(খণ্ড: ১)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الصفدية القسم: العقيدة
الكتاب : الصفدية
المؤلف : تقي الدين أبو العَباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (المتوفى : 728هـ)
المحقق : محمد رشاد سالم
الناشر : مكتية ابن تيمية، مصر
الطبعة : الثانية، 1406هـ
عدد الأجزاء : 2 في مجلد واحد
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ملحوظة : نشرة دار الفضيلة - الرياض ، لها نفس ترقيم صفحات هذه الطبعة
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সাফাদিয়্যাহ বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ : আস-সাফাদিয়্যাহ
লেখক : তাকীউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু : ৭২৮ হিজরী)
মুহাক্কিক : মুহাম্মাদ রাশাদ সালিম
প্রকাশক : মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ, মিশর
সংস্করণ : দ্বিতীয়, ১৪০৬ হিজরী
খণ্ড সংখ্যা : এক ভলিউমে ২ খণ্ড
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
দ্রষ্টব্য : দারুল ফাদিলাহ - রিয়াদ এর প্রকাশনাটির পৃষ্ঠা নম্বরও এই সংস্করণের অনুরূপ
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الصفدية]ـ
المؤلف: تقي الدين أبو العَباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (المتوفى: 728هـ)
المحقق: محمد رشاد سالم
الناشر: مكتية ابن تيمية، مصر
الطبعة: الثانية، 1406هـ
عدد الأجزاء: 2 في مجلد واحد
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
--------------------------------------------
[আস-সাফাদিয়্যাহ]
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি)
মুহাক্কিক: মুহাম্মাদ রাশাদ সালিম
প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ, মিসর
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৬ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: এক মলাটে দুই খণ্ড
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١)
بسم الله الرحمن الرحيم
ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم
سئل الشيخ الإمام العالم العلامة شيخ الإسلام بقية العصر قدوة الخلف تقي الدين أبو العباس أحمد بن الشيخ الإمام العالم شهاب الدين عبد الحليم ابن الشيخ الإمام العلامة مجد الدين عبد السلام بن تيمية رضي الله عنه وأرضاه عن رجل مسلم يقول أن معجزات الأنبياء صلى الله عليهم وسلم قوى نفسانية أفتونا مأجورين
فأجاب:
الحمد لله رب العالمين.
هذا الكلام وهو قول القائل: أن معجزات الأنبياء صلى الله عليهم وسلم قوى نفسانية باطل بل هو كفر يستتاب قائله ويبين له الحق فإن أصر على اعتقاده بعد قيام الحجة الشرعية عليه كفر وإذا أصر على إظهاره بعد الاستتابة قتل.
وهو من كلام طائفة من المتفلسفة والقرامطة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো পরিবর্তন করার ক্ষমতা এবং কোনো শক্তি নেই।
শায়খ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম, সমকালীন যুগের শ্রেষ্ঠ মনীষী, উত্তরসূরিদের আদর্শ তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন শায়খ ইমাম আলেম শিহাবুদ্দীন আব্দুল হালীম বিন শায়খ ইমাম আল্লামা মাজদুদ্দীন আব্দুস সালাম বিন তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন)-কে জনৈক মুসলিম ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যে বলে যে—নবীদের (তাঁদের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) মুজিযাসমূহ হলো নিছক মনস্তাত্ত্বিক শক্তি। আমাদের এ বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করুন, আল্লাহ আপনাদের প্রতিদান দান করবেন।
তিনি উত্তর দিলেন:
সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।
এই কথাটি—অর্থাৎ বক্তার এই উক্তি যে নবীদের (তাঁদের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) মুজিযাসমূহ কেবল মনস্তাত্ত্বিক শক্তি—তা বাতিল, বরং এটি কুফর। যে ব্যক্তি এই কথা বলে, তাকে তাওবাহ করার আহ্বান জানাতে হবে এবং তার সামনে সত্য সুস্পষ্ট করতে হবে। অতঃপর তার ওপর শারঈ প্রমাণাদি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও যদি সে তার এই বিশ্বাসের ওপর অটল থাকে, তবে সে কাফির হিসেবে গণ্য হবে। আর তাওবাহর আহ্বান জানানোর পরও যদি সে তা প্রকাশ করার ওপর জেদ ধরে, তবে তাকে হত্যা করা হবে।
এটি দার্শনিকদের একটি দল এবং কারামিতা সম্প্রদায়ের বক্তব্য।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
الباطنية والإسماعيلية ونحوهم كابن سينا وأمثاله وأصحاب رسائل إخوان الصفا والعبيدين الذين كانوا بمصر من الحاكمية وأشباههم وهؤلاء كانوا يتظاهرون بالتشيع وهم في الباطن ملاحدة ويسمون القرامطة والباطنية وغير ذلك
বাতেনিয়া, ইসমাইলিয়া এবং তাদের ন্যায় অন্যান্যরা—যেমন ইবনে সিনা ও তাঁর সদৃশ ব্যক্তিবর্গ এবং 'ইখওয়ান আস-সাফা' পত্রাবলির রচয়িতাগণ, আর মিশরের হাকিমিয়্যাহ বংশীয় উবায়দিগণ ও তাদের সমমনা ব্যক্তিবর্গ; তারা বাহ্যিকভাবে শিয়াতন্ত্র প্রকাশ করত, অথচ তারা অভ্যন্তরীণভাবে ছিল নাস্তিক। তাদের কারামিতা, বাতেনিয়া এবং এজাতীয় অন্যান্য নামে অভিহিত করা হয়।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
وأهل بيت ابن سينا كانوا من أتباع هؤلاء وأبوه وجده من أهل دعوتهم وبسبب ذلك دخل في مذاهب الفلاسفة فإن هؤلاء يتظاهرون باتباع الملل ويدعون أن للملة باطنا يناقض ظاهرها
ثم هم في هذه الدعوة على درجات فالواصلون منهم إلى البلاغ الأكبر والناموس الأعظم مثل قرامطة
ইবনে সিনার পরিবারের সদস্যরা ছিল এদের অনুসারী এবং তার পিতা ও পিতামহ তাদের দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এরই সূত্র ধরে সে দার্শনিকদের মতবাদে প্রবেশ করে; কেননা তারা বাহ্যিকভাবে বিভিন্ন ধর্ম অনুসরণের ভান করে এবং দাবি করে যে, ধর্মের এমন এক বাতেন (অন্তর্নিহিত রহস্য) রয়েছে যা তার জাহেরের (প্রকাশ্য রূপের) পরিপন্থী।
অতঃপর এই দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদের মাঝে বিভিন্ন স্তর রয়েছে; সুতরাং তাদের মধ্যে যারা 'আল-বালাগ আল-আকবার' (মহাসংবাদ) এবং 'আন-নামুস আল-আজম' (মহাশরিয়ত) পর্যন্ত পৌঁছেছে, তারা হচ্ছে কারামাতিয়াদের মতো।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
البحرين أتباع الجنابي وأصحاب الألموت وسنان الذي كان بالشام وأمثالهم لا يعتقدون وجوب الصلوات الخمس ولا الزكاة ولا صيام شهر رمضان ولا حج البيت العتيق ولا تحريم ما حرم الله ورسوله من الخمر والميسر والزنا وغير ذلك ويزعمون أن هذه النصوص لها
বাহরাইনের আল-জান্নাবীর অনুসারীগণ, আলমুতের অধিবাসীগণ এবং সিরিয়ায় অবস্থানকারী সিনান ও তাদের সমমনারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, যাকাত, রমজান মাসের সিয়াম কিংবা প্রাচীন গৃহের হজ্জের আবশ্যকতা স্বীকার করে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মদ, জুয়া, ব্যভিচার এবং এই জাতীয় যা কিছু হারাম করেছেন, তারা সেগুলোকে হারাম মনে করে না। তারা দাবি করে যে, এই ভাষ্যগুলোর রয়েছে
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
تأويل وباطن يخالف الظاهر المعلوم للمسلمين فالصلاة عندهم معرفة أسرارهم والصيام كتمان أسرارهم والحج زيارة شيوخهم وأمثال ذلك وقد يقولون أن هذه الفرائض تسقط عن الخاصة دون العامة وأما النصوص التي في المعاد وفي أسماء الله وصفاته وملائكته فدعواهم فيها أوسع وأكثر
وقد دخل في كثير من أقوالهم في العلوم أو في العلوم والأعمال طائفة من المنتسبين إلى التصوف والكلام وكلام ابن عربي وابن سبعين وأمثالهما من ملاحدة المتصوفة يرجع إلى قول هؤلاء.
وهؤلاء الملاحدة من المتفلسفة والقرامطة ومن وافقهم يقولون أن النبوة لها ثلاث خصائص من قامت به فهو نبي والنبوة عندهم لا تنقطع بل يبعث الله بعد كل نبي نبيا دائما وكثير منهم يقول أنها مكتسبة وكان السهروردي
মুসলমানদের নিকট জ্ঞাত প্রকাশ্য বিষয়ের পরিপন্থী ব্যাখ্যা ও রূপক অর্থ প্রদান; ফলে তাদের নিকট সালাত হলো তাদের গোপন রহস্য জানা, সিয়াম হলো তাদের রহস্য গোপন রাখা এবং হজ হলো তাদের শাইখদের যিয়ারত করা এবং এই জাতীয় বিষয়াবলি। তারা বলে থাকে যে, এই ফরজ কাজগুলো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ওপর থেকে রহিত হয়ে যায়, সাধারণদের ক্ষেত্রে নয়। আর পরকাল এবং আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি ও তাঁর ফেরেশতাগণের বিষয়ে যেসব সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে, সেগুলোতে তাদের দাবি আরও ব্যাপক ও অধিক।
তাসাউফ ও ইলমুল কালামের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি দল জ্ঞান অথবা জ্ঞান ও আমলের ক্ষেত্রে তাদের অনেক মতবাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইবনে আরাবি, ইবনে সাবঈন এবং তাদের মতো নাস্তিক সুফিদের কথাবার্তা মূলত এদের বক্তব্যের দিকেই ফিরে যায়।
দার্শনিক ও কারামাতিদের মধ্য থেকে এসব নাস্তিক এবং যারা তাদের সাথে একমত পোষণ করেছে, তারা বলে যে নবুওয়তের তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যার মাঝে এগুলো বিদ্যমান থাকবে সেই ব্যক্তিই নবী। তাদের নিকট নবুওয়তের ধারা বন্ধ হয় না, বরং আল্লাহ সর্বদা প্রত্যেক নবীর পরে একজন করে নবী প্রেরণ করতে থাকেন। তাদের অনেকেই বলে যে নবুওয়ত হলো অর্জনসাধ্য বিষয়। আর সোহরাওয়ার্দী ছিলেন
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
المقتول منهم يطلب أن يصير نبيا وكذلك ابن سبعين كان يطلب أن يصير نبيا وكانوا يعلمون من السحر والسيماء ما يضلون من يلبسون عليه:
الخاصة الأولى: أن تكون له قوة قدسية وهي قوة الحدس بحيث يحصل له من العلم بسهولة ما لا يحصل لغيره إلا بكلفة شديدة وقد يعبرون عن ذلك بأنه يدرك الحد الأوسط من غير احتياج إلى ما يحتاج إليه من ليس مثله وحاصل الأمر أنه أذكى من غيره وأن العلم عليه أيسر منه على غيره.
الخاصة الثانية: قوة التخييل والحس الباطن بحيث يتمثل له ما يعلمه في نفسه فيراه ويسمعه فيرى في نفسه صورا نورانية هي عندهم ملائكة الله ويسمع في نفسه أصواتا هي عندهم كلام الله من جنس ما يحصل للنائم في منامه ومن
তাদের মধ্য থেকে নিহত ব্যক্তি নবী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করত এবং একইভাবে ইবনে সাবয়িনও নবী হতে চাইত। তারা যাদু ও সিমিয়া (প্রতীকী বিদ্যা) সম্পর্কে এমন সব জ্ঞান রাখত যার মাধ্যমে তারা যাদের ওপর সত্য-মিথ্যার আবরণ আরোপ করত তাদের বিভ্রান্ত করত:
প্রথম বৈশিষ্ট্য: তার একটি পবিত্র শক্তি থাকবে, যা হলো প্রজ্ঞা বা অন্তর্দৃষ্টির শক্তি; যার ফলে সে অনায়াসে এমন জ্ঞান অর্জন করে যা অন্য কেউ কঠোর পরিশ্রম ব্যতীত লাভ করতে পারে না। তারা একে এভাবে ব্যক্ত করে যে, সে তার মতো নয় এমন ব্যক্তিদের যা প্রয়োজন হয় তা ছাড়াই 'মধ্যম পদ' (Logical middle term) উপলব্ধি করতে সক্ষম। সারকথা হলো, সে অন্যের চেয়ে অধিক মেধাবী এবং তার নিকট জ্ঞান অর্জন অন্যদের তুলনায় সহজতর।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: কল্পনাশক্তি ও অভ্যন্তরীণ ইন্দ্রিয়শক্তি; যার ফলে সে যা জানে তা তার মানসপটে মূর্ত হয়ে ওঠে এবং সে তা প্রত্যক্ষ ও শ্রবণ করতে পারে। ফলে সে নিজের মধ্যে কিছু জ্যোতির্ময় অবয়ব দেখতে পায়, যা তাদের মতে আল্লাহর ফেরেশতা; এবং সে নিজের মাঝে কিছু শব্দ শুনতে পায়, যা তাদের নিকট আল্লাহর বাণী—ঠিক যেমন একজন ঘুমন্ত ব্যক্তি ঘুমের মধ্যে দেখে থাকে এবং...
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
جنس ما يحصل لبعض أهل الرياضة ومن جنس ما يحصل لبعض الممرورين الذين يصرعون ويقولون إن ما أخبرت به الرسل من أمور الربوبية واليوم الآخر إنما هو تخييل وأمثال مضروبة لا أنه إخبار عن الحقائق على ما هي عليه.
الخاصة الثالثة أن تكون له قوة نفسانية يتصرف بها في هيولي العالم كما أن العائن له قوة نفسانية يؤثر بها في المعين ويزعمون أن خوارق العادات التي للأنبياء والأولياء هي من هذا النمط وأصل أمر هؤلاء أنهم لا يثبتون لصانع العالم مشيئة واختيارا وقدرة بها يقدر على تغيير العالم وتحويله من حال إلى حال بل وأئمتهم لا يثبتون علمه بتفاصيل أحوال العالم بل منهم من يقول لا يعلم شيئا ومنهم من يقول لا يعلم إلا نفسه ومنهم من يقول يعلم الجزئيات على وجه كلي وهذا اختيار ابن سينا وهو أجود أقوالهم مع تناقض هذا القول وفساده.
এটি সেই প্রকারের বিষয় যা কিছু আধ্যাত্মিক সাধক এবং কিছু পিত্তদোষে আক্রান্ত বা মৃগীগ্রস্তদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে যারা জ্ঞান হারায় এবং দাবি করে যে, রাসুলগণ রুবুবিয়্যাত ও পরকাল সংক্রান্ত যা সংবাদ দিয়েছেন তা কেবল কল্পনা ও রূপক মাত্র, বাস্তব সত্যের প্রকৃত সংবাদ নয়।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হলো, তার এমন একটি আত্মিক শক্তি থাকবে যার মাধ্যমে সে জগতের আদি উপাদানে (হায়ুলা) হস্তক্ষেপ করতে পারবে, ঠিক যেমন কুনজর দানকারীর এমন আত্মিক শক্তি থাকে যার দ্বারা সে নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। তারা দাবি করে যে, নবী ও ওলীদের অলৌকিক ঘটনাবলি মূলত এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত। এদের মতবাদের মূল ভিত্তি হলো যে, তারা জগত স্রষ্টার জন্য এমন কোনো ইচ্ছা, ইখতিয়ার বা সক্ষমতা সাব্যস্ত করে না যার মাধ্যমে তিনি জগতকে পরিবর্তন করতে এবং একে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তরিত করতে সক্ষম। এমনকি তাদের প্রধানগণ জগতের বিশদ অবস্থা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞানকেও স্বীকার করে না। বরং তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে যে তিনি কিছুই জানেন না, কেউ বলে তিনি নিজেকে ছাড়া অন্য কিছু জানেন না, আবার কেউ বলে তিনি বিশেষ বিষয়সমূহকে কেবল সাধারণ বা সামষ্টিক উপায়ে জানেন। এটি ইবনে সিনার অভিমত, যা তাদের মতবাদগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত শ্রেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও স্ববিরোধী ও অসার।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
فإن كل موجود في الخارج هو موجود معين جزئي والكليات إنما تكون كليات في الأذهان لا في الأعيان ونفس الصانع موجود واجب معين ليس هو كليا وكذلك أيضا الصادر عنه كالأفلاك وكالعقول والنفوس التي يثبتونها فإن كان لا يعلم إلا كليا لم يعلم نفسه ولا الصادر عنه ولا الأفلاك وأيضا فلا يوجد إلا ما هو جزئي فإن كان لا يعلم إلا الكليات لم يعلم شيئا من الموجودات.
وهم يقولون أنه علة تامة مستلزمة للعالم والعالم متولد عنه تولدا لازما بحيث لا يمكن أن ينفك عنه لأن العلة التامة مستلزمة لمعلولها وقولهم أن النفوس والعقول معلولة له ومتولدة عنه أعظم كفرا من قول من قال من مشركي العرب أن الملائكة بنات الله قال الله تعالى: {وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ وَخَرَقُوا لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يَصِفُونَ} وهؤلاء المتفلسفة يقولون العقل بمنزلة الذكر والنفس بمنزلة الأنثى وكلاهما متولد عن الله تعالى وأولئك كانوا يقولون أنه خلق الملائكة بمشيئته وقدرته وأنه هو رب السماوات والأرض وأما هؤلاء فيقولون أن العقول التي يسميها من يتظاهر بالإسلام منهم ملائكة يقولون أنها معلولة متولدة عن الله لم
প্রকৃতপক্ষে বাহ্যিক জগতে বিদ্যমান প্রতিটি বস্তুই নির্দিষ্ট ও বিশেষ, আর সার্বিক বিষয়সমূহ কেবল মনে বিদ্যমান থাকে, বাস্তবে নয়। স্বয়ং স্রষ্টা হলেন নির্দিষ্ট এবং এক আবশ্যিক বিদ্যমান সত্তা, তিনি কোনো সার্বিক সত্তা নন। একইভাবে তাঁর থেকে যা কিছু নির্গত হয়েছে, যেমন আকাশমন্ডলী এবং সেই বুদ্ধিবৃত্তি ও আত্মা যা তারা সাব্যস্ত করে থাকে—তাও তদ্রূপ। অতএব, তিনি যদি কেবল সার্বিক বিষয় সম্পর্কেই অবগত হতেন, তবে তিনি নিজেকে, তাঁর থেকে নির্গত বিষয়সমূহ এবং আকাশমন্ডলী সম্পর্কেও জানতেন না। অধিকন্তু, জগতে বিশেষ বস্তু ব্যতীত অন্য কিছুর অস্তিত্ব নেই; সুতরাং তিনি যদি কেবল সার্বিক বিষয়সমূহ জানতেন, তবে বিদ্যমান বস্তুসমূহের কোনোটি সম্পর্কেই তাঁর জ্ঞান থাকত না।
তারা বলে যে, তিনি জগতের জন্য এক পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং জগত তাঁর থেকে অনিবার্যভাবে উৎপন্ন হয়েছে, যা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অসম্ভব; কেননা পূর্ণাঙ্গ কারণ তার কার্যের জন্য অপরিহার্য। আর আত্মা ও বুদ্ধিবৃত্তিগুলো তাঁর দ্বারা প্রভাবিত কার্য এবং তাঁর থেকে উৎপন্ন—তাদের এই বক্তব্য আরবের মুশরিকদের সেই বক্তব্যের চেয়েও বড় কুফরি যারা বলেছিল যে ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। মহান আল্লাহ বলেন: "তারা জিনদের আল্লাহর শরিক সাব্যস্ত করেছে, অথচ তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর তারা না বুঝে তাঁর জন্য পুত্র ও কন্যা উদ্ভাবন করেছে। তিনি মহিমান্বিত এবং তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে তিনি বহু উর্ধ্বে।" আর এই দার্শনিকরা বলে যে, বুদ্ধিবৃত্তি পুরুষের সমতুল্য এবং আত্মা নারীর সমতুল্য এবং উভয়ই মহান আল্লাহ থেকে উৎপন্ন। অথচ ওই মুশরিকরা বলত যে, আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতা দ্বারা ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি আসমান ও জমিনের রব। পক্ষান্তরে এরা বলে যে বুদ্ধিবৃত্তিগুলো—যাদেরকে তাদের মধ্যকার ইসলাম দাবিদাররা ফেরেশতা বলে অভিহিত করে—তা আল্লাহ থেকে উদ্ভূত এবং তাঁর থেকে উৎপন্ন হয়েছে, যা...
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
يخلقها بمشيئته وقدرته ويقولون أنها هي رب العالم فالعقل الأول أبدع كل ما سوى الله عندهم والثاني أبدع ما سوى الله وسوى العقل الأول حتى ينتهي الأمر إلى العقل العاشر الفعال المتعلق بفلك القمر فيقولون أنه أبدع ما تحت الفلك فهو عندهم المبدع لما تحت السماء من هواء وسحاب وجبال وحيوان ونبات ومعدن ومنه يفيض الوحي والعلم على الأنبياء وغيرهم والخطاب الذي سمعه موسى إنما كان عندهم في نفسه لا في الخارج وهو فيض فاض عليه من هذا العقل الفعال ومنهم من يقول جبريل فلما كان أصل قولهم أن صانع العالم لا يمكنه تغيير العالم ولا له قدرة ولا اختيار في تصريفه من حال إلى حال جعلوا يريدون أن ينسبوا جميع الحوادث إلى أمور طبيعية ليطرد قولهم ويسلم عن التناقض وهو قول فاسد متناقض في نفسه وذلك أنا نشاهد الحوادث التي تحدث مثل حركات الكواكب وطلوع الشمس والقمر ومثل المطر والسحاب وهبوب الرياح وحدوث الحيوان والنبات والمعادن وغير ذلك من الحوادث
তিনি স্বীয় ইচ্ছা ও সক্ষমতায় তা সৃষ্টি করেন এবং তারা বলে যে, এটিই জগতসমূহের রব। তাদের মতে, প্রথম বুদ্ধি আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছু উদ্ভাবন করেছে এবং দ্বিতীয়টি আল্লাহ ও প্রথম বুদ্ধি ব্যতীত বাকি সব উদ্ভাবন করেছে, এভাবে চন্দ্রের কক্ষপথের সাথে সংশ্লিষ্ট দশম কর্মক্ষম বুদ্ধি পর্যন্ত বিষয়টি গিয়ে পৌঁছেছে। তারা বলে যে, এটিই কক্ষপথের নিচে যা কিছু আছে তা উদ্ভাবন করেছে; সুতরাং তাদের নিকট আকাশের নিচে বিদ্যমান বায়ু, মেঘমালা, পাহাড়, প্রাণী, উদ্ভিদ ও খনিজ পদার্থের উদ্ভাবক হলো এটিই। আর এ থেকেই নবীগণ ও অন্যদের নিকট ওহী ও জ্ঞান বিচ্ছুরিত হয়। মূসা যে বাণী শুনেছিলেন, তাদের মতে তা কেবল তাঁর নিজের অন্তরেই ছিল, বাইরে নয়; বরং তা ছিল এই কর্মক্ষম বুদ্ধি থেকে তাঁর ওপর বিচ্ছুরিত এক প্রবাহ মাত্র। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে জিবরাঈল বলে থাকে। যেহেতু তাদের মূল মতবাদ হলো—জগতের স্রষ্টা জগতকে পরিবর্তন করতে পারেন না এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় একে পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো সক্ষমতা বা ইচ্ছা নেই, তাই তারা সমস্ত ঘটনাকে প্রাকৃতিক বিষয়ের দিকে সম্পৃক্ত করতে চাইল যাতে তাদের বক্তব্য একসূত্রে গাঁথা থাকে এবং বৈপরীত্য থেকে নিরাপদ থাকে। অথচ এটি একটি অসার ও স্ববিরোধী কথা। এর কারণ হলো, আমরা প্রতিনিয়ত যেসব ঘটনা প্রত্যক্ষ করছি যেমন—গ্রহসমূহের গতিবিধি, সূর্য ও চন্দ্রের উদয়, বৃষ্টি, মেঘমালা, বায়ুপ্রবাহ এবং প্রাণী, উদ্ভিদ ও খনিজের উদ্ভবসহ অন্যান্য ঘটনাবলী।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
فإذا كان أصل قولهم أن الصانع هو موجب بالذات وهو علة تامة أزلية مستلزمة لمعلولها لم يتأخر عنها شيء من معلولها فإن العلة التامة هي التي تستلزم معلولها والموجب بالذات هو الذي تكون ذاته مستلزمة لموجبه ومقتضاه فلا يجوز أن يتأخر عنه شيء من موجبه ومعلوله ولهذا قالوا بقدم العالم وهذا أعظم حججهم على قدم العالم قالوا لأن الحادث بعد أن لم يكن لا بد له من سبب حادث وإلا لزم ترجيح أحد طرفي الممكن بلا مرجح ثم القول في ذلك السبب الحادث كالقول فيما قبله فيلزم التسلسل الممتنع باتفاق العقلاء بل يلزم الدور الممتنع بخلاف التسلسل المتنازع فيه فإن وجود الحوادث دائما بلا ابتداء ولا انتهاء للناس من المسلمين وغيرهم فيه ثلاثة أقوال قيل يجوز مطلقا وهذا قول أئمة السنة والحديث وأساطين الفلاسفة لكن المسلمون وسائر أهل الملل وجمهور العقلاء من جميع الطوائف يقولون أن كل ما سوى الله مخلوق حادث بعد أن لم يكن وإن قال منهم من قال بدوام الحوادث شيئا بعد شيء
সুতরাং যখন তাদের মতবাদের মূল ভিত্তি হলো এই যে, মহান স্রষ্টা সত্তাগতভাবে কার্যকারণ সাব্যস্তকারী এবং তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ অনাদি কারণ যা স্বীয় কার্যের জন্য অপরিহার্য, ফলে তাঁর কার্যের কোনো অংশই তাঁর থেকে বিলম্বিত হতে পারে না। কারণ পূর্ণাঙ্গ কারণ হচ্ছে সেটি যা স্বীয় কার্যকে অপরিহার্য করে দেয়, আর সত্তাগতভাবে কার্যকারণ সাব্যস্তকারী হচ্ছে তিনি যাঁর সত্তা স্বীয় প্রভাব ও চাহিদাকে অপরিহার্য করে; সুতরাং তাঁর প্রভাব ও কার্যের কোনো কিছুই তাঁর থেকে বিলম্বে ঘটা সম্ভব নয়। এই কারণেই তারা বিশ্বের অনাদিত্বের সপক্ষে মত দিয়েছে এবং এটিই বিশ্বের অনাদিত্বের বিষয়ে তাদের সর্ববৃহৎ যুক্তি। তারা বলে, যেহেতু কোনো বিষয় অস্তিত্বহীন থাকার পর নতুন করে অস্তিত্বশীল হওয়ার জন্য অবশ্যই একটি নতুন কারণ থাকা আবশ্যক; অন্যথায় কোনো কারণ ছাড়াই সম্ভাব্য দুটি অবস্থার একটির অগ্রাধিকার পাওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে। অতঃপর সেই নতুন কারণটি সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য হবে যা তার পূর্ববর্তী কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে। ফলে এমন এক অনাদি ধারাক্রম অনিবার্য হয়ে পড়বে যা জ্ঞানীদের ঐকমত্যে অসম্ভব, বরং এতে অসম্ভব আবর্তন অবধারিত হয়; যা সেই বিতর্কিত ধারাক্রমের বিপরীত। কেননা, কোনো সূচনা ও সমাপ্তি ছাড়াই নতুন ঘটনাবলির চিরন্তন অস্তিত্বের বিষয়ে মুসলিম এবং অন্যান্যদের মাঝে তিনটি মত রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, এটি নিরঙ্কুশভাবে সম্ভব; আর এটিই সুন্নাহ ও হাদিসের ইমামগণ এবং দার্শনিক মহাজনদের অভিমত। তবে মুসলিমগণ, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীগণ এবং সকল দলের অধিকাংশ বুদ্ধিমান ব্যক্তি এ কথাই বলেন যে, আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুই সৃষ্টি এবং তা পূর্বে অস্তিত্বহীন থাকার পর নতুন করে অস্তিত্বপ্রাপ্ত হয়েছে; যদিও তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ একের পর এক নতুন ঘটনার নিরবচ্ছিন্নতার কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
وقيل لا يجوز لا في الماضي ولا في المستقبل وهو قول الجهم بن صفوان وأبي الهذيل العلاف وقيل يجوز في المستقبل دون الماضي وهو قول أكثر أتباع جهم وأبي الهذيل من الجهمية والمعتزلة والأشعرية والكرامية ومن وافقهم وأما تسلسل العلل أو الفاعلين أو ما هو من تمام الفاعل أو العلة الفاعلة فممتنع باتفاق العقلاء مثل أن يقال لفاعل العالم فاعل ولذلك الفاعل فاعل وهلم جرا فهذا التسلسل قد اتفق العقلاء على امتناعه وقد بسطنا الدلائل العقلية على امتناعه في غير هذا الموضع وكذلك إذا قيل الحادث لا بد له من سبب حادث وذلك السبب لا بد له من سبب حادث فإن هذا إذا أريد به الحادث المعين لزم التسلسل في تمام الفاعلية وإن أريد به نوع الحوادث لزم الدور الممتنع
এবং বলা হয়েছে যে, এটি অতীত বা ভবিষ্যৎ কোনো কালেই সম্ভব নয়; আর এটি হলো জাহম বিন সাফওয়ান ও আবু আল-হুযাইল আল-আল্লাফের অভিমত। আবার বলা হয়েছে যে, এটি ভবিষ্যতে সম্ভব হলেও অতীতে নয়; আর এটি হলো জাহম ও আবু আল-হুযাইলের অধিকাংশ অনুসারী যেমন জাহমিয়া, মুতাজিলা, আশআরিয়া, কাররামিয়া এবং তাদের সাথে একমত পোষণকারীদের বক্তব্য। পক্ষান্তরে কার্যকারণ বা কর্তাদের অসীম ধারাবাহিকতা (তাসালসুল), অথবা যা কর্তার পূর্ণতা বা কার্যকর কারণের অন্তর্ভুক্ত, তা জ্ঞানীদের ঐকমত্যে অসম্ভব। যেমন—বিশ্বের স্রষ্টার জন্য একজন স্রষ্টা রয়েছেন, আবার সেই স্রষ্টার জন্য অন্য একজন স্রষ্টা রয়েছেন এবং এভাবে চলতে থাকা; এই অসীম ধারাবাহিকতার অসম্ভব হওয়ার বিষয়ে জ্ঞানীরা একমত হয়েছেন। আমরা এর অসম্ভবতা সম্পর্কে যৌক্তিক প্রমাণাদি অন্য স্থানে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। তদ্রূপ যদি বলা হয় যে, প্রতিটি সৃষ্ট বিষয়ের জন্য একটি সৃষ্ট কারণ থাকা আবশ্যক, আবার সেই কারণের জন্যও অন্য একটি সৃষ্ট কারণ থাকা আবশ্যক; তবে এর দ্বারা যদি নির্দিষ্ট কোনো সৃষ্ট বিষয়কে বোঝানো হয়, তবে তা কর্তার পূর্ণতার ক্ষেত্রে অসীম ধারাবাহিকতা সৃষ্টি করে। আর যদি এর দ্বারা সৃষ্ট বিষয়ের ধরণ বা প্রজাতিকে বোঝানো হয়, তবে তা অসম্ভব চক্রগতির দিকে নিয়ে যায়।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
والدور نوعان أحدهما الدور القبلي السبقي فهذا ممتنع باتفاق العقلاء مثل أن يقال لا يكون هذا إلا بعد ذاك ولا يكون ذاك إلا بعد هذا فهذا ممتنع باتفاق العقلاء ونفس تصوره يكفي في العلم بامتناعه فإن الشيء لا يكون قبل كونه ولا يتأخر كونه عن كونه فلو قيل إن الشيء لا يوجد إلا بعد أن يوجد لكان هذا ممتنعا فكيف إذا قيل أنه لا يكون إلا بعد ذاك وقيل أيضا ذاك لا يكون إلا بعد هذا فإنه يلزم أن يكون قبل قبل نفسه وبعد بعد نفسه فلزم الدور الممتنع أربع مرات فإنه إذا قيل لا يكون هذا إلا بعد ذاك كان ذاك قبل هذا وإذا قيل لا يكون ذاك إلا بعد هذا كان هذا بعد ذاك لا قبله فيلزم أن لا يكون هذا إلا قبل ذاك الذي هو قبل هذا وأن لا يكون ذاك إلا قبل هذا الذي هو قبل ذاك فيكون ذاك قبل ذاك بمرتبتين ويكون هذا قبل هذا بمرتبتين فلهذا اتفق العقلاء على امتناع هذا وأما الدور المعي الاقتراني مثل أن يقال لا يكون هذا إلا مع ذاك لا قبله ولا بعده فهذا جائز كما إذا قيل لا تكون الأبوة إلا مع البنوة وقيل أن صفات الرب اللازمة له لا تكون إلا مع ذاته وعلمه مع حياته وقدرته مع علمه ونحو ذلك
আর বৃত্তীয় কারণতা দুই প্রকার। এর মধ্যে একটি হলো পূর্ববর্তী বা অগ্রবর্তী বৃত্তীয় কারণতা; এটি বুদ্ধিমানদের সর্বসম্মতিক্রমে অসম্ভব। যেমন বলা হয়ে থাকে যে, এটি ওইটি ছাড়া হবে না, আর ওইটি এটি ছাড়া হবে না; এটি বুদ্ধিমানদের ঐকমত্যে অসম্ভব এবং এর নিছক কল্পনা করাই এর অসম্ভবতা জানার জন্য যথেষ্ট। কারণ কোনো বস্তু তার অস্তিত্ব লাভের আগে বিদ্যমান থাকতে পারে না এবং তার অস্তিত্ব লাভ তার অস্তিত্ব হওয়া থেকে বিলম্বিত হতে পারে না। সুতরাং যদি বলা হয় যে, কোনো বস্তু অস্তিত্বশীল হওয়ার পরই কেবল অস্তিত্ব লাভ করে, তবে তা অসম্ভব হবে। তাহলে অবস্থা কেমন দাঁড়াবে যখন বলা হয় যে, এটি হবে না ওইটি ছাড়া এবং পুনরায় বলা হয় যে ওইটিও হবে না এটি ছাড়া? কারণ এতে এটি নিজেরই আগে থাকা বস্তুর আগে থাকা এবং নিজেরই পরে থাকা বস্তুর পরে থাকা আবশ্যক করে। ফলে চারবার অসম্ভব বৃত্তীয় কারণতা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কেননা যখন বলা হয় ‘এটি ওইটির পরে ছাড়া হবে না’, তখন ওইটি হয় এটির আগে। আর যখন বলা হয় ‘ওইটি এটি ছাড়া হবে না’, তখন এটি হয় ওইটির পরে, তার আগে নয়। ফলে এটি আবশ্যক করে যে, এটি ওই বস্তুটির আগে ছাড়া হবে না যা খোদ এটিরই আগে। আর ওইটিও ওই বস্তুটির আগে ছাড়া হবে না যা খোদ ওইটিরই আগে। ফলে ওইটি ওইটিরই দুই স্তর আগে হবে এবং এটি এটিরই দুই স্তর আগে হবে। এই কারণেই বুদ্ধিমানগণ এর অসম্ভবতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আর সহাবস্থানমূলক বা যুগপৎ বৃত্তীয় কারণতা—যেমন বলা হয় যে, এটি ওইটি ছাড়া হবে না, অর্থাৎ তার আগে বা পরে নয় বরং তার সাথেই হবে—তবে তা সম্ভব। যেমন বলা হয়, পিতৃত্ব কেবল পুত্রত্বের সাথেই বিদ্যমান থাকে। আর বলা হয় যে, রবের জন্য তাঁর অবিচ্ছেদ্য গুণাবলি কেবল তাঁর সত্তার সাথেই বিদ্যমান থাকে; তাঁর জ্ঞান তাঁর জীবনের সাথে এবং তাঁর ক্ষমতা তাঁর জ্ঞানের সাথে থাকে, ইত্যাদি।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
فإذا قيل إن جنس الحوادث لا يحدث إلا بسبب حادث كان المعنى أنه لا يكون شيء من الحوادث حتى يكون حادث فلايكون حادث من الحوادث ألبتة حتى يسبقه حادث والسابق من الحوادث التي جعلت متأخرة عن هذا الحادث وجعلت الحوادث كلها بعده فيلزم أن يكون الشي قبل نفسه وأما إذا قيل لا يكون الحادث المعين حتى يكون حادث ثم ذلك الحادث لا يكون حتى يكون حادث فهذا على وجهين إن قيل لا يكون الحادث حتى يكون قبله حادث فهذا التسلسل في الآثار وفيه الأقوال الثلاثة للمسلمين وليس الخلاف في ذلك بين أهل الملل وغيرهم كما يظنه كثير من الناس بل نفس أهل الملل بل أئمة أهل الملل أهل السنة والحديث يجوزون هذا النزاع في كلمات الله وأفعاله فيقولون إن الرب لم يزل متكلما إذا شاء وكلمات الله دائمة قديمة النوع عندهم لم تزل ولا تزال أزلا وأبدا وقد بسط هذا وما يناسبه في موضع آخر وذكر بعض ما في ذلك من أقوال أئمة السنة والحديث وأما ما يذكره كثير من أهل الكلام عن أهل الملل المسلمين واليهود والنصارى أن الله لم يزل معطلا لا يتكلم ولا يفعل شيئا ثم حدث ما حدث من كلام ومفعولات بغير سبب حادث فهذا قول لم ينطق به شيء من كتب الله لا القرآن ولا التوراة ولا الإنجيل ولا الزبور ولا نقل هذا عن أحد من أنبياء الله ولا قاله أحد من الصحابة
যদি বলা হয় যে, সৃষ্ট বস্তুসমূহের শ্রেণী কোনো সৃষ্ট কারণ ছাড়া সৃষ্টি হয় না, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় যে, কোনো সৃষ্ট বস্তু ততক্ষণ পর্যন্ত অস্তিত্ব লাভ করে না যতক্ষণ না অন্য কোনো সৃষ্ট বস্তু বিদ্যমান থাকে। ফলে কোনো সৃষ্ট বস্তুই একেবারেই সৃষ্টি হতে পারবে না যতক্ষণ না তার আগে কোনো সৃষ্ট বস্তু অতিবাহিত হয়। আর সেই পূর্ববর্তী সৃষ্ট বস্তু যদি এই সৃষ্ট বস্তুর পরে গণ্য করা হয় এবং সমস্ত সৃষ্টিকে এর পরে স্থান দেওয়া হয়, তবে তা বস্তুর নিজের চেয়ে নিজের আগে থাকা অপরিহার্য করে তোলে। আর যদি বলা হয় যে, নির্দিষ্ট কোনো সৃষ্ট বস্তু ততক্ষণ পর্যন্ত অস্তিত্ব লাভ করে না যতক্ষণ না অন্য কোনো সৃষ্ট বস্তু বিদ্যমান থাকে, আবার সেই সৃষ্ট বস্তুও ততক্ষণ অস্তিত্ব লাভ করে না যতক্ষণ না অন্য কোনো সৃষ্ট বস্তু বিদ্যমান থাকে, তবে এটি দুই ধরণের হতে পারে। যদি বলা হয় যে, কোনো সৃষ্ট বস্তু ততক্ষণ অস্তিত্ব লাভ করে না যতক্ষণ না তার পূর্বে অন্য কোনো সৃষ্ট বস্তু অতিবাহিত হয়, তবে এটি হলো ফলাফলের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা, আর এ বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে তিনটি অভিমত রয়েছে। এই বিরোধটি কেবল ধর্মাবলম্বী ও অন্যদের মাঝে নয়, যেমনটি অনেক মানুষ ধারণা করে থাকে; বরং খোদ ধর্মাবলম্বীদের মাঝে, এমনকি আহলে সুন্নাত ওয়াল হাদিসের ইমামগণ আল্লাহর কথা ও কার্যাবলীর ক্ষেত্রে এই মতভেদকে বৈধ মনে করেন। তাঁরা বলেন যে, প্রতিপালক অনাদিকাল থেকেই কথা বলে আসছেন যখন তিনি চান এবং আল্লাহর কথা তাঁদের নিকট শ্রেণীকগতভাবে চিরস্থায়ী ও প্রাচীন; তা অনাদিকাল থেকে ছিল এবং অনন্তকাল ধরে থাকবে। এই বিষয়টি এবং এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং সেখানে আহলে সুন্নাত ও হাদিসের ইমামদের এ সংক্রান্ত কিছু বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। আর অনেক ধর্মতত্ত্ববিদ মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে যা উল্লেখ করেন যে, আল্লাহ অনাদিকাল ধরে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, কোনো কথা বলতেন না এবং কোনো কিছু সৃষ্টি করেননি, অতঃপর কোনো নতুন কারণ ছাড়াই তাঁর কথা ও সৃষ্টিসমূহ অস্তিত্ব লাভ করেছে—এটি এমন এক উক্তি যা আল্লাহর কোনো কিতাবে (কুরআন, তাওরাত, ইনজিল বা যাবুর) বর্ণিত হয়নি, আল্লাহর কোনো নবী থেকে এটি বর্ণিত হয়নি এবং কোনো সাহাবীও তা বলেননি।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
أصحاب نبينا صلى الله عليه وسلم ولا التابعين لهم بإحسان ولكن الذي نطقت به الكتب والرسل أن الله خالق كل شيء فما سوى الله من الأفلاك والملائكة وغير ذلك مخلوق ومحدث كائن بعد أن لم يكن مسبوق بعدم نفسه وليس مع الله شيء قديم بقدمه في العالم لا أفلاك ولا ملائكة سواء سميت عقولا ونفوسا أو لم تسم والحديث الذي في صحيح البخاري عن عمران بن حصين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه لما قدم عليه وفد اليمن قالوا: جئناك لنتفقه في الدين ونسألك عن أول هذا الأمر فقال: "كان الله ولم يكن شيء قبله وكان عرشه على
আমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবীগণ কিংবা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণও (নন); বরং আসমানি কিতাবসমূহ এবং রাসূলগণ যা ব্যক্ত করেছেন তা হলো—নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা। সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত আসমানি গোলকসমূহ, ফেরেশতাকুল এবং অন্য যা কিছু আছে, সবই সৃষ্টি এবং নবসৃষ্ট; যা পূর্বে ছিল না বরং নিজস্ব অনস্তিত্বের পর অস্তিত্ব লাভ করেছে। এই জগতের কোনো কিছুই আল্লাহর অনাদিত্বের ন্যায় অনাদি নয়—তা আসমানি গোলক হোক বা ফেরেশতা, চাই সেগুলোকে 'আকল' ও 'নাফস' নামে অভিহিত করা হোক বা না হোক। আর সহীহ বুখারীতে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত যে হাদীসটি রয়েছে, তাতে আছে যে—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট যখন ইয়ামেনের প্রতিনিধি দল আসলেন, তখন তারা বললেন: "আমরা আপনার নিকট দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে এবং এই সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছি।" তখন তিনি বললেন: "আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না, আর তাঁর আরশ ছিল... এর উপর।"
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الماء وكتب في الذكر كل شيء وخلق السماوات والأرض" قد ذكرنا ألفاظه وطرقه وذكرنا الحديث الآخر الذي رواه مسلم في صحيحه عن عبد الله بن عمرو عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "قدر الله مقادير الخلائق قبل أن يخلق السماوات والأرض بخمسين ألف سنة وكان عرشه على الماء" والحديث الآخر الذي رواه مسلم أيضا في صحيحه عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يقول: " أنت الأول فليس قبلك شيء وأنت الآخر فليس بعدك شيء وأنت الظاهر فليس فوقك شيء وأنت الباطن فليس دونك شيء اقض عني الدين وأغنني من الفقر" وذكرنا أن حديث عمران رواه البخاري في ثلاثة مواضع بثلاثة ألفاظ كان الله ولم يكن شيء قبله ورواه في موضع ولم يكن شيء معه ورواه في موضع آخر ولم يكن شيء
...পানি। আর তিনি যিকিরে (লওহে মাহফুজে) সবকিছু লিখে রেখেছেন এবং আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন।" আমরা এর শব্দগুলো এবং এর সূত্রসমূহ উল্লেখ করেছি। এবং আমরা অপর সেই হাদিসটিও উল্লেখ করেছি যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টিজগতের তকদির নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির উপর।" এবং অপর সেই হাদিসটিও যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "আপনিই আদি, আপনার আগে কিছুই নেই; আপনিই অন্ত, আপনার পরে কিছুই নেই; আপনিই প্রকাশ্য, আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনিই গোপন, আপনার নিচে কিছুই নেই। আপনি আমার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাকে অভাবমুক্ত করে স্বাবলম্বী করুন।" আমরা আরও উল্লেখ করেছি যে, ইমরানের হাদিসটি ইমাম বুখারী তিনটি স্থানে তিনটি ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর পূর্বে কিছুই ছিল না।" এক স্থানে বর্ণিত হয়েছে: "এবং তাঁর সাথে কিছুই ছিল না।" আর অন্য এক স্থানে বর্ণিত হয়েছে: "এবং কিছুই ছিল না।"
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
غيره وأن المجلس كان واحدا لم يقل النبي صلى الله
অন্যান্য এবং নিশ্চয়ই মজলিসটি এক ছিল, সে সম্পর্কে নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বলেননি
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
عليه وسلم إلا واحدا من الثلاث وقد ثبت أنه قال: "ليس قبلك شيء" واللفطان الآخران رويا بالمعنى وبينا على كل تقدير أن مراد النبي صلى الله عليه وسلم جواب أهل اليمن عما سألوه من ابتداء خلق هذا العالم الذي خلق في ستة أيام وكان عرش الله على الماء قبل ذلك وقدر الله مقادير هذا العالم قبل أن يخلقه بخمسين ألف سنة والمقصود هنا أنه إذا قيل لا يكون حادث حتى يكون حادث فهذا على وجهين أحدهما أنه لا يكون حادث حتى يكون قبله حادث فهذا فيه نزاع مشهور والثاني أن يقال أنه لا يكون حادث حتى يكون معه حادث لامتناع حدوث الحادث بلا سبب حادث لأن الفاعل لا يفعل بعد أن لم يكن فاعلا إلا لحدوث سبب حادث فهذا يوجب أن القديم لا يصدر عنه حادث ألبتة لأنه متى حدث حادث بلا سبب حادث انتقضت القضية الكلية فيلزم أن لا يفعل البتة شيئا وإن فعل لزم ترجيح أحد المتماثلين بلا مرجح وهذه الحجة أعيت كثيرا من أهل الكلام والنظر حتى قال كثير منهم القادر يرجح أحد طرفي مقدوره بلا مرجح وكذلك قال الآخرون نفس الإرادة القديمة هي المرجحة لأحد المثلين على الآخر
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এই তিনটি শব্দের মধ্যে একটি ব্যতীত আর কোনোটি বর্ণিত হয়নি এবং এটি সাব্যস্ত যে তিনি বলেছেন: "আপনার পূর্বে কোনো কিছুই ছিল না।" অপর দুটি শব্দ অর্থগতভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং সকল বিচারেই এটি স্পষ্ট যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য ছিল ইয়ামেনবাসীদের সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, যা তারা এই জগত সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল যা ছয় দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে। এর পূর্বে আল্লাহর আরশ পানির ওপর ছিল এবং আল্লাহ এই জগত সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই এর তাকদীর নির্ধারণ করেছিলেন। এখানে উদ্দেশ্য হলো, যখন বলা হয় যে কোনো নতুন বিষয় (হাদিস) অস্তিত্বে আসে না যতক্ষণ না অন্য কোনো নতুন বিষয় ঘটে, তখন তা দুই প্রকারে হতে পারে। প্রথমটি হলো, কোনো নতুন বিষয় অস্তিত্বে আসে না যতক্ষণ না তার পূর্বে অন্য কোনো নতুন বিষয় থাকে; এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ বিতর্কের বিষয়। দ্বিতীয়টি হলো, এমন বলা যে কোনো নতুন বিষয় অস্তিত্বে আসে না যতক্ষণ না তার সাথে অন্য কোনো নতুন বিষয় থাকে; কারণ নতুন কোনো কারণ ব্যতীত কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটা অসম্ভব। কারণ কোনো কর্তা কাজ করেন না যখন তিনি আগে কাজ করেননি, যদি না কোনো নতুন কারণের উদ্ভব ঘটে। এটি এই সিদ্ধান্তকে অনিবার্য করে তোলে যে, অনাদি সত্তা (কাদিম) থেকে নতুন কোনো কিছু মোটেও প্রকাশিত হবে না। কারণ যখনই কোনো নতুন কারণ ছাড়াই কোনো নতুন বিষয় ঘটবে, তখনই সেই সার্বজনীন নীতিটি খণ্ডিত হবে। ফলে সাব্যস্ত হবে যে তিনি কোনো কিছুই করবেন না, আর যদি করেন তবে কোনো অগ্রাধিকার দানকারী কারণ ছাড়াই দুটি সমরূপ বিষয়ের একটিকে প্রাধান্য দেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়বে। এই যুক্তিটি ইলমুল কালাম ও তাত্ত্বিক দর্শনের অনেক পণ্ডিতকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দিয়েছে, এমনকি তাদের অনেকে বলেছেন যে, ক্ষমতাশালী সত্তা তাঁর ক্ষমতার অধীন বিষয়ের যেকোনো এক দিককে কোনো কারণ ছাড়াই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। তেমনিভাবে অন্যরা বলেছেন, স্বয়ং অনাদি ইচ্ছাই সমরূপ দুটি বিষয়ের একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দানকারী।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
ونحن ننبه على ما به يعلم فساد قولهم والجواب عن حجتهم وقد بسطنا الكلام على ذلك في مواضعه فيقال إذا كان الصانع قديما موجبا بالذات وعلته تامة أزلية لزم ألا يتأخر عنه شيء من موجبه ومعلوله كما ذكروا لأن المتأخر إن كان قد وجدت كلته التامة في الأزل لزم أن يكون أزليا لا يتأخر وإن لم يوجد فقد وجدت علته التامة بعد أن لم تكن سواء كان الحادث شرطا من شروط تمام العلة أو غير ذلك ثم القول في علة تلك العلة كالقول في العلة التي هي معلول هذه فيلزم ألا يكون لشيء من الحوادث علة تامة في الأزل وهذا لازم لقولهم لا محيد عنه فإن العلة التامة تستلزم معلولها فالحادث لا تكون علته تامة في الأزل فيلزم على ذلك ألا يكون شيء من الحوادث حادثا عن العلة التامة التي هي واجب الوجود وحينئذ فأما أن تكون الحوادث حادثة بنفسها وهذا معلوم الفساد بالضرورة وهم يسلمون فساده وإما أن تكون حادثة عن فاعل آخر غير الواجب الموجود بنفسه فله فاعل ثم ذلك الفاعل إن لم يكن واجب الوجود بنفسه فله فاعل والقول في حدوث الحوادث عنه كالقول في الأول وإن كان واجب الوجود بنفسه كان القول فيه كالقول في ذلك الواجب إن كان علة تامة لزم ألا يحدث عنه حادث وإن لم يكن علة تامة بطل قولهم بالموجب بالذات فتبين فساد قولهم على كل تقدير وغاية ما يقولون أنهم يقولون أن لك حادث مشروط
আমরা সেই বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যার মাধ্যমে তাদের মতবাদের অসারতা এবং তাদের যুক্তির উত্তর জানা যায়। আমরা ইতিপূর্বে এর বিভিন্ন স্থানে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এমতাবস্থায় বলা হয় যে, যদি স্রষ্টা অনাদি এবং সত্তাগতভাবে অপরিহার্য কারণ হন এবং তাঁর কারণটি অনাদি ও পূর্ণাঙ্গ হয়, তবে তাঁর থেকে তাঁর অপরিহার্য প্রভাব ও কার্যের কোনো কিছুই বিলম্বে ঘটা অসম্ভব হবে, যেমনটি তারা উল্লেখ করেছে। কারণ, বিলম্বে সংঘটিত বিষয়টির যদি অনাদিকাল থেকেই তার পূর্ণাঙ্গ কারণ বিদ্যমান থাকে, তবে সেটি অনাদি হওয়া আবশ্যক এবং তার বিলম্ব হওয়া অসম্ভব। আর যদি তা বিদ্যমান না থাকে, তবে তার পূর্ণাঙ্গ কারণটি না থাকার পর অস্তিত্বে এসেছে, চাই সেই নতুন সৃষ্ট বিষয়টি কারণটি পূর্ণ হওয়ার কোনো শর্ত হোক বা অন্য কিছু। এরপর সেই কারণের কারণ সম্পর্কে বক্তব্যটি হবে ঠিক তেমনই যেমনটি ছিল সেই কারণ সম্পর্কে যা এর কার্য। ফলে এটি অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায় যে, নতুন সৃষ্ট কোনো বিষয়ের জন্যই অনাদিতে কোনো পূর্ণাঙ্গ কারণ নেই। আর এটি তাদের মতবাদ অনুযায়ী অনিবার্য এবং তা থেকে বাঁচার কোনো পথ নেই; কেননা পূর্ণাঙ্গ কারণ তার কার্যকে অপরিহার্য করে দেয়। সুতরাং নতুন সৃষ্ট বিষয়ের কারণ অনাদিতে পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। এমতাবস্থায় এটি অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, নতুন সৃষ্ট কোনো বিষয়ই সেই পূর্ণাঙ্গ কারণ থেকে উৎসারিত নয় যা সত্তাগতভাবে আবশ্যকীয় অস্তিত্ব। তখন হয় নতুন সৃষ্ট বিষয়গুলো নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়েছে—আর এর অসারতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং তারা নিজেরাও এর অসারতা স্বীকার করে। অথবা তা সত্তাগতভাবে আবশ্যকীয় অস্তিত্ব ব্যতিরেকে অন্য কোনো কর্তা দ্বারা সৃষ্টি হয়েছে, তবে তারও একজন কর্তা থাকবে। অতঃপর সেই কর্তা যদি সত্তাগতভাবে আবশ্যকীয় অস্তিত্ব না হয়, তবে তারও একজন কর্তা থাকবে এবং তার মাধ্যমে নতুন বিষয় সৃষ্টির আলোচনাও প্রথমটির মতোই হবে। আর যদি সে সত্তাগতভাবে আবশ্যকীয় অস্তিত্ব হয়, তবে তার ক্ষেত্রে বক্তব্যটি হবে সেই প্রথম আবশ্যকীয় অস্তিত্বের মতোই। যদি সে পূর্ণাঙ্গ কারণ হয়, তবে তার থেকে নতুন কিছু সৃষ্টি হওয়া অসম্ভব। আর যদি সে পূর্ণাঙ্গ কারণ না হয়, তবে তাদের সত্তাগত অপরিহার্য কারণের দাবি বাতিল হয়ে যায়। ফলে প্রতিটি অবস্থাতেই তাদের মতবাদের অসারতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর তারা বড়জোর যা বলতে পারে তা হলো যে, প্রতিটি নতুন সৃষ্ট বিষয় শর্তযুক্ত।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
بحادث قبله والحوادث معدات وشروط للفيض عن الواجب بذاته ويقولون أن حركة الفلك هي سبب الحوادث والتغييرات فيقال لهم هب أن الأمر كذلك فالحوادث المتعاقبة سواء كانت حركة متصلة أو غير ذلك إذا كانت لم تصدر إلا عن علة تامة لزم أن تكون مقارنة للعلة التامة فإن العلة التامة يجب أن يقارنها معلولها والموجب بذاته يقارنه موجبه حينئذ فلا يتأخر عنها معلولها فالمتأخر لا يكون معلولها فلا يكون شيء من الحوادث معلولا لها
وإذا قالوا حدوث الأول أعدها لإحداث الثاني قيل لهم القول في حدوث الحادث الأول كالقول في حدوث الحادث الثاني فالحادث الأول الذي هو شرط الثاني لا يجوز أن يكون صادرا عن علة تامة أزلية بل لا تكون العلة التامة له إلا حادثة سواء كان الحادث كلها أو بعض أجزائها وشروطها وهذا مما يعترفون به مع أنه حق بين فحينئذ لا يكون لشيء من الحوادث علة تامة أزلية فإذا كان المبدأ الأول الذي هو صانع العالم علة تامة أزلية وليس لشيء من الحوادث عالة تامة أزلية لم يكن شيء من الحوادث صدر عنه فلا يكون لشيء من الحوادث فاعل ولا محدث وهذا غاية الجهل والتعطيل والسفسطة وهم يعترفون بفساده فإذا قالوا هذا الحادث المعين اليومي إنما تمت شروط
তার পূর্ববর্তী একটি নব্যসৃষ্ট বস্তুর মাধ্যমে; আর এই নব্যসৃষ্ট বস্তুসমূহ হলো স্বয়ং-অনিবার্য সত্তা থেকে ফয়জ বা বিচ্ছুরণের জন্য প্রস্তুতি ও শর্তস্বরূপ। তারা বলে যে, আকাশমণ্ডলীর আবর্তনই হলো যাবতীয় নব্যসৃষ্ট ঘটনা ও পরিবর্তনের কারণ। এর উত্তরে তাদের বলা হবে, ধরে নিলাম বিষয়টি এমনই; তবে ধারাবাহিক নব্যসৃষ্ট বিষয়গুলো—চাই তা অবিচ্ছিন্ন গতি হোক বা অন্য কিছু—যদি তা কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ কারণ থেকে নির্গত হয়, তবে আবশ্যক হয় যে, তা সেই পূর্ণাঙ্গ কারণের সাথেই যুক্ত থাকবে। কারণ পূর্ণাঙ্গ কারণের সাথে তার কার্যের সংশ্লিষ্ট থাকা আবশ্যক, আর যিনি স্বীয় সত্তায় আবশ্যককারী, তার সাথে তার দ্বারা যা আবশ্যিক হয়েছে তার সংশ্লিষ্ট থাকা অনিবার্য। এমতাবস্থায় কার্যটি কারণ থেকে বিলম্বিত হতে পারে না; সুতরাং যা পরে ঘটে তা সেই কারণের কার্য হতে পারে না, ফলে নব্যসৃষ্ট কোনো বস্তুই তার কার্য হিসেবে গণ্য হবে না।
আর যদি তারা বলে যে, প্রথমটির উৎপত্তি দ্বিতীয়টিকে উৎপন্ন করার প্রস্তুতিস্বরূপ, তবে তাদের বলা হবে, প্রথম নব্যসৃষ্ট বস্তুর উৎপত্তির বিষয়ে সেই একই কথা প্রযোজ্য হবে যা দ্বিতীয় নব্যসৃষ্ট বস্তুর উৎপত্তির বিষয়ে বলা হয়েছে। সুতরাং প্রথম নব্যসৃষ্ট বস্তু যা দ্বিতীয়টির জন্য শর্ত, সেটি কোনো অনাদি পূর্ণাঙ্গ কারণ থেকে নির্গত হওয়া অসম্ভব। বরং এর পূর্ণাঙ্গ কারণ অবশ্যই নব্যসৃষ্ট হতে হবে—চাই সেই কারণটি পূর্ণাঙ্গভাবে নব্যসৃষ্ট হোক অথবা তার কিছু অংশ ও শর্তাবলি নব্যসৃষ্ট হোক। আর এটি এমন একটি বিষয় যা তারা স্বীকার করে, অথচ এটি একটি সুস্পষ্ট সত্য। এমতাবস্থায় নব্যসৃষ্ট কোনো বিষয়ের জন্যই কোনো অনাদি পূর্ণাঙ্গ কারণ থাকতে পারে না। সুতরাং আদি মূল—যিনি জগতের স্রষ্টা—যদি অনাদি পূর্ণাঙ্গ কারণ হন, অথচ নব্যসৃষ্ট কোনো বস্তুর জন্য কোনো অনাদি পূর্ণাঙ্গ কারণ না থাকে, তবে নব্যসৃষ্ট কোনো বস্তুই তাঁর থেকে নির্গত হয়নি। ফলে নব্যসৃষ্ট কোনো কিছুরই কোনো কর্তা বা উদ্ভাবক থাকবে না। আর এটি চরম মূর্খতা, নাস্তিক্য ও কুতর্ক বৈ কিছু নয়; এমনকি তারা নিজেরাও এর অসারতা স্বীকার করে। তখন যদি তারা বলে যে, নির্দিষ্ট এই দৈনন্দিন নব্যসৃষ্ট বিষয়টির শর্তাবলি কেবল তখনই পূর্ণ হয়েছে...
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
اقتضائه وأحداثه التي بها صارت علته تامة في هذا الوقت المعين فإن العلة إذا تمت لم يتأخر عنها معلولها قيل لهم فيلزم أن يكون تمام العلة التامة لما يحدث في اليوم المعين إنما حدث ذلك اليوم ثم تمام العلة أيضا حادث في اليوم المعين فيلزم أن تكون علته أو تمام علته حادثا في اليوم المعين وهلم جرا فيلزم أن يكون كل حادث إنما صارت علته تامة عند حدوثه فيلزم من ذلك بطلان قولهم من وجوه أحدها أنه إذا لم يكن لشيء من الحوادث علة تامة أزلية بل إنما صارت له علة تامة عند حدوثه بلط قولهم فإنه إذا لم يكن لشيء من الحوادث علة تامة أزلية لم يكن شيء من الحوادث صادرا عن الموجب بالذات الذي هو علة تامة أزلية فعلم أن المحدث للحوادث ليس علة تامة لمعلولة في الأزل وهو المطلوب وهذا الموضع إذا تدبره من يفهمه ويفهم مذهبهم علم أنه يبين فساد قولهم بالضرورة وكلما غيرت العبارات الدالة عليه زاد بيانا وقوة فدعواهم أن المبدع الموجب بالذت علة تامة أزلية مع كون الحوادث المتعاقبة صدرت عنه جمع بين النقيضين إذ العلة التامة يقارنها معلولها ولا يتأخر عنها وسواء قيل أن الفلك صدر عنه بلا واسطة كما تقوله طائفة منهم أو قيل صدر عنه بواسطة العقل الأول كما يقوله طائفة أخرى فهم يقولون أن المحرك للفلك هو النفس بما يتجدد لها من التصورات والإرادات الشوقية فيقال هذه الأمور الحادثة سواء كانت هي الحركات أو الإرادات أو
তাঁর দাবি এবং নবউদ্ভাবিত বিষয়াবলি যার মাধ্যমে তাঁর কারণটি এই নির্দিষ্ট সময়ে পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। কেননা কারণ যখন পূর্ণাঙ্গ হয়, তখন তার কার্য তা থেকে পিছিয়ে থাকে না। তাদের বলা হবে: তবে তো এটি আবশ্যক হয় যে, কোনো নির্দিষ্ট দিনে যা ঘটে তার পূর্ণাঙ্গ কারণটি কেবল সেই দিনেই উৎপন্ন হয়েছে। অতঃপর কারণের সেই পূর্ণাঙ্গতাও ঐ নির্দিষ্ট দিনেই উৎপন্ন। ফলে এটি আবশ্যক হয় যে, তার কারণ অথবা তার কারণের পূর্ণাঙ্গতা ঐ নির্দিষ্ট দিনেই উৎপন্ন হবে, আর এভাবেই চলতে থাকবে। ফলে এটি আবশ্যক হয় যে, প্রতিটি উৎপন্ন বিষয়ের কারণ কেবল তার উৎপন্ন হওয়ার সময়ই পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। এর ফলে তাদের বক্তব্য বিভিন্ন দিক থেকে বাতিল হওয়া আবশ্যক হয়। তার একটি হলো, যদি উৎপন্ন বস্তুসমূহের কোনোটিরই কোনো অনাদি পূর্ণাঙ্গ কারণ না থাকে, বরং তার পূর্ণাঙ্গ কারণ কেবল তার উৎপত্তিকালেই সৃষ্টি হয়, তবে তাদের কথা বাতিল হয়ে যায়। কারণ যদি উৎপন্ন বস্তুসমূহের কোনো অনাদি পূর্ণাঙ্গ কারণ না থাকে, তবে উৎপন্ন বস্তুসমূহের কোনটিই সেই স্বয়ং আবশ্যকীয় সত্তা থেকে নির্গত হয়নি যা একটি অনাদি পূর্ণাঙ্গ কারণ। সুতরাং জানা গেল যে, যা কিছু নতুন সৃষ্টি করে তা অনাদিকালে তার কার্যের জন্য পূর্ণাঙ্গ কারণ নয়, আর এটাই কাঙ্ক্ষিত প্রমাণ। এই বিষয়টি যদি এমন কেউ অনুধাবন করে যে তা বোঝে এবং তাদের মতবাদ সম্পর্কে অবগত, তবে সে নিশ্চিতভাবেই জানবে যে এটি তাদের বক্তব্যের অসারতাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। একে নির্দেশকারী শব্দাবলি যতই পরিবর্তন করা হোক না কেন, তা কেবল এর স্পষ্টতা ও শক্তিই বৃদ্ধি করবে। সুতরাং তাদের এই দাবি যে—সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং আবশ্যকীয় সত্তা হিসেবে একটি অনাদি পূর্ণাঙ্গ কারণ, অথচ একের পর এক উৎপন্ন ঘটনাবলি তাঁর থেকে নির্গত হচ্ছে—এটি মূলত দুটি বিপরীত বিষয়কে একত্র করা। কেননা পূর্ণাঙ্গ কারণের সাথেই তার কার্য অবস্থান করে এবং তা থেকে পিছিয়ে থাকে না। চাই এ কথা বলা হোক যে—নভোমণ্ডল কোনো মাধ্যম ছাড়াই তাঁর থেকে নির্গত হয়েছে যেমনটি তাদের একটি দল বলে, অথবা বলা হোক যে—তা 'প্রথম বুদ্ধি'র মাধ্যমে নির্গত হয়েছে যেমনটি অন্য একটি দল বলে। তারা তো বলে যে, নভোমণ্ডলের চালিকাশক্তি হলো আত্মা, তার মধ্যে নবায়নযোগ্য কল্পনা ও আকাঙ্ক্ষামূলক ইচ্ছার কারণে। তখন বলা হবে: এই উৎপন্ন বিষয়গুলো—চাই তা গতি হোক বা ইচ্ছা হোক কিংবা...
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
التصورات لا بد لها من أمر محدث لها والعلة التامة الأزلية المستلزمة لمعلولها في الأزل التي توجبه بذاتها يقارنها معلولها الذي هو موجبها ومقتضاها في الأزل فلا يكون شيء من هذه الحركات والإرادات والتصورات معلولا لها لأنها حادثة ولا تكون موجبة له ولا فاعلة ولا محدثة لامتناع صدور الحوادث عن علة تامة أزلية وهذا مما يتبين به بطلان قولهم في قدم العالم ويتبين أن كل ما سوى الله تعالى حادث بعد أن لم يكن فإن القديم المعلول لا يصدر إلا عن موجب بذاته أزلي الإيجاب وهو العلة التامة الأزلية التي تستلزم معلولها في الأزل فلو كان في العالم ما هو قديم لزم ثبوت العلة التامة الأزلية لكن ثبوت هذه ممتنع لأنه حينئذ يلزم ألا يكون للحوادث فاعل لا لوسط ولا بغير وسط لأن الحوادث لا تحدث عن علة تامة لها أزلية فكل ما سوى الله لا بد أن يقارن شيئا من الحوادث أو تحدث فيه الحوادث وكل ما قارن شيئا من الحوادث أو حدثت فيه الحوادث يمتنع أن يصدر عن علة تامة أزلية إذ يمتنع صدوره دون الحوادث عن الفاعل لأنه لا بد للحوادث من الفاعل فإثبات قدم شيء من العالم يستلزم إثبات علة قديمة له وإثبات العلة القديمة توجب كون الحوادث لا فاعل لها سواء قيل أن تلك العلة القديمة صدر عنها ما قارنته الحوادث أو صدر عنها ما حدثت فيه الحوادث فإنه على التقديرين يلزم كون الحوادث لا فاعل لها لامتناع صدور الحوادث عن العلة التامة الازلية وإذا كان قدم شيء من العالم يستلزم إثبات العلة التامة
ধারণাসমূহ অবশ্যই কোনো উদ্ভাবনকারীর মুখাপেক্ষী। আর অনাদি পূর্ণ কারণ, যা অনাদিকাল থেকেই তার কার্যের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যা স্বীয় সত্তাগতভাবে তাকে আবশ্যক করে, তার সাথে তার কার্যটি অনাদিকাল থেকেই সংযুক্ত থাকে, যা তার ফল এবং দাবি। সুতরাং এই গতিশীলতা, ইচ্ছা এবং ধারণাসমূহের কোনোটিই সেই অনাদি কারণের কার্য হতে পারে না, কারণ এগুলো নতুন বা সৃষ্ট। আর তা এগুলোর জন্য আবশ্যককারী, সম্পাদনকারী বা উদ্ভাবনকারী হতে পারে না; কেননা একটি অনাদি পূর্ণ কারণ থেকে নতুন বিষয়ের উদ্ভব হওয়া অসম্ভব। এর মাধ্যমেই জগত অনাদি হওয়ার ব্যাপারে তাদের মতবাদের অসারতা স্পষ্ট হয় এবং এটিও স্পষ্ট হয় যে, মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুই অস্তিত্বহীন থাকার পর অস্তিত্বে এসেছে। কারণ কোনো অনাদি কার্য কেবল এমন এক সত্তাগত আবশ্যকতা থেকেই উৎপন্ন হতে পারে যা অনাদিভাবে কার্যকর, আর তা হলো অনাদি পূর্ণ কারণ যা অনাদিকালে তার কার্যের সহাবস্থান দাবি করে। সুতরাং জগতে যদি এমন কিছু থাকত যা অনাদি, তবে অনাদি পূর্ণ কারণ সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ত। কিন্তু তা সাব্যস্ত করা অসম্ভব; কারণ সেক্ষেত্রে এটি আবশ্যক হয়ে পড়বে যে, নতুন সৃষ্টিসমূহের জন্য কোনো মাধ্যমসহ বা মাধ্যম ছাড়া কোনো কর্তা নেই; কেননা অনাদি পূর্ণ কারণ থেকে নতুন বিষয়সমূহ উৎপন্ন হয় না। অতএব, আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে, তা অবশ্যই কোনো না কোনো নতুন বিষয়ের সাথে সংযুক্ত অথবা তাতে নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটে। আর যা কিছুর সাথে নতুন বিষয় সংযুক্ত থাকে অথবা তাতে নতুন বিষয়ের উদ্ভব ঘটে, তা কোনো অনাদি পূর্ণ কারণ থেকে নিঃসৃত হওয়া অসম্ভব। কেননা নতুন বিষয়সমূহ ব্যতিরেকে কর্তার থেকে তা নিঃসৃত হওয়া অসম্ভব, কারণ নতুন বিষয়ের জন্য একজন কর্তা থাকা অপরিহার্য। সুতরাং জগতের কোনো কিছুকে অনাদি প্রমাণ করতে হলে তার জন্য একটি অনাদি কারণ সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর অনাদি কারণ সাব্যস্ত করলে এটি আবশ্যক হয় যে, নতুন বিষয়সমূহের কোনো কর্তা নেই; চাই সেই অনাদি কারণ থেকে এমন কিছু নিঃসৃত হোক যার সাথে নতুন বিষয় সংযুক্ত, অথবা এমন কিছু যা থেকে নতুন বিষয় উৎপন্ন হয়। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই এটি আবশ্যক হয় যে নতুন বিষয়গুলোর কোনো কর্তা নেই, যেহেতু অনাদি পূর্ণ কারণ থেকে নতুন বিষয়ের উদ্ভব হওয়া অসম্ভব। আর যখন জগতের কোনো কিছুর অনাদি হওয়া একটি পূর্ণ কারণ সাব্যস্ত করাকে আবশ্যক করে...
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
القديمة وإثبات ذلك يستلزم كون الحوادث لا فاعل لها وهذا اللازم باطل بالضرورة فالملزوم أيضا باطل والملزوم قدم شيء من العالم فإذا كان الملزوم باطلا فنقيضه حق وهو أنه ليس من العالم شيء قديم الوجه الثاني أن قولهم هذا يستلزم وجود علل ومعلولات لا تتناهى وهم يسلمون فساد ذلك وفساده معلوم بالادلة اليقينية كما قد بسطناه في غير هذا الموضع ونبهنا على أن المعلولات كلها ممكنة ليس فيها ما يقتضي وجودها وتقدير أمور غير متناهية ليس فيها ما يقتضي وجودها بمنزلة تقدير أمور متناهية معدومة أو ممتنعة فإذا قدر علل لا تتناهى وهي معلولات كان ذلك بمنزلة تقدير أمور معدومة لا تتناهى فلا يكون فيها ما هو موجود والمعدوم يمتنع أن يكون مبدعا أو فاعلا للموجود ولا حاجة إلى الإطناب في هذا فإنه متفق عليه بين العقلاء لكن بعض المتأخرين أورد على هذا شبهات قد بينا فسادها في غير هذا الموضع كما أورد ذلك الآمدي والأبهري وغيرهما
অনাদিত্ব এবং এটি সাব্যস্ত করা এই বিষয়টিকে আবশ্যক করে যে, নশ্বর বিষয়াবলির কোনো কর্তা নেই। আর এই আবশ্যিকতা (লাজিম) অকাট্যভাবে বাতিল, সুতরাং যার কারণে এই আবশ্যিকতা তৈরি হয়েছে (মালজুম) তাও বাতিল। আর এখানে মালজুম হলো জগতের কোনো অংশ অনাদি হওয়া। যখন মালজুম বাতিল প্রমাণিত হলো, তখন এর বিপরীতটি সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলো, আর তা হলো—জগতের কোনো কিছুই অনাদি নয়। দ্বিতীয় দিকটি হলো, তাদের এই দাবি অগণিত ও অসীম কার্যকারণ এবং কার্যের অস্তিত্বকে অনিবার্য করে তোলে, অথচ তারা নিজেরাও এর অসারতা স্বীকার করে। আর এর অসারতা সুনিশ্চিত দলিলের মাধ্যমে সুবিদিত, যেমনটি আমরা অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং আমরা সেখানে সতর্ক করেছি যে, সকল কার্যই (মালুল) মূলত সম্ভাব্য (মুমকিন); সেগুলোর মাঝে এমন কিছু নেই যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার অস্তিত্বকে দাবি করে। আর এমন অসীম বিষয়ের অস্তিত্ব কল্পনা করা যার মাঝে অস্তিত্বের স্বকীয় কোনো দাবি নেই, তা মূলত সসীম অস্তিত্বহীন বা অসম্ভব বিষয়ের অস্তিত্ব কল্পনা করার মতোই। সুতরাং যখন অসীম কার্যকারণ কল্পনা করা হয় যা স্বয়ং কার্য (মালুল), তখন তা অসীম অস্তিত্বহীন বিষয়ের অস্তিত্ব কল্পনা করার নামান্তর। ফলে সেখানে বিদ্যমান কোনো সত্তাই অবশিষ্ট থাকে না। আর যা অস্তিত্বহীন, তার পক্ষে কোনো বিদ্যমান বস্তুর উদ্ভাবক বা কর্তা হওয়া অসম্ভব। এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি জ্ঞানীদের নিকট ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়। তবে পরবর্তীকালের কেউ কেউ এ বিষয়ে কিছু সংশয় উত্থাপন করেছেন যার অসারতা আমরা অন্য স্থানে স্পষ্ট করেছি; যেমনটি আমেদী, আবহারী এবং অন্যরা উত্থাপন করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ومن الناس من ظن أن الكلام في تناهي المؤثرات بمنزلة الكلام في تناهي الآثار كما ظن ذلك طائفة من أهل الكلام والجدل ثم من هؤلاء من قال فإذا كان تناهى الآثار لا يقوم دليل على فساده فكذلك تتناهى العلل
وهذا مما سلكه أبو حامد في الرد علىالفلاسفة في تهافت الفلاسفة وجعل قولهم بتجويز حوادث لا أول لها يقتضي تجويز علل لا تتناهى
وكثير من أهل الكلام من المعتزلة ومن وافقهم من الأشعرية والكرامية ومن وافقهم من الفقهاء الحنفية والمالكية والشافعية والحنبلية لما سووا بين النوعين اعتمدوا في نفس التسلسل في المؤثرات والآثار على طرق معروفة قد أفسدها كثير منهم حتى أن الرجل من هؤلاء يذكر بعض هذه الطرق في كتاب ويفسدها في كتاب آخر كما يفعله أبو عبد الله بن الخطيب ونحوه فيقرر في كتاب
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, প্রভাবদানকারী কারণসমূহের সসীমতা বা সমাপ্তি বিষয়ক আলোচনা এবং ফলাফল বা কার্যাবলির সমাপ্তি বিষয়ক আলোচনা একই পর্যায়ের; যেমনটি কালামশাস্ত্রবিদ ও বিতার্কিকদের একটি গোষ্ঠী ধারণা করেছেন। এরপর তাদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যারা বলেছেন যে, যদি ফলাফল বা কার্যাবলির সসীমতা বাতিল হওয়ার বিষয়ে কোনো দলীল না থাকে, তবে একইভাবে কারণসমূহও সসীম হবে।
এটি এমন একটি পদ্ধতি যা আবু হামিদ দার্শনিকদের খণ্ডন করতে গিয়ে 'তাহাফুতুল ফালাসিফা' গ্রন্থে অবলম্বন করেছেন এবং তিনি তাদের অনাদি নশ্বর ঘটনাবলির বৈধতা দেওয়ার বিষয়টিকে অসীম কারণের বৈধতা দেওয়ার অপরিহার্য ফলাফল হিসেবে গণ্য করেছেন।
মুতাজিলাদের মধ্য থেকে কালামশাস্ত্রের বহু পণ্ডিত এবং আশয়ারি ও কাররামিয়াদের মধ্য থেকে যারা তাদের সাথে একমত হয়েছেন, এবং হানাফি, মালিকি, শাফিয়ি ও হাম্বলি ফকিহদের মধ্য থেকে যারা তাদের অনুসারী হয়েছেন, তারা যখন এই দুই প্রকারের মধ্যে সমতা আরোপ করেছেন, তখন তারা প্রভাবদানকারী কারণ ও কার্যাবলির পরম্পরা বা তাসালসুলের ক্ষেত্রে এমন কিছু সুপরিচিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন যা তাদের অনেকেই পরবর্তীতে অসার প্রমাণ করেছেন। এমনকি তাদের মধ্যকার কোনো ব্যক্তি তার এক কিতাবে এই পদ্ধতিগুলোর কিছু উল্লেখ করেন এবং অন্য কিতাবে তা খণ্ডন করেন; যেমনটি আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-খাতিব ও তার সমমনাগণ করে থাকেন, তিনি এক কিতাবে তা প্রতিষ্ঠিত করেন...
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الأربعين ونحوه طرقا في إبطال حوادث لا تتناهى ويبطلها في مثل كتاب المباحث المشرقية وأمثاله ولهذا بين أبو الحسن الآمدي فساد عامة هذه الطرق واعتمد طريقة أضعف من غيرها وكذلك أبو الثناء الأرموي أفسد في لباب الأربعين عامة ما قيل في هذا الباب وهذا كله مبسوط في موضعه والمقصود هنا أن التسلسل في المؤثرات باطل باتفاق العقلاء وأما الاعتراض المذكور فهو أنهم قالوا إذا كان كل من المؤثرات ممكنا فلم لا يجوز ألا تكون الجملة ممكنة على قول من يقول أن كل واحد من الحوادث محدث والنوع القديم متسلسل فإن حكم الجملة إما أن يكون مثل حكم الأفراد وأما ألا يكون فإن كان مثل حكمها لزم حدوث نوع الحوادث وهذا هو الذي يقوله كثير من أهل الكلام وعليه اعتمد أبو الحسين البصري وأمثاله وقالوا إذا كان كل واحد من الزنج أسود فالجميع سود
আল-আরবাঈন এবং এর অনুরূপ গ্রন্থগুলোতে অনাদি ও অনন্ত ঘটনার (হাওয়াদিস) অসারতা প্রমাণের বিভিন্ন পন্থা আলোচিত হয়েছে। আল-মাবাহিস আল-মাশরিকিয়া এবং এর সদৃশ গ্রন্থগুলোতে তিনি এগুলিকে বাতিল সাব্যস্ত করেছেন। এই কারণেই আবু আল-হাসান আল-আমিদী এই পদ্ধতিগুলোর অধিকাংশের অসারতা বর্ণনা করেছেন এবং এমন এক পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছেন যা অন্যগুলোর তুলনায় অধিকতর দুর্বল। অনুরূপভাবে আবু আস-সানা আল-আরমাভী 'লুবাব আল-আরবাঈন' গ্রন্থে এই অধ্যায়ে বর্ণিত অধিকাংশ বিষয়কেই অসার প্রতিপন্ন করেছেন। এই সমস্ত বিষয় তার নির্দিষ্ট স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রভাব বিস্তারকারী কারণসমূহের (মুয়াসসির) ক্ষেত্রে অনাদি ধারাবাহিকতা (তাসালসুল) বুদ্ধিমানদের ঐকমত্যে বাতিল বা অসার। আর উল্লিখিত আপত্তিটি হলো এই যে, তারা বলেন: যদি প্রভাব বিস্তারকারী কারণসমূহের প্রত্যেকটিই 'মুমকিন' (সম্ভবপর) হয়, তবে সামগ্রিক রূপটি কেন মুমকিন হবে না? এটি তাদের মত অনুসারে যারা বলেন যে, প্রতিটি ঘটনাই নবসৃষ্ট (হাদিস), কিন্তু ঘটনার প্রকারটি অনাদি ও পরস্পর প্রবহমান (তাসালসুল)। কারণ, সামগ্রিক বিষয়ের বিধান হয় একক ব্যক্তি বা বস্তুর বিধানের মতো হবে, নতুবা হবে না। যদি তা একক অংশের বিধানের মতো হয়, তবে ঘটনার প্রকারটি (নও’ আল-হাওয়াদিস) নবসৃষ্ট বা হাদিস হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর ইলমুল কালামের অনেক পণ্ডিত একথাই বলেন। আবু আল-হুসাইন আল-বাসরী এবং তার অনুসারীরা এর ওপরই নির্ভর করেছেন। তারা বলেন: যদি জাঞ্জি (কৃষ্ণকায়) সম্প্রদায়ের প্রত্যেকেই কালো হয়, তবে তাদের সমগ্র গোষ্ঠীটিও কালো হবে।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
لكن نقض ذلك المعارضون لهم بأن الواحد من العشرة ليس هو عشرة والواحد من أجزاء القبة والبيت ليس هو قبة ولا بيتا وبعض الإنسان ليس هو إنسان فقال هؤلاء الذين أشكل عليهم بطلان تسلسل المؤثرات كالآمدي والأبهري فحينئذ يجوز أن يكون كل واحد من العلل ممكنا والجملة ليست ممكنة فصارت هذه المباحث المتعلقة بأصول الدين والعلم مضطربة عند أئمة الفلاسفة والمتكلمين وفصل الخطاب في هذا الباب أن نقول انضمام الفرد إلى غيره إما أن يوجب ثبوت أمر يخالف حكم تلك الأفراد وإما ألا يوجب فإن لم يوجب ثبوت أمر يخالف حكم الأفراد كان حكم المجموع حكم الأفراد وإن أوجب ثبوت أمر يخالف حكم الأفراد لم يجب أن يكون حكم المجموع حكم الأفراد مثال الأول المعدوم مع المعدوم فإن انضمام أحدهما إلى الآخر لا يخرجه عن أن يكون معدوما وكذلك انضمام الواجب إلى الواجب والممكن إلى الممكن وكذلك انضمام الموجود إلى الموجود لا يخرجه عن أن يكون موجودا اللهم إلا إذا كانا يتضادان
ومثال الثاني أبعاض الإنسان وغيره من الحيوان وأبعاض الدار والبيت والمدينة ونحو ذلك فإن انضمام بعض ذلك إلى بعض يوجب للمجموع أن يصير حيوانا وبيتا ومدينة وكذلك آحاد العشرة والألف بالانضمام تصير عشرة وألفا وكذلك غير ذلك من المركبات فإنه بالاجتماع يحصل له من التركيب ما لا يحصل بالأفراد وكذلك أجزاء الطويل
কিন্তু বিরোধীরা তাদের এই যুক্তিটি এই বলে খণ্ডন করেছেন যে, দশের একটি একক নিজে 'দশ' নয়, এবং একটি গম্বুজ বা ঘরের অংশসমূহের একটি অংশ নিজে কোনো গম্বুজ বা ঘর নয়, আর মানুষের কোনো একটি অংশ নিজে একজন মানুষ নয়। ফলে আল-আমিদী এবং আল-আভহারীর মতো ব্যক্তিবর্গ, যাদের নিকট প্রভাব বিস্তারকারী কারণসমূহের অনাদি পরম্পরার (তাসালসুল) অসারতা বিষয়ক বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছিল, তারা বলেছেন: এমতাবস্থায় এটি সম্ভব যে প্রতিটি কারণ (ইল্লাত) স্বতন্ত্রভাবে সম্ভাব্য (মুমকিন), কিন্তু তাদের সমষ্টিটি সম্ভাব্য নয়। ফলে দ্বীনের মূলনীতি এবং জ্ঞান সংক্রান্ত এই আলোচনাগুলো দার্শনিক ও কালাম শাস্ত্রবিদদের ইমামদের নিকট অস্থির বা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। আর এই বিষয়ে চূড়ান্ত কথা হলো আমরা বলব— কোনো একটি একক সত্তার সাথে অন্য কিছুর সংযুক্তি হয় এমন কোনো বিষয় সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে যা ঐ এককগুলোর বৈশিষ্ট্যের বিপরীত, অথবা তা আবশ্যক করে না। যদি তা এককগুলোর বৈশিষ্ট্যের বিপরীত কিছু সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক না করে, তবে সমষ্টির বৈশিষ্ট্য হবে এককগুলোর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ। আর যদি তা এককগুলোর বৈশিষ্ট্যের বিপরীত কিছু সাব্যস্ত হওয়াকে আবশ্যক করে, তবে সমষ্টির বৈশিষ্ট্য এককগুলোর বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ হওয়া আবশ্যক নয়। প্রথমটির উদাহরণ হলো অস্তিত্বহীন (মাদূম) বস্তুর সাথে অন্য একটি অস্তিত্বহীন বস্তু; কারণ একটির সাথে অন্যটির সংযুক্তি তাকে অস্তিত্বহীন থাকা থেকে বের করে দেয় না। অনুরূপভাবে ওয়াজিবের (অপরিহার্য অস্তিত্ব) সাথে ওয়াজিবের সংযুক্তি, মুমকিনের (সম্ভাব্য অস্তিত্ব) সাথে মুমকিনের সংযুক্তি, এবং বিদ্যমান বস্তুর সাথে বিদ্যমান বস্তুর সংযুক্তি তাকে বিদ্যমান থাকা থেকে বের করে দেয় না; তবে যদি তারা একে অপরের বিপরীত বা পরস্পরবিরোধী হয়।
আর দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো মানুষের বিভিন্ন অংশ ও অন্যান্য প্রাণী, ঘর, বাড়ি, শহর এবং এই জাতীয় জিনিসের অংশসমূহ। কেননা এসকল জিনিসের একটি অংশের সাথে অন্যটির সংযুক্তি সমষ্টিকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাণী, ঘর বা শহরে পরিণত হওয়াকে আবশ্যক করে। অনুরূপভাবে দশ বা হাজারের এককগুলো একত্র হওয়ার মাধ্যমে যথাক্রমে দশ ও হাজারে পরিণত হয়। যৌগিক বা মিশ্রিত অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই; কারণ একত্রিত হওয়ার ফলে তাতে এমন এক গাঠনিক অবস্থা অর্জিত হয় যা একক অবস্থায় অর্জিত হয় না। দীর্ঘ বস্তুর অংশসমূহের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইরূপ।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
والدائم والممتد والكبير والعظيم ونحو ذلك فإنه لا يسمى طويلا ولا دائما ولا ممتدا ولا كبيرا ولا عظيما إلا إذا اجتمعت تلك الأجزاء فبالاجتماع يتغير حكم الأفراد إذا تبين ذلك فإذا قدر مؤثرات ممكنة ليس لها من أنفسها وجود ولكن كل منها يحتاج إلى مؤثر لم تكن بانضمام بعضها إلى بعض تخرج عن أن تكون ممكنة مفتقرة إلى غيرها بل كلما كثرت زاد الافتقار والحاجة كما أنه كلما ضم المعدوم إلى المعدوم كثر المعدوم فإذا قدر علل لا تتناهى كل منها معلول أو فاعلون لا يتناهون كل منهم مفعول فهذه كلها مؤثرات أبدعها غيرها وكل منها ممكن بنفسه محتاج إلى غيره قد أبدعه غيره ليس فيها ما هو موجود بنفسه فإذا قدر عدم تناهيها كان ذلك تكثيرا للحاجة والافتقار إلى الموجود بنفسه وتكثيرا للممكنات التي هي معدومة بنفسها لا توجد إلا بموجود غيرها فكثرتها وعدم تناهيها لا يخرج شيئا منها عن أن يكون ممكنا مفتقرا إلى غيره وأنه إذا لم يكن له مبدع كان معدوما بل المجموع مفتقر إلى كل من الأفراد وإذا كان كل من الأفراد ممكنا فالمجموع المتوقف على كل من الأفراد أولى أن يكون ممكنا فتبين بذلك امتناع وجود علل ومعلولات لا تتناهى وهو امتناع أرباب كل منهم مربوب أو فاعلين كل منهم مفعول ومؤثرين كل منهم أثر فيه غيره فهذا جميعه مما يعلم امتناعه بالضرورة بعد التصور التام كما اتفق عليه
এবং চিরস্থায়ী, প্রসারিত, বৃহৎ, মহান এবং অনুরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রেও; কোনো কিছুকে দীর্ঘ, চিরস্থায়ী, প্রসারিত, বৃহৎ বা মহান বলা হয় না যতক্ষণ না সেই অংশসমূহ একত্রিত হয়। সুতরাং একত্রীকরণের ফলে এককগুলোর বিধান পরিবর্তিত হয়ে যায়। যখন এটি স্পষ্ট হলো, তখন যদি এমন সম্ভাব্য প্রভাবকসমূহ কল্পনা করা হয় যাদের নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই, বরং তাদের প্রত্যেকেই অন্য প্রভাবকের মুখাপেক্ষী, তবে তাদের একে অপরের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য হওয়া এবং অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত হবে না। বরং এগুলো যত বৃদ্ধি পাবে, মুখাপেক্ষীতা ও অভাব তত বাড়বে; যেমন অস্তিত্বহীনকে অস্তিত্বহীনের সাথে যুক্ত করলে অস্তিত্বহীনতারই আধিক্য ঘটে। সুতরাং যদি এমন অসীম কার্যকারণ কল্পনা করা হয় যার প্রতিটিই কার্য, অথবা অসীম কারক যাদের প্রত্যেকেই কৃত, তবে এগুলোর সবকটিই হলো এমন প্রভাবক যা অন্য কেউ সৃষ্টি করেছে। এগুলোর প্রতিটিই সত্তাগতভাবে সম্ভাব্য এবং অন্যের মুখাপেক্ষী; অন্য কেউ তাকে অস্তিত্ব দান করেছে। এগুলোর মধ্যে এমন কিছু নেই যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অস্তিত্বশীল। যদি এদের অসীমতা কল্পনা করা হয়, তবে তা মূলত স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অস্তিত্বশীল সত্তার প্রতি অভাব ও মুখাপেক্ষীতারই আধিক্য মাত্র এবং এমন সম্ভাব্য বস্তুসমূহের আধিক্য যা সত্তাগতভাবে অস্তিত্বহীন এবং অন্যের মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ না করলে তাদের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। অতএব, এদের আধিক্য এবং অসীমতা এদের কোনোটিকেই সম্ভাব্য ও অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার অবস্থা থেকে বের করে আনে না। আর যদি এদের কোনো সৃষ্টিকর্তা না থাকে তবে তা অস্তিত্বহীনই থেকে যাবে। বরং সমগ্র সমষ্টিটি এর প্রতিটি এককের ওপর নির্ভরশীল। আর যদি প্রতিটি এককই সম্ভাব্য হয়, তবে সেই সমষ্টি যা প্রতিটি এককের ওপর নির্ভরশীল, তা সম্ভাব্য হওয়ার অধিক যোগ্য। এর মাধ্যমে অসীম কার্যকারণ ও কার্যের অস্তিত্বের অসম্ভবতা প্রমাণিত হলো; আর তা হলো এমন অনেক প্রতিপালকের অস্তিত্বের অসম্ভবতা যাদের প্রত্যেকেই প্রতিপালিত, অথবা এমন কারকদের অস্তিত্বের অসম্ভবতা যারা নিজেরাও কৃত, কিংবা এমন প্রভাবকদের অস্তিত্বের অসম্ভবতা যাদের ওপর অন্য কেউ প্রভাব বিস্তার করেছে। পূর্ণ উপলব্ধির পর এই সবকিছুর অসম্ভবতা স্বতঃসিদ্ধভাবে জানা যায়, যেমনটি এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
عامة العقلاء وذلك مما بيبن أن جميع الممكنات والحوادث لها مبدع موجود بنفسه خارج عنها كلها وهذا بخلاف دوام الحوادث وتسلسلها في الماضي أو المستقبل فإن الواحد منها إذا لم يكن دائما باقيا متصلا لم يلزم ألا يكون النوع دائما باقيا متصلا لأن انضمام الواحد إلى غيره يوجب الكثرة التي لا توجد في الواحد والدائم الباقي المديد الطويل الكثير لا يستلزم أن يكون كل واحد من أفراده دائما طويلا مديدا كثيرا
فهذا تنبيه على الفرق بين النوعين وإذا كان كذلك فنقول قولهم بقدم العالم يستلزم التسلسل في المؤثرات وذلك فاسد بالضرورة والاتفاق وهم يسلمون امتناع تسلسل المؤثرات لكن الذين يقولونه هنا يقولون التسلسل إنما هو حاصل في شروط العلية لا في ذات العلة
فيقال لهم إذا كان هذا الحادث موقوفا على شرط العلة الذي هو تمامها وعند حصول تمام العلة يجب مقارنة ذلك المعلول له لا يجوز تأخره عنه فكل حادث يجب أن يقارنه تمام علة الحادث والكلام في تمام علية الحادث كالكلام في الحادث فيلزم تسلسل تمامات العلل وأن يكون تمام علة كل معلول مقارنا لذلك المعلول فإذن كل حادث إنما تمت علته عند حدوثه وذلك التمام إنما تمت علة حدوثه عند حدوثه أيضا فيلزم تسلسل تمامات لا فاعل لها ولا فرق بين تسلسل علل هي معلولات لا فاعل لها وبين تسلسل تمامات علل هي معلولات لا فاعل لها وأيضا فإن هذه التمامات المتسلسلة لا يجوز أن تكون
সাধারণ বুদ্ধিমান ব্যক্তিবর্গ একমত এবং এটি এ কথাই স্পষ্ট করে যে, সকল সম্ভাব্য সত্তা ও সৃষ্ট ঘটনার একজন উদ্ভাবক রয়েছেন, যিনি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অস্তিত্বশীল এবং এসকল সৃষ্টির বাইরে অবস্থান করেন। আর এটি অতীত বা ভবিষ্যতে ঘটনার স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতার (তাসালসুল) বিষয়ের বিপরীত। কারণ, কোনো একক বস্তু যদি স্থায়ী, চিরস্থায়ী বা অবিচ্ছিন্ন না-ও হয়, তবে তার অর্থ এই নয় যে, তার ধরন বা প্রজাতিটি স্থায়ী, চিরস্থায়ী বা অবিচ্ছিন্ন হতে পারবে না। কেননা, একের সাথে অন্যের সংযোজন এমন এক আধিক্য তৈরি করে যা এককের মধ্যে পাওয়া যায় না। আর যা কিছু চিরস্থায়ী, দীর্ঘস্থায়ী এবং সংখ্যায় অনেক, তা এর প্রতিটি একক সদস্যকেও চিরস্থায়ী, দীর্ঘ বা সংখ্যায় অনেক হওয়াকে অপরিহার্য করে না।
এটি মূলত দুই প্রকারের মধ্যকার পার্থক্যের ব্যাপারে একটি সতর্কতা। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে আমরা বলব— বিশ্বজগতের অনাদিত্বের (ক্বিদাম) বিষয়ে তাদের দাবি প্রভাবশালী কারণসমূহের ধারাবাহিকতা বা তাসালসুলকে অপরিহার্য করে তোলে, যা অনিবার্যভাবে ও সর্বসম্মতভাবে বাতিল। তারা প্রভাবশালী কারণসমূহের ধারাবাহিকতার অসম্ভবতাকে স্বীকার করে নেয়; কিন্তু যারা এখানে এই মত পোষণ করে তারা বলে যে, ধারাবাহিকতা কেবল কারণের শর্তাবলীর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, কারণের মূল সত্তার ক্ষেত্রে নয়।
তাদের উদ্দেশ্যে বলা হবে: যদি এই সৃষ্ট ঘটনাটি কারণের এমন একটি শর্তের ওপর নির্ভরশীল হয় যা তাকে পূর্ণতা দান করে, এবং কারণের পূর্ণতা অর্জিত হওয়ার সময় তার কার্যটি অবশ্যই তার সাথে যুক্ত হতে হয় এবং তা থেকে পিছিয়ে থাকা জায়েয না হয়— তবে প্রতিটি সৃষ্ট ঘটনার সাথে সেই ঘটনার কারণের পূর্ণতাকে অবশ্যই বিদ্যমান থাকতে হবে। এখন ঘটনার কারণের পূর্ণতার ব্যাপারে আলোচনা ঠিক তেমনই হবে যেমনটি খোদ সৃষ্ট ঘটনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। ফলে কারণসমূহের পূর্ণতার একটি ধারাবাহিকতা বা তাসালসুল অনিবার্য হয়ে পড়ে এবং প্রতিটি কার্যের কারণের পূর্ণতা যেন সেই কার্যের সাথেই সহাবস্থান করে। অতএব, প্রতিটি সৃষ্ট ঘটনা তখনই তার কারণের পূর্ণতা লাভ করে যখন সেটি সংঘটিত হয়; আর সেই পূর্ণতার সৃষ্টির কারণটিও পূর্ণতা লাভ করে তখনই যখন সেটি সংঘটিত হয়। এর ফলে এমন সব পূর্ণতার ধারাবাহিকতা অনিবার্য হয়ে পড়ে যাদের কোনো কর্তা নেই। অথচ এমন কারণসমূহের ধারাবাহিকতা—যা নিজেরাও কার্য এবং যাদের কোনো কর্তা নেই—আর এমন সব কারণের পূর্ণতার ধারাবাহিকতা—যা নিজেরাও কার্য এবং যাদের কোনো কর্তা নেই—এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাছাড়া, এই ধারাবাহিক পূর্ণতাগুলো হওয়া সম্ভব নয় যে...
(খণ্ড: ١)
আস-সাফাদিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
صادرة عن العلة التامة الأزلية فإن ذلك يستلزم أن تكون مقارنة لتلك العلة ولا يجوز أن تكون العلة الأزلية علة تامة لواحد منها معين وذلك شرط في الثاني لأنه يتعين لها مبدأ معين وما من واحد إلا وقبله آخر فلا يتعين شيء منها دون الآخر ولا يكون شيء منها علة تامة لحوادث متعاقبة مع كون العلة ثابتة على حال واحدة لأن حدوث المتغير عن علة تامة لا تتغير ممتنع فإذا لم يكن لها محدث سوى العلة التامة الأزلية والعلة التامة الأزلية لا يجوز أن يصدر عنها حادث فيلزم ألا يكون للحوادث محدث وأبو عبد الله الرازي قد نبه على هذا لكن لم يوضحه إيضاحا تاما فاعترض عليه الأرموي حيث لم يفهم حقيقة هذا الإلزام فظن الفرق بين حدوث شروط العلة وحدوث ذات العلة وهذا الفرق إنما يصح إذا كان هناك سبب يقتضي حدوث شروط العلة غير العلة حتى يقال تأثيرها موقوف على حدوث شروط أخر تحدث بسبب غيرها فأما إذا كان لا مقتضى للحوادث إلا ذات العلة التي فرض أنها تامة لا يتخلف عنها معلولها لم يكن اقتضاؤها موقوفا على شرط غيرها فيجب أن يقارنها معلولها فلا يحدث عنها حادث
واعلم أن هذا هو عمدتهم في قدم العالم وقد تبين أنه مناقض لما قالوه وأنه مبطل لقولهم فإن أصل قولهم أن المؤثر في العالم يجب أن يكون تاما فلا يتخلف عنه أثره وهذا بعينه يمنع أن يكون محدثا لشيء من الحوادث بشرط أو بغير شرط
অনাদি পূর্ণ কারণ থেকে নিঃসৃত হলে এটি অপরিহার্য করে তোলে যে, তা সেই কারণের সাথে সংশ্লিষ্ট বা সমকালীন হবে। অনাদি কারণের পক্ষে এগুলোর মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কোনো একটির জন্য পূর্ণ কারণ হওয়া বৈধ নয়; আর এটি দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে একটি শর্ত, কারণ এর জন্য একটি নির্দিষ্ট সূচনা নির্ধারিত হওয়া আবশ্যক। অথচ এমন কোনো একক বিষয় নেই যার পূর্বে অন্য একটি নেই, ফলে অন্যটিকে বাদ দিয়ে এগুলোর কোনোটিই নির্ধারিত হয় না। কারণটি একই অবস্থায় স্থির থাকা সত্ত্বেও তা একের পর এক সংঘটিত ঘটনাবলির জন্য পূর্ণ কারণ হতে পারে না। কেননা, অপরিবর্তনীয় পূর্ণ কারণ থেকে পরিবর্তনশীল বিষয়ের উদ্ভব হওয়া অসম্ভব। সুতরাং, যদি এগুলোর জন্য অনাদি পূর্ণ কারণ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্ভাবক না থাকে, আর অনাদি পূর্ণ কারণ থেকে কোনো নব্য বিষয়ের নির্গমন হওয়া বৈধ না হয়, তবে এটি অনিবার্য করে তোলে যে ঘটনাবলির কোনো উদ্ভাবক নেই। আবু আবদুল্লাহ আল-রাজি এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, কিন্তু তিনি বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট করেননি। ফলে আল-আরমাওয়ি তাঁর ওপর আপত্তি তোলেন, যেহেতু তিনি এই অনিবার্যতার স্বরূপ বুঝতে পারেননি। তিনি মনে করেছিলেন যে, কারণের শর্তাবলির উদ্ভব এবং স্বয়ং কারণের সত্তার উদ্ভবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এই পার্থক্য কেবল তখনই সঠিক হতো যদি সেখানে কারণ ব্যতীত এমন অন্য কোনো হেতু থাকত যা কারণের শর্তাবলি ঘটার দাবি রাখে; যাতে বলা যেত যে এর প্রভাব অন্য এমন শর্তাবলির উদ্ভবের ওপর নির্ভরশীল যা অন্য কোনো কারণে ঘটে থাকে। পক্ষান্তরে, যদি ঘটনাবলির জন্য স্বয়ং সেই কারণের সত্তা ব্যতীত অন্য কোনো দাবিদার না থাকে—যাকে পূর্ণ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে এবং যার থেকে তার কার্য বিচ্যুত হয় না—তবে এর প্রভাব অন্য কোনো শর্তের ওপর নির্ভরশীল হবে না। এমতাবস্থায় এর কার্যকে এর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকা আবশ্যক হবে, ফলে তার থেকে নতুন কোনো কিছু ঘটবে না।
জেনে রাখুন যে, এটিই জগতের অনাদিত্বের পক্ষে তাদের প্রধান স্তম্ভ। অথচ এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, এটি তাদের নিজেদের বক্তব্যেরই পরিপন্থী এবং তাদের দাবিকে বাতিল করে দেয়। কারণ তাদের মূল বক্তব্য হলো, জগতের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী সত্তাকে অবশ্যই 'পূর্ণ' হতে হবে, যাতে তাঁর প্রভাব তাঁর থেকে বিচ্যুত না হয়। আর এই বিষয়টিই তাঁর পক্ষে কোনো শর্তসহ বা শর্তহীনভাবে যেকোনো নব্য বিষয়ের উদ্ভাবক হওয়াকে বাধা প্রদান করে।