(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: -)
توثيق السنة في القرن الثاني الهجري أسسه واتجاهاته القسم: علوم الحديث
الكتاب: توثيق السنة في القرن الثاني الهجري أسسه واتجاهاته
المؤلف: رفعت بن فوزي عبد المطلب
الناشر: مكتبة الخنانجي بمصر
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 454
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর প্রামাণ্যকরণ: এর ভিত্তি ও গতিধারা বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর প্রামাণ্যকরণ: এর ভিত্তি ও গতিধারা
লেখক: রিফাত বিন ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব
প্রকাশক: মিসরের মাকতাবাতুল খানানজি
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمات:
مقدمة:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على عباده الذين اصطفى، وعلى محمد خاتم النبيين والمرسلين.
وبعد: فقد قام المسلمون من لدن الصحابة -رضوان الله عليهم- بالعناية الفائقة بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم رواية ودراية، ووضعها للأسس التي تحفظها، من تحريف الغالين وانتحال المبطلين.
وقد كانت في القرن الثاني الهجري العلامات البارزة في طريق رعاية السنة النبوية الكريمة وتوثيقها؛ ذلك أنه قد هبت في هذا القرن أعاصير عاتية، تهدف إلى الإطاحة بالسنة، وإبعاد المسلمين عنها، وتشكيكهم في طرق نقلها ورواتها
… وقيض الله عز وجل أئمة كبارًا في هذا القرن، وقفوا في وجه هذه الأعاصير يردون كيدها، ويحفظون للمسلمين سنة نبيهم، صلى الله عليه وسلم، المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي.
حقيقة سعد هذا القرن بالنصيب الأوفى والقدح المعلى من أئمة المسلمين الذين قاموا بجهد كبير في توثيق السنة من أمثال مالك بن أنس، وأبي حنيفة النعمان بن ثابت، وصاحبيه، محمد بن الحسن الشيباني، وأبي يوسف، يعقوب ابن إبراهيم، والشافعي محمد بن إدريس، وسفيان الثوري، وابن عيينة، وشعبة بن الحجاج، وأحمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وغيرهم، هؤلاء الذين وهب لهم الله البصائر النيرة، والعقول الذكية، مع الإخلاص لله عز وجل، ولرسوله صلى الله عليه وسلم وللمؤمنين، فقاموا بوضع المصنفات في السنة، ووضع الأسس التي تميز ما نسب حقًّا وصدقًا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وما وضع عليه زورًا وبهتانًا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
উপক্রমণিকা সমূহ:
ভূমিকা:সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি এবং সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি।
অতঃপর: সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগ থেকেই মুসলিমগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর বর্ণনা (رواية) এবং অনুধাবনের (دراية) প্রতি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ প্রদান করেছেন। তাঁরা একে অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্য সুদৃঢ় ভিত্তি বা মূলনীতি (أصول) স্থাপন করেছেন।
হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহর সংরক্ষণ ও প্রামাণিকতা যাচাইয়ের (توثيق) পথে গুরুত্বপূর্ণ দিকচিহ্নসমূহ স্পষ্ট হয়েছিল; কেননা, সেই শতাব্দীতে সুন্নাহকে নস্যাৎ করার এবং মুসলিমদের তা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া ও বর্ণনা পরম্পরা (طرق) এবং বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে তাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবল প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছিল... তবে মহান আল্লাহ এই শতাব্দীতে এমন মহান ইমামদের মনোনীত করেছিলেন, যারা এই প্রতিকূলতার মোকাবিলা করেছেন, তাদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছেন এবং মুসলিমদের জন্য তাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে রক্ষা করেছেন, যা ইসলামি শরীয়াহর দ্বিতীয় উৎস।
প্রকৃতপক্ষে এই শতাব্দী সেই সব মুসলিম ইমামদের অবদানে ধন্য হয়েছিল, যারা সুন্নাহর প্রামাণিকতা যাচাইয়ের (توثيق) ক্ষেত্রে বিশাল প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মালেক ইবনে আনাস, আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত ও তাঁর দুই শিষ্য মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানি ও আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম, শাফেয়ী মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস, সুফিয়ান আস-সাওরী, ইবনে উয়াইনা, শুবা ইবনুল হাজ্জাজ, আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং আরও অনেকে। আল্লাহ তাঁদের প্রখর অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞাপূর্ণ মেধা দান করেছিলেন, যার সাথে যুক্ত ছিল আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মুমিনদের প্রতি একনিষ্ঠতা। তাঁরা সুন্নাহ বিষয়ক সংকলিত গ্রন্থসমূহ (مصنفات) রচনা করেছেন এবং এমন সব মূলনীতি (أصول) প্রণয়ন করেছেন যার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি যা সত্য ও সঠিকভাবে সম্পৃক্ত তা এবং যা মিথ্যা ও বানোয়াট (موضوع) ভাবে আরোপিত তা পৃথক করা সম্ভব হয়।
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
وما أشبه الليلة بالبارحة كما يقولون! فقد نبتت نابتة في عصرنا الحديث، تشكك المسملين في السنة، وتسير على درب أسلافهم الذين كادوا للمسلمين وللإسلام، وردهم الله على أعقابهم خاسرين، زعمت هذه النابتة أن السنة حرفت وبدلت
… وأن أسس توثيقها كانت واهية وشكلية، ولم تنهض بعبء الحفاظ عليها.
هل حقًّا ما يزعم هؤلاء؟.. إن الأمر في حاجة إلى دراسة متأنية موضوعية، تكشف وجه الحق، وتبرز ما أخفاه هؤلاء الجاهلون، أو غاب عنهم.
وهذا ما دفعني إلى اختيار موضوع هذه الرسالة، "توثيق السنة في القرن الثاني الهجري، أسسه واتجاهاته".
ومهدت لهذا الموضوع بتمهيد وقف عند بعض الموضوعات التي تحدد أبعاده، وتكون الأساس لما يعالجه من قضايا.
وإذا كان الحديث الذي هو بمعنى السنة -كما اصطلحنا في هذه الرسالة- ينقسم إلى قسمين: السند والمتن، وكانت عناية أهل القرن الثاني هي توثيق القسمين معًا؛ بهدف التأكد مما نقل عن رسول الله صلى الله عليه وسلم نقلًا صحيحًا -فقد قسمت هذه الرسالة إلى قسمين:
القسم الأول: ويعنى ببيان الأسس التي وضعت لتوثيق سند الحديث، مما يؤدي إلى توثيق متنه، وهو ما سماه بعض الباحثين بالنقد الخارجي للحديث.
والقسم الثاني: ويعنى ببيان الأسس التي تتعلق بتوثيق متن الحديث بعيدًا عن سنده، وبالنظر إلى ألفاظه ومعانيه، وهو ما سُمي حديثًا كذلك بالنقد الداخلي للحديث.
والقسم الأول: يتكون من أربعة فصول:
يتناول الفصل الأول منه بيان كيفية نقل الحديث إلى أهل القرن الثاني الهجري؛ من حيث عدد رواته، وتواتر نقلته، أو عدم تواترهم.
কথায় বলে, বর্তমান আর অতীতের কতই না মিল! আমাদের এই আধুনিক যুগে এমন এক নব্য দলের উদ্ভব ঘটেছে, যারা মুসলিমদের মাঝে সুন্নাহ সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করছে। তারা তাদের সেই পূর্বসূরিদের পথেই হাঁটছে যারা মুসলিম ও ইসলামের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেছিল, আর আল্লাহ যাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পর্যুদস্ত করে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এই নব্য দলটি দাবি করে যে, সুন্নাহর বিকৃতি ও পরিবর্তন ঘটেছে
… এবং এর প্রামাণিকীকরণের ভিত্তিগুলো ছিল অত্যন্ত দুর্বল ও আনুষ্ঠানিক মাত্র, যা সুন্নাহ সংরক্ষণের গুরুদায়িত্ব পালনে সক্ষম ছিল না।
তাদের এই দাবি কি সত্যিই সত্য? বিষয়টি একটি ধীরস্থির ও বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার দাবি রাখে, যা সত্যের স্বরূপ উন্মোচন করবে এবং এই অজ্ঞরা যা গোপন করেছে বা যা তাদের বোধগম্য হয়নি তা প্রকাশ করবে।
আর এটিই আমাকে এই গবেষণাপত্রের বিষয়টি নির্বাচনে উদ্বুদ্ধ করেছে: "দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে সুন্নাহর প্রামাণিকীকরণ: এর মূলনীতি ও গতিধারা।"
এই প্রসঙ্গের অবতারণা হিসেবে আমি একটি ভূমিকা যুক্ত করেছি, যেখানে এমন কিছু বিষয় স্থান পেয়েছে যা গবেষণার পরিধি নির্ধারণ করে এবং আলোচিত বিভিন্ন সমস্যার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
যেহেতু হাদিস—যা সুন্নাহর সমার্থক হিসেবে এই গবেষণাপত্রে গৃহীত হয়েছে—দুটি অংশে বিভক্ত: সনদ (سند) ও মতন (متن); এবং দ্বিতীয় শতাব্দীর মনীষীদের মূল লক্ষ্য ছিল এই উভয় অংশকে একত্রে প্রামাণিক হিসেবে যাচাই করা, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা সহিহ (صحيح) পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়—সেহেতু আমি এই গবেষণাপত্রটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অংশ: এখানে হাদিসের সনদ (سند) যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত মূলনীতিগুলো বিবৃত হয়েছে, যা প্রকারান্তরে এর মতন (متن) যাচাইয়ের দিকেই নিয়ে যায়। কোনো কোনো গবেষক একে হাদিসের 'বাহ্যিক সমালোচনা' বলে অভিহিত করেছেন।
দ্বিতীয় অংশ: এখানে সনদ (سند) ব্যতিরেকে কেবল হাদিসের মতন (متن) যাচাই সংক্রান্ত মূলনীতিগুলো আলোচিত হয়েছে, যেখানে এর শব্দাবলি ও অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। আধুনিককালে একে হাদিসের 'অভ্যন্তরীণ সমালোচনা' হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
প্রথম অংশটি চারটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:
এর প্রথম অধ্যায়ে দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর মানুষের নিকট হাদিস পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে; অর্থাৎ বর্ণনাকারীদের সংখ্যা এবং তাদের বর্ণনার মুতাওয়াতির (تواتر) হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি এখানে আলোচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
ويتناول الفصل الثاني أسس توثيق الراوي ناقل الحديث، وبيان الشروط التي ينبغي توافرها فيه؛ حتى يطمأن إلى حمله للحديث، وروايته له نقيًّا غير محرف أو مبدل فيه.
والفصل الثالث: يتناول مناهج تحمّل الحديث وروايته وما هو جدير منها بتوثيقه والمحافظة عليه؛ فيكون مقبولًا، وما هو غير ذلك، فيكون مرفوضًا.
والفصل الأخير: من هذا القسم تعرض للأسانيد؛ من حيث اتصالها وانقطاعها، ومتى يكون الحديث بها موثقًا، ومتى يكون غير ذلك في رأي بعض الفقهاء والمحدثين.
وقد طوف القسم الثاني من الرسالة مع الفقهاء ونقدهم الداخلي للحديث، بعيدًا عن رجاله وأسانيده.. وهو يتكون من ستة فصلول:
الفصل الأول: يتناول مقياس عرض أحاديث الآحاد على القرآن الكريم بين الآخذين به والرافضين له، والأمثلة التي طبق عليها هذا المقياس.
والفصل الثاني: تناول مقياس عرض أحاديث الآحاد على السنة المشهورة، ذلك المقياس الذي أخذ به الأحناف، ورفضه الإمام الشافعي كأساس من أسس توثيق الحديث.
ومقاييس أخرى عرض لها الفصل الثالث، ومنها عرض أحاديث الآحاد على ما هو مشهور بين الصحابة وعملهم وفتاواهم: وقد تناول هذا الفصل وجهة نظر الآخذين بها والرافضين لها كمقاييس أساسية في نقد الحديث وتوثيقه.
والفصل الرابع: تناول مقياس عرض أحاديث الآحاد على عمل أهل المدينة الذي أخذ به أصحاب مالك رضي الله عنه، ورفض الإمام الشافعي له، ومناقشته للآخذين به ومناقشة غيره من مخالفيهم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে হাদিস বর্ণনাকারী (الراوي) এর নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণের (توثيق) ভিত্তিগুলো এবং তার মধ্যে বিদ্যমান থাকা আবশ্যকীয় শর্তাবলি আলোচনা করা হয়েছে; যাতে হাদিস গ্রহণ এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং কোনো ধরনের বিকৃতি বা পরিবর্তন ছাড়া তা বর্ণনা করা যায়।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস গ্রহণ (تحمّل) ও বর্ণনার পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করে এবং এর মধ্যে কোনটি নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণ (توثيق) ও সংরক্ষণের যোগ্য, যার ফলে তা গ্রহণযোগ্য (مقبول) হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কোনটি তা নয়, যার ফলে তা প্রত্যাখ্যাত (مرفوض) হবে।
এই অংশের শেষ পরিচ্ছেদ: এটি সনদসমূহ (الأسانيد) নিয়ে আলোচনা করে; এর নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) এবং বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) -এর দিক থেকে, এবং কখন এর মাধ্যমে হাদিসটি নির্ভরযোগ্য (موثق) হয় এবং কখন হয় না—কিছু ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের মতানুসারে।
গবেষণাপত্রটির দ্বিতীয় অংশটি ফকিহগণের হাদিসের অভ্যন্তরীণ সমালোচনা (نقد داخلي) পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে, যা বর্ণনাকারী ও সনদ পর্যালোচনার উর্ধ্বে। এটি ছয়টি পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআনুল কারিমের সাথে খাবারে ওয়াহিদ (أحاديث الآحاد) হাদিসগুলোর তুলনামূলক যাচাইয়ের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করে, যারা এটি গ্রহণ করেন এবং যারা বর্জন করেন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং যে সকল উদাহরণে এই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছে তা এখানে স্থান পেয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহে মশহুর (السنة المشهورة)-এর সাথে খাবারে ওয়াহিদ (أحاديث الآحاد) হাদিসের তুলনামূলক যাচাইয়ের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করে; এই মানদণ্ডটি হানাফিগণ গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম শাফিঈ রহ. হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণের (توثيق) ভিত্তি হিসেবে এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদে অন্যান্য কিছু মানদণ্ড তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সাহাবিদের মাঝে প্রসিদ্ধ আমল ও ফতোয়ার সাথে খাবারে ওয়াহিদ (أحاديث الآحاد) হাদিসের তুলনা: এই পরিচ্ছেদটি হাদিস সমালোচনা (نقد) ও নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণের (توثيق) মৌলিক মানদণ্ড হিসেবে যারা এটি গ্রহণ করেছেন এবং যারা বর্জন করেছেন, তাদের উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করেছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মদিনাবাসীদের আমলের (عمل أهل المدينة) সাথে খাবারে ওয়াহিদ (أحاديث الآحاد) হাদিস যাচাইয়ের মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করে, যা ইমাম মালিক রহ.-এর অনুসারীগণ গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম শাফিঈ রহ. তা প্রত্যাখ্যান করেছেন; এছাড়া যারা এটি গ্রহণ করেছেন তাদের সাথে তার বিতর্ক এবং অন্যান্য বিরোধীদের আলোচনাও এতে স্থান পেয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
والفصل الخامس: تناول مقياس عرض خبر الواحد على القياس، بين من يأخذون به كأساس من أسس توثيق السنة، ومن يرفضون أخذه كذلك.
والفصل الأخير: عرض لرواية الحديث بالمعنى، من حيث المجيزون لهما، والرافضون.. كما عرض للأسس والقواعد التي وضعها بعض أئمة هذا العصر، ضمانًا لانتقال الأحاديث صحيحة عند روايتها بالمعنى.
ثم جاء دور الخاتمة، التي ذكرت أهم النتائج والاقتراحات التي انتهت إليها هذه الرسالة.
وطبيعة البحث في موضوع هذه الرسالة، على هذا المنهج، تقتضي الرجوع إلى نوعين من المصادر: مصادر تتناول أصول الفقه وأدلته، وأخرى تتناول أصول الحديث وأسسه.
أما بالنسبة للنوع الأول فقد يسر الله مؤلفات تمثل هذه الفترة خير تمثيل، وتحتوي على كثير من الأسس التي قال بها أئمة عاشوا في القرن الثاني الهجري، ومن هذه المؤلفات كتب الإمام الشافعي؛ كـ"الرسالة"، و"الأم"، و"اختلاف الحديث"، وبعض كتب الإمامين: محمد بن الحسن الشيباني، وأبي يوسف، و"موطأ الإمام مالك بن أنس".
وهذه الكتب -بالإضافة إلى إمدادها هذه الرسالة بكثير من أصول توثيق السنة- كانت الفيصل والحكم فيها نسبه المتأخرون إلى أئمة هذا القرن من أسس. أو بعبارة أخرى كانت موازين عادلة وزنت بها كل هذه المنسوبات فأحقت بعضها، وأبطلت بعضها الآخر.
وأما النوع الآخر فقد كان بعضه من هذه الفترة، كمؤلفات الإمام أحمد بن حنبل، والإمام علي بن المديني. وبعض منه كان قريبًا منها، ويمتاز بالدقة والصدق فيما نقل عن أئمة هذا القرن، وعن مؤلفاتهم:
وأهم هذه المصادر كتب ابن أبي حاتم الرازي: الجرح والتعديل، والمراسيل وآداب الشافعي، وعلل الحديث. وكتاب الرامهرمزي المحدث
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: কিয়াস (القياس) বা যুক্তিগত অনুমানের নিরিখে একক বর্ণনা (خبر الواحد) যাচাই করার মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছে; বিশেষ করে যারা এটিকে সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (توثيق) অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং যারা এটি সেভাবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন, তাদের মধ্যবর্তী পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।
এবং শেষ পরিচ্ছেদ: মর্মার্থের ভিত্তিতে হাদিস বর্ণনা (رواية بالمعنى) নিয়ে আলোকপাত করেছে, যারা এটি অনুমোদন করেছেন এবং যারা প্রত্যাখ্যান করেছেন তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে। পাশাপাশি এই যুগের কিছু ইমাম হাদিসকে মর্মার্থের ভিত্তিতে বর্ণনার সময় সেগুলো যেন সঠিক (صحيحة) ভাবে স্থানান্তরিত হয়, তা নিশ্চিত করতে যে নীতি ও নিয়মগুলো নির্ধারণ করেছেন তা-ও উপস্থাপন করা হয়েছে।
অতঃপর উপসংহারের পালা, যেখানে এই গবেষণাপত্রের মাধ্যমে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এবং প্রস্তাবনাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পদ্ধতি অনুসারে এই গবেষণাপত্রের বিষয়ের ওপর গবেষণার প্রকৃতি দুই ধরণের উৎসের শরণাপন্ন হওয়া দাবি করে: এক ধরণের উৎস যা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) এবং এর দলীলসমূহ নিয়ে আলোচনা করে, এবং অন্যটি যা হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث) ও এর ভিত্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করে।
প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে, আল্লাহ তাআলা এমন কিছু গ্রন্থ সহজলভ্য করেছেন যা এই সময়ের সর্বোত্তম প্রতিনিধিত্ব করে এবং এতে হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর ইমামদের বর্ণিত অনেক মৌলিক নীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ইমাম শাফেয়ীর কিতাবসমূহ যেমন: "আর-রিসালাহ", "আল-উম্ম", "ইখতিলাফুল হাদিস", এবং দুই ইমাম: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানি ও আবু ইউসুফের কিছু গ্রন্থ, এবং ইমাম মালিক ইবনে আনাসের "মুয়াত্তা"।
এই গ্রন্থগুলো—সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (توثيق) অনেক মূলনীতি দিয়ে এই গবেষণাপত্রকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি—পরবর্তী যুগের আলেমগণ এই শতাব্দীর ইমামদের দিকে যেসব মূলনীতি সম্বন্ধ করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী ও বিচারক হিসেবে কাজ করেছে। অন্য কথায়, এগুলো ছিল ন্যায়সঙ্গত পাল্লা, যার মাধ্যমে এই সব সম্বন্ধযুক্ত বিষয়গুলো পরিমাপ করা হয়েছে; ফলে এর কিছু বিষয় সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে এবং অন্যগুলো অসার হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
আর দ্বিতীয় প্রকারের উৎসগুলোর কিছু ছিল এই সময়েরই, যেমন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইমাম আলী ইবনুল মাদিনীর রচনাবলি। আর কিছু উৎস ছিল এই সময়ের সমসাময়িক বা কাছাকাছি সময়ের, যা এই শতাব্দীর ইমামগণ এবং তাঁদের গ্রন্থগুলো থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা বর্ণনার ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা ও সত্যবাদিতার জন্য অনন্য।
এই উৎসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইবনে আবি হাতিম আর-রাজির গ্রন্থসমূহ: "আল-জারহ ওয়াত তাদিল", "আল-মারাসিল", "আদাবুশ শাফিয়ি", এবং "ইলালুল হাদিস"। এবং রামহুরমুজীর গ্রন্থ "আল-মুহাদ্দিস"।
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفاضل الذي يعتبر في رأي كثير من الدارسين أول مؤلف في أصول الحديث.
وقد قام هذا النوع بنفس الدور الذي قام به النوع الأول.
وطبيعي أن تغني هذه المصادر الأصيلة عن كثير من المراجع الحديثة في كثير من الأحيان، وإن كان للأخيرة فضل الاسترشاد وإنارة الطريق، ووضع علامات استفهام في طريق البحث لفتت نظري إلى أهم ما يجب أن يبحث عنه في هذهالفترة، كإجابات عن هذه الاستفهامات.
وتتبعت منهج1 أستاذنا الجليل محمد أبي زهرة عليه رحمة الله، فلم أثقل هوامش الرسالة بالإحالة إلى المراجع، واكتفيت بالمصادر عندما تلتقي الأولى بها، وبأهم المصادر وأقدمها عنما تلتقي هي أيضًا على فكرة واحدة.
وإذا كانت الدراسة الموضوعية الصادقة هي تلك التي تعتمد على النصوص والوثائق فقد التزمت هذه الرسالة -إلى حد كبير- بإيرادها كشواهد ودلائل على ما عالجته من فكر ومبادئ
…وربما يلمس القارئ نوعًا من الغموض في بعضها، كنصوص الإمام الشافعي.. ولكن يعلم الله مقدار المعاناة في قراءة هذه النصوص والاستفادة منها، ومراجعتها أكثر من مرة
… وقد كنت حريصًا على إيرادها، والاستفادة منها، مؤثرًا الطريق الوعر، وتقديم كثير منها لأول مرة على الرغم من أن كتب الإمام الشافعي منتشرة بين العلماء، وطبعت منذ زمن بعيد.
--------------------------------------------
সেই গুণী ব্যক্তিত্ব, যিনি বহু গবেষকের মতে হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়ের প্রথম রচয়িতা হিসেবে গণ্য।
এবং এই প্রকারটি ঠিক সেই একই ভূমিকা পালন করেছে যা প্রথম প্রকারটি পালন করেছিল।
স্বাভাবিকভাবেই, এই মৌলিক উৎসসমূহ (المصادر) অনেক ক্ষেত্রেই আধুনিক রেফারেন্সগুলোর অভাব পূরণ করে দেয়; যদিও পরবর্তীকালে রচিত গ্রন্থগুলোর দিকনির্দেশনা প্রদান, পথ প্রদর্শন এবং গবেষণার পথে এমন সব প্রশ্ন উত্থাপনের কৃতিত্ব রয়েছে যা এই সময়ে কী অনুসন্ধান করা উচিত—সেসব জিজ্ঞাসার উত্তর হিসেবে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আমি আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মুহাম্মদ আবু জাহরা (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)-এর মানহাজ (منهج)¹ অনুসরণ করেছি; তাই আমি এই অভিসন্দর্ভের পাদটীকাগুলোকে রেফারেন্সের ভারে ভারাক্রান্ত করিনি। যেখানে আধুনিক রেফারেন্সগুলো মূল উৎসের সাথে মিলে যায়, সেখানে আমি কেবল মূল উৎসগুলোর (المصادر) ওপরই নির্ভর করেছি। আবার যখন একাধিক উৎস একই বিষয়ের অবতারণা করে, তখন আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীনতম উৎসগুলো উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।
যদি বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ গবেষণা বলতে সেটিকে বোঝায় যা মূল পাঠ (النصوص) এবং দালিলিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করে, তবে এই অভিসন্দর্ভে—অনেকখানিই—সেসব বিষয়কে উপস্থাপিত চিন্তা ও আদর্শের সাক্ষ্য ও প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি
…হয়তো পাঠক এগুলোর কোনো কোনোটিতে কিছুটা অস্পষ্টতা অনুভব করতে পারেন, যেমন ইমাম শাফিঈর মূল পাঠসমূহ (النصوص)। কিন্তু আল্লাহ জানেন যে, এই পাঠগুলো পড়তে, তা থেকে উপকৃত হতে এবং বারবার সেগুলো পর্যালোচনা করতে আমাকে কতটা কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়েছে
… আমি এগুলো উল্লেখ করতে এবং তা থেকে ফায়দা নিতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম; বন্ধুর পথ বেছে নেওয়া এবং প্রথমবারের মতো এগুলোর অনেক কিছু উপস্থাপন করাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি, যদিও ইমাম শাফিঈর কিতাবসমূহ আলেমদের মাঝে সুপরিচিত এবং অনেক আগেই মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
وبعد؛ فقد اجتهد ما وسعني الاجتهاد في هذه الرسالة، ولكن الكمال لله عز وجل وحده، والمعصومون من الأخطاء هم أنبياء الله، صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين
… فأدعوا الله العلي الكريم أن يغفر زلات هذا العمل وأخطاءه، وأن يجعله خالصًا لوجهه، وأن ينفع به؛ إنه نعم المولى، ونعم المجيب.
القاهرة في: ربيع الثاني 1396هـ.
أبريل 1976م.
رفعت فوزي عبد المطلب
অতপর; এই গবেষণাপত্র (رسالة) তৈরিতে আমি আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা (اجتهاد) ব্যয় করেছি, তবে পূর্ণতা একমাত্র মহান আল্লাহ তাআলার জন্যই নির্ধারিত। আর ভুলত্রুটি থেকে নিষ্পাপ (معصوم) হলেন আল্লাহর নবীগণ, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক
… আমি সুউচ্চ ও দয়াময় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কর্মের বিচ্যুতি ও ভুলত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন এবং একে একান্তই তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ (خالص) করেন ও এর মাধ্যমে উপকার দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং সর্বোত্তম সাড়াদানকারী।
কায়রো: রবিউস সানি ১৩৯৬ হিজরি।
এপ্রিল ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ।
রিফাত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
تمهيد
مدخل…تمهيد:
1- يجدر بنا قبل أن نسير في بحثنا "توثيق السنة في القرن الثاني الهجري: أسسه واتجاهاته" أن نقف عند بعض الموضوعات التي تمهد له، وتكون أساسًا لما نعالجه من قضايا، وتوضح أبعاده.
ونعني بهذه الموضوعات: تحديد معنى السنة والحديث، ومعنى كلمة التوثيق
… ونظرة عامة على التوثيق في القرن الأول الهجري
… ودوافع التوثيق في القرن الثاني
… والموثقون للأحاديث فيه.
السنة:
2- والسنة لها إطلاقات في اللغة1:
فهي السيرة الحسنة أو القبيحة، ومن ذلك قول الشاعر:
فلا تجزعن من سيرة أنت سرتها
… فأول راض سنة من يسيرها
وفي الحديث النبوي الكريم الذي رواه مسلم: "من سن في الإسلام سنة حسنة فله أجرها، وأجر من عمل بها من بعده، من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سن في الإسلام سنة سيئة كان عليه وزرها، ووزر من عمل بها من بعده، من غير أن ينقص من أوزارهم شيء" 2.
وكل من ابتدأ أمرًا واقتدى به فيه من بعده قيل: هو الذي سنه، قال الشاعر:
كأني سننت الحب أول عاشق
… من الناس إذ أحببت من بينهم وحدي
--------------------------------------------
ভূমিকা
প্রবেশিকা…ভূমিকা:
১- আমাদের গবেষণাপত্র "দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে সুন্নাহর প্রামাণ্যকরণ (توثيق): এর ভিত্তি ও গতিধারা" শুরু করার আগে এমন কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা আমাদের জন্য সমীচীন হবে যা এর ভূমিকা স্বরূপ কাজ করবে, আমরা যেসকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তার ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে এবং এর পরিধিকে স্পষ্ট করবে।
এই বিষয়গুলো দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো: সুন্নাহ ও হাদিসের অর্থ নির্ধারণ, প্রামাণ্যকরণ (توثيق) শব্দের অর্থ … প্রথম হিজরি শতাব্দীতে প্রামাণ্যকরণের (توثيق) একটি সাধারণ চিত্র … দ্বিতীয় শতাব্দীতে প্রামাণ্যকরণের (توثيق) প্রেক্ষাপট … এবং এই যুগে হাদিস প্রামাণ্যকারীগণ (الموثقون)।
সুন্নাহ:
২- আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহর একাধিক ব্যবহার রয়েছে১:
এটি হলো উত্তম বা অধম পথ বা রীতি, এ প্রসঙ্গে কবির উক্তি:
তুমি যে পথে চলেছ তার জন্য আক্ষেপ করো না … কেননা প্রথম যে ব্যক্তি কোনো রীতি প্রবর্তন করে, সেই তার প্রতি প্রথম সন্তুষ্ট থাকে।
আর মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত সম্মানিত নবিজির হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির প্রবর্তন করল, সে তার প্রতিদান পাবে এবং পরবর্তী যারা সেটি অনুসরণ করবে তাদের প্রতিদানও সে পাবে, এতে তাদের কারো প্রতিদান থেকে কিছুই হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির প্রবর্তন করল, সে তার গুনাহ বহন করবে এবং যারা পরবর্তীতে সেটি অনুসরণ করবে তাদের গুনাহও তার ওপর বর্তাবে, এতে তাদের কারো গুনাহ থেকে কিছুই হ্রাস করা হবে না" ২।
আর যে ব্যক্তিই কোনো কাজ শুরু করে এবং পরবর্তীতে অন্য কেউ তার অনুসরণ করে, তখন বলা হয়: সে-ই এটি প্রবর্তন করেছে। কবি বলেছেন:
আমি যেন প্রথম প্রেমিক হিসেবে ভালোবাসার রীতি প্রবর্তন করেছি … যখন সকল মানুষের মাঝে আমিই কেবল একাকী ভালোবেসেছিলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقد يراد بها حسن الرعاية، والقيام على الشيء، من قولهم: سننت الإبل، إذا أحسنت رعايتها والقيام عليها.
3- ولكن ماذا تعني "السنة عند العلماء؟
…إذا بدأنا بالاستعمالات الأولى للسنة، وجدنا أنهم يريدون بها عمل رسول الله صلى الله عليه وسلم وطريقته، فقد روى البخاري في صحيحه حديث ابن شهاب، عن سالم بن عبد الله، عن أبيه في قصته مع الحجاج حين قال له: "إن كنت تريد السنة فهجر بالصلاة"1. قال ابن شهاب: فقلت لسالم: أفعله رسول الله، صلى الله عليه وسلم؟ قال: وهل يعنون بذلك إلا سنته؟!
… ويعلق السيوطي على هذا بقوله: "فنقل سالم، وهو أحد الفقهاء السبعة من أهل المدينة، وأحد الحفاظ من التابعين عن الصحابة أنهم إذا أطلقوا السنة لا يريدون بذلك إلا سنة النبي، صلى الله عليه وسلم"2.
ومن هذا قول أبي قلابة: "عن أنس: من السنة إذا تزوج البكر على الثيب أقام عندها سبعًا".
قال أبو قلابة: "لو شئت لقلت: إن أنسًا رفعه إلى النبي، صلى الله عليه وسلم"؛ أي لو قلت لم أكذب؛ لأن قوله: من السنة" هذا معناه3.
وأخرج الحاكم في "المستدرك" عن زياد بن عبد الله النخعي قال: "كنا جلوسًا مع علي رضي الله عنه في المسجد الأعظم، فجاء المؤذن، فقال: الصلاة يا أمير المؤمنين. فقال: اجلس، فجلس، ثم عاد، فقال له
--------------------------------------------
এবং এর দ্বারা কোনো কিছুর উত্তম যত্ন ও তদারকি করাও উদ্দেশ্য হতে পারে, যেমন তাদের উক্তি: ‘আমি উটের যত্ন নিয়েছি’, যখন কেউ সেটির সুন্দর প্রতিপালন ও তদারকি করে।
৩- কিন্তু আলেমদের নিকট "সুন্নাহ (السنة)" বলতে কী বোঝায়?
...সুন্নাহর (السنة) প্রাথমিক প্রয়োগগুলো যদি আমরা লক্ষ্য করি, তবে দেখব যে তারা এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল ও তাঁর পদ্ধতিকে বোঝাতে চেয়েছেন। ইমাম বুখারি তাঁর সাহিহ গ্রন্থে ইবনে শিহাবের সূত্রে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহর নিকট থেকে এবং তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে হাজ্জাজের সাথে তাঁর ঘটনার বিষয়ে বর্ণনা করেছেন, যখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আপনি যদি সুন্নাহ (السنة) অনুসরণ করতে চান, তবে নামাজের জন্য দুপুরের কড়া রোদ থাকতেই বেরিয়ে পড়ুন।"১ ইবনে শিহাব বলেন: আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি এমনটি করতেন? তিনি বললেন: তারা যখন এটি বলে, তখন তাঁর সুন্নাহ (السنة) ব্যতীত আর কী বুঝাতে চায়?! ... এবং সুয়ূতি এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন: "মদিনার সাত ফকিহর (الفقهاء السبعة) অন্যতম এবং তাবেয়িদের (التابعين) মধ্যে অন্যতম হাফেজ (الحفاظ) সালিম সাহাবিদের (الصحابة) পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা যখন সাধারণভাবে সুন্নাহ (السنة) শব্দটি প্রয়োগ করেন, তখন এর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (السنة) ব্যতীত অন্য কিছু বোঝান না।"২
এরই অন্তর্ভুক্ত আবু কিলাবার উক্তি: "আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত: এটি সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত যে, যখন কেউ কুমারী নারীকে পূর্ববিবাহিতা নারীর ওপর বিবাহ করে, তখন সে তার নিকট সাত দিন অবস্থান করবে।"
আবু কিলাবা বলেন: "আমি যদি চাইতাম তবে বলতে পারতাম যে, আনাস (রা.) একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মরফূ (مرفوع) করেছেন (رفعه)"; অর্থাৎ আমি যদি তেমনটি বলতাম তবে মিথ্যা বলতাম না; কারণ তাঁর উক্তি: "সুন্নাহর (السنة) অন্তর্ভুক্ত" এর অর্থ এটাই।৩
আর হাকেম তাঁর "আল-মুস্তাদরাক" গ্রন্থে জিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাখয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা মাসজিদুল আযমে আলী (রা.)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় মুয়াজ্জিন এসে বলল: হে আমিরুল মুমিনীন, নামাজের সময় হয়েছে। তিনি বললেন: বসো। সে বসল, এরপর আবার ফিরে এসে তাঁকে বলল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ذلك، فقال علي: هذا الكب يعلمنا السنة؟!. فقام علي فصلى بنا العصر، ثم انصرفنا، فرجعنا إلى المكان الذي كنا فيه جلوسًا، فجثونا للركب، لتزور الشمس للمغيب، نتراءاها1.
وقد أطلقها عمر رضي الله عنه، وذكرها ابن عباس، وعمرو بن العاص، وعائشة، رضوان الله عليهم، وأرادوا بها سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم2.
ولهذا قال الشافعي، رحمه الله، مطلق السنة يتناول سنة رسول الله، صلى الله عليه وسلم، فقط3.
4- وقد تطلق السنة وبراد بها عمل الصحابة رضوان الله عليهم أو التابعين، سواء أكان ذلك مأخوذًا من الكتاب أو من سنة رسول الله، صلى الله عليه وسلم، أم من اجتهادهم. وقد ساغ هذا؛ لأن عملهم اتباع لسنة ثبتت عندهم، لم تنقل إلينا، أو اجتهاد مجتمع عليه منهم أو من الخلفاء4.
وقد اعتبر الإمام مالك والإمام أحمد، رحمهما الله، فتاوى الصحابة رضوان الله عليهم من السنة5.
--------------------------------------------
সেই বিষয়ে আলী (রা.) বললেন: "এই কাব (كعب) কি আমাদের সুন্নাহ শেখাবে?!"। এরপর আলী (রা.) উঠে দাঁড়ালেন এবং আমাদের নিয়ে আসরের সালাত আদায় করলেন। তারপর আমরা ফিরে আসলাম এবং যেখানে বসা ছিলাম সেখানে ফিরে গেলাম; এরপর আমরা হাঁটু গেঁড়ে বসলাম সূর্য অস্ত যাওয়ার জন্য ঢলে পড়া পর্যন্ত, আমরা সেটির দিকে তাকিয়ে ছিলাম১।
আর উমর (রা.) এটি প্রয়োগ করেছেন এবং ইবনে আব্বাস, আমর ইবনুল আস ও আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) এটি উল্লেখ করেছেন; তাঁরা এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে উদ্দেশ্য নিয়েছেন২।
এই কারণে ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন যে, সাধারণভাবে সুন্নাহ শব্দটি কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকেই অন্তর্ভুক্ত করে৩।
৪- কখনো কখনো সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহার করা হয় এবং এর দ্বারা সাহাবী (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম) অথবা তাবেয়ীদের আমল উদ্দেশ্য নেওয়া হয়; চাই তা কুরআন থেকে গৃহীত হোক কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে, অথবা তাঁদের ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে। আর এটি সঙ্গত হয়েছে; কারণ তাঁদের আমল ছিল এমন কোনো সুন্নাহর অনুসরণ যা তাঁদের নিকট প্রমাণিত ছিল কিন্তু আমাদের নিকট পৌঁছায়নি, অথবা এটি ছিল তাঁদের কিংবা খোলাফায়ে রাশেদীনের পক্ষ থেকে কোনো সর্বসম্মত ইজতিহাদ (اجتهاد)৪।
আর ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ (রহ.) সাহাবীদের ফাতাওয়াকে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وينقل السرخسي أن السلف كانوا يطلقون اسم السنة على طريقة أبي بكر وعمر رضوان الله عليهما، وكانوا يأخذون البيعة على سنة العمرين. وبين أن أصل هذا الإطلاق قوله عليه الصلاة والسلام: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين من بعدي، عضوا عليها بالنواجذ" 1.
5- ولهذه الإطلاقات اختلف العلماء في قولهم: "من السنة كذا" فقد يحمل هذا القول على سنة الرسول، صلى الله عليه وسلم، وقد يكون مقصودًا به من بعده من السلف الصالح رضوان الله عليهم، وخاصة الصحابة2.
6- على أنه ينبغي أن ننبه إلى أنه على الرغم من وجود المعاني السابقة للسنة - فإنهم كانوا يعتبرون ما صدر عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم مميزًا عن غيره، وأنه، بعد كتاب الله عز وجل، له الأولوية على ما عداه، وأنهم إذا أخذوا بغيره فلأنهم لم يجدوا ما يغنيهم من صحيح السنة، عندئذ يلجئون إليه، يقول الإمام الشافعي: "والعلم طبقات شتى، الأولى: الكتاب، والسنة إذا ثبتت السنة، ثم الثانية: الإجماع، فيما ليس فيه كتاب ولا سنة، والثالثة: أن يقول بعض أصحاب النبي، صلى الله عليه وسلم، قولًا، ولا نعلم له مخالفًا منهم، وارابعة: اختلاف أصحاب النبي، صلى الله عليه وسلم، في ذلك. الخامسة: القياس على بعض الطبقات، ولا يصدر إلى شيء غير الكتاب والسنة، وهما موجودان، وإنما يؤخذ العلم من أعلى3".
حقيقة وجدنا أن بعض العلماء، وخاصة في القرن الثاني الذي نقوم بدراسته، قد رد بعض الأخبار عدم شهرتها بين الصحابة، أو عدم
--------------------------------------------
আল-সারাকসি বর্ণনা করেন যে, সালাফগণ (পূর্বসূরিগণ) আবু বকর ও উমর (রা.)-এর কর্মপন্থাকে 'সুন্নাহ' নামে অভিহিত করতেন এবং তাঁরা দুই উমরের সুন্নাহর ওপর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই নামকরণের মূল ভিত্তি হলো তাঁর (রাসূলুল্লাহ সা.) বাণী: "তোমাদের ওপর আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা আবশ্যক; একে তোমরা দাঁত দিয়ে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো।" ১।
৫- সুন্নাহ শব্দের এই বহুমাত্রিক ব্যবহারের কারণে আলেমগণ যখন বলেন: "অমুক বিষয় সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত", তখন এই উক্তির ব্যাখ্যায় তাঁদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। কখনও এই বক্তব্যকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করা হয়, আবার কখনও এর দ্বারা তাঁর পরবর্তী নেককার সালাফ (পূর্বসূরি)—বিশেষ করে সাহাবীদের—কর্মপন্থা উদ্দেশ্য হতে পারে। ২।
৬- তবে এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সুন্নাহর পূর্বোক্ত অর্থসমূহ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে অন্যের কথা থেকে স্বতন্ত্র মনে করতেন। মহান আল্লাহর কিতাবের পর অন্য সবকিছুর ওপর তাঁর সুন্নাহরই অগ্রাধিকার রয়েছে। তাঁরা যদি তাঁর সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করতেন, তবে তা এ কারণে যে, তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো সহিহ (صحيح) সুন্নাহ খুঁজে পাননি; কেবল তখনই তাঁরা অন্যের শরণাপন্ন হতেন। ইমাম শাফেঈ বলেন: "জ্ঞান বিভিন্ন স্তরের। প্রথম স্তর: কিতাবুল্লাহ এবং সুন্নাহ—যখন সুন্নাহ সাব্যস্ত বা প্রমাণিত (ثبتت) হয়। দ্বিতীয় স্তর: ইজমা (إجماع)—যেখানে কিতাব বা সুন্নাহর বর্ণনা নেই। তৃতীয় স্তর: যখন আল্লাহর নবী (সা.)-এর কোনো সাহাবী কোনো কথা বলেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ এর বিরোধিতা করেছেন বলে আমাদের জানা না থাকে। চতুর্থ স্তর: এই বিষয়ে আল্লাহর নবী (সা.)-এর সাহাবীদের মধ্যে বিদ্যমান মতভেদ। পঞ্চম স্তর: পূর্বোক্ত কোনো স্তরের ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (قياس)। কিতাব ও সুন্নাহ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অন্য কোনো কিছুর দিকে ফিরে যাওয়া যাবে না। জ্ঞান তো কেবল উচ্চতর উৎস থেকেই গ্রহণ করা হয়।" ৩।
বাস্তবিকই আমরা দেখতে পাই যে, কিছু আলেম, বিশেষ করে আমরা যে দ্বিতীয় শতাব্দী নিয়ে আলোচনা করছি, তাঁরা কিছু সংবাদ বা বর্ণনা (أخبار) প্রত্যাখ্যান করেছেন সাহাবীদের মাঝে তা প্রসিদ্ধ (شهرة) না হওয়ার কারণে অথবা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أخذهم بها دليلًا، أو لأن بعض البلدان، وخاصة المدينة، لا تعمل بها، ثم يأخذون بأقوال للصحابة أو بعمل أهل المدينة، ولكن هذا لا يعني إلا أمرين.
الأول: أنهم لم يأخذوا بهذا على أنه مثل السنة في المكانة، ولا لأن السنة تطلق عليهما؛ وإنما لأنهم أصبحوا في شك، يقرب من اليقين أن هذا لم يصدر من الرسول، صلى الله عليه وسلم، وأن هناك انقطاعًا باطنيًّا في الحديث، كما يعبر الأحناف.
الثاني: أن هذا تمسك بسنة الرسول صلى الله عليه وسلم فقط؛ لأنهم عندما يلجئون إلى عمل، أو إلى الصحابة، فلاعتقاد منهم أنهم ورثوه عن النبي صلى الله عليه وسلم، أو بعبارة أخرى عن سنة الرسول صلى الله عليه وسلم.
نقول هذا لندرك مدى الخطأ الذي وقع فيه بعض المستشرقين من أمثال يوسف شاخت، الذي يقول عن علماء القرن الثاني الهجري قبل الشافعي ومعاصريه إن "السنة بالنسبة إليهم لا ترتبط ضرورة بالنبي، ولكنها تمثل الآثار، ولو تصورًا، التي كان عليها العمل بين الجماعة مكونة العرف، فكانت على قدم المساواة مع ما كان يجري عليه العمل من عاداتهم، أو ما كانت تأخذ به عامتهم على وجه العموم". ويؤكد فكرة المساواة هذه بعبارة أوضح، فيقول: "ومن ناحية أخرى، فإنه من المؤكد أن السابقين والمعاصرين للشافعي كانوا يقدمون أحاديث الرسول إلا أنهم كانوا يضعونها في نفس المنزلة، التي يضعون فيها آثار الصحابة والتابعين"1، ثم يناقض نفسه فيجعل سنة الرسول في منزلة أقل فيقول: "وقد كان الاحتجاج بآثار الصحابة والتابعين هو المعمول فيه عند الجيلين السابقين للشافعي، وكان الاحتجاج بأحاديث الرسول الأمر الشاذ"2.
--------------------------------------------
তাদের সেগুলোকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা, অথবা একারণে যে কিছু দেশ, বিশেষ করে মদীনা, সেগুলোর ওপর আমল করে না, অতঃপর তারা সাহাবীগণের বাণী কিংবা মদীনাবাসীদের আমল গ্রহণ করেন; তবে এর মাধ্যমে কেবল দুটি বিষয়ই প্রতিভাত হয়।
প্রথমত: তারা এগুলোকে মর্যাদার দিক থেকে সুন্নাহর সমতুল্য হিসেবে গ্রহণ করেননি, আর সুন্নাহ শব্দটি এই উভয় ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয় বলেও নয়; বরং এটি একারণে যে তারা এমন এক সংশয়ের মধ্যে উপনীত হয়েছিলেন যা প্রায় নিশ্চিত বিশ্বাসের কাছাকাছি ছিল যে এটি রাসূল (সা.) থেকে বর্ণিত হয়নি, এবং হাদিসে একটি অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতা (انقطاع باطني) রয়েছে, যেমনটি হানাফীগণ ব্যক্ত করে থাকেন।
দ্বিতীয়ত: এটি কেবল রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহর সাথেই সুদৃঢ়ভাবে লেগে থাকা; কারণ তারা যখন কোনো আমল কিংবা সাহাবীগণের শরণাপন্ন হতেন, তখন তাদের এই বিশ্বাস কাজ করত যে তারা তা নবী (সা.) থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন, অথবা অন্য কথায় তা রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে উৎসারিত।
আমরা এটি বলছি যাতে ইউসুফ শ্যাখট-এর মতো কিছু প্রাচ্যবিদের ভুলের মাত্রা অনুধাবন করা যায়, যিনি ইমাম শাফেঈর পূর্ববর্তী এবং তাঁর সমসাময়িক হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীর আলেমদের সম্পর্কে বলেন যে, "তাদের নিকট সুন্নাহর বিষয়টি নবী (সা.)-এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া আবশ্যকীয় নয়, বরং তা বর্ণনা (الآثار)-কে প্রতিনিধিত্ব করে—এমনকি তা কাল্পনিক হলেও—যা জামাতের মধ্যকার প্রচলিত কর্মপন্থার মাধ্যমে প্রথা হিসেবে গড়ে উঠেছিল; ফলে তা তাদের অভ্যাসগত প্রচলিত নিয়ম কিংবা সাধারণ মানুষের অনুসৃত রীতির সাথে সমমর্যাদাপূর্ণ ছিল।" তিনি সমতার এই ধারণাকে আরও স্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করে বলেন: "অন্যদিক থেকে এটি নিশ্চিত যে, শাফেঈর পূর্বসূরি ও সমসাময়িকগণ রাসূলের হাদিসসমূহকে অগ্রাধিকার দিতেন, তবে তারা সেগুলোকে সাহাবী ও তাবিঈগণের বর্ণনার (الآثار) মতো একই মর্যাদায় রাখতেন"১। অতঃপর তিনি নিজেই নিজের বিরোধিতা করেন এবং রাসূলের সুন্নাহকে নিম্নতর মর্যাদায় স্থাপন করে বলেন: "শাফেঈর পূর্ববর্তী দুই প্রজন্মের নিকট সাহাবী ও তাবিঈগণের বর্ণনার (الآثار) মাধ্যমে দলিল পেশ করা (الاحتجاج) ছিল একটি অনুসৃত পদ্ধতি, আর রাসূলের হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করা (الاحتجاج) ছিল একটি ব্যতিক্রমী বিষয়"২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
نقول: لم يتصور أحد من المسلمين قبل الشافعي أو بعده أن عمل الصحابة ومن بعدهم، أو العمل بين الجماعة. والذي يكوِّن العرف يكون على قدم المساواة مع ما ينسب إلى النبي، صلى الله عليه وسلم، أو في نفس المنزلة، فضلًا عن أن يكون في منزلة أدنى، أو في وضع شاذ بالنسبة لعمل غيره. والأمر لا يتعدى أن بعض الفقهاء قد وضع بعض المقاييس لتوثيق السنة، وهو الذي جعل الإمام الشافعي يرميهم بترك السنة، وعدم الاعتماد على صحتها من حيث الإسناد.
ولم يكن الشافعي هو الذي أتى بالجديد في ذلك، كما يزعم هذا الرجل، ويتبعه في ذلك بعض الباحثين، فقد كان معه ووراءه وقبله المحدثون جميعًا ينادون بترك هذه المقاييس والاقتصار على صحة الإسناد، ويتهمون مخالفيهم بترك السنة والابتعاد عنها، وهي تهمة كان يفزع منها خصومهم، ويحاولون أن يثبتوا أنهم برآء منها، ولو كان الأمر عندهم كما يصور "شاخت" وأمثاله ما بالوا بهذه التهم، ولما كانت شنيعة في نظرهم ونظر مجتمعهم، ما دام الأخذ بالسنة هو الأمر الشاذ.
وسيثبت لنا هذا البحث في جزء كبير منه، أنهم في الحقيقة كانوا يقدمون سنة النبي، النبي متى صحت عندهم بالمقاييس التي وضعوها، ولا يقدمون عليها إجماعًا أو قولًا أو عملًا، من الصحابة أو من غيرهم.
7- وغير هذه الإطلاقات قد تطلق السنة في مقابلة البدعة، أي ما يحدثه الناس من قول أو عمل في الدين مما لم يؤثر عنه صلى الله عليه وسلم وعن أصحابه، يقول الشاطبي: "فيقال فلان على سنة إذا عمل على وفق ما عمل عليه النبي صلى الله عليه وسلم؛ كان ذلك مما نص عليه في الكتاب أو لا
… ويقال فلان على بدعة إذا كان على خلاف ذلك "واعتبر في هذا الإطلاق عمل صاحب الشريعة، وإن كان العمل بمقضى الكتاب1".
8- وتطلق السنة على النوافل من العبادات غير الفروض، مما نقل
--------------------------------------------
আমরা বলি: ইমাম শাফিঈর আগে বা পরে কোনো মুসলিমই এমনটি কল্পনা করেননি যে, সাহাবীগণ এবং তাঁদের উত্তরসূরিদের আমল, কিংবা জামাতের মধ্যকার আমল—যা মূলত প্রথা গড়ে তোলে—তা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয় তার সাথে সমপর্যায়ে হতে পারে, কিংবা একই মর্যাদার হতে পারে; বরং এর চেয়ে নিম্নতর মর্যাদার হওয়া অথবা অন্য কারো আমলের তুলনায় তা এক অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকা তো অসম্ভব। বিষয়টি কেবল এই যে, কিছু ফকিহ সুন্নাহর প্রামাণ্যতা যাচাইয়ের জন্য কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করেছিলেন, যার ফলে ইমাম শাফিঈ তাঁদের বিরুদ্ধে সুন্নাহ বর্জন করার এবং সনদ (إسناد)-এর দিক থেকে এর বিশুদ্ধতা (صحة)-এর ওপর নির্ভর না করার অভিযোগ এনেছিলেন।
আর এই ব্যক্তি যেমনটি দাবি করেন এবং তাঁর অনুসরণে কতিপয় গবেষক যা বলেন—ইমাম শাফিঈ এই ক্ষেত্রে কোনো নতুনত্ব নিয়ে আসেননি। বরং তাঁর সাথে, তাঁর পরে এবং তাঁর পূর্বে সকল হাদিস বিশারদ (محدثون) এই সমস্ত মানদণ্ড বর্জন করার এবং কেবল সনদের বিশুদ্ধতা (صحة الإسناد)-এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাতেন। তাঁরা তাঁদের বিরোধীদের সুন্নাহ বর্জন করার এবং তা থেকে দূরে সরে যাওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করতেন। এটি এমন এক অভিযোগ ছিল যা শুনে তাঁদের প্রতিপক্ষরা আতঙ্কিত হয়ে পড়তেন এবং প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন যে তাঁরা এ থেকে মুক্ত। যদি বিষয়টি তাঁদের কাছে তেমনই হতো যেমনটি "শাখত" এবং তাঁর সমমনারা চিত্রিত করেছেন, তবে তাঁরা এই অভিযোগের পরোয়া করতেন না। আর তাঁদের ও তাঁদের সমাজের দৃষ্টিতে এটি এত জঘন্য মনে হতো না, যদি সুন্নাহ গ্রহণ করা একটি অস্বাভাবিক বা বিরল বিষয় হতো।
এই গবেষণার একটি বড় অংশ আমাদের সামনে প্রমাণ করবে যে, প্রকৃতপক্ষে তাঁরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহকেই অগ্রাধিকার দিতেন যখন তা তাঁদের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত হতো। তাঁরা সাহাবী বা অন্য কারো সর্বসম্মত ঐকমত্য (إجماع), বক্তব্য কিংবা আমলকে সুন্নাহর ওপর প্রাধান্য দিতেন না।
৭- এই সকল সাধারণ প্রয়োগ ছাড়াও, সুন্নাহ শব্দটি নব-উদ্ভাবন (بدعة)-এর বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ দ্বীনের মধ্যে মানুষ যেসব কথা বা কাজ নতুনভাবে শুরু করে যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হয়নি। আল-শাতিবি বলেন: "বলা হয় যে অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর রয়েছেন, যখন তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমল অনুযায়ী কাজ করেন; চাই তা কিতাবে (কুরআন) স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হোক বা না হোক
… আর বলা হয় যে অমুক ব্যক্তি নব-উদ্ভাবন (بدعة)-এর ওপর রয়েছেন, যখন তিনি এর বিপরীতে অবস্থান করেন।" এই সংজ্ঞায় শরীয়তদাতার আমলকেই মূল বিবেচনা করা হয়েছে, যদিও সেই আমল কিতাবের দাবি অনুযায়ী হয়ে থাকে।
৮- সুন্নাহ শব্দটি ফরজ (فروض) ইবাদত ব্যতীত নফল (نوافل) ইবাদতসমূহের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়, যা বর্ণিত হয়েছে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
عن النبي، صلى الله عليه وسلم، سواء كانت مؤكدة يكره تركها أو غير ذلك1.
9- والسنة عند الشيعة لها إطلاق يختلف إلى حد كبير عن كل هذا. لأنها عندهم قول النبي صلى الله عليه وسلم أو فعله أو تقريره، وقول كل واحد من المعصومين أو فعله أو تقريره، أو بعبارة أخرى قول المعصوم أو فعله أو تقريره.
وذلك لأن المعصوم من آل البيت يجري قوله مجرى قول النبي من كونه حجة على العباد واجب الاتباع "والأئمة من آل البيت عندهم ليسوا من قبيل الرواة عن النبي صلى الله عليه وسلم والمحدثين عنه ليكون قولهم حجة من جهة أنهم ثقات في الرواية؛ بل لأنهم هم المنصّبون من الله تعالى على لسان النبي لتبليغ الأحكام
… وذلك من طريق الإلهام كالنبي من طريق الوحي، أو من طريق التلقي من المعصوم قبله"2.
10- وبعد أن استقرت المصطلحات في مؤلفات أصول الحديث والفقه وأصوله وجدنا للسنة مفهومات محددة تسير عليها هذه المؤلفات، ويسير عليها العلماء المتأخرون في هذه العلوم الثلاثة:
فالسنة عند علماء الحديث هي كل ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة، سواء أدل ذلك على حكم شرعي أم لا.
والسنة عند علماء أصول الفقه هي كل ما صدر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير مما يصلح أن يكون دليلًا لحكم شرعي.
والسنة عند علماء الفقه هي كل ما ثبت عن النبي، صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, চাই তা সুনিশ্চিত (مؤكدة) হোক যা ত্যাগ করা অপছন্দনীয়, অথবা অন্য কিছু হোক।১
৯- শিয়াদের নিকট সুন্নাহর (السنة) এমন একটি প্রয়োগ রয়েছে যা এর সবকিছুর থেকে অনেকখানি ভিন্ন। কারণ তাদের মতে, সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি (تقرير), এবং প্রত্যেক নিষ্পাপ ব্যক্তির (المعصومين) কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি (تقرير); অথবা অন্য কথায়, নিষ্পাপ ব্যক্তির (المعصوم) কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি (تقرير)।
এর কারণ হলো আহলে বাইতের নিষ্পাপ ব্যক্তির (المعصوم) কথা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথার স্থলাভিষিক্ত, যা বান্দাদের ওপর প্রমাণ (حجة) এবং অনুসরণ করা ওয়াজিব। "তাদের নিকট আহলে বাইতের ইমামগণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনাকারী (الرواة) বা হাদিস বিশারদ (المحدثين) হিসেবে গণ্য নন যে, বর্ণনার ক্ষেত্রে তারা নির্ভরযোগ্য (ثقات) হওয়ার কারণে তাদের কথা প্রমাণ (حجة) হিসেবে বিবেচিত হবে; বরং তারা তো বিধান পৌঁছে দেওয়ার জন্য নবীর মুখে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মনোনীত... আর তা ইলহামের (الإلهام) মাধ্যমে যেমন নবীর কাছে ওহীর (الوحي) মাধ্যমে আসে, অথবা পূর্ববর্তী নিষ্পাপ ব্যক্তির (المعصوم) নিকট থেকে প্রাপ্ত হওয়ার মাধ্যমে ঘটে।"২
১০- উসূলে হাদিস, ফিকহ এবং উসূলে ফিকহের গ্রন্থসমূহে পরিভাষাগুলো স্থির হওয়ার পর, আমরা সুন্নাহর সুনির্দিষ্ট কিছু ধারণা খুঁজে পাই যার ওপর ভিত্তি করে এই গ্রন্থগুলো রচিত হয়েছে এবং এই তিন শাস্ত্রের পরবর্তী যুগের আলেমগণ (المتأخرون) সেই অনুযায়ী চলেছেন:
হাদিস বিশারদদের (علماء الحديث) নিকট সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত প্রতিটি কথা, কাজ, মৌন সম্মতি (تقرير) অথবা গুণাগুণ, চাই তা কোনো শরয়ী বিধানের প্রমাণ হোক বা না হোক।
উসূলে ফিকহের আলেমদের (علماء أصول الفقه) নিকট সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রকাশিত প্রতিটি কথা, কাজ বা মৌন সম্মতি (تقرير) যা শরয়ী বিধানের দলিল (دليل) হওয়ার যোগ্যতা রাখে।
ফিকহ শাস্ত্রের আলেমদের (علماء الفقه) নিকট সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত প্রতিটি বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ولم يكن من باب الفرض. فهي الطريقة المتبعة في الدين من غير افتراض1.
11- وسنسير في بحثنا -إن شاء الله تعالى- على الإطلاق الأول، وهو إطلاق المحدثين الذين يعنون بالسنة -كما أسلفنا- كل ما أثر عن النبي، صلى الله عليه وسلم؛ وذلك لأن التوثيق للسنة اتجه إلى هذا المعنى، وعليه وضعت الأسس لمعرفة الصحيح الذي ينسب إلى الرسول صلى الله عليه وسلم أو ما يتعلق به حقًّا، من زيفه الذي ينسب إليه كذبًا أو ضعيفه الذي يُشك في نسبته إليه صلى الله عليه وسلم.
كما أنه لن يلتفت إلى أسس توثيق الشيعة للحديث؛ لأنهم لم يقوموا بوضع هذه الأسس إلا بعد القرن الثاني الهجري، وفي هذا القرن وما قبله كان هناك الأئمة الذين يأخذون منهم الأحاديث مباشرة، فمثلهم في هذا مثل من كانوا في العهد يرجعون إلى النبي صلى الله عليه وسلم، ولم تكن هناك من حاجة إلى وضع هذه الأسس، ولا إلى تلك الحركة العلمية الهائلة التي قامت بوضع أسس لتوثيق السنة عند أهل السنة. ولم يبدأ التصنيف في علم أصول الحديث عندهم إلا في أواخر القرن الرابع الهجري، مع التسليم بأن الحاكم النيسابوري منهم "405هـ"2.
هل يختلف هذا المفهوم الذي اخترناه للسنة عن مفهوم الحديث؟:
الحديث:
12- الحديث في اللغة يطلق على الجديد ضد القديم، كما يطلق على الخبر والقصص، قال في "القاموس المحيط": "والحديث الجديد والخبر"
--------------------------------------------
এবং এটি ফরজ (আবশ্যিক) হওয়ার পর্যায়ভুক্ত ছিল না। বরং এটি দ্বীনের মধ্যে অনুসৃত পদ্ধতি যা কোনো প্রকার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই।১
১১- এবং আমরা আমাদের গবেষণায়—ইনশাআল্লাহ তাআলা—প্রথম ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করেই অগ্রসর হব; আর তা হলো মুহাদ্দিসগণের (محدث) পরিভাষা, যা দিয়ে তাঁরা সুন্নাহ বলতে বোঝান—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (أثر) সবকিছু। কারণ সুন্নাহর প্রামাণ্যকরণ (توثيق) এই অর্থটির দিকেই পরিচালিত হয়েছে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই সঠিক (صحيح) বিষয়গুলো শনাক্ত করার মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত কিংবা যা সত্যিকার অর্থেই তাঁর সাথে সম্পর্কিত, যাতে তা মিথ্যাভাবে তাঁর প্রতি আরোপিত কৃত্রিম বিষয়সমূহ কিংবা তাঁর দুর্বল (ضعيف) বিষয়গুলো থেকে পৃথক করা যায় যার সম্বন্ধ তাঁর প্রতি হওয়া সংশয়পূর্ণ।
তদ্রূপ হাদিস প্রামাণ্যকরণের (توثيق) ক্ষেত্রে শিয়াদের মূলনীতিগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখা হবে না; কারণ তারা হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর আগে এসব মূলনীতি প্রণয়ন করেনি। সেই শতাব্দী এবং তার আগে এমন ইমামগণ বিদ্যমান ছিলেন যাদের কাছ থেকে তারা সরাসরি হাদিস গ্রহণ করতেন। এক্ষেত্রে তাদের অবস্থা ছিল সেই সময়ের লোকদের মতো যারা সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন। ফলে তখন এসব মূলনীতি প্রণয়নের কোনো প্রয়োজন ছিল না, কিংবা সেই বিশাল বৈজ্ঞানিক আন্দোলনেরও প্রয়োজন ছিল না যা আহলে সুন্নাতের নিকট সুন্নাহর প্রামাণ্যকরণের (توثيق) মূলনীতিসমূহ স্থাপন করেছিল। আর তাদের নিকট হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث) বিষয়ক গ্রন্থনা চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষের দিকের আগে শুরু হয়নি; যদিও এটি স্বীকৃত যে আল-হাকিম আন-নিশাপুরী (৪০৫ হিজরি) তাদেরই একজন ছিলেন।২
সুন্নাহর যে ধারণা আমরা পছন্দ করেছি তা কি হাদিসের ধারণা থেকে ভিন্ন?:
হাদিস:
১২- আভিধানিক অর্থে হাদিস শব্দটি 'পুরাতন'-এর বিপরীত 'নতুন' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি সংবাদ এবং গল্পের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 'আল-কামুস আল-মুহিত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "হাদিস হলো নতুন এবং সংবাদ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي "لسان العرب": "والحديث الجديد من الأشياء، والحديث الخبر يأتي على القليل والكثير، والجمع أحاديث".
13- وتخصيص الحديث بما قاله الرسول، صلى الله عليه وسلم، قد بدأ في حياته صلى الله عليه وسلم، فقد سأله أبو هريرة: "يا رسول الله، من أسعد الناس بشفاعتك يوم القيامة".. فأجابه رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لقد ظننت يا أبا هريرة، أن لا يسألني عن هذا الحديث أحد أدل منك، لما رأيت من حرصك على الحديث" 1.
14- وقد اتسع استعمال الحديث بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم فأصبح يشمل مع القول فعله وتقريره صلى الله عليه وسلم2.
ولهذا يصطلح المحدثون على أنه "ما صدر عن الرسول، صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة3.
وهذا ما يطبق فعلًا في كتب الحديث منذ القرن الثاني الهجري، حتى إننا نجده في الكتب الخاصة بالسنن، أي بأدلة الأحكام من السنة4.
--------------------------------------------
এবং "লিসানুল আরব" গ্রন্থে রয়েছে: "হাদিস হলো কোনো বিষয়ের নতুন (الجديد) কিছু হওয়া। আর খবর (الخبر) অর্থে হাদিস অল্প এবং অধিক উভয় বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, এর বহুবচন হলো আহাদিস।"
১৩- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার সাথে 'হাদিস' শব্দটিকে নির্দিষ্ট করার বিষয়টি তাঁর জীবদ্দশাতেই শুরু হয়েছিল। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল, কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ লাভে সবচাইতে ভাগ্যবান ব্যক্তি কে হবে?" আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে উত্তর দিয়েছিলেন: "হে আবু হুরায়রা, আমি ধারণা করেছিলাম যে, তোমার আগে এই হাদিস সম্পর্কে আমাকে কেউ জিজ্ঞাসা করবে না; কারণ হাদিসের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহ আমি লক্ষ্য করেছি।" ১।
১৪- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর হাদিসের ব্যবহারের পরিধি বিস্তৃত হয় এবং তা তাঁর বাণীর পাশাপাশি কাজ (فعله) ও মৌন সম্মতিকেও (تقريره) অন্তর্ভুক্ত করে। ২।
এই কারণে মুহাদ্দিসগণ পরিভাষা হিসেবে স্থির করেছেন যে, হাদিস হলো "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো কথা (قول), কাজ (فعل), মৌন সম্মতি (تقرير) অথবা বৈশিষ্ট্য (صفة)"। ৩।
এটিই মূলত দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দী থেকে হাদিসের গ্রন্থসমূহে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, এমনকি আমরা এটি 'সুনান' বিষয়ক বিশেষ গ্রন্থগুলোতেও খুঁজে পাই, অর্থাৎ সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত বিধিবিধানের দলীলসমূহের (أدلة الأحكام) ক্ষেত্রে। ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
السنة والحديث:15- وهذا التعريف للحديث عند المحدثين ينطبق تمامًا على تعريف السنة، عندهم كما سبق أن ذكرنا.
ولكنه قد يبدو في أقوال بعض العلماء في القرن الثاني الهجري التفرقة
بينهما نلمس، ذلك في قول الأعمش1 رحمه الله: "لا أعلم لله قومًا أفضل من قوم يطلبون هذا الحديث، ويحبون هذه السنة2"، وأوضح منه على هذا قول عبد الرحمن بن مهدي: "الناس على وجوه؛ فمنهم من هو إمام في السنة وليس بإمام في الحديث، ومنهم من هو إمام في الحديث وليس بإمام في السنة".
وربما كان أساس هذا التفريق هو أنهم كانوا ينظرون إلى أن "الحديث أمر علمي نظري، وأن السنة أمر عملي؛ إذ أنها كانت تعتبر المثل الأعلى للسلوك في كل أمور الدين والدنيا، وكان هذا سبب الاجتهاد في البحث عنها والاعتناء بحفظها والاقتداء بها4".
وربما كان الأساس هو أن بعضهم كان ينظر إلى السنة على أنها أعم من فعلالرسول وقوله وتقريره، وتشمل أفعال الصحابة والتابعين، كما سبق أن ذكرنا.
16- ولكننا سنسير في بحثنا هذا -إن شاء الله تعالى- على أن السنة والحديث يتطابقان في المعنى، ويمكن أن يطلق أحدهما على الآخر.
17- وقد نطلق لفظين آخرين، ونريد بكل منهما ما نريده من كلمتي السنة والحديث بالمفهوم الذي اخترناه، وهما الخبر والأثر، وهما مرادفان للحديث عند المحدثين، ولهما مفهومات أخرى عند غيرهم5 ليس هنا مجال بحثها.
--------------------------------------------
সুন্নাহ ও হাদিস:১৫- মুহাদ্দিসদের (المحدثين) নিকট হাদিসের এই সংজ্ঞাটি সুন্নাহর (السنة) সংজ্ঞার সাথে হুবহু মিলে যায়, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
তবে দ্বিতীয় হিজরি শতকের কিছু আলেমের বক্তব্যে এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
আমরা তা আল-আ’মাশ (রহ.)-এর এই উক্তিতে লক্ষ্য করি: "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমন কোনো সম্প্রদায়কে জানি না যারা এই হাদিস অন্বেষণ করে এবং এই সুন্নাহকে (السنة) ভালোবাসে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।" এর চেয়েও স্পষ্ট হলো আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর উক্তি: "মানুষ বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে; তাদের মধ্যে কেউ সুন্নাহর (السنة) ক্ষেত্রে ইমাম (إمام), কিন্তু হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম (إمام) নন। আবার কেউ হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম (إمام), কিন্তু সুন্নাহর (السنة) ক্ষেত্রে ইমাম (إمام) নন।"
সম্ভবত এই পার্থক্যের ভিত্তি ছিল যে, তারা মনে করতেন "হাদিস হলো একটি তাত্ত্বিক জ্ঞানীয় বিষয়, আর সুন্নাহ (السنة) হলো একটি প্রায়োগিক বিষয়; কারণ সুন্নাহকে দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় বিষয়ে আচরণের সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। আর এটিই ছিল সুন্নাহ অন্বেষণে ইজতিহাদ (الاجتهاد) করা, তা সংরক্ষণে যত্নবান হওয়া এবং তা অনুসরণের মূল কারণ।"
সম্ভবত আরেকটি ভিত্তি হলো, তাঁদের কেউ কেউ সুন্নাহকে (السنة) রাসূলের কাজ, কথা ও মৌনসম্মতি (تقرير) থেকে আরও ব্যাপক মনে করতেন, যা সাহাবী ও তাবিঈদের কার্যাবলীকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
১৬- তবে আমরা এই গবেষণায় —ইনশাআল্লাহ তাআলা— সুন্নাহ (السنة) এবং হাদিসকে সমার্থক হিসেবে ধরে সামনে এগোব এবং একটির স্থলে অন্যটি প্রয়োগ করা সম্ভব বলে গণ্য করব।
১৭- আমরা আরও দুটি শব্দ ব্যবহার করতে পারি এবং তার প্রতিটি দ্বারা আমরা সুন্নাহ (السنة) ও হাদিস শব্দদ্বয় থেকে আমাদের মনোনীত সংজ্ঞায় যা উদ্দেশ্য নিয়েছি তাই বোঝাব; আর তা হলো সংবাদ (الخبر) এবং বর্ণনা (الأثر)। মুহাদ্দিসদের (المحدثين) নিকট এ দুটি শব্দ হাদিসের সমার্থক (مرادف), তবে অন্যদের নিকট এগুলোর ভিন্ন অর্থ রয়েছে যার আলোচনার স্থান এটি নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
توثيق السنة والمراد منه:18- في "لسان العرب" في مادة "وث ق": الثقة مصدر قولك: وثق به يثق بالكسر فيهما، وثاقة وثقة: ائتمنه، وأنا واثق به، وهو موثوق به، وهي موثوق بها وهم موثق بهم.... وثقت فلانًا إذا قلت: إنه ثقة، ووثقت الشيء توثيقًا؛ فهو موثق، والوثيقة الإحكام في الأمر
… ويقال: استوثقت من فلان، وتوثقت من الأمر: إذا أخذت منه بالوثاقة. وأخذت الأمر بالأوثق؛ أي: الأشد الأحكم
… وناقة موثقة الخلق: محكمة1.
ويضيف "تاج العروس": ووثقه توثيقًا؛ فهو موثق: أحكمه، ووثق فلانًا، قال فيه: ثقة، أي مؤتمن.
19- ونريد من توثيق السنة أو الحديث قريبًا من هذا، وهو الوصول بالحديث، بتطبيق الأسس العلمية التي وضعها العلماء، إلى درجة إحكام اتصاله، ونسبته إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتوفر الأمانة في نقله من التحريف والتغيير أو الزيادة فيه. وعدم ائتمان ما يخالف هذه الأسس.
ويمكننا أن نقول على غرار هذه المادة اللغوية: وثق بالحديث يثق به، ائتمنه وأنا واثق به، أي آمن نسبته إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، ووثقت الحديث توثيقًا، أحكمت نسبته إلى رسول الله، صلى الله عليه وسلم.
20- وقد شاع استعمال لفظ "ثقة" على لسان النقاد من المحدثين، وكتبهم وصفًا للرواة، ويعنون به ذلك الراوي العدل الضابط الذي يروي الأحاديث الصحيحة، لكنهم لم يتسعملوها كثيرًا -على ما أعلم- وصفًا للحديث الثابت الصحيح، وممن استعمل هذا في القرن الثاني الهجري الإمام محمد بن الحسن الشبياني في كتابه "الحجة" الذي ألفه في الرد على أهل المدينة،
--------------------------------------------
সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) এবং এর উদ্দেশ্য:১৮- ‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে ‘ওয়া-ছা-কা’ (وث ق) মূলধাতুর আলোচনায় বলা হয়েছে: নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) শব্দটি আপনার কথা ‘সে তার ওপর আস্থা রেখেছে’ থেকে আগত ক্রিয়ামূল (مصدر); উভয় ক্ষেত্রে ‘থা’ বর্ণে কাসরা (জের) যোগে। নির্ভরযোগ্যতা (وثاقة) ও আস্থা (ثقة) অর্থ হলো: তাকে বিশ্বস্ত মনে করা। আমি তার ওপর আস্থাশীল (واثق), সে নির্ভরযোগ্য (موثوق به), সে নারী নির্ভরযোগ্য (موثوق بها) এবং তারা নির্ভরযোগ্য (موثق بهم).... আমি অমুককে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছি (وثقت) যখন আপনি বলেন: সে হলো নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আর আমি কোনো কিছুকে মজবুত করেছি (وثقت الشيء توثيقًا); সুতরাং সেটি সুদৃঢ়কৃত (موثق)। আর দলিল বা নিশ্চয়তা (وثيقة) হলো কোনো বিষয়ে দৃঢ়তা প্রদান করা
… এবং বলা হয়: আমি অমুকের কাছ থেকে নিশ্চয়তা গ্রহণ করেছি (استوثقت), এবং বিষয়টি সুদৃঢ় করেছি (توثقت): যখন আপনি তা দৃঢ়তার সাথে (وثاقة) গ্রহণ করেন। আমি বিষয়টি সবচেয়ে শক্তিশালী (الأوثق) উপায়ে গ্রহণ করেছি; অর্থাৎ: অত্যন্ত কঠোর ও সুদৃঢ়ভাবে
… আর সুঠাম দেহের উটকে সুদৃঢ় শারীরিক গঠনবিশিষ্ট (موثقة الخلق) বলা হয়।
‘তাজুল আরূস’ গ্রন্থে যুক্ত করা হয়েছে: সেটিকে নির্ভরযোগ্য করা হয়েছে (وثقه توثيقًا); সুতরাং সেটি সুদৃঢ়কৃত (موثق): অর্থাৎ তিনি একে মজবুত করেছেন। তিনি অমুককে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন (وثق فلانًا), অর্থাৎ তার সম্পর্কে বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য (ثقة), অর্থাৎ সে বিশ্বস্ত (مؤتمن)।
১৯- সুন্নাহ বা হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) বলতে আমরা এর কাছাকাছি অর্থই উদ্দেশ্য গ্রহণ করি। আর তা হলো—হাদিস বিশারদগণ কর্তৃক প্রণীত বৈজ্ঞানিক মূলনীতিসমূহ প্রয়োগের মাধ্যমে হাদিসের নির্ভরযোগ্যতার স্তরে পৌঁছানো, এর সনদের অবিচ্ছিন্নতা সুদৃঢ় করা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এর সম্বন্ধ নিশ্চিত করা। সেই সাথে এর বর্ণনায় বিকৃতি, পরিবর্তন বা পরিবর্ধন থেকে মুক্ত থাকার বিষয়ে আমানতদারিতা নিশ্চিত করা। আর যেসব বিষয় এই মূলনীতিগুলোর পরিপন্থী, সেগুলোর ওপর আস্থা না রাখা।
এই ভাষাগত মূলধাতুর আদলে আমরা বলতে পারি: তিনি হাদিসের ওপর আস্থা রেখেছেন (وثق بالحديث), অর্থাৎ একে বিশ্বস্ত মনে করেছেন এবং আমি এর ওপর আস্থাশীল (واثق به); অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এর সম্বন্ধের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আর আমি হাদিসটির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করেছি (وثقت الحديث توثيقًا), অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এর সম্বন্ধকে সুদৃঢ় করেছি।
২০- হাদিস বিশারদ (محدثين) ও সমালোচকদের (نقاد) নিকট এবং তাঁদের রচিত গ্রন্থাবলীতে বর্ণনাকারীদের (رواة) গুণাবলি বর্ণনায় ‘নির্ভরযোগ্য’ (ثقة) শব্দটির ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক। এর দ্বারা তাঁরা এমন একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীকে (راوي) উদ্দেশ্য করেন, যিনি সহিহ (صحيحة) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেন। তবে তাঁরা নির্ভরযোগ্য (ثقة) শব্দটি সাব্যস্ত হওয়া সহিহ (صحيح) হাদিসের বিশেষণ হিসেবে খুব একটা ব্যবহার করেননি—যতটুকু আমি জানি। দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে এই পরিভাষাটি ব্যবহারকারীদের অন্যতম হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-শায়বানি তাঁর ‘আল-হুজ্জাহ’ গ্রন্থে, যা তিনি মদিনাবাসীদের মত খণ্ডনে রচনা করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
فقال: "قد جاءت في الوتر أحاديث مختلفة، فأخذنا بأوثقها1"، ولكنه شاع في العصر الحديث، وخاصة في كتابة التاريخ مدعمًا بالأسانيد التي تثبت الوقائع، والمصادر الأصلية والمضبوطة، وصولًا منها إلى الحقائق التاريخية الثابتة والصحيحة.
21- ونريد ما هو شبيه بهذا من بحثنا، وهو بيان الأسس التي وضعها نقاد الحديث، صيانة لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وانتقاء لصحيحه، وإبعادًا للضعيف والموضوع.
22- وقد آثرنا هذه الكلمة على غيرها مما كان شائعًا عند المحدثين، وهو كلمة "النقد2"؛ لأنها، وإن كان معناها الحقيقي بيان الصحيح من غيره، إلا أنه قد شاع استعمالها الآن خطأ في بيان العيوب، وقد يوحي استعمالنا لها في عنوان هذا البحث أننا نبين أسس عيوب السنة، وليس هذا بالطبع هو الواقع، أو ما نريده، وإنما الذي نريده، هو كشف الأسس التي قام عليها تمييز صحيح السنة من ضعيفها وزيفها3؛ لنصل بالدراسة إلى أي مدى كانت هذه الأسس، مؤدية إلى الهدف الذي كان يريد أن يصل إليه علماؤنا من المحدثين والفقهاء؛ وهو تنقية السنة مما علق بها من شوائب التحريف والزيف، ثم تقديمها خالصة نقية؛ كي يستفيد منها المسلمون، كينبوع ثان من ينابيع التشريع الإسلامي، بعد كتاب الله عز وجل: الينبوع الأول.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "বিতর সালাত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তাই আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق) হাদিসটি গ্রহণ করেছি১"; কিন্তু এটি আধুনিক যুগে প্রচলিত হয়েছে, বিশেষ করে ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে যেখানে সনদ (الأسانيد) ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনাবলি সাব্যস্ত করা হয় এবং মূল ও সুসংরক্ষিত (المضبوطة) উৎসসমূহ ব্যবহার করে অকাট্য ও সহিহ (صحيحة) ঐতিহাসিক সত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।
২১- আমরা আমাদের গবেষণায় এর অনুরূপ কিছু চাচ্ছি, আর তা হলো হাদিস সমালোচকগণ (نقاد الحديث) কর্তৃক নির্ধারিত সেই সকল মূলনীতির বর্ণনা, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস সংরক্ষণের জন্য, সহিহ (صحيح) হাদিস নির্বাচন করার জন্য এবং দুর্বল (ضعيف) ও জাল (موضوع) হাদিসকে বর্জন করার জন্য প্রণীত হয়েছে।
২২- আমরা মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রচলিত অন্যান্য শব্দের তুলনায় 'নকদ' (النقد) বা সমালোচনা শব্দটিকে প্রাধান্য দিয়েছি; কারণ যদিও এর প্রকৃত অর্থ হলো অন্য হাদিস থেকে সহিহ (صحيح) হাদিসকে পৃথক করে বর্ণনা করা, কিন্তু বর্তমানে ত্রুটি বর্ণনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ভুলভাবে প্রচলিত হয়ে পড়েছে। আর এই গবেষণার শিরোনামে আমাদের এই শব্দের ব্যবহার এমন ধারণা দিতে পারে যে, আমরা সুন্নাহর ত্রুটিসমূহের মূলনীতি বর্ণনা করছি, অথচ বিষয়টি মোটেও তা নয় এবং আমরা সেটি উদ্দেশ্যও করিনি। বরং আমরা যা চাই, তা হলো সুন্নাহর সহিহ (صحيح) অংশকে এর দুর্বল (ضعيف) ও কৃত্রিমতা (زيف) থেকে পৃথক করার ভিত্তিগুলো উন্মোচন করা; যাতে এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে, এই মূলনীতিগুলো আমাদের মুহাদ্দিস ও ফকিহগণের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কতটা সহায়ক হয়েছে। আর সেই লক্ষ্যটি হলো সুন্নাহকে বিকৃতি ও কৃত্রিমতার আবর্জনা থেকে মুক্ত করে বিশুদ্ধরূপে উপস্থাপন করা; যাতে মুসলিমগণ আল্লাহর কিতাবের পর—যা প্রথম উৎস—ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সুন্নাহ থেকে উপকৃত হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
نظرة عامة على التوثيق في القرن الأول الهجري:23- إن جهود توثيق السنة في القرن الثاني الهجري لا تؤتي الثمار المرجوة منها إلا إذا سبقتها جهود أخرى قام بها قبلهم رجال القرن الأول الهجري؛ إذ أن هذه الجهود كانت هي الأساس الذي بنى عليه أهل القرن الثاني عملهم.
ما هذه الجهود؟:
24- إن القرن الأول الهجري كان فيه الصحابة الذين تلقوا الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وكان فيه كبار التابعين الذين أخذوا الحديث عنهم. إذن فلنبين ما قام به الصحابة رضوان الله عليهم من أجل الحفاظ على سنة رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وجهود التابعين من بعدهم في هذا السبيل، حتى أسلموهها إلى أهل القرن الثاني الهجري.
توثيق الصحابة:
25- لقد رأى الصحابة، رضوان الله عليهم، أن سنة رسول الله، صلى الله عليه وسلم، جزء من الدين الذي يدينون به؛ ففي القرآن الكريم الحث على طاعة الرسول، صلى الله عليه وسلم، والنهي عن مخالفته، قال تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّه} 1، وقال جل شأنه: {أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُم} 2، وقال عز من قائل: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} 3، وقال سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} 4، إلى غير ذلك من الآيات.
--------------------------------------------
হিজরি প্রথম শতাব্দীতে প্রামাণ্যকরণের (توثيق) একটি সাধারণ পর্যবেক্ষণ:২৩- হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে সুন্নাহ প্রামাণ্যকরণের (توثيق) প্রচেষ্টাগুলো কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনত না, যদি না এর আগে হিজরি প্রথম শতাব্দীর ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক অন্য কোনো প্রচেষ্টা পরিচালিত হতো; কারণ এই প্রচেষ্টাসমূহ ছিল সেই ভিত্তি, যার ওপর দ্বিতীয় শতাব্দীর ব্যক্তিবর্গ তাঁদের কর্মতৎপরতা পরিচালনা করেছেন।
এই প্রচেষ্টাসমূহ কী?:
২৪- হিজরি প্রথম শতাব্দীতে এমন সাহাবীগণ (الصحابة) বর্তমান ছিলেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিস গ্রহণ করেছিলেন এবং এতে এমন প্রবীণ তাবেয়ীগণ (كبار التابعين) ছিলেন যারা তাঁদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছিলেন। সুতরাং, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ সংরক্ষণের জন্য সাহাবীগণ (الصحابة) যা করেছিলেন এবং তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীগণের (التابعين) এ পথের প্রচেষ্টাগুলো সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব, যা তাঁরা হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর ব্যক্তিবর্গের নিকট হস্তান্তর করেছেন।
সাহাবীগণের (الصحابة) প্রামাণ্যকরণ (توثيق):
২৫- সাহাবীগণ (الصحابة) মনে করতেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ হলো সেই দ্বীনেরই অংশ যা তাঁরা পালন করেন; কেননা পবিত্র কুরআনে রাসূলের আনুগত্য করার আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরোধিতা করতে নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।" ১ মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের) আনুগত্য করো।" ২ মহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেন: "কিন্তু না, আপনার পালনকর্তার কসম! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ বিষয়সমূহে আপনাকে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো প্রকার কুণ্ঠা না থাকে এবং তা সর্বান্তকরণে মেনে নেয়।" ৩ এবং সুমহান আল্লাহ বলেন: "রাসূল তোমাদের যা দান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" ৪ এছাড়া আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
26- وفي القرآن الكريم أيضًا الحث على الاقتداء به صلى الله عله وسلم، قال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا} .
27- بالإضافة إلى ذلك فالرسول، صلى الله عليه وسلم، حذرهم من ترك سنته حين قال لهم: " لا ألفين أحدكم متكئًا على أريكته، يأتيه الأمر من أمري مما أمرت به، أو نهيت عنه، فيقول: ما أدري، ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه" 2، وحين قال لهم يوم أن حرم عليهم أشياء يوم خيبر: "يوشك أن يقعد الرجل منكم على أريكته يحدث بحديثي، فيقول: بيني وبينكم كتاب الله، فما وجدنا فيه حلالًا استحللناه، وما وجدنا فيه حرامًا حرمناه، وإنما حرم رسول الله كما حرم الله" 3.
28- وقد أحسوا بذلك يقينًا حين نزلت بعض آيات من القرآن الكريم، فلم يستطيعوا فهمها، أو تنفيذ ما فيها من الوامر أو النواهي إلا بالرجوع إلى الرسول، صلى الله عليه وسلم، وبيانه لها؛ تنفيذًا لقوله عز وجل: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} 4.
لقد نزلت الآية الكريمة: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} 5، فأبهم معنى كلمة الظلم عليهم، ويئسوا وقالوا:
--------------------------------------------
26- এবং পবিত্র কুরআনেও তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালকে ভয় করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" 1
27- এর পাশাপাশি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে তাঁর সুন্নাহ বর্জন করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন যখন তিনি তাঁদের বলেছিলেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকেও তার আসনে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার আদেশসমূহের মধ্য থেকে কোনো আদেশ বা নিষেধ পৌঁছালো আর সে বলল: 'আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি শুধু তারই অনুসরণ করেছি'।" 2 এবং যখন তিনি খায়বারের দিনে তাঁদের উপর কিছু বস্তু হারাম করার সময় বলেছিলেন: "শীঘ্রই এমন এক সময় আসবে যখন তোমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং তার কাছে আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করা হবে, তখন সে বলবে: 'আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট। তাতে আমরা যা হালাল পাবো তাকেই হালাল মনে করব এবং যা হারাম পাবো তাকেই হারাম মনে করব।' অথচ আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারই অনুরূপ।" 3
28- যখন কুরআনের কিছু আয়াত অবতীর্ণ হলো, তখন তাঁরা নিশ্চিতভাবে তা অনুভব করেছিলেন; কারণ তাঁরা সেই আয়াতগুলো বুঝতে পারছিলেন না অথবা তাতে বর্ণিত আদেশ বা নিষেধসমূহ বাস্তবায়ন করতে পারছিলেন না রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর ব্যাখ্যার আশ্রয় নেওয়া ব্যতীত। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীরই বাস্তবায়ন: "আর আমি আপনার প্রতি এই জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দেন।" 4
যখন এই মহান আয়াতটি অবতীর্ণ হলো: "যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের (অন্যায়ের) সাথে সংমিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই সঠিক পথপ্রাপ্ত।" 5 তখন 'জুলুম' শব্দের অর্থ তাঁদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে গেল এবং তাঁরা হতাশ হয়ে বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أينا لم يظلم وانشتنهم رسولهم الكريم من هذا اليأس حين وضح لهم أن هذه الكلمة، تبين أن المراد بالظلم في هذه الآية الكريمة هو الشرك1.
ونزلت الأوامر مجملة بإقامة الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت، ثم جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم، ففصل هذا الإجمال بسنته القولية أحيانًا وبسنته العملية كثيرًا، ولولا هذا البيان ما استطاعوا أن ينفذوا أمر الله تعالى بذلك.
ونزلت بعض الآيات الكريمة تحمل أحكامًا عامة، وجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فخصص هذا العموم، قال تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ} 2، فقال صلى الله عليه وسلم "لا يرث القاتل"3، وقال: "لا نورث، ما تركنا صدقة"4.
وجاءت بعض الآيات الكريمة بأحكام مطلقة، فجاءت سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقيدتها، قال تعالى: {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا أَوْ دَيْنٍ} 5 وقيد رسول الله صلى الله عليه وسلم الوصية بالثلث6، ولا تكون لوارث7.
بالإضافة إلى ذلك فقد جرت السنة بأحكام أخرى، غير توضيح المبهم، وتفصيل المجمل، وتخصيص العام، وتقييد المطلق؛ فحرمت مثلًا الجمع بين المرأة وعمتها، أو خالتها8. وحرمت أكل كل ذي ناب من
--------------------------------------------
আমাদের মধ্যে কে আছে যে নিজের ওপর জুলুম করেনি? তাদের সম্মানিত রাসূল তাদেরকে এই হতাশা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন যখন তিনি তাদের কাছে স্পষ্ট করেছিলেন যে, এই শব্দটি দ্বারা এই মহিমান্বিত আয়াতে 'জুলুম' বলতে শিরক (الشرك) বোঝানো হয়েছে।
সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং বাইতুল্লাহর হজের আদেশগুলো সংক্ষিপ্ত (مجمل) আকারে অবতীর্ণ হয়েছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাচনিক সুন্নাহর মাধ্যমে কখনও কখনও এবং তাঁর ব্যবহারিক সুন্নাহর মাধ্যমে অধিকাংশ সময় এই সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এই ব্যাখ্যা না থাকলে তারা সে বিষয়ে মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে সক্ষম হতো না।
কিছু মহিমান্বিত আয়াত সাধারণ (عام) বিধান নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে, এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সাধারণ (عام) বিধানকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন: এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান", অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হত্যাকারী উত্তরাধিকারী হবে না", এবং তিনি আরও বলেছেন: "আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী নেই, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা"।
কিছু মহিমান্বিত আয়াত শর্তহীন (مطلق) বিধান নিয়ে এসেছে, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ সেগুলোকে শর্তযুক্ত (تقييد) করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "তা সে যা অসিয়ত করে তা প্রদান এবং ঋণ পরিশোধের পর", আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসিয়তকে এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ (تقييد) করেছেন এবং তা কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য কার্যকর হবে না।
এর পাশাপাশি, অস্পষ্ট (مبهم) বিষয় স্পষ্টীকরণ, সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা, সাধারণ (عام) বিষয়কে নির্দিষ্ট করা এবং শর্তহীন (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত করা ছাড়াও সুন্নাহ অন্যান্য বিধানও প্রদান করেছে; যেমন—একই সাথে কোনো নারী এবং তার ফুফু অথবা তার খালাকে বিবাহে একত্রে রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এবং প্রত্যেক ছেদনদন্ত বিশিষ্ট শিকারি প্রাণী ভক্ষণ হারাম করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
السباع1، وحللت أكل لحم الضب والأرانب2 وغير ذلك3.
29- أحس الصحابة في هذا كله بالحاجة الملحة إلى أخذ سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأحسوا أيضًا بالحاجة إلى حملها وصيانتها وحفظها وتسليمها إلى من بعدهم من الأجيال، والقرآن الكريم وجههم إلى حين قال لهم: {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ} 4. والرسول صلى الله عليه وسلم، وجههم إلى ذلك أيضًا حين قال لهم: "نضر الله عبدًا سمع مقالتي فحفظها، ووعاها فبلغها من لم يسمعها، فرب حامل فقه لا فقه له، ورب حامل فقه إلى من هو أفقه منه" 5. وحين يقول لهم عقب بعض خطبه: "هل بلغت
… اللهم اشهد
… يأيها الناس، ليبلغ الشاهد منكم الغائب" 6. وحين كان يقول لهم: "تسمعون ويُسمع منكم، ويسمع ممن يسمع منكم" 7.
30- وحرصوا على عدم الغلط في الأخذ أو في الأداء؛ لأنهم سمعوا رسول الله، صلى الله عليه وسلم، يقول لهم: "من كذب علي متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار" 8.
لهذا كله جدوا غاية الجد، وأخذوا بكل الوسائل التي تحقق لهم أخذ سنة رسول الله، صلى الله عليه وسلم، أخذًا صحيحًا، وأداءها أداءً سليمًا، لا تبديل فيه ولا تغيير، ولا زيادة ولا نقصان.
--------------------------------------------
হিংস্র প্রাণী১, এবং গুই সাপ ও খরগোশের গোশত খাওয়া বৈধ করেছেন২ এবং আরও অনেক কিছু৩।
২৯- সাহাবীগণ এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ গ্রহণ করার একান্ত প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। তারা আরও অনুভব করেছিলেন এটি ধারণ করা, এর সংরক্ষণ ও হেফাযত করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার আবশ্যকতা। পবিত্র কুরআন তাদের এই পথনির্দেশ দিয়েছে যখন বলেছে: {তবে কেন তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ বের হয় না যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায় যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে তখন তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা সতর্ক হয়} ৪। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও তাদের এ দিকেই নির্দেশনা দিয়েছেন যখন তিনি বলেন: "আল্লাহ সেই বান্দাকে উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ রাখল এবং অনুধাবন করল, এরপর তা এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিল যে তা শোনেনি। কেননা অনেক ফিকহ (জ্ঞান) বহনকারী নিজে ফকীহ নন, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী তার চেয়ে অধিক ফকীহ ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেন" ৫। এবং যখন তিনি তাঁর কিছু খুৎবার শেষে বলতেন: "আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? ... হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন ... হে লোকসকল, তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছ তারা যেন অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেয়" ৬। এবং যখন তিনি বলতেন: "তোমরা শুনছ এবং তোমাদের থেকেও শোনা হবে, আর যারা তোমাদের থেকে শুনেছে তাদের থেকেও শোনা হবে" ৭।
৩০- তারা জ্ঞান গ্রহণ কিংবা তা প্রদানের (أداء) ক্ষেত্রে ভুল না করার ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন; কারণ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাস নির্ধারণ করে নেয়" ৮।
এই সবকিছুর জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে সহিহ (صحيح) ভাবে গ্রহণ এবং তা নিখুঁতভাবে প্রদানের (أداء) সকল মাধ্যম অবলম্বন করেছিলেন, যাতে কোনো প্রকার রদবদল, পরিবর্তন, বাড়ান বা কমানো না থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
دوافع التوثيق في القرن الهجري:ومن هذه الوسائل:
1- الحرص على سماع الأحاديث:
31- ففي عهد رسول الله، صلى الله عليه وسلم، كان الرجل منهم يحرص على حضور مجلسه، صلى الله عليه وسلم؛ لسماع الأحاديث منه، والتزود من توجيهاته السديدة، ونصائحه الكريمة، وبيانه، صلى الله عليه وسلم، للقرآن الكريم.
ولما كانت عندهم أعمال تشغلهم في بعض الأوقات عن حضور مجلسه، صلى الله عليه وسلم، تناوبوا الذهاب إليه، صلى الله عليه وسلم؛ كي يبلغ الشاهد منهم الغائب، فلا يفوت أحدًا منهم أمرًا من الأمور التي يجب أن يحفظوها عنه، وينفذوا ما فيها من تعاليم1.
32- وكان لا يمل أحدهم أن يسمع الحديث من رسول الله صلى الله عليه وسلم، أكثر من مرة، ويذكر بعضهم أنه لا يجيز لنفسه أن يروي الحديث إلا إلا إذا سمعه أكثر من ثلاث مرات2.
ولقد كان بعضهم يَلزم رسول الله، صلى الله عليه وسلم؛ يأكل معه ويشرب، حتى يسمع منه كل ما يحدث به، وحتى لا يفوته من سنة رسول الله شيء، ومن هؤلاء أبو هريرة رضي الله عنه، الذي يقول: "إن إخواننا من المهاجرين كان يشغلهم الصفق بالأسواق، وإن إخواننا من الأنصار كان يشغلهم العمل في أموالهم، وإن أبا هريرة كان يلزم رسول الله، صلى الله عليه وسلم، بشبع بطنه، ويحضر ما لا يحضرون، ويحفظ ما لا يحفظون"3.
33- وكانوا يتثبتون في السماع، فيسألون من حضر منهم مجلس رسول الله، صلى الله عليه وسلم، يقول جابر بن سمرة، سمعت رسول الله،
--------------------------------------------
হিজরি শতাব্দীতে নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (توثيق) প্রেরণাসমূহ:আর এ সকল উপায়ের মধ্যে রয়েছে:
১- হাদিস শ্রবণের প্রতি বিশেষ আগ্রহ:
৩১- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সাহাবায়ে কিরামের প্রত্যেকেই তাঁর মজলিসে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন; যেন তাঁর কাছ থেকে সরাসরি হাদিস শুনতে পারেন এবং তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনা, মহতী নসিহত ও কুরআনুল কারিমের ব্যাখ্যা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করতে পারেন।
যেহেতু বিভিন্ন সময়ে তাঁদের সাংসারিক বা বৈষয়িক কাজ তাঁদেরকে তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতে ব্যস্ত রাখত, তাই তাঁরা পর্যায়ক্রমে তাঁর কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন; যাতে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তিকে সংবাদ পৌঁছে দিতে পারেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছ থেকে তাঁদের যা কিছু মুখস্থ রাখা এবং যে সকল শিক্ষা বাস্তবায়ন করা আবশ্যক, তা থেকে যেন কেউ বঞ্চিত না হন।১
৩২- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে একই হাদিস একাধিকবার শুনতে তাঁদের কেউ ক্লান্তি বোধ করতেন না। তাঁদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, কোনো হাদিস তিনবারের বেশি না শোনা পর্যন্ত তাঁরা তা বর্ণনা (رواية) করাকে নিজেদের জন্য বৈধ মনে করতেন না।২
তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সবসময় লেগে থাকতেন; তাঁর সাথেই পানাহার করতেন যেন তিনি যা কিছু ইরশাদ করেন তার সবই শুনতে পারেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর কোনো অংশই যেন তাঁদের অজানা না থাকে। তাঁদেরই একজন ছিলেন আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি বলতেন: "আমাদের মুহাজির ভাইয়েরা বাজারে কেনা-বেচায় ব্যস্ত থাকতেন এবং আনসার ভাইয়েরা তাঁদের ধন-সম্পদ ও চাষাবাদ নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আর আবু হুরায়রা পেটের ক্ষুধা নিবারণের নূন্যতম আহারের বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে লেগে থাকতেন। তিনি সে সকল মজলিসে উপস্থিত থাকতেন যেগুলোতে তাঁরা উপস্থিত থাকতে পারতেন না এবং তিনি তা মুখস্থ রাখতেন যা তাঁরা রাখতে পারতেন না।"৩
৩৩- তাঁরা হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই (تثبت) করতেন। তাই তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মজলিসে উপস্থিত ছিলেন এমন ব্যক্তিদের কাছে জিজ্ঞেস করতেন। জাবির ইবনে সামুরা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
صلى الله عليه وسلم، يقول: "اثنا عشر قيما من قريسش لا تضرهم عداوة من عاداهم" 1، فالتفت، فإذا عمر بن الخطاب وأبي في أناس، فأثبتوا لي الحديث، كما سمعت.
34- وكان هذا التقليد من الصحابة، رضوان الله عليهم، هو الأساس الذي سار عليه معظم علماء الحديث والفقه بعد ذلك، توثيقًا لحديث رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وصيانة له، فاعتبروا أن الأحاديث التي تؤخذ سماعًا أصح من غيرها؛ لأن الأخذ من الكتاب قد يؤدي إلى الخطأ إذا قرأه قراءة محرفة.
2- حفظ الأحاديث:
35- وبعد سماعهم للأحاديث وتثبتهم في سماعهم يحفظونها، ويؤدونها أداء سليمًا، ولقد نبههم إلى ذلك رسول الله، صلى الله عليه وسلم، حين قال لهم: "عليكم بالقرآن، وسترجعون إلى أقوام سيبلغون الحديث عني، فمن عقل شيئًا فليحدث به، ومن قال علي ما لم أقل فليتبوأ بيتًا، أو مقعده من جهنم" 3.
36- ولهذا رأينا إقلالهم من رواية الأحاديث، واستثقالهم لها؛ لأنهم يخافون ألا يكونوا قد حفظوا الأحاديث، فيكذبون فيها، أي يخطئون4، وقد روي عن عمر، وعبد الله بن مسعود قولهما: "كفى بالمرء كذبًا أن يحدث بكل ما سمع" 5، وذلك لأنه ليس كل ما يسمع الإنسان يحفظه.
--------------------------------------------
(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলছিলেন: "কুরাইশ বংশ থেকে বারোজন দায়িত্বশীল হবেন, যারা তাদের সাথে শত্রুতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।" ১ এরপর আমি তাকালাম এবং দেখলাম উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আমার পিতা একদল মানুষের মধ্যে ছিলেন। তারা আমার কাছে হাদিসটি সুনিশ্চিত (أثبتوا) করলেন, ঠিক যেভাবে আমি শুনেছিলাম।
৩৪- সাহাবায়ে কিরামের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই অনুসৃত পদ্ধতিটিই ছিল পরবর্তীকালের অধিকাংশ হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অনুসৃত মূল ভিত্তি, যাতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) এবং তা সংরক্ষণ করা যায়। তারা বিবেচনা করতেন যে, শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে গ্রহণ করা হাদিসগুলো অন্যগুলোর চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح); কারণ কিতাব থেকে গ্রহণ করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যদি তা বিকৃতভাবে পাঠ করা হয়।
২- হাদিস মুখস্থকরণ:
৩৫- হাদিস শ্রবণ করার পর এবং তাদের শ্রবণের ব্যাপারে যাচাই-বাছাইয়ে সুনিশ্চিত (تثبت) হওয়ার পর তারা সেগুলো মুখস্থ করতেন এবং তা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতেন। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন যখন তিনি তাদের বলেছিলেন: "তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরো। অচিরেই তোমরা এমন সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে যাবে যারা আমার পক্ষ থেকে হাদিস পৌঁছে দেবে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো কিছু হৃদয়ঙ্গম করবে সে যেন তা বর্ণনা করে। আর যে ব্যক্তি আমার নামে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঘর বা ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" ৩
৩৬- এ কারণেই আমরা তাদের হাদিস বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে সতর্কতা ও স্বল্পতা অবলম্বন করতে দেখি; কারণ তারা ভয় পেতেন যে তারা হয়তো হাদিসগুলো সঠিকভাবে মুখস্থ করতে পারেননি, ফলে তাতে অনিচ্ছাকৃত মিথ্যাচার অর্থাৎ ভুল (يخطئون) হয়ে যেতে পারে। উমর এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তারা উভয়েই বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী (كذبا) হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।" ৫ আর এর কারণ হলো, মানুষ যা শোনে তার সবকিছু সে মুখস্থ রাখতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ২৯)
37- ومن أجل حفظ الأحاديث وأدائها أداء سليمًا كانوا يتذاكرونها فيما بينهم، ويحضون على ذلك، يقول أبو سعيد الخدري، رضي الله عنه: "تذاكروا الحديث، فإن الحديث يهيج بعضه بعضًا". وقال علي كرم الله وجهه: "تزاوروا وأكثروا ذكر الحديث، فإنكم إن لم تفعلوا يندرس". وعن عبد الله بن مسعود: "تذاكروا الحديث، فإن حياته مذاكراته"1.
3- تمحيص الرواة:
38- أي الأخذ من الضابطين منهم وترك غيرهم، ممن لا يضبطون أحاديثهم فيخطئون في روايتها.
يقول السخاوي: "وأما المتكلمون في الرجال فخلق من نجوم الهدى، ومصابيح الظلام، المستضاء بهم في دفع الردى، لا يتهيأ حصرهم في زمن الصحابة، رضي الله له عنهم، وهلم جرًّا
… سرد ابن عدي في مقدمة "كامله" منهم خلقًا إلى زمنه، فالصحابة الذين أوردهم: عمر، وعلي، وابن عباس، وعبد الله بن سلام، وعبادة بن الصامت، وأنس، وعائشة، رضي الله عنهم، وتصريح كل منهم بتكذيب من لم يصدقه فيما قال"2.
39- ومن هنا نشأ تشديدهم على من يروي لهم الأحاديث التي لم يسمعوها من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول البراء بن عازب، رضي الله عنه، مبينًا هذا: "ما كل الحديث سمعناه من رسول الله، صلى الله عليه وسلم، كان يحدثنا أصحابنا، وكنا مشتغلين في رعاية الإبل، وأصحاب رسول الله، صلى الله عليه وسلم، كانوا يطلبون ما يفوتهم سماعه من رسول الله، صلى الله عليه وسلم، فيسمعونه من أقرانهم، ومن هو أحفظ منهم، وكانوا يشددون على من يسمعون منه"3.
--------------------------------------------
৩৭- হাদিসসমূহ সংরক্ষণ এবং সেগুলো সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে তাঁরা নিজেদের মধ্যে সেগুলো নিয়ে আলোচনা বা পুনরাবৃত্তি (مذاكرة) করতেন এবং এর জন্য পরস্পরকে উৎসাহিত করতেন। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "তোমরা হাদিস নিয়ে আলোচনা করো, কারণ হাদিস একে অপরকে উদ্দীপ্ত করে।" আলি (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) বলেন: "তোমরা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করো এবং অধিক পরিমাণে হাদিস চর্চা করো, কারণ তোমরা যদি তা না করো তবে তা বিলুপ্ত (يندرس) হয়ে যাবে।" আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: "তোমরা হাদিস আলোচনা করো, কেননা হাদিসের জীবন হলো এর নিরন্তর আলোচনা (مذاكرة)।"১
৩- বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই (تمحيص الرواة):
৩৮- অর্থাৎ, বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে যারা প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ও নির্ভুল (ضابط) কেবল তাদের থেকে হাদিস গ্রহণ করা এবং অন্যদের বর্জন করা, যারা তাদের বর্ণিত হাদিসসমূহ নির্ভুলভাবে মনে রাখতে পারে না এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে ভুল করে।
আস-সাখাভি বলেন: "আর যারা বর্ণনাকারীদের দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা (متكلمون في الرجال) করেছেন, তাঁরা হেদায়েতের নক্ষত্ররাজি এবং অন্ধকারের প্রদীপ সদৃশ। ধ্বংস প্রতিরোধে তাঁদের আলো গ্রহণ করা হয়। সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে তাঁদের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব নয়... ইবনে আদি তাঁর 'কামিল' গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর নিজ সময় পর্যন্ত এমন বহু ব্যক্তির তালিকা প্রদান করেছেন। যেসকল সাহাবীর নাম তিনি উল্লেখ করেছেন তাঁরা হলেন: উমর, আলি, ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ বিন সালাম, উবাদাহ বিন সামিত, আনাস এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। তাঁদের প্রত্যেকেই ওই ব্যক্তিকে মিথ্যাবাদী আখ্যা (تكذيب) দিয়েছেন, যে তার বর্ণনায় সত্যবাদী ছিল না।"২
৩৯- এখান থেকেই তাঁদের সেই কঠোরতা (تشديد) বৃদ্ধি পায় ওই সকল ব্যক্তিদের প্রতি, যারা তাঁদের কাছে এমন হাদিস বর্ণনা করত যা তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে সরাসরি শোনেননি। বারা ইবনে আযিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন: "আমরা সব হাদিস সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে শুনিনি। আমাদের সাথীরা আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করতেন। আমরা উট চরাবস্থায় ব্যস্ত থাকতাম। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা কিছু শোনা থেকে বাদ পড়ত, তা তালাশ করতেন। অতঃপর তাঁরা সেগুলো তাঁদের সমসাময়িকদের এবং তাঁদের চেয়ে যারা অধিক মুখস্থকারী (أحفظ) ছিল, তাদের নিকট থেকে শুনে নিতেন। আর তাঁরা যার নিকট থেকে হাদিস শুনতেন, তার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোরতা (تشديد) অবলম্বন করতেন।"৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومن مظاهر هذا التشدد أن بعض الصحابة كان يستحلف راوي الحديث غير مبال بمنزلة هذا الراوي في الإسلام، أو منزلته من رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وقد استحلف بعضهم عليًّا، وهو أمير للمؤمنين1.
وكان هذا من مذهب علي بن أبي طالب، كرم الله وجهه، يستحلف من يروي له عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، يقول الحاكم: "وأما أمير المؤمنين علي، رضي الله عنه، فكان إذا فاته عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، حديث، ثم سمعه من غيره يحلف المحدث الذي يحدث به، والحديث في ذلك عنه مستفيض مشهور
… وكذلك جماعة من الصحابة والتابعين"3.
40- وليس معنى هذا التشدد وذلك التمحيص أنهم كانوا يكذبون ناقل الحديث إليهم، فلم يثبت أن أحدًا من الصحابة، رضوان الله عليهم، رمى أخاه بالكذب على رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وإنما كانوا يخشون أن يخطئوا في نقل الحديث، فلا يؤدونه على وجهه، ويصور هذا عمران ابن حصين حين يقول: "والله إن كنت لأرى أني لو شئت حدثت عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، يومين متتابعين، ولكن يبطأني عن ذلك أن رجالًا من أصحاب رسول الله، صلى الله عليه وسلم، سمعوا كما سمعت، وشهدوا كما شهدت، ويحدثون أحاديث ما هي كما يقولون، وأخاف أن يشبه لي، كما يشبه لهم"، ويعلق ابن قتيبة على هذا بقوله: "فأعلمك أنهم كانوا يغلطون، لا أنهم كانوا يتعمدون"3.
41- ولقد نفى بعضهم الكذب عنه وعن إخوانه من الصحابة، يقول البراء بن عازب رضي الله عنه: "ولكن الناس لم يكونوا يكذبون يومئذ،
--------------------------------------------
এই কঠোরতার একটি দিক ছিল এই যে, কিছু সাহাবী হাদিস বর্ণনাকারীর (راوي) ইসলামে অবস্থান অথবা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট তার মর্যাদার প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করেই তার নিকট থেকে শপথ নিতেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ আমিরুল মুমিনীন আলীর নিকট থেকেও শপথ নিয়েছিলেন।১
আর এটি ছিল আলী ইবনে আবি তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর কর্মপন্থা; তিনি যখন কারো কাছ থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো হাদিস শুনতেন, তখন তার থেকে শপথ নিতেন। ইমাম হাকিম বলেন: "আর আমিরুল মুমিনীন আলী (রা.)-এর অবস্থা এই ছিল যে, যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কোনো হাদিস সরাসরি শুনতে পেতেন না এবং পরে অন্য কারো মাধ্যমে তা শুনতেন, তখন তিনি সেই হাদিস বর্ণনাকারীকে (محدث) শপথ করাতেন। এ বিষয়ে তার থেকে বর্ণিত হাদিসটি সুপ্রসিদ্ধ (مستفيض) ও বিখ্যাত (مشهور)... একইভাবে সাহাবী ও তাবিঈদের (تابعي) একটি দলও এমনটি করতেন।"৩
৪০- তবে এই কঠোরতা এবং এই সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাইয়ের (تمحيص) অর্থ এই নয় যে, তারা হাদিস বর্ণনাকারীকে মিথ্যাবাদী মনে করতেন। কারণ সাহাবীদের (রা.) মধ্যে কেউ তার কোনো ভাইয়ের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামে মিথ্যা বলার (كذب) অভিযোগ এনেছেন বলে প্রমাণিত নয়। বরং তারা এই আশঙ্কা করতেন যে, পাছে হাদিস বর্ণনায় তাদের কোনো ভুল (خطأ) হয়ে যায় এবং তারা তা যথাযথভাবে বর্ণনা করতে সক্ষম না হন। ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) এই বিষয়টি চিত্রিত করে বলেন: "আল্লাহর কসম, আমি যদি চাইতাম তবে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে টানা দুই দিন হাদিস বর্ণনা করতে পারতাম। কিন্তু আমাকে তা থেকে বিরত রাখে এই বিষয়টি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর একদল সাহাবী আমার মতোই শুনেছেন এবং আমার মতোই উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তারা এমন সব হাদিস বর্ণনা করছেন যা ঠিক তেমন নয় যেমনটি তারা বলছেন। ফলে আমার ভয় হয় যে, তাদের মতো আমার কাছেও বিষয়টি অস্পষ্ট বা গোলমেলে হয়ে যেতে পারে।" ইবনে কুতাইবা এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "তিনি আপনাকে জানাচ্ছেন যে তারা ভুল (غلط) করতেন, তারা ইচ্ছা করে মিথ্যা বলতেন না।"৩
৪১- আর তাদের কেউ কেউ নিজের এবং তার অন্য সাহাবী ভাইদের থেকে মিথ্যার (كذب) বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। বারা ইবনে আযিব (রা.) বলেন: "কিন্তু সেই দিনগুলোতে মানুষ মিথ্যা (كذب) বলত না,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فيحدث الشاهد الغائب"1، وفي رواية: "لم نكن نكذب"، ويقول أنس، رضي الله عنه، "ولكن كان يحدث بعضنا بعضًا ولا يتهم بعضنا بعضًا"2. وتقول عائشة رضي الله عنها: "ما كان خلق أبغض إلى أصحاب رسول الله، صلى الله عليه وسلم، من الكذب"3.
42- والحق أن هذا أمر ينبغي أن يعرف وجه الصواب فيه؛ لأن بعض المحدثين اتهم بعض الصحابة بالكذب
… وإذا كان المنبع الأول يكذب، ثم اعتقد موثقوا القرن الثاني وغيره أن ليس فيه كذب، وانشغلوا بوجوه أخرى للتوثيق، أو هكذا فعل معظمهم، فإنه لا فائدة من توثيقهم على هذا النحو؛ لأنهم أخذوا أحاديث الصحابة دون مناقشة لعدالتهم ولم يبحثوا فيمن يكذب منهم ومن لا يكذب، إذن فالسنة لم توثق على الرغم من الجهود التي بذلت، وهذا هو ما توصل إليه هؤلاء بهدف العصف بالسنة وإبعادها عن المسلمين، أو إبعاد المسلمين عنها4.
إذن فلنناقش هذه القضية، هل كان الصحابة، رضوان الله عليهم، يكذبون في أحاديث الرسول، صلى الله عليه وسلم؟
43- لقد تعلق بعض هؤلاء المحدثين برد بعض الصحابة لأحاديث بعضهم الآخر، أو ببعض العبارات التي تتهم بعضهم "بعضًا" بالكذب
…أما اختلافم في بعض الأحاديث، ورد بعضهم لأحاديث بعضهم الآخر، فلا يدلان على أنهم كانوا يكذبون في الحديث، ولا يتعدى
--------------------------------------------
"অতঃপর উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করত"১, এবং এক বর্ণনায় (رواية): "আমরা মিথ্যা বলতাম না", এবং আনাস (রা.) বলেন, "বরং আমরা একে অপরের কাছে বর্ণনা করতাম এবং আমরা একে অপরকে অভিযুক্ত করতাম না"২। আয়েশা (রা.) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবিদের নিকট মিথ্যার চেয়ে অধিক ঘৃণ্য কোনো স্বভাব ছিল না"৩।
৪২- সত্য হলো, এটি এমন একটি বিষয় যার সঠিক দিকটি জানা প্রয়োজন; কারণ কিছু আধুনিকপন্থী (محدثين) কিছু সাহাবিকে মিথ্যার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন... যদি মূল উৎসই মিথ্যা বলে, অতঃপর দ্বিতীয় শতাব্দী ও অন্যান্য সময়ের নির্ভরযোগ্যতা যাচাইকারীরা (موثقو) বিশ্বাস করেন যে এতে কোনো মিথ্যা নেই এবং তারা নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের (توثيق) অন্যান্য দিক নিয়ে ব্যাপৃত থাকেন, অথবা তাদের অধিকাংশই যদি এমনটি করে থাকেন, তবে এই পদ্ধতিতে নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করার (توثيق) কোনো সার্থকতা নেই; কারণ তারা সাহাবিদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) নিয়ে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই তাদের হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তাদের মধ্যে কে মিথ্যা বলে আর কে বলে না তা অনুসন্ধান করেননি। সুতরাং, যে প্রচেষ্টাই চালানো হোক না কেন, সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই (توثيق) সম্পন্ন হয়নি। আর এটিই হলো তাদের উদ্দেশ্য যার মাধ্যমে তারা সুন্নাহর ওপর আঘাত হানতে এবং মুসলিমদের থেকে একে দূরে সরিয়ে দিতে চান, অথবা মুসলিমদের সুন্নাহ থেকে বিমুখ করতে চান৪।
অতএব, আসুন আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি, সাহাবিগণ (রা.) কি রাসূল (সা.)-এর হাদিস বর্ণনায় মিথ্যা বলতেন?
৪৩- এই আধুনিকপন্থীদের (محدثين) কেউ কেউ নির্দিষ্ট কিছু সাহাবি কর্তৃক অন্যদের হাদিস প্রত্যাখ্যান (رد) করার বিষয়টিকে আঁকড়ে ধরেছেন, অথবা এমন কিছু শব্দকে ভিত্তি হিসেবে নিয়েছেন যা দ্বারা একে অপরকে "মিথ্যার" দায়ে অভিযুক্ত করা হয়...
আর কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের মতভেদ এবং একে অপরের হাদিস প্রত্যাখ্যান (رد) করা—এগুলো তারা হাদিসে মিথ্যা বলতেন বলে প্রমাণ করে না, এবং এটি এর বেশি কিছু নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الأمر أن يكون اختلافًا في فهم تلك الأحاديث، وما تدل عليه.. أو أن مدلول الحديث كان معمولًا به أولًا، ثم نسخ بعد ذلك، ولم يبلغ رواية هذا النسخ، فظل على العمل به وروايته.. أو توقف الصحابي فيما لم يبلغه من الأحاديث، حتى يتأكد من أنها صدرت من رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وعند ما يتأكد الصحابي من ذلك، فإنه لا يتردد في التسليم والعمل بما روي له، والندم على عدم سماعه تلك الأحاديث.
ومن الاختلاف في فهم النصوص، أن عمر، رضي الله عنه، روى عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم أنه قال: "إن الميت يعذب ببكاء أهله عليه"، وفهمه على أنه عام، وأن التعذيب بسبب بكاء الأهل على الميت.
أنكرت عليه ذلك الفهم عائشة وردت الحديث قائلة: "إنما قال النبي، صلى الله عليه وسلم في يهودية: إنها تعذب، وهم يبكون عليها"، يعني تعذيب بكفرها في حال بكاء أهلها لا بسبب البكاء، واحتجت بقوله تعالى: {وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} 1.
ولم تنسب عائشة، رضي الله عنها، إلى عمر وابنه عبد الله، رضي الله عنهما الذي روى عن أبيه هذا الحديث، أنهما كذبا في حديث رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وإنما بادرت فصرحت ينفي تهمة الكذب عنهما حين قالت: "إنكم لتحدثوني عن غير كاذبين ولا مكذبين؛ ولكن السمع يخطئ"2.
وقد نسخ الحديث فلا يبلغ روايه ذلك النسخ، فيظل على روايته والعمل به -كما قلنا- ويكون هذا سببًا في معارضة بعض الصحابة، له، ورد روايته؛ ومثل هذا ما كان يفتي به أبو هريرة، رضي الله عنه، ويحدث به: "أن من أصبح جنبًا فقد أفطر"، ولم يبلغه أن ذلك نسخ، فلما
--------------------------------------------
বিষয়টি হলো সেই হাদিসসমূহের উপলব্ধি এবং সেগুলো কী নির্দেশ করে তার ক্ষেত্রে মতভেদ হওয়া.. অথবা হাদিসটির মর্মার্থ প্রথমে আমলযোগ্য ছিল, অতঃপর তা রহিত (نسخ) হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এই রহিতকরণের (نسخ) বর্ণনা (رواية) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট পৌঁছায়নি, ফলে তিনি পূর্বের আমল ও বর্ণনার (رواية) ওপর অবিচল থাকেন.. অথবা সাহাবী এমন হাদিসের ক্ষেত্রে বিরত থাকতেন যা তার নিকট পৌঁছায়নি, যতক্ষণ না তিনি নিশ্চিত হতেন যে তা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর যখন সাহাবী এ বিষয়ে নিশ্চিত হতেন, তখন তিনি তার নিকট যা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রহণ ও সে অনুযায়ী আমল করতে দ্বিধা করতেন না এবং সেই হাদিসগুলো না শোনার জন্য আক্ষেপ করতেন।
নصوص (نصوص) বা মূল পাঠের উপলব্ধিতে ভিন্নতার একটি উদাহরণ হলো, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নাকাটির কারণে আযাব দেওয়া হয়", এবং তিনি একে ব্যাপক (عام) অর্থেই বুঝেছিলেন যে, আযাব হওয়ার কারণ হলো মৃতের ওপর পরিবারের কান্নাকাটি করা।
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা তার এই উপলব্ধির প্রতিবাদ করেন এবং হাদিসটিকে প্রত্যাখ্যান (رد) করে বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইহুদি নারী সম্পর্কে বলেছিলেন যে: তাকে আযাব দেওয়া হচ্ছে এবং তার পরিবারের লোকেরা তার জন্য কাঁদছে", অর্থাৎ তার কুফরির কারণে তাকে আযাব দেওয়া হচ্ছে তার পরিবারের কান্নাকাটিরত অবস্থায়, কান্নাকাটির কারণে নয়। আর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: {আর কোনো বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না} ১।
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা উমর এবং তার পুত্র আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা—যিনি তার পিতার নিকট থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা (روى) করেছেন—তাদের প্রতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলার অপবাদ আরোপ করেননি। বরং তিনি দ্রুততার সাথে তাদের থেকে মিথ্যার অপবাদ নাকচ করে স্পষ্টভাবে বলেন: "তোমরা আমার নিকট এমন ব্যক্তিদের থেকে বর্ণনা করছ যারা মিথ্যাবাদী (كاذبين) নন এবং যাদেরকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্নও করা হয়নি (مكذبين); কিন্তু শ্রবণে ভুল হতে পারে" ২।
কখনো হাদিস রহিত (نسخ) হয়ে যায় কিন্তু বর্ণনাকারীর নিকট সেই রহিতকরণের (نسخ) সংবাদ পৌঁছায় না, ফলে তিনি তার বর্ণনা (رواية) ও আমলের ওপর অবিচল থাকেন—যেমনটি আমরা বলেছি—এবং এটিই কোনো কোনো সাহাবীর পক্ষ থেকে তার বিরোধিতা করা এবং তার বর্ণনাকে (رواية) প্রত্যাখ্যান (رد) করার কারণ হয়ে থাকে। এর উদাহরণ হলো আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু যা ফতোয়া দিতেন এবং বর্ণনা করতেন যে: "যে ব্যক্তি নাপাক অবস্থায় ভোরে উপনীত হলো সে যেন রোজা ভঙ্গ করল।" তার কাছে সংবাদ পৌঁছায়নি যে এটি রহিত (نسخ) হয়ে গিয়েছে, ফলে যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তওসীকুস সুন্নাহ ফিল করনিস সানি আল-হিজরি আসুসুহু ওয়া ইত্তিজাহাতুহু
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
علم بذلك، وأن عائشة، وأم سلمة، زوجتي الرسول؛ أخبرتاه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان يدركه الفجر وهو جنب من أهله، ثم يغتسل ويصوم -رجع عن قوله وفتياه.
ويقول الإمام ابن حجر، في شرح حديث عائشة وأم سلمة، رضي الله عنهما: "وذكر ابن خزيمة أن بعض العلماء توهم أن أبا هريرة غلط في هذا الحديث، ثم رد عليه بأنه لم يغلط، بل أحاله على رواية صادق "الذي روى عنه أبو هريرة هذا الحديث" إلا أن الخبر منسوخ
… فحديث عائشة، رضي الله عنها، ناسخ لحديث الفضل ولا أبا هريرة الناسخ، فاستمر أبو هريرة على الفتيا به، ثم رجع عنه بعد ذلك لما بلغه1".
ومن التوقف في قبول الحديث حتى يتأكد الصحابي من أنه صدر عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم، ما حدث به أبو موسى الأشعري، رضي الله عنه، عمر بن الخطاب، في رجوع الزائر عند ما لا يؤذن له ثلاث مرات، فقد توقف عمر، رضي الله عنه، في قبول الحديث، ولكنه قبله عندما أحضر له أبو موسى الأشعري البينة، ولم يكتف بقبوله، بل قال كأنه يعتذر: "ألهاني الصفق بالأسواق2"، يعني الخروج إلى التجارة.
وحدث أبو هريرة، رضي الله عنه، بحديث. "من تبع جنازة فله قيراط"، فتوقف فيه ابن عمر، حتى سأل عائشة التي صدقت أبا هريرة، وعندئذ قبل الحديث. وندم على أنه لم يعمل به، وقال: "لقد فرطنا في قراريط كثيرة".
إذن فما شأن عبارات بعضهم التي ورد فيها لفظ "الكذب" منسوبًا إلى بعضهم الآخر؟
--------------------------------------------
তিনি এই বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুই সহধর্মিণী আয়েশা ও উম্মে সালামাহ (রা.) তাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পরিবারসহ অপবিত্র (جنب) অবস্থায় ভোরে উপনীত হতেন, তারপর গোসল করতেন এবং রোজা রাখতেন। ফলে তিনি (আবু হুরায়রা) তাঁর পূর্বোক্ত বক্তব্য ও ফতোয়া থেকে ফিরে আসেন।
ইমাম ইবনে হাজার আয়েশা ও উম্মে সালামাহ (রা.)-এর হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: "ইবনে খুজাইমাহ উল্লেখ করেছেন যে, কোনো কোনো আলেম ধারণা করেছিলেন যে আবু হুরায়রা (রা.) এই হাদিসে ভুল করেছেন, এরপর তিনি এর প্রতিবাদ করে বলেন যে, তিনি ভুল করেননি; বরং তিনি একজন সত্যবাদীর বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছিলেন 'যার থেকে আবু হুরায়রা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন', তবে সংবাদটি রহিত (منسوخ) হয়ে গিয়েছিল... সুতরাং আয়েশা (রা.)-এর হাদিসটি ফজল (রা.)-এর হাদিসের জন্য রহিতকারী (ناسخ) ছিল, অথচ আবু হুরায়রা (রা.)-এর কাছে রহিতকারী (ناسخ) বিষয়টি পৌঁছেনি, তাই তিনি তার ওপরই ফতোয়া প্রদান অব্যাহত রেখেছিলেন, এরপর যখন সংবাদটি তাঁর কাছে পৌঁছাল তখন তিনি তা থেকে ফিরে আসেন।"
হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সাহাবীদের সেই পর্যন্ত বিরতি বা সতর্ক থাকার একটি উদাহরণ হলো—যতক্ষণ না তিনি নিশ্চিত হন যে তা রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে—যা আবু মুসা আশআরী (রা.) উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট বর্ণনা করেছিলেন; অর্থাৎ তিনবার অনুমতি না পেলে সাক্ষাৎপ্রার্থীর ফিরে যাওয়ার বিষয়ে। উমর (রা.) হাদিসটি গ্রহণে বিরতি (তওয়াক্কুফ) দিয়েছিলেন, কিন্তু আবু মুসা আশআরী যখন তাঁর কাছে প্রমাণ উপস্থিত করলেন তখন তিনি তা গ্রহণ করেন। তিনি কেবল গ্রহণই করেননি, বরং অনেকটা ক্ষমা প্রার্থনার সুরে বললেন: "বাজারে কেনাবেচা আমাকে ব্যস্ত রেখেছিল", অর্থাৎ ব্যবসার জন্য বাইরে যাওয়া।
আবু হুরায়রা (রা.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছিলেন: "যে ব্যক্তি জানাজার অনুসরণ করবে তার জন্য এক কিরাত সওয়াব রয়েছে", ইবনে উমর (রা.) এই বিষয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেন যতক্ষণ না তিনি আয়েশাকে জিজ্ঞাসা করেন, যিনি আবু হুরায়রার বক্তব্য সত্যায়ন করেন। তখন তিনি হাদিসটি গ্রহণ করেন এবং তা আমল না করার কারণে অনুতপ্ত হয়ে বললেন: "আমরা অনেক কিরাত হাতছাড়া করে ফেলেছি।"
তবে তাদের কারো কারো সেই সব বক্তব্যের বিষয়টি কী, যেখানে একে অপরের প্রতি 'মিথ্যা' (الكذب) শব্দটি আরোপ করা হয়েছে?
--------------------------------------------