(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: -)
الأحكام السلطانية للماوردي القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: الأحكام السلطانية
المؤلف: أبو الحسن علي بن محمد بن محمد بن حبيب البصري البغدادي، الشهير بالماوردي (ت 450هـ)
الناشر: دار الحديث - القاهرة
عدد الصفحات: 376
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আহকামুস সুলতানিয়া (আল-মাওয়ারদী) বিভাগ: শারয়ী রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: আল-আহকামুস সুলতানিয়া
লেখক: আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাবিব আল-বসরী আল-বাগদাদী, আল-মাওয়ারদী নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৪৫০ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল হাদিস - কায়রো
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمات
مقدمة التحقيق…مقدمة التحقيق:
إنَّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} 2، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} 3.
وبعد:
فلم يكن الإسلام في يومٍ من الأيَّام مجرَّد طقوس لا علاقة بواقع الناس وشئونهم الحياتية، ولعلَّ فهم أهل مكة من المشركين لذلك، ويقينهم بأنَّ محمدًا صلى الله عليه وسلم إنَّمَا يدعو بهذا الدين إلى منهج حياة متكاملٍ يمكن تلخيصه في كلمة واحدة هي: لا إله إلا الله.
تلك الكلمة التي تعلن التوحيد الخالص والعبودية الكاملة لله وحده، ونزعها عن أيّ أحد، أو أيّ شيء آخر، وترجع الإنسان إلى حكم واحد هو الخالق الحكيم، وتتبرَّأ من كل
--------------------------------------------
ভূমিকা
সম্পাদকের ভূমিকা…সম্পাদকের ভূমিকা:
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মুমিনগণ! আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} ১, {হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক} ২, {হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে} ৩।
অতঃপর:
ইসলাম কোনো দিনই নিছক এমন কিছু আচার-সর্বস্ব বিষয়ের নাম ছিল না যার সাথে মানুষের বাস্তবতা ও জীবনযাত্রার কোনো সম্পর্ক নেই। সম্ভবত মক্কার মুশরিকদের এই বিষয়টি অনুধাবন করা এবং তাদের এই ধ্রুব বিশ্বাস যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দ্বীনের মাধ্যমে মূলত এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবন দর্শনের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন যাকে একটি মাত্র বাক্যে সারসংক্ষেপ করা সম্ভব, আর তা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।
এটি সেই কালিমা যা একনিষ্ঠ তাওহীদ ও একমাত্র আল্লাহর জন্য পূর্ণ দাসত্বের ঘোষণা দেয় এবং অন্য যে কারো বা যেকোনো বস্তু থেকে তা অস্বীকার করে। এটি মানুষকে একমাত্র বিচারক তথা প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার ফয়সালার দিকে ফিরিয়ে দেয় এবং অন্য সবকিছু থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৬)
الأنداد والشركاء المزعومين.
ورغم أنَّ مسألة شمولية الإسلام وأنَّه منهج حياة كامل يعتبرها كثيرون قضية مسلَّمة، وثابتة بلا شكٍّ ولا مرية، نجد فريقًا آخر يحاول بشدة فصل الدين عن شئون الحياة، وبخاصَّة السياسية منها.
وفي ظلِّ هذا الخلاف كان لا بُدَّ من الرجوع إلى تراثنا الإسلامي الزاخر نستقي منه المبادئ، ونقف منه على المعالم؛ لنرى كيف أدلى السابقون من العلماء المسلمين بدلوهم في المسائل المتعلقة بنظم الحكم، وكيف حاولوا التنظير والتقنين لنظام الحكم في الإسلام من خلال بحثهم في كتاب الله تعالى، وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، ومن خلال استقرائهم لسيرة الرسول الكريم محمد صلى الله عليه وسلم، وتاريخ الخلفاء الراشدين من بعده.
غير أنَّه من المهمّ للباحث حتى يكون محايدًا ومنصفًا أن ينظر هذه المحاولات في سياقها الزماني والفترة التي أُلِّفَت فيها؛ لنرى إذا ما كانت تعبّر عن قيمةٍ في عصرها أم لا.
كما علينا أن ننظر إلى هذه المحاولات بحيادية تامَّة دون تحيّز أو تجنٍّ، ذلك أنَّ كثيرًا من الباحثين ينظرون إلى كلِّ ما هو قديم على أنَّه هو الصواب، حتى إنَّ كثيرًا من المحققين في عصرنا قد انحصر عملهم في الثناء على المصنِّف، وعلى أسلوبه وجودة تبويبه، ومحاولة التدليل على صدق كل ما يورده في كتابه.
بينما نرى فريقًا آخر من الذين يسمّون أنفسهم بدعاة الحداثة والتقدُّم يبذل جهده كله لتشويه كل ما هو قديم، ونعته بالتخلف والسطحية وعَدَم الملاءمة لعصرنا.
لذلك كان حرصنا على تحقيق كتاب الأحكام السلطانية للإمام الماوردي، والذي يعتبر كتابًا في الفقه يبحث في أحكام الإمامة العظمى والولاية وما يتعلَّق بهما، كما يمكن اعتباره من أوائل الكتب في نظم الحكم، إذا استثنينا كتاب العلَّامة ابن تيمية السياسة الشرعية.
عملي في الكتاب:
ويمكن تلخيص ما قمنا به من عملٍ في النقاط التالية:
أولا: أخذنا على أنفسنا أن يكون تناولنا للكتاب ودراستنا موضوعية، فما نراه متفقًا
কথিত সমকক্ষ ও অংশীদারগণ।
যদ্যপি ইসলামের ব্যাপকতা এবং এটি যে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, এই বিষয়টি অনেকের কাছে একটি স্বীকৃত এবং সন্দেহাতীত ধ্রুব সত্য হিসেবে পরিগণিত, তবুও আমরা অপর একটি পক্ষকে দেখতে পাই যারা জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়াদি, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিষয়সমূহ থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়।
এই মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে আমাদের সমৃদ্ধ ইসলামি ঐতিহ্যের দিকে ফিরে যাওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল, যাতে আমরা সেখান থেকে মূলনীতিসমূহ আহরণ করতে পারি এবং এর নিদর্শনসমূহ অনুধাবন করতে পারি; যাতে আমরা দেখতে পাই যে, পূর্ববর্তী মুসলিম আলেমগণ শাসনব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়াবলিতে কীভাবে তাদের মতামত প্রদান করেছেন এবং মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ এবং মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সিরাত ও তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশিদীনের ইতিহাস পর্যালোচনার মাধ্যমে ইসলামের শাসনব্যবস্থাকে তাত্ত্বিক ও আইনি রূপ দিতে তারা কীভাবে সচেষ্ট হয়েছেন।
তবে একজন গবেষকের জন্য নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠ হওয়ার স্বার্থে এই প্রচেষ্টাগুলোকে সেগুলোর সমকালীন প্রেক্ষাপট ও যে সময়ে তা রচিত হয়েছিল সেই সময়ের আলোকে বিচার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যাতে আমরা দেখতে পাই যে, তা তৎকালীন সময়ে কোনো গুরুত্ব বহন করত কি না।
একইভাবে আমাদের উচিত এই প্রচেষ্টাগুলোকে কোনো প্রকার পক্ষপাত বা অবিচার ছাড়াই পূর্ণ নিরপেক্ষতার সাথে দেখা। কারণ অনেক গবেষকই প্রাচীন যা কিছু আছে তাকেই সঠিক বলে মনে করেন; এমনকি বর্তমান যুগের অনেক গবেষকের কাজ কেবল গ্রন্থকারের প্রশংসা, তাঁর রচনাশৈলী ও বিন্যাসের গুণগান এবং বইটিতে তিনি যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার সত্যতা প্রমাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, আমরা এমন একদলকে দেখতে পাই যারা নিজেদের আধুনিকতা ও প্রগতির প্রবক্তা হিসেবে দাবি করে এবং প্রাচীন ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়, আর সেগুলোকে অনগ্রসরতা, অগভীরতা এবং বর্তমান যুগের জন্য অনুপযোগী হিসেবে আখ্যায়িত করে।
সে কারণেই ইমাম মাওয়ার্দীর ‘আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ’ গ্রন্থটি সম্পাদনা করার বিষয়ে আমরা আগ্রহী হয়েছিলাম, যা ফিকহ শাস্ত্রের একটি এমন গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত যেখানে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব ও শাসনব্যবস্থা এবং এ সংক্রান্ত বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লামা ইবনে তাইমিয়্যার ‘আস-সিয়াসাহ আশ-শারইয়্যাহ’ গ্রন্থটিকে বাদ দিলে একে শাসনব্যবস্থার ওপর রচিত প্রাথমিক বইগুলোর অন্যতম ধরা যেতে পারে।
গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি:
আমাদের সম্পাদিত কাজগুলোকে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
প্রথমত: আমরা গ্রন্থটি উপস্থাপন এবং পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছি, ফলে যা আমাদের কাছে সংগতিপূর্ণ মনে হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৭)
ومبادئ الإسلام وقواعده دلَّلْنَا عليه، وذكرنا الشواهد والنصوص لتأكيده، وما رأينا أنَّه مخالف لهذه المبادئ وتلك القواعد ذكرنا من النصوص ما يؤكِّد مخالفته.
ثانيًا: قمت بعمل ترجمة للمصنِّف.
ثالثًا: حرصت على تفصيل ما أجمله المصنِّف من مسائل وأحكام بالرجوع إلى كتب الفقه والأصول؛ لتتضح الصورة أكثر، وليستوثق من هذه الأحكام.
رابعًا: لاحظت أنَّ المصنِّف في كتابه كثيرًا ما يغفل مذهب الإمام أحمد في كثير من القضايا والأحكام، لذلك رأيت من الإنصاف أن أشير إلى أقوال الحنابلة في هامش الكتاب.
خامسًا: حرصت على تخريج الأحاديث الواردة في الكتاب مع ذكر تعليقات المحدثين وحكمهم عليها، خاصَّة الحافظ ابن حجر، والزيلعي قديمًا، وفضيلة الشيخ الألباني حديثًا.
سادسًا: قمت كذلك بالترجمة لمعظم الأعلام الوارد ذكرهم في الكتاب.
سابعا: قمت بتبويب الكتاب، وذلك بوضع عناوين تعبِّر عن كل فصل من الفصول التي ذكرها المصنِّف.
وبعد، فأدعو الله تبارك وتعالى أن ينفع بهذا الكتاب وتلك الدراسة، إنَّه وليّ ذلك ومولاه.
أحمد جاد
আমরা ইসলামের মূলনীতি ও বিধিবিধানের ওপর প্রমাণ পেশ করেছি এবং তা সুসংহত করতে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য ও দলীল উল্লেখ করেছি। আর যা কিছু এই মূলনীতি ও বিধিবিধানের পরিপন্থী বলে আমাদের নিকট প্রতিভাত হয়েছে, তার অসারতা প্রমাণে সংশ্লিষ্ট পাঠ্যসমূহ উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয়ত: আমি গ্রন্থকারের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রস্তুত করেছি।
তৃতীয়ত: গ্রন্থকার যেসকল মাসআলা ও আহকাম সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন, ফিকহ ও উসূলে ফিকহের কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে আমি সেগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে সচেষ্ট হয়েছি; যাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় এবং এই বিধানসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ নিশ্চয়তা লাভ করা যায়।
চতুর্থত: আমি লক্ষ্য করেছি যে, গ্রন্থকার তাঁর কিতাবে বহু বিষয় ও বিধানের ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল-এর মাযহাবের কথা প্রায়ই উল্লেখ করেননি। তাই ন্যায়বিচারের দাবি স্বরূপ কিতাবের পাদটীকায় হাম্বলী মাযহাবের মতামতসমূহ উল্লেখ করা সমীচীন মনে করেছি।
পঞ্চমত: কিতাবে বর্ণিত হাদীসসমূহের তাখরীজ (উৎস নির্দেশ) করার ব্যাপারে আমি যত্নবান হয়েছি এবং সেই সঙ্গে মুহাদ্দিসগণের মন্তব্য ও হাদীসের মান সম্পর্কে তাঁদের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেছি; বিশেষ করে পূর্বসূরীদের মধ্য থেকে হাফেয ইবনে হাজার ও যাইলায়ী এবং বর্তমান যুগের বিশিষ্ট শায়খ আলবানীর মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছি।
ষষ্ঠত: কিতাবে উল্লিখিত অধিকাংশ বরেণ্য ব্যক্তিত্বের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিও আমি প্রদান করেছি।
সপ্তমত: আমি কিতাবটিকে বিভিন্ন শিরোনামে বিন্যস্ত করেছি, যা গ্রন্থকার বর্ণিত প্রতিটি অধ্যায়ের বিষয়বস্তুকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলে।
পরিশেষে, আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কিতাব ও গবেষণার মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর একমাত্র অভিভাবক ও অধিকর্তা।
আহমাদ জাদ
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৯)
ترجمة المصنِّف:الإمام الماوردي [364هـ - 450هـ] [975م - 1058م]
نسبه ومولده:
هو علي بن محمد بن حبيب، أبو الحسن البصري، المعروف بالماورديِّ نسبةً إلى بيع ماء الورد، أقضى قضاة عصره، من العلماء الباحثين أصحاب التصانيف الكثيرة النافعة، وُلِدَ سنة 364هـ/ 975م في البصرة.
اجتهاده وطلبه للعلم:
وُلِدَ الماوردي في البصرة لأبٍ يعمل ببيع ماء الورد، فنسب إليه فقيل: "الماوردي".
ارتحل به أبوه إلى بغداد، وبها سمع الحديث، ثم لازم واستمع إلى أبي حامد الإسفراييني، كما حدَّث عن الحسن الجيلي.
عمل الماوردي بالتدريس في بغداد ثم بالبصرة، وعاد إلى بغداد مرة أخرى، كان يعلِّم الحديث وتفسير القرآن، لقِّبَ عام 429هـ بأقضى القضاة، وكانت مرتبته أدنى من قاضي القضاة، ثم بعد ذلك تولَّى منصب قاضي القضاة.
مكانته العلمية:
يعتبر الماوردي من أكبر فقهاء الشافعية، والذي ألَّف في فقه الشافعية موسوعته الضخمة في أكثر من عشرين جزءًا.
وقد نال الماوردي حظوة كبيرة عند الخليفة المقتدر "المتولي بين سنتي 381 و422هـ"، وعند بني بويه، وربما توسَّطَ بينهم وبين الملوك وكبار الأمراء فيما يصلح به خللًا أو يزيل خلافًا.
وقد كان معاصرًا لخليفتين من أطول الخلفاء بقاءً في الحكم: الخليفة العباسي القادر بالله، ومن بعده ابنه القائم بأمر الله، الذي وصل الضعف به مبلغه حتى إنَّه قد خُطِبَ في عهده للخليفة الفاطمي على منابر بغداد.
وكان الماوردي ذا علاقات مع رجال الدولة العباسية، كما كان سفير العباسيين ووسيطهم لدى بني بويه والسلاجقة، وبسبب علاقاته هذه يرجِّح البعض كثرة كتابته عمَّا يسمَّى بالفقه
গ্রন্থকারের পরিচিতি:ইমাম আল-মাওয়ার্দি [৩৬৪ হি. - ৪৫০ হি.] [৯৭৫ খ্রি. - ১০৫৮ খ্রি.]
বংশপরিচয় ও জন্ম:
তিনি হলেন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাবিব, আবুল হাসান আল-বসরি, গোলাপজল বিক্রির পেশার সাথে সম্পৃক্ততার কারণে 'আল-মাওয়ার্দি' নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের প্রধানতম বিচারপতি (আকদাল কুদাত), গবেষক আলিম এবং বহু কল্যাণকর গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি ৩৬৪ হিজরি/৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে বসরায় জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর জ্ঞানসাধনা ও ইলম অর্জন:
আল-মাওয়ার্দি বসরায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা গোলাপজল বিক্রির ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন, তাই তাঁর দিকে নিসবত করে তাঁকে "আল-মাওয়ার্দি" বলা হতো।
তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে বাগদাদে গমন করেন এবং সেখানে তিনি হাদিস শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি আবু হামিদ আল-ইসফরাইনি-র সান্নিধ্যে থেকে দীর্ঘকাল তাঁর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি হাসান আল-জিলি থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
আল-মাওয়ার্দি বাগদাদে এবং পরবর্তীতে বসরায় শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি পুনরায় বাগদাদে ফিরে আসেন। তিনি হাদিস ও কুরআনের তাফসির শিক্ষা দিতেন। ৪২৯ হিজরিতে তাঁকে 'আকদাল কুদাত' (প্রধানতম বিচারপতি) উপাধিতে ভূষিত করা হয়, যা ছিল 'কাদি উল-কুদাত' পদের ঠিক পরবর্তী পর্যায়ের একটি পদমর্যাদা। পরবর্তীকালে তিনি 'কাদি উল-কুদাত' (প্রধান বিচারপতি) পদে অধিষ্ঠিত হন।
তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা:
আল-মাওয়ার্দিকে শাফেয়ী মাজহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি শাফেয়ী ফিকহের ওপর বিশ খণ্ডেরও অধিক বিস্তৃত এক বিশাল বিশ্বকোষ রচনা করেছেন।
আল-মাওয়ার্দি খলিফা আল-কাদির বিল্লাহর (যিনি ৩৮১ থেকে ৪২২ হিজরি পর্যন্ত শাসনে ছিলেন) নিকট এবং বুওয়াইহি রাজবংশের কাছে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উচ্চ মর্যাদাবান ছিলেন। অনেক সময় তিনি তাঁদের এবং বিভিন্ন রাজা ও উচ্চপদস্থ আমিরদের মধ্যে বিবাদ নিরসন বা ত্রুটি সংশোধনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেন।
তিনি দীর্ঘতম শাসনকাল অতিবাহিতকারী দুজন খলিফার সমসাময়িক ছিলেন: আব্বাসীয় খলিফা আল-কাদির বিল্লাহ এবং তাঁর পুত্র আল-কায়িম বি-আমরিল্লাহ। আল-কায়িমের শাসনামলে কেন্দ্রীয় শাসন এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে, বাগদাদের মিম্বরগুলোতে ফাতেমীয় খলিফার নামে খুতবা পাঠ করা হয়েছিল।
আল-মাওয়ার্দির সাথে আব্বাসীয় রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সুসম্পর্ক ছিল। তিনি বুওয়াইহি ও সেলজুকদের দরবারে আব্বাসীয়দের রাষ্ট্রদূত ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই গভীর রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণেই অনেকে মনে করেন যে, তিনি তথাকথিত রাজনৈতিক ফিকহ বা রাষ্ট্রনীতি বিষয়ে অধিক লেখালেখি করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ১০)
السياسي، وقد اتُّهِمَ الماوردي بالاعتزال، ولكن انتصر له تلميذه الخطيب البغدادي فدافع عنه ودفع عنه الادِّعَاء، وقد كان مصنِّفًا قديرًا بارعًا، تدل كتبه المختلفة على مقدرةٍ في التفكير وبراعة في التعبير.
آثاره العلمية:
ترك الإمام الماوردي العديد من المصنَّفات في نظم الحكم وشئون السياسة، نذكر منها:
- أدب الدنيا والدين.
- الأحكام السلطانية.
- قانون الوزارة.
أما كتبه الأخرى فمنها:
- سياسة أعلام النبوة.
- كتاب الحاوي الكبير، في فقه الشافعية، في أكثر من عشرين جزءًا.
- كتاب نصيحة الملوك.
- كتاب قوانين الوزارة وسياسية الملك.
- كتاب التفسير.
- كتاب الإقناع، وهو مختصر كتاب الحاوي
- كتاب أدب القاضي.
- كتاب أعلام النبوة.
- كتاب تسهيل النظر.
- كتاب الأمثال والحكم في تفسير القرآن "النكت والعيون".
وقد نال الأخير عناية المفسرين المتأخِّرين ونقلوا عنه، كابن الجوزي في: زاد المسير، والقرطبي في تفسيره: الجامع لأحكام القرآن.
وفاته:
توفِّي الإمام في يوم الثلاثاء سلخ شهر ربيع الأول من سنة 450هـ، ودُفِنَ من الغدِ في مقبرة باب حرب، وكان قد بلغ 86 سنة، وصلَّى عليه الإمام الخطيب البغدادي.
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, আল-মাওয়ার্দিকে মুতাজিলা মতবাদের অনুসারী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছিল; তবে তার ছাত্র খতিব আল-বাগদাদি তার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন, তার প্রতিরক্ষা করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খণ্ডন করেন। তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ ও প্রতিভাবান লেখক ছিলেন। তার বিভিন্ন গ্রন্থ প্রখর চিন্তাশক্তি এবং চমৎকার প্রকাশভঙ্গির পরিচয় দেয়।
তার ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদানসমূহ:
ইমাম আল-মাওয়ার্দি শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদ দীন।
- আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ।
- কানুনুল উইজারাহ।
তার অন্যান্য গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সিয়াসাতু আলামিন নুবুওয়াহ।
- কিতাবুল হাওয়িল কাবির: এটি শাফেয়ি ফিকহের ওপর রচিত, যা বিশ খণ্ডেরও অধিক।
- কিতাব নাসিহাতুল মুলুক।
- কিতাবু কাওয়ানিনিল উইজারাহ ওয়া সিয়াসাতিল মুলক।
- কিতাবুত তাফসির।
- কিতাবুল ইকনা: এটি কিতাবুল হওয়ি গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।
- কিতাবু আদাবিল কাজি।
- কিতাবু আলামিন নুবুওয়াহ।
- কিতাবু তাসরিল নাজার।
- কুরআনের তাফসিরে কিতাবুল আমসাল ওয়াল হিকাম, যা "আন-নুকাত ওয়াল উয়ুন" নামে পরিচিত।
পরবর্তী যুগের মুফাসসিরগণ এই শেষোক্ত গ্রন্থটির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং এখান থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন, যেমন ইবনুল জাওজি তার 'জাদুল মাসির' গ্রন্থে এবং কুরতুবি তার তাফসির গ্রন্থ 'আল-জামি লি আহকামিল কুরআন'-এ।
মৃত্যু:
ইমাম ৪৫০ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের শেষ দিনে মঙ্গলবার মৃত্যুবরণ করেন এবং পরদিন তাকে 'বাব হারব' নামক গোরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর এবং ইমাম খতিব আল-বাগদাদি তার জানাজার নামাজ পড়ান।
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلف:وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ
قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ أَبُو الْحَسَنِ الْمَاوَرْدِيُّ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَوْضَحَ لَنَا مَعَالِمَ الدِّينِ، وَمَنَّ عَلَيْنَا بِالْكِتَابِ الْمُبِينِ، وَشَرَعَ لَنَا مِنْ الْأَحْكَامِ، وَفَصَّلَ لَنَا مِنْ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ مَا جَعَلَهُ عَلَى الدُّنْيَا حُكْمًا تَقَرَّرَتْ بِهِ مَصَالِحُ الْخَلْقِ، وَثَبَتَتْ بِهِ قَوَاعِدُ الْحَقِّ، وَوَكَّلَ إلَى وُلَاةِ الْأُمُورِ مَا أَحْسَنَ فِيهِ التَّقْدِيرَ، وَأَحْكَمَ بِهِ التَّدْبِيرَ، فَلَهُ الْحَمْدُ عَلَى مَا قَدَّرَ وَدَبَّرَ، وَصَلَوَاتُهُ وَسَلَامُهُ عَلَى رَسُولِهِ الَّذِي صَدَعَ بِأَمْرِهِ، وَقَامَ بِحَقِّهِ مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ وَعَلَى آلِهِ وَصَحَابَتِهِ.
وَلَمَّا كَانَتْ الْأَحْكَامُ السُّلْطَانِيَّةُ بِوُلَاةِ الْأُمُورِ أَحَقَّ، وَكَانَ امْتِزَاجُهَا بِجَمِيعِ الْأَحْكَامِ يَقْطَعُهُمْ عَنْ تَصَفُّحِهَا مَعَ تَشَاغُلِهِمْ بِالسِّيَاسَةِ وَالتَّدْبِيرِ، أَفْرَدْتُ لَهَا كِتَابًا امْتَثَلْتُ فِيهِ أَمْرَ مَنْ لَزِمَتْ طَاعَتُهُ؛ لِيَعْلَمَ مَذَاهِبَ الْفُقَهَاءِ فِيمَا لَهُ مِنْهَا فَيَسْتَوْفِيهِ، وَمَا عَلَيْهِ مِنْهَا فَيُوَفِّيهِ؛ تَوَخِّيًا لِلْعَدْلِ فِي تَنْفِيذِهِ وَقَضَائِهِ، وَتَحَرِّيًا لِلنَّصَفَةِ فِي أَخْذِهِ وَعَطَائِهِ، وَأَنَا أَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى حُسْنَ مَعُونَتِهِ، وَأَرْغَبُ إلَيْهِ فِي تَوْفِيقِهِ وَهِدَايَتِهِ، وَهُوَ حَسْبِي وَكَفَى.
أَمَّا بَعْدُ:
فَإِنَّ اللَّهَ جَلَّتْ قُدْرَتُهُ نَدَبَ لِلْأُمَّةِ زَعِيمًا خَلَفَ بِهِ النُّبُوَّةَ، وَحَاطَ بِهِ الْمِلَّةَ، وَفَوَّضَ إلَيْهِ السِّيَاسَةَ؛ لِيَصْدُرَ التَّدْبِيرُ عَنْ دِينٍ مَشْرُوعٍ، وَتَجْتَمِعَ الْكَلِمَةُ عَلَى رَأْيٍ مَتْبُوعٍ، فَكَانَتْ الْإِمَامَةُ أَصْلًا عَلَيْهِ اسْتَقَرَّتْ قَوَاعِدُ الْمِلَّةِ، وَانْتَظَمَتْ بِهِ مَصَالِحُ الْأُمَّةِ حَتَّى اسْتَثْبَتَتْ بِهَا الْأُمُورُ الْعَامَّةُ، وَصَدَرَتْ عَنْهَا الْوِلَايَاتُ الْخَاصَّةُ، فَلَزِمَ تَقْدِيمُ حُكْمِهَا عَلَى كُلِّ حُكْمٍ سُلْطَانِيٍّ، وَوَجَبَ ذِكْرُ مَا اخْتَصَّ بِنَظَرِهَا عَلَى كُلِّ نَظَرٍ دِينِيٍّ؛ لِتَرْتِيبِ أَحْكَامِ الْوِلَايَاتِ عَلَى نَسَقٍ مُتَنَاسِبِ الْأَقْسَامِ، مُتَشَاكِلِ الْأَحْكَامِ.
وَاَلَّذِي تَضَمَّنَهُ هَذَا الْكِتَابُ مِنْ الْأَحْكَامِ السُّلْطَانِيَّةِ وَالْوِلَايَاتِ الدِّينِيَّةِ عِشْرُونَ بَابًا؛
فَالْبَابُ الْأَوَّلُ: فِي عَقْدِ الْإِمَامَةِ.
وَالْبَابُ الثَّانِي: فِي تَقْلِيدِ الْوَزَارَةِ.
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকা:এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক
শায়খ ইমাম আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দি বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের নিকট দ্বীনের নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্ট করেছেন, সুস্পষ্ট কিতাবের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আমাদের জন্য বিধানসমূহ বিধিবদ্ধ করেছেন এবং হালাল ও হারামকে বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি জগতের জন্য এমন এক মানদণ্ড করেছেন যার দ্বারা সৃষ্টির কল্যাণ সুনিশ্চিত হয় এবং সত্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়; আর তিনি শাসনকর্তাদের ওপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করেছেন যার নির্ধারণ তিনি অত্যন্ত উত্তমভাবে করেছেন এবং যার পরিচালনা তিনি সুদৃঢ় করেছেন। সুতরাং প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য সেই বিষয়ের ওপর যা তিনি নির্ধারণ ও পরিচালনা করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূলের ওপর যিনি তাঁর আদিষ্ট বিষয় স্পষ্টভাবে প্রচার করেছেন এবং তাঁর প্রাপ্য হক যথাযথভাবে আদায় করেছেন, তিনি হলেন নবী মুহাম্মদ, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীদের ওপর।
যেহেতু রাষ্ট্রীয় বিধানাবলি শাসনকর্তাদের জন্য সর্বাপেক্ষা বেশি উপযোগী, কিন্তু সাধারণ বিধানসমূহের সাথে এগুলোর সংমিশ্রণ থাকার কারণে এবং রাজনীতি ও প্রশাসনিক কার্যে লিপ্ত থাকার ফলে তাদের পক্ষে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয় না, তাই আমি এই বিষয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছি। এতে আমি এমন একজনের নির্দেশ পালন করেছি যাঁর আনুগত্য করা অপরিহার্য; যাতে তিনি এই সংক্রান্ত বিষয়ে ফুকাহাগণের মাযহাবসমূহ জানতে পারেন এবং যা তাঁর প্রাপ্য তা যেন তিনি যথাযথভাবে গ্রহণ করতে পারেন এবং যা তাঁর ওপর কর্তব্য তা যেন তিনি পূর্ণভাবে সম্পাদন করতে পারেন। এটি করা হয়েছে তাঁর শাসন ও বিচারকার্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এবং গ্রহণ ও প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা অনুসন্ধানের লক্ষ্যে। আর আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর উত্তম সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট তাওফীক ও হেদায়াত কামনা করছি। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম অভিভাবক।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ—তাঁর ক্ষমতা সুমহান—এই উম্মতের জন্য একজন নেতা নিযুক্ত করেছেন যার মাধ্যমে তিনি নবুওয়াতের স্থলাভিষিক্ত করেছেন, এর দ্বারা মিল্লাতকে (দ্বীনকে) সুরক্ষা দিয়েছেন এবং রাজনীতি ও শাসন পরিচালনার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেছেন; যাতে শাসনকার্য শরীয়তসম্মত দ্বীনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং জনমত একটি অনুসরণীয় সিদ্ধান্তের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়। অতএব, ইমামত (নেতৃত্ব) হলো এমন একটি মূলভিত্তি যার ওপর মিল্লাতের নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার মাধ্যমে উম্মতের কল্যাণ সুসংবদ্ধ হয়েছে, ফলে এর মাধ্যমে সাধারণ বিষয়সমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর থেকেই বিশেষ প্রশাসনিক দায়িত্বসমূহ উৎসারিত হয়েছে। সুতরাং, প্রতিটি রাষ্ট্রীয় বিধানের ওপর ইমামতের বিধানকে অগ্রগণ্য করা অপরিহার্য এবং প্রতিটি ধর্মীয় আলোচনার ওপর এর বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির আলোচনা বাধ্যতামূলক; যাতে প্রশাসনিক দায়িত্বসমূহের বিধানাবলিকে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ বিন্যাসে ও সদৃশ বিধানে সাজানো সম্ভব হয়।
এই গ্রন্থটি রাষ্ট্রীয় বিধানাবলি এবং ধর্মীয় প্রশাসনিক দায়িত্বসমূহের যে সকল বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে তা মোট বিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত;
প্রথম অধ্যায়: ইমামত বা নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: মন্ত্রিত্ব (ওজরাত) প্রদান প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَالْبَابُ الثَّالِثُ: فِي تَقْلِيدِ الْإِمَارَةِ عَلَى الْبِلَادِ.
وَالْبَابُ الرَّابِعُ: فِي تَقْلِيدِ الْإِمَارَةِ عَلَى الْجِهَادِ.
وَالْبَابُ الْخَامِسُ فِي الْوِلَايَةِ عَلَى الْمَصَالِحِ.
وَالْبَابُ السَّادِسُ: فِي وِلَايَةِ الْقَضَاءِ.
وَالْبَابُ السَّابِعُ: فِي وِلَايَةِ الْمَظَالِمِ.
وَالْبَابُ الثَّامِنُ: فِي وِلَايَةِ النِّقَابَةِ عَلَى ذَوِي الْأَنْسَابِ.
وَالْبَابُ التَّاسِعُ: فِي الْوِلَايَةِ عَلَى إمَامَةِ الصَّلَوَاتِ.
وَالْبَابُ الْعَاشِرُ: فِي الْوِلَايَةِ عَلَى الْحَجِّ.
وَالْبَابُ الْحَادِيَ عَشَرَ: فِي وِلَايَةِ الصَّدَقَاتِ.
وَالْبَابُ الثَّانِي عَشَرَ: فِي قَسْمِ الْفَيْءِ وَالْغَنِيمَةِ.
وَالْبَابُ الثَّالِثَ عَشَرَ: فِي وَضْعِ الْجِزْيَةِ وَالْخَرَاجِ.
وَالْبَابُ الرَّابِعَ عَشَرَ: فِيمَا تَخْتَلِفُ أَحْكَامُهُ مِنْ الْبِلَادِ.
وَالْبَابُ الْخَامِسَ عَشَرَ: فِي إحْيَاءِ الْمَوَاتِ وَاسْتِخْرَاجِ الْمِيَاهِ.
وَالْبَابُ السَّادِسَ عَشَرَ: فِي الْحِمَى وَالْأَرْفَاقِ.
وَالْبَابُ السَّابِعَ عَشَرَ: فِي أَحْكَامِ الْإِقْطَاعِ.
وَالْبَابُ الثَّامِنَ عَشَرَ: فِي وَضْعِ الدِّيوَانِ وَذِكْرِ أَحْكَامِهِ.
وَالْبَابُ التَّاسِعَ عَشَرَ: فِي أَحْكَامِ الْجَرَائِمِ.
وَالْبَابُ الْعِشْرُونَ: فِي أَحْكَامِ الْحِسْبَةِ.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিভিন্ন জনপদের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রদান প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জিহাদের সামরিক নেতৃত্ব প্রদান প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: জনকল্যাণমূলক কার্যাবলীর দায়িত্বভার প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: বিচার বিভাগের দায়িত্বভার প্রসঙ্গে।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: মাজালিম (অন্যায় প্রতিকার) আদালতের দায়িত্বভার প্রসঙ্গে।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: উচ্চবংশীয়দের বংশীয় নেতৃত্ব (নিকাবাত) নির্ধারণ প্রসঙ্গে।
নবম পরিচ্ছেদ: সালাতের ইমামত পরিচালনার দায়িত্বভার প্রসঙ্গে।
দশম পরিচ্ছেদ: হজের তত্ত্বাবধান প্রসঙ্গে।
একাদশ পরিচ্ছেদ: সদকা বা যাকাত আদায়ের দায়িত্বভার প্রসঙ্গে।
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: ফাই এবং গনীমত বণ্টনের বিধান প্রসঙ্গে।
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: জিযয়া এবং খরাজ নির্ধারণ প্রসঙ্গে।
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: ভূখণ্ডের ভিন্নতার কারণে বিধি-বিধানের বিভিন্নতা প্রসঙ্গে।
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: অনাবাদি জমি আবাদকরণ এবং পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা প্রসঙ্গে।
ষোড়শ পরিচ্ছেদ: সংরক্ষিত এলাকা এবং জন-উপযোগিতা প্রসঙ্গে।
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: ইকতা বা ভূমি বরাদ্দের বিধান প্রসঙ্গে।
অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: দেওয়ান (রাষ্ট্রীয় দপ্তর) প্রতিষ্ঠা এবং এর বিধান প্রসঙ্গে।
ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ: অপরাধ দণ্ডবিধির বিধান প্রসঙ্গে।
বিংশ পরিচ্ছেদ: হিসবাহ (জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা রক্ষা) সংক্রান্ত বিধান প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الباب الأول: في عقد الإمامة
مدخل…البَابُ الأَوَّلُ: فِي عَقٍدِ الْإِمَامَةِ
الْإِمَامَةُ1: مَوْضُوعَةٌ لِخِلَافَةِ النُّبُوَّةِ فِي حِرَاسَةِ الدِّينِ وَسِيَاسَةِ الدُّنْيَا، وَعَقْدُهَا لِمَنْ يَقُومُ بِهَا فِي الْأُمَّةِ وَاجِبٌ بِالْإِجْمَاعِ وَإِنْ شَذَّ عَنْهُمْ الْأَصَمُّ.
هَلْ الخِلَافَةُ وَاجَبَةٌ بِالشَّرْعِ أَمْ بِالْعَقْلِ؟
وَاخْتُلِفَ فِي وُجُوبِهَا2 هَلْ وَجَبَتْ بِالْعَقْلِ أَوْ بِالشَّرْعِ؟ فَقَالَتْ طَائِفَةٌ: وَجَبَتْ بِالْعَقْلِ لِمَا فِي طِبَاعِ الْعُقَلَاءِ مِنْ التَّسْلِيمِ لِزَعِيمٍ يَمْنَعُهُمْ مِنْ التَّظَالُمِ، وَيَفْصِلُ بَيْنَهُمْ فِي التَّنَازُعِ وَالتَّخَاصُمِ، وَلَوْلَا الْوُلَاةُ لَكَانُوا فَوْضَى مُهْمَلِينَ، وَهَمَجًا مُضَاعِينَ، وَقَدْ قَالَ الْأَفْوَهُ الْأَوْدِيُّ3، وَهُوَ شَاعِرٌ جَاهِلِيٌّ "مِنْ الْبَسِيطِ":
لَا يَصْلُحُ النَّاسُ فَوْضَى لَا سَرَاةَ لَهُمْ
… وَلَا سَرَاةٌ إذَا جُهَّالُهُمْ سَادُوا
وَقَالَتْ طَائِفَةٌ أُخْرَى: بَلْ وَجَبَتْ بِالشَّرْعِ دُونَ الْعَقْلِ؛ لِأَنَّ الْإِمَامَ يَقُومُ بِأُمُورٍ شَرْعِيَّةٍ قَدْ
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমামত (নেতৃত্ব) প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে
উপক্রমণিকা…প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমামত প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে
ইমামত১: এটি মূলত দ্বীন সংরক্ষণ এবং পার্থিব বিষয়াবলি শাসনের ক্ষেত্রে নবুয়তের স্থলাভিষিক্ততা। উম্মতের মধ্যে যারা এই দায়িত্ব পালনে সক্ষম, তাদের জন্য ইমামত বা নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা ইজমা বা সর্বসম্মতি অনুযায়ী ওয়াজিব; যদিও আল-আসাম্ম এ ক্ষেত্রে উম্মতের বিপরীতে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।
খিলাফত কি শরয়ি কারণে ওয়াজিব নাকি বুদ্ধিগত কারণে?
এর অপরিহার্যতা২ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে যে, এটি কি বুদ্ধিগত কারণে ওয়াজিব নাকি শরয়ি কারণে? একদল বলেছেন: এটি বুদ্ধিগত কারণে ওয়াজিব; কারণ বুদ্ধিমানদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো এমন একজন নেতার বশ্যতা স্বীকার করা যিনি তাদেরকে পারস্পরিক জুলুম থেকে বিরত রাখবেন এবং বিবাদ ও ঝগড়ার মীমাংসা করবেন। যদি শাসক না থাকত, তবে মানুষ বিশৃঙ্খল ও লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ত এবং এক দিশেহারা ও অসভ্য জাতিতে পরিণত হতো। জাহেলি যুগের কবি আল-আফওয়াহ আল-আওদি৩ ‘বাসিত’ ছন্দে বলেছেন:
নেতৃত্বহীন বিশৃঙ্খল অবস্থায় মানুষের কল্যাণ সাধিত হয় না
… আর প্রকৃত কোনো নেতা থাকে না যখন মূর্খরা তাদের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে।
অন্য একটি দল বলেছে: বরং এটি বুদ্ধিগত কারণে নয়, শরয়ি কারণেই ওয়াজিব; কারণ ইমাম এমন সব শরয়ি বিষয়াবলি আঞ্জাম দেন যা…
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
كَانَ مُجَوَّزًا فِي الْعَقْلِ أَنْ لَا يَرِدَ التَّعَبُّدُ بِهَا، فَلَمْ يَكُنِ الْعَقْلُ مُوجِبًا لَهَا، وَإِنَّمَا أَوْجَبَ الْعَقْلُ أَنْ يَمْنَعَ كُلُّ وَاحِدٍ نَفْسَهُ مِنَ الْعُقَلَاءِ عَنِ التَّظَالُمِ وَالتَّقَاطُعِ، وَيَأْخُذَ بِمُقْتَضَى الْعَدْلِ فِي التَّنَاصُفِ وَالتَّوَاصُلِ، فَيَتَدَبَّرُ بِعَقْلِهِ لَا بِعَقْلِ غَيْرِهِ، وَلَكِنْ جَاءَ الشَّرْعُ بِتَفْوِيضِ الْأُمُورِ إلَى وَلِيِّهِ فِي الدِّينِ، قَالَ اللَّهُ عز وجل: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء: 59] .
فَفَرَضَ عَلَيْنَا طَاعَةَ أُولِي الْأَمْرِ فِينَا، وَهُمُ الْأَئِمَّةُ الْمُتَأَمِّرُونَ عَلَيْنَا1.
وَرَوَى هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: {سَيَلِيكُمْ بَعْدِي وُلَاةٌ، فَيَلِيكُمْ الْبَرُّ بِبِرِّهِ، وَيَلِيكُمْ الْفَاجِرُ بِفُجُورِهِ، فَاسْمَعُوا لَهُمْ وَأَطِيعُوا فِي كُلِّ مَا وَافَقَ الْحَقَّ، فَإِنْ أَحْسَنُوا فَلَكُمْ وَلَهُمْ، وَإِنْ أَسَاءُوا فَلَكُمْ وَعَلَيْهِمْ} 2.
--------------------------------------------
যুক্তির নিরিখে এটি সম্ভব ছিল যে এগুলোর মাধ্যমে ইবাদত সাব্যস্ত হবে না, তাই বুদ্ধি এগুলোকে আবশ্যক করেনি। বরং বুদ্ধি কেবল এটাই আবশ্যক করে যে, প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি যেন নিজেকে জুলুম ও পারস্পরিক সম্পর্কচ্ছেদ থেকে বিরত রাখে এবং ইনসাফ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার দাবি অনুযায়ী চলে। সে যেন নিজের বুদ্ধির মাধ্যমে বিষয়টি অনুধাবন করে, অন্যের বুদ্ধিতে নয়। কিন্তু শরয়ি বিধান বিষয়াদির ভার দ্বীনের অভিভাবকের ওপর অর্পণ করার নির্দেশ নিয়ে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল), তাদেরও।" [আন-নিসা: ৫৯]।
সুতরাং তিনি আমাদের ওপর আমাদের মধ্য থেকে উলুল আমরের আনুগত্য ফরজ করেছেন, আর তারা হলেন সেই সব ইমাম যারা আমাদের ওপর কর্তৃত্বশীল।১
হিশাম ইবনে উরওয়া আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমার পরে তোমাদের ওপর শাসকরা কর্তৃত্ব করবে; পুণ্যবান তার পুণ্যসহ তোমাদের শাসন করবে এবং পাপাচারী তার পাপাচারসহ তোমাদের শাসন করবে। সুতরাং তোমরা তাদের কথা শোনো এবং প্রতিটি সত্যনিষ্ঠ বিষয়ে তাদের আনুগত্য করো। যদি তারা ভালো কাজ করে তবে তার সওয়াব তোমাদের ও তাদের উভয়ের জন্য, আর যদি তারা মন্দ কাজ করে তবে তার সওয়াব তোমাদের জন্য এবং তার দায়ভার তাদের ওপর।"২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فَصْلٌ: "فِي بَيَانِ حُكْمِ الخِلَافَةِ"
فَإِذَا ثَبَتَ وُجُوبُ الْإِمَامَةِ فَفَرْضُهَا عَلَى الْكِفَايَةِ كَالْجِهَادِ وَطَلَبِ الْعِلْمِ، فَإِذَا قَامَ بِهَا مَنْ هُوَ مِنْ أَهْلِهَا سَقَطَ فَرْضُهَا عَلَى الْكِفَايَةِ، وَإِنْ لَمْ يَقُمْ بِهَا أَحَدٌ خَرَجَ مِنَ النَّاسِ فَرِيقَانِ:
أَحَدُهُمَا: أَهْلُ الِاخْتِيَارِ حَتَّى يَخْتَارُوا إمَامًا لِلْأُمَّةِ1.
وَالثَّانِي: أَهْلُ الْإِمَامَةِ حَتَّى يَنْتَصِبَ أَحَدُهُمْ لِلْإِمَامَةِ، وَلَيْسَ عَلَى مَنْ عَدَا هَذَيْنِ الْفَرِيقَيْنِ مِنَ الْأُمَّةِ فِي تَأْخِيرِ الْإِمَامَةِ حَرَجٌ وَلَا مَأْثَمٌ، وَإِذَا تَمَيَّزَ هَذَانِ الْفَرِيقَانِ مِنَ الْأُمَّةِ فِي فَرْضِ الْإِمَامَةِ وَجَبَ أَنْ يُعْتَبَرَ كُلُّ فَرِيقٍ مِنْهُمَا بِالشُّرُوطِ الْمُعْتَبَرَةِ فِيهِ.
فَأَمَّا أَهْلُ الِاخْتِيَارِ فَالشُّرُوطُ الْمُعْتَبَرَةُ فِيهِمْ ثَلَاثَةٌ:
أَحَدُهَا: الْعَدَالَةُ الْجَامِعَةُ لِشُرُوطِهَا2
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: খিলাফতের বিধান বর্ণনা প্রসঙ্গেযখন ইমামতের (নেতৃত্বের) আবশ্যকতা প্রমাণিত হলো, তখন এটি জিহাদ এবং জ্ঞান অন্বেষণের মতো একটি ফরজে কিফায়া (সামষ্টিক আবশ্যকতা)। সুতরাং যখন এর যোগ্য কোনো ব্যক্তি তা পালন করেন, তখন উম্মাহর অন্যদের ওপর থেকে এই ফরজের আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়। আর যদি কেউ তা পালন না করে, তবে জনগণের মধ্য থেকে দুই শ্রেণির মানুষ দায়বদ্ধ হবে:
প্রথমত: নির্বাচক মণ্ডলী (আহলুল ইখতিয়ার), যতক্ষণ না তারা উম্মাহর জন্য একজন ইমাম নির্বাচন করেন।১
দ্বিতীয়ত: ইমামতের যোগ্য ব্যক্তিবর্গ, যতক্ষণ না তাদের মধ্য থেকে কেউ ইমামতের জন্য নিযুক্ত হন। এই দুই শ্রেণি ব্যতীত উম্মাহর অবশিষ্ট লোকদের ওপর ইমামত প্রতিষ্ঠায় বিলম্ব হওয়ার কারণে কোনো সংকীর্ণতা বা পাপ নেই। আর যখন ইমামতের এই আবশ্যিক দায়িত্ব পালনে উম্মাহর মধ্য থেকে এই দুই শ্রেণি স্বতন্ত্রভাবে চিহ্নিত হবে, তখন তাদের প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত শর্তাবলি বিবেচনা করা ওয়াজিব হবে।
নির্বাচক মণ্ডলীর জন্য বিবেচিত শর্তাবলি তিনটি:
প্রথমটি: সামগ্রিক ন্যায়পরায়ণতা (আদালাহ) যা এর সকল শর্তকে অন্তর্ভুক্ত করে।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وَالثَّانِي: الْعِلْمُ1 الَّذِي يُتَوَصَّلُ بِهِ إلَى مَعْرِفَةِ مَنْ يَسْتَحِقُّ الْإِمَامَةَ عَلَى الشُّرُوطِ الْمُعْتَبَرَةِ فِيهَا.
وَالثَّالِثُ: الرَّأْيُ وَالْحِكْمَةُ2 الْمُؤَدِّيَانِ إلَى اخْتِيَارِ مَنْ هُوَ لِلْإِمَامَةِ أَصْلَحُ، وَبِتَدْبِيرِ الْمَصَالِحِ أَقْوَمُ وَأَعْرَفُ، وَلَيْسَ لِمَنْ كَانَ فِي بَلَدِ الْإِمَامِ عَلَى غَيْرِهِ مِنْ أَهْلِ الْبِلَادِ فَضْلُ مَزِيَّةٍ تَقَدَّمَ بِهَا عَلَيْهِ، وَإِنَّمَا صَارَ مَنْ يَحْضُرُ بِبَلَدِ الْإِمَامِ مُتَوَلِّيًا لِعَقْدِ الْإِمَامَةِ عُرْفًا لَا شَرْعًا؛ لِسُبُوقِ عِلْمِهِمْ بِمَوْتِهِ، وَلِأَنَّ مَنْ يَصْلُحُ لِلْخِلَافَةِ فِي الْأَغْلَبِ مَوْجُودُونَ فِي بَلَدِهِ.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: এমন জ্ঞান১ যার মাধ্যমে নির্ধারিত শর্তাবলির ভিত্তিতে ইমামতের যোগ্য ব্যক্তিকে চেনা যায়।
তৃতীয়ত: বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞা২ যা ইমামতের জন্য সর্বাধিক যোগ্য এবং জনস্বার্থ পরিচালনায় অধিক সক্ষম ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নির্বাচনে সহায়তা করে। ইমামের শহরে বসবাসকারীদের জন্য অন্য কোনো অঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর এমন কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার নেই যার ফলে তারা অগ্রগণ্য হবে; বরং ইমামের শহরে উপস্থিত ব্যক্তিরাই যে প্রথাগতভাবে (উরফ) ইমামত চুক্তির দায়িত্ব পালন করেন তা শরয়ি কোনো কারণে নয়; বরং তাদের মৃত্যুসংবাদ আগে জানার কারণে এবং সাধারণত খিলাফতের যোগ্য ব্যক্তিবর্গ সেই শহরেই উপস্থিত থাকেন বলে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فصل: "الشروط التي ينبغي توافرها في الخليفة"
وَأَمَّا أَهْلُ الْإِمَامَةِ فَالشُّرُوطُ الْمُعْتَبَرَةُ فِيهِمْ سَبْعَةٌ:
أَحَدُهَا: الْعَدَالَةُ عَلَى شُرُوطِهَا الْجَامِعَةِ1.
وَالثَّانِي: الْعِلْمُ الْمُؤَدِّي إلَى الِاجْتِهَادِ فِي النَّوَازِلِ وَالْأَحْكَامِ2.
وَالثَّالِثُ: سَلَامَةُ الْحَوَاسِّ مِنْ السَّمْعِ وَالْبَصَرِ وَاللِّسَانِ؛ لِيَصِحَّ مَعَهَا مُبَاشَرَةُ مَا يُدْرَكُ بِهَا.
وَالرَّابِعُ: سَلَامَةُ الْأَعْضَاءِ مِنْ نَقْصٍ يَمْنَعُ عَنِ اسْتِيفَاءِ الْحَرَكَةِ وَسُرْعَةِ النُّهُوضِ3.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: "খলিফার মধ্যে বিদ্যমান থাকা আবশ্যকীয় শর্তাবলি"আর যারা ইমামত বা নেতৃত্বের যোগ্য, তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনাযোগ্য শর্তাবলি হলো সাতটি:
প্রথমত: সততা ও ন্যায়পরায়ণতা (আদালত), এর সকল প্রাসঙ্গিক শর্তাবলি পূর্ণাঙ্গরূপে বিদ্যমান থাকা।১
দ্বিতীয়ত: এমন জ্ঞান অর্জন করা যা উদ্ভূত নব্য সমস্যাবলি এবং বিধিবিধানের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করার সক্ষমতা প্রদান করে।২
তৃতীয়ত: শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বাকশক্তির মতো ইন্দ্রিয়সমূহের সুস্থতা; যাতে এগুলোর মাধ্যমে লব্ধ বিষয়সমূহ সরাসরি অনুধাবন ও পরিচালনা করা সঠিক হয়।
চতুর্থত: শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের এমন ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া যা স্বাভাবিক চলাচল এবং দ্রুত পদক্ষেপে বাধা সৃষ্টি করে।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২০)
وَالْخَامِسُ: الرَّأْيُ الْمُفْضِي إلَى سِيَاسَةِ الرَّعِيَّةِ وَتَدْبِيرِ الْمَصَالِحِ1.
وَالسَّادِسُ: الشَّجَاعَةُ وَالنَّجْدَةُ الْمُؤَدِّيَةُ إلَى حِمَايَةِ الْبَيْضَةِ وَجِهَادِ الْعَدُوّ2ِ.
وَالسَّابِعُ: النَّسَبُ، وَهُوَ أَنْ يَكُونَ مِنْ قُرَيْشٍ3؛ لِوُرُودِ النَّصِّ فِيهِ وَانْعِقَادِ الْإِجْمَاعِ عَلَيْهِ، وَلَا اعْتِبَارَ بِضِرَارٍ4 حِينَ شَذَّ فَجَوَّزَهَا فِي جَمِيعِ النَّاسِ؛ لِأَنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه احْتَجَّ يَوْمَ السَّقِيفَةِ عَلَى الْأَنْصَارِ فِي دَفْعِهِمْ عَنِ الْخِلَافَةِ لَمَّا بَايَعُوا سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ عَلَيْهَا بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: "الْأَئِمَّةُ مِنْ قُرَيْشٍ" 5 فَأَقْلَعُوا عَنْ التَّفَرُّدِ بِهَا وَرَجَعُوا عَنِ الْمُشَارَكَةِ فِيهَا حِينَ قَالُوا: مِنَّا أَمِيرٌ وَمِنْكُمْ أَمِيرٌ، تَسْلِيمًا لِرِوَايَتِهِ وَتَصْدِيقًا لِخَبَرِهِ وَرَضُوا بِقَوْلِهِ: نَحْنُ الْأُمَرَاءُ وَأَنْتُمُ الْوُزَرَاءُ، وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "قَدِّمُوا قُرَيْشًا وَلَا تَقَدَّمُوهَا" 6.
وَلَيْسَ مَعَ هَذَا النَّصِّ الْمُسَلَّمِ شُبْهَةٌ لِمُنَازِعٍ فِيهِ، وَلَا قَوْلٌ لِمُخَالِفٍ لَهُ7.
--------------------------------------------
পঞ্চমটি হলো: এমন দূরদর্শী প্রজ্ঞা যা প্রজাসাধারণের শাসন এবং জনস্বার্থ ব্যবস্থাপনার দিকে পরিচালিত করে।১
ষষ্ঠটি হলো: এমন সাহসিকতা ও বীরত্ব যা রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ও সংহতি রক্ষায় এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে।২
সপ্তমটি হলো: বংশমর্যাদা, অর্থাৎ তাকে কুরাইশ বংশোদ্ভূত হতে হবে; যেহেতু এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধর্মতাত্ত্বিক পাঠ বিদ্যমান এবং এর ওপর ইজমা বা সর্বসম্মত ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দিরাব-এর মতের কোনো গুরুত্ব নেই, যখন তিনি বিচ্ছিন্নভাবে সর্বসাধারণের জন্য এটি বৈধ করেছেন। কারণ, আনসারগণ যখন সাদ ইবনে উবাদাহর হাতে খিলাফতের বায়আত গ্রহণ করেছিলেন, তখন আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাকিফাহর দিনে খিলাফত থেকে তাদের নিবৃত্ত করতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন যে: "ইমামগণ কুরাইশ বংশ থেকে হবেন।"৫ ফলে তারা এককভাবে খিলাফত পরিচালনার দাবি ত্যাগ করেন এবং যখন তারা বলেছিলেন, "আমাদের মধ্য থেকে একজন আমির এবং তোমাদের মধ্য থেকে একজন আমির হবে", তখন তারা সেই অংশীদারিত্বের দাবি থেকেও সরে আসেন। তারা তাঁর বর্ণনার কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং তাঁর সংবাদকে সত্য জ্ঞান করে তাতে আশ্বস্ত হন এবং তাঁর এই কথায় সন্তুষ্ট হন যে: "আমরা হলাম আমির এবং তোমরা হলে উজির।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: "তোমরা কুরাইশকে অগ্রগণ্য করো এবং তাদের অতিক্রম করে অগ্রগামী হয়ো না।"৬
এই সর্বজনগৃহীত অকাট্য দলিলের উপস্থিতিতে কোনো বিবাদকারীর জন্য সংশয়ের অবকাশ নেই এবং কোনো বিরোধিতাকারীর বক্তব্যেরও কোনো মূল্য নেই।৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২১)
فصل: "بِمَ تنعقد الإمامة"؟
والإمامة تنعقد من وجهين:
أحدهما: باختيار أهلِ العَقْدِ والحَلِّ1.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: "ইমামত (নেতৃত্ব) কীসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়?"ইমামত বা নেতৃত্ব দুটি উপায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়:
প্রথমত: 'আহলুল আকদ ওয়াল হাল' (সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষম ব্যক্তিবর্গ)-এর নির্বাচনের মাধ্যমে।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَالثَّانِي: بِعَهْدِ الْإِمَامِ مِنْ قَبْلُ1.
فَأَمَّا انْعِقَادُهَا بِاخْتِيَارِ أَهْلِ الْحَلِّ وَالْعَقْدِ2 فَقَدْ اخْتَلَفَ الْعُلَمَاءُ فِي عَدَدِ مَنْ تَنْعَقِدُ بِهِ
--------------------------------------------
এবং দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো: পূর্ববর্তী ইমামের পক্ষ থেকে উত্তরাধিকার মনোনয়নের মাধ্যমে।১
আর 'আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ'-এর নির্বাচনের মাধ্যমে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে কতজন সদস্যের উপস্থিতিতে তা সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে আলেমগণ মতবিরোধ করেছেন।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْإِمَامَةُ مِنْهُمْ عَلَى مَذَاهِبَ شَتَّى، فَقَالَتْ طَائِفَةٌ: لَا تَنْعَقِدُ إلَّا بِجُمْهُورِ أَهْلِ الْعَقْدِ وَالْحَلِّ مِنْ كُلِّ بَلَدٍ؛ لِيَكُونَ الرِّضَاءُ بِهِ عَامًّا وَالتَّسْلِيمُ لِإِمَامَتِهِ إجْمَاعًا، وَهَذَا مَذْهَبٌ مَدْفُوعٌ بِبَيْعَةِ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه عَلَى الْخِلَافَةِ بِاخْتِيَارِ مَنْ حَضَرَهَا وَلَمْ يَنْتَظِرْ بِبَيْعَتِهِ قُدُومَ غَائِبٍ عَنْهَا.
وَقَالَتْ طَائِفَةٌ أُخْرَى: أَقَلُّ مَنْ تَنْعَقِدُ بِهِ مِنْهُمُ الْإِمَامَةُ خَمْسَةٌ يَجْتَمِعُونَ عَلَى عَقْدِهَا، أَوْ يَعْقِدُهَا أَحَدُهُمْ بِرِضَا الْأَرْبَعَةِ اسْتِدْلَالًا بِأَمْرَيْنِ:
أَحَدُهُمَا: إنَّ بَيْعَةَ أَبِي بَكْرٍ رضي الله عنه انْعَقَدَتْ بِخَمْسَةٍ اجْتَمَعُوا عَلَيْهَا، ثُمَّ تَابَعَهُمْ النَّاسُ فِيهَا، وَهُمْ: عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ، وَأُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ، وَبِشْرُ بْنُ سَعْدٍ، وَسَالِم مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ رضي الله عنهم.
وَالثَّانِي: عُمَرُ رضي الله عنه جَعَلَ الشُّورَى فِي سِتَّةٍ لِيُعْقَدَ لِأَحَدِهِمْ بِرِضَا الْخَمْسَةِ، وَهَذَا قَوْلُ أَكْثَرِ الْفُقَهَاءِ وَالْمُتَكَلِّمِينَ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ.
--------------------------------------------
তাদের মধ্য থেকে ইমামত সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। একদল বলেছে: প্রতিটি জনপদের নীতি-নির্ধারক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের (আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ) সংখ্যাগরিষ্ঠের উপস্থিতি ব্যতিরেকে এটি সম্পন্ন হবে না; যাতে তার প্রতি জনগণের সন্তুষ্টি সাধারণ ও ব্যাপক হয় এবং তার ইমামতের প্রতি আনুগত্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয়। এই মতটি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতের বাইয়াতের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়েছে, যা কেবল সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল এবং তাঁর বাইয়াতের জন্য অনুপস্থিত ব্যক্তিদের আগমনের প্রতীক্ষা করা হয়নি।
অন্য একটি দল বলেছে: ইমামত সাব্যস্ত হওয়ার জন্য তাদের মধ্য থেকে সর্বনিম্ন পাঁচজন ব্যক্তির প্রয়োজন যারা ইমামত প্রদানের জন্য একত্রিত হবেন, অথবা তাদের চারজনের সন্তুষ্টিতে একজন তা সম্পন্ন করবেন। এর স্বপক্ষে তারা দুটি দলিল পেশ করেন:
প্রথমত: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বাইয়াত পাঁচজন ব্যক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল যারা এ বিষয়ে একমত হয়েছিলেন, অতঃপর সাধারণ মানুষ তাদের অনুসরণ করেছিল। তাঁরা হলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব, আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ, উসাইদ ইবনুল হুদাইর, বিশর ইবনে সাদ এবং আবু হুজাইফার মুক্তদাস সালিম রাদিয়াল্লাহু আনহুম।
দ্বিতীয়ত: উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু শুরার বিষয়টি ছয়জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছিলেন যাতে বাকি পাঁচজনের সন্তুষ্টিতে তাদের একজনের জন্য খিলাফতের চুক্তি সম্পন্ন হয়। এটি বসরাবাসীদের মধ্য থেকে অধিকাংশ ফকিহ এবং ধর্মতাত্ত্বিকদের (মুতাকাল্লিম) অভিমত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَقَالَ آخَرُونَ مِنْ عُلَمَاءِ الْكُوفَةِ: تَنْعَقِدُ بِثَلَاثَةٍ يَتَوَلَّاهَا أَحَدُهُمْ بِرِضَا الِاثْنَيْنِ لِيَكُونُوا حَاكِمًا وَشَاهِدَيْنِ، كَمَا يَصِحُّ عَقْدُ النِّكَاحِ بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْنِ.
وَقَالَتْ طَائِفَةٌ أُخْرَى: تَنْعَقِدُ بِوَاحِدٍ؛ لِأَنَّ الْعَبَّاسَ قَالَ لِعَلِيٍّ -رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا: اُمْدُدْ يَدَكَ أُبَايِعْكَ، فَيَقُولُ النَّاسُ: عَمُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَايَعَ ابْنَ عَمِّهِ، فَلَا يَخْتَلِفُ عَلَيْكَ اثْنَانِ، وَلِأَنَّهُ حُكْمٌ وَحُكْمُ وَاحِدٍ نَافِذٌ.
--------------------------------------------
কুফার অন্যান্য আলেমগণ বলেছেন: তিনজনের উপস্থিতিতে এটি (ইমামত) সুসম্পন্ন হয়; তাঁদের মধ্যে একজন অপর দুইজনের সম্মতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন যেন তাঁরা একজন শাসক এবং দুইজন সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন, যেমনটি অভিভাবক ও দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ চুক্তি সম্পন্ন হওয়া শুদ্ধ।
অন্য এক দল বলেছেন: এটি একজনের মাধ্যমেও সুসম্পন্ন হয়; কারণ আব্বাস (রা.) আলী (রা.)-কে বলেছিলেন—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন—: "আপনার হাত প্রসারিত করুন, আমি আপনার হাতে বায়আত গ্রহণ করি। তখন মানুষ বলবে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চাচা তাঁর চাচাতো ভাইয়ের হাতে বায়আত নিয়েছেন, ফলে আপনার ব্যাপারে দুইজন লোকও মতবিরোধ করবে না।" তাছাড়া এটি একটি ফয়সালা, আর একজনের ফয়সালাও কার্যকর হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فصل: "في وجوب اختيار الأصلح"
فَإِذَا اجْتَمَعَ أَهْلُ الْعَقْدِ وَالْحَلِّ لِلِاخْتِيَارِ تَصَفَّحُوا أَحْوَالَ أَهْلِ الْإِمَامَةِ الْمَوْجُودَةِ فِيهِمْ شُرُوطُهَا، فَقَدَّمُوا لِلْبَيْعَةِ مِنْهُمْ أَكْثَرَهُمْ فَضْلًا وَأَكْمَلَهُمْ شُرُوطًا، وَمَنْ يُسْرِعُ النَّاسُ إلَى طَاعَتِهِ، وَلَا يَتَوَقَّفُونَ عَنْ بَيْعَتِهِ، فَإِذَا تَعَيَّنَ لَهُمْ مِنْ بَيْنِ الْجَمَاعَةِ مَنْ أَدَّاهُمْ الِاجْتِهَادُ إلَى اخْتِيَارِهِ عَرَضُوهَا عَلَيْهِ، فَإِنْ أَجَابَ إلَيْهَا بَايَعُوهُ عَلَيْهَا، وَانْعَقَدَتْ بِبَيْعَتِهِمْ لَهُ الْإِمَامَةُ1، فَلَزِمَ كَافَّةَ
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: "সর্বাপেক্ষা যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচনের আবশ্যকতা প্রসঙ্গে"যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ (আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ) নির্বাচনের উদ্দেশ্যে সমবেত হন, তখন তাঁরা ইমামত বা নেতৃত্বের যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন যাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী বিদ্যমান। অতঃপর তাঁরা তাঁদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিকে বায়আত বা আনুগত্যের শপথের জন্য পেশ করেন, যিনি তাঁদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী এবং যাঁর মধ্যে নেতৃত্বের শর্তাবলী পূর্ণাঙ্গরূপে বিদ্যমান, এবং যাঁর আনুগত্য স্বীকারে জনগণ দ্রুত অগ্রসর হয় ও যাঁর বায়আত গ্রহণে তারা দ্বিধাগ্রস্ত হয় না। যখন সেই দলের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তি নির্দিষ্ট হন যাঁর নির্বাচনে তাঁদের ইজতিহাদ বা গবেষণা উপনীত হয়েছে, তখন তাঁরা তাঁর নিকট নেতৃত্বের প্রস্তাব পেশ করেন। যদি তিনি তাতে সম্মতি প্রদান করেন, তবে তাঁরা তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করেন এবং তাঁদের এই বায়আতের মাধ্যমেই নেতৃত্ব বা ইমামত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। ফলে তা সকল মানুষের জন্য পালনীয় হয়ে পড়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الْأُمَّةِ الدُّخُولُ فِي بَيْعَتِهِ وَالِانْقِيَادُ لِطَاعَتِهِ، وَإِنِ امْتَنَعَ مِنَ الْإِمَامَةِ وَلَمْ يُجِبْ إلَيْهَا لَمْ يُجْبَرْ عَلَيْهَا؛ لِأَنَّهَا عَقْدُ مُرَاضَاةٍ وَاخْتِيَارٍ لَا يَدْخُلُهُ إكْرَاهٌ وَلَا إجْبَارٌ، وَعُدِلَ عَنْهُ إلَى مَنْ سِوَاهُ مِنْ مُسْتَحِقِّيهَا.
فَلَوْ تَكَافَأَ فِي شُرُوطِ الْإِمَامَةِ اثْنَانِ قُدِّمَ لَهَا اخْتِيَارًا أَسَنُّهُمَا وَإِنْ لَمْ تَكُنْ زِيَادَةُ السِّنِّ مَعَ كَمَالِ الْبُلُوغِ شَرْطًا، فَإِنْ بُويِعَ أَصْغَرُهُمَا سِنًّا جَازَ، وَلَوْ كَانَ أَحَدُهُمَا أَعْلَمَ وَالْآخَرُ أَشْجَعَ رُوعِيَ فِي الِاخْتِيَارِ مَا يُوجِبُهُ حُكْمُ الْوَقْتِ، فَإِنْ كَانَتْ الْحَاجَةُ إلَى فَضْلِ الشَّجَاعَةِ أَدْعَى لِانْتِشَارِ الثُّغُورِ وَظُهُورِ الْبُغَاةِ كَانَ الْأَشْجَعُ أَحَقَّ، وَإِنْ كَانَتِ الْحَاجَةُ إلَى فَضْلِ الْعِلْمِ أَدْعَى لِسُكُونِ الدَّهْمَاءِ وَظُهُورِ أَهْلِ الْبِدَعِ كَانَ الْأَعْلَمُ أَحَقَّ، فَإِنْ وَقَفَ الِاخْتِيَارُ عَلَى وَاحِدٍ مِنِ اثْنَيْنِ فَتَنَازَعَاهَا، فَقَدْ قَالَ بَعْضُ الْفُقَهَاءِ: إنَّ التَّنَازُعَ فِيهَا لَا يَكُونُ قَدْحًا مَانِعًا.
وَلَيْسَ طَلَبُ الْإِمَامَةِ مَكْرُوهًا، فَقَدْ تَنَازَعَ فِيهَا أَهْلُ الشُّورَى، فَمَا رُدَّ عَنْهَا طَالِبٌ، وَلَا مُنِعَ مِنْهَا رَاغِبٌ، وَاخْتَلَفَ الْفُقَهَاءُ فِيمَا يُقْطَعُ بِهِ تَنَازُعُهُمَا مَعَ تَكَافُؤِ أَحْوَالِهِمَا، فَقَالَتْ طَائِفَةٌ: يُقْرَعُ بَيْنَهُمَا وَيُقَدَّمُ مَنْ قَرَعَ مِنْهُمَا.
وَقَالَ آخَرُونَ: بَلْ يَكُونُ أَهْلُ الِاخْتِيَارِ بِالْخِيَارِ فِي بَيْعَةِ أَيِّهِمَا شَاءُوا1 مِنْ غَيْرِ قُرْعَةٍ، فلو
--------------------------------------------
উম্মতের কর্তব্য হলো তাঁর বায়আতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা। তিনি যদি ইমামত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান এবং এতে সাড়া না দেন, তবে তাঁকে এর জন্য বাধ্য করা যাবে না; কেননা এটি পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও নির্বাচনের একটি চুক্তি, যাতে কোনো জবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতা চলে না। এমতাবস্থায় তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য যোগ্য ব্যক্তিদের দিকে দৃষ্টি ফেরানো হবে।
যদি ইমামতের শর্তাবলীতে দুইজন সমান হন, তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যদিও পূর্ণ বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর অতিরিক্ত বয়স হওয়া কোনো শর্ত নয়। তবে যদি কনিষ্ঠ জনের বায়আত গ্রহণ করা হয়, তবে তা বৈধ হবে। আর যদি তাঁদের একজন অধিক জ্ঞানী এবং অন্যজন অধিক সাহসী হন, তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমসাময়িক পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। যদি সীমান্ত রক্ষা এবং বিদ্রোহীদের দমনের প্রয়োজনে সাহসিকতার অধিক প্রয়োজন হয়, তবে অধিক সাহসী ব্যক্তিই বেশি হকদার হবেন। আর যদি জনগণের অস্থিরতা প্রশমিত করা এবং বিদআতিদের মোকাবিলায় গভীর জ্ঞানের অধিক প্রয়োজন হয়, তবে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তিই বেশি হকদার হবেন। যদি নির্বাচন দুইজনের মধ্যে একজনের ওপর এসে স্থির হয় এবং তাঁরা এটি নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হন, তবে কোনো কোনো ফকীহ বলেছেন: এই পদের জন্য বিবাদ করা কোনো অযোগ্যতা বা প্রতিবন্ধকতা হিসেবে গণ্য হবে না।
ইমামতের পদ প্রার্থনা করা অপছন্দনীয় নয়; কেননা শূরা পরিষদের সদস্যরা এ নিয়ে বিবাদ (আলোচনা-পর্যালোচনা) করেছেন, কিন্তু কোনো প্রার্থীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি কিংবা কোনো আগ্রহী ব্যক্তিকে বাধা দেওয়া হয়নি। তবে যোগ্যতা সমান হওয়া অবস্থায় তাঁদের বিবাদ কীভাবে নিরসন করা হবে সে বিষয়ে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। একদল ফকীহ বলেছেন: তাঁদের মধ্যে লটারি করা হবে এবং লটারিতে যিনি বিজয়ী হবেন তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
অন্যান্যরা বলেছেন: বরং নির্বাচক মণ্ডলী লটারি ছাড়াই তাঁদের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো একজনের বায়আত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবেন। যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تَعَيَّنَ لِأَهْلِ الِاخْتِيَارِ وَاحِدٌ هُوَ أَفْضَلُ الْجَمَاعَةِ فَبَايَعُوهُ عَلَى الْإِمَامَةِ، وَحَدَثَ بَعْدَهُ مَنْ هُوَ أَفْضَلُ مِنْهُ انْعَقَدَتْ بِبَيْعَتِهِمْ إمَامَةُ الْأَوَّلِ، وَلَمْ يَجُزْ الْعُدُولُ عَنْهُ إلَى مَنْ هُوَ أَفْضَلُ مِنْهُ؛ وَلَوْ ابْتَدَءُوا بَيْعَةَ الْمَفْضُولِ مَعَ وُجُودِ الْأَفْضَلِ نُظِرَ، فَإِنْ كَانَ ذَلِكَ لِعُذْرٍ دَعَا إلَيْهِ مِنْ كَوْنِ الْأَفْضَلِ غَائِبًا أَوْ مَرِيضًا، أَوْ كَوْنِ الْمَفْضُولِ أَطْوَعَ فِي النَّاسِ وَأَقْرَبَ فِي الْقُلُوبِ، انْعَقَدَتْ بَيْعَةُ الْمَفْضُولِ وَصَحَّتْ إمَامَتُهُ.
وَإِنْ بُويِعَ لِغَيْرِ عُذْرٍ فَقَدْ اُخْتُلِفَ فِي انْعِقَادِ بَيْعَتِهِ وَصَحَّتْ إمَامَتُهُ؛ فَذَهَبَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ الْجَاحِظُ إلَى أَنَّ بَيْعَتَهُ لَا تَنْعَقِدُ؛ لِأَنَّ الِاخْتِيَارَ إذَا دَعَا إلَى أَوْلَى الْأَمْرَيْنِ لَمْ يَجُزِ الْعُدُول عَنْهُ إلَى غَيْرِهِ مِمَّا لَيْسَ بِأَوْلَى كَالِاجْتِهَادِ فِي الْأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ.
وَقَالَ الْأَكْثَرُ مِنَ الْفُقَهَاءِ وَالْمُتَكَلِّمِينَ: تَجُوزُ إمَامَتُهُ وَصَحَّتْ بَيْعَتُهُ، وَلَا يَكُونُ وُجُودُ الْأَفْضَلِ مَانِعًا مِنْ إمَامَةِ الْمَفْضُولِ إذَا لَمْ يَكُنْ مُقَصِّرًا عَنْ شُرُوطِ الْإِمَامَةِ، كَمَا يَجُوزُ فِي وِلَايَةِ الْقَضَاءِ تَقْلِيدُ الْمَفْضُولِ مَعَ وُجُودِ الْأَفْضَلِ؛ لِأَنَّ زِيَادَةَ الْفَضْلِ مُبَالَغَةٌ فِي الِاخْتِيَارِ، وَلَيْسَتْ مُعْتَبَرَةً فِي شُرُوطِ الِاسْتِحْقَاقِ، فَلَوْ تَفَرَّدَ فِي الْوَقْتِ بِشُرُوطِ الْإِمَامَةِ وَاحِدٌ لَمْ يُشْرِكَ فِيهَا غَيْرُهُ تَعَيَّنَتْ فِيهِ الْإِمَامَةُ، وَلَمْ يَجُزْ أَنْ يُعْدَلَ بِهَا عَنْهُ إلَى غَيْرِهِ1.
--------------------------------------------
যদি নির্বাচকমণ্ডলী জামাতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে তার নিকট ইমামতের বায়আত গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে তার চেয়েও অধিকতর যোগ্য কোনো ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে, তবে প্রথম ব্যক্তির বায়আতের মাধ্যমেই ইমামত সাব্যস্ত হয়ে যাবে এবং তার থেকে বিচ্যুত হয়ে অধিকতর যোগ্য ব্যক্তির দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ হবে না। আর যদি তারা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির উপস্থিতিতে অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য (মাফদূল) ব্যক্তির বায়আত গ্রহণ করেন, তবে বিষয়টি বিশ্লেষণযোগ্য। যদি তা কোনো যুক্তিসঙ্গত ওজরের কারণে হয়—যেমন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি অনুপস্থিত বা অসুস্থ হওয়া, অথবা অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য ব্যক্তিটি জনগণের নিকট অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও হৃদয়ের নিকটবর্তী হওয়া—তবে উক্ত ব্যক্তির বায়আত ও ইমামত বৈধ বলে গণ্য হবে।
আর যদি কোনো ওজর ছাড়াই তার বায়আত গ্রহণ করা হয়, তবে তার বায়আত ও ইমামতের বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আল-জাহিজসহ একদল পণ্ডিতের মতে, তার বায়আত কার্যকর হবে না; কারণ নির্বাচন যখন দুটি বিষয়ের মধ্যে অধিকতর উত্তমটির দিকে আহ্বান করে, তখন শরয়ি বিধানের ইজতিহাদের ন্যায় অধিকতর উত্তমটিকে ছেড়ে অন্যটির দিকে যাওয়া বৈধ নয়।
অধিকাংশ ফকিহ ও মুতাকাল্লিম (ধর্মতাত্ত্বিক) বলেছেন: তার ইমামত ও বায়আত বৈধ। ইমামতের শর্তাবলীতে কোনো ঘাটতি না থাকলে অধিকতর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির উপস্থিতি অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য ব্যক্তির ইমামতের পথে বাধা হবে না; যেমনটি বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির উপস্থিতিতেও অপেক্ষাকৃত কম যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া বৈধ। কেননা শ্রেষ্ঠত্বের আধিক্য হলো নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি কাম্য গুণ মাত্র, তা যোগ্যতার অপরিহার্য শর্ত নয়। তবে যদি সেই সময়ে ইমামতের শর্তাবলি কেবল একজনের মধ্যেই বিদ্যমান থাকে এবং অন্য কেউ তাতে শরিক না হয়, তবে তার ইমামতই সুনির্ধারিত হবে এবং তাকে ছেড়ে অন্য কারো দিকে ফিরে যাওয়া বৈধ হবে না।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَاخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي ثُبُوتِ إمَامَتِهِ وَانْعِقَادِ وِلَايَتِهِ بِغَيْرِ عَقْدٍ وَلَا اخْتِيَارٍ؛ فَذَهَبَ بَعْضُ فُقَهَاءِ الْعِرَاقِ إلَى ثُبُوتِ وِلَايَتِهِ وَانْعِقَادِ إمَامَتِهِ، وَحَمْلِ الْأُمَّةِ عَلَى طَاعَتِهِ وَإِنْ لَمْ يَعْقِدْهَا أَهْلُ الِاخْتِيَارِ؛ لِأَنَّ مَقْصُودَ الِاخْتِيَارِ تَمْيِيزُ الْمُوَلَّى وَقَدْ تَمَيَّزَ هَذَا بِصِفَتِهِ.
وَذَهَبَ جُمْهُورُ الْفُقَهَاءِ وَالْمُتَكَلِّمِينَ إلَى أَنَّ إمَامَتَهُ لَا تَنْعَقِدُ إلَّا بِالرِّضَا وَالِاخْتِيَارِ، لَكِنْ يَلْزَمُ أَهْلَ الِاخْتِيَارِ عَقْدُ الْإِمَامَةِ لَهُ، فَإِنْ اتَّفَقُوا أَتَمُّوا؛ لِأَنَّ الْإِمَامَةَ عَقْدٌ لَا يَتِمُّ إلَّا بِعَاقِدٍ، وَكَالْقَضَاءِ إذَا لَمْ يَكُنْ مَنْ يَصْلُحُ لَهُ إلَّا وَاحِدٌ لَمْ يَصِرْ قَاضِيًا حَتَّى يُوَلَّاهُ؛ فَرَكَّبَ بَعْضُ مَنْ قَالَ بِذَلِكَ الْمَذْهَبِ هَذَا الْبَابَ وَقَالَ: يَصِيرُ قَاضِيًا إذَا تَفَرَّدَ بِصِفَتِهِ كَمَا يَصِيرُ الْمُنْفَرِدُ بِصِفَتِهِ إمَامًا.
وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا يَصِيرُ الْمُنْفَرِدُ قَاضِيًا وَإِنْ صَارَ الْمُنْفَرِدُ إمَامًا، وَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا بِأَنَّ الْقَضَاءَ نِيَابَةٌ خَاصَّةٌ يَجُوزُ صَرْفُهُ عَنْهُ مَعَ بَقَائِهِ عَلَى صِفَتِهِ، فَلَمْ تَنْعَقِدْ وِلَايَتُهُ إلَّا بِتَقْلِيدِ مُسْتَنِيبٍ لَهُ، وَالْإِمَامَةُ مِنَ الْحُقُوقِ الْعَامَّةِ الْمُشْتَرَكَةِ بَيْنَ حَقِّ اللَّهِ تَعَالَى وَحُقُوقِ الْآدَمِيِّينَ، لَا يَجُوزُ صَرْفُ مَنِ اسْتَقَرَّتْ فِيهِ إذَا كَانَ عَلَى صِفَةٍ، فَلَمْ يَفْتَقِرْ تَقْلِيدُ مُسْتَحِقِّهَا مَعَ تَمَيُّزِهِ إلَى عَقْدٍ مُسْتَثْبَتٍ لَهُ.
--------------------------------------------
কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা নির্বাচকমণ্ডলীর মনোনয়ন ব্যতিরেকে ইমামত সাব্যস্ত হওয়া এবং শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রসঙ্গে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। ইরাকের একদল ফকিহ এই মত পোষণ করেছেন যে, তাঁর কর্তৃত্ব সাব্যস্ত হবে এবং ইমামত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে এবং উম্মতকে তাঁর আনুগত্য করতে বাধ্য করা হবে, যদিও নির্বাচকমণ্ডলী (আহলুল ইখতিয়ার) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সাথে কোনো চুক্তি সম্পাদন না করেন। কারণ নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো যোগ্য ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে পৃথক করে চিহ্নিত করা, আর তিনি স্বীয় গুণাবলির মাধ্যমেই ইতোমধ্যে স্বতন্ত্র ও চিহ্নিত হয়ে আছেন।
পক্ষান্তরে অধিকাংশ ফকিহ ও কালামশাস্ত্রবিদের অভিমত হলো, সাধারণ সম্মতি ও নির্বাচকমণ্ডলীর মনোনয়ন ব্যতীত তাঁর ইমামত প্রতিষ্ঠিত হবে না। তবে নির্বাচকমণ্ডলীর জন্য তাঁর অনুকূলে ইমামতের চুক্তি সম্পাদন করা আবশ্যক। যদি তাঁরা একমত হয়ে তা সম্পন্ন করেন, তবেই তা পূর্ণতা পাবে। কারণ ইমামত হলো একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, যা কোনো সম্পাদনকারী বা নিয়োগকারী ব্যতিরেকে পূর্ণতা পায় না। এটি বিচারকের পদের ন্যায়; বিচারক হওয়ার যোগ্য যদি মাত্র একজন ব্যক্তিই অবশিষ্ট থাকেন, তবুও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি বিচারক হিসেবে গণ্য হন না। এই মত পোষণকারীদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিষয়টি এভাবে বিন্যস্ত করেছেন যে: যে ব্যক্তি স্বীয় গুণাবলির কারণে অনন্য ও একক, তিনি সরাসরি বিচারক হয়ে যাবেন, ঠিক যেভাবে স্বীয় বৈশিষ্ট্যে অনন্য ব্যক্তি সরাসরি ইমাম হয়ে যান।
আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: গুণের দিক থেকে একক ব্যক্তি সরাসরি ইমাম হতে পারলেও সরাসরি বিচারক হতে পারবেন না। তাঁরা এই দুই পদের মাঝে পার্থক্য করে বলেন যে, বিচারকার্য হলো একটি বিশেষ প্রতিনিধিত্ব (নিসাবাতে খাসসাহ), তাই কোনো ব্যক্তি স্বীয় পদে বহাল থাকা অবস্থায় তাঁকে অপসারণ করা বৈধ। ফলে কোনো নিয়োগদাতার আনুষ্ঠানিক নিয়োগ ব্যতীত তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। অন্যদিকে ইমামত বা খেলাফত হলো এমন এক সাধারণ অধিকার, যা আল্লাহর হক ও বান্দার হকের মাঝে সমন্বিত। কোনো উপযুক্ত ব্যক্তির ওপর ইমামত স্থির হওয়ার পর তাঁকে পদচ্যুত করা বৈধ নয়। সুতরাং স্বীয় যোগ্যতায় অনন্য হওয়ার পর যোগ্য ব্যক্তির পদপ্রাপ্তির জন্য কোনো নতুন সমর্থনমূলক চুক্তির মুখাপেক্ষী হতে হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فصل: "في البيعة لخليفتين في وقت واحد"
وَإِذَا عُقِدَتِ الْإِمَامَةُ لِإِمَامَيْنِ فِي بَلَدَيْنِ لَمْ تَنْعَقِدْ إمَامَتُهُمَا؛ لِأَنَّهُ لَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ لِلْأُمَّةِ إمَامَانِ فِي وَقْتٍ وَاحِدٍ، وَإِنْ شَذَّ قَوْمٌ فَجَوَّزُوهُ.
وَاخْتَلَفَ الْفُقَهَاءُ فِي الْإِمَامِ مِنْهُمَا؛ فَقَالَتْ طَائِفَةٌ: هُوَ الَّذِي عُقِدَتْ لَهُ الْإِمَامَةُ فِي الْبَلَدِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ مَنْ تَقَدَّمَهُ؛ لِأَنَّهُمْ بِعَقْدِهَا أَخَصُّ، وَبِالْقِيَامِ بِهَا أَحَقُّ، وَعَلَى كَافَّةِ الْأُمَّةِ فِي الْأَمْصَارِ كُلِّهَا أَنْ يُفَوِّضُوا عَقْدَهَا إلَيْهِمْ، وَيُسَلِّمُوهَا لِمَنْ بَايَعُوهُ لِئَلَّا يَنْتَشِرَ الْأَمْرُ بِاخْتِلَافِ الْآرَاءِ وَتَبَايُنِ الْأَهْوَاءِ.
وَقَالَ آخَرُونَ: بَلْ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا أَنْ يَدْفَعَ الْإِمَامَةَ عَنْ نَفْسِهِ وَيُسَلِّمَهَا إلَى صَاحِبِهِ طَلَبًا لِلسَّلَامَةِ وَحَسْمًا لِلْفِتْنَةِ؛ لِيَخْتَارَ أَهْلُ الْعَقْدِ أَحَدَهُمَا أَوْ غَيْرَهُمَا، وَقَالَ آخَرُونَ: بَلْ يُقْرَعُ بَيْنَهُمَا دَفْعًا لِلتَّنَازُعِ وَقَطْعًا لِلتَّخَاصُمِ، فَأَيُّهُمَا قَرَعَ كَانَ بِالْإِمَامَةِ أَحَقَّ.
وَالصَّحِيحُ فِي ذَلِكَ وَمَا عَلَيْهِ الْفُقَهَاءُ الْمُحَقِّقُونَ أَنَّ الْإِمَامَةَ لِأَسْبَقِهِمَا بَيْعَةً وَعَقْدًا، كَالْوَلِيَّيْنِ فِي نِكَاحِ الْمَرْأَةِ إذَا زَوَّجَاهَا بِاثْنَيْنِ كَانَ النِّكَاحُ لِأَسْبَقِهِمَا عَقْدًا.
فَإِذَا تَعَيَّنَ السَّابِقُ مِنْهُمَا اسْتَقَرَّتْ لَهُ الْإِمَامَةُ، وَعَلَى الْمَسْبُوقِ تَسْلِيمُ الْأَمْرِ إلَيْهِ وَالدُّخُولُ فِي بَيْعَتِهِ، وَإِنْ عُقِدَتْ الْإِمَامَةُ لَهُمَا فِي حَالٍ وَاحِدٍ لَمْ يَسْبِقْ بِهَا أَحَدُهُمَا فَسَدَ الْعَقْدَانِ وَاسْتُؤْنِفَ الْعَقْدُ لِأَحَدِهِمَا أَوْ لِغَيْرِهِمَا، وَإِنْ تَقَدَّمَتْ بَيْعَةُ أَحَدِهِمَا وَأَشْكَلَ الْمُتَقَدِّمُ مِنْهُمَا وَقَفَ أَمْرُهُمَا عَلَى الْكَشْفِ، فَإِنْ تنَازَعَاهَا وَادَّعَى كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا أَنَّهُ الْأَسْبَقُ لَمْ تُسْمَعْ دَعْوَاهُ وَلَمْ يَحْلِفْ عَلَيْهَا؛ لِأَنَّهُ لَا يَخْتَصُّ بِالْحَقِّ فِيهَا، وَإِنَّمَا هُوَ حَقُّ الْمُسْلِمِينَ جَمِيعًا، فَلَا حُكْمَ لِيَمِينِهِ فِيهِ وَلَا لِنُكُولِهِ عَنْهُ، وَهَكَذَا لَوْ قَطَعَ التَّنَازُعَ فِيهَا وَسَلَّمَهَا أَحَدُهُمَا إلَى الْآخَرِ لَمْ تَسْتَقِرَّ إمَامَتُهُ إلَّا بِبَيِّنَةٍ تَشْهَدُ بِتَقَدُّمِهِ، وَلَوْ أَقَرَّ لَهُ بِالتَّقَدُّمِ خَرَجَ مِنْهَا الْمُقِرُّ وَلَمْ تَسْتَقِرَّ لِلْآخَرِ؛ لِأَنَّهُ مُقِرٌّ فِي حَقِّ الْمُسْلِمِينَ، فَإِنْ شَهِدَ لَهُ الْمُقِرُّ بِتَقَدُّمِهِ فِيهَا مَعَ شَاهِدٍ آخَرَ سُمِعَتْ شَهَادَتُهُ إنْ ذَكَرَ اشْتِبَاهَ الْأَمْرِ عَلَيْهِ عِنْدَ التَّنَازُعِ، وَلَمْ يُسْمَعْ مِنْهُ إنْ لَمْ يَذْكُرِ الِاشْتِبَاهَ لِمَا فِي الْقَوْلَيْنِ مِنْ التَّكَاذُبِ.
পরিচ্ছেদ: "একই সময়ে দুই খলিফার অনুকূলে বায়আত গ্রহণ সম্পর্কে"যখন দুই ভিন্ন শহরে দুই ইমামের অনুকূলে ইমামতের চুক্তি সম্পাদিত হয়, তখন তাদের কারো ইমামত কার্যকর হবে না; কেননা মুসলিম উম্মাহর জন্য একই সময়ে দুই ইমাম থাকা বৈধ নয়, যদিও একদল বিচ্ছিন্ন লোক একে বৈধ বলেছেন।
তথাথিত দুই ইমামের মধ্যে কে প্রকৃত ইমাম হবেন সে বিষয়ে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। একদল ফকীহ বলেছেন: তিনি হবেন সেই ব্যক্তি যাঁর অনুকূলে সেই শহরে ইমামতের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে যেখানে তাঁর পূর্বসূরী মৃত্যুবরণ করেছেন। কেননা সেই শহরের অধিবাসীগণই ইমামত নির্বাচনের চুক্তি সম্পাদনে অধিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং তা পরিচালনার ক্ষেত্রে অধিক হকদার। আর সমগ্র বিশ্বের অন্যান্য জনপদের মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব হলো চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি তাঁদের হাতে ন্যস্ত করা এবং তাঁরা যাঁকে বায়আত প্রদান করেছেন তাঁকে মেনে নেওয়া, যাতে মতভিন্নতা ও খেয়ালখুশির পার্থক্যের কারণে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে না পড়ে।
অন্যান্য ফকীহগণ বলেছেন: বরং ফিতনা দূর করার জন্য ও নিরাপত্তা লাভের আশায় তাঁদের উভয়ের ওপর কর্তব্য হলো নিজ থেকে ইমামত পরিহার করা এবং একে অপরের অনুকূলে ছেড়ে দেওয়া; যাতে ‘আহলুল আকদ’ (চুক্তি সম্পাদনকারী বিশেষজ্ঞগণ) তাঁদের মধ্য থেকে কোনো একজনকে অথবা অন্য কাউকে নির্বাচন করতে পারেন। আবার অনেকে বলেছেন: বরং বিবাদ ও কলহ নিরসনের জন্য তাঁদের মধ্যে লটারি করা হবে, লটারিতে যাঁর নাম আসবে তিনিই ইমামতের জন্য অধিক হকদার বিবেচিত হবেন।
এ বিষয়ে বিশুদ্ধ মত এবং যাঁর ওপর গবেষক ফকীহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন তা হলো: ইমামত সেই ব্যক্তির জন্য সাব্যস্ত হবে যিনি বায়আত ও চুক্তির ক্ষেত্রে অগ্রগামী। যেমন এক নারীর বিবাহের ক্ষেত্রে দুই অভিভাবক যদি পৃথকভাবে তাঁকে দুই ব্যক্তির সাথে বিবাহ দেন, তবে সেই বিবাহটিই বৈধ হবে যা আগে সম্পাদিত হয়েছে।
সুতরাং যখন অগ্রগামী ব্যক্তি নির্ধারিত হয়ে যাবে, তখন তাঁর ইমামত সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং পশ্চাদগামী ব্যক্তির জন্য কর্তব্য হলো তাঁর নিকট বিষয়গুলো সমর্পণ করা এবং তাঁর বায়আতে প্রবেশ করা। কিন্তু যদি উভয়ের অনুকূলে একই সাথে ইমামত চুক্তি সম্পাদিত হয় এবং তাঁদের কেউই অগ্রগামী না হন, তবে উভয় চুক্তিই বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় তাঁদের কোনো একজনের জন্য অথবা অন্য কারো জন্য নতুন করে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। আর যদি একজনের বায়আত আগে হয়ে থাকে কিন্তু কে আগে তা অস্পষ্ট থাকে, তবে সত্য উদ্ঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি স্থগিত থাকবে। এমতাবস্থায় তাঁরা যদি বিবাদে লিপ্ত হন এবং প্রত্যেকে নিজেকে অগ্রগামী দাবি করেন, তবে তাঁদের সেই দাবি গ্রহণ করা হবে না এবং এ বিষয়ে কসমও নেওয়া হবে না; কারণ ইমামত কোনো ব্যক্তিগত অধিকার নয় বরং তা সকল মুসলমানের সামষ্টিক অধিকার। সুতরাং এ বিষয়ে তাঁর শপথ করা বা না করার কোনো আইনি মূল্য নেই। একইভাবে যদি বিবাদ নিরসনের লক্ষ্যে একজন অন্যজনের নিকট ক্ষমতা ছেড়ে দেন, তবুও স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া যা তাঁর অগ্রগামী হওয়ার সাক্ষ্য দেয়, অপরজনের জন্য ইমামত সুনিশ্চিত হবে না। আর যদি একজন অপরজনের অগ্রগামী হওয়ার কথা স্বীকার করেন, তবে স্বীকারোক্তি প্রদানকারী ইমামত থেকে খারিজ হয়ে যাবেন, কিন্তু অপরজনের জন্য তা সুনিশ্চিত হবে না; কেননা তিনি মুসলমানদের অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন। তবে স্বীকারোক্তি প্রদানকারী যদি অন্য একজন সাক্ষীর সাথে মিলে অপরজনের অগ্রগামী হওয়ার সাক্ষ্য প্রদান করেন এবং এ কথা উল্লেখ করেন যে বিবাদের সময় বিষয়টি তাঁর কাছে অস্পষ্ট ছিল, তবে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। কিন্তু যদি তিনি পূর্বের অস্পষ্টতার কথা উল্লেখ না করেন তবে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না, কারণ তাঁর দুই বক্তব্যের মধ্যে পরস্পর মিথ্যাচার বা বৈপরীত্য বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فَصْلٌ: "هل يقرع بين مرشحين للخلافة"؟
وَإِذَا دَامَ الِاشْتِبَاهُ بَيْنَهُمَا بَعْدَ الْكَشْفِ وَلَمْ تَقُمْ بَيِّنَةٌ لِأَحَدِهِمَا بِالتَّقَدُّمِ لَمْ يُقْرَعْ بَيْنَهُمَا لِأَمْرَيْنِ:
أَحَدُهُمَا: إِنَّ الْإِمَامَةَ عَقْدٌ، وَالْقُرْعَةُ لَا مَدْخَلَ لَهَا فِي الْعُقُودِ.
وَالثَّانِي: إنَّ الْإِمَامَةَ لَا يَجُوزُ الِاشْتِرَاكُ فِيهَا، وَالْقُرْعَةُ لَا مَدْخَلَ لَهَا فِيمَا لَا يَصِحُّ الِاشْتِرَاكُ فِيهِ كَالْمُنَاكِحِ، وَتَدْخُلُ فِيمَا يَصِحُّ فِيهِ الِاشْتِرَاكُ كَالْأَمْوَالِ، وَيَكُونُ دَوَامُ هَذَا الِاشْتِبَاهِ مُبْطِلًا لِعَقْدَيْ الْإِمَامَةِ فِيهِمَا، وَيَسْتَأْنِفُ أَهْلُ الِاخْتِيَارِ عَقْدَهَا لِأَحَدِهِمَا، فَلَوْ أَرَادُوا الْعُدُولَ بِهَا عَنْهُمَا إلَى غَيْرِهِمَا، فَقَدْ قِيلَ بِجَوَازِهِ لِخُرُوجِهِمَا عَنْهَا، وَقِيلَ: لَا يَجُوزُ؛ لِأَنَّ الْبَيْعَةَ لَهُمَا قَدْ صَرَفَتِ الْإِمَامَةَ عَمَّنْ عَدَاهُمَا؛ وَلِأَنَّ الِاشْتِبَاهَ لَا يَمْنَعُ ثُبُوتَهَا فِي أَحَدِهِمَا.
পরিচ্ছেদ: খিলাফতের জন্য মনোনীত দুই ব্যক্তির মধ্যে কি লটারি করা হবে?তদন্তের পরেও যদি তাঁদের উভয়ের মাঝে বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যায় এবং তাঁদের মধ্যে কে আগে মনোনীত হয়েছেন সে সম্পর্কে কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে দুইটি কারণে তাঁদের মাঝে লটারি করা হবে না:
প্রথমত: ইমামত হলো একটি চুক্তি, আর চুক্তির ক্ষেত্রে লটারির কোনো অবকাশ নেই।
দ্বিতীয়ত: ইমামতে অংশীদারিত্ব বৈধ নয়। আর যে সকল বিষয়ে অংশীদারিত্ব বৈধ নয় (যেমন বৈবাহিক বিষয়াবলি), সেগুলোতে লটারির কোনো সুযোগ নেই; লটারি কেবল ঐ সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে যেগুলোতে অংশীদারিত্ব বৈধ, যেমন সম্পদ। এই অস্পষ্টতা বজায় থাকা উভয়ের ইমামতের চুক্তিকে বাতিল করে দেবে এবং নির্বাচক মণ্ডলী নতুন করে তাঁদের একজনের জন্য ইমামতের চুক্তি সম্পাদন করবেন। এখন তাঁরা যদি ঐ দুজনকে বাদ দিয়ে অন্য কারো দিকে ফিরে যেতে চান, তবে এক মতে তা বৈধ; যেহেতু অস্পষ্টতার কারণে তাঁরা দুজন এর বাইরে চলে গেছেন। অন্য মতে তা বৈধ নয়; কারণ তাঁদের উভয়ের জন্য গৃহীত বায়আত ইমামতকে অন্য সবার থেকে বিমুখ করে দিয়েছে এবং অস্পষ্টতা তাঁদের কোনো একজনের ক্ষেত্রে ইমামত সাব্যস্ত হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক নয়।
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فصل: "هل تنعقد الخلافة بولاية العهد"؟
وَأَمَّا انْعِقَادُ الْإِمَامَةِ بِعَهْدِ مَنْ قَبْلَهُ فَهُوَ مِمَّا انْعَقَدَ الْإِجْمَاعُ عَلَى جَوَازِهِ، وَوَقَعَ الِاتِّفَاقُ عَلَى صِحَّتِهِ؛ لِأَمْرَيْنِ عَمِلَ الْمُسْلِمُونَ بِهِمَا وَلَمْ يَتَنَاكَرُوهُمَا:
أَحَدُهُمَا: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ رضي الله عنه عَهِدَ بِهَا إلَى عُمَرَ رضي الله عنه فَأَثْبَتَ الْمُسْلِمُونَ إمَامَتَهُ بِعَهْدِهِ1.
--------------------------------------------
অনুচ্ছেদ: "উত্তরাধিকার মনোনয়নের মাধ্যমে কি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়?"পূর্বসূরির মনোনয়নের মাধ্যমে ইমামত বা খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি এমন একটি বিষয় যার বৈধতার ওপর ইজমা বা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারেও সকলে একমত হয়েছেন। এটি দুটি বিষয়ের কারণে, যা মুসলমানগণ পালন করেছেন এবং কেউই তা অস্বীকার করেননি:
প্রথমটি হলো: আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এর জন্য মনোনীত করেছিলেন এবং মুসলমানগণ তাঁর মনোনয়নের মাধ্যমেই তাঁর ইমামতকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَالثَّانِي: أَنَّ عُمَرَ رضي الله عنه عَهِدَ بِهَا إلَى أَهْلِ الشُّورَى، فَقَبِلَتْ الْجَمَاعَةُ دُخُولَهُمْ فِيهَا، وَهُمْ أَعْيَانُ الْعَصْرِ اعْتِقَادًا لِصِحَّةِ الْعَهْدِ بِهَا، وَخَرَجَ بَاقِي الصَّحَابَةِ مِنْهَا، وَقَالَ عَلِيٌّ لِلْعَبَّاسِ -رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا- حِينَ عَاتَبَهُ عَلَى الدُّخُولِ فِي الشُّورَى: كَانَ أَمْرًا عَظِيمًا مِنْ أُمُورِ الْإِسْلَامِ لَمْ أَرَ لِنَفْسِي الْخُرُوجَ مِنْهُ، فَصَارَ الْعَهْدُ بِهَا إجْمَاعًا فِي انْعِقَادِ الْإِمَامَةِ، فَإِذَا أَرَادَ الْإِمَامُ أَنْ يَعْهَدَ بِهَا فَعَلَيْهِ أَنْ يُجْهِدَ رَأْيَهُ فِي الْأَحَقِّ بِهَا، وَالْأَقْوَمِ بِشُرُوطِهَا، فَإِذَا تَعَيَّنَ لَهُ الِاجْتِهَادُ فِي وَاحِدٍ نَظَرَ فِيهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ وَلَدًا وَلَا وَالِدًا جَازَ أَنْ يَنْفَرِدَ بِعَقْدِ الْبَيْعَةِ لَهُ، وَبِتَفْوِيضِ الْعَهْدِ إلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يَسْتَشِرْ فِيهِ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الِاخْتِيَارِ، لَكِنِ اخْتَلَفُوا: هَلْ يَكُونُ ظُهُورُ الرِّضَا مِنْهُمْ شَرْطًا فِي انْعِقَادِ بَيْعَتِهِ أَوْ لَا؟ فَذَهَبَ بَعْضُ عُلَمَاءِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ إلَى أَنَّ رِضَا أَهْلِ الِاخْتِيَارِ لِبَيْعَتِهِ شَرْطٌ فِي لُزُومِهَا لِلْأُمَّةِ؛ لِأَنَّهَا حَقٌّ يَتَعَلَّقُ بِهِمْ، فَلَمْ تَلْزَمْهُمْ إلَّا بِرِضَا أَهْلِ الِاخْتِيَارِ مِنْهُمْ.
وَالصَّحِيحُ أَنَّ بَيْعَتَهُ مُنْعَقِدَةٌ وَأَنَّ الرِّضَا بِهَا غَيْرُ مُعْتَبَر1ٍ؛ لِأَنَّ بَيْعَةَ عُمَرَ رضي الله عنه لَمْ تَتَوَقَّفْ عَلَى رِضَا الصَّحَابَةِ؛ وَلِأَنَّ الْإِمَامَ أَحَقُّ بِهَا، فَكَانَ اخْتِيَارُهُ فِيهَا أَمْضَى، وَقَوْلُهُ فِيهَا أَنْفَذَ؛ وَإِنْ كَانَ وَلِيُّ الْعَهْدِ وَلَدًا أَوْ وَالِدًا فَقَدِ اخْتُلِفَ فِي جَوَازِ انْفِرَادِهِ بِعَقْدِ الْبَيْعَةِ لَهُ عَلَى ثَلَاثَةِ مَذَاهِبَ:
أَحَدُهَا: لَا يَجُوزُ أَنْ يَنْفَرِدَ بِعَقْدِ الْبَيْعَةِ لِوَلَدٍ وَلَا لِوَالِدٍ حَتَّى يُشَاوِرَ فِيهِ أَهْلَ الِاخْتِيَارِ فَيَرَوْنَهُ أَهْلًا لَهَا، فَيَصِحُّ مِنْهُ حِينَئِذٍ عَقْدُ الْبَيْعَةِ لَهُ؛ لِأَنَّ ذَلِكَ مِنْهُ تَزْكِيَةٌ لَهُ تَجْرِي مَجْرَى الشَّهَادَةِ، وَتَقْلِيدُهُ عَلَى الْأُمَّةِ يَجْرِي مَجْرَى الْحُكْمِ، وَهُوَ لَا يَجُوزُ أَنْ يَشْهَدَ لِوَالِدٍ وَلَا لِوَلَدٍ وَلَا يَحْكُمَ لِوَاحِدٍ مِنْهُمَا لِلتُّهْمَةِ الْعَائِدَةِ إلَيْهِ بِمَا جُبِلَ مِنَ الْمَيْلِ إلَيْهِ.
وَالْمَذْهَبُ الثَّانِي: يَجُوزُ أَنْ يَنْفَرِدَ بِعَقْدِهَا لِوَلَدٍ وَوَالِدٍ؛ لِأَنَّهُ أَمِيرُ الْأُمَّةِ نَافِذُ الْأَمْرِ لَهُمْ
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) খিলাফতের বিষয়টি পরামর্শ সভার (শুরা) সদস্যদের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন, ফলে সমকালীন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এর বৈধতায় বিশ্বাস রেখে তাতে অন্তর্ভুক্ত হতে সম্মত হয়েছিলেন। অবশিষ্ট সাহাবীগণ এ থেকে সরে দাঁড়ান। আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যখন পরামর্শ সভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে আব্বাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর কাছে তিরস্কৃত হলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "এটি ইসলামের এমন এক মহান বিষয় ছিল যা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া আমি সংগত মনে করিনি।" ফলে এই মনোনয়ন (আহদ) ইমামত বা রাষ্ট্রপ্রধানের পদ নির্ধারণে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে (ইজমা) পরিণত হয়। সুতরাং ইমাম যখন কাউকে উত্তরসূরি মনোনীত করতে চাইবেন, তখন তাঁর কর্তব্য হলো উক্ত পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য এবং এর শর্তাবলি পালনে সবচেয়ে সক্ষম ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা করা। যখন তাঁর গবেষণায় নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম নিশ্চিত হবে, তখন তিনি তাঁকে পর্যবেক্ষণ করবেন। মনোনীত ব্যক্তি যদি তাঁর সন্তান বা পিতা না হন, তবে তিনি একাই তাঁর জন্য আনুগত্যের শপথ (বাইআত) সম্পাদন করতে এবং খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবেন, যদিও তিনি নির্বাচক মণ্ডলীর (আহলে ইখতিয়ার) কারও সাথে পরামর্শ না করেন। তবে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে: নির্বাচক মণ্ডলীর সন্তুষ্টি প্রকাশ কি তাঁর বাইআত কার্যকর হওয়ার শর্ত, নাকি নয়? বসরার কোনো কোনো আলেমের মতে, উম্মতের ওপর এই বাইআত বাধ্যতামূলক হওয়ার জন্য নির্বাচক মণ্ডলীর সন্তুষ্টি শর্ত; কারণ এটি তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অধিকার, তাই তাদের নির্বাচক মণ্ডলীর সম্মতি ব্যতীত এটি তাদের ওপর অপরিহার্য হবে না।
সঠিক মত হলো, তাঁর এই মনোনয়ন কার্যকর এবং এক্ষেত্রে অন্যদের সন্তুষ্টি ধর্তব্য নয়; কারণ উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর খিলাফত প্রাপ্তি সাহাবীগণের সন্তুষ্টির ওপর স্থগিত ছিল না। এছাড়া ইমামই এ বিষয়ে সর্বাধিক যোগ্য, তাই এক্ষেত্রে তাঁর নির্বাচন অধিক কার্যকর এবং তাঁর সিদ্ধান্ত অধিক বাস্তবায়নযোগ্য। তবে যদি মনোনীত উত্তরসূরি ইমামের সন্তান বা পিতা হন, তবে তিনি একাকী তাঁর জন্য বাইআত সম্পন্ন করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে তিনটি মতভেদ রয়েছে:
প্রথমত: পিতা বা সন্তানের জন্য একাকী বাইআতের চুক্তি করা বৈধ নয় যতক্ষণ না তিনি নির্বাচক মণ্ডলীর সাথে পরামর্শ করেন এবং তারা উক্ত ব্যক্তিকে এই পদের যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করেন। এমতাবস্থায় ইমামের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য বাইআত করা সঠিক হবে; কারণ ইমামের এই পদক্ষেপটি ওই ব্যক্তির জন্য একটি চারিত্রিক প্রশংসা স্বরূপ যা সাক্ষ্য প্রদানের স্থলাভিষিক্ত, আর উম্মতের ওপর তাঁকে দায়িত্বশীল করা বিচারের স্থলাভিষিক্ত। অথচ স্বাভাবিক অনুরাগের কারণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আসতে পারে বলে নিজের পিতা বা সন্তানের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া বা বিচার করা বৈধ নয়।
দ্বিতীয়ত: সন্তান বা পিতার জন্য একাকী বাইআতের চুক্তি সম্পাদন করা বৈধ; কারণ তিনি উম্মতের নেতা এবং তাঁর আদেশ তাদের ওপর কার্যকর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَعَلَيْهِمْ فَغَلَبَ حُكْمُ الْمَنْصِبِ عَلَى حُكْمِ النَّسَبِ وَلَمْ يَجْعَلْ لِلتُّهْمَةِ طَرِيقًا عَلَى أَمَانَتِهِ وَلَا سَبِيلًا إلَى مُعَارَضَتِهِ وَصَارَ فِيهَا كَعَهْدِهِ بِهَا إلَى غَيْرِ وَلَدِهِ وَوَالِدِهِ، وَهَلْ يَكُونُ رِضَا أَهْلِ الِاخْتِيَارِ بَعْدَ صِحَّةِ الْعَهْدِ مُعْتَبَرًا فِي لُزُومِهِ لِلْأُمَّةِ أَوْ لَا؟ عَلَى مَا قَدَّمْنَاهُ مِنَ الْوَجْهَيْنِ.
وَالْمَذْهَبُ الثَّالِثُ: إِنَّهُ يَجُوزُ أَنْ يَنْفَرِدَ بِعَقْدِ الْبَيْعَةِ لِوَالِدِهِ، وَلَا يَجُوزُ أَنْ يَنْفَرِدَ بِهَا لِوَلَدِهِ؛ لِأَنَّ الطَّبْعَ يَبْعَثُ عَلَى مُمَايَلَةِ الْوَلَدِ أَكْثَرُ مِمَّا يَبْعَثُ عَلَى مُمَايَلَةِ الْوَالِدِ، وَلِذَلِكَ كَانَ كُلُّ مَا يَقْتَنِيهِ فِي الْأَغْلَبِ مَذْخُورًا لِوَلَدِهِ دُونَ وَالِدِهِ؛ فَأَمَّا عَقْدُهَا لِأَخِيهِ وَمَنْ قَارَبَهُ مِنْ عَصَبَتِهِ وَمُنَاسِبِيهِ، فَكَعَقْدِهَا لِلْبُعَدَاءِ الْأَجَانِبِ فِي جَوَازِ تَفَرُّدِهِ بِهَا.
এবং তাঁদের ওপর; ফলে পদের মর্যাদা বংশীয় সম্পর্কের বিধানের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। তিনি তাঁর আমানতদারিতার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সংশয়ের অবকাশ রাখেননি এবং তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতারও কোনো পথ রাখেননি। এক্ষেত্রে বিষয়টি নিজের সন্তান বা পিতা ব্যতীত অন্য কারো অনুকূলে তাঁর মনোনয়নের মতোই পরিগণিত হয়েছে। আর এই নিয়োগ বা উইল শুদ্ধ হওয়ার পর উম্মতের ওপর তা বাধ্যতামূলক হওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনকারী ব্যক্তিবর্গের (আহলুল ইখতিয়ার) সম্মতি কি বিবেচ্য হবে কি না? এ বিষয়ে ইতিপূর্বে আমাদের বর্ণিত দুটি অভিমত রয়েছে।
তৃতীয় মতটি হলো: তিনি তাঁর পিতার অনুকূলে এককভাবে বায়আতের চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেন, কিন্তু তাঁর সন্তানের অনুকূলে এককভাবে তা করা বৈধ নয়; কারণ মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি পিতার চেয়ে সন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্বে অধিক উদ্বুদ্ধ করে। এ কারণেই মানুষ যা কিছু অর্জন করে, তার অধিকাংশ সাধারণত পিতার পরিবর্তে সন্তানের জন্যই সঞ্চিত থাকে। আর তাঁর ভাই কিংবা তাঁর নিকটাত্মীয় ও আসাবাগণের অনুকূলে বায়আতের চুক্তি সম্পাদনের বিষয়টি এককভাবে সম্পন্ন করার বৈধতার ক্ষেত্রে তা দূরবর্তী অনাত্মীয়দের ন্যায় গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فصل: "في عهد الخليفة بالخلافة إلى من يلي بعده"
وَإِذَا عَهِدَ الْإِمَامُ بِالْخِلَافَةِ إلَى مَنْ يَصِحُّ الْعَهْدُ إلَيْهِ عَلَى الشُّرُوطِ الْمُعْتَبَرَةِ فِيهِ، كَانَ الْعَهْدُ مَوْقُوفًا عَلَى قَبُولِ الْمُوَلَّى1.
وَاخْتُلِفَ فِي زَمَانِ قَبُولِهِ فَقِيلَ: بَعْدَ مَوْتِ الْمُوَلِّي فِي الْوَقْتِ الَّذِي يَصِحُّ فِيهِ نَظَرُ الْمُوَلَّى؛ وَقِيلَ -وَهُوَ الْأَصَحُّ: إنَّهُ مَا بَيْنَ عَهْدِ الْمُوَلِّي وَمَوْتِهِ لِتَنْتَقِلَ عَنْهُ الْإِمَامَةُ إلَى الْمُوَلَّى مُسْتَقِرَّةً بِالْقَبُولِ الْمُتَقَدِّمِ، وَلَيْسَ لِلْإِمَامِ الْمُوَلَّى عَزْلُ مَنْ عَهِدَ إلَيْهِ مَا لَمْ يَتَغَيَّرْ حَالُهُ وَإِنْ جَازَ لَهُ عَزْلُ مَنِ اسْتَنَابَهُ مِنْ سَائِرِ خُلَفَائِهِ؛ لِأَنَّهُ مُسْتَخْلِفٌ لَهُمْ فِي حَقِّ نَفْسِهِ، فَجَازَ لَهُ عَزْلُهُمْ، وَمُسْتَخْلِفٌ لِوَلِيِّ عَهْدِهِ فِي حَقِّ الْمُسْلِمِينَ، فَلَمْ يَكُنْ لَهُ عَزْلُهُ، كَمَا لَمْ يَكُنْ لِأَهْلِ الِاخْتِيَارِ عَزْلُ مَنْ بَايَعُوهُ إذَا لَمْ يَتَغَيَّرْ حَالُهُ، فَلَوْ عَهِدَ الْإِمَامُ بَعْدَ عَزْلِ الْأَوَّلِ إلَى ثَانٍ كَانَ عَهْدُ الثَّانِي بَاطِلًا وَالْأَوَّلُ عَلَى بَيْعَتِهِ، فَإِنْ خَلَعَ الْأَوَّلُ نَفْسَهُ لَمْ يَصِحَّ بَيْعَةُ الثَّانِي حَتَّى يَبْتَدِئَ.
وَإِذَا اسْتَعْفَى وَلِيُّ الْعَهْدِ لَمْ يَبْطُلْ عَهْدُهُ بِالِاسْتِعْفَاءِ حَتَّى يُعْفَى لِلُزُومِهِ مِنْ جِهَةِ الْمُوَلَّى ثُمَّ نُظِرَ، فَإِنْ وُجِدَ غَيْرُهُ جَازَ اسْتِعْفَاؤُهُ وَخَرَجَ مِنْ الْعَهْدِ بِإِجْمَاعِهِمَا عَلَى الِاسْتِعْفَاءِ وَالْإِعْفَاءِ، وَإِنْ لَمْ يُوجَدْ غَيْرُهُ لَمْ يَجُزْ اسْتِعْفَاؤُهُ وَلَا إعْفَاؤُهُ، وَكَانَ الْعَهْدُ عَلَى لُزُومِهِ مِنْ جِهَتَيْ الْمُوَلَّى
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: খলিফা কর্তৃক তাঁর পরবর্তী ব্যক্তির নিকট খেলাফতের মনোনয়ন প্রদান প্রসঙ্গেযখন ইমাম এমন কোনো ব্যক্তির নিকট খেলাফতের মনোনয়ন প্রদান করেন যার ক্ষেত্রে শরিয়তসম্মত শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে এই মনোনয়ন প্রদান বৈধ, তখন সেই মনোনয়ন মনোনীত ব্যক্তির গ্রহণের ওপর স্থগিত থাকে।১
এই গ্রহণের সময়কাল সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন: এটি হবে মনোনয়ন প্রদানকারীর মৃত্যুর পর সেই সময়ে যখন মনোনীত ব্যক্তির দায়িত্বভার গ্রহণ করা বৈধ হয়। আবার কেউ বলেছেন—যা অধিকতর বিশুদ্ধ: এটি মনোনয়ন প্রদান এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে হতে হবে, যাতে পূর্ববর্তী সম্মতির মাধ্যমে খেলাফতের দায়িত্বটি মনোনীত ব্যক্তির কাছে সুপ্রতিষ্ঠিতভাবে স্থানান্তরিত হতে পারে। আর মনোনয়ন প্রদানকারী ইমামের জন্য মনোনীত ব্যক্তিকে অপসারণ করার অধিকার নেই যতক্ষণ না তার যোগ্যতায় কোনো পরিবর্তন (অযোগ্যতা) ঘটে, যদিও ইমামের জন্য তাঁর অন্যান্য সাধারণ প্রতিনিধিদের অপসারণ করা বৈধ। কারণ তিনি তাঁদেরকে নিজের ব্যক্তিগত অধিকারের ভিত্তিতে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, তাই তাঁদেরকে অপসারণ করার অধিকার তাঁর রয়েছে। কিন্তু উত্তরসূরিকে তিনি মুসলিম উম্মাহর হকের ভিত্তিতে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, তাই তাকে অপসারণ করার অধিকার তাঁর নেই; ঠিক যেমন নির্বাচক মণ্ডলীর (আহলুল ইখতিয়ার) জন্য তাঁদের বায়আতকৃত ব্যক্তিকে অপসারণ করার অধিকার নেই যদি তার যোগ্যতায় কোনো পরিবর্তন না আসে। এমতাবস্থায় যদি ইমাম প্রথম ব্যক্তিকে অপসারণ করার পর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেন, তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিল হবে এবং প্রথম ব্যক্তিই তাঁর বায়আতের ওপর বহাল থাকবেন। আর প্রথম ব্যক্তি যদি নিজে পদত্যাগ করেন, তবে পুনরায় নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু না করা পর্যন্ত দ্বিতীয় ব্যক্তির বায়আত শুদ্ধ হবে না।
যদি মনোনীত উত্তরসূরি অব্যাহতি প্রার্থনা করেন, তবে কেবল প্রার্থনার মাধ্যমেই তাঁর মনোনয়ন বাতিল হবে না যতক্ষণ না তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়; কারণ নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে এটি তাঁর জন্য আবশ্যক হয়ে আছে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে; যদি যোগ্য বিকল্প কাউকে পাওয়া যায়, তবে তাঁর অব্যাহতি প্রার্থনা গ্রহণ করা জায়েজ এবং উভয়ের (নিয়োগকারী ও মনোনীত ব্যক্তি) সম্মতিতে তিনি দায়িত্ব থেকে মুক্ত হতে পারবেন। কিন্তু যদি বিকল্প কাউকে পাওয়া না যায়, তবে তাঁর অব্যাহতি প্রার্থনা বা তাঁকে অব্যাহতি প্রদান—কোনোটিই জায়েজ হবে না এবং মনোনয়নটি নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে অপরিহার্য হিসেবে বহাল থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَالْمُوَلِّي؛ وَيُعْتَبَرُ شُرُوطُ الْإِمَامَةِ فِي الْمُوَلَّى مِنْ وَقْتِ الْعَهْدِ إلَيْهِ، وَإِنْ كَانَ صَغِيرًا أَوْ فَاسِقًا وَقْتَ الْعَهْدِ وَبَالِغًا عَدْلًا عِنْدَ مَوْتِ الْمُوَلِّي لَمْ تَصِحَّ خِلَافَتُهُ حَتَّى يَسْتَأْنِفَ أَهْلُ الِاخْتِيَارِ بَيْعَتَهُ.
وَإِذَا عَهِدَ الْإِمَامُ إلَى غَائِبٍ هُوَ مَجْهُولُ الْحَيَاةِ لَمْ يَصِحَّ عَهْدُهُ؛ وَإِنْ كَانَ مَعْلُومَ الْحَيَاةِ وَكَانَ مَوْقُوفًا عَلَى قُدُومِهِ؛ فَإِنْ مَاتَ الْمُسْتَخْلِفُ وَوَلِيُّ الْعَهْدِ عَلَى غَيْبَتِهِ اسْتَقْدَمَهُ أَهْلُ الِاخْتِيَارِ، فَإِنْ بَعُدَتْ وَاسْتَضَرَّ الْمُسْلِمُونَ بِتَأْخِيرِ النَّظَرِ فِي أُمُورِهِمْ اسْتَنَابَ أَهْلُ الِاخْتِيَارِ نَائِبًا عَنْهُ يُبَايِعُونَهُ بِالنِّيَابَةِ دُونَ الْخِلَافَةِ، فَإِذَا قَدِمَ الْخَلِيفَةُ الْغَائِبُ انْعَزَلَ الْمُسْتَخْلَفُ النَّائِبُ، وَكَانَ نَظَرُهُ قَبْلَ قُدُومِ الْخَلِيفَةِ مَاضِيًا، وَبَعْدَ قُدُومِهِ مَرْدُودًا، وَلَوْ أَرَادَ وَلِيُّ الْعَهْدِ قَبْلَ مَوْتِ الْخَلِيفَةِ أَنْ يَرُدَّ مَا إلَيْهِ مِنْ وِلَايَةِ الْعَهْدِ إلَى غَيْرِهِ لَمْ يَجُزْ؛ لِأَنَّ الْخِلَافَةَ لَا تَسْتَقِرُّ لَهُ إلَّا بَعْدَ مَوْتِ الْمُسْتَخْلِفِ؛ وَهَكَذَا لَوْ قَالَ: جَعَلْتُهُ وَلِيَّ عَهْدِي إذَا أَفْضَتْ الْخِلَافَةُ إلَيَّ لَمْ يَجُزْ؛ لِأَنَّهُ فِي الْحَالِ لَيْسَ خَلِيفَةً، فَلَمْ يَصِحَّ عَهْدُهُ بِالْخِلَافَةِ.
وَإِذَا خَلَعَ الْخَلِيفَةُ نَفْسَهُ انْتَقَلَتْ إلَى وَلِيِّ عَهْدِهِ، وَقَامَ خَلْعُهُ مَقَامَ مَوْتِهِ، وَلَوْ عَهِدَ الْخَلِيفَةُ إلَى اثْنَيْنِ لَمْ يُقَدِّمْ أَحَدَهُمَا عَلَى الْآخَرِ جَازَ، وَاخْتَارَ أَهْلُ الِاخْتِيَارِ أَحَدَهُمَا بَعْدَ مَوْتِهِ كَأَهْلِ الشُّورَى، فَإِنَّ عُمَرَ رضي الله عنه جَعَلَهَا فِي سِتَّةٍ.
حَكَى ابْنُ إِسْحَاقَ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: وَجَدْتُ عُمَرَ ذَاتَ يَوْمٍ مَكْرُوبًا، فَقَالَ: مَا أَدْرِي مَا أَصْنَعُ فِي هَذَا الْأَمْرِ؟ أَقُومُ فِيهِ وَأَقْعُدُ؟ فَقُلْتُ: هَلْ لَكَ فِي عَلِيٍّ؟ فَقَالَ: إنَّهُ لَهَا لَأَهْلٌ، وَلَكِنَّهُ رَجُلٌ فِيهِ دُعَابَةٌ، وَإِنِّي لَأُرَاهُ لَوْ تَوَلَّى أَمْرَكُمْ لَحَمَلَكُمْ عَلَى طَرِيقَةٍ مِنَ الْحَقِّ تَعْرِفُونَهَا، قَالَ: قُلْتُ: فَأَيْنَ أَنْتَ عَنْ عُثْمَانَ؟ فَقَالَ: لَوْ فَعَلْتُ لَحَمَلَ ابْنُ أَبِي مُعَيْطٍ عَلَى رِقَابِ النَّاسِ، ثُمَّ لَمْ تَلْتَفِتْ إلَيْهِ الْعَرَبُ حَتَّى تَضْرِبَ عُنُقَهُ، وَاَللَّهِ لَوْ فَعَلْتُ لَفَعَلَ، وَلَوْ فَعَلَ لَفَعَلُوا؛ قَالَ: فَقُلْتُ: فَطَلْحَةُ، قَالَ: إنَّهُ لَزَهْوٌ، مَا كَانَ اللَّهُ لِيُوَلِّيَهُ أَمْرَ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مَعَ مَا يَعْلَمُ مِنْ زَهْوِهِ، قَالَ: قُلْتُ: فَالزُّبَيْرُ، قَالَ: إنَّهُ لَبَطَلٌ وَلَكِنَّهُ يَسْأَلُ عَنِ الصَّاعِ وَالْمُدِّ بِالْبَقِيعِ بِالسُّوقِ، أَفَذَاكَ يَلِي أُمُورَ الْمُسْلِمِينَ؟ قَالَ: فَقُلْتُ: سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، قَالَ: لَيْسَ هُنَاكَ إنَّهُ لَصَاحِبُ مَقْتَبٍ يُقَاتِلُ عَلَيْهِ، فَأَمَّا وَلِيُّ أَمْرٍ فَلَا، قَالَ: فَقُلْتُ: فَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، قَالَ: نِعْمَ الرَّجُلُ ذَكَرْتَ لَكِنَّهُ ضَعِيفٌ، إنَّهُ وَاَللَّهِ لَا يَصْلُحُ لِهَذَا الْأَمْرِ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ إلَّا الْقَوِيُّ فِي غَيْرِ
উত্তরাধিকার প্রদানকারী; এবং যাকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করা হয়েছে তার ক্ষেত্রে ইমামতের (নেতৃত্বের) শর্তাবলী অঙ্গীকার প্রদানের সময় থেকেই বিদ্যমান থাকা জরুরি। যদি অঙ্গীকার প্রদানের সময় সে অপ্রাপ্তবয়স্ক বা পাপাচারী (ফাসিক) থাকে এবং উত্তরাধিকার প্রদানকারীর মৃত্যুর সময় প্রাপ্তবয়স্ক ও ন্যায়পরায়ণ (আদিল) হয়ে যায়, তবুও তার খিলাফত বৈধ হবে না যতক্ষণ না আহলুল ইখতিয়ার (নির্বাচকমণ্ডলী) পুনরায় তার আনুগত্যের বয়াত গ্রহণ করেন।
যদি ইমাম এমন কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তির অনুকূলে উত্তরাধিকারের দায়িত্ব অর্পণ করেন যার জীবিত থাকার বিষয়টি অজ্ঞাত, তবে তার সেই অঙ্গীকার বৈধ হবে না। আর যদি তার জীবিত থাকা নিশ্চিত হয়, তবে বিষয়টি তার আগমনের ওপর স্থগিত থাকবে। এমতাবস্থায় যদি স্থলাভিষিক্তকারী মারা যান এবং উত্তরাধিকারী তখনও অনুপস্থিত থাকেন, তবে আহলুল ইখতিয়ার তাকে উপস্থিত করার ব্যবস্থা করবেন। যদি তার অবস্থান অনেক দূরে হয় এবং তার জন্য প্রতীক্ষা করার ফলে মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরিচালনায় বিলম্ব ঘটে ও ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে আহলুল ইখতিয়ার তার পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন এবং তারা খিলাফতের পরিবর্তে সেই প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতেই তার বয়াত গ্রহণ করবেন। যখন অনুপস্থিত খলিফা উপস্থিত হবেন, তখন সেই স্থলাভিষিক্ত প্রতিনিধি অপসারিত হয়ে যাবেন। খলিফার আগমনের পূর্বে সেই প্রতিনিধির সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং আগমনের পর তা রদ হয়ে যাবে। যদি উত্তরাধিকারী ব্যক্তি খলিফার মৃত্যুর পূর্বেই তার ওপর অর্পিত উত্তরাধিকারের দায়িত্ব অন্য কাউকে হস্তান্তর করতে চায়, তবে তা বৈধ হবে না; কারণ স্থলাভিষিক্তকারীর মৃত্যুর আগে খিলাফত তার জন্য সুনিশ্চিত হয় না। একইভাবে সে যদি বলে: 'খিলাফত আমার ওপর অর্পিত হওয়ার পর আমি অমুককে আমার উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করলাম', তবে তাও বৈধ হবে না; কারণ বর্তমানে সে খলিফা নয়, তাই তার খিলাফতের অঙ্গীকার প্রদান করা সঠিক হবে না।
আর খলিফা যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তবে খিলাফত তার মনোনীত উত্তরাধিকারীর নিকট স্থানান্তরিত হবে এবং তার পদত্যাগ মৃত্যুর স্থলাভিষিক্ত গণ্য হবে। যদি খলিফা দুই ব্যক্তিকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করেন এবং একজনকে অন্যজনের ওপর অগ্রাধিকার প্রদান না করেন, তবে তাও বৈধ হবে। খলিফার মৃত্যুর পর আহলুল ইখতিয়ার মজলিসে শুরার সদস্যদের ন্যায় তাদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করবেন; কারণ উমর (রা.) খিলাফতের বিষয়টি ছয়জন ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করেছিলেন।
ইবনে ইসহাক যুহরী থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন আমি উমর (রা.)-কে অত্যন্ত চিন্তিত ও বিমর্ষ অবস্থায় পেলাম। তিনি বললেন: 'আমি জানি না এই বিষয়ের (খিলাফত) ক্ষেত্রে আমার কী করা উচিত? আমি কি এ বিষয়ে অগ্রসর হব নাকি বিরত থাকব?' আমি বললাম: 'আলীর ব্যাপারে আপনার চিন্তা কী?' তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই সে এর যোগ্য, কিন্তু তার মধ্যে কিছুটা রসিকতা রয়েছে। আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে, সে যদি তোমাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করে, তবে সে তোমাদেরকে সত্যের এমন এক পথে পরিচালিত করবে যা তোমরা চেনো।' ইবনে আব্বাস বলেন, আমি বললাম: 'তাহলে উসমানের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?' তিনি বললেন: 'যদি আমি তাকে দায়িত্ব দেই, তবে ইবনে আবি মুআইত জনগণের ঘাড়ে চড়ে বসবে, ফলে আরবরা তার গর্দান না কাটা পর্যন্ত তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। আল্লাহর কসম, আমি যদি তাকে নিয়োগ করি তবে সে এমনই করবে, আর সে এমন করলে লোকেরাও তাই করবে।' ইবনে আব্বাস বলেন, আমি বললাম: 'তাহলে তালহার কথা ভাবুন।' তিনি বললেন: 'সে তো অহংকারী; আল্লাহ তার অহংকার সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও তাকে মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের শাসক মনোনীত করবেন না।' আমি বললাম: 'তাহলে জুবায়ের?' তিনি বললেন: 'সে তো একজন বীর, কিন্তু সে মদীনার বাজারে সামান্য পরিমাণ কেনাবেচার হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এমন ব্যক্তি কি মুসলমানদের বিষয়াদি পরিচালনা করবে?' আমি বললাম: 'সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস?' তিনি বললেন: 'তার অবস্থান তেমন নয়; সে তো কেবল রণক্ষেত্রের অশ্বারোহী যোদ্ধা। যুদ্ধের জন্য সে উপযুক্ত, কিন্তু শাসক হিসেবে নয়।' আমি বললাম: 'তাহলে আবদুর রহমান বিন আউফ?' তিনি বললেন: 'তুমি এক উত্তম ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছ, কিন্তু সে তো দুর্বল। আল্লাহর কসম হে ইবনে আব্বাস, এই পদের জন্য কেবল সেই ব্যক্তিই উপযুক্ত যে কঠোরতা ছাড়াই শক্তিশালী...'
(খণ্ড: ১)
আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ লিল মাওয়ারদী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
عُنْفٍ، اللَّيِّنُ مِنْ غَيْرِ ضَعْفٍ، وَالْمُمْسِكُ مِنْ غَيْرِ بُخْلٍ، وَالْجَوَادُ فِي غَيْرِ إسْرَافٍ.
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَلَمَّا جَرَحَهُ أَبُو لُؤْلُؤَةَ وَآيِسَ الطَّبِيبَ مِنْ نَفْسِهِ وَقَالُوا لَهُ: اعْهَدْ، جَعَلَهَا شُورَى فِي سِتَّةٍ وَقَالَ: هَذَا الْأَمْرُ إلَى عَلِيٍّ وَبِإِزَائِهِ الزُّبَيْرُ، وَإِلَى عُثْمَانَ وَبِإِزَائِهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، وَإِلَى طَلْحَةَ وَبِإِزَائِهِ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، فَلِمَا جَازَ الشُّورَى بَعْدَ مَوْتِ عُمَرَ رضي الله عنه قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: اجْعَلُوا أَمْرَكُمْ إلَى ثَلَاثَةٍ مِنْكُمْ، فَقَالَ الزُّبَيْرُ: جَعَلْتُ أَمْرِي إلَى عَلِيٍّ، وَقَالَ طَلْحَةُ: جَعَلْتُ أَمْرِي إلَى عُثْمَانَ، وَقَالَ سَعْدٌ: جَعَلْتُ أَمْرِي إلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ، فَصَارَتْ الشُّورَى بَعْدَ السِّتَّةِ فِي هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةِ، وَخَرَجَ مِنْهَا أُولَئِكَ الثَّلَاثَةُ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: أَيُّكُمْ يَبْرَأُ مِنْ هَذَا الْأَمْرِ وَنَجْعَلُهُ إلَيْهِ، وَاَللَّهُ عَلَيْهِ شَهِيدٌ؛ لِيَحْرِصَ عَلَى صَلَاحِ الْأُمَّةِ، فَلَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ، فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: أَتَجْعَلُونَهُ إلَيَّ وَأُخْرِجُ نَفْسِي مِنْهُ وَاَللَّهُ عَلَيَّ شَهِيدٌ، عَلَى أَنِّي لَا آلُوكُمْ نُصْحًا، فَقَالَا: نَعَمْ، فَقَالَ: قَدْ فَعَلْتُ فَصَارَتِ الشُّورَى بَعْدَ السِّتَّةِ فِي ثَلَاثَةٍ، ثُمَّ بَعْدَ الثَّلَاثَةِ فِي اثْنَيْنِ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ، ثُمَّ مَضَى عَبْدُ الرَّحْمَنِ لِيَسْتَعْلِمَ مِنَ النَّاسِ مَا عِنْدَهُمْ، فَلَمَّا أَجَنَّهُمْ اللَّيْلُ اسْتَدْعَى الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَأَشْرَكَهُ مَعَهُ، ثُمَّ حَضَرَ فَأَخَذَ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا الْعُهُودَ أَيُّهُمَا بُويِعَ لَيَعْمَلَنَّ بِكِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ، وَلَئِنْ بَايَعَ لِغَيْرِهِ لَيَسْمَعَنَّ وَلَيُطِيعَنَّ، ثُمَّ بَايَعَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ.
فَكَانَتْ الشُّورَى الَّتِي دَخَلَ أَهْلُ الْإِمَامَةِ فِيهَا وَانْعَقَدَ الْإِجْمَاعُ عَلَيْهَا أَصْلًا فِي انْعِقَادِ الْإِمَامَةِ بِالْعَهْدِ، وَفِي انْعِقَادِ الْبَيْعَةِ بِعَدَدٍ يَتَعَيَّنُ فِيهِ الْإِمَامَةُ لِأَحَدِهِمْ بِاخْتِيَارِ أَهْلِ الْحَلِّ وَالْعَقْدِ1، فَلَا فَرْقَ بَيْنَ أَنْ تُجْعَلَ شُورَى فِي اثْنَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ إذَا كَانُوا عَدَدًا مَحْصُورًا.
وَيُسْتَفَادُ مِنْهَا أَنْ لَا تُجْعَلَ الْإِمَامَةُ بَعْدَهُ فِي غَيْرِهِمْ، فَإِذَا تَعَيَّنَتْ بِالِاخْتِيَارِ فِي أَحَدِهِمْ جَازَ لِمَنْ أَفْضَتْ إلَيْهِ الْإِمَامَةُ أَنْ يَعْهَدَ بِهَا إلَى غَيْرِهِمْ، وَلَيْسَ لِأَهْلِ الِاخْتِيَارِ إذَا جَعَلَهَا الْإِمَامُ شُورَى فِي عَدَدٍ أَنْ يَخْتَارُوا أَحَدَهُمْ فِي حَيَاةِ الْمُسْتَخْلِفِ الْعَاهِدِ، إلَّا أَنْ يَأْذَنَ لَهُمْ فِي تَقْدِيمِ
--------------------------------------------
কঠোরতা ব্যতীত [দৃঢ়তা], দুর্বলতা ব্যতিরেকে কোমলতা, কৃপণতা ব্যতিরেকে মিতব্যয়িতা এবং অপব্যয় ব্যতিরেকে দানশীলতা।
ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন: যখন আবু লুলু উমর (রা.)-কে আহত করল এবং চিকিৎসক তার জীবনের আশা ছেড়ে দিলেন, তখন লোকেরা তাকে বললেন: ‘আপনি উত্তরসূরি মনোনীত করুন’। তখন তিনি বিষয়টি ছয়জনের একটি পরামর্শ সভার (শুরা) ওপর ন্যস্ত করলেন এবং বললেন: ‘এই বিষয়টি আলীর দিকে এবং তার বিপরীতে জুবাইর, উসমানের দিকে এবং তার বিপরীতে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ, এবং তালহার দিকে এবং তার বিপরীতে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের ওপর ন্যস্ত।’ উমর (রা.)-এর মৃত্যুর পর যখন পরামর্শ সভা সম্পন্ন হলো, তখন আব্দুর রহমান বললেন: ‘আপনারা বিষয়টি আপনাদের তিনজনের ওপর ন্যস্ত করুন।’ তখন জুবাইর বললেন: ‘আমি আমার বিষয়টি আলীর ওপর ন্যস্ত করলাম।’ তালহা বললেন: ‘আমি আমার বিষয়টি উসমানের ওপর ন্যস্ত করলাম।’ সাদ বললেন: ‘আমি আমার বিষয়টি আব্দুর রহমানের ওপর ন্যস্ত করলাম।’ ফলে ছয়জনের পরামর্শ সভা এই তিনজনে পর্যবসিত হলো এবং বাকি তিনজন তা থেকে বেরিয়ে গেলেন। এরপর আব্দুর রহমান বললেন: ‘আপনাদের মধ্যে কে এই বিষয় থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করবেন এবং আমরা বিষয়টি তার ওপর ন্যস্ত করব—আল্লাহ তার ওপর সাক্ষী থাকবেন—যাতে তিনি উম্মতের কল্যাণের জন্য সচেষ্ট হতে পারেন?’ কেউ তাকে উত্তর দিল না। তখন আব্দুর রহমান বললেন: ‘আপনারা কি বিষয়টি আমার ওপর ন্যস্ত করবেন এবং আমি নিজেকে এ থেকে প্রত্যাহার করব—আল্লাহ আমার ওপর সাক্ষী থাকবেন—এই শর্তে যে আমি আপনাদের উপদেশে কোনো ত্রুটি করব না?’ তারা উভয়ে বললেন: ‘হ্যাঁ।’ তিনি বললেন: ‘আমি তাই করলাম।’ ফলে ছয়জনের পরামর্শ সভা প্রথমে তিনজনে এবং পরে আলী ও উসমান—এই দুইজনে এসে উপনীত হলো। এরপর আব্দুর রহমান মানুষের অভিমত জানতে বেরিয়ে পড়লেন। রাত গভীর হলে তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামাকে ডেকে তাকে নিজের সঙ্গে নিলেন। এরপর তিনি উপস্থিত হয়ে তাদের উভয়ের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তাদের মধ্যে যাকে বায়আত করা হবে, তিনি যেন আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করেন; আর যদি অন্যজনকে বায়আত করা হয়, তবে তিনি যেন তার কথা শোনেন ও আনুগত্য করেন। অতঃপর তিনি উসমান ইবনে আফফানের হাতে বায়আত গ্রহণ করলেন।
এই পরামর্শ সভা (শুরা), যাতে ইমামতের যোগ্য ব্যক্তিগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং যার ওপর ঐক্যমত (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা মনোনয়ন বা অঙ্গীকারের (আহদ) মাধ্যমে ইমামত সাব্যস্ত হওয়ার এবং একদল নির্বাচকের মাধ্যমে বায়আত সম্পন্ন হওয়ার মূল নীতিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ’ (নীতিনির্ধারক)-দের নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো একজনের ইমামত নির্দিষ্ট করা হয়। সুতরাং, এটি দুই বা ততোধিক নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির মধ্যে শুরা বা পরামর্শের জন্য নির্ধারিত হওয়ার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
এখান থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে, তার (ইমামের) পরবর্তী ইমামত যেন তাদের বাইরে অন্য কারো মধ্যে রাখা না হয়। যখন নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের একজনের মধ্যে ইমামত নির্দিষ্ট হয়ে যাবে, তখন যার কাছে ইমামত ন্যস্ত হয়েছে তার জন্য জায়েজ হবে যে তিনি তাদের বাইরে অন্যদের কাছেও ইমামতের দায়িত্ব অর্পণ করতে পারবেন। কিন্তু ইমাম যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির পরামর্শের ওপর বিষয়টি ন্যস্ত করেন, তবে নির্বাচক মণ্ডলীর জন্য জায়েজ নেই যে তারা উত্তরসূরি মনোনীতকারী বা অঙ্গীকার প্রদানকারী ব্যক্তির জীবদ্দশায় কাউকে নির্বাচন করবেন, যদি না তিনি তাদের অগ্রিম নির্বাচনের অনুমতি প্রদান করেন।
--------------------------------------------