(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: -)
مختصر كتاب الاعتصام   (علوي السقاف)

القسم: العقيدة


الكتاب : مختصر كتاب الاعتصام

المؤلف : علوي بن عبد القادر السَّقَّاف

الناشر : دار الهجرة للنشر والتوزيع

الطبعة : الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 160

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع ]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুখতাসার কিতাবুল ইতিসাম   (আলাউই আস-সাক্কাফ)

বিভাগ: আক্বিদা


গ্রন্থ : মুখতাসার কিতাবুল ইতিসাম

লেখক : আলাউই বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

প্রকাশক : দারুল হিজরাহ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি

সংস্করণ : প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: -)
ـ[مختصر كتاب الاعتصام]ـ

المؤلف: علوي بن عبد القادر السَّقَّاف

الناشر: دار الهجرة للنشر والتوزيع

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
[কিতাবুল ইতিসাম-এর সংক্ষিপ্তসার]

লেখক: আলাউই বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

প্রকাশক: দারুল হিজরাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৬)
- ث -

 

‌‌مقدمة

إنَّ الحمدَ للهِ نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذُ بالله من شُرور أنفسنا وسيئاتِ أعمالنا، مَن يهدهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، ومَن يُضلل فلا هاديَ له، وأشهدُ ألَاّ إِلَهَ إلَاّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وأشهد أنَّ محمَّداً عبدُه ورسولُه.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إلا وأنْتُمْ مُسْلمُون}

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيماً}

أما بعد:

فإنَّ‌‌ كتاب ((الاعتصام)) للإمام أبي إسحاق الشاطبي يُعَدُّ من أفضل ما أُلِّف في معنى البدعة وحَدِّها وذمِّ البدع وسوء منقلب أهلها، وأنواعها وأحكامها والفرق بينها وبين المصالح المرسلة وغير ذلك من مسائل تتعلق بالبدعة وأهلها، فشيخ الإسلام ابن تيمية وإنْ كان له كلامٌ جليلُ القدرِ عظيمُ الفائدةِ في موضوع البدعة إلا أنَّه متفرقٌ في كتبه ورسائله وفتاويه لا يجمعه كتابٌ واحدٌ، فحرِيٌّ بكلِّ طالب علم وصاحب سنة أنْ يقرأ هذا الكتاب ويتدارسه.
সা -

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন, তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা বন্ধন অটুট রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করেছে।}

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইমাম আবু ইসহাক আশ-শাতীবির 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থটি বিদআতের অর্থ ও সংজ্ঞা, বিদআতের নিন্দা ও বিদআতিদের মন্দ পরিণতি এবং বিদআতের প্রকারভেদ ও হুকুমসমূহ সম্পর্কে রচিত শ্রেষ্ঠ কিতাবগুলোর একটি বলে গণ্য হয়, এবং মাসলাহা মুরসালাহ ও বিদআতের মধ্যকার পার্থক্যসহ বিদআত ও বিদআতিদের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রেও এটি অনন্য। কারণ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বিদআতের বিষয়ে যদিও অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাপূর্ণ ও অত্যন্ত উপকারী আলোচনা রয়েছে, তবুও তা তাঁর বিভিন্ন কিতাব, রিসালা ও ফাতওয়ার মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, যা কোনো একটি গ্রন্থে একত্রিত নয়। তাই প্রত্যেক ইলম অন্বেষী ও সুন্নাহর অনুসারীর জন্য এই কিতাবটি পাঠ করা এবং এর অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা করা একান্ত আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৭)
- ج -

 

والكتاب فيه من الإطالة والاستطرادات ما يَشْرُدُ به ذهْنُ القاريء ويتشتت، فقد أكثر المؤلِّفُ فيه من الاستشهاد بالآيات والأحاديث والآثار الصحيح منها والضعيف أحياناً والأقوال والقصص والأخبار والأمثلة والتفريعات ما يجعل اختصاره أمراً مُهمَّاً مُلِحَّاً، وقد ترددتُ كثيراً في ذلك لما لِفَنِّ الاختصار والتهذيب من صعوبة وتبعيَّة وخطورة، ولكن لما نظرت إلى الكتاب وما فيه مما سبق ذكره ونظرت إلى ضعف الهمم وكثرة الشواغل لدى كثيرٍ منَّا -ولا حول ولا قوة إلا بالله- رأيتُ أنَّه يتحتم عليَّ وقد كنت قرأت الكتاب أكثر من مرة أنْ أُلَخِّصَه وأهذِّبه دون أنْ أخلَّ بشيء من معانيه.

 

وقد قال بعضهم: ‌‌((إنَّ التأليف على سبعةِ أقسام، لا يؤلِّف عالمٌ عاقلٌ إلا فيها -وذكر منها-: 000 أو شيءٌ طويل يختصره دون أنْ يخلَّ بشيء من معانيه)) (1) ، فاستخرتُ الله واستعنتُ به على عمل هذا المختصر وظللت فترة وأنا أقرأ منه، أحذف هذا تارةً وأعيد ذلك تارةً وأربط بين جملة أو جمل في صفحة مع جمل أخرى تبعد عنها عدة صفحات، فأختار آية أو آيتين من عشرة أو أكثر تؤدي الغرض الذي من أجله ساقها المُصنِّف، وكذلك أفعل بالأحاديث والآثار حاذفاً منها كلَّ ما لم يصح سنده، مختاراً بعض ما صح مما يؤدِّي الغرض، وكذا في الأمثلة والأقوال.

ولا أدع فكرة أو مقصداً للمصنف إلا وأوردها مسترشداً بقول ابن خلدون في ((المقدمة)) : ((إنَّ النَّاس حصروا مقاصد التأليف التي ينبغي

--------------------------------------------

(1) ((كشف الظنون)) (1/35)
- জ -

 

এবং গ্রন্থটিতে এমন দীর্ঘসূত্রতা ও অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা রয়েছে যা পাঠকের মনকে বিভ্রান্ত ও বিক্ষিপ্ত করে তোলে। লেখক এতে প্রচুর পরিমাণে আয়াত, হাদীস ও আছার (যার কোনোটি সহীহ আবার কোনোটি কখনো যয়ীফ), বিভিন্ন উক্তি, কাহিনী, সংবাদ, উদাহরণ ও শাখা-প্রশাখার অবতারণা করেছেন, যা এর সংক্ষেপণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বিষয়ে পরিণত করেছে। সংক্ষেপণ ও পরিমার্জন শিল্পের কাঠিন্য, দায়বদ্ধতা ও ঝুঁকির কারণে আমি এ বিষয়ে অনেক দ্বিধাবোধ করেছি। কিন্তু যখন আমি গ্রন্থটির দিকে এবং এতে যা রয়েছে—যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে—সেদিকে তাকালাম এবং আমাদের অনেকের হিম্মতের দুর্বলতা ও ব্যস্ততার আধিক্যের দিকে লক্ষ্য করলাম—আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই—তখন আমি দেখলাম যে, আমি যেহেতু কিতাবটি একাধিকবার পড়েছি, তাই এর কোনো অর্থের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে একে সংক্ষেপ করা ও পরিমার্জন করা আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

 

কেউ কেউ বলেছেন: ((নিশ্চয়ই গ্রন্থ রচনা সাত প্রকার, একজন বুদ্ধিমান আলেম এই সাত প্রকারের বাইরে কোনো কিছু রচনা করেন না—তার মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন—: ... অথবা কোনো দীর্ঘ বিষয়কে তার অর্থের কোনো ক্ষতি না করে সংক্ষেপ করা)) (১)। তাই আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং এই সংক্ষেপণের কাজে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলাম। আমি দীর্ঘ সময় ধরে এটি পড়তে থাকলাম; কখনও কোনো অংশ বাদ দিচ্ছিলাম, কখনও কোনোটি পুনরায় ফিরিয়ে আনছিলাম, আবার কোনো পৃষ্ঠার একটি বা একাধিক বাক্যের সাথে অন্য কয়েক পৃষ্ঠা পরের বাক্যের সংযোগ ঘটাচ্ছিলাম। আমি দশটি বা তার অধিক আয়াতের মধ্য থেকে একটি বা দুটি আয়াত নির্বাচন করেছি যা সেই উদ্দেশ্য পূরণ করে যার জন্য লেখক সেটি উল্লেখ করেছিলেন। হাদীস ও আছারের ক্ষেত্রেও আমি একই কাজ করেছি; যেগুলোর সনদ সহীহ নয় সেগুলো বাদ দিয়েছি এবং সহীহগুলো থেকে এমন কিছু বেছে নিয়েছি যা উদ্দেশ্য পূরণ করে। উদাহরণ ও উক্তির ক্ষেত্রেও আমি একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি।

আমি গ্রন্থকারের কোনো চিন্তাধারা বা উদ্দেশ্য বাদ দেইনি বরং সেগুলো উল্লেখ করেছি, এক্ষেত্রে আমি ইবনে খালদুন তাঁর 'মুকাদ্দিমা' গ্রন্থে যা বলেছেন তা থেকে দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেছি: ((নিশ্চয়ই মানুষ গ্রন্থ রচনার সেই সকল উদ্দেশ্যকে সীমাবদ্ধ করেছে যা হওয়া উচিত

--------------------------------------------

(১) ((কাশফুয যুনুন)) (১/৩৫)
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৮)
- ح -

 

اعتمادها وإلغاء ما سواها، فعدُّوها سبعة: وذكر منها: أنْ يكون الشيء من التواليف التي هي أمهات للفنون مطولاً مسهباً، فيقصد بالتأليف تلخيص ذلك بالاختصار والإيجاز وحذف المتكرر إنْ وقع، مع الحذر من حذف الضروري لئلا يخل بمقصد المؤلف الأول000)) (1) ، حتى ظهر الكتاب بالشكل الذي بين يديك، والذي يمثل في حجمه ربع الكتاب الأصلي تقريباً.

هذا‌‌ وقد طبع الكتاب عدة طبعات منها:

1- طبعة السيد محمد رشيد رضا، وقد طبع الكتاب سنة 1332هـ، في مجلدين مجموع صفحاته (745) صفحة، وقد اعتمد فيه المحقق على نسخة بخط مغربي للشيخ محمد محمود الشنقيطي، وكلُّ من جاء بعده اعتمد على هذه الطبعة.

2- طبعة دار ابن عفان للنشر والتوزيع بالخبر - السعودية، سنة 1412هـ، تحقيق سليم بن عيد الهلالي، وقد اعتمد على نسخة خطية مغربية وطبعة السيد رشيد رضا، وتقع هذه الطبعة في مجلدين عدد صفحاتها (893) صفحة.

3- طبعة دار الخاني بالرياض - السعودية، سنة 1416هـ، تحقيق مصطفى أبوسليمان الندوي، وقد اعتمد على طبعة السيد رشيد رضا فقط، وتقع هذه الطبعة في مجلدين عدد صفحاتها (884) صفحة.

4- طبعة دار الكتاب العربي ببيروت - لبنان سنة1417هـ، تحقيق

--------------------------------------------

(1) ((المقدمة)) (3/1239) .
- হা -

 

সেগুলো গ্রহণ করা এবং অন্যগুলো বর্জন করা, ফলে তারা সেগুলোকে সাতটি হিসেবে গণ্য করেছেন। এর মধ্যে তিনি উল্লেখ করেছেন: কোনো বিষয় যদি এমন কোনো রচনার অন্তর্ভুক্ত হয় যা কোনো শাস্ত্রের আকর গ্রন্থ হিসেবে দীর্ঘ ও বিস্তারিতভাবে লিখিত, তবে রচনার উদ্দেশ্য হয় সংক্ষেপণ ও সংক্ষিপ্তকরণের মাধ্যমে তার সারসংক্ষেপ করা এবং পুনরুক্তি থাকলে তা বাদ দেওয়া। এক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় অংশ বাদ দেওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হয় যাতে মূল লেখকের উদ্দেশ্য ব্যাহত না হয়... (১), শেষ পর্যন্ত বইটি আপনার সামনে বিদ্যমান এই অবয়বে প্রকাশ পেয়েছে, যা আয়তনে মূল গ্রন্থের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

উল্লেখ্য যে, বইটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

১- সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রশিদ রিদার সংস্করণ। বইটি ১৩৩২ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে। এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত এবং এর মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭৪৫। এতে মুহাক্কিক (গবেষক) শায়খ মুহাম্মদ মাহমুদ আশ-শানকিতির মাগরেবি হস্তলিপির একটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন। পরবর্তীতে যারা এসেছেন তারা সবাই এই সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছেন।

২- সৌদি আরবের আল-খোবারের দার ইবনে আফফান প্রকাশনীর সংস্করণ, ১৪১২ হিজরি। এটি সেলিম বিন ঈদ আল-হিলালির তাহকিককৃত। তিনি একটি মাগরেবি পাণ্ডুলিপি এবং সাইয়্যেদ রশিদ রিদার সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছেন। এই সংস্করণটি দুই খণ্ডে বিন্যস্ত এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮৯৩।

৩- সৌদি আরবের রিয়াদের দার আল-খানি সংস্করণ, ১৪১৬ হিজরি। এটি মুস্তফা আবু সুলাইমান আন-নাদভির তাহকিককৃত। তিনি কেবল সাইয়্যেদ রশিদ রিদার সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছেন। এই সংস্করণটি দুই খণ্ডে বিন্যস্ত এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮৮৪।

৪- লেবাননের বৈরুতের দার আল-কিতাব আল-আরাবি সংস্করণ, ১৪১৭ হিজরি। তাহকিক:

--------------------------------------------

(১) ((আল-মুকাদ্দিমাহ)) (৩/১২৩৯)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৯)
- خ -

 

عبد الرزاق المهدي، وقد اعتمد على طبعة السيد رشيد رضا فقط، وتقع هذه الطبعة في مجلد واحد عدد صفحاته (591) صفحة.

5- ((بدر التمام في اختصار الاعتصام)) ، لأبي عبد الفتاح محمد السعيد الجزائري، نشر دار الحنان الإسلامية سنة 1411هـ، ويقع في جزء لطيف عدد صفحاته (151) صفحة، وهذا المختصر جيِّدٌ ومفيدٌ ولكنه أغفل فصولاً من الكتاب بكاملها بل باباً من أبوابه وإليك بيانها:

- فصل: ((أقسام المنسوبين إلى البدعة)) ، من الباب الثالث.

- فصل: ((سكوت الشارع عن الحكم في مسألة ما)) ، من الباب الخامس.

- فصل: ((كلُّ بدعة ضلالة)) ، من الباب السادس.

- الباب السابع: ((الابتداع هل يختص بالأمور العبادية أو يدخل في العاديَّات)) .

- فصل: ((رد شبهة استفتاء القلب)) ، من الباب الثامن.

- فصل: ((حديث الفِرَق وفيه مسائل)) ، من الباب التاسع.

6- ((طريق الوصول إلى إبطال البدع بعلم الأصول)) ، لمحمد أحمد العدوي سنة1340هـ، ثم أُعيد طباعته عدة مرات آخرها الطبعة الرابعة في المكتب الإسلامي سنة 1406هـ، وتحت عنوان ((أصول البدع والسنن)) ، وهو عبارة عن تلخيص لكتاب ((الاعتصام)) بأسلوب المؤلف، وليس اختصاراً
- খ -

 

আবদুর রাজ্জাক আল-মাহদী; তিনি শুধুমাত্র সাইয়্যেদ রশীদ রিদার সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছেন এবং এই সংস্করণটি ৫৯১ পৃষ্ঠার এক খণ্ডে সমাপ্ত।

৫- আবু আবদিল ফাত্তাহ মুহাম্মদ আস-সাঈদ আল-জাজাইরি রচিত 'বদরুত তামাম ফি ইখতিসারিল ইতিসাম'। এটি ১৪১১ হিজরিতে দারুল হানান আল-ইসলামিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি ১৫১ পৃষ্ঠার একটি সুন্দর খণ্ডে বিন্যস্ত। এই সংক্ষেপণটি বেশ ভালো এবং উপকারী, তবে তিনি বইটির কয়েকটি সম্পূর্ণ পরিচ্ছেদ এমনকি একটি অধ্যায়ও বাদ দিয়েছেন; যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

- পরিচ্ছেদ: 'বিদআতের সাথে সংশ্লিষ্টদের প্রকারভেদ', তৃতীয় অধ্যায় থেকে।

- পরিচ্ছেদ: 'কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে শরিয়ত প্রণেতার নীরবতা', পঞ্চম অধ্যায় থেকে।

- পরিচ্ছেদ: 'প্রত্যেক বিদআতই পথভ্রষ্টতা', ষষ্ঠ অধ্যায় থেকে।

- সপ্তম অধ্যায়: 'বিদআত কি কেবল ইবাদতের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নাকি প্রাত্যহিক বিষয়গুলোর মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত হবে'।

- পরিচ্ছেদ: 'হৃদয়ের কাছে ফতোয়া চাওয়ার সংশয়ের খণ্ডন', অষ্টম অধ্যায় থেকে।

- পরিচ্ছেদ: 'দল-উপদল সংক্রান্ত হাদিস এবং এর অন্তর্ভুক্ত মাসআলাসমূহ', নবম অধ্যায় থেকে।

৬- মুহাম্মদ আহমদ আল-আদাওয়ি রচিত 'তারিকুল উসুল ইলা ইবতালিল বিদা বি-ইলমিল উসুল', ১৩৪০ হিজরি। এটি বেশ কয়েকবার পুনঃমুদ্রিত হয়েছে, যার সর্বশেষটি ১৪০৬ হিজরিতে আল-মাকতাব আল-ইসলামি থেকে চতুর্থ সংস্করণ হিসেবে 'উসুলুল বিদা ওয়াস সুনান' শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। এটি লেখকের নিজস্ব শৈলীতে 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থের একটি সারসংক্ষেপ মাত্র, সাধারণ সংক্ষেপণ নয়।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১০)
- د -

 

له، وتقع هذه الطبعة في كتيب عدد صفحاته (134) صفحة.

هذا وقد استفدت من جميع هذه الطبعات وخاصة طبعة السيد رشيد رضا و ((بدر التمام)) .

 

‌‌عملي في الكتاب:

1- اعتمدت على طبعة السيد رشيد رضا فقمت باختصارها أولاً على ما سبق ذكره، ولم أضف شيئاً من عندي في أصله لأنَّ كلام الشاطبي فيه من القوة والمتانة والرصانة والوضوح ما يغني عن كلِّ تعليق -خاصة بعد حذف الاستطرادات وبعض المسائل- إلا ما يقتضيه ربطُ الكلام، وقد حوى هذا المختصر جميع أبواب وفصول الكتاب.

2- عرض هذا المختصر على نسخة خطيَّة مغربيَّة عدد أوراقها (265) ورقة حصلتُ عليها من جامعة أم القرى وهى مصورة من مكتبة المسجد النبوي، وقد جعلت هذه النسخة وطبعة السيد رشيد رضا في مقامٍ واحدٍ وعند التعارض أَثْبَتُّ أنسبْهما لسياق الكلام، وما كان فيه إشكالٌ هنا وهناك وضعت أقرب الكلمات التي تؤدي المعنى وذلك بين علامتين هكذا: [] وهذا قليلٌ جداً.

3- استفدت من عناوين الأبواب والفصول التي وضعها ناسخ النسخة المغربية وأضفت عناوين لبعض الفصول تقتضيها طبيعة المختصر.

4- وضعت تعليقاتٍ يسيرةً بالهامش توضح بعض معاني الكلمات
- দ -

 

তাঁর জন্য, এবং এই সংস্করণটি ১৩৪ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

আমি এই সকল সংস্করণ থেকে উপকৃত হয়েছি, বিশেষ করে সাইয়্যেদ রশিদ রিদা-এর সংস্করণ এবং 'বদরুত তামাম' থেকে।

 

‌‌কিতাবটিতে আমার সম্পাদিত কাজ:

১- আমি সাইয়্যেদ রশিদ রিদা-এর সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি এবং পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী আমি প্রথমত একে সংক্ষেপ করেছি। এর মূল পাঠে আমি নিজের পক্ষ থেকে কিছুই যোগ করিনি। কারণ শাতীবীর বক্তব্যে এমন শক্তি, দৃঢ়তা, গাম্ভীর্য এবং স্পষ্টতা রয়েছে যা যেকোনো টীকা-টিপ্পনী থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়—বিশেষ করে অবান্তর দীর্ঘ আলোচনা এবং কিছু মাসআলা বাদ দেওয়ার পর। তবে বক্তব্যের যোগসূত্র রক্ষার খাতিরে যতটুকু প্রয়োজন তা করা হয়েছে। এই সংক্ষিপ্তসারটিতে মূল কিতাবের সকল অধ্যায় ও পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২- এই সংক্ষিপ্তসারটিকে ২৬৫ পৃষ্ঠার একটি মরক্কান পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, যা আমি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করেছি এবং এটি মসজিদে নববীর লাইব্রেরি থেকে অনুলিপি করা। আমি এই পাণ্ডুলিপি এবং সাইয়্যেদ রশিদ রিদার সংস্করণকে সমান গুরুত্ব দিয়েছি। পাঠের ক্ষেত্রে যেখানে বৈসাদৃশ্য দেখা দিয়েছে, সেখানে বক্তব্যের প্রসঙ্গের সাথে যেটি সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ সেটিই আমি বহাল রেখেছি। আর যেখানে কোনো শব্দ বা বাক্যে অস্পষ্টতা ছিল, সেখানে অর্থ প্রকাশের জন্য সবচেয়ে নিকটবর্তী শব্দগুলো দুটি বন্ধনী চিহ্নের [] মধ্যে স্থাপন করেছি। তবে এমনটি খুব কমই ঘটেছে।

৩- মরক্কান পাণ্ডুলিপির লিপিকার প্রদত্ত অধ্যায় ও পরিচ্ছেদের শিরোনামগুলো থেকে আমি উপকৃত হয়েছি। এছাড়া এই সংক্ষিপ্ত রূপের প্রয়োজনে কিছু পরিচ্ছেদে নতুন শিরোনাম যোগ করেছি।

৪- শব্দের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য আমি টীকায় সংক্ষিপ্ত কিছু মন্তব্য যোগ করেছি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১১)
- ذ -

 

والتعريفات.

5- عزوت الآيات إلى سورها مع ذكر رقمها في المصحف الشريف.

6- خرَّجت الأحاديث والآثار من مصادرها الأصليَّة ذاكراً رقم الحديث أو الأثر وراويه ودرجة صحته ما لم يكن في الصحيحين أو أحدهما وذلك بشكلٍ موجز ومختصر يؤدي الغرض.

7- اجتهدت كثيراً في إخراج الكتاب بصورة تُسَهِّل على القاريء فهمه.

8- وضعت فهارس للآيات، والأحاديث والآثار، وفهرساً تفصيلياً للموضوعات.

وبعد: فلقد بذلت جهدي واجتهدت في إخراج هذا الكتاب بالصورة التي تؤدي إلى مقصد المؤلِّف ولا يسعني إلا أنْ أقول ما صح عن ابن مسعود رضي الله عنه: ((فإنْ يكُ صواباً فمن الله عز وجل، وإنْ يكن خطأً فمني ومن الشيطان، واللهُ عز وجل ورسولُه بريئان)) ، وحسبي أنَّ للمجتهدِ أجراً إذا أخطأ فأرجو ألا يفوتني الأجرُ في كلتا الحالتين.

واللهَ أسألُ أنْ يجعل عملي خالصاً لوجهه الكريم.

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
- যাল -

 

এবং সংজ্ঞাসমূহ।

৫- আমি আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং পবিত্র মুসহাফ অনুযায়ী সেগুলোর নম্বর উল্লেখ করেছি।

৬- আমি হাদিস ও আসারসমূহকে সেগুলোর মূল উৎস থেকে সংকলন (তাখরিজ) করেছি। এতে হাদিস বা আসারের নম্বর, বর্ণনাকারী এবং এর বিশুদ্ধতার স্তর উল্লেখ করেছি—যদি তা বুখারি ও মুসলিম বা এ দুটির কোনো একটিতে না থাকে। এটি অত্যন্ত সংক্ষেপে এবং উদ্দেশ্য পূরণ হয় এমনভাবে করা হয়েছে।

৭- কিতাবটিকে এমন একটি রূপে প্রকাশ করতে আমি যথেষ্ট পরিশ্রম করেছি যা পাঠকের জন্য এর মর্ম উপলব্ধি করা সহজ করে দেয়।

৮- আমি আয়াত, হাদিস ও আসারসমূহের নির্ঘণ্ট এবং বিষয়বস্তুর একটি বিস্তারিত নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।

অতঃপর: আমি এই কিতাবটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করার জন্য আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ও পরিশ্রম ব্যয় করেছি যা লেখকের মূল উদ্দেশ্যকে ফুটিয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে, তা বলা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় নেই: "যদি এটি সঠিক হয় তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যদি ভুল হয় তবে তা আমার এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আর আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত।" আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, একজন মুজতাহিদ ভুল করলেও সওয়াব পান; তাই আমি আশা করি উভয় অবস্থাতেই সওয়াব থেকে বঞ্চিত হব না।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য কবুল করেন।

আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: -)
مختصر كتاب الاعتصام   (علوي السقاف)

القسم: العقيدة


الكتاب : مختصر كتاب الاعتصام

المؤلف : علوي بن عبد القادر السَّقَّاف

الناشر : دار الهجرة للنشر والتوزيع

الطبعة : الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 160

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع ]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুখতাসার কিতাবুল ইতিসাম   (আলাউয়ি আস-সাক্কাফ)

বিভাগ: আকীদা


বই : মুখতাসার কিতাবুল ইতিসাম

লেখক : আলাউয়ি বিন আব্দুল কাদির আস-সাক্কাফ

প্রকাশক : দারুল হিজরাহ প্রকাশনী ও বিতরণী

সংস্করণ : প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمدُ لله المحمودِ على كلِّ حال، والصلاة والسلام على سيِّدنا ومولانا محمدٍ وَسَلِّمْ تَسْلِيمًا كَثِيرًا.

أمَّا بَعْدُ فإنِّي أُذَكِّرُكَ أَيُّهَا الصَّدِيقُ الْأَوْفَى، وَالْخَالِصَةُ الأَصفى، فِي مقدمةٍ يَنْبَغِي تَقْدِيمُهَا قَبْلَ الشُّرُوعِ فِي الْمَقْصُودِ، وَهِيَ مَعْنَى قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌((بُدِئ الإسلام غريباً وسيعود غريباً كما بُدِئ فطُوبى للغُرَباءِ، قِيلَ: وَمَنِ الغرباءُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: الَّذِينَ يُصْلِحُون عِنْدَ فَسَادِ النَّاسِ)) (1) .

وَجُمْلَةُ الْمَعْنَى فِيهِ مِنْ جِهَةِ وَصْفِ الْغُرْبَةِ مَا ظَهَرَ بِالْعِيَانِ وَالْمُشَاهَدَةِ فِي أوَّل الْإِسْلَامِ وَآخِرِهِ، وَذَلِكَ أنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى حِينِ فترةٍ مِنَ الرُّسُلِ، وَفِي جَاهِلِيَّةٍ جَهْلَاءَ، لَا تَعْرِفُ مِنَ الْحَقِّ رَسْمًا، وَلَا تُقِيمُ بِهِ

--------------------------------------------

(1) [صحيح] رواه الآجري في ((الغرباء)) (5) ، وأبو عمرو الداني في ((السنن الواردة في الفتن)) (288) ، وانظر ((السلسلة الصحيحة)) (1273) ، وشطره الأول قبل السؤال رواه جمع من الصحابة قد يصل إلى حد التواتر وهو عند مُسْلِمٌ (145) مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه وفي جميع الروايات بلفظ ((بدأ)) بالفعل المبني للمعلوم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল অবস্থায় প্রশংসিত। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদের ওপর, তাঁর ওপর বর্ষিত হোক অঢেল সালাম।

অতঃপর, হে পরম বিশ্বস্ত এবং একনিষ্ঠ বন্ধু! মূল উদ্দেশ্যে প্রবেশের পূর্বে একটি ভূমিকা সম্পর্কে আমি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অর্থ: ((ইসলাম শুরু হয়েছিল অপরিচিত হিসেবে এবং অচিরেই তা অপরিচিত হয়ে পড়বে যেমনভাবে তা শুরু হয়েছিল। সুতরাং অপরিচিতদের জন্য সুসংবাদ। জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! অপরিচিত কারা? তিনি বললেন: যারা মানুষের বিগড়ে যাওয়ার সময় সংস্কার করে।)) (১)।

অপরিচিত অবস্থার বর্ণনার দিক থেকে এর সামগ্রিক অর্থ হলো যা ইসলামের শুরুতে এবং শেষে চাক্ষুষ ও প্রত্যক্ষভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আর তা এই যে, আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন দীর্ঘ সময় নবী না আসার বিরতির পর এবং ঘোর জাহিলিয়াতের মাঝে, যখন সত্যের কোনো চিহ্নই পরিচিত ছিল না এবং কেউ তা কায়েম করত না।

--------------------------------------------

(১) [সহীহ] এটি বর্ণনা করেছেন আল-আজুররী ‘আল-গুরাবা’ (৫) গ্রন্থে এবং আবু আমর আদ-দানি ‘আস-সুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান’ (২৮৮) গ্রন্থে। দেখুন: ‘আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ’ (১২৭৩)। প্রশ্নের পূর্বের প্রথমাংশ একদল সাহাবী বর্ণনা করেছেন যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর এটি মুসলিম (১৪৫) বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এবং সকল বর্ণনায় এটি কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া ‘বাদাআ’ (শুরু হয়েছে) শব্দে এসেছে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ২)
فِي مَقَاطِعِ الْحُقُوقِ حُكْمًا، بَلْ كَانَتْ تَنْتَحِلُ ما وجدت عليه آباءها، وما استحسنته أَسلافها، مِنَ الآراءِ الْمُنْحَرِفَةِ، والنِّحَل الْمُخْتَرَعَةِ، وَالْمَذَاهِبِ الْمُبْتَدَعَةِ، فَحِينَ قَامَ فِيهِمْ صلى الله عليه وسلم بَشِيرًا وَنَذِيرًا، وَدَاعِيًا إِلَى اللَّهِ بِإِذْنِهِ وَسِرَاجًا مُنِيرًا، فَسُرعان مَا عَارَضُوا مَعْرُوفَهُ بالنُّكر، ونسبوا إليه كلَّ مُحَالٍ، وَرَمَوْهُ بأَنواع الْبُهْتَانِ، فَتَارَةً يَرْمُونَهُ بالكذب وهو الصادق المصدوق، وآونة يتهمونه بالسِّحر، وكرةً يقولون: إنَّه مجنون، كُلُّ ذَلِكَ دُعَاءٌ مِنْهُمْ إِلَى التَّأَسِّي بِهِمْ والموافقة لهم على ما ينتحلون، فَأَنْكَرُوا مَا تَوَقَّعُوا مَعَهُ زَوَالَ مَا بِأَيْدِيهِمْ، لأنَّه خَرَجَ عَنْ مُعْتَادِهِمْ وَأَتَى بِخِلَافِ مَا كانوا عليه من كفرهم وضلالهم.

فأَبى عليه الصلاة والسلام إِلَّا الثُّبُوتَ عَلَى مَحْضِ الْحَقِّ وَالْمُحَافَظَةِ عَلَى خَالِصِ الصَّوَابِ؛ وَأَنْزَلَ الله: {قُلْ يا أَيُّها الكافِرُونَ - لَا أَعْبُدُ مَا تعْبُدُونَ} إِلَى آخِرِ السُّورَةِ، فَنَصَبُوا لَهُ عِنْدَ ذَلِكَ حَرْبَ الْعَدَاوَةِ، وَرَمَوْهُ بِسِهَامِ الْقَطِيعَةِ، وَصَارَ أَهل السِّلم كُلُّهُمْ حرباً عليه، عَادَ الوليُّ الحميمُ عَلَيْهِ كَالْعَذَابِ الأَليم، فأَقربهم إِلَيْهِ نَسَبًا كَانَ أَبعد النَّاسِ عَنْ مُوَالَاتِهِ، كأَبي جهلٍ (1) وَغَيْرِهِ، وأَلصقهم بِهِ رَحِمًا؛ كَانُوا أَقسى قُلُوبًا عَلَيْهِ، فأَي غُرْبَةٍ تُوَازِي هَذِهِ الْغُرْبَةَ؟ وَمَعَ ذَلِكَ فَلَمْ يَكِلْهُ اللَّهُ إِلَى نَفْسِهِ، وَلَا سلَّطهم عَلَى النَّيْل مِنْ أَذاه، بَلْ حَفِظَهُ وَعَصَمَهُ، وَتَوَلَّاهُ بِالرِّعَايَةِ والكلاءَة، حَتَّى بلَّغ رِسَالَةَ رَبِّهِ ثُمَّ مَا زَالَتِ الشَّرِيعَةُ فِي أَثناءِ نُزُولِهَا، وَعَلَى تَوَالِي تَقْرِيرِهَا، تُبْعِدُ بَيْنَ أَهلها وَبَيْنَ غَيْرِهِمْ، وَتَضَعُ الْحُدُودَ بَيْنَ حقها وبين ما ابتدعوا، وَمَا زَالَ عليه الصلاة والسلام يَدْعُو لَهَا، فيؤوب إليه الواحد بعد الواحد، خَوْفًا مِنْ عَادِيَةِ الْكُفَّارِ، زَمَانَ ظُهُورِهِمْ عَلَى دعوة الإسلام.

--------------------------------------------

(1) الأولى أن يقول كأبي لهب، لأنه عمُّه وهو أقرب الناس له نسباً وأشدهم عداوة.
অধিকারের বিষয়গুলোতে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান দ্বারা নয়, বরং তারা তাদের পিতৃপুরুষদের যা করতে দেখেছে এবং তাদের পূর্বসূরিরা যা পছন্দ করেছে, সেই সব বিচ্যুত মতামত, উদ্ভাবিত উপদল এবং নবপ্রবর্তিত মতাদর্শকেই তারা নিজেদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। অতঃপর যখন তাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে দণ্ডায়মান হলেন, তখন তারা অতি দ্রুত তাঁর কল্যাণের বিপরীতে মন্দ দ্বারা বিরোধিতা করল এবং তাঁর প্রতি অসম্ভব সব অপবাদ আরোপ করল। তারা তাঁকে নানা ধরনের মিথ্যা অপবাদে অভিযুক্ত করল; কখনও সত্যবাদী ও সত্যয়নকৃত হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল, কখনও জাদুকর বলে অভিযুক্ত করল, আবার কখনও বলল: তিনি একজন উন্মাদ। এসবই ছিল তাদের পক্ষ থেকে তাদের অনুকরণ করার এবং তাদের গৃহীত ভ্রান্ত পথে একমত হওয়ার একটি আহ্বান মাত্র। তারা সেই জিনিসেরই বিরোধিতা করেছিল যার মাধ্যমে তারা তাদের করায়ত্ত বিষয়সমূহ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করেছিল, কারণ তিনি তাদের প্রথা থেকে বের হয়ে এসেছিলেন এবং তাদের কুফরি ও গোমরাহির বিপরীত বিষয় নিয়ে এসেছিলেন।

কিন্তু তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কেবল পরম সত্যের ওপর অবিচল থাকতে এবং বিশুদ্ধ সঠিক পথ রক্ষা করতেই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {বলুন, হে কাফিররা - আমি তাঁর ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো} সূরার শেষ পর্যন্ত। তখন তারা তাঁর বিরুদ্ধে শত্রুতার যুদ্ধ ঘোষণা করল এবং বিচ্ছেদের তীর নিক্ষেপ করল। শান্তিপ্রিয় সকল মানুষই তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী হয়ে উঠল। ঘনিষ্ঠ বন্ধুও তাঁর জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিস্বরূপ হয়ে উঠল। বংশগতভাবে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তিরাই তাঁর প্রতি মিত্রতা পোষণে সবচেয়ে দূরবর্তী ছিল, যেমন আবু জাহল (১) ও অন্যান্যরা। রক্তের সম্পর্কের যারা সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ছিল, তারাই তাঁর প্রতি কঠোরতম হৃদয়ের অধিকারী ছিল। তবে এই নিঃসঙ্গতার সমতুল্য আর কী নিঃসঙ্গতা হতে পারে? তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাঁকে তাঁর নিজের ওপর ছেড়ে দেননি এবং তাদের তাঁর কোনো ক্ষতি করার সুযোগ দেননি। বরং তিনি তাঁকে রক্ষা করেছেন, হেফাযত করেছেন এবং নিজের তত্ত্বাবধান ও আশ্রয়ে প্রতিপালন করেছেন, যতক্ষণ না তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন। অতঃপর শরীয়ত অবতীর্ণ হওয়ার সময় থেকে এবং এর বিধানসমূহ ক্রমাগত সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে এর অনুসারীদের ও অন্যদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকল এবং শরীয়তের সত্যতা ও তাদের উদ্ভাবিত বিষয়ের মাঝে সীমারেখা টেনে দেওয়া হলো। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর দিকে দাওয়াত দিতে থাকলেন, ফলে ইসলামের দাওয়াতের ওপর কাফিরদের আধিপত্যের সময়ে তাদের অত্যাচারের ভয়ে একে একে মানুষ তাঁর দিকে ফিরে আসতে লাগল।

--------------------------------------------

(১) এখানে আবু লাহাব বলা অধিকতর যুক্তিযুক্ত, কারণ তিনি ছিলেন তাঁর চাচা এবং বংশগতভাবে তাঁর সবচেয়ে নিকটাত্মীয় অথচ শত্রুতার দিক থেকে কঠোরতম।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৩)
ثُمَّ استمرَّ مَزِيدُ الْإِسْلَامِ، وَاسْتَقَامَ طَرِيقُهُ عَلَى مدةِ حَيَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَمِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ؛ وأَكثرِ قَرْنِ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم، إِلَى أَن نَبَغَتْ فِيهِمْ نَوَابِغُ الْخُرُوجِ عَنِ السُّنَّة، وأَصغوا إِلَى الْبِدَعِ الْمُضِلَّةِ كَبِدْعَةِ الْقَدَرِ وَبِدْعَةِ الْخَوَارِجِ، وَهِيَ الَّتِي نَبَّهَ عَلَيْهَا الْحَدِيثُ بِقَوْلِهِ: ((يَقْتُلُونَ أَهل الْإِسْلَامِ، وَيَدَعُونَ أَهل الأَوثان، يقرأون الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ تَرَاقِيَهُمْ)) (1) يَعْنِي لَا يَتَفَقَّهُونَ فِيهِ، بَلْ يأْخذونه عَلَى الظَّاهِرِ: كَمَا بَيَّنَهُ حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ الْآتِي بِحَوْلِ اللَّهِ. وَهَذَا كُلُّهُ فِي آخِرِ عَهْدِ الصَّحَابَةِ.

ثُمَّ لَمْ تَزَلِ الْفِرَقُ تَكْثُرُ حَسْبَمَا وَعَدَ بِهِ الصَّادِقُ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِهِ: ((افْتَرَقَتِ الْيَهُودُ عَلَى إِحْدَى وَسَبْعِينَ فِرْقَةً وَالنَّصَارَى مِثْلُ ذَلِكَ وَتَفْتَرِقُ أُمتي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ فِرْقَةً)) (2) وَفِي الْحَدِيثِ الْآخَرِ ((لتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ شِبْرًا بِشِبْرٍ وَذِرَاعًا بِذِرَاعٍ حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِي جُحْرِ ضَبٍّ لَاتَّبَعْتُمُوهُمْ)) قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى؟ قَالَ: ((فَمَنْ؟)) (3) وَهَذَا أَعم مِنَ الْأَوَّلِ فإنَّ الأَول عِنْدَ كَثِيرٍ مِنْ أَهل الْعِلْمِ خَاصٌّ بأَهل الأَهواءِ وَهَذَا الثَّانِي عَامٌّ فِي الْمُخَالَفَاتِ، وَيَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ مِنَ الْحَدِيثِ قَوْلُهُ: ((حَتَّى لَوْ دَخَلُوا فِي جُحْرِ ضَبٍّ لَاتَّبَعْتُمُوهُمْ)) .

وكلُّ صَاحِبِ مُخَالَفَةٍ فَمِنْ شأْنه أَن يدعو غيره إليها، ويحض سِوَاهُ عَلَيْهَا، إِذِ التأَسي فِي الأَفعال وَالْمَذَاهِبِ موضوع طلبه في الجِبِلَّة، وبسببه تقع من الْمُخَالِفِ الْمُخَالَفَةُ، وَتَحْصُلُ مِنَ الْمُوَافِقِ الْمُؤَالَفَةُ، وَمِنْهُ تنشأُ العداوة والبغضاء للمختلفين.

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (1064) من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه؛ وأوله: ((إن من ضئضيء هذا قوماً....)) وانظر: (ص 29 و 33) .

(2) [حسن] رواه أبو داود (4596) والترمذي (2640) وابن ماجه (3991) وغيرهم مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه.

(3) رواه البخاري (3456) و (7320) ، ومسلم (2669) وغيرهما من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.
অতঃপর ইসলামের প্রসার অব্যাহত থাকে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকালে এবং তাঁর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের যুগের অধিকাংশ সময় পর্যন্ত এর পথ সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল। পরিশেষে তাদের মধ্যে সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করল এবং তারা কদর ও খারেজিদের বিদআতের মতো পথভ্রষ্ট বিদআতসমূহের দিকে ঝুঁকে পড়ল। আর এটিই সেই বিষয় যার প্রতি হাদিসে এই বাণীর মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছে: "তারা মুসলিমদের হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজারীদের ছেড়ে দেবে, তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে নামবে না" (১)। অর্থাৎ তারা এতে গভীরভাবে অনুধাবন করবে না, বরং কেবল বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করবে: যেমনটি আল্লাহর শক্তিতে সামনে আগত ইবনে ওমরের হাদিস দ্বারা স্পষ্ট হবে। আর এই সবকিছু সাহাবীগণের যুগের শেষ ভাগে ঘটেছিল।

এরপর থেকে ফিরকা বা দলসমূহের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে যেমনটি সত্যবাদী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই বাণীতে ওয়াদা করেছিলেন: "ইহুদিরা একাত্তর ফিরকায় বিভক্ত হয়েছিল এবং নাসারারাও তদ্রূপ, আর আমার উম্মত তিয়াত্তর ফিরকায় বিভক্ত হবে" (২)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতিকে প্রতি বিঘত বিঘত এবং প্রতি হাত হাত অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে।" আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদি ও নাসারাদের? তিনি বললেন: "তবে আর কাদের?" (৩)। আর এটি প্রথম হাদিসের তুলনায় অধিক ব্যাপক, কেননা অনেক আলেমদের নিকট প্রথম হাদিসটি প্রবৃত্তিপূজারীদের সাথে নির্দিষ্ট, আর দ্বিতীয়টি সাধারণ সকল অবাধ্যতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হাদিসের এই অংশটি তার প্রমাণ দেয়: "এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে।"

আর প্রত্যেক অবাধ্যতাকারী বা ভিন্নমত পোষণকারীর বৈশিষ্ট্য হলো সে অন্যদেরও তার দিকে আহ্বান করে এবং অন্যদের সে বিষয়ে উৎসাহিত করে। কেননা কার্যাবলী ও মতাদর্শের ক্ষেত্রে কাউকে অনুসরণ করার প্রবণতা মানুষের জন্মগত স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। আর এর কারণেই বিরোধিতাকারীর পক্ষ থেকে বিরোধিতা ঘটে এবং অনুসারীর পক্ষ থেকে একাত্মতা তৈরি হয়। আর এ থেকেই ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষের সৃষ্টি হয়।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (১০৬৪) আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন; এর শুরু হয়েছে এভাবে: "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তির বংশধরদের থেকে এক কওম আসবে..." দেখুন: (পৃষ্ঠা ২৯ এবং ৩৩)।

(২) [হাসান] আবু দাউদ (৪৫৯৬), তিরমিজি (২৬৪০), ইবনে মাজাহ (৩৯৯১) এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) বুখারী (৩৪৫৬) ও (৭৩২০), মুসলিম (২৬৬৯) এবং অন্যান্যরা আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৪)
وكان الْإِسْلَامُ فِي أوَّله وجِدَّتِه مُقَاوِمًا بَلْ ظَاهِرًا، وَأَهْلُهُ غَالِبُونَ وَسَوَادُهُمْ أَعْظَمُ الْأَسْوِدَةِ، فَخَلَا مِنْ وَصْفِ الْغُرْبَةِ بِكَثْرَةِ الْأَهْلِ والأولياءِ النَّاصِرِينَ، فَلَمْ يَكُنْ لِغَيْرِهِمْ مِمَّنْ لَمْ يَسْلُكْ سَبِيلَهُمْ أَوْ سَلَكَهُ وَلَكِنَّهُ ابْتَدَعَ فِيهِ صَوْلَةٌ يَعْظُمُ مَوْقِعُهَا، وَلَا قُوَّةٌ يَضْعُفُ دُونَهَا حِزْبُ اللَّهِ الْمُفْلِحُونَ، فَصَارَ عَلَى اسْتِقَامَةٍ، وَجَرَى عَلَى اجْتِمَاعٍ وَاتِّسَاقٍ، فَالشَّاذُّ مَقْهُورٌ مضطَّهد، إِلَى أَنْ أَخَذَ اجتماعُه فِي الِافْتِرَاقِ الْمَوْعُودِ؛ وقوتُه إِلَى الضَّعْفِ الْمُنْتَظَرِ، وَالشَّاذُّ عَنْهُ تَقْوَى صَوْلَتُهُ وَيَكْثُرُ سَوَادُهُ، وَاقْتَضَى سرُّ التأسِّي المطالبةَ بالموافقةِ، وَلَا شَكَّ أنَّ الْغَالِبَ أَغْلَبُ، فَتَكَالَبَتْ عَلَى سَوَادِ السُّنَّةِ البدعُ وَالْأَهْوَاءُ، فَتَفَرَّقَ أَكْثَرُهُمْ شِيَعًا. وَهَذِهِ سُنَّةُ اللَّهِ فِي الْخَلْقِ؛ أنَّ أَهْلَ الْحَقِّ فِي جَنْبِ أَهْلِ الْبَاطِلِ قَلِيلٌ؛ لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَا أكْثرُ النَّاسِ ولوْ حَرصْتَ بمُؤمِنِين} (1) ، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وقلِيلٌ مِنْ عِبَاديَ الشَّكُورُ} (2) وَلِيُنْجِزَ اللَّهُ مَا وَعَدَ بِهِ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَوْدِ وَصْفِ الْغُرْبَةِ إِلَيْهِ، فإنَّ الْغُرْبَةَ لَا تَكُونُ إِلَّا مَعَ فَقْدِ الْأَهْلِ أَوْ قِلَّتِهِمْ، وَذَلِكَ حِينَ يَصِيرُ الْمَعْرُوفُ مُنْكَرًا؛ وَالْمُنْكَرُ مَعْرُوفًا، وَتَصِيرُ السُّنَّةُ بِدْعَةً، والبدعةُ سُنَّةً، فَيُقَامُ عَلَى أَهْلِ السُّنَّة بِالتَّثْرِيبِ وَالتَّعْنِيفِ؛ كَمَا كَانَ أوَّلاً يُقَامُ عَلَى أَهْلِ الْبِدْعَةِ، طَمَعًا مِنَ الْمُبْتَدِعِ أَنْ تَجْتَمِعَ كلمةُ الضَّلَالِ، ويأْبى اللَّهُ أَنْ تَجْتَمِعَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، فَلَا تَجْتَمِعُ الفِرَقُ كلُّها ـ عَلَى كَثْرَتِهَا ـ عَلَى مُخَالَفَةِ السُّنَّة عَادَةً وَسَمْعًا، بَلْ لَا بُدَّ أَنْ تَثْبُتَ جَمَاعَةُ أَهْلِ السُّنَّة حَتَّى يأْتي أَمْرُ اللَّهِ، غَيْرَ أنَّهم لِكَثْرَةِ مَا تُناوِشُهم الْفِرَقُ الضَّالَّةُ وَتُنَاصِبُهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ اسْتِدْعَاءً إِلَى مُوَافَقَتِهِمْ، لَا يَزَالُونَ فِي جِهَادٍ وَنِزَاعٍ، وَمُدَافَعَةٍ وَقِرَاعٍ؛ آناءَ اللَّيْلِ والنهار،

--------------------------------------------

(1) يوسف: 103.

(2) سبأ: 13.
ইসলাম তার প্রারম্ভিক ও নবীন অবস্থায় ছিল অদম্য, বরং বিজয়ী; তার অনুসারীরা ছিল প্রবল এবং তাদের লোকবল ছিল সর্বাপেক্ষা বৃহৎ। ফলে অনুসারী ও সাহায্যকারী বন্ধুদের প্রাচুর্যের কারণে তখন এটি একাকীত্ব বা অপরিচিত হওয়ার (গুরাবাহ) বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত ছিল। তাই যারা তাদের পথ অবলম্বন করেনি কিংবা পথটি ধরলেও তাতে বিদআত সৃষ্টি করেছিল, তাদের এমন কোনো প্রতাপ ছিল না যার প্রভাব গুরুতর হয়, আর না ছিল এমন কোনো শক্তি যার সামনে আল্লাহর সফল দল দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে দ্বীন ছিল সুদৃঢ় এবং ঐক্য ও সুশৃঙ্খলার ওপর প্রবাহমান। আর বিচ্ছিন্ন বা চ্যুত ব্যক্তিরা ছিল দমিত ও লাঞ্ছিত। পরিশেষে তার সেই ঐক্য প্রতিশ্রুত বিভক্তির দিকে এবং তার শক্তি প্রতীক্ষিত দুর্বলতার দিকে ধাবিত হতে শুরু করল। আর মূল পথ থেকে চ্যুতদের প্রতাপ শক্তিশালী হতে লাগল এবং তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। অনুসরণের রহস্যই হলো ঐকমত্যের দাবি করা; আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিজয়ীরাই অধিক প্রভাবশালী হয়। ফলে সুন্নাহর বিশাল জনসমষ্টির ওপর বিদআত ও খেয়ালখুশি চড়াও হলো এবং তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল। আর সৃষ্টির ক্ষেত্রে এটিই আল্লাহর নিয়ম যে, বাতিলের মোকাবিলায় হকের অনুসারীরা সংখ্যায় অল্প হবে; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর তুমি যতই ব্যাকুল হও না কেন, অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনয়নকারী নয়} (১), এবং তাঁর বাণী: {আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ} (২)। আর আল্লাহ যেন তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন, যাতে দ্বীন পুনরায় 'গুরাবাহ' বা অপরিচিত অবস্থায় ফিরে আসবে। কেননা অপরিচিত অবস্থা তখনই ঘটে যখন আপনজন হারিয়ে যায় বা তাদের সংখ্যা অতি নগণ্য হয়। আর তা হবে সেই সময়ে যখন ন্যায় (মা'রূফ) হবে অন্যায় (মুনকার), আর অন্যায় হবে ন্যায়; সুন্নাহ হবে বিদআত আর বিদআত হবে সুন্নাহ। তখন সুন্নাহর অনুসারীদের ওপর তিরস্কার ও কঠোরতা করা হবে, যেমনটি শুরুতে বিদআতীদের সাথে করা হতো। বিদআতীরা এই আশায় এমনটি করবে যেন ভ্রষ্টতার বাণী ঐক্যবদ্ধ হয়, কিন্তু কিয়ামত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তা ঐক্যবদ্ধ হতে দেবেন না। ফলে সকল দল—তাদের আধিক্য সত্ত্বেও—স্বভাবজাতভাবে বা শরয়ি শ্রুতির আলোকে সুন্নাহর বিরোধিতায় পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ হতে পারবে না। বরং আহলে সুন্নাহর একটি দল অবশ্যই অটল থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয়। তবে ভ্রষ্ট দলগুলোর পক্ষ থেকে ক্রমাগত আক্রমণ এবং তাদের সাথে একাত্ম হওয়ার আহ্বানে প্রকাশ্য শত্রুতা ও বিদ্বেষের কারণে তারা দিবারাত্রি জিহাদ, বিবাদ, প্রতিরক্ষা ও সংগ্রামের মধ্যে লিপ্ত থাকে।

--------------------------------------------

(১) ইউসুফ: ১০৩।

(২) সাবা: ১৩।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৫)
وَبِذَلِكَ يُضَاعِفُ اللَّهُ لَهُمُ الْأَجْرَ الْجَزِيلَ وَيُثِيبُهُمْ الثَّوَابَ الْعَظِيمَ.

فَقَدْ تَلَخَّصَ مِمَّا تَقَدَّمَ أنَّ مطالبة المخالف بِالْمُوَافَقَةِ جارٍ مَعَ الْأَزْمَانِ لَا يختصُّ بِزَمَانٍ دُونَ زَمَانٍ، فَمَنْ وَافَقَ فَهُوَ عِنْدَ الْمُطَالِبِ المُصيب عَلَى أَيِّ حَالٍ كَانَ، وَمَنْ خَالَفَ فهو المخطيء الْمُصَابُ، وَمَنْ وَافَقَ فَهُوَ الْمَحْمُودُ السَّعِيدُ، وَمَنْ خَالَفَ فَهُوَ الْمَذْمُومُ الْمَطْرُودُ، وَمَنْ وَافَقَ فَقَدْ سَلَكَ سَبِيلَ الْهِدَايَةِ، وَمَنْ خَالَفَ فَقَدْ تَاهَ في طرق الضلالة والغواية (1) .

--------------------------------------------

(1) تكلَّم الشاطبي في الأصل (1/24 ـ 35) عن طلبه العلم واتباعه للسُّنة وما ألصقه به قومُه من التهم والتبديع ومن ذلك أنه لا يرى الدعاء بهيئة الاجتماع ولا الدعاء للخلفاء الراشدين على المنابر فاتُّهم بالرفض والخروج ومخالفة السُّنة والجماعة، ثم ذكر رحمه الله أن ذلك من أسباب تأليفه الكتاب.
এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের জন্য প্রতিদানকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেন এবং তাদের মহান সওয়াব প্রদান করেন।

পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা সংক্ষেপে প্রতীয়মান হয় যে, ভিন্নমতাবলম্বীদের নিকট ঐকমত্যের দাবি সময়ের সাথে সাথে চলমান রয়েছে, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। ফলে যে ব্যক্তি একমত পোষণ করল, সে দাবিদাতার নিকট সর্বাবস্থায় সঠিক হিসেবে গণ্য হলো। আর যে ভিন্নমত পোষণ করল, সে ভুলকারী ও বিপথগামী হিসেবে সাব্যস্ত হলো। যে একমত হলো, সে প্রশংসিত ও সৌভাগ্যবান; আর যে ভিন্নমত পোষণ করল, সে নিন্দিত ও বিতাড়িত। যে একমত হলো, সে হেদায়েতের পথে চলল; আর যে ভিন্নমত পোষণ করল, সে পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর পথে হারিয়ে গেল (১)।

--------------------------------------------

(১) শাতীবী মূল গ্রন্থে (১/২৪-৩৫) তাঁর জ্ঞানার্জন এবং সুন্নাহর অনুসরণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর সম্প্রদায় তাঁর প্রতি যেসব অপবাদ ও বিদআতের মিথ্যা অভিযোগ আরোপ করেছিল সে সম্পর্কেও আলোকপাত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল যে, তিনি সম্মিলিত পন্থায় দোয়া করা এবং মিম্বরে খোলাফায়ে রাশেদীনের জন্য দোয়া করার রীতি সমর্থন করতেন না; ফলে তাঁকে রাফেজী ও খারেজী হওয়া এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিরোধিতার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন যে, এটিই ছিল তাঁর এই কিতাবটি রচনার অন্যতম কারণ।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌البابُ الأوَّل

[في تعريف البدع وبيان معناها وما اشتق منه لفظاً]

وأصل مادة ((بَدَعَ)) لِلِاخْتِرَاعِ عَلَى غَيْرِ مِثَالٍ سَابِقٍ، وَمِنْهُ قول الله تعالى: {بَدِيعُ السَّموَاتِ والأرْضِ} (1) أي مخترعهما مِنْ غَيْرِ مِثَالٍ سَابِقٍ مُتَقَدِّمٍ، وَقَوْلُهُ تَعَالَى: {قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعاً مِن الرُّسُل} (2) ، أَيْ مَا كُنْتُ أوَّل مَنْ جاءَ بِالرِّسَالَةِ مِنَ اللَّهِ إِلَى الْعِبَادِ بَلْ تَقَدَّمَنِي كَثِيرٌ مِنَ الرُّسُلِ، وَيُقَالُ: ابْتَدَعَ فَلَانٌ بِدْعَةً يَعْنِي ابْتَدَأَ طَرِيقَةً لَمْ يَسْبِقْهُ إِلَيْهَا سَابِقٌ. وَهَذَا أَمْرٌ بَدِيعٌ، يُقَالُ فِي الشَّيْءِ الْمُسْتَحْسَنِ الَّذِي لَا مِثَالَ لَهُ فِي الْحُسْنِ، فكأنَّه لَمْ يَتَقَدَّمْهُ مَا هُوَ مِثْلُهُ وَلَا مَا يُشْبِهُهُ.

وَمِنْ هَذَا الْمَعْنَى سُمِّيَتِ الْبِدْعَةُ بِدْعَةً، فَاسْتِخْرَاجُهَا لِلسُّلُوكِ عَلَيْهَا هُوَ الِابْتِدَاعُ، وَهَيْئَتُهَا هِيَ الْبِدْعَةُ، وَقَدْ يسمى العمل الْمَعْمُولُ عَلَى ذَلِكَ الْوَجْهِ بِدْعَةً: فَمِنْ هَذَا الْمَعْنَى سُمِّيَ الْعَمَلُ الَّذِي لَا دَلِيلَ عَلَيْهِ فِي الشَّرْعِ بِدْعَةً، وَهُوَ إِطْلَاقٌ أَخَصُّ مِنْهُ في اللغة فَالْبِدْعَةُ إِذَنْ عِبَارَةٌ عَنْ: ((طريقةٌ فِي الدِّينِ مُخْتَرَعَةٍ تُضَاهِي الشَّرْعِيَّةَ يُقْصَدُ بِالسُّلُوكِ عَلَيْهَا الْمُبَالَغَةُ في التعبد لله سبحانه))

--------------------------------------------

(1) البقرة: 117، الأنعام: 101.

(2) الأحقاف: 9.
প্রথম অধ্যায়

[বিদআতের সংজ্ঞা, এর অর্থ এবং যে শব্দমূল থেকে এটি উদ্ভূত তার বর্ণনা প্রসঙ্গে]

'বাদা'আ' শব্দের মূল ভিত্তি হলো কোনো পূর্ববর্তী নমুনা ব্যতিরেকে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {আসমানসমূহ ও যমীনের অদ্বিতীয় উদ্ভাবক} (১) অর্থাৎ কোনো পূর্ববর্তী অগ্রগামী নমুনা ছাড়াই তিনি এ দুটির উদ্ভাবক। আর মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, আমি রাসূলগণের মধ্যে কোনো নতুন ব্যক্তি নই} (২), অর্থাৎ আমিই প্রথম ব্যক্তি নই যে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের নিকট রিসালাত নিয়ে এসেছি, বরং আমার পূর্বে বহু রাসূল অতিক্রান্ত হয়েছেন। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি একটি বিদআত উদ্ভাবন করেছে, অর্থাৎ সে এমন এক পদ্ধতির সূচনা করেছে যাতে তার পূর্বে কেউ অগ্রগামী ছিল না। আর "এটি একটি চমৎকার বিষয়" কথাটি এমন পছন্দনীয় বস্তুর ক্ষেত্রে বলা হয় যার সৌন্দর্যে কোনো দৃষ্টান্ত নেই, যেন ইতিপূর্বে এর সদৃশ বা সমতুল্য কিছু ছিল না।

এই অর্থ থেকেই বিদআতকে 'বিদআত' নামকরণ করা হয়েছে। সুতরাং অনুসরণের উদ্দেশ্যে তা উদ্ভাবন করা হলো 'ইবতিদা' (উদ্ভাবন), আর তার রূপটি হলো 'বিদআত'। কখনো কখনো সেই তরিকায় সম্পাদিত আমলকেও বিদআত বলা হয়। এই অর্থ থেকেই শরিয়তে যে আমলের কোনো দলিল নেই তাকে 'বিদআত' বলা হয়, যা এর আভিধানিক ব্যবহারের তুলনায় অধিক সুনির্দিষ্ট। সুতরাং বিদআত হলো: ((দ্বীনের মধ্যে এমন এক উদ্ভাবিত পথ যা শরয়ী পদ্ধতির সদৃশ, যা অনুসরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদতে অতিশয়তা অর্জনের উদ্দেশ্য রাখা হয়।))

--------------------------------------------

(১) আল-বাকারা: ১১৭, আল-আন'আম: ১০১।

(২) আল-আহকাফ: ৯।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৮)
وَهَذَا عَلَى رَأْيِ مَنْ لَا يُدْخِلُ الْعَادَاتِ فِي مَعْنَى الْبِدْعَةِ، وإنَّما يَخُصُّهَا بِالْعِبَادَاتِ، وأمَّا عَلَى رَأْيِ مَنْ أَدْخَلَ الْأَعْمَالَ الْعَادِيَّةَ فِي مَعْنَى الْبِدْعَةِ فَيَقُولُ: ((الْبِدْعَةُ طَرِيقَةٌ فِي الدِّينِ مُخْتَرَعَةٌ تُضَاهِي الشَّرْعِيَّةَ يُقْصَدُ بِالسُّلُوكِ عَلَيْهَا مَا يُقْصَدُ بِالطَّرِيقَةِ الشَّرْعِيَّةِ)) وَلَا بُدَّ مِنْ بَيَانِ أَلْفَاظِ هَذَا الْحَدِّ. فَالطَّرِيقَةُ وَالطَّرِيقُ وَالسَّبِيلُ وَالسَّنَنُ هِيَ بِمَعْنًى وَاحِدٍ وَهُوَ مَا رُسِمَ لِلسُّلُوكِ عَلَيْهِ وإنَّما قُيِّدت بِالدِّينِ لأنَّها فِيهِ تُخْتَرَعُ وَإِلَيْهِ يُضِيفُهَا صَاحِبُهَا وَأَيْضًا فَلَوْ كَانَتْ طَرِيقَةً مُخْتَرَعَةً فِي الدُّنْيَا عَلَى الْخُصُوصِ لَمْ تُسَمَّ بِدْعَةً كَإِحْدَاثِ الصَّنَائِعِ وَالْبُلْدَانِ الَّتِي لَا عَهْدَ بِهَا فِيمَا تَقَدَّمَ.

وَلَمَّا كَانَتِ الطَّرَائِقُ فِي الدِّينِ تَنْقَسِمُ، فَمِنْهَا مَا لَهُ أَصْلٌ فِي الشَّرِيعَةِ، وَمِنْهَا مَا لَيْسَ لَهُ أَصْلٌ فِيهَا، خُصَّ مِنْهَا مَا هُوَ الْمَقْصُودُ بِالْحَدِّ وَهُوَ الْقِسْمُ الْمُخْتَرَعُ، أَيْ طَرِيقَةٌ ابْتُدِعَتْ عَلَى غَيْرِ مِثَالٍ تَقَدَّمَهَا مِنَ الشَّارِعِ، إِذِ الْبِدْعَةُ إنَّما خاصَّتها أنَّها خَارِجَةٌ عَمَّا رَسَمَهُ الشَّارِعُ، وَبِهَذَا الْقَيْدِ انْفَصَلَتْ عَنْ كلِّ مَا ظَهَرَ لِبَادِي الرأْي أنَّه مُخْتَرَعٌ مِمَّا هُوَ مُتَعَلِّقٌ بِالدِّينِ، كَعِلْمِ النَّحْوِ وَالتَّصْرِيفِ وَمُفْرَدَاتِ اللُّغَةِ وَأُصُولِ الْفِقْهِ وأُصول الدِّينِ، وَسَائِرِ الْعُلُومِ الْخَادِمَةِ لِلشَّرِيعَةِ فإنَّها وَإِنْ لَمْ تُوجَدْ فِي الزَّمَانِ الأوَّل فأُصولها موجودة في الشرع.

(فَإِنْ قِيلَ) : فإنَّ تَصْنِيفَهَا عَلَى ذَلِكَ الْوَجْهِ مُخْتَرَعٌ.

(فَالْجَوَابُ) : أنَّ لَهُ أَصْلًا فِي الشَّرْعِ، فَفِي الْحَدِيثِ مَا يَدُلُّ عَلَيْهِ، وَلَوْ سُلِّم أنَّه لَيْسَ فِي ذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى الْخُصُوصِ، فَالشَّرْعُ بِجُمْلَتِهِ يَدُلُّ عَلَى اعْتِبَارِهِ، وَهُوَ مُسْتَمَدٌّ مِنْ قَاعِدَةِ الْمَصَالِحِ الْمُرْسَلَةِ، وسيأْتي بَسْطُهَا بِحَوْلِ الله (1) .

--------------------------------------------

(1) في الباب الثامن (ص 99) .
এটি তাদের মত অনুসারে যারা অভ্যাসগত বিষয়গুলোকে বিদআতের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেন না, বরং একে কেবল ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন। আর যারা সাধারণ কাজগুলোকেও বিদআতের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করেন, তারা বলেন: "বিদআত হলো দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত এমন এক পথ যা শরীয়তের সদৃশ, যা অনুসরণের মাধ্যমে সেই লক্ষ্যই পোষণ করা হয় যা শরীয়তসম্মত পথ অনুসরণের মাধ্যমে করা হয়।" আর এই সংজ্ঞার শব্দগুলো ব্যাখ্যা করা জরুরি। 'তারিকা', 'তারিক', 'সাবিল' এবং 'সুনান' শব্দগুলো একই অর্থ বহন করে; আর তা হলো অনুসরণের জন্য নির্ধারিত পথ। একে 'দ্বীনের মধ্যে' বলে বিশেষায়িত করা হয়েছে কারণ বিদআত দ্বীনের মধ্যেই উদ্ভাবন করা হয় এবং এর উদ্ভাবক একে দ্বীনের সাথেই সম্পৃক্ত করে। এছাড়া এটি যদি বিশেষভাবে কেবল পার্থিব বিষয়ের কোনো উদ্ভাবিত পদ্ধতি হতো তবে তাকে বিদআত বলা হতো না, যেমন ইতিপূর্বে ছিল না এমন কোনো শিল্প বা শহর নির্মাণ।

যেহেতু দ্বীনের পথসমূহ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত—যার কোনোটির ভিত্তি শরীয়তে বিদ্যমান এবং কোনোটির নেই—তাই সংজ্ঞার মাধ্যমে সেই অংশকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে যা 'উদ্ভাবিত', অর্থাৎ এমন এক পথ যা শরীয়তপ্রণেতার পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী কোনো দৃষ্টান্ত ছাড়াই প্রবর্তন করা হয়েছে। কেননা বিদআতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি শরীয়তপ্রণেতা কর্তৃক নির্ধারিত সীমার বাইরে। এই শর্তের মাধ্যমে সেই সমস্ত বিষয় পৃথক হয়ে যায় যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে দ্বীন সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবিত বিষয় মনে হতে পারে, যেমন: নাহু (ব্যাকরণ), সারফ, শব্দতত্ত্ব, উসূলুল ফিকহ, উসূলুদ দ্বীন এবং শরীয়তের সহায়ক অন্যান্য জ্ঞানসমূহ। কারণ এগুলো যদিও প্রাথমিক যুগে (এই বিন্যাসে) ছিল না, তবে এগুলোর মূল ভিত্তি শরীয়তে বিদ্যমান।

(যদি বলা হয়): তবে তো ঐ আঙ্গিকে সেগুলোর বিন্যাস ও সংকলন একটি উদ্ভাবিত বিষয়।

(উত্তর): শরীয়তে এর মূল ভিত্তি রয়েছে, এবং হাদিসের মধ্যেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। যদি এটি মেনেও নেওয়া হয় যে এ বিষয়ে বিশেষভাবে কোনো প্রমাণ নেই, তবুও সামগ্রিক শরীয়ত এর গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয়। আর এটি 'মাসালিহে মুরসালাহ' (জনস্বার্থ)-এর মূলনীতি থেকে গৃহীত, যা আল্লাহর শক্তিতে সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হবে (১)।

--------------------------------------------

(১) অষ্টম অধ্যায়ে (পৃষ্ঠা ৯৯)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ৯)
فَعَلَى الْقَوْلِ بِإِثْبَاتِهَا أَصْلًا شَرْعِيًّا لَا إِشْكَالَ فِي أنَّ كلَّ عِلْمٍ خَادِمٍ لِلشَّرِيعَةِ داخلٌ تحت أدلته التي ليست بمأْخوذة من جزئي وَاحِدٍ؛ فَلَيْسَتْ بِبِدْعَةٍ البتَّة.

وَعَلَى الْقَوْلِ بِنَفْيِهَا لَا بُدَّ أَنْ تَكُونَ تِلْكَ الْعُلُومُ مُبْتَدَعَاتٍ، وَإِذَا دَخَلَتْ فِي عِلْمِ الْبِدَعِ كَانَتْ قَبِيحَةً، لأنَّ كلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ مِنْ غَيْرِ إِشْكَالٍ، كَمَا يَأْتِي بَيَانُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ.

وَيَلْزَمُ مِنْ ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ كَتْبُ الْمُصْحَفِ وجَمْعُ الْقُرْآنِ قَبِيحًا، وَهُوَ بَاطِلٌ بِالْإِجْمَاعِ فَلَيْسَ إِذًا ببدعة.

ويلزم أن يكون دَلِيلٌ شَرْعِيٌّ، وَلَيْسَ إِلَّا هَذَا النَّوْعُ مِنَ الِاسْتِدْلَالِ، وَهُوَ الْمَأْخُوذُ مِنْ جُمْلَةِ الشَّرِيعَةِ.

وَإِذَا ثَبَتَ جزئيٌ فِي الْمَصَالِحِ الْمُرْسَلَةِ، ثَبَتَ مُطْلَقُ الْمَصَالِحِ الْمُرْسَلَةِ.

فَعَلَى هَذَا لَا يَنْبَغِي أَنْ يُسَمَّى عِلْمُ النَّحْوِ أَوْ غَيْرُهُ مِنْ عُلُومِ اللِّسَانِ أَوْ عِلْمُ الْأُصُولِ أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنَ الْعُلُومِ الْخَادِمَةِ لِلشَّرِيعَةِ، بِدْعَةً أَصْلًا.

وَقَوْلُهُ فِي الْحَدِّ ((تُضَاهِي الشَّرْعِيَّةَ)) يَعْنِي: أنَّها تُشَابِهُ الطَّرِيقَةَ الشَّرْعِيَّةَ مِنْ غَيْرِ أَنْ تَكُونَ فِي الْحَقِيقَةِ كَذَلِكَ، بَلْ هِيَ مُضَادَّةٌ لَهَا مِنْ أَوْجُهٍ مُتَعَدِّدَةٍ:

مِنْهَا: وَضَعُ الْحُدُودِ كَالنَّاذِرِ لِلصِّيَامِ قَائِمًا لَا يَقْعُدُ، ضَاحِيًا لَا يَسْتَظِلُّ، وَالِاخْتِصَاصُ فِي الِانْقِطَاعِ لِلْعِبَادَةِ، وَالِاقْتِصَارُ مِنَ الْمَأْكَلِ وَالْمَلْبَسِ عَلَى صِنْفٍ دُونَ صِنْفٍ مِنْ غَيْرِ علة.
সুতরাং একে শরয়ী মূলনীতি হিসেবে সাব্যস্ত করার মতানুসারে, শরীয়তের খিদমতকারী প্রতিটি জ্ঞান এর দলীলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই, যা কোনো একক আংশিক দলিল থেকে গৃহীত নয়; অতএব তা মোটেও বিদআত নয়।

আর একে অস্বীকার করার মতানুসারে, এই জ্ঞানগুলো অবশ্যই বিদআত হিসেবে গণ্য হবে। আর যখন তা বিদআতের সংজ্ঞায় প্রবেশ করবে, তখন তা হবে নিন্দনীয়; কেননা কোনো সংশয় ছাড়াই প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে।

আর এর ফলে মুসহাফ লিপিবদ্ধ করা এবং কুরআন সংকলন করা নিন্দনীয় হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, অথচ ইজমার ভিত্তিতে এটি বাতিল; সুতরাং এটি বিদআত নয়।

আর এখানে একটি শরয়ী দলীল থাকা আবশ্যক, যা এই প্রকারের ইস্তিদলাল বা যুক্তিপ্রমাণ ছাড়া আর কিছু নয়, যা মূলত শরীয়তের সামগ্রিকতা থেকে গৃহীত।

আর যখন মাসালিহ মুরসালাহ-র ক্ষেত্রে কোনো আংশিক বিষয় সাব্যস্ত হয়, তখন সাধারণভাবে মাসালিহ মুরসালাহ সাব্যস্ত হয়ে যায়।

সুতরাং এই ভিত্তিতে নাহু শাস্ত্র বা অন্যান্য ভাষাতাত্ত্বিক জ্ঞান অথবা উসূল শাস্ত্র বা শরীয়তের খিদমতকারী অনুরূপ অন্যান্য জ্ঞানসমূহকে মোটেও বিদআত বলা উচিত নয়।

আর সংজ্ঞার মধ্যে তাঁর উক্তি "শরীয়তের সদৃশ" এর অর্থ হলো: এটি শরয়ী পদ্ধতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে কিন্তু বাস্তবে তা শরীয়তের অংশ নয়, বরং এটি বিভিন্ন দিক থেকে শরীয়তের পরিপন্থী:

তার মধ্যে রয়েছে: বিশেষ সীমারেখা বা রীতি নির্ধারণ করা, যেমন কেউ দাঁড়িয়ে রোজা রাখার মানত করল যে সে বসবে না, কিংবা রৌদ্রে থাকবে এবং ছায়া গ্রহণ করবে না; এবং ইবাদতের জন্য সবকিছু ত্যাগ করা, আর কোনো কারণ ছাড়াই নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা পোশাকের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখা।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১০)
وَمِنْهَا: الْتِزَامُ الْكَيْفِيَّاتِ والهَيْئَات الْمُعَيَّنَةِ، كَالذِّكْرِ بِهَيْئَةِ الِاجْتِمَاعِ عَلَى صَوْتٍ وَاحِدٍ، وَاتِّخَاذُ يَوْمِ وِلَادَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عِيدًا، وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ.

وَمِنْهَا: الْتِزَامُ الْعِبَادَاتِ الْمُعَيَّنَةِ فِي أَوْقَاتٍ مُعَيَّنَةٍ لَمْ يُوجَدْ لَهَا ذَلِكَ التَّعْيِينُ فِي الشَّرِيعَةِ، كَالْتِزَامِ صِيَامِ يَوْمِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ وَقِيَامِ لَيْلَتِهِ.

وثَمَّ أوجهٌ تُضَاهِي بِهَا البدعةُ الأمورَ الْمَشْرُوعَةَ، فَلَوْ كَانَتْ لَا تُضَاهِي الأمورَ الْمَشْرُوعَةَ لَمْ تَكُنْ بِدْعَةً، لأنَّها تَصِيرُ من باب الأفعال العادية.

وَقَوْلُهُ: ((يُقْصَدُ بِالسُّلُوكِ عَلَيْهَا الْمُبَالَغَةُ فِي التَّعَبُّدِ لِلَّهِ تَعَالَى)) هُوَ تَمَامُ مَعْنَى الْبِدْعَةِ إِذْ هُوَ الْمَقْصُودُ بِتَشْرِيعِهَا.

وَذَلِكَ أنَّ أَصْلَ الدُّخُولِ فِيهَا يَحُثُّ عَلَى الِانْقِطَاعِ إِلَى الْعِبَادَةِ وَالتَّرْغِيبِ فِي ذَلِكَ. لأنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: {وَما خَلَقْتُ الجِنَّ والإنْسَ إلَاّ لِيَعْبُدُونِ} (1) ، فكأنَّ الْمُبْتَدِعَ رَأَى أنَّ الْمَقْصُودَ هَذَا الْمَعْنَى، وَلَمْ يَتَبَيَّنْ لَهُ أنَّ مَا وَضَعَهُ الشَّارِعُ فِيهِ مِنَ القوانين والحدود كافٍ.

وَقَدْ تَبَيَّنَ بِهَذَا الْقَيْدِ أنَّ الْبِدَعَ لَا تَدْخُلُ فِي الْعَادَاتِ. فَكُلُّ مَا اختُرِع مِنَ الطُّرُقِ فِي الدِّينِ مِمَّا يُضَاهِي الْمَشْرُوعَ وَلَمْ يُقْصَدْ بِهِ التَّعَبُّدُ فَقَدْ خَرَجَ عَنْ هَذِهِ التسمية.

وأمَّا الْحَدُّ عَلَى الطَّرِيقَةِ الأُخرى (2) فَقَدْ تَبَيَّنَ مَعْنَاهُ إِلَّا قَوْلُهُ: يُقْصَدُ بِهَا مَا يُقْصَدُ بِالطَّرِيقَةِ الشَّرْعِيَّةِ.

وَمَعْنَاهُ أنَّ الشَّرِيعَةَ إنَّما جَاءَتْ لِمَصَالِحِ الْعِبَادِ فِي عَاجِلَتِهِمْ وَآجِلَتِهِمْ لتأْتيهم فِي الدَّارَيْنِ عَلَى أَكْمَلِ وُجُوهِهَا، فَهُوَ الَّذِي يَقْصِدُهُ المبتدع ببدعته.

--------------------------------------------

(1) الذاريات: 56.

(2) أي على طريقة من يُدخل العادات في معنى البدع.
এর মধ্যে রয়েছে: নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও আকৃতি মেনে চলা, যেমন সম্মিলিতভাবে উচ্চস্বরে জিকির করা, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম দিবসকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ইবাদত পালনের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা যার কোনো নির্দিষ্টতা শরিয়তে পাওয়া যায় না, যেমন শাবান মাসের মধ্য দিবসে সিয়াম পালন এবং সেই রাতে ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকার আবশ্যকতা তৈরি করা।

এখানে এমন কিছু দিক রয়েছে যার মাধ্যমে বিদআত শরিয়তসম্মত বিষয়াবলির সদৃশ হয়ে যায়। যদি তা শরিয়তসম্মত বিষয়ের সদৃশ না হতো, তবে তা বিদআত হতো না; কারণ তখন তা সাধারণ কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত।

এবং তাঁর উক্তি: "এর অনুসরণের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদতে আধিক্য উদ্দেশ্য করা হয়" - এটিই বিদআতের পূর্ণাঙ্গ অর্থ, যেহেতু এটিই এর প্রবর্তনের উদ্দেশ্য।

আর তা একারণে যে, এতে প্রবেশ করার মূল বিষয়টি ইবাদতে নিবিষ্ট হওয়া এবং সে বিষয়ে উৎসাহিত করে। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি" (১)। ফলে বিদআতি ব্যক্তি মনে করে যেন এই অর্থটিই মূল উদ্দেশ্য, অথচ তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়নি যে, বিধানদাতা (শারী) এর জন্য যে সকল নীতিমালা ও সীমারেখা নির্ধারণ করেছেন তা-ই যথেষ্ট।

এই শর্তের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বিদআত অভ্যাসগত বা সাধারণ রীতিনীতির অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত এমন প্রতিটি পদ্ধতি যা শরিয়তসম্মত বিষয়ের সদৃশ কিন্তু তা দিয়ে ইবাদতের উদ্দেশ্য করা হয়নি, তা এই নামের (বিদআত) অন্তর্ভুক্ত হবে না।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতি (২) অনুযায়ী সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এর অর্থ স্পষ্ট হয়েছে, কেবল তাঁর এই উক্তিটি ছাড়া: "এর মাধ্যমে তা-ই উদ্দেশ্য করা হয় যা শরিয়তসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্দেশ্য করা হয়।"

এর অর্থ হলো শরিয়ত কেবল বান্দাদের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক কল্যাণের জন্যই এসেছে যাতে উভয় জগতে তা তাদের কাছে পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছে; আর বিদআতি ব্যক্তি তার বিদআতের মাধ্যমে মূলত সেটিই উদ্দেশ্য করে থাকে।

--------------------------------------------

(১) আদ-যারিয়াত: ৫৬।

(২) অর্থাৎ তাদের পদ্ধতি অনুযায়ী যারা অভ্যাসগত কাজকেও বিদআতের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১১)
لأنَّ الْبِدْعَةَ إِمَّا أَنْ تَتَعَلَّقَ بِالْعَادَاتِ أَوِ الْعِبَادَاتِ، فَإِنْ تعلَّقت بِالْعِبَادَاتِ فإنَّما أَرَادَ بِهَا أَنْ يَأْتِيَ تعبُّده عَلَى أَبْلَغِ مَا يَكُونُ فِي زَعْمِهِ لِيَفُوزَ بِأَتَمِّ الْمَرَاتِبِ فِي الْآخِرَةِ فِي ظَنِّهِ. وَإِنْ تَعَلَّقَتْ بِالْعَادَاتِ فَكَذَلِكَ، لأنَّه إنَّما وَضَعَهَا لِتَأْتِيَ أُمُورُ دُنْيَاهُ عَلَى تَمَامِ المصلحة فيها.

وَقَدْ ظَهَرَ مَعْنَى الْبِدْعَةِ وَمَا هِيَ فِي الشرع والحمد لله.

‌‌فصل

[البدعة التَّرْكيَّة]

وفي الْحَدِّ أَيْضًا مَعْنًى آخَرُ مِمَّا يُنْظَرُ فِيهِ. وَهُوَ أنَّ الْبِدْعَةَ مِنْ حَيْثُ قِيلَ فِيهَا: إنَّها طَرِيقَةٌ فِي الدِّينِ مُخْتَرَعَةٌ ـ إِلَى آخِرِهِ ـ يَدْخُلُ فِي عُمُومِ لَفْظِهَا الْبِدْعَةُ التَّرْكِيَّةُ، كَمَا يَدْخُلُ فِيهِ الْبِدْعَةُ غَيْرُ التَّرْكِيَّةِ فَقَدْ يَقَعُ الِابْتِدَاعُ بِنَفْسِ التَّرْكِ تَحْرِيمًا لِلْمَتْرُوكِ أَوْ غَيْرَ تحريم، فإنَّ الفعل ـ مثلاً ـ قد يَكُونُ حلَالًا بِالشَّرْعِ فَيُحَرِّمُهُ الْإِنْسَانُ عَلَى نَفْسِهِ أَوْ يَقْصِدُ تَرْكَهُ قَصْدًا.

فَبِهَذَا التَّرْك إِمَّا أَنْ يَكُونَ لِأَمْرٍ يُعْتَبَرُ مِثْلُهُ شَرْعًا أَوْ لَا، فَإِنْ كَانَ لِأَمْرٍ يُعْتَبَرُ فَلَا حَرَجَ فِيهِ، إِذْ مَعْنَاهُ أنَّه تَرَكَ مَا يَجُوزُ تركه أو ما يُطْلب تركُه، كَالَّذِي يُحَرِّم عَلَى نَفْسِهِ الطَّعَامَ الْفُلَانِيَّ مِنْ جِهَةِ أنَّه يَضُرُّهُ فِي جِسْمِهِ أَوْ عَقْلِهِ أَوْ دِينِهِ وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ، فَلَا مَانِعَ هُنَا مِنَ التَّرْكِ: بَلْ إِنْ قُلْنَا بِطَلَبِ التَّدَاوِي لِلْمَرِيضِ فإنَّ التَّرْكَ هَنَا مَطْلُوبٌ، وَإِنْ قلنا بإباحة التداوي، فالترك مباح.

وَكَذَلِكَ إِذَا تَرَكَ مَا لَا بَأْسَ بِهِ، حَذَرًا مِمَّا بِهِ الْبَأْسُ فَذَلِكَ مِنْ أَوْصَافِ الْمُتَّقِينَ، وَكَتَارِكِ الْمُتَشَابِهِ، حَذَرًا مِنَ الْوُقُوعِ فِي الْحَرَامِ، وَاسْتِبْرَاءً للدِّين
কারণ বিদআত হয় প্রথা-অভ্যাস অথবা ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। যদি তা ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে সে এর মাধ্যমে তার ধারণা অনুযায়ী তার উপাসনাকে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য পর্যায়ে নিয়ে আসতে চায়, যাতে সে তার ধারণামতে আখেরাতে পূর্ণতম মর্যাদা লাভ করতে পারে। আর যদি প্রথা-অভ্যাসের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে বিষয়টি অনুরূপ, কারণ সে তা নির্ধারণ করেছে যাতে তার পার্থিব বিষয়গুলো পরিপূর্ণ কল্যাণের সাথে সাধিত হয়।

বিদআতের অর্থ এবং শরয়ি বিধানে তা কী, তা স্পষ্ট হয়েছে এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

‌‌অনুচ্ছেদ

[বর্জনমূলক বিদআত]

সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আরও একটি দিক রয়েছে যা বিবেচনাযোগ্য। তা হলো, বিদআতের ক্ষেত্রে যেহেতু বলা হয়েছে: "এটি দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত একটি তরীকা..." শেষ পর্যন্ত, তাই এর সাধারণ শব্দের অধীনে বর্জনমূলক বিদআতও অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমনটি বর্জন-বহির্ভূত বিদআত অন্তর্ভুক্ত হয়। সুতরাং বর্জনের মাধ্যমেই বিদআত সংঘটিত হতে পারে, চাই তা বর্জনকৃত বিষয়কে হারাম করার মাধ্যমে হোক অথবা হারাম করা ব্যতীত হোক। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কাজ শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ হতে পারে, কিন্তু মানুষ তা নিজের উপর নিষিদ্ধ করে নেয় অথবা কেবল তা বর্জন করার ইচ্ছা পোষণ করে।

এই বর্জন হয় শরীয়তে ধর্তব্য কোনো কারণে হতে পারে অথবা তা নয়। যদি তা ধর্তব্য কোনো কারণে হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ এর অর্থ হলো সে এমন কিছু বর্জন করেছে যা বর্জন করা অনুমোদিত অথবা যা বর্জন করার দাবি রয়েছে। যেমন সেই ব্যক্তি যে নিজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো খাবার নিষিদ্ধ করে নেয় এই কারণে যে তা তার শরীর, বুদ্ধি বা দ্বীনের ক্ষতি করে কিংবা এই জাতীয় কিছু, তবে এই বর্জনে কোনো বাধা নেই। বরং আমরা যদি অসুস্থ ব্যক্তির জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি বলি, তবে এখানে বর্জন করা আবশ্যক। আর যদি চিকিৎসাকে বৈধ বলি, তবে বর্জন করাও বৈধ।

অনুরূপভাবে, যদি কেউ কোনো ক্ষতিকর বিষয় থেকে বেঁচে থাকার জন্য আপাতদৃষ্টিতে নির্দোষ বিষয় বর্জন করে, তবে তা মুত্তাকীদের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত; যেমন হারামে পতিত হওয়ার ভয়ে এবং নিজের দ্বীনকে কলঙ্কমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জনকারী।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১২)
والعِرض.

وَإِنْ كَانَ التَّرْكُ لِغَيْرِ ذَلِكَ، فَإِمَّا أَنْ يَكُونَ تَدَيُّنًا أَوْ لَا، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ تَدَيُّنًا فَالتَّارِكُ عَابِثٌ بِتَحْرِيمِهِ الْفِعْلَ أَوْ بِعَزِيمَتِهِ عَلَى التَّرْكِ. وَلَا يُسَمَّى هَذَا التَّرْكُ بِدْعَةً إِذْ لَا يَدْخُلُ تَحْتَ لَفْظِ الْحَدِّ إِلَّا عَلَى الطَّرِيقَةِ الثَّانِيَةِ الْقَائِلَةِ: إنَّ الْبِدْعَةَ تَدْخُلُ فِي الْعَادَاتِ. وأمَّا عَلَى الطَّرِيقَةِ الأُولى فلا يدخل. لَكِنَّ هَذَا التَّارِكَ يَصِيرُ عَاصِيًا بِتَرْكِهِ أَوْ بِاعْتِقَادِهِ التَّحْرِيمَ فِيمَا أحلَّ اللَّهُ.

وأمَّا إِنْ كَانَ التَّرْكُ تَدَيُّنًا فَهُوَ الِابْتِدَاعُ فِي الدِّينِ عَلَى كِلْتَا الطَّرِيقَتَيْنِ، إِذْ قَدْ فَرَضْنَا الْفِعْلَ جَائِزًا شَرْعًا فَصَارَ التَّرْكُ الْمَقْصُودُ مُعَارَضَةً لِلشَّارِعِ.

لأنَّ بَعْضَ الصَّحَابَةِ همَّ أَنْ يُحرِّم عَلَى نَفْسِهِ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ، وَآخَرَ الْأَكْلَ بِالنَّهَارِ، وَآخَرَ إِتْيَانَ النِّسَاءِ، وَبَعْضُهُمْ هَمَّ بِالِاخْتِصَاءِ، مُبَالَغَةً فِي تَرْكِ شأْن النِّسَاءِ. وَفِي أَمْثَالِ ذَلِكَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي)) (1) .

فَإِذَا كلُّ مَنْ مَنَعَ نَفْسَهُ مِنْ تَنَاوُلِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ شَرْعِيٍّ فَهُوَ خارجٌ عَنْ سُنَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَالْعَامِلُ بِغَيْرِ السُّنَّةِ تَدَيُّنًا، هُوَ الْمُبْتَدِعُ بِعَيْنِهِ.

(فَإِنْ قِيلَ) فَتَارِكُ الْمَطْلُوبَاتِ الشَّرْعِيَّةِ نَدْباً أَوْ وُجُوبًا، هَلْ يُسَمَّى مُبْتَدِعًا أَمْ لَا؟

(فَالْجَوَابُ) أنَّ التارك للمطلوبات على ضربين:

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (5063) ومسلم (1401) ، وهو جزء من حديث رواه أنس بن مالك رضي الله عنه؛ في خبر النفر الثلاثة؛ الذين سألوا عن عمل رسول الله صلى الله عليه وسلم.
এবং সম্মান।

যদি এই বর্জন অন্য কোনো কারণে হয়, তবে তা হয় দ্বীনদারী (ইবাদত) হিসেবে হবে অথবা তা হবে না। যদি তা দ্বীনদারী হিসেবে না হয়, তবে বর্জনকারী ব্যক্তি সেই কাজটিকে (নিজের জন্য) নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে অথবা তা বর্জন করার দৃঢ় সংকল্প করার মাধ্যমে একজন খামখেয়ালি ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবে। আর এই বর্জনকে 'বিদআত' বলা হবে না, কারণ এটি সংজ্ঞার আওতাভুক্ত হয় না; কেবল দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুযায়ী হতে পারে যা বলে যে: বিদআত সাধারণ অভ্যাসগত বিষয়ের (আদাত) মধ্যেও প্রবেশ করে। আর প্রথম পদ্ধতি অনুযায়ী তা প্রবেশ করবে না। তবে এই বর্জনকারী ব্যক্তি আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা বর্জন করার কারণে অথবা আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাতে হারামের বিশ্বাস পোষণ করার কারণে গুনাহগার হবে।

পক্ষান্তরে বর্জন যদি দ্বীনদারী বা সওয়াবের নিয়তে হয়, তবে উভয় পদ্ধতি অনুযায়ীই তা দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবন (বিদআত) হিসেবে গণ্য হবে। যেহেতু আমরা ধরে নিয়েছি যে কাজটি শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ, তাই উদ্দেশ্যমূলকভাবে তা বর্জন করা শরীয়তদাতার বিরোধিতার শামিল।

কেননা কোনো কোনো সাহাবী নিজের ওপর রাতে ঘুমানো হারাম করার সংকল্প করেছিলেন, অন্যজন দিনে আহার বর্জন করার, অন্যজন স্ত্রীদের সান্নিধ্য বর্জন করার, আবার কেউ কেউ নারী-ঘটিত বিষয় বর্জনের আতিশয্যে খাসি হওয়ারও সংকল্প করেছিলেন। এই জাতীয় বিষয়েই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "যে আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।" (১)।

সুতরাং, যে ব্যক্তি কোনো শরয়ী ওজর ব্যতীত আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা গ্রহণ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর বহির্ভূত। আর যে ব্যক্তি দ্বীনদারী মনে করে সুন্নাহর বিপরীত আমল করে, সেই মূলত বিদআতী।

(যদি প্রশ্ন করা হয়) শরীয়ত কর্তৃক কাম্য বিষয়সমূহ—তা মুস্তাহাব হোক বা ওয়াজিব—বর্জনকারীকে কি বিদআতী বলা হবে কি না?

(উত্তর হলো) কাম্য বিষয় বর্জনকারী দুই প্রকার:

--------------------------------------------

(১) বুখারী (৫০৬৩) এবং মুসলিম (১৪০১) এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদীসের অংশ; সেই তিন ব্যক্তির ঘটনায় যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
(أَحَدُهُمَا) أَنْ يَتْرُكَهَا لِغَيْرِ التَّدَيُّنِ إِمَّا كَسَلًا أَوْ تَضْيِيعًا أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنَ الدَّوَاعِي النَّفْسِيَّةِ. فَهَذَا الضَّرْبُ رَاجِعٌ إِلَى الْمُخَالَفَةِ لِلْأَمْرِ، فَإِنْ كَانَ فِي وَاجِبٍ فَمَعْصِيَةٌ وَإِنْ كَانَ فِي نَدْبٍ فَلَيْسَ بِمَعْصِيَةٍ، إِذَا كَانَ التَّرْكُ جُزْئِيًّا، وَإِنْ كَانَ كُلِيًّا فَمَعْصِيَةٌ حَسْبَمَا تبين في الأُصول.

(الثاني) أَنْ يَتْرُكَهَا تَدَيُّنًا. فَهَذَا الضَّرْبُ مِنْ قَبِيلِ الْبِدَعِ حَيْثُ تَدَيَّنَ بِضِدِّ مَا شَرَعَ اللَّهُ.

فَإِذًا قَوْلُهُ فِي الْحَدِّ: ((طَرِيقَةٌ مُخْتَرَعَةٌ تُضَاهِي الشَّرْعِيَّةَ)) يَشْمَلُ الْبِدْعَةَ التَّرْكِيَّةَ، كَمَا يَشْمَلُ غَيْرَهَا، لأنَّ الطَّرِيقَةَ الشَّرْعِيَّةَ أَيْضًا تَنْقَسِمُ إِلَى تَرْكٍ وَغَيْرِهِ.

وسواءٌ عَلَيْنَا قُلْنَا: إنَّ التَّرْكَ فِعْلٌ أم قلنا: إنَّه نفي الفعل.

وَكَمَا يَشْمَلُ الحدُّ التَّرْكَ يَشْمَلُ أَيْضًا ضِدَّ ذَلِكَ.

وَهُوَ ثَلَاثَةُ أَقْسَامٍ:

قِسْمُ الِاعْتِقَادِ، وَقِسْمُ الْقَوْلِ، وَقِسْمُ الْفِعْلِ، فَالْجَمِيعُ أَرْبَعَةُ أَقْسَامٍ.

وَبِالْجُمْلَةِ، فَكُلُّ مَا يَتَعَلَّقُ بِهِ الْخِطَابُ الشَّرْعِيُّ، يَتَعَلَّقُ به الابتداع.
(একটি হলো) দ্বীনদারির উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো কারণে তা বর্জন করা, হোক তা অলসতাবশত অথবা অবহেলাজনিত কিংবা নফসানি চাহিদার অনুরূপ কোনো কারণে। সুতরাং এই প্রকারটি আদেশের বিরুদ্ধাচরণের অন্তর্ভুক্ত। যদি তা ওয়াজিবের ক্ষেত্রে হয় তবে তা গুনাহ, আর যদি তা মুস্তাহাবের ক্ষেত্রে হয় তবে তা গুনাহ নয়—যদি বর্জন করাটি আংশিক হয়। তবে যদি তা সামগ্রিক বা স্থায়ী বর্জন হয়, তবে তা গুনাহ হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি উসুল শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে।

(দ্বিতীয়টি হলো) দ্বীনদারি মনে করে তা বর্জন করা। এই প্রকারটি বিদআতের অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু সে আল্লাহর প্রবর্তিত বিধানের বিপরীত বিষয়কে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছে।

অতএব বিদআতের সংজ্ঞায় তাঁর এই কথাটি: ((উদ্ভাবিত এমন এক পদ্ধতি যা শরয়ি পদ্ধতির সাদৃশ্যপূর্ণ)) এটি বর্জনকেন্দ্রিক বিদআতকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি অন্যান্য বিদআতকে করে থাকে। কারণ শরয়ি পদ্ধতিও বর্জন এবং বর্জন-ভিন্ন (করণীয়)—এই দুই ভাগে বিভক্ত।

আমাদের নিকট এটি সমান, চাই আমরা বলি যে 'বর্জন করা' একটি কর্ম, অথবা বলি যে এটি কর্মের অনুপস্থিতি।

আর সংজ্ঞাটি যেভাবে বর্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে, একইভাবে এর বিপরীতকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

আর তা তিন প্রকার:

বিশ্বাসগত প্রকার, বাচনিক প্রকার এবং কর্মগত প্রকার। সুতরাং সর্বমোট প্রকার দাঁড়ালো চারটি।

সংক্ষেপে, শরয়ি সম্বোধন বা বিধান যার সাথেই সংশ্লিষ্ট হয়, বিদআতও তার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌البابُ الثاني

[في ذمِّ البدع وسوء منقلب أصحابها]

لَا خفاءَ أنَّ الْبِدَعَ مِنْ حَيْثُ تصوُّرُها يَعْلَمُ الْعَاقِلُ ذمَّها، لأنَّ اتِّبَاعَهَا خروجٌ عَنِ الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ ورميٌ فِي عَمَايَةٍ، وَبَيَانُ ذَلِكَ من جهة النظر، والنقل الشرعي العام.

 

‌‌فصل

[الأدلة من النظر على ذمِّ البدع]

أمَّا النظر فمن وجوه:

(أحدها) أنَّه قد عُلِمَ بالتجارب والخبرة، أنَّ الْعُقُولَ غَيْرُ مُسْتَقِلَّةٍ بِمَصَالِحِهَا، اسْتِجْلَابًا لَهَا، أَوْ مَفَاسِدِهَا، اسْتِدْفَاعًا لَهَا. لأنَّها إِمَّا دُنْيَوِيَّةٌ أَوْ أُخروية.

فأمَّا الدُّنْيَوِيَّةُ فَلَا يُسْتَقَلُّ بِاسْتِدْرَاكِهَا عَلَى التَّفْصِيلِ البتَّة لَا فِي ابْتِدَاءِ وَضْعِهَا أوَّلاً، وَلَا فِي اسْتِدْرَاكِ مَا عَسَى أَنْ يَعْرِضَ فِي طَرِيقِهَا، إِمَّا فِي
দ্বিতীয় অধ্যায়

[বিদআতের নিন্দা এবং এর অনুসারীদের শোচনীয় পরিণাম সম্পর্কে]

এটি অস্পষ্ট নয় যে, বিদআতের স্বরূপ অনুধাবন করলে যেকোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তিই এর নিন্দনীয়তা সম্পর্কে অবগত হবেন; কেননা বিদআতের অনুসরণ হলো সরল পথ থেকে বিচ্যুতি এবং অন্ধকারের গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হওয়া। যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ এবং সাধারণ শরয়ি বর্ণনার প্রেক্ষাপট থেকে এর ব্যাখ্যা নিম্নরূপ।

 

পরিচ্ছেদ

[বিদআতের নিন্দায় যৌক্তিক প্রমাণাদি]

যৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টি কয়েক দিক থেকে বিবেচিত হতে পারে:

(প্রথমত) অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞতার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত যে, বুদ্ধি নিজের কল্যাণ অর্জন বা অকল্যাণ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; চাই তা পার্থিব হোক বা পারলৌকিক।

পার্থিব বিষয়ের ক্ষেত্রে, বিস্তারিতভাবে সেগুলো অনুধাবনে বুদ্ধিবৃত্তি কখনোই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; না তা প্রথমত কোনো ব্যবস্থা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে, আর না সেই পথে আগত কোনো সম্ভাব্য বিষয়ের প্রতিকারের ক্ষেত্রে। হয়তো তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের...
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
السَّوَابِقِ، وَإِمَّا فِي اللَّوَاحِقِ، لأنَّ وَضْعَهَا أوَّلاً لم يكن إلا بتعليم الله تعالى.

فَلَوْلَا أنْ منَّ اللَّهُ عَلَى الْخَلْقِ بِبَعْثَةِ الْأَنْبِيَاءِ لَمْ تَسْتَقِمْ لَهُمْ حَيَاةٌ، وَلَا جَرَتْ أَحْوَالُهُمْ عَلَى كَمَالِ مَصَالِحِهِمْ وَهَذَا مَعْلُومٌ بِالنَّظَرِ فِي أَخْبَارِ الأوَّلين وَالْآخِرِينَ.

وأمَّا الْمَصَالِحُ الأُخرويَّة، فَأَبْعَدُ عَنْ مَصَالِحِ الْمَعْقُولِ مِنْ جِهَةِ وَضْعِ أَسْبَابِهَا، وَهِيَ الْعِبَادَاتُ مَثَلًا. فإنَّ الْعَقْلَ لَا يَشْعُرُ بِهَا عَلَى الْجُمْلَةِ، فَضْلًا عَنِ الْعِلْمِ بها على التفصيل.

فَعَلَى الْجُمْلَةِ، الْعُقُولُ لَا تَسْتَقِلُّ بِإِدْرَاكِ مَصَالِحِهَا دُونَ الْوَحْيِ. فَالِابْتِدَاعُ مضادٌ لِهَذَا الْأَصْلِ، لأنَّه لَيْسَ [لَهُ] مستندٌ شرعيٌ بِالْفَرْضِ، فَلَا يَبْقَى إِلَّا مَا ادَّعوه مِنَ الْعَقْلِ.

فَالْمُبْتَدِعُ لَيْسَ عَلَى ثِقَةٍ مِنْ بِدْعَتِهِ أَنْ يَنَالَ بِسَبَبِ الْعَمَلِ بِهَا، مَا رَامَ تَحْصِيلَهُ مِنْ جِهَتِهَا، فصارت كالعبث.

(الثاني) أنَّ الشَّرِيعَةَ جَاءَتْ كَامِلَةً لَا تَحْتَمِلُ الزِّيَادَةَ وَلَا النُّقْصَانَ، لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ فِيهَا: {الْيَوْمَ أكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لكَمُ الإسلامَ دِيناً} (1) .

وَفِي حَدِيثِ العِرباض بْنِ سَارِيَةَ: وَعَظَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَوْعِظَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْأَعْيُنُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إنَّ هذه موعظة

--------------------------------------------

(1) المائدة: 3
পূর্ববর্তী বিষয়গুলোতে হোক অথবা পরবর্তী বিষয়গুলোতে, কারণ সেগুলোর প্রাথমিক প্রবর্তন মহান আল্লাহর শিক্ষা ছাড়া সম্ভব ছিল না।

সুতরাং আল্লাহ যদি নবীদের প্রেরণের মাধ্যমে সৃষ্টির ওপর অনুগ্রহ না করতেন, তবে তাদের জীবন সুসংহত হতো না এবং তাদের কার্যাবলিও তাদের পূর্ণ কল্যাণের ওপর পরিচালিত হতো না। আর এটি পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের ঘটনাবলি পর্যালোচনার মাধ্যমে সুপরিজ্ঞাত।

আর পরকালীন কল্যাণের বিষয়টি তার কার্যকারণ নির্ধারণের দিক থেকে বুদ্ধিবৃত্তিক কল্যাণ থেকে আরও অনেক দূরে, উদাহরণস্বরূপ যেমন ইবাদতসমূহ। কেননা বুদ্ধি সামগ্রিকভাবেই এগুলো অনুভব করতে পারে না, বিস্তারিতভাবে জানা তো দূরের কথা।

সংক্ষেপে, ওহী ব্যতীত বুদ্ধি তার নিজ কল্যাণ অনুধাবনে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সুতরাং বিদআত এই মূলনীতির পরিপন্থী, কারণ তর্কের খাতিরে এর কোনো শারঈ ভিত্তি নেই; ফলে তাদের দাবিকৃত বুদ্ধি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

অতএব বিদআতী ব্যক্তি তার বিদআতের ব্যাপারে নিশ্চিত নয় যে, তা আমল করার মাধ্যমে সে তা অর্জন করতে পারবে যা সে এর মাধ্যমে পাওয়ার আশা করেছিল; ফলে এটি নিরর্থক কাজে পরিণত হয়।

(দ্বিতীয়ত) শরীয়ত পূর্ণাঙ্গভাবে অবতীর্ণ হয়েছে যা কোনো প্রকার হ্রাস বা বৃদ্ধির অবকাশ রাখে না। কারণ মহান আল্লাহ এ সম্পর্কে বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" (১)।

আর ইরবায ইবনে সারিয়াহ-এর হাদিসে বর্ণিত আছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এমন এক নসিহত করলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, নিশ্চয়ই এটি একটি নসিহত...

--------------------------------------------

(১) আল-মায়িদাহ: ৩
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
مُوَدِّعٍ فَمَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا؟ قَالَ: ((تَرَكْتُكُمْ عَلَى الْبَيْضَاءِ لَيْلُهَا كَنَهَارِهَا، وَلَا يَزِيغُ عَنْهَا بَعْدِي إِلَّا هَالِكٌ، وَمَنْ يَعِشْ مِنْكُمْ فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا فَعَلَيْكُمْ بِمَا عَرَفْتُمْ مِنْ سُنَّتِي وَسُنَّةِ الخلفاء الراشدين من بعدي)) الحديث (1) .

فَالْمُبْتَدِعُ إنَّما مَحْصُولُ قَوْلِهِ بِلِسَانِ حَالِهِ أَوْ مَقَالِهِ:

إنَّ الشَّرِيعَةَ لَمْ تَتِمَّ، وأنَّه بَقِيَ مِنْهَا أشياءُ يَجِبُ أَوْ يُسْتَحَبُّ اسْتِدْرَاكُهَا، لأنَّه لَوْ كَانَ مُعْتَقِدًا لِكَمَالِهَا وَتَمَامِهَا مِنْ كلِّ وَجْهٍ، لَمْ يَبْتَدِعْ وَلَا اسْتَدْرَكَ عَلَيْهَا. وَقَائِلُ هَذَا ضَالٌّ عَنِ الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ.

قَالَ ابْنُ الْمَاجِشُونِ: سَمِعْتُ مَالِكًا يَقُولُ: مَنِ ابْتَدَعَ فِي الإسلام بدعة يراها حسنة فقد زَعَمَ أنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم خَانَ الرِّسَالَةَ، لأنَّ اللَّهَ يَقُولُ: {الْيَوْمَ أكملتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} فَمَا لَمْ يَكُنْ يومئذٍ دِينًا، فلا يكون اليوم ديناً.

(الثالث) أنَّ الْمُبْتَدِعَ معاندٌ لِلشَّرْعِ ومشاقٌّ لَهُ، لأنَّ الشَّارِعَ قَدْ عَيَّنَ لِمَطَالِبِ الْعَبْدِ طُرُقًا خَاصَّةً عَلَى وُجُوهٍ خَاصَّةٍ، وقَصَرَ الخَلْقَ عَلَيْهَا بِالْأَمْرِ وَالنَّهْيِ وَالْوَعْدِ وَالْوَعِيدِ وَأَخْبَرَ أنَّ الْخَيْرَ فِيهَا، وأنَّ الشَّرَّ فِي تعدِّيها ـ إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ، لأنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَنَحْنُ لَا نَعْلَمُ، وأنَّه إنَّما أَرْسَلَ الرَّسُولَ صلى الله عليه وسلم رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ. فَالْمُبْتَدِعُ رادٌ لِهَذَا كُلِّهِ، فإنَّه يَزْعُمُ أنَّ ثمَّ طُرُقاً أُخر، لَيْسَ مَا حَصَرَهُ الشَّارِعُ بِمَحْصُورٍ، وَلَا مَا عيَّنَه بمتعيِّن، كأنَّ الشَّارِعَ يَعْلَمُ، وَنَحْنُ أَيْضًا نَعْلَمُ. بَلْ رُبَّمَا يُفهم مِنِ اسْتِدْرَاكِهِ الطُّرُقَ عَلَى الشَّارِعِ، أنَّه علم ما لم يعلمه

--------------------------------------------

(1) [صحيح] رواه أبو داود (4607) ، والترمذي (2676) ، وابن ماجه (42،43،44) وغيرهم مع اختلاف يسير في اللفظ.
(বিদায় দানকারীর মতো উপদেশ), সুতরাং আপনি আমাদের প্রতি কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: ((আমি তোমাদেরকে এক উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল। আমার পরে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই তা থেকে বিচ্যুত হবে। তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে, তারা অচিরেই অনেক মতপার্থক্য দেখতে পাবে। সুতরাং তোমাদের ওপর কর্তব্য হলো আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা যা তোমরা চিনতে পেরেছ।)) আল-হাদিস (১) ।

সুতরাং বিদআতকারী তার বর্তমান অবস্থা বা বক্তব্যের মাধ্যমে যা প্রকাশ করে তার সারমর্ম হলো:

নিশ্চয়ই শরীয়ত পূর্ণাঙ্গ হয়নি এবং এতে এমন কিছু বিষয় অবশিষ্ট রয়েছে যা সংশোধন বা সংযোজন করা ওয়াজিব অথবা মুস্তাহাব। কারণ, সে যদি সর্বদিক থেকে শরীয়তের পূর্ণতা ও সমাপ্তির ওপর বিশ্বাসী হতো, তবে সে বিদআত করত না এবং এর ওপর কোনো নতুন সংযোজনও করত না। আর যে ব্যক্তি এমন কথা বলে, সে সরল পথ (সিরাতুল মুস্তাকিম) থেকে বিচ্যুত।

ইবনুল মাজিশুন বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করল এবং তাকে উত্তম মনে করল, সে মূলত দাবি করল যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাতের (বাণী পৌঁছানোর) দায়িত্ব পালনে খিয়ানত করেছেন। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম}। সুতরাং সেদিন যা দ্বীন হিসেবে গণ্য ছিল না, আজ তা দ্বীন হতে পারে না।

(তৃতীয়ত) বিদআতকারী শরীয়তের বিরোধী এবং এর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। কেননা বিধানদাতা বান্দার লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিশেষ পন্থায় বিশেষ পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং আদেশ, নিষেধ, প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণীর মাধ্যমে সৃষ্টিজগতকে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে এর মধ্যেই কল্যাণ নিহিত এবং এর সীমালঙ্ঘনের মধ্যেই অকল্যাণ—ইত্যাদি। কারণ আল্লাহ জানেন এবং আমরা জানি না, আর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছেন। কিন্তু বিদআতকারী এই সবকিছুকে প্রত্যাখ্যানকারী। সে দাবি করে যে এখানে আরও পথ রয়েছে; বিধানদাতা যা সীমাবদ্ধ করেছেন তা সীমাবদ্ধ নয় এবং যা নির্দিষ্ট করেছেন তা নির্দিষ্ট নয়। যেন বিধানদাতাও জানেন এবং আমরাও জানি। বরং শরীয়তদাতার নির্ধারিত পদ্ধতির ওপর তার এই সংশোধনী থেকে সম্ভবত এটাই বোঝা যায় যে, সে এমন কিছু জেনেছে যা বিধানদাতা জানতেন না।

--------------------------------------------

(১) [সহীহ] এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৪৬০৭), তিরমিযী (২৬৭৬), ইবনে মাজাহ (৪২, ৪৩, ৪৪) এবং অন্যরা, শব্দের সামান্য পার্থক্যসহ।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
الشَّارِعُ.

وَهَذَا إِنْ كَانَ مَقْصُودًا لِلْمُبْتَدِعِ فَهُوَ كفرٌ بِالشَّرِيعَةِ وَالشَّارِعِ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ مَقْصُودٍ، فهو ضلال مبين.

(الرابع) أنَّ الْمُبْتَدِعَ قَدْ نَزَّل نَفْسَهُ مَنْزِلَةَ الْمُضَاهِي لِلشَّارِعِ، لأنَّ الشَّارِعَ وَضَعَ الشَّرَائِعَ وَأَلْزَمَ الْخَلْقَ الْجَرْيَ عَلَى سُنَنِهَا، وَصَارَ هُوَ الْمُنْفَرِدَ بِذَلِكَ، لأنَّه حَكَمَ بَيْنَ الْخَلْقِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ. وَإِلَّا فَلَوْ كَانَ التَّشْرِيعُ مِنْ مُدْرَكَاتِ الْخَلْقِ لَمْ تُنَزَّلِ الشَّرَائِعُ، وَلَمْ يَبْقَ الْخِلَافُ بَيْنَ النَّاسِ. وَلَا احْتِيجَ إِلَى بَعْثِ الرُّسُلِ عليهم السلام.

هَذَا الَّذِي ابْتَدَعَ فِي دِينِ اللَّهِ قَدْ صيَّر نفسه نظيراً ومضاهياً [لله] حَيْثُ شَرَعَ مَعَ الشَّارِعِ، وَفَتَحَ لِلِاخْتِلَافِ بَابًا؛ ورد قصد الشارع في الانفراد بالتشريع.

(الخامس) أنَّه اتِّبَاعٌ لِلْهَوَى لأنَّ الْعَقْلَ إِذَا لَمْ يَكُنْ مُتَّبِعًا لِلشَّرْعِ لَمْ يَبْقَ لَهُ إِلَّا الْهَوَى وَالشَّهْوَةُ؛ وَأَنْتَ تَعْلَمُ مَا فِي اتِّبَاعِ الْهَوَى وأنَّه ضَلَالٌ مُبِينٌ. أَلَا تَرَى قَوْلَ الله تعالى: {يا داودُ إنَّا جعلناكَ خَلِيفَةً فِي الأرضِ فاحكمْ بينَ النَّاسِ بالحقِّ وَلَا تَتَّبِعِ الهَوى فَيُضِلَّكَ عَنْ سبيلِ اللَّهِ، إنَّ الَّذينَ يَضِلُّونَ عَنْ سبيلِ اللَّهِ لَهُمْ عذابٌ شديدٌ بِمَا نَسُوا يومَ الحِساب} (1) .

فَحَصَرَ الحكمَ فِي أَمْرَيْنِ لَا ثَالِثَ لَهُمَا عِنْدَهُ، وَهُوَ الْحَقُّ وَالْهَوَى، وَعَزَلَ الْعَقْلَ مُجَرَّدًا إِذْ لَا يُمْكِنُ فِي الْعَادَةِ إِلَّا ذلك. وقال {ولا تُطِعْ مَن

--------------------------------------------

(1) ص: 26.
বিধানদাতা।

আর এটি যদি বিদআতপ্রবর্তকের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে তা শরীয়ত ও বিধানদাতার সাথে কুফরি। আর যদি উদ্দেশ্য না হয়ে থাকে, তবে তা স্পষ্ট পথভ্রষ্টতা।

(চতুর্থত) বিদআতপ্রবর্তক নিজেকে বিধানদাতার সমকক্ষ স্থানে বসিয়েছে। কারণ, বিধানদাতা শরীয়তসমূহ প্রণয়ন করেছেন এবং সৃষ্টির ওপর তার তরীকা অনুযায়ী চলা আবশ্যক করেছেন। তিনিই এই বিষয়ে একক সত্তা হয়েছেন, কারণ তিনি সৃষ্টির মাঝে তাদের মতভেদপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করেন। অন্যথায়, যদি বিধান প্রণয়ন করা মানুষের বোধগম্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে শরীয়তসমূহ নাজিল করা হতো না এবং মানুষের মাঝে কোনো মতভেদ অবশিষ্ট থাকত না। আর রাসূলগণকেও (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) প্রেরণের প্রয়োজন হতো না।

যে ব্যক্তি আল্লাহর দ্বীনে বিদআত উদ্ভাবন করল, সে নিজেকে [আল্লাহর] সমতুল্য ও সদৃশ করে তুলল; যেহেতু সে বিধানদাতার সাথে একত্রে বিধান প্রণয়ন করল এবং মতভেদের একটি দ্বার উন্মোচন করল; আর বিধান প্রণয়নে বিধানদাতার একক হওয়ার উদ্দেশ্যকে প্রত্যাখ্যান করল।

(পঞ্চমত) এটি প্রবৃত্তির অনুসরণ; কারণ বুদ্ধি যখন শরীয়তের অনুসারী হয় না, তখন প্রবৃত্তির তাড়না ও লালসা ব্যতীত তার কাছে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। আর আপনি জানেন প্রবৃত্তির অনুসরণের মাঝে কী রয়েছে এবং এটি যে এক স্পষ্ট পথভ্রষ্টতা। আপনি কি মহান আল্লাহর বাণী দেখেন না: "হে দাউদ! আমি তোমাকে জমিনে প্রতিনিধি বানিয়েছি, সুতরাং তুমি মানুষের মাঝে সত্যের মাধ্যমে বিচার করো এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর আজাব, কারণ তারা হিসাবের দিনকে ভুলে গিয়েছিল।" (১)

সুতরাং তিনি বিচারকার্যকে দুটি বিষয়ের মাঝে সীমাবদ্ধ করেছেন যার কোনো তৃতীয়টি তাঁর কাছে নেই, আর তা হলো সত্য ও প্রবৃত্তি। আর তিনি বিমূর্ত বুদ্ধিকে পৃথক করে দিয়েছেন, যেহেতু স্বাভাবিকভাবে এছাড়া অন্য কিছু সম্ভব নয়। এবং তিনি বলেছেন, "আর তুমি তার আনুগত্য করো না যে...

--------------------------------------------

(১) সোয়াদ: ২৬।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
أغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَن ذِكْرِنا واتَّبَعَ هَوَاهُ} (1) فَجَعَلَ الْأَمْرَ مَحْصُورًا بَيْنَ أَمْرَيْنِ، اتِّبَاعِ الذِّكْرِ، وَاتِّبَاعِ الْهَوَى، وَقَالَ {وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَواهُ بِغَيْرِ هُدىً مِنَ اللَّهِ} (2) .

وَهِيَ مِثْلُ مَا قَبْلَهَا. وَتَأَمَّلُوا هَذِهِ الْآيَةَ فإنَّها صَرِيحَةٌ فِي أنَّ مَنْ لَمْ يَتَّبِعْ هُدَى اللَّهِ فِي هَوَى نَفْسِهِ، فَلَا أَحَدَ أَضَلُّ مِنْهُ.

وَهَذَا شأْن الْمُبْتَدِعِ، فإنَّه اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِنَ اللَّهِ. وَهُدَى اللَّهِ هُوَ الْقُرْآنُ.

وَمَا بَيَّنَتْهُ الشَّرِيعَةُ وَبَيَّنَتْهُ الْآيَةُ أنَّ اتِّبَاعَ الْهَوَى عَلَى ضَرْبَيْنِ: أَحَدُهُمَا، أَنْ يَكُونَ تَابِعًا لِلْأَمْرِ والنهي فليس بمذموم ولا صاحبه بضال.

والآخرُ أَنْ يَكُونَ هَوَاهُ هُوَ الْمُقَدَّمُ بِالْقَصْدِ الأوَّل، والمبتدع قدم هوى نفسه على هدى الله فَكَانَ أَضَلَّ النَّاسِ وَهُوَ يَظُنُّ أنَّه عَلَى هدى.

وهنا مَعْنًى يَتَأَكَّدُ التَّنْبِيهُ عَلَيْهِ، وَهُوَ أنَّ الْآيَةَ الْمَذْكُورَةَ عَيَّنَتْ لِلِاتِّبَاعِ فِي الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ طَرِيقَيْنِ:

أَحَدُهُمَا: الشَّرِيعَةُ، وَلَا مِرْية فِي أنَّها عِلْمٌ وَحَقٌّ وَهُدًى؛ وَالْآخَرُ الْهَوَى، وَهُوَ الْمَذْمُومُ، لأنَّه لم يذكر في القرآن إلا في سياق الذَّمِّ، وَلَمْ يَجْعَلْ ثمَّ طَرِيقًا ثَالِثًا. وَمَنْ تتبع الآيات، ألفى ذلك كذلك.

--------------------------------------------

(1) الكهف: 28.

(2) القصص: 50.
{আমি তার অন্তরকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি এবং সে তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে} (১); এখানে বিষয়টিকে দুটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে: স্মরণের অনুসরণ এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ। আর তিনি বলেছেন: {তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত ছাড়াই নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে?} (২)।

এটিও পূর্ববর্তী আয়াতের ন্যায়। আর আপনারা এই আয়াতটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন, কেননা এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি তার প্রবৃত্তির চাহিদার ক্ষেত্রে আল্লাহর হিদায়াত অনুসরণ করে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কেউ নেই।

আর এটিই বিদআতী ব্যক্তির অবস্থা; কেননা সে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত ছাড়াই নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। আর আল্লাহর হিদায়াত হলো কুরআন।

শরীআত যা স্পষ্ট করেছে এবং এই আয়াত যা বর্ণনা করেছে তা হলো—প্রবৃত্তির অনুসরণ দুই প্রকার: একটি হলো যা আদেশ ও নিষেধের অনুগামী হয়; এমতাবস্থায় তা নিন্দনীয় নয় এবং এর অনুসারীও পথভ্রষ্ট নয়।

আর অন্যটি হলো যেখানে প্রবৃত্তিই মুখ্য উদ্দেশ্যে অগ্রগণ্য হয়। বিদআতী ব্যক্তি আল্লাহর হিদায়াতের ওপর নিজ প্রবৃত্তিকে অগ্রাধিকার দেয়, ফলে সে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পথভ্রষ্টে পরিণত হয়, অথচ সে ধারণা করে যে সে হিদায়াতের ওপর রয়েছে।

এখানে একটি অর্থের প্রতি গুরুত্বারোপ করা জরুরি, আর তা হলো—উল্লিখিত আয়াতটি শরয়ি বিধান অনুসরণের ক্ষেত্রে দুটি পথ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে:

প্রথমটি: শরীআত, যা জ্ঞান, সত্য ও হিদায়াত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। আর অন্যটি হলো: প্রবৃত্তি, যা নিন্দনীয়; কারণ কুরআনে এটি কেবল নিন্দার প্রেক্ষাপটেই উল্লিখিত হয়েছে এবং সেখানে তৃতীয় কোনো পথ রাখা হয়নি। যে ব্যক্তি আয়াতসমূহ অনুসন্ধান করবে, সে বিষয়টি এমনই দেখতে পাবে।

--------------------------------------------

(১) আল-কাহফ: ২৮।

(২) আল-কাসাস: ৫০।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ২০)
فصل

[الأدلة من النقل على ذم البدع]

وأمَّا النقل فمن وجوه:

(أحدها) مَا جَاءَ فِي الْقُرْآنِ الْكَرِيمِ مِمَّا يَدُلُّ عَلَى ذَمِّ مَنِ ابْتَدَعَ فِي دِينِ اللَّهِ فِي الْجُمْلَةِ. فَمِنْ ذَلِكَ:

1- قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {وأنَّ هَذَا صِراطِي مُسْتقِيماً فاتَّبِعُوهُ ولَا تَتَّبِعُوا السُبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عنْ سَبِيلِهِ، ذلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} (1) فَالصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ هُوَ سَبِيلُ اللَّهِ الَّذِي دَعَا إِلَيْهِ وَهُوَ السُّنَّة، وَالسُّبُلُ هي سبل أهل الِاخْتِلَافِ الْحَائِدِينَ عَنِ الصِّرَاطِ الْمُسْتَقِيمِ وَهُمْ أَهْلُ الْبِدَعِ. وَلَيْسَ الْمُرَادُ سُبُلَ الْمَعَاصِي، لأنَّ الْمَعَاصِيَ مِنْ حَيْثُ هِيَ معاصٍ لَمْ يَضَعْهَا أَحَدٌ طَرِيقًا تُسْلك دَائِمًا عَلَى مُضَاهَاةِ التَّشْرِيعِ. وإنَّما هَذَا الْوَصْفُ خَاصٌّ بِالْبِدَعِ الْمُحْدَثَاتِ.

وَيَدُلُّ عَلَى هَذَا مَا رَوَى إِسْمَاعِيلُ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ: حدَّثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: خطَّ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا خَطًّا طَوِيلًا، وخطَّ لَنَا سُلَيْمَانُ خَطًّا طَوِيلًا، وخطَّ عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ يَسَارِهِ فَقَالَ: ((هَذَا سبيلُ اللَّهِ)) ثُمَّ خطَّ لَنَا خُطُوطًا عَنْ يَمِينِهِ وَيَسَارِهِ وَقَالَ: ((هَذِهِ سُبُل، وَعَلَى كلِّ سَبِيلٍ مِنْهَا شَيْطَانٌ يَدْعُو إِلَيْهِ)) ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: {وأنَّ هَذَا صِراطِي مُستَقِيماً فاتَّبِعُوهُ ولَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} -يعني

--------------------------------------------

(1) الأنعام: 153.
পরিচ্ছেদ

[বিদআতের নিন্দায় বর্ণনামূলক দলিলাদি]

আর বর্ণনামূলক দলিলের বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে প্রমাণিত:

(প্রথমত) পবিত্র কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে এবং যা সাধারণভাবে আল্লাহর দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবনকারীর নিন্দার ওপর প্রমাণ পেশ করে। এর মধ্যে রয়েছে:

১- মহান আল্লাহর বাণী: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে; তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশই দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।} (১) সুতরাং সরল পথ হলো আল্লাহর পথ, যার দিকে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন এবং তা হলো সুন্নাহ। আর অন্যান্য পথসমূহ হলো মতভেদকারীদের পথ যারা সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তারা হলো বিদআতি সম্প্রদায়। আর এখানে উদ্দেশ্য পাপের পথসমূহ নয়; কারণ পাপসমূহকে নিছক পাপ হিসেবে কেউ শরিয়তের সমান্তরালে এমন স্থায়ী পথ হিসেবে গ্রহণ করেনি যা সর্বদা অনুসরণ করা হয়। বরং এই বৈশিষ্ট্যটি বিশেষভাবে নব-উদ্ভাবিত বিদআতের সাথেই সংশ্লিষ্ট।

এর সপক্ষে প্রমাণ বহন করে ইসমাইল কর্তৃক সুলাইমান বিন হারব থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন যায়েদ আসেম বিন বাহদালাহ থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের জন্য একটি দীর্ঘ রেখা টানলেন—সুলাইমানও আমাদের জন্য একটি দীর্ঘ রেখা টেনেছেন—এবং এর ডানে ও বামে আরও রেখা টানলেন, অতঃপর বললেন: ((এটি আল্লাহর পথ))। এরপর তিনি এর ডানে ও বামে আরও কিছু রেখা টানলেন এবং বললেন: ((এগুলো হলো বিভিন্ন পথ, যার প্রতিটি পথের মাথায় এক একজন শয়তান রয়েছে যে সেদিকে আহ্বান করছে))। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না} —অর্থাৎ

--------------------------------------------

(১) আল-আনআম: ১৫৩।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ২১)
الْخُطُوطَ- {فَتَفَرَّقَ بِكمْ عَنْ سَبِيلِهِ} (1) .

قَالَ بَكْرُ بْنُ الْعَلَاءِ: أحسبُه أَرَادَ شَيْطَانًا مِنَ الْإِنْسِ وهي البدع والله أعلم.

وَعَنْ مُجَاهِدٍ فِي قَوْلِهِ: {ولَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ} ، قال: البدع والشبهات.

2- قول الله تعالى: {وعلَى الله قَصْدُ السَّبِيلِ ومِنْها جائِرٌ ولَوْ شَاءَ لهَداكُمْ أجْمَعِينَ} (2) فَالسَّبِيلُ الْقَصْدُ هُوَ طَرِيقُ الْحَقِّ، وَمَا سِوَاهُ جائرٌ عَنِ الْحَقِّ؛ أَيْ عادلٌ عَنْهُ، وَهِيَ طُرُقُ الْبِدَعِ وَالضَّلَالَاتِ، أَعَاذَنَا اللَّهُ مِنْ سُلُوكِهَا بِفَضْلِهِ. وَكَفَى بِالْجَائِرِ أَنْ يحذَّر مِنْهُ. فَالْمَسَاقُ يَدُلُّ على التحذير والنهي.

عَنِ التُّسْتُرِيِّ: ((قَصْدُ السَّبِيلِ)) طَرِيقُ السُّنَّة، ((وَمِنْهَا جائرٌ)) يَعْنِي إِلَى النَّارِ، وَذَلِكَ الْمِلَلُ وَالْبِدَعُ.

وَعَنْ مُجَاهِدٍ ((قَصْدُ السَّبِيلِ)) أَيِ: الْمُقْتَصِدُ مِنْهَا بَيْنَ الْغُلُوِّ وَالتَّقْصِيرِ، وَذَلِكَ يُفِيدُ أنَّ الْجَائِرَ هُوَ الْغَالِي أَوِ المقصِّر، وَكِلَاهُمَا مِنْ أَوْصَافِ البدع.

3- {إنَّ الَّذِين فَرَّقوا دِينَهُمْ وَكانُوا شِيَعاً لَسْتَ مِنْهُمْ في شَيْىءٍ إنَّما أَمْرُهُمْ إلىَ اللَّهِ ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِما كَانُوا يَفْعَلُونَ} (3) .

قَالَ ابْنُ عطيَّة: ((هَذِهِ الْآيَةُ تَعُمُّ أَهْلَ الأهواء والبدع والشذوذ في

--------------------------------------------

(1) [حسن أو صحيح] رواه أحمد (4142 و 4437) ، الدارمي (202) وابن أبي عاصم في السنه (17) ، وصححه الحاكم (2/318) وأقرَّه الذهبي.

(2) النحل: 9.

(3) الأنعام: 159.
রেখাগুলো- {যাতে তা তোমাদের তাঁর পথ হতে বিচ্ছিন্ন করে দেয়} (১)।

বকর ইবনুল আলা বলেন: আমি মনে করি তিনি এর দ্বারা মানুষের মধ্য থেকে শয়তানকে বুঝিয়েছেন এবং তা হলো বিদআতসমূহ, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আর মুজাহিদ থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: {এবং তোমরা অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না}, তিনি বলেন: বিদআত এবং সংশয়সমূহ।

২- মহান আল্লাহর বাণী: {আর সরল পথ বাতলে দেওয়া আল্লাহরই কাজ, কিন্তু পথের মধ্যে বক্র পথও রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সকলকেই হিদায়াত দান করতেন} (২)। সুতরাং সরল পথ হলো সত্যের পথ, আর তা ছাড়া অন্যগুলো সত্য হতে বিচ্যুত; অর্থাৎ তা থেকে সরে যাওয়া। আর সেগুলো হলো বিদআত ও ভ্রষ্টতার পথ। আল্লাহ আমাদের তাঁর অনুগ্রহে সেসব পথে চলা থেকে আশ্রয় দিন। আর বক্র পথটিই তা থেকে সতর্ক করার জন্য যথেষ্ট। সুতরাং প্রসঙ্গের ধারাটি সতর্কতা এবং নিষেধের নির্দেশ দিচ্ছে।

তুস্তারি থেকে বর্ণিত: ((সরল পথ)) হলো সুন্নাতের পথ, ((এবং তার মধ্যে বক্র পথও রয়েছে)) অর্থাৎ যা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়, আর তা হলো বিভিন্ন মতাদর্শ ও বিদআতসমূহ।

আর মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, ((সরল পথ)) অর্থাৎ: যা বাড়াবাড়ি এবং ছাড়াছাড়ির মধ্যবর্তী ভারসাম্যপূর্ণ পথ। আর তা এ কথাই নির্দেশ করে যে, বক্র পথ হলো তা যা বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়িমূলক, আর এ উভয়টিই বিদআতের বৈশিষ্ট্য।

৩- {নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের বিষয়টি আল্লাহরই নিকট। অতঃপর তারা যা করত সে সম্পর্কে তিনি তাদের অবহিত করবেন} (৩)।

ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: ((এই আয়াতটি প্রবৃত্তি পূজারী, বিদআতী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত করে...

--------------------------------------------

(১) [হাসান অথবা সহীহ] এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৪১৪২ ও ৪৪৩৭), দারেমি (২০২) এবং ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে (১৭), হাকেম একে সহীহ বলেছেন (২/৩১৮) এবং যাহাবি তা সমর্থন করেছেন।

(২) আন-নাহল: ৯।

(৩) আল-আন'আম: ১৫৯।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ২২)
الْفُرُوعِ وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ أَهْلِ التَّعَمُّقِ فِي الْجِدَالِ وَالْخَوْضِ فِي الْكَلَامِ. هَذِهِ كُلُّهُا عُرْضَةٌ للزلل ومظنة لسوءِ المعتقد))

قال القاضي [إسماعيل] : ظَاهِرُ الْقُرْآنِ يَدُلُّ عَلَى أنَّ كلَّ مَنِ ابْتَدَعَ فِي الدِّينِ بِدْعَةً مِنَ الْخَوَارِجِ وَغَيْرِهِمْ فَهُوَ دَاخِلٌ فِي هَذِهِ الْآيَةِ؛ لأنَّهم إِذَا ابتدعوا تجادلوا وتخاصموا وتفرقوا وكانوا شيعاً.

(الثاني) : مَا جَاءَ فِي الْأَحَادِيثِ الْمَنْقُولَةِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهِيَ كَثِيرَةٌ تَكَادُ تَفُوتُ الْحَصْرَ، إِلَّا أنَّا نَذْكُرُ مِنْهَا مَا تَيَسَّرَ مِمَّا يَدُلُّ عَلَى الْبَاقِي وَنَتَحَرَّى فِي ذَلِكَ - بِحَوْلِ اللَّهِ- مَا هُوَ أَقْرَبُ إِلَى الصِّحَّةِ.

فَمِنْ ذَلِكَ:

1- مَا فِي الصَّحِيحِ مِنْ حَدِيثِ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فهو ردٌ)) (1) وفي رواية لمسلم: ((مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ ردٌ)) (2) وَهَذَا الْحَدِيثُ عدَّه العلماءُ ثُلُثَ الْإِسْلَامِ، لأنَّه جمع وجوه الْمُخَالَفَةِ لِأَمْرِهِ عليه السلام. وَيَسْتَوِي فِي ذَلِكَ مَا كَانَ بِدْعَةً أَوْ مَعْصِيَةً.

2- وخرَّج مسلمٌ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (2697) ومسلم (1718) .

(2) رواه مسلم (1718) .
...শাখা-প্রশাখাগত বিষয় এবং এজাতীয় অন্যান্য বিষয়ে যারা বিতর্কে গভীরে প্রবেশ করে এবং কালামশাস্ত্রে লিপ্ত হয়। এগুলোর সবকটিই পদস্খলনের ক্ষেত্র এবং ভ্রান্ত আকিদাহর উৎস।))

কাযী [ইসমাঈল] বলেন: কুরআনের বাহ্যিক অর্থ নির্দেশ করে যে, যে কেউ দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করবে—চাই সে খাওয়ারিজ হোক বা অন্য কেউ—সে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ তারা যখন বিদআত উদ্ভাবন করে তখন বিতর্কে লিপ্ত হয়, বিবাদে জড়ায়, বিচ্ছিন্ন হয় এবং উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

(দ্বিতীয়): রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহে যা এসেছে; আর তা এত অধিক যে প্রায় গণনার অতীত। তবে আমরা সেখান থেকে আল্লাহর শক্তিতে সেই হাদীসগুলোই উল্লেখ করার চেষ্টা করব যা সহজলভ্য এবং যা বাকিগুলোর প্রতি দিকনির্দেশনা প্রদান করে, আর আমরা এক্ষেত্রে যা সহীহ হওয়ার অধিক নিকটবর্তী তা তালাশ করব।

তার অন্তর্ভুক্ত হলো:

১- সহীহ গ্রন্থে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।” (১) আর মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: “যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যা আমাদের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।” (২) আলিমগণ এই হাদীসটিকে ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ এটি নবী আলাইহিস সালামের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণের সকল দিককে শামিল করে। আর এক্ষেত্রে বিষয়টি বিদআত হোক বা পাপ—উভয়ই সমান।

২- ইমাম মুসলিম জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন

--------------------------------------------

(১) বুখারী (২৬৯৭) এবং মুসলিম (১৭১৮) এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম (১৭১৮) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু কিতাবিল ইতিসাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
فِي خُطْبَتِهِ: ((أمَّا بَعْدُ فإنَّ خيرَ الْحَدِيثِ كتابُ الله، وخيرَ الهدي هديُ محمد، وشرَّ الأُمور مُحْدَثَاتُهَا، وكلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ)) (1) .

وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ النَّاسَ، يَحْمَدُ اللَّهَ وَيُثْنِي عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ يَقُولُ: ((مَنْ يهدِه الله فلا مُضِلَّ له، ومن يُضْلِلِ الله فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَخَيْرُ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأُمور محدثاتها وكل محدثة بدعة)) (2) .

3- وفي الصحيح مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ دَعَا إِلَى الْهُدَى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجور مَنْ يَتْبَعُهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجورهم شَيْئًا. وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ يَتْبَعُهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثامهم شيئاً)) (3) .

4- وروى الترمذي وَأَبُو دَاوُدَ وَغَيْرُهُمَا عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا فَوَعَظَنَا مَوْعِظَةً بَلِيغَةً ذَرَفَتْ مِنْهَا الْعُيُونُ وَوَجِلَتْ مِنْهَا الْقُلُوبُ. فَقَالَ قَائِلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ كأنَّ هَذَا مَوْعِظَةُ مُوَدِّعٍ، فَمَاذَا تَعْهَدُ إِلَيْنَا؟ فقال: ((أُوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة لولاة الأمر وإن كان عبداً حبشياً. فإنَّه من يَعِشْ مِنْكُمْ بَعْدِي فَسَيَرَى اخْتِلَافًا كَثِيرًا، فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ، تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الأُمور، فإنَّ كلَّ محدثة بدعة وكل بدعة

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (867) .

(2) رواه مسلم (867) .

(3) رواه مسلم (2674) .
তাঁর খুতবায় (বলতেন): "অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদ'আতই ভ্রষ্টতা।" (১)।

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষকে খুতবা দিতেন, তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করতেন যার তিনি উপযুক্ত, অতঃপর বলতেন: "আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদ'আত।" (২)।

৩- সহীহ (মুসলিম)-এ আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসে আছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য সেই পরিমাণ সওয়াব রয়েছে যা তার অনুসারীদের জন্য রয়েছে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করবে, তার উপর সেই পরিমাণ গুনাহ হবে যা তার অনুসারীদের উপর হবে, এতে তাদের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।" (৩)।

৪- তিরমিযী, আবু দাউদ ও অন্যান্যরা ইরবায ইবনে সারিয়াহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, অতঃপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে এমন এক মর্মস্পর্শী উপদেশ প্রদান করলেন যাতে চক্ষুসমূহ অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো। তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি যেন কোনো বিদায়ী উপদেশ, সুতরাং আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি (তাকওয়া) এবং কথা শোনার ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে (নেতা) কোনো হাবশী গোলাম হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই বিদ'আত এবং প্রতিটি বিদ'আতই...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৮৬৭)।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৮৬৭)।

(৩) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৬৭৪)।