ করার গুণগুলোও স্বীকার করা আবশ্যক।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: ((যে ব্যক্তি হাকিকত (প্রকৃত অর্থ) ও মাজাযের (রূপক অর্থ) কারণসমূহের সাম্যতা থাকা সত্ত্বেও একটি গুণের সাথে অন্য গুণের পার্থক্য করে; সে তার উক্তিতে স্ববিরোধী, তার মাযহাবে অসঙ্গত এবং সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে কিতাবের কিছু অংশের প্রতি ঈমান আনে আর কিছু অংশকে অস্বীকার করে)) (৩) ।
পঞ্চদশ মূলনীতি:((আল্লাহর দিকে এমন যা কিছু সম্বন্ধ করা হয়েছে যা তাঁর থেকে পৃথক নয়; তা তাঁর অনাদি গুণ যা সৃষ্টি নয়। আর আল্লাহর দিকে সম্বন্ধিত যা কিছু তাঁর থেকে পৃথক; তা সৃষ্টি; সুতরাং আল্লাহর দিকে সম্বন্ধিত সবকিছুই তাঁর গুণ হওয়া আবশ্যক নয়)) (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مثال الأول: سمعُ الله، وبصرُ الله، ورضاه، وسخطُه
…ومثال الثاني: بيت الله، وناقة الله
…
القاعدة السادسة عشرة:((صفات الله عز وجل وسائر مسائل الاعتقاد تثبت بما ثبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإن كان حديثاً واحداً، وإن كان آحاداً)) (1) .
القاعدة السابعة عشرة:((معاني صفات الله عز وجل الثابتة بالكتاب أو السنة معلومة، وتُفسر على الحقيقة، لا مجاز ولا استعارة فيها البتة، أمَّا الكيفية؛ فمجهولة)) (2) .
القاعدة الثامنة عشرة:((ما جاء في الكتاب أو السنة، وجب على كل مؤمن القول بموجبه والإيمان به، وإن لم يفهم معناه)) (3) .
--------------------------------------------
প্রথমটির উদাহরণ: আল্লাহর শ্রবণ, আল্লাহর দৃষ্টি, তাঁর সন্তুষ্টি এবং তাঁর অসন্তুষ্টি
…আর দ্বিতীয়টির উদাহরণ: আল্লাহর ঘর, আল্লাহর উষ্ট্রী
…
ষোড়শ নিয়ম:((আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলি এবং আকিদার অন্যান্য সকল বিষয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা প্রমাণিত হয়েছে তার দ্বারা সাব্যস্ত হবে, যদিও তা একটি মাত্র হাদিস হয় এবং যদিও তা ‘আহাদ’ (একক সূত্রে বর্ণিত) হয়।)) (১) ।
সপ্তদশ নিয়ম:((কুরআন বা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলির অর্থসমূহ জানা, আর সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রকৃত অর্থের (হাকিকত) উপর হবে, এতে মোটেও কোনো রূপক বা অলঙ্কার নেই; তবে এর ধরণ (কাইফিয়াত) অজানা।)) (২) ।
অষ্টাদশ নিয়ম:((কুরআন বা সুন্নাহতে যা কিছু এসেছে, প্রত্যেক মুমিনের জন্য তার দাবি অনুযায়ী কথা বলা এবং তার প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক, যদিও সে তার পূর্ণ অর্থ বুঝতে না পারে।)) (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
القاعدة التاسعة عشرة:((باب الأخبار أوسع من باب الصفات، وما يطلق عليه من الأخبار؛ لا يجب أن يكون توقيفياً؛ كالقديم، والشيء، والموجود … )) (1) .
القاعدة العشرون:((صفات الله عز وجل لا يقاس عليها)) (2) .
فلا يقاس السخاءُ على الجود، ولا الجَلَدُ على القوة، ولا الاستطاعةُ
على القدرة، ولا الرقة على الرحمة والرأفة، ولا المعرفة على العلم
… وهكذا؛ لأن صفات الله عز وجل لا يتجاوز فيها التوقيف؛ كما مر في القاعدة الثالثة.
القاعدة الحادية والعشرون:صفات الله عز وجل لا حصر لها؛ لأن كل اسم يتضمن صفة - كما مرَّ في القاعدة الثامنة -، وأسماء الله لا حصر لها، فمنها ما استأثر الله به في علم الغيب عنده.
--------------------------------------------
উনবিংশতম নীতি:((সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রটি গুণাবলির ক্ষেত্রের চেয়ে অধিক প্রশস্ত, এবং আল্লাহর ক্ষেত্রে যা সংবাদ হিসেবে প্রয়োগ করা হয়; তা তাওকীফী (শরয়ি দলিলের ওপর নির্ভরশীল) হওয়া আবশ্যক নয়; যেমন: অনাদি, বস্তু, এবং বিদ্যমান … )) (১) ।
বিংশতম নীতি:((আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলিকে অন্য কিছুর সাথে তুলনা করা যায় না)) (২) ।
সুতরাং মহানুভবতাকে দানশীলতার ওপর তুলনা করা যাবে না, না সহনশীলতাকে শক্তির ওপর, না সক্ষমতাকে
সামর্থ্যের ওপর, না কোমলতাকে দয়া ও মমতার ওপর, আর না পরিচিতিকে জ্ঞানের ওপর
… এবং একইভাবে অন্যান্য বিষয়গুলোও; কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলির ক্ষেত্রে তাওকীফ (শরয়ি দলিল) অতিক্রম করা যায় না; যেমনটি তৃতীয় নীতিতে অতিবাহিত হয়েছে।
একবিংশতম নীতি:আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলির কোনো সীমা নেই; কারণ প্রতিটি নাম একটি গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে - যেমনটি অষ্টম নীতিতে অতিবাহিত হয়েছে -, আর আল্লাহর নামসমূহের কোনো সীমা নেই, যার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা আল্লাহ তাঁর নিকট অদৃশ্য জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষিত রেখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المبحث الثالثأنواع الصفات (1)
يمكن تقسيم صفات الله عز وجل إلى ثلاثة أقسام (2) :
أولاً: من حيث إثباتها ونفيها.
ثانياً: من حيث تعلقها بذات الله وأفعاله.
ثالثاً: من حيث ثبوتها وأدلتها.
وكل قسم من هذه الأقسام الثلاثة ينقسم إلى نوعين:
أولاً: من حيث إثباتها ونفيها:
أ - صفات ثبوتيه:وهي ما أثبته الله سبحانه وتعالى لنفسه، أو أثبته له رسوله صلى الله عليه وسلم؛ كالاستواء، والنُّزُول، والوجه، واليد
… ونحو ذلك، وكلها
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদগুণাবলির প্রকারভেদ (১)
মহান আল্লাহর গুণাবলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা সম্ভব (২) :
প্রথমত: সাব্যস্তকরণ ও নেতিবাচকতার দিক থেকে।দ্বিতীয়ত: আল্লাহর সত্তা ও তাঁর কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে।
তৃতীয়ত: সাব্যস্ত হওয়া ও দলিলের দিক থেকে।
এই তিনটি বিভাগের প্রত্যেকটি আবার দুই প্রকার:
প্রথমত: সাব্যস্তকরণ ও নেতিবাচকতার দিক থেকে:
ক - ইতিবাচক গুণাবলি:এগুলো হলো সেই সব গুণ যা মহান আল্লাহ নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন; যেমন: উঠা (আরশের উপর), অবতরণ করা, মুখমণ্ডল, হাত... এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো। আর এগুলোর সব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
صفات مدح وكمال، وهي أغلب الصفات المنصوص عليها في الكتاب والسنة، ويجب إثباتها.
ب- صفات سلبية:وهي ما نفاه الله عن نفسه، أو نفاه عنه رسوله صلى الله عليه وسلم، وكلها صفات نقص؛ كالموت، والسِّنة، والنوم، والظلم
… وغالباً تأتي في الكتاب أو السنة مسبوقة بأداة نفي؛ مثل (لا) و (ما) و (ليس) ، وهذه تُنفى عن الله عز وجل، ويُثبت ضدها من الكمال.
ثانياً: من حيث تعلقها بذات الله وأفعاله:
أ - صفات ذاتِيَّة:وهي التي لم يزل ولا يزال الله متصفاً بها؛ كالعلم، والقدرة، والحياة، والسمع، والبصر، والوجه، واليدين
… ونحو ذلك.
ب- صفات فعليَّة:وهي الصفات المتعلقة بمشيئة الله وقدرته، إن شاء فعلها، وإن شاء لم يفعلها؛ كالمجيء، والنُّزُول، والغضب، والفرح، والضحك
… ونحو ذلك، وتسمى (الصفات الاختيارية) .
وأفعاله سبحانه وتعالى نوعان:
1- لازمة: كالاستواء، والنُّزُول، والإتيان
… ونحو ذلك.
2- متعدية: كالخلق، والإعطاء
… ونحو ذلك.
প্রশংসা ও পূর্ণতার গুণাবলি, আর এগুলোই কিতাব ও সুন্নাহতে বর্ণিত অধিকাংশ গুণাবলি, এবং এগুলো সাব্যস্ত করা ওয়াজিব।
খ- নেতিবাচক গুণাবলি:এগুলো হলো সেসব যা আল্লাহ নিজের থেকে নাকচ করেছেন, অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর থেকে নাকচ করেছেন, আর এগুলোর সবই ত্রুটিপূর্ণ গুণ; যেমন মৃত্যু, তন্দ্রা, নিদ্রা, জুলুম
… এবং সাধারণত এগুলো কিতাব বা সুন্নাহতে না-বোধক অব্যয় সহযোগে আসে; যেমন (না), (নয়) এবং (নয়), আর এগুলো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার শানে নাকচ করা হয় এবং এর বিপরীতে থাকা পূর্ণতাকে সাব্যস্ত করা হয়।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহর সত্তা ও কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে:
ক - সত্তাগত গুণাবলি:এগুলো এমন গুণাবলি যা দ্বারা আল্লাহ সর্বদা গুণান্বিত ছিলেন এবং থাকবেন; যেমন জ্ঞান, ক্ষমতা, জীবন, শ্রবণ, দর্শন, মুখমণ্ডল, দুই হাত
… এবং অনুরূপ।
খ- কর্মগত গুণাবলি:এগুলো আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাবলি, তিনি চাইলে তা করেন, আর না চাইলে করেন না; যেমন আসা, নামা, রাগ, আনন্দ, হাসা
… এবং অনুরূপ। এগুলোকে (ঐচ্ছিক গুণাবলি) বলা হয়।
আর তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) কার্যাবলি দুই প্রকার:
১- অকর্মক: যেমন উঠা, নামা, আসা
… এবং অনুরূপ।
২- সকর্মক: যেমন সৃষ্টি করা, দান করা
… এবং অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأفعاله سبحانه وتعالى لا منتهى لها، {وَيَفْعَلُ اللهُ مَا يَشَاء} ، وبالتالي صفات الله الفعليَّة لا حصر لها.
والصفات الفعليَّة من حيث قيامها بالذات تسمى صفات ذات، ومن حيث تعلقها بما ينشأ عنها من الأقوال والأفعال تسمى صفات أفعال، ومن أمثلة ذلك صفة الكلام؛ فكلام الله عز وجل باعتبار أصله ونوعه صفة ذات، وباعتبار آحاد الكلام وأفراده صفة فعل.
ثالثاً: من حيث ثبوتها وأدلتها:
أ - صفات خبرية:وهي الصفات التي لا سبيل إلى إثباتها إلا السمع والخبر عن الله أو عن رسوله صلى الله عليه وسلم، وتسمى (صفات سمعية أو نقلية) ، وقد تكون ذاتِيَّة؛ كالوجه، واليدين، وقد تكون فعليَّة؛ كالفرح، والضحك.
ب - صفات سمعية عقلية:وهي الصفات التي يشترك في إثباتها الدليل السمعي (النقلي) والدليل العقلي، وقد تكون ذاتِيَّة؛ كالحياة والعلم، والقدرة، وقد تكون فعليَّة؛ كالخلق، والإعطاء.
এবং মহান আল্লাহর কার্যাবলির কোনো শেষ নেই, {আর আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন}, ফলস্বরূপ আল্লাহর কার্যগত গুণাবলির কোনো ইয়ত্তা নেই।
কার্যগত গুণাবলি আল্লাহর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার দিক থেকে সেগুলোকে সত্তাগত গুণ বলা হয়, আর সেগুলো থেকে উদ্ভূত কথা ও কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার দিক থেকে সেগুলোকে কার্যগত গুণ বলা হয়। এর একটি উদাহরণ হলো কথা বলার গুণ; মহান আল্লাহর কথা বলা তার মূল উৎস ও প্রকারের দিক থেকে সত্তাগত গুণ, আর স্বতন্ত্র বাণী ও একক বক্তব্যের দিক থেকে তা কার্যগত গুণ।
তৃতীয়ত: সাব্যস্ত হওয়া এবং প্রমাণের দিক থেকে:
ক - সংবাদনির্ভর গুণাবলি:এগুলো এমন গুণাবলি যা সাব্যস্ত করার জন্য আল্লাহ অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে আসা শ্রবণ ও সংবাদ ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যম নেই। এগুলোকে (শ্রুতিনির্ভর বা বর্ণনাগত গুণাবলি) বলা হয়। এগুলো সত্তাগত হতে পারে; যেমন চেহারা ও আল্লাহর হাত, আবার কার্যগতও হতে পারে; যেমন আনন্দিত হওয়া ও হাসা।
খ - শ্রুতি ও যুক্তিনির্ভর গুণাবলি:এগুলো এমন গুণাবলি যা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে শ্রুতিনির্ভর (নাকলি) এবং যুক্তিনির্ভর (আকলি) উভয় প্রমাণই সমানভাবে প্রযোজ্য। এগুলো সত্তাগত হতে পারে; যেমন জীবন, জ্ঞান ও ক্ষমতা, আবার কার্যগতও হতে পারে; যেমন সৃষ্টি করা ও দান করা।
(খণ্ড: ১)
সিফাতুল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা আল-ওয়ারিদাতু ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المبحث الرابعثمرات الإيمان بصفات الله عز وجل اعلم - وفقني اللهُ وإيَّاك - أن العلم بصفات الله عز وجل، والإيمان بها، على ما يليق به سبحانه، وتدبرها: يورث ثمرات عظيمة وفوائد جليلة، تجعل صاحبها يذوق حلاوة الإيمان، وقد حُرِمها قوم كثيرون من المعطِّلة والمؤوِّلة والمشبهة، وإليك بعضاً منها:
1- فمن ثمرات الإيمان بصفات الله عز وجل: أن العبد يسعى إلى الاتصاف والتحلِّي بها على ما يليق به؛ لأنه من المعلوم عند أرباب العقول أن المحب يحب أن يتصف بصفات محبوبه؛ كما أن المحبوب يحب أن يتحلَّى مُحِبُّهُ بصفاته؛ فهذا يدعو العبد المحب لأن يتصف بصفات محبوبه ومعبوده كلٌّ على ما يليق به، فالله كريم يحب الكرماء، رحيم يحب الرحماء، رفيق يحب الرفق، فإذا علم العبد ذلك؛ سعى إلى التحلي بصفات الكرم والرحمة والرفق، وهكذا في سائر الصفات التي يحب الله تعالى أن يتحلَّى بها العبد على ما يليق بذات العبد.
2- ومنها: أن العبد إذا آمن بصفة (الحب والمحبة) لله تعالى وأنه سبحانه (رحيم ودود) استأنس لهذا الرب، وتقرَّب إليه بما يزيد حبه ووده له، ((ولا يزال العبد يتقرب إليَّ بالنوافل حتى أحبه)) وسعى إلى أن يكون ممن يقول الله فيهم: ((يا جبريل إني أُحبُّ فلاناً فأحبَّه، فيُحبُّه جبريل، ثم ينادي في السماء: إن الله يحبُّ فلاناً فأحبوه، فيُحبُّه أهلُ السماء ثم يوضع له
চতুর্থ পরিচ্ছেদআল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলীর প্রতি ঈমানের ফলসমূহ জেনে রেখো—আল্লাহ আমাকে ও তোমাকে তাওফিক দান করুন—নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, তাঁর সুমহান সত্তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা এবং সেগুলোতে গভীর চিন্তা-গবেষণা করা মহান ফলাফল ও মর্যাদাশীল উপকারিতা বয়ে আনে, যা এর অধিকারীকে ঈমানের মিষ্টতা আস্বাদন করায়। অনেক সম্প্রদায় যেমন মুআত্তিলা (গুণাবলী অস্বীকারকারী), মুআউয়িলা (অপব্যাখ্যাকারী) এবং মুসাব্বিহা (সাদৃশ্য দানকারী) এই নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নিচে সেগুলোর কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:
১- আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনার অন্যতম ফল হলো: বান্দা নিজের স্তরের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সেসব গুণে গুণান্বিত হতে ও নিজেকে সজ্জিত করতে সচেষ্ট হয়। কারণ বুদ্ধিমানদের নিকট এটি জানা কথা যে, প্রেমিক তার প্রিয়তমের গুণাবলীতে গুণান্বিত হতে পছন্দ করে; তেমনিভাবে প্রিয়তমও পছন্দ করেন যে তাঁর প্রেমিক তাঁর গুণাবলীতে ভূষিত হোক। এটি প্রেমিক বান্দাকে তার প্রিয়তম ও মা'বুদ আল্লাহর গুণাবলীতে গুণান্বিত হতে উদ্বুদ্ধ করে—প্রত্যেকেই নিজের নিজের শান অনুযায়ী। আল্লাহ দানশীল, তিনি দানশীলদের ভালোবাসেন; তিনি দয়ালু, তিনি দয়ালুদের ভালোবাসেন; তিনি কোমল, তিনি কোমলতা পছন্দ করেন। যখন বান্দা এটি জানতে পারে, তখন সে দানশীলতা, দয়া ও কোমলতার গুণে গুণান্বিত হতে সচেষ্ট হয়। এভাবেই অন্যান্য সকল গুণের ক্ষেত্রেও, যা আল্লাহ তা'আলা পছন্দ করেন যে বান্দা তার নিজের সত্তার সাথে মানানসইভাবে তা ধারণ করুক।
২- এর মধ্যে আরও রয়েছে: বান্দা যখন আল্লাহ তা'আলার ভালোবাসা (আল-হুব্ব ওয়া আল-মাহাব্বাহ) গুণের প্রতি এবং তিনি যে ‘পরম দয়ালু ও অতিশয় প্রেমময়’—এ কথার প্রতি ঈমান আনে, তখন সে এই রবের প্রতি হৃদ্যতা অনুভব করে এবং এমন কাজের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে যা তাঁর ভালোবাসা ও হৃদ্যতাকে বৃদ্ধি করে। "বান্দা সর্বদা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে, যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি।" সে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হতে সচেষ্ট হয় যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন: "হে জিবরীল! আমি অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমিও তাকে ভালোবাসো। তখন জিবরীল তাকে ভালোবাসেন এবং আসমানে ঘোষণা করে দেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ অমুককে ভালোবাসেন, সুতরাং তোমরাও তাকে ভালোবাসো। তখন আসমানবাসীরা তাকে ভালোবাসতে থাকে, এরপর তার জন্য (জমিনে) গ্রহণযোগ্যতা স্থাপন করা হয়।"