(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: -)
مقدمة ابن الصلاح = معرفة أنواع علوم الحديث - ت عتر   (ابن الصلاح)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: معرفة أنواع علوم الحديث، ويُعرف بمقدمة ابن الصلاح

المؤلف: عثمان بن عبد الرحمن، أبوعمرو، تقي الدين المعروف بابن الصلاح (ت 643هـ)

المحقق: نور الدين عتر

الناشر: دار الفكر- سوريا، دار الفكر المعاصر - بيروت

سنة النشر: 1406هـ - 1986م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 6 صفر 1432

মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ = মা'রিফাতু আনওয়া'ই উলুমিল হাদিস - তাহকিক: ইতর   (ইবনুস সালাহ)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: মা'রিফাতু আনওয়া'ই উলুমিল হাদিস، যা মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত

লেখক: উসমান বিন আব্দুর রহমান، আবু আমর، তাকিউদ্দীন, যিনি ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত (মৃ. ৬৪৩ হিজরি)

তাহকিক (সম্পাদনা): নূরুদ্দীন ইতর

প্রকাশক: দারুল ফিকর- সিরিয়া، দারুল ফিকর আল-মু'আসির - বৈরুত

প্রকাশকাল: ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৬ সফর ১৪৩২

(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: -)
ـ[معرفة أنواع علوم الحديث، ويُعرف بمقدمة ابن الصلاح]ـ

المؤلف: عثمان بن عبد الرحمن، أبوعمرو، تقي الدين المعروف بابن الصلاح (المتوفى: 643هـ)

المحقق: نور الدين عتر

الناشر: دار الفكر- سوريا، دار الفكر المعاصر - بيروت

سنة النشر: 1406هـ - 1986م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন প্রকারের জ্ঞান বা পরিচিতি, যা মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত]

লেখক: উসমান ইবনে আবদুর রহমান, আবু আমর, তাকিউদ্দীন, যিনি ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৬৪৩ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: নূরুদ্দীন ইতর

প্রকাশক: দারুল ফিকর - সিরিয়া, দারুল ফিকর আল-মুআসির - বৈরুত

প্রকাশের বছর: ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

(رَبَّنَا آتِنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا)

الْحَمْدُ لِلَّهِ الْهَادِي مَنِ اسْتَهْدَاهُ، الْوَاقِي مَنِ اتَّقَاهُ، الْكَافِي مَنْ تَحَرَّى رِضَاهُ، حَمْدًا بَالِغًا أَمَدَ التَّمَامِ وَمُنْتَهَاهُ.

وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ الْأَكْمَلَانِ عَلَى نَبِيِّنَا وَالنَّبِيِّينَ، وَآلِ كُلٍّ، مَا رَجَا رَاجٍ مَغْفِرَتَهُ وَرُحْمَاهُ، آمِينَ.

هَذَا، وَإِنَّ عِلْمَ الْحَدِيثِ مِنْ أَفْضَلِ الْعُلُومِ الْفَاضِلَةِ، وَأَنْفَعِ الْفُنُونِ النَّافِعَةِ، يُحِبُّهُ ذُكُورُ الرِّجَالِ وَفُحُولَتُهُمْ، وَيُعْنَى بِهِ مُحَقِّقُو الْعُلَمَاءِ وَكَمَلَتُهُمْ، وَلَا يَكْرَهُهُ مِنَ النَّاسِ إِلَّا رُذَالَتُهُمْ وَسَفَلَتُهُمْ. وَهُوَ مِنْ أَكْثَرِ الْعُلُومِ تَوَلُّجًا فِي فُنُونِهَا، لَا سِيَّمَا الْفِقْهُ الَّذِي هُوَ إِنْسَانُ عُيُونِهَا. وَلِذَلِكَ كَثُرَ غَلَطُ الْعَاطِلِينَ مِنْهُ مِنْ مُصَنِّفِي الْفُقَهَاءِ، وَظَهَرَ الْخَلَلُ فِي كَلَامِ الْمُخِلِّينَ بِهِ مِنَ الْعُلَمَاءِ.

وَلَقَدْ كَانَ شَأْنُ الْحَدِيثِ فِيمَا مَضَى عَظِيمًا، عَظِيمَةً جُمُوعُ طَلَبَتِهِ، رَفِيعَةً مَقَادِيرُ حُفَّاظِهِ وَحَمَلَتِهِ. وَكَانَتْ عُلُومُهُ بِحَيَاتِهِمْ حَيَّةً، وَأَفْنَانُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

(হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আমাদের আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে দিন।)

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পথপ্রদর্শন করেন তাকে যে তাঁর কাছে হিদায়াত প্রার্থনা করে, যিনি রক্ষা করেন তাকে যে তাঁকে ভয় করে এবং যিনি যথেষ্ট হন তার জন্য যে তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে; এমন এক প্রশংসা যা পূর্ণতার সর্বোচ্চ সীমা ও প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে।

আমাদের নবি এবং সকল নবিগণের ওপর এবং তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারবর্গের ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম, যতক্ষণ কোনো আশাবাদী তাঁর ক্ষমা ও দয়ার আশা পোষণ করবে। আমিন।

অতঃপর, নিশ্চয়ই হাদিস শাস্ত্র মহিমান্বিত ইলমসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম এবং উপকারী বিদ্যাসমূহের মধ্যে সর্বাধিক কল্যাণকর। পৌরুষদীপ্ত ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরাই একে ভালোবাসেন, আলেমদের মধ্যে যারা গবেষক এবং পূর্ণতা অর্জনকারী তারা এর প্রতি মনোনিবেশ করেন। আর মানুষের মধ্যে কেবল অধম ও নিচ প্রকৃতির লোকেরাই একে অপছন্দ করে। এটি অন্যান্য শাস্ত্রের গভীরে অধিক অনুপ্রবেশকারী, বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে যা জ্ঞান-বিজ্ঞানের চক্ষুর মণি স্বরূপ। এই কারণেই এই শাস্ত্র হতে রিক্ত হস্ত ফকিহ গ্রন্থকারদের মাঝে ভুল-ভ্রান্তি অনেক বেশি এবং এই শাস্ত্রের প্রতি অবহেলাকারী আলেমদের বক্তব্যে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়।

অতীতকালে হাদিসের মর্যাদা ছিল অত্যন্ত সুমহান, এর শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ছিল বিশাল এবং এর সংরক্ষণকারী (حفاظ) ও বাহকদের মর্যাদা ছিল অত্যন্ত সুউচ্চ। তাঁদের উপস্থিতিতে এই শাস্ত্রের ইলমসমূহ ছিল প্রাণবন্ত এবং এর শাখাসমূহ...
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ৬)
فُنُونِهِ بِبَقَائِهِمْ غَضَّةً، وَمَغَانِيهِ بِأَهْلِهِ آهِلَةً، فَلَمْ يَزَالُوا فِي انْقِرَاضٍ، وَلَمْ يَزَلْ فِي انْدِرَاسٍ حَتَّى آضَتْ بِهِ الْحَالُ إِلَى أَنْ صَارَ أَهْلُهُ إِنَّمَا هُمْ شِرْذِمَةٌ قَلِيلَةُ الْعَدَدِ، ضَعِيفَةُ الْعُدَدِ. لَا تُعْنَى عَلَى الْأَغْلَبِ فِي تَحَمُّلِهِ بِأَكْثَرَ مِنْ سَمَاعِهِ غُفْلًا، وَلَا تَتَعَنَّى فِي تَقْيِيدِهِ بِأَكْثَرَ مِنْ كِتَابَتِهِ عُطْلًا، مُطَّرِحِينَ عُلُومَهُ الَّتِي بِهَا جَلَّ قَدْرُهُ، مُبَاعَدِينَ مَعَارِفَهُ الَّتِي بِهَا فُخِّمَ أَمْرُهُ.

فَحِينَ كَادَ الْبَاحِثُ عَنْ مُشْكِلِهِ لَا يُلْفِي لَهُ كَاشِفًا، وَالسَّائِلُ عَنْ عِلْمِهِ لَا يَلْقَى بِهِ عَارِفًا، مَنَّ اللَّهُ الْكَرِيمُ تبارك وتعالى عَلَيَّ وَلَهُ الْحَمْدُ أَجْمَعُ بِكِتَابِ " مَعْرِفَةِ أَنْوَاعِ عِلْمِ الْحَدِيثِ "، هَذَا الَّذِي بَاحَ بِأَسْرَارِهِ الْخَفِيَّةِ، وَكَشَفَ عَنْ مُشْكِلَاتِهِ الْأَبِيَّةِ، وَأَحْكَمَ مَعَاقِدَهُ، وَقَعَّدَ قَوَاعِدَهُ، وَأَنَارَ مَعَالِمَهُ، وَبَيَّنَ أَحْكَامَهُ، وَفَصَّلَ أَقْسَامَهُ، وَأَوْضَحَ أُصُولَهُ، وَشَرَحَ فُرُوعَهُ وَفُصُولَهُ، وَجَمَعَ شَتَاتَ عُلُومِهِ وَفَوَائِدِهِ، وَقَنَصَ شَوَارِدَ نُكَتِهِ وَفَرَائِدِهِ.

فَاللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي بِيَدِهِ الضُّرُّ وَالنَّفْعُ، وَالْإِعْطَاءُ وَالْمَنْعُ أَسْأَلُ، وَإِلَيْهِ أَضْرَعُ وَأَبْتَهِلُ، مُتَوَسِّلًا إِلَيْهِ بِكُلِّ وَسِيلَةٍ، مُتَشَفِّعًا إِلَيْهِ بِكُلِّ شَفِيعٍ، أَنْ يَجْعَلَهُ مَلِيًّا بِذَلِكَ

এর শাখা-প্রশাখাগুলো তাদের উপস্থিতিতে সজীব ছিল এবং এর আকরগুলো এর অনুসারীদের দ্বারা জনাকীর্ণ ছিল। কিন্তু তারা ক্রমাগত বিলুপ্ত হতে থাকল এবং এই জ্ঞান ক্রমাগত বিস্মৃতির অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে লাগল, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাল যে এর অনুসারীরা এখন সংখ্যায় নগণ্য এবং শক্তিতে দুর্বল এক ক্ষুদ্র দলে পরিণত হয়েছে। তারা এর গ্রহণ ও বহন (تحمل) করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় কোনো বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই কেবল শ্রবণ করার (سماع) চেয়ে বেশি কিছু গ্রাহ্য করে না, আর একে লিপিবদ্ধ (تقييد) করার ক্ষেত্রে কোনো সূক্ষ্ম জ্ঞান ছাড়াই শুধু লিখে রাখার চেয়ে বেশি কষ্ট স্বীকার করে না। তারা সেই সকল জ্ঞানকে বর্জন করেছে যার দ্বারা এই শাস্ত্রের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং সেই সকল প্রজ্ঞা থেকে দূরে সরে গিয়েছে যার দ্বারা এর গুরুত্ব সুমহান হয়েছিল।

এমন এক সময়ে যখন এই শাস্ত্রের জটিল বিষয়সমূহ নিয়ে গবেষণাকারীরা কোনো ব্যাখ্যাকারী খুঁজে পাচ্ছিলেন না এবং এর জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসুরা কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির সন্ধান পাচ্ছিলেন না, তখন মহান ও দয়ালু আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আমার ওপর অনুগ্রহ করলেন—আর সমস্ত প্রশংসা কেবল তাঁরই—'মা’রিফাতু আনওয়া’ই ইলমিল হাদিস' নামক কিতাবটির মাধ্যমে। এই কিতাবটি এর গুপ্ত রহস্যসমূহ উন্মোচিত করেছে, এর দুর্বোধ্য জটিলতাগুলো স্পষ্ট করেছে, এর মূল বিষয়সমূহকে সুসংহত করেছে, এর নীতিমালাসমূহ (قواعد) সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে, এর নিদর্শনসমূহকে আলোকিত করেছে, এর বিধানসমূহ (أحكام) বর্ণনা করেছে, এর শ্রেণিবিভাগসমূহ (أقسام) বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে, এর মূলনীতিসমূহ (أصول) স্পষ্ট করেছে এবং এর শাখা (فروع) ও উপ-অধ্যায়সমূহ (فصول) ব্যাখ্যা করেছে। এটি এই শাস্ত্রের বিক্ষিপ্ত জ্ঞান ও উপকারিতাসমূহকে একত্রিত করেছে এবং এর বিরল সূক্ষ্ম বিষয় ও অনন্য তত্ত্বসমূহকে সংকলিত করেছে।

সুতরাং আমি সেই মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যাঁর হাতে রয়েছে ক্ষতি ও কল্যাণ, দান ও বারণ; এবং আমি তাঁরই নিকট বিনীত অনুনয় ও প্রার্থনা করছি, তাঁর নৈকট্য লাভের প্রতিটি উপায় অবলম্বন করে এবং প্রতিটি সুপারিশকারীর সুপারিশ কামনা করে—তিনি যেন এই কিতাবটিকে সেই লক্ষ্যের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ করে দেন।

(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ৭)
وَأَمْلَى وَفِيًّا بِكُلِّ ذَلِكَ وَأَوْفَى. وَأَنْ يُعَظِّمَ الْأَجْرَ وَالنَّفْعَ بِهِ فِي الدَّارَيْنِ، إِنَّهُ قَرِيبٌ مُجِيبٌ. (وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ).

وَهَذِهِ فَهْرَسَةُ أَنْوَاعِهِ:

الْأَوَّلُ مِنْهَا: مَعْرِفَةُ الصَّحِيحِ مِنَ الْحَدِيثِ.

الثَّانِي: مَعْرِفَةُ الْحَسَنِ مِنْهُ.

الثَّالِثُ: مَعْرِفَةُ الضَّعِيفِ مِنْهُ.

الرَّابِعُ: مَعْرِفَةُ الْمُسْنَدِ.

الْخَامِسُ: مَعْرِفَةُ الْمُتَّصِلِ.

السَّادِسُ: مَعْرِفَةُ الْمَرْفُوعِ.

السَّابِعُ: مَعْرِفَةُ الْمَوْقُوفِ.

الثَّامِنُ: مَعْرِفَةُ الْمَقْطُوعِ، وَهُوَ غَيْرُ الْمُنْقَطِعِ.

التَّاسِعُ: مَعْرِفَةُ الْمُرْسَلِ.

الْعَاشِرُ: مَعْرِفَةُ الْمُنْقَطِعِ.

الْحَادِيَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ الْمُعْضَلِ، وَيَلِيهِ تَفْرِيعَاتٌ، مِنْهَا فِي الْإِسْنَادِ الْمُعَنْعَنِ، وَمِنْهَا فِي التَّعْلِيقِ.

الثَّانِيَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ التَّدْلِيسِ وَحُكْمُ الْمُدَلِّسِ.
এবং তিনি এই সবকিছুর পূর্ণতা ও প্রাচুর্য দান করেছেন। আর যেন তিনি উভয় জগতে এর দ্বারা প্রতিদান ও কল্যাণকে মহান করেন; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী ও প্রার্থনা কবুলকারী। (আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে, আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁরই অভিমুখী হই)।

আর এটি হলো এর প্রকারভেদের সূচিপত্র:

প্রথম প্রকার: হাদিসের সহিহ (صحيح) প্রকারটি চেনা।

দ্বিতীয়: হাসান (حسن) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান।

তৃতীয়: দুর্বল (ضعيف) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান।

চতুর্থ: মুসনাদ সম্পর্কে জ্ঞান।

পঞ্চম: মুত্তাসিল (متصل) সম্পর্কে জ্ঞান।

ষষ্ঠ: মারফু (مرفوع) সম্পর্কে জ্ঞান।

সপ্তম: মাওকুফ (موقوف) সম্পর্কে জ্ঞান।

অষ্টম: মাকতু (مقطوع) সম্পর্কে জ্ঞান, আর এটি মুনকাতি (منقطع) থেকে ভিন্ন।

নবম: মুরসাল (مرسل) সম্পর্কে জ্ঞান।

দশম: মুনকাতি (منقطع) সম্পর্কে জ্ঞান।

একাদশ: মুদাল (معضل) সম্পর্কে জ্ঞান এবং এর পরবর্তী শাখাসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে মুআনআন (معنعن) সনদ এবং তালিফ (تعليق) সংক্রান্ত আলোচনা।

দ্বাদশ: তাদলিস (تدليس) সম্পর্কে জ্ঞান এবং মুদাল্লিস (مدلس)-এর হুকুম।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ৮)
الثَّالِثَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ الشَّاذِّ.

الرَّابِعَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ الْمُنْكَرِ.

الْخَامِسَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ الِاعْتِبَارِ وَالْمُتَابَعَاتِ وَالشَّوَاهِدِ.

السَّادِسَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ زِيَادَاتِ الثِّقَاتِ وَحُكْمُهَا.

السَّابِعَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ الْأَفْرَادِ.

الثَّامِنَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ الْحَدِيثِ الْمُعَلَّلِ.

التَّاسِعَ عَشَرَ: مَعْرِفَةُ الْمُضْطَرِبِ مِنَ الْحَدِيثِ.

الْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ الْمُدْرَجِ فِي الْحَدِيثِ.

الْحَادِي وَالْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ الْحَدِيثِ الْمَوْضُوعِ.

الثَّانِي وَالْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ الْمَقْلُوبِ.

الثَّالِثُ وَالْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ صِفَةِ مَنْ تُقْبَلُ رِوَايَتُهُ، وَمَنْ تُرَدُّ رِوَايَتُهُ.

الرَّابِعُ وَالْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ كَيْفِيَّةِ سَمَاعِ الْحَدِيثِ وَتَحَمُّلِهِ، وَفِيهِ بَيَانُ أَنْوَاعِ الْإِجَازَةِ وَأَحْكَامِهَا وَسَائِرِ وُجُوهِ الْأَخْذِ وَالتَّحَمُّلِ، وَعِلْمٌ جَمٌّ.

الْخَامِسُ وَالْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ كِتَابَةِ الْحَدِيثِ، وَكَيْفِيَّةُ ضَبْطِ الْكِتَابِ وَتَقْيِيدِهِ، وَفِيهِ مَعَارِفُ مُهِمَّةٌ رَائِقَةٌ.

السَّادِسُ وَالْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ كَيْفِيَّةِ رِوَايَةِ الْحَدِيثِ وَشَرْطِ أَدَائِهِ وَمَا يَتَعَلَّقُ بِذَلِكَ، وَفِيهِ كَثِيرٌ مِنْ نَفَائِسِ هَذَا الْعِلْمِ.
ত্রয়োদশ: বিরল (شاذ) সম্পর্কে জ্ঞান।

চতুর্দশ: অগ্রহণযোগ্য (منكر) সম্পর্কে জ্ঞান।

পঞ্চদশ: পর্যালোচনা (اعتبار), অনুগামী বর্ণনা (متابعات) এবং সাক্ষী বর্ণনা (شواهد) সম্পর্কে জ্ঞান।

ষোড়শ: নির্ভরযোগ্য (ثقات) বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ (زيادات الثقات) এবং সেগুলোর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান।

সপ্তদশ: একক বর্ণনা (أفراد) সম্পর্কে জ্ঞান।

অষ্টাদশ: ত্রুটিযুক্ত (معلل) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান।

ঊনবিংশ: অস্থির (مضطرب) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান।

বিংশ: প্রক্ষিপ্ত (مدرج) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান।

একবিংশ: জাল (موضوع) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান।

দ্বাবিংশ: উল্টানো (مقلوب) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান।

ত্রয়োবিংশ: যাদের বর্ণনা গ্রহণ করা হবে এবং যাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হবে, তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জ্ঞান।

চতুর্বিংশ: হাদিস শ্রবণ এবং তা ধারণের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান; এতে বিভিন্ন প্রকার অনুমতি (إجازة) ও তার বিধান এবং হাদিস গ্রহণ ও ধারণের অন্যান্য সকল পদ্ধতি এবং প্রচুর জ্ঞান বর্ণিত হয়েছে।

পঞ্চবিংশ: হাদিস লিপিবদ্ধকরণ এবং পাণ্ডুলিপির যথাযথ সংরক্ষণ (ضبط) ও তা সুবিন্যস্ত করার পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান; এতে গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার অনেক তথ্য রয়েছে।

ষড়বিংশ: হাদিস বর্ণনার পদ্ধতি, তা আদায়ের শর্তাবলি এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান; এতে এই শাস্ত্রের অনেক মূল্যবান বিষয় নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ৯)
السَّابِعُ وَالْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ آدَابِ الْمُحَدِّثِ.

الثَّامِنُ وَالْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ آدَابِ طَالِبِ الْحَدِيثِ.

التَّاسِعُ وَالْعِشْرُونَ: مَعْرِفَةُ الْإِسْنَادِ الْعَالِي وَالنَّازِلِ.

النَّوْعُ الْمُوفِي ثَلَاثِينَ: مَعْرِفَةُ الْمَشْهُورِ مِنَ الْحَدِيثِ.

الْحَادِي وَالثَلَاثُونَ: مَعْرِفَةُ الْغَرِيبِ وَالْعَزِيزِ مِنَ الْحَدِيثِ.

الثَّانِي وَالثَلَاثُونَ: مَعْرِفَةُ غَرِيبِ الْحَدِيثِ.

الثَّالِثُ وَالثَلَاثُونَ: مَعْرِفَةُ الْمُسَلْسَلِ.

الرَّابِعُ وَالثَلَاثُونَ: مَعْرِفَةُ نَاسِخِ الْحَدِيثِ وَمَنْسُوخِهِ.

الْخَامِسُ وَالثَلَاثُونَ: مَعْرِفَةُ الْمُصَحَّفِ مِنْ أَسَانِيدِ الْأَحَادِيثِ وَمُتُونِهَا.

السَّادِسُ وَالثَلَاثُونَ: مَعْرِفَةُ مُخْتَلِفِ الْحَدِيثِ.

السَّابِعُ وَالثَلَاثُونَ: مَعْرِفَةُ الْمَزِيدِ فِي مُتَّصِلِ الْأَسَانِيدِ.

الثَّامِنُ وَالثَلَاثُونَ: مَعْرِفَةُ الْمَرَاسِيلِ الْخَفِيِّ إِرْسَالُهَا.

التَّاسِعُ وَالثَلَاثُونَ: مَعْرِفَةُ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم.

الْمُوفِي أَرْبَعِينَ: مَعْرِفَةُ التَّابِعِينَ رضي الله عنهم.

الْحَادِي وَالْأَرْبَعُونَ: مَعْرِفَةُ الْأَكَابِرِ الرُّوَاةِ عَنِ الْأَصَاغِرِ.

الثَّانِي وَالْأَرْبَعُونَ: مَعْرِفَةُ الْمُدَبَّجِ وَمَا سِوَاهُ مِنْ رِوَايَةِ الْأَقْرَانِ بَعْضِهِمْ عَنْ بَعْضٍ.

الثَّالِثُ وَالْأَرْبَعُونَ: مَعْرِفَةُ الْإِخْوَةِ وَالْأَخَوَاتِ مِنَ الْعُلَمَاءِ وَالرُّوَاةِ.

الرَّابِعُ وَالْأَرْبَعُونَ: مَعْرِفَةُ رِوَايَةِ الْآبَاءِ عَنِ الْأَبْنَاءِ.
সাতাশতম: মুহাদ্দিসের আদব সম্পর্কিত জ্ঞান।

আটাশতম: হাদিস অন্বেষণকারীর আদব সম্পর্কিত জ্ঞান।

উনত্রিশতম: উচ্চ সনদ (الإسناد العالي) এবং নিম্ন সনদ (الإسناد النازل) সম্পর্কিত জ্ঞান।

ত্রিশতম প্রকার: প্রসিদ্ধ (المشهور) হাদিস সম্পর্কিত জ্ঞান।

একত্রিশতম: গরীব (الغريب) এবং আজিজ (العزيز) হাদিস সম্পর্কিত জ্ঞান।

বত্রিশতম: হাদিসের অপরিচিত শব্দাবলি (غريب الحديث) সম্পর্কিত জ্ঞান।

তেত্রিশতম: মুসালসাল (المسلسل) হাদিস সম্পর্কিত জ্ঞান।

চৌত্রিশতম: হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) সম্পর্কিত জ্ঞান।

পঁয়ত্রিশতম: হাদিসের সনদসমূহ (أسانيد) এবং মতনসমূহের (متون) মধ্যে বর্ণাশুদ্ধি (المصحف) সম্পর্কিত জ্ঞান।

ছত্রিশতম: বিরোধপূর্ণ হাদিস (مختلف الحديث) সম্পর্কিত জ্ঞান।

সাইত্রিশতম: নিরবচ্ছিন্ন সনদের মধ্যে অতিরিক্ত রাবি (المزيد في متصل الأسانيد) সম্পর্কিত জ্ঞান।

আটত্রিশতম: অপ্রকাশ্য বিচ্ছিন্ন (مرسل خفي) হাদিস সম্পর্কিত জ্ঞান।

উনচল্লিশতম: সাহাবী (الصحابة) রাদিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কিত জ্ঞান।

চল্লিশতম প্রকার: তাবিঈ (التابعين) রাদিয়াল্লাহু আনহুম সম্পর্কিত জ্ঞান।

একচল্লিশতম: ছোটদের নিকট থেকে বড় বর্ণনাকারীদের (الأكابر الرواة عن الأصاغر) বর্ণনা সম্পর্কিত জ্ঞান।

বিয়াল্লিশতম: মুদাব্বাজ (المدبج) এবং সমসাময়িক বর্ণনাকারীদের একে অপরের থেকে বর্ণনা (رواية الأقران) সম্পর্কিত জ্ঞান।

তেতাল্লিশতম: উলামা ও বর্ণনাকারীদের (الرواة) মধ্য থেকে ভাই ও বোনদের পরিচয় সম্পর্কিত জ্ঞান।

চুয়াল্লিশতম: সন্তানদের নিকট থেকে পিতাদের বর্ণনা (رواية الآباء عن الأبناء) সম্পর্কিত জ্ঞান।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১০)
الْخَامِسُ وَالْأَرْبَعُونَ: عَكْسُ ذَلِكَ: مَعْرِفَةُ رِوَايَةِ الْأَبْنَاءِ عَنِ الْآبَاءِ.

السَّادِسُ وَالْأَرْبَعُونَ: مَعْرِفَةُ مَنِ اشْتَرَكَ فِي الرِّوَايَةِ عَنْهُ رَاوِيَانِ مُتَقَدِّمٌ وَمُتَأَخِّرٌ، تَبَاعَدَ مَا بَيْنَ وَفَاتَيْهِمَا.

السَّابِعُ وَالْأَرْبَعُونَ: مَعْرِفَةُ مَنْ لَمْ يَرْوِ عَنْهُ إِلَّا رَاوٍ وَاحِدٌ.

الثَّامِنُ وَالْأَرْبَعُونَ: مَعْرِفَةُ مَنْ ذُكِرَ بِأَسْمَاءٍ مُخْتَلِفَةٍ أَوْ نُعُوتٍ مُتَعَدِّدَةٍ.

التَّاسِعُ وَالْأَرْبَعُونَ: مَعْرِفَةُ الْمُفْرَدَاتِ مِنْ أَسْمَاءِ الصَّحَابَةِ وَالرُّوَاةِ وَالْعُلَمَاءِ.

الْمُوفِي خَمْسِينَ: مَعْرِفَةُ الْأَسْمَاءِ وَالْكُنَى.

الْحَادِي وَالْخَمْسُونَ: مَعْرِفَةُ كُنَى الْمَعْرُوفِينَ بِالْأَسْمَاءِ دُونَ الْكُنَى.

الثَّانِي وَالْخَمْسُونَ: مَعْرِفَةُ أَلْقَابِ الْمُحَدِّثِينَ.

الثَّالِثُ وَالْخَمْسُونَ: مَعْرِفَةُ الْمُؤْتَلِفِ وَالْمُخْتَلِفِ.

الرَّابِعُ وَالْخَمْسُونَ: مَعْرِفَةُ الْمُتَّفِقِ وَالْمُفْتَرِقِ.

الْخَامِسُ وَالْخَمْسُونَ: نَوْعٌ يَتَرَكَّبُ مِنْ هَذَيْنِ النَّوْعَيْنِ.

السَّادِسُ وَالْخَمْسُونَ: مَعْرِفَةُ الرُّوَاةِ الْمُتَشَابِهِينَ فِي الِاسْمِ وَالنَّسَبِ، الْمُتَمَايِزِينَ بِالتَّقْدِيمِ وَالتَّأْخِيرِ فِي الِابْنِ وَالْأَبِ.

السَّابِعُ وَالْخَمْسُونَ: مَعْرِفَةُ الْمَنْسُوبِينَ إِلَى غَيْرِ آبَائِهِمْ.

الثَّامِنُ وَالْخَمْسُونَ: مَعْرِفَةُ الْأَنْسَابِ الَّتِي بَاطِنُهَا عَلَى خِلَافِ ظَاهِرِهَا.

التَّاسِعُ وَالْخَمْسُونَ: مَعْرِفَةُ الْمُبْهَمَاتِ.

الْمُوفِي سِتِّينَ: مَعْرِفَةُ تَوَارِيخِ الرُّوَاةِ فِي الْوَفَيَاتِ وَغَيْرِهَا.

الْحَادِي وَالسِتُّونَ: مَعْرِفَةُ الثِّقَاتِ وَالضُّعَفَاءِ مِنَ الرُّوَاةِ.

الثَّانِي وَالسِتُّونَ: مَعْرِفَةُ مَنْ خَلَطَ فِي آخِرِ عُمُرِهِ مِنَ الثِّقَاتِ.

الثَّالِثُ وَالسِتُّونَ: مَعْرِفَةُ طَبَقَاتِ الرُّوَاةِ وَالْعُلَمَاءِ.
৪৫তম প্রকার: এর বিপরীত: সন্তানদের তাদের পিতা থেকে বর্ণনা (رواية الأبناء عن الآباء) সংক্রান্ত জ্ঞান।

৪৬তম প্রকার: এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞান যার থেকে দুইজন রাবী (راويان) বর্ণনা করেছেন যাদের একজন অগ্রবর্তী এবং অন্যজন পরবর্তী, এবং তাদের উভয়ের মৃত্যুর সময়ের ব্যবধান অনেক বেশি।

৪৭তম প্রকার: এমন রাবী সম্পর্কে জ্ঞান যার থেকে মাত্র একজন রাবী (راو) বর্ণনা করেছেন।

৪৮তম প্রকার: এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞান যাকে বিভিন্ন নামে বা একাধিক বিশেষণে (نعوت) অভিহিত করা হয়েছে।

৪৯তম প্রকার: সাহাবী, রাবী (رواة) এবং আলিমদের একক নামসমূহ (المفردات) সংক্রান্ত জ্ঞান।

পূর্ণ ৫০তম প্রকার: নাম এবং উপনাম (الكنى) সংক্রান্ত জ্ঞান।

৫১তম প্রকার: যারা উপনামের পরিবর্তে নামেই অধিক পরিচিত তাদের উপনাম (كنى) সংক্রান্ত জ্ঞান।

৫২তম প্রকার: মুহাদ্দিসগণের উপাধি (ألقاب) সংক্রান্ত জ্ঞান।

৫৩তম প্রকার: মুতালিফ ও মুখতালিফ (المؤتلف والمختلف) সংক্রান্ত জ্ঞান।

৫৪তম প্রকার: মুত্তাফিক ও মুফতারিক (المتفق والمفترق) সংক্রান্ত জ্ঞান।

৫৫তম প্রকার: এমন এক প্রকার যা এই পূর্ববর্তী দুই প্রকারের সমন্বয়ে গঠিত।

৫৬তম প্রকার: এমন রাবীদের (رواة) সম্পর্কে জ্ঞান যারা নাম ও বংশ পরিচয়ে সদৃশ, কিন্তু পিতা ও পুত্রের নামের অগ্র-পশ্চাৎ হওয়ার কারণে তারা পরস্পর ভিন্ন।

৫৭তম প্রকার: যারা তাদের নিজ পিতা ব্যতীত অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়ে পরিচিত তাদের সম্পর্কে জ্ঞান।

৫৮তম প্রকার: এমন সব বংশীয় পরিচয় (الأنساب) সম্পর্কে জ্ঞান যেগুলোর প্রকৃত রহস্য বাহ্যিক রূপের বিপরীত।

৫৯তম প্রকার: অস্পষ্ট নামধারী (المبهمات) ব্যক্তিদের সম্পর্কে জ্ঞান।

পূর্ণ ৬০তম প্রকার: রাবীদের (رواة) মৃত্যুর তারিখ এবং অন্যান্য ইতিহাস সংক্রান্ত জ্ঞান।

৬১তম প্রকার: রাবীদের (رواة) মধ্যে নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং দুর্বল (ضعفاء) ব্যক্তিদের সম্পর্কে জ্ঞান।

৬২তম প্রকার: নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবীদের মধ্যে যারা জীবনের শেষ ভাগে বার্ধক্যজনিত কারণে স্মৃতিভ্রমের (خلط) শিকার হয়েছেন তাদের সম্পর্কে জ্ঞান।

৬৩তম প্রকার: রাবী (رواة) এবং আলিমদের স্তর (طبقات) সংক্রান্ত জ্ঞান।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১১)
الرَّابِعُ وَالسِتُّونَ: مَعْرِفَةُ الْمَوَالِي مِنَ الرُّوَاةِ وَالْعُلَمَاءِ.

الْخَامِسُ وَالسِتُّونَ: مَعْرِفَةُ أَوْطَانِ الرُّوَاةِ وَبُلْدَانِهِمْ.

وَذَلِكَ آخِرُهَا، وَلَيْسَ بِآخِرِ الْمُمْكِنِ فِي ذَلِكَ، فَإِنَّهُ قَابِلٌ لِلتَّنْوِيعِ إِلَى مَا لَا يُحْصَى، إِذْ لَا تُحْصَى أَحْوَالُ رُوَاةِ الْحَدِيثِ وَصِفَاتُهُمْ، وَلَا أَحْوَالُ مُتُونِ الْحَدِيثِ وَصِفَاتُهَا، وَمَا مِنْ حَالَةٍ مِنْهَا وَلَا صِفَةٍ إِلَّا وَهِيَ بِصَدَدِ أَنْ تُفْرَدَ بِالذِّكْرِ وَأَهْلِهَا، فَإِذَا هِيَ نَوْعٌ عَلَى حِيَالِهِ، وَلَكِنَّهُ نَصَبٌ مِنْ غَيْرِ أَرَبٍ، وَحَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.

‌‌النَّوْعُ الْأَوَّلُ مِنْ أَنْوَاعِ عُلُومِ الْحَدِيثِ

مَعْرِفَةُ الصَّحِيحِ مِنَ الْحَدِيثِ

اعْلَمْ - عَلَّمَكَ اللَّهُ وَإِيَّايَ - أَنَّ الْحَدِيثَ عِنْدَ أَهْلِهِ يَنْقَسِمُ إِلَى: صَحِيحٍ، وَحَسَنٍ، وَضَعِيفٍ.

أَمَّا الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ: فَهُوَ الْحَدِيثُ الْمُسْنَدُ الَّذِي يَتَّصِلُ إِسْنَادُهُ
চৌষট্টিতম প্রকার: বর্ণনাকারী এবং আলেমদের মধ্যকার মাওলাদের (الموالي) পরিচয়।

পঁয়ষট্টিতম প্রকার: বর্ণনাকারীদের আবাসস্থল এবং শহরসমূহের পরিচয়।

এবং এটিই এগুলোর সমাপ্তি, তবে এটিই সম্ভাব্য সবকিছুর পরিসমাপ্তি নয়। কারণ একে অগণিত প্রকারে বিন্যস্ত করা সম্ভব। কেননা হাদিসের বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও গুণাবলি এবং হাদিসের মূল পাঠের (متون) অবস্থা ও গুণাবলি গণনা করে শেষ করা যায় না। এগুলোর এমন কোনো অবস্থা বা গুণ নেই যা পৃথকভাবে আলোচনা এবং এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উল্লেখ করার দাবি রাখে না; ফলে সেটিও একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু এটি (বিবরণ দীর্ঘ করা) বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া কেবলই পরিশ্রম। আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক।

‌‌হাদিস শাস্ত্রের প্রকারসমূহের মধ্যে প্রথম প্রকার

সহিহ (الصحيح) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে এবং আমাকে শিক্ষা দান করুন—হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিস তিন ভাগে বিভক্ত: সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং দুর্বল (ضعيف)।

সহিহ (الصحيح) হাদিস প্রসঙ্গে: এটি হলো সেই মুসনাদ (المسند) হাদিস যার সনদ (إسناد) নিরবচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১২)
بِنَقْلِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ عَنِ الْعَدْلِ الضَّابِطِ إِلَى مُنْتَهَاهُ، وَلَا يَكُونُ شَاذًّا، وَلَا مُعَلَّلًا.

وَفِي هَذِهِ الْأَوْصَافِ احْتِرَازٌ عَنِ الْمُرْسَلِ، وَالْمُنْقَطِعِ، وَالْمُعْضَلِ، وَالشَّاذِّ، وَمَا فِيهِ عِلَّةٌ قَادِحَةٌ، وَمَا فِي رَاوِيهِ نَوْعُ جَرْحٍ. وَهَذِهِ أَنْوَاعٌ يَأْتِي ذِكْرُهَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ تبارك وتعالى.
একজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও নিখুঁত সংরক্ষণকারী (ضابط) বর্ণনাকারী কর্তৃক অনুরূপ একজন ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) ও নিখুঁত সংরক্ষণকারী (ضابط) বর্ণনাকারী থেকে এর শেষ সীমা পর্যন্ত বর্ণনার মাধ্যমে; আর তা যেন শায (شاذ) না হয় এবং ত্রুটিযুক্ত (معلل) না হয়।

আর এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে মুরসাল (مرسل), বিচ্ছিন্ন (منقطع), মুদাল (معضل), শায (شاذ), এবং যাতে কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة قادحة) রয়েছে কিংবা যার বর্ণনাকারীর মাঝে কোনো প্রকার সমালোচনা (جرح) বিদ্যমান—তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এগুলো এমন কিছু প্রকারভেদ যার আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১৩)
فَهَذَا هُوَ الْحَدِيثُ الَّذِي يُحْكَمُ لَهُ بِالصِّحَّةِ بِلَا خِلَافٍ بَيْنِ أَهْلِ الْحَدِيثِ. وَقَدْ يَخْتَلِفُونَ فِي صِحَّةِ بَعْضِ الْأَحَادِيثِ لِاخْتِلَافِهِمْ فِي وُجُودِ هَذِهِ الْأَوْصَافِ فِيهِ، أَوْ لِاخْتِلَافِهِمْ فِي اشْتِرَاطِ بَعْضِ هَذِهِ الْأَوْصَافِ، كَمَا فِي الْمُرْسَلِ.

وَمَتَى قَالُوا: " هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ " فَمَعْنَاهُ: أَنَّهُ اتَّصَلَ سَنَدُهُ مَعَ
সুতরাং এটিই সেই হাদিস যাকে হাদিস বিশারদগণের নিকট কোনো মতভেদ ছাড়াই সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে কখনও কখনও তারা কিছু হাদিসের সহিহ (صحة) হওয়ার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেন; যার কারণ হলো সেই হাদিসে এই বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকা নিয়ে তাদের মতভেদ, অথবা এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কোনোটি শর্ত হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে তাদের মতপার্থক্য, যেমনটি মুরসাল (مرسل) হাদিসের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

আর যখন তারা বলেন: "এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস", তখন এর অর্থ হলো: এর সনদ (سند) নিরবচ্ছিন্ন হয়েছে এবং এর সাথে...
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১৪)
سَائِرِ الْأَوْصَافِ الْمَذْكُورَةِ، وَلَيْسَ مِنْ شَرْطِهِ أَنْ يَكُونَ مَقْطُوعًا بِهِ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ، إِذْ مِنْهُ مَا يَنْفَرِدُ بِرِوَايَتِهِ عَدْلٌ وَاحِدٌ، وَلَيْسَ مِنَ الْأَخْبَارِ الَّتِي أَجْمَعَتِ الْأُمَّةُ عَلَى تَلَقِّيهَا بِالْقَبُولِ.

وَكَذَلِكَ إِذَا قَالُوا فِي حَدِيثٍ: " إِنَّهُ غَيْرُ صَحِيحٍ " فَلَيْسَ ذَلِكَ قَطْعًا بِأَنَّهُ كَذِبٌ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ، إِذْ قَدْ يَكُونُ صِدْقًا فِي نَفْسِ الْأَمْرِ، وَإِنَّمَا الْمُرَادُ بِهِ أَنَّهُ لَمْ يَصِحَّ إِسْنَادُهُ عَلَى الشَّرْطِ الْمَذْكُورِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

فَوَائِدُ مُهِمَّةٌ

إِحْدَاهَا: الصَّحِيحُ يَتَنَوَّعُ إِلَى مُتَّفَقٍ عَلَيْهِ، وَمُخْتَلَفٍ فِيهِ، كَمَا سَبَقَ ذِكْرُهُ. وَيَتَنَوَّعُ إِلَى مَشْهُورٍ، وَغَرِيبٍ، وَبَيْنَ ذَلِكَ.

ثُمَّ إِنَّ دَرَجَاتِ الصَّحِيحِ تَتَفَاوَتُ فِي الْقُوَّةِ بِحَسَبِ تَمَكُّنِ الْحَدِيثِ مِنَ الصِّفَاتِ الْمَذْكُورَةِ
উল্লিখিত অন্যান্য সকল গুণাবলি থাকা আবশ্যক। তবে এটি বাস্তবেই ধ্রুব সত্য হওয়া এর জন্য শর্ত নয়; কারণ এর মধ্যে এমন বর্ণনাও রয়েছে যা একজন মাত্র ন্যায়নিষ্ঠ (عدل) বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি এমন সংবাদসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয় যার গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে উম্মাহর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অনুরূপভাবে যখন তারা কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন: "এটি সহীহ (صحيহ) নয়", তখন এর দ্বারা নিশ্চিতভাবে এটি প্রমাণিত হয় না যে তা বাস্তবে মিথ্যা। কারণ হতে পারে তা বাস্তবে সত্য; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উল্লিখিত শর্তানুসারে এর সনদ (إسناد) সহীহ (صحيহ) প্রমাণিত হয়নি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

গুরুত্বপূর্ণ ফায়দাহসমূহ

প্রথমত: সহীহ (صحيহ) হাদিস সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) হিসেবে বিভক্ত হয়, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তদ্রূপ এটি প্রসিদ্ধ (مشهور), বিরল (غريب) এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্তরেও বিভক্ত হয়।

অতঃপর হাদিসের মধ্যে উল্লিখিত গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকার সক্ষমতা অনুযায়ী সহীহ (صحيহ) হাদিসের স্তরসমূহ শক্তির বিচারে তারতম্যপূর্ণ হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১৫)
الَّتِي تَنْبَنِي الصِّحَّةُ عَلَيْهَا، وَتَنْقَسِمُ بِاعْتِبَارِ ذَلِكَ إِلَى أَقْسَامٍ يَسْتَعْصِي إِحْصَاؤُهَا عَلَى الْعَادِّ الْحَاصِرِ.

وَلِهَذَا نَرَى الْإِمْسَاكَ عَنِ الْحُكْمِ لِإِسْنَادٍ أَوْ حَدِيثٍ بِأَنَّهُ الْأَصَحُّ عَلَى الْإِطْلَاقِ. عَلَى أَنَّ جَمَاعَةً مِنْ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ خَاضُوا غَمْرَةَ ذَلِكَ، فَاضْطَرَبَتْ أَقْوَالُهُمْ.

فَرُوِّينَا عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ رَاهَوَيْهِ أَنَّهُ قَالَ: " أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ كُلِّهَا: الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ ". وَرُوِّينَا نَحْوَهُ عَنْ (أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ).

وَرُوِّينَا عَنْ عَمْرِو بْنِ عَلِيٍّ الْفَلَّاسِ أَنَّهُ قَالَ: " أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ: مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ عَنْ عُبَيْدَةَ عَنْ عَلِيٍّ ".

وَرُوِّينَا نَحْوَهُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ، وَرُوِيَ ذَلِكَ عَنْ غَيْرِهِمَا.

ثُمَّ
যার ওপর বিশুদ্ধতা (الصحة) নির্ভরশীল, এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে এটি এমন বহু প্রকারে বিভক্ত হয় যা কোনো গণনাকারীর পক্ষে নিরূপণ করা দুঃসাধ্য।

এ কারণেই কোনো সনদ (إسناد) বা হাদিসকে নিঃশর্তভাবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (الأصح) হিসেবে হুকুম (الحكم) প্রদান থেকে বিরত থাকতে দেখা যায়। যদিও হাদিসের একদল ইমাম এই জটিল বিষয়ে আলোচনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন, যার ফলে তাঁদের বক্তব্যে বিভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হলো: যুহরি, সালিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে।" আহমদ ইবনে হাম্বল থেকেও আমাদের নিকট অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

আমর ইবনে আলি আল-ফাল্লাস থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সর্বাধিক বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হলো: মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, উবায়দাহ থেকে, তিনি আলি থেকে।"

আলি ইবনে আল-মাদিনি থেকেও আমাদের নিকট অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁদের দুজন ছাড়াও অন্যদের থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

অতঃপর
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১৬)
مِنْهُمْ مَنْ عَيَّنَ الرَّاوِيَ عَنْ مُحَمَّدٍ، وَجَعَلَهُ أَيُّوبَ السِّخْتِيَانِيَّ. وَمِنْهُمْ مَنْ جَعَلَهُ ابْنَ عَوْنٍ.

وَفِيمَا نَرْوِيهِ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَعِينٍ أَنَّهُ قَالَ: " أَجْوَدُهَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ".

وَرُوِّينَا عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: " أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ كُلِّهَا الزُّهْرِيُّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيٍّ ".

وَرُوِّينَا عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْبُخَارِيِّ - صَاحِبِ الصَّحِيحِ - أَنَّهُ قَالَ: " أَصَحُّ الْأَسَانِيدِ كُلِّهَا: مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ ". وَبَنَى الْإِمَامُ أَبُو مَنْصُورٍ عَبْدُ الْقَاهِرِ بْنُ طَاهِرٍ التَّمِيمِيُّ عَلَى ذَلِكَ: أَنَّ أَجَلَّ الْأَسَانِيدِ: " الشَّافِعِيُّ عَنْ مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ " وَاحْتَجَّ بِإِجْمَاعِ أَصْحَابِ الْحَدِيثِ عَلَى أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي الرُّوَاةِ عَنْ مَالِكٍ أَجَلُّ مِنَ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

الثَّانِيَةُ: إِذَا وَجَدْنَا فِيمَا يُرْوَى مِنْ أَجْزَاءِ الْحَدِيثِ وَغَيْرِهَا حَدِيثًا صَحِيحَ الْإِسْنَادِ، وَلَمْ نَجِدْهُ فِي أَحَدِ الصَّحِيحَيْنِ، وَلَا مَنْصُوصًا عَلَى صِحَّتِهِ فِي شَيْءٍ مِنْ مُصَنَّفَاتِ أَئِمَّةِ الْحَدِيثِ الْمُعْتَمَدَةِ الْمَشْهُورَةِ، فَإِنَّا لَا نَتَجَاسَرُ
তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুহাম্মাদের নিকট থেকে বর্ণনাকারীকে (الراوي) সুনির্দিষ্ট করেছেন এবং তাকে আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে ইবনে আউন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে আমাদের বর্ণিত রেওয়ায়েতে আছে যে, তিনি বলেছেন: "সনদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট (أجودها) হলো আমাশ, ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, আর তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত সনদ।"

এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "সকল সনদের (الأسانيد) মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) হলো যুহরি, আলি ইবনুল হোসেন থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, আর তিনি আলি (রাযি.) থেকে বর্ণিত সনদ।"

এবং সহিহ-এর রচয়িতা আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সকল সনদের (الأسانيد) মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) হলো: মালিক, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত সনদ।" এবং ইমাম আবু মানসুর আব্দুল কাহির ইবনে তাহির আল-তামিমি এর ওপর ভিত্তি করে বলেছেন যে, সবচেয়ে মহিমান্বিত সনদ হলো: "শাফেয়ী, মালিক থেকে, তিনি নাফে থেকে, আর তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণিত সনদ।" এবং তিনি এর সপক্ষে হাদিস বিশারদগণের ঐকমত্যের (إجماع) দলিল পেশ করেছেন যে, মালিকের নিকট থেকে বর্ণনাকারীদের (الرواة) মধ্যে শাফেয়ীর চেয়ে মহিমান্বিত আর কেউ ছিলেন না। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

দ্বিতীয়ত: যখন আমরা হাদিসের বিভিন্ন অংশ (أجزاء الحديث) ও অন্যান্য সংকলনে এমন কোনো হাদিস পাই যা বিশুদ্ধ সনদবিশিষ্ট (صحيح الإسناد), অথচ আমরা তা সহিহাইন-এর কোনোটিতে পাই না এবং হাদিসের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ সংকলনগুলোর কোনোটিতে তার বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে কোনো বক্তব্য পাই না, তখন আমরা সাহস করি না...
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১৭)
عَلَى جَزْمِ الْحُكْمِ بِصِحَّتِهِ، فَقَدْ تَعَذَّرَ فِي هَذِهِ الْأَعْصَارِ الِاسْتِقْلَالُ بِإِدْرَاكِ الصَّحِيحِ بِمُجَرَّدِ اعْتِبَارِ الْأَسَانِيدِ؛ لِأَنَّهُ مَا مِنْ إِسْنَادٍ مِنْ ذَلِكَ إِلَّا وَنَجِدُ فِي رِجَالِهِ مَنِ اعْتَمَدَ فِي رِوَايَتِهِ عَلَى مَا فِي كِتَابِهِ، عَرِيًّا عَمَّا يُشْتَرَطُ فِي الصَّحِيحِ مِنَ الْحِفْظِ وَالضَّبْطِ وَالْإِتْقَانِ. فَآلَ الْأَمْرُ إِذًا - فِي مَعْرِفَةِ الصَّحِيحِ وَالْحَسَنِ - إِلَى الِاعْتِمَادِ عَلَى مَا نَصَّ عَلَيْهِ أَئِمَّةُ الْحَدِيثِ فِي تَصَانِيفِهِمُ الْمُعْتَمَدَةِ الْمَشْهُورَةِ، الَّتِي يُؤْمَنُ فِيهَا - لِشُهْرَتِهَا - مِنَ التَّغْيِيرِ وَالتَّحْرِيفِ، وَصَارَ مُعْظَمُ الْمَقْصُودِ بِمَا يُتَدَاوَلُ مِنَ الْأَسَانِيدِ خَارِجًا عَنْ ذَلِكَ إِبْقَاءَ سِلْسِلَةِ الْإِسْنَادِ الَّتِي خُصَّتْ بِهَا هَذِهِ الْأُمَّةُ، زَادَهَا اللَّهُ تَعَالَى شَرَفًا، آمِينَ.

الثَّالِثَةُ: أَوَّلُ مَنْ صَنَّفَ الصَّحِيحَ الْبُخَارِيُّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْجُعْفِيُّ مَوْلَاهُمْ. وَتَلَاهُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ
সহিহ (صحيহ) হওয়ার অকাট্য হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে; বর্তমান যুগে কেবল সনদসমূহ (أسانيد) পর্যালোচনার মাধ্যমে স্বতন্ত্রভাবে সহিহ (صحيহ) হাদিস নির্ণয় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। কারণ এমন কোনো সনদ (إسناد) নেই যার বর্ণনাকারীদের (رجال) মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি তার বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে নিজ কিতাবের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, অথচ সহিহ (صحيহ) হাদিসের জন্য শর্তকৃত মুখস্থশক্তি (حفظ), সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) ও পারদর্শিতা (إتقان) তার মাঝে অনুপস্থিত ছিল। এমতাবস্থায় সহিহ (صحيহ) ও হাসান (حسن) হাদিস চেনার বিষয়টি হাদিসের ইমামগণের প্রণীত সেই সকল নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ সংকলনসমূহের ওপর নির্ভর করার দিকেই পর্যবসিত হয়েছে, যা অতি প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণে পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে নিরাপদ। আর বর্তমানে প্রচলিত সনদসমূহের (أسانيد) মূল লক্ষ্য হলো—এই বিষয়ের বাইরে—কেবল সনদের (إسنাদ) সেই সিলসিলা বা ধারাটি রক্ষা করা যা বিশেষভাবে এই উম্মতকে দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাআলা এর মর্যাদা আরও বাড়িয়ে দিন, আমিন।

তৃতীয়: সর্বপ্রথম সহিহ গ্রন্থ সংকলন করেছেন বুখারি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-জু’ফি। তাঁর পরবর্তী হলেন আবুল হোসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১৮)
النَّيْسَابُورِيُّ الْقُشَيْرِيُّ مِنْ أَنْفُسِهِمْ. وَمُسْلِمٌ - مَعَ أَنَّهُ أَخَذَ عَنِ الْبُخَارِيِّ وَاسْتَفَادَ مِنْهُ - يُشَارِكُهُ فِي أَكْثَرِ شُيُوخِهِ.

وَكِتَابَاهُمَا أَصَحُّ الْكُتُبِ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ الْعَزِيزِ. وَأَمَّا مَا رُوِّينَا عَنِ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه مِنْ أَنَّهُ قَالَ: " مَا أَعْلَمُ فِي الْأَرْضِ كِتَابًا فِي الْعِلْمِ أَكْثَرَ صَوَابًا مِنْ كِتَابِ مَالِكٍ "، وَمِنْهُمْ مَنْ رَوَاهُ بِغَيْرِ هَذَا اللَّفْظِ، فَإِنَّمَا قَالَ ذَلِكَ قَبْلَ وُجُودِ كِتَابَيِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ.

ثُمَّ إِنَّ كِتَابَ الْبُخَارِيِّ أَصَحُّ الْكِتَابَيْنِ صَحِيحًا، وَأَكْثَرُهُمَا فَوَائِدَ.

وَأَمَّا مَا رُوِّينَاهُ عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْحَافِظِ النَّيْسَابُورِيِّ أُسْتَاذِ الْحَاكِمِ أَبِي
নিশাপুরী কুশাইরী তাঁদেরই বংশোদ্ভূত। আর ইমাম মুসলিম—যদিও তিনি ইমাম বুখারীর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন—তবুও তিনি তাঁর অধিকাংশ শিক্ষকদের (شيوخه) ক্ষেত্রে তাঁর সাথে অংশীদার।

আর তাঁদের কিতাবদ্বয় মহান আল্লাহর কিতাবের পর সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) কিতাব। আর ইমাম শাফেঈ (রা.) থেকে আমাদের নিকট যা বর্ণিত (رُوِّينا) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি পৃথিবীতে ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে ইমাম মালিকের কিতাব অপেক্ষা অধিক সঠিক আর কোনো কিতাব জানি না", এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এটি ভিন্ন শব্দে (لفظ) বর্ণনা (رواه) করেছেন; প্রকৃতপক্ষে তিনি এটি বুখারী ও মুসলিমের কিতাবদ্বয় সংকলিত হওয়ার পূর্বে বলেছিলেন।

অতঃপর বিশুদ্ধতার (صحيحاً) বিচারে বুখারীর কিতাবটি উভয় কিতাবের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) এবং সে দুটির মধ্যে অধিক উপকারী বিষয় বা ফায়দা সম্পন্ন।

আর আল-হাকিম আবুর উস্তাদ হাফেজ (الحافظ) আবু আলী আন-নিশাপুরী থেকে আমাদের নিকট যা বর্ণিত (رُوِّينَاهُ) হয়েছে...
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ১৯)
عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظِ مِنْ أَنَّهُ قَالَ: " مَا تَحْتَ أَدِيمِ السَّمَاءِ كِتَابٌ أَصَحُّ مِنْ كِتَابِ مُسْلِمِ بْنِ الْحَجَّاجِ "، فَهَذَا وَقَوْلُ مَنْ فَضَّلَ مِنْ شُيُوخِ الْمَغْرِبِ كِتَابَ مُسْلِمٍ عَلَى كِتَابِ الْبُخَارِيِّ، إِنْ كَانَ الْمُرَادُ بِهِ أَنَّ كِتَابَ مُسْلِمٍ يَتَرَجَّحُ بِأَنَّهُ لَمْ يُمَازِجْهُ غَيْرُ الصَّحِيحِ، فَإِنَّهُ لَيْسَ فِيهِ بَعْدَ خُطْبَتِهِ إِلَّا الْحَدِيثُ الصَّحِيحُ مَسْرُودًا، غَيْرَ مَمْزُوجٍ بِمِثْلِ مَا فِي كِتَابِ الْبُخَارِيِّ فِي تَرَاجِمِ أَبْوَابِهِ مِنَ الْأَشْيَاءِ الَّتِي لَمْ يُسْنِدْهَا عَلَى الْوَصْفِ الْمَشْرُوطِ فِي الصَّحِيحِ، فَهَذَا لَا بَأْسَ بِهِ. وَلَيْسَ يَلْزَمُ مِنْهُ أَنَّ كِتَابَ مُسْلِمٍ أَرْجَحُ فِيمَا يَرْجِعُ إِلَى نَفْسِ الصَّحِيحِ عَلَى كِتَابِ الْبُخَارِيِّ. وَإِنْ كَانَ الْمُرَادُ بِهِ أَنَّ كِتَابَ مُسْلِمٍ أَصَحُّ صَحِيحًا، فَهَذَا مَرْدُودٌ عَلَى مَنْ يَقُولُهُ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

الرَّابِعَةُ: لَمْ يَسْتَوْعِبَا الصَّحِيحَ فِي صَحِيحَيْهِمَا، وَلَا الْتَزَمَا ذَلِكَ.

فَقَدْ رُوِّينَا عَنِ الْبُخَارِيِّ أَنَّهُ قَالَ: " مَا أَدْخَلْتُ فِي كِتَابِي (الْجَامِعِ) إِلَّا مَا صَحَّ، وَتَرَكْتُ مِنَ الصِّحَاحِ لِحَالِ الطُّولِ ".
আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "আকাশের নিচে মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের কিতাবের চেয়ে অধিকতর সহিহ (أصح) কোনো কিতাব নেই।" এটি এবং মাগরিবের শায়খদের মধ্য থেকে যারা বুখারি-র কিতাবের ওপর মুসলিমের কিতাবকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাদের উক্তি—যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে মুসলিমের কিতাবটি এই কারণে প্রাধান্য পাওয়ার যোগ্য যে এতে সহিহ (الصحيح) ব্যতীত অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটেনি; কারণ এতে তার ভূমিকার পরে কেবল সহিহ (الصحيহ) হাদিসসমূহ ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে, যা বুখারি-র কিতাবের মতো নয় যেখানে তিনি অধ্যায়ের শিরোনামগুলোতে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা সহিহ (الصحيহ) হওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সনদযুক্ত (يسندها) হিসেবে বর্ণনা করেননি—তবে এই বক্তব্যটি সঠিক। তবে এর থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে, স্বয়ং সহিহ (الصحيح)-এর হাকিকতের বিচারে বুখারি-র কিতাবের চেয়ে মুসলিমের কিতাব অধিক অগ্রগণ্য। আর যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে মুসলিমের কিতাব বিশুদ্ধতার বিচারে অধিকতর সহিহ (أصح صحيحا), তবে যারা এটি বলেন তাদের সেই কথাটি প্রত্যাখ্যাত (مردود)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

চতুর্থ বিষয়: তাঁরা তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে সমস্ত সহিহ (الصحيح) হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং তাঁরা এমনটি করার বাধ্যবাধকতাও গ্রহণ করেননি।

আমাদের নিকট বুখারি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি আমার কিতাবে (আল-জামি) কেবল তাই অন্তর্ভুক্ত করেছি যা সহিহ (صح), আর দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক সহিহ (الصحيح) হাদিস বর্জন করেছি।"
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২০)
وَرُوِّينَا عَنْ مُسْلِمٍ أَنَّهُ قَالَ: " لَيْسَ كُلُّ شَيْءٍ عِنْدِي صَحِيحٌ وَضَعْتُهُ هَاهُنَا - يَعْنِي فِي كِتَابِهِ الصَّحِيحِ - إِنَّمَا وَضَعْتُ هَاهُنَا مَا أَجْمَعُوا عَلَيْهِ ".

قُلْتُ: أَرَادَ - وَاللَّهُ أَعْلَمُ - أَنَّهُ لَمْ يَضَعْ فِي كِتَابِهِ إِلَّا الْأَحَادِيثَ الَّتِي وَجَدَ عِنْدَهُ فِيهَا شَرَائِطَ الصَّحِيحِ الْمُجْمَعِ عَلَيْهِ، وَإِنْ لَمْ يَظْهَرِ اجْتِمَاعُهَا فِي بَعْضِهَا عِنْدَ بَعْضِهِمْ.

ثُمَّ إِنَّ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ بْنَ الْأَخْرَمِ الْحَافِظَ قَالَ: " قَلَّ مَا يَفُوتُ الْبُخَارِيَّ وَمُسْلِمًا مِمَّا يَثْبُتُ مِنَ الْحَدِيثِ ". يَعْنِي فِي كِتَابَيْهِمَا. وَلِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ: لَيْسَ ذَلِكَ بِالْقَلِيلِ، فَإِنَّ الْمُسْتَدْرَكَ عَلَى الصَّحِيحَيْنِ لِلْحَاكِمِ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ كِتَابٌ كَبِيرٌ، يَشْتَمِلُ مِمَّا فَاتَهُمَا عَلَى شَيْءٍ كَثِيرٍ، وَإِنْ يَكُنْ عَلَيْهِ فِي بَعْضِهِ مَقَالٌ فَإِنَّهُ يَصْفُو لَهُ مِنْهُ صَحِيحٌ كَثِيرٌ.

وَقَدْ قَالَ الْبُخَارِيُّ: " أَحْفَظُ مِائَةَ أَلْفِ حَدِيثٍ صَحِيحٍ، وَمِائَتَيْ أَلْفِ حَدِيثٍ غَيْرِ صَحِيحٍ "، وَجُمْلَةُ مَا فِي كِتَابِهِ الصَّحِيحِ سَبْعَةُ آلَافٍ وَمِائَتَانِ وَخَمْسَةٌ وَسَبْعُونَ حَدِيثًا بِالْأَحَادِيثِ الْمُتَكَرِّرَةِ. وَقَدْ قِيلَ: إِنَّهَا بِإِسْقَاطِ الْمُكَرَّرَةِ أَرْبَعَةُ آلَافِ حَدِيثٍ، إِلَّا أَنَّ هَذِهِ الْعِبَارَةَ قَدْ يَنْدَرِجُ تَحْتَهَا عِنْدَهُمْ آثَارُ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ، وَرُبَّمَا عُدَّ الْحَدِيثُ الْوَاحِدُ
আমাদের নিকট ইমাম মুসলিম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমার নিকট সহিহ (صحيح) এমন সবকিছু আমি এখানে—অর্থাৎ তাঁর গ্রন্থ সহিহ মুসলিমে—সংকলন করিনি; বরং আমি এখানে কেবল তা-ই সংকলন করেছি যার ওপর তারা (উলামায়ে কেরাম) ঐকমত্য পোষণ করেছেন।"

আমি বলছি: তিনি উদ্দেশ্য করেছেন—আল্লাহই ভালো জানেন—যে তিনি তাঁর গ্রন্থে কেবল সেই হাদিসগুলোই সংকলন করেছেন যেগুলোর ক্ষেত্রে তিনি সর্বসম্মত সহিহ (صحيহ) হওয়ার শর্তাবলি পেয়েছেন, যদিও সেগুলোর মধ্য থেকে কোনো কোনোটির ব্যাপারে কারো কারো নিকট ঐকমত্যের বিষয়টি স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়নি।

এরপর হাফেজ আবু আবদুল্লাহ বিন আল-আখরাম বলেছেন: "সাব্যস্ত (يثبت) হয় এমন হাদিসের মধ্য থেকে ইমাম বুখারি ও মুসলিমের অগোচরে খুব কমই থেকেছে।" অর্থাৎ তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ে। তবে কোনো বক্তা বলতে পারেন যে: অগোচরে থাকা হাদিসের পরিমাণ কম নয়; কারণ হাকিম আবু আবদুল্লাহ রচিত মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন একটি বিশাল গ্রন্থ, যা তাঁদের অগোচরে থাকা অনেক হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে। যদিও তার কোনো কোনো বর্ণনার ওপর আপত্তি রয়েছে, তবুও তাঁর জন্য সেখান থেকে অনেক সহিহ (صحيح) হাদিস সংগৃহীত হয়েছে।

ইমাম বুখারি বলেছেন: "আমি এক লক্ষ সহিহ (صحيح) হাদিস এবং দুই লক্ষ অশুদ্ধ বা গায়রে সহিহ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ জানি।" তাঁর গ্রন্থ সহিহ বুখারিতে পুনরাবৃত্ত হাদিসসহ মোট হাদিস সংখ্যা সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি। বলা হয়ে থাকে যে: পুনরাবৃত্ত অংশ বাদ দিলে এর সংখ্যা চার হাজার হাদিস। তবে এই বর্ণনার অধীনে তাঁদের নিকট সাহাবি ও তাবেয়িদের আসার (آثار) বা বাণীও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং সম্ভবত একটি হাদিসকেই...
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২১)
الْمَرْوِيُّ بِإِسْنَادَيْنِ حَدِيثَيْنِ.

ثُمَّ إِنَّ الزِّيَادَةَ فِي الصَّحِيحِ عَلَى مَا فِي الْكِتَابَيْنِ يَتَلَقَّاهَا طَالِبُهَا مِمَّا اشْتَمَلَ عَلَيْهِ أَحَدُ الْمُصَنَّفَاتِ الْمُعْتَمَدَةِ الْمَشْهُورَةِ لِأَئِمَّةِ الْحَدِيثِ، كَأَبِي دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيِّ، وَأَبِي عِيسَى التِّرْمِذِيِّ، وَأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّسَائِيِّ، وَأَبِي بَكْرِ بْنِ خُزَيْمَةَ، وَأَبِي الْحَسَنِ الدَّارَقُطْنِيِّ، وَغَيْرِهِمْ. مَنْصُوصًا عَلَى صِحَّتِهِ فِيهَا.

وَلَا يَكْفِي فِي ذَلِكَ مُجَرَّدُ كَوْنِهِ مَوْجُودًا فِي كِتَابِ أَبِي دَاوُدَ، وَكِتَابِ التِّرْمِذِيِّ، وَكِتَابِ النَّسَائِيِّ، وَسَائِرِ مَنْ جَمَعَ فِي كِتَابِهِ بَيْنَ الصَّحِيحِ وَغَيْرِهِ.

وَيَكْفِي مُجَرَّدُ كَوْنِهِ مَوْجُودًا فِي كُتُبِ مَنِ اشْتَرَطَ مِنْهُمُ الصَّحِيحَ فِيمَا جَمَعَهُ، كَكِتَابِ ابْنِ خُزَيْمَةَ، وَكَذَلِكَ مَا يُوجَدُ فِي الْكُتُبِ الْمُخَرَّجَةِ عَلَى كِتَابِ الْبُخَارِيِّ وَكِتَابِ مُسْلِمٍ، كَكِتَابِ أَبِي عَوَانَةَ الْإِسْفَرَائِينِيِّ، وَكِتَابِ أَبِي بَكْرٍ الْإِسْمَاعِيلِيِّ، وَكِتَابِ أَبِي بَكْرٍ الْبُرْقَانِيِّ، وَغَيْرِهَا، مِنْ تَتِمَّةٍ لِمَحْذُوفٍ، أَوْ زِيَادَةِ شَرْحٍ فِي كَثِيرٍ مِنْ أَحَادِيثِ الصَّحِيحَيْنِ. وَكَثِيرٌ مِنْ هَذَا مَوْجُودٌ فِي (الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّحِيحَيْنِ) لِأَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْحُمَيْدِيِّ.

وَاعْتَنَى الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ بِالزِّيَادَةِ فِي عَدَدِ الْحَدِيثِ
দুই সনদ (إسناد) দ্বারা বর্ণিত (المروي) দুই হাদিস।

অতঃপর দুই কিতাবে (বুখারি ও মুসলিম) যা রয়েছে তার অতিরিক্ত সহিহ (صحيح) হাদিসগুলো সত্যান্বেষী ব্যক্তি হাদিসের ইমামগণের নির্ভরযোগ্য (المعتمدة) ও প্রসিদ্ধ সংকলনসমূহ (المصنفات) থেকে গ্রহণ করবেন; যেমন: আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আবু ঈসা আত-তিরমিজি, আবু আবদির রহমান আন-নাসায়ি, আবু বকর ইবনে খুজাইমা, আবু হাসান আদ-দারাকুতনি এবং অন্যান্যরা। শর্ত হলো সেই কিতাবগুলোতে উক্ত হাদিসের সহিহ (صحة) হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে।

আর এক্ষেত্রে কেবল আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসায়ি-এর কিতাবে এবং যারা তাদের কিতাবে সহিহ (صحيح) ও তা ছাড়া অন্যান্য হাদিস একত্রে সংকলন করেছেন, তাদের কিতাবে কেবল হাদিসটি বিদ্যমান থাকাই যথেষ্ট নয়।

তবে যারা তাদের সংকলনে কেবল সহিহ (صحيح) হাদিস বর্ণনা করার শর্তারোপ করেছেন, তাদের কিতাবে হাদিসটি বিদ্যমান থাকাই যথেষ্ট; যেমন ইবনে খুজাইমার কিতাব। অনুরূপভাবে বুখারি ও মুসলিমের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে রচিত মুস্তাখরাজ (المخرجة) গ্রন্থসমূহে যা পাওয়া যায়, যেমন আবু আওয়ানা আল-ইসফারায়িনি, আবু বকর আল-ইসমাঈলি এবং আবু বকর আল-বুরকানির কিতাব ও অন্যান্যগুলো—যা অনেক হাদিসের বাদ পড়া অংশের পরিপূরক অথবা সহিহাইন-এর অনেক হাদিসের অতিরিক্ত ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে। এর অনেক কিছুই আবু আবদিল্লাহ আল-হুমাইদির 'আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন'-এ বিদ্যমান রয়েছে।

হাফেজ আবু আবদিল্লাহ আল-হাকিম হাদিসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২২)
الصَّحِيحِ عَلَى مَا فِي الصَّحِيحَيْنِ، وَجَمَعَ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ سَمَّاهُ (الْمُسْتَدْرَكَ) أَوْدَعَهُ مَا لَيْسَ فِي وَاحِدٍ مِنَ الصَّحِيحَيْنِ مِمَّا رَآهُ عَلَى شَرْطِ الشَّيْخَيْنِ، قَدْ أَخْرَجَا عَنْ رُوَاتِهِ فِي كِتَابَيْهِمَا، أَوْ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِيِّ وَحْدَهُ، أَوْ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ وَحْدَهُ، وَمَا أَدَّى اجْتِهَادُهُ إِلَى تَصْحِيحِهِ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ عَلَى شَرْطٍ وَاحِدٍ مِنْهُمَا.

وَهُوَ وَاسِعُ الْخَطْوِ فِي شَرْطِ الصَّحِيحِ، مُتَسَاهِلٌ فِي الْقَضَاءِ بِهِ. فَالْأَوْلَى أَنْ نَتَوَسَّطَ فِي أَمْرِهِ فَنَقُولَ: مَا حَكَمَ بِصِحَّتِهِ، وَلَمْ نَجِدْ ذَلِكَ فِيهِ لِغَيْرِهِ مِنَ الْأَئِمَّةِ، إِنْ لَمْ يَكُنْ مِنْ قَبِيلِ الصَّحِيحِ فَهُوَ مِنْ قَبِيلِ الْحَسَنِ، يُحْتَجُّ بِهِ وَيُعْمَلُ بِهِ، إِلَّا أَنْ تَظْهَرَ فِيهِ عِلَّةٌ تُوجِبُ ضَعْفَهُ.

وَيُقَارِبُهُ فِي حُكْمِهِ صَحِيحُ أَبِي حَاتِمِ بْنِ حِبَّانَ الْبُسْتِيِّ رحمهم الله أَجْمَعِينَ. وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

الْخَامِسَةُ: الْكُتُبُ الْمُخَرَّجَةُ عَلَى كِتَابِ الْبُخَارِيِّ أَوْ كِتَابِ مُسْلِمٍ رضي الله عنهما لَمْ يَلْتَزِمْ مُصَنِّفُوهَا فِيهَا مُوَافَقَتَهُمَا فِي أَلْفَاظِ الْأَحَادِيثِ
সহিহাইন-এর আদলে তিনি সহিহ (صحيح) হাদিসসমূহ নিয়ে একটি গ্রন্থ সংকলন করেন এবং তার নাম দেন আল-মুসতাদরাক। এতে তিনি এমন সব হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা সহিহাইন-এর কোনোটিতেই নেই, অথচ তাঁর দৃষ্টিতে সেগুলো শাইখাইন-এর শর্ত (شرط) অনুযায়ী সাব্যস্ত; অর্থাৎ তাঁরা উভয়েই তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ে উক্ত হাদিসের বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। অথবা হাদিসটি শুধুমাত্র বুখারির শর্ত (شرط) অনুযায়ী কিংবা শুধুমাত্র মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সংকলিত। আবার এমন হাদিসও তিনি এতে এনেছেন যেগুলোর বিশুদ্ধায়ন (تصحيح)-এর ক্ষেত্রে তাঁর ইজতিহাদ পরিচালিত হয়েছে, যদিও সেগুলো তাঁদের কারো শর্ত (شرط) অনুযায়ী হয়নি।

তিনি সহিহ (صحيح)-এর শর্ত (شرط) পালনের ক্ষেত্রে বেশ শিথিল এবং এর মাধ্যমে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনকারী (متساهل)। তাই তাঁর এ বিষয়ের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়; আমরা বলব: তিনি যে হাদিসকে সহিহ (صحيح) বলে হুকুম দিয়েছেন এবং অন্য কোনো ইমামের নিকট থেকে সেই হাদিস সম্পর্কে এমন কোনো হুকুম পাওয়া যায়নি, তা যদি সহিহ (صحيح) পর্যায়ের না-ও হয়, তবে তা হাসান (حسن) পর্যায়ের হবে। এমন হাদিস দলিলযোগ্য (يحتج به) এবং এর ওপর আমলযোগ্য, যতক্ষণ না তাতে এমন কোনো গূঢ় ত্রুটি (علة) প্রকাশ পায় যা তার দুর্বলতা (ضعف)-কে আবশ্যক করে।

হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি-এর সহিহ ইবনে হিব্বান তাঁর কাছাকাছি পর্যায়ের। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

পঞ্চম: সহিহ বুখারি বা সহিহ মুসলিমের আদলে সংকলিত মুসতাখরাজ (مستخرج) গ্রন্থসমূহ। এই গ্রন্থগুলোর সংকলকগণ হাদিসের শব্দমালার ক্ষেত্রে তাঁদের সাথে হুবহু মিল রাখার বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করেননি।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২৩)
بِعَيْنِهَا مِنْ غَيْرِ زِيَادَةٍ وَنُقْصَانٍ، لِكَوْنِهِمْ رَوَوْا تِلْكَ الْأَحَادِيثَ مِنْ غَيْرِ جِهَةِ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ، طَلَبًا لِعُلُوِّ الْإِسْنَادِ، فَحَصَلَ فِيهَا بَعْضُ التَّفَاوُتِ فِي الْأَلْفَاظِ.

وَهَكَذَا مَا أَخْرَجَهُ الْمُؤَلِّفُونَ فِي تَصَانِيفِهِمُ الْمُسْتَقِلَّةِ كَالسُّنَنِ الْكَبِيرِ لِلْبَيْهَقِيِّ، وَشَرْحِ السُّنَّةِ لِأَبِي مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيِّ، وَغَيْرِهِمَا مِمَّا قَالُوا فِيهِ: " أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ أَوْ مُسْلِمٌ "، فَلَا يُسْتَفَادُ بِذَلِكَ أَكْثَرُ مِنْ أَنَّ الْبُخَارِيَّ أَوْ مُسْلِمًا أَخْرَجَ أَصْلَ ذَلِكَ الْحَدِيثِ مَعَ احْتِمَالِ أَنْ يَكُونَ بَيْنَهُمَا تَفَاوُتٌ فِي اللَّفْظِ، وَرُبَّمَا كَانَ تَفَاوُتًا فِي بَعْضِ الْمَعْنَى، فَقَدْ وَجَدْتُ فِي ذَلِكَ مَا فِيهِ بَعْضُ التَّفَاوُتِ مِنْ حَيْثُ الْمَعْنَى.

وَإِذَا كَانَ الْأَمْرُ فِي ذَلِكَ عَلَى هَذَا فَلَيْسَ لَكَ أَنْ تَنْقُلَ حَدِيثًا مِنْهَا وَتَقُولَ: هُوَ عَلَى هَذَا الْوَجْهِ فِي كِتَابِ الْبُخَارِيِّ أَوْ كِتَابِ مُسْلِمٍ، إِلَّا أَنْ تُقَابِلَ لَفْظَهُ، أَوْ يَكُونَ الَّذِي خَرَّجَهُ قَدْ قَالَ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ بِهَذَا اللَّفْظِ.

بِخِلَافِ الْكُتُبِ الْمُخْتَصَرَةِ مِنَ الصَّحِيحَيْنِ، فَإِنَّ مُصَنِّفِيهَا نَقَلُوا فِيهَا أَلْفَاظَ الصَّحِيحَيْنِ أَوْ أَحَدِهِمَا.

غَيْرَ أَنَّ " الْجَمْعَ بَيْنَ الصَّحِيحَيْنِ " لِلْحُمَيْدِيِّ الْأَنْدَلُسِيِّ مِنْهَا يَشْتَمِلُ عَلَى زِيَادَةِ تَتِمَّاتٍ لِبَعْضِ الْأَحَادِيثِ كَمَا قَدَّمْنَا ذِكْرَهُ، فَرُبَّمَا نَقَلَ مَنْ
হুবহু কোনো সংযোজন ও বিয়োজন ব্যতিরেকে; যেহেতু তারা সেই হাদিসগুলো বুখারি ও মুসলিমের সূত্র ব্যতিরেকে অন্য সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন সনদের উচ্চমান (علو الإسناد) লাভের প্রত্যাশায়, ফলে তাতে শব্দগত কিছু তারতম্য সৃষ্টি হয়েছে।

একইভাবে মুসান্নিফগণ তাদের স্বতন্ত্র গ্রন্থাবলীতে যা সংকলন করেছেন—যেমন বায়হাকির সুনানুল কুবরা ও আবু মুহাম্মদ আল-বাগাভির শারহুস সুন্নাহ এবং অন্যান্য গ্রন্থ যাতে তারা বলেছেন: "এটি বুখারি বা মুসলিম বর্ণনা করেছেন"—তা থেকে কেবল এতটুকুই বুঝা যায় যে, বুখারি বা মুসলিম সেই হাদিসটির মূল (أصل) বর্ণনা করেছেন; তবে শব্দগত পার্থক্যের সম্ভাবনা থেকেই যায়, এমনকি কখনও কখনও অর্থগত পার্থক্যও হতে পারে। আমি এ জাতীয় বর্ণনায় অর্থগত কিছু তারতম্যও পেয়েছি।

বিষয়টি যখন এইরূপ, তখন আপনার জন্য সেই সকল উৎস থেকে কোনো হাদিস উদ্ধৃত করে এটি বলা সংগত নয় যে: 'এটি বুখারি বা মুসলিমের কিতাবে এই রূপেই রয়েছে', যতক্ষণ না আপনি এর শব্দাবলি মিলিয়ে দেখেন অথবা সংকলনকারী (خرج) স্বয়ং এটি উল্লেখ করেন যে, বুখারি এই শব্দেই এটি বর্ণনা করেছেন।

সহিহাইন থেকে সংগৃহীত সংক্ষিপ্ত (مختصر) কিতাবগুলোর বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ এগুলোর রচয়িতারা তাতে সহিহাইন বা উভয়ের কোনো একটির মূল শব্দাবলিই উদ্ধৃত করেছেন।

তবে হুমায়দি আল-আন্দালুসির 'আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন' গ্রন্থটি এমন যে, এতে কিছু হাদিসের অতিরিক্ত পরিশিষ্ট রয়েছে যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। ফলে সম্ভবত যে ব্যক্তি উদ্ধৃত করবে...
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২৪)
لَا يُمَيِّزُ بَعْضَ مَا يَجِدُهُ فِيهِ عَنِ الصَّحِيحَيْنِ أَوْ أَحَدِهِمَا وَهُوَ مُخْطِئٌ، لِكَوْنِهِ مِنْ تِلْكَ الزِّيَادَاتِ الَّتِي لَا وُجُودَ لَهَا فِي وَاحِدٍ مِنَ الصَّحِيحَيْنِ.

ثُمَّ إِنَّ التَّخَارِيجَ الْمَذْكُورَةَ عَلَى الْكِتَابَيْنِ يُسْتَفَادُ مِنْهَا فَائِدَتَانِ: إِحْدَاهُمَا: عُلُوُّ الْإِسْنَادِ. وَالثَّانِيَةُ: الزِّيَادَةُ فِي قَدْرِ الصَّحِيحِ، لِمَا يَقَعُ فِيهَا مِنْ أَلْفَاظٍ زَائِدَةٍ وَتَتِمَّاتٍ فِي بَعْضِ الْأَحَادِيثِ، تَثْبُتُ صِحَّتُهَا بِهَذِهِ التَّخَارِيجِ؛ لِأَنَّهَا وَارِدَةٌ بِالْأَسَانِيدِ الثَّابِتَةِ فِي الصَّحِيحَيْنِ أَوْ أَحَدِهِمَا، وَخَارِجَةٌ مِنْ ذَلِكَ الْمَخْرَجِ الثَّابِتِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

السَّادِسَةُ: مَا أَسْنَدَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ - رَحِمَهُمَا اللَّهُ - فِي كِتَابَيْهِمَا بِالْإِسْنَادِ الْمُتَّصِلِ فَذَلِكَ الَّذِي حَكَمَا بِصِحَّتِهِ بِلَا إِشْكَالٍ. وَأَمَّا [الْمُعَلَّقُ وَهُوَ] الَّذِي حُذِفَ مِنْ مُبْتَدَأِ إِسْنَادِهِ وَاحِدٌ أَوْ أَكْثَرُ، وَأَغْلَبُ مَا وَقَعَ ذَلِكَ فِي كِتَابِ الْبُخَارِيِّ، وَهُوَ فِي كِتَابِ مُسْلِمٍ قَلِيلٌ جِدًّا، فَفِي بَعْضِهِ نَظَرٌ.

وَيَنْبَغِي أَنْ نَقُولَ: مَا كَانَ مِنْ ذَلِكَ وَنَحْوِهِ بِلَفْظٍ فِيهِ جَزْمٌ، وَحُكْمٌ بِهِ عَلَى مَنْ عَلَّقَهُ عَنْهُ، فَقَدْ حُكِمَ بِصِحَّتِهِ عَنْهُ، مِثَالُهُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ
তিনি সেখানে যা পান তার কিছু অংশকে সহীহাইন অথবা তাদের কোনো একটি থেকে পৃথক করতে পারেন না, অথচ তিনি ভুল করছেন; কারণ এগুলো এমন সব অতিরিক্ত অংশ যার অস্তিত্ব সহীহাইন-এর কোনোটিতেই নেই।

অতঃপর ওই দুই কিতাবের উপর উল্লিখিত তাখরিজ (تخاريج) থেকে দুটি ফায়দা হাসিল হয়: প্রথমটি হলো ইসনাদের উচ্চতা (علو الإسناد)। দ্বিতীয়টি হলো সহীহ (صحيح) হাদিসের পরিমাণে বৃদ্ধি, কারণ এতে কিছু হাদিসের এমন সব অতিরিক্ত শব্দ ও পরিশিষ্ট পাওয়া যায় যার বিশুদ্ধতা (صحة) এই তাখরিজগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়; কেননা সেগুলো সহীহাইন বা তাদের কোনো একটির সুসাব্যস্ত ইসনাদসমূহের (أسانيد) মাধ্যমে বর্ণিত এবং সেই সুসাব্যস্ত উৎস থেকেই নির্গত, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

ষষ্ঠ: ইমাম বুখারি ও মুসলিম — আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন — তাদের কিতাবদ্বয়ে অবিচ্ছিন্ন (متصل) ইসনাদের মাধ্যমে যা বর্ণনা করেছেন, সেটির বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে তারা কোনো সংশয় ছাড়াই রায় দিয়েছেন। আর যা [ঝুলন্ত (معلق) এবং তা হলো] যার ইসনাদের শুরু থেকে একজন বা একাধিক বর্ণনাকারী বাদ পড়েছে — এবং এমনটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সহীহ বুখারি-তে ঘটেছে এবং সহীহ মুসলিম-এ এটি খুবই সামান্য — তার কিছু অংশের ব্যাপারে পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে।

আমাদের বলা উচিত: এই জাতীয় এবং এই ধরনের বর্ণনার মধ্যে যা দৃঢ়তা জ্ঞাপক শব্দের মাধ্যমে এসেছে এবং যার থেকে মুয়াল্লাক (علق) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে তার প্রতি সম্বন্ধ করার ফয়সালা দেওয়া হয়েছে, তবে তার পক্ষ থেকে এর বিশুদ্ধতার (صحة) রায় নিশ্চিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: রাসূলুল্লাহ বলেছেন...
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২৫)
- صلى الله عليه وسلم: كَذَا وَكَذَا، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: كَذَا، قَالَ مُجَاهِدٌ: كَذَا، قَالَ عَفَّانُ: كَذَا. قَالَ الْقَعْنَبِيُّ: كَذَا، رَوَى أَبُو هُرَيْرَةَ كَذَا وَكَذَا، وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ مِنَ الْعِبَارَاتِ.

فَكُلُّ ذَلِكَ حُكْمٌ مِنْهُ عَلَى مَنْ ذَكَرَهُ عَنْهُ بِأَنَّهُ قَدْ قَالَ ذَلِكَ وَرَوَاهُ، فَلَنْ يَسْتَجِيزَ إِطْلَاقَ ذَلِكَ إِلَّا إِذَا صَحَّ عِنْدَهُ ذَلِكَ عَنْهُ، ثُمَّ إِذَا كَانَ الَّذِي عَلَّقَ الْحَدِيثَ عَنْهُ دُونَ الصَّحَابَةِ، فَالْحُكْمُ بِصِحَّتِهِ يَتَوَقَّفُ عَلَى اتِّصَالِ الْإِسْنَادِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّحَابِيِّ.

وَأَمَّا مَا لَمْ يَكُنْ فِي لَفْظِهِ جَزْمٌ وَحُكْمٌ، مِثْلَ: رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَذَا وَكَذَا، أَوْ رُوِيَ عَنْ فُلَانٍ كَذَا، أَوْ فِي الْبَابِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَذَا وَكَذَا، فَهَذَا وَمَا أَشْبَهَهُ مِنَ الْأَلْفَاظِ لَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنْهُ حُكْمٌ مِنْهُ بِصِحَّةِ ذَلِكَ عَمَّنْ ذَكَرَهُ عَنْهُ؛ لِأَنَّ مِثْلَ هَذِهِ الْعِبَارَاتِ تُسْتَعْمَلُ فِي الْحَدِيثِ الضَّعِيفِ أَيْضًا. وَمَعَ ذَلِكَ فَإِيرَادُهُ لَهُ فِي أَثْنَاءِ الصَّحِيحِ مُشْعِرٌ بِصِحَّةِ أَصْلِهِ إِشْعَارًا يُؤْنَسُ بِهِ وَيُرْكَنُ إِلَيْهِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
...সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এমন কথা বলেছেন, ইবনে আব্বাস বলেছেন এমন, মুজাহিদ বলেছেন এমন, আফফান বলেছেন এমন, আল-কানাবি বলেছেন এমন, আবু হুরায়রা এমন এমন বর্ণনা করেছেন, এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দগুচ্ছ।

এসবই তার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত যে, তিনি সত্যিই তা বলেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। কেননা তিনি এমনভাবে উল্লেখ করা বৈধ মনে করবেন না যতক্ষণ না তার নিকট ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে সেটি বিশুদ্ধ (صحيح) বলে প্রমাণিত হয়। অতঃপর, যার থেকে হাদিসটি বিচ্ছিন্নভাবে উদ্ধৃত (تعليق) করা হয়েছে তিনি যদি সাহাবির পরবর্তী স্তরের কেউ হন, তবে এর বিশুদ্ধতার (صحة) হুকুম তার এবং সাহাবির মধ্যবর্তী সনদের অবিচ্ছিন্নতার (اتصال الإسناد) ওপর নির্ভর করবে।

আর যেসব শব্দে এমন দৃঢ়তা (جزم) ও সিদ্ধান্ত নেই, যেমন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে এমন এমন', অথবা 'অমুক থেকে বর্ণিত হয়েছে এমন', অথবা 'এই অধ্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন এমন বর্ণনা আছে'—এই জাতীয় শব্দগুলোর কোনোটিই তার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উদ্ধৃতিতে হাদিসটির বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নয়। কারণ এই ধরনের অভিব্যক্তিগুলো দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। তা সত্ত্বেও, সহিহ গ্রন্থের অভ্যন্তরে এটি উল্লেখ করা এর মূল পাঠের বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে এমন একটি ইঙ্গিত প্রদান করে যা আশ্বস্ত হওয়ার মতো এবং যার ওপর নির্ভর করা যায়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২৬)
ثُمَّ إِنَّ مَا يَتَقَاعَدُ مِنْ ذَلِكَ عَنْ شَرْطِ الصَّحِيحِ قَلِيلٌ، يُوجَدُ فِي كِتَابِ الْبُخَارِيِّ فِي مَوَاضِعَ مِنْ تَرَاجِمِ الْأَبْوَابِ دُونَ مَقَاصِدِ الْكِتَابِ وَمَوْضُوعِهِ الَّذِي يُشْعِرُ بِهِ اسْمُهُ الَّذِي سَمَّاهُ بِهِ، وَهُوَ (الْجَامِعُ الْمُسْنَدُ الصَّحِيحُ الْمُخْتَصَرُ مِنْ أُمُورِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسُنَنِهِ وَأَيَّامِهِ).

وَإِلَى الْخُصُوصِ الَّذِي بَيَّنَّاهُ يَرْجِعُ مُطْلَقُ قَوْلِهِ: " مَا أَدْخَلْتُ فِي كِتَابِ الْجَامِعِ إِلَّا مَا صَحَّ ".

وَكَذَلِكَ مُطْلَقُ قَوْلِ الْحَافِظِ أَبِي نَصْرٍ الْوَايْلِيِّ السِّجْزِيِّ: " أَجْمَعَ أَهْلُ الْعِلْمِ - الْفُقَهَاءُ وَغَيْرُهُمْ -[عَلَى] أَنَّ رَجُلًا لَوْ حَلَفَ بِالطَّلَاقِ أَنَّ جَمِيعَ مَا فِي كِتَابِ الْبُخَارِيِّ مِمَّا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَدْ صَحَّ عَنْهُ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَهُ لَا شَكَّ فِيهِ، أَنَّهُ لَا يَحْنَثُ وَالْمَرْأَةُ بِحَالِهَا فِي حِبَالَتِهِ ".

وَكَذَلِكَ مَا ذَكَرَهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُمَيْدِيُّ فِي كِتَابِهِ " الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّحِيحَيْنِ " مِنْ قَوْلِهِ: " لَمْ نَجِدْ مِنَ الْأَئِمَّةِ الْمَاضِينَ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ مَنْ أَفْصَحَ لَنَا فِي جَمِيعِ مَا جَمَعَهُ بِالصِّحَّةِ إِلَّا هَذَيْنِ الْإِمَامَيْنِ ".

فَإِنَّمَا الْمُرَادُ بِكُلِّ ذَلِكَ: مَقَاصِدُ الْكِتَابِ وَمَوْضُوعُهُ، وَمُتُونُ الْأَبْوَابِ دُونَ التَّرَاجِمِ وَنَحْوِهَا؛ لِأَنَّ فِي بَعْضِهَا مَا لَيْسَ مِنْ ذَلِكَ قَطْعًا.

مِثْلَ قَوْلِ الْبُخَارِيِّ: " بَابُ مَا يُذْكَرُ فِي الْفَخِذِ، وَيُرْوَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ
অতঃপর, যা সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্ত থেকে কিছুটা পিছিয়ে আছে তা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। এগুলো বুখারি শরীফে অধ্যায়ের শিরোনামের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায়, কিতাবের মূল লক্ষ্য ও বিষয়বস্তুর মধ্যে নয়; যা তাঁর দেওয়া কিতাবটির নাম থেকেই অনুধাবন করা যায়, আর তা হলো: ‘আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি’।

আর আমরা যে বিশেষত্বের কথা বর্ণনা করেছি, তাঁর সাধারণ উক্তি— "আমি আল-জামি কিতাবে কেবল সহিহ (صح) হাদিসই অন্তর্ভুক্ত করেছি" —সেটি ওই বিশেষ প্রসঙ্গের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।

অনুরূপভাবে হাফিজ আবু নাসর আল-ওয়াইলি আস-সিজজির সাধারণ উক্তিটিও: "বিদগ্ধ উলামায়ে কিরাম—ফকিহ ও অন্যান্যগণ—এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ (ইজমা) করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তালাকের শপথ করে বলে যে, বুখারি শরীফে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সমস্ত হাদিসই তাঁর থেকে সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিশ্চিতভাবে বলেছেন, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না এবং তার স্ত্রী যথারীতি তার বিবাহ বন্ধনেই থেকে যাবে।"

তদ্রূপ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি তাঁর ‘আল-জাম বাইনাস সহিহাইন’ কিতাবে যা উল্লেখ করেছেন: "আমরা পূর্ববর্তী ইমামগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন) মধ্যে এমন কাউকে পাইনি যিনি তাঁর সংকলিত সকল বর্ণনার সহিহ (صحة) হওয়ার বিষয়টি আমাদের নিকট স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এই দুইজন ইমাম ব্যতীত।"

সুতরাং এই সবকিছুর দ্বারা কেবল কিতাবটির মূল লক্ষ্য ও বিষয়বস্তু এবং অধ্যায়সমূহের মূল হাদিসসমূহ উদ্দেশ্য, শিরোনাম (তরাজুম) বা এই জাতীয় অন্য কিছু নয়; কারণ এগুলোর কোনো কোনোটিতে এমন কিছু রয়েছে যা নিশ্চিতভাবে সেই (সহিহ হওয়ার) পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়।

যেমন ইমাম বুখারির উক্তি: "অধ্যায়: উরু সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে; এবং ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হয়েছে..."
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَجَرْهَدٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ جَحْشٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " الْفَخِذُ عَوْرَةٌ ".

وَقَوْلُهُ فِي أَوَّلِ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْغُسْلِ: " وَقَالَ بَهْزُ [بْنُ حَكِيمٍ]، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: " اللَّهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَى مِنْهُ "، فَهَذَا قَطْعًا لَيْسَ مِنْ شَرْطِهِ، وَلِذَلِكَ لَمْ يُورِدْهُ الْحُمَيْدِيُّ فِي جَمْعِهِ بَيْنَ الصَّحِيحَيْنِ، فَاعْلَمْ ذَلِكَ فَإِنَّهُ مُهِمٌّ خَافٍ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

السَّابِعَةُ: وَإِذَا انْتَهَى الْأَمْرُ فِي مَعْرِفَةِ الصَّحِيحِ إِلَى مَا خَرَّجَهُ الْأَئِمَّةُ فِي تَصَانِيفِهِمُ الْكَافِلَةِ بِبَيَانِ ذَلِكَ - كَمَا سَبَقَ ذِكْرُهُ - فَالْحَاجَةُ مَاسَّةٌ إِلَى التَّنْبِيهِ عَلَى أَقْسَامِهِ بِاعْتِبَارِ ذَلِكَ.

فَأَوَّلُهُمَا: صَحِيحٌ أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ جَمِيعًا.

الثَّانِي: صَحِيحٌ انْفَرَدَ بِهِ الْبُخَارِيُّ، أَيْ عَنْ مُسْلِمٍ.

الثَّالِثُ: صَحِيحٌ انْفَرَدَ بِهِ مُسْلِمٌ، أَيْ عَنِ الْبُخَارِيِّ.

الرَّابِعُ: صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِهِمَا لَمْ يُخْرِجَاهُ.

الْخَامِسُ: صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ الْبُخَارِيِّ لَمْ يُخْرِجْهُ.

السَّادِسُ: صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ لَمْ يُخْرِجْهُ.

السَّابِعُ:
এবং জারহাদ ও মুহাম্মাদ ইবনে জাহশ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "উরু সতর (عورة) হিসেবে গণ্য।"

এবং গোসলের অধ্যায়সমূহের প্রথম অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: "বাহজ [ইবনে হাকিম] তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'আল্লাহই অধিক হকদার যে তাঁকে লজ্জা করা হবে'।" সুতরাং এটি নিশ্চিতভাবেই তাঁর শর্তের (شرط) অন্তর্ভুক্ত নয়; আর একারণেই আল-হুমাইদি তাঁর সংকলিত বুখারি ও মুসলিমের সম্মিলিত হাদিস গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেননি। অতএব এটি জেনে রাখুন, কারণ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম বিষয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: সহিহ (صحيح) হাদিস চেনার বিষয়টি যখন ইমামগণের সংকলিত গ্রন্থাবলির ওপর নির্ভরশীল হয়—যা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে—তখন সেই মানদণ্ডের ভিত্তিতে এর প্রকারভেদসমূহ সম্পর্কে আলোকপাত করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রথম প্রকার: সেই সহিহ (صحيح) যা বুখারি ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় প্রকার: সেই সহিহ (صحيح) যা এককভাবে (انفرد) বুখারি বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ যা মুসলিম বর্ণনা করেননি।

তৃতীয় প্রকার: সেই সহিহ (صحيح) যা এককভাবে (انفرد) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ যা বুখারি বর্ণনা করেননি।

চতুর্থ প্রকার: সেই সহিহ (صحيح) যা তাঁদের উভয়ের শর্তানুযায়ী (شرط) কিন্তু তাঁরা তা বর্ণনা করেননি।

পঞ্চম প্রকার: সেই সহিহ (صحيح) যা বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط) কিন্তু তিনি তা বর্ণনা করেননি।

ষষ্ঠ প্রকার: সেই সহিহ (صحيح) যা মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط) কিন্তু তিনি তা বর্ণনা করেননি।

সপ্তম প্রকার:
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২৮)
صَحِيحٌ عِنْدَ غَيْرِهِمَا، وَلَيْسَ عَلَى شَرْطِ وَاحِدٍ مِنْهُمَا.

هَذِهِ أُمَّهَاتُ أَقْسَامِهِ، وَأَعْلَاهَا الْأَوَّلُ، وَهُوَ الَّذِي يَقُولُ فِيهِ أَهْلُ الْحَدِيثِ كَثِيرًا: " صَحِيحٌ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ ". يُطْلِقُونَ ذَلِكَ وَيَعْنُونَ بِهِ اتِّفَاقَ الْبُخَارِيِّ وَمُسْلِمٍ، لَا اتِّفَاقَ الْأُمَّةِ عَلَيْهِ. لَكِنَّ اتِّفَاقَ الْأُمَّةِ عَلَيْهِ لَازِمٌ مِنْ ذَلِكَ وَحَاصِلٌ مَعَهُ، لِاتِّفَاقِ الْأُمَّةِ عَلَى تَلَقِّي مَا اتَّفَقَا عَلَيْهِ بِالْقَبُولِ.

وَهَذَا الْقِسْمُ جَمِيعُهُ مَقْطُوعٌ بِصِحَّتِهِ وَالْعِلْمُ الْيَقِينِيُّ النَّظَرِيُّ وَاقِعٌ بِهِ. خِلَافًا لِقَوْلِ مَنْ نَفَى ذَلِكَ، مُحْتَجًّا بِأَنَّهُ لَا يُفِيدُ فِي أَصْلِهِ إِلَّا الظَّنُّ، وَإِنَّمَا تَلَقَّتْهُ الْأُمَّةُ بِالْقَبُولِ؛ لِأَنَّهُ يَجِبُ عَلَيْهِمُ الْعَمَلُ بِالظَّنِّ، وَالظَّنُّ قَدْ يُخْطِئُ.

وَقَدْ كُنْتُ أَمِيلُ إِلَى هَذَا وَأَحْسَبُهُ قَوِيًّا، ثُمَّ بَانَ لِي أَنَّ الْمَذْهَبَ الَّذِي اخْتَرْنَاهُ أَوَّلًا هُوَ الصَّحِيحُ، لِأَنَّ ظَنَّ مَنْ هُوَ مَعْصُومٌ مِنَ الْخَطَأِ لَا يُخْطِئُ. وَالْأُمَّةُ فِي إِجْمَاعِهَا مَعْصُومَةٌ مِنَ الْخَطَأِ، وَلِهَذَا كَانَ الْإِجْمَاعُ الْمُنْبَنِي عَلَى الِاجْتِهَادِ حُجَّةً مَقْطُوعًا بِهَا، وَأَكْثَرُ إِجْمَاعَاتِ الْعُلَمَاءِ كَذَلِكَ.
অন্যান্য ইমামদের নিকট এটি বিশুদ্ধ (صحيح), তবে এটি তাঁদের (বুখারি ও মুসলিম) কারো শর্তানুযায়ী নয়।

এগুলো হলো এর মূল প্রকারভেদসমূহ, যার মধ্যে প্রথম প্রকারটিই সর্বোচ্চ। এ প্রকারটি সম্পর্কে হাদিস বিশেষজ্ঞগণ প্রায়শই বলে থাকেন: "বিশুদ্ধ (صحيح) এবং সর্বসম্মত (متفق عليه)"। তাঁরা যখন এই শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেন, তখন এর মাধ্যমে ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের ঐকমত্যকে বোঝান, সমগ্র উম্মতের ঐকমত্য নয়। তবে এর থেকে উম্মতের ঐকমত্যও আবশ্যকভাবে প্রমাণিত হয় এবং তা এর সাথেই অর্জিত হয়, কারণ তাঁরা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তা গ্রহণের ব্যাপারে উম্মত ঐকমত্য পোষণ করেছে।

আর এই প্রকারের সমস্ত হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং এর মাধ্যমে তাত্ত্বিক নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني النظري) অর্জিত হয়। এটি সেই ব্যক্তিদের মতের পরিপন্থী যারা তা অস্বীকার করেন এবং যুক্তি দেন যে, এটি মূলত প্রবল ধারণা (الظن) ব্যতীত আর কিছুই প্রদান করে না; আর উম্মত এটি গ্রহণ করেছে কেবল এ কারণে যে, প্রবল ধারণার (الظن) ওপর আমল করা তাদের জন্য আবশ্যক, অথচ প্রবল ধারণা (الظن) ভুল হতে পারে।

আমিও একসময় এই মতের দিকে ঝুঁকেছিলাম এবং একে শক্তিশালী মনে করতাম। পরবর্তীতে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আমরা প্রথমে যে মতটি পছন্দ করেছি সেটিই সঠিক (صحيح); কারণ যিনি ভুল থেকে সুরক্ষিত (معصوم), তাঁর ধারণা ভুল হয় না। আর উম্মত তার সম্মিলিত ঐকমত্যের (إجماع) ক্ষেত্রে ভুল থেকে সুরক্ষিত (معصومة من الخطأ)। এ কারণেই ইজতিহাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্য (إجماع) একটি অকাট্য দলিল (حجة) হিসেবে সাব্যস্ত হয় এবং ওলামায়ে কেরামের অধিকাংশ ঐকমত্যের (إجماعات) বিষয়টিও তদ্রূপ।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَهَذِهِ نُكْتَةٌ نَفِيسَةٌ نَافِعَةٌ، وَمِنْ فَوَائِدِهَا: الْقَوْلُ بِأَنَّ مَا انْفَرَدَ بِهِ الْبُخَارِيُّ أَوْ مُسْلِمٌ مُنْدَرِجٌ فِي قَبِيلِ مَا يُقْطَعُ بِصِحَّتِهِ لِتَلَقِّي الْأُمَّةِ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْ كِتَابَيْهِمَا بِالْقَبُولِ عَلَى الْوَجْهِ الَّذِي فَصَّلْنَاهُ مِنْ حَالِهِمَا فِيمَا سَبَقَ، سِوَى أَحْرُفٍ يَسِيرَةٍ تَكَلَّمَ عَلَيْهَا بَعْضُ أَهْلِ النَّقْدِ مِنَ الْحُفَّاظِ، كَالدَّارَقُطْنِيِّ وَغَيْرِهِ، وَهِيَ مَعْرُوفَةٌ عِنْدَ أَهْلِ هَذَا الشَّأْنِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

الثَّامِنَةُ: إِذَا ظَهَرَ بِمَا قَدَّمْنَاهُ انْحِصَارُ طَرِيقِ مَعْرِفَةِ الصَّحِيحِ وَالْحَسَنِ الْآنَ فِي مُرَاجَعَةِ الصَّحِيحَيْنِ وَغَيْرِهِمَا مِنَ الْكُتُبِ الْمُعْتَمَدَةِ، فَسَبِيلُ مَنْ أَرَادَ الْعَمَلَ أَوِ الِاحْتِجَاجَ بِذَلِكَ - إِذَا كَانَ مِمَّنْ يَسُوغُ لَهُ الْعَمَلُ بِالْحَدِيثِ، أَوِ الِاحْتِجَاجُ بِهِ لِذِي مَذْهَبٍ - أَنْ يَرْجِعَ إِلَى أَصْلٍ قَدْ قَابَلَهُ هُوَ أَوْ ثِقَةٍ غَيْرِهِ بِأُصُولٍ صَحِيحَةٍ مُتَعَدِّدَةٍ، مَرْوِيَّةٍ بِرِوَايَاتٍ مُتَنَوِّعَةٍ، لِيَحْصُلَ لَهُ بِذَلِكَ - مَعَ اشْتِهَارِ هَذِهِ الْكُتُبِ وَبُعْدِهَا عَنْ أَنْ تُقْصَدَ بِالتَّبْدِيلِ وَالتَّحْرِيفِ - الثِّقَةُ بِصِحَّةِ مَا اتَّفَقَتْ عَلَيْهِ تِلْكَ الْأُصُولُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ.

‌‌النَّوْعُ الثَّانِي

مَعْرِفَةُ الْحَسَنِ مِنَ الْحَدِيثِ

رُوِّينَا عَنْ أَبِي سُلَيْمَانَ الْخَطَّابِيِّ رحمه الله أَنَّهُ قَالَ بَعْدَ حِكَايَتِهِ أَنَّ الْحَدِيثَ عِنْدَ أَهْلِهِ يَنْقَسِمُ إِلَى الْأَقْسَامِ الثَّلَاثَةِ الَّتِي قَدَّمْنَا ذِكْرَهَا:
এটি একটি চমৎকার ও উপকারী সূক্ষ্ম বিষয়। এর অন্যতম উপকারিতা হলো এই কথা বলা যে, ইমাম বুখারি বা ইমাম মুসলিম এককভাবে যা বর্ণনা করেছেন, তা সেই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত যার বিশুদ্ধতা (صحة) সুনিশ্চিত। কারণ উম্মাহ তাদের গ্রন্থদ্বয়ের প্রতিটিকেই গ্রহণের মাধ্যমে কবুল করে নিয়েছে, যেমনটি আমরা পূর্বে তাদের অবস্থা বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তবে সামান্য কিছু বিষয় বাদে, যেগুলোর ব্যাপারে হাফেজদের মধ্য থেকে একদল সমালোচনা বিশেষজ্ঞ কথা বলেছেন, যেমন আদ-দারাকুতনী ও অন্যান্যরা। এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে এগুলো সুপরিচিত। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

অষ্টম বিষয়: আমাদের পূর্বোক্ত আলোচনা দ্বারা যখন এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বর্তমানে সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিস চেনার পথ সহিহাইন এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তাই যে ব্যক্তি এর ওপর আমল করতে চায় কিংবা একে দলিল হিসেবে পেশ করতে চায়—যদি সে এমন স্তরের হয় যার জন্য হাদিসের ওপর আমল করা বা কোনো মাযহাব অনুসরণকারীর জন্য একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ হয়—তবে তার জন্য কর্তব্য হলো এমন এক মূল পাণ্ডুলিপির দিকে রুজু করা যা সে নিজে অথবা অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি একাধিক বিশুদ্ধ (صحيحة) মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে নিয়েছে, যা বিভিন্ন বর্ণনার (روايات) মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। যাতে করে—এই গ্রন্থগুলোর প্রসিদ্ধি এবং এগুলোতে পরিবর্তন ও বিকৃতি ঘটানোর উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত থাকার পাশাপাশি—সেই মূল পাণ্ডুলিপিগুলো যে বিষয়ে একমত হয়েছে তার বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে তার আস্থা জন্মে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয় প্রকার

হাসান (حسن) হাদিস পরিচিতি

আমাদের কাছে আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিস যে তিন ভাগে বিভক্ত—যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—তা বর্ণনা করার পর বলেছেন:
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ৩০)
" الْحَسَنُ مَا عُرِفَ مُخْرَجُهُ وَاشْتَهَرَ رِجَالُهُ ". قَالَ: " وَعَلَيْهِ مَدَارُ أَكْثَرِ الْحَدِيثِ، وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُهُ أَكْثَرُ الْعُلَمَاءِ، وَيَسْتَعْمِلُهُ عَامَّةُ الْفُقَهَاءِ ".

وَرُوِّينَا عَنْ أَبِي عِيسَى التِّرْمِذِيِّ رضي الله عنه أَنَّهُ يُرِيدُ بِالْحَسَنِ " أَنْ لَا يَكُونَ فِي إِسْنَادِهِ مَنْ يُتَّهَمُ بِالْكَذِبِ، وَلَا يَكُونُ حَدِيثًا شَاذًّا، وَيُرْوَى مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ نَحْوُ ذَلِكَ ".

وَقَالَ بَعْضُ الْمُتَأَخِّرِينَ: " الْحَدِيثُ الَّذِي فِيهِ ضَعْفٌ قَرِيبٌ مُحْتَمَلٌ هُوَ الْحَدِيثُ الْحَسَنُ، وَيَصْلُحُ لِلْعَمَلِ بِهِ ".

قُلْتُ: كُلُّ هَذَا مُسْتَبْهَمٌ لَا يَشْفِي الْغَلِيلَ، وَلَيْسَ فِيمَا ذَكَرَهُ التِّرْمِذِيُّ وَالْخَطَّابِيُّ مَا يَفْصِلُ الْحَسَنَ مِنَ الصَّحِيحِ.
"হাসান (الحسن) হলো তা যার উৎস পরিচিত এবং যার বর্ণনাকারীগণ প্রসিদ্ধ।" তিনি বলেন: "এর উপরই অধিকাংশ হাদিসের ভিত্তি, যা অধিকাংশ আলেম গ্রহণ করেন এবং সাধারণ ফকিহগণ এর প্রয়োগ করেন।"

আমাদের নিকট আবু ঈসা আত-তিরমিজি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি হাসান (الحسن) বলতে উদ্দেশ্য করেছেন: "যার সনদ (إسناد)-এ এমন কেউ নেই যে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত (متهم بالكذب), হাদিসটি ব্যতিক্রমী (شاذًا) নয় এবং অনুরূপ হাদিস অন্য কোনো সূত্র থেকেও বর্ণিত হয়।"

পরবর্তী যুগের (المتأخرين) কোনো কোনো আলেম বলেছেন: "যে হাদিসের মধ্যে সহনীয় পর্যায়ের সামান্য দুর্বলতা (ضعف قريب محتمل) বিদ্যমান, সেটিই হাসান (الحسن) হাদিস এবং তা আমল করার যোগ্য (يصلح للعمل به)।"

আমি বলব: এই সব বর্ণনাই অস্পষ্ট (مستبهم), যা জ্ঞানপিপাসা নিবারণে যথেষ্ট নয়। তিরমিজি ও খাত্তাবি যা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন কিছু নেই যা হাসান (الحسن) হাদিসকে সহিহ (الصحيح) হাদিস থেকে পৃথক করতে পারে।
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ৩১)
وَقَدْ أَمْعَنْتُ النَّظَرَ فِي ذَلِكَ وَالْبَحْثَ، جَامِعًا بَيْنَ أَطْرَافِ كَلَامِهِمْ، مُلَاحِظًا مَوَاقِعَ اسْتِعْمَالِهِمْ، فَتَنَقَّحَ لِي وَاتَّضَحَ أَنَّ الْحَدِيثَ الْحَسَنَ قِسْمَانِ:

أَحَدُهُمَا: الْحَدِيثُ الَّذِي لَا يَخْلُو رِجَالُ إِسْنَادِهِ مِنْ مَسْتُورٍ لَمْ تَتَحَقَّقْ أَهْلِيَّتُهُ، غَيْرَ أَنَّهُ لَيْسَ مُغَفَّلًا كَثِيرَ الْخَطَأِ فِيمَا يَرْوِيهِ، وَلَا هُوَ مُتَّهَمٌ بِالْكَذِبِ فِي الْحَدِيثِ، أَيْ لَمْ يَظْهَرْ مِنْهُ تَعَمُّدُ الْكَذِبِ فِي الْحَدِيثِ وَلَا سَبَبٌ آخَرُ مُفَسِّقٌ، وَيَكُونُ مَتْنُ الْحَدِيثِ مَعَ ذَلِكَ قَدْ عُرِفَ بِأَنْ رُوِيَ مِثْلُهُ أَوْ نَحْوُهُ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ أَوْ أَكْثَرَ حَتَّى اعْتَضَدَ بِمُتَابَعَةِ مَنْ تَابَعَ رَاوِيَهُ عَلَى مِثْلِهِ، أَوْ بِمَا لَهُ مِنْ شَاهِدٍ، وَهُوَ وُرُودُ حَدِيثٍ آخَرَ بِنَحْوِهِ، فَيَخْرُجُ بِذَلِكَ عَنْ أَنْ يَكُونَ شَاذًّا وَمُنْكَرًا، وَكَلَامُ التِّرْمِذِيِّ عَلَى هَذَا الْقِسْمِ يَتَنَزَّلُ.

الْقِسْمُ الثَّانِي: أَنْ يَكُونَ رَاوِيهِ مِنَ الْمَشْهُورِينَ بِالصِّدْقِ وَالْأَمَانَةِ، غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَبْلُغْ دَرَجَةَ رِجَالِ الصَّحِيحِ، لِكَوْنِهِ يَقْصُرُ عَنْهُمْ فِي الْحِفْظِ وَالْإِتْقَانِ، وَهُوَ مَعَ ذَلِكَ يَرْتَفِعُ عَنْ حَالِ مَنْ يُعَدُّ مَا يَنْفَرِدُ بِهِ مِنْ
আমি এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে দৃষ্টিপাত ও অনুসন্ধান করেছি, তাঁদের বক্তব্যের সকল দিক সমন্বয় করেছি এবং তাঁদের পরিভাষার প্রয়োগস্থলসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছি। ফলে আমার নিকট বিষয়টি পরিমার্জিত ও স্পষ্ট হয়েছে যে, হাসান (حسن) হাদিস দুই প্রকার:

প্রথমটি: এমন হাদিস যার সনদের (إسناد) বর্ণনাকারীদের মধ্যে এমন কোনো প্রচ্ছন্ন (مستور) বর্ণনাকারী রয়েছেন যার যোগ্যতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি; তবে তিনি হাদিস বর্ণনায় অত্যধিক ভুলকারী বা গাফেল (مغفل) নন এবং হাদিসের ক্ষেত্রে মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত (متهم بالكذب) নন। অর্থাৎ, তাঁর থেকে হাদিসের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার প্রকাশ পায়নি এবং ফাসেক (مفسق) সাব্যস্ত হওয়ার মতো অন্য কোনো কারণও বিদ্যমান নেই। এর সাথে হাদিসের মতন (متن) বা মূল পাঠটি অন্য এক বা একাধিক সূত্রে অনুরূপ বা কাছাকাছিভাবে বর্ণিত হওয়ার কারণে পরিচিতি লাভ করেছে, ফলে তা উক্ত বর্ণনাকারীর অনুরূপ বর্ণনার মুতাবাআত (متابعة) বা সমর্থনমূলক বর্ণনা অথবা শাহিদ (شاهد) বা সাক্ষ্যবাহী বর্ণনার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে—আর শাহিদ হলো একই অর্থে বর্ণিত অন্য একটি হাদিস। এর মাধ্যমে হাদিসটি শায (شاذ) এবং মুনকার (منكر) হওয়ার পর্যায় থেকে মুক্ত হয়; ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য মূলত এই প্রকারের ওপরই প্রযোজ্য হয়।

দ্বিতীয় প্রকার: হাদিসের বর্ণনাকারী সততা ও আমানতদারিতার জন্য প্রসিদ্ধ হবেন, তবে তিনি হিফজ (الحفظ) বা মুখস্থশক্তি এবং ইতকান (الإتقান) বা সুনিপুণতায় ঘাটতি থাকার কারণে সহিহ (صحيح) হাদিসের বর্ণনাকারীদের স্তরে পৌঁছাতে পারেননি। তা সত্ত্বেও তিনি এমন স্তরের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন যার একক বর্ণনাকে...
(খণ্ড: ১) মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহ - মাআরিফাতু আনওয়াই উলূমিল হাদীস - ত আতর (পৃষ্ঠা: ৩২)
حَدِيثِهِ مُنْكَرًا، وَيُعْتَبَرُ فِي كُلِّ هَذَا - مَعَ سَلَامَةِ الْحَدِيثِ مِنْ أَنْ يَكُونَ شَاذًّا وَمُنْكَرًا - سَلَامَتُهُ مِنْ أَنْ يَكُونَ مُعَلَّلًا.

وَعَلَى الْقِسْمِ الثَّانِي يَتَنَزَّلُ كَلَامُ الْخَطَّابِيِّ.

فَهَذَا الَّذِي ذَكَرْنَاهُ جَامِعٌ لِمَا تَفَرَّقَ فِي كَلَامِ مَنْ بَلَغَنَا كَلَامُهُ فِي ذَلِكَ، وَكَأَنَّ التِّرْمِذِيَّ ذَكَرَ أَحَدَ نَوْعَيِ الْحَسَنِ، وَذَكَرَ الْخَطَّابِيُّ النَّوْعَ الْآخَرَ، مُقْتَصِرًا كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا عَلَى مَا رَأَى أَنَّهُ يُشْكِلُ، مُعْرِضًا عَمَّا رَأَى أَنَّهُ لَا يُشْكِلُ. أَوْ أَنَّهُ غَفَلَ عَنِ الْبَعْضِ وَذَهِلَ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ، هَذَا تَأْصِيلُ ذَلِكَ.

وَنُوَضِّحُهُ بِتَنْبِيهَاتٍ وَتَفْرِيعَاتٍ

أَحَدُهَا: الْحَسَنُ يَتَقَاصَرُ عَنِ الصَّحِيحِ فِي أَنَّ الصَّحِيحَ مِنْ شَرْطِهِ: أَنْ يَكُونَ جَمِيعُ رُوَاتِهِ قَدْ ثَبَتَتْ عَدَالَتُهُمْ وَضَبْطُهُمْ وَإِتْقَانُهُمْ، إِمَّا بِالنَّقْلِ الصَّرِيحِ، أَوْ بِطَرِيقِ الِاسْتِفَاضَةِ، عَلَى مَا سَنُبَيِّنُهُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، وَذَلِكَ غَيْرُ مُشْتَرَطٍ فِي الْحَسَنِ، فَإِنَّهُ يُكْتَفَى فِيهِ بِمَا سَبَقَ ذِكْرُهُ مِنْ مَجِيءِ الْحَدِيثِ مِنْ وُجُوهٍ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِمَّا تَقَدَّمَ شَرْحُهُ.

وَإِذَا اسْتَبْعَدَ ذَلِكَ مِنَ الْفُقَهَاءِ الشَّافِعِيَّةِ مُسْتَبْعِدٌ ذَكَرْنَا لَهُ نَصَّ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه فِي مَرَاسِيلِ التَّابِعِينَ: أَنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهَا الْمُرْسَلُ الَّذِي جَاءَ نَحْوُهُ مُسْنَدًا، وَكَذَلِكَ لَوْ وَافَقَهُ مُرْسَلٌ آخَرُ، أَرْسَلَهُ مَنْ
তার হাদিস আপত্তিকর (منكرا) হওয়া থেকে মুক্ত থাকা, এবং এই সবকিছুর সাথে—হাদিসটি অস্বাভাবিক (شاذا) ও আপত্তিকর (منكرا) হওয়া থেকে মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি—এটি ত্রুটিযুক্ত (معللا) হওয়া থেকেও মুক্ত হওয়া আবশ্যক।

আল-খাত্তাবীর বক্তব্য এই দ্বিতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তা এই বিষয়ে আমাদের নিকট যাদের বক্তব্য পৌঁছেছে তাদের বিক্ষিপ্ত আলোচনার একটি সারসংক্ষেপ। মনে হয় যেন ইমাম তিরমিজি গ্রহণযোগ্য-সুন্দর (الحسن) হাদিসের দুই প্রকারের একটি উল্লেখ করেছেন এবং আল-খাত্তাবী অপর প্রকারটি উল্লেখ করেছেন। তাদের প্রত্যেকেই কেবল সেই বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন যা তাদের নিকট অস্পষ্ট মনে হয়েছে এবং যা স্পষ্ট মনে হয়েছে তা এড়িয়ে গেছেন। অথবা হতে পারে যে তিনি কোনো কোনো অংশ সম্পর্কে অমনোযোগী ছিলেন বা ভুলে গিয়েছিলেন; আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞাত। এটিই হলো এই বিষয়ের মূলনীতি নির্ধারণ।

আমরা কয়েকটি সতর্কতা ও শাখা আলোচনার মাধ্যমে এটি আরও স্পষ্ট করছি:

প্রথমত: গ্রহণযোগ্য-সুন্দর (الحسن) হাদিস বিশুদ্ধ (الصحيح) হাদিস অপেক্ষা নিম্নমানের। কেননা বিশুদ্ধ (الصحيح) হাদিসের শর্ত হলো তার সকল বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالتهم), ধারণক্ষমতা (ضبطهم) ও নির্ভুলতা (إتقانهم) প্রমাণিত হতে হবে; হয় স্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে অথবা প্রসিদ্ধির (استفاضة) মাধ্যমে—যেমনটি আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে বর্ণনা করব। তবে গ্রহণযোগ্য-সুন্দর (الحسن) হাদিসের ক্ষেত্রে এটি শর্ত নয়। বরং এর জন্য হাদিসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়া সংক্রান্ত যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অন্যান্য ব্যাখ্যা যা পূর্বে গত হয়েছে, তা-ই যথেষ্ট।

যদি শাফিঈ ফকিহদের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে অসম্ভব মনে করেন, তবে তার নিকট আমরা তাবিঈদের বিচ্ছিন্ন (مراسيل) হাদিস সম্পর্কে ইমাম শাফিঈ (রা.)-এর সুস্পষ্ট বক্তব্য উল্লেখ করব: তাদের প্রেরিত বিচ্ছিন্ন (المرسل) হাদিস সমূহের মধ্যে সেটিই গ্রহণযোগ্য যা অন্য কোনো সূত্রে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে যদি অন্য কোনো বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিস এর অনুকূলে থাকে যা এমন কেউ বর্ণনা করেছেন...